Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Shakti-mukti

Ghosh,aghoranath · 2009/10/21

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

अखि-भूति [ काता] विहर सुरतबाले पार्वति प्रेमराग- हृदयशतदले त्वं राजराजेश्वरीव । प्रणयकुसुममाले नखरत्वं विसृज्य चिरशममयदेहं शाश्वतं संप्रग्या ॥ वासन्ती विजयायां मां पक्षाक्षिवसुचन्द्रमे । कुजे तत्याज भाया मे वैशाखे रिपुसम्मिते ॥ . শাস্ত্রি-সারস্বতরভােপাধিক শ্ৰীঅঘােরনাথ ঘােষ-বিরচিত ১৩১৮

PUBLISHED BY S. N. GHOSA.
24 ANAND KHAN LANE.
PRINTED BY M. BIIATTACHARYYA. AT THE BHARATAMIHIR Pres.
25 RAYBAGAN STREET, CALCUTTA.

উপহার।
आवाहनन्त भुवि कर्महतो-
गस्थापनन्त्वनायनात् सुसिद्धः।
বিলিন নি বুৰিা-
वाराधने काम्यमते विधान ॥
(গীত )
রাগ ভৈরব, তাল-একতালা।
ঐ যে হাসে হৃদাকাশে স্মিতভাসে শোভনে।
হৃৎকমল, স্থির-চল, জ্যেতিবিমল-আননে।
হৃদি ঋনযোগে কি ক্ষণে সতি,
মুগ্ধ হেরি তব বদন-জ্যেতিঃ,
তব চিত্র মনন-মুকুরে ভাতি
ভায় কনক:বরণে।
ব মুখশশি-সুধাক্ষরণে,
সিক্ত হৃদি-সরু প্রেম-জীবনে,
প্রেম-প্রবাহির্ণ বহে সঘনে,
ফুল-কুম-কাননে।
হৃদি প্রেম-হেমকুসুম কত,
তুলি মালা গাঁথি বাসনামত,
পরায়ে যতনে তােমা নিয়ত,
কত তোমার অর্জনে।

{ fo
পজেরি, তোমা” পূজি হৃদয়ে,
লতি মহাশক্তি আশা-বিজয়ে,
তব প্রীতি-যােগে আত্ম-বিয়ে,
লভি সুখের সাধনে।
কর্ণে কর্মক্ষয়ে তব আবাহন,
সাধনের তরে তব আস্থাপন,
সিদ্ধিলাভ্যন্তরে তব বিসর্জন,
কামা-বিহিতপূজনে।।
সুভ শক্তিমুক্তি নিত্য জীবন,
ধর প্রেমষেইহার শোভন,
চরমোপহার কর গ্রহণ,
চাহ পার্বতি স্বজনে!
#হহার ধর যতনে!!

No text on this page.

আত্মকথা।
त्वं सति शक्तिः कर्मविधाने
আনিৰিধানী ল' কি নির্ণ।
प्रेमसुधायाः शाश्वतरूप
यच्छसि नित्यं त्वभुवि मुक्तिः ।।
(গীত)
রাগিণী ইমন—তাল আড়াঠেকা।
কেমনে পাই ত্রণ।
এ মম জীবন
বহুলা-অবর্ত-ঘোরে
দুৰ্ব্বহ যে জান ।
বিবিধ করে ফেরে সঙ্কট সন্ধান,
হারায়ে অধরশক্তি কি করি বিধান,
শক্তি-শিবের সাধনে,
নির্মল-বিবেকনেলয়ে
কসয়ে, ভয়ে ভয়ে,
রব সংশয়ে-
নিঃশক্তি নিগুণ দীন,
নিরাসক্তি ক্রিয়াহীন,
শক্তি বিনা নাহি পরিত্রাণ!

No text on this page.

শক্তি-মুক্তি৷
.
প্রথম সূর্গ।
( উদ্বোধন।)
মাকরী-ক্রান্তির প্রভাত।
স্মৃতিযোগ।
“মিঃ মা যুণী অতি মনি মুগ্ধ: সাবির
ল ইন শীল , মল নিধি।”
पानन्दलहरी।
রাগিণী ললিত-তাল আড়াঠেকা।
সবিত, প্রাচীর কোলে হাসিছ লােহিতাননে,
ভাবি কি হে, গবিসুখ ভেঙ্গে খাপনে।
সঞ্জীবনী সুধা করে,
জাগাও দেবতা নরে,
নিদ্রিতা প্রকৃতি জাগে, জাগে ত্রিভুবন-জনে।
।

শক্তি-মুক্তি।
r।
বর্ষের প্রত্যুষ আজি,
দিনের প্রত্যুষ-রাজি,
প্রকৃ িফুলের সাজি ধরি নম্র ভক্তি সনে।
প্রকৃতির জাগরণে,
জাগে দিগনগণে,
চাহে অন্তরাল হতে কৃপায় অপাঙ্গেণে।
স্বাধিকার মান গুণ,
নিত্য বর্ধমান পুনঃ,
তাই বুঝি তব প্রাণে শক্তিযোগ ক্ষণে ক্ষণে।
তমােবাস তিরােহিত,
রাগে রক্ত চার্নি ভিত,
ঘুচিল জড়তা প্রাণে জাগিল চিকীর্ষা মনে।
এস মহামায়ে শক্তি,
জাগাও পরনাসক্তি,
কর্মে কর্ম মিটাইতে কর হৃদি অধিষ্ঠান
রাখিতে গো জড়জনে!
(১)
কি এক বিরাট শূন্য ব্যাপ্ত চরাচর,
নিশ্চল নিস্তব্ধ বিশ্ব অনন্ত নিথর,
নাহি ক্ষিতি নাহি জল,
নাহি বায়ু কি অনল,
নাহি কিছু, আছে এক কেমন সুন্দর!

প্রথম সর্গ।
•••• '
| p://
(২)
বিরাট অভাব ব্যক্ত ভাবের অভাব,
ভাবের অস্তিত্বহীন নহে সে স্বভাব,
ভাবময়
ভূতরূপ,
মিশে সব একরূপ,
গেছে সব আছে এক অনন্ত প্রভাব।
(৩)
বিশ্বরূপী শুন্যরূপ কল্পনা-নয়নে,
হেরিতে আঁকিতে সিদ্ধ পূৰ্ব্ব-সিদ্ধগণে!
জ্ঞানের বিকাশ সনে,
শুভ্র জ্যোতিঃ ভায় মনে,
গনময় বপুঃ ধ্যানে ধরেন যতনে।
(৪)
শুভ্র-অভ্র-জ্যোতির্ময় পুরুষ শােভন,
যােগীর হৃদয়াকাশে রাজে অনুক্ষণ।
শূন্য হ'তে বায়ু বয়,
বায়ু শূন্যে হয় লয়,
আবির্ভাব তিরােভাব কেবল স্পন্দন।
রবীন্দু-পাবক তায়,
পুরুষ-নয়নে ভায়,
জড়ে যে চেতনা-রেখা জ্যোতির স্ফুরণ।

শক্তি-মুক্তি।
রে
তেজো-বায়ু-পরিণাম,
জীবন জীবনারাম,
অব্যক্ত জীবনী সহে জড়ের বন্ধন।
ইহারি বিকাশপর,
স্থূল হ’তে স্থূলতর,
বিশাল আধার ধরা ব্যাপ্ত পরক্ষণ।
(৫)
যােগীর ধ্যানের ধন দেব শূন্যময়,
চিদাকাশে সদানন্দে সদা জ্যোতির্ময় ।
শূন্যে চন্দ্র সূৰ্য্য তারা,
অনল চপলাধারা,
স্বপ্রকাশ-ভাব লয়ে বিকাশে বিস্ময়।
চেতনে জুড়ের ধর্ম,
অচেতনে সাধে কৰ্ম্ম,
ধ্যেয় ধ্যাত—এক মৰ্ম্ম,-কে করে নির্ণয়।
আছে সব, কিছু নাই,
জড়ে কৰ্ম্ম করা চাই,
কে দেখে বল তাই,-এই সময়।
(৬)
স্বপ্ৰকাশ-ভাৰ ল’য়ে প্রকৃতি সুন্দরী
আলােক আঁধার ল’য়ে খেলে লুকাচুরী ।

প্রথম সর্গ ।
আলোক আঁধারে ভবে,
তাড়ায় তাড়ায় যবে,
তখনি আঁধার পশে আলােক-অন্তর ;-
আকাশ-ভূতল-তলে,
সদা এই খেলা চলে,
কৃষ্ণা-কাদম্বিনী-কোলে চপলা-সুন্দরী
স্বর্ণবর্ণে আলােকের ব্যক্ত লুকাচুরী।
(৭)
উঠিছে রসের উৎসবহে প্ৰবাহিণী,
কাহারে অমৃতদানে হবে আদরিণী !
বিশ্ব আছে, লােক নাই,
ভােগ্য আছে, ভােক্তা নাই,
ছড়ায় স্বভাবে যথা সুধা সুহাসিনী-
পাত্ৰাৰে অনাদরে পুনঃ বিষাদিনী।
(৮)
জ্ঞান-জ্যোতির্ময় কায় জড় শবপ্রায় ;
কিছু নাই—আছে তাই—কেবা তা’য় চায় ।
সহসা হৃদয়ে তার,
ঘাের তমঃ অন্ধকার,
কান্তিময়ী মহীয়সী শক্তি জাগে তা’য়।
দক্ষ করে বর-দান,
অভয়ে তােষেন প্রাণ,

শক্তি-মুক্তি।
•=
বামে অসি নাশ তরে,
মুণ্ডগ্রহ যুক্ত করে,
প্রসব-সংহার ব্রত,
জগতে নিয়ত শ্রোত,
অনাদি অনন্ত তাঁর চরণে লুটায়।
শক্তি-যােগে শব শিব,
তাহাতে প্রসূত জীব,
জগত উদ্ভূত সদা ভাবাভাব যায়।
শূন্য বিশ্বে নিত্যলীলা নিভৃত নিলয়ে,
পুরুষ প্রকৃতি সনে খেলে হৃষ্ট হয়ে।
তুমি শক্তি, আমি শিব,
তুমি দেহ, আমি জীব,
তুমি ছাড়া আমি শৰ অকৰ্ম্মা নিশ্চয় !
তবে কৰ্ত্তা শক্তিহীন,
কর্মের সাধনে দীন,
ঈশ্বর অভাবে যথা ঐশ্বৰ্য-বিলয়,
আধেয় আধার বই,
ধ্যেয় আছে ধ্যাতা কই,
সাধক নাহিক—সিদ্ধি ব্যাপ্ত বিশ্বালয়ে।
(১০)
যখন চেতনা ল’য়ে ভাবে আপনার,
জড়ভাবে জড়বিশ্বে ছি, নির্বিকার।

প্রথম সর্গ।
৭.
সুখ নাই, দুঃখ নাই,
আকাঙ্ক্ষা আবেগ নাই,
কিছু নাই, জ্ঞান আছে—এই মাত্রলার।
মােহ নাই, নিদ্ৰা নাই,
স্বভাবে সদাই চাই,
কেমনে ভাবের ঘােরে জাগি অনিবার।
তব আবির্ভাবে সতী,
হেরি মূর্তি জ্যোতিষ্মতী,
দেখিগাে যে দিকে ফিরি ওমুখ তােমার!
মনােহরী মূর্তি তবু,
বিশ্বব্যাপ্ত নিত্য নব,
হেরি হেরি আত্মহারা কি সুখ-সঞ্চার !
নয়ন অতৃপ্ত সদা চাহি বারে বার ।
(১১)
একি হেরি মহামায়ে কি মায়া মােহিনী,
শূন্যে কি মহতী সৃষ্টি আনন্দরূপিণী।
জ্ঞান-দীপ্তি মনােলােভা,
একীভূতা স্থিরপ্রভা,
আবির্ভূতা জ্যোতির্ময়ী স্বয়ম্প্রকাশিনী,
নয়নে ক্ষরিছে তার সুধানিৰ্করিণী ।
(১২)
কোটী চন্দ্র জিনি জ্যোতিঃ স্নিগ্ধ সমুজ্জ্বল,
মানসমরালী তা’য় হেরিয়ে বিহ্বল।

শক্তি-মুক্তি। ৩ নয়নাভিরাম দ্যুতি, ও হেরিলে অজ্ঞানচ্যুতি, চরণ রশে ফুল শ্বেত-শতদল- (১৩) মানস-সরসি 'পরে শ্বেত-শতদলে কে এক মােহিনী বালা খেলে কুতুহলে। সিরশ্মি স্মিতানন, করি এরে নিরীক্ষণ, মলিন-আবৃতমুখ মেঘচ্ছদচ্ছলে ! পঙ্কজ-আসনে বসি, অকলঙ্ক সিত-শশী, নেত্রে বয় কৃপাসিন্ধু তরঙ্গ-কল্লোলে । বীণা করে সুহাসিনী, কিবা গীতি সম্মােহিনী, আলাপ করেন ভাসি’ প্রেম-অশ্রুজলে। (১৪) এস মা অনময়ি এস মা এখন, সঙ্গীত-অমৃত-রাশি কর বিতরণ ! তব করে বীণা-স্বরে, কি সুধা শ্রবণে ঝরে, সে সুখের প্রতিদান কি দিব এখন । কি দিব তােমায় মাতঃ, কি আছে এমন।

