Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Ucchash

Sen,nabinchandra · 2009/11/1

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

ভচ্ছাস
গীতিবি
“কুরুক্ষেত্ৰ” প্রভৃত্রি প্রণেতা
কবিবর শ্রীযুক্ত নবীনচন্দ্র সেন-প্রত
ভূমিকা সহিত
কলিকাতা ;
১৭ বৃন্দাবন বসুর লেন
সাহিত্য-যন্ত্রে
মুদ্রিত

;
কলিকাতা
২০১ কর্ণওয়ালিস টু হইতে
শ্রীগুরুদাস চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত
১৩৭ বৃন্দাবন বসুর লেন, সাহিত্যযন্ত্রে
শ্ৰীযজ্ঞেশ্বর ঘােষ কর্তৃক মুদ্রিত।

বিজ্ঞাপন।
{
আমার এক বন্ধুর কতকগুলি কবিতা, সুপ্রসিদ্ধ কবিবর শ্রীযুক্ত
নবীনচন্দ্র সেন মহাশয়কে দেখিতে দিয়াছিলাম। তিনি পড়িয়া
আনন্দিত হইয়া আমায় যে পত্র লিখিয়াছেন, সেই পত্রখানি
(লেখকের অনুমতি লইয়া) এই পুস্তকের ভূমিকাস্বরূপ প্রকা-
শিত হইল।
উচ্ছাস-প্রণেতার নাম অপ্রকাশিত রহিল।
কলিকাতা।
২০শে শ্রবণ,১১০, } শ্ৰীসুরেশচন্দ্র সমাজপতি।
बीरRE PE

No text on this page.

ভূমিকা। ভাই, উচ্ছাসের এই কবিতাগুলি পড়িয়া আমার প্রথম বােধ হইয়া- ছিল, কোনও নব্যতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ কবির লেখা। যখন দেখিলাম যে, আধুনিক কবিতার লালিত্য ও মাধুর্যের সঙ্গে ভাবজটিলতা নাই, কোনও স্থানে অর্থ করিতে গলদঘর্ম হইতে হয় না, তখন বুঝিলাম যে, বাঙ্গালার দুই সম্প্রদায় লেখকের গুণভাগ লইয়া লেখক এক নূতনতর পথ অবলম্বন করিয়াছেন। তার পর যখন তােমার মুখে শুনিলাম, লেখক একজন অল্পবয়স্ক যুবক, এবং তিনি একজন ধনীর সন্তান, তখন আনন্দে আমার হৃদয় পূর্ণিত হইল। আনন্দের দুইটি কারণ তিনি এ বয়সে এমন সুন্দর, সুললিত ও ভাবপূর্ণ কবিতা রচনা করিতে পারিয়াছেন, এবং আমাদের দেশের কমলার বরপুত্রগণ অকিঞ্চিৎকর আমােদ- প্রমােদে জীবন ক্ষয় না করিয়া জাতীয় সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ প্রদর্শন করিতেছেন। আমি আশীৰ্বাদ করি, এই নবীন লেখক দীর্ঘজীবী হইয়া বঙ্গসাহিত্যের মুখােজ্জল করুন, ও আপনি যশস্বী হউন। মেহাকাক্ষী রাণাঘাট। ৮ই শ্রাবণ ; ১৩০১। শ্রীনবীনচন্দ্র সেন।

No text on this page.

সূচী বিষয় পৃষ্ঠা সন্ধ্যায় আপনারে দিতে ধরা তিনটি :.. পবনের দীর্ঘশ্বাস | ০ ০ ০ ০ ০ ১০ ৩ . . এe এ s ০ ••• এ এ . ••• ••• ০ ০ ০ ১৪ ০ ০ ০ এই কি গাে? হায় রে কল্পনা যদি ... কেন স্মৃতি গােধূলিতে কেন কোন আলেখ্য দর্শনে এস গাে ফিরিয়া কোকিল ০ ০ ০ ১৮ ০ ০ ০ ••• • ও ১৯ ২১ ০ ০ ০ . . = ৩০ ০৮ ২৪ ০৮ ২৮ ০ ০ ০ ••• তুমি দাও ••• বর্ষায় ভালবাসা সুর... ০ ০ ০ ০ ০ ৮০ ••• ••• ০ ০ ০ ০ ০ ০ ••• ••• ৬০ .

সূচী। পৃষ্ঠা বিষয় কোন চাতকের প্রতি একবার আলােক হেরিয়া p + ••• ••• ••• ৩৮ ৪ । ••• এস তবে ৩৯ । + ০ ০ ৫০০ ০ ০ ০ + + + বিচ্ছেদ ... ০ ০ ০ ০ ••• ৪০ এ ০ ০ মিলন ০ ০ . •• • * • ১ ৪১ ০ ০ ০ ৫ কি যেন... 8२ . ০ ০ ০ ০ ০ ০ ••• ৪৪ ০ ০ ০ . ০ ০ Ers বলি বলি করি প্রথম মিলন ০ ০ ০ ৫ । ৪৬ ৩০ ০ = ৫ মরণ-পার ••• ৪৯ কেন • ০ ০ ••• ০ ০ ০ ৫ । । । তুমি ও আমি... সংসারের পথে প্রেমে . . . . . ৫৭ ০ ০ ০ ০ ০ ০ সমাপন ...

উচ্ছাশ
সন্ধ্যায়।
চঞ্চল তরঙ্গ তুলে নদী বহে যায় ;
সুনীল জলের পরে
বায়ু আসি খেলা করে ;
পবন পরশে মৃদু তরঙ্গ দোলায়।
চঞ্চল তরঙ্গ তুলে নদী বহে যায়।
সাঁঝের আঁধার রাশি আসে ধীর পায় ;
উন্মত্ত আদর ভরে
ধরণীরে বুকে ধরে
বাহু প্রসারিয়া তারে আলিঙ্গিতে চায়।
সাঁঝের আঁধার রাশি আসে ধীর পায়।

উচ্ছাস।
সরম-রক্তিম আভা শােভে মেঘ-গায় ;
প্রান্তরের দূর পারে
ঢাকে রবি আপনারে,
ম্লান আলাে নিভে আসে ধরণীর পায়
সরম-রক্তিম আভা শােভে মেঘ-গায়।
আকাশের প্রান্তে শােভে চাদের কিরণ।
কোমল সৌন্দৰ্যরাশি
সম্পূর্ণ উঠে নি ভাসি,
আলােকে আঁধারে মেশা, স্বপন যেমন।
আকাশের প্রান্তে শােভে চাদের কিরণ।
কুমুদের দলরাশি ফুটে আসে আসে।
নয়ন জড়ায়ে যায়,
সৌন্দৰ্য্য উথলে তায়,
দুলিয়া তরঙ্গ রঙ্গে সলিলেতে ভাসে।
কুমুদের দলরাশি ফুটে আসে আসে।

