Dipsikha Library, Howrah

Gyan-bigyaner Madhubhanda Vol. 1, Ed.12

Roy,hiralal Ed. · 2010/04/29

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

b:
Z
--
y
}
a
ESC
iଓ

No text on this page.

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাঙ
প্রথম ভাগ—পরিবর্ধিত সংস্করণ
মৌমাছি
বপুর কলেজ অব ইঞ্জিনীয়ারিং এণ্ড টেকনােলজির সুপ্রসিদ্ধ
অধ্যাপক ডক্টর হীরালাল রায়, এম-আই-কে-ই, এ-বি
(হার্ভার্ড), ডক্টর, ইং (বার্লিন) লিখিত ভূমিকা সম্বলিত
মিত্রালয়
১০, শ্যামাচরণ দে ষ্ট্রীট, কলিকাতা-১২

এক টাকা দশ আনা
মিত্রালয়, ১• শ্যামাচরণ দে ট্রীট, কলিকাতা হইতে জি ভট্টাচার্য কতৃক প্রকাশিত
ও সুরে গ্রেস ১৮৬১ আপার সারকুলার রোড হইতে
হীরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কতৃক মুদ্রিত

যার উপদেশ ও সুপরামর্শের সাহায্যে
'আনন্দমেলা'র পরিচালনায় সকলের ঐতির পাত্র হয়েছি
আনন্দ বাজার পত্রিকার সেই সুযােগ্য প্রধান সম্পাদক
প্রফুল্লকুমার সরকার মহাশয়ের
করকমলে
আমার অকপট এর অলি
জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড’ দিলাম।
মৌমাছি
১৯৪১

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড প্রথম ভাগ দ্বিতীয় ভাগ ১ম সংস্করণ-সেপ্টেম্বর ১৯৪১ ১ম সংস্করণ-ডিসেম্বর ১৯৪১ ২য় সংস্করণ-ডিসেম্বর ১৯৪১ এর সংস্করণ-জুন ১৯৪২ ৩য় সংস্করণ-নভেম্বর ১৯৪২ ৩য় সংস্করণ-এপ্রিল ১৯৪৩ ৪র্থ সংস্করণ—মে ১৯৪৩ ৪র্থ সংস্করণ-ফেব্রুয়ারী ১৯৪৪ ৫ম সংস্করণ-জানুয়ারী ১৯৪৪ ৫ম সংস্করণ-জানুয়ারী ১৯৪৫ ৬ষ্ঠ সংস্করণ—ফেব্রুয়ারী ১৯৪৫ ৬ষ্ঠ সংস্করণ -ফেব্রুয়ারী ১৯৪৭ ৭ম সংস্করণ-ফেব্রুয়ারী ১৯৪৬ ৭ম সংস্করণ --ডিসেম্বর ১৯৫০ ৮ম সংস্করণ—ডিসেম্বর ১৯৪৯ ৮ম সংস্করণ -ফেব্রুয়ারী ১৯৫৩ ৯ম সংস্করণ-এপ্রিল ১৯৫১ ১০ম সংস্করণ—ফেব্রুয়ারী ১৯৫৩ ১১শ সংস্করণ-জুলাই ১৯৫৪ ১২শ সংস্করণ- এপ্রিল ১৯৫৫ k “没兴 **** মৌমাছির লেখা নতুন বই নয়া যুগের রূপকথা ২৭ ছন্দভরা অনুপম কথার সুরে শিশু, কিশাের ছেলে বুড়ো সবার মনকে নিয়ে যায় আনন্দের জগতে। ************ ** : হাসি-খুশি-মজা || হড়ায় ছবিতে মজার রাজ্যে পৌছে দেয়। *********** * ভূমিকা অনুসন্ধিৎসা জীবন্ত জীবন্ত মানব-মনের স্বাভাবিক বৃত্তি। মন যতদিন সজাগ থাকবে জ্ঞান লাভের পিপাসা ততদিন নিবৃত্ত হবে না। এই ভাবের অভাব হলেই বুঝতে হবে যে মানসিক জড়তা এসেছে। শিশু কথা বলতে শিখলেই তার মন নতুন জগতের পরিচয় লাভের জন্য ব্যস্ত হয়ে ওঠে এবং প্রশ্নে প্রশ্নে তার আশপাশের সকল লােককে অস্থির করে তােলে। অনেকে বিরক্ত হয়ে তাকে ভৎসনা দিয়ে নিরস্ত করার চেষ্টা করেন—কতকটা নিজেদের অজ্ঞতা গােপন করার জন্য। কিন্তু এইভাবে শিশুর জিজ্ঞাসু মনকে দমিয়ে দিলে তার মানসিক উন্নতির বিঘ্ন ঘটানাে হয়। এটা কোন প্রকারে বাঞ্ছনীয় নয়। যথা সম্ভব জ্ঞানলাভে তাকে উৎসাহিত করাই উচিত। কিন্তু এর আর একটা দিকও আছে। অনায়াসলব্ধ জ্ঞান বা বস্তুর প্রতি তেমন শ্রদ্ধা থাকে না ; প্রশ্ন করা মাত্রই উত্তর দিলে শিশুর জ্ঞান বাড়তে পারে কিন্তু তার চিন্তাশক্তির বিকাশ সম্পূর্ণ হয় না, চিন্তা- শক্তির বিকাশ জ্ঞানলাভের চেয়েও অধিকতর প্রয়ােজনীয়। মনের অলসতা দূর করার জন্য শিশুকে পরিশ্রম করতে পরােক্ষ এবং প্রত্যক্ষ ভাবে বাধ্য করা দরকার। প্রশ্নের উত্তর তার নিজের চিন্তাশক্তি দিয়ে সমাধান করাতে পারলেই ভাল ; যদি তা সম্ভব না হয় তবে অন্তত যেখানে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে সেই ভাণ্ডার তাকে দেখিয়ে দিতে হয়। জগতের সব দেশের ছােটদের জন্যেই এই রকম জ্ঞান-ভাণ্ডার’ লেখা হয়েছে সহজ এবং সরল করে। আমাদের বাংলা ভাষায় এই রকম বইয়ের সংখ্যা খুবই কম। যে দু'চারখানি আছে, তাতে প্রশ্ন সংখ্যার শেষ নেই, কিন্তু জবাবগুলি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। স্নেহাস্পদ ‘মৌমাছি’ আনন্দবাজার পত্রিকার ‘আনন্দমেলা’ বিভাগে সাধারণ জ্ঞানের জবাব দিয়ে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছেন, কাজেই তার সম্বলিত “জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড” বইটি পড়ার পর একথা আমি বলতে পারি যে এই বই সে অভাব অনেক পরিমাণে দূর করবে। শিশু-সাহিত্যের নতুন নতুন বই প্রকাশিত হচ্ছে; কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে বইগুলির বিষয়নির্বাচন, লিখনপ্রণালী ও রচনাপদ্ধতি প্রশংসনীয় নয়। এ বইটি সেদিক থেকে আমাকে যথেষ্ট আকৃষ্ট করেছে, কারণ বিজ্ঞানের জটিল তথ্যকে সহজ করে বােঝনাের ক্ষমতা লেখকের প্রাঞ্জল ভাষায় ফুটে উঠেছে—বিষয় নির্বাচন ও পরি- কল্পনার দিক থেকেও “জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড” সাধারণ জ্ঞানের একখানি অভিনব ৰই বলে গণ্য হবে। বইটিতে জ্ঞাতব্য বিষয় যথেষ্ট আছে এবং চিন্তাশক্তিকে তীক্ষ করার উপযােগী সরঞ্জামও বিদ্যমান। আশা করি এই বইটি এদেশের ছেলেমেয়ে, তাদের অভিভাবক এবং শিক্ষকসমাজ সকলের কাছেই আদর পাবে। স্নেহাস্পদ ‘মৌমাছি’র পরিশ্রম সার্থক হবে। কলেজ অব ইঞ্জিনীয়ারিং এণ্ড টেকনােলজি যাদবপুর, ১৩৯০১ } শ্রীহীরালাল রায় এই বইটির গােড়ার কথা প্রায় দেড় বছর আগে ১৯৩৯ সালের এপ্রিল এপ্রিল মাসে আনন্দবাজার- পত্রিকার কর্তৃপক্ষ তাদের পত্রিকায় এ দেশের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা ও কল্যাণের জন্য ‘আনন্দ-মেলা নাম দিয়ে সপ্তাহের একটি দিনে একটি পাতায় আনন্দের পরিবেশন করবেন ঠিক করেন এবং আমি মৌমাছি' ছদ্মনামের অন্তরালে সেই আনন্দ-মেলা’র পরিচালনাভার গ্রহণ করি। তখনই আমার মনে হয় যে, গল্প, ছড়া ও ছবি পরিবেশনের সঙ্গে সঙ্গেই চিঠি-পত্রের মারফৎ শিশু ও কিশাের মনের প্রশ্নগুলি জানা একান্ত দরকার এবং সাধ্যমত খেটে তাদের সেই কৌতুহলের সন্তোষজনক জবাব, সােজা ভাষায় বুঝিয়ে দিলে, হয়তাে দেশের ছেলেমেয়েদের মনে জ্ঞানলিপ্সা বাড়তে পারে। বর্তমানে আমাদের দেশের বড়রা শিক্ষিত হলেও প্রশ্ন আর সমস্থাকে এড়িয়ে চলেন, কারণ ছােটবেলা থেকে তাদের মনের কৌতূহল বৃত্তিটিকে কোন দিনই বাড়তে দেওয়া হয়নি।-এর বাস্তব অভিজ্ঞতা আমি আমার নিজের জীবন থেকেই বলতে পারি-কারণ যখন ছােট ছিলাম, তখন যদি বড়দের কাউকে কোনও প্রশ্ন করতাম তাহলে বকুনি খেতাম। স্কুলে মাস্টার মশাই রােজকার পড়া তােতাপাখীর মতো পড়িয়ে যেতেন বটে, কিন্তু পড়ার বইয়ের বাইরে কোনও প্রশ্ন যদি জিজ্ঞাসা করতাম তখনই মাস্টার মশাইরা বলতেন—“ডেপাে, ফাজিল, ও দিয়ে তােমার কি হবে শুনি ?” একথা বর্তমানের মাস্টার মশাইরাও যে অনেকেই বলেন, সে খবর পেয়েছি এই দুটি বছর দেশের ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে হাজার হাজার চিঠি পেয়ে। তাই আমি ‘আনন্দমেলা'র চিঠির থলিতে আমার ছােট্ট বন্ধুদের মনে নানা রকম প্রশ্নের জবাব দেবার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করতে শুরু করি এবং তাদের সেই সমস্ত প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে নিজেও অনেক কিছু শিখছি ও শিখেছি এবং আরও ভাল করে বুঝেছি যে কৌতুহলী মনের প্রশ্নের জবাবগুলি জানতে পারলে-অনায়াসে কি করে জানলিপ্সা বেড়ে চলে। তাই মনে হয়েছে [ ২ ] বিশ্বমানবের এই কৌতুহলী মনকে খুশি করতে পারাটাই পৃথিবীর সবচেয়ে মহত্তম কাজ ; তাই, আনন্দ-মেলা’র বন্ধুদের কৌতুহলী প্রশ্নভরা চিঠিগুলি হয়ে উঠল আমার কাছে একটা মস্ত সম্পদ। আমি সেই চিঠিগুলির লেখকদের বয়সের সঙ্গে তাদের প্রশ্নের সামঞ্জস্য ও অসামঞ্জস্যের একটা তুলনামূলক তালিকাও প্রস্তুত করলাম। কারণ শিশু-মনস্তত্ত্বের দিক থেকে এর একট। বিশেষ দাম আছে। আমাদের দেশে অসংখ্য সাধারণ-জ্ঞানের বই থাকা সত্ত্বেও বহু শিক্ষক ও অধ্যাপক আমার এই জবাবগুলিকে একত্র করে বইয়ের আকারে প্রকাশ করতে অনুরােধ জানালেন, কারণ তাদের মতে সে বইগুলিতে মনস্তত্বের বিচারে ছােটদের মনের মাপ অনুযায়ী প্রশ্ন ও প্রশ্নের জবাব নাকি খুঁজে পাওয়া যায় না এবং সেই সব বইয়ের লেখকরা অসাধারণ পরিশ্রম করে রাশি রাশি প্রশ্নের সংখ্যা বাড়িয়ে একটি বইয়ে কে কত বেশী প্রশ্নের জবাব কত দামে দিতে পারেন সেই চেষ্টাই করেছেন ; অথচ ছােটদের আনন্দ দিয়ে আগ্রহ জাগাতে পারে এমন কোনও ব্যবস্থার দিকে তারা নাকি তেমন কোনও দৃষ্টি দেন নি। এর জন্য আমি তাদের কোনও দোষ দিই না, কারণ এ দেশের শিশু-সাহিত্য-লেখকদের মনের সঙ্গে ছেলেমেয়েদের মনের সংযােগ রাখার কোনও ব্যবস্থা নেই। আমি সে সুযােগ পেয়েছি বলেই হয়তো আমার জবাবগুলাে শিশু-মনের খানিকটা উপযোগী হয়েছে এবং তাদের এই অভিজ্ঞতাটুকুর অভাবেই তাদের বইতে জবাবট। হয়ে পড়েছে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত বা জটিল। তাই সেই বইগুলি ছেলেদের হাতে দিলেও সেটা তাদের মনকে যােলাে-আনা খুশি করতে পারে না-তাদের কোনও আগ্রহ জাগায় সেই জন্য সে সমস্ত সাধারণ জ্ঞানের বই অতিরিক্ত পাঠ্য হিসাবে পাঠ্য তালিকায় দিলেও কেউ সেগুলি পড়ে না বলেই মনে হয়। দ্বিতীয়তঃ হচ্ছে বাজার-চলতি অধিকাংশ সাধারণ-গনের বইতে প্রশ্নগুলি সাজাবার ব্যাপারেও খুব কৌশলের পরিচয় পাওয়া যায় না। তৃতীয়ত: ঐ সমস্ত বইতে কোনও বর্ণানুক্রমিক সূচী না থাকায় চট করে কোনও প্রশ্ন মনে জাগলে [ ৩ ] তার জবাবও খুজে পাওয়া যায় না। সাধারণ-জ্ঞানের বইয়ের বর্ণানুক্রমিক সূচী যে কত দরকারী জিনিস তা এদেশের লেখক বা প্রকাশক কেউ ভাবেন না। ছােটদের মনে অহরহ যে সব প্রশ্ন জাগে, সেগুলির জবাবই একটু বেশী জটিল ; তাহােক না কেন, সেগুলিকেই যতদূর সম্ভব সহজ করে বলবার চেষ্টা করে তাদের কৌতুহলকে তৃপ্ত করা উচিত। ওসব বুঝতে পারবে না', বলে এড়িয়ে গেলে চলবে না। সেইজন্য আমি এই বইটিতে সেই সব প্রশ্নের জবাবও দিয়েছি, যা অন্য সকলে এড়িয়ে গেছেন। তাই বলে যে আগাগােড়া ঐ প্রশ্নগুলির বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী চুলচেরা বিচার করে দেখাতে সক্ষম হয়েছি তা নয়। এর কারণ সাধারণ মন যতটুকু পর্যন্ত বুঝতে পারে ততটুকু ‘সাধারণ-জ্ঞানের সীমা, তার বাইরে গেলে চলবে । বৈজ্ঞানিকের সূক্ষ্ম বিচারে এই কারণে অনেক সময়ে সাধারণ-জ্ঞানের প্রশ্নের জবাবগুলো কিছু কিছু ভুল বলেও মনে হতে পারে, তাতে কিছু এসে যায় না। ‘সাধারণ-জ্ঞানে’ আর বিশুদ্ধ বিজ্ঞানে ঐটুকুই মূলগত পার্থক্য। এই পার্থক্যটুকু এদেশের সাধারণ-জ্ঞানের বইগুলিতে নেই বলেই সেগুলি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয়েছে নীরস। আমার এই বইটিকে দাম এবং প্রশ্নের সংখ্যার হিসাবের বাইরে রেখেই সঙ্কলন করেছি, কারণ মনস্তত্ত্ববিদরা বলেন ‘সাধারণ-জ্ঞান’ বলতে যে জিনিসটি বােঝায়, সেটা বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন কৌতুহলের পরিতৃপ্তি। অর্থাৎ ছেলে- মেয়েরা বিভিন্ন বয়সে কতকগুলি বিশেষ বিশেষ প্রশ্নের জবাব জানবার জন্য ব্যাকুল হয় এবং সেই সেই বয়সে সেই প্রশ্নের যথাযথ সহজ সমাধান পেলে তবেই তাদের মনন-শক্তি বেড়ে চলে। কাজেই সেই অনুযায়ী সাধারণ-জ্ঞানে’রও একটা পাঠক্রম বা syllabus থাকা উচিত। অন্য সব দেশের স্কুলে ‘সাধারণ-জ্ঞানের বই অতিরিক্ত পাঠ্য হিসাবে না পড়িয়ে নিয়মিত পাঠ্য হিসাবে পড়ানাে হয়। কোন্ শ্রেণীর ছাত্রদের অন্ততঃ কোন্ কোন্ প্রশ্নের জবাব জানা উচিত তারও একটা [ ৪ ] তালিকা রাখা হয়। এই ভাবে তাদের কৌতূহলী মনের রুচি অনুযায়ী মনের খাদ্য পরিবেশন করা হয়। আমার জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড’কেও আমি সেই ধরনের পাঠক্রম অনুসারে তিন ভাগে ভাগ করেছি—একটি বইয়ের ভিতর সব কিছু ঢুকিয়ে দিয়ে সস্তায় সকলকে সব কিছু দেবার প্রয়াস পাইনি। জানি না সেদিক থেকে এই বইটিকে পাঠ্যতালিকার অন্তর্ভুক্ত করার সার্থকতা এ দেশের শিক্ষকসমাজ ও বিশ্ববিদ্যালয় উপলব্ধি করবেন কি না। অন্য দেশের সাধারণ জ্ঞানের বইতে অর্থাৎ যে বইটি যে দেশের ছেলেদের পাঠ, সেই দেশ সম্বন্ধে যে সব প্রশ্ন ছেলেদের জানা দরকার—সেই সব প্রশ্ন- গুলিকেই সবার উপরে স্থান দেওয়া হয়—কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের বাঙলা দেশের সাধারণ জ্ঞানের বইতে বাংলাদেশ সম্বন্ধে তেমনি বিশেষ বিশেষ দরকারী প্রশ্ন বা তার জবাবের কোন সন্ধানই মেলে না। ভারতবর্ষ সম্বন্ধে দু- চারখানি বইতে যে দু’ একটি প্রশ্ন আছে, তার জবাব খুব সরল ও বিস্তারিত নয়। অথচ জগতের আজেবাজে সব খবরই আছে সেখানে। এটা কি আমাদের জাতীয় শিক্ষার দৈন্য নয়? তাই আমি এদেশের ছােটদের মনের উপযােগী ‘সাধারণ-জ্ঞানে’র ‘পাঠক্রম’ বা ‘সিলেবাস তৈরী করে নিয়ে ‘জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড'কে নীচের ভাগ অনুযায়ী তিনভাগে ভাগ করেছি ও প্রত্যেক ভাগেই একটি করে বর্ণানুক্রমিক সূচীপত্রে প্রশ্নগুলিকে সাজিয়ে দিয়েছি। প্রথম ভাগে (পঞ্চম ও ষষ্ট শ্রেণীর উপযুক্ত) আছে ? (১) বাঙলা ও বাঙালী, (২) তুমি ও তােমার শরীর, (৩) জল, হাওয়া, আলাে, উত্তাপ, ৪) গাছপালার জগৎ, (৫) জীব-জগৎ, (৬) আকাশের রাজত্বের খবর, (৭) পাতালের রাজত্বের খবর, (৮) পাঁচ-মিশেলী প্রশ্ন। দ্বিতীয় ভাগে (সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর উপযুক্ত আছে: (১) ভারতবর্ষ, (২) কোন জিনিসটি কি? (৩) কোনটি কবে প্রথম প্রচলন হ’ল ? (৪) আবিষ্কারের ইতিহাস, (৫) ইতিহাসের খুটিনাটি, (৬) ভূগােলের নতুন প্রশ্ন, (৭) ভাষা ও সাহিত্যে খুটিনাটি, (৮) পাঁচমিশেলী প্রশ্ন।

