Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Shanti-tara
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
শান্তি-তারা
প্রসৱযুবালা দেবী প্রণীভ।
১০ই খাবণ, ১৩৩৬ সাল।
কলিকাতা।
৪নং প্রিয়নাথ মল্লিক নােড, ভবানীপুর।
প্রবাসী প্রেস,
৯১নং আপার সার্কুলার রােড, কলিকাতা,
সজনীকান্ত দাস কর্তৃক মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সূচীপত্র
০৮০
০ ০ ০
বিজ্ঞাপন
উৎসর্গ
০০ ০
. . .
মহাসমর
শান্তিরাণীর নাম
স্নেহাশীষ
০ ০ ০
আবাহন
০০ ০
৩৪
উজ্জ্বল এল
৩৬
৮.
মেহ-উপহার
৩)
শান্তি আমার কে
৪১
সাধের গান
•••
শুভাশীষ
•••
";
No text on this page.
s
তারা
• (a
No text on this page.
বিজ্ঞাপন
বড় মজাদার নাম গাথা হার,
ফুরিয়ে গেলে মিলবে না আর
পড়তে মনে সাধ আছে যার,
হাতটি পেতে নাওনা এবার।
দাম বেশী নয় সত্য কথা,
সময় নষ্ট মুখটি ব্যথা।
হাতে পেটের ছিড়বে নাড়ী,
মাতবে তবেই বিয়ে-বাড়ী।
হাসির দিন আজকে আমার,
গােকুলে শ্যাম আসছে এবার,
শান্তি আমার রাইকিশােরী
শ্যামের বামে সাজবে ভারি
হৃদয় আলাে নয়ন আলাে,
শান্তি-তারায় মিললাে ভালাে
ভুবন আলাে বাসর আলাে,
সবাই মিলে দেখবে চলাে,
প্রাণ খুলে আজ সবাই বলাে
শান্তি-তারায় কেমন হলাে ।
No text on this page.
উৎসর্গ
সবিনয়ে করযােড়ে করিতেছি নিবেদন,
বাধিত করুন পড়ি, করি কৃপা বিতরণ।
ধৈৰ্য্য ধরি কৃপা করি পড়িলে এ নামগান,
সফল হইবে লেখা, সুশীতল হবে প্রাণ।
চির অভাগিনী আমি, শান্তি-বারি সাহারার,
দুলিতেছে বুকে মম শান্তিপারিজাত হার।
প্রাণের সর্বস্ব ধন আনন্দে সকলে মিলে,
উজ্জ্বলের করে আজি দিলাম সাদরে তুলে।
শান্তি-তারায় মিশে হইয়াছে কত শােভা,
সেজেছে মদনরতি, আঁখি মুগ্ধ, মনােলােভা।
আজি এই শুভদিনে, দিতে কিছু উপহার
অন্তরেতে সাধ মম হইতেছে বার বার।
গরীব কাঙালী আমি, ধনরত্ন কিছু নাই,
সামান্য কবিতা-হার, তাই আজ দিতে চাই।
এ নহে ত হেমহীরা মণিমরকত হার,
এ যে হৃদি ফুলে গাঁথা, চারুমালা মুকুতার
শান্তিভাৱা
এ মালা যতনে গাঁথি “শান্তি-তারা” সভাজনে,
অর্পিলাম করে আজি সকলের সযতনে।
নাহি ছন্দ নাহি মিল, নাহি ভাব নাহি ভাষা,
আছে শুধু অফুরন্ত প্রাণঢালা ভালবাসা।
তুচ্ছ বলে ঘৃণা করে ফেলে দিলে এই হার,
উপহার দিতে কিছু সাধ্য নাহি হবে আর।
আশীষ করুন সবে শান্তি-তারা ফুলে আজি,
বেঁচে থাক চিরসুখে, প্রণয়-প্রসূনে সাজি।
মহাসমর
সাজ সাজ সাজ সখী, সাজ সাজ সাজ,
রাখ রমণীর ধৰ্ম্ম, ত্যজ ভয় লাজ।
দেখলাে সমরসাজে,
বিক্রমপুর-রাজ আসে,
রাণীর হৃদয়-রাজ্য করিবারে জয়।
আসিছে উজ্জ্বলরাজ, নাহি লাজ ভয়।
কাতারে কাতারে আসে সৈন্য অগণন,
কর সবে সখিগণ ফুল বরিষণ।
আমরা লাে বীর নারী,
জগতে কারে না ভরি,
কিশাের বয়স্ক যুবা, তারে কিবা ভয়।
নয়নের বাণে করি ত্রিভুবন জয়।
এস, সব সখিগণ সমর-প্রাঙ্গণে,
যত্নে বাঁধ ফুল হারে উজ্জ্বল রাজনে।
শক্ত বাঁধ স্নেহ-ডােরে,
যেন না ছি ড়িতে পারে,
বন্দি করে লয়ে চল বাসর-আগারে।
রাণীর চরণে সঁপ বিচারের তরে।
শান্তিভাৱা
ওই দেখ রণবাদ্য বাজে ঝম ঝম,
সৈন্যদের কোলাহলে যায় বুঝি দম।
রাজা হয়ে হল বন্দী,
মন্ত্রীটির যত ফন্দী;
সুধীর সে মন্ত্রীবর অধীর হইয়া,
আঁখি-বাণে কাঁপিতেছে থর থর হিয়া।
মন্ত্রীবরে বন্দী করি আন এইবার,
উচিত মতন শান্তি আমি দিব তার।
একদিন কাছে এসে,
বেঁধেছে স্নেহের ফঁসে,
মেহের নিগড়ে বাঁধি শােধ দেব তার
পলাতে তাহার নাহি সাধ্য হবে আর
ওই দেখ সৈন্যদের ঘাের কোলাহল,
দাও খেতে উহাদের লুচিমিষ্ট জল।
খাওয়া হলে মুক্তি দে রে,
হার মেনে যাক ঘরে,
নাহি চাই তাহাদের করিতে দুর্গতি।
মহাসময়
শ্যামল, কোথায় গেলি আয় একবার,
ফুলহারে সৈন্যদের কর পুরস্কার।
মন্ত্রীরাজে বল ভাই,
আমাদের রােষ নাই,
রাজারাণী পাঠাইব কাল সন্ধ্যাবেলা
সাজাইয়া ল’য়ে এস’ বাজনা, বাজি, মালা।
রাণীর চরণ তলে
রাজা ব’সে কুতুহলে,
মৃদু হেসে সবিনয়ে বলিছে বচন,
কেবা মুক্তি চায় রাণী ? বাঁধা প্রাণ মন
বহুদিন হতে প্রাণ
করেছি তােমারে দান,
জীবন যৌবন দিছি চরণে তােমার।
লয়েছ সকল হরি বাকি কিবা আর ?
