Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Sangit-kusumanjali
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
.-...
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
শ্রীদুর্গানারায়ণ চৌধুরী বিরচিত।
কলিকাতা।
• সান্যাল এণ্ড কোং।
«
~~~
কলিকাতা
২৬ নং স্কটু লেন, ভারতমিহির যন্ত্রে
সান্যাল এণ্ড কোম্পানির দ্বারা
মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
১৩০৫ {
12
বিশ্বদেব ঈশ্বরের করুণাময় ।
এই “সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি’ উৎসগীকৃত হইল।
নিখিল জগদারাধ্য
নামে
ঝিঝিট—একতালা।
নমি হে তােমারে অগতির গতি
পতিতপাবন জগতপ্রাণ!
ব্যাপি জলস্থল বিমানমণ্ডল,
ফুলে ফলে তুমি বিদ্যমান।
রবি শশী রূপে আলােকধারী,
অনিলে অনলে নিয়ত নেহারি,
ভূধর তােমার গভীর মূরতি
করিছে জগতে সাক্ষ্যদান।
সুবাসে যে হয় পরিতােষ প্রাণ,
তুমি আছ তায় বলে ভগবান্,
রসময় তুমি রসের সাগর,
পাখীমুখে তুমি মধুর তান।
মেঘরূপ ধরি ঢল বারিধার
যােগা’তে জীবের পানীয় আহার ;
(শেষে ) অন্তে সে অকূল ভব-পারাবারে
কৃপা-তরি দানে করিছ ত্রাণ ।
No text on this page.
Barmefore Navajan Chandra Snachi 1: Boabwth . Geleelle ভূমিকা। “সঙ্গীত কুসুমাঞ্জলি” নামে এই ক্ষুদ্র পুস্তকখানি প্রকাশিত হইল। ইহার অন্তর্গত অধিকাংশ গীতই আধুনিক সময়ে রচিত। এতদ্বাতীত আমার বহু পূৰ্ব্বের রচিত যে সকল গীত ‘সােম- প্রকাশ,” “সঞ্জীবনী,” “ভারত-সংস্কারক,” “আৰ্যদর্শন” প্রভৃতি সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, বন্ধুবর্গের অনুরােধে সেগুলিও “সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি”তে সন্নিবেশিত হইয়াছে। আমার শক্তি সামর্থ্যের যেরূপ পরিমাণ, তাতে চিত্তে যাদৃশ ভাবের উদয় হইয়াছে, আদর্শ যেমন পাইয়াছি, ঠিক তদনুরূপ যে রচনাকাৰ্য সুসম্পন্ন হয় নাই, সুতরাং ভাব-প্ৰকাশ পক্ষেও যে বিশেষ ঐটা রহিয়া গিয়াছে তাহা বলাই বাহুল। তবে সারগ্রাহী পাঠক এবং গায়কগণ ‘তুষেও তণ্ডুল মিলিতে পারে, ‘সৈকত ঔপেও স্বর্ণকশালাভ অসম্ভব নয় এই বুদ্ধিতে যদি “সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি”র গীতগুলির প্রতি একবার অনুগ্রহ-দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন, তাহা হইলে শ্রম সফল বােধে কৃতার্থ হইব।
ভূমকা। বয়ােভেদের সহিত মানুষের মতের পরিবর্তন হওয়া স্বভাব- সিদ্ধ ; সুতরাং নানা সময়ে বিরচিত যে সকল সঙ্গীত এই পুস্তকে সন্নিবেশিত হইয়াছে, কোন কোন স্থলে উহার একের সহিত অন্যের সামান্য মত বৈষম্য দৃষ্ট হইবে। পরন্তু আমার বর্তমান সময়ে রচিত কয়েকটী গীতের সহিত বহু পূৰ্ব্বে বিরচিত কতিপয় সঙ্গীতের আংশিক ভাবগত সাদৃশ্যও পরিলক্ষিত হইতে পারে । বিষয়ভেদে গীতগুলি ধৰ্ম্ম ও নীতি বিষয়ক, জাতীয় ও সামা- জিক, বিবিধ এবং পৌরাণিক এই চারি ভাগে বিভক্ত করা হইয়াছে। রামপ্রসাদ সেন, দাশরথি রায়, থাপা, ফিকীরদ প্রভৃতি যে সকল সাধক এবং ভাবুকগণের রচিত সুমিষ্ট সুর সাধারণ্যে সুপরিচিত, “সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি”র অধিকাংশ গীত সেই সেই সুরে সংবদ্ধ করা হইয়াছে। কিন্তু রচিত গীতগুলির ভাবের সহিত উক্ত সাধক ও ভাবুকগণের সুমধুর সুরের সামঞ্জস্য কত দুর রক্ষা পাইয়াছে, তাহা অনুভাবক গায়ক এবং শ্রোতারই বিচাৰ্য্য বিষয়। সুপ্রসিদ্ধ সঙ্গীতবিশারদ মাননীয় শ্ৰীযুক্ত বাবু কৃষ্ণধন বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় কতকগুলি গীতের রাগরাগিণী সম্বন্ধে আমার সংশয় ভঞ্জন করিয়া দিয়া আমাকে কৃতজ্ঞতা-পাশে বদ্ধ করিয়াছেন।
ভূমিকা।
পরিশেষে বক্তব্য এই যে, কোচবিহার রাজ্যের ভূতপূর্ব
সিভিল ও সেশন জজ সাহিত্য-সুহৃৎ মান্যবর শ্রীযুক্ত বাবু যাদবচন্দ্র
চক্রবর্তী মহাশয় অতি যত্ন সহকারে গীতগুলি আদ্যোপান্ত দেখিয়া
দিয়াছেন ।
তাঁহার এই শ্রম স্বীকার জন্য এবং এই পুস্তক
প্রকাশ বিষয়ে আমাকে বিশেষ উৎসাহ দেওয়ার নিমিত্ত আমি
তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞ আছি।
( প্রসাদী–“মা আমায় ঘুরাবি কত”-সুর)
এমন সুধা কোথা মিলে,
বল গীতের মতন ভূমণ্ডলে ?
কি বৃদ্ধ বালক যুবা কে এমন এ মানব-কুলে,
শুনি গীতের সুতান জুড়ায় না প্রাণ,
মুগ্ধ কে নয় মহীতলে ?
তাপিত হৃদয়ে গীতে অনায়াসে শান্তি মিলে,
নিবায় অবিরল ধারা সম
বরষিয়ে শােকানলে।
যােগে যাগে পায় না খুজে যােগী যারে মন্ত্র বলে,
তারে প্রসাদ প্রেমিক বেঁধেছিল
প্রেমের ডােরে গীতের ছলে ।
ভূমিকা।
-~-
কবি বলে মানব-রাজ্য মরু হ’ত কোন্ সকালে,
এমন গীতামৃত-মন্দাকিনী
প্রবাহিত না থাকিলে ।
can
শ্ৰছকহণ
ভারেঙ্গা, পাবনা।
৩০শে আশ্বিন, ১৩০৫ সাল।
অন্ধাপাবনা ন
সূচীপত্র। ধর্ম ও নীতি বিষয়ক। পত্রাঙ্ক + ২ ৩ ••• • ৭ সংখ্যা গীতাংশ ১ তিনি নাই আর ২ কেন মিছে ছন্দ কর ৩ তুমি যে কেমন মা গাে ৪ ভগবান তােমার বিধান কে বলে তুমি আড়ালে ৬ দুরে তুমি এ কি কথা মা তােমার অসম্মানে ৮ মহাশক্তিরূপে মা গাে ৯ বিনে প্রেমেরি সাধন ১০ কি বলিয়ে ডাকিব ১১ তােমার মহিমা ওকবা জানে ১৪ ডাক তারে হৃদয় খুলৈ ১৩' কি হবে ভাই ৭ । । । ১০ ১০ ১১ ••• ও ২ ••• সূচীপত্র। منبع সংখ্যা গীতাংশ পত্রাঙ্ক ১৪ ১৪ ১৮ ২০ ২০ ২২ ২৩ তােমায় ভুলে ভুলিয়ে ১৫ চাইনা আমি ধনী হতে । ১৬ বিনে সাধন ১৭ এই ত এল শমন ১৮ হরি চাও আমার পানে ১৯ মিছে অাশা সাধনে সুফল মরা যে মরা না রে ২১ যদি অসত্য পথে কেন শোকে হলে অচেতন কেমনে পূজিব তােমায় ২৪ সংসার সব বলে ২৫ কি হবে নমাজ পূজায় ২৬ অজর অমর জ্ঞানে २१ কেন পর-ধর্মে কর দ্বেষ । ২৮ সেই ত প্রকৃত পূজা করে ২৯ বয়ে যায় না। স’য়ে যায় যে ৩০ দিন ত গেল বয়ে ৩১ ডাক্ব মায় ৩২ হরি হে করি এই মিনতি ৩৩ আর কত দিন রাখবে ৩৪ কর কি বিশ্বাস ভেব না কুকাজে কভু মােহকৃত পাপ হতে ২৪ ••• ২৫ এ ৯ ২৭ ••• ২৮ ••• ৩০ ৫. ৩২ - - - - - - - - সূচীপত্র। সংখ্যা গীতাংশ পােঙ্ক ৩৭ ৩৪ ৮ ০ ৩৪ ৩৫ ৪১ ৪৩ •• ৪১ 82 চেয়ে দেখ নাথ ৩৮ কেবল বাচি তােমার গুণে ৩৯ হরি হে বুঝেছি মনে ৪০ আনন্দ-ভিখারী আমি কর হরিনাম ৪২ এই ত ভবেরি খেলা সত্যপথে কর রে গমন ৪৪ পরনিন্দা কর পরিহার চল মন যাই সেখানে ৪৬ যদি হবে ভবে পার ৪৭ এ রােগের ঔষধি কোথা•• ৪৮ কৃত পাপ উপার্জিত ৪৯ রসনা শাসন কত দিনে হবে ৫০ কৰ্ম্মকালে ধৰ্ম্মরক্ষা ৫১ তিনিই মানবকুলে কেন মা পরীক্ষা এত ৫৩ হ’ল নিশি ভাের ৫৪ তুমি কার কে তােমার তাের যাবি যদি ৫৬ জাগাে জাগো গৃহবাসিগণ ৫ কেবল তব করুণা কত ভ্রম সুখশায় ৫৯ ভালবাসা আগে চাই ৪৩ ৪৪ + ০ ০ ৪৫ ৪৬ ৪৬ ••• ৪৮ ৪৯। . • • • । ৪ ০ •• এক খ- সূচীপত্র। *- سبنر সংখ্যা গীতাংশ পত্রাঙ্ক ৫৪ ••• ••• ৫৯ et ৬০ হবে যে মরণ ৬১ ফুরাইল দিন ৬২ জীবন সংগ্রাম কর কত দিনে যাব ৬৪ সংসার-সারে চল জীবন তরি বেয়ে কত দিন রবে ভবে ৬৭ ঘাঁর কৃপাগুণে আজ ৬৮ ও ভাই ভেবাে না মনে কেন হায় রয়েছ বুত ৭০ বল প্রেম বিনে কে কবে ৭১ না জানি কত সুন্দর ৭২ আর বলল না এমন ৭৩ মিটলাে. ভবের লীলা খেলা ৭৪ তােমারি কৃপাতে চলে এ জীবন ৬১ + + ০ : ৬৪ * . . । । । ৫ ও ৬৮ ১ # ১ t १२ জাতীয় ও সামাজিক। সে দিন কি আসবে ২° সে জাতি কভু জাগে না ৩ তারাই জীয়ন্তে মরা ৪ হবে না আশার সুসার ৫ বাঙ্গালীর যে ভাল হবে : ৬ হেরিয়ে কালের গতি ৭৩ ৭৩ ৭৪ সূচীপত্র। ~~ সংখ্যা গীতাংশ পত্রাঙ্ক । । । ৭৬ ৭৮ ••• * * * ৭৮ ৭৯ ৮০ ৮১ + ০ + ৮৪ । ৩ . ৭ এ দেশের যে ভাল হবে ••• ৮, ছাড় রে ভাই মোকদ্দমা ৯ শিক্ষিত রমণী-সঙ্গ ১০ দুজেতে ঘর ১১ কি ফল তার জীবনে ধন্য তুমি ধরাতলে ১৩ এই কি ব্রাহ্মণ-ধৰ্ম ১৪ উদর তাের আধিপত্য ১৫ না হলে শ্রমীর ভাল ১৬ কিসে বল আছ ভাল সে দিন আসিবে কবে '১৮ কেবল একতা বিনে ১৯ এই কি সে দেশ ২০ হায় যে কুলে ২১ গুণযুত সুত ২২ গুণগত গৌরবে ২৩ কেন মা এলে এখানে ২৪ ছেলে হয়েছে শুনে সে দেশের যে ভাল হবে। ২৬ বাঙ্গালী বধের ভাগী ৫ ও ৮ ৮৭ * ৩ ৪ . . . ৮ * ০ ০ ••• ৯১ ৯২ ০ ০ t ru ০ ০ ••• ৯৪ ০ ০ ০ বিবিধ । • ৫০ ১ আজ মরতে স্বরগ ২. কবে পশি সমরেতে ১০১ সূচীপত্র । بهمن গীতাংশ পত্রাঙ্ক ১০২ ১০৪ ১০৬ ১০৭ ••• ১০৮ } এn ১১৩ . . . D ১১৪ ১১৬ জয় দে ভাই ভারতবাসী। মা তােমার গুণের কথা আয় রে মহারাণীর ৬ আয় রে পরি ৭ র’য়েছ আপন সুখে ৮ সাহেব হওয়া ৯ বল কি কর (কি) কাজে । ১০ এ ভবে সবে সমান ১১ ধৰ্ম্ম যে কিসে যাও ১২ কবে যাব সেখানে ১৩ পুণ্যবতী সতী মাতা ১৪ কেঁদ না জননি কোথা গেলে কৃষ্ণদাস ১৬ হা বিধি কি বলিব ১৭ হায়, হায় কি হ’ল ১৮ দিনমানে ছিল তবু ১৯ হেরি বিবাদ অকারণে ২০ দেখি এ সম্পদে ২১- এ যদি চাকরী ২২, কি পাপে কার অভিশাপে ২৩ ভবের ভাবনা যদি যায় ২৪ স্বদেশ-মঙ্গল যদি ২৫ কে আর আছে এমন ••• . . / ১১৭ ১১৮ ১১৯ s ১২১ + + + . ১২২ ও ৩ ন # ৬ + ০ ০ • ? ১২৭ ১২৮ সূচীপত্র । منه সংখ্যা পত্রাঙ্ক ••• ১৩২ ১০ ••• ••• ১৩৪ ১৩৬ ••• ১৩৭ * . . ••• } এস মা ভারতে ২৭. মরি কি সজ্জিত ২৮ বিনে জ্ঞানের মানুষ ২৯ কিবা মনােহর শােভা মনের কথা বলব করে ৩. তিনিই রমণীকুলে ৩২ কেবা আছে তােমার সমান লাউই এস হে ৩৪ কি সুখের দিন আজ বল সে কিসে মানুষ কে বল এখন আর ৩৭ টাকা তুমি কষ্টি পাথর এ কেমন কি সৃজন কেন এত দুঃখ কষ্ট যেখানে যা পাবে ভাল ৪১ অন্ন বিনে কিসে বাঁচে ৪২ এক বিধিবশে ৪৩ কোটি কল্প যুগ হ'তে ৪৪ এই ত ভবের লীলা ৪ঃ এই ত হ’ল জীবনে ৪৬। এই ত ঘরে রয়েছে ৪৭ বল কোথা গেলে ৪৮*দেও দেখা দয়া করি ••• ১৪০ ৩৮ ••• ১৪১ ১৪২ ০ ০ ০ ৪০ ১৪৩ ১৪৪ • • ১৪৫ ••• ১৪৬ ১৪৭ ৪৮ . . . ১৪৯ ••• ১৪৯ ০ ০ ০ ১৫০ সূচীপত্র। সংখ্যা গীতাংশ পত্রাঙ্ক ৮৮ ০ (১৫২ ১৫৬ ১৫৮ • ১৬০ ৪৯ সে দিন আবে না ৫০ কবে মায়ার বন্ধন পৌরাণিক। ১ কি দোষে দাসীরে দিলে বনে হায় কেমনে বল কি শােভে ভূষণে ৪ হায় উমাশশী আসবে কবে কবে আসিবে উমাধন ৬ গিরি যাও হে যাও ৭ গা তােল গিরিগেহিনি এস উমা এস এস ৯ উমা আছে কি মনে ১০ আসি মা কেমন করে ১১ কেন মা এলে ভারতে ১২ পােহাইলে নিশি ১৩ তােমার কেমন বিধান ১৪ যেয়ো না যেয়ো না উমা ১৫ মা বলিতে তােম বিনে আর ১৬ দয়িত কোথা লুকালে • • • ১৬০ ৮ ••• । . এ ••• ১৬৪ ••• •••
এ ১z2cড়
।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
(“ভেবে মরি কি সম্বন্ধ তোমার সনে”—সুর )
তিনি নাই আর কেমন করে ভাবছ মনে,
কি প্রবােধ দিয়ে থাক প্রাণে।
যার অচিন্ত্য কৌশলপূর্ণ ধরাতল
নিয়ত হেরিছ দু’নয়নে,
সাক্ষ্য দিতেছে সকল জ্যোতিষ্কমণ্ডল
উদয় হইয়ে নিশি দিনে।
(তিনি আছেন বলে )
-
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
مرمر
বায়ু বৃষ্টি জল শিশির অনল
কুশল আছে সাধনে ;
কেন ফল শস্যে ভরা হ’ল বসুন্ধরা,
বল শুনি কোন প্রয়োজনে।
( এ সব কিসের তরে.)
~~~
জলে জলচর ভূচর খেচর,
মানবাদি কত জীবগণে
কেবা করিয়ে সৃজন করেন পালন,
মায়ের মতন সযতনে।
(ভেবে দেখ নাকি )
২
ঝিঝিট খাম্বাজ-মধ্যমান।
(“ল ও সোণা হও হে বিদায়”-সুর)
কেন মিছে দ্বন্দ্ব কর হেরি অনিবার,
বলিয়ে সাকার কেহ,
কেহ বলি নিরাকার।
ধৰ্ম্ম ও নীতি বিষয়ক।
কে জানে কি রূপ তার, কি সাকার নিরাকার,
অন্তু কি অনন্ত, কেব
নির্ণয় করিবে তার ?
যে বলে জেনেছি তারে, সে আছে তঁা’ হ’তে দূরে,
যে বলে জানিনে তারে,
নিকটে আছেন তার।
কারে দিয়েছেন বলে,
অব্যর্থ শাস্ত্র সকলে,
কেহ তা হতে বঞ্চিত,
এ কি বুদ্ধি চমৎকার !
ভাল মন্দ ফলাফল,
কৃত কৰ্ম্মেতে কেবল,
নতুবা কেহ স্বপক্ষ,
বিপক্ষ নকে তাঁর।
বাউল—খেটা।
(“বেয়ে প্রমতরি হরি যাচ্ছে”--সুর)
তুমি যে কেমন মা গাে স্বরূপ কি তােমার,
কত দিনে হবে সুপ্রচার ;
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
।
Tema
র’বে না ধৰ্ম্মরাজ্যে দ্বন্দ্ব অনিবার,
এক হবে সবাই গিয়ে মনের অন্ধকার ।
(কত দিনে হবে সুপ্রচার)
থাক্বে না মতামতে দ্বেষাদ্বেষ কারো সাথে,
বুঝবে সে তোমারি সব, তুমি সবাকার ;
করবে না। পরস্পরে হিংসা অনাচার ;
দূর হবে স্বস্ত্যয়নে কবে অভিচার।
( কত দিনে হবে সুপ্রচার )
কারো হ’তে সুদূরে
অছ কারাে অদূরে,
এ ভুলের মূলে কবে পড়িবে কুঠার ;
নাই ছােট বড় বলে বিভিন্ন তােমার,
যে ডাকে প্রাণ খুলে ‘মা’ বলে তুমি তার ।
(কত দিনে হবে সুপ্রচার )
d
০
মা তব ব্যাপ্তি বুঝে কেউ বেড়াবে না খুঁজে,
রবে তােমাতে মজে যাবে অন্ধকার ;
হৃদি মন্দিরে তোমায় হেরে অনিবার,
বলবে “মা আমি তােমার তুমি মা আমার।”
(কত দিনে হবে সুপ্রচার )
।
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
~~
৪
( ফিকিরচঁাদী --“বাঁশের দোলাতে উঠে” সুর )
ভগবান্ তােমার বিধান তুল্য, তবু
কেন মানব ভিন্ন ভাবে ;
দয়াময় তুমি নাকি কারে সদয়,
কেউ ভিখারী চরণ লাভে।
-
আরাে কয় মুক্তি পথের মহামন্ত্র
কারে তুমি দেছ লিখে,
অন্য কেউ পায়নি সে সব ; সয় না শুনে,
ভাসি সদা দুখার্ণবে।
ভাবে না এ সব যদি সত্য হবে,
কেন রবি চন্দ্র তবে
দেয় আলাে তুলারূপে প্রজা ভূপে,
মেঘ বরষে সমান ভাবে।
কি মধুর পরিবেশন বায়ুর বহন,
আবহমান কছ সবে ;
আছে জীব যে যেখানে পায় সেখানে,
কে বঞ্চিত হয়েছে কবে।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
بسبب
পারে ;
শরীরের গঠন হেরে কে তােমারে
পক্ষপাতী
বলতে
নাইত সে নিরমাণে বিভিন্নতা,
বামণ শূদ্র সমান সবে ।
৬৭
ঘুচে এ মনের আঁধার দেখব তােমায়
কত দিনে পূর্ণ ভাবে ;
র’বে না দ্বিধা মনে বুঝব স্বরূপ,
হায় সে সুদিন আসবে কবে ।
কালাংড়া-একতালা ।
(“এ কলঙ্ক তােগার কালা”-সুর)
*।
(তুমি)
কে বলে তুমি আড়ালে ?
