Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Nila
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
নীলা
শ্ৰীপ্রমথনাথ রায় চৌধুরী
মূল্য ২ দুই টাকা
১২৮৪
कानक
হরিলাল চট্টোপাধ্যায়
গুল চট্টোপাধ্যায় এ সন্স
২০৩১ নং কালিস ফ্রীট,কলিকাত।
প্রিন্টার বিরচর ভট্টাচাৰ্য্য
মানসী প্রেস
৭ নং হরিধােনর রুট, কলিকাতা।
সাদ উপহার
তােমারই রতন ভাসিয়ে দিলাম তােমারই অতলে
রেমন গঙ্গা-পূজা গঙ্গাজলে।
No text on this page.
পরিচয়
পুরীর সমুদ্র দর্শনই এই কবিতাগুলির জন্মকোষ্ঠি।
লগ্ন বর্ষা, রাশি বাদল। তুমি কি সেই প্রথমবাঙ্গালী
বিজয় সিংহের সিংহলযাত্রাকালে তদীয় মন-ছায়ার
পরিকল্পনা। আলাউদ্দিনের চিতাের আক্রমণে মেবারের
প্রতিরোেধ ‘জয়যাত্রা নারী জাগরণ’ ‘জয়গাথা রচনার
অনুপ্রাণনা। আরাে কয়েকটি কবিতা অসাগরিক অনধি-
কার সত্তেও নীলার ফেনালােনায় বােনা হয়ে রইল।
@ইকার
No text on this page.
मृगौ পৃষ্ঠা ০০ er ১ ৫০ । বিষয় नौना বাদল ব্যথা বীর মুক্তি তুমি কি সেই জয়যাত্রা নারী-জাগরণ জয়গাথা কামানের গান যুগল-মিলন প্রেমের প্রতীক ০০০ , ০৮০ ৪০ ১৫ ০৪ ০ . ৮০০ বর্ষার জলসা ০ ৪• আঁখির আলােয় স্বীকার সাড়া মরমী আষাঢ়ে ৪৪ p০০ ৪৭ hp ০৮০ ••• ৩ ০ ০ ০ e মামিলানী মেঘ-পূর্ণিমা জিজ্ঞাসা eo ••• পৃষ্ঠা বিষয় প্রশ্নোত্তর চির-ঝুলন নিত্য রাস স্থান ভিক্ষা ০০০ ••• ৫০০ ৭• ৬০০ ০০০ ৭২ ৮০০ ৬ ৩ . ৮ ৫০০ আপনহারা বড় ভালবাসি বিজয়ার আগমনী ছায়াপুরী দরদী মাণিকের জালিক ৪০০ ... ০ ০ ০ ০০০ ৮ ০ ০ ৪০ • • • • • ৮০ ১০৮ জলছুল কালের ঢেউ স্নান মায়াময়ী আদি-অন্ত ঝড়ের ভেলা ৮০ ••• ••• ••• ••• ১২৪ কৃষ্ণা সাগর দাহন দাবি ৩ . . ৩০ শেষের মালা ০ ০ ০ ১৩৩
নীলা
সুকেশিনী গেছে চুলের বােঝা কি সাগরে থুয়ে ?
খঞ্জন-আঁখি নীল-অঞ্জন গেছে কি ধুয়ে ?
খালা মেয়ে অবেলা নেয়ে হারায়ে কৃষ্ণকলি
নীলাম্বরী জলে নিঙ্গাড়ি নিঙ্গাড়ি গেছে কি চলি ?
রূপসীর মুখে তিলের তুলনা করার ফলে
চাদে কলঙ্ক লজ্জায় মরে ঝাপিল জলে।
জলকেলী করে নীল পরীদল ধবল পাখায়,
শিহরে কদম নীরনীপের শ্যামল শাখায়।
ভাঙ্গে-গড়ে নীল কাচের প্রাসাদ জলের নাচে-
শ্যামা উর্বশী নৃত্য শিখে কি তাহারই কাছে ?
আসিয়া ঐরাবতে কে গানের জলসা জমায়,
বর্ষা-রাতের জমাট আঁধার গলায়ে নামায় ?
বহে কৃষ্ণলর মালার গন্ধ মলয়ানীল,
জলে খুজে পার্থ মীন-চোখের মণিটি নীল,
কৃষ্ণ দেখিছে লক্ষ্যভেদ হৃষ্ট হয়ে,
কালার পিরীতি এই পথে গেছে গােকুলে ব’য়ে!
মেঘেরা গাহনে নামিয়া যেতেছে পথ কি ভুলে’?
মৈনাক দেখায় দি তার নীল পাখা কি খুলে’?
শ্যাম-সলিলা নীলা, তােমাতে চিত্ত ঢালি’
কবি মিশাইছে রস-লেখনীর সিক্ত-কালি।
নীলা
বাদল-ব্যথা
গুমরে গুমরে প্রিয়া বিনে
আষাঢ়ের এক অসাড় দিনে
যক্ষের যেমন বাড়লাে বক্ষের ব্যথা,
সেই বেদনায় অকারণ
বালায় এই মাতলা মন
কাতর কলাে নীলা, তােমার কথা ।
বাপরথ ছিল দৈবাৎ,
মেঘকে দিতে হয়নি বরাত,
ছুটে এলাম হঠাৎ জলবাসে,
তীরে তীরে ভরা-মেলা,
ইজাল নীরে ফেলা,
শুছি ছল-কাকলি কলহাসে।
मौना
কোন্ বিরহীর স্বপন-দোলা
দেলাও সদা আপন-তােল,
কূলে কূলে ফিছছ কাহার খোঁজে ?
অগাধ রতন লুকিয়ে বুকে
তারই তরে মছছা দুখে,
তােমার জ্বালা ভুক্তভােগী বােঝে।
দেখতে দেখতে মন ভুলিয়ে
কোন্ অতলে নাও তলিয়ে
অপার যেথা অসীমায় মেশে?
এ কি নৃত্য চিত্তময়,
প্রাণে প্রাণে চন্দ্রোদয়,
ভেসে চলাম তাের নিরুদ্দেশে।
मोला
বন্দীর মুক্তি
পাগলা-গাবােদ আগা হঠাৎ,
আসছে ছুটে হট্টগােল,
লাফায় ফায় কলজে কাঁপায়
হাসি-কান্নার অট্টনােল।
ভালের গুরু বেতাল ঠাকুর,
বেসুর সুরের নাইত কর,
উল্টোরই আজ পালা,
দিগবন্ধুরা দিশাহারা,
রবিরে দেয় নিশা-তারা
চাদের গলার মালা।
আমিও গারাে-ভাঙ্গা কয়েদী,
আমার পাছে দুনিয়া ফরেদী,
পুরবে আবার জেলে,
শুড়ি ভেঙ্গে মুক্তা খালাস
জ্বালি সিন্ধু, সেই পিয়াস
জলে অনল জ্বলে!
ওরে আমার মুক্তি-পিয়ারা,
কোথায় রসের ফক্তি-ফোয়ারা ?
খুলতে আমায় শেখা,
নরম জখম, নাে কলম,
লাগাও তােমার কালীর মলম,
আবার চলুক লেখা!
পাগলা গাবােদ আলগা হঠাৎ,
কয়েদী যায় ভেগে,
ধসে পড় গারােদগুলো
আব্দুল হাওয়া লেগে !
भोना
তুমি কি সেই
তুমি কি সেই জলধি, নিরবধি
বইছ ভারত-পদমূলে ?
ভাতাে পােত দেশ-বিদেশে
ভবের হাট মিতাে কূলে।
কোথা সে বীরের দল,
ধরণী টলমল
পদভরে ?
কোথা বীরাঙ্গনার গান,
উড়ে কই জয়-নিশান
করে করে!
তুমি যদি সেই জলধি অদ্যাবধি,
মরে আছ কিসের তরে ?
मौना
তুমি কি সেই জলধি, নিরবধি
বইছ ভারত-পদমুলে?
নিমাই বুদ্ধ হয়ে সিদ্ধ
মুক্তি যার দিল খুলে !
নয় রচ-উপন্যাস
সাংখ্য বাল্মিকী ব্যাস
পতঞ্জলি!
সাবিত্রী সীতার ধাত,
খনা কি লীলার জাত,
যায়নি চলি।
তুমি যদি সেই জলধি অদ্যাবধি,
গর্জ আবার মাভৈঃ বলি'।
তুমি কি সেই জলধি নিরবধি
বইছ ভারত-পদমূলে ?
আছে ত সেই দ্বারকা,
প্রভাস কই তােমার কূলে?
কাদে আজ বাতগ্রস্ত
ইন্দ্রপ্রস্থ হা হা রবে!
এই অযােধ্যা? সে রাম রাজা স্বপন তবে?
তুমি যদি সেই জলধি অদ্যাবধি,
তবে কেন এমন হবে!
তুমি কি সেই জলধি নিরবধি
বইছ ভারত-পদমূলে?
পােতের স্রোত নাও অকূলে,
ভাঙ্গা হাট জমাও কূলে।
লক্ষ্মী কি রাবণ-ভীতা ?
ও শুধুই মায়া-সীতা
গেছে কাটা।
আছে কূল; পার হেতু
বিধির সেতু
জোয়ার-ভাটা !
তুমি যদি সেই জলধি অদ্যাবধি,
ছাড়া ভূতের বেগার খাটা
১
জয়যাত্রা
পুন যে পূর্বে উঠিল গর্বে জগতেজ্জ্বল নবসূৰ্য্য,
সিন্ধু, অধীরে গৰ্জ গভীরে জয়যাত্রার নবতৃৰ্য্য।
কেমন তন্ত্র, কাহার মন্ত্র, পলকে দূর কালরাত্রি ।
অন্ধ-আতুর, খঞ্জ-বধির সহসা গণ-রণ-যাত্রী।
মিথ্যা কি জরি’ মৃত্যু কি মরি’ ভুলাইতে ভােলে পথভ্রান্তে ?
মেহ-গেহ-বন্ধ মায়ার বন্ধ লুষ্ঠিত জাতি-পদ প্রান্তে।
সাগর, রঙ্গে তরঙ্গ-ভঙ্গে উচ্চ তােরণ কর সৃষ্টি,
জ্বলন্ত কামানে উড়ন্ত বিমানে অগ্নিমন্ত্র কর বৃষ্টি।
নদ-নদী শীর্ণ, দেবালয় দীর্ণ, দগ্ধ ক্ষেত্র, তরু-বল্পী,
গৃহ-ভেদে জীর্ণ কণ্টকাকীর্ণ লােকবর্জিত মৃত-পল্লী।
অজ্ঞানাচ্ছন্ন, নগ্ন, নিরন্ন, রুগ্ন দেহ, মনে দৈন্য,
বৃহস্য গৃঢ়, সেই মূক মুঢ় মুক্তি-রণের সেরা সৈন্ত।
সমাজের জাড্য হাজা-মজা আঢ্য, সাবধানী, জ্ঞানী, দূরদর্শী
বাঁচাইতে মন্তে সদা জোড়-হস্তে—কি কাজ সে ভােগ-রােগী স্পর্শি?
নীলা
চাই প্রাণবন্ত জীবন স্বতন্ত্র, কন্টক হবে যার শ্যা, দধিচীর বন্ধে রন্ধ্রে রন্ধে গড়া যার অস্থি ও মজ্জা! পতির গাহস্থ্য পুত্রের স্বাস্থ্য যে নারীর ধ্যান একমাত্র, থাক তারা শয্যায় ভুলিয়া লজ্জায় সাজায়ে সজ্জায় গাত্র, গা’ পর-কুচ্ছা, নয় যা মুচ্ছ। সূচের খোঁচায় এলে রক্ত। চাই মেয়ে মর্দা ছিড়েছে যে পর্দা, জর্দায় নয় অনুরক্ত। তারাই ত উখিত বিনামেঘে বজ্র বৈশাখী দুৰ্যোগ-দ্বন্দ্বে, সেনানীর ব্যগ্র বাহিনীরে অগ্রে চালনা করে নব ছন্দে ! বাঁধি কেশ চঞ্চল কটিতটে অঞ্চল ঝর-ঝর স্বেদধারা অঙ্গে গৌরব ধ্বজা বহি’ উৎসাহ-বাণী কহি’ উন্মাদ করে জনসঙ্ঘে ! সিন্ধুর ইঙ্গিতে গৌরব-সঙ্গীতে নব-ভঙ্গীতে বাঁধা যন্ত্র— পুলকাঞ্চিত কবি চির-বাঞ্ছিত লভি ঝঙ্কারে’—জয় নবতন্ত্র ! নীলা ১২ নারী জাগরণ কালের পিচ্ছিল বিবৰ্ত্ত-বন্মে স্থায়ী যদি হয় কোন চিত্র, তবে তা এ জাতির রক্তিম প্রভাতীর নারী-জাগরণ-ইতিবৃত্ত। সহসা সম্মুখে সর্প তুলিলে ফণা হয় যথা লােক সন্ত্রস্ত, নিশি দ্বিপ্রহরে অগ্নি লাগিলে পরে হয় যথা গৃহ বিধ্বস্ত কাল-বৈশাখী রাত সেইমত উৎপাত এল কবে প্রলয়ের সঙ্গে, খসে কারাপ্রাচীর রুদ্ধ-বানের নীর বাহিরিল অধীর তরঙ্গে। দ্বার পাইয়া খােল মুক্ত তােপের গােলা—আগুনের ঝটিকা প্রচ- দেয় সাজি’ সারি,শক্তি, না নারী? জাতি জীবনী-মেরুদণ্ড! রণবাদ্যের তালে ফেলি’ পা এককালে ধরা-বুকে তােলে খর কম্প, মুক্তিপতাকাবাহী জয়-সঙ্গীত গাহি হাসিমুখে রণে দেয় ঝম্প ! জ্বলি’ উঠে বন্দুক, ভাবে ক্রীড়া-কলুক, ছুটে গিয়ে হয় তার লক্ষ্য, আঘাতে হাসে, মৃত্যুর গ্রাসে অনায়াসে পাতে গিয়ে বক্ষ! নীল।
সীমা লঘিছে দল-মা যথা চঞ্চল শিশুরে নিমেষে করে শান্ত, অঙ্গুলি হেলনে কটাক্ষ চালনে ক্ষুব্ধ জনতা হয় ক্ষান্ত। ঐরাবতের প্রায় এল যারা স্পর্ধায় বােধিবারে কুলপ্লাবী গঙ্গা, স্তম্ভিত কোলাহল, কম্পিত পবল বিস্ময়ে হারাইয়া সংজ্ঞা ! বৈর ভুলি পরে অভিনন্দিত করে কালগতিতে যারা অজ্ঞ। জাতি পরে বিভূতি, নারী দেয় আহুতি-সার্থক জনসূয় যজ্ঞ। নীলা জয়গাথা শােন’ কালের তেরী বাজে জগত ঘেরি’ ছড়াইয়া অগ্নিমন্ত্র, ক্ষুদ্র সুখ বজ্জনে রুদ্ৰ দুখ অর্জনে আহ্বান করে নবতন্ত্র। উর্ধে নিয়ে যার, অসীম অপার, সে আর থাকে ফাদে বন্ধ ? চন্দ্র সূৰ্য্য যার আঁখি-যুগ, সে আবার ফুলি আঁটি রহে চির-অন্ধ ? মুখ, যে ভাবে আন, বিশ্বের সন্ধান-মানবের অবদান মুক্তি, ভাঙ্গো ভাঙ্গো প্রথা গণ্ডীর এক মুক্তা ভাঙ্গে যথা শুক্তি। যুগসন্ধিক্ষণ অতীব ভীষণ নাহি সয় সময়-প্রতীক্ষা, রােধে বিরােধে, ধৈর্য্যে ও ক্রোধে অসমান শক্তি-পরীক্ষা। মিলনেরই সাধনা নিরােধের কল্পনা—দুর্গতি সেধে হয় অন্ত, আতুর-বৃদ্ধ বেতালসিদ্ধ যােগবলে আজি প্রাণবন্ত। ভবিষ্য-আলােক বালিকা-বালক, আত্মবােধে নাও দীক্ষা, স্বাস্থ্য-বলের পাঠ মুক্ত ক্রীড়ার মাঠ দিতে থাক্ প্রতিদিন শিক্ষা। বাজ’ বাজ’ তুরী ঘর ঘর ঘুরি ঘুরি উন্মাদিত করি’ চিত্ত, সাজ সাজ রণে, কি ভয় মরণে? ভীরু যে সেই মরে নিত্য। নীলা পাদুকা বহনে উচ্ছিষ্ট লেহনে—চাপিছ কার বুকে যক্ষ্মা ? ধাও এক-গৌরবে সবে এক-আহবে, তবে ত হবে মুখ রক্ষা। বাক্যে মাথায় চড়ে, অন্তরে পায়ে পড়ে—ভণ্ড সে, নামে শুধু ভক্ত, যথার্থ বীর যারা, উন্নত-শির তারা, বুক চিরে দিতে জানে রক্ত। একে একে শতে শতে কম্পিত করি পথে ঝাপিতে চলেছে তরঙ্গে, রণ-বাদ্যের তালে পড়ে পা এককালে, বিজয়-পতাকা চলে সঙ্গে। কে যাবে অগ্রে মুক্তির স্বর্গে তাই নিয়ে মাতে প্রতিদ্বন্দে, মৃত্যুত্বর আজ, সহেনা আর ব্যাজ, সিন্ধবাদের ভার স্কন্ধে। ঝটিকার কম্পে আসে বাধা লম্ফে প্রলয়ের যেন পদশব্দ, ক্ষণ কালসর্প চূর্ণিত-দর্প, মন্ত্রে রহে যেন স্তব্ধ। ঘনাইছে আঁধার ধুমের উদগার ঘন ঘন আগ্নেয় অস্ত্রে, দিতে তারে লজ্জ। জ্বলে রণসজ্জা দেহে দেহে স্বরচিত বস্ত্রে। করে জয়সঙ্গীত কিসের ইঙ্গিত, শিরায় শশাণিত করে নৃত্য, হইতে শূন্য, স্থান হয় পূর্ণ মায়াবীর যেন ছায়াচিত্র। দৃশ্য কি অদ্ভুত, মিত্র মৃত্যুদূত অতিথি নব-যুগ-পর্বে, দরধারা চক্ষে, কম্পন বক্ষে, রচে কবি জয়গাথা গর্বে। নীলা
১৬
কামানের গান
পাতাল-তলের কামান-চালানী।
তুলছে ধূম,
হিয়া-দুলানী,
মেঘের বােলে
ঝড়ের দোলে
ঝুলনঝুলানী,
খাসের তাপে
নাসিকা কাপে
অধর-ফুলানী,
নিয়ম কড়া,
হুকুম চড়া,
গ্রীবা-হেলানী,
তরল-দলের কামান-চালানী
मौना
h
-
ওগাে আমার মােহন পাষাণী ।
কালের তৃষ্ণা
কলাে কৃষ্ণ
তুই কি ঈশানী?
