Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Gajayubbed-sanhita Part 5
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
গজায়ৰ্বেদ-সংহিতা
পঞ্চম ভাগ
শ্রীশশিকান্ত আচার্য চৌধুরী কর্তৃক
সঙ্কলিত
মূল্য ৪, চারি টাক
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
No text on this page.
গজায়ুৰ্বেদ-সংহিতা। ভত্তৰ স্থান প্রথম-অধ্যায় ; একদা অমিত প্রর্ভাবশালী অঙ্গপতি রােমপাদ নরপতি স্বীয় মাতঙ্গগণের হিত কামনায় সুরম্য চম্পা নগরে উপস্থিত মহর্ষি পালকাপ্যকে প্রণিপাত পূর্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন ;-গবন, আমি যখন এই সাগরাস্তা নিখিল বসুন্ধরা জয় করিয়াছিলাম তখন কেহই এই মাতঙ্গগণের তুল্য কাৰ্য্য করিতে পারে নাই। গুরুভার বহন, গিরিসঙ্কুল প্রদেশে গমন, সবেগে নগর-প্রাচীরদি মর্দন, নদ্যাদি সন্তরণ, প্রতিপক্ষকে তীব্র আঘাত, সহিরণ প্রভৃতি কার্য সম্পাদনে মাতগণ অসাধারণ বান্ধবের কার্য্য করিয়াছে। তদ্ভিন্ন উহাদিগের প্রায় সর্বাঙ্গেই অস্ত্র বিদ্যমান আছে। হে ঋমি প্রবর, অশ্ব, রথ ও পদাতি এই ত্রিবিধ সৈন্যে নে সকল গুণ নাই, এক মাতঙ্গে সেই সকল গুণ আছে ; এই নিমিত্ত মাতঙ্গগণকে সেনা মধ্যে প্রধান বলিয়া স্বীকার করিতে হইবে। বারণগণ কেবল হস্তিশালা মধ্যে অবস্থান করিয়াই রাজ্য ও রাজেশ্বরকে রক্ষা করিয়া থাকে। হে মাতঙ্গ-তত্ত্বজ্ঞ, কি প্রকারে এতাদৃশ অশেষ হিতকর বারণগণ নীরােগ সম্পন্ন ও মদদর্শিত হইয়া দীর্ঘজীবন লাভে সমর্থ হয় তাহা উপদেশ করিয়া আমার অজ্ঞতা দূর করুন । মাতঙ্গের তু্য বাহন পৃথিবীতে বিদ্যমান নাই। উহাদিগের স্নেহপানের প্রয়োজন ও বিধান কি ? তাহাব উপায়ই বা কত প্রকার ? ফাতঃ মাতঙ্গগণের প্রতিপালনে অন্যান্য আরও যাহা জ্ঞাতব্য আছে, অনুকম্পা প্রকাশে তৎসমুদয় বর্ণনা করিয়া আমার অভিজ্ঞতা অপনয়ন করুন। মহানুভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকপ্য বলিতে লাগিলেন ;- হে নরনাথ, ধৃত তৈল বসা। (চ) মজ্জা এই চতুর্বিধ স্নেহ পদার্থ সংস্কৃতই হউক বা অসংস্কৃতই হউক অবস্থা বিশেষে মাতঙ্গদিগকে পান করিতে দিবে। বারণগুণের অবস্থা বিশেষে এতাদৃশ গীঝেসংহিতা মেহগনি সকল প্রকার ঔষধ অপেক্ষা উত্তমতর, ইহা যে কেবল আমার মত তাহা নহে, পূর্বাচার্যগণ ও স্নেহ পানের প্রশংসা করিয়া গিয়াছেন। উত্তম মধ্যম ও অধম এই ত্রিবিধ মাতঙ্গের পক্ষেই যথশাস্ত্র মেহন বল ও বর্ণকর এবং সর্বব্যাধি প্রতিষেধক। হে অঙ্গেশ্বর, শ্রবণ করুন অনশুর গেইপান সম্বন্ধীয়বিধি আদ্যোপাশু বর্ণনা করিতেছি আষাঢ় মাস অতিক্রান্ত হইয়া শ্রাবণের কৃষ্ণপক্ষাতে শুরু পক্ষ প্রবৃত্ত হইলে যখন মাতঙ্গগণ নিরন্তর অতিঅল্প সারাংশ বিশিষ্ট নবতৃণ ভক্ষণ করিতে থাকে, তখন যথাবিধি মেহ পান প্রদান করিলে মাতঙ্গগণের রােগ বিনষ্ট, বল বর্ধিত এবং অল্পসারযুক্ত খাদ্যে ও দেহ পরিপুষ্ট হইয়া থাকে। ফলতঃ লঘু আহারে স্নেহপান হিতকর এবং স্নেহপানের ফলে মাতঙ্গদেহে শৈত্যের আবির্ভাব হয়, শৈত্য সেৰা বায়ণগণের আজন্মসিদ্ধ অভ্যাস। তদ্ভিন্ন যখন বারণগণের প্রচুর জল পানের ফলে তৃষ্ণা অল্পীভূত হয় এবং উহারা স্বভাবতঃ অহিতকর মৃত্তিকাদি ভক্ষণ করিতে থাকে, তখন উহাদিগকে তৈল পান করিতে দিলে ও সবিশেষ উপকার দর্শে। ঋতু পরিবর্তনকালে যখন বারণগণের দেহস্থ বায়ু কুপিত হইয়া থাকে, তখন উহাদিগকে তৈল পান করতে দিলে উক্ত বায়ুর প্রকোপ অচিরে বিনষ্ট হয়। গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রে যে ঋতুতে যাদৃশ স্নেহদানের বিধান আছে, সেই ঋতুতে তাদৃশ স্নেহ পানাৰ্থ মাদিগকে দান করিবে। কখনও ঋতু বিরােধী স্নেহপান প্রদান করা কর্তব্য নহে। বারণগণকে উল্লিখিত চতুৰ্বিধ স্নেহ পদার্থ মণ্ঠ দুগ্ধজল ও বিধার বা কুচরার সহিত মিশ্রিত করিয়াই প্রায়শঃ প্রদান করা কর্তব্য কদাচিৎ অবস্থা বিশেষে অবিমিশ্র স্নেহ পদার্থ পানাৰ্থ প্রদান করা যাইতে পারে। অভ্যঙ্গ বা মর্দন, পান, নকৰ্ম্ম, অনুবাসন, মেছে ও গণ্ডে মর্দন এই ষডবিধ স্নেহ প্রয়োগ মাতঙ্গ- গণের সম্বন্ধে বিহিত আছে। উল্লিখিত ষড়বিধ স্নেহ প্রয়ােগের ফলে বারগণের রোগ-প্রতিষেধ ও বল বর্ধিত হইয়া থাকে। হে নরনাথ, স্নেহপান বারণগণের হিতকর এই নিমিত্ত উহা একান্ত প্রয়ােজনীয় । উল্লিখিত চতুর্বিধ স্নেহপদার্থের মধ্যে প্রথম স্নেহ তৈল, উহা চক্রসভুত, সদ্যঃকৃত নিৰ্ম্মল অদুষিত হইলেই হিতকর হইয়া থাকে। ঘৃত অতি পুরাতন বিবর্ণ কটু পুতি গন্ধযুক্ত ও অতি দগ্ধ হইলে তাহা সম্পূর্ণরূপে বর্জন করিবে। মাংস পক অদগ্ধ রস ও ওষধিযুক্ত মজ্জা মাতঙ্গগণকে পান করিতে দিবে। মহিষ ছাগ কিংবা শূকরের সদ্যোবিনিঃস্হ বস। বারগণের অঙ্গে মজ্জার পরিবর্তে মর্দন করা যাইতে পারে।
মেই-পান গুণ ৩ হেমন্ত ও বর্ষা ঋতুতে বারণগণের তৈল পান বিধেয়, বসন্তকালে বসা ও মজ্জ। পান হিতকর এবং শরৎ ও গ্রীষ্মে ঘূতপন প্রশস্ত। এইরূপ ঋতুবিচারপূর্বক উল্লিখিত চতুর্বিধ মেহ বারণগণকে পান করিতে দিবে। তাহার ফলে বারণগণ সুস্থদেহ ও ক্লেশ সহিষ্ণু হইয়া -বর্ষাকালীন অহিতকর বর্ষণ ও প্রবল প্রবহমান বায়ু মধ্যে স্বীয় প্রভু নরপতির দুষ্কর কর্ম সাধন করিতে সমর্থ হয়। বিশেষত পথে কিংবা শত্রু রাজ্যে বারণগণের রােগ হইলে তাহার প্রতীকার করা সম্ভবপর নহে। এই নিমিত্ত বর্ষাকালে স্নেহপানাদি দ্বারা মাতঙ্গগণকে সবল ও সুস্থ করা আবশ্যক হেমন্ত ঋতুতে কিংবা গ্রীষ্ম ঋতুতে তৃণ সমুহ শুষ্ক ও ফলিত হইলে বারণগণকে কখনও স্নেহপান করিতে দিবে না। শুষ্ক তৃণ ভােজনের পরে বারণগণকে স্নেহপান করিয়ে দিলে তাহাদিগের পেট ফাফে এবং ফলিত তৃণ ভােজনের পরে বারণগণকে স্নেহপান করিতে দিলে তাহাদিগের দেহ জীর্ণ হইতে থাকে। তদ্ভিন্ন হেমন্তঋতুতে জঠরানল তেমন প্রদীপ্ত থাকে না, এই নিমিত্ত শুষ্ক এবং ফলিত তৃণ ভোজন করিলে ও স্নেহপান করিতে দিবে না। সেইরূপ শীত ঋতুতে ঘৃত পান করিতে দিলে তাহা উপকারক না হইয়া অপকারই করিয়া থাকে। গ্রীষ্ম ঋতুতে তৈল পান করিতে দিলে মাতঙ্গগণের পিপাসা, বমন মৃচ্ছ। তা ও চর্মরোগ হইয়া থাকে। এই নিমিত্ত কাল বিভাগৰিৎ মাতঙ্গগণের হিতৈষী চিকিৎসক হেমন্ত ও গ্রীষ্মকালে কখনও উহাদিগকে স্নেহপান করিতে দিবেন না। মেহদান বিধিতে অনভিজ্ঞ চিকিৎসক, কালেই হউক কিংবা অকালেই হউক যদি বারণগণকে তৈল পান করিতে দেন তাহা হইলে, মাতঙ্গগণের পূৰ্বোল্লিখিত সকল প্রকার উপদ্রব এমন কি তাদৃশ অজ্ঞান প্রদত্ত তৈল পানের ফলে মাতঙ্গগণের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটিতে পারে অভিজ্ঞ চিকিৎসক, মেহ পানের অব্যবহিত পরে রায়ণগণকে রৌদ্র সেবা, বল বায়ু মধ্যে অবস্থান, পূৰ্ব্বভূক্ত দ্রব্য পরিপাক হইবার পূর্বে পুনরায়, সাতিশয় জলাবগাহন, শীতল জল পান, সাত্মসাত্ম বিপৰ্যাস কিংবা সুদীর্ঘ পথ গমন প্রভৃতি হইতে যত্নপূৰ্ব্বক নিবৃত্ত রাখিবেন। গ্রীষ্ম কালে তৈল পানের দোষ পূর্বেই বর্ণিত হইয়াছে। মেহপানের অব্যবহিত পরে প্রবল বায়ু সেবনের ফলে বারগণের দেহস্থ বায়ু কুপিত হইয়া উহাদিগের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সকল পীড়ন করিতে থাকে। সেইরূপ স্নেহপানের অব্যবহিত পরেই । অজীর্ণ অবস্থাতেই ) + প্রাচীন ভারতে বর্ষান্তে শরদের প্রারম্ভেই বিজিগীষু নরপতিগণকে অভিযান করিতে দেখা যায়।
৪। গজায়ুৰ্বেদ সংহিতা আহার করিলে মাতঙ্গগণের পেট ফাঁপে ; তাহাতে মৃত্যু পর্যন্তও ঘটতে পারে। স্নেহ পানের অব্যবহিত পরে অত্যন্ত পরিমাণে অবগাহন করিলে মাতঙ্গগণের জঠরানল নির্বাপিত হয় এবং পীত স্নেহ অজীর্ণ অবস্থায় থাকিয়া প্রবল পিপাসা জন্মায়। স্নেহ পানের অব্যবহিত পরে যদি মাতঙ্গমণ শীতল জল পান করে তাহা হইলে উহাদিগের পীত স্নেহ জীর্ণ না হইয়া সর্বাঙ্গে বেদনা, বমন, মলভ ও দুৰ্ম্মনস্কতা হইয়া থাকে। সেইরূপ মেহ পানের অব্যবহিত পরে সত্মসাত্ম্য বিপৰ্যাস বা চিরাভ্যস্ত অভ্যাসের বিরুদ্ধ ব্যবহারের ফলে বারণগণের দুর্বলতা ও বহুবিধ রােগের প্রাদুর্ভাব হইতে দেখা যায়। স্নেহ পানের অব্যবহিত পরে দীর্ঘ পথ গমন করিলে সদ্যোব্যায়ামের প্রভাবে বারণগণের দেহস্থ বায়ু কু পত হইয়া স্বস্থান হইতে প্রচলিত হয় এবং উহাদিগের সর্বাঙ্গ পীড়ন করিয়া সর্বাঙ্গে কম্প ও পাকল ( জর) রােগ উৎপাদন করিয়া থাকে। এই নিমিত্ত বিজ্ঞ চিকিৎসকগণ তৈল পান বিষয়ে সবিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করিয়া থাকেন ; কারণ অবিধি পূৰ্ব্বক পীত তৈল হলাহল বিষের ক্রিয়া করিয়া থাকে। হে অগেশ্বর, ইহাই স্নেহ পানের কালাকাল ও বিধান জানিবেন। হে পৃথিবীশ্বর, স্নেহ স্থাবরজ ও জমজভেদে দ্বিবিধ। ধৃত তৈল বসা মজ্জ। মেদঃ মাংস দুগ্ধ দধি প্রভৃতি স্নেহ পদার্থ সচরাচর দেখিতে পাওয়া যায়। তিদি নানাবিধ ফল হইতে যে স্নেহের উৎপত্তির কথা এই গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রে কীৰ্ত্তিত তাছে, তাহাই “স্থাবরজ মেহ নামে প্রসিদ্ধ। উল্লিখিত সকল প্রকার স্নেহ পদার্থের মধ্যে ঘৃতই সর্বশ্রেষ্ঠ এই নিমিৰ প্রথমতঃ ঘৃতের গুণাবলী যথাযথ ভাবে বর্ণণা করিতেছি। ঘৃত মধুব-রসযুক্ত শীতবীমা অবিদাহী, বাত ও পিত্তে হিতকর, মেদ ও শুরু বৰ্দ্ধক, কঠিন স্থানের মৃদুতাকারক, বলবৃদ্ধিকর, অল্প মূত্রকর, গ্রহণী দীপক, অঙ্গের সৌকুমার্ষ বল ও আয়ুবৰ্ধক এবং চক্ষুর হিতকর এই নিমিত্ত উহ সকল প্রকার মেহের মধ্যে প্রধানতম ও সকল প্রাণীর ঔষধ স্বরূপ। যে সকল মাতঙ্গ পিত্ত প্রকৃতিক স্বভাবতঃ আনত দেহ বিশিষ্ট, মদক্ষীণ, বৃদ্ধ, করিণী সঙ্গত, শিশু দুর্বল কিংবা নেত্ররােগগ্রস্ত অথবা নবধৃত তাহাদিগকে ঘৃত পান করিতে দিবে। ঘৃতের পরেই তৈলের স্থান, ইহা ঋষিদিগের মত ; এই নিমিত্ত তৈলের ৩গুণ যথালথভাবে বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন। তিল তৈজা চর্মের হিতকর, বাকর, লেখনীয়, বিদাতী উষ্ণবীৰ্য্য, কষায় ও মধুর রসযুক্ত, 'বাত শ্লেষ্মহর, বিপাকে কটু, কৃমি, পিত্তবৰ্ধক মেদো ও যােনি দোষ নাশক। যে সকল মাতঙ্গ শারীরিক ঙ্গেইপান গুণ। ৫ } ? পরিশ্রমের অভাবে স্কুলদেহ, শালদৰোগ বিশিষ্ট, বাতাপত দেই, অল্প বিক্রমশালী বাতপ্রকৃতি কিংবা শ্লেষ্ম পকৃতি কিংবা সে সকা মাতঙ্গ পুনঃ পুনঃ উদরাখুন রােগে পীড়িত, পথগমনকাণে যাহাদের মাংস সহসা পান কর এবং যে সকল মাতঙ্গের কোষ্ঠে কৃমি সঞ্চিত হয়, তাহাদিগকে লৈ পনি করিয়ে দিতে হবে। ' দ্ভিয় করিণীগণকে ঘৃতের পরিবর্তে তৈল পান করিতে দেওয়া কৰ্তব্য; কারণ তাহাদিগের দেহ সাধারণত বাংপ্রকৃতিক ; এই নিমিত্ত তাহাদিগের কোঙ্গে বায়ু সঞ্চিত হইয়া থাকে। বসা মধুর রসধু ক্ত এবং মাগণের বাতবিকার প্রশমনকারিণী, শুক্ৰবৰ্দ্ধক, বিপাকে মধুর, মা ও বর্ণ-প্রসাদনকারিণী শ্রোতােহভিঘাত, মাশুম্ভ এবং গ: এই বাগো হিতকর, ভয়, স্ফুটিত, বিদ্ধ ও নানাবিধ গারোগে আশু ফলপ্রদ। মজ্জা মাতঙ্গগণের সবিশেষ বকর এবং বাত ও পিত্ত প্রশমনকারী, কফ, মেদ ও শুক্র বন্ধক ; উত্তপ্ত করিয়। ব্যবহার করিলে উষ্ণৰীৰ্য্য ও গুরুপাক, বাতরোগ নাশক, শুক্রবদ্ধক এবং স্নােত: ও ইন্দ্রিয় পরিশোধক। হে অঙ্গেশ্বর, বালগণের পানাৰ্থ প্ৰতর মাত্রা তৈলের অগ্ধ পরিমিত এবং ত্রিবৃতার মাত্রা তাহা অপেক্ষাও অৰ্দ্ধ। ইহাই মাহগণের স্নেহপানের গুণ ও কাঙ্গাকা। হে নবনাথ, অমি অতঃপর স্নেহপনে1 বিধান এবি শ্রবণ করুন - মগে। প্রদেশে সুরক্ষিত এবং কটাদি দাবা উমরূপে মা শাল। স্মিাণ করা হয়। হা সুগন্ধি কুমাদি দ্বারা সজ্জিত কৰিব। অনুব' অজ। পর্ন তরুণ পৰি গগা কাল লব্ধ এবং সথে পরিমি ও স্থলজ তুণ আহরণ করবে। প্রতিদিন স্নেহ পানের সময় উপস্থিত হইতে মাতঙ্গগণের গান ও নের নিমিত্ত বৃহৎ কটা হ পরিপূর্ণ উষ্ণেদক বা গরম জল উক্ত শালাতে স্থাপন কৰিলে। তদ্ভিন্ন হৈল পান। ও ভূয়া পনের নিমিত্ত ঘটাদি ও পর্যাপ উপস্থিত রাখিবে। জল উস রাখিবাধ জন্য প্রচুর শুষ্ক কাষ্ঠ এবং শুশ্রুষার নিমিত্ত সুশিক্ষিত পবিচারক উপস্থিত রাখিবে। শাস্ত্রজ্ঞ এবং দৃষ্টকৰ্ম্ম। গঙ্গবৈদ্য ও বারণগণের পিতার ন্যায় হিন্দকী গাধা স্বয়ং সেখানে বর্তমান থাকিবেন। তৈল পান করাইবার পূর্বে তিন দিন মঙ্গকে রুক্ষত্র বা ভোজন ও মদ্য পান করতে দিতে হবে। চতুর্থ দিনে তাহাকে সুসিদ্ধ জল পান করাইয়া এবং তাহার মুখে অন্য তৃণাদি নাই জানিয়া তাহার সর্বাঙ্গ হস্তদ্বারা মনপূর্বক তাহাকে তৈল পান করিতে দিবে। অবশ্য বলাবাহুল্য যে উক্ত হৈল সদ্যঃকৃত চক্ৰসমূহ এবং সুবিশুদ্ধ হইবে। পানাগ গঙ্গায়ুর্বেদ-সংহিতা। TA বৃি সকা প্রকার স্নেহ সভূত হওয়া আবশ্যক। বসা বারগণের পানে ও সর্বাঙ্গে মর্দনে ব্যবহার করা যাইতে পারে। ধীমান চিকিৎসক উল্পিখিত তৈলাদি স্নেহপদার্থ যথোক্ত পরিমাণে মাপিয়া এবং মাতজকে সম্পূর্ণ সুস্থ জানিয়া প্রশস্ত তিথিনক্ষত্রে পান করিহেশবেন। ভক্ত তৈল-পরিমাণ দ্বারা শ্রেষ্ঠ মাতকে পূর্ণমাত্রায় স্নেহ পান করিতে দিবে। মধ্য-পরিমিত মাতজকে শ্রেষ্ঠের এক- চতুর্থাংশ কম গেহ পান করিতে দিবে এবং কনিষ্ঠকে মধ্যমের অর্থ পরিমিত স্নেহ পান করিতে দিবে। সমাপ্তি পর্য্যন্ত ইহাই বৃদ্ধির ক্রম। মা হলগণের জঠরানলের বলের পরিমাণ অনুসারে তিনদিন পাচদিন ৰা সাতদিন পর স্নেহ- পান করিতে দিবে। তাদৃশ স্নেহপানই অভীষ্ট ফলপ্রদ হইয়া থাকে। কাহারও মতে মাতঙ্গগণকে তৈল ও দুত অষ্টাদশ দিবস পর্যন্ত পান করিতে দিতে পার। যায়, কেবা তৈল পাঁচ কিংবা দশদিন এবং ধৃত পাঁচ কিংবা সাতদিন পর্যন্ত পান করিতে দিতে পারা যায়। হে নরেশ্বর, যদি ও বায়ণগণের স্নেহ পানের একটি সুলমাত্রা নির্দেশ করা হইল বটে তথাপি উদিগের অগ্নিবল পরীক্ষাপূর্বকই উহাদিগকে স্নেহ পান করিতে দিবে; কারণ উহারা পূর্ণমাত্রায় সেই পান করিলেই মিগ্ধ হইয়া থাকে (ম্নে পানের উপকাৰ লাভ করিয়া থাকে। অন্যথা স্নিগ্ধ হয় না। হে অনাপ, অপোলিখিত লক্ষণসমূহ দ্বারা বারীগণের অগ্নি বা পরীক্ষা করা গাইতে পারে। যে মাহল স্নেহ পান করিয়া তাহা পরিপাক হইলে মোহ প্রাপ্ত কিংবা আনত হয় না অথবা নাহার দেই অত্যন্ত কম্পিত হয় না; পক্ষান্তরে স্নেহ পানের পরে সাহার লাজুন, নয়ন, কর্ণ ও গ্রীবাদেশ সুপুষ্ট থাকে ; তাদৃশ ভাবস্থায় মাহগ বন্ধনস্তম্ভের সাহায্যে দণ্ডায়মান থাকেনা কিংবা ভােজনা প্রদত্ত দব্য দর্শন করিয়া ক্রুদ্ধ হয় না; সেই মাতঙ্গের পানাৰ্থ স্নেহের পরিমাণ যথাযোগ ক্রমে বর্ধিত করিবে। পক্ষান্তরে ইহার বিপরীত লক্ষণাবলী দুষ্ট হইলে তাহার গানীয় স্নেহের পরিমাণ কপন ও বর্ধিত করিবে না। পীত-ক্ষে সম্যক্ পরিপাক প্রাপ্ত না হইলে ধােলিখিত লক্ষণ সমূহ প্রকাশিত হয় সর্বদা অসন্তুষ্টভাস, সঙ্গে দাই, গ্লানি, তৃষ্ণ, জুম্ভ ( হইতােলা) এবং মােহ। মাতগণের পীত-হে সম্যকরূপে জীর্ণ না হইলে এই সকল কাক্ষণ প্রকাশ পাইয়া থাকে । অতএব নিপুণ চিকিৎসক এতাদৃশ অবস্থায় মাতঙ্গকে শয্যায় শয়ন করিয়া তাহার নেত্ৰদ্ধয়ে শীতল জল সেক করিবেন এবং যে সকল খাদ্য ও পানীয় বারণগণের কাকাশয়ের শক্তি বৃদ্ধি করে উদিশকে তাহাই প্রদান করিবেন। ;
সেই পানি গুণ। । হে পৃথিবীশ্বর, স্নেহ পানকালে বারণগণের আহারের পরিমাণ সেরূপে হ্রাস করিয়া আনিতে হইবে এইক্ষণে তাহা বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন।-যে মাগকে একপদ মাত্রায় তৈলাদি স্নেহ পদার্থ পান করিতে দেওয়া হয় তাহাকে পীত-মেই জীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত পান আহার ও একগাদ করিতে দেওয়া কর্তব্য কিন্তু যে মতকে অন্ধ মাত্রায় স্নেহ পান করিতে দেওয়া হয় তাহাকে অর্ধমাত্রায় আহার এবং সে মাতকে ত্রিপাদ (#) মাত্রায় স্নেহপান করিতে দেওয়া হয় তাহাকে ত্রিপাদ (ঃ) আহার করিতে দিতে হইবে। করিতে দিতে হইবে। অবশ্য স্নেহ পান করিতে দিলেও লবণ ভোজন করিতে দিতে পারা যায়। এইরূপে অৰ্দ্ধমাস পৰ্য্যন্ত মল মূত্রের স্বাভাবিকতার প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া বরিশগণকে স্নেহ পান করিয়ে দিবে। পক্ষান্তরে অধিক দিন স্নেহপান করিতে দিলে মাতঙ্গ সমধিক দুৰ্ব্বনা ও অবসন্ন দেহ হইয়া থাকে এবং পরিমাণের অধিক স্নেহপান করিতে দিলে মাতঙ্গের অতীসার তৃষ্ণা মলভেদ বর্ণভেদ দুর্গন্ধযুক্ত মাস্রাব, কষ্টের সহিত অল্প অল্প ঈষৎ পীতবর্ণ প্রস্রাব হইয়া থাকে। তাদৃশ অবস্থায় উহাদিগের ও ও দেহের অপরাংশ অবসন্ন হয়। তখন উহা দগের আহারে অরুচি লক্ষিত হয়। ইহাই অতিস্নিগ্ধ মাতঙ্গের লক্ষণ। এই প্রকার অতি স্নিগ্ধ মাতঙ্গকে তুমে রুক্ষ করিয়া আনিবে। যাদৃশ তৃণজোজন করিতে দিলে মেই জীর্ণ হয় অতি অল্প পরিমাণে তাদৃশ তৃণ ভোজন করিতে দিবে, জল পান ওঅবস্থা বিশেষে স্নান করিতে দিবে। স্নেহ জীর্ণ হইলে বায়ুর অনুলোমত বা অনুকূলতা, প্রফুল্লভাব, মলমূত্রের স্বাভাবিকতা ভোজনে ইচ্ছা প্রভৃতি লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়। কৃষ্ণাত, দুর্গন্ধ, পিচ্ছিল ফেনিল তরল কিংবা অত্যন্ত কর্কশ এবং শূলযুক্ত মলকে অপরিপাকজনিত বলিয়া জানিতে হইবে। পক্ষান্তরে বেদনা-বিহীন গন্ধ বিহীন শ্লেষ্ম বর্জিত এবং ভুক্ত ঘাসের অনুরূপ বর্ণবিশিষ্ট মাকে পাকযন্ত্রের স্বাভাবিক ক্রিয়াজনিত মল বলিয়া অবগত হইতে পারা যায়। সে সকল মাতঙ্গ তৈল কিংবা ঘৃত পান করে তাহাদিগকে ঈষদুষ্ণ জলে গান করাইবে। যে সকল মাতল তৈল পান করে তাহাদিগকে প্রতিকালে শয্যা ত্যাগের পরেই একশত বা দুইশত ধনু পৱিগিত * স্থান ভ্রমণ করাইবে। তাদৃশ ভ্রমণের বহু সুল দৃষ্ট হইয়া থাকে --উহাতে পান ভােজনে স্পৃহা বৃদ্ধি করে, উৎসাহ জন্মায় * প্রায় অর্ধ মাইল-ধনুঃ সহস্রং ক্রোশঃৎ মূল। মহারোগ স্থান ২অং ৪র্থ শ্লোক।
গজায়ুৰ্বেদ-সংহিতা। পুনঃ প্রসাদন অনিয়ন করিয়া থাকে। ব্যাধিত মাতঙ্গের প্লাহভ্রমণ এতদপেক্ষা ও সমধিক ফলদ ইহয়া থাকে। হে অগেশ্বর, রায়ণগণের তৈল পানের দোষে যে পিত্ত বন্ধিত হয়, ধৃত পান দ্বারা তাহা প্রশমিত হইয়া থাকে ; এই তৈল পানের পরেই বারণগণকে ধৃত পান করিতে দেওয়া আবশ্যক। তৈল পানের পরে মাগকে তিনদিন পাঁচদিন কিংবা সাত দিন পর্যন্ত ধৃত পান করিতে দিবে। তাদৃশ ধৃত পানের ফলে মহগ হৃষ্টচিত্ত তে ও বলশালী প্রদীপ্ত-জাঠরানল পুষ্টদেহ সকলইন্দ্রিয় স্নিগ্ধ ও প্রিয়দর্শন হইয়া থাকে। তখন উহাদিগের মলমূত্রেরও স্বাভাবিক অবস্থা সুনিদ্রা ও বিষয়গ্রহে ইন্দ্রিয়ের পূর্ণ সামর্থ্য লক্ষিত হইয়া থাকে। হে নরনাথ, পূৰ্বেই বলিয়াছি যে মূক প্রাণীর স্বাস্থ্যের ব্যতিক্রম ঘটিলে মল মূত্রাদির অস্বাভাবিকতা প্রভৃতি বহিল ক্ষণদ্বারা প্রথমতঃ তাহার উপলব্ধি করিতে পারা যায়। বাবণগণের স্বাস্থ্যের ব্যতিক্রম ঘটিলে অপােলিখিত লক্ষণ সমূহ প্রকাশিত হয়—উহাদিগের গমনকালে দেহের গুরুত্ব বােধ অসঞ্চালনের অল্পতা, মলমূত্রের অল্পতা ও অস্বাভাবিকতা, পুনঃ পুনঃ সৃণ (হাই তোলা ) নেত্রে অশ্রু উদ্ভব, তন্দ্রা, শয্য। ও আহারে বিদ্বেষ, দুৰ্ম্মনস্কতা এবং সংজ্ঞাহীনতা প্রভৃতি লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়। পক্ষান্তরে সুস্থ মাতঙ্গের উহার বিপরীত ক্ষণসমূহ প্রকাশ পাইয়া থাকে ; তাদৃশ মাতঙ্গের মনঃপ্রসন্নতা, জঠরানজেব প্রদীপ্ত ভাব দেহের স্বাভাবিক কোমলতা, চৰ্ম্মেৰ চাচিক, দেহের উপচয় এবং ইন্দ্রিয়াণের বিষয় গ্রহণ প্রবল সামর্গা প্রভৃতি লক্ষ লক্ষিত হইয়া থাকে। মাতঙ্গের মল ঘন স্নিগ্ধ পাণ্ডু, মৃত্তিকা ও শর্কর। হীন একবর্ণ ও দুর্গন্ধশূন্য হয় তাহাকে নীরোগ বলিয়া জানিতে হইবে। যে মাতঙ্গকে হৈা কিংবা ঘৃত পান করিতে দিলে সেই অবিকৃত মেইই মলের সহিত নির্গত হয়, তাহার স্নেহ পান নিবৃওি কবির। দিয়া তাহাকে পঞ্চাই কিংবা সপ্তাহ ঈষদুষ্ণ জল পান করিতে দিবে। অথবা আট পল (৬৪ তোলা পরিমিত কুশমুল নিৰ্ম্মল জলে কথ করিয়া তাদৃশ মাতঙ্গকে পান করিতে দিলে তাহার বায়ু অনুলোম হয়। সে মাতঙ্গের মলে অল্প পরিমিত তৈদি মেহ, পদার্থ দৃষ্ট হয়, তাহাকে বা গু (যাট) পান করিতে দিলে সবিশেষ উপকার দর্শে। যে মাঙ্গের বিধার (আহাৰ্য্য বস্তুর) পূর্ণ পরিমাণ এক দ্রোণ বা ৮ সের তাহাকে এক প্রস্থ (/২ সের) পৰিমিত ততুলের যাউ আহার করিতে দিবে। তৎপরে অর্ধ প্রস্থ (১ সেতণ্ডুল ও অপ্রস্থ (১ সেব) মুগ এই দুই দ্রব্য দ্বারা সবাগু পাক স্নেহ-পান গুণ। * কবিয়া মাতঙ্গকে তিন দিন পর্ষ পান করিতে দিবে। উক্ত তিন দিবসেব পরে এক অরক তলের অন্ন এক অঢ়ক মুগের রস এতদুভয় দ্রব্য এক যোগে তৈণ ও লবণ বিহীন উহাদিগকে ৩ দিন পর্যন্ত ভােজন করিতে দিবে। এইরূপে ক্রমে বিধা ও বর্ণের পাদ অর্ধ ও পূর্ণ মাত্রা ক্রমে আধ করিতে দিলে অপকার হব কিন্তু সর্বদা অগ্নি বলের প্রতি লক্ষ্য রাখি, সান্যা দধ্য প্রভৃতির সহিত মিশ্রিত অন্ন ভােজন এবং প্রসন্না নামক সুবা পান নি দিবস গন্তু করিতে দিলো ও তাদৃশ অবস্থায় উপকার দর্শে ফুলতঃ পূৰ্বে ভােজনের যে বিধি ও ক্রম উপদিষ্ট হইছে তদনুসারেই আহারের ব্যবস্থা হওয়া কর্তব্য। সেইরূপ ঘাস সম্বন্ধে ও সাবধাণত আবশ্যক। স্নেখ পানের অন্তে ঘাসের পরিমাণ ও প্রথমতঃ এক পাদ এবং পরে অর্ধ ও তৎপরে ত্রিপাদ এইরূপে অভ্যস্ত করিতে হইবে। পানের অবসান মাত্রেই মাতঙ্গগণের সঙ্গে তৈল মর্দন পূর্ণ মাত্রায় বিধ (আহার) ও শীতল জল পান করিতে দিবে। অনম্বর স্নেহ পানের ফলে নীরােগ ও সকল মাতঙ্গকে উত্তম রূপে অঙ্কত করিয়া প্রশস্ত তিথি নক্ষত্রে মাতঙ্গ প্রভু নরপতিকে দর্শন করাইবে। মহানুভব অঙ্গ পতির প্রশ্নের উত্তকে ১হষ পালকপ্য এইরূপ স্নেহ পানের গুণ পরিমাণ ও ক্রম বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন; যাহা পান করিলে বাবগণ শা; অথবা বৃষ্টি ও বায়ুর উৎপীড়নে ও রোগ গ্রস্ত না হইয়া নীরােগ বলশালী ও মদম এবং শত্রু বিনাশে সমর্থ হয়। ইতি ঐ মহর্ষি পালকপ্যবিরচিত জায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তরস্থানে প্রথম দ্বিতীয় অধ্যায়। স্নেহপান বিধি। একদা অঙ্গপতি রেকম পদ নরপতি, স্বীয় সুরম্য চম্পা নগরে সুশাসীন হও শস্ত্র তত্ত্বজ্ঞ মহাপ্রাজ্ঞ পাল কাপ্য ঋষিকে প্রণি প্রাত পূৰ্ব্বক সবিনয়ে কলিপুটে জিজ্ঞাসা করিলেন; --- ভবন, েঋষি-খবর, আপনি পূবাধ্যায়ে বারগণের সেই পানের ও ব্যাখ্যা করিয়াছেন এইক্ষণে তাহার সবিশেষ তথ্য সমুদয় জানিতে অামার একান্ত বাসনা হইয়াছে - কিরূপে মাতঙ্গণকে ধৃত বসা মজ্জা পান করিতে দিতে পারা যায় ? কিরূপ দিনে বা.মাসে মাতগণকে তৈল পান করতে দেওয়া কর্তব্য ? তৈলের মাত্রাই বা কি? তৈল জীর্ণ হইলে বা হইতে থাকিলে অথবা পীত তৈ অজীণ হইলে বা তাহার ক্ষণ কি ? তৈলের উপবাস প্রয়ােগ, oৈণ! পরিণতি, তৈলের পরিমাণ এবং কিরূপ ভাবে উৎপাদিত তৈল মাতঙ্গগণের পেয়? মপান অবস্থায় কীশ দাস কি পরিমাণে মাতঙ্গগণকে দেয়? তৈল পানের পরেই বা উহাদিগকে কীদৃশ আকার প্রদান করা কতব্য? তাদৃশ অবস্থাতে উদিগের শ্যই না কি রূপ হওয়া উচিত? মুদ * 'তির রস ( কাগই ) রূপ পান করিতে দেওয়া কৰ্ত্তব্য? বারণগণর দ্বতোপচারের বিধানই না এক প্রকার ? হে মহাত্মন্, এতৎ সমুদয় বিস্তৃরূপে বাস্য করিয়া আমায় সংশয় অপনয়ন কর্ণ। অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি গা কাপ্য এলিতে লাগিলেন--মহাবা, শণ করুন। আমি আনুপূরক এতৎ সমূদয় পণন করিতেছি। হে নরেশ্বর, 'বুত তৈল বসা ও মজ্জা বারণকে সে কালে প্রধান। করা কর্তব্য প্রথমতঃ তাহাই বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুণ আষাঢ় মাস অতীত হয়। শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণ পক্ষ চলিয়া গেলে! শুক্ল পক্ষে, হস্ত শ্রবণ পষা চিত্র ও অশ্বিনী নক্ষত্রে, দশমী একাদশ দ্বিতীয়। তৃতীয়। ৪ অষ্টমী তিথিতে বারণগণকে (মপান করিতে দিবে । হে অঙ্গেশ্বর, বারণগণের খৈ পানে যে সকল ঋতু বর্জণীয় তাই বাতেছি এ কৰুন গ্রীষ্ম এবং হেমন্ত কালো বারণচণকে তৈল পান করিতে দিবে না। জিগীষু নরপতিগণের দিগ্বিজয়োগোগেই এই দুই ঋতু প্রশস্ত। হেমন্ত কাণে পৃথিবী শস্থ ও শীতলেদিক পূর্ণ থাকে এই নিমিত্ত উক্ত ঋতু পদাতি অশ্ব ও মাতঙ্গ সকলেরই সুখাবহ। ভয় কিংবা লোভ হেতু এই ঋতুতে যুদ্ধযাত্রা করিলে মহগগণের বিপত্তি 'নশ্চিত; কারণ এই সময়ে মাহুত মাহদিগকে নানাবিধ মেই-পান বিধি। শিক্ষা প্রদান করিয়া থাকে ।। অনন্তর গ্রীষ্ম কালে স্নেহ পানের যে সকল দোষ তাহ বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন,-গ্রীষ্ম কালে তরু লতা গুল্ম সমুদয় সৌরকার দগ্ধ হইয়া থাকে, ঘাস ও জল অতি দুল্লভ হয়। তাদৃশ অবস্থায় বারণগণকে স্নে পান করিতে দিলে উহাদিগের তৃষ্ণা বর্ধিত হইয়া থাকে, তাহার ফলে প্রাণ বিয়ােগ পৰ্য্যন্তয় ঘটতে পারে। এই নিমিত্ত বারণগণের হৈল পানে গ্রীষ্ম ঋ; বাহিত বলিয়া কথিত হইয়া থাকে। এই সকল কারণবশত বারণাকে । ঋতুতেই তৈল পান করিতে দিবে কারণ তখন তৃণ ও বনস্পতি সকল খরিদ্র্ণ, ব্যাপী সকল স্বচ্ছসলিল পূর্ণা, মেদিনী শস্য শালিনী হইয়া শােভা পাইয়া পাকে। তখন অতি শীত অতি তাপ কিংবা যুদ্ধাদি শ্রমকর কাৰ্য্য থাকে না। যে স্থানে সুস্বাদু স্বচ্ছ পানীয় হিতকর বিচিত্র ঘাস বিদ্যমান থাকে তাদৃশ শুভ রম্য স্থানে বারণগণকে স্নেহপান করিতে দেওয়া কর্তব্য। শ্রাবণ মাসে কিংবা ভাদ্র মাসের প্রারম্ভে মাতঙ্গগণকে তৈল পান করিতে দিবে । মাতঙ্গগণের পানীয় তৈলের মাত্রা প্রথম ৩ অর্ধপ্রস্থ বা ১ সেরের অধিক হওয়া উচিত নহে। এই মাত্রা উত্তম মধ্যম ও অধম এই ত্রিবিধ মতঙ্গের পক্ষেই প্রযোজ্য। গুণী দেই মাতঙ্গ বিগকে তৈণ পান করিতে দিবে কিন্তু কৃশাঙ্গ বাৱণগণের পক্ষে ঘৃত পানই বিধেয়। সে সকল মাতঙ্গের উরক্ষিত রােগ কিংবা কোনও অঙ্গ প্রতঙ্গ ভগ্ন থাকে তাহাদিগকে এস ও মজ্জ। পান করতে দিবে। হে নবণ, ইনশুর তৈলের প্রয়ােগও বর্ণনা করতেছি শ্রবণ করুন- * ; মা নীরোগ এবং যাদের আগ্নীপক অাহার দ্বারা জঠরাল গল হইয়াছে তাহাদিগকে প্রাতঃকালে গাত্রোত্থানের পরেই তৈল পান করিতে দিবে এবং জীর্ণ হইলে অল্প পরিমিত শষ্ট ভোজন ও উষ্ণজলে স্নান ও তাহা পান করাইবে। পান ও গানের পরে বিল বায়ু প্রচারযুক্ত আবৃত স্থানে স্থাপন করিবে। যবসাধ্যায়ে যে সকণা ** ও ঘাসের উল্লেখ করা হইয়াছে, স্নেহপান অবস্থায় তদ্ভিন্ন অন্য কিছু প্রদান করা কর্তব্য নহে। কিন্তু তাদৃশ অবস্থায় অাহারের পমিাণ হ্রাস করা উচিত। রাত্রিতে সুখ- কর শয্যায় শয়ন করিতে দেওয়া কর্তব্য। যদি রাত্রিতে মাত গাত্রে- খান করে তবে তখন তাহাকে আহারার্থ ঘাস দিতে হইবে। পর দিবস । পূৰ্ব্ব অধ্যায়ে হেমন্ত ঋতুতে তৈল পান নিষেধের কারণ শস্যযুক্ত তৃণ সকল গুরুপাক তাহাই আহার করিতে হয়, তৈল ও গুরুপাক, এই নিমিও হেমন্তে তৈল পান নিষিদ্ধ, সে কারণ সঙ্গত ও বটে।
গঙ্গায়ুর্বেদ-সংহিত। প্রাতঃকালে স্নেহপানের পরে মলমূত্র যেরূপ হওয়া উচিত তাহাই হইয়াছে এবং মাতঙ্গকে প্রফুল্ল দেখিলে পুনরায় তৈল পান করিতে দিবে। এইরূপে চতুর্থ দিবসে অন্ধ দ্রোণ তৈল পানের পরে মাতজকে একশত ধনু পরিমিত ‘পথ + শনৈঃ শনৈঃ ভ্রমণ করাইবে; কারণ তাদৃশ পরিমিত ভ্রমণের ফলে পীত তৈল উহাদিগের সর্বাঙ্গে সঞ্চারিত হইয়া পাকস্থলীতে যথাযােগ্যরূপে লয় প্রাপ্ত হইয়া থাকে, কখনও বিকৃত হয় না। তদশ অবস্থায় পর্গ্যাপ্ত উষ্ণ (সিদ্ধ) জল পান ও চিরাভ্যস্ত তৃণাদি ভােজন করতে দিতে পারা যায়। পঞ্চম দিবস অতীত হইলে পাঁচ আঢ়ক ষষ্ঠ দিবস অতীত হইলে ছয় আঢ়ক পর্যন্ত পাণীয় ল প্রদান করা যাইতে পারে। এইরূপ ছয়দিন অতীত হইলে সপ্তমদিনে মাতঙ্গকে পরীক্ষা করিবে- তাদৃশ পৰ্যাপ্ত উষ্ণজল পান করিয়াও যে মাতঙ্গের কোষ্ঠ পরিষ্কার না হয় তাহার কোষ্ঠ অতি রুক্ষ এবং বায়ুপীড়িত বলিয়া জানিবে । অঢ়ক ক্রমে তাদৃশ মাতঙ্গের উষ্ণজলের পরিমাণ বর্ধিত করিয়া যে পরিমাণ জল সে পরিপাক করিতে পারে তাকে সেই পরিমাণে ঈষৎ উষ্ণঞ্জল পান করিতে দিবে; কিন্তু এইরূপে বর্জিত মাত্রায় জল পান করিতে দিয়াও উত্তম মাতকে দ্বাত্রিংশৎ আচকের অধিক, মধ্যমবলসম্পন্ন মাতঙ্গকে অষ্টাবিংশতি অাচুক এবং হীনবল সম্পন্ন মাতঙ্গকে চতুর্বিংশতি আঢ়কের অধিক জল পান করিতে দিবে না। যে সকল মাতলের জঠরানল অত্যন্ত প্রদীপ্ত : তাহাদিগকে সপ্তাহ পর্যন্ত তৈল পান করিতে দিবে, যে সকল মাতঙ্গের অগ্নিবল মধ্যম তাহাদিগকে পঞ্চাহ এবং যে সকুল মাতলের জঠাবানল তাদৃশ প্রদীপ্ত নহে তাহাদিগকে তিনদিবস মাত্ৰ তৈল পান করিতে দিলেই যথেষ্ট হইবে। তাহাতেই বারণগণের কোষ্ঠ-বিরেচনও বিশােধিত হইয়া থাকে। স্নেহপানকালে মাতঙ্গগণকে লবণ ভােজন করিতে দেওয়া কৰ্ত্তব্য নহে। পীত তৈল যে মতঙ্গের উত্তমরূপে পরিপাক প্রাপ্ত হয় না, তাহাদিগকে দুই বা তিন দিবস পরে পরে তৈল পান করিতে দিবে। তাদৃশ মাতঙ্গকে দুই তিন দিবস অন্তর পিপ্পণী, মরীচ পঞ্চলবণ, শুণ্ঠ, এই সকল চূর্ণপিণ্ডি বড়ি করিয়া সেবন করিতে দিবে। বাত নাশক তক্ৰ (ঘোল) গঞ্চলবণ ও পূর্বোক্ত মৃদুস তাহাদিগের হিতকর পথ্য। এই প্রকারে পীত তৈল জীর্ণ হইলে তাহাকে পুনরায় তৈল পান করিতে দিবে। ৫ এয়। মাইল।
মেহ-পান বিধি। পক্ষান্তরে বারশগণের পীত তৈল অজীর্ণ অবস্থায় থাকিলে যে সকল লক্ষণ প্রকাশ পায় তাহা বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন ;- তাদৃশ অবস্থায় উহাদিগের দাহ, গ্লানি, মুচ্ছা, শ্লেয়যুক্ত তৈল বমন, বক্ষঃস্থলের তীব্ৰ জালা; কম্প, দীর্ঘশ্বাস, মুখপােষ, উদরভঙ্গ, তরল মলের সহিত রক্ত ক্ষরণ প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাদৃশ অবস্থায় স্নেহ ব্যাপ চিকিৎসায় উল্লিখিত বিধানানুসারে চিকিৎসা করা কর্তব্য। অতঃপর মাতঙ্গগণের পীত তৈল জীর্ণ হইতে থাকিলে যে সকল লক্ষণ প্রকাশ পায় তাহা বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন; তাদৃশ অবস্থায় উহাদিগের অঙ্গ গ্লানি, জন্তণ ও তৃষ্ণা প্রভৃতি লক্ষণ সমুদয় প্রকাশ পায়। ঈদৃশ অবস্থায় লন (উপবাস) ও যবাগু (উ) পান করিতে দিলে উপকার দশে। এইরূপে যথাবিধি স্নেহ পান শেষ হইলে বারণগণকে পাঁচদিন পর্যন্ত অনুমণ্ড পান ও লঘুপাক মৃদুতৃণ ভােজন করিতে দিবে। যদি মলবদ্ধ ও রুক্ষ বােধ হয় তবে মাতঙ্গগণকে অংশ মাত্ৰ অহা প্রদান করা আবশ্যক এবং অভ্যস্ত হইলে তাহা ক্রমে বদ্ধিত এবং মুগের যূষের সহিত মিশ্রিত করা কর্তব্য। পিপ্পলী, আদা ও পঞ্চমূলের রস সহ শালি ধান্তের অন্ন তাদৃশ অবস্থায় হিতকর। সুসিদ্ধ জল ঈষদুষ্ণ অবস্থায় পান করিতে দিলে স্নেহপান কালে সবিশেষ উপকার দর্শে। স্নেহপানের পরে জাঠরান বিশুদ্ধ হইলে পিপ্পলী মরিচ, শুষ্ঠী ও গুড়ের সহিত শশক তিত্তির, লাব, মহিষ, মৃগ, বরাহ, ও ময়ূরের মাংসের রস বারণগণকে পান করিতে দিবে। অথবা গুড়মিশ্রিত তিলের খিচুড়ী ভােজন করিতে দিলেও উহাদিগের পুষ্টি সাধন হয়। পঞ্চ লবণযুক্ত ‘প্রসন্না' নামক মদ্য কিংবা বড় প্রতিপানি পান করিতে দিলে সবিশেষ উপকার দর্শে। এই উপচার দ্বারা মাতলকে দুই মাস রক্ষা করিতে হইবে। অতঃপর রসের পরিমাণ নির্দেশ করা যাইতেছে—মাতঙ্গের (উচ্চতার) প্রতি অরঙ্গিতে অৰ্ধাঢ়ক পরিমাণে মাংসরস প্রদান করা যাইতে পারে। প্রতিদিন সকালে কিংবা প্রাতঃকালে পূর্বোপদেশ ক্রমে ভ্রমণ করাইবে। তাহার ফলে মাতঙ্গ নীরােগ থাকে। বায়ণগণের স্নেহ-প্রয়োগ সম্বন্ধে এই গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রে যেরূপ উপদেশ প্রদান করা হইয়াছে তদনুসারে কাৰ্য্য করিলে উহাদিগের দেহ হৃষ্টপুষ্ট হয়, স্নেহ পানে কোনও রূপঅনিষ্ট হয় না। তৈলের যে মাত্রা উপদিষ্ট হইল ঘৃতেরও সেই মাত্রা এবং অন্যান্য পথ্যাদির বিধান ও তদনুরূপ। আশ্বিন মাসে বায়ণগণের ঘূপান বিধেয়। প্রাতখিত মাতল মলমূত্র ত্যাগ করিলে তাহা পরীক্ষা করিয়া তাহাকে নীরােগ ১৪ গজায়ুৰ্বেদ-সংহিতা। জানিলে ঈষদুষ্ণ গব্যঘৃত পান করিতে দিবে। ঘৃত পানকালেও মাতঙ্গকে আবৃত স্থানে স্থাপন করিবে। শুষ্ক গোময় নির্মিত বিস্তীর্ণ শষ্যা তাদৃশ অবস্থায় হিতকর। মৃদু হরিদ বর্ণ ঘাস ও বাতনাশক কবল ( কুচড়া) উহাদিগের সুপথ্য। পরদিবস প্রাতঃকালে কোষ্ঠশুদ্ধি ও মাতঙ্গকে প্রফুল্ল দেখিয়া পুনরায় ঈষদুষ্ণ গব্যঘৃত পান করিতে দিবে। তাদৃশ অৱস্থায় প্রথমতঃ একশত ধনুঃ-পরিমিত স্থান ভ্রমণ করাইবে এবং পাকস্থলীর ক্রিয়ার প্রতি তীক্ষ দৃষ্টি রাখিবে। ভ্রমণের দ্বিতীয় দিনে পথের পরিমাণ পূৰ্ব্বাপেক্ষা দ্বিগুণ হওয়া উচিত। সুতপানের অন্যূন ছয় ঘণ্টা পরে হকে সুসিদ্ধ ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করাইবে। রাএিতে মাতঙ্গকে গাত্রোখান করিতে দেখিলে তাহাকে ভোজনার্থ মৃদু ও হরিতৃণ প্রদান করিবে। পর দিবস প্রাতঃকাশের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করিয়া পুনরায় পূৰ্ব্ববৎ ঘৃত পান করিতে দিবে। হে অঙ্গনাথ, ইহাই মাতঙ্গগণের ঘৃত পানের বিধান বর্ণনা করিলাম। যথাশাস্ত্র ঘুতপানের ফলে দুর্বল মাতঙ্গ সবল হয় এবং উহাদিগের দেহ হৃষ্টপুষ্ট হইয়া থাকে। তখন উহার দূর পথ গমন করিয়া শীত উষ্ণ সহ ও নানাবিধ ক্লেশ অগ্রাহ্য করিয়া প্রভু-কাৰ্য্য সাধনে অগ্রসর হয়। নরেশ্বর, ইহাই ঘৃত পানের গুণ আপনার নিকটে যথাযথভাবে কীৰ্ত্তন করিলাম । হে মহীবল্লভ, অনন্তর বসা ও মজ্জার নিখিল প্রমাণ বণিত হইতেছে শ্রবণ করুন :-বিজ্ঞ চিকিৎসক চৈত্র ও বৈশাখ মাসের মধ্যে বারণগণকে মজ্জা ও বস পান করিতে দিবেন। মহিষ, অজ ও বরাহ প্রভৃতি অরণ্য পশুর, কুম্ভীর পাঠীন (বােয়াল) মৎস্য প্রভৃতি জলজন্তুর সপ্তঃকৃত বসা ও মজ্জা বারণগণকে পূর্বোক্ত বিধানক্রমে পান করিতে দিবে। শাস্ত্রজ্ঞ চিকিৎসকগণ, ঘূত পনেযে যে নিয়ম প্রতিপালনের উপদেশ আছে, বসা ও মজ্জা পানে ও তাহার অনুষ্ঠান করিয়া থাকেন। অঙ্গপতির সবিনয় প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বাণগণের স্নেহ পানের উল্লিখিত বিধান করিয়া গিয়াছেন। যে নরপতি এই গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রোক্ত উপদেশ ক্রমে বারণগণকে স্নেহপান করিতে দিয়া থাকেন, তাহার মায়ূথ নীরােগ ও সবল হইয়া তাহাকে বিজয় লক্ষ্মীর অধিকারী করিষ্যা থাকে। ইতি-এমষিপালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তরস্থানে দ্বিতীয় অধ্যায়।
তৃতীয় অধ্যায়। অন্ন পান বিধি। ; একদা মহানুভৰ অঙ্গপতি, মহর্ষি পালকপ্যকে প্রণতিপূৰ্ব্বক কৃতাঞ্জলিপুটে জিজ্ঞাসা করিলেন;-ভগবন, অমি মাহদগণের অনুপান বিধি আমূল শ্রবণ করিতে ইচ্ছা করি-দুগ্ধ, ঘৃত, মেদ, জল ও মাংসরস প্রভৃতি পানের যে যে দোষ ও গুণ আছে তাহা আদ্যোপান্ত বর্ণনা করিয়া আমার কৌতুহল পরিতৃপ্ত করুন। অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন ; হে অঙ্গনাথ, বারণগণের দৈর্ঘ্য, উচ্চতা ও পরিণাহ (বেষ্টনের পরিমাণ) অনুসারে আহার ও পানীয় প্রদান করা আবশ্যক। অবশ্য বলা বাহুল্য যে যে মাতঙ্গের সম্মুখ ভাগ ক্ষীণ ও পশ্চাদ্ভাগ পুষ্ট কিংবা তদূবিপরীত অথবা যে মাত কুঞ্জ খঞ্জ বামন বা অন্যবিধ বিকলাঙ্গ তাহাদিগের সম্বন্ধে এ নিয়ম সম্যক্ প্রযোজ্য নহে; তাদৃশ মাতঙ্গের আহার্যের পরিমাণ নির্ধারণ সুযোগ্য চিকিৎসকের বিচার বুদ্ধির উপরে নির্ভর করিতে হইবে। মাতঙ্গকে সমতল ভূমিতে দণ্ডায়মান করিয়া বাহুমূল সমসুত্রে উচ্চতার পরিমাণ, কুম্ভ হইতে পেচক (লাঙ্গুল মূল ) পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের পরিমাণ এবং মধ্যস্থলে পরিণাহ বা ব্যাপ্তির (বেষ্টনের) পরিমাণ গ্রহণ করা আবশ্যক। যে মতঙ্গের দেহের পরিণাহ বা ব্যাপ্তি অষ্ট অররি * তাহাকে উত্তম মাতঙ্গ বলিয়া জানিতে হইবে। অনন্তর অঙ্গপতি রোমপদ পুনরায় কৃতাঞ্জলিপুটে জিজ্ঞাসা করিলেন;--ভগবন, আপনি হস্তিনীদিগের পরিমাণ কুত্রাপি বর্ণনা করেন নাই, আমি তাহা সবিশেষ শ্রবণ করিতে ইচ্ছা করি বিস্তারিতরূপে বর্ণনা করিয়া আমার অজ্ঞানের নিরাকরণ করুন। অঙ্গেশ্বরের ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন ;- হে নরনাথ, যে করিণীর উচ্চতা ছয় অরঙ্গি, দৈৰ্ঘ আট অরড়ি এবং পরিণাহ নয় অরঙ্গি তাহাকে উত্তমা, যে করিণীর উচ্চতা পাঁচ অরঙ্গি, দৈর্ঘ্য সাত অরত্নি এবং পরিণহ আট অঙ্গি তাহাকে মধ্যমা এবং যে কণিীর উচ্চতা চারি অঙ্গি, দৈর্ঘ্য ছয় অরক্তি ও পরিণাহ সাত অরতি তাহাকে নিকৃষ্টা করিণী বলিয়া বুঝিতে হইবে। • কনিষ্ঠ অঙ্গুলির মস্তক হইতে কনুয়ের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত এক জঙ্গি প্রায় ১৭ ইঞ্চি।
গজায়ুর্বেব-সংহিতা। হে অঙ্গনাথ, পূর্বেই কথিত হইয়াছে যে দেহের পরিমাণ অনুপাতে মাতঙ্গ- গণের আহাৰ্য বস্তুর পরিমাণ অবধারিত হইয়া থাকে। মাতঙ্গের উচ্চতায় প্রত্যেক অরঙ্গিতে এক দ্রোণ বা আট সর পরিমিত আহার আবশ্যক; কিন্তু অন্ন ও স্নেহ (তৈল ঘৃত, বসা ও মজ্জাম্বন্ধে বিধান এই যে প্রত্যেক অরঙ্গিতে অৰ্দ্ধ আঢ়ক বা চারি দের • স্নেহ পদার্থাতজগণকে পান করিতে দিবে। সেই রূপ প্রত্যেক অরঙ্গিতে এক দ্রোণ হিসাবে তণ্ডুল প্রদান করা যাইতে পারে। লবণ ও গুড় প্রত্যেক আত্নিতে দশ পল করিয়া দেওয়া যায় । একটা উত্তম মাতঙ্গকে দ্বাদশ দ্রোণ বা ২/ মন পরিমাণে ঘাস আহার করিতে দিতে পারা যায়। আর্জ ঘাসের এই পরিমাণ, শুষ্ক ও লঘু ঘাসের পরিমাণ ইহার দ্বিগুণ এবং ফলতঃ ধান্তের পরিমাণ ইহার অন্ধ করিতে হইবে। তদ্ভিন্ন যে ধান্তের অভ্যন্তরে শস্ত জন্মিয়াছে তাহার পরিমাণ অংশ মাত্র। মাতঙ্গগণ প্রাতঃকালে তৈল লবণ বিহীন বিধ ভােজন করিবে এবং সায়ংকালে ঘৃত, গুড় দধি মাংস, স্নেহ ও লবণযুক্ত বিধা আহার করিবে। গ্রীষ্মকালে মাতঙ্গগণকে মােদক (মিষ্টান্ন ) ভােজন করিতে দেওয়া উচিত। মাৎসরস প্রস্তুতের জন্য বরাহ, মেষ, মহিষ, শশক, ছাগ ও হরিণের মাংস গ্রহণ করা যাইতে পারে এবং মাংসের পরিমাণ প্রত্যেক দ্রোণে পঞ্চাশ পল মাত্র হওয়া আবশ্যক। তদ্ভিন্ন কুক্কুট, ময়ুর, লাব (লাউয়া ছাতরা ১, তিত্তির ও আটিহংস (বাশিয়া হাস) প্রভৃতি বিহঙ্গের মাংস দ্বারাও মাংসরস প্রস্তুত করা যাইতে পারে। প্রত্যেক দ্রোণে অর্থাৎ প্রত্যেক পঞ্চাশ পল মাংসে এক পল করিয়া এিকটু, (শুঠ পিপুল, মরিচ } চুর্ণ প্রদান করিতে ইবে। হে নরেশ্বর, ইতঃপূর্বে বারশগণের সায়ংকালে দধিস্নেহ প্রভৃতি দ্রব্য সহ যে বিধা বা অন্ন তণ্ডুলাদি ভােজনের বিধান করা হইয়াছে সেই স্নেহের পূর্ণ পরিমাণ এক কুড়ব বা আট সের এবং দধির পূর্ণ পরিমাণ অর্থ আঢ়ক বা চারি সে মাত্র হইবে। তদ্বারা উক্ত অন্নাদি উত্তমরূপে মর্দন করিয়া মাতঙ্গকে ভােজন করিতে দিবে। এই বিধ (কুচড়া) ভােজনের পরে মাতলকে মদ্য পান করিতে দিবে। মদ্য পানের পরেও ভোজনে কোন দোষ নাই; কিন্তু মদ্য পানের পরে মাংসরস পান অহিতকর। হে নরেশ্বর, উত্তম, মধ্যম ও অধম এই ত্রিবিধ মাতঙ্গের * তারত্নেী প্রদাতব্যং স্নেহত্যার্পাকং ভবেৎ। মূলউত্তর স্থান ৩য় অঃ ৩৭ স্নেহপানবিধি অধ্যায়ে—তৈল মাত্রা তু নাগ গৰ্দ্ধ প্রস্থ সম্মত উত্তর স্থান ২য় অঃ ২৪।