উচ্ছাস।
দূর হ'তে ভেসে আসে কোকিলের গান ;
কি যেন হয় নি করা
কি ভাবে হৃদয় ভরা
আকুল স্মৃতির মাঝে কেঁদে ওঠে প্রাণ।
দূর হ’তে ভেসে আসে কোকিলের গান।
মন্দ মন্দ বহি’ যায় সাঁঝের বাতাস,
ফুলের সুগন্ধ টানি
মাখা’য়ে হৃদয় খানি
সৌন্দৰ্য্য সজীব করে অনন্ত আকাশ।
মন্দ মন্দ বহি যায় সাঁঝের বাতাস।
লতায় পাতায় ওঠে কত যেন কথা।
যেন দেখা গেছে কা’র
নয়নের অশ্রুধার,
যেন বােঝা গেছে কা’র হৃদয়ের ব্যথা
লতায় পাতায় ওঠে কত যেন কথা।

৪
উচ্ছাস।
যেন শােনা গেছে কা’র দুঃখ-দীর্ঘশ্বাস
যেন কার হৃদিতলে
যে বিষাদ-সিন্ধু চলে
এ যেন তরঙ্গ ’র—তাহারি আভাস।
যেন শােনা গেছে কা’র দুঃখ-দীর্ঘশ্বাস।
বিষাদ আঁধার কা’র নয়নের কূলে ;
অধরের ম্লান হাসি,
অশ্রুজল তাহে ভাসি,
কা’র কথা ভাবি যেন গেছে সব ভুলে
বিষাদ আঁধার কা’র নয়নের কূলে।
বােধ হয় সব যেন স্বপনের ভুল,
কি যেন স্বপন-গান
আকুল করেছে প্রাণ,
কি যেন রূপের মােহে হৃদয় আকুল।
বােধ হয় সব যেন স্বপনের ভুল।

উচ্ছাস।
হৃদয়ের শত শত আকাঙক্ষা যেমন,
শাখা হতে ঝরে ঝরে
পড়ে ফুল ধরা পরে,
অসময়ে অযাচিত দারুণ মরণ।
হৃদয়ের শত শত আকাঙক্ষা যেমন।
তারকার ক্ষীণ জ্যোতি আকাশের গায়,
আঁধারের মাঝখান
জোনাকীর ক্ষুদ্র প্রাণ,
ধীরে ধীরে জ্বলে জ্বলে নিভে নিভে যায়
তারকার ক্ষীণ জ্যোতি আকাশের গায়।
আঁধার ঘনায়ে আসে আকাশের প্রাণে ;
কি যেন প্রাণের পরে
হৃদয় আকুল করে,
চাহে শুধু শ্রান্ত হৃদি বিশ্রামের পানে।
আঁধার ঘনায়ে আসে আকাশের প্রাণে।

উচ্ছাস
আপনারে দিতে ধরা
সে দিনের কথা গিয়েছি ভুলিয়ে
জানি নে কেমন করে ;
সে দিনের স্মৃতি ফেলেছি মুছিয়ে
চির জনমের তরে।
আজিও তেমনি এসেছি আবার,
হৃদয় তেমনি আবেগে ভরা ;
সে দিনের মত আসি নাই আর
আসিয়াছি আজ শুধু এক বার
আপনারে দিতে ধরা।
তুমিও কি আজ যাবে না ভুলিয়ে
সে দিনের যত কথা,
একবার কি গাে যাবে না ভুলিয়ে
দিয়েছি যে সব ব্যথা ?

উচ্ছাস।
আজ কেহ মােরে আনে নি ডাকিয়া
আগেকার মত অপেক্ষা করা
হইল না। তাই আপনি আসিয়া
তােমার দুয়ারে আছি বঁড়াইয়া
আপনারে দিতে ধরা।
আজিও তেমনি জ্যোছনা উঠেছে,
তেমনি উদেছে’ তারা ;
লতিকায় ফুল তেমনি ফুটেছে,
পবন কাদিয়া সারা ;
ডাকিতেছে আজ কোকিল তেমনি,
তরুশাখা যত কুসুমে ভরা।
তাদের সবাই ডাকিছে তেমনি,
আমি শুধু আজ এসেছি আপনি
আপনারে দিতে ধরা।
আর ত কেহই যায় নি’ ভুলিয়ে
সে দিনের কথা যত ;
সবাই তেমনি উঠেছে হাসিয়ে,
আছে সে দিনের মত ;

উচ্ছাস।
সে দিন কেহই যায় নি’ ভুলিয়া,
সে দিনের মত আজিও ধরা ;
উঠিছে কুসুম তেমনি ফুটিয়া।
আমি আসিয়াছি সকল ভুলিয়া
আপনারে দিতে ধরা।

উচ্ছাস
তিনটি
১+=
( জগতের পান্থবাসে)
;
জগতের পান্থবাসে মােরা
শুধু দুই দিন করি বাস ;
এ জগতে কি আছে সম্বল ?
শুধু দুখ, শুধু দীর্ঘশ্বাস।
তার পরে দুই দিন পরে
অসম্পূর্ণ কাৰ্য-ক্ষেত্র ফেলি,
জগতের কোন্ দূর প্রান্তে
তাড়াতাড়ি যাই ফিরে চলি।

১০
উচ্ছাস।
( পবনের দীর্ঘশ্বাস )
পবনের দীর্ঘশ্বাস সম
মানবের জীবন ধরায়,
কেঁদে মরে বিশ্রামের তরে,
বিশ্রামের শান্তি নাহি পায়
পবনের জীবনের মত
এ ধরার এ জীবন তার।
শুধু শােক শুধু
দীর্ঘশ্বাস
শুধু দুঃখ শুধু অশ্রুধার।

উচ্ছাস।
(ধরায় )
এ ধরায় আমরা কেবল
ঘুরে মরি সুখের সন্ধানে ;
হাসি, কাদি, আর যাহা করি
দুঃখ জাগে সদাই পরাণে।
সুখ তরে নিশি দিন ধরি
ফেলি মােরা দুঃখে দীর্ঘশ্বাস।
দুঃখ-মমঘ ছেয়ে ফেলে দেয়
নিভৃত এ হৃদয় আকাশ।

উচ্ছাস।
এই কি গাে ?
“কাছে আসিলে ত কেহ কাছে রহে না ?
কথা কহিলে ত কেই কথা কহে না !
হাতে পেলে ভূমিতলে ফেলে চলে যায় !
হাসিয়ে ফিরায় মুখ কঁদিয়া সাধিলে !”
মায়ার খেলা।
এই কি গাে রীতি এ ধরার,
কাতর মুখের পানে এক বার মুখ তুলে
কেহ কি গো নাহি চা’বে আর ?
সুখের তরঙ্গ মাঝে দুঃখের তরণী সম
ভাসি’ যাবে হৃদয় তাহার ?