প্রথম সর্গ।
(১৫)
ও বীণা ঝঙ্কারে নাচে সরণী কল্লোল,
প্রমত্ত সমীর তা’য় বহিছে হিল্লোলে,
তােমার সঙ্গীতে মাতি,
চলে যাক্ দিবা রাতি,
সঙ্গীত-অমৃতে ভাের থাকি মা বিহ্বলে।
যবে অবসান তৰ বল্লকনিক্কণ,
তখনই হয় হৃদি ভাব-বিবর্তন,
তখনি তােমার ছায়া,
ধরি দীপ্ত দিব্যকায়া,
আমার নিকটে করে অতীত-কীৰ্ত্তন।
সেই তব ছায়া-মূর্তি,
দেখিলে যে পাই স্মৃতি,
মনের আবেগে তা’য় করি দরশন।
আবেগে বিভাের,-নাহি করি আলাপন।
(১৭)
এতদিনে চিনিয়াছি সে ছায়ারূপিণী,
অতীতের পটাঙ্কনে নিপুণা মােহিনী!
অতীতে নবীন-সাজ,
দিয়ে সাধে নট-কাজ,
সে নাটনা-মােহে স্তব্ধা স্বপনসঙ্গিনী।

১০
শক্তি-মুক্তি।
AA
* * * *
অতীতের দুঃখ সুখ,
চিন্তায় গম্ভীর মুখ,
বর্তমানে মুহমান—দিবস-যামিনী !
জানি কেমনে হয়।
কেমনে হৃদয় শূন্য দিবস-যামিনী।
==
(১৮)
অয়ি দেবি, স্মৃতি সতি, চাহ কৃপেক্ষণে,
শূন্য হৃদি কিবা ফল অতীত-অঙ্কনে।
শূন্যে শূন্য বৃদ্ধি পাক,
মহাশূন্য হয়ে থাক,
অতীতের লােপ হ’ কি কাজ দর্শনে ?
শূন্য যা’র ভাল লাগে,
শ্মশানে বিহরে রাগে,
এ শূন্য হৃদয় মম
করেছি শ্মশান সম তঁাহার কারণে।
শ্মশান-শূন্যতা সম,
হৃদয়-শুন্যতা মম,
রাখিলে সদাই সুখী উ’র নিরীক্ষণে।
(১৯)
নিত্যসহচরী স্থির অনুরাগে যার,
কভু হৃদি নাহি জাগে বিচ্ছেদ যাহার,
৫

প্রথম সর্গ।
মধুর মুরতি তার
জাগে হৃদি অনিবার
হেরি সেই মুখ প্রেমে বহে অশ্রুধার
শুন্য হৃদি প্রেম-ভরে,
যে সতী আসন করে,
অধিষ্ঠাত্রী হয়ে রাখে পূর্ণ অধিকার !
টলাইতে সে আসন সামর্থ্য কাহার ?
(২০)
তথাপি আসনে রাখি পদাঙ্ক গভীর,
লুকাবে ভাবিলে মন সূতত অস্থির !
সদা থাকি সন্তর্পণে,
যুটিয়াছে কি কুক্ষণে,
বিরহ-অনল সনে আশঙ্কা-সমীর।
তারে হারা হয়ে বল,
প্রাণ ধরে কিবা ফুল,
সজল নয়নে চাহি-হইগাে অস্থির।
নীরবে সরে না কথা,
কি এক বিষম ব্যথা,
কাদায় আমায়—বহে নেত্রে অনীর !
(২১)
সিতরশ্মি সুধাকরে চাহি বারে বার,
সুধাকর বিষকর, অদৃষ্টে আমার ।

শক্তি-মুক্তি
.
বিষম বিরহ-বাণ,
পাতভয়ে ম্রিয়মাণ,
সুখের সংসারে জ্ঞান অকুল পাথার।
তৰ সঙ্গে মিশে যাই,
অঙ্গাঙ্গী হইতে চাই,
গৌরীহরভাবে মজি চাহি বারে বার !
(২২)
হৃদয়-শ্মশান-ক্ষেত্রে হয় হে তখন
শান্তির আবাস দিব্য সুখনিকেতন।
তােমার আসন ধারে,
ফুলবন ফুলহারে,
লইয়া প্রতিমা তব পুজে অনুক্ষণ!
সুখ দুঃখ ভুলে যাই,
ফুল মুখে তােমা চাই,
আত্মহারা হয়ে করি প্রেমের সৎকার !
পরাইয়া দিই তােমা হৃদি-ফুলহার!
(২৩)
শ্মশান-শূন্যতা ভেদি’ বীণার নিকুণে,
অভিনব শান্তিরসে মগন দুজনে।
কামনা সরিয়া গেছে,
আসক্তি প্রবলা আছে,
‘স্থরমেত্রে আছি চেয়ে স্মৃতির অঙ্কনে।

প্রথম সর্গ।
১৩
উভয়ে সােহাগ যত,
বিনিময়ে অবিরত,
হেরি ভাবি-ভাব কত সৃজি ক্ষণে ক্ষণে।
ভাবি-সুখ-আশা কত জাগে মনে মনে।
(২৪)
মায়িক জগতে শুধু মায়ার বিস্তার ;-
মায়া-প্ৰকল্পনে সৃষ্ট জগত-সংসার ।
মায়াময়ী মহাশক্তি,
জাগায় পরমাসক্তি,
ভক্তি, শ্রদ্ধা, স্নেহ, প্রেমবিকাশ তাহার !
তাহার ক্রমানুস্মৃতি,
কাৰ্যকারণের স্মৃতি,
ভবিষ্য-কল্পনা তার সে ক্রমপ্রসার !
(২৫)
স্মৃতির পরানুসৃতি তুমি ললা কল্পনে।
নিপুণ ভবিষ্য সুখ দুঃখের অঙ্কনে!
শূন্যে ব্যাপ্ত বীণাস্বর,
কি ভাব প্রকাশপর,
সঙ্গীত-অমৃতধারা পশিছে শ্রবণে
সে বীণা-নিক্কণ শুনে,
জানি কি মােহ-গুণে,
চমকিত দেহেচাহি বিশ্ব প্রতিক্ষণে।
পুরুষ প্রকৃতি মিলি’ চাহি প্রতিক্ষণে

১৪
শক্তি-মুক্তি।
(২৬)
সদ, খা’য় হৃক্তি রাখি’ সদানন্দ মন।
অপঙ্গ-দর্শনে যা’র শ্মশান-নন্দন !
গৃহ ক্ষেত্র দেবালয়,
সৰ্ব্বত্র সঙ্গিনী যেই কর্মে অনুক্ষণ!
কৰ্ম্মরতি জাগরণে,
শ্রান্তিহরা নিদ্রাক্ষণে,
করলতা-হার গলে পরায় যতনে।
ভেঙ্গ না স্বপন সৃম তঁাহার মিলনে।
(২৭)
তােমায় কল্পনে, মম বৃথা অনুনয় ।
স্বভাব-বিকাশে তব কৰ্ম্ম সত্যময় ।
স্বপনে ভাবি না যাহ,
তব চিত্রে কেন তাহা,
হেরি’ সে বিকল অঙ্গ-অবশ হৃদয়
না পূরিতে ভালবাসা,
মিটিতে সুখ-আশা,
দম্পতি-সােহাগ ছিড়ি কর মনােলয় ।
দম্পতি-হৃদয়-তাপে দহিবে নিশ্চয় ।
(২৮)
মনােম প্রতিদানে যারে কদাচন--
হয় নাই একেবারে আশার পুরণ !

১৫
১
।।।।।।"
প্রথম সর্গ।
প্রীতিউরে একমনে,
পূজি যারে হৃদাসগে,
ভুলিতাম অনায়াসে এ বিশ্বভুবন
সেই মম মনস্তৃপ্তি,
যেই নয়নের দীপ্তি,
হারাইয়ে যা’রে আমি হারাই জীবন।
কৃপাদৃষ্টিপাতে যা’র,
প্ৰাণ পাই পুনৰ্ব্বার,
যারে পেলে শান্তিরসে মজি অসুক্ষণ
কেন দেবি, তাহে তব কুটিল দর্শন।
(৯).
যে কদিন প্রিয়া সনে থাকিবে মিলন,
উভয়ে উভয়-ধ্যানে রহিব মগন!
হলে প্রিয়া-অদর্শন,
ত্যজি’ লােক-মিকেতন,
পশিব দুর্ভাগ্য লয়ে গহন-কানন!
যে তরু-লতিকাগণ,
ফুলহারে শুভাৰ্চন,
করিত প্রিয়ার—হবে বিষবদন।
হা সতি। পাৰ্বতি! বলি,
কঁদিবে উদ্যানস্থলী,

৬
শক্তি-মুক্তি।
:
t.
কঁদিবে বিষাদে অলি করিয়া গুঞ্জন!
হ'য়ে হৃদি শোকে মরু-ভীষণদর্শন।
(৩০)
অশনিপাতের ভয় দারুণ যেমন,
ততােহধিক তব দেবি, এ চিত্র ভীষণ !
আসক্তিচ্ছেদনে তব,
যত চেষ্টা বৃথা সব,
কা’র সাধ্য শিব-শক্তি বিচ্ছেদ-সাধন।
হা সতী। হা সতী! রবে,
বিজনে কাদিব যবে,
প্রিয়াসনে হবে তবে অবশ্য মিম।
আমায় পড়িলে মনে
করুণা জাগিবে ক্ষণে,
প্রিয়া সে হৃদয়াসনে করিবে গ্রহণ।
পুনঃ হৃদি মরুমাঝে,
সাজিবে কুসুম-সাজে,
হৃদয় শােভিবে যেন নন্দন-কানন।
ব’বে প্রেম-প্ৰবাহিণী,
যেন স্বর্গ-মন্দাকিনী,
ল’য়ে প্রিয়া সুহাসিনী সে দিব্য জীবনে,
অঙ্গাঙ্গী হইয়ে র’ব আনন্দে দু’জনে।
,

দ্বিতীয় সর্গ।
( আলাপন।)
বাসন্তী-দোলপূর্ণিমা প্রথম প্রহর।
কর্শদ্বার।
"सन्दधाति शिवं शनी-रागरक्तपरिक्रमात् ।
संखजते शिवस्तां खां खाधानाधिष्ठितां पराम् ॥"
রাগিণী সিন্ধুড়া-তাল ধামার।
আহা কি মধুর কেলি নিরখি ঐ নভােজনে।
সালে লালে লালে লাল প্রেমরাগে রক্তনিনে।
একে রাগে নেত্র,
সুরাগে সুরক্ত অঙ্গ,
প্রকৃতি পেয়ে সে সঙ্গ,রঙ্গ করে ফুন্নাননে।
প্রাচী ফ ল'য়ে করে,
সাজায় সহস্ৰকরে,
কেলি-রাগে ক্রমাগুরে খেলে দিগঙ্গনগণে।

১৮
শক্তি মুক্তি।
. ************
ক্রমে কেলি-রঙ্গপুরে,
প্রমও সুরঙ্গরে,
চিত্রবর্ণ থরে থরে—দুলে সুনীল গগনে।
ভঙ্গি সব কেলি পরে,
পশিল সে তেজসরে,
কিরণবসন ধরে সাজিল সবে সঘনে।
তখন সে নভোলা,
মোহন-কুমম-মালা,
ধরি’ ভুলে মোহ-খেলা—বিমলেঞ্জিল কিরণে।
।
(১)
অহহ স্মৃতি সতি, কেন মােহের ছলনে,
দেখাও মােহনরঙ্গ হৃদিরাঙ্গনে।
মলয়জ সমীরণ,
ফুল-ফুল তরুগণ,
হেলে দুলে রত তারা কার তােষণে ?
ফুলবনে কেবা বালা,
ফুল তুলি গাঁথে মালা,
কত যে আগ্রহ তা’র মাল্যের রচনে।
জড়-ভাবে চেয়ে থাকি সুস্থির নয়নে।
(২)
কি দেখায়ে হ’রে নিলে শকতি আমার ।
কোথা গেলে পাই তারে হেরি চারিধার।

দ্বিতীয় সর্গ।
৫
'
কোমল হৃদয় তার,
যে কুসুম-সুকুমার,
বিকাশে সারল্য তার নেত্রে অনিবার;-
দেখায়ে সে দিব্য মূর্তি,
হৃদয়ে জাগায়ে ফুৰ্ত্তি,
হরিলে কেন গাে দেবি, কোথা সে আমার ।
নয়নাভিরামা রমা দেখাও আবার ।
(৩)
কি এক বিভ্রম এসে ছাইল হৃদয়ে।
তমােনিশা ঘাের যথা, বিদ্যুত-বিলয়ে !
লাবণ্য-লহরী তার,
বহে হৃদি অনিয়ার,
নদী আছে, বারি নাই, থাকি তাই চেয়ে।
সৈকত পুলিন কাঁদে
শূন্য হৃদি শূন্য ছাদে,
অতীত সুদীর্ঘ অঙ্ক আছে ব্যাপ্ত হয়ে ।
কি যে হারায়েছি খু জি এ হৃদি নিলয়ে।
(৪)
সে দিবা-মূতি সতি, যদ্যপি জাগালে,
হরিলে যদ্যপি আয়-কেননা ভুললে !
সে মাে হনী ফুল-খেলা,
সে দিব্য ফুলের মেলা,
সে দিব্য বসন্ত ফুল-ফুল-মাল-জালে—

শক্তি-মুক্তি।
।
ফেলিয়ে, আমারে কেন,
বঁধিলে শবরী হেন,
আর কত দুঃখ আছে জানি না এ ভালে।
শূন্য হৃদি-কিছু নাই,
মনে মনে ভাবি তাই,
কি দেখে রহিব স্থির—কোথা সেই বালে।
আশায় অন্বেষি তারে হৃদি-অন্তরালে।
কেমনে সে বালা বিনে শূন্য হৃদি ল’য়ে।
সুদীর্ঘ জীবন-জালা র’ব প্রাণে স’য়ে।
আর কা’র মুখ চেয়ে,
কোন লক্ষ্যে যা’ব ধেয়ে,
অলস-অবশজড়-মরু-এ হৃদয়ে।
কি ভাবে বিচ্ছিন্ন মন,
হয়ে আছি জালাতন,
পলাই-পলাইছড়ি এ শূন্য আলয়ে
চারি দিক অন্ধকার,
অকূল পাথার সার,
অশক্ত অকূলে যেতে তনু-তরী বয়ে!
রহিনু শবের ন্যায় জড়-দেহ ল’য়ে !
শােকার্ত হেরিয়ে মােরে ক্ষুন্না ধরারাণী ।
সে বিষাদে প্রকৃতির স্তব্ধ মুখখানি।