স্নেহ-পান বিধি; পক্ষেই যে পান আহারের পরিমাণ নির্দেশ করা হইয়াছে, যে সকল মাতলের অগ্নিবল প্রদীপ্ত তাহাদের পক্ষে তদপেক্ষা অধিক পরিমাণে ও পান ভােঙ্গনে ব্যবস্থা হইতে পারে। অনন্তর মহামন: অঙ্গপতি পুনরায় নিয়ে গাত্রাখানপূর্বক অব্যাকুল চিত্তে কৃতাঞ্জলিপুটে জিজ্ঞাসা করিলেন-ভগবন, আপনি বারশগণের পান ও ভােজ নের সম্বন্ধে যে যে উপদেশ প্রদান করিলেন আমি, আমার গজাধ্যক্ষকে তাহা সেইরূপ ভাবেই উপদেশ করিব, কিন্তু যে আহারের যে গুণ তাহা বর্ণনা করিয়া আমার সংশয় অপনয়ন করুন। অক্ষুব্ধমতি অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন—নরনাথ, শ্রবণ করুন -- প্রথমতঃ ঘাসেব গুণ-ই বর্ণনা করিতেছি-বরিশগণের পক্ষে তৃণ তৃষ্ণা-নিবারক, তৃপ্তিকর, মনঃ- প্রসাদন, গ্রহণীদীপন, বাত পিত্ত কফ ও বঙ্গদোষ নিবক, জীবনীশক্তি বৰ্দ্ধক, চক্ষুঃ কর্ণাদি ইন্দ্রিয়গণের প্রসন্নতাজনক, শ্রম গ্লানি ও তন্দ্রা নাশক এবং সুনিদ্ৰাজনক। হে অঙ্গনা, যে কারণে তৃণে উল্লিখিত গুণাবলী বিদ্যমান তাহা বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন -হে পৃথিবীশ্বর, সসাম হইতে জল এবং জল হইতে তৃণ উৎপন্ন হইয়াছে। জগতে স্থাবর ও জুলমাত্মক যাহা কিছু দৃষ্ট ৩য়, তৎসমুদয়ই সােমগুণবহুল এবং সােমগুণ দ্বারা পরিবর্ধিত হইয়া থাকে। গীতে আজন্ম অভ্যস্ত বারণগণ বিশেষরূপে সোমাত্মক। এই নিমিত্ত সূর্য, যখন উত্তরায়ণে গমন করিতে থাকেন, তখন বারণগণ ক্ষীণ ও হীনপ্রাণ হইয়া থাকে। পক্ষান্তরে সূর্যের দক্ষিণায়নে বারণগণ সুস্থ ও সুখী হয়। বারণ সুখে তৃণ ভােজন করিয়া, উৎসাহশীল বলবান হৃষ্টপুষ্ট ও সুমী হইয়া থাকে। আরণ্য-বারণগণ স্বাধীনভাবে তৃণ ভােজন ও করিণীগণের সতি গিরিনদীতে বিহার করিয়া পরম সুখে জীবনযাপন করে এবং তাহার ফলে ই উহার সন্তান জন্মে। কেবল মাতঙ্গ কেন প্রায় সকল পশুই তৃণভোজী ও তৃণপ্রিয় এই নিমিত্ত অরণ্যেই হউক কিংবা গ্রামেই হউক বাণগণ বারণগণ তৃণ ভােজন করিয়া প্রাণ ধারণ করিতে পারে। যেমন মানবগণ মিষ্টান্ন ভােজনকে অন্য দ্রব্য ভােজন করিয়া থাকে তেমনি বারণগণ তৃণ ভােঙ্গনে তৃপ্ত হইয়া মঞ্চ ঘৃতাদি চতুর্বিধ মেহদ্রব্য ও মাংসরস পান করিয়া সুখী হয়। তদ্ভিন্ন প্রয়োজন- মুসারে নস্য, বতিক্রিয়া (পিচকারী দান) ও বিবিধ ভৈষজ্য ব্যবহার ও পরাধীন গ্রাম্য রণগণের পক্ষে প্রয়োজন হয়। এই নিমিত্ত আজন্ম তৃণ ডােজনে অভ্যস্ত বায়ণগণ যদৃচ্ছাক্রমে তাপত্র তৃণ ও বৃক্ষভঙ্গাদি (ডাল) ১৮ গলায়ুর্বেদ-সংহিতা। ভােজন করিয়া থাকে এবং তাদৃশ যথেচ্ছ আগরের ফলে বিধা (কুচড়া) লবণের অভাবেও উহাদিগের দেহের উপাদানস্বরূপ বাতপিত্ত কফ ও রক্ত দূষিত ৰা কুপিত হয় না। পক্ষান্তরে পরাধীন বন্ধন-ক্লেশ-দুঃখিত গ্রাম্য বারণ- গণ কেবল তৃণাদি ভােজনে জীবনধারণ করিতে সমর্থ হয় না। এই নিমিত্ত ঘৃত তৈলাদি স্নেহ পদার্থ, দুগ্ধ মদ্য মসরস ও বিধ। (কুচড়া) প্রভৃতি বিবিধ আহার এবং রােগে নানাবিধ ঔষধ এয়ােগ দ্বারা তাহাদিগের জীবন রক্ষা করিতে হয়। হে পৃথিবীশ্বর, আপনার গজঘূথকে যথাবিধি পান ভােঙ্গন দ্বারা হৃষ্টপুষ্ট করা কর্তব্য। পুনরায় অঙ্গরাজ মহামুনি পলকাপ্যকে সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন- ভগবন, আপনি বারণগণের যে চতুৰ্বিৰ আহারের উল্লেখ করিয়াছেন তাহা মাতঙ্গগণকে কিরূপে প্রদান করা কর্তব্য, তাহা এইক্ষণে বর্ণনা করিয়া আমার কৌতূহল পরিতৃপ্ত করুন। মহানুভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন-হে অঙ্গ নাথ, ভোজ্য ভক্ষ্য পেয় ও লেহ এই চতুর্বিধ আহার। তন্মধ্যে ভােজ্য নানা দ্রব্যজাত ও নানাবিধ। ভােজ্য সংস্কৃত ও অসংস্কৃত ভেদে দ্বিবিধ, তন্মধ্যে প্রথমতঃ সংস্কৃত ভােজ্যের বিষয় যথাক্রমে বর্ণনা করতেছি-অন্ন মাংসরস, ঘৃতা'দ স্নেহ, কবল ও দধি প্রভৃতি বারণগণের সংস্কৃত ভােজ্য। পক্ষান্তরে উল্লিখিত দ্রব্য সমুদয় বিন অন্ন ও তণ্ডুল প্রভৃতিই অসংস্কৃত ভোজ্য। কুবলয় পল্লব বৃক্ষের শখি। মূল ত্ব ও বিশেষরূপে তৃণ সমুদয় বাণগণের ভক্ষ্য বলিয়া পরিহিত। যবাও (যাই। দুগ্ধ মদ বিবিধ মাংসরস, সংস্ক ত ও অসংস্কৃত সকল প্রকার স্নেহ পদার্থ যুবক, তৃবৃত, মহামেই এই সকল দ্রব্য পেয় মধ্যে গণনীয়। তন্মধ্যে মিশ্রিত সমভাগ তৈল ও ঘূতকে সবক’ বা ‘যমক’ সমভাগে মিশ্রিত তৈল ধৃত ও বাকে* তৃবৃত, এং একযােগে পৰু সকল প্রকার মে মাংস মেদ ও মজ্জাকে ‘মহামেলা’ আখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে। উৎকারিকা, বেসবার এবং মেদক এই বিবিধ দ্রব্য লেহ নামে অভিহিত হয়। তন্মধ্যে উৎকারিকা পাকের বিধান এই - ১। পিয়ালবীজ ৫। ময়দা ২। খেজুরের মাথি ৬। গব্যঘৃত ৩। কঁঠাল ৭। মিছরি বা চিনি ৪। যবের ছাতু • বিবৃত হওয়া উচিত। } ।
স্নেহ-পান নি। | ২। চাউল উৎকারিকা পাক এণালী। প্রথমোক্ত ছয় প্রকার দ্রব্য এক যোগে পাক করিয়া অবতরণের কিঞ্চিৎ পূৰ্বে তন্মধ্যে সপ্তম মিছরি বা চিনি প্রদান করিয়া অবতারণ করিৰে। ইহাই মাতঙ্গগণের উৎকারিকা নামে প্রসিদ্ধ বল পুষ্টিকর লেহ আহার । ১। ময়দা /২৫, ৪। গব্যঘৃত ২। ৫। ইকু গুড় ৩। পিপ্পণী চূর্ণ এই পঞ্চবিধ দ্রব্য লসহ একযােগে পাক করিলে ও আর একরূপ ‘উৎকারিকা বলা যায়। অথবা- ১। ভাজা যবের ছাতু ২। গোল মরিচ ২। কের চূর্ণ ২৷৷ ৫। মধু ৩। গব্যঘৃত প্রথমােক্ত পঞ্চবিধ দ্রব্য জলসহ পাক করিয়া শীতল হইলে তন্মধ্যে মধুমিশ্রিত করিবে। ইহাও এক প্রকার উৎকারিকা। ইহার যে কোনও প্রকার উৎকারিকা ভোজনে বারণগণের জঠরানল প্রদীপ্ত এবং দেহ পুষ্ট ও সবল হয়। বেস বার পাক প্রণালী। হে অঙ্গেশ্বর, অনন্তর বেসবারের বিষয় আপনাকে বলিতেছি শ্রবণ করুন- ১। অস্থিবিহীন মাংস ৪। গোলমরিচ চুর্ণ ২। পিপ্পলী চুর্ণ ৫। ইক্ষু ৩। শুগী চূর্ণ ৬। গব্য ধৃত প্রথমে মাংস সুসিদ্ধ করিয়া তাহা ঝোল হইতে পৃথক করতঃ শিলে উত্তমরূপে বাটিতে হইবে। এবং আর বার অপর পঞ্চবিং দ্রব্যের সহিত একযোগে পূৰ্ব্ব রক্ষিত ঝােলসহ পুনরায় পাক করিতে হইবে। শীতল হইলে মাতঙ্গকে লেহন করিতে দিবে। অথবা দ্বিতীয় বার পাক কালে উহার সহিত দধি মিশ্রিত করিয়া পাক করিলে আর এক প্রকার বেসবায়’ হয়। এই উভয়বিধ ‘বেসর’ ই কারণগণের বলও পুষ্টিকর। মেদক পাক প্রণালী। (১) ১। গােটা গম ৩। মদের সিট। ৪। গুড় গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। প্রথম গােধূম মুসিদ্ধ করিয়া অপর ত্রিবিধ দ্রব্য তাহার সহিত মিশ্রিত করিবে। ইহা এক প্রকার মেক। এই মেদক সেবনে বারণগণের বল বৰ্ধিত হইয়া থাকে। অথবা- (২) ১। বিরক্ত তৈল ৩। হিল তৈল ২। মাষকালাই এই ত্রিবিধ দ্রব্য একত্র বাটিয়া মাতঙ্গগণকে শেহন করিতে দিলে উহ, দি গর কৃমি নষ্ট ও নির্গত ইয়া থাকে। অথবা ( ৩ ) ১। যৰ ৪। গোদুগ্ধ ২। কুন্মষ (বােরাে ধানের চাউল) ৫। গব্যঘৃত ৩। তিল চুর্ণ ৬। ইক্ষুগুড় প্রথম ও দ্বিতীয় যবকুল্মষ সুসিদ্ধ করিয়া পরে তাহার সহিত একযোগে অপর চতুবিধ দ্রব্য পুনরায় উত্তমরূপে পাক করিবে এবং শীতল হইলে তাহা বারণগণকে লেহন করিতে দিলে তাহাদিগের দেহ পৃষ্ট • সবল হইয়া থাকে। এই ত্রিবিধ ‘মেক বারগণের মাংস রক্ত বল ও মেদ বদ্ধিত করিয়া থাকে । এই নিমিত্ত ‘মেদক আখ্যা প্রান্ত হইয়াছে। বারণকে দেয় দুগ্ধের পরিমাণ সাধারণতঃ তিন প্রস্থ হইবে; ধৃতের পরিমাণ এক প্রস্থ কথিত আছে। মাংসরসের পরিমাণ এক দ্রোণ এবং দধির পরিমাণ অর্ধ আটক হওয়া আবশ্যক। তৈলের পূর্ণ পরিমাণ অর্ধ আঢ়কের বা চারি সেরের অনধিক। মেদকের ও মাংসের পরিমাণ অর্ধ আঢ়কের বা চারি সেরের অধিক ওয়া উচিত নহে। শক্ত বা ছাতুর পরিমাণ এক কুড়ব এবং গুড়ের পরিমাণ আট তোলা মাত্র। অন্নের পরিমাণ তৈলের সমান অর্থাৎ অর্ধ অঢ় বা চারি সের মাত্র হওয়া কর্তব্য। মাংস, মেহ রসযুক্ত করিয়া তাহার সহিত প্রতি দ্রোণে একপল হিসাবে ত্ৰিকটু চূর্ণ মিশ্রিত করিবে এবং সায়ংকালে মাতঙ্গকে তাহা ভােজন করিতে দিবে এবং দধি ও গুড় যুক্ত মাংস বারণগণকে পূর্বাহে ভােজন করিতে দিবে। হে নরেশ্বর, অনন্তর আমি বিধা বা কুচড়ার গুণ বর্ণনা করব। তন্মধ্যে নিম্নলিখিত ধান্তের তণ্ডুল ব্যবহারই প্রশস্ত। শালিধান্ত যব গােধূম ব্রীহি প্রিয় এবং কোব বা কোন ধান্য। এই সকল ধান্যের যথা লাভ তণ্ডুল কুচড়ায় s ' স্নেহ-পান বিধি, ২১ ভােজন করিতে দিলে বারগণের তৃপ্তি সাধিত হইয়া থাকে। এবং উহার। মুখে নিদ্রা যায় । হে অঙ্গনাথ, অতঃপর ভক্ত স্নেহ-গুণ বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন। বায়ণগণের ভােজ অন্নে তৈল কিংবা ঘৃত মিশ্রিত করিয়া প্রদান করা কর্তব্য। তন্মধ্যে যে সকল মাতঙ্গের দেহ পিপ্রধান, যাহারা ক্ষীণদেহ যাহারা মদক্ষীণ বৃদ্ধ কিংবা করিণী সংসর্গে দুৰ্বল। যে সকল মাতঙ্গশিশু দুর্বল কিংবা নেত্র- রােগ-গ্রস্ত অথবা নবধূত তাহাদিগের অন্নে গব্যঘৃত প্রদান করিলে সবিশেষ উপকার দর্শে। কারণ তাদৃশ বর্ণ রসও সুগন্ধি (অবিকৃত) গব্য স্বত মিশ্রিত সম্যক্রূপে দেহবর্ণ-প্রসাদক আরােগ্যকর বৃংহণ (তেজোবৰ্ধক) আয়ুৰ্বদ্ধিকর বিষ ও সৰ্বরােগ প্রতিষেধক বলিয়া কথিত আছে। পক্ষান্তরে পুরাতন দূষিত বা বিকৃত ঘূত মিশ্রিত অন্ন ভােজনে মাতঙ্গগণের অহিত সাধনই হইয়া থাকে এই নিমিত্ত বহু চেষ্টা সত্ত্বেও উহারা তাহা ভােজন করিতে প্রবৃত্ত হয় না । যে সকল মাতঙ্গ পরিমিত ব্যায়ামের অভাব বশতঃ স্থলশারদ রোগে আক্রান্ত হইয়া স্থলদেহ সম্পন্ন হয়, যাদের দেহে প্রায়শঃ বাতের উপদ্রব লক্ষিত হয় যে সকল মাতঙ্গের গতি অতিশয় ধীর, যে সকল বারণ বাত-প্রকৃতিক কিৎসা শ্লেষ্ম-প্রকৃতিক যে সকল মাতঙ্গ পুনঃ পুনঃ আনাহ ( পেট ফাঁপা) রােগে আক্রান্ত হইয়া থাকে, পথ গমন কালে যে সকল মাতঙ্গের মাংস প্রায়শঃ স্পন্দিত হয় এবং যাহাদের পাকস্থলীতে কৃমি সঞ্চিত হইয়া থাকে, তাহাদিকে হৈল পান করিতে দিলে সবিশেষ উপকার দর্শে। হে অঙ্গনাথ, করিণীগণের পক্ষে সর্বদ। হৈল পানই বিধেয়; কারণ তাহাদিগের দেহ পিত্ত প্রধান, এই নিমিত্ত তৈল তিন্ন ধৃত বসা প্রভৃতি অন্য কোন প্রকার স্নেহ পদার্থ তাহাদিগের পক্ষে প্রশস্ত নহে। তৈল বাত নাশক মাংস বর্ধক, কৃমি দোষ নিবারক ধাতু পুষ্টিকর উৎসাহ জনক তেজ ও বল বর্ধক এই নিমিত্ত তৈল-মর্দিত বিধ। ( তণ্ডুলাদির কুচ ডা) মাতঙ্গীগণকে ভােজন করিতে দেওয়া কৰ্ত্তব্য। কিন্তু অজীর্ণ রোগগ্রস্ত কিংবা বৃদ্ধমাতলের তৈল পান হিতকর নহে । চক্রেত (বাণীতে প্রস্তুত। সদ্যঃকৃত সুস্বাদু তৈলই বারণগণের পেয়ও হিতুকর। পক্ষান্তরে যে তৈল মলিন (খোলা) যাহাতে কাটাধি দৃষ্ট হয়, যাহা কষায় রস সংযুক্ত কিংবা অম্লরস দূষিত, তাহা পানে বারগণের অতীসার হইয়া থাকে এবং মর্দনে হরিদববর্ণ হয় ৪। সুতরাং তাদৃশ দুষিত তৈল সৰ্ব্বথা বর্জণীয়। হে নরেশ্বর, অনন্তর লবণ দানের গুণ বর্ণিত হইতেছে শ্রবণ করুন লবণ গজায়ুৰ্বেদ-চিত। ভোজনের ফলে বায়ণগণের ভুক্ত গুরুপাক দ্রব্য অল্পায়াসে পরিপাক প্রাপ্ত হয়, বর্ণ প্রসন্ন হয়। উহা রক্তবর্ধক বায়ুর অনুকূলত কারক মাস মেদঃ অস্থি মজ্জা বর্ধক মূত্র বস্তিশোধক পরিপাচক • রােগনাশক তেজো-বলবর্ধক, ক্লেদকর পাচক, বন কারক অগ্নদ্দীপক কৃমিনাশক এবং বাহ রোগ প্রতিষেধক। লবণ ভক্ষণের পরে মাতঙ্গগণ জল পান করিয়া থাকে। আহারের পরে লবণ ভােজন করিতে দিবে এবং তৎপরে বিধার অবশিষ্ট ভাগ সহ মিশ্রিত জল কারণগণকে পান করিতে দিবে। যেমন শুৰু কাষ্ঠ সমূহ পুঞ্জীভূত করিয়া তাহাতে অগ্নি সংযোেগ করিলে তাহা অতি অল্পকাল মধ্যেই সম্পূর্ণ রূপে দগ্ধ হয়, তেমনি বারণগণ নানাবিধ খাদ্য ভােজন করিয়া লবণ ভক্ষণ করিলে তাহাদিগের সমস্ত খাদ্য লবণ-প্রভাবে সহজেই পরিপাক প্রাপ্ত হইয়া থাকে, সুতরাং আহার ধারা বারণগণের দোষােপচয় সম্ভবপর হয় না। বারণগণের খাদ্য বস্তুর প্রকৃতি এ পরিমাণ অপরাপর সকল প্রাণী অপেক্ষা গুরুতর ও প্রভূত তর। বৃক্ষ ভঙ্গ লতাগুল্ম শস্য প্রভৃতি বিবিধ গুরুপাক দ্রব্য আহার করিয়াও মাতঙ্গগণ লবণ ভক্ষণ করিতে পাইলে সহজেই তাহা পরিপাক করিতে সমর্থ হয়; পক্ষান্তরে লবণ বজ্জিত আহার মন্ত্রবিহীন, যজ্ঞেয় ন্যায় বারণগণের বহুদোষকর; উহা অবিলম্বে বায়ু কুপিত করিয়া অজীর্ণ রােগ জন্মায়। ভক্ষিত মৃত্তিকা বারণগণের যে সকল দোষ উৎপাদন করে লবণ বজ্জিত বিধা বা আহার ও সেই সকল দোষ নয়ন করিতে পারে ; এই নিমিত্ত বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগণ কদাপি বারণগণের আহারান্তে লবণ দানে বিরত হয়েন না। যেমক লবণ সৈন্ধব লবণ বিটলবণ সৌবচ্চল (সাচ) লবণ স্বজ্জিকালবণ যবক্ষার লবণ সামুদ্রলবণ এবং উদ্ভিলবণ এই অষ্টবিধ লবণই বারণগণকে যথাবিধি লেহন করিতে দিবে। তন্মধ্যে কেবল সমুদ্রলবণই প্রতি দ্রোণে দশ পল দেয় এবং অবশিষ্ট সপ্তাবধ লবণের প্রত্যেক প্রতি অরক্সিতে পাঁচ পল করিয়া প্রদান করা কর্তব্য। ইক্ষুণ্ড দুগ্ধ গব্যঘৃত মাংস বস। (চী) মেদৰু উৎকারিকা বেসবার * নবগৃহীত কিংবা ক্ষীণদেহ মাতঙ্গকে প্রদান করিতে হইবে। নবধৃত বঙ্গ মাতজকে উত্তম আহার দ্বারা প্রলােভিত করিয়া অল্পায়াসে বশভূত করা যায়। প্রথম দিনে নবধৃত মাতকে গুড় মিশ্রিত তণ্ডুল পূর্ণ বিধা (কুচড়া) প্রদান করিতে হয় এবং পরে উহা প্রতিদিন এক এক পল বন্ধিত করিয়া এক কুড়ব পৰ্য্যন্ত * মেদক উৎকারিক ও বেসার এই বিবিধ পারিভাষিক লেহ দ্রব্য পাকের বিধান ইতঃপূর্বে লিখিত হইয়াছে। :
মেহ-পান নি। ২৩ করা যাইতে পারে। তৎপরে দ্বিগুণ ত্রিগুণ, এবং চতুগুণ পর্যন্ত নবধৃত মাতঙ্গকে বন্ধিত করিয়া এক আঢ়ক বা ৮ সেৱ পৰ্যন্ত গড় তণ্ডুল ভােজন করিতে দিতে পারা যায়। অনন্তর পূৰ্বোল্লিখিত দৈহিক পরিমাণের অনুরূপ মাত্রায় নবধূত মাতকে লবণ লেহনে অভ্যস্ত করিতে হয়। ক্রমে লণের মাত্র। বৃদ্ধির সহিত গুড়ের মাত্রা হ্রাস করিয়া কমে তাহাতে অভ্যস্ত হইলে তাহাদিগকে পূর্ণ মাত্রায় লৰণ লেহন করিতে দিতে হয়। গব্য ঘূত ও ইক্ষু গুড় মিশ্রিত সক্ত, (ছাতু) ও তণ্ডুল মাতঙ্গগণকে সায়ংকালে ভােজন করিতে নিলে উহাদিগে বল ও মাংস বর্জিত হয়। নবধৃত মাতঙ্গ যখন সকল প্রকার রসযুক্ত দ্রব্য ভােজনে অভ্যস্ত হয় তখন তাহাকে ক্রমে পূর্বোক্ত বিধানে বিবিধ পানীয় পান করিতে দিবে। নবধৃত মাতদের পানীয় সম্বন্ধে বিশেষ বিধান এই যে উহাদিগকে হৈল জলের সহিত মিশ্রিত করিয়া ঘৃত মেদ কিংবা তৈলের সহিত মিশ্রিত করিয়া এবং মেদ বসার সহিত মিশ্রিত করিয়া পান করিতে দিবে। তদ্ভিন্ন অবশিষ্ট রস সম্বন্ধে বিশেষ কোনও নিয়ম নাই, পূৰ্বোলিখিত বিধান অনুসারেই তাহা পান করিতে দিবে। কিন্তু কখনও মাতঙ্গগণের ঐকান্তিক ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাহাদিগকে বলপূর্বক পান ভােজনে বাধ্য করিবে না। হে নরনাথ, নবধৃত মাতঙ্গের ভােজন সম্বন্ধে বিশেষ নিয়ম এই যে উহাদিগকে: প্রথম দিনে একটি মাত্র কুচড়া খাইতে দিবে। তাহাতে অভ্যস্ত হইলে ক্রমে দুইটা তিনটা চারিটি করিয়া বর্জিত করিতে করিতে দৈহিক পরিমাণের অনুরূপ পূর্ণ মাত্রায় উপস্থিত হইবে। সেইরূপ স্নেহপান সম্বন্ধে ও প্রথমতঃ এক কুবা বা • অর্ধসের হইতে আরম্ভ করিয়া ক্ৰমে অভ্যস্ত হইলে পরে তাহার দ্বিগুণ ত্রিগুণ চতুগুণ বৃদ্ধি করিয়া দৈহিক পরিমাণের অনুরূপ পূর্ণ মাত্রায় প্রদান করা যাইতে পারে। সেহযুক্ত বিধ ভােজন করিতে দিলে মাতঙ্গগণ হৃষ্টপুষ্ট ও সবলদেহ সম্পন্ন হইয়া থাকে। মাতজগণকে মেহপানের পরে যথাবিধি ভােজন করিতে দিলে তাহাদিগের জাঠরাল সম্যকরূপে বদ্ধিত হয় এবং তাহার ফলে আহাৰ্য্য বস্তুর উত্তম পরিপাক, বাতপ্রকোপ-জনিত রােগ সমূহের উপশম ও তৃষ্ণা নিবৃত্তি হইয়া থাকে। • নিয়ন্তর শুষ্ক তৃণাদির কিংবা তরুশাখাদির ভােজনের ফলে যে সকল করিণী কশালী হয় এবং তাদৃশ অবস্থায় গর্ভবতী হইলে তাহাদিগের গর্ভস্থ শিশুর অঙ্গ সন্ধি সমুহ কুপিতবায়ু দ্বারা আক্রান্ত হইয়া থাকে। যথাসময়ে প্রসবের পরে ২৪ গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। ঐ সকল করি শাবকের অঙ্গসন্ধি সমূহে কুপিত রায়ু সময়ে সময়ে অধিকতর কুপিত হইয়া তাহাদিগের ‘গাত্ৰাতঙ্ক রােগ উৎপাদন করে। তাদৃশ অবস্থায় তাহাদিগের অঙ্গে তৈলাদির বহিঃ প্রয়ােগে ও বাঞ্ছিত ফল লাভ হয় না। তখন তাহাদিগকে যথাবিধি তৈল পান করিতে দিলে সবিশেষ উপকার দর্শে। যে সকল মাতঙ্গ স্থূলােদর কিংবা যাহারা শারদ রােগগ্রস্ত তাহাদিকে সর্ববিধ ৰণ মিশ্রিত প্রসন্না নামক মদিরা পান করিতে দিলে তাহার প্রতীকার হইয়া থাকে ; কারন বারুণী (মদ) মাতঙ্গগণের জাঠরানল প্রদীপ্ত ও অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ঘূত সম্পাদন করিয়া থাকে। উক্ত বারুণী বা মদিরা যথাবিধি তৈল সহ পান করিতে দিলে উহা বৃষ্যা বৃংহণী বীৰ্য্যবর্ধিণী এবং শ্লেষ্ম ও কৃমি নাশিনী হইয়া থাকে। তদ্ভিন্ন যে সকল মাতন প্রায়শঃ উদরা খুনি রোগগ্রস্ত যাহার। বাত রোগাক্রান্ত যাহাদের মেরুদণ্ড কিংবা বক্ষঃস্থল ক্ষুদ্র ও বিচ্যুত বা সুস্ত তাহ- দিগকে দ্রাক্ষা ও তৈল মিশ্রিত মদিরা পান করিতে দিলে ঐ সকল রােগের প্রতীকার হইয়া থাকে। যে সকল মাতঙ্গ গুরুভার বহন এবং সুদুর পথ গমন জনিত পরিশ্রমে একান্ত কাতর অথবা বন্ধনাদি জনিত ক্লেশে সাতিশয় পীড়িত কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী মাতলের আঘাতে জর্জরিত তাহাদিগের পক্ষে গুড়যুক্ত মদিরা পান একান্ত হিতকর। বে সকল মাতঙ্গ, জাঠরনলের দৌর্বল্য নিবন্ধন পুনঃ পুনঃ “আনাহ বা উদরাঘান এবং মৃত্তিকানাহ’ (মাটি খাইয়া পেট ফাঁপা) রােগগ্রস্ত তাহাদিগকে সকল প্রকার লবণ মিশ্রিত মদিরা পান করিতে দিলে সবিশেষ উপকার দর্শ। তদ্ভিন্ন যে সকল মা ও বাতেগোথিত ও গাঢ়মূত্র রােগাক্রান্ত, পঞ্চ লবণযুক্ত সুরাপান তাহাদিগের পক্ষে একান্ত হিতকর। যে সকল মাত অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত হয় কিংবা যাদের তরল মল নিঃসরণ হয় অথবা যাহাদের আমাশয় বিকার অরুচি এবং অগ্নিমান্দ্য বশতঃ আহারে বিদ্বেষ আছে তাহাদিগকে অম্ল ও লবণ বর্জিত কাদম্বরী (একরূপ সুনা) পান করিতে দিলে সবিশেষ উপকার দশে। অগ্নি দুষিত কিংবা দূষিত-পাত্রস্থিত সুরা বারণগণকে কদাপি পান করিতে দিবে না। পক্ষান্তরে যে মদ্য অবিকৃত তৈলবর্ণ বা ঘৃত মণ্ডবর্ণ এবং যাহা করবীর উৎপল ও পদ্ম গন্ধযুক্ত, যাহার স্বাদ সুপরিস্ফুট তিক্ত ও মধুর তাদৃশ শক্তিসম্পন্ন মদ্যই অদূষিত বলিয়া জানিতে হইবে। হে নরেশ্বর, দূষিতমদ্য পানে বারণগণের উপকারের পরিবর্তে যথেষ্ট দোষই ঘটিয়া থাকে, এই নিমিত্ত তাদৃশ মদ্য সর্ব বর্জনীয়। পক্ষান্তরে অবিকৃত স্নেহ-পান বিধি ৮|| পল . ১) ইক্ষু গুড় ও ইহুদছাল , উৎকৃষ্ট সুরাপানের ফলে বায়ণগণের শ্রান্তি দূর শ্লেষ্ম-নাশ জঠরাল বৃদ্ধি ভুক্ত দ্রব্য পরিপাক হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক ক্রিয়া মানসিক হর্ষ কোষ্ঠ পরিষ্কার, মূত্রাশষের স্বাভাবিক ক্রিয়া দেহের পুষ্টি ও বলবৃদ্ধি, প্রভৃতি অসংখ্য উপকার সাধিত হইয়া থাকে। হে অঙ্গনাথ, অতঃপর মেদকের গুণাবলী কীৰ্ত্তন করিতেছি শ্রবণ করুন। ইহা যথা-বিধি লেহনের ফলে মদক্ষীণ বারণগণের (মাইর পরে কাতর দুর্বল হাতীর দেহ হৃষ্টপুষ্ট ও মদ বর্ধিত হয়, পিত্ত প্রশমিত, বলবৃদ্ধি ও তৃষ্ণা অন্তত হইয়া থাকে । গ্রীষ্ম ঋতুতে নবধূত মাতঙ্গদিগকে অবােলিখিত বিড় মমদক লেহন করিতে দিবে। ১। বিড় মদের সিটা সূক্ষ্ম চুর্ণ ২। মুগ ৭। নিমছাল ৩। খয়ের কাষ্ট ৮। ঝাউছাল ৪। কুটজছাল সূক্ষ্ম চূর্ণ ৮ পল ৯ ১। সৌবীর বা তিলতৈল ১ আটক পূর্বোক্ত দৈহিক পরিমাণের অনুরূপ বা ৮ সের মাত্রায় মুগ বিড়ঙ্গ এবং খয়ের কাষ্ঠের কাথে সুসিদ্ধ করিয়া তাহার সহিত ৪র্থ হইতে ১ম পৰ্যন্ত ঔষধ দ্রব্যের সমষ্টির পঞ্চাশ পল মিশ্রিত করিবে এবং তাহা ১ আটক ৮ সের ১ম সৌবীর কিংবা তিলতৈলের সহিত মর্দন করিয়া এই বিড়ঙ্গ মেদক শীতল হইলে প্রতিঃকালে সেবন করিতে দিবে তাহাতে বারণগণের দেহ হৃষ্টপুষ্ট, বলবৃদ্ধি ও দোষ ধাতু প্রকোপ প্রশমিত হইয়া থাকে। ১। অঙ্গীব (সাজিনা বীজ ) ৭। কুটজছাল সূক্ষ্ম চূর্ণ ১২ পল ২। কুলখ(কৃত্তিকালয়) ১ কুড়ব ৩। হৰিত্ৰা ৯। কাজি ৪। খদিছল সূক্ষ্ম চূর্ণ ১২৫ পল ১। মদের সিট। ২০ পল ৫। আসনছাল সুন্ন চুর্ণ ৬। নিছাল সূক্ষ্ম চূর্ণ ১২। তিলতৈল অক্ষীৰ কাথ কিংবা হরিদ্রার কাখে কুঙি কলায় সুসিদ্ধ করিয়া তাহার সহিত ৪র্থ হইতে ১২ দ্বাদশ পর্যন্ত ঔষধ দ্রব্য সমুদয় একযােগে মর্দন করিবে এবং তাহা শীতল হইলে প্রাতঃকালে বারণগণকে সেবন করিতে দিবে। ইএ (*) প্রত্যেক পল ৪ তােল ২৬ গন্নায়ুর্বেদ-সংহিতা। } O অক্ষীব মেদক সেবনে মাতঙ্গগণের দেহপুষ্টি শরীরের উপদান স্বরূপ সপ্ত ধাতুর প্রকোপ ও বাত পিত্ত কফ প্রভৃতির দোষের বিকার প্রতিষেধ এবং জঠরানলের প্রবাল্য হইয়া থাকে। গােমর্শ। ১। গােধুম চুর্ণ ৭। শিqছাল চূর্ণ (সাজিনা) ৬ পল ২। তণ্ডুল চুর্ণ ৮। কঙ্কোল চুর্ণ ৩। ইক্ষুগুড় ৬৷ পল ৯। উৎপল কন্দ চূর্ণ ৪। কিথ (মদদের সিট) ৬ পল ১০। ইক্ষুরক বীজ চূর্ণ ৫। বলা চ, বল৷ চর্ণ ১১। তিলতৈল বা গব্য ঘৃত ১ আঢ়ক ৬। নাগবলা চূর্ণ ১২। দধি ১ আঢ়ক বা ৮ সের প্রথমতঃ পূৰ্বদিন রাত্রিতে তুল্যাংশ গােধূম ও তণ্ডুলচূর্ণ জলে পাক করিয়া পরদিবস প্রাতঃকালে ৩য় হইতে ১২শ পৰ্যন্ত ঔষধ দ্রব্যের সহিত মিশ্রিত বা মর্দন করিবে এবং প্রাতঃকালে সেবন করিতে দিবে। ইহাকে গোধুম মেদক বলে। ইহা সেবনে বারণগণের পিত্তদোষ তৃষ্ণা ও দাহ নিবারণ, বলবৃদ্ধি, কফ ও বাতদোষ প্রশমন, মদোৎপত্তি প্রভৃতি অশেষ প্রকার হিতসাধন হইয়া থাকে। সামনে। ( পােষ্টাইর অতি উত্তম ঔষধ। ১। নিঝুষ মাষ কলায় ৪। ক্ষীরিকা (খেজুর ১২৷ পল ২। দ্রাক্ষা ১২ পল ৬। তিল তৈল বা গব্যঘৃত অর্থ ৩। শৃঙ্গাটক ( শিঙ্গাড়) আটক বা /a সের ৪। মদের সিটা ৭। দধি অৰ্দ্ধ আরক বা 29 সের পূৰ্বদিন রাত্রিতে ১ম মাষ কলায় উত্তমরূপে সিদ্ধ করিয়া তাহা সুশীতল করিবে। পরদিবস প্রাতঃকালে উল্লিখিত রাত্রি যুষিত কলারের সহিত ২য় হইতে ৭ম পৰ্য্যন্ত দ্রব্য সমুদয় মিশ্রিত ও মর্দন করিয়া প্রাতঃকালে তৎসমুদয় সেবন করিতে দিবে। ইহাকে মাষমেদক বলে। ইহা সেবনে বারণগণের মাংস মেদ বৃদ্ধি, ত্রিদোষ ও ত্রিদোষ-বিকার জনিত তৃষ্ণা দাহ ভ্রান্তি মূৰ্ছা নাশ, অগ্নিবল বৃদ্ধি ও বল বীৰ্যাদির আবির্ভাব হইয়া থাকে। হে নরেশ্বর, মাতঙ্গগণের ২• বিংশতি বৎসর বয়স পর্যন্ত প্রায়শঃ গােধূম মেদক হিতকর হয়। ২১-৪০ বৎসর বয়স পর্যন্ত মাষমেদক হিতকর।
সেহ-পান নিধি। ২৭ ৪১-৬০ বৎসর বয়স কুল্মষ মেদক পথ্য এবং ৬১ হইতে তদূর্ধ্ব বয়স্ক মাতঙ্গের পক্ষে বিড়ঙ্গ মেদক বাঞ্ছিত ফলপ্রদ হইয়া থাকে। তদ্ভিন্ন বর্ষাকালে ও শীত- কালে বিড়ঙ্গ মেদক ও অক্ষীব মেদক সেবন প্রশস্ত, গােধূম মমদক সকল কালে হিতকর এবং মাষ মেদক কেবল গ্রীষ্ম ঋতুতেই অভীষ্ট ফল প্রদানে সমর্থ হয়। হে নরনাথ, অনন্তর দুগ্ধ পানের গুণ ও দোষ বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন মাতঙ্গগণকে সাধারণতঃ যথাবিধি দোহিত গো, মহিষ ও ছাগ দুগ্ধই প্রদান করা কর্তব্য। বৈধ উপায়ে গৃহীত উল্লিখিত ত্রিবিধ দুগ্ধেই অপােলিখিত গুণাবলী লক্ষিত হইয়া থাকে। দুগ্ধ শীতল মধুর স্নিগ্ধ জীবনীশক্তি বর্ধক পুষ্টিকর আয়ুবর্ধক, বীৰ্য্য বর্ধক ও শ্রেষ্ঠ ঔষধ স্বরূপ। ইহা স্বাভাবিক মাধুৰ্য্য ও স্নিগ্ধ ভাব নিবন্ধন বাত রােগ প্রশমনকারী শৈত্য ও মাধুৰ্য্য প্রভাবে পিত্ত- দোষ নিবারক; কিন্তু কফজ রােগে অতি হিতকর নহে * পক্ষান্তরে রক্ত পিত্ত রােগে দুগ্ধ পান মহৌষধ স্বরূপ। দুগ্ধ পানের ফলে বিশ্ববাসী সকল প্রাণী নির্বিকার অবস্থায় জীবন যাপন করিতে সমর্থ হয়, এই নিমিত্ত দুগ্ধকে সকল প্রাণীর হিতকর বলা হইয়া থাকে এবং করিশাবক প্রসব মাত্রেই দুগ্ধপানে প্রবৃত্ত হয় ! দুগ্ধ প্রাণ বন্ধক ও বর্ণ প্রসাদক এই নিমিত্ত বারণগণকে দুগ্ধ পান করিতে দেওয়া অবশ্য কর্তব্য। যে সকল মাতঙ্গ অতি বৃদ্ধ, অতি শিশু কিংবা কারিণী সঙ্গত তাহাদিগকে প্রথমতঃ কেবল দুগ্ধই পান করিতে দিবে এবং যাহারা দুগ্ধ পানের ফলে কিঞ্ছিৎ সবল তাহাদিগকে গব্যঘত মিশ্রিত দুগ্ধ পান করিতে দেওয়া কৰ্তব্য ; তাহার ফলে উহাদিগের চর্ম ও লোমাবলী প্রসন্ন বা সুদৃশ্য হইয়া থাকে উহাদিগের দেহ মাংসল ও দৃঢ় হয় এবং উহাদিগের ইন্দ্রিয়- সমূহ ও মন প্রসন্ন অবস্থা প্রাপ্ত হইয়া থাকে। পক্ষান্তরে জলমিশ্রিত অতিউষ্ণ কিংবা রাত্রি পর্যুষিত দুগ্ধ পানে বারণগণের বাতপিত্তাদি কুপিত হইয়া নানাবিধ রোগ উৎপাদন করে। তাহাতে উহাদিগের প্রবল পিপাসা বমন ও দা হইতে পারে। যে দুগ্ধ সদ্যোগৃীত ও অবিমিশ্রিত তাহাতেই উল্লিখিত গুণাবলী দৃষ্ট হইয়া থাকে। নিমখিত রোগ সমূহে দুগ্ধপান প্রশস্ত-মন্যাস্ত হস্তম্ভ শিরস্তাপ অস্থিভঙ্গ গ্লানি কোষ্ঠশূল যােনিশুল ও প্রবাহিকা রােগে উপযুক্ত পরিমাণে দুগ্ধপান করিতে দেওয়া কর্তব্য। বৃদ্ধ শিশু কৃশ ক্ষীণ পিত রােগগ্রস্ত করিণী সঙ্গত মত ও একান্ত মদহীন যৌবনাতীত হীনশক্তি (৬) জীর্ণজরে কফক্ষীণে ক্ষীরং স্যামুখােপমং তদেব তরুণেপীতং বিষ বদ্ধন্তি মানব।
২৮ গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। অল্পবক্ত-মুক্ত, সান্নিপাতিক গ্ৰহণী রােগমুক্ত ও মদ-ক্ষীণ মাতঙ্গের পক্ষে উপযুক্ত পরিমাণে যথাবিধি গৃহীত অবিমিশ্রিত দুগ্ধপান একান্ত হিতকর। তদ্ভিন্ন সবল মাতল ও দীর্ঘ পথ গমন বা গুরুভার বহনাদি জনিত পরিশ্রমে একান্ত অভিভূত হইলে দুগ্ধপান তাহাদিগের ক্লান্তি নাশ করিয়া থাকে। পক্ষান্তরে যে সকল মাতঙ্গ, প্রমেহ ক্ষুদ্রকুষ্ঠ শ্লীপদ (গােদ) দক্ত খিত্ৰ কামলা ব্রণ গলিত- কুষ্ঠ শ্লেষ্ম কিংবা বগণ্ড রােগগ্রস্ত তাহাদিগের পক্ষে দুগ্ধপান একা নিষিদ্ধ। বাত বিকারজ রােগ প্রতীকারা কিংবা বল বর্ধনার্থ দুগ্ধপান বারণগণের হিতকর। হে নরনাথ, ইহাই মাতঙ্গগণের দুগ্ধ পানের গুণ ও দোষ যথাবিধি আপনার নিকটে আদ্যোপান্ত বর্ণনা করিলাম। হে অঙ্গের, অনন্তর দধির গুণ ও দোষ বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন দুগ্ধের যে সকল দোষ কীৰ্ত্তন করিয়াছি দুগ্ধ দোষে দধিতে ও সেই সকল দোষ বৰ্ত্তিয়া থাক। তদ্ভিন্ন যে দধি অম্লরস যুক্ত কিংবা যাহা হইতে নবনীত উদ্ধৃত করা হইয়াছে তাহা বারণগণের অপেয় । কারণ উহা পানের ফলে বারশগণের বাত ও পিত্ত কুপিত এবং রক্ত দূষিত হইয়া থাকে। পক্ষান্তরে যে দধি সুস ও নবনীত যুক্ত তাহা বারণগণকে পান করিতে দিবে। গাে-দুগ্ধ মহিষ দুগ্ধ কিংবা ছাগ দুগ্ধ জাত দধি অবিমিশ্রিত অথবা মাংস মিশ্রিত করিয়া পান করিতে দিলে বাত পিত্ত প্রশমিত বল ও মাংস বদ্ধিত হইয়া থাকে। হে নরনাথ, পূর্বেই কথিত হইয়াছে যে বিভিন্ন ঋতুবিচার পূর্বক বারণগণের আহারের ব্যবস্থা করিবে। বর্ষাকালে বারণগণের স্নিগ্ধ মধুর উষ্ণ ও অম্নরস যুক্ত দ্রব্য ভােজন হিতকর কষার মধুর ও শীত দ্রব্য শরৎকালে উপকারক, অত্যুষ্ণ ব্য, ও লবণ শরৎকালে বর্জনীয়; হেমন্তকালে তিক্ত কটু লবণ ও অনুস যুক্ত ব্য সুপথ্য। কেহ বলেন যায়, ও মধুর রস যুক্ত দ্রব্য ও হেমন্তে হিতকর; এবং বসন্তে লবণ সুবিশেষ হিতকুর জানিবেন। এই রূপে অবশিষ্ট ঋতু সমুদয়ে ও গুণ দোষ লাঘব গৌরব স্বীয় বিবেক দ্বারা বিচার পূর্বক বাজণগণের আহার নির্বাচন করা কর্তব্য। হে অনাথ, ৰাৱণগণের বিধা বা কুচড়াতে শালি ও ব্রীহিই শ্রেষ্ঠ, যৰ ও গোধুম মধ্যম এবং ক ও কোব অথম বলিয়া কথিত হইয়া থাকে। যথা- কালে প্রবিধা বা কুচড়া বারণদেহ রসকে তর্পিত করে; রস রক্তকে, র মাংসকে, মাংস মেদকে, মে অস্থিকে, অস্থি মজ্জাকে এবং মজ্জা ওকে বতি করিয়া থাকে। তাহার ফলে মাতা হৃষ্টপুষ্ট সচিত্ত ও সন্ধেৎসাহ স্নেহ-পান নিধি। ২৯ } বলশালী হইয়া থাকে। তাদৃশ সুস্থ চিত্ততার ফলেই বারণগণের দেহস্থ বাত- পিত্রাদি দৈহিক উপাদান সমূহ এবং অগ্নিবল সমতা প্রাপ্ত হইয়া তাহাদিগের মদপ্রবৃপ্তির কারণ হয়। মত্ততাই বারণগণের কান্তি ও আরােগ্যের লক্ষণ। মদ- মত্ত বারণযুথের অধীশ্বর নরপতির যুদ্ধে বিজয়-শ্রীলাভ অবশ্যম্ভাবী। হে মহী- বল্লভ, বিধা এই সকল গুণের অসাধারণ হেতু, কারণ বিধা বজ্জনে উল্লিখিত গুণাবলীর কিছুই দৃষ্টিগােচর হয় না। যে নরপতি বিজয়শ্রী লাভে ইচ্ছুক তিনি মাতাগণকে যথাকালে বিদা, উৎকারিকা বেসবার মেদক প্রভৃতি ভক্ষ্য, ভােজ্য, লেহ ও পেয় এই চতুৰ্বিধ আহার দ্বারা হৃষ্টপুষ্ট করিতে চেষ্টা করিবেন। হে নরেশ্বর, বারণগণের গণ্ডদ্বয়বৰ্ত্তী স্রোত সমূহের মুখ নিরােধর হেতু নির্দেশ করিতেছি শ্রবণ করুন হে নরনাথ, যুদ্ধক্ষেত্রে শর শক্তি ঋষ্টি খঙ্গ প্রভৃতি অস্ত্র শস্ত্রের প্রতিঘাতে, বৃক্ষাদি গুরুভার হরণ, প্রাচীর গৃহভিত্তি প্রভৃতিতে সবলে ঘর্ষণ এবং প্রবল অগ্নিসন্তাপের ফলে বারণগণের দেহস্থ বায়ু কুপিত হইয়া উহাদিগের উভয় গণ্ডস্থিত স্রোতঃ ( ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিরা) সমূহের মুখ নিরুদ্ধ করে। তাহাতেই তাহাদিগের গণ্ডদ্বয় হইতে পর্যাপ্ত মদ স্রাব হয় না। তাদৃশ অবস্থায় বারণ গণ স্বীয় শুদ্বারা কাষ্ঠ লােষ্ট্র প্রভৃতি গ্রহণ পূর্বক স্বীব গণ্ডদ্বয়ে তাহা ঘর্ষণ করিতে থাকে এবং পুনঃ পুনঃ জল কর্দম ও বালুকা দ্বার গণ্ডদ্বয় আদ্র করিতে থাকে। এই সকল বহিলক্ষণদ্বারা বারণগণের কাট- স্রোত সমূহ নিরুদ্ধ জানিয়া বিজ্ঞ চিকিৎসক তাহার প্রতীকারে যত্ন করিবেন। ভদ্র দারু ৫। রসূণ ২। হরিদ্রা ৩। দারু হরিদ্র ৭। পঞ্চমূল লবণ প্রথমােক্ত সপ্তবিধ দ্রব্যের সহিত অষ্টম ঘৃত যাহাতে দগ্ধ না হয় এরূপ ভাবে পাক করিবে এবং তাহা গণ্ডয়ে মর্দন করিলে বারণগণের কট-স্রোতে নিরো- ধের প্রতীকার হইয়া থাকে। তাদৃশ ঘৃত দ্বারা বস্তি দানে ও সবিশেষ উপকার দর্শে। বস্তি প্রয়ােগের নিয়ম এই যে প্রথমতঃ মাতঙ্গের নেত্ৰদ্বয় বস্তু দ্বারা আবদ্ধ করিয়া পরে সুবর্ণ কিংবা রজত নিৰ্মিত দ্বাদশাঙ্গুল দীর্ঘ শঙ্কু (মৃঃ) পুষ্পবৃন্তাগ্র বস্তির তিন অঙ্গুলি পরিমিত অগ্ৰ মলদ্বারে প্রবেশ করাইয়া বস্তি প্রদান করিলে বাৱণগণের গণ্ডদ্বয়স্থ স্রোত সমূহের মুখ-নিরােধ তিরােহিত হইয়া থাকে। ৪।
গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। হে নরনাথ, অনন্তর আমি বারগণের সর্বাঙ্গে যথাবিধি তৈলাদি মর্দনের গুণ যথাযথ ভাবে বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন- দৃঢ় বন্ধন, তীব্র আঘাত, ঋতু বিরুদ্ধ বা অভ্যাস বিরুদ্ধ আহার বিহার, অসমতল প্রদেশে কিংবা জল কর্দম ময় পথে দীর্ঘকাল দ্রুতগন প্রভৃতি কারণে বারণগণের দেহস্থ বায়ু কুপিত হইয়া সৰ্বাঙ্গ স্তব্ধ হইয়া থাকে। তদ্ভিন্ন বিষদৃশ গুণযুক্ত দ্রব্য ভােজন এবং কদর্য্য স্থানে শয়ন প্রভৃতি কারণেও বারণগণের গারোগ জন্মে। তাদৃশ অবস্থায় বারণগণের সর্বাঙ্গ তৈল ঘৃত কিংবা অবস্থাভেদে বসা দ্বারা সিক্ত করিয়া রাখিলে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সকল স্বাভাবিক মৃদুতা প্রাপ্ত ও তাহার স্ফীত ভাব উপশমিত হইয়া থাকে। এতদ্ভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী মাতঙ্গের অতর্কিত তীব্র আঘাত কিংবা সুবিস্তীর্ণ নদী সন্তণ প্রভৃতি কারণেও বারণগণের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সকল ক্ষুব্ধ হইয়া থাকে এবং তাহার ফলে উহাদিগের দেহের পূর্ব ভাগ ও শুণ্ড স্তব্ধ হয়, লাঙ্গুল ফর্ণদ্বয় শিথিল হইয়া পড়ে এবং অবিলম্বে মাতঙ্গ কাষ্ঠবৎ কঠিন ও দুঃখ ভারাক্রান্তচিত্ত হইয়া কাল যাপন করিতে থাকে। তাদৃশ অবস্থায় পূর্বোক্ত পরিমাণে ঘৃত অথবা ত্রিবৃত দ্বারা কিংবা অবস্থানুসারে তৈলাদি দ্বারা সৰ্বাঙ্গ পুনঃ পুনঃ সিক্ত করিলে সবিশেষ উপকার দর্শে। হে অগেশ্বর, অতঃপর আমি বারণগণের মস্তকে তৈল মর্দনের উপকারিতা বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন: অনেক সময়ে অঙ্কুশাদির আঘাতে কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী মাতরে দাঘাতে বারণগণের মস্তকে ক্ষত হইয়া থাকে। * তার ফলে তাদৃশ ক্ষত সমুদয় শুষ্ক তা প্রাপ্ত ও মস্তক স্নিগ্ধ-কেশশোভিত হইয়া থাকে। তদ্ভিন্ন মস্তকে তৈল মর্দনের আরও একটি গুণ এই যে তাহাতে মস্তকের অভ্যন্তরস্থ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিরা সমূহ স্নিগ্ধ ও দৃষ্টিশক্তি অনাবিল থাকে। কখন কখন মদমত্ত মাতঙ্গগণের অণ্ডকোষ পাকিয়া থাকে। তাদৃশ অবস্থায় গিরিমাটি এক পল ও গব্যঘৃত একত্র মিশ্রিত করিয়া ঐ স্থানে মর্দন করিলে সবিশেষ উপকার দর্শে। হে নরেশ্বর, প্রতিদিন সন্ধ্যাকালে মাতঙ্গগণের আবাস গৃহ প্রদীপ দ্বারা আলােকিত করা কর্তব্য। তাহাতে মাতঙ্গগণ প্রফুল্লচিত্তে সান্ধ্য আনন্দ উপ- ভােগ করিতে পারে। তদ্ভিন্ন বৃশ্চিক কাকলাস এমনকি বিষধর সর্প পর্যন্তও সন্ধ্যাকালে বিবর হইতে নির্গত হইয়া ইতস্ততঃ সঞ্চরণ করে। সান্ধ্য অন্ধকারে মাতলগণ আহার কালে অদৃঙ্গ ভাবে বৃশ্চিকাদি বিষাক্ত কীট ভােজন করিয়া * এই স্থানে কিয়দংশ চিরবিলুপ্ত হইয়াছে। ক সেহ-পান বিধি।. = নানাবিধ দুরারােগ্য পীড়াগ্রস্ত হইতে পারে। এমন কি তাহাতে মৃত্যু পয্যন্তও অসম্ভব নহে। পক্ষান্তরে গৃহে একটি দীপ প্রজ্বলিত থাকিলে মাতলগণের তাদৃশ বিপত্তির সম্ভাবনা থাকে না। এই নিমিত্ত প্রতিদিন দীপদানার্থ এক কুড়ব করিয়া তৈল প্রদান করা কর্তব্য। হে মহীবল্লভ, অনন্তর মাতঙ্গগণের দন্তদ্বয়ে তৈল মর্দনের গুণ বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন : মাতঙ্গগণের দন্তদ্বয়ে তৈল মর্দন করিলে উহা দৃঢ়তর ও স্নিগ্ধ হইয়া থাকে। এমন কি অতি কঠিন প্রস্তর নির্মিত প্রাচীরণিতে দস্তাঘাত করিলেও দন্ত ভগ্ন হয় না কিংবা উহাতে রেখা জন্মে না। দন্তদ্বয়ে তৈল মর্দনের এই সকল ফল সচরাচর দৃষ্ট হহয়া থাকে। হে পৃথিবীশ্বর, অনন্তর মাতঙ্গগণের নেত্রাভঙ্গের গুণাবলী বর্ণিত হইতেছে শ্রবণ করুন :- বারণগণের নেত্ৰদ্বয়ে যথেষ্টৰূপ গব্যঘৃত মর্দন করিলে উহা- দিগের দৃষ্টিশক্তি প্রখর এবং নেলােমাবলী মিগ্ধ ও মৃদু হইয়া থাকে। ঘৃত- ভঙ্গের ফলে মাতলগণের নেত্রয়োগ জন্মে না, দৃষ্টিশক্তি দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়, প্রখর উত্তাপেও নেত্ৰাভ্যন্তরে জ্বালা অনুভব হয় না এবং নেদ্বয় অপেক্ষাকৃত সুদৃশ্য হইয়া থাকে। হে অঙ্গনাথ, অতঃপর পাদাভ্যঙ্গের গুণ সমূহ বর্ণিত হইতেছে শ্রবণ করুন - যথাবিধি পদচতুষ্টয়ে তৈল মর্দনের ফলে খাবলী বিদীর্ণ হয় না, চরণ দৃঢ়তর হয়, তখন দুর পথ গমনেও উহা অবসন্ন হয় না কিংবা চরণতল ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। পাদাভ্যসের ফলে মাতঙ্গগণের চরণে কেশ (কদম্ব কেশাদি রােগ) জন্মে না কিংবা নেত্রবােগ হয় না। পাদাভ্যাঙ্গের ফলে শান্তি দূর হয়। যেমন যথারীতি মূলে জল সেচন করিলে তরুগণ মূল দ্বারা তাহা আকর্ষণ করিয়া সৰ্বাদ পুষ্ট করে এবং তাহার ফলে ফলপুষ্পে পরিশােভিত হয় তেমনি মাতঙ্গগণের চরণচতুষ্টয়ে তৈল মর্দন করিলে তাহা রােমকূপ দ্বারা প্রবিষ্ট হইয়া সর্বাঙ্গে সঞ্চারিত হয় এবং রস রক্তাদি সপ্ত ধাতুর পুষ্টি সাধন ও বাতাদির উপশম করিয়া থাকে। মাঙ্গ তত্ত্বজ্ঞ সুক্ষ্মদর্শী ভগবান পলকাপ্য ঋষি, মহাপ্রাজ্ঞ অঙ্গপতির প্রশ্নের উত্তরে মাতঙ্গগণের হিতকর অনুপান বিধি এইরূপে সরল ভাষায় যথাক্রমে বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন। ইতি-মহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তর স্থানে তৃতীয় অধ্যায়।
