Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Jaaltaranga
Front matter
No text on this page.
জলতরঙ্গ
শ্রীসুধীরকুমার গুপ্ত
শ্রীমৃণালিণী গুপ্তা
১৩৩৭
[ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ]
মূল্য—আট আনা
Printed by the Author
at the
VENUS PRINTING WORKS
52-7, Bowbazar Street, Calcutta.
Published by the Author
from No. 5, Lakshinaryangunj Lane, Kidderpo re.
আমাদের এই
'জল-তরঙ্গ
যুগ-দেবতার
প্রগতি দেবীর
করকমলে
সামহে
বিষয়
পৃষ্ঠা
১! হৈ-চৈ
২। উদ্বোধন
৭৯
৩। যুগ-মাহাত্ম্য
৪। দিভ্রম
•••
২১২৮
৫। আলেয়া
২৮-৩৬
৬। অকাল বােধন
৩৬-৪৭
৭। যৌবন
৪৭৪৯
অস্তরাগ
জলতরঙ্গ
হৈ-চৈ।
শ্রীসুধীরকুমার গুপ্ত ও
শ্রীমৃণালিনী গুপ্তা
স। বড় বড় চোখ মেলে হাঁ করে কি দেখছ ?
মৃ। সারা রাত জেগে জেগে-দেখছি কী লিখছাে?
সু। লিখছি অনেক কথা কঁাচা এই হাতেতে
জানিনা চলবে কিনা ভদ্রের পাতেতে?
মৃ। দাও দেখি খাতাখানা, বুঝবাে তাে পড়লে,
কালি-কলমের সাথে কিবা প্রেম করলে ?
সু। নাই বা দেখতে পড়ে রসহীন ছন্দ
গােপন প্রেমের মত থাকুক না বন্ধ
*
জলতরঙ্গ
সতীনের সাথে প্রেম দেখেই তাে বলবে
কাচা ছাঁচ, এ কি আর পাতে দেওয়া চলবে ?
। তা বলে আমারে কভু ফেরানােটা চলে কি ?
আধখানি অঙ্গেরে এমনটা বলে কি?
দোহাই তােমার দাও একবার দেখতে
কেমন শিখেছে দেখি ছন্দেতে লিখতে ?
। এক্ষুণি চাই নাকি কাব্যের ছান্দা ?
সব তাতে তুমি দেখি না-ছােড় বান্দা!
যখন তখন এসে কর বড় উৎপাত।
আকারে একেবারে করে তােল উৎখাত।
এই নাও পড়ে দেখাে গােপনেতে কিন্তু
দেখে যেন ফেলে নাকো রাণী, আনি, মিল্ক
দেখাে যেন পড়ে শুনে খাড়া নিয়ে এসো না
অথবা লুটিয়ে পড়ে কুটি কুটি হেসাে না।
। পড়লুম লেখাগুলাে খিল দিয়ে লুকিয়ে
এই নাও ফিরে সব হাঙ্গামা চুকিয়ে
তােমার কাণ্ড দেখে মাথা গেছে ঘুলিয়ে
মেজাজটা থেকে থেকে আসে যেন উজিয়ে
অনেটা ঠিক বটে তবু আছে বলবার
এমন করে কি বাধা দেয় পথ চলবার ?
দুই
জলতরঙ্গ
.
কাচা ছাঁচ বলে তুমি দিচ্ছিলে ভাগিয়ে
কাড়ে কলম বেশ লিখছো তত বাগিয়ে।
স। এ কথা যে বলবে তা জানি আমি অগ্রেই
তুমি একা কেন ? জানি বলবে সমগ্রেই
কিন্তু এ মনে রেখো ঘটনা যা ঘটছে
দিলেও উড়িয়ে তােপে তবু সেটা রটছে
চটবে সে নিশ্চয়ই গায়ে যার লাগবে
বিনা ক্ষতে নুন দিলে কেন জ্বালা জাগবে?
এর পরও যদি কিছু থেকে থাকে বলবার
বল তবে, দরকার নেই কিছু থাম্বার।
তার আগে আমাকে দাও কিছু বলতে
মনে রেখে দুটো কথা হেথা পথ চলতে
*একে একে দুই হয় স্ত্রী-পুরুষ মিলনে
সৃষ্টিও বেড়ে যায় তারি অনুশীলনে
চিরদিন সন্তান পেটে কেহ রাখে না
পাপ আর পারা এরা চাপা কভু থাকে না”
নীতিবােধ খণ্ডাতে তর্ক ও যুক্তি
যত পার আন আজ হয়ে যাক চুক্তি।
২। চিবিয়ে চিবিয়ে তুমি অনেক ভাে বললে
সৃষ্টির রীতি-নীতি কিবা দোষ করলে?
জলতর
দেখলুম বসে বসে অনেক ত’ লিখেছ
ঠে দিয়ে দিয়ে বেশ বলতে তাে শিখেছ
আমি তত খুঁজে না পাই প্রগতির পথেতে
এত দোষ সম্ভব হােললা কোন মতেতে।
ঘর ছেড়ে বাহিরেতে এসেছে যে নারী আজ
সত্যি কি তাহাদের নেই সেথা কোনাে কাজ ?
ঘােমটার আড়ালেতে পরদার ভেতরে
চোখের নাকের জলে বুকুনীর আদরে
সীমাহীন ধৈর্য্যের বােঝা নিয়ে বইতে
যদি তারা চিরকাল না-ই পারে সইতে
জীবনটা গড়ে নিতে লেখাপড়া চর্চায়
সাধ যদি হয়ে থাকে, এত কিবা দোষ তায় ?
আদরে গােবরে হয়ে ন্যাতা আর হেঁসেলে
থাকলেই বুঝি খুব ভাল হয় একেলে ?
সু। ব্যাপারটা বােঝ আগে মিছে কেন চটছ ?
দুর্নীতি শাসনেতে কেন বল হটছ ?
জীবনটা গড়ে নিতে দেহটাকে খােয়ানাে
সংযুমহীনতায় উচু শির নােয়ানাে
পড়া শােনা ছল ধরে প্রেম ফাঁদে পড়াটা
বিবাহের পূর্বেই সন্তান করাটা
চার
জলতরঙ্গ
সভ্য যুগের এই শিক্ষা ও সুনীতি
ছেলে মেয়েদের বল শেখানই রীতি কি ?
মৃ। মানি বটে আজকাল এটা খুব চলছে
ঘরে ঘরে ফল (ও) তার রীতিমত ফলছে
তা হলেও এর পর(ও) আছে কিছু ভাববার
আছে কি উপায় কোনাে যৌবন চাপবার ?
পণপ্রথা প্রতীকার আজও তােহােলা না
তবু তাে এ বাংলার মেয়েগুলাে মােলল না।
নারীদের ভরা গাং চোদ্দোর পারেতে
ধমকিয়ে আটকিয়ে রাখতে তা পারে কে?
সু। তারি পরিণামে বুঝি পুরুষের গা ঘেঁষে
নারী সব মিটমাট করে নিলে আপােষে ?
কৰ্ত্তায় কর্তায় পটলো না দরেতে
প’টে গেল ছেলে মেয়ে মিলে মিশে ঘরেতে।
২। অন্যায় হল মানি দেহে মনে ব্যভিচার
তবুও তাে পুরুষেরা করে নাক’ প্রতীকার।
জানে তারা পুরুষেরা স্নানেতেই শুদ্ধ
নারীদের বেলাতেই সব দ্বার রুদ্ধ।
সু। (ও) প্রতারণা করা আর কতদিন চলবে
আগুনে পুরুষ ও নারী সমানই হবে।
পাঁচ
জলতর
সু। তারই বা বাকী কই জ্বলছে তো ঘর ঘর
জানি না দেখতে হবে আরাে কত এর পর ?
সু। রজত-জুবিলী রাতে কিছুটাতে দেখেছে।
নৃ। ছন্দেতে তুমি বুঝি সেইগুলাে এঁকেছে?
সু। তাতে দোষ কি?
। তাতে লাভ কি ?
