Garh Bhawanipur R.p. Institute, Howrah
Rajput Bala Ed.8
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
লওয়:
-রাজস্থারণীতি মুখরিত
রাজপুতবালা
বাদলের বারিধারা প্রায়
পড়ে অস্ত্র বালিকার গায়।
-
রহিত
পীঠ
৮ম শiণ
১৫
শ্রীপ্রমথনাথক্টোধ্যায়
১ এক টাকা
প্রকাশ কর্তৃক এস সর্বতােভাবে সংরক্ষিত
শ্রীগােষ্টবিহারী দত্ত,
শরৎ চন্দ্র পাল
কমলিনী সাহিত্য-মন্দির পরিচালিত
নিৰ্ম-সাহিত্য
কর্ণওয়াসি থ্রট, কলিকাতা ।
চিত্রবহুল নূতন উপন্যাস
‘গােলাপগন্ধমােদিত,-উপন্যাস-সাহিত্যের নূতন ধারা
অঙ্কলক্ষ্মী
গােলাপ সুন্দরতম, ফুটোফুটো করে যবে ধীরে,
আশা সমুজ্জ্বলতম, ভীতি হ'তে মুক্তি যবে তার ,
গােলা মধুরতম, সিক্ত যবে প্রভাত শিশিরে ,
প্রেমিকা সুন্দরীতমা, নেত্রে যবে ঝরে আধার।
ধন্য গ্রন্থকার।-ধন্য সুবিচাব'—
কোশলের বাকী কোথা আর ?
প্রতি শাঙ্কে-প্রত্যেক রেখাপাতে-আগ্নেয়গিরির অগ্নৎপাৎ
-অলী-
এ বৎসবে প্রকাশিত ১,••• উপন্যাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
হাতেই আছে যামিনীবাবুর চিত্তচর চিত্র-বৈচিত্র্যে -বৈশিষ্ট্য।
কৌমুদী প্রেস,
২৫৯ নং অপার চিৎপুররােড, কলিকাতা।
চণ্ডীচরণ গুপ্ত দ্বারা মুদ্রিত।
Cooc০
প্রীতি-উহা
—
- -
তমসাচ্ছন্ন উপন্যা-সাহিত্যাকাণে বিদ্যুৎ বিকাশ। 2 -নবাব আলিবন্দী দেওলি- বাংলা মসনদের সৌখীন আলাল- বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাব দুলাল নবাব তত্তের বনিয়াদি নবাব —সেই নবাব সিরাজউদ্দৌলা ! কমলিনীর'— রাজপুতের মেয়ে প্রণেতা শ্ৰীযুক্ত প্রমথনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সাধের রচনা ত্রিবহলবাৰী উপাখ্যান - নবাব সিরাজউদ্দৌলা বি-বি-টিীিগণের বিধিমােন চিত্রৰণী ভুষিত হই এতদিনে প্রকাশিত হইল।
No text on this page.
No text on this page.
জভ-বালা
ঐতিহাসিককাহিনী
প্রথম পরিচ্ছেদ
মরণ রেখাে- আমি রাজপুবালা।”
“আর তুমিও স্মরণ রেখাে রাজপুতবালা, আমি বাংলার
নবাব।
“হলেও তুমি বিদেশীবিজাতি-বিধম্ম'। ইচ্ছা করলে হিন্দু
তােমায় পিষে মারতে পারে।”
“সে সঘবদ্ধ হলে। বন্য পশু, কেশরী-হারে আর্তনাদে
পালায় , কিন্তু সবদ্ধ হলে অবহেলে অাসে শহর
করতে পারে।”
কিন্তু অরণ্যে যখন অগ্নি জ্বলে ওঠে, তখন আর কেউ
কেশরী শঙ্কা করে না। তেমনি, তুমি যদি আজ হিন্দু
রাজপুতবালা
বালিকার ওপর অব অত্যাচার করে সমগ্র হিন্দুজাতির
হৃদয়ে আনরিয়ে দাও লেঃ কাইয়ায় শঙ্কা
করবে না,
নবাব।”
‘কিন্তু কনিকা, হিন্দুর হৃদয় ম হিমশীতলায় জমাট
বেঁধে গেছে—আর উত্তাপিত হবে না। যদি হিন্দুর হৃদয়ে
দাহিকাশক্তি থাকতাে তাহলে এখন প্রখর সূষ্যকিরণের মধ্যে,
লক্ষশত জাগ্রত নেত্রের সম্মুখ দিয়ে তােমাকে বলপূর্বক আমার
প্রাসাদে আনয়ন করি, তখন হিন্দুর হৃদয়ে আগুন ধূ ধূ
করে জ্বলে উঠতাে। তাই বলি রাজপুতবালা, হিন্দু আজ
নিষ্প্রাণ-নির্জীব।
আত্মরক্ষায় একটা পক্ষীও চঞ্চুতে আঘাত করতে ধাবিত
হয়। কিন্তু, হিন্দু তােমায় রক্ষার্থে—জাতির মর্যাদা রক্ষার্থে
একটা অঙ্গুলীও উত্তোলন করলে না, এত হেয়—এত হীন
এই কাফের। একজন—একজনও যদি আমার এই অন্যায়ের
বিরুদ্ধে ফীত বক্ষে দাপ্ত ভালে—দৃপ্ত শিরশীর্ষে দণ্ডায়মান
হত-তাহলে বুঝতুম, হিন্দুর মধ্যে এখনও মানুষ আছে—
মত্ব আছে-প্রাণ আছে।”
“মানুষ দেখতে নবাব, যদি আমার স্বামী আমার জগতপূজ্য
বিশ্ব-বিক্ষত শর জগৎশেঠ এখানে উপস্থিত থাকতেন।”
না নায়িকা বাতলা 'বংশেঠ” উপাখিী টো
পুত্রবধু কি পৌৰ সে বিষয়ে মতবিরোধ থাকায় আমি পূত্রবধূপে
পজিটিভ ।
রাজপুতবা “তার সঙ্গে সমগ্র মুর্শিদাবাদের অধিবাসীরা তে দিল্লী খায় নাই।” “তারা কাণ্ডারী-হীন—অই মনের আগুন অতি কষ্টে নিৰুদ্ধ রেখেছে। আমার শশুরের আগমনমাত্র সে হৃদয়-নিৰুদ্ধ অগ্নি মহা শিখায় মহাতেজে-লক্ষ লেলিহান জিহ্বা বিস্তারে সমগ্র বঙ্গাকাশ রঞ্জিত করে-বাতাস প্রতপ্ত করে ব্যোমম্পশে জ্বলে উঠবে। প্রবল অনলে তােমার সিংহাসন, তােমার জীবন, তােমার ধন জন এক লহমায় পুড়ে ভস্ম হবে-এ স্থির জেন, নবাব সরাজ।” * “জলে আগুন,এগুক। শক্তি থাকে নির্বাপিত করবে। কবে, কোথায়, কোন অদুর বা সুদূর ভবিষ্যতে অখি এলিত হবার আশঙ্কায় বঙ্গ-বিহার-উডিষ্যার নবাব তার সঙ্কল্প বিচ্যুত হয়ে শঙ্কিতচিত্তে—সভয়ে তােমার ন্যায় ত্রিশােক-আশােকয়ী বেহেরে রাণীকে ত্যাগ করবে না, বালিকা।” “শতজীবন আর্ত হাহাকারে ব্যর্থতায় ঢলে পড়বে নবাব- তবুও তােমার আশা পূর্ণ হবে না।” “বাধা দেয় কে?” “এই ছুরিকা।” “তােমার ঐ পুষ্পপেলবময় কনক-কর-ত ছুরিক, শত বা মূর্তি ফুলী খাঁর আত নাৰ নাই দীনের পুত্র এই সম।
রাজপুত-বালা তুমি। যুদ্ধজয়ী, শত ভীম করবাল আঘাত ধারী আমার হৃদয় তাে বিদ্ধ করতে পারবে না, রাজপুত বালা ।” “নিজের হৃদয় তত বিদ্ধ করতে পারবে?" ‘মরবে। কেন, কি দুঃখে বালিকা ? বাংলার শ্রেষ্ঠ ধনী জগৎশেঠের বধূ তুমি—বাংলার শ্রেষ্ঠ সুন্দরী হাস্যোজ্জ্বল, মধুরােলা, রূপােঙ্খলা, স্নিগ্ধ-তরুণ-অরুণ-কনক-কর কিরণ-নিকর-নিষিক্তা উষার ন্যায় সদ্য-স্ফুটননামুখী কোমল কমলের ন্যায় যৌবনােমূখী তুমি। এত আশা-আনলে, শত মােহন মধুর মদিরস্বপ্নে পরিপূর্ণায়ত-তরঙ্গায়িত অর তােমার। শত-শতদল-শােভা শশাভিতা শত শরদিন্দুর অমিয় স্নিগ্ধতায় শত স্বর্গের সৌন্দর্যে রূশি গঠিত রূশি গঠিত তাের। এই রূপ—এই যৌবন—এই মাধুৰ্য্য—এই সৌন্দৰ্য্য অকালে অবহেলায় নষ্ট করলে বিধাতা বিরূপ হবেন বালিকা। তাই বলি, ও সঙ্কল্প ত্যাগে-বােস বাংলার সিংহাসনে। গৃহ তােমার সুষমা নিষিক্তা—কোমলত-বিগ- লিতা—অকল্পনীয়া—আলােক অতুলনীয় রূপ সম্ভার লুকায়িত ছিল বলেই এনেছি তােমায় এখানে—বসাচ্ছি তােমায় বাংলার সিহাসনে। মানব তােমার ঐ ললামভূ-স্বর্গ সৌন্দয্য ভার-আবরিত মহিমময়ী জগজ্যোতির্ময়ী রূপরাশি দর্শনে নয়ন জীবন সাক করুক-ধন্য করুক। আর নবাব সরফ- রা, তােমার রূপ পাদ পন্মে তার সর্ব অর্পণে সাধনা সফল করাপত-বালা।”
রাজপুতবা “প্রলােভনে তুলাতে চাও রাজপুত বালাকে ? যে রাজপুত বালা তার নারীত্ব রক্ষায় করে চিত প্রজ্বলনে সান সহৰে ঝাঁপ দেয়, যে রাজপুতলার ধ্যান-পতির মূর্তি, জ্ঞান- পতিপদ ; শিক্ষা - পতিসেবা , কৰ্তব্য-পতিপূজা , যে রাজপুত বালা শিশুকাল হতে শত দেব দেবীর পদে পুস্পাঞ্জলি দিয়ে কেবল মাত্র প্রার্থনা করে—পতিপদে মতি; যে রাজপুত- বালার দানে, ধ্যানে, দেবার্চনায়, পুণ্যে, ধৰ্ম্মে, প্রার্থনায় পতির মঙ্গল কামনা নিহিত-সেই রাজপুত বালা রাজপুত বালা তােমার তুচ্ছ সিংহাসন-তুচ্ছাদপি তুচ্ছ ঐশ্বৰ্য প্রলােভনে তার বিশ্ব- আলােকময়ী জিলােক ক্রয়কারী সতীত্ব বিসর্জন দেবে। নরক্ষস, গৰ্বান্ধ নবাব, পদাঘাত করে বাণী প্রলােভনে—পদাঘাত বাংলার সিংহ সনে।” ‘স্তব্ধ হও রাজপুত বালা।" বাসহ বঙ্গবিহার-উডিষ্যার নবীন নবাব সরফরাজ একটা স্বর্ণাদি সূত্র-জডিত-স্বর্ণসূত্র গ্রথিত, মধ্যে মধ্যে মুক্তাদি খচিত মহামূল্য গােলাপ পুষ্পগুচ্ছ রাজপুত-বালার প্রতি ত্যাগ করিলেন। পুষ্পগুচ্ছ দ্রুত আসিয়া রাজপুতলার যুগ্ম চরশােপরি পতিত হইল। রাজপুতলার রত্নালঙ্কার-শােভা-শােভিত, অল-বিলেপিত শেত শতদল তুল্য নিটোল কোমল পদে সেই স্বর্ণ সূত্র গ্রথিত- মণিমুক্তাদি-জডিত গােলাপ পুষ্প-গুচ্ছ পতিত হইয়া যেc
রাজপুত-বালা
হইল।
তার পুষ্প-জীবনের সার্থকতায় হজ্জে-শাে-লাে
হইয়া উঠিল।
নবাব, অনিমিষে অপলকে সেই পুষ্পরাজি রাজিত বালিকার
রাতুল চরণশােভা নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন।
ক্ষণকাল-ক্ষণকাল মধ্যেই
মধ্যেই নবাবের সৌন্দৰ্য-দর্শন-তৃষা,
পুস্পের হাস্য-পিপাসা চুর্ণিত
সরােষে
সবেগে বালিকা, পুষ্প-গুচ্ছ পদদলিত করিতে করিতে সুতীব্র
স্বরে বলিল,-
“নবাব, এই ভাবে একদিন তােমার ঐ কনক-কিরীট
শশাভিত শির ব-ত্রিকায় লুষ্ঠিত-মানব-পদদলিত হবে।”
“দলিত করবে কে ?”
“হিন্দু।”
“কোথায় ?
‘রণস্থলে।”
“তাহলে এ তােমার অভিশাপ নয়-আশীৰ্বাদ বাংলার
কোন নবাবের ভাগ্যে রণ-মৃত্যু লাভ হয় নাই। সেই দুষ্প্রাপ্য
ভাগ্য যদি, সতী তুমি-তােমার অভিশাপে আমায় বরণ করে
-তাহলে বাংলার ইতিহাসে নাম আমার অক্ষয় অমর হয়ে
থাকবে। নবাব-জীবনের ধারাবাহিক নিয়মের একটা বিশ্বয়কর
—গৌরবক পরিবর্তন সংঘটিত হবে। শত সুৰ্যেৰ ব্যয় বীরত্বের
দীপ্ত দীপে সরফরাজের সৌভাগ্য শতশ্রীতে সম্ভাসিত হয়ে
উঠবে।
পুতবালা
১১
কিন্তু, এ তুমি কি করলে-রাজপুত বালা ! বাংলার নবাব।
প্রদত্ত-যে নবাবের একটু রুপা কটাক্ষের জন্য—একটু প্রসাদের
জন্য—শত শত আমীর ওমরাহ, শত শত রাজন্য-শির সদা
আনত-সদা ব্যগ্রতায় লালায়িত—সেই নবাব প্রদত্ত পুপগুচ্ছ—
পুষ্পগুচ্ছ বিলম্বে আনীত হওয়ায় পুষ্পেধ্যান-রক্ষককে
বন্দী করেছি—যে পুষ্পগুচ্ছ তােমায় উপহার দেবার জন্য দশসহ
মুদ্রা ব্যয়ে বিখ্যাত মাল্যকার দ্বারা রচিত করেছি সেই মহামূল্য
নবাবের পুষ্পগুচ্ছ তুমি পদতলে নিষ্পেষিত করলে। তােমার
পদ্ম পদস্পর্শে পুষ্প-জীবন ধন্য হলেও আমি ধন্য হতে পারলুম না
রাজপুত-বালা। পদপ্রহারে পুষ্পের মত অামাকেও
কর সতী।'
সাবধান নবাব ! দেখেছো এই ছুরিকা?”
'ক্ষুদ্র ও ছুরিকায় বাংলার নবাব ভীত হয় না।”
সহসা অতি কোমল অথচ অতি তীব্র কষ্টে ধ্বনিত হইল -
“তার সঙ্গে তীক্ত তরবারীও আছে নবাব।”
বলিতে বলিতে তপ্ত রক্ত রবির মত-অগ্নি গােলকের
মত—দেব শিশুর মত এক নবমবর্ষীয় সুন্দর বালক নবাব
কক্ষে প্রবেশে, নবাব সম্মুখে তার ক্ষুদ্র করত ক্ষুদ্র তরবারী
উত্তােলনে দণ্ডায়মান হইল।
মহাবিশ্বয়ে নবাব জিজ্ঞাসা করিলেন,
কে তুমি, মরণেচ্ছুক।”
আমি রাজপুত বালক।”
১২ নাজপতালা “বা, চমংকার। একদিকে এক দ্বাদশ বর্ষীয়া * তেজকিনী রাজপুত-বালা, শণিত ছুরিকা উতােলনে দণ্ডায়মানা, অন্যদিকে এক নবমবষী তেজস্বী রাজপুত-বালক তীক্ত তরবারী করে দণ্ডায়মান (২) আর-তার মধ্যস্থলে কোটী কোটা নরনারীর ভাগ্য-বিধাতা বিহার উডিষ্যার একচ্ছত্র অধীন নবাব সরফরাজ, মাতৃ-ক্রোডচ্যুত শুনপায়ী শিশুর ন্যায় নিঃসহায় হায়। বাঃ, চমৎকার। এমন দৃশ্য জগতে বােধ হয় এই প্রথম প্রতিফলিত হয়ে উঠলো। দাড়াও দাড়াও বালক বালিকা—অমনি সুপ্রঘোল দীপ্তিতে-অমনি মহিমােজ্জল মূর্তিতে—অমনি অনল আভা আলােকিত অঙ্গে-অমনি মহিফাচ্ছসিত নয়নে—গৌরবা- * ইতিহাস বিগলিত-ইতিহাস ৰিওঁ•ে নিভুত অগৎ লেবধু এই পূত-ৰালৰ ৰা সত্যই এখাইতে ঘাবশে মধ্যে। কিন্তু ইতিহাস-শাময়ী এই বালিকাকে ইতিহাস শুধু শেলৰধু ল উৰ কৰে। এভং আমিও যালিকাকে নীলা রে শুধু “লা” লেই চিতি। । তাই আমার নাম এই সে নবম যায় মাত্র। আশা নয়-স। এই বালক বদি এটি সয়ফয়া লৈ মিসিং এ পূৰ-নাম লিম। কি কি নামহীন -ধু পুলা বলে অভিহিতা। তাই আমার তিহাস- ক আলো-গিরি না কয়ী-অতুলী ৰায় আকাশী পিতৃ ৰাল নায়ককেও ৩ মাজ-সৰু মানেই পরিচিত
রাজপুতবলা
ঙ্কিত বদনে দাড়াও আমার সম্মুখে। দেখি আমি আকুল
পুলকে। না না এ যে একা দেখে সুখের সাখ
পূর্ণ হচ্ছে
। কে আছ কোথায়—এস, ছুটে এস শীঘ্র এস শীঘ্র এস,
দেখে যাও -দেখে যাও স্বগীয় চিত্র দেখে যাও কবির
কল্পনার সজীব দৃশ্য।
“এই যে এসেছি নবাব।”
"কে? কে, বিজয়সিংহ। এসেছ ? এস এস, বড় সু-
সময়ে -বড শুত মুতে এসেছ। বল, বল দেখি সত
বল দেখি দেহরক্ষী, এমন দৃশ্য আর কোথাও কখনও
৮
দেখেছ কি?
“দেখা দূরের কথা কখৰও কোনদিন কল্পনায় বা ধারণা
আনতেও পারিনি। রাজা—যিনি বিধাতার সমতুল্য
প্রজার জনকসদৃশ-সেই রাজার এমন হীন জঘন্য প্রবৃত্তির
ঘূরণ কখনও কল্পনাতেও উদিত হয়নি।
বঙ্গের, দাসত্বের সঙ্গে মনুষ্যত্ব—বিবেক অর্পণ করিনি।
আমি মানুষ, আমি হিন্দু, আমি অস্ত্র ব্যবসায়ী, चामि
বীর। বীরের অস্ত্র জিত অঙ্গ শােভার জন্য নয় -দুর্বল
রক্ষণে।
নবাব, প্রভূহত্যার পাপে আমায় লিপ্ত না করে—এই
মূহুর্তে এই রাজপুত-বালাকে পরিত্যাগ করুন।
তুমি আমার দেহরক্ষী হয়ে-আমার দেহেই অকাঘাত
১২ রাজপুতবালা করবাে। নতুবা অন্য উপায় নাই।” “অন্য উপায় যদি থাকে ? অন্য উপায় আছে?" “আছে।” “কি ? "তােমার প্রাণ। ‘প্রাণদানে যদি নারীর গৌরব সু-উজ্জ্বল থাকে, তাহলে অকাতরে বিজয়সিংহ এই মুহূর্তে জীবনাহুতি প্রদানে প্রস্তুত।” উত্তম, তাহলে তােমার অস্ত্র আমায় দিনে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও, বিজয়সিংহ।' “গ্রহণ করুন নবাব—আমার একান্না। আর প্রস্তুতের কথা। নবাব বিদেশাগত-রাজপুতের জীবন-ইতিহাস অনবগত —তাই এ উক্তি। রাজপুত মৃত্যুর জন্য সদাই প্রস্তুত থাকে, । কিন্তু পর-প্রাণ বিনিময়ে নিজ-প্রাণ রক্ষা করতে রাজপুত- বালা ঘৃণা করে। হে বীর, হে উদার পুরুষ, হে মহান মানব, তােমার দেবত্বমহত্ব-মণ্ডিত জীবন-বিনিময়ে আমার অনাবশ্যক প্রাণ চাই না। ক্ষান্ত হও মানব-প্রধান। রাজপুতবালাও মরতে জানে শরতে পারে । এই দেখ রক্তক ছুরিকা তার “বিজয়সিংহের সজাগ সুস্থ বিবেকের পথে—সুদীপ্ত সজীৰ নেজের সম্মুখে আজ যদি এক রাজপুত-বালা, তার নারীত্ব জপুতবা রক্ষায় মৃত্যুর আশ্রয় গ্রহণ করে, তাহলে দুরপনেয় কলম্বের ভারে বিজয়সিংহের ইহ-পরকাল নিমজ্জিত হবে। আর আজ যদি এক রাজপুত-বালার ভ্রছ পুত-পবিত্র প্রাণহীন দেহ-যবন করস্পষ্ট কলুষিত হয়, তাহলে সমগ্র জাতির জীবন একটা ধিক্কারে হাহাকার করে উঠবে। তাই বলি রাজপুতবালা, আমার কর্তব্য কর্মে-বীরের ধর্মে বাধা দিও না। নবাব রাজপুত-বালার জীবন আমাপেক্ষা অধিক ধক মূল্যবান , তাকে মুক্তি দিয়ে আমায় অবিলকে বধ করুন।” “তাহলে তাে একা তােমার জীবনে রাজপুত-বালার জীবনের মূল্য হয় না। তবে ?' “তবে—আমার এই বালক-পুত্রকেও আমার সঙ্গে করুন। “এই বালক তােমার পুত্র। “আমার একমাত্র পুত্র-আমার মর্তের একমাত্র শাস্তির আধার-আমার একমাত্র আদরের শিষ।” ‘সেই মেহ-শান্তির আধারটীকে, সেই একমাত্র পুত্রকে বলি দেবে! এ কি বলছে তুমি, দেহরক্ষী! তুমি কি উন্মাদ হয়েছ, বিজয়সিংহ?” “না নবাব, উন্মাদ হই নাই। বরং আজ আমার জ্ঞানচক্ষু উন্মীলিত হয়ে রাজস্থানের শত-গৌরব-মেখলা-মণ্ডিত-কনক- কিরীট খচিত অতীতের শত সহস্র স্ব-শুভ্র সু-প্রাজ্জ্বল ।
রাজপুতবালা
সু-মহান দৃশ্য জাগিয়ে দিচ্ছে। আর তার প্রায় আমার
নেত্র আলােকিত চিত্ত পুলকিত হয়ে উঠছে। নবাব, নবাব,
বধ করুন-পিতা-পুত্রকে একসঙ্গে বধ করুন। ঐ গৌরববের
অতীতে আমারাও চলে যাই, সু-উজ্জল ললাটে – বিপুল বিমল
পুলকে।
'হু অপেক্ষা কর, অপেক্ষা কর। আমি তাে আর ঘাতক
নই—আর এটাও বধ্যভূমি নয়। তােমরা রাজবিদ্রোহী।
প্রক রাজ-দরবারে
বিচার করে
তােমাদের প্রাণ
দেব। আপাতত তােমরা আমার বন্দী। এই, কোন হয়।
না না থাক্, আমার এ মন্দিরে সামান্য প্রহরী প্রবেশ
করলে, তার পদ-স্পর্শে সব অপবিত্র হবে। থাক,
আমি নিজেই বন্দী করছি। তাইতাে, শৃখল-ও যে আবার
নাই, কি দিয়ে বন্দী করি? না, হয়েছে, এই যে কষ্ঠে আমার
রয়েছে হীরকার। এই হারই আপাতত শৃঙ্খলের কাৰ্য
এই হার দিয়ে তােমার হাত আবদ্ধ করলুম।
বল বিজয়সিংহ তুমি আমার বন্দী?”
‘বন্দী।”
“বন্দী?”
বন্দী।'
র
বন্দী?”
বন্দী।”
ব্যস একটা চিন্তা থেকে নিশ্চিন্ত হলুম। এবার বালক,
রাজপুতবালা
৭
তােমায় কি দিয়ে বন্দী করি?. আচ্ছা তোমায় এই পুল-হারেই
বন্দী করলুম। বন্দীত্ব স্বীকার কর, বালক।”
স্বীকার করছি।”
“কি ?”
