Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Prakriti- Prem Part.1
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
প্রকৃতিপ্রেম।
অর্থাৎ
ঈশ্বর-প্রকৃতি এবং ঈশ্বর-প্রেমের বিশুদ্ধ
নর-লীলা-বর্ণিত কাব্য।
দ্বারকানাথ রায়
প্রণীত।
প্রথম ভাগ।
কলিকাতা
চারু যন্ত্রে শ্রীলালচাদ বিশ্বাস এণ্ড কোম্পানি কর্তৃক
বাহির জাপুর ১৩ সন্ধ্যকবিনে মুদ্রিত।
২৬৮।৮৬২
No text on this page.
পরুম-মােস্পদ যুক্ত প্রাণনাথ দত্ত সদাশয় ছাত্রবরেষু। প্রিয়তম!তুমি বাল্যকালবিধি বিদ্যোৎসাহিতা ও কাব্য- প্রিয়তা-গুণে বিলক্ষণ বিভূষিতৃ ; তোমার চিত্তক্ষেত্ৰ সৰ্ব্ব- দাই বিশুদ্ধ কাব্যরসে অভিষিক্ত; এবং কবিতা-শক্তিও ” তোমার প্রতি বিলক্ষণ সুপ্রসন্ন। বিশেষতঃ তোমার চরিত্র অতি নির্মল, এবং বিশুদ্ধ। এক্ষণে তুমি বয়ঃপ্রাপ্ত হইয়াছ; এই বয়ঃপ্রাপ্তি সহকারে ঐ সকল গুণ বহুগুণে প্রবৃন্ধ হইয়া তোমাকে আরো কেমন সমলঙ্কত করিয়াছে ! বসন্তাগমে নকিশলয়-সহযোগে তৰু সকলের কি অনির্বচ- নীয় শোভা সম্পাদন হয় না? তোমার এই সকল নানা গুণে আকৃষ্ট হইয়া অামি প্রকৃতি-প্রেম কাব্য তোমাকে পারিতোষিক স্বরূপ সমর্পণ করিলাম। শিক্ষকের সৎছাত্রের উৎসাহ বার্থ অবশ্যই পারিতােষিক দেওয়া নিতান্ত কর্তব্য বটে, কিন্তু তুমি যেরূপ সকাণ-ভূষণে ভূষিত হইয়াছ, অামার পুরস্কার তদুপযোগী হইল কি না, বলিতে পারি না। তবে এই মাত্র বলিতে পারি, যে ভুবন-দুর্লভ বিশ্বজন-পনি পরম-পৰিত্ৰ প্রকৃতি-প্রেম-প্রসঙ্গ অবশ্যই তোমার বিশ্ব চিত্তের প্রতিবন্ধনে সমর্থ হইবক। বিশুদ্ধ বস্তু ব্যতিরেকে কি বিষ-চক্তের প্রতিবন্ধন হইতে পারে আমার এই সুদীন রচনার দ্বারা হউক বা না হউক, এই বিশুদ্ধ প্রসঙ্গে। দ্বারা অবশ্যই তোমার চিত্তের প্রতিবন্ধন হইতে পারিবে। কলিকাতা,হিন্দু বিদ্যালয়। ২ চৈত্র ১২৬৮। ১৮৬২ } नगद শ্রীদ্বারকানাথ রায়।
No text on this page.
প্রকৃতি-প্রেম।
জন্ম-খও।
নৱত্বং দুল্লভং লােকে বিদ্যা তত্র মুদুল্ল।
কবিত্বং দুল্লতং তত্র শক্তিস্তত্র সুদুল্লভ।
অগ্নিপুরাণ।
কাৰ্যশাস্ত্র বিনোদেন কালাে গচ্ছতি ধীমতাম্।
বিষ্ণুশর্মা।
কবিতা যদ্যপ্তি রাজ্যেন কিং ।
কালিদাস।
* এক
প্রথম সর্গ।
কোথা গো মা কাব্যদেবি অমৃতভাষিণি।
দয়া কর দীনজনে, ফাক হৃদিপদ্মাসনে,
কবিচিসরাজবাসিনী।
মা তােমার ধারা জানি, কুসন্তানে কোলে টানি,
বিশ্বের সম্পদ কর দান।
রত্নাকর নাম ব্যাধে, শাখাচ্ছেদী জনে সাধে,
করেছ মা মহা ধনবান।
২
প্রকৃতি-প্রেম।
তােমার কৃপায় তাব, অমর হইয়ে তারা,
সমে বিহরে সর্ব স্থানে।
তাদের গৌরব যত, বর্ণন করিব কত,
সবে পূজা করে মহামান।
ওগো মা আমিও তব অকৃতি তনয় ।
বাল্য কালাবধি আমি, তব পদ অনুগামী,
তবু তব করুণা না হয়।
সাজাইতে মা তােমারে, কবিতা কুসুম হারে,
প্রাণ পণ করি অনিবার।
করিলাম তনু ক্ষীণ, হইলাম অতি দীন,
তবু মম নাহি পুরস্কার।
কত লোক অল্পায়াসে, যশের সাগরে ভাসে,
পেয়ে তব সুযশপ্রসাদ।
বুঝিলাম মা জননি, তুমি অন্ধশিরােমণি,
জগতে রবে এ অপবুদি।
শুধু এই গুণে দেবি তব পদ স্মরি ।
তব সুত বহু নরে, মরিলে বাঁচাও পরে,
জীয়ন্তে রাখ গো মৃত করি।
%
। জন্ম-খণ্ড।
যার, আছে সুসম্পদ, নানাবিদ্যা উচ্চ পদ,
জীয়ন্তে না মরে সেই জন।
এসব আমার নাই, শব প্রায় আছি তাই,
হয়েছে মা জীয়ন্তে মরণ ।
ওগাে মা তােমার কাছে, কিন্তু এ ভরসা আছে,
মলে যদি পাই প্রাণ দান।
তাই ডাকি এক মনে, মা তােমারে অনুক্ষণে,
দেহি তব শ্রীচরণে স্থান।
০
উপক্ৰমণী।
রাধিকারমণ হরি, বাসর সাঙ্গ করি,
বিদায় করেন গোপীগণে।
অধরে মধুর হাসি, করেতে মােহন বশী,
বসিলেন মিকু কাননে ।
শুধু মাত্র একাকিনী, নিত্যপ্রিয়া কমলিনী,
রাধিকা রহিলেন সঙ্গে।
বুঝি বা চপল আসি, ধরিল এৰূপ রাশি,
এই নব নীরদ অসঙ্গে।
*
প্রকৃতি-প্রেম।
বিরলে পাইয়ে শ্যামে, শ্ৰীমতী-বসিয়ে বামে,
হরে লয়ে সুধার সম্পদ
কহিছেন মৃদু হাসি, শুন ওহে গুণরাশি,
আমি দাসী ধরি তব পদ।
প্ৰেমময় তুমি বঁধু, পান কর প্রেমমধু,
প্রেম বিনে কিছুই না চাও।
প্রেমের আকৃতি ধরি, প্রেমের প্রকৃতি করি,
প্রেমরসে ব্ৰহ্মাণ্ড না চাও |
তাই বলি রসময়, এত নয় অসময়,
নির্জনে আছি হে দুই জনে।
প্রেমতত্ত্ব সুধাসার, বিস্তারিত কথা তার,
শুনিতে বাসনা বড় মনে ।
সুধাময় প্রেম নাম, শুধু মাত্র ক্ষেমধাম,
প্রেমধন সার ত্রিভুবনে।
শুন ওহে নটবর, নর লৈকে নারী নর,
কি ৰূপে মজিবে এই ধনে।
স্বৰূপ প্রেমের সেবা,
বল করেছিল কেবা,
নর জনু পাইয়ে সংসারে।
বল নাথ কি প্রকারে, নারী নর এ সংসারে,
প্রেমরসে ভজিবে তােমারে ।
'
জন্ম-খণ্ড।
}
শুনিয়ে প্রিয়ার বাণী, মৃদু হাসি চক্রপাণি,
কহিছেন মথিয়ে অমৃত।
শুন ওহে প্রাণেশ্বরি, প্রেমতত্ত্ব প্রশ্ন করি,
প্রাণে বড় করিলে হে প্রীত।
অতিশয় চমৎকার, আছে এক কথাসার,
সেই বুঝি সুধার জননী।
তীয় প্রেমতত্ত্বসার, বুঝিবে হে সুবিস্তার,
এক মনে শুন মুবদনি! •
কথারম্ভ।
মরি কিবে শােভা অপরূপ।
যেন কোটি কোটি সুধাকুপ ।
নবদুৰ্ব্বদিল শ্যাম, রাজা সীতাপতি রাম ,
অখিল রূপের কোষ বুঝি এ শ্রীরূপ।
শােভা হেরি সতীপতী, মােহিত হইয়ে অতি,
ভস্ম করে পঞ্চশরে ভাবিয়ে বিরূপ
লক্ষ্মী আর সরস্বতী, দুজনে অপ্রীতি অতি,
একথা সকলে বলে না জানি স্বরূপ।
তবে কেন এই স্থলে, ভাব দেখি গলে গলে,
ভাবুকের ভাবদা ভাব ভরা ভূপ। ধ্ৰুং।
জয়কৃষ্ণ কৃপাময়, ভক্ত-জনশ্রয়,
বিষ্ণু জগন্ময়, জিষ্ণু হরে।
জয়-বৈরিবিমর্দন, শ্রী মধুসূদন,
ত্রাহি জনার্দন, দীনবরে।
জয়কেরঞ্জন, নিত্য নিরঞ্জন,
কালিয়গঞ্জন, ভক্তনিধে।
*ংস্কতানুযায়ী ছন্দ।
':
৭
জন্ম-খণ্ড।
জয়—দুৰ্জ্জুনশাসক, দুর্তিনাশক,
বিশ্ববিকাশক, বিশ্ববিধে।
জয়-তাপবিমােচন, পঙ্ক জলােচন,
দুষ্টবিরােচন, শিষ্টগতে।
জয়-কংশনিপাতন, দৈত্যবিঘাতন,
ব্ৰহ্ম সনাতন, লোকপতে।
জয় বল্লবনন্দন, শঙ্করবর্মন,
নন্দ সুনন্দন, যাদব হে।
জয়-কুঞ্জবিহারক, পৰ্বতধারক,
সাধকতরক মাধব হে।
এৰূপে নারদ মুনি হরিগুণ গানে।
ভাবে ঢল ঢল তনু চলেন বিমানে।
গােলােকে গোবিন্দপদ করি দরশন।
চলেছেন মর্ত্যলােকে নৈমিষ কানন |
অকস্মাত্ শূন্য হতে পেলেন দেখিতে।
এক অতি অপূৰ্ব্ব নগর অবনিতে |
হেরিয়ে তাহার শােতা হইয়ে মােহিত।
সেই দিকে চলিলেন প্রেমে পুলকিত ।
ধীরে ধীরে অবতীর্ণ হয়ে তপােধন।
প্রবেশ করিয়ে তায় করেন দর্শন
প্রকৃতি-প্রেম।
অহা মরি কিবা নগরশোভা।
জগত্জনের মানসলােভা।
এ রচনা কেবা করে ধরায়।
হেন সুরশিল্পী থাকে কোথায়।
রাজার প্রাসাদ নগর মাজে।
চারি দিকে রম্য হৰ্ম্ম কি সাজে ।
হেরিলে মােহিত নয়নতারা।
চাঁদেরে বেড়িয়ে যেমন তারা।
মনােহর রাজপথ সংহতি।
নানাবিধ লােক করিছে গতি।
কেহ বা ভুবনমােহন বেশে।
স্মর বা এৰূপে এল এদেশে ।
কেহ বা সুরঙ্গ তুরঙ্গ যানে।
যেন হরিহয় হয় বিমানে |
কেহ বা চড়িয়ে বাকি হয়।
শর বা এদেশে এৰূপ হয়।
কেহ যান নরযান করিয়ে।
নানা লােফ নানাভাব ধরিয়ে।
দুই দিকে সাজে প্রাসাদাবলি।
আমার সাধ্য কি সে শােভা বলি।
জন্ম-খণ্ড।
কিঞ্চিত্ তুলমা আছে ভূতলে।
মুরালমালিকা যেমন জলে |
মরি কি সুন্দর বিপণি চয়।
নানা জাতি দ্রব্য ক্রয় বিক্রয় |
ধনিক বণিক বহু তথায়।
ধনে এক এক ধনেশ প্রায় ॥
পৃথিবীতে যত সামগ্রী আছে।
সব পাওয়া যায় তাদের আছে ।
মাজে মাজে সাজে ত্রিদশালয়।
দরশন মাত্রে দুরিত লয়।
যত বিচারক বিচারাগারে।
অবিরত রত ন্যায় বিচারে ॥
কি আর কহিব বিচার মৰ্ম্ম ।
বিচারক যেন আপনি ধৰ্ম্ম ॥
মাজে মাজে মাজে ধৰ্ম্মের সভা
মানস মােহিত হেরিলে প্রভা ||
মুর্তিমতী যেন ভকতি সতী।
প্রভুপ্রেম দানে অচল মতি | :
মাজে মাজে সাজে আপণ যত।
বিকিকিনি হয় সামগ্রী কত |
প্রকৃতিপ্রেম
স্থানে স্থানে শোতে কতইকল।
হেরিলে মানস হয় বিকল ।।
অদ্ভুত পদার্থ যত ভুবনে।
রয়েছে সকল এক ভবনে।
স্থিরচিত্তে যেবা দর্শন করে।
প্রভুপ্রেমে তার নয়ন ঝরে।
মাজে মাজে কিবা সরসীশোভা।
তটে উপবন মানসলােভা।
বিরাম দেব বা গলিয়ে ভাবে।
জল ময় তনু হল এ ভাবে।
মাজে মাজে সাজ বিদ্যামন্দির।
পাঠনায় রত যতেক ধীর ॥
এক গুরু যেন অনেক বেশে।
বিমােহিত পাঠদার আবেশে ।
অষ্টাদশ শাস্ত্র ভাষা নিচয়।
অতি অনুরাগে পাঠনা হয় ।
বিদ্যার গৌরব কি কব তথা ।
তৃষার্ত জনের জীবন যথা।
কোথা কলাবতে তুলিয়ে তান।
মরি কি করিছে মধুর গান ।
জন্ম-খণ্ড।
বনপ্রিয় বুঝি আসি নগরে।
নরৰূপ ধরি. সঙ্গীত করে ।
কোথায় ভাবুকে ভাবেতে ভোর।
সংকীৰ্ত্তনে মত্ত যেমন ঘাের ।
সেততা ভাবুকের প্রেমের ডের।
মাজে মাজে সাজে চিকিৎসালয়।
প্রবেশ মাত্রেই ব্যাধির লয় ।
আয়ুৰ্বেদবিজ্ঞ ভিষ যত।
ব্যাধি প্রতিকারে সতত রত |
থাকিতে পারে কি ব্যাধি পাপিনী।
গরুড়ে হেরিলে যেন সাপিনী ।
বুঝি ধন্বন্তরি পীযূষ লয়ে।
আইল অবনি অনেক হয়ে।
দানশালা বহুবিধি তথায়।
সকলে অশন বসন পায় ।
নগরে কেহ না অভুক্ত রয়।
সবে বলে মহারাজের জয়।
বুঝি অন্নপূর্ণ।
হয়ে প্রসন্ন।
রাজগুণে দেন সকলে অন্ন।
প্রকৃতি-প্রেম।
নানা ভাষা ভাষী বিদেশী যত
বসতি করেছে শৃঙ্খলা মত ।
দূরে হতে শােভা কিকব তার।
যেমন অপূৰ্ব ছবির হার ।
গড়েতে কামান গরজে ঘন।
গগনে যেমন নিবিড় ঘন ৷
রণ প্রহরণ বিবিধ মত।
সেনার গণনা করিব কত ৷
সমন সমান সেনানী যত।
সমর-তরঙ্গ-রঙ্গ-নিরত ।
নয়ন সমুখে দেখিলে করী।
ওঠে না কি হরি বিক্রম করি ।
সিহরে শঙ্কায় শত্ৰু সংহতি।
পরপুরুষেরে যেমন সতী।
নদী আর গড়ে বেষ্টন তার।
বল না তুলনা কি দিব আর ।
বুঝি বিধি তুষ্ট হয়ে অপার।
পুরস্কার দিল অমূল্য হার।
‘জন্ম-খণ্ড।
পুণ্যভূমি,আৰ্যাবৰ্ত্ত হৃদিশােভাকর।
ভুবনবিখ্যাত এই অবন্তি নগর।
জ্যোতিষ্কমণ্ডলে যেন প্রধান ভাস্কর।
জলাশয় মধ্যে যেন প্রধান সাগর।
স্নেহপাত্র মধ্যে যেন পুত্র শ্রেষ্ঠতর।
সেই ৰূপ রাজধানী মধ্যে এ নগর।
তার অধীশ্বর মহারাজ ধর্মবীর।
নাম অনুৰূপ রায় মহা ধৰ্ম্মবীর ॥
বিভবে বিক্ৰমে ৰূপে কে হবে স্বৰূপ।
ইন্দ্র অগ্নি ইন্দু মিলে হল বা এৰূপ ।
সর্বশাস্ত্র বিশারদ সৰ্বগুণাকর।
জীব আর বাণী একি এক মূৰ্ত্তিধর।
ধীরতায় তার সম কে আছে বল না।
এক মাত্র আছে ধরা হইতে তুলনা ।
সত্যে রণে দানে তুলা কারে আর বলি।
আছে মাত্র যুধিষ্ঠুির পার্থ আর বলি।
অন্যায় কাহারে বলে মা জানেন ভূপ।
যােগ যৈন না জানেন বিষয় কি ৰূপ ।
পক্ষপাত অত্যাচার নাই কোন জনে।
জননীর ভাব যেন যত পুজগ ।
১৪
প্রকৃতি-প্রেম।
অতি যত্নবান রায় প্রজার পালনে
অনুকূল পতি যেন সতীর রক্ষণে।
ছদ যেন রক্ষা করে সতত নয়নে।
সাধুজন সুখে ভাসে দুষ্ট কাপে ত্রাসে।
পুষ্কর তস্কর যেন ভাস্কর প্রকাশে।
মাধুরীতে সুধাকর তেজে প্রভাকর।
আসমুদ্র অখিল অবনি দেয় কর ।
গাম্ভীর্যের তুলনা কি হবে রত্নাকর ।
তবে কেন তাহার কল্লোল ভয়ঙ্কর।
হেরিলে পুরীর শােভা নয়ন জুড়ায়।
বৈজয়ন্ত পুরী যেন আইল ধরায়।
চন্দ্রকান্ত সূৰ্য্যকান্ত মণিবিরচিত।
হেরিলে তাহার শােভা মুগ্ধ হয় চিত।
তুলনা কি আছে আর এতিন ভুবনে।
যেন বহু রাম শ্যাম রন্দাবনে।
মণিবিতা-সুন্দরী হাসে রে কতুহলে।
যেন সৌদামিনী-মাখা দীপমালা জ্বলে।
শ্রেষ্ঠতর চিত্রকর শিল্পকর যত।
সকলের সার কীৰ্ত্তি আছে শত শত |
মরি কিবা শোভা রে মােহিত হয় মন।
নিমেষেরে শত্রু জ্ঞান হয় সেই ক্ষণ।
সভা করি যখন বসেন নর রায়।
অবনিতে যেন নব ইন্দ্র শােভা পায়।
পাত্র মিত্র সভাসদ সৰ্বগুণযুত।
জ্ঞান হয় তারা সবে সরস্বতীসুত ।
পণ্ডিতমণ্ডলী যেন সর্বশাস্তুচ্ছবি।
এক এক জন যেন এক এক রবি ।
গায়ক নাটক বন্দী অতি সুশিক্ষিত।
তমুক্ক নারদে পারে করিতে মােহিত ॥
রাজার বর্ণন কেবা করিবে বিশেষ।
গুরু শেষ হলে তবে যদি হয় শেষ ।
ভাবভরে ব্রহ্মাণ্ডের যত গুণগুণ।
বুঝি এই নরমূৰ্তি করিল ধারণ।
কিন্তু এই খেদ মাত্র নাহিক নন্দন।
পদ্মিনী নারীর মেন নাহিক রমণ।
প্রকৃতি-প্রেম।
জন্ম-খণ্ড।
দ্বিতীয় সর্গ।
কে চিনিবে রে!-প্রেম ধনে।
প্রকৃতি পুরুষ ভাবে বিহরে ভুবনে।
কমলিনী মধুকর, সৌদামিনী জলধর,
নিশীথিনী সুধাকর, দেখ রে নয়নে।
এ ভাব যাহার সার, অভাব কি তার আর,
তার সম সুখী কেবা এ ভবভবনে। ধ্ৰুং।
কামচারী নারদ ব্ৰহ্মর্ষি ব্রহ্মজ্ঞানী।
অল্পক্ষণে দেখেন সকল রাজধানী।
আনন্দ না ধরে আর ঋষিরাজমনে।
অমনি হইল মতি রাজদরশনে |
কাব্যরসে মুগ্ধ হলে ভগ্ৰাহী জন।
গ্রন্থকারে জানিবারে বাসনা ঘেমন |
ধীরে ধীরে পদক্ষেপ করিয়ে তখন।
রাজপুরী-পুরােভাগে দেন দরশন।
সমুখেতে উপবন অতি মনোেহর।
নন্দন বনের বুঝি হইবে সােদর ।
D
জন্ম-খণ্ড।
.