বন্দির এ কথা শুনি
হাসিতেছে শান্তি রাণী,
বলে সখে বাস কর হৃদি রাজ্যে মাের,
আনন্দ খেতে ঝরে নয়নের লাের
শান্তিভাৱা
বিনিময়ে দুটি প্রাণ
হরষে করিল দান,
দুয়েতে মিশিয়ে গিয়ে হয়ে গেল এক।
বাজা ওলাে সখী তােরা বাজা জোড়া শাক।
জগদীশ, দয়াময়, দীনবন্ধু, হরি,
মােদের ভরসা শুধু ও-চরণ তরী।
আজি অতি শুভলগ্নে
মিলাইলে দুই জনে,
চিরদিন এ-যুগল সুখে যেন রয়।
পথ ভুলে কভু যেন বিপথে না যায় ।
শান্তিরাণীর নাম
আয় আয় করি কোলে নয়নের মণি।
বুড়, লীলা, শান্তিলতা, সুনীলিমা রাণী।
কত দিন হতে আমি কত আশা করে।
পেয়েছি তােমায় ধন, মা কালীর বরে ।
দয়াময় দীননাথ হরির কৃপায়।
আসিয়াছ যাদুমণি তুমি এ ধরায়।
আজি তাের পরিণয় এই শুভদিনে।
কত কিছু দিতে সাধ হইতেছে মনে।
বসায়ে বরের কোলে, দেখে হাসি মুখ।
পুলকে পুরিত হবে,বিষাদিত বুক।
চির সুখে থাক তােরা এই সাধ মনে।
কিবা দিব উপহার, কি আছে ভুবনে ।
দুঃখিনী “দি’মার” লও স্নেহ উপহার।
কি দিব তােমায় আজি, কি আছে আমার।
বড় সাথে তাের নাম করেছি রচনা।
পড়িলে তােমার “বর”, পুরিবে বাসনা।
দুইজনে কাছে এসে দাড়া হাসিমুখে।
দুটি গ’লে দিই মালা প্রাণ ভরা সুখে।
শভিভাৱা
তােরা যে কি ধন মাের কি জানিবে পরে
হেরিয়ে যুগলরূপ ভাসি মুখ নীরে।
যেইজন এই নাম করিবে পঠন।
পুত্রপৌত্র সহ সুখে যাপিবে জীবন।
শান্তির নাম-গাঁথা নাহি কিছু দাম।
পড়িলে সফল জন্ম পাবে মােক্ষম।
শয্যাছাড়ি প্রাতে উঠি ধুয়ে মুখ হাত।
এ-নাম পড়িলে তার হবে সুপ্রভাত।
ধৰ্ম্ম, অর্থ, কাম, মােক্ষ তাহার হইবে।
বৃদ্ধতে করিলে পাঠ যৌবন পাইবে।
মুখ করিলে পাঠ হইবে পণ্ডিত।
বােকায় পড়িলে বুদ্ধি হইবে নিশ্চিত।
অরসিক যেইজন আছে জন্মাবধি।
নাম পাঠে রসে প্রাণ হয়ে যাবে নদী।
পড়ে যদি এই নাম নিষ্ঠুর পাষাণ।
শিশুসম কমনীয় হবে তার প্রাণ।
গোয়ার গােবিন্দ যদি এই নাম পড়ে
রাগ:ত্বরা পলাইবে তার দেশ ছেড়ে ।
পাতকী নারী যদি পড়ে নাম-হার।
ধার্মিক হইবে সেই, পাইবে নিস্তার ।
অপত্রের পুত্র হবে, নির্ধনের ধন।
শান্তিৱাণীর নাম
কৃপণ করিলে পাঠ, হবে কল্পতরু।
সাধনের ইচ্ছা যার, পাবে সৎগুরু।
কুরূপ কুৎসিৎ কদাকার যেইজন।
কন্দর্প সমান হবে করিলে পঠন ।
দুঃখী যদি করে পাঠ, লক্ষী তার ঘরে।
চিরবাধা রহিবেন হরিষ অন্তরে।
যাদের দাম্পত্য প্রেম কিছু মাত্র নাই।
এ-নাম পঠনে প্রেমে মজিবে তারাই।
যাহাদের হয় নাই অপত্য-বন্ধন।
নাম গুণে পাবে কোলে পুত্র কন্যা ধন।
অন্ধ জনে নাম শুনে পাইবে নয়ন।
নাম-গুণে পঙ্গু গিরি করিবে লঙ্ঘন ।
চির বােবা যদি কভু এই নাম শুনে।
মধুর বচন তার ঝরিবে বদনে।
যাহার শ্রবণশক্তি কিছু মাত্র নাই।
নাম মহিমায় কানে শুনিবে সদাই।
উন্মাদ করিলে পাঠ সেরে যাবে মাথা।
ব্যবহার করে বুঝ সব সত্য কথা।
নামের মহিমা আমি কি বর্ণিতে পারি।
বর্ণিতে পারিবে শুধু “উজ্জ্বল” মুরারি।
দুইশত ষাট নাম অমৃত সমান।
মনের হরিষে আমি করি আজ গান।
শাস্তিভাৱা
কৃপা করি ধৈৰ্য্য ধরি যত মহাজন।
একবার এই নাম করুন পঠন ।
তবে আমি এইবার নাম গান করি।
শ্রীগুরুর চরণ হৃদয়েতে ধরি।
ভাট পাড়া গ্রামে মম গুরুপুত্র র’ন।
ভক্তিভরে পূজি আমি তার শ্রীচরণ।
শ্রীমৎ শ্ৰীপূৰ্ণানন্দ দেব সরস্বতী।
ভক্তি ভরে তাঁর পদে করি আজ নতি
বসতি তাহার এবে চুণার আশ্রমে।
ঈশ্বর-সদৃশ্য সদা আছেন মরমে।
ভক্তি ভরে তাঁর পদে করি নমস্কার।
নিবেদিব তাঁর পদে নাম-গাথা হার।
শিষ্যাশিষ্য অনুগত যতজন তার।
করযােড়ে করিতেছি সবে নমস্কার ।
শ্রীমৎ শ্রনিরঞ্জন দেবসরস্বতী।
ভক্তিভরে তার পদে করিতেছি নতি।
শ্রীমৎ পরমারাধ্য ব্রহ্মানন্দ স্বামী।
করপুটে তার পদে নমিতেছি আমি।
সরগে রয়েছ সুখে দেবতা আমার।
তােমার চরণে করি কোটী নমস্কার ।
স্বর্গে-মর্ত্যে গুরুজন আছ যে যথায়।
শাণিীৱ নাম
জগৎ ব্রহ্মাণ্ড মেলা চরণে যাঁহার।
তারি পদে দিই এই নাম-গাথা হার।
তবে আমি এইবার নাম গান করি।
বদন ভরিয়া সবে, বল হরি হরি।
শ্রীশ্রীগুরুদেব পূৰ্ণানন্দ স্বামী।
“গীতা” নাম দিয়াছেন স্নেহে কোলে টানি।
শ্রীগুরু নিরঞ্জন দেব সরস্বতী।
নাম দেন “সান্ত্বনা মা”, আর “ভগবতী”।
শ্রীগুরু পরমারাধ্য ব্রহ্মানন্দ যিনি,
দিয়াছেন স্নেহভরে নাম “কমলিনী”।
শ্রীগুরু নন্দন স্নেহে, নাম দেন “হাসি”
মাতাজি দিয়াছেন নাম, “পূর্ণশশী”।
বাবা নাম রেখেছেন, “স্নেহের পুত্তলি”।
মা রাখিয়াছে নাম, “আদরের ডালি”।
দি’মামণি নাম রাখে, “নয়নের মণি”।
“নন্দনের পারিজাত, “ভিক্ষের ঝুলিখানি”।
আদরের ভাই ধন, শ্যামলিয়া মণি।
নাম রাখিয়াছে, “দিদি তুমি রাজ রাণী”।
সুহাস মামা নাম রাখে, “প্রতিভা সুন্দরী”।
মামিমা রাখিল নাম, “সাহারার বারি”।
নিশামাসি নাম রাখে, “অন্ধের নয়ন”।
জীবনের সরবস্ব, “সাধনার ধন”।
শান্তি-ভাৱা
জ্যাঠাবাবু নাম রাখেন, “বুড়মা আমার”।
সেজ-কাকা রাখে নাম “জীবনের সার”।
জ্যেঠিমা রাখেন স্নেহে নাম “লীলারাণী”।
সেজকাকী নাম রাখে, “নয়ন ভুলানী”।
“মাদল-মা”নাম স্নেহে রাখে ছােটকাকা।
ছােটকাকী আদরেতে, বলে “শেফালিকা”।
বড়াদাদা রাখে নাম, “কমলের কলি”।
মেজপিসি নাম রাখে, “বংশের দুলালি”।
সেজপিসি রাখে নাম “চম্পক বরণী”
ছােটপিসি নাম রাখে, “কমলে কামিনী”।
জ্যোতীন-দিদি রাখে নাম, “খেলার পুতুল”।
বীণা দিদি নাম রাখে “ফাল্গুনে মুকুল”।
খুকি দিদি নাম রাখে, “খেলার সঙ্গিনী”।
খােকা দাদা রাখিয়াছে, নাম “মুগ্ধা রাণী”।
শুকোদা রাখিল নাম, “অভিমানী বােন”।
প্রকাশ দাদা নাম রাখে, “মুকুতা দশন”।
ব্ৰজদাদা রাখে নাম, “সবিতা সুন্দরী”।
অগ্যিদাদা নাম রাখে, “অমিয়কুমারী”।
অরুণদাদা রাখে নাম, “সুগন্ধ যূথিকা”।
রবিদাদা স্নেহে নাম রাখে “মাধবিকা”।
বিমলদাদা নাম রাখে “শিশির কুমারী”।
- “মাতা সুন্দরী”।
g
শান্তিৱাণীৱ নাম
বুন্টু দাদা স্নেহে নাম রাখে “অনিমিকা” ।
টুলুদাদা রাখিয়াছে, “স্নেহের লতিকা”।
হরিশদাদা নাম রাখে, “পদ্মপলাশবন”।