দ্বিতীয় সর্গ।
২১
বিধ উদার নভঃ,
কি জ্ঞানে বিষঃ রভঃ,
বিবর্ণ বিষাদ-বশে পশু পক্ষী প্রাণী ;-
• ফুল-ফুল তরু লতা,
কি বিষাদে যৌনতা,
হৃদয়-শ্মশানে একি কেন নাহি জানি।
বিষাদ-কালিমা-অঙ্কে মগ্না ধরারাণী ।
(৭)
হৃদয়-শানে কেবা বাজায় বাঁশরী,
উদাস অন্তরে একি সঙ্গীত-লহরী।
কোন সুখ নাই মনে,
সব গেছে তার সনে,
গেছে সে মােহিনী মূর্তি—আছে সে মাধুরী!
কোথা সে নির্জনবনে
লুকায়েছে সঙ্গোপনে,
দেখিব কোথায় সেই কুসুম-সুন্দরী।
কেন বা উদাস হৃদি বাজিছে বাঁশরী ।
(৮ )
আহা সে বাঁশরীস্বরে কি ভাৰবৰ্ত্তন।
হৃদয়-শ্মশানে হ’ল কুসুম কানন!
গরজি’ গভীর স্বরে,
অভ্রশিরে জলধরে,
কি মধুর জঘনাদ করে ক্ষণে ক্ষণ ;-

***
শক্তি-মুক্তি।
ললিত চপলা-বালা,
১ লইয়ে জড়িত মালা,
কাতারে পরা’তে করে কর-প্রসারণ ?
কত নারী বশী করে,
বাজায় শিখরী 'পরে,
বিজয়-সঙ্গীতে কা’র মগন এখন ?
কিংবা কারাে প্রেম-গীতে হয় উদ্বোধন ?
(৯)
সে সঙ্গীতে গলে যায় পাষাণ-হৃদয়,
হিমার্জিনন্দিনী স্নেহে তা’য় পূর্ণ রয়!
পৃথ্বীরতি-হারাবলী,
স্রোতস্বতী কুতুহলী;
সঙ্গীত-তরঙ্গ রঙ্গে বহে উভয় !
সে সঙ্গীতে মুগ্ধ জীব,
জীবন্মুক্ত সদাশিব,
জাগে তাই শক্তিরূপা ব্যক্তসুহাসিনী,
যা’র হাস্যে হাসে বিশ্ব—বিশ্ববিমােহিনী।
(১০)
এস সতি স্মৃতিরাণি, কল্পনারে লয়ে,
অতীত অঙ্কন কর এ শূন্য হৃদয়ে !
তােমার কণেক্ষণে,
জাগিবে হৃদয়ে ক্ষণে,
শক্তিরূপা বিমােহিনী বালা হৃষ্টা হয়ে।

দ্বিতীয় সর্গ।
....।
মেদুটা সমীর বয়,
তরুণ পল্লবচয়, •
বিজয়-কেতন সম আকাশ-হৃদয়ে-
কি ভাবে যে মন্তপ্রায়,
হ'য়ে বিশ্ব বয়ে যায়,
সন্তর্পণে চাহি তা’য় কি যেন কি ভয়ে,
জগৎ জগৎ তাই চাহি তা’য় ভয়ে।
(১১)
আহা সে প্রকৃতি সতী সজ্জিতা মােহিনী,
মধুর মধুরভাবে প্রফুল্লা ভাবিনী ।
রসিক রসাল-রাজ,
নবীন-পল্লব-সাজ,
ধরিয়া অঞ্জুর করে চাহে সুরূপিণী,
দেখে মূৰ্ত্তি মনােলােভ,
বাড়াতে কবরী-শশাভা,
উদ্বাহু পরা’তে—তা’য় হৃষ্ট। সীমন্তিনী।
মত্ত অলি-মা'লা তায়,
ঘেরি’ গুন গুনে গায়,
বসন্ত-বিহিত তানে প্রেমের কাহিনী,
জগত মােহিছে তায় প্রকৃতি মােহিনী ।
(১২)
কুমিতা লতা এবে মহীরুহ-শিরে,
কুসুমকেতনধরি’ হেলে ধীরে ধীরে।

২৪
শক্তি-মুক্তি।
',
দিগঙ্গনা
কুতুহলে,
মলয়-হল্লোলচ্ছলে,
বাজন করিয়া এবে কােষে প্রকৃতিরে ।
আমােদ-প্রমােদ-ময়,
নিত্য প্রেমামৃত বয়,
মগ্ন আজি বিশ্বালয় নিত্যানন-নীরে।
সাজি দিগঙ্গনাগণ হাসে ধীরে ধীরে !
(১৩)
কি
মধুর
মনােহর চিত্র সুশােভন,
এ শূন্য হৃদয়ে মম করিলে অঙ্কন ।
জড়ে ব্যক্ত যে চৈতন্য,
কৰ্ম্মাশ্রয়ে শক্তি-জন্য,
অচৈতন্য-উপাহি-চৈতন্য-স্ফুরণ !
অয়ি একি কেন কেন,
উৎফুল্ল হইল হেন,
আনত আনন-কেন ফুল নয়ন ?
করে বেণু বিমােহন,
মুখে হাস্য সুশোভন,
কি এক মধুর গীত গায় অনুক্ষণ ।
প্রেম-স্রোতস্বতী নাচে-অস্ফুট বচন !
(১৪)
আহ সে কিশােরবর না জানি কেমন,-
নেত্রে ত’র কি উদারভাবের স্ফুরণ !

দ্বিতীয় সর্গ। কি ৫াপ্তি ললাটে ফুটে, নেত্রে যে চপলাছুটে, প্রশান্ত হৃদয়-দেহ নধর শােভন ! •মােহন আকার স্থির, পীতবাস-ধারী ধীর, ঘাের-ঘন-রঙ্গ-ভঙ্গে কেশের রচন। শ্যামল মােহন তনু, অধরে মােহন বেণু, সঙ্গীতে শ্মশানে কা’য় করিবে মােহন শ্রোত্রী নাই—এ সঙ্গীত কে করে শ্রবণ। (১৫ } শক্তি-শিব-প্রীতি-যােগে অঙ্গাঙ্গী সাধন- নিত্যলীলা সুখময়ী—এ নিত্য জীবন । অজ্ঞান-উপাধি ল'য়ে, চৈতন্য লুকায়ে রয়ে, জান-জ্যোতিঃ শ্যামরূপে করে আচ্ছাদন ; সে জ্যোতিঃ জাগা’তে সতী, হিরন্ময়ী জ্যোতিষ্মতী, সমর্থ। নিশ্চয়, কিন্তু কোথা সে মােহিনী শক্তি করে উদ্বোধন। কোথা সে হলাদিনী শক্তি জাগাতে চেন।

শক্তি-মুক্তি।
{
(১৬)
তুমি আমি নিত্য—তৰ
উপাধি-স্বীকার
অবিক্রিয় শিবে একি বিষম বিকার !
আমি শিব, তুমি শক্তি,
অসংহত অনুরক্তি,
সংসক্তি-সংযােগে শ্যাম কৰ্মীর আকার ।
জ্ঞানের বােধন তরে,
এস দেবি, হৃদি’পরে,
উত্তরসাধিকা হ'য়ে কর অধিকার,
জ্ঞানের উন্মেষ তাহে হউক আবার!
(১৭)
কোথা তুমি মুহীয়সী প্রেয়সী আমার ।
জীবন-সঙ্গিনী সতী প্রেমের আধার !
চাহ না বারেক হায়!
ভুলেছ কি অভাগায়।
আকুল পরাণে তােমা’ খুঁজি চারিধার।
কেন তুমি লুক্কায়িত,
কেন তুমি অন্তৰ্হিতা,
তােমা’ তরে অনিবার করি হাহাকার !
কাতর-পরাণে তােমা’ ডাকি বারে বার !!
(১৮)
প্রাণানন্দ-বিমােহন প্রথম দর্শনে
সাদর সস্নেহ রাগ উপজে যে মনে

দ্বিতীয় সর্গ।
२१
সে মম কেমন সতী,
ভুলে আছ—এ
-একিম্মতি,
অথবা এ ভাব তব পরীক্ষা-কারণে।
একি ঘাের কুহেলিকা,
বিশ্বব্যাপ্ত প্রহেলিকা,
জান-দৃষ্টি রুদ্ধা এবে তব আচরণে।
তুমি মম মতি গতি,
প্রবৃত্তি প্রসক্তি রতি,
তুমি জান ভালরূপ এ সাধক-মনে।
কষ্ট দাও তবে হেন কেন অকারণে।
* (১৯) .
এ অবগুণ্ঠনে কেন একান্তে মােহিনি।
লজ্জানতানিনে এবে কি ব্ৰতে ব্ৰতিনী।
আনত-আননা কেন,
আনত-নয়না হেন,
কোন ভাবাবেশে এবে গম্ভীরা ভাবিনী ।
জেগেছ বংশীর স্বরে,
জেগেছ মন্ত্রের স্বরে,
গম্ভীরা প্রভাত-মূর্তি-নীরব-ভাষিণী !
সংগৃঢ় সৌন্দৰ্য্য তব,
হেরে প্রাণে অভিনব,
•

শক্তি-মুক্তি।
ভাবের উদ্রেকে হৃদি প্রেম েতস্বিনী—
বুহিল উজান-স্রোতে প্রেমপ্ৰবাহিণী।
•
(২০)
না বিষাদ, না প্রসাদ-একি ভাব তব!
# মলিন, না উজ্জ্বল—বদন নীরর।
বল সতি, কি কারণ,
তােমার বিকৃত মন,
প্রমােদা প্রমদা হেন-একি অসম্ভব।
মুদিত-বদনা হয়ে,
ভাবিছ কি ভাব লয়ে -
অথবা হৃদয়ে কিছু প্রাদ-সম্ভব।
কিংবা গাঢ় ঘুমঘােরে,
ভেঙ্গে মাথা গেছে ঘুরে,
তাই কি বিষমাবেগে এই ভাব তব !
কিংবা ভাব-বিপর্যয়ে,
ঘাত-প্রতিঘাত সয়ে,
ছিন্ন ভিন্ন হইয়াছে, হৃদয়-বিভব ;-
তাই কি তােমার এই ভাব অভিনব !
(২১)
কোমলে কাশ্য সতি, একি বিড়ম্বনা!
কৃপেক্ষণ-দানে কেন কার্পণ্য-রটনা!

দ্বিতীয় সর্গ।
। । ”
তােমার নীরব ভাষা,
ব্যক্ত তা’য় ভালবাসা,
সারল্যে কাপট্য—না না—বিরুদ্ধ ভাবনা!
শুনে এ বাঁশীর তান,
ভুলে গেছে তব প্রাণ,
ঘটেছে হৃদয়ে তব ভাববিবর্তন ;-
অশক্ত করিতে ব্যক্ত ভাব-সম্ভাবনা।
(২২)
তােমার স্বীকারে—ধ্যানে—তব উদ্বোধন,
চৈতন্য-সঞ্চার তা’য় হয়েছে এখন।
সরলে সুরতবালে,
প্রফুল্ল কুসুম-মালে,
তব মুখপ্ৰেক্ষা করি এ বংশীবাদন,
হৃদয়-শ্মশান-শূন্যে,
জেছি তােমারি পুণ্যে,
কুসুম-সমৃদ্ধ দিব্য কুসুম-কানন।
পবিত্র কুসুম-বনে
পবিত্র কুসুমাসনে
তিষ্ঠ সতি, ধরি’ দিব্য কুসুম-ভূষণ!
প্রীতিপূর্ণ শুভার্চন করহ গ্রহণ।
(২৩)
দুর হতে বাঁশী-স্বরে করি’ উদ্বোধন
মিলানু তােমায়"সতি, সাদরে এখন!