চতুর্থ অধ্যায় একদা মহানুভব অঙ্গপতি ঋষিপ্রবর পালকপ্যকে প্রতি পূর্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন- ভগবন, বাণগণের ব্যবহাৰ্য স্নেহ পদার্থ কত প্রকার এ কি কি ? কোন কোন অঙ্গ প্রত্যঙ্গে মেহ ব্যবহার্য ? বারনগণের উপকারার্থ কি কি প্রকারে সেই সকল মেহ পদার্থ ব্যবহার করা যাইতে পারে ? বায়ণগণের কি কি রোগের প্রতীকারার্থ স্নেহ ব্যবহারের উপদেশ গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রে লিখিত অছে ? উত্তম মাতঙ্গের স্নেহের পরিমাণ কি? মধ্যম ও অধম শ্রেণীর হস্তীর ই বা স্নেহের পরিমাণ কত? কীদৃশ অবস্থায় বারণগণের স্নেহপান করিতে দেওয়া কৰ্তব্য? এতৎসমুদয় সবিশেষ বর্ণনা করিয়া আমার কৌতুহল চরিতার্থ করুন। মহাপ্রভাবশালী অঙ্গপতি রােম পাদনাপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন : হে নরনাথ, বারণগণের ব্যবহার্য স্নেহ পদার্থ ও তাহার বিবিধ প্রকার প্রভেদ শ্রবণ করুন : নবনীত, ঘৃত, মস্তিষ্ক, মজ্জা, তৈল, ফলতৈল, মেদ বসা ও শুক্র এই নয় প্রকার স্নেহ পদার্থ। মহর্ষি গাৰ্গ, শুক্র ও মস্তিষ্ক ভিন্ন অপর সপ্তবিধ স্নেহ পদার্থের অস্তিত্ব স্বীকার করিয়াছেন। চিকিৎসকগ্রণী অগ্নিবেশ প্রয়োগােপযোগী সপ্তবিধ স্নেহ পদার্থের উল্লেখ করিয়াছেন। ভগবান গৌতম ঘৃত তৈল বসা ও মজ্জা এই চতুর্বিধ মেই প্রয়ােগের ই বিধান করিয়া গিয়াছেন। কিন্তু ঋষিবর ভরদ্বাজ প্রথমতঃ স্থাবর ও জঙ্গম ভেদে স্নেহ পদার্থ দুই প্রকার বলিয়া পরে তরুলতাদি জাত স্থাবরহে তন্মধ্যে তৈলই প্রধান এবং দুগ্ধ দধি নবনীত ও ধৃত জগম স্নেই তম্মধ্যে ঘৃতই (শ্রেষ্ঠ বলিয়াছেন। বারণগণের পান বিরেচন অনুবাসন ( পিচকারী দান ) উত্তর বস্তি কট বস্তি অভ্যঙ্গ (অঙ্গে মর্দন) গাল সেক ও নকৰ্ম্মে স্নেহ পদার্থ যথাবিধি প্রযােজ্য। উত্তম মধ্যম ও অধম এই ত্রিবিধ মাতকেই স্নেহ পান করিতে দেওয়া যাইতে পারে। তন্মধ্যে যে সকল মাতঙ্গ ক্লান্ত তৃষ্ণার্ত জররােগ- গ্ৰন্ত দীর্ঘকাল যাবৎ দূর পথ অতিক্রম করিয়া প্রত্যাগত বলক্ষীণ, মদক্ষীণ, রুশ নানাবিধ আমাশয়গ্রস্ত অতিশিশু অতিবৃদ্ধ কিংবা যাহারা অন্নপনে বিতৃষ্ণ তাহা- দিগকে স্নেহ পান করিতে দেওয়া কর্তব্য নহে। তাহাদিগকে বরং পুর্বোক্ত দ্রোণ পরিমাণ অনুসারে স্নেহযুক্ত বিধা, (কুচড়া) ভক্ষণ করিতে দেওয়া যাইতে : স্নেহ-নিধি। পারে। গহার ফলে উহাদিগের ধাতু বৃদ্ধি কান্তির প্রসন্নতা, মনঃপ্রসাদ ও তৃণাদি ভক্ষণে অভিলাষ হইয়া থাকে। বিভিন্ন প্রকার স্নেহের মাত্রা তত্তৎ স্নেহের সহিত প্রদত্ত হইবে।: তদ্ভিন্ন বিজ্ঞ চিকিৎসক বিচার বুদ্ধি সহকারে অগ্নিবল পরীক্ষা করিয়াই বায়ণগণকে স্নেহ পান করিতে দিবেন। স্নেহ পানের অবস্থায় যন্ত্রপূর্বক মৃত্তিকা ভক্ষণ হইতে মাতঙ্গগণকে নিবৃত্ত রাখিবেন। শুণ্ডের অগ্রভাগে একটি শঙ্কু (খোটা) বাধিয়া দিলে উহারা সহজে মৃত্তিকা ভক্ষণে সমর্থ হয় না। অনন্তর প্রতিভাবান অঙ্গপতি রােমপদি নরপতি পুনরায় সবিনয়ে কৃতাঞ্জলি- পুটে মহর্ষি পালকাপ্যকে জিজ্ঞাসা করিলেন;-ভগব, আপনি যে সকল আহার বারণগণের পক্ষে হিতকর বলিয়া বর্ণনা করিলেন আমি তৎসমুদয় মাতঙ্গ- গণকে প্রদান করিব; কিন্তু উল্লিখিত আহার ( আহাৰ্য্য বস্তু) সমুদয়ের যে সকল গুণ ও দোষ আছে তাহা যথাযথ ভাবে উপদেশ করিয়া আমার অজ্ঞত। দূর করুন। অঙ্গেশ্বরের ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য তৎসমুদয় ও বারণগণের সম্বন্ধে যাহা কর্তব্য এবং যাহা অকৰ্তব্য তাহা যথাক্রমে বলিতে লাগিলেন মহারাজ, শ্রবণ করুন-বারণগণের বল প্রকৃতিদত্ত ও আহার- রস-সম্ভত এই দ্বিবিধ। অবশ্য বলা বাহুল্য যে প্রকৃতিদত্ত বল ও আহারের ষড়বি রসদ্বারা অনুপ্রাণিত হইয়া মাতঙ্গগণকে বিবিধ প্রকার দুঃসাধ্য কাৰ্য- সাধনে সমর্থ করিয়া থাকে এই নিমিত্ত আমি প্রথমতঃ উল্লিখিত ষড়বিধ রসের বিভাগ যথাযথ ভাবে বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন- কষায় মধুর ও তিক্তরস যুক্ত ও শীতবীৰ্য্য দ্রব্য সাধারণতঃ পিত্ত, অম্ল ও লবণ রসযুক্ত কিংবা তীবীৰ্য্য দ্রব্য পিত্তবর্ধক। অম্ন উষ্ণ লবণও স্নিগ্ধ দ্রব্য বাত প্রকোপ নিবারক। পক্ষান্তরে কষায় তিক্ত কটু রসযুক্ত কিংবা রুক্ষদ্রব্য বাত- প্রকোপনকারী। মধুর অম্ল ও লবণ রসযুক্ত কিংবা সােমগুণযুক্ত শীতবীৰ্য্য দ্রব্য কফবৰ্ধক এবং তিক্তকটু ও রুক্ষবীৰ্য্য দ্রব্য কফনাশক। নবধৃত মাতঙ্গকে প্রথমদিনে প্রত্যেক অরত্রিতে একপলণ করিয়া কষা ও লবণ রসযুক্ত দ্রব্য আহারার্থ প্রদান করা কর্তব্য। তদ্ভিন্ন কটু রসযুক্ত দ্রব্য এককর্য গু এবং তিক্ত রসযুক্ত দ্রব্য তাহার দ্বিগুণ পরিমাণে প্রদান করা যাইতে পারে। এইরূপে ক্রমে অভ্যস্ত হইলে পরে পিত্তপ্রকৃতিক মাতঙ্গকে মধুর অস্ত্র * একপল= ৪ তােলা ॥ একক= ২ভােলা ৩৪ । গজাযুৰ্বেদহিতা। ৬০ পল পর্যন্ত মধুর রসযুক্ত ৫৫ পল তিক্ত রসযুক্ত এবং ৫০ পল কটু রসযুক্ত দ্রব্য, আহার কৱিতে দিতে পারা যায়। অবশ্য বলা বাহুল্য যে প্রতিদিন জঠরানলের প্রতি লক্ষ্য রাখিতে হইবে। সপ্ত হস্ত উন্নত নবধৃত আতঙ্গকে ৬০ পল বা ৩ সের পরিমিত কষায় রসযুক্ত কিংবা, লবণ এক দিনে প্রধান করা যাইতে পারে। কিন্তু যে মাতঙ্গ তদপেক্ষা যত অল্প উচছ হইবে তাহার আহারের পরিমাণও কদমুপাতে অল্পতর হওয়া আবশ্যক। হে মহীবল্লভ, অাহারের ন্যায় কারণগণের ঔষধের মাত্রা ও দেহের উচ্চতার অনুপাতে অল্প ও অধিক হওয়া উচিত। কারণ উপযুক্ত মাত্রাহীন ঔষধ বিকার প্ৰতীকারে সমর্থ হয় না, পক্ষান্তরে মাত্রায় অধিক পরিমিত ঔষধ সেবন ও বিবিধ দোষের আকর। এই নিমিত্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ রুগ্ন মাতঙ্গের অগ্নিবল, কাল, শরীরের পরিমাণ, প্রকৃতি, বয়স ও অভ্যাস এই সমস্ত সুরূপে বিচার পূর্বক ঔষধের মাত্রা অবধারণ করিবেন *। ঔষধ সমষ্টির পূর্ণ মাত্রা প্রতি দ্রোণ অাহারে অর্থাৎ চিকিৎস্য মাতঙ্গের উচ্চতার প্রত্যেক অরঙ্গিতে ২০ পল হইবে। পাের্থ গৃতের পরিমাণও এই ; এই পরিমাণে ঘৃত পানের ফলে বরিশগণের বাত রক্ত ও পিজ বিকার প্রশমিত হইয়া থাকে। কিন্তু শ্লেষ্মজ রােগ সমূহ বর্জিত হয়। মৃতপান, বারগণের বল বৃদ্ধি ও বর্ণ উজ্জল করিয়া থাকে। উহা বৃষ্য, সর্বাঙ্গের পুষ্টিকর, তেজোবর্ধক, সংঘাতকর অগ্নি- দীপক ? শয়থ ( ফুল।):ও গাত্রবােগ নাশক রক্ত গুল, শােণিতাও বাতয়ােগ উৎকর্ণক বাতানাহ স্কন্দ সর্বপ্রকার অঙ্গরােগ পাণ্ডুরােগ তৃণশােষী, শিরােইভি- তাপ গাৱশােফ শূল বিদ্যুন্মলী কদপুষ্প হস্তগ্রহ মন্যাগ্রহ এবং সকল প্রকার নেত্রবােগ নাশ করিয়া থাকে। তৈল উষ্ণ বীৰ্য্য, এই নিমিত্ত পিত্ত বৃদ্ধিকর কটু কষায় রসযুক্ত এই জন্য শ্লেষ্মনাশক। তৈল ত্বক ও বর্ণ প্রসন্নকারী অঙ্গ- প্রত্যঙ্গের কোমলতা সম্পাদক একাঙ্গগত রােগের প্রতিকারক বিবন্ধ নাশক কণ্ড (চুলকানী। ও কীট নাশকারী কোষ্ঠ শোধক ভক্ষিত মৃত্তিকা নিঃসারক এবং বাত শ্লেষ্ম জনিত সকল প্রকার ব্যাধির উপশম করিয়া থাকে। 'এই নিমিত্ত বারণগণের স্নেহ পানে বিধী ভক্ষণে ও সর্বাঙ্গে মর্দনে তৈল অতি প্রশস্ত বলিয়াই উপদিষ্ট হইয়াছে। * বতস্তত্র বিজ্ঞয়ােগজস্তাহারজো বিধিঃ । অরত্নেশুত্র নাগানাং দ্রোণ মিত্যুপদিতে। উত্তর স্থান ৩য় অঃ ৩৫, শ্লোক দুণে বিংশতি পলং ভেষজানাং বিধীয়তে। উত্তর স্থান ৪র্থ অঃ।
স্নেহ সিবি। বসা (চী) আহার শ্রেষ্ঠ ঘৃতের তুল্য গুণ সম্পন্ন বলিয়া বাত-পিতোপ- শমনকারী শ্লেষ্মবর্ধক ও শিয়ােবিরেচন জনক। ইহাতে প্রায় সর্ববিধ ধাতু ৭ রসের গুণ সমুহই বিদ্যমান আছে, কারণ বসা হইতেই শুক্রের উৎপত্তি। মজ্জা, রস, রক্ত মাংস মেদ ও অস্থির পরিণতি। উহাতে উল্লিখিত পঞ্চ- বিধ ধাতুর গুণই বর্তমান আছে এবং উহাও শ্রেষ্ঠ ধাতু শুক্রে পরিণত হইয়া থাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ বারণগণের মজ্জা-ক্ষয় দর্শন করিলে মজ্জ। পানের বিধান করিয়া থাকেন। যে ধাতু ক্ষয়প্রাপ্ত হয় সেই ধাতু কিংবা সেই ধাতুর গুণযুক্ত দ্রব্য সমুহ দ্বারা সেই ক্ষয়প্রাপ্ত ধাতুর পূরণ করাই চিকিৎসার মূলসূত্র ! অনন্তর কথিজ্ঞ ‘বলাতৈল প্রভৃতি ঔষধ তৈল, কেবল ( অবিমিশ্রিত ) তৈলের এক পদহীম ( অংশ কম) মাত্রায় পান করিতে দিতে হইবে। তদ্ভিন্ন অপরাপর সংস্কৃত ( পাক করা ) তৈল ধৃত বসা ও ত্রিবৃতার মাত্রা অপৰু তৈলের অর্ধ। ফলতঃ সকল ক্ষেত্রেই মাতগণের রােগের পরিমাণ অভ্যাস বয়ঃক্রম ও পাকস্থলীর শক্তির প্রতি তীব্র দৃষ্টি রাখিয়াই স্নেহ পদার্থ উহাদিগকে পান করিতে দিবে। পূর্বে স্নেহ-পান সম্বন্ধে যে সকল বিধান কথিত হইয়াছে তদনুসারে পথ্য ও স্নানাদির ব্যবস্থা করা কর্তব্য। মেহ পানের পরে অল্প যাউ ও মুগের যুষ প্রভৃতি যাবং মলের অবস্থা প্রকৃতিস্থ না হয় তাবৎ পৰ্যন্ত ভােজন করিতে দেওয়া কর্তব্য। ঘন অথচ অনতিকঠিন দুর্গন্ধ বিহীন অবিচ্ছিন্ন পাও- বর্ণাভ মলই স্বাভাবিক। মলের এতাদৃশ অবস্থার পরেও ৩ দিন পর্য্যন্ত মুগের যুষ পথ্য দিবে। বারণগণের সর্বসেক কথার অর্থ মুখমণ্ডল ব্যতীত সর্বাঙ্গে তৈলমর্দন এবং মুখমণ্ডলে (গলদেশের ঊর্ধভাগে) কেবল ঘূতমর্দন। এতাদৃশ চিকিৎসা ক্রিয়ার ফলে মাতঙ্গ হৃষ্টপুষ্ট হইলে পূৰ্বোল্লিখিত প্রতিপান ও ক্রমে শীতোপচার প্রদান করিবে। অনন্তর বিধা (কুচড়া) প্রদানের বিধান কথিত হইতেছে-নবধৃত কিংবা রোগমুক্ত মাতঙ্গকে প্রথমতঃ পূৰ্বোল্লিখিত পূর্ণ পরিমাণের অংশ মাত্র বিধ। (কুচড়া) আহার করিতে দিবে। তৎপরে তাহা অভ্যস্ত হইলে ক্রমে অন্ধ ত্রিপাদ ও পূর্ণমাত্রায় প্রদান করা কর্তব্য। এইরূপে বিধা ও কুচড়া পূর্ণ মাত্রায় আহার করিতে অভ্যস্ত হইলে মাতঙ্গগণকে একমাস কাল পর্যন্ত প্রতিদ্রোণ বিয়ায় লাব তিক্তির কপিঞ্জল প্রভৃতি পক্ষি মাংসের রস মিশ্রিত করিয়া ভােজন গজায়ুর্বেদ-শংহিতা ! করিতে দিবে। অনন্তর মহিষ বরাহ শরভ শার্পল চমর অশ্বতর বৃষভ উষ্ট্র রিণ গবয় গােশাপ সজারু প্রভৃতি প্রাণীর যুথালাভ মাংস পূর্বোক্ত পূরিমাণে গ্রহণ করিয়া তাহার যথাবিধি রস প্রস্তুত করিবে এবং তাহার সহিত কিঞ্চিৎ তৈল অম্ল ও লবণ মিশ্রিত করিয়া উহা বিধার বা কুচড়ার সহিত মাতঙ্গকে সেবন করিতে দিবে। তাদৃশ আহারে অভ্যস্ত হইলে তৎপরে মাতঙ্গকে অধােলিখিত বিধানে আহার প্রদান করিবে- ১। কঁকড়া প্রভৃতি অন্তমের মাংস + ৫। গােলমরিচ ৬। সৈন্ধব লবণ ৩। জল ৭। জাম্বুরার রস ৮। অৰ্জক পত্র ১ম হইতে ৬ষ্ঠ পৰ্য্যন্ত দ্রব্য একযােগে পাক করিয়া যথাবিধি রস প্রস্তুত করিবে। তৎপরে ৭ম জাম্বুরার রস ও ৮ম ক্ষুদ্ৰপত্ৰ তুলসী বা বাবুই তুলসীর বস তাহার সহিত মিশ্রিত করিয়া সেই মাংস বা মৎস্য রসের একযােগে কুচড়া ভােজন করিতে দিবে। রস গ্রহণের পরে উল্লিখিত মাংস লইয়া তার। বেসবার প্রস্তুত করিয়া মাতঙ্গকে ভােজন করিতে দিলে সবিশেষ উপকার দর্শে। ১। # কাকড়া প্রভৃতির মাংস ৫। সৈন্ধব লবণ ৬। আদা 6। পিপ্পলী ৪। গােলমরিচ ৮। চিনি উল্লিখিত দ্রব্য সমুদয় পূর্বোক্ত ‘বেসবার’ পাক বিধানে পাক করিয়া যথাবিধি মাতঙ্গকে সেবন করিতে দিলে উহারা হৃষ্টপুষ্ট ও ক্লেশ সহিষ্ণু হইয়া থাকে। অনন্তর গাে ছাগী মেষী কিংবা মহিষীর অমথিত দুগ্ধ দ্বারা দধি প্রস্তুত করিয়া সেই দধি সহ বিধা বা কুচড়া ভক্ষণ করিতে দিবে। তৎপরে গুড় কৃশ দধি পিন্যাক রস সংযুক্ত পিণ্ড ভােজন করিতে দিবে। তাদৃশ আহারের ফলে মাতঙ্গের দেহ কিঞ্চিৎ পরিমাণে হৃষ্টপুষ্ট হইলে তাহাকে অঘােলিখিত ঔষধ দ্রব্য সমূহ যুক্ত আসব বা সুরা পান করিতে দিবে। শঙ্খ কুম্ভীর, শিশুক রােহিত মৎস্য কচ্ছপ মহাশৌল ও বােয়াল মাছ।
স্নেহ-বিধি। ৩৭ ১। সৈন্ধব লবণ ১০। আজমােদা জোয়াইন ২। সুচ্চিক। (সচ লবণ ১২। তেজোবত (চৈ) চূর্ণ ৩। যবক্ষার ১২। পিপ্পলী মূল চূর্ণ ৪। সৌবচ্চল ১৩। হস্তি,পিপ্পলী চূর্ণ ৫। রােমক লবণ ১৪। চিত চর্ণ ৬। পিপ্পলী চূর্ণ ১৫। হিঙ্গ ৭। গোলমরিচ চূর্ণ ১৬। বিড় চ চর্ণ ৮। আদা (শুঠ চূর্ণ) ৭। পঞ্চলবণ ও ৯। চৈ ( চূর্ণ) এতাদৃশ আসব বা সুরা প্রতিপানের ফলে বারণগণের কোষ্ঠস্থিত কৃমি বিনষ্ট, মূত্রবস্তি বিশােধিত দেহকান্তি ও বর্ণ প্রসন্ন হইয়া থাকে। অনন্তর উল্লিখিত প্রতিপানের পরে ছয় রাত্রি অতীত হইলে অখােলিখিত ষড়বিধ ঔষ দ্রব্যযুক্ত ‘বড় প্রতিপন প্রদান করিবে। ১। পিপ্পলী চর্ণ ৪। তৈল ১। আদ। (শুঠ চর্ণ । ৬। সুর। উল্লিখিত দ্রব্য সমুদয় একযােগে মিশ্রিত করিলে তাহাকে ‘বউঙ্গ প্রতিপান' বলে। ইহা পাকস্থলীর দীপ্তিকর, রুচিকর ও চৰ্ম্মের মসৃণতা কারক। এ প্রকারে যথাবিধি স্নেহপান প্রতিপন ও ভােজনাদি দ্বারা নবধৃত বা রুগ্ন দুর্বল মাতঙ্গকে রক্ষা করিবে। বিশেষতঃ সৰ্ব্বদ। মৃত্তিকা-ভক্ষণ হইতে উহাদিগকে নিবৃত্ত রাখিবে। স্নেহপানের মাত্র। সমধিক হইলে নিম্নলিখিত লক্ষণাবলী প্রকাশ পায়। থাকে। নেত্রে অংশগম, ঘাস ও মৃত্তিকা ভক্ষণে একান্ত অভিলায, প্রবল তৃষ্ণা লভেদ শয্যা কিংবা বন্ধন স্তম্ভে দেহভার ন্যাস পুনঃ পুনঃ মূত্রত্যাগ। এই সকল লক্ষণ প্রকাশিত হইলে মাতগকে অতিস্নিগ্ধ বলিয়া জানিতে হইবে । পক্ষান্তরে ‘অস্নিগ্ধ’ মাতঙ্গের বিশেষ লক্ষণ এই যে তাদৃশ অবস্থায় উহাদিগের মল কঠিন ও পরিমাণে অধিক হয়, নেত্ৰদ্বয় অপূর্ণ থাকে জাঠরানল দুব্ব জলপানে ইচ্ছ। এবং প্রকৃতি উদ্ধত লক্ষিত হইয়া থাকে। এই সকল লক্ষণ দ্বারা উহাদিগকে ‘অস্নিগ্ধ বলিয়া অবগত হইতে পারা যায়। ৩। মধু * কাচ, সৈন্ধব, সামুদ্র, বিট, সৌবচ্চল লবণ।
৩৮ গাজায়ুৰ্বেদ-সংহিতা। পক্ষান্তরে সুস্নিগ্ধ বা পরিমিত স্নেহপানকারী মাতঙ্গের বিশেষ লক্ষণ এই যে তাদৃশ অবস্থায় উহাদিগের মল মৃদু কিঞ্চিৎ উজ্জ্বলাভ ও বিচ্ছিন্ন থাকে, আহারে রুচি থাকে এবং উহারা প্রসন্নচিত্তে লাঙ্গুল কর্ণদ্বয় ও শুণ্ড সঞ্চালন দ্বারা আন্তরিক আনন্দ প্রকাশ করিতে থাকে। অনন্তর প্রাগভােজন বিধান ব্যাখ্যাত হইতেছে পূর্বোক্ত পরিমাণে তৈলাচ্ছি স্নেহ পদার্থ মিশ্রিত বিধা বা কুচড়া ভােজনের পরে কিয়ৎপরিমাণে তৈলাদি বিহীন বিধা ভােজন করিতে দিলে বারণগণের দেহের পশ্চাদ্ভাগ সবল, বায়ু, অনুলোম জাঠরানল প্রদীপ্ত বলবৃদ্ধি বর্ণের উজ্জ্বলতা এবং মলমূত্রের যথাকালে স্বাভাবিক নিঃসরণ সম্পন্ন হইয়া থাকে। পক্ষান্তরে যে মাতঙ্গকে অগ্রে বিধা ভােজন করিতে দিয়। পরে স্নেহপান করিতে দেওয়া যায় তাহার নেত্রয়োগ দন্তরােগ ও চর্মরােগ সমুদয় প্রশমিত এবং বক্ষস্থল ও দেহের অগ্রভাগ সৰল ইয়া থাকে। ইহা পূৰ্বাচাৰ্যদিগের মত। হে নরনাথ, অনন্তর গ্রীষ্মদি বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন প্রকার স্নেহপান দানের বিধান বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন -গ্রীষ্মকালে যখন প্রচণ্ড মার্তণ্ড মধ্যগগনে ( বিষুব রেখার উপরিভাগে) গমন করিয়া চতুর্দিকে অগ্নি বর্ষণ করিতে থাকে, তখন অতিরুক্ষ প্রবল বায়ু তীব্রবেগে ধাবিত হয়। তাদৃশ দিনে প্রায়শঃ পুং বায়ণগণের দেহে নানা লক্ষণযুক্ত বেদনাদি রোগ প্রকাশ পায়। চিকিৎসাঃ-ঈদৃশ অবস্থায় বারণগণকে পূর্বাহ্নে ত্ৰিভাগ জলে মিশ্রিত কাচা তৈল খুজা (কাষ্ঠ বা বাঁশ নিম্মিত খন্তী) দ্বারা উত্তমরূপে আলােড়িত করিয়া তাহা পান করিতে দিবে এবং মধ্যাহ্ন অতীত হইলে স্নানের পরে চতুগুণ তৃণ সংযুক্ত বিধা যথাবিধি ভােজন করতে দিবে। এতাদৃশ অবস্থায় অতি সতর্কতার সহিত মৃত্তিকা ভক্ষণ হইতে উহাদিগকে নিবৃত্ত রাখিবে। এই প্রকার জল মিশ্রিত তৈল পানের ফলে উহাদিগের বাত দোষ জনিত ব্যাধি হয় না বরং ক্ষুৎপিপাসা সহ করিবার ক্ষমতা দেহস্থ লােমাবলীর প্রসন্নতা জাঠানলের প্রাবল্য মুখশেষ পিত্ত প্রকোপ জনিত রোগ সমূহের নিবৃত্তি ও দেহের পুষ্টি সাধন হইয়া থাকে। অনন্তর বর্ষাকালে দিবস ক্ষয়প্রাপ্ত হইতে থাকিলে ব্যোমল নীলনীরদ-মালায় অাবৃত ও দিবাকর-করজাল লুপ্ত প্রায় হইলে নিরন্তর প্রবল বারিধারা বর্ষণের ফলে নদী প্রভৃতি জলাশয় সমূহ কলুষ জলে পরিপূর্ণ হইয়া থাকে। তাদৃশ অবস্থায় মতগণ প্রায়শঃ মৃদু তুণরাজী ও মৃত্তিকা ভক্ষণ এবং কলুষিত জল পান করিতে বাধ্য হয়। তাহার ফলে উহাদিগের বিভিন্ন প্রকৃতি বশতঃ বিভিন্ন লক্ষণযুক্ত নানাবিধ রােগ প্রকাশিত হয়। এই নিমিত্ত তাদৃশ অবস্থায় পূবো- লিখিত পরিমাণে যথাকালে ‘অনুভক্তিক ঘৃত তৈল’ বারণগণকে পান করিতে দিবে। তাহাতে মতগণের বাত পিত্ত রােগ সমুদয় প্রশমিত দেহ হৃষ্টপুষ্ট ও সবল এবং শীতাতপ সহিষ্ণু হইয়া থাকে। অতঃপর শরৎকালে ভগবান ভাস্করদেবের পুনঃ প্রকাশে ভূমণ্ডল উদ্ভাসিত হইলে, ওষধিবর্গ স্ব স্ব খীৰ্য্য প্রাপ্ত হইয়া থাকে এবং মহীতল বিবিধ শষ্ট দ্বারা পরিব্যাপ্ত হইলে, তরু লতা গুল্ম সকল অসমৰীৰ্য্য ও প্রভূত পরিমাণে উষ্ণবীৰ্য্য- সম্পন্ন হইয়া থাকে। চিকিৎসা;ঈদৃশ অবস্থায় মতগণকে প্রাতঃকালে যথাবিধি বৃমিশ্রিত দুগ্ধ পান করিতে দিবে। তাদৃশ পানের ফলে বায়ণগণের বর্ষাকালে উপচিত পিক-প্রকোপ-জনিত বিবিধ প্রকার পীড়ার আক্রমণ হইতে উহারা পরিত্রাণ লাভ করিতে সমর্থ হইয়া থাকে। সেইরূপ হেমন্ত ঋতুতে যখন ধরণী মণ্ডল সম্পূর্ণ অভিনব আকার প্রাপ্ত হয়, নদী হ্রদ প্রভৃতি জলাশয় সমূহ নিরন্তর বাম্পায়মান দৃষ্ট হয়, তখন গ্রাম্য বারণ- গণকে যৰ-সৌবীরক (মদ্য) মিশ্রিত তৈল যথাবিধি পান করিতে দিলে উহাদিগের সঞ্চয়ােখ শ্লেষ্মবেগ উপশমিত এবং বাত শ্লেষ্ম প্রশমিত হইয়া থাকে। শীতঋতুতে নিরন্তর শীত বায়ু প্রবাহিত হইতে থাকিলে, সর্বদা পূর্ণ বীৰ্য্য শস্যাদি ভক্ষণের ফলে বারণগণের বিশেষতঃ মাংসল দেহসম্পন্ন মাতগণের দেহে শেষ্মের প্রাবল্য হইতে দেখা যায়। চিকিৎসা; ঈদৃশ অবস্থায় উহাদিগকে oিফল রস মিশ্রিত তৈল যপােক্ত পরিমাণে পান করতে দিলে মাতঙ্গগণের তাদৃশ কফ বিকারজনিত ব্যাধি সমুদয় প্রশমিত হইয়া থাকে। সেইরূপ বসন্তে তৃণ শস্যাদি পূর্ণবীৰ্য্য সম্পন্ন হইলে তরুলতা গুল্ম সমুদয় কুসুম ভারাবনত হইলে পুং বারণগণকে তিন প্রসন্না (এক প্রকার সুরা) মিশ্ৰিত হৈল পান করিতে দিবে। তাদৃশ তৈল পানের ফলে মাতঙ্গগণ হৃষ্ট, তাহাদিগের জঠরানল প্রদীপ্ত, আহারে রুচি ও মূত্র বস্তিশুদ্ধি হইয়া থাকে। ইহাই পূৰ্বাচাৰ্য্য গণের অনুমােদিত বারণগণের ঋতুপান বিধি’ কথিত হইল। যে সুরা আস্বাদে মধুর, পরিণামে (ক্রিয়ায়) ঈষৎ তিক্ত কটু ও কষায় অল্প শক্তিমতী যাহাতে ফেনা বিদ্যমান থাকে না তাহাই মালগণের পক্ষে হিতকরী। সুরা পানের পরে ৪০ গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। ৪ । ঘৃত মিশ্রিত ঈষদুষ্ণ দুগ্ধ পান ও বারণগণের একান্ত হিতকর। প্রত্যেক দ্রোণে অর্থাৎ উচ্চতার প্রত্যেক অৱত্নিতে দুই অঢ়ক পরিমিত দুগ্ধের সহিত অর্ধ অঢ়ক পরিমিত ঘৃত মিশ্রিত করিয়া বারণগণকে পান করিতে দিবে। জঠরনলের পরিমাণ অনুসারে তাদৃশ দুগ্ধ ও ঘৃতের পরিমাণ বর্ধিত করা যাইতে পারে। সে সকল মাতঙ্গ, দূর পথ গমন জনিত পরিশ্রমে একান্ত ক্লান্ত, ক্ষীণ দুর্বল ক্ষীণধাতু রক্তপিত্ত-রােগগ্রস্ত পিতাতীসার-রোগাভিভূত বিষসংসর্গোপহত গারোগাক্রান্ত মদস্রাব নিবন্ধন ক্ষীণ কিংবা নব গৃগীত তাহাদিগের পক্ষে এতাদৃশ ধৃত মিশ্রিত দুগ্ধ পান একান্ত হিতকর। পক্ষান্তরে যে সকল মাতঙ্গের কঠোর পরিশ্রমান্তে বিশ্রাম না করিয়া পানীয় পান করার ফলে শ্লেষ্ম বর্ধিত হয়, যাহারা গুল্ম, মূত্রাপঘাত, অপষ্ট মেহ কৃমিকোষ্ঠ আমাশয় বিকার ও গলগ্রহ রোগে অভিভূত তাহাদিগের পক্ষে এতাদৃশ ধৃত মিশ্রিত দুগ্ধপান একান্ত অহিতকর। তদ্ভিন্ন যে সকল মাতঙ্গ মৃত্তিকা ভক্ষণ করে তাহাদিগকে ও দুগ্ধ পান করিতে দিবে না। হে নরনাথ, অনন্তর সদ্যঃ স্নেহবিধি ব্যাখ্যা করিতেছি শ্রবণ করুন ;- ১। বাহ বসা মজ। ২। পিপ্পলী চর্ণ ৩। লবণ ৬। তিল বাট। এই ছয় প্রকার ঔষধ দ্রব্য একযোগে উত্তমরূপে মিশ্রিত করিলে তাহাকে সদ্য স্নেহ বলা যায়। অথবা বরাহ মাংস ২। মুলক ৪। দধি এই চতুর্বিধ দ্রব্য এক যোগে বাটিয়া মিশ্রিত করিলে তাহাকে সদ্যস্নেহ বলে। অথবা- ১। পিঙ্গুলী ৫। অজমেদ জোয়াইন ২। গোলমরিচ ৬। মােটমাছের বস। । আদা ৪। চৈ ৮। ষবাগু ( যাউ ) উত্তমরূপে মিশ্রিত উল্লিখিত অষ্টবিধ দ্রব্যকেও সদ্যঃ মেহনামে অভিহিত করা হইয়া থাকে।অথবা ১। স্থল কুকুট মাংস ২। বরাহ মাংস বদর মেহবিধি। ৪১ একযােগে মিশ্ৰিত উল্লিখিত ত্রিবিধ ঐ ব্যকে ও সদ্যঃ স্নেহ বলা হইয়া থাকে। অথবা দুগ্ধ অনুপানের সহিত - ৩। চূর্ণ ৪। কশরা প্রথমোক্ত ত্রিবিধ দ্রব্যের সহিত সিদ্ধ কশাকে সস্নেহ বলে।-অথবা পিক ‘বেসবার ভক্ষণের পরে ক্ষুদ্রপত্র তুলসীর রস মিশ্রিত সুরা পানকে ‘সদ্যস্নেহ আখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে।অথবা :। যবচুর্ণ ৩। দুগ্ধ ২। কুলখ কলাইচুর্ণ ৫। ফাণিত ( ঘনীভূত ইক্ষুরস) ৩। দধি ৬। গুড় প্রথমোক্ত দ্বিবিধ চূর্ণ তৃতীয় চতুর্থ দধি দুগ্ধের সহিত উত্তমরূপে পাক করিয়া তাহাতে ৫ম ও ৬ষ্ঠ রস ও গুড় মিশ্রিত করিলেও সদ্যস্নেহ প্রস্তুত হয়। হে অনাথ ; অনন্তর সর্বাঙ্গে তৈল মর্দন ত্ত মস্তকে ধৃত মর্দনের গুণ বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন ;- দীর্ঘকালব্যাপী কঠোর দীর্ঘকালব্যাপী কঠোর ব্যায়ামজনিত ক্লেশে, পর্বতারোহণে, অবিশ্রান্ত দূর পথ গমনে, একস্থানে দীর্ঘকাল অবরােধে এবং দস্তাদির ভীষণ আঘাত প্রভৃতি কারণ বশতঃ বাত বিকারসম্ভত ‘গাত্ৰস্তম্ভ যােগে বারণগণকে অনেক সময়ে আক্রান্ত হইতে দেখা যায়। তাহার প্রতী- কারার্থ অপলিখিত ঔষধ তৈল মাতঙ্গের সর্বাঙ্গে মর্দন করিবে। অতিমাত্রায় করিণী সহবাসাদি বশতঃ ও এইরূপ গতিস্তম্ভ হইয়া থাকে, নিম্ন- লিখিত ঔষধ তৈল সর্বাঙ্গে মর্দনে তাহারও প্রতীকার হয়; কারণ সেই প্রকারে মর্দিত তৈল মাতঙ্গের সর্বাঙ্গস্থিত লােমকূপসমূহে প্রবেশলাভ করিয়া উহাদিগের শিরা স্নায়ু ও অস্থিসন্ধিস্থিত মাংসপেশী সকলের কোমলতা সম্পাদন করে, দেহ-কান্তি প্রসন্ন করে এবং রােমাবলী মধ্যস্থিত কৃমি কীটাদি বিনষ্ট করিয়া থাকে। এতদ্ভিন্ন বারণগণের একান্ত প্রিয় শীতকালে অত্যন্ত তুষারপাত হইলে তাহাতে উহাদিগের দেহ স্তব্ধপ্রায় হইয়া থাকে এবং করচরণ জড়ীভূত হয়। তাদৃশ অবস্থাতে অপােলিখিত ঔষধ তৈল একান্ত শুভফলপ্রদ। ১। তিল তৈল ১ আটক ৩। গৈরিক বা গিরি মাটী ১০ পল ২। কিণ (মদের সিটা) ১০ পল ৪।. সামুদ্র লবণ ৫ পল ২য়-৪র্থ পৰ্যন্ত ঔষধ দ্রব্য উত্তমরূপে ছেচিয়া ১ম তৈল সহ মৃদু অগ্নিতে জাল করিবে। যখন পরােক্ত ত্রিবিধ দ্রব্যের কাথ তৈলে মিশ্রিত হইয়াছে ৪২ গজায়ুর্বেদ-সংহিত। বলিয়া বােধ হইবে তখন অবতারণ পূর্বক শীতল হইলে মস্তক ব্যতীত অন্য সর্বাঙ্গে তাহা মর্দন করিবে। কেবল মস্তকে ঘৃত মর্দন করিবে। এইরূপে তিন দিবস পৰ্যন্ত সৰ্বাভ্যঙ্গ প্রদান করিলে বারণগণের দেহকান্তি সুক্ষ হয়। উহারা বাত আতপ হিপাত অক্লেশে সহ করিতে সমর্থ হয়। বিশেষতঃ জন, অঙ্কুশ প্রভৃতি শস্ত্র দ্বারা প্রয়োজন বশতঃ মস্তকে আঘাত করা হইয়া থাকে। তাহার ফলে মস্তকে বেদনা হয়। তদ্ভিন্ন কদম্বপুষ্পী বিদ্যুন্মলী বল্মীকপিটকা প্রভৃতি নেত্রয়ােগ ও যাবতীয় শিৰােবােগে মস্তকে ঘৃমর্দন একান্ত হিতকর। এই প্রকার ঘৃত মর্দনের ফলে উহাদিগের মস্তক সুস্নিগ্ধ কেশরাজিতে পরিশােভিত হয় এবং কটস্ৰোতঃ সমূহ বিশোধিত হওয়ায় উহা- দিগের মদপ্রবৃত্তির সাহায্য করে। হে নরনাথ, অনন্তর তাহাদ্বারা বস্তিদান ও তাহা নস্যরূপে ব্যবহারের গুণাবলী বর্ণিত হইতেছে। শ্রবণ করুন; বিশােধিত উল্লিখিত ঔষধতৈল দ্বারা বস্তি প্রদান করিলে কিংবা নস্য রূপে উহা ব্যবহার করিলে বারণগণের কর্ণরােগ, নেরোগ, গ্রীবা, মা, কট, মুখ, দস্তাবেষ্ট, তালু জিহ্বা, শিরঃ এবং দন্তোৰ্দ্ধভাগজ ও জরুজাত রোগ সমূহ কিংবা রাজন অঙ্কুশ প্রভৃতিশস্ত্রাঘাত জনিত ব্যাধি- সমুদয় প্রায়শঃ হইতে দেখা যায় না। তদ্ভিন্ন ইহা বয়ঃস্থাপক স্বর ও বর্ণজনক কান্তিবর্ধক ও ধমনী শিরা, স্নায়ু, অস্থি ও মাংস সন্ধি সমূহের দৃঢ়তা সম্পাদক। কখন কখনও মদমত্ত মাতজগণের মুতের তীক্ষ্ণতা ও উষ্ণতা বশতঃ অণ্ড - কোষ পুষ্পিত হইয়া থাকে তাদৃশ অবস্থায় অপােলিখিত ঔষধষ্মত অণ্ডকোষে মর্দন করিলে সবিশেষ উপকার দশে। ১। ধৃত ১ কুড়ব ২। গৈরিক চুর্ণ মাতঙ্গের উচ্চতায় প্রতি অরতি ১ পল হিসাবে। এই দ্বিবিধ দ্রব্য উত্তমরূপে নিশ্রিত করিয়া অণ্ডকোষে মর্দন করিতে ইইবে । অনন্তর মনোপযােগী “পত্রভঙ্গীয় তৈল” নামক ঔষধ তৈল পাকের বিধান কথিত হইতেছে, হে অলেশ্বর, শ্রবণ করুন্ ;- ১। সাজিনার পাত। ৬। নির্ভীর পাতা এরশু (ভ্যারেণ্ডার) পাতা ৭। কণিকার পত্র ৬। অগ্নিমস্থ গণিয়ারী) পাতা ৮। সীবলী পত্র ? ৪। তক্করী ( জয়ন্তীর , পাতা ৯। 'অৰুপত্র (আকনের পাতা) ৫। তুলসীর পাতা ১০। কুবেরাক্ষীর পাতা * শ্নেবিধি। = এই দশবিধ পত্ৰ ছেচিয়া তাহার রস নিষ্কাশন পূর্বক তাহার ৩ভাগ এবং নিৰ্ম্মল তিল তৈল ১ ভাগ একযােগে তাম্রময় কিংবা কৃষ্ণলৌহময় পাত্রে যথাবিধি জাল করিবে। এই তৈল মর্দনে বারণগণের সকল প্রকার বাত রােগের প্রতীকার হইয়া থাকে। এই তৈল বারণগণের বাতরােগের প্রথম অবস্থায় একান্ত হিতকর এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ঔষধতৈল । অতঃপর ‘বলাতিবলা তৈল’ পাকের বিধান বর্ণিত হইতেছে শ্রবণ করুন ;- ১। বলাতিবলা ১•• পল ৩।' গােদুগ্ধ ৪ প্রস্থ ২। জল • প্রস্থ ৪। যষ্ঠি মধু } অন্ধ পল ৫। ভদ্ৰদারু ৬। তৈল ও প্রস্থ। প্রথমতঃ বলাতিবল। প্রক্ষালন পূর্বক ছেচিয়া জল সহ পাক করিবে এবং পদাবশিষ্ট কাথ অবতারণ করিবে। অনন্তর গােদুগ্ধ সহ যষ্টিমধু ও ভদ্রদারু বাটিয়া তাহা ও উক্ত কাগ তৈলে আলােড়ন পূর্বক যথাবিধি পাক করিবে। পরে অবতারণ পূর্বক শীতল হইলে তাহা বস্তিকর্ম পান ও নস্য কর্মে ব্যবহার করিলে বাতরােগে সবিশেষ উপকার দশে। অনন্তর বজ্রক’ তৈল পাকের বিধান কথিত হইতেছে- ১। বলা ৫০ পল ১৯। মাসপণী ১ কর্য ২। অতিবলা ৫০ পল ১২। মমদা জল ২• প্রস্থ ১৩। মহামেদা ১ দেবদারু ১ কর্য ১৪। ছিন্ন ১ ৫। যষ্টিমধু ১৫। কাকড়াশৃঙ্গী ১ রামা ১৬। ভূমিকুৰ্মাণ্ড ১ ৭। জীবক ১৭। কাকনাশ ১ ১৮। অনুপমাংস ১ ৯। কাকোলী । ১০। মুগপণী । ১ম বলা ও ২য় অতিবলা খণ্ড খণ্ড করিয়া ৩য় বিংশতি প্রস্থ জলে সিদ্ধ করিয়া তাহা অবতারণ করিয়া স্থাপন করিবে। অনন্তর ৪র্থ-১৭শ পর্যন্ত ঔষধ দ্ৰব্য সমূহ প্রক্ষালন পূর্বক ছেচিয়া তৎসহ অনুপমাংস মিশ্রিত করিবে এবং সমষ্টি আট গুণ জলে কাথ প্রস্তুত করিয়া সেই কাথের সহিত ১৯শ তৈল ১ ৪। ১ ১৯। তৈল উঃ গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। ১ কর্য ১ ৫। কাশ মূল ১ ১ পাক করিবে। উক্ত তৈল পাক কালে প্রথমে রক্ষিত কাথ প্রতিবাপ প্রদান পূর্বক যথাবিধি পাক নিষ্পন্ন হইলে তাহা অবতরণ করিবে। এই তৈল পানে ও মর্দনে বারণগণের সকল প্রকার বাতবিকারজরােগের প্রতীকার হইয়া থাকে। উল্লিখিত ঔষধ সমূহের সহিত তৈলের পরিবর্তে ধৃত পাক করিয়া তাহা পান করিতে দিলে বায়ণগণের পিওবিকার সকল প্রকার রােগের প্রতীকার, বলবৃদ্ধি ও মদ প্রবৃত্তি হইয়া থাকে। অতঃপর ত্রিবৃত পাক বিধি বর্ণিত হইতেছে ;- ১। যা পঞ্চ মূল ৮। বৎসদিনী কর্ষ ২। বৃহৎ পঞ্চ মূল ৯। শতাবরী ৩। স্বদংষ্ট্রা (গাের), ১০। কুলখ ৪। কুশ মূল ১১। যব ১২। বদর ৬। দ্বিগুচ্ছ ? ১৩। পণী ৭। দ্বিবিধ শৈরেয়ক (নীলঝিন্টা ও ১৪। মহুয়া ১ কর্ষ গীত ঝিন্টা ১ কর্ষ ১৫। জল আটগুণ। যথাবিধি কাথ প্রস্তুত করিয়া তাহাতে অধােলিখিত ঔষধ সমূহ প্রতিবাপ বা প্রক্ষেপ প্রদান করিতে হইবে। যথা- ১। অনন্ত ১ কর্ষ। ১২। পিঙ্গুলী ২। বনকুটক্সট ১৩। আদা ৩। দ্রাক্ষাসব লােধ ১৫। তমাল পত্র ১ ৫। হরিবর ১৬। নলিকা ৬। সরল কাষ্ঠ ১৭। উশীর ৭। ভদারু ১৮। মঞ্জিয়া ৮। রাগ ১৯। দাৰু হরিদ্রা ১ ৯। কুড় ২০। ঘৃত ১। তার ২১। তৈল প্রস্থ ১। হবেনুকা ২২। বসা। (চর্বি ) অনন্তর চতুগুণ বা (৮০ পল) জলে ২০ পল জাঙ্গল আপ ও জলজ প্রাণীর মাংস সিদ্ধ করিয়া বা পাদবিশিষ্ট আলােড়িত' রস লইবে। ১৪। চৈ 2 7) 2 হেবিধি। ৪৫ উল্লিখিত ঔষধ দ্রব্য সমুদয় এবং ১। কুম্ভীর বস। ৩। বরাহ বস ২। মহিষ বল। ৪। শুশুক ( শিশুমার) বসা এই চতুৰ্ব্বিধ বসা সহ বৃহৎ পাত্রে মন্দ অগ্নিতে পুঁক করিবে। তাহ। যথাবিধি পাক হইলে অবতারণ করিয়া আবৃত মুখে স্থাপন করিবে। ইহাকে ‘স্বল্প ত্রিবৃত’ বলে। ইহা নস্য অভ্যঙ্গ (মালিশ) ও উত্তরপানে ব্যবহার করিলে বারণগণের সকল প্রকার বাতরোগের প্রতীকার হইয়া থাকে। কোষ্ঠ- গত বায়ুর প্রতীকালে ইহাকে অদ্বিতীয় বলিতে পারা যায়। তদ্ভিন্ন এই ত্রিবৃত পান ও মর্দনের ফল রস রক্ত মাংস মেদ অস্থি মজ্জা ও শুক্রক্ষয় লক্ষয় এবং মদক্ষয় অবস্থায় একান্ত হিতকর। বৃহৎ ত্রিবৃতা পাকের বিধি। ১। কৃষ্ণ তিল তৈল ১৩। সজারু বসা শ্বেত তিল তৈল ১৪। বরাহ বসা ৩। পাটখেলে তিল ভৈল ১৫। শুক বসা ৪। বিসির তৈল ১৬। কুন্তীর বস। ৫। সর্ষপ তৈল ১৭। কচ্ছপ বসা ১৮। বােয়াল মাছের বসা ।। গব্যঘৃত ১৯। ব্যাঘ্রাদি যথালাভ প্রাণীর মস্তি ৮। ছাগী ঘূত ২। সুস্থ ও সবল গােয় দু ৯। মহিষী ধৃত ২১। মহিষী দুগ্ধ •। মেষীত ২২। ছাগী দুগ্ধ ১১। ব্যা বসা ২৩। মেষী দুগ্ধ ১২। দ্বীপি বসা উল্লিখিত আয়ােবিংশতি প্রকার দ্রব্য এক বৃহৎ পাত্রে পাক করিয়া তাহার অষ্টম ভাগ অবশিষ্ট থাকিতে অবতারণ পূর্বক শীতল হইলে তাহা হইতে মন্থনদ্বারা নবনীত উত্তোলন করিতে হইবে। অনন্তর অবােলিখিত প্রাণিসমুহের মাংসের কাথ আর এক পৃথক পাত্রে প্রস্তুত করিতে হইবে। বােয়াল মাছ ২। কুম্ভীর মাংস ৬। পাটলাক্ষ ১। মৎস্য ৪। ৫। চর্মী গজায়ুবেদাংহিতা। ন ৪। । শাবিৎ মাংস ১০। কাকড়ার মাংস ৮। শল্যক মাংস ১১। কচ্ছপের মাংস ৯। রােহিতক মাংস ১২। ইলিশ মাছ এই দ্বাদশ প্রকার প্রাণীর মাংসের ১০০০ পল ও অষ্টম ভাগাবশিষ্ট কবি প্রস্তুত করিতে হইবে। তৎপর অপর আর এক পাত্রে- ১। লাবক ( লাউয়া ছাতরা পাখীর) ৩। কপিঞ্জল মাংস মাংস ৪। ময়ুর মাংস ২। তিত্তির মাংস ৫। কুকুট মাংস এই চতুর্বিধ ১৪ পল মাংসের কাথ প্রস্তুত করিবে। অপর আর একপাত্রে - ১। হংস মাংস ৫। বলাকা মাংস ২। কারণ্ডব মাংস ৬। যগু মাংস ৩। চক্রবাক মাংস ক্রৌঞ্চ মাংস বক মাংস উল্লিখিত সপ্তবিধ মাংসের মধ্যে যথালাভ ১০০ পল মাংসের বস প্রস্তুত করিবে। তৎপর অপর আর এক পাত্রে ৬। শণবীজ ২। বদর ৭। অড়হর ৩। কুলখ ৮। বৃহৎ পঞ্চমূল ৪। যষ্টিমধু ৯। বিদারী কন্দ ৫। ঐপণী এই নয় প্রকার দ্রব্যের কাথ প্রস্তুত করিবে পরে এই সকল দ্রব্য এক যোগে থাবিধি পাক করিলে তাহা ‘বৃহৎ ত্রিবৃত’ নামে প্রসিদ্ধ ঔষধ হয়। ইহা বারণ- গণের বাতরােগের একান্ত হিতকর ও বলপ্রাণ পুষ্টিকর বলিয়া কথিত আছে। অনন্তর ‘মহাবিবৃত’ পাক বিধি কপিত হইতেছে ১। জীবক ৭। পয়শ্যা ( ভূমি কুৰ্মাণ্ড) ৮। কাকড়া শৃঙ্গী ৩। মুদগপণী কাকনা ৪। শেদা ১। রামা ৫। ছিন্নরুহ। ১। মহমেদ। ১৬। ক্ষীর কাকোলী ১। যষ্টিমধু ১ কৰ A স্নেহবিধি। ৪৭ ১৩। অনন্তমূল ২১।পত্র ১৪। সারিব (অপর প্রকার অনন্তমূল) ২৯। হরিবের ১৫। সরল কাষ্ঠ ৩০। কুম ১৬। ভদ্ৰদারু ৩১। কুটট • ১৭। হরিদ্রা ৩২। মুথা ১৮। বরুণ(বর্ণা) ৩৩। ছােট এলাচ ১৯। নাগপুষ্প ৩৪। মােটাএলাচ ২০। মঞ্জিষ্ঠ। ৩৫। খেজুর ২১। রক্তচন্দন ৩৬। দ্রাক্ষা ২২। উশীর ৩৭। পিপ্পলীমূল ২৩। কুড় ৩৮। চৈ ২৪। তার ৩৯। অজমােদা ২৫। ব্যাব্রিনখ ৪। তেজোবতী (চৈ) ২৬। শতপুষ্প (সা) ৪১। বিড়ঙ্গ ২৭। জটামাংসী ৪২। আদ। (ঠ) এই বেয়াল্লীশ প্রকার ঔষধ দ্রব্য উত্তমরূপে প্রক্ষালনপূর্বক শিলে ছেচিয়া এক বৃহৎ পাত্রে স্থাপন করিবে এবং তাহাতে- ৪৩। ধৃত ১ প্রস্থ ৪৬। । প্রস্থ ৪৪। তৈল ৪৭। জল ( সমষ্টির আট গুণ) ৪৫। বসা মৃদু অগ্নিতে যথাবিধি পাক করিতে হইবে। এক এক বার পাক করিয়া তাহা পুনরায় অবতারণ করিবে। সহস্র পাক উত্তম, শত পাক মধ্যম এবং দশ পাক অধম। এই ঔষধকে ‘মহাত্রিবৃত’ আখ্যা প্রদত্ত হইয়া থাকে। ইহা বারণগণের পুষ্টি ও হিতকর। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে, আমি, প্রমাণজ্ঞ ঋষিগণ কর্তৃক বিহিত স্নেহবিধি এই প্রকারে সঙ্কলন করিলাম। যে অভিজ্ঞ চিকিৎসক বিকারের লক্ষণ ও পরিমাণ যথার্থরূপে নিৰ্বাচনপূর্বক বারণগণের বিকার প্রতীকারার্থ ইহা যথাযথভাবে প্রয়ােগ রিতে সমর্থ, তিনি নরপতিগণ কর্তৃক অ:দৃত ও সম্মানিত হইয়া থাকেন। ইতি-মহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তরস্থানে ৪র্থ অধ্যায়।
পঞ্চম অধ্যায়। বঙিন বিবি। একদা তীক্ষ্ণধী মহাপ্রাজ্ঞ অঙ্গপতি সং্যত চিত্তে, মাতঙ্গ-তত্ত্বজ্ঞ অমিত তেজাঃ ঋষিবর পালকপ্যকে প্রণতিপূৰ্ব্বক কৃতাঞ্জলিপুটে জিজ্ঞাসা করিলেন ভগবন, আপনি ধৰ্ম্মবুদ্ধিতে প্রজাগণের হিতাভিলাষী। প্রজাগণের রক্ষাই নরপতির শ্রেষ্ঠ ধর্ম এবং আমি সতত তাহাতে অবহিত। এই প্রভা রক্ষণ ব্যাপারের শত্রু দমন প্রধান অঙ্গ। হস্তীবল তাহার অসাধারণ সহায়। এই অপ্রতিহত-প্রভাব মাতঙ্গসেনার সাহায্যেই আমি এক সময়ে সসাগরা ধরা জয় করিতে সমর্থ হইয়াছিলাম। এই অসীম বলশালী প্রাণিগণের য়ােগ ব্যতীত অন্য কোনও প্রকার ভয়ের কারণ নাই বলিলেই চলে। ८१ মহানুভব, আপনি আমার প্রশ্নের উত্তরে ইতঃপূর্বে বারণগণের সকল প্রকার রােগেরই চিকিৎসা সবিস্তার কীৰ্ত্তন করিয়াছেন। এইক্ষণে বারণগণের কোন কোন রােগ প্রতীকারার্থ বন্তি-প্ৰয়ােগ বা পিচকারী ব্যবহারের বিধান আছে ? তাহা বিস্তৃতরূপে বর্ণনা করিয়া আমার অজ্ঞান নিবৃত্তি করুন। মহাপ্রভাবশালী অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন নরনাথ, শ্রবণ করুন- বস্তিদানের গুণ উপদ্রব ইতিকৰ্তব্যত যে সকল মাতঙ্গের ‘আস্থাপন’ যে অবস্থায় অনুবাসন’ এবং স্নেহবস্তি’ ও ‘নিরূহবস্তিতে যে যে দ্রব্যের প্রয়ােজন ও তাহার পরিমাণ, সময় নির্ণয় ‘বিধি সংস্কারযােগ’ স্নেহ পাক, অসাবধানতায় বিপত্তির সম্ভাবনা, বিপদের প্রতিবিধান, সফলতা এবং কাৰ্যাকাৰ্যজ্ঞান প্রভৃতি তাবৎ জ্ঞাতব্য বিষয়ই আনুপূর্বিক বর্ণনা করিতেছি। হে অঙ্গেশ্বর, বস্তি বা পিচকারী প্রয়ােগধারা অল্পায়াসে বিকার নিঃসরিত হয় বলিয়া অভিজ্ঞ চিকিৎসকগণ আপ্রতীকারার্থ বস্তি প্রয়ােগ হিতকর মনে করেন। বস্তি প্রয়ােগের আরও একটা বিশেষ গুণ এই যে উহাতে পাকাশয়ের বিকার উৎপাদন করে না দুর্বলতার আশঙ্কা থাকে না কিংবা বিরুদ্ধ ঔষধ সেবন জনিত বাত পিত্ত ও কফের বিকার ঘটে না। ঔষধ সেবনধারা বিকার প্রতীকার করিতে গেলে সর্বদাই পূৰ্বসেবিত ঔষধ পরিপাক প্রাপ্ত হইল কিনা? এইরূপ আশঙ্কার অবকাশ থাকে বন্তি প্রয়ােগে থাকে না, অথচ বিকারের প্রতীকার হইয়া থাকে। যথাযথ ভাবে বন্তি প্রয়ােগের ফলে বারণগণের শীর- শক্তি ইত্রিয়শক্তি ও স্মৃতিশক্তি বর্ধিত ও মার্জিত হইয়া থাকে এবং তাহার ফলে বস্তিদান বিধি। ৪৯ উহারা অল্পায়াসে শিক্ষণীয় বিষয় সমুদয়ের তৎপৰ্য্য গ্রহণে সমর্থ হয়। বিধি বিহিত বন্তি প্রয়ােগের ফলে বারণগণের বেগ, সাহস ও শীতাতপ সহ করিবার শক্তি পরিবর্ধিত হয়। বস্তিসিদ্ধির ফলে মাতঙ্গগণের দেহযন্ত্র সুদৃঢ় হয়, এই নিমিত্ত চৰ্ম্মমাংসের শৈথিল্যাদি অকাল বার্ধক্য ও মেদোরােগ উহাদিগকে উৎপীড়িত করতে পারে না। 'যেমন পুরাতন জীর্ণ তরু শীর্ণপত্র হইলে কালে জলদনির্গলিত অমৃতকল্প বারিসিক্ত হইয়া পুনরায় হরিদ্বর্ণ নবকিশলয়ে ও ক্রমে ফুলফলে ভূষিত হয়, তেমনি যথাবিধি বস্তি প্রয়োগের ফলে বারণগণ হৃষ্টপুষ্ট ও বলিষ্ঠ হইতে পারে। বস্তিসিদ্ধির ফলে দুৰ্বল বারণগণও সবল ইন্দ্রিয় হইয়া যথাকালে মদমত্ত পৰ্যন্ত হইতে পারে। হে অঙ্গনাথ, যে সকল মাতঙ্গ শ্লেষ্মবিকারগ্রস্ত কিংবা পিত্তবিকারজনিত রােগাক্রান্ত যাহাদিগের ‘আনাহ’ ( পেটফাঁপা) রােগ আছে, যাহাদিগের মৃত্তিকা ভক্ষণে অভ্যাস, পাকস্থলীতে কৃমি সঞ্চিত, বাতজ বিকার দ্বারা একাঙ্গ কিংবা সৰ্বাঙ্গ অভিভূত এবং যাহাদিগের মলমুত্র-রোধ প্রভৃতি দুরারােগ্য ক্লেশপ্রদ রােগ আছে সেই সকল মাতঙ্গের পক্ষে পক্ষে বস্তিপ্রয়ােগ অপেক্ষা শ্রেষ্ট প্রতীকার আর কিছুই নাই। ঔষধ পান, প্রলেপ দান স্বেদ তৈলমর্দন প্রভৃতি দ্বারা দীর্ঘকালে যে ফল লাভ হয়, যথাবিধি বস্তি প্রয়ােগে তাহা অতি অল্পকাল মধ্যেই হইয়া থাকে। হে অঙ্গনাথ, আমি অগ্রেই বলিয়াছি বারণগণের কোষ্ঠে মৃণাল সদুশ বিংশতিটি শিরা বর্তমান আছে। উহাবার। মাতঙ্গগণের সর্বদেহ ব্যাপ রহিয়াছে। উল্লিখিত শিরা হইতে যে সকল নাড়ী নিঃসৃত হইয়া কণ্ঠনারী পৰ্যন্ত বিস্তৃত রহিয়াছে। তার বপ্রিযুক্ত স্নেহপদার্থ সমুদয় উহাদিগের সর্বাঙ্গে সঞ্চারিত হইয়া স্বম্ব স্থানে নীত হইয়া থাকে। যেমন গ্রীষ্মকালে দিবসের মধ্যভাগে প্রচণ্ড মার্তণ্ডকিরণ ক্ষুদ্র বৃহৎ সকল জলাশয় হইতেই জল শুষিয়া লয় তেমনি পানাদি দ্বারা বারণদেহে প্রবিষ্ট স্নেহ জীর্ণ হইয়া থাকে। সম্যক্ জীর্ণস্নেহ উহাদিগের সর্বাঙ্গ স্নিগ্ধ করে। ও রােগের প্রতীকার করিয়া থাকে। তৈলাদি স্নেহ পদার্থ বারণগণের পাকাশয়ে উপস্থিত হইয়া তেজঃ প্রভাবে অপান’ নামক বায়ুর ক্রিয়াদ্বারা অবিলম্বে বিকাণ হইয়া ‘সমান’ বায়ুকে প্রাপ্ত হয় এবং তৎক্ষণাৎ সমান’ বায়ু দ্বারা বিক্ষিপ্ত হইয়া ব্যান বায়ুতে উপনীত হয়। এইরূপে ব্যান’ ও ‘উদান বায়ুর বিচিত্র ক্রিয়ার প্রাণ বায়ুর নিকটে উপস্থিত হয় এবং প্রাণ বায়ুর অলৌকিক ক্রিয়াদার। রসপি গজায়ুর্বেদ-সংহিত। সপ্তধাতুতে পরিণত ও লীন হইয়া থাকে। এই অলৌকিক কৌশলে, মাতঙ্গ- দেহে প্রবিষ্ট স্নেহপদার্থ উহাদিগের বল আরোগ্য ও দেহকান্তি প্রভৃতি পরি- বদ্ধিত করিয়া থাকে। ইহার অভ্যন্তরে যে অসার অংশ বৰ্তমান আছে ‘অপান বায়ু তাহা দেহ হইতে নিঃসৃত করিয়া থাকে। ইহাই প্রকৃতির অলঙ্ঘ্য হে অঙ্গেশ্বর, বারণগণকে প্রথমতঃ মেহবস্তি ই প্রদান করা কর্তব্য। তাহাতে উহাদিগের দেহ বিশােধিত হইয়া থাকে। দ্বিতীয় বন্তি অগ্নিবা বর্ধক, তৃতীয় সামর্থ্যজনক, চতুর্থ ‘রস’ ধাতুর পুষ্টিকারক, পঞ্চম রক্তবর্ধক, যষ্ঠ মাংস বর্ধক, সপ্তম বস্তি মেদ ও অস্থি সমুদয়ের পুষ্টি সাধনদ্বারা সমগ্র দেহের পুষ্টি সাধন করিয়া থাকে। সেইরূপ অষ্টম বস্তি মজ্জাবর্ধক ও নবম বস্তি শুক্রবন্ধক বলিয়া কথিত আছে। হে নরেশ্বর, ইহাই বারণগণের নববিধ বস্তি সংক্ষেপে কথিত হইল। হে অঙ্গনাথ, বারণদেহে প্রয়ােগযােগ্য বস্তি অপেক্ষাকৃত বৃহৎ আকৃতি- বিশিষ্ট হইবে এবং উক্ত বস্তি বা পিচকারীর নেত্র (মুখ) ছয় অঙ্গুলী দীর্ঘ ও একটী আমলকী ফল প্রবেশযােগ্য ছিদ্রবিশিষ্ট হইবে। বারণগলের মলদ্বারের অভ্যন্তর ভাগে ‘আদানী। প্রবাহিনী’ ও ‘সঙ্কোচনী’ নামক তিনটী বলী বিদ্যমান আছে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকগণ, চিকিৎস্য মতঙ্গের বিশ্বাস উৎপাদন পূর্বক তাহাকে এমন একটী স্থানে যন্ত্রবদ্ধ করিবেন যাহাতে বায়ণগণের সম্মুখ ভাগ কিঞ্চিৎ নিম্ন সুতরাং পশ্চাদভাগ ঈষদুন্নত হয়। অনন্তর মলদ্বারে মৃগ সঞ্চিত থাকলে তাহা নিঃসরণপূর্বক বস্তি দৃঢ়হস্তে ধারণ করিয়া তাহার নেত্র বা অগ্রভাগ সম্পূর্ণরূপে মলদ্বারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করাইয়া দিবেন। তখন সাতিশয় সাবধানে মলদ্বারের সমসূত্রে সরলভাবে হস্ত রাখিয়া বস্তি বা পিচকারী প্রয়োগ করা আবশ্যক। এইরূপ বস্তি প্রয়োগ কালে মাতঙ্গের উভয় পার্শ্বে তাহার চিরপরিচিত ভৃত্যগণ উপস্থিত থাকিয়া মধুর সান্ত্বনা ও বিবিধ স্বরযন্ত্রে বাদ্যদ্বারা তাহার সন্তুষ্টি বিধানে যত্ন করিবে। হে নরনাথ, স্নেহপান অধ্যায়ে চিকিৎস্য মাতঙ্গের দেহের উচ্চতার পরিমাণ অনুসারে যে মাতঙ্গের যে পরিমাণ স্নেহপানের বিধান করা হইয়াছে তাদৃশ মাতঙ্গের বস্তি প্রয়োগে ও সেই পরিমাণ স্নেহপদার্থ গ্রহণ করিতে হইবে। বস্তি প্রয়োগে যে স্নেহপদার্থ ব্যবহাৰ্য্য তাহা ঈষদুষ্ণ হওয়া আবশ্যক। একবার মাত্র বস্তি প্রয়ােগ করিয়াই তাহা নিঃসরণ করিবে। অতঃপর প্রায় অর্ধ ঘণ্টা- বস্তিদান বিধি। উক্ত অন্নের কাল বিশ্রামের পরে রুগ্ন মাতকে মুক্ত করিয়া তাহাকে একশত পদ ভ্রমণ করাইবে। তখনও তৎকালোপযােগী সান্ত্বনা বাক্য প্রয়ােগ প্রভৃতি দ্বার। তাহার মনস্তুষ্ট বিধান করিতে হইবে। তৎপরে তাহাকে থানে অনিয়া বন্ধন করিবে। বস্তি প্রয়ােগের পরে হেমন্ত ও গ্রীষ্ম ঋতুতে উষ্ণজল পান করিতে দিবে কিন্তু গ্রীষ্মকালে শীতল জল পান তাদৃশ অবস্থায় বিধেয়। স্বভাবতঃ শীতে অভ্যস্ত বারণগণের তাদৃশ অবস্থাতেও স্নান শীতল জলেই বিধেয়। পর দিবস প্রত্যুষে গাত্রোখান করিলে পরে তাহাকে লঘুপাক স্বাভাবিক পরিমাণের অর্ধ পরিমিত ঘাস আহার প্রদান করা কর্তব্য। অনন্তর রক্তবর্ণ শালিধান্যে অল্প দুগ্ধ বা জাঙ্গল-মাংস রস-মিশ্রিত করিয়া ভোজন করিতে দিবে। পরিমাণ স্বাভাবিক পরিমাণ হইতে এক পাদ অংশ হীন বা নন হইতে হইবে। তাদৃশ অবস্থাতে অভ্যাসানুরূপ ঈষদুষ্ণ বা শীতল যুগমেহ (তৈলত) কিঞ্চিৎ লবণ সহযোগে পান করিতে দিবে। তাদৃশ অবস্থায় সম্পূর্ণ বিশ্রাম, শীতল আবৃত স্থানে অবস্থান, নিৰ্ম্মল জল পান ও তাহাতে স্নান করা একান্ত আবশ্যক। যাহাতে রুগ্ন মাতঙ্গের মনঃক্ষোভ জন্মে এরূপ কাৰ্য নিষিদ্ধ। সুখকর কোমল শয্যা তাহাদিগকে শয়নার্থ প্রদান করা কর্তব্য। এইরূপে পূৰ্বদত্ত বন্তি সম্যক্ পরিপাক প্রাপ্ত হইলে পুনরায় যথাসময়ে ‘অনুবাসন’ প্রদান করিবে। এইরূপে তিনবার পর্যন্ত ‘অনুবাসন’ প্রদান করা যাইতে পারে। বাত রােগাক্রান্ত মাতঙ্গের অগ্নিবল প্রদীপ্ত থাকিলে সুবিজ্ঞ চিকিৎসক বিচার- পূৰ্ব্বক অধিক অনুবাসনের ব্যবস্থা করিতে পারেন। হে অঙ্গনাথ, অতঃপর আস্থাপন’ বস্তির বিধান কথিত হইতেছে। আস্থাপনে অনুবাসনের দ্বিগুণ মাত্রাই প্রশস্ত। আহারের পরে কদাপি আস্থাপন প্রদান করা কর্তব্য নহে। নিরূহের অনুবন্ধ নিবন্ধন তাদৃশ অবস্থায় ‘আস্থাপন’ বস্তি একান্ত অহিতকর। তাহাতে বারণগণের অপৗড়া জন্মিতে পারে। অস্থািপন বস্তি ও অবস্থাভেদে বয়স ব্যাধি ঋতু দেশ অভ্যাস কাল বলাবল সত্ব মাতঙ্গের উত্তমাদি জাতি পরীক্ষাপূৰ্ব্বক দুই তিনবার বা ভাল বােধ কারলে ততোধিকবার দেওয়া যাইতে পারে। হে নরনাথ, কেহ বলেন আস্থাপন বস্তি দ্বারা পাকাশয় শােধিত হইলে পরে অনুবাসন প্রশস্ত ; কারণ অস্থাপন বস্তিদ্বারা কোষ্ঠ বিশোধিত হইবার পূবে অনুবাসন বস্তি প্রদান মধ্যে ঘৃতাহুতির তুল্য গজায়ুর্বেদ-সংহিতা । নিস্ফল। পক্ষান্তরে আস্থাপন দ্বারা কোষ্ঠ বা পাকাশয় বিশশাধিত হইলে পরে অনুসন বস্তি প্রদান করিলে নিৰ্ম্মল গগণতলে পূর্ণচন্দ্রের ন্যায় তারা বাছিত ফললাভ সম্ভাবিত হইয়া থাকে। বস্তুতঃ যাহাতে কোষ্ঠস্থিত বায়ু ও দূষিত কঠিন মল তরল ভাব, প্রাপ্ত হইয়া নিঃসৃত হয় প্রথমতঃ তাহাই করা কর্তব্য। অনন্তর প্রথমতঃ অনুবাসন এবং পরে ‘নিরূহ’ বা ‘আস্থাপন’ বস্তি প্রয়ােগ করা বিধেয়। এইরূপে কোষ্ঠবদ্ধ দেখিলে অনুবাসন বন্তির মধ্যে অবকাশে নিরূহ বন্তি প্রয়ােগ করা কর্তব্য। নিহবস্তি প্রদানের পরে মুশুদ্ধি বা স্বাভাবিক মূত্রস্রাব হইতে দেখিলে নিরূহ বস্তির সফলতা বুঝিতে হইবে। পক্ষান্তরে নিরূহের বিরুদ্ধ ফল হইলে রুগ্নমাতঙ্গের আনাহ (পেট ফাপা) রক্ত প্রস্রাব শূল ও মূল ব্যাধির বৃদ্ধি প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশিত হইয়া থাকে। সেই প্রকার কোষ্ঠশুদ্ধির নিমিত্ত অতিমাত্রায় ‘নিরূহ বন্তি প্ৰদান করিলে কুক্ষিতে বায়ু সঞ্চিত হইয়া ভীষণ শূলের সৃষ্টি হইয়া থাকে, এই নিমিত্ত সফলতাভিলাষী বিচক্ষণ চিকিৎসকগণ উপযুক্ত পরিমাণে যথাবিধি নিরূহ বন্তি প্রদান করিবেন। ক্ষার যেমন বস্ত্রের মল দূরীভূত করে সেইরূপ যথাবিধি প্রযুক্ত ‘অস্থাপন বাস্ত মাতঙ্গদেহের বহু প্রকার দোষ অপনীত করিয়া থাকে। ইহা বলকারক ও পুষ্টিকর। ক্ষুধা পীড়িত অবস্থায় মত্ত অবস্থায় অতি বাল্যে অতি বার্ধক্যে রােগাক্রান্ত অবস্থায় স্নানের পরে জলপানের পরে আহারের পরে কিংবা শ্বাসরোগাক্রান্ত ভীরু স্বভাব ও দুৰ্ম্মনস মাতকে কদাপি ‘আস্থাপন বস্তি’ প্রদান করা কর্তব্য নহে। এতাদৃশ মাতঙ্গকে বিজ্ঞ চিকিৎসকগণ ‘ক্ষীরবন্তি’ প্রদানের ব্যবস্থা করিবেন। যে সকল মাতঙ্গ ক্ষীণধাতু কৃশ দুর্বল বৃদ্ধ ও মদক্ষীণ তাহাদিগের জঠান বৃদ্ধির নিমিত্ত গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে উ ক্ষীরবস্তি হিতকর। তাদৃশ মাতঙ্গকে পূর্বাহে যথাবিধি স্নান ভােজন ও পান করাইয়া পরে ক্ষীরবন্তি প্রদান করিবে। ইহা যথাবিধি প্রযুক্ত হইলে শ্রেষ্ঠ রসায়ন বা পুষ্টিকর ঔষধ। অনুবাসন’ তৈল ঘৃতাদি স্নেহ পদার্থ পিচকারী দ্বারা প্রয়ােগ । * ‘নিরূহ বস্তি বা ‘আস্থাপন’ কষায় দুগ্ধ ও তৈল পিচ কারী দ্বারা প্রয়ােগ। বস্তি জিবিধা অনুসাখ্যো নিরূহশ্চেতি যঃ মেহৈদীয়তে সাদমুবাসন নামক। কষায় ক্ষীর তৈলৈৰ্যো নিরূহঃ স নিগদ্যতে। ।