কিশাের দাদা রাখে নাম, “নয়ন শােভন”।
মান্তি দাদা নাম রাখে, “তুমি হিরঙ্গিনী”।
নলিদাদা রাখে নাম, “তিলত্তমারাণী”।
গােপালদাদা নাম রাখে দেবী সত্যভামা”।
প্রভাতদাদা রাখে নাম, “চির মনােরমা”।
রাখালদাদা নাম রাখে, “সুচারুবদনী”।
বাঘালদাদা রাখে নাম, “এলােকেশী রাণী” ।
রুক্মিণীদা নাম রাখে, “স্নেহের আরতি”।
নীহার রাখিল নাম, “তরুলতা সতী”।
ভােলাদাদা রাখে নাম, “ব্ৰহ্মপুত্ৰনদী”।
গােবিন ভাই নাম রাখে, “ভক্তিময়ীদিদি”।
পরিমলভাই রাখে, “গােলকুণ্ডার হীরা”।
জ্যোৎস্না রাখিল নাম, “তুমি ধ্রুবতারা”।
অজিত ভাই নাম রাখে, “আভাদিদি মাের”।
খুকু বােন রাখে নাম, “আনন্দ নিঝর”।
বড় জ্যাঠা নাম রাখেন, “ইন্দু নিভাননী”।
মেজ জ্যাঠা রাখে নাম, তুমি মা “ইন্দ্রাণী”।
সেজজ্যাঠা রাখে নাম, “পার্বতী আদরে।
কিরণদিদি “রেবা” নাম রাখে স্নেহভরে।
শান্তিভাৱা
সুধাদিদি রাখে নাম, “তুলসী-মঞ্জুরি”।
সুধাদিদির বর রাখে, “প্রেমের কিশােরী”।
রাধাদিদি নাম রাখে, “হরিণ-নয়নী”।
গৌরদিদি রাখে নাম, “সতী-শিরােমণি”।
হিরণ-দিদি নাম রাখে, “প্রফুল্ল নলিনী”।
কাতুদিদি রাখে নাম, “জ্যোছনা বরণী”।
হরিদিদি নাম রাখে, “কিছমিছি বাদাম”।
বৌদিদি সাধে নাম রাখে “মেরীজান”।
লীলামাসী নাম রাখে, “মুক্তকেশীরাণী”।
জামাইবাবু (অনন্ত) রাখে নাম, “সুধা-নিঝরিণী”।
সুনােদিদি নাম রাখে, “হীরেগজমতি”।
শম্ভ রাখিল নাম, “আঁধার ঘরে বাতি”।
ননীদাদা নাম রাখে, “রূপে সরস্বতী”।
মঙ্গল রাখিল নাম, “তুমি মা তপতী”।
তরুদিদি নাম রাখে, “তুই রে অপসরা”।
চারুদিদি রাখিয়াছে, “হাসির অপেরা”।
সন্ধ্যারাণী বৌদি নাম, রেখেছে “পদ্মিনী”।
লাবণ্য বৌদি রাখে, “উজ্জ্বল সঙ্গিনী”।
মৃন্ময়ী-বৌদি নাম রাখিয়াছে “বাণী”।
হেমলতা-বৌদি রাখে, “তারা বিলাসিনী”।
পঙ্কজিনী-বৌদি নাম, রাখে “পদ্মফুল”।
নিরুপমা-বৌদি রাখে, “মহিমা অতুল”
নিৰ্ম্মল মামা রাখে নাম, “পূর্ণিমাসুন্দরী”।
মেজ পিসে স্নেহে নাম রাখে, “ব্রজেশ্বরী”।
সেজ পিসে নাম রাখে, তুমি মা “সুলতা”।
ছােট পিসে রাখিয়াছে নামটি “নমিতা”।
বিভু পিসি রাখিয়াছে নাম “কুন্দফুল”।
আদিদাদা রাখিয়াছে, নামটি “শিমুল”।
দুদাদা রাখে নাম, আদরে “উৰ্মিলা”
ভামিনীদা স্নেহে নাম রাখিল “প্রমীলা”।
মেজজ্যাঠাই রাখে নাম, “সিমন্তে সিন্দুর।
সেজজ্যাঠাই রাখিয়াছে, “বাঁশরীর সুর”।
ছােটজ্যাঠাই রাখিয়াছে, “অদিতা সুন্দরী”।
শান্তি ভাইঝি রাখিয়াছে নামটি “মাধুরী”।
বড়মা রাখেন নাম, “দরিদ্রের ধন”।
বড়দাদু নাম রাখেন, “দুঃখ নিবারণ”।
মেজদাদু নাম রাখেন, “বসন্ত-বাহার”।
ছােটদাদু রাখে নাম, “পারিজাত হার”।
বড়দিমা নাম রাখে, “স্নিগ্ধ গােলাপফুল”।
মেজদিদিমা রাখে নাম, “কাণে হীরের দুল”।
ছােটদিদিমা নাম রাখে, “মাথার পমেটম”।
নতুনদি’মা রাখে নাম, “মলয় পবন”।
ক’নেদি’মা নাম রাখে, “শান্তি হেয়ারলিন”।
পুষ্পদিমা রাখে নাম, “পদ্মকুন্তলীন”।
২
শাকিরা
বড়দিমণি নাম রাখে, “মণি কোহিনুর"।
মেজদিমণি রাখে নাম, “বেদানা আর”।
বড়দাবাবু নাম রাখেন, “বেল ফুলের ছড়ি”।
মেজদা’বাবু রাখেন নাম, “হাতে সােনার ঘড়ি”।
রাঙাদাদু নাম রাখে, “স্বর্গের কিন্নরী”।
বড়মামা রাখে নাম, “পিস সুন্দরী”।
মেজমামা নাম স্নেহে রেখেছে, ‘প্রিসিলা'।
সেজমামা রাখিয়াছে স্নেহের “রমলা”।
প্রফুল্লমামা নাম রাখে, “সােফিয়া আমার”।
আদরের “এমিলিয়া” অমূল্য মামার।
সুশীল মামা রাখিয়াছে, নাম “ভিক্টোরিয়া”।
হারুমামা স্নেহে নাম, রাখিল “সুপ্রিয়া”।
সুকুমামা নাম রাখে “আশার মমতা”।
কালীমামা রাখে নাম, “লজ্জাবতী লতা”।
ভূপেনমামা নাম রাখে, “সােনার বিজলী”।
মণিমামা রাখে নাম, “স্নেহের শ্যামলী”।
তারামামা নাম রাখে, “তুইরে হরিণী”।
কৃষ্ণমামা রাখে নাম, “যমুনা তটিনী”।
গুরুধন নাম রাখে, “মাসি মােমতাজ”।
ঝন্টুবুড়ী নাম দিল, “লক্ষী মাসি” আজ।
বুড়ীমাসি নাম রাখে,“স্নেহের সুরুচি”।
ষষ্ঠীমাসি রাখে নাম, “দেবেন্দ্রের শচী”।
রেণুমাসি নাম রাখে, তুইলাে “উর্বশী”।
গীতা রাখিয়াছে নাম, “শরতের শশী”।
অশ্রু মাসি নাম রাখে, “নিরুপমা দেবী”।
মলিনা মাসিমা রাখে, “সােনার বিটপী”।
রাখিল সরযূ মাসি, নাম “করমেতি”।
সরসী মাসি নাম রাখে “অনুপমা সতী”।
সরলা মাসি নাম রাখে আদরে “নিহার”।
পদ্ম মামি রাখিয়াছে, স্নেহে “তারার হার”।
স্নেহ মামি নাম রাখে, “বেল ফুলের মালা”।
সরােজ মামি রাখে নাম, “হীরে মতির বালা”।
অপূৰ্ব্বসুন্দরী মামি, নাম রাখে “মেরি”।
পুষ্পমামি রাখে নাম, “অলকা সুন্দরী”।
অমিয় মামিমা নাম রেখেছে “অশােকা”।
নিৰ্ম্মল মামি রাখিয়াছে নাম “নেহারিকা”।
প্রতিমা মামিমা নাম, রাখিয়াছে “ডলি”।
বড় দিদিমা স্নেহে নাম, রেখেছিলেন “ফুলি”।
সকলের বড় দাদামহাশয় যিনি।
আদরে রাখেন নাম, “বাসন্তিকা রাণী”।
সত্যেন দাদা রাখিয়াছে, নাম “সুপ্রতিমা”।
অমর দাদা স্নেহে নাম রাখিল “শােভনা”।
সৌরেন দাদা নাম রাখে, “অপর্ণা আমার”।
ভােতন দাদা রাখে নাম, “মুকুতার হার”।
শাভিভাৱ
সেজ দিদিমা রেখেছেন, “অম্বুজ বরণী”।
ছােট দিদিমা নাম রাখে, “গিরি নিঝরিণী”।
সুধীর মামা রাখে নাম, “কমল কলিকা”।
প্রভাত দাদা স্নেহে নাম রেখেছে “মণিকা”।
মুকু মামা নাম রাখে, “বীণার ঝঙ্কার”।
মুন্টিমামা রাখে নাম, “পাতার বাহার”।
অনাথ মামা নাম রাখে, “মধুর ভাষিণী”।
বিলাই মামা রাখে নাম, “চারু সুহাসিনী”।
রমেন মামা নাম রাখে, “বিজন বাসিনী”।
রণু মামা রাখে নাম, তুমি “সুরঙ্গিনী”।
লিলি মাসি নাম রাখে, “উজ্জ্বল সঙ্গিনী”।
প্রতিমা রাখিল নাম, “তারা বিলাসিনী”।
মিনা মাসি নাম রাখে, “মদনের
রতি”
মাধুরী রাখিল নাম, “দময়ন্তি সতী”।
মানসী রেখেছে নাম, “লবঙ্গলতিকা”।
মিহির রেখেছে নাম, “কিশােরি বালিকা।
অজিত রেখেছে নাম, “শান্তি তুমি ধীরা”।
দিলীপ রাখিল নাম, দিদি তুমি “নীরা”।
অবনী মামা নাম রাখে, “দেবলা সুন্দরী”।