, যাজ্ঞসেনী-
মুক্তবেণী
রক্তে ভাসানী ?
অট্টহাসি-
সর্বনাশী,
আকাশ-হাসানী,
লহর গেঁথে
অসীমেতে
অকুল-মিশানী,
পাষাণ-দলের তরল-পাষাণী ।
ওগাে আমার মুলুকজ্বালানী।
সাধন-চোটে,
বাঁধন টোটে,
বিধান-এলানী,
নীলা
রুদ্র-মন্ত্র,
ধ্বংস-৩,
বিশ্ব-টলানী,
ভীত-এস্তে
অগ্নি-হস্তে
অভয়-বুলানী,
শান্ত-তরে
সেবার করে
শক্ত-দলের শক্তি-জ্বালানী ।
ওগাে আমার দুনিয়া-উড়ানী।
চূর্ণ আরাম,
ক্ষুন্ন বিরাম,
তৃপ্তি-তাড়ানী,
পুরােভাগের
দীপ-রাগের
দীপ্তি-বাড়ানী ।
!
নীলা
৯
কাছে এসে
পালাও হেসে,
পরাণ-পুড়ানী,
বিরাগ মুখে,
সােহাগ বুকে,
জীবন-জুড়ানী,
তিক্ত-দলের ভক্তি-উড়ানী।
ওগাে আমার ভুবন-ভুলানী !
মৃত্যু-পণের
মুক্তিরণের
স্বপন-ফলানী,
রুদ্ধকারার
পাষাণ-গলানী,
সলিলে শিলা
ভাসাও নীলা,
দুকূল-কুলানী,
দুশ্চরিত্র
কর পবিত্র,
আত্মবালানী,
মরিয়া-দলের মরণ-ভুলানী।
শীলা
ওগাে আমার অঘটঘটানী!
দীপ্ত আশায়
ক্ষিপ্ত ভাষায়
বিজয়-রটানী,
হচ্ছে বাধা
পারে কাদা,
বিপদ-কাটিনী,
যত দ্বন্দ্বের
নন-ফুটানী,
মাতন-দাপে
কেন কাঁপে,
চেতন-ছিটানী,
নৃতন-দলের অঘটঘটানী।
মীলা
ওগাে আমার আগুন-খেলানী। দগ্ধ গৃহ, ছিন্ন স্নেহ- সমাজ-পালানী, ভঙ্গ বাসর রঙ্গ-আসর মিলন-মেলানী, পরের তরে . কেবল মরে, আপন-বিলানী, নিজের বেলা হেলা-ফেলা , সবার ফেলানী, আগুন-দলের আগুন-খেলানী। পাতাল-তলের কামান দাগানী। গুড়ুম গুম্ ! তুলছে ধু, শান্তি-ভাগনী, मौमा
তপ্ত শিরায়
রক্ত ধারায়,
অগ্নি-লাগানী,
চোখের তাতে
বাহিনী মাতে,
ঘূর্তি-যােগানী,
চিত্ত-শােধ,
আঅবােধ
মৰ্ম্মে জাগানী,
পাগল-দলের কামান-দাগানী
मौला
যুগল মিলন
আমার মাঝে আছে যে অসীম
তােমার অসীমারে
যখনই চিনিতে পারে,
ধেয়ে যায় ধরিবারে,
তুমি কোলে চেপে ধর,
চুমার আদরে ভর’,
দেখাইয়া চল পথ আগে আগে দিগন্তের শেষধারে,
আমার অসীমারে।
সে কেবলি পথ ভােলে,
সংশয়-দোলায় দোলে,
ফিরে সে আবার খাঁচায়,
নিজকে বাজারে যাচায়,
কেনা-বেচাহাটে মেতে নব-নাটে ছেড়ে যায় একেবারে
তােমার অসীমারে।
নীলা
তুমি ঠিক বিপরীত,
ভােল না প্রেমের রীত,
মজার হাসিটি নিয়ে
ভজার বাঁশীটি দিয়ে
সুরে সুরে ভরে নিয়ে যাও ধরে অশু-গিরির পারে,
আমার অসীমারে।
ফিরিয়া আবার ফঁাদে
আমার অসীম কাঁদে,
বলে,-কৃষ্ণ, কর পার,
এ যে কংশ-কারাগার!
তােমার অসীমে মিশিবারে গিয়ে অগােচরে ভুলে যায়-
তমার অসীমায়।
তুমি কিন্তু বারে বারে
খোঁজ’ এসে তারে পারে,
যারে চাও বাহু-ঘেরে,
সে যে স'রে স'রে ফেরে,
দূর হতে দূরে কর সঙ্কেত অপারের অন্ধকারে,
আমার অসীমারে।
नौला
প্রণয়ের এই ভাঙ্গা-গড়া-খেলা
হবে না কি শেষ তবে কোন বেলা?
শ্যামের বাঁশী যে জগতে জাহির,
রাধারে করিবে ঘরের বাহির।
হে কালা, বেঁধেছে সাধের ঝুলন,
সাজে কি না হলে যুগল-মিলন ?
যাবে, যাবে ঘুচে সকল বাধা,
বাঁচে কি কৃষ্ণ বিহনে রাধা?
{ নীল
প্রেমের প্রতীক
তােমারে যে ভাবে সিন্ধু, নুনের আড়ৎদার,
সে বেজায় পয়সা-পিয়ারা!
বেচা-কেনার ধান্ধা বয়ে
আছে চাদির বান্দা হয়ে,
তমার কদর কি বুঝবে বেচারা ?
বুক-ফাটা শ্বাস, হিয়ার হাহা
শুলেও সে বলত না, ‘আহা,
ব্যাপারী কি বুঝে প্রাণের ভাষা?
কোন্ অজানার জন্য ধাও,
শূন্য ধ’রে চুমাে খাও,
কে খুঁজে, সে কেমন ভালবাসা।
নীলা
মনের মানুষ আসবে চুপে
তাই না সাজো নানা রূপে,
তৃপ্তি নাহি মানে তােমার প্রাণে,
সে কখন আসে হঠাৎ
জান না তাই দিন কি রাত,
সহজ ভাষাও বল গানের তানে !
বালির উপর পায়ের দাগ
খোজে পাগল অনুরাগ,
খালি তােমার কোথায়, তা ত
তােমার মতই বিড়ােল বিভাের,
আমিও একটি নেশাখাের,
অকূল-কূলে পরশ-পাথর খুজি।
যুগ যুগ ত গেল কেটে,
মৰূলে ভুতের বেগার খেটে,
মালা তােমায় দিল না কেউ এসে !
এ রােগের যে আরাম নাই,
এ ভােগের ভাই, বিরাম নাই,
এর দাওয়াই ত নাই কোন দেশে!
নীলা
জোৎজা রাতে হালকা হাওয়ায়
কার স্বর চমকে চাওয়ায়,
চুলের গন্ধ ব’য়ে আসে কাছে,
খুজে আসি বারে বারে
বৃথা তারে শূন্যপারে,
পায়ের শব্দে চাই মিছে পাছে।
চাদের পানে চেয়ে চেয়ে
অশ্রু উঠে নয়ন ছেয়ে,
ডেকে বলি,—ওগাে তুমি কোথাকতদূর?
অদূরেসেই দরিয়া দেওয়ানা
ভেঙ্গে ফেলছে ছাতিখানা,
তাহার গানে শুনি আমার সুর!
চাঁদ ডুবে যায় জলে জলে,
তরুণ অরুণ রথের তলে
সুখের দুখটি করে চু চুর,
তখনও সেই দোস্ত, দেওয়ানা
ভেঙ্গে ফেলছে ছাতিখানা,
বলছে কারে,ওগাে তুমি কোথাকতদুর !
নীলা
বর্ষার জলসা
পাতাল ভ'রে এল জোরে বড় দিনের বড় পরব।
হাসির রােল,
খুসীর দোল,
পাগল জলের কলরব ;
সুরের ব্যা,
নাচের জলসা,
নীরবতা লাজে নীরব !
বড় দিনের বড় পরব।
নীলা
৩•
আমারে ওরে পরাণ ভরে অজান ঘটার আগমন।
কাহার গলা
সােহাগ-লা-
জ্যোৎস্না-রাতে বাঁশীর কঁপন ?
কাহার চলা—
নৃত্যকলা,
নাচায় প্রাণের প্রস্রবন !
অজান ঘটার আগমন।
পাতাল ভ'রে এল জোরে বড়দিনের বড় পরব !
ছােট দিন
ভয়ে লীন,
সকল ঘােটর পরাভব।
জলে-স্থলে
গগন-তলে
রূপ-যৌবনের উৎসব !
বড়দিনের বড় পরব !
নীলা
আমারাে ওরে পরাণ ভরে অজান ঘটার আগমন।
পাকের টান
অবসান,
চোরাবালির বিসর্জন।
কে দিলো রে
সুধায় ভরে
নূতন রসের আস্বাদন।
অজান ঘটার আগমন !
পাতাল ভরে এল জোরে বড়দিনের বড় পরব !
রূপের কালাে
হঠাৎ আলাে
পরী-কোলে—উড়ছে দানব!
কুচকাওয়াজ,
তােপের আওয়াজ,
রাজ-অতিথে স্বাগত স্তব ?
বড়দিনের বড় পরব !
নীলা
আমারাে ওরে পরাণ ভরে অজান ঘটার আগমন।
কে চায় আড়ে-
বিজলী ছাড়ে,
দেখে আমার গােপন মন !
জলদ-লােভা
কেশের শােভা
ঘিরে থাকে আমার স্বপন।
অজানঘটার আগমন !
পাতাল ভরে এল জোরে বড়দিনের বড় পরব ।
অত-ধাওয়া
বাদল হাওয়া
রটায় ঘন-ঘটার গরব,
ছাড়ছে লুটে
ফেণিয়ে উঠে
সুখ-সুরার ফোয়ারা সব!
বড়দিনের বড় পরব !
নীলা
আমারাে ওরে পরাণ ভরে অজান ঘটার আগমন।
সে গেলে চলে
যায়-যে জ্বলে
আমার সাধের কুঞ্জবন !
এলেই কাছে
বুকে নাচে
সাগরের ঢেউ অকারণ।
অজান ঘটার আগমন !
পাতাল ভ’রে এল জোরে বড়দিনের বড় পরব !
মেঘের ফাদ
ধরে চাঁদ
দলে পায়ে তারার শব!
মায়ার নিশি
ছায়ায় মিশি
কোন্ অতনুর রচে স্তব ?
বড়দিনের বড় পরব !
নীলা
।
আমারাে ওরে পরাণ ভ'রে অজান ঘটার আগমন।
কাহার হাসি
জ্যোৎস্নারাশি
হাসায় আমার আঁধার গগন!
অধর-বাসে
আদর আসে,
ধরা-ছোঁয়া তারে বারণ!
অজান ঘটার আগমন।
নীলা
সিন্ধু, পথ চেয়ে চেয়ে অন্ধ কলে আঁখি,
পায়ের ধ্বনির আশে তােমার বধির হতেই বাকী।
উড়াে-চুমায় ছায়া বেঁধে
হা-হা হাসতে—উঠছে কেঁদে।
কে যায় হেঁকে আকুল করে উধাও কল্পনারে,
আছে, আছে বুকের কাছে, খুজছাে তুমি যারে।
কাহার পিছে ঘােরে মিছে আমারাে বিফল-তৃষা ?
সে কোথায়, কারে চায়, পায়-না তাহার দিশা।
মন-জানার খেলার হাতে,
নূতন বাজী যাব ধরূতে!