উচ্ছাস।
দূরে থাকা তাই ভাল তবে !
মুহূর্ত আবেগ ভরে অনিশ্চিত সুখ আশে
কেন এত ছুটাছুটি ভবে ?
দূরে কেহ মুখ তুলে চায় কেহ শুধু চাহিয়াও যায়
কাছে এস কথা নাহি ক’বে।
ভেসে আসে বাঁশরীর গান,
দূরেই মাধুরী তার
সৌন্দৰ্য্য নাহি ত কাছে,
কাছে তাহা প্রাণশূন্য তান।
কাছে এলে সবে ফেলে যায় ফিরে কই কেহ নাহি চায়
এই করে জগতের প্রাণ।
কহিলে কহে না কেহ কথা,
বাক্যহীন বৃক্ষশাখা তাহারাে উপরে পাখী
গাহি কহে মরমের ব্যথা।
চিরদিন চিরদিন কহিলে কহে না কেহ
এই কিগাে জগতের প্রথা ?

১৪
উচ্ছাস।
হায় রে কল্পনা যদি
হায় রে কল্পনা যদি হত সত্য কথা,
সত্য যদি হত দূর স্বপনের জাল
তবু কি রহিত এই হৃদয়ের ব্যথা ;
হাসিতে কি ঢাকিত না দুঃখের কঙ্কাল
তবু কি গো শােক-তাপ-ক্লিষ্ট হৃদিপরে
ছুটিত না শত ক্ষুদ্র আনন্দ নিঝর ?
কি গাে আনন্দের স্রোত বেগ ভরে
মুছিত না হৃদি হ’তে এ দুঃখের স্তর ?
তবু কি গাে হৃদয়ের প্রান্তে প্রান্তে দূরে
উঠিত না ফুটি যত আনন্দ কুসুম ?
তবু কি জড়িত স্মৃতি লয়ে ধরাপুরে,
লভিত না এ হৃদয় বিশ্রামের ঘুম ?

উচ্ছাস।
কেন স্মৃতি।
কেন স্মৃতি বসি আর আশার সমাধিপরে,
জ্যোতিহীন নয়নেতে অশ্রুবারিধারা ঝরে ?
কি কথা পড়েছে মনে কি কথা গেছিলে ভুলে;
অতীতের কথা বুঝি এসেছে অতীত খুলে ?
চেপেছে কি যেন ভার কাতর বুকের মাঝে,
হৃদয়বীণায় বুঝি সকরুণ সুর বাজে ?
স্বপনের সম যাহা, তার কথা ভুলে যাও,
হৃদয় ভাঙ্গিলে যদি মরণে বিস্মৃতি পাও।

উচ্ছাস।
গগাধুলিতে
দূরে দূরে বহু দূরে প্রান্তরের পার
সমাধি শয্যায় যায় দিন আপনার ;
সুনীল জলের পর
তপনের স্নান কর ;
স্তব্ধ শান্ত চরাচর
স্থির আকার।
ধরণী ছাইয়া ধীরে আমিছে আঁধার।
তল তল ছল ছল নদী বহে যায়;
ঢেউগুলি পড়ে লুটি’ দু’টি তীরপায় ;
আকাশের বুক পরে
মেঘরাশি থরে থরে,
বাতাসে ঘুরিয়া মরে
কাতর প্রায়
অলস হৃদয় যেন চেতনা হারায়।

উচ্ছাস।
১৭
ফিরে যায় পাখীগুলি গাহি সুধাগান।
কাহার রূপেতে মাের ভরেছে পরাণ!
কাহার রূপের ভারে
ভরা হৃদি চারি ধারে,
করিবারে চাহি কারে
হৃদয়-দান।
আমি ভাবি গা’ব শুধু সৌন্দর্যের গান।

১৮
উচ্ছ্বাস।
কেন
হায়! হায়! কেন এই মানব জীবন ?
কেন এ সুখের আশা, দুঃখের তাড়না ?
কেন এই মরীচিকা সুখের স্বপন ? ..
কেন এ নয়ন প্রান্তে সদা অশ্রুকণা ?
কেন সদা ঘুরে মরা সুখের সন্ধানে ?
কেন সদা নিরাশায় ব্যথিত হৃদয় ?
কেন সদা বৃথা আশা হৃদয়েতে আনে
সে সব স্বপন, যাহা হইবার নয় ?
কেন সদা ব’হে মরা ভগ্ন হৃদি ভার ?
কেন হায় হতাশ্বাসে ভেঙ্গে যায় বুক ?
কেন জেগে সুখস্বপ্ন দেখা অনিবার ?
নিস্ফল বাসনা ল’য়ে খুঁজে’ মরা সুখ ?
কেন এসে মাঝে মাঝে জগতের দুখ
হৃদয়ের আশা আলাে করে অন্ধকার ?

উচ্ছাস।
কোন আলেখ্যদর্শনে।
উন্মীলিত ও দুই নয়নে,
সব আছে জীবনের জ্যোতি নাই আর।
ওই হৃদি মৃত্যু আলিঙ্গনে
পাইয়াছে মরণের শান্ত পরপার।
এখনও হৃদয়ে আমার
রহিয়াছে ও মূরতি, শান্ত, পুণ্যময় ;
ও মূরতি জাগে বার বার,
হৃদয়েতে স্বপ্নবশে নিশীথ সময়।
গেছ তুমি চলি যেইখানে,
সেইখানে নাহি বুঝি শােক তাপ ভয় ;
'সেইখানে পবনের গানে,
হয় বুঝি নরহৃদি পুণ্যপ্রেমময়।

উচ্ছাস।
সেথা কি গাে বৃক্ষশাখা পরে
সুমধুর কলকণ্ঠ বিহঙ্গমগণ,
গান করে সুমধুর স্বরে
জুড়াইয়া রহৃদি তাপের ভবন ?
•সেথা কি গাে শােকতাপময়
( জরাজীর্ণ এ ধরার দুঃখের আঘাতে)
মানবের সঙ্কীর্ণ হৃদয়
ভুলে যায় শােক, জ্বালা পুণ্যময় রাতে ?
সেখানে কি যাইলে মানব
এ ধরার যাহা কিছু সব ভুলে যায় ?
পাপময় এ ধরার রব
আর কি শ্রবণ তার শুনিতে না পায় ?
তাই বুঝি ভুলেছ সকল!
তাই বুঝি ভুলে নাহি চাহ একবার !
তাই বুঝি নর কোলাহল
পশি’ছে না একবার শ্রবণে তােমার !