কুঞ্জে কুঞ্জে পুঞ্জে পুঞ্জে ভ্রমর গুঞ্জরে।
নুপুর পরিয়ে যেন ত্রিভঙ্গ বিহরে ।
শাখীতে শাখীতে পিক ডাকে পঞ্চস্বরে।
বুঝি তারা সে স্বরে স্বভাবে স্তুতি করে।
সে স্বর তুলনা কোথা পাইব ভুবনে।
মুরলীর গান যেন মঞ্জু, কুঞ্জ বনে।
ফুলে ফুলে মধুকর মধু পান করে।
মিলন হয়েছে যেন রাই নটবরে।
হেরি উপবনশােভা দেব তপোধন।
পড়িল রে মনে তার রসবৃন্দাবন |
লােমাঞ্চ হইল তনু প্রেমভক্তিভরে।
কদম্ব কুসুম তার কিছু শিক্ষা করে।
মাজিয়ে বীণার তার তুলিয়ে সুতান।
মধুর রসেতে ঋষি এই গীত গান ।।
* চল চল কুঞ্জেকুঞ্জরগামিনি প্রেমবিলাসিনি রাধে।*
নবরসসাগর নটবর নাগর কেশব দরশন সাধে।
নক-খঞ্জন-গঞ্জন-লোচন মােহন-মুরলীধারী।
রমণীরঞ্জন মুর্তি মনোহর ত্রিভুবন-মােহনকারী।
সংস্কৃতানুযায়ী সঙ্গীতচ্ছ।
১৮ প্রকৃতি-প্রেম। নীরদনিন্দিত নীলবিভাধর পীত বসন কটিদেশে। চন্দনচচ্চিত বঙ্কিম ভঙ্গিম রাজিভ সুন্দর বেশে। ভালে বিধুনিভ তিলক সুশােভিত মৃগমদ দলিত- কপালে। মােহন মুকুট শিরোপরি রাজিত বনফুল কণ্ঠে দোলে । অঞ্চল ঝলমল চঞ্চল চপলা জলদে বুঝি পরকাশে। শারদ শশিনিভ শ্রীমুখ সুন্দর শােভিত মৃদুমৃদু হাসে ! এবণে কুণ্ডল দিনমণিমণ্ডল চরণে সূপুর বাজে। মধুপানাকুল গুঞ্জিত অলিকুল অতিশয় আকুল লাজে । ভক্তমননামৃগ ফরিতে ধরণী ধরিল শৌরি-তনু-পাশে। প্রেম-সুধারস বহয় নিরন্তর পান করহ মন আশে ? এই গীত গাইতে গাইতে ঋষিবর । উপনীত হইলেন সভার ভিতর। ভাবভরে তাের তনু প্রসন্ন বদন। প্রেমে আঁখি ঝরঝর ঝরিছে সঘন। শতদল হতে ঝরে শিশির যেমন ঋষিরাজ দরশনে সসমেরায়। গাত্রোখান করিলেন স্বগণে ত্বরায়। যেন নারায়ণে দেখি দেব আখণ্ডল। সমে উঠেন সহ অমর মণ্ডল।
জন্ম-খণ্ড।
১৯
সিংহাসন হতে রায় নাবিয়ে তখন।
অবনি লােটায়ে তারে করেন বন্দন।
নিজ করে পদ্য অর্ঘ্য করিয়ে অপণ।
ত্বরায় বসিতে দেন রত্নসিংহাসন।
ঋষিরাজ আসনে করিলে অধিষ্ঠান ।
কর যােড়ে কহেন ভূপতি শ্রদ্ধান।
একি শুভক্ষণ মম একি শুভক্ষণ ।
ঘরে বসি পাইলাম সাধনের ধন।
আমি অতিদীন হীন কুমতি কৃপণ।
আমারে যে এত দয়া ওহে মহাজন।
যেন,প্রভু রামচন্দ্র হইয়ে সদয়।
গুহক চণ্ডাল গৃহে হলেন উদয় ।
পবিত্র হইল পুর পদ পরশনে।
পবিত্র হলাম আমি তব দরশনে।
এত দিনে হল মম সার্থক জীবন।
এত দিনে বলবান হইল প্রাক্তন ।
রাজার বিনয় বাণী শুনি তপােধন।
কহেন মধুর ভাষে সহাস্য বদন |
তােমার সমান ভূপ কে আছে ধরায়।
এমন ঐশ্বর্য রাজ্য না দেখি কোথায়।
''
ও
}
প্রকৃতি-প্রেম।
রাজধানী পুরীশােভা হেরিলে নয়নে।
ফিরে যাওয়া ভার হয় লয়ে মনােধনে।
তব সম ভাগবত কে আছে ভুবনে
হর বুঝি নর হন লীলার কারণে ॥
তােমার রাজ্যের ভাব ভাবিলে হে মনে।
মনে পড়ে রঘুবীর রাজীবলোচনে।
কি আর কহিব আমি তােমারে রাজন্ ।
তব রাজ্য হেরি বড় সুখী হল মন।
নিজ গুণে নিজে নীচ ভাব মহাশয়।
ছােট না হইলে কেহ বড় নাহি হয় |
দেখ সুরশিরােভূষানব দূৰ্বাবন।
জীবপদতলে বাস করে অনুক্ষণ ৷৷
ঋষির সস্নেহ বাণী শুনি নববর।
ধীরে ধীরে কন তারে যােড় করি কর।
বুঝিলাম প্রভু বড় ভাল বাস দাসে।
তাই এত বাড়াইলে নিজ মনআশে |
ভাল বাসে মনের সহিতে যে যাহায়।
তার দোষ থাকিলেও দেখিতে না পায়!
রাগ-নয়নের এই ধৰ্ম্মতত খরা ||
জন্ম-খও।
২১
আমারে বাড়ায় কেবা ভালবাসা বই।
আমি তব দাসানুদাসের যােগ্য নই।
যা বল তা বল প্রভু আমি অভাজন।
আমা হতে বংশলােপ হল তপােধন।
গৃহের প্রদীপ পুত্র নাহিক আমার।
বল প্রভু রাজ্য ধনে কিবা কাজ আর।
মম মনে বােধহয় সব অন্ধকার।
ধীশক্তি-বিহীন বৃথা জীবন যেমন।
আলােক-বিহীন যেন সুসজ্জ ভবন।
সেই ৰূপ পুত্র বিনে বৃথা ধন জন ।
বল প্রভু কেবা লবে মম রাজ্যভার।
পিতৃলােকে পিণ্ড দান কে করিবে আর ॥
এই ভাবী ভাবনা ভাবিয়ে ‘দহে মন
কি আর কহিব আমি ওহে তপােধন।
যদি দাসে করুণা করেছ মহাশয়।
ইহার উপায় তকে করিতেতাে হয় ।
ব্ৰহ্মার নন্দন তুমি ঋষির প্রধান।
ভাগবতশ্রেষ্ঠ সৰ্বগুণের নিধান "
তােমার অসাধ্য কিবা ওহে মহাজন।
সৃজন করিতে পার নূতন ভুবন।
।
প্রকৃতিপ্রেম।
অতি তুচ্ছ ভার এই পুত্রবরদান।
এতে কি কাতর তুমি হবে ভগবান।
রাজাৰ কৰুণা বাণী শুনি মুনিবর।
করুণা রসেতে আদ্র হইল অন্তর।
বলেন না কর খেদ ওহে নৃপবর।
অবশ্য তােমারে আমি দিব পুত্রবর॥
যদি আমি করে থাকি শ্রবণ মনন।
যদি আমি করে থাকি সুনিধিধ্যাসন
যদি আমি করে থাকি গুণ-সংকীৰ্ত্তন
যদি আমি করে থাকি পূজন বন্দন।।
যদি আমি করে থাকি আত্মনিবেদন।
অবশ্য তােমার তবে হইবে নন্দন ।
সামান্য সন্তান তব হবে না হে রায়।
আবির্ভাব হবে প্রেমধনের ধরায়।
ভগবপ্রেম তিনি সংসারের সার।
পৃথিবী পবিত্র হবে পদস্পর্শে যার।
স্বৰূপ প্রেমের পথ প্ৰকাশ করিতে।
নরজনু হবে তার এই অবনিতে।
তুমি অতি মহাজন সাধু সদাশয়।
তাই তব তনয় হবেন প্রেমময় ।
'জন্ম-খণ্ড।
ৰূপ গুণ তাহার বর্ণিব কিবা আর।
ভাবে বুঝ হবে স্বয়ং প্ৰেম অবতার ।
মহামূল্য প্রণয়নিধির উপার্জনে।
প্রেম যে পরম ধন শিখাতে ভুবনে।
করিবেন প্রাণপণ এভব ভবনে |
সাধারণ প্রেম নয় ওহে গুণধার।
ভগবত্-প্রকৃতির প্রেম বিশ্বসার।
ভগবত্-প্রকৃতির মহিমা প্রকাশে।
অবতার হইবেন তােমার সকাশে।
তাহার যশেতে পূর্ণ হইবে সংসার।
তাহার তুলনা আমি কোথা পাব আর ।
এক মাত্র আছে শুধু সুধাংশু গগনে।
তার সঙ্গে তুলা আমি দিব বা কেমনে ৷
বহু দোষে দোষী শশী বিখ্যাত ভুবন।
রাহুভক্ষ্য, ক্রাস, বৃদ্ধি, কলঙ্কভূষণ।
পুত্রবর পেয়ে রায় পুলকিত কায়।
ঋষিপদে প্রণাম করেন দণ্ড প্রায় ।
ঋষিরাজ কহেন শুন হে মহারথ।
নিঃসংশয়ে হলে তুমি সিদ্ধমনােরথ ।
২৪
প্রকৃতিপ্রেম।
এখন স্বস্থানে আমি করিব গমন।
বহু কাল করিতেছি সংসার ভ্রমণ।
এত বলি চলিলেন অন্তরীক্ষ পথে।
এই গীত গাইতে গাইতে মনােরথে।
জয় হে মধুসূদন দীনদয়া-
ময় তারয়নাথ সুদীন জনে।
জয় শিষ্টজনায় দুষ্টবিঘা-
তন ইষ্টবিধায়ক দেব হরে।
জয় ব্রহ্ম পরাৎপর লেকপতে
ত্রিগুণাত্মক অদ্ভুত
বিশ্বশুরে।
নিজ পঞ্চমুখে তব নাম সুধা
ভব গান সদা অতি ভাবভরে।
কল কোকিল-কাকলি-কূজিত-কু-
বনে বিহর প্রভু রামরসে।
বহু ভাগ্যফলে যত গোপসখা
তৰ সঙ্গ লয়ে কত রঙ্গ করে।
তুমি ভূমিতলে অবতীর্ণ হয়ে
বহু রূপ ধরি ক্ষিতির বিনা-
শক সেবক-ইষ্টফলপ্রদ হে,
করুণা কর হে করুণাকর হে।
নব-নীরদ-নিন্দিত নীল কলে-
ঘর নিত্য নিরঞ্জন সত্যময়ে
সংস্কৃতানুযায়ী অমিভক্ষিরচ্ছন্দে। বিশেষ।
জন্ম-খণ্ড।
२
বল সার কবে হইবে মগ রে !
বরোগ তবে তব শান্তি হবে ।
ভৰতীত জনে করি ত্রাণ বিভো
কর ষটপদ পদপদ্মবরে।
ভববন্ধনভেদনকারণ হে;
ময়ি দেহি গতিং ভবতারণ হে।
পক্ষিরাজ যেন করি সংসার ভ্রমণ।
সন্ধ্যা কালে নিজ বৃক্ষে করে আগমন।
সেই ৰূপ ঋষিরাজ ভব ভমি ক্রমে।
সন্ধ্যা কালে উপনীত আপন আশ্রমে।
অতি সুগভীর সেই নিবিড় কানন।
স্বভাবের মনােহর বিশ্রাম ভবন।
মহাপ্রত ঋষিরাজ নিকুঞ্জকুটীরে।
প্রবেশেন সুহাস্য বদনে ধীরে ধীরে।
নিশামুখে মধ্যাহ্ আইল যেন ফিরে ৷
শীতল নীরে করিপদ প্রক্ষালন।
তদন্তর করিলেন শরীর শােধন।
সন্ধ্যা বন্দনাদি পরে করি সমাপন।
সুধাস্বাদ বন্য ফল করেন ভোজন।
পরে অতি সুশীতল জলপান করি।
তৃপ্ত হয়ে বসিলেন আসন উপরি ।
E
প্রকৃতি-প্রেম। '
শিষ্যগণ সহ কৰি ইষ্ট আলাপন।
পদ্ম না স্মরি দেব করেন শয়ন ।
গতক্ৰম অমনি হলেন তপোধন।
বিতি সুন্দরী আসি করেন সেবন ।
পলায় সভয়ে শ্রান্তি রাক্ষসী কোথায়।
নিংহেরে দেখিয়ে যেন শৃগাল লুকায় ।
নিদ্রা দেবী পশিয়ে সে নয়নমন্দিরে।
বাট করেন বন্ধ অতি ধীরে ধীরে।
।
কিবা সুগভীর সে নিবিড় বন
নানা জাতি নগ কি শােভা ধরে।
নে নানা মত নবীন নীরদ
নগ ৰূপ ধরি বিরাম করে।
কিবা ধীর ভাব ! যেন যােগি জন
সদা যােগ সাধে মন আবেশে।
আছে কি এমন রহস্থল আর
কোন লােকালয়ে কোন প্রদেশে।
বুঝি ভূমপদে ব্যাকুল হইয়ে
বরিল স্বভাব এধীর বেশে।
শাখায় শাখায় বিহঙ্গ বিহরে
.
জন্ম-খণ্ড।
করে কলদ জুড়ায় প্রাণ।
বুঝি বা বিরলে পাইয়ে স্বভাবে
নানা রাগে তারা গুনায় গান।
কোন কোন নগ এত উচ্চতর
বােধ হয় দিব পরশ করে।
বুঝি সৰ্গপ্রিয়া দিগঙ্গনাশিরে
পল্লবাত পত্র যতনে ধরে।
‘পরিণতচ্ছদ যত অবিরত
পট পট রবে পতিত হয়।
যেমন জরায় জীব তজে শুনু
তারা দেয় সদা সে পরিচয়।
অবতমসেতে মিহিরময়ূখ
মাজে মাজে মাজে কি শােভা পায়
সুরশিল্পী যেন ঈষদ, নিপভ
হীরকখণ্ডে সে বন সাজায়।
বিটপী বেড়িয়ে নানাবিধ লতা
কিবা মনােলাে। শোভা আমার।
যেমন নাথেরে ভুজ লতাপাশে
বাঁধয়ে সম্ভাষে সুরসুন্দরী।
স্বভাব-শোভিত-বিনোদ-বিপিনে
প্রকৃতি-প্রেম।
সকলি সুচারু অমূল্য মিধি।
তাই বা ভীষণ হিংস্র জন্তুগণে
প্রহরী করিয়ে রাখিল বিধি ॥
বরাহ-শার্দ ল-কেশরি-নিঃস্বান
যেমন অশনি-পতন-ধান।
যত ভুজঙ্গম করে রে গজ্জন
নদীতে যেমন আসে রে বান |
কার সাধ্য তথা করে রে প্রবেশ
হেরিতে সুধীর স্বভাব ধনে।
বিষয়বাসনা ত্যজেছে যে জন
শুধু তারি ভয়'না হয় মনে ।
প্রকৃতি-প্রেম।
জন্ম খণ্ড।
তৃতীয় সর্গ।
কি আনন্দ রে!-নন্দনগরে।
সবে ভাসে সুখসাগরে ।
জনমিল হরি, বিশ্ব আলো করি, প্রেমধন দিতে নরে।
মহা মহোৎসব, জয় জয় রব, ব্রজ ধামে ঘরে ঘরে।
গোপ গােপী কুল, হইল ব্যাকুল, হেরিবারে’নটবরে।
যত দেবগণ, ভাবেতে মগন, কিবা গুণগান করে।
বিরিঞ্চি নাটক, মহেশ গায়ক, সুরপতি তাল ধরে।
থাকে কি অভাব, হেরিলে সে ভাব, ভাবুকে ভাবের তরে।
প্রকৃতি কন্যারে, রাগ অলঙ্কারে, সাজায়ে দাও এবরে
ব্ৰহ্মর্ষির বাণী কে লংঘিবে চরাচরে।
ভীষণ বাণের বেগ কে বা রােধ করে।
প্রেম দেব প্রবেশেন রাণীর উদরে।
নীল শশী শােতে যেন অম্বুধি-অন্তরে ॥
কিবা মুক্তা শােভে যেন শুক্তির ভিতরে।
কিবা বসুন্ধরা যেন গর্ভে বসু ধরে
দিনে দিনে বাড়ে গর্ত অতি অপরূপ। .