ভােতন মামি রাখে নাম, “তুমি বিদ্যাধরী”।
মাকড় মামা নাম রাখে, “কুসুম কুমারী”।
টুনু মাসি নাম রাখে, “ললিতা সুন্দরী”।
শান্তিণীৱ নাম
বড় মা রাখেন নাম, “শান্তিলতামণি”।
লাল বাবু নাম রাখেন, “সুনীলিমা রাণী”।
পটল দাদু রাখে নাম, “গােলাপী আতর”।
ফণি মামা নাম রাখে, “মা জননী মাের”।
বলাই দাদু নাম রাখে, “ঘড়ির লকেটখানি”।
মণি দিদি রাখে নাম, “নয়ন ভুলানি”।
সুবােধ দাদু স্নেহে নাম রাখে “শতদল”।
ধনু, দাহ রাখে নাম, “সােনার কমল”।
শৈল দিদি রাখিয়াছে, “কুন্তল বাহার”।
প্রভা দিদি রাখিয়াছে, নাম “রত্নহার”।
বিনা দিদি রাখিয়াছে, “সতিনী নাগিনী”।
বুড়ী দিদি নাম রাখে, “করুণা রূপিণী”।
বিজন দিদি রাখে নাম, “কাবুলি বাদাম”।
লাটু মামা স্নেহে নাম রাখে, “নুরজাহান”।
ফটিক মামা রাখিয়াছে নাম “সূর্যমুখী ”।
শিবু মাসি “শক্তি” নাম, স্নেহে দিল রাখি।
টুনু মাসি নাম রাখে, “তপ্ত গােলাপ জাম”।
ফাতন মাসি রাখিয়াছে, “সুচৰ্বিত নাম”।
তারা মামা রাখিয়াছে, “শােভনার সার”।
গিরিজামামা রাখে নাম, “কুমুদ কহলার”।
ঘেটু মামা রাখিয়াছে, নাম “অপরাজিতা”।
আশা মাসি রেখে দিল, নাম “কনকলতা”।
শভিভাৱ
চিন মামা নাম রাখে, “শান্তি বাবু তুমি”।
সত্য মামা রাখে নাম, “জগৎ জননী” ।
কমল মাসি নাম রাখে, “আকাশের তারা ”।
নিলু মামা রাখে নাম, “হাসির ফোয়ারা”।
কাশীর ঝি-মা নাম রাখে, “সুভদ্রা রতন”।
দুর্গা দাদা রাখে নাম, “তুলাবতী ধন”।
জামমণি নাম রাখে, “আনন্দ বাজার”।
নিৰ্ম্মল ঝি-মা রাখে নাম, “কোকিলা আমার”।
প্রাণুমণি নাম রাখে, “সাধনা জননী”।
মণ্টধন রাখে নাম, “বিদ্যুৎ বরণী”।
গঙ্গমেসসা রাখিয়াছে, নামটি “ভারতী”।
বন্ধু মাসি স্নেহে নাম, রেখেছে “সুকৃতি”।
ইন্দু দাদা নাম রাখে, “গরবিনী রাণী”।
যােগেন রাখিল নাম, “চির সােহাগিনী”।
নগেন দাদা নাম রাখে, “আদরিণী কনে”।
শৈল দাদা “উমা” নাম, রাখিল যতনে।
বিভূতিদা নাম রাখে, “মুনি-মন ভােলানি”।
সমাজপতি দাদা নাম রাখেন “কল্যাণী”।
বড় ঝি-মা নাম রাখে, “অপূর্ব সুন্দরী।
রাণী দি’মা রাখে নাম, “বিমল কুমারী”।
তােতা দাদা রাখে নাম, “মালতী বকুল”।
ভোদা দাদা নাম রাখে, “কাণে চাপার ফুল”।
*
শাভনা গান
কিরণ দি’মা নাম রাখে, “নয়নে কাজল”।
ননী দি’মা রাখে নাম, “পাকা লকেটফল”।
হিরণ দি’মা নাম রাখে, “স্নেহের সরমা”।
রাখিল পারুল দি’মা নামটি “সুষমা”।
নিলু দি’মা রাখে নাম, “লক্ষী নারায়ণী”।
কমল দি’মা নাম রাখে, “প্রেম মন্দাকিনী”।
বিমল দি’মা রাখে নাম, তুইলাে “যােড়শী”।
পাটুল দি’মা রাখিয়াছে, “স্বর্গ-গরিয়সী”।
শুদ্ধানন্দ মামা রাখে, “দীনের জননী”।
প্রিয়বন্ধু রানু রাখে, “পতি সােহাগিনী”।
মনের-কথা গৌরি রাখে, “হৃদয় পুতলি”।
ভালবেসে বন্ধু লীলা, নাম দিল “জলি”।
বন্ধু অরুণা নাম রেখেছে, “কল্পনা”।
মাদ্রাজি বন্ধু জয়া, রাখিল “গরিমা”।
পুঁটুদিদি স্নেহে নাম, রেখেছে “প্রভাতি”।
বুচুদিদি রাখিয়াছে, নাম “অরুন্ধতি”।
সুশীলা দিদিমা রাখে, “আশার লহরী”।
ব্রজমেসসা রাখিয়াছে, “তুষার সুন্দরী”।
প্রতিভা বৌদিদি রাখে, “কি অপূর্ব ছবি”।
হরিদিমা রাখিয়াছে, “নভেলিষ্ট কবি”।
কুমুদ ঝি-মা রাখিয়াছে, “ইলিনর” নাম।
শরৎ ঝি-মা রাখিয়াছে, নামটি “সুতান”।
শাভিভাৱা
২৪
ওজি দাদাবাবু নাম, রাখে “ক্ষণপ্রভা”।
বন্ধু লিলি ভালবেসে নাম দিল “নিভা”।
কুসুম দিদি নাম রাখে, “লক্ষমীর প্যাটারি”।
মতি দি’মা রাখিয়াছে, “অন্নপূর্ণেশ্বরী”।
প্যারিদাদা রাখিয়াছে, নাম “শৈবলিনী”।
রাশিতে উঠেছে নাম, “লীলা তরঙ্গিনী”।
শান্তির নাম পূর্ণ হ’ল এইবার।
পাঠক পাঠিকাগণে, করি নমস্কার ।
পদধূলি দেহ সবে শান্তিকে আমার।
মা বাপের কোলে সুখে রহে অনিবার।
পতি-সােহাগিনী হয়ে, কাটায় জীবন।
ভাইটীর প্রতি স্নেহ রাখে সর্বক্ষণ ।
শ্বশুর শাশুড়ী পদ পূজে ভক্তি ভরে।
দেবর দু’টিকে বাঁধে স্নেহ-প্রীতি ডােরে ।
ভাশুরের পুত্র কন্যা স্নেহের পুত্তলি।
স্নেহভরে ভালবেসে লয় কোলে তুলি।
ভাশুর ও দিদিদের দেয় ভক্তি প্রীতি।
গুরুজন সকলের পদে করে নতি।
দাস দাসী সকলেরে যেন ভালবাসে।
পতি-প্রেমে প্রাণখানি সদা যেন ভাসে।
পশে দুঃখের লেশ যেন ও হিয়ায়।
ধৰ্ম্ম, অর্থ, যশ, মান, উভয়েতে পায়।
শাস্তিরাগার নাম
পতি পুত্র লয়ে সদা সুখে করে ঘর।
দরিদ্র সেবায় প্রাণ ঢালে নিরন্তর।
ক্ষুধার্তকে অন্ন দেয় পিপাসার জল।
ভয়ার্ল্ডে অভয় দিয়ে দেয় স্নেহ কোল
পরদুঃখে ঝরে যেন নয়নের বারি।
হৃদয়ে সদাই থাকে “উজ্জ্বল মুরারি।
স্বার্থ চিন্তা কভু যেন নাহি স্থান পায়।
শান্তির অমিয় ধারা বহে ও হিয়ায়।
বাক্সভরা টাকা হয় গােলাভরা ধান।
দেশে যেন ভরে যায় অন্নপূর্ণা নাম।
বরকে রাখিবে সদা বাঁধিয়া অঞ্চলে।
রাখিবে অঞ্জন করে নয়ন যুগলে।
মালতি মালার মত রাখিবে গলায়।
তিলমাত্র ছাড়া ছাড়ি যেন নাহি হয়।
জগদীশ ! এ সকলি কৰাে তুমি দান।
তার সঙ্গে রেখে দিও দিদিমায়ের টান
স্নেহাশীষ
আজি এই শুভদিনে,
তােমারে কি দিব আর ।
দগ্ধ প্রাণে শান্তিবারি,
আমার নিলিমা হার।
ফুল্লমুখী এলােকেশী,
আদরিনী তুই আমার।
ছুটে ছুটে চলে আসে,
মুখে পড়ে কেশভার।
অমিয় মুখেতে হাসি,
চুমাে খেয়ে আসে কোলে
আমার এ শান্তিরাণী,
কাল মাখা এলাে চুলে
।
স্নেহাশীষ
উড়িতেছে সমীরণে,
চরণ চুমিত চুল।
এলােচুলে সারাবাড়ী
খেলা করে নাহি তুল।
নাহি আজ হৃদাকাশে,
বিষাদের কাল ছায়া।
তাের সুখে বহিতেছে,
হৃদয়ে মধুর হাওয়া।
শান্তি-তারা মিশিয়াছে
দুটি প্রাণ এক হয়ে।
পবিত্র প্রণয় মালা
পরেছে প্রফুল্ল হয়ে।
সেজেছিস্ নব সাজে,
দাড়ায়ে পতির পাশে।
চারুচন্দ্রা নিভাননী,
কি মাধুরী মুখে ভাসে।
আজি চারু হেমরূপে
পদ্ম মুখী মনােরমা।
শিহরে পরাণ মম,
তােরে হেরে শান্তি ওমা ।
তাের কচি বক্ষে আজি,
দুলিছে মালতিমালা।
শাতিহাৱা
২৪
অলকে কেতকী হার,
মরি কি শােছি বালা।
হেম আভরণ গুলি
অঙ্গে তাের সুশােভিছে।
ললাটে সিন্দুর বিন্দু,