উচ্ছাস।
২১
এস গো ফিরিয়া ।
এস ফিরি এস ফিরি গৃহেতে আবার।
যে দিন হইতে তুমি গিয়াছ চলিয়া,
বহিছে সবার নেত্রে দুঃখ-অশ্রু-ধার।
এস গাে ফিরিয়া ।
তােমা বিনা আনন্দও নিরানন্দ ঢাকা।
সঙ্গীতে মােহিনী শক্তি গিয়াছে ত্যজিয়া,
তাহার সে রব যেন নিরানন্দ মাখা।
এস গাে ফিরিয়া।
এক দিন যেই নামে অপাঙ্গে সবার
আনন্দের অশ্রুকণা আসিত বহিয়া,
আজি সেই নামে সবে বর্ষে অশ্রুধার।
এস গাে ফিরিয়া।

২২
উচ্ছল ।
•
কোথায় পাইব তােমা জানি না ত কেহ,
শুধু তােমা খুজি সবে কাঁদিয়া কাঁদিয়া
বলে দাও একবার কোথা তব গেহ।
এসগাে ফিরিয়া।
নীরবে একটি অশ্রু না হতে পতন
তা’র স্থানে আর এক দাড়ায় আসিয়া ;
তােমা বিনা দুঃখময় সবার জীবন।
এস গাে ফিরিয়া।
কোথা তুমি ? যেইখানে সাগরের জলে
ধবল সমুদ্র-ফেন চলেছে ভাসিয়া ?
এ জগতে থাক কিম্বা সাগর অতলে,
এস গাে ফিরিয়া।
কোথা তুমি ? যেইখানে সুনীল আকাশে
বায়ুবেগে মেঘমালা চলেছে’ ছুটিয়া ?
মরতেতে থাক কিম্বা সাগর-অাবাসে-
এস গাে ফিরিয়া ।

উচ্ছাস।
কোথা তুমি ? যেথা শত তারকা উজল
ধবল গিরির পানে রয়েছে চাহিয়া ?
যেখানেই থাক তুমি ভুলিয়া সকল,
এস গাে ফিরিয়া ।
এ গৃহে আনন্দ-ধারা বহুক আবার,
জুড়াক নয়ন মন তােমায় হেরিয়া,
বহুক সুখের অশ্রু নয়নে সবার,
এস গাে ফিরিয়া ।

২৪
উচ্ছাস।
কোকিল
S@
এস তুমি বসন্তের সখা,
বসন্তের প্রিয় সহচর।
হৃদয়ের বিষাদের রেখা
মুছে দাও ধরণী উপর।
ফুলে ফুলে ছেয়েছে’ কানন
শাখে শাখে ফুটি অগণন
বায়ু পরে সুগন্ধ ছড়ায়।
এস! ওই তীব্র মধু সুরে
প্রতিধ্বনি জাগাও মধুরে
যাহে হৃদি দুঃখ ভুলি’ যায়।
এস! ওই কুহু কুহু গানে
করি’ দাও প্লাবিত প্রান্তর ;
তেয়াগিয়া ধরার পরাণে,
গীতস্বর প্লাবিবে অম্বর।

উচ্ছাস।
ধরণীর শােক, দুঃখ, ভয়
শ্রান্ত হৃদি যাইবে ভুলিয়া ;
কত শ্রান্ত ধরার হৃদয়
প্রেমালােকে উঠিবে
ফুটিয়া।
বহি যায় দখিণে বাতাস
নীলাকাশ সৌন্দর্য প্রকাশ
( আপনাতে আপনি মগন)।
সেই উচ্চ জগতের মত
ছুটাও এ ধরা পরে যত
আনন্দের লহরী মােহন।
ওই তীব্র সুমধুর স্বরে
ভুলে যাই জগতের সব,
শুধু রবে শ্রবণ বিবরে
ওই তব প্রাণকাড়া রব।
৪

উচ্ছাস
কাছে।
;
এই শেষ অনুরােধ রাখিও আমার
‘কাছে তুমি আসিবে না আর।
সে হৃদয়-ভরা প্রেম বিনিময়ে তার
ক্ষুদ্র এই আকাঙ্ক্ষা আমার।
জীবনের মধ্যাহ্ন সময়ে
হৃদি দিয়ে ভালবেসেছিলে
যত প্রেম আছিল হৃদয়ে
মােরে তার সব দিয়েছিলে ;
সে সব বিস্মৃত স্মৃতি স্মরি একবার
এই শেষ অনুরােধ রাখিও আমার
‘কাছে তুমি আসিবে না আর।
পাছে তােমা এতদিনে হেরিলে আবার
পূর্ব স্মৃতি ওঠে উথলিয়া ;
অজ্ঞাতে নয়নে পাছে বহে অশ্রুধার
ব্যাকুলিয়া উঠে পাছে হিয়া।
•

উচ্ছাস।
२१
:
মরণের করের পরশে
দুঃখ, জ্বালা ঘুচিবে সকল,
বসি মাের সমাধির পাশে
ফেলিয়াে না নয়নের জল।
দহিবে এ ভগ্ন হৃদি সে অশ্রু তােমার
চির শান্তি ও হায় ভাঙ্গিবে আমার ?
কাছে তুমি আসিবে না আর।
এ জীবনে সদা হৃদি, পুড়েছে আমার
শান্তি শুধু আনিবে মরণ।
কাতর প্রার্থনা মাের রাখিয়াে এবার
পূর্ব প্রেম করিয়া স্মরণ।
মরণের কর পরশন
জুড়াইবে হৃদয় আমার,
করিয়াে না সে সুখ হরণ
বরষিয়া অশ্রুবারিধার।
মরণের কোলে ভুলি দুঃখ, অশ্রুধার
সমাধিতে শ্রান্ত হৃদি ঘুমাবে আমার।
কাছে তুমি আসিয়াে না আর।

