Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Parameshwar O Tahake Labher Upay
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
পরমেশ্বর ও
তাঁহাকে লাভের উপায়)।
( অর্থাৎ বেদান্ত-দর্শন, উপনিষদ, গীতা, মনুসংহিতা
ও সৰ্ব্ববেদান্তসিদ্ধান্তসারসংগ্রহের সংক্ষিপ্ত
সরলসারসঙ্কলন)
শ্রীগােপীনাথ মিত্র
৩২ নং জয়মিত্র স্ট্রাট, কলিকাতা।
সন ১৩৪৪ সাল।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ]
[ মূল্য আট আনা মাত্র।
প্রকাশক-শ্ৰীকৃষ্ণনারায়ণ মিত্র,
৩২ নং জয়মিত্র স্ট্রীট,
কলিকাতা।
ব্ৰহ্ম সত্যং জগন্মিথ্যা
জীবাে ব্ৰহ্মৈব না পর।
প্রিন্টার—ঐজিতেন্দ্রনাথ দে,
শ্রীকৃষ্ণ প্রিন্টিং ওয়ার্কস্,
২৫৯ নং অপার চিৎপুর রােড,
কলিকাতা।
ভূমিকা ব্ৰহ্মবিদ্যা বা মােক্ষশাস্ত্র বলিতে স্থূলতঃ বেদান্ত-দর্শন, উপনিষদ্ ও গীতা বুঝায় ; ধর্মশাস্ত্র বলিতে স্মৃতি বুঝায় ; মনুসংহিতা সর্বপ্রধান স্মৃতি; আচার্য্য শঙ্কর “সৰ্ব্ববেদান্তসিদ্ধান্তসারসংগ্রহে” বেদান্ত সম্বন্ধীয় যাবতীয় তত্ত্ব সন্নি- বেশিত করিয়াছেন। সুতরাং ব্রহ্মতত্ত্ব, ধর্মতত্ত্ব ও সাধনতত্ত্ব জানিতে হইলে, উক্ত গ্রন্থ কয়খানি অধ্যয়ন করা নিতান্ত প্রয়ােজন। কিন্তু সৰ্ব্ব- সাধারণের পক্ষে তাহা সম্ভবপর নহে। অতএব সৰ্বসাধারণের সুবিধার জন্য এই পুস্তক সঙ্কলিত হইল। এই পুস্তক পাঠে যদি একজনও উপকৃত বােধ করেন তাহা হইলে শ্রম সফল বােধ করিব। এ সম্বন্ধে দুইটি বিষয় বিশেষ অনুধাবন যােগ্য ; প্রথম—দ্বৈত অদ্বৈত মতবাদ ;-আমরা দ্বৈতে অবস্থিত ; সুতরাং সমস্ত সাধনাই দ্বৈতভাবে করিতে হয় এবং এই সাধনা করিতে করিতেই ইহার ফলস্বরূপ চরমতত্ত্ব অদ্বৈত স্বতঃই পরিস্ফুট হয়। দ্বিতীয়—জ্ঞান, ভক্তি, যােগ, কর্মসাধনবাদ -বস্তুজ্ঞান না হইলে তাহাতে ভক্তি হয় না; এবং ভক্তি না হইলে তাহাতে একাগ্রতা বা তৎসম্বন্ধীয় ক্রিয়া সম্ভবপর হয় না। সুতরাং এ সমস্তই পরস্পর সাপেক্ষ। তবে শাস্ত্র অধিকারী ভেদেই ভিন্ন ভিন্ন মার্গের ব্যবস্থা করিয়াছেন; এবং যিনিই যে পথে যান সকলেই শেষ এক চরম সত্যেই উপনীত হইবেন ইহাও ধ্রুব নিশ্চয়। খ্যাতনামা পণ্ডিত শ্ৰীযুক্ত অশােকনাথ শাস্ত্রী এম, এ, পি, আর, এস, বেদান্ততীর্থ মহাশয় এই পুস্তকখানি আদ্যোপান্ত সংশােধন করিয়া আমাকে চিরকৃতজ্ঞতাপাশে বদ্ধ করিয়াছেন। এজন্য তাঁহাকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাইতেছি। তাঁহার সাহায্য ব্যতীত এই পুস্তক প্রকাশ করা সম্ভবপর হইত না।
No text on this page.
বেদান্ত-দর্শন ১। যে সমস্ত বিষয় আমরা প্রত্যক্ষ করি সেই সমস্ত বিষয়েই আমরা অনুমান করিতে পারি। জগৎ-কারণ সম্বন্ধে শ্রুতি অর্থাৎ আপ্ত বাক্যই প্রমাণস্বরূপে আমাদের একমাত্র অবলম্বনীয়। ২। শাস্ত্র বলেন, জগতে একমাত্র যথার্থ সত্য বস্তু ব্ৰহ্ম, আত্মা বা চৈতন্য। তিনি ছাড়া দ্বিতীয় বস্তু নাই। তাহাকে সৎ-চিৎ-আনন্দ বলিয়া বর্ণনা করা হয়। ইহঁকেই পরমার্থ সত্য বা নিগুণ ব্ৰহ্ম বলা হয়। ৩। ইহারই অনির্বাচ্যা শক্তি মায়া, অবিদ্যা বা অজ্ঞান। ব্রহ্মে যখন মায়ার সংশ্লেষ আদৌ থাকে না তখনই তাঁহাকে নির্গুণ ব্ৰহ্ম বলা হয়, তখনই তিনি কেবল, সচ্চিদানন্দ। ৪। মায়া-শবল (নানাবর্ণযুক্ত) হইলে সেই নির্গুণ ব্রহ্মই সগুণ ঈশ্বর বলিয়া কথিত হন। তখনই তিনি মায়াধীশ, কারণ ব্রহ্ম, জগৎ কারণ, সর্বশক্তিমান্ ও সৰ্ব্বজ্ঞ। ইনিও পরমার্থ সত্য নন, মিথ্যা অর্থাৎ ব্যাবহারিক সত্য মাত্র। ৫। এই সগুণ ব্রহ্ম মায়ার প্রভাবে ক্রমশঃ মায়াধীন জীবরূপে প্রতীয়মান হন আর তাহার অনির্বাচ্যা শক্তির পরিণামই জড় জগৎ। ইহাকেই শাস্ত্রে সৃষ্টি বলিয়া বর্ণনা করা হয়। এখানে দেখা যাইতেছে ব্ৰহ্মই সৃষ্টি ব্যাপারে একাধারে নিমিত্ত ও উপাদান কারণ। কিন্তু এরূপ বলাও ঠিক নয়, কারণ নিগুণ ব্রহ্ম কস্মিকালে সগুণ ব্রহ্ম, জীব ও জড়রূপে পরিণত হন না। স্বরূপে অবস্থান করিয়াও মায়া-প্রভাবে ঐরূপ প্রতিভাত হন মাত্র।
পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায় ৭। ইহা ঠিক রঞ্জুতে সর্পভ্রান্তির ন্যায়। অজ্ঞান প্রভাবে রঞ্জুকে সর্প বলিয়া মনে হইলেও রজু যাহা তাহাই থাকে তাহার কোনই পরিবর্তন হয় না। ইহাকে “বিবর্ত” বলে ; যেমন ইন্দ্রজাল, গন্ধৰ্ব্বনগর, ইত্যাদি। ৮। সর্পভ্রমের অধিষ্ঠানভূত রজ্জর যথার্থ জ্ঞান হইলে সর্পভ্রান্তি দূর হয়, সেইরূপ জগমের অধিষ্ঠানভৃত ব্রহ্মের যথার্থ জ্ঞান হইলে সগুণ ব্ৰহ্ম-জীব-জড়-জ্ঞান কাটিয়া গিয়া নিগুণ ব্ৰহ্ম স্বরূপে প্রকাশ পান। ৯। জীব স্বরূপতঃ নির্গুণ ব্রহ্ম, সৎ-চিৎ-আনন্দস্বরূপ ও ভূমা। কিন্তু অজ্ঞান-প্রভাবে ঠিক তাহার বিপরীত অর্থাৎ অনিত্য, অজ্ঞান, দুঃখময় এবং ক্ষুদ্ররূপে প্রতিভাত হন। ১০। জ্ঞানের দ্বারা অজ্ঞান বিনষ্ট হইলেই জীবের নিগুণ ব্ৰহ্ম স্বরূপ উপলব্ধ হয়। ১১। জ্ঞান বিশুদ্ধ চিত্তেই বিকাশিত হয়। এই চিত্তশুদ্ধিও আবার নিত্যকৰ্ম্ম, তপস্যা, শাস্ত্ৰাৰ্থ বিচার ও ভগবদারাধনা দ্বারা লাভ করিতে হয়। ১২। মােটকথা শ্রবণ-মনন-নিদিধ্যাসনই মােক্ষলাভের হেতু। প্রথমতঃ শাস্ত্র হইতে গুরুমুখে আমি ব্ৰহ্ম এইরূপ তত্ত্বকথা শুনিতে হয় ; তারপর বিচার দ্বারা ঐ বিষয়ে নিঃসন্দেহ হইতে হয়; অনন্তর নিরবচ্ছিন্ন ধ্যান দ্বারা এই ভাব আপনাতে সুপ্রতিষ্ঠিত করিতে হয়। তবেই ব্ৰহ্ম সাক্ষাৎকার সম্ভব হইয়া থাকে। ১৩। শূন্য জগত কারণ হইতে পারে না; কারণ “কিছু-না” হইতে “কিছু”র উৎপত্তি হইতে দেখা যায় না। ধ্যানযােগে যদি কেহ শূন্য উপলব্ধি করিয়া থাকেন তথাপি সে সময়ে তাহার আত্মার অস্তিত্ব ছিল ইহা অবশ্য স্বীকাৰ্য্য; কারণ নিঃসাক্ষিক শূন্যের অস্তিত্ব বেদান্ত-দর্শন কদাচ সম্ভব নহে। একমাত্র স্বপ্ৰকাশ আত্মাই সৰ্বকালে স্থিতিশীল ; অতএব আত্মাই আদি কারণ। ১৪। চেতন-নিরপেক্ষ জড়কে কোন কার্য করিতে দেখা যায় না। চেতনই অজ্ঞান-প্রভাবে জড়রূপে প্রতিভাত হয়। চেতনই জগৎ- কারণ। চেতনই আমাদের মূল উপলব্ধি। উহারই মধ্য দিয়া জড়ের অবান্তর উপলব্ধি ; সুতরাং জড় জগৎ কারণ হইতে পারে । চেতনই জগৎ-কারণ। জড়ের পক্ষে বিচিত্র সৃষ্টি রচনা অসম্ভব। ১৫। ঈশ্বরও আদি কারণ নন। তিনিও ব্যাবহারিক সৃষ্টিকর্তা, কৰ্ম্মফল- দাতা এবং আদি-অন্তবান্। অনন্ত সৃষ্টির মধ্যে এক বিশেষ সৃষ্টির প্রভুমাত্র। তাহাকে আদি কারণ বলিলে তাহাকে নির্দয় ও পক্ষপাতী বলিতে হয়। ১৬। জাগ্ৰদবস্থায় মন ইন্দ্রিয়-সাহায্যে বাহ জগৎ উপলব্ধি করিয়া থাকে। স্বপ্নবস্থায় ইন্দ্রিয়ের ক্রিয়া ও বাহ জগৎ থাকে না। একমাত্র মনই সংস্কারানুরূপ সৃষ্টি ও সুখ দুঃখ ভােগ করিয়া থাকে। ১৭। সুষুপ্তিতে মনেরও ক্রিয়া থাকে না। একমাত্র আত্মাই থাকেন তবে অজ্ঞানাচ্ছন্নরূপে বৰ্তমান থাকেন বলিয়া তাহার স্পষ্ট উপলব্ধি হয় না। কিন্তু সমাধিযােগে জ্ঞানের প্রভাবে অজ্ঞান তিরােহিত হইলে তুরীয় অবস্থায় আত্মার যথার্থ স্বরূপ উপলব্ধ হয়। ১৮। এক্ষণে দেখা যাইতেছে যে, আত্মা জাগ্ৰৎ ওপ্নবস্থায় দেহ মন প্রভৃতি উপাধিযুক্ত হইয়াই সুখ দুঃখ ভােগ করেন আবার সুষুপ্তি ও তুরীয় অবস্থায় উপাধি বিযুক্ত হইয়া আনন্দস্বরূপে অবস্থান করেন। তবে সুষুপ্তিতেও পূর্ণভাবে উপাধিবিলয় ঘটে না; মাত্র অজ্ঞানই উপাধিরূপে তখন বর্তমান থাকে।
. পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায় ১৯। সংসারাসক্তিই আমাদের বন্ধের ও দুঃখের কারণ। উহার অসারতা উপলব্ধি করিয়া উহাতে বৈরাগ্যযুক্ত হইয়া নিষ্কামকৰ্ম্ম-উপাসনা- জ্ঞান ও যােগমার্গ অবলম্বন করিয়া আত্মজ্ঞান লাভ করাই একমাত্র মােক্ষলাভের হেতু। ২০। আমি ব্ৰহ্ম ; সমস্ত জীব, জড় ব্ৰহ্ম ; ব্ৰহ্ম ছাড়া দ্বিতীয় বস্তু নাই ; আমাতে ব্রহ্মে এবং ব্রহ্মে আমাতে কোন প্রকার ভেদ নাই। আমি সর্বব্যাপী, অনাদি, অনন্ত, সৎ-চিৎ-আনন্দস্বরূপ, ভূমা, কূটস্থ, শাশ্বত ও নির্ভয়। এই জ্ঞানই অদ্বৈতজ্ঞান। ইহাই পূর্ণজ্ঞান, পূর্ণ আনন্দ ও পরমপদ। ইহার বিপরীত দ্বৈতজ্ঞান। অণুপরিমাণও শােক-মােহ-ভয় ও দুঃখের হেতু। অতএব, সর্বতােভাবে দ্বৈতবুদ্ধি পরিত্যাগ করিয়া সর্বদা অদ্বৈতভাবে অবস্থানপূর্বক ব্ৰহ্মানন্দ ভােগ করিয়া কৃতার্থ হও।
উপনিষৎ ঈশােপনিষৎ ১। ঈশা বাস্তমিদং সৰ্ব্বং যৎকিঞ্চ জগত্যাং জগৎ। তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জীথা মাগৃধঃ কস্যস্বি ধন । জগত্যাং (পৃথিবীর) যৎকিঞ্চ (যা কিছু) জগৎ (নশ্বর পদার্থ) ইদং সর্বং ( এই সমস্ত ) ঈশাবাং (পরমেশ্বর দ্বারা ব্যাপ্ত) তেন (সেইজন্য) ত্যক্তেন ( ত্যাগ দ্বারা) ভুঞ্জীথাঃ (আত্মােপলব্ধিকর) কম্বিৎ ( কাহারও) ধনং মা গৃধঃ (ধনে আকাঙ্ক্ষা করিও না)। রজ্ঞসর্পের ন্যায় এই জগৎ পরমেশ্বরে কল্পিত, সুতরাং ইহাতে আসক্ত না হইয়া পরমেশ্বরের সর্বব্যাপিত্ব অনুভব কর, কাহারও ধনে আকাঙ্ক্ষা করিও না। ২। কুৰ্বন্নেবেহকৰ্ম্মাণি জিজীবিষেৎ শতৎসমাঃ । এবংত্বয়ি নাথেতােহস্তি ন কৰ্ম্ম লিপ্যতে নরে। কৰ্ম্মাণিকুৰ্বব (শাস্ত্রবিহিত কৰ্ম্ম করিয়াই) ইহ শতংসমাঃ জিজীবিষেৎ (এই লােকে শতবর্ষ জীবিত থাকিতে ইচ্ছা করিবে) এবং ত্বয়ি নরে (এই প্রকার তােমার ন্যায় মনুষ্যের) ইতঃ অন্যথা ন অস্তি (ইহা ছাড়া অন্য উপায় নাই) কৰ্ম্ম ন লিপ্যতে'( যাহাতে কৰ্ম্ম (তােমাতে) না লিপ্ত হইতে পারে)। কৰ্ম্মাধিকারী মনুষ্য শাস্ত্রবিহিত কৰ্ম্ম করিয়াই জীবন যাপন করিবেন। দেহাভিমানীর অসৎকর্মের হাত এড়াইবার ইহা ছাড়া অপর কোন উপায় নাই।
পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায়
৩। অসূৰ্যানাম তে লােকা অন্ধেন তমসাবৃতাঃ।
তাংস্তে প্রেত্যাভিগচ্ছন্তি যে কে চাত্মহনন জনাঃ।
অসূৰ্যাঃনাম (অসুর-ভােগ্য প্রসিদ্ধ ) অন্ধেন তমসাবৃতা (অন্ধ
তমসাচ্ছন্ন) তে লােকাঃ (যে সমস্ত লােক ) যে কে আত্মহনঃ চ (যে কেহ
আত্মজ্ঞান বিমুখ (অতএব ) আত্মঘাতী সকলে) তে প্ৰেত্য (তাহারা
মরণান্তে) তান্ অভিগচ্ছন্তি (সেই সমস্ত লােক প্রাপ্ত হয়)।
আত্মজ্ঞান বিমুখ সকলেই মৃত্যুর পর অন্ধতমসাচ্ছন্ন অসুরলােক প্রাপ্ত
৭। যস্মিন্ সৰ্বাণি ভূতানি আত্মৈবাভূ বিজানতঃ।
তত্র কো মােহঃ কঃ শােক একত্বমনুপশ্যতঃ ॥
যস্মিন্ (যে সময়) সৰ্বাণি ভূতানি ( সমস্ত বস্তু) আত্মা এব অভূ
( আত্মভূত হয়) বিজানতঃ একত্বম্ অনুপশ্যতঃ ( জ্ঞানী একত্ব দ্রষ্টার) তত্র
(সে সময়) কঃ শােকঃ কঃ মােহঃ (শােকই কি মােহই বা কি?