[ ৫ ] তৃতীয় ভাগে (নবম ও দশম শ্রেণীর উপযুক্ত আছে : (১) পৃথিবীর সৰসেরা যা কিছু, (২) বিদেশের বিশেষ জ্ঞান, (৩) রাষ্ট্র ও রাজনীতি, (৪) ধর্ম, সমাজ ও সভ্যতা, (৫) শিক্ষা ও সংস্কৃতি, (৬) বর্তমানে পৃথিবীবিখ্যাত ব্যক্তি ও তাদের পরিচয়, (৭) বিদেশের সাহিত্য। এই পাঠক্রম অনুযায়ী সাধারণ-জ্ঞানের বই হিসাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড’কে সকলের সামনে উপস্থিত করার প্রস্তাব নিয়ে আমি কলিকাতার কয়েকটি বিখ্যাত স্কুলের শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন অধ্যাপকের সঙ্গে আলােচনা করি – তারা এবিষয়ে আমাকে সমর্থন করেন এবং তাদের মধ্যে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পণ্ডিত অধ্যাপক ডাঃ কালিদাস নাগ, সুসাহিত্যিক অধ্যাপক খগেন্দ্রনাথ সেন, অধ্যাপক বিজনবিহারী ভট্টাচাৰ্য্য এবং রাণীভবানী স্কুলের প্রবীণ জ্ঞানবৃদ্ধ প্রধানশিক্ষক শ্রদ্ধেয় শ্রীযুক্ত বীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী মহাশয়। আর সর্বোপরি সহযােগিতা করেছেন যাদবপুর কলেজ অব ইঞ্জিনীয়ারিং এন্ড টেকনােলজির স্বনামধন্য অধ্যাপক ও বৈজ্ঞানিক ডক্টর হীরালাল রায়। ভক্টর রায় সাননে আমার বইটির ভূমিকা লিখে দিয়েছেন। এদের সকলের সমবেত সহযােগিতা ছাড়া মধুভাণ্ড’কে পুস্তকাকারে প্রকাশ করা কোনও মতেই সম্ভব হত না কাজেই এদের সকলকেই আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এই বই সঙ্কলনে আমাকে দেশী ও বিদেশী বহু গ্রন্থের শরণাপন্ন হতে হয়েছে, কাজেই সেই সমস্ত গ্রন্থের গ্রন্থকারদের কাছেও আমি চিরঋণী রইলাম। আমি আমার পরিশ্রম সার্থক মনে করবাে যদি এই বইটি পড়ে আমার ছােট্ট বন্ধুর খুশি হয়-এবং যদি বইটি এদেশের শিক্ষকসমাজ ও অভিভাবক গণের কাছে বিন্দুমাত্র আদর পায়। বিনীত- মৌমাছি প্রথম সংস্করণ ১৪ই সেপ্টেম্বর, ১৯৪১, কলিকাতা একাদশ সংস্করণের ভুমিকা বিগত তেরােটি বছর ধরে বাংলা ও বাংলার বাইরের শত শত বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্ৰ-বন্ধুদের কাছে জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড’ বাংলা ভাষার সবসেরা সাধারণ জ্ঞানের বই হিসাবে এমনই সমাদৃত হয়ে আসছে যে সরকারী শিক্ষা পর্ষৎ এই অতি প্রয়ােজনীয় বিষয় ‘সাধারণ-জ্ঞান’কে পাঠ্যতালিকা ভুক্ত করার ব্যবস্থা না করলেও বাংলা ও বাংলার বাইরের প্রায় সমস্ত প্রথম শ্রেণীর বিদ্যালয়ের প্রধান-শিক্ষকরা নিজ দায়িত্বে জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড’ বইটির সার্থকতা উপলব্ধি করে বইটির তিনটি খণ্ডকেই যথােপযুক্ত ক্লাশে পাঠ্যতালিকা ভুক্ত করে আমাকে চিরঋণে আবদ্ধ করেছেন। দেশ স্বাধীন হবার পর আমাদের দেশের শিক্ষার পদ্ধতি ও মান এই কয় বছরে অনেকখানি বদলিয়ে গেছে, এবং বিশ্বপরিস্থিতির বিবর্তনে ছাত্র-সাধারণের সাধারণ জ্ঞানের নতুন জ্ঞাতব্যও অনেক বেড়ে গিয়েছে। সে কথা উপলব্ধি করেই, আমি বর্তমান সংস্করণে জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ডের প্রথম ভাগ বইটিকে বাড়িয়ে নতুন কতকগুলি জ্ঞাতব্য ও নতুন অধ্যায় তেমন ভাবেই সংযােগ করেছি, তৃতীয় খণ্ডের প্রয়ােজনীয় বিষয়বস্তুগুলিকে প্রথম ভাগ ও দ্বিতীয়ভাগেই তেমন ভাবে ভাগ করে সাজিয়ে দিয়েছি, যাতে করে আমার এই সৰ্বজনপ্রিয় বইটি সকলের কাছে প্রিয়তর হয়ে ওঠে এবং মাধ্যমিক শিক্ষার পাঠ্যবিষয়গুলির পরিপূরক হিসাবে ছাত্র-ছাত্রীদের সাধারণ জ্ঞানের পরিধিকে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে প্রসারিত করে। একাদশ সংস্করণের এই সংস্কার সম্প্রসারণ কার্যে বাংলার কয়েকজন বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী অধ্যাপক, প্রধান-শিক্ষক বন্ধুরা পরামর্শ ও উপদেশ দিয়ে যথেষ্ট সাহায্য করেছেন। সাধারণ জ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসাবেই আমি তাদের অমূল্য পরামর্শ গ্রহণ করেছি এই কারণেই ও তাদের পরামর্শ ও উপদেশে এই বইটির মূল্য ও প্রয়ােজনীয়তা যথেষ্ট বাড়বে বলেই আমি বিশ্বাস করি। সাধারণ-জ্ঞান’ অনুরাগী শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের এই পরিবর্ধিত সংস্করণটির উৎকর্ষটুকু উপলব্ধি করতে সক্ষম হলেই পরিশ্রম সার্থক হয়েছে বলে মনে করবাে। কলিকাতা বিনীত ৩•||৫ ৪ মৌমাছি

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাও
,
901... ।& 105,
ju
ONE.BAXWAMW
TiIFiljin
Triniti
abu,
৫।
৪
(১) কাঘােডিয়ার বাড়ি, (২) গুয়াটেমালার চাষীদের বাড়ি, (৩) দক্ষিণ
আমেরিকার চালাঘর, (৪) অষ্ট্রেলিয়ার আদিম অধিবাসীদের পাতার বাড়ি।

"
ws
জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুও
২৯,
- Durian
va
M
১৯
৭
(৫) আসামের নাগাদের ছাউনী কুটির, (৬) সুদানবাসী হাউশাদের ঘাসের
কুটির, (৭) ইংলণ্ডের গ্রাম অঞ্চলের খড়ের চাল দেওয়া মাঠকোঠা,
(৮) মাদাগাস্কার দ্বীপের বাশ ও কাঠের তৈরী বাড়ি; এগুলােকে ওরা
“হােভ* বলে।

WWW
জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাও
১।
==
WYRZIENU
(16,
১৬।
৩
ক
১৯h
-
৩০
(৯) ইংলণ্ডের প্রাচীন ধরণের পাথরের বাড়ি ; ছাদে গেট পাথরের টালি’
বসানাে, (১০) জাপানের আদিম অধিবাসী ‘আইনু’দের খড়কুটোর তৈরী
চালাবর, (১১) স্কটল্যাণ্ডের গ্রামাঞ্চলের পাথরের তৈরী বাড়ি ; এগুলােকে
সেখানকার লােক ‘বােথি’ (Bothy) বলে, (১২) লিথুনিয়ার ‘লগ হাউস’
বাড়ি; এগুলাের দেওয়াল গাছের গুড়ি সাজিয়ে তৈরী হয়, আর চালাটা হয়
খড়ের তৈরী।
•

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড - (১৬ (১৩) ল্যাপল্যাণ্ডের ল্যাপদের ঘাসের চাপড়া গাছের ডালপালা দিয়ে তৈরী আস্তানা, (১৪) এস্কিমােদের তুষার ও বরফের চাঙড় দিয়ে তৈরী গম্বুজা- ‘কারের ঘর—এগুলােকে এঝিমাের ‘ইগলু বলে, (১৫) রেডইণ্ডিয়ানদের বেত ও নলখাগড়া দিয়ে তৈরী খুব বড় ধামার মত ঘর ; এগুলি তারা সুবিধা মত উঠিয়ে নিয়ে এখানে সেখানে আস্তানা গাড়ে; এগুলিকে ওদের ভাষায় বলে ‘টেপী' আর 'উইগওয়াল’, (১৬) আদিম মানুষের পাহাড়ের গুহা বাড়ি, এখনও অনেক দেশে পাহাড়ীদের মধ্যে অনেকেই এমনি গুহায় বাস করে।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধু
==
"* (*
২৪.১);
lishi
.
।
A.
.
A- ১
১৯
(২০
(১৭) বলিভিয়া দেশের কাদামাটি জমিয়ে তৈরী গম্বুজ বাড়ি, (১৮) আফ্রিকার
পশ্চিম উপকূলবাসী ক্যামেরুণদের কাদামাটি জমিয়ে তৈরী গম্বুজ ঘর,
(১৯) মাওরীদের কাঠের তৈরী রঙচঙে নক্সাকাটা বাহারী বাড়ি,
(২৩) সুমাত্রার কাঠ, বাঁশ ও খড়ের তৈরী জলটুঙী বাড়ি।
২ (১ম)

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড
.
.
===
====
৪
(১) উত্তর সাগর উপকূলের জলাভূমি জুইডার-জী অঞ্চলের নৌকো, এগুলােকে
বলে “Zee-Boat”, (২) বোম্বাই ও কচ্ছ উপকূলের ‘বােম্বাই ডিঙ্গী নৌকো,
(৩) ক্যাটামারন’ নোকো—এই ধরণের নৌকে তিন টুকরো কাঠকে এক
সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে নিয়ে তৈরী হয় ; এই ক্যাটামারন নৌকো সাধারণত
দেখা যায় দক্ষিণ আমেরিকা ও ওয়েষ্ট ইণ্ডিজ দ্বীপের সাগরে ; পুরী ও
পাদ্রাজের সমুদ্রে ঐ ধরণের ‘কাঠ বান্ধা' ভেলা চড়েই জেলেরা মাছ ধরে,
(৪) এস্কিমােদের নৌকো, নাম—কায়াক'।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড
৫
১৬
৭
(৫) ক্যানাডায় বার্চ গাছের ছাল সেলাই করে তৈরী ‘ক্যানো নৌকো,
(৬) পেরুর বালা’ নোকে, বাসা গাছের শোলার মত হালকা অথচ মজবুত
কাঠ থেকে ঐ নােকো তৈরী হয় বলেই তার ঐ নাম, (৭) মিশরের নৌকো-
নীল নদের পরী—এই নৌকোগুলির গড়ন অনেকটা হাঁসের দেহের মত,
(৮) স্পেনের নৌকো-ল্যাটিনীয়ার'।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড (১১ (৯) ইতালীর ‘টার্টান’ নৌকো, (১০) এডেনের ডিঙ্গি নৌকো, (১১) মাস্টার আশেপাশে জলপথে দেখা যায় এই তিন পাল লাগানাে গােজো (Gozo) নৌকো, (১২) টিউনিশিয়ার নৌকো-চেহারায় গড়নে স্পেনের নৌকোটির সঙ্গে মিল আছে, তাই এই নৌকোগুলিকেও বলা হয় ল্যাটিনীয়ার।