৩০
শক্তি-মুক্তি।
{
মধুর বাঁশরীগান,
চমকি’ তুলেছে প্রাণ,
প্রেম-গীতে মনে মনে দৃঢ় আকর্ষণ !
অধীর মানস-ক্ষেত্র,
পিপাসী অধীর-নেত্র,
সুতৃপ্ত করিল এবে দোহার মিলন।
বাসন্ত মিলনে বিশ্ব আনন্দে মগন!!
(২৪)
এ মধু মধুর রূপ চিত্তবিনােদন ।
মধুর পুর্ণিমা তা’য় শশী সুশােভন।
এ মধু পূর্ণিমারূপ,
সুমধুর অপরূপ,
মধুর মধুরতর ভাবের ঘূরণ ;-
প্রাণানন্দ-নিকেতনে,
শক্তি-শিব-সম্মিলনে,
সাধক-সাধিকা-লীলা-রাগ-প্রকটন।
প্রত্যক্ষ দেবতা-মূর্তি,
হেরি’ প্রাণ পায় ঘূৰ্ত্তি,
জীবন্ত-দেবতা-যুগে আবির-বর্ষণ।
করি’ স্নেহে অনুরাগে আনন্দে মগন!
(২৫)
শক্তি-শিব-যােগে বিশ্বে রাগ-প্রকটন ;-
সুরগ-রক্তের দেহে এ পরিক্রমণ।
।

দ্বিতীয় সর্গ।
৩১
শক্তির স্বীকারে শিব,
ধারী হয়ে ধরে জীৰ
স্বকীয়-আধান-স্থিত। শক্তির স্বজন !
নিত্য বিশ্বজীবে হয় লীলাসঙ্কলন।
(২৬)
কি যেন স্বপন দেখি জাগিয়া মায়ায়।
প্রচ্ছন্ন-চৈতন্য শক্তি-অঙ্কে মুগ্ধপ্রায় !
মােহিনী মােহন-হার,
দেছে গলে উপহার,
ক্ষণিক দর্শন দিয়ে লুকাল কোথায় ?
হই পুনঃ খুজে সারা,
হায় ! পুনঃ দিশেহারা,
বাঁশরী বাজে না আর ভূতলে লুটায় !
কি মায়া দেখা’য়ে স্মৃতি দূরান্তে লুকায় !
(২৭)
যে রাগে রঞ্জিত হায়, হৃদয়-শ্মশান,
প্রেম-রসে এবে তা’য় কুসুম-উদ্যান।
কোথা তার অধিষ্ঠাত্রী,
প্রেমময়ী বিশ্বধাত্রী,
চির-অনুরক্ত জনে কেন অভিমান।
হৃদিক্ষেত্রে শূন্যাসন,
সুসজ্জিত অনুক্ষণ,
রয়েছে তােমার তরে কর অধিষ্ঠান।

শক্তি-মুক্তি।
কল্পনে প্রতিমা তা',
বারেক-দেখাও আর
আগ্রহে উৎসুক মন—আকুল পরাণ।
করি তা’য় দরশন,
পরিতৃপ্ত এ নয়ন,
আশা---চাই নিষ্পলক নেত্রে সে বয়ান ।
ব’বে হৃদি প্রেম-স্রোত আবার উজান।
(২৮)
আঁকিছু কি ভাবি-চিত্র তুমি লো কল্পনে ।
হেরি সে অনন্ত ধ্বন্ত অবােধ্য এক্ষণে।
কিবা এক ঘূর্ণি-ঘােরে,
পড়ে যেন মাথা ঘুরে
হয় কি বিষম এক কাণ্ড-সংঘটন।
হৃদয় অভাবে যার **
মরু সম ধুধুকার,
বারি বিনা প্ৰবাহিণী ভীষণ। যেমন।
পাত্রের অভাবে স্নেহ,
জীবের অভাবে দেই,
অস্তিত্ব নাস্তিত্ব তার সমান যেমন !
থাকিতে হারাই জ্ঞান হয় এ জীবন!
(২৯)
উপাধির ত্যাগ নহে জীবের মরণ !
ধৈৰ্য্য ধরি, কাৰ্য করি, যেমন সাধন।
*

দ্বিতীয় সর্গ ।
প্রিয়া-ধানে স্থির-মনে,
কিংবা দেহ-বিসর্জমে,
যে আমি—সে আমিনহে অন্যথা কখন।
উপাধি-স্বীকার করে,
আলাজলে হৃদি 'পরে,
পুড়ে ছারখার মম হৃদয়-কানন!
জ্বলুক
মহতী জ্বালা,
পরিব জ্বালার মালা,
সমুদ্রই সহে হৃদি বাড়ব দাহন ?
মহান্ ব্যতীত অন্যে দুঃসহ বেদন!
(৩০)
প্রিয়ার বিচ্ছেদ নহে সঙ্গুত কখন।
কে পারে করিতে নিত্য-সম্বন্ধচ্ছেদন।
যেই মম দুঃখে দুঃখী,
অঞ হেরে অশ্রুমুখী,
কেন বৃথা প্রহেলিকা-প্রমুগ্ধনয়ন!
মায়াময়,
উপাধান
গ্রহণে এ মােহাধান,
অচৈতন্য-আচ্ছাদিত নেত্ৰ-সম্মােহন।
তাই তা’য় মনে ভাবি বিচ্ছেদ-ঘটন।
(৩১)
অলীক সে বিচ্ছেদের করি বিসর্জন
প্রণয়-প্রতিষ্ঠা তরে-সন্দেহ-বর্জন।

৩৪
শক্তি-মুক্ত
সরলে সুরতলা, ৮
নিবাঙ হৃদয়-জ্বালা,
বিরাজ হৃদয়-ক্ষেত্রে লহ হৃদাসন।
লহ দিব্য সুকোমল কুসুম-আন !
(৩২)
যখনি তােমায় বালে, করি আবাহন,
তখনি হৃদয়সন করহ গ্রহণ।
হৃদি যত ধরে আশা,
তব তত ভালবাসা,
জানি আমি তােমা সনে নিত্য এ মিলন !
সম্ভব-পশুর দেহে আত্মার বন্ধন !!
ক

তৃতীয় সর্গ।
(বাসন্তীলীলা-সৃষ্টি-কুমারসম্ভব।)
মধুমাস—দ্বিতীয় প্রহর।
কৰ্ম্মযােগ।
"कर्मणा कर्मसभ्यासामुवि कर्मविपर्ययः ।
अतो वै प्रतिनित्यं विषीदति प्रसीदति ॥"
রাগিণী সারঙ্গ-তাল আড়াঠেকা।
প্রখর কিরণে রাজে যৌবন-ইজে তপন।
নভকেন্দ্রে থাকি করে প্রতাপপরিচালন ॥
: উজ্জ্বলতর,
থবা সহকর,
কমল-অভয়-বর-বিভূতি-জ্ঞান-ধারণ।
সমস্ত জগত-পতি
কর্মধাতা স্থিরমতি,
কি প্রমোদে সুসজ্জিত মাণিক্য-শিরোভূষণ।

৩৬ শক্তি-মুক্তি। সংজ্ঞা সতী ভূঙ্কে ধরি’ ছায়া সনে লুকাচুরি, খেলিয়া শিখান বিয়ে নিত্য (এম-আলিঙ্গন। নিত্যে নিত্য সম্মিলন, ছায়া সনে আলাপন, নিত্যনিত্যেযুগপৎ)স্বজনে পরিস্বজন। এ প্রেমে প্রীতির হার, বিনিময় অনিবার, খেলে তায় নেত্রে জ্যোতিঃ তীব্র নেত্রসন্তাপন জগৎ প্রসূত যায়, জগৎ রক্ষিত তায়, গুণিণী শক্তির যােগে অশেষ-গুণ-ভূষণ। বিশ্ব-প্রসবিতারবি, ব্যক্তব্যক্ত প্রেমচ্ছবি, সৃষ্টিতে সবিতৃ-লীলা পরিব্যক্ত অনুক্ষণ । (১) আহা কি মােহন ছবি স্মৃতির অঙ্কন। প্রাণানন্দ-নিকেতন—প্রেম-নিকেতন। প্রমােদে প্রসাদে ‘ভাের, কি এক ভাবের ঘাের, কি এক মােহিনী খেলা চলে অনুক্ষণ। কে তাই প্রসন্ন মুখে, হাসিছে মনের সুখে, হাসিয়া হাসায় বিশ্ব-আনন্দ- তৃতীয় সর্গ। . Annan 4 * * * * * * * * * * * ,, An Affri । • ** - পূর্ণিমা-প্রমােদ-শ্রোত, চলেছে যে ওতপ্রােত, সে স্রোতের অবিরাম প্রবাহে জীবন- ঢালিয়ে চলিতে কেবা উদ্যত এখন। (২) অহে। প্রথম দর্শনে মম হৃদয়-আসন, করেছে যে প্রেমরাগে সাদরে গ্রহণ। নেত্রে নেত্রে শুভ মেলা, মানসে মানসে খেলা, অধরে প্রেমের হাসি ফুটে অনুক্ষণ। হৃৎতন্ত্রী কি রাগে হেন, মাতায় পরাণ যেন, মনের নীরব গানে মনঃসম্মােহন। সে মধুর ভাব নিত্য মন উন্মাদন!! t মনােলীন ভাৰ মনে অন্তর্হিত ক্ষণে। হরষ বিষাদ দেহে রত আলিঙ্গনে। সেই আমি, সেই তুমি, সেই এই কৰ্ম্ম-ভূমি, সেই সব আছে সতি, আনন্দ-সদনে।

শক্তি-মুক্তি।
সেই
স্নেহ
সেই প্রেম,
৫. সেই দেহ, সেই হেম
৫
আছে সব-নাহি প্ৰাণ পাই অন্বেষণে।
দুর হতে দূরতর,
ব্যবধান নিরন্তর,
ধরিতে প্রসারি কর—না পাই স্পর্শনে !
নয়ন লােলুপ সদা ওরূপ দর্শনে !!
(৪)
অহেভীষণ-তরঙ্গময়ী নদী ব্যবধান !
নয়নে নয়নে প্রীতি তর্পণ-বিধান।
তােমার মিলনে প্রাণ,
অনুক্ষণ ধাবমান,
উত্তাল-তরঙ্গ-নাদে করিছে তর্জন!
তব মুখ নিরীক্ষণে,
স্নেহ সদা জাগে মনে,
প্রেমাঞ-সুধায় জাগে কি শক্তি এখন।
তব আশা যথা ভয় !
তুচ্ছ বিভীষিকা তা’য়।
কি এক আবেগে ইথে জীবন-বৰ্জন,-
উভয় সঙ্কটে শ্রেয়-প্রশস্ত এখন!
.
সুখলিগা একান্তই লক্ষ্য নিরন্তর।
সুখ তরে কর্মস্রেততময় চরাচর।

তৃতীয় সর্গ।
৩৯
সবাই সুখের তরে,
পর-মুখপ্রেক্ষা করে,
আপনা নির্ভরে সুখী নহে কোন নর।
ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর,
সুখ তরে নিরন্তর,
অপরের যােগ’পরে করেন নির্ভর।
সতী সনে সদানন্দ,
সতী বিনা নিরানন্দ,
উন্মত্ত তাণ্ডবরত শিব দিগম্বর ।
প্রসাদে বিষাদ! সুখে দুঃখ নিরন্তর !
(৬) •
পর-মুখ-প্ৰেক্ষা নিত্য দুঃখের নিদান!
নিত্য পর-হস্তে কিন্তু সুখের বিধান।
হৃদয়-আসনে রাখি,
যে প্রতিমা দেখে সুখী,
অধিক সুখের আশে-নৈরাশ্যের গান।
প্রেমে অনুরাগে স্মরি,
রহসি অর্চনা করি,
পূজায় চরম বলি-শুদ্ধ আত্মদান!
• বাসনার সঙ্গে খেলা,
বিচিত্র ভাবের মেলা,

। ৪০
শক্তি-মুক্তি।
",
বিপুল বিস্তৃত ইথে হেরি পূর্ণ প্রাণ।
হৃদয়-নিলয় এবে' দিব্য জ্যোতিষ্মন্ ।
(৭)
জ্যোতির্ময় হৃদি ক্ষেত্রে প্রসাদশান্দিরে
বিরাজ মােহিনী কে গো উজ্জ্বল শরীরে।
আলােকে আলােক রাজে,
বিশ্ববিমােহিনী সাজে,
লাবণ্যে উজলে দি এবে ধীরে ধীরে।
মুখে মৃদু মৃদু হাস,
নয়নে নীরব ভাষ,
যেন কি স্বর্গীয়-ভাবে চাহ ফিরে ফিরে !
ভাসিয়ে ভাসাও মােরে প্রেম-অশ্রু-নীরে !!
(৮)
সে সতী মূরতি হেরি কি ভাবে না জানি,
নয়নে পলক নই—চাহি মুখখানি।
কি আজ দিলেন বিধি,
হেরে এই হারা-নিধি,
শূন্য দেহে প্রাণ পেয়ে জাগিল পরাণী!
হৃদয়-কাননে রাজে,
ফুটি প্রেম ফুলসাজে,
সৌরভে মােহিত-ভাবে আত্মহারা মানি
অভ্রান্ত-সরল সত্য—মনে প্রাণে জানি।

তৃতীয় সর্গ।
৪১
(৯)
প্রসক্তিৰ্ধনে কাম দগ্ধ তেজে যা’র।
সৃষ্টি করে ’র এই শক্তির স্বীকার ।
রহি’ রহােনিকেতনে,
বসি’ সুরচিতাসনে,
প্রেমরাগে গৌরীহর করেন বিহার ।
স্মিতাননে সুধাহাস,
বদনে অমৃত ভাষ,
অপরূপ ভাবে মুগ্ধ অখিল-সংসার।
চাহি তা’য় স্নেহভরে,
সাদরে ধরিয়া করে,
কনক-বলয় মম কবচে তাহার ।
পরাইয়া দিমু-’য় কবচালঙ্কার !!
পরিতৃপ্ত বাঞ্ছা তা’য়
বিশ্ব যেন ভ্রম প্রায়,
উদ্বেল হইল ইথে সাগর সুধার !
সুধার সাগরে মগ্ন জগৎ-সংসার !!
(১০)
কি ভাবে বিভাের হেন মত্ত মম মন!
কি টানে রাখি গো তঁা’র নয়নে নয়ন!
গলে বাহুলতা-পাশ,
নয়নে নীরব ভাষ,
কি দিব্য প্রেমের রাগে ঢল ঢল মন!

৪২
শক্তি-মুক্তি।
,,,,
১৮, ১৫
করে কর কম্পমান,
• যেন দেহ মুহ্যমান,
কি এক বিষম গতি অন্তরে এখন
আলেখ্য-অঙ্কিত প্রায়,
চেতনা নাহিক হায়,
নয়নে আঁধার—তা’য় অশক্ত দর্শন!
অন্তরে অলােক-মালা-অন্ধ এ নয়ন!!
(১১)
অলসে অবশ-অঙ্গ উভয়ে এখন,
চলেছে কি খেলা মনে—যেন বা স্বপন।
মন্দিরের অন্তরালে,
চন্দ্রমা চন্দ্রিকা-জালে,
আবরি’ দম্পতি-প্রতি করে নিরীক্ষণ।
হৃদয়-মুকুল ফুলে,
হর্ষে পড়ে হেলে দুলে,
নাচায় পুষ্পিতা লতা হর্ষে সমীরণ ।
এ প্রমােদে প্রমােদিনী,
উথলিয়া স্রোতস্বিনী,
কি সুস্বরে প্রেম-ভরে মাতায় জীবন।
রাধাকৃষ্ণ-প্রেমে বয়' যমুনা যেমন !
(১২)
যা’র কোপানলে ভস্ম দুর্নিবার ময়;
এ যােগে উৎপন্ন তা’য় 'কুমার-কুমার !