রয়েছ সকল স্থলে,
অনন্তরূপে বিরাজ
আনিলে জলে অনলে।
কি কষায় তিক্ত তারে,
কি কটু কিবা মধুরে,
**
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
s
~~~~
কি ক্ষীর ননী পনীরে,
রয়েছ সুমিষ্ট ফলে।
(তুমি)
জ্ঞানরূপে বুদ্ধিরূপে
প্রকাশ চিত্ত আকাশে,
বাহিরে তপন শশী,
(তুমি)
তারারূপে মণ্ডলে।
(তুমি)
স্নেহ দয়া ভক্তিরসে,
তােমার সভা বিকাশে,
প্রতিরূপে প্রস্ফুটিত
নর নারী হৃস্থিলে।
তুমি রাত্রি দিবা তুমি,
তুমি শস্য তুমি ভূমি,
আকাশ তােমার রূপ
(হেরি)
প্রকাশে সকল স্থলে।
বেহাগ—আড়াঠেকা।
দূরে তুমি এ কি কথা, রয়েছি তােমারি কোলে,
সাড়া দাও কত মতে কিলে জননী বলে।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি ;
~~~
বসুবক্ষ প্রসারিয়ে রেখেছ আশ্রয় দিয়ে,
কতই স্নেহ-মমতা প্রকাশিছ প্রতি পলে।
স্তনরূপ ফলে জলে বিবিধ শস্য সকলে
করি দান ক্ষুধানলে করিছ বারণ ;
কি ঘুমে কি জাগরণে, সন্তানসন্ততিগণে,
থেকে জেগে অকাতরে রক্ষিছ সদা সকলে।
~~~~
= =
৭
(খ্যাপার সুর )
মা তােমার অসম্মানে যে দুখ প্রাণে
বব কারে কে তা জানে,
তােমারে দিচ্ছে জনম, জগৎমাতা,
তৃণ মাটি উপাদানে!
যে তােমার মােহন রূপে হৃদয় সঁপে,
যােগী মুগ্ধ যােগাসনে ;
সেই তােমায় সাজাবে মা, বল কি হয়,
রাং রঙ্গে আর বস্ত্র দানে !
.
ত
যে তুমি আছ মাগাে স্বর্গ মর্ত্য
কি পাতাল এ ত্রিভুবনে ;
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
~
সেই তুমি আসবে নাকি আবাহনে,
বিদায় হবে বিসর্জনে ।
জীবের জননী তুমি, জানি তােমার
সমান দয়া সৰ্ব্বজনে ;
হওনাকি তুষ্ট অতি, হায় কি মতি,
মেষ মহিষের বলিদানে।
যে তুমি না চাহিতে কত মতে
দিচ্ছ খেতে প্রাণিগণে ;
সেই তােমায়, বম্ব কি হায়, তুষিতে চায়
সামান্য নৈবেদ্য দানে।
হচ্ছে যে তােমার আলােয় ত্রিলোেক আলাে,
দেখে না তা মনে গণে;
তাই তুমি অন্ধকারে থাক্বে বলে,
দিবে বাতি শামাদানে।
স্থূল জ্ঞানীর ভুল হবে তা অসম্ভব কি,
হতে পারে সবে জানে ।
কেন তার সঙ্গে মিলে পথ ভুলে মা,
চলছে সকল বুদ্ধিমানে!
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
মিশ্ৰবিভাস -আড়াঠেকা।
(“গেল অমঙ্গল আজি মঙ্গলার আগমনে”-এর )
মহাশক্তিরূপে মা গাে বিরাজ সকল স্থানে,
সে শক্তিবিহীন স্থান নাহি কোথা ত্রিভুবনে।
~~~
হ’তে ক্ষুদ্র পরমাণু, বিচিত্র বিরাট ভানু,
সিন্ধু শৈল নদ নদী নিবিড় কানন ;
অদৃশ্য কীটাণু হ’তে, তব শক্তি মাতঙ্গেতে,
মানবে প্রকাশ মা গাে প্রাণরূপে প্রতিক্ষণে।
কি সৃষ্টি স্থিতি পালনে, উৎসাহ আনন্দ গানে,
তুমি মা অচিন্ত্য শক্তি রূপে বিদ্যমান ;
করিলে তা প্রত্যাহার, থাকে না এ সব আর,
পলকে ত্রিলােক কোথা চলি যায় কে তা জানে।
লুম্ ঝিঝিট-আড়া।
( “তােমার বিরহে মরি—সুর ),
বিনে প্রেমেরি সাধন,
কে পেয়েছে সে প্রেমসাগরে দরশন।
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
~~~~
হরি যে প্রেম-ভিখারী, যে প্রেমিক তিনি তারি,
আৰ্য্য কি অনাৰ্য কিবা চণ্ডাল বামণ
প্রেমেতে পাগল বলে, জগাই মাধাই পেলে,
পেয়েছিল প্রতি-প্রাণ রূপ সনাতন।
কি হবে পূজিলে তারে, প্রীতি-হীন অন্তরে,
দিয়ে সুবাসিত ফুল তুলসী চন্দন।
পরজ বাহার--মধ্যমান।
কি বলিয়ে ডাকিব তােমারে বল তাই ;
পিতা হয়ে পালিতেছ,
কখন জননীরূপে দেখিবারে পাই।
অসহায় শিশু যবে জননীর কোলে
আধ আধ ম-মা বলে শুন করে পান,
তখন তাহার মূলে নিরখি তোমারে,
অমনি মা বলে ডাকি কেহ না শিখায়।
শুধু জীবের জীবন বাঁচাবার তরে,
ঢেকেছ বসুধা-দেহ কত উপচারে
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
~~~
(তােমার) এমন পালন রীতি হেরি হে যখন,
ইচ্ছা হয় পিতা বলে সম্বােধি তােমায় ।
মল্লার-একতালা।
~~~~~
(“দাসীর কুঞ্জে খাক এ শর্বরী”—সুর )
তােমার মহিমা কেবা জানে ;
আমি পাপাশয়, নাহি জ্ঞানােদয়,
জানিব কেমনে।
যােগী যােগাসনে ধ্যান করে তব,
ডাকিছে তােমায় গৃহে গৃহী সব,
কূজনের ছলে বিজন বিহারী
বিহগ বিপিনে।
এই ভিক্ষা মা গাে তােমার সনে,
ফিরে আর যেন না আসি এখানে,
থাকি যত দিন থাকে যেন মতি
তােমার চরণে।
ধৰ্ম্ম ও নীতিবিষয়ক।
( প্রসাদী-“মা আমায় ঘুরাবি কত”--সুর)
ডাক তঁারে হৃদয় খুলে ;
কেন এমন ধনে রইলে ভুলে ?
কি পাপী কি অধম্ জনে,
যে তার ডাকে সরল হয়ে,
তারে অনি দেখা দেন দয়াময়,
কি বন কি জনস্থলে।
পাবে না রে এমন দিন আর,
যদি এ দিন যায় রে চলে ;
শেষে পারের কালে অশ্রুজলে,
ভাবে বসে ভবের কূলে।
(“ভেবে মরি কি সম্বন্ধ তোমার সনে”-সুর )
কি হবে ভাই ডাকলে তারে মলিন মনে?
কভু কি দেখা দেন সে জানে ?
--
সঙ্গীত কুসুমাঞ্জলি।
৬
~
( কি ফল) বাহ আড়ম্বরে, সুমিষ্ট স্বরে
স্তুতি গীতি পাঠ একতানে ?
তিনি দেখে না বাহির, জেনে রাখো স্থির,
মন জেনে ধন দেন সাধনে।
(জেনো সাধক জনের )
দেশ কাল স্থল, ভাষার শৃঙ্খল,
ভেবাে না কভু সহায় সাধনে ;
যার চিত্ত নিরমল, পিপাসা প্রবল,
সেই পায় সে আরাধ্য ধনে।
( ডাকুক্ যে সে ভাবে)
১৪
ভৈরবী-মধ্যমান।
(“কবে সমাধি হ’ব শ্যামা-চরণে”--সুর )
তােমায় ভুলে ভুলিয়ে যায় দিন যায়,
সে নহে চেতনাবান অচেতন মৃতপ্রায়।
দিবসে রজনী তার, এ জগত অন্ধকার,
তার মত নিরাশ্রয় নাহি কেহ বসুধায় ।
১৪
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
মিছে তার আসা ভবে, মানব জনম লাভে ;
সে শুধু জনম জরা মরণ যাতনা পায়।
বিষয়-আসক্তি রােগে, অরুচি অমৃত ভােগে
হয়েছে আমার হরি, বল করি কি উপায়।
( প্রসাদী-“মা আমায় ঘুরাবি কত”-সুর)
চাই না আমি ধনী হতে।
আমায় এই কোরো পাই শান্তি যাতে ।
আশার অমিত সীমা, বেঁধে দাও মা মিত পথে,
থেকে ন্যায়ের অধীন, যায় যাতে দিন,
এই কোরো মা কোন মতে।
পাপ-প্রলােভনে যখন, ইচ্ছা হয় কুপথে যেতে,
তখন রক্ষা কোরাে, দয়াময়ি,
থেকে এ সন্তানের সাথে।
সুসঙ্গ সহায় যেন, পাই জননি ভবের পথে,
যখন হবে মরুণ, রেখাে স্মরণ,
দিও না শমনের হাতে।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি। কীৰ্ত্তন-একতালা। (দয়াল দিন ত গেল সন্ধ্যা হল”—সুর ) বিনে সাধন সে ধন কে পায় বল বল এ সংসারে ; যে জন ডাকতে পারে পায় সে দেখা কি আলাে আঁধারে। যেমন ভালবাসা তেমনি চাই পিপাসা, ন’লে আশার সুসার হয় কি গো আর, মিছে ডাকা তারে। আগে মন মুকুরে মেজে তেল মলা, তবেই দেখতে পাবে অনায়াসে সে প্রাণ-সখারে। ১৭ -ঐ। ঐ- এই ত এল শমন, ভবতারণ নামটী বল ভাই; এখন প্রাণের হরি স্মরণ করি চা চলে যাই।
ধৰ্ম্ম ও নীতি বিষয়ক।
কেন কঁাদ সবে আমার অভাব ভেবে,
ফিরে দেখা হবে ক’দিন পরে
হলে এক ঠাঁই।
-~~~-
সে যে সুখের আলয় তথা নাই কোন ভয়,
রব সদানন্দ সহবাসে
উল্লাসে সদাই।
কীৰ্ত্তন -একতালা।
হরি চাও আমার পানে ;
আমি নিলাম শরণ পতিতপাবন,
আমায় রেখাে রাঙ্গা চরণে।
( দয়াময় )
আমি বুঝেছি হে সার গতি নাই তুমি বই আর,
তাই দিয়েছি ভার অধমতারণ,
এখন যা কর নিজের গুণে।
( দয়া করে )
১৭
F
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
متر پر
যাতে সুখ হবে ভেবে খেটেছি নিশি দিবে,
এখন বুঝেছি সে দুখের হেতু,
ঘুম ভেঙ্গেছে এত দিনে।
(হরি হে)
এখন এই ভিক্ষা চাই যেন অন্তে পদ পাই,
সেই নিদানকালে ডালে এসে
এসে পার কোরো দীনজনে।
( দয়া করে )
বারোয়া —ঠুংরী।
(“উঠিল ধবল নিশান”–সুর )
মিছে আশা সাধনে সুফল,
দ্বেষ হিংসা আদি রিপু থাকিলে প্রবল।
t
নাহি যার সঙ্গে তিল, কি মত বিশ্বাসে মিল,
তারে সদা বলে মন্দ নিন্দিলে কেবল ।
নিজে শুদ্ধ সদাচারী ভেবে হলে অহঙ্কারী,
সদা যদি বিষদৃষ্টি বিপক্ষে কেবল।
১৮
ধৰ্ম্ম ও নীতি বিষয়ক।
পদ অর্থ রেখে মূলে যদি ধৰ্ম্মপথে চলে,
মুখে ধৰ্ম ধৰ্ম্ম মাত্র অন্তরে গরল।
অতএব যদি পাবে সে বিশ্ব-আরাধ্য-দেবে,
ত্যজি বক্ৰগতি কর চিত্ত নিরমল ।
२०
( ফিকিরচাদী “বাশের দোলাতে”-সুর)
মরা যে মরা না রে মনে রেখাে,
শুধু সে যে আড়াল হওয়া ;
ঠিক যেমন বিদেশ হতে বিদায় হয়ে,
স্বদেশেতে চলে যাওয়া।
ইহকাল বড়ই গােল বিমাতার কোল,
কঠিন হেথা শান্তি পাওয়া;
তাইত স্বদেশে গিয়ে সুখী হতে,
নিজের মায়ের কোলে যাওয়া।
যে বলে এই খানে শেষ তার দফা শেষ,
কেবলি তার খাবি খাওয়া ;
কৰি কয় শান্তি দিও মরণকালে
দয়া করে মহামায়া ।
১৯
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
( ফিকিরচঁাদী “বাঁশের দোলাতে উঠে”—সুর )
যদি অসত্যপথে চললে রে ভাই
বলে হরি কি ফল আছে ;
কেটে গাছ গােড়া পেড়ে জাগা ছেড়ে
আগাতে জল ঢাছ মিছে।
মনে পাপ থাকে যদি নিরবধি
ডাকলে হরি দেন্ না সাড়া ;
কখন হন না সদয় পাপীর উপর,
পাপ পুষে ঠায় ডাকা মিছে।
হরি যে দয়াল অতি পাপীর গতি
এ কথা ত সত্য বটে
কিন্তু ভাই জ্ঞানকৃত পাপে পাপীর
মাপের আশা নাই তার কাছে।
হরি নাম ক’জন'বলে হৃদয় খুলে,
প্রাণ গলে কার হরি বলে ?
= ক + দ =
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
مهما
দেখতে পাই টীয়ের মতন বলতে বুলি
প্রাণের টান সেই গাছে গাছে।
২২
মল্লার-একতালা।
(“আমি কেবল নিদানে”—সুর )
-~-
কেন শােকে হলে অচেতন ;
ভাব একবার ভবে কে বা কার
মুদিলে নয়ন।
ধন পুত্ৰ কিবা বিষয় বিভব,
কিছু দিন বৈ নহে ত সে সব,
কাল-করে হবে কালে পরাভব,
কে করে বারণ।
যারে ভক্তিগুণে করিলে বন্ধন,
শােক তাপ দুখ না থাকে কখন,
সে করুণাধারে প্রীতি-পুষ্পহারে
কর রে পূজন।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
ভৈরবী-মধ্যমান।
(“কবে সমাধি হব শ্যামাচরণে”-সুর)
{
কেমনে পূজিব তােমায়,
ওহে দয়াময়,
অপরাধ-অপবিত্র লয়ে
মলিন হৃদয়।
দেখিলে পরের দোষ,
আপনি উপজে রােষ,
বলে তারে কত মন্দ,
করি হে পাপ সঞ্চয়।
স্বার্থ পরার্থ বিচার
একত্রে পড়িলে ভার,
তব দত্ত ন্যায়-বুদ্ধি
তখনি পায় বিলয়।
নিজে কত অনিনিত,
ভাবিনা তা কদাচিত,
-
२२
ধৰ্ম্ম ও নীতি বিষয়ক ।
مم
কিন্তু পরনিন্দা করে’
অতীত করি সময় ।
মনে ভাবি পাপাচার
করিব না কভু আর,
অলক্ষ্যে আসিয়ে রিপু
করে মােরে পরাজয়।
এমন অশুদ্ধ মনে
তােমারে পূজি কেমনে,
ল’বে কি পাপীর পূজা,
হবে কি মােরে সদয় ?
ললিত -আড়াঠেকা।
(“অয়ি মুখময়ী উষে”—সুর )
সংসার অসার বলে’ গাও গীত প্রতিক্ষণে,
কিন্তু আসক্তির শেষ হেরি তব আচরণে ;
মুখে বল “ধনমান চাই না হে ভগবান,”
অপচয়ে কপর্দক দেখি ব্যথা পাও প্রাণে।
৫)
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
~~~~~
যােগ যাগ সার ধৰ্ম্ম গৃহধর্ম অপকৰ্ম্ম,
এই মর্মে বল কত শাস্ত্রের বচন ;
এ দিকেতে ভােগাসক্ত মিষ্টে মাছি অনুরক্ত,
অথবা চুম্বকে লােহা আকৃষ্ট হেরি নয়নে।
~~~
মােগীঋষি যদি পাও তার সঙ্গে বনে যাও
এই ভাব প্রকাশক বল বাক্য আলাপনে ;
কিন্তু সুরম্য আবাসে বাস কর মহােল্লাসে,
ভূমিতে না দাও পদ যাতায়াত কর যানে।
সত্য যা মঙ্গলকর সেই ত আদেশ তার
তাই ত আসক্ত সবে আছ এখানে ।
হয় যারা পথহারা দুঃখ কষ্ট পায় তারা,
নতুবা চিনে চলিলে পরিতােয পায় প্রাণে।
( ফিকিরচাদা “বাঁশের দোলাতে উঠে”-সুর)
কি হবে নমাজ পূজায় উপাসনায়,
চার্চে গিয়ে ধ্যান মননে ;
হলে মন ভাল ভাই ধৰ্ম্মের আলাে
ফুটে না মানব-জীবনে ।
ধৰ্ম্ম ও নীতি বিষয়ক।
মুখেতে প্রভুর প্রতি কতই প্রীতি
দেখাচ্ছ সাধু-বচনে ;
কাজে তার আদেশ হেলা করে, খেলা
কছ দেখি পাপের সনে।
k
রয়েছে বিষয় আশয় টাকাকড়ি
পদের লাভালাভ যেখানে ;
সেখানে অকাতরে দিচ্ছ বলি
সত্য ন্যায়ে হৃষ্টমনে।
হিংসা দ্বেষ ক্রোধ অভিমান ছিল যেমন
তেমনি আছে সমান সমান ;
কমে নাই লােভ-লালসা পাপের বাসা
বুদ্ধি আরাে শতগুণে।
ভৈরবী -আড়াঠেকা।
(“ভুল না ভুল না মন নিত্য সত্য-সুর)
অজর অমর জ্ঞানে চলিয়ে সংসার-পথে,
কর ধনজ্ঞানার্জন অচল অটল চিতে।
.
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
হেলায় হারায়ে পথ হােয়য়া না রে প্রতারিত,
বােলো না ‘হ’ল কপালে দুখ অদৃষ্ট দোষেতে।
বােলো না ‘বৃথা জনম বৃথা এ সংসারাশ্রম।
অলীক ভােজের বাজী কেবল অনর্থ এতে।
কর সত্য আচরণ বল রে সত্য বচন,
মহাসত্য হরিনাম পাথেয় লও রে সাথে।
২ ৭
বারোয়া -ঠুংরী।
(“উঠিল ধবল নিশান”-সুর)
কেন পরধর্মে কর দ্বেষ,
স্বধর্ম গরিমা ব্যাখ্যা করিয়ে অশেষ।
যেন ভাব মনে মনে স্বর্গরাজ্যে তােমাবিনে,
অপরের তরে আছে নিষেধ প্রবেশ।
কথায় বুঝাও লােকে বিধর্মী যাবে নরকে,
তুমি যাবে স্বর্গপুরে বিধির আদেশ।
।
ধৰ্ম্ম ও নীতি বিষয়ক।
শান্ত হয়ে দেখ ভেবে এক তীর্থযাত্রী সবে,
পথমাত্র ভিন্ন বিনে নাহিক বিশেষ।
ত্যজ জ্ঞানের গৌরব দেখিবে অভিন্ন সব,
ভেদ বুদ্ধি গিয়ে হবে কল্যাণ অশেষ ।
seege~-
২৮
বেহাগ-আড়া।
সেইত প্রকৃত পূজা করে বিশ্ববিধাতারে,
যে করে করমকালে ধর্মরক্ষা এ সংসারে।
সাধিতে যে নিজ হিত করে না পর অহিত,
ভীত অসত্যভাষণে প্রত্যক্ষ জানিয়ে তারে ।
পিতামাতা গুরুজনে যে সেবে সদা যতনে,
সন্তান সন্ততিগণে করে শিক্ষাদান
যেবা সতীব্রত-পতি, সাধুসঙ্গে যার মতি,
স্বদেশ-মঙ্গলে স্বার্থ যে জন ত্যজিতে পারে ।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
(“ভেবে মরি কি সম্বন্ধ”—–সুর)
বয়ে যায় না স’য়ে যায় যে এ সংসারে,
ধন্য সেই যে জন সহ্য করে ।
সহিষ্ণুতা বল যার আছে সম্বল
সেই ত ধাৰ্মিক ধরাতলে ;
তার কি ধৰ্ম্ম সাধনে সুনীতি রক্ষণে
সক্ষম সে সদা অকাতরে।
(এ সংসারের মাঝে )
অধীরতা শুধু ক্রোধের নিদান
পতনের হেতু বিধির বিধান।
হয় জয়যুক্ত সেই ধৈর্যশীল যেই
চিরকাল কি অমরে নরে।
(এ যে বিধির বিধান)
f
২৮
ধৰ্ম্ম ও নীতি বিষয়ক।
~~~
মিশ্র-রামপ্রসাদী।
(“প্রাণত অন্ত হল আমার”-সুর )
দিন ত গেল বয়ে দয়াময়!
দীনের উপায় বল,
ওহে শমনদমন শমন এল।
~~~
নিজগুণে তরে যাব
এমন নাহি সম্বল
যদি কাঙ্গাল বলে কৃপা করে,
দাও হে ছায়া সুশীতল।
পুণ্যবলে বলী যারা
পা’বে চরণ অনায়াসে
তা’তে অগতির যে গতি তুমি
জাবে কিসে ভূমণ্ডল ?