জ্ঞান- বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড বাঙলা ও বাঙালী বাঙলাদেশের নাম ‘বঙ্গদেশ’ হলাে কেন ? মহাভারত ও অন্যান্য পুরাণে পাওয়া যায়, যে, চন্দ্রবংশে যতি বলে এক রাজা ছিলেন, তাঁর ছেলে অনুর বংশে বলি নামে এক মহাপরাক্রমশালী রাজা জন্মগ্রহণ করেন। এই বলি রাজা ছিলেন ভারি ধাম্মিক, তাই দীর্ঘতম গৌতম বলে এক ঋষি তাঁকে বর দেন যে, রাজার স্ত্রী, রাণী সুদেষ্ণার গর্ভে পাঁচটি মহাবীর জন্মগ্রহণ করবে। হয়েও ছিল তাই ; বলি রাজার সেই পাঁচটি ছেলের নাম ছিল অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, সুহ্ম ও পুণ্ড। পরে এই পাঁচ ভাইয়ের নামেই ভারতের পাঁচটি জনপদের নাম দেওয়া হয় অঙ্গদেশ, বঙ্গদেশ, কলিঙ্গদেশ, সুহ্ম ও পুণ্ডদেশ। ভারতবর্ষের এখনকার রাষ্ট্রিক বিভাগ অনুযায়ী অঙ্গদেশ বিহারের ভাগলপুর বিভাগে, বঙ্গদেশ বলতে বােঝাতত অখণ্ড ৰাঙলার ঢাকা বিভাগটি, কলিঙ্গদেশ ছিল উড়িষ্যায়, সুহ্ম দেশ বা রানেশ ছিল মান বিভাগে, আর পুণ্ড, দেশ ছিল আগেকার উত্তরবঙ্গ বা রাজশাহী বিভাগে। বিভিন্ন যুগে বাঙলাদেশ কি ভাবে ভাগ করা ছিল? সেই বিভাগগুলির নাম কি ছিল? মহাভারতের যুগে বাঙলাদেশ ৭টি ছোট ছােট স্বাধীন রাজ্যে ভাগ করা ছিল; এখীন রাজ্যগুলির নাম ছিল মােদাগিরি, পুণ্ড, কৌশিকীকচ্ছ, সুহ্ম, ১ঃ জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড প্রমুক্ষ, অঙ্গ ও তাম্রলিপ্তি। গুপ্তসম্রাট চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বের সময় বঙ্গরাজ্য মগধ সাম্রাজ্যের অধীন হয়। তারপর সপ্তম শতাব্দীতে কর্ণসুবর্ণের রাজা শশাঙ্ক বঙ্গরাজ্য আবার উদ্ধার করেন। এই রাজা শশাঙ্কের সময়ে বঙ্গরাজ্য কামরূপ, পুণ্ড বর্ধন, কর্ণসুবর্ণ, সমতট ও তাম্রলিপ্তি এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা ছিল। তারপর সেনবংশের প্রসিদ্ধ রাজা বল্লাল সেনের সময় বঙ্গরাজ্য মিথিলা, রাঢ় (পশ্চিমবঙ্গ, বরেন্দ্র (উত্তরবঙ্গ), বগড়ী বা বকদ্বীপ (মধ্য ও দক্ষিণবঙ্গ) ও বঙ্গ (পূৰ্ববঙ্গ) এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা ছিল। মুসলমান শাসনে মােগলযুগে—সুবে বাঙলা-সাতগা, খলিফাতাবাদ, মামুদাবাদ, ফতেহাবাদ প্রভৃতি ১৮টি বিভাগে ভাগ করা হয়েছিল। আর আমাদের যুগে বাঙলাদেশকে দুভাগ করে একভাগ হলাে পূর্বপাকিস্তান অপরাংশ পশ্চিমবঙ্গ। বাঙালী জাতি আত্মত্যাগ ও একতা বলে কবে সারা আর্যাবর্তে বাঙালীর বিজয় নিশান উড়িয়েছিল ? বাবােশশা বছর আগে অর্থাৎ খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ এবং অষ্টম শতাব্দীর গােড়ার দিকে বাঙলার বড় দুর্দিন এসেছিল। কান্যকুজের রাজা হর্ষবর্ধনের রাজনীতির ফলে বঙ্গদেশ তখন খণ্ড খণ্ড রাজ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই সুযােগে বিদেশী রাজারা বার বার বঙ্গদেশ আক্রমণ করে দেশে অরাজকতার ধ্বংসলীলা চালায়। এই অরাজকতা ও অত্যাচারের হাত থেকে উদ্ধারের কোন উপায় না দেখে শেষকালে বাঙালী নায়করা এক হ'য়ে এক সঙ্কল্প করলেন। তারা সকলেই নিজের নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে তাদের মধ্য থেকেই একজনকে দেশের অধিপতি বলে নিৰ্বাচিত করলেন। ইনিই “সৰ্ব্ব- বিদ্যাবিৎ” দয়িতবিষ্ণুর পৌত্র ও ‘খণ্ডিতায়াতি ব্যপটের’ পুত্র রাজা গােপাল। সমস্ত নেতারা এর আনুগত্য স্বীকার করে নিলেন, তাঁদের নিজের নিজের অধিকার ছেড়ে দিয়ে। বাঙালীর এ আত্মত্যাগ ও একতা ব্যর্থ হলাে না, দেখতে দেখতে রাজা গােপালদেবের অধীনে বঙ্গদেশ এক শক্তিশালী রাজ্য হয়ে উঠল, সুখ এল, বিদেশ শত্রুরা দূরে সরে গেল। রাজা গােপালের পুত্র বাঙলা ও বাঙালী ধৰ্ম্মপাল বঙ্গদেশ থেকে সুদূর সিন্ধু, কান্দাহার ও পাঞ্জাব পৰ্যন্ত সারা আর্যাবর্তে বাঙালীর বিজয় নিশান উড়ালেন। এরপর কান্যকুজে যখন তার দরবার হলাে সে দরবারে ভােজ, মৎস্য, মদ্র, কুক, যবন, অবন্তী ও গান্ধার প্রভৃতি অন্যান্য রাজ্যের রাজারা উপস্থিত হয়ে বাঙালী রাজা ধর্মপালকে সারা আৰ্যা- বর্তের সম্রাট বলে স্বীকার করে নিলেন। ধর্মপালের পুত্র দেবপালদেব তাঁর পিতার রাজ্য আরও বাড়ান। তিনি কামরূপ (আসাম), গুর্জর (গুজরাট), উৎকলের (উড়িষ্যা) রাজাদের হারিয়ে দিয়েছিলেন। দেবপালদেবের দু’খানি তাম্রশাসন নালন্দায় ও মুঙ্গেরে পাওয়া গেছে, তা থেকে জানা যায় যে তার আধিপত্য পশ্চিম সমুদ্র থেকে পূর্ব সমুদ্র পর্যন্ত (হিমালয় থেকে সেতুবন্ধ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সে সব গৌরবের কথা আজ বাঙলার ছেলেরা ক’জন স্মরণ করে ? প্রাচীন বাঙলার অতীত গৌরবের প্রধান নিদর্শন কোথায় ? সেগুলি কি ? পূৰ্ব্ববাঙলার (পাকিস্তান) অন্তর্গত রাজসাহী জেলার জামালগঞ্জের তিন মাইল পশ্চিমে পাহাড়পুর গ্রামে সম্প্রতি মাটির স্তুপ খুড়ে যে বিশিষ্ট ধর্মায়তনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে তাই হলাে বাঙলার অতীত গৌরবের প্রধান প্রমাণ। এই স্তপের প্রধান মন্দিরটি গড়ার রীতি ও পরিকল্পনা দেখে পণ্ডিতেরা অবাক হয়ে গিয়েছেন। কারণ ব্ৰহ্ম, কমােজ ও যবদ্বীপের প্রসিদ্ধ মন্দিরগুলিও এই ছাচে গড়া। বাঙলা যে পূর্ব এশিয়ায় এককালে সভ্যতা ও প্রভাব বিস্তার করেছিল তা এসব দেখলেই নাকি বােঝা যায়। বাঙলা সাল কবে থেকে গণনা আরম্ভ হয় ? বাঙলা সালের বয়স অনুসারে হিসাব করলে মনে হয় যে, গুপ্তসাম্রাজ্যের পতনের পর যখন বঙ্গদেশ মহারাজাধিরাজ শশাঙ্কের অধীনে শক্তিশালী হয়ে স্বাধীন বলে সব প্রথম গণ্য হয়, তখন থেকেই বাঙলা সাল গণনা শুরু হয়েছে। কিন্তু আসলে বাঙলা সাল গণনার ইতিহাসটা অন্যরকম-বাঙলা জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাও নন এবং মুসলমান ‘হিজরী সনে কোন প্রভেদ নেই। অর্থাৎ মুসলমানরা এদেশে রাজত্ব করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ‘হিজরী সনই ক্রমে বাঙলাদেশে ! চলন হয়—এই ‘হিজরী সন ৬২২ খৃ: অব্দে মহম্মদের মক্কা থেকে মদিনা পালানাের ঘটনা থেকেই শুরু হয়েছিল তা সকলেই জানে। হিজরী সন চান্দুমাস হিসাবে গণনা করা হতো বলে ফসলের সময় ঠিক করার ব্যাপারে ও জ্যোতিব্বিদের গণনায় নানারূপ অসুবিধা হতাে। এ অসুবিধার কথা সম্রাট আকবর বুঝতে পেরে, তার রাজত্বকালে খৃষ্টীয় ১৫৫৬ খৃষ্টাব্দ থেকে সৌর হিসাবে বছর গুণতে আদেশ দেন। অর্থাৎ বাঙলা সনের গােড়ার দিকটা গণনা করা হয়েছে চান্দ্রমতে, এবং পরবর্তীকালে ওটা গণনা করা হচ্ছে সৌর মতে। সেইজন্য বাংলা সনের হিসাবটা চামতে ‘হিজরী সনের সঙ্গে এখন আর মেলে না। কাজেই সন ১৩৬১ সন বলতে ঠিক ১৩৮১ বছর আগেই সে সনটি আরম্ভ হয়েছে তা ঠিক নয়। মধ্যযুগে বাঙলাদেশে পাশ্চাত্য জাতি প্রথম কখন আসে ? ১৪৯৮ সালে পর্তুগীজ নাবিক ভাস্কো-ডি-গামা উত্তমাশা অন্তরীপের পথে ভারতে আসার সােজা রাস্তা আবিষ্কার করেন। তাই পর্তুগীজরা তখন প্রাচ্যের বাণিজ্য একচেটিয়া করে নেবার মতলবে ও ভারতবর্ষে আধিপত্য করবার কল্পনায় ভারতের পথে রওনা হন। কাজেই পর্তুগীজরাই সব প্রথম বাঙলা দেশেও আসেন। বাঙলাদেশে প্রথম পর্তুগীজ হিসাবে চারজনের নাম জানা যায়—পাদরী ফ্রান্সিস ফার্ণাডিজ, ভােমিনিকো ভি জোসো, মেলাকিওর ফনসেকা ও এন্ড বাউয়ে। সম্রাট আকবরের কাছ থেকে ১৫৩৭ খৃঃ অব্দে পর্তুগীজরা বাঙলার প্রাচীন ‘সপ্তগ্রাম’ ও ‘হুগলী প্রভৃতি কেন্দ্রে বাণিজ্য করবার অনুমতি পান ও হুগলীতে কুঠি স্থাপন করেন। পর্তুগীজ দস্যদের উৎপাতে তথনই বাঙলার নিজস্ব সামুদ্রিক বাণিজ্য একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। পর্তুগীজদের দেখাদেখি ঐ পথ দিয়ে ওলন্দাজ, দিনেমায়, ইংরেজ ও ফরাসীরাও এল এদেশে।

বাঙলা ও বাঙালী বাঙলাদেশেহংরেজরা কি ভাবে সর্বপ্রথমআসে? ওলন্দাজ ও পর্তুগীজরা ভারতের মশলা ও কাপড়-চোপড় বিলাতে নিয়ে গিয়ে বিক্রী করতো ; দু’গুণ দাম দিয়ে চড়া দরে এইসব কিনতে হচ্ছে দেখে ১৫৯০ খৃঃ অফে ইংরেজদের টনক নড়ল। তাই তারা ভারতে বাণিজ্য করবার জন্য সত্তর হাজার পাউণ্ড মূলধন নিয়ে একজন গভর্ণর ও কয়েকজন ডিরেক্টরের অধীনে একশাে পঁচিশ জন ইংরেজ বণিক মিলে ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী নাম দিয়ে এক কোম্পানী গড় ঠিক করলেন। ১৫৯৯ খৃঃ অব্দের ২২শে সেপ্টেম্বর এই কোম্পানীর সূত্রপাত হ’ল। রাণী এলিজাবেথ তাদের সনৰ বা হুকুমনাম দিলেন। এরপরেই ১৬০৩ খৃ: অব্দে জন মিডেল হল বলে এক ইংরেজ কতকগুলি বিলাতী মণিরত্ন আর সুন্দর সুন্দর ঘােড় উপহার নিয়ে ভারতের সম্রাট আকবরের দরবারে হাজির হলেন। কিন্তু তিনি পর্তুগীজ পাদরীদের চক্রান্তে সম্রাটু আকবরের দরবারে হাজির হয়েও বড় বেশী সুবিধা করতে পারলেন না। এর পর ১৬৯ খৃঃ অব্দে এলেন হকিন্স সাহেব, তিনি ফারসী ভাষা জানতেন এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরকে দেবার জন্য সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন মেলাই মনিরত্ন উপহার। আড়াই বছর ধরে তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের মন জুগিয়ে তােষামােদ করে, শেষে অনেক কষ্টে সুরাটে বাণিজ্য- কুঠি স্থাপন করবার অনুমতি পেয়েছিলেন। এরপর ১৬১৫ খৃঃ অব্দে এলেন স্যার টমাস রে, তিনিও নানা উপহার সঙ্গে এনেছিলেন। এই সব উপহার দিয়ে দিল্লীর দরবার থেকে ১৬২০ খৃঃ অব্দে আগ্রায় ও ১৬২৩ খৃঃ অব্দে পাটনায় কুঠি খুলবার অনুমতি পান। এ ছাড়া শােনা যায় ১৬৩৪ খৃঃ অসে ইংরেজ ডাক্তার ব্রাউটন সম্রাট শাজাহানের মেয়ে ও বাঙলার শাসনকর্তা সুলতান সুজার বেগমের অসুখ সারিয়ে দিয়েই বিনা শুল্কে বাঙলাদেশে বাণিজ্য করার অনুমতি পান। এরপর ১৬৪২ খৃঃ অব্দে হুগলীতে ও খুঃ অব্দে কাশিমবাজার, পাটনা ও বালেশ্বরে কুঠি স্থাপন করে সােরা ও রেশমের ব্যবসাতে কোম্পানী অনেক লাভ করে।