উৰ্ব্বরা ভূমিতে যেন শষ্ঠের স্বৰূপ
প্রকৃতি-প্রেম।
একে রাণী ভুবনমােহিনী ৰূপবতী।
গর্ত ধরি আবাে ৰূপ বাড়িল রে অতি |
প্রেম দেব গতে যার হলেন উদয়।
তার রূপ বাড়িবে আশ্চৰ্য বড় নয়।
আনন্দ না ধরে আর ভূপের অন্তরে
গ্রন্থকার যশোেলাভে যেই ভাব ধরে।
গভ যত বৃদ্ধি পায় দেখ কিবা রঙ্গ।
তত বাড়ে ভূপতির প্রত্যাশ কুরঙ্গ।
পদ্মের যে ভাব পেয়ে বর্ষা-নীর-সঙ্গ।
রাখেন রাণীরে রায় অতি সযতনে।
ফণী যেন মণি রক্ষা করে প্রাণপণে |
কিবা রত্ন রক্ষা করে যেন যক্ষগণে।
কিবা বৃদ্ধ জন যেন তরুণী স্ত্রীধনে |
ক্রমে ক্রমে দশ মাস হইল পূর্ণিত।
প্রসব সময় আসি হল, উপস্থিত।
সে সময় ধরা অতি সুধাময়,
প্রকাশ হয়েছে মধুর মধু।
* ইং:if; ৰীত্যনুষায়িচ্ছ।
জন্ম-খণ্ড।
৩১
জগলােচন দিনেশ উদয়,
সহ উষা সুরসুন্দরী বধূ।
হষিত বদন কুসুম নিচয়,
দিগঙ্গনাগণ প্রসন্ন মুখী।
জগতের জন আনন্দ হৃদয়,
ভুচর খেচর সকলে সুখী।
এমন সময়ে দেৰ প্রেমধন,
ভূমিষ্ঠ হলেন মহীমণ্ডলে ।
হল না কিছুই প্রসববেদন,
রাণীর অশেষ সুকৃতিফলে ।
অভি অপৰূপ ৰূপ নিরখিয়ে,
পলক ফেলিতে না পারে রাণী।
দেখি সখীজন বিস্মিত হইয়ে,
বলে এই কোন্ দেব না জানি ।
বুঝি রাহুভয়ে পূর্ণ দ্বিজপতি,
মৃগেরে ত্যজিয়ে অতি গােপনে।
নবীন নীরদ শ্যামল মুরতি,
ধরিয়ে আইল রাজভবনে |
ধরা হতে সখী তুলিয়ে কুমারে,
মেহে আদ্র মতি গদাদ বাণী।
८२
প্রকৃতি-প্রেম।
অধ স্বরে বলে রাজমহিলারে,
অমূল্য রতন ধর গাে রাণি ।
ভাসিয়ে, মহিষী প্রেমসিন্ধুজলে,
হৃদয়ে রাখিল প্রাণের ধনে।
যেন স্বর্ণময়ী প্রতিমার গলে,
পরাইল নীলমণি যতনে ।
কহে সখীজন ওগাে সুলােচনা,
তােমারে বড়ই প্রসন্ন বিধি।
না পেয়ে প্রসববেদনা যাতনা,
কোলেতে পাইলে পরম নিধি।
বল তব সম কেবা ভাগ্যবতী,
ভুবনে ভাবিয়ে না পাই আর।
কোশলনন্দিনী, কিবা যশােমতী,
হয়েছেন বুঝি এ অবতার |
একেতাে বসন্ত তায় প্রর্ভূষ সময়।
এই কালে প্রেমদেব হলেন উদয় ।
পৌর্ণমাসী ভাহায় হয়েছে সমাবেশ।
কন্দর্পীরে যেন মনােহর বেশ ।
জন্ম-খণ্ড।
ওমা ওমা করি দেব কার্টেন সঘন ।
যেন দিব্য সুধারাশি হয় বরষণ ॥
জানিতে পারিল তায় পুরনারীগণ।
সত্বরে আইল সবে রাণীর সদন |
ভুবনমােহন ৰূপ দরশন করি।
বলে কি অমূল্য নিধি আহা মরি মরি ।
কেহ বলে নীল বর্ণ ধরি নিশামণি।
নলীলা করিবারে আইল অবনি |
কেহ বলে নীলবর্ণধারী একুমার।
কেহ বলে না গো সখি হইবে কি মার ।
কেহ বলে না গো সখি তা নয় তা নয়।
নারদের বরে প্রেম দেবের উদয়।
শুনি রামাগণ বলে বটে তাই বটে।
নহিলে এমন ৰূপ নরের কি ঘটে ।
প্রেম দেব বটে বটে বুঝিলাম সার।
নহে এত মুগ্ধ করে বল সাধ্য কার ।
প্রেম বিনা বল সখি এ ভবভবনে।
এত ভাল বাসে কেবা পরের ননে |
রাণীর ভাগ্যের কথা বলে সাধ্য কার ।
যার গর্ভে হইলেন প্রেম অবতার ।
প্রকৃতিপ্রেম।
এত বলি আনলে মগনা রামাগণে।
হুলু ধ্বনি শঙ্খধ্বনি করে সেই ক্ষণে ॥
ধাত্রী আসি হাসি হাসি ভূপতিরে কয়
ওগাে মহারাজ তব হয়েছে তনয়।
কি কব তাহার ৰূপ আমি নারীজন।
মুনির মানস হরে ভুবনমােহন |
বাণীর
বক্তৃতা
শক্তি শেষের বদন।
যদি মেলে তবু ৰূপ হয় কি বর্ণন।
এস এস মহারাজ এস এই ক্ষণে।
চাদ মুখ হেরি কর সার্থক জীবনে।
ভূপতি মােহিত অতি শুনি সে বচন।
শ্রুতিযুগে সুধা ঢালি দিল রে যেমন |
কণ্ঠে ছিল মণিময় হার মনোহর।
ধাত্ৰীরে শিরােপা দেন হরিষ অন্তর।
আশার অধিক ধাত্রী শিরােপা পাইয়ে।
চলিল রাজার গুণ গাইয়ে গাইয়ে ।
অনন্তর নরপতি অতি শুভক্ষণে।
অতি অনুরাগে চলে পুভ্রদরশনে ।
সঙ্গে যান পুরােহিত প্রধান সচিব।
যেন ইন্দ্রসঙ্গে শশাতে ভৃগু আর জীৰ ।
* জন্ম-খণ্ড।
সূতিকা গৃহের দ্বারে দেনদরশন ।
ধাত্রী ত্বরা করি করে দ্বার বিমােন |
কোলে করি কুমারে দেখায় নরবরে।
প্রাচী শৈলে নীল শশী যেন শােভা করে।
হেরিয়ে পুত্রের ৰূপ মুগ্ধ নরবর।
পড়িল রে মনে তার নারদের বর |
কৃতার্থ করিলে মােরে ওগো তপােধন।
দান করি আজি এই অমূল্য রতন।
আহা মরি আজি মাের একি ভাগ্যোদয়।
পুত্ৰ ৰূপে ভবগপ্রেমের উদয় |
এত বলি ভাবভরে ভূপ গুণধাম।
আপন নন্দনে যান করিতে প্রণাম ||
তার প্রতি ঐশীতাৰ পিতার দেখিয়ে।
ভুলাইয়ে দেন দেব মায়া বিস্তারিয়ে |
রাজমন্ত্রী পুরােহিত বলেন তখন।
আহা মরি কিবা ৰূপ ভুবনমােহন।
আছে কি এমন ৰূপ ত্রিভুবনে আর।
রূপ দেখি নয়নে নিমেষ রাখা তার।
মহারাজ বুঝি তব পুণ্যফলে হরি।
আইলেন রসন্দাবন পরিহরি ।
প্রকৃতি-প্রেম।
শুনিয়ে ভূপের চিত্ত ভাবে ঢল ঢল।
প্রেমে লােমাঞ্চিত তনু আঁখি ছল ছল
মহামূল্য মণি দিয়ে দেখিয়ে নন্দন।
মহােৎসবে মহারাজ হলেন মগন ।
রাজা ধর্মবীর, আনন্দে অধীর,
মজিলেন মহােৎসবে।
পাত্র মিত্রগণ, আনন্দে মগন,
সুখী পুরজন সবে।
প্রতি প্রতীহার, চাদমালা হার,
পরিয়ে অপূৰ্ব্ব সাজে।
চন্দনচর্চিত, সিন্দুরশােভিত,
সহাস্য বদনে রাজে!
আম্রশাখাকেশা, অতি শুচিবেশ,
মঙ্গল কলসী হাসে।
তায় স্নিগ্ধ জল, নারীকেল ফল,
কলীর সার পাশে।
রাজপুণ্যফলে, বুঝি কুতুহলে,
সূতিকা দেবী এৰূপে।
ফল জল লয়ে, সুপ্রসন্ন হয়ে,
৩৭
আশীর্বাদ করে ভূপে।
রাজপুরীমাজে, নানা বাদ্য বাজে,
অতি শ্রুতিমুখকর।
মধুর মৃদঙ্গ, আলিঙ্গ্য মােচঙ্গ,
সপ্তস রার কি স্বর ।
দামামা দোসরী, খমক খঞ্জরী,
দগড় মন্দিরা তুরী।
ডল্ফ করতাল, ঝাঁজ খরতাল,
বিষাণ ভেরী ধুধুরি ।
ঝঝর টিকারা, তম্বুরা সেতারা,
বীণা বেণু মনােহর।
পিনাক পণব, রবাৰ সুরব,
বুঝি সুধাসহােদর ।
মণিময় সভা, কি কব সে প্রভা,
তুলা কি আছে সংসারে।
দানবের কৃত, • সভা সুবিদিত,
কিছু ভুল হতে পারে।
অতি স্বরচিত, রতন খচিত
চন্দ্রাতপ তদুপরি ।
.
৪
প্রকৃতিপ্রেম'।
যেমন গগণ, সহিত স্বগণ,
শােভা পায় আহামরি ।
হয়ে সুসজ্জিত, যত নিমন্ত্রিত,
আইলেন রাজগণ।
বৈজয়ন্তপুরে, যেন যত সুরে,
আসি দিল দরশন।
নাচিছে নাটক, গাইছে গায়ক,
বন্দী করে স্তুতি গান।
নটীর নটন,
ভুবনমােহন,
হেরিলে জুড়ায় প্রাণ।
রাজভাগ্যবলে, বুঝি ধরাতলে,
বিদ্যাধরী অধিষ্ঠান।
তত্ত্ব ওঘ ঘন, হতেছে সঘন,
হেরি মুগ্ধ হয় মতি।
যেমন তরঙ্গ, করিতেছে রক্ত,
ধীর, মধ্য, আশু গতি।
কোথা বাজীকরে, কিবা বাজী করে,
অপৰূপ অতিশয় ।
সংসারে যেমন, জনন মরণ,
ধৰ্ম্ম ধরে জীবচয় ॥
নীল পীত সিত, পাটল লােহিত,
ধূমল হরিতময়।
নানা বর্ণান্বিত, অতি বিচিত্রিত,
উড়িছে পতাকা চয়।
তাহার তুলনা,
কি দিব বল না,
এভিন ভুবনে আর ।
যেন শক্ৰধনু, ত্যাগ করি তনু,
ধরিল খও আকার।
যে দিকে পবন,
সে দিকে ধাবন,
ফেরেনাক কদাচন।
যৈন সাধ্বী সতী, • যথা থাকে পতি,
তথা থাকে তার মন।
রাজপথ পাশে, চিত্রপট হাসে,
পরিয়ে আলােক হার।
মহা কোলাহলে, বহু লােক চলে,
যেন নদীস্রোতােবর।
এই মহােৎসবে, বিমােহিত সবে,
ভাঙিল রাজ্যের লােক।
সবাকার চিত,
অতি পুলকিত,,
নাহি কোন দুঃখ শােক।
৪০
প্রকৃতিপ্রেম'।
মঙ্গলাকাঙ্ক্ষায়, ধরি মহাকায়,
মহারাগে অকপটে।
প্রতি ঘরে দ্বারে, পথে ঘাটে বারে,
জয় জয় রব রটে
মুক্ত করি কোষে, পরম সন্তোষে,
মহারাজ অনিবার।
যত গুণি নরে, করেন সাদরে,
সমুচিত পুরস্কার।
যত বিপ্রবরে, অতি সমাদরে,
করেন গোধন দান।
যে জন যা চায়, সে জন তা পায়,
সবার রাখেন মান৷
এই বটে এই, কল্পদ্রুম সেই,
নহে কারে বলা যায়।
যত লােক আসে, দান প্রাপ্তি আশে,
ফিরিতে না হয় কায়।
রাজপুণ্যফলে, বরঞ্চ সকলে,
আশার অধিক পায়।
কোথা কৰ্ণবীর, হরিশ্চন্দ্র ধীর,
কোথা বলি গুণাগার।
|
জন্ম-খণ্ড।
৪১
তােমাদের সম, দাতা নিরুপম,
হল বুঝি অবতার ।
যত দেবগণ, আনন্দে নগন,
করে পুষ্প বরষণ।
প্রেমেতে মজিয়ে, ভাবেতে ভরিয়ে,
প্রেম করে দরশন |
কহেন সকলে, আজি ভূমণ্ডলে,
একি দেখি চমৎকার।
জগতের সার, প্রেম অবতার,
একি ভাগ্য সবাকার ।
আহা মরি মরি, কি মাধুরী ধরি,
ভুবন করেছ আলো।
কালাে ৰূপে তব, আলো হুল ভব,
একি অপৰূপ কালাে।
এত দিনে ভবে, জানিবে রে সবে,
বিশ্বপ্রকৃতির তত্ত্ব।
প্রকৃতি চরিতে, প্রচার করিতে,
প্রকৃতিপ্রেমেতে মত্ত।
যত ঋষিগণ, পুলকিত মন,
গদগদ ভাবতারে।
ট
९२
প্রকৃতি-প্রেম।
প্রেমেরে হেরিয়ে, মােহিত হইয়ে,
মানসে প্রণাম করে |
যত করি জপ, যত করি তপ,
আজি সে সার্থক সব।
ধরি নরকায়, পেলাম তােমায়,
একি ভাগ্য অসম্ভব।
বিরিঞ্চিবাঞ্ছিত, শঙ্করসেবিত,
যিনি ত্রিসংসারসার।
সত্তা তুমি তঁার, রক্ষিতে সংসার,
হলে প্রভু অবতার।
পরেতে সকলে,
অতি কুতুহলে,
* চলিলেন নিজ স্থান।
সকলে মিলিয়ে, ভাবেতে গলিয়ে,
করি হরিগুণ গান ॥
কৃপাসিন্ধুবিন্দুপ্রদানে মুরারে
কর ত্রাণ পাপী জনেরে নিদানে। *
সদা পাপতাপে দহে এ শরীরে
বিনা দেব গোপাল কে আর তরে।
সদাকাল কাল প্রচণ্ডের দর্পে
দহে প্রাণ শঙ্কাজরে মর্ত্যলোকে।
সংস্কৃতানুযায়ি অমিত্রাক্ষরচ্ছন্দে বিশেষ।
*
জন্ম-খণ্ড।
৪৩
ব্ৰজেশের ভাবে ক্ষণে নামজে চিৎ
কি রূপে ধরিত্রীতলে ত্রাণ পাবে।
কি ভাবে ত্ৰিভঙ্গে বিরাজেন বিশ্বে
মহাকাল ব্রহ্মা সদা তাের ভাবে ।
কদা না স্মরে প্রাণ সে বিশ্বকান্তে
তবে রে হবে ত্রাণ শেষে কি রূপে ?
সদা প্রাণ চিন্তানলে দগ্ধ মর্ত্যে
তৰ প্ৰেমভাবে কবে পাব চিত্তে।
ভব প্রেম বিশ্বে কৃপাবান যারে
ভবে সে সুদা ভাসমান প্রমোদে ।
এই ৰূপে তিন দিন নগরে নিয়ত।
অহনিশ মহােৎসব হয় ক্রমাগত |
অনন্তর সাঙ্গ হল সেই মহােৎসব।
সকলে চলিল করি জয় জয় রব।
সেই রাজধানী ধাম নাম বৈশ্রবণ।
মহামানী মহাজ্ঞান্সী সাধু এক জন ।
প্রেমের প্রকৃতি তার নন্দিনী হইয়ে।
অবতীর্ণ হইলেন ভুতলে আসিয়ে ।
যে দিনে প্রেমের হল জনম খ্রহণ।
সেই দিনে প্রকৃতির হইল জনন ।
৪৪
প্রকৃতি-প্রেম।
সামান্য প্রকৃতি এতাে কভু নয় নয়।
অখিল ব্ৰহ্মাণ্ড ব্যাপী যাহার আলয় |
নানা দেশে নানা বেশে নানাবিধ ভাবে ।
বিরাজ করেন সদা অখণ্ড প্রভাবে।
ভাবিলে ভাবুক জন ভাের হয় ভাবে |
পতি ত্যজি সতী কি রয় রে একাকিনী।
ভ্রমরে ত্যজিতে কি রে পারে কমলিনী ।
ফণী কি ত্যজিয়ে মণি ধরে রে জীবন ।
প্রেমের লাগিয়ে তার শরীর ধারণ |
প্রেম মাত্র প্রকৃতি সতীর প্রাণপতি।
প্রেম বিনা প্রকৃতির নাহি কোন গতি ৷
প্রেম বিমা প্রকৃতিরে কে করে সাধনা।
প্রেম বিনা প্রকৃতিরে কে করে ভজনা।
প্রেম বিনা প্রকৃতির মর্ম জানে কে।
প্রেম বিনা প্রকৃতির কে করে রে সেবা।
সেই প্রকৃতির রূপ কে করে ধর্ণন।
বিশ্বের লাবণ্য লয়ে হল বা সৃজন।
যতেক তাবুক জন বুঝ অনুশুবে।
বিশ্বপ্রকৃতিতে ইহা অবশ্য সব !!