তৃতীয় সর্গ।
৪৩
• : +++
e-mars, tv,
পবিত্র প্রণয়-বশে,
ভাসি সুখ-শাস্তিরফে,
কুমারসম্ভবে কেন বিষম বিকার !
কেন মাতােয়ারা-বেশ,
হেন আলুথালু-কেশ,
কেন গাে বিহ্বলা ক্ষিপ্তা—বিচালিত মন।
মুগ্ধনেত্রে চেয়ে রহি-না জানি কেমন।
(১৩)
অহহ কি বিষম বাথা লেগেছে পরাণে !
পাগলিনী চেয়ে আছে কেন পতি পানে।
হারায়েছে মন তার,
নেত্রে দৃষ্টি নাহি আর,
বিহ্বল কাতরা কেন নষ্ট অভিমানে-
করাল কালের গ্রাসে চাহি ক্ষুন্নপ্রাণে !
(১৪)
একি এ মত্ততা কিংবা মন্ত্র-অভিচার।
কিংবা এক অবসাদ—কি এক বিকার ।
আলস্য জন্তণ তায়,
অনিদ্ৰ নিদ্রিত প্রায়,
কি যেন দেখিতে পাই স্বপন-আকার ।
“সুখাব্ধিতে শােকানল,
সপ্ত-জি হলাহল,
.

৪
শক্তি-মুক্তি
!
উগরি’ করেছে তা’য় এ মনােবিকার !
সুখসিন্ধু হয় ইথে শােক-পারাবার !!
(১৫)
অহহ কি বিষম ভ্ৰম-বিজড়িত-মনে,
জীবন-বলকী ছিন্ন-তন্ত্রী কি কুক্ষণে।
মত্ততা না মােহ ভ্ৰম,
বুঝি না কি উপক্রম,
কি বিচিত্র পরিণাম হেরিনু নয়নে-
হেমবর্ণ যােগেশ্বরী,
কিংবা ভীম দিগম্বরী,
বহুরূপা মহীয়সী শক্তির দর্শনে
হেরি কি বিষমরূপা জাগ্রত স্বপনে।
(১৬)
কুমার-বিচ্ছেদ-শােকে এ দশা তােমার,
হয়েছ উন্মত্তা ক্ষিপ্ত ভুলি এ সংসার।
যে বিষ্ণু পবন হয়,
রক্ষা-হেতু বিশ্বময়,
’রই প্রকোপে হয় জগত-সংহার!
পবন জীবনায়ু,
পৰনে জীবন-লয়,
পবন-আশ্রয়ে সতি, এ ঘাের বিকাশ
অভাবে চেতনা-রক্ষা--মোহ কি সংহার !!

তৃতীয় সর্গ ।
৪৫
manana
(১৭)
হেরি স্নেহের মূৰ্তি কর হাহাকার !
হা কৃষ্ণ!হা ফণি! কোথা স্নেহের কুমার।
পবন আকুল তায়,
শােকে শােক-গীতি গায়,
শােক-ভরে এ সংসার—শোকের আগার।
চামেলী যূথিকা-বেলা,
মল্লিকা মালতী মেলা,
বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত হয়ে রহে চারিধার
অবিরাম শােকবেগে বিষন্ন সংসার।
•(১৮ )
চরণ-বিন্যাসে নিত্য হরিতে এ মন।
কেন পদভরে কাপে ভুবন-ভবন!
হুঙ্কারে বিদরে ব্যোম,
বিচলিত সূৰ্য্য সােম,
উজ্জ্বল-নয়নে খেলে দীপ্ত হুতাশন।
ঘাের ঘট্ট অট্ট হাস,
কিবা-শক্তি সুপ্রকাশ,
প্রলয়-সাগরে যেন তরঙ্গ ভীষণ।
মন্দিরে একান্ত দেশে,
বসে আলুথালু-কৈলে,
কি ৷ি আবেগে এবে বিষন্ন বদন!
'চাহি সে মুখের পানে উদাস নয়ন!!

৪৬
শক্তি-মুক্তি
Mvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvv
* ***
t
( ১৯)
অঘ্নি সতি, উন্মাদিনী মূৰ্ত্তি ভয়ঙ্করী ।
চাহিতে ওমুখ পানে সদা শঙ্কা করি !
হায় সতি, বিষাদিনী,
শােক-ভরে উন্মাদিনী,
সম্বর এ ভীমা মূৰ্ত্তি সম্বর সম্বর !
হৃদয় শ্মশান যবে,
এলােকেশী-বেশে তবে,
নেচেছিলে—দেখেছিনু তুমি শুভঙ্করী ?
ভয় পাই—হেন মূর্তি সম্বর সুন্দরি !!
(২০)
হা ফণি। হা বিষধর ! নির্দয় নন্দন।
স্তন্য-পানে দিলি মায় গরল ভীষণ।
জীর্ণ। সে সে হলাহলে,
ভাসে তাই নেত্ৰ-জলে,
ওরি তরে জরাজীর্ণ আমার জীবন!
দুৰ্ব্বহ জীবন-ভার,
বহিতে না পারি আর,
ভাঙ্গিল ভাঙ্গিল তাই সুখের সদন!
নিৰ্বাপিত করি বিসে বিষের জ্বলন!!
(২১)
অহাে সতি! একি হেরি ও করে তােমার !
কি ভীষণ অস।-কেন চাহ চারি ধার !

তৃতীয় সর্গ।
৪৭,
০
হৃদয়-কুসুম-বন,
কর এবে উৎপাট
শ্মশান করিয়ে কর জগত-সংহার ।
চাহি না তিলেক সুখ,
তীক্ষ্ণধার অসি-মুখ,
বক্ষোবেধ কর কেন?
কর ছেদ—নির্বাপণ হ’ যন্ত্রণার !
তােমার সংহার-মুত্তি মনােজ্ঞ আমার !!
(২২)
অহাে কি গরজে ঘন বিদরে গগন,-
এ কি এ প্রলয়-ধ্বনি-মৃদঙ্গ-ধ্বনন!
অনন্ত এ নিদ্রা-অঙ্কে,
অনন্ত এ মােহাতঙ্কে,
অনন্ত শয্যায় এবে করি গে শয়ন।
কেঁদ না গো শক্তিমতি,
কঁদিব না আমি সতি,
নিষ্ফল ক্রন্দনে আর কিবা প্রয়ােজন।
নীরবে মিলায়ে যা’ সাধের স্বপন !!
(২৩)
প্রচ মার্ত্তও কর তীক্ষ বিষময়,-
তীব্র জ্বালা ত’য়-হয় ভীতির উদয় ।

শক্তি-মুক্তি
প্রশান্ত অনন্ত ধ্বাভ,
'।
শান্ত করে যত ক্লান্ত,
তমস্বিনী যামিনীই মম সুখায় !
আঁধারে নিদ্রার সুখে,
ভুলিব শশাকের মুখে,
নীরব নিস্তব্ধ বিশ্ব হবে শান্তিময় ।
অশক্ত সে শান্তি-ভঙ্গে বৃষ্টি-ঝঞ্চাভয় !!
(২৪)
একান্তে দাঁড়ায়ে সতি কি ভাবিছ মনে;
কি বিচার কি বিতর্ক কর ক্ষণে ক্ষণে।
বলি জীবহত্যা নয়,
পুণ্যে পাপ নাহি রয়,
সাধ কৰ্ম্ম, ত্যজ ভয়, রাখ আর্ন্তজনে।
সেই প্রেম নিত্য ভাল,
অবিক্রিয় চিরকাল,
অনন্ত জীবন পা’ সে প্রেমিক জনে।
অনিত্য প্রেমের তরে,
যে যন্ত্রণা হৃদি ধরে
হতাশ—হতাশচাই নিত্য-প্রেম-ধন!
বৃথা আশা সুনিশ্চয়,
সে প্রেম পাবার নয়,
এ দেহ-পিঞ্জরে কেন পাখীর বন্ধন।

তীয় সর্গ।
৪১
• • • • •। । ।
এ পিঞ্জর ভেঙ্গে থাক,
প্রাণপাখী উড়ে যা’
পুড়ে হ’ ছারখার পিঞ্জর এখন ।
হলাহল জ্বালা-মালা,
নিত্য সহি বেধ-জালা,
তাই বক্ষে অসি-বেধে জ্বলি অনুক্ষণ!
সহি প্রসারিয়ে বক্ষঃ—বেধের জ্বলন!!
(২৫)
কেন মুহমান সতি! নিষ্পন্দা এখন।
কি ভাবে বিভােরা-কর বিশ্বনিরীক্ষণ।
কায়মনােবাক্যে জানি,
তােমাগত প্রাণ মানি,
করেছি তােমায় এই আত্ম-উৎসৃজন ।
বৈধ-ভেদ-জ্বালা যত,
জ্বলুক না অবিরত,
শঙ্কা—পাছে তব হৃদে তা’র সংক্রমণ।
ঘুচা’য়ে সকল জালা,
মুণ্ডগ্রহে মুণ্ডমালা,
পরেছ আদরে করি’ কণ্ঠের ভূষণ !
ছেদবিধি ভাল জান,
মুণ্ডগ্রহে সুপ্রমাণ,
পশুবন্ধচ্ছেদ—বলি—মুক্তির কারণ!

শক্তিমূৰ্ত্তি কেন বেধ-জ্বালা কাল, বেধ চেয়ে ছেদ ভাল, অসিঘাতে শিরচ্ছেদে—নিৰ্বাণ-সাধন। ধর ধর উত্তমাঙ্গ, পড়ে থাক্ অধমাঙ্গ, এ ভগ্ন পিঞ্জরে হক পাখীর মােচন । উড়ে গেলে প্রাণ-পাখী, কি হবে পিঞ্জর রাখি, অগ্নিদাহে ভস্ম হক স্মৃতি-বিলােপন ! তাই বলি, বেধ-ভেদ- হ’তে ভাল শিরচ্ছেদ, প্রসারিয়া স্কন্ধ তাই আছি অনুক্ষণ! পড়ুক নিশিত অসি পড়ুক এখন !! (২৬) ( অহহ!) হ’ল না—হ’ল নামম আশার পূরণ ! লুকাল প্রেয়সী মূৰ্তি করি সম্বরণ ! কেন গাে কল্পনারণি ! ভবিষ্যৎ-চিত্রখানি, আঁকি কি জাগাও মােরে করি প্রদর্শন। এ জীবনে আমি আর, পাব না সে প্রেমধার, পাসরি কেমনে সেই প্রেমচুলানন !

তীয় সর্গ।
* * * * * * * *
-
অসম্পূর্ণ এ ভুবন,
অসম্পূর্ণ এ জীবন,
অসম্পূর্ণ রবে সব-আশা অপূরণ।
মন-আশ মনে লয়-ভাবি-প্রকটন।
(২৭)
হেমরমা হীনকাম বিলাস-বর্ধনে,-
নিষিদ্ধ আচার-রতা অভাব-পােষণে!
বলয়-নুপুর-দ্বয়,
হরণে বিষাদোদয়,
অনন্ত-বিষাদ-স্রোতে প্রাণানন্দ-ক্ষয়।
প্রাণানন্দ নিকেতন,
যেন রে বিজন বন,
তাই সতি, করেছ কি একান্ত-শ্রয় ।
দেখিতে দেখিতে কেন,
হ’ল পরিণাম হেন,
পূর্ণা শক্তি শক্তিহীন হ’ল কি কারণে !
চিরতরে বিসর্জন শান্তির এক্ষণে!!
(২৮)
আমার সংসারে সতী শান্তি-বিধায়িনী ।
অশক্ত কেন সে শক্তি-রূপা সীমন্তিনী।
কি শােকে আকীর্ণ গেহ,
কি,বিষে বিশীর্ণ দেহ,
কেন আজ অচেনা আনন্দ-দায়িনী !
.