কিবা শােভা হইয়াছে।
শরীর হৃদয় মন,
আজি হতে মা আমার,
তােমারি দেবতা পদে
সপে দাও অনিবার।
দেখ, আজি তাের তরে
পিকবর গান গায়।
তুষিতে তােমার প্রাণ
ভ্রমর গুঞ্জরি যায়।
ওই দেখ মা আমার,
তোমার হৃদয়-রাজে।
পদ্ম মুখী হেনা গন্ধে,
প্রেমের বাঁশরী বাজে।
সহকার বিজড়িত
ফুল্ল মুখী “শান্তিলতা”।
দেবের চরণে তাের
হােস মাগাে অবনত।
স্নেহাশীষ
আজি মম মরমের,
এই আশীর্বাদ বাণী।
তােমার অন্তরে যেন,
পশে ওমা “শান্তিরাণী” ।
আজি হইয়াছে মম
ভগ্ন গৃহে পুনরায়।
হিরণ্যের রাজ্য পাট,
হাসিতেছে সুষমায় ।
তাই আজি ভগ্ন প্রাণে
আনন্দের স্রোত বয়।
আজি এ পবিত্র দিনে
কি আনন্দ মধুময়।
আজি এই শুভদিনে
আর কোলে শান্তিরাণী।
দেখিরে মনের সাথে,
তব স্নেহ মুখখানি।
নাতিনী আনন্দময়ী,
জগতে আমায় তুমি,
জুড়ায়েছ স্নেহসারে,
তপ্ত হৃদি মরুভূমি।
এ মরমে জ্বলিত মা,
দীপ্ত বহি সাহারার।
শতভাৱা
তােমরা যুগলে আজি,
ঢালিলে অমৃতসার।
নয়নে অমৃত রাশি,
তুইলাে স্নেহের মণি,
লজ্জিত কমলারূপে,
পূর্ণ চন্দ্র নিভাননী।
স্নেহ মমতার লল,
আদরের আদরিণী।
পবিত্ৰতাময়ী তুমি,
সােহাগের সােহাগিনী।
পূর্ণচন্দ্র রুচি যথা,
স্কুরিত মা নীলাম্বরে।
প্রফুল্ল পঙ্কজ মুখে,
যথা মা অমিয় ঝরে।
সেইরূপে স্নেহ-দৃপ্ত,
তব মুখে অবিরল ;
ফুটে মা করুণা প্রভা,
ঋরে মা মেহের জল।
এ দরিদ্রা কণ্ঠে বুড়,
তুই যে রে অনিবার।
শত-চন্দ্রকরােজ্জ্বল
মণি-মরকত হার।
আজি এই শুভদিনে,
চির পবিত্রতাময়।
তােরি তরে আজ শান্তি,
এ উৎসব সমুদয় ।
দেখ, শান্তি তাের তরে,
আজি এই নিকেতন।
সাজিয়াছে ফুলে ফুলে,
যেন রম্য কুঞ্জবন ॥
চারিদিকে বিজড়িত,
চারু-ফুল্ল লতা-হার।
তারি মাঝে শােভাময়ী
ফুল রাণী তুই আমার।
ফুল হারে লতা দামে,
কারুকার্য অতুলন।
কি বিচিত্র শােভা শান্তি,
করিতেছে বিকিরণ।
চারিদিকে ফুলে ফুলে,
হাসে শোভা বিনােদিনী।
মূর্তিমতী শােভা আজি,
চিত্র-ধ্বজ পতাকিনী।
চিত্রিত কুসুমে শােভে,
চন্দ্রাতপ মনােহর।
लाडि-डया
যেন ফুল্ল তারারাজি,
উন্মিলীত নীলাম্বর।
নানা চিত্রে বিচিত্রতা,
খচিত
কুসুমে ফলে।
রঞ্জিত কতই সাজে,
হইয়াছে সভাতলে ।
আজি এই শুভদিনে,
তােমায় পরের করে।
অক্ষয় বেষ্টন দিয়ে,
বাধিলাম ফুলহারে।
এ বার’ বৎসর তাের,
ছিল রে মায়ের কোল
পিতার আদর স্নেহ,
ঝরিত মা অবিরল।
ভাইটীর ভালবাসা,
দিদিমার স্নেহাদর।
পুতলি লইয়ে মাগাে
বেঁধেছিলে খেলাঘর।
জীবনের সাথী সনে,
নতুন জীবন তরে।
যেতে তােরে হবে আজ,
তােরি মা আপন ঘরে
স্নেহাশীষ
যেখানে মা যাবি আজ,
সেই তাের কৰ্ম্মভূমি।
নারীর সাধন সেই,
সদা মনে রেখ তুমি।
এক মনে এক প্রাণে,
মেহের এ দু’টি ফুলে,
রেখ সদা ভগবান
বিপথে না যায় ভুলে।
আবাহন
উল করিয়া হৃদয় মােদের,
এস ভুবনমােহন বেশে।
আমরা হরষে রয়েছি বসিয়া,
তোমার আসার আশে ।
প্রাণভরা প্রেম ল’য়ে এস তুমি,
মুখে লাজ হাসি অকিয়া।
এস আলােকিয়া কুঞ্জ কুটীর,
গাহিছে দোয়েল পাপিয়া ।
এস আমাদের সাধনার ধন,
এস ওগাে ত্বরা কর্মবীর।
এস হাসি মুখে, প্রেমভরা বুকে,
এস, প্রাণপ্রিয় “শান্তি”টির
আবাহন
মুচ্ছিত-হৃদি-মুরজ তন্ত্রে,
তুলি কোকিলের তান।
এস “উজ্জ্বল” কুঞ্জ-কাননে,
গাহিয়া প্রেমের গান।
“শান্তির নীল আঁখিটীর সনে,
মিলাও তােমার আঁখি।
পুলকে ব্যাকুল হৃদয় দু’টি,
মিলন সুখের লাগি ।
এস “উজ্জ্বল” এস সুন্দর,
এস, “শান্তির” পরাণ-প্রিয়।
পাণ্ডুর ওই গণ্ডযুগল,
সােহাগ তুলিতে রাঙিয়া দিও।
বিরহিনী বেশ ঘুচায়ে আজ,
পরাও প্রেমের হার।
এস হাসি মুখে প্রেমিক রতন,
খােলা এ কুটীর দ্বার ।
উজ্জ্বল এল
উজ্জ্বল এল, বাড়ী মাতলাে
শান্তিরাণী হাসে।
ভাবছে মনে,
মনে, কতক্ষণে
বসূবে বরের পাশে ॥
উজ্জ্বল বাবু মনটি কাবু
সয় না দেরী আর।
কতনে শান্তি-মালা,
কবে কণ্ঠহার ।
গোঁফের পাশে মিঠে হাসি,
যাচ্ছে ঝলক দিয়ে।
মনের মতন পেলে রতন,
হৃদয় বদল দিয়ে ।
আজকে আমি তােমায় তারু,
বলছি ক’টি কথা।
শুলে পরে বুঝবে দি’মার
দক্ষ প্রাণের ব্যথা ।
উত্তল এল
চির দিনটা কেঁদে কেঁদে,
গেছে আমার ভাই।
আজকে এমন সুখের দিনে,
হাঁসতে কেবল চাই ।
ছাই-ভস্ম আমার এ গান,
দেবার মতন নয়।
ঘৃণায় যদি দাও ফেলে ভাই,
তাইতে মনে ভয়।
যা কর তাই কবে তুমি,
এবার আমার শেষ।
যুগল-পদে প্রণাম আমার,
দয়াল পরমেশ।
স্নেহ-উপহার
দাড়াও আসিয়া কাছে “উজ্জ্বল” রতন।
তােমারে হেরিয়া আজ জুড়াল নয়ন।
শান্তি ধন তব করে
অর্পিলাম সমাদরে,
শরতের শশী জিনি অমুল্য রতন।
যতনে আদরে তুমি করিও গ্রহণ।
মা বাবার সরব, শান্তিকে আমার।
ভালবেসে রেখ কাছে, সুখে অনিবার।
এ বার বছর তার
ছিলনা সংসার ভার,
হেসে খেলে ছিল সদা, মা বাপের কোলে
দিদিমার বুকে সুখে, ছিল কুতূহলে
স্নেহ-উপহার
কোমল কলিকা সম স্নেহের পুতলি।
পাইলে তােমার স্নেহ সব যাবে ভুলি ।
যদি কভু দোষ করে,
ক্ষমিও সদয়ে তারে,
শিখাইয়া দিও সদা, নীতি কথা বােলে।
রেখ তারু, স্নেহাদরে তব পদতলে।
রত্ন ধন কিছু নাই, এই অভাগীর।
স্মরণে সকল কথা, চক্ষে বহে নীর।
মা বাবার সঙ্গে
তােমায় দিলেন হর্ষে,
জ্ঞানবান, বুদ্ধিমান, “উজ্জ্বল” রতন।
মহামুল্য নিধি আজ করগাে গ্রহণ।
শান্তির বিনিময়ে পাইমু তােমায়।
রাজ রাজ্যেশ্বর হয়ে থাকিও ধরায়।
হিংসা দ্বেষ, স্বার্থ সুখ
পশেনা অন্তরে দুখ,
দরিদ্রের দুঃখে সদা প্রাণ যেন গলে।
আত্মীয় স্বজন লয়ে থাক কুতুহলে।
s
শাকিরা
শান্তি যে কি ধন মাের, কি জানিবে পরে।
ভাষায় পাইনে খুজে, বলিব কি করে।
দেখি আজ চেষ্টা করি,
বর্ণিতে পারি কি হারি ;
বর্ণনা আমার যদি ভাল নাহি হয়,
তুমিই সারিয়া নিও, হইয়ে সদয় ।
করিতেছি আশীৰ্বাদ আনন্দ অন্তরে।
হইবে উভয়ে সুখী, থাকিয়া সংসারে।
কি বলিব আমি আর,
সাধ্য কিবা বলিবার,
ঈশ্বর মঙ্গলময়, রাখিও স্মরণ।
সুখে দুখে ভারি পদে সপিও জীবন ।
শান্তি আমার কে
( ১ )
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ?