বস্তিদান বিধি। =- ১১। মুগা p ৪। তিল ১৮। মধু অনন্ত ক্ষীবস্তি’ বিধান কথিত হইতেছে। ১০। প্রপৌণ্ডরীক ২। গল্প পঞ্চমূল ৩। বৃহৎ পমূল ১২। কিমি ১৩। চিনি ৫। উশীর (বিন্নার মূল। ১৪। জটামাংসী ৬। পদ্মকাছ ৫। মঞ্জিষ্ঠা । উৎপল ১৬। মধুর ১৭। জীবনীয় রগ ৯। রাম। ২-১৭শ পর্যন্ত করে যথাবিধি দুগ্ধের সহিত কাথ করিয়া শীতল হইলে তাহার সহিত মধু মিশ্রিত করিবে এবং রুগ্ন মাতঙ্গগণকে যথাবিধি বস্তি প্রদান করিবে। হে নরেশ্বর, এই ক্ষীরবস্তি বারণগণের বলবর্ধক। গ্রীষ্ম ও শরৎ- কালে বারণগণের পিত্ত ও রক্ত বিকার জনিত ব্যাধি সমুহ নাশে সম্পূর্ণ সমর্থ । পাকল বা জর রােগের অন্তর্দাহ ও বহির্দাহ নিবৃত্তিকল্পে হিতকর ; মূচ্ছ, এম, শ্বাস, ক্ষীণতা ও তাপজনিত পীড়া নাশে সমর্থ, নিরূহ বস্তিদানের পরে, নবধৃত মাতঙ্গের পক্ষে ও শীতে অভ্যস্ত মাতঙ্গগণের পক্ষে উক্ত ক্ষীরবস্তি অমৃতকল্প ফল প্রদান করিয়া থাকে। তাপ ও বায়ুবিকার নাশে উক্ত ক্ষীরবন্তি’ প্রশস্ত। প্রথম প্রদত্ত ক্ষীরবস্তি বারণগণের রস ও রক্তের হিতকর। দ্বিতীয়টি ক্ষার সহ প্রযুক্ত হইলে তাহা বারণগণের মাংস অস্থি ও মেদের পুষ্টি সাধন করিয়া থাকে। কেবল দুগ্ধদ্বারা তৃতীয় বস্তি প্রদত্ত হইলে উহাদিগের শুক্র ও মজ্জা বর্ধিত হয়। হে নরনাথ, সকল প্রকার বন্তি প্ৰয়ােগের বিধান আপনার নিকটে বর্ণিত হইল। এই সকল বিধান অনুসারে বস্তি প্রয়ােগ করিলে যেমন শুভ ফলের প্রত্যাশা করা যায়, অবিধিপূৰ্ব্বক বস্তি প্রয়ােগ করিলেও তেমনি বিবিধ প্রকার উপদ্রবের সম্ভাবনা। অনন্তর ‘নিরূহ বস্তি’ প্রয়ােগের বিধান কথিত হইতেছে - ১। বতি পিত্তাদির প্রতীকারর্থ বিহিত কয়বর্গ বসা (১) বাতবিকার প্রতীকারক কষায়বর্গ-বাতবিকার প্রতীকারার্থ প্রযুক্ত বস্তিতে প্রযােজ্য।
গলায়ুর্বেদ-সংহিতা। ৪। চতুষ্পদ জন্তুর মূত্র ১। দুগ্ধ ১১। ধান্যোক ১২। তুখোদক ৩। ফল ৬। দধি ৭। স্বরা ৮। মধু ৫ ১৪। লবণ ৯। বদরাম্ন এই চতুর্দশ প্রকার দ্রব্য যথাযথভাবে নিরূহ বস্তিতে প্রযােজ্য। কফবিকার জনিত রােগ প্রতীকারার্থ নিরূহ বস্তি। বারণগণের কফজ বিকার প্রতীকারার্থ অধােলিখিত ঈষদুষ্ণ দ্রব্য সমূহদার নিরূহ বস্তি প্রদান করিবে; ৪। তৈল ২। উষ্ণ জল লবণ ৩। চতুষ্পদ জন্তুর প্রস্রাব ৬। কফম্নবর্গীয় ঔষধ সমূহ বাতবিকারজ রােগ প্রতীকারার্থ নিরূহ বস্তি ১। ধান্যা ৬। যব কাথ ২। পিত্তনাশক ফলের কাথ বাত নাশক ঔষধ সমূহ ৩। কৃর্ভিকালাইয়ের কাথ ৮। লবণ-কাথ ৪। দুগ্ধ এই প্রকার দ্রব্যদ্বারা নিরূহ ৰস্তি প্রদান করিলে বাত বিকার জনিত রােগ সমূহ প্রশমিত হইয়া থাকে। (২) পিত্তবিকার প্রতিকারক কষায় বর্গ-পিত্তজবিকার প্রতীকারার্থ প্রযুক্ত বস্তিতে প্রযােজ্য। (৩) কফবিকার প্রতিকারক কয়বর্গ-কবিকার প্রতীকারার্থ বস্তিতে প্রযােজ্য। পিতল্প বৰ্গ :- চন্দন, কুচন্দন, হৃবের, উশীর, মঞ্জিষ্ঠা, পয়ষ্যা, ক্ষীরবিদারী, , শতাবরী, গুন্দ্রা, শৈবাল কলহরি, কুমুদ উৎপল বিদারী, দূর্বা; মূৰ্বা, কাকো- ল্যাদি এবং ন্যাগ্রোধাদি । বাত বর্গ :- মধুর, লবণ, অন্ন, স্নিগ্ধ ইত্যাদি। কফ বর্গ - রুক্ষ, ক্ষার, কষায়, তিক্ত, কটু ইত্যাদি।
বন্তিদান বিধি। ৩। চিনি ১। সর্ষপ পিত্তবিকার জনিত রােগ সমূহের প্রতীকারার্থ নিরূহ বন্তি ১। কষায়রসযুক্ত দ্রব্য ২। মধুর রসযুক্ত দ্রব। এই সকল দ্রব্যের কথিদ্বারা নিরহ বন্তি প্ৰদান করিলে পিবিকারজ রােগের উপশম হয়। ১। অপামার্গ ফল ৩। মদনফল ২। জীমূহক ( দেতাড়া) ফল এই ত্রিবিধ ফল বাটিয়া সকল প্রকার বস্তিতে আবাপস্বরূপ ব্যবহার করা কর্তব্য। তদ্ভিন্ন প্রতিকাৰ্য বিকারের লক্ষণ দৃষ্টে অপােলিখিত ঔষধ সমূহের মধ্যে যে ঔষধ যে রােগের হিতকর তাহা প্রতীকারার্থ প্রযােজ্য নিরূহ বস্তিতে সেই সেই ঔষধ প্রয়ােগ করিতে পারা যায়। ৮। কিসমিস ২। সরল কাষ্ঠ ৯। যষ্টিমধু ১০। মধু ৪। কুড় ১১। ভদ্রদারু ৫। তেজোবতী (চৈ) ১২। এলাচ ৮। পিপুল ১৩। সৈন্ধব লবণ ৭। শলফা খজ। বা খন্তি দ্বারা মথিত কাথ এই সকল দ্রব্যের কল্কের বস্তিতে ব্যবহাৰ্য্য । সকল প্রকার নিরূহ বস্তিতেই পাঙ্গা লবণ ও সৈন্ধবলবণ অতি উহুম আবাপরূপে ব্যবহার হইয়া থাকে। নিরূহ বস্তিতে প্রযােজ ঔষধের ভাগ ; কষায় দ্রব্য (কাথ)-৪ ভাগ তৈল-১ ভাগ। এই পাঁচ ভাগের সমষ্টির এক অষ্টম অংশ ও ঔষধ চুর্ণ( আবাপ) এবং তৎসমুদয়ের ? যােড়শ ভাগের এক ভাগ। যথা কাথ ও তৈল ১ চূর্ণ / লবণ /১০। কফ বিকার রােগ প্রতীকারর্থি বস্তি ১। শ্যামালতা ৫। বহেড়া ২। কুটট (কৈবৰ্তমুথা ) ৩। হরিতকী ৭। দারু হরিদ্রা ৪। আমলকী ৮। মদন ফল ১৩। ওঠ গজায়ুর্বেদসংহিতা। ৯। জীমূতক (দেতাড়া) ১৯। সৈৰ ২ মাত্রা ১। দন্তী ২। যশ ৪ মাত্রা ১১। দ্ৰবন্তী ২১। গজমূত্র ২২। গৰ্দ্ধত মূত্র ২৩। উদ্ভমূত্র ১৪। বুচ २ महान ১৫। তার ২৫। সুরা ২৬। ধাতা ১৭। পিপুল ২।। বদর ১৮। মুথা ২৮। তিল তৈল ১-২০ পর্যন্ত ঔষধের যথাবিধি কাথ প্রস্তুত করিয়া তাহার সহিত অবশিষ্ট ঔষধ দ্রব্য উত্তমরূপে মিশ্রণম্পূৰ্ব্বক বস্তি প্রদান করিলে বারণগণের শ্লেষ্মবিকারজ রােগ সমূহের প্রতীকার হইয়া থাকে। যে সকল মাতঙ্গ স্থূলকায় মেদোবােগ- গ্ৰন্ত কুষ্ঠ রােগাক্রান্ত কিংবা পাণ্ডু রােগ বিশিষ্ট তাহাদিগের বিকার নিবৃত্তির জন্য যথাবিহিত বস্তি প্রদান করা বিধেয়। ৰাভবিকার রােগ প্রতীকারাথ বস্তি :- ১। দন্তী ১২। চতুরঙ্গুল ? ২। দ্ৰবন্তী ১৩। সপ্তলা? ৩। শ্যামাক (তৌড়ী ধাপ্ত) ১৪। গবাক্ষী । কুটজ ১৫। শঙ্খিনী ৫। অপামাগ ১৬। কেষুক ? ৬। হন্তিকর্ণ পলাশ ১৭। অজশৃঙ্গী ৭। জীমূতক ১৮। অজগন্ধা ৮। কুটট ১৯। কপিলা ৯। শলা ২০। তুলসী ২১। প্ৰকীৰ্য্যা ১১। তার ২২। উদকীৰ্য্যা এই সকল দ্রব্যের কাথদ্বারা বস্তি প্রয়ােগ করিলে বারণগণের বাকবিকার জনিত রােগ সমুহের প্রতীকার হইয়া থাকে। ঈষদুষ্ণ অবস্থায় এই বস্তি প্রযােজ্য।
বস্তিদান বিধি। ৪। পিত্ত বিকার রোগ প্রতীকারার্থ বস্তি :- ১। ক্ষীরবৃক্ষ ছাল ১২। কটফুল ১৩। বেতস ৩। পিণ্ডাক ১৪। ষড়ী ? * কের ১৫। সুবর্ণ ক্ষীরী (সোনাখিরুই) ৫। আভীর পত্রিকা পত্র। শ্যামালত। ১৬। বজ্ৰ জন্ধু । ৭। ঝাউছাল ১৭। সুধাতকী ? খয়ের কাষ্ঠের ছাল ১৭। তিল । তুরন্তী ১৯। পদ্মকাই ১০। গণিয়ারী ২০। উশীর (বেনার মূল } ১১। নীপছাল উল্লিখিত বিংশতি প্রকার ঔষধ দ্রব্যের কাথ শীতল করিয়া যথাবিধি বস্তি { পিচ কারী) প্রদান করিলে বারণগণের পিত্তবিকার জনিত ব্যাধি প্রশমি। হইয়া থাকে। ১। ভূই কুমর। ৯। যষ্টিমধু ২। পদ্মমৃণাল ১০। কিমি ৩। শিঙ্গাড়। ১১। ক্ষার মােটক ৪। কের ১২। যবচুর্ণ ৫। বলা ১৩। গোধুম চূর্ণ ৬। অতিবলা ৭। আত্ম গুপ্ত। ১৫। অৰিচ্ছন্ন। ৮। শালপাণী ১৬। অতিচ্ছন্ন। উক্ত যোড়শ প্রকার ঔষধ দ্রব্যের কীথ শীতল করিয়া তার বস্তি প্রদান করিলে বাজীকরণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এবং উক্ত ঔষধ সমূহের সহিত ১। অশ্বগন্ধা ২। ভূমিকুষ্মাণ্ড (আর এক মাত্রা) যােগে কাথ প্রস্তুত করিয়া উক্ত শীতল কাথদ্বারা যথাবিধি বস্তি প্রদান করিলে অতি উত্তম বৃংহণীয় ঔষধের কার্য সম্পন্ন হয়। ১৪। মধুকর * সম্ভবতঃ ষটী বা শঠি হইবে।
গন্নায়ুর্বেদ-সংহিতা। , ১। বচ সেইরূপ উল্লিখিত ঔষধ সমূহের সহিত ৪। যজ্ঞডুমুর বীজ ২। সর্ষপ ৫। পঞ্চকোল ৩। সহ বা ঘৃতকুমারী প্রথম পঞ্চম পর্যন্ত ঔষধের যথাবিধি কাথ প্রস্তুত করিয়া তাহার সহিত ৬ষ্ঠ তৈল মিশ্রিত করতঃ উষ্ণ অবস্থাতে বস্তি প্রদান করিলে বারণগণের ‘আণাহ” ( পেট ফাঁপা) রােগে শোধনীয় বস্তির ক্রিয়া সম্পন্ন হইয়া থাকে। ১। কোবিদার বা রক্ত কাঞ্চন ছাল ৪। কোষ্ঠক? ছাল ২। নিম ছাল ৩। নীপ বা কদম্ব ছাল লবণ প্রথমােক্ত পঞ্চবিধ ঔষধ দ্রব্যের যথাবিধি কাথ প্রস্তুত করিয়া তাহার সহিত তৈল ও লবণ মিশ্রিত করিবে এবং ঈষদুষ্ণ অবস্থায় তারা বস্তি প্রদান করিলে মাতঙ্গগণের অণাহ রােগ শী প্রশমিত হয়। ১। শমীছাল ৫। পরকী ( ফল গাছের ছাল ২। শিমুল ছাল * ৬। ঐরাবতী (ডহুয়া গাছের ছাল ৩। ধন্বন (ধামনী) ছাল ৭। গাগোরুকা (নাগবালা বা গােরক্ষ ৪। শ্লেষ্মতকী ( চালতা গাছের ছাল বাকুলে ) ছাল উল্লিখিত সপ্তবিধ পিচ্ছিল ত্বকের কাথ দ্বারা বস্তি প্রদান করিলেও বারণ- গণের অতীসার রােগের উপশম হইয়া থাকে। ১। শশকের ( খরগােসের রক্ত ৪। বস্ত ( ছাগ) রক্ত ২। হরিণের রক্ত যকরের রক্ত ৩। মেষরক্ত উল্লিখিত পঞ্চবিধ সদ্যেরক্ত দ্বারা বস্তি প্রদান করিলে বাবণগণের অতীসার বােগের প্রতীকার হইয়া থাকে। এতদ্ভিয় পূৰ্বোল্লিখিত অতীসার নাশক ঔষধ সমূহের কাথদ্বারা বস্তি প্রদান করিলেও অতীসার রােগ নিবৃত্ত হইয়া অবশ্য বলা বাহুল্য যে বিজ্ঞ চিকিৎসকগণ রুগ্ন মাতঙ্গের প্রকটিত + পিপ্পলী পিপ্পলীমুলং চণ্যচিত্রক নাগরৈঃ। পঞ্চভিঃ কোলমাত্ৰং যৎ পঞ্চ- কোলং তদুচ্যতে। কোল পরিমাণ—১ তােলা * এক বুঝাইবার জন্য স্ত্রী লিঙ্গ ব্যবহার নির্দেশ।
বস্তিদান বিধি। লক্ষণ সমূহ বিচাৰৰ্বপূক বিভিন্ন তবস্থাতেই বিভিন্ন প্রকার ঔষধ-বস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করিবেন। হে অঙ্গেশ্বর, আমি অগ্রে যে সকল স্নেহবস্তির উল্লেখ করিয়াছি এইক্ষণে উহার প্রয়ােগ-বিধি বিস্তারিতরূপে বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন-মেহবস্তি প্রদানে ঔষধ সমূহের যে পূর্ণ পরিমাণ নির্দেশ করা হইয়াছে তাহা সাধারণ মাত্র। বুঝিতে হইবে। বস্তুতঃ বিজ্ঞ চিকিৎসকগণ রোগের ও রােগীর বলাবল বিচার পূৰ্ব্বক প্রথমতঃ কাথার্থ ঔষধের মাত্রা পূর্ণ মাত্রায় ? পাদ ভাগ লইবেন এবং তাহার পদাবশিষ্ট কাথের ৪ ভাগের সহিত ১ ভাগ (?) স্নেহ (তৈলাদি) মিশ্রিত করিয়া যর্থ বিধি বস্তি প্রদান করিবেন। হে নরনাথ, বারণগণের মূত্রকৃচ্ছ প্রমেহ মূত্রঘাত মুত্রসঙ্গ জঠরক বাতকুণ্ড- লিকা ও রক্তমেহ প্রভৃতি জননেন্দ্রিয় গতরােগের প্রতীকারার্থ উত্তরবন্তি প্রয়োগ প্রশস্ত। হে নরেশ্বর, উল্লিখিত রোগ সমূহের মধ্যে যে যে রোগের প্রতীকারার্থ যে যে ঔষধের বিধান আছে তওৎ ঔষধের কাথ সহ যথাবিধি স্নেহ পাক করিয়া উত্তর বস্তি প্রদান করিবে। ঔষধের মাত্র সম্বন্ধে বিশেষ বিধান, এই সে অনুবাসনে যে পূর্ণ মাত্রার উল্লেখ করা হইয়াছে তাহার এক ষোড়শাংশ ঔষধ ও স্নেহ পদার্থ দ্বারা উত্তর বস্তি প্রদান করিতে হইবে। উত্তর বস্তি প্রদান কালে মাতঙ্গকে এমন অবস্থায় যন্ত্রবদ্ধ করিবে যেন তাহার সম্মুখ ভাগ উন্নত ও পশ্চাদভাগ নিম্ন হয়। এই উত্তর বস্তি প্রয়োগের পূৰ্ব্বেও অনুবাসনাদির ন্যায় সুসিদ্ধ ঈষদুষ্ণ জলপান প্রভৃতি ইতিকৰ্তব্য সমুদয়ের যথাবিধি অনুষ্ঠান করিয়া পরে উত্তর বস্তি প্রদান করা কর্তব্য। অস্থাপন বস্তির অনুরূপ অনন্তর কর্তব্য সমুদয়েরও বিধান করা আবশ্যক। হে নরেশ্বর, অনন্তর বস্তি প্রয়োগের বিষয় কথিত হইতেছে :- ১। বৃহতী ফল নিৰ্যাস ৬। সুরস (শ্বেত নিসিন্দা) পত্ৰ ২। অপামার্গ ( অপাঙ্গের। তণ্ডুল ৩। নিগুণ্ডি ( নিসিন্দা) পত্ৰ ৮। মরিচ ৪। আরগ্বদ (সােন্দাল) পত্র ৯। আগার ধূম ( রান্নাঘরের ঝল) সহচর (নীলঝিন্টী। পত্র উল্লিখিত সপ্তবিধ দ্রব্য একযােগে বাটিয়া বস্তুনির্মিত ববিােগে মাতঙ্গগণের * এই বৰ্ত্তির দৈর্ঘ্য অন্ততঃ বিংশতি অঙ্গুলী হওয়া আবশ্যক, ১২ অঙ্গুলী পরিমাণ প্রবেশই করাইতে হইবে। ৭। পিঙ্গুলী গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। মলদ্বারে প্রবেশ করাইয়া দিলে # অবিলম্বে উহাদিগের প্রস্রাব হইয়া থাকে। লবণ ২। ত্ৰিকটু চূর্ণ এই চতুৰ্বিধ দ্রব্যযােগে বৰ্ত্তি প্রদান করিলে ও ফললাভ হয় বটে কিন্তু এই বৰ্ত্তি তীক্ষ্ণতর। বস্তি প্রদান-বিধানে তৈলাদি মর্দনের পরেই বৰ্ত্তি প্রদান করিতে হয়। প্রথম বৰ্ত্তি প্রদানের পরে কিঞ্চিৎকাল রুগ্ন মাতঙ্গের নিকটে অবস্থানপূর্বক অপেক্ষা করিয়া পরে দ্বিতীয় বৰ্ত্তি প্রদান করা কর্তব্য। ফলতঃ বৰ্ত্তি প্রয়ােগেও আস্থা- পনীয় বস্তি প্রয়ােগের আনুষঙ্গিক কর্তব্য সমুদয়ের অনুষ্ঠান করা অবশ্য বিধেয়। হে অঙ্গেশ্বর, অনন্তর বস্তি প্রয়ােগের ত্রুটিতে যে সকল বিপত্তির সম্ভাবনা আছে তাহার উল্লেখ করিতেছি শ্রবণ করুন : বস্তিমুখ অতি মাত্রায় প্রবেশ অল্প মাত্রায় প্রবেশ বক্র ভাবে প্রবেশ উৰ্দ্ধমুখে প্রবেশ অধােমুখে প্রবেশ এবং পুনঃ পুনঃ অতি দ্রুত কিংবা অতি মৃদু হস্তে বস্তি পীড়ন (পিচ- কারীতে চাপ দেওয়া ) একান্ত নিষিদ্ধ। তদ্ভিন্ন ঔষধ দ্রব্যের ব্যতিক্রমে, কালাতিপাতে বন্ধনশৈথিল্যেও অনেক প্রকার দোষ ঘটিতে পারে। বস্তি ( পিচকারী ) মুখ অল্প মাত্র প্রবেশে ঔষধ দ্রব্য যথাস্থানে উপস্থিত হয় না, অতিমাত্রায় প্রবেশে মলদ্বারের অভ্যন্তরবর্তী বলিসমুদয় আহত হয় এবং তাহাতে অত্যন্ত বেদনা হইয়া থাকে। অত্যন্ত সবলে কিংবা পুনঃ পুনঃ বস্তি পীড়নে ( পিচকারী দানে) উহাদিগের কোষ্ঠ মধ্যে বায়ু প্রবিষ্ট হয় এবং পাকাশয়ে সাতিশয় বেদনা ও অতীসার রােগ পৰ্য্যন্ত হইতে পারে। তদ্ভিন্ন ঔষধ দ্রব্যের ব্যতিক্রমে বাঞ্ছিত ফল লাভের পরিবর্তে অপর রােগও জন্মিতে পারে। বস্তি প্রয়ােগে ঔষধের মাত্রা অল্প হইলে বিকারের প্রতীকার হয় না; পক্ষান্তরে মাত্রা অধিক হইলে তৎ বিকারের প্রতীকার হইতে পারে বটে; কিন্তু দৌর্বল্য, সংজ্ঞানাশ প্রভৃতি বিবিধ প্রকার বিকার এমন কি মৃত্যু পর্যন্তও ঘটিতে পারে। সেইরূপ রােগ উপস্থিত হইলে কালাতিপাতে বিকার বর্ধিত হইয়া থাকে এবং তাহার উপেক্ষাতে অন্যবিধ দুরারােগ্য রােগ জন্মিতে পারে। যে বস্তির অগ্রভাগ অতি কর্কশ স্কুল ও অসমান, তাহা প্রয়ােগে বারণগণের মলদ্বারে ভীষণ বেদনা জন্মে। # যেমন /১ সের কাথের সহিত • এক পােয় স্নেহ পদার্থ মিশ্রিত করিতে হইবে।
বন্তিদান বিধি। বিরেচক ঔষধ সেবনাদি দ্বারা কোষ্ঠশুদ্ধি না করিয়া কিংবা অধিক আহার গ্রহণের পরে বন্তি প্রয়ােগ একান্ত নিষিদ্ধ। রোগের নিদানে যে সকল লক্ষণের উল্লেখ করা হইয়াছে সেই সকল লক্ষণ বিচারপূর্বক তত্তং বিকার প্রতীকারর্থ প্রযুক্ত বস্তি ই বাঞ্ছিত ফল প্রদানে সমর্থ। মলাশয়ে সঞ্চিত মল থাকা অবস্থায় বন্তি প্রয়োেগ করিলে উহারা কুক্ষি দূষিত হয় এবং তাহার ফলে নিশ্বাসে পূতিগন্ধ, উদাখান শূল পাকাশয়ের গুরুত্ব ও দেহের অবসাদ প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়। সেইরূপ গুরু ভোজনের পরে বস্তি প্রয়ােগ করিলে বমন মৃচ্ছ। অঙ্গের গুরুত্ব বোধ, আমাশয়-দোষ হিক্কা শ্বাস শূল ও সর্বাঙ্গে বাত-প্রকোপ প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশিত হয়। বস্তিদ্বারা প্রযােজ্য ঔষধের মাত্রা অল্প হইলে কিংবা উক্ত ধসমূহ একান্ত মৃদুবীৰ্য্য হইলে বিকারের প্রতীকার না হইয়া বরং উহা বর্ধিত হইয়া কোষ্ঠেই বিলীন হইয়া থাকে। পক্ষান্তরে তীক্ষ্ণ বীৰ্য্য দ্রব্যদ্বারা বস্তি প্রয়ােগ করিলে দাহ তৃষ্ণা মূচ্ছা প্রভৃতি উৎপন্ন হয় এবং তাদৃশ একাধিক বন্তি প্রয়োগের ফলে মাতঙ্গের মৃত্যু পর্যন্তও ঘটিতে পারে। ভুক্ত দ্রব্যের অজীর্ণ অবস্থায় বন্তি প্ৰয়োগ করিলে মলাশয় দূষিত হয় এবং বমন মুচ্ছ শূল সর্বাঙ্গের অবসাদ প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়। এই নিমিত্ত বিজ্ঞ চিকিৎসকগণ তাদৃশ অবস্থাতে বস্তি প্রয়ােগ করেন না, মাতঙ্গদেহে প্রযােজ্য বস্তি (পিচকারী ) নাতি তীক্ষ্ণ, নাতি মৃদু, নাতি শীতল, নাতি উষ্ণ, মাত্রাধিক কিংবা মাত্রাহীন হওয়া উচিত নহে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকগণ রুগ্ন মাতঙ্গের সাত্ম (অভ্যাস ) রােগের পরিমাণ দেশ কাল ও বলাবল উত্তমরূপে পরীক্ষা পূর্বক বস্তি প্রয়ােগ করিয়া থাকেন। বস্তি মুখের দোষে, প্রযােজ্য ঔষধের দোষে কিংবা চিকিৎ- সকের দোষে একবার মাত্র প্রযুক্ত বস্তিদ্বারা অভীষ্ট ফল লাভ না হইলে উপযুক্ত পরিমাণ সময়ের অপেক্ষা করিয়া দ্বিতীয় বস্তি প্রয়ােগ করা যাইতে পারে। বারণগণের অন্ত্র নড়ী-মধ্যে মল এথিত হইলে কিংবা বায়ুর প্রকোপ বশতঃ কোষ্ঠ বন্ধ হইলে তাঙ্ক এবং সংশােধনীয় বস্তি প্রশস্ত। মলদ্বারে ক্ষত হইলে পিত্ত প্রকোপ নিবর্তক ঔষধ দ্রব্যের কথিদ্বারা বস্তি প্রয়ােগ বিধেয়। ফলতঃ পিত্ত বিকারজ য়ােগের লক্ষণ দর্শনে পিবিকার প্রতিকারক ঔষধ সমূহের কাথদ্বারা বন্তি প্ৰয়ােগ করিবে, বায়ুবিকার রােগের লক্ষণ দর্শনে তৎপ্রতি কারক ঔষধ দ্রব্যের কাথ প্রযােজ্য, শ্লেষ্ম বিকারজনিত রােগের লক্ষণ দর্শনে মে বিকার প্রতিকারক ঔষধ সমূহের কাথ প্রযােজ্য এবং সান্নিপাতিক ৬২. গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। বিকার জনিত রােগের লক্ষণ প্রকাশিত হইলে যে যে বিকারের লক্ষণ যে পরিমাণে প্রকাশ পায় তৎপরিমিত তত্তৎ. বিকারের প্রতিকারক ঔষধ দ্রব্য সমুদয় প্রয়ােগ করিবে। রুগ্ন মাতঙ্গকে যেরূপভাবে বন্ধন করিলে তাহার দেহের পূর্বভাগ পশ্চাদ্ভাগ অপেক্ষা ঈষৎ উন্নত হয় তাদৃশভাবে বন্ধন করিবে, কারণ তাদৃশ অবস্থায় বস্তি প্রয়ােগ করিলে অপান বায়ুর কাৰ্য্য অধিকতর সরলভাবে সম্পন্ন হইয়া থাকে। ১। যব, ৫। খামা লত। ২। কোল (কুল) ৬। তেউড়ী লতা ৩। কুলখ (কুর্তিকলাই) ৪। লােধ ৮। সুরা প্রথমােক ষড়বিধ ঔষধ দ্রব্যের কাথের সহিত তৈল ও সুর মিশ্রিত করিয়া যথাবিধি বস্তি অপেক্ষাকৃত অধিকদূর প্রবেশ করাইয়া প্রয়ােগ করিলে নিরূহ বন্তি প্রয়ােগের ক্রিয়া নিষ্পন্ন হয়। তৎপরে পুনরায় অনুবাসন বন্তি প্রয়ােগ করিবে। ১। ত্রিফলা (হরিতকী) ৪। শালি ধান্তের মূল আমলকী, বহেড়া) ৫। : চির বিন্দ ২। মহানিম ছাল ৬। শ্যামা মুল । । এই ষড়বিধ দ্রব্যঘারা বন্তি প্রয়ােগে বারণগণের হৃদরােগে শোধনীর বস্তির ক্রিয়া সম্পন্ন হইয়া থাকে । প্রবল অতীসার রােগের প্রভাবে যখন জীবন বিয়োগের সম্ভাবনা হয় তখনই ‘রক্তবতি কিংবা পিচ্ছিল বন্তি প্রযােজ্য। অন্নদ্বারা গ্রাবরােধ ঘটিলে কিংবা অত্যন্ত বমন হইতে থাকিলে, উদরান ও তাহাতে তীব্র বেদনায় বাতনাশক ঔষধ সমূহের কাথদ্বারা বস্তি প্রদান করা কর্তব্য। পিত্ত- বিকার প্রতীকারার্থ ও পিচ্ছিল বস্তি কিংবা মেহবন্তি প্রয়ােগ করা কর্তব্য। মূচ্ছ। রােগের প্রতীকারে শীততাপচারই একান্ত হিতকর। ধাতুক্ষয় জনিত বিকার প্রতীকারর্থ-বাজীকরণাধিকারে উল্লিখিত শীত বণ্ডিই সাতিশয় হিতকর। কৃশাঙ্গ মাতঙ্গের পক্ষে বৃংহণীয় বা ( পুষ্টিকর) ঔষধ দ্রব্য সমুহের কাথদ্বারা বন্তি প্রয়ােগ উপকারক এবং স্থূলাঙ্গ মাতঙ্গের পক্ষে শােধনীয় বস্তিই ব্যবস্থয়। এইরূপে যাদৃশ বিকারের লক্ষণ লক্ষিত হইবেতত্তৎ বিকার প্রতিকারক বস্তিদান বিধি। ব্যসমূহদ্বারা তাহার প্রতীকার করা কর্তব্য ইহাই বিজ্ঞ চিকিৎসকগণের মত। দুৰ্বল মাতঙ্গের সর্বপ্রথমে স্নেহ বন্তি প্রয়োগ এবং সবল মাতঙ্গের প্রথমতঃ ধিরেচন বস্তিপ্রয়োগ হিতকর। এইরূপে পৰ্যায়ক্রমে আস্থাপন ও সেহ বস্তি প্রয়ােগ করা বিধেয়; তাহাতে উহাদিগের জঠরানল-প্রদীপ্ত, ইন্দ্রিয়গণের প্রসন্নত। ও সকল বিষয়ে তৃপ্তি হইয়া থাকে।' তাহার ফলে উহাদিগের সুখ নিদ্রা জাগরণ, শীতাতপবর্ষা সহিষ্ণুতা, জঠরানলের প্রদীপ্তি, প্রকৃতির সতেজ ভাব ও সবেগ গতি প্রভৃতি জীবনী শক্তির লক্ষণ প্রকাশিত হইয়া থাকে। গাে-শৃঙ্গ নির্মিত বস্তিই উত্তম। অভাবে তা নির্মিত বস্তি ব্যবহার করিতে পারা যায়। বস্তিদ্বারা প্রযোজ্য ঔষধ দ্রব্যের সমষ্টির পরিমাণ—উত্তম মাতঙ্গের পঁাচ আঢ়ক শ মধ্যম মাতঙ্গের চারি আঢ়ক এবং অধম বা নিকৃষ্ট শ্রেণীর মাতঙ্গের তিন আঢ়ক মাত্র। হে নরনাথ, ইহাই মাতঙ্গগণের বস্তি পিচ কারী) দ্বারা প্রযােজ্য স্নেহাদি ঔষধ দ্রব্যের পূর্ণ পরিমাণ উত্তমাদি ভেদে আপনার নিকটে বর্ণিত হইল। ঋষিবর পালকাপ্যের উপদেশ বাক্যে একান্ত প্রীত হইয়া মহাপ্রভাববাদ অঙ্গপতি পুনরায় সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করলেন ; ভগবন,'কি নিমিত্ত বারণ - গণের অভুক্ত অবস্থায় নিরূহ বস্তি প্রদান এবং ভােজনের পরে অনুবাসন বস্তি প্রয়ােগের বিধান করা হইয়াছে, তাহা হেতু নির্দেশপূৰ্ব্বক ব্যাখ্যা করিয়া আমার অজ্ঞতা নিবৃত্তি করুন। মহানুভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন ; হে অঙ্গনাথ, শ্রবণ করুন - ভোজনের পূর্বে মাতঙ্গগণকে অনুবাসন বস্তি প্রদান করিলে কোষ্ঠের শূণ্যতা নিবন্ধন উক্ত স্নেহ পদার্থ সহজেই আমাশয়ে উপনীত হয় এবং পরে অাহার গ্রহণ করিলেও সেই স্নেহ পদার্থ আমাশয়েতেই বিদ্যমান থাকে। তাহার ফলে উহাদের হৃৎপিণ্ডে এক প্রকার যন্ত্রণার অনুভূতি হয় এবং তাহাতে মুচ্ছ। বিহ্বলতা এবং উদরাম্মান প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাহাতে সহসা জঠরা নলের দুর্বলতা বশতঃ উক্ত স্নেহ পদার্থ অহাৰ্য্য বস্তুর সহযােগে অবধানিঃসৃত হইতে পারে না এবং মন্দাগ্নি বশতঃ ক্রমে পিত্ত ও কফ কুপিত হইয়া আমাশয়ের পথ রুদ্ধ করে। এইরূপে অন্তর্গত বিকৃত বায়ুদ্বারা অভিভূত হইয়া তাশ স্নেহ পদার্থ তখনও নির্গত হইতে না পারিয়া ধমনী মধ্যে প্রবেশ লাভ করে এবং অধঃশ্রোতঃ সমুদয় এইরূপে রুদ্ধ হওয়ায় বায়ু উর্ধদিকে প্রধাবিত হয় এবং + ‘আটক’ শব্দের পারিভাষিক অর্থ গ্রাহ্য। দ্বিতীয় খণ্ড ১ম অঃ দেখুন।
৬' গলায়ুৰ্বেসংহিতা। ক্রমে চক্ষু কর্ণ নাসিকা ও মস্তিষ্ক ভাগকে বিকৃত করিয়া থাকে। এই নিমিত্ত আহারের পরে স্নেহ বন্তি প্রয়োেগ সর্বতাে তবে বিধেয়। হে নরেশ্বর, বারণগুণের আহারের পূর্বেই নিরূহ বস্তি প্রযােজ্য ; অন্যথা উহারা বহুবিধ রােগে আক্রান্ত হইতে পারে। ভীষণ জ্বর, তৃষ্ণা, অতীসার, অরুচি, মুচ্ছা, গ্লানি, মত্ততা, তন্দ্রা এমন কি মৃত্যু পর্যন্তও ঘটিতে পাণ্ডে। কারণ স্বভাবতঃ উষ্ণ ও তীবীৰ্য নিরূহ দ্রব্য পাকাশয়ে গমন করিয়া অজীর্ণ অবস্থাতেই ভুক্ত দ্রব্য নিঃসরণ করিতে চেষ্টা করিয়া থাকে ; এই নিমিত্ত আহারের পূর্বেই নিরুহ বন্তি প্রয়ােগে বাতি ফল লাভ হইয়া থাকে। ফলতঃ অভিজ্ঞ চিকিৎসকগণ বিচারবুদ্ধি সহকারে পারিপার্শ্বিক অবস্থা সমুদয়ের সহিত সামঞ্জস্য রক্ষা করিয়াই বস্তি প্রয়ােগ করিবেন। বন্তি প্রয়ােগের সময়ের উদ্ধ সংখ্যা সপ্ত রাত্রি, মধ্যম সংখ্যা ত্রিরাত্রি এবং অধম সংখ্যা এক রাত্রি মাত্র। চিকিৎস্য মাতজের দেহের পরিমাণ ও শক্তি বিচারপূর্বক উত্তম মাতদের সপ্ত- রাত্রি, মধ্যম মাতঙ্গের ত্রিরাত্রি এবং নিকৃষ্ট মাতঙ্গের এক রাত্রি ব্যবধানেই বস্তি প্রযােজ্য। বস্তিদ্বারা প্রযােজ্য স্নেহপদার্থ সপ্তাহকাল পরে দৈহিক উপাদানে (রস রক্তাদিতে) পরিণত হয় এই নিমিত্ত সপ্তাহ কিংবা অন্ততঃ তিন দিবস অন্তর বস্তি প্রযােজ্য। যতবার বস্তি প্রয়ােগ করিবে তাহার দ্বিগুণ কাল বিশ্রাম দিবে। হে অঙ্গেশ্বর, বস্তি প্রয়ােগ কালে অখােলিখিত আহার বিহারাদি সৰ্বভাে- ভাবে বর্জনীয়, ব্যায়াম, ভারবহন সহসা দূরপথ গমন, কদর্ঘ্য স্থানে কদর্য্য শষ্যায় শয়ন, যুদ্ধাদি পরিশ্রমকর কাৰ্য্য সাধন অধিক পরিমাণে ভােজন, অনভ্যস্ত দ্রব্য ভােজন, অত্যুষ্ণ বা অতি শীতল দ্রব্য ভোজন, বর্ষ। বায়ু সেবন ও মনঃ- প্রতিকূল শব্দাদি শ্রবণ প্রভৃতি একান্ত পরিহার্য। হে শক্রতাপন, নরেশ্বর, আপনার প্রশ্নের উত্তরে এই নিখিল বন্তি প্রয়ােগ-বিধান যথাযথ বর্ণিত হইল। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে যে চিকিৎসক এই বন্তি প্রয়োগ বিধান যথাযথ ভাবে অবগত আছেন এবং বন্তি প্রয়োগ কালে অতর্কিত বিপত্তি, উপস্থিত হইলে যাহার মােহ উপস্থিত হয় না, তাদৃশ ভিষকপ্রবরই মাতজপ্রভু নরপতি কর্তৃক বারণগণের চিকিৎসাকার্যে নিয়ােগযােগ্য বলিয়া বিবেচিত হইয়া-থাকেন। ইতি -মহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তর স্থানে পঞ্চম অধ্যায়। * সাং নাম মহারাজ যথৈবাত্ম তথা স্বত। মূ অঃ শ্লোক। অর্থ:- হে মহারাজ, অভ্যাস দ্বিতীয় স্বভাব।
যষ্ঠ অধ্যায়। গশালা নির্মাণবিধি। এই অধ্যায়ের আদ্যোপান্ত অনুবাদ নিষ্প্রয়োজন। ইহাতে বিশেষ জ্ঞাতব্য বিষয় এই যে বারণগণকে উত্তমরূপে পালন করিতে হইলে তাহাদিগকে গৃহমধ্যে রাখা আবশ্যক। যে স্থান উচ্চ ৩র উন্মুক্ত শ্মশান দেবায়তনাদি হইতে দূরবী এবং যে স্থানের মৃত্তিকা কৃষ্ণ শ্বেত রক্ত পীত কিংবা পাণ্ড বর্ণ, তাদৃশ স্থানে গজশালা বা থান) নিৰ্মাণ করাইবে। গজশালা পূৰ্বমুখী কিংবা উত্তরমুখী হইবে। উহ। প্রস্থে প্রায় ২৪ হাত, দৈন্যে ৪৮ হাত, উচ্চ প্রায় ১২ হাত হইবে। এতাদৃশ শরি এক অংশে মাতঙ্গে। শয়নস্থান ও অপর অংশে অবস্থিতিস্থান থাকিবে। গৃহতলের পশ্চাদ্ভাগ অপেক্ষাকৃত নিম্নতর হইবে । অবস্থিতি স্থানে শাল প্রভৃতি কাষ্ঠনিশ্মি" সুদৃঢ় স্তম্ভ অন্তত: চতুহও পরিমিত প্রোথিত হইবে। এতাদৃশ শালার চতুষ্পার্শ্বস্থ অবরণ অস্থায়ী ভাবে নির্মাণ করা আবশ্যক; কারণ হেমন্ত ও শী ঋতুতে তুষার ও শীতল বায়ু হইতে রক্ষা করিবার নিমিত্ত রাত্রিতে আলবণ কি উচিত এবং দিবসে রৌদ্র সঞ্চারের জ তাই অপনীত করা কর্তব্য। সেইরূপ বৃষ্টিপাত কালে আবৃত রাখিয়া বৃষ্টিপাত নিবৃত্তি হলে মুক্তি বায় প্রবাহৰ্থ আবরণ দূরীভূত হওয়া উচিত। গ্রীষ্মে জলজ তৃণাদি সেবন বনান্তে কিছুংকাল উপযুক্ত বায়ুতে অবস্থান এতদ উভয়ই হিতকর। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে যে নরপতি উগা বিধানে শালা নিস্মাণ- পূৰ্ব্বক তন্মধ্যে সযত্নে বারণগণকে যথাবিধি পালন করেন, তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয় লক্ষ্মীর অনুকম্পা লাভ কদাপি বঞ্চিত হয়ে না । ইতি-শ্রীহষি পলকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ ১০ উ ও স্থা বড় অধ্যায় ।
। সপ্তম অধ্যায়। | বাসাদি উদ্ভিজ্জ অহাৱৱ গুণনিরূপণ একদা মহানুভব অপতি রোমপদ অকুমার-ব্রহ্মচারী যোগি-প্রবর বেদবিৎ দেবগণেরও মাননীয় মহর্ষি পালকপ্যকে প্রণিপাতপূর্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন;-ভগব, মাতঙ্গগণ আশৈশব তৃণ ভােঙ্গনে অভ্যস্ত। উহারা তৃণ আহার করিয়াই জীবন ধারণ করে, সুতরাং তৃণ ই উহাদিগের জীবন স্বরূপ। তাপনি অনুকম্পা পূৰ্ব্বক এতাদৃশ তৃণ তরুশাখা ও লতা গুল্ম প্রভৃতির দেশ ও কাল ভেদে গুণাগুণ বর্ণনা করিয়া আমার সংশয় অপ•1{দন করুন। মহাপ্রভাব অঙ্গপতিব ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহদি পাণকাপ্য বলিতে গিনে অঙ্গেশ্বর, প্রসন্নচিত্তে শ্রবণ করুন গ্রীষ্ম ঋতুতে সূর্যের প্রখর তেজে ওষধি সমূহের রস নিঃশেষিত হইয়া থাকে, এই নিমিত্ত গ্রীষ্মকালে বারনগণের জীবন রক্ষার নিমিত্ত রুশাখাদি সকল প্রকার উদ্ভিজ্জই আহার করতে দিবে । এবং জলজ আহার সত। ভাবে বর্জন করিবে। হে মহীবল্লভ, সেইরূপ হান্তে জাঙ্গল ও স্থাজ উদ্ভিজ্জ বর্জনীয়। বসন্তকালে বারণগণকে কষায় ও +টু রসযুক্ত তৃণভােজন করি, "ত দিবে। গ্রীষ্মকালে তৃণাদি একান্ত রস বর্জিত কে এই নিমিত্ত উহাদিগকে প্রতিদিন ওছের সরব ও মধ্যে মধ্যে সাপ কুন্মাষ মেদক সেবন করতে হবে এবং বর্ষাকালে মাতঙ্গগণকে চারিদিন 'রে পরে পিষ্টদেক + করিতে দিবে। তাহাতে উহাদিগের দেহকান্ত প্রসন্ন হইয়া থাকে। শরহকালে অনুপদেশ জাত তৃণাদিই বারগণের পথ্য। হে অঙ্গেশ্বর, গেন্ত ঋতুতে আহাৰ্য্য দ্রব্যের অভাব বশ স্থলজ তৃণাদি বারণগণকে ভোজন করিতে দিলে উহাদিগকে অচিরকৃত প্রসন্ন। সুরা পান করিয়ে দিবে। বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগণ শাস্ত্রজ্ঞানদ্বারা বিচারপূর্বক বিভিন্ন প্রদেশে বিভিন্ন ঋতু.৩ বারণসণের নানাবিধ আহারের বিধান করিবেন। * এই শুনে নস্য দানাধ্যায়ের কিংশ মাত্ৰ লিখি ৩ হইয়া ৭ম অ অ গাছে এবং তৎপরে ৮ন ‘বস’ অধ্যায় লিখিত হইয়াছে। আমাদের এই, পুস্তকে ৭ম ‘দান অধ্যম ও ১৩শ শুদান বিধি” অধ্যায় একযােগে ১৩শ গঃ রূপে গৃহ হইল সুতরাং মূলের সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য ৮ম ‘যবস’ অঃ ৭ম অধ্যয়রূপে গৃহীত হইল।
আহারের গুণ নিরূপণ। ৬৭ চুল পাকিলে যে সকল তৃণ মরিয়া যায় তাহাদিগকে ওষধি অখ্যা প্রদান কর। হইয়া থাকে। তাহাদিগের রস সৰ্ব্বগত। অজাতবীৰ্য্য ওষধি সমূহ প্রায়শঃ অম্ন রসযুক্ত এবং শ্লেষ্মবর্ধক। শস্য জাতীয় তৃণ সকল কাণ্ড বিহীন এবং পত্ৰযুক্ত যে সকল তৃণ শ্রাবণ মাসে জন্মে ভাদ্র মাসে তাহার পসকল প্রকাশিত হয়। তখন উহা ঈং মধুর ও অম্ল রসযুক্ত এবং প্রাণ বন্ধক হইয়া থাকে । আশ্বিন মাসে তৃণ সকল গভিত মধুরসযুক্ত ও অম্ল রস বিবর্জিত হইয়া থাকে। এই নিমিত্ত উহা আহার করিলে বারণগণের মাংস বৃদ্ধি হয়। কার্তিক মাসে তৃণ সকল পূর্ণবীৰ্য্য ও সরস হইয়া থাকে। এই নিমিত্ত উহা ভোজন করিলে শারগণের মাংস রক্তমজ্জ। এমনকি জীবনীশক্তি পর্যন্ত বর্ধিত হইয়া থাকে । হে নরেশ্বর, অগ্রহায়ণ মাসে তৃণ সমুদয় সুপ ও দৃঢ় হইয়া থাকে । এই নিমিত্ত উহা ভক্ষণে বারণগণের শুক্র ও জীবনীশক্তি বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। পৌষ মাসে তৃণ সমুদয় পরিশুষ্ক হয়। তখন উহাদিগের শীর্ষ ( শীষ) পুষ্প ও ফল শুষ্কত। প্রাপ্ত হইলেও পত্ৰ অপক থাকে এবং উহা ভক্ষণে বারণগণের মেদোবৃদ্ধি হইয়া থাকে। মাঘ মাসে তৃণ সমূহ তুষারপাতে ও সৌরকরে শুষ্ক প্রায় হইয়া থাকে, এই নিমিত্ত তাদৃশ অবস্থায উহা ভক্ষণে বারণগণের জীবনীশক্তি তেমন বর্ধিত হয় না। সেইরূপ ফাল্গুন মাসে কোনও স্থানে । সম্পূর্ণ শুষ্ক ও কোনও স্থানে কিঞ্চিৎ সরল দৃষ্ট হয় । তাদৃশ 'অবস্থায় উ ভক্ষণেও বারণগণের পুষ্টি সাধন হয় না। চৈত্র সে তৃসমুদয় প্রচণ্ড বায়ুদ্বার। আহত ও একান্ত শুষ্ক হইয়া থাকে। এই নিমিত্ত উহা বারণগণের রুচিকর হয় না। সেইরূপ বৈশাখ মাসেও তৃণসমুদয় শুষ্ক বিচ্ছিন্ন ভূতলে নিপতিত ও শুষ্ক গােময় সদৃশ বিরস হইয়া থাকে । হে নরেশ্বর, জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রায়শঃ তৃণসমুদয় দাবানল দগ্ধ হইলে উদ্ভিজ্জভোজ। মাতঙ্গগণ বাধ্য হইয়াই তরুশাখা মাত্ৰ ভােজন করিয়া থাকে । কিন্তু উহাতে তাহাদিগের কিঞ্চিত্রও তৃপ্তি হয় না। আষাঢ় মাসে নববারি বর্য- প্রভাবে মাতঙ্গগণ তরুলতা সমুদ্ভূত কোমল নব পল্লব এবং সরস কন্দমূল জন করিয়া পরম প্রীতিলাভে সমর্থ হয়। হেনরনাথ, হস্তি পালনে বিচক্ষণতা লাভ করিতে হইলে বিভিন্ন প্রকার তৃণের গুণ ও স্বাদ বিশেষ ভাবে জানা আবশ্যক। সুগন্ধি কুরবিন্দ, শ্বেতপত্র, মৃদু শুষ্ঠী করীর (কচি বঁশ) বানরপুচ্ছিকা, সৌবস্তিকা, বিচিটিকা, লােহিত পত্রিকা, রসানী গিরিতৃণ ও পর্ণগুহা প্রভৃতি তৃণ মধুর রসযুক্ত এবং বিপাকে গলায়ুর্বেদ-সংহিতা। কটু। ইহা ভােজনে পিত্ত ও শ্লেষ্ম প্রশমিত এবং বাত কুপিত হইয়া থাকে । গিরিকাক্ষী বংশপত্রী, অৰ্জন উপল দণ্ডশৃক প্রমােদক ও কাকপরূষক প্রভৃতি তৃণ (উদ্ভিজ্জ ) বিপাকে মধুর বলিয়া মনীষিগণ কর্তৃক বর্ণিত হইয়াছে। বাত পিত্ত ও কফে হিতকর। অজপত্রী মরুবক জুণ। স্থলজ রক্তদন্ত কাশ কুশ উল খল প্রতিরস ও রক্ত কুণ্ডক প্রভৃতি তৃণ মধুর রসযুক্ত এবং বিপাকে কটু। ইহা যথেষ্ট পরিমাণে বাত প্রকোপণ কারী এবং শ্লেষ্ম ও পিত্ত নিবারক। হে অঙ্গনা, ইহাই জাঙ্গল তৃণ সমূহের গুণ ও দোষ ব্যাখ্যাত হইল অনন্তর অনূপ দেশ জাত তৃণ সমূহের গুণাবলী বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন শ্যামাক জুর্ণপাদ শিল্পিক কারভীতৃণ তিপর্ণ মঞ্জরিকা মহামুদুশিকা মহাশ্যামক শকটাতৃণ প্রশান্তিক। ইক্ষুপর্ণ না পরুষপত্রিকা, কলায়, শতপত্রিকা মেষবিষাণিক! গুচ্ছতৃণ ক্ষুগুচ্ছ ইক্ষুবালিকা ( খাগড়াবন) কদলী নারিকেল খেজুর গাছ- এই অধ্যায়ের অবশিষ্ট অংশ চিরবিলুপ্ত হইয়াছে।
+ অষ্টম অধ্যায়। অরিষ্টান বিবি। একদা অঙ্গেশ্বর রোমপাদ নরপতি স্বীয় সুরম্য 'চম্প নগরে অবস্থিত মহর্ষি পালকপ্যকে প্রণতি পূর্বক সবিনয়ে কৃতাঞ্জলিপুটে জিজ্ঞাসা করিলেন - ভগব, বারণগণের অরিষ্টলক্ষণ কি কি ? বিস্তারিতরূপে বর্ণনা করিয়া আমার কৌতুহল পরিতৃপ্ত করুন। মহানুভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন-হে নরনাথ, যাহা দর্শন করিয়া বিজ্ঞ চিকিৎসক বারগণের মৃত্যু অবধারণ করিবেন, আমি সেই সকল অরিষ্ট লক্ষণ বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন। যে রুগ্ন মাতঙ্গের ঔষধ-পত্র (খলাদি ) দৃঢ় হইলেও ভাঙ্গিয়া যায়, তাহার মৃত্যু অবধারিত ; বৃদ্ধদিগের মতে তাদৃশ মাতঙ্গের চিকিৎসা নিষিদ্ধ। যে রুগ্ন মাতঙ্গের উপরিভাগে মাংসাশী বিহগগণ বহুল পরিমাণে পুনঃ পুনঃ উড্ডীন হইতে থাকে তাহার মৃত্যু অনেক পরিমাণে নিশ্চিত। যে মাতঙ্গের শুণ্ড তালু মাভাগদ্বয় যুগপদ স্ফীত হয় এবং সে শুণ্ডাগ্র ব্যবহার করিতে পারে না, তাহার ও জীবন সংশয়িত। যে মাতঙ্গের দেহ ও শুণ্ড স্ফীত হয় এবং শুণ্ড হইতে রক্তস্রাব হইতে থাকে তাহার ও জীবন সংশয় হয়। যে মাতঙ্গের শুণ্ড শিথিল এবং দেহের নিম্নভাগ ও অঙ্গুলি কম্পিত হয় তাহার জীবনসংশয় বুঝিতে হইবে যে মাতঙ্গ সম্মুখস্থ সুশীতল জল মুখ কিংবা শুণ্ডদ্বার। গ্রহণ করে না কিংবা গ্রহণ করিলেও পুনরায় বমন করিয়া ফেলে তাহার মৃত্যু আসন্ন বলিয়া বুঝিতে হইবে। যে মাতঙ্গ গমন করিতে থাকিলে কিংবা দণ্ডায়- মান থাকিলে শুণ্ড কর্ণ মুখ ও জননেন্দ্রিয় হইতে রক্তস্রাব হইতে থাকে তাহার জীবনকাল দশ রাত্রির অধিক নয় বুঝিতে হইবে। যে মাতঙ্গের সর্বাঙ্গ স্ফীত হয় এবং সে বেদনার্ত হইয়া স্বীয় নখদ্বারা ভূল খনন করিতে থাকে তাহার মৃত্যু নিকটে বুঝিতে হইবে। যে মাতঙ্গের আহার ও মল মূত্রের পরিমাণ নিতান্ত অস্বাভাবিক অল্প তাহার আসন্ন মৃত্যু বুঝিতে হইবে। যে মাতলের গুণ্ড কর্ণ ও মুখমণ্ডলদি অবয়ৰ হইতে রােমপাত স্পষ্ট দৃষ্ট হয় তাহার জীবনকাল দশাহমাত্ৰ বুঝিতে হইবে! যে বারণের দেহের গন্ধ গলিত শবগন্ধ-সদৃশ এবং যে তাদৃশ অবস্থাতে ও অন্ন ভোজনে একান্ত অভিলাষী, তাহার মৃত্যু আসন্ন " # মূলে অঃ মিশ্রিত হওয়ায় অমিল থাকিল।