কে কয় ডেকে, সে-কি আমার মনের রচনা?
সব ঝুটা, সব ঝুটা, মায়ার ছলনা!
মীল
গায়ে রূপালী হাওয়ার উড়নী, ভেসে নিশার স্রোতে,
তােমার ঘরে আলাের দূত, সাগর, কোথা হতে ?
ও-আলেয়ার পুচ্ছ ধ'রে,
বুকে আগুন নিচ্ছ ভ'রে!
কে যায় হেঁকে আকুল করে উধাও কল্পনারে,
আছে, আছে বুকের কাছে খুজছাে তুমি যারে !
স্বপন দেখি,—আমার প্রাণের প্রথম পরশে,
সহসা তার দেবতা জাগে অজান-হরষে !
দুটি-প্রাণ সবার বাড়া
দিচ্ছে-নিচ্ছে কি-এক সাড়া !
কে কয় ডেকে, সে-কি আমার মনের রচনা ?
সব ঝুটা, সব ঝুটা, মায়ার ছলনা!
আকাশকুসুম দিয়ে জলধি, সাজালে ত বাসর,
মরীচিকায় বধূ করে আলেও করূতে ঘর !
তপ্ত-বালুকা বুকে চাপি
‘এ-নয় প্রিয়া'—শ্বসছে কাপি’!-
কে যায় হেঁকে আকুল করে উধাও কল্পনারে,
আছে, আছে বুকের কাছে,খুজছ তুমি যারে !
=
नौमा
আমার বুকে তাহার ঢেউ-দোলায় না-বলে।
তাহার চোখে আমার আলােঘােলায় বাদলে!
চুলের গন্ধ, চুড়ির গান
চুরি করে আমার প্রাণ!
কে কয় ডেকে, সে-কি আমার মনের রচনা ?--
সব ঝুটা, সব ঝুটা, মায়ার ছলনা!
মিঠা-ঝুটা সুধা-ধাঁধার কি-রস, জান পাখার।
ধর’ শূন্যধরা মন-ব্যাপারে হাওয়ার অংশীদার।
ধোকায় ঠেকে আঁধারে গড়
ধাঁধায় বেধে খানায় পড়’!-
কে যায় হেঁকে আকুল করে উধাও কল্পনারে,
আছে, আছে বুকের কাছে খুঁজছ তুমি যারে !
মনে আঁচি,আমার ব্যথা দেয় বেদনা তারে,
নিজে পায়-না, না-হয় দেয়-না আমায় জানিবারে।
সাড়ীর হাওয়া, হারের হাসি
বাজায় এসে আমার বাঁশী।
কে কয় ডেকে, সেকি আমার মনের রচনা ?
সব ঝুটা, সব ঝুটা, মায়ার ছলনা!
নীলা
আঁখির আলােয়
সেই ভালাে, আঁখির আলােয় মনে-মনে মন-মিলন,
চেতনার অগােচরে বেদনার অনুশীলন !
কি-জানে মুখের কথা
সুখের-সে বুকের ব্যথা ?
উড়ায়ে স্বভাব-তন্ত্র মন্ত্র ছাড়ে বশীকরণ !
ফেণিয়ে ফেণা সে করেনা সুরায় সুধার অনুকরণ ?
সেই ভালাে, আঁখির আলােয় জ্বালানাে যত গােপন,
হয় খাটি খুঁটি-নাটি দহি’ তার শত আপন।
দুনিয়া চলে চোখের কথায়,
আঁধার-পথ সে-তার দেখায় !
কটাক্ষের লক্ষ্য-ভেদে পাষাণ-দুর্গ হয় পতন!
শব্দভেদী হানে-না পিক জ্যোৎস্নায় ঠিক যাদুর মতন ?
मौना
সেই ভালাে, আঁখির আলােয় পরাণের পুঁথি পড়ন,
জোড়া সেই পাখীর পাখায় আবছায়ায় শূন্তে উড়ন!
ও-যদি গভীর-পাথার,
পড়া না-হয় হ’লই সাতার ।
বেশ শেষ, নিরুদ্দেশ অশেষের ঝা-ঝরণ,
বাতাসের চিরাকাশে সুবাসের উৎস-ক্ষরণ।
সেই ভালাে, আঁখির আলােয় মন দিয়ে মন বুঝন,
মন ডাকে মন অজানে—সে কূজন জানে দুজন!
লক্ষ-যােজন-পথে
লাগে টান মনােরথে,
সাড়ার মালা-বদল-স্রোতে মনে-খোয়া মন-ছোয়া দেয় দোলন।
হয় আলাের ইসারায় তারায় তারায় দূর হতে না মন-চালন ?
সেই ভালাে, ঝড়ের কালােয় দি-ভুলনের কূল বরণ,
পল-আলাের অন্ধকারে ফশীর মাথার মণি হরণ!
চার-চোখের লেনা-দেনা-
হঠাতের চির-চেনা!
চাঁদমুখের একটি-হাসে জীবনে নব-যৌবন,
চঁদ-ঘড়ির একমােচড়ে সাগরে রস-প্লাবন।
নীল
স্বীকার
যখন গগনে-গগনে লগনের পড়ে সাড়া!
থেকে-থেকে চমকাতে রয় মৃত্যু-পারের খাঁড়া,
পাতাল থেকে আসে ঝোঁকে-ঝোঁকে
প্রলয় নামে প্রণয়-দূতের তাড়া।
মেঘ ফেটে কামান উঠে ডেকে,
বরুণ হয় অরুণ কোপে,
দলে-দলে পাঠিয়ে দেয় জলহস্তী-সেনা,
ফুৎকারে উড়িয়ে শীকর-ফেনী
ড়ে-গুড়ে তপ্ত গােলা লােফে।
আসে তখন ভাঙ্গা-বুকের হাজার ফাটল থেকে
থেকে-থেকে
রক্ত-রাঙা অশ্রুজলের বাণী,
ভালবাসতে জানি, আমিও জানি!
নীল
যখন নগন গগনময় সাজে ঘনঘটা।
মেঘে মেঘে কঁচা-রঙের ছটা,
আচমকা এক রূপ-সাজানী এসে
এলায় মেঘের রুক্ষ কটা-জটা,
চিকন-মাজন লাগায় নিবিড় কেশে !
ঠেকে ঠেকে চলে আলাের রথ,
সূর্য-ঘড়ির দম ফুরায় চলতে না-চলতে,
শশী-সনে ঘােরে টলতে টলতে,
দিশাহারা নিশাতারা পায়-না খুঁজে পথ !
আসে তখন ভাঙ্গা-বুকের হাজার ফাটল থেকে
থেকে-থেকে
রক্ত-রাঙা অশ্রুজলের বাণী,
ভালবাসতে জানি, আমিও জানি।
ভাঙ্গে যখন গগন-কারা জংলা মেঘলা-হাওয়া,
একলা করে আকাশ-পাতাল ধাওয়া,
যা-পায়, তারই টুটি চেপে ধরে,
ঘূর্ণি-ঘুরায় যেন ভুতে-পাওয়া !
ওলট-পালট বিখ পলকন্তরে।
মীলা
জল-সিংহের কেশর নিয়ে খেলে,
গুরু-গভীর মৃদঙ্গ-বােল তার
ভেঙ্গিয়ে ক্ষেপিয়ে বারবার
দস্য পলায় লুট তাড়াতাড়ি ফেলে !
আসে তখন ভাঙ্গা-বুকের হাজার ফাটল থেকে
থেকে-থেকে
রক্ত-রাঙা অশ্রুজলের বাণী,
ভালবাসতে জানি, আমিও জানি।
যখন সারা-গগন মগন, নামে সঘন ধারা,
নূতন জলে মেঘ-অভিষেক সারা,
পােড়া বন-মাঠ সবুজ-স্বপনে হাসে,
মরা-নদী কূলে-কূলে মাতােয়ারা,
সিক্ত-মাটীর মাতান’ গন্ধ আসে,
मौना
আ-পাখীর গলা বসে ধরে ব্যথা,
মন ঢিমে নয়, রসে ভিজে-ভিজে ঢিলে,
ঘরে-ঘরে দ্বার বন্ধ খিলে,
অধরে-অধরে ঘুমান’ চুমায় কথা !
আসে তখন ভাঙ্গা-বুকের হাজার ফাটল থেকে
থেকে-থেকে
রক্ত-রাঙা অশ্রুজলের বাণী,
ভালবাসতে জানি, আমিও জানি।
মীলা
সাড়া
সিন্ধুতীর—অপরাহ্ন-বেলা,
বালুর শয়ন-শূন্যে মেলি উদাস নয়ন
নিরালা একেলা,
নিয়ে ভাসাইয়া সারা মন
সাগরে তখন!
চিত্ত মাঝে নৃত্য জল-খেলা,
পারাপার মুছে’ একাকার।
দিশাহারা ক’টি নিশাতারা
মেঘে-মেঘে দিবা হয় পার!
কে ডাকে রে,দ্যাখাে কবি, মুছি’ আঁখিধারা,
কত গিরি, নদী হয়ে পার, পথে নাহি থামি’
আসিয়াছি আমি, ওগাে আমি।
-
&
তুমি ? তুমি ?-না, ও জল-মায়া।
দেখি তাতে ছল-ছল তােমারি নয়ন,
কালাে-পদ্ম-ছায়া !
আলাে যেন বােবার স্বপন।
আঁধারে মগন।
অস্তপথে পা-বাড়ায়ে রবি,
বিবশ দিবস ঘুমে সারা,
বরা যেন পটে-আঁকা ছবি !
কে ডাকে রে,দ্যাখাে কবি, মুছি’ আঁখিধারা,--
কত গিরি, নদী হয়ে পার, পথে নাহি থামি
আসিয়াছি আমি, ওগাে আমি!
তুমি ছল ?-কি তাহলে খাটি ?
ওহে মিথ্যা, চিত্ত-বিনিময়-বিদ্যা নহে ফাকী।
হাতে হাত আঁটি
স্পশালাপ—সত্য নয় তা কি ?
আঁখে ঢেলে আঁখি
নীলা
দুজন কুজন ভুলে গিয়ে
মৰ্ম্ম-ছােয়া মৰ্ম্মে হয়ে হারা?
সেও ভ্রান্তি ?-ভুল ভেঙ্গে দিয়ে
কে ডাকে রে,—দ্যাখাে কবি, মুছি’ আঁখিধারা,
কত গিরি, নদী হয়ে পার, পথে নাহি থামি
আসিয়াছি আমি, ওগো আমি !
রবি অন্তে নেমে গেল চলে।
মনােভুলে আপনারে মনে হল, আধা-আধা
ভাঙ্গা-স্বপ্ন বলে!
আঁখি কচালিয়া বলি,-হে প্রত্যক্ষ সাদা,
তুমিই-ত ধাঁধ।।
সাড়া দেয় অশরীরী বাণী
যেন দূর সুরের ফোয়ারা !
ধু-ধু বুকে প্রতিধ্বনি
শুনি তার,দ্যাখাে কবি, মুছি’ আঁখিধারা,
কত গিরি, নদী হয়ে পার, পথে নাহি থামি’
আসিয়াছি আমি, ওগাে আমি।
লা
৪৭
মরমৗ
লুটিয়ে-পড়া চঁদনী-চাদর জড়িয়ে সারা অঙ্গে,
কি সুন্দরই দেখাচ্ছ আজ, সিন্ধু !
যেন এটা রূপের উৎস ফেটে পড়ছে শত-ভঙ্গে
ছাড়তে গিয়ে নিজকে বিন্দু বিন্দু।
কোন্ মায়াবীর যাদুর কাঠি বাজিয়ে যাচ্ছে জলতরঙ্গ,
তালে-তালে জ্যোৎস্না করূছে নৃত্য।
অচিন জিন মায়া-নিশায় কেটে যেন ছল-সুরঙ্গ
হরণ করছে স্বপ্ন-পরীর চিত্ত ।
তুমিও এলে ফুটিয়ে আমার আকাশকুসুম-কুঞ্জ,
মরীচিকায় বইয়ে তৃষার তৃপ্তি !
রঙিন সাড়ীর ফো-ছন্দে দুলছে কেশের পুঞ্জ,
হাসে হার, চমকে চিক-দীপ্তি !
নীলা
জ্বালে আলাে আলেয়ায়, কল-কণ্ঠের হর্ষ
বাজিয়ে গেল প্রাণের গােপন তন্ত্রী
জোড়া-হাতে পরা’ল কার আলগােছের স্পর্শ
বি-সুতাের মন-বদলের গ্রন্থি ।
সাগর, তােমায় আছি দেখে অসীমার সীমান্তে
ধূ ধূ দেখা শুধু ঝাপসা-চক্ষে ।
তাই-ত ছিলে পড়ে আমার স্তবের তট প্রান্তে,
এই-প্রথম এলে আমার বক্ষে !
তুমি যেন মায়াপুরীর অশরীরী স্ফ ঘূর্তি,
নিরুদ্দেশে ছড়িয়ে যেতে হর্ষ !
দূর হ’তে পূজা নিত জড়ের পাষাণ-মূর্তি,
আজই পেল আমার প্রাণের স্পর্শ।
নীলা
তােমায়ােত তপ্ত-হাতটুক্ নিয়ে হাতে মিটলাে ধন্ধ,-
হাতের ভাষা বিধে বুকের মধ্য ।
এক্টী পলের—এক অবেলার দকা ঝঞ্চা অন্ধ
দেখিয়ে দিল তােমায় সেদিন সদ্য ।
মনে হ’লতােমার কোন নাই আদি-অন্ত,
তুমি আমার মনের হঠাৎ-সৃষ্টি।
তদবধি ধরা যেন লাখ-যুগের স্থির-বসন্ত,
আমরা দুজন পিকের কূজন মিষ্টি !
!
৪
নীলা
a০
আষাঢ়ে
কে এল এই আষাঢ়ে অন্ধকারে ভিজে-ভিজে ।
দেখে তার মাতামাতি
নিতাল চাদনী বাতি,
পালা’ল রাতারাতি সাদা-মেঘ শেষ-তুলাে পিজে
এই আষাঢ়ে ভিজে-ভিজে।
কে এল এই আষাঢ়ে অন্ধকারে ভিজে ভিজে।
ভেজা-মাটীর বাস-পশা
বীথীতে যূথীর বর্ষা,
রং-রস-সুরের জলসা নদ-নদী-হ্রদ-বন-উদ্ভিজে ।
এই আষাঢ়ে ভিজে ভিজে।
নীল
কে এল এই আষাঢ়ে অন্ধকারে ভিজে-ভিজে।
দিলাে-কি পাতালের শাখ
এ-আকাশ-উৎসবে ডাক?
কে এল লাগায়ে তাক মধুমাসের মনসিজে!
এই আষাঢ়ে ভিজে ভিজে।
কে এল এই আষাঢ়ে অন্ধকারে ভিজে ভিজে।
মেঘ তার কেশের রাশি,
বিজলী-চকা-হাসি,
বাজ তার খেলার বশী-বেজে উঠে নিজে-নিজে !
এই আষাঢ়ে ভিজে-ভিজে।
কে এল এই আষাঢ়ে অন্ধকারে ভিজে ভিজে।
কবে কার ঘর-করুণা
রূপসী অসিত-বর্ণা ?