যে সময় সৰ্ব্বভূত আত্মার সহিত এক হইয়া যায়, তখন সেই একত্বদশী-
জ্ঞানীর শােক মােহ কিছুই থাকে না।
কেননাপনিষৎ
১। কেনেষিতং পততি প্রেষিতং মনঃ
কেন প্রাণঃ প্রথমঃ প্রৈতিযুক্ত।
কেনেষিং বাচমিমাং বদন্তি
চক্ষুঃ শ্রোত্রং ক উ দেবাে যুনক্তি।
মনঃ কেন ইষিতম্ (মন কাহার ইচ্ছায় প্রেষিতং (প্রেরিত হইয়া )
উপনিষৎ ১১ পততি (স্ববিষয়াভিমুখে ধাবিত হইতেছে অর্থাৎ মনন করিতেছে) কেন যুক্তঃ ( কাহার দ্বারা নিযুক্ত হইয়া) প্রথমঃ প্রাণঃ প্রৈতি (শ্রেষ্ঠ প্রাণবায়ু স্বব্যাপারাভিমুখে গমন করিতেছে অর্থাৎ প্রাণন করিতেছে) কেন ইষিতাং বাচইমাং বদন্তি ( কাহার ইচ্ছায় (লােকের) বাক্য সকল উচ্চারণ করিতেছে) চক্ষুঃ শ্রোত্রং কঃ উ দেবঃ যুক্তি (চক্ষু ও কর্ণকে কোন্ দেবতাই বা নিযুক্ত করিতেছেন)। মন কাহার ইচ্ছা প্রণােদিত হইয়া নিজ কাৰ্য্য করিতেছে, শ্রেষ্ঠ প্রাণ কাহার ইচ্ছায় প্রাণন কাৰ্য্য করিতেছে, কাহার ইচ্ছায় বাক্য সকল উচ্চারিত হইতেছে, চক্ষু ও কর্ণকে কোন্ দেবতাই বা স্বস্ব কাৰ্যে নিযুক্ত করিতেছেন। শ্রোত্রস্য শ্রোত্ৰং মনসাে মনােয- বাচোহবাচং স উ প্রাণস্য প্রাণ। চক্ষুষশ্চক্ষুরতিমুচ্যধীরা প্রেত্যাশ্মল্লোকাদমৃতাভবন্তি । যৎ শ্রোতস্য শ্রোলং ( যিনি কর্ণেরও কর্ণ) মনসঃ মনঃ ( মনেরও মন) বাচঃ হ বাচং (বাক্যেরও বাক্য) সঃ উ প্রাণস্য প্রাণ চক্ষুষঃ চক্ষুঃ (সেই প্রাণের প্রাণ এবং চক্ষুরও চক্ষু) অতিমুচ্য (ইন্দ্রিয়সমূহে আত্মবুদ্ধি ত্যাগ করিয়া) ধীরা (জ্ঞানিগণ) অস্মাৎলােকাৎপ্ৰেত্য (ইহ- লােক হইতে উৎক্ৰমণ করিয়া) অমৃতাঃ ভবন্তি (অমৃতত্ব লাভ করেন। যিনি কর্ণের কর্ণ মনের মন বাক্যের বাক্য, তিনিই প্রাণের প্রাণ, চক্ষুর চক্ষু, ধীর ব্যক্তিগণ (তাহাকে জানিয়া) ইন্দ্রিয়ে আত্মবুদ্ধি পরিত্যাগ করিয়া ইহসংসার হইতে প্রয়াণের পর অমৃতত্বরূপ মােক্ষত করেন।
১২
পরমেশ্বর ও তাহাকে লাভের উপায়
১৩। ইহ চেদবেদীদথ সত্যমস্তি
ন চেদিহাবেদীন্মহতী বিনষ্টি।
ভূতেষু ভূতেষু বিচিত্য ধীরা
প্রেত্যাশ্মল্লোকাদমৃতাভবন্তি।
ইহ চেৎ অবেদীৎ (ইহলােকে যদি আত্মজ্ঞান হয়) অথ সত্যং অস্তি
{ তাহা হইলে পরমার্থলাভ হয়) ইহ চেৎ ন অবেদীৎ (এই জীবনে যদি
ব্ৰহ্মজ্ঞান না হয়) মহতী বিনষ্টিঃ (মহান্ অনিষ্ট) ধীরা ভূতেষু ভূতেষু
বিচিত্য (প্রত্যেক ভূতে ব্রহ্মসত্তা অনুভব করিয়া) অস্মাৎ লােকাৎ প্রেত্য
( ইহলােক হইতে প্রয়াণের পর) অমৃতাঃ ভবন্তি ( মােক্ষলাভ করেন)।
ইহলােকে যিনি আত্মস্বরূপ ব্ৰহ্মকে জানিতে পারেন তিনিই মােক্ষলাভ
করেন, যিনি জানিতে পারেন না তিনি মহানৰ্থকর (সংসারগতি ) লাভ
করেন। জ্ঞানিগণ প্রত্যেক ভূতে ব্রহ্মসত্তা উপলব্ধি করিয়া ইহলােক হইতে
প্রয়াণের পর মােক্ষলাভ করেন।
কঠোপনিষৎ
২৬। শোভাবা মর্ত্যস্য যদন্তকৈতৎ
সৰ্বেন্দ্ৰিয়াণাং জরয়ন্তি তেজঃ।
অপি সৰ্ব্বং জীবিতমল্পমেব
তবৈব বাহাস্তব নৃত্য-গীতে।
অন্তক (যম) খােভাবাঃ (আগামী কল্য থাকিবে কি না এই প্রকার )
মর্ত্য (মনুষ্যের) যদেতৎ (যে এই সমস্ত) সৰ্বেন্দ্ৰিয়াণাং তেজঃ ( সমস্ত
ইন্দ্রিয়ের শক্তি) জরয়ন্তি (জীর্ণ করে) সৰ্বম্ অপি জীবিত অল্পমেব
উপনিষৎ
( সমস্ত পরমায়ুই অতি সামান্য) বাহাঃ (অশ্বথাদি) তবৈব (আপনারই
থাক ) নৃত্য-গীতে চ তব ( নাচ গানও আপনার থাক)।
জগতের ভােগ্য বস্তু সকল ক্ষণবিধ্বংসী অধিকন্তু এ সমস্ত মনুষ্যের
ইন্দ্রিয়শক্তিকেও শিথিল করে। এবং মর্ত্যের সমস্ত পরমায়ুই অল্পস্থায়ী।
সুতরাং এই সমস্ত অশ্বরথ ও নৃত্য-গীত আপনারই থাকুক (অর্থাৎ এ সকলে
আমার আদৌ আকাঙ্ক্ষা নাই)।
৩৪। অবিদ্যায়ামন্তরে বর্তমানাঃ
স্বয়ং ধীরাঃ পণ্ডিতম্মন্যমান।
দম্যমাণাঃ পরিযন্তি মূঢ়া
অন্ধেনৈব নীয়মান যথান্ধাঃ ॥
অবিদ্যায়াম্ অন্তরে বর্তমানঃ ( অজ্ঞানের মধ্যে থাকিয়াও) স্বয়ং ধীরা
পণ্ডিতম্মন্যমানাঃ (নিজেদের ধীর ও পণ্ডিত বলিয়া মনে করে ) দম্যমাণাঃ
মূঢ়াঃ (কুটিল পথগামী মূর্থেরা ) অন্ধেন এব নীয়মানাঃঅন্ধাঃ যথা ( অন্ধ
পরিচালিত অন্ধের ন্যায়) পরিবন্তি (পরিভ্রমণ করিয়া থাকে)।
অজ্ঞানের মধ্যে থাকিয়াও যাহারা আপনাদিগকে ধীর ও পণ্ডিত বলিয়া
মনে করে সেই কুটিল পথগামী মূর্খেরা অন্ধ পরিচালিত অন্ধের ন্যায় ঘুরিয়া
বেড়ায়-(শ্রেয়ঃলাভ করিতে পারে না)।
৩৫। ন সাম্পরায় প্রতিভাতি বালং
প্রমাদ্যন্তং বিত্ত মােহেন মূঢ়ম্।
অয়ং লােকো নাস্তিপর ইতি মানী
পুনঃ পুনৰ্ব্বশমাপতে মে।
সাম্পরায়ঃ (পরলােক সাধন বা চিন্তা) বালং (বালকবৎ অবিবেকী)
বিত্তমােহেন মূঢ়ম্ (ধনলােভ মুগ্ধ) প্রমাদ্যন্তং (প্রমাদগ্রস্ত। প্রতি ন ভাতি
১৪ পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায় ( প্রতিভাত হয় না) অয়ং লােকঃ (এই লােকই আছে) পরঃ ন অস্তি ইতি মানী (পরলােক নাই এইরূপ যাহাদের অভিমান) পুনঃ পুনঃ বশং আপদ্যতে মে (পুনঃ পুনঃ আমার বশ্যতা প্রাপ্ত হয়)। যাহারা বালকের ন্যায় বিবেকহীন প্রমাদগ্রস্ত ও ধনলােভমুগ্ধ তাহাদের নিকট পরলােক চিন্তা প্রতিভাত হয় না। ইহলােক আছে, পরলােক নাই- এইরূপ অভিমানগ্রস্ত ব্যক্তিরাই পুনঃ পুনঃ আমার বশ্যতা প্রাপ্ত হয়। ৪১। তং দুদর্শং পূঢ়মনুপ্রবিষ্টং গুহাহিতং গহ্বরেষ্ঠং পুরাণম্ । অধ্যাত্ম যােগাধিগমেন দেবং মত্ব ধীরে হর্ষ শােকৌ জহাতি। দুর্দশ ( দুর্বিজ্ঞেয়) গৃঢ়ম্ (অব্যক্ত) অনুপ্রবিষ্টং ( সৰ্ব্বভূতস্থ ) গুহাহিতং (বুদ্ধি গুহায় অবস্থিত) গহ্বরেষ্টং ( অনর্থ সমাকুল দেহ মধ্যে অধিষ্ঠিত ) পুরাণং তং দেবং (সনাতন সেই দ্যোতমান স্বপ্ৰকাশ আত্মাকে ) অধ্যাত্ম যােগাধিগমেন ( আত্ম সমাধিদ্বারা) মা ( জানিয়া) ধীরে হর্ষ শােকৌজহাতি ( ধীর ব্যক্তি হর্ষ শােক অতিক্রম করেন)। দুর্বিজ্ঞেয়, অব্যক্ত, সৰ্ব্বভূতস্থ, বুদ্ধিগুহায় অবস্থিত, অনর্থ সমাকুল দেহ মধ্যে অধিষ্ঠিত, সনাতন সেই স্বপ্রকাশ (আত্মাকে) আত্মসমাধিদ্বারা জানিয়া ধীর ব্যক্তি সুখ দুঃখ অতিক্রম করিয়া মােক্ষলাভ করেন। ৪৪। সৰ্ব্বেবেদা যৎ পদােমনন্তি তপাংসি সৰ্বাণি চ যদূবদন্তি। যদিচ্ছন্তো ব্রহ্মচর্য্যং চরন্তি তত্তে পদং সংগ্রহে ব্ৰবীমম্যামিত্যেৎ। সৰ্বে বেদাঃ ( সমস্ত উপনিষৎ সকল ) যৎ পদং আমন্তি (যাহা প্রাপ্তব্য উপনিষৎ নির্দেশ করেন) সৰ্বাণি তপাংসি চ ( সমস্ত তপস্যাও) যৎ বদন্তি (যে জন্য বিহিত) যৎ ইচ্ছন্তঃ ( যাহার ইচ্ছায় ) ব্রহ্মচর্যং চরন্তি (ব্রহ্মচর্যের অনুষ্ঠান করেন। তৎপদং (সেই পদ) তে (তােমাকে) সংগ্রহেণ ব্রবীমি (সংক্ষেপে বলিতেছি। ওঁ ইতি এতৎ (ঔই সেই পদ)। সমস্ত উপনিষৎ সকল যাহা প্রাপ্তব্য বলিয়া নির্দেশ করেন। সমস্ত তপস্যা যে জন্য বিহিত, যাহার ইচ্ছায় ব্রহ্মচর্য অনুষ্ঠিত হয়, আমি সংক্ষেপে সেই পদ বলিতেছি ওই সেই (পদ)। ৪৫। এতদ্ধ্যেবাক্ষরং ব্ৰহ্ম এতদ্ধ্যেবাক্ষরং পরম্। এতদ্ধ্যেবাক্ষরং জ্ঞাত্বা যাে যদিচ্ছতি তস্যতৎ। এতৎ এব অক্ষরং হি (এই ওঙ্কারই ) ব্ৰহ্ম ( অপর ব্রহ্ম) এতৎ এব হি অক্ষরং (এই ওঙ্কারই ) পরং (পরব্রহ্ম) এতৎ এব হি অক্ষরং জ্ঞাত্ব (এই ওঙ্কারই জানিয়া) যঃ যৎ ইচ্ছতি (যে যাহা ইচ্ছা করে) তস্যতৎ (তাহার তাহাই সিদ্ধ হয়)। এই ওঙ্কারই অপর ব্রহ্ম, ইহাই পরব্রহ্ম, এই ওঙ্কারকে জানিয়া যে যাহা ইচ্ছা করে তাহাই সিদ্ধ হয়। ৪৯। অপােরণীয়ান্ মহতাে মহীয়ান্ আত্মাস্য জন্তোর্নিহিত গুহায়াম্। তমতুঃ পশ্যতি বীতশােকো ধাতুপ্রসাদন্মহিমানমাত্মনঃ। অপােরণীয়ান্ (সূক্ষ্ম হইতে সূক্ষ্মতর) মহতাে মহীয়ান্ (মহৎ হইতে মহত্তর) আত্মা অস্য জন্তোঃ (আত্মা সকল প্রাণিগণের) গুহায়াং নিহিতঃ (হৃদয়ে অবস্থিত) অতুঃ ( নিষ্কাম) বীতশােকঃ (শােক রহিত) ১৬ পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায় ধাতুপ্রসাদাৎ ( চিত্তশুদ্ধি দ্বারা) আত্মনঃ তং মহিমানং ( আত্মার সেই মাহাত্ম্য) পশ্যতি ( উপলব্ধি করে)। সূক্ষ্ম হইতে সূক্ষ্মতর ও মহৎ হইতে মহত্তর আত্মা সকল প্রাণিগণের হৃদয়ে অবস্থিত। নিষ্কাম ও শােক রহিত ব্যক্তিগণ শুদ্ধান্তঃকরণে আত্মার সেই মহিমা উপলব্ধি করিয়া থাকেন। - ৫২। নায়মাত্মা প্রবচনেন লডভ্যা ন মেধয়া ন বহুনা শুতেন। যমেবৈষ বৃণুতে তেন লভ্য- স্তস্যৈষ আত্ম বিবৃণুতেতং স্বাম্ ॥ অয়ম আত্মা (এই আত্মা) ন প্রবচনেন লভ্যো ( শাস্ত্রধ্যয়নদ্বারা লাভ করা যায় না) ন মেধয়া (ধারণা শক্তি দ্বারা নয়) ন বহুনা শুতেন (বহুশাস্ত্র- শ্রবণদ্বারাও নয়) এষঃ যম্ এব বৃণুতে (এই আত্মা যাহার প্রতি কৃপা করেন) তেনৈব লণ্ডভ্যা (তিনিই লাভ করিতে পারেন) এষ আত্মা (এই আত্মা) স্বাতনুং (নিজ স্বরূপ) তস্য (তাহার নিকট) বিবৃণুতে ( প্রকাশ করেন)। এই আত্মা শাস্ত্রাধ্যয়ন, ধারণাশক্তি বা বহু শাস্ত্র শ্রবণদ্বারা লভ্য নন। পরন্তু ইনি যাহার প্রতি কৃপা করেন তিনিই লাভ করিতে পারেন। এই আত্মা তাহার নিকটই স্বস্বরূপ প্রকট করেন। ৫৩। নাবিরতত দুশ্চরিতান্নাশান্তো নাসমাহিতঃ। নাশান্তমানসসা বাপি প্রজ্ঞানেনৈনমাগুয়াৎ। দুশ্চরিতাৎ অবিরতঃ ন ( যিনি পাপ কাৰ্য্য হইতে অবিরত তিনি নহেন) অশান্ত ন ( যিনি অসংযতেন্দ্রিয় তিনি নহেন ) অসমাহিতঃ ন ( যিনি বিক্ষিপ্ত চিত্ত তিনি নহেন,) অশান্তমানসঃ ( যিনি অশান্তচিত্ত অর্থাৎ ভােগস্পৃহাযুক্ত উপনিষৎ '১৭ তিনিও নহেন ;) প্রজ্ঞানেন এন আয়াৎ ( কিন্তু প্রাগুক্ত দোষরহিত ব্যক্তি ব্ৰহ্মজ্ঞান দ্বারা ইহাকে পায়)। যিনি পাপকাৰ্য্য হইতে বিরত নন, সংযতেন্দ্রিয় নন, বিক্ষিপ্ত চিত্ত এবং ভােগস্পৃহা-যুক্ত, এরূপ ব্যক্তি কখনই ব্রহ্মজ্ঞান দ্বারা এই (আত্মাকে) জানিতে পারেন না। অথবা পূর্বোক্ত দোষযুক্তগণ কেহই এই আত্মাকে জানিতে পারেন না। পক্ষান্তরে (পূর্বোক্ত দোষ রহিত ব্যক্তি) প্রজ্ঞানের দ্বারাই ই (আত্মাকে) প্রাপ্ত হন। ৬৩। বিজ্ঞান সারথিন্তু মনঃ প্ৰগ্ৰহবা নরঃ। সােহধ্বনঃ পারমাগােতি তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদম্ । যঃ নরঃ বিজ্ঞান সারথিঃ (বিবেকসম্পন্নবুদ্ধি যাহার সারথি। মনঃ- প্ৰগ্ৰহবা (মন যাহার ইন্দ্রিয় সংযমন রঞ্জু। স অধ্বনােরং (তিনি সংসার গতির অবসান) বিষ্ণোঃ তৎ পরমং পদং আগ্নোতি (বিষ্ণুর সেই পরম পদ প্রাপ্ত হন। বিবেক সম্পন্ন বুদ্ধি যাহার পরিচালক, মন যাহার ইন্দ্রিয় সংযমন সমর্থ, তিনিই সংসার গতির অবসান সেই বিষ্ণুর পরমপদ প্রাপ্ত হন। উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান্ নিবােধত। ক্ষুরধারা নিশিতা দুরত্যয় দুর্গং পথস্তৎ কবয়াে বদন্তি। উষ্ঠিত জাগ্রত ( উঠ জাগ) বরা প্রাপ্য নিবােধত (শ্রেষ্ঠ আচাৰ্য্য সমীপে গমন করিয়া জ্ঞানলাভ কর) কবয়ঃ তৎ পথঃ (পণ্ডিতগণ সেই পথকে) দুরত্যয় নিশিতা ক্ষুরস্থ ধারা দুর্গং বদন্তি ( দুরতিক্ৰমণীয় তীক্ষ্ণ ক্ষুরধারার ন্যায় দুর্গম বলেন)।
১৮
পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায়
উঠ, জাগ, শ্রেষ্ঠ আচাৰ্য সমীপে গমন করিয়া আত্মজ্ঞান লাভ কর ।
পণ্ডিতগণ এই পথকে দুরতিক্ৰমণীয় তীক্ষ ক্ষুরধারার ন্যায় দুর্গম বলেন।
৬৯। অশব্দমস্পর্শমরূপমব্যয়ং
তথারসং নিত্যমগন্ধবচ্চ যৎ।
অনাছনন্তং মহতঃ পরং ধ্রুবং
নিচায্য তং মৃত্যুমুখাৎ প্রমুচ্যতে ॥
অশব্দম্ অস্পর্শম্ অরূপ অব্যয়ং (শব্দ, স্পর্শ, রূপ ও বিকার, রহিত)
তথা অসং নিত্যম্ অগন্ধবৎ (রস, জন্ম, মৃত্যু ও গন্ধ হীন) অনাদি অনন্তং
মহতঃ পরং ধ্রুবং ( আদি, অন্তহীন, হিরণ্যগর্ভ হইতে শ্রেষ্ঠ সনাতন) তং
নিচাষ্য (তাহাকে জানিয়া) মৃত্যু মুখাৎ প্রমুচ্যতে (সংসার বন্ধন হইতে
মুক্ত হন )।
শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ হীন জন্ম, মৃত্যু, আদি, অন্ত হীন হিরণ্যগর্ভ
হইতে শ্রেষ্ঠ, শাশ্বত সেই পরমাত্মাকে জানিলে মােক্ষ লাভ হয়।
.