প্রসাদী।
(“মা আমায় ঘুরাবি কত”—সুর )
ডাক্ব মায় তার সময় কি রে ?
যখন ইচ্ছা হবে ডাব তারে।
২৯
।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
~~
যে অবাধ্য মায়ের ছেলে
ডাকে না ভুলে মা বলে,
থাকে বিষয় কৰ্ম্মে সদাই রত,
সময় বাধা তারি তরে।
সন্ধ্যা আহ্নিক পূজার্চনা,
সকলি তার উপাসনা ;
তাই কি সাধু ভাষায়, না ডালে ঠায়,
তার পানে মা চান্ না ফিরে
কবি বলে হবি যদি,
হবিরে ভাই মায়ের ছেলে ;
তবে করিসনে পাপ, পাপের আলাপ,
অনায়াসে পাবি তারে।
বারোয়া—আড় খেমটা।
(মুখ ভােগ সংযােগ”—সুর )
হরি হে করি এই মিনতি তব চরণে, ।
সদা এ সংসার পথে থেকে সাথে
(আমার) সহায় হােয়াে নিশিদিনে।
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
مس
আপদে বিপদে শশাকে, ডেকে যেন পাই তােমাকে,
ভেসে যেন যাইনে হরি দেখাে দেখাে,
আমায় দেখে দেখে সে দুর্দিনে।
সম্পদে সুমতি দানে সুপথে রেখে সন্তানে,
দেখো পাপ প্রলােভনে যাইনে ডুবে,
যেন যাইনে ডুবে দেখাে দীনে।
অন্তিমে সহায় হােয়াে, ডাকিলে উত্তর দিও,
পরে লয়ে যেয়াে দাসে দয়া করে,
আমায় দয়া করে নিজের গুণে।
মিশ্রদেশী—তেওট।
(“আর বলব কি যেমন তােমার ইচ্ছা হয়”--সুর)
আর কত দিন রাখবে ভবে ভগবান ;
হলাে হাট করা শেষ, ছিল যেমন আদেশ,
এখন যেতে হয় হ’ল বেলা অবসান।
৪
খেটে হােয়েছে তনু ক্ষয়,
পেয়েছে শক্তি লয় ওহে দয়াময় ;
এখন লয়ে যাও তােমার কাছে জুড়াই প্রাণ।
},
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
منم
যখন ডাক দিব বােলে ‘হরি,
পার কোরো কৃপা করি এ গতিহীনে,
ওহে অগতির গতি করুণা-নিধান ।
৩৪
~
ভৈরবী—আড়াঠেকা।
(“ভুলনা ভুলনা মন নিত্য সত্য”—সুর )
কর কি বিশ্বাস হরি আছেন বলে অন্তরে,
পাপ পুণ্য সাক্ষী তিনি ভেবে ব্যাপ্ত চরাচরে।
তাই যদি দৃঢ় মনে, পাপেতে আসক্তি কেনে,
কেন বাহিরে চটক নরক হেরি ভিতরে।
মুখে করি নাম গান কার্যে কর অসম্মান,
পাবে কি ভবে নিস্তার এমন নাস্তিকাচারে ?
ভৈরবী—আড়াঠেকা।
(“ভুল না ভুল না মন নিত্য সত্য সদাত্মারে”—সুর)
ভেবনা কুকাজে কভু সুফল ফলে সংসারে,
গিলিয়ে গরল কোথা অমর হয়েছে নরে ?
৩২
ধৰ্ম্ম ও নীতি বিষয়ক।
যেমন করন যার, মিলে ফল মত তার,
সাধু কাৰ্য্যে সুখ শান্তি দুঃখ কষ্ট অনাচারে ।
পাণ্ডবে করি বিদ্বেষ কুরুবংশ হ’ল শেষ,
রাবণ সংশে হত হ’ল কৃত পাপাচারে।
( প্রসাদী—“মা অামায় ঘুমাবি কত”—সুর )
মােহকত পাপ হতে
তার’ বলব আর কোন মুখেতে ।
ঐ বলে মা যখন কত,
হচ্ছি রত পাপাচারে,
তখন আমার মতন পাপাচারী
কে তার আছে এ জগতে ?
কৃপা করে হাত ধরে মা,
যদি বাঁচাও নিজের গুণে ;
নলে জেনেছি সার, নাই গতি আর
যৈ ভেসেছি পাপের স্রোতে।
=========
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জল্কি।
~~~~
৩৭
যােগীয়া—একতালা।
(“এ যাতনা আর সয় না জননী জগদবে”—সুর )
চেয়ে দেখ নাথ এ অধম সন্তানে;
পাপে তাপে জর জর,
ত্রাণ কর ছায়া দানে ।
~~
তুমি বিনে বল আর, কে করিবে নিস্তার,
( আর কাতরে তারে কাতরশরণ !
আছি শত দোষে দোষী
তবু তােমারি সন্তান,
ক্ষমা-গুণে দয়া কর এ শরণাগত জনে।
৩৮
(প্রসাদী—“মা আমায় ঘুরাবি কত”সুর)
কেবল বাঁচি তােমার গুণে,
ন’লে এক পলে হারাই জীবনে।
কি জন নিবাস স্থান, অথবা বিজনদেশ,
থাকি যথা যখন, পতিতপাবন,
রক্ষ আসি সযতনে।
০৪,
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
~
তুমি যদি সঙ্গছাড়া হ’তে, হ’ত কি দুর্দশা,
মনে শঙ্কা হলে, মাভৈ বলে
নিত কোলে কে যতনে ?
~~~~
মিশ্রভূপালী—ঢিমেতেতালা।
(“দেখে এলেম বৃন্দাবনে”–সুর )
হরি হে বুঝেছি মনে, তােমাতে নির্ভর বিনে,
মিছে সুখ শান্তি লাভে যতন করা জীবনে।
যে বলে আপন বলে শুধু এ জীবন চলে,
তার ভাগ্যে ফলে, যথা তরি কর্ণধার বিনে।
তাই হে করেছি সার, দিয়েছি তােমারে ভার,
যা কর যে রূপে রাখ যা ইচ্ছা তােমার ;
যষ্টি সম করি হাতে, চলিব সংসার-পথে,
ছাড়িব না কভু তােম কি সুখ দুখের দিনে ।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
E
৪০
বেহাগ-যৎ ।
(“নিদয় হয়ে বিদায় চেও না”—সুর )
আনন্দ ভিখারী আমি কর হে আনন্দ দান,
তৃষিত চাতক আমি তুমি বারি ভগবান্ ।
~~~~~
আনন্দ না পাই খুজে, ভবেরবিভব মাঝে,
কেবল অশান্তি হেথা, নিরানন্দে জরে প্রাণ।
চাইনা সম্পদ, যদি পাই হে আনন্দনিধি,
রাখি পূরে হৃদিমাঝে, শীতল করি এ প্রাণ।
বঞ্চিত কোরাে না দাসে, কর পূর্ণ অভিলাষে,
এসেছি তােমার দ্বারে, আর কোথা আছে স্থান ?
৪১
ভৈরব-একতালা।
“দিন গত কিন্তু নহে ও রাম”—সুর )
কর হরিনাম, প্রাণেতে আরাম
পাইবে, যাতনা রবে না আর।
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
জেনাে কখন তা বিনে আর,
সুখী হবে না সংসারে, পাবে না আরাম,
হবে না হবে না আশার সুসার ।
~~~১৯
পার যদি প্রাণে পূরিতে এ ধনে
অদৈন্য হবে অচিরে,
( যাবে) পিপাসা সুদূরে, শান্তির সাগরে
ভাসিবে, পাইবে আনন্দ অপার।
এমন সুতার নামামৃত আর
মিলিবে না এ সংসারে-
( এ নাম) যােগি-জন-ধন, ভোগীর ভূষণ,
শােকে তাপে দুখে হেতু সান্ত্বনার।
৪২
কালাংড়া -একতালা।
(“এ কলঙ্ক তোমার কালা”—সুর)
এই ত ভবেরি খেলা,
হরষ
বিষাদর
মেলা,
সি কান্না নিরন্তর (হেরি) যথা তথা দিন দুবেলা।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
منها
কেহ ধনী দুঃস্থ কেহ, (কেহ) রুগ্ন কানাে সুস্থ দেহ,
কেহ দানে অকাতর (কারাে) কঁাধে হেরি ভিখের ঝােলা।
কোথা সতী পতি-পাশে, ( বসি) ভাসিছে সদা উল্লাসে,
কোথা দয়িত-বিরহে (কেহ) প্রকাশিছে প্রাণের জ্বালা।
~~~~
হেরি কারাে অনায়াসে, (হৃদে) জ্ঞানের আলোেক বিভাসে,
শিক্ষা কি সুদীক্ষা গুণে (হেরি ) যায় না কারাে মনের মলা।
কেহ অট্টালিকা বাসে ( আছে ) খাচ্ছে কত অনায়াসে,
ভাঙ্গা ঘরে বসত, কারাে (হেরি) ভাত মেলা ভার হয় দুবেলা।
কেন যে এ বিভিন্নতা (বল) সাধ্য আছে জানবে কে তা,
কি মানব কি দেবতা, (কেবল) জানেন তিনি যার এ লীলা।
৪৩
।
বারোয়া—চুংরী।
(“উঠিল ধবল নিশান”–সুর )
সত্যপথে কর রে গমন,
বল সত্য কর কাজে সত্য আচরণ।
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
~~
চলিছে সংসার কাৰ্য, জেনাে সত্যে অবধাৰ্য্য,
সত্য বিনে ধৰ্ম্ম রক্ষা না হয় কখন।
সত্যই সুখের হেতু, সত্যই স্বর্গের সেতু,
“সত্যমেব জয়তে” জীবন্ত এ বচন।
৪৪
( ঐ সুর)
পরনিন্দা কর পরিহার ;
পরের পীড়ন পাপে ভুববা না রে আর ।
পরের দোষ ঘােষণা করিতে হলে বাসনা,
ভাব আগে চিত্ত কত নির্দোষ তােমার।
যে তােমা হতে প্রবল, সে যদি প্রকাশে বল,
কি বলে অন্তর তব সে পীড়নে তার ৭
(খ্যাপার সুর।)
চল মন যাই সেখানে,
নাই যেখানে দুঃখ সাতনা প্রাণে ;
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি'।
مه
করে না হিংসা পরে, দ্বেষ করে না
যথায় একে অন্য জনে।
নাই দলাদলির কথা—অনৈক্যতা,
অপ্রীত ভাব প্রতি জনে ;
নাই যথায় কথায় কথায় ছল চাতুরী,
প্রতারণা নাই যেখানে।
নাই যথা পরের পীড়ন পাপালােচন,
স্বার্থমূলে সকল বচন ;
ধনীর মন্দিরের পাশে উপবাসে
যায় না দীনের দিন যেখানে ।
যেখানে নাই বাহিরে সভ্যতা-ভান,
অসভ্যতা সঙ্গোপনে ;
যথা না দেশাচারে সমাদরে,
অনাদরি ধর্মধনে।
কবি কয় ভাবুছ কেন বিষাদ প্রাণে,
এ দুখনিশি অবসানে ;
দেখবে সব কালের বশে পাপের বাসা
পুড়ে যাবে জ্ঞানাগুনে।
৪b
ধৰ্ম্ম ও নীতি বিষয়ক।
৪৬
মূলতান—একতালা।
(“দোষ কারো নয় গো মা”-সুর)
যদি হবে ভবে পার,
তবে কি নিশি কি দিনে ঘুমে জাগরণে
হরিনাম কর সার।
শুধু নাম নিলে হবে না রে ফল,
রাখ হৃদে বেঁধে সে পদকমল,
প্রতি-পুষ্প-হারে, পূজ রে তঁাহারে,
পরিহরি পাপাচার।
আছে বিষয়-আসক্তি যে বিষম রােগ
করিয়ে হৃদয় অধিকার,
হবে পার যদি, লও নিরবধি,
হরিনাম মহৌষধি তার ।
যে কালের করে নাহি কার ত্রাণ,
দীন ধনিজন সকলি সমান,
যায় তার ভয় ও অভয়পদ
সম্বল এ ভবে যার।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
৪৭
( প্রসাদী—“মা আমায় ঘুরাবি কত”-সুর)
এ রােগের ঔষধি কোথা ;
আছি রুগ্ন অতি, নাই শকতি,
জানাই সবে নিরােগিতা।
পরে জানাই পরম যােগী,
কই কত ধরমের কথা;
জলে হৃদয় মাঝে পাপের অনল
বাইরে দেখাই শীতলতা।
“ক্ষমা কর” বলে যে পাপ
স্বীকার করি তােমার কাছে ;
সে সব গােপন কৰি লোকসমাজে,
প্রমাণ করি পবিত্রতা।
।
পূজি তােমায় সে সব মিছে,
করি কেবল লােকের পূজা ;
আমার ভজন সাধন, মুখের বচন,
ব্ৰত কেবল লােকিকতা।
৫
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
-~-
দে মা দণ্ড এ পাষণ্ডে,
যত ইচ্ছা থাকে মনে ;
দ্বিজ দুর্গা বলে কোন্ মুখে আর
ক্ষমা চাব জগন্মাতা !
~~~৯৯৯
৪৮
খাম্বাজ -চিমেতেতালা।
(“কত কাল পরে বল ভারত রে”-সুর)
কৃত পাপ উপার্জিত সম্পদে কে,
বল ভুক্তভােগী থেকে মুক্তি পাবে ?
আগে না ত্যজিলে কখনাে সে সবে,
ভেব না ভেব না কৃতকার্য হবে।
নিজ কণ্ঠদেশে বাঁধিয়ে পাষাণে,
কেবা শক্তি ধরে কোথা সন্তরণে?
রাখি পাপ মলা হৃদয়ের মূলে,
“কি হবে ডুনালে তনু গঙ্গা-জলে ?
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
৪৯
ঝিঝিট—যৎ।
(“ভাব দেখি মন সে দিন কেমন—সুর )
রসনা শাসন কত দিনে হবে আর,
কবে যাবে পাপ-অসত্যের অধিকার।
হরিনাম সুধা যা হতে পারে বরিষণ হতে,
তা হতে পরের পরিবাদ কেন আর ?
সরস সঙ্গীত যার, দ্বিতীয় অমৃত ধার,
তা হ’তে অসতত্য কেন ডুবিল সংসার !
আছে জীবিকার পথ, খােলা সত্য শত শত,
কেন তবে করে এত তার ব্যভিচার ।
বিধির এমন দানে, কেন হায় অকারণে,
কেন করে কলঙ্কিত নাম রসনার !
সত্য পালনের তরে, যাদের খ্যাতি সংসারে,
কেন তা সবার পরবংশে অনাচার।
কেন হােল এ দুর্গতি, এত দূর অবনতি,
কবি বলে অধীনত এর মূলাধার।
১
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
ভৈরবী পােস্ত।
(“ন্যাংটা মেয়ের এত যে আদর”—সুর )
কৰ্ম্মকালে ধৰ্ম্মরক্ষা করিছে ক’জন ?
ধৰ্ম্মে কর্মে তাই এই হেরি অমিলন।
~~~~
মুখে হরিনাম গান, কিন্তু অর্থগত প্রাণ,
স্বার্থের সেবক কার্যে হেরি অনুক্ষণ ।
০
“সাধুতা ধৰ্ম্মের সার” এই বাক্য মুখে যার,
অবাধে সে করে পর বৈভব হরণ ;
কথায় সত্যের দাস, পায় যারে পরকাশ,
কাৰ্যকালে করে সে অসত্য আচরণ।
“অহিংসা পরম ধৰ্ম্ম,” না জানে কে এর মর্ম ?
তবে কেন হেরি এত পরের পীড়ন;
হায় কবে মিলে সবে, “আত্মবৎ সৰ্ব্বভূতেষু,”
কাৰ্যকালে এই মন্ত্র করিবে সাধন ।
3
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
ঐ—ঐ।
(“জানি গাে জানি গাে তারা তুমি যেমন ভোজের বাজী”—সুর )
তিনিই মানবকুলে, দেবতা এ মহীতলে,
জানেন যে জন, খাঁটি হওয়া যায় মাটি হলে।
}
যিনি নিয়ত নীরবে, নিজের অভাব ভেবে,
( সদা) অবনত, মুক্তি-আশে শ্রীহরি-চরণ-তলে।
জানিয়ে আদেশ তার, সংসারে আসক্তি যার,
( জানি) সৰ্ব্বকার্যে সাক্ষী রে, আশঙ্কা অধৰ্ম্ম বলে।
বিধির আদেশ জ্ঞানে, যিনি কৰ্ম্ম অনুষ্ঠানে
হেরি) সদা অনুরক্ত, যার দৃষ্টি নাই সে কৰ্ম্মফলে।
বাহিরে জালিতে আলো, যিনি না বাসেন ভাল,
যার, যাবে কিসে মনের আঁধার, এই ভাবনা প্রতিপলে।
( প্রসাদী—“মা আমায় ঘুরাবি কত*-সুন্ন )
কেন মা পরীক্ষা এত
কর অধম সুতে অবিরত ?
*
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
~
এক তুফান যায়, আরটী আসে,
আকুল প্রাণে মরি ত্রাসে;
জ্ঞান হয় ডুবলাম এবার, রক্ষা নাই আর,
প্রাণ হয় আমার ওষ্ঠাগত।
৯
অনেক সময়, ভুলে তােমায়,
থাকি মা সংসারের মায়ায় ;
তাই কি মন থাকে যায় ও রাঙ্গা পায়,
তারি শিক্ষা দিচ্ছ যত ?
হই না কেন পাপী আমি,
সন্তান মা তােমারি ত ;
করি এই ভিক্ষা রেখে কোলে,
দণ্ড দিও মায়ের মত।
দিও না ভয় আর অভয়া,
দুর্গারে কর মা দয়া ;
দিয়ে চরণ-তরি কূলে নে মা,
আ অকূলে ভাব কত ? *
দ্বিতীয় পুত্রের কঠিন বসন্ত রােগের সময়ে লিখিত হয়।
৪৭
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি। মিশ্র ভৈরব- -একতালা। (“দিন গত কিন্তু নহে ও রাম”--সুর হ’ল নিশি ভেরি, কেন ঘুমে ঘাের হয়ে র’লে বল অচেতন। *, জাগ জেগে এ সময়ে সবে, জেগে কর হরিনাম, জুড়াইবে প্রাণ, সে আনন্দ রবে ভরিবে ভুবন। ঐ শুন সুখে, বিহঙ্গমগণ, মিলিয়ে মধুর তানে,--- হয়ে আনন্দে বিভাের, প্রল অন্তর, নামমৃত স্রোতে ভাসায় বিজন। হেসে উষা আসি পূরব-আকাশে বরণ করিছে তারে ;-- (লয়ে) কুসুম-সুবাস বিতরে প্রকৃতি, প্রেমা-নীহার করে বরিষণ। , ৪
ধৰ্ম্ম ও নীতি বিষয়ক।
৫৪
মিশ্র মূলতানী
আড়খেমটা ।
(“মার কথা এখন পােলাে মনে”–সুর )
-~~~
তুমি কার কে তোমার এ ভবে,
বল দেখি কার লাগিয়ে কঁদছ তবে।
এসেছিলে একা, হয়েছিল দেখা
পরে দারা সুত বন্ধু সনে ;
ও সব ছিল না যখন, র’বে কি তখন,
চিরকাল কভু কি সম্ভবে ।
চির সহচর নাই যার পর,
জনম মরণ নাই যার উপর ;
চেয়ে দেখ জ্ঞান-চোখে, দেখিবে সমুপে,
হৃদয় মাঝারে সে বান্ধবে।
০
৫১
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
মিশ্র মূলতানী—কাওয়ালী।
(“আছি মা তারিণী ঋণী ত
তাের যাবি যদি গৃহবাসিগণ,
জুড়াতে এ জীবন,
সেই অগাধ অমৃত জলে এস ডুবিগে সকলে,
পাপ তাপ হয়ে যাবে বিমােচন।
রােগ শােক জরা ভয়ে অনিবার,
কালিম হ’তেছে কায় দেখ চেয়ে একবার,
এর ঔষধ এ ভবনে নাহি আর,
বিনে সেই শ্রীহরি-চরণ-সার ;
এস চল যাই ত্বরা করি,
গৃহ-বাস পরিহরি,
লইগে সে ভয়-হরণে শরণ।
।
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
~~~
-~~
মিশ্র ইম—একতালা।
(“এ লাঞ্ছনা কেন জননী”—সুর)
জাগো জাগাে গৃহবাসিগণ,
কেন আর ঘুমে অচেতন ,
জাগিয়ে আনন্দ রবে হরিনাম গাও সবে,
হৃদয় শীতল হবে, হবে পাপ বিমােচন।
পাপী তাপী দুরাচার ঘুচাতে পাপ সবার,
এসেছে এ সুধাময় নাম এ দেশে ;
অমিলন অন্ধকার র’বে না রবে না আর,
হবে নামামৃত পানে প্রাণে প্রাণে মিলন।
মিশ্র বিভাস-আড়াঠেকা।
(“গেল অমল আজি মঙ্গলার আগমনে---সুর)
কেবল তব করুণা ভরসা করিয়ে ভবে,
জগত জননী মা গাে জীবিত রয়েছি সবে।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
এ কোমল কুমারীরে বাঁচালে যতন করে,
তাই আজ এ ভবন পূরিল আনন্দ রবে।
মায় করি প্রতিনিধি, স্তনদুধে নিরবধি
পােষণ করিয়ে এরে আনিলে সপ্তম মাসে ;
আজ হ’তে রেখে পায়, অন্নদানে বালিকায়
পালন কর জননি যাবত জীবিত র’বে। *
~~~~~~
৫৮
মূলতান—একতালা।
(“দোষ কারাে নয় গাে মা-সুর)
কত ভ্রম সুখাশায় ;
যারে ভাব দেবে সুখ, সেই মনােখ
বিধানিছে তােমায়।
স্বপনে সম্পদ পেয়ে যথা হাতে,
জেগে বিষাদিত হতে হয় চিতে,
তেমতি ধরার সুখ আস্বাদন,
পরে পরিতাপ পায়।
* জনৈক আত্মীয়ের কন্যার অন্নপ্রাশন উপলক্ষে রচি।
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
~~~
কিম্বা মরুভূমে, মৃগ পিয়াস নাশিতে
আশা করি প্রাণে বেগেতে ধায়,
শেষে হয়ে প্রতারিত পরাণ তেয়াগে ;
জান না এ যে তারি প্রায় ;
তাই বলি শুন ডুবো না ডুবাে না,
মার মাছ বারি ছুয়াে না ছুয়াে না,
তবেই জীবনে মরণে সান্ত্বনা
পাইবে এ ধরায়।
~~~~
ঝিঝিট-মধ্যমান।
(“প্রেমব্রত আজ আমার”-সুর)
ভালবাসা আগে চাই
কি ঘরে
তবে ত কুশলে এ জীবন যাবে জেনাে ভাই।
কি পরে,
প্রথম পরীক্ষাস্থল, জেনাে এই ধরাতল,
হেথা কৃতকাৰ্য নলে
পরত্রে পাবে না ঠাই।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
প্রত্যক্ষ দেবতা ঘরে, না সেবি পিতামাতারে,
পূজিলে বিশ্ব-মাতারে,
কি সুসার বল তাই।
কি আপন কিবা পরে, না বাঁধিলে প্রেমভােরে,
বল সে প্রেম-সাগরে
কে ডুবিতে পারে ভাই।
{
কালাংড়া—আড়খেমটা।
(“রমণীর মন কিসে কঠিন”-র )
হবে যে মরণ তা কি মনে পাশরিলে মন,
আয়ুঃশেষ হয়ে এল আশা প্রবল এখন।
সমবয়সী যে সব, ছিল স্বগণ বান্ধব,
দেখিলে স্বচক্ষে তারা গেল শমন-ভবন ।
মনে কর নিরন্তর, যেন হয়েছ অমরু,
ন’লে কেন কর কাজ, 'অমর হলে যেমন ?