ফলায় যার সরিৎ-ঋণা হরিৎ-ফসল বারিদ-বীজে।
এই আষাঢ়ে ভিজে-ভিজে।
।
লীলা
কে এল এই আষাঢ়ে অন্ধকারে ভিজে ভিজে ।
ঝি ঝি তার তানপুরা,
দাদুরী সপ্তসুরা,
শিখী—তার নৃত্য ঘুরা বিশুচিতলসীজে।
এই আষাঢ়ে ভিজে-ভিজে।
কে এল এই আষাঢ়ে অন্ধকারে ভিজে-ভিজে ।
যার গানের গুরু-গুরু
সব প্রাণের দুরুদুরু,
হয় সুরু বড় সুখের বুকের ব্যথা কেমনই-যে !
এই আষাঢ়ে ভিজে-ভিজে।
কে এল এই আষাঢ়ে অন্ধকারে ভিজে ভিজে ।
তােমারই মত-যে সে,
যাব তার স্রোতে ভেসে,
কূল মিলাও যদি এসে—স্বপন দেখি কত কি-বে।
এই আষাঢ়ে ভিজে-ভিজে।
নীলা
শ্রাবণে
শ্রাবণের আকাশ এল নিদাঘ-চিতার অশ্রু নেয়ে।
বিরহ ছলছল
মিলনে টলম,
সেজেছে পাগল-করা রূপের বাদল তােমার রূপের আদল পেয়ে।
কত-না চোখের পাথার
কত-না বুকের আঁধার
ঘনায় ওসজল আঁখির কাজল-পাতায়—মেঘলা-ঘাের যেথায় ছেয়ে !
দরদ পড়ে জগৎ বেয়ে।
নীলা
শ্রাবণের আকাশ গেছে নেমে পেয়ে বাদর-আদর !
ভরা-যৌবনের ভার
বইতে পারে না আর!
ঠিক যেন তােমার অধর রসে কাতর একটী চুমার সয়-না ভর
টানিছে রবি-শশী
সলিলের ঝুলন-রশি,
এলাে-চুলের ঢেউ ওতােমার দোলায় আমার স্বপ্ন-সাগর।
স্বপন-মগন চরাচর।
শ্রাবণের আকাশ ভরে রাশভারী সুরের উৎসব।
মেঘের মৃদঙ্গ-বােলে
তরঙ্গের কণ্ঠ খােলে,
শুনি-যে হাসি-ভরা তােমার গলায় আমার বুকের আঁশী-রব!
যেন আজ ফোটার ধুম,
শুধু ফুটানের মম,
তােমার দেবতায় জাগালাে-কি প্রথম আমার প্রণয়-স্তব !
ঘরে-ঘরে প্রেমের পরব।
নীলা
৫৫
শ্রাবণের আকাশপটে রঙের চিকন-মাজন-রাগ ?
লাবণ্য শষ্প-পাতায়,
বিটপী-গুল্ম-লতায়,
তােমাতে গিয়ে খােয়া আমার ছোঁয়া সাজায় সবার সবজী-বাগ।
তাজা রং ফলে-ফুলে,
কাচা ঢং নূতন জলে,
তােমারই রূপ-সাজানী দরদ-পাণি মাখায় আমায় ভিজেফাগ!
ভূবন ভরে রঙের দাগ।
নীলা
মন-মিলানী
যুগল-জনের মন-মিলানী,
তুমি কে, তুমি কে?
পরশ করে সরস কর মরুভুমিকে।
ফুলসজ্জা আসতে না আসতেই সারা,
মধুচন্দ্র হাতে না-
হতেই হারা,
প্রেম-কি তাের এক-পূর্ণিমার হাসির আঁখি-জল !
ব, আমায় বল!
সৰ্বহারা শুকতারা, নিশা-পালানী ।
যুগল-জনের মন-মিলানী,
তুমি কে, তুমি কে?
পরশ করে সরস কর মরুভূমিকে।
কঁচিয়ে রসে বাঁচিয়ে রাখ প্রাণ,
ফেরাে গেয়ে যৌবনের জয়গান,
তুই-কি রােগ-জরা-হরা অমৃত-গরল?
বল, আমায় বল,
মধুমাসের মধুরমলয় জগৎ-জ্বালানী!
নীলা
৫৭
যুগল-জনের মন-মিলানী,
তুমি কে, তুমি কে?
পরশ করে সরস কর মরুভূমিকে।
যােগায়ে যাও জাগিয়ে রঙিণ আশা
নিরালার যা কানাকানি-ভাষা।
মন-জানার কুঞ্জে-কি তাের আড়ি-পাত ছল?
বল, আমায় বল,
বঁধু-বধূর ফাগুন-রাগের ফাগ-খেলানী।
যুগল-জনের মন-মিলানী,
তুমি কে, তুমি কে?
পরশ করে সরস কর মরুভূমিকে।
মরম চিরে মরমে নাও আসন,
শাসন ক'রে মানাও তােমার শাসন,
রূপের শতদলে তুই-কি রসের পরিমল ?
ব, আমায় বল,
শারদ-নিশার মায়া-আবেশ হিয়া-এলানী।
নীল।
যুগল-জনের মন-মিলানী,
তুমি কে, তুমি কে?
পরশ করে সরস কর মরুভূমিকে!
তাের ছোয়া লাগলে প্রাণের কানায়,
পাষাণ টলে, শঠকে সাধু বানায়,
তুই-ছাড়া কিয় লােকালয় পশুর বিহার-স্থল ?
বল, আমায় বল,
বাঁধন-হারা শ্রাবণ-ধারা নভ-গলানী।
তুমি কে, তুমি কে ?
পরশ করে সরস কর মরুভূমিকে।
তােমার কথা বলতে না-বলতে,
ভাষা যায় নেশায় টলতে টলতে!
তুই-কি কবির আকাশ-কুসুম? না, আলেয়া-খল ?
বল, আমায় বল,
মরুতৃষার মরীচিকা, দিশা-ভুলানী!
নীলা
মেঘ-পূর্ণিমা মেঘ-পুর্ণিমার মলিন-হাসি ঘাের-পাষাণকেও গলিয়ে ছাড়ে । সাগরের তরল-প্রাণের ব্যাকুলতা চাদের কাদায় আরাে বাড়ে। নিশুতির স্বপ্ন-ছাওয়া নিশীথের তন্দ্রা-বাওয়া ইন্দ্রজালে জগৎটারে একেবারে মুছলাে ঝাপসা-তুলির টানে! বিধবার সাদা-ঠোঁটের বিজলী-ধাঁধ। বেরিয়ে এল সাগর-জানে! মেঘলা দিন-দুপুর কি-রে নিয়ম ছিড়ে নাইতে এল পূর্ণিমাতে ? নীরধি দেয় দরদী-দিবসেরে বেমালুম বুনে’ মধু-নিশির সাথে! দুই-মিশালী নেশায় পাওয়া ঘরে-ঘরে দুয়ার-দাওয়া, গজল-গাওয়া বাদল-হাওয়া সুর মিলাতে কাপন-হাতে আগল ঠেলে। মন-হারাণের দজা খুলে মেঘের জালি চাবি খালি হারিয়ে ফেলে। নীলা
মেঘ-পূর্ণিমার মলিন হাসি ভােরের বাঁশী কাঁদিয়ে কাঁদে অভিমানে!
অলকার বিরহিনী বুক-শােণিতে নীরদ-দূতের পূজা আনে!
মেঘের দেশে-যাওয়া
চাদের হেসে-চাওয়া-
অজানার নিছক সুখে জানার দুখে হক নিয়ে ভাগ-বাটার পালা।
পূৰ্বরাগের আবছায়াতে অগােচরে অনুরাগের আলােক-মালা !
কান্নারে এমন করে সুধায় ভরে হাসিয়ে দিতে আর-কে জানে ?
খেয়ালের হেলা-খেলে সুরে ঢেলে গড়ছে চিরদিনের গানে।
বরষা অসীম-ধাওয়া
সহসা মরম-ছাওয়া।
ও-ঠিক পাত্র-পুরা তীব্র-সুরা ফেনিয়ে উঠে শুকায় ঠোঁটে যাদু-বলে।
এক্টী-রাতের মিলন যেন ভােরের ভয়ে শিউরে উঠে পলে পলে।
শীলা
জিজ্ঞাসা
কার রূপে আলাে ভেসে আসে কালাে মেঘে মেঘে ?
কে মিলনে ভাের বিরহ-রজনী জেগে-জেগে ?
কে আঁখি কচালি’ দেখে—জেগে কি না—পলে-পলে ?
কে ঘুমায়ে ভােলে স্বপ্ন-জাগার ছলে-ছলে ?
কে ফেরে আমার কল্প-নদীর বাঁকে বাঁকে ?
অমিয়া ভিজায়ে সাজায় কে হিয়া থাকে-থাকে ?
কাটা-কীট বেছে ফুটায় কে প্রাণ ফুলে-ফুলে ?
কে চায় বলিতে বুকে-হারা কথা খুলে’-খুলে ?
উঠে কিসে অগােচরে ভরে-ভ'রে ?
কে আমারে খোঁজে আমার স্বপন ধরে-ধ’রে ?
কে সাজায় ডালা দরদী-হৃদয় চিরে-চিরে ?
কে পরাতে মালা—যায় কাছে এসে ফিরে-ফিরে ?
কে অকারণে থাকিবারে চায় সরেস’রে ?
কার হাসি পড়ে উপচিয়া রসে ঝরে ঝরে ?
কার বুক
নীলা
কে রাখে আমারে গলার কবচ-চোখে-চোখে ?
কে দেয় ছবি শিল্পীরে—ফোটার ঝোঁকে-ঝোঁকে ?
কে মিলায় দিল কবির অমিল মিলে-মিলে ?
কার আঁখি যেন গভীর-সাগর নীলে-নীলে ?
কার কেশ-বাস চরণের ধ্বনি দিকে-দিকে?
কবিতায় কার কথা রাখিতেছি লিখে-লিখে ?
নীলা
প্রশ্নোত্তর
?
কার মুখ—সারাহৃদয়ে সদ্য পদ্ম ফুটায় ?
কার বুকভরা-সুখের সাগরে ঢেউ উঠায়
কার আঁখি-লীলা-চকিত হরিণ-দেয় না ধরা ?
কার গলা-কল-হংস রূপের-কাকলি-ভরা ?
কার চলা-অপরূপ নৃত্য রূপ-সভার ?
কাহার অধর-রসের উৎস অসীম-সীমার ?
সে-যে তােমার! ওগো তােমার।
নীলা
কার কেশ ঘন বর্ষার মেঘ তরুণ কালাে ?
কার হাসি-ঘাের আঁধার-পথে অরুণ আলাে ?
কার দেখা প্রাণ-কুঞ্জ ভরিয়া ফুলের বনি ?
কার ছোয়া—তপ্ত-শিরার বারুদে অগ্নিদান ?
কার স্মৃতি-নিতি-নৃতন আবেশ হারান’-দিশার ?
কাহার কথাটি-জপের মালা দিবস-নিশার ?
সে-যে তােমার! ওগাে তােমার।
কে তারে ভাষায় দেয়নি প্রকাশ করে ?
কে তবু আভাষে দিয়েছে আভাষ ভ’রে ?
কে সপে নিশীথে পরের বাঁশীতে আপন ব্যথা ?
কে মােরে শুনায় হাওয়ার মুখে গােপন কথা ?
কে অমিয়া ঢালি ভিজায় খালি এ-মরুভূমি ?
কে সুবাস- শ্বাসে বীজন করে শিয়রে সুমি ?
সে-যে তুমি ! ওগাে তুমি!
নীলা
কে দেয় সাধাত বারবার মাের রুদ্ধদ্বারে ?
কে নেয় ডাকিয়া ঘুমের ঘােরে কল্পনারে ?
কে জরদ-জ্যোৎস্না-গরদে পূজার দরদে ফাটে ?
কে চুরির সিধে বাশরীর বিধ মরমে কাটে ?
কে আসিয়া মেঘে নিশি জেগে-জেগে পড়িছে ঝুমি ?
কে আঁকে এ-ভালে রক্ত-তিলক স্বপ্নে চুমি ?
সে যে তুমি ! ওগাে তুমি!
নীলা
চির-ঝুলন
না
অতল-তলে আছে এক দেশ
অশেষ যেথায় হারিয়ে শেষ ।
দিনটি চঁাদ ঝালায়,
রাতটি রবি জ্বালায়,
প্রবাল-পান্না-হীরা-চুনিতে
নীলার জিলা মণি-খনিতে।
কালো পরী বাসেনা ভাললা -
হলে যক্ষ রূপের সে-আলো !
দিবসে ঘুম পাড়ায়,
রাতে তারে জাগায়,
সাধে কঁদে কত-না ছলে,
প্রেমের কথা কত-না বলে!
মীলা
পরী তারে রাখে ভুলায়ে,
চোখের জলে দেয় গলায়ে !
নেয় চেয়ে সময়,
দেয় তারে অভয়-
ব্রতের শেষে মােতি-মালিকা
তারই গলে দিবে বালিকা।
অচিন জিন দেখে স্বপনে,
বদল হ’ল মন গােপনে।
পাতাল খুঁজে বেড়ায়,
চোখে অজ গড়া,
কোথায় আছ প্রিয়া অজানা,
তােমার তরে হিয়া দেওয়ানা।
চারিচক্ষে দেখা দুজনে !
নিত্য মেলা শেষে-বিজনে।
সােণাকাঠি লাগিয়ে দিনমানে জাগিয়ে
পরী সনে জিন মিলিছে।
যক্ষ-চোখে ধূলি ফেলিছে ।
নীলা
পরী ব'লে,-প্রাণে লাগিছে,
যক্ষ-মনে ধাঁধ। জাগিছে।
সন্দেহের ব্যথায়
খােচা দেয় কথায়
কভু যদি দেখে সে চোখে,
প্রলয়-যে হবে পলকে!
মিলল, বঁধু, নারী-কায়াতে !
জিন বলে,—বিধি মায়াতে,
হলে জাতি বদল,
থাকতে হবে কেবল
চিরদিন নারী!—জানিও।
পরী বলে,-বেশ, থাকিও।
জিন কয়,তবে প্রেয়সী,
শুকাবেনা প্রেম-সরসী ?
যাবে ধনু ভাঙ্গিয়া
অতনু-যে ভাগিয়া,
কিবা ফল বেঁচে-মরাতে-
মানসের চির-জরাতে?
নীলা
পরী কয়,-প্রেম-জ্বালাতে।
ফুলে নয়, কাটা-
মালাতে।
হেনকালে চকিতে
যক্ষ রক্ত-আঁখিতে!
মায়া-সিন্ধু রচি’ মাঝারে
দুই পারে রাখে দোহারে।
-
পরী ছলা-কলা চালায়ে
যঙ্গে দিল ভুলে ভুলায়ে !
এণয়-রে কি-বােগ ! এনে দিল সুযােগ !
পরী পক্ষ নাহি কাটিতে
মারে যক্ষে রূপা-কাঠিতে।
যাদু হ’তে জিনে তরায়ে
পরী দিল মালা পরায়ে !
শাখের কল-কূজন
এক কলাে দুজন!
দোলে যুগল চির-ঝুলনে,
পাতাল মাতাল মন-মিলনে !