৯৮। একো বশী সৰ্ব্বভূতান্তরাত্মা
একং রূপং বহুধা যঃ করােতি।
তমাত্মস্থ যেহনুপশ্যন্তিধীরা
স্তেষাং সুখং শাশ্বতং নেতরেযাম্।
বশী যঃ একঃ সৰ্ব্বভূতান্তরাত্মা ( সর্বনিয়ন্তা ও সৰ্ব্বভূতাত্মা যিনি এক
হইয়াও) একং রূপং বহুধা করােতি (স্বীয় একটি রূপকে বহু প্রকার
করেন) আত্মস্থং তম্ যে ধীরা অনুপশ্যন্তি ( নিজ নিজ বুদ্ধিতে সেই
আত্মাকে যে বিবেকিগণ দর্শন করেন) তেষাং শাশ্বতং সুখং ইতরেষাং ন
( তাহাদেরই নিত্যমুখ অপরের নহে)।
উপনিষৎ সৰ্বনিয়ন্তা ও সৰ্ব্বভূতাত্মা, এক হইয়াও যিনি নিজ একটি রূপকে বহু প্রকার করেন, নিজ নিজ বুদ্ধিতে প্রকাশমান সেই আত্মাকে যে বিবেকিগণ দর্শন করেন, তাহারাই নিত্য সুখ লাভ করেন, অপরের হয় না। ১০১। ন তত্র সূৰ্য্যো ভাতি ন চন্দ্রতারক নেমা বিদ্যুতােভান্তি কুহেয়মঃ। তমেব ভান্তমমুভাতি সৰ্ব্বং তস্য ভাসা সৰ্ব্বমিদং বিভাতি। তত্র সূৰ্য্যঃ ন ভাতি চন্দ্র তারকং ন সেই আত্মাকে সূৰ্য্য, চন্দ্র, তারা, কেহই প্রকাশ করিতে পারে না) ইমাঃ বিদ্যুতঃ ন ভান্তি অয়ং অগ্নি কুতঃ (এই বিদ্যুৎ সকলও নয় অগ্নি কি করিবে ) ভান্তং তমূ এব অনু সৰ্ব্বং ভাতি (তিনি প্রকাশিত হইলে পশ্চাৎ সকলে প্রকাশিত হয় ) ইদং সৰ্ব্বং তস্য ভাসা বিভাতি (এই সমস্ত তঁাহার দীপ্তিতে দীপ্তিমান)। সেই আত্মাকে সূৰ্য্য, চন্দ্র, তারা, কেহই প্রকাশ করিতে পারে না, বিদ্যুৎও নয়, অগ্নি আর কি করিবে? তিনি প্রকাশিত হইলে (তাহার উপর নির্ভর করিয়া) পশ্চাৎ সকলে প্রকাশিত হয়। এই সমস্ত তাহারই দীপ্তিতে দীপ্তিমান্। ১১২। ভয়াদস্যাগ্নিপতি ভয়াৎ তপতি সূৰ্যঃ। ভয়াদিশ্চ বায়ুশ্চ মৃত্যুধাবতি পঞ্চমঃ। ইহারই ভয়ে অগ্নি, সূৰ্য্য তাপ দিতেছেন এবং ইহারই ভয়ে ইন্দ্র, বায়ু ও পঞ্চম যম ধাবিত হইতেছেন অর্থাৎ (স্ব স্ব কার্য সম্পাদন) করিতেছেন।
পরমেশ্বর ও তাহাকে লাভের উপায় মুণ্ডকোপনিষৎ ১৯।, ইষ্টাপূর্ত মন্যমান্য বরিষ্ঠ নান্যচ্ছুেয়াে বেদয়ন্তে প্রমূঢ়াঃ। নাকস্য পৃষ্ঠে তে 'সুকৃতেহনুভূত্ব- মং লােকং হীনতরং বা বিশন্তি। ইষ্টা পূৰ্ত্তং ( ইষ্টাপূর্তাদি শ্রুতি স্মৃতি বিহিত কৰ্ম্ম ) বরিষ্ঠং মমানাঃ ( সর্বোৎকৃষ্ট মনে করে। অন্যৎ শ্রেয়ঃ ন বেদয়ন্তে (অপর শ্ৰেয় জানে না ) তে সুক্কতে নাক পৃষ্ঠে অনুভূত্বা (তাহারা পুণ্যলব্ধ স্বর্গলােক ভােগ করিয়া) ইমং লােকং হীনতরং বা আবিন্তি ( এই লােক অথবা ইহা অপেক্ষাও নিকৃষ্ট লােকে প্রবেশ করে। যে সকল অতি মূঢ় ব্যক্তি ইষ্টাপূৰ্ত্তাদি শ্রুতি, স্মৃতি বিহিত কৰ্ম্মকেই সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট মনে করে এবং ইহা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বিষয় আছে বলিয়া জানে না তাহারা পুণ্যলব্ধ স্বর্গলােক ভােগ করিয়া এই লােকে অথবা ইহা অপেক্ষা নিকৃষ্ট লােকে প্রবেশ করে। ২০। তপঃ শ্রদ্ধে যে হু্যপবসত্যরণ্যে শান্তা বিদ্বাংসে ভৈক্ষচৰ্যাং চরন্তঃ। সূৰ্যদ্বারেণ তে বিরজাঃ প্রয়ান্তি যত্রামৃতঃ স পুরুষাে হব্যয়াত্মা । যেহি শান্তাঃ ভৈক্ষচৰ্যাং চরন্তঃ অরণ্যে (যে সমস্ত বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাসী ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করিয়া অরণ্যে বাস করেন) বিদ্বাংসঃ তপশ্রদ্ধে উপ- বসন্তি (জ্ঞানী গৃহস্থ যাহারা তপস্যা ও শ্রদ্ধার উপাসনা করেন) তে বিরজা (হারা বজরহিত হইয়া) সূৰ্য্যদ্বারেণ (উত্তরায়ণ পথে) যত্র হি সঃ ; উপনিষৎ অব্যয়াত্মা অমৃত পুরুষঃ প্রয়ান্তি (যেখানে সেই সনাতন হিরণ্যগর্ভ আছেন সেইখানে যান। যে সমস্ত বানপ্রস্থআশ্রমী ও সন্ন্যাসী ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করিয়া অরণ্যে বাস করেন এবং যে সমস্ত জ্ঞানী গৃহস্থ তপস্যা ও শ্রদ্ধার সেবা করিয়া থাকেন তাহারা রজোগুণ বিমুক্ত হইয়া সূৰ্যালােকিত পথে ব্ৰহ্মলােকে গমন করেন।যথায় সেই অব্যয়াত্মা অমৃত-পুরুষ বৰ্তমান আছেন। ২৬। অগ্নিৰ্ম্মর্জা চক্ষুষী চন্দ্ৰসূৰ্য্যে দিশঃ শ্রোত্রে বাগবিবৃতাশ্চ বেদাঃ । বায়ুঃ প্রাণােহৃদয়ং বিশ্বমস্ত প্যাং পৃথিবীহেষ সৰ্ব্বভূতান্তরাত্মা। অস্ত অগ্নিঃ মূর্ধা (স্বর্গ ইহার মস্তক) চন্দ্র সূৰ্য্যো চক্ষুষী (চন্দ্ৰসুৰ্য দুই চক্ষু) দিশঃ শোত্রে (দিক সকল কর্ণদ্বয়) বেদাঃ চ বাগবিতা (বেদ সকল বাগিন্দ্রিয়) বায়ুঃ প্রাণঃ (বায়ু প্রাণ) বিশ্বং হৃদয়ং (জগৎ বক্ষঃ) পভ্যাং পৃথিবী (পদদ্বয় পৃথিবী) এষঃ সৰ্ব্বভূতান্তরাত্মা (ইনি সমস্ত ভূতের অন্তরাত্মা) স্বর্গ তাহার মস্তক, চন্দ্রসূৰ্য্য আঁহার চক্ষুদ্বয়, দিক সকল কর্ণদ্বয়, বেদ সকল বাগিন্দ্রিয়, বায়ু প্রণ, বিশ্ব বক্ষঃ, পৃথিবী পদদ্বয়, ইনিই সর্বপ্রাণীর অন্তরাত্মা। ৩০। যস্মিন্ দ্যৌঃ পৃথিবী চান্তরিক্ষ- মােতং মনঃ সহ প্রাণৈশ্চসর্বৈঃ। তমেবৈকং জানথ আত্মান- মন্যা বাচো, বিমুঞ্চথামৃতস্যৈ সেতুঃ। দ্যৌ পৃথিবী অন্তরিক্ষং চ (স্বর্গ, পৃথিবী, আকাশ) মনঃসহ সর্বৈ প্রাণৈঃ চ (মন ও সমস্ত ইন্দ্রিয় বৰ্থ ) যস্মিন্ ওতং (যাঁহাতে প্রতিষ্ঠিত।
২২ পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায় ত এব একং আত্মানং জানথ সেই এক আত্মাকে অবগত হও) অন্যাঃবাঃ বিমুথ (অপর প্রসঙ্গ পরিত্যাগ কর) এষঃ অমৃতস্য সেতু (ইনিই মােক্ষলাভের উপায়)। স্বর্গ, পৃথিবী, আকাশ, মন ও সমস্ত ইন্দ্রিয়বর্গ যাহাতে প্রতিষ্ঠিত, একমাত্র সেই আত্মাকেই অবগত হও, অপর প্রসঙ্গ পরিত্যাগ কর; ইনিই মােক্ষের সেতু। ৪১। ভিদ্যতে হৃদয়গ্রন্থিচ্ছিদ্যন্তে সৰ্ব্বসংশয়ঃ । ক্ষীয়ন্তে চাস্য কৰ্ম্মাণি তস্মিন্ দৃষ্টে পরাবরে। তস্মিন্ পরাবরে দৃষ্টে (সেই কারণ কাৰ্য্যরূপ ব্ৰহ্ম সাক্ষাৎকার হইলে) অশ্য হৃদয়গ্রন্থিঃ ভিতে (দ্রষ্টার অবিদ্যা সংস্কার নাশ প্রাপ্ত হয়) সৰ্ব্ব সংশয়াঃ ছিদ্যন্তে ( সমস্ত সংশয় দূর হয়) কৰ্ম্মাণি চ ক্ষীয়ন্তে (সুকৃত, দুস্কৃত নষ্ট হয় ) সেই কারণ কাৰ্য্যরূপ ব্ৰহ্ম দৃষ্ট হইলে দ্রষ্টার অবিদ্যা সংস্কার নাশ প্রাপ্ত হয়, সমস্ত সন্দেহ দূর হয়, ও কৰ্ম প্ৰক্ষীণ হইয়া যায়। ৪৭। যদা পশ্যঃ পশ্যতে রুক্মবর্ণং কারমীশং পুরুষং ব্ৰহ্মযােনিম্। তদা বিদ্বান্ পুণ্য পাপে বিধূয় নিরঞ্জনঃ পরমং সাম্যমুপৈতি। যদা পশ্যঃ ( যে সময় দ্রষ্টা) রুক্মবর্ণং কৰ্ত্তারং ব্ৰহ্মযােনিং ঈশং পুরুষং পশ্যতে (জ্যোতির্ময় জগৎ স্রষ্টা ব্রহ্মার ও উৎপাদক প্রভু পরমেশ্বরকে দর্শন করেন) তা বিদ্বান্ (সে সময় জ্ঞানী) পুণ্য পাপে বিধূর নিরঞ্জনঃ (পাপ পুণ্যের অতীত ও নিলেপ হইয়া) পরমং সাম্য উপৈতি (সম্পূর্ণ অভেদ ভাব প্রাপ্ত হন। দ্রষ্টা সাধক যে সময় জ্যোতির্ময় জগৎস্রষ্টা ব্রহ্মার ও উৎপাদক প্রভু
: ::
উপনিষৎ
পরমেশ্বরকে দর্শন করেন, সে সময় জ্ঞানী পাপপুণ্যের অতীত ও নিলেপ
হইয়া সম্পূর্ণ অভেদতাব প্রাপ্ত হন।
৪৯। সত্যেন লভ্যস্তপসা হেষ আত্মা
সমগজ্ঞানেন ব্রহ্মচর্যেণ নিত্যম্।
অন্তঃশরীরে জ্যোতির্ময়াে হি শুভদ্রা
যং পশ্যন্তি যতয়ঃ ক্ষীণদোষাঃ ।
এষঃ হি জ্যোতির্ময়ঃ শুভ্রঃ আত্মা (এই জ্যোতির্ময় শুদ্ধ আত্মা)
অন্তঃশরীরে (শরীরাভ্যন্তরে অর্থাৎ হৃদয়ে) নিত্যং সত্যেন তপসা ব্রহ্মচর্যেণ
সম্যগ, জ্ঞানেন চ লভ্যঃ ( সর্বদা সত্য, তপস্যা, ব্রহ্মচর্য্য ও আত্মজ্ঞানদ্বারা
লাভ করা যায়) বং ক্ষৗণ দোষাঃ যতয়ঃ পশ্যন্তি (প্রশান্তচিত্ত সন্ন্যাসিগণ
যাহাকে দর্শন করিয়া থাকেন )
এই জ্যোতির্ময়, শুদ্ধ আত্মাকে হৃদয়ে সর্বদা সত্য, তপস্যা, ব্রহ্মচর্যও
আত্মজ্ঞানদ্বারা লাভ করা যায়, যাহাকে প্রশান্তচিত্ত সন্ন্যাসিগণ দর্শন
করেন।
৬৩। যথা নঃ স্য-মানাঃ সমুদ্রে-
হস্তং গচ্ছন্তি নামরূপে বিহায়।
তথা বিদ্বান্নামরূপাবিমুক্ত
পরাৎপরং পুরুষমুপৈতি দিব্যম্ ।
স্য-মানাঃ নগ্নঃ যথা (বেগবতী নদী সকল যেমন) নামরূপে বিহায়
সমুদ্রে অস্তং গচ্ছত্তি (নামরূপ ত্যাগ করিয়া সমুদ্রের সহিত একীভাব প্রাপ্ত
হয়) তথা বিদ্বান্ নামরূপাৎ বিমুক্তঃ (সেইরূপ জ্ঞানী নামরূপ হারাইয়া )
পরাৎপরং দিব্যম্ পুরুষং উপৈতি (পরাৎপর দিব্য পুরুষকে প্রাপ্ত হন।
বেগবতী নদী সকল যেমন নামরূপ হারাইয়া সমুদ্রে বিলীন হয় জ্ঞানী
২৪
পরমেশ্বর ও তাহাকে লাভের উপায়
ব্যক্তিও সেইরূপ নামরূপাত্মক উপাধি বিগমে পরাৎপর দিব্য পুরুষকে
প্রাপ্ত হন।
মাণ্ডকোপনিষৎ
১৬। অনাদি মায়য়া সুপ্তো যদা জীবঃ প্রবুধ্যতে।
অজমনিদ্রমস্বপ্নমদ্বৈতং বুধ্যতে তদা।
অনাদি মায়য়া সুপ্ত জীবঃ (অনাদি মায়া বশে নিদ্রিত জীব) যদা
প্রবুধ্যতে (যখন জ্ঞানলাভ করে) তদা অজম্ অনিদ্রম্ অস্বপ্নম্ অদ্বৈতং
বুধ্যতে (তখন জন্মরহিত, নিদ্রা, স্বপ্ন বর্জিত, দ্বৈত রহিত বুঝিতে পারে)
অনাদি মায়ামুগ্ধ জীব যখন জ্ঞানলাভ করে, তখন জন্মরহিত, নিদ্রা,
স্বপ্নবর্জিত, অদ্বৈত আত্মতত্ত্ব বুঝিতে পারে।
২৫। যুঞ্জীত প্রণবে চেতঃ প্রণববা ব্ৰহ্ম নির্ভয়ম্।
প্রণবে নিত্যযুক্তস্য ন ভয়ং বিদ্যতে কচিৎ !
প্রণবে চেতঃ যুঞ্জীত ( ওঙ্কারে মন সমাহিত কর) প্রণবঃ নির্ভয়ং ব্রহ্ম
( ওঙ্কার অভয়ব্ৰহ্ম স্বরূপ) প্রণবে নিত্য যুক্তস্ক (ওঙ্কারে সমাহিত চিত্ত
ব্যক্তির) কচিৎভয়ং ন বিদ্যতে (কুত্রাপি ভয় থাকে না।
ওঙ্কারে মন সমাহিত কর ; ওঙ্কার অভয়ব্ৰহ্ম স্বরূপ। ঙ্কারে নিতা
সমাহিত চিত্ত ব্যক্তির কুত্রাপি ভয় থাকে না।
৬০। স্বপ্নমায়ে যথাদৃষ্টে গন্ধৰ্ব্বনগরং যথা।
তথা বিশ্বমিদং দৃষ্টং বেদান্তে বিচক্ষণৈঃ
স্বপ্নমায়ে যথা দৃষ্টে গন্ধৰ্ব্বনগরং যথা ( স্বপ্নে মায়াতে বা গন্ধৰ্বনগর যেমন
দেখা যায়। ইদং বিশ্বং বিচক্ষণৈঃ বেদান্তে তথা দৃষ্টং ( এই জগৎ পণ্ডিতগণ
বেদান্তে সেইরূপ দেখিয়া থাকেন)
উপনিষৎ
স্বপ্নে ও মায়াতে যেরূপ দর্শন হয়, এবং গন্ধৰ্ব্বনগর যেমন দেখা যায়,
এই জগৎও পণ্ডিতগণ বেদান্তে সেইরূপ দেখিয়া থাকেন।
৭৫। যথা ভবতি বালানাং গগনং মলিনং মলৈঃ।
তথা ভবত্যবৃদ্ধানামাত্মপি মলিনাে মলৈঃ।
বালানাং গগনং যথা মলৈ মলিনং ভবতি (বালকদিগের যেমন
আকাশকে মলমলিন বােধ হয়), তথা অবুদ্ধানাং আত্মপি মলৈ মলিনঃ
ভবতি (অজ্ঞানীর নিকট আত্মাও সেইরূপ মলমলিন বােধ হয়)
( পরিপক্ক বােধশক্তি হীন) বালকগণ যেমন আকাশকে মলমলিন মনে
করে, অজ্ঞানিগণ আত্মাকেও সেইরূপ মলমলিন বােধ করে।
৯৮। মনােদৃশ্যমিদং দ্বৈতং যৎ কিঞ্চিৎ সচরাচরম্।
মনসােহমনীভাবে দ্বৈতং নৈবােপলভ্যতে।
দৃশ্যম্ ইদং সচরাচরং যৎকিঞ্চিৎ দ্বৈতং মনঃ ( দৃশ্যমান চরাচর যা কিছু
দ্বৈত মনঃস্বরূপ) হি মনসঃ অমনীভাবে দ্বৈতং ন এব উপলভ্যতে (মন
অমন হইলে দ্বৈততাপলব্ধি হয় না)
দৃশ্যমান চরাচর যা কিছু দ্বৈত সমস্তই মনঃস্বরূপ, কারণ মনের বৃত্তি নিরােধ
হইলে দ্বৈততাপলব্ধি হয় না।
১১০। দুঃখং সৰ্বমনুস্মৃত্য কামভােগানিবৰ্তয়েৎ।
অজং সৰ্বমনুস্মৃত্য জাতং নৈবতু পশ্যতি ।
সৰ্ব্বং দুঃখং অনুত্য ( সমস্ত দ্বৈত দুঃখময় স্মরণ করিয়া) কামভােগৎ
নিবৰ্তয়েৎ ( বিষয় ভােগ হইতে নিবর্তিত হইবে) সৰ্ব্বং অজং অনুস্মৃত্যতু
( সমস্তই ব্ৰহ্মস্বরূপ স্মরণ করিয়া) জাতং ন এব পশ্যতি (উৎপন্ন দ্বৈতদর্শন
করিও না।)
পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায় সমস্ত দ্বৈত পদার্থ দুঃখ মিশ্রিত স্মরণ রাখিয়া কাম্য বিষয় ভােগ হইতে নিবর্তিত হইবে এবং সমস্তই জন্মদিবিহীন ব্রহ্মস্বরূপ স্মরণ রাখিয়া দ্বৈত দর্শন করিও না। তৈত্তিরীয়াপনিষৎ ৪১। যততা বা ইমানি ভূতানি জায়ন্তে। যেন জানি জীবন্তি। যৎপ্রয়ন্ত্যভিসংবিশন্তি। তদ্বিজিজ্ঞাস তহ্মেতি। যতঃ বা ইমানি ভূতানি জায়ন্তে ( যাহা হইতে এই সমস্ত ভূতবর্গ উৎপন্ন হয়) জানি যেন জীবন্তি (উৎপন্ন ভূতবর্গ যাহা দ্বারা জীবিত থাকে) প্রয়ন্তি যৎ অভিসংবিশন্তি ( বিনাশ কালেও যাহাতে লয় প্রাপ্ত হয়) তৎবিজিজ্ঞাস ব্রহ্ম ইতি (তাহাকে জানিতে ইচ্ছা কর, তিনিই ব্রহ্ম) যাহা হইতে এই সমস্ত ভূতবর্গ উৎপন্ন হয়, উৎপন্ন হইয়া যাহাদারা জীবিত থাকে, এবং বিনাশকালেও যাহাতে লয় প্রাপ্ত হয়, তাহাকেই জানিতে ইচ্ছা কর; তিনিই ব্রহ্ম। ছান্দোগগ্যাপনিষৎ ২৪৫। সৰ্ব্বং খন্বিদং ব্ৰহ্ম তজ্জলানিতি শান্ত উপাসীত। অথ খলু ক্রতুময়ঃ পুরুষাে যথা ক্রতুরশ্মিল্লোকে পুরুষাে ভবতি, তথেতঃ প্রেত্যভবতি ; স তুং খলু তজ্জলা সৰ্ব্বং ব্রহ্ম ইতি (যেহেতু ব্ৰহ্ম হইতে জাত ব্ৰহ্মে লয় প্রাপ্ত এবং ব্রহ্ম দ্বারা জীবিত এই সমস্ত জগৎ ব্রহ্মস্বরূপ) শান্ত উপাসীত (সমাহিত হইয়া তাহারই উপাসনা করা কর্তব্য) অথ খলু পুরুষঃ তুময়ঃ (যেহেতু উপনিষৎ ২৭ পুরুষ সংকল্পবান্) পুরুষঃ অম্মিলােকে যথাক্রতুঃ ভবতি (পুরুষ ইহলােকে যাদৃশ সংকল্পবান্ হয়) ইতঃ প্ৰেত্য তথা ভবতি (এখান হইতে প্রয়াণের পরও সেইরূপই হইয়া থাকে) সঃ তুং কুব্বীত (সেই পুরুষ উত্তম সংকল্প করিবে)। যেহেতু ব্ৰহ্ম হইতে জাত ব্রহ্মে লয় প্রাপ্ত এবং ব্ৰহ্ম দ্বারা জীবিত এই সমস্ত জগৎ ব্ৰহ্মস্বরূপ, অতএব শান্তচিত্তে তাহারই উপাসনা করা কর্তব্য। (যেহেতু পুরুষ স্বভাবতঃ সংকল্পবান্।) ইহলােকে পুরুষ যেরূপ সংকল্প বান্ হয়, এখান হইতে প্রয়াণের পরও সেইরূপই হইয়া থাকে; অতএব ( উত্তম) সংকল্প করিবে। ৫১৯। যাে বৈ ভূমা তৎ সুখং নাল্পেসুখমস্তি ভূমৈব সুখং ভূমাত্বেব বিজিজ্ঞাসিতব্য ইতি। যঃ বৈ ভূমা তৎ সুখং (যাহা অনন্ত তাহাই সুখ) অল্পে সুখং ন অস্তি ( পরিচ্ছিন্ন বস্তুতে সুখ নাই) ভূমা এব সুখম্ (ভূমাই সুখস্বরূপ) ভূমা এব বিজিজ্ঞাসিতব্যঃ ইতি (ভূমাই জিজ্ঞাসা করা উচিত) যাহা অনন্ত তাহাই সুখ, পরিচ্ছিন্ন বস্তুতে সুখ নাই ; অনন্তই সুখস্বরূপ ; অনুন্তকেই জানা উচিত। ৫২২। স এবাধস্তাৎ স উপরিষ্টাৎ স পশ্চাৎ স পুরস্তাৎ স দক্ষিণতঃ স উত্তরতঃ স এবেদং সর্বমিতি। সঃ এব অধস্তাৎ(সেই নিম্নে ) সঃ উপরিষ্টাৎ (সেই উপরে) সঃ পশ্চাৎ সঃ পুরস্তাৎ (সেই পিছনে ও অগ্ৰে) সঃ দক্ষিণতঃ সঃ উত্তরতঃ (সেই দক্ষিণে ও বামে) সঃ এব ইদং সৰ্ব্বং (সেই এই সমস্ত জগৎ) সেই নিম্নে, উপরে, পশ্চাতে, অগ্রে, দক্ষিণে, উত্তরে ; সেই এই সমস্ত ( জগৎ)।
পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায় ৫৬। য আত্মাপহত পাপ বিজয়াে বিমৃত্যুৰ্বিশশাকো বিজিঘৎসােহপিপাসঃ সত্যকামঃ সত্যসঙ্কল্পঃ সেম্বে- ষ্টব্যঃ স বিজিজ্ঞাসিতব্যঃ স সৰ্বাংশ্চলােকানাগগতি সৰ্বাংশ্চ কামান্ যস্তমাত্মানমনুবিদ্য বিজাতীতি প্রজাপতিরুবাচ । যঃ আত্মা অপহতপাপ্তাবিজরং বিমৃত্যুঃ বিশোকঃ বিজিঘৎসঃ অপিপাসঃ সত্যকামঃ সত্যসঙ্কলঃ (যে আত্মা নিষ্পাপ, জরা, মরণ রহিত দুঃখ, ক্ষুধা, তৃষ্ণা বর্জিত সতাকাম, সত্যসঙ্কল্প ) সঃ অন্বেষ্টব্যঃ বিজিজ্ঞাসিতব্যঃ (তাহারই অনুসন্ধানও জানা উচিত) সঃ সৰ্বান্ লােকান্ সৰ্বান্ কামা আপেতি (তিনি সমস্ত লােক ও সমস্ত ভােগ প্রাপ্ত হন। যঃ তং আত্মানম্ অনুবিদ্য বিজানাতি (যিনি সেই আত্মাকে জানিয়া উপলব্ধি করিয়াছেন। ইতি হ প্রজাপতিঃ উবাচ (ইহা ব্রহ্মা বলিয়াছিলেন) যে আত্মা নিস্পাপ, জরা মরণ-দুঃখ-ক্ষুধা তৃষ্ণা বর্জিত, অমােঘ ইচ্ছা ও সঙ্কল্প যুক্ত, তাহারই অনুসন্ধান করা ও তাহাকেই জানা উচিত। যিনি তাঁহাকে জানিয়া উপলব্ধি করেন তিনি সমস্ত লােক ও ভােগপ্রাপ্ত হন, ইহা প্রজাপতি বলিয়াছিলেন। বৃহদারণ্যকোপনিষৎ ৪৫। তদেতৎ প্রেয় পুত্ৰাৎ প্রেয়াে বিত্তাৎ প্রেয়ােহন্যস্মাৎ সৰ্বম্মদন্তরতরং যদয়মাত্মা। তৎ এতৎ পুত্ৰাৎ প্রেয় বিত্তৎ প্রেয়ঃ অন্যস্মাৎ সৰ্বস্মাৎ প্রেয়ঃ (সেই আত্মা পুত্ৰ ধন ও অপর সমস্ত অপেক্ষা প্রিয়) যৎ অয়ং অন্তরতরং আত্মা ( যেহেতু ইহা সর্বাপেক্ষা সন্নিহিত) উপনিষৎ যেহেতু সর্বাপেক্ষা অন্তরতম এই আত্মা অতএব, ইহা পুত্র, বিত্ত ও অপর সমস্ত পদার্থ অপেক্ষা অধিক প্রিয়। ১০০। স যথাের্ণনাভিস্তনােচ্চরে যথাগ্নে ক্ষুদ্রা বিস্ফুলিঙ্গাব্যুচ্চরন্ত্যেব মেবাশ্মদাত্মনঃ সৰ্বে প্ৰাণাঃ সৰ্ব্বে লােকাঃ সর্বে দেবাঃ সৰ্বাণি ভূতানিবুচ্চরন্তি তন্যোপনিষৎ সত্যস্য সত্যমিতি প্রাণাঃ বৈ সত্যং তেমেষ সত্য। সঃ উর্ণনাভিঃ যথা তন্তুনা উচ্চরেৎ (সেই মাকড়শা যেমন নিজ সূত্র দ্বারা উর্ধে যায়) অয়েঃ যথা ক্ষুদ্রাঃ বিস্ফুলিঙ্গঃ বুচ্চরন্তি (অগ্নি হইতে ক্ষুদ্র কণসকল যেমন উত্থিত হয়) এবমেব অস্মাৎ (সেইরূপ এই আত্মা হইতে) সৰ্বে প্ৰাণাঃ সৰ্ব্বে লােকাঃ সর্বে দেবাঃ সৰ্বাণি ভূতানি বুচ্চিরন্তি ( সমস্ত ইন্দ্রিয়, ভােগস্থান, দেবতা, ও প্রাণী প্রাদুভূত হইয়াছে) তস্য উপ- নিষৎ সত্যস্য সত্য ইতি (ইহার রহস্য নাম সত্যের সত্য) প্রাণাঃ বৈ সত্যং ( প্রাণ সকল সত্য) এষঃ তেষাং সতাম্। ইহা উহাদের অপেক্ষাও সত্য) মাকড়শা যেমন নিজ তন্তু দ্বারা উর্দ্ধে বায়, অগ্নি হইতে যেমন ক্ষুদ্র আগ্নেয় কণাসকল উখিত হয়, সেইরূপ এই আত্মা হইতে সমস্ত ইন্দ্রিয় ভােগস্থান-দেবতা ও প্রাণী প্রাদুর্ভূত হইয়াছে। ইহার রহস্য নাম সত্যের সত্য। প্রাণ সকল সত্য; (এই আত্মা) তাহাদের অপেক্ষাও সত্য। ১১১। আত্মা বা অরে দ্রষ্টব্যঃ শ্রোতব্যা মন্তব্যো নিদিধ্যা- মিতব্যা মৈত্রেয়; আত্মনাে বা অরে দর্শনেন শ্রবণেন মত্যা বিজ্ঞানেনেদং সৰ্ব্বং বিদিত। । অরে মৈত্রেয় আত্ম বৈ দ্রষ্টব্যঃ শ্রোতব্যঃ মন্তব্য: নিদিধ্যাসিতব্যঃ ওরে মৈত্রেয় আম্মাকেই দর্শন, শ্রবণ, বিচার ও ধ্যান করিবে। অরে মৈত্রেয় পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায় আত্মনঃ দর্শনেন শ্রবণেন মত্যাবিজ্ঞানেন ইদং সর্বং বিদিতং (ওরে মৈত্রেয়ি এই আত্মাকে দর্শন, শ্রবণ, বিচার ও ধ্যান করিলেই সমস্তই জানা হইয়া যায় ) হে মৈত্রেয়! এই আত্মাকেই দর্শন, শ্রবণ, বিচার ও ধ্যান করা কর্তব্য। হে মৈত্রেয়! এই আত্মাকে দর্শন, শ্রবণ, বিচার ও ধ্যান করিলে এই সমস্তই বিজ্ঞাত হয়। ২৭৪। অত্র পিতাহপিতা ভবতি মাতাহমাতা লােকা অলােকাঃ দেবা অদেবাঃ বেদা অবেদাঃ অত্র নোেহস্তেননা ভবতি ভ্রুণহাহব্ধণহাচাণ্ডাললাইচাণ্ডালঃ পৌল্কসােহপৌসঃ শ্ৰমণােহশ্ৰমণস্তাপসােহ- তাপসােহনৱাগতং পুণ্যেনানন্বাগতং পাপেন তীর্ণো হি দা সৰ্ব্বাকোন্ হৃদয়স্য ভবতি। অত্র পিতা অপিতা মাতা অমাতা লােকাঃ অলােকাঃ দেবাঃ অদেবাঃ বেদাঃ অবেদাঃ (সে সময় পিতার পিতৃত্ব, মাতার মাতৃত্ব, লােকসকলের লােকত্ব, দেবতাদের দেবত্ব, বেদ সকলের বেদত্ব থাকে না। অত্র স্তেন অস্তেনঃ জ্বণহা অণহা চাণ্ডালঃ অচাণ্ডালঃ পৌল্কসঃ অপৌল্কসঃ শ্ৰমণঃ অশ্ৰমণঃ তাপসঃ অতাপসঃ (তখন চোর অচোর, প্রাণহা অণহা, চণ্ডাল অচণ্ডাল, পৌল্কসজাতি, অপৌল্কস, পরিব্রাজক অপরিব্রাজক, বানপ্রস্থ অবান প্রস্থ হয়) পুণ্যেন অনুৰাগতং পাপেন অনুৰাগতং তদা হি হৃদয়স্ত সৰ্বান শােকান্ তীর্ণঃ ভবতি (তখন সমস্ত পাপপুণ্য বর্জিত হইয়া হৃদয়ের সমস্ত দুঃখ মুক্ত হয় ) এই সময় পিতা অপিতা, মাতা অমাতা, লােক অলােক, দেব অদেব, বেদ অবেদ, চোর অচোর, জণহা অণহা, চণ্ডাল অচণ্ডাল, পৌকস উপনিষৎ পুণ্য পাপের, সহিত অপৌস, শ্রমণ অশ্রম, বানপ্রস্থ, অবানপ্রস্থ হয়। অসংশ্লিষ্ট হইয়া হৃদয়ের সমস্তু শােক উত্তীর্ণ হয়। শ্বেতাশ্বতরােপনিষৎ ২১৭। যাে দেব অগ্নৌ যে অঙ্গু যাে বিশ্বং ভুবনমাবিবেশ। য ওষধিষু যাে বনস্পতি তস্মৈ দেবায় নমােনমঃ। যঃ দেবঃ অগ্নৌ.যঃ অপসু যঃ ওষধিষু যঃ বনস্পতি আবিবেশ ( যে দেবতা অগ্নিতে, জলে, ওষধিতে, বনস্পতিতে আবিষ্ট রহিয়াছেন), যঃ বিশ্ব ভুবনং আবিবেশ ( যিনি সমগ্র জগৎ ব্যাপ্ত হইয়া রহিয়াছেন) তস্মৈ দেবায় নমঃ নমঃ (সেই দেবতাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার করি) যে দেবতা অগ্নিতে, জলে, ওষধিতে, বনস্পতিতে, এমন কি সমস্ত বিশ্বব্যাপিয়া রহিয়াছেন, তাঁহাকে পুনঃ পুনঃ প্রণাম করি । ৩৮। বেদাহমেতং পুরুষং মহান্ত- মাদিত্যবর্ণং তমসঃ পরস্তাৎ। তমেব বিদিতিমৃত্যুমেতি নান্যঃ পন্থা বিদ্যতেহয়নায়। অহং তমসঃ পরস্তাৎ আদিত্যবর্ণং মহান্তং এতং পুরুষং বেদ (আমি অজ্ঞানের অতীত, জ্যোতির্ময়, সৰ্বব্যাপী এই আত্মাকে জানি) তং এব বিদিত্বা মৃত্যুং অত্যতি (তাহাকেই জানিয়া মৃত্যু অতিক্রম করা যায়) অয়নায় অন্যঃ পন্থাঃ ন বিদ্যতে ( মুক্তিলাভের অপর উপায় নাই। আমি অজ্ঞানরূপ অন্ধকারের অতীত, আদিত্যবর্ণ ( জ্যোতির্ময়), সৰ্ব্ব- ব্যাপী এই আত্মাকে জানি। তাঁহাকে জানিয়াই মৃত্যু অতিক্রম করা যায়। মােক্ষলাভের অপর উপায় নাই।
পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায় ৩১৬। সৰ্ব্বতঃ পাণিপাদন্তৎ সৰ্ব্বতােহক্ষি শিনােমুখম্। সর্বতঃ শ্রুতিমল্লোকে সমাবৃত্য তিষ্ঠতি । ৩১৭। সৰ্বেন্দ্ৰিয় গুণাভাসং সৰ্বেন্দ্ৰিয় বিবর্জিত। সৰ্বস্য প্রভুমীশানং সৰ্ব্বস্য শরণং বৃহৎ । তৎ সৰ্বতঃ পাণি পাদং সর্বতঃ অক্ষি শিরঃ মুখং সৰ্বতঃ শ্রুতিমৎ (তাহার সর্বত্র হস্ত, পদ, চক্ষু, মস্তক, মুখ ও কর্ণ) লােকে সৰ্ব্বং আবৃত্য তিষ্ঠতি ( সমস্ত জগৎ ব্যাপ্ত হইয়া রহিয়াছেন) সৰ্বেন্দ্ৰিয় গুণাভাসং সৰ্বেন্দ্রিয় বিবর্জিমতঃ ( সমস্ত ইন্দ্রিয় বজ্জিত হইয়াও সমস্ত ইন্দ্রিয় জ্ঞানযুক্ত) সৰ্বস্ত প্রভুং ঈশানং সর্ব বৃহৎ শরণং ( সকলের কর্তা, শাসক ও মহৎ আয় )। তাহার সর্বত্রই হস্ত, পদ, চক্ষু, মশুক মুখ ও কর্ণ। তিনি সমস্ত জগৎ ব্যাপিয়া রহিয়াছেন। তাহার কোন ইন্দ্রিয় না থাকিলেও তিনি সমস্ত ইন্দ্রিয় জ্ঞান সম্পন্ন এবং তিনি সকলের কর্তা, শাসক ও মহৎ অশ্রয়। ৪াত ত্বং স্ত্রী ত্বং পুমানসি ত্বং কুমার উত বা কুমারী। ত্বং জীর্ণো দণ্ডেন বঞ্চসি ত্বং জাতােভবসি বিশ্বতােমুখঃ । ত্বং স্ত্রী ত্বং পুমান্ অসি ত্বং কুমারঃ উত বা কুমারী (তুমি স্ত্রী, তুমি পুরুষ, তুমি কুমার এবং কুমারী ) ত্বং জীর্ণঃ দণ্ডেন বঞ্চসি ( তুমিই বৃদ্ধ হইয়া যষ্টির সাহায্যে ভ্রমণ কর) ত্বং বিশ্বতােমুখঃ জাতঃ ভবসি (তুমিই সৰ্বরূপে জাত হও) তুমিই স্ত্রী, তুমিই পুরুষ, তুমিই কুমার, তুমিই কুমারী। তুমিই বৃদ্ধ হইয়া যষ্টির সাহায্যে ভ্রমণ কর। তুমিই সৰ্বরূপে জন্মগ্রহণ কর।
উপনিষৎ ৬৭ তমীশ্বরাণাং পরমং মহেশ্বরং তং দেবতানাং পরমঞ্চ দৈবতম্। পতিং পতীনাং পরমং পরস্তা বিদাম দেবং ভুবনেশমীড্যম্ । তম্ ঈশ্বরাণাং পরমং মহেশ্বরং (তিনি লােকপালগণের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রভু) তং দেবতানাং চ পরমং দৈবতং (তিনি দেবতাদিগেরও পরম দেবতা) পতীনাং পরমং পতিং (প্রজাপতিগণের শ্রেষ্ঠপতি) পরস্তাৎ ঈড্যং ভুবনেশং তং দেবং বিদাম ( অক্ষর হইতেও বন্দনীয় জগৎপতি সেই দেবকে জানি) তিনি লােকপালদিগের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রভু। দেবতাদিগের পরম দেবতা। প্রজাপতিগণের শ্রেষ্ঠ পতি। অক্ষর ব্ৰহ্ম হইতেও বন্দনীয়। জগৎপতি সেই স্বতিযােগ্য দেবকে আমরা জানি। ৬১১ একোদেবঃ সৰ্ব্বভূতেষু গূঢ়ঃ সৰ্বব্যাপী সৰ্ব্বভূতান্তরাত্মা। কৰ্ম্মাধ্যক্ষঃ সৰ্ব্বভূতাধিবাসঃ সাক্ষী চেতা কেবললা নিগুণশ্চ । সৰ্ব্বভূতেষু গূঢ়ঃ সৰ্বব্যাপী সৰ্ব্বভূতান্তরাত্মা (সৰ্ব্বভূতে প্রচ্ছন্নস্থিত সৰ্ব্ব- ব্যাপী সৰ্ব্বভূতের অন্তরাত্মা) কৰ্ম্মাধ্যক্ষঃ সৰ্ব্বভূতাধিবাসঃ (কৰ্ম্মফলদাতা সৰ্ব্বভূতের আশ্রয়) সাক্ষী চেতা কেবলঃ নিগুণঃ চ একঃ দেবঃ (দ্রষ্টা- চৈতন্যময় উপাধি ও গুণবর্জিত একমাত্র দেবতা)। সমস্তভূতে প্রচ্ছন্নস্থিত, সৰ্বব্যাপী,সৰ্বপ্ৰাণীর অন্তরাত্মা, কৰ্ম্মফলদাতা অধ্যক্ষ সৰ্ব্বভূতাশ্রয়, দ্রষ্টা, চৈতন্যম্বরূপ, উপাধি ও গুণবর্জিত একমাত্র দেবতা।