স। উন্নতি ।
২। প্রগতি।
সু ও মৃঃ। “সত্য হাে” “সত্য হাে” হে ভগবান
সফল হউক তব এই জয় গান।
উদ্বোধন
শ্রীসুধীরকুমার গুপ্ত
সুরথের রাঘবের সম্পূজিতা গাে
পরমারাধ্যা জননী জাগাে।
বিঘ্ন বিনাশিতে নাশিতে অরিকুল
ধৰ্ম্ম স্থাপিতে এস ফিরে মাগো। ১
অবিচার অনাচার পাপাচারে পূর্ণ
অসুরের দম্ভেরে করিতে মা চূর্ণ
দুর্ণীতি নাশিতে দিতে নীতি শিক্ষা
ত্রিদিব ত্যজিয়া এসাে করি মা প্রতীক্ষা। ২
যেমতি মা যুগে যুগে নুরপুর ত্যজিয়া
বারে বারে ভক্তের মুক্তির লাগিয়া
এসেছিলে মিটাইতে সুরাসুর দ্বন্দ্ব
তেমতি না এলে ধরা হবে নিস্পন্দ। ৩
সাত
জলতরঙ্গ
ত্রিতাপে তাপিত তব সন্ততি-বর্গে
ঘেরিয়াছে আজি মাগাে শত উপসর্গে
নিজ ঘরে আজ আর নিজেদের ঠাঁই না
বন্যার গর্ভ মা আশ্রয় হােলল তাই। ৪
বিপদের সীমা নাই বিয়ের অন্ত
চক্ষের বরষায় ডুবেছে বসন্ত
সীমাহীন হাহাকার দুঃখ ও দৈন্যে
মরণের কোলে সবে সৰুে চলে নির্বিঘ্নে। ৫
সারমেয়ব হয়ে দ্বারে দ্বারে হন্যে
দেহ প্রাণ যায় আজি পরগত অন্নে
কানে কানে শুধাইতে ধরমের বাণী গাে
ফিরে আয় ধরাতলে স্বরগের রাণী গাে।
সম্মুখে পশ্চাতে বেড়ি দশদিক জাল
লােলজিহবা বিস্তারি এসেছে করাল-কাল
নিঃশেষি লয়ে যায় নদী ভয়ঙ্করী গাে।
আয় মা, আয় মা, আয় শঙ্করী গাে। ৭
আট
জলতরঙ্গ
রথের রাঘবের সম্পূজিতা গো
পরমারাধ্যা জননী জাগাে
বিঘ্ন বিনাশিতে নাশিতে অরিকুল
ধৰ্ম্ম স্থাপিতে এস ফিরে মাগে।। ৮
যুগ-মাহাত্ম্য
সুধীরকুমার গুপ্ত
নিশার আঁধার ভেদি রজনী হইল ভাের
জাগিল নগরী গো ভাঙ্গিল ঘুমের ঘাের
চেতনা আসিল দেহে জড়তা হইল দূর
নগরী জাগিল গো জাগিল অন্তঃপুর। ১
উলস মুখর হােলাে গহন-কানন-ভূমি
দিক্-বধূ দিল সাড়া প্রকৃতি চরণ চুমি
দিকে দিকে দেশে দেশে হােলাে আলাে রেখাপাত
নগরী হাসিল গাে আসিল সুপ্রভাত। ২
জলতরঙ্গ
জড়-দেহে এলাে প্রাণ অবসান স্বপনের
ভেঙ্গে গেল ঘুম ঘাের টুটা-ধাঁধা নয়নের
দেহ মনে ধীরে ধীরে ফিরে এল চেতনা
বুকে বুকে জেগে ওঠে নব নব দ্যোতনা। ৩
নব বলে বলীয়ান্ নিতি নব প্রভাতে
নিতি নব হাসি-গান এলাে মনলােভাতে
ধীরে ধরা হলাে নব নব ভাবে উন্মুখ
পুরাতন পাড়ি দিল দেখা দিল নবযুগ। ৪
নবযুগে ধীরে ধীরে জেগে ওঠে নবীনা
বিদায়ের পথ চায় প্রবীণ ও প্রবীণ
নবীন জাগিয়া ওঠে নব সুর ও ছন্দে
নব দেহে নব প্রাণে নবীন আনন্দে। ৫
নব প্রাণে নব সাধ নব আশা দেয় দোল
রঙীন্ নেশায় হৃদি আচা উতরােল
পুরাতন নির্জীব, সজীব নতুন যুগ
নবযুগে নব প্রাণ নব সাজে উন্মুখ। ৬০
দশ
জেগেছে নগরী তাই নব সাজে সাজিতে
প্রাচীনেরে ভাঙি টুটি নবরূপে গড়িতে
তাই পুরাতন ধীরে সঙ্কোচে পাড়ি দেয়
নবীনেরা জাগে নিতি নব নব মহিমায়।।
উষ্ণ শােণিত আনি নব দেহে নব বল
প্রাচীন এ ধরণীরে দিতে চায় রসাতল
প্রবীনের প্রাচীনের করিতে মুলােখাৎ
সভ্য নবযুগে জেগেছে নতুন সাধি। ৮
মানিতে চাহে না তারা বাধা বিধি পুরাতন
মান্ধাতা আমলের রীতি নীতি সনাতন
কেয়ার করে না মােটে যত ওল্ডফুলদের
রটুন ও হানিড, আইডিয়া ওযুগের। ৯
নিতি নিতি চাহে প্রাণ নব কিছু করিতে
নূতন করিয়া সদা ভাজিতে ও গড়িতে
দিকে দিকে তারি আজ কোলাহল শােন বায়
‘
সাস সভ্য যুগ’ ‘জয় প্রগতির জয়। ১০
এগার
জলতরণ
মৃত দেহে আসে প্রাণ জাগে কুলললনা
চাহে না মানিতে বিধি নিষেধের ছলনা
মন প্রাণ হৃদি যবে যাহা চায় করিতে
তাই হবে ন্যায় বিধি নব নীতি রীতিতে। ১১
নূতন আলােক আসে পুরাতনে ঠেলিয়া
নির্বাক প্রবীণেরা দেখে আঁখি মেলিয়া
যুগ দেবতার হেরি নব নব কৌতুক
চক্ষে চমক লাগে সন্ত্রাসে কঁপে বুক্। ১২
আঙিনায় ফুল হয়ে কেহ চায় ফুটিতে
অলি হয়ে চায় কেহ ফুল-মধু লুটিতে
নিশি অবসানে হলে বাসি ফুল পুরাতন
অলি-দেব-পূজা তাহে চলে নাকো কদাচন। ১৩
নব্য যুগেতে তারা নিতি নব নব চায়
নিতি নব শ্রীচরণে আত্মা আহুতি দেয়
কুসুম চাহে গাে নিতি নব নব অলিরে
নব ফুলে দেয় অলি নিজ প্রাণ বলি রে। ১৪
জলতরঙ্গ
ভাঙ্গিয়া ফেলিতে চায় পুরাণাে ম্যারেজ এক্ট
নিত্য গড়িতে সাধ নূতন নূতন প্যাক্ট
সধবা হইতে চায় ফিরে পুনঃ কুমারী
কিবা যুগ মহিমা গাে মরি মরি আ মরি! ১৫
অবাক করিতে চায় নবতম দৃশ্যে
যাহা কেহ কখনও দেখে নাই বিশ্বে
হয়ত বা পাটিয়া কোলাকুলি বিজয়ার
নারী নরে হবে এবে নরে নরে নয় আর। ১৬
বিবাহ পুরাণে রীতি স্বামী লয়ে কি হবে?
যে ক’দিন থাকে থাক্ Pastime হিসাবে
তারপর পােষাকের মত তারে ছাড়িয়া
নূতন নিলেই হবে ভাঙ্গিয়া ও গড়িয়া। ১৭
ম্যারেজ সেকেলে রীতি এ যুগে তা হবে না
প্রগতির যুগে কিছু পুরাতন রবে না
এত কিবা দায় ? নারী বন্ধনে রহিবে।
পুরুষের অধীনতা কেন তারা সহিবে? ১৮
বলতরঙ্গ
পুরাতন দুর্নীতি প্রগতির এ যুগে
স্বার্থে যা ঘা দেয়, মিছে তাহা মানে কে ?
