Bally Sadharan Granthagar

Sukh - Bhram Ed. 2nd

Roy, Sri Krishnendra · 2009/10/21

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

সুখ-ভ্রম
শ্রীকৃষ্ণেন্দ্র রায়
প্রণীত।
ক
দ্বিতীয় সংখণ।
কলিকাতা
২৬ নইলেন, ভারতমিহির বয়ে,
সাল এ কোম্পানি যারা
সুজিতকাছি।
=
১০১।

No text on this page.

গ্রন্থ-সূচনা।
সর্বসিঙ্কিপ্রদ সিদ্ধিদাতা নাম,
গণপতি গজাননে,-
শত প্রণিপাত, করি প্রবেশিতে,
ইছিনু কবিতাবনে,-
হায় । কি দুর্ভাগ্য, দ্বারের নির্ণয়,
কোন রূপে না পাই,
জমি নিরন্তর,
দুঃখে অবসর
দেহেরে মাত্র করি।
দূর হতে হেরি, কত মাহাত্মারা,
মিছেন তথা মুখে,
আমি হতভাগ্য,
সে উদ্যান শােভা,
বর্ণিতে না পারি মুখে।
মনে মনে যত,
করিনু বাসনা,
অন্তরে বিলীন হল,
অভাগার হায় সম্ভবে কি কভু
সুলভ সে ভ ফুল!
কিন্তু তা ভাবিয়া,
নিরস্ত হইলে,
মনােব মনে রবে,
C

সুং-এ।
দেখি চেষ্টা করি,
যতদুর সাধ্য,
তাহা ভিন্ন কি সম্ভবে।
আছে কণামাত্র, এ সংসারে সুখ,
বিশ্বাস নাহি আমার,
দেখাতে সে সব,
হইনু প্রবৃত্ত,
নিন্দিত হতে সবার।
aৈnna

সুখ-ভ্রম।
=
কহ মা! কিরে তব, বয়দে ভারতি!
ভবেব মাকরে কেবা ভুঞ্জে নিত্যসুখ।
জানিতে বাসনা বড হইযাছে মনে ;
দেবভাষে কি কহ বীণার ঝঙ্কারে।
অথবা, এ ভবে নহে সুখী কোন জন
ভব মরুভূমে এম সুখ মরীচিকা।
—রাজ-রাজেশ্বরী যিনি, আজি এভারতে,
কতই না সুখী তিনি, ইহাই প্রতীতি,
কিন্তু হায়। হেন শক্তি দিতেন বিধাতা,
বুঝিতে পারিত একে অন্যের অন্তর।
তবে সে জানিত কত দুঃখ ভার হৃদে।
দুঃস্বপ্নে প্রত্যেক নিশি পােহায় তাহার,
উদে হৃদে চিন্তারূপে ভয়াল ভাস্কর।
প্রতি মুহুর্তের জন্য, সুস্থ নহে মন,
বিষম বিষয় চিন্তা, অনল সদৃশ
ধূ ধূ রবে অলিতেছে নিত্য অবিরাম।
সীমান্তে কষাতঙ্ক ক্রমশঃ বর্জিত,
ভারত জয়াশা, জারহৃদে বলবতী।

সুখ-শ্রম।
সেই ভয়ে চিরদিন কাবুলপতিরে
ইষ্টদেব অপেক্ষায় করেন আদর।
দুর্ভাগ্যের বশবর্তী আজি বন্ধুবর !
খিলিজিবংশীয় সনে বাধিয়াছে রণ,
পরিণামে কি যে হবে, কে বলিতে পারে ?
কণ্টকিত পথ নিত্য থাকিবে রুষের!
কোন অংশে নুন নহে সমকক্ষতায়,
বিভব বৃদ্ধির তরে সমান উভয়ে।
ইংলণ্ডে আইরিল প্রজা বাঁধিয়াছে জল
উচ্ছেদিতে রাজতন্ত্র, রাজদ্রোহী হয়ে।
ক্ষুদ্র বটে, কিন্তু শত্রু হীনবল(ও) হলে,
নির্ভয়ে কোথায় কেবা সুখে নিদ্রা যায়।
—সর্প শিশু দেখি বল শঙ্কা কে না করে ?
প্রচ্ছন্ন অনলকণা শীতল কি কভু।
পাইলে অনিল বল ভয়ঙ্কর বেগে
পারয়ে করিতে ভন্ম কত মহাপুরী।
—বিশেষতঃ চতুর্দিকে রাজন্যবর্গের
রণসাজ নি কার, না কঁপে হয়?
বড়র বড়ই ভয়, বাসুখে মাত্র
-কাটে কাল, সুখলেশ মনে না লয়।
বরং মুষ্টি ভিক্ষুকেরা কঞ্চিৎ সুখী,
সম্পদেই বিপদেয়ে করে সমাধান।

সুখ-ভ্রম।
;
ধনতৃষা যার হৃদে যত বলবতী,
ততই দুঃখিত তিনি লােতের ছলনে।
প্রবল ঝটিকাবেগে সুবিশাল তরু-
বাদৃশ লােটায় দেখি ধরণ উপরে,
তাদৃশ কি কেহ কভু হেরেছ নয়নে
ক্ষুদ্র তৃণ উৎপাটিতে ভীম প্রভঞ্জনে?
ক্ষুদ্র বায়ুভরে যথা জলনিধি সদা
মহােৰ্ম্মিমালায় নিত্য হয় তরঙ্গিত
তেমন কি দেখা যায় নদনদী জলে ?
—সামান্য কারণে কষ্ট হয় মহতের।
দস্যগণ, সুখে নিদ্রা যায় কারাগারে,
চমকে হৃদয় সদা ভদ্রবংশীয়ের,
শুনি যমপুরীসম বন্দীর ভবন;
কত যে যন্ত্রণা পায় পাপীরা নিয়ত।
রতনখচিত মঞ্চে বসিয়া যেজন,
সুশােভিত কোহিনুর যাহার মুকুটে,
অসীম আনন্দভােগ মনে করি স্বরে,
কিন্তু যদি চিন্তা কীট, হৃদয়ে তাহার
প্রবেশিতে না পারি, বলিতাম তবে,
অতিশয় ভাগ্যধর ভবে সেই জন।
ঐশ্বর্যে মনের দুঃখ নিবৃত্তি হইলে
অশ্রুতে প্লাবিত
ধনীরে কখন(৩)

কবিত না, পুত্রশােকে কিম্বা অন্য দুখে।
কুমতি বশবর্তী নহে কে ধবাষ।
বিপু-চবিতাৰ্থ ব্ৰতে দীক্ষিত হইযা,
স্বার্থ সাধনেতে কেবা এ মহীমণ্ডলে
-পবাঙুখ আছে বল, নবাবী মাঝে ?
অভীতি কাৰ্যে বাধা ঘটযে যখন,
(হউক সে মন্দ কাৰ্য নীচাদপি নী)
অসীম দুঃখের বেগে জর্জবিত কায়,
তথাপি নিবৃত্ত তাহে হয কি দুর্জন ?
পুনঃ পুনঃ দুবাকাঙ্ক্ষা হযে বলবতী,
কতই না, কষ্টে তার কাটষে জীবন।
আশা-কুহকিনী, সদা, মানব-হৃদযে-
প্রবেশি কবিতেছে কত সৰ্ব্বনাশ।
--কি ধনী নিৰ্দ্ধন যত, আছে ভূমণ্ডলে,
আশাষ বান্ধি বুক যাপিতেছে কাল,
ভাগ্যফলে ইষ্টসিদ্ধি যেমন হতেছে
অমনি বিষষাস্তবে লালাযিত মন।
-থাকিতে চেতনা কভু আশা না মিটিবে ,
সুতবাৎ দুঃখসিন্ধুপাবে জীবগণ,
পাবে যাইতে আব জীবন থাকিতে।
বাহ-চাকচিক্য দেখি, ভাবি ইনি সুখী,
কিন্তু তার অন্তগুত্ব বল কেবা কবে।

7
মুখ-ভ্রম।
—গােপনে সন্ধানে যদি, প্রকৃত প্রস্তাবে-
জানিতে পাবিত লােকে অন্যের অবস্থা,
সৎসাৰীবে সুখী বলি, জমে না পডিত।
পর্ণ কুবেতে যাও বােদন শুনিবে
মধ্যবিত্ত ঘবে আব(ও) ঘােব বিড়ম্বনা .
ধনবান নিকেতনে দেখ অহবহঃ
অমঙ্গল ছড়াছডি চতুর্দিগ থাকি।
বিষযীব সুখ যদি, হয সম্ভাবিত,
—অবিশ্বাস বল কিসে আকাশকুসুমে ?
অধােভাগে সৃষ্টি কবি, মানবনিচয়,
আস্ফালিছে আপনাবে উন্নত বলি ,
ভাগ্যবলে যদি কাব উদ্ধভৃষ্টি হয়,
ভাব্দযে চমক তাব—থাকে কি সে প্রম?
আমি ধন্বী, আমি মানী, এই অহঙ্কাবে
উচ্চদৃষ্টি, মানবেব হইযাছে লােপ।
বাজ্যশূন্য বাজোপাধি, প্রফুল্ল অন্তবে-
কতজনে লভিতেছে লজ্জা বিবর্জি।
ভিক্ষুক বাবেব তাৰ তত্ব নাহি পায়,
অথচ সে মহারাজা বিচিত্র এ কথা ।।
এহেন বাজাব যদি, মনে থাকে সুখ,
পবায়ভােঙ্গীবে তবে দুঃখী কে বলে ?
স্বাধীনতা যাব নাই, সুখ তাৰ চিতে-

কামার আহ, যদি সে কেহ বলে,
দুঃখ এ সংসার ইহাই সিদ্ধান্ত।
বিপুল বিব, কি, রম্য হন্মোপরি
রত্নসিংহাসনাসীন, অথবা কুরে-
দুর্গন্ধ-শতক গ্রন্থি কস্থা অলে যায়,
শীতাতপ-বর্ষা-ক্লিষ্ট দুঃখে জর্জরিত,
কি অন্ধ, বিকলাঙ্গ দুর্ভাগাৱা কুত,
বিবিধ ব্যাধির বশে চলৎশক্তিহীন ;
—অনন্য উপায়ে অল্প, লভিবায় তরে,
পাতি পথে চেলাঞ্চন, সদা উচ্চৈঃস্বরে-
ডাকিতেছে পান্থজনে কাকুতি করিয়া ।
সমষে ইহারা বল কেবা নাহি হাসে?
অদ্ভুত বিশ্বের দৃশ্য জ্ঞানের অতীত।
শিশু, হাসে, এ সৎসাবে ধুলাখো করি ,
যুবা হালে, রিপুগণে চরিতার্থ লভি,
বৃদ্ধগণ, চিরাভ্যস্ত অভ্যাসের দোষে
হাসে মাত্র, সে হাসি কি, সুখের কখন?
বহুদিন সিয়াছে, থিৰ ব্ৰহ্মদেশে,
এখন(৩) কি, নাহি হালে, রতনগিরিতে?
জাগ্রত স্বপ্নের হাস্য, দেখ তুলে ধরি
কোনদিকে গুরু নাহি, হবে এক রতি।
চিরস্থায়ী নহে, উহা, উভয় সমান ,-

ভ্রম।
ক্ষণ বিলম্বেই পুনঃ দুঃখরূপ রাহু,
গরাসিয়া পুখশশী, করয়ে মলিন।
পূৰ্বকালে দুঃশাসন, কৌরব সভায়
দ্রৌপদীর কেশাস্বর করি আকর্ষণ
অট্টহাসে হাসিয়াছে, তাবৎ দুৰ্ম্মতি,
যাবৎ তাহার বক্ষ বিদীর্ণ করিয়া-
সুতপ্ত তােণিতপান, না করিল ভীম।
ত্রিভুবনজয়ী, দপী, দুষ্ট লঙ্কেশ্বর,
-সীতা, হরি একদিন আজাদে হাসিল ;
কিন্তু সে হাসিতে যাহা হল সংঘটন,
মনে, কি, ভেবেছে তাহা মুহূর্তের তরে!
গর্ভবতী রমণীর, গর্বচ্ছেদ করি,
কত না আনন্দবােধ করিত সিরাজ,
হায়রে সমস্ত সুখ, ক্লাইব অলক্ষ্যে
কোথা হতে আলি দেখ, সব বিসর্জিলা।
সৰ্ব্বকালে এইরূপ বিষয় গৌরবে
কলঙ্কিত না হইল, দেহী কোন জন?
উন্নত মস্তক প্রতি (ই) লক্ষ্য সবাকার,
নতুবা ভারতে আজি, কত নর নারী,
সাধিছে লােমাঞ্চকর কাৰ্য অবিরত।
বিষয় জঞ্জাল জালে যে হয় জড়িত,
নিত্যসুখ আস্বাদনে বিমুখ সে জন;

১০
সুখ-এম।
ইহাই বর্ণনমাত্র উদ্দেশ্য আমাব।
নাহি অধিকাব যাব আত্মতত্ব বােধে,
কি শক্তি অন্ধেব দোষ উন্নটিতে তাব।
দৃষ্টান্তের জন্য মাত্র উল্লেখ কবি।
চিবস্থায়ী নহে অর্থ কিম্বা বন্ধুগণ,
কালেব অধীন সব, স্থিব কি জগতে?
নিরপেক্ষভাবে যদি বৃষ্টি কবি মােবা,
কদাচ কাবেও সুখী বলিতে না পাবি।
মাযাবশীভূতে, জ্ঞান, বিকৃত হইলে
অহঙ্কাবে পূর্ণ হয, দেহীব অস্তব।
সুতং আমাব-পুত্র কন্যা কি কল,
এরূপ বিশ্বাসে সদা, মানবনিচষ,
স্বাধীনতা বিসর্জিযা আপন ইচ্ছায—
দাসত্ব শৃঙ্খলে বন্ধু, হষ, চিবতরে।
পােষ্যবর্গ জন্ম সদা, ব্যথিত অন্তব ,
কিরূপে তাদেব সুখ কবিবে বর্ধন,
ইহাই বাসনা মনে, জাগ্রত স্বপনে।
অর্থ সঞ্চযেব আশা, হষে বলবতী,
সদসৎ কাৰ্য্যে বৃষ্টি নাহি থাকে আব।
ঘৃণা, লজ্জা, ভয, মান, অপমান আদি।
অক্ষোভে ত্যজি কবে, অর্থ উপার্জন।
স্বার্থ জন্য পৰস্পবে সাধিছে মঙ্গল ,

( ঘাত প্রতিঘাত সদা উত্থান পতন)
সুতরাং কিরূপে সুখ, তাহারে বলিব ?
প্রকৃত সুখের তত্ব, কেহ নাহি করে।
অথচ, ক্ষণিক সুখে উন্নত হইয়া
ভুগিছে মানব, দেখ কত বিড়ম্বনা।
দুঃখের সংসার, হেথা নাহি সুখ লেশ,
তথাচ, কেমন ভ্রমে পতিত সবাই।
সকলেই ব্যস্ত, সুখ লভিবার তরে।
ধনী, মানী, জ্ঞানী, জ্ঞান, যারে করি মােরা,
ভারাই, সুখের লাগি অধিক ব্যাকুল।
বরং, কথঞ্চিৎ শান্তি লভে ভিক্ষুকেরা ;
অশান্তি হৃদয়ে আঢ্য যাপে সদাকাল।
স্বার্থজ, ধৰ্ম্মাধর্ম বােধ নাহি থাকে,
স্বার্থই সাধিছে সদা, সর্বনাশ কত।
স্বার্থের কারণে বুদ্ধি, বিপৰ্য্যন্ত হয়,
নতুবা, কি, কভু ধীর ধর্মের নন্দন
“অশ্বথামা হতগ” স্বাভাবিক জানে ?
বলিয়া, কলঙ্কী তিনি হতেন জগতে।
মিথ্যা সুখতরে, পিতা, পুত্রেতে বিদ্বেষ ;
জননী, পুত্রের সাথে কত অমঙ্গল।
পত্নী, পররা, সুখ সঞ্চয় কারণে,
পতি, পদারে মত্ত, সুখের লাগিয়া।