শ্রীমদ্ভগবদগীতা ২।২০ ন জায়তে মিয়তে বা কদাচি- স্নায়ং ভূত্বহভবিতা বা ন ভূয়ঃ। অজো নিত্যঃ শাশ্বতােইয়ং পুরাণে ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে। এই আত্মা কখন জন্মায় না কখন মরে না। ইহা উৎপন্ন হইয়া আবার বিনাশ প্রাপ্ত হয় না। ইহা জন্মরহিত, সৰ্ব্বদা একরূপ, বিকারশূন্য ও অপরিণামী। শরীর বিনষ্ট হইলেও ইনি বিনষ্ট হন না। ২২২ বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায় নবানি গৃতি নবােহপরাণি। তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণ- ন্যন্যানি সংযাতি নবানি দেহী। মনুষ্য যেমন জীর্ণবস্ত্র পরিত্যাগ করিয়া অপর নূতন বস্ত্র গ্রহণ করে, আত্মাও সেইরূপ জীর্ণ শরীর পরিত্যাগ করিয়া অপর নূতন শরীর গ্রহণ করেন। ২৬২ ধ্যায়তো বিষয়ান্ পুংসঃ সঙ্গস্তেষুপজায়তে। সঙ্গাৎ সঞ্জায়তে কামঃ কামাৎ ক্রোধােহভিজায়তে। ২৬৩ ক্রোধাদ্ভবতি সম্মােহঃ সম্মােহৎ স্মৃতি বিভ্রমঃ। স্মৃতি ভ্রংশাদুদ্ধিনাশা বুদ্ধিনাশাৎ প্রণতি। বিষয় সকল চিন্তা করিতে করিতে মনুষ্যের তাহাতে আসক্তি জন্মে। আসক্তি হইতে কামনা, কামনা হইতে ক্রোধ, ক্রোধ হইতে অবিবেক, শ্রীমদ্ভগবদগীতা অবিবেক হইতে বিস্মরণ, বিস্মরণ হইতে বুদ্ধিনাশ ঘটে; এবং বুদ্ধিনাশ হইলে বিনাশপ্রাপ্ত হয়। ২৭১ বিহায় কামান্ যঃ সৰ্বান্ পুমাংশ্চরতি নিঃস্পৃহঃ। নির্মমাে নিরহঙ্কারঃ স শান্তিমধিগচ্ছতি ॥ যে পুরুষ সমস্ত কামনা ত্যাগ করিয়া স্পৃহাশূন্য, মমতাশূন্য ও অহঙ্কার- শূন্য হইতে পারেন, তিনিই শান্তিলাভ করেন। ৩৪ ন কৰ্ম্মণামনারম্ভান্নৈমং পুরুষােহন্দুতে। ন চ সন্ন্যসনাদেব সিদ্ধিং সমধিগচ্ছতি ॥ পুরুষ কেবল কর্মের অনুষ্ঠান না করিলেই নৈৰ্ম্ম অর্থাৎ নিষ্ক্রিয়ভাব প্রাপ্ত হয় না। কেবলমাত্র সন্ন্যাস গ্রহণ করিলেই সিদ্ধিলাভ হয় না। ৩৮ নিয়তং কুরু কৰ্ম্ম ত্বং কৰ্ম্ম জ্যায়ােহকৰ্ম্মণঃ। শরীর যাত্রাহপি চ তে ন প্রসিধ্যেদকৰ্ম্মণঃ । তুমি নিত্য কর্ম কর। কৰ্ম্ম না করা অপেক্ষা কৰ্ম্ম করা ভাল। কৰ্ম্ম না করিলে তােমার শরীর-যাত্রাও নিৰ্বাহিত হইবে না'। ৩১৭ যাত্মরতিরেব স্যাদাত্মতৃপ্তশ্চ মানবঃ। আত্মবে চ সন্তুষ্টস্তস্য কাৰ্যং ন বিদ্যতে ॥ যাহার আত্মাতেই প্রীতি, আত্মাতেই তৃপ্তি, এবং আত্মাতেই সন্তোষ, তাঁহার কোন কর্তব্য নাই। ৩১৮ নৈব তস্য কৃতেনাৰ্থো নাকৃতেনেহকশ্চন। ন চাস্য সৰ্ব্বভূতেষু কশ্চিদৰ্থব্যপাশ্রয়ঃ । এ জগতে তাহার এমন কোন প্রয়ােজন নাই, যাহা তিনি কর্ম দ্বারা اث পরমেশ্বর ও তাহাকে লাভের উপায় । লাভ করিবেন এবং কৰ্ম্ম না করিলেও তাহার কোন প্রত্যবায় নাই আর সকল প্রাণীতেই তাহার কোন প্রয়ােজন-সম্বন্ধও নাই। ৩৩৫ শ্রেয়া স্বধৰ্ম্মো বিগুণঃ পরধর্মাৎ অনুষ্ঠিতাৎ। স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধৰ্ম্মো ভয়াবহ। সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত পরধর্ম হইতে অঙ্গহীন হইলেও স্বধৰ্ম্ম শ্রেয়া। স্বধৰ্ম্মে নিধনও কল্যাণকর; কিন্তু পরধর্ম ভয়সঙ্কুল। ৪৭ যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত। অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্ ॥ হে ভারত! যে সময়ে ধৰ্ম্মের হানি ও অধৰ্ম্মের প্রাদুর্ভাব হয়, সেই সময়ে আমি আপনাকে সৃষ্টি করি। ৪৮ পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্। ধৰ্ম সংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে। সাধুদিগের রক্ষার জন্য, পাপীদিগের বিনাশের জন্য, এবং ধৰ্ম্ম- সংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই। ৪১১ যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্। মম বত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সৰ্ব্বশঃ । হে পার্থ ! যে, যেভাবে আমার উপাসনা করে, আমি সেইভাবেই তাহাকে অনুগ্রহ করিয়া থাকি। মনুষগণ সকলেই আমার প্রদর্শিত পথের অনুবর্তন করিয়া থাকে। ৪া২৪ ব্ৰহ্মাৰ্পণং ব্রহ্ম হবিব্রহ্মাগ্নৌ ব্ৰহ্মণাহুতম্। ব্ৰহ্মব তেন গন্তব্যং ব্ৰহ্মকৰ্ম্ম-সমাধিনা। আহুতি ব্রহ্ম, ধৃত ব্ৰহ্ম, অগ্নি ব্ৰহ্ম, হােত ব্ৰহ্ম—এইরূপ কর্মে ব্ৰহ্মবুদ্ধি- পরায়ণ ব্যক্তি ব্ৰহ্মকেই লাভ করেন।
শ্রীমদ্ভগবদগীতা
৩৭
৫।১৮ বিদ্যাবিনয়-সম্পন্নে ব্রাহ্মণে গবিহস্তিনি।
শুনি চৈব শ্বপাকে চ পণ্ডিতাঃ সমদর্শিনঃ ।
জ্ঞানী ব্যক্তি বিদ্যা-বিনয়-যুক্ত ব্রাহ্মণে গরুতে, হাতিতে কুকুরে ও চণ্ডালে
সমদৃষ্টি করিয়া থাকেন।
৪২২ যে হি সংস্পর্শজা ভােগা দুঃখযােনয় এব তে।
আদ্যন্তবন্তঃ কৌন্তেয় ন তেষু রমতে বুধ।
হে কৌন্তেয় ! যে ভােগ সকল ইন্দ্রিয় ও বিষয় সংস্পর্শে উৎপন্ন,
তাহার পরিণাম দুঃখ, এবং আদি-অন্তবিশিষ্ট বলিয়া তাহারা ক্ষণস্থায়ী
সে কারণ পণ্ডিতগণ তাহাতে সুখবােধ করেন না।
৫২৪
যােহন্তঃসুখােহন্তরারামস্তথাহন্তজ্যোতিরেব যঃ।
স যােগী ব্ৰহ্মনিৰ্ব্বাণং ব্রহ্মভূতােহধিগচ্ছতি।
যাহার অন্তরাত্মাতেই সুখ, আত্মাতেই প্রীতি, আত্মাতেই জ্যোতি ষ্টি
সেই যােগী ব্ৰহ্মস্বরূপ হইয়া মােক্ষ লাভ করেন।
৫২৯ ভােক্তারং যজ্ঞতপসাং সৰ্ব্বলােক মহেশ্বরম।
সুহৃদং সৰ্ব্বভূতানাং জ্ঞাত্বা মাং শান্তিচ্ছতি।
মানবগণ আমাকে যজ্ঞ ও তপস্যার ভােক্তা, সর্বলােকের মহেশ্বর, ও
সৰ্ব্বভূতের সুহৃদ জানিয়া শান্তিলাভ করে।
৬৩ আরুরুক্ষোৰ্ম্ম নেৰ্যোগং কৰ্ম্ম কারণমুচ্যতে।
যােগারূঢ়স্য তস্যৈব শমঃ কারণমুচ্যতে ।
যে মুনি যােগারূঢ় হইতে ইচ্ছা করেন, কৰ্ম্মই তাহার প্রধান সাধন ;
আর যিনি যােগারূঢ় হইয়াছেন, কৰ্ম্ম-সন্ন্যাসই তাহার প্রধান সাধন।
।
৩৮
পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায়
৬১০ যােগী যুঞ্জীত সততমাত্মানং রহসিস্থিত।
একাকী যতচিত্তাত্মা নিরাশীরপরিগ্রহঃ ।
যােগী সর্বদা নির্জন স্থানে একাকী দেহ ও চিত্ত সংযমপূৰ্ব্বক নিরাকাঙ্ক
ও পরিগ্রহশূন্য হইয়া চিত্তকে সমাহিত করিবেন।
৬২৫ শনৈঃশনৈরুপরমে বুদ্ধ্যাধূতিগৃহীতয়া ।
আত্মসংস্থং মনঃ কৃত্বা ন কিঞ্চিদপি চিন্তয়েৎ ।
ধৈৰ্যানুগত বুদ্ধিদ্বারা ধীরে ধীরে মনকে নিরুদ্ধ করিবে, এবং উহা
আত্মাতে নিহিত করিয়া কিছুমাত্র চিন্তা করিবে না।
৬২৬ যত যততা নিশ্চরতি মনশ্চঞ্চলমস্থির।
ততস্তততা নিয়মৈতদাত্মবে বশং নয়েৎ।
অস্থির চঞ্চল মন যে যে বিষয়ে ধাবিত হইবে, সেই সেই বিষয় হইতে
প্রত্যাহৃত করিয়া আত্মারই বশীভূত করিবে।
৬২৯ সৰ্ব্বভূতস্থমাত্মানং সৰ্ব্বভূতানি চাত্মনি।
ঈক্ষতে যােগযুক্তাত্মা সৰ্বত্ৰ সমদর্শন।
সর্বত্র সমদর্শী যােগী আত্মাকে সৰ্ব্বভূতে এবং সৰ্ব্বভূতকে আত্মাতে
অবস্থিত দর্শন করেন।
'৭৭ মত্তঃ পরতরং নান্যৎ কিঞ্চিদস্তি ধনঞ্জয়।
ময়ি সর্বমিদং প্রােতং সূত্রে মণিগণ। ইব।
হে ধনঞ্জয়! আমা হইতে শ্রেষ্ঠ অন্য কিছু নাই; সূত্রে গ্রথিত মণি-
সমূহের ন্যায় এই সমস্ত জগৎ আমাকেই আশ্রয় করিয়া রহিয়াছে।
শ্রীমদ্ভগবদগীতা
৭১৪ দৈবীহ্যে গুণময়ী মমমায়া দুরত্যয়।
মামেব যে প্রপদ্যন্তে মায়ামেংতরন্তিতে।
এই অলৌকিক ত্রিগুণময়ী আমার মায়া দুরতিক্রমনীয়া। যিনি আমার
শরণাগত হন, কেবলমাত্র তিনিই ইহা অতিক্রম করেন।
৭১৯ বহুনাং জন্মনামন্তে জ্ঞানবান্ মাং প্রপদ্যতে।
বাসুদেবঃ সৰ্ব্বমিতি স মহাত্মা সুদুলভঃ ।
বহু জন্মের পর জ্ঞানী পুরুষ “সমস্তই বাসুদেব” এইরূপ উপলব্ধি করেন।
এরূপ মহাত্মা অতি দুলভ।
৮৬ যং যং বাপিস্মর ভাবংত্যজত্যন্তে কলেবরম্ ।
তং তমেবৈতি কৌন্তেয় সদাতদ্ভাব ভাবিতঃ ।
হে কৌন্তেয়। অন্তকালে যে ব্যক্তি যে যে ভাব স্মরণ করিয়া দেহত্যাগ
করেন, সর্বদা তদ্ভাবাপন্ন হওয়ায় সেই সেই ভাবের স্বরূপ প্রাপ্ত হন।
৮১৩ ওমিত্যেকারং ব্ৰহ্ম ব্যাহরন্ মামনুস্মরন্।
যঃ প্রয়াতি ত্যজ দেহং স যাতি পরমাং গতিম্ ।
(*) এই একাক্ষর ব্ৰহ্মনাম উচ্চারণ ও আমাকে স্মরণ করিতে
করিতে যিনি দেহত্যাগ করেন, তিনি পরম গতি লাভ করেন।
১৪ অনন্যচেতাঃ সততং যাে মাং স্মরতি নিত্যশঃ।
তস্যাহং সুলভঃ পার্থ নিত্যযুক্তস্য যােগিনঃ ।
হে পার্থ ! যে ব্যক্তি সর্বদা একান্তমনে আজীবন আমাকেই চিন্তা
করেন, সেই সমাহিত-চিত্ত পুরুষের পক্ষে আমি সুলভ।
৪০
পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায়
৯৩৪
৯।২৭ যৎ করােষি যদাসি যজুহােষি দদাসি যৎ।
যত্তপস্যসি কৌন্তেয় তৎ কুরুষ মদর্পণম্।
হে কৌন্তেয় ! তুমি যে অনুষ্ঠান কর, যাহা ভােজন কর, যাহা হােম
কর, যাহা দান কর, এবং যে তপস্যা কর, তৎসমস্তই আমাকে অর্পণ
করিবে।
মন্মনাভব মক্তোমদাজী মাংনমস্তুরু।
মামেবৈষ্যসিযুবৈমাত্মানং মৎপরায়ণঃ ।
মদগত-চিত্ত, মদ্ভক্ত ও আমার পূজা ও নমস্কার পরায়ণ হও। এইরূপে
আমার শরণাগত হইয়া আমাতে চিত্ত সমর্পণ করিলে আমাকে লাভ করিবে।
১০২০ অমহাত্মা শুড়াকেশ সৰ্ব্বভূতাশয়স্থিত।
অহমাদিশ্চ মধ্যঞ্চ ভূতানামন্ত এব চ।
হে গুড়াকেশ ! সৰ্ব্বভূতের হৃদয়স্থিত আত্মা আমিই; এবং আমিই
সৰ্ব্বভূতের উৎপত্তি, স্থিতি ও লয় স্বরূপ।
১০৩৯ যচ্চাপি সৰ্ব্বভূতানাং বীজং তদহমৰ্জ্জুন।
ন তদস্তি বিনা যৎস্যায় ভূতং চরাচরম্।
হে অর্জুন! সৰ্ব্বভূতের মূল কারণও আমি; আমা ব্যতীত যাহা হইতে
পারে এরূপ স্থাবর জঙ্গম কোন বস্তু নাই।
১০৪১ যদ্যদ্বিভূতিমৎ সত্ত্বং শ্রীমদূর্জিতমেববা।
তত্তদেবাবগচ্ছ ত্বং মম তেজোহংশ সম্ভব।
যাহা কিছু ঐশ্বৰ্যযুক্ত, শশাভাযুক্ত ও প্রভাবযুক্ত পদার্থ, তৎসমস্তই
আমার তেজোংশজাত জানিবে।
শ্রীমদ্ভগবদগীতা
৪১
১১৫৫ মৎকৰ্ম্মকৃন্মৎপরমাে মক্তঃ সঙ্গবর্জিতঃ ।
নিব্বৈরঃ সৰ্ব্বভূতেষু যঃ স মামেতি পাণ্ডব।
হে পাণ্ডব ! যে ব্যক্তি মদর্থে কৰ্ম্মানুষ্ঠান করেন, মৎপরায়ণ, আমার
ভক্ত, আসক্তিহীন ও সৰ্ব্বভূতের অবিরােধী, তিনিই আমাকে প্রাপ্ত হন।
১২৮ ময্যেব মনআধৎসু ময়ি বুদ্ধিং নিবেশয়।
নিবসিষ্যসি ময্যেব অত ঊর্ধ্বং ন সংশয়ঃ ।
আমাতেই মন স্থির কর, আমাতেই বুদ্ধি স্থাপন কর, তাহা হইলে
দেহান্তে আমাতেই নিঃসন্দেহে স্থিতি করিবে।
১২৷১৩ অদ্বেষ্টা সৰ্ব্বভূতানাং মৈত্রঃ করুণ এব চ।
নির্মমম নিরহঙ্কারঃ সমদুঃখ সুখ ক্ষমী।
সৰ্ব্বভূতের প্রতি দ্বেষ রহিত, মৈত্রী ভাবাপন্ন, করুণাবা, মমতা ও
অহঙ্কারশূন্য, সুখে, দুঃখে সমচিত্ত ও ক্ষমাশীল এবংবিধ ব্যক্তি আমার
ভক্ত ও প্রিয় ।
১২১৪ সন্তুষ্টঃ সততং যােগী যতাত্মা দৃঢ় নিশ্চয়।
ময্যর্পিতমনােবুদ্ধির্যোমদ্ভক্তঃ স মে প্রিয়।
সৰ্ব্বদা সন্তুষ্ট, সর্বদা সমাহিতচিত্ত, সংযত স্বভাব, অটল বিশ্বাসী
আমাতে যাহার মন, বুদ্ধি সমর্পিত ও আমার ভক্ত তিনিই আমার প্রিয়।
১২১৫ যম্মাগ্লোদ্বিজতেলােকো লােকান্নোদ্বিজতে চ যঃ।
হর্ষামর্ষভয়ােদ্বেগৈমুক্তো যঃ স চ মে প্রিয়।
যাহা হইতে কোন লােক উদ্বিগ্ন বা সন্তপ্ত হয় না, বা অন্যলােক
হইতেও যিনি সন্তপ্ত হন না, এবং হর্ষ-অসহিষ্ণুতা-ভয়-উদ্বেগমুক্ত তিনিই
আমার প্রিয়।
৪২
পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায়
১২১৬ অনপেক্ষঃ শুচিদ্ক্ষ উদাসীননা গতব্যথঃ।
সৰ্বারম্ভ পরিত্যাগী যােমদ্ভক্তঃ স মে প্রিয়।
সম্পূর্ণ নিষ্কাম, বাহাভ্যন্তর শৌচযুক্ত পটু, পক্ষপাতশূন্য, সন্তুষ্টচিত্ত,
সকামকৰ্মত্যাগী যে আমার ভক্ত, সেই আমার প্রিয়।
১২১৭ যাে ন হৃষ্যতি ন দ্বেষ্টি ন শােচতি ন কাভক্ষতি।
শুভাশুভ পরিত্যাগী ভক্তিমান্ যঃ স মে প্রিয়।
যিনি হৃষ্ট হন না, দ্বেষ করেন না, শােক করেন না, আকাঙ্ক্ষাও করেন
না, শুভাশুভ কৰ্ম্মত্যাগী সেই ভক্ত আমার প্রিয়।
১২।১৮ সমঃশত্রে চ মিত্রে চ তথা মানাপমানয়ােঃ।
শীতােষ্ণ সুখ দুঃখেযু সমঃ সঙ্গবিবর্জিতঃ ।
যাহার শত্রু-মিত্রে, মান-অপমানে, শীত-উষ্ণে, সুখ-দুঃখে সমজ্ঞান ও যিনি
সঙ্গ রহিত।
১২১৯ তুল্যনিন্দাস্তুতিমৌনী সন্তুষ্টো যেন কেনচিৎ।
অনিকেতঃ স্থিরমতির্ভক্তিমান্ মে প্রিয়ােনর।
নিন্দাস্ততিতে সমজ্ঞান সম্পন্ন, মৌনী, যৎকিঞ্চিৎ লাভে সন্তুষ্ট, গৃহবর্জিত,
দৃঢ়চিত্ত ও ভক্তিযুক্ত ব্যক্তি আমার প্রিয়।
১২।২০ যেতুধম্মামৃতমিদং যথােক্তং পর্যােসতে।
শ্ৰদ্ধানা মৎপরমা ভক্তাস্তেহতীব মে প্রিয়াঃ।
যে সকল ব্যক্তি শ্রদ্ধাবান্ ও মৎপরায়ণ হইয়া পূর্বোক্ত ধৰ্ম্মামৃতের সেবা
করেন, সেই সকল ভক্ত আমার অতীব প্রিয়।
শ্রীমদ্ভগবদগীতা
৪৩
১৩৮ অমানিত্বমদস্তিত্বমহিংসা ক্ষান্তিরাজ্জব।
আচাৰ্যোপাসনং শৌচং স্থৈর্যমত্মবিনিগ্রহঃ ।