কে জানে কে কোন্ যুগে এই নীতি রচেছে
মানিতে চাহে না প্রাণ এ নীতিরে পৌঁছে কে? ১৯
নবীনে প্রবীণে মিলি বাধে ঘােরতর রণ
সমরে জিনিতে করে নবীনেরা প্রাণপণ
ওষ্ঠের অগ্রেতে তরবার খরশাণ
পুরাতন নীতিশ কেটে করে খান্ খান। ২০
নব্যযুগেতে হয় নবীনের জয় জয়
যা খুসী তা করে নাই সঙ্কোচ লাজ ভয়
ঘুচাইতে দুর্নীতি দুর্গতি পুরাতন
বেঁধেছে কোমর সবে করেছে কঠোর পণ। ২১
পরার্থে তাই সবে বলি দিতে আপনায়
বিশ্বপ্রেমের হাটু খুলিয়াছে দেশময়
প্রেমের তুফান তোলে ‘হােষ্টেল’ ও ‘কলেজে
থিয়রি ফেলিয়া খােজে প্র্যাক্টিক্যাল নলেজে। ২২
शेष
জলতরঙ্গ
পার্ক লেক সিনেমায় ঘন ঘন টানে প্রাণ
আড়ালে ও আবডালে চলে প্রেম অভিযান
প্রেম ঘূর্ণীতে পড়ে বিধবায় পােয়াতি
জঠরে লুকায়ে শিশু কণে সাজে যুবতী। ২৩
প্রেমের পীযূষধারা গর্ভেতে ধরিয়া
কোর্টেতে দাড়ায় কেহ দিশােভা করিয়া
‘ভিটে মাটী চাটি কারাে পরদার হরণে
প্রেমে মাতি কেহ লেকে চলে সহমরণে। ২৪
প্রাচীনের প্রগতির পেয়ে এই পরিচয়
বিস্ময় মানে কেহ কারাে লােভ উপজয়
তরুণ সাজিতে কেহ ফেলে দাড়ি গুম্ফ
নারী হেরি আড়ে চায় লাগে হৃদ কম্প। ২৫
বৃদ্ধ
অশীতিপর মাগে প্রেম মােড়শীর
ছাদে জানালায় প্রেম চলে পাড়া-পড়শীর
হতে চায় জনে জনে নায়ক ও নায়িকা
প্রতি নর হবে শ্যাম প্রতি নারী রাধিকা। ২৬
নর
জলতরঙ্গ
.
প্রগতি-যমুনা ঢেউ লাগে নারী বক্ষে
টনটন করে প্রাণ ধারা বহে চক্ষে
পার্কে কদমতলে বাজে যুগ-বাঁশরী
মিশে যায় রাধা শ্যামে বিধি-বাধা পাসরি। ২৭
প্রবীণ নবীনা সাজে সেজে আসে হরষে
বয়স কমিয়া যায় প্রতি মাস ও বরষে
লাগিয়া যুগের হাওয়া সবি নব নব হয়
প্রাচীননও নবরূপ ধরে যুগ মহিমায়। ২৮
বাঁধাবাঁধি পরিণয়ে সুখ নাহি উপজয়
প্রেম বড় মজাদার যদি পরকীয়া হয়
রঙদার হয় প্রেম হাত ফিরি হইলে
লাগে না মােটেই ভাল নিতি নব নহিলে। ২৯
আমার আমারই থাক্ তােমারটা হােক প্লাস
উদার এ নীতি বড় সুন্দর ফাষ্ট ক্লাস
অন্ততঃ তা যদি না হয় কোনাে কারণে
রামী যা শ্যাম কাছে শ্যামী রাম চরণে। ৩০
জলতর
না হলে আপ-টু-ডেট হবার উপায় নাই
নাে-রুম টি-পার্টিতে মডার্ণ হওয়া চাই
মেল ফ্রেণ্ডের সাথে বিবি যদি চলে যায়
গ্রাম্বলিং চলবে না নব যুগে নিশ্চয়। ৩১
বছর কতক পরে করে যদি ডাইভােস
প্রগতির এ যুগেতে চলবে না কোনাে ফোস
নূতন লভার সাথে নিউ লভে দোষ নাই
হাত, ছাড়া হয়ে গেলে আফশােষ রবে ভাই। ৩২
এলো খোঁপা লাল টিপে ঘােটা ও আলতায়
চলে না ফিমেল সাজা বিনা স্যাণ্ডেল পায়
দরকার হয় যদি ট্রামে বাসে বসিয়ে
হবে তত পুরুষে দিতে ঘা কতক কসিয়ে। ৩৩
পুরুষের সাথে নারী চায় সম অধিকার
বন্দুক ছুড়িবার এ কলেজেতে পড়িবার
লেখা পড়া প্রেমে পড়া পায়ে পড়া অবশেষ
বুকে পড়া ঘাড়ে পড়া ট্রেণিংএর একশেষ। ৩৪
সতের
জলর
ছাত্রী ও প্রফেশরে লেনদেন হয় প্রাণ
বেঁধে গাঁটছড়া শেষে লেখা পড়া অবসান
নব্য ফ্যাসানে হয় কোর্টশিপে পরিণয়
এঁটো পাতে বড় সাধ প্রগতির জয় জয়। ৩৫
পূর্ণ নূতন নীতি পূর্ণ পেটের খােল
জঠরে প্রগতির গতি দিনে দিনে দেয় দোল
দ্রুত চলে উন্নতি, সাকসেস্ তাে সিওর
কুমারী রহিলে দেশে প্রগতি তত ফেলিওর। ৩৬
মডার্ণ কায়দায় প্রেমতরু রােপণে
জঠরে জঠরে জাগে পিতৃত্ব গােপনে
জাগ্রত প্রগতির সাইন এ নিশ্চয়
ধর্ষণে সংঘর্ষণে নাহি পাপ ভয়। ৩৭
প্রগতির ট্রেড মার্ক উদরেতে আঁকিয়া
ধরা পড়িবার ভয়ে কেহ যায় ভাগিয়া
কেহ বা গােপনে অতি মেডিক্যাল হেল্প লয়
নিরুপায়ে লয় কেহ আশ্রমে আশ্রয়। ৩৮
আঠার
সাহিত্যবেদী ঘেরি নব নব পুরােহিত
ফ্রি লভ, প্রচারয়ে করিতে দেশের হিত
পাঠ করে মন্ত্র গাে নারীমেধ যজ্ঞের
দুর্নীতি পুরাতন ঘুচাইতে অজ্ঞের। ৩৯
পরকীয়া প্রেমনীতি না থাকিলে রচনায়
এলাইটেণ্ডদের মনােমত নাহি হয়
উড়ু উড়ু ধোঁয়া ভাব না থাকিলে লেখাতে
রুদ্ধ প্রবেশদ্বার পত্রিকা পাতাতে। ৪০
প্রবীণেরা দেখে শুনে বিস্ময়ে নির্বাক্
নবযুগ মহিমায় আঁখিযুগে লাগে তা
প্রগতির গতি হেরি তরুণের অভিযান
গালে হাত দিয়ে ভাবে কোথা এর পরিণাম? ৪১
ছন্দের রূপে হেরি যুগবন্দনাগান
হয়ত বা লেখকেরে দিবে সবে বলিদান
হয়ত লেখনীরূপী সহস্র তরবার
সহ দিক হতে বিধিবে গাে অনিবার। ৪২
উনিশ
সংবাদ ঘর ঘর ডাকঘর দেয় তাে
পত্র বাহকের কি দোষ তায় গাে ?
তাই যদি হয় তবে মিছে কেন রাগ রােষ?
কলহের পরিণামে আসে শুধু আফশোেষ। ৪৩
বুঝিনা কি লাভ তাতে? কেনই বা হবে রােষ?
করিতে যা দোষ নাই, বলিতে বা কিবা দোষ?
উদার প্রগতি-নীতি কারাে নাহি দোষ লয়
ধৃষ্টতা হ'লে জানি মাফ হবে নিশ্চয়। ৪৪
প্রণমামি যুগদেব তব ও শ্রীপদেতে
নমামি প্রগতি দেবী নমাে নমােহস্তে
“নমঃ পুরাদ অথ পৃষ্ঠতন্তে ,
পুনশ্চ ভূয়ােহপি নমাে নমাে হস্তে।” ৪৫
কুড়ি
দিকভ্রম
সুধীর কুমার গুপ্ত
সাহিত্যবেদী প্রাঙ্গন ঘেরি দিকে দিকে আজ কি কোলাহল
নৃতন মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে এসেছে তরুণ তরুণী দল
নব্য যুগেতে নব উপাসনায়
নৰ উপচারে পূজা অর্চনা
নব আভরণে সাজায়ে মায়েরে নুতন করিয়া গড়িতে চায়
নৃতন জগৎ গড়িবে তাহারা নব পূজা পাঠ অৰ্চনায়।
থরে থরে থরে সাজায়ে কুসুম এনেছে তাহারা অর্ধচয়
অযুত নিযুত সাজায়েছে ডালা বাণী পদ পীঠ পুষ্পময়
লাল নীল শ্বেত পুষ্প লােহিতে
বিবিধ বরণে মালা গেঁথে গেঁথে
বাণী মন্দির ভরায়ে করেছে মায়ের চরণে অৰ্যদান
হাজার কষ্ট ভরিয়া এনেছে বােধনের নবছৰ গান।
ঢেকে দিতে মার লজ্জার ভার পুরাতন বীণা কাড়িয়া নেছে
নব বীণাখানি লয়ে বীনাপাণি পূজারীর পানে চাহিয়া আছে
কাতারে কাতারে প্রাঙ্গন মাঝে
পূজারীর সহ পূজারিণী রাজে
পূজা উপচার হেরিয়া মাতার সভয়ে শরীর শিহরে ওই
স্পন্দন ঘন থেমে আসে ধীরে আরতি ঘন্টা বাজিল কই ?