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
বিভাস-একতালা।
(“কোথা রে লক্ষ্মণ করিয়ে যতন”-সুর )
geance
ফুরাইল দিন এত দিনে সব,
মিটিল ভবের যত লীলা খেলা ;
কর রে চিন্তন গত আচরণ,
করেছ কি মন করিয়ে হেলা।
ছিল যবে তব সময় সমুখে,
চাও নাই মন বারেক সে দিকে,
যাবে দিন সুখে চিরদিন, এই
হৃদয়ের ভাব ছিল দুবেলা।
মনােহর বেশ ভূষা, অনিবার
ছিল তব কাছে সমাদর যার,
স্নেহের প্রতিমা গৃহ পরিবার,
এ সব কি সাথী হবে এবেলা?
৪
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
risas
(“ভেবে মরি কি সম্বন্ধ তােমার সনে”-সুর)
জীবন সংগ্রাম কর সাবধানে ;
টলাে না বলাে না পারিনে।
রােগ শােক ভয় মৃত্যু অপচয়,
বড়ই দুর্জয় বিপক্ষ সেনা ;
তারা না মানে বারণ, বড়ই দুর্জন,
দয়া মায়া নাই তাদের প্রাণে।
(ক)
কোথাকারে নাই পালাবার ঠাই,
সন্ধি ছেলে নাই তাদের সনে ;
সময় অসময় কারে যে কোথায়,
আঘাতে আসিয়ে সঙ্গোপনে।
(নাই)
(হলে)
৫
অধৈৰ্য অধীর আঘাতে অস্থির,
অধিক বিপদ তাদের বাণে ;
যে হয় যতই দুর্বল তারি প্রতি বল
প্রকাশে আসিয়ে প্রতিক্ষণে।
(পায়)
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
~
সেই ত নিস্তার, এ সংসারে যার
ধর্ম-বৰ্ম্ম বাঁধা আছে প্রাণে;
আছে নিরন্তর বিশ্বাস নির্ভর
অগতির গতি ভগবানে।
(আর)
~~~
(ঐ সুর )
কত দিনে যাব সে আপনার দেশে;
ত্যজি হায় এ বিদেশের বাসে।
(হেথা)
কেন এসেছিলাম, কি কাজ সাধিলাম,
কেবল খেটে ম’লাম দিবা নিশে;
কিছু না পেলাম বিশ্রাম, প্রাণের আরাম,
কেবল জ্বলে মলাম।চিন্তা-বিষে।
ছিল)
মনে বড় আশা, পাব ভালবাসা,
সুসঙ্গে গোঁয়াব মিলে মিশে ;
এ যে বিখ্রীত তার, মরীচিকা সার,
প্রাণ যায় যে পরে পিয়াসে।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
(যারা)
আপনার জন, পুত্র পরিজন,
বলে খ্যাত শুনি হেথা এসে ;
এবে দেখি সে সকল মায়ার শৃঙ্খল,
বন্দী করে বধে, অবশেষে।
(আমি)
করি কৃতাঞ্জলি ডাকি মা তােমারে,
কারা-মুক্ত করে লও আমারে,
দিয়ে চরণে আশ্রয়, দেও মা অভয়,
অভয়দায়িনি, ত্বরা এসে।
৬৪
বিভাস -একতালা।
(“কার প্রাণ নাশন করিস রে ভাই”—সুর)
সংসার-সাগরে করিয়ে মন্থন
কেহ লভে সুধা কেহ বা গরল
দেয় সাক্ষ্য তার প্রতি ঘরে ঘরে,
কিবা দুঃস্থ ধনী প্রবল দুৰ্বল।
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
~-
দেববুদ্ধি যারা অতিনিষ্ঠমতি,
করে লাভ সুধা এ সাগর মথি,
অমরত্ব পায় থেকে বসুধায়,
ভােগে নিত্য সুখ শান্তি নিরমল।
অসুর-প্রকৃতি যে দুষ্ট দুর্জন,
মত্ততার বশে অন্ধ অনুক্ষণ,
তার কৰ্ম্ম-দোষে ফলে নিত্যফল,
এ সিন্ধু মন্থনে শুধু হলাহল।
পিলু-পােন্ত।
(“বি না করি মনে মন কি মানে বাঁশী শুনে”-সুর)
চল জীবন-তরি বেয়ে অতি সাবধানে,
হয়ে নিপুণ রেখে নজর সমুখ পানে।
প্রতিকূল অনিল প্রবাহে কবে কে জানে,
উঠি তুফান তরি ভেঙ্গে মারা যাবে প্রাণে।
আবৰ্ত্ত আছে কত জান না ত স্থানে স্থানে,
ন’লে সতর্ক, তরি ডুবে যাবে তার টানে।
.
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি। 5&ce- হরিনামের পালি ভুলে চল সাবধানে, দেখো আপদ যাবে কূল পাবে অভাবনে। ( ফিকিরচঁাদী “শের দোলাতে উঠে-সুর) কত দিন র’বে ভবে, দেখ না ভেবে, ওরে ও মন নেশাখাের। আছিল সঙ্গী যারা, গেল তারা, তবু (ও) ঘাের ভাঙ্গল না তাের। ভেবেছ জীবন-নদে নিরবধি, জোরে জোয়ার ব’বে রে তাের ; নাই মনে ভাটার টানে, কাল-সাগরে, ভেসে যাবে এ তরি তাের । ললিত আড়া। যাঁর কৃপাগুণে আজ মিলিয়ে সুখ-মিলনে, সাধিতে স্বদেশ-হিত এসেছি সবে এখানে।
ধৰ্ম্ম ও নীতি বিষয়ক।
সে ইষ্টদেব ঈশ্বরে স্মরণ কর অন্তরে,
কৃতার্থ হবে অচিরে তার আশীৰ্বাদ-গুণে।
তিনি যার সদা পক্ষ সকলি তার স্বপক্ষ,
শুভ-সাধনে সহায় জানিবে নিশ্চয় ;
নতুবা মনের সাধ, অস্থায়ী বালির বাঁধ,
পূরণ না হতে হয় লয় কাল-প্রভঞ্জনে ।*
~~~~
৬৮
বাউল—খেটা।
ও ভাই ভেবাে না মনে,
পাপ করে হবে সুখী মানব-জীবনে।
পাপের ফল অনিবার্য চিরকাল আছে ধার্য্য,
হয় না অন্যথা কোথা এ ত্রিভুবনে।
পাপে ক্ষয় বিধির লেখা নিয়ত যাচ্ছে দেখা,
শান্তি নাই কিছুমাত্র পাপীর জীবনে ;
হ’ না সে প্রাসাদবাসী (তবু) ভয়ে ভীত দিবানিশি,
দেখে সে বিভীষিকা নিশির স্বপনে।
* এইটী পাবনা সম্মিলনীর ভারেঙ্গা-শাখা সভায় গীত হয়।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
~~~~
অধৰ্ম্ম আচরণে শুধু
পাপ হয় না মনে,
হয় শরীর ক্ষয় তার সনে বিধির বিধানে ;
শেষে হয় সে পাপের ছুতে ক্ষতি পরবংশে বিধিমতে,
হয় পর পূর্ণাহুতি অকাল ৭মণে।
ভুলা’তে লােকের মনে
বাহিরের আচরণে, ।
পাপ ছাপা রয় না আগে জগতে জানে ;
পদের কি ধনের জোরে (কিছু) কয় না কেহ মুখের পরে,
কিন্তু অন্তরে ঘৃণা করে সে জনে।
তুষের অনলের মত
পাপীর প্রাণ অবিরত
পুড়ে অঙ্গারের মত হয় পাপানলে ;
ক্ষমতা প্রভুত্ব বলে কভু নিবান যায় না সে অনলে,
কি করে বাহিরে তার চুয়া চন্দনে।
অনিত্য শরীর ধরে
মিছে কেন অহঙ্কারে,
কেনই বা সরার মতন দেখছ ধরারে ;
আজ আছ কাল কোথা র’বে একবার দেখ দেখি মনে ভেবে,
সকলই ফেলে যাবে শমন-সদনে।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
ভৈরবী—একতালা।
(“দিনের দিন সবে দীন ভারত হ'য়ে পরাধীন-সুর)
~~~
কেন হায় রয়েছ রত পাপে অনিবার;
সুখের আধার নাহি শেষ আর,
ভেবেছ কি এ সংসার?
আছে জ্ঞান বুদ্ধি জানা সদসৎ,
রয়েছে দেখিছ খােল পুণ্যপথ,
তবে কেন বল পরিহরি আলাে,
ভালবাস অন্ধকার।
জান সুধা পানে ক্ষুধা দূরে যায়,
কি দেব মানব অমরত্ব পায়,
তবে কেন বল পানে হলাহল,
আপনা বিনাশ আর।
জেনেছ কি গৃহে পুত্র কন্যা দারা,
তব কৃত পাপে অংশী হবে তারা,
নরক যন্ত্রণা, ঘুচাইবে তব,
লয়ে এ দুস্কৃতি-ভার?
ধৰ্ম্ম ও নীতি বিষয়ক।
سسی
যদি থাকে তবে মিছে সে বাসনা,
পাপ ভার কেহ ল’বে না ল’বে না,
সঙ্গে কিছু তব যাবে না যাবে না,
পাবে না সাহায্য কার।
ii
রাখিবে যে ধৰ্ম্ম জেনে রাখ ভাই,
শেষ দিনে তার সঙ্গে যাবে তাই,
তা বিনে সম্পদ স্বগণ বান্ধব,
কেহ নহে আপনার।
৭০
মূলতান—একতালা।
বল প্রেম বিনে কে করে,
দেখা পেয়েছে আরাধ্য-দেবে ?
যার আছে প্রেমধন
তারি কেনা সে রতন,
বেঁধেছে সে প্রেমের ডােরে এ সংসারে সকল জীবে।
প্রেম বিনে মিছে সাধন
কি ধ্যান কিবা মনন,
মিছে আশা তরি বিনে উত্তরিতে মহার্ণবে
ধৰ্ম্ম ও নীতি বিষয়ক।
কালাংড়া--একতালা।
(“এ কলঙ্ক তােমার কলা-সুর )
জানি কত সুন্দর রূপ তব মনােহর,
নমুনায় নিরবধি পেতেছি প্রমাণ তার ।
ধন জন সুত জায়া তােমারি রূপের ছায়া,
স্নেহ প্রীতি রসে তব সুবাস করে প্রচার।
পাই যে সুধার তার পানাহারে অনিবার,
আছ বলে মুলে তুমি ওহে অমৃতসাগর !
তব ছবি যদি সবে ওতপ্রােত ভাবে তবে
কেনই ‘অসার এ সংসার’ বলি নিরন্তর।
কৰ্ম্ম-দোষে চিরকাল মন্থনে মিলে গরল,
মিলে সুধা কৰ্ম্মগুণে ধর্ম যার সহচর।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
१२
পরজবাহার-যৎ।
( দক্ষ না করি বিচার”-সুর)
আর বলল না এমন
“মিছে এ সংসার, মিছে ধন পরিজন।”
~~~
নাই কি ইহার মূল, ভাব কি এসব(ই) ভুল,
অলীক ভােজের বাজী নিশির স্বপন ?.
তাই যদি সত্য হবে বল শুনি কেন তবে
হ’ল এত আয়ােজনে জীবের সৃজন ?
স্নেহ প্রীতি বুদ্ধি জ্ঞান পেয়েছ যে আভরণ
বিফল, বল কি এ সকলি অকারণ ?
জলে ফলে শস্যে ভরা কেন হ’ল বসুন্ধরা,
কেন অনিল অনল আলােক সৃজন ?
যিনি বিশ্বের কারণ, বিশ্ব যার নিরমাণ,
তারি এ সব সৃজিত বুঝি’ প্রয়ােজন।
1।
ধর্ম ও নীতি বিষয়ক।
~~
৭৩
প্রসাদী।
মিলো ভবের লীলা খেলা!
চল যাই নিবাসে থাকতে বেলা।
~
ওরে ও মন শােন্ রে কথা,
করিস্ নে আর অবহেলা ;
এখন সঙ্গে যাবে ধর্ম যা, তা
তাড়াতাড়ি বেঁধে ফেলা।
জানিস ত রে পথে আছে
সে দুরন্ত যমের জালা;
তাই হবে যেতে, না হেঁয় যাতে,
পরি হরিনামের মালা ।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
৭৪
মিশ্র ইমন—একতালা।
(“ভবে সেই সে পরমানন্দ”-সুর)
তােমারি কৃপাতে চলে এ জীবন,
ন’লে এ প্রাণ-পতঙ্গ পালাত কখন।
~~~
দুখে যে অধীর হয়ে যাই গলে,
তােমাতে নির্ভর নাই তাই বলে,
থেকে সিন্ধুতীরে পিপাসায় মরি,
মরুক্ষেত্রে করি বারি অন্বেষণ !
;
ধন পুত্র দারা তােমারি ত দান,
তমিই সকল সুখের নিদান
দুঃখ যত পাই নিজ কর্মদোষে,
বুঝি আদেশ মিছে অকারণ।
যাহ’বার হ’ল কি বলব আর,
ক্ষমা কর হরি গুণে আপনার ;
অন্তে দিও স্থান ও অভয় পদে,
পতিতের গতি পতিতপাবন !
৬৮
AেL জাতীয় ও সামাজিক।
No text on this page.
জাতীয় ও সামাজিক।
জাতীয় ও সামাজিক।
(“তােমরা কেউ ঘুমায় না”-সুর)
~~~
সে দিন কি আসবে দেশে!
যে দিন বুঝে স্বদেশের অভাবে,
করিতে পূরণ করি দৃঢ় পণ
আপনা ভুলিয়ে মিলিবে দশে।
যেখানে যা ভাল এনে অকাতরে
পূরিবে যতনে স্বদেশ-ভাণ্ডারে ;
হবে অবসান যবে দুখ-নিশি
সুখ-প্রভাকর-কর প্রকাশে।
এ দেশের তরে প্রয়ােজন যত,
দেশবাসী হতে হবে নিরমিত,
পরের ভাসা দুর পরাহত
হেরে, যবে সবে ভাবে হরষে।
৭১
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
~~~~~~
ভারতের যান ভারত সাগরে
ভাসিবে যে দিন কাতারে কাতারে,
লয়ে ভারতের বাণিজ্য সম্ভারে,
বিনিময় তরে দূর প্রদেশে।
~~~
কবি বলে কিছু অসম্ভব নয়,
বৃটনের কৃপানদী যদি বয়,
অবশ্য হবে সে শুভ দিনােদয়,
সােণা হবে দেশ পরশ-পরশে !
লুম্ ঝিঝিট—একতালা।
(“এ কলঙ্ক তােমার কালা”-সুর)
সে জাতি কভু জাগে না, কখনো তারা জাগে না,
অনন্ত জ্ঞানের রাজ্য সসীম বলে যাদের জানা।
বিদেশ-বিশুদ্ধাচার গ্রহণে যাদের মানা,
চিন্তা-স্রোতে রোধে যারা দিয়ে শুধু আবর্জনা।
স্বদেশের সবই ভাল, (তার) মন্দ কিছু কেউ ভাবে না,
জ্ঞানী আর অজ্ঞানী মিলে এক পথে চলে দুজনা'।
૧૨
জাতীয় ও সামাজিক।
কৃষি শিল্প আদি যাতে যত্ন নিলে ফলে সােণা,
ত্যজিয়ে সে সবে যারা করে পরের উপাসনা ।
কালাংড়া-একতালা।
তারাই জীয়ন্তে মরা অনাদৃত ধরাতলে,
চলে না আপন বলে পরের সাহায্য পেলে।
সাধ্য সত্ত্বে ভিক্ষা করা যাদের দেশের ধারা,
অদৃষ্টেরে দোষে যারা নিজ দোষে কষ্ট পেলে।
সময় যারা সতত অলসে করে অতীত,
বারেক ভাবে না তা যে ফিরে না বিগত হলে।
জ্ঞান যথা পুথিগত, (কাজে) কৈ কে করে পরিণত ?
পরিতুষ্ট হেরি যারা (যদি) পরের দাসত্ব মিলে।
s
ভৈরবী-মধ্যমান।
(“ল ও সােণা হও হে বিদায়”-সুর )
হবে না আশার সুসার, জেনে রাখ সার,
সমাজ শােধন বিনা জাতীয় উন্নতি আর ।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
অকাল প্রসব মূলে দিতে হবে আগে তুলে,
কলঙ্ক কুরীতি কুল সমূলে ন’লে সংহার ।
কুরীতি অধিবেদনে তুলে দিলে যতনে,
না করিলে নিরন্নের পরিণয় পরিহার ।
রাঢ়ী বারেন্দ্র মিলন অতি প্রধান সাধন,
স্ত্রী-শিক্ষা সমাজে কভু না হইলে সুপ্রচার।
‘লইলে কন্যার পণ হয় নিরয় গমন,
এ জ্ঞান উদয়ে দূর না হলে এ দেশাচার।
কালাংড়া-ধুরী।
(“কোথা কৃষ্ণ জয় যদুপতি জনার্দন”-সুর)
বাঙ্গালীর যে ভাল হবে ভরসা কি তার ?
বাহির ভিতর ভিন্ন অসম্ভব হেরি যার।
একের কষ্ট লাঞ্ছনা হেরিয়ে সম বেদনা
না হয় যাদের প্রাণে কভু একবার,
ফিরিয়ে না চেয়ে তারে করে পরিহার
তাদের কুশল বল কেমনে হইবে আর ?
7
৭৪
জাতীয় ও সামাজিক।
যা দেশ অধঃপাতে, ঐক্ষেপ নাহিক :তাতে,
আপনার স্বার্থ যাতে সেই মন্ত্র সার ;
সংসারের সীমা স্বীয় গৃহ পরিবার,
আরাধ্য দেবতা শুধু অর্থ আর অলঙ্কার।
~~-~-
}
ভৈরবী -পােস্ত।
(“ছাড় রে ভাই মোকদ্দমা”—সুর)
হেরিয়ে কালের গতি প্রাণে ব্যথা পাই,
পরিয়ে মুখস যেন ভ্রমিছে সবাই।
বাহিরে চটক সার ভিতরেতে অন্ধকার,
ভণ্ডের বাজার যেন যে দিকে তাকাই
দেখাইতে পরস্পরে, সাজসজ্জাই বাহিরে,
অন্তর সন্ধান লওয়া দেখিতে না পাই ;
খাচা আছে নাই ছানা, প্রাণশূন্য দেহখানা
খালি ঘরে পাহারা দিতেছে ঠাই ঠাই।
মুখে মাত্র সদালাপ, অন্তরে বিষাক্ত সাপ,
মূৰ্ত্তিমান্ পাপ যেন নিরখি সদাই ;
ন
৭৫
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
ধৰ্ম্মকথা ধর্মশাস্ত্র স্বার্থ-সাধন-অস্ত্র,
পরার্থে নিয়ত ভাবে আপদ বালাই।
৭
(“ভেবে মরি কি সম্বন্ধ”-সুর)
এ দেশের যে ভাল হবে তা বুঝি কিসে,
চলে না কেহ মিলে মিশে।
}
বহু সম্প্রদায় দেখি দেশময়,
কেবল বিদ্বেষ কথায় কথায়,
(হেরি) একে অন্য জনে নিন্দে প্রতিক্ষণে,
পরস্পর জরা হিংসা বিষে।
বাক্যে বাচস্পতি, কার্যে ফকিকার,
প্রতিজন করে পরের বিচার ;
(কিন্তু) আপনার বেলা হেরি অবহেলা,
বহুরূপী যেন ভূষাবেশে !