ঠিক।”
রাজপুতের শপথ-বাণী শত শৃখল অপেক্ষ। মুছ, এ বিশ্বাস
আমার আছে, আর এ বিশ্বাস যেন থাকে বালক।
রাজপুত-বালা, বাংলার নবাব শত অভিবাদনে—শত সম্মান
অভিভাষণে তােমার নিরঞ্জন-বাণী উচ্চারণ করছে। বাবার
পূর্বে শুনে যাও রাজপুত-বালা, তােমার অভিশাপ নবাব
সরফরাজ, শ্রদ্ধাভাবনত অন্তরে-আর্য-ভূমি আনতশিরে
আশীষ-পুষ্পের স্থায় গ্রহণ করছে। তবে তোমার পদে তার
* বাংলা এক্ত হতে এখানে যখন এগৎশেঠর এই নি
বধুর রূপ খাত নিতি, তখন তরুণ নৰীৰ নৰাৰেৰ সে পনি-লিগালা
এল হয়ে উঠে, জগৎশেঠে। নিট পিপাসা-নিবৃতিৰ বিৰেনও করেন
কি হ্যাতিমানী জগৎশেঠ সগর্বে নবাৰকে দূতে, মুিকুতেও খুকে
খে নই। বিলয় ৰাৰ পুৰক বালিকাকে নিয়ে এখন
। কিন্তু মন না তারা সে হ ক নাই।
खिड ७ बवान बना गावाब ना पहा - मषिक
হইলেও-জান আল কোন কু-ইশ্য থাকিলেও বা নে কে লিল
এ ত্যাগ ই শাকিলে এগিতা বালিকাকে সমান শেখে।
১৮
রাজপুতবালা
এই প্রার্থনা, যেদিন তােমার অভিশাপ-ৰাণ সফল হবে, যেদিন
সমরাঙ্গণে মহান গৌরবময় প্রহরণ শয্যায় শয়ন করবে। সেদিন
—সেদিন তুমি স্বর্গীয় দীপ্তিতে আমার শিরশাৰে সুধায্যে
আবিষ্কৃত হয়ে রাজপুতবালা ! অন্তিমে বাংলার নবাবের এই
প্রার্থনাটুকু পূর্ণ করে সতীরাণী!”
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
এখানে আবার কোন প্রয়োজনে এসেছ, বালিকা ?”
“এ কি প্রশ্ন আপনার পিতার পুত্র বধু আমি আপনার
শরের আলয় পুণ্য-দেবালয় আমার। সেবিকার দেবালয় প্রবেশের
অধিকার সতত।”
দেবালয়ে প্রবেশের অধিকার তার—যে ৩-পূত-পবিত্র।
তুমি অপবিত্রা-তােমার আর দেবালয়ে প্রবেশের অধিকার
নাই।”
“কিন্তু দেবতার নিকট অ অ হয় হৃদয়ে। আমার ভয়
পবিত্র-শনিল।”
মহ দেখে না।
করিতেন না, এ কথা ইতিহাসে উল্লেখ দেখিছি। এ সময় যে
এরি মৎ ছিলন-তার মা বে অতি কোমল সরল ছিল
উলে ললীতে মিছেন।
রাজপুত-বালা : “কিন্তু সমাজততা কাউকে রক্ষা করতে পারে না।” লম্পট মদ্যপ,নবাবের গৃহাগত রমণীর জন্য দীর চিরকাল রুদ্ধ হয়ে এসেছে। घांक আমার পুত্র বণে তার ব্যতিক্রম সমাজ করবে । ধাও বালিক, বৃথা মায়া বর্ষণ করুণ বচন, আমি স্বেচ্ছায় নবাৰ প্রাসাদে যাই নাই।” স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় সে বিচার সমাজ করবে না। বুভুক্ষিত ব্যক্তি জঠর জ্বালায় কি মুম্বযু স্ত্রী কন্যার জীবন রক্ষায় পরাপহরণ করলেও রাজদণ্ড হতে অব্যাহতি পায় না।” “অন্তঃপুরব-অসূৰ্য্যশ বালিকা আমি, সমাজের বিধি বিধান—শাসন অনুশাসন গনি না—জানতেও চাই ন। রমণী-জীবনে একমাত্র দেবতা স্বামী-সেই ফাগ্রত দেবতা স্বামী আমার সম্মুখে—আবার সেই দেবতার দেবতা আপনিও দণ্ডায়মান। আমি আপনাদের উত্তর নিতে চাই- আপনাদের নির্দেশিত পথ বুঝতে চাই—আপনাদের পাশে জানতে চাই। বলুন স্বামী, বলুন পিতা, মুক্ত উচ্চভাষে বলুন, আয় পাব কি না। “না, পাবে না।” কিন্তু আমি নিরপরাধিনী। “তবুও অায় পাবে না। নবাব আমার কে-মুখও শর্শ করে নাই। খপিও আয় পাবে না।”
রাজপুতবালা
আমার শিবিকার বাহক হিন্দু ছিল। একটা ধবনও আমার
বসনাঞ্চল স্পর্শ করে নাই,
তথাপিও আশ্রয় পাবে না।
"বাঃ, উত্তম উত্তর । অৰলাকে রক্ষা করবার শক্তি নাই,
কিন্তু অবলার প্রতি তিরক্ষা বর-অত্যাচারের শক্তির তো
আর কিছুমাত্র দেখছি না।
দেখছি না। পুরুষ বলে পরিচয় দেবার
মত নাই—অথচ নারী সম্মুখে পুরুষ-সিংহের মত হ-হুঙ্কার
গর্শনেরও ত বিরাম নাই। য-প্রাসাদে পদস্পর্শে যদি অই
আমার অs অচি হয়ে থাকে-তাহলে তােমার প্রাসাদও
অপবিত্র—তাহলে যন-পদ-লেহনে তােমারও তে দেহ মন
এণ অচি হয়েছে। তাহলে, এই প্রাস' অগ্নি একলনে
শুচি করে নাও-তাহলে ঐ হৃৎপিণ্ড উৎপাটনে সুধনী-গর্তে
নিক্ষেপ কতাহলে অন্তঃপুরশ্চারিণীদের চিতানলে সমর্পণ
কর—তবে এ বাণী, এ উক্তি, এ উত্তর করে এ নিরপরাধিনী
বলা গুলা বালিকার প্রতি।
এগল বালিকা, এই মুহূর্তে সন্মুখ হতে হর হও--নতুবা
বলপ্রয়ােগে বিতাড়িত করতে বাধ্য হবো।”
“বা, বা, বীর উক্তি। নবাৰ তােমার প্রাসাদ হতে
তােমার শত সহ রক্ষীর আবেষ্টনী হতে-ক্ষ লক্ষ গত
নেলের সমুখ দিয়ে আমায় টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেল।
করতে পারলে না, নবাবের শির-ক্রোধ-গীরণে জ করতে
পারলে না-নবাবের অ-খির-সিক্ত শিশু উৎপাটন
বাজপুতরাল বহরণের শাস্তি দিতে পারলে না, আর এক বালিকাকে জোখাগ্নিতে তম কৱতে পিতা পুজে দাডিয়েছ গতে মন্তকে। বাঃ, সুন্দর তােমাদের পৌরুষত্বসার্থক তােমাদের বীরত্ব। প, পক্ষীও ধীয় নারীরক্ষায় দেহপণে বীজের আকালন করে, আর তােমরা—না, গুরুজন-অধিক আর কি বলবাে আর কেই বা তবে। পরপদলেহী হিন্দুর আজ আর আমার শােনবার সময় নাই—বােৰবার বিবেক নাই- থাকলে-যে ক্রোধ আজ আমার উপর বর্ষিত—সেই ক্রোধ নবাবের উপর পতিত হয়ে নবাবের অন্তিমের বিলােপ সাধন করতে। তৰে চহুম পিতা-তবে যাবার পূর্বে আর একটা কথা জিজ্ঞাসা করি, বীরবতার শতর ঠাকুর! আজ থেকে আমি নিজেকে বিধবা না সধবা ন করবো?” “তুমি বিধবা।” “তােমার উত্তর-বামী?” “তুমি বিধবা?” শােন, শােন সমীরণ! নিসাড়-অনে শােন এ অশনি- বনি-সতীর সম্মুখে পতির আদেশ—আমি বিধৰা! শােন শােন সতী-সীমন্তিনী, হরদিবিহারিণী, শােন আমার স্বামীর আদেশবাণ। শােন শােন, কে কোথায় আছ সতীনারী। যুগে যুগে যে বাণী কখনও শােন নাই–শোন আজ সেই সে হীনবাণী! উত্তম। এই যদি আমীর বিধান—মাথা পেতে রাজপুত-বালা এ বিধান গ্রহণ করলুম। তবে স্বামী, তােমারই সকাশে, তােমার ঐ উন্মীলিত জ্যোতি-প্লাবিত নেত্রের সম্মুখে রমণীর সতীত্বের দীপ্ত নিদর্শন সীমন্তের এই রক্ত-সন্দু-রেখা করে মুছে ফেললুম- চুর করলুম এই শখের বলয়। উর, উর গো মা সীরাণী হৃদয়ে আমার, তােমায় হৃদয়ে স্থাপনা করে অভিশাপ দিচ্ছি—শেঠজী, যে ধন-গর্বে গন্ধা জাত্যাভিমানে আজ এক অসহায় নিরপরাধ। বালিকাকে সংসারকণ্টক-পথে নিপতিত করলে-এক দিন তােমার এই গর্ব-ঐ হেম-হ, পাঠান পদাঘাতে চুণিত হবে। যে দেব-কণায় অরণ্য মধ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে এই কুবেরের ঐশ পেয়েছিলে, আজ সতীর অপমাননা—সতী নিগ্রহে * শেঠগণের আদি নিবাস যােধপুরে অর্গত নাগৰ এদেশে। তাহারা পুঝে যেতাম। জৈন সশ্রয়ভুক্ত ছিলেন-পরে বৈষ্ণব হয়েন। তাহারে পূর্বপুরুষ হন, ভাগ্য অন্বেষণে পাটনায় উপনীত হবেন। কিন্তু ভাগ্য- বিশেষণে -এভাৰ-তাড়নে মৃত্যুর ঘােয় গানে এৰোেত । সেই অরণ্য উপায়ে এক মরণােন্মুখ বৃদ্ধ এতিম সময়ে হীরালকে ই-হ- নলকে বিপুল বৈনে সান বলেন। হীৰৰ অতুল ঐশ্বৰ্য্য লাতে ভারতের সপ্তনে তাহার সপ্তমকে গণী করেন। তার কনিষ্ঠ পুত্র মাণিটা হইতেই গণেঠলিগের উৎপত্তি। মাণিকট অপুর থাকায় তার আত্মীয় অথবা পােব্যর আনে এয়োলিখিত এই ফটো গান । এক এই তেচাই এখন বিলীন হইতে “গৎশেঠ উপাধি লাভ করে। সু তাই নয়, এটি বহু ভন ভূতি এবং গৎশেঠ নামাঙ্কিত যে পি এল ।
রাজপুত-বালা • AAA দেব ক্রোধে অচিরে সে সব বিনষ্ট হবে। যদি সতী হই আমি- তবে আমার অভিশাপ বার্থ হবে না। যেদিন আমার অভিশাপ মুর্তি-পরিগ্রহে দেখা দেবে, সেদিন বুঝবে সেদিন জানবে আমি সতী ছিলুম কি না সেদিন বুঝবে—সতার নয়না যুগাবর্তনের ন্যায় মানব-ভাগ্যের আবর্তনে সক্ষম কি না? চলুম চলুম প্রতিহিংসার দানৰী মূর্তিতে-চম প্রতিশোধ মূল মন্ত্র জপে, চলুম থিয়া-তাথৈ নৃত্য-ধীরে। তােমরা—সক্ষম সবল তোমরা তােমরা ক্ৰোধানলে এক তুহিন- কোমল বালিকার ইহজীবন-পরজীবন-শত জীবনের সব সাধ আলাদ-সৰ সাধনা কামনা প্রার্থনা বিফল নিকল করে হাহাকারে তার হৃদয় পূর্ণ করে দিলে, কি নবাবের ওপর প্রতিশােধ নিতে পারলে না-নেবার চেষ্টাও কলে না। কিন্তু আমি প্রতিশােধ নেব। কলিনীর ফরান কৱল ধাৰণে উন্মাদিনী রণ-জিপী মূর্তিতে নবারের ভাগ্য শতধা চুর্ণ করে দেব। অভিশাপের ক্রুদ্ধ অনল-তাপে তাৰ ধন, জন, দভ, দর্শ, রাজ্য, সম্পদ সিংহাসন অনুপে পরিণত করবে। বহু, বহু শোণিত এৰাহ, বহ ত - অনল তাপে তাপিত হয়ে। এ ক রে আম শিখায়-বৎস আয়- মাত, মাত শিরা উপশিরা-মা দীপ্ত বিব্রতায়-অনল নীলায়!
রাজপুতবা এস, এস চামুণ্ডার সহচারিণী শােণিতপাষিনী পিশাচিন কা। এল, আমায় আবেষ্টনে উল্লাসে কর নৃত্য-শক্তি আৰোপণ কর আমায় তােমাদেরই ন্যায় পিশাচিনী। দে মা, দে মা মহাখারিণীমহতী শক্তিশালিনী—মহাদৈত্য- নাশিনী—ধির-বদনা-ভীষণ-দশনা কাশিনী, দেভাের শক্তি ফলাফাত কন্যাকে ভিক্ষা দে, জননী। অর ন্যায় এ মহাব্রতে স্থির দৃঢ়তায় এ প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করে— তবে, তবে এ করে চিতা সাজিয়ে-হতে চিতায় অডি এদানে-সহৰে সেই চিতানলে এ প্রতিহিংসানল প্রাপিত ছেছে অবলন করবে। ব্যর্থ যদি হয় সতীর এ প্রতিবাণী—তাহলে বুঝবাে মা সতী-সিমলিনী, নহ তুমি সতী-রাণী—নহ তুমি দক্ষ-নন্দিনী নহ তুমি সতীশক্তি-থিনী-নহ, নহ তুমি পতি অনুরাগিণী। তৃতীয় পরিচ্ছেদ “বলী, বিয়সিংহ ? জাহাপনা।” “তুমি প্রত্নহত্যার উদ্দেশ্যে উদ্যোলিত বন্দুক হায়ণে জড়িয়েছিলে-তুমি এক্ষুদ্রোহী। তুমি আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পুতবালা কাৰ্য করেছিলে—তুমি রাজদ্রোহী। এ বিষয়ে তােমার কোন কিছু বলবার আছে? “কিছুমাত্র না-তবে প্রার্থনার আছে।” ব, কি প্রার্থনা তােমার ?” “আপনার কাছে কোন প্রার্থনা নাই, নবাব। তবে কার কাছে প্রার্থনা আছে ? টরের কাছে। “কি প্রার্থনা?” “প্রার্থনা, যেন আম জন্ম এমনি ধারা অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে মরতে পাই। “প্রভূদ্রোহীতা রাজদ্রোহীতা কি তােমার বিধানে অপরাধ “এর তুল্য আর কোন গুরু অপরাধ আছে, তা এ ভূক্ত ভৃত্য অনবণত, নবাব। “তবে স্বীকার করছো, তুমি অপরাধী?" না।” “কেন?” “ব্যক্তিগতভাবে আমি আপনার নিকট অপরাধী হলেও লােকের কাছে, দেবতার নিকট, ধর্মের বিচারে আমি নিরূপ- রাধী। কোন কোটী নরনারীর ভাগ্যদেবতা আপনি- বিচারকর্তা আপনি—ক পালক আপনি-আমি আত্মপ্রাণ পূজা তুলে, মানবধৰে এক অসহায় সতীর মর্যাদা রক্ষায় রাজপুত-বালা ভূত-ধর্মে প্রভুর ললাট যশােল রক্ষাকরণে অস্ত্রধারণ করেছি মাত্র। তাই আবার বলছি-আমি নিরপরাধ।” “বলী, এখনও অপরাধ তােমার স্বীকার কর-সহমানে তােমায় মুক্ত করে দেব।” “আমি মুক্তি চাই না।” "তােমায় মহৈশ্বৰ্য্য প্রদান করবাে।" “হিন্দু ঐশ্বর্যের প্রত্যাশায় মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করে না।” “তােমায় রাজ্যের প্রধানোতম সেনাপতির পদ প্রদান করবে—কেবল মাত্র একবার তােমার অপরাধ স্বীকার কর- আর কিছু নয়।” ‘নবাব বিবেক বিরুদ্ধে অপরাধ স্বীকার করে দীনতায়, হীনতায়, অনুকম্পায় আমি কিছুর প্রত্যাশী নই। “তােমার ন্যায় এমন দুর্দমনীয় অপরাধী আমি আর জীবনে দেখি নাই কখন কোথাও শুনি নাই। তােমার অপরাধের বিরাটকের তুলনায় গুরুত্বময় শান্তি আমি কল্পনায় জানতে পারছি না। বল দেখি উজীর, কোন কঠোরতম ও যােগ্য এই মহা অপরাধীর ?” “নির্বাসনই এই অপরাধীর যােগ্য ও মহাপনা।” “পারলে না উজীর, পারলে না। বৃদ্ধ হয়েও তুমি পারলে না। তুমি পার দেওয়ান?” “মেহেরবান, নির্বাসনে পৰৱৰুে অলক্ষ্যে এই দুরাচার প, সাহান-সার গানি ও নিন্দা প্রচার করতে-নি রাজপুতবালা ২৭ ধন করতে পারে। তদপেক্ষা একে আজীবন কারাগারে বন্ধ রাখাই যুক্তিসিদ্ধ বলে এ বান্দার অনুমিত হয় জনাব।” “পারলে না, হিন্দু হয়ে তুমিও পারলে না দেওয়ান। আচ্ছা, প্রধান সেনাপতি ওমর আলি, তুমি পার ?” “দেওয়ানজীর যুক্তি অতি সুন্দর হলেও-তাতে বিপদাশঙ্কাও আছে। কখন কোন্ সূত্রে বন্দী কারাগার হতে পলায়নে জাহাপনার বিরুদ্ধে ইন সংগ্রহে অনল জালাবে তার কোন শিয়তা নাই! তার চেয়ে বন্দীকে কোতল করাই সর্বতােভাবে সমীচীন।” হা। কেউ পারলে না। অজ অপদার্থ সব। তাহলে বাধ্য হয়ে আমাকেই দণ্ড নির্বাচন করতে হলাে। গুরুতর দণ্ডে অপরাধীকে দণ্ডিত করবাে। তখন যেন কেউ হা-হুতাশ কয় না। আমার দণ্ড-বাণী উচ্চারণে কারও নয়নে বদনে বিষাদ বা বিরক্তির ভাব উদ্দীপিত যেন না হয়। তখন যার মুখমণ্ডলে ঋণ বা অসন্তোষ, বিরক্তি বা ক্রোধের কণা মাত্র সুচিত দেখবাে তাকেই দণ্ডিত করবে—এ কথারণ রেখে। দর্শিত গর্বিতগণ। এই, কে আছিস। বন্দীকে মুক্ত কর।” ‘নবাব- আয় সন্নিকটবর্তী জনৈক বক্ষ, তার মাথাটা দু-নত করত, বলী বিজয়সিংহের প্রতি প্রতিপনে অগ্রসর হইল। তদনে সিংহাসন সােপানে সরে পদাঘাতে রেখে নবাৰ বলিলেন,- ২৮ রাজপুতবা on Ask “সাবধান কৰক্ত। মৃত্যু ইচ্ছা যদি না থাকে, তাহলে বশীকে খুশি কর—যেমনভাবে আমায় করি। পাচ্ছিস না, ঐ যুক্তকরে কি বলছে? যে ব-বিহার উড়িষ্যার নবাবের হান্নামৰ মহাভাগ্যবানও শা করতে পারে না যাৰ পৰিচ্ছদের পৃষ্ঠবস্ত্রের প্রান্তভাগ স্পর্শে মানব জীবন সফল রান করেষার দর্শনে নৃপতিগণ নিজেকে ধন্য, বরেণ্য মান করে—সেই বদ-বিহার-উড়িষ্যার নবাবের মহামূল্য কণ্ঠহার- বিনিময়ে যার বিশাল বাজ) ক্রীত হতে পারে-উজ্জ্বলতায় যার শত অ-কিরণ বিচ্ছুরিত-সেই কণ্ঠহার ঐ বন্দীর কয়ে দোদুল্যমান, আর তুই ক্ষু—অতি ক্ষুদ্র গােলাম হয়ে সেই নব- কর স্পর্শে একটু ইতঃ-একটু শঙ্কিত—একটুও চিন্তিত না হয়ে অগ্রসর হলি। বেতমিজ, গিথেবাভ, তােকে কোতল করবাে। না, ততই বা অপৰাধ কি? আমার সব কর্মচারীই এমনি অয়। নবাবের অন্যায় আছে সকলেই এমনি আর যায় পালন করে। প্রতিরােধ করার—এদেশের গুরুত্ব চিন্তা করার কারও সাহস শক্তি বা মনুষ্যত্ব নাই। যা উন্মুক, সরে যা, আমি নিজে বন্দীকে মুক্ত করে দিচ্ছি।” সত্যই নবাব সিংহাসন ত্যাগে বিজয়সিংহের কর হইতে ইহার উন্মােচনে বলিলেন- “অপৰাধী, এ মুজাহার করে অর রচিত না-করে জন্য নিখিত। নিজের কণ্ঠে মাল্যশেলসনের অসুবিধা = ৰাজপুতবালা হয়। এস, তােমার কণ্ঠে পরিয়ে দিই এই মালা—দেখি কোন শোেয় হেসে ওঠে এ কণ্ঠহার।” সত্যই নবাব সেই মহার্ঘ্য মাল্য অপরাধী বিজয়সিংহের কণ্ঠে করে পরাইয়া দিলেন। রবার চমকিত—বলী বিতি। “বা, চমৎকার দেখাচ্ছে। বীরের কঠে, মানুষের অঙ্গ-পশে, কণ্ঠার শত-শোভায় আলােক- মায় নেমে উঠেছে হেসে উঠেছে-যাঃ, চমৎকার! বন্দী বিজয়সিংহ, এই সিংহাসন-বেষ্টনে চতুর্দিকে শত দানব শত বন-বাদানে তাওৰ নর্তনে ছুটে আসছে-আমার বক্ষ-ধির পানে। এমন কেউ শক্তিমানবীৰ্যবান আমার হিতাকাকী মানব নাই যে, আত্মপ্রাণ তুঙ্গে কর্তব্যের বিজয় ইন্দুভিনাকে রক্ষা করে এ আসন-নৰাৰ-জীবন। তাই হতভাগ্য সরফরাজ আকুল সাধনা-ব্যাকুল প্রার্থনায় বিধাতার নিকট মানুষ চেয়েছিল—তাই সয় ধাতা আজ নিজ প্রতিনিধি বরূপ তােমায় আশীষ পুষ্পের মত—আমার শিরােভূষণের মত অর্পণ করেছেন। হে মহৎ মহান মানব, আজ থেকে তুমি বাংলার সর্বপ্রধান সেনাপতি। তবে তুমি মূক্ত নওশাবলী। লাবন্ধ না হয়েও ভূমি প্রতি আছ, আমার বলী থাকবে। এস, আমার এই আত্মাভিষিক্ত প্রতি ৰাইজােরে বীত্ব তীকার কর ভাই। “এ আবার কোন মূক-কান কৌতুক-লীলা বলে?