শান্তি আমার সর্বস্ব ধন, সকল ধনের সার।
শান্তি আমার নয়ন মণি, শান্তি দেহের প্রাণ।
শান্তি আমার মাথার মুকুট, শান্তি কাণের কাণ।
শান্তি আমার ফুল চিরুণি, শান্তি মাথার বিনা।
শান্তি আমার ঝাপটা সিথি, শান্তি গলার দানা।
শান্তি আমার নাকের নোলক, হাতের তাগা বালা।
শান্তি আমার তাবিজ বাজু, গলায় মতির মালা।
শান্তি আমার চুড়ি ব্রেসলেট, শান্তি
রতনচূর।
শান্তি আমার মােহর গিণি, শান্তি কোহিনুর।
কত সাধের শাস্তি আমার, গলার পুষ্পহার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
শান্তি আমার হীরের টায়রা, শান্তি হেয়ার পি।
শান্তি আমার মুক্তর শেলি, শান্তি ইয়ারিন।
শান্তিভাৱা
৪২
শান্তি আমার ইন্দ্রজাল, কাণের বেল কুঁড়ী
শান্তি আমার যশম বাঁক, শান্তি চেইন চুড়ী।
শান্তি আমার বাদলার মালা, শান্তি ঝুমকো ফুল।
শান্তি আমার ইয়ার টপ, শান্তি হীরের দুল।
শান্তি আমার বুকের ব্রুচ, শান্তি হাতের ঘড়ি।
শান্তি আমার তাড় দু’খানি, বাউটী সুটের চুড়ী।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার পাটীহার।
“কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
( ৩ )
শান্তি আমার পায়ের তােড়া, ঘুঙুর গাঁথা মল।
শান্তি আমার চরণ-পদ্ম, হাতের মটর ফল ।
শান্তি আমার গলার চিক, বাঁশ গাঁটের রুলি।
দশ আঙুলের আংটি শান্তি, গলাতে মাদুলি ।
শান্তি আমার নাক-ছাবিটি, কাণের প্রজাপতি।
শান্তি আমার ফুলঝুমকো, কাণবালাতে মতি ।
শান্তুি আমার গুজরি পঞ্চম, চুটকি পাইজোর।
শান্তি আমার কোমরপাটা, শান্তি আমার বাের।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার চেইন হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
(৪)
শান্তি আমার জ্যাকেট বডি, শান্তি জাপান সাড়ী।
শান্তি আমার সেমিজ রাউস, বেল ফুলের ছড়ি।
শান্তি আমাকে
শান্তি আমার তসর গরদ, গায়ের নামাবলী।
শান্তি আমার সকাল সন্ধ্যায় হরি নামের ঝুলি।
শান্তি আমার ফরেশডাঙ্গার কালা পেড়ে ধূতি।
শান্তি আমার আঁধার ঘরে ইলেকটিক বাতি।
শান্তি আমার অটো-ডি-রােজ, শান্তি কুন্তলীন।
শান্তি আমার মুখের শােভা, সাধের তাম্বুলিন।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার তারাহর।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
( ৫ )
শান্তি আমার পাউডার ব্লুম, মনমােহিনী টিপ।
শান্তি আমার তরল আলতা, পালিস্ পাতার চিহ্ন।
শান্তি আমার চিরুণী ব্ৰু, শান্তি সেপ্টিপিন্।
শান্তি আমার চোখের সুরমা, শান্তি হেয়ারলিন।
শান্তি আমার কাশীর সূৰ্ত্তী, তাম্বুল বিহার।
শান্তি আমার কসমেটিক, কুন্তলবাহার।
শান্তি আমার টুথ-পাউডার, ভিনােলিয়া ক্রীম।
শান্তি আমার পিয়ার সােপ, শান্তি আলপিন্ ।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার বেণী হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
লক্ষের জর্দা শান্তি, বাঁকিপুরের পান।
শান্তি আমার গয়ার তামাক, কৈখালির মান।
শাভিভাৱা
3
শান্তি আমার আয়না চিরুণ, শাস্তি সিথের সিদুর।
শান্তি আমার মছলন্দের রঙিনা মাদুর।
শান্তি আমার সখের গাড়ী, ফিন্ টন্ট।
শান্তি আমার ম্যাকেসার অয়েল, আর পমেট ।
শান্তি আমার চতুর্দোলা, আটঘােড়ার গাড়ী।
শান্তি আমার চৌরঙ্গিতে বিউটী বাগান বাড়ী।
কত সাধের শাস্তি আমার, গলার বিছে হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
(1)
বৈশাখ মাসে শান্তি আমার, ভরা ফুলের সাজি।
জ্যৈষ্ঠ মাসে শান্তি আমার, আমের সঙ্গে চাছি।
আষাঢ় মাসে শান্তি আমার, মিষ্টি কঁাটাল-কায়।
শ্রাবণ মাসে শান্তি আমার, মিঠে বাদল হাওয়া।
ভাদ্র মাসে শান্তি আমার, পাকা তালের ধামা।
আশ্বিন মাসে শান্তি আমার, নূতন কাপড় জামা।
কার্তিক মাসে শান্তি আমার, ভাই ফোটার প্রমুখ।
অঘ্রাণেতে নবান্ন পাই, চুমি শান্তির মুখ ।
পৌষ মাসে দারুণ শীতে, শান্তিরাণী মাের।
লেপটী হয়ে জুড়ায় হিয়ে, কাটায় শীতের ঘাের।
মাঘ মাসে শান্তি আমার, শ্রীপঞ্চমী তিথি।
ফাল্গুন মাসে শান্তি আমার, দোল খেলার সাথী।
s
শান্তিআমাৱ কে
চৈত্র মাসে শান্তি আমার, কচি আমের ঝােল।
ঘুমের সময় শান্তি আমার মায়ের স্নেহ কোল।
কত সাধের শাস্তি আমার, গলার নেকলেস হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার।
(৮)
শান্তি আমার স্নেহে মাতা, যত্নেতে ভগিনী।
পালন কর্তে শান্তি পিতা, খেলাতে সঙ্গিনী।
ভাবের সময় সুহৃদ শান্তি, পরামর্শে ভাই।
সােহাগ কৰ্তে শান্তি পতি, কোথাও এমন নাই।
আপ্যায়িতে কুটুম শান্তি, পরিচৰ্য্যায় দাসী।
গানের সময় শাস্তি আমার ক্ল্যারিয়নে বাঁশী ।
মানের সময় নূতন ক’নে, রহস্যে নাতিনী।
ঝগড়া কার সময় আমার শান্তিটি সতিনী।
আঁচল ধরে ঘােরে যখন, শান্তি তখন মেয়ে।
বুক জুড়াবার সময় শান্তি, বেশী ছেলের চেয়ে।
কত সাধের শাস্তি আমার, গলার কেবল, হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
(৯)
শাস্তি আমার গ্রীষ্মকালে, ঘরে মােয়া ঘােল।
শান্তি আমার দোয়াদশীর, কচি ডাবের জল।
শান্তি আমার বর্ষাকালে, চাল ছােলা ভাজা।
শান্তি আমার মুখের রুচি, খাস্তা জিবে গজা ।
শাভিভাৱ
শান্তি আমার চিনে বাদাম, শান্তি চানাচুর ।
শান্তি আমার কাবুলের বেদানা আর।
শান্তি আমার কটকের মনােহর ছড়ি।
শান্তি আমার হাওয়া খাবার, সাধের মটর গাড়ী।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার কড়ি হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
(১০)
শান্তি আমার ছানার পায়েস, শান্তি মুগের পুলি।
শান্তি আমার পাপর ভাজা, হাঁচি পানের খিলি ৷৷
শান্তি আমার ঢাকাই শাখা, হাতের শােভা নােয়া।
শান্তি আমার পয়ড়া গুড়, জয়নগরের মােয়া ৷
মঙ্গপুরের লিচু শান্তি, মালদহের আম।
মধুপুরের হাওয়া শান্তি আমার অবিরাম।
রাজসাইয়ের রাঘবসাই, আমার শান্তিমণি।
শান্তি আমার জৈনদের বাদাম কালিখানি ।
কত স্থাধের শাস্তি আমার, গলার দমা হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
(১১)
বর্ধমানের মিহিদানা, আর সীতা ভােগ।
শান্তিরাণী আমার ওগাে, মােগলাই মােহনভােগ।
কাশীধামের রাবড়ী শান্তি, আর চেলীর সাড়ী।
শান্তি আমার দগ্ধ প্রাণে, মরুভূমির বারি।
শান্তি আমাকে
মহেশপুরের আমসত্ত্ব, গয়ামের প্যাড়া।
বালুচরের শান্তি আমার হচ্ছে ছানার বড়া।
কৃষ্ণনগরের সরপুরিয়া, কাদীর মতিচুর ।
শান্তি আমার গৈবীর জল, ধনেখালি-খৈচুর।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার বিস্কুট হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
( ১২ )
বৃন্দাবনের ছােলা ভাজা রামপালের কলা!