গঙ্গয়ুর্বেদ সংহিতা। বলিয়া বুঝিতে হইবে। বিরেচন ঔষধ প্রভাবে কিংবা স্বতঃপ্রদত্ত অতীসার- প্রভাবে প্রভূত মল নিঃসরণের পরেও যাহার উদর স্ফীত হয় এবং যাহার দৃষ্টি বিবর্ণ দেহগন্ধ কদৰ্য্য ওষ্ঠ তালু ও জননেন্দ্রিয় শ্যামবর্ণ সেই প্রেতের গায় দৃশ্যমান মাতঙ্গের জীবন কাল ত্রিরত্রের অধিক নয় বুঝিতে হইবে। যে মতিঙ্গের চঞ্চল দৃষ্টি একান্ত শুষ্ক, তাহার জীবনকাল অতি অল্প বলিয়া জানিতে হইবে। যে মাতঙ্গ একান্ত ভয়সন্ত্রস্তভাবে উদ্ধা অধঃ ও তির্যক দৃষ্টি নিক্ষেপ করিতে থাকে তাহার জীবনকাল সংক্ষিপ্ত বলিয়া বুঝিতে হইবে। যে মাতঙ্গের গণ্ডদ্বয়, মুখবিবর ও নেত্ৰদ্ধয় স্ফীত হয় বটে কিন্তু তাহা হইতে রক্তস্রাব হয় না তাহার আসন্ন মৃত্যু বলিয়া জানিতে হইবে। যে মাতঙ্গ সামন্ত পরিমাণ আহার গ্রহণ করিয়াও প্রভূত পরিমাণে মল ত্যাগ করে তাহার মৃত্যু আসন্ন বলিয়া বুঝিতে হইবে। যে রুগ্ন মাতঙ্গের নয়নদ্বয় ম্লান এবং নখ শ্যামবর্ণ তাহার জীবন কাল ত্রিরত্রের অধিক নয় বুঝিতে হইবে। যে রুগ্ন মাতঙ্গের শুণ্ডাগ্র ভাগ শ্বেত পদ্ম দলের ন্যায় নীরক্ত ও নিষ্প্রভ তাহার আসন্ন মৃত্যু বুঝিতে হইবে। স্নানের অব্যবহিত পরে ও যে মাতঙ্গের পশ্চাৎভাগে মক্ষিকা সংলগ্ন থাকে এবং যে সতত শয়নে অভিলাষী যাহার দেকান্তি একান্ত ম্লান লক্ষিত হয়,তাহার জীবন কাল অতীতপ্রায় মনে করিতে হইবে। তৃণ আহার সত্ত্বেও যে মাতঙ্গের জলবৎ দুর্গন্ধযুক্ত তরল মল নিঃসৃত হয়, তাহার মৃত্যু আসন্ন বলিয়া বুঝিতে হইবে। আবাস গৃহ হইতে বহির্গমন কাল যে মাতঙ্গের ছায়া শিরােবিহীন লক্ষিত হয় তাহার মৃত্যু আসন্ন বুঝিতে হইবে। যে রুগ্ন মাতঙ্গের চতুর্দিকে কৃষ্ণবর্ণ মক্ষিকা সকল ভ্রমণ করিতে থাকে তাহার ও মৃত্যু নিকটবর্তী বুঝিতে হইবে। যে রুগ্ন মাতঙ্গের দেহচ্ছায়া। তাহাব দেহের দ্বিগুণ বৃহৎ লক্ষিত হয় তাহার মৃত্যু আসন্ন বলিয়া বুঝিতে হইবে। যে রুগ্ন মাতলের থান হইতে নির্গমন কালে হাঁচি টিক টিকী প্রভৃতি দুনিমিত্ত দৃষ্ট হয়, তাহাকে মৃত বলিয়া নিশ্চয় করিতে হইবে। হস্তিভোজ্য আহার গ্রহণ করিয়া তৎক্ষণাৎ বর্মন করে তাহাকে আসন্ধত্যু বলিয়া জানিতে হইবে। যে মাতঙ্গ আহার ত্যাগ করিয়া এমন দুর্বল হয় যে স্তম্ভে সর্বাঙ্গের ভার ন্যস্ত করিয়া দণ্ডায়মান থাকে তাদৃশ অবস্থাতে ও তাহার একা বর্ষিত হয় তাহার আসন্ন মৃত্যু জানিতে হইবে। গণ্ডদ্বয় মলদ্বার ও মধ্যভাগে পুনঃ পুনঃ শােথ জন্মিয় থাকে তাহাকে অল্পায়ু বলিয়া জানিতে হইবে। যে মাতলের নাভিমণ্ডল বক্ষস্থল ভুজমুল স্ফীত ও যে মাতত্বের অরিষ্টজ্ঞান বিধি। ৭১ লোহিত বর্ণ হয় এবং পরে সেই শোথ সদাপ্রদেশে স্থির হয়, তাহা জীবন- কাল এক মাসের উৰ্দ্ধ নহে বুঝিতে হইবে। যে মাতঙ্গের দেহ ক্ষীণ ও শুষ্ক হইতে থাকিলেও অষ্ঠীব্যপ্রদেশদ্বয় সহসা স্ফীত হয় তাহার জীবন কাল এক মাসের উর্দ্ধ নয় বুঝিতে হইবে। যে রুগ্ন মাতঙ্গের মধ্যভাগদ্বয়ে জালের ন্যায় চঞ্চল শোথ দৃষ্ট হয় এবং তাদৃশ অবস্থায় তাহার মনঃ দুঃখ ভারাক্রান্ত বলিয়। অনুমিত হয় সেই মতঙ্গের জীবন কাল অষ্টরাত্রির অধিক নহে। যে রুগ্ন মাতঙ্গের শব্দ স্পর্শদি স্বাভাবিক জ্ঞান বিলুপ্ত হয় তাহার জীবন কাল সংক্ষিপ্ত বুঝিতে হইবে। যে রুগ্ন মাত সহসা অস্বাভাবিক স্ফীত বা কৃশ হয় তাহার মৃত্যু নিকটবর্তী বলিয়া বুঝিতে হইবে। হে নরনাথ, ইহাই রুগ্ন আসন্নমৃত্যু বারণগণের অরিষ্ট লক্ষণ সমুদয় যথাযথ বর্ণিত হইল। মনুষ্যগণের ন্যায় পশু- পক্ষীদিগের ও অরিষ্ট লক্ষণ সকল চিকিৎসকের লক্ষ্যের বিষয়। ইতি মহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহা প্রবচনে উত্তর স্থানে অষ্টম অধ্যায়। ক এট ক খ ও গ পুস্তক অরিষ্ট জ্ঞান বিষয়ে নীরব।
নবম অধ্যায়। কল্পনা (দাভবান) বিধি। একদা অতুল ঐশ্বর্যশালী অঙ্গপতি রোমদ নরপতি প্রণতিপূর্বক মহর্ষি- পালকাপ্যকে সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেনূ-ভগবান, অনুগ্রহপূর্বক বারণগণের দকল্পনা বিষয়ে আমাকে উপদেশ প্রদান করুন। বাণগণের দুর্জাত দন্ত, বিষম ও দীর্ঘ দন্ত প্রভৃতি নানাবিধ দৃষ্ট হয়। দ্বার, কপাট এবং প্রাচীর প্রভৃতি ভঞ্জন নিবন্ধন উল্লিখিত প্রকার দন্ত সমুদয় ভগ্ন ও শীর্ণ হইয়া থাকে এবং তাহা হইতে পণ্ড সমূহ শিক্ষিপ্ত হইয়া থাকে। তাদৃশ অবস্থায় তাহার প্রতীকার কি একার? তাহা সবিশেষ উপদেশ করিয়া আমার অজ্ঞতা দূর করুন। পতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষিপালকাপ্য বলিতে লাগিলেন হে নরনাথ, শ্রবণ করুন—যদিও মাতঙ্গগণের দন্ত স্বভাবতঃই দৃঢ় তথাপি সময়াতিপাত, অজ্ঞান কিংবা অসাবধানতা বশত দকল্পনা না করিলে তাহা অকস্মাৎ ভগ্ন হইতে পারে। তদ্ভিন্ন মুখ মণ্ডলের সৌন্দর্য্যবৃদ্ধি প্রভৃতি ও হইয়া থাকে। যৌবনস্থ মাতঙ্গগণের দকল্পনা অবশ্য কর্ত্তব্য। শিশু, বৃদ্ধ, আতুর, ক্ষীণ ও মত্ত মাতঙ্গের দ শুকল্পনা, কর্তব্য নহে। দিগবিজয়ে উদ্যত সেনাস্থ মাতঙ্গগণের দত ক্ষীণতা প্রাপ্ত হইলে মন্ত্রীর মৃত্যু সম্ভাবনা, বারণগণ রুগ্ন হইলে সৈন্যগণের রােগভয়, লোমপাত হইতে থাকিলে রাজকুমারের রােগভয়, আকস্মিক দ- ভঙ্গে রাজ্যে অগ্নিভয় এবং যৌবনাতীত মাতঙ্গের দকল্পনায় রাজপুরোহিতের মৃত্যু সম্ভাবনা। এই নিমিত্ত তাদৃশ মাতঙ্গের কিংবা সপ্তমী দশা অতীত মাতলের দন্তকল্পনা করা কর্তব্য নহে। সৈন্যোদ্যোগের পরে দন্তকল্পনা কখনও সুসম্পন্ন কিংবা লৌহবন্ধে ও দকল্পনা অদৃশ্য হয় না। সেইরূপ স্নিগ্ধকালে কিংবা যাত্রাকালে দন্তকল্পনা ও সুসম্পন্ন হয় না; কারণ উত্তমরূপে কল্পনায় প্রায় ২মাস সময়ের প্রয়ােজন। এই সময়ে নবাগত দন্তের শোধন করা আবশ্যক। দকল্পনাকালে দন্তের অগ্রভাগ” যদি ভূতলে নিপতিত হয়, তাহা হইলে তৎক্ষণাৎ তাহা গ্রই পূৰ্ব্বক অতোকে নিক্ষেপ করিলে ভবিষ্যৎ বির সম্ভাবনা থাকে না। হে অনাথ, পূর্বেই কথিত হইয়াছে যে ঐরাবাদি দিগগজের বংশধর এই বারণগণ পূজা প্রাপ্ত হইবার যােগ। যে চিকিৎসক কিংবা পরিচারক শাস্ত্রজ্ঞ নহে এবং বারণগণের প্রতি যাহার আন্তরিক স্নেহ ও নাই তাহার কখনও দন্ত কল্পনা করিতে যাওয়া উচিত নহে। প্রমাণ অতিক্রমপূর্বক দন্তকল্পনা বিধি। ধনুকল্পনা করিতে গিয়। যদি রক্তস্রাব হয় তার। শুভাশুভ ফল সূচনা না হইলেও বস্ত্রদ্বারা তাহা মাৰ্জন করিয়া আতপ-তল মিশ্রিত জলে নিক্ষেপ করা কর্তব্য। পক্ষান্তরে শস্ত্র প্রয়োগ-নিপুণ শাস্ত্রজ্ঞ চিকিৎসক যথাসমযে নীরােগ দন্ত যথাযথ ভাবে কল্পনা করিলে ও যদি শোণিতপাত হয় তাহ। হইলে মাতঙ্গের প্রভু নৃপতির বা মন্ত্রীর বিপদ সূচিত হয় কিংবা সেই রাজ্যের প্রধান প্রধান লােকদিগের আসন্ন মৃত্যু জ্ঞাপিত হয় ; সেই নগর কিংবা রাজ্য নানা প্রকার উৎপাত গ্রস্ত হয়। এই নিমিত্ত তাদৃশ মঙ্গকে অবিলম্বে ক্রয়াকে বিসর্জন করিবে। ইহা করলেই তাহার প্রতীকার করা হয়। হে নরেশ্বর, গিরিজাত, নদীবহুল প্রদেশজাত কিংবা মিশ্র প্রদেশ জাত মাতঙ্গগণের দন্তকল্পনায় নির্ধারিত দন্ত প্রমাণ বলিতেছি শ্রবণ করুন। গিরিজাত মাতঙ্গের দন্তের অগ্রভাগ হইতে উ বা অংশ বর্জনপূর্বক দন্ত কল্পনা করা কর্তব্য এবং নদীযুক্ত প্রদেশ জাত ও মিশ্র প্রদেশজাত মাতঙ্গের দন্তের অর্ধাংশ বর্জনপূর্বক দন্তকল্পনা করা উচিত, নচেৎ দন্তের সম্যক্ বৃদ্ধি বাইত হয়। অতঃপর উহাদিগের বিভিন্ন জাতীয় দন্তের বিষয় বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন। সরক্ত দন্ত স্নিগ্ধ এবং নীরক্ত দঃ কর্কশ দৃষ্ট হইয়া থাকে। মধুর বর্ণযুক্ত দন্ত স্নিগ্ধকিংবা কর্কশ বলা যায় না। ভস্মং শ্বেতবর্ণ কিংবা অস্থিসদৃশ বর্ণ বিশিষ্ট দন্ত ই রুক্ষবৰ্ণ কথিত হইয়া থাকে, পক্ষান্তরে শিতাভ দম্ভ ই স্নিগ্ধ বলিয়া কথিত হয়। বিজ্ঞ চিকিৎসক মধুসদৃশ গৌরবর্ণ বিশিষ্ট গজদন্তই কল্পনা করবেন । হে অগেশ্বর, গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রে ছয় প্রকার দন্তকল্পনার উল্লেখ করা হইয়াছে। মাতলের দৈহিক মাণানুরূপ, মুখমণ্ডলের পরিমাণানুরূপ, দন্তজাতির বিবিধ প্রভেদ বিচার পূর্বক প্রভৃতি যে রূপ দন্ত কল্পনাই করা হউক না কেন যাহাতে দস্তবৃদ্ধির ক্ষতি না হয় এবং মুখ মণ্ডলের সৌন্দর্য্য বর্ধিত হয় তাহার প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া দন্তকল্পনা করিতে হইবে। সৈন্ত মাতঙ্গের দন্তকল্পনা বিষয়ে প্রতিপক্ষকে আক্রমণের সুবিধার নিমিত্ত দন্তের অগ্রভাগ কখনও তীরের ন্যায় কখনও বা বর্ষার মুখের তুল্য করিতে পারা যায়। নিপুণ শিল্পী দ্বারা ঐশ্বৰ্যানুসারে স্বর্ণ মূলে লেখকপ্রমাদে অন্য অধ্যয়ের ২টি শ্লোক এই স্থানে লিখিত হইয়াছে, অনুবাদে তাহা পরিত্যক্ত হইল; কারণ যবসাধ্যায়ে তাহ। অনূদিত হইয়াছে।
গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। রৌপ্য তাম্র প্রভৃতি ধাতু দ্বারা প্রতিমোক (পাত) প্রস্তুত করাইয়া দন্তকল্পনা করা কর্তব্য। মোম গাল ও ধূনা প্রভৃতি দ্বারা উল্লিখিত প্রতিমোক বা পাত দাহে অটিয়া দিতে হইবে। প্রশস্ত তিথি নক্ষত্রে শুভ মুহূর্তে শুচি হইয়া বিজ্ঞ গজবৈদ্য দকল্পনা করিবেন। ইতি মহর্ষি পলকাপ্য বিরচিত, গজায়ুর্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তর স্থানে নবম অধ্যায়।
দশম অধ্যায়। সবীৰ্য বিপাক জ্ঞান। একা মহাতেজা; চম্পেশ্বর রােমাদ নরপতি, মহাত্মা তপোধন পালকপ্যকে প্রণিপাত পূর্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন ;-ভবন, আহাৰ্য্য বস্তুর রস ক•িবিপ? সেই বিভিন্ন প্রকার রদের গুণই বা কি কি? এবং তাহাদিগন্ত বিপাক বা পরিণতিই বা কীদৃশ? এতৎ সমুদয় আমি আপনার নিকটে শ্রবণ করিতে ইচ্ছা করি। রসের মধ্যে কোন কোন রস সৌম্য এবং কোন কোন রস আগ্নেয় বলিয়া কথিত আছে ? কি কি রস পিত্ত ও শ্লেষ্ম প্রশমিত করে? কি কি রস বা বাত শ্লেষ্ম ও পি উদ্দীপিত করে। কোন কোন রসযুক্ত দ্রব্য সেবন করিলে বাবণগণ, নীরোগ বলবান ও দৃঢ় কায় হইতে পারে ? হে ঋষি- এবর, এতং সমুদয় যথাযথভাবে বর্ণনা করিয়া অামার কৌতূহল পরিতৃপ্ত করুন। মহানুভব অঙ্গপতির প্রশ্নের উত্তরে মহষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন নরনাথ, শ্রবণ করুন-ঋষিশ্রেষ্ঠ গৌতম বলিয়াছেন যে হেতু এই পরিদৃশ্যমান স্থাবর জামাত্মক জগৎ জলময় ছিল । শেষ অংশ বিলুপ্ত একাদশ অধ্যায় ইক্ষ দান বিধি। একদা চম্পাপতি রোমপাদ নরপতি মহর্ষি পাকাপ্যকে সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন-ভগবন, আমি বারণগণকে ইক্ষুদানের বিধি শ্রবণ করিতে অভিলাষী হইয়াছি। আপনি যথাযথভাবে উপদেশ করিয়া আমার সংশয় অপনয়ন করুন। মহানুভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন- হে নরেশ্বর, উত্তম মাতঙ্গকে পাঁচ শত ইক্ষুদণ্ড ভক্ষণ করিতে দিতে পারা যায়। মধ্যম মাতঙ্গকে সাদ্ধ তিন শত অধম শ্রেণীর মাতঙ্গকে সার্জ দুইশতখানি ইক্ষুদণ্ডের অধিক ভক্ষণ করিতে দেওয়া উচিত নহে। হে অনাথ, অনন্তর ইক্ষুদানের গুণ বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন - নব- ধৃত অরণ্য বারণগণের পক্ষে ইক্ষুদান অতি প্রশস্ত। অবশ্য বলা বাহুল্য যে দেশ ও কাল বিচারপূর্বক ই এতাদৃশ ইক্ষুদান করিতে হইবে। যে সকল নবধৃত অরণ্য বারণ ভয়শীল দীর্ঘকালে ওমানব সহিচর্যে অসহিষ্ণু কিংবা যে সকল মাতঙ্গ পিত্তপ্রকৃতিক তাহাদিগকে ইক্ষুদণ্ড ভক্ষণ করিতে দিলে সবিশেষ উপকার দর্শে। উত্তাপক্লিষ্ট মাতঙ্গের পক্ষে ও ইক্ষুদণ্ড ভক্ষণ প্রীতি ও হিতকর। পান ও ইক্ষুরস পান প্রায় তাদৃশ ফলপ্রদ বলিয়া কথিত আছে। গুরুভার বহন অবিশ্রান্ত পরিশ্রম দীর্ঘকাল অবরােধ প্রভৃতি কারণে বারণগণের দৈহিক উপ- দানস্বরূপ বাত পিত্তাদি কুপিত হইয়া থাকে এবং তার ফলে উহাদিগের কায়স্তম্ভ শিরস্তম্ভ মাস্তম্ভ ও শিয়ােলরাগ প্রভৃতি বাত প্রকোণজনিত রোগ সমুদয় জন্মিয়া থাকে। তাদৃশ অবস্থাতে ইক্ষুদান সবিশেষ হিতকর। তদ্ভিন্ন মদক্ষয়ে শােকভয়াভিভবে গ্রাস প্রতিহতে স্বগণ বন্ধনাদিক্লেশ দর্শনে ক্ষুদান সবিশেষ হিতকর। উহা মেদোবর্ধক, এই নিমিত্ত পিত্ত এবং রক্ত বিকারজনিত রােগনাশক, বৃংহণ ও স্নিগ্ধ, এই নিমিত্ত কফবৰ্ধক। ফল : ইক্ষুদণ্ড একাধারে তুষ্টি ও পুষ্টিকর। গ্রীষ্মকালে বারণগণফে তিন দিবস অন্তর ইক্ষুদণ্ড ভক্ষণ করিতে দিবে, বর্ষাকালে সাত দিন অন্তর হেমন্তে দশ দিন অন্তর ইক্ষুদণ্ড প্রদান করা কর্তব্য। মহানুভব অঙ্গপতির প্রশ্নের উত্তরে মহষি পালকাপ। ইহাই বলিয়া গিয়াছেন। ইতি শ্ৰীমহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তরস্থানে ১১ শ অধ্যায়। ।
দ্বাদশ অধ্যায়। নস্য কর্মবিধি। একদা মাতঙ্গতত্ত্বজ্ঞ ঋষিপ্রবর পালকাপ্য, শিষভাবাপন্ন মহানুভব অঙ্গপতিকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন-হে নরনাথ, শ্রবণ করুন-নত্য কৰ্ম্মবিধি বর্ণনা করিতেছি-বারণগণ নিরন্তর বারিসিক্ত সুশীতল স্থানে অবস্থান ও বিবিধ কার মধুররসযুক্ত শীতবীর্য দ্রব্য ভােজন করিতে থাকিলে এবং তাদৃশ অবস্থা শারীরিক পরিশ্রম বৰ্জন করিলে প্রায়শঃ শ্লেষ্ম বিকারাদি জনিত রােগ গ্রস্ত হয়। তাহার প্রথম অবস্থায় বা তরল অবস্থাতে অপােলিখিত ঔষধ দ্রব্যসমূহ নস্যরূপে প্রয়োগ করিলে বিকারের প্রতীকার হইয়া থাকে। ১। পিপ্পলী সূক্ষ্মচর্ণ ৫ পল ৫. বিড়ঙ্গ ২। গােলমরিচ ৬। শ্বেত সর্ষপ নাগর ৭। সৈন্ধব ৪। পৃথিক। তব উল্লিখিত অষ্টবিধ সূক্ষ্ম চূর্ণ একযােগে নস্যরূপে প্রয়ােগ করিলে সবিশেস উপকার দর্শে। ৮। অগৰা- প্রথমােক্ত পিপ্পল্যাদি অষ্টপি ৩। সর্বণ তৈল ৫ পল দব্যের সূক্ষ্ম চূর্ণ ৪০ পল। ৪। জল, বল করিবার বিমান ২। ক্ষুদ্রপত্র তুলসীর রস ৫ পল উল্লিখিত ঔষধ দ্রব্য মিশ্রিত জল নাসিকা দ্বারা নস্যৰূপে পাবহার করাইতে পারিলেও সবিশেষ উপকার দর্শে । অথবা ১ পল ১। পিঙ্গুলী ২। গোলমরিচ ১ ১ গুগ,গুল ৯। আমলকী পারলে ১১। শৈলেয়ক ১২। জটামাংসী ১৩। কালানুসাৰ্য্য শ্বে ১চন্দন ১ ১ ১ । ৬। ধূপ ৫ ৭। একে ৭৮ গলায়ুৰ্ব্বেদ-সংহিতা। উল্লিখিত এয়াদশবিধ দ্রব্য জলদঙ্গর মধ্যে প্রক্ষেপণপূর্বক তৎপন্ন ধুম দ্বারা গ্রহণ করিলে সবিশেষ উপকার দর্শে। বেগের পরিমাণ বুঝিয়া চিকিৎসক ধূপের কালের পরিমাণ অসধারণ করিবেন। চিকিৎসকের অজ্ঞান কিংবা মােহবশতঃ ধুপ কালের পরিমাণ অধিক হইলে বারণগণের মুখশেষ ও আহারে অনিচ্ছ। প্রভূতি লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাদৃশ ওষ্ঠ কণ্ঠ হৃদয় তালু শোষ এবং দুর্বলতা প্রভৃতি অতিধূপণ লক্ষণ প্রকাশ পাইলে পুনঃ পুনঃ শীতল জল সেই আচাৰ্যগণের মতে একমাত্র প্রতীকার। এই প্ৰকরে সপ্তাহ, দ্বিসপ্তাহ বা যাবৎকাল আবশ্যক বিবেচিত হয় তাবৎকাল নস্য প্রয়োগ করা কর্তব্য। দুগ্ধ কিংবা ঘৃত মিশ্রিত স্বাভাবিক অজারের এক চতুর্থ অংশ মাত্র অল্প আহার করিতে দিবে । আহারের পরে ঈষদুষ্ণ জল পান করিতে দিবে; কাবা পীত সলিল দ্বারা দ্ৰবীকৃত অন্ন ‘অল্পকালে পরিপাক প্রাপ্ত হইয়া দেহের পুষ্টিসাধনে সমর্থ হয়। এবিষযে শ্লোক কথিত আছে । যথাবিধি নন্য প্রয়ােগের ফলে মাতঙ্গগণের জাঠরনল ও দৈহিক শক্তি বর্জিত হয় এবং কণ্ঠ বক্ষস্থল পার্শ্ব ত্রিক প্রভৃতি লঘু ও মনঃপ্রসন্ন হইয়া থাকে । ইতি মহর্ষি পাল কাপ্য বিবচিত গজায়ুর্বেদ মহাপ্রবচনে উওর স্থানে ১২শ অধ্যায়। * মূলে ৭ম ও ১৩ দশ অধ্যায এই পুস্তকে ১২শ অধ্যয়কাপে গৃহীত হইল ।
গজামুকেসংহিতা।
পঞ্চম ভাগ
পদ্ধ।
No text on this page.
চতুর্দশ অধ্যায়। অঞ্জনদান বিধি। একদা মহানুভব অঙ্গপতি ঋষিপ্রবর পালকাপ্যকে প্রণতিপূৰ্ব্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন—ভগবন, বারণগণের নেত্রবােগে হিতকর অঞ্জনদান- বিধান ব্যাখ্যা করিয়া আমার কৌতুহল পরিতৃপ্ত করুন। অতুলকীৰ্ত্তি অঙ্গ- পতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন ;-হে অঙ্গনাথ, শ্রবণ করুন প্রাণিগণের খুর শৃঙ্গ নখ দাত অস্থি লোম প্রভৃতিদ্বারা নেত্র মধ্যস্থিত সূক্ষ্ম পর্দা লেখনকরা (চাছা) যাইতে পারে। কিন্তু লােধাদি বৃক্ষের সার, যে কোনও প্রকার পাষাণ, শঙ্খ দাঁত নখ ঝিনুক মণি মুক্তা- হীরক প্রবাল কূৰ্ম্মপাল (কচ্ছপের চাড়া) অত্র প্রভৃতি যে কোনও কঠিন দ্রব্যের সূক্ষ্ম চুর্ণ নেত্র মধ্যে প্রয়ােগ করিলে অক্ষি মধ্যস্থিত সূক্ষ্ম পর্দা কাটিয়া যায়। ফলতঃ উল্লিখিত লেখন দ্রব্যের মধ্যে সুবর্ণ রজত তাম্র সীস কৃষ্ণ লৌহ রঙ্গ মণি মুক্ত প্রবাল প্রভৃতি দ্রব্যই শ্রেষ্ঠ। হে নরেশ্বর, অধােলিখিত রঞ্জন প্রয়ােগে বারণগণের নেত্র মধ্যস্থিত ছানী কাটিয়া থাকে— ১। হরীতকী বীজ চূর্ণ ১১। ময়ূর অণ্ডের খোসা চূর্ণ ২। বদর (কুলের) বীজ চূর্ণ ১২। রৌপ্য চূর্ণ ৩। কিংশুক বীজ চূর্ণ ১০। তাম্র চূর্ণ ৪। আমলকী বীজ চূর্ণ ১৪। লৌহ চূর্ণ ৫। কিংশুক বীজ চূর্ণ ১৫। খদির নির্যাস ১৬। পলাশ চূর্ণ ৭। সমুদ্রণে চুর্ণ ১৭। মেষশৃঙ্গী ৮) শঙ্খ চূর্ণ। ১৮। নিম্ব নিৰ্যাস ৯। কুকুটের ডিমের খােসা চূর্ণ ১৯। কুটজ ১০। হংসের অণ্ডের খােসা চুর্ণ ২০। প্রসন্না বা গোড়ানেবুর রস উল্লিখিত উনবিংশতি প্রকার ঔষধ জব্য বিংশ ‘প্রসন্না” নামক সুরা কিংবা গােড়ানেবুর রসের সহিত মর্দন করিলে এক প্রকার রঞ্জন প্রস্তুত হয়। ইহা ৰাৱণগণের নেত্র মধ্যস্থিত ‘ছানী’ রােগের শ্রেষ্ঠ প্রতিকারক ঔষধ।
২ গজায়ুৰ্বেদ সংহিতা। ১। পিঙ্গুলী ৪। সৈন্ধব লবণ ২। কেশ (চুল) ৫। লনাঞ্জন ৩। কূৰ্ম্মপলাশ ১ম পিপ্পলীর মসী প্রস্তুত করিয়া পরে অপর সমভাগ চতুর্বিধ ঔষধ দ্রব্য একযােগে মদন করিলে অপর এক প্রকার রসাঞ্জন প্রস্তুত হয়। প্রমােগেও বারণগণের ছানী কাটিয়া থাকে। ১। কুকুটের ডিমের খােসার সূক্ষ্ম চুর্ণ ৩। কাচের সূক্ষ্ম চূর্ণ ২। শঙ্খের সূক্ষ্ম চূর্ণ ৪। চান সমভাগ উল্লিখিত চতুর্বিধ দ্রব্য এক যােগে মর্দন করিলে আর এক প্রকার ‘সাঞ্জন’ প্রস্তুত হয়। তাহা নেত্ৰ মধ্যে ব্যবহারে বারণগণের ছানী কাটিয়া যায়। ১। চন্দন ৫। কুকুটের ডিমের খােসা চূর্ণ ২। হরিতাল ৬। হংসাণ্ডের খােসা চূর্ণ ৩। মুথা ৭। ময়ুরাণ্ডের ঘােসা চূর্ণ ৪। কালানুসারিকা ৮। শুক্ল মরিচ চূর্ণ উল্লিখিত সমভাগ ঔষধ দ্রব্য সমুদয় গােড়ানেবুর রসে উত্তমরূপে মর্দন করিলে আর এক প্রকার রঞ্জন প্রস্তুত হয়। এই রসাজন লেখনীয় বা ছানী কাটিতে সমর্থ। ৪। পিঙ্গুলী ৫। মরিচ ৩। বীরণমূল এই পঞ্চবিধ দ্রব্য জল সহ এক যােগে বাটিয়া অঞ্জনরূপে প্রয়ােগে বারণ গণের নেত্র রােগের প্রতীকার হইয়া থাকে। ১। যবের শীষ ৪। শঙ্খমুখ ২। ছাগী দুগ্ধ ৩। কুকুটের ডিমের খােসা বসন্ত ঋতুতে শুষ্ক যবের শীষ তুলিয়া তাহা ছাগী দুগ্ধে পঞ্চদশ রাত্রি ভিজাইয়া রাখিবে পরে তাহা হইতে তুলিয়া রৌদ্রে শুকাইবে এবং উত্তম রূপে চূর্ণ করিয়া অন্যান্য দ্রব্যের একযােগে মধুসহ বাটিলে অপর আর এক প্রকার অঞ্জন প্রস্তুত হয়। ইহা প্রয়ােগে মাতঙ্গগণের ছানী কাটিয়া থাকে। ১। কুড় ২। হলুদ ৫। মধু অঞ্জনদান বিধি। ২। মুথা । वो ৩। নাকুলী ৪। গন্ধনাকুলী . ৫। প্রসন্না (এক প্রকার সুরা) প্রথমােক্ত চতুর্বিধ ঔষধ দ্রব্য ৫ম সুয়া সহ বাটিয়া অঞ্জনরূপে প্রয়ােগ করিলে সবিশেষ উপকার দর্শে। এই শ্রেষ্ঠ অঞ্জন প্রয়ােগে ছানী রোগ প্রশমিত হয়। । जी ৭। মদের সিট ২। দধিমণ্ড ৮। যবের ছাতু ৩। পিপ্পলী ৯। তণ্ডুলীয়ক মূল (কাটা নটের শিকর) ৪। সৈন্ধব লবণ ১০। শ্বেতপাষাণ ৫। কিঞ্জ (পদ্মের কেশর। ১১। অত্যকরীষ ৬। ফাণিত (অর্ধশুষ্ক ইক্ষুরস) ১২। অজামূত্র (ছাগীর শুষ্ক মল ও মুত্র) সমভাগ প্রথমোক্ত নয় প্রকার ঔষধ দ্রব্য একযােগে বাটিয়া তাহা খেত পাষাণে লেপন করিবে এবং ছাগীর ওফ করীষের অগ্নিতে তাহা উত্তম রূপে সেকিয়া ছাগীমূত্রের সহিত বাটিবে। ইহাকে লোহিতক অঞ্জন বলে, ইহা প্রয়োগে বারণগণের ছানীরােগ প্রশমিত হইয়া দৃষ্টি প্রসন্ন হয় ১। পলাশ ফুল ৩। চিনি ২। বঙ্গভশ্ন ৪। মধু এই চতুর্বিধ ঔষধ দ্রব্য একযােগে বাটিয়া অঞ্জনরুপে ব্যবহার করিলে বারণগণের চক্ষু শীতল হয়। ১। ত্রিফলা (হরীতকী, বহেড়া, আমলকী। ২। মধু একযােগে বাটিয়া অঞ্জনরূপে প্ৰয়ােগ করিলে মাতঙ্গগণের নেত্ৰদয় শীতল হয় ও সকল প্রকার নেত্রয়ােগের প্রথম অবস্থায় সবিশেষ উপকার দর্শে। ১। ত্রিফলা। ৩ ভাগ ৩। সৈন্ধব লবণ ১ ভাগ (হরীতকী, আমলকী, বহেড়া) ৪। কাজল ১ ভাগ ২। ত্ৰিকটু ৩ ভাগ ৫। জারিত লোহ ১ গগ (শুষ্ঠা, পিপুল, মরিচ) ৬। ছাগ দুগ্ধ প্রথমােক্ত ঔষধ দ্রব্যসমূহ ৬ষ্ঠ ছাগদুগ্ধে বাটিলে এক প্রকার অঞ্জন প্রস্তুত হয়, উহা ব্যবহারে বারণগণের অন্ধত্ব দূর হইয়া দৃষ্টিশক্তি প্রসন্ন হইয়া থাকে। ইহা প্রয়ােগে নেত্রের কণ্ড (চুলকানী) প্রশমিত হয়।
৪ গজায়ুর্বেদ সংহিতা। ১। ত্রিফলা ১ ভাগ ৩। মধু ২। সৈন্ধব লবণ ১ ভাগ এই ত্রিবিধ দ্রব্য একযােগে উত্তমরূপে বাটিয়া অঞ্জনরূপে ব্যবহার করিলে মাতঙ্গগণের নেত্রের কণ্ডু ( চুলকানী ) নিবৃত্তি হইয়া থাকে। ১। বাসক পাতার স্ব-রস ১ ভাগ ২। মরুবক পাতার স্বরস ১ ভাগ এই দ্বিবিধ দ্রব্যদ্বারা মাতঙ্গগণের নেত্র সিক্ত করিলে উহা শীতল হয়। ১। বট ছাল ৩। যজ্ঞডুমুর ছাল ২। অশ্বত্থ ছাল ৪। পারীশ বৃক্ষের ছাল এই চতুধি বৃক্ষ উত্তমরূপে প্রক্ষালন পূৰ্ব্বক কিঞ্চিৎ ছেচিয়া নুতন মৃন্ময় জলকুম্ভ-মধ্যে ত্রিরাত্র স্থাপন করিবে। পরে তাহা ছাকিয়া লইয়া তারা চক্ষুঃ প্রক্ষালন করিলে এবং উক্ত ছাল বাটিয়া তাহা বারণগণের মস্তকে লেপন করিলে মাতঙ্গগণের নেত্ৰপাক’ রােগ প্রশমিত হইয়া থাকে। ১। বট পল্লব ২। অশ্বথ পল্লব ৭। জটামাংসী ৩। যজ্ঞডুমুর পল্লব ৮। কাচা গো-দুগ্ধ ৪। পাকুর পল্লব ৯। শীতল জল ৫। হিজ্জল ফুল প্রথমােক্ত সমভাগ সাত প্রকার ঔষধ দ্রব্য ৮ম ও ৯ম সমভাগ দুধ ও জলে বাটিয়া তাহা দ্বারা পুনঃ পুনঃ নেত্র প্রক্ষালন করিলে মাতঙ্গগণের সকল প্রকার নেত্রবােগের উপশম হইয়া থাকে। ১। রাখাল শশা ফল ২। ননী রাখালশশার শাস ছাড়াইয়া তন্মধ্যে ননী পূর্ণ করিতে হইবে। পরে তাহ ভূর্জপত্র দ্বারা উত্তমরূপে জড়াইয়া মৃন্ময় শীতলজল-পূৰ্ণ কলস-মধ্যে রাখিয়া দিবে। এইরূপে ত্রিরাত্রি অতীত হইলে তাহা তুলিয়া তদ্বারা রুগ্ননেত্র সিক্ত করিলে বারণগণের ‘প্রাবারকী’ ‘পটলাক্ষ’ ও ‘নেত্রনালী’ রােগের প্রতীকার হইয়া থাকে। ১। পিপ্পলী ৪। গােরােচনা ২। মরিচ ৫। মধু ৩। সৈন্ধব লবণ ৬। মণি ( শশাধিত) অঞ্জনদান বিধি। ৭। মনঃসিলা ১২। মুক্তা ৮। কুমীরের নখ ১০। প্রবাল (২ মাত্রা) ৯। বাঘের নখ ১৪। শম্বর’ মৃগের শিং ১০। তেজপত্র ১৫। শঙ্খনাতি ১১। হীরাকস মােমক লবণ উল্লিখিত সমভাগ যােড়শবিধ ঔষধ দ্রব্য একযােগে উত্তমরূপে বাটিয়া অবধা লিখিত বেসবার সহ মিশ্রিত করিবে এবং তারা দশ রাত্রি অঞ্জন প্রদান করিলে বাবণগণের নেত্ররােগের প্রতীকার হইয়া থাকে। বেসবার যথা— ১। পিপ্পলী ২। শুন্তী ৩। গােলমরিচ ৬। মুগ উল্লিখিত ছয় প্রকার সমভাগ দ্রব্য একযােগে পাক করিলে ‘মুদগযুক্ত বেসবার প্রস্তুত হয়। ১। ত্রিফল ২। মধু (হরীতকী, আমলকী, বহেড়া ) এই চতুর্বিধ দ্রব্য অঞ্জনরূপে ব্যবহার করিলে বায়ণগণের সকল প্রকার নেত্র রােগের প্রতীকার হইয়া থাকে। ১। সৈন্ধব লবণ ৬। শঙ্খ ২। ত্রিফল ৭। চিনি ৩। পিপ্পলী ৮। মনঃশিলা ৪। মরিচ ৯। যষ্টিমধু ৫। সমুদ্র ফেণ উল্লিখিত নয় প্রকার সমভাগ দ্রব্য একযােগে জলসহ বাটিয়া বড়ী প্রস্তুত করিয়া শুষ্ক করিতে হইবে এবং তাহাদ্বারা অঞ্জন প্রদান করিলে সকলপ্রকার বাতপিত্ত কফজনিত নেত্র রােগ সমূহের উপশম হইয়া থাকে। এমন কি এই অঞ্জন ব্যবহারে বারণগণের পটলা’ ‘কাচাক্ষ’ ‘প্রাবারকী প্রভৃতি নেত্র রােগের উপশম হইয়া থাকে। ইহাকে ‘বিজয়া গুলিকা বলে। ইহারা অর্জিত স্থান নিৰ্বাত ও শীতল হইয়া থাকে। চক্ষু ধৌত করিবার নিমিত্ত বাসক পত্রের শীতল কাথ ব্যবহার করিলে সবিশেষ উপকার দর্শে।
৬ গজায়ুৰ্বেদ সংহিতা। ১। খ্রীবেরক (বালা) ৬। প্রিয় ২। বীরণ মুল ৭। মঞ্জিষ্ঠা ৮। হরিতাল ৪। মােটা এলাচ ৯। মনঃশিলা ১০। মনছাল উল্লিখিত দশবিধ দ্রব্য একযোগে বাটিয়া ছায়াতে বৰ্ত্তি (বাতি) প্রস্তুত করিবে এবং তাহা শীতল জলে ঘসিয়া প্রতিদিন অঞ্জনরূপে ব্যবহার করিলে বারণগণের পিত্ত ও রক্ত জনিত নেত্ৰদাহ রােগের প্রতীকার হইয়া থাকে। ১। প্রপৌওরীক ৪। আমলকী ২। যষ্টিমধু ৫। সুমনা পল্লব ৬। দারুহরিদ্রা উল্লিখিত ছয় প্রকার ঔষধ দ্রব্য শীতল জল সহ একযােগে কাথ প্রস্তুত করিবে। উক্ত কাথদ্বারা নেত্র প্রক্ষালন করিলে বারণগণের সুবিযুক্ত নেত্রয়োেগ সমুদয়ের প্রতীকার হয়। ইহা ব্যবহারে অক্ষিপাক কণ্ড, চুলকানি ও ক্লেদ প্রশমিত হয়। ১। উল্লিখিত কাথ ২। রসাঞ্জন (শশাধিত) উল্লিখিত দ্বিবিধ দ্রব্য সমভাগে লইয়া মৃদু অগ্নিতে পাক করিতে হইবে এবং পরে তাম্র পাত্রে স্থাপন করিয়া অঞ্জন রূপে ব্যবহার করিলে মাতঙ্গগণের নেত্রস্থ ক (চুলকানি) ক্লেদ প্রভৃতি বিনষ্ট হইয়া থাকে। ১। পটোল পূতিকরঞ্জ (লাটাকরঞ্জ) পল্লব ২। নিম ১০। করঞ্জ বীজ ৩। কাল তুলসী ১১। নিসিন্দা পত্র ৪। আমলকী ১২। যষ্টিমধু ৫। হা ১৩। গুড়চী ৬। ত্রিফলা ১৪। জল ১৫। মধু ৮। মনঃশিলা উল্লিখিত আয়ােদশবিধ দ্রব্যের কাথ প্রস্তুত করিয়া তাহা ছাকিয়া লইবে এবং পুনরায় পাক করিয়া (১৫শ) মধু সই অঞ্জনরূপে ব্যবহার করিলে বাৱণগণের নেত্রস্থ ক ও ব্রণের প্রতীকার হইয়া থাকে।
অঞ্জনদান বিধি। ৭ ১। আকন্দ ফুল ৫। তাম্ররস ২। হীরাকস ৬। দধি ৩। তুতিয়া ৭। অম্ন ৪। লোহাঞ্জম প্রথমােক্ত চতুর্বিধ ঔষধ দ্রব্য ৫ম ৬ষ্ঠ ও ৭ম ঔষধের সহিত বাটিয়া অঞ্জন রূপে ব্যবহার করিলে বায়ণগণের অক্ষিপাক নেত্রস্রাব প্রভৃতি রােগে সবিশেষ উপকার দর্শে। ১। আমলকী পত্র ৪। কিরবাল + পত্র ২। শিরীষ পত্র ৫। শঙ্খনাভি চূর্ণ ৩। শল্লকী পত্র ৬। মনঃশিলা চূর্ণ প্রথমােক্ত চতুর্বিধ পত্রের কল্ক প্রস্তুত করিয়া তাহা ছায়ায় শুষ্ক করিবে। পরে তন্মধ্যে ৫ম ও ৬ষ্ঠ চূর্ণ মিশ্রিত করিয়া তাহা অঞ্জন রূপে ব্যবহার করিলে বারণগণের স্রোতােহন্ধ’ প্রভৃতি রােগের উপশম হইয়া থাকে। ৪। সৈন্ধব ২। যষ্টিমধু ৩। হরিদ্রা প্রথমােক্ত চতুর্বিধ দ্রব্য একযােগে বাটিয়া বৰ্ত্তি প্রস্তুত করিবে এবং তাহা মধুসহ ঘসিয়া অঞ্জনরূপে প্রয়ােগ করিলে “রাত্ৰন্ধ রােগের উপশম হইয়া থাকে। ১। শুষ্ঠী চূর্ণ ২। হরীতকী চূর্ণ এই দ্বিবিধ দ্রব্য জলসহ অঞ্জন রূপে ব্যবহার করিলে বারণগণের স্রোতােম্বন্ধ রােগের প্রতীকার হইয়া থাকে। ১। উৎপল ৪। লােধ ২। যষ্টিমধু ৫। অঞ্জন ৩। গিরিমাটি ৬। আমলকীর রস প্রথমোক্ত পঞ্চবিধ দ্রব্য ৬ষ্ঠ আমলকী রসে বাটিয়া তাহা এক খানি পাথরে লেপিতে ও শুষ্ক করিতে হইবে অনন্তর তাহা চূর্ণ করিয়া উক্ত চুর্ণাঙ্গন মাতঙ্গগণের ৫। মধু । সম্ভবতঃ “কিরমাল হইবে কিরবাল শব্দ অভিধানে নাই কিরমাল শ্যোনাক শােনাল) গজায়ুর্বেদ সংহিতা। পিত্ত ও রক্ত বিকাজ নেত্রদােগে একান্ত হিতকর। বাত বিকাজ নেত্রবােগ অরুণবর্ণ, পিত্তবিকারজ কৃষ্ণাভ কফবিকার জনিত নেত্রবােগ শ্বেত বর্ণ এবং সান্নিপাতিক বিকার-জনিত নেত্রােেগ নানাবর্ণ লক্ষিত হয়। তদ্ভিন্ন শুক্র বিকারজ নেত্রবােগ জলবুদবুদ সদৃশ, ধাতু বা শারীরিক উপাদান সমূহের বিকার-জনিত অক্ষিরােগ ‘পটলা’ তাহাতে কৃষ্ণ মণ্ডল অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রতা প্রাপ্ত হয়। হে নরেশ্বর, ইহাই বারণগণের বাতপিত্ত শ্লেষ্ম শােণিতাদি বিকার জনিত বিবিধ প্রকার নেত্ররােগের লক্ষণ যথাক্রমে কথিত হইল। এই সকল লক্ষণাদি বিচারপূর্বক বিজ্ঞ চিকিৎসকগণ বিভিন্ন প্রকার বিকার জনিত ক্ষিগোগের বিভিন্ন প্রকার চিকিৎসা করিবেন; অবশ্য বলাবাহুল্য যে দেশকাল রােগ ও রুগ্ন মাতঙ্গের বলবল নির্ণয় করিয়া পরে চিকিৎসায় প্রবৃত্ত হইবেন। ইহা কেবল চক্ষুরােগের নহে সকল রােগের সম্বন্ধেই প্রযােজ্য। লেখনযােগ্য সকল প্রকার অক্ষিরােগেই অবধালিখিত অঞ্জন প্রয়ােগ করা যাইতে পারে। ১। সৈন্ধব লবণ ৫। হীরাকস ২। বৃহতী মূল ৬। পিপ্পলী ৩। হরীতকী -- ৭। মধু ৪। চৈ প্রথমােক্ত ছয় প্রকার দ্রব্য একযোগে ছেচিয়া স্বচ্ছ জলে ৫/৬ ঘণ্টা ভিজাইয়া রাখিতে হইবে। পরে মৃদু জ্বলে তাহা ঘণীভূত হইলে অবতারণপূর্বক শীতল হইলে তাহার সহিত মধু মিশ্রিত করিবে এবং পরিষ্কৃত পাত্রে রাখিয়া তদ্বারা অঞ্জন প্রদান করিলে পটলক্ষ’ শুক্রকাচ’ প্রভৃতি অক্ষিরােগ সমুদয় প্রশমিত হয়। ১। মনঃশিলা ১ তোেল। ৪। বৃহতী ফল ১ তে। ২। তাম্রচূর্ণ ৫। সৈন্ধব লবণ (গজপুটে পৰু শােধিত) ৬। ছাগ দুগ্ধ ৩। যষ্টিমধু প্রথমােক্ত পঞ্চবিধ দ্রব্য ৬ষ্ঠ ছাগ দুগ্ধে উত্তমরূপে বাটিয়া তারা বৰ্ত্তি প্রস্তুত করিবে এবং তাহা ছায়াতে শুষ্ক করিয়া সযত্নে রাখিবে। অনন্তর শীতল জলে ঘসিয়া তাহা অঞ্জন রূপে প্রয়ােগ করিলে বায়ণগণের ছানী’ জাতীয় চক্ষুঃ রােগের উপশম হয়।
অঞ্জনদান বিধি। ৯ ১। বহেড়ার পাতা ভস্ম ৪। ধৃত ৫। মধু ৩। সৈন্ধব লবণ উল্লিখিত সমভাগ দ্রব্য ৪র্থ স্বতে,বাটিয়া তাহা অভিনব মৃৎপুটে গােময়াগ্নিতে ভস্ম করিবে। অনন্তর সেই ভষ্ম মধুসহ মাড়িয়া ভঞ্জনরূপে ব্যবহার করিলে বায়ণগণের প্রচ্ছন্ন (অস্পষ্ট) পটল’ ‘বুদ প্রভৃতি অক্ষি রােগের প্রতীকার হইয়া থাকে। ইহা প্রয়ােগে লেখনযােগ্য ও লেখনাযােগ্য সকল প্রকার অক্ষি বােগেই উপকার দর্শে। রক্তজ ও পিত্ত অক্ষিরেগে তাম্র সবিশেষ উপকারী। মাতঙ্গগণের নেত্রের অর্ধ বা বিভাগ পর্যন্ত রক্তাক্ত দৃষ্ট হইলে তাহাকে ‘নেত্ররাজী আখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে। উক্ত রক্তরেখা তিৰ্য্যগভাবে উর্ধদিকে প্রসারিত থাকে। মাতঙ্গগণ উল্লিখিত রােগে আক্রান্ত হইলে উহাদিগের নেত্রে অব্র বেদনা ও তপাত হইতে থাকে। তথা নেত্রদ্বয় হইতে রক্ত ও অশ্রু স্রাব হইতে থাকিলে কিংবা মন্তকে আঘাত নিবন্ধন নেত্রদ্বয় লােহিত বর্ণ ধারণ করিলে পিত্তবিকারজনিত নেত্ররােগে যে যে চিকিৎসার উল্লেখ আছে তৎসমুদয়ের বিধান করিবে। ১। লিটু ২। ত্রিফলা ১১। গিরিমাটি ৩। শঙ্খনাতি ১২। তার পাদুকা (জলজ লতাবিশেষ ৪। হরিদ্রা ১৩। রসুন ৫। দারু হরিদ্রা ১৪। তুতিয়া ভয় ৬। সমুদ্রফেণ ১৫। মনক্কা ৭। হরিতাল ১৮। লােধ (শ্বেত) ৮। মনঃশিলা ৯। কুকুটাও কপাল (মুরগীর ডিমের খোসা ) উল্লিখিত সপ্ত দশ প্রকার ঔষধ দ্রব্য সমভাগে লইয়া এক যােগে উত্তমরূপে বাটিবে এবং তাহা ছায়াতে শুষ্ক করিয়া বড়ী প্রস্তুত করিবে। ইহাকে ‘নীলমেঘ গুটিকা’ বলে ইহা শীতল জলে ঘসিয়া অঞ্জন রূপে ব্যবহার করিলে সকল প্রকার অক্ষিরােগ শিরােনােগ ও বেদনার উপশম, কায়পুষ্প পটল বুদ বুদ মাংসবৃদ্ধি এবং নেত্রস্থ বক্তবর্ণ রেখা সমূহ প্রশমিত হইয়া থাকে। অথবা ১৭। মঞ্জিষ্ঠা ১০ গজায়ুর্বেদ সংহিতা। ৪। জীবক ১। পূর্বোক্ত ঔষধ দ্রব্য সমুহ ৬। কাকোলা ২। মেদা ৭। ক্ষীর কাকোলী ৩। মহামেদ ৮। মুদগ পর্ণী । ৯। মাষপর্ণী ১। অশ্বগন্ধা সমভাগ উল্লিখিত দ্রব্য সমুদয় একযােগে ছেচিয়া তাহা এর (ভ্যারেণ্ডা ) পত্র দ্বারা উত্তমরূপে আবৃত করিবে। অনন্তর তাহা গােময় দ্বারা প্রলিপ্ত করিয়া তাহার উপরি ভাগে মৃত্তিকা (কঁদা) লেপন কৰিবে। পরে নিধুম অগ্নিতে তাহ দগ্ধ করিয়া সুসিদ্ধ হইয়াছে জানিলে তাহা হইতে ঈষদুষ্ণ রস গ্রহণ পূৰ্ব্বক রুগ্ন আতঙ্গের নেত্র দ্বয় পূর্ণ করিবে কিংবা শীতল জলে নেত্র প্রক্ষাল- পূৰ্ব্বক উক্ত কারা তাহাতে স্বেদ প্রদান এবং স্বেদান্তে সদ্যোজাত মৃত বা নবনীত দ্বারা নেত্ৰ নিৰ্বাপণে বারণগণের সকল প্রকার অক্ষিরােগের প্রতীকার হইয়া থাকে এ বৃিরে কোনও সংশয় নাই। পূৰ্ব পূৰ্বোল্লিখিত কাথ মিশ্রিত ধৃত দুগ্ধ দ্বারা বা তুষার (বরফ) মিশ্রিত ঘৃত বা দুগ্ধ দ্বারা, ইক্ষুরস মিশ্রিত গোন্ধ দ্বারা কিংবা শর্করা মিশ্রিত নারীদুগ্ধ দ্বারা নেত্র প্রক্ষালন সকল প্রকার অক্ষিরােগে হিতকর। মাতঙ্গগণের অক্ষিগেগে ব্যবহাৰ্য্য তীক্ষ্ণ বীৰ্য্য ‘কল্কাঞ্জনের পরিমাণ । দুইরতি মাত্র, নাতি তীক্ষবীৰ্য্য কাঞ্জনের পরিমাণ তাহার দ্বিগুণ এবং মৃদুবীৰ্য কল্ক বা অঞ্জনের পরিমাণ তাহার ও দ্বিগুণ হইবে। তদ্ভিন্ন চুর্ণাঞ্জনের পরিমাণ পূর্বোক্ত কাঞ্জনের মাত্রা অপেক্ষা ৪ অংশ কম হওয়া আবশ্যক। হে নরেশ্বর, মাতঙ্গগণের দীর্ঘকাল জাত নেত্র রােগ কেবল স্বেদ দ্বারা কদাপি প্রশমিত হয় না, এই নিমিত্ত বিজ্ঞ চিকিৎসকগণ এই গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রোক্ত যােগ সমুদয় রােগবল বিচারপূর্বক প্রয়ােগ করিয়া সফলতা লাভ করিয়া থাকেন। ইতি শ্ৰ-মহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাবচনে উত্তর স্থানে চতুর্দশ অধ্যায়। + নিষ্পব=২ রতি-মু।
পঞ্চদশ অধ্যায়। একদা খাযিশ্রেষ্ঠ পাল কাপ্য কৃপাপূর্বক শিষ্যভাবাপন্ন অঙ্গপতি নােমপাদ নরপতিকে মাতঙ্গগণের অন্নপান-গুণ সম্বন্ধে বলিলেন ; হে নরনাথ, প্রাণিগণকে কলন (বিনাশ করে, কিংবা কলাদি অংশে বিভক্ত এই নিমিত্ত সময়কে কাল বলা হইয়া থাকে। তাদৃশ অখণ্ড দণ্ডায়মান কালের একটি বৃহৎ বিভাগ সংবৎসর এবং সেই সংবৎসরও ‘দক্ষিণায়ন ও উত্তরায়ণ ভেদে বিবিধ। তন্মধ্যে উত্তরায়ণ ‘দান ও দক্ষিণায়ন ‘বিসর্গ' নামে পরিচিত। সুতরাং বর্ষা শরৎ ও হেমন্ত ঋতু ‘বিসর্গ' নামে প্রসিদ্ধ। এই বিসর্গে বায়ু অতিরুক্ষ হয় না এবং সােম অংশুজাল দ্বারা জগৎ পূর্ণ করিয়া স্থাবর ও জঙ্গম পদার্থ সমূহকে স্নিগ্ধ ও সরস করিয়া থাকে। এই স্নিগ্ধকালে প্রত্যেক দ্রব্য পদার্থে ই সােমণ্ডণ বাহুল্য নিবন্ধন বারণগণের বল ও তেজঃ বর্ধিত হয়। পক্ষান্তরে আদান বা উত্তরায়ণে ৰায়ু একান্ত রুক্ষ কর্কশ ও ভীষণ ভাবাপন্ন হইয়া থাকে ; কারণ ভগবান সবিতা উত্তরাভিমুখ হইলে উহার তীক্ষ্ণ কিরণজাল জাগতিক পদার্থ সমুহের সােমগুণ বিনষ্ট করিয়া তাদের স্নিগ্ধ ভাব আকর্ষণ করিতে থাকেন; এই নিমিত্ত ঋষিগণ, আদান বা উত্তরণকে আগ্নেয়' বলিয়া থাকেন। এই কালে তিক্ত কযায় ও ফটু এই তিনটি রুক্ষবী রস বর্ধিত হয় এবং তাদৃশ দ্রব্য সেবনে প্রাণিগণের বল বৃদ্ধির পরিবর্তে দুৰ্বলতাই বর্ধিত হইয়া থাকে। হে অঙ্গেশ্বর, এইরূপে চন্দ্র সূৰ্য্য ও বায়ু, এই তিনই জগৎ রক্ষার মূলীভূত বা মুখ্য কারণ এবং উল্লিখিতকালই পৰ্যায়ক্রমে কটুক্তি কষয়াদি রস, বাত পিত্তাদি শারীরিক উপাদান ও দৈহিক শক্তির হ্রাস বৃদ্ধির গৌণ কারণ হইয়া থাকে। সেই কালই পুনরায় দুই দুই মাস করিয়া হেমন্ত শিশির বসন্ত গ্রীষ্ম বর্ষা ও শরৎ ভেদে ষড় বিধ। তন্মধ্যে হেমন্ত ঋতুতে হিম প্রভাবে ভগবান সবিতা আর তীব্র কিরণ জালে জগৎ উত্তপ্ত করিতে কিংবা স্থাবর জঙ্গমাত্মক জাগতিক পদার্থ সমূহ হইতে রস আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েন না। জগৎপ্রিয় শীতাংশু যেন নিৰ্ম্মল গগনতলে লম্বমান হইয়া স্বীয় অংশুজাল দ্বারা জগৎবাসিগণের প্রীতি সাধন পূর্বক মন্থরগতিতে গমন করিতে থাকেন। কাল-স্বভাব বশতঃ মৃদু ও শীতল বায়ু শনৈঃ শনৈঃ প্রবাহিত হইতে থাকে। এই নিমিত্ত উক্ত গজায়ুর্বেদ সংহিতা। মধুব রস বর্জিত হয় এবং তাহা ভক্ষণে বারণগণ সবল ও সতেজ হইয়া উঠে। এই ঋতুতে বারণগণের পিত্ত প্রশমিত শ্লেষ্ম সংৰ্দ্ধিত ও দেহ-শােণিত প্রসন্ন হইয়া থাকে এবং শীতের তাদৃশ প্রাবল্য না থাকায় সবল বারণগণের জাঠরানলবর্ধিত হয় তাহার ফলে গুরুপাক দ্রব্য ভােজন করলেও তা যথাবিধি পরিপাক প্রাপ্ত এই ঋতুতে বারণগণের পক যন্ত্রের ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় প্রায়শঃ উহারা কোন ও রােগে আক্রান্ত হয় না। হেমন্ত ঋতুর অবসানে বায়ু একান্ত শীতল হইয়া থাকে এই নিমিত্ত তখন বাতের প্রকোপ হইতে দেখা যায় সুতরাং মাতঙ্গগণের গৈরিক সৰ্বসেক’ একান্ত প্রয়ােজন। তাদৃশ কালে বিরল বায়ু প্রচার যুক্ত জলকর্দমবিহীন স্থানে অবস্থান ও শুষ্ক গােময় চূর্ণ রচিত মৃদু শয্যা হিতকর; আতপসেবন ও কূপ জল পান প্রশস্ত স্থলজ কিংবা জালঙ্গ ঘাস হিতকর, প্রতিদিন একবার মাত্র অবগাহন বিধেয় ; শালি এবং সৃষ্টিক ধান্তের তণ্ডুল অম্ল ও লবণ যােগে দিবসে দুইবার ভোজন হিতকর, প্রতিপানাৰ্থ পঞ্চলবনযুক্ত সুরা এবং পদতলে তৈল মর্দন ও মসীযুক্ত তৈল মস্তকে মর্দন একান্ত হিতকর। এই কালে দিবাভাগ সংক্ষিপ্ত থাকে, এই নিমিত্ত রাত্রির প্রথমদিকের কিয়দংশ ও শেষ রাত্রির কিয়দংশ বারণগণকে যত্নপূৰ্ব্বক চরাইবে। এতাদৃশ যত্নের ফলে বারণগণের আয়ু বল ও বীৰ্য হীনতা প্রাপ্ত হয় না। বিশেষতঃ মাতঙ্গগণ হেমন্ত ঋতুতে স্নিগ্ধ গুরুপাক তরুশাখাদি ভােজন করিয়া বীৰ্য সঞ্চয় করিয়া থাকে, তারাই (কোন ও বিশেষ কারণ উপস্থিত না হইলে) সংবৎসর জীবনধারণ করিতে সমর্থ হয়। শীত ঋতুতে দিক্ সকল হিমজালে আবৃত থাকে এই নিমিত্ত সুৰ্য্য কিরণ প্রকাশিত হয় না, দিবাভাগ প্রায়শঃ কুহেলিকাচ্ছন্ন থাকিয়া অন্ধকারবৃিতের ন্যায় অনালােকিত থাকে। আদান যােগে বায়ু অতিরুক্ষ ও শীতল থাকে এই নিমিত্ত শীতকালে তিক্ত রস বর্ধিত হয়। এই ঋতু সাতিশয় দারুণ এবং হেমন্তকাল অপেক্ষা কিঞ্চিৎ অধিক, এই নিমিত্ত এই ঋতুতে বারণগণের প্রতিপালন বিষয়ে হেমন্ত ঋতুর কর্তব্য সমুদয়ের অনুষ্ঠান করিতে হইবে তদ্ভিন্ন আর যাহা বিশেষ আছে কেবল তাহাই লিখিত হইল। এই ঋতুতে হস্তি শালয়ি রাত্রিতে প্রজ্জ্বলিত অগ্নি রাখা আবশ্যক এবং শীত হইতে পরিত্রাণের নিমিত্ত মাতঙ্গগণের কম্বলাবরণ প্রদান করিলে ভাল হয়। এই ঋতুতে ঘাস, উড়িধানের গাছ, উপনাহ’ খে, ভগ্ন তরুশাখাদি এবং ঈষদুষ্ণ তণ্ডুলাদি হিতকর পথ্য। এই ঋতুতে অন্নপান গুণ। ১৩ . . মধ্যে মধ্যে অবােলিখিত উষ্ণ পিণ্ড (তাপসংরক্ষক বড়ী) সেবন করিতে দেওয়া কর্তব্য ১ তােলা ৫। জোয়াইন ১ তােলা ২। গােলমরিচ ৬। শফা ৩। পিঞ্জলী ৭। আমােদা জোয়াইন ৪। সৈন্ধব লৰণ ৮। ইক্ষু গুড় প্রথমােক্ত সপ্তবিধ ঔষধ দ্রব্য চুর্ণ করিয়া তাহার সহিত ৮ম ইক্ষু গুড় মিশ্রিত করিবে এবং ১৪ তােলা পরিমাণে বড় প্রস্তুত করিয়া হেমন্ত ও শীত ঋতুতে বারণগণকে সেবন করিতে দিলে উহাদিগের জাঠরানল ও দৈহিক বল বর্ধিত বাত ও শ্লেষ্ম প্রশমিত এবং দেহবর্ণ প্রসন্ন হয়। মদ্যানুপানে ইহা শ্রেষ্ঠ রসায়ণ। ইহার অপর নাম ‘ঋতুপিণ্ড সমভাগ ত্ৰিকটু ও লবণ মিশ্রিত প্রসন্না' নামক সুরা তাদৃশ অবস্থায় উত্তম প্রতিপান। গিরিমাটি মিশ্রিত তৈল সর্বাঙ্গে মর্দন এই একান্ত হিতকর। বলানুরূপ ব্যায়াম এবং প্রতিদিন একবার মাত্র আন একান্ত বিধেয়। শীত ঋতুর অবসানে মাতঙ্গগণের কফোদ্রেক হইতে দেখা যায়। এই সময়ে দিন দিন সূর্য কিরণ প্রখরতর এবং দিবা ভাগ বর্ধিত হইতে থাকে। এইকালে বাণগণের দেহকান্তি সজল-জলদ-সদৃশ ও তেজস্বী হইয়া থাকে। এই ঋতুতে অল্প সন্তাপ নিবন্ধন উহাদিগের কফ ক্ষরণ হইতে দেখা যায়। বসন্ত ঋতুতে সূৰ্য্যকিরণ নাতিতীক্ষ্ণ বায়ু মৃদুমন্দ এবং জল সাতিশয় শীতল থাকে। এই ঋতুরাজের প্রভাবে জগতের স্থাবর জঙ্গমপদার্থ সমূহ সরস ও একান্ত রম্যভাব ধারণ করে। তখন বারণগণের দেহে রস বর্জিত ও শ্লেষ্ম প্রকুপিত হয়। এতাদৃশ অবস্থাতে গু অপােলিখিত কারণে বারণগণের ধাতু বা শারীরিক উপাদানের সমতা রক্ষিত হইয়া