১৮ জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাও এইভাবে ব্যবসা করার ছুতায় ইংরেজরা প্রথম প্রথম বাঙলাদেশে তাদের আস্তানা গাড়ে। বাঙলায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূত্রপাত কে করে এবং কবে? পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর মীরজাফর নবাব হন, এই মীরজাফরের মৃত্যুর পর ১৭৬৫ খৃষ্টাব্দের ১২ই আগষ্ট লর্ড ক্লাইভ মােগল সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে বাঙলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী পান এবং বাঙলার নবাব নজউদ্দৌলার কাছ থেকে ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর হয়ে বাঙলার সুবেদারী পান। এর পরের বছরই লর্ড ক্লাইভ মুর্শিদাবাদে দরবার করে নবাবের পাশে দেওয়ান হয়ে বসে প্রথম পুণ্যাহ উৎসব করেন। কিছুদিন পরে ১৭৬৬ খৃষ্টাব্দের ৮ই মে নজউদ্দৌলা হঠাৎ মারা যান এবং তার ১৬ বছরের ভাই সৈফ উদ্দৌলা নায়েব নাজিম হন। এই সময়েই ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর সঙ্গে বিলাতের পার্লামেন্ট সভার একটা বােঝা-পড়া শুরু হয় এবং ১৭৬৬ খৃষ্টাব্দেই সাব্যস্ত হয় যে ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী দিল্লীর সম্রাটের কাছ থেকে যে দেওযানী পেয়েছে তা ইংলণ্ডের রাজার প্রাপ্য। এই ব্যবস্থা অনুসারে ১৭৬৬ খৃষ্টাব্দ থেকে ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর সঙ্গে সৰ্ত্ত হয় যে তারা পার্লামেন্টকে বছরে চার লক্ষ পাউণ্ড কর দেবেন এবং তাছাড়া আরও চার লক্ষ পাউণ্ড মূল্যের বিলাতী পণ্য কিনে এনে ভারতবর্ষে বেচবেন । এর পরেই ১৭৭২ খৃষ্টাব্দে ওয়ারেন হেষ্টিংস কলিকাতায় ফিরলেন। এই ওয়ারেণ হেষ্টিংসের সময়ই ইংলণ্ডের রাজা ও পার্লামেন্টের প্রভুত্বটাও কোম্পানীর শাসনব্যবস্থার সঙ্গে বাঙ্গলা তথা ভারতের বুকে ভালো ভাবেই দেখা দিল। তিনিই বাঙালার ও বিহারের নায়েব নাজিমদের বরখাস্ত করে, রাজস্ব আদায়ের জন্য ইংরেজ কর্মচারী বা কালেক্টর নিযুক্ত করলেন। কলিকাতায় এক রেভিনিউ বাের্ড খাড়া করে রাজকোষ মুর্শিদাবাদ থেকে কলিকাতায় সরিয়ে আনলেন। ১৭৭০ খৃষ্টাব্দে যখন ওয়ারেন হেষ্টিংস প্রথম গভর্ণর জেনারেল হয়ে কাউন্সিল গড়ে ইংরেজী শাসন ও বিচার ব্যবস্থার সূত্রপাত বাঙলা ও বাঙালী করলেন, তখনই ব্যবসা বাণিজ্য থেকে বাংলাদেশে ইংরেজদের দেওয়ানী রাজ্যপাট গড়ে উঠল। ১৭৬৫ থেকে ১৮৫৮ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত কোম্পানীর শাসন এদেশে চালু ছিল। বাঙােগ কোথা থেকে ও কেমন করে এল ? বাঙলা ভাষার জন্ম নিয়ে যে সব ভাষাতত্ত্ববিৎ পণ্ডিত মাথা ঘামিয়েছেন, তারা আন্দাজ করে বলেন যে ২০০ খৃষ্টাব্দে এদেশে ইণ্ডো-এরিয়ান-ভাষার শাখার প্রাকৃত-ভাষার চল ছিল, সেই ভাষা থেকেই এসেছে বাঙলাভাষা, কিন্তু এই ভাষার মূল হল সংস্কৃত। তারপর ৮০০ খৃষ্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে ‘মাগধী’-অপভ্রংশের রূপ নেয় এবং সেটাই খৃষ্টীয় দশম শতাব্দীতে প্রাচীন বাঙলায় রূপান্তরিত হয়। পরে প্রাকৃত, মৈথিলী, ফারসী, উর্দু, পর্তুগীজ, দিনেমার, ফরাসী ও ইংরেজী ভাষার বহু শব্দ বাঙলাভাষার মধ্যে ঢুকে পড়ে বাঙলাভাষাকে সমৃদ্ধ করে তুলেছে। ভারতবর্ষের অন্যান্য প্রদেশের ভাষার তুলনায় বাঙলাভাষার সাহিত্যই বর্তমানে সবচেয়ে উন্নত-তাছাড়। বাঙলাভাষা হল ছয়কোটি লােকের মাতৃভাষা। 'অন্য কোনও প্রাশিক ভাষাকে এত লােক মাতৃভাষারূপে ব্যবহার করে না। তবে বর্তমানে বাঙলাদেশ দু’ভাগে বিভক্ত হওয়ায় ভারতের অংশ পড়েছে মাত্র দু'কোটি বাঙলা ভাষা-ভাষী লােক। বাঙলাভাষা বলতে যা আমরা বর্তমানে সবাই বুঝি, এর বয়স আন্দাজ সাড়ে ছ'শাে বছর, তার আগেকার বাঙলাভাষ। বলতে যা পাওয়া যায়, তা নাকি বর্তমানের বাঙালীরা বুঝতে পারে না। বাঙালাগষায় আদি কাব্য কি? আদি কবি কে ? বাঙলাভাষায় কৃত্তিবাসকেই ‘আদি কবি বলা হয়, কারণ পণ্ডিতেরা অনেকেই বলেন কৃত্তিবাস রচিত ‘ভাষা রামায়ণই বাঙলাভাষার আদি কাব্য, তবে এ নিয়ে মতভেদ আছে যথেষ্ট। এই কৃত্তিবাস কবির পুরাে নাম কৃত্তিবাস ওঝা, ১৪৪ • খৃষ্টাব্দের মাঘ মাসে সরস্বতী পূজার দিন কলিকাতা থেকে ৫০ মাইল দূরে রাণাঘাটের কাছে ফুলিয়া গ্রামে ইনি জন্মগ্রহণ করেন।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধু বাঙলাভাষায় প্রথম ছাপা বই কি? বাঙলা অক্ষরে সব প্রথম যে বই ছাপা হয়, সেটি একটি বাংলা ব্যাকরণ। এটি রচনা করেন মিঃ মালহেড় বলে একজন ইংরেজ—সেটা ছাপা হয় ১৭৭৮ খৃষ্টাব্দে। এই হালহেড, সাহেবই ইংরেজদের মধ্যে সব প্রথম বাঙলাভাষায় পণ্ডিত হয়েছিলেন। এর আগে ১৭৩০ খৃষ্টাধে পর্তুগীজরা লিম্বন শহরে ইংরেজ অক্ষরে বাঙলাভাষায় একটা বই ছেপেছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাঙলাভাষায় গদ্য সাহিত্যের ইতিহাস কি? খুৰ প্রাচীন বাঙলা-গদ্যের নমুনা পাওয়া যায় না। প্রাচীন বাঙলা সাহিত্যের গদ্য অচল ছিল। তখন সব কিছু কাব্যের আকারেই লেখা হত ; কিন্তু সেকালের চিঠি ও দলিলপত্রে এক ধরণের গদ্য প্রচলিত ছিল। বইয়ের আকারে আজ পর্যন্ত যে-সব প্রাচীন বাঙল-গদ্যের নমুনা পাওয়া যায়, তার মধ্যে উল্লেখযােগ্য হল-রামরাম বসুর ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র', ১৮১ খৃষ্টাব্দে তিনিই মৌলিক গদ্যের প্রথম সৃষ্টি করেন এদেশে—এই গ্রন্থ রচনা করে। পর্তুগীজ পাদরী ‘ফ্রে ম্যানুয়েল দ্য আসাম্পাে’র লেখা কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ ও প্রাচীন বাঙলা-গদ্যের একখানি উল্লেখযােগ্য বই। তারপর বাঙলা-গদ্য রাজা রামমােহনের হাতে নতুন উৎকর্ষ লাভ করে। পরবর্তী কালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ, অক্ষয়কুমার দত্ত, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রভৃতি কয়েকজন মনীষী বাঙলাভাষাকে গন্ত আকারে সাহিত্যের উপযােগী করে তােলেন এবং বঙ্কিমচন্দ্রের হাতে বাঙলা সাধু ভাষায় রচিত গদ্য-সাহিত্য খুবই উন্নত হয়। বাঙলাদেশে প্রথম থিয়েটার বা প্রমােদাগার কবে তৈরী হয়। ১৭৫৭ খৃষ্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজরা জয়ী হওয়ায়, তাই কলিকাতায় আনন্দ-উৎসবের ব্যবস্থা করে প্রথমে ইংরেজী ধরণের থিয়েটার তৈরী করে। এবং বাঙলা ও বাঙালী ২১ বাঙলাদেশে প্রথম ছাপাখানা কোথায় হয়? বাঙলাদেশে সব প্রথম ছাপাখানা স্থাপিত হয় হুগলীতে ; পঞ্চানন কর্মকার ও মনােহর দাসের সহযােগিতায় উইলকিন্স সাহেব এই কাজটি করেন। এখান থেকেই হ্যালহেড সাহেবের ‘বাঙলা ব্যাকরণ’ ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হয়। বাঙলাভাষায় প্রথম উল্লেখযােগ্য সাহিত্য-পত্রিকা কি? বাঙলাভাষায় উল্লেখযােগ্য প্রথম সাহিত্য-পত্রিকা ‘বঙ্গদর্শন'। এই পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৭২ খৃষ্টাব্দে। এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন বাঙলা- সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্রষ্টা ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র। বাঙলাদেশে গােল টাকা ও তামার পয়সার প্রচলন কবে হয় ? বাঙলাদেশে হিন্দু ও বৌদ্ধ রাজত্বকালে চারচৌকা খাটি রূপার মুদ্রা চলতি ছিল এবং সেই মুদ্রাই ব্যবসা বাণিজ্যে ওজন ও মাপের মান ছিল। পাশাপাশি চব্বিশটি মুদ্রা রাখলে মাপ হতে একহাত ও একশো মুদ্রা এক- সঙ্গে করলে যে ওজন হতাে তাই হতো, একসের। এই সব মুদ্রাতেও রাজাদের নাম লেখা থাকতো। মােগল রাজত্বের সময় সব প্রথম গােল চেহারার টাকার প্রচলন হয়, ও তুরাণী ভাষার ‘ঙ্কা’ শব্দ থেকেই ‘টাকা কথাটির উৎপত্তি। তখন এদেশে সিকি, দুয়ানি, অনি বা আধুলি প্রভৃতি মুদ্রা ছিল না। টাকা ভাঙিয়ে নিতে হতাে কড়ি, কিন্তু এক টাকার কড়ি, বয়ে নিয়ে যাওয়াই ছিল এক মুস্কিলের ব্যাপার। তাই টাকা ভাঙিয়ে তামার পয়সা ‘ঢেপুয়া দেওয়া প্রচলন করেন সম্রাজ্ঞী নূরজাহান। এক টাকার বদলে ১৬ গণ্ডা বা ৬৪টি ঢেপুয়া পাওয়া যেতাে এবং এক ঢেপুয়া’র বদলে পাওয়া যেত ২০ গণ্ডা কড়ি। ইংরেজরা এদেশে কবে প্রথম টাকা তৈরী করে ? ইংরেজরা ১৭৫৭ খৃষ্টাব্দে প্রথম কলিকাতার টাকশালে ‘আলিনগর নামাঙ্কিত টাকা তৈরী করে।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড বাঙলাদেশে কাগজের মুদ্রা বা নােটর প্রচলন প্রথম হয় কবে? ১৭৮৫ খৃষ্টাব্দে বেঙ্গল ব্যাঙ্কের স্বত্বাধিকারীদের সই করা পঞ্চাশ, একশো ও পাঁচশাে টাকার ও এক মােহর দামের নােট সাধারণের কাছে চালু করা হয়। বাঙলাদেশে পয়সার বদলে আনির প্রচলন হলাে কবে ? ১৭৬ খৃষ্টাব্দে ১৩ই অক্টোবর তামার পয়সার বদলে চারটি পয়সা এক ক'রে ‘অনি’ বলে এক নতুন ধরণের মুদ্র। চলতি হয়। কিন্তু এই আনি তৈরীর প্রস্তাব প্রথমে করেন ইঞ্জিনিয়ার রােইয়ার সাহেব ১৫৫৭ খৃষ্টাব্দে। বাঙলাদেশে সব প্রথম ডাকঘরের ডাকটিকিটের সৃষ্টি হয় কবে ? সম্রাট শেরশাহ’ই সব প্রথমে এদেশে ডাকঘরের সৃষ্টি করেন, কিন্তু তখন এখনকার মত টিকিট দিয়ে মাশুল আদায় করবার ব্যবস্থা ছিল না, দূরত্ব অনুসারে ডাক মাশুলের হার কম-বেশী হতাে। রাজা ও জমিদারের চিঠিগুলিই কেবল ঠিকানামত বিলি করার ব্যবস্থা ছিল, অন্যান্য লােককে মাশুল দিয়ে ডাকঘর থেকে চিঠি নিয়ে আসতে হতো। তখন সমস্ত শহর ও সদর কশবাতে ডাকঘর ছিল। ১৭৬৬ খৃষ্টাব্দে ভারতের প্রথম ডাকটিকিট তামার চাকৃতিতে ছাপা হয়। তারপর ১৮৩৭ সালে ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী যখন প্রথম ডাক ব্যবস্থা চালু করেন তখন সিন্ধু প্রদেশের কমিশনার বাটলি ফ্রিয়ার কাগজের ডাকটিকিটের মতলব দেন। কর্ণেল কোর্ব কণকাতার টাকশালে এই ডাকটিকিটের প্রথম নক্সা করেন। বাঙলাদেশে রেলপথ ও মারপথ কবে থেকে শুরু হয় ? বাঙলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, কাজেই প্রাচীনকালে বাঙলাদেশে জল- পথেই যাতায়াত ও ব্যবসা বাণিজ্য বেশীর ভাগ চলতো; তবে ষ্টীমারের চল তখনও হয়নি, বজরা, নৌকো, ছিপ, ডিঙি, এই সব নানারকমের জলযান তখন এদেশে ছিল। ষ্টীমারপথ খােলা হয় সবপ্রথম ১৮৮৮ খৃঃ অব্দে। ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী কলিকাতা আর গৌহাটীর মধ্যে এই ধীমারপথ খােলন। ইস্ট ইণ্ডিয়ান কোম্পানী নামে এক ব্যবসায়ী-সঘ ১৮৫৪ খৃষ্টাব্দের বাঙলা ও বাঙালী ১৫ই আগষ্ট তারিখে হাওড়া থেকে হুগলী পৰ্য্যন্ত ২৩ মাইল রেলপথ খোলেন। বাঙলাদেশে এই প্রথম রেলপথ। বাঙলাদেশে প্রথম বাষ্পচালিত জাহাজ কবে দেখা যায় ? প্রথম বাষ্পচালিত জাহাজ আসে ১৮২৮ খৃষ্টাব্দে, তার নাম এন্টারপ্রাইজ। বাঙলাদেশে কবে টেলিগ্রাফের ব্যবস্থা হয় ? ১৮৪৯ খৃষ্টাব্দের ৫ই জানুয়ারী কলিকাতা থেকে ডায়মণ্ড-হারবার অবধি যে টেলিগ্রাফ লাইনের ব্যবস্থা হয় সেটাই সর্ব প্রথম টেলিগ্রাফ-ব্যবস্থা। বাঙলাদেশে প্রথম কবে, কোথায় টেলিফোন ব্যবস্থা চল হয় ? ১৮৮২ খৃষ্টাব্দে বাঙলাদেশে-কলিকাতা শহরে সব প্রথম টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থা হয়, তখন মাত্র ৫০ জন ধনী লােক এই যন্ত্রের গ্রাহক ছিল। বাঙলাদেশে প্রথম ট্রাম গাড়ী চলে কবে থেকে? সব প্রথম ট্রামলাইন খােলা হয় কলিকাতার চৌরঙ্গী, চিৎপুর আর শিয়ালদহ অঞ্চলে। সেটা হল ১৮৮১ খৃষ্টাব্দের কথা। তারপর ১৮৮৪ খৃষ্টাব্দে মধ্য-কলিকাতার বাঁধানাে রাস্তায় রাস্তায় ট্রাম লাইন ছড়িয়ে পড়ল। কিন্তু তথনকার সেই ট্রাম গাড়ী এখনকার মত বিদ্যুতের সাহায্যে চলতো না। অষ্ট্রেলিয়া দেশ থেকে বড় বড় ঘােড়। আনিয়ে এই ট্রাম গাড়ী টানানো হতো। কিন্তু ঘােড়াগুলাে গরমে পটাপট মরছে দেখে চেষ্টা হলো বাষ্পচালিত ইঞ্জিন দিয়ে ট্রাম চালাবার, তাও তখন সুবিধে হলো না। শেষকালে ১৯০০ খৃষ্টাব্দে বিদ্যুতের সাহায্যে ট্রাম চালাবার ব্যবস্থা হল কলিকাতার রাস্তায়। এই ব্যবস্থায় ব্যবসা ভাল চলা দেখে ট্রাম:কোম্পানী ১৯০০ খৃষ্টাব্দে থেকে ১৯০৮ খৃষ্টাব্দের মধ্যে কলিকাতার দিকে দিকে ট্রাম গাড়ীর ব্যবস্থা করলেন। বাঙলাদেশে ইংরেজ শাসনকর্তাদের ব্যবহার ও বিধির বিরুদ্ধে আন্দোলন ও প্রতিবাদ সব প্রথম শুরু করেন কে ? বাঙালী হিন্দুরাই সব প্রথম পাদরী ও ইংরেজ ভদ্রলােকদের সাহায্যে ইংরেজী ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। কারণ তখন ইংরেজী ভাষা শিক্ষা ) জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড বা ইউরােপের ভাবধারা সম্বন্ধে জ্ঞান দেবার জন্য কোম্পানীর লােকদের কোনও আগ্রহই ছিল না। যাই হােক বাঙালী হিন্দু যুবকের ইংরেজী ভাষা শিখে ইংরেজী সাহিত্যের ভিতর দিয়ে ইউরােপের সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার আদর্শ খুজে পেলেন, এবং তখন থেকেই তারা ইংরেজ শাসনকর্তাদের ব্যবহার ও বিধির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে আরম্ভ করলেন। বাঙলার যুবকদের মধ্যে রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু হলো তখন থেকেই, এবং সেই রাজনৈতিক আন্দোলনে রাজা রামমােহন রায়ই সব প্রথম উঠে পড়ে লাগলেন। তিনি সে- যুগে কোম্পানীর শাসন ব্যবস্থার খুব তীব্র সমালােচনা করেন, এমন কি তিনি বিলাতে গিয়েও কোম্পানীর বিরুদ্ধে অনেক কথা বলেন। বাঙলাভাষায় প্রথম সংবাদপত্র কি? বাঙলাভাষায় প্রথম যে সংবাদপত্রটি ছাপা হয়, যতদূর জানা যায় নাম তার ‘সমাচার দর্পণ'। ১৮১৮ খৃষ্টাব্দের ২৯শে মে শ্রীরামপুরের ছাপাখানা থেকে এই সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। কেউ কেউ বলেন ‘বেঙ্গলী গেজেট এর আগেই প্রকাশিত হয়েছিল। এ সম্বন্ধে মতভেদ আছে। বাঙলা সাহিত্যের স্থান কোথায় ? বাঙলা সাহিত্য ভারতের বর্তমান সাহিত্যে শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে। বিশ্বসাহিত্যেও বাঙলা সাহিত্যের স্থান অন্যান্য দেশের সাহিত্যের অনেক উপরে। বাঙলাভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রচলন করেন কে ? বাঙলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন প্রচলন করেন সবপ্রথম মাইকেল মধুসূদন দত্ত। বাঙলা সাহিত্যে সব চেয়ে বেশী দাম কার? বর্তমান যুগকে বাঙলা সাহিত্যের সবচেয়ে গৌরবময় যুগ বলা হয় কেন? বাঙলা সাহিত্য সবচেয়ে বেশী রকমের ও সংখ্যাতেও সবচেয়ে বেশী বই লিখে গেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, বাঙলা ও বাঙালী ৰ্শনতত্ত্ব ও বিজ্ঞান সম্বন্ধে বহু বই লিখেছেন। এ ছাড়া, শিশুদের জন্যও অনেক মজার মজার বই লিখেছেন। বাঙলা সাহিত্যের সবচেয়ে গৌরবময় যুগ হল ‘রবীন্দ্রনাথের যুগ’, কারণ রবীন্দ্রনাথই তার গীতাঞ্জলির ইংরেজী অনুবাদ করে নােবেল পুরস্কার দ্বারা বিশ্বসাহিত্যে সুপরিচিত হন। বাঙলা সাহিত্যকে তিনিই বিশ্বসাহিত্যের আসরে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। বাঙলাভাষায় প্রথম উপন্যাস কি? টেকচঁদ ঠাকুর ‘আলালের ঘরের দুলাল’ বলে যে উপন্যাসটি লেখেন সেটি বাঙলাভাষায় প্রথম মৌলিক উপন্যাস। টেকচাঁদ ঠাকুর বলে কোন লােকই ছিল না, আসলে ওটি হল প্যারীচাদ মিত্রের ছদ্মনাম। বাঙলায় সবপ্রথম জাতীয়-সঙ্গীত কোটি ? বাঙলাদেশের বর্ণনা দিয়ে বঙ্গজননীর বন্দনায় ‘আনন্দমঠ উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র বন্দেমাতরম্ বলে যে সুন্দর গানটি রচনা করেন, সেটিকেই সব প্রথম ভারতের জাতীয়-সঙ্গীত হিসাবে গাওয়া হয়। বর্তমানে রবীন্দ্রনাথের ‘জনগণমন অধিনায়ক’ গানটিই জাতীয়-সঙ্গীত হিসাবে গাওয়া হয়। “বন্দেমাতরম্‌”ও অবশ্য জাতীয়-সঙ্গীতের মৰ্যাদা পেয়েছে। বাঙলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার কে? অনেকে রামনারায়ণ তর্করত্নকেই বাঙলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার আখ্যা দেন, কারণ তিনিই প্রাচীন সংস্কৃত নাটকের ধরণে সব প্রথমে বাঙলাভাষায় নাটক লেখেন—তার প্রথম নাটক, “কুলীনকুল-সৰ্বস্ব ১৮৫৭ খৃঃ অব্দে রচিত ও প্রকাশিত হয়। কিন্তু গবেষণার ফলে জানা গেছে যে, তার বহু আগেই নন্দকুমার রায় রচিত ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলা’, ‘আত্মতত্ত্ব কৌমুদী, ‘হাস্টার্ণব’, ‘কৌতুক-সৰ্বম্ব’, তারাাদ সিকদারের ‘ভদ্রার্জুন, হরচন্দ্র ঘােষের ‘ভানুমতী-চিত্তবিলাস’, কালীপ্রসন্ন সিংহের ‘বাবু-নাটক প্রভৃতি নাটকের চল ছিল। তবে সেগুলি বিয়ােগান্ত নাটক সুতরাং এদেশের রীতিবিরােধী বলেই বাঙলা সাহিত্যে গৃহীত হয়নি। ৩ (১ম) জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড থিয়েটারে বাঙলা নাটকের অভিনয় প্রথম কবে হয় ? প্রথম বাঙলা-নাটকের অভিনয় হয় ১৭৯৫ খৃঃ অব্দে-হেরাশিম লেবেডফ (Horassim Lebedoff) নামে একজন রুশ দেশের লােক এক নাট্যসমিতি খেলেন, সেখানেই Disguise ও Love is the best doctor বলে দুখানি ইংরেজী নাটকের বাংলা অনুবাদ-নাটক অভিনীত হয়। এই হলাে থিয়েটারে বাঙলা নাটকের প্রথম অভিনয়। বাঙলাভাষার প্রথম শিশু-মাসিক-পত্রিকা কবে প্রকাশিত হয় ? যতদূর জানা যায় প্রথম বাঙলা শিশু-মাসিক-পত্ৰ সখা প্রকাশিত হয় বাঙলা ১২৮৯ খৃষ্টাব্দে, প্রকাশ করেন প্রমদাচরণ সেন। যায়। বাঙলাদেশে দুর্গাপূজার প্রবর্তন কবে হয় এবং কে করেন? জানা যে তাহিরপুরের জমিদার বংশের রাজা কংসনারায়ণই পণ্ডিতদের ব্যবস্থা অনুযারী খৃষ্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষের দিকে প্রথম এদেশে শারদীয়া দুর্গাপূজার প্রবর্তন করেন। পণ্ডিতরা পুরাণ পুথি ঘেটেই এ ব্যবস্থা দিয়েছিলেন। বাঙলা সাহিত্যে হােটদের উপযােগী লেখা লিখে কে কে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন ? নবকৃষ্ণ ভট্টাচাৰ্য, যােগীন্দ্রনাথ সরকার, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার, উপেন্দ্রকিশাের রায়চৌধুরী, দ্বিজেন্দ্রনাথ বসু, সুকুমার রায়- চৌধুরী, নিশিকান্ত সেন, সুখলতা রাও, সুনির্মল বসু, সবিনয় রায়চৌধুরী, প্রভৃতি। বাঙলার প্রধান নগরী কলিকাতার প্রাচীন ইতিহাস কি? কলিকাতা মহানগরীর ইতিহাস খুব প্রাচীন নয়। আড়াইশাে বছর আগে এই কলিকাতা শহর একটি গণ্ডগ্রাম ছিল। ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে এই নগরীর উন্নতি হয়। কিন্তু কলিকাতা’ নামের সব প্রথম বাঙলা ও বাঙালী উল্লেখ পাওয়া গেছে ১৪৯৫ খৃষ্টাব্দে লেখা বিশ্বাসের ‘মনসামঙ্গল কাব্যের পাতায়। ষােড়শ শতাব্দীর শেষের দিকে লেখা রাজা টোডরমল্লের খাজনা আদায়ের খাতাতেও ‘মহাল কলিকাতা’ বলে উল্লেখ আছে। এখন বাস কলিকাতা বলতে যে জায়গাটি বােঝায়, আগে ঐখানে দূতামুটি, গােবিন্দপুর ও কলিকাতা এই তিনটি বিভিন্ন গ্রাম ছিল। কলিকাতায় ও সূতানুটিতে ইংরেজ আমলের আগে তাঁতের কাপড়ের সূতা বিক্রয় করার জন্য একটি বড় হাট ছিল। এই সুতানুটিতেই ১৬৯ খৃঃ অব্দে ২৪শে আগষ্ট জব চার্নক প্রথমে আসেন এবং তখনই সুতানুটিতে ইংরেজরা কুঠি তৈরী করে ব্যবসা শুরু করার মতলব করেন। মহানগরী কলিকাতার পত্তন বাস্তবিক পক্ষে সেইদিন থেকেই শুরু হয়। বাঙলাদেশের প্রথম লাইব্রেরী কোনটি ? বাঙলাদেশে জনসাধারণের জন্য আধুনিক কালে প্রথম যে লাইব্রেরী হয়, তার নাম হচ্ছে ‘ক্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরী', এটা পিত হয় ১৮৩৯ খৃষ্টাব্দে—“মেটকাফ হল’ বলে একটি বাড়ীতে, পরে ১৯০২ খৃষ্টাব্দে সেটা গভর্ণমেন্টের ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরীর সঙ্গে এক হয়ে যায় । দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই লাইব্রেরীটিই ভারতের জাতীয় পাঠাগার বা ন্যাশানাল লাইব্রেরীতে রূপান্তরিত হয়। আলিপুরের বেলভেডিয়ার প্রাসাদে স্থানান্তরিত হয়েছে। বাঙলাদেশে কবে প্রথম পাথরের বাঁধানাে রাস্তা তৈরী হয় ? ১৭৯৪ খৃষ্টাব্দে কলিকাতা শহরে সব প্রথম—পাথর বাঁধানো রাস্তা তৈরী হয়। বাঙলাদেশে কবে সব প্রথম ইলেকটিকের আলাে জ্বলে ? ১৮৯৯ খৃষ্টাব্দে ৩০ মে কলকাতায় সব প্রথম ইলেকটিকের আলাে জ্বলে। বাঙলাদেশে কোথায় কবে প্রথম ক্রিকেট খেলা হয় ? ১৮০৪ খৃষ্টাব্দে ১৯শে জানুয়ারী তারিখে কলিকাতায় প্রথম ক্রিকেট খেলা এ খেলাটা হয়েছিল ‘ইটোনিয়ান সিভিল সার্ভেন্টস' 'আর এখানকার বাছাই-করা সাহেবদের একটা দলের মধ্যে। ভারতেও এই প্রথম। হয়।