নানা ব্যাধি-বিষে পূর্ণ হ’ল দেশ,
সুস্থতার সুখ হ’তেছে নিঃশেষ,
( দেখি ) খাদ্যাভাব হেতু বরষে বরষে
দলিতেছে দুরভিক্ষ এসে।
জাতীয় ও সামাজিক।
ভৈরবী—পােস্ত।
(“ন্যাংটা মেয়ের এত যে অদির”—সুর )
ছাড় রে ভাই মােকদ্দমা মাটি হ’ল দেশ,
করো না পতঙ্গ রে আর অনলে প্রবেশ।
ভাব ডিক্রী পেলে মনে, গেলে যে ভাই ধনে প্রাণে,
বুঝলে না হয় বিষ পানে তনু হ’ল শেষ ।
ঘরের ধন পরকে দিয়ে, ফল কি রে লাঞ্ছনা স’য়ে,
থাক ঐক্য বাক্য হয়ে ঘুচে যাবে ক্লেশ।
ভাব যারে পক্ষ বল সে যে রক্তক্ষয় স্থল,
শুকালে শোণিত হবে সম্পর্কের শেষ।
আর ব্যাথ-বংশী-রবে মুগ্ধ হোয়ে না সবে,
যেও না যন্ত্রণাজালে করিতে প্রবেশ।
গেলে নাহি ফেরা যায়, ধৰ্ম্ম অর্থ সব (ই) যায়,
ঘটে ভাগ্যে পরিণামে দুর্গতি অশেষ ।
t
.
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
ভৈরবী-পােন্ত।
(“ছাড় রে ভাই মােকদ্দমা”—সুর )
শিক্ষিতা রমণী-সঙ্গ সুখের সদন ;
অতুল যেমন মণিকাঞ্চন মিলন।
~~~~
স্বর্গের সৌরভ তায় সদা প্রবাহিত হয়,
সুখী সে দম্পতী শান্তি ভােগে আমরণ।
সন্তানে সুশিক্ষা পায় সু-আদর্শ হেরে মায়,
হন ভাৰ্য্যা সুখে দুখে স্বামীর সহায় ;
কুটীরেও সে আলয় সদা সুশােভিত রয়,
—মর্তে মনােহর মূর্তি নন্দনকানন!
( ঐঐ সুর )
দুজেতে ঘর সুখের আকর (?) আছে কি এমন,
খুজিলে সংসারে কোথা এ দেশে যেমন ?
বাহিরে পুরুষ যত জ্ঞানালােকে আলােকিত,
ভিতরে তিমিরাবৃত রমণীর মন।
««
জাতীয় ও সামাজিক।
~~~
সাহিত্য বিজ্ঞান লয়ে পুরুষ তৃপ্ত বাহিরে,
অন্দরে অসার চর্চা চলে অনুক্ষণ ;
ষষ্ঠী সুবচনী সার ভেবে তুষ্টি বনিতার,
উপনিষদের ধর্মে স্বামী নিমগন।
-~-
হেন বিসদৃশ ভাব যত দিন তিরােভাব
না হবে, হবে না পূর্ণ জাতীয় জীবন ;
কি হবে অর্ধ সচলে অর্ধ থাকিলে বিকলে ?
এ দু’ভাবে শুভ আশা নিশির স্বপন।
কালাংড়া-একতালা।
(“সামাল দেখি”—মুর )
কি ফল তার জীবনে,
যে বা স্বার্থ বলিদানে, শক্তি সত্ত্বে উপকার
করে না বিপন্ন জনে।
দেশের দুর্গতি হেরে,
(যে জন) সে দিকেতে চায় না ফিরে,
অন্নদানে নিরন্নেরে,
( যারে) বিমুখ হেরি নয়নে।
1 )
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
-~-
স্বদেশ মঙ্গলা ব্রত
( যে রয়) সাধনে সদা বিরত,
উপরান্ত প্রতিবাদী
হেরি যারে প্রতিক্ষণে।
অকারণ অত্যাচারে,
~~
স্বচক্ষে সমুখে হেরে,
যে বিপন্ন স্বদেশীরে
(হেরি ) বিমুখ সাহায্য দানে।
১২
ভৈরবী-পােস্ত।
(“ছুড়ি রে ভাই মােকদ্দমা”—সুর )
ধন্য তুমি ধরাতলে কলি নটবর,
ওষ্ঠাধরে হাসি মাখা অন্তরে জহর !
ধীরগতি হিংসাহীন,
জানাও লোকে প্রবীণ,
কাৰ্যকালে মীন-মিত্র যেন বকবর।
৮০
জাতীয় ও সামাজিক।
বাহিরে নিয়ত ভান যেন ধৰ্মগত প্রাণ,
অধৰ্ম্মে অরুচি, মুখে বুলি ‘ভগবান্ ;
“ধৰ্ম্ম গেল গেল” রবে নিয়ত জাগাচ্ছ সবে,
কি হচ্ছে নিজের ঘরে নাই সে নজর।
section
নিজে তুমি বার মাস দুরন্ত রিপুর দাস,
হাসি খুসি রসােলাসে ভরা ভাদ্র মাস ।
দিয়েছ বরাত ঘরে অনাথিনী বিধবারে,
ব্রহ্মচর্য-ব্ৰত সে করিবে নিরন্তর ।
বহু বিবাহের পাপ সঞ্চয়ে নাহি সন্তাপ,
কুলীন সন্তান বলে প্রকাশ প্রতাপ !
আইবুড় রয়েছে মেয়ে, দেও না বিয়ে ধৰ্ম্ম খেয়ে,
দিচ্ছ বহু যুবতীরে এনে বুড়াে বর !
৫
ঐ—ঐ।
(“ছাড় রে ভাই মােকদ্দমা মাটি হ’ল নেশ”-সুর)
এই কি ব্রাহ্মণ-ধৰ্ম্ম বল দেখি তাই,
বল ত শপথ করি—সকলে সুধাই।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
~~~~
যবনের হয়ে দাস, কোন্ বিপ্র বার মাস,
ধ্রুহিকের সুখ সার’ ভেবেছিল ভাই ?
দ্বিজ কি বিজাতি সনে বসি সদা একাসনে
অধ্যয়ন তার ভাষা করিত সদাই ?
শিক্ষা হেঁটে তেড়ি কেটে তার বেশ ভুষা এঁটে
অর্থ আহরণে রত থাকিত সবাই ?
t
~
• চণ্ডাল চামার সনে, শুনেছ কি এক বানে
সেকালে ব্রাহ্মণ জাতি ভ্ৰমিত সদাই ?
পিরালীতে পরিণত হয় কি ব্রাহ্মণ যত,
এবে অখাদ্য-রন্ধন-গন্ধে কোন ঠাই ?
ব্রাহ্মণ ভিষ হলে জান না শাস্ত্রে কি বলে ?
লােহ বিক্রয়ী বিপ্র কত অন্ত নাই;
ব্রাহ্মণের কুল জাত সুরাপায়ী শত শত
সমাজে আদৃত অতি দেখিবারে পাই।
হবিষ্যান্ন ভিন্ন যার ছিল না অন্য আহার,
তার বংশে আমিষ করেছে অধিকার ;
ই নাই অন্নের বিচার, হাতে খায় যার তার,
হাটে ঘাটে হােটেল বসেছে ঠাই ঠাই।
।
জাতীয় ও সামাজিক।
১৪
(ফিকীরচঁাদী-“বাশের দোলাতে উঠে”-র )
উদর তাের আধিপত্য হেরে সত্য,
কতই ভাবি মনে মনে ;
তাের তরে কিনা করে এ সংসারে,
নিত্য হেরি মানিবগণে।
কত ভেক্ ধছে নরে, তােরি তরে,
না মেনে বিধির বিধানে ;
ঠিক যেন সঙের বাজার, দিতেছে সঙ
একের কাছে অন্য জনে।
ধুতে যার মনের মা নদী নালা
শুকায় বুঝি অনুমানে ;
হেরি তায় তােরি আলায় সাধুর সাজে,
তত্ত্ব কথা শুনায় কাণে।
| ভুয়া মাল বলে সেরা দিচ্ছে ঢেরা,
তুইত মূলাধার সেখানে ;
নাচে লােক লােকের কাছে তােরি দায়ে
চূণ কালি মেখে বদনে।
.
৫
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
~~~
জানে যায় দেশের দ্বেষী, মহাদোষী,
পক্ষপাতী আচরণে,
তাের তরে খেয়ে লজ্জা, করি সজ্জা,
তােষে তায় অভিনন্দনে।
বাউল-খেমটা।
(“বেয়ে প্রেম তরি হরি যাচ্ছে যমুনায়”—সুর)
না হলে শ্রমীর ভাল দেশের ভাল ভাই,
বল কিসে হবে শুনি তাই।
যার হ’তে অনায়াসে ফসল বসে পাই,
যে না শ্ৰম কলে পরে অন্নে মারা যাই।
(বল কিসে হবে শুনি তাই )
নৌকা দোন পাল্কী গাড়ী, কি খড় কোটা বাড়ী,
কার হতে হচ্ছে তােয়ের বল শুনি তাই ।
যারা শ্রম করে বলে ফল ফলারি পাই,
মিলিছে যাদের শ্রমে কি মােন্ডা মেঠাই।
(বল কিসে হবে শুনি তাই)
৮৪
জাতীয় ও সামাজিক।
~~~~
দীঘি পুকুর ইদারা কেটে দিচ্ছে শ্রমীরা,
তাই নেয়ে খেয়ে শীতল হতেছ সদাই;
কে খেটে দিচ্ছে খেজুর আকি রসে ভাই,
ভাব কি তাদের কথা দিনান্তে সবাই ?
(বল কিসে হবে শুনি তাই ।
এ ছাড়া বলব কত, সবই ত শ্ৰমীর কৃত,
বললে হয় চলছে সমাজ তাদেরই কৃপায় ;
হেন উপকারী যাদের পরে নাই,
চাও না হয় তাদের পানে, বলিহারি যাই।
(বল কিসে হবে শুনি তাই)
যদি স্বদেশের তরে কাদে প্রাণ সত্য করে,
কিসে হয় শ্রমীর ভাল ভাব আগে তাই ;
তা হলে পাবে সুফল অচিরে সবাই,
ন’লে মঙ্গলের আশা মিছে আশা ভাই।
( বল কিসে হবে শুনি তাই )
পূরা’তে মনের আশা শুধু চাই ভালবাসা,
এ মহামন্ত্র মাত্র সাধনে সহায় ;
}
৮৫
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
~~
~~~~~
তা বিনে করি সভা সমিতি সদাই,
দিলে হবে না কেবল আর্যের দোহাই।
( বল কিসে হবে শুনি তাই )
•
কালাংড়া-ঠুংরী।
(“দাসীর প্রতি এমি দয়া-সুর )
কিসে বল আছ ভাল বল শুনি ভাই,
অহঙ্কার কিসে কর, বল কি আছে সুধাই ।
যে শরীর মুলাধার সে ত ব্যাধির মন্দির,
সুস্থতাজনিত সুখ বল্লে হয় নাই।
স্বার্থের সেবক সবে দেখিবারে পাই,
ঐক্য বাক্য গেছে দুরে ভাই ভাই ঠাই ঠাই।
শিক্ষার বাঞ্ছিত ফল হেরি বাক্যেতে কেবল,
মূলে দাসত্ব সম্বল জীবন-উপায় ;
জুটিলে সে দাসত্ব প্রাণে বাঁচা দায়,
পেয়ে পর-শিল্প-জাত, বাহিরে চটক তাই।
।
।
৮৬
জাতীয় ও সামাজিক।
বেহাগ-একতালা।
(সখি শ্যাম না এল”-সুর)
সে দিন আসিবে কবে।
‘নর নারী তুল্য জ্ঞানে অধিকারী
বিধির এ বিধান প্রচলন হবে।
পাপ পক্ষপাত পালাবে অন্তরে,
প্রবেশিবে সবে জ্ঞানের ভাণ্ডারে
পুরুষ প্রকৃতি প্রফুল্ল তান্তরে,
সাম্য সুধা নদী প্রবাহিত হবে।
ঘরে বসি শিশু মাতার সদনে,
ল’য়ে মনােমত পাঠ প্রতিক্ষণে,
শিখিয়ে বিবিধ বিষয় যতনে,
হবে গুণে গুণবান্ ;
সুসময় কিবা হলে অসময়,
কি ধর্মে কি কৰ্ম্মে কিবা মন্ত্রণায়,
হইবেন সতী পতীর সহায়
মধুর মিলনে ভুবন ভরিবে । *
ভারেঙ্গাস্কুলে পারিতােষিক বিতরণ উপলক্ষে এটা গীত হয়।
.
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
১৮
(ফিকীরচঁাদী—“বাঁশের দোলাতে” –সুর )
কেবল একতা বিনে দিনে দিনে
যাচ্ছে এদেশ অধঃপাতে;
দেখি না কোন খানে, এক প্রাণে,
মিল আছে দুজনের সাথে।
কি প্রজা জমীদারে অমিলন,
অমিল হিন্দু মুসলমানে ;
দ্বেষাদ্বেষ ঘরে পরে, মনান্তরে
হচ্ছে মাটি কত মতে।
সমাজের শাসন বাসন নাহক এখন,
স্ব স্ব প্রধান হেরি সবে ;
নাই তরির মাঝি যেন, হা পড়েছে
আনাড়ি সব দাড়ীর হাতে।
পায় পড়ি রাখ কথা, অনৈক্যতা
রেখাে না আর কোন মতে;
বাজাও মিলনের ভেরী মিলে সবে,
তবে যদি বিপদ হতে।
৮৮
জাতীয় ও সামাজিক।
বিভাস—একতালা।
(“কোথারে লক্ষ্মণ করিয়ে যতন”—সুর)
এই কি সে দেশ, গুণেতে অশেষ
ছিল যার খ্যাতি এ তিন ভুবন !
বীর-মাতা যায় বলিত সবায়,
পতঙ্গ-প্রতি হায় সে এখন!
~~-~-
পর-উপকারে, অতিথি সেবায়,
নিয়ত নিরত নিরখেছি যায়,
মুষ্টি ভিক্ষা দানে আজ সে কাতর,
কষ্টে করে হায় উদর-পূরণ!
নাহি সে গৌরব স্বাধীনতা-সুখ,
হয়েছে মলিন সমুজ্জ্বল মুখ,
দুখে দহে প্রাণ নিরখি বয়ান,
এত কি ললাটে ছিল রে লিখন ।
কোথা ধর্মরাজ পার্থ মহাবীর,
দেখে যাও এসে দশ জননীর ;
ভুপতি-জননী ভিখারিণী আজ,
পর-মুখ চেয়ে যাপিছে জীবন।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
২০
কুললক্ষ্মীর উক্তি।
ভৈরবী-মধ্যমান।
(“কবে সমাধি হ’ব শ্যামাচরণে”-সুর)
হায় যে কুলে সৃজিলে সে কি নিরদয় ।
বিদারিতে কুলীনকুমারীকুলের হৃদয়।
করিয়ে মেল বন্ধন এরূপে বাঁধিয়ে কেন,
যাতনা প্রদানে হেন, বল করি কি উপায় ?
সুপবিত্র পরিণয় হেরি সুখের নিলয়,
এ জনমে হবে না তেমন শুভ দিনােদয় ।
পতি পুত্র মুখ হেরে সবে সুখী’এ সংসারে,
অনন্ত দুঃখ-সাগরে ভাসি মােরা নিরাশ্রয় ।
বেহাগ—আড়া।
গুণযুত সুত-লাভ-লালসা যদি অন্তরে,
কর তবে পরিশুদ্ধ সুপবিত্র আপনারে ।
.
৯০
জাতীয় ও সামাজিক।
ممه
পিতৃ-দোষ-গুণ যত পুলে হয় সংক্রামিত,
দোষে দোষ গুণে গুণ সন্তানে আশ্রয় করে।
শত গ্রন্থ অধ্যয়নে কিম্বা সুসাধু বচনে
পুত্রের কি হবে বল ফল শুনি আর ;
গৃহেতে পিতার দোষে দোষী পুত্র হবে শেষে,
বিধির বিধান এ যে চিরকাল চরাচরে।
~~~
যথা তথা দেখ চেয়ে কত গৃহহু-আলয়ে,
অধমে অধম সৃষ্টি উত্তমে উত্তম ;
তাই বলি সাবধান, চ যদি সুসন্তান,
সুপথে গমন কর, কর ঘৃণা পাপাচারে।
२२
।
কালাংড়া-ঠুংরী।
(কোথা কৃষ্ণ জয় যদুপতি জানান”–সুর।)
গুণগত গৌরবে বিনে সমাদর ,
জাতীয় উন্নতি-পথে কে হয়েছে অগ্রসর ?
যারা গুণে রেখে দূরে বংশের গৌরব করে,
করে উন্নতির পথে কণ্টক রোপণ ;
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
~~~~~
তাদের মনের আশা নিশার স্বপন,
বিফল সে আশা, হবে অবনতি নিরন্তর।
বরাহের অবতারে পূজা করি ভক্তিভরে,
কৃতার্থ হয়েছে সবে হয় কি স্মরণ ?
তাই তার পরবংশ শূকরে এখন
করে সেবা ধরাতলে বল কোথা কোন নর ?
~~
সদ্যোজাতাকন্যার পিতার উক্তি।
বেহাগ-আড়াঠেকা।
কেন মা এলে এখানে দুখে দহিতে আমারে ;
জানি তুমিও কত কষ্ট পাবে এ সংসারে।
মা তুমি বাড়িবে যত, শােণিত শুকাবে তত,
হেরিব আঁধার ধরা মনে হলে দেশাচারে।
t
।
দশম কি একাদশে বিবাহ না দিলে, দশে
দূষিয়ে কতই ব্যথা দিবে অন্তরে ;
যাবে পরে পরহাতে বাস্তুভিটা তােমা হতে,
হ’ব মা ভিখারী, র’ব নিয়ত মরমে মরে।
জাতীয় ও সামাজিক।
~~~~
এত লাঞ্ছনার পরে যদি মা সুখের ঘরে
দিতে না পারি তােমারে কি হবে তখন!
পাবে দুঃখ নিরন্তর, শুনে হ’ব জরজর,
পুড়িবে জীয়ন্তে তুমি, পােড়াবে হতভাগারে।
;
অকালে সিন্দুর যদি সীমন্ত হইতে বিধি
কেড়ে লন এর পরে হইয়ে নিদয়
কেহ না সুধাবে ফিরে দুখিনী হেরে তােমারে,
আমিও জীয়ন্তে মরা হয়ে র’ব এ সংসারে।
}
২৪
পিতার উক্তি।
(ফিকীৰ্চার্দী—“বাঁশের দোলাতে উঠে—সুর)
ছেলে হয়েছে শুনে আজ এ দিনে
কতই আশা জাগল প্রাণে ;
যেন এ জীবননদে জোয়ার-পূরে,
উঠল কেঁপে কাণে কাণে।
ছেলেটায় পাশ করাব আশ মিটাব,
হাত দেখাব অল্প দিনে ;
.
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
এপাশে আন্না হ’তে এসে শীকার
তুষবে প্রাণে রুধির দানে।
যত দূর পারুল শােণিত শুষে নেব,
মান্ব না ধৰ্ম্ম-শাসনে ;
হ’ল কাজ হাসিল হেরে বব ফিরে
শাস্ত্রের মাহাত্মগানে।
~~~~~~
এরূপে আবাদের ফল ছেলে ফসল
পেতাম যদি মাসে মাসে,
ব্যবসায় হত সুসার, বাড় ত পার,
দেত সবে অল্প দিনে।
২৫
(“ভেবে মরি কি সম্বন্ধ তোমার সনে”--সুর)
সে দেশের যে ভাল হবে তা বুঝ কেমনে,
মূলে যার বাধা শতগুণে।
০
যার কর্তা জনে জনে রত অজ্ঞা দানে,
পালনের লােক নাই ভুবনে ;
কেবল কথা পরে পরে, আপনার ঘরে
কি হ'তেছে ভাবা নাই স্বপনে।।
।
ম
~~~
জাতীয় ও সামাজিক।
~
যার প্রতি ভাই ভাই হেরি ঠাই ঠাই,
দেখিনা একতা আছে দু’জনে ;
করে হিংসা পরম্পর, পরশ্রীকাতর
হেরি যে দেশের প্রতি জনে।
লক্ষ্য রেখে যারা পরসেবা করা,
নিয়ােজিত জ্ঞান উপার্জনে ;
যাদের পরার্থ কথায়, কাজে স্বার্থ হায়,
নিয়ত নিরখি নিশি দিনে।
।
ভৈরবী-পােস্ত।
বাঙ্গালী বধের ভাগী কেহ নহে আর,
‘স্বখাদ সলিলে’ ডুবে মরে অনিবার।
পায় যদি মুখে শুতে চাহে না উঠে বসিতে,
বসিলে দাড়ান যেন বােধকরে ভার।
যে মাটিতে বার মাস নিয়ত করিছে বাস,
‘সুজলা সুফলা’ খ্যাতি এ সংসারে যার,
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
হয়ে তার অধিবাসী অন্নাভাবে উপবাসী,
করে ভিক্ষা নাই লজ্জা দুয়ারে দুয়ার !
নিজেরে নিজে পােষিতে ক্ষমবান নাহি হতে,
বিবাহ করিয়ে ভার লয় বনিতার ;
হয়ে সন্তান সন্ততি বাড়ে অধিক দুর্গতি,
তাইত হ’তেছে দেশ দরিদ্র-আধার।
~~~~
৭
বিবিধ। ৯৭
No text on this page.
বিবিধ।
বিবিধ।
আলেয়া—একতালা।
<<~~
(“নাথ । রাম কি বস্তু সাধারণ*সুর)
আজ মরতে স্বরগপ্রায়,
মরি কি মনােমােহন শােভার সদন
হয়েছে এ সভায় !