মুখ ভ্রম।
কিন্তু তাৰ পৰিণাম বড়ই ভীষণ ।
যতই সুখেব ইচ্ছ, হ'তেছে প্রবল,
তত, অমঙ্গল, দৃষ্টি কবি অহবহঃ।
ইহা দেখি শুনি কাৰ, না শীহবে অঙ্গ?
অমবশে বলিমা, ইনি, বড় সুখী।
জন্মান্ধে বলিলে, পদ্মপলাশলােচন,
মর্মাহত কবা হয, তাহাবে যেরূপ,
সেৰূপে স্তাবকগণ, স্বার্থান্ধ হইযা-
“সুখী বলি” ধনীগণে দেয মনে ব্যথা।
তন্ন তন্ন কবি দেখ, সংলাব ভিতবে,
দিবানিশি, দুঃখে কাল কাটিতেছে সবে।
চলকবি, পাশাখেলি, বাজা দুৰ্য্যোধন,
পাণ্ডবগণেবে কবি, পথের ভিখাবী,
ক্ষণেকেব তবে সুখ ছিল কি ভােব ?
সৰ্ব্বদা সশঙ্কচিত্ত, (কখন কি হয।)
পাণ্ডব, বধলাধনে কতই কৌশল
বিস্তাবিলা মােহবশে , বিফল সকল ।
এক সহাষে, বণে, পাণ্ডুপুত্রগণ,
কুরুকুল, ধ্বংস কবি লভি নিজ বাক্য--
ভাদেব(ও) কি সুখবােধ, হযেছিল মনে?
বাজ্য, ধন, বন্ধুবৰ্গ, যতই থাকুক,
মনে সুখ না থাকিলে সমুদয বৃথা।

মুথ ভ্রম।
১৩
যে সীতাব তবে বাম, বান্ধি সাগৰ
কত কষ্টে উদ্ধাবি আনিযা নিকটে,
সে সীতাব মুখ হেবি, বিষাদসাগবে-
কেন ডুবিলেন, তিনি, কে বুঝিবে তাহা ।
পবে অযধ্যাষ বাম, সীতাসহ গিয়া
কতিপয় দিনমাত্র, কবি সুখভােগ,
এমন দুঃখেতে অিনি, পডিলেন পুনঃ,
জীবন পৰ্যন্ত, যাতে, হ’ল বিসর্জিতে।
(সুখদুঃখ আপনার অন্তবে জাগয।
অষ্ণেব কি সাধ্য বাহ দৃষ্টে তাহা বুঝে।)
আমাবা, যাহাবে সুখী, ভাবিতেছি মনে,
হযত, তাহাব হৃদে সহস্র বৃশ্চিকে-
দংশিতেছে, অবিবাম সৰ্বশি।
দুঃখে সংগঠিত, এই, ভবকাবাগাব,
শিক্ষাব নিমিত্ত জীব, আসি বাবস্থা,
স্বীয়, স্বীয়, কৰ্ম্মফলে দণ্ড পুরস্কার
লাভ কবে,
এই মাত্র, শাস্ত্রেব বিধান।
নিৰ্ম্মল সুখে পান, নহে এ সংসাব ,
সমস্ত নশ্বব, হেথ, পার্থিব জগতে।
অতুল প্রতাপাষিত রুশীষ সম্রাট,
নিহিলিষ্টগণ ভযে সদা সশঙ্কিত,
কতবাৰ দুৰ্ব্ববাে, তাবে বধিবাবে-

১১
77777
ষডন্ত্র করেছিল, (সত্য এ ঘটনা)
কতকাৰ্য না হলেও ক্ষান্ত কভু নয়,
সুযােগ সন্ধানে তারা ফিরিতেছে সদা।
(রাজরাজেশ্বর, কিম্বা, গৃহস্থ, ভিক্ষুক,
মৃত্যুভ, স্বহৃদয়ে সবার সমান।)
—এরূপ প্রবল শত্রু, সর্বদা হাব,
মহাসুখী, বলি, ভারে কেকরে প্রত্যয় ?
অতএব, বিজ্ঞগণ ! দেখুন বিচারী,
নিঃশঙ্ক হৃদয়ে বাস, কে করে সংসারে ?
দুঃখের আকর চিন্তা, নিশ্চিন্ত মুখ,
সর্বজন, একবাক্যে কহিবে এ কথা ।
সংসারের সঙ্গে, যার, যত ঘনিষ্ঠতা,
চিন্তাব প্রভো, জার, দেখি অাধিক।
চিতা হতে দুশ্চিন্তার শ্রেষ্ঠতা প্রমাণ
করেছেন, আৰ্য্যগণ, যুক্তি প্রদর্শিয়া।
মৃত ব্যক্তিকেই, চিতা, করয়ে দাহন,
—চিন্তা সদা বন্ধ করে সজীব মানবে।
বিষষ চিন্তার কাল, সৰ্ব্বদার তরে-
ব্যথিত করিছে যত মানব অন্তর।
হু হু করি জ্বলে, যবে, চিন্তানল দে,
অমনি, দূরেতে যায়, মুখমরীচিকা।
ইন্দ্রিয় সুপ্তি মাত্র, নিত্যসুখ হলে-

বঞ্চিত তাহাতে, কেবা, আছে ধরাধামে।
নিৰ্ধনের ভূমিবৃত্তি, যেইরূপ হয়,
ধনীদের, তাহাপেক্ষা, ভিন্ন কি সম্ভব?
দ্রব্যের পার্থক্যমাত্র দেখিবারে পাই
তৃপ্তিসুখ তারতম্য, কিছুই দেখিনা।
সুষুপ্তির সুখভােগ, বরং, দুঃখীগণ,
নিশ্চিন্তে লভিছে নিত্য; ধনীরা সে সুখ
লভে, কদাচিৎ কেহ ? তার আবেশে
দুঃস্বপ্ন আসিয়া কত, অতি কষ্ট দিয়া
পােয় রজনী তার, দক্ষিয়া হয়।
(সতত সভয় চিন্তু, ধনীর যেমন
নিন তেমন কোখা ভয় করে কারে?)
পাশববৃতিতে সুখ, যদি সম্ভাবিত,
তাহাতে সমান সুখী; কি, ধনী, নির্জন।
চতুৰ্ব্বিধ-ষ্ঠান, পশু, পক্ষীদের(ও) আছে,
অকুতােভয়েতে, তারা, সদ্যোগে সে সুখ।
নশ্বর আখেরে, সুখ, ধারণা বাহার
নির্লজ্জ, কে আছে আর তাহার সমান।
লালায়িত চিত্ত যার মিথ্যা সুখ হেতু,
সে, কি কভু পারে, নিত্য-সুখ অর্জিবারে।
প্রকৃত সুখের তথ, যেজন করিবে,
-ত্যাগ ভিন্ন। তাহ, কার, ঘটেছে কপালে।

১৮
বুখ-ভ্রম।
যাবৎ রয়েছে, মনে, বিষয় বাসনা,
কি শক্তি তাহার নিত্য সুখ অন্বেষণে।
কে আমি ইহাই যবে জানিতে হৃদয়,
জিজ্ঞাসিবে চরাচরে,ব্যাকুল হইয়া
নিস্তব্ধ জগত।তার, প্রশ্নের উত্তরে।
সহ ধিক্কার দিয়া আপন হৃদয়ে
বুঝিবে তখন,-“আমি” ভূতপঞ্চমাত্র।
“আমি” জ্ঞান, তিরােহিত হলে, কে আমার
থাকিতে সম্ভব, এই প্রবঞ্চ জগতে।
অতুল সম্পদ, কিম্বা, প্রিয় বন্ধুজনে-
বীতস্পৃহ চিত্তে, কভু রবে না আসক্ত।
-স্বজন বিয়ােগ জন্য অসহ যাতনা,-
স্থান কি পাইবে, তার, মানসে তখন।
-বিষবােধ হবে, বত, নশ্বর বিভবে।
বিষয়ে জঞ্জাল জ্ঞান করি, অহরহ
কেবল উদ্যম, তাহা, কিসে বিসজ্জিবে।
-“মহারাজা রামকৃষ্ণ” নিবিষ্ট অন্তরে
অন্বেষিলা নিত্যমুখ, যবে বােগবলে,
জুক্ষেপ কি ছিল তাঁর, বিষয়ের প্রতি।
অতি অল্পকালে, প্রায়, সমস্ত সম্পদ,
পরহস্তগত হল অনেকেই জানে।
—কিন্তু, একদিন(ও) তিনি, ক্ষোভ না প্রকাশি—

সুখ-ভ্রম।
১৭
প্রশান্ত মানসে চিন্তি, ইষ্টদেব পদ,
ইহলােক-পরিত্যাগ করেন হরিষে।
—মহাযশ-“লালা বাৰু বিখ্যাত ভারতে,
নিত্য-সুখ-পথ-লি হলেন যখন,
ত্যজি ছার ধনজন, প্রসন্ন হৃদয়ে
ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বি, সুন্নিবৃত্তি করি-
পবিত্র রক্ষারণ্যে তেয়াগিলা দেহ।
সুদুল্লভ সুখ আশে মহাত্মানিচয়,
কতই না কষ্ট সই করেছেন ভবে!
তথাচ সবার ভাগ্যে সে অমূল্য সুখ,
ঘটেছে, এমন কথা, কে বলিতে পারে ?
সরল না হয়, সেই, নিত্যসুখ-পথ,
অতীব দুর্গম। তাহা কণ্টকে আবৃত ;
কত বাধা, কত ভয়, তাহাতে নিয়ত,
বিনা কষ্টে সাধ্যকার, বিচরে সে পথে।
এহেন, দুষ্কর কাৰ্য্যে বিষয়ী মানব,
ইচ্ছা করি অগ্রসর, কদাচ কি হয়?
অনায়াস-ল-তুচ্ছ-মুখভােগ করি,
কুট করিয়া দর্পে অসঞ্চালিয়া-
প্রভুত্ব করিছে, সদা, আত্মহারা হয়ে।
হায় রে। সে দিন, সেই ভয়ঙ্কর কাল,
গ্রাসিবার তরে, মুখব্যাদান করিয়া-

১,
জীবের শিয়রে আসি হয় উপস্থিত ;
-মােহনিদ্রাভঙ্গ হয়ে চকিতের ন্যায়,
স্মৃতির প্রভাবে,আত্ম-দুস্কৃতি স্মরিয়া-
অশ্রুজলে ভাসি মাত্র, করে হাহাকার।
—শ্লেম্মা অবরুদ্ধকণ্ঠে, বাক্য নাহি সরে,
ছল ছল নেত্রে স্বীয় বন্ধুগণে হেরি
অন্তরে ইহাই যেন, বলয়ে অভাগা,
—“তােমাদের জন্য এই দুর্দশা আমার”।
মনােগতভা, সেই, মুমুর্য জনের
বুঝিতে কাহার(ও) শক্তি যদ্যপি থাকিত,
তবে কি কুপথে আর, সংসারী সকল
ভ্ৰমণ করিয়া হত এত বিড়ম্বিত।
মায়ার মােহন-মন্ত্রে মুগ্ধ, জীবগণ,
সুখ প্রলােভনে, সদা. উন্মত্তের প্রায়,
সাধিতেছে কাৰ্য মাত্র বিচার না করি।
অতীব প্রবল, আশা-তৃষ্ণা মানবের,
নিক্তি করিতে শক্তি কাহারই নাই।
সুখ-মরীচিকা জমে, জমিয়া, জমিয়া,
বিনষ্ট হতেছে, সা, নরনারীগণ।
-ভাগাল, ভিন্ন, কার না ঘটে অষ্টে
বৃথা পওএম করি হয় অবসন্ন,
কিন্তু, তাহা বােধ করি, আছে এ জগতে।

১৯
—সকলেই মুখ হেতু সদা লালায়িত,
এ পর্যন্ত সুখ-সীমা, না পাইল কেহ।
—কিরূপে সিদ্ধান্ত হয় “ইনি বড় সুখী”
বিশ্বেশের সুকৌশলে এ বিশাল বিশ্বে
বিস্তর মনােক্স বস্তু, ঐহিক সুখের
চতুর্দিগে রহিয়াছে বিক্ষিপ্ত হইয়া,
তাবত্ব প্রতি লােভ করেছে অনেকে,
কিন্তু, সুখ সমষ্টির স্বাদ, এপর্যন্ত
গ্রহণ করিল, কভু একদেহে কেহ ?
সংসারে অভাব ভিন্ন, শুনিতে না পাই ;
সকলেই ব্যস্ত, তাহা, মােচনের তরে।
-কিন্তু, সুপ্রসন্ন ভাগ্য, না দেখি কাহার,
বিষয়ী ভবনে হল, অভাব মােচন!
অভাব যাহার যত, ভ, দুঃখ ভার,
—প্রভেদ ইহাই মার দুঃখের সংসারে।
অভাবে উপেক্ষা করি, প্রসন্ন হৃদয়ে
সন্ধান করিছে, সা, যাঁরা, আত্মারামে-
সত্য, সত্য, সুখী তারা, ইহ পরলােকে।
কণধ্বংশী সুখে, সুখ, যাহার প্রত্যয়,
অপ্রত্যক্ষ নিত্য সুখ, সে কেন বুঝিবে।
—দুভৃতি ক্ষালন, নাহি, হবে যতদিন,
বিষয় বাসনা তারে সদা বিড়শিবে।

২০
লভিলা,
তামস আহুর স্বদে, বিবেক চন্দ্রমা,
ভাগ্যফলে, যদি কা’র (ও) উদে কোনকালে,
তবেই, সংসার রূপ-ঘাের অন্ধকার,
বিদুরিত হইবার সম্ভাবিত স্থল।
-হেন ভাগ্যবান; যিনি, সার্থক জীবন,
আসিয়া এই ভব কারাগারে!
-করিলে বিশেষ চেষ্টা, অতি অল্পদিনে-
কারামুক্তে যাইবেন স্বদেশে চলিয়া।
হায় রে। থাকিতে গলে হীরকের হার,
রিপু চক্রে পডি মােরা, কাচে তত্ত্ব করি।
—আত্ম-ন ব্যতিরেকে এ সকল ভ্রম ;
নাহি হবে মানবের নিবৃত্তি কখন।
অনির্বচনীয় সুখ, ঈশ্বর প্রসাদ ;
কাল, যাহা কোনকালে, ধ্বসিতে না পারে।
(অটল, অচল ভাবে, স্থিব সর্বক্ষণ,)
সে সুখের প্রতি, দৃষ্টি রহিত হইযা-
বা সুখে অবিরত উন্মত্ত আমরা।
“এই আছে, এই নাই, এরূপ যে সুখ,
-ইহাই সম্পত্তি বার। আরে সুখী জ্ঞানে—
কত না বিষয় হই, সে সুখের আশে)
শঠতা, ধূর্বতা, মিথ্যা করিয়া আশ্রয়,
কৃতজ্ঞতা, চৌর্যবৃত্তি, ঘাের দস্যুতায়,