রাজপুতবালা
“কেন, নবাব বাদশার নামান্তর কি সয়তান? নবাব
বাদশা কি কেবল মানবজীবন নিয়ে কৌতুক করতে-পাপ
নিয়ে খেলা করতেই জন্মেছে। তাদের হৃদয়ে কি মহত্ব, মনুষ্যত্ব
কিছুই থাকে না? তােমার ন্যায় মহিমার সাগর মহত্বের
লহরীধারা যে রাজ্যে প্রবাহিত, সে রাজ্যের অধীশ্বর কি হয়
হীন হতে পারে! ভেবেছো কি আমি পণ্ড? না বন্ধু, না—
এ ভ্রান্তি ভেঙ্গে ফেল। সেই বালিকার—সেই শেঠ-দুহিতার
মহা-রূপ-লাবণ্যের নিত্য নব প্রসংশাধ্বনিতে হৃদয় আমার মা
কৌতুহলে তরঙ্গায়িত হয়। তাই শুধু একবার—এক মুহলের
জয় সে রূপ দর্শনেচ্ছা প্রবল হয়ে ওঠে। তাই নিরুপায়ে সেই
মা-বাজিতা দেবী প্রতিমাকে প্রতিমাবই ন্যায় আমার প্রাসাদে
আনয়ন করি। দেখলুম, সত্যই সে রূপ মানৰীতে সম্ভব
নয়। তাই দেবীজ্ঞানে সেই বালিকাকে সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত
করে—তার চরণতলে দাড়িয়ের আদেশ পালনে জীবন
খ-সিংহাসন অক্ষুন্ন কৰাৰ বাসনা হয়েছিল। জননী-জানে
তাই সেই সভা রাজপুত-বালার অলক্তক বিশােভিত
পদে পুষ্পগুচ্ছ অর্পণ করেছিলুম-সতীজ্ঞানে তার পদধুলি
শিরে নিতে উদ্যত হয়েছিলুম। আর তুমি-তোমার মধ্যে
দেবত্বের বিক্ষুরণ দর্শনে তােমায় আবদ্ধ করেছিলুম-কহারে।
ভােমার এই স্বর্গীয় দেবমূর্তি মানৰগােচরীভূত করতে তােমার
আত্মােৎসর্গ এই এলত জীবন কাহিনী শােনাতে দরবারে
এনেছিলুম। নতুবা কখনও-কোনদিন কোথাও এনেছ কি,
নাজপুতবালা নবাব কোনও বশীকে নি করেলের পরিবর্তে কোটা বর্ণমুদ্রায় কীত কণ্ঠহারে বন্দী করেছে? এইবাৰ আষায় মানুষ ভাব -এইবার আমায় বিশ্বাস কর। সত্য বলছি, এ আমার কৌতুক কথা নয়, এ আমার আজানধ্বনি-মর্শের বাণী। “তবে, হে নন্দিত বলিত মানব-হে পুজিত ঈপিত রাজা, অাজ থেকে বিজয়সিংহের বুদ্ধি বীৰ্য শক্তি সামর্থ্য তােমার চরণ তলে বিক্রীত হলাে।" তবে এস আমার বাহপাশে।" ও বিস্ময়ে দরবার অবাকে অপলকে হিন্দুসলমানে- রাজায় প্রায় সে পূত আলিঙ্গন দৃশ্য দর্শন করিল। আলিঙ্গন শেষে নবাব ডাকিলেন- “এইবার বালক •া, এইবার তোমার বিচার। রাজপুত বালক ?” আদেশ করুন নৰ পুলকরে পুষ্পমালা ঝুলিয়ে ভেবেছ কি শান্তি হতে অব্যাহতি পাবে? না, তা পাবে না, তা মনে করাে না। তােমার পিতাকে মুক্ত করেছি বলে তােমায় করব না। তুমি ক্ষুদ্র করে স্থূ অস্ত্র উত্তোলনে অামায় বড় শাসিত করেছিলে, এখন তার শচি গ্রহণ কর।” ‘শান্তি গ্রহণে আমি এত, নবাব।” উত্তম, তবে এস অমিয়গঠিত বালক—এস আমার দেহ আকুলি বকে! তবে এস দেণিত আমাৰ জোড়ে! তবে ৩২ রাজপুতবালা বােস স্বর্গচ্যুতপরাগ আমার পার্থে বােস, সারল্যের শত শােভার হিল্লোল মুটিয়ে—করুণার কয়েণগ্রবাহ বইয়ে। তােমার পাপ পর্শে পূত হােক বসিংহাসন—ক হােক রাজার জীবন। আদর্শে তােমার-শত বালকের প্রাণ মহত্বে জেগে উঠুক।” সত্যই বালককে ক্রোড়ে গ্রহণে নবাব সিংহাসনে উপবিষ্ট হইলেন। তদ্দর্শনে সভা সকলের নয়নে বদনে বিরক্তি ও ক্রোধভাব দূরিত হইয়া উঠিল। সে পরিবর্তন নদৃষ্টি অতিক্রম করল না। তথাপি নবাব আবার এগভীর উনালে বলিলেন- “বালক যেমন তুমি তােমার পিতার কর্মে সহকারী ছিলে, তেমনি আজও এই মহ। কঠোর কর্তব্যময় তােমার সেনাপতি পিতার সহকারী হও। আমি তােমাকে বন্ধু বিহার উড়িষ্যার সহকারী সেনাপতি পদে আজ সগর্বে বরণ করলুম।” ভূতাব দমনে প্রধান সচীব বলিয়া উঠিলেন- “এক দুগ্ধপােষ্য শিশুকে “এই পদ প্রদান করা অন্যায়, কেমন ? তােমার ওই যিৰিক্ত হবার পুর্বেই তোমার কথা বুঝেছি, ইর! কি খে বিষয় উলীর মাংস-পােয্য যুবকের মধ্যে যে বীৰ্যৰ যে তেজৰিতা, যে মনীষা দেখি নাই, কল্পনা করি নাই- সেই মানব প্রাথিত শত সাধনা ঈশিত ৰে মহত্ব না এই পেয্যের ফু দেহারে বসেছি।
রাজপুতবালা এই এত বড় সুবিশাল বাংলাদেশে একটাও মানুষ দেখতে না পেয়ে খোদার ওপর বড় অভিমান হয়েছিল। কেবল পv- পালন, জ-শাসনে-রাজাসনে বড় ধিক্কার জয়েছিল। তাই বিধাতা নিজের রূপের আলেখে—নিজের হৃদয়ের ঘঁচে পিতা পুত্রকে নির্মিত করে আমায় আশীষ করেছেন। এ দেবতার দান-ত্যাগ করবে না সচীব । এতে যার অসন্তষ, সেই অনুদার ব্যক্তি আমার দরবার ত্যাগ কতে পারেন। লেপ ঈষান্বিত নিগুণ হিংসুক ব্যক্তিপণ দরবার অপেক্ষা আমার পূ রবারই ভাল।” চতুর্থ পরিচ্ছেদ ‘অপমান। অপমান। অপমানের অনল-তীব্রতায় শােভিত আমার উত্তাপিত বিশুষ্ক হয়ে উঠেছে। মৃত্যুসম এ অপমান বহন করে জীবন চাই না। আমি চাই—হয় নবাব-রক্তে এ অপমান-অনল নির্বাণ-না হয় জীবন বিসর্জন। “সত্য বটে এ অপমান অতি তীব্রতায় শেঠজীর হৃদয়ে সাধাত করেছ। কিন্ত বৰূরে, এ অপমানকাৰী অৰল ন-সৰল, দুর্বল নয়-এল, হেয় হীন নয়-লােকমা, ব বরেণ। লক্ষ লক্ষ শানিত কৃপাণ নবাব-আলা সদ উন্মুক্ত। তাই বলি, আপনার প্রতিশােধের পথ অতি দুর্গম।
৩৪ রাজপুত-বালা ছিঃ ছিঃ রাজা উমিচাদ। আজ প্রবল বলে নবাবের এই যথেচ্ছাচার—এই অত্যাচার-মেষশাবকের মত মত হিন্দু যদি নির্বাকে নীরবে সহ্য করে—তবে এই আদর্শে নবাবের প্রথম শত চারীর সহস্র কর—হিন্দু-নারীর প্রতি অত্যাচারে প্রসারিত হবে। হিন্দুর গৰ্ব মান-অভিমান নবাব-কর্মচারীর পদচাপে ধূলির সঙ্গে মিশে যাবে। তাই বলি, এ অত্যাচার নীরবে কখনই বহন করবে না—এতে যায় যাক, এ হেয় প্রাণ। “কি উপায়? “উপায় ঠিক করেছি উমিচাদ । নবাবের সৈন্যদলকে সৈন্যাধ্যকদিগকে অতুল অর্থ প্রদানে বশীভূত করেছি। নৰাৰ সরফরাজের ছিশির আচরে বক্তকার সঙ্গে মিলিত হবে। অচিরে জগৎ বিপুল বিয়ােচ্ছাসে দেখ,বে-সরফরাজের পতন আর পাটনাপতি শালিবন্দীর উথান।” আলিবর্দীর উখান।" “, আলিবর্দী উধন-উল জীবন-প্রভাত। আল- বীকে তার সৈন্যসহ বঙ্গ আগমনের আমার নিমন্ত্রণপত্র বহন করবার জন্য কেবলমাত্র একজন বাকপটু অথচ পদস্থ ব্যক্তির প্রয়ােজন। নবল আলিবন্দী এসে কি করবে ?” “অর্থে অভবও সম্ভব হয়। হীনল, আমার অর্থ সহায়ে মহাৰাশালী হবে—তার আর বিচিত্রতা কি রাজা? বাংলার নিয়নের লােত দূৰ আলিবর্দী কখনই দমন করতে পারবে
নাজপুতবাণা
না। অর্থ-বিনিময়ে রােহিলা, নিজামী ও মারহাট সৈন্য
সংগ্রহে সে বিপুল-বাহিনী-গঠনে রক্ত রণ-সজ্জায় বীরবেশভূষায়
নিশ্চয়ই আসবে। আলিবর্দীর বাহবল আর আমার অবল
-এই দুই মহতী শক্তি সৰিলনেও কি পাপিষ্ঠের পতন হবে
রাজা?"
“পতন হবে—কিন্তু অত্যাচারের অবসান হবে কি না
সে বিষয়ে সন্দেহ।
“এ সন্দেহের কানি
কারণ, আলিবর্দী আসবে শিষ্ট শান্ত চিত্তেআনত নেবে
-প্ৰণত শিরে । কি কাল যখন শিরে তার বাংলার
বিশ্ব বিস্ময়কর, শােভা সৌন্দর্যময়, মহার্ঘ্য-রত্বময়, মণিরাশি-
প্রভা-ভান্বিত রাজমুকুট শােভিত হবে—যখন সে জগৎ
পূজ্য ইন্দ্রাসন সমতুল্য বঙ্গ-সিংহাসনে উপবেশন করবে-
যখন কোট কোটা শির নত হবে পদতলে তার-তখন সে
তার জাতীয় স্বভাবে অত্যাচার-মূর্তিতে প্রকটিত হবে। কঠোর
প্রতিপালিত আলিবর্দীর হৃদয়ে করুণা-হে-প্রেম-প্রীতির
সঞ্চার হতে পারে না শেঠজী।
“কি আজ যদি হিন্দু-ললনার প্রতি অত্যাচারে, পাপাচারী
নবাবের শোচনীয় পরিণাম বটে—আজ যদি বিন্দুর অনুকম্পায়
অনুগ্রহে আলিবন্দী সিংহাসন
আলিবলী সিংহাসন পায়-তাহলে সরফরার
পরিণাম নেতি-শরণে-ইসত্বেও
হিন্দুর প্রতি অত্যাচারে প্রসারিত হবে না। আলিবর্দী যদি
রাজপুতবালা পড়বে। বােঝে—রাজার উথান-পতন-জীবন-মরণ—হিন্দুর কয়-মধ্যে আবদ্ধ, তাহলে আর কোন নবাব হিন্দুকে পদদলনে সাহসী হবে না। আজ যদি নবাবের এই অসহনীয় অবাধ অত্যাচার পদদলিত কীটের ন্যায় সহ করি—তাহলে ভবিষ্যতে এদের অত্যাচার সহ শাখায়-কাল জিহ্বায় প্রসারিত হয়ে সে অত্যাচারে সমগ্র আর্যাবর্ত আর্ত-ব্যথিত- নিশেষিত—এপীড়িত হয়ে উঠবে। তাই বলি, এ অত্যাচারের এ অপমানের অতি কঠোরতম প্রতিশোধ নিতেই হবে রাজ। এই আমার লক্ষ্য-এই আমার পণ - এই আমার কর্ণ—এই আমার ধর্থ। কেবল আপনাদের সহায়তা সহানুভূতি পেলেই আমার উদ্দে অচিরে সফল হবে। তাই আনি যুক্তকরে আজ আপনার মন্ত্রণা আশায় প্রীতি প্রার্থনায় আহ্বান করেছি। আমরা বগ-শােণিত অর্পণে আপনার সাহায্যে প্রস্তুত। “উম, তবে আর কারে ভয়। একমাত্র ছিল নবাবের অমিততেজা, মহা রণ-নিপুণ বিচক্ষণ প্রধান সেনাপতি ওমৱালি খাকে। সে শঙ্কাও আজ দূরীভূত-পাঠান সেনাপতিও আমার সহায়তায় সত। “না শেঠী, আজ আর আমি সেনাপতি নই—আজ আমি পথের ভিক্ষুক।” বাক্যস কর্মচ্যুত নৰাৰ সেনাপতি ওলি, শেঠজীর নৈশ-মণাগারে প্রবিষ্ট হইলেন। বি-চমক চকিত নেত্রে- বিয়সূচক রে শেঠী বলিলেন,- রাণপুতবাস। ৩৭ “একি অমঙ্গলময় বাণী-নিনাদ কণ্ঠে তোমার বীর। এ কি বিষাদভাব তরঙ্গ তােমার মুখমণ্ডলে প্রবাহিত সেনাপতি ?” “ই। শেঠজী, সত্যই আজ এক মহা পরিবর্তনে আমার ভাগ্য ডুবে গেছে আঁধারে। আমি কৰ্মচ্যুত।” “সে কি! কোন অপরাধে ?” “বিনা অপরাধে। “আপনার ন্যায় মহা যােদ্ধার মহা গৌরবময় পদে আবার কোন মহাবীর সমাসীন হলেন ?” আমাপেক্ষা কোনো ঘােগ্য ব্যক্তি যদি আমার পদাসীন হতেন, তাতে আমার হৃদয় এতট। ক্ষত-বিক্ষত হতে না। “কে সেই ব্যক্তি, সহসা নবাব অগ্রহাতে--বিহার- উড়িষ্যার প্রণম্য পদে বরিত হলো?” “সে একজন নবাবদেহরক্ষী, নাম তার বিজয়সিংহ।” “আপনার সংসা পদচ্যুতির কারণ?” কারণ-নবাবের খোল।” এ খেয়ালের অচিরেই অবসান হবে সেনাপতি। পদ- চ্যুতির জন্য দুঃখিত হবেননা বীর। আমি শপথ করছি- আলিবর্দীকে অনুরােধ করে আপনাকে প্রধান সেনাপতি করবাে। আপনি আমার প্রতিনিধিত্বপ আমার সহ আলিবর্দী সকালে যাত্রা করুন। পত্রে আমি পি দিচ্ছি- যেন আপনাকেই প্রধান সেনাপতি পদে বরণ করে শিবলী বিপুল বিশাল বাহিনীসহ বয়ে আগমন করেন।
৩৮
রাজপুত-বালা
ঘির জানবেন বীরসরফরাজের জীবনযবনিকার পতন
আর আলিবর্দীর জীবনের আলােকোজল পটোত্তলন "
পঞ্চম পরিচ্ছেদ
“আমি রাজপুত-বালা।”
“তা বুঝেছি। কিন্তু কোন মহা ভাগ্যবানের পুষ্পেস্থানে
স্বর্গের পারিজাতের ন্যায় বিকশিত হয়েছিলে, বালিকা
পূর্ণ প্রক্ট-পুষ্প তুমি—একাকিনী এই সুরধুনী-শীরে
কেন, বালা? বুঝি সলিল-রূপিণী জননীর ক্রোড়ে বিরাম
সাভার ?"
“কোন আর্ত-ব্যথা-কোন কাভর বেদনায়-কোন করুণ
যাতনায় এই সুখের জীবনে প্রথম পদার্পণে—জীবন বিসর্জন
Bট এসেছ ?”
নে লাভ?”
নে আমার লাভ না থাকলেও তােমার লাভ থাকতে
পারে।
রাজপুত-বালা “বিক্রপ ব্যতীত আমার আর কোন কিছু লাভ হবে না হতে পারে না। “কারও ব্যথায় মানুষ কি বিভ্রণ করতে পারে। “পারে।” “তাহলে সে মানুষ পৰ্যায়ভূক্ত নয়।” “না অপরিচিত, তারাই সমাজের শীর্ষস্থান অধিকারে তর্জনী হেলনে-নয়নে শাসন করছে।" “সেই শাসনেই কি তুমি তুমি আজ গৃহ-ত্যাগিনী-মৃত্যুপ্রার্থিী রাজপুত নন্দিনী?” “কে তুমি অন্তর্যামীর ন্যায় আমার মৃত্যুবাসনা জেনে আমার গৃহত্যাগের হেতু বুঝে-সান্ত্বনার শীতল বারিতে মধুর সুরে প্রলেপ দিতে এলে- তুমি অন্তর্যামী?" “আমি দশদলপতি। নাম আমার মেঘেশকুমার।” “তুমি। তুমিই সেই দুদ্ধ শক্তিশালী-অমিত পরাক্রম- শালী -মা বলবান মহা প্রতাপবন দযাপতি, মেঘেশকুমার। একি সত্য?” অবিশ্বাস কেন নারী?'। “দর এত সুন্দর আকৃতি—এমন মধুর প্রকৃতি হতে পারে, এ যে ধারণা ছিল না আমার।” “বাদের পরপহরণে আত্মসুখ, যাদের ধু হত্যায়- লুণ্ঠনে পীডনে আনন্দ , তাদের আকৃতি ভীষণ—তাদের প্রতি ভয়াবহ হতে পারে। কিন্তু আমি লুণ্ঠন করি—গৰিবতে গ,
৪০
রাজপুতবা
আমি হরণ করি-ধনীর ধনাভিমান , আমি পীড়ন করি-
অত্যাচারীর বাহর শক্তি। আমার কর্ম-দুর্বল বণ, আমার
ব্যখিতের বেদনা বিমােচন।
তবে-তবে আজ এই বালিকার নয়না মােচন কর।
তার হৃদখি শীতল কর সর্দার , নানা, বৃথা-বৃথা এ
প্রার্থনা আমা—তুমি পারবে না।”
কেন পারবে না, রাজপুত-বালা ?”
“সে বড় প্রবল।”
“বত প্রবলই হােক, দ্য-সার তাতে শঙ্কিত, কম্পিত নয়।”
“যদি সে অত্যাচারী স্বয়ং বঙ্গ-বিহার-উড়িষ্যার অধীর
হয়?
"তথাপিও পচাপ নই।”
“শপথ কর।”
শপথ করছি। এই সুধনী সলিল স্পর্শে শপথ করছি-
যদি তুমি অনিচ্ছাকৃত পাপে পাপিনী হও-যদি তুমি প্রবলের
নিকট উৎপীড়িত। তাহলে সেই অত্যাচারীর শান্তির জন্য
আমি আমার বাহল—আমার বিপুল অর্থবল-আমার অসংখ্য
নােবল—এমন কি জীবন উৎসর্গ করবাে। বল বালা,
কে সে অত্যাচারী ?"
“সে অত্যাচারী স্বয়ং বাংলার নবাব।”
তবে—তবে কি তুমিই মর্ভে ধন কুবের জগৎশেঠ-পুত্র
বা”
রাজপুত-বালা
"হাঁ, আমিই সেই
সেই পদদলিত জঙ্গিনী-উৎপীডিত।
সিহিনী।”
“আর নবাব উৎপীড়নের জন্য আজ আমরা তোমার মত
সতী-রাণীর দর্শন লাভ করলুম। এতদিন আমরা মৃন্ময় মূর্তি পূজা
করে এসেছি—আজ থেকে সজীব সচল দেবীর পূজা করবে।
আজ থেকে তুই আমাদের দেবী-আমাদের শক্তি আমাদের
না।"
সর্দারের শখ গুরুননে স্বনিত হইল। মুহূর্তে সুরধনী-
শুটবর্তী অরণ্য মধ্য হইতে দলে দলে বক্তবসন-পরিহিত, রক্ত
চন-চিত, রক্ত-রতি কাল কলমী শতাধিক বলি
সবল সু ব্যক্তি বহির্গত ইয়া নীরবে সর্দারকে অভিবাদনে-
নীরবে নতশিরে দণ্ডায়মান হইল,
সর্দার গভীরে বলিল,-
“আজ থেকে এই বালিকা আমাদের দেবী-দেবী আনে
সকলে পূজা করবে। আজ থেকে এই রাজপুতবা মা-
দের রাণীবাণী আনে আনতশিরে আদেশ পালন করবে।
আজ থেকে এই মহিমময়ী সতী আমাদের জননী-জননী ৰােধে
ভক্তিভরে প্রণাম
করবে। আমার আদেশ কণা-মা
ব্যতিক্রম যে কবে, তার শির ভণ্ডে ধূল্যবলুষ্ঠিত হবে।
যাও সব
সর্দার আদেশে সেই শতাধিক সর্দার-অনুচর রাত
বালার নিকট শিৰানত পূর্বক নীরবে এস্থান করিল।
৪২ রাজপুত-বালা ভাবােচ্ছাসপূর্ণ বন্তে রাজপুত-বালা ডাকিল,-শৰ্মার?” জননী।” ‘তুমি আশীর্বাদের অতীত। তুমি মানবের উপমেয়—মহা- মানব। তুমি জাতির ভূষণকীর্তিকেতন। আমি কর্মের পূজক-কর্তব্যের সেবক—আর আজ থেকে তোমার আদেশ পালক।" “তির আদেশ পালক। একি সত্য সর্দার ?” “জননী কখনও সন্তানের আশ্রিত হয়? সন্তানই যে জননীর জঠর থেকে জননীর আশ্রয়ে বর্ধিত। জননী তুমি—রাণী তুমি- দেবী তুমি, তোমার আদেশ পানই যে আমার প্রধানতম ধৰ্ম্ম- মে ক।” উত্তম। তা যদি হয়, তাহলে সর্দার, আদেশ অমা, এই মুহূর্তে তোমার সমগ্র অনুচর সহ সশস্ত্রে সজ্জিত হও। কোন প্রয়ােজনে ?" ‘নবাব প্রাসাদ আক্রমণে -বৈরী নির্যাতনে—আমার প্রতিজ্ঞা পানে। কিন্তু মা আমার সমগ্র অনুচর সংখ্যা সহস্রাধিক মাত্র। এই সহজ গণনীয় সৈন্য সহায়ে অসংখ্য সৈন্য-পরিবেষ্টিত বাংলার রাজধানী মধ্যে প্রবেশে-ততােধিক সুরক্ষিত নবাব প্রাসাদ আক্রমণে অভিযান, আর স্বেচ্ছায় মরণ-ক্ষে ॥ প্রদান একই কথা।” “আমি কি পিশাচিনী যে, সন্তানকে স্থির মৃত্যুবক্ষে প্রেরণ রাজপুতবা ০৩ করছি। তা নয় সার, যখন গভীর নৈশ নিন্ধতার মধ্যে সমগ্র বিশ্ব নিদ্রায় অচেতন থাকবে, তখন প্রকৃতির সে অকারত্রে দেহাবণের মধ্যে সহসা বাঘের মত নবাবপ্রাসাদে ঝাপিয়ে পড়ে চূর করতে হবে অত্যাচারীর প্রাসাদ-পাপাচারীর মত। যদি সত্যই আমি তােমাদের রাণী হইবে এই মুহূর্তে বাহিনী সুসজ্জিত কর। আমি স্বয়ং বাহিনী পরিচালনা করবে। পরাজিত হলেও কেউ জানবে না -কেউ বুঝবে না, কে এই বাহিনীর নেতা, কে এই অভিযানের গো ‘কেউ না বুঝলেও আমি বুঝেছি—আমি জেনেছি রাজপুত- বালা।” বলিতে বলিতে এক তেজৰী শেত অশ্বপৃষ্ঠাঢ় রক্তবর্ণ বালক বৃক্ষান্তরাল হইতে আবির্ভূত হইল। ঝনাংরবে সর্দারের করাল করবাল পলকে পিধানমুক্ত হইল। কিন্তু আগন্তুকের বয়সের ও আকৃতির অতি নবীনতা দর্শনে-পুনঃ পিধঃনবন্ধ হইল। বিপুল বিস্ময়-তরঙ্গোঙ্গাসে রাজপু-বান বলিয়া উঠিলেন,—“একি, তুমি। তুমি সেই ?” ‘হ রাজপুত-বাল', আমি সই।” “তুমি হিসুক নবাব গ্রাস মুক্তে এখনও জীবিত।” “শুধু জীবিত নই—আমিই এখন বঙ্গ-বিহার-উড়িষ্যার সহকারী সেনাপতি “আর তোমার পিতা ?” প্রধান সেনা নায়ক।
s
রাজপুত-বালা
অসভ্যবিত-অপ্রত্যাশিত ভাবে সহস। এ ভাগ্যোন্নতির
কারণ?"
“কারণ—তােমার রক্ষার কার আত্মত্যাগের পুরস্কার।”
“আমি বিকৃত-মস্তিষ্টানহারা উ মাদিনী নই বালক।
"আমিও মিথ্যাবাদী নই, বালিকা
"কিন্তু এ অসম্ভব কথায় বিশ্বাস হয় না যে বালক?”
না হলে তাতে আমার কোন ক্ষতি বৃদ্ধি নাই। বিলাস
করা না করা। সেটা তােমার ইচ্ছাধীন।”
বিশ্বাস করলুম-ধর্ম-বিনিময়ে তুমি এ পদে উন্নীত হয়েছ।”
“তুমি বালিকা—তাই এ বাক্যের উত্তর অন্ত্রে প্রদান করতে
নিরঙ হলুম।”
“কিন্তু একদিন আমার জন্য পিতাপুত্রে জীবনােসর্গে উদ্যত
হয়েছিলে।”
“সেটা তখন কর্তব্যের জন্য প্রয়ােজন হয়েছিল। কিন্তু
আজ আবার তােমার বিরুদ্ধে অস্ত্র উত্তোলনের প্রয়ােজন
s
হয়েছে।”
“কেন?”
“তুমি রা-বিদ্রোহিনী।”
“আর তুমি সয়তান পদ সেবক।”
‘আশ্রয়দাতা, অমদাতা সদন হলেও মানৰ ধার
নিকট কৃতজ্ঞ থাকার মালার্থে জীবনপাত করা।
“তুমি কি সেই বালক—যে বালক একদিন । নি
রাজপুতবালা
৪৫
নার জঙ্গ অকুতােভয়ে-ফীত উমুক্ত অন্ত্রে নবাব সকাশে
নির্ভীকচিতে পডিয়েছিল- তুমি সেই বালক?