তাদের বৃথা আঁখি ধরা দেখিল না যারা
এসে (এ) পুণ্যভূমি পুনায়।
এক সূত্রে গাঁথা কোটী কোহিনুর
এমন শােভায় শােভে না প্রচুর,
চঁাদের বাজারে বলিব মলিন,
এর কাছে তুলনায়।
এক মার ছেলে হিন্দু মুসলমান
মিলেছে সবাই হয়ে একপ্রাণ,
করিতে মায়ের দুঃখ অবসান
,
}
}
এসেছে সবে হেথায়।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
সুসন্তান যারা ভারত-ভূষণ,
যখন তাদের হয়েছে মিলন,
কি অসাধ্য আছে করিতে সাধন,
বল বল সাধনায়।
~~~~
বিফল হবে না প্রার্থনার বল,
অবশ্য হইবে মানস সফল,
কেন না হইবে—আছে এ দেশের
রাজভক্তি সুসহায় ।
কেন না দিবেন যদি ভিক্ষা চাই
কুইন জননী সমীপে সদাই,
কেঁদে সকাতরে যদি কোটী ভাই
ধরি তার দু’টা পায় ।
।
ডাক অবশেষে বিশ্ব বিধাতায়,
কুশলে রাখুন কুইন মাতায়,
উড়ে যেন তার বিজয়-নিশান
চিরদিম বসুধায়। *
৯ ১৮৯৫ সালের পুনা-কংগ্রেশ উপলক্ষে এই গীতটী রচিত হয়।
বিবিধ।
२
কালাংড়া-একতালা ।
(“সামাল দেখি”—সুর)
কবে পশি সমরেতে,
wেee-~~
সুদৃঢ় নির্ভীক চিতে
ব্রতী হব সবে মিলে,
কুইনের কল্যাণ যাতে ।
জলন্ত উৎসাহ সনে
প্রবেশি রণ-প্রাঙ্গণে,
সমরে বিজয়ী হ’ব,
লক্ষ ভাই বিপক্ষ সাথে ।
হক সাহেবের সুমতি,
দেন মােদের অনুমতি,
অসার প্রাণে আহুতি
দেই তাদের মঙ্গল যাতে ।
শিক্ষা দিলে দশ লক্ষে,
সাধ্য কি করে বিপক্ষে ?
বৰ্মা ত অকর্মা অতি,
যুদ্ধ করি রুষের সাথে ।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
ভালবেসে অস্ত্র দিলে,
কে আছে এ ভূমণ্ডলে,
পরাজে ব্রিটিশ বলে
সংগ্রামে, আসি ভারতে ?
আটা’শ কোটী (র) মিলনে,
তুলনায় এ ত্রিভুবনে,
কে পারে ভারতেশ্বরীর
বলে সমতুল্য হতে ? *
}
(“বাশের দোলাতে উঠে”-সুর)
জয় দে ভাই ভারতবাসী, আজ উদাসী
থেক না কেউ কোন খানে ;
গাও মহারাণীর বিজয় ঘরে ঘরে,
সমস্বরে মধুরতানে।
।
* ব্ৰহ্ম যুদ্ধের সময় এই গীতটি রচিত হয়।
.
বিবিধ।
দেও আলো প্রতি ঘরে, যত্ন করে’
সাজাও আসর স্থানে স্থানে ;
কর ভূষিত তারে কুসুম-হারে,
গােলাপপাশ আর আতরদানে।
~~~~
বাজা ভাই মধুর বাজন, মনের মতন,
আনন্দেতে সকল স্থানে,
পােড়ায়ে মােহন বাজী, তােল রে আজি ।
হাসির তুফান নিশির প্রাণে।
হবে যে এমন দিন আর এ জীবনে
ফিরে, বল কে তা জানে ?
তাই বলি হও রে সফল এই সুযােগে,
নিরন্নেরে অন্নদানে।
ভাব ভাই কবি দেখি কল্পনাতে
ভারত-ছবি আজ এ দিনে ?
দেখবে যে ভারত নয় এ, সুখ-সাগরে
বান ডেকেছে কাণে কাণে।
০৩
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
( ফিকিরচাদী সুর)
মা তােমর গুণের কথা মনে হলে
আনন্দেতে প্রাণ উথলে ;
কত যে দয়া তােমার, বলব কি আর,
ভারতবাসী প্রজা বলে।
কোম্পানীর কুশাসনে প্রজাগণে
পেতেছে যাতনা জেনে,
রাজ্যভার নিলে হাতে, দিলে অভয়,
তুলে নিলে স্নেহে কোলে।
পঞ্চাশৎ বর্ষ কে আর এ রাজ্যভার,
তােমার মতন লয়ে করে,
করে মা নিরাপদে প্রজাপালন,
ইষ্ট চিন্তা, সুযােগ পেলে।
৫
জ্বালাতন কলে কালা সেপাই ক্ষেপে
দেশ বেপে, মা সে সব ভুলে,
তাদেরি পরিজনে অন্নদানে
বাঁচালে দুভিক্ষানলে !
বিবিধ।
4 -
ভাষা নাই বলব কিসে, ফ্রান্সিসে মা,
রক্ষা কলে অনায়াসে ;
ভাবলে না হন্তা বলে ক্ষেমঙ্করি,
রাখলে খ্যাতি ক্ষিতিতলে।
যে যখন ভারতবাসী বিলাত-বাসে
যায় জননি তােমার পাশে;
তারে সন্তানের মতন করি যতন
কর কত হৃদয় খুলে।
একতা সুধার নদী এই অবধি
বয় যেন মা সকল স্থলে ;
রয় না যেন মনের মলা বলে কালা,
ব্রিটনবাসী তনয় দলে।
এস ঈশ্বরের কাছে হই ভিখারী,
চাই কুশল কুইনের তরে।
করি তার জয় ঘােষণা জগৎ জুড়ে,
কোটীকণ্ঠে বাহু তুলে ।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
~~
কীৰ্ত্তন-একতালা।
আয় রে মহারাণীর মহােৎসবে
হয়ে সবে একপ্রাণ,
করি আনন্দেতে প্রাণ ভরি
হরিনামামৃত পান।
~
হবে বাইরে আলাে দেখতে ভাল,
কবে শােভা জনস্থান;
এখন এস করি হৃদয় ধামে
হরিনামের আলােক দান।
করে মােণ্ডা মেঠাই মিষ্ট ফলে
ক্ষণিক মাত্র তৃপ্তিদান ;
হয় রে অমর নরে এ সংসারে,
নামামৃত ‘কল্লে’ পান।
যাতে রন্ মা কুইন সুস্থ সুখে,
(তার) থাকে শাস্তি পাের। প্রাণ ;
এস তারি তরে সমস্বরে
কার হরিনামের গান ।
৫
বিবিধ ;
~
কীৰ্ত্তন -একতালা।
আয় রে পরি যতন করি সবে,
হরিনামের কুসুম-হার ;
হয় না বাসি গৃহবাসি, এ ফুল,
যায় না রে বাস কভু তার।
হয় সে বিভাের, রয় না ভবের জ্বালা,
এ মালা যার কণ্ঠহার ;
দেখ জগাই মাধাই মহীতলে
অতুলিত সাক্ষী তার।
যদি অমর হবি, শান্তি পাবি,
প্রাণ জুড়াবি অনিবার;
তবে প্রাণে পূরে রাখ এ নাম
ওরে ও ভাই জেনে সার।
আজ রে সবে যার উৎসবে সুখী,
মিলেছে আনন্দবাজার,
সেই কুইন্ মাতার কুশল আশে
করি হরিনাম প্রচার। *
* ৩,৪৫,৬ সংখ্যক গানগুলি ১৮৮৭ সালের জুবিলি-উৎসব উপলক্ষে মুদ্রিত
হইয়া নড়াইলে শীত হইয়াছিল।
১০৭
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
৭
(“বাশের দোলাতে উঠে”—সুর )
রয়েছ আপন সুখে বিভাের হয়ে,
পরের পানে চাও না ফিরে ;
খেতেছ দধি দুধে মনের সাথে,
খাওয়াইছ পরিবারে।
সতত (ই) শুছ কাণে, অন্ন বিনে
স্বদেশী সব মরূছে প্রাণে ;
দয়া কি হয় না মনে সে সব শুনে,
কোন্ প্রাণে ঘুম যাচ্ছ ঘরে ?
কত ভাত দিচ্ছ ফেলে অবহেলে,
পাচ্ছে কত শ্যাল কুকুরে ;
তা যদি করি রক্ষা দিতে ভিক্ষা,
তবে কি আর এত মরে ?
**
তােমাদের আদি যাঁরা ছিলেন তাঁরা,
অভুক্ত অতিথি এলে,
শুনেছি অকাতরে কত করে,
খেয়ে খাওয়াতেন তারে।
১
বিবিধ।
জনমি এমন কুলে পুণ্যফলে,
সকলি কি গেছ ভুলে ?
থেক না আর নীরবে, বাঁচাও তবে
অন্ন দিয়ে স্বদেশীরে।
&v
আছে ফল এ জগতে যত মতে,
দেশ বিদেশে লােকসমাজে,
নাই তেমন তুলনাতে, পুণ্য যেমন
অন্ন দিলে বিপন্নেরে ।
থাকে না ভবের বিভব, অস্থায়ী সব,
ও কেবল দু’দিনের তরে ;
থাকে সুকীৰ্ত্তি কেবল অনন্ত কাল,
এ ধরাতল আলাে করে।
আজ আছ, কাল যে র’বে কে তা কবে,
এক পলে প্রাণ যেতে পারে ।
তাই বলি থাক্তে সময়, অসময়ে
দয়া কর গরীবেরে। #
*. এই গার্নট ১২৮০ সালের দুর্ভিক্ষ উপলক্ষে রচিত হয়।
১০৯
সঙ্গীত কুসুমাঞ্জলি।
( প্রসাদী–“মা আমায় ঘুরাবি কত—সুর)
সাহেব হওয়া কি সহজ কথা ?
এ যে বুঝতে নারি মুণ্ড মাথা।
s
তফাৎ ভাবলে অবাক্ করে,
চমক্ যেন লাগে ডরে,
এ যে প্রভেদ এত বধ কত,
পতঙ্গে মাতঙ্গে যথা।
{
একে নদী নালা খালে
নৌকা দোনে চেপে চলে,
জাহাজ যােগে যাচ্ছে আরে
সিন্ধু-পথে যথা তথা ।
(দেখি)
(
*
একে পালায় পটুক। শুনে,
মনে মনে প্রমাদ গণে,
কামান মুখে যুদ্ধ করে,
কে না জানে সে বারতা ?
(আরে)
১১০
বিবিধ ।
কি শিল্প বাণিজ্য যথা,
কিবা বিজ্ঞানে বিজ্ঞতা,
উভয় দলে সকল স্থলে,
চাদ জোনাকী বিভিন্নতা।
-~~~
(“বাঁশের দোলাতে উঠে—সুর )
বল কি কর (কি) কাজে, দেখলে বুঝে
কতে হয় না দোকানদারী ;
বলতে আর হয় না তবে ‘বিলাত মন্দ,
বিলাত-ভাষা অপকারী।
।
শিখে ইংরাজী তবে প্রাণ পেয়েছ,
মুখ ফুটেছে দিন দু’চারি ;
বিলাতের ঘড়ী চেনে বুট বসনে
রক্ষা হচ্ছে বাবুগিরি।
১১১
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
এবে তার সবই মন্দ, নাপছন্দ,
বলে বেড়াও ব্যাখ্যা করি ;
অথচ বিলাতবাসীর কৃপার তরে,
সুযােগ পেলে হও ভিখারী ।
এত যে ধর্মসভায় ধর্মকথা
হাটে ঘাটে হচ্ছে জারি ;
না হলে সাহেব সহায় শিখতে কোথায়,
বল দেখি শপথ করি।
‘শিখে ইংরেজী ভাষা ধর্ম গেল’
বেড়াচ্ছ বক্ত তা করি ;
কাজে তাই শিখাও সুতে ইষ্টজ্ঞানে,
কি ধৃষ্টতা বলিহারি !!
বেড়ায়ে প্রচার প্রথা, সভায় সাধন,
শিখলে কোথা কেমন করি ?
নয় কি মিশনরি মূলে, বল দেখি,
বল শুনি সত্য করি।
১১২
বিবিধ।
5k
ভাব ইংরেজী ভুলে গেছ সবে,,
কি হয় বল দিব্য করি ;
হওনা কি নীরব তেমন নীরব যেমন,
ছিড়লে বীণার বুকের ডােরি ?
মিশ্রভূপালী -ঠুংরী।
(“দেখে এলাম বৃন্দাবনে”-সুর)
এ ভবে সবে সমান হ’তে কি পারে কখন ?
ছােট বড় উচ্চ নীচ এ যে বিধির বিধান।
সুন্দর এ ধরাতলে হের বিভিন্নতা বলে
অভিন্ন হলে কি হত নিরখি সুপ্ত প্রাণ ?
কিবা সুখ দুঃখ হতে সুস্থতা অসুস্থতাতে,
পবিত্র পুণ্য আলােকে, পাপান্ধকারে;
কিবা মিষ্ট তিক্ত তরে, সুন্দর কুৎসিতাকারে,
ভয়ে কি অভয়ে, সদা করে মঙ্গল বিধান।
.
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
ممے
( ফিকিরচঁাদী—“এসে সংসার প্রবাসে”—সুর)
ধৰ্ম্ম যে কিসে যাও আর কিসে থাক,
সে সব ধৰ্ম্ম জান তুমি ।
তুড়িতে উড়ে থাক দেখে থাকি,
ঝড়েতে না ছাড় ভূমি।
-~~~
কি ছলে বলে কেড়ে পর রাজ্য
নিলে, বজায় থাক তুমি ;
হও নারাজ বিবাদ মূলে নিতে গেলে
অপর লােকের দু’হাত জমি।
তােমার মান রাখার তরে বিচার করে,
দিচ্ছে ফাসী যে হয় খুনী।
অথচ তােমার জোরে মানুষ মেরে
রক্তে ভাসায় রণভূমি!
{
*
দ্বাদশের দু’দিন বাকী থাকূলে না কি,
কন্যাদানে থাক তুমি ।
যাও চলে বায়ােয় পলে বিয়েদিলে,
করি দাতায় অধােগামী।
*
১১৪
বিবিধ।
s
বেহাগ -একতালা।
(সখি শ্যাম না এল”-সুর )
কবে যাব সেখানে ;
ত্যজিয়ে আমারে অনাথিনী করে,
পতিদেব হায় গেছেন যেখানে।
গিয়েছেন ত্যজি যে দিন দার্সীরে,
সেই হ’তে আছি ধ্যান করে রে,
সপে এই প্রাণ সে প্রাণ-ঈশ্বরে,
আশা করে আছি বসে যােগাসনে।
দেখা পাব বলে সে আরাধ্য ধনে,
কেটেছি চিকুরে ত্যজেছি ভূষণে,
অশনের সাধ আর নাই মনে,
করেছি তপস্যা সার ;
কত দিনে বিধি সে আশার ফলে
দিবেন আমারে কাঙ্গালিনী বলে,
গিয়ে স্বাধমে পেয়ে তার দেখা,
শীতল করিব এ তাপিত প্রাণে।
**
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
~~~
।
ললিত -আড়াঠেকা।
(“অয়ি সুখময় উষে কে তােমারে নিরমিল”—সুর)
পুণ্যবতী সতী মাতা শরতসুন্দরী বিনে,
অন্ধকার হ’ল পুরী হায় হায় এত দিনে!
৫
~~-~-
দেখিব না ফিরে আর সে দেবী-মূরতি মার,
হ’ব না শীতল তার স্নেহের বচন শুনে।
দুখিনী বিধবাগণে, নিরন্ন অনাথ জনে,
কে আর আশ্রয় দানে করিবে পালন ;
দুর্ভিক্ষ দুর্দিনে আর সহায়তা পেয়ে কার,
আসন্ন মরণ হ'তে বিপন্ন বাঁচিবে প্রাণে।
১৪
ক
ললিত—আড়াঠেকা।
(“অয়ি সুখময়ি উষে”-
কেঁদ না জননি কর কর শােক সংবরণ, ।
ফিরে পুনঃ পাবে দেখা প্রাণের কেশব ধন।
বিবিধ।
~
যাবে যবে পরকালে, মা, কেশবে পাবে কোলে,
হারানিধি হাতে পেলে জুড়াবে তাপিত প্রাণ।
সর্তীর শােকের ভার র’বে না রবে না আর,
পরত্রে পতির সনে হইবে মিলন ;
কুমার কুমারী সবে পাবে দেখা পিতৃদেবে,
চির-শান্তির আকর সে স্বর্গ-সুখ-মিলন।
মা, তব প্রাণ-কেশব পেয়েছে স্বর্গ বৈভব,
হয়েছে অমর, আছে অমর সনে ;
সে অনন্ত নিকেতন সদানন্দের সদন,
নাহি সেখানে কখন জনম জর মরণ।
বেহাগ—আড়াঠেকা।
(“অয়ি সুখময়ি উষে”-সুর)
কোথা গেলে কৃষ্ণদাস, ভাসায়ে শােক-সাগরে
জননী জনক জায়া সুত বন্ধু স্বদেশীরে।
ভাবিতে পারিনে মনে তুমি নাই এ ভুবনে,
তােমার প্রসন্নান আর না হেরিব ফিরে।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
ممبئی
~~~~~~~~
রাজনীতিতে নিপুণ তুমি হে থেকে যেমন,
খণ্ডিতে কূট বিধানে করিতে যতন ;
তেমন এখন আর বল কে লইয়ে ভার,
করিবে শরীরপাত বল স্বদেশীর তরে।
t
{
বঙ্গাকাশ-শুকতারা, কেন একে একে হারা
হ’তেছে বুঝিতে নারি করি অন্ধকার ।
হা বিধি কি পাপ-ফলে অতল কাল-সলিলে,
হ’তেছে পতন হেন বিশূন্য করি অম্বরে !
সিন্ধু-নিধনে সিন্ধু-জননীর উক্তি।
বেহাগ -আড়াঠেকা।
(ঐ সুর)
হা বিধি কি বলিব আর এই কি তােমার।বিবেচনা ?
দিয়ে নিধি কেড়ে নিলে করি মােরে প্রবঞ্চনা।
আর কে আসিয়ে কোলে জুড়াবে হৃদি মা বলে,
ক্ষুধায় কাতর হলে কে পূরাবে সে বাসনা ।
৬ বিবিধ।
~~~~
অন্ধের সম্বল সিন্ধু ছিল নিদানের বন্ধু,
দুখ-সিন্ধু তরিবারে সবে মাত্র এক ভেলা ;
কোন্ প্রাণে বল তায় হরণ করিলে হায়,
এখন জীবন যায় বল কে করে সান্ত্বনা ।
~~~~
দৃঢ় আশা করি মনে বসিয়ে আছি দু’জনে
জুড়া’ব তৃষিত প্রাণে সুশীতল জল পানে;
পাইব যে পিপাসায়, ভাবি নাই মনে হয়,
জল বিনিময়ে সুত-শােকানলের যাতনা ।
বেহাগ—একতালা।
(সখি শ্যাম না এলে।”-সুর)
হায়, হায় কি হ’ল
কেন আজ দেশে এমন সুময়
নয়নের জলে নদী বহিল ।
কেন কোটী কণ্ঠে হাহাকার রবে,
শশাকের সাগরে ভাসিতেছে সবে,
১১
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
বুঝেছি এখন, দেশের ভূষণ
বিদ্যার সাগর অকালে শুকাল।
W
4,
~~~
কে এখন আর অশক্ত আতুরে,
বস্ত্রহীন জনে, নিরন্ন কাতরে,
করিয়ে যতন সুধা’বে সাদরে,
করিবে সাহায্য দান ;
কে বা বল শুনি বল যথাকালে,
ল’বে তত্ত্ব এবে সরল সাত্তালে ?
নিবিল সবার আশার আলোেক,
জীবন-সম্বল জীবন ত্যজিল।
বল কে এখন দিয়ে অলঙ্কার,
ভাষায় ভূষিত করিবেন আর,
বাল বিধবার ভেবে ভবিষ্যত
ব’বে অশ্রু এবে কার ?
কৃত প্রতিজ্ঞায় কাৰ্যেতে এখন
করিতে সফল হয়ে সযতন,
কে আর করিবে লেখনী ধারণ
দুষ্ট দেশাচারে কে দলিবে বল!
১২০
বিবিধ।
~~~
১৮
পূরবী—একতালা।
দিনমানে ছিল তবু বিষয়ে নিপুণ মন,
এসে নিশি জেলে দিল প্রিয়-বিরহ-আগুন।
যত জন-কোলাহল ক্রমেতে ফুরায়ে এল,
ততই সে মনানল জ্বলিছে হ'য়ে দ্বিগুণ।
সে জীবন-সুধা-ধার বহিয়ে কি কভু আর
এ অনল নিবাইবে, জুড়াবে মম জীবন ?