সুখ প্রম।
২১
অয়ি দিয়া কার (৩) গৃহ ভস্মীভূত করি।
পরপত্নী লােভে, হয়ে শত তিরস্কৃত,-
সাধিতেছি যে সকল কাৰ্য সুখতরে ;
পাই কি তাহাতে সুখ, ক্ষণকাল মনে?
-সৰ্ব্বদা সভয়চিত, (কে বা ইহা জানে)
কারাদণ্ড-বিভীষিকা, উদিয়া হৃদয়ে
চিন্তানলে নিরন্তর হই জর্জরিত।
—হেন কুলাঙ্গারগণে সুখী বলি ভ্রম—
অবশ্য হইতে পারে অদূরদশীয়।
কালের কুটিল চক্রে পড়িয়া মানব,
হিতাহিত জ্ঞানশূন্য, হইয়াছে প্রায়,
নতুবা, এরূপ আস্তি, হইতে কি পারে!
নাহি আজি, আৰ্যকুল—পবিত্রকারীরা,
উপেক্ষিয়া বাহসুখে, বিবেকে বঁহারা,
প্রলােভন-পুর্ণ স্থানে বাস নাহি করি,
থাকিতেন হৃষ্টচিত্তে দুর্গম কাননে।
—মিত্তি করিতেন, বন্য ফল সেবি,
অজিনে বলে অ, আচ্ছাদন করি-
প্রতিবাদী পশুপক্ষী, হেরি, সর্বক্ষণ
কত না আনন্দ বােধ করিতেন মনে।
কুটিলতা, কপটতা, হিংসা কিম্বা দে,
স্থান না পাইত সেই পবিত্র হলে।

-অকুতােভয়েতে, সদা, মৃগ শিগণ,
নিকটে আসি তৃণ, ভক্ষণ করিত,
নাচিত প্রাঙ্গনে শিখী, নিত্য নিত্য আলি।
প্রাকৃতিক শােভা ভিন্ন, কৃত্রিম সৌন্দৰ্য্য
নাহি ছিল কিছু তথা মানবে মােহিতে।
নিত্য সুখ অভিলাষী, হইয়া তাঁহাৱা,
ভব উপদ্রব ত্যজি, যাইতেন বনে।
(বিষয় মদির পানে উম্মত্ততা হেতু,)
বিশ্বাস না হবে ইহা
ধুনা কাহার।
তন্ন তন্ন করি যদি দেখে কোনজন,
অবশ্য প্রতীতি তার হইবে নিশ্চয়।
নিত্য সুখ কার (৩) ভাগ্যে না ঘটে সারে।
যতই ভ্রুকুটি কেন, না করে বিষয়ী,
মৌখিক ব্যতীত তাহা, আন্তরিক নহে।
বড়সী বিদ্ধের জালা করিতে গােপন,
চড়কী যেরূপ হাসে, তজপ সংসারী,
হাসিয়া জানায়, লােকে ‘আমি সদা সুখী।”
অন্তরের রে রে সা যে বেদনা,
কেহ ন প্রকাশে তাহা লাক লজ্জা ভয়ে।
(অৰাহে অহরহ জনিত নর
তথাপি নিত্ব নাই বা আড়ম্বরে।)
লক্ষ লক্ষ লোেক যার আছে আকাক্স

সুখ-প্রম। ইঙ্গিতে প্রলয় কাৰ্য্য সাধিতে যে পারে, যদি তার মনে নাহি থাকে সুখ লেশ, -বলিতে দুর্ভাগা, তারে, কুষ্ঠিত কে হয় ? মনের অসুখ হতে দুঃখ নাহি আর, -কাহার না আছে, তাহ, বিশাল সংসারে ? পড়ে, যে, দীপ শিখাতে অজ্ঞান পতঙ্গ, মরে যে মীনেরা, বিদ্ধ, হইয়া, বড়িসে। কেহই তাহাতে, খেদ, না করে প্রকাশ, যে হেতু তাদের নাই হিতাহিত বােধ। ঈশ্বর কৃপায়, জ্ঞান, লভিল মানব- ইষ্টানিই বুঝিবার আহয়ে শকতি। কত কষ্টে, কতজন, বিদ্যারত্ন লভি, বিবিধ বিদ্যোপাধিতে ইতেছে ভূষিত, তাহারা ক্ষান্ত বিষয়ে নহেন, ধষ্ঠ বিদ্যাল জ্ঞান ! ধন্ঠ জ্ঞানী নর। বাঙ্গালা ভাষার আত, যেমন উন্নতি, শােলি ততােধিক ইতেহে সবার ; করিতে দিগন্তব্যাপ্ত সুশাে গৌরব, হরিসভা, ধর্মসভা, বিষয়-বিবেক, সুনীতি জ্ঞানদীপিকা, আৰ্য সংরক্ষিী, মােহ প্রশমিতকরী, শান্তি সুধাধার, জ্ঞানপ্রভা, প্রভাকর, ধর্মের বিকাশ, ২৪ বৈরাগ্যেদিয় চন্দ্রিকা, সত্যানুসন্ধান, যততধৰ্ম্ম তােজয় মােহা বিনাশ, ধৰ্ম্মজ্যোতি বিকাশিকা, শান্তি নিকেতন, ইত্যাদি অপূৰ্ব্ব নামে অভিহিত করি চর্দিকে কত সভা হয়েছে স্থাপিত। —সাপ্তাহিক বক্তৃতায় গভীর নিনাদ, কাপাইয়া ধরাতল, ভেদিয়া অম্বর- উঠিতেছে সুরলােকে, যেন দর্পভরে। সংসারের অনিত্যতা, কথায় কথায় নির্গত হতেছে, সদা, বঙ্গাদের মুখে। সত্য, ইহ, শুভকাৰ্য, বলিতে হইবে, সদুদ্দেশে যাহা হয়, শ্রেয়ঙ্কর আহা ; ভবিষ্যতে ইহা হ'তে সুফল প্রসব, হইবে, হেন কথা কে বলিতে পারে ? কিন্তু, যদি আত্মজ্ঞান, লভিয়া প্রথমে বিষয় বাসনা ই'তে নিবৃত্ত হইয়া লােক হিতৰতে করি জীবন সঙ্কল্প, উপস্থিত হন; কেহ, এরূপ ব্যাপারে, তবেই তাঁহার যশঃ ভুবনে রচিত। ( উদ্দেশ্য সাধিয়া তিনি হইতেন সুখী ) সতুবা বে প্রণালীতে হইয়াছে না, প্রায়শই স্বার্থপূ না খনি শ্রবণে।

২৫
অধিকাংশ বক্তাগণ আত্মগরিমায়,
(সর্ব শাস্ত্রবো যেন হয়েছেন তারা।
ভাবেন অভ্রান্ত তিনি, দিতে উপদেশ,
(হউক সর্বত্র রাষ্ট সুনাম তাঁদের,)
ইহাই ধারণা হয়, দেখি ব্যবহারে'।
স্বার্থ, কিম্বা, অনুরােধ ব্যতীত, যে, কেহ,
-সভাস্থলে আগমন, করেন, সভ্যের,
উপস্থিত হয় নাই সেরূপ সময়,
সভাও তজ্জপ ভাবে নহে সুগঠিত।
দেখিবারে পাই; মাত্র, কতিপয় সভা-
দীর্ঘজীবী একরূপ বলিতেও পারি।
কিন্তু, তাহে এপর্যন্ত, কি ফল ফলিল,
চাল প্রত্যক্ষ, তাহা, করিলনা কেহ।
অধিকাংশ ধৰ্ম্ম সজ, ভাণ মাত্র সার,
উদ্যোগীর স্বার্থ স্রোত গােপনে বহিছে।
সুপবিত্র কাৰ্যে যদি থাকে, স্বার্থ মােগ,
নিত্য সুখ প্ৰয়ােজক, কিরূপে সম্ভবে ?
অনুরােধে, উপরােধে, স্বার্থের নিমিত্ত--
সংসারীর কাৰ্যমাত্র, হয় অনুষ্ঠিত।
অকাম ধৰ্ম্মাভিসন্ধি, যে কাব্যে কৰ্ত্তার,
আত্মার এলা তাতে হয় যে প্রকার,
—অন্য কাৰ্য্য সুখপ্রদ সেরূপ কি হয়?

২) থ-ভ্রম। নিঃস্বার্থ পরােপকারী, তুচ্ছ ধন, মান- যশের লালনে, নাহ, হয় লালায়িত। —অপবাদ, ঘৃণা লম্বা, উপেক্ষি অন্তরে, প্রলােভনে পদাঘাত, কয় শতবার, সময়ে প্রাণের মায়া, পরিত্যাগ করি, পরহিত সম্পাদনে, লভে যেই সুখ । -স্বার্থান্ধ সংসারী, তাহা, বুঝিবে কিরূপে? যেরূপ হয়েছে আজি, সংসার ভয়াল, সাধু কি অসাধু চেনা বড়ই কঠিন। -গৌরিক বসনাবৃত, দীর্ঘ শধারী, রুদ্রাক্ষ তুলসীমালা, শােভি কণ্ঠদেশ, বিভূতি ভূষিত করি, ললাটফলকে, কতশত জমিতেছে দেখি অহরহ। —স্তাবক কি প্রতারক, জানা নাহি যায়, (বামূৰ্তি অবশ্যই, পুজনীয়া ঘটে।) -সুমনাঃ জনগণে, বিশ্বাসে প্রতারি, কতনে করিতেছে ঘাের বর্বনাশ। অলিক সুখের তরে পবিত্র মূর্তির, নাহি হয় বন্ধুচিত কুল প্রদানে। অতি অকালে র্য, হরে কপটতা, পায় দেখাতে মুখ পালে। একদিন দশ, রাম কেরী,

সুপৰিত্ৰ বােগবেশ, করিয়া ধারণ,
ধর্মমুগ্ধা জানকীরে হরিয়া দুৰ্ম্মতি,
—সবংশ করিল ঋৎশ, বিদিত ভুবনে।
পাপর পাপাত্মা সুখী, কিছুতে না হবে,
করুক যতই চেষ্টা, বিফল সেগব।
সত্যপথ অবলম্বি, যদি মৃত্যু ঘটে,
শ্রেয়ঙ্কর, তাহা ; অন্তে, অতীব সুখের।
ইচ্ছায় গরল পান, করিয়া মানব,
দুঃখ সাগরেতে মগ্ন হইতেছে সদা।
বরং পশুপক্ষীগণ, সুনির্দিষ্ট পথে,
বিচরণ করিতেছে, (দেখিবারে পাই)
-সময়ে সমস্ত কাৰ্য্য করি সম্পাদন,
নীরােগ শরীরে তারা বাপিতেছে কাল।
যত অত্যাচার হয়, মানবমণ্ডলে,
স্মরিলে সেসব, অন্তু কাপে থর থর ।
খাপদ খুইতে হয়, মানব দুর্বত,
ভয়ঙ্কর অতিশয়, লেককষ্ট গ্রন্থ।
মিথ্যা সুখ অভিলাৰে নিয়য়ের পথ,
জানিয়া নিয়া করে স্বহস্তে নির্মাণ।
ধর্মের বিৰ আহিয়েই গুতে
নিত্যগুখে ফুটিহীম, মানব মিত্র।
ইচ্ছা বহৰেমিতেছে সবে,

কিন্তু তাহা কতদূর উচিত, ভাবিনা।
সংকল্প ব্যতীত কাৰ্য্য, সিদ্ধ নাহি হয়,
তথাপিও সদসৎ বিবেচ্য সবার।
যাহার কলুষ পৰুে, পদ না স্পর্শিল,
সার্থক জীবন তাব, জগত মাঝারে,
-অনায়াসে নিত্যসুখ লভে নিজগুণে।
হায় । এই ভবহাট, কি ঐন্দ্রজালিক,
কাহারই জম দূর না হয় এখানে।
চতুর্দিকে যত বন্তু, পাই দেখিবারে
নয়ন রঞ্জক, কিবা মনােমােহকর।
—তাহে পুনঃ বিক্রেতারা, কৌশল বিস্তারি
করিয়াছে সুসজ্জিত, অতি পরিপাট।
যদ্যপিও সে সমস্ত অসার পদার্থ,
তথাপি কাহার সাধ্য নির্বাচন কবে।
ঝক্ ব করিতেছে লাবণ্য ছটায় ,
লােভাকৃষ্ট না হইয়া কে পারে থাকিতে।
কাম, ক্রোধ, লােভ আদি, দালালের দল,
বুদ্ধি বিপৰ্য্যন্ত করে, ক্রেতাদের সদা ;
না বুঝিয়া “গিটী ব্য” সুবিপুল অর্থে
প্রমে পড়ি, অহর্নিশি করিতেছে কয়।
—কিন্তু অল্পদিন মা, সে সকল দেখি,
অপার আনন্দ মনে, জনমে সবার।

সুখ-শ্রম। ২৯ পরিশেষে বিদূরিত হইলে সে আম, আজীবন অনুতাপে হয় জর্জরিত। সজ্জা, ধৃণায় উহা অন্যের সনে অপ্রকাশ রাখে, বালা, হৃদয়ে চাপিয়া। এইরূপে ভবটে, আসিষা সকলে, প্রাশঃ লাঞ্ছিত হয, দেখি দিবানিশি। তথাপি নিশ্চেষ্ট তারে কেহ নাহি হয়; বরং বাড়িতেছে স্পৃহা ক্ষণিক সুখের। ভবের ঐশ্বৰ্য প্ৰতি লােভ যত দিন- রহিবে মানব মনে, ততদিন আর প্রকৃত সুখের স্বাদ, কেহ না পাইবে। বিশেষ কৌতুকাবহ আর (ও) এই হাটে- ক্রেতাদের সমদুঃখ বিক্রেতা (ও) ঘটে। —তুচ্ছ বস্তু বিনিময়ে লভি বহুধন, প্রশংসে চাতুৰ্যে নিজে অক্ষে ঠকাইয়া । -কিন্তু সেই ধনরাশি উদ্ঘাটে যখন, অক্ষড়ে প্লাবিত দেহ হয় সে সময়। -অর্থ নহে, অনর্থের আকর, সেগুলি। (তাম্রখণ্ডে বিমর্পিত পারল যেমন -“হ হতােলি" শব্দমাত্র করি উচ্চারণ, ধুলায় লুটায় তারা দেখিবারে পাই। -ঈশ্বর নির্দিষ্ট উহা, কার সাধ্য রােধে,

এত
সূ প্রম।
কবিলে বঞ্চনা অতে, হয সে বঞ্চিত।
যেদিকে ফিরাও আখি, দেখিবে যেদিকে,
প্রতাৰিত প্ৰতাৰক, উভষে কান্দিহে।
ক্ষণকাল সুখ নাই কাহারও অবে,
কিহ’ল কি কবিলাম এই চিন্তা মাত্র।
জুখের সংসাৰ, হেথা, কোন সুখ নাই,
তথাপি মুখেব তবে, কবি আত্মনাশ।
কুপিত ফণী পট হাষাষ বসিয়া
কতইনা রঙ্গ বস, কষিতেছি মােরা ,
মুহূর্তে পবে তার সুতীৰ গবলে-
বলিতে হইবে, তাকি, জানিবাবে পাই?
থাকিতে লােচন মােবা, হইযাছি অঙ্ক ,
বণের শক্তি আর, কিছু মাত্র নাই।
নতুবা কি হেনন, আহৰে সংসারে,
কঠোৰ আহি গর্জনে, সতর্ক না হয়।
ভিক্ষুক বাজে কি, মধ্যবিত্ত জন,
স্বকর্মেব ফলগ, সবাই সমান।
কৰ্ম্ম হতে পাপ পুণ্য লভষে যান,
সুখ ঃখ হেতু, , পুণ্য পাপ।
-ৰে কৰ্ম্ম করিয়া মনে, অনুতাপ হয়,
—যে কর্মে সন্তেৰ মৰ্ম্মে, লাগৰে আত,
বাজারে গণ্ডগে, যার পরিণাম,