তুমি কি সেই বালক-যার কণ্ঠে একদিন মহান উক্তি
নিনাদিত হয়ে আমার হৃদয়ে হিন্দুর ভবিষ্যত জীবনের একটা
প্রােজ্জ্বল কল্পনা-উজ্জল জাগরণের দৃশ্য অঙ্কিত করে দিয়েছিল
—তুমি কি সেই উদার অন্তু দার (দব বালক?
“হ। বালিকা—সেই বালকই এই।”
তবে তােমায় তো আর তাগ করতে পারি না। তুমি
উপকারী হলেও আজ আমার সে উপকার বিস্মরণে তােমায়
আবদ্ধ করতে হবে। নতুবা আমাদের অস্তিত্ব—আমাদের
প্রকাশ হয়ে পড়বে। সর্দার, বন্দী কর এই
বালককে।”
“বালক, অস্ত্র ত্যাগ কর।”
“প্রভু-আজ বাতীত রাজপুত-বালক কখনও অস্ত্র ত্যাগ
করে না, সর্দার।”
“কিন্তু আক্রমণে আমার-জীবনাশা তােমার।
“পর-প্রাণ যাদের ক্রীড়নক, তাদের মুখে এ মহৎ উক্তি বড়
অােভনীয়।
“উত্তম, তবে আত্মরক্ষা কর।” সর্দার অবহেলায় বালককে
আক্রমণে—সর্দারের অবহেলা দূরীভূত হইল
জমে উম উদয় হইল-তারপর আশঙ্কা ধীরে সর্দার-চিত্তে
আবির্ভূত হইল। সর্দার বাম-করে শখ থারণে নিনাদিত
রাজপুত-বালা করিল। সর্দারের শত সাথী আসিয়া বালককে পরিবেষ্টনে উন্মুক্ত করবাল-করে দণ্ডায়মান হইল। সদ্দার বিষয়ে দেখি—বালক তখনও নির্ভীক নিঃশ- তখনও তার ক্ষুদ্র অসি চক্রবং বিঘুর্ণিত। মেঘ গুরু-গম্ভীর কণ্ঠে সর্দার জাকিল-বালক ?* দ। “এখনও অস্ত্র ত্যাগ কর, নতুবা দেখেছো, ঐ শত সুশাণিত শামুক ?" অস্ত্র দেখে রাজপুত বালক শঞ্চিত হয় না।” “কি বালক-বধে ইচ্ছা নাই। এখনও অস্ত্র ত্যাগ কর। “এখনও বক্ষস্পন্দন নিস্পন্দিত হয় নাই আমার।' “তার আর বিলম্ব নাই।” বাক্য আর কাব্য এক কর সর্দার।” “এই দেখ এক হয়েছে—অস্ত্র তােমার বিখণ্ডিত। “পুনঃ অন্ত্র দাও।” “তােমার অভিষণেই প্রকাশ, দ্য আমরা—হীন আমরা। সুতরাং দম্যর অনুকম্পার আশা অনর্থক তােমার। দুমা, বল- কের হস্তপদ রজু-আবদ্ধ করে ঐ অংণ্যে বন্দী করে রাখ।” “আর শোন ভূমা তােমাদের রাণীয় আদেশ, এই বালকের মীননাশের কোন চেষ্টা বা বালকের পানাহারের কোন কষ্ট না হয়। আমাদের উদ্দেশ্য সম্পূরণে বালককে সমানে মুক্ত করে দেবে। যাও, আদেশ আমার মনে রেখাে।
রাজপুতবাল। ৪৭ ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ •একি হোলো। একি করলে দেবতা। আমার উদার প্রভু - আমার মহৎ আশ্রয়দাতা—আমার দয়াল এর ঘনীভূত বিপদ, অথচ আমি জীবিত। এর চেয়ে মৃত্যু কেন দিলে না ঈশ্বর! হে পবন, সর্বত্র তােমার গমন। এ দীন আজ আৰ্ত্তরে তােমার করুণা-কণা প্রার্থী। যাও পবন, রাজধানীতে যাও রাজপ্রাসাদে। শােনাও জানাও রাজাকে আমার বিপদ বার্তা। হে প্রবময়ী গা, তুমি জগৎজননী-ভক্তহৃদি-বিহারিণী, তোমার নিকট আতিভেদ নাই।তবে—বে যাও মা একবার ভাষাময়ী—মূর্তিমতী হয়ে প্রভুকে আমার জানাও তার ভীষণ বিপদ কাহিনী। শাণ অরণ্যানীর প্রান্তে এক বৃহৎ বটবৃক্ষমূলে রাজপূত- বালক ভূপতিত। বালকের হস্তপদ একত্রে একই রতে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ। বালক মাথাটা কষ্টে উচ্চে উত্তোলন দেখিল-কেহ কোথাও নাই-বালক বিল- “এ বন্ধনী কি অচ্ছেদ! পারবে না। এর মালার্থে এই রজ্জ্বয়ি করতে যদি আমার হস্তপদ অথবা দশনপক্তিও যায়-যাক। তবুও যদি পারি আমার প্রভুকে বিপদাৰর্ত হতে উদ্ধার করতে।” বালক দেহের সমস্ত শক্তি বিনিয়োগের আকর্ষণ ৰিকৰণ 39 রাজপুতবালা করিল। উৎপীড়িত রঞ্জু হাতে আরও দৃঢ়তায় পরস্পর আবদ্ধ হইল। বালক তখন সে চেষ্টা পরিহারে দশনে রজু দংশনে জুপাশ ছিন্ন করিতে চেষ্টিত হইল। সে চেষ্টায় বালকের দু-একট। দত উৎপাটিত হইল। শােণিতধারা প্রবাহিত হইল। নিরাশায় -মবেদনার জাল-জর্জরিত অন্তরে বালক বলিয়া উঠিল, "না, হলো না। ব্যর্থ হলো সব চেষ্টা-বিফল হলাে দেব আরাধনা। কিন্তু রাজপুত-বালা, অজ্ঞানতায় নবাবেব অন্তঃকরণে মধ্যে কি মহামূল্য উপাদানজি গুরে স্তরে সজ্জিত, তার সন্ধান না জেনে যদি সে অমূল্য অতুল্য দেহধার চুর্ণ কর, তাহলে জেনে বালিকা, যদি আমি মুক্তি পাই যদি জাবিত থাকি, তাহলে তুমি যারই আশ্রয় না—তথাপি আমার এতিশােনল থেকে তােমার তােমার নিস্তার নাই—উদ্ধার নাই। তখন তােমায় পিশাচিনী মানে তোমার বক্ষ-ধিরে আমার তরবারী রজিত করতে কোন দ্বিধা-কিছুমাত্র সঙ্কোচ করবে না— স্থির জোনা সহসা অপদধ্বনি এত হইল। দষ-আগমন-আশঙ্কায় ক্রোধে বালক অপদোশিত পথপ্ৰতি চাহিল। দেখিল আরােহী-হীন অথচ আয়ােহীর সাযুক্ত একটা যেত অশ্ব সেই দিকেই আসিতেছে। বালক চিনি—সে অশ্ব তারই। বালক বুবিল-তারই সনে অব ম্যমান। বালক আকিল- যে?
D
F
प्रबिन
कान मजौबान...
(
No text on this page.
রাজপূত-বালা
'es
ছিল।
সে আবানে অব বিজলীবং বালক-পরিখানে আলিয়া
সয়ে হেষ। ধ্বনি করিয়া উঠিল । বালক অ লক্ষ্যে বলিল,-
*ৰে, শেল, তুই পারিস শে? একবার নগরে
গতিতে ছুটে গিয়ে আমার প্রভুকে তার বিপদবার্তা শােনাতে
পারিস, খেতা? চৈতক রাণা প্রতাপসিংহের জীবন পক্ষা করে
সেও অখ ছিল তুইও অখ-তুইও রাজপুতের বাহক।
তুই আজ তেমনি তাের প্রভুর প্রভুকে রক্ষা কউর কর
তো।"
তাে দক্ষিণ পদ মৃত্তিকায় আঘাত করিল, বুঝি প্রকে
অভিবাদন করিল। তারপর খেত। শীয় জশনে বালকের বতি
রসন্ধি-স্থান সবলে আকর্ষণে বালককে মৃত্তিকা হইতে তুলিয়া
উদ্ধশ্বাসে রাজধানী অভিমুখে দুটিল।
সে এক অভূতপূর্ব-অপূর্ব দৃষ্ণ। সে অ দেখা অ ভাৰা দৃশ্য
দর্শনে পখিক ব্যাপার না বুঝিলেও বিস্মিত-চমকিত হইল।
পবনবেগে অশ্ব সেই অবস্থায় বালককে লইয়া, নবাব প্রাসাদ
সম্মুখে উপনীত হইয়া গতি নিরুদ্ধে অতি সন্তর্পণে বালককে
মৃত্তিকায় রক্ষা করিল। বালক তখন মুচ্ছিত। নব-দ্বাররক্ষীগণ
বালককে চিনিল-চিনিয়া বিস্ময়াভিভূত হইল। কে ব্যতে
তাহারা সেই র-আবদ্ধ মূতি অবস্থাতেই বালককে নবাব
সকাশে উপনীত করিল।
৫৫
নাজপুতবা
সপ্তম পরিচ্ছেদ
t
“সত্য করে বলকে বালককে মুক্ত করেছ?”
“আমরা কেউ মুক্ত করিনি।”
এখনও সত্য কথা বলসতুবা ভবিষ্যতে অপরাধ প্রকাশ
পেলে অতি নিৰ্মমতায় তাকে বধ করবাে।”
“আমরা সকলেই নিরপরাধ।”
“ভাগীরথী নীর স্পর্শে বল।”
ভাগীরথী-বারি শণ বলছি—আমরা কেহই বালককে
মূক্ত করিনি।”
ভীমা ?”
০
সর্দার
“সত্য বল, তুমি কিছুই জান ন?”
“না সর্দার, আমি কিছুই জানি না।”
“বালককে কি দিয়ে আবদ্ধ করেছিলে ?”
“দৃঢ় রঙ্কুতে বালকের পদ আবদ্ধ করেছিলুম। সে রই
ছিন্ন করা বারণ শক্তিরও অতীত।”
তবে কি বােৱাতে চাও আমায়-বালক মন্ত্রবলে অন্তর্ধান
হলো ?
*ীমা?”
“মা!”
কোন ব্যক্তিকে অরণ্যে প্রবেশ করতে দেখেছো?”
রাজপুতবালা ০১ “চল মা। “না, মা।” “সর্দার ?” জননী !” “চল দেখে আসি, বালক যেখানে আবদ্ধ ছিল , যদি কোন তথ্য আবিত হয়।” কিন্তু এ বড় আচ। বালকের শক্তি সাহস যেমন অদ্ভুত, তেমনি তার পলায়নও অদ্ভুত।” ভামা ?" “রাণী।” "বালক কোন স্থানে আবদ্ধ ছিল ?” “এই যে, এই বটবৃক্ষ মূলে।” “সর্দার?” "দেবী। “দেখেছ সর্দার।' “কি।” “ভীমার নির্দেশিত বালকের অবস্থিতি-ন শশাণিত- সিক্ত।” “তাইতাে রাণী। আবার আর এক মহা বিস্ময়-তরলে হৃদয় প্লাবিত হয়ে উঠলাে। এ শােণিতধারা কেমন করে কি ভাবে এলো? তবে কি-তবে কি বালককে কোন হিৰ পত নন করেছে। তারই দশন বিদ্ধ ক্ষতে বুঝি বালকের এ শােণিত পতিত হয়েছে।”
রাজপুত-বাসা
তাই সবসম্ভব কেন, তাই। সর্দার, আমি পিশাচিনী।
মহ-মণ্ডি—সারল্য সৌন্দৰ্য শােভিত-নিপাপ-চিত্ত বালক
আমার পরােপকারী ভ্রাতৃসম ৰালক আমারই নিষ্ঠুরতায় চলে
গেল পরপারে। সেই পূত পবিত্র দেহধার আজ হীন হেয় ভাবে
পর উদরসাং হলাে।
হে বালক, ৫ পুণ্য-পূত বর্গ-, প্রতিহিংসাপরায়ণ। এ
অভাগিনী—এ পাতকিনী আজ অনুতপ্ত অন্তরে মুক্ত করে
নম্বনালসেকে তােমার করুণ—তােমার মার্জনা ভিখারিণ।
হে স্বর্গীয় বালক, মার্জনা কর এ দীন হীনা ভগিনীকে
তােমার?”
"ী, নয়নাতে কি ভাসিয়ে দিতে চাও তােমার শপথ
তােমার উদ্দেশ্য? শোকাবেগে কি ভুলে যাচ্ছ আজ কেন তুমি
ধনকুবেরের গৃহলক্ষী হয়েও ভিখারিণী—নাথিনী ?
রাণী তুমি, তােমার কাতরতা দর্শনে ঐ দেখ মা, আমার
সময় অনুচরদের নয়ন অভারাক্রান্ত—দন বিষাদাছ। ওঠ,
মা, জাগ, মা, প্রলয়ঙ্করী ভীমা ভয়ঙ্করী মহাশক্তিশালিনী
কার তেলে—আর শক্তিতে। তোমার আদেশ শিরে
ধারণে মা-অবমাননার প্রতিশােধ গ্রহণে অস্থ্য জীবন সন্তান
জন্মগ্রহণ সফল করি মা সতীরাণ।”
“ঠিক-ঠিকঠক বলেছ সর্দার। এখনও সেই নারী-
অপমানকারী অরাতি জীবিত। এখনও সেই পামরের
বন্দর দর্শন করি নাই।
এখনও অপূর্ণ প্রতি আমার।
বাজপুবালা তবেতষে যাও আর ফিরে যাও। ঘতনি অতি পতন প্রতিজ্ঞা পূরণ না হয় ততদিন , জলরে অনল, অল রাগে নয়নে আমার। যতদিন রাজপুত বালার ভীষণ এতিশােবানলে বৰ যিকোভিত না হয়, ততদিন—পিশাচ-পিশাচিনী, আমি সেবিক। তােমাদের। তবে—তবে সাজাও সন্তান, মহাশক্তি দাপে অদূষণে—রক্ত-বসনে সাজাও তােমার দুদ দুধ , ৰাহিনী। হয় প্রতি পালন, না হয় জীবন পতন হয় হবে। যদি পতন হয় ক্ষতি নাই। ক্ষুদ্র এক রাজপুত-বালার জন্য অনন্ত শক্তিধর সমগ্র বাংলার রাজধর নবাবের প্রতি এই প্রতিশােধ গ্রহণের জন্তু আদর্শে-বিদেশী আর কখনও হিন্দু- নারীর প্রতি কু-দৃষ্টিপাত করবে না। হিন্দুবালার নামে আতঙ্কে নয়নাবুত করবে। অর—যদি পূর্ণ হয় প্রতি আমার, তাহলে ঐ গার মুকে-অমরার অমর আশীর্বাদ অঝোরে ঝরে পড়বে তােমাদের শিরে। মহাকীর্তির কনক কীৰিটে শিৰ তােমাদের গুলো হয়ে উঠবে। তােমাদের যশােনে গৌরব-গানে শুধনী তটভূমি মূহমূহ ধ্বনিত-মুখরিত হয়ে উঠবে। চল চল সন্তান! পীডক দলনে-মাতৃ সম্মান রক্ষণেশৰাৰ- নিপাতনে দেশের গৌরব বর্ধনে।"
৫৪
রাজপুত-বাংলা
অষ্টম পরিচ্ছেদ
“আমি কোথায় ?"
“তুমি নবাব-গ্রাসাদে-নবাবের শয়নাগারে-নবাব-শয্যায়-
নবাব-জোড়ে শায়িত।
এখানে। এখানে কেমন করে এম আমি?”
“তুমি অশ্বশন বাহিত হয়ে আমার প্রাসাদ-দ্বারে নীত হও।
তোমায় আবদ্ধ অবস্থায় রক্তাক্ত কলেবরে দেখে তােমার
মূতি দেহরক্ষীরা আমার নিকট আনয়ন করে-এই মাত্র
আমি জানি।
“ওহহহহ-মনে পড়েছে, মনে পড়েছে, নবাব।”
ওকি? অমনভাবে ক্ষি লক্ষনে শব্যাত্যাগ করলে কেন
লক। এখনও তুমি দুর্বল—এখনও তােমার বিশ্রামের
তােমার শয়নে-তােমার আমার প্রয়ােজন।
“কিাই আর প্রয়োজন নাই নবাৰ-আমি সুস্থ হয়েছি।
আমার দেবতুল্য প্রভুর আসন্ন বিপদ-আর প্রভূর মুখশয্যায় প্রভুর
কয়ে ব্যথা দিয়ে আমি বিশ্রাম করবে! অগ্রে এ শত্রুনাশ
করি, তারপর-তারপর হে দয়াল দেবতা। হে মহান প্রভু।
তারপর তােমার ঐ কোমল কর আমার মাথায় স্থাপন করে
এ হীন ত্যকে আশীষ করে—কশ। থানা বর্ষণ করে।
প্রহেলিকার মত এ কি কথা বলছে। বালক। শমন যার
নামে তি—সেই নবাবের আয় বিপদ কি?”
রাজপুতানা সতাই নবাব, ঘনীভূত অড়ীভূত বিপদরাশি অলক্ষ্যে-অজ্ঞাতে আপনাকে গ্রাস করতে অদ্য নিশার অন্ধকারেঅারেরই ন্যায় ভীষণ মূর্তিতে ছুটে আছে। মৃগ-শিকারে আমি রাজধানী উপান্তে গিরিয়ার সন্নিকটবর্তী অবস্থিত, সুধনী তটোপরি বিরাজিত অরণ্যের উদ্দেতে গমন কাশীন, আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীগণের কথা কণে আমার প্রবিষ্ট হলাে। আমি থাকতে পারলুম না। আমি ষড়যন্ত্র-সম্মুখে সতেজে উন্মুক্ত অন্ত্রে উপনীত হলুম। রাজ-প্রাণ হননে ব্ৰতী সেই বলিষ্ঠ পুৰুষ আমায় অত্যাগে বন্দী স্বীকারের অন্য আদেশ কলেন। আমি শুনলুম না সে আদেশ-গর্বে দর্পে সে পাপা- চারকে আক্রমণ করলুম। সহয়। সেই দুর্বত্ত শবনি করলে সহসা কোথা থেকে শত শত রক্তপরিহিত অস্ত্রধারী ব্যক্তি আবিষ্কৃত হয়ে আমায় পরিবেষ্টন করলে। তথাপি আমি সেই শখবাদককে আক্রমণে নিরস্ত হয় না। অচিরাৎ আমার অল্প দ্বিখণ্ডিত হলো—আমি পুনঃ অল্প চাইলুম, অনুদার তারা দিলে না—আমায় নিরস্ত্র অবস্থাতেই বন্দী করলে, হীন পতর গায় আমায় রজু করে এক মুলে তুলে ফেলে রেখে দিলে। আমি আর্তনাদে বিধাতাকে ডাকলুম-নিজের জীবনের জন্য নয়, আপনার জীবনের জয়! প্রাণপণে রজু মােচনের চেষ্টা করলুম, কিন্তু পারলুম না। তীত্ব দন্তে জুচ্ছেদনের চেষ্টা করলুম-দশন উৎপাটিত হলাে—শােণিতে বস্ত্র ভূপৃষ্ঠ রঞ্জিত হলে-কিয় ছিন্ন হলাে না। তখন ঈশরে অভক্তি-অবিশাস জেগে উঠলাে।
রাজপুতবা
এমন সময়ে আমার ঘোটক তাে উপস্থিত হয়ে তার দন্তে এ
ধারণে আমায় নিয়ে পবন-বক্ষ বিদারণে পবন প্রতিৰিতায় ছুটলে
পথে আমি মুছিত হয়ে পড়ি।
“বাঃ! তােমার কাৰ্য, বাক্য যেমন বৈচিত্র্যতায় সৃজিত
গঠিত, তেমনি তােমার এই মুক্তি মহা বিয়ে উদ্ভাবিত।
কিন্তু আমি যে কিছুই বুঝতে পারছি না, সহকারী সেনাপতি।”
“কি বুঝতে পারছেন না, রাজা ?"
“আমি বুঝতে পারছি না, কে সে শমনশক্তি উপেক্ষাকারী
মশক্তিমান-ষে বাংলার নবাবের প্রতিদ্বন্দীতায় অবতীর্ণ।”
“বুঝতে পারছেন না নবাব, কে আপনার প্রতি বীতায় সহসা
অতর্কিত অসম্ভাবিতপে অবতীর্ণ ?”
“ন্য বালক, বুঝতে পারছি না।”
এ সেই পদহিতা সপিনী-স্বামী-পরিত্যক্তা সতী শিরােমণি
রাজপুতানা-অজ নৰ-প্রতিদ্বন্দিনী।
এক বালিকা নবাব প্রতিনী, একি কুহক কথা।”
“হকের মত হলেও এ সত্য।”
*কোথা থেকে, কেমন করে নবাব-বিরুদ্ধে অৱোত্তলনের শক্তি
সংগ্রহ করলে সে রাজপুত-বালা ?”
“তা জানি না। তবে সেই রাজপুত-বালার আদেশবাহী
সায় দেখে অনুমিত হয়-তারা ষ। বরে, আমার আর
বিলম্বের অবসর নাই—আমি চম।
“কোথায় ?
রাজতবালা
প্রাসাদ-প্রাচীরােপরি আগ্নেয়াস্ত্র সজ্জিত করতে-প্রকার
নি সৈন্য বেণী সন্নিবেশিত করতে।
"কেন?"
“একি প্রশ্ন আপনার। প্রাসাদ ৰক্ষাপ্রভুর সম্মান রক্ষায়
সৈ-সজ্জা—এ ত’ স্বাভাবিক।
আর কেন এদের
উব হতে পারে না!"
“হতে পারে না—কিন্তু হচ্ছে। আমি বাংলার নবাব।
সাধারণের প্রকৃতি ও প্রবৃত্তির উপাদানে নবাবের হৃদয় বিধাতা
গঠিত করেন না, তাই এ প্রশ্ন বীর বালক। সেই রাজপুত
বালাকে জননী বলে সম্বােধন করেছি-দেবীর আসনে বসিয়েছি।
তখন আজ আবার সন্তান হয়েপিশাচের স্থায় জননীৰধে অস্ত্র
ধারণ করবে কোন করে কোন প্রাণে বালক? জননী - জননী।
জননী শক্তিকে প্রতিহত প্রতিরােধ করে মাতৃ অপমাননা
মা-শক্তির হীনতার পরিচয় প্রদান করা—সন্তানের কথা নয়।
তাই বলি, বাধা দেবার প্রয়ােজন নাই। আৰু সেই
রাজপুত-ৰাল, স্বেচ্ছায় হৃদয়-শােনি ঢেলে পূজা করবে তার
রক্তকমল-নিন্দিত চরণ সরােজ দুটা।”
“নবাব, নবাব, একি ত্যাগের মহৎ ধ্বনি—ভক্তির প্রণব
ৰাণ শােনলে নবাৰ। মুঃ অন্তরতৃপ্ত কর্ণকুহর-প্রীতি ইরি-
নিচয়। কিন্তু ভূপেশ, এক প্রতিহিংসাপরায়ণ। বালিকার জলিত
ক্রোধানলে অষথা এমন মহামূল্য স্বর্গ-অবদান—আমি রক্ষক হয়ে,
সেবক হয়ে, উপাসক হয়ে অর্পণ করতে পারি না। যে তোমা
৫৮
রাজপুত-বালা
চিনেছে-তােমার অন্তর না দেখেছে সে নিচে থাকতে
পারে, কিন্তু আমি যে তােমার স্বর্গালােক-পরিপ্লাবিত অন্তর
দেখেছি-দেবতার প্রতিনিলিপে তােমায় জেনেছি-আমার
অন্তর-করে অতি যত্নে তােমার ঐ দেবমূর্তি অঙ্কিত করেছি।
আজ এক উন্মাদিনী প্রতিহিংসা-পাগলিনীর রক্ত-লােল-রসনায়
সেই আমার আরাধ্য প্রভুকে নিক্ষেপ করতে পারবাে না। আমি
আমার নিজের পদবীর গুরু দায়ীত্বে-ভূতের কর্তব্যে—সেবকের
সেবধর্মে বাধা দেব, সেই রাজপুত-বালাকে। আর ধর্ম কার্ধে
—আমার কর্তব্য কৰে বাধাদানে পুতুল্য দাসকে নিয়ে-
নির্ষে নিক্ষেপ করবেন না বলের ?”