থাকে। বারণগণ শীতের জড়তামুক্ত হইয়া যথেচ্ছ ভাবে ধুলি ক্রীড়া এবং জলপান ও আহরণে প্রবৃত্ত হয়, ভূভাগ হরিতৃণলতাবৃত দর্শন করিয়া মনে অত্যন্ত হর্ষের আবির্ভাব হয়, সরস তরুলতা তৃণ গুল্মদিভােজন, ভ্রমর কোকিল প্রভৃতির মধুর ধ্বনি শ্রবণ নাতি শীতােষ্ণ মৃদুমন্দ বায়ু সেবন প্রভৃতি দ্বারা মনঃপ্ৰসাদ বর্ধিত হয় এবং তাহার ফলেই ধাতুসাম্য রক্ষিত হইয়া থাকে। এই বসন্ত ঋতুতে যব গম বুট (ছোল) শালিধান্তের অন্ন অর্ধপরিমিত ঘাস মেক’ সুরা প্রতিপান, বন্যপ্রান্তে ভ্রমণ পাংশুক্রীড়া প্রভৃতি ১৪ গজায়ুৰ্বেদ সংহিতা। একান্ত হিতকর। কমল কুমুদ কলার প্রভৃতি জলজ কুসুম ভূষিত ভূভাগে অবস্থান মাতঙ্গগণের মানসিক শান্তি বর্ধন করিয়া থাকে। এই ঋতুতে নিরন্তর গুরুভার বহন ও দূর পথ গুমন বারণগণের হিতকর নহে। গ্রীষ্ম ঋতুতে ভগবান সবিতা মধ্যম গগণে আরােহণ করিয়া থাকেন এবং তাঁহার তীক্ষ্ণকর সমগ্র জগতের সভাগ শশাষণ করিতে থাকে। জগৎ প্রাণ বায়ু তীব্র রুক্ষ কর্কশ ও শশাষণশীল হইয়া কি ভীষণ সাহার মৃত্তিই না ধারণ করে। এইকালে স্বভাবতঃই ‘কটু’ সে বন্ধিত হয় এবং সকল প্রাণীরই ধাতুশােষ ও দুর্বলতা লক্ষিত হয়। গ্রীষ্মে স্বভাবতঃই তৃষ্ণা প্রবল, বায়ু বর্ধিত হইয়া থাকে, সোমাত্মক ও শীতে অভ্যস্ত বারণগণের পক্ষে ইহা বিশেষরূপে বক্তব্য। গ্রীষ্ম- কালে বারণগণের বিশেষরূপে পিত্ত বর্ধিত হয়, এই নিমিত্ত উহাদিগের দুর্বলতা বৰ্ধিত হইতে থাকে এবং উহাদিগের সর্বাঙ্গে দাহ উপস্থিত হয়। এই সময়ে উহাদিগের শ্লেষ্ম ও মেদ ক্ষয় প্রাপ্ত হইতে দেখা যায় এবং গ্রীষ্মের প্রাবল্যে রক্ত ও পিত্তের আধিক্য উপস্থিত হয়। এই ভীষণকালে প্রশস্ত জলাশয়ের সন্নিহিত ভূমিই বারণগণের বাসােপযােগী। প্রভূত ছায়া সেবন প্রচুর জলপান দিবসে দুই তিনবার সুশীতল স্বচ্ছজলে অবগাহন গ্রীষ্মকালে বারণগণের জীবন রক্ষণের প্রধান সহয়। পূর্বাহে অপরাহ্নে বিশেষরূপে মধ্যাহে রণগণের সর্বাঙ্গে শতল কর্দম লেপ করিতে দিলে উহাদিগের চর্মের দাহ বিনষ্ট হয় প্রাবল্য দেখিলে মধ্যাকালে বংশদণ্ডে লন জলকুম্ভ হইতে শ্রুত জলধারা দান বিধেয়। ইহাই দিবাভাগে পরিচর্যার প্রকার, রাত্রিতে ধূলি ও ভলসিক্ত শীতল শয্যা প্রশস্ত। মধ্যে মধ্যে শতধৌত ঘৃত সর্বাঙ্গে বিশেষরূপে মস্তকে মর্দন একান্ত হিতকর ; তাহাতে ইন্দ্রিয়গণ প্রসন্ন ও নেত্রদ্বয় ক্লিন্ন হইয়া থাকে। এই ঋতুতে জলজ ঘাস হরিত, (কঁচা ) তৃণ ও ক্ষীরী বৃক্ষের (বট অশ্বথ যজ্ঞ ডুমুর পাকুড় গাছের) পল্লব উত্তম আহার। ঘৃত ও গুড় মিশ্রিত 'কুল্মায মেক উৎকৃষ্ট প্রাতরাশ। রাত্রিতে জাঙ্গল-মাংসরস মিশ্রিত কিংবা দুগ্ধ ও ঘৃত মিশ্রিত রক্তবর্ণ শালিধান্তের শীতল অন্ন ভােজনার্থ প্রদান করিবে। গ্রীষ্মকালে কেবল দুগ্ধাপনও বায়ণগণের পক্ষে প্রশস্ত। গুড়যুক্ত জল মিশ্রিত অনুগ্র সুর গ্রীষ্মকালে উত্তম প্রতিপন। এই ঋতুতে দিবা অপেক্ষা রাত্রি অল্পতর এই নিমিত্ত প্রদাষেই বারণগণের শয়নের বিধান করা কর্তব্য। স্বভাবতঃ উগ্র গ্রীষ্ম ঋতুতে কটু অম্লরসযুক্ত রুক্ষৰীৰ্য্য কিংবা বিদায়ী আহার দ্রব্য অথবা ঔষধ গ্রীষ্মের অন্নপান গুণ। এবং পিত্ত দ্রব্য অপ্রশস্ত। গুরুভার বহন কি দূর পথ গমন এই ঋতুতে সৰ্ব্বতােভাবে অপ্রশস্ত। পক্ষান্তরে বলকর ও মনঃপ্রসাদজনক আহার ও ব্যবহার এই ঋতুতে প্রশস্ত। যে সকল কারণ স্বভাবতঃ দুৰ্বল ও ক্ষীণকায় তাহাদিগকে মধু ও ফাণিত মিশ্রিত পান ভােঙ্গন প্রদান করিলে সবিশেষ উপকার দর্শ। বর্ষাকালে গ্রীষ্ম তাপ-সন্তপ্তা ধরণী সজল জলদ জাল বিমুক্ত অবিচ্ছিন্ন সলিল- ধারা সিক্ত হইয়া আর্জ ভাবাপন্ন হইয়া থাকে এবং তাহার ফলে তরুলতা ও ওষধি সমূহ বিরস হয়। এই ঋতুতে স্বভাবতঃ অম্লরস বর্ধিত উপচিত হইয়া থাকে। তখন তৃণাদি ভক্ষ্য ও পানীয় জলের বিরসভাব এবং অম্লরস বর্ধিত হয় এই নিমিত্ত বারণগণের জঠরানল মন্দীভূত হইতে থাকে। জাঠরা নলের হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে স্বভাবতঃই বাতাদি প্রকুপিত হয়। এই ঋতুতে বায়ণগণের নদীজলে অবগাহন, জলজ তৃণাদি ভােজন, ব্যায়াম ও আতপ সেবা প্রশস্ত নহে; কূপ ও প্রস্রবণের জল পান এই ঋতুতে প্রশস্ত। ফাণিত মিশ্রিত যব গােধুম ও শালিধান্তের অন্ন এবং সংস্কৃত জাঙ্গল মাংসরস ও যুষ ভােজন ও পান বিধেয়। ফলতঃ র্যাকালে বিশেষতঃ যে সকল মেঘাচ্ছন্ন দিনে শীতল বায়ু প্রবাহিত হইতে থাকে সেইরূপ দিনে পানাহার সাধারণতঃ অগ্নি বৰ্দ্ধক হওয়া আবশ্যক। পরিমিত তন্ন লবণ ও ঘৃত মিশ্রিত তান্ন ভােজনে বারণগণের বাত প্রকোপ প্রশমিত হইয়া থাকে। বর্ষাকালে স্থজ ঘাস কারণগণের উত্তম ভােজ্য এবং অনার্জ স্থানে বাস হিতকর। এই ঋতুতে থানে ধূম প্রদান আবশ্যক, তাহাতে ডাশ প্রভৃতি কীট পতঙ্গ থানে প্রবেশ করিতে সাহসী হয় না এবং বারণগণ নিরুপদ্রবে স্বচিত্তে বাস করিতে সুযােগ পায়। ত্ৰিকটু তৈল ও গুড় মিশ্রিত প্রসন্না” নামক সুরা প্রতিপান স্বরূপ বর্ষাকালে প্রতিদিন প্রদান করা কর্তব্য। এই ঋতুতে গিরি উপত্যকা প্রভৃতি স্থল ভাগে বিচরণ বারণগণের পক্ষে হিতকর। বর্ষাকালে ও গ্রীষ্ম ঋতুর ন্যায় সূর্যোদয়ের পরেই অবগাহন বিধেয়। বর্ষাকালে বাতাদি বিকার শান্তি ও বাস্থ্যৈৰ্য্যের নিমিত্ত মধ্যে মধ্যে বস্তিপ্রয়ােগ (পকারী ব্যবহার ) মতিগণের একান্ত হিতকর এবং বিষাক্ত কীটাদি বিশােধনার্থ রাত্রিকালে থানে প্রদীপ স্থাপন অবশ্য কর্তব্য। শরৎ ঋতুতে এক দিকে যেমন মেঘ-বিনিমুক্ত রবির তীক্ষ্ণ কিরণরাজি প্রভাবে ওষুধি সমুহ ও ফলযুক্ত তরুলতা সকল পরিপক এবং ভূ-ভাগ পরিশুষ্ক হইতে থাকে অপর দিকে তেমন ভগবান শীতাংশুর সুশীতল শুভ্র অংশুজালদ্বারা গজায়ুৰ্বেদ সংহিত। জগত, আপ্যায়িত হইতে থাকে। এই নিমিত্ত শরৎকালে লবণরস বর্ধিত, বায়ু প্রশমিত ও পিত্ত প্ৰকুপিত হইয়া থাকে। এই ঋতুতে বারণগণকে গুড় ও ধৃত মিশ্রিত যব গম ও শালিধান্তের অন্ন ভােজনাৰ্থ প্রদান করিবে; কারণ উহা মাতঙ্গগণের পিত্ত প্রকোপে হিতকর। শশক ও হরিণের মাংসরস পানধারা ও বারণগণের পিত্ত প্রকোপ প্রশমিত হইয়া থাকে। এই ঋতুতে বারণগণের মেহনার্থ মাংস রস ও দুগ্ধ উভয়ই (পৃথক পৃথক্) ব্যবস্থা। শরৎ ও বসন্ত এই দুই ঋতুই শস্যকাল ; সুতরাং তৎপূর্ব পূর্ব ঋতুতে যথাবিধি মেহ পানের পরে শস্য ভােজন বারণগণের পক্ষে হিতকর। যেটে ধান্য, ব্রীহি শালি কঙ্গু (কামিনী ধান্য) প্রভৃতির ফল যত দিন আ ( অশুষ্ক। থাকে ততদিন বাবণগণের পুষ্টিকর হইয়া থাকে। কুসুমিত ও ফলিত মাষ মুগ প্রভৃতি রবিশস্যের ফল যতদিন না কঠিন হয় ততদিন পর্যন্ত ভােজন করিলে মাতঙ্গগণের হিতকর হইয়া থাকে। গম ও যব পঙ্ক ও শুষ্ক অবস্থাতেই সুপথ্য। উক্ত দ্বিবিধ শস্য পুষ্পিত অবস্থায় ভক্ষণ করিলে মাতঙ্গগণের রক্ত বৃদ্ধি এবং ফলিত অবস্থায় ভক্ষণ কৰিলে মাংস বৃদ্ধি হইয়া থাকে। তনুপজ ও জলজ প্রাণীর মাংস বা ঘৃত মাহি দুগ্ধ ও দধি প্রভৃতি ভােজন এবং ঈষদুষ্ণ তৈল মর্দনাদি বৎসরের মধ্যে অনেক সময়েই প্রশস্ত। বর্ষার অবসানে প্রতিপানাৰ্থ সুরার পরিবর্তে শর্করা এবং লবণের পরিবর্তে সৈন্ধব প্রদান করা বিধেয়। শরৎ ঋতুতে বারণগণকে গ্রীষ্মকালের গায় অবগাহন করাইবে। শরৎকালে অগস্ত্যোদয়ে হ্রদ সরােবর নদী প্রভৃতি জলাশয়ের জল নিৰ্ম্মল ও হিমাংশুর সুশীতল অংশুজালে আপ্যায়িত সুতরাং অমৃতবৎ হইয়া থাকে, এই নিমিত্ত উহাতে স্নান এবং উহা পৰ্যাপ্ত পরিমাণে পান বারণ- গণের পক্ষে হিতকর। বিশেষজ্ঞ হস্তি পালকগণ, শরৎকালে পূর্বাহে ও অপরাহ্ে দিবসে দুইবার করিয়া প্রকৃতিরম্য তারুণ্যস্থলীতে মাতঙ্গগণকে চরাইতে উপদেশ করিয়াছেন; কারণ শরৎ ঋতুর গুণে বিচিত্র ও সুস্বাদু তৃণ ভােজন ও সলিলপানে বারণগণ হৃষ্টচিত্ত ও সুখী হইয়া থাকে। এইরূপ যথাবিধি পরিচৰ্যাদ্বারা বারণগণ স্বস্থ ও হৃষ্ট-পুষ্ট হইলে যথাসময়ে : তাহাদিগেয় দন্তকল্পনা ও নীরাজন প্রভৃতি সম্পাদন করিবে; বিশেষতঃ মাতঙ্গপ্রভু বিজয়ী নরপতির যাত্রাকালে তাহাকে সুসজ্জিত করিবে। অতঃপর মহর্ষি পালকাপ্য, সুস্থদেহ বারণগণের আহার বিহার শয়ন উত্থান ও অবগাহন প্রভৃতি অপরিহার্য কাৰ্য্য সমুহের কাল ও পৰ্য্যায় যথাযথ ভাৰে বৰ্ণনা ;
অনান বিধি। করিয়াছেন। বায়ণগণ যখন পথে গমন করিতে থাকে তখন যাইতে যাইতে পাংশু গ্রহণ করিয়া সর্বাঙ্গে নিক্ষেপ করে। কখন ও বা কর্দম গ্রহণ পূর্বক দ্বারা স্বীয় অঙ্গ লিপ্ত করিতে থাকে। সুতরাং উহাদিগকে পরিস্কৃত রাখিবার জন্যই মাতঙ্গের নিজ কর্ণাপেক্ষা কিঞ্চিৎ অল্প জলে অবতরণ পূর্বক অবগাহন কৱাইবে। অনন্তর জলহইতে উত্থাপন পূর্বক তাহার মন্তকে মেরুদণ্ডে ও সম্ভব হইলে পদতলে উত্তমরূপে তৈলমর্দন করিয়া পুনরায় তাহার মস্তকে কিঞ্চিৎ জল প্রদান করিবে। কেহ বলেন তৈল মর্দনের পরে আবার তাহাদিগকে অবগাহন করাইবে। ফলতঃ অভ্যাসানুরূপ অনুষ্ঠানই সর্বতােভাবে হিতকর। গানের পরে কিয়ৎকাল রৌদ্রে স্থাপন পূর্বক তাহাকে ‘থানে আনয়ন করিবে। মদমত্ত মাতঙ্গের পক্ষে সকল ঋতুতে সূর্যোদয়ের অব্যবহিত পরে স্নান বিধেয়। ঐম খাতুতে সূর্যোদয়ের পূর্বেই স্নান সকল মাতঙ্গের পক্ষে হিতকর এবং মধ্যায়ে থানে রাখিয়াই উদ্ধৃত জলপান করিতে দিবে। বর্ষাকালে বায়ণগণের সূৰ্য্যো- দয়ের পরে এবং সূর্যাস্তের কিঞ্চিৎ পূর্বে দিবসে দুইবার জান হিতকর। ঋতু সন্ধিতে মৃত্তিকা ভক্ষণ সততভাবে নিষিদ্ধ। এই ঋতুতে বারণগণকে গাে-মূত্র পান ও শুণ্ডে শঙ্কু (খিল বা বাঁশ) বন্ধন দ্বারা মৃত্তিকা ভক্ষণ নিবারণ করা অবশ্য কর্তব্য। সেইরূপ বর্ষাকালেও বারণগণকে মৃত্তিকা ভক্ষণ হইতে রক্ষা করা একান্ত কর্তব্য। অনন্ত, হেমন্ত ঋতু চৰ্য্যা কথিত হইতেছে—এই ঋতুতে ভগবান সবিতারতে জমে ক্ষীণতাপ্রাপ্ত হইতে থাকে। এইকালে সূর্যোদয়ের কিঞ্চিৎ পরে এবং অপরাহ্ন এক প্রহর বেলা থাকিতে মাতঙ্গগণকে অবগাহন করাইবে। বারণগণ অভ্যাস বশতই পথে ধূলি ও কর্দম গ্রহণ পূর্বক তত্বাৱা সৰ্বাঙ্গ লিপ্ত করিয়া । থাকে সুতরাং তাহাদিগকে জলে অবতারণ পূর্বক তাহাদের সর্বাঙ্গ ঘর্ষণ করিবে বটে, কিন্তু অধিককাল উহাদিগকে জলে রাখিৰে না। শীত ঋতুতে শীতের অত্যন্ত প্রকোপ দেখিলে মাতঙ্গগণের সর্বাঙ্গে গিরিমাটি মিশ্রিত তৈল মর্দন করিবে ও তিন দিবস পরে পরে তাহাদিগকে অবগাহন কান করাইবে। তাদৃশ গৈরিক মিশ্রিত তৈল সেকের ফলে মাতঙ্গগণের দেহকাতি প্রসন্ন শীত নিবৃত্তি, ব্রণ থাকিলে তাহা শুষ্ক এবং উহাদিগের নােম কূপ কীট ও ক (চুলকানি) বিনষ্ট হইয়া থাকে। হে নরনাথ, ইহাই বারণগণের সকল ঋতুতে নিৰ্ব্বাণ বা অবগাহন বিধি বর্ণিত হইল, অনন্তর স্নান ও পানীৰ্থ জলের গজায়ুৰ্বেদ সংহিত। ; দোষ কীৰ্ত্তন করিতেছি শ্রবণ করুন—অধোলিখিত জল কদাপি বারণগণের স্নান ও পার্থ ব্যবহার করা কর্তব্য নহে। ! যে জল পিচ্ছিল, কৃমি শৈবাল (শেওলা) পত্ৰ পৰু ও মলষিত, যে জল বিবর্ণ বিরস মৎস্য গন্ধযুক্ত চর্মগন্ধযুক্ত কিংবা দুর্গন্ধ যুক্ত, যে জলের মধ্যদিয়া শকট প্রভৃতি যান যাতায়ত করে এবং যে জলে কৃমি বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কীট লক্ষিত হয়, তাহ:পান করিতে দিলে মাতঙ্গগণের উদরাময় প্রভৃতি রােগ জন্মিতে পারে। পক্ষান্তরে কূপজল, তরমুজ ধৰ্ষণতরু প্রভৃতি উদ্ভিজ্জজাত স্কুল এবং প্রশস্ত হ্রদ সরােবাদির জল সকল অবস্থাতেই বাণগণের সুপেয় ; এতাদৃশ জল কদাপি বারণগণের নােগ । উৎপাদন করে না। যে অল্প মাত্র বা আবদ্ধ জলে ভূচর ও বৃক্ষচর প্রাণিগণের, মৃত সর্পের কিংবা নানাবিধ তরুলতার অঙ্গ প্রক্ষালিত হয় তাহা কদাপি বারণ গণকে পান করিতে দিবে না। কটুরসযুক্ত জল পানে বায়ণগণের বা প্রকোপ জন্মে এবং অত্যন্ত মধুর রসযুক্ত জল পানে বারণগণের শ্লেষ্ম বর্জিত হয়। সেইরূপ দূষিত জল পানেও বারণগণের পিত্ত ও অম্ন বর্ধিত হয়; সুতরাং তাদৃশ নিষিদ্ধ জল যত্নপূৰ্ব্বক বর্জন করিবে। কষায় ও লবণ রসযুক্ত জল মাতঙ্গগণের হিতকর। নির্দোষ জলের একান্ত অভাবে অত্যন্ত প্রয়ােজন বােধ করিলে মাতঙ্গগণকে নিন্দিত জল ই পান করিতে দিবে; কারণ জল পান করিতে না দিলে বলিষ্ঠদেহ বারণগণ মৃত্যুমুখে নিপতিত অথবা মােহ প্রাপ্ত হইতে পারে। এই নিমিত্ত সকল অবস্থাতেই বায়ণগণের পানীয় নিবারণ করিবে না। হে অঙ্গেশ্বর, বায়ণগণের অবগাহনবিধি ও জলদোষ বর্ণিত হইল অতঃপর উদিণের শয়ন উত্থান ও আহামদির বিধি কীৰ্ত্তন করিব শ্রবণ করুন-গ্রী ঋতুতে প্রদোষ বা রাত্রি চারিদণ্ড অতীত হইলেই পান জেনান্তে বারণগণকে শয়ন করিতে দিবে এবং গ্রীষ্ম ভিন্ন অন্যান্য ঋতুতে ছয়দও অতীত হইলে শয়ন বিধেয়। কিন্তু সকল কালেই শয়ন কালে কি পরিমাণ ঘাস তাহার সম্মুখে রাখা আবশ্যক। সকল ঋতুতেই প্রত্যুষকালে মাঙ্গকে শয়নস্থান হইতে ‘থানে’ পুনরায়ন করিবে। ফলতঃ দিবা ভাগের হ্রস্বতা ও দীর্ঘতা বিচার পূর্বক বিজ্ঞ পরিচারকগণ, বারণগণের শয়ন উত্থান ও আদি কাল-পরিমাণ নির্ধারণ করিবেন। নির্ধারিত শয়ন কাল এরূপ হওয়া আবশ্যক যে মাতঙ্গগণ যেন উতর পার্শ্ব পরিবর্তন করিয়া শয়ন করিতে অবসর প্রাপ্ত হয়। ইতি মহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তরস্থানে পঞ্চদশঅধ্যায়।
** যােড়শ অধ্যায়। কার্যকাৰ্য বিধি। ? একদা স্পেশ্বর নােমপাদ নরপতি মহর্ষি পালকাপ্যকে সম্বােধন করিয়া বলিলেন ভগবন, বারগণের পালন সম্বন্ধে কি কি কর্তব্য এবং কি কি অকৰ্তব্য তাহা বিস্তৃতরূপে বর্ণনা করিয়া আমার কৌতুহল পরিতৃপ্তকরুন। কি নিমিত্ত আহারের পরে পরেই মাতঙ্গগণকে জলপান করিতে দেওয়া উচিত নহে? মদোন্মুখ কিংবা মদমত্ত মাতঙ্গকে কিহেতু বিরেচন কিংবা স্নেহ প্রদান নিষিদ্ধ? কি নিমিত্তই বা বারণগণের মুখে ও পৃষ্ঠে যুগপৎ স্নেহ প্রয়ােগ নিষিদ্ধ ? কি নিমিত্ত আহারান্তে আজ্য স্নেহৰতি প্রয়ােগ বিধেয় ? কি নিমিত্তই বা আহারান্তে নিরূহবস্তি প্রয়ােগ নিষিদ্ধ? কি নিমিত্ত শূন্যকোষ্ঠ মাতঙ্গের পক্ষে স্নেহবস্তি প্রয়ােগ নিষদ্ধ কারণেই বা বারণগণের জলপানের পরে অন্ন ভােজন বিধেয় ? কি নিমিত্ত রােগগ্রস্ত ও নীরােগ মাতঙ্গকে একযােগে বিচরণ করিতে কিংবা কৰ্ম্ম করিতে দিবে না? কি নিমিত্ত মাতঙ্গ চিকিৎসক দ্বারা মনুষ্যের এবং মনুষ্য চিকিৎসকদ্বারা মাতঙ্গের চিকিৎসা নিষিদ্ধ ? কি কারণে বাৰ্ধক্যাদি বশত: দন্ত পতনের পরে বারণগণকে মেদ ভক্ষণ করিতে দিবে না ? কি নিমিত্তই বা যথাযােগ প্রতিদান প্রদান অবশ্য কর্তব্য? কি কারণে হস্তিশালায় নখ লােম প্রভৃতি কৰ্ত্তন করিবে না? কি নিমিত্ত নীরাজনের পরে বারণগণকে স্নান করিতে দিবে না ? কি কারণেই বা বারণগণের দিবা নিদ্রা প্রশংসনীয় নহে? হে মাতঙ্গতত্ত্বজ্ঞ ঋষিপ্রবর, মাতঙ্গগণের প্রতিপানের, ঔষধ প্রয়ােগের, স্নানের এবং অন্ন ও তৃণাদি ভােজনের প্রশস্তকাল প্রভৃতি অবান্তর জ্ঞাতব্য বিষয় সমুদয় বর্ণনা করিয়া আমার কৌতুহল পরিতৃপ্ত করুণ। মহানুভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য, হেতু নির্দেশ পূৰ্ব্বক বারণগণের প্রতিপালন বিষয়ে কাৰ্যাকাৰ্য্য বিধি সমুদয় বর্ণনা করিতে প্রবৃত্ত হইয়া সস্নেহে অঙ্গপতিকে সম্বােধন করিয়া বলিতে লাগিলেন নরনাথ, শ্রবণ করুন-যদি পরিচারক মাতঙ্গগণের আহারের পরে তাহাদিগকে জল পান করিতে দেয় তাহা হইলে তাহার ভুক্ত অন্নাদি স্বাভাবিক রূপে পরিপাক প্রাপ্ত হয় না এবং তাদৃশ মাতঙ্গকে গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রে “উত্তৰােদক' সংজ্ঞায় অভিহিত করা হইয়াছে। এই নিমিত্তই আহারের পরে মাতঙ্গগণের জলপান একান্ত নিষিদ্ধ। শীতে আজন্ম অভ্যস্ত প্রবল জঠরানসম্পন্ন মাতঙ্গগণ অজস্র ভােজন করিতে থাকে, এই গজায়ুর্বেদ সংহিতা। নিমিত্ত আহারান্তে স্নেহপান করিতে দিলে পীত স্নেহ সম্যকরূপে পরিপাক প্রাপ্ত না হইয়া বরং বিকৃত হইয়া থাকে, এই কারণে আহারান্তে গেছ পান কৰ্তব্য নহে। সেইরূপ আহার গ্রহণ কিংবা পানীয় পানের পর নস্য প্রয়ােগ করিলে পত সলিলাদি বিকৃত হইয়া মাতঙ্গগণের মূচ্ছ। অতীসার অরুচি কিংবা ব্যাপদ প্রভৃতি ভীষণ লােগ উৎপাদন করিতে পারে, এই নিমিত্ত পান তােজনের পরে কাপি নস্ক প্রয়ােগ কর্তব্য নহে, অভুক্ত অবস্থাতেই নস্থ কর্ম বিধেয়। হে অঙ্গনাথ, বারণগণের নস্য কর্মের বিধি নিষেধ সকল সম্যকরূপে বর্ণিত হইয়াছে এইক্ষণে বিরেচনের বিষয় কথিত হইতেছে শ্রবণ করুন-সুদীর্ঘ পথ গমনে কিংবা কঠোর পরিশ্রমাদির ফলে বারণগণের অঙ্গসন্ধি সমূহ বিশিষ্ট হইয়া থাকে, এই নিমিত্ত যে সকল মাতজকর্মে নিযুক্ত থাকে তাহাদিগের বিরেচন প্রয়ােগ নিষিদ্ধ ; কারণ তেজঃ পদার্থ সমূহের সমবায়ে বাৱণগণের মদের আবির্ভাব হইতে পারে। যেমন জলদগ্নিদ্বারা গৃহ অগ্ধ হইতে থাকিলে তাহাতে ধৃত সেক নির্বাপণের কারণ না হইয়া বরং দাহেই হেতু হইয়া থাকে সেইরূপ মদমত্ত মাতঙ্গের পক্ষে বিরেচন কিংবা স্নেহ প্রয়ােগ বিকার বৃদ্ধির হেতু হইয়া থাকে। হে মহীবল্লভ, এই নিমিত্তই মদমত্ত বারণগণের স্নেহ প্রয়ােগ যুক্তিযুক্ত নহে। কারণ মদ-মত্ত মাতঙ্গের দেহে তৈল মর্দন করিলে উহাদিগের ভীষণ মুচ্ছা শিরস্তাপ দৃষ্টিব্যাঘাত প্রভৃতি রােগ জন্মিতে পারে। সেইরূপ যুগপং তৈলাদি মেই পান ও মেহবস্তি প্রয়ােগ ও বারণগণের পক্ষে একান্ত নিষিদ্ধ ; কারণ তাহাতে অনাহ (পেটফাপা) অতীসার ও মূচ্ছ। প্রভৃতি রােগ জন্মিতে পারে। হে নরনাথ, মাতঙ্গগণের অভুক্ত অবস্থায় নিরূহ বস্তি এবং ভোজনের পরে ‘অনুবাসন বন্তি প্রয়ােগের সফলতা বিষয় বস্তিসিদ্ধি অধ্যায়ে বর্ণিত হইয়াছে। হে নরেশ্বর, সূর্যাস্তের বা মাতঙ্গের শয়ন স্থানে গমনের পর তাহার মল গৃহ হইতে অপসারিত করিবে না, তাহাতে রাক্ষসগণ ও দুষ্ট গ্রহগণ উক্ত শয়নাগার পরিত্যাগ করিয়া থাকে, শত্রু প্রযুক্ত অভিচার সফল হয় না, মাতঙ্গগণের মন প্রসন্ন থাকে। ব্যাধি প্রশমিত হয়। কিন্তু বারণগণের গাত্রোত্থানের পরে গৃহ মার্জনা একান্ত আবশ্যক। রুগ্নই হউক বা নীবােগই হউক মাতঙ্গগণকে শয়ন স্থান হইতে অন্যস্থানে নিৱে, কদাপি একস্থানে রাখিবে না। বিশেষতঃ কয় মাতকে দল হইতে পৃথক্ রাখা একান্ত আবশ্যক। হে নরুনাথ, যেমন মাতঙ্গ-চিকিৎসককে নর-চিকিৎসার ভার প্রদান অবৈধ কাৰ্যাকাৰ্য বিধি। তেমনি নর-চিকিৎসকের হন্তে মাতঙ্গগণের চিকিৎসার ভার প্রদান করা ও অকর্তব্য। কারণ মানবগণ অন্ন ভােজনে অভ্যস্ত এবং বাণগণ তৃণ তােজনে নিয়ত। সুতরাং চিকিৎসুদিগের প্রকৃতি অভ্যাস ও মাত্রা বিষয়ে অত্যন্ত বৈষম্য এবং উভয়ের চিকিসা শাস্ত্র ও পৃথক বিধায় মানবগণের চিকিৎসক দ্বারা মাতঙ্গের চকিৎসা এবং বারণগণের চিকিৎসক দ্বারা মানবের চিকিৎসা করা কদাপি কর্তব্য নহে। সৌৰীৰক ও সুরার অলাভে মাতজগণকে দুগ্ধ পান করিতে দেওয়া কর্তব্য। কিন্তু দুগ্ধ পান প্রাতঃকালেই প্রদান করিবে। জল পানের পরে মাতঙ্গগণ দুগ্ধ পান করিলে উহাদিগের শ্লেষ্ম কুপিত হইয়া হৃৎপিণ্ডের পীড়া, অরুচি, আহারে অঙ্গী, কোষ্ঠে কৃমিসঞ্চয় ও মৃত্তিকা ভক্ষণে প্রবৃত্তি প্রভৃতি হইতে দেখা যায়। হে নরেশ্বর, যে হেতু মাতঙ্গগণ, ঐরাবতাদি দিব্যদেহ মাতঙ্গগণের বংশধর এই নিমিত্ত অশুচি অবস্থায় মাতঙ্গগণকে বা তাদের উপকরণ স্পর্শ কিংবা তাহাতে আনােহণ করা অকর্তব্য। যে ব্যক্তি স্বয়ং শুচি হইয়া বারণগণের উপকরণাদি স্পর্শ করে কিংবা মাতঙ্গে আরােহণ করে, সে মুখ ঐশ্বৰ্য্য ও পুষ্টি লাভ করিয়া থাকে। এই নিমিত্তই হস্তিশালায় ক্ষৌরকর্ম সর্বতােভাবে নিষিদ্ধ ; কারণ তাহাতে বাণগণের অজীর্ণাদি নানাবিধ পীড়াও জন্মিতে পারে। বৎসরের মধ্যে ৬ মাস. কাল দিবাভাগ হইতে রাত্রি দীর্ঘতর থাকে এবং অপর ছয়মাস রাত্রিভাগ হইতে দিবা দীর্ঘতর হয়। এই প্রকার প্রাকৃতিকক্ষয় বৃদ্ধি বিচারপূর্বক মাতঙ্গগণের শয়ন কাল নির্ধারণ করবে। দিবানিদ্রা দৈহিক উপাদান শ্লেষ্মদি বিকৃত করে এই নিমিত্ত বারণগণের পক্ষে তাহা নিষিদ্ধ। মাতঙ্গ প্রভু নরপতিগণ বারণগণের মঙ্গলার্থ মধ্যে মধ্যে শান্তি স্বস্ত্যয়নাদি করাইবেন। শিশু বৃদ্ধ ও রুগ্ন মাতঙ্গের পক্ষে তাহা বিশেষরূপে প্রযােজ্য। নৃপতি স্বয়ং তাহাদিগের পরিচৰ্য্যা পৰ্যবেক্ষণ এবং সর্বদা তাহাদিগের প্রতি সদয় ব্যবহার করিবেন। মাতঙ্গগণ সযত্নে প্রতিপালিত হইলে নরপতিগণের বিজয়লক্ষ্মী লাভের হেতু হইয়া থাকে। ইতি শ্রীমহর্ষিপাল কাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তর স্থানে যােড়শ অধ্যায়।
সপ্তদশ অধ্যায়। অনুপান-ধকার। একদা দেবরাজ ইন্দ্রসদৃশ অমিত-প্রভাবশালী অঙ্গপতি নােমপাল নরপতি, মুখােপবিষ্ট বেদবিদ্যা বিশারদ ঋষিপ্রবর পালকীপ্যকে প্রদক্ষিণ ও প্রণতিপূর্বক কৃতাঞ্জলিপুটে সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন—ভগবন, কি কি দ্রব্য তোজনে এবং পানে আরণগণের কি কি উপকার দর্শে তাহা সবিস্তর বর্ণনা করিয়া আমার সংশয় আপনয়ন করুন। অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষিপালকাপ্য বলিতে লাগিলেন মহারাজ, শ্রবণ করুন—আমি আপনার নিকটে বিভিন্ন ঋতুতে তৎসমুদয় আনুপূর্বিক বর্ণনা করিতেছি। হে অঙ্গনাথ, পরিমিত লবণ মাতঙ্গগণের আহাৰ্য্য অন্ন পরিপাকে সাহায্য করে। জল উহা তরল করে। দধি প্রীতিকর ও জীবনী শক্তিবর্ধক। দুগ্ধ জীবনী শক্তিবর্ধক মাংসবর্ধক ও বৃংহণ। ধৃত সিগ্ধকারক এবং ধু দৈহিক উপাদান শােধক। কুসংস্কার দুগ্ধ উদ্দীপনা কারক। তৈল বাত নাশক। মেদক, ধাতু ও জীবনী শক্তিবর্ধক। বসা, জীবনীশক্তি বর্ধন করে এবং মেদঃ বৃংহণ। সুরা জাঠানলবর্ধক ও ক্লান্তি নিবারক। বিহিত হরিদবর্ণ ( অপক ও অগুফ) ঘাস ভক্ষণে বারণগণের বল ও তেজ বর্ধিত হয়। এই গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রে উল্লিখিত বিভিন্ন ঋতু বিহিত আহার গ্রহণ বারণগণের বল ও ধাতু পুষ্টিকর। হে অঙ্গেশ্বর ; ইহাই মাতঙ্গগণের পান ভােজনের গুণ বর্ণিত হইল। অভিজ্ঞ পরিচারক ও চিকিৎসকগণ, কাল বয়ঃক্রম, প্রমাণ পাকাশয়ের বলাবল ও স্থান ( উষ্ণ শীতল ইত্যাদি) বিচারপূর্বক মাতঙ্গগণের আহার ও চিকিৎসার বিধান করিবেন। ঋষিবর পালকাপ্য অপতির প্রশ্নের উত্তরে এতৎ সমুদয় বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন। ইতি মহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তরস্থানে সপ্তদশ বিভিন্ন ঋতু (•)- অষ্টাদশ অধ্যায়। . সৌৰীৱক পান-বিধি। একদা অঙ্গদেশাধিপতি নােমপাদ, মহর্ষি পালকাপ্যকে প্রণতিপূৰ্ব্বক কৃতাঞ্জলি পুটে সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন—ভগব, আপনি যে ‘সৌৰীয়কের উল্লেখ করিয়াছেন তাহা কি প্রকার এবং কি প্রকারেই তাহা প্রস্তুত করা যায় ? অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন—চিকিৎসক পূতদেহে সমাহিত চিত্তে দেবগণের পূজাপূর্বক ব্রাহ্মণগণ দ্বারা স্বস্তিবাচন করাইয়া পুরাতন ঘৃত পাত্রে—৬৪ চতুঃষষ্টি আঢ়ক জলে- ১। বচ ৪ ২। পলাশ গাছের ছাল ১• পণ ২। বিড়ঙ্গ ৪ ২১। অশ্বথ গাছের ছাল ৩। পিপ্পলী ৪। ২২। বর্ণা গাছের ছাল ৪। মুগ ৪ ২৩। করঞ্জ গাছের ছাল ৫। গােল মরিচ ৪। ২৪। মুহুয়া গাছের ছাল ৬। আদা ৪ ২৫। 'সর্জ (পতি সাল) ছাল ১০ ৭। মধুর (দ্রাক্ষ ) ৪ ২৬। কুটন্স ছাল : ৮। পিপ্পলী মূল ৪ই ২৭। খদির (খয়েরকাঠ) ছাল ১০ হরি ২৮। অশ্বকর্ণ গাছের ছাল ১। দারু হরিদ্রা ২৯। বাস ছাল ৩০। আম্ৰাতক(পলাশিকা)ছাল ১০ ১২। মঞ্জিষ্ঠা ৪|| ৩১। বহেড়া গাছের ছাল ১৩। কটকী 3 ৩২। নিম গাছের ছাল ১৪। যষ্টিমধু ৪|| ৩০। কৃতমাল(সোনাল) ছাল ১০ ১৫। 'শােধ B ১৬। • তল্লাতক (ভেলা গােটা) ৫টা ৩৫। কোবিদার গাছের ছাল ১০ ১৭। হরিতকী ১০০টা ৩৬। ছাতিয়ান গাছের ছাল ১০ ১৮। শাল ছাল ১০ পল ৩৭। যজ্ঞডুমুর গাছের ছাল ১৯। আম গাছের ছাল ৩৮। মুফক (ঘণ্টাপারুল) গাছের ছাল ৫ . ৪৷ ৪|| th } ৩৪ গুড়,চী ২৪ গজায়ুৰ্বেদ সংহিতা। উল্লিখিত আটত্রিশ প্রকার দ্রব্য, একযােগে একমাস কাল ভিজাইয়া রাখিয় পরে ছাকিয়া লইবে। ইহাকে সৌৰীক বলে। মাত্রা অর্ষাঢ়ক হইতে এক স্রোণ (4 সের হইতে ৮ পর্যন্ত)। প্রতিদিন প্রাতঃকালে পানীয় জলের সহিত মিশ্রিত করিয়া বারণগণকে পান করিতে দিবে। তদ্ভিন্ন অন্ন ভােজনের পরেও ইহা পান করিতে দিতে পারা যায়। বারগণের কৃমিকোষ্ঠে, বাতগুলে, মন্দাগ্নিতে, অন্তরায়ামস্কন্ধ রােগে এবং কফজ সকল প্রকার রােগে এই সৌধীরক পান একান্ত হিতকর। ইহা পানে মাতঙ্গগণের ব্যাধি প্রশমিত বল ও ধাতু বর্ধিত হইয়া থাকে। মহানুভব অঙ্গপতির প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য ইহা বলিয় গিয়াছেন। ইতি মহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহা প্রবচনে উত্তর স্থানে অষ্টাদশ অধ্যায়। উনবিংশ অধ্যায়। সুৱা প্ৰতিপান-বিধি। একদা অঙ্গপতি রােমপাল নরপতি স্বীয় সুরম্য চম্পানগয়ে উপস্থিত মহর্ষি পালকাপ্যকে প্রণতিপূর্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন- ভগবন, যুদ্ধাদি পরিশ্রমকর কার্যকালে কেন মাতঙ্গগণকে সুরাপান করিতে দিতে হয়? শ্ৰমক কার্যের পরেই বা কি নিমিত্ত সুরাপান মাতঙ্গগণেয় পক্ষে প্রশস্ত। শিশু, বৃদ্ধ ও মত্ত মাতঙ্গগণের পক্ষে সুরাপান আবশ্যক কেন? সুরার মাত্রা কত? কি কি মাফ ও গুণ? ষড়ঙ্গ প্রতিপনি কি প্রকার এবং কি নির্মিত্তই বা প্রদত্ত হইয়া থাকে? এতৎসমুদয় যথাযথ ভাবে বর্ণনা করিয়া আমার কৌতূহল পরিতৃপ্ত করুন । পতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন হে অঙ্গনাথ, শ্রবণ করুন---নানাপ্রকার বহু ঔষধের সমাবেশে সুরা প্রস্তুত হইয়া থাকে। ইহা যথাযথ ভাবে পাক করা হয় বলিয়া ইহাতে একটি স্বাদ জন্মে। দীর্ঘকাল সুরক্ষিত হইলে ইহার বিশেষ গুণও জন্মিয়া থাকে। যে সকল মুৱা তীবীৰ্য্য তাহা মধুসহ মিশ্রিত করিয়া কঠোর পরিশ্রমের পরে মাতজগণকে পান করিতে দিবে। দূরপথ : গমন জনিত ক্লান্ত মাতৃগণকে গুড় বা জল মিশ্রিত সুরা পান করিতে দিবে। মধু ও মদের সিটাযুক্ত সুরা বারণগণের কোষ্ঠ নিৰ্বাপণে হিতকর ; তাদৃশ পান বিধি। ২ সুরাপানে কোষ্ঠগুভি, মক্তর এসল্পতা, তন্দ্রা পিপাসা প্রভৃতি প্রশমিত হইয়া থাকে। তাদৃশ অবস্থায় মাতঙ্গ একরাত্রি বিশ্রাম করিবার পরে পরদিবস প্রাতঃকালে তাহাকে কিয়ৎকাল ভ্রমণ করাইবে। এবং ভ্রমণের পুরে বিশ্রাম করিলে পর তাকে অগােলিখিত ‘ঘড়ঙ্গ প্রতিপান প্রদান করা বিধেয়। ষড়ঙ্গ প্রভিন। ১। পিপ্পলী চূর্ণ ২। ৩ঠ চূর্ণ ৩। মধু এই ছয় প্রকার ব্য একযােগে উত্তমরূপে মিশ্রিত করিয়া পান করিতে দিলে বায়ণগণের বল ও বর্ণ প্রসন্ন হয়, দেহশােণিত বর্ধিত হয় এবং সুদুর পথ গমন- নিত কঠোর পরিশ্রমের ফলে যে বাতাদি দৈহিক উপাদানের কিঞ্চিৎ বিকৃতি ঘটে তাহা প্রশমিত হয়। এই নিমিত্ত কঠোর পরিশ্রম বশত ক্লান্ত মাতলের বিশ্রামের পরে ‘ষড়ঙ্গ প্রতিপান পান বিধেয়। গুণযুক্ত তীক্ষ্ণবীৰ্য্য তৈলবিহীন মদ্যপান করাইয়া বায়ণগণকে দীর্ঘপথ ভ্রমণ করাইলেও উহাদিগের তৃষ্ণা মূচ্ছ। প্রভৃতি ঘটিবার আশঙ্কা থাকে না। দশ বৎসর বয়স পর্যন্ত কমিশাবককে প্রাতঃকালে গাে-দুগ্ধ ও নবনীত পান ফমিতে দিবে। তাদৃশ করি শিশুর সর্বাঙ্গে ধৃত মর্দন, ধৃত মিশ্রিত অন্ন ভােজন, প্রতিদিন ‘উৎকায়িকা শালুক পদ্ম-মৃণাল ইক্ষু প্রভৃতি যথালাভ মধুর রসযুক্ত দ্রব্য আহার করিতে দিবে। ইহাতে উহাদিগের দেহ মাংসল হয়। যে সকল মাতঙ্গ ধূলদেহ ও মৃদুমাংস তাহাদিগের দেহ বিক্ষুব্ধ হইলে কখনও ‘ মেক ভক্ষণ করিতে দিবে না; তাদৃশ অবস্থায় নিপুণ চিকিৎসকগণ তৈল মিশ্রিত জলপান এবং সম্পূর্ণ বিশ্রামই হিতকর মনে করেন। প্রয়ােজন বােধ করিলে মশ দিন কাল সােমযুক্ত গুড় ও তৈল মিশ্রিত সুরা যথাবিধি পান করিতে দিবে। তাহাতে উহাদিগের দেহকান্তি সৌন্দৰ্য্য ও বল অক্ষুন্ন থাকে। স্থূলদেহ লেম বিকারগ্রস্ত মাতকে ‘বিড়জমেক বা ক্ষীরমেক ভক্ষণ করিতে দিলে সবিশেষ উপকার কর্শে হৈ পশ্রেষ্ঠ, ইহাই স্কুল ও শ্লেল মাতদের সম্বন্ধে সম্যক্ বিধান যথাযথ ভাবে বর্ণিত হইল।
গজায়ুর্বেদ সংহিতা। নক। হে অঙ্গনাথ, অনন্তর অন্যপ্রকার সুরা-পানবিধি বিস্তৃতরূপে বর্ণনা করিতেছি ‘সুর নামক মদ্য মধুর রসযুক্ত শ্লেষ্মম্ন ও পিত্তবৰ্ধক, উহা তীক্ষ্ণবীৰ্য্য..ও.অতন্তু দীপনীয় বলিয়া অঙ্গীর্ণ করিয়া থাকে, এবং এই নিমিত্তই বাতশূল যােগে উহা প্রশস্ত। প্রসন্না’ নামক মদ্য ‘সুরা’ অপেক্ষা ভীতর। উহা উষ্ণবীৰ্য অল্পস্বাদ অগ্নিদীপক ও বাত শ্লেষ্ম নাশক। এই নিমিত্ত সবল মাতঙ্গ ভিন্ন অন্যকে পান করিতে দিবে না। ইহা আহারের পরে পেয়। ইহা পানে বারণগণের মন ও বর্ণ প্রসন্ন হয়। যে সকল মাতঙ্গের দেহ বাতল এবং জাঠরানল দুর্বল তাহাদিগের প্রসন্না অতি প্রশস্ত। কিন্তু যে ‘প্রসন্না অসম্যক্ পৰু অচির প্রস্তুত এবং অব্যক্তস্বাদ তাহা সর্বথা বর্জনীয়। মীধু’ নামক সুরা বাত ও পিত্ত প্রকোপ উহা রুক্ষবীৰ্য কটু ও তিক্ত রসযুক্ত বলিয়া শ্লেষ্মগ্ন। দীপনীয়। এই নিমিত্ত সকল প্রকার সুরা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। উহা বিপাকে কটু রস আস্বাদে কটুকায় রস এবং এই নিমিত্তই মাতঙ্গগণের কফ পিত্ত প্রশমিত করে। “মাধ্বীক’ সুগন্ধি ও সুস্বাদু। উহা কষায় তিক্ত রুক্ষ ও উষ্ণ বীর্য। উহা আনন্দজনক লঘুপাক, বিশদ ও অগ্নিদীপক। ‘মৃদ্বীক” { দ্রাক্ষা কৃত) নুর। মধুর রসযুক্ত ও অগ্নিদীপক। মৈরেয়” সুরা মধুর রসযুক্ত সুস্বাদু, তীক্ষ দীপন, ও বৃংহণ। উহা লঘু বিপাকে কটু পিত্তবর্ধক ও বাত প্রশমনকারী। পক্ষান্তরে যে সকল সুরা অসম্যক্ পৰু অম্ল কিংবা লবণ রসযুক্ত অগ্নি-দূষিত ভাজন-দুষিত তাহা কদাপি পান করিতে দেওয়া কৰ্তব্য নহে। যে সকল সুরার গন্ধ কবীর নাল ফুল কিংবা পদ্মকুসুমের গন্ধের সুসদৃশ, যাহার বর্ণ তিলতৈল কিংবা ঘৃত মণ্ডের অনুরূপ, যাহার স্বাদ তিক্ত-মধুর এবং যাহা অবিকৃত এবং শক্তি সম্পন্ন, তাদৃশ মদ্য বায়ণগণকে পান করিতে দিলে উহাদিগের, বাত পিত্তাদির বিকার প্রশমিত হইয়া থাকে। বারণগণ জুষিত মদ্য পান করিলে উহাদিগের ‘বিদাহ, ‘অগ্নিকা’ ‘অভিষ্য “নীলিকা চৰ্ম্ময়ােগ অৰুচি অবসাদ উদাব. গুল্ম এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ও ঘটিতে পারে। দুষিত, মুয়া বিভিন্ন প্রকার, ঋণদ্বারা বিভিন্ন প্রকায় বিকার উৎপাদন করিয়া থাকে। এই নিমি, দুষিত সুরা সৰ্বতােভাবে বর্জনীয়। হে নরেশ্বর, ইহা সুরার গুণ ও দোষ বর্ণিত হইল। হে নয়নাথ, অনন্তর হেমন্তাদি বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন প্রকার প্রতিপানের বিষয় বর্ণিত হইতেছে। হেমন্তে সুধু কাপলবণ কিংবা সুস্বাদু সুরা, পান, করিতে দিবে। শীত ঋতুতে বারণগণকে পুরাতন প্রসন্ন বা সাধু পান সুরাপান প্রতিবিধি। ২৭ দিলে উপকার দর্শে। বসন্তে মাতঙ্গগণকে ত্ৰিকটু মিশ্রিত মাধ্বীক’ ‘প্রসন্না’ বা সীধু নামক সুরা যথাবিধি পান করিতে দিবে। গ্রীষ্ম ঋতুতে গুড় মিশ্রিত “সক কিংবা জল ও শর্করা মিশ্রিত মাধ্বীক’ পান মাতঙ্গগণের পক্ষে হিতকর বর্ষাকালে বারণগণকে মধুযুক্ত মধ্বাসব কিংবা অরিষ্ট কিংবা গুড় বা মদিরা মিশ্রিত তৈল পান করিতে দিবে। শরদাগমে শর্করা বা জল মিশ্রিত মধ্বাসৰ কিংবা দুগ্ধ ও দধি পান মাতঙ্গগণের পক্ষে একান্ত হিতকর। হে অঙ্গনাথ, পৈষ্টিক মদ্য প্রায়শঃ বাতপ্রকোপ প্রশমিত করে। মাধ্বীক (মধু হইতে প্রস্তুত। কিংবা ‘গৌড়’ ( গুড়ঙ্গাত) মদ্য কফ ও পিত্ত নিবারক, সুতরাং যে সকল মাতজের কফ ও পিত্তের আধিক্য থাকে তাহাদিগের পয়ে হিতকর। ইক্ষুগুড় মিশ্ৰিত মদ্য মাতঙ্গগণের বাত-প্রকোপ বিনষ্ট ও রক্ত বিশােধিত করিয়া থাকে। তদ্ভিন্ন উহা মাতঙ্গগণের বৃংহণ দীপাহৃদ্য বৃষ্য বল ও মনঃ প্রসাদকর। হে নরেশ্বর, তৈল মিশ্রিত সুরা মাতঙ্গগণের সদ্যঃশ্রান্তি হর এবং বাত শ্লেষ্ম ও কৃমি নাশক। বিধি লঙ্ঘন পূৰ্ব্বক সুরা পান করিয়ে দিলে মাতঙ্গগণের পিত্ত বিকৃত হইয়া থাকে, পক্ষান্তরে বিধিপূৰ্ব্বক সুরাপান বারণগণের পিছু ও কোষ্ঠ দোষ নিবারক। পঞ্চ লবণ মিশ্রিত সুরাপান বারণগণের অতিপ্রিয় উহা সকল দোষ প্রশমিত করিয়া উহাদিগের কঠোর পরিশ্রম-জনিত অঙ্গ সন্ধি বিশ্লেষ নিবৃত্তি করিয়া থাকে। লাক্ষা মিশ্রিত সুরা বারণগণের একান্ত হিতকর। তাদৃশ সুরা পানে মাতঙ্গগণের বিশ্লিষ্ট অঙ্গ সন্ধি পুনঃ সংযােজিত এবং ধাতু- সাম্য রক্ষিত হয়। পানকারী মাতঙ্গগণের দেহে অনুমিত রক্তের এক ষোড়শ অংশ লাক্ষা মদ্যের সহিত মিশ্রিত করিবে। হে অঙ্গনাথ, অনন্ত কুশদেহ বারণগণকে হৃষ্টপুষ্ট করিতে হইলে যে সকল বিধির অনুষ্ঠান করা কর্তব্য তাহা বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন-হে নরেশ্বর, যে সকল মাতঙ্গ, কঠোর পরিশ্রম বন্ধন স্বগণের বধদর্শন প্রভৃতির ফলে কিংবা যে সকল মাতঙ্গ নিকৃষ্ট ভােজন মদাৰ শােণিতক্ষয় প্রভৃতি কারণে ক্ষীণকায় ও দুর্বল হয়, তাহাদিগকে সাত দিন পর্যাপ্ত পরিমাণে দুগ্ধ পান করিতে দিয়া পরে ‘ফুল্মষ মেদ ভক্ষণ করিতে দিবে। ১। কুলখ (কুর্তিকলাই) যুষ ১ আঢ়ক ৩। গুড় ২০ পল ২। কিথ (মদের (সটা ) ৩০ পল এই ত্রিবিধ দ্রব্য একযােগে যথাবিধি পাক করিয়া ঘণীভূত হইলে তাহা ২৮ গজায়ুৰ্বেদ সংহিতা। । ৰতরণ পূর্বক ১ রাত্রি প্যুষিত করিবে। অতঃপর রক্ত ও গেহ (দ্যতাজি । যােগে সেবন করিতে দিলে বায়ণগণের সদ্য শােণিত বৃদ্ধি হইয়া থাকে। এতাদৃশ অবস্থায় কছুকা, শাল্মলী খেজুর গাছের মাথি) শাকবৃক্ষ কাচা ঘাস যব ও অন্যবিধ মধুর রসযুক্ত তৃণাদি মাতঙ্গগণের উত্তম পথ্য ; তীক্ষ্ণবীর্য পান ভােজন ও ঔষধ কুপথ্য। বিজ্ঞ চিকিৎসক মাতৃঙ্গগণকে স্বীয় বন্ধুর ন্যায়, পৰ্যবেক্ষণ করিবেন। পক্ষান্তরে যে সকল মাতঙ্গের দেহ অত্যন্ত সন্তপ্ত অন্ত কশ কিংবা অত্যন্ত রুক্ষ, যাহারা রক্তপিত্ত-রােগ-গ্রন্ত, সুরাপান তাহাদিগের পক্ষে প্রশস্ত নহে। বিপন্ন ও অতিবৃত্ত মাতঙ্গের পক্ষে সুরাপান ও মেদক সেবন উভয়ই অহিতকর। তদ্ভিন্ন অতিমাত্রা সথা নিষিদ্ধ। দুগ্ধ পান কিংবা জল- পানের অব্যবহিত পরে ও বারণগণের সুরাপান অহিতকর। ইতি শ্ৰীমহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তর স্থানে উনবিংশ অধ্যায়।
বিংশ অধ্যায়। গুণ্ডবিধি। এক অমিত প্রভাবশালী নিজ-ভুবল-নির্শিতারাতি অঙ্গপতি; জলদন- সদৃশ সমুজ্জলদেহ ভগবান পালকাপ্যকে প্রণতিপূর্বক কৃতাঞ্জলিপুটে নিয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন—ভগম, প্রকৃতির লীলাভূমি বিবিধ ফল কুসুম ভূষিত গিরিনদী নিঝর কুঞ্জ শশাভিত অরণ্য প্রদেশে বারণগণ যথেচ্ছ বিহার করিয়া কখনও চিৎ রােগাক্রান্ত হইয়া থাকে, কিন্তু লােকালয়ে আনীত হইয়া উহারা নানাপ্রকার দুশ্চিকিৎঙ্গ নােগে অভিভূত হয়। গ্রাম্য ব্যাধিশপ্তদেহ বায়ণগণের চিকিৎসা উপদেশ করিয়া আমার অজ্ঞতা নিবৃত্তি করুন। অনন্তর ঘষি পালকাপ্য বিনয়াবনতমস্তক মহানুভব অঙ্গপতি ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে তাঁহাকে সম্বােধন করিয়া বলিতে লাগিলেন অঙ্গের, শ্রবণ করুন- গুগগুল দ্রব্য অনেক গুণসম্পন্ন ও অমৃত সদৃশ এবং রসায়ণ-স্বরূপ। উহা ভগবান পশুপতি চিকিৎসার নিমিত্ত উৎপাদন করিয়াছেন। আমি এভাশ গুগগুলুর প্রয়ােগ উপদেশ করিব। নবধূত মত অকস্মাৎ স্বাধীনতা হইতে বঞ্চিত হইয়া শুভে আবদ্ধ হইলে : উহাদিগের দেহের উপাদান স্বরূপ বাতাদি কুপিত হইয়া থাকে এবং তাহার ফলে, উহাদিগকে প্রায়শঃ বাল পাকলাদি রােগে অভিভূত হইতে দেখা যায়, তাদৃশ অবস্থায় এবং পরেও বালপাকল প্রলুপ্তপাকল মৃদুগ্রহ পাকল কুকুট পাকল মহাপাল উৎকর্ণ বাতানাহ বিষমেহ, শিয়রােগ হৃদয়«ল গাত্রত্যন্ত ঋন্দ নােগ, মুচ্ছ পাও নােগ, হন্তগ্রহ বাতগতি, গুল্ম অভিষঃ মৃত্তিকাভক্ষণ, আনাহ মেহ উদর শােষ কৃমিকোষ্ঠ কীরব্যাপদ বসাব্যাপদ মদ্যব্যাপদ প্রভৃতি বাত ও কফ বিকারজয়ােগ্নে গুগল-অমােগ মাতঙ্গগণের একান্ত হিতকর। হে নরনাথ, এতাদৃশ হিতকর গুগুল প্রয়ােগের বিধান এই ১। প্রশস্ত দেশজাত অনুপহতবীৰ্য্য অচিরখিত অগুৰু আৰু অবিমিশ্রিত মৃত্তিকা-অজাব্বাদি-বিবর্জিত বিশুদ্ধ অগগুলই পল=২০ পল। ২। গােল, ৰা ত্রিফলাকাথ ক প্রলয় কিংবা ‘মৈরেয়’ সুয়া ইহার যে কোনও একটি জব্য।
গজায়ুর্বেদ সংহিতা। . . ; ' প্রথমােক্ত গুগগুলু একটি বৃহৎ কড়াতে কিংবা দৃঢ় অভিনব মৃৎপাত্রে ভিজাইয়া রৌদ্রে স্থাপন করিতে হইবে। অনন্তর অন ছয় ঘণ্টাকাল রৌদ্রতাপে থাকার পরে যদি তাহা হইতে, ফেণ কিংবা বুদবুদ জন্মে তবে তাহা তুলিয়া সবল- হস্তে শিলায় পেষণ করিবে। অতঃপর তাহা কাজলের অনুরূপ হইলে তাহা সূর্যোদয়ের পূর্বে পূর্বোক্ত অনুপানসহ সাবধানে রুগ্নমাতঙ্গকে পান করিতে দিবে। যুক্তি বশতঃ ই বিরেচনের পরে গুণ গুলু প্ৰয়োগ কৰ্তব্য। অথবা ২। স্বল্পপঞ্চমুলেরকাথ ত্রিফুল.(হরিতকী, আমলকী ও বহেড়া) ২।বৃহৎ পঞ্চ মুলের ৪.গুগগুল, “এই ত্রিবিধ দ্রব্যের কাখে পূর্বোক্ত বিশুদ্ধ গুগগুলু পেষণ করিয়া পুনরায় :কাথ করিবে এবং তাহা শীতল হইলে ভুক্ত দ্রব্যঞ্জীর্ণের পরে মাতঙ্গকে পান করিতে দিবে। অনন্তর রুগ্ন মাতঙ্গকে এক পার্শ্বে শয়ন করাইয়া রাখিবে। এতাদৃশ অবস্থায় তাহাকে কোনও প্রকার তৃণাদি ভক্ষণ করিতে দিবে না। অনন্তর মধ্যাহ্ কালের প্রারম্ভে অর্ধশশাষিত গাে মহিষ ছাগ বা শেষ দুগ্ধের সহিত মিশ্রিত করিয়া শীতল অবস্থায় পান করিতে দিবে। ইহাতে মাতঙ্গের কৈাষ্ঠদাহ- শান্তি হইয়া থাকে। অতঃপর ঔষধ জীর্ণ হইয়াছে অৱগত হইয়া তাহাকে চতুন অশুস্ক কোমল তৃণদ্বারা আবৃত করিবে এবং নাকি স্বচ্ছ সলিল পূর্ণ জলাশয়ে তাহাকে অবগাহন করাইয়া সন্ধ্যাকালে মুগের মূর্ষ ও ধৃত মিশ্রিত শালিধান্তের অন্নভোজন করিতে দিবে। দিবসে একবার মাত্ৰ'অন্ন ভােজন ও এতাদৃশ অবস্থায় কর্তব্য। গর্দভউ কিংবা 'সেই মাতঙ্গের শুষ্ক চুর্ণ মলদ্বারা শয্যা রচনা করিয়া দিবে? এবিষয়ে শ্লেীক কথিত হইয়াছে।" • •". .” + : সমাপ্তি পর্যন্ত এই প্রকার বিধান অনুষ্ঠান করিবে। যে চিকিৎসক মােহবশতঃ ইহার অন্যথা আচরণ করেন তিনি মানা প্রকার উপসর্গ সৃষ্টি করিয়া থাকেন। অবধিপূৰ্ব্বক গুগুল প্রযুক্ত ইইলে মাতঙ্গগণের মুখমণ্ডল স্লন সঙ্গে কম্প' ক্লান্তি তাপ শীত হৃৎপিণ্ড ও কর্ণদ্বয়ে গ্লানি প্রবল তৃষ্ণা স্বীয় প্রভুর প্রতি বিদ্বেষ বক্তযুক্ত মর্শস্রাব শােণিত প্রস্রাব প্রভৃতি উপসর্গ প্রকাশ পায়। হে অঙ্গনাথ, গুগগুলুতে তিক্ত ফষীয় মধুর ওকটু এই চতুর্বিধ রস ই বর্তমান আছে। কেবল অস্ত্র ও লবণ রস উহাতে বিদ্যমান নাই। বিদ্যমান নাই। মধুর অস বিদ্যমান থাকায় উহা বায়ু প্রশমিত করে, কষায় রস বর্তমান থাকায় উহা ?