অথবা সমাজে মুখ দেখাতে অক্ষম,
—কিম্বা কায়ও সুখদুঃখ, জনমের মত,
বিনির্মূল হয় ; স্বার্থ, সাধিকার তরে,
জীবন নিধন কারও করি অবহেলে।
ভবিষ্যত নাজানিয়া আত্ম বিসর্জনে
প্রমােদিত হয় মন, পাশব ত্তিতে।
এ সকল পাপপূর্ণ নিরয়ের পথে
জমান্ধে নিয়ত কাল জময়ে যে জন,
ধিক্ তার জীবনেতে। তিলেকেরও) অরে
নাহি লভে সুখ শান্তি, কভু সে অভাগা।
অনুতাপ আত্মগ্লানি, ভীষণ অনলে
অন্তর্জাছে যেইজন, হয় ভীভূত,
-তাহার আবার মুখ । ইহা কি সম্ভব ?
করুক মৌখিক জর্ণ, ঢাকি মনােভাব,
রবেনা চাতুরী কিন্তু, ঈশ্বর সদনে।
লোকলজ্জা ও নাহি থাকে যেই কাৰ্য্যে,
রাজদগু ভয় কিম্বা, সমাজ শাসনে,
সঙ্কোচের রেখামাজ, যে কাৰ্থে না থাকে,
মুক্তকণ্ঠে যেই কাৰ্য, অন্যের নিকটে
প্রকাশিতে ব্যথা নাহি থাকে এক বিন্দু
সঙ্গোপনে কি বাহ, সর সমীপে
সম্পাদিতে নাহি থাকে ভয়ের কারণ

৩২
সুখ-ভ্রম।
যে কাৰ্য্যে অঙ্গের মন ব্যথিত নাহয়,
--বার্শ্বিক সজনে তাহা প্রশংসেন সদা।
নিজ নিকেতনে কিম্বা. পরকীয় স্থানে
রাজঘরে কি অরণ্যে ভীষণ শ্মশানে,
যে কাৰ্য্য করিলে কেহ, অসন্তুষ্ট নয়,
বিভু আজ্ঞা, উল্লন, যে কাৰ্য্যে না হয়,
-সেই কাৰ্য পুণ্য পূর্ণ, ধরমের পথ।
রাজ চক্রবর্তী কিম্বা রাজার মহিষী,
মধ্যবিত্ত জনগণ, কি, কৃষিজী
ভিক্ষাতি অবলম্বী সন্ন্যাসী ফকির,
যুবক যুবতী, কিম্বা, প্রাচীন প্রাচীন,
—সকলের সমভাবে অধিকার তাহে।
(কুজ, নীচ, ভেদাভেদ, শুভকাৰ্য্যে নাই।)
আজীবন সুপন্থায় যে করে প্রমণ,
নীচাদপি নীচ হলে(ও) পূজনীয় সেই।
নিরন্তর, নিত্য সুখে শৃহা, বার দেখি,
ধন্ত সেই মহাজন অবনীমণ্ডলে ।
মানবের মনে যদি হতে পারে সুখ,
আকৃষ্ট প্রসন্ন হেতু লভে সেই জন।
তুমি, আমি, যে সুখের সর্বদা ভিখারী,
তাঁহারা করেন তাহ পদে বিলি।
ঈশ্বরের-প্রেমে যিনি, সা'আনন্দিত,

সুখ-এম। ৩৪ নিরানন্দ, স্থান ভার, না পায় অন্তরে। রাজ্যশ, কিম্বা বন্ধু-বিয়ােগের দুঃখ- উপেক্ষা করেন, তিনি, অম্লানবদনে। বােগর হয়ে আছে, যে ধন নিহিত, রাজার কি সাধ্য তাহা করিতে হরণ। —চোরে না লইতে পারে, সিঁধ কাটি ঘরে, ব্যর্থমনা দন্যদল থাকে চিরকাল। যােগীদের ভয় নাই, ব্যাল, কি, ভল্লুকে-- কিম্বা, বন্যহস্তীমুখে, মহিষে, গণ্ডারে, কোনরুপ, হিং, কেশাগ্র তাঁদের পরশিতে নাহি পারে, কদাচ সংসারে। —ফরাল-তান্ত-সম, গর্জিত ভুজ কষ্ঠের ভূষণ, তাঁরা, করেন হাসিয়া। সুখের নিমিত্ত মৃত্যু, হয়, তাঁহাদের। (যে হেতু অতুল সুখ, হবে পরকালে।) জীবনে মরণে, আঁর, অবিনাশী সুখ, তাঁহাকেই, সুখীলা সত সবার। সংসারে মানব বন্ধু, যত জন হয়, স্বার্থের সকলে দাস, “বহুম মাত্র। -আরে নয়, যবে, বিন্নিত হয়, অমনি সেবান্ধবেরা, সুরে পলায়। কিন্তু, জারা, পুত্র আদি, ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, সুম। ছাডিয়া অভাগাবে, ঘাের পায় পদাহত ফণমত, সংশে নানা সূত্রে। যত কেন, মুখ দিয়া, পাল না অহিরে, সময পাইলে সে, কি, করে জংশন? আত্ম স্বার্থ বিক্রিয়া, পয় উপকার যে করে, প্রকৃত বন্ধু, তাহারেই বলি। সেরূপ বান্ধব, আলি, অমৃষ্টে কাহার- ঘটেছে, যে, হে কথা অত্যল্পই নি। হায়! কি, জমেতে মােরা, হয়েছি পতিত, ক্ষণকালও) এ সকল, চিচ্ছি না অয়ে। হীৰকেব-হার, গলে করিয়া ধারণ নির্ভয়ে, এর সঙ্গে বসি কাটি কাল! ক্রমশঃ, কুটুম্বজাল বিস্তৃত করিয়া- আপনা আপনি বন্ধ, হতেহে মানব। বাহিৰ হইতে প, না পায় , চেতনা তখন হয়, কফিশপে। -দুর্বিসহ যন্ত্রণায় হইয়া আমি, চতুর্দিকে শুময় দেখে এ জগৎ। অজ্ঞান তিমিরে যবে, জন মুহ, বিবেক, কহ, মনে, নাহি পায় নি। সময়ের আবশ্যক, সময় করে, অসময়ে ব্যর্থ চেষ্টা, ফল নাহি হয়। * এ এ এ এ ৩ মৃত্যুকাল অবিশ্চিত, দেখিয়া শুনিয়া সময় প্রতীক্ষা করা, কভু কি উচিত? বরং, যা অব্য, পাপ কাৰ্য- ব্যস্ততা সহিত, ভাষা, মুহূর্তের মধ্যে সম্পাদিয়া, সুখন করিতেছি কত। অথচ, ৰে কাৰ্য্যে , ইহু পরকালে; তৎতি কি আছে লক্ষ্য সংসারীর মনে। সুতরাং, অসীম কেশে, বি বিভাবরী-- জর্জরিত হইতেছে, আপন ইচ্ছায়। বিষয়-বাসনা দূর, না হইতে মনে শান্তিনুধা, পান, সাধ, শুধু বিড়না। যাহার অন্তরে নাই, ক্ষণকাল শান্তি, কদাচ, সে সুখী নহে, নশ্বর জগতে। শান্তি-সুখ-নিকেতর, নহে, এ সংসার, হেথা, সুখই করা, নিতান্তই অম। ধন, জন, অনেকে আছে প্রচু, তাবলি তাহারা, নহে, নিত্য সুখী কেহ। আপন দায়ীত্ব জ্ঞান, স্বার্থে দুলাইয়া, পর সুখসখানে ব্যাকুল সারী। কি পুরুষ, কিৰা নারী যৌবন সময় একেবারে শান্তিময় কুপে হিতাহিত , আম, মা থাকে তখন, ভাবে, বুঝি এই ভাবে যাবে চিরকাল। যবে ক্রমে দেখে দেহে বার্ধক্য লক্ষণ, আশাভলে, অনুতাপে ভাজি মােহঘুম, অসময়ে চক্ষু মেলি, কি কি ভাষণ। আপনার অধঃপাত দেখ মুহৎ, জলমা সম পড়ে বিথের করে পায় উদ্ধার পথ, কি তীব্র যাতনা। তারপর, জরা আসি করে আক্রমণ, দেহের সৌন্দৰ্যরাশি সুরে পলায়। পুর্কে, মুখ-প্রতিবিম্ব অর্পণে দেখিয়া, ভাবিত, বে, হেন নুঞ্জ বিরল জগতে। এখন(ও)ত সেই মুখ! তবে কি কারণ, দেখেনা দর্পণে আর, আপনা ধিক্কারে। কোন প্রলােভনে সুখ না পায় খুঁজিয়া, বসনে ভূষণে নাহি তৃপ্তি ক্ষণমা, অনুতাপে তাই হয় সর্বকাল। -অত্যুৎকট ব্যাধিচয়, সময় বুঝিয়া— প্রবল প্রতাপে তারে করে আক্রমণ। -শ্যা মাত্র অবলম্ব, (কণ্টকিত(ও) তাহা) কিছুতেই সুস্থ নহে দুর্ভাগার মন। প্রেয়সীর প্রিয়বাক্য, বনিসম- বিৰুে হতাশার দে কল জেরী প্রায়।

প্রিয়ম্বৰ পুত্ৰমুখ, নিরীক্ষণ করি, বিভীষিকা বােধে, নিজ, চকু মুদি রয়। দাস দাসীগণ, যম—সহচর জানে- দর্শনে কম্পিত দেহ, হয় মুহুৰ্ম্ম। সদসৎ কাৰ্যমাজ, না বিরি মনে, চিরদিন, ধন, যাহা, সঞ্চয় করিল, —সমসঞ্চিত গৃহে, তথাপি কি হেতু মর্শ-ছেদ হইতেছে, তীব্র যাতনায় ? বুঝিলাম,বুঝিয়াছেলুমুর মন, অন্তকালে কিছুতেই নাহিক সুসার !! অতুল ধনেশ, কিম্বা, শতপুত্ৰ-পিতা, কাল হতে, কে, না পাবে নিঙার। অদ্য কলা পক্ষান্ত, বা, মাস, বর্ষান্তরে, নিশ্চয় ভীষণকাল, আসিবে সবারে। কে না দেখে, গুনে, ইহা প্রত্যক্ষ প্রমাণ, তথাপি, কি, অম দূর, হতেছে কাহা(ও)? চিরজীবি, মনে করি, অমান্ধ মানব- মিছে অ্যথা, ছার, সুখ লভিবারে, —কিন্তু পরিতৃপ্ত, তাহে হয় নাই কেহ। তবে ৰে, (নখর সুখে) বলি “ইনি সুখী” বলত, সে , আর, কতদিন তরে? পড়িয়াহ, ব্যাসকৃত অপুর্ব ভারত, পড়িয়াছ, রামায়ণ, বাল্মীকি গচিত, পড়িয়াহ, আধুনিক, কত ইতিহাস, —কি দেখিলে, কি বুৰিলে, বল সত্য করি- নশ্বরতা ভিন্ন কিছু দেখেছ কি আর? আজিও সে রভূমি, আছে বিদ্যমান, কেন নাই একটা পুর্ষ অভিনেতা। -আত, অভিনেপদে, প্রতিষ্ঠিত যারা, দেখিতে দেখিতে, কবে, তারাও মুকাবে। ভবনাট্যালয়ে, আলি, দুদিন নিমিত্ত- হাসাইয়া, কান্দাইয়া, দর্শকগণেৰে-- যাইতেছে চলি, সদা কত শত জন। সামান্য নাটকাগারে, আজি ৰে কল্যও আসিতে পারে, সে “অন” সাজি। -কিন্তু ভর নাট্যভূমে, একবার বিনি, করিলেন, অনিয় -উৎসাহে মাতিয়া বারান্তরে নাম, গ, থাকিবে না তার। ধরাধামে সুখ চেষ্টা করিয়া মানব, ভগ্ন মনোরথে যায়, সুখ না পাইয়া। সংসারে, এমন সুখ কিছুনা লাইবে— চিরদিন সমভাবে যাহা স্থির ক্ষয়। ঈশ্বরের মৃষ্ট , যত দেখি ভৰে- জীব হিতকর, সব, নাবিক অধ্য।

শিল্পের চাতু তাহে, এমনি নিহিত,
বুঝিবার শক্তি নাই, সামান্য নরের।
কোন ব্য, অকারণে সৃষ্ট নয় ভার,
চতুর্দিকে সমুদয় মলের তরে।
এমন পৰি, কেৰা, আরেই ধরাধামে,
প্রাকৃতিক শােভা হেরি মুখ নাহি হয় ?
—কি, তাহা, কাব্যরুপে যে করে সদ্যোগ,
অবশ্য তাহার(ই) হয় সুখের কারণ।
সতু নির্দিষ্ট বিধি, ভুলিয়া গান,
রিপুৰশে অত্যাসক্তি প্ৰকাশ কৰিলে
অমৃতে গরল উঠে। দেখিতে দেখিছে-
অত্যল্প দিনের মধ্যে, সেই হলাহলে-
অলি, পুডি, ভন্ম হয়, সেই জ্ঞান হন।
বিষয় বাসনা, হরে অতীব প্রবল,
অধঃপাতে খাইতেছি, কােনায় আমরা
সীমাবদ্ধ পথে, বদি, করি বিচরণ,
—কশার অমঙ্গল শর্ণিতে না পারে।
ইংলােকে যে মহাত্মা, আঙ্গীন কাল
ললি ঈশ্বর আঙ্গ, মুর্ভের তরে-
সংসারের কর্তব্য, করেন পালন,
অবশ্য হফেন, তিনি, নিত্য সুখে সুখী।
কিন্তু, এবে মানবের পতনের দিন

৪০ - হৃদয়ে সে ধর্মভাব, পাইতেছে লােপ, পাশব বৃত্তিতে সবে হইয়াছি ৰতী। স্বেচ্ছাচারে বশীভূত, শান্ত শূন্য দেশ, (দভয় ব্যতিরেকে ধর্থ সংরক্ষণ, হইয়াহে কোন(৩) কালে নিতে না পাই) বিজাতি-ধর্মের, আলি, উড়িয়াছে জা, সমাজ বন র মথ, দিনে দিনে আৰ্য্যবংশধরগণ, অৰ্য সাজিয়া- ঐহিক সুখের হ্রদে নিমজিছে সদা। জানেনা নির্বোধগণ, হ্রদে আশীবিষ- লুকায়িত ভাবে আছে, বধিতে জীবন। সময় প্রতীক্ষা, মাত্র, করিছে তাহার, অতি শীষ, সর্ব, গৰ্ব্ব, হরিবে নিশ্চয়। তুচ্ছ, মুখ আতিশয্যে প্রমােদিত হয়ে আয়ুধন অপচয়, করি নে প্রকার করি কি সেরূপ কেহ ধর্মের নিমিত্ত। অবিনাশী সুখ যাহ, প্রকৃত সে সুখ, ততির মুখ মাত্র জলবিদ্ধ পায়। আত্মার আরাম খান, নহে এ সংসার, অন্য গন রহিয়াছে নিত্য সুখ পুর্ণ। পরীক্ষার তরে, জীব, আসি কর্মভূমে, কেহব উত্তীর্ণ হয়, কেহ নাহি পারে।