আত্মশ্লাঘা ও অহঙ্কার শূন্যতা, পরপীড়নে অনিচ্ছা, ক্ষমা, সরলতা,
গুরুসেবা, সদাচার, স্থিরতা, আত্মসংযম।
১৩৯ ইন্দ্রিয়াথেষু বৈরাগ্যমনহংকার এব চ।
জন্মমৃত্যু জরাব্যাধি দুঃখদোষানুদর্শনম্ ।
ইন্দ্রিয়ভােগ্য বিষয়সমূহে অনাস্থা, নিরহঙ্কার, জন্ম-মৃত্যু জরা-ব্যাধি ও
দুঃখরূপ দোষের পুনঃ পুনঃ আলােচনা।
১৩১০ অসরিনভিঙ্গঃ পুত্ৰদারগৃহাদিযু।
নিত্যঞ্চ সমচিত্তত্বমিষ্টানিষ্টোপপত্তি।
পুত্র স্ত্রী ও গৃহাদিতে অনাসক্তি, ও তাহাদের দুঃখে দুঃখিত না হওয়া,
সুখে দুঃখে সমচিত্ততা।
১৩১১ ময়ি চানন্য যােগেন ভক্তিরব্যভিচারিণী।
বিবিক্ত দেশসেবিত্বমরতিজ্জনসংসদি।
আমার প্রতি একনিষ্ঠ ও ঐকান্তিক ভক্তি, নির্জন বাস, ও জনসমাজে
বিরাগ।
১৩১২ অধ্যাত্মজ্ঞান নিত্যত্বং তত্ত্বজ্ঞানার্থ দর্শন।
এতজ,জ্ঞানমিতি প্রােক্তমজ্ঞানং যদতােহন্যথা।
আত্মজ্ঞাননিষ্ঠা, তত্ত্বজ্ঞান লাভার্থ আলােচনা এই সমস্তকে জ্ঞান বলা
হয় ; ইহার বিপরীত অজ্ঞান।
৪৪
পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায়
১৬২
।
১৬১ অভয়ং সত্ত্বসংশুদ্ধিজ্ঞানযােগব্যবস্থিতিঃ।
দানং দমশ্চ যজ্ঞশ্চ স্বাধ্যায়স্তপ আর্জব।
অভীরুতা, চিত্তশুদ্ধি, জ্ঞান ও যােগে স্থিতি, দান, দম, যজ্ঞ, স্বাধ্যায়
বেদাধ্যয়ন ), তপস্যা, সরলতা।
অহিংসা সত্যমক্রোধস্ত্যাগঃ শান্তিরপৈশুনম্।
দয়াভূতেলােলুপ্তং মাৰ্দবং হ্রীরচাপলম্ ।
অহিংসা, সত্য, অক্রোধ, ত্যাগ, শান্তি, পরনিন্দা বর্জন, জীবদয়া,
লােভশূন্যতা, মৃদুত, লজ্জা, স্থিরতা।
১৬৩
তেজঃ ক্ষমা ধৃতিঃ শৌচমদ্রোহো নাতিমানিত।
ভবন্তি সম্পদং দৈবীমভিজাতস্য ভারত।
১৬৪
হে ভারত! তেজ, ক্ষমা, ধৈৰ্য্য, শুচিতা, অবিবােধ, অভিমানশূন্যতা,
এই সমস্ত গুণ দৈবী সম্পদ লক্ষ্য করিয়া জাত ব্যক্তির হইয়া থাকে।
দম্ভোদর্পোইভিমানশ্চ ক্রোধঃ পারুষ্যমেব চ।
অজ্ঞানং চাভিজাতস্য পার্থ সম্পদমাসুরী।
দম্ভ, দর্প, অভিমান, ক্রোধ, নিষ্ঠুরতা, অজ্ঞান এই সমস্ত দোষ আসুরী
সম্পদ লক্ষ্য করিয়া জাত ব্যক্তির হইয়া থাকে।
১৬২১ ত্রিবিধং নরকস্যেদং দ্বারং নাশনমাত্মনঃ।
কামঃ ক্রোধস্তথা লােভস্তম্মদেয়ং ত্যজেৎ।
কাম, ক্রোধ ও লােভ এই তিনটী নরকের দ্বার ও আত্মনাশক। এই
জন্য অতি অবশ্য এই তিনটি পরিত্যাগ করিবে।
শ্রীমদ্ভগবদগীতা
৪৫
১৬২৩ যঃ শাস্ত্রবিধিমুৎস্যজ্য বৰ্ত্ততে কামকারতঃ।
ন স সিদ্ধিমবাপ্নোতি ন সুখং ন পরাং গতিম্।
যিনি শাস্ত্রবিধি অমান্য করিয়া স্বেচ্ছাচারী হইয়া কর্মে প্রবৃত্ত হন তাহার
সিদ্ধি, সুখ বা পরমগতি লাভ হয় না।
১৬২৪ ভস্মাচ্ছাস্ত্রং প্রমাণন্তে কাৰ্যাকাৰ্য ব্যবস্থিতৌ।
জ্ঞাত্বা শাস্ত্রবিধানােক্তং কৰ্ম্মকমিহাসি।
সেইজন্য কর্তব্যাকৰ্তব্য নিরূপণ জন্য শাস্ত্রই তােমার পক্ষে প্রমাণ স্বরূপ।
শাস্ত্রীয় ব্যবস্থা অবগত হইয়া তদনুরূপ কর্মে প্রবৃত্ত হও।
১৭।১৪
দেব দ্বিজ গুরু প্রাজ্ঞ পূজনং শৌচমাজ্জব।
ব্রহ্মচর্য্যমহিংসা চ শারীরং তপ উচ্যতে ।
দেব, দ্বিজ, গুরু, প্রাজ্ঞগণের সেবা, শৌচ, সরলতা, ব্রহ্মচর্য্য ও হিংসা
বর্জন এইগুলি শারীরিক তপস্যা।
১৭১৫ অনুদ্বেগকরং বাক্যং সত্যং প্রিয়হিতং চ যৎ।
স্বাধ্যায়াভ্যসনংচৈব বায়ং তপ উচ্যতে।
অমুদ্বেগকর, সত্য, প্রিয়, হিত বাক্য কথন, বেদাভ্যাস বাত্ময়
তপস্যা।
১৭১৬ মনঃপ্রসাদ সৌম্যত্বং মৌনমত্মবিনিগ্রহঃ।
ভাব সংশুদ্ধিরিত্যেতত্তপােমানসমুচ্যতে ।
চিত্তের প্রসন্নতা, সৌম্যতা, মৌনভাব, আত্মসংযম, চিত্তশুদ্ধি—এই সমস্ত
মানস তপস্যা।
৪৬
পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায়
১৮৪৬
যতঃ প্রবৃত্তিভূতানাং যেন সৰ্ব্বমিদং ততম্।
স্বকৰ্ম্মণ তমভ্যর্চ্য সিদ্ধিং বিন্দতি মানবঃ।
যাহা হইতে সমস্ত ভূতের উৎপত্তি এবং যাহা দ্বারা এই সমস্ত ব্যাপ্ত,
মানব নিজ কৰ্ম্মদ্বারা তাহার অর্চনা করিয়া সিদ্ধিলাভ করেন।
১৮৫১ বুদ্ধাবিশুদ্ধয়াযুক্তোঘৃত্যাত্মানং নিয়ম্য চ।
শব্দাদী বিষয়াংস্ত্যক্তা রাগদ্বেষৌব্যুদস্য চ।
বিশুদ্ধ বুদ্ধিযুক্ত ও ধৈৰ্য্যদ্বারা আত্মসংযম করিয়া লােগলিপ্সা ও
রাগ-দ্বেষ পরিত্যাগ করিয়া।
১৮৫২ বিবিক্তসেবীলঘাশী যত বাক্কায় মানসঃ।
ধ্যানযােগপরাে নিত্যং বৈরাগ্যং সমুপাশিতঃ ।
নির্জনবাসী, পরিমিতাহারী, শরীর-বাক্য-মনঃসংযমী, ধ্যানযােগপরায়ণ
ও বৈরাগ্যবান্।
১৮৫৩ অহঙ্কারং বলং দর্পং কমিং ক্রোধং পরিগ্রহম্।
বিমুচ্য নির্মমঃ শান্তোব্রহ্মভূয়ায় কল্পতে।
অহঙ্কার, বল, দর্প, কাম, ক্রোধ ও পরিগ্রহ পরিত্যাগ করিয়া মমতাশূন্য
ও শান্ত হইয়া মনুষ্য ব্ৰহ্ম সাক্ষাৎকারের যােগ্য হয়।
১৮৫৪ ব্ৰহ্মভূতঃ প্রসন্নাত্মা ন শােচতি ন কাভক্ষতি।
সমঃ সর্বেষু ভূতেষু মদ্ভক্তিং লভতে পরাং।
ব্ৰহ্মভাবাপন্ন, প্রসন্নচিত্ত, শােক ও আকাঙ্ক্ষাহীন, সমদর্শী ব্যক্তি পরমা
মদ্ভক্তি লাভ করিয়া থাকেন।
শ্রীমদ্ভগবদগীতা
৪৭
১৮৫৫ ভক্ত্যামামভিজানাতি যাবা যশ্চাস্মিতত্ত্বতঃ।
ততাে মাং তত্ত্বততা জ্ঞাত্বা বিশতে তদনন্তরম্ ।
ভক্তিদ্বারা আমি তত্ত্বতঃ যৎপরিমাণ ও যজ্রপ তাহা জানিতে পারেন।
অবশেষে তত্ত্বতঃ আমাকে জানিয়া আমার সহিত একাত্মভাব প্রাপ্ত হন।
১৮৬১ ঈশ্বরঃ সৰ্ব্বভূতানাং হৃদ্দেশেহৰ্জ্জুন তিষ্ঠতি।
ভ্রময় সৰ্ব্বভূতানি যন্ত্রারূঢ়ানি মায়য়া।
হে অর্জুন! ঈশ্বর সকল প্রাণীর হৃদয়ে অবস্থিত, এবং মায়াদ্বারা সকল
প্রাণীকে যারূঢ়ের ন্যায় ভ্রমণ করাইতেছেন।
১৮৬২
তমেব শরণং গচ্ছ সৰ্বভাবেন ভারত।
তপ্রসাদাৎ পরাং শান্তিং স্থানং প্রাঙ্গ্যসি শাশ্বতম্।
হে ভারত! সৰ্বততভাবে তাহারই শরণাপন্ন হও, তাহার অনুগ্রহে
পরমাশান্তি ও নিত্যপদ লাভ করিবে।
১৮৬৬ সৰ্ব্বধৰ্ম্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ।
অহংকা সৰ্বপাপেভ্যো মােক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ।
সমস্ত ধৰ্ম্মানুষ্ঠান পরিত্যাগ করিয়া একমাত্র আমারই শরণাগত হও।
আমি তােমাকে সমস্ত পুণ্য ও পাপমুক্ত করিব-শােক করিও না।
মনুসংহিতা
১৯৬
১৮৬ তপঃ পরং কৃতযুগে ত্রেতায়াং জ্ঞানমুচ্যতে।
দ্বাপরে যজ্ঞমেবাহুদানমেকং কলৌযুগে।
সত্যযুগে তপস্যাই প্রধান ধৰ্ম্ম, ত্রেতায় জ্ঞান, দ্বাপরে যজ্ঞ, কলিতে
একমাত্র দানই প্রধান ধৰ্ম্ম।
ভূতানাং প্রাণিনঃ শ্ৰেষ্ঠাঃ প্রাণিং বুদ্ধিজীবিনঃ।
বুদ্ধিমৎসু নরাঃ শ্রেষ্ঠা নরেষু ব্রাহ্মণাঃ স্মৃঃ।
ভূত সকলের মধ্যে প্রাণিগণ শ্রেষ্ঠ। প্রাণিগণের মধ্যে বুদ্ধিজীবী শ্রেষ্ঠ
বুদ্ধিজীবীদিগের মধ্যে মনুষ্য শ্রেষ্ঠ। মনুষ্যগণের মধ্যে ব্রাহ্মণ শ্রেষ্ঠ।
ব্রাহ্মণেষু তু বিদ্বাংসাে বিদ্বৎসু কৃতবুদ্ধয়ঃ।
কৃতবুদ্ধিযু কৰ্ত্তারঃ কর্তৃষ্ণু ব্ৰহ্মবেদিনঃ।
ব্রাহ্মণদিগের মধ্যে বিদ্বান্ ব্রাহ্মণ শ্রেষ্ঠ। বিদ্বাদিগের মধ্যে শাস্ত্রীয়
অনুষ্ঠানে কর্তব্যবুদ্ধিযুক্ত শ্রেষ্ঠ। তাহাদিগের মধ্যে শাস্ত্রীয় কর্মের অনুষ্ঠাতা
শ্রেষ্ঠ । তাঁহাদিগের মধ্যে ব্রহ্মজ্ঞানী সৰ্বশ্রেষ্ঠ।
১১১০৮ আচারঃ পরমােধৰ্মঃ শ্রুত্যুক্তঃ স্মাৰ্ত্ত এব চ।
তস্মাদস্মিন্ সদাযুক্তো নিত্যং স্যদাত্মবান্ দ্বিজঃ ।
তিস্মৃতি বিহিত আচার শ্রেষ্ঠ ধর্ম। সুতরাং আত্মহিতাকাঙ্ক্ষী ব্রাহ্মণ
সৰ্ব্বদা আচার পালন করিবেন।
১৯৭
মনুসংহিত।
১১১০৯ আচারাদ্বিচ্যুত বিপ্রােন বেদলমতে।
আচারেণ তু সংযুক্তঃ সম্পূর্ণ ফলভাগ, ভবেৎ।
আচারহীন ব্রাহ্মণ বৈদিক কর্মের ফল পান না। কিন্তু সদাচারী সম্পূর্ণ
ফললাভ করিয়া থাকেন।
২১২ বেদঃ স্মৃতিঃ সদাচারঃ স্বস্য চ প্রিয়মাত্মনঃ।
এতচ্চতুর্বিধং প্ৰাহুঃ সাক্ষাদ্ধৰ্ম্মস্য লক্ষণ।
বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও আত্মতুষ্টি এই চারিটিকে ধর্মের প্রত্যক্ষ লক্ষণ
বলা হয়।
২৬৭ বৈবাহিকোবিধিঃ স্ত্রীণাং সংস্কারেরা বৈদিকঃ স্মৃতঃ।
পতিসেবা গুরৌবাসাে গৃহাথথাইগ্নি পরিক্রিয়া।
স্ত্রীগণের বিবাহ বিধিই বৈদিক উপনয়ন সংস্কার।
স্বামি-সেবা গুরুগৃহে
বাস তুল্য। গৃহকৰ্ম্মই হােমস্বরূপ।
২৯৩
ইন্দ্রিয়াণাং প্রসঙ্গেন দোষমৃচ্ছত্যসংশয়ম্।
সংনিয়ম্য তু তাবে ততঃ সিদ্ধিং নিগচ্ছতি।
ইন্দ্রিয়সমূহের অত্যাসক্তিতেই মনুষ্য পাপভাগী হইয়া থাকে। ইন্দ্রিয়
সংযম করিতে পারিলেই সিদ্ধিলাভ হয়।
২৯৪ ন জাতু কামঃ কামানামুপভােগেন শামতি।
হবিষা কৃষ্ণবত্মেব ভূয় এবাভিবর্ধতে।
ভােগের দ্বারা কামের শান্তি হয় না। বরং অগ্নিতে ঘৃতাহুতির ন্যায়
উহা ক্রমশঃ বৃদ্ধি প্রাপ্তই হয়।
3
৫০
পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায়
২১০০ বশেকৃত্বেন্দ্রিয়গ্রামং সংযম্য চ মনস্তথা।
সৰ্বান্ সংসায়েদৰ্থানক্ষিন্ যােগতস্তম্।
ইন্দ্রিয় সকল ও মনকে সংযত করিয়া শরীরকে ক্লেশ না দিয়া সমাহিত
হইয়া সমস্ত পুরুষার্থ সাধন করিবে।
২১৪৫ উপাধ্যায়ান্ দশাচাৰ্য্য আচাৰ্যাণাং শতং পিতা।
সহস্ৰন্তু পিতৃন্মাতা গৌরবেণাতিরিচ্যতে।
দশজন উপাধ্যায় হইতে আচাৰ্য, একশত আচাৰ্য্য হইতে পিতা, আর
এক সহস্র পিতা হইতে মাতা গৌরবে অধিক।
২১৬২ সম্মানা ব্রাহ্মণণা নিত্যমুদ্বিজেত বিষাদিব।
অমৃতবে চাকাজেদবমানন্য সর্বদা।
ব্রাহ্মণ সম্মানকে বিষের ন্যায় বােধ করিবেন এবং অপমানকে অমৃতের
স্যায় আকাঙ্ক্ষা করিবেন।
২২১৫ মাত্রা স্বা দুহিত্ৰা বা ন বিবিক্তাসনােভবেৎ।
বলবানিন্দ্রিয় গ্রামাে বিদ্বাংসমপিকৰ্ষতি।
মাতা, ভগিনী ও কন্যার সহিত পুরুষ নির্জন গৃহে বাস করিবে না।
প্রবল ইন্দ্রিয়গণ জ্ঞানীকেও আকর্ষণ করে।
২২২৬ আচাৰ্যো ব্ৰহ্মণমূৰ্ত্তিঃ পিতামূর্তিঃ প্রজাপতেঃ।
মাতা পৃথিব্যামূৰ্ত্তিন্তু ভ্রাতা দাে মূৰ্ত্তিরাত্মনঃ ।
আচাৰ্য্যকে সাক্ষাৎ পরমেশ্বর, পিতাকে ব্ৰহ্মা, মাতাকে পৃথিবী ও
তাকে আত্মম্বরূপ মনে করিবে।
মনুসংহিতা
২২২৭ যং মাতাপিতরো ক্লেশং সহেতে সম্ভবে নৃণা।
ন তস্য নিষ্কৃতিঃ শ্যা কর্তৃং বর্ষশতৈরপি।
মনুষ্যের জন্মকালে মাতাপিতা যেরূপ ক্লেশ সহ্য করেন, শতবর্ষ চেষ্টা
করিলেও তাহার পরিশােধ করা সম্ভব হয় না।
২২২৮ তয়ােনিতং প্রিয়ং কুৰ্য্যাদাচাৰ্য্যস্য চ সৰ্ব্বদা।
তেঘেব ত্ৰিষুতুষ্টেধু তপঃ সৰ্ব্বং সমাপ্যতে।
সর্বদা পিতামাতা ও আচার্যের প্রিয় কাৰ্য্য করিবে। যেহেতু
ইহারা তিনজন তুষ্ট থাকিলে সমস্ত তপস্যা সম্পাদন করা হয়।
২২২৯ তেষাং ত্রয়াণাং শুশ্রুষা পরমন্তপ উচ্যতে।
ন তৈরভ্যননুজ্ঞাতাে ধর্মমন্যং সমাচরেৎ।
এই তিনজনের সেবাই পরম তপস্যা। ইহাদের বিনা অনুমতিতে অপর
কোন ধৰ্ম্মকাৰ্য্য করিবে না।
২২৩০ ত এব হি ওয়াে লােকাস্ত এব ত্রয় আশ্ৰমাঃ।
ত এব হি ত্রয় বেদান্ত এবােক্তাস্ত্রয়ােহগ্নয় ।
ইহারাই (মুৰ্ত্তিমা) তিন লােক, ইহারাই তিন আশ্রম। ইহারাই
( সাক্ষাৎ ) তিন বেদ, হঁহারাই তিন অগ্নি।
২১২৩৪ সৰ্বেতস্যাদৃতাধৰ্ম্মা যস্যৈতে হয় আদৃতা।
অনাদৃতাস্তু যস্যৈতে সৰ্বাস্তুস্যাফলাঃ ক্রিয়া।
যিনি ইহাদের তিনজনের সমাদর করেন, তাঁহার সকল ধর্ম পালন করা
হয়। আর যিনি ইহাদের সমাদর করেন না, তাহার সকল কৰ্ম্মই নিল
৫২
পরমেশ্বর ও তাহাকে লাভের উপায়
৩৫৬ যত্ৰ নাৰ্য্যস্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতাঃ।
যত্ৰৈস্তু ন পূজ্যন্তে সৰ্বাস্তত্ৰাফলাঃ ক্রিয়া।
যেখানে নারীগণ পূজিতা হন, সেখানে দেবতারাও সন্তুষ্ট হন। আর
যেখানে তাঁহারা অনাদৃতা হন, সেখানকার সমস্ত কাৰ্যই নিস্ফল হয়।
৩৬০ সষ্টো ভাৰ্য্যয়া ভর্তা ভত্ৰ। ভাৰ্য্যা তথৈব চ।
যস্মিন্নেব কুলে নিত্যং কল্যাণং তত্র বৈধ্রুবম্।
যে কুলে স্ত্রীদ্বারা স্বামী ও স্বামী দ্বারা স্ত্রী নিত্য সন্তুষ্ট হন, সে কুলের
নিশ্চয়ই কল্যাণ হইয়া থাকে।
৩১১৭ দেবান্বষীন্মনুষ্যাংশ্চ পিতৃন্ গৃহাশ্চ দেবতাঃ।
পূজয়িত্বততঃ পশ্চাদ্ গৃহস্থঃ শেষভুগভবেৎ ।
দেবতা, ঋষি, মনুষ্য ( অর্থাৎ অতিথি) পিতৃগণ ও গৃহ দেবতার পূজা
করিয়া সর্বশেষ গৃহী ভােজন করিবেন।
৪৷১২ সন্তোষং পরমাস্থায় সুখাৰ্থী সংযত ভবেৎ।
সন্তোষমূলং হি সুখং দুঃখমূলং বিপর্যয়।