২৮
উচ্ছাস।
তুমি।
এত দিনে তবু তােমা” চিনিতে নারিনু হায়,
নারিনু বুঝিতে তব হৃদে জাগে কি যে আশা,
নিয়ত হৃদয় ভরে কি আশায়, নিরাশায়,
আনত নয়ন তব কহে কি নীরব ভাষা।
উজলিয়া রাখে হৃদি ওই তব রূপরাশি;
ও সুধ সৌন্দৰ্য হৃদি চিরব্যাপ্ত করি রয় ;
অধরের প্রান্তে তব ওই মৃদু মধু হাসি
হৃদয়ের প্রান্তে প্রান্তে আলাে সম বােধ হয়।
কি যে ভাব আছে তব ও দুই নয়ন’পরে
ক্ষুদ্র এক দৃষ্টি তাই হৃদয় ভেদিয়া যায় ;
কোমল সৌন্দর্য্যে তব কি এক মাধুরী ঝরে
যা’র তরে হয় হৃদি যেন পাগলের প্রায়।
বিদ্যুতের জ্যোতি সম, হেরিলে ক্ষণে’র তরে
ও’ তব সৌন্দর্য্যে তবু হৃদয় ভরিয়া যায়।

উচ্ছাস।
'দাও
হৃদয় আকাশ জুড়ি’ নিরাশা মেঘের খেলা,
দুঃখের সাগর নীরে ডুবিছে সুখের বেলা,
অনন্ত আঁধার হৃদে আসিতেছে ঘনাইয়া
শ্রান্ত এ অবশ প্ৰাণ পড়িতেছে ঘুমাইয়া,
;
হৃদয়ের ভাব যত মিশাইয়া গেছে সব,
পশে না শ্রবণে আর জগতের কলরব,
জগতের যত কিছু বুঝিতে পারি নে তাও
নীরবে যাতনা-হারী একটি চুম্বন দাও।

উচ্ছাস।
বর্ষায়।
N০১৫
ঝর ঝর ঝরিতেছে বরষা-ধারা,
ছুটিয়াছে স্রোতস্বতী আপনা-হারা,
তীরে তীরে পােরা জল
তল তল ছল ছল
বহে যায় অবিরল
তরঙ্গ ধারা।
মল্লার গাহিছে বুঝি সুদূরে কারা !
শ্যামল নদীর তীর পুরেছে ধানে,
কেতকী ফুটেছে কত দূরে বাগানে,
আলােতে আঁধারে মিশে
ছাইয়াছে দশ দিশে
দোয়েল মধুর সীসে
গাহিছে গানে।
কি যেন কত কি কথা জাগিছে প্রাণে

৩১
উচ্ছাস।
ভরেছে পাতায় ফুলে নবীনা লতা,
কচি শাখা পাতা ভারে হয়েছে নতা,
চাতক উড়িছে দূরে,
অসীম অম্বর পুরে
গাহিছে কাতর সুরে
হৃদয়ে ব্যথা।
সাধ যায় কারে কহি প্রাণের কথা।
মেঘেতে ঢেকেছে রবি ম্লান আলাে,
আমি ভাবি আলাে কিম্বা আঁধার ভালাে,
আকাশের সারা গায়
মেঘরাশি উড়ে যায়
ধরণী গ্রাসিতে চায়
আঁধার কালাে।
সাধ যায় আজ কারে বাসিতে ভালাে।
শসিয়া শ্বসিয়া বায়ু বহিয়া যায়,
ছুটেছে কল্পনা আজি পাগল প্রায়,

৩২
উচ্ছাস।
কোন স্বপ্নপুরী হতে
অলস অবশ স্রোতে
পড়িতে হৃদয় পােতে
তরঙ্গ ধায়।
কা’রে ভাবি প্রাণ আজি আকুল হায়!

উচ্ছাস।
৩৩
ভালবাসা সুর।
যবে মােরা ভগ্ন হৃদি লয়ে
ভ্রমি এই ধরার উপরে,
অতীতের ভালবাসা সুর
পশে যদি শ্রবণ-বিবরে,
তবে অতীতের নিদ্রাগত স্বপ্ন
জাগি’ কত উঠিবে আবার,
ফুটিবে সে’ ম্লান মুখে হাসি
অশ্রু-জল চিরসাথী যা’র।

৩৪
উচ্ছাস।
অতীতের ভালবাসা মুখ
আমাদের হৃদয়ে যেমন
জাগাইয়া যায় কত শত
অতীতের স্মৃতি পুরাতন,
তেমনি সে ভালবাসা সুর
আমাদের হৃদয় কন্দরে
অতীতের পূর্বস্মৃতি কত
জাগাইয়া যাবে স্তরে স্তরে।

উচ্ছাস।
কোন চাতকের প্রতি।
নীল আকাশের পথে চলেছ ধাইয়া,
হৃদয়ের বেগ ভরে একাকী গাহিয়া ;
অনন্ত আকাশ-পথে
উম্মুক্ত পবন-পথে
ধীরি ধীরি গান গাহি’ একাকী চলিয়া যাও,
উন্মুক্ত পরাণে শুধু একা একা গান গাও।
এ ধরার যাহা কিছু সব তুমি ঘৃণা কর,
ত্যজিয়া এ পাপধরা যাও তাই বায়ু পর,
ত্যজি ধরা
পাপ-ভরা
একা একা চলি যাও,
একা একা গান গাও,
এ ধরার পাপময় ভূমি
নভঃপ্রিয়! ঘৃণা কর তুমি ;-

উচ্ছাস ।
তাই ত্যজিয়াছ যাহে ধূলা আছে এ পাপ ধরার,
সুনীল আকাশপথে ধরি ধরি যাও অনিবার।
এ ধরার সুখ, দুঃখ ও হৃদয় ভেদ নাহি করে ;
উন্মুক্ত পরাণে শুধু গান গাও পবনের পরে।
ও মধুর গীতধ্বনি চঞ্চল পবন
ধীরে ধীরে ভাসাইয়া লয়ে চলে যায়,
নীরব প্রকৃতি যেথা নিস্তব্ধ নির্জন
সেইখানে স্বর তব অনন্তে মিলায়।
পথ-ভােলা ক্ষুদ্র তব যে মধুর স্বর
ধরায় ভাসায়ে আনে চঞ্চল পবন,
সেই এতটুকু স্বর এতই সুন্দর
আকুল করিয়া তােলে মানবের মন।
আরাে ঊর্ধে, আরাে উর্ধে নভঃপথে যাও,
আপনার ক্ষুদ্র তনু গগনে মিশাও,
শুধু তুমি গান গাও,
শুধু তুমি নভে ধাও