জাগে না পুলক চিত্তভরিয়া অবসাদভারে আনত শির
মন্দিরে হেরি পঙ্ককলুষ উছলি উঠিছে অশ্রনীর
চঞ্চলা মাতা শিহরি উঠিছে
শঙ্কা সরমে চক্ষু বুজিছে
ধীরে শ্বাসবায়ু বােধ হয়ে আসে শুনি বােধনের ছন্দগান
উপচার বলি আনে কদাচার, অৰ্চনা নহে, এ অপমান।
পূজার লাগিয়া সন্ততি সব তৃণ আনিয়াছে দূর্বা বলি
কুসুমে কুসুমে আনিয়াছে কীট মিথ্যা পূজেছে সতত্য ছলি
অমৃত বলি এনেছে গরল
দূর করে দেছে সত্য সরল
কুসুমগন্ধে একি অভিযােগ ? মন্দির পূতিগন্ধময়
মায়ের পূজার এ নহে অর্ঘ্য, কাম ধূপ দীপে পূজা না হয়।
কলুষিত যত উপচার ভারে ভেঙ্গে পড়ে বুক্ ব্যাথার চাপে
অভিসম্পাত বেড়ে চলে তত, পুড়িছে ধরণী ততই তাপে
বাইশ
জলতর
দৈন্য ততই মূর্ত হইয়া
দিকে দিকে দেখ উঠিছে জাগিয়া
যতটুকু তবু আছিল বসন পূজারীরা সব নিল তা কাড়ি
আশীষের দ্বার হইল রুদ্ধ, বীনাপাণি গেল বেদীরে ছাড়ি।
?
কণ্ঠ ভরিয়া জাগে নাকো মার পুণ্য আশীষ, গৌরবের
বুকের ব্যথায়, বােধন গাথায়, কই কোথা ধূপ, সৌরভের ?
অবশে নয়ন হইল বন্ধ
যেন বা হইতে চাহে মা অন্ধ
পূজারীরা যাহা লেপে দিল গায় তাহে চন্দন সুবাস কৈ ?
পৰু মাখায়ে মহা আনন্দে ভক্তেরা নাচে তা থৈ থৈ ।
=
সহি অপমান সন্তান দান নীরবে জননী বহিছে মাথে
গন্ধ তাহার নৃত্য করিয়া ঘুরিছে ফিরিছে বায়ুর সাথে
কত শত নাসারন্ধ, বাহিয়া
অন্তরললাকে ধীরে প্রবেশিয়া
পুঞ্জে পুঞ্জে ফেনাইয়া উঠে ধীরে দেহ মন অবশ হয়
দেখিতে দেখিতে হৃদি মন্দির হয়ে ওঠে পুতিগন্ধময়।
ধীরে ধীরে দেখ সেই ব্যাধি
আজি কত দেহে হােলাে সংক্রামিত
নব্য যুগের নব ঝঙ্কারে নব আলিপনে প্রস্ফুটিত
তেইশ
মগ্ন বসন নগ্ন করিয়া
দিকে দিকে যে গাে দিলে প্রসারিয়া
প্রদীপ শিখার কালিটা ছানিয়া লইতে
আর কি রাখিলে বাকী
লাজের আড়ালে ফোটে যে গােলাপ
নিলাজে শুখায় বুঝিলে নাকি ?
ললিত তনুর মাধুরিমা লয়ে মত্ত হিয়ার খেলার ছলে
কত কমনীয় কণ্ঠ ভরিয়া মৃত্যু গরল দিলে গাে ঢেলে
অবশ আবেশে পান করি তায়
কামিনী কুসুম ভুমেতে লুটায়
দূর্বার দাহে হৃদি জ্বলে যায়, অম্বতের মােহে মদিরা পান
সাগর মথিয়া তুলি হলাহল অবহেলে তাহে বধিলে প্রাণ।
মান্য লভিতে পণ্যশালাতে সাজায়ে রেখেছ বিষের বাটা
উপার্জনের কলা কৌশল যেন অভিনব থােকার টাটী
মানুষ যেথায় হইয়া কাঙালী
ফিরে কঁাধে লয়ে ভিক্ষার ঝুলি
মরণ যেথায় বাজায়ে ডঙ্কা শঙ্কা তুলিছে দিকবিদিকে
বন্দী সেথায় করিয়া রেখেছ কলুষপঙ্কে বাগেবীকে।
}
চব্বিশ
নতম
প্রাণের পঞ্চপ্রদীপ জালিয়া ঘরে ঘরে তার দিলে না আলাে
ঘন তমসায় শুভ্র হৃদয় করিয়া তুলিলে নিকষ কালো
কাম বিষরসে রসিল রসন।
দিকে দিকে নারী হােলাে বিবসনা
কলঙ্ক কালী মাখলে কত না কুল ললনার মুখের পরে
সিথির সিঁদুরে দিলে অপমান আলম তারা খুজিয়া মরে।
প্রেমের গাঙেতে নগ্ন নারীর ছবি বুকে বুকে আঁকিয়া দিতে
রসিক সেজেছ, হিসাবের পাতে কিছু জমী জমা বাড়ায়ে নিতে
আত্মজ যবে ওই ছবি হয়ে
অনুকরণীয় আদর্শ লয়ে
সুশােভিত র’বে তব উপবনে বিষবৃক্ষের রূপেতে ফুটি
হে পূজারী! তবে কোথায় রহিবে
উপার্জনের থােকার টাটী ?
রুদ্ধ করিয়া বিপথের দ্বার সময় বাকিতে ফেরাও গতি
প্রাণের পরশে জাগাও সবারে মুছে ফেল তব এ দুৰ্ম্মতি
অন্নহীনের অয় যােগাও
করুণা নয়নে ফিরে দেখে যাও
পচিশ
জলতরঙ্গ
খেলা করিবার এ নহে সময় গলে ও কপােলে আঁচলে মাতি
লক্ষ বক্ষে বুভুক্ষা জাগে অনশনে কেঁদে কাটায় রাতি।
ধরি ওই হাল গতিরে ফেরাও মসীর অসিতে যুদ্ধ করি
যােঝ প্রাণপণ উন্নতশিরে জয় পরাজয় শঙ্কা হরি
শেখাও তরুণে ত্যাগের মহিমা
যৌবনে কিবা শক্তি গরিমা
তরুণ যুবায় সমবেত করি হাতে হাতে দাও রাখীর ডোর
সফল হইবে পূজা অর্চনা দুঃখের রজনী হইবে ভাের।
ললিত লতার রূপে কিবা হয়? পরিচয় হবে প্রাণেতে তার
মূচ্ছনা দাও হৃদয় ভরিয়া গাও জয়গান বন্দনার
প্রাণের অতল গভীর সায়রে
মুক্তা যেথায় সুপ্ত আঁধারে
গুপ্ত রয়েছে গভীর গহ্বরে, নির্ভয়ে বীর তথায় যাও
মণি মুকুতার মাল্য গাঁথিয়া অর্ঘ্যের ডালি ভরিয়া দাও।
সন্ততি মার হয় ভাই বােন কেমনে সে কথা ভুলিয়া যাও
বসন তাদের হরণ করিয়া মায়ের আশীষ প্রসাদ চাও?