শক্তি-মুক্তি।
আঁধারে ঢালিয়া অঙ্গ,
করিতেছ এ কি রঙ্গ,
অথবা এ মর্ত্য সঙ্গ ত্যজেছ রঙ্গিণী ।
ত্যজিলে জনম মত জীবন-সঙ্গিনী।
(২৯)
অন্তর কাঁদিয়া উঠে—কি শোক-নিদান।
স্তব্ধ। শক্তি-আনন্দের তা’য় অবসান।
সুখের স্বপন যেন,
চকিতে ফুরা’ল হেন,
মনে হয় হ’ল অঙ্ক-নিধি-অন্তর্ধান।
ঘিরিয়ে স্বজনগণে,
ভাবিছে, আপন-মনে,
শ্রবণে শুনায় বায়ু কি শশাকের গান।
হা সতি! কেমনে তুমি,
ত্যজিলে এ কৰ্ম্ম-ভূমি
প্রতিশ্রুত কৰ্ম্ম নাহি করি’ সমাধান
জীবনের কুপ্রভাতে,
এ কঠোর বজ্রাঘাতে,
হৃদয়-মন্দির হ’ল ভগ্নখান-খান।
বিষাদ-অাশ্রয়-ঘাের শ্মশান-শ্মশান!!
(৩০)
সুন্দর হৃদয় ল’য়ে সুন্দরি ললন!
সংসারের সুখতারা নিব কি কারণে।

তৃতীয় সর্গ।
হা সতি !e কোথায় যাও,
বারেক ফিরিয়া চাও,
প্রতিজ্ঞা অপূর্ণ রাখি’ যাওগো কেমনে
প্রযুল প্রসূন যেন,
মকুমার মন হেন,
কঠোর কালের বশে ঝরে অল্পক্ষণে!
সহিতে অশক্ত-তীক্ষ্ণ-শিশির-পতনে ।
(৩১)
হঠাৎ চাহিলে সতি, কৃপেক্ষণে যাই,
অমনি পাই দেহে নব প্রাণ তাই !
অপরূপ রূপ তব,
হেরি যেন অভিন,
বিস্ময়-বিহ্বল-নেত্রে তৰ মুখ চাই।
নীরব-সন্তাষে মন বিভাের সদাই।
(৩২)
তৰ প্ৰাণ পেয়ে সতি, কি হর্ষে মগন।
প্রাণান-নিকেতন সার্থক এখন!
হেরি’ দিব্যরূপ তব,
ভুলিনু বিষাদ সব,
হাসে পুরবাসিগণ,হাসে ত্রিভুবন !
সবার মনে প্রেমে অশ্রু বিসর্জন ।
--

চতুর্থ সর্গ ( কৰ্ম্মাবসান।) মহাবিষুবসংক্রান্তি-তৃতীয় প্রহর। জ্ঞানােমন্মষ। पतिमुखमनुभूय प्रमगाम्भीर्यधैर्य- मनुभवति विधाय खजने प्रेमसेवाम् । নিলন্ধৰ্মাৱলি সন্তলা सुमतिमिहमुतादःस्नेहयोगैर्विधेहि ॥ রাগিণী মূলতান,—তাল আড়াঠেকা কেন সুদীন তপন, কেন ঘন আচ্ছাদন! কেন হেন খর-কর ক্ষীণকর হন! গগনে বিমান ভরে, প্রকৃতির শির’ পরে, 'অরূঢ় যে, দিবাকর সুস্থির-কিরণ। নবীননীরদ-জাল, চাকিল কিরণ-জাল, সলিম হইল তায় প্রকৃপিবদন।

চতুর্থ সর্গ।
মলিন এ দিনমণি,
মলিন সে সংজ্ঞা ধনী
মলিন তাহাতে সব হৃদি-নিকেতন।
দুর্দিনে স্বকক্ষে বসি,
বিষাদ- ধিরে পশি,
আঁধার হইল দি আঁধার ভুবন।
ধ্বান্তময় ধরাতলে,
কি বিষম জালা জ্বলে,
তা’ হেরি জ্বলিল,-ভস্ম হৃদয়-সদন।
•
(১)
দুর্দিনে দুর্ভোগ-ঝঙ্কা-প্রবল এখন।
মলিন হৃদয়াকাশ সুরাগ-রঞ্জন!
বায়ু সত্ত্বগুণাশ্রয়ে
যাইত আপনি ব’য়ে,
জানি কেন বা তার এ পরিবর্তন।
প্রবল পবন প্রভু,
যে ভাবে বহেনি কভু,
হেন ক্ষিপ্তভাবে কেন করে বিচরণ।
দুর্দৈব জলদ-জাল,
ছায় নভঃ সুবিশাল,
উদ্বেল জলধি তুলে তরঙ্গ ভীষণ।
তরঙ্গ ভীষণ ঘাের,
ব্যাপিল দিগন্ত ওর,
p

শক্তি-মুক্তি।
প্লাবিত হইল তা’য় হৃদি রাঙ্গন।
মেঘাচ্ছন্ন এ দুর্দিনে দুর্ভোগ—কেমন!
t
(২)
কি এক প্রলয়-দৃশ্যে ব্যাপ্ত এ ভুবন ;-
কি এক প্রকাণ্ড কাণ্ড ভীষণ-দর্শন।
আছে বিশ্ব ক্ষীণ যেন,
সলিল-নিলীন হেন,
মােহিনী প্রকৃতি ভীমা-বিশ্ব সুভীষণ !
কি এক গম্ভীরাকার,
জলময় চারিধার,
প্রলয়-পয়ােধি-গ্রাসে গ্রস্ত বিশ্বজন।
পদে পৃথী জলময়,
শিরে ব্যোম মেঘময়,
মেশামেশি করি’ করে স্বজনে স্বজন।
প্রকৃতি গম্ভীরাননা,
লুকায়িত দিগঙ্গনা,
চাহিতে চাহে না চক্ষু মুদিত এখন।
সম্মুখে অভাবে ভাবে গাঢ় আলিঙ্গন।
(৩)
অভূদিত রবিচ্ছবি জাগে মনে মনে,
প্রাবল্যে বিলয় ৫ র যেন কি স্বপনে।
।

চতুর্থ সর্গ।
প্রখরা প্রকৃতি ধনী,
শিরে ল’য়ে সূৰ্য্যমণি
পরিয়ে কিরণমালা হাসিত যেমনে-
গম্ভীর-বদন-ভার,
লুকায়েছে হাসি তার,
কি এক দুর্দৈব যােগ ঘটেছে এক্ষণে !
দুর্দিনে তড়িত-রাশি,
কালের করাল হাসি,
প্রলয়-পিণাক নাদে ভীষণ-গর্জনে।
ভয়ে ভব ত্রাহি ত্রাহি,
এ দুর্দিনে পাহি পাহি,
রক্ষ গাে প্রকৃতি-সতি রক্ষ কৃপেক্ষণে।
এ বিশ্বগ্রাসিনী মূৰ্ত্তি হেরি ভীত-মনে !!
(৪)
কোথা শান্তিময়ি সতি, মানস-মােহিনী।
হৃদয়াধিষ্ঠাত্রী মম আনন্দ-রূপিণী !
যেরূপে নয়ন মন,
ভুলাইতে অনুক্ষণ,
শক্তিরূপে শব-দেহে শক্তি-সঞ্চারিণী ।
সেইরূপে এস দেৰি, কৰ্ম্মবিধায়িনী
(৫)
কৃষ্ণ-কাদম্বিনী-কোলে দীপ্তা সৌদামিনী
লুকাইয়া উকি মার কে তুমি মােহিনি !
!

* ৫৮
শক্তি মুক্তি।
।
নবীন-নীরদ-কোলে,
কনক-ম্মািন দোলে,
তাহে দিব্যমূৰ্ত্তি হাসে দৃষ্টি-সন্তাপিনী।
ক্ষণে দৃষ্টি সন্তাপিয়া,
পশিল কোথায় গিয়া,
কি খেলা খেলাও এবে সুরতরঙ্গিণী !
ধ্বন্তময় ধরাতলে,
কি বিষম জালা জ্বলে,
জ্বলে জ্বলে আছি বেঁচে জীবন-রূপিণী ।
তব কৃপা-লাভ-আশে এ দীন-যামিনী !
আহা দৃষ্টি-সন্তাপিকা ক্ষণপ্রভা ক্ষণে,
দোলায় তােমায় সতি, হেরিনু নয়নে।
বায়ু বয় সর-সরে,
জল ঝরে ঝর-ঝরে,
তার সনে ঝরে নেত্র তব অদর্শনে।
চঞ্চল চপলা বালা,
লয়ে অনলের মালা,
পরা’তে কাহারে চাহে কর-প্রসারণে,
কিংবা ল’য়ে জ্যোতিৰ্ম্মালা,
. দুর্দিনে সুরতবালা,

চতুর্থ সর্গ ।
এ অধম-গলে দিতে চাহ সযতনে।
এ দুর্দিনে এ অধমে ভালবাস মনে !
(৭}
মম দুঃখেস্থির স্তব্ধ এবে সমীর
তুমি সতি, বুঝিলে না মরম-বেদন!
হা সতি, পাৰ্বতি, তুমি,
জলে লীন, হৃদি ভূমি,
সর্বদা বিষাদ হেরি সরেছ এখন।
মানিনি, কি অভিমানে,
কেমন কঠিন-প্রাণে,
ভুলেছ পাইয়া নিত্য-সুখ-নিকেতন।
ভুলেছ সে ভালবাসা দে সুখ-মিলন ।
(৮)
প্রাণানন্দ-নিকেতন বিষাদ-নিলয় ।
দুর্দৈব-পীড়নে পুনঃ নিত্য ভীতিময়!
অয়ি শক্তিময়ি সুতি,
নিত্য তুমি ভাগ্যবতী,
অভাগার গৃহে তুমি শান্তির আশ্রয় ।
দেখা যদি পাই তব,
প্রাণ পাই অভিনব,
অভিনবল প্রাণে স্বতঃ উপজ
ভাগ্যবতী অভাগার তরে সৃষ্ট নয়।

৬০
শক্তি-মুক্তি।
Ae * AAA, ।
.
}
২
(৯)
আসিয়াছ সুকােচনে পাৰ্বতি, আমার ।
বল সতি, বল বল কুশল তোমার!
এসেছ সুরতবালে,
প্রণয়-প্রসূন-মালে,
আকুল হেরিয়ে মােরে এসেছ আবার।
তােমার অপাজেক্ষণে,
শূন্য হৃদি রঙ্গাঙ্গনে,
বহে পুনঃ সুধাস্রোতঃ নিত্য শতধার।
দুর্ভাগ্য-বিজয়ে কর শক্তির সঞ্চার।
(১০)
জড় প্রায় কেন আর ধ্যানে নিমগন।
প্রত্যক্ষ শক্তির যােগে নবীন জীবন।
প্রেম-প্ৰবাহিণী-তীর,
শক্তি সনে স্থির ধীর,
ধ্যেয়-লাভে ধ্যান ভঙ্গ হইল এখন।
আলস্য ঘুচিল তাই,
কারেও কটাক্ষ নাই,
উপেক্ষা দুর্দৈবে-সুখে উপেক্ষা তেমন !
ভূ আসন, শিরঃ ব্যোম,
তুচ্ছ গ্রহ সূৰ্য্য সােম,
উপেক্ষা অনিত্য-বিশ্বে তাই অনুক্ষণ!
জগত জগত বলি উপেক্ষা এমন!!

চতুথ সর্গ।
৬১,
(১১)
প্রেম-প্ৰবাহিণী-তীরে সতী-আলিঙ্গনে
শক্তি লভিশক্ত-সহি দুর্ভাগ্য-তাড়নে।
পাইয়া ধ্যানের ধন,
নব-প্রাণে অনুক্ষণ,
দৃপাত নাই আর ত্রিতাপ-জলনে।
সতীজ্যোতিঃ সিতকর,
এবে তায় দীপ্ত ঘর,
সতী-দ্যুতি ব্যাপি’ করে উজ্জল ভুবন।
কমলার মনােলােভা,
ঐশ্বর্যের দিব্য শােভা,
লজ্জিত হেরি সে দিবা-প্রভা অতুলন।
শক্তি-সঞ্জীবন জ্যোতিঃ-নয়ন-রঞ্জন।
(১২)
মধুর মধুর তব রূপ মনােহর।
মৰ্ত্তমস্থলী তা’য় শ্যামল সুন্দর!
তােমার অপাঙ্গেক্ষণে,
খেলে হর্ষ মনে মনে,
ঘুচায় তৃষিত-তৃষ্ণা তব সুধা-স্বরে !
নিভৃত হৃদয়াসনে,
রাখি তােমা সযতনে,
আঁখি ভরে হেরিং সুখী—অন্তরে কাতর ।
লজ্জা ভয় নাই—চাই তােমা নিরন্তর।
.

শক্তি-মুক্তি।
**।।.।... * * * * * * * * * * * *
•
(১৩),
জোতির্ময়ী মনােহরী মূর্তি বিমােহনী,
সদা যায়—গৃহ মম আনন্দের খনি!
কেমন সানমনে,
কুমারী-কুমার-গণে,
হাসে খেলে কোলাহলে বেড়ি তােম। ধনি ।
কত জাল সহি পরে,
আন্ন আহরণ করে,
আনন্দ-প্রতিম হেরি ক্লেশ নাহি গণি।
মৰুময় মতলে,
গৃহ-সরঃ-শতদলে,
মধুপানে মত্ততা’য় সুখের অবনী ।
ক্ষুধা তৃষ্ণা হয় দুর,
হর্ষে হৃদি ভােরপুর,
নয়ন পরাণ ভরে—সতি গৃহমণি,
তােমার সহাস্য আস্যে গৃহ সুখখনি ।
(১৪)
প্রাণানন্দ-নিকেতনে আনন্দ রূপিণী,
কি কৌতুকে মাতি’ সতী নিত্য কুতুকিনী !
সংসার-মন্দিরে তব,
হয় নিত্য নবােৎসব,
আনন্দে বিহ্বল চাই—বিশ্ববিকাশিনী!

চতুর্থ সর্গ। ৪ ৬৩ * uvo * a = 5. . . . । । । এ । । । । । । । । ,,। - কে তুমি চিনিতে চাই, কি মােহে ভুলিয়ে যাই, সদাই সম্মুখে হেরি স্বয়ম্প্রকাশিনী, যন যা জাগে মনে, ডাকি সেই সম্বােধনে, তাতেই তুমিও সতী চাহ সুহাসিনী । কি মেহের ঘাের-তােমা চিনিতে পারিনি। (১৫) রহস্যে বিরাজমানাস্বহস্তে মগনা! তােমার রহস্যভেদে কেন এ বাসনা ! রহস্য বিশ্বের প্রাণ, রহস্যই স্মৃৰ্ত্তিমা, সংসার রহস্যময়-রহস্যে সাধনা। যদি ভালবাস মনে, চাহ এ অধম জনে, পূরাও এ প্রেমাধীন জনের কামনা। কে তুমি মহতী সতী, শান্তিময়ী মহামতি, অনন্ত রহস্যময়ী মােহিনী ললনা । শে তত্ত্বলাভ তরে, নিত্য আরাধনা করে, !