৩৭
উচ্ছাস।
অনন্ত মেঘের রাজ্যে দেহ তুমি আপনার
পাও পাখী মিশাইতে যেন আনন্দ অপার।
অনন্ত মেঘের রাজ্যে মিশাইয়ে আপনারে
দেখিয়া তাদের খেলা ভুলে যাও আপনারে,
সেই খেলা
সারা বেলা
দেখ ভুলি আপনারে,
দেখ ভুলি এ ধরারে
দেখ চাহি বিমুগ্ধ নয়ান,
গাও শুধু প্রাণ-কাড়া গান।
অনন্ত অম্বর কোলে স্থাপি’ ওই ক্ষুদ্র কলেবর
খুলিয়া হৃদয় দ্বার গাও কত সুমধুর স্বর,
চঞ্চল পবন তা’য় বুকে লয়ে দূরে চলে যায়,
পথ ভােলা দু’একটি ভাসি’ আসে পাপের ধরায়।
৬.
তুমি পাখী নহ এই পাপের ধরার
তােমার ও গীত নহে জগতের তরে।
উর্ধে গগনের পথে যাও অনিবার।
গান গাও সুললিত পবনের পরে।

উচ্ছাস।
একবার আলােক হেরিয়া।
একবার আলোেক হেরিয়া
পড়ে থাকা আবার আঁধারে,
তার চেয়ে থাকা সে’ত ভাল
চিরকাল আঁধার মাঝারে।
একবার ভালবাসি’ কারে
বহে’ মরা ভগ্ন-হৃদি-ভার,
তার চেয়ে সেই ত গাে ভাল
ভাল নাহি বাসা এক বার।

উচ্ছাস।
এস তবে।
এস তবে! ওই তব মােহের ছায়ায়
ভর এ কাতর হৃদি; কল্পনা যেমন
কবির হৃদয় পরে মােহ ঢালি যায়,
ক্ষণেকের সুখে, দুঃখে ভরিতে জীবন ;
নিমেষে অধরে হাসি উঠিলে ফুটিয়া
বাঁধিয়া রাখিতে তা’রে ; ভগ্নহৃদি ভরে
নয়নে নয়ন-জল পড়িলে ঝরিয়া
বাঁধিয়া রাখিতে তারে ভাষাময় ডােরে।
কাতর হৃদয় মাের অবসন্ন প্রাণ
আশারাশি দুঃখ-স্রোতে গিয়াছে ভাসিয়া,
হতাশায় গীত শ্লোকে গাহিব যে গান
অশ্রুজল তার সাথে রহিবে মিশিয়া
তবু যদি ওই তব মােহ-ছায়া হেরি,
কাতর উল্লসি ওঠে এ হৃদয় ঘেরি।
;

৪০
উচ্ছাস
বিচ্ছেদ
যেখানে প্রণয় থাকে আমি সেথা থাকি ;
প্রেমিক
যুগলে আমি
দূরে দূরে
রাখি।
মিলনের পূর্ণশশী অালােকে যখন
প্রেমিক-হৃদয় শােভে মধু পূর্ণিমায়,
আমি অসি’ সে হৃদয়ে জলদ যেমন
হৃদয় আঁধার করি আমার ছায়ায়,
ক্ষণতরে মিলনের জ্যোতি নিভাইয়া
তাহার মাধুরী আরাে যাই বাড়াইয়া ।

উচ্ছাস।
৪১
মিলন।
;
বিচ্ছেদ যাতনে যবে প্রেমিক যুগল
নয়নের অশ্রুধারা মুছে অবিরল ;
অশ্রুপূর্ণ তাহাদের নয়নে তখন
স্বর্গের সুষমারাশি সৌন্দৰ্য্য আমার ;
দোহারে দোহার করে করি সমর্পণ
ঘুচাই হৃদয় হতে বিষাদ আঁধার।
জগতের দুই প্রান্তে প্রেমিক দু’জন,
তাহাদের মাঝে তবু আমি আকর্ষণ।
৬

৪
উচ্ছাস।
কি যেন।
কি যেন প্রাণের পরে চলে গেল ছুঁইয়া ;
কি ভাবে বিভাের করি প্রাণখানি ছাইয়া
ওই
অলস নদীর তীরে
জ্যোছনা ঘুমায় ধীরে ;
স্তিমিত তারকা-বালা কার পানে চাহিয়া !
আর দু’ একটি শ্রান্ত তারা
চাহিয়া চাহিয়া সারা
আত্মহারা, সুখহারা, পড়িতেছে খসিয়া ।
কুসুম তরুর কোলে
ভিজিয়া শিশির জলে
হাসিতেছে আকাশেতে চাদ পানে হেরিয়া ।

উচ্ছাস।
৪৩
নীরব স্পর্শের হেন
কি যে কোন ভাব যেন
মেঘেদের ফাক দিয়া ধীরে ধীরে নামিয়া।
স্তিমিত হৃদয় কোলে
মাথাটি অবশে ফেলে
একেবারে ছেয়ে গেল হৃদিখানি জুড়িয়া।
সেই যে গভীর রাত্রে হৃদিখানি ছাইয়া।

৪৪
উচ্ছাস।
।
বলি বলি করি
**
“নিমেষের তরে সরমে বাধিল,
মরমের কথা হল না।
জনমের তরে তাহারি লাগিয়ে
রহিল মরম বেদনা ।”
মায়ার খেলা।
বলি বলি করি’ বলা
হল না তা’য় ;
লাজ-ভয়ে খুলিল না
অধর হায় !
আঁখিতে পরাণ খানি
আশা, তৃষ্ণা, সব আনি’
নীরবে, না কহি’ বাণী
কাতর প্রায়
চাহিয়া রহিল মুখে
কাতর প্রায়।

উচ্ছাস।
৪৫
সরমে বাধিয়া গেল
অধরে কথা,
হ’ল না প্রকাশ যত
মনের ব্যথা।
মুহূৰ্ত্ত লাজের ভরে
সারা জীবনের তরে
রহিল তাহার তরে
হৃদয়ে ব্যথা,
শুকায়ে পড়িল যে গাে
হৃদয়লতা !