রমণীর রূপে দিয়ে লাঞ্ছন।
তৃপ্তি গরলে করি বণ্টনা
ছাব্বিশ
নারীরূপী মার করি অপমান লজ্জা সলিলে ডুবায়ে দিলে
ধারে আজি করি নগন্যা পন্য শালাতে তুলিয়ে নিলে।
অর্চনা ছলে কলা কৌশলে ভবিষ্যতের কষােনা দ্বার
গৃহে জাগ্রতা দেবীরে বাঁচাতে ঢেকে দাও ছবি নগ্নতার
দুঃখ দৈন্য ব্যথা বােঝা যত
হিয়ার পরতে পরতে আহত
তুলে লও মাথে আপনার বলি বণ্টন করি লহ সে ভার
পর নহে তারা বড় আপনার কোগাে শিল্পি চিত্র তার ।
অভুক্ত শত লক্ষ শিশু যে ঘরে ঘরে আজ শুখায়ে মরে
সা নয়ন অঞ্চলে ঢাকি লক্ষ জননী কাদিয়া ফেরে
ছিন্ন তাদের বসন বাহিয়া
লুব্ধ নয়নে তৃষ্ণা ভরিয়া
সেথায় খুজিছে রূপ রস মধু, সাজাতে আপন পণ্যশালা
এই কি তােমার পূজা উপচার? কলঙ্কভরা বরণ ডালা?
পাষাণেতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা দিতে দায়িত্ব ভার কাহার শিরে?
পাষাণ দেবতা সজীব হইবে কার আবাহনে ভুলিলি কিরে ?
সাতাশ
জলতর
জাগাে জাগাে মাগো জাগাে বীণাপাণি
ঘুচাও আঁধার করুণারূপিণী
মনােমন্দিরে জাগি পূজারীর মুছে দাও যত কলুষ ভার
করি মা প্রণতি হরি দুর্মতি প্রান্ত এ গতি ফেরাও তার।
আলেয়া
সুধীর কুমার গুপ্ত
“শুন গো ভগিনী ভাই
সবার উপরে উদর সত্য তাহার উপরে নাই।”
মহানগরীর প্রাঙ্গন ভরি জাগে এ কিসের সুর ?
চমক লাগায় লক্ষ হিয়ায় উতরােল হৃদিপুর
बागम
জলভর কুলকণ্ঠেতে কাকলী ছটায় মধুর উৎস বুকে গােলাপী খেলায় হৃদয় দোলায় রঙ্গীন্ কৌতুকে আমােদে মাতিয়া দিয়া করতালি জাগাল একি এ তান। লীলা উচ্ছল হৃদয় বারতা শুনাতে গাহিল গান শুন গাে মানুষ ভাই- সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।” গৃহে গৃহে হৃদি-গহন গােপনে জাগিল চেতনা ধীরে চঞ্চল হয়ে অঞ্চল শত নৃত্য করিয়া ফিরে লুটাইয়া পড়ে বসন ভূমেতে নরনারী শতকের অন্দর বার এক হয়ে যায় সন্ধানে সত্যের ভূলােক দ্যুলােক অন্তরলােক সপ্তসিন্ধু মথি এনেছে বারতা কি মধুময়ী গাে ধ্রুব সত্য যে অতি শুনহ মানুষ ভাই সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।” মনের খেলায় নাগর দোলায় দুলে ওঠে নাগরী গাে- নগর নাগর নাগরীর খেলা দেখে চেয়ে ‘হ করি’ গাে সরমের তাহা নাহি ধারে ধার এ মধু সত্য ফেলে কে ছােটে বল ত মিথ্যার পিছু যেথা মধু নাহি মেলে? উনত্রিশ হকার টিকায় আগুন ধরায় নেশায় মাতায় প্রাণ সাপুটিয়া ধরে সে মহাসত্যে প্রাণ করে আনচান গাহিছে “শুন গাে ভাই সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। সুন্দরতম নিঠুর মধুর ধ্রুর সত্য এই বাণী মন্দ্র আরাবে ঘােষে গৌরবে মুগ্ধ মৰ্ম্ম ছানি লক্ষ হৃদয় বীণায় সে সুর মােহ-তরঙ্গ তােলে যমকে গমকে নেচে ওঠে প্রাণ সত্যের মধু বােলে উতল সিন্ধু মাতাল হইয়া আছাড়ি পড়িতে চায় ঘেরিয়া ঘেরিয়া ঘুরিয়া ফিরিয়া মহাসত্যের পায় কি মহামন্ত্র ভাই- “সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।” সুপ্ত হৃদয় লভিল চেতনা জাগ্রত হােলাে বীর মহাসত্যের স্পর্শে জাগিল চিত্ত বন্দিনীর অনুরাগ রাঙ্গা অস্তর তলে মিলিল সত্য ধন বক্ষে জাগিল ক্ষুধা ব্যথা শত নিদারুণ ক্রন্দন সত্যেরে দিতে বিজয় মাল্য টুটে দিল অবরোধ যে যাহারে পেল সে তাহারে টানি লইল গাে প্রতিশােধ রিশ জলতরঙ্গ বলিল “জানাে না ভাই- তােমার আমার চেয়েও জগতে সত্য কিছুই নাই।” এ মহাসত্যসিন্ধু মথিয়া মােহ অমৃত তুলি বিলাইতে গিয়া অধরে অধরে মিলিল আপনা ভুলি অধরের রস করে আরাে বশ আরাে সত্য গাে খে। মিলিল অবশে, দেহ প্রাণে আসে উন্মাদ আকুলতা অভিশাপ আসে তাহাদের শিরে যারা এ সতত্য ছলি ক্ষীণ গণ্ডিতে বাঁধিয়া এ দেহ আজও দিতেছে বলি হৃদয় গাহিল তাই “সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।” অধর রসেতে দেহে দেহে ধীরে জেগে ওঠে মত্ততা দেহ যমুনায় দেহ মিশে যায় মানে না ভগ্নী ভ্রাতা সুন্দরতম সত্য মূরতি হেরিয়া দেহলতায় সকল সত্য ফেলিয়া শুধু গাে দেহ পিছে দেহ ধায় বিক্রীত প্রাণ বিকৃত চিত্তে এ মধু সত্য ছেড়ে বল কোন্ প্রাণে নীতির শাসনে ফেলিতে চাহ গাে মেরে ? কেন এ শাসন ভাই বােঝ না মানুষ নামেতে এ দেহ মাগিছে দেহ সদাই ? একত্রিশ
জলতর
সত্য খুঁজিতে চিত্ত আসিল দেহ সিন্ধুর তীরে
হৃদি অনুরাগ সরম সােহাগ কেঁদে কেঁদে গেল ফিরে
অন্তর তলে পঞ্চ প্রদীপ ধীরে হ’ল নির্বাণ
‘মহাসত্যের’ লাজে মাথা হেঁট গৌরব অবসান
‘মুক্তা রহিল অতলে তলায়ে তীরে ‘শুক্তির মেলা
সত্যের ছলে মনে ভুলাইয়ে দেহে দেহে মিশে খেলা
অভিধান খুলে তাই
দেহের মানুষ ব্যাখ্যা করিয়া দেহে বাঁধে দেহটাই।
মতি নাই ঠিক হইল বেঠিক ছুটিল আলাের পিছে
তর্জনী নাড়ী অনুশাসনেরে চোখ রাঙ্গাইল মিছে
রঙীণ নেশায় আমােদে মাতিয়া সৰ্পে ভ্রম
দিক্ দিক্ ভরি ফলাফল তার জাগে কিবা মনাের
খেয়াল খুসীর ভরাইতে সাধ নিজেদের ইজ্জত
নিজেরা ঘুচায়, আলােকচিত্রে বিদেশী চালায় মত,
যুগান্তের গায়-
মহাসত্যের এ মহাব্যাখ্যা তুলনা নাহিক পায়।
দেশময় আজ জাগিয়াছে সাড়া দেহে দেহ বাঁধিবার
ছবিতে কথায়, গল্পে গাথায় নাহিক সত্য আর
বত্রিশ
জলভর
দৈনিক এত প্রকাশ তাহার কাগজে কুলান দায়
গােপনে কে জানে কত না সত্য জাগে নিজ মহিমায় ?