সুখপ্রম।
৪১
—কিন্তু এ পরীক্ষা নহে, এম, এ, বি, এ, মত
(ভীষণ, ভীষণতর, অতীব ভীষণ !!!)
সমগ্ৰ উত্তীর্ণ, নাহি, হবে, যত কাল,
বারম্বার, যাতায়াত অনিবাৰ্য ভবে।
যে, যানে, বসিয়া জীব, আসে ভবমাঝে-
স্মরিলে, পাষণ্ড বক্ষ, চমকিত হয়,
—বিষ্টা, মূত্র, ক্লেদ পূর্ণ আগারে বসিয়া,-
থাকিতে হইবে, বিধি নির্দিষ্ট যে কাল।
তদন্তরে ভব ভূমে করি পদার্পণ,
অজ্ঞানাবস্থাতে করে কত দুঃখভােগ,
কমে, বয়ােবৃদ্ধি সহ, সুবুদ্ধি, কুবুদ্ধি,
(পূৰ্ব কৰ্ম্ম অনুসারে) হয় প্রকাশিত।
সাধুপথে লয়ে যায়, সুবুদ্ধি, মানবে,
কুবুদ্ধি, কুপথে সদা; করায় ভ্রমণ।
আত সুখকর হয়, কুপথ, যেমন।
—সুপথ, তেমন নয়, মনােমােহকর।
সুতরাং যৌবনকাল হলে উপস্থিত,
সমস্ত রিপুর হয়, প্রবল প্রতাপ।
ধৈৰ্য্যচ্যুত হয়ে তাতে, জমা জনেরা
প্রমত্ত ঐহিক লুখে, হয় নিরন্তর।
কুকার্যে মজিতে ভয়, না থাকে তখন,
ঘাের অত্যাচারী হয়ে জমে পণ্ডসম।

তামস বুদ্ধিতে, মন, হইলে মলিন, সুপবিত্র সত্যালােক না পায় প্রকাশ। সৰ্ব্বদা অসৎ চিন্তা, মনে যার যাগে- সাধু উপদেশ, কিম্বা, সুহৃদ সুনীতি, পদাঘাতে পাপমতি, হাসিয়া উড়ায়। —অনিয়মে অল্প দিনে সর্ব সুখ নাশ- করয়ে পাষগুগণ, কুমতির বশে। বিষয় কলুষ-পর্কে লিপ্ত কলের, —কিরূপে থাকিবে, তার জীবন পবিত্র ? অনাচারে পবিত্রতা হারায় যে জন, কদাচ পরীক্ষা স্থলে না হয় গৃহীত। অধঃপতনের পর, যদি, সে আবার ইন্দ্রিয় নিগ্রহরূপ গুরু প্রায়শ্চিত্তে পবিত্র জীব সতে; তবে সেই জন, পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়ে যায় নিত্য ধামে। নতুবা যে কতকাল জঠর যন্ত্রণা, ভুগিতে হইবে তার, কে বলিতে পারে? প্রবৃত্তি যতই যার, দুঃখ তার তত ; নিবৃত্তিই মুখহেতু, সাধুদের মতে। প্রচুর বিষয় সুখ, লাভের সুযােগ- থাকিতে নিলিও যিনি, তিনি(ই) ভাগ্যধর। অকিঞ্চিৎ, কণধংসী, সুখ যত ভবে,

সু-প্রম।
৪
সমস্তই দুখ-পর, প্রত্যক্ষ প্রমাণ।
ঐহিক সুখের বস্তু, সৰ পড়ি রবে,
না ছাড়িবে ল, মা, শুভাশুভ কৰ্ম্ম।
তদনুসারেতে হবে ও পুরস্কার,
ঈশ্বর নহেন কার(ও) শত্ৰু কিম্বা মিত্র।
এক উপাদানে সৃষ্ট মানব নিচয়,
হস্ত পদ নাসিকাদি সমস্ত সমান।
অথচ, একের কেন, বিপুল বিভব,
অন্যজন, দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা মাজি খায় ।
ইহার কারণ, কৰ্ম্ম, মানিতে হইবে
সংশয় যাহার হয়, করুক সেতর্ক।
অহঙ্কার যে পর্যন্ত থাকে মানােমাকে
প্রত্যয় কাহার(ও) ইহা, কদাচ না হবে।
হেরিতেছ দূরে অই, শয়ান মানব,
অতি জীর্ণ মলামুক্ত, (শত গ্রন্থি তাহে)
একমাত্র বন্ত্রে আছে অ আহাদিয়া;
বিচরিছে, তদুপরি অসংখ্য মক্ষিকা
পুতিগন্ধে নাসারন্ধে কােধিহে পথিক।
ইচ্ছা হয়, ধণা ত্যজি তার কাছে গিয়া
শান্তভাবে জিজ্ঞাসিয়া দান সবিশেষ।
-নিৰে দুর্ভাগামুখে এইমাত্র বাণী
“স্বীয় কৰ্ম্ম দোষে ভুগি এসব যন্ত্রণা

৪০ সুখ-শ্রম। দুঃখে দুঃখে চিত্ত, তার, হইয়া ঘর্ষিত, কঞ্চিৎ মাত্র, এবে, হযেছে নিৰ্ম্মল , —অনুতাপ ভিন্ন, আর নিচ্ছে না ঈশ্বরে। সমস্ত গৰ্বই তার নির্মূল এখন। ইহাতেও কৰ্ম প্ৰতি হলে অবিশ্বাস প্রত্যক্ষ উপমা দেখ জলধি নিকটে। ক্ষুদ্র ও বৃহৎ পাত্ত, ডুবাও তাহাতে ( অপৰ্যাপ্ত বারি পূর্ণ হলেও সাগর) কবিবেক বাৰিদান আধারের ভেদে। শাহার যেমন ভাগ্য সেইরূপ ফল- প্রাপ্ত হয় জীবগণ, একৰ্ম্ম ভূমিতে। ধৰ্ম্মই মুখের মূল অধৰ্ম্মেতে দুঃখ ; উচ্চকুলে জন্ম হয়, ধৰ্ম্মের সঞ্চয়ে, অধৰ্ম্মে, অধম যােনি লভে জীবগণ। ধৰ্ম বুদ্ধি বিদুরিত, হইতেছে যত, ততই সদ্বংশ সংখ্যা হইতেছে লােপ। অতি অল্প, পাপস্পর্শে বিপদ শুচির, সেরূপ না হয়, সৃষ্ট পাপাত্মার পাপে। ভদ্র নিকেতন, প্রায় শ্মশান সমান, অন্ত্যজ জাতির কমে সংখ্যা বাড়িতেছে। ধৰ্ম্ম বিলােপের ইহা নহে কি কারণ? আত্মােৎসর্গ করি যত পুর্ব ঋষিগণ, ৪৫ ধৰ্ম্ম, অর্থ, কাম, মােক্ষ, ফল চতুষ্টয়, (যে পথে গমনে আছে প্রাপ্তির সম্ভব) তাহাতেই জমিতেন, নিঃসন্দেহ মনে। পূৰ্বজন্ম দুরষ্ট, না থাকে যাহার, অবশ্যই প্রাপ্ত হন, ইচ্ছামত ফল । থাকুক সৌন্দৰ্য্য রাশি তদিতর পথে, হউক, সে সব, অতি মনােমােহর, যদি, আয়াস ভিন্ন সুলভ সে পথ ; তথাপি মহাত্মাগণ হৃক্ষেপ না করি পদমাৰ অগ্রসর, না হন তাহাতে। সুধাপানে সদা যার, সুদৃঢ় সংকল্প- ইন্দু রসাস্বাদনে কি থাকে তার মতি ? অনন্ত সুখ প্রত্যাশী, হন সাধুগণ, স্বর্গসুখ, বােধ করে, মূঢ়, তুচ্ছ সুখে। আজি কালি, সংসারের গতি যে প্রকার, ধৰ্ম্ম মাত্রে অবিশ্বাসী, প্রায়শঃ মানব। পরকাল, অনেকেই করে না স্বীকার, ইচ্ছা অনুসারে কাৰ্য, সাধিহে অবাধে। আহার বিহারে সদা, আসক্তি প্রবল, বিরক্ত কেবল মাত্র, পৈতৃক নিয়মে। প্রাচীনের উপদেশ, শ্রবণ কুহরে- স্থান নাহি পায়, আর, কাহার (৩) এখন।

: থ-প্রম। বয়ােৰুদ্ধি সহকারে জ্ঞান উদ্দীপন- হয়ে থাকে, এ ধারণা ছিল পূর্বকালে ; আধুনিক সভ্যতার বিকট বিদ্বেষে বৃদ্ধগণ, পদে পদে হন অনাদৃত। দীর্ঘজীবী যেই জন, ভবের রহস্য প্রত্যক্ষ দর্শন তার হইয়াছে যত ভুক্তভােগী, কিম্বা, নাহি হলে বহুদশী, জ্ঞানােন্নতি সাধন, কে করেছে কবে? তীর্থ পর্যটন এতে পূজ্য ঋষিগণ, জমিতেন সর্বদাই দেশ দেশান্তরে। রাজনীতি, অর্থনীতি, ধৰ্ম্মনীতি আদি, দেখিয়া, অনিয়া, নিজে করি ব্যবহার ; যাহাতে দোষের লেশ, বিন্দুমাত্র নাই, বুঝিতে পারিয়া তাহা, লিপিবদ্ধ করি- করেছেন, মানবের অনন্ত মঙ্গল। স্থির চিত্তে, যদি মােরা দেখি চক্ষু মেলি, একটিও জম বলি না পাই খুজিয়া। অতি পুৰ্থে, যাহ, যাহা, লিখেছেন তারা, সমস্ত প্রত্যক্ষ, তাহা হইতেই এৰে। ভবিষ্যত-বো, বল, তাদের সশ ধরাধামে জন্মিয়াছে এলে কি কেহ তথাপি সে উপদেশ, সাগরের গর্ভে

-এম।
৪৭
ডুবাতেছি নিরন্তর, নির্বোধ আমরা।
হায় রে । কুটিলকাল সব সাধ্য তাের।
সত্য অলাপি, মিথ্যা, সত্য প্রমাণিছ।
কালামু সারিকা বুদ্ধি, হয়েছে সবার,
কে করে প্রত্যয়, আর, আৰ্য্য উপদেশে।
বিজাতি ভাষার আজি যেরূপ আদর,
সংস্কৃত ভাষার প্রতি আছে কি সেরূপ?
পাশ্চাত্য শিক্ষার সীমা এতই সংকীর্ণ,
অনায়াসে অতিক্রম করে বহুজন।
কিন্তু কেহ, এ কথা কি পারে বলিবারে
“অধ্যয়ন করিয়াছি আৰ্যশাস্ত্ৰ সৰ”
অনন্ত কাৰ্যের শাস্তু সাধ্য আছে কার
এক জন্মে সে সকল পাঠ সমাপিতে।
মূল তত্ব অন্বেষিলে আৰ্যশাস্ত্র সার
সৰ্ব দেশ ভাষা মধ্যে আছে লুক্কায়িত
কিন্তু সে বিকৃত ভাৰে চৰ্ব্বিত চর্বনে
রসহীন “সিটি” মাত্র আবর্জনাময়।
আজি কালি বিদ্বান বলিয়া জগতে
বিখ্যাত আছেন যারা দেশ তথ্য করি
আশা এভাবেই গৌরব তাদের।
শুধু প্লে ভাষা পাঠে অভিজ্ঞতা লাভ
হইতে পারে না, ইহা সিদ্ধান্ত নিশ্চয়।

সুখ-ভ্রম।
আছে বলি আৰ্যশাস্ত্রে অমূল্য রতন
ফ্লেচ্ছগণ (ও) সমাদরে করিছে গ্রহণ।
কিন্তু কি দুর্ভাগ্য আলি হল উপস্থিত,
আৰ্যশাস্ত্রে অবিশ্বাস আর্ষের ভবনে!
অদৃষ্টের লিপি ভিন্ন কি আর বলিব।
যে হবে স্নেচ্ছের দাস স্বার্থের নিমিত,
( হউক, তাহাতে দুঃখ কেহ না করিত,
যদ্যপি থাকিত স্বীয় ধৰ্ম্মেতে বিশ্বাস।)
তুষিতে প্লেচ্ছের মন ধর্মচ্যুত হয়ে
ভাইয়া দুঃখনীরে, জনক, জননী,
ফ্লেচ্ছবেশে সাজি করি, স্লেচ্ছের আহার
পারিল কি ভুলাইতে ম্লেচ্ছগণে কেহ?
কিছুতেই ভুলিবার পাত্র তারা নয়,
যত চেষ্টা কর, হবে ভন্মে বৃত ঢালা।
বিশ্বাস নাহিক যার, আপনার ধৰ্ম্মে-
পারে কি, অপরে তারে বিশ্বাস করিতে?
বুঝে নাই, বুঝিবে না, ভারত নিবাসী,
যাবত না যাবে, তুচ্ছ, সুখের প্রয়াস।
সুখের নিমিত্ত মােরা সদা বিড়ম্বিত
সুখ জ জাতি, মান, বিসৰ্জন করি,
সুখ আশে দেশে দেশে কৰি পৰ্যটন;
সুখ তরে হাজারে পাই কত শান্তি।

মুথ-ভ্রম।
৪৯
সুখ লাভ করিবারে বহুরূপ হয়ে
পর বেশে সাজি কত হ'তেছি লজ্জিত ;
পর-পদ লেহনেতে ঘৃণা ধূ মন,
পর-পদাঘাতে করি মােনানুভব,
ইত্যাদি, নিকৃষ্ট বৃত্তি করিতে আশ্রয়
কিছুতেই পরায়ুখ নহি সুখ তরে।
কিন্তু হায়! নহে, ইহা, সুখের কারণ ;
-কৰ্ম্মভােগ মাত্র সার, দেখ বিচারিয়া।
পরমুখাপেক্ষী হয়ে সুখলাভ আশা,
বিড়ম্বনা ইহা হতে আছে কি জগতে।
যে সুখের সাধে, আজি উন্মন্তু আমরা
পদে পদে বিড়ম্বিত হই অহরহ,
জানি, খনি, দেখি, তাহা কিছু সত্য নয়;
অথচ কি হেতু তাতে মজি অবিরত।
—এ রহস্য কোনরূপে পারি না বুঝিতে।
রতন, কাঞ্চন, রৌপ্য, কাষ্ঠ কি প্রস্তর
বৃক্ষ, লতা, ফল, ফুল স্বভাবসুন্দর ;
রাজ্য ধন হয় হস্তী রম্য অট্টালিকা,
পুত্র, কন্যা, কল, কি বন্ধুবৰ্গৰত,
অশান্ত মনেরে কেহ, না পারে ভুলাতে;
চিরানন্দ মন নহে কাহার(ও) ভিখারী।
বিষয় আসক্ত মন, ব্যাকুলিত হয়ে