গুগগুলুবিধি। শ্লেষ্ম প্রশমনকারী এবং মিশ্বৰীৰ্য বলিয়াউ বলবৃদ্ধিকর। কটু রস যুক্ত বলিয়া উলা গুগ্গুলু অগ্নিউদ্দীপক ও মিনাশক। মেহঘােগে গগগুলু বৃহণে হিতকর এবং কেবল দ্রব্যান্ডরের সহিত অবিমিশ্রিত ভাবে প্রযুক্ত হইলে মাতঙ্গগণের স্থূলতা নিবৃত্তি করিয়া থাকে। উহা বাঙ্গালি দোষ প্রশমনকারী মাল্য ও পুষ্টি বর্ধক। বিজ্ঞ চিকিৎসক কারণগণকে এক মাস পর্যন্ত গুগগুলু,দ্রব্য পান করিয়ে দিবেন। মাতজগণের অবিল অভ্যাস দেহ-পরিমাণ প্রভৃতি বিচার পূর্বক গুগুলু প্রয়োগ অব কর্তব্য। হে অঙ্গেশ্বর, বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্নপ্রকার অনুপান সহ গুম,গুলু সেবন করিতে দিলে সবিশেষ উপকার দর্শে। শরদ ঋতুতে মাতঙ্গগণকে তৈল ও মদ খােগে গুগগুলু সেবন করিতে দিবে। দুগ্ধ ও ঘৃত অনুপান দিবে। সেইরূপ হেমন্ত ও শীত ঋতুতে কটতৈল সহ গুগগুলু সেবন বায়ণগণের পক্ষে হিতকর। বসন্তে তৈল ও সুর সহ গুগল সেবন বিধেয়। গ্রীষ্মকালে ঘৃত যােগে গুগগুলু সেবন করিতে দিয়া শর্করা খণ্ড অনুদান দিবে। ঘূত যােগে ও শর্করা অনুপানে গুগগুলু সেন সকল ঋতুতেই ৰায়ণগণের কণ্ঠশােধনে প্রশস্ত। তদ্ভিন্ন যে যে দ্রব্য য়ে যে দোষের প্রশমনকারী বলিয়া অভিহিত হইয়াছে সেই সেই ব্য যােগে গুগগুলু সেবন করিতে দিলে মাতঙ্গগণের তত্তৎ বিকার প্রশমিত হইয়া থাকে। বাতালি প্রশমনার্থতৈল যােগে গ গুলু সেবন হিতকর। ইতি ঐ মহর্ষি পাগকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বে মহাপ্রবচনে উত্তরস্থানে विश्न याब।
একবিংশ অধ্যায়। একা চম্পের অঙ্গপতি মহর্ষি, পালকাপ্যকে স্বীয় মুম্য চম্পানগরে উপস্থিত দেখিয়া প্রতিপূৱক কৃতাঞ্জলিপুটে সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন ভগবন, বাবগণের দুগ্ধপানে কি কি গুণ এবং দুগ্ধই বা কতিবিধ? তাহার (দুগ্ধ পানে) বিশেষ বিধান উপদেশ করিয়া আমার কৌতূহল পরিতৃপ্ত করুন। মহাভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পাকাপ্য বলিতে লাগিলেন—হে নরনাথ, শ্রবণ করুন-দুগ্ধ মধুররসমুক্ত শীতবী সিগ্ধ অত্যন্ত বৃষ তেজ ও বল বৃদ্ধিকর চক্ষুর হিতকর বৃংহণীয় জীবনীয় রসায়ণ কফ ও অগ্নিবর্ধক এবং রুচিপ্রদ। উহা জরায়ুজ প্রাণিমাত্রের আজন্ম অত্যন্ত সুতরাং শ্রেষ্ঠ পানীয়। গাে, মহিষ, হস্তী, অশ্ব, গর্দভ, ছাগ, মেষ ও করভী এই আট প্রকার প্রাণীর দুগ্ধ ৰায়ণগণের হিতকর। উল্লিখিত অষ্ট দুগ্ধের মধ্যে ও গো-দুগ্ধ নাতগণের সবিশেষ পথ্য। করেণু-দুগ্ধ শীতবীৰ্য্য গুরুপাক ও গাে-দুগ্ধের পরেই বারণগণের পক্ষে হিতকর। অশ্ব দুগ্ধ শ্লেষ্মবর্ধক বলকর ও কিঞ্চিৎ পিত্ত প্রশমনকারী। গর্দভ-দুগ্ধ কফ ও বাত প্রকোপনকারক। মহিষ দুগ্ধ মলমূত্র বদ্ধ ও অভিযান্দী করী-মুগ্ধ দীপন লৰণরসযুক্ত উষ্ণৰীৰ্য্য লঘুপাক ও রুক্ষ। ছাগ ক্ষুদ্ৰদেহবিশিষ্ট ও নিরন্তর কটুক্তি রসযুক্ত দ্রব্য ভক্ষণ করে, স্বল্প মাত্রায় জলপান করে এবং সর্বদা ব্যায়ামশীল বলিয়া উহাদিগের দুগ্ধ সৰ্ব্ব ব্যাধিহর। মমৰ দুগ্ধ অল্প নবনীত যুক্ত ও বতি। যে সকল মাতঙ্গ বৃদ্ধ বালক মত্ত শ্রান্ত দুর্বলক্ষণ ও মদক্ষীণ, তাহাদিগকে দুগ্ধ পান করিতে দিবে। পক্ষান্তরে জলপানের পরে .সুরাপানের পরে তৈলাদি গেহ পানের পরে শ্লেষ্ম মােগাভিভূত এবং অজীর্ণ রােগ- ক্রান্ত মাতঙ্গকে কদাপি দুগ্ধ পান করিতে দিবে না। তাদৃশ অবস্থায় দুগ্ধ পানে ফলে বায়ণগণের কুষ্ঠ কিলাস (ক্ষুদ্রকুঠ রক্তবর্ণ পেত্রি ) দক্র ফোড়া কও ( চুলকানি) অকাল বার্ধক্য প্রভৃতি নােগ জন্মিয়া থাকে। অপৰিস্কৃত বা দূষিত পাত্ৰস্থিত ও অন্নাদি রসদূষিত দুগ্ধ পান একান্ত নিষিদ্ধ। শরৎ হেমন্ত বর্ষা ও শীতকালে দুগ্ধ পান করিতে দিলে বারণগণ নির্ভয় হৃষ্টচিত্ত ও দূরপথ গমনে সমর্থ হইয়া থাকে। ইতি শ্ৰী মহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তর স্থানে একবিংশ দ্বাবিংশ অধ্যায়। একদা অঙ্গপতি রােমপাদ নরপতি, ঋষিশ্রেষ্ঠ পালকপ্যকে প্রণতিক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন ভগবন, কি নিমিত্ত বারণগণকে ঘুত তৈল বা জ্ঞ। দুগ্ধ মূত্র দধি ও মধু প্রভৃতি ব্যবহার করিতে দেওয়া হয় ? এবং কি নিমিত্তই বা লবণ তৈল জল মেদক তমুবাসন সসেক গৈরিকযুক্ত তৈলদার। শিরােভঙ্গ দীপতৈল রস ভােজন প্রভৃতি বারণগণের হিতকর বলিয়া কথিত হইয়াছে ? অনুগ্রহ পূর্বক এই সমুদয়ের যথাযথ ব্যাখ্যা করিয়া আমার কৌতুহল পরিতৃপ্ত করুন। মহানুভব তঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন। হে নয়ের, শ্রবণ করুন যে সকল মাতঙ্গের ভ ঙ্গ অবশপ্রা যাহাদের নেত্রদ্বয় নিরন্তর অপূর্ণ যাহাদের দেহ ক্ষীণ ও অল্প শোণিতযুক্ত, সে সকল মাতঙ্গ কক্লান্ত গুরুভার পীড়িত মদক্ষীণ রােগীণ বৃদ্ধ রক্ষ কৃশ অবসর লুপ্তাঙ্গ ও ব্যাধিপীড়িত এবং যাহারা অত্যন্ত দুর্বল ও পিত্তজ রােগগ্রস্ত তাহাদিগকে ঘৃত পান করিতে দিবে; কারণ ঘৃত মধুররসযুক্ত শীতৰীৰ্য্য মেন ও শ্লেষ্ম বর্ধক দল মূত্রশােধক বৃংহণ ও বলবর্ধক। হে অঙ্গেশ্বর, যে সকল মাতঙ্গ বাত ও শ্লেষ্মজ বিকারে আক্রান্ত তাহাদিগকে তৈল, প্রদান করা অবশ্য কর্তব্য ; কারণ তৈল উষ্ণৰীৰ্য তাপবর্ধক কটুরসযুক্ত চৰ্ম্মের হিতকর বলজনক পিত্তবৰ্ধক ও কফপিও নিবারক। যে মাতঙ্গ কৰ্ম্মক্লান্ত করিণী সহবাসে দুর্বল মদ-ক্ষীণ সদ্যোখৌবন-বিচ্যুত তাহাদিগকে এক যােগে মজ্জা ও বসা পান করিতে দিবে; কারণ উহা (মজ্জা ও চৰ্বী) মধুর রসযুক্ত উষ্ণবীৰ্য্য বিপাকে কটু এবং উল্লিখিত সকল প্রকার গুণযুক্ত। হে নরেশ্বর, চতুর্বিধ স্নেহই বারণগণের দূরপথ গমনাদি নিবন্ধন দুর্বলতা নিবারণার্থ বিশেষরূপে প্রশস্ত। উল্লিখিত চতুর্বিধ স্নেহ সম্মিলিত হইলে ‘মহামেহ' নামে অভিহিত হইয়া থাকে। হে নরেশ্বর, অনন্তর দুগ্ধ পান প্রদানের গুণ শ্রবণ করুন। যে সকল মাতঙ্গ অপসৃষ্ট মদক্ষীণ যৌবনাতীত ক্ষতরােগ-গ্রস্ত কৰ্ম্মক্লান্ত মত্ত দুৰ্বল আঘাতপ্রাপ্ত নিষ্প্রয়ােজন বিধায় ‘গজ সম্ভব’ অধ্যায় অনুদিত হই না ৩৪ গজায়ুৰ্বেদ সংহিতা। দগ্ধ ও তীক্ষৰীৰ্য্য বাস-গ্রাস ভােজনে শশাণিত বমনকারী এবং পিৰ বিকার জনিত রোগ-গ্রস্ত তাহাদিগকে দুগ্ধ পান করিতেদিলে সবিশেষ উপকার দর্শে; কারণ দুগ্ধ অতিতাপ নিবারক অগ্নি বর্ধক, বায়ুবিকার বিশেষরূপে প্রশমনকারী, দেহ কান্তি প্রসাদক জীবনী শক্তি বর্ধক আজন্ম অভ্যস্ত মধুবরসযুক্ত শীতবীৰ্য তেজঃ ও সামর্থ্য বর্ধক এবং আরােগ্যজনক। হে অঙ্গেশ্বর, অতঃপর মূত্রের গুণ শ্রবণ করুন যে সকল মাতঙ্গ দ ক প্রভৃতি চর্ম রােগগ্রস্ত মৃত্তিকাবদ্ধ-কোষ্ঠ, কৃমিকোষ্ঠ রােগগ্রস্ত এবং শ্লেষ্ম বিকারগ্রস্ত, মূত্র তাহাদিগের হিতকর; কারণ মূত্ৰ বাত উষ্ণবীৰ্য্য তিক্ত রসযুক্ত ক্ষার গুণ বিশিষ্ট এবং বিপাকে কটু। হে অঙ্গনাথ, অনন্তর মছেরগুণ বণিত হইতেছে-যে সকল মাতঙ্গ বায়ু- বিকারগ্রস্ত যাহাদের প্রায়শঃ উদরাগান হইয়া থাকে, যাহারা মূত্রসঙ্গ রোগগ্রস্ত মৃত্তিকা ভক্ষণ নিরত দুরপথ গমন ক্লান্ত ও কৰ্ম্মক্লিষ্ট তাহাদিগকে সুরাপান করিতে দিলে সবিশেষ উপকার দর্শে ; কারণ সুরাপানের ফলে মাতঙ্গগণের বায়ুবিকার প্রশমিত, জাঠরানল বদ্ধত ক্লান্তি নিবৃত্তি ও মনঃ প্রসাদ উপস্থিত হইয়া থাকে ; কাবণ উহা উষ্ণবীর্য তীক্ষ্ণ স্বভাবতঃ বিপাকে অম্ল গুণ বিশিষ্ট। সুরাতত্ত্বজ্ঞ ব্যক্তিগণ উহাকে পঞ্চরস বিশিষ্ট বলিয়া থাকেন এবং এই নিমিত্তই বিজ্ঞ চিকিৎকগণ মাতঙ্গগণকে সুরা পান করিতেদিয়া থাকেন। হে চস্পেশ্বর, যে সকল মাতঙ্গের শ্লেষ্ম পিত্ত ও বায়ু কুপিত থাকে তাহাদিগকে পূর্বোক্ত প্রমাণে দধি পান করিতেদিবে; কারণ দধি অম্ন রসযুক্ত বিপাকে অম্ল ও গুরু বলিয়া কথিত আছে। + বারণগণের কফ বিকাজ ও পিত্ত বিকার রোগে, বমন অতীসার বিষ্টন্ত কফ মাংস বৃদ্ধি প্রভৃতি রোগে মধু প্রশস্ত ; কারণ উহা কৰ্ষণ শীতবীৰ্য অথচ রুক্ষ, লঘু শােধক লেখন কফ-পিত্ত-বিকার নাশক সকল প্রকার ঔষধ গুণ সম্পন্ন কষায় শীতল সুগন্ধি স্নিগ্ধ সদ্যঃ প্রাণনশক্তিবর্ধক মধুর জীবন বৃষ বলকর বিপাকে কটু সংযােজক ও কৃমি নাশক অচিন্তাবীৰ্য্য ও সৰ্ব্বনােগ নাশক। সর্বজ্ঞ ঋষিগণ, সর্বদা উল্লিখিত গুণযুক্ত মধুর প্রশংসা করিয়া থাকেন। + অপক দুগ্ধ জাত দধিরগুণ ব্যাখ্যায়-“বল্য শােফকফাৰ্তি অরুচি নাশক। লিখিত আছে। আয়ুর্বেদ চন্দ্রিকা ১ম মুদ্রিত ৩০৬ পৃঃ। কিন্তু ভাব প্রকাশে- ‘শােথ মেদ: কফপ্রদ আছে।
দ্রব্যগুণ-কথন। লবণ মাতঙ্গগণের দেহ শােধক বায়ুর অনুলােমক জাঠরাল বর্ধক মনঃপ্রসাদক বাতমূত্র ও মলের যথাকালে নিঃসারক আম নাশক দেহকান্তি প্রবাদক হৃদরােগ ও মৃত্তিকা ভক্ষণ নিবারক এবং পরিপাচক ও উদরাময় নিবারক। কিন্তু অতিমাত্রায় লবণ ভােজনে রক্ত ও পিত্ত কুপিত হইয়া থাকে এবং তার ফলে আহারে অনিচ্ছা অতীসার মুচ্ছ। জম্ভণ হাইতােলা) অঙ্গস্তম্ভ মুহুর্মুহু দীর্ঘনিশ্বাস- ত্যাগ ও মন্দাগ্নি হইতে দেখা যায়। এই নিমিত্ত যথা প্রমাণ (পরিমাণ নির্ধারণ পূৰ্বক) লবণ ভােজন করিতে দিবে। সেইরূপ লবণ-প্রতিষেধ ও একান্ত গহিত ; কারণ উহা বাতঘ্ন উষ্ণবীৰ্য্য পিত্তবৰ্ধক কৰ্ষণ শ্লেষ্ম ও কৃমিনাশক বলিয়া বিজ্ঞ ব্যক্তিগণ কর্তৃক কথিত হইয়া থাকে। হে অঙ্গনাথ, অতঃপর আমি বতশ্লেষ্ম-নাশক বৰ্গ ( ওষুধি সমূহ) বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন- ১। বলা অর্ধপল ১১। বিড়ঙ্গ অর্ধপল ২। মধুরসা (মধুররসা ) ১২। করজ ( নখী ) ৩। মূৰ্ব্বা ১৩। সারিব (অনন্ত মূল ) ৪। তেজোবতী (চৈ) ১৪। পিচুমন্দ ( নিম ) ৫। পূতিক ( ডহরকরঞ্জ) ১৫। হরি। ৬। সর্ষপ ১৬। দাৰু হরিদ্রা ৭। হিঙ্গু পঞ্চ লবণ ৮। গণ্ডীর ১৮। বদর ফল । छोवक ১৯। আমলক ফল ১। হরিতকী ২০। সামুদ্র লবণ (পুনরায়) (চতুগুণ) প্রথমােক্ত উনবিংশতি প্রকার ঔষধ দ্রব্যের সূক্ষ্ম চূর্ণ করিয়া পরে পুনরায় ২০শ সামুদ্র লবণ তাহাতে মিশ্রিত করিবে এবং মাতঙ্গকে লবণ সেবন বিধানে সেবন করিতে দিবে। ইহা সেবনে মাতঙ্গগণের পিষ্টমেহ মৃদ ভক্ষণ কমিকোষ্ঠ হৃদরােগ গুল্ম এবং বাত শ্লেষ্ম বিকারজ সকল প্রকার রােগের প্রতীকার হইয়া থাকে। সুরা কিংবা গােময়ের সহিত সেবনে সমধিক ফল দর্শে। ইহাকে কটুক লবণ আখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে। ইহা বারণগণের মুখশােষ শ্রম তৃষ্ণা ও মূচ্ছ। ১৭। ০ 1 । সম্ভবতঃ মধুররসা।
গজায়ুর্বেদ সংহিতা। প্রভৃতি রােগসমুহের প্রতীকারে' সমর্থ । ইহা সেবনে মাতঙ্গগণের দেহকান্তি প্রসন্ন এবং দেহ হৃষ্টপুষ্ট হইয়া থাকে। যে সকল মাতঙ্গের দেহক্ষীণ যাহারা নদ-ক্ষীণ ও শ্রম পীড়িত, বিজ্ঞ চিকিৎসকগণ তাহাদিগকে অপােলিখিত মেদক সেবন করিতে দিবেন। ১। অর্ধপক্ক মাষ কলায়ের দালের খিচুড়ী, । যুত, ৩ গুড়, ৪। ৫ মদের সিট। এই চতুধি দ্রব্য এক যোগে মিশ্রিত করিয়া ভক্ষণ করিতে দিলে মাতঙ্গগণের মদ বৃদ্ধি হয়। অথবা- ১। অর্ধ সিদ্ধ গম, ২। ঘৃত, ৩। মদের সিটা, ৪। লবণ এই চতুধি দ্রব্য একযােগে মিশ্রিত করিলে দ্বিতীয় মেদক হয় । ইহা সেবনেও বাণগণের পূর্বোক্ত ফল লাভ হইয়া থাকে। গােধূম মিশ্রিত যব (৪ যব এবং গােধূম) মধুর রসযুক্ত বিপাক মধুর বাতপিত্ত বিনাশক কষায় তিক্ত রসযুক্ত ও গুরুপাক বলিয়া কথিত হইয়া থাকে। যব মিশ্রিত গােধূম ( গোধূম ও যব ) স্নিগ্ধ মধুর ও বাত। কেবল যব মাতঙ্গগণের হিতকর কিঞ্চিৎ শুক্র ও বলবর্ধক। মাতঙ্গগণের বল মাংস মেদঃ অস্থি ও শােণিত বৃদ্ধি করে বলিয়াই মেদককে ‘মেক আখ্যা প্রদান করা হইয়াছে এবং বারণগণের সেবনে বিহিত। অবশ্য বলা বাহুল্য সে মহাকায় মাতঙ্গগণ কৰ্ম্ম ক্লান্তই হউক, মদক্ষীণই হউক কিংবা সুস্থই হউক সৰ্ব্বদাই প্রচুব আহার উহাদিগের পক্ষে একান্ত আবশ্যক; কারণ আহারই প্রাণধারণের অসাধারণ কারণ ও ইন্দ্রিয়গণের পুষ্টিসাধক। এই নিমিত্ত সকল অবস্থাতেই বারণগণকে সুরস সুগন্ধ অম্নরসযুক্ত স্নিগ্ধ ও সদ্যঃ প্রাণবৰ্ধক ভােজ্য বস্তু সমুদয় ভোজন করিতে দিবে। বরাহ কুকুট কিংবা হরিণ মাংসের রস বারণগণের হিতকর। অৰ্দ্ধ পরিমিত তৈলযোগে অন্নের সহিত উক্ত মাংসরস সেবন করিতে দিলে মাতঙ্গগণের কৃমি- কোষ্ঠ হৃৎপীড়া মৃদভক্ষণ শিরােয়ােগ নেত্রবােগ শুণ্ড-স্তম্ভ কৰ্ণশুভ ভ্রান্তি প্রভৃতি রােগ সমূহের উপশম হইয়া থাকে। মাতঙ্গের অন্ন ভােজনের পরে স্নেহানুপান যুক্তি যুক্ত। উত্তর পানের ফলে বারণগণের গ্রীবা অংশদ্বয় মস্তক চক্ষুঃ কর্ণাদি জ্ঞানেন্দ্রিয় কৰ্ম্মেন্দ্রিয় সকল সবল হইয়া থাকে। বারণগণের পার্শ্বদ্বয় পৃষ্ঠ ও কটিদেশ স্তব্ধ (নিষ্ক্রিয়) হইলে নস্য প্রয়োগ দ্বারা তাহার প্রতীকার হইয়া থাকে। অত্যন্ত মদ পরে কিংবা মদ-শ্রুতি অবস্থায় ঘৃতমণ্ড দ্বারা ছিদ্র প্রক্ষালন হিতকর বের।
দ্রব্যগুণ-কথন। ৩৭ অত্যন্ত করিণী সংসর্গের প্রভাবে যে মাতঙ্গের প্রসব বেদনাযুক্ত হয় কিংবা মূত্র দ্বার হইতে বিশুদ্ধ রক্তস্রাব হইতে থাকে, তদ্ভিন্ন মূত্রকৃচ্ছ, প্রমেহ ও বাতগুল্ম রোগে ও বিজ্ঞ চিকিৎসকগণ ঘৃতদ্বারা উত্তরবন্তি প্রয়ােগ করিয়া থাকেন। উল্লিখিত বস্তি বা পিচকারীর অগ্রভাগ তাম্ৰ নিৰ্ম্মিত ও অষ্টাদশাঙ্গুল পরিমিত হওয়া আবশ্যক এবং যে অংশটুকু মূত্রদ্বারে প্রবিষ্ট হইবে তাহার পরিমাণ চারি অঙ্গুলিমাত্র ও তাহার অগ্রভাগের আকৃতি কোর (বক) পুষ্পবৃন্ত সদৃশ হইবে। হে নরেশ্বর, অতঃপর বারণগণের সসেকের ফল বণিত হইতেছে-বারণগণের সর্বাঙ্গে তৈল মর্দনের ফলে উহাদিগের নােমাবলী প্রসন্ন হয় ও শীতজনিত ক্লেশ নিবৃত্তি হইয়া থাকে। তদ্ভিন্ন সৰ্বসেকের ফলে বন্ধনাদি জনিত আগন্তুক ব্রণ কিংবা দৈহিক উপাদানের বিকারাদি বশতঃ ক্ষুদ্র ব্রণাদি চর্মরােগ সমুদয় উপশমিত এবং তাহার স্ফীতভাব নিবৃত্তি হইয়া থাকে। এমন কি সৰ্বসেকের ফলে ক্ষত মধ্যে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কেশ জন্মে তাহারও প্রতীকার হয়। হেমন্ত ঋতুতে গিরিমাটি মিশ্রিত তৈলদ্বারা সৰ্বসেক প্রদান করা কর্তব্য। গিরিমাটি ও ও তিলতৈল ৪ একযােগে উত্তমরূপে মিশ্রিত করিয়া তাহা মাতঙ্গের সর্বাঙ্গে মর্দন করিতে হয়। ইহাতে দেহের ককশ ভাব নিরস্ত হইয়া, শিরা স্নায়ু অস্থি ও মৰ্ম্ম সমুদয়ের মৃদুভাব নিষ্পন্ন হয়। অতঃপর ১। কি (মদের সিনা) ৩। মাষকালাই চূর্ণ, ৪। লবণ, ৫। গিরিমাটি, ৬। মসিনা চূর্ণ উল্লিখিত ছয়প্রকার দ্রব্য একত্র করিয়া স্থাপন করিবে এবং বিরাত্রি পরে তৈলসহ মিশ্রিত করিয়া তাহা বারণগণের সর্বাঙ্গে মর্দন করিবে। এই তৈল পূর্বাহ্নে নিদ্রোথিত মাতঙ্গকে থানে বন্ধন করিয়া তাহার সর্বাঙ্গে মর্দন করিতে হয়। এইরূপে তিনদিন মাত্র মর্দনকরা নিয়ম, পৌষ মাসেই প্রথমতঃ এই তৈল মর্দন করিতে হয় এবং তৎপরে মাঘে মর্দন করা কর্তব্য। ফালুনে সিদ্ধ তৈল মৰ্দনই মাতঙ্গগণের পক্ষে হিতকর এবং চৈত্রমাসে মাতঙ্গের সর্বাঙ্গে স্বভাব শীতল কর্দম লেপনেই সবিশেষ উপকার দর্শে। উল্লিখিত বিধানে সর্বসেক প্রদান করিলে বারণগণের দেহকান্তি প্রসন্ন এবং দেহ মৃদু ও শীতােষ্ণ সহ হইয়া থাকে। হে নরনাথ, অনন্তর গাত্রসেকের (গাত্রে তৈল মর্দনের) গুণ বর্ণিত হইতেছে শ্রবণ করুন যে সকল মাতঙ্গ সর্বদা থানে আবদ্ধ থাকে, যাহারা প্রয়ােজন বশতঃ শীত ও তাপ সহ করিতে বাধ্য হয় কিংবা যুদ্ধাদি প্রয়ােজনে নানা বিধ দুর্গম স্থানে গজায়ুৰ্বেদ সংহিতা। নীত হয় ‘জিহ্বত-হে তাদের সর্বাঙ্গে মর্দন হিতকর। উক্ত স্নেহ মর্দনের ফলে অচিরে বারণগণের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কোমলতা সম্পন্ন হয়। মস্তকে তৈল কিংবা ‘ত্রিবৃত-মেহ মর্দনের ফলে বায়ণগণের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি প্রসন্ন হয়, উহাদিগের মস্তকে কোনও প্রকার ব্রণ জন্মে না অঙ্কুশাদির আঘাত জনিত ক্ষত থাকিলে তাহা শুষ্ক হয়, মস্তকে কেশ জন্মে এবং বায়ু ও শ্লেষ্ম প্রশমিত হয়। স্বভাবতঃই মাতঙ্গগণের পদতলে কত জন্মে, এই নিমিত্ত অনাস্তীর্ণ শয্যায় মাতঙ্গকে স্থাপন পূর্বক তাদৃশ ক্ষতযুক্ত পদতল স্নেহ মিশ্রিত কষায়দ্বারা প্রক্ষালন করিয়া তাহাতে- ১। ত্রিফলা চূর্ণ, (হরিতকী আমলকী ও বহেড়া চূর্ণ) ২। তিলতৈল একযােগে উত্তমরূপে মিশ্রিত করিয়া মর্দন করিলে প্রতীকার হয়। এদৃশ তৈল মর্দনের ফলে বারণগুণের পদতল ফাটে না তাহাতে ব্ৰণ জন্মে কিংবা তাহা হইতে পূয়স্রাব হয় না এবং তাহারা সমতল ও অসমতল ভূমিতে সুখে বিচরণ করিতে অথবা দূরপথ অক্লেশে গমন করিতে সমর্থ হয়। । হে চম্পেশ্বর, বারণগণের শয্যাগৃহে প্রদীপদান করিলে উহারা স্বীয় শয্যা স্বচক্ষে দর্শন করিয়া নিরাপদে নিদ্ৰাসেবা করিতে পারে। তদ্ভিন্নপরিচারকগণ ও মাতঙ্গ বন্ধন-স্তম্ভ হইতে মুক্ত হইতেছে কিনা লক্ষ্য করিতে সুযােগ পায়। নিমিত্ত দীপ প্রদান করিবে। হে নরেশ্বর, ঘৃতাঞ্জন যথাবিধি প্রয়ােগ করিলে মাতঙ্গগণের ইন্দ্রিয়শুদ্ধি শােভা বলপুষ্টি ও নেত্রদ্বয়ের শান্তি হইয়া থাকে। এই নিমিত্ত প্রতিদিন যথাবিধি মাতঙ্গগণের নেত্রদ্বয়ে ধৃত নিৰ্ম্মিত অঞ্জন (কাজল) প্রদান করা কর্তব্য। ইতি—শ্রীমহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তর স্থানে দ্বাবিংশ অধ্যায়। এই $ সর্ষপ তৈল গরম করিয়া পদতল প্রক্ষালনপূর্বক উত্তমরূপে মুছিয়া মালিশ করিলে বায়ণগণের পদতল ফাটে না বা তাহাতে ক্ষত হয় না।
এয়ােবিংশ অধ্যায়। পৱিচাৱক-হেতুজান। একদা অঙ্গপতি রোমপাদ স্বীয় সুম চম্পানগরে উপস্থিত মহর্ষি পালকাপ্যকে প্রণতিপুর্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন-ভগন, বায়ণগণকে যথাবিধি স্নেহ পান করিতে দিলে উহারা যথাযথভাবে স্নিগ্ধ, অতিস্নিগ্ধ বা অস্নিগ্ধ হইল তাহা কি প্রকারে জানা যায় ? সেইরূপ স্বেদ বিরেচন নিরূহবস্তি প্রভৃতি ন্যূনাতিরিক্ত কিংবা যথোপযুক্ত পরিমাণে ও যুক্ত হইল কি না তাহাই বা কিরূপে জানা যাইতে পারে ? আমি এই সকল জানিতে অভিলাষ করিতেছি,আপনি অনুকম্পা প্রকাশে তৎসমুদয় যথাযথ ভাবে বর্ণনা করিয়া আমার কৌতুহল পরিতৃপ্ত করুন। মহানুভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন-হে নরনাথ, শ্রবণ করুন-স্নেহপানের পরে যখন মাতঙ্গের মলের অবস্থা ও পরিমাণ স্বাভাবিক জঠরস্থ বায়ু অনুলােম এবং নিঃসৃত মল স্নেহযুক্ত লক্ষিত হয়। তখনই মাতঙ্গকে সম্যক্ স্নিগ্ধ বলিয়া বুঝিতে হইবে। যখন মলের প্রকৃতি কঠিন ও পরিমাণ অল্প এবং ভুক্ত দ্রব্য সম্যক্ পরিপাক প্রাপ্ত হয়, তখন মাতঙ্গকে অস্নিগ্ধ বলিয়া জানা যায়। স্নেহ পানের পরে যখন বারণগণের দেহের অবসাদ মলভেদ (তরল মল নিঃসরুণ) হৃৎপিণ্ডের গুরুত্ববােধ আহার গ্রহণে অরুচি মুখমণ্ডলের শুষ্কভাব ও দীনতা এবং তীব্র পিপাসা লক্ষিত হয়, তখন মাতঙ্গকে অতিস্নিগ্ধ বলিয়া জানিতে হইবে। হে অঙ্গনাথ, সেইরূপ স্বেদ প্রদানের পরে যখন মাতঙ্গের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কোমলতা আবির্ভূত হয় দেহকান্তি অবিবর্ণ থাকে দেহের তাপ কিঞ্চিৎ বৰ্দ্ধিত এবং জঠরানল প্রদীপ্ত ও সে উপদ্রব বিহীন হয়, তখন তাকে সম্যক্ স্বিন্ন বলিয়া জানিতে পারা যায়। পক্ষান্তরে অল্পধী সম্পন্ন চিকিৎসকের অজ্ঞতার ফলে যখন অধিক পরিমাণে স্বেদ প্রদত্ত হয় তখন মাতঙ্গের নেত্ৰয় অপূর্ণ সর্বাঙ্গে কম্প তৃষ্ণা দাহ মূচ্ছ, মুখমণ্ডলের শুষ্ক ও দীনভাব শয্যায় অনভিলাষ প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাদৃশ অবস্থায় উহাদিগের সর্বাঙ্গে ধূলি নিক্ষেপ ও জলাবগাহনে ইচ্ছা লক্ষিত হয়। ইহাই অতিস্বিল্প মাতঙ্গের লক্ষণ কথিত হইয়াছে যথাবিধি স্বেদ প্রদানের ফলে যেমন মাতঙ্গগণের রোগ শান্তি হয় তেমনই দুঃখি মাতঙ্গের ও বিবিধপ্রকার উপদ্রব দৃষ্ট হইয়া থাকে।
3 গজায়ুর্বেদ সংহিতা। অনন্তরবিরিক্ত দুৰ্ব্বিরিক্ত ও অবিরিক্তের লক্ষণ বর্ণিত হইতেছে ;-যথাবিধি বিরেচক ঔষধ প্রয়ােগের ফলে বারণগণের জঠরস্থ বাত মুত্র মল প্রচলিত হইয়া স্বাভাবিক পরিমাণ অপেক্ষা অধিক পরিমাণে নিঃসৃত হইয়া থাকে এবং মলের সহিত পিঙদি দৈহিক উপাদানের বিকার নিঃসৃত হয় ইহাই বিরিক্ত মাতঙ্গের লক্ষণ। অযথা বা অল্প পরিমিত বিরেচন প্রয়ােগের ফলে মাতঙ্গগণের কোষ্ঠশুদ্ধি হয় না, পাশ্বদেশে ও হৃদয়ে শূল (বেদনা) বিদ্যমান থাকে। তাদৃশ অবস্থায় থানে শান্তি লাভ হয় না, মাতঙ্গ সৰ্ব্বদা দুৰ্বল ও তাহার মন দুঃখ ভারাক্রান্ত মুখমণ্ডল শুষ্ক লক্ষিত হয়। কখনও মলে রক্তবিন্দু দৃষ্ট হইয়া থাকে। ইহাই দুৰ্বিরিক্ত মাতঙ্গের লক্ষণ। পক্ষান্তরে পরিমাণ অপেক্ষা অধিক বিরেচন প্রয়ােগের ফলে মাতঙ্গণণের দোষ নিঃসৃত হয় বটে কিন্তু প্রাণ বিয়ােগের আশঙ্কাও যথেষ্ট থাকে। হে মহীবল্লভ, ইহা অবিরিক্ত মাতঙ্গের লক্ষণ। অধােলিখিত বিধানে ঔষধ পথ্য প্রয়ােগ ও সাবধানতার সহিত শুশ্রুষা করিলে দুৰ্ব্বিরিক্ত মাতঙ্গের বিকার প্রশমিত হইয়া থাকে। তাদৃশ অবস্থায় মাতঙ্গকে পদ্ম মৃণালাদি শীতবীৰ্য আহার প্রদান করিবে। সুখকর শীতল জলে স্নান ও ও পান হিতকর। আনাহ রােগে যে প্রকার পান ও ভোজনের উল্লেখ আছে এতাদৃশ অবস্থায় সেই সেই পান ভােজনই বিধেয়। অস্নিগ্ধ মাতঙ্গের চিকিৎসা স্নেহপাধ্যায়ে উল্লিখিত বিধান অনুসারে কর্তব্য। অতিস্বিন্ন মাতঙ্গের চিকিৎসা ‘পিত্তমূচ্ছা’র চিকিৎসার অনুরূপ। স্বেদ গুয়ােগের অম্লতা নিবন্ধন উপস্থিত বিকারের প্রতীকারার্থ পুনঃস্বেদ প্রদানই একমাত্র কর্তব্য। সম্যক্ হীন ও অতিরিক্ত বস্তি প্রয়ােগের লক্ষণ ও তন্নিমিত্ত বিকার প্রতীকারের উপায় বস্তি সিদ্ধি’ অধ্যায়ে অগ্ৰেই উল্লেখ করিয়াছি। ইতি শ্রীমহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহা প্রবচনে উত্তরস্থানে ত্রয়েবিংশ অধ্যায়।
চতুর্বিংশ অধ্যায়। বিবিধ দেশজাত ত্রিবিধ মাভঙ্গেৱ লক্ষণ ও চিকিৎসার ভাৱতম্য উপদেশ। একদা মহানুভব অঙ্গপতি হস্তিশালায় উপবিষ্ট শিষ্যগণ-পরিবৃত জলদনল প্রভ মহর্ষি পালকাপ্যকে প্রণতিপূৰ্ব্বক কৃতাঞ্জলিপুটে সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন ভগবন, আহারই মনুষাদি প্রাণিগণের জীবনধারণের অনন্যসাধারণ উপায়, মহাকায় বারণগণের পক্ষে একথা বিশেষরূপে প্রযােজ্য। সুতরাং কোন ঋতুতে বারণগণকে কি কার আহার প্রদান করিলে উহাদিগের দেহ হৃষ্টপুষ্ট ও নীরােগ হয়, তাহার উপদেশ করিয়া আমার সংশয় সংশয় অপনয়ন করুন; কারণ সেনামধ্যে হস্তাই আমার প্রধান বল এবং যুদ্ধক্ষেত্রে আমার বিজয়লক্ষ্মীর অনুকম্পালাভ অনেক পরিমাণে তাহারই আয়ত্ত। মহা প্রভাবশালী অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন-হে অঙ্গনাথ, শ্রবণ করুন হে নরনাথ, জলস্থল ও জঙ্গলজাত আহার দ্রব্য সাধারণতঃ আগ্নেয় ও সৌম্য এই দুই প্রধান ভাগে বিভক্ত এবং তাহার পরিণাম ও কটু এবং মধুর। কটুপরিণাম দ্রব্য সমুদয় আগ্নেয় এবং মধুবপরিণাম দ্রব্য সমূহ সৌম্য বলিয়া অভিহিত হইয়া থাকে। আবার এই দ্বিবিধ আহার ও ভক্ষ্য ভোজ্য ও পেয় ভেদে ত্রিবিধ এবং মধুরাদি ছাপ্রকার রসক্ত। হে নরেশ্বর, আমি অগ্ৰেই উল্লেখ করিয়াছি দেশ সকল অনুপ জাঙ্গল ও সাধারণ এই তিন প্রধান ভাগে বিভক্ত এবং এই ত্রিবিধ দেশজাত মাতঙ্গের লক্ষণ ও তিনপ্রকার ; তন্মধ্যে যে দেশে বহুগুল্ম লতা বাঁশ তৃণ ও জল প্রভৃতি সুলভ এবং যাহা বহুল পরিমাণে উন্নত আনত, তাহাকে ‘অনুপদেশ’ বলে। এই প্রদেশ জাত মাতঙ্গ অতি স্থূলদেহ, মৃদুমাস ও বিশাল উদর বিশিষ্ট। উহারা দূর পথগমনে পটু এবং উহাদিগের দেহ কফবাত প্রধান ও অল্পপিত্ত বিশিষ্ট। যে প্রদেশ তৃণহীণ তরুলতাচ্ছন্ন আকাশসদৃশ নীলাভ তাহাকে জাঙ্গল প্রদেশ বলে। এই প্রদেশজাত মাতঙ্গ ক্লেশসহিষ্ণু সাহসী দৃঢ়বিয়ব স্থিরদৃষ্টিসম্পন্ন ও খ- বিষাণযুক্ত লক্ষিত হয় এবং তাহাদিগের দেহ বাতপিত্তপ্রধান ও অল্পকযুক্ত লক্ষিত হয়। *** এই প্রকার প্রদেশ বিভাগ বিচারপূর্বক বিজ্ঞ চিকিৎসকগণ ঔষধ ও পথ্যের বিধান করিয়া থাকেন। ইতি শ্ৰীমহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তর স্থানে চতুর্বিংশ অধ্যায়। * পঞ্চবিংশ অধ্যায় পাপ-বিচার। একদা অঙ্গপতি নােমপাদ নরপতি মহর্ষি পালকাপ্যকে প্রণতিপূৰ্বক সবিনয়ে কৃতাঞ্জলিপুটে জিজ্ঞাসা করিলেন ভগ, নবধূত মাতঙ্গগণ লােকালয়ে আনীত হইলে তাহাদিগের মধ্যে কতিপয় মাতঙ্গ কঠোর পরিশ্রমাদি করিয়া ও সুস্থদেহ এবং হৃষ্টপুষ্ট হয়। পক্ষান্তরে কতিপয় মাতঙ্গকে সবড়ে পালিত হইয়াও রােগগ্রস্ত হইতে দেখা যায় এবং তাহারাই অরণ্য প্রদেশে সবল ও নীরােগ ছিল; এই প্রকার বৈষম্যের কারণ কি? মহানুভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন-অঙ্গনাথ, আজন্ম অত্যন্ত প্রকৃতিদেবীর লীলাভূমি অরণ্য প্রদেশে বারণগণের দেহে বাতপিত্ত ও কফের স্বাভাবিক সাম্য বিদ্যমান থাকে এবং উল্লিখিও দৈহিক উপাদান ত্রয়ের সাম্য রক্ষাৰ্থ অরণ্য এদেশে তাহারা ছয় প্রকার রসযুক্ত তরুলতা তৃণ ফল মূলাদি ও প্রকৃতিপ্রেরণায় তােজন করিয়া থাকে। তাহার ফলেই উহাদের দৈহিক সাম্য রক্ষিত হয়। পক্ষান্তরে উহার লােকালয়ে আনীত হইয়া স্বীয় ইচ্ছার বিরুদ্ধে ও মানবের অভিলাষক্রমে ভক্ষা ভােজ লেহ পেয় এই চতুর্ধিধ আহার গ্রহণ করিয়া কেহ দুৰ্বর্ণ এবং কেহ নানাবিধ রােগাক্রান্ত হইয়া থাকে। এই নিমিত্ত আমি বারণগণের প্রকৃতি সত্ত্ব বল উৎসাহ বয়স প্রভৃতির প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া যে অবস্থায় যে রস ও তাহার যে পরিমাণ পথ্য ও কুপথ্য তাহা বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন-হে নয়ের, বারণগণের রূপ সত্ত্ব বল প্রভৃতি সমস্তই দেহের প্রধান উপাদান বাতপিত্ত ও কফের সম্মেলনে উৎপন্ন হইয়া থাকে। উল্লিখিত ত্রিদোষের সাম্যই মাতগণের প্রকৃতি এবং বৈষম্যই বিকার। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে- “দোষের (বাতপিত্ত করে) আধিক্যই মাতগণের ব্যাধি এবং তাহার সাম্যই উহাদিগের প্রকৃতি, বৈষম্য কদাপি প্রকৃতি নহে।” হে নরনাথ, খাতপ্রতিক মাতঙ্গের বিশেষ লক্ষণ এই যে উহা অল্প লােমযুক্ত বিরূপাক্ষ সকল কাৰ্য্যে বিষম জনবস্থিতচিত্ত শিক্ষাকালে উপদেশ দীর্ঘকালে গ্রহণ করিতে সমর্থ সতত উক কুৎপিপাসা সহিষ্ণু ও ভারবহনক।
এব্যগুণ-কথন। 5) উহাদিগের অঙ্গ সন্ধি অব্যক্ত এবং সর্বাঙ্গ শিরা ও স্নায়ুজালে নিচিত হইয়া থাকে। প্রচুর তৈল লবণ ও মাংসরস উহাদিগের পক্ষে প্রশস্ত। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত অাছে “বাত প্রধান মাতলের আহার প্রধানতঃ মধুর লবণ ও অম্নরসযুক্ত দ্রব্য, হেপদার্থ ও মাংস রস হওয়া আবশ্যক। তাহাতেই মাতঙ্গ হৃষ্টপুষ্ট ও বলিষ্ঠ হইয়া থাকে। পক্ষান্তরে তাদৃশ মাতঙ্গ সুস্থদেহ ও নীয়ােগ হইলেও কটু তিক্ত কষায় রসযুক্ত কিংবা লঘু ও রুক্ষৰীৰ্য্য দ্রব্য ভােজন করিলে রােগগ্রস্ত হইয়া থাকে। নিমিত্ত মাতঙ্গগণের প্রকৃতিতত্ত্বজ্ঞ চিকিৎসক তাহাদিগের প্রকৃতির অনুকুল আহার দ্রব্যই তাহাদিগকে প্রদান করিয়া থাকেন। যে সকল মাত পিত্ত প্রকৃতিক, বর্ষান্তে কিংবা শরহের প্রারম্ভে তাহাদিগের থেষ্ট পরিমাণে ব্যায়ামের অভাবে জাঠােনল দুৰ্বল হইয়া থাকে। গ্রীষ্মকালে কষায় ও মধুর রসযুক্ত এবং শীতবীর্য দ্রব্য বারণগণের পক্ষে হিতকর। উষ্ণ অম্ল লবণ রসযুক্ত ও স্নিগ্ধ দ্রব্য শীতকালে সুপথ্য। কটু তীক্ষ্ণ উষ্ণ ও রুক্ষ দ্রব্য সাধারণ (সকল) কালেই হিতজনক। সকল রােগেই মধুর সঙ্গীত দ্বারা রুগ্ন মাতঙ্গের মনােরঞ্জন মধুরাহার ও যথাসম্ভব স্বচ্ছন্দ গতিবিধি দ্বারা মনঃ প্রসদন অবশ্য কর্তব্য। যে মাতঙ্গের শ্লেষ্ম বিক্রিয়া-প্রস্তাবে দেহ গুরু বাতবিকার বশতঃ সৰ্বাঙ্গ স্তব্ধ কিংবা পিত্ত বিকার প্রভাবে সর্ব শরীর দাহ মুক্ত অথবা ত্রিদোষের যুগপ বিকার এভাবে মােগগ্রস্ত তাহাদিগের বন্য ও সমস্ত লক্ষণাবলী দ্বারা সম্যকরূপে বিকা নিরূপণ করিয়া পরে চিকিৎসা আরম্ভ করা একান্ত কর্তব্য। মনুষেরন্যাম আতঙ্গগণের বাকশক্তি নাই তথাপি বিজ্ঞ চিকিৎসকগণ মনােযোগের সহিত লক্ষ্য করিলে কয় মাতঙ্গের আকৃতি প্রকৃতি ও অভ্যাস প্রভৃতির সাহায্যে বিকারের প্রকার নির্ণয় করিতে সমর্থ হইয়া থাকেন। যে নিপুণ চিকিৎসক বহিলক্ষণ সমূহ- দ্বারা বারণগয়ে ব্যাধি নিরূপণে সমর্থ তিনিই যথার্থ মাতঙ্গচিকিৎসক। মহা- প্রভাবশালী পতিয় প্রশ্নের উত্তরে ত্রিকালজ্ঞ যােগশক্তিসম্পন্ন মহর্ষি পলকাপ্য ইহা বলিয়া গিয়াছেন। ইতি-শ্ৰীমহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুর্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তর স্থানে পঞ্চবিংশ অধ্যায়।
ষড়বিংশ অধ্যায়। কীষ-ব্যবহারবিধি। একদা মহর্ষি পালকাপ্য, শিষ্যভাবাপন্ন মহানুভব অঙ্গপতিকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন-হে অঙ্গনাথ, অনন্তর করীষ অধ্যায় ব্যাখ্যাত হইতেছে-শ্রবণ করুন। হে নরেশ্বর, বারণগণের কফ পিত্ত বাত রক্তের পৃথক পৃথক্ কিংবা যুগপ বিকার জনিত রােগ সমূহের ও মৃত্তিকা ভক্ষণ জনিত আণাহ (পেট ফাপা) রােগের প্রতীকাৱাৰ্থ গাে মহিষী অজ। মেষী হস্তী অশ্ব গর্দভ ও উষ্ট্র এই আট প্রকার প্রাণীর কর্মীষ ( শুষ্ক মল) ব্যবহৃত হইয়া থাকে। তন্মধ্যে (১) গাে-করীষ-বারণগণের গুল্ম, অর্শ, কৃমিকোষ্ঠ রােগ নাশক, বাতানুলােমক ও পিত্তবৰ্ধক। গাে-মূত্র সহ সেবন করিতে দিলে বারণগণের উদাখান মৃত্তিকা ভক্ষণ জনিত বিকার বাতগুল্ম ও বিষদোষ প্রশমিত হয়। (২) মহিষী-করীষ তীক্ষ্ণ ও উষ্ণবীৰ্য। উহা পদিয়ােগাক্রান্ত মাতঙ্গকে কেবল ( অবিমিশ্রত ) সেবন করিতে দিবে। (৩) ছাগী-করীষ-তীক্ষ্ণ ও উষ্ণবীৰ্য্য, কৃমিকোষ্ঠ শোধক ও বাতানুললাম। উহা প্রসন্ন মদ্য যোগে সেবন করিতে দিলে বারণগণের মৃত্তিকা ভক্ষণেচ্ছা ও পাণ্ডুরােগ নিবৃত্ত হইয়া থাকে । (৪) অশ্ব করীষ—উষ্ণবীৰ্য্য তিক্ত কমিকোষ্ঠ ও শ্লেষ্মদোষ বিনাশক। উহা লবণ যোগে সেবন করিতে দিলে বায়ণগণের মৃভক্ষণেচ্ছা ও পাণ্ডুবরাগের উপশম হইয়া থাকে। (৫) হস্তি-করীষ-উষ্ণৰীৰ্য্য। উহা কেবল বারণগণের চর্মরােগ প্রতীকারার্থ গাত্রে লেপন করা যাইতে পারে। (৬) মেষী-করীষ-উষ্ণবী। উহা মাতঙ্গগণের কৃমিকোষ্ঠ বিশােধক মৃভক্ষণেচ্ছু ও পাণ্ডুরােগগ্রস্ত বারণগণের পক্ষে হিতকর। (৭) উঠুকরীষ-শ্লেষ্ম-নাশক। বারণগণের মৃভক্ষণেচ্ছ। প্রতীকার ও সেহকান্তি প্রসাদনাথ সেব্য। (৮) গর্দভকরীষ—স্বভাবতই উষ্ণবীৰ্য্য। উহা লবণযােগে সেবন করিতে দিলে বারণগণের মৃত্তিকাভক্ষণেচ্ছা ও পাণ্ডুরােগ প্রশমিত হইয়া থাকে। হে অঙ্গেশয়, ইহাই অষ্টবিধ করীষের গুণ ও দোষ বর্ণিত হইল। নন্তর ছয় প্রকার মূত্রের গুণ ব্যাখ্যাত হইতেছে শ্রবণ করুন।
এব্যগুণ-কথন। (১) গো-মূত্ৰ-উষ্ণবীৰ্য্য উহা পানে বারগণের মৃভক্ষণেচ্ছা প্রশমিত হইয়া থাকে। (২) মহীষীমুত্র-তীক্ষ্ণ। উহা পানে মাতঙ্গগণের মৃত্তিকা ভক্ষণ প্রবৃত্তির নিবৃত্তি হয়। (৩) ছাগী-মূত্র—উষ্ণবীৰ্য্য। উহারও গুণ মহীষী-মূত্রের অনুরূপ। (৪) গজমূত্র-তিক্ত ও উষ্ণবীৰ্য। মাতঙ্গগণের মৃত্তিকা ভক্ষণ জনিত বিকার প্রতীকারার্থ উহা পান করিতে দিতে পারা যায়। (৫) গর্দভমূত্ৰ-উষ্ণবীর্য) ও বাত-শ্লেষ্ম-নাশক। উহা পান করিতে দিলে বারণগণের মৃত্তিকা ভক্ষণেচ্ছা প্রশমিত হইয়া থাকে। (৬) উদ্ভমুত্র-অতি তীক্ষ্ণ। উহা পানে কৃমিকোষ্ঠ নােগাক্রান্ত বরুণগণের সবিশেষ উপকার দর্শে। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে। কেবল স্নিগ্ধ মাতজগণকেই উল্লিখিত ছয় প্রকার মূত্র পান করিতে দিবে, রুক্ষ প্রকৃতিক বারণগণের পক্ষে উহা প্রশস্ত নহে। ইতি-শ্ৰীমহর্ষি পালকপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তর স্থানে বড়বিংশ অধ্যায়। সপ্তবিংশ অধ্যায়। রসুন-পুয়ােগবিধি। একদা অমিত প্রভাবশালী অঙ্গদেশাধিপতি রােমদ নরপতি, স্বীয় সুরম্য চম্পানগরে বিদ্যমান ঋষিবর পালকাপ্য অগ্নিহােত্রাদি নিত্য নৈমিত্তিক ক্রিয়া- কলাপ সমাপনান্তে শিষ্যগণ পরিবৃত হইয়া উপবেশন করিলে তাহাকে প্রণতিপূর্বক কৃতাঞ্জলিপুটে সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন ভগবন, আপনি ইতঃপূর্বে যে অমৃত- কল্প ‘রসােন’ নামক একপ্রকার দ্রব্যের উপদেশ করিয়াছেন তাহার উৎপত্তি, নিরুক্তি, রবীৰ্য্য বিপাক ও অপ্রিয় গন্ধের কারণ প্রভৃতি এবং অময়িক প্রয়ােগ {ষে যে নােগে তাহার যাদৃশ ব্যবহার। আদি অবশ্য জ্ঞাতব্য বিষয় সমুদয় উপদেশ করিয়া আমার অজ্ঞতা দুর করুন। মহানুভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন- মহারাজ, শ্রবণ করুন-পুরাকালে বিহুগরাজ সুপর্ণ স্বীয় জননীর নিমিত্ত অমৃত চুক্তি ৪৬ গজায়ুর্বেদ সংহিতা। r করিয়া ক্ষিপ্রগতিতে শূন্যপথে বিলীন হইতে চেষ্টা করে। তাহার ত্বয়া নিবন্ধন উক্ত অমৃত পাত্র হইতে অমৃতবিন্দু সমুদয় চতুর্দিকে বিকীর্ণ হইয়াছিল এবং দুর্গন্ধযুক্ত স্থানে নিপতিত বিন্দু হইতেই উল্লিখিত রসােনের উৎপত্তি হইয়াছে। এই নিমিত্ত উহার গন্ধ অপ্রিয় এবং মুল অম্নরস উন (চীন)। উহা লঘু শীজ বিপাকী ও তীক্ষ্ণ রসযুক্ত এই নিমিত্ত আচার্যগণ উক্ত অমৃত সস্তৃত ‘রসোন’কে রসসাত্তম বলিয়া বর্ণনা করিয়া থাকেন। এতাদৃশ রসােনের মূলে কষায় রদ বীজে মধুর রস পত্রে তিক্ত রস পত্রাগ্রে কটু রস এবং নালে লবন রস। এই নিমিত্ত রসােন ভগ্নাস্থি সন্ধানকারক, মলবিশোধক, রক্তশােধক ও অগ্নিদীপক। উহা তীক্ষ ও উষ্ণৰীৰ্য্য কটু ও কষায় রসযুক্ত। এই নিমিত্ত শ্লেষ্মদোষ নাশক, স্নিগ্ধ উষ্ণ বলিয়া বাতবিকার প্রমশনকারী, মধুর রস উহাতে বিদ্যমান থাকায় রক্তপিত্ত নিবারক। উহাতে গুরুত্ব থাকায় বলবর্ধক এবং পিচ্ছিলতা স্নেহ মধুৰ্য প্রভৃতি গুণ সমূহ বর্তমান থাকায় উহ সান্নিপাতিক বিকার প্রতিকারক। ইহার বসবীৰ্য্য গুণ ও পরিণতি অতি বিচিত। এই নিমিত্ত গুরুভার বহন সুদীর্ঘ পথ গমন কারণে মাতঙ্গগণের অস্থি ভগ্ন স্থানচ্যুত ও জর্জরিত হইলে ঘূত সহ রসােন সেবন করিতে দিবে। তাদৃশ অবস্থায় দুগ্ধ সহ অন্ন ও ফাণিত (অর্ধগুফ ইক্ষুরস) মিশ্রিত পানীয় একান্ত হিতকর পথ্য। সেইরূপ যে সকল মাতঙ্গ, রস রক্ত মাংস মেদ প্রভৃতি দৈহিক উপাদানের ক্ষয় বশতঃ ক্রমে দুৰ্বল হইতে থাকে তাহাদিগকে কিংবা মদক্ষীণ মাতঙ্গকে, মৃগ মহিষ বরাহ কুকুট, ময়ুর লাব (লাউয়া ছাতরা পাখী) তিত্তির ( চরৈ) প্রভৃতি জমধ্যে যথালাভ অতমের অথবা রােহিতমৎস্তের যুষ সহ ‘সােন’ সিদ্ধ করিয়া সেবন করিতে দিলে সবিশেষ উপকার দর্শে। তাদৃশ অবস্থায় ঘৃতযুক্ত বেসবারের সহিত মিশ্রিত শালিধান্তের অন্ন হিতকর পথ্য। ইহার ফলে বারণ- গণের দৈহিক ক্ষয়পূর্ণ হইয়া উৎসাহ ও বল বর্ধিত হইতে থাকে। দুর্বল বারণশিদিগকে দুগ্ধ ও ঘুতযােগে রসােন সেবন করিতে দিলে বল ও মাংস বন্ধিত হইয়া থাকে। বর্ষাকালে অমিত বলশালী বিশালদেহ মাতজগণকে প্রায়শঃ বাতরােগে আক্রান্ত হইতে দেখা যায়। তাদৃশ অবস্থায় উহারা মৃত্তিকা ভক্ষণ করে এবং উৎকর্ণক বাতগতি বাতানাহ স্কলােেগ পাৰােগ গলগ্রহ হস্তগ্রহ গুল্ম হৃদয়খুল গজায়ুর্বেদ সংহিতা। ৪৭ কিংবা গাত্রাপর সাদা বা মা-স্তম্ভ নােগে আক্রান্ত হয়। তাদৃশ অবস্থা উহাদিগকে ২। রসােন (গুন) এই দ্বিবিধ দ্রব্য একযােগে বাটিয়া সেবন করিতে দিলে বাঞ্ছিত ফল লাভ ফাণিত (অর্ধ শুফ ইক্ষুস) মিশ্রিত প্রসন্না মদ্য উত্তম অপান। (পশ্চাৎ পানীয়।) সেইরূপ হেমন্ত শীত ও বসন্ত ঋতুতে বারণদেহে শ্লেষ্ম-প্রাধান্য লক্ষিত হয় এবং তখন উহারা মন্যাস্তম্ভ শ্লেষ্মনােগ শিনােযােগ অভিলােগ গলােেগ কৃমিকোষ্ঠ পিটকা অতীসার ব্রণ দ ক (চুলকানি) প্রভৃতি রােগে আক্রান্ত হইয়া থাকে। তাদৃশ অবস্থায় উহাদিগকে। ১। ত্রিফলা চুর্ণ ৩। বিড়ঙ্গ চুর্ণ ২। ত্ৰিকটু চুপ ৪। রসােন এই চতুর্বিধ দ্রব্য একযােগে বাটিয়া সেবন করিতে দিলে সবিশেষ উপকার দশে এবং সেবনের পরে ছাগদুগ্ধ ও গােলমরীচ চূর্ণ মিশ্রিত ঈষৎ উষ্ণ জল পান করিতে দিবে। তদ্ভিন্ন শরৎ এবং গ্রীষ্ম ঋতুতে ও বারণগণ প্রায়শঃ রক্তপিত্ত বিকারজ মােগে অভিভূত হয় এবং তাহার ফলে উহাদিগের দেহে অত্যন্ত সন্তাপ ও দাহ উপস্থিত হয়। তাদৃশ অবস্থায় উহাদিগকে। ১। কিসমিস ২। চিনি এই ত্রিবিধ দ্রব্য একযােগে বাটিয়া সেবন করিতে দিলে সবিশেষ উপকার দশে কিসমিস্ ও চিনি মিশ্রিত দুগ্ধ উত্তম অনুপান। এই ঔষধ সেবনে স্বল্পবিধ মদমত্ততা কিংবা দূর পথ গমনে মাতঙ্গদেহে যে তাপ উপস্থিত হয় তাহার ও প্রতীক্ষার হইয়া থাকে। ঔষধ জীর্ণ হইবার পরিমিত কাল বিলম্ব করিয়া পরে জাঙ্গল বাস ও কুশ কাশ নল খাগড় প্রভৃতি পথ্য দিবে এবং তাহার পরে পর্যাপ্ত পরিমাণে সুশীতল জল পান করিতে দিবে। তাদৃশ অবস্থায় প্রত্যেক অরজিতে বিংশতি পল করিয়া ১ গজায়ুর্বেদ সংহিতা। । পথ্য হ্রাস করিবে এবং ক্ৰমে পুষ্টিকর পথ্য দিবে, তাহাদিগের মন প্রসন্ন রাখিতে যত্ন করিবে। সম্পূর্ণ বিশ্রাম, দণ্ড তিরস্কারাদির নিবৃত্তি সুপরিষ্কৃত ও ধূপসুরভিত স্থানে অবস্থান প্রভৃতিই মনস্তুষ্টির উপকরণ। উল্লিখিত বিধানে ‘সৌন প্রয়ােগের ফলে বারণগণ ছয়মাসের মধ্যে পূর্ব- স্বাস্থ্য লাভে সমর্থ হয়। যত কাল রসােন সেবন করিতে দিবে তাহার দ্বিগুণ সময় অতীত হইলে মাতঙ্গকে দুগ্ধ মধু ও অৰ্দ্ধ গুফ ইক্ষুরসসহ ষণ্ড ( যাউ) পান করিতে দিবে। পক্ষান্তরে উল্লিখিত বিধি লঙ্ঘন পূর্বক ‘রসােন প্রয়ােগ করিলে বারণগণের উদরাম্মান আহারে অরুচি, অশ্রু উগম নিদ্রালুভাব পাণ্ডুয়ােগ রক্তমেহ কৃচ্ছ মেহ প্রভৃতি রসােন ব্যাপদ জন্মিতে পারে। এতাদৃশ রসােন ব্যাপদ রোগের প্রতীকারার্থ মেহব্যাপ রােগের চিকিৎসা করা কর্তব্য। এবিষয়ে শ্লোক কথিত আছে- “(রসনের) মূল নাল প্রভৃতি জাত কষায় কটু ও তিক্তাদিরস সৌকর সন্তাপে বীজকেই প্রাপ্ত হইয়াছে। হীন চিকিৎসা ক্রিয়া বারণগণের বিকার প্ৰতীকারে সমর্থ নহে, এই নিমিত্ত বিজ্ঞ চিকিৎসকগণ শাস্ত্রোক্ত বিধান অনুসারেই চিকিৎসা করিয়া থাকেন। যে চিকিৎসক বায়ণগণের আহারাদির প্রমাণ ও পরিমাণতত্ব অবগত আছেন এবং যিনি ঔষধ ও তাহার মাত্রা বিভাগে দক্ষ, তাদৃশ চিকিৎসকই বারণগণের চিকিৎসা কার্যে ব্রতী হইবার যােগ্য। ইতি মহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তরস্থানে সপ্তবিংশ অধ্যায়। ।” = অষ্টাবিংশ অধ্যায়। লবণ প্রয়োগ বিধি। একদা অপতি রোমপাল নরপতি বীয় সুরম্য চাম্পা নগরে উপস্থিত মহর্ষি পালকাপ্যকে প্রণতিপূর্বক কৃতাঞ্জলিপুটে সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন ;-ভগবন, বাণগণের হিতকর লবণ ব্যবহারের বিধি যথাযথভাবে বর্ণনা করিয়া আমার কৌতুহল পরিতৃপ্ত করুন। মহানুভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পলিকাপ্য বলিতে লাগিলেন—হে অঙ্গনাথ, শ্রবণ করুন বারণগণের সর্বােেগ নাশক লবণের প্রয়ােগ যথাযথভাবে বর্ণনা করিব। তো তােলা ১। বিশ্ব ছাল ২। গণিয়ারী ছাল ২০। আদা (ঠ) ২১। চৈ ২২। আইস, . ৩। সাদা হল ৪। গাম্ভারী ছাল ৭। ৫ ৫। পারুল ছাল ৬। পাষাণভেদ (পাথর চুণা ) ২৪। বহেড়া ফল ২৫। কাকড়া শৃঙ্গী ২৬। নিম্ব ছাল , . ২৭। কদম্ব ছাল * . , ৭। গোধ ৮। অপামার্গ (আপাঙ। । গােঙ্গুর • ১। হরিদ্রা ১১। দারু হরিদ্রা ১২। পাঠা (আনাদী ১৩। হরিতকী ১৪। রােমক বণ ১৫। বিট লবণ ১৬। সামু লৰণ ১৭। সৈন্ধব লবণ ১৮। পিঞ্জলী ১৯। মনিট ২। মাতুঙ্গ (ছোলঙ্গ) কালা (জগন্ধা) ৩। বিড়ঙ্গ ৩১। আমলকী ৩২। পূতিগন্ধ (রাঙ, জারিত) ৩০। মুথা ৩৪। কাকমাটী ৩৫। পুষা (হবুষা) (মরিচের বােটার মত কাল ও দীর্ঘ একপ্রকার দ্রব্য) ৩৬। অনন্ত মূল শ্বেতা) ৩৭। মুগ্ধ গঙ্গায়ুর্বেদ সংহিতা। ৩৮। বেজোবতী ৩৯। অনুষ্ঠা ৪। তিন্তিড়ীক (পাকা তেঁতুল) ৪১। গােমূত্র ৪২। দধির মাত প্রথমােক্ত চল্লিশ প্রকার দ্রব্যের যথাসম্ভব সূক্ষ্মচুৰ্ণ করিয়া হিজ ভিন্ন প্রত্যেকের ৬ তোলা করি গ্রহণ করিবে। পরে তাহা গাে-মূত্র সহ যথাবিধি পাক করিয়া পুনরায় তাহাতে গােমূত্র ও দধির মাত মিশ্রিত করিবে। অনন্তর উহা সুপরিস্কৃত মৃন্ময় পাত্রে স্থাপনপূর্বক তাহার মুখ উত্তমরূপে আবৃত করিয়া পাঁচ রাত্রি পর্যন্ত স্থাপন করিবে। অতঃপর মাতঙ্গের দেহের পরিমাণ বল অভ্যাস প্রভৃতির প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া সেবন করিতে দিবে। এই লবণময় ঔষধ সেবনে মাতঙ্গগণের কৃমি কোষ্ঠ, কৃশতা অজীর্ণ উদাখান প্রভৃতি নােগ প্রশমিত হয়। ইহা হন্তী অশ মহিষ গাে এমনকি মনুষ্যকে ব্যবহার করিতে দিতে পারা যায়। মহাপ্রভাবশালী অঙ্গপতির প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বারণগণের অগ্নিবল ও জীবনীশক্তি বর্ধক এই বিশিষ্ট লবণ প্রয়ােগের বিষয় বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন। ইতি শ্রীমহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তর স্থানে অষ্টাবিংশ অধ্যায়। উনত্রিংশ অধ্যায়। পাংশুদান বিধি। অমিত প্রভাবশালী অঙ্গের নােমপাদ এক দিবস হস্তিশালা সমীপে বিদ্যমান ঋষি প্রবর পালকপ্যকে প্রণতিপূৰ্ব্বক কৃতাঞ্জলিপুটে সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন- ভগবন, মাতঙ্গগণকে পাংশু (ধূলি) দানের গুণ কি ? কীদৃশ অবস্থায় মাতঙ্গগণকে ধূলিদান করা কর্তব্য বা অকর্তব্য এবং কোন কোন ঋতুতে ও কি পরিমাণে ধূলিদান বিধের ? ইত্যাদি ধূলিদান সম্বন্ধে অবশ্যজ্ঞাতব্য বিষয় সমুদয় যথাযথভাবে বর্ণনা করিয়া আমার কৌতুহল পরিতৃপ্ত করুন। শিষ্য ভাবাপন্ন অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন—মহারাজ, শ্রবণ করুন শাস্ত্রের মীমাংসানুসারে আমি বারণগণকে পাংশুদানের বিষয় বর্ণনা করিতেছি—হে অঙ্গনাথ, স্থূলতঃ মাতঙ্গগণের অরণ্য দম্যমান দান্ত ও পুরাণ এই চারিটি অবস্থা। তন্মধ্যে গজায়ুর্বেদ সংহিত। আরণ্য অবস্থায় উহারা সম্পূর্ণ স্বাধীন। নবধৃত বারণগণ লােকালয়ে আনীত হইয়া যে অবস্থায় বাক্য অঙ্কুশ ও দাদি তাড়ন দ্বারা প্রতিবােধিত হইয়াও মানব সঙ্কেত গ্রহণে সমর্থ হয় না, তাহাকে দম্যমান অবস্থা বলে। যে