मौला
বo ? নিত্য রাস নীরধি ? না, এ যমুনা ? তরঙ্গ ? না, গােপাঙ্গনা শ্যাম-মে-সিক্তকেশ-বাস- গােকুলে পাষাণ ছিল, অকূলে কি সে গলিল?- ঘিরে তারে নৃত্য-নিত্য-রাস। নীলের দোয়া-তলে কখনও চাী জ্বলে, কখনও-বা বিজলীর বাতি, রূপের বাদল সাজে, মেঘের মাদল বাজে, রাতে দিন, দিনে হয় রাতি । मौना
সুরের বষা নামে, নাচের জলসা জমে
ছায়াপুরে মায়ার নুপুরে,
করে বুঝি জল-রাস জলচর বারমাস
তরঙ্গের তালে-তালে ঘুরে’!
ধবলী-শ্যামলী-দল শ্যাম-গােঠে ছল-ছল,
মাতে হেরি জড়ের উল্লাস,
নবহুৰ্ব্বা-শ্যাম ভুলি হারবে পুচ্ছ তুলি
নৃত্য শিখে ধরি জল-রাস।
কি-বসন্তে কি-নিদাঘে জন্মান্ধেরা সদা জাগে,
আলাে-অন্ধকারে উদাসীন,
অনন্তে আনন্দ-লীলা, তাল-তমালনীলা
ধরা করে নৃত্যে প্রদক্ষিণ ।
রবি-শশী-গ্রহ-তারা নিত্য-রাসে আত্মহারা
ঘুরি ঘুরি মায়া-ছায়া-পথ,
এক তাল-লয়-ধারা, সারাবিশ্ব মাতােয়ারা,
রাস ? না, এ রসের সঙ্গত ?
मौला
স্থান ভিক্ষা
যদি কূলে ডেরা বাঁধতে পাই,
অকূল, আমি দুনিয়া ভুলে যাই,
চির-বসন্তে ভাসিয়ে মন
মশগুল থাকি অনুক্ষণ,
দিল-দরিয়া নীল-দরিয়ায় হারাই,
বালা হাওয়ায় চিত্ত গাঁথি,
মাতলা ঢেউয়ের সনে মাতি,
আসমানে মাের ঝুলনা বুলাই।
নীলা
গানে,কাণের খােস-রােজ,
নাচে, আঁখির প্রীতি-ভােজ,
প্রাণে শীকরগােলাবপাশের ছিটে।
আমার ভাগ্যেই উড়ে গেছে ঠাই,
মাথা গোঁজবার ছায়াও পুড়ে ছাই
বিশ্ব-জোড়া তােমার পাদপীঠে ?
একটু বালির ছিটে ফেলা-ছাড়া-
তাতেই দিব্যি হতে পাতাে খাড়া
একরত্তি আমার বসত-ভিটে।
ঝিনুক কতাে কারু কাজ,
শামুক ঘরের চারু সাজ,
নিশার আলাে পেতাম জ্যোতি-কীটে ।
পাট্টা নিয়ে জলমহলে
নাম লিখাতাম প্রজার দলে,
নােনা হত মিশ্ৰি-পানা মিঠে।
আকাশ-কুসুম ক'রে আবাদ
গুলজার রাখতাম্ ফটিক-প্রাসাদ,
রাজা-প্রজার বিবাদ যেত মিটে
!
নীলা
৭
হােক না চোরাবালি, মরুর ছাই।
তবু-ত-সে তােমার কিনারাই।
ভুলা মরীচিকার জল, ধাধা আলােয় আলেয়া-ছল,
পারাপারের ও-যে পান্থসরাই।
অনিদ্রা, হাঁপ, হৃদরােগ,
যক্ষ্মা-পক্ষাঘাতের ভােগ,
স্নায়ুর পীড়া—সারায় এক ও-হাওয়াই ।
কবির বুক যে ব্যাধির বাসা,
তাইত ধনা দিতে আসা,
নীল ঝর্ণা দিল-দরদের দাওয়াই।
ব্রহ্মাণ্ড যার—জায়গার তারই টান।
ধার করেও স্থান করতে যদি দান
ঢেউ-খেলা নীলমিনার-কিনারে,
জলতরঙ্গের সিঁড়ি বেয়ে
উদয়গিরিচূড়ায় যেয়ে
নাতাম ফিরে অস্ত-শিখর-পারে।
নীলা
গভীর হতে সুগভীরে
রত্নাকরের হৃদয় চিরে
ঘুম খনির উজল-অন্ধকারে,
মণিকোঠার প্রহরায়
যক্ষ যেথা পাষাণ-প্রায়,
বড়বানল ঘােরে চক্রাকারে!
দ্বারে খাতে জগৎ বাঁধা পড়ে!
আমার বীণায় করুততা খেলা মায়াপুরীর সুরের মেলা
বিশ্ব-তানের আসন উঠতো নড়ে!
রহস্যের মর্ম ভেদি
রত্নাকরের রত্নবেদী
লক্ষ-বক্ষে দিতামছিলে গড়ে !
অতিথ হয়ে আমার গৃহে
কবিতা শুতে চাইতে স্নেহে,
দুলতে আমার স্বপন-দোলায় চড়ে।
ঘুচতে প্রাণের গ্লানি-কাদা,
মিটতাে মনের দ্বিধা-ধাঁধা,
হাসা-কাদার মুক্তি শীভল-ক্রোড়ে !
নীলা
কে গায়
কে গায় ওই ?
পরাণ খুলে
দুনিয়া ভুলে’
আপন মনে
স্বপন বােনে
স্বপ্নপুর,
কি-মধুর!
কে গায় ওই,
গীতময়ী!
नौल
৭৭
কে গায় ওই ?
নাচে ব্যোম,
সূর্য-সােম
খুলে’ নূপুর,
চুমায় লাল
গােলাপ-গাল
দিগ্বধূর,
কি-মধুর !
কে গায় ওই,
গীতময়ী!
?
কে গায় ওই
শূন্য-দিশা
জ্যোৎস্না-নিশা
তন্দ্রাতুর,
मौना
৭
ফুটায় লাখ
হীরার ঝাক
দরিয়ার,
কি-মধুর!
কে গায় ওই,
গীতময়ী!
কে গায় ওই ?
ঘুরিয়ে গ্রহ
বার্তাবহ
আলাে-মুকুর
বেতার-তারে
এ-উহারে
পাঠায় সুর,
কি-মধুর !
কে গায় ওই,
গীতময়ী।
নীলা
কে গায় ওই ?
রূপের ডালা
মেঘমালা
খােলে চিকূর !
বাদলনাওয়া
পাগল হাওয়া
ধরে মাথুর,
কি-মধুর !
কে গায় ওই,
গীতময়ী!
কে গায় ওই ?
অতল ভেদি
রত্নবেদী
হরে নিঠুর !
নীলা
হাসির ছল
অশ্রুজল।
কালাে বঁধূর,
কি-মধুর !
কে গায় ওই,
গীতময়ী।
কে গায় ওই ?
সুরের পরী
শিখে ধরি’
খেলা যাদুর !
যেন এ-গান
ফুলের ঘ্রাণ
ভুরভুর!
কি মধুর !
কে গায় ওই,
গীতময়ী!
মীল
কে গায় ওই ?
ঘরে ঘরে
পেখম ধরে
মন-ময়ুর,
বুকের দোলে
কাকন বােলে,
বাজে কেয়ুর !
কি-মধুর!
কে গায় ওই,
গীতময়ী ।
কে গায় ওই ?
কূলে একা--
রেশের রেখা
মিলায় দূর,
নীল।
অকারণ
উদাস-মন
ব্যথা-বিধুর,
কি-মধুর !
কে গায় ওই,
গীতময়ী।
নীলা
কে বজায়
এ-জলতরঙ্গ কে বাজায় ?
ও-মেঘমল্লার কে ভাজায় ?
বায়ু হয় কোকিল-কাকলি,
নিশীথের নিশুতি ভাঙ্গায়,
বার চঁাদটি গলায়ে
নীলিমায় শােণিমা রাঙ্গায় !
এ-জলতরঙ্গ কে বাঙ্গায় ?
ও-মেঘমল্লার কে ভাজায় ?
মলয়-মন্দিরা রাখে তাল,
তরুলতা দুলিছে লীলায়,
এ-কি মীড় বেতার-সেতারে-
পাখী নীড় খুজিছে নীলায়।
নীলা
এ-জলতরঙ্গ কে বাজায় ?
ও-মেঘমল্লার কে ভাজায় ?
, লাখ-শখি
পাতালের উৎসব-নিশায়,
জল-সিংহ ফুলায়ে কেশর
জয়ধ্বনি আকাশে মিশায়।
এজলতরঙ্গ কে বাজায় ?
ও-মেঘমল্লার কে ভাজায় ?
দ্বার খুলি হাসে তারাগুলি,
দীপাবলী সলিলে ভাসায়,
পণ্ড দেয় কবিতায় প্রাণ,
জড় গাঁথে মানব-ভাষায়।
এ-জলতরঙ্গ কে বাজায় ?
ও-মেঘমল্লার কে ভাজায় ?
দিগন্তের মেলি অন্তরাল
ডাকে বিশ্বে অনন্ত-ক্রীড়ায়,
পূর্ণ করি শূন্যের গহ্বর
এ-পারটি ও-পারে ভিড়ায়।
मौना
এ-জলতরঙ্গ কে বাজায় ?
ও-মেঘমল্লার কে ভাজায় ?
মরমী যে, পলকে আলােকে
জ্বলে উঠে সুরের শিখায়,
সৃষ্টিছাড়া দিশাহারা দলে
অগােচরে নামটি লিখায় ।
এ-জলতরঙ্গ কে বাজায় ?
ও-মেঘমল্লার কে ভাজায় ?
ব্যবধানে বড় কাছে টানে,
অরাতিরে দরদী বানায়,
এ-সঙ্গত অমৃতে ডুবিয়া
‘মৃত্যু নাই!'—সঙ্কেতে জানায়।
নীলা
আপনহারা
চিকনকালা বাজায় বাঁশী, আর-যে ঘরে থাকা দায়।
সুর সাধে, না, আমায় সাধে ? মন বেঁধে-কি রাখা যায়
ঢেউ দিয়ে যায় হাসি-হাসি-
বিনি-সূতে পরায় ফঁাসি,
বল দেখি-ত, দূরে দূরে সরে থাকা কতই চলে ?
ঘুরে-ঘুরে আসে ক্ষ্যাপা আবােল-তাবােল কিসব বলে !
বুক-ফাটা মাথা-খোঁড়া কতই দেখা যায় আর ?
দীর্ঘশ্বাস, হাহাকারে অশ্রু চেপে রাখা তার।
ইঙ্গিতে ফিচায় জানাতে,
সঙ্গীতে কি-চায় শােনাতে,
বুঝি, আর না-ই বুঝি, মনটা উঠে কেমন করে,
চাইনা তােমায় কেমন করে বলি, বল, প্রাণটা ধরে।
নীলা
৭
‘এবঁধুতে মধু নাই' যতই ভজাও, কর বারণ,
বড় ব্যথার ধন-যে আমার মন-হরণ কালাে-বরণ !
সেধে-বাদ কঠিন বলা,
সজল-শ্যাম দরদ-গল!
তবু যদি সইতে নার, ঢোল পেটাও-গে সবাই মিলে,
ঝাঁপ দিয়েছি সেধে আমি কৃষ্ণ-কলঙ্কের সলিলে!
আয়ানের ভয় দেখিয়ে আমায় চোখ রাঙ্গাও-যে খালি-খালি ?
দ্যাখ চেয়ে, দেখতে দেখতে কালা আমার হ’ল কালী।
ও জটিলা-কুটিলার দল,
শুনছে হাসি খল খল ?
নৃত্য-রঙ্গে শ্লথ কেশ, হৃত অঙ্গে পীত-বসন।
বশী হয়ে মসীর অসি ঘুরায় বুকের হুতাশন!
মাটির শিব দলে পায়ে, দুখ-দরদ নাই এক্টী কণা,
লাজে কৃষ্ণা দন্তে কাটে রক্ত-তৃষ্ণার লােল-রসনা !
মেঘলা আমার অন্ধকারে
জংলা হাওয়ায় একলা পারে,
মনে হ’লউপড়ে নিয়ে চললাে কে আজ ধরা,
চন্দ্র-তারা ভয়ে হারা, সারা বিশ্ব মরা ।
নীলা
বড় ভালবাসি
জালাে আলাে ভালাে ক'রে, কালে'রূপের স্রোতে ভাসি,
অলুক্ মন, ব্যথার ধন, তােমায় বড় ভালবাসি।
সকল পারাপারের পারে
ভাসিয়ে দিয়ে আপনারে
যাচ্ছ যেথা, আমায় সেথা নাওনা সাথে, ও পিয়াসী!
তােমায় বড় ভালবাসি।
তােমার বাণী বীণাপাণিবিদ্ধ করে মরম-তল,
ও হাতছানি, নীলা, জানি, কমলার-সে লীলা-কমল।
আছি পড়ে শূন্য-বেলায়-
এসে হঠাৎ কোন্ অবেলায়
ভেলা নিয়ে যাও-বা ফিরে আঁখির নীরে ডাকতে আসি’!
তােমায় বড় ভালবাসি !
নীলা
তােমার নৃত্য নিত্য আমার ঢেউ তুলে দেয় চিত্তময়,
মিষ্টি বারি-কণা-বৃষ্টি-সারা সৃষ্টি হারা হয়!
পরশ কর খেলার ছলে-
শিউরে উঠি পলেপলে,
জগৎ দেখি ইন্দ্র-ধনু, জীবন ভাবি পৌর্ণমাসী!
তােমায় বড় ভালবাসি।
কাতর সুরে আদর পূরে’ পাঠাচ্ছ ঢেউ আমার কূলে,
শ্বাসের ছোয়ায় উড়াে-চুমায় ভুল-যে আমার আছে ভুলে,
নীলিমার অসীমা ছুঁড়ে
ফুরফুরে মন হাওয়ায় উড়ে,
পথে থেমে স্রোতে নেমে তােমার কাছে শেখে বশী!
তােমায় বড় ভালবাসি।
গভীর থেকে সুগভীরে ফটিক ফেটে বারবার
ঘূর্ণি-বেগে আবেগ উঠে—হরষ, না, হাহাকার ?
যে চেনে সে সব হারিয়ে
সকল খালি নেয় ভরিয়ে,
রূপের কান্না পান্না আমার-রসের হাসি মুজারাশি !
তােমায় বড় ভালবাসি।
*
লীলা
১০
বিজয়ার আগমনী
আসবি যখন—রূপটী খুলে,
ওরে আমার মরণ-পরী।
দি খট্কা-ধাঁধ।
মন্ত্রে সাধা
ঝট্কা-যন্ত্রে শান্ত করি’
ভরা-মেলায়
হাসি-খেলায়
ভঙ্গ করিস্ রঙ্গ ভরি’!
প্রেমের পাষাণ,
চাস্ত প্রাণ ?-
রূপের জোরে নিস্তা হরি’!
কাস ইন্দ্রধনুর সিথি
রজত-নিরদ-গরদ পরি।
আসিস ঝুলিয়ে প্রাণ-চকা স্থির-বিজলীর কাণ-ঝুমকা,
ফুটিয়ে ফুল, টুটিয়ে কূল
দকা-বানের সঙ্গ ধরি’!