চিকন্দীর ক্ষীর শান্তি, তারকেশ্বরের ওলা।
দারজিলিঙ্গের কফি কড়াই, ফতুল্লার চিড়া।
চাদার পটল শান্তি, চিত্র করা পিড়া।
শান্তি আমার লালবাগের, কাচা মিঠে আম।
বারুইপুরের শান্তিরাণী, আমার গােলাপ জাম ॥
জনায়ের মনােহরা, নৈনিতালের আলু।
মুড়ােগাছার জিলিপি শান্তি, বােখরার শকিআলু।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার হেঁসােহার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
( ১৩ )
মুর্শিদাবাদের বালাপােষ, কাশ্মীরের শাল।
শান্তি আমার চির পেঁপে, খাগড়াই পদ্মথাল।
মানকরের কদমা শান্তি, কাবুলের মেওয়া।
পুরীধামে শান্তি আমার, মহাপ্রসাদ খাওয়া।
শান্তিভাৱা
e
হাজারি পাটালি শান্তি, জয়পুরের পাথর।
শাস্তি ঢাকার ঢাকেশ্বরি, অমৃতি ও কাপড়।
সিলেটের কমলালেবু, ব্যারেলার মুড়ী।
হরিদ্বারে শান্তি আমার, পাথরের মুড়ি।
কত সাধের শাস্তি আমার, গলার দড়া হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার।
( ১৪ )
গােয়ালন্দের তরমুজ শান্তি, ফরিদপুরের আক।
বালুচরের শাস্তি আমার, মটর কলাই শাক।
লক্ষের খােদমুজা শান্তি, বােম্বাইয়ের কুল।
শান্তি আমার বাগান আলল, সুবাস গােলাপ ফুল।
বদিবাটীর কুমড়া শান্তি, কুরুক্ষেত্রের হ্রদ।
শান্তি আমার অভ্র-চুমী এভারেষ্ট পর্বত ।
খাগড়ার মুড়কী বাসন, বাজিৎপুরের পাটি।
বেহালার ডাব শান্তি, গড়ব্যাতার মাটি।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার হেলে হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
( ১৫ )
বাগবাজারের রসগােল্লা আমার শান্তিরাণী।
গাজিপুরের গােলাপ জল আমার শান্তিমণি।
নাটোরের কাঁচাগােল্লা আমার শান্তি ধন।
ভীমনাগের সন্দেশ শান্তি দেখনা কেমন।
শান্তি আমার কে
মেনিপুরের আলতা যে গাে আমার শান্তিলতা।
কথাগুলি মধুর যেন দোয়েল, কোকিল, তােত।
সতী-শােভনা সিন্দুর শান্তি, গালের মিল্ক বােজ।
শান্তি আমার হেনা খস্ খস, শান্তি দেখােস।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার গােট হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
(১৬)
মুর্শিদাবাদের আম হচ্ছে আমার শান্তিরাণী।
তসর, গরদ, শিল্ক, মটকা, আমার শান্তিমণি।
বসরার গােলাপ শান্তি, সুগন্ধে অতুল।
কালুখালির বাঁধে শান্তি, সহাস শিমুল।
শিঙ্গাপুরের নারিকেল, কলা, শান্তিরাণী-ধন।
দুবরাজপুরের বাতাসা শাস্তি, বড় মনােরম।
পারস্যের কারপেট শান্তি, অতি মনােহর।
সিরাজগঞ্জের পাট শান্তি, অতীব সুন্দর।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার বিনােদ হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
(১৭)
কিনগঞ্জের বেগুন হচ্ছে শান্তিরাণী মাের।
রুদ্রপুরের লঙ্কা শান্তি, ঝালেতে বিভাের।
শান্তি আমার গরমলুচি, আলু পটল ভাজা।
শান্তি আমার কাহাল গাঁয়ের, টিকলি ছানা খাজা।
৪
শান্তিভাৱা
কাশীর পেয়ারা শান্তি, ক্ষীরপাইয়ের শশা।
নবদ্বীপের শিঙাড়া শান্তি, খেতে লাগে খাসা।
গুহ গ্রামের চাছি শান্তি, জানি ভাল মতে।
দমদমার পানতুয়া, ভুল নাই তাতে।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার ফানস হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
(১৮)
রংপুরের গুড় শান্তি, জানি চিরকাল।
মালদহের খাজা শান্তি, জিবে ঝরে লাল ।
আজিমগঞ্জের বরফি যে গাে, আমার শান্তিরাণী।
দিঘাপতীর ক্ষীর শান্তি, ভালরূপে জানি।
বলুটীর রসকরা, লাগলবন্ধের বেল।
শান্তি আমার মাথা ঠাণ্ডা, শ্ৰীগােপাল তেল।
আরবের পান্থতরু, মৌমিক বায়ু।
কিম্বারলের হীরকখনি, শান্তি আমার আয়ু।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার মতি হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
(১৯)
আগরার তাজমহল, আমার শান্তিরাণী।
শান্তি আমার সাগরের মণি মুক্তা চুণী।
প্রাগধামে শান্তি আমার ত্রিবেণী সঙ্গম।
শান্তি আমার আর্যজাতির সভ্যতা ভূষণ।
শান্তি আমার কে
মথুরায় শান্তি আমার যমুনা হিল্লোল।
অমােধ্যায় শান্তি আমার সরষু শীতল।
নৈমিষারণ্যেতে শান্তি, সুমিষ্ট খাবার।
নিজে না দেখিলে গুণ বুঝিবে না তার।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার বাদাম হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
( ২০ )
তালের পাটালি শান্তি, ডায়মণ্ডহারবার।
দারজিলিঙ্গের চা শান্তি, হুকা কুমিল্লার ।
হেনার চুরট শান্তি, বােগদাদী খেজুর।
নােয়াখালির নারকেল শান্তি, তামাক রংপুর।
পঞ্জাবের গম শান্তি, বরিশালের চাল।
কলিকাতায় ভিক্টোরিয়া মেমােরে’ল হল ।
কাশ্মীরের দৃশ্য শান্তি, গােলকুণ্ডার হীরা।
মস্কোর ঘণ্টা খানি হচ্ছে শান্তি মেরা।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার বকুল হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
( ২১ )
সেলিমারের বাগান শান্তি, অজয়ন্তির গুহা।
দিল্লীর কুতবমিনার, বসন্তের হাওয়া।
বরিশালের মুসুর ডাল, দেওয়ানীর খাস।
মহিশুরের স্বর্ণখনি, কদকেলি তাস।
শক্তি-তাৱা
মিশরের পিরামিড, শান্তিরাণী ধন।
সীতাকুণ্ডের শান্তি আমার, উষ্ণ প্রস্রবন ।
বৰ্মার চুরুট শান্তি, কাঞ্চনপুরের ছুরি।
সুইজার সৌন্দৰ্য্য, আমার শান্তি বুড়ী।
কত সাধের শাস্তি আমার, গলার সীতাহার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ॥
( ২২ )
চাটগাঁয়ের ওল শান্তি, টেমস নদীর সেতু।
ব্যাবিলনের শূন্য-উদ্যান, আমার শান্তিকেতু ।
কৃষ্ণনগরের মেটে পুতুল, ইজিপটের তুলা।
জ্যোনেসবার্গের স্বর্ণখনি, দেবীপুরের মূল।
রােড সাইপ্রাস পিতল মূর্তি, আমার শান্তিমণি।
শান্তি আমার মেদিনীপুরের সখের মাদুর খানি।
ময়মনসিংহের শান্তি আমার তিল, সরষে, তিষি।
হুগলি জেলার শান্তি আমার চট, বস্তা, রসি।
কত সাধের শাস্তি আমার, গলার মটর হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার।
( ২৩ )
টাঙ্গাইলের কাপড় শান্তি, পাবনার গম।
চুনারের খেলনা শান্তি, রাজশাহী রেশম ॥
হাবড়ায় শান্তি আমার কাগজের কল।
সরােবর মাঝে শান্তি, ফুটেছে কমল।
শান্তি আমার কে
পাবনার আচার শান্তি, যশােরের কই?