জন্ম-খ।
৪৫
ধন্য সেই বিধিরে রচিল যে এ নিধি।
নিজে অনুরাগ বুঝি এৰূপের বিধি।
প্রেমজন্মখণ্ডকথা বিস্তার বিরুত।
প্রকৃতির জন্মকথা সংক্ষেপে রচিত।
হইবে দ্বিরুক্তি দোষ হবে রসহীন।
এই হেতু রচনায় হইলাম দীন ।
আমি রচনায় ধনী নহি এভূতলে।
দৈন্য দশা আমার প্রকাশ সৰ্ব্বস্থলে।
বিশেষত এই স্থলে বড় দৈন্য ভাব।
মূঢ়ের বাক্যে কি বাড়ে প্রকৃতিপ্রভাব।
সুদীন দ্বারকানাথ কি বুঝিবে মৰ্ম্ম।
কুশি কি বুঝিতে পারে দিনকর ধর্ম ।
প্রকৃতি-প্রেম।
লীলা-খণ্ড।
প্রথম সর্গ।
দেখ রে! শ্যামের বামে দাঁড়াল কিশােরী,
কি শোভা আমরি।
বড় সাধ রূপরাশি রাখি হৃদি ভরি।
মরি কি মধুর বেশ, ভাবেতে ভুলায় দেশ,
যদি কভু হই শেষ, গুণগান করি।
গগণের এক চাদ, এ চাদে
যুগল ছাদ,
মননামৃগ ধরা ফাঁদ, সাধ গলে পরি।
সে চাদের সুধা আশে, চকোর বেড়াক পাশে,
এ চাঁদেরে ভাল বাস বাসনা চকোরি। ধ্ৰুং।
যদি লােকে ভাবে প্রেমে দেব অবতার
তবে তার নরলীলা করা হয় তার।
এই হেতু মহামায়া করিয়ে বিস্তার।
সেই ভাৰ ভুলাইয়ে দেন সভাকার।
অনন্তর দিনে দিনে বাড়েন কুমার।
সিতপক্ষে শশীর যেমন ব্যবহার।
লীলা-খণ্ড।
• ৪৭
রাণীর আনন্দ আর ধরে না অন্তরে।
নীর হলে উথলিয়ে পড়িত অন্তরে।
কভু রাণী বক্ষঃস্থলে রাখেন কুমার।
গৌরীবক্ষঃস্থলে যেন অসিত কুমার।
কভু স্তন দেন তার বদন কুহরে।
নীলমণি শােভে যেন হিমাদ্রি শিখরে ।
চুম্বন করেন কভু শ্রমুখমণ্ডলে।
পদ্ম ইন্দীবর যেন মেলে এক স্থলে ।
নিদ্রা হলে শয্যায় শােয়ান ধীরে ধীরে।
নীলােৎপল শােতে যেন নিরমল নীরে।
কখন রাজার কোলে দেন স্মিতমুখে।
প্রেমে কোলে পেয়ে রায় মত্ত প্রেমসুখে।
যেমন কৌশল্যা রাণী অতি সযতনে।
দশরথকোলে দেন রাজীবলােচনে।
এই ৰূপে রাজা রাণী পেয়ে পুত্রধন।
নিরন্তর প্রেমানন্দসাগরে মগন ।
অনন্তর ছয় মাস হইলে পূরণ।
অতি সমারােহ করি দেন অন্নান।
হয়েছে রে শ্রীপ্রেমদেবের অবতার ।
এই হেতু প্রেমচন্দ্র নাম হল তার।
৪৮
।
প্রকৃতিপ্রেম
নিত্য হয় কৌমারে মূতন ভাবাবেশ।
রঙ্গভূমে নট যেন ধরে নানা বেশ ।
হটিতে শেখেন দেব জানু আর করে।
হেরি রাজা রাণী অতি সুখিত অন্তরে।
উঠিতে লাগিল ক্রমে দন্তপাতি তার।
নীলােৎপলে শােভে যেন মাণিকের হার
তদন্তর পদব্রজে শেখেন হাঁটিতে।
দুই তিন পদ জান পড়েন ভুমিতে।
ক্রমে ক্রমে পদ শক্ত হইল যখন।
নাচিয়ে নাচিয়ে দেব বেড়ান সঘন ।
প্রতি পদে হয় যেন সুধা বরষণ।
হেরিলে মােহিত হয় ভাবুকের মন।
কোলেতে ধরিয়ে তারে রাখা হয় দায়।
ধেয়ে যান অতি দূরে কেবা ধরে তায়।
ধর ধর করি রাণী পাছে যান যত।
হাসিয়ে হাসিয়ে দেব দূরে যান তত।
শেষে রাণী নানা মত দেখাইতে ভয়।
শঙ্কা পেয়ে তখনি ফেরেন প্রেমময় ॥
ভুজপাশে মাতৃগলে ধরেন সত্বরে।
নীলমণি-লতা যেন হৈমবৃক্ষোপরে ।
৪৯
লীলা-খণ্ড।
একে ৰূপরাশি তায় বেশ মনােলোভা।
রসায়নে হেমের কি বাড়েনাক শােভা।
মণিময় মুকুট শিরে কি শােভাকর।
নীলাচলশিরে যেন সুমেরুশিখর।
গলে দোলে মনােহর মণিময় হার।
কাশীতে করেন যেন জাবী বিহার।
বলয় যুগল করে কিবা শােভা করে।
ভাস্কর মণ্ডল যেন বেড়েছে পুষ্করে।
কটিতে কিঙ্কিণী বাজে চরণে নূপুর ।
আর নানা অভরণসিন মধুর ।
যেমন প্রভাত কালে এক নগরে।
নানাবিধ খগকুল কল গান করে ৷
অনন্তর আধ আধ রিল বচন।
চাদ হতে ক্ষরে যেন অমৃত কিরণ।
সবে বলে সুধার অাধার রত্নাকরে ।
আমি বলি শুধু প্রেমবদনকুহরে ৷৷
এক থার্টি নিতান্ত কবির ভাব নয় ।
তবে বুব যতেক ভাবুক মহাশয়
এই ৰূপে প্রেম দেব জন্মিয়ে ভূতলে ।
নবলীলা করিয়ে বঞ্চেন কুতুহলে ।
প্রকৃতি-প্রেম।
পরে পোগণ্ড উদয়।২
হেরি রাজা রাণী অতি প্রফুল্লহৃদয়।
ঐমে প্রত্যঙ্গ সকল। ২
দিনে দিনে হয় দেখি সুদৃঢ় সবল ।
কিবা মধুর মুরতি। ২
হেরিলে মােহিত হয় মনসিজ রতি।
চান যে দিকে যখন। ২
সেই দিকে হয় যেন পুষ্প বরষণ |
মরি হাসির কি রঙ্গ। ২
দামিনী মার্জিত যেন জানুৰীতরঙ্গ।
যত শিশুর সহিত। ২
করেন কতই খেলা হইয়ে মােহিত।
দেব করেন এ পণ। ২
স্কন্ধে বয়ে লয়ে যাব জিনিবে যে জন |
শেষে আপনি হারিয়ে। ২
নরের শিশুরে স্কন্ধে করেন হাসিয়ে ।
দেখ প্রেমের প্রভাব। ২
বিশ্বের অাশ্রয় হয়ে তাহার এ ভাব ॥
তঁার সকলি সমান। ২
ব্রাহ্মণ পচ আর দীন ধনবান ।
লীলা-খণ্ড।
দেন সকলে আশ্রয়। ২
রিপুবশ জন কিন্তু তার প্রিয় নয়।
দেখি বিশেষ সঁহার। ২
একেবারে পরিত্যজ্য ক্রোধ অহঙ্কার।
ক্রোধ অহঙ্কার যথা। ২
প্রেমের না হয় বাস এক তিল তথা।
কিবা উদার চরিত। ২
নিৰ্ম্মল জায়ূবীজলে বুঝি বা রচিত
যার উদার স্বভাব। ২
তার সঙ্গে দেখি ভার অতিশয় ভাব।
‘তায় এমনি আমঙ্গ। ২
এক তিল প্রেম না ত্যজেন তার সঙ্গ।
যত সুজন সুমতি। ২
প্রেমেরে দেখিব মাত্র প্রেমে মত্তমতি।
প্রেমের পৌগ কাল হেরি মহীপতি
বিদ্যাশিক্ষা হেতু তার যত্নবান অতি ।
রাজবিদ্যামন্দিরে করেন নিয়ােজন।
সর্বশাস্ত্রবিশারদ শিক্ষকসদন ।
অতি রাগে পড়ান শিক্ষক মহাশয়।
এক দিনে হল তার বর্ণ পরিচয় |
প্রকৃতি-প্রেম।
শিক্ষা, কল্প, বলকরণ, নিরুক্ত নিচয়।
ছন্দ শাস্ত্র, জ্যোতিষ, বেদাঙ্গ এই ছয়
ঋক, সাম, যজু, আর অথর্ব বিস্তার ।
এই চারি অন্নায় সকল শাস্ত্রসার ।
মীমাংসাদি দরশন, ন্যায় সমুদয় ।
মনু আদি ধর্মশাস্ত্র, পুরাণ নিচয় ।
আয়ুৰ্বেদ, ধনুৰ্বেদ, সঙ্গীত সুরস।
অর্থশাস্ত্র, সহ এই বিদ্যা অষ্টাদশ |
অতি অল্পকালে দেব শেখেন সকল।
পৌগণ্ডেই হল তার ব্যুৎপত্তির বল ।
শিল্প আর কল যন্ত্র আদি বিছা যত।
অতি অনুরাগে প্রেম শেখেন সতত ।-
অনন্তর নানা ভাষা অভ্যাস নিরত |
প্রেমের পাঠের প্রেম কি বলিব আর ।
ভাবে বুঝ যিনি নিজে প্রম অবতার ।
বুদ্ধির কি কৰ কথা অতি চমৎকার।
সমীর সমান প্রবেশিকাশক্তি তার ।
কুমারের বােধগম্য হইতে না পারে।
এমন বিষয় নাই এ তিন সংসারে ॥
লীলা-খণ্ড।
তারে দিবা মাত্র কোন উপদেশ ।
অমনি তাহাতে তার বুদ্ধির প্রবেশ ।
যেন এক বিন্দু তৈল এক পাত্র জলে।
দিবা মাত্র ব্যাপ্ত হয় তার সর্ব স্থলে |
অতি শ্রুতিধর প্রেম অতি শ্রুতিধর।
এক বার শুনিলেই শেখেন সত্বর ।
প্রেমের পাঠেতে গুরু বিমােহত অতি ।
তবে একি বিদ্যা নাকি ধরিল মুরতি।
নহে কার সাধ্য এই পৃথিবী ভিতরে।
এত অল্পকালে সৰ্ববিদ্যা শিক্ষা করে |
অহর্নিশ বিদ্যাভ্যাসে এত প্রেমধনু।
এক তিল বৃথা কাজে না হয় হরণ |
বিদ্যা জপ বিদ্যা অপ বিদ্যা মাত্র সার।
বিদ্যা বিনা বৃথা চিন্তা নাই আর তার ।
পতিচিন্তা যেমন প্রাষিত পতিকার ।
সশস্ত্র বিশারদ হলেন কুমার।
গুরুগৃহে বিদ্যালয়ে বাস অনিবার।
বয়সের পরিপাকে লােকে বৃদ্ধ হয়।
বাল্যকালে বৃদ্ধতম হন প্রেমময়,
৫৪ ।
{
প্রকৃতিপ্রেম।
বিশেষ প্ৰকৃতিৰূপ পুস্তক পঠনে ।
অতিশয় অনুরাগ তঁার সর্বক্ষণে।
সেই রাজবিদ্যালয়ে প্রকৃতি সুন্দরী।
আইলেন শিক্ষা হেতু দেশ আলো করি ।
জন্মেছেন প্রকৃতির তুল্য ৰূপ ধরি।
এই হেত্ব হল নাম প্রকৃতি সুন্দরী।
ফলে বিশ্ব প্রকৃতিতে রচিত সে ৰূপ।
অনুপম ত্রিভুবনে অতি অপৰূপ ।
বিরচিত সুধাকরে বদনমণ্ডল।
বিরচিত ইন্দীবরে নয়ন যুগল |
বিরচিত ওষ্ঠাধর পবিম্ব ফলে।
বিরচিত কপােল যুগল শতদলে ।
বিরচিত তিল ফুলে নাসা মনােহর
বিরচিত সনাল-কমল-দলে কর ।
বিরচিত কটিদেশ হরিমধ্যদেশে।
বিরচিত উরুযুগ কদলী বিশেষে ।
বিরচিত করশাখা দিয়ে চাপাকলি।
বিরচিত স্বর দিয়ে কোকিলকাকলি।
বিরচিত বর্ণ তার দিয়ে স্বর্ণসার।
বিরচিত চপলা-লতার হাসি তার ।
লীলা-খণ্ড।
বিরচিত কিষধরে বেণীর বলনী।
লম্বমান ফণী যেন শিরে ধরি মণি।
করেছেন পরিধান কিবা নীলাম্বর।
নবীন নীরদে যেন ঢাকে সুধাকর ।
মণিময় মণ্ডনে মরি রে কিবা বেশ।
ৰূপের ছটায় তার আজি হাসে দেশ |
সরালগমনে বাল আসি ধীরে ধীরে।
শিক্ষকের প্রণাম করেন নতশিরে ।
ব্ৰহ্মাণ্ডব্যাপিনী যিনি ব্রহ্মাণ্ড আধার।
প্রণাম করেন নরে একি চমৎকার ।
যিমি জগতের গুৰু নরগুরু তার।
ভগবত প্রকৃতির লীলা বুঝা
সবে বলে হেরিলাম একি অপৰূপ।
বুঝি কোন স্বর্গদেবী ধরিল এৰূপ |
কেহ বলে বােধহয় আমার অন্তরে ।।
বুঝি বা মধুর রস এই বেশ ধরে।
শিক্ষক পড়ান তঁারে অতি হৃষ্টমনে ।
প্রকৃতি প্রেমের সম শেখেন ঘূতনে ।
পরিশ্রম করি কন্যা প্রেমদেব প্রায়।
সশাস্ত্রে সুপণ্ডিত হলেন স্বরায় |
তার
প্রকৃতিপ্রেম।
গুরু অতি সবিস্ময় বুদ্ধি দেখি তার।
ভাবেন এমন সাধ্য প্রেম বিনা কার।
প্রেম সম প্রকৃতির সকল প্রভাব।
ৰূপ বল গুণ বল সব সম ভাব ।
যদি এই কন্যাদান হয় এ কুমারে।
তবে আমি বিবেচক বলি বিধাতারে ।
নহে এই নবঘন সাজিবে কেমনে।
এই সৌদামিনী বিনে এভবভবনে ।
প্রেম বুঝি গগণের নব জলধর।
এই সৌদামিনী লােতে এই মূৰ্ত্তিধর।
প্রকৃতি প্রেমেতে তথা গােপনে মিলন
উভয়ের পূর্বকথা হইল স্মরণ ।
ভাবভরে ভাের তনু লােমাঞ্চ শরীর।
প্রেমে আঁখি ছলছল বহে প্ৰেমনীর ।
হইল সাত্বিক ভাব উদয় ত্বরায়।
উভয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন ধরায়।
ক্ষণে ক বিলম্বে দেহে চেতন হইয়ে।
উভয়ে উভয় পানে রহেন চাহিয়ে।
বদনকমলে কারো বচন না সরে।
কহেন প্রকৃতি সতী- গদগদ স্বরে।
লীলা-খণ্ড।
৫৭
প্রাণনাথ তোমার বিচার কিবা কব ।
এত কাল ভুলেছিলে অধীনীরে তব ।
প্রেমচন্দ্ৰ কন তার অধর ধরিয়ে।
ভুলিতে পারি কি আমি তােমারে হে প্রিয়ে।
তুমি মাের ধ্যান জ্ঞান জীবনের সার।
তুমি মাের জপ তপ কি কহিব আর ॥
তােমার মহিমা শুধু বাড়াতে ভূতলে।
ধরিলাম নরজনু অতি কুতুহলে, ॥
প্রকৃতি কহেন নাথ তােমার কারণে।
আমিও কি নরজনু না ধরি ভুবনে |
শুধু তব প্রেমে বশ জানাইতে লােকে।
ধরিলাম নারীবেশ আমি এ ভূলােকে।
এৰূপে প্রকৃতি প্রেমে হইয়ে মিলন।
নানামতে উভয়ের হয় আলাপন।
দেখিতে দেখিতে বেলা হইল গগণে ।
গৃহে যান বিধুমুখী সজল নয়নে।
প্রিয়েরে করিয়ে দান নিজ প্রাণ মন।
শূন্য প্রাণে শূন্য মনে এলেন ভবন।
যদি বল প্রাণ মন সমর্পণ করি।
কেমনে বাঁচিবে তবে প্রকৃতি সুন্দরী।
প্রকৃতি-প্রেম।
শুধু মাত্র আশাপ ঔষধ সেবিয়ে।
বিধুমুখী রহিলেন তখন বাঁচিয়ে।
সখীসহ খেলারসে দিন গেল বাসে।
মন কিন্তু রহে তার সদা প্রেম পাশে |
যেন অকপট ভক্ত বিহরে ভুবনে।
মন রাখি নিরন্তর সাধনের ধনে।
নিশা গেল প্রাণপ্রিয় প্রেম ৰূপ ধ্যানে।
হইলেন বিধুমুখী মহাসুখী প্রাণে।
প্রকৃতিপ্রেম।
লীলা-খও।
দ্বিতীয় সর্গ।
সজল জলদ বিনে সাজে কি দামিনী।
সুধাকর কর বিনে সাজে কি যামিনী ॥
নটবর বংশীধারী, বিনে কি সাজে রে প্যারী,
“রসবৃন্দাবনে আসি রাসবিলাসিনী।
কত মত রসখেলা, হাব ভাব লীলা হেলা,
ভুবন ভুলিল তায় ভাবআবেশিনী।
প্রেমাদ বিনে তবে, প্রকৃতি কি সাজে ভবে,