হৃদয়ে’ ছাড়িয়ে দেহেরে’ ‘মানুষ-ব্যাখ্যা করিল তাই
বিলাস লীলার ছল। ও কলার দেহে দেহে হ’ল ঠাই
দিগদিগন্ত ভরি
জাতির এ মহা উন্নতশির সত্য করিছে ফেরি।
সদ্য-আগত শিশুর অধর বিঁধে সুত৷ সূচিকায়
নিঠুর সত্য মানে নাকো মানা ডাষ্টবিনে দেখা দেয়
আশ্রম ঘর তীর্থ নগর মিলে নাকো হেন ঠাই
সত্য যেথায় মহিমার ছাপ, অঙ্কিত করে নাই
সে মহামন্ত্রে লঘু গুরু সব মিশে হ’ল একাকার
উদ্দাম স্রোতে দেহ রসে মেতে ভেসে ডুবে ছারখার
পাইতে শীঘ্র লােপ
কোমর বাঁধিয়া লেগে গেছে সব মিটাইতে মনক্ষোভ।
অন্দর বার ভেঙ্গে চুরে ফেরে ঘূর্ণি দুর্ণিবার
সামাল সামাল উঠিয়াছে রব চৌদিকে হাহাকার
প্রাচীর টুটিল আলােক ফুটাল অন্দরে বাহিরের
ব্যবধান মানা মানিতে চাহেনা দেহের ও বসনের
তেত্রিশ
জলতরঙ্গ
মত্ত দেহ গাে সত্যে জড়ায় লীলা তরঙ্গ তুলি
পেটের জ্বালায় কাদে বাপ মায় কঁাধে ভিক্ষার ঝুলি
অনশন ব্ৰত বুকে-
বাপ মা যাপিছে কঁদিয়া রজনী সন্ততি কৌতুকে।
এ কোন্ সত্যু আলােক আনিলে ভেদি প্রতীচ্য জাল ?
সুধা ফেলে বিষটুকু নিয়ে করিলে কি ভয়াল ।
দোষণীয়টুকু শুধু অনুকারি সাজিয়াছে অবতার
(যেন) পরিত্যক্ত পুচ্ছ পরিয়াদাড় কাক মহিমার
আধা এর আধা ওর নিয়ে কেন চর্বিত চর্বন
লালসা সুখেরে ‘প্রেম’ বলি কেন লাজ দাও অকারণ ?
ঘুচায়ে নিজের সব
স্বপ্ন মায়ায় সত্য রচিয়া গড়িতেছ বৈভব।
গাহিল নিঠুর সত্যবাণী যা রামীর চণ্ডীদাস
লালসার আল আছিল কি তার দেহে দেহে বাঁধা ফাস ?
সে মহা সত্য মানিয়া লইতে কেঁদেছে কি যৌবন ?
অথবা আত্ম ত্যাগের লাগিয়া মাতাইল ত্রিভুবন।
চৌত্রিশ
প্রেমের নামেতে কলঙ্ক দিয়া লালসার গাহি জয়
তাণ্ডবলীলা আঁকে যে ছবি তা চণ্ডীদাসের নয়।
‘সে’ সত্যে করিয়া দূর
(আ) উদর অনলে আঁখির সলিলে তিতিল অন্তঃপুর।
(আজ) অন্তরে নাই পুণ্য শাসন অন্দরে গৃহসুখ
লক্ষ লক্ষ কক্ষ আজি গাে কলহেতে দুর্মুখ
বিধি নিষেধের শাসন দলিয়া ঠেলি গুরুজন মানা
ধ্রুব সত্যেরে মানিয়া লইতে ফেলিল বসনখানা
ফলাফল তার উঠিয়া চরমে এনে দিল হলাহল
তাহারে জিনিয়া জাগিল আবার নিঠুর জঠরানল
কোনটারে করি বড় ?
বুঝে ওঠা দায় কি খেয়ে পীরিতি রহিবে এমন দড়!
তাই মনে হয় কভু ঠিক নয় সুধীবৃন্দের আজ
এমনি করিয়া লালসা অনলে প্রশ্রয় দেওয়া কাজ
অঙ্কিত হােক প্রেমের মূরতি দোষের নহে সে ছবি
লালসা বিহীন দীপ্তি ছটায় দীপ্ত ত্যাগের রবি
ভােগ মদিরার ফেনিল উৎসে জাগে না সে আলােক
ত্যাগ মহিমায় পূর্ণ হৃদয় চির উজ্জল হােক
পত্রিশ
(ওগাে) ত্যজি আলেয়ার আলাে
তরুণিত সব চিত্ত ভরিয়া রতন প্রদীপ জ্বালাে।
তবু মনে রেখ ভাই
শূন্য
উদরে প্রেম জাগে নাকো পেটের খােরাক চাই।
অকাল বােধন
সুধীরকুমার গুপ্ত
আসিল শরৎ লয়ে মধু বারতা
গগন জানায়ে গেল কত কি কথা
মুখর পবন কিবা ছলে তালে
চুপি চুপি সাড়া দিয়ে মন মাতালে।
দেখিতে দেখিতে কিবা নবীন বেশে
শােক তাপ ভরা ধরা চাহিল হেসে
ছত্রিশ
পুলকিত হােলো তনু দিকবিদিকে
এ মােহন মাধুরিমা এনে দিল কে ?
কেবা এলাে কেবা এলাে কেবা এলাে লাে
হাসি ভরা মুখে লয়ে অরুণ আলাে ?
কোলাহলে কলরােলে এলাে জননী
বরণ করিয়া তারে নিল ধরণী।
দশভুজা দেবীপূজা বাংলা জুড়ে
দুঃখ শােক নিমেযেতে পালাল উড়ে
খড় মাটী দেবী হয়ে আনিল সাড়া
জড় জঞ্জালও আজ মধুতে ভরা।
কি মধুর মাধুরিমা উঠেছে ফুটা
হাসে যেন মৃন্ময়ী নয়ন দুটা
কাঠ, রঙ,খড় মাটী করিয়া আল
ভিতরে রয়েছে যেন প্রদীপ জ্বালা।
কোন স্বরগের যেন অমিয় ছানি
কে যেন পুতুলে প্রাণ দিয়েছে আনি ?
সাইত্রিশ
অভয়
জাগে বুকে স্মরণের অতীত গাথা
অকাল এ বোধনের জন্য কথা।
কবে কোন্ নৃপমণি সর্বহারা
বনবাসী শেষে অপহৃত দারা
একে একে লাখে লাখে ধীরে ধীরে
বিপদের রাশি তারে ফেলিল ঘিরে।
হৃত দেশে হৃত বেশে মােহাগত
ফিলিয়া ধনুর্বাণ পূজারত
অকাল বােধনে মার চরণ সেবে
খেলিল নূতন খেলা মানবে দেবে।
ভত হৃদয় চিরে আশীষ মাগে
পরধের সাধ দেবী চিত্তে জাগে
পুলকিত তনু মন তবু ছলনা
গণনায় কিবা ভুল নাহি তুলনা।
দেবী পাদপদ্মেতে অৰ্য্য দিতে
শেষ এক পদ্ম গাে নাই গলিতে
আটত্রিশ
জলতরঙ্গ
নয়ন পদ্ম তবে উপাড়ি রাজ
করিবেন দেবী পূজা অকাল বােধন।
নাহি কুল উপকুল পদ্ম বিনা
হাসে দেবী ত্রিলােচনী পদ্মাসীন
নিরুপায় হবে নাক’ দেবীর পূজা?
(নিজ) লােচন পদ্মে শর নিল রাজা।
মৃন্ময়ী চিন্ময়ী রূপেতে আসি
ধরিল রাজার কর কহিল হাসি
“পূজা আয়ােজন আজি সফল তব
অকাল বােধন মাথা পাতিয়া লব।
ভক্তের পূজা লই শতেক ছলে
প্রচার হউক পূজা ধরণী তলে
বরষে বরষে নব বারতা শিরে
বাঙলার ঘরে ঘরে আসিব ফিরে।
সেই গাে জননী ফিরে এসেছে আজি
ধরণী হাসিছে নব বেশেতে সাজি
উনচলিশ
এসেছে তরুণ যুবা শিশু বুড়াও
হাসিতে বাঁশীতে আজি মধু ক্ষরে গাে।
শত শত প্রাঙ্গন উঠিল হাসি
মােহন লগনে বাজে মধুর বাঁশী
মাট খড়ে কাঠে রঙে কে দিল দেখা ?