“বেশ, আমি আদেশ-হীন অবস্থায় নিরপেক্ষ রইলুম।
ইচ্ছা যদি হয় রণ-পালক বালিকার বাধুক যুণ।
সৰুৰে অকল্পনীয় আশ্চর্ষে গঠিত এই রণ-জামােজনে—এই
আদর্শ মহান।
তােমরা দুটি বালক-বালিকা নিত্য নব নব বিচিত্র বৈচিত্রময়
র্গ দৃশ্য ম বক্ষে প্রতিফলিত করে তুলে।
তােমরা দুটি অমরার পূষ্প দেব-দেবেশের কচ্যুত হয়ে বুঝি
বরে পড়েছ বাবকে শোভায় আগত মাতাতে-আলােকে
ভাসাতে বিপুল বিস্ময় জাগাতে বিক্ষে।
যা দেব-বালক, আদেশের অতীত তুমি-তােমার ইচ্ছার
গতিপথ কখনও কোনদিন আয় বাংলার নবাব করবে না।”
D
রাজপুতবা
নবম পরিচ্ছেদ
আমি স্বয়ং
“রাণী, আমার প্রেরিত সৈনিক মিথ্যা কহে নাই—ভুল দেখে
নাই। সত্যই নবাব প্রাসাদোপরি আগ্নেয়াস্ত্র সজ্জিত-সত্যই
প্রাকার-মুলে শত শত সৈয় রণ-বেশে জাগ্রত।
অলক্ষ্যে দেখে এলুম। এ ভুল না—মিথ্যা নয়। বিস না
হয়, দেখে এস রাণী তুমি নিজের চক্ষে।
“নিয়োেজন সর্দার। তােমায় এতটা ন ন করলে,
আজ তােমায় সন্তান সভাৰণে তােমার আযৌনী মধ্যে নিতে
অবস্থান করতুম না। কিন্তু পূর্বাহ্নে কেমন করে নবাব আমাদের
অাগমন সংবাদ জ্ঞাত হলাে, পুত্র ?”
আমি তাই ভাবছি না। ভীমা ?
“সর্দার।”
তুমি আবাল্য লালিত পালিত হয়েছ আমারই মে-কোমল
ব।ে পুত্রহীন সর্দারের তুমিই পুত্র স্থান অধিকার করেছ।
তোমায় পুতুল দেখি, ভালবাসি, যে করি। তোমায়
উন্মুক্ত হয়ে সর্ব-মন্ত্রে শিক্ষিত করেছি আমি। বীরত্বে-শক্তি
সাহস সামর্থে নিজের প্রতিবিম্বৰূপে তােমার হৃদয়কে গঠিত
করেছি। আমিই তােমার একাধারে পিতা মাতা, আমিই
তােমার আয়াতা—দাতা। আমিই তােমার প্রভু।
রাজপুত-বালা
আমার সম্মুখে মিথ্যা কথা বলবে না বলেই আমার বিশ্বাস।
বল দেখি ভামা, সত্য করে বল দেখি, এ রহস্যের কারণ তুমি কি
কোন কিছু অবগত নও?”
না সদর।
‘আমার দল কোন অনুচর কি অনুপস্থিত ছিল ?"
‘সত্য ?"
“সত্য।
আপনি—প্রভু আপনি—পিতা আপনি।
আপনার সমক্ষে মিথ্যাবাণী উচ্চারণ করবে, এ হীনতা যেদিন
অন্তরে আমার উদয় হবে সে দিন যেন বজ্র নিপতিত হয়
মকে আমার।”
“বিশ্বস করলুম তোমার কথা। কিন্তু আমি যে কিছুই
ধারণায় আনতে পারছি না—ভীমা!”
ভৗমাকে নির্বাক নতশিরে অবস্থান করিতে দেখিয়া রাণী
বলিলেন-এখন উপায় পূৰ?"
“বল জননী, আদেশ কর রাণী, ঐ সাক্ষাৎ শমনরূপী কালা-
নলক্ষে হাসতে হাসতে ঝাঁপিয়ে পড়ি। কিন্তু তোর আশা
তাের পিপাসা তাতে তৃপ্ত-পীত হবে না। লাঠি সড়কি,
মোটা, বম, ব, ভ, কুঠার, টাঙ্গি বা তরবারি—অগ্নেয়ার
অনল উলগারে লহমায় ভয় হবে।”
তবে প্রয়ােজন নাই। অপ্রয়োজনে অযথা এতগুলি
সন্তানহীন হেলায় নল-মূখে সমর্পণ করবার আদেশ জননী-
রাজপুত-বালা
'
D
কণ্ঠে উচ্চারিত হলে, মা নামে মানব-বক আর উল্লসিত ভক্তি
প্লাবিত হয়ে উঠবে না।
তবে এই মণ হনে এত
বাখাবিঃ দগনে
আয়ােজনে এসেছি যখন, তখন শুধু শুধু ফিরে যাব না
সন।”
“তবে কি করবে, মা?”
“আমার আগমনের একটা বিশ্বয়কর নিদর্শন নবাবকে
জানিয়ে যেতে হবে। যাতে সে বুঝৰে-রাজপুত-বালার শক্তি
কি মহামেদে গঠিত। শােন সর্দার। যে অখয়াই আজ
আমার বুকভরা । পরিতৃপ্তির পথ রুদ্ধকরলে—সেই নবাবের
আগ্নেয়াস্ত্র-অভাগার লুণ্ঠন করে নিয়ে চল সব। এই আয়াে
ভবিষ্যতে আমার সহায় হবে—প্রতি আমার পূর্ণ করবে।
অাজ না হয় কাল, কোন দিন না কোনদিন, কোন না
কোন সুযােগ নবাবের আগ্নেয়াই নবাৰ শতা দী
করবে। চালাও বাহিনী নিঃশৰে অস্ত্রাগারাভিমুখে!”
“কি যখন নবাব আমাদের আগমন অবগত, তখন
আমাদের অবস্থান আবাস যে অনবগত এরূপ অমিত হয়-
। হয়তাে প্রত্যাবর্তনে দেখবে, আমাদের অরণ্য-সাবাস
নবাব সৈন্য পরিবেষ্টিত।
“বাংলায় অনুণ্যের ভাবনাই, সদার।”
কি শত রাজ্যের ঐ যে সেই অরণ্যে সমাহিত।”
ভবিষ্যত কল্পনা পরিহারে বর্তমান পথে অগ্রসর হও
নাজপুত-বাংলা সার। যদি নবাব-অন্ত্রাগার লুণ্ঠন করতে পার, তাহলে আমিই তােমাদের বিপুল বৈভব প্রদান করবে।” তুমি—তুমি কোথায় পাবে?” “তােমার জননী দরিদ্র-নন্দিনী—দীনের ঘরণী নয়। গৃহ নিা হলেও আমি নিরাভরণা ছিলুম না। কে হতে পদাঙ্গুলী পর্যন্ত হীরকালঙ্কারে শােভিত ছিল। এক একখান আতরণে—এক এক দুখও ক্রয় হতে পারে।” কোথায় আছে সে দুভ রত্বরাজি-আবরিত আভরণ?” “সুরধনীর হট-নীরে।” ' “তােমার আভরণ তুমি পর মা জননীর অলঙ্কারে সন্তান হকেপ করবে না।” “ভিখারিণীর অজে অলঙ্কার শোভা পায় না।” এই শত সহস্র সন্তান যার আবাহী, সে নয় ভিখারিণী। বলেছি তো মা, ঐশ্বর্যের কাঙ্গাল নয় তােমার এ হতভাগ্য সন্তান। আমি কাঙ্গাল শুধু তাের আশীর্বাদের। তাের বিশুদ্ধ দিনে হাস্য ফুটিয়ে তুলতে পারি, তবেই আমার জীবন- আমার অস্ত্রধারণ সার্থক-সফল ভান করবাে। চল সহচরগণ, বহের ভীষণতায়—বিতের ক্ষিপ্রতায় সাগৰােশির ভীষণতায় ছুটে চল নবাব-অস্ত্রাগার লুণ্ঠনে—মাতৃ নয়নামােচনে-দেবী আপালনে।”
বাজপুত-বাংলা দশম পরিচ্ছেদ “দিন, আদেশ দিন নবাব, দস্যুর দর্প চূর্ণ রি-সেই রাজপুত- বালার গর্ব দীর্ণ করি—সমস্ত দুষসহ সেই অরণ্যে ভাগীরথী- গর্ভে ডুবিয়ে দিই। দিন, আদেশ দিন নৰাব?” “তােমার কোখনলে ভস্ম হতে—নব-শক্তির সংঘাত আশায় দক্ষ সেই অরণ্যে আর অপেক্ষায় নাই। সামুচ দ্য অন্য অরণ্যের আশ্রয় নিয়েছে।” “যেখানে যে কোন গভীর অরণ্যের অথবা দৈত্যকুলের মত জলধি-জলতলে যে কোন স্থানেই আশ্রয় নিক, তথাপি তার নিস্তার নাই।” “সে এখন আগ্নেয়াস্ত্রে বলশালী । “হোক, তথাপি সংকল্পচ্যুত হবে না। বালক।” “কন্তু সে আগ্নেয়াস্ত্র লুনকারী-নবাব-প্রতিদ্বন্দী-বাহিনীর অধিপতিনী-সেই রাজপুত-বালা।” “হােক, সে এখন রাজ-বিদ্রোহিনী। সেই দগকে গবিতাকে বন্দিনী করে রাজপদে উপহার দেবে—তবে এ ক্রোধানল নির্বাপিত হবে আমার।” “তােমার ইচ্ছা হচ্ছে ক্রোধে তাকে ভস্মীভূত করতে, কি আমার তা ইচ্ছা হচ্ছে না যে বালক।” '।
রাজপুত-পা
“তবে আপনার কি ইচ্ছে হচ্ছে না, সেই রাজপুতলার
বক্ত পানের? তা হবার কথা—কিন্তু সে না।”
আমার সে ইচ্ছা হচ্ছে না।”
তবে কি তার মুও ছিন্ন করে পদতলে নিষ্পেষিত করবার
ইচ্ছা হচ্ছে? হতে পারে এ ইচ্ছা—কিন্তু নানী বধ।
“না বীং-বালক, আমার সে ইচ্ছাও হচ্ছে না।”
“তবে না আমার পরাও।”
“কল্পনা আমার পরান্ত। সেই রাজপুত-বালা, এই অসম্ভব
বীরপণায়—এই বীরদ-য়কামী দুৰ্দম শমন সাহসের—এই
নারীশক্তির জীবন্ত এল প্রদীপ্ত আদর্শের কি ভাবে পূজা
করবাে-কোন উপহারে উপহৃত
উপহৃত করবাে-কোন পুরস্কারে
পুরস্কৃত কবে-কল্পনায় তা জানতে পারছি না বালক। সেই
তেজস্বিনী, তী অস্ত্রধারিণী অসম সাহসিনী রাজপুতনন্দিনীর
প্রত্যেক কাৰ্যটী আমি ভাবছি-আনন্দের আবেগে হৃদয় আমার
উপুর হয়ে উঠছে।
বাহবা রাজপুত-বালা, বাহবা! ব-বিহার-উড়িষ্যার রাজ
ধানীর মধ্যে সিংহিনীর ন্যায় পতিত হয়ে—বীর বিক্রমে নবাবের
ত্রাগার লহমায় লুষ্ঠিত করে চলে গেলে। ধ, ধর তােমার
শক্তি সাহস।”
‘শ-শ। তা সে পুরুষ বা নারী-হীন ৰা মহা যাই
হােক। অষণা শত্ৰু গুণগান পরাজিতের মুখে শােভা পায় না।”
“কি জান বালক, একটা বিরাট বিষয় কিছু দেখলে, একটা
রাজপুতবা
অভিনব নূতনত্ব কিছু দেখলে মন পুলকে পূর্ণ হয়ে ওঠে, তাই
মহাবীৰ্য-শালিনী, শমন-সাহসি রাজপুত-বালার এই অভিনবত্বে
ভয়া-নূতনত্বে-গড়া কাৰ্য কলাপে আমার হৃদয় মূখ। অজাতে
অজানিতভাবে শ্রদ্ধায় নত হয়ে পড়েছে আমার চিত। তাই
ইচ্ছা আমার—এই ভূলােক-আদর্শময়ী, মর্ত-আলােকময়ী, নারী-
কুল-রাজীর জলন্ত বীখ্য-বহি নিৰ্বাপিত না করে-দী-শিখায়
জালিত করে জগৎ-বক্ষ আলেকজল করি।”
"আধ্যাবর্তের পুণ্য-কাহিনী অনবগত বঙ্গের, তাই হিন্দু
বীরাঙ্গনার এই কাৰ্য্য দর্শনে বিস্মিত হচ্ছেন। কিন্তু হিন্দু আমি,
এ বিস্ময় ভাব-এ শ্রদ্ধার ভাব অনুরে আমার জাগে নাই।”
“এমন বীরাঙ্গনা আর আবির্ভূত হয়েছিল আৰ্যভূমে?”
শত শত।”
তাহলে এই আৰ্যভূমি বেহেস্ত। তাহলে ধন্য আমার জীবন
এই বেহেস্ত সম অর্থ আর্যাবর্তের অধীর হয়ে।”
“রাজার কর্তব্য বিদ্রোহের প্রায় দেওয়া নয়-দমন করা।
প্রশ্রয়ে শক্র-শক্তি বর্ধিত হয়-লােকের অন্তরে রাজ-শক্তির
হীনতার সন্দেহ জাগে—রাজায় অল্পতা আসে।
“আর যদি এক অবসা নিয়া বালিকার শক্তিশায়
শক্তি হয়ে বাংলার নবাবের মহাশক্তি তার পশ্চাতে পাতে
দেশে দেশে-দেশান্তরে মহা উন্মাদনায় তেজে প্রণাৰিত
হয়, তা হলে সেকি নয় রাজশক্তির হীনতা? সে কি নয়
রাজার অনুদারতা ?”
মাজপুত-বালা - শােন বালক। সেদিন তােমায় বলেছিলুম, তােমার ইচ্ছার গতিপথ বাংলার নবাব কখনও রুদ্ধ করবে না। আজও আমি তােমার ইচ্ছার পথ রুদ্ধ করব না। ইচ্ছা হয়, যাও তুমি তােমার বাহিনী নিয়ে অবল। সরলা ললনা বিধবংসে-কিন্তু জয় পরাজয়ে তােমর, সমভাবে নবাব-গলাট কলঙ্ক লেপিত করবে। বালিকা- বিরােধী নারী প্রতিদ্বন্দ্বী নবাব সরফরাজ এ কলঙ্কবাণী উপহাসে প্রজাক নিনাদিত হবে। তাই বলি, ক্ষান্ত হও এ রণ-আয়ােজনে এতিনিবৃত্ত হও এ হীন প্রতিশােধ পথ হতে, এই এমার অনুরোধ।” অনুরােধ। অনুরােধ ৷ অনুরোধ ॥ বাংলার দোর্দণ্ড প্রতাপবান রাজাধিরাজের অনুরোধ । এক দীন হীন বালকের নিকট মহামান্য কোটা কোটী রেশ্বরের শাসন নয়–অনুরােধ । এক সামান্য নগণ্য ভূতত্যর কাছে বাংলার নবাবের আদেশ নয়- অােৰ ৷ নবাব। নবাব। তুমি শুদ্ধ কল্পনার-শুদ্ধ ধারণার - তোমার তুলনা। তােমার পদে দিয়েছি আমার অন্ত্রবল বাহুবল -উৎসর্গ করেছি আমার জীবন। আর কিছু নাই কি দিয়ে অভিবাদন আজ করবে তােমায় ? না না, আজ আর পুলিশ নয়—সেলাম নয়—অভিবাদন নয়—মাজ তােমায় ভক্তি-তর- বনত অন্তরে প্রণাম করছি।” এমন সময়ে সহসা বার-প্রান্ত হইতে অনাংকার শব্দ সমূণিত হইল। উচ্চে নবাব জিজ্ঞাসা করলেন-
রাজপুতালা
৬৭
কোন হায় ?
আমি বিজয়সিংহ।"
বিজয়সিংহ! এস এস, কক্ষ মধ্যে এস বন্ধু। অপেক্ষার
কি প্রয়ােজন? আমার প্রাসাদের সর্বত্র, এমন কি আমার
শয়নমন্দিরেও তােমাদের পিতা-পুত্রের অবাধ অপ্রতিহত গতি।
তবে কেন এ আদেশ-অপেক্ষায় অপেক্ষা করছিলে বন্ধু?
মানুভব বলেশ্বরের এই অমি অন্তরের অনাবিল কণার
জন্মই আজ পিতাপুজে ঐ পদে বিক্রীত।"
“আর আমি তােমার অন্তরের উদায়—মহত্বের অত্যুচ্চ
অফুরন্ত উচ্ছ্বাস-লীলায়—তােমার স্বর্গীয় প্রেম প্রীতির বিনিময়ে
তােমার নিকট বিক্রীত। সুতরাং ক্রেতা বিক্রেতা নির্ণীত হয়
না বন্ধু।”
হয় বৈ কি নবাব। আপনি রাজ—আমি পুজা, আপনি
প্রভূ-আমি ভৃত্য। ভৃত্য চির বিক্রীতই থাকে প্রভুর পাশে।
“ও প্রভৃত্য সম্বন্ধ রাজা-প্রজা বিচার নবাব-বাদশা বুলী
এখানে কেন সখা? এখানে শুধু আমরা দ্বী অন্তরঙ্গ বন্ধু-
দুটি প্রীতি-প্রেমাবদ্ধ ভাই।”
“বাংলার নবাৰকে সামায় প্রজা হয়ে কেমন করে ভাই
সম্বোধন করবাে ?”
দেখ বিজয়সিংহ প্রত্যেক জিনিষট-ই দু'টা দিক থাকে।
ঐ চন্দ্র সূষ্য দেখতে অতি মনােহর—মনােরম—মধুর। কিন্তু অন্য
দিক দেখ --কেবল ধুধু অনল—ধূধূ বালুকারাশি। পুষ্করিণী, শত
রাজপুতবালা তাই। শতদল শােয়, শত শত ক্ষুদ্রার্মিমালা শোভিতা। অন্তর দেয় তারকেশ আবর্জনা, কেবল কদমেপক্ষে পরিপূর্ণ। মানুষেরও ঠিক তাই। কিন্তু অভাগা নবাব বাদশাদের সে দু'টা দিকও নাই। অন্তর বাহির-অন্দর বাহির তাদের সমান। বাহিরেও তাদের অশান্তি কোলাহল, অরেও তাদের বাহিরেও সেই এক ঘেয়ে বাধাবুলী-সাহান-সা, জাহাপনা, মেহেরবান, খােবন , অন্দরে আত্মীয় মধ্যে সেই বাধা বুলীর সম্ভাষণ। এই সব সাধা বুলী শুনে শুনে কর্ণ-কুহর বিরক্তিতে—অন্তর অতৃপ্তিতে ভরে উঠেছে। তাই বলি, যখন দরবারে বসবো, তখন ঐ সাধা। বাধ। বুলী বলে। কিন্তু এ আমার দরবার নয়—নিন আগার । এখানে ঐ গণ্ডীবদ্ধ বুলা ত্যাগে অন্তরের মুক্ত বুলী ‘বন্ধু’ বলে-'ই' বলে ডাক-জুভাক কান- শীতল থােক প্রাণ।” 'না, নবাব, যে মহাপ্রাণত। কখনও কখনও কোথাও দেখি নাই, যে উদারতা দেব চিত্তে ফুরিত হয় নাই, সেই উদারতার মূর্ত মূর্তি আজ প্রত্যক্ষ দর্শনে আমার মনপ্রাণ-আমার ধ্যান ধারণ। সব বিপুল পুলকোচ্চাসে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। কোন সজ্জিত ভাষার অভিভাষণে এ হদয়ের বিমল বিট উচ্ছাস- ধারা ঐ পদে নিস্কাসন করবে না, তা বুঝে উঠতে পারছি না।” “অভিভাষণের ভাষা তো বলে দিয়েছি বন্ধু।” ভাই-ভাই—তাই।
রাজপুত বালা
আবার—আবার ঐ মধু-বধিত অমিয়-সিক্ত অৱজাত ভাষায়
ঐ অকৃত্রিম মধুরতা মিশ্রিত সম্বােধনে-আবার ডাক।”
“ই-ভাই-ভাই।”
“আঃ! আঃ। এতদিনে তৃপ্ত চিত্ত আমার প্রীত কর্ণকুহর
আমার। এতদিনে আমি ভাইলাভে ধন্য হলুম।”
“আর আমিও আজ আপনার ন্যায় দেব-গুণবান মহৎ মহা
প্রাণ বঙ্গাধিপকে ভ্রাতৃ সম্বােধনে বরেন্য হলুম। কিন্তু দুর্ভাগ্য
আমার আজ এই ভ্রাতৃপ্রীতিলাভের দিনে এ অন্তর—এই মন্দির
অনল-প্লাবনে অভিষিক্ত করতে পারলুম না।
‘বাংলার প্রধান সেনাপতি তুমি, তোমার আশাপথ-ভদের
কারণ :
কারণ-মীময় বিপদরাশি আপনাকে গ্রাস করতে ছুটে
আসছে।"
“এ বিপদ-বাহী কে?
“অালিবন্দী।
“বিপদ যে অচিরে আমায় গ্রাস করতে আসবে, তা আমি
জানি। কিন্তু আমার আজ্ঞাধীন নফর আলিবন্দী যে বিপদ-মূর্তি
ধারণে প্রভূর বিরদ্ধে অগ্রসর হবে, তা বুঝি নাই।
বিজয়সিংহ। স্বর্ণ মণি মালা-মণ্ডিত-শত সহ নদ নদী পর্বত
পােভিতা—লক্ষ শত কীর্তি-কিরীটিনী, বীর, বীরাঙ্গনা প্রসবিনী
বর্গ পিণী সুবিশাল অঙ্গা ভারত ভূমির
ভাৰত ভূমির অন্ধ অধিপতি
আমি।
এ হতে আর সাধনার প্রার্থনার মনিবের আর
৭০ রাজপুত-বাংলা এখন ধু কিছুই থাকতে পারে না—অামারও কিছুই নাই। ইচ্ছা আমার, বীর ব্রতের সাধনা-রণ মৃত্যুর বাসনা—ইতিহাস- বকে বীরনাম রক্ষণের প্রার্থনা। সে আশাও আজ আমার অদূরাগত। তবে বীর আনি-কৰ্মী আমি—রাজা আমি। শুধু শুধু নিক্ৰিয় দেব-নির্ভরশীল অকণ্যের মত–পশুর মত মরবােনা। পুকারে বলে উঠে-বীরের গর্বে মেতে উঠে-নবাবের তেজে তেতে উঠে—যুদ্ধ করতে করতে নবাবের মহিমায় ডুববে। সহকাৰী সেনাপতি ? মৰাৰ। “তুমি যাও, সারা রাজ্যে এই মুহূর্তে অনুচর প্রেরণ কর আগ্নেয়াস্ত্র নিৰ্শেতাগণের আহ্বান। প্রচুর পারিশ্রমিক দানে তাদের অস্ত্র নিন্মাণ কাষ্যে নিয়োগ কর। অচিরে শূন্য অস্ত্রাগার পূর্ণ করা চাই-ই। নীরব অভিবাদনে সহকারী সেনাপতি বালক-বীর কক্ষত্যাগ করিল। নত-নেত্রে নম্র বরে বিজয়সিংহ বলিলেন, “কিন্তু অত্র নির্মাণে বিপুল অর্থের আবশ্যক। রাজকোষাগার এ বিগল অনির্মাণ ও সৈন্য ব্যয়ভার বহনে সক্ষম হবে না।” এ অর্থের অনাটন পূর্ণ করবে শেঠ-ধনাগার। তুমি এই মুহূর্তে স্বয়ং আমার দূতরূপে শেঠ-সদনে গমন করে দশ কোটি মূত্রা আমার নামে প্রার্থনা করবে।” "সে কি। এ অত্যাচার।” “ন্যায় আচার। জগৎশেঠর নিকট আমার পিতার সা.
২াজপুত বালা
৭১
কোটি স্বর্ণমুদ্রা গচ্ছিত আছে। সেই সাত কোটি টাকা আর
কর্জ স্বরূপ পাঁচ কোটী টাকা চাইবে।"
*যদি অর্থ প্রদানে অসম্মত হন, জগৎশেঠ ?