ভাগলপুরে আমার শান্তিকামধেনু গাই ।
হুবিগ্ৰেণ্ডের এসেন্স, শান্তি, মােল্লা-চকের দই।
বেহালার পাচন শান্তি, সত্য করে কই।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার সূৰ্য্যহার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
( ২৪ )
শাস্তি আমার রেসলেট, আর মানতাসা।
শান্তি আমার আরমূলেট, শান্তি কাণের পাশা।
গােকুলে শান্তি আমার আনন্দ-নিঝর।
আজমীরে শান্তিরাণী হয়েছে পুষ্কর।
(ককেসাস) জর্জিয়ায় শান্তি মম সৌন্দর্য্যের খনি।
মৈত্রেয়ী সমান:জ্ঞানে, মাের শান্তিরাণী।
মৈথিলী নারীর সমান নয়ন যুগল।
কেরলি অঙ্গনা সম, শাস্তির কুন্তল।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার শেলিহার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
( ২৫ )
ব্রজবাসিনীর সম মধুর বচন।
অ্যারমানী সমান শান্তির গায়ের বরণ।
কর্ণাট-কামিনী সম শান্তির কোটিখানি।
উৎকল-কামিনী সম শান্তির উরু জানি।
শান্তিভাৱা
s
চম্পক অঙ্গুলি সম শান্তির অঙ্গুলি।
ওষ্ঠ দুখানি যেন, কমলের কলি।
সুন্দরী আমার চোখে শান্তিটি যেমন।
অপরের চোখে বটে হবে না তেমন।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার বলস হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার।
( ২৬ )
পাটনার হলুদ শান্তি, ধাপার পুইডাটা।
গুজাদিয়ার কাটাল শান্তি, মথুরার মাঠা।
লাহােরের আসন শান্তি, রেঙ্গুনের ছাতা।
কল্পতরু সমান আমার, শান্তিরাণী দাতা।
মগরা হাটের গুড় হচ্ছে মাের শান্তিরাণী।
চাঁদপুরের সুপারি শান্তি, ভাল রকম জানি।
উলুকান্দায় শান্তি আমার, বেঁউচ আর গাব।
গল্পের সময় শান্তিরাণীর আমার সনে ভাব।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার কণ্ঠহার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
( ২৭ )
কোরিয়ার মােছলিয়াম, চীনের প্রাচীর।
অলিম্পিয়ার জুপিটার ও ভায়েনার মন্দির।
আলেকজান্দ্রিয়ার আলােক মঞ্চ, আমার শান্তি বুড়ী।
নায়েগ্রা জলপ্রপাত, শান্তিপুরের সাড়ী।
শান্তি আমার কে
শান্তি আমার হচ্ছে কাগজ, টিটাগড়, ইন্দোর।
শাল, আলােয়ান, শান্তি রামপুর অমৃতসর।
শান্তি আমার আফিং হচ্ছে, মালব বিহার।
ব্ৰহ্মদেশে রেশম হচ্ছে, শান্তিটি আমার ।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার চন্দ্রহার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
( ২৮ )
সিন্ধুদেশে মির্জাপুরে, শান্তি আমার পশম।
পােভা ঘায়ে নিম ঘিয়ে শান্তি আমার মলম ॥
আমার নয়নে শান্তি পরম সুন্দর।
পারিসের এসেন্স শান্তি কনােজ আতর।
দিল্লীর সিংহাসন, আমার শান্তি ধন।
সােহং গীতা, যােগবশিষ্ট শান্তনু রতন।
শান্তি আমার শঙ্করাচাৰ্য, বিচার চন্দ্রোদয়।
শান্তি আমার পঞ্চদশী, সােহং তত্ত্ব হয়।
কত সাধের শান্তি আমার, গলার সাতনর হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
( ২৯ )
বঙ্কিম বাবুর নভেল শান্তি, রবিবাবুর গান।
শান্তি আমার রত্নগিরি, মােহিত করে প্রাণ।
ঈশ্বরচন্দ্রের ‘ভ্রান্তিবিলাস', আমার শান্তিমণি।
সূৰ্য্যবাবুর কানন কুসুম’, ‘নীতি-মঞ্জরী’ খানি।
তিভাৱা
৩
মাইকেলের কাব্য শান্তি, কুমারবাবুর গীত।
স্বর্ণকুমারীর ‘ছিন্ন কুসুম’, ‘দীপনির্বাণ যথা।
নবীন বাবুর ‘কুরুক্ষেত্র’, ‘রৈবতক’ আর।
মানকুমারীর ‘প্রিয় প্রসঙ্গ’ শান্তিটি আমার।
কত সাধের শাস্তি আমার, গলার চ্যাটাই হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
( ৩ )
শরৎবাবুর গ্রন্থাবলী, নরেশবাবুর বই।
অনুরূপার ‘মন্ত্র শক্তি’, আমার শান্তি সই।
কামিনী সেনের ‘আলাে-ছায়া', নিরুপমার দিদি।
পাঁচকড়িদের ডিটেকটীভ, সেক্সপিয়র আদি।
মাথা ধরার শান্তি আমার, হচ্ছে বেলেডােনা।
সর্দিজ্বরে একোনাইট, আমার শান্তিমনা।
ম্যালেরিয়ার বিমাবস্থায়, শান্তি কুইনাইন।
কৃমি রােগে শান্তি আমার, হচ্ছে স্যান্টোনাইন।
কত সাধের শাস্তি আমার, দমা নেকলেস হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার।
( ৩১)
এমিটিন শান্তি আমার, হচ্ছে আমাশায়।
শান্তি আমার ক্যাম্ফার, দেখাে কলেরায় ।
কাশিতে আমার শান্তি, দেখাে ব্রাইওনিয়া।
শিশুর ক্রন্দন রােগে, দেখাে গাে কফিয়া।
।
শান্তিআমাৱ কে
হামের সময় শান্তি আমার, দেখ প্যসেটীলা।
পেট ফাঁপিলে শান্তিরাণী, আমার ক্যামােমিলা
কত সাধের শান্তি আমার, নবাবী কণ্ঠহার।
কেমন করে বলব আমি শান্তি কে আমার ।
(৩২)
খােস পাচড়ায় শান্তি আমার, হচ্ছে সালফার।
পেট ফঁপিলে কালাসিন্ধু, শান্তিটী আমার।
বসন্তবােগে এন্টিমচাৰ্য আমার শান্তি ধন।
সর্পাঘাতে এন্টিভেলিন শান্তনু রতন।
কোমর ব্যথায় নক্স, ভ্যমিক, আমার শান্তিমণি।
ইঞ্জায় রাস্ ঔষধ, আমার শান্তিরাণী ।
কত সাধের শাস্তি আমার, গােলাপ পাতা হার।
কেমন করে বলব আমি, শান্তি কে আমার ।
সাধের গান
আমার সাধের গানগুলি,
তােমার কাছে গাই;
সেই গানেরি মাঝে “তারু”,
তােমায় পেতে যাই।
সুরের দূত পাঠিয়ে “তারু”
তােমায় খুজে মরি।
মূচ্ছনাদের জালের মাঝে,
তােমায় যেন ধরি ।
সুদূর পাখীর মধুর তানে,
আওয়াজ তােমার পাই।
হাওয়ায় তােমার গন্ধ আনে,
গাওয়া ভুলে যাই।
আমার যত গানগুলি আজ
তােমার কাছে গাই,
গানের সনে “শান্তি দিয়ে,
তােমায় যেন পাই।
শুভাশীষ
আয় বুকে শান্তিরাণী, আদরিণী একবার।
এ শুভ বিদায়ে আজি, কি দিব তােমারে আর ।
আছে প্রাণে মেহরাশি,
মমতার চির হাসি,
আর আছে প্রাণ ভরা, বিষাদের অশ্রুধার।
আছে আর নিরাশার, চিরময় অন্ধকার।
এত যে মরমে শান্তি, জাগে শত হাহাকার,
এত যে নয়নে ঝরে, অশ্রুবারি অনিবার ;
সেই শত নিরাশ্বাসে,
সেই অশ্রুজল পাশে,
তাের শান্তি স্নেহরাশি, ঢালে নিত্য সুধা-সার।
শােক দুঃখ পরিতাপ, প্রাণে যে থাকেনা আর।
আজি এ বিদায়ে ঝরে, আনন্দের অশ্রুধার।
প্রতি অশ্রু মুক্তা রূপে, মালা শান্তি গাঁথি তার।
সে মুকুতা হার দিয়ে,
দিব কণ্ঠ সাজাইয়ে ;
এ নহে মা হীরে মতি, পান্না জহরত হার।
এ যে আঁখি জলে গাঁথা, চারু মালা মুকুতার।
শান্তিভাৱা
অভাগী দিদিমা তব, কোথা পাবে রত্নরাজি।
রাজরাণী হয়ে আজ, রয়েছি ভিখারি সাজি।
অজলে দেখ বালা,
গেঁথেছি মুকুতা মালা;
শত স্নেহ প্ৰীতিমাখা, সে অমূল্য মালা পরি।
যাও শান্তি পতি গৃহে, ফুল্লরূপে আলাে করি।
হৃদয় দিয়েছি ডালি, কি দিব মা বল আর ।
আঁখি জলে গাঁথা শেষ, ধর স্নেহ-উপহার।
সম্পূর্ণ
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.