উচ্ছাস।
প্রথম মিলন
সখি !
যে দিন প্রথম দেখা হল দুজনায়
নিস্তব্ধ গভীর রাতি
আকাশে জ্যোছনা ভাতি
মধুর বসন্ত বায়ু ধীরে বহি’ যায়
লাবণ্য উছলি ওঠে প্রকৃতির গায়।
দূর হ’তে ভেসে আসে কোকিলের গান
যেন কার বাঁশী সুরে
দশ দিক গেছে পুরে
কি যেন আকুল ভাবে জেগে ওঠে প্রাণ
শ্রান্ত হৃদি চাহে যেন ধীর অবসান।

উচ্ছাস।
৪৭
দুলে দুলে’ পবনেতে কেঁপে ওঠে শাখি,
সুনীল নদীর জল,
চঞ্চল তরঙ্গ দল,
অজানা শ্রান্তিতে যেন মুদে আসে আঁখি ;
কি ভাবে পরাণ যেন ভরে থাকি থাকি।
তীর-তরু-লতাগুলি নীরবে ঘুমায়
তরল নদীর বুকে
জ্যোছনা ঘুমায় সুখে
প্রতিবিম্ব বােধ হয় প্রকৃতের প্রায়,
আদরে তটিনী যেন তরঙ্গে দোলায়।
দূরে তরু শাখে শাখে ক্ষুদ্র ফুলগুলি
কি যেন প্রেমের ভাষা
পরাণে জাগায় আশা
চাহিছে কাহার পানে ক্ষুদ্র আঁখি খুলি’
কি যেন মনের কথা গেছে সব ভুলি।

৪৮
উচ্ছাস।
সেই দিন সেই দিন সখিলল ! তখন
রূপের স্বপনে মাের
হৃদয় আছিল তাের
রূপের মােহেতে হৃদি ছিল নিমগন
‘কেমনে বাঁধিয়া গেল নয়নে নয়ন।”

উচ্ছাস।
মরণ-পার
o
আগে গেলে, ফেলে গেলে, নাহি খেদ তা’য় ;
দুখ, অশ্রু, সুখ-হাসি
দুই দণ্ডে যায় ভাসি,
মিলন, বিচ্ছেদ হেথা দু’দণ্ডে ফুরায় ;
দু’দণ্ডে ধরার হায় সব ভেঙ্গে যায় !
গিয়াছ রাখিয়া একা ধরণী মাঝার ;
মরণের সিন্ধুকূলে
দুখ জ্বালা সব ভুলে,
চির মিলনের দেশে মিলিব আবার ;
জগতের শােক তাপ নাহি রবে আর।
৭

উচ্ছাস।
ওই মূরতির ধ্যানে রহিব মগন ;
যত দিন র’ব ভবে
ও মূরতি হৃদে র’বে,
ও মূরতি হৃদি-ছাড়া হবে না কখন ;
দোহারে আনিয়া শেষে মিলাবে মরণ।
•
তা’র পর মরণের সাগরের পারে
ধরায় মুছিয়া ফেলি
ধরার স্মৃতির ধূলি
মিলিব আবার চির-মিলনের ধারে,
এক দণ্ড ছাড়িব না কেহ আর কারে।

উচ্ছাস।
কেন
কেন বল সই। বার বার তুই
ওই কথা ফিরে বলিস আর ?
আপন হৃদয় পারিনে বাঁধিতে,
কেমনে হৃদয় বাঁধিব তা’র ?
হৃদয়-মাঝারে স্মরিয়া যাহারে
অবিরল ঝরে নয়নজল,
অভিমান করি তাহারি উপরি
কেমন করিয়া রহিব বল ?
তার ভালবাসা কেন করি আশা
কিছু ত স্বজনি। ভেবে না পাই,
তাহারে স্মরিয়া আপনা হেরিয়া
সরমে স্বজনি! মরিয়া যাই।

উচ্ছ্বাস।
ক্ষুদ্র এ হৃদয় তাও তাে সে-ময়,
এই ক্ষুদ্র হৃদে তাহারে চাই।
কত ক্ষুদ্র হৃদি তাই ভাবি যদি
সরমে আপনা ঢাকিতে যাই।
মোের
যাহারে হেরিয়া . আপনা ভুলিয়া
ওঠে উছলিয়া, যমুনা-জল,
যাহার চরণ করি 'পরশন
হাসিমাখা হয় কদমতল
যা’র বাঁশি-সুরে আধ ভাসা পুরে
পবন আপনি ভরিয়া যায়,
মূরতি যাহার নয়ন আমার
নয়নে নয়নে হেরিতে পায় ;
কোন প্রাণে মরি মাের সে শ্রীহরি
হৃদয় হইতে করিব দূর,
মান অভিমান রহে কি স্বজনি।
শুনিলে বাঁশিতে দুখের সুর ?

উচ্ছাস।
তবে।
হৃদয়েতে যত কিছু ছিল,
সকলি তা দিয়াছি তােমায় ;
জীবনের সুখ, আশা-স্রোত,
তারা সবে তােমা পানে ধায়।
সে উচ্ছ্বাস নয়নের কূলে
নতদেহ সৌন্দর্য্যের ভারে—
মর-হৃদে যাহা কিছু ছিল,
উপহার দিয়াছি তােমারে।

উচ্ছাস।
হৃদয়ের যতনে রক্ষিত
হতাশার যাতনা ভীষণ,
ও সৌন্দর্য্যে নাহি দিয়া তাহা
তাই শুধু রেখেছি আপন ;
আপনারে দিয়াছি তােমায়
আছে আর অশ্রুজল ভবে,
নাই যদি দিলে প্রতিদান
এস, তাও লয়ে যাও তবে।

উচ্ছাস
তুমি ও আমি।
আকুল আঁখি খুলে
তােমারে দেখি, যত,
নয়নে পড়ে আসি
মাধুরী নব তত
আকুল হৃদি-মাঝে
যতই ফিরে চাই,
ততই হৃদি জুড়ে
তােমার দেখা পাই;

উচ্ছাস।
তােমারে ছাড়ি’ যত
জগৎ দেখি ভাবি,
ততই ধরা ঘিরে
তুমি ত আস নাবি।
তােমারে ছাড়ি দেখি
নাহিক সুখ আশা,
আমারে মনে হয়
তােমারি হৃদি-ভাসা
:
তােমারে ছাড়ি’ দেখি
হৃদয় মরুভূমি,
তখনি মনে হয়।
আমার সব তুমি।