“আমার ন্যায্য প্রাপ্য অর্থ প্রদানে অসম্মত হলে বুঝবে তিনিই
আলীর নিমন্ত্রণকারী। যদি রাজার বিপদে মহা-ধনবান জগৎ
শেঠ পা, কোটি অর্থ প্রদানে অপারগ হন-তাহলে বুঝবে
আলীবর্দীর শক্তিবর্ধনে তার অর্থ ব্যয়িত। তাহলে সেই দতেই
তাকে বন্দী করে দরবারে হাজির করবে। জেনে, জগৎশেঠ
বাংলার মান্দল। সুযোগে বা সময় দিলে তাকে আজ সহজে বলী,
করতে সক্ষম হবে না। অডিতেচকিতে বকুবের বঙ্গেশ্বরকে
বন্দী করা চাই-ই।
জেনাে বীর, এই জগৎশেঠ-ই এ চক্রান্তের একমাত্র চক্রী।”
* সুজাউদ্দৌলা কেন যে শেঠ-ধনাগারে শত কোটি টাকা গতি
রাখে, তাহার লেদু ইতিহাসে উল্লেখ নাই। তবে সাধারণ জ্ঞানে অমিত
হয়, পুত্রের নালিতে অগৎশেঠ-করে এই বিপুল অর্থ গহিত রাখেন।
কারণ, সরকার ব্যতীত পূৰী নগণ শেঠকে বিদ দ্বিতে
আ করিতেন—এমন কি অতিৰিকল জন কবিতে। এই সূত্রে এই
এগৎশেঠেরই নিকট তীবালী নাৰ দুলাউদ্দৌলার পূত্র বিষ্যৎ
এল তুে গচ্ছি না বিশ্ব জল না নয়।
৭২ নাজপুতবা একাদশ পরিচ্ছেদ। "ঐ ঐ ঐ, ঐ যে আকাশে-ঐ যে বাতাসে মিশিয়ে আলােক-অলে- রূপতরঙ্গেহর রতে ঐ ঐ যে ছুটে চলেছে সতী। এসএস সতী, যেও না-যেও না। তােমার পাপী তাপী স্বামীকে ত্যাগ করে যেও না সতী। ওকি। কি তী! ওকি ও রােখি নয়নে বদনে তোমার ! একি অল্প- ঝলক ঝলসিত সারা জ্বলে তােমার। সম্বরণ কর-সম্বরণ কর সতী ও রোষানল। একবার সদয়া হয় অভয়া মুক্তিতে দেখা দাও, আর তােমায় বিধবা বলবাে না আর তােমায় অনাদর করবাে না, গৃহলক্ষ্মী। একবার মার্জনা কর, একবার এস-সোহাগে আদরে তােমায় হৃদয়ে ধরে রাখবে, এস-এস সীরাণী।” “তিকরা। ঐ ৩ন, ঐ শুনুন আবার সেই প্রলাপ উক্তি। দিনান্তেও তার সহজ সকা নাই, সদাই অচেতন-সদাই ঐ এলাপ বচন। হে বৈরাজ, যদি আমার সন্তানকে , একতি করিতে পারেন, তাহলে আপনার ইন্টক-হর্ষ বর্ণ রৌপ্যে মণ্ডিত করে দেব।” “কিন্তু শেঠজী, আপনার পুত্রকে আরােগ্য করতে এক দেবতা, আর, না হয় সেই দেবী-তুলা আপনার পুত্র-বাই পারেন। আমার শক্তির বহির্ভূত। সতীর কমল-ক-স্পর্শে সতীয় চিত্ত-শান্তিতে-এ ব্যাধির শান্তিতে পারে—নতুবা নয়।” T রাজপুত-বাল। ৭৩ আমি তা বুঝেছি বৈদ্যরাজ। বুকে চতুর্দিকে বহু চর, বহু দূত, বহু বন্ধু বান্ধব প্রেরণ করেছি—সেই সতীর সন্ধানে। কি দিনের পর দিন গ, আজও তার সন্ধান নিয়ে কেউ প্রত্যাবর্তন কলে না। আজ বুঝছি-সতীর ও দীর্ঘশ্বাস- সতীর অশ্রুপাত-যুগে যুগে ব্যর্থ হয় নাই-ব্যর্থ হবেও না। সতীর অভিশাপে দেবতা রামচন্দ্রও আত্ম-বিস্মরণ হয়েছিলেন। আমি তো তুচ্ছাদপি তুচ্ছ মানব—আমি কেমন করে সেই সতীর প্রবল রােষানল ধারণ করব।” "সত্য বলেছেন শেঠী। কিন্তু এ জ্ঞান পূর্বে প্রাপ্ত হলে আজ পুত্র প্রাণনাশাশায় আর্তনাদ করতে হতো না। এখন আকুল প্রাণে দেবতার অণ করুন। দেব-করুণা ব্যতীত অথবা সতী-প্রীতি ব্যতীত অন্য ঔষধ আর নাই।” “এমন সময়ে জনৈকা পরিচারিকা চঞ্চলছে, ব্যাকুলভাবে কক্ষে প্রবেশ করিল। তাহাকে দেখিয়া বিরক্তিভরে জগৎ শেঠ জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি চাও তুমি ? “প্রভুর সাক্ষাতে-নবাবের দূতরূপে প্রধান সেনাপতি সসৈন্যে প্রসাদ-ঘরে আপনার আগমন অপেক্ষা করছেন। “সে কি। সসৈতে নবাব দূত! এ আবার কি ব্যাপার! ভিষকরাজ আপনি রােগী পার্কে আমার আগমন পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।-দেখে আসি, অস্থিরচিত্ত অত্যাচারী নবাব, কোন উদেয় কোন প্রয়ােজনে সৈন্যসহ দুত প্রেরণ করেছে।
৭৪ রাজপুত বালা শঙ্কা-শতি বক্ষে কম্পন-কশিত পদে শেঠজী দ্রুত কক্ষ- ত্যাগে বহিৰাটীতে পদার্পণে দেখিলেন,-সত্যই প্রায় পঞ্চশ স অশ্বারােহীসৈন্যসহ নবাবের নবনিময়াজিত প্রধান সেনাপতি দণ্ডায়মান। সংগােপনে বিস্ময় দমনে শেঠজী বলিয়া উঠলেন, এ কি শুভ সূৰ্য্যোদয় আজ শেঠের ললাটভাগে ! একি গৌরব আজ শেঠ ভবনের। বাংলার দ্বিতীয় নবাবতুল্য পদান, সর্বপ্রধান সেনাপতির আর কোন মহাপ্রয়োজনে লীমের কুটীরে পদার্পণ ?” “আমি আমার নিজের কোন প্রয়ােজনে আসি নাই, শেঠী।” “তবে?' "এসেছি—নবাৰ-বার্তা বহনে।” “কি সে বার্তা?” ‘ভূতপূৰ্ব্ব নবাব সুজাউদ্দৌলার গচ্ছিত সপ্ত-কোটা স্বর্ণমুদ্রা তার পুত্র বর্তমান সরফরাজ-পিতার গচ্ছিত-অর্থ প্রত্য- পণের প্রার্থনা জানিয়েছেন—আর- “আরও আছে।” হা। আর তিনি কৰ্জৰূপ পাকোট মুদ্রা চান। এই আদশ কোটী মূদ্র। এই মুহুর্তে আপনাকে প্রদান করতে হবে—এই নবাবের আসে।।” 'সহসা এ বিপুল অর্থ কেমন করে সংগ্রহ করবে। –
রাজপুত-বালা
৭৫
“আপনার ধনাগার অফুরন্ত।”
“সহসা এককালীন এ বিপুল অর্থের প্রয়ােজন?
প্রয়ােজন আপনি কি অবগত নন, শেঠজী ?”
নেছি আলিবর্দী বল আক্রমণে অভিযান সজিত করছে ,
অনুমান, রণব্যয়ে এ অর্থ প্রয়ােজন।
আপনার অনুমান যথার্থ।"
কিন্তু নবাব কোষাগার কি শূন্য”
‘নবাব-কোষাগার শূন্য না হলেও - নবাব অাগার শূন্য। শূন্য
অস্ত্রাগার পূর্ণ করতে বিপুল অর্থের অচিরে আবশ্যক। চতুর্দিক
হতে প্রায় লক্ষাধিক অস্ত্র-নিৰ্মেত এসেছে। নবাব-কোষাগারে
যে অর্থ আছে, সে অর্থ অনির্মাণ কাধেই নিঃশেষিত হবে।
রসদ সংগ্রহ -সৈন্য-বেতন—হয়, হস্তী ক্রয়ের জন্য আরও অর্থের
প্রয়ােজন।
নবাবের অব ভাগ্নে ময় অত্রাগার « লাে
কিরূপে?”
“লুগুনে।”
“লুনে। একি বিস্ময়কর কথা! কে এমন অসীম সাহসী
মৃত্যুপ্রয়াসী-নবাব আগ্নেয়-অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করলে?”
“আপনারই পুত্রবধূ।”
“আমার পুত্রবধূ! সেনাপতি, আপনি অসীম রাজশক্তির,
অধিপতি। আপনি অসংখ্য সৈন্যের ভাগ্য পতি। আপনি
এরূপ হল আপনার মুখে শােভা পায় না।"
झामटाताना
৫
"নখের জল আমি আসি নাই শেঠী।”
আমার পুত্রবধু বিতা?”
হা।
নেছেন, না দেখেছেন?"
“আমার পুত্র দেখেছে।”
"কোথায় ?”
“ভাগীরথী-তীরে।”
“তার এ অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের উদ্দেশ্য।
আপনাদের অপদার্থ-হীনশক্তি জ্ঞানে নিজেই প্রতিশােধ
গ্রহণ করেছে।”
“নবাবের অস্ত্রাগার একাকিনী লুণ্ঠন করতে পারে নাই,
নিশ্চয়ই লােকবল তার পশ্চাতে তার সহায় ছিল। সে এই
সহায় কোথা থেকে পেলে ?”
“ জানি না।
বাঃ! বাঃ। সার্থক আমি দেৰী-শক্তি-সঞ্চারিনী ফুল-লক্ষ্মী
লাভ করেছিলুম।”
আমার বিলম্বের অবসর নাই শেঠী, উত্তর দিন।
অণ-প্রদানে বর্তমানে আমি অ
| সত্যই গৎশেঠ এইশতি অর্থ সরফরাজকে প্রত্যর্পণ করেন নাই।
ভাৰ হেতু বােৰ ( সরফরাজের প্রতি ক্রোধ ও সরকাজের অভাবে
শি।
রাজপুতবালা
৭৭
"তবে আপনাকে দরবারে যেতে হবে, শেঠজী।”
“সে কি। বশীরূপে ?”
“সেচ্ছায় না গেলে—তাই।"
কিন্তু অর্থ আমার নাই।”
“আমি বিচার করতে আসি নাই।”
'আমার পুত্র মরণোন্মুখ।"
“আপনার প্রায়শ্চিত্ত।'
“কিসের প্রায়শ্চিত্ত ?”
“সতী নির্যাতনের।
“অামার পুত্রকে একবার দেখে আসি।”
সে আদেশ নাই। মাফ করবেন শেঠী।”
'তুমি শয়তান।”
“যে এক কুষম-কোমল কমল-কলিকাতুল্যা বালিকাকে পদ
বলিত করে পথে নিক্ষেপ করতে পারে—সে কি শেঠজী?”
“তুমি যবনের গােলাম।”
“লেও—তােমার মত পিশাচের গোলাম নই।”
'ব্ধ হও সেনাপতি।”
“সতী-পীড়কের রক্তচক্ষু-দর্শনে মানুষের বক্ষে শার সঞ্চার
হবে না, শেঠজী। আমি তর্ক চাই না—বাক্যও চাই না। আমি
শুধু শুনতে চাই, সমানে আপনি আমার অনুবর্তী হবেন, না
লাবদ্ধ করে পশুসম অশ্বপৃষ্ঠে বাহিত করে নিয়ে যেতে হবে,
তাই জানতে চাই।"
৭৮
রাজপুতবালা
উত্তম, চল। কিন্তু যেনো সেনাপতি, জগৎশেঠ শৃগাল নয়,
কেশরী । দিলীখরের অভ্রভেদী শিরও এই জগৎশেঠের নিকট
আনত। একদিন না একদিন এই বৃদ্ধ কেশরীর হার নিনাদে
মুচ্ছিত-হবে-যবন-গােলাম।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ
কাজটা গায় সঙ্গত হয় নাই, জাহাপনা।”
“ন্যায় অন্যায় বিচার কর্তা প্ৰজা নয়-রাজা। এ কথাটা
বৃদ্ধকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া অন্যায় হলেও অনুপায়ে এই অন্যায়
করতে হচ্ছে উজীর।”
কিন্তু আমি উজীর—মন্ত্রণা দানই আমার কর্তব্য কর্ম।
“তােমার মন্ত্রণার প্রার্থী তাে আমি হই নাই উজীয়।”
“না হলেও, রাজ্যের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হিসাবে—রাজার শুভার্থী
প্রজা হিসাবে রাজ্যের মঙ্গ-মঙ্গলের—রাজার কর্তব্য-অকর্তব্য
কর্মে আলােচনা বা মন্ত্রণাদানের অধিকারও কি আমার নাই,
“আছে! কিন্তু সে আলোচনা, সে মন্ত্রণ। গৃঢ়ত্ব গভীরত্বময়
“সেই গুঢ় উদ্দে-েসেই গভীর চিন্তাতেই বলছি, দিলীপ
রাজপুত-বালা ৭৯ মানিত-ব-বিহার উড়িষ্যার পূজিতলােক-মান্য ধনপতি জগৎশেঠকে অপমানে দরবারে আনয়নের আদেশ দান-খসৈন্যে সেনাপতিকে প্রেরণ আপনার অনুচিত হয়েছে।” “তবে কি তুমি বলতে চা-শঙ্কায় সেই ধনপতির পূজা করতে? প্রজার পূজা রাজা যদি করে, তার চেয়ে রাজও পরিত্যাগ করাই শ্রেয়।" “মানীর মান্য ন মজারই কর্তব্য। গুণীর পূজা-রায়ই নীতি। বিদ্যার সম্মান-দান—রাজ বিধান।” 'আমি তে। সে মান্য-দানে কৃপণতা করি নাই। আমি কেবলমাত্র আমার ন্যায় ধৰ্মত প্রাপ্য পিতৃ গচ্ছিত সাতকোট স্বর্ণমুদ্রা ও কর্জ পচকোটা-ই দ্বাদশ কোটী স্বর্ণ অর্থ- প্রার্থনায় প্রেরণ করেছি, বিজসিংহকে। অর্থ-প্রদানে অসম্মত হলে, এখন দরবারে আননেও আদেশ আছে।" “এককালীন এ বিপুল অর্থ-প্রদানে শেঠী অপার হতে পারেন। "এই অনুমান, এই ধারণা, এই কল্পনা নিয়ে তুমি বঙ্গ বিহার উড়িষ্যার উজার হয়েছ ? তুমি ৬জীর, সে শুধু একটা দরবারের সজ্জিত সচল শোভা মাত্র। নদী গর্ভ হতে শতকো মানৰ অবিরাম কছে বারি পান-অবিভ্রান্ত বহন করছে তার নীয়-তবুও বারি বাহিনীর বই পূর্ণ-তবুও তার অঙ্গ-পরি- পায়ত। সেহপ জগৎশেঠের ধনাগার অনন্ত ঐশ্বর্যে সদা পূর্ণ। বাদশ-কাট অর্থে তার ধনাগার শূন্য হবে না-হতে
৮০
পত-বালা
র
নাই যে—এই যে, এ নিয়ে এসেছ, বিজয়
নি শেঠজী আনুন। মলহীন অবস্থায় আপনার
ছ প্রীত হলুম।”
1 ভাবে অপমান কে কি বলে?"
খপমান ৫
? আপনি ধনপতি-
তে
জ্ঞাধীন।”
ড় নিন্দনীয় নবাব।”
ষেরপে গ্রহণ করাও বুদ্ধের নিকট
বড় নিন্দনীয়।”
শেষ নয়তো কি না? যে জগৎশেঠ জগৎ পূজ)-মার
সন্মান আপনার পূর্ববর্তী বাধি“তিগণ সর্ব সময়ে সব্বতােভাবে
করে এসেছেন, সেই জগৎশেঠকে আপনি বন্দী করে হীন
অপরাধীর ন্যায় দরবারে আনয়নের আদেশ করেছেন।
আপনি ভুল বুঝেছেন, শেঠজী। আমি কেবল মাত্র আমার
প্রাপ্য অর্থ প্রার্থনা করেছি। করে অর্থ দেওয়া না দেওয়া
অবশ্য আপনার যান। দেওয়ায় রাজ ঐতির পচিয়-না
দেওয়ায় ব্য-অপ্রীতির প্রকাশ হলেও অপরাধী হতে পারেন
। কিন্তু আপনি আমার ন্যায় প্রাপ্য অর্থ প্রদানে বাধ্য। সেই
অর্থ প্রদানে অসমর্থ হলে তখন আনাতে অপরাধ শশাবে-
তখন অপরাধীরুপে আপনাকে বিচারার্থে অপরাধীরুপে দরবারে
আনয়নের আদেশ করেছি। আপনি আমার প্রাপ্য অর্থ প্রদান
সঙে-দি আনার ন্যায় মহা অর্থ-গতিকে অস
::|:।
•••অশ্ব-দশনে দোদুল্যমান—রাজপূত-বালক
"ohan Press, Calcutta.
No text on this page.
রাজপূতবালা
দরবারে সেনাপতি আনয়ন করে থাকেন—তবে মানীর অষখা
মানাশে সেনাপতি অবশ্য অভিযুক্ত হবেন।”
“
আর পূর্ববর্তী নবাব আমার নিকট সাত-কোটী টাকা
গচ্ছিত রেখেছিলেন—এ কথা সর্বজনবিদিত। কিন্তু এ বিপুল
অর্থ সহসা সংগ্রহ করা সময় সাপেক্ষ।
গচ্ছিত দ্রব্যাদি বা ধনসম্পত্তি ব্যয়িত করার অধিকার কারও
থাকে না। সে হিসাবেও আপনি নিরপরাধী। আমি রাজা-
সেই আপরাধ বিচারে অপরাধীর আহ্বান বা অপরাধীর দণ্ড
বিধান-অত্যাচারের নামান্তর হয় না, শেঠজী। সুতরাং আপনি
অর্থ প্রদান না করলে আমায় অপরাধের বিচার করতে হবে-
অপরাধ অনুযায়ী অনুশাসন করতে হবে—অর্থ প্রাপ্তির উপায়
উদ্ভাবন করতে হবে।”
“আমার পুত্রের জীবন-নাশক ব্যাধির জন্য বহু অর্থ ব্যয়িত
হওয়ায় ধনাগার আমার শুন্য।”
আপনারা সভাস্থ সকলে ন। শেঠজী ইয়ং সুচিত্তে
স্বীকার করছেন—তার ধনাগার শূন্য। উত্তম, ধনাগারে আমার
প্রয়ােজন নাই। বিজয়সিংহ, শেঠজীর ধনাগার যখন অর্থহীন,
তখন তুমি শেঠ বাসভবনের দ্রব্য-সম্ভার বিক্রয়ে সপ্ত জোড়
টাকা সংগ্রহ কর।”
“নবাব, আমার গুদ্ৰোজ্জল যশাের অপমাননায়
কালিমা-মণ্ডিত, দীপ্তি-হীন, জ্যোতিহীন করবেন না।”
“ইচ্ছা না থাকলেও আজ করতে হচ্ছে শেঠজী। নতুবা
পুতবালা উপায় নাই। আসন্ন সময় বিপুল অর্থের প্রয়ােজন—তাই এইরূপ পন্থা গ্রহণ। আর এ পন্থা অবলম্বনে আমার কোন নিন্দা নাই।' “তাই যদি হয় নবাব, আমার এত্ব-সম মূল্যবান বিলাস দ্রব্যাদি বিক্রয়ে অর্থ সংগ্রহের সঙ্কল্প যদি করে সঙ্কল্প যদি করে থাকেন তাহলে প্রাসাদ-শােভাবর্ধক দ্রব্যাদি বিক্রয়ের প্রয়ােজন নাই। তাহলে আমি স্বয়ং আমার নিজ ব্যবহার্য বহুমূল্য রত্ন আভরণ-মুক্তা- ভুষণ-কনক-কেতন প্রভৃতি বিক্রয়ে অর্থ প্রেরণ করছি।” “তাহলে আপনার অন্তঃপুরললনগণের আভরণ-আপনার প্রাসাদের অঙ্গ ভূষণ-আপনার হেম-হম্মের হেম-পুত্তলি প্রভৃতির মূল্য এমন শত ভিসপ্ত কোটা হতে পারে, শেঠজী?” পারে।" আর আপনিও এই কথা শুনুন, সচীব। তাহলে বিজয়সিংহ, শেঠজীর সমুদয় দ্রব্য-সম্ভার আভরণ-রতন- দূষণ সংগ্রহে বিক্রয় কর। তাহলে আমাদের আর অর্থের জন্য চিন্তা নাই।” “একি অন্যায় আদেশ, নবাব।” “রাজার বিপদে এ অর্থ দেবে, এর আর অন্যায় কি?” “রাজার বিপদে সাহায্য করা না করা প্রজার ইচ্ছাধীন। এজার স্বাধীন ইচ্ছায় রাজার হস্তক্ষেপের অধিকার নাই।” “রাজার বিপদে প্রজা হাস্য-লাতে লহর তুলবে-উচ্ছ্বাস উলাসের উৎস ছােটাবে—আর রাজা তাদের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা “তাই বলুন।
.
বাজপুতবা
v
হয়ে জ্ঞানমূখে তাদের সেই উল্লাস বর্জনের জন্য সুযােগ সুবিধা
অর্পণ করবে, শেঠজীর এই বিধান—কেমন ?”
ভক্তি প্রতি প্রেম ,শক্তিতে আহরিত হয় না।
“মানুষের কাছে হয় না। কিন্তু সয়তানকে বশীভূত করতে
গেলে চাই নির্মমতা চাই নিষ্ঠুরতা—চাই কঠোরতা।”
"সয়তান কে?”
“আপনি?”
আমি ?”
“ছ, আপনি।"
“এ অপমান-বাণী আর কখনও ঐ সিংহাসন থেকে উচ্চারিত
হয় নাই।”
তখন সয়তানেরও আবির্ভাব হয় নাই। আজ সয়তানের
উৎপত্তি হয়েছে-তাই এ বাণী ধ্বনিত হচ্ছে। বলতে পারেন
শেঠজী, সামান্য ভৃত্য হয়ে-নগণ্য ব্যক্তি হয়ে, ধনহীন সৈন্যহীন
বলহীন আলিবর্দী এ অর্থবল–সৈন্যবল কোথা থেকে সংগ্রহ
করলে ?-এ অসম্ভব সম্ভবের ইচ্ছা কেমন করে সহসা উদিত
হলাে?”
“পুৰুষকারে সবই সম্ভব হয়।”
তাই আমিও পুৰুষকার অবলম্বনে চেষ্টা করে দেখি—যদি
আলিবর্দী-আক্রমণ প্রতিহতে রাখতে পারি বঙ্গ-সিংহাসন।
যাও বিজয়-সিংহ, অবিলম্বে শেঠ-ভবনে যাও। যাবতীয়
বিলাস দ্রব্যমণিময় মণ্ডিত আভরণ আহরণে বিক্রয় কর।
3
রাজপুত-বালা
পুর মধ্যে প্রবেশ করো না। তর্জন গর্জনে পুরনারীদের
অঙ্গ-আভরণ উন্মোচন ও আধার ভূষণ নিষ্কাসনে প্রদান করতে
বলবে। যাও, বিলম্ব করাে না।'
“নবাব, আমার বাটীতে পুরুষ অভিভাবক কেহ নাই।”
“কেন, তােমার পুত্র ?”
“মৃত্যু শয্যাশায়ী।”
“
আমার তুমি আমার বন্দী।”
“নবাব, একবারওধু একবার আমায় পুত্রকে শেষ দেখা
দেখে আসতে দাও।”
“হা-হা-হা। শেঠজী, রাজদ্রোহীতাও একটা মহাপাপ।
সেই পাপের তােমার এই আরম্ভ। শােণিতপিপাসী পিঞ্জরাবদ্ধ
কোরীকে নিজের সংহারার্থে কেউ পির-মুক্ত করে দেয় না
আমিও দিলুম না।”
ব্রয়ােদশ পরিচ্ছেদ
জননী।”
এই যে এসেছ পুত! আমি তােরই আগমন আশায় আকুল
অরে অপেক্ষা করছিলুম। কখন এলে সার?"
এইমাত্র।”
সংবাদ সব সংগ্রহ হয়েছে
পুতবালা
, মা।”
“ না আছ?”
রাজধানীতে প্রবেশ করেছিলে?"
“শুধু রাজধানীতে নয়—দরবারে পর্যন্ত প্রবেশ করেছিলুম।”
দুঃসাহসিকের কার্য্য
করেছিলে। মুর্শিদাবাদের
সংবাদ কি?”
‘ম সতীর অভিশাপ দীর্ঘশ্বাস কি কখনও বিফল—নিল
হয়? সতীর সহায় স্বয়ং শিবানী। তাই আজ তােমার শহরের
অর্থ-সাহায্যে পরিপুষ্ট আলিবর্দী, নবাব সরফরাজকে আক্রমণে
বিপুল, বিশাল, অগণন সৈন্য সহ বঙ্গে আগত।”
“তারপর ?
“আর তােমার শশুর ঠাকুর—নবাবের বন্দী।”
‘বন্দী। মহামান্য, সর্বজনবরেণ্য, কমলার প্রিয়তম সন্তান
জগৎশেঠ, নবাবের বন্দী। কোন অপরাধে পুত্র ?”
“বড় প্রকাশে। শুধু তাই নয় মা—তার প্রাসাদও
লুষ্ঠিত।
“মর্তের ই-ভবন তুল্য শেঠ-প্রাসাদ লুষ্ঠিত। কে এই
লুণ্ঠনকারী?
“ নবাব।”
“এ লুণ্ঠনও কি ষড়যন্ত্রের অপরাধে ?”