মিলিলেন নাথপাশে সে গজগামিনী। ধ্ৰুং।
রজনী অবসান রে।
পিককুল প্রভাতমঙ্গল করে গান রে।
তায় প্রাচী দিগীশ্বরী, বুঝি নিদ্রা ভঙ্গ করি,
প্রাণপতি স্বভাবেরে করেন আহ্বান রে।
ভালে রক্তমণি জ্বলে, সকলে বালার্ক বলে,
কার সাধ্য তার ভাব করিতে সন্ধান রে।
বন্ধু হেরি মহােৎপল, ভাবে তনু ঢল ঢল,
* মনােসুখে নীরে ভাসে সহাস্য বয়ান রে।
মধুকর মধুকরী,
প্রকৃতি-প্রেম।
গুনগুন্ রব করি,
বুঝি কালগুণ গেয়ে করে মধু পান রে ।
নানা পক্ষী নানা স্বরে, কিবা কলধনি করে,
বুঝি তারা প্রকৃতির করিছে ব্যাখ্যান রে।
বহে মন্দ গন্ধবহ, দ্বারে দ্বারে অহরহ,
প্রভাতের সমাচার করে বুঝি দান রে ||
নবদূর্বাদলােপরি, নীহার কি শােভা মরি,
যেন নীল নারীশিরে স্বেদের সমান রে ।
বুঝি বা প্রকৃতি সতী, ভাবে ভাের হয়ে অতি,
প্রেমঅশ্রুপাত করে হয় অনুমান রে ।।
ভাবুক গায়কে রাগে, অপূৰ্ব্ব রাগিণী রাগে,
হরিগুণ গায় কিবা তুলিয়ে সুতান রে।
বাজে কি শ্যামের বাঁশী, কিবা একি সুধারাশি,
কিবা পিক কাকলী না হয় ভেদ জ্ঞান রে ।
গােপাল গােধন লয়ে, অানন্দে মগন হয়ে,
মুরলী বাজায়ে করে গেঠেরে প্রয়াণ রে।
এভাৰ দেখিলে পরে, মনে পড়ে নটবরে,
মনে পড়ে.গােষ্ঠলীলা হরে মনঃপ্রাণ রে ।
যত চোর নিশাচর, হেরি প্রভাকরকর,
সচকিত হয়ে সবে করিছে প্রস্থান রে ।
লীলা-খণ্ড।
মহাপাপী মৃত্যুকালে, যেমন দেখিলে কালে,
ভয়ে থরথর করি হয় কম্পমান রে ।
জীবের চঞ্চল চিত, থাকে স্থির প্রফুল্লিত,
করে জীব নানা মত কৰ্ম্মের বিধান রে।
বুঝি এই কালে মন, অমূল্য যৌবন ধন,
পাইয়ে হয় বা নানা গুণের নিধান রে ।
ভুবনের নারী নরে, অঙ্গ সঙস্কার করে,
কেই বা ব্যায়াম করে কেহ করে স্নান রে।
বুঝি রাত্রি সহবাসে, ধরা ত্যজি রাত্রিবাসে,
করেন নু ভন বাস ভুষা পরিধান রে।
মনােহর বেশ ধরি, আলোক বসন পরি,
জাগিল স্বভাব যেন হয়ে মূর্তিমান্ রে |
তারা অলঙ্কার আর শশী চুড়া পরি।
কিবা বেশ ধরেছিল শর্বরী সুন্দরী।
বিরলে পাইয়ে ধীরবেশে সে স্বভাবে।
তুষেছিল এই বেশে নানা হাব ভাবে
দিবা আগমনে দেব চঞ্চল হইয়ে।
চলিলেন রাজকার্যে নিশারে ত্যজিয়ে ।
প্রিয়ের বিরহে নিশা বিষাদে মুজিয়ে।
চুড়া আর অলঙ্কার রাখেন খুলিয়ে ।
প্রকৃতিপ্রেম
নিশা অবসান দেখি প্রতি সুন্দরী।
উঠিলেন মনােসুখে শয্যা পরিহরি ।
করেতে পুস্তক লয়ে মনােহর বেশে।
বিদ্যালয়ে চলিলেন প্রিয়ের উদ্দেশে |
কতক্ষণে যাব রে ভাবেন বিনােদিনী।
আসন্ন বর্ষায় আরো ডাকে চাতকিনী ।
এখানেতে প্রেমচন্দ্র অভিসার করি।
ভাবিছেন কখন আসিবে প্রাণেশ্বরী।
হেন কালে ধীরে ধীরে প্রকৃতি সুন্দরী।
আসিছেন মরি কিবা রম্য বেশ ধরি।
বিন্দু বিন্দু ঘৰ্ম্ম হয় শ্রীমুখে তাঁহার ।
চাঁদ কি পরিল আজি মুকুতার হার ।
দুলিছে দীঘল কেশ নিতম্ব উপরে।
রাগ কি চামর করে পূর্ণ সুধাকরে।
ঝলমল করে কিবা বিচিত্র অঞ্চল।
শিখী কি রে পুচ্ছ ধরি নাচে অবিরল।
উরােদ উপরে দোলে মণিময় হার ।
সুমেরুশিখরে কি রে জাহ্বীবিহার ।
মরি কি ৰূপের ছটা কি বলিব আর।
বিধি কি করিল শূন্য ৰূপের ভাণ্ডার ।
লীলা-খণ্ড।
এই ৰূপে চারুশীল মনাের বেশে।
আইলেন প্রেমপাশে মহা প্রেমাবেশে ।
আস্তে ব্যন্তে প্রেমচন্দ্র গাত্রোখান করি।
অভ্যর্থনা করিলেন তাঁর কর ধরি ।
মুখ সুধাকর তার মুছাইয়ে বাসে।
বদন চুম্বন করি বসালেন পাশে।
কি কব তাহার শােভা ভুবনমোহন।
যমুন্না জাহবী যেন হইল মিলন ॥
প্রকৃতির প্রেমে প্রেম অধীর হইয়ে।
ধীরে ধীরে কন তার অধর ধরিয়ে।
শুনশুন বিনােদিনি মাের নিবেদন।
প্রাণে কি সয় হে তব বিরহবেদন ।
পলকে প্রলয় জ্ঞান হয় হে আমার।
তােমা বিনে বােধ হয় সব অন্ধকার ।
যখন তােমার রূপ না পাই দেখিতে।
তখন তােমার রূপ ধ্যান করি চিতে।
মনােমণিমন্দিরে হৃদয়সিংহাসনে।
রাখিয়ে তােমারে দেখি আবেশ,নয়নে।
তােমা বিনে ত্রিভুবনে কে আছে আমার।
কেবল তােমার প্রেম করেছি হে সার ।
৬৪
প্রকৃতি-প্রেম।
কেবল আমার তুমি শুন রসবতি।
কেবল তােমার প্রেমে হইয়াছি ব্ৰতী ।
ভােজনে ভ্রমণে আর শয়নে স্বপনে।
প্রিয়ে তব ৰূপ জাগে সদা মাের মনে ।
অনুরাগ বর্ণে আর ভাব তুলিকায়।
চিত্তপটে চিত্র করি রেখেছি তোমায়।
যে দিকে পড়ে হে প্রিয়ে আমার নয়ন।
সেই দিকে তব ৰূপ হয় দরশন।
অন্তর বাহিরে আমি হেরি হে তােমারে
হাসি হাসি বিশ্বময়ি বিরাজ সংসারে ॥
যখন যে অঙ্গে তব পড়েছে নয়ন।
ভাবভরে ভাের হয় তনু আর মন।
যখন পড়ে হে আঁখি তব কেশপাশে।
উদয় জলদজাল অন্তর আকাশে।
জলদের গুণে মন হয় হে মােহিত।
উদয় হয় হে মনে ভাব অপ্রমিত ।
শিশুর লইয়ে অর্থ যেন বিচাগার।
বিদ্যা শিক্ষা হেতু দান করে পুনৰ্ব্বার।
সেই ৰূপ অবনির হিতের কারণ।
এ কৌশল করিলেন আপনি তপন ৷
লীলা-খও।
শােসন করিয়ে নীর সৃষ্টিকরি ঘন।
বৃষ্টি ৰূপে পুন দেব করেন বর্ষণ !
তাহে নানাবিধ শস্য জনমে ধরায়।
জীবের জীবন রক্ষা হয় হে তাহায় ।
এৰূপে যে অঙ্গে তব দৃষ্টিপাত হয়।
তাহে কত ভাব মনে হয় হে উদয় ।
কখন পুরুষ তুমি কখন প্রকৃতি।
নানা দেশে নানা বেশে ধর হে আকৃতি।
যখন পুরুষ ভাব ধর ধরাতলে ।
নিসর্গ স্বভাব বলে তোমারে সকলে।
ত্রিভুবনসার ধন তুমি রসবতি ।
তােম বিনে কার সাধ্য চালায় জগতী ।
তােমা বিনে জীব কি ধরতে পারে প্রাণ।
তােমা বিনে জীব কি পায় হে অন্ন পান |
তােমা বিনে কে আর জুড়ায় প্রাণ মন।
তােমা বিনে কে করে হে শীতল নয়ন |
তােমা বিনে কে করে হে বাক্শক্তিদান।
তােমা বিনে কেবা দান করে বুদ্ধি জ্ঞান।
তােম বিনে চলে বলে বল সাধ্য কার।
কেবল তােমায় বলে চলে এ সংসার ॥
প্রকৃতি-প্রেম।
তােমারে না চেনে যেবা বৃথা প্রাণ তার।
বৃথা জনু বৃথা তনু শুধু মাত্র ভার ।
তােমারে ত্যজিয়ে যেবা অন্য রস গায় ।
তারে কি হে কবি বলি কপি বলি তায়।
তােমা বিনে রস আর আছে হে কোথায়
তব সম শােভা আর আছে কি ধরায় ॥
বিষয়বাসন যেন ত্যজি নিত্যধন।
তােমা বিনে অন্য রস বর্ণন তেমন।
যে জন করে হে সদা বর্ণন তােমারে।
মহীমান্য মহা কবি বলি হে তাহারে।
ধন্য জনু ধন্য তনু ধন্য শক্তি তার ।
বসুন্ধরা কীৰ্ত্তিকাঞ্চী পরিল যাহার ।
সর্বশাস্ত্রসার তুমি সর্বশাস্ত্ৰসার।
তব গুণ গানে শুধু শাস্ত্রের প্রচার |
বিদ্যালয়ে যত শাস্ত্র কুরেছি পঠন।
সৰ্ব্বশাস্ত্রে শুধু তব গুণসঙ্কীৰ্ত্তন |
শাস্ত্র পড়ি তােমারে না চেনে যে অধম
অতি মুখতম সেই অতি মূখতম ।
পাঠের কিছুই ফল হয় নাই তার।
শুধু মাত্র দেখি তার কাােেগ সার।
?
লীলা-খণ্ড।
যে শাস্ত্রে তােমার গুণ না হয় কীৰ্ত্তন।
সেই শাস্ত্র শাস্ত্র বলি না হয় গণন।
নরকৃত কল যন্ত্র শিল্প আদি করি ।
তুমি সকলের মূল ওহে প্রাণেশ্বরি।
তােমার আশ্রয় বিনে বল সাধ্য কার।
কল যন্ত্র শিল্প আদি করে আবিষ্কার ।
ভক্তি বিনে মুক্তিলাভ না হয় যেমন।
তোমা বিনে নরবুদ্ধি স্কুরে না তেমন।
যে জন করিল ভবে তােমার সাধন।
সফল জীবন তার সফল জীবন ।
অতি সুখী সেই জন উদারস্বভার।
এ সংসারে নাই তার কিছুর অভাব।
সেই জ্ঞানী সেই মানী সেই ধনী অতি ।
সেই ধন্য সেই গণ্য সেই সাধুপতি |
কি কব ভাগ্যের কথা আমি আর তার।
অলঙ্কার অহঙ্কার সেই বসুধার ।
জীবনে বিমুক্ত হয়ে রয় হে সে জন।
শােক তাপ পাপ তায় না হয় স্পর্শন।
তাই হে তােমারে ভজি হব তবজয়ী।
তুমি সকলের মূল তুমি ব্ৰহ্মময়ী।
প্রকৃতি-প্রেম।
প্রিয়ে তব প্রেম সম, ধন কিবা আর।
ত্রি-সংসারে অনুপম, কিবা শােভা তার ।
কিবা শােভা পায় মণি, রমণীর গলে।
কিবা শােভা পায় ধনী, পারিষদ দলে।
কিবা শোভা পায় বেশ, চারু কলেবরে।
কিবা শােভা পায় দেশ, প্রাসাদ নিকরে ।
কিবা শােভা পায় অসি, বীববরকরে ।
কিবা শােভা পায় মসী, সুচ্ছ অক্ষরে ।
কিবা শােভা পায় শিশু, রত্নআভরণে।
কিবা শােভা পায় ইষ, রাসুররণে |
কিন্তু তব প্রেমে যার, আঁখি ভাসে জলে।
তার সম শোভা আর, কি আছে ভূতলে।
তােমার প্রেমের পাশে, বাঁধা যার মন।
নিত্য নিত্যসুখে ভাসে, সেই মহাজন ।
স্বর্গ-মুখ ভােগ তার, হয় হে ধরায়।
তার সম সুখী আর, “কে আছে কোথায়।
শুনিয়ে প্রিয়ের বাণী, ঈষদ হাসিয়ে ।
কহেন প্রকৃতি রাণী, অষ্যত নিঞ্চিয়ে |
বল প্রাণেশ্বর, বল দাসী জনে।
স্বর্গ-ভােগ করে নর, ভূত কেমনে ।
৫
বল
* লীলা-খণ্ড।
স্বর্গ কারে বলে, বল, বল প্রাণধন
মন অতি সচঞ্চল, করিতে শ্রবণ।
প্রেম কন চারুশীলে, কি প্রশ্ন করিলে।
মন মাের মজাইলে, অমৃতসলিলে ।
করিলে পরম সুখী, প্রেয়সি আমারে।
শুন তবে সুধামুখি, স্বর্গ বলে যারে ৷
মিথ্যা বাণী, ধৰ্ম্মহানি, রিপুর প্রভাব।
খল চিত্ত, বহু বিত্ত, অতি দীনভাব।
পরদ্রোহ, লােভ, মােহ, ব্যভিচার দোষ।
অতি ভােগ, খল রােগ, ক্ষোভ, অসন্তোষ ।
অভিশাপ, শােক, তাপঃ অকাল মুরণ।
অহঙ্কার, স্বেচ্ছাচার, পরস্ব হরণ।
দ্বেষ, ক্রোধ, ভক্তিরােধ, পরপরিবাদ।
পক্ষপাত, আত্মঘাত, বাদ বিসম্বাদ।
উপকার-অস্বীকার, শুদ্ধ সার্থ তত্ত্ব।
মিথ্যা ভান, কুবিধান, কেবল অসত্য।
মুখ পুত্র, শঠ সূত্র, বিশ্বাসঘাতন।
কুমন্ত্রণা, প্রবঞ্চনা, মাদকসেবন »
শিষ্টমতি এক পতি, পত্নী বহুতরা।
শুভহরা দ্বন্দ্বপরা রমণী প্রখরা।
প্রকৃতিপ্রেম।
ভূমণ্ডলে, যেই স্থল, নাই এসকল ।
সাধু বর্গ, তারে স্বর্গ, বলেন কেবল ।
প্রভুপ্রেম, দয়া, ক্ষেম, বিদ্যা জ্ঞানপ্রদা
গুণযুত, সাধু সুত, সুধী প্রমদা ।
সুকবিত্ব নিত্য বিত্ত, বিশুদ্ধ সঙ্গীত।
সাধুসঙ্গ, সুপ্রসঙ্গ, সদা পরহিত।
গুণযশ, শান্ত রস, মানিজনমান।
উপকার, পুরস্কার, আনধনদান |
চিত্তশুদ্ধি, সার বুদ্ধি, উদারস্বভাব।
শাস্ত্রজ্ঞান, সত্যধ্যান, স্বাধীনতা ভাব ।
ধৈৰ্য গুণ, সুনিপুণ-গুণীর গৌরব ।
নিত্য ধৰ্ম্ম, ইষ্ট কৰ্ম্ম, বিদ্যার সৌরব।
ভূমণ্ডলে, যেই স্থলে, আছে এ সকল ।
সাধু বৰ্গ, তারে স্বর্গ, বলেন কেবল।
কহেন প্রকৃতি সতী ইষদ হাসিয়ে ।
হাসির হিল্লোল ফাদে তড়িত ধরিয়ে ॥
বুঝিলাম প্রাণনাথ ত্রিদিবের ভাব।
তথায় ত্রিদিব যথা সাধুর প্রভাব।
স্বর্গ তবে আকাশের উর্ধ দিকে নহে।
যথায় পবিত্র বস্তু তারে স্বর্গ কহে ।
d
৭১
লীলা-খণ্ড ।
নিজগুণে অধীনীরে বাড়লে তেমন।
গুহকে করেন স্তুতি শ্রীরাম যেমন |
আমি অতি মূঢ়মতি নীচাশয়া নারী।
তােমার মহিমা সীমা বলিতে কি পারি ।
ভগবপ্রেম তুমি সংসারের সার।
প্রেম বিনে অখিল সংসার অন্ধকার ।
এই প্রেমে চলিতেছে অখিল সংসার।
এই প্রেমে পালে লােক নিজ পরিবার।
এই প্রেমে সতী করে পতির সেবন।
এই প্রেমে পতি করে সর্তীর পালন।
এই প্রেমে মাতাপিতা পুত্ৰহিতকারী।
এই প্রেমে নানা লােক নানা ভাবধারী ।
এই প্রেমে হয়ে থাকে দয়ার সঞ্চার।
এই প্রেমে করে লােক পরউপকার ।