সন্তোষই সুখের মূল ও অসন্তোষ দুঃখের মূল। সুতরাং মুখার্থীব্যক্তি
সন্তোষকেই প্রধানভাবে অবলম্বন করিয়া সংযত হইবেন।
৪৷১৪ বেদোদিতং স্বকং কৰ্ম্ম নিত্যং কুৰ্য্যাদতন্দ্রিত।
তদ্ধিকুন্ যথাশক্তি প্রাপগতি পরমাং গতিম্।
• , অনলস হইয়া নিত্য বেদবিহিত নিজ ধর্ম পালন করিবে, যথাশক্তি তাহা
করিলেই পরমপদ লাভ হয়।
মনুসংহিতা
৪৯২ ব্রাহ্মে মুহূর্তে বুধ্যেত ধৰ্ম্মার্থেী চানুচিন্তয়েৎ।
কায়ক্লেশাংশ্চতন্মলান্ বেদতত্ত্বাৰ্থমেবচ।
রাত্রির শেষ প্রহরে জাগরিত হইবে। ধৰ্ম্ম অর্থ ও তজ্জন্য কায়ক্লেশের
বিষয় ও বেদের তত্ত্বাৰ্থ ( কর্ম ও জ্ঞান কাণ্ডের সারার্থ) চিন্তা করিবে।
৪১১৩৭ নাত্মানমবমতে পূৰ্বাভিরসমৃদ্ধিভিঃ ।
আমৃতত্যাঃ শ্রিয়মন্বিচ্ছেন্নৈনা মতে দুল্ল ভাম্।
পূর্বের নিধনতা হেতু আপনার অপমান করিও না। যাবজ্জীবন
শ্রীবৃদ্ধির চেষ্টা করিবে। ইহাকে দুর্লভ মনে করিও না।
৪১১৩৮ সত্যং ক্ৰয়াৎ প্রিয়ং ক্ৰয়ানুক্ৰয়াৎ সত্যমপ্রিয়ম্।
প্রিয়ঞ্চ নামৃতং ক্ৰয়াদেষ ধর্মঃ সনাতন।
সত্যকথা বলিবে ও প্রিয়কথা বলিবে , অপ্রিয় সত্য বলিবে না। এবং
প্রিয় মিথ্যাও বলিবে না, ইহাই সনাতন ধর্ম।
৪।১৫৭ দুরাচারকা হি পুরুষাে লােকে ভবতি নিন্দিত।
দুঃখভাগী চ সততং ব্যাধিতােহল্পায়ুরেবচ।
আচারহীন ব্যক্তি সমাজে নিন্দিত হয়, দুঃখ পায়, রােগ ভােগ করে ও
অকাল মৃত্যুগ্রস্ত হয়।
৪১১৫৯ যদ্্যৎ পরবশংকৰ্ম্ম তত্ত যত্নেন বর্জয়েৎ।
য্যদাত্মবশন্তু স্যাত্তত্তৎ সেবেত যত্নতঃ।
যে সকল কাৰ্যে অন্যের সাহায্য আবশ্যক, সযত্নে তাহা বর্জন করিবে;
এবং যে সকল কাৰ্য্য স্বাধীনভাবে করিতে পারিবে, তাহাই যত্নের সহিত
সম্পাদন করিবে।
৫৪
পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায়
৪১১৬০ সৰ্ব্বং পরবশং দুঃখং সৰ্বমাত্মবশং সুখম্।
এতদ্বিদ্যাৎ সমাসেন লক্ষণং সুখদুঃখয়ােঃ ॥
পরাধীনতাই দুঃখ, স্বাধীনতাই সুখ, সংক্ষেপে ইহাই সুখদুঃখের লক্ষণ
জানিও।
৪১১৬১ যৎকৰ্ম্মকুৰ্ব্বতােহস্য স্যাৎ পরিতােযােহন্তরাত্মনঃ।
তপ্রযত্নেন কুব্বীত বিপরীতন্তু বর্জয়েৎ।
যে কাৰ্য্য করিলে অন্তরাত্মার তৃপ্তি হয় সেইরূপ কাৰ্যই প্রযত্ন সহকারে
করিবে। ইহার বিপরীত পরিত্যাগ করিবে।
৪১৬৩ নাস্তিক্যং বেদনিন্দাঞ্চ দেবনাঞ্চ কুৎসন।
দ্বেষং দম্ভঞ্চ মানঞ্চ ক্রোধং তৈক্ষ্যঞ্চ বর্জয়েৎ।
নাস্তিকতা, বেদনিন্দা ও দেবতার কুৎসা, দ্বেষ (পরের অপকারের
ইচ্ছা), দম্ভ, অভিমান, ক্রোধ ও পারুষ্য বর্জন করিবে।
৪১৭১ নসীদন্নপিধৰ্ম্মেণ মনােহধৰ্ম্মে নিবেশয়েৎ।
অধাৰ্মিকাণাং পাপানামাশু পন্ বিপৰ্যয়ম্ ।
ধৰ্ম্মপথে থাকিয়া অবসন্ন হইলেও কখন অধৰ্ম্মে মনােনিবেশ করিও না ;
যেহেতু অধাৰ্ম্মিক পাপীদের শীঘ্রই অবস্থান্তর দেখা যায়।
৪১১৭৮ যেনাস্য পিতরাে যাতা যেন যাতাঃ পিতামহাঃ।
তেন যায়াৎ সতাং মার্গং তেনগচ্ছন্ন রিষ্যতে ॥
যে পথে পিতা পিতামহ গিয়াছেন, সেই সৎপথ অবলম্বন করা কর্তব্য।
তাহা হইলে প্রত্যবায়ভাগী হইবে না।
মনুসংহিতা
৪১৮৬ প্রতিগ্ৰহ সমথর্থাইপি প্রসঙ্গং তত্র বর্জয়েৎ।
প্রতিগ্রহেণ হ্যস্যা ব্রাহ্মং তেজঃ প্রশামতি।
দান গ্রহণে সমর্থ ব্যক্তিও তাহাতে প্রবৃত্তি করিবে না। যেহেতু উহা-
দ্বারা ব্ৰহ্মতেজ অতি শীঘ্র নষ্ট হয়।
৪২৩৭ যজ্ঞােহতেন ক্ষরতি তপঃ ক্ষরতি বিস্ময়াৎ।
আয়ুর্বিপ্রাপবাদেন দানঞ্চ পরিকীৰ্ত্তনাৎ।
মিথ্যাদ্বারা যজ্ঞফল নষ্ট হয়। বিস্ময় দ্বারা তপস্যা নষ্ট হয়। ব্রাহ্মণের
নিন্দা দ্বারা আয়ুঃক্ষয় হয়, ও প্রচার দ্বারা দান ( ফল) নষ্ট হয়।
৪২৩৮ ধৰ্ম্মং শনৈঃ সঞ্চিনুয়াদ্বল্মীকমিব পুত্তিকাঃ ।
পরলােক সহায়ার্থং সৰ্ব্বভূতান্তপীড়য়ন্ ।
পুত্তিকারা যেরূপ অল্প অল্প করিয়া বল্মীক নির্মাণ করে পরলােকের
সাহায্যার্থ কোন জীবকে ক্লেশ না দিয়া ( নিত্যই) কিছু কিছু ধৰ্ম্ম সঞ্চয়
করিবে।
৪৷২৩৯ নামুত্র হি সহায়ার্থং পিতামাতা চ তিষ্ঠত।
ন পুত্ৰদারং ন জ্ঞাতিধর্মস্তিষ্ঠতি কেবলঃ।
পিতা, মাতা, স্ত্রী, পুত্র, জ্ঞাতি প্রভৃতি কেহই পরলােকে সাহায্যার্থ
অবস্থিতি করেন না। একমাত্র ধর্মই (পরলােকে সাহায্য করিতে)
অবস্থিত আছেন।
৪২৪০ একঃ প্ৰজায়তে জন্তুরেক এব প্ৰলীয়তে।
একোইনুভুক্তে সুকৃতমেক এব চ দুষ্কৃতম্ ।
জীব একাই জন্মে, একাই মরে, একাই সুকৃত, দুস্কৃত ভােগ করে।
পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায়
৪া২৪১ মৃতং শরীরমুৎস্যজ্য কাষ্ঠ লােষ্ট্রসমং ক্ষিতে।
বিমুখা বান্ধব যান্তি ধৰ্ম্মস্তমনুগচ্ছতি।
বান্ধবের কাষ্ঠ ও মৃৎখণ্ডের ন্যায় মৃতদেহ ভূমিতে নিক্ষেপ পূর্বক বিমুখ
হইয়া চলিয়া যান। একমাত্র ধর্মই মৃত ব্যক্তির অনুগমন করেন।
৪া২৪২ তস্মাদ্ধৰ্ম্মং সহায়ার্থং নিত্যং সঞ্চিনুয়াচ্ছনৈঃ।
ধৰ্ম্মেণ হি সহায়েন তমস্তরতি দুস্তরম্ ৷
সেই জন্য (পরলােকের) সাহায্যকারী ধৰ্ম্ম প্রতিদিন যথাশক্তি সঞ্চয়
করিবে। ধৰ্ম্মের সাহায্যেই দুস্তর অন্ধকারময় ( নরক) পার হওয়া যায়।
৪া২৪৩ ধৰ্ম্মপ্রধানং পুরুষং তপসা হতকিন্বিষম্।
পরলােকং নয়ত্যাশু ভাস্বন্তং খশরীরিণম্।
ধৰ্ম্মপরায়ণ ও ( দৈবাৎ তাহার পাপােৎপত্তি হইলে) তপস্যা দ্বারা ক্ষয়িত
পাপ, ব্ৰহ্মীভূত শরীরধারী পুরুষকে ( ধৰ্ম্মই) দেদীপ্যমান পরলােকে লইয়া
যায়।
৪২৫৭ মহর্ষি পিতৃদেবানাং গত্বামৃণ্যং যথাবিধি।
পুত্ৰে সৰ্ব্বং সমাসজ্য বসেম্মাধ্যস্থ্যমশ্রিত।
যথাশাস্ত্র দেবঋণ, ঋষিঋণ ও পিতৃঋণ পরিশােধ পূৰ্ব্বক পুত্রের উপর
সমস্ত ভারাপণ করিয়া উদাসীনভাবে বাস করিবে।
৪১২৫৮ একাকী চিন্তয়েন্নিত্যং বিবিক্তে হিতমাত্মনঃ।
একাকী চিন্তয়াননাহি পরং শ্রেয়ােহধিগচ্ছতি।
সর্বদা নির্জন স্থানে একাকী আত্মহিত চিন্তা করিবে। তাহা হইলে
পরম পুরুষাৰ্থ সিদ্ধ হইবে ।
মনুসংহিতা
৫৪
অনভ্যাসেন বেদানামাচারস্য চ বর্জনাৎ।
আলস্যান্নদোষাচ্চ মৃত্যুবি প্ৰান্ জিঘাংসতি।
বেদ পাঠ না করিলে, সদাচার ত্যাগ করিলে, আলস্য বশতঃ (নিত্যকর্ম
ত্যাগ করিলে) ও অভক্ষ্য ভক্ষণ করিলে মৃত্যু বিপ্রগণকে হিংসা করে
(অর্থাৎ তাঁহারা অল্পায়ু হন)।
৫।১৪৭ বালয়া বা যুবতা বা বৃদ্ধয়া বাপি যােষিতা।
ন স্বাতন্ত্রেণ কর্তব্যং কিঞ্চিৎ কাৰ্যং গৃহেঘপি।
স্ত্রীলােক বালিকাই হউক, যুবতীই হউক আর বৃদ্ধাই হউক গৃহেও
কোন কৰ্ম্ম স্বাধীনভাবে করিবে না।
৫১৪৮ বাল্যে পিতুৰ্ব্বশে তিষ্ঠেৎ পাণিগ্রাহস্য যৌবনে।
পুত্ৰাণাং ভৰ্ত্তরি প্রেতে ন ভজেৎ স্ত্রী স্বতন্ত্রম্ ।
স্ত্রীলােক বাল্যে পিতার অধীন, যৌবনে স্বামীর অধীন ও স্বামী গত
হইলে পুত্রের অধীন হইবেন; কখন স্বাধীন হইবেন না।
৫১৪৯ পিত্রাভাসুতৈৰ্বাপি নেচ্ছেদ্ধিরহমাত্মনঃ।
এষাং হি বিরহেণ স্ত্রী গহেকুৰ্য্যাদুতে কুলে৷
স্ত্রীলােক পিতা, স্বামী বা পুত্র হইতে কখন বিচ্ছিন্ন হইবেন না।
ইহাতে পিতৃকুল ও স্বামিকুল উভয় কুলকেই নারী নিন্দাভাগী করিয়া
থাকেন।
৫।১৫০ সদা প্রহৃষ্টয়া ভাব্যং গৃহকাৰ্যেষু দক্ষয়।
সুসংস্কৃতােপঙ্করয়া ব্যয়ে চামুক্ত হস্তয়া ।
স্ত্রীগণ সর্বদা সন্তুষ্ট থাকিবেন, গৃহ কৰ্ম্মে দক্ষ হইবেন; গৃহ সামগ্রী
পরিষ্কার রাখিবেন এবং ব্যয় বিষয়ে মুক্ত হস্ত হইবেন না।
পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায়
৫১৫১ যস্মৈ দদ্যাৎ পিতা হেনাং ভ্রাতা বানুমতে পিতুঃ।
তং শুষেত জীবন্তং সংস্থিতঞ্চ ন লঘয়েৎ।
পিতা বা পিতার অনুমতি ক্রমে ভ্রাতা যাহাকে দান করিবেন স্ত্রী সেই
( স্বামীর ) আজীবন সেবা করিবেন এবং স্বামী মৃত হইলেও তাহাকে
অবহেলা করিবেন না।
৫১৫৪ বিশীলঃ কামবৃত্তো বা গুণৈর্ধা পরিবর্জিত।
উপচৰ্যঃ স্ত্রিয়া সাধ্ব্যা সততং দেববৎ পতিঃ |
স্বামী অসদাচারী, ব্যভিচারী ও গুণহীন হইলেও স্বাধ্বী স্ত্রী স্বামীকে
দেবতার ন্যায় সেবা করিবেন।
৫।১৫৫ নাস্তি স্ত্রীণাং পৃথগ যজ্ঞাে ন ব্রতং নাপােষিতম্।
পতিং শুষতে যেন তেন স্বর্গে মহীয়তে।
( স্বামীর সাহচর্য ব্যতীত) স্ত্রীলােকদিগের পৃথক্ যজ্ঞ, ব্ৰত, উপবাস
নাই। একমাত্র স্বামি সেবাই (তাহাদের ধর্ম ) উহা দ্বারাই তাহারা
স্বর্গলাভ করেন।
গৃহস্থস্তু যদা পশেলী পলিমাত্মনঃ।
অপত্যস্যৈব চাপত্যং তদারণ্যং সমায়েৎ।
গৃহস্থ যখন নিজ গাত্র-চৰ্ম্ম শিথিল ও কেশ পৰু হইয়াছে এবং পুত্রেরও
পুত্র হইয়াছে দেখিবেন, তখন তাহার বানপ্রস্থ অবলম্বন করা কর্তব্য।
৬৮ স্বাধ্যায়ে নিত্যযুক্তঃ স্যাদ্দাস্তো মৈত্রঃ সমাহিতঃ।
দাতা নিত্যমনাদাতা সৰ্ব্বভূতানুকম্পকঃ ।
নিত্য বেদপাঠ করিবে, জিতেন্দ্রিয়, গৰ্বরহিত (অথবা দ্বন্দ্বসহিষ্ণু )
হইবে, সকলের সহিত মিত্ৰতা করিবে, সংযতচিত্ত হইবে, দানশীল, প্রতি
গ্রহবর্জিত ও সকলের প্রতি দয়াভাবযুক্ত হইবে।
।
মনুসংহিতা
৬৪০ যম্মাদপি ভূতানাং দ্বিজান্নাৎপদ্যতে ভয়।
তস্য দেহাদ্বিমুক্তস্য ভয়ং নাস্তি কুতশ্চন। '
যে ব্রাহ্মণ হইতে কোন প্রাণিই অণুমাত্র ভয় পায় না, মৃত্যুর পর
হাকেও কোন প্রকার ভয় পাইতে হয় না।
৩৪৭ অতিবাদাংস্তিতিক্ষেত নাবমতে কঞ্চন।
ন চেমং দেহমাশ্ৰিত্য বৈরং কুব্বীত কেনচিৎ।
শাস্ত্র বিরােধী বচন কেহ বলিলে তাহা ক্ষমা করিবে। কাহাকেও
অপমান করিও না। এই (ক্ষণভঙ্গুর) দেহ ধারণ করিয়া কাহারও সহিত
শত্রুতা করিও না।
৬৭৬
৬৭৭
অস্থিণং স্নায়ুযুতং মাংস শােণিত লেপনম্ ।
চৰ্মাবদ্ধং দুর্গন্ধি পূর্ণং মূত্রপুরীষয়ােঃ।
জরাশােক সমাবিষ্টং রােগায়তনমাতুরম্।
রজস্বলমনিত্যঞ্চ ভূতাবাসমিমং ত্যজেৎ |
অস্থিদ্বারা অবষ্টব্ধ ( হাড়ের কাঠামাে ), স্নায়ুদ্বারা বদ্ধ, মাংস ও রক্তে
লিপ্ত, চর্মের দ্বারা আচ্ছাদিত, ও মূত্রপুরীষে পূর্ণ দুর্গন্ধি, জরাশােকযুক্ত,
ব্যাধিমন্দির, রজোগুণবিশিষ্ট, (পাঞ্চ) ভৌতিক, ক্ষুৎপিপাসা-শীতােষ্ণাদিতে
কাতর এই অনিত্য (দেহ) ত্যাগ করিবে।
ধৃতিঃ ক্ষমা দমােহস্তেয়ং শৌচমিশ্রিয় নিগ্রহঃ ।
ধীবিদ্যা সত্যমক্রোধে দশকং ধৰ্ম্মলক্ষণম্ ।
ধৈৰ্য্য, ক্ষমা, দম, অচৌৰ্য, শুচিতা, ইন্দ্রিয় সংযম, শাস্ত্রজ্ঞান, আত্মজ্ঞান,
সত্য, অক্রোধ এই দশটি ধৰ্ম্মের লক্ষণ।
৬৯২
পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায় ৭২•৫ সৰ্ব্বং কম্মেদমায়ত্তং বিধানে দৈব মানুষে। তয়ােদৈবমচিন্ত্যন্ত মানুষে বিদ্যতে ক্রিয়া। দৈব ও পুরুষকার দ্বারাই সমস্ত কার্য সম্পাদিত হয়। ইহার মধ্যে দৈব মনুষের চিন্তার অতীত ; সুতরাং পুরুষকার দ্বারাই সমস্ত কৰ্ম্ম সম্পাদন করিবে। ৮১৫ ধৰ্ম্ম এব হতােহন্তি ধৰ্মোরক্ষতি রক্ষতঃ। তস্মাদ্ধৰ্ম্মো ন হন্তব্যো মা নােধৰ্ম্মোহতােহবধীৎ। ধৰ্ম্ম হত হইলে (তাহার হত্যাকারীকে হনন করেন এবং রক্ষিত হইলে ( রক্ষাকারীকে) রক্ষা করেন। অতএব কখনও ধৰ্ম্মকে হনন করিও না। ( অস্মৎ কর্তৃক) হত ধৰ্ম্ম যেন আমাদিগকে বধ না করেন। [ অথবা ধৰ্ম্ম যেন হত হইয়া না বধ করেন—ইহাতে দৃষ্টি রাখিও।] ৮৩১৭ অন্নাদে জ্বণহামাষ্টি পত্যো ভাৰ্যাপচারিণী। গুরৌ শিষ্যশ্চ যাজ্যশ্চ স্তেননা রাজনি কিন্বিষম্। ঐণহত্যাকারীর পাপ তাহার অন্ন ভক্ষকে সংক্রামিত হয়। ব্যভিচারিণী স্ত্রীর পাপ স্বামীতে, শিষ্যের পাপ গুরুতে, যাজ্যের যাজকে এবং চোরের পাপ রাজাতে সংক্রামিত হয়। ৯২৬ প্রজনার্থং মহাভাগা পূজাৰ্হা গৃহদীপ্তয়ঃ । স্ক্রিয়ঃ শ্রিয় গেহেষু ন বিশেষােহস্তিকশ্চন। স্ত্রীরা সন্তান লাভ হয়, সুতরাং তাহারা অতিশয় মঙ্গলকারক, সম্মান- যােগ্য ও গৃহের শােভজনক। এমন কি গৃহে স্ত্রী ও শ্রী উভয়ের মধ্যে কোন প্রভেদ নাই
মনুসংহিতা
৯২৭ উৎপাদনমপত্যস্য জাতস্য পরিপালন।
প্রত্যহং লােকযাত্ৰায়াঃ প্রত্যক্ষং স্ত্রী-নিবন্ধন।
সন্তান উৎপাদন ও তাহাদের লালন পালন এবং প্রতি দিন গৃহস্থধৰ্ম্ম
পালনের পক্ষে স্ত্রীই সাক্ষাৎ কারণ।
৯২৮ অপত্যং ধৰ্ম্মকাৰ্যাণি শুশ্রুষারতিরুমা।
দারাধীনস্তথা স্বর্গঃ পিতণামাত্মনশ্চহ।
সন্তান, ধৰ্ম্মকাৰ্য, সেবা, উত্তম রতি এবং (পিণ্ডদাতা পুত্রোৎপাদনের
দ্বারা) আপনার ও পিতৃগণের স্বর্গীদি, সমস্তই পত্নীর অধীন। (অর্থাৎ এ.