৫০
মূৰ-এম।
ইতস্তুতঃ অমে সদা সুখ সুখ করি।
কিন্তু হায়! মনটি কিছুতে না হয়,
-কেবল উদ্বেগ মা অসাধ্য সাধিতে।
ধৈৰ্য্য ধারণের শক্তি বিলুপ্ত হইয়া
পদে পদে বিড়ম্বিত হয় মুখরে।
পয় কাতর নহে, কে আজি সৎসারে ?
আপনার অবস্থায় নষ্ট না হয়ে
উন্নতি আশায, কত অসৎ উপায়ে
অর্থ সঞ্চয়ের পথ খুঁজিয়া বেড়ায়।
কিন্তু, ক্ষণকাৰ কেহ চিন্তে কি অন্তরে,
অচিরে সমস্ত সুখ গরাসিবে কাল।
দেখিলে যে ইতপুর্বে সুনীল আকাশে
অসংখ্য তারকারাজী, সাজি জ্যোতিজালে
মানব মনেতে কত আন বৰিল।
কিন্তু হাৰ । কোথা হতে আসি কাল মেঘ,
সমস্ত সৌন্দৰ্য্য রাশি নাশি অনায়াসে
মুহুর্তে কি পরিবর্ত সংলার আবর্তে ।।
-জীৰকুল ভকুল, প্রণয়ে যেমতি)
গরজে জীমূত জাল ভৈরব আরবে,
বহি ঝড, উপাড়িছে তরু লতা, বেগে
গিরি শৃঙ্গ শত শত চুর্ণীকৃত করি,
নিক্ষেপে, মহাের্মিমালী জলধি সলিলে ;

সৎ-ভ্রম।
৫
ভৈরব তাণ্ডবে মগ্ন যেন প্রভঞ্জন।
মুখের রজনী হ’ল দুঃখে পরিণত,
হাহাকার রবে পূহইল নগর।
কেবা সংখ্যা করে প্রাণী কত যে মরিল,
কাহার (3) বদনে নাহি মৃদু হাসি আর,
অশ্রুতে প্লাবিত দেখি সুখী দুঃখী সবে।
সেই কালে যদি, সুধী অটল থাকিত,
বলিতাম, তবে, তার পতন বিরল ;
কাল অধিকার ভুক্ত নহে ধনীগণ।
অধুয়ে দেখি পুনঃ মহাশ্মশানে
চতুর্দিকে শবরাশি বিক্ষিপ্ত রয়েছে।
অস্থি, মজা, বসা, মাংলে প্লাবিতা ধরণ,
ছিন্ন ভিন্ন দেহ কত বিকট আকার।
-শৃগাল গৃধিনী আদি মাৎসাশী হরিষে
মুহুর্মুহু সুভীষণ কর্কশ চীৎকারে
বধির করিছে কর্ণ, ভীতি সঞ্চারিয়া।
বংশ বিনির্মিত শব বহন আধার
অসংখ্য পতিত, জীর্ণ-শষ্যার সহিত।
অর্ধদগ্ধ কাষ্ঠ, অস্থি, অঙ্গারের
দেখি সাহসীর দেহ, শীহয়ে আতঙ্কে।
সকলের গর্ব খর্ব হয় এই স্থানে,
ধনী, মানী, জ্ঞানী, মুখ যত আছে ভবে।

দেখিতেছ দুটি চিতা অলিছে সমানে,
নাহি তারতম্য কিছু পুতিগন্ধ বহে,
একভাবে হইতেছে, দ, হুতাশনে।
মতের বান্ধবদের বেশ ভুষা দেখি,
একে ধনী, অন্তে দুঃখী হয় অনুমান।
নিকটে বসিয়া যত আত্মীয় কুটুখ,
বিসর্জিহে অঞ্চমাত্র, স্বার্থনাশ শােকে।
-কোথা কি রহিল অর্থ জানিতে না পারি,
ধনীর আত্মীয় কান্দে সে কথা কহিয়া।
উপার্জনক্ষম নাহি সংসারে দ্বিতীয়,
কিরূপে শিওরে এবে করিবে পালন,
ইহা বলি কান্দে শােকে দুঃখীর রমণী।
মৃত ব্যক্তি জ কান্দে কয়জন ভবে ;
সুখ তারতম্য কিবা ধনী ও নির্জনে।।
মায়ায় মােহিত জীব যাবত রহিবে,
কর্ণেস্থান নাহি দিবে এ সকল কথা।
অসত্য জগৎ ইহা সকলেই জানে,
তথা কাহার (ও) নাহি হয় বীতশৃহা।
বরং বয়ােবৃদ্ধিসহ সংসারের সুখে,
অধিক আসক্তি জয়ে অনেক লােকের।
-সন্তান সন্ততিরূপ কৰ্ম্মৰ বাড়ি-
জড়ায় মানবে ক্রমে বিষম বন্ধনে।

মুথ-এম।
তে
ভাবে না কেহই কিন্তু এ মায়ার পাশ,
অবশেষে গলাস। আত্মনাশ তরে।
কয়দিন জঙ্গ মােরা, এ ভবের খেলা
খেলিব, ভাবি কি তাহা, মনে একবার ।
স্বার্থের নিমিত্ত করি আত্ম বিসর্জন,
স্ব স্ব পরিণাম চিন্তা ক্ষণেক(ও) না করি,
অধঃপাতে যাইতেছি আপনার দোষে;
মােহ মুখে অমি সদা সুখের প্রয়াসে।
“ইতঃভ্রষ্ট তােনষ্ট হয় অবশেষে।
সংসারে লভিতে সুখ কার(ও) সাধ্য নাই
যতই করুক চেষ্টা সকলি বিফল।
নিরুদ্বেগ চিত্ত, কিম্বা তৃপ্তি না হইবে।
অতএব, কিসে সুখ অভিবারে চাই?
কায়িক যাতনা কিম্বা মানস বেদনা-
না আছে কাহার বল ভীষণ সংসারে ?
ঐহিক সুখেতে আস্থা পূর্ব পুরুষেরা,
নাহি করিতেন, কছু আমাদের মত।
সদা পারত্রিক চিন্তা জাগিত অন্তরে ;
কুকাৰ্যে কখন (৩) লিপ্ত না হতেন তারা।
দয়া, মায়া, শ্রদ্ধা, ভক্তি, মনুষ্যত্ব যত,
পালিয়া গাহ ধৰ্ম্ম নিয়ম রূপে,
গিয়াছেন, চলি যশঃ পতাকা উড়ায়ে,

৫৪ সুখ-ভ্রম। প্রকৃত সুখের স্বাদ করি আস্বাদন। কাল অনুসারে আজি সােণার ভারত, ছারখার হ’ল ধু বিলাস লালসে। দেবকাৰ্য, পিতৃকাৰ্য বিলােপি অনেকে বিলাসতরঙ্গে রঙ্গে দিতেছে তার। বিদেশী বিলাস জব্যে হয়ে বিমােহিত, অনর্থক অর্থ রাশি ফেলিছে সলিলে। বাহিরে, কি অন্তঃপুরে দেখ তত্ব করি, অসার বিলাসে অংশ, জ্ঞান, সবাকার। ব্ৰহ্মণ বৈষ্ণবে ভক্তি, গুরুজন সেবা, অতিথি সৎকার কিম্বা ভিক্ষুকেরে দান, ধর্মকাৰ্য বলি আর নাহি কার(৩) বােধ। যুড়ি, গাড়ী, হড়ী, ঘড়ী চেনে ব্যস্ত যারা, ধৰ্ম্মের মাহাত্ম তারা বুঝিবে কিরূপে? পূর্ব নরনারীগণে মুখের গরাস- দিতেন অঙ্গেরে, নিজে থাকি অনশনে। আত্মাৎসর্গ করিয়াও পর উপকার সাধিতে কদাচ নাহি, হতেন বিমুখ। ধৰ্ম্মকাৰ্য জীবনের সার জ্ঞান করি- বসন, ভূষণ কিম্বা, পলান্ন ভোজন, মিথ্যা মুখ বলি ভরা করিতেন ঘৃণা। অধুনা যে দিকে আঁখি কিরাও, দেখিবে-

হা অয়। হা আয়। বলি কান্দিছে সকলে।
—সেই বসুন্ধরা আজ(ও) শস্যে পরিপূর্ণা,
তথা এমন কেন হয় বল দেখি?
-ধর্মের তাচ্ছিল্য হেতু এই দুর্ঘটনা,
সংশয় নাহিক, মনে দেখ চিন্তা করি।
ভিক্ষুক অবধি, ধন কুবেরের গৃহ,
অতৃপ্তি, অশান্তি হেতু, অভাব সবার।
নিজ অবস্থায় কেহ, না হয় সন্তুষ্ট
ইর্ষায় বিলাস তৃষ্ণা বাড়ি দিন দিন,
বিবিধ কুপখে লিপ্ত হ'তেছি আমরা।
শুনিলে শীহরে দেহ, যে সকল কাৰ্য,
অর্থবলে, পাপী তাহা সাধে অনায়াসে।
অর্থে সিদ্ধ নাহি, হয়, কোন কাৰ্য ভৰে ?
কিন্তু সে অর্থের সুখ, কত দিন রবে-
তিলান্ধের তুরে কেহ, ভাবে কি এ ভবে ?
পরকাল ভয়ে ভীত যিনি, আজীবন,
অসদুপাৰ্জনে, কভু নাহি হন ব্রতী
অনশনে দিনপাত হ'লেও, কদাচ
হয় তাহার মনে পরধন লােভ।
-আপন অদৃষ্ট ভাবি, স্যায় লব্ধ ধনে-
সন্তোষে সংসারযাত্ৰ নিৰ্বাহ করেন।
কিন্তু কেন ব্যক্তি এবে, অতীব বিরল।
;

সুখ-ভ্রম।
(ঈশ্বরানুগ্রহ ভিন্ন ঘটে না এ মতি)
পরধন স্পৃহা যার অতি বলবতী,
পরের পীড়নে রত সৰ্ব্বদা যেজন,
তাহাকে যদ্যপি সুখী বলে কোনজন,
না বলিবে ভাগ্যধর, কেন বা তঙ্করে?
কতদূর ধর্মপ্রাণ ছিলেন আৰ্যেরা,
একটা দৃষ্টান্ত দ্বারা প্রতীতি হইবে;
—পবিত্র ঈখর নাম সংকীর্তন বিনা,
দৈনন্দিন কাৰ্য তারা নাহি করিতেন।
লােকহিতে ধৰ্ম্মনীতি লিপিবদ্ধ করি-
গিয়াছেন তারা রাখি, সুকীর্তি জগতে।
যে কোন প্রকারে ঈশ নাম উচ্চারণ
অভ্যাসে কলুষ নাশ আশয়ে তাহারা,
নারায়ণ, গঙ্গাধর, লক্ষ্মী, জগদম্বা,-
নাম রাখি ডাকিতেন পুত্র কন্যাগণে।
মানব-হৃদয় স্বর্গ, নরক আধার।
যার চিত্ত যেইরূপ দেখায় সেরূপ।
হায়! কি কৰ্যকাল, হ’ল উপস্থিত
জাতি, কুল, মান আদি, সে পূৰ্ব্ব মৰ্যাদা
হারায়ে, হৃদয়দোষে, হইলাম নীচ।
অর্থের নিমিত্ত মােরা কিবা নাহি করি,
পবধি মাংস বেচা যেরূপ দুচ্চাৰ্য,

থ-প্রম। সেরূপ বিবাহে নিজ কুলের গৌরব পুত্র কন্যা, বেচা কেনা হয় কি সঙ্গত। অসত উপায়ে ধন আহরণ করি, দারিদ্র্য মােচন কার, হয়েছে জগতে। অধুনা স্বধৰ্ম্মে নাহি সেরূপ বিশ্বাস, পৈশাচিক সুখে সবে হইয়া উম্মত্ত, “রিপু চরিতার্থ মাত্র জীবনের সার” ইহাই ধারণা মনে হয়েছে সবার। সমাজ বন্ধন নাহি, নাহি রাজভয়, যথেচ্ছাচারী বশে প্রায়শঃ মানব, কদৰ্য কার্যের সীমা করি অতিক্রম, -ইচ্ছায় নিরয় পথ করিছে নির্মাণ। ক্ষণকাল মৃত্যু চিন্তা কেহ নাহি করি, নশ্বর সুখেতে কাল কাটি দিবা রাতি। জ্ঞানদীপ-দীপ্তি এবে দৃষ্ট নাহি হয়, অজ্ঞানান্ধকারে হল আচ্ছয় জগত। শঙ্কর জাতিতে পূর্ণ হয়েছে ভারত; ভেদাভেদ নাহি আর চতুধি জাতি। সুপৰিত্ৰ আৰ্যকুল অপবিত্র করি- নিঃশঙ্কে কলঙ্ক পঙ্কে ললাট ফলক- চৰ্চিত করিছে আজি আৰ্য কুমারের। পূৰ্ব্ব পুরুষেরা, যার, ছায়া স্পর্শে হায়।

অশুচি নেছে পূত হইতেন গানে,
সেই বংশে জন্যি মােৱা, সে প্লেরে আম,
অক্ষোভে আহারে কত আনন্দ প্রকাশি।
এ হ’তে আক্ষেপ আর কি হইতে পারে।
বুঝিতে না পারি, ইহা কি অদ্ভুত সুখ।
বিড়ম্বিত হই, সুখ অন্বেষি সংসারে
তথাপি সুখের চেষ্টা নিয়ন্তি কাহায়?
দাম্পত্য প্রণয়, কিম্বা পুত্রের ভকতি,
জনক জননী স্নেহ, জাতীয় আদর,
গুরুজন আশীৰ্বাদ, আত্মীয়তা যত,
স্বার্থ শূ৮ নহে, তার, একটাও কতু।
—অর্থ শূন্য জনে মাতা নিন্দে নিয়ত,
অনাদর, পিতৃস্থানে লভে হতভাগ্য,
ভ্রাতাৱা নাহিক তারে সজ্ঞাষণ করে।
-ঘণা পূর্ণ কটু কথা কহে ত্যগণ,
অবাধ্য হইয়া পুত্র কত কষ্ট দেয় ;
অর্ধাঙ্গিনী ভাৰ্য্যা তারে দূরে পরিবরে।
—পায়ে ধন চায় বলি বান্ধব নিয়—
দেখা মাত্র, দূরে যায় আদি ৰদন।
এমন সংসার সুখে ধিক শতবার।।
অবশ্য এলে কে পারেন বলিতে,
“তবে নীয়া মুখী হয় এ সিগন্তে,''

স্বীকাৰ্য্য একথা, যদি, কাহাকেও দেখি, আকা নিবৃত্তি হতে এজীবনে হে। গিয়াছে,হয়েছে, ধনী অসংখ্য ভুবনে, ছিল, কি হইল কার (ও) আশার নিবৃত্তি। আশায় উপেক্ষা করে হেন ব্যক্তি যিনি, কখনও কি হন, তিনি, অন্য সুখ প্রিয়। পক্ষান্তরে দেখ পুনঃ বান্ধব সকল ধনীর নিকটে ধু ধনের প্রত্যাশী, কিন্তু ধনদানে ধনী আশায় সুর- করিতে পারিল কার (৩) গুনেছ কিছু। যতই যাহাকে অর্থ, কর বিতরণ, ততই তাহায় হবে লালসা অধিক। অর্থক্রীত বহু বন্ধু, অকৃতজ্ঞ হয়ে দুঃসময়ে অভাগার ফিরে না জিজ্ঞাসে। কেহ ৰ দ্বাৰ্য সাধি, নিজ হদয়ে- অদূরে পর, আর দেখা নাহি যায় । আঙ্গীন যেই জন স্বার্থ হয়ে বন্ধু সুখে আনন্দিত; কিন্তু দুঃখে পুনঃ ধন জন দ্বারা কি আত্ম-বিসর্জনে অকুন্ঠিতে সাধে হিত, সত্য সেই বন্ধু। - সেইজন খার, এ হেন বান্ধব। কি কি কুৎসিত কাল হল উপস্থিত,