নিরাকারা জননী গাে পটেতে আঁকা।
লক্ষের পদরজঃ লইয়া শিরে
গৌরবে প্রাঙ্গন হাসিছে ধীরে
আবরণে আভরণে মােহন মেলা
অকাল-বােধনে মার নতুন খেলা।
ফোটে হাসি মুখে মুখে ঘরে ঘরেতে
পথ, ঘাটু আমােদিত দিনে ও রাতে
অকাল এ বােধনের বাঁশরী সুরে
আধারে আলােক আনে হৃদয় পুরে।
শত শত প্রাঙ্গনে আলো দেয়ালি
শত শত বেদীপরে পূজার ডালি
চশি
তরঙ্গ
শত শত নর-নারী চরণ চাপে
বিভূষিত আলােকিত বিশ্ব কাঁপে।
বেদীপরে পূজারী ও দেবীপ্রতিমা
আলােকের পুলকের নাহিক সীমা
বােধনের গুরুভার লইয়া শিরে
আবেগে পূজারী পূজে প্রতিমাটীরে।
ঘণ্টা কাসর মধু বাঁশী সুরেতে
আরতি বাজনা বাজে নিশীথ রাতে
ভক্তি ও প্রেম দিয়ে পূজারী পূজে
“জাগাে মা জননী জাগাে মা দশভুজে
ধীরে ধীরে আরতির হয় অবসান
থেমে যায় কলরব উৎসব গান
শেষ হয় পূজারীর প্রতিমা পূজা
নির্বাক নিশ্চল মা দশভুজা।
চিন্ময়ী হয়ে আজি দেবী মূতি
ধরে না পূজারী কর আদরে অতি
একচল্লিশ
মৃন্ময়ী মূর্তি আজি দেয় না সাড়
আঁখি-যুগে নাই বয় পুলক ধারা।
পূজাপাঠ আরাধনা হয় সমাপন
ক্রিয়া কলাপেতে হয় মাতৃ-আবাহন
কেবা জানে প্রতিমার আসে কিনা প্রাণ?
মিছে কলরবে হয় মাতৃ-আহ্বান।
আসেন জননী যদি ঘরেতে ফিরে
সন্ততি ভাসে কিগাে অনীরে ?
দুরভি অনল জ্বলে ওঠে কি দেশে ?
হঠর অনলে আঁখি জলে কি মেশে ?
কই আজি সে পূজারী? পূজা বা সে কৈ
দিকে দিকে নাহি কিছু কোলাহল বৈ
সংযম নাহি যেথা দেহে ও মনে
জাগে কি জননী সেথা মিছে বােধনে ?
এই দেহ মন্দির দেবীর আগার
মূরতি তথায় দেখ জাগে প্রতিমার
বিয়াল্লিশ
প্রতি দেহ পূজাগার দেহী পূজারী
দেহে দেহে জাগে দেবী বিশ্ব ভরি।
কলুষ-কালিমা মুছে করুণ তানে
ডাকিতে পারিলে তারে বােধন গানে
পাপী তাপী জনে দেন মা পার করি
দেহ সাগরে যে বাঁধা চরণ তরী।
গ
সেই দেহ যদি কলুষিত হয়
কেমনে হইবে তাহা দেবীর আলয়
দেবী ত’ রহেনা সেথা যেথা পাপাচার
পঙ্ক লেপিয়া দেয় ভােগ বাসনার।
নাহি যেথা প্রাণে প্রাণে মধুর মিলন
কামানলে জ্বলে যেথা নরনারীগণ
হিংসা ও দ্বেষ যেথা চলে অবিরাম
মিছাই বােধন গান দেবী সেথা বাম।
শঠতায় ছলনায় নহে সে ব্ৰত
হয় না বােধন লয়ে কলুষ চিত
তেতাল্লিশ
জলতর
মিছে ছলে কামে’ ‘প্রেম’ উপাধি দিয়ে
জাগে আজ ঘরে ঘরে ব্যাধি এ কি এ ?
দয়া মায়া মেহহীন হয়েছে ধরা
অনাচারে অবিচারে পাপের ভরা
কলুষিত হয়েছে গাে ধুলা ও পবন
পাপেতে ভরিয়া এলাে বিশ্ব ভবন।
আবার এসেছে মাগাে অকাল ফিরে
চিন্ময়ী হয়ে কি গাে জাগিবি নি রে?
বােধনের বীণা বুঝি যায় মা থেমে
একাকার হল আজ ‘কামে’ ও ‘প্রেমে।
ঘন ভূমিকম্পন ও জলপ্লাবনে
অতলে তলায় দেশ, তাহারি সনে
দুরভি অনল দেশে উঠিল জ্বলে
দুর্দশা দেখাে মাগাে নয়ন মেলে।
হয়েছে মা দেখ আজি নিল নগর
শােক তাপ, যাতনার অকুল সাগর
চুয়ারিশ
জলতরঙ্গ
আঁখি জলে নিশ্বাসে অনাহারেতে
বিদরে মা ব্যোমপথ হাহাকারেতে।
অবিচার বােপর শতেক ছলে
জনে জনে নিঃস্ব মা করিয়া তােলে
ঘরে ঘরে ভাত নাই জীর্ণ বসন
দুর্দশা দেশ ময় পেতেছে আসন।
লাঞ্ছনা গঞ্জনা প্রতিনিয়ত
নিধনে দেয় মা বেদনা শত
কৌশলে হরে অন্যে অন্ন তাদের
কেহ নাই দেখিবারে দুর্গতদের।
লাঠালাঠি কাটাকাটি বিষয় নিয়ে
জয়লাভ হয় আজ শঠতা দিয়ে
ভাই ভাই ঠাই ঠাই ঘরে ঘরেতে
মিল নাই মনে মুখে নিজ পরেতে।
দেশময় উঠে মাগাে ক্রন্দন বােল
অনাচার দিকে দিকে আনে সােরগােল
পঁয়তাল্লিশ
জলতরঙ্গ
অনাহার ঘরে ঘরে মাগিতেছে ঠাঁই
মায়ের করুণা ছাড়া উদ্ধার নাই।
বিভীষিকাময়ী ছবি দেশ বিদেশে
মূর্ত হইল কিবা অট্টহেসে
জাগো মাগাে মৃন্ময়ী জননী ধীরে
চিন্ময়ী হয়ে আজি বাঙলা ঘিরে।
ওগাে সব পূজারীরা ভরি প্রাঙ্গন
পূজ যেই মত সেই পূজিল রাজ
শুদ্ধ ও সংযত কর গো চিত
হইবে তবে এ ব্ৰত উদ্যাপিত।
রঘুমণি মত নিজ মৰ্ম্ম ছিড়ে
পার না কি জাগাইতে প্রতিমাটীরে ?