৬৪
শক্তি-মুক্তি।
*******
নিয়ত নিরত ধ্যানে-তোমার ধারণা
প্রমত্ত করিয়া রাখে ভুলায় ভাবনা!
(১৬)
প্রকৃতি বিকৃতিময়ী স্বভাবে অভাব,
পুরুষ পরূষমনা বিষম স্বভাব।
পাষাণে প্রসূন ফুটে,
পাষাণে সরিৎ ছুটে,
কোমল-কঠোর-প্রীতি অনন্ত-প্রভাব।
সুখশান্তি সমবেত,
ঐশ্বৰ্য্য বিভব এত,
কোমল অভাবে হেরি সবে ব্যর্থভাব ।
সুধীর সমীর সনে,
প্রাণ-বায়ু সম্মিলনে,
দেখায়েছ তিরােভাব পুনরাবির্ভাব।
কত হাসি কঁাদি হেরি সেই ভাবাভাব!
(১৭)
অধরে ধরে না হাসি কি ভাবে ভাবিনি।
ফুল্ল আত্ৰ নেত্রে কেন চাহলো মােহিনি !
তব মুখ-চন্দ্র চুমি,
হর্ষে তুচ্ছ স্বর্গ-ভুমি,
পাষাণ-হৃদয়ে বহে প্রেম-প্ৰবাহিণী।

০
^^^^^^^^^^^^^^^^^
.
চতুর্থ সর্গ ।
তব সে পীবর স্তন,
সুধাশৈল সুশােভন,
নিত্য নেত্ৰমনােহর—শক্তি-আকর্ষিণী।
পীনােত পয়ােধর,
সুশােভিত মনােহর,
বিশ্বধাত্রি, আত্মরমে,
ক্ষরে ক্ষীর তা’য় যেন স্নেহ-নিঝরিণী ।
ধারা তার ক্ষুধা-হরা
আত্মজের আশা-ভরা,
জীবন-রক্ষিণী স্বতঃ সুধাস্রোতস্বিনী ।
সুধার্জ হিমাদ্রি-শির,
ফুটি যথা গঙ্গানীর,
সুধাদানে তােযে জীবে কল্যাণ-দায়িনী
সুখদা মোক্ষদা গঙ্গা শান্তি-প্রদায়িনী
!!
!
(১৮)
অমৃতশীকরসিক্ত মৃদুল শীতল ।
সুধীর সমীর বয় আনন্দে বিহ্বল।
এবে সতীসন্তর্পণে,
লুকাইল সঙ্গোপনে,
রূপের মাধুরী ব্যাপ্ত দিশি অবিরল !.

শক্তি-মুক্তি
।
উদার উজ্জ্বল কায়া,
বিহরে তোমার ছায়া,
নিরন্তর দৃষ্টি-পথে-চঞ্চল-চঞ্চল!
গিয়াছে তরুণ-কাল,
চাপল্য কি লাগে ভাল,
লুকাচুরি খেল কেন—কেন এত ছল।
আমি যে, সুরতবালা,
ল’য়ে প্রেম-ফুলমালা,
গন্ধে ভাের—নাহি হেরি' নেত্ৰ ছল ছল ।
কল্পনা দেখাও তার রূপ ঢল ঢল !!
(১৯)
অনল-শােধিত দিব্য প্রাসাদ সুন্দর,
অনল-শােধিত দিব্য নাভস-অম্বর ;-
পেয়ে ভুলিয়াছ সতি,
মর্ত্যজীবে
অশনি-কঠোর তাই তােমার অন্তর !
ছায়ারূপে দেখা দিয়ে,
পুনঃ থাক লুকাইয়ে,
লুকাচুরি খেলি’ হায় ! কি সুখে বিহর !
বুঝি’ মরম-ব্যথা কিবা রঙ্গ কর !!
(২০)
মােহিনি, মােহন-রূপ লুকাবে কেমনে,
মানসমুকুরে আঁকি’ রেখেছি যতনে।
তুচ্ছ মতি,

চতুর্থ সর্গ।
তব মুখশশী যবে,
হেরি’ এ তুচ্ছ ভব,
মানস-মুকুরে হেরি’ ধ্যান সযতনে।
কি দিব্য স্বপন হেন, .
কি ভাবে প্রমত্ত যেন,
হারনিধি হাতে পেয়ে সদানন্দ-মনে-
তব প্রতিমায় পূজি নিভৃতে নির্জনে !!
(২১)
মত্ত যােগ-যুক্ত প্রাণ-অভাব-সঙ্গমে !
তােমায় ধরেছি ধ্যানে এবে মনােরমে।
তুমি মম ধ্যান-ধন,
জান তুমি মম মন,
হৃদয়-আসন পূর্ণ কর প্রিয়তমে ।
পাৰ্বতি, সুরতবালা,
নিবাও প্রাণের জ্বালা,
রক্ষ কৃপাশ্রয়ে তব এ ভক্ত অধমে।
রক্ষ শক্তি জাগাইয়ে- ঘুচাও বিভ্রমে !!
}

পঞ্চম সর্গ।
( মুক্তি।)
বসন্ত-গোধুলি ।
বাসন্তী মহাশক্তির বিসর্জন।
জ্ঞানযােগ—নৈৰ্ম্মসাধন—নিৰ্বাণ।
"यस्याः कर्मविधौ गरिष्ठघटना: प्रीति: प्रकष्टाहता
पुवेदितनेहचिवरचना: न्यस्त मनो भनरि।
য় জনৰ আননধুলা, না: সম্বন্ধ ভিত্তি
संसाराधितरी रही मम हि सा प्रेमणा प्रवद्धा मयि ॥"
রাগিণী পূরবী-তাল আড়াঠেকা।
মেঘ-আবরণ গেল তপন হাস্যবদন,
নামিছে বিমানপথে করিতে অন্তগমন।
মহাশক্তি-আবিত,
দুর্দিনের তিরােভাব,
শক্তিলাভে কি প্রভাবে উপজে নব-জীবন!

পঞ্চমসর্গ।
দুর্দিন অতীত হল,
মুখ-আশা—মোহছল,
বিধাতৃ-বিধান-বলে বিলীন সুখ-সাধন।
মহাশক্তি-আরাধন,
হল যথা সমাপন,
অনন্ত বিজয় লভি’ কর্মে কল্প-বিসর্জন।
সুখ-আশা নহে ভাল,
দুষ্ট চণ্ড রাহু-কাল,
বদন ব্যাদান করি, অকালে গ্রাসে সে ধন।
গ্রান্ত হইলে হায়,
কে তা'রে দেখিতে পায়,
দুঃখের তামসী নিশা কাদিয়ে করে যাপন।
প্রিয়হারা হয়ে গুলাকে,
ব্যথিত সতত শোকে,
প্রকৃতি প্রণয়ি-হারা ধরিল কাল-বসন।
(১)
শী তান্তে বসন্তকালে উদ্যান সুন্দর!
কি এক নবীন প্রাণে সুখী নারীনর
সুখের বসন্ত কাল,
লেগেছিল যেন ভাল,
কে সে সুখনাশ করি কঁদালে অন্তর।
সে অপূর্ব সুখ-কথা,
স্মরিলে যে পাই ব্যথা,

৭০
শক্তি মুক্তি।
কি শঙ্কায় আতঙ্কিত - ভয়ঙ্কর !
অপ্রিয় সংযােগ প্রাণ অতীব কাতর।
*(২)
বসন্তের অবসান মাধুৰ্য-বিলয়।
উন্মুখ নিদাঘ-তবু অন্তরালে রয়!
গতপ্রায় দ্বিপ্রহর,
নামিছেন দিনকর,
নীরব নিস্তব্ধ স্থির গভীর আশ্রয় ।
তৃষায় রসনা-শােষ,
ফাটি’ছে হৃদয়-কোষ,
সৰ্ব্বদা আকাঙ্ক্ষা পেতে সুমিগ্ধ নিলয় !
শীতল উপল-তলে,
অঙ্গ ঢেলে পলে পলে,
সুখলাভ তরে মনে আশা-উপচয় ।
সুখশান্তি লাভ কভু নরসাধ্য নয় !!
(৩)
পবিত্ৰ পৰ্বাহ আজ—পবিত্র। জাহ্নবী ,
স্নানন্তে কে ধ্যানরত যেন শান্তছবি।
“হয় দেবি, শক্তি দাও,
নয় মােরে মুক্তি দাও,
কৃতাঞ্জলি গঙ্গা-পাশে কে মাগে মানৰী।
৫

পঞ্চম সর্গ ।
৭১
“শক্তি ও দিবাকর,
নহে এবে মুক্ত কর”-
মাগে বর বর-যােড়ে প্রণমিয়া রবি।
কে পৱিত্ৰা মূর্তিমতী শান্তা নারী ছবি।
(৪)
চিনেছি চিনেছি সতি, শক্তি-স্বরূপিণী ।
সুমঙ্গল-বিধায়িনী বিশ্ববিকাশিনী!
তব হৃদে প্রেম-টান,
পতিপ্রতি বহমান,
সে প্রেম-সুধার ধারা শক্তি-সঞ্জীবনী ;-
অমর সে প্রেমনিধি,
অমর সে প্রেমবিধি,
তাহাতে অমর মৰ্তে প্রেমী প্রণয়িনী।
সে প্রেমে অমর তুমি,
অমর তাহাতে আমি,
তব প্রীতি নিত্য মম জীবন-রক্ষিণী ।
তব প্রীতি নিত্য মম আনন্দ-দায়িনী।
(৫)
তুমি সতি, মহাশক্তি কর্মের সাধনে ;
সাধাইয়া সিদ্ধি দাও সাধক-জীবনে।
শক্তিদাত্রী হয়ে সতি,
শক্তি ও এ কি মতি,
মুক্তির জননী শক্তি—মুক্তির প্রার্থনে
P

१२
শক্তি-মুক্তি
প্রকৃতি বিকৃত তা
নিশ্চল নিস্তব্ধা প্রায় !
সে বাণী নিশিত বাণ ছুটিল বনে !
না জানি কি তপজ্যোতি
ভুলালে আমায় সতি,
কি ভাব প্রকাশি’ প্রেম-প্রফুল্ল-আনমে !
ভুলালে সে শক্তি-মুক্তি কি প্রেম-ছলনে!!
(৬)
আবার মরম-ব্যথা কহিয়ে নির্জনে
কপােল বহিয়া অশ্রু বহিল নয়নে।
স্বকৰ্ম্ম-বিরাগ-বশে,
ধিক্কার করিয়া শেষে,
মম বুকে রাখি মুখ করুণ ক্রন্দনে-
যত সাধ তব মনে,
রেখেছিলে সঙ্গোপনে,
প্রকাশি’ কাতর-বাক্যে ব্যথা দিলে মনে।
“ননীর পুতলী কেন!
কর্কশ নির্মম হেন!
ইহার কার্কশ-জ্বালা সহিব কেমনে।
আশীষ পাইতে ত্রাণ এ আলা-অলনে”!!
(৭)
মুর্তিমতী ভক্তি তুমি মেহেয় কাংশার ।
ভাবি না ভুলিবে স্নেহ পিতার মাতার!

পঞ্চম পর্গ।
স্বর্গ হ’তে সুখময়
ভাব সতি, পিত্রালয়,
ভাবিতে ভক্তির বশে যাহে বারে বার।
সোমহ যাহার তরে,
ভুলেছিলে অকাতরে,
ভুলি যাবে আদরের তাহার সংসার।
তাই কি এ মুখপানে চাহ বারে বার !!
(৮)
সংসারে আমার তুমি শক্তি-স্বরূপিণী!
অনন্ত-আনন্দ-দাত্রী মানস-মােহিনী।
কিবা বল পতিব্রতে,
হারায়েছ এ জগতে,
কে ছিড়িল আশালতা কাদা’তে মানিনী ।
বল গাে কিসের তরে,
হাসি নাই বিম্বাধরে,
কি বিষাদে বহে নেত্রে অশ্রু-নিঝরিণী ।
কেন গাে সংসারে’আসি,
শুখা’ল সুখের হাসি,
কি ঘােরা নিয়তি বশে কঁাদ বিষাদিনি ।
বিষন্ন মলিনা তাই এবে বিনােদিনি!!
৯)
অথবা নিয়তি কে রধিতে পারে ?
উদয়াস্ত জন্ম-মৃত্যু ব্যক্ত এ সংসারে!

৭ঃ
।
৫
সৌরভ-সম্পত্তি কয়ে,
হাসে পূপ সুসময়ে,
নিয়তির বশে হয় টুটিতে তাহারে !
অয়ি শান্তিময়ি সতি,
বুঝেছি কি দুনিয়তি,
স্নেহ প্রতিরােধ করি’ কাদায় তােমারে।
হৃদিভরা স্নেহ-প্রীতি,
মনােভরা প্রেমগীতি,
অনন্ত অসীম উৎস ছুটে অনিবার।
কি ঘাের আঘাতে তাহা ভাঙ্গিল আমার
(১৫)
অহো সে স্বপন প্রায় দেখেছি নয়নে ;-
এখনাে দেখিতে পাই সদা পড়ে মনে।
কুসুমের আভরণে,
সুগন্ধে প্রফুল্ল মনে,
মাতি’ মহানিদ্রা-সুখে এ শেয-শয়নে !
“সরল-সুজন-ভালে,
সুখ নাই কোন কালে”—
ভাবি তা পাগল প্রায় চাহি ক্ষণে ক্ষণে।
বিষাদ-বিহ্বল হয়ে চাহি এ ভুবনে !!
(১১৭
দাও নাই অধিকার ওপণে।
সাজাই ও-পদ এবে অলক্তরঞ্জনে!