২৮ জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড বাঙলাদেশে ফুটবল খেলার ইতিহাস কি ? ১৮৭৭ খৃষ্টাব্দে সব প্রথম গড়ের মাঠে ইংরেজ সৈন্যরা ফুটবল খেলার আমদানী করে। তাদের খেলা দেখে হেয়ার স্কুলের একটি ছাত্র, নাম নগেন্দ্র- প্রসাদ সৰ্বাধিকারী, তার মাথায় ঢুকল ঐ রকম একটা দল গড়ে ফুটবল খেলা শেখা। নগেন্দ্র প্রসাদ হেয়ার স্কুলের ছেলেদের নিয়ে দল গড়ে ফুটবল খেলা শুরু করলেন-পরে প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক ১e, Stack আর Mr. Gilligan এর চেষ্টায় প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্ররাও ফুটবল খেলার দল গড়লাে। এদের দেখাদেখি সেন্ট জেভিয়াস ও হিন্দু-স্কুলের ছেলেরা, এদের দলে এসে যোগ দিয়ে, ভারতের প্রথম সম্মিলিত ফুটবল দল গড়লাে। বাঙলাদেশে ঘােড়দৌড় খেলা কবে আরম্ভ হয় ? ১৮ খৃষ্টাব্দে এনেশের ধনীদের নতুন জুযায় প্রলুব্ধ করার উদ্দেশ্যেই বেঙ্গল জকী ক্লাবের সাহেবদের চেষ্টায় এদেশে ঘােড়দৌড় খেলা আরম্ভ হয়। তখন কলিকাতার কিছু দূরে আকনায ছিল ঘোড়দৌড়ের মাঠ। ১৮১৯ খৃঃ অব্দে বর্তমানের ঘােড়দৌডের মাঠ-ক্যালকাটা রেসকোস তৈরী হয়। বাঙলাদেশের মানচিত্র সব প্রথম কবে আঁকা হয় ? সব প্রথম ভারতবর্ষের ‘ম্যাপ আঁকেন ১৭৫১ খৃষ্টাব্দে একজন ফরাসী ভূগােলবিৎ, তার নাম ‘ডি এ্যাভিল। বাঙলাদেশের ম্যাপ প্রথম আঁকা হয় ১৭৮১ খৃষ্টাব্দে। যিনি এই ম্যাপ আঁকেন—তার নাম মেজর জেমস্ রেণেল-ইনি লর্ড ক্লাইভের অধীনে চাকরী করতেন। ইনি ভারতীয় ভূগােলের সৃষ্টিকর্তা। বাঙলাদেশে বিলাতী ধরণের বাজার প্রথম কবে খােলা হয় ? ১৮৭৪ খৃঃ অকে ১লা জানুয়ারী স্যার স্টুয়ার্ট হগ,মার্কেট নামে যে বাজারটি খােলা হয় সেটিই এ দেশের সর্বপ্রথম বিলাতী ধরণের বাজার। বর্তমানেও এইটি আছে। বাঙলাদেশে প্রথম কলকারখানা কি ভাবে গড়ে ওঠে? শ্রীরামপুরে ডাঃ কেরী সব প্রথম ছােটখাটো ধরণের কাগজ তৈরীর বাঙলা ও বাঙালী কারখানা খােলেন। সেটিই প্রথম কারখানা। তারপর ১৮৫৫ খৃষ্টাব্দে জর্জ অকল্যাণ্ড রিষড়াতে প্রথম পাটকল খোলেন। বাঙালীর গৌরবে ভারতবর্ষ গরীয়ান কেন? ভারতীয় সমস্ত জাতির মধ্যে বাঙালীর সকল বিষয়ে সব সময়েই অগ্রণী, তাই বাঙালীর গৌরবে ভারতবর্ষ গরীয়ান। যেমন বলতে পার-- (১) বাঙালী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতবর্ষের মধ্যে প্রথম নােবেল প্রাইজ পান। (২) বাঙালী রামমােহন রায় বিশিষ্ট ভারতবাসীদের মধ্যে সর্বপ্রথম বিলাত যান। (৩) বাঙালী সত্যেন্দ্রপ্রসন্ন সিংহ ভারতবাসীদের মধ্যে সবপ্রথম গভর্ণর ও বিলাতের লর্ড সভার সভ্য হন। (৪) বাঙালী উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয় কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি হন। (৫) পশ্চিম বাঙলা রাজ্যের দার্জিলিং জেলার অধিবাসী তেনজিং নােরকে ১৯৫৩ খৃষ্টাব্দে সবপ্রথম এভারেষ্ট গিরিশৃঙ্গে আরােহণ করে জগতে অতুল কীৰ্ত্তি স্থাপনা করেন। (৬) বাঙালী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও যদুনাথ বসু ভারতীয়দের মধ্যে সবপ্রথম গ্র্যাজুয়েট হন। (৭) বাঙালী সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতীয়দের মধ্যে সবপ্রথম 1. c. s. হন। (৮) বাঙালী চিত্তরঞ্জন দাস ভারতীয়দের মধ্যে সবপ্রথম মেয়র সম্মান লাভ করেন। (৯) বাঙালী তার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয়দের মধ্যে সবপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইসচ্যান্সেলারের সম্মান লাভ করেন।

ন-বিজ্ঞানের মধুও (১০) বাঙালী দিগম্বর মিত্র ভারতীয়দের মধ্যে সর্বপ্রথম শেরিফের সম্মান লাভ করেন। (১১) বাঙালী স্যার রমেশচন্দ্র মিত্র ভারতীয়দের মধ্যে সবপ্রথম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সম্মান লাভ করেন। (১২) বাঙালী নীলমণি মিত্র ভারতীয়দের মধ্যে সবপ্রথম ইঞ্জিনীয়ার হন। (১৩) বাঙালী মাইকেল মধুসূদন দত্ত ভারতীয়দের মধ্যে সর্বপ্রথম বাঙলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে কবিতা লেখেন। (১০) বাঙালী স্যার ব্রজেন্দ্রলাল মিত্র ভারতীয়দের মধ্যে সর্বপ্রথম এডভােকেট জেনারেল হন। (১৫) বাঙালীর মেয়ে কাদম্বিনী গাঙ্গুলী বি-এ ও চন্দ্রমুখী বসু এম-এ, এই দু'জনেই ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে সবপ্রথম গ্র্যাজুয়েট হন। এবং কাদম্বিনী গাঙ্গুলীই ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে সবপ্রথম ভারতীয় কংগ্রেসে বক্তৃতা করেন। (১৬) বাঙালীর মেয়ে চন্দ্রলেখা বস্তু ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে সবপ্রথম বিলাতে যান। (১৫) বাঙালীর মেয়ে তরু দত্ত ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইংরাজী ও ফরাসী ভাষায় কবিতা লেখেন। (১৮) বাঙালীর মেয়ে প্রভাবতী দাশগুপ্ত ভারতীয় মেয়েদের মধ্যে সবপ্রথম বালিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পি এইচ-ডি’ উপাধি লাভ করেন। (১৯) বাঙালী উদয়শঙ্কর ভারতীয়দের মধ্যে সবপ্রথম ভারতীয়-নৃত্য দেখিয়ে দেশবিদেশে সম্মান লাভ করেন। (২০) বাঙালী আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ভারতীয় বৈজ্ঞানিকদের মধ্যে সবপ্রথম ভারতীয় রসায়নশাস্ত্রকে জগতের সমক্ষে তুলে ধরেন। (২১) বাঙালী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু প্রথম ভারতীয় যিনি জগতে প্রমাণ করেন যে গাছপালা এদেরও সুখ-দুঃখের অনুভূতি আছে।

বাঙলা ও বাঙালী (২২) বাঙালী কৃষ্ণগােবিন্দ গুপ্ত ভারতীয়দের মধ্যে সবপ্রথম ইণ্ডিয়া কাউন্সিলের মেম্বার হন। (২৩) বাঙালী আনন্দমােহন বসু ভারতীয়দের মধ্যে সর্বপ্রথম Wrangler উপাধি প্রাপ্ত হন। ( ২৪ ) বাঙালী হরিনাথ দে ভারতবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী রকম ভাষা জানতেন। (২৫) বাঙালী রমাপ্রসাদ রায় ভারতীয়দের মধ্যে প্রথম হাইকোর্টের জজ হন। (২৬) বাঙালী গঙ্গাকিশাের ভট্টাচাৰ্য ভারতবর্ষের অধিবাসীদের মধ্যে প্রথম সংবাদিক। (২৭) বাঙালী দুর্গাচরণ লাহা ভারতীয়দের মধ্যে প্রথম পাের্ট কমিশনারের ৩০... ..!৪:৪:56 সভ্য হন। (২৮) বাঙালী সুভাষচন্দ্র বসু ভারতীয়দের নিয়ে সবপ্রথম সুসংগঠিত আজাদ হিন্দ ফৌজ’ বা ‘স্বাধীন ভারত বাহিনী গড়ে ইংরেজের সঙ্গে লড়াই করেন ও মণিপুর সীমান্ত পর্যন্ত অগ্রসর হন। (২৯) বাঙালীর মেয়ে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ভারতের বিপ্লব আন্দোলনে ভারতের প্রথম মেয়ে শহিদ। (৩০) বাঙালীর ছেলে সুব্রত মুখার্জী প্রথম ভারতীয় বিনি বিমানবাহিনীর সর্বাধিনায়করূপে কাজ করেন। (৩১) বাঙালী শিল্পী রণদ। উকীল, ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ দেববর্মন, সুধাংশু রায় চৌধুরী ও ললিতমােহন সেন ভারতীয়দের মধ্যে সর্বপ্রথম বিলাতের ‘ইণ্ডিয়া হাউস’ চিত্রিত করবার সম্মান লাভ করেন। কোন্ কোন্ বিষয়ে কোন্ কোন্ বাঙালী স্বনামধন্য হয়েছেন? (১) সাহিত্যে-কৃত্তিবাস ওঝা, চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি, কাশীরাম দাস, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, ঘনরাম, রামপ্রসাদ সেন, দাশরথি রায়, কৃষ্ণদাস কবিরাজ, চাবতী, জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড রামমােহন রায়, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, রামনারায়ণ তর্করত্ন, রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কালীপ্রসন্ন সিংহ, ভূদেব মুখখাপাধ্যায়, অক্ষয় দত্ত, বিহারিলাল চক্রবর্তী, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কালীপ্রসন্ন ঘােষ, স্বভাবকবি গােবিন্দচন্দ্র দাস, রমেশচন্দ্র দত্ত, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, নবীনচন্দ্র সেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দীনবন্ধু মিত্র, তারকনাথ গঙ্গো- পাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, রাজনারায়ণ বসু, শিবনাথ শাস্ত্রী, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, গিরিশচন্দ্র ঘােষ, অমৃতলাল বসু, ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, দীনেশচন্দ্র সেন, জলধর সেন, সত্যেন্দ্রনাথ সত্ত, গােকুল নাগ, পরশুরাম' (রাজশেখর বসু), প্রমথ চৌধুরী, নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত, কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ মৈত্র, প্রভাতকুমার মুখােপাধ্যায়, অচিন্ত্য সেনগুপ্ত, রজনীকান্ত সেন, বিজয়চন্দ্র মজুমদার, করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়, কুদরঞ্জন মল্লিক, গিরীন্দ্রমােহিনী দাসী, কিরণধন চট্টোপাধ্যায়, নজরুল ইসলাম, কামিনী রায়, অনুরূপা দেবী, রাধারাণী দেবী, মােজাম্মেল হক, মীর মশারফ হােসেন, মােহিতলাল মজুমদার, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সজনীকান্ত দাস, কালিদাস রায়, প্রবােপকুমার সান্যাল, ‘বনফুল' (বলাহাদ মুখােপাধ্যায়), তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়, সুবােধ ঘােয, নরেন্দ্র দেব, নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রেমেন্দ্র মিত্র, বিভূতিভূষণ মুখােপাধ্যায়, মৌলভী রেজাউল করিম, প্রমথনাথ বিশী । (২) বিজ্ঞানে-জগদীশচন্দ্র ব, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, মেঘনাদ সাহা, নীলরতন ধর, জ্ঞানচন্দ্র ঘােষ, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, বিরজাশঙ্কর গুহ, শিশিরকুমার মিত্র, দেবেন্দ্রমােহন বসু। (৩) ইতিহাসে—অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, দুর্গাদাস লাহিড়ী, যদুনাথ সরকার, রমেশচন্দ্র মজুমদার, অধরচন্দ্র মুখােপাধ্যায়, রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, সুরেন্দ্রনাথ সেন, ননীগােপাল মজুমদার, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, রমাপ্রসাদ চন্দ, রামপ্রাণ গুপ্ত, নলিনীকান্ত ভট্টশালী, যােগন্দ্রনাথ সমাদ্দার, নীহাররঞ্জন রায়।