“না। আমরা অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করি। অর্থাভাবে সে শূন্য
৫
রাজপুত-বালা অস্ত্রাগার পূর্ণ হচ্ছিল না। তাই অর্থাশায় নবাব-আজ্ঞায় প্রাসাদ তার লুষ্ঠিত “ওঃ, কবে-কবে হিন্দু-নবাবের অত্যাচার-কবল মুক্ত হবে সার?” “যেদিন হিন্দু নিজের অনন্ত শক্তির স্বৰূপ বুঝবে—যেদিন নিজের শক্তিকে বিরাট বিপুল ভাববে। কবে সেই শুভ সুদিন আবার উদয় হবে?” “যেদিন নবাবের অত্যাচার চরম সীমা। উত্তীর্ণ করবে—যেদিন হিন্দু অভাবে জীর্ণ-বভাবে বল পরিধান করবে—যেদিন তাদের নয়ন-সখে জননী, ভগিনী সংশ্বিণী ধর্ষিতা হবে—দেব- কান পদাঘাতে চুণিত হবে—সেই দিন এ জাতি ক্ষিপ্ত-তও হবে।” "সে কলঙ্ক আৰ্যসন্তানের ললাটে আপতিত হবার পূর্বে অতল জলধিজলতলে যেন এ হিন্দুস্থান নিমজিত হয়, এই বিধাতাপদে প্রার্থনা। তারপর আর কি সংবাদ ? আর কি সংবাদ চাও মা ?” “তারপর আমার আমি সধবা না বিধবা ?” “সধবা।” “দেখা পেয়েছিলে?” না।" নেছি।”
রাজপুত বালা ৮৭ “পু, ভিখারিণী জননী আমি তাের, পুরস্কার আর কি দেব, শুধু অন্তরের আশীৰ্বাদ গ্রহণ কর।” “তাের আশীর্বাদই যে আমার ত্রিদিবের ঐ,। তাের আশীৰ্বাদ ভিন্ন এ দীন সন্তান আর কিছুই চায় না। তারপর শােন মা, প্রত্যাবর্তনকালীন-কৌতুহলে গেলুম আমাদের পরিত্যক্ত সেই অরণ্যাণী মধ্যে। কিন্তু সে অরণ্য দর্শনে বুঝলুম-নবাব-সৈন্য সেখানে পদার্পণ করে নাই। করলে নবাব-সৈন্ত-পদ-চাপে অরণ্য দলিত মথিত, লতা-গুল্ম ভূ-লুষ্ঠিত হতো। দেখলুম, ধনরত্ব পূৰ্ব্বানেই—পূর্ববৎ ভাবেই আছে। তারপর তাের নির্দেশিত স্থান খননে, তাের আভরণ- রাজি নিয়ে এলুম-ভােরে অজ জগৎ-জননী সাজে সাজাতে। আজ এই হেম আভরণরাজিতে একবার সাজ মা, হরমােহিনী মুর্তিতে, আজ দেখি একবার মৃত্তিকা নিৰ্মিত প্রতিমা সুন্দর কি আমার এই সজীব মা সুন্দর। “বৃক্ষতলবাসিনীর কণ্টক-লতা। প্রতিহিংসা- পরায়ণ। রমণীর আনন্দ—অরাতি কধির দর্শনে, নখাঘাতে হৎপিণ্ড উৎপাটনে। পতি-পরিত্যক্তার শােভা সৌন্দৰ্য-বল পরিধানে, ভন্ম বিলেপনে। যেদিন প্রতিহিংসা-এত উদ্যাপন হবে, সেদিন তৃপ্ত প্রতিহিংসার উলাসে অট্টহাস্য করবাে-আনলে ঘাের বােলে করতালি দেব। সেইদিন-সেইদিন তােমার মণিময় আতরণ আছে পরে স্বামীর উদ্দেশ্যে শেষ প্রণাম করবে। এখনও আভরণে অ শােভিত করবার ও সময় আসে নাই, পুত্র। এখন আমাদের
৮৮
রাজপুত-বালা
সখে কঠোর কর্তব্য দণ্ডায়মান। এখন আমাদের উদ্দে-পথ
কটকৰিণ। এখনও আমাদের প্রতিজ্ঞা অপূর্ণ।
শােন পুজ, দেব-রুপায়
দেব-রুপায় এইবার মাসুযোগ আমাদের
সম্মুখে সমাগত। এ সযােগ দুলায়-অলসতায়-অবসাদে
অবহেলায় হারালে, সারা জীবনে আর তার পূর্ণ হবে না। যদি
সতীর মঙ্গল প্রার্থনার মূল্য থাকে—যদি জননীর আশীর্বাদ
গ্রহণের আন্তরিক অভিলাষ থাকে—তবে শােন পুত্ৰ আদেশ
আমার, ঐ অণ্যস্থিত অতুল অখে চতুর্দিক হতে রসদ সংগ্রহ করে
এক স্থানে সঞ্চিত কর। আগ্নেয়াস্ত্রে তােমার সহচরদের সু-শিক্ষিত
কর-আয়ুধ-সংখ্যা বর্ধিত কর। তােমার শমন-সম অনুচরদের
মরণে নিঃশ-যুদ্ধে নির্ভীক কর, তাদের উৎসাহিত উত্তেজিত
উদ্দীপিত কর , যেন তারা অচল অটল পর্বতের ন্যায় স্থির থেকে
শক্রর অস্ত্রাঘাত ব্যর্থ করতে সক্ষম হয়—যেন তারা জননীর
প্রতিজ্ঞা পালনে জীবন দানে কাত্যায়, বেদনায় নত হয়ে না
পড়ে—এই আমার আদেশ।”
চতুর্দশ পরিচ্ছেদ
“সৈন্যগণ, ছুটে চল সাগর তরঙ্গের মত-মেতে ওঠে। বিপুল
পূলকোচ্ছাসের মদীপ্ত হয়ে ওঠো অনলের মত।
আক্রমণ তোমাদের নবাব-অরিকর রক্ষা তােমাদের উদার
এর মহান মান-মহৎ প্রাণ।
রাজপুতবালা
এ কি। কেন হেন ভাব। কেন হেৰি খ্রিয়মাণ কঠে
কেন নাই কেশরী-হার। অস্ত্রে কেন নাই উচ্চ-ঝঙ্কা। একি
বিপরীত ভাব দেখি নয়নে বদনে তোমাদের ?”
"হে বী, আপনি আমাদের বর্তমান আদশদাতা হলেও
আপনি আমাদের শিক্ষাদাতা গুরু নন। আমাদের শিক্ষাদাতা
গুরু ঐ দেখুন- বিপক্ষ বাহিনী সম্মুখে স্ফীতবক্ষে-উন্মুক্ত করাল
করবাল-করে-মধ্যাহ্ন-তপন-তুল্য দণ্ডায়মান। সেই গুরুর
বিরুদ্ধে—সেই শিক্ষাদাতার জীবন হনে কাতর অন্তরকম্পিত
কর আমাদের।”
"এই যদি হয় এ নিরুৎসাহের কারণ—তবে অবিলম্বে সে
কারণ দূরে অপসারিত করছি। দ্বৈরথ সমরে সংহার করবো-
ঐ কৰ্ম্ম-চ্যুত প্রভূদ্রোহী সেনাপতি ওমরগলিকে দূর করবে।
তােমাদের নিপ্রাণতার হেতুকে।”
বীরেন্দ্র-ফুল-ভূষণ, নরকুল কেতন নবাব-সেনাপতি বিজয়
সিংহ, কর্মচ্যুত নবাব-সেনাপতি—বর্তমান বিপক্ষের প্রধান সেনা-
নায়ক ওমরআলির বংশায় হতাশন তেজে, প্রভঞ্জন বেগে অ
দুটাইলেন।
হঙ্কারাচ্ছ্বসিত কঠে বিজয়সিংহ ডাকিলেন,
“প্রভুজোহী ওমর আলি, আজ তােমার অন্তিম দিন। শর
আবানের ইচ্ছা যদি থাকে-ডেকে নাও। দেবতার ভূত
আমি- অনুদার নই—সময় দিচ্ছি।
গে-তীব্র হাতে, তাচ্ছিল্য নিঝনিত জ্বরে ওমর বলিলেন,
রাজপুতবালা “যারা পর পদানত, যারা বেতনভােগ ভৃত্য, তাদের মুখে উদার বাক্যপিতর মুখে ধৰ্মকথার মত। মৃত্যুর পূর্বক্ষণে, মানব-বুদ্ধি এমনিই বিকৃত হয়। তােমারও তাই হয়েছে। এ রাজ্যের প্রতিষ্ঠা এই হিন্দুরই বাহুবলে। প্রথম ভারতবর্ষে মাড়বারপতি জয়াদ করেছিলেন মুসলমানের আহ্বান প্রতিষ্ঠা পরিপন। আর বাংলার লক্ষ্মণসেন-সেনাপতি পশুপতি করে ছিলেন-মুসলমান-বীজ বপন। সেই বীজ আজ ফুলে ফুলে মহা মহীরুহে ব্যোমস্পর্শে মাথা তুলে দাড়িয়েছে—সে শুধু হিন্দুর বক্ষ ধিরে পরিবর্ধিত—পরিপুষ্ট হয়ে। আর আলিবর্দীর এই বলে আগমন—এই রণ-মায়ােজন—তােমায় সেনাপতি পদে বরণ- এই হিন্দুই করেছে তার ভিত্তি গঠন! সেই হিন্দুর নিন্দাবাণী উচ্চারণে মানুষের হৃদয় যদি হতো, তাহলে বক্ষ বিক্ষোভিত হয়ে উঠতো। হিন্দু-নিক, তােমার অষথা নিন্দার ফল গ্রহণ-আর হিন্দুর বাহবল প্রত্যক্ষদর্শন কর।” উভয় বীরে দ্বৈরথ সমর বাধিল। উভয়ের অন্ত্র ঠনঠনির ঝঙ্কার—উভয় বীরের বর্জ আরাব তুল্য হুঙ্কারে রণমূল বিকম্পিত হইয়া উঠিল। উভয় পক্ষই নিরুদ্ধ গতিতেনি অন্ত্রে সে অপূর্ব রণ দেখিতে লাগিল। আলিবর্দী স্বয়ং দূর হইতে সে দৃশ্য দেখিতে লাগিলেন। দাতিক, আত্মম্ভরী পাঠান সেনাপতি, শুধু গর্বে দর্পে বিজয়- সিংহের বক্ষ-বিদারণেই সতত চেষ্টিত, কিন্তু আত্ম-প্রাণ রক্ষণে নিচে। এই নিচেষ্টাই তার কাল হইল। অচিরাৎ যু- অাজপুতবালা ১ প্রারম্ভেই বিপক্ষের প্রধান সেনাপতি ওমর আলির পতন হইল। তদৃষ্টে উভয় পক্ষই সরােষে সতেজে সবেগে অন্ত্র নিষ্কাসন করিল। বিজয়সিংহের বাহিনী ছিল পশ্চাতে—তিনি ছিলেন অগ্ন। ওমর আক্রমণে ভবিষ্যৎ চিন্তা বিরহিত হইয়া আরও অগ্রবর্তী হইয়াছিলেন। স্বীয় সেনাপতি হতারক বিজয়সিংহকে আক্রমণে এক- কালীন বহু তরবারি ঝন ঝন শব্দে পিধান মুক্তে শূন্তে উখিত হইল। তথাপিও বীর বিজয়সিংহ পলায়নে স্বীয় বাহিনীর মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করিলেন না। সম-সাহসে, সমাট্যে নিকোসিত অস্ত্র করে দণ্ডায়মান রহিলেন। আলিবর্দীর বাহিনী এই সুযােগে বিজয়সিংহকে জালাৰত কেশরীর ন্যায় পরিবেষ্টনে, স্বীয় প্রভুর প্রতিশােধ—বিজয়সিংহের বীর্ণে গ্রহণ করিল। যুদ্ধ প্রাক্কালেই উভয় পক্ষের প্রধান সেনাপতিয়ের পতন হইল। বিপক্ষ বাহিনীর সেনাপতি ওমর ভূ-লুষ্ঠিত হইলেও সৈন্যদল নিরুৎসাহিত হইল । সেই মুহূর্তেই মহা বিচক্ষণ আলিবর্দী নূতন সেনাপতি নিয়ােগ করিলেন। স্বয়ং উত্তেজনা উৎসাহদানে সৈন্য-হৃদয় আশান্বিত অনুপ্রাণিত করিয়া তুলিলেন। কি কাণ্ডারীীন নবাব-বাহিনীর অধিকাংশ সৈন্যই উৎসাহ- বিহীন, নিরাশা-নিপীড়িত হইল।
রাজপুতবালা
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ
“এখন আর এ অ কেন, বঙ্গের? তবে হা, এখনও উপায়
আছে, যদি সত্তি করেন। যদি আলিবর্দীর স্বাধীনতা ঘােষণা
করেন, যদি তার ব্যয় বহন করেন।”
“কি বলে, উজীর। জীবনশঙ্কায়, প্রাণ-প্রিয় পশুর মত,
আজ্ঞাবাহী ভৃত্য আলিবর্দীর নিকট দীনভাবে -নতশিরে যুক্ত
দুই করে করুণ। ভক্ষা চাইবো। এত হীন নয় বাংলার
নব। আমি সেই সতীর—আমার মাতার অভিশাপ
সফল করবে। সমরাঙ্গণে-প্রহরণ-উপাধানে—নর বরজসিক্ত
মৃত্তিকায় শয়নে ইতিহাস পৃষ্ঠায় বীরনাম খােদিত করবে।
রাজ্য সিংহাসনের জন্য এ অঞ নয়—নিজের জীবনের জন্যও এ
অশ্রু ঝরে নাই, উজীর।”
“তবে কেমন করে-কি ভাবে—কোন ভাষায় এ অশনি
সম নিদারুণ বাণী-মাতৃহীন, পি তৃভক্ত বিজয়সিংহের কোমল
কমল কোকতুল্য বালক পুত্রকে শােৰ-কি করে তার শিত
সরল হয়ে গেলাত ক
এই কানায়—এই
বেদনায় কাতর আমার চিও নেত্র আমার সিক্ত।”
“তাহলে লন্ত অনল এলনে ও নয়ন-নীর এ করে
ফেন বরে-গামি এনেছি।
রাজপুত-বাগা “এই যে এসেছ। এসেছ প্রিয় আমার-ভক্ত আমার-বন্ধু আমার। নিষ্ঠুর নবাবের নিষ্ঠুরতা বিরণে—অপরাধ মার্জনে এসেছ তুমি স্বর্গের সৌরভ-বাসিত অম-সেবিত, অমিয় অমর- পরাগ ? হে উদারতার মূ-মুত্তি, আমিই তােমার পিতৃহত্যার উপলক; অপরাধীকে অভিশাপ অনলে আর দ করো নাভার জীবন আর জালাময় করে তুলাে না।” “কোন মধুর ভাষায় এ অপরাধের মার্জনা-বান্ত উচ্চারণ করবে, কল্পনা যে তা আঁকড়ে উঠতে পারছে না, নবাব। কোন ভক্তের মহিমায় এ অপরাধের পূজা করবাে-রণ। যে তা ধরতে পারছে না প্রভু। আপনার ন্যায় মহান অপরাধীই ; অনামা, অজানা ব্যক্তির পুত্র আমি,আমায় করেছে আজ সৰ্বজন সমাদৃত-বঙ্গ-বিখ্যাত ইতিহাস-প্ৰসিদ্ধ কীর্তিমান, প্রতিষ্ঠা বান পুরুষ-সিংহের পুত্র। আপনার এই অপরাধ-আমায় আজ করেছে, দ্বিতীয় বলেশ্বরতুল্য সম্পূজিত সম্মানিত বঙ্গ-বিহার- উড়িষ্যার সর্বশ্রেষ্ঠ সেনাপতির তনয়। আজ আপনার এই অপরাধ আমায় করেছে বীরের সন্তান। এ মন, প্রাণ, শক্তি, শৌষ, বক্ষ-শাণিত, দেহের সামর্থ—সবই তো আপনার পদে পূর্বেই উৎসর্গীকৃত, তাই ভাবছি—আন কি দিয়ে কোন ভাবে আপনার অপরাধের পূজা-উপচার অর্পণ করবে! পিতার মহা-কীর্তি-কাহিনী, মার্তগুতুল্য যশাে, শক্তি-সংঘাতিত ৰীবাণ ছি—আর আনন্দে গর্বে আমার সূত্র এভন-আঘাতিত বারিধির ন্যায় মুমূর্ণ ফী ৰাজপুতবান ত হয়ে উঠছে। ইচ্ছা হচ্ছে, এই আনন্দদাতা—গৌরবদাত। নবাব পদে লুষ্ঠিত হয়ে পডি। ইচ্ছা হচ্ছে, অবিরাম দেব নামের ন্যায় উভৈরে বলি,আমি বীর বিজয়সিংহের পুত্র-আমি বই- বিগ-উড়িষ্যার প্রধান সেনাপতি বিজয়সিংহের পুর—আমি প্রভুভক্ত, রণত, রাজানুগত বিজয়সিংহের পুত্র।” “আমিও যে দিশেহারা হয়ে পড়লুম। অামি যে বুঝতে পারছি না—ৰ্গ ঐ উর্ধে না এই মর্তে। বুঝতে পারছি না, কোন ভাষায় তােমায় অভিষিত, অভিবরিত করবাে—কোন আনন্দ অবদানে তােমায় অভিবাদিত অভিনন্দিত করবাে-কোন কল্পনায় তােমার অনুমেয় চরিত্রের উপমা দেৱ। অদ্ভুত। অদ্ভুত। খােদার সব মহিমায় গঠিত অন্তর তােমার—সব বিয়ে সৃজিত কাৰ্য তােমার—সব উদারতায় ভূষিত বাক্য তোমার—সব এহেলিকায় নির্ণিত জীবন তোমার। তাহলে হে সেনাপতি পুত, বীর নন। পিতার শূন্য স্থান পূর্ণ করে বঙ্গ-বাহিনীর প্রধান কারীরূপে অবতীর্ণ হও রণাণে? পিতৃপ-পুত্রেরই প্রাপ্য। তাই আমি আজ তােমায়, তােমার পিতৃপদে বঙ্গ-বিহার-উড়িষ্যার প্রধান সেনাপতিপদে অভিবরণ করলুম।” এ বান্দার একটা নিবেদন আছে, জাহাপনা।” “নিবেদন থাকে—বল , বাধা তাে দিচ্ছি না, উজীর ?” “সাহানসার আদেশ প্রতিরােধের অধিকার এ গােলামের থাকতে পারে, কিন্তু সযুক্তি প্রদানের অধিকার আছে।” ব, কি তােমার সংযুক্তি?”
ৰাজপুতবা এই বালক, আপনার যতই ভক্ত, যতই প্রিয় হােক না, কিন্তু নবাব কটকের প্রিয় নয়-সৈন্যদল বালকের ভক্ত নয়। বালক, আপনার চকে উচ্চ উদার হলেও নিরক্ষর নির্বোধ সৈন্যের চক্ষে বালক-বালক মাত্র। বালককে যারা রক্তনেত্রে তর্জনী হেলনে-কণ্ঠ গর্জনে শাসন করে এসেছে—তারা আজ বালকের অশাসন কখনই পালন করবে না " “তারা না করে, তাদের প্রভু-বাংলার নবাব সর্বজন সমক্ষে পালন করবে। আদেশ আমার অনড়-অভ। এই বালকই এ ইতিহাসখ্যাত সমর-যতের প্রধান সেনাপতি—আর আমি এই বালকের সহকারী।” ষােড়শ পরিচ্ছেদ “নবাব গৌরববাহী সৈন্যগণ, কেশরী-সাহস বক্ষে আবদ্ধ করে—ইয়দের তেজ বাহুতে আকর্ষণ করে-অরাতি কর দলন। তােমাদের আয়ুখ-ঝঙ্কারে শত্রু-কর্ণ হােক বধির। অন্ত্রের নিপাতনে লুটিত হােক শশির ভূতলে। ছোট ছােট শিকার-দৃষ্ট সিংহ-সম-ছােট উকাসম মৃত্তিকা মনে-অরাতি নাশনে। আর সহকারী সেনাপতি নবাব সরফরাজ, তুমি ছােট ঐ বিপক্ষ- তপন আলির শক্তি দানে বিারণে।”
রাজপুতবা “সেনাপতির আদেশ, সহকারী সরফরাজ সসম্মানে শিরে ধারণ কলা।” স্বয়ং ব-বিহার-উড়িষ্যার অধীর, কোটী কোটা নর-নারীর ভাগ্য দেবতা নবাব সরফরাজ সত্যই এক ক্ষুদ্র বালক-আদেশে বীয় সৈন্যসহ আলিবর্দীর প্রতি ধাবিত হইলেন। বালক আদেশ পালনে ইতস্তত চিন্তিত সৈন্যগণ, সে দৃশে আদর্শে—বালক আদেশে বিপক্ষ-বাহিনী আক্রমণে আগুন হইল। বালকের রণ- ক্ষিত, যুদ্ধ-দক্ষতা, রণ-নিপুণতা, সৈন্য বৃহ রচনা দর্শনে স্বপক্ষ বিপক্ষ ন্তত হইল। স্বপক্ষ ভাবিল,- বালক বিধি-প্ররিতউল্লাসে তারা রণােন্মাদনায় মাতিল। দ্রুতগতি অন্ধ দুটাইয়া আলিবর্দীর নব নিয়ােগযুক্ত সেনাপতি বালক-আক্রমণকারী সৈন্যদল সন্নিবানে আসিয়া তাহাদের লক্ষ্যে উচ্চৈঃস্বরে বলিলেন “সৈন্যগণ, বালককে নিরস্ত্র কর-বন্দী কর , কিন্তু বালক অলে কেহ অস্ত্রাঘাত করাে না—নবাব আলিবর্দীর আদেশ।” সুইট তীব্র হয়ে বালক বলিয়া উঠিল,- “তােমার প্রভু, নবাব সরফরাজের ভৃত্য আলিবর্দীকে এ দুয়াশা পরিত্যাগ করতে বল। স্বেচ্ছায় সিংহশাবক শৃগালের করে আত্মসমর্পণ করবে না।” আসমর্পণ না করলে প্রাণ দিতে হবে।” তাতে প্রাণপ্রিয় পত প্রণে কাতরতা জাগলে, বীর হৃদয় আপুত-বালা ক তত ণত্যু অবণে কাতর হয় না-রং উল্লাসে অধীনে নৃত্য করে উঠে। “কি তুমি একটা জগতের দুর্লভ রত্ন—একটা গৌরবময় আদর্শ। তাই এ মহােচ্চ আদর্শ-অত্যাঘাতে চুৰ্ণিত করতে, আমার দয়াল প্রভু আলিবর্দ কাতর-কুষ্ঠিত।” “যে প্রভুর বক্ষ-শােণিত-পানাশায়—অন্ত্র উত্তোলনে-সুদূর দেশ থেকে আসতে পারে-তার এ কুণ্ঠা, এ কাতরতা -মেষ- শাবকের জন্য ব্যামের শােকব।” নবাব যেদিকে যুদ্ধ-নিত, সহসা সেই দিক হইতে এক সঙ্গে, এককালীন জলস্থল ব্যোম বিকম্পনে আগ্নেয়াস্ত্রের ভীম রােল সঘনে গর্জিয়া উঠিল। বালক দেখিল, সকলে দেখি, প্রায় সহস্রাধিক বক্তবেশ পরিহিত, রক্তটীকা-বিশশাভিত সৈন্য আগ্নেয়-আয়ুধ-ধারা হল- ধরার ন্যায় অবিরল বর্ষণ করিতেছে। বিস্ময়ে বালক দেখিল, বিপক্ষ সপক্ষ দেখিল—তাহারা হিন্দু। অবাক-অপলকে বালক দেখিল, সকলে দেখিল-তাহার কেবলমাত্র নবাৰসৈন্য প্রতি অগ্নিগােলক ধারা বর্ষণ করিতেছে। সে ধারায় নবাব-সৈন্য শাণিত ধারায় গাৰিত-নুষ্ঠিত হইল। বিপুল বিস্ময়-তরঙ্গে বালক দেখিল- সেই সৈন্যদল সমূৰে এক কষ্ণবর্ণ অশ্বপৃঠোপরি আলু লাভিলা—ভীষণ-নালাল-বসনা-অঞ্জ-শশােনা কিশােরী রমণী মূর্তি বিরাজমান। বালক ভিত, বিম্বিত-মূফতি বিহিত হইয়া সেই রণরঙ্গিণী বীরাঙ্গনার প্রতি চাহিয়া রহিল।
রাজপুতবালা
এই সময়ে
সহসা আগ্নেয়াস্ত্র-মুখ-নিঃসৃত একটা তপ্ত লাল গােলক ছুটিয়া
আসিয়া বাংলার নবাব-মহীয়ান, গরীয়ান নবাব-বক্ষ বিভকরিল
আর্তনাদে নবাৰ দীৰ্ণ-বক্ষে ধরণীকক্ষে পতিত হইলেন। উন্মাদের
ন্যায় উচ্চনিনাদে বালক চীৎকার করিয়া উঠিল।
আত্মবিত বালক কর হইতে আলিবর্দীর সেনাপতি অস্ত্র
আকৰ্ষণ করিলেন। শিথিল মুষ্টি-ধত করল সহসা আকবণে
বালকের করচ্যুত হইল।
তীব্র বারে বালক বলিল,-
এ বীর ধর্ম নয়-শৃগাল ধর্ম।”
একটা মহৎ অবদান—মহান কীত্তি সংরক্ষণে কোন ধর্মই
নিন্দিত নয়। তােমার ন্যায় মহৎ মহান প্রাণ রক্ষণে-তোমার
পুত অঙ্গ স্পর্শনে আজ আমার সৈনিক-জীবন ধন্য হলাে।
সেনাপতির কঠর নিঃশৰিত না হইতেই মহা মহােৎসাহে
মা হচ্ছ্বোসে আলিবর্দীর সৈৰুণ বালককে শিরে ও স্ক
উত্তোলনে মহােৱাসে নৃত্য করিতে করিতে শিবিরাভিমুখে
ছুটিল। তারপর সেই বীর বালককে তাহারা স্বীয় প্রভু আলিবর্দীর
সকাশে উপস্থিত করিল।
বালককে সৈন্যৰ জে বাহিত করত আলিবী-সমীপে
আনন, এবং অনিষদ কর্তৃক বীর বালকের পিতা বিয়সিংহের
হিন্দু যারা বীরযােগ সৎকার ও বালকের মায়া কাদি মহা
সমারােহে সমাপন করার ঘটনা পর্যন্ত উপ করিয়াই ইতিহাস
এই বীর বালকের কাহিনীর অবসান করিয়াছেন।
ওরাং
রাজপুতবাস
আমিও এইখানে এই অকল্পনীয় অভিমসম বীর বালকের মহান
চরিত্রের পটক্ষেপণ করিলাম।
D
সপ্তদশ পরিচ্ছেদ
“এই যে এসে। বড় এ মুহূর্তে-বড় সু-সময়ে এসেছ তুমি
রণ-দেবী, আয়ুধ ধারণে—রক্ত বসনে। এস আমার নয়ন-সম্মুখে
তােমার কাগজ্যোতির্ময়ী মহা মাতৃ মূর্তি অন্তিমে একবার শেষ
দেখা দেখে নিই। দাড়াও মহিমারি আলেখ্য অতি করে শির
শীর্ষে-ধাড়াও একবার নিমাত হাতে। অভিশাপ ছেড়ে
একবার এ এয়ানপথযাত্রীকে মুক্তচিত্তেমূক্ত-ভাবে কর
আশীৰ্বাদ। তােমার পুণ্য-মুখ-নিঃসৃত-মল-নিষিক্ত আশীষ-বাণী
এতে নত মহা পুলকে—মহা আলােকের দেশে প্রধান
করি।
“এ কি অদ্ভুত জটিলতা-জাল-নাব বনি শােনাও নবাব !