পঞ্চম পর্গ।
।।।।।।।
মম আয়ক্ষয়-ভয়ে,
কি অবগুণ্ঠিতা রয়ে,
অসম্মতা ছিলৈ যেই শিরঃপ্রদর্শনে।
এব সে সীমন্তে তৰ,
সিন্দুর-সংযােগ নব,
করে দিই—কত শােভ হেরি এ নয়নে।
মনােমত অলঙ্কারে,
অশক্ত যে সাজা’বারে,
সে কুসুম-অলঙ্কারে সাজায় এক্ষণে!
তুচ্ছ রক্তবস্ত্র দিয়ে,
সাজাতে কি চায় হিয়ে,
রাখিতে হৃদয়ে তব চিত্র সুশােভনে।
পলক-বিহীন নেত্রে হেরি ক্ষণে ক্ষণে।
(১২)
মহাশক্তি-অর্চনার আজ সমাপন।
সম্পন্নেরা মহাশক্তি দেন বিসর্জন।
মহাশক্তি-বিসর্জনে,
কাদিল প্রকৃতি ঘনে,
কঁাদিল বিষন্ন-মনে স্বর্গে দেবগণ।
মম শক্তি বিসর্জনে,
কা। লদগণে,
কদিল দেবতাবৃন্দ-কাদিল ভুবন !
৫

৭৬
শক্তিমুক্তি।
ক্রন্দনে ক্রন্দন আয়,
মিশাইয়ে শােকভার,
হ্রাস বৃদ্ধি করি—হেন প্রবৃত্তি-কেমন?-
হারায়ে প্রবৃত্তিরূপা জাগে না এখন!
.
(৩)
মহাশক্তি-তিবােধানে জড় এ ভুবন।
মহাশক্তি-মহানিদ্ৰা সুনিদ্রা এখন।
মেহময় গঙ্গা-কোলে,
ঘুমে বায়ু যেন ঢেলে,
ঘুমেতে চেতনা-হারা প্রকৃতি-ভুবন।
চুলি তাই ক্ষীণমনে,
গঙ্গাতীরে যােগাসনে,
কি এক স্বপনে হয় মানস-তােষণ ।
মুদিয়ে নয়ন যেন,
মানস-মােহিনী হেন,
ঘুমন্ত শ্রবণ নেত্রে করে সুধা-বরষণ ।
কে এবে আকুল-প্রাণ,
তুলিল পূরবী গান,
অস্তাচলে যােগাসনে হেরিয়ে তপন !
ভাঙ্গিল স্বপন হায়!
চির-অমিত শক্তি আমার এখন!!

পঞ্চম’সর্গ।
৭.
(১৪)
আর ত লাগে না ভাল স্বপন-বিলয়
হারা’ সুখের হায় ! দুমন্ত হৃদয়!
চাহি’ এ ভুবন পানে,
কি যেন জাগিছে প্রাণে,
চিতধূমে ব্যাপ্ত যেন ভুবন-নিলয় !
এবে গাে শ্মশানভূমি,
হৃদি-যজ্ঞকুণ্ডে তুমি,
অগ্নিহুত করি’ কর কা’র স্মৃতি-লয় ।
এ যজ্ঞের দীপ্তানল,
নিত্য জ্বলে সুপ্রল,
ইহাতে জগতে নিত্য ভাবের বিলয়।
ভাবের অভাব হয়,
জনম মরণ লয়,
অবিনাশি-বক্ষে হয় প্রবল প্রলয়।
কাজ কি এ বিশ্ব-জীব-ভ্রমের নিলয় ।
(১৫)
শ্মশান-হৃদয়ে যজ্ঞ-কুণ্ডের অনল
দেখিতে দেখিতে দেখ হইল প্রবল !
হেরিয়ে উদয় লয়,
* সমা হেসে বয়,
তরঙ্গ-দোলায় চাপি’ তুলিয়া হিল্লোল!

৭৮
শক্তি মুক্তি।
R
ত্রিতাপহারিণি গঙ্গে,
তরল-ত্তরঙ্গ-ভঙ্গে,
পাগলিনী সম গাও করিয়া কল্লোল।
তুমি মা, কাতর স্বরে,
কা’র শােক গান করে,
অন্তর-বিষাদে গাও হইয়ে বিহবল !
তােমারে আমার মত,
হৃদয় কি বজ্রাহত,
তাই কি আপন-মনে গাহিছ কেবল !
কমাইতে শােকভার-ক্রন্দন সম্বল !!
(১৬)
শশাকের নিবৃত্তি তরে করি যে যতন।
ততই স্বতই বাড়ে—কেঁদে উঠে মন ।
পাৰ্বতি। সুরভৰালে।
দেখ কি দুর্ভোগ ভালে ।
কাতর কাতর অতি শােকদগ্ধ মন!
কি বলেছি অভিমানে,
লেগেছি কি তাই প্রাণে
তব ব্যথা হতে এই আঘাত ভীষণ !
তৰ অদর্শন-শোকে ব্যর্থ এ জীবন !!
(১৭)
প্রকৃতি মহতী কীৰ্ত্তি প্রকা; যতনে ।
মহাসমারােহ করে আজি কি কারণে।

পঞ্চম ‘সর্গ।
কা’র এ ফতী মূর্তি,
জাগায়ে হৃদয়ে স্মৃর্তি,
হৃদয়ের অধিষ্ঠাত্রী তুমি কি ললনে!
নয়ন পলকহীন,
বদন বচনহীন,
শ্রবণ শ্রবণহীন--মন নাই মনে ।
মুখখানি হাস হাস,
আলুথালু কেশ-পাশ,
এলায়ে পড়েছে বাস-লজ্জা সরে ক্ষণে।
এই বিশ্ব কৰ্ম্মভূমি,
ত্রিদিব-সুষমা তুমি,
মনােরমা নিরূপমা কর্মে চন্দ্রাননে।
বদনে ফুটিল হাসি,
মনে প্রাণে ভালবাসি,
হেরি হাসি-মুখখানি জুড়াই নয়নে।
দেখিবর আশা আর ছিল না এ মনে!!
(১৮)
তেমন আনন্দ আর আছে কি ভুবনে।
হেরি এ মহতী শক্তি জাগে যা জীবনে।
প্রয়া তােমায় পেলে,
এ দীন-ইন্দ্রত্ব ফেলে,

৮০
শক্তি-মুক্তি
সুখের সাগরে পড়ি দে.সন্তরণ!
শক্তি-শিব-প্রীতি-যােগ বিশ্বে অতুলন!
(১৯)
কর্মিষ্ঠা জীবনদাত্রী জীবনের ধনে
কি আনন্দ হয় হেরি সহাস্য-বদনে।
ও বিধু-বদনে হাসি,
উগরে কৌমুদী-রাশি,
অথবা কুসুম-রাশি ছড়ায় ভুবনে।
হেরি তা কি হয় মনে,
পাই যেন কি রতনে,
স্তম্ভিত হইয়ে তাই ভাবি মনে মনে !
প্রিয়ে, প্রাণসঞ্চারিণি,
এস মৃতসঞ্জীবনি,
হেরি এ বিষাদে হৃষ্টা মূর্তি এ নয়নে!
দাড়াও হৃদয়েশ্বরি,
হদিক্ষেত্ৰ আলো করি,
আশা ভরি’ হেরি সতি, তবু ফুল্লাননে।
ভুলেনি এখনাে মন সেই দুঃস্বপনে!
(২০)
দেখিয়া না মিটে সাধ ও বিধুবদনে।
জানি কি সুধাধারা ঝরে ও নয়নে।

পঞ্চম সর্গ।
?
কি বিষ জ্যোতিঃ ভায়,
দুখনিশা ঘুচে তায়,
দেব-ভােগ্য সুধাতে বহে অনুক্ষণ ।
এমন সাধের ধনে,
চেয়ে থাকি ক্ষণে ক্ষণে,
সুধাসিক্ত হয় তা’য় হৃদি-নিকেতন!
আদরে গেঁথেছি সতি,
যুথিকা-মল্লিকা-মতি,
মালা প্রেম-সুধাসিক্তা তােমার কারণে।
হৃদি অন্তস্তলে বস নিভৃতে—নির্জনে !!
(২১)
ধরা তব উপযােগী নয় কদাচন।
এখানে মানুষ চায় স্বার্থের সাধন।
যৌবন-জীবন-মন,
বিনিময়ে প্রিয় জন,
স্বার্থ-বিনিময় চায় পশুর মতন।
নিত্য নব আশা ল’য়ে,
ফিরে এই বিশ্বালয়ে,
নরত্ব পশুত্ব হেথা সম-আচরণ।
নাহিক নিঃস্বার্থ কাম,
স্বাথর ধরাধাম,
এস না ধরায় তৈমা করি নিবারণ !

৮২
'
শক্তি-মুক্তি।
থাক ও নিঃস্বার্থ প্রম,
কোমল বিশুদ্ধ হেম,
ল’য়ে তা’ নিভৃহৃদি-কক্ষে অনুক্ষণ!
থাকস্থির করি প্রেম-প্রসূনেঅর্চন!!
(২২)
হৃদি-ক্ষেত্রে প্রাচী-দিশি উদয়-অচলে।
হাসিল মােহিনী দ্যুতি হর্ষে কুতুহলে!
জানি সে বিমলা ভাতি,
পােহাল এ ঘাের রাতি,
হাসে স্বর্গ—এ নিসর্গ হাসে ধরাতলে।
পুষ্পরথ হ'তে পরে,
হাসি’ সতী ফুল্লাধরে,
দেখা দিল হাসি হাসি জ্যোতিঃ সমুজ্জ্বলে!
সুস্থির হইল প্রাণ,
মিটে গেল বৃথা ধ্যান,
সংহত বিদীর্ণ বক্ষঃ কিবা মন্ত্র বলে ।
চেয়ে থাকি মুখ পানে-না জানি কি বলে !!
(২৩)
{
নয়নে নয়নে এবে কি শুভ মিলন।
নীরব বচনে শুভ প্রেম সম্ভাষণ !
কি এক প্রবল টান,
উভয়ে উভয়-ধ্যান, এ
নয়নে মানসে করে একান্ত চিন্তন !!

পঞ্চম সর্গ ।
নীরব পর মন্ত্র,
কে জানে সে যন্ত্র তন্ত্র,
উভয়ে উভয় প্রেমে নিত্য আকর্ষণ।
উভয়ে উভয়ে করি নীরবে অর্জন।
(২৪)
তাই সতি, বহে হৃদি প্রেম-প্ৰবাহিণী।
উদ্বেলা হইয়ে ছুটে সুধা-তরঙ্গিণী !
তাই সে প্রেমাজল,
বহে নেত্র ছল ছল,
অভিষেক করি তােমা জীবন-সঙ্গিনি!
স্বর্ণ শতদলােপরি,
বিরাজ হৃদয়েশ্বর,
ব্যজন এ পঞ্চপ্রাণে করি গো যােগিনি !
মনাে-ভৃঙ্গ খুলে প্রাণ,
ধরুক তােমার গান,
জীবন্মুক্তি আনে সতি, আশা-কুহকিনী।
প্রীতি-যােগে তব ভুক্তি,
অন্যথায় মম মুক্তি, ।
চাই সদা তব পানে শক্তি-সঞ্চারিনি ।
ভূক্তি-মুক্তি-প্রদা তুমি হৃদি-বিহারিণি !!
সমাপ্ত।

No text on this page.

শান্তি
यामृतदावी शक्तिविधाने
আনিৰিধাৰী যা মিলান।
या ग्टहमेधौ सिद्धिविधात्री
सा मम नित्यं कर्म-नियोजौ ॥
(গীত)
রাগিণী রামকেলি,, তাল-একতালা
প্রিয়ে, মধুর এ তব রঙ্গ।
অনিত্য ভঙ্গ, নিত্য তব সঙ্গ,
ক্ষুব্ধ হেরিয়ে অনঙ্গ।
দিব্য মনােহরী মুরতি তোমার,
সদা হাসে হৃদি-আলয় আমার,
সুবৰ্ণ-বরণে, বিমল-কিরণে,
এ কি সে মধুর প্রসঙ্গ।
হৃদি মরুমঝে তব কৃপেক্ষণে,
মধুর লাবণ্য খেলে ক্ষণে ক্ষণে,
শ্রীরূপ,তােমার প্রেম সুধাধার,
বহাপ্রেম-তরঙ্গ।
শ্রীরূপ তােমী

প্রেস-স্রোতে সুখে শুঙ্গ ভাইয়ে,
তব প্রেম-ঙ্গি আয় করিয়ে,
ক্ষুধা তৃষ্ণা ভুলি, যাই কোথ চলি,
পেয়ে কি কামনা-সঙ্গ ।
নিখিল এ বিশ্ব মগ্ন ভাবে তব,
কৰ্ম্মজ্ঞান-যােগ তোমার বিভব,
তুমি প্রাণরসা, নেত্ৰ-মনোরমা,
নিত্য ধ্যাত তব অঙ্গ।
নিত্য-লীলাভূমি তব এসংসার,
তব ইচ্ছ।-বশে মন সৃষ্টিকার,
প্রজাপ্রপালিকা, উত্তর-সাধিকা,
( কর) কেন কৰ্ম্ম অশা-ভঙ্গ।
হৃদিসিংহাসনে রাজরাজেশ্বরি,
বিহুর সানন্দে তুমি প্রাণেশ্বরি,
তুমি শক্তি সতি, আমি শক্তি-পতি,
শেষ হক এ বিশ্বরঙ্গ।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Shakti-mukti

Author
Ghosh,aghoranath
Title
Kabya
File name
Shakti-mukti
Text
OCR done
Citation
1911
Published
2009/10/21
Publisher
S.n. Ghosh,calcutta
Language
Sanskrit
Pages
99
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Gyan
DLI number
513253
Barcode
4990010020249.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
0Yijyv8HMFR
Download PDF

Shakti-mukti