বাঙলা ও বাঙালী (৫) শিল্পকলায়-অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল বসু, যামিনীপ্রকাশ গঙ্গোপাধ্যায়, গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, যামিনী রায়, অতুল বসু, দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরী, পূর্ণচন্দ্র ঘােষ, সুরেন্দ্রনাথ কর, মুকুলচন্দ্র দে, সারদা উকীল, অসিতকুমার হালদার, রমেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। (৫) সঙ্গীত-কলায়-রামপ্রসাদ সেন, রামনিধি গুপ্ত (নিধিবাবু), গগাবিন্দ চক্রবর্তী, কালিদাস মুখখাপাধ্যায়, আনন্দচন্দ্র শিরােমণি, অতুল- প্রসাদ সেন, লালাদ বড়াল, দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রাধিকাপ্রসাদ গােস্বামী, দিলীপকুমার রায়, জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদ গােস্বামী, ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়, শচীন দেববর্মন, সাহানা দেবী, কৃষ্ণচন্দ্র দে, পঙ্কজ মল্লিক, উত্তরা দেবী, শৈল দেবী, গীতা রায়। (৬) জাতীয়-আন্দোলনে—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, রামমােহন রায়, অশ্বিনীকুমার দত্ত, রামতনু লাহিড়ী, লালমােহন ঘােয, রামগােপাল ঘােষ, আনন্দমােহন বসু, নবগােপাল মিত্র, শিশিরকুমার ঘােষ, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিপিনচন্দ্র পাল, কাদম্বিনী গাঙ্গুলী, সরলা দেবী, অরবিন্দ ঘােষ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অম্বিকা মজুমদার, রাসবিহারী ঘােষ, চিত্তরঞ্জন দাশ, যতীন্দ্র- মােহন সেনগুপ্ত, সুভাষচন্দ্র বসু, শরৎচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ শাসমল, হরদয়াল নাগ, সরােজিনী দেবী (নাইডু), আবদুল রসুল, আবদুল হালিম গজনভী, আবদুল শােভান চৌধুরী, খাজা আতিকুলা, রাসবিহারী বসু,যতীন মুখখাপাধ্যায়, রকনাথ দাস, কালীপ্রসন্ন কাব্যবিশারদ, ডাঃ প্রফুল্লচন্দ্র ঘােষ, যতীন দাস, সুরেশচন্দ্র মজুমদার, ডাঃ সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, জোতির্ময়ী গাঙ্গুলী, সুরেন্দ্র- মােহন ঘােষ, ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়, ডাঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখােপাধ্যায়। (৭) ব্যবসা-বাণিজ্যে-রামদুলাল সরকার, রাজেন্দ্রনাথ মুখােপাধ্যায়, মহেশচন্দ্র ভট্টাচাৰ্য, বটকৃষ্ণ পাল, কার্তিকচন্দ্র বসু, নলিনীরঞ্জন সরকার, আলামােহন দাস।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড (৮) চিকিৎসাবিদ্যায়–গঙ্গাধর সেন, দ্বারকানাথ সেন, গুডিভ চক্রবর্তী, দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সিকলাল দত্ত, সুরেশপ্রসাদ সৰ্বাধিকারী, কেদারনাথ দাস, নীলরতন সরকার, বিধানচন্দ্র রায়, বামনদাস মুখোপাধ্যায়, উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী, গণনাথ সেন, নলিনীরঞ্জন সেনগুপ্ত, কুমুদশঙ্কর রায়। (৯) ধর্ম ও সমাজ-সংস্কারে--রাজা রামমােহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, কেশবচন্দ্র সেন, শিবনাথ শাস্ত্রী, রাজনারায়ণ বসু, দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়, স্বামী বিবেকানন্দ, বিজয়কৃষ্ণ গােস্বামী, স্বামী প্রণবানন্দ। (১) শিক্ষা-প্রসারে—ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রেভারেণ্ড কৃষ্ণমােহন বন্দ্যোপাধ্যায়, ঈশানচন্দ্র বসু, প্রসন্নকুমার ঠাকুর, গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, মহম্মদ মহসীন, ভূদেব মুখখাপাধ্যায়, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, গিরিশচন্দ্র বসু, আশুতােষ মুখােপাধ্যায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখােপাধ্যায়, হরেন্দ্র কুমার মুখােপাধ্যায়, অপূৰ্ব্বকুমার চন্দ। (১১) নারীমুক্তি আন্দোলন ও স্ত্রী-শিক্ষা-প্রসারে-মহর্ষি দেবেন্দ্র- নাথ ঠাকুর, কেশবচন্দ্র সেন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বর্ণকুমারী দেবী, কৃষ্ণভামিনী দাস, কালীকৃষ্ণ দেব, অবলা বসু, উমেশচন্দ্র দত্ত, গুরুসদয় দত্ত, কাদম্বিনী গাঙ্গুলী, সরলা দেবীচৌধুরাণী, সরলাবালা সরকার, সারদেশ্বরী দেবী। (১২) ভারতীয় সংস্কৃতির পুনরুদ্ধারে—হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, এজেন্দ্রনাথ শীল, দীনেশচন্দ্র সেন, রাজেন্দ্রলাল মিত্র, কালিদাস নাগ, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ, ক্ষিতিমােহন সেন, হীরেন্দ্রনাথ দত্ত, মহেন্দ্রনাথ সরকার, সুরেন্দ্রনাথ দাসগুপ্ত, কৃষ্ণচন্দ্র ভট্টাচাৰ্য, বসন্তরঞ্জন রায়, গােপীনাথ কবিরাজ, যােগেশচন্দ্র রায়। (১৩) সাংবাদিকতায়–গঙ্গাকিশাের ভট্টাচাৰ্য, রামমােহন রায়, হরিশচন্দ্র মুখােপাধ্যায়, দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ, কৃষ্ণবিহারী সেন, নরেন্দ্রনাথ সেন, কৃষ্ণদাস বাঙলা ও বাঙালী পাল, বিপিনচন্দ্র পাল, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্ৰহ্মবান্ধব উপাধ্যায়, হরিনাথ মজুমদার, কৃষ্ণকুমার মিত্র, কালীনাথ রায়, শিশিরকুমার ঘােষ, মতিলাল ঘােষ, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, শ্যামসুন্দর চক্রবর্তী, সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী, হেমেন্দ্র প্রসাদ ঘােষ, প্রফুল্লকুমার সরকার, হেমচন্দ্র নাগ, সজনীকান্ত দাস, বিবেকানন্দ মুখােপাধ্যায়। (১৪) আইন ব্যবসায়ে—রাসবিহারী ঘােষ, আবদার রহিম, তারকনাথ পালিত, চিত্তরঞ্জন দাশ, সৈয়দ আমির আলি, রমেশচন্দ্র মিত্র, ব্যোমকেশ চক্রবর্তী সত্যেন্দ্রপ্রসন্ন সিংহ, গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, আশুতােষ মুখােপাধ্যায়, শশিভূষণ দে, রাধাবিনােদ পাল, রমাপ্রসাদ মুখােপাধ্যায়, নির্মলচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। (১৫) খেলাধুলায়—সারদারঞ্জন রায়, উমেশচন্দ্র মজুমদার, (দুখীরামবাবু), এ ব্যানার্জী (ক্রিকেট)। শিবদাস ও বিজয়দাস ভাদুড়ী, অভিলাষ ঘােষ, গােষ্ঠ পাল, মনা দত্ত, সামাদ, আব্বাস (ফুটবল)। প্রফুল্লকুমার ঘােষ, রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (সতার)। শ্যামাকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, আশানন্দ ঢেকী, যতীন্দ্রমােহন গুহ (গােবরবাবু), কাপ্তেন পি. কে. গুপ্ত (শক্তি চর্চা)। বিষ্ণু ঘােয (ব্যায়াম)। এস. কে. মুখার্জী, দিলীপ বসু (টেনিস )। অমর দত্ত ( ভার তােলা)। প্রত্যুষ দেব (বিলিয়ার্ড খেলা)। পরেশলাল রায়, বলাই- দাস চট্টোপাধ্যায়, জগৎকান্ত শীল ( মুষ্টিযুদ্ধ )। মনােতােষ রায় (বিশ্বশ্রী)। (১৬) দানব্রতে—মহারাণী স্বর্ণময়ী, রাণী ভবানী, রাণী রাসমণি, রাণী কাত্যায়নী, রাসবিহারী ঘােষ, তারকনাথ পালিত, রাজেন্দ্র মলিক, গােবিন্দ- লাল রায়, মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী, চিত্তরঞ্জন দাশ, রাজা সুবােধচন্দ্র মল্লিক, শশিভূষণ দে, ডাঃ হরেন্দ্র কুমার মুখােপাধ্যায়। (১৭) নাটক অভিনয়ে-গিরিশচন্দ্র ঘােষ, অর্ধেন্দু মুস্তাফী, অমরেন্দ্রনাথ দত্ত, অমৃতলাল বসু, সুরেন্দ্রনাথ ঘােয, শিশিরকুমার ভাদুড়ী, অহীন্দ্র চৌধুরী, তিনকড়ি চক্রবর্তী, দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, নরেশ মিত্র, যােগেশ চৌধুরী, মনােরঞ্জন ভট্টাচার্য।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাও এই যুদ্ধে বাঙালী কি ‘যুদ্ধ-অপারগ’ জাতি? ! সে কথা সত্য নয়, তােমরা যদি ভারতের প্রাচীন ইতিহাস পড়া, জানতে পারবে যে প্রাচীনকালে ভারতবর্ষে যখন আর্যরা সভ্যতা বিস্তার করে বিভিন্ন রাষ্ট্র জড় করে দিকে দিকে এগিয়ে চলেছিল, তখন তারা সব প্রথম বাধা পায় বাঙালীদের পূর্বপুরুষদের কাছে। আর্যদের কাছে তারা মাথা নােয়াননি প্রথমে। তারপরে যখন মৌৰ্য্য-সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত সারা আর্যাবর্তে রাজ্যবিস্তার করেন, তিনিও প্রাচীন বাঙলার ‘গঙ্গারিড়ি’ বা ‘গঙ্গারাঢ় রাষ্ট্রকে বড় সহজে পদানত করতে পারেননি। তারপর বাঙলা দেশ যখন গৌড়বঙ্গ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে-তখন গৌড়েশ্বর, মুসলমান রাজা সামসুদ্দীন ইলিয়াসের সঙ্গে দিল্লীর সম্রাট ফিবােজ সাহ তােগলকের ভয়ানক যুদ্ধ বাধে—এই যুদ্ধ ‘একডালার যুদ্ধ নামে প্রসিদ্ধ। সহদেব নামে একজন বাঙালী সেনাপতি একলক্ষ আশি হাজার বাঙালী সৈন্য নিয়ে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ দেন। বাঙালীর বীরত্বেই সেবার ফিরােজ শাহ তােগলককে যুদ্ধ জয়ে বিফলমনােরথ হয়ে দিল্লী ফিরে যেতে হয় এবং ১৩৫৭ খৃঃ অব্দে দু’দলে সন্ধি হয়—তখন থেকেই বাঙলার স্বাধীনতা দিল্লীর বাদশাহকে মেনে নিতে হয়। একালে ১৯১৪ খৃ: অব্দে ইউরােপে যুদ্ধের আগুন জ্বলে ওঠে যখন, তখন বাঙালীকে এই যুদ্ধের সৈনিক করে নেওয়া হয়। বাঙালীকে যুদ্ধে যােগ দেবার অধিকার দেন সব প্রথম ফরাসী ভারতের কর্তৃপক্ষ। ফ্রান্সের সহায়তায় ২৫ জন বাঙালী যুবক এই যুদ্ধে যােদ্ধার সম্মান লাভে এগিয়ে যান, মৃত্যুকে ভয় না করে। ফ্রান্সের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে বাঙালীর ছেলেরা প্রথম প্রমাণ করে আসে যে, বাঙালী যুদ্ধ-অপারগ জাতি নয়। বীর বাঙালী যুবক যােগীন্দ্রনাথ সেন ফ্রান্সের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ দিলেন ১৯১৬ খৃঃ অব্দের ২২শে মে। ইনিই প্রথম বাঙালী যিনি ইউরােপের মহাযুদ্ধে সাধারণ সৈনিক হয়ে মরণ বরণ ক'রে বাঙালীর মুখ উল করেন। গত মহাযুদ্ধে দুই হাজার বাঙালী সৈনিক নিয়ে গঠিত বাঙলা ও বাঙালী ৩৭ ; ৬ 49th. Regiment মেসােপটেমিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়ে এসেছে। এ সব জানা সত্ত্বেও বাঙালীকে ‘যুদ্ধ-অপরাগ’ জাতি ব'লে যারা অপবাদ দিত তারা বাঙালীকে ভয় করতে, এই কথাটাই জেনে রেখাে। বর্তমান যুদ্ধে বাঙালীর ছেলে বৈমানিক ইন্দ্রনাথ রায়, কালীপ্রসাদ চৌধুরী, ও আরও অনেকে প্রাণ দিয়ে বাঙালীর গৌরব বাড়িয়ে গেছেন। এছাড়া স্বাধীন ভারতের সৈন্যবাহিনী পরিচালনায় মেজর জেনারেল জয়ন্ত চৌধুরী, এয়ার মার্শাল সুব্রত মুখার্জী ও মেজর জেনারেল অজিতঅনিল রুদ্র এবং কাশ্মীর যুদ্ধে রঞ্জন দত্ত প্রভৃতি বাঙালীর গৌরব বাড়িয়েছেন। বাঙালীর সেরা ‘সাহিত্য-সৃষ্টি' বলতে মােটামুটি কোন কোন রচনা বা গ্রন্থ বােঝায় ? চণ্ডীদাস ও বিদ্যাপতির—‘পদাবলী'; কাশীরাম দাসের—মহাভারত’ ; কৃত্তিবাসের রামায়ণ’; মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর—“চণ্ডীমঙ্গল'; কৃষ্ণদাস কবি- রাজের-চৈতন্য চরিতামৃত'; ভারতচন্দ্র রায়ের-‘অন্নদা মঙ্গল’ ; মাইকেল মধুসূদন দত্তের-‘মেঘনাদবধ কাব্য’ ; নবীনচন্দ্র সেনের—প্রভাস’ ‘পলাশির যুদ্ধ', 'রৈবতক’, ‘কুরুক্ষেত্র' ; দীনবন্ধু মিত্রের-‘নীলদর্পণ; বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের -কমলাকান্তের দপ্তর, কপালকুণ্ডলা, কৃষ্ণকান্তের উইল, ‘দুর্গেশনন্দিনী, ‘আনন্দমঠ; রমেশচন্দ্র দত্তের—‘জীবন সন্ধ্যা, জীবন প্রভাত’; অক্ষয়কুমার বড়ালের-এষা’ ; রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের-গীতাঞ্জলি’ ; গল্পগুচ্ছ, গােরা; হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়েরবৃত্রসংহার; স্বামী বিবেকানন্দের প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, কৰ্ম্মযােগ’ ‘জ্ঞানযােগ’, ‘পত্রাবলী, ‘ভাববার কথা', ; তারকনাথ গাঙ্গুলীর-‘স্বর্ণলতা’ ; মীর মশারফ হােসেনের—“বিষাদসিন্ধু’ ; দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের —“চন্দ্রগুপ্ত, হাসির গান, ‘মেবার পতন; গিরিশচন্দ্র ঘোষের—বলিদান, ‘অশােক, প্রফুল্ল ; ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনােদের—“রঘুবীর, আলমগীর, নিবেদিতা’ ; অমৃতলাল বসুর—‘বিবাহ-বিভ্রাট, ‘খাস-দখল’; জলধর সেনের -“হিমালয়; রাধারাণী দেবীর—‘লীলাকমল, কামিনী রায়ের—‘আলাে ও ;

• মন্মথ •• ; জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড ছায়া ; অনুরূপা দেবীর—মা, পােয়পুঞ্জ; নজরুল ইস্লামের—‘অগ্নিবীণা অরবিন্দ ঘােযের ধর্ম ও জাতীয়তা’ ; শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের-শ্রীকান্ত, ‘শেষপ্রশ্ন, “পথের দাবী’ ; প্রমথ চৌধুরীর—‘চার ইয়ারী কথা,' ‘বীরবলের হালখাতা' ; সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের-‘বেণু ও বীণা, “কুহু ও কেকা, ‘তীর্থরেণু; রায়ের-‘কারাগায়,' ‘মীরকাসিম'; সুবােধ ঘােষের—ফসিল' ; নিরুপমা দেবীর—“শ্যামলী, দেবত্র' ; যাযাবরের-‘দৃষ্টিপাত’; মৌমাছির ‘নয়াযুগের রূপকথা, ‘পুতুলের দেশ, যারা মানুষ নয়’; অন্নদাশঙ্কর রায়ের—“পথে-প্রবাসে’; রবীন্দ্র মৈত্রের--‘ত্রিলােচন কবিরাজ’ ও ‘থার্ড ক্লাস’; কান্তিচন্দ্র ঘোষের ওমর-খৈয়াম’; কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের-- ‘কবুলতি, ‘আমরা কি ও কে ? ; দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের-ঠাকুরমার ঝুলি’; সুকুমার রায়চৌধুরীর—‘আবােবােল, হযবরল’; যােগীন্দ্রনাথ সরকারের-‘হিজিবিজি, ‘হাসিখুসি, ‘খুকুমণির ছড়া’ ; অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রাজকাহিনী, ‘বুড়ো অংলা, ‘নালক’; যামিনীকান্ত সােমের-‘ছেলেদের রবীন্দ্রনাথ’ ; পরশুরামের—‘গড্ডলিকা, ‘কজ্জলী’ ; বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের -“ইছামতী’ ‘পথের পাঁচালী’ ‘অপরাজিত’; শ্রীমকথিত—“রামকৃষ্ণ কথামৃত' ; প্রবােধকুমার সান্যালের-মহাপ্রস্থানের পথে ; সজনীকান্ত দাসের—‘পথ চলতে ঘাসের ফুল’; তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের-ধাত্রী দেবতা, ‘গণদেবতা, ‘পঞ্চগ্রাম; মন্বন্তর’; বনফুলের—মধুসূদন, ‘জঙ্গম' ; সতীনাথ ভাদুড়ীর ‘জাগরী’; সৈয়দ মুজতবা আলীর—‘দেশে বিদেশে’, ‘পঞ্চতন্ত্র। বাঙলাকে আরও ভাল করে জানতে হলে বড় হয়ে কি কি বাঙলা বই পড়তে হবে ? (১) বাঙলার ইতিহাস (১ম ও ২য় খণ্ড)-রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। (২) বৃহৎ বঙ্গ—ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন। (৩) বাঙালীর বল—রাজেন্দ্রলাল আচাৰ্য। (৪) আমরা বাঙ্গালী-হরিসাধন চট্টোপাধ্যায়। (৫) গৌড়ের ইতিহাস-রজনীকান্ত চক্রবর্তী। (৩) বঙ্গভাষা ও সাহিত্য—ডক্টর দীনেশচন্দ্র ; ;

তুমি ও তােমার শরীর সেন। (৭) বাঙলা ও বাঙালী-আধাকমল মুখােপাধ্যায়। (৮) মধ্যযুগের বাঙলাকালীপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায়। (৯) ফিরিঙ্গী বণিক-অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়। (১০) বঙ্গের ইতিহাস-দুর্গাদাস লাহিড়ী (১১) পুরাতনী- রহর শেঠ। (১২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস—সজনীকান্ত দাস। তুমি ও তােমার শরীর ঘুম পায় কেন? জেগে উঠি কি করে ? এ সম্বন্ধে বেশীর ভাগ বৈজ্ঞানিক বলেন মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের রকমফের হওয়ার ফলেই মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে, আর জেগে ওঠে। যখন আমরা জেগে থাকি তখন স্নায়ুকেন্দ্রগুলি রক্তকোষগুলিকে অনবরত খাটিয়ে মস্তিষ্কে রক্ত বয়ে নিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা এই ভাবে মানুষের জাগা অবস্থায় কাজ করতে করতে স্নায়ুকেন্দ্রগুলিও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কাজেই রক্তকোষগুলিও কাজে ঢিলে দেয়, তখন রক্ত চলাচলের বেগটা কমে আসে, ফলে মস্তিষ্কের কাজ করার ক্ষমতাও কমে আসে, তখনই মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে। আবার যখন বিশ্রাম নেবার পর স্নায়ুকেন্দ্রগুলাে কাজে লাগে, মানুষ তখনই জেগে ওঠে। তৃষ্ণা পায় কেন? আমাদের প্রত্যেকের শরীরে নিউমে গ্যাসট্রিক (Pneumo Gastric) ব'লে যে স্নায়ুশ্রেণী আছে সেই স্নায়ুশ্রেণীই পাকস্থলীতে কামনার উদ্রেক করে। যখন শরীরের ভেতরকার প্রয়ােজনমত জল পড়ে, তখন ঐ স্নায়ুৰেণীই মস্তিষ্কের অনুভূতিকেন্দ্রে জানিয়ে দেয় যে শরীরে জলের প্রয়ােজন। সঙ্গে সঙ্গে পান করার কামনা বা ইচ্ছা জেগে ওঠে আমাদের মনে—একেই বলি আমরা তৃষ্ণাবােধ। জেনে রাখো, কম জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড হাই ওঠে কেন? হাই ওঠার ব্যাপারটা ঘটে এইজন্যে যে, যখন আমাদের ক্লান্তি বােধ হয়, বা ঘুম পায় তখনই রক্তে অক্সিজেনের অভাব ঘটে তখন নাক দিয়ে যে অক্সিজেনটুকু ফুসফুসে যায়, তাতে সে অভাবটা মেটে না, তাই হাই উঠে মুখের গর্ত দিয়ে খানিকটা বাতাস সেই অক্সিজেনের অভাবটুকু খানিকটা মেটায়। নাক ডাকে কেন ? ঘুমােবার সময় আমাদের শােবার দোষে অনেক সময় আমাদের স্বর- নালীটি স্বাভাবিক অবস্থায় না থেকে বেকায়দায় পড়ে বেঁকে-টেরে যায়। তাতে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যাঘাত ঘটে, তার ফলে স্বরনালীটি থেকে বেয়াড়া শব্দ বেরােয়, নাক বা মুখ দিয়ে। অনেকের স্বরনালীটিতে এমন কোন গলদ সব সময়েই থাকে যে জন্য ঘুমােলই তাদের নাক ডাকে। মাথার চুলে তেল দিলে বাড়ে, অথচ চোখের পাতার চুলে তেল দিলে বাড়ে না, এর কারণ কি? কারণটা আর কিছু নয়, আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ কতকগুলি cell বা কোষের সমষ্টি, কিন্তু বিভিন্ন অংশের ঐ cellগুলি বিভিন্ন ভাবে কাজ করে। মাথার চুল যে অংশে জন্মায় সেখানের cellগুলি যেভাবে কাজ করে ঠিক সেই ধরণের কাজ চোখের পাতার cellগুলি করে না কাজেই মাথার চুল যে পরিমাণে বাড়ে চোখের পাতার চুল সে পরিমাণে বাড়ে না, এবং সর্বত্র চুলের গােড়ার যে সমস্ত সেল থাকে তার সমষ্টিগত শক্তি অনুযায়ী প্রত্যেকটি চুলের বাড়বার সীমা আছে, সেই সীমার বেশী কেউ বাড়তে পারে না। পাকা চুল সাদা হয় কেন ? পাকা চুল সাদা দেখায় তাতে পিগমেন্ট (pigment) বলে পদার্থটির অভাব ঘটে। এই পিগমেন্ট হচ্ছে এক রকম রঙ-জাতীয় জিনিস।