থ-প্রম।
3
ধৰ্ম্মভাব বিরহিত প্রায়শঃ মানব,
অশনে বসনে(ই) সুখ করিতেছে জ্ঞান।
সম্প্রতি হেরিছ, ধনী, যিনি এ নগরে-
পােষ্যবর্গ চতুর্দিকে যশাে গানে রত;
ভাৰ্য্যা তার অলঙ্কারে অং সাজাইয়া
প্রতিবেশী সন্নিকটে গরব করিয়া
কত না মধুর হাসি হাসিছে নিয়।
বিবিধ বিলাস মুখে পুত্র-পৌত্রগণ,
সর্বদা সন্তোষ চিত্তে করিছে বিহার;
যমদূত সম দ্বারে প্রহরী নিচয়,
সতর্ক ভাবেতে শত্ৰু নিবারিছে সদা।
—বিষয়ে আসক্ত হয়ে ভুলি ইষ্টচিন্তা
অমাত্যবেষ্টিত, ধনী, বসি উচ্চলনে
নিত্য কাৰ্য কুতুহলে সাধিছেন সদা ।-
সময় জ্ঞাপক যন্ত্র, বাজে অবিচ্ছেদে,
তারা কেবল কাল করিয়া নির্ণয়,
শয়ন ভােজন আদি তুচ্ছ কাৰ্য্য সাধে ;
কিন্তু কি বিষম ভ্রম? নিজ পরমায়ু
কত গেল, তার সংখ্যা না করে নির্ণয়।
-না ভাবে সে ধন জন দারাপুত্র আদি
ভবলীলা সাঙ্গ দিনে সহে নাহি যাবে।
দুফে নিত-শষ্য। শয়নের তরে-

মুখ-ভ্রম।
রয়েছে অবশ অদ্য, কিন্তু সে সময়
ভূ-শয্যাও লাভ, ভাগ্যে ঘটে কদাচিত।
অনির্দিষ্ট কালে কাল, কবলে যখন,
সুকীর্তি-কুকীর্তি মাত্র রহে ধরাধামে।
(সুকীর্তি অধুনা প্রায় বৃষ্টি নাহি হয়,
কুকীর্তি-কুশল আজি বিত্তর ভারতে।
সতের সহিত যার নামের গণনা
নাহি হয়, তার সম কে ভবে দুর্ভাগা।
ভারত মাতার মাত্র ভার হয়ে মােরা
লভেছি জনম ভবে ভবিতব্য নিয়ে।
কি জন্য আলিনু হেথা কি করিয়া যাই,
দুরদৃষ্ট-বশে তাহা ক্ষণেক (ও) ভাবি না।
“সুখ সুখ” করি, মরি গরল ভখিয়া
তথাপি চেতনা নাই; কি বিষম প্রম।
পুত্র কি কল, কিম্বা বন্ধু বান্ধবাদি
করিবেনা, কেহ, স্বীয় কৰ্ম্মাংশ গ্রহণ;
করেছি, করিব, কর্ম, মন্দ কিম্বা ভাল,
ফলভাগ আমি ভিন্ন অঙ্গে না হইবে।
একের দুর্দশা দেখি, অন্যের অন্তরে
কি জন্য হয় না ভয়, না পারি বুঝিতে।
শুভাশুভ কৰ্ম্মফল জীবেরে বিধাতা,
দিবেন নিশ্চয় অ্য, কল্য, কি পর।

মুখ।
অধুনা, চাতুরী করি কেই রামারে-
গুপ্ত রাখি আত্ম দোষ মুক্ত দেখি,
কিন্তু সে বিচারালয়ে বিচারক যিনি,
কমাত্র জুম লেশ নাহিক হার
চরাচরে জীবচয় যত কাৰ্য করে,
তাঁর দিব্য চক্ষে কিছু অলক্ষিত নয়,
নিরপেক্ষ দেন, তিনি, দণ্ড পুরস্কার।
উকীল মাের কি সাক্ষীর সাক্ষ্যতা,
এয়ােজন নাহি হয় ধৰ্ম্মের নিকটে।
কর্মের সহিত দীৰ প্ৰয়ং তথা গিয়া
মুক্তকণ্ঠে স্বীয় কাৰ্য্য করে প্রমাণ।
অঙ্গের অলক্ষ্য ভাবে করি বাহাদুরী,
কতনা কুকাৰ্য মােরা সাথি নিত্য নিত্য।
হায়রে। সেদিন গৰ্ব কোথায় রহিবে,
কৃতান্তকবলে বৰে হৰ কবলিত।
ক্ষণেকের জন্য ই চিন্তা নাহি করি,
ঘাত প্রতিঘাতে আনা হলে জর কর
অশ্রুতে প্লাবিত হয়ে করি হায় হা।।
দোষ দেই বা মাত্র বিশ্ব বিখাতায়।
কিন্তু লক্ষাধিণ কিন্তু সুখীন অঞ্চ,
তারতম্য নাহি কারও ঈর সমীপে।
সমভাবে লকগেইভেনু,

মূর্থেরা তাঁর প্রতি দোষ আরােপিয়া
কেন কলুষিত করে আপন রসনা?
অনন্ত সুখের তত্ব প্রশান্ত হলেও,
সাধুগণ পরাধুখ, না হন তাহাতে।
(অনির্বচনীয় সুখ তাহাকেই বলি,
নতুবা জবের সুখ ক্ষণস্থায়ীমাত্র।)
দেখিতেছ দূরে অই বিপণি সকল
বিবিধ মিষ্টান্ন তাতে আছে সুসজ্জিত,
ক্রয় করি কতজন করিছে আহার ।
কিন্তু, জাৰ, সেই মুখ কতক্ষণ তরে?
-যে মাত্র জিতে ব্য হইল অর্পিত,
(হতে পারে) সুখ কিছু হ’ল সে সময় ।
তদন্তরে গুলি কৰ্য স্থানেতে
পরিণত হয়, বিষ্ঠা মুত্রাদি আকারে ;
গলাধঃকরণ মাল উখায়িলে পুনঃ
দেখিলে সে সব অব্য মনে হয় না।
-ইন্দ্রিয়ের খা ৰ ভােগ বসানে-
থাকেনা পুর্বের ন্যায় শব্দের সেরুপ।
অর্থনিত কি অশন বসনে,
বে সুখ উহােৰ করে বিষয় হয়ে,
ক্ষণেকে বিন তাই হয় কে কার,
না হয় তেমন সাধু আরিত।

77777
অতি কষ্টে সাধুদের সাধন প্রভাবে
চরমে যে সুখ হয়, ধ্বংস নাই তার।
অই যে ভিক্ষুক দেখ রাজপথে যেই
মিছে গৃহস্থ দ্বারে ক্ষুধায় কাতর।
বিশেষ সমৃদ্ধিশালী ছিল সেই জন ;
ধনমত্তে ক্রমে ভূলি হিতাহিত জ্ঞান,
নানামতে প্রজাগণে পীড়ন করিয়া
করেছিল কত অর্থ সঞ্চয় অভাগা।
অলক্ষ্মীর বরপুত্র চাটুকারগণ,
স্বার্থ হেতু দাস ভাবে হইল মিলিত;
এরূপে কুসঙ্গী সঙ্গে মজি নানারঙ্গে,
অর্থ প্রলােভনে কি বল প্রকাশিয়া
সতীর সতীত্ব কত হরেছে দুর্গতি।
খাদ্যাখাদ্য কিছুমাত্র বিচার না করি
পুরেছে উদর, হর্ষে শাশূন্য হয়ে।
উজ্জ্বল যেরূপ দীপ নিৰ্বাণ সময়ে
হয়েছিল অল্পদিন সেরুপ প্রভাব।
—দেখিতে দেখিতে তত বিপুল সম্পত্তি,
কোথা চলি গেল, তাহা কেহ না দেখিল।
এরূপ দৃষ্টান্ত কত আছে এ জগতে
ধনের গৌরবে মত্ত হইয়া বিষয়ী
কৰ্ম্মদোষে শেষে পড়ে দুঃখময় কুপে।

সুখ-ভ্রম।
৫
পুনঃ হের উচ্চচুড়ে উড়িছে পতাকা,
দেবালয় ওটী, এক ভিক্ষুক নিৰ্ম্মিত।
দেশে দেশে পটিয়া ভিক্ষালব্ধ ধনে
গড়িয়া দেউল তিনি স্থাপি শিবলিঙ্গ,
আরাধিয়া, ব্রহ্মচর্ষে কাটিছেন কাল।
সর্বদা সন্তোষচিত্ত দেখি কেন ভারে?
হাশ্যানন ভিন্ন, কেহ বিষ বদন,
ক্ষণেকের তরে নাহি হেরিল উহার।
ধনী, দুঃখী, কি পাষণ্ড, যে কেন না হয়,
বিদ্বেষ তাহার প্রতি কেহ নাহি করে।
কপর্দক মাত্র নাহি করেন সঞ্চয়,
অথচ অচল নাই; দৈনিক ভিক্ষায়—
দৈব কি আতিথ্য কাৰ্য্য চলিছে নিয়ত ;
ধৰ্ম্মপথে রহি সদা চিন্তেন ঈশ্বরে।
দেখিলে দুইটা দৃশ্য অমিয় গরল,
কৰ্ম্ম দ্বারা ফল ভােগ লভিছে উভয়ে।
রিপু পরাজয়ে যার নির্বিকার চিত্ত,
সংসারের সঙ্গে তার নাহি ঘনিষ্ঠতা,
সৰ্ব্বদা পরমানন্দে যাপিছেন কাল।
তুমি আমি কিরূপে তা সম্পাদিতে পারি।
সৰ্ব্বদা হইয়া আহি রিপুগণ দাস ;
আত্মজ্ঞান না জন্মিলে ঈশ্বর প্রসাদ

.
ও ৫
মুখম।.
ভিতে শকতি কার (ও) নাহি কোন কালে।
লেপি অঙ্গে ভন্ম কিম্বা, গঙ্গা মৃত্তিকায়
পরি কণ্ঠে পবিত্র রুদ্রাক্ষ তুলসী ;
আবৃত হইয়া থাক কৌষেয় বসনে,
নখ লােমাদিতে কর ভয়ানক বেশ,
পারিবে লভিবারে ঈশ্বরানুগ্রহ ;
যাবত না হবে চিন্তে আত্মতত্ববােধ।
নাহি সে পূর্বের স্যায় ধৰ্ম্ম আলােচনা,
পুরাণ পাঠাদি সব হইয়াছে লােপ;
সাধু সঙ্গ লাভ আর ঘটে কার ভাগ্যে ?
পূর্বের সংস্কারবশে বৃদ্ধেরা যদ্যপি-
ঈশ্বর উদ্দেশে কোন সুকাৰ্য্য আরম্ভে,
“গোঁড়া” বলি দুর্জনেরা করে উপহাস।
যেখানে গমন কর, দেখিতে পাইবে,
সকলে চিন্তিহে অর্থসংগ্রহের পথ ;
হাসাইয়া, কান্দাইয়া, যেরূপে পারিবে,
অর্থ উপার্জন ব্রতে সঙ্কল্প সবার।
ধর্মচিন্তা একেবারে হইয়াছে লােপ,
নশ্বর সুখের জন্য সবে লালায়িত।
দুর্গা দুর্গারদ্বয়, প্রভাত সময়ে
নিতে পাবেনা আর অনেকের (ই) মুখে ;
কোষাচুষি করে করি প্রাতঃন তরে

কয়জন যায় বল জাবীসলিলে ?
স্বহস্তে চয়ন করি পুপ বিশ্বদল,
কে করে, ভক্তির সহ ঈশ্বর অর্চনা।
বিনা নিবেদিত দ্রব্য আজিকার দিনে,
অনেকে ভােজন করে দেখ তথ্য করি।
বিষয় বাসনা ভিন্ন ঈশ্বর প্রসঙ্গ
শ্রবণে যাপন করে কেবা ক্ষণকাল ?
“দেবতাভজিমিছুন্তি” প্রসিদ্ধ এ বাক্যে
প্রত্যয় করি
সাধে কেবা যােগ।
একেত পাশ্চাত্য শিক্ষা হয়েছে প্রবল,
আৰ্যধৰ্ম্মে আস্থা তত আৰ্য্যবংশে নাই,
তুতি তৃপ্তিতে পুনঃ কলুষিত মন,
কিরূপে বুঝিবে আর কর্মের বিধান।
ভক্তি ভিন্ন মুক্তিলাভ হবেনা নিশ্চয়,
ভক্তিই কেবল নিত্য সুখের কারণ।
তাহাতে বঞ্চিত যে, তাহার কি সাধ্য
অবিনাশী নিত্যসুখ করে আস্বাদন।
উপদেষ্টা অনেকেই; কিন্তু এ জগতে,
উপদিষ্ট পথগামী, নিজে অল্প জন। .
আমা হ’তে অভিজ্ঞতা লভিয়াছ তুমি,
তােমা হতে অন্য ব্যক্তি আছেন পণ্ডিত,
এইরূপ জমােত 'শিক্ষিত মানব

মুথ-এ।
রয়েছে ভুবন ভরি উচ্চ উচ্চতর।
উপদেষ্টা হন যদি নিজে উপাসক,
দেবতা সদৃশ তিনি ভক্তির ভাজন।
হায়রে। অদৃষ্ট আর প্রসন্ন না হবে,
সেরূপ মহাত্মাগণে না পাব দেখিতে।
গুরু শিষ্য উভয়েই ধনের ভিখারী,
কাষেই মানব হয়ে পণ্ডর সমান,
সাধিছে কেবলমাত্র চতুৰ্বিধ কাৰ্য্য।
অধৰ্ম্মের স্রোত ক্রমে হইয়া প্রবল
প্লাবিত করিল আৰ্য্য নিবাস ভারত!
সুপবিত্র তীর্থস্থান যতগুলি আছে,
তাহাতেও পশি দেখ নরপিশাচেরা,
অকীর্তির পরাকাষ্ঠা প্রদর্শিছে নিত্য।
ধর্মভয় দেবভয় বিলুপ্ত হইয়া
তামস বুদ্ধিতে সবে হয়েছে আচ্ছন্ন।
দিন দিন পরিবর্ত কত যে হইল,
বলিয়া লিখিয়া শেষ করে কার সাধ্য।
দেবার্চনা হত পূর্বে সুন্দর কুসুমে,
মানবী সজ্জিত হয় তারায় আছি।
ধূপধুমে দেবালয় হত সুগন্ধিত,
আজি তাহা বিলাসীর মলত্যাগ স্থানে,
দুর্গন্ধ বারণ হেতু হয়, প্রয়ােজিত।