নীলা
এলা’স জ্যেৎজার জরদ-ওড়না
হালকা হাওয়ার ঘাগরা পরি।
পায়ের নূপূর নৃত্যকালে বাজবে চিত্তে দাদা-তালে,
ঘুরূববা তােরে বক্ষে ধ'রে
মনের সাথে নৃত্য করি।
আসি আদুল পূর্ণিমাতে
খসা-তারার টিপটী পরি
চিকনগায়ে খসবে বেশ, লুটবে আঁচল, খুলবে কেশ,
এলিয়ে রূপ করা চুপ
ফলকা-বাঁধন আলগা করি।
সাগর সেঁচে আসিস সেজে
ডাগর চোখে সুর্মা পরি’!
ভিজে-পাতার কালি দিয়ে আলগােছে মাের নাম কাটিয়ে
দুষ্ট মেয়ে মিষ্টি চেয়ে
রাখিস গলার কবচ করি
মীলা
আনি, হানি শাণিত ছুরি
পরাণ-চুরির মিছরি ভরি।
দীর্ঘ-চুমায়—লম্বা-রাত ঢুলিয়ে পাখা, বুলিয়ে হাত
স্নিগ্ধ-কোলে মুগ্ধ-দোলে
ঘুম পাড়াস্ তুই, যাদুকরী !
আসিস রূপের সদ্ম খুলে
পদ্ম-গন্ধে অন্ধ করি’!
আসিস না ভাই, তাের দোহাই,
ডাইনী-বুড়ীর মুখােশ পরি!
দগ্ধ-মরু
যক্ষ্মা-রােগীর মূর্তি ধরি’!
যে লয়-
হ’তেই হয়
স্বর্গপুরীর বিদ্যাধরী !
নীলা
ছায়াপুরী
দানােয়-পাওয়া খেয়াল-ছাওয়া ফটিক-নগরে
বিহরে আবছায়ার পুরী কুহক-সাগরে!
প্রবাল-প্ৰসাদ আগাগােড়া চুনি-পান্না-মাণিক মােড়া,
শিহরে শারী কুহরে শুক প্রহর=প্রহরে,
হীরায় দিন, নীলায় রাতি সলিল-শহরে।
মৎস্যনারী সারি-সারি ছাতটি বহিছে,
বঁধুর পানে মধুর চেয়ে ভারটি সহিছে।
বঁধুরা চাউনি ফিরিয়ে দিতে
পরিয়ে দেয় অলখিতে
আলার চয়ন আকাশ-কুসুম মালার বয়নে !
মুকুরে ফেলে আলেয়া-আলাে এ-ওর নয়নে।
নীলা
ছায়াপুরীর মায়াময়ীর যাদুর পাহারা- মরীচিকায় ' কলাে বধূ জলের সাহারা ! জলে জলে শেষতলায় পল-বিপল গড়িয়ে যায়, বাজে হােরা মুখচোরা সূর্য-ঘড়িতে, মূক-ঋতুরা আসে-যায় মন্ত্র-তুড়িতে। নৃত্যশালার জল-বালারা ঢুলছে নেশাতে, বিবশ-পুরীর রস-চুরির রঙ্গ-নিশাতে! নীলাম্বরীর টাতে আঁচল বুকে মাখে চোখের কাজল, ঘুমিয়ে আছে হাতের কাছে স্বপন-যাপনে জলতরঙ্গ জড়িয়ে-কাঠি সুরের কাপনে। গাঙ্গচিলের উড়াল-রেখার পংক্তি কালাে-যে- মায়াময়ীর হাতের হরফ আভের কাগজে। উড়ছে সেই ছবির গান কতে কবির সুধাপান- এক-পলকের এক-ঝলকের হাসির রাশিতে নিজকে বিলায় সুরের খেলায় বাঁশীর ফাসিতে। नौना
রূপে-আলাে কালাে চেড়ী মহল-মহলে,
রক্ষ-সেনা রণ-পা ফেলে-
টছে টহলে!
যক্ষ-দ্বারী দ্বারে আঁকা! জিন-ডুবারী ভাসিয়ে পাখা
নীল-পরীর চোখে তিল? না, জিল নিহারে ?
পাগল দিল খোজে মিল সলিল-বিহারে।
দখিণ-বাওয়া সাগর-নাওয়া ভুবন-ভুলানী
হাওয়ার হুরী ছায়াপুরীর চামর-ডুলানী!
সে-মােহিনীর দীর্ঘ-চুমায়
মায়াময়ী কত ঘুমায় !
ঢুলিয়ে-চুলিয়ে ঘুম পাড়ায় শীতল-দোলাতে,
বেলার নাই গাছ-পাথর বাদল-ঘােলাতে।
জুড়ায় ঢেউ কুলে এসে পাতাল-পালিয়ে,
উড়ায় কেতন চেতন-জলে বেদন গালিয়ে !
সােণার কাঠি নিয়ে কবি জাগাবে কার ঘুমের ছবি,
এস ফিরে মায়াময়ী, ত্যক্তজীবনে,
ওক্তি-চেরা মুক্তা সম মুক্ত-পবনে !
নীলা
দরদী
সিন্ধু, তুমিকি সৃজনের খেয়াল ?
বিরাট ও-অস্তিত্ব-কি ব্যর্থ?
কিন্তু, তুমি না-থাকলেই দরদী,
ঘটুতে বিশ্বে বিষম অনর্থ!
পৃথিবী ঠিক আগুনের গােলক,
শীতল হাওয়ায় ঢালছে তাতে শৈত্য,
নিত্যরােগী টিকে থাকে যথ
নিয়মমত খেয়ে ঔষধ-পথ্য!
নীলা
৯৭
বর্ষা-জোয়ার দীর্ঘ-চুমায় বাঁধি
তুফান চাপি’ মৃন্ময়ীরে বক্ষে
কাঁপিয়ে কাঁপিয়ে যােগনিদ্রা ভাঙ্গে,
দরদ বেয়ে পড়ে তখন চক্ষে।
হয় প্রশ্বাসের বিষে জরি’ জরি’
প্রাণবায়ু নীরহারা-মৎস্য,
তােমার শােধন লবন-জারণে
ক্ষয়কে করে জীবনীর উৎস।
বিজ্ঞান-রসায়নের আদি-গুরু,
প্রলয়-সূৰ্য যন্ত্রে কর শান্ত,
জড় গড়ে মেঘ, ধারায় বিলায়
জীবের খাদ্য-পান অবিশ্রান্ত।
হরিৎ-পীতের রক্তসঞ্চারিণী
লবনাক্ত জল-কণা-বৃষ্টি ।
প্রকৃতির জলছত্র নদ-নদী
তােমার বাবাম্পে সবার দৃষ্টি
नौना
ম
তােমা-বিনে, হে রসের রত্নাকর,
ভাবের দৈন্ত ঘটতাে-যা-অভাব্য,
চিরকালের নিরেট-গদ্য ধরা,
তুমিই তারে করলে রসের কাব্য।
ও-পরিখা মাটীর দুর্গ ঘেরায়,
লয়-আক্রমণ-পথ রুদ্ধ,
নৈলে, সাগর, কুদ্ধ জড়ের সনে
জয় হ’ত কি জীবের জীবন-যুদ্ধ ?
শীলা
মাণিকের জালিক
নীলিমা জাল নামিয়ে জলে
মণি-গাঙ্গের বাটে
কোন্ জালিক মাণিক ধরে
পারাপারের ঘাটে ?
বিনিদূতের বােনা জাল,
হাওয়ার কলকাঠি,
ফাসিয়ে যেতে আঁটে ফাস
আরও পরিপাটি।
মীন
মধুরে গুটিয়ে নেয় জাল,
ছাড়ে সুধায় ভরে।
আছে সে কার আসার আশায়
রত্নাকর ধরে!
নাই নিদ, নাই ভুখ-পিয়াস,
কেমন তাহার ধাত?
ঢেউ ঠেলে’ জাল খেলে কেবল
অপারে দিনরাত।
সে-অতল কি উদাসিনী
রাজকন্যার দেশ ?
সুর যেথার চুপচু
নেশায় হয়ে রেশ?
রাক্ষসের রাখা পুরী,
স্তব্ধ যাদুবলে,
ঘন অন্ধকার দেশ
বায়ু নাহি চলে!
मोना
গাঙ্গচিলের চঞ্চুচুমার
ধ্বনি গেছে চুরি,
শুকসারীর প্রেমালাপের
গলে চুপের ছুরী!
প্রহরিণী চেড়ীর দল
মুনির মন ভােলে,
কালাে-বেণী কাল-ফণী-
সবার পিঠে দোলে।
অন্যমনে শূন্যে চেয়ে
ঘুমায় মেয়ে জেগে,
জীব-জন্তু সজীব-পাষাণ
রূপার কাঠ লেগে ।
হীরার আলােক, নীলার ঝলক।
খনির মিছা জ্বালা !
বিড়ােল মেয়ের হীরা গরল,
নীলা বিছার মালা !
নীল
১০
দেখে জালে পড়ছে মােতি,
চুনি-পান্না কত,
ফেলে দেয়-তা ভাবের জেলে,
হয়না মনের মত ।
মনটা মেয়ের আকূল হয়ে
অকূল স্রোতে ভাসে
যেথায় বেড়াজাল পড়েছে
অমূল নিধির আশে ।
স্বপন দেখে আপন মনে
সাগর উঠলাে জলে,
কার ভাসান’ মন-বা জালিক
তুললল মাণিক বলে।
মনের মতন রতন জেনে
রাখলাে ভালবেসে !
সােণার মেয়ের আঁধার উঠলাে
আলােয়-আলােয় হেসে।
मौमा
০৩
জল-ছল
ঢেউ-খেলা শৈলশিলা করে-কি তরল-লীলা ?
বহিয়া যেতেছ নীলা, আ নীলাম্বরী গায়,
স্তম্ভিত অম্বর-দস্ত
তেলি জয়-জলস্তম্ভ,
এখানে আরম্ভ শুধু, শেষ কিন্তু অজানায়।
তুমি কি চেতনালয়-
তরঙ্গে তরঙ্গে বয়
চিরস্থির নিরাময় জগতের প্রাণবায়ু ?
অথবা ফেনায়ে রােষে
তােমার ফুৎকার শােৰে
জীবের জীবনী-কোষে সঞ্চিত-যে পরমায়ু ?
হােক তব রচা ব্যোম
গ্রহতার-সূর্য-সােম!
অকারণ তারাই কি নাড়ে ও-কারণবারি ?
ও-জন্মান্ধ জলােস
সৃষ্টির কি পরিহাস ?
তােমার ধাতু কি নাশ, ধারা ক্ষয়, মায়াচারী ?
मौमा
১০
অনাদি-অনন্ত-স্রোতে
আসা যদি এক হ’তে,
ফেরা কেন অন্য পথে ? গতির-কি নাই গতি ?
অণু-পরমাণু ধরি
নিয়তির কারিকরি
কত রূপে উঠে গড়ি, ভাঙ্গে এক-পরিণতি।
কে জানে, তমার গানে রােমাঞ্চ কেন-যে প্রাণে,
অনন্ত বসন্ত আনে অন্তরের অন্তস্থলে ?
হাহা নয়, ও-যে হাসি,
অগ্রবাহী আলােরাশি
নিবিড় তিমির নাশি’ জয়যাত্রাপথে জ্বলে!
তব বর্ণে স্বর্ণ ফলে,
ও-কুহকে যাদু টলে,
তব অর্থে স্বর্গ গলে, হুঙ্কার ওঙ্কার শিখে,
খােল শুনি’ তব মঞ্জ
ধরা শত ধারাযন্ত্র,
মন্দবায়ু জগন্ধ বহি চলে দিকে-দিকে।
ঘুরায়ে আবৰ্ত্ত-চাকা
ছড়ায়ে বিবৰ্ত্ত-পাখা
ঢেউগুলি খেলা ভূলি বেলার আদর লয়,
ঝকারণে ভঙ্গ দিয়ে
কুলের ক্লায়ে গিয়ে
শিশু সম রঙ্গ-দোলে ক্ষণেক ঘুমায়ে রয়!
বাদল-ঝড়ের দাপে
প্রবল-প্লাবন ঝাপে,
ভূমি কাপে-পড়ে চাপে স্থাবর-জঙ্গম-প্রাণী!
প্রকৃতির ঠেকে-শেখা, ঝুলন জলেরই একা!
নিয়মের ভাগ্যে লেখা-সহিবে ভঙ্গের গ্লানি।
मौना
১০)
আসে যায় কত পােত
চিরিয়া করাল-স্রোত
চলিতে টলিয়া পড়ে,ধীরে তারে কর পার,
কোনও অর্ণব-যানে
সলিল-সমাধি-ানে
মরমের মাঝখানে না তার সব ভার!
যেকোলে ব্রহ্মাণ্ড তার
মাথা রাখে জুড়াবার,
সে-অপারে কর পার, এস এস বাহু তুলে!
শুনে অভ্রভেদী শব্দ
আর-ত হই-না স্তব্ধ,
তব অনুরাগ-লব্ধ ভাষায় ভাবযে ভােলে !
সমাধিতে চিত ধরি’
মগ্ন পদ্মাসনােপরি
সলিল স্তম্ভন করি জগতের যােগমায়া,
খুলিয়া স্কটিকাধার
দেখাও একটিবার
অপরূপ রূপ তার, হােক্ ছল, হাে ছায়া!
मौला
১০৬ কালের ঢেউ গড়াও গড়াও, সাগর, গড়াও, আগুন ছিটাও, প্রলয় ছড়াও! অসীমে লস্ক- ওজল-স্তম্ভ। তাহারই গ্রামে দীপক চড়াও, উধাও উঠু সাধন-চুড়াও! গড়াও গড়াও, শুধুই গড়াও, টুটাও সুটাও মেহের বেড়াও! কি ভয়, তরল, উঠু গরল, ঢেউয়ের চাকায় ঘুর্ণি ঘুরাও- হবে-তা অমিয়া, পাত্র পূরাও! মীলা
১০
গড়াও গড়াও, শুধুই গড়াও,
জীবন গড়াও, যৌবন কুড়াও!
নেশায় মদির
অন্ধ-বধির !
ভীত করিয়া ভ্রান্তি ছাড়াও,
উৎসাহ-জালে জড়কে জড়াও!
গড়াও গড়াও, শুধুই গড়াও,
জাগায়ে চেতনা বেদনা জুড়াও!
নব-গুরু দানে
স্থবিরের কানে
নবজীবনের মন্ত্র পড়াও,
জগদ্দল পাথর নড়াও!
গড়াও গড়াও, শুধুই গড়াও,
বাঁচিয়া উঠিছে ঘাটের মড়াও!
গেছে অমানিশা,
মিলিয়াছে দিশা,
আশার ভাষার সীমানা ছাড়াও,
বিজয়-কেতন গগনে উড়াও।
मौना
১০৮
আন
একি শুধু স্নান ?
ছােট দুটি আখরেই শেষ?
উচ্চারণে নাই কোন ক্লেশ ?
বুঝিতে লাগেনা অভিধান ?