এই প্রেমে গুরু শিষ্যে করে জ্ঞান দান।
এই প্রেমে শিষ্যগণ হয় জ্ঞানবান ।
যে শিয্যের পাঠে নাই প্রেম অনুযােগ।
সেতত তার পাঠ নয় শুধু কর্মগে ।
এই প্রেম হীন হলে তিলার্ধ সংসার।
সব শব হয় কিছু নাহি থাকে আর ॥
१२
প্রকৃতি-প্রেম।
প্রেম বিনে নিত্য সুখ কে করিবে দান।
প্রেম বিনে ত্রিভুবনে কে জুড়ায় প্রাণ ।
ধন জন কুল মান জীবন যৌবন।
তাই আমি প্রেমপদে করেছি অর্পণ।
সন্ন্যাসী হলেও যদি প্রেমলাভ হয়।
তাহাও স্বীকার করা অযুক্তিতে নয়।
ভবগুরু ভবদেব প্রেমলাভ আশে।
যােগসাধনায় রত শ্মশান আবাসে ।
সংসারের যত ভােগ সব পরিহরি।
জটা ভস্ম অস্থিমালা ব্যাঘ্রচর্ম পরি ।
নারদাদি মহাঋষি প্রেমের লাগিয়ে।
সতত ভমেন তবে সংসার ত্যজিয়ে ॥
প্রেম লাগি ত্যজে কুল যত ব্রজবধূ।
গৌরাঙ্গ সংসার ত্যাগী পেয়ে প্রেমমধু ।
প্রেমদায় পতঙ্গ প্রদীপে পুড়ে মরে।
তবু কভু প্রেমরস ত্যাগ-নাহি করে ॥
এই মহাধনে চেনে যেই মহাজন।
মহা বিঘ্ন ঘটিলেও না করে বর্জন
বাস যার স্বভাবশােভিত রম্য বনে।
সে কি ভয় করে কভু বনচরগণে ॥
।
লীলা-খণ্ড।
প্রেমরসে যাহার না রসে গনঃ প্রাণ।
পশুর সমান সেতাে পশুর সমান ।
নির্মাণ হয়েছে প্রাণ পাষাণে তাহার।
ধরার ধরায় তারে কিবা ফল আর।
প্রেমধন পেয়ে যেবা কুপথ ধরিল।
সেই এ পরম ধনে অশুচি করিল।
তার সম পাপী আর কে আছে ধরায়।
কর্মমত ফলভােগ হইবে ত্বরায়।
এমন অমূল্য নিধি আছে কি ভুবনে।
গলায় গাঁথিয়ে পরি হেন লয় মনে ।
প্রম বিনে প্রকৃতির কেবা আছে আর ।
প্রেম বিনে কারে আর বলিব আমার ।
প্রেম বিনে প্রকৃতির কে পায় দর্শন।
প্রেম বিনে প্রকৃতিরে কে করে গণন।
প্রেম বিনে প্ৰকৃতিৰ কে রাখে হে মান।
প্রেম বিনে কে করে প্রকৃতিগুণগান ।
তাই মাের মনঃপ্রাণ মত্ত প্রেমমদে।
ধতি মতি নতি গতি সব প্রেমপদৈ ।
জগতের কৰ্ত্তা যিনি শুদ্ধ প্রেমার।
প্রেম বিনে প্রিয় বস্তু নাই তার আর ॥
প্রকৃতিপ্রেম।
।
তাই বলি প্রেমতো সামান্য ধন নয়।
মে ব্ৰ প্ৰেম ব্রহ্ম প্রেম ব্ৰহ্মময় ।
এৰূপে দুজনে স্তুতি করেন দুজনে।
উভয়ে উভয়ে বাড়ান সযতনে ।
অনন্তর কিছু কাল থাকি বিদ্যালয়ে।
ও উপদেশে পাঠ করেন উভয়ে।
তােজনের সময় হইল অন্তর।
প্রতারকর কমে হয় প্রভাকর
শূন্য মনে নিকেতনে যান বিনােদিনী।
চাদেরে ত্যষিয়ে কি রে যায় চকোরিণী।
প্রকৃতিপ্রেম।
লীলা-খণ্ড।
তৃতীয় সর্গ।
সরস বসন্ত ঋতু আইল ধরায় রে।
আহা মরি কিবে শোভা হইল তাহায় রে।
পিকুল পঞ্চস্বরে, জগতের মনােহরে,
বুঝি তারা সেই স্বরে রাজগুণ গায় রে।
নবীন পল্লৰভরে, শাখী সব শোভা করে,
তুষিতে স্বভাবে বুঝি ধরে নব কায় রে।
দ্বারে দ্বারে অহরহ, মন্দ বহে গন্ধৰহ,
বসন্তের অধিকার জানাতে সবায় রে।
রসভরে সারি সারি, গান করে শুক শারী,
বুঝি তারা স্বভাবের মহিমা জানায় রে ॥ ধ্ৰুং।
বার দিয়ে বসিল বসন্ত ঋতুরাজ।
জগতের মনোহর করিয়ে সমাজ ।
সচিব কুসুমাবলি বন উপবন।
মলয় মরুত করে চামর ব্যজন |
প্রধান গায়ক যাঁর বনপ্রিয়কুল।
শুনিতে যাহার গান জগত ব্যাকুল ।
।
প্রকৃতিপ্রেম।
মধুকর
নিরন্তর করে
গুগুল
সেতে বসন্তের বন্দী সদা গায় গুণ।
রাগ বীর সেনাপতি সমরে প্রচণ্ড ।
যার করে শােভা করে সবাণ কোদও ।
এই ৰূপ ভূপতির সম্পদ হেরিয়ে।
ভাবরসে রসা রাণী গেলেন গলিয়ে ।
মহােল্লাসে প্রেমাবেশে হইয়ে অধরা।
নবীন যুবতী ৰূপ ধরিলেন ধরা।
শাখী সব নবীন পল্লবে সুশােভিত।
কত তৰু মঞ্জরিল অতি শােভান্বিত।
যেন নববধূ নানা ভূষণে ভূষিত ।
বিকশিত হইল যতেক পুষ্পগণ।
সুরসুন্দরীর যেন হসিত বদন।
ফুটিল পলাশ ফুল কি শােভা তাহার।
ৰূপবান মূখসহ তুলনা যাহার ।
ফুটিল মাধবীলতা অতি চমৎকার।
মাধব রাধার গলে পরান যে হার ।
ভুবনমােহন নাম ফুটিল অশােক।
যারে হেরি শােক তাপ ত্যজে যত লোক।
কিন্তু বিরহীর মনে বাড়ে বড় শােক।
==
লীলা-খণ্ড।
৭৭
জগতের প্রিয় ফল আয় সুধাসার।
এই কালে দেখা দেয় মুকুল তাহার |
শাখীতে শাখীতে নানা বিহঙ্গের গান।
ভূঙ্গের ঝঙ্কার তায় তম্বুরার তান।
মুরলী সঙ্গত তায় কোকিলকাকলী।
এই রস বিনে আর সুধা কারে বলি ।
নীর অতি নিরমল হল এ সময়।
যেন স্বচ্ছ কাচমণি হল দ্রবময়।
ঢলঢল করে জল মন্দ গন্ধবহে।
হেরি বিরহিণীর নয়নে নীরবহে। -
জুড়ায় জগজ্বালা জলের এগুণ।
এই কালে বিরহীর সে যেন আগুন ।
বুঝ লােক বিরহের * প্রভাব কেমন।
প্রকৃতিরে বিপরীত করে রে এমন।
রাজহংস চক্রবাক সুখে জলে চরে।
নান।
রঙ্গে জলকেলি করে জলচরে |
ফুটিল কুমুদ ফুল ভুবনমােহন।
সুন্দরী রমণী যেন মেলিয়ে নয় ৷
*;
• বিরহ শব্দে যে কেবল নায়ক-নায়িকারই বিচ্ছে বুঝায়
এমত নহে, সমুদয় প্রিয় পদার্থ মাত্রেরই বিচ্ছেদ বুঝায়।
৭৮
1
প্রকৃতিপ্রেম।
সরােবরে বিকশিত হইল নলিনী।
বদন প্রকাশি যেন পদ্মিনী কামিনী।
প্রাণবঁধু মধুকর মধুপান করে।
নীলকান্ত মণি যেন সুবর্ণ উপরে।
এই কালে শ্রীরাধাকৃষ্ণের দোল হয় ।
সে ভাব বর্ণন করা কারাে সাধ্য নয়।
আছে মাত্র নবঘন দামিনী গগনে।
সে ৰূপ স্বৰূপ তারা হইবে কেমনে ।
নবঘন অশ্রুপাত করিয়ে সঘন।
ধরা ত্যজি করে সদা শূন্যেতে ভ্রমণ।
চপলা চঞ্চল অতি কভু স্থির নয়।
ভাল করি কভু ৰূপ দর্শন না হয় ।
রাধাশ্যাম ৰূপের তুলনা আর তবে।
এতিন সংসারে বল কার সঙ্গে হবে।
হেরি সে যুগল ৰূপ যড় ভক্তগণ।
প্রেমরসপরিবারে হয় নিমগন।
কমলে কমল যেন হেরিয়ে তপন।
বসন্ত রাগিণী লােকে গায় মনােরঙ্গে
সুধাধিক রাধাশ্যামপ্রেমের প্রসঙ্গে।
}
লীলা-খণ্ড।
আবির খেলায় সবে মহাজে ভঙ্গে।
আবিরের কি শােতা হয়েছে শ্যাম-অঙ্গে।
সজল জলদে যেন লােহিত জলদ।
কিবা যমুনার জলে যেন কোকনদ।
বিন্দু বিন্দু চন্দন কি শােভা পায় ভালে ।
তারা যেন তিমিরবসনা রাত্রিকালে
বিদ্যা, কাব্য, নৃত্যগীতকত্রী যে রমণী।
এই জগতের যত গুণের জননী।
এই কালে সেই বিদ্যাদেবী পূজা হয়।
শ্বেত মূৰ্ত্তিধর দেবী ধরায় উদয় |
শ্বেত বর্ণ, শ্বেত ভুয়া, শ্বেত চুড়া, বাস।
অলকা তিলকা শ্বেত, শ্বেতপদ্মে বাস ।
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমা তনু করে শ্বেত বীণা।
প্রিয় নাই কিছু তার শুধু শ্বেত বিনা।
বুঝি ত্রিলােকের চিত্ততিমির হরণে।
শ্বেত মূৰ্ত্তি ধরিলেন ভাবিয়ে ভুবনে।
পশু পক্ষী খীট নর ভুজঙ্গ পতঙ্গ।
সরস বসন্তে বাড়ে সকলের রক্ত।
সুখ পেয়ে দিন দিন বৃদ্ধি হয় দিন।
রসময়ী রাত্রি কিন্তু ক্রমে হয় ক্ষীণ।
প্রকৃতিপ্রেম।
বিরহী জনের দুঃখে দুঃখিত হইয়ে।
বুঝি নিশা হন কৃশা ভাবিয়ে ভাবিয়ে ।
কিবা বিরহীর ক্লেশ লাঘব কারণে।
নিজ পরিমাণ হ্রস্ব করেন ভুবনে।
যত জরা জীর্ণ রােগী হল রােগমুক্ত।
স্থবির জনেরে মন হল রসযুক্ত ।
হইল তাহারা যেন নব্য পুনৰ্বার ।
ফিরিয়ে আইল কিবা যৌবন আবার ॥
সকলি নবীন বেশ বিশ্ববিমােহন।
যে দিকে ফিরাই আঁখি জুড়ায় জীবন।
সুরসুন্দরীর যেন নবীন যৌবন।
এইরূপে বসা রাণী নবরসে ভাসি।
রসরাজ ঋতুরাজে ভেটিলেন আসি।
সসমে ঋতুরাজ বসুধা রাণীরে ।
অভ্যর্থনা করিলেন ভাসি প্রেমনীরে।।
অনন্তর যতেক সংযােগী" এ ভুবনে,
প্রেমালাপ-কর তারা দিল জনে জনে।
• সংযোগী শব্দে কেবল স্ত্রীসহযোগীকে বুঝায় না, সমূ-
দায় প্রিয়পদার্থ মাত্রই সহযোগীকে বুঝায়।
• লীলা-খণ্ড।
কিন্তু না,পাইয়ে কর বিরহিমণ্ডলে।
পাঠান সসৈন্য রাগে শাসিতে সকলে।
মহাদর্পে রাগ বীর আইলেন রঙ্গে।
মলয় মারুত শশী আদি সৈন্য সঙ্গে।
বিজনতা দূতী দিল সংবাদ সত্বর।
কি কর কিরহিজন কর দান কর।
করাদায়ে রাগ বীর এলেন আপনি।
রাগ আগমনে সবে শিহরে অমনি ।।
কর দিতে না পারিয়ে ক্ষুন্ন হয়ে রয় ।
নির্দয় রাগের মনে দয়া নাহি হয় ।
কোদণ্ডে জুড়িয়ে কীর বিচেতন কাণ।
প্রহার করিয়ে সবে করিল অজ্ঞান ।
সহায় হইল শশী মলয় পবন ।
কেমনে বাঁচিবে তবে বিরহিজীবন।
দুই পক্ষে শশধর হয়ে জ্বলাতন।
এমন দুর্বুদ্ধি তাই হয়েছে ঘটন।
জগৎ প্রাণ হয়ে প্রাণ বধ সমীরণ ।
তােমার এ রীতি কেন কই না,কারণ
হয়েছ দেবতা হয়ে বানরীর পতি।
হবে না হবে না কেন তোমার এ মতি ।
প্রকৃতিপ্রেম।
এৰূপ মধুর ধুমাস হেরি
দিনরাজ অতি মােহিত মনে।
কিবা সমুজ্জ্বল পরিচ্ছদ পরি
হলেন উদয় স্মিতবদনে
বিশ্ব-অনুপম অতি দীপ্তিমান
মিহির মুকুট পরিয়ে শিরে।
স্বভাব সখরে সহিত লইয়ে
নিজ কাজে মন দিলেন ধীরে
শয়ন ত্যজিয়ে প্রকৃতি সুন্দরী
উঠিলেন কিবা প্রসন্ন মুখে।
প্রভাতের কাজ সারিয়ে সকল
ধরিলেন বেশ মনের সুখে।
করেতে পুস্তক করিয়ে ধারণ
চলিলেন সতী পাঠশালায় ।
একি রে চপল। মধুরমূরতি
ধরি কি ধরায় চলিয়ে যায় ।
মন্থরগমনে গজেন্দ্রগামিনী
মিলিলেন আসি বঁধুর পাশে।
প্রাণপ্ৰেয়সীরে পাইয়ে নায়ক
কহিছেন কিবা মধুর ভাষে।
লীলা-খণ্ড।
দেখ ঋতুরাজ উদয়ে কেমন
হসিতবদন কুসুম বন।
প্রােষিতপতিকা প্রাণেশে পাইয়ে
প্রমােদে পুরিত হয় যেমন
চল চল ধনী প্রাণের প্রতিমে
ভুবনমােহন নিকুঞ্জ বনে।
কহেন সুন্দরী চল গুণমল্লি
হেরিয়ে জুড়ব নয়ন মনে ॥
এত বলি দোঁহে চলেন অমনি
সে শােভা হেরিয়ে হাসে রে:দেশ।
এক নব ঘন চাদ বেশে ভূমে:
চপলা ধরিল রােহিণীবেশ ॥
আসিয়ে দুজনে দেখেন তখন
স্বভাবপ্রসাদ পূরিত বনে।
কহেন নায়ক ও প্রাণসঙ্গনি
এমন সােজা কি আছে ভুবনে।
নবীন মূরতি ধরিল ধরণী
সকলি নবীন বেশ ধরায়
নবীন পল্লব ধরে শাখিচয়
ধরে জীবগণ নবীন কায় ।
প্রকৃতিপ্রেম।
বিশ্বমননালো কি শােভা আমরি
তুলনা কোথায় পাইব আর।
তােমার যৌবন আমার অন্তরে
ধরে হে যেমন প্রভাব সার ।
যত ফুল কুল হসিত বদনে।
মধুকরে মধু করে রে দান।
স্বাধীনভর্তৃকা যেন অনুকূল
পতিরে পাইয়ে জুড়ায় প্রাণ।
কোন কোন অলি মুকুলে বসিয়ে
৭। ফুটাইতে তারে করে বাসনা।
যেন মুগ্ধ হয়ে মুগ্ধা' নায়িকারে
দক্ষিণ নায়ক করে সাধনা।
আহা মরি কিবে চারু সরােবরে
নিরমলনীর-লহরী-লীলা।
তােমার যৌবনে লাণ্যমাধুরী
i যেন শােভা পায় হে চারুশীলা ।
কমলে কমল প্রফুল্ল বদনে
আঙ্কা মরি মরি কি শােভা পায় ।
যেন তুমি প্রিয়ে ডুবায়ে শরীর
দেখিছ বদন তুলি আমায় |
লীলা-খণ্ড।
শাখীতে শাখীতে বসিয়ে কোকিল
করিছে কেমন মধুর গান।
যেন তুমি প্রিয়ে মধুর সম্ভাষি
জুড়াও এ দীন দাসের প্রাণ।
বুঝি এই স্থলে রাগরাজধানী
নহে কেন মধু সুহৃদ ার।
বহে অহরহ সহিত স্বগণে
কেবল যৌবন পরিধি যার।
মলয় হইতে বুঝি গন্ধবহ
গন্ধ নিতে এসেছিল এভায়।
সৌরভপরশে পরম হরষে
মােহিত হইয়ে রহিয়ে যায় ।
এ ৰূপে দুজনে করিয়ে ভ্রমণ
উপবন হেরি জুড়ান প্রাণ।
এ সময়ে এক নিভৃত নিকুঞ্জে
অতি অপৰূপ দেখিতে পান।
এক বর নারী দেবনিত প্রভা
স্বরগ-সৌরভে পূর্ণ শরীর।
কুসুম-আসনে বসিয়ে সুন্দরী
করে মহাকাব্য বেশ গভীর।
.