মাতঙ্গ বাপ্রয়ােগ অঙ্কুশ প্রভৃতি দ্বারা শাসিত হইয়া সঙ্কেত গ্রহণে সমর্থ হয় তাহাকে ‘দান্ত’ আখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে। সে মাতঙ্গ সুশিক্ষিত মদাবী বল ও শৌর্য যুক্ত তাহাকে পুরাণ’ আতঙ্গ বলে। সকল অবস্থাতেই মাতঙ্গের পাংশুদান হিতকর। দম্যমান অবস্থায় মাতকে ক্রীড়া যারা মনঃ প্রসাদের নিমিত্ত পাগুদান করিবে। পাংও মাতগণের বলকর ও মনন্তুষ্টি বিধায়ক। পাংশুদানের ফলে বারণগণের রস ও ধাতু বদ্ধিত হয়। রসইতে শশাণিত মাংস মেদঃ অস্থি মজ্জা ও শুক্র প্রভৃতি শারীর ধাতুর উপচয় হইয়া থাকে। তদ্ভিন্ন পাংশুদানের ফলে মাতঙ্গগণের কণ্ড, প্রভৃতি চর্ম মােগ কিংবা লােমকূপ সমূহে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নানাবিধ কীট জন্মিলেও জীবিত থাকিতে পারে না। হে অঙ্গনাথ, ইহাই মতিগণের পাংশুদানের গুণ যথাযথ ভাবে বর্ণনা করিলাম। হে নরেখ, মাতঙ্গগণের বাত পিত্রাদি এক বা একাধিক দৈহিক উপাদানের বিকার থাকিলে পাংশুদান বিধেয় নহে; কারণ তাহাতে বিকার বর্ধিত হয়। মহানুভব অঙ্গপতির প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য ইহা বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন। ইতি শ্রীমহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তর স্থানে উনত্রিংশ অধ্যায়। ত্রিংশ অধ্যায়। জলৌকাদি দ্বারা রক্ত মোক্ষণ বিধি। একদা অঙ্গপতি রােমপদ নরপতি স্বীয় সুম চম্পানগরে উপস্থিত ঋধি প্রবর পালকপ্যকে প্রণিপাতপূর্বক কৃতাঞ্জলিপুটে সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন—ভগবন, আপনি অগ্রে জলৌকাদি দ্বারা বায়ণগণের রক্ত মােক্ষণের উল্লেখ করিয়াছেন এই ক্ষণে মাতঙ্গগণের কী অবস্থায় কি প্রকারে মােক্ষপ করা বিধেয় তাহা সবিশেষ ভাবে বর্ণনা করিয়া আমার কৌতুহল পরিতৃপ্ত করুন। মহানুভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন-হে নরনাথ, শ্রবণ করুন গজায়ুর্বেদ সংহিতা। মাতঙ্গগণের শোণিত স্থাপনের নিমিত্ত জলৌকা বিধান যথাশাস্ত্র বর্ণনা করিতেছি— হে অঙ্গনাথ, গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রে পুরাতন ঋষিগণ দ্বাদশ একার জলৌকা (জোক) জাতির উল্লেখ করিয়াছেন। তন্মধ্যে ছয় প্রকার বিষযুক্ত এবং অপর হয় প্রকার নির্বিষ। শেষােক্ত ছয় প্রকার জলৌকাই পুষ্ণর তীর্থে জন্মে। যেহেতু তাহার জল অম্ল মধুর। তদ্ভিন্ন উহাদিগের কোন কোনও প্রকার অবন্তি দেশে মৎস্য দেশে কলিঙ্গদেশে অপরান্ত দেশে মধ্যদেশে পঞ্চিাল যবন সহ ও পাণ্ড্য দেশে রুন্মিয় থাকে। উহারা সাধারণতঃ উষর ভূমিতে উৎপন্ন হয়। পক্ষান্তরে পূৰ্বোল্লিখিত ষড়বিধ বিষযুক্ত জলৌকার লক্ষণ বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন- যে সকল জলোকা অঞ্জন (কাজল) সদৃশ কৃষ্ণ কৃষ্ণব ও স্থূলমগুক তাহা দিগকে বিষযুক্ত বলিয়া জানিবে। যে সকল জলৌকা তার ন্যায় দীর্ঘ অল্প মাংসল দেহ নানাবর্ণ রঞ্জিত ও ভেকুক্ষি, তাহারাও বিষযুক্ত জলৌকা। তৃতীয় একার সবিষ জলৌকার বিশেষ লক্ষণ এই যে উহাদিগের মুখ বিকৃত ও পার্শ্বদেশে স্থিত এবং মস্তক রােমশ হইয়া থাকে। গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রে উহাদিগকে বলা” আখ্যা প্রদত্ত হইয়াছে। যাহাদের দেহ ইন্দ্র ধনুর ন্যায় উজ্জ্বল, মুখমণ্ডল উদ্ধগামি রেখা সমূহ- দ্বারা অঙ্কিত এবং যে জলে বাস করে তাহার উপরি ভাগে চাকচিক্য বিদ্যমান থাকে, তাহারা ও বিষযুক্ত জলৌকা। যে সকল জলৌকার সর্বাঙ্গ কুসুম ভূষিতের স্যায় লক্ষিত হয় এবং যাহাদিগের দেহকান্তি পিলবর্ণ, তাদিগকে সবিষ বলিয়া বুঝিতে হইবে। ইহাই পঞ্চম প্রকার। তদ্ভিন্ন ষষ্ঠ প্রকার জলৌকাকে ‘গােবিন্দনা বলে। তাহাদিগের বিশেষ লক্ষণ এই যে উহাদিগের দেহ বৃত্ত বা গােলাকার X x X X এই যড বিধ জলৌকাই বিষযুক্ত এবং ইহাদিগের দংশন ও প্রায়শঃ অতিকাৰ্য্য। নির্বিষ জলৌকা মধ্যে “পিঙ্গলা' নামক জলৌকাই প্রথম। দেখিতে হরিদবর্ণ এবং প্রয়ােগে প্রভূত রক্ত মােক্ষণ করিয়া থাকে। এই নিমিত্ত প্রশস্ত। শঙ্কুব। দ্বিতীয় প্রকায় বিষহীন জলৌকা। উহাদিগের পৃষ্ঠদেশ গােলাকার এবং দেহ গন্ধ- যুক্ত। যে সকল লোকায় বর্ণ ইন্দ্র গােপ কীট সদৃশ ** যে সকল জলোর বর্ণ খেত পদ্ম কুসুমবৎ এবং যাহাদিগকে স্পর্শ করিলে দুর্গন্ধ নির্গত হয়, তাহাদিগকে পুণ্ডরীক মুখী’ জলৌকা বলে; ইহারাও নির্বিষ। যে সকল কালেক মনঃসিলা সদৃশ বর্ণ কিংবা তরুশত্রবৎ হরিণা এবং অষ্টাদশাঙ্গুলী পরিমিত জীব, X গজায়ুৰ্বেদ সংহিতা। মানবগণ তাহাদিগকে সহ্য করতে পারে না কিন্তু বায়ণগণের পক্ষে তাই উত্তম। হে নরেখ, পাণ্ড্য সহ্য ও ঘন দেশে উৎকৃষ্ট নির্বিষ জলৌকা পাওয়া যায়। উহারা সকল কাৰ্য্যে প্রশস্ত উহার বিস্তীর্ণ স্থানে নুতন পঙ্কমধ্যে বিচরণ করে। জলৌকা প্রয়ােগের পরে ক্ষত স্থান মৃত্তিকা শালি-তঙুলচুণ, কিংবা মাষচূর্ণ দ্বারা লেপন করিয়া দিবে। স্ফীত স্থানে পুনঃপুনঃ দুষ্ঠেয় এলেপ হিতকর। যদি ক্ষতস্থানে অত্যন্ত বেদনা কিংবা কষ্ট অনুভব হয়, তাহা হইলে নিৰ্ম্মল শীতল জলে মাতঙ্গকে অবগাহন করাইবে। অতঃপর ও ক্ষতস্থানে শােণিত গন্ধ বিদ্যমান থাকিলে তাহাতে সৈন্ধব চুর্ণ মর্দন করিবে এবং মাতঙ্গের দ্বারা সেই স্থানে পীড়ন (চাপ) করিবে; তাহার ফলে ক্ষত হইতে শশাণিত নির্গত হইবে। বিজ্ঞ চিকিৎসক পূর্বোক্ত শশাণিত বর্ণ পরীক্ষা দ্বারা ইন্দ্রগােপ কীটাভ শুদ্ধ শােণিত দর্শন পর্যন্ত শােশিত মােক্ষণ করিবেন। সম্পূর্ণরূপে দোষ নিঃসরণ না করিলে রােগের প্রতীকার হয় না। দোষ নিঃসরণের পরে শীতবীৰ্য মধুর রসযুক্ত নিগ্ধ ব্যই সুপথ্য। পক্ষান্তরে চিকিৎসকের শ্রমক্রমে বিষযুক্ত জলৌকা প্রযুক্ত হইলে মাতঙ্গের ক্ষতস্থান ক্ষীত ও তাহাতে ভীষণ কও, বিদ্যমান থাকে এবং মূচ্ছ। বমন দাহ প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাদৃশ অবস্থায় অবিলমে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা অবশ্য কর্তব্য। যে নিপুণ চিকিৎসক সতর্কতা সহকারে উল্লিখিত বিধানে বারণগণের চিকিৎসা করিয়া থাকেন তিনিই মাতঙ্গগণের পুষ্টি সাধনে সমর্থ এবং মাত পতি নরপতির বিজয়লক্ষী লাভে অসাধারণ সহ বলিয়া বিবেচিত হইয়া থাকেন। ইতি মহর্ষি পালকাপ্য বিচিত গলায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে উত্তর স্থানে ত্রিংশ অধ্যায়। । । অতঃপর ‘উপসর্গ নিরূপণ’ ও ‘গঙ্গশান্তি এই দুই অধ্যায় নিষ্প্রয়ােজন, বােধে অনুবাদে পরিত্যক্ত হইল; কারণ, অগ্রে একবার অনুদিত হইয়াছে। দশা।
অনুবাদকস্য নিবেদন।
আচাৰ্যানাং কুলে খ্যাতে খ্যাতঃ কৃষ্ণনামতঃ।
রাজসাহখ্য চক্রে বৈ জাতে বারেন্দ্র বিপ্রতঃ।
বভূর সন্মিত্ৰমমিত্র-তাপননা
দ্বিজাগ্ৰণী জ্ঞানধনাে যশঃ প্রিয়ঃ
প্রিয়ংবদো ধম্মপর শ্রিয়াবৃতত
বিচক্ষণঃ ক্ষৌণীভূত সভাগত।
স তেন রাজ্ঞ সুচিরং পরীক্ষিত
মন্ত্রিতন্ত্রে বলবন্নিযােজিতঃ
হিতাভিলাষী স বভূব ভূপতে
বঙ্গাধিপােহসে মুমুদে চ তংপ্রতি।
স তৎসভায়াং সুচিরং সমাহিত,
স্থিতঃ সবন্ধুপততঃ প্রিয়াে ভবন্ ।
করং কিয়ঞ্চ নিবে ভাগ্যবান্
ইমং স ভূ-ভাগমবাপ রাজতঃ।
পুত্রহার এবাশ ভাগ্যভাজঃ সদাশয়,
বিহায় পৈতৃক বাসং স্যবসক্ষত্র সঙ্গতাঃ ।
প্রথমাে রামরামপ্ত হরিরামম দ্বিতীয়ক।
তৃতীয়াে বিষ্ণুরামশ্চ শিবরামশ্চতুর্থক।
এক এবভবৎ পুঃ শিবরামস্য ভূপতেঃ
সৰ্ববিপ্র-গুণৈষুক্তো নামতাে রঘুনন্দনঃ।
অপূর্ণকালে বিধি বিনাশিতে
দিবংগতে তত্র নৃপােত্তমে দ্বিজে;
নৃপ পত্নী বিবশা বিধানতাে,
জগ্ৰাহ পুত্রং স্থিতয়ে কুলস্য বৈ।
[ ২ ]
গৌরীকান্ত ইতি-খ্যাত গণ-প্রতিবন্ধন,
অপূর্ণেনৈব কালেন স ভূপঃ সমষ্ঠিত।
শােকেন বিবশা তস্য পঙ্গী সৎকুলসম্ভব
গ্রাহ তনয়ং সৌম কাণীকান্ত নামত।
তম্মিপি দিবং যাতে চানপত্যে মহাব্রতে
মহীয়সী তস্য পত্নী জগ্রাহ তনয়োত্তমম্।
যঃ সূর্যকান্ত প্রতিভা-প্রভাভি
র্বিন্তৰ্য্যি রাজ্যং পরিতোষ সর্ববান
লেভে পরাং দুল্লভমত্যুদগ্রা
সংজ্ঞা মহারাজ ইতি প্রসিদ্ধ।
সম্যক সুখং নাস্তি মহীতলেহম্মি-
ৱিতীব রাজ্ঞী দিবমরুবরাহ।
অপূর্ণকালৈব বিহায় কান্ত
ততঃ স লগ্ৰাহ মুতং প্রণাম।
শশিকান্ত ইতি খ্যাতমাচাৰ্য-কু সম্ভব।
পতিব্রতা যস্য জ্ঞী লীলা দেৰীতি বিশ্রুতা
এয়শ্চাত্য সুতা জাত সুশীগঃ প্রিয়দর্শন
শীতাংশুকান্ত প্রথম সুধাশুমধ্যমঃ সুত
স্নেহাংশুকাস্তু ততঃ কনিষ্ঠঋনয়ঃ সুখী।
বিনীতেন চরিত্রেণ সংযতেন চ যঃ প্রভু
সম্রাট প্রতিনিধে প্রীতন্মহারাজ-পদংগত।
[গ]
তেনেয়ং শশিকানে মহারালেন ধীমত।
মহতী মাতৃভাষায় পালকপ্য-ঋযে কৃতি
অনুবাদ্য ময়ালােকে প্রকাশং প্রতিপাদিতা।
বেদাগ্নিদহনেন্দৌ চ বঙ্গাব্দে মুদ্রণাত্বিয়ং
সমাপিত ময়াত্ৰৈৰ দ্বারকানাথ শৰ্ম্মণ
মহত্যস্মিন্ কৃতে কার্যে স্খলনং বদ্ধি লক্ষ্যতে
মাদৃশৈদুরত্বা গন্তব্যং তৎ সমিতি।
যত্রার্পিতা প্রীতিরনন্তরূপে, তৃপ্তিং প্রয়াতি প্রতিদানপূর্ণা,
পিতাহবলানা নিখিত্মরূপঃ স বিশ্ববন্ধুদিখাতু শান্তি।
ইতি শিবম্ ।
গজারূৰ্বেদ সংহিতার বিষয় সূচীপত্র। প্রথম ভাগ। গ্রন্থসচনা ও ইতিবৃত্ত। পৃষ্ঠা ৮ ০০ ••• ১৪ -১৭ ১৮-২১ . ত। ২২-২৪ , , ০৮০ ০৮০ ১ম অঃ বনানুচরিত অধ্যায় ২য় অঃ গজোৎপত্তি বিবরণ ৩য় অঃ গজশাপ প্রতীকার ৪র্থ অঃ গজবন নিরূপণ ৫ম অঃ বায়ণগণের অপরিচিত বলের বিষয় এবং মৈত্রী ও দ্বেষের ফলাফল বর্ণনা ৬ষ্ঠ অঃ বয়ােনিরূপণ ৭ম অঃ বয়ােজ্ঞান ৮ম প্রকরণ দেশভেদে বারণগণের উত্তম মধ্যম ও অধমাদি ভেদ এবং গজবন্ধন প্রকার বর্ণনা ৯ম প্রকরণ ভদ্র মন্দ মৃগ ও সঙ্কীর্ণ জাতীয় মাতঙ্গের লক্ষণ ও আসনভেদ নির্ণয় ৮ম অঃ মাতঙ্গের শুভাশুভ লক্ষণ বর্ণন। ৩৪ *** . ৮০ ৪০ ৩ ০৫ ০০০ ৯ম অঃ আসন লক্ষণ কথন ১০ম অঃ নবধূত মাতঙ্গের খাদ্যবস্তুর গুণ দোষ বিচার ও পরিমাণ নির্ণয়••• ৫৮ ৬৪ ১১শ অঃ স্বাধীন বঙ্গবারণ ও পরাধীন গৃহপালিত মাতলের সাত্ম (অভ্যাদি) অনুসারে খাদ্য দ্রব্যের প্রভেদ নিরূপণ ১২শ অঃ রােগ সংগ্রহ (রােগের নামাদি সংক্ষিপ্ত পরিচয় ) ৬৮৭২ ১৩শ অঃ হস্তীপালনের গুণ বর্ণনা ১৪শ অঃ হস্তী চিকিৎসকের গুণ দোষ ও রােগ সমূহের रुन ল বিভাগ কথন ৭৭-২ ৫ । ৪০০ ০০ ০ pep ০ ০ ০ . ক ৪০০ ৮ ১৪ এ এ দ্বিতীয় ভাগ মহাৱোগ স্থান। গজায়ুৰ্বেদ ঔষধাদির বিশেষ মাত্রা নিরূপণ ১ম অধ্যায়। জয়েৎপত্তি বিবরণ ২য় অধ্যায়। জ্বর প্রকরণ ‘পাকল শব্দের নিরুক্তি ও বিবিধ ভেদ কথন শুদ্ধ পাকলের (জ্বরের) নিদান ও লক্ষণ বাল পাকলের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা পল পাকলের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা মৃদুগ্রহ পাকলের ( মতান্তরে যক্ষ্মা রােগের) নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা কুকুট পাকল রােগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা একাগ্রহ পাকল রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা প্ৰসুপ্ত প্রাকলরোগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা কুট পাকল রােগের নিদান ও লক্ষণ পুণ্ডরীক পাকল বা বিসর্প রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা মহাপাকল রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা আর হেতু বিনিশ্চয় অধ্যায় বিভিন্ন পুস্তকে লিখিত হস্তীর জ্বর চিকিৎসা বর্তমানে প্রচলিত জ্বর চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে হস্তীর জর চিকিৎসা ৫। ২০-২৪ ০৪০ ৩৪ # ৫০ ৪০ ৮ ০ ৪২ ৪৪-৪৪ ৪৫ ৪৬ ••• ৪৭ ৩য় অধ্যায়। স্ক (সন্ন্যাস) লোপ প্রকল্পণ। অন্তরায়াম স্কন্দ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বহিরায়াম স্কন্দ রােগের নিদান ও লক্ষণ ব্যাবিদ্ধ স্কুল রােগের নিদান ও লক্ষণ ৪৮ ৫১ এ ০ ০ ( ৩ ) ৪র্থ অধ্যায়। পাৱাগ প্রকরণ। পিত্ত বিকীরজ পাওরােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা কফ বিকারজ পাণ্ডুরােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হোমিওপ্যাথিক মতে পারােগের চিকিৎসা ৮ ০০ ৫৫৪ ৫০০ ০ = ৫ম অধ্যায়। অনাহ (পেটফাঁপা) লোপ প্রকরণ। সাধারণ আনাহ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা শুদ্ধ বাতােম্মথিত আনাহ রােগের নিদান, লক্ষণ ভেদ ও চিকিৎসা অসংসক্ত আনাহ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ধান্যোপেত আনাহ রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা সংপ্ৰদুষ্ট ধান্যোপেত আনাহ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা মৃত্তিকাজগ্ধ আনাহ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা সান্নিপাতিক আনাহরােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা অন্যান্য পুস্তকে আনাহ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিকমতে আনাহরােগের চিকিৎসা ৬৪-৬৬ ৭১-৭২ ৭৩-৭৭ ৭৮ ৬ষ্ঠ অধ্যায়। মূচ্ছ। প্রকরণ। সাধারণ মূচ্ছ। রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা দগ্ধ দ্রব্য ভােজন জনিত মূচ্ছ। রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ধান্য ভোজন জনিত মূচ্ছ। রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা মেহ মূচ্ছ। রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বাত মুচ্ছ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা পিত্ত মূচ্ছ। রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ৮২ ৮৪ ( ৪ ) ee ০ ৮৭ শ্লেষ্ম মূচ্ছ। রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা সান্নিপাতিক বিকারজ মূচ্ছ। রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বারি মুচ্ছ। রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা মার্গমূচ্ছ। রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা মদ্য মূচ্ছ। রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা যবস (ঘাস) মূচ্ছ। রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে মুচ্ছ। রােগের চিকিৎসা ০ ০ ৮৮ tv ••• n su ৯১ ০ ০ ০ ৯২-৯। ১৪ ন ৭ম অধ্যায় শিৱােনৱাগ প্রকল্পণ। বাত বিকারজ শিয়ােরোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা পিত্ত বিকারজ শিবােরাগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ••• কফ বিকারজ শিরােনােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা রক্ত বিকার শিরােগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা সান্নিপাতিক শিরােরােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা কৃমিজনিত শিরােরােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা অভিঘাতজ শিরােনােগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা অন্যান্য পুস্তকে শিরােয়রাগের চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে শিয়ােরােগের চিকিৎসা (গ) পুস্তকে ‘সৌরতাপ ক্লান্তি রােগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্ভাপজ সন্ন্যাস রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ১০২ ১০৭ ১০৮-৯ ০০৪ ১১০-১৪ ৮ম অধ্যায়। পাদৱাগ প্রকল্পণ। পাদরোগ নিদান ও লক্ষণ পাদরােগে কেশ পতনের ঔষধ ক্ষার প্রয়ােগ ও অগ্নিকর্ম বিধান (ক) পুস্তকে হস্তীর পদতলের ক্ষত চিকিৎসার বিস্তৃত বিবরণ ও বিবিধ ঔষধ ১১৫-১৭ ০ ০ ০ ( ৫ ) ৫ ০ ০ ১৬ (খ) পুস্তকে হস্তীর কান্দি, বন্ধুদ ও থালী রােগের চিকিৎসা (গ) পুস্তকের মতে হস্তীর পাদ রােগ চিকিৎসা শীতল বা স্ফুটিততল রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা শীর্ণগুল বা স্ফুটিত গুলফ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হস্তীর পদতলের ফোড়া রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা পদনখ-রােগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা নখবৃদ্ধি রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিংসা চেচুরা ঘার নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ১৩৭ ১৩৮ ১৩ per ১৩৮ ৩৯ ৯ম অধ্যায়। ১৪৩ ১৪৪ ০ ০ ০ ১৪৫ ১৪৬-৪৭ ১৪৮ ব্যাপ, (অজীর্ণ) ৱোগ প্রকরণ। তৈলব্যাপদ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ১৪ ০ ৪২ ঘৃতব্যাপ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বসাব্যাপদ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ক্ষীরব্যাপ রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা অব্যাপদ রোগের নিনি, লক্ষণ ও চিকিৎসা ধান্যব্যাপ রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বারিব্যাপ রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা উপধা ব্যাপ রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বিভিন্ন পুস্তকে অজীর্ণ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা স্থায়ী বা দীর্ঘকালব্যাপী অজীর্ণ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ১৫৪-৫৫ হােমিওপ্যাথিক মতে অজীর্ণ রােগের চিকিৎসা উদরাময় বা অতীসার (Diarrhea) বােগেনিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ১৫৭ হােমিওপ্যাথিক মতে অতীসার চিকিৎসা ৫০০ ০৫ ০ ০ ০ ৫ ০ ০ ১৬৩-৬৪ ১৩৮ ১০ম অধ্যায়। শেফ (শােথ) প্রকল্পণ। শুদ্ধ শেফ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা শুদ্ধ শােফে নাড়ী স্বেদ ধিধান পিত্তবিকারজ শেফ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা কফজ শেফ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা সান্নিপাতিক শােফ চিকিৎসা রক্তবিকারজ শােফ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বাত-রক্তজ শােফ রােগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা আগন্তু শােফ রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বিষ শেফ রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা অসাধ্য শােক রোগের লক্ষণ . ১৭২-৭৩ ০ ০ ০ ১৭৪ ১৭৫ ১৭৬-৭৭ ১৭৭৭৯ পােফ রােগে প্রযোজ্য প্রলেপ হােমিওপ্যাথিক মতে পোফ রােগের চিকিৎসা ১৮০ বিভিন্ন পুস্তকে a re ১৮১ ০০০ ১৮২ # ০৪ ••• ১৮২ রস বাত চিকিৎসা কনট বাত চিকিস। গিরা বাত চিকিৎসা জহর বাত চিকিৎসা ••• প্রলেপ মালিশ হােমিওপ্যাথিক মতে জহর বাতের চিকিৎসা ১৮৩ ৬০০ ৪ ১৮৪ ৫০ ১৮৫৮৬ ১৮৭ ১১শ অধ্যায়। স্বেদ বিধি। বাপী স্বেদ • ১৮৮৯ » শঙ্কর খেদ ০ ০ ( ৭ ) ০৫ ৫০০ ০০০ ১৯২ As . ৫০০ ১৯২ ৮০০ • ••• w ১৯৩ পিণ্ড শেদ নাড়ী স্বেদ মেহ খেদ পুরীষ দে কুপ্য স্বেদ ঘটী স্বেদ অস্থি স্বেদ মাংস স্বেদ মৃত্তিকা স্বেদ পরিমিত স্বেদের গুণ কথন অল্প বা অধিক ঘেদের লক্ষণ ও দোষ কথন ০ ১৯৩ ••• ১৯৪ ••• ১৯৪ , ১২শ অধ্যায়। শান্তিরক্ষা বিবি। ০ ০ ০ শান্তিরক্ষার প্রয়ােজনকথন শান্তিরক্ষা ৪০ ০ ১৩শ অধ্যায়। নেত্রৱােগ প্রকল্পণ। ••• ২০১ ২০২ সাধারণ নেত্ররােগের নিদান ও লক্ষণ কথন গুজনেত্রের বিভিন্ন ভাগের নাম কথন গজনেত্রের জাতি বা প্রকার কথন পাবারকী (ছানি রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ••• বিভিন্ন পুস্তকে ছানি রোগের চিকিৎসা চোখের জল পড়া নিবৃত্তির ঔষধ ঔদকী রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা (ক) পুস্তকের মতে চিকিৎসা tra app ৮০০ ৪০ be. ৪০০ ৪০০ r ২১৭-১৮ ২১৯-২০ २२-२४ ৫০ । মুষ্টিযােগ খ) পুস্তকের মতে হস্তীর চক্ষু হইতে জল পড়া রোগের নিদান, লক্ষণ চিকিৎসা অণ্ডা রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বিভিন্ন পুস্তকে অণ্ডা রোগের চিকিৎসা কাচা রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা নায়ংপ্ৰেক্ষী রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা প্রতিমুন্ন রােগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা নিষ্পেষ হত রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বিদ্যু বারিহত রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা উষ্মপরিগত রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বর্ক্সক্লিষ্ট রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা শ্রোতােহ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বুদবুদী রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা অক্ষিপাক রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা পটলা রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা দণ্ডাক্ষ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা মুঞ্জ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা মুঞ্জাল রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা লােহিত রোগের নিদান, লক্ষণ, ও চিকিৎসা পিটকাক্ষ য়োগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হোমিও প্যাথিক মতে নেত্ররােগের চিকিৎসা २२० ০০০ ২২৭ ••• ২২৮-২৯ ৮০ t৮০ ২৩১ ••• २७२ ০ ০ ২৩৩-৩৪ ৫০০ p গঙ্গায়ুর্বেদ। ৩য় ভাগ। ক্ষরােপ স্থান। • ১ম অধ্যায়। মমল্লাস প্রকাশ। পৃষ্ঠা ৮ এ এ ২ মন রােগের সাধারণ নিলান। বাত বিকারজ বমন রােগের লক্ষণ ও চিকিৎসা পিত বিকার বমন রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা কফ বিকারজ বমন রােগের লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিও প্যাথিক মতে বমন রোগের চিকিৎসা সংক্রামক (আগন্তুক) বমন রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ০ ০ ০ ০ ০ ৫০০ ৮০০ ১১ ২য় অধ্যায়। অতীৱ প্রকরণ। অতীসার রােগের সাধারণ নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বায়ু বিকারজ অতীসার রােগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা পিত্ত বিকরিজ অতীসার রােগের লক্ষণ ও চিকিৎসা ৰক্তাতীসারের লক্ষণ ও চিকিৎসা কফ বিকার অতীসার রােগের লক্ষণ ও চিকিৎসা বিভিন্ন পুস্তকে অতীসার রােগের লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে অতীসার রােগের লক্ষণ ও চিকিৎসা ০ ১২ ১৯ ক ৩য় অধ্যায়। বিষভক্ষপ প্রকরণ। মদন বৃক্ষ কিংবা তৎফল (মনাফল) ভক্ষণ এবং তাদৃশ বিষাক্ত জলপান জনিত বিকারের লক্ষণ ও চিকিৎসা ( ১ ) পৃষ্ঠা . ১৮ বিভিন্ন পুস্তকে বিষদূষিত মাতঙ্গের চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে বিষাক্ত তরুলতাদি ভক্ষণের চিকিৎসা ৪র্থ অধ্যায়। তৃণশোষী ৱােগের চিকিৎসা প্রবণ। তৃণশোষী রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ••• ২৪ ৫ম অধ্যাষ। কৰ্ম্মাতিনীত রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ৬ষ্ঠ অধ্যায়। বিষ পরীক্ষা বিধি বিধ চিকিৎস। t n০ ০০০ २१-७२ ৮৮০ ৩০ ৭ম অধ্যায়। দূষীবিষ চিকিৎসা বিধি ৮ম অধ্যায়। বিষবিকার চিকিৎসার পরিশিষ্ট ৯ম অধ্যায়। বিষদিগ্ধ শরাদি অাঘাত চিকিৎসা ser ০৫ ৩৪ ৪০ ৮৮০ ৭১৪ ৪৪৫৮ ১০ম অধ্যায়। সর্পদংশন চিকিৎসা ১১শ অধ্যায়। স্ফোট (ফোড়া) রােগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা ১২শ অধ্যায়। হস্তীধারণের বিশিষ্ট তিথি নক্ষত্রাদি কথন ( ১১ ) ১৩শ অধ্যায়। পৃষ্ঠা ৫০০ ৫০০ ৫০ ১৯ ৭১-৭৩ পূৰ্বাবদ্ধ নামক মানসিক ব্যাধির প্রতীকার ১৪ অধ্যায়। বিসর্প রােগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে বিসর্প রােগ চিকিৎসা ১৫শ অধ্যায়। হৃদ্যােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ১৬শ অধ্যায়। বলিক্ষাণী রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ১৭শ অধ্যায়। মেট্রক্ষাণী রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ১৮শ অধ্যায় । হস্তগ্রহ রােগের চিকিৎসা উনবিংশ অধ্যায়। হস্তোম্মথিত রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিকমতে হস্তোম্মথিত রোগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা বিভিন্ন পুস্তকে হন্তোম্মথিত রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ৭৪-৭৬ ৮০০ ৭৭৭- ৯ r ৪০ ৮৪ ২০শ অধ্যায়। উদাবৰ্ত্ত রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বিভিন্ন পুস্তকে উদাবৰ্ত্ত রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে উদাবর্ত রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা। ৮৫ ২১শ অধ্যায়। উৎকর্ণক রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বিভিন্ন পুস্তকে উৎকর্ণক রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ৯০ ( ১২ ) • হােমিওপ্যাথিক মতে উৎকর্ণক রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা উৎকর্ণক রােগে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বেদনার চিকিৎসা ঐ মুষ্টিযোগ ০০ 23 ঐ ২২শ অধ্যায়। বাতগতি রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বিভিন্ন পুস্তকে বাতগতি রােগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা ২৯ , ২৩শ অধ্যায়। মাগ্রহ বা জহরবাত রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বিভিন্ন পুস্তকে মন্তাগ্রহ বা জহরবাত রােগের লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে জহরবাত রােগের চিকিৎসা ৯৮৩১৫৩ ০৮ ২৪শ অধ্যায়। মদক্ষীণ (মাই) রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বিভিন্ন পুস্তকে মন্তাই বা মমতা চিকিৎসা ২৫শ অধ্যায়। কৃশ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বিভিন্ন পুস্তকে কৃশ রােগের চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে কৃশ রােগ চিকিৎসা ৮০০ ০ ৫০০ ২৬শ অধ্যায়। বলগীণ চিকিৎসা ও শুশ্রষা বিভিন্ন পুস্তকে বলক্ষীণতার চিকিৎসা ঐ মুষ্টিযােগ ঐ শুশ্রষা ও পথ্য যেমিওপ্যাথিক মতে ঐ চিকিৎসা, ১১৪ ( ১৩ ) ১৭শ অধ্যায়। পৃষ্ঠা ০ ০ ০ ১১৭-১৮ শ্লোভিষঃ ( খিত্ৰ, দ ও ক) রোগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা বিভিন্ন পুস্তকে শিত্রাদি রোগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে শিৱাদি রােগের চিকিৎসা ০৮০ ১১৯ ২৮শ অধ্যায়। বনসাত্ম্যানুলেমিক-( অভ্যস্ত আহারাদির পরিবর্তনে যে সকল রোগের সম্ভাবনা তাহার প্রতীকার ৫০০ ১২০২১ ৪০০ ১৯শ অধ্যায়। তলকশী রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ঐ নির্বাপণ .. অন্যান্য পুস্তকে তলকাশী রোগের চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে তলকাশী রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ১২৩-২৮ ••• ০ ০ ৫০ ১২৮ ১২ ৫০০ ১২৯২ ৩শত্তম অধ্যায়। গলগ্রহ রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা অন্যান্য পুস্তকে গলগ্রহ রোগের চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে গলগ্রহ রােগের চিকিৎসা . ৩১শম অধ্যায়। সিদ্ধার্থক (তৃষ্ণা) রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা ৩২শত্তম অধ্যায় গ্রহদোষ জনিত বিকারের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ১৩৬৪ ( ১৪) ৩৩শ অধ্যায়। পৃষ্ঠা ০ ৫০০ ১৪১-৪৩ ০ ০ ১৪৩ ০ ০ ০ ১৪৪ ১৪ ০ ১৪৫-৪৬ ১৪ ১৪৭-৪৮ উন্মাদ য়োগের লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে উন্মাদ রোগের চিকিৎসা ৩৪শ অধ্যায়। অপহ্মার রােগের লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে অপার চিকিৎসা ৩৫শ অধ্যায়। বকুণ্ডলী রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা : হােমিওপ্যাথিক মতে বাতকুণ্ডলী চিকিৎসা ৩৬শ অধ্যায়। ভায়ােন্মথিত রােগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা ৩৭শ অধ্যায়। লুপ্ত রােগের নিদান,লক্ষণ ও চিকিৎসা ৩৮শ অধ্যায়। পত্ৰকৃমি রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে পকৃমি রােগের চিকিৎসা ৩৯শ অধ্যায়। উঃক্ষত রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে উরঃক্ষত রোগের চিকিৎসা ৪শ অধ্যায়। শোণিতাণ্ডী রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে শোণিতাণ্ডী রোগের চিকিৎসা ১৪৯ ৫০০ ১৫৪-৫৫ ৫০০ ৪১শ অধ্যায়। যবগশিরা রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে যবগশিরা রােগের চিকিৎসা ১৫৬-৫৭ ১০০ :
( ১৫ ) ৪১শ অধ্যায়। পৃষ্ঠা ০৮০ চৰ্ম্মকীল রােগে নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ৪৩শ অধ্যায়। বৃদ্ধ মাতঙ্গ প্রতিপালন বিধি ৪৪শ অধ্যায়। অবসাদ চিকিৎসা ৪৫শ অধ্যায়। জঠক রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে জঠরক রােগের চিকিৎসা ৮০ ০ ০ ০ ৪৬শ অধ্যায় মাতঙ্গ শিশুর প্রতিপালন বিধি ৪৭শ অধ্যায়। রাত্ৰিক্ষিপ্ত রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হোমিওপ্যাথিক মতে রাত্ৰিক্ষিপ্ত রােগের চিকিৎসা এ ৮০০ ১৭ ৮ ০৩ ১৭১ ১৭) ০ ০ ৪৮শ অধ্যায়। মুসলপ্রকাণ। সাধারণ মূত্ৰসঙ্গ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে মূত্ৰসঙ্গ রােগের চিকিৎসা গাঢ়মূত্র রােগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা হোমিওপ্যাথিক মতে গাঢ়মুত্র রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা পরিমূত্র রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক,মতে পরিমূত্র রোগের চিকিৎসা পিষ্টমেহ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিকমতে পিষ্টমেহ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা শােণিত মেহ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ১৭৩ ১৭ ০ ০ ১৭৪ ১৭৪ ( ১৬ ) পৃষ্ঠা ১৭৭৮ গেমিওপ্যাথিক মতে শোণিত মেহ রোগের চিকিৎসা অশ্ম শর্করাদি মূত্র রোগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা হোমিওপ্যাথিক মতে অশ্ম শকরাদি রােগের চিকিৎসা বিভিন্ন পুস্তকে মূত্রাশয় রোগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা মূত্রোপরােধ ( প্রস্রাব বন্ধ ) রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিংস। মূত্রাশয় হইতে রক্তস্রাব রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা বহুমূত্র রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ১৮৩ ৫০ ১৮৪ ৪০০ ১৮৫-৮৭ ১৮৮ ৪৯শ অধ্যায়। সুতিকা রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে সূতিকা রোগের চিকিৎসা ৫শত্তম অধ্যায়। দন্তরোগের নিদান ও সাধারণ লক্ষণ বাতজ দন্ত রােগের নিদান ও লক্ষণ সংক্রামক দন্ত রােগের নিদান দন্তরোগের চিকিৎসা ••• কসজ দন্তরোগ চিকিৎসা ••• হোমিওপ্যাথিক মতে দন্তরোগ চিকিৎসা ১৮৯ ০০ ০ ০ ১৯৪ ৫১শত্তম অধ্যায়। চেতাংশ রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে চোেভ্রংশ রোগের চিকিৎসা ৫২শৰ্তম অধ্যায়। লুণ্ঠরোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে লুপ্ত রোগের চিকিৎসা ৫৩শম অধ্যায়। দ্বিবিধ শূল রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে শূলরােগের চিকিৎসা ৫০ ০ ০ ০ on ( ১৭ ) ৫৪ শত্তম অধ্যায়। পৃষ্ঠা ৮০০ স্কুল শারদ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে স্কুল শারদ রােগের চিকিৎসা কৃশ শারদ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে কৃশ শারদ রােগের চিকিৎসা প্রাকৃত শারদ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে প্রাকৃত শারণ রােগের চিকিৎসা লােহিত শারদ রােগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে লােহিত শারদ রােগের চিকিৎসা ৫ . ২৪ এ ••• ৫৫ শত্তম অধ্যায়। মক্ষিকা দংশন চিকিৎসা বিভিন্ন পুস্তকের মতে মক্ষিকা দংশন চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে মক্ষিকা দংশন চিকিৎসা pps ৫৬ শৰ্তম অধ্যায়। ছৰীদোষ (দেহকান্তির বিৰৰ্ণ ভাব) চিকিৎসা ৫৭ শতম অধ্যায়। ২২২ মৃত্তিকা ভক্ষণ ও তদুৎপন্ন বিবিধ রােগের চিকিৎসা বিধি বিভিন্ন পুস্তকে মিটুখাের রােগের চিকিৎসা ৰাওঠেকা রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে বাওঠেকা রােগের চিকিৎসা চৌরাঙ্গ রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে চৌরাঙ্গ ব্যাধির চিকিৎসা বড়, পাকর রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হোমিওপ্যাথিক মতে বড় পার রােগের চিকিৎসা ০৫ ২২৩-২৪ . ২২৫ ( ১৮ ) ৫৮ শতম অধ্যায়। পৃষ্ঠা সাধারণ গ্রহণী দোষ চিকিৎসা পিত্ত বিকার জনিত গ্ৰহণী রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা কফ বিকার জনিত গ্ৰহণী রোগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা ২৩১-৩২ ০ ০ ২৩৫-৩৭ ৫৯তম অধ্যায়। আম রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে আমরােগের চিকিৎসা কৃমিকোষ্ঠ রােগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে কৃমিকোষ্ঠ রােগের চিকিৎসা ২৩৭ ২৩৮ ৪১ ২৫২ ৬তম অধ্যায়। ক্ষয় রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে ক্ষয় রোগের চিকিৎসা ৫০ * ৪৩-৫ - ৪ ০ ২৬১ ৬১তম অধ্যায়। মদ বা মস্তাই চিকিৎসা ৬২তম অধ্যায়। কর্ণললাম কূপজাত কীট চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে কলােম কূপজাত কীট চিকিৎসা ৬৩তম অধ্যায়। কর্ণ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ঐ অন্যবিধ চিকিৎসা ৬৪তম অধ্যায়। অভক্ত ছন্দ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা। ৬৫ তম অধ্যায়। ভক্ত গ্রাসোপরােধ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ০ ০ ০ ০৫ ২৩৪ ০৫০ ( ১৯ ) ৬৬তম অধ্যায়। পৃষ্ঠা বাত বিকার দ্ৰোণীক শােফ রােগের (বুকফুলার) নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা পিত্ত বিকারজ দ্রোণীক শােফ রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ২৭০-৭১ কফ বিকারজ দ্ৰোণীক শােফ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ২৭২৭৩ রক্ত বিকারজ দ্রোণীক শোফ রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ২৪ সাগ্নিপতিক বিকারজ দ্ৰোণীক শােফ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ২৭৫== ৭৮ হােমিওপ্যাথিক মতে দ্রোণীক শােফ রোগের চিকিৎসা ২৭৮ ০ ২৮০ ৬৭তম অধ্যায়। অতিযত রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে অতিযত রােগেরঃচিকিৎসা ৬৮তম অধ্যায়। এল্মরোগ প্রকরণ। বাত বিকারজ গুল্ম রোগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা পিত্ত বিকাজ গুল্ম রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা কফ বিকারজ গুল্ম রােগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা রক্ত বিকার গুল্ম রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা সান্ত্রিপাতিক বিকারজ গুল্ম রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে গুল্ম রোগের চিকিৎসা ৫০ ২৮১ ৮৩ ২৮৪ ২৩ ২৮৭ ২৮ ৬৯তম অধ্যায়। হৃদরােগ প্রকল্প। বাত বিকারজ হৃদ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা পিত্ত বিকাজ হৃদ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে হৃদ রােগের চিকিৎসা ০ ০ ০ ২৮৯ ৫০ = = ক + +++ ( ২০ ) ৭তম অধ্যায়। পৃষ্ঠা গাত্র রােগ চিকিৎসা পৈত্তিক গাত্র রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা কফ বিকারজ গাত্র রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে গাত্র রােগ চিকিৎসা ০০ ২৯৮ ৭১তম অধ্যায়। সংক্রামক গতি রােগ চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে সংক্রামক গাত্র রােগ চিকিৎসা . ৭২তম অধ্যায়। ৪ ০ গাত্র রােগভেদ ও তাহার উপসংহার নিষ্পিষ্ট’ নামক সংক্রামক গাত্র রােগের নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা বিনত’ নামক নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ৩১০ ‘আহত’ নামক নিদান লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে গাত্র রােগের চিকিৎসা প্রয়ােধ চিকিৎস। স্নান রােগের চিকিৎসা আবেষ্টিত রােগের লক্ষণ ও চিকিৎসা মােটনা রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা গাত্ৰোম্মথিত যােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা একাঙ্গ শশাষ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা গাভ্রংশ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা হােমিওপ্যাথিক মতে প্ররােধ ও মােটন রােগের চিকিৎসা ৩১৭ ০৪। # ৩ ০০০ গজায়ুৰ্বেদ সংহিতা-৩য় ভাগ সমাপ্ত।
গঙ্গামুদে সংহিতা। তৃতীয় ভাগ। শল্যান। ১ম অধ্যায়। পৃষ্ঠ ৪ ০ ০ ০ ১২ ••• ১৬ ১৪ ১৫১৮ ০ ০ ০ ১৯ ০৫। ১৯ দ্বিব্ৰণীয় বিধি ব্রণ বিলায়ন ( বসিয়ে দেবার) ঔষধ ব্রণ পাচন (পাকিবার) ঔষধ ব্রণ সন্ধান (জোড়া লাগিবার) ঔষধ ব্রণ শােধনে (ক্লেদাদি কাটার) ঔষধ কণ্ড ( খুজলী চিকিৎসা চৰ্ম্মকীট চিকিৎসা ক্ষুদ্রণ বিদারণ ব্রণ উৎপাদন বিষদূষিত ব্রণশােধন ব্রণশোধক ক্ষার প্রয়ােগ ব্রণরােপণ (শুকাবার। ধূপন ক্রিয়া ব্রণরােপ কল্ক চিকিৎসা ব্রণ রােপণ কষায় চিকিৎসা শ্ৰণ রােপণ ঘৃত ও তৈল প্রয়োগ ব্রণ রােপণ চূর্ণ প্রয়োেগ ব্রণ রােপণী রক্রিয়া ক্ষত রােগাক্রান্ত ক্ষীণকায় মাতঙ্গের বৃংহণ ক্ষত রােগাক্রান্ত তুলকায় মাতদের হাস ক্রিয়া ব্ৰণ বৰ্ণ প্রসাদন ঔষধ ০ ২১ ২১ ০ ০ ০ ২৪ ••• ২৫ ২য় অধ্যায়। সংক্ষত চিকিৎসা (১) ২৭-৩১ ( ২২ ) ৩য় অধ্যায়। সদ্ধঃক্ষত চিকিৎসা (২) ৪র্থ অধ্যায়। ! ৩৯-৪১ p০০ ৪২ ৪ ২৪৫ সড়ত্যয়ােপচার বিধি ... ৫ম অধ্যায়। ব্ৰণোপক্রম লক্ষণেপক্রম বিধি বাত-প্রণােৎপত্তির নিদান ৬ষ্ঠ অধ্যায়। বাদশােপক্রম বিধি দীর্ঘায়ু মাতঙ্গের লক্ষণ ৯ম অধ্যায়। শরীর বিচয় বিধি ১০ম অধ্যায়। শাগ্নি প্রণিধান বিধি । ৫২ ৯ ৩০ ০ ০ ০ دوسرا ০ ০ ০ ১১শ অধ্যায়। যন্ত্রবিধি ১২শ অধ্যায়। শল্যোকরণ বিধি ১৩শ অধ্যায়। বিধি চিকিৎসা বিধি সাধারণ বিধি রােগের নিদান বাতজ বিধি নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা পিত্ত বিধি রােগের নিদান ও লক্ষণ ঙ্গে বিধি রােগের নিদান ও নক্ষণ সান্নিপাতিক বিধি রােগের নিদান ও লক্ষণ ৮ ৮৬. ৮৭ ৮৭ ৮৭-৮৮ ) পৃষ্ঠা ১৪শ অধ্যায়। ব্রণ চিকিৎসা বিধি ৫০ ০ - f ৪) a • ৫০০ ১১১*১৩। ০৫ ১১ ৩ . ৫ ০ ০ ০ ১৫শ'অধ্যায়। নাড়ীব্রণ (নালী ঘায়ের) চিকিৎসা বিধি বিভিন্ন পুস্তকের মতে নাড়ীব্রণ চিকিৎসা ১৬শ অধ্যায় শিবৃহ-ব্যধ অধ্যায় ১৭ অধ্যায় । দন্তনালী চিকিৎসা বিভিন্ন পুস্তকে দন্তরোগের চিকিৎসা ১৮শ অধ্যায়। অধিকদম্ভ রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা ১৯শ অধ্যায়। শিরাচ্ছেদ চিকিৎসা ২০শ অধ্যায়। মৰ্ম প্রমাণ বিধি ২১শ অধ্যায়। কুকর দংশন চিকিৎসা বিভিন্ন পুস্তকে কুক র দংশন চিকিৎ;••• ১২শ অধ্যায়। মর্ম জ্ঞানবিধি • ২৩শ অধ্যায়। মর্মবেদ চিকিৎসা ২৪শ অধ্যায়। দোষ বিচ য় বিধি ১১-২১ * * * ০ ০ ০ ৮ / . ১২৯ । ৫ । ৪ ••• htt ১৩ ( ২৪ ) পৃষ্ঠা ১৪১৪৩ ১৫-৪৫ ১৬ । ১৮ ০ ০ ০ ২৫শ অধ্যায়। অগ্নিদাহ চিকিৎসা ২৬শ অধ্যায়। লত (মাকড়সার বিষ ) চিকিৎসা ২৭শ অধ্যায়। বিষকীট চিকিৎসা বিভিন্ন পুস্তকে বিষকীট চিকিৎসা ২৮শ অধ্যায়। ব্যাল ( অল্পবিষযুক্ত সর্প দংশন চিকিৎসা বিভিন্ন পুস্তকে ব্যাল দংশন চিকিৎসা ২৯শ অধ্যায়। দেশজ্ঞান বিধি ( অঙ্গ প্রত্যঙ্গের পরিচয় ) ৩শ অধ্যায়। শস্ত্র নির্মাণ বিধি ৩১শ অধ্যায়। ক্ষায় বিপি ৩২শ অধ্যায়। অস্তিভলোপদেশ ৩৩শ অধ্যায়। মূঢ় গর্ভপনয়ন চিকিৎসা ৩৪শ অধ্যায়। দতেরণ বিধি ০ ০ ০ p ০৫০ ০ ০ ০ p ০০০ ০০ ০ ৪র্থ শল্যস্থান সমাপ্ত।
গঙ্গামুকে-সংহিতা। পঞ্চম ভাগ। উত্তর স্থানের পূর্বাহ্মের সচীপত্র। ১ম অধ্যায়। পৃষ্ঠা। গেহপান গুণ ২ ০ ২য় অধ্যায়। হেপান বিধি ৩য় অধ্যায়। অপান বিধি ০ ০ ০ ০ ০ ৪র্থ অধ্যায়। গেই বিধি ০ ০ ७२-१ ৫ম অধ্যায়। বন্তিদান বিধি ০ ০ ৫০০ ১. ৬ষ্ঠ অধ্যায়। ০ ০ ০ ০ গজশীল। নিৰ্মাণ বিধি ৮ম অধ্যায়। অরিষ্টজ্ঞান বিধি। ৩৯ • ৭১ ও , ৯ম অধ্যায়। দন্ত কল্পনা (পাত বাঁধান) বিধি ১০ম অধ্যায়। রবীধ্য বিপাক জ্ঞান ১১শ অধ্যায়। ইক্ষুদান বিধি ০ (২) ১২শ অধ্যায়। নত্যকর্ম বিধি পাদ্ধের সূচীপত্র। ১৪শ অধ্যায়। অঞ্জনদান বিধি ০০০ ১৫শ অধ্যায় । অন্নপান গুণ ৫ ১১• ১৮ ০ ০ ৩ ২২ ১৬শ অধ্যায়। কাৰ্যাকাৰ্য্য বিধি ১৭শ অধ্যায়। অন্নপনি গুণাধিকার ১৮শ অধ্যায়। সৌবীরক (কজি) পান বিধি ১৯শ অধ্যায়। সুরা প্রতিপান বিধি ২০শ অধ্যায়। ২৪- ৮ ০ ২১শ অধ্যায় । রিপন বিধি ২১শ অধ্যায়। এৰণ কথন ৫০০ ৩৮ ২৩শ অধ্যায়। । পরিচারক হেতুজ্ঞান ৪শ অধ্যায়। বিবিধ দেশজাত বিবিধ মাতলের লক্ষণ ও চিকিৎসার তারতম্য উপদেশ . ৪১
২৫শ অধ্যায়।
পথ্যাপথ্য বিচার
৫০০
.
৪২
'
•
৪১৫
৩০০
৪৫ ৪৮
২৬শ অধ্যায়।
করী ব্যবহার বিধি
২৭শ অধ্যায়।
রসোন (রসুন) প্রয়ােগ বিধি
২৮শ অধ্যায়।
বলণ প্রয়োগ বিধি
২৯শ অধ্যায়।
পাংশুদান বিধি
৩শ অধ্যায় ।
জলোকাদি দ্বারা রক্ত মোক্ষণ বিধি
***
সমাপ্ত।
No text on this page.
ময়মনসিংহ প্যালেস হইতে
গ্রন্থকার কর্তৃক প্রকাশিত।
ময়মনসিংহ লিলিপ্রেসে শ্রীরামচন্দ্র অনন্ত কর্তৃক মুদ্রিত।
প্রাপ্তিস্থানগুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স
২০৩|১|১ কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট,
কলিকাতা।
ভট্টাচাৰ্য এণ্ড সন্স-কলিকাতা ও ময়মনসিংহ
মডেল লাইব্রেরী-ঢাকা ও ময়মনসিংহ।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.