কালাংড়া-একতালা।
(এ কলঙ্ক তােমার কালা”-সুর)
হেরি বিবাদ অকারণে,
হিন্দু আর মুসলমানে ;
ভাবি এর ভাবী ফলে,
আতঙ্ক উপজে প্রাণে।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
বন্ধু ভাবে এতদিন,
যারা ছিল মিলে অনুক্ষণ,
হায় কে বিরােধাগুন
জেলে দিল তাদের প্রাণে প্রাণে।
~~-৯৯৯
।
এ ভেদ সাধনের তরে,
যারা দিচ্ছে আগুন ঘরে ঘরে,
‘শত্রু কি শাৰ্দল মরে’
তার এই মন্ত্র আছে ধ্যানে।
२०
ভৈরবী—পােস্ত।
( “ছাড় রে ভাই মােকদ্দমা মাটি হ’ল দেশ” –সুর )
দেখি এ সম্পদে মা গাে শুধু বিড়ম্বন,
এ হ’তে ভিখারী-গৃহ শান্তির সদন ;
কি ফল প্রাসাদে বাস,
ভাল ভাগ্যে বনবাস,
হয় হস্তী যানে গতি বৃশ্চিক দংশন।
।
১
২
'
বিবিধ।
খেতে শুতে যাতায়াতে
কভু শান্তি নাহি চিতে,
চিন্তা করি রেসিডেন্ট খর-দরশন ;
ফুকরে কেঁদে যে আর
জানাব মা দুঃখভার,
তাতেও কম্পিত তনু হয় প্রতিক্ষণ।
1
~~~~
দুঃস্থ দীন হীন যারা,
সুবিচার পায় তারা,
মা তােমার বিধিবলে হেরি অনুক্ষণ ;
কি পাপ মা আমাদের,
অথবা অদৃষ্ট-ফের,
ঘটেছে ললাটে তাই জীয়ন্তে মরণ।
দেখাতে যদি তােমারে
পারিতাম হৃদি চিরে,
দেখিতে তােমার প্রতি ভক্তি মা কেমন ;
জান না জননী তাত,
তাইত কঁদি মা এত,
মা হারা ব্যাকুল-প্রাণ সন্তান যেমন।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
~~
~~~~~
স্বাধীন সবাই কয়,
কিন্তু মা সদাই ভয়,
কি হয় কখন তার নাই মা নিশ্চয় ;
ভাবিতে না চিন্তিতে,
জানি না কি দোষ হতে
বিধাতার কোপে হয় চির নির্বাসন।
~~
সন্দেহ সবার মূল,
তা হতেই হয় ভুল,
অকূল সাগরে ভাসি হয়ে মা ব্যাকুল ;
আদেশের প্রতিবাদে
যদি কিছু বলি কেঁদে,
হয় মা সে শুধু করা অরণ্যে রােদন। *
৫
।
রাজ্য-চ্যুতির আদেশপ্রাপ্ত কোন কোন দেশীয় রাজার মানসিক অবস্থা
অনুমানে লিখিত।
৫
১২৪
বিবিধ।
কেরাণী-বিলাপ।
জংলা পূরবী—আড়খেমটা।
(“ও পাড়ায় দুধ যোগাতে”-সুর )
এ যদি চাকরী তবে বন্দী বল বধ কারে ;
হেরে সেবা বল কেবা বলবে না যে কুকুর হারে।
~~~
রেতে দিনে নাই অবকাশ,
সমভাবে যায় বার মাস,
অবিরত কাজারিতে রত হংসপুচ্ছ করে ।
( বন্ধ করে )
শুধু কিছু প্রভেদ করা,
জামা-ঘােড়া, জাঙ্গিয়া পরা,
একের বসতি জেলে, অন্যে রয় কাছারী ঘরে।
( বলব কারে)
U
বেহাগ—আড়াঠেকা ।
কি পাপে কার অভিশাপে হইল এমন ;
সােণার ভারত ভূমি অঙ্গার বরণ !
}
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
~~~~~~~~~~~~
অন্ন বস্তু বিনে সবে কঁদিছে কাতর রবে,
ব্যাধিতে বিশীর্ণ দেহ মলিন বদন।
পুত্রশােকে জননীর নয়নে বহিছে নীর,
পতি-শােকে সতী-হৃদি হতেছে দহন ;
কোথা বা মা হয়ে হারা শিশু-চক্ষে শত ধারা,
বহিছে, করুণ কণ্ঠে করিছে লােদন।
;
শস্যহীন হয়ে দেশ ধরিছে মরুর বেশ,
ক্ৰমে নদ নদী শূন্য হ’তেছে জীবন ;
‘অদ্বিতীয় অন্নদানে’ খ্যাতি যার ত্রিভুবনে,
দুর্ভিক্ষ-পীড়নে ভিক্ষা মাগে সে এখন।*
ভৈরবীপপাস্ত।
(“ন্যাংটা মেয়ের এত যে আদর”-সুর)
ভবের ভাবনা যদি যায়,
তবে কে পায় আর কারে ;
১২৮৪ সালের ২৩শে মাঘ তারিখের “ভারত সংস্কারক” পত্রে এই গীতটা
মুদ্রিত হইয়াছিল।
বিবিধ।
সাধে কি পরাধীনতা-পাশ পরে-
কেহ পাশ পরে পায় রে ?
।
বৃথা লােক-ভয়ে ভীত হয় কি কাহার চিত,
হিতাহিত জ্ঞান বল অমূলে-
কি আর অমূলে বিকায় রে ?
•
ধনীর গরব তাপে তবে কি মেদিনী কঁপে,
দীনের দুঃখ-অশ্রুতে ধরণী
কি আর ধরণী ভাসায় রে ?
২৪
মিশ্ৰবিভাস-আড়াঠেকা।
(“গেল অমঙ্গল আজি মঙ্গলার আগমনের)
স্বদেশ-মঙ্গল যদি সাধন করিবে তবে,
প্রথমে প্রতিবন্ধনে বাঁধ রে স্বদেশী সবে ।
অমিলন-অনাচার-অশুচি থাকিতে আর
এ ব্ৰত সাধনে কারাে অধিকার নাহি হবে।
পরিহরি
মূলমন্ত্র
বাজাইয়ে বাগ যন্ত্র,
। একতন্ত্রতা সাধনে কে ফুল লভেছে কবে ?
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
سفره
বাল-বিধবার বিলাপ।
বেহাগ-একতালা।
(“সখি শ্যাম না এল”-সুর )
geance
কে আর আছে এমন,
আমাদের মত জনম-দুখিনী
অনাথিনী বল এ তিন ভুবন ?
ছিল সুখ যত গেছে সমুদায়,
হারায়েছি যবে পতি দেবতায়,
গতিহীন হয়ে আছি বসুধায়,
ঘটেছে ললাটে জীবনে মরণ।
০
‘হ'লে পতিহারা গতিহীনা হব,
এই যদি বিধি হয়েছিল তব,
কেন দীনবন্ধু দিলে না হে তবে
ইচ্ছা-মৃত্যু অধিকার ?
তা হলে কি হয়ে জনমদুখিনী,
দয়িত-বিরহে দহিত এ প্রাণী
যাইতাম চলে সুথে তার সনে,
করি তার সেই চিত আরােহণ ।
t
২৮
বিবিধ।
তবে কি এ হৃদে পরিতাপানল
জ্বলিত সদাই হইয়ে প্রবল,
আঁধার হইত ভুবন সকল,
হইতাম নিরাশ্রয় ?
থাকিত কি দুখ কভু কিছু আর,
পারিতাম যদি সঙ্গী হতে র,
গিয়ে স্বর্গপুরে সদা শান্তি ভােগে
সেবিতাম তার দুখানি চরণ।*
ভারতেশ্বরীর প্রতি।
বিভাস-একতালা।
(“এ লাঞ্ছনা কেন জননী”—সুর)
এস মা ভারতে একবার,
দয়া করে এস একবার ;
কাতরে করি মিনতি দেখে যাও দয়াবতি,
ভারত সন্তান সৰ কি ভাবে আছে তােমার ।
* এই গীতটী ১৯৮৯ সালের “জাৰ্য্যদর্শনে” যেরূপে মুদ্রিত হয় তাহা হইতে কিঞ্চিৎ
পরিবর্তিতাকারে প্রকাশিত হইল।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
~~
سرمر
লয়ে রাজ্য নিজ হাতে প্রকাশিলে ঘােষণাতে,
কি জিত বিজেতা পাবে সম অধিকার ;
সে তব মঙ্গল-বিধি কাৰ্যকালে সব যদি
সফল হ’ত জননি, থাকে কি অভাব আর ?
।
প্রতিনিধি যারা তব এ দেশে আসেন সব,
সকলেই শুনি নানা গুণের আধার ;
কিন্তু পাই আশা যত ফলে না মা ফল তত,
বল করি কি উপায়, ভেবে হেরি অন্ধকার।
~~.
পা’বার যা চাই বলে, মা তব শ্বেতাঙ্গ ছেলে
এ কৃষ্ণ সুত সকলে দ্বেষে নিরন্তর ;
কথার ছুতার ছলে রাজভক্তিহীন বলে,
কা’রে বলি এ বেদনা, কে আছে এ দেশে আর।
-
ভৈরবী -পােস্ত।
(* ছাড় রে ভাই মােকদ্দমা”—সুর)
মরি কি সজ্জিত হিন্দু ধর্মের ভাণ্ডার, ও
যে যা চাবে পাইবে সে যথা অধিকার।
১৮৯৭ সালে রচিত।
১৩০
বিবিধ।
ফিরে নাহি কোন জন বঞ্চিত হয়ে কখন,
রয়েছে নিয়ত অবারিত তার দ্বার।
শীক্তের শক্তিতে ভক্তি, শিবে শৈব-অনুরক্তি,
মুক্তি-মন্ত্র বৈষ্ণবের হরিনাম সার ;
কেহ ফুল বিবৃদলে, কেহ পূজে গঙ্গাজলে,
মানসে পূজিয়ে কারাে তৃপ্তি অনিবার।
জ্ঞানে যে অপক্ক তার প্রতি নাহি অবিচার,
অনন্ত নরক ভয় বজ্জিত ভাণ্ডার ;
“যে জন যেরূপে ভজে তারে তেমি হও মা রাজি,
এমন বিশ্বাসবাণী কোথা মিলে আর ?
২৮
(“ভেবে মরি কি সম্বন্ধ তোমার সনে”সুর)
বিনে জ্ঞানের মানুষ কভূ নয় ত াঁচা (1);
ছা বিনে যেমন খালি খাঁচা।
শিবশুন্য কাশী, স্বরশূন্য বাঁশী,
তালবােধহীনের যেমন নাচা;
যথা জলশূন্য সর, ফল শূন্য তরু,
শুধু শাদা জলে দেওয়া সঁচা (২)।
(কৈবল বিড়ম্বনা।)
(১) সত্য,
(২) বীজ ।
খাদী।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
~~~-
পশুর প্রকৃতি হৃদয়েতে যার,
মানব আকারে সুসার কি তার ?
করি আলোক নিৰ্বাণ আঁধারেতে গতি,
এমন জনের মিছে বাঁচা।
''
~~~~
ক্রীড়াশীল শিশুদ্বয় দর্শনে।
(ভাব, দেখি মন সে দিন কেমন” এই ভাবের—সুর )
(মরি ) কিবা মনােহর শোভা ভূতলে অতুল,
কে গড়িল এ যুগল চাদের পুতুল।
মনে এই অনুমানি, স্বর্গীয় ছবি দু’খনি,
অথবা অপরশিত অনাঘ্রাত ফুল !
শুনিয়ে মধুর বাণী শীতল হইল প্রাণী,
যেন নিরঝরিণী করিছে কুলকুল !
নাহি বিষাদের লেশ, কষ্ট কি যন্ত্রণা ক্লেশ,
স্বচ্ছ সরােবরে যেন মরালের কুল।
এমন র’বে না"কালে, পুড়িবে সংসারূনলে
হায় এ পুণ্য প্রতিমা, ভেবে প্রাণ আকুল।
.
বিবিধ।
~~~~~~~
৩e
{“ভেবে মরি কি সম্বন্ধ” –সুর )
মনের কথা বলব কারে বুঝবে কে তা,
কে আছে মনের মানুষ হেথা।
(বলি)
খাই যদি ধূলাে লােকে চিনি কই,
চূণ থেয়ে সবে কই শুকো দই।
অন্ধকারে আলাে, সাদায় বলি কাল,
সুধায় বলি বিষ, বিষকে সুধা।
(সে দুঙ্খ বলব কারে)
( করি)
কেন গঙ্গোদকে ফিরে নাহি চাই,
কূপ-জল পিয়ে পিয়াস মিটাই;
সুর-পুরে বাস, অসুরের দাস,
সুধা ফেলে সুরা খাচ্ছি হেথা।
(হায় কে জানিবে তা )
(তাই)
এ সংসার-কংস-রাজ্যে করি বাস,
সদা ভয়ে ভয়ে যায় বার মাস ;
মনে মনে হরিনাম জপ করি,
কাল যাপি ঢেকে মৰ্ম্মব্যথা।
(কেবল জানেন হরি।
১৩৩,
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
কালাংড়া-ঠুংরী।
(“কোথা কৃষ্ণ জয় যদুপতি জনার্দন”—সুর)
তিনিই রমণীকুলে দেবীর উদয়,
নীতিহীন পথে যিনি নিয়ত করেন ভয়।
~
কুকথা কুগাথা যাতে সতত বিতৃষ্ণা তাতে,
সুকথায় সুগাথায় যার সুখােদয় ;
পাপে ঘৃণা পুণ্যে পরিতৃপ্তি অতিশয়,
হরিনামামৃত রসে সরস যার হৃদয়।
সাত্ত্বিকী বসন ভূষা প্রতি যার ভালবাসা,
আশার দুরন্ত নেশা না পরশে যায় ;
যার প্রাণ পরিপূর্ণ স্নেহ মমতায়,
গুরুজনে ভক্তিমতী যিনি সুদীনে সদয়।
।
t,
‘সন্তান সন্ততি যারা না হয় সুপথহারা,
থাকে সুস্থ’, যিনি সুশিক্ষিতা এ শিক্ষায় ;
সুখে দুখে যিনি সদা পতির সহায়,
প্রতিবাসী জনে যার ভালবাসা অতিশয় ।
৫
বিবিধ।
~~~
~~
৯৯
বিস্তৃত ধাশ্যক্ষেত্র দর্শনে।
বারোয়াঠুংরী।
(“উঠিল ধবল নিশান”–সুর)
কেবা আছে তােমার সমান,
এ দেশ-দুর্গতিহরা কল্যাণ-নিদান?
মা তুমি রয়েছ বলে’, জীবিত আছি সকলে,
ন’লে হ’ত জনহীন এ দেশ শ্মশান।
পারেনি লুষ্ঠিয়ে দেশ সমূলে করিতে শেষ,
তুমি অনুকূল বলে, মােগল পাঠান।
*
করের কঠোর ভারে, দুরভিক্ষ-অত্যাচারে,
রক্ষিছ সকলে তুমি নিজে করি দান।
ধনরত্ন অলঙ্কার, কি যান বাহন আর,
তুমি মাত্র এ সবার মূলে বিদ্যমান।
যদি না থাকিতে তুমি, হ’ত কবে মরুভূমি,
বিজাতি-কৃত পেষণে শােষণে এ স্থান।
হিন্দু আৰ্য ঋষিগণে, তােমার মহিমা জেনে,
ব্রহ্মের স্বরূপ তােমা করিতেন জ্ঞান।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
འཆར་རན།
আলেয়া-একতালা।
(“নাথ । রাম কি বস্তু সাধারণ-~-সুর)
লাউই এস হে গুণনিধান!
আজ প্রতি-উপহারে তুষিব তােমারে,
বাসন করিয়ে অন্তরে,
সবে এসেছি এখানে মিলে প্রাণে প্রাণে
হইয়ে তৃষিত প্রাণ।
~~
বল ওহে মােরা দিব কিবা আর,
হতে পারে বল যােগ্য কি তােমার,
আছে মাত্র এক কৃতজ্ঞতা, তাই
এসেছি করিতে দান।
কত ভাল তুমি বেসে প্রজাজনে,
রেখেছিলে সুখে সদা সুপালনে,
আশ্রিত অধীনে পালিতে যতনে
করি কত সুবিধান।
যাবে চলে তুমি ভেবে আজ তাই
বিষাদে মলিন হ’তেছি সবাই,
।
১৩৬
-
বিবিধ।
ge
~~~
এই শেষ দেখা ভেবে গুণধাম,
ব্যাকুল হ’তেছে প্রাণ।
ক
দিবা নিশি শ্ৰম করি অকাতরে,
কাটা’লে জীবন পর-উপকারে,
চলিলে এখন ওহে ভাগ্যবান,
ব্ৰত করি সমাধান।
যাও ঘরে, গিয়ে শান্তিসুখে থাক,
ভালবেসে সবে সদা মনে রেখ,
দেখাে যেন ভুলে থেকো না সকলে,
বলি তব সন্নিধান। *
০
৩৪
আলেয়া—আড়াঠেকা।
(“তােমারি আরতি করে নিখিল ভুবন”—সুর )
কি সুখের দিন আজ, অতুল আনন্দ মনে
মিলিত হয়েছি সবে স্মরিতে রামমােহনে।
# এই গানটী কোচবিহার রাজ্যের সুপারিন্টেন্টে মিঃ ই, ই, লাউইস সি, এ
মহােদয়ের বিদায় উপলক্ষে যে সন্ধ্যসমিতি হয় তাহাতে গীত হইয়াছিল।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
~-
কৃতজ্ঞতা-উপহারে তুষিব আজি তাহারে,
গা’ব তঁার গুণরাশি একপ্রাণ একমনে।
অমর ভারত ছবি সে জ্ঞান-গৌরব-রবি
দিতেছে, দিবে আলােক লােকে চিরদিন ;
ধৰ্ম্মরাজ্যে অমিলন অবশ্য হবে বিলীন,
আসিবে আশার দিন তার মহামন্ত্রগুণে।
~~~~
জাগালেন সযতনে ঘুমন্ত স্বদেশিগণে,
জ্ঞানের আলােক দানে দেখালেন পথ';
চল সেই পথ ধরি বাসনা সফল করি,
স্মরি সে করমবীর ধরমের মহাজনে। *
লক্ষৌ-টপ্পা।
(“কত কাল পরে-সুর)
f
বল সে কিসে মানুষ এ ভূতলে,
করমেব কালে ধরমে যে দলে।
* ১৮৯৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর মহাত্মা রামমােহন রায়ের স্মরণার্থ কোচবিহার
ল্যান্সডাউন হলে যে মহতী সভা হইয়াছিল, তাহাতে এই গানটা গীত হয়।
বিবিধ।
হয়ে শাস্ত্রবিশারদ বিদ্যাবলে,
ধনলাভবশে বিপথে যে চলে।
জানি দুষ্ট বিধানে অনিষ্ট ফলে,
চলিছে তবু যে মানি সে সকলে।
see
পরদাসদশা কারাবাস বলে,
যে কৃতার্থ অতীব দাসত্ব পেলে।
জানি ইষ্ট অশেষ দশে মিলিলে,
মিলনের পথে যে রােধে সবলে।
বুঝি সত্যমূলে সুখ বিশ্বতলে,
বিপরীত অসত্য পথে যে চলে।
“বসুধৈব কুটুম্বক” শাস্ত্র খুলে,
করে স্বার্থসেবা যে ছলে কি বলে।
বাগেশ্রী -আড়াঠেকা।
(“কে রুচিবে মধুচক্র” -সুর)
কে বল এখন আর, বল সে বঙ্কিম বিনে,
সাহিত্য-সাগর মথি তুষিবে, অমৃত দানে।
తన
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
মলিন মাতৃভাষারে কে সাজায়ে অলঙ্কারে
স্থাপিবে হৃদি-মন্দিরে,-পুলকে ভাসাবে প্রাণে।
ভাবের তুলি লহরী কে ল’বে পরাণ হরি,
বাজিবে কার বাঁশরী এবে সে মধুর তানে।
তুলিয়া পথের তৃণ কে করিবে নিরমাণ
অতুল মনমােহন অমর পুরী বিমানে।
enca
প্রতিভার প্রভাকর, বাণীপুত্র হেন আর,
উজলি বঙ্গ-অম্বর উদিবে কি কোন দিনে।
:
প্রসাদী।
(“এবার আমার উমা এলে”—সুর)
টাকা তুমি কষ্টি পাথর
মানব-সােণা পরস্থ তরে ;
ভেল কি খাটী, চলন, পাকা,
দেখতে পাই পরীক্ষা পরে।
রং দেওয়া দেখি বাহিরে,
বুঝতে না পারি ভিতরে
ন
১ঃ০
বিবিধ।
~~~
শেষে কষে, বসে যাই হতাশে,
পাই না খাটা এ বাজারে।
তবু ত দূর দুরান্তরে,
মিস্ত আদত কারো ঘরে ;
( পাছে) “নাই কাণা মা” হয়—ভাবি তাই,
কেমিকেল এসে সহরে।
৩৮
ভৈরবী-একতালা।
(“দিনের দিন সবে দীন”সুর )
এ কেমন কি সৃজন কিছু বুঝা নাহি যায় ;
অমৃতে গরল লুকায়িত সবে,
নিরখি যথা তথায়।
অনিল অনল দেখ চেয়ে জল
সাধিছে জীবের কতই
মঙ্গল,
পলকে প্রলয় হতেছে তা হতে,
উড়ে পুড়ে ডুবে যায়।
মধুর মিলনে বিরহের যােগ,
স্বাস্থ্য অন্তরালে লুকায়িত রােগ,
১৪১
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
জনমে জড়িত মরণ-কারণ,
কে নিবারে বল তায়।
দারা পুত্র বলে সুখের কারণ,
ভােগে দুঃখ জানে ভুক্তভােগী জন,
আশায় নিরাশা নিয়ত নিরখি,
ক্ষতি লাভ লালসায়।
}
*
আলাে অন্ধকার কায়া ছায়া মত,
হরষের সনে বিষাদ জড়িত,
উত্থানে পতন, সম্পদে বিপদ,
হেরিতেছি বসুধায়।
প্রবৃত্তি নিচয় মঙ্গলের তরে,
রয়েছে সজ্জিত মানব-অন্তরে,
কিন্তু বিষ-বীজ আছে তায় বলে,
হিতে অহিত ঘটায়।
“ডুবিব না, লব স্বকাৰ্য্য সাধিয়ে,”
এই মন্ত্র যার রয়েছে হৃদয়ে,
কবি বলে সেই সংসার-সাগরে
অনায়াসে পার পায়।
১
বিবিধ।
(“ভেবে মরি কি সম্বন্ধ”--সুর)
কেন এত দুঃখ কষ্ট এ সংসারে,
হেরি হায় প্রতি ঘরে ঘরে।
বিক্ষয়ে কারাে ব্যাকুলিত প্রাণ,
শােকানলে কারো দহিছে পরাণ,
কোথা অন্ন বস্ত্র বিনে হাহাকার রব,
রােগ ভােগে হেরি জীর্ণ করে।
(এ ধরণীতলে )
হেরি সবে হয়ে একমনপ্রাণ,
নিয়ত করিছে সুখের সন্ধান,
তবু ঘটে ভাগ্যে দুখ, বুঝিতে না পারি,
এ রহস্য-ভেদে বুদ্ধি হারে।
( কি এ সুধাই কারে ?)