}
প্রকৃতি-প্রেম।
প্রকৃতির সম আকৃতি প্রকৃতি
প্রকৃতির সম সব প্রভাব।
প্রকৃতির সম উদার স্বভাব
প্রকৃতি প্রভাবে পূরিত ভাব ।
প্রেমদেব মনে ভাবেন তখন
মরি একি ৰূপ ধরণী ধন্যা।
যেন প্রাণপ্রিয়া মম প্রকৃতির
সােদরা হইবে বুঝি এ কন্যা।
তাহার সমুখে কৃতাঞ্জলি পুটে
গলবস্ত্র হয়ে ভাবের তরে।
এক যুববর পরম ভাবুক
নিবেদন করে মধুর স্বরে ।
কি কৰ সে ভাব অতি চমৎকার
বুঝি নিজে ভাব মােহিত ভাবে।
বুবকে বামায় হয় যে কথন
শুনেন দুজনে গােপম ভাবে।
ওগো মা জননি আমি করি নিবেদন
কেমনে তােমার কৃপা পাবে মৰ্ত্তজন।
কেমনে সুকবি লােকে হইবে ধরায়।
বল মা করুণাময় তাহার উপায় ।
=
f
লীলা-খণ্ড।
তােমার করুণা মা গাে হয়েছে যাহায়।
তার সম সুখী আর কে আছে কোথায়।
রাজাধিরাজের মান্য সেই নরবর ।
স্বরগ-সুধায় পূর্ণ তার কলেবর ।
সুখের সাগরে আর ভাবের তরঙ্গে।
তার মনোমীন সদা খেলে রঙ্গে ভঙ্গে।
বিধি হতে তােমার ক্ষমতা অতিশয়।
ওগৈ। মা এ কথা মাের অসম্ভব নয়।
পঞ্চভূতময়ী সদা বিধির রচনা।
বাণীময়ী শুধু মাত্র তােমার কল্পনা।
আহা মরি হয়ে শূন্য পদার্থে রচিত।
ভুবনে না পারে কারে করিতে মােহিত।
তাই বলি তব দয়া সম কিবা আছে ।
ইন্দ্র পদ তুচ্ছ জ্ঞান হয় তার কাছে।
পৃথিবীর আধিপত্য যদি লাভ হয় ।
তবু তব করুণা না করি বিনিময় ।
এই ভিক্ষা চাই মা গাে তােমার চরণে।
তুমি সদা অনুকূল থাক দীনজনে।
আমি অতি মূঢ়মতি অন্যজন নর।
অকৃতি সন্তান তব বিষম পামর ।
।
প্রকৃতি-প্রেম।
জননীর বড় দয়া অকৃতি নন্দনে।
তাই মা গো বড় আশা আছে মনে মনে।
যুবকের স্তবে বামা প্রসন্ন হইয়ে ।
কহেন করুণস্বরে করুণ করিয়ে
অতি গূঢ় কথা বাছা শুন দিয়ে মন ।
কি উপায়ে সুকবি হইবে মজন ।
পাইয়ে আমার ধন যেই ভাগ্য ধর।
স্ব ভাব সম্পদ ক্রয় করে নিরন্তর।
সেই হয় তাবুক কবি এ ভুবনে ।
তাহার প্রতিষ্ঠা করে যত সাধূ জনে ।
স্বভাবের দাসী আমি ওরে বাছাধন।
স্বভাবের সঙ্গে আমি ফিরি অনুক্ষণ |
০ঞ্জল বৰ্ণন করে স্ব ভাবে যে জন ।
সেই জন হয় মাের করুণভাজন |
স্ব হবে ত্যজিয়ে যার মতি অনুকারে ।
মাের কৃপাক সেই নাপায় সংসারে।
অনুকরণের লাগি বহু কষ্ট পায়।
এই হেতুকষ্টকবি বলি আমি তায়।
রচনায় সাধীনতা নাহিক তাহার ।
পরাধীন হয়ে কষ্ট পায় অনিবার ॥
, 'লীলা-খও।
• ৮৯
যতেক স্বভার-কবি সততু স্বাধীন।
স্বাধীনতা রত্নভােগ করে অন্যদিন ।
কষ্টকবিগণ যত চোরের সমান ।
অহরহ পরগৃহ করে রে সন্ধান।
'অমূল্য রতন তথা করিয়ে হরণ।
নিজ কোষ নিরন্তর করে রে পূরণ ।
রচনার দোষে শােতা না পায় তথায় ।
কমল কি কণ্টক কাননে শোভা পায় ।
এ কথা কি শুনে নাই কষ্টকবিগণ।
কে কোথায় ধনী হয় হরি পরধন ॥
পরধনু লােতে লাত্ব কিছু নাই আর।
শুধু মাত্র হয় চোর অপবাদ সারা
আদি কবি বাল্মীকি কবিতার বিধি।
যাহার প্রসাদে নর পেয়েছে এ নিধি ॥
কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যায় কৃষ্ণ অবতার ।
বেদ পুরাণাদি শাস্ত্র করিতে প্রচার :
অামারে সন্তুষ্ট করি স্ব ত্যাব বর্ণনে।
মহাকবি হয়েছেন এতিন ভুবনে।
কলিকালে কালিদাস জন্মিয়ে ধরায়।
সর্বোপরি খ্যাতি লাভ করবে ত্বরায়।
।
প্রকৃতি-প্রেম।
জন্মিবেন জয়দেব ভারতভূষণ।
মূতন সঙ্গীত প্রথা করিতে সৃজন।
কেমনে সে রস আমি করিব বর্ণন।
স্বরগ-সুধার ধারা হবে বরষণ।
‘মান তুলসীদাস কবীন্দ্র জন্মিবে।”
যার কাব্যরসে নিজে রস বিরাজিবে ।
ঐষুত ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর।
বঙ্গভুমিপ্রদীপ হইবে সেই নর।
ইংলণ্ডগৌরব কবি অদৃ হইবে।
গ্ৰীশ দেশে মহাকবি হােমর জন্মিবে ।
সাদী আদি কবি হবে পারস্যভূষণ।
মম বরপুত্র তারা ওরে বাছা ধন ।
প্রকৃতির পথে সদা করিয়ে ভ্রমণ।
কবিতা কুসুমে মাের ডুবিবেক মন।
যেন বারিধির বারি, কুবের্ষের কোষ।
পণ্ডিতের গুণ, আর মূখজনদোষ ।
স্বভাবের শোভা, আর নদী স্রোতােবার ।
চিরকাল ব্যয় হলে ক্ষয় নাই তার ।
ওরে বাছাধন তারা মম কৃপাবলে ।
সে ৰূপ অক্ষয় ধন পাবে ভূমণ্ডলে ।
'লীলা-খ।
৯১
পরধন কভু না করিবে পুকুশন।
নিয়ত করিবে ব্যয় আপনার ধন ।
সেই কবিকুল ধনী হইবে যেমন।
মম বরে চিরজীবী হইবে তেমন।
কালের সমান ভয় করিবে সে কাল।
মম সম সৰ্বব্যাপী হবে সকাল ।
তুমি মাের বরপুত্র ওরে বাছা ধন।
অবশ্য তােমার বাঞ্ছা হইবে পূরণ
যেই ৰূপ তােমারে দিলাম উপদেশ ।
সেই ৰূপে রচনায় করিবে আবেশ ।
গৃহে গিয়ে কবিতার আরাধনা কর।
অবশ্য হইবে সিদ্ধ দিলাম এ বর।
শুনিয়ে যুবকবর প্রসন্ন হইয়ে।
বিদায় হইল তার চরণ বন্দিয়ে ।
তখন বিরল পেয়ে অতি ভাবভরে।
এই গীত গান বাম সুমধুর স্বরে |
সে স্বর-লহরী রস বর্ণিব কেমনে।
সুধাসিক্ত পিকস্বর যেন কুঞ্জবনে।
মরি কি বর কুঞ্জবন-মঞ্জ-দল-পাদপে
হিম শোভয় সুন্দর ভাবে।*
•সংস্কৃতানুযায়ি সঙ্গীতচ্ছদ।
প্রকৃতি-প্রেম।
।
বুঝি প্রকৃতিকন্দরী-প্রেম-রস চিন্তনে
ত্রিদিব সুধা বরষয় ভাবে ।
প্রকৃতি মম দামিনী মম হৃদয়গামিনী
প্রকৃতি মম হৃদয়ায়তন রে।
প্রকৃতি মম ঈশ্বরী বিশ্বগতি দায়িী
মম হৃদিনীরনিধি রতন রে ।
মরি কি মধুগায়ন-ধ্বনি চারু পাদপে ,
অমৃতসার পঙ্কম ভানে।
বুঝি কি কল-কোকিলে বিমােহিত অন্তরে
বমেহন তব গুণ গানে।
কমল দল জীবনে কুসুমকুল কাননে
অবিরত ফুলমুখে হাসে।
তব ভঙ্গী দরশনে কুসুম সরসীরুহে,
বুঝি ভাব-কবন্ধে ভাসে।
প্রকৃতি-গুণ-সঙ্গীতে মজহ, মম বাসন
বসনা কর ভজনা তারে ।
প্রকৃতি-গুণ-সাধনা প্রকৃতি-গুণ!-ভাবনা
কেবল তরণী ভকবারে ॥
মুর্তি বিধুগঞিসী মম মনােনুহরঞ্জিনী
হর ষডজন দৃষিত মায়া।
মম হৃদয়নন্দনে কর দয়। সুন্দরী
দেহি পদ-কমল-তল ছায়া।
লীলা-খণ্ড।
এই ৰূপে ঘাম মুরসীন্তনী
মােহিত হয়ে অন্তরে।
প্রকৃভর প্রেম-ভাবে তাের তনু
গুণগান সুধাস্বরে।
প্রেমদেব ধীর অধর হইয়ে
ধীরার অধর ধরি ।
কহেন বিনয়ে বল প্রাণেশ্বরি
এই কি কবিতেশ্বরী ।
স্বরগ-সম্পদে তােমার প্রসাদে
বিরচিত কলেবর ।
কেন কেন প্রিয়ে ওর গুণগানে
গানে,
ভাবে ভোর নিরন্তর।
ইহার সকাশে কৃতাঞ্জলি পুটে
স্তুতি করে বহুতর ।
স্বরগ-সুধায় বিরচিত স্বর
কেবা সে যুবকবর ।
কহেন সুন্দরী ঈষদ হাসিয়ে
শুন নাথ গুণধাম।
এই বরবালা পরম পবিতা
কবিতা শকতি নাম ।
প্রকৃতিপ্রেম।
এ নারী আমার প্রাণের প্রতিমা
প্রাণনমা প্রিয়তমা।
আমার মহিমা বাড়াতে ভুবনে
জনমিল মনােরম।
অামা বিনে বাম এতিন সংসারে
কিছুই জানে না আর ।
আমি মাত্র ধ্যান আমি মাত্র জ্ঞান
আমারে করেছে সার ।
বতি মতি নতি সব আম। প্রতি
আমাতে সঁপেছে প্রাণ।
শয়নে স্বপনে ভোজনে ভ্রমণে
কেবল আমার ধ্যান।
কিন্তু ওহে নাথ তােমার সত্ত্বায়
জনমিল এ সুন্দরী।
প্রাণনাথ তুমি দেখ না দেখ না
মনে বিবেচনা করি।
জনয়িতৃ ত্যজি এই বরবাল
লয়েছে মাের আশ্রয়।
যেন কন্যাজন পিতৃগৃহ ত্যজি
শ্বশুর ভবনে রয়।।
লীলা-খও।
তব সত্ত্বাজাত বিনে কোন ধন
প্রিয় হে আমার কাছে।
শ্যামসত্ত্বা বিনে এ ভবমগুলে
রাধার কি প্রিয় আছে।
সে যুবকবর এ বর বালার
• বরপু গুণাগার।
ইহারি ধনেতে ধনী সেই ধীর
মহাকবি নাম তার ।
কহেন নায়ক যদি এই বালা
তােমা বিনে নাহি জানে।
চল চল প্রিয়ে দেখা দিয়ে দ্রুত
জুড়াও ইহার প্রাণে।
এত বলি প্রেম প্রকৃতি সহিত
চলেন সে কুঞ্জবন।
তাহার সমুখে য়ুগল বেশেতে
আসি দেনদরশন।
এ কি রে মধুর রস বুঝি নিজে
গদগদ ভাবাবেশে।
এলেন ধরায় মধুর মুরতি
নায়িকা নায়ক বেশে।
.
প্রকৃতি-প্রেম।
সে বর সুন্দরী প্রকৃতির "গুণ
কিবা এক মনে গান।
এমন সময়ে সাধনের ধনে
সমুখে দেখিতে পান।
হয়ে নতশির উভয়ের বাম।
বলে পদ যুগল।
রাধাশ্যামপদে সাপিনীদংশিত
শােভে যেন শতদল।
উঠি করপুটে গললগ্নবাসে
কহেন মধুর ভাষে।
একি ভাগ্যোদয় সাধনের ধনে
পাইলাম অনায়াসে।
যাহার কারণ এ ভৰ সংসার
ভ্রমি আমি অনুক্ষণ।
সেই এই ধন যাচিয়ে দাসীরে
আসি দেন দরগম।
মরি কি মধুর মুরতি ধরেছ
সঙ্গে লয়ে প্রাণেশ্বরে।
হেরিলে এ ভাব ভবদেব ভাবে
আসিয়ে চরণ ধরে ।
৫
লীলা-খণ্ড।
তোমা বিনে আর এ তিন সংসারে
আমার কে আছে আর।
'তোমারি সাধনে ধরেছি এ তনু
শুধু তব পদ সার।
তােমারি সাধনে সিদ্ধ হব আমি
এই বড় মনে সাধ।
দেখ গো জননি রেখ মােরে মনে
এ সাধে না হয় বাধ ।
তােমার সম্পদ পাইয়ে সকল
বরপুত্রে দিব দান।
এই বাঞ্ছা মাের করিয়ে পূরণ
জুড়াও দাসীর প্রাণ।
ওগাে প্রেমদেব তব সত্ত্বা মম
জনয়িত এ ভুবনে।
এই ভিক্ষা দেই, থাকে যেন মতি
প্রকৃতির চরণে।
শুনি প্রেমদেব প্রকৃতি সুন্দরী
তথাস্তু বলিয়ে তবে।
শিরে দিয়ে কর আশীর্বাদ করি
কন বাঞ্ছা পূর্ণ হবে।
প্রকৃতি-প্রেম।
বেলা হল বাছা নিজ স্থানে যাই
বিদায় দেহ এক্ষণে।
শুনিয়ে সুন্দরী আঁখি ছলছল
বলে রেখ মােরে মনে।
নায়িকা নায়ক প্রফুল্ল অন্তরে
চলিলেন ধীরে ধীরে।
সে কন্যার কথা কহিতে কহিতে
এলেন বিদ্যামন্দিরে ॥
কিছুকাল তথা করিয়ে পঠন
সময় হল যখন।
গৃহে যান সতী,বন্ধক রাখিয়ে
প্রেমপাশে মন ধন।
এই ৰূপে কত করি নলীলা
বসন্ত করেন শেষ।
শাসিতে ভুবন এলেন নিদাঘ
অধিকার করি দেশ ।
প্রকৃতিপ্রেম
লীলা-খণ্ড।
চতুর্থ সর্গ।
বাজিল বধুর বাঁশী নিকুঞ্জ কাননে।
ওগাে সখি আর ঘরে রহিৰ কেমন
নব জলধর রূপ, মরি কি সুধার কূপ,
জগত্ জুড়ায় প্রেমসুধা বরিষণ।
অধরে ঈষদ্ হাসি, করেতে মােহন বর্শী,
বাঞ্ছা করে হই দাসী, দান করি মনে।
যারপানে ফিরে চায় সে কি চতুৰ্বর্গ চায়,
সেই ভাগ্যবতী ধনী হয় প্রেমধনৈ ।
-
আইল রে গ্রীষ্মকাল, যেন কালান্তের কাল,
সৃষ্টি দহিবারে যেন অতি ক্রোধ ভরে রে ।
জগুলােচন রবি, ধরি দাবানল ছবি,
সহায় হইল সঙ্গে লয়ে খরকরে রে ।
অগ্নিমূৰ্ত্তি সমীরণ, সদা যেন করে রণ,
• জগতের প্রাণ হয়ে কেন প্রাণহরে রে।
বুঝি বিরহীর ক্লেশ, দেখি দুখে অবশেষ,
বায়ু রবি ঋতুরাজে ক্রোধে দগ্ধ করে রে |
.
প্রকৃতি-প্রেম।
সকলের কলেরে, অহরহ ঘৰ্ম্ম ঝরে,
নিদাঘে নিখিল জীব জ্বলিছে অন্তরে রে।
স্নিগ্ধ হয় সাধ্য কার, কিন্তু দেখ চমৎকার,
বিরহি জনের ক্লেশ রহিল অন্তরে রে ।
ভূচর খেচর নর, যত জীব নিরন্তর,
বাঞ্ছা করে জলচর প্রায় জলে চরে রে।
যত অভিধানে জলে, অমৃত জীবন বলে,
সেই নাম সার্থক হইল অতঃপরে রে ॥
এই হেতু প্রভাকর, হয়ে মহা ক্ৰোধাকর,
প্রকাশিয়ে খর কর এই চরাচরে রে।
বাপী কূপ সরােবর, শােষে শেষে নিরন্তর
অৰুণে বরুণে কিবা শত্রুভাব ধরে রে ॥
প্রকৃতি পুরুষচয়, অর্ধ অঙ্গ সবে কয়,
এই কালে পর হয় তারা পরস্পরে রে।
স্বগণ সহিত মার, বেততা কেমনে আর,
মােহিত করিবে সবে সম্মােহন শরে রে |
জীব মাত্রে ম্রিয়মাণ, সদা দগ্ধ করে প্রাণ,
দলিতে কমল বন ধায় করিবরে রে।
রবি প্রতি ক্রোধ করি, বুঝি যত মত্ত করী,
তাঁর প্রিয়া পদ্মিনীর প্রাণ মান হরে রে ।
নীলা-খও।
শূকর শূকরীগণ, পঙ্কে হনিমগন,
স্নিগ্ধ হতে বুঝি যায় পাতাল ভিতরে রে ।
মধ্যাঃ পতঙ্গ-ভয়ে, না চরে পতঙ্গ চয়ে,
পতঙ্গ ন ত্যজে নীড় চরিবার তরে রে ।
দেখ দেখ এ ঋতুর কেমন প্রভাব।
খাদ্য খাদকেতে যেন হয় সখ্য ভাব।
পর্বতগহ্বরে হরি থাকিলে শয়নে।
সমুখে দেখেও করী না চায় নয়নে।
ভেক যদি ভুজঙ্গের নিকটেতে যায়।
অলসে অবশ ফণী ধরিতে না পায়।
এক স্থানে বাস করে কুরঙ্গ শার্দল।
বিড়াল কপােত আর ভুজঙ্গ নকুল ॥
এই কাল পথিকের অতি ভয়ঙ্কর।
কি আর কহিব যেন যমের কিঙ্কর ।
মধ্যাহ্ সময়ে যষ্টি পড়ে সে প্রান্তরে।
বল বল হয় তার কি ভয় অন্তরে ॥
পুন মরীচিকা-মগ্ন হয় যদি মন।
* বল বল প্রাণ তার হয় হে কেমন ।
শুধু বলে কি করিলে শ্রীমধুসূদন।
বিপাকে পড়িয়ে বুঝি হারাই জীবন ।
প্রকৃতিপ্রেম।
পিপাসায় কলেবর হইল দহন।
যেন দাবানল মাজে হয়েছি মগন ।
ওহে নাথ রক্ষা কর এ ঘাের সঙ্কটে।
তবে তব দয়াময় নাম সত্য বটে।
এ সময়ে ভাগ্যবলে যদি কোন জন ।
সরােবর-তটে বৃক্ষ করে দরশন। •
বল বল হয় তার প্রাণে কত বল
বােধ হয় সুধাময় সে স্থান কেবল }
তত সুখকর আর কি আছে ভুবনে ।
দেখ না ভাবুক জন ভাবি নিজ মনে !!