সূৰ্যে ঝড়, চন্দ্রলােকে হানা,
সাংখ্যের ঈশ্বর, আত্মা আনা।
—এ-নয় সে আঁধার সন্ধান।
नौमा
১৯
জান খােলে অদৃষ্টের ঠুলি,
সাধু দেন স্বপ্নের মাদুলি ।
—এ-নয় সে দৈব-দুর্বিপাক।
এ-যে অঙ্গে নাচে শিহরণ,
ভূজি’ পলে অনন্ত-জীবন
বর্ণ-গন্ধ-স্বাদ পরিপাক।
এ-কি শুধু স্নান ?
গতি-মুক্তিহীন বৃদ্ধ প্রথা,
অভ্যাসের ক্লিষ্ট অভিজ্ঞতা,
শূন্য নিত্য-নূতনের ঘ্রাণ?
মায়াপুরী নাই কভু জানা,
পীরিতের জের তবু টানা,
সুধা বলে সে-যে সুরাপান।
এ-ত নয় অবসাদ-ঢালা
মর্মহীন চর্মসুখ-জ্বালা।
এ-গানের প্রাণে অধিকার।
পূর্বরাগ সহসা দেওয়ানা,
ভূলে যায় সরমের মানা,
করে ফেলে প্রণয় স্বীকার ।
मौला
১৯o
এ-কি শুধু স্বান?
গন্ধবারি দিয়ে বন্ধ-গৃহে
ঝুটা-ফোয়ারার মাপা-স্নেহে ?-
স্নান না-ত, তার অপমান!
এ-যে ধারাযন্ত্র চির-ভরা-
স্নায়ু-গড়া, রােগ-জরা-হা,
প্রকৃতির জলছত্র দান!
গর্জে আসে ঠেলা-যে ভীষণ
বঁধুর ও-মধুর শাসন
আলিঙ্গন চুম্বনের রব !
শিরে ঘিরে বাদল-আকাশ,
তীরে নীরে শীতল বাতাস,
এ গাহন যৌবন-উৎসব।
নীলা
১১
মায়াময়ী
অতল-তলের শ্যামল রূপসী,
চির-যােড়শী!
তােমারি-কি সখী ধাধা ?
তােমারি-কি হাসাকাদা
আলেয়ার আলাে আর মরীচিকার বারি ?
ভরা-ভাড়ার লুটে ছেড়ে
নও-রতনের ঝাঁপি ঝেড়ে
সাজিয়ে তােমায় মনের সাথে কুবের ভিখারী।
নীলা
রতনপুরের রাজার বিয়ারী।
, পিয়ারী,
তুমি স্বপনপুরের দিল-চষানী
নীল-কৃষাণী !
অতল-তলের শ্যামল রূপসী,
চির-ষােড়শী !
সাগরখার নৃত্য-তালে
বরুণ মাথায় ধারা ঢালে,
রাঙ্গাবা অঞ্জলী দেয় অরুণ-পূজারী!
ফণী দেয় মণি কেটে,
শুক্তি মুক্তা-গর্বে ফেটে,
জ্যোতি-কীট আলতা পায়ে মরম বিদারি’!
রতনপুরের রাজার ঝিয়ারী।
না, পিয়ারী,
তুমি স্বপনপুরের দিল-চষানী
*
নীলকনী।
मौमा
অতলতলের শ্যামল রূপসী,
চির-বােড়শী ?
কালাে পরী মাখায় কাজল,
জল ওনায় মধুর গজল !
তােলে মীড় নীড়-হারা বাজসেতারী!
সিদুরে’-মেঘ পরায় টিপ,
কদম-মালা নীরের নীপ,
বিনায় বেণী ফোয় ফণী হেনায় নিঙ্গাড়ি!
রতনপুরের রাজার বিয়ারী।
, পিয়ারী,
তুমি স্বপনপুরের দিল-চষানী
নীল-কৃষানী।
অতল-তলের শ্যামল রূপসী,
চির-ঘােড়শী !
করছে নীলের দিল খােস
পীত রৌদ্র আধা বিহােস
পবন ধীরে চামর করে কঁাদন নিবারি।
नौना
ভরে ডালা খনি-বন্যায়
সাজায় পুরী চুনি-পান্নায়
মণি-দীপ দেখায় সাঝে দৈত-ভুবারী।
রতনপুরের রাজার ঝিয়ারী
, পিয়ারী,
তুমি স্বপনপুরের দিল-চষানী
নীল-কৃষাণী ।
অতল-তলের শ্যামল রূপসী,
চির-মােড়শী!
ও-আসমানী রেশমী ওড়নায়
ঝরা তার চুমকি বসায়,
আভ ফুটায় আকাশ-কুসুম তােমার কেয়ারি!
বােনে আপন চিকন সুতার
জরদ-গরদ সাড়ী তােমার
নিচোল-ভােলা আঁচল-খোলা চাদের কুমারী!
मौला
রতনপুরের রাজার ঝিয়ারী।
, পিয়ারী,
তুমি স্বপনপুরের দিল-চষানী
নীল-কৃষানী!
অতল-তলের শ্যামল রূপসী,
চির-যােড়শী!
মাণিক-দুলের পয়াল পিলা,
হীরা-আংটির নীলার জিলা
ফলায় জলে ইধৰু গগনবিহারী ।
গাঙ্গচিলের উড়াল-রেখা
থরেথরে ও হাতের লেখা !
ঘরে-ঘরে পড়ে ছবির কবিতা তােমারি।
রতনপুরের রাজার ঝিয়ারী।
না, পিয়ারী,
তুমি স্বপনপুরের দিল-চষানী,
নীল-কৃষাণী।
আদি-অন্ত
ঢাকা ছিল দৃশ্যপট মানসের বিশ্বরঙ্গালয়ে,
রবি-শশী বসি নেপথ্যের যবনিকা-অন্তরালে,
দেখা নাই রূপ-সাজানীর শূন্যের-সে মৌন অভিনয়ে,
নাহি পড়ে ছাপ, ধ্যানের কাপন পিছলিছে অসীমার দিক-চঞ্জ বালে
শুধু ভয়, জীবনের মধু-নাট্য সুরু-বা নাহয়।
হয়ে পড়ে যদি অসময়!
দূর হ’তে খেলে যায় দুরুদুরু দোল,
গুরু-গুরু বােল,
ধরা নাহি দিতে চায় বুকে কোনমতে ।
স্বাদ নাই জীবনের বর্ণ-গন্ধ-স্বাদে,
আকাশকুসুম ধরে, ঝরে যায় ফুটিবার পথে,
অবেলায় অফলার উলুখড় অকাল-সাবাদে।
भीमा
একদিন দিন ক্ষণ লেখা আছে প্রাণ-পঞ্জিকায়
ধারণার গণনার সীমার বাহিরে,
পূৰ্ব্বরাগ সম এল পূৰ্বদ্বার খুলি প্রাণ-প্রাতে পাতে পাতে
বাগেবীর অনাঘ্রাত আলাের সৌরভ।
কন্টক-কানন সদ্য-ফোটা পদ্মে ঢলঢল,
শন্যে হাসে শূন্য বালিচর, মরনদী কূলে-কুলে ভরা,
তীরে-নীরে তন্দ্রাতুর রৌদ্রে ঢাকি’ সােণার আঁচলে,
জ্যোৎস্না আনে স্বপ্নে বুনি রজনীর প্রতি-সম্ভাষণ !
ভরে পিক স্তব্ধ কুঞ্জ মলয়ের মুরলীর তানে,
অমরার সুকেশিনী বেণী দেয় এলাইয়া মেঘে,
জাভারাতুর জড় অকস্মাৎ সুন্দরী যুবতী!
মােহিনী প্রকৃতি চুমে, মধু নাই মধুর অধরে !
মিছে ধাওয়া মিশে লােকারণ্যে-যেই-সেই একাকীর একা।
অন্ধকারে অন্বেষণ–হেন কেহ দেয় যদি দেখা
ঘটে যােগাযােগ—ভিজে তপ্ত মরু মরমীর মরম-নিঝরে।
আঁকড়িতে আলিঙ্গনে চুচুৰ আবেশের নেশা
রলে ভুর ভুর সে-ধোয়ার আবছায়া চিরদিনই পুরশেরে ডরে।
বাহু গ্রাসে বাহু হয়ে প্রেমে টট মিলনের তৃষা।
सोना
কাতর মিনতি ডাকে, কোথা তুমি, ও মানুষী মায়া ? দাও এসে ছায়া! ভক্তের আহ্বানে বর যেন গলে, স্বপ্ন বুঝি ফলে ! দরদের সুতে পড়ে টান, পায় প্রাণ সাথী-সঙ্গ—মনােভঙ্গ অগােচরে আনে ব্যবধান। সহৃদয়-পাকে পড়ে প্রেমের পাষাণ! এত করা মৰ্ম্মক্ষত নাহি হয় ভরা! এ কেমন দায়? যত পাওয়া, তত চাওয়া, এক ছেড়ে অন্য ধরা, মন যারে চায়, বুঝি পায় নাই তারে। থাক্ চক্ষে বিষ, বক্ষে সুধার সাগর- তুমি এস নারী, ভ’রে দাও তৃষিতের সর্বহারা খালি। বুক চিরে ডালি সাজাইতে এল সে-দরদী। রূপসীর শীতল-অনলে হিয়া শুধু গলে, জলে, খাক হয়ে যায়! মানসের পদ্মাসনে তবু নাহি হয় তার স্থান! এল এক অশরীরী মায়া-এইবার টলমল জীবনে যৌবন, পাতিল সে সিংহাসন সারা ঠাই জুড়ে।
হায়, মুঢ় কবি, রহস্যের গুঢ় ছবি সুক্ষ সে ছায়ার ছায়া
নারিলে ধরিতে।
কাছে পেয়ে অবশেষে নৃত্যগীতময়ী স্বর্গ-অপ্সরীরে
ছুইলে শরীরে ?
অমনিই বিষে জরি গেল-যে ও-কায়া !
ব্রতচ্যুৎ অকস্মাৎ! কোন অভিশাপে পার-না বুঝিতে
যােগষ্ট, তপােভঙ্গ সাধনার মাঝখানে!
কি-গ্রহের দৃষ্টি-দাহে নষ্ট হ’ল সৃষ্টি-মুখে মিষ্টি হাওয়া-ঘর?
মন-ছায়া কল্পনা কবিতা গেল দুই পারে কায়া-ছোয়া-অপমানে।
অভিমানে উড়ে গেল খ্যাতি-পাখী সাফল্যের খুলিয়া পিঞ্জর।
একূল ওকূল দুকূলেই দিয়ে বিসর্জন
কেনাে ক্ষ্যাপা, নীড়ভােলা মেঘ সম অশ্রু ঢালি,
ক্ষণে-ক্ষণে বুকে বলি
অগ্নিময় আর্তনাদ বিদারিয়া আঁধার গগন।
ঝড়ের ভেলা
দিনের পর দিন ফুরায়,
ঘােরই যায়না!
রাতের পালা রাত পূরায়,
ভােরই হয়না।
পথে কাঁটা-কাদায় হাঁটা,
ভাঁটাই হটে-না !
পারে যাবার আশায় বসে,
জোয়ারই ঘটে না।
ওকেও নীড়-ভােলা পথিক।
উঠলাে ঝড়, ডাকে দেয়া, সিন্ধুপারের হঠাৎ-খেয়া।
দিখিদিকহারা নাবিক
ডাকে তােরে সুধায় ভরে গলায় ঝরে আঁখির ধারা-
আয়, নায়ে আয়, গৃহহারা, সেহর।
भीमा
ঝিলিক মারে আঁধার বাড়ে,
ধাঁধাই ছােটে-না !
কেবল বিধি, কেবল-বাঁধন,
বাধাই টোটে-না।
আশায় আশায় ঘুমিয়ে-জাগা,
নেশাই কাটেনা !
হাজার পাকে জড়িয়ে রাখে,
তৃষাই মেটেনা :
ওরে-ও নীড়-ভােলা পথিক।
উঠলাে ঝড়, ডাকে দেয়া, সিন্ধু পারের হঠাৎ খেয়া!
দিগ্বিদিক্-হারা নাবিক
ডাকে তােরে সুধায় ভরে গলায় ঝরে আঁখির ধারা।
আয়, নায়ে আয়, গৃহহারা, স্নেহহার!
আকাশ-গাঙ্গে চাঁদের বান,
জ্যোৎস্নাই ওঠে-না !
মানসসরে মিছার ঢেউ,
পদ্মই ফোটে-না!
मौका
প্রকৃতি করে ঘর-কণা,
হাঁড়িই চড়ে-না !
ঋতুরা টানে রূপের তুলি,
রঙই পড়েনা।
ওরে-ও নীড়-ভােলা পথিক!
উঠলাে ঝড়, ডাকে দেয়া, সিন্ধুপারের হঠাৎ-খেয়া!
দিগ্বিদিক্-হারা নাবিক
ডাকে তােরে সুধায় ভরে গলায় ঝরে আঁখির ধারা !
আয়, নায়ে আয়, গৃহহারা, মেহহারা !
সারা ভুবন যােগায় স্বপন,
বুকেই বসে-না!
পথে এত পায়ের দাগ,
চোখেই পশেনা !
পরের মুখে হাসা থাক,
প্রাণই খােলে-না!
পরের দুখে দরদ দূর,
মনই দোলেশ!
मौना
ওরে-ও নীড়-ভােলা পথিক।
উলে ঝড়, ডাকে দেয়া, সিন্ধুপারের হঠাৎ খেয়া।
দিখিদি-হারা নাবিক
ডাকে তােরে সুধায় ভরে গলায় ঝরে আঁখির ধারা।
আয়, নায়ে আয়, গৃহহারা, মেহহায়।
मौना
১৫.
কৃষ্ণা
এই-কৃষ্ণা, ডালে তৃষ্ণায়
দুলতে তব দোলায় ?
সহসা সাজি’ খেয়ার মাঝি
ডাকো এসে ভেলায়।
ও-পৌরুষ পরুষ পাষাণ
হত্যা-নেশায় মাতে,
ফের হাসি-ছলে কেঁদে গলে
মায়ের বেদনাতে !
কখনও পুরুষ, কখনও নারী,
তােমার কথা বলতে হারি!
১
কেশিনী এলাও বেণী
মাজন-ফেনা মেখে,
তবে যে মেলি কাজটা
বাউল নাচে,সে কে ?
কালবৈশাখী কালপুরুষের
নীরদচাদরই
জরগর করি সাজে
মধুরাতের পরী।
ক
কখনও পুরুষ, কখনও নারী,
তােমার কথা বলতে হারি!
কালাে আঁখি-তারা, সুলােচনা,
পথে আলাে যায়।
ভবে দৈত্য-বেশে এসে কে-সে
মণি নিয়ে পালায়?
मौमा
সাপুড়ে সাজে, বাজিয়ে তুবড়ি
খেলাতে এলে ফণী ।
হঠাৎ গেলে খেয়াল-খেলে
জল-দেবী-যে বনি’!
কখনও পুরুষ, কখনও নারী,
তােমার কথা বলতে হারি ।
এই-না পাতলে জল-কিন্নরী
সুরের মায়াজাল ?
তবে আবার গন্ধৰ্ব্ব কে
পালায় ভেঙ্গে গল ?
কবি হয়ে গাঁথলে-না এই
জলের কথামালা ?