অন্তর আকুল—বিবেক ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। একি ৰাতি
কাটের কপটৰাণী?
“ জীবনে বহু পাপ অন্যায় কাৰ্য প্রতি পদক্ষেপে
করেছি। আর এই খােদর বিচারালয়ে গমন সময়ে কপটতার
আয়বহিত করবাে আমার পাপ করে ?
Joo" নাজপুতবা - পূত-পৰিত, ৩ ঘচ্ছ অকৃত্রিমতায় মানব এই পুণ্য-মুহূর্তে এই জীবনযবনিকার পতন সময়ে ভক্তিভরে ঈশ্বরের নামােচ্চারণ ঈশ্বৰ-ৰূপ ধ্যান করে, আর আমি কপট বাক্য উচ্চারণ করবাে। মানব, কল্পিত দেব-দেবীর ধ্যান করে—আর আমি সেই দেবী মূর্তি—সজীব মূর্তিতে প্রত্যক্ষ করছি, সেই দেবীর সম্মুখে মিথ্যা বলব! সতী তুই-দেবী তুই, তাই আজ তাের অভিশাপে বাংলার এক মহা বিস্ময়কর পরিবর্তন সংসাধিত হলো। যা ইতিহাস-পৃষ্ঠা আজ তােরই জন্য মহা আলােকে-মা কলেবরে পরিপুষ্ট হয়ে উঠলাে। ইতিহাসপৃষ্ঠাবর্ধিণী, আলিবর্দীর ভাগ্য- প্রদায়িী, ভবিষ্যৎ ব-ইতিহাস-বক্ষ-বিহারিণী মূ-দেবী, তাের অভিশাপ যেমন আজ আলিবর্দীকে মহাভাগ্যপ্রদানে বাংলার সিংহাসন অর্পণ করলাে—তেমনি আমাকেও আজ মহা-গৌরব মাল্য-সৌভাগ্য-টাকায় শোভিত ভূষিত ৰয়িত করলো। ধন্য- ধন্য-শত ধন্য তুমি রাজপুত-বালা। তােমারই জন্য আজ সরফরাজের পতন-আলিবর্দীর উথান। এ কাহিনী যতদিন ইতিহাস থাকবে, ততদিন চির-খােদিত—চির জাজ্বল্য—চির- জাগ্রত হয়ে তােমার স্মৃতি-তোমার কীর্তি তােমার মুক্তি মানব-চিত্তে মহা বিস্ময় জাগিয়ে তুলবে।” “আমি তােমার জননী!” এখনও কি বুঝতে পার নাই মা? জননী কান না করলে তােমার পদে কি পুল পুলালীশ্বৰূপ প্ৰদান কৰি ? সতী না ভাবলে কি তােমার পদধূলি গ্রহণে উদ্যত হই?”
রাজপুতবালা ১০১ “প্ৰহেলিকা। প্রহেলিকা। এখনও প্রহেলিকায় আজ আর অামার। এখনও সন্দেহে ব্যাকুল বক্ষ আমার। খাবার- আবার বা নবাব,—সত্য সত্য কি এ বাণী । সত্যই কি আমি তােমার জননী ? ‘সত্য-সত্য-সত্য। সত্যই তুই আমার জননী। ঐ অাশনে দীপ্ত তপ্ত-রবি দেদীপ্যমান। ঐ আরও উর্ধে-মা উদ্ধে বিশ্বপিতা খোদা বিদ্যমান , এই মর্তে বীরের দেবত অ আমার অঙ্গে শােভমান , এই অস্পর্শে-ঐ সুৰ্য সাক্ষ্যে- এই প্রয়াণ-শয্যা-শয়নে-ঐ খোদার নাম স্মরণে বলছি তুই আমার জননী-জননী-জননী। । অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ এ চিত-সজা হতে ক্ষান্ত হও মা-এ ইচ্ছা রুদ্ধ কর সতী। সন্তানের প্রতি সদয়া হয়ে আজ আবার কেন নিয়া হও জননী। পূর্ব-দয় নিদারুণ শেখাতে চুর্ণ কৰে -সনকে শােকাবর্তে প্রক্ষেপ করাে না গাে, করুণাময়ী।” “না-না, বাধা দিও না সর্দার। কাতরতায় করুন আমার পুণ্যকর্ণেকৰ্তব্য কর্ণে বিষয় এনে না। এ আমার ব্রত উদযাপন-প্রতিজ্ঞা পূরণ। এ আমার কালার অবসান ১০২ রাজপুতবালা তাপদ অরের শান্তি-সরােবর। নারী হয়ে রমণীর ভাব- কত স্নেহ মমতা, প্রীতি, প্রেম, করুণ। কোমলতা বিসর্জনে , হিংসা, যে, ঈর্ষা, কপটতা, নীচতায় হৃদয় পরিপূর্ণ করেছি। করুণা-কোমল করে পিশাচিনীর ন্যায় মানং-হদ-নাশী তী অত্র ধরেছি। করে সন্তান সরফরাজকে হত্যা করেছি। পত-শিখন-নিহত প্রবাহিনীর গায় প্রতিহিংসায় ক্ষিপ্ত হয়ে অবাধে এক প্রান্ত হতে প্রান্তরে ভীষণ ভৈরবী রাক্ষসী মূর্তিতে ছুটে বেড়িয়েছি। ধিকার জমেছে জীবনে। অনল অপেক্ষা উত্তাপিত আজ আমার অন্তর। এ নয় আমার মরণ-এ আমার জীবন। তাই আজ এ বৃণিত জীবনের অবসানে—শাকি-জীবন অর্জনে এই চিতা রচনা। এ সুখ-শয্যা রচনায় বাধা দিওনা।” মা হয়ে, মা-সন্তানে কদাবি ?” “চুপচুপ, মা নামে আর ডেকো না। মা নই—মা নই। আমি-আমি রাক্ষসী-আমি বৃষ্টি-বিনাশী। সকান সরফরাজের সত্যুর উপলক্ষ হয়েছি, আবার তােমাদের সংহার করবো। বাসীর জীবন জগতে হয়তাে আরও অনেক অনিষ্ট সাধন করবে-আরও অনেক অমূল্য প্রাণ অকালে হনন করবে। বলি, মরণেই আমার মল-জগতের মঙ্গল।” সহসা এক বিপুল জনতা শানতি সকলের দৃষ্টিগােচরী- ভূত হইল। ধীয় চিতা সজাকারিণী রাজপুতলাও তাহা দেখিতে পাইলেন। চিত-সা বিস্মরণে রাজপুতবালা সেই নবাগত নর প্রতি অবাকে অপলকে চাহিয়া রহিলেন।
রাজপুত-বালা
জনতা সন্নিকটবর্তী হইলে সানুচর সর্দার বিয়ে দেখিল,-জনতা
শবদেহবাহী। দেখিল,এক মহাৰ্য পালঙ্কোপরি, ক-বিজড়িত
মখমল বাত, পুল-বিশশাভিত শবদেহ—সুদৃশ্য বেশধারী কতিপয়
সম্রান্ত ব্যক্তি দ্বারা বাহিত। শব-যাত্রীর সর্বাগ্রে ম্লান বদনে, সিক্ত
নম্বনে, এক মুসৌম্য সুপ্রিয়দর্শন প্রবীণ ব্যক্তি, আর পাতে
বিপুল জনবাহিনী। বাহিনীর সকলেরই নগ্নপদ, মুক্তশির, বিষাদ
বদন, নত আনন। যেন একটা সচল শােকেস ধীরে-গভীরে
আগত। সেই সম্মুখবর্তী এবীন ব্যক্তির প্রতি স্থির দৃষ্টি নিক্ষেপে
সর্দার ভরাট গভীর কঠে ডাকিল,
না"
উত্তর নাই।
পুনরায় সর্শর ডাকিল,-
মা?”
উত্তর নাই।
উত্তর না পাইয়া সর্দার রাজপুত-বালার প্রতি চাহিল, দেখিল,
সে মুক্তি যেন প্রস্তর মুক্তিতে পরিণত হইয়াছে। ভয়-ব্যাকুলিত
করে সর্দার আবার কিল,
মা! মা! মা ?”
দূরে সেই বৃদ্ধের কর্ণেও আর্ত ব্যাকুলতায় ধ্বনিত হইল,
মা। মা। মা ?”
সর্দার-সহচরেরা ব্যাপার কি, না বুঝিলেও তাহারাও উচ্চৈন
অলি-
১০৪ রাজপুতবালা “মা? মা? মা ?” ‘মা’ কিন্তু নীরব-নিশ্চল। শব-বাহিনীর অগ্রগামী প্রবীণ ব্যক্তির গতি দ্রুত হইতে দ্রুততর হইল—কমে তাহার গতি পনবৎ হইল। बास তরঙ্গের মত বৃদ্ধ রাজপুত-বালার সম্মুখে আসিয়া আর্ত ব্যথিত ক) জাকিল, মা। মা ! মা।” এবার মায়ের চোখের পলক একবার স্পন্দিত-বক্ষ একবার বিস্ফীত কুইয়া উঠিল। উন্মাদের ন্যায় বিভ্রান্ত কঠে বৃদ্ধ বলিয়া উঠিলেন, মা! মা! মা! এতদিন পর হতভাগাকে দেখা দিলি মা। ততাকে ডাকতে দীর্ণনাদে অvাশ কঁপিয়ে তুলেছি। নয়নে অঞ্জর প্রবাহ ছুটিয়ে অবিরাম তোরেই কেবল এতদিন ডেকেছি। তাই আজ এ অসময়ে সদয়া হয়ে দেখা দিলি মা? এতদিন পরে বৃদ্ধের আর্ত আহ্বান হৃদয়ে আঘাত করলে জননী! আর- আর কিছুদিন পূর্বে কেন কৃপা করলিনি মা। তাহলে—তাহলে আজ আমার প্রাসাদ শ্মশান-হৃদয় মরুভূমি হতাে না; তাহলে আজ আমায় অনুতাপানলে দয় হতে হতো না। আজ এই মূত আকাশতলে দাঁড়িয়ে মুক্তাষে উচ্চকণ্ঠে বলছি- তুই সতী-সতী-সতী। তাের প্রত্যেক অভিশাপটি আজ সজীবতায় বৃদ্ধের সম্মুখে—এগৎ সম্মুখে ফুটে উঠেছে। দলিত হয়েছে আমার মান অভিমান-পাঠান-পদে। চুণিত হয়েছে নাজপুতবালা ১০৫ আমার জাত্যাভিমান বংশাভিমান—বন কোপে। লুষ্ঠিত হয়েছে ভারতপূজ্য স্বর্গ-ভবন-সম শেঠ-প্রাসাদ-যবনহতে। শুধু তাই নয় মা, মহামান্য দিল্লীর সম্পূজিত, জগবরেণ্য, যার ধন দৌলত বিস্ময়-তরণে দেশ দেশান্তরে বিঘােষিত-ষার যশ-সৌরভ পবন- বাহনে ৰাহিত, সেই বিশ্বধন্য, মানবগণাগ্রগণ্য, নৃপতিবরেণ্য জগৎশেঠ দীনহীন, সামান্য নগণ্য তস্করের ন্যায় বন্দী হয়েছিল যবন কারাগারে। নবীন নবাব আলিবর্দী আমায় মুক্ত করে দেন। অপমানে আমার বক্ষ-পঞ্জর দীর্ণ—চুর্ণ। শােকাঘাতে অন্তর আমার আল-জর্জরিত। আর নয়, যথেষ্ট শিক্ষা যথেষ্ট শক্তি দিয়েছিল। এবার আমায় দয়া কর-এবার আমায় ক্ষমা কর না।” “পিতা, অগ্র বা—ঐ পলক্ষে পুষ্পভূষণে কে করেছে শয়ন ?” “সতীর পতি।” "আর ঐ পতির সেবিকা তার শয্যা -করে ঐ করেছে রচনা। সতী যদি হই পিতা, তবে এই সতী কর সজ্জিত শষ্যায়-আমার বক উপাধানে-সতীর পতিকে শয়ন করিও-এই তােমার পদে অন্তিম প্রার্থনা। “কোথায় যাও মা ?” “সতী আমি—পতি পুজনে।” একান্ত হও সতী-ঘরে চল মা " “পতি পদতলই সতীর ঘর, সেই ঘরেই চলেছি তাে পিতা। অভাগিনীর প্রতি সহানুভূতির উত্মে হয়ে থাকে যদি, উবে আমি প্রার্থনা আমার পূর্ণ করে পিতা।”
১০৬
রাজপুত-বালা
সতী স্বীয় রচিত চিতায় করে অগ্নি প্রদানে, স্বামীর পদধুলি
শিরে ধারণে, শতর-পদে প্ৰণত হইয়া হান্য আননে, উজ্জল নয়নে
দীয় সহিত চিতাশয্যায় শয়ন করিলেন।
জগৎশেঠের আদেশে সেই মুহূর্তে সতীর পতিও পীণয্যায়
নিক্ষেপিত হইলেন। সকলে কণ্টকিত গাহে—বিপূল বিষয়
পুলকোসে দেখিল,-
সতীর হট মৃণাল বাহু -পতিকে আবেষ্টন করিল।
সেই অমর কল্পিত আত্মাৎসর্গময় মহতী-মহীয়ান দৃ
দর্শনে, অজানিত বিহােরতায় সকলের কঠে মহানালে ধ্বনিত
হই,
সতী-সতী-সতী”
অবসান
All rights reserved by the Publishers
শুধু সুলভ বলিয়া নহে; প্রথিতযশা গ্রন্থকার সর্বোচ্চ মূল্যের কাগজ-মুক্তাক্ষরে ছাপা ও সর্বোপরি সহরের শ্রেষ্ঠ শিল্পীবৃন্দের তুলিকাঙ্কত জীবন্ত চিত্রের সমাবেশে নির্মল-সাহিত্য-পীঠের -রেলওয়ে সিরিজ- অসমর্থদিগের পক্ষে অনুকরণ করিবার উপযুক্ত উপকরণ সমগ্র ভারতবর্ষে-অনুপম ! অতুলন! ১। হিন্দুরী-এমতী চারুশীলা মিত্র ২। রাজপুতবাল—এমথনাথ চট্টোপাধ্যায় * ৩। চোরাবালি-হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘােষ ৪। মিলনরাত্রিমমতী কমলাবালা দেবী ৫। পী-লী-খালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ৬। পুরানা-একালীপ্রসন্ন দাশ গুপ্ত এম-এ ৭। সিরাজদ্দৌলা—প্রমথনাথ চট্টোপাধ্যায় ৮। সঁদমা—এসৌরীন্দ্রমােহন মুখোপাধ্যায় বি-এল, ৯। সােনার ধান-মুনীপ্রসাদ সর্বাধিকারী ১০। নবীন-সখী-নারায়ণচন্দ্র ভট্টাচাৰ্য (কমলিনীর) ৯ নং কর্ণওয়ালিস ট, ঠনঠনে কালীতল। কলিকাতা।
মাথার ঘাম পায়ে ফেলিয়া উপন্যাসের ভিতর দি সস্তায় সংসাহিত্য
প্রচারের জন্য যে সকল প্রকাশবৃন্দ বদ্ধপরিকর হইয়াছেন,
সর্বাগ্রে তাহাদিগকে আমরা অভিবাদন করিতেছি।
আমাদের নুতন সাহিত্য-তীর্থের নাম
নিৰ্ম্মল-সাহিত্য-পীঠ
৯নং কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা।
আমরা ১ম একটাকা সংস্করণ উপন্যাস
নিয়মিত প্রকাশ করিব।
আমরা দীপক'রাগিণী গাহিয়া আগুণ বার প্রয়াসী নহি।
মে মায়ের আলাপ করিয়া শুষ্ক, দ, নীরস সাহিত্য-ক্ষেত্র
বণের ধারাস সরস করি তুলিবার সঙ্কল্প করিয়াছি।
অতএব, হে সাহিত্যামােদা সজ্জন সুধীবৃন্দ।
আপনারা জনে জনে আমাদের সাহায্যের জন্য এত উত্তােলন করুন।
আপনাকে 'নট ভয় পাইলেই মা আখের বাণী পল এথম উপন
বীয় নাট্য-পরিষং সম্পাদক-জগদ্ধাত্রী প্রণেতা
রাসবিহারী
মুখােপাধ্যায় প্রণীত
সতীর জ্যোতি
নামক সচিত্র উপন্যাসখানি আপনাদের কম-করে তুলিয়া দিয়া ধন্য হইব।
গত ধাৰণ-গোধূলির নগ্ন-সন্ধ্যায় মেঘের কোলে সৌদামিনী
হার ন্যায় নির্মম-সাহিত্য-গীঠ হইতে সতীর কালিহরে হরে
ফুটি উঠিয়াছে।
মূল্য-রেশমী বই সচিত্র ১, ডাকে।
প্রেম-রঙ্গ-তরঙ্গায়িত উপন্যাস-প্লাবিত বঙ্গে- ধর্মসঙ্গত পরিপূর্ণাঙ্গসৎসাহিত্য আজ উপন্যাসের পৃষ্ঠায় পৃষ্টায় প্রচারিত! রব্রাজক-অকিঞ্চন দাসের প্রাণপাত পরিশ্রমে প্রস্তুত সৎসাহিত্য-সকরা- বাগ্ধাদিন বীপ। দি সা'হত্য-পয়সা —- সৎ-সাহিত্যমােদী ভক্তবৃন্দের পংক্তিতে পংক্তিতে অপর্যাপ্ত পরিবেশিত সে আবার কি ? স্বামী তীথ যত ইচ্ছা এ সাহিত্য-মহামৃত পান করিয়া যুগে যুগে অমর হইয়া থাকুন, কিন্তু সাবধান অমৃত যেন মাটিতে না পড়ে -কারণ- সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র ও দার্শনিক পণ্ডিত সুরেন্দ্রমােহন ভট্টাচার্যের পর-উপন্যাস-সাহিত্য ক্ষেত্রে স্বামীতীর্থের উপমা ‘গঙ্গাজলে গঙ্গাপূজার মত কেবল স্বামীতার্থ উপন্যাস পাঠেই হইবে, নচেৎ, কথা শকতি নাই বুঝাতে ইহায়। হিন্দু মাত্রেরই স্বামীতীর্থ পাঠের একান্ত প্রয়োজন হইলেও পয়সা খরচ করিতে নাৱাৰ—অথচ পাঠচ্ছা প্রবল সাহিত্যামােদীগণ, স্থানীয় লাইব্রেরী হইতে চাহিয়া লইয়াও একবার পড়িবেন ইহাই প্রকাশকের বিনীত অনুরোধ। ভারতের সমস্ত গতকাল প্রাপ্তব্য। বেশী কিংখাব মণ্ডিত , তাকে।
সাহিত্য-সংসারে যত রকম যে আছে, তার মধ্যে বন্ধুর বৌ-টি কি ইহার চাল-চলন গড়ন-পিটল, হাব-ভাব, কাধ-কলাপ- সষেরই যেন কেমন একটা নূতন বাহার। দেখুন দেখি, মুখখানি কি চমৎকার। নববিবাহিতাদগের মধ্যে যিনি যত রূপসী বধুই গৃহে আনিয়া থান না কেন, তুলনায়, এ বিয়ের বাজারে বন্ধুর বৌটিই সবার উপর টেক।। এমন রূপে লক্ষ্মী, গুণে সরস্বতী বৌ,-ওঃ, বন্ধুর কি জোর বরাত ভাই এবার বন্ধুর বৌ'র সমালোচনায় -বান্ধব মলে একটা অনাবিল আনন্দ-প্রবাহ ছুটিবে। কমলিনী’র বিজয়-বৈজয়ী এ বৎসরের উপহারের শো উপন্যাস উপন্যাটের প্রধান সদস্য প্রথম শ্রেণীর ঔপন্যাসিক- যুক্ত ফণীন্দ্রনাথ পাল বি-এ প্রণীত নৰ চিত্ৰমণ্ডিত হইয়া যষ্ঠ সংস্করণ প্রকাশিত হইয়াছে। আপনাদের '' দেখিবার নিমণ বিল, লৗকিকতা গ্রহণে সক্ষম জানিবেন। कमिली-रि-पश्मिन गापिग-बबारिशमान।
যার যত পরাক্রম সে জানে আপন।
কমলিনী-সাহিত্য-মন্দিরের
চির নূতন উপন্যাস -‘কালােমেয়ের
উপহার হইতে উপসংহার পর্যন্ত প্রচ্ছদপট হইতে পুনী পর্যন্ত
আগাগোড়া নূতন-আমূল পরিবর্তন।
দাড়িয়ে আছে বলি বালা, সিদুর নিয়ে। পথ চেয়ে।
গ্রাম-মাতব্বর-মনােরন -কলির মহা বলিনি।
ধূপ-কাঠে নারী-লি!-মূর্তিমান নরসিংহ অবতার।-চতুর্জিকেই
লেলিহান অগ্নি শিখা। ভোগের বস্তু ভন্ম করিয়া ভক্ষণান্তে
কৃষ্ণ চর্মে জয়ঢাক প্রস্তুত।সাবাস বাঙ্গালী ও
বাংলার বাঙ্গালীর “চামে” দামে চেয়ে প্রাণের মূল্য কত অল্প ,
তাহারই জাজ্বল্যমান উদাহরণ :-
উপন্যাসাচাৰ্য-পণ্ডিত
নারায়ণচন্দ্র ভট্টাচাৰ্য্য বিদ্যাভূষণ প্রণীত
কালােমেয়ে
৮ খানি নৰ চিত্ৰসংঘােজিত ২• আড়াই টাকা মূল্যের উপযুক্ত
উপন্যাস 'কালেমেয়ের নাম মাত্র মূল্য ১ কে ম•
কমলিনীলমন্দির
এসবিএ-গেমিং পাল।
-প্রেয়সী!-
মিষ্টি উপন্যাসের সৃষ্টিকর্তা সৌরীন্দ্রমােহনবাবু-প্লেয়সী
প্রিয়ে, চারুশীলে! মৃঞ্চময়ী মানমণিদান ।
সাহিত্য-সব্যসাচী-বাংলার মােপসা-ভাতী সম্পাদক
যুক্ত সৌরীন্দ্রমােহন মুখােপাধ্যায় বি-এল প্রণীত
বুকভরা আশা—মুখভরা হাসি
প্রেয়সী
মকর গরু-মদির উপন্যাস সাহিতোদ্যানে সৌরীনবাবুর মানস-কুসুম
প্রেয়সী।
এ প্রেয়সী—ফুলশয্যায় নবদম্পতীর প্রথম মিলন-রাত্রির-প্রেয়সী।
চিরনির্জন-গষ্যায় তুমি নবাগতা-এ যে নূতন সােনালী স্বপ্ন,
তবে জাগ লো রূপসী, বহিয়া যায় যে গােলাপ জাগানাে লগ্ন।
প্রিয়তমে, আগােজাগো।
গভীর রাত্রি নিঝুম অন্ধ, কোথাও একটু নাইকো শ,
• এ ফুল-বাসরত মুহুর্ত, এ যদি বিফলে যায় গাে ,
দিসের আলাে ধাঁধিবে নয়ন, পরিচয় নেওয়া হয় কি তখন ?
জীবন -নব দরশন—এই ভক্ষণ, জাগাে! কিয়ে জাগাে।
প্রাণী-প্রেমময়ী-রসময়ী-ময়ী প্রেয়সী
নানা চিত্রালীর ভূষিত হইয়া ৪র্থ সংরণ প্রকাশিত হইয়াছে।
নগদ মূল্য ১, এক টাকা, তাকে ১•।
কমলিনীলাহিঅমন্দির
এমবি-গােবিনীত, পাল।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.