পতিপ্রাণ। নারী বটে সুখের নিলয়”।
ইহার নিকটে কিন্তু সুখকর নয় |
অতি প্রিয়তম বটে পুত্র গুণবান।
কিন্তু প্রিয়তম নহে ইহার সমান ।
এই কালে জানে লোক ব্যজনের ধর্ম।
এই কালে জানে লোক পিপাসার মর্ম ।
এই কাল জানে লোক সলিল কি ধন ।
দরিত্র না হলে ধনে চেনে কোন জন ।
এই কালে রমণীয় প্রভাত কেৰল ।
প্রভাতসমীরে প্রাণ করে সুশীতল ।
লীলা-খণ্ড।
বুঝি এই কালে বীর নিদাঘ ভূগতি।
রণবেশ ত্যজি ধরে মােহন মুরতি।
এই কালে নানা ফল হয় পবিত।
পনস খর্জুর জম্বু রসালাদি যত ।
বুঝি বিধি হেরি এই নিদাঘের ক্লেশ ।
সৃজন করিল এই অমৃত বিশেষ |
এই কালে ফোটে ফুল কোন কোন জাতি।
বজন-বিমােহন মধুর তি |
দারুণ নিদাঘে তার সদা হাস্যমুখী।
বীরনারী বীরে পেয়ে হয় কি অসুখী।
অনন্তর রজনী হইল অবসান ।
খগকুল প্রভাতসম্বাদ করে দান।
প্রকৃতি সুন্দরী করি শ্রীহরি স্মরণ।
উঠিলেন শয্যা ত্যজি প্রফুল্লিত মন।
নিত্য কৃত্য সঙ্গ করি, করি বর বেশ ।
চলিলেন বিদ্যালয়ে আলাে করি দেশ |
সবে বলে এ জগতে এক মাত্র শশী।
আমি বলি বহু শশী পড়িয়াছে খসি ।
দেখ এক চন্দ্রমা প্রকৃতি-মুখ-দ।
হাতে ধরে পায়ে ধবে আর কত চান ।
--
প্রকৃতিপ্রেম।
এক চন্দ্র এ কণা তবেতাে কিছু নয়।
এই দেখ এক স্থলে বহু চন্দ্রোদয়।
এই ৰূপে সুন্দরী এলেন প্রেমপাশে ।
সম্ভাষেন প্রেম তঁারে সুমধুর ভাষে |
প্রেমচন্দ্র কুন শুন ওহে প্রাণপ্রিয়ে।
শীতল করিলে প্রাণ মােরে দেখা দিয়ে।
দারুণ নিদাঘ তায় তােমার বিরহ ।
কেমনে সহিব প্রিয়ে দাৱণ দুঃসহ
যদি প্রিয়ে এতক্ষণ তুমি না আসিতে।
দারুণ যাতনানলে হইত দহিতে ।
দারুণ নিদাঘে সদা দেহ দগ্ধ হয়।
এ সময়ে জলকেলি যেন সুধাময়।
চল চল বিনােদিনি সরোবরে যাই।
জলকেলি করি দেহে জীবন জুড়াই।
কহেন প্রকৃতি নাথ 'বড় ভাল কথা।
এখনি চল না যাই সরোবর যথা |
এত বলি দুই জনে চলেন বিরলে।
জলকেলি করিবারে অমল কমলে ।
প্রকৃতির সঙ্গে যত চাঁদ বাস করে।
প্রেমচন্দ্র-অঙ্গে দেখি তত সুধ করে।
f
লীলা-খও।
উভয়ের বহু চাঁদে কি শোভা ভূতলে ।
আহা মরি যেন এই চাঁদমালা চলে ।
ভাবিলে ভাবুক জন ভাের ভাব ভরে।
ইচ্ছা করে গলায় গাথিয়ে সদা পরে ।
বলিতে কহিতে দেহে প্রেম-আলাপনে।
উপনীত হইলেন মঞ্জু, কুঞ্জ বনে।
চারি দিকে কুঞ্জবন মধ্যে সরােবর।
ললিত-লহরী-লীলা তায় নিরন্তর।
কি আর কহিব আমি লহরীর রঙ্গ।
সুরসুন্দরীর যেন হাসির তরঙ্গ।
নীর অতি নিরমলকুরে ঢল ঢল।
চৈতন্য প্রভুর যেন চরিত অমল ।
প্রফুল্ল হয়েছে তায় কমল কানন।
বদন তুলিয়ে যেন স্বর্গ-মুরীগণ।
মধুপান করে সুখে মধুকরগণে।
রাধাশ্যাম-বিলাস যেমন বৃন্দাবনে ॥
কোন অলি পদ্মপাশে ভমে গুস্বরে।
মানিনীরে যেন পতি অনুনয় করে।
অতিধীর ভাবে বহে মলয় পবন।
মানিনীর পাশে আসে নায়ক যেমন ।
৩
প্রকৃতিপ্রেম।
মরি কিবে শােভানীল লােহিত উৎপলে
যেন বহু বিধি-হরি-সত এক স্থলে।
চারি দিকে উপবন পুষ্প নানা জাতি।
প্রফুল্লিত মল্লিকা মালতী যুথী জাতী।
বুঝি আজি বসুমতী দিয়ে ফুল জল ।
করিবেন নিদাঘ-বাজেরে সুশীতল।
তাই এই রম্য বনে, রম্য উপবনে।
বৃক্ষঃস্থলে ধারণ করেন এ বিজনে।।
নীরশােভা হেরি দেহে হইয়ে মােহিত
জলকেলি করেন প্রেমেতে পুলকিত।
কভু অবগাহন করেন দুই জন।
কভু অঙ্গ সঙস্কার কভু সন্তরণ।
কভু লুকাচুরি খেলা করেন সে বনে।
লুকালেন প্রকৃতি সুন্দরী পদ্মবনে।
বাহিরে রাখিয়ে মাত্র বদন-কমলে।
সৰ্ব্ব অঙ্গ ডুবালেন অমল কমলে ।
প্রেয়সীরে সমুখেতে না দেখি তখন।
চারি দিক কুমার করেন নিরীক্ষণ।
'কমল কাননে শেষে পড়িয়ে নয়ন।
দেখিলেন প্রেয়সীর কমল বদন ।
.
১০৭
লীলা-খণ্ড ।
ঈষ হাসিয়ে ধীর কহেন প্রিয়ারে।
কেমনে লুকাবে প্রিয়ে বল না আমারে।
তারকামণ্ডলে চাঁদ রহে নিরন্তর।
বল প্রিয়ে চিনিতে না পারে কোন্ নর ৷৷
শুনিয়ে নাথের বাণী,লজ্জিত হইয়ে।
স্মিতমুখে বিধুমুখী এলেন উঠিয়ে ।
ঈষদ হাসিয়ে প্রেম প্রিয়ারে ছলিতে।
চলিলেন নীলপদ্ম বনে লুকাইতে ৷
প্রকৃতির মত মুখ বাহির করিয়ে।
রহিলেন সৰ্ব্ব অঙ্গ জলে ডুবাইয়ে।
প্রাণনাথে সমুখে না,করি দরশন।
নীলপদ্মবন পানে চাহেন তখন।
দেখিয়ে তথায় তার বদন অমল।
বিতর্ক করেন এই মুখ কি কমল।
চিনিতে পারিয়ে শেষে কহেন তাহারে।
চিনেছি চিনেছি নাথ চিনেছি তােমারে ।
শ্যামাজ গােপালগণ সব এক বেশে।
তার মাজে কে না চেনে দেব হৃষীকেশে।
শুনিয়ে প্রিয়ার বাণী মােহিত হইয়ে।
উঠিলেন প্রেমদেব ঈষ হাসিয়ে ।
T
প্রকৃতি-প্রেম।
কহেন কুমার প্রিয়ে কি উত্তর দিলে।
মানস মজিল মম অমৃত-সলিলে ।
এত বলি প্রেমদেব আসি ভাবভরে।
হাসি হাসি ধরিলেন প্রেয়সীর করে।
এই ৰূপে সরােবরে সুন্দরী সুন্দর।
জলকেলি করিলেন উভয়ে বিস্তর ।
এমন সময়ে কুকানন হইতে।
সুললিত এক গীত পেলেন শুনিতে।
বােধ হয় মিলাইয়ে স্বর পরস্পরে।
নারীগণ গায় গীত সুধামাখা স্বরে।
স্তব্ধ হয়ে সেই দিকে পাতিয়ে শ্রবণ।
এক মনে দুই জনে করেন শ্রবণ।
প্রেমচন্দ্র রসিকরাজ, মরি কি রাগরচিত সাজ,
ভাবসিত প্রণাষিত রূপ ভুবনসার রে।
মধুর প্রকৃতি-প্রেম-মত্ত, মধর সাধু-চরিত-তত্ত্ব,
মধুর ভুবনভাব-লাভ কারণ অবতার রে।
বদন শরদ নীল ইন্দু, শোভমান তিলকবিন্দু,
পরিল না কি নীলচন্দ কুন্দ কুসুম হার রে।
লোক-রমণ ভুবন-ভূপ, শোক-তাপ-দমন রূপ,
মরণ হরণ অমৃত কূপ, স্মরণ চায় মার রে ।
* ব্রজভাষানুযায়ি সঙ্গীতাচ্ছন্দ।
লীলা-খণ্ড
১০৯
নব জলধরনীলকায়, পীতবসন তড়িত তায়,
ভুবন-রুচির অঙ্গ-ভঙ্গি বাহক রসভার রে।
'মরি কি মঞ্জু মধুর হাসি, ক্ষরই কতই অমৃত রাশি,
রে মম মন ভাব সতত এ রস অনিবার রে ॥
প্রেমরতন হীনকায়, বিফল যতন কর কি তায়,
আশু পতন শ্রেয় তার ভার এ ধরার রে।
হৃদয়নিহিত প্রেম যার, মনুজ-জনম সফল তার,
অবনিত চরিত তার, বিশ্ব-অলঙ্কার রে।
কুঞ্জবনে শুনি এই সুললিত গীত,
জলকেলি ত্যজি দেহে ওঠেন ত্বরিত।
বসন ভূষণ পরি, মনােহর বেশ ধরি,
সেই দিকে চলিলেন প্রেমে পুলকিত।
সরসীতটের কুঞ্জে আসিয়ে তখন,
রাগনেত্রে চতুর্দিক করেন দর্শন।
অন্যতম কূঞ্জবনে, সারি সারি শিলাসনে,
দেখিলেন বসি,তিন রমণীরতন।
সেইরূপ ৰূপবতী আছে কি ধরায়,
ইহার সহিত দিব তুলনা কাহায় !
দেখি দেব প্রভাকরে, বল কোন্ মুঢ় নরে,
আলাের লাগিয়ে জ্বালে প্রদীপ দিবায় ।
so
প্রকৃতি-প্রেম।
স্বরগ-সৌরভপূর্ণ সৰ্ব্ব কলেবর,
প্রকৃতি গভীর অতি প্রফুল্ল অন্তর ।
মস্তক-মুকুটোপরে, মরি কিবা শোন্তা করে,
আপন আপন নাম খােদিত সুন্দর ।
প্রথমে আছেন বসি দেশভাষা সতী,
দ্বিতীয়েতে সাধারণ-শিক্ষা গুণবতী।
তৃতীয়ে একতা কন্যা, ধরারে করিয়ে ধন্যা,
ম-ভত্ত্ব-কথা-রসে তিনে মত্তমতি ৷
আর এক সুন্দরী এলেন আলো করি,
মুকুটে খােদিত তার সত্যতা সুন্দরী ।
অভূল-সম্পদে বিধি, রচিলেন সেই নিধি,
সে ৰূপের ছায়া বুঝি সুধাকর হরি।
অতি ভক্তিভাবে কন্যা সেই তিন জনে,
প্রণাম করেন পাদপদ্ম-পরশনে।
ঈড়ারে সম্মুখভাগে, কহিছেন অনুরাগে,
শুন গো জননীগণ নিবেদি চরণে |
শ্রবণ করেন সুখে প্রকৃতি প্রণয়ে।
নিকুঞ্জের' অন্তরালে থাকিয়ে উভয়ে।
প্রথমে শুন গেমাতা দেশভাষা সতি
তোমা বিনে নরের কি হবে আর গতি।
.
লীলা-খণ্ড ।
তোমার সাধনে স্কুরে স্বরায় প্রজ্ঞান।
তােমার সাধনে ক্ষুরে স্বরায় বিজ্ঞান ॥
পরকীয় ভাষায় ব্যুৎপত্তি হওয়া দায়।
তবে ককে জ্ঞান লাভ হইবে ধরায় ।
জ্ঞানের কারণে ভাষা হয়েছে কেবল।
জ্ঞান না জন্মিলে তায় বল কিবা ফল ।
ভাষা শুধুজ্ঞান-গৃহ-দ্বারের সমান।
দ্বার পার না হইলে কেবা পায় জ্ঞান।
হইতে দুয়ার পার যদি কাল যায়।
তবে কবে জ্ঞান লাভ হবে হায় হায় ।
কত ক্লেশ পরষা-দুমার চিনিতে।
তবে কবে হবে পার না পারি বুঝিতে ।
দেশভাষা দ্বার চেনা আছে সবাকার।
কাজে কাজে আম্পায়াসে হতে পারে পার
এই দ্বার পার হয়ে যতেক ধীমান ।
নিত্য সুখী হয় পেয়ে বিজ্ঞান প্রজ্ঞান।
যদি তোমা প্রতি রাগ থাকে সবাকার।
আরাে কত ৰূপ বাড়ে জননি তােমার ।
গ্রন্থকারগণ সবে নামা রচনায়।
সৰ্বাঙ্গসুন্দরী করে তােমারে ত্বরায়।
।
১১২ :
প্রকৃতি-প্রেম।
কিছুমাত্র অঙ্গহীন না থাকে তখন।
এখন যেমন বেশ করি দরশন।
অন্য ভাষা ভজে যে বা ত্যজিয়ে তােমারে।
তার জ্ঞান লাভ হওয়া ভার এ সংসারে ।।
শুধু সেই অবােধের দেখি গাে নিয়ত।
লাভ হয় সে জাতির আছে দোষ ষত।
যেন সুবিমল-নীর-পূৰ্ণ-স্রোতস্বতী।
সাগর-সঙ্গম হেতু ধায় দ্রুতগতি।
নানা নিধি থাকিতে মা লাভ ক্ষার নীর।
তবু সিন্ধুপ্রেমে মনােমুগ্ধ তটিনীর।
তাই বলি আগে করি তােমারে ভজনা।
কাল থাকে পরভাষা করুক সাধনা।
তবেই হৃদয়-ধাম জ্ঞানপূর্ণ হয়।
স্বরগ-সম্পদ তায় সুখে করে ক্রয় ।
সাধারণ-শিক্ষা পানে ফিরায়ে নয়ন।
যোড় করে তাহারে করে নিবেদন ।
শুন গাে জননি কিছু বলিব তােমারে ।
তােমার কণা সম কি আছে সংসারে।
'তােমার প্রসাদ পূর্ণ হয় সেই দেশ ।
তাহার ভাগ্যের কথা কে করিবে শেষ ।
লীলা-খণ্ড।
কি নীচ কি ভদ্র আর কি নারী কি নর।
সকলেই তব পূজা করে নিরন্তর।
তথায় না থাকে আর দুষ্ট সঙ স্কার।
বাধা থাকে ভাগ্যলক্ষী তথা অনিবার ।
শােভা হেরি সে দেশের মােহিত হইয়ে।
রহেন উন্নতি দেবী বসতি করিয়ে ॥
বহু পুর্ণ ফলে নর জনমে তথায়।
বসুন্ধরা ধন্য হয় ধরিয়ে তাহায় |
নরের ভূষণ মাত্র যেন জ্ঞান ধন.।
গগণ-ভূষণ যেন সুধাংশু তপন |
নারীর ভূষণ যেন সতীত্ব-রতন।
সেই ৰূপ সেই দেশ অবনি-ভূষণ।
এখন শুন গাে মাতা একতা সুন্দরি।*
তােমার চরণে কিছু নিবেদন করি।
কত গুণ মা তােমার কার সাধ্য বলে।
দুঃসাধ্য সাধন হয় মা তােমার বলে ।
নীচ লােক যদি লয় তােমার আশ্রয়।
সচ্ছন্দে করিতে পারে মহতেরে জয় ।
* মৎপ্রণীত কোন কোন ভর অন্যান্ন পত্রিকাদি হইতে
উদ্ধত করিয়া এই কাব্যে সন্নিবেশিত করা গিয়াছে। এই
একা প্রসঙ্গেরও কোন কোন ভাব মৎপ্রণীত সুলভ-পত্রিকা
হইতে উদ্ধৃত হইয়াছে।
.
৫
১১৪
:
।
প্রকৃতি-প্রেম।
বানর বনের পশু তােমার কৃপায় ।
সাগরে বাধিল সেতু অতি শৃঙ্খলায়।
লঙ্কেশ্বরে সবংশেতেকরিল নিধন।
জলপিও দিতে না রহিল এক জন।
দেখ তুচ্ছ তৃণ গুচ্ছ, তােমার আশ্রয়ে।
বাঁধিয়ে রাখিতে পারে হরি করী হয়ে।
যে সংসারে তব পূজা হয় অনিবার।
মরি কি সুচারু ৰূপে চলে সে সংসার ।
নর নারী তব বশে থাকে মা যথায়।
প্রণয় পরম নিধি থাকে গাে তথায় ॥
যেখানে তােমার দয়া সেইখানে বল।
তা নহিলে মহাবলল যায় রসাতল ।
সুন্দ উপসুন্দ বীর জিনিল সংসার।
তুমি বাম হবা মাত্র হইল সংহার |
ওগো মা তােমার বলে মত দেবতার।
দুজ্জয় দনুজ-করে হইল নিস্তার ।
"দশে মিলে করে কাজ” যদি এ ভুবনে।
হারিলেও নাহি লাজ” বলে সাধারণে।
তাই সদা তােমারে মা করি আরাধনা।
অসার সংসার সার তােমার সাধনা ।
লীলা-খণ্ড।
স্বজাতিপ্রিয়তা তব সদা সহচরী।
প্রাণসম প্রিয় ভব সে বর সুন্দরী।
সাহস অধ্যবসায় তব পরায়ন।
ছায়া প্রায় তব সঙ্গ না ভ্যজে কখন ।
এখন শুন গাে বলি ও গাে মা সকলে ।
নিবেদন করি কিছু চরণ-কমলে।
যে দেশে ভােমরা সবে থাকু মা স্বগণে।
ভাগ্যলক্ষী সে দেশে প্রসন্ন অনুক্ষণে ॥
লক্ষনী আর সরস্বতী উভয়ে মিলিয়ে।
নৃত্য করে নিরন্তর সুবেশ ধরিয়ে।
আমি মনােমুখে তথা সদা নৃত্য করি।
তারে ধরি ধন্য হয় ধরণী সুন্দরী।
কিন্তু দেখি তােমাদের চঞ্চল সতত।
এক স্থলে বসতি না কর ক্রমাগত ।
বড় দয়া এখন না দেখি এই দেশে।
জলবিম্ব প্রায় কোথা রবে সবে শেষে।
ইহার কারণ সধে বল সবিস্তার ।
শুনিয়ে সংশয় দূর হউক আমার ।
কহিছে দ্বারকানাথ শুন গো সুন্দরি।
বাড়ালে আমার চিন্তা এই প্রশ্ন করি ।
শুদ্ধিপত্র। অশুদ্ধ। পৃষ্ঠা। পংক্তি। ১৮ ১৪ গচ্ছতি গচ্ছত্তি সতীপী সতীপতি সংস্কতানুযায়ী ৩. সংস্কৃতানুযায়ী অাছে কাছে বহুবিধি বহুবিধ হাস্য সহাস্য সিন্দুর সিন্দুর জান যান স্বভার স্বভাব সমুদায় সমুদায় সাধীনতা স্বাধীনতা গঞ্জিসী গঞ্জিনী মনোনুহরঞ্জিনী মনোহনুরঞ্জিনী ৪৮ ৮ ৮৭ ১৮ ৮৮ ১ পাঠ-পরিবর্তন। জন্মখণ্ডের দ্বিতীয় সর্গের প্রারম্ভেই ১৬ পৃষ্ঠায় যে ধ্রুবপদ আছে, তৎপরিবর্তে এই পদটি হইবে। কে চিনিবে রে!—প্রেমধনে। প্রকৃতি পুৰুষ ভাবে বিহরে ভুবনে। কিবা রূপ অপরূপ, বুঝি বা আপনি রূপ, ধরিল যুগল রূপ লীলার কারণে। কি কৰ তাহার শোভা, মুনি-জন-মনোলোভ, অনুরূপ কোখা পাবে ভেবে দেখ মনে ॥ নিশীথিনী সুধাকর, সৌদামিনী জলধর, কিছু তুলা হতে পারে খাকিয়ে গগনে। সে ভাব যাহার সার, অবি কি তার অর, সেই নিধি থাকে তার হৃদয়ভবনে ॥ .
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.