১ তুমি ও তােমার শরীয় বুকটা ধুকধুক করে কেন? তার কারণ বুকের মধ্যেই আছে দেহের আসল যন্ত্র হৃৎপিণ্ড বা হাট। জীবন সৃষ্টির প্রথম দিন থেকে এই যন্ত্রটি চলতে শুরু করে—চলে মৃত্যু পর্যন্ত। এইটি বন্ধ হলেই দেহের সব কলকজা অচল হয়ে পড়ে। শীতকালে গা, হাত, পা, ঠোট কাটে কেন? এর কারণ, শীতকালের আবহাওয়াতে জলীয় অংশ বা moisture খুব কম থাকে ; সব জিনিস থেকে সেই আবহাওয়া জল শুষে নিতে চায়, আমাদের চামড়া, ঠোঁট, হাত, পা থেকেও আবহাওয়া তখন তেল ও জল টেনে নেয়, ওগুলাে তখন শুকিয়ে যায় বেশী রকম, তাই তা ফাটে। সেইজন্য শীতকালে গা, হাত, পা ও ঠোটে বেশী তেল দেবার ব্যবস্থাটা ভাল। দিলে চামড়া নরম হয় ও সহজে ফাটে না। কাতুকুতু দিলে হাসি পায় কেন? আমাদের হাসির উৎপত্তি হয় প্রধানতঃ তিনটি বিভিন্ন শ্রেণীর পেশীর (Muscle) নড়াচড়ার ফলে। মুখের কতকগুলি পেশী ও শ্বাসযন্ত্রের পেশী সজাগ হয়ে ওঠে—সাধারণতঃ যখন আমরা মস্তিষ্কে কোন আনন্দদায়ক অনুভূতি পাই। কিন্তু এ ছাড়াও জোর করে ঐ মাংসপেশীগুলিকে সজাগ ক'রে মানুষকে হাসানাে যায়, যদি ঐ পেশীগুলির সঙ্গে শরীরের অন্য অংশের যে সমস্ত পেশীর (muscle) যােগ আছে, সেগুলিকে নাড়া দেওয়া যায়। কাতুকুতু দেওয়ার ফলে ঠিক এই পেশীগুলােকে নাড়া দেওয়ার ব্যাপারটাই ঘটে, তাই আমরা না হেসে পারি না। সর্দি হয় কেন? অনেক সময় নাকে শুকনাে ঘাস, পাতার গুড়াে, ফুলের রেণু বা ধূলিকণা যায়। তখন নাকের Muccous Membrane বা শ্লেষ্মপট বলে অংশটি উত্তেজিত হয়ে নাকের মধ্যে সুড়সুড়ি লাগায়, ফলে হাঁচির সঙ্গে সর্দি দেখা অনেক সময় ঠাণ্ডা ভিজে কাপড় গায়ে থাকলে বা গায়ে ঠাণ্ডা হাওয়া ৪ (১ম) ઉર জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধু লাগলে সর্দি হয়। এর কারণ, ঐ ভাবে ঠাণ্ডা লাগার ফলে চামড়ার নীচের ‘রক্তথলি বা Blood vesselsগুলাে সঙ্কুচিত হয়ে রক্ত চলাচলের ব্যাঘাত ঘটায়। রক্তপ্রবাহই আমাদের শরীরে প্রয়ােজনমত উত্তাপ বজায় রাখে, কাজেই তখন শরীরের স্থায়ী উত্তাপটা কমে আসে এবং রক্তপ্রবাহ শরীরের কোন কোন জায়গায় এসে জমে যায়, বিশেষ করে নাকের ভিতর এবং গলার চামড়ার তলায় রক্তটা বেশী জমে যায়। তখন বাতাসে ভেসে আসা রােগ- বীজাণুগুলাে নাকে ঢুকে এই জমাট-বাঁধা রক্ত থেকে খাবার পেয়ে চটপট বেড়ে ওঠে—ফলে সর্দি রােগটা দেখা দেয়। জ্বর হলে জ্বরঠোট হয় বা ঠোটে ফোস্কা পড়ে কেন? জ্বর হলে জ্বরঠোট হয় বা ফোস্কা পড়ে এই জন্যে যে শরীরের সামান্য উত্তাপে সহজেই সেটা গরম হয়ে ওঠে। অর্থাৎ ঠোঁটের চামড়ার ঠিক নীচেই যে সব রক্তথলি (Blood vessels) আছে তা জ্বরের সময় খুব সহজেই গরম হয়ে ওঠে তাই ঠোটে অমন ফোস্কা পড়ে। চোখ নাচে কেন ? আমরা সচরাচর যে ব্যাপারকে ‘চোখ-নাচা’ বলি সেটা আসলে চোখের নাচই নয়। চোখের বাইরে চোখের পাতা বা যে আবরণ আছে, তারই কতকগুলি মাংসপেশী (Muscles ) রক্ত চলাচলের গােলমালে ও আরও নানা কারণে ঐভাবে কাপতে শুরু করে। সেই মাংসপেশীগুলির স্পন্দনকেই আমরা ভুল করে বলি, ‘চোথ নাচ।। জুতাের ঘষাঘষি লেগে বা পুড়ে গেলে চামড়ায় ফোস্কা পড়ে কেন? এর একমাত্র কারণ উত্তাপ-জুতার ঘষটানিতে যে উত্তাপের সৃষ্টি হয়, আর আগুনে উত্তাপ থাকে, সে কথাতাে জানই ; এখন উত্তাপ শরীরের যে জায়গাটিতে লাগে—সেই জায়গাটির জলীয় অংশ ও রক্ত, উত্তাপে জলীয় বাষ্প হয়ে জড়ো হয় ঐ জায়গাটিতে। কিন্তু সেই বাষ্প চামড়া ভেদ করে তুমি ও তােমার শরীর বেরুতে পারে না বলেই তার চাপে চামড়াটি যায় বেড়ে—তারই মধ্যে আশ্রয় নেয় ঐ বাষ্প। সেটাকেই ত আমরা ফোস্কা বলে থাকি। বিছুটি গায়ে লাগলে কুটকুট করে কেন? তার কারণ, বিছুটি গাছের পাতায় দেখবে খুব সরু সরু রোয়া আছে। এই রোয়াগুলাে যদি অনুবীক্ষণ যন্ত্রে রেখে দেখ, দেখবে ঐ রোয়াগুলাের ডগার ওপরটা বলের মত গােল, কিন্তু আমাদের গায়ে লাগার সঙ্গে সঙ্গে ঐ গােল ডগাটা ভেঙ্গে গিয়ে আমাদের চামড়ার ভেতর রেয়ার ছুঁচলাে ডগাটা যায় ঢুকে। আর ঐ রেয়ার ভেতরের ফাপা নলে যে বিষাক্ত রস থাকে, সেই রস তখন রক্তের সঙ্গে মিশে যায়, সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত জায়গাটি ফুলে ওঠে ও কুটকুট করে। ভয় পেলে গায়ের লােম খাড়া হয়ে ওঠে কেন? কারণ আমাদের গায়ের প্রত্যেকটি লােম ও চুলের গােড়াটার চারিধারে একটা ক'রে খাপের মত জিনিস থাকে, একে বলা হয় লােমকূপ বা Follicle এই Follicle এর সঙ্গেই থাকে প্রথমতঃ রক্তথলি (Blood vessels ) অর্থাৎ যেখানে রক্ত থেকে প্রতিটি চুল তার খাদ্য সংগ্রহ করে ; দ্বিতীয়তঃ থাকে কতকগুলি গ্রন্থি বা Glands, এগুলাের কাজ হলাে চুলকে নরম আর তেল করে রাখা। আর থাকে ঐ রক্তের থলির সঙ্গে সংযুক্ত কতকগুলাে স্নায়ু ( Nerves) ও পেশী (Muscles)। লােমের নীচের এই সঙ্গে পেশীগুলিকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ইরেকটর প্যাপিলে’ (Erector papillae ), তােমরা বলতে পার ‘চুল খাড়া করার পেশী’—পেশীগুলির সঙ্গে স্নায়ুর যােগা- যােগ আছে। যখন আমরা ভয় পাই তখন আমাদের মস্তিষ্ক ও দেহের সমস্ত স্নায়ুগুলাের সঙ্গে লােমকূপের স্নায়ুগুলােও সজাগ হয়ে ওঠে, ফলে ঐ লােম খাড়া করবার পেশীগুলিতে টান পড়ে বা সঙ্কুচিত হয়। তাই ভয় পেলে লােম খাড়া হয়ে ওঠে।

০৪ জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড এক জায়গায় দাঁড়িয়ে খানিকক্ষণ ঘুরলে মাথা ঘােরে এবং সব জিনিস ঘুরছে বলে মনে হয় কেন ? যখন তুমি এক জায়গায় দাড়িয়ে একই কেন্দ্রে ঘুরপাক খাও, তখন তােমার চোখের সামনে যা কিছু থাকে সবগুলির ছায়া খুব তাড়াতাড়ি তােমার চোখের দৃষ্টিতে অনবরতই বদলে যায়, চোখের দৃষ্টিতে তাই সেগুলিকে তখন সচল বলেই মনে হয়। এই সচল গতির অনুভূতির সঙ্গে সঙ্গে তােমার মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলােও অস্বাভাবিক ভাবে সচল হয়ে ওঠে। তাই তুমি যখন স্থির হয়ে দাড়াও তখন মস্তিষ্কের ঐ সচল অনুভূতিটা দেখার অনুভূতির চেয়ে প্রবল হয়ে থাকে, অর্থাৎ চোখে যদিও তখন আশপাশের জিনিসগুলির মূর্তি প্রতিফলিত হয়, তবুও মস্তিষ্ক সেটা অনুভব করতে পারে না। তাই তখনও মনে হয় আশে পাশের জিনিসগুলাে ঘুরছে, আর মাথাটাও ঘুরছে। অন্ধকারে দেখতে পাই না কেন? ক্যামেরার লেন্স দিয়ে যেমন ক্যামেরার পেছনে ঘষা কাচটিতে ছবি প্রতিফলিত হয়, তেমনি আমাদের চোখের মণির ভেতর দিয়ে তার পেছনে, চোখের ভেতর যে পাতলা পর্দা (অক্ষিপট' বা Retina) আছে, তাইতে আমরা যা কিছু দেখি সেই ছবিটি প্রতিফলিত হয়। এই প্রতিফলন আলাের সাহায্যেই সম্ভব—তাই অন্ধকার জায়গায় কোন জিনিস রেখে যদি ফোকাস করা যায়, তাহলে পেছনের ঘষা কাচে ছবি প্রতিফলিত হয় না। যে জিনিসটি আমরা দেখি তার ওপর আলাে পড়ে সেটি আবার চোখের মণির ভেতর দিয়ে অক্ষিপটে প্রতিফলিত হয় বলেই মস্তিষ্কের স্নায়ুকেন্দ্রে উত্তেজনা জাগায়, তাই আমরা দেখতে পাই—কাজেই যেখানে আলাে নেই, সেখানে কোন জিনিস থাকলে তার প্রতিফলন অক্ষিপটে হয় না, তাই আমরা অন্ধকারে দেখতে পাই না।

তুমি ও তােমার শরীর অন্ধকার কেন ঘুমের সাহায্য করে? এর কারণ হচ্ছে, তােমরা জানাে আলাে থেকে গাছপালা পশুপাখী আমরা সবাই অল্পবিস্তর জীবনীশক্তি পেয়ে থাকি, অর্থাৎ আলাে আমাদের স্নায়ু ও মস্তিষ্কে চাঞ্চল্য এনে জড়তা দূর করে। আচ্ছা এখন জেনে রাখ যে, যখন ঘুম পায়, তখন আমাদের স্নায়ু, মস্তিষ্ক ও পেশীগুলাে সব খেটে খেটে এলিয়ে পড়ে, তারা চায় বিশ্রাম ; কিন্তু তখন যদি আমরা আলাে জ্বালিয়ে রাখি সেই আলাের পরশে তখনও ঐ ক্লান্ত স্নায়ুগুলাে এলিয়ে পড়া সত্ত্বেও সজাগ হয়ে ওঠে, তারা ছুটি নিতে পারে না অতটা তাড়াতাড়ি অর্থাৎ ঘুমটা একটু দেরীতেই আসে, কিন্তু আলো না থাকলে তাদের এই চেতনাটা সহজেই কমে আসে, সহজেই তারা শান্ত হয়ে পড়ে, আর আমরাও চটুপটু ঘুমিয়ে পড়ি। ট খেলে দাঁত টকে যায় ও গা শিরশির করে ওঠে কেন? আমাদের দাতের ওপরে যে কলাই’ বা ‘এনামেলের আবরণ আছে তাতে টক্ জিনিসের ‘এ্যাসিড’ লাগে, আর তারই রাসায়নিক ক্রিয়ায় সাময়িক ভাবে ঐ এনামেলটা তখন জখম হয়ে পড়ে, ফলে দাতের ঐ ‘কসাই’ বা সাদা পাথরের মত অংশের নাচে যে সব স্নায়ু আছে, সেগুলো সজাগ হয়ে ওঠে। তাহ দাত ঢকে যায় ও তার শিহরণ লেগে দেহের স্নায়ুমণ্ডলীও শির শিল্প করে ওঠে। নখ ও চুল কাটতে ব্যথা লাগে না কেন? নখ ও চুলের সঙ্গে কোনও নার্ভ বা স্নায়ুর যােগাযােগ নেই বলে। স্নায়ুর মারফতেই আমরা সব রকম ব্যথা অনুভব করি, তাই নখ চুল কাটলে আমাদের ব্যথা লাগে না। ভাল ভাল খাবার দেখলে জিভে জল আসে কেন? খাবার দেখলে জিভ থেকে যে জল বেয়ােয় সেটা ঠিক জল নয়, আসলে ওটা লাল।। আমাদের মুখের ভেতর জিভের নীচে ও গালের ভেতরের জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাও দেওয়ালে লালা গ্রন্থি আছে। এই গ্রন্থি বা গ্লাণ্ডগুলাে রক্ত থেকে জল ও অন্যান্য পার্থ বার করে নিয়ে লালা তৈরী করে এবং লালার আকারে তা-ই ঐ লালাগ্রন্থির সঙ্গে সংযুক্ত সূক্ষ্ম নল ৰেয়ে আমাদের মুখে এসে পৌঁছায়। এই লালা জিনিসটা সব সময়ে আমাদের মুখের ভেতরটিকে ভিজিয়ে রাখে। তাছাড়া যখন আমরা কোন কিছু খাই তখন এই লালা খাবার জিনিসকে ভিজিয়ে নরম করে দেয় ও খাবার চিবানাে এবং খাবার গেলার ব্যাপারটাকে সহজ করে তােলে। খাবার মুখে দেবার সঙ্গে সঙ্গে জিভের স্বাদ-গ্রন্থির স্নায়ু মারফৎ মস্তিষ্কে খবরটা পৌছে যায়, অমনি সেখান থেকে অপর স্নায়ুর মারফৎ লালাগ্রন্থিগুলােতে উত্তেজনা জেগে ওঠে—ফলে লালা বেরােতে শুরু করে। সময় সময় খুব ভাল ভাল খাবার দেখলে নাক চোখও রীতিমত তার খবরটা তাদের স্নায়ু মারফৎ পৌছে দেয় মস্তিষ্কে—মস্তিষ্ক তখন আগের মতই লালাগ্রন্থিগুলােকে জাগিয়ে তােলে। তাই রুচিকর খাবার দেখলে বা খাবারের গন্ধ পেলে আগে থেকেই আমাদের জিভে জল দেখা দেয়। দুটি চোখ দিয়ে আমরা একই জিনিসকে দুটো করে দেখি কেন? একটা চোখের ওপরটা টিপে ধরলে দুটো করে দেখি কেন ? কারণ সাধারণতঃ দুটো চোখই এমন ভাবে তৈরী যে তারা একসঙ্গে একই ভাবে তাদের আলােক প্রতিফলনের কাজ করে এবং মস্তিষ্কের একই কেন্দ্রে এই দৃষ্টিবােধের চেতনা জাগায়। তবে দুটো চোখ যদি একই ভাবে না থেকে একটু ওলােট-পালােট হয়ে যায় তা হলে আলােক প্রতিফলনের ব্যাপারেও গরমিল ঘটে। তখন আমরা একই জিনিসকে দুটো তিনটে দেখি—এটাই হলাে চোখের গােলমাল ; চোখ ট্যারা করলে বা একটা চোখের ওপরটা টিপে ধরলে তাই এ ব্যাপারটা ঘটে।