কখন হলে কবিপ্রিয়া,
ওগাে রূপের ডালা?
কখনও পুরুষ, কখনও নারী,
তােমার কথা বলতে হারি।
मौना
সাগর দাহন
এস এস বাদল রাতের বেদন জুড়ায়ে
মাতলা হাওয়ার মাতন দিয়ে কেতন উড়ায়ে।
মীন-মকর যার ধ্বজ রাখে,
তরঙ্গের ভঙ্গে বাঁকে
যে অতনুর ধনু-এল জ্যোৎস্না-বাহনে
পঞ্চশরের জ্বালা নিয়ে সাগর দাহনে।
এস এস রৌদ্র-সুরের পর্দা চড়ায়ে,
রুদ্র-তালের মত্ত নৃত্য চিত্তে ছড়ায়ে'।
গৌরসারঙ্গের কোমল-কলি
কোন্ দীপকে উঠছে জ্বলি,
মন-সারঙ্গে পড়ছে ছড়ি কড়ির আলাপে,
চড়ছে রং সকল সুরের রঙিন কলাপে
নীলা
দিন-দুপুর ভেবে অবােধ কপােত কুহরে,
পিয়া-হারার হিয়া-ধরা অক্ষ-লহরে।
অদূর পারে চোখের আড়ে
বশীও মিশে গলা ছাড়ে,
কার ও-ব্যথা বলছে কথা সুরের আড়ালে ?
বিধে-বিধে বিষের সুখা অসীম ছাড়ালে!
গাঙ্গচিলের চচুমার মিষ্ট কাকলি
জলতলে প্রেমিকদলে করছে পাগলই।
দুর হ’তে কার মন তুফানে
আমার মনও নেয় উজানে,
হচ্ছে মনের মালা-বদল জানার অজানা,
বিরহ-বেহাগ করে আলাপ মিলনসাহানা !
সত্য-মিথ্যার যােগ ঘটাতে স্বপন ভরসা!
সুদূর হ’তে মধুর পরশ তাই-কি সহসা ?
প্রতি-আঙ্গুলটী তার নিয়ে
বুলিয়ে দিচ্ছি আদর দিয়ে,
ভক্ত জপে মালা যেরূপ বিভাের-চেতনে।
যে যতনে কৃপণ গণে অমূল-রতনে!
मोना
মরমীমরম তার মরমে লাগিয়ে নীরধি,
তার হয়ে-কি আনলে ব’য়ে দরদ দরদী,
তাই-না তোমার জি প্লাবন
ভিজায় আমার দগ্ধ জীবন,
তােমার লবন নবযৌবন, দেহের লাবণী,
তােমার গানে প্রাণে-প্রাণে সুরের এবিণী ।
বুঝত তাহা-ওই-যে হাহা-হাসির ছলনা!
কোন্ প্রেমের পাষাণ করেছে মান, তরল, বল-না ?
এত সাধাও ঠেলে সে পায়,
এত কাদাও গলায়-না তায়,
কত যুগ কাটলো সে-দায় শােধা হ’ল-না।
কোন্ প্রেমের পাষাণ ভাঙ্গে-না মান, তরল, বল-না ?
ঢালাে মধু, কালাে বঁধু, অনিল-বহনে,
মীনের ভাসান মকর-নিশান সলিল-গহনে।
পলকে হারাও বুকের ধন,
পেয়েও ভাবো, পাওনি মন।
ঢেউয়ের সাড়া তারই লাড়া, প্রণয়-গাহনে
হচ্ছে শীতল তোমার অতল প্রলয়-দাহনে।
নীল
দাবি
তােমার সাথে আছে আমার কত কথাই,
বতে গেলেই বাজে বুকে যত ব্যথাই।
মনের তলায় তলিয়ে
যে-কথা রয় পালিয়ে,
ভুলিয়ে দেয় সে-কথা তােমার বড়-কথাতে,
গুলিয়ে যায় মানব-বেদন জড়-ব্যথাতে !
সারাটা রাত ভেবে-ভেবে কথা সাজাই,
মনের গােড়ায় গেরাে আঁটি,ভুলে-বা যাই ।
এলেই তােমার নিকটে
আমার যেন কি-ঘটে,
ভাষার সূল আলগা করে দাও এলিয়ে,
ভাবকে কোথায় খেলায়-খেলায় নাও খেলিয়ে।
নীলা
১৩১
রাখে তােমার আধলা ঢেউ বাদলা নিশীথে
গভীর রাত পাতলা, মাত, মাতলা হাসিতে।
ফেনার গন্ধ নাওয়া
বইছে অন্ধ হাওয়া,
চমকা-চুমায় কালাে মেঘে জ্বালা জ্বালিয়ে
হালকা-মেয়ে আলাে বেয়ে যায় পালিয়ে !
গুম কেটে আঁধার ফেটে ঝরে ঝরণা,
কত তৃষাই কত নেশাই পায় প্রেরণা !
স্বপন রয় স্বপনে
আকাশকুসুম বপনে,
মেঘে-মেঘে মৃদঙ্গ, বাজে, নৃত্যে উছলি’
অপ্সরীর আঁখি হানে নেত্রে বিজলী।
জানলা দিয়ে দেখি মেঘের পরূদা সরায়ে
চাঁদ সাজায় কে রেশমী-উড়নীর জরূদা পরায়ে !
রূপ-যৌবন লুটিয়ে
কে নেয় রাতকে গুটিয়ে ?
ভােরে বেলায় বেলা ভুলায় মেঘলা ভুলনে,
ধরে দোলায় অবেলায় পাগলা ঝুলনে।
मौमा
রােদের কাচা-ঘুম ভাঙ্গার ভসা সুদূরে !
মধুরাতের জ্যোৎস্না উঠে বর্ষ-দুপুরে!
কোকিল খাচার মাকালে--
বসন্ত গায় অকালে ।
মৌমাছিরা নূতন মৌচাক চা-রভসে
অকাল মধুঋতুর বােধন ঘােষে বিবশে !
চৌদিকে বিশ্ব-মৌচাকের ঝারা ঝরেছে।
তুমি তৃষ্ণায়, কৃষ্ণা ? কে ঠিক যাদু করেছে।
মধু- বঁধু গােপনে
মিশায় মধু লবনে!
তুমি-ত জল-জীবন মরুর মত গোয়াবে !
নর-অনুরাগ ও-বিষ বিরাগ কত পােয়াবে ?
বল কবে গলবে তােমার ঝরা সাহারা ?
তুলবে ঘাটের ঘাটি থেকে কড়া পাহারা?
সেদিন ভুলবে উড়িতে,
নাচবে শ্যামা তুড়িতে,
আমার হাতায় আসবে তুমি প্রাণ বিকাতে,
আমার খাতায় আসবে তুমি গান লিখাতে।
শেষের মাল।
আলয়-ভােলা মলয় তখন বইছে মধুরে,
বুক চিরে দেয় মেঘমালা আকাশ-বঁধুরে,
পাতালপুরীর সুরঙ্গপথে
রবি রঙ্গিা বিদায়-বথে
জ্বালিয়ে চুমার অধর-জালায় সন্ধ্যা-বধূরে,
বুকে তৃষ্ণা, প্রাণের জ্যোৎস্না কৃষ্ণা অদূরে !
তখনাে পারে আড়ে কপােত পিয়ার বুলনে
করেনি শেষ বিদায়-গীত মিলন-ভুলনে!
দিনান্তের বিরাম-হােরা
তখনও দাড়িয়ে মুখচোরা-
কৰ্ম্ম-নেশার ঘূর্তি-সুরার ছিপি আঁটেনি,
তখনাে পাখীর নীড়-ভােলার ধাের কাটেনি।
मौला
গগাধূলির ধূলি চোখে-ঘানির চাকেতে
ঘুর্ণি ঘুরুতে এলাম উলটো-স্রোতের পাকেতে ।
পুড়িয়ে উড়ন-পরীর ডানা
উড়িয়ে দানাের দৌলতখানা
আলগােছে ও-অটুট বাধন কখন খসিয়ে
কে আমারে দিয়ে গেল পথে বসিয়ে
দরিয়া, পিছু ডাকৃতেছিলে মরিয়া হুতাশে,
ব্যথার বাজে আগুন পূরে’ সাঁঝের আকাশে !
যেন একটা অশ্রু-জগৎ
ঘিরে আমার যাত্রাপথ !
কাছে গিয়ে বিদায় নিতে ভ হ’লনা,
চোখের চাওয়া, দুরের দেখাও মনে প’লনা ।
খুবই পড়েছিল মনে !রইল মনে-পড়াই!
আমার বিপাক-পাকে পাছে তােমায় মিছে জড়াই
ভাঙ্গা-প্রেমের অভিমানে,
রাঙ্গা ত্যাগের অপমানে
তুমি কিন্তু ফুলে ফুলে ফণীর শ্বসনে
ছিড়ে যেন নেবেই ধরা নখর-দশনে!
मौमा
বিষের জ্বালা মৰ্ম্ম-হীন চৰ্ম্ম-ছোঁয়াতে
আমার ফুলের মালাও সাপ-তােমায় খােয়াতে।
ভাবের ঘরে দিয়ে হানা
কে ভিজাল’ বারুদখানা ?
রূপের কানা, সুরের কালা কলাে আমারে।
কল্প-কানন পুড়িয়ে দিল উড়িয়ে শ্যামারে।
শুয়ে শুয়ে জাল্লা দিয়ে দেখতাম রাতের আকাশ !
বাতায়নে মাথা খুঁড়তে কাতর স্বরে বাতাস!
শুনতে শুনতে-তােমার গানে
ঘুমিয়ে পড়তাম মাঝখানে !
বাকী রাতটী ভরূতে নেশায় স্বপন-সৃজনে,
ফুলের ঘ্রাণে জ্যোৎস্নাস্নানে মলয়-বীজনে।
ভুলবাে-কি সেই মন-ভাসান’ অকূল-নীরবে ?
ভরা-পালের তরীর তালে ফুলন গরবে ?
কাজের দোরে লাগিয়ে চাবি,
ভুলিয়ে ঘরে রােগীর দাবি
খেলিয়ে-খেলিয়ে নিতে আমায় তােমার খেলাতে,
মিল মিলাতে বসিয়ে দিতে তােমার বেলাতে!
নীলা
হিজিবিজি কালির আঁচড় আমার হাতে, তুমি কলম চালিয়ে করূতে আখর পাতাতে। আমার ঝাপসা-পটের প্রাণে রং ফলাতে তুলির টানে, আমার সারঙ্গ, কেড়ে তােমার ছড়ি চালাতে, আমার ছন্দ-মিলে তােমার দিল মিলাতে। মৌমাছির নূতন মধুচাকটী রচনা- অভিনব গুঞ্জরণ করেনা সুচনা ? তেমনি আমার সারা মন নূতন চার গুঞ্জরণ, তুমি দিলে রসের যােগান যশের ছুতাতে ! আপন গলার শেষের মালা স্বপন- সুতে আচমকা তাড়িত-তাগিদ যাত্রা-বাঁশীতে অকাল-শেষের টালে মাত্ৰা ৰ্ত্তি-হাসিতে। ছন্ন, দিবা-স্বপ্নহত পালিয়ে এলাম চোরের মত, সেসব কথা হচ্ছে গাঁথা ভাষার বয়নে, সেসব ব্যথা পড়ছে ঝরে’ সজল নয়নে। मौला
No text on this page.
No text on this page.
কবি ও নাট্যকার
শ্ৰীযুক্ত প্রমথনাথ রায়চৌধুরী প্রণীত
নাট্যাবলী
ঐতিহাসিক পঞ্চাঙ্ক নাটক
চিতােৰােন্ধাৱ
( মিনার্ভা থিয়েটারে অভিনীত )
৫ম সংস্করণ, মূল্য ১৮ পৌনে দুই টাকা
ঐতিহাসিক পঞ্চাঙ্ক নাটক
ভাগ্যচক্র
(মিনার্ভা থিয়েটারে অভিনীত )
তৃতীয় সংস্করণ
মূল্য • দেড় টাকা।
ঐ তিহাসিক পঞ্চাঙ্ক নাটক
দিল্লী-অধিকার
মুল্য ১• পাঁচসিক।
সামাজিক পঞ্চাঙ্ক নাটক
(অনােমােহন থিয়েটারে অভিনীত )
দ্বিতীয় সংস্করণ, মূল্য ১ এক টাকা
প্রহসন
আক্কেল সেলামী
( মিনার্ভা থিয়েটারে অভিনীত)
দ্বিতীয় সংস্করণ, মূল্য • বার আনা।
নাটকগুলি ও প্রহসন পুরু অ্যান্টিকে ছাপা
সুদৃশ্য গােলাপী রঙের মলাট
কবিবরের কাব্যাবলী
।
তাজ
(সচিত্র, এবং তার কবিতার ইংরাজী অনুবাদ সালিত)
১ম সংস্করণ, মূল্য ১• দেড় টাকা
কাব্য গ্রন্থাবলী
প্রমথবাবুর মােট ১৮খানি কাব্যের সংগ্রহ
তিন খণ্ডে প্রকাশিত
প্রথম খণ্ড— পদ্ম, ২। যমুনা, ৩। গীতিকা,
৪। গীতি, ৫। দীপ্তি, ৬। দীপালী ৭। আরতি,
দ্বিতীয়খণ্ড—১। গৌরাঙ্গ, ২। গল্প, ৩। গা, ৪।
আখ্যায়িকা, ৫। চিত্ত ও চরিত্র
তৃতীয় খণ্ড। কবিতা, ২। পাথেয়, ৩। পাবা,
৪। পাথার, ৫। গৈরিক, ৬। গান
সাধারণ সংস্করণ মূল্য ৩ খণ্ড ১০ দেড় টাকা।
বিশেষ সংস্করণ-পুরু অ্যান্টিকে ছাপা, দুই রঙের কাপড়ে বাঁধা মলাট,
মূল্য তিন খণ্ড ৩ তিন টাকা।
নিম্নলিখিত কাব্যগুলি ও গানের বহি
পৃথক পাওয়া যায়।
গান
৩য় সংস্করণ। (স্বরলিপি সম্বলিত)
পুরু
গােলাপী রঙের অ্যান্টিকে ছাপা, গােলাপী রঙ্গের মলাট।
মূল্য ১ একটাকা।
৪
কাব্য
১। গৌরাঙ্গ—তৃতীয় সংস্করণ। গােলাপী রংঙের পুরু
অ্যান্টিকে ছাপা, মােলাপী রঙের মলাট, মূল্য পাঁচলিকা
২। চিত্র ও চরিত্র--মূল্য ॥ আট আনা
৩। আখ্যায়িকা—মূল্য • আট আনা
পাষাণ-মূল্য ॥ আট আনা
৫। পাথেয়~~-মূল্য ॥o আট আনা
৬। গৈরিক—মূল্য ৫০ বার আনা
৭। পাখার-মূল্য • বার আনা
উপরােক্ত কাব্যগুলি পুরু আন্টিকে ছাপা, রঙিন সিল্ক কাপড়ে
আঁধাই!
একাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স
২০৩১১ কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা ও
৯ নং হাঙ্গার ফোর্ড স্ট্রীট, কলিকাতা গ্রন্থকারের নিকট
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.