৪০
বেহাগ-আড়া।
।
যেখানে যা পাবে ভাল সাদরে কর গ্রহণ,
বিজাতি-বিভব ভেবে ঘৃণা কোরো না কখন।
১৪৩
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
কি সাহিত্য কি বিজ্ঞান, নীতি শিল্প রসায়ন,
আপন ভাণ্ডারে এনে অভাব কর মােচন।
“আছে” কি “ছিল সকলি” ছেড়ে এ অসার বুলি,
যতনে রতন রাজি কর আহরণ ;
অসার এনাে না ঘরে, যা আছে ত্যজ সত্বরে,
দেখিবে অচিরে জাতি লভিবে নব-জীবন।
~~~ .
বৃথা অহঙ্কার বশে নীরবে থেকো না বসে,
ভাব কিসে অভাব হইবে বিমােচন ;
সঙ্কীর্ণ সীমায় থেকে যারা ভাবে “আছি সুখে,
নিশ্চয় অচিরে তারা হইবে চির নির্বাণ।
৪১
(ভাব দেখি মন সে দিন কেমন”—সুর)
অন্ন বিনে কিসে বাঁচে ভারতসন্তান,
পাই উপায় কিছু করিয়া সন্ধান।
দারুণ দুর্ভিক্ষানল ক্রমে হ’তেছে প্রবল,
ভাবিয়ে ভাবী দুর্দশা হতে হয় হতজ্ঞান।
1.
১৪৪
বিবিধ।
~~~~~~
মরিতেছে কত শত কেবা লেখা করে তত,
পড়ে আছে ভূমে কত হয়ে ওষ্ঠাগত প্রাণ।
যা ফসল হয় দেশে রপ্তানি” তা লয় যে,
কিসে তবে এ বিপদে পাবে সবে পরিত্রাণ ?
বিদেশী ভূপতি ‘জার’, আহা কত দয়া তার,
অযাচিতে অন্ন দিতে হয়েছেন আগুয়ান।
}
আমাদের যিনি গতি, সদয়া তঁা হ’তে অতি,
দূরে বলে হয়ে আছি যেন মা মরা সন্তান।
হােক দূর, আয় সবে ডাকি মায় উচ্চরবে,
শুনিলে ভারতেশ্বরী হ’বে দুঃখ অবসান। *
৪২
মিশ্র ইম—একতালা।
(ভবে সেই সে পরমানন্দ”—সুর)
এক বিধিবশে চলে না সংসার,
(তাই) পরিবৰ্ত্ত প্রয়ােজন হয় তার।
০
১৩০৪ সালের দুর্ভিক্ষ উপলক্ষে রচিত।
৪
১৪৫
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
জ্ঞান বুদ্ধি হয় যত সুমাজ্জিত,
আচার বিশদ হয় তার মত,
পূৰ্ব্বকৃত ভুল ভ্রান্তি যায় দূরে,
নব বিধানের হয় অধিকার।
-
যেবা পুরাতনে ভেবে সত্য সার,
নিদিয়ে নূতনে করে পরিহার,
চলে গম্য পথে মুদিয়ে নয়ন,
নিশ্চয় পতন ভাগ্যে ঘটে তার।
পূৰ্ব্ব হ’তে পর ভেবে দেখ:মনে,
কি ছিল হয়েছে পরিবর্তনে,
থাকিলে অচল পূৰ্ব্বভাব লয়ে,
হ'ত কি এমন ক্রমােন্নতি আর ?
গাষ্ঠী দর্শনে।
মিশ্র ভৈরবী-মধ্যমান।
কোটিকল্প যুগ হ’তে করিছ যে উপকার,
মিলেনা এ মহীতলে খুজিলে তুলনা তার ,
M
১৪৬
বিবিধ।
খাইয়ে বনের ঘাস দেও দুগ্ধ বার মাস
অকাতরে ঘরে ঘরে যেন মন্দাকিনী-ধার!
নাহি ভেদ সুরাসুরে, দেও সুধা সবাকারে,
ভাব না স্বপক্ষ কে বিপক্ষ সংসারে ;
তাই তব ঋণ রাশি স্মরিয়া ভারতবাসী
আৰ্যত মা তােমারে পূজে অনিবার।
~~~*
৪৪
প্রাঙ্গণস্থ মৃতপত্নীর শরীর দর্শনে।
কীৰ্ত্তন -একতালা।
এই ত ভবের লীলা ধূলাখেলা হ’ল অবসান,
দেখা আর হবে না এ জনমে করিলে সন্ধান।
যাদের মমতা বশে আছিলে আবদ্ধ এসে
এ সংসারাবাসে,
এখন ফেলে সে সব গেলে অনায়াসে,
বুঝি কেউ কার নয় ভেবে মনে
করিলোপ্রয়াণ।
%
৪৪ হইতে ২০ সংখ্যক গীত কয়েকটী, জনৈক স্ত্রীবিয়ােগ-ব্যথিত শেষাবস্থাপন্নের
১৪৭
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি
~~~~
অসুখ যন্ত্রণা যত, এ সংসারে অবিরত
ভুগেছ কত,
দুখের হয়েছে শেষ, আর পাবে না ক্লেশ,
গিয়ে স্বর্গপুরে র’বে সুখে,
জুড়াইবে প্রাণ ।
৪৫
শ্মশানে।
ভৈরবী-মধ্যমান।
এই ত হ’ল জীবনে দেখা শুনা শেষ,
জনমের মত আজ দেখা শুনা হ’ল শেষ ।
রেখে তােমারে শ্মশানে
যাব ঘরে কোন্ প্রাণে,
হয়েছে আমার পক্ষে
সে গৃহ বিজনদেশ।
গিয়ে তুমি স্বর্গধামে,
থাকিবে শান্তি আরামে,
থাকিলাম ভবে আমি,
ভুগিতে অশেষ ক্লেশ।
।
১৪
বিবিধ।
~~~~
৪৬
শ্মশান হইতে ঘরে গিয়া।
বারোয়া—ফুংরি।
এই ত ঘরে রয়েছে সকল
স্বর্গীয়া সতীর চিহ্ন গৃহের সম্বল।
যখনি যেটি নয়নে হেরিতেছি প্রতিক্ষণে,
পড়ি তারে মনে, চিত দহিছে কেবল।
হেরি চিহ্ন এই ভাবে, নিয়ত প্রাণ পুড়িবে,
জুড়াবে না কভু আর বিনা চিনল।
৪৭
বেহাগ-একতালা।
বল কোথা গেলে ;
এমন অসময় কি বলে আমায়
এ ভবের পথে একাকী ফেলে।
মাস পক্ষ যার সঙ্গছাড়া হলে,
আতঙ্কে অধীর হয়ে যেতে গলে,
১৪৯
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
কি বলিয়ে হায় বল শুনি তায়
জনমের মত ফেলে পলাইলে।
~~~
কিবা তৃপ্তিকর অতৃপ্তির কিবা,
বুঝিয়ে এখন কে করিবে সেবা,
অসুখ-শয্যায় বল মােরে কেব।
সুধাইবে প্রতিক্ষণ ;
সেজে রােগে রােগী লবে কষ্টভার,
হয়ে ভুক্তভােগী বল কেবা আর ;
কে আর এখন গেলে দূর দেশে
হবে ব্যাকুলিত ‘কেমন আছি’ বলে ।
৪৮
ললিত -আড়াঠেকা।
দেও দেখা দয়া করি বারেক আসি স্বপনে
তব বিরহ-ব্যথিত তাপিত কাতর জনে।
সেই যে গিয়েছ চলে, ভাসায়ে শােক-সলিলে,
পলেকের তরে তা কি বারেক পড়ে না মনে।
বিবিধ।
বুঝেছি ত্রিদিব বাসে, দেবদেবী সহবাসে,
রয়েছ সদা উল্লাসে ভুলিয়ে সকলে ;
ত্যজি মায়া-মােহ সবে, ভুলে কি রয়েছ তবে,
‘সংসার অসার’ এই মহামন্ত্রের সাধনে ?
~~
៩
খভৈরবী—একতালা।
(“হরির প্রেম কি পায় সকলে”—সুর)
সে দিন আসবে না আর ফিরে ;
যার স্মৃতি-জাগরণে হয় প্রাণ আকুল,
নিবারিতে নারি নয়নের নীরে।
==
ছিল যার সনে সুখ এ ভবনে,
গেছে চলি সে সকল (ই) তার সনে,
আছে শুধু সার হাহাকার প্রাণে,
শূন্যময় সদা হেরি এ সংসারে।
কেন তবে মিছে থাকা এ ভবনে,
বল শুনিমন কোন্ প্রয়ােজনে!
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
চল যাই চল, জুড়া’তে জীবনে,
সে অমৃত-ধামে শাস্তি-সরােবরে ।
ভৈরবী--মধ্যমান।
(“কবে সমাধি হব”—সুর)
কবে মায়ার বন্ধন হইবে ছেদন,
হেরিব স্বরূপ সৰ হ’বে ভ্রান্তি-নিরসন।
‘আমার’ ‘আমার ভুল সমূলে হবে নির্মূল,
ছুটিবে আশার নেশা ভাঙ্গিবে ঘাের স্বপন।
রােগ-শােক-জরা-ভয় কত দিনে হবে লয়,
হয়ে জয়যুক্ত যাব সদানন্দের সদন।
ক
২;
{
।
পৌরাণিক।
No text on this page.
পৌরাণিক।
পৌরাণিক।
রামের প্রতি সীতা।
}
পরজ বাহার -মধ্যমান।
কি দোষে দাসীরে দিলে বনে দয়াময়।
কি
ঘুমে
কি জাগরণে
কখন জানিনা তব চরণ বিনে।
বিনা আমার বলে, যা থাকে হবে কপালে, ?
কি হবে সন্তান হলে তার জীবনে।
আশা ছিল ক্ষীর সরে পােষণ করিব যারে,
কি দিয়ে বঁাচাব তারে তাই ভাবি মনে।
তুমি রাজা অযযাধ্যার, সুখের নাহিক পার,
তােমার সন্তান দুঃখ স’বে কেমনে ;
ফলিল অদৃষ্ট লেখা, আর না হইবে দেখা,
দয়া করে অন্তে স্থান দিও চরণে।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
সীতা-নিৰ্বাসনে রামের প্রতি লক্ষ্মণ।
বেহাগ-একতালা।
(সখি শ্যাম না এলো”-সুর)
{
হায় কেমনে (বল);
অতীত ভুলিয়ে নিদয় হইয়ে
অকারণে মাকে কেন দিলে বনে।
এই যদি ছিল হায় তব মনে,
কেন কষ্ট নিলে জলধি বন্ধনে,
সখিত্ব করিয়ে কপিকুল সনে,
সবংশে বধিলে কেন দশাননে ?
রূপে গুণে যিনি ভুবনমােহিনী,
সতীত্বের শিরােমণি যে রমণী,
কোন্ প্রাণে তারে বল রঘুমণি,
বনবাস দিলে হায় ;
কত কষ্ট পেয়ে ভ্রমি বনে বনে,
কেঁদেছি দু’ভেয়ে যার অন্বেষণে,
পেয়ে পরি গলে, অগাধ সলিলে
কেন দিলে ফেলে সে কভুষণে ।
-
;
।
পৌরাণিক।
asket
;
অনশনে যদি এ পাষাণ প্রাণ
পরিহরি দেহ করিত প্রয়াণ,
কিম্বা যদি চলে যেত শক্তিশেলে,
পাইতাম পরিত্রাণ
করিতে হতনা এ মহাপাতক,
হইতে হত না জননী ঘাতক,
কেন এতক্ষণ বধিছ না বিধি
শত বজ্রাঘাতে এ পাপী লক্ষ্মণে।
দক্ষযজ্ঞে সতীর উক্তি।
মিশ্র ভূপালী-টুংরী।
(দেখে এলাম বৃন্দাবনে”-সুর)
বল কি শােভে ভূষণে
ভূষিত করিলে তনু হৃদয় সুন্দর বিনে।
পতি-ভক্তি সদাচার রমণীর, অলঙ্কার,
সে ভূষণ নাহি যার কি ফল তারঞ্জীবনে।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
سنس
বিভূতি বাঘের ছাল পতি যা বাসেন ভাল,
তাই ত চিরসম্বল ভূষণ আমার ;
তা বিনা কিছু জানি না, বিলাসে নাহি বাসনা,
সদা যেন পূজা করি সদাশিবে হৃদাসনে।
৪
~~~-
( প্রসাদী সুর।)
হায় উমাশশী আসবে কবে,
এসে দুখিনীরে মা বলিবে।
।
কেমন আছে কি করিছে,
হায় সে কথা কে জানাবে;
শিব শ্মশানবাসী সন্ন্যাসী যে,
প্রাণ বিদরে সেইটী ভেবে।
জানি সে কেঁদে সারা
t
হচ্ছে কত ভেবে ভেবে ;
তাই কেঁদেছে প্রাণ উমা বলে,
বল কে ভরে এনে দেবে।
।
অপর পক্ষ গেল চলে,
দেখিস না কি তােরা সবে ;
১৫
পৌরাণিক।
যদি দেবীপক্ষ হয় বিপক্ষ,
বল্ জয়া কি করব তবে।
জানিস্ ত এক উমা বিনে
নাই মেনকার কেউ এ ভবে ;
তবে কি দিয়ে বুঝা’ব প্রাণে,
বাঁচব কিসে তার অভাবে !
বারোয়া—ফুংরী।
(“উঠিল ধবল নিশান”--সুর )
কবে আসিবে উমাধন।
জুড়াব তাপিত প্ৰাণ হেরি সে বদন।
অন্তরে বাহিরে হেরি মার সেমুখ-মাধুরী,
স্বপনে নেহারি, হেরি মুদিলে নয়ন।
সম্বৎসর হ’র গুত, আর বা সহিব কত,
সহিতে না পারি প্রাণ সদা উট টন।
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি। ~~~~ ~~ যাও গিরি ত্বরা করি আন গে প্রাণ-কুমারী, কেমনে রয়েছ ভুলে বল সে কারণ। বিভাস- তেওট। ০ (“ওলাে রাজকন্যে বল কি জন্যে অরণ্যে”-সুর) -~- গিরি যাও হে যাও, যাও আন গে ত্বরা করি উমারে ; আজ নিশি-স্বপনে এসে মা বলে ডেকেছে মা আমারে। কত দিন হয় না মনে না হেরে উমা-ধনে, সতত ব্যাকুল প্রাণে আছি, বহিছে ধারা নয়নে ; ভুলে আছ কেমনে, হলে অন্যে, প্রাণ দিত সে কন্যার তরে। ৫ ৭ * ললিত -আড়াঠেকা। গা তােল গিরিগেহিনি, গা তােল মেল নয়ন, আসিছে ঈশানী, এসো আনি হয়ে আগুয়ান ৫ ।
পৌরাণিক।
ইং
সম্বরি বিষাদ ভারে, চল আনিগে উমারে
শীতল হবে পরাণ হেরি তার চানন।
;
ঐ হের পূর্বাকাশে প্রভাতী তারা বিকাশে,
দয়েল মধুর শিসে গাইছে বিভাস ;
আসিছেন উমা বলে, শেফালিকা তরুদলে
আনন্দ প্রকাশ ছলে করে পুষ্প বরিষণ।
~~~~
~~~
ললিত—আড়াঠেকা।
এস উমা এস এস মা বলে জুড়াও প্রাণ,
পথ পানে চেয়ে আছি, বল মা বিলম্ব কেন।
নাহি নিদ্রা'দু’নয়নে কেবল তব চিন্তনে,
রয়েছি ব্যাকুল, ফণী মণি বিহনে যেমন।
গণিতেছি করকষ্ঠি, অতীত হইলে ষষ্ঠী,
শুভ সপ্তমীতে মা গাে দেখিব তব বদন;
মনসাধে কুতূহলে
মা তােমারে করি কোলে,
জুড়া’ব তাপিত প্রাণ ও মুখে করি চুম্বন।
}
১১
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি। ~~ খট ভৈরবী—একতালা। (উমা) আছে কি মনে মা বলে ? তুমি বিনে আর জান ত আমার ‘মা’ বলিতে নাই এ মহীতলে। ~~~~~ সন্তান যেমন জননীর ধন, এ ভবে দ্বিতীয় আছে কি তেমন ? জান ত সকলি কি বলিব আর, তবু কেন মায়ে থাক মা ভুলে। ভেবে ভেবে সারা মা তােমার তরে, ক্ষুধা তৃষ্ণা সব গিয়াছে অন্তরে, আছি শুধু মা গাে আশার আশায়, ভাসিতেছি সদা নয়নের জলে। ঐ। মেনকার প্রতি উমা। ঐ- আসি মা কেমন করে ; যে ঘরেতে বাস কৃরিবার মাস, জান তুমি কত বলিব তােমারে। ৫ ৫
পৌরাণিক।
ve
*
জননি গাে তব কথা মনে হলে,
কে জানে কত কঁাদি যে বিরলে,
নয়নের জলে ভেসে যায় তনু,
কে আছে এমন আর বুঝে কাজ করে।
জান নারী জাতি চিরপরাধীন,
সাধিতে কি পারে মনের বাসনা !
পর-উপাসনা জীবনের ব্রত,
সুখ দুখ সব পরের করে।
ভক্তের উক্তি।
ভৈরবী-মধ্যমান।
কেন মা এলে ভারতে কি দেখিতে আর ?
আতঙ্কে তের শ’ চেরে হেরিতেছি অন্ধকার।
৫
একে বিচিকা জ্বরে জমজর ঘরে ঘরে,
“পেলেগ” তার উপরে করিছে ঘাের অত্যাচার।
জমে দুরভি-রল এ দেশে হয়ে প্রবল,
অকালে অসংখ্য লােকে গ্রাসিতেছে অনিবার।
.
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
سر
~~~~~~~
সব হ’তে অতিশয় হয়েছে শাসনভয়,
কখন কি হয় মা গাে নিশ্চয় নাহিক তার।
বৃটনের দয়ানদী এ ভাবে শুকায় যদি,
অচিরে ধরিবে দেশ মরুমূৰ্ত্তি সাহারার ।
ভৈরবী--একতালা।
৮
(“দিনগত কিন্তু নহে ও রাম”-সুর)
পােহাইলে নিশি যাবে উমাশশী,
কেমনে এ দেহে রবে,এ প্রাণ।
হবে নিরানন্দ এ নগরী;
(আমি) নয়নের তারা
উমা হয়ে হারা,
হ’ব কাঙ্গালিনী, র’ব ম্রিয়মাণ।
আসিয়ে বিজয়া হইয়ে নিদয়া,
প্রাণের অভয়া ধনে ,
(লবে ) করিয়ে হরণ না শুনি বাবণ,
হানিয়ে হৃদয়ে খরশাণ বাণ।
1 )
পৌরাণিক।
বেহাগ-একতালা।
(সখি শ্যাম না এলে”—সুর)
তােমার কেমন বিধান,
ওহে বিধি তাই সুধাই তােমারে,
বল শুনি বল করি কৃপা দান।
~~-
কি বলিব কত সাধ্য সাধনায়,
যতনের ধন পেয়ে অভয়ায়,
রাখিতে নারিব, এ কি বিধি তব,
নবমীর নিশি হলে অবসান।
*
কাল উমাশশী হায় এ সময়,
হলে অন্তগত, অন্ধকারময়
হবে এ আলয়, কি হবে উপায়,
ভেবে প্রাণ আকুল হায় ;
এ আনন্দ কোলাহল যাবে দূরে,
ভাসিবে সবাই নিরানন্দ-নীরে,
দহিবে নিয়ত উমার বিরহ
প্রবল অনলে মেনকার প্রাণ।
}
সঙ্গীত-কুসুমাঞ্জলি।
১৪
রামপ্রসাদী।
জংলা মল্লার -যৎ।
(*এবার আমার উমা এলে”—সুর )
যেয়ো না যেয়ো না উমা রাখ কথা থাক কোলে,,
কি দিয়ে বুঝা’ব প্রাণে তুমি যদি যাও মা চলে।
~~~~
সম্বৎসর গত হলে এসে অনি'যা মা চলে,
ওমা র’বে না মাসেক পক্ষ হা এ বিধি কে করিলে !
অরাকি অদৃষ্ট-লেখা আছে ফিরে পাব দেখা,
ওমা র’ব কি তাের বিরহে বেঁচে এ ধরণীতলে।
এ আনন্দ মহােৎসব তুই গেলে ফুরাবে সব,
ও মা নগর হবে নীরব, (আমি) ভাসিব নয়নজলে!
.
বেহাগ-যৎ।
(“নিলয় হয়ে বিদায় চেয়ে না”-সুর)
মা বলিতে তমা বিনে আর
নাহি কেহ রেখো মনে, এ মিনতি মেনকার
{
*
পৌরাণিক।
ছিল যে মৈনাক ধন, দিয়েছি তা বিসর্জন
অকালে কাল-সলিলে, প্রাণ পুতলি আমার।
তাই মা তুমি কেবল এ দুঃখিনীর সম্বল,
তােমার বিহনে মাের অখিল হবে আঁধার।
নলের উদ্দেশে দময়ন্তী।
বেহাগ—একতালা।
দয়িত কোথা লুকালে।
একাকিনী কামিনীরে কাননে ফেলে ।
জন মানব বিহীন এ গহন বিপিন,
তাহে তিমিরবসনা যামিনীকালে।
জানু উপাধান করে শশায়ায়েছিলে দাসীরে,
সে কি নাথ ঘুমঘােরে জিবে বলে ?
কোথা আছ প্রাণসখা, ত্বর এসে দেও দেখা,
ন’লে বধিবে এখনি শ্বাপদকুলে।
সম্পূর্ণ।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.