উচ্ছাস।
সংসারের পথে।
কেন্দ্রচ্যুত, লক্ষ্যহীন অভাগা তারকা
অনন্ত আঁধারে,
ছুটিয়া উন্মত্ত প্রায় ধ্বংস পানে ছুটে যায়
আঁধার মাঝারে।
দিয়াছিল যেই জ্যোতি হৃদয়ে তাহার
প্রকৃতি-জননী
নিজদোষে ক্ষুদ্র তারা হয়ে সেই জ্যোতি-হারা
ছুটেছে আপনি।
কোথায় পাইবে স্থান স্থির নাহি তার
ছুটিতে ছুটিতে
ধ্বংস-সিন্ধু তারে যেন ডাকিছে আকুল হেন
পেতেছে শুনিতে।
৮

৫
উচ্ছাস।
যেই জ্যোতি দিয়াছিলে হৃদয়ে আমার
আলােক উজল,
সেই জ্যোতি হারাইয়া দেখিতেছি তাকাইয়া
আঁধার কেবল।
অনন্ত আঁধার-রাশি ঘেরা চারি ধারে
হৃদয় আমার,
ধ্বংস-সিন্ধু হৃদি গ্রাসি, ছুটিছে তরঙ্গ-রাশি
শুধু চারি ধার।
লও তবে লও ডাকি নিকটে তােমার
ছুটি কোথা হতে।
আশাহীন, শান্তিহীন, ব্যথিত, বিষাদে ক্ষীণ
সংসারের পথে।

উচ্ছাস।
প্রেমে
“আজি সেই চির দিবসের প্রেম,
অবসান লভিয়াছে,
রাশি রাশি হয়ে, তােমার পায়ের কাছে।
নিখিলের সুখ, নিখিলের দুখ
নিখিল প্রাণের প্রীতি,
একটি প্রেমের মাঝারে মিশেছে
সকল প্রেমের স্মৃতি,
সকল কালের সকল কবির গীতি।”
মানসী।
আকুল জীবনে আকুল হৃদয়
যত প্রেম ছিল তা’য়,
এক হয়ে আজ সে সকল যেন
পড়েছে তােমার পায় ;
শতমুখী প্রেম এক মুখে বহে তা’য়।

উচ্ছাস।
হৃদয়-আকাশে ভেসেছে উজল
যত তারকার হাসি,
সে সকল আজ এক হয়ে যেন
মিশেছে তােমাতে আসি ;
অতীত হইতে মিশেছে প্রণয় রাশি।
;
মনে হয় যেন জীবনে জীবনে
মরণের পর পার,
ভাল বাসিয়াছে কাতর হৃদয়
তােমারেই অনিবার
মুগ্ধ হৃদয় তুমি ভরা চারি ধার।
চিরদিন আমি গেঁথেছি যে সব
প্রণয়ের গীত-হার,
হৃদয়ে পশিয়া তুমি যেন সদা
দিয়েছ জীবন তার ;
তা না হলে তাঁরা হত শুধু কথা সার।

উচ্ছাস।
কাতর হৃদয়ে চির-জীবনের
প্রেমের কিরণরাশি
সন্ধ্যা-আকাশে রবি-কর সম
তােমাতে মিশেছে আসি ।
অনন্ত প্রণয় তােমাতে এসেছে ভাসি।
যত ভালবাসা উজল কিরণ
কাতর হৃদয়ে, ভায়,
তােমাতে মিশেছে, সাগরের বুকে
শত স্রোতস্বতী প্রায় ;
হৃদয়ের প্রেম পড়েছে তােমার পায়।

৬২
উচ্ছাস।
সমাপন
;
;
সুদূর সাগর-তীরে তপন ডুবিয়া যায় ;
অনন্ত আঁধার-রাশি ধরণীর বুক ছায়
সাঁঝের বাতাস লেগে’ কঁপিয়া উঠিছে শাখী ;
গাহিয়া মধুর গান ফিরি যায় নীড়ে পাখী।
•
জগতের কোলাহল থেমে যায় ধীরে ধীরে
ঘরে ফিরে যেতে গাভী মাঠ পানে চায় ফিরে ;
এখনাে গিরির চূড়ে কণক কিরণ ভায়,
আকুল তৃষিত নেত্রে চলে যেতে ফিরে চায়।

উচ্ছাস।
পশ্চিমে মেঘের গায় লােহিতের ছায়া ভাসে,
সুদূর মেঘের হৃদে সৌন্দৰ্য: ভাসিয়া আসে,
প্রণয়ী চুম্বনে গাঢ় প্রণয়িণী মুখ পরে
সরম-রক্তিম-আভা ফোটে যেন থরে থরে ।
;
হােথা’ দূরে নীলাকাশ চাঁদের কিরণে লুটে
সে পূর্ণ লাবণ্য যেন আধ আধ ওঠে ফুটে;
চকিতে তারকা-বালা নয়ন খুলিয়া চায়
কি কোমল মাধুরীতে পবন ভরিয়া যায়।
প্রস্ফুট সৌন্দৰ্য্য রাশি লাজে আঁখি বাধ-বাধ,
কুমুদ চাঁদের পানে চাহে ওই আধ-আধ ;
সলিল-আসনে বসি দুলিছে তরঙ্গে ভাসি’
কিরণ চুম্বন শত নীরবে পড়ি’ছে আসি।
যেন কোন সুরপুরে অপ্সরীর বীণা হতে
করুণ মধুর গীতি ভাসি আসে এ জগতে;
তাহারি সুরের রেশ পশিতেছে যেন কানে,
অতীত স্মৃতির রেখা ফুটিয়া উঠিছে প্রাণে।

উচ্ছাস।
অলস অপূর্ণ কত বাসনা হৃদয়ে ভাসে,
আলমে আঁখির পাতা ধীরে ধীরে মুদে আসে,
দলিত, শ্রীহীন, ওই হৃদয়ের ফুলবন
পরাণ ঘুমায়ে পড়ে। এই তবে সমাপন।
সমাপ্ত।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Ucchash

Author
Sen,nabinchandra
Title
Ucchash
File name
Ucchash
Text
OCR done
Citation
1894
Published
2009/11/1
Publisher
Gurudas Chattopadhyay,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
82
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Sen,Nabinchandra
DLI number
513428
Barcode
4990010020406.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
0YAmclNVeOQ
Download PDF

Ucchash