থ-প্রম।
নানাবিধ দূষ্যভাব মনে প্রবেশিয়া
ধরুচি একেবারে হয়েছে বিলােপ।
পরকালে অবিশ্বাস, এ সংসার মাত্র
ভােগ সুখ ধাম বুঝি সাধিছে কুকাৰ্য্য।
ইহজন্মে পাপে লিপ্ত না দেখি যাহারে,
অথচ আজন্ম দুঃখ কেন ঘটে তার ?
পূৰ্ব্ব-কৰ্ম্মফল ভিন্ন, কি তার সিদ্ধান্ত।
কর্মেই নরক হয়; কর্মে স্বর্গ ভােগ,
কৰ্ম্মে কর্মক্ষম হলে সুনির্বাণ লাভ;
ইহাই বিশ্বাস ছিল আৰ্যদের মনে।
ইচ্ছা করি জন্মান্তরে অধম যােনিতে
আত্মারে প্রেরণজন্য যার অভিলাষ,
তার সম মহাপাপী কে আছে ভুতলে।
অশনে বসনে যদি হত আঘােয়তি,
কাচ মহর্ষিগণ কঠোর তপস্যা-
নাহি করিতেন সদ, সহি তত ক্লেশ।
মৃত্যুর সহিত কৰ্ম্ম বিলুপ্ত হইৰে,
ইহাই করিয়া মনে পাষণ্ড আমরা
করিতেছি কাৰ্য্য যত বৈধ কি অবৈধ ;
আত্মার প্রসাদ আর ঈশ্বরানুগ্রহ,
কিছুমাত্র ভেদ নাই, উভয় সমান।
যদি আহেন আকা এ নশ্বর দেহে

৭
মৃত্যু ভিন্ন স্থানান্তরে নাহি গতি তার।
কিন্তু তার আরাধনা ব্যতীত সুফল
কাহার ভাগ্যেতে নাহি ঘটিবে কখন।
দুগ্ধে মৃত জন্মে বলি দুগ্ধবতী গাভী,
কবে পুষ্ট হয় বল? দুর্থ মন্থনিয়া—
নবনীত তুলি দেও, গাভীরে আহার,
পুষ্ট কলেবর তবে হবে সে সময়।
তপ বিচারি মনে দেখ একবার,
আত্মতত্ব বােধ নাহি হয় কৰ্ম্ম বিনা ।
কৰ্ম্ম দ্বারা চিত্তশুদ্ধি করি মহাত্মারা,
বাহলুখ উপেক্ষিয়া আনন্দ অন্তরে,
আত্মধ্যানে নিরন্তর আছেন নিমগ্ন।
এ হেন মহাত্মা আজি বৃষ্টির গােছর
হইতে সম্ভব নাই কাহার(ও) ভাগ্যেতে।
স্বার্থ সাধিবার তরে ধন কিম্বা বিদ্যা
অর্জনে, বিশ্বাস করি, আত্মােন্নতি লাভ।
কিন্তু যে দেহের জ এই সুখবােধ,
সে দেহের কিবা দশা চরমে হইবে
ভাবি কি, কেহই তাহা ক্ষণকাল তরে?
নিক্ষেপিত কি হবে প্রােথিত ভূতলে,
ভক্ষণ করিবে পশু পক্ষী বা কীটাদি,
তাহাদের বিষ্ঠারূপে হৰে পরিণত ;

মুখশ্রম।
৭১
অথবা অনল দ্বারা হইলে দাহন,
ভন্মরূপে চতুর্দিকে বিক্ষিপ্ত হইবে।
এ হেন অসার দেহ করিয়া ধারণ
কতিপয় দিনমাত্ৰ থাকি ধরাধামে;
দিনান্তে নাহিক চিন্তি চিন্তামণিধনে?
সতত কুৎসিত কাৰ্য্য সমাধান করি
যাইতেছি মুখে কালী মাখিয়া আমরা।
কিবা সুখে হাসি, কান্দি, কাহার নিমিত্ত ?
মুহূর্তেক জন্য তাহা কেহই ভাবি না।
যার প্রসন্নতা লাভে নিত্যসুখ পাব,
আক্ষেপ তৎপ্রতি আছে, বল দেখি কার ?
অমিয়া চৌরাশী লক্ষ বােনি, তারপর
ভাগ্যক্রমে যদ্যপিও মানব হই,
কিন্তু হায়। কর্মদোষে মজি পাপপকে
পুনরায় অধঃপাতে করিনু গমন।
চালােক ত্যজি, কি খদ্যোত আলােক,
এ হ’তে কি কুবাসনা হতে পারে আর ।।
যাহারে বাসিলে ভাল, ভালবাসা তৃষা
বিদূরিত হবে, তাহা শিখিলাম কই?
আশার দাসত্ব করি আজীবন তরে
জগতের দাস হয়ে কাল কাটাই।
পারিতাম যদি দাসী করিতে আশারে,

৭
নিশ্চয় হইত দাস জগৎ আমার।
বুঝিতে পারি ইহা, স্বাধীন ক্ষম
হারাইয়া হইলাম পশুর সমান।
সংসার শৃঙ্খলে বন্ধ হয় যেই জন,
সাধ্য কি তাহার, করে এ সকল চেষ্টা।
বরং হেরি পক্ষীগণ স্বাধীন সর্বদা,
বিচরিছে নভােদেশে যেরূপ আনন্দে
সেরূপ স্বাধীনভাবে আমরা কি আর
অন্যত্র যাইতে পারি হেলি বন্ধুবাক্য।
জনমের তরে করি স্বাধীনতা ত্যাগ
পরস্পর পরাধীন হইয়া মানব,
প্রলােভনপূর্ণ স্থানে থাকি সর্বক্ষণ,
প্রকৃত সুখের স্বাদ গ্রহণ করিল
নিতে না পাই তা কভু কোনকালে।
যত কেন চেষ্টা নাহি কর প্রাণপণে
কদাচ না পাবে নিত্য সুখ এ সংসারে।
কণলী দেহ যার অনুভব নাই,
কি প্রকারে সে বুঝিবে সংসার অনিত্য ।
বিষয়ান্ধ হয়ে সবে'হারায় সুপথ।
হায়রে অদৃষ্ট। আজি কি বিষম কাল
প্ৰকৃতানুসন্ধানেতে সবেরুচিহীন।
সুকঠোর এতে থাকি বিজন অরণ্যে
;

22 মুখ। ৭০ শাধি মখি নভি অমৃতােপদেশ, মানবের হিত জঙ্গ করিয়া সঞ্চয় রাখিলেন ঋষিগণ ভারত ভাণ্ডারে। কিন্তু অবিশ্বাস করি তাহাতে আমরা মােক্ষমূলরের বাক্য করিতে প্রমাণ, প্রাণপণ করিতেছি, দুর্ভাগ্য প্রসাদে। শক্তি যাৱ নাহি, বুঝে কাচ কি কাঞ্চন, পণ্ডিতাভিমানী এবে তাহারা জগতে। দেখিতে এসব হ’ল কলির প্রসাদে, নতুবা এরূপ জম হ'ত কি কখন? আৰ্য্যের সর্বধন বেদাদি পুরাণ- সমুদ্রের পারে গেল জৰ্ম্মনিতে আজি, তাহার প্রসাদে হল পরা মানব মনুষ্যত্ব হারাইল আসুতগণ। ভাগ্যলক্ষ্মী পদে ঠেলি, অলক্ষ্মীর দাস- ইচ্ছা করি হইতেছে মানব সকল ; এহতে আক্ষেপ আর কি হইতে পারে ? বুঝিলনা ক্ষণকাল কেই চিন্তা করি। স্থে পদর মাখি ললাট ফলকে, হিজিবিজি কতগুলি উপাধি ব্যাধিতে আক্রান্ত হইয়া করি সত্যে দোষারােপ, অসত্যের সস্থাপন করিতেছিস। }

৫
পৈতৃক সম্পত্তি রাশি আগয়ে ফেলিয়া,
কুলে বসি বালি রাশি কুড়াই যতনে।
কিন্তু ফলােয় তাতে কিছু হইল,
নিজের মুখত মাত্র প্রকাশ হতেছে।
স্বদেশে থাকিয়া করি স্লেচ্ছ ব্যবহার,
তাহাতে মনের প্রতি সাধন,
অতঃপর গিয়া সেই গেময় দেশে
যথেচ্ছাচারীর সীমা করিয়া জঞ্জন,
স্বর্গ নােপানেতে আজি আরূঢ় অনেকে।
হাধি। সুখের তরে এত কুপ্রবৃত্তি
উদয় হয়েছে মনে ভারতবাসীর।
সােণার ভারত; ইথে সমই আছে,
সন্ধান করিলে মাহি কিছুর অব।
ব্যবসা বাণিজ্য ছাড়ি মাল দাস হতে
জাতি, ধর্ম মান আদি উৎসর্গ করিহে।
সিপাহী বিদ্রোহানল কিজ বলিল
নিকীব ভারতে! দেখ ভাবি একবার,
জাতি ধর্গ রাহেতু শত শত জনে
হাস্যানমেত্যুমুখে হইল পতিত।
মূর্ব নীদের(ও), আছে জাতিনাশ হয়,
ভয়েশধারীদের বিরল কেক।
যে েেচ্ছ অনুকরী আময়া এখন,
.

তাদের(ও) সমাজে আছে-জাতি অভিমান।
নেটিব নিগার সহ তাহারা কখন(৩)
একসঙ্গে মাহি খায়, কিম্বা একাসনে
নাবসে ঘৃণায়, তুচ্ছ নাবিক খালাসী।
আভিজাত্যে হীনকুলে বিবাহ বন্ধনে
তারাও কুণ্ঠিত কেন ? ভাবি কি আমরা।
ঘােতর গ্রীলে তারা, হলেও কাতর,
সহজে না ত্যজে নিজ জাতি পরিচ্ছদ।
কিন্তু, অনুকারী মােরা, “সাম্য সাম্য” বলি
সেছের প্রসাদে তৃপ্তি করি রসনায় ;
চণ্ডালে ব্রাহ্মণ কঙ্গ করিছে বিবাহ।
ছাড়িয়া জাতীয় বেশ ম্লেচ্ছ পরিচ্ছদে
কেকী-পুচ্ছ-ধর কাক, সম মাত্র সা~ি~
কতই না গৱেঁ ঘণা করি স্বজাতিরে।
এ হতে অদ্ভুত কিবা আছে ধরাধামে।।
পরিণাম চিন্তাশূন্য হইয়া আমরা,
কতই দুর্গতি ভােগ করি অহরহ।
আপনার কৃতকর্মে দোষগুণ বােধ,
-হয় না বলেই এত হই বিড়ম্বিত।
তাশ কদৰ্য পখে জমি কিবা সুখ,
কে লভিল ? যাহা নাহি হইল বিনাশ !
সমস্ত বিনাশীল নিরখি যখন,

কিজ তাহার লাগি করি এত চেষ্টা।
মিথ্যা ধন, মিথ্যা জন, মিথ্যা এ জগত,
পঞ্চভূত দেহ মিথ্যা জলবিষ প্রায়।
পলকে পঞ্চত্ব হয়ে পচে মিশি যাৰে
পদে পদে প্রতারিত এত যে হতেছি
তথাচ চেতনা মাই কি বিষম ভ্রম!!
ধৰ্ম্মবুদ্ধি মনােমধ্যে না হলে উদিত,
মনুষ্যত্ব লভিতে না পারিবে মানব।
উচ্চশিক্ষা প্রতিপন্ন এ কালেতে বাহা,
যত অত্যাচার দেখি তাহাতে নিহিত।
বরং ঘাের মুখগণ, তাদৃশ সাহস
করিতে অনেকে হয়, কুষ্ঠিত অন্তর।
ইতর শ্রেণীর মধ্যে আছে ধৰ্ম্মভাব,
পুড়েছে অদৃষ্ট শুধু ভদ্রবংশীয়ের।
যে যত চতুর আজি, এ মহীমণ্ডলে
ধৰ্ম্মে অবিশ্বাসী হত তাহার হৃদয়।
ধৰ্ম্মদ্বেষী যেইজন, ইহ পরকালে
প্রতিষ্ঠান নাহি হইবে নিশ্চয়।
ধৰ্ম্ম ভিন্ন নিত্যমুখ লভিতে শকতি
কাহার নাহিক ইহা সর্বশান্ত বলে ।
দেহের গৌরবে করি, যত আন্দালন
ক্ষণকালে ধ্বংস কিন্তু হবে সেই দেহ,

সুখ-শ্রম।
পশ্চাতে অনন্ত দুঃখ হইবে ভুগিতে।
(করি বা না করি,তাহা বিশ্বাস এখন)
রাতে আক্রান্ত যবে হইবেরে ভাই।
বুঝিতে পারিবে মুখ সংসারের যত।
স্মরিয়া আপন কৰ্ম্ম অনুতাপানলে-
দগ্ধ হবে; নিবিবে না অশ্রুনীরে তাহা।
করিতেছি যত যত্ন সুখের লাগিয়া,
পরিণামে হবে তাহা দুঃখে পরিণত,
আপনা ধিক্কার দিবে শত শত বার
কাপিবে হৃদয় ঘাের নরকের ভয়ে।
তুমি আমি কোনছার কীটাধম কীট?
ইতস্ততঃ কর লক্ষ্য, লক্ষ লক্ষ জনে-
সকলেই ব্যতিব্যস্ত লভিবারে সুখ,
কিন্তু কার(৩) ভাগ্যে, তাহা, ঘটিল কি কভু।
অতএব ধৈৰ্য্যধরি আপনার মনে
পরপন্থীগণে করি মাতৃসমান,
পরব্য লােষ্ট্রবৎ উপেক্ষি অন্তরে,
আত্মার সম্বশ ভাবি ভূত সমুদায়ে
ঈশ্বরে করিয়া ও দেহ মনঃপ্রাণ,
অন্বেষিতে থাক সদা নিত্যসুখ সবে।
যদ্যপি ঈশ্বর-কৃপা হয় কোন দিন,
অবশ্য প্রসন্ন হবে অই তখন।

* * *
समारोनयान, शिवाज
এগিবে আয়, সুখ,
দৈবক। কিন্তু, কলে কি কৌশলে,
কি সভা কৰি ধৰ্ম খিতে নারিবে।
আসদে অরণ্যে পর্ণকুবে থাকিয়া
ৰ্ব চুষের সদা উদয় পুরণ,
কি অর্থাশনে নিত কর দিনপাত,
সম্পদে বিপদে যবে যেরূপেই থাক,
ধৰ্ম্মেতে বিশ্বাস করি ইয়ানা,
করিযা জীবন যদি পাব যাপিবারে,
তবেই গতে পুজ, হ'যে পরকালে
অনন্ত সুখের ধামে করিবে গমন।
এইরূপ ধর্মচি ধাহাদের আছে,
তাঁহাদেব জলে, খরা সঙ্গে পবিত্রতা।
নতুবা আমি কি তুমি অগণ্য নেরা,
নগণ্য হইযা আছি দেখ বিচারিয়া।
একটা ধাৰ্মিকালৰে অমল,
কোটি বিশ তরে,নতকর।
এসৰ বিচালি মনগর
শনি সংসারে , সুমা।
0}
2.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Sukh - Bhram Ed. 2nd

Author
Roy, Sri Krishnendra
Title
Sukh - Bhram Ed. 2nd
File name
Sukh - Bhram Ed. 2nd
Text
OCR done
Citation
1894
Published
2009/10/21
Publisher
Sanyal And Company, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
89
Library
Bally Sadharan Granthagar
Classification
Bengali Poem
Keywords
Bhram
DLI number
513359
Barcode
4990010020344.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
0cmlZuEb2is
Download PDF

Sukh - Bhram Ed. 2nd