সকলের মূল কারণই পত্নী।)
৯৮৮ উৎকৃষ্টায়াভিরূপায় বরায় সদৃশায় চ।
অপ্রাপ্তামপি তাং তস্মৈ কন্যাং দদ্যাৎ যথাবিধি।
উৎকৃষ্ট, সুরূপ, সমান জাতীয় বর পাইলে (কন্যা) বিবাহযােগ্যা না,
হইলেও এরূপ (পাত্রে) যথাবিধি সম্প্রদান করিবে।
৯৮৯ কামমামরণাত্তিষ্ঠেদগৃহে কন্যত্রুমত্যপি।
নচৈবৈনাং প্রযচ্ছে, গুণহীনায় কহি চিৎ।
কন্যা ঋতুমতী হইয়া আমরণ পিতৃগৃহে থাকিবে সেও বরং ভাল, তথাপি
তাহাকে কোন গুণহীন (পাত্রে) কদাপি সম্প্রদান করিবে না।
১১৯ শক্তঃ পরজনে দাতা স্বজনে দুঃখজীবিনি।
মধ্বপাতত বিষাদঃ স ধৰ্ম্মপ্রতিরূপকঃ।
যে (দান) সমৰ্থব্যক্তি স্বজন দুঃখাত্ত থাকা সত্ত্বেও পরজনে (যশের
পরমেশ্বর ও তাহাকে লাভের উপায় জন্য ) দান করিয়া থাকেন, তিনি আপাতমধুর কিন্তু (পরিণামে) বিষাস্বাদযুক্ত—ধৰ্ম্মের আকারযুক্ত (প্রকৃতপক্ষে ধৰ্ম্মশীল নহেনপাপী)। ১১৫৫ ব্ৰহ্মহত্যা সুরাপানং স্তেয়ং গুনাগম। মহান্তি পাতকান্তাহুঃ সংসৰ্গশ্চাপিতৈঃসহ। ব্ৰহ্মহত্যা, সুরাপান, চৌর্য, গুরুপত্নী গমন এবং ইহাদের সংসর্গ এই কয়টি মহাপাতক। (এস্থলে—গুরু-শব্দের অর্থ পিতা-গুঙ্গনা—মাতা অথবা বিমাতা।) ১১২৩১ কৃত্বা পাপং হি সন্তপ্য তস্মাৎ পাপাৎ প্রমুচ্যতে। নৈবং কুৰ্যাং পুনরিতি নিবৃত্ত্যা পূয়তে তু সঃ ॥ পাপ করিয়া অনুতাপ করিলে সেই পাপ হইতে মুক্ত হয়। আর এরূপ করিব না এরূপ নিবৃত্তির ( দৃঢ় সঙ্কল্প হইলে) পবিত্র হয়। ১২১০ বাদণ্ডোহথ মনােদণ্ডঃ কায়দণ্ডস্তথৈব চ। যস্যৈতে নিহিতা বুদ্ধৌ ত্ৰিদণ্ডীতি স উচ্যতে। বাগদণ্ড, মনােদণ্ড, ও কায়দণ্ড—এই তিন দণ্ড (অর্থাৎ দমন প্রক্রিয়া) যাহার বুদ্ধিতে নিহিত (অর্থাৎ যিনি সৎসঙ্কল্পযুক্ত ও প্রতিষিদ্ধব্যাপার- ত্যাগে দৃঢ় সঙ্কল্প) তিনিই যথার্থ ত্রিদী। ১২৯১ সৰ্ব্বভূতেষু চাত্মানং সৰ্ব্বভূতানি চাত্মনি। সমং পশ্যন্নাত্মজী স্বরাজ্যমধিগচ্ছতি ॥ যিনি সর্বভূতের (অধিষ্ঠানরূপে ) আত্মাকে এবং আত্মাতে সৰ্ব্বভূত (অধিষ্ঠিত—এরূপ) দর্শন করেন, সেই সমদর্শী আত্মােপাসক স্বারাজ্য (মােজ) লাভ করেন।
মনুসংহিতা ১২১০৫ প্রত্যক্ষঞ্চানুমানঞ্চ শাস্ত্ৰঞ্চবিবিধাগম। এয়ং সুবিদিতং কাৰ্যং ধৰ্ম্মশুদ্ধিমভীতা ॥ যাহারা বিশুদ্ধ ধর্মতত্ত্ব জানিতে ইচ্ছুক, তাঁহারা প্রত্যক্ষ (শ্রুতি) অনুমান (স্মৃতি) ও বিবিধ ধৰ্ম্মশাস্ত্র অবগত হইবেন। ১২১০৬ আষং ধর্মোপদেশঞ্চ বেদশাস্ত্রাহবিরােধিনা। যন্তর্কেণানুসন্ধত্তে স ধৰ্ম্মং বেদ নেতরঃ। বেদের অবিরােধী (বেদানুকূল) তর্কদ্বারা যিনি বেদ ও স্মৃতির বিচার- পূৰ্ব্বক তত্ত্বানুসন্ধান করেন। তিনিই ধৰ্ম্ম জানেন, অপরে নহে।
সর্ববেদান্ত সিদ্ধান্ত সারসংগ্রহ
১৭। ব্ৰহ্মৈব নিত্যমন্তৎ তু হনিত্যমিতি বেদন।
সােহয়ং নিত্যনিত্য বস্তু বিবেক ইতি কথ্যতে।
ব্ৰহ্মই একমাত্র নিত্য, তদ্বতিরিক্ত অপর সমস্তই অনিত্য, এই জ্ঞানই
নিত্যানিত্য বস্তু বিবেক।
২৩। ঐহিকামুষ্মিকাৰ্থে হনিত্যত্বেন নিশ্চয়াৎ।
নৈস্পৃহং তুচ্ছবুদ্ধিৎ ত বৈরাগ্যমিতীৰ্যতে ॥
ঐহিক ও পারলৌকিক সকল ( ভােগ্য) বিষয়ই অনিত্য, এইরূপ নিশ্চয়
হওয়া প্রযুক্ত সে সমস্ত বিষয়ে যে নিস্পৃহতা ও তুচ্ছ বুদ্ধি উদিত হয়, তাহাই
বৈরাগ্য।
এক বৃত্ত্যৈব মনসঃ স্বলক্ষ্যে নিয়ত স্থিতিঃ।
শম ইত্যুচ্যতে সদ্ভিঃ শম লক্ষণ বেদিভিঃ ।
ধ্যেয় বস্তুতে একাকার বৃত্তিদ্বারা চিত্তের নিয়ত অবস্থিতিই শম।
শমলক্ষণবিৎ সাধুগণ এইরূপ নির্দেশ করেন।
১৩০। তত্তবৃত্তি নিরােধেন বাহেন্দ্রিয়বিনিগ্রহঃ।
যােগিনাে দম ইত্যাহুর্মনসঃ শান্তিসাধনম্ ।
স্ব স্ব বৃত্তি নিরােধ দ্বারা বাহেন্দ্রিয়ের যে সম্যঙ নিগ্রহ যােগিগণ
তাহাকেই মনের শান্তি বিধানের উপায়স্বরূপ দম বলিয়া থাকেন।
সৰ্ব্ববেদান্ত সিদ্ধান্ত সারসংগ্রহ
১৩৮। আধ্যাত্মিকাদি যদু দুঃখং প্রাপ্তং প্রারব্ধ বেগতঃ।
অচিন্তয়া তৎ সহনং তিতিক্ষেতি প্রচক্ষতে।
প্রারব্ধবশে আধ্যাত্মিকাদি যে কোন দুঃখ উপস্থিত হইলে কোন
প্রকার চিন্তা না করিয়া তাহার সহনই তিতিক্ষা।
১৫২। সাধনত্বেন দৃষ্টানাং সৰ্বেষামপি কৰ্ম্মণা।
বিধি যঃ পরিত্যাগঃ স সন্ন্যাসঃ সতাং মতঃ ॥
(স্বর্গাদি ভােগ্য বিষয়ের) সাধন বলিয়া (শাস্ত্র) বিহিত সমস্ত কৰ্ম্মেরই
বিধি-পূৰ্ব্বক যে ত্যাগ তাহাই সন্ন্যাস; এইরূপ সাধুগণের অভিমত।
গুরু বেদান্তবাক্যে বুদ্ধিৰ্যা নিশ্চয়াত্মিক
সত্যমিত্যেব সা শ্রদ্ধা নিদানং মুক্তি সিদ্ধয়ে।
গুরু ও বেদান্ত-বাক্য সত্য এইরূপ যে নিশ্চয় জ্ঞান তাহাই শ্রদ্ধা এবং
ইহাই মুক্তিলাভের মূল কারণ।
২২। শ্রুত্যুক্তাৰ্থবগাহায় বিদুষা জ্ঞেয় বস্তুনি।
চিত্তস্য সম্যগাধানং সমাধানমিতীৰ্যতে।
শ্রুতিতে যাহা উক্ত হইয়াছে তাহা ( ভাল করিয়া) বুঝিবার জন্য সেই
জ্ঞেয় বস্তুতে চিত্তের যে সম্পূর্ণ একাগ্রতা, পণ্ডিতগণ তাহাকেই সমাধান
অর্থাৎ সমাধি বলেন।
২২৮। ব্রহ্মাত্মৈকত্ব বিজ্ঞানা যদ্ বিদ্বান্ মােক্তমিচ্ছতি।
সংসার পাশ বন্ধং তৎ মুমুক্ষুত্বং নিগদ্যতে।
জীব ও ব্ৰহ্ম একই, এইরূপ জ্ঞানের দ্বারা পণ্ডিত ব্যক্তি যে সংসার পাশ
বন্ধন হইতে মুক্তিলাভের ইচ্ছা করেন তাহাই মুমুক্ষুত্ব।
পরমেশ্বর ও তাঁহাকে লাভের উপায়
২৯৯। বস্তুন্যবানােপাে যঃ সােহধ্যারােপ ইতীৰ্যতে।
অসর্পভূতে রজ্জাদৌ সত্ত্বারােপণং যথা।
(সত্য) বস্তুতে ( মিথ্যা ) বস্তুর আবােপকে অধ্যারােপ বলে, যেমন
অসৰ্পম্বরূপ রঞ্জুতে সর্পত্ব ধর্মের আরােপ।
৩০১। তৎ কারণং যদজ্ঞানং সকাৰ্যং সবিলক্ষণম্।
অবস্থিত্যুচ্যতে সর্যিস্ত বাধা প্রদৃশ্যতে।
(যাহা সকল দৃশ্য প্রপঞ্চের কারণ ও নিখিল জগৎ যাহার কাৰ্য) ও
যাহার বাধা দৃষ্ট হয়, সেই কারণভূত, সকাৰ্য, স (ব্ৰহ্ম) হইতে ভিন্ন
অজ্ঞানই অবস্তু বলিয়া সাধুগণ কর্তৃক কথিত হয়।
৩১২। মায়ােপহিত চৈতন্যং সাভাস সত্ত্ববৃংহিতম্।
সর্বজ্ঞাদিগুণকং সৃষ্টি স্থিত্যন্ত কারণম্।
অব্যাকৃতং তদব্যক্তমীশ ইত্যপি গীয়তে।
মায়া যাহার উপাধি, যিনি চিদাভাস সমন্বিত, সত্ত্বগুণ বহুল, সৰ্বত্বাদি
ধৰ্ম্মবান্ এবং সৃষ্টি, স্থিতি, লয়ের কারণ সেই (মায়ােপহিত) চৈতন্য
—অব্যাকৃত, অব্যক্ত ও ঈশ বলিয়া গীত হইয়া থাকেন।
৩২০-২১। চৈতন্যং ব্যষ্ট্যবচ্ছিন্নং প্রত্যগাত্মেতি গীয়তে।
সাভাসং ব্যষ্টপহিতং সত্তাদাত্মেন তদ্গুণৈঃ।
অভিভূতঃ স এবাত্মা জীব ইত্যভিধীয়তে।
কিঞ্চিজজ্ঞানীশ্বরত্ব সংসারিত্বাদি ধৰ্ম্মবান্।
(ঈশ্বর =শুদ্ধ চৈতন্য+ সমষ্টি মায়া উপাধি। প্রত্যগাত্মা =শুদ্ধ চৈতন্য
ব্যষ্টি অজ্ঞান বা অবিদ্যা উপাধি। আভাস বা চিদাভাসব্যষ্টি অজ্ঞানের
সৰ্ব্ববেদান্ত সিদ্ধান্ত সারসংগ্রহঃ ৬৭ কাৰ্য বুদ্ধি বা অন্তঃকরণে প্রতিফলিত চৈতন্য )। (এই প্রত্যগাত্মাই ( বুদ্ধি প্রতিবিম্বিত) চিদাভাস সমন্বিত হইলে ‘জীব’ নাম ধারণ করেন)। ব্যষ্টি উপাধি দ্বারা উপহিত বা ব্য্যবচ্ছিন্ন চৈতন্য প্রত্যগাত্মা বলিয়া কার্তিত হয় ( অর্থাৎ প্রত্যগাত্মা কেবলমাত্র ব্যষ্টি উপাধিরূপ অজ্ঞান দ্বারা উপহিত)। ব্যষ্টি (অন্তঃকরণােপাধি দ্বারা) উপহিত ও (অন্তঃকরণােপাধিতে প্রতিবিম্বিত) আভাসযুক্ত হইলে সৎ (অর্থাৎ জগৎকারণ ঈশ্বরের) সহিত তাদাত্মবশতঃ তদীয় ( সৰ্ব্বজ্ঞত্ব, সর্বেশ্বরত্ব, অসংসারিত্ব প্রভৃতি ধর্ম বা ) গুণদ্বারা অভিভূত হইলে সেই আত্মাই কিঞ্চিজজ্ঞত্ব (অল্পজ্ঞত্ব) অনীশ্বরত্ব, সংসারিত্ব প্রভৃতি ধর্মবিশিষ্ট জীব বলিয়া কথিত হন [ ঈশ্বর সমষ্টি চৈতন্য, জীব ব্যষ্টি চৈতন্য। তাই ঈশ্বর কর্তৃক জীব অভিভূত।) ৪৫৮। অন্তঃকরণ তত্তি দ্রষ্ট, নিত্যমবিক্রিয়ম্। চৈতন্যং যত্তদাত্মেতি বুদ্ধ্যা বুধ্য সূক্ষ্ময়া ৷ অন্তঃকরণ ও অন্তঃকরণ বৃত্তির সাক্ষী, নিত্য, বিকারশূন্য চৈতন্যই আত্মা। সূক্ষ্ম বুদ্ধিদ্বারা তাঁহাকে অবগত হও। ৫১১। অজ্ঞানস্য নিবৃত্তিস্তু জ্ঞানেনৈব ন কৰ্ম্মণা। অবিরােধিতয়া কৰ্ম্ম নৈবাজ্ঞানস্য বাধক। জ্ঞানের দ্বারাই অজ্ঞানের নিবৃত্তি হয়, কৰ্ম্মের দ্বারা হয় না। অজ্ঞানের সহিত কৰ্ম্মের কিছুমাত্র বিবােধ না থাকায় কর্ম অজ্ঞানের নাশক হইতে পারে না।
৬৮
পরমেশ্বর ও তাহাকে লাভের উপায়
৬৮১। বিবস্যাস্য জগতঃ সন্মাত্ৰত্বেন দর্শন।
অপবাদ ইতি প্ৰাহুরদ্বৈত ব্ৰহ্ম দর্শিনঃ ।
(ব্রহ্মের) বিবৰ্ত জগৎকে সন্মাত্র (ব্রহ্ম) রূপে দর্শনকে অদ্বৈত
ব্ৰহ্মদর্শিগণ অপবাদ বলিয়া থাকেন।
৮২৩। জ্ঞাত্রাদিভাবমুৎস্যজ্য জ্ঞেয়মাত্র স্থিতিদৃঢ়া।
মনসস নির্বিকল্পঃ স্যাৎ সমাধির্যোগসংজ্ঞিতঃ।
জ্ঞাতৃত্বাদি পরিত্যাগ পুরসর কেবলমাত্র জ্ঞেয় বস্তুতে মনের দৃঢ়
অবস্থানকে নির্বিকল্প সমাধি বা যােগ বলে।
পরিশিষ্ট
৪।
প্রণবে চিত্ত সমাহিত করিবে।
২। আত্মায় আত্মা (মন) সংযুক্ত করিবে।
নিজ আত্মায় পূর্ণাত্মার ধ্যান করিবে।
বাহ জগৎ আত্মময় ভাবনা করিবে।
ক্ষণকালের জন্যও বিষয় চিন্তা করিবে না।
। অজিত আত্মাই বিনাশের কারণ।
৭। মনােবৃত্তির লয় বা মনের নিরুদ্ধ অবস্থাই মােক্ষ
অজ্ঞান-মালিন্য পরিবর্জিত আত্মাই ব্ৰহ্ম।
৮।
No text on this page.
.
No text on this page.
No text on this page.