পূজা আমােজন তবে সকলি মিছে
ভকৃতিতে বাধা দেবী ভক্ত পিছে।
ছেচশি
জলতর
উৎসব কোলাহল মিছে এ সকল
ঢাক ঢােলে কলরােলে নাহি কোনাে ফল
দেহ মনে সংযমে পূজা আয়ােজন
যদি নাহি কর তবে মিছে এ বােধন।
যৌবন
সুধীরকুমার গুপ্ত
যৌবন । যৌবন। যৌবন যৌবন
কুসুমিত জীবনের বিকসিত মৌ বন।
শক্তির উৎস ও উৎসাহ ঝর্ণা
পলকে পলকে বিবিধ বর্ণা।
সাতচল্লিশ
নয়নের রঙ্গীন আললারি দেওয়ালি
জীবনের সঙ্গী বিদ্রুপ ও হেঁয়ালি।
প্রলয়ের ঝঞ্চা ও তাণ্ডব নৃত্যে
বিব্রত করে তােলে তরুণিত চিত্তে।
কম কাম উৎসবে মােহমদে অন্ধ
বক্ষের স্পন্দনে আনাে নবছন্দ।
দুর্জয় বেগ ভরে গিরিদরী চুর্ণ
দুৰ্ম্মদ মদ ভরে চির পরিপূর্ণ।
অঙ্গে অঙ্গে পূর্ণিমা জ্যোৎস্নার
সঙ্গে কাজে উছলিত স্রোতভার ।
উত্তাল হচ্ছে বিলােল তরঙ্গ।
পৌরুষ গৌরবে শমনে ভলা।
ভরা গাং উন্মাদ উদ্দা চঞ্চল
নিজ দেহভারে নিজে করে ওঠে। টলম।
সংযমহীনতায় অন্ধ ও ক্ষিপ্ত
সবত রূপ কিবা মহিমায় দীপ্ত।
আটচল্লিশ
জলতরণ
উগার হলাহল শৃঙ্খলাহীন হলে
সংযুমে গড়ে তােলাে স্বর্গ এ মহীতলে।
হে পাপের লীলাভূমি ! পুণ্যেরি ক্ষেত্র
ক্ষণে ক্ষণে ধর রূপ চিত্র বিচিত্র।
।
মঙ্গলময় কভু, কভু পাপ, অবতার
শান্তি ও তৃপ্তিতে এনে দাও হাহাকার।
কল্যাণ ও কলুষের হে জনক মৌন
কল্যাণে কর বড়, কলুষেরে গৌণ।
দেহে দেহে জেগে ওঠ করে নাদ তৃৰ্য্য
বুকে বুকে জ্বলে ওঠ লয়ে জ্ঞান সূৰ্য্য।
অজ্ঞান তমঃ নাশি এস টুটা মােহ জাল
সম্বর কলুষিত রূপ তব হে দয়াল।
পূজি তব ওই রূপ যায় দেশ রসাতল
পুণ্যেরি রূপে এবে এস হয়ে উজ্জ্বল।
রুদ্রের তেজ লয়ে তপােবন শাস্তি
জড়তারে করি দূর লয়ে কমকান্তি
দেহে দেহে দাও দেখা, হে দেবতা যৌবন
সৌরভে গৌরবে ভরে তােললা মৌ বন।
উনপাশ
অস্তরাগ
সুধীরকুমার গুপ্ত
প্রভাত হইতে সন্ধ্যা অবধি ভরি দিসীমা গগনের
সুপ্ত আঁধার মুক্তি লভে গাে করুণা লভিয়া তপনের।
দেয় আলাে রবি নিজ বুক চিরি আঁধারেরে দিতে চেতনা
যাবার বেলায় যেন বলে যায় ‘মিছা আমােদেতে যেত না।
নিতি পূবে
বঁধি
সেতু
পশ্চিমে সারাটা দিনের শেষেতে
অস্তাচলের শিয়রে দাড়ায় ফিরে যেতে নিজ দেশেতে।
বিদায়ের পথ ভরে ওঠে তার ফাগ, কুঙ্কুম আবিরে
যেন বলে যায় বিদায় আজিকে আর অালো
নাহি পাবি রে।
১
দিগন্তকোলে মিশে যায় তার শেষ রেখা টুকু হাসি গান
ডুবে যায় ধীরে নীলিমা সাগরে আলােকের হয় অবসান।
পলাশ
ইঙ্গিতে যেন জানাইতে চায় ‘ফিরে পুনঃ কাল আসিব
বিশ্বভুবন আলােকে ডুবায়ে হসাব এবং হাসিব।
ফুরালে মেয়াদ দেখা দেয় পুনঃ রূপ ধরি নব দেবতার
যুগ যুগ ধরি বাঁধা আছে যেন করমের ডােরে দেহ তার।
প্রভাতে বালক দুপুরে যুবক সাজে সেজে আসে বৃদ্ধ
কর্ম জীবন ভরি যেন তার জাগে ভগবান নিত্য।
ভক্ত-প্রেমিক যােগী ও কর্মী একাধারে যেন সব গাে
সফল করেছে নিজ সাধনায় জীবনের গৌরব গাে।
কৰ্ম সাধনে চির অনলস ফলে চির অনাসক্ত
চির উদাসীন তুলনা বিহীন প্রেমিক এবং ভক্ত।
ধৰ্ম্মে কর্মে গীতার মর্মে ধন্য করেছে সেই তাে
বিরাম বিহীন প্রবল কৰ্মী তুলনা তাহার নেই তাে।
পরহিত ব্রতে করিয়াছে যেন নিজ প্রাণ উৎসর্গ
চির আঁধারের বক্ষ ভেদিয়া ধরায় এনেছে স্বর্গ।
স্বর্গে মর্ত্যে আলােকের সেতু
সেই তাে গাে বাঁধিয়াছে
অভয় আলােক দিতে এ ধরায় নিতি নিতি কঁদিয়াছে।
একান্ন
ধুলার ধরণী বড় ভালাে লাগে তাই কাদে তার চিত্ত
দেখিতে সবারে দেখা দিতে ওগাে
ফিরে ফিরে আসে নিত্য।
আগমে তাহার আলােকে পুলকে ধরাতল হয় ধ
অন্তে তাহার নিকষ কালােয় ভরে যায় মহাশূন্য।
ধরণীরে যেন বলে দিয়ে যায় ‘হবে গাে সবারি অন্ত
চিরদিন হেথা রবেনা কেহই রবেনা চির বসন্ত।
দিনের আলােক চোখের আলােক
আলোকের পারাবার এ
ডুবে যাবে হায় নিরাশা মাখান নিবিড় অন্ধকারে।
মরণ আসিয়া লয়ে যাবে কোন্ অতল আঁধারে তলায়ে
অঙ্গ সবার দিতে হবে ওগাে তাহারি অঙ্কে এলায়ে।
মিছা কৌতুকে জীবনের দিন হেলায় কোনাে না নষ্ট
আসিবেনা আর ফিরে আবার হইলে লগ্ন ভ্রষ্ট।
পল অনুপল হউক সফল কি ফল বিফল জীবনে
যুগ-মাহাত্মে ‘দিক্ভ্রম’ যেন না হয় আলেয়া শরণে
বায়ান্ন
জলতরঙ্গ
মিথ্যা মায়ার মােহেতে মজিয়া হইয়া মাতাল অন্ধ
গর্বে মাতিয়া জীবন বীণার বেতাল করােনা ছন্দ।
শক্তির মদমত লয়ে ধনসম্পদ দত্ত
দেহ ও মনের সংহারলীলা কোরােনা গাে আরম্ভ।
মেয়াদ ফুরালে যেতে হবে চ'লে স্মরণেতে যেন থাকে তা
হেথা মহাকাল চিরদিন তরে অনুকণাটিও রাখে না।
চক্ষের আলাে নিয়ে যখন আঁধার রূপেতে মহাকাল
শিয়রে দাঁড়াবে, রবে কি তখন সৎসররূপী মােহজাল ?
মৃত্যু তাহার শীতল বক্ষ বিছাইয়া যবে সাদরে
ব্যগ্র দুবাহু মেলিয়া তাহার বুকে টেনে লবে আদরে,
শুনিবে না মানা নিল শত অনুনয় আর মিনতি
রাখিতে তাহারে পারিবে কি ধরে কারাে সম্পদ শকতি ?
আজ যাহা আছে কাল যাহা নাই
তার মােহে ভুলে থােক না
মিথ্যা শক্তি সম্পদ মােহে অপরাধ গায়ে মেখে না।
কিছুই হেথায় রবে নাকো হায় করমের ফল ব্যতীত।
এইক্ষণে হায় ষেইক্ষণ যায় ক্ষণে হবে তাহা অতীত।
তিগাম
ক্ষণে ক্ষণ যায় শুধু রেখে যায় করমের শত চিহ্ন
যেন বলে যায় ‘সারি নিজ কাজ জীবনেরে কর ধন্য।
হিসাব নিকাশ দিতে হবে ওরে স্কুল ও সূক্ষ্ম কর্মের
জ্ঞাত অথবা অজ্ঞাত যত গােপন চিন্তা মরে।
নিয়ম নিগড়ে বাঁধা হেথা কার ছােট বড় যত কর্ম
দৈনন্দিন ক্রুটী বিচ্যুতি দেহ ও মনের ধর্ম।
প্রতি পলে পলে কলে কৌশলে কৃত যত পাপ পূণ্য।
ন্যায়ের দণ্ডে এতটুকু তার র’বে না বিচার শূন্য।
অস্তাচলের শিয়রে দাঁড়ায়ে হারাইয়া নিজ শৌর্য
সঙ্কেতে যেন জানাইতে চায় আজিকার ওই সূৰ্য্য
“যেতে হবে ওগাে আর দেরী নাই
বিদায়ের বাঁশী বেজেছে
তিমিরের দ্বার খুলে দিয়ে ওই সন্ধ্যারাণী গাে এসেছে।
বেলা পড়ে এল গগনের গায় তপনের চিতা জলিল
পূর্বের রবি পশ্চিমে আসি আজিকার মত চলিল।
চুয়ায়
জলতরঙ্গ
বিশ্বভুবন ভরিল কালােয় হইল আঁধার মগ্ন
চলি আজিকে মনে রেখাে ভাই বিদায়ের এই লগ্ন
একদিন এই আঁধার তিমির সবারেই লবে ঢাকিয়া
সবারি ভাগ্য সূৰ্য্য যাবে গাে অন্ত অচলে ডুবিয়া।
০
পৃঞ্চায়
No text on this page.
No text on this page.