৪৭ তুমি ও তােমার শরীর ধুলাে-বালি পড়লে বা পেঁয়াজ কাটবার সময় চোখ দিয়ে জল পড়ে কেন? এর কারণ হচ্ছে, যতবারই আমরা চোখের পাতা ফেলি, ততবারই আমাদের চোখের কোণে যে অগ্রন্থি বা Lachrymal Gland আছে, তা থেকে জল বেরিয়ে আমাদের চোখের গােলকটাকে বা Eye Balটাকে, অনবরতই ধুয়ে পরিষ্কার ক'রে দিচ্ছে এবং সেই জল একটা নালা দিয়ে নাকের মধ্যে চলে গিয়ে শ্লেষ্মর সৃষ্টি করছে ; অর্থাৎ আমাদের চোখের গােলকটার ওপর সব সময়েই জল রয়েছে, তবে সেটা আমরা লক্ষ্য করি না, কাজেই, যখন ঠাণ্ডা বাতাস, ধুলাে ময়লা বা অন্য কিছু আমাদের চোখের কাজে বাধা দেয় তখনই ঐ গ্লাণ্ড থেকে খুব বেশী জল বেরিয়ে চোখটাকে বাঁচাবার চেষ্টা করে এবং তখন জল এতো বেশী পরিমাণে বেয়ােয় যে চোখের ঐ নালা ভর্তি হয়ে উপছে পড়ে আমাদের গালের ওপর। ঠিক এই ব্যাপারটাই ঘটে, যখন আমরা পেঁয়াজ ছাড়াই। পেঁয়াজে এক রকম সাদা ঝাঁঝালাে তেল আছে, যা বাতাসে উড়ে যায় বা উবে যায়। কাজেই পেঁয়াজ ছাড়ানাের সঙ্গে সঙ্গেই ঐ ঝাঝালাে তেলের খুব ঘােট ঘােট কণা ভেসে এসে আমাদের চোখের গােলকটাতে লাগে আর জ্বালার সৃষ্টি করে,তাই অমনি সঙ্গে সঙ্গে ঐ অশ্রুগ্রন্থি থেকে জল হড় হড় করে বেরিয়ে আসে চোখের ঐ গােলকটাকে ঝাঝালাে তেলের হাত থেকে রক্ষা করতে। কয়লার খেয়ায় চোখ জ্বালা করে কেন ? কয়লার ধোঁয়াতে সাধারণতঃ থাকে জলীয় বাষ্প, কার্বন ডায়ক্সাইড এবং সালফার ডায়ক্সাইড গ্যাস-ঐ সালফার ডায়কসাইড ও কার্বন ডায়ক্সাইড গ্যাস চোখের জলের সঙ্গে মিশে কার্বনিক এসিড ও সালফিউরিক এসিডের সৃষ্টি করে এবং এসিডের ক্ষারের সংস্পর্শে এসে চোখের স্নায়ুগুলাে আঘাত পায় ; তাই ধোয়া লাগলে চোখ জ্বালা করে। যে সব জিনিসের ধোয়ায় এগুলি বর্তমান থাকে না, তাতে চোখ জ্বালা করে না।

৪ তান-বিজ্ঞানের মধুভাও হাতে পায়ে ঝি ঝি ধরে কেন ? আমাদের দেহে এমন কতকগুলাে মায়ু আছে, যাদের সাহায্যে আমরা কোনও জিনিস চুলেই টের পাই যে, “ছুয়েছি”।-একে বলা হয় “স্পর্শানুভূতি'। এই ‘স্পশানুভূতি’টা আসলে হয় আমাদের মস্তিষ্কে—এই স্নায়ুগুলাের মারফৎ। এখন সময় সময় বেকায়দায় পড়ার ফলে, বা চাপ লেগে হাত পায়ের ওই ধরণের স্নায়ুগুলোর কাজ বন্ধ হয়ে যায়, কাজেই মস্তিষ্কে সেই ৯ স্পর্শানুভূতিটা নিয়ে যেতে পারে না ভাল করে। তখনই মনে হয় হাত-পায়ের ও-জায়গাটা অসাড় হয়ে গেছে, মনে হয় ঝিম্ ঝিম্ করছে। স্নায়ুগুলাে তাদের কাজ করতে না পেরে ছটফট করে বলে ওই ঝি ঝি ধরার ব্যাপারটা ঘটে। অর্থাৎ ঝি ঝি ধরে-মায়ুর আক্ষেপের ফলেই। শােক, দুঃখ, আনন্দ বা আঘাত পেলে মানুষ কঁদে কেন ? শােক, দুঃখ, আনন্দ বা আঘাত পেলে মানুষের মস্তিষ্কের কতকগুলি তারে ( স্নায়ুতে) কাঁপন লাগে এবং সেই কাপনের ঢেউ এসে লাগে চোখের অশ্রু- গ্রন্থিতে (Tear Gland); তখনই ঐ টিয়ার গ্লাণ্ড বা অগ্রন্থি থেকে হুড় হুড় করে জল বেরিয়ে পড়ে। এই জল ঐ গ্লাণ্ডগুলাের সাহায্যে আমাদের শরীরের রক্ত থেকেই সঙ্গে সঙ্গে প্রস্তুত হয় এবং এই ভাবে চোখ দিয়ে জল বার হওয়ার ব্যাপারটাকেই ‘কান্না’ বলা হয়। দুটো কান আঙুল দিয়ে চেপে বন্ধ করে দিলে কানের ভেতর এক রকম গুরু গুরু শব্দ শােনা যায়, এর কারণ কি? এর কারণ সহজ করে বুঝতে হলে, বুঝতে হবে প্রথম শব্দটা কি করে আমরা শুনতে পাই। কানের বাইরের দিকের গর্ত দিয়ে শব্দতরঙ্গ ঢুকে ধাক্কা দেয় কানের Eardrum-এর ওপর, এর ওপরে শব্দঢেউ লেগে সেটা কাঁপতে থাকে এবং সেখানকার স্নায়ুমণ্ডলীর মারফৎ সেটা মস্তিস্কে গিয়ে পেীছায়। Eardrum-এর বাইরের দিকে যেমন কানের গর্ত বা নল তুমি ও তােমার শরীর আছে (অর্থাৎ যেটাতে আমরা কলম বা পেন্সিল ঢুকিয়ে কানের ময়লা বার করি) ঠিক তেমনি ধারা আর একটা নল আছে কানের পর্দার পেছন থেকে গলার ভেতর অধি। এই নলটিকে বলা হয় Eustachian Tube (অষ্টাচিয়ান নল)। এই নলটিতে সব সময়েই বায়ু ভৰ্ত্তি থাকে—এই জন্য যে, কানের পর্দাটা বাইরের হাওয়ার চাপে যেন একপেশে না হয়ে পড়ে অর্থাৎ দু’ পাশের বায়ুর চাপে সেটা ঠিক মাঝামাঝি জায়গাতে দাঁড়িয়ে থাকে শব্দের কঁপন ধরবার জন্যে। কাজেই যখন আমরা বাইরের দিকের কানের গর্তটা আঙুল দিয়ে চেপে বন্ধ করে দিই, তখন ঐ ভেতরকার নলে হাওয়ার যে চাপ থাকে তাতেই কানের পর্দাটা কঁপতে থাকে এবং সেই কাপনের ফলে সেখানে একটা শব্দেরও সৃষ্টি হয়—সেটাই শুনতে পাই তখন ঐ রকম ‘গুরু গু’ আওয়াজের আকারে। কানে ‘খােল’ হয় কেন ? ঐ ‘খােল’ জিনিসটা কি ? ‘খােল’ পদাথ টি হচ্ছে কানের মল। কানের ভেতরের যে ছেদাটি দিয়ে শৰ যায় সেই ছেদাটি চামড়া দিয়ে ঢাকা থাকে, এই চামড়াতে কতকগুলি গ্রন্থি বা গ্লাস (Glands) আছে। এই গ্লাণ্ড থেকে একরকম চটচটে রস বেরােয়ত জমে জমেই কানে খােল জন্মায়। কানের ছিদ্রপথে রােগ- বীজাণু ঢুকলে ঐ ‘খােলর আঠায় আটকে যায়—তাতেই কান রক্ষা পায়। তবে কানে ‘খােল’ খুব বেশী জমলে শব্দের গতিপথ বন্ধ হয়ে যায়—সেই জন্য মাঝে মাঝে পরিষ্কার করা দরকার। এক এক জন মানুষের গলার স্বর এক এক রকম হয় কেন? এ প্রশ্নের জবাব হচ্ছে যে, প্রত্যেক মানুষের স্বরনালী এবং যেখান থেকে গলার আওয়াজের উৎপত্তি, সেই সব তন্ত্রগুলাে সবাইকার সমান আকারের যাদের গলার আওয়াজ মােটা, তাদের স্বরতন্ত্রীগুলাে ( Vocal chord) বড় আর মােটা—যাদের গলার আওয়াজ মিহি তাদের স্বরতন্ত্রীগুলাে ছােট এবং সরু। কাজেই এরাজের সরু বা মােটা তারে ঘা দিলে যেমন জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাও সরু বা মােটা আওয়াজ বেরােয়, তেমনি মানুষের স্বরনালী ও স্বরতন্ত্রীর গড়ন অনুযারী সৰু মােটা আওয়াজ বেরােয়। গলা গঙে কেন? মানুষের গলার ঐ স্বরতন্ত্রীগুলাে বড় দুৰ্বল—ঠাণ্ডা লাগা, সর্দি, কাশি হওয়া বা অতিরিক্ত চীৎকার প্রভৃতির ফলে ওগুলাে অতি সহজেই সাময়িক- ভাবে অসাড়ত্ব পায়। স্বরতন্ত্রীর এই সাময়িক অসাড়ত্বই হ’ল স্বরভঙ্গ বা গলা ভাঙ্গার কারণ। অনেক সময় ল্যারিংস বা স্বরযন্ত্রটি ফুলে ওঠার ফলেও স্বরভঙ্গ ঘটে থাকে। গরম কালে ঘাম হয়, শীতকালে ঘাম হয় না কেন? জবাবট। হচ্ছে যে, গরমকালে আমাদের শরীরের ভেতরকার উত্তাপটা ভয়ানক রকম বেড়ে যায়। কিন্তু এই উত্তাপ বাড়াটা স্বাস্থ্যের পক্ষে মােটই ভাল নয়। কাজেই তখন প্রকৃতির ব্যবস্থা অনুযায়ী চামড়ার তলায় রাশি রাশি রক্ত ছুটে যায় এবং ঐ রক্ত শরীরের উত্তাপে জল হয়ে চামড়ার সূক্ষ্ম ছেদা বা ঘর্মগ্রন্থির (Sweat glands) ভেতর দিয়ে ঘাম হয়ে বাইরে আসে এবং বায়ুর সংস্পর্শে এসে এই জল হাওয়ায় উবে যায়। উবে যাওয়া ব্যাপারটা ঘটে, জল তার সঙ্গে খানিকটা উত্তাপ তখনই নিয়ে যায়, এইভাবে ঘাম বেরুনাে ও সেটা উবে যাওয়ার ফলে শরীর তার বাড়তি উত্তাপটাকে কমিয়ে উত্তাপটিকে ঠিক করে নেয় তার দরকার মত। শীতকালে বাইরের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় শরীরের ভেতরটা অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডাই থাকে। কাজেই বাড়ন্ত উত্তাপ কমাবার জন্যে ঘামের তখন দরকারই হয় না। তাই আমরা শীতকালে ঘামি না। যখন আমরা বেশী পরিশ্রম করি বা ব্যায়াম করি, তখন ঘাম হয় কেন? যখন আমরা বেশ পরিশ্রম করি বা ব্যায়াম করি, তখন আমাদের শরীরের উত্তাপ যােগায় যে খাদ্যগুলাে, সেগুলাে খুব তাড়াতাড়ি পােড়ে বা হজম হয়ে যখন ঐ তুমি ও তােমার শরীর যায়। ফলে আমাদের শরীর যতখানি গরম হওয়ার দরকার, তার চেয়ে বেশী গরম হয়ে ওঠে। কাজেই প্রকৃতির সুন্দর ব্যবস্থা অনুযায়ী চামড়ার নীচে বেশী পরিমাণে রক্ত ছুটে যায়। আগেই পড়েছ, শরীরের বাড়ন্ত উত্তাপ সঙ্গে সঙ্গে ঘামের সৃষ্টি করে। গায়ের চামড়ার অসংখ্য ছেদা দিয়ে ঘাম বেরিয়ে হাওয়ায় উবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক পরিমাণে উত্তাপটাও সঙ্গে নিয়ে যায়, কারণ Eva poration বা উবে যাওয়ার ধর্মই হ'ল উত্তাপ কমানাে। এইভাবে পরিশ্রম বা ব্যায়ামের ফলে যে বাড়ন্ত উত্তাপের সৃষ্টি হয়, ঘাম সেটাকে কমিয়ে শরীরের ভেতর ঠিক যতটুকু উত্তাপ দরকার মাপমত ততটুকু উত্তাপেই বেঁধে শরীরকে স্বস্তি দেয়। শীতকালে নাক মুখ দিয়ে ধোয়া বেয়ােয় কেন ? ব্যাপারটা হচ্ছে, নাক মুখের ঐ ধোয়াটা জলীয় বাষ্প ছাড়া আর কিছুই নয়। শীতকালে বাইরের হাওয়ার উত্তাপটা মুখের ভেতরের উত্তাপটার চেয়ে ঠাণ্ডা থাকে ব'লে, ভেতরের জলীয় বাষ্প বাইরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ঠাণ্ডায় জমে গিয়ে খুৰ ঘােট ঘােট জলকণায় পরিণত হয়, আর সেটা ঐ ধোয়ার মত দেখায়। গরমকালেও মুখ দিয়ে ঐ রকম জলীয় বাষ্প বেরােয়, তবে বাইরের উত্তাপ তার চেয়ে বেশী থাকে বলেই সেটা তখন ওভাবে জলকণায় পরিণত হয় না, তাই তখন ঐ রকম মুখ দিয়ে ধোঁয়া বেরুতে দেখা যায় না। রক্ত লাল কেন ? রক্তের তরল অংশকে বলা হয় প্লাজমা ( Plasma)। এই প্লাজমাতে লক্ষ লক্ষ ছােট ছােট চাকতির মত এক রকম জিনিস ভেসে বেড়াচ্ছে-এগুলােকে বলা হয় রেড করপাসেস (Red Corpuscles) বা লাল কণিকা-এগুলাে আসলে কিন্তু লাল নয়; এগুলাের রঙ হচ্ছে ঘন হলদে, তবে তারা অনেকগুলাে এক সঙ্গে থাকার ফলেই মানুষের চোখে এই লাল রঙের আভাস পাওয়া যায়। এই লাল কণিকা একটা কত ছােট জান?

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড ইঞ্চি মাপের বত্রিশ হাজার ভাগের এক ভাগ। আমাদের শরীরে যতটা ওজনের রক্ত আছে তার অর্ধেকের বেশী হচ্ছে এই লাল কণিকা। শীতকালে শীত করে কেন? কাঁপুনি ধরে কেন? প্রথমতঃ, আবহাওয়ার উষ্ণতা অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা বলে। দ্বিতীয়তঃ, তারই ফলে আমাদের শরীরের ভেতরে যে তাপ তৈরী হচ্ছে তাও তাড়াতাড়ি বাইরের আবহাওয়ার সংস্পর্শে এসে খানিকটা ঠাণ্ডা হয়ে যায়, ফলে শীত পায় বা কঁপুনি ধরে। কঁপুনিটা হয় তখন এই জন্যে—দেহকে উত্তপ্ত করার জন্য দেহের ভেতরের যন্ত্র মাংসপেশীগুলােকে সচল করে তােলে। এই কাপুনিটাই দেহকে তখন গরম করে তােলার চেষ্টা করে—কঁপুনির ফলে দেহে উত্তাপের গরম কাপড় চোপড় দিয়ে মুড়ি দিয়ে বসে থাকলে দেখবে কম শীত করবে, কারণ তখন দেহের ভেতরকার ঐ উত্তাপটা বাইরে গিয়ে আবহাওয়ার সঙ্গে মিশে ঠাণ্ডা হতে পারে না। দেহের তাপ ভেতরে থেকেই শরীরটিকে গরম রাখে। হাঁচি কেন হয়? হচি পড়লে বােঝা যায় যে, কোনাে রােগ-বীজাণু বা মানুষের পক্ষে ক্ষতিকর কোনো পদার্থ নাকের ভেতর দিয়ে শরীরে প্রবেশ করবার চেষ্টা করছে এবং তাই নাকের স্নায়ুকেন্দ্রগুলাে জোর করে তাকে বার করে দিতে চাচ্ছে। হাঁচি পড়ে বা হাঁচি হয় ঐ কারণেই। স্বপ্ন জিনিষটা কি? মানুষ স্বপ্ন দেখে কেন? স্বপ্ন জিনিসটাকে অল্প কথায় বলা চলে ঘুমের ভেতর সচেতন অবস্থা। সাধারণত আমরা যখন ঘুমােহ, তখন আমাদের স্নায়ুগুলাে অবসন্ন হয়ে বিশ্রাম করে ; ফলে বাইরের জগতের সাড়া মস্তিষ্কে পড়ে না, কিন্তু মনের গহন থেকে চেপে রাখা ইচ্ছাগুলি আবার জেগে ওঠে; অনেক ভুলে যাওয়া বিষয় আবার স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই ইচ্ছাগুলি তখন মনের চেতনার তরে তুমি ও তােমার শরীর এসে সিনেমার ছবির মতাে ঘটনা সৃষ্টি করতে থাকে। এই সব ঘটনাকে ঘুমের মধ্যে সমস্ত ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করার নামই ‘স্বপ্ন দেখা। যাদের ঘুম খুব গাঢ় হয়, তারাও পাঁচজনের মতই স্বপ্ন দেখে, তবে তারা জাগে যখন স্বপ্নের কথা তখন তাদের একটুও মনে থাকে না। তাই লােকে বলে যে যার অঘােরে ঘুমােয় তারা স্বপ্ন কম দেখে। চোখে সাবান লাগলে জ্বালা করে কেন? সাবান দিলে ময়লা অত সহজে পরিষ্কার হয় কেন ? চোখে সাবান লাগলে জ্বালা করে এই জন্যে যে, সাবানে সােডিয়াম, পটাশিয়ম, এমােনিয়ম প্রভৃতি ধাতব লবণ বা ক্ষার জাতীয় জিনিস খুব বেশী পরিমাণে থাকে এবং ঐ ক্ষার জাতীয় জিনিস আমাদের চোখের স্নায়ুগুলােতে একটা আঘাত দেয় বা সাড়া জাগায়, তাই আমরা জ্বালা অনুভব করি। সাবান দিলে ময়লা পরিষ্কার হয়, তার কারণ ময়লাকে বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা ও জলের সঙ্গে সহজে মেশবার ক্ষমতা দুই-ই আছে ঐ ধাতব লবণের। ভেসে মানুষ জলে ডুবে মরে যাবার পর ভেসে ওঠে কেন ? মানুষ জলে ডুবে মরলে প্রথমে সে জলের তলায় তলিয়ে যায়। ওঠে মরার অনেক পরে। এর কারণ মৃত্যুর ফলে আমাদের দেহের নানা রকম পরিবর্তন ঘটে—রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীধ্বংসকারী জীবাণুরা দেহকে আক্রমণ করে সেটিকে পচিয়ে তােলে। এই পচন-ক্রিয়ায় দেহের ভেতরে গ্যাসের সৃষ্টি হয়, তাতেই জলের চেয়ে দেহের আপেক্ষিক গুরুত্বটা কমে যায় এবং দেহটা তাই জলে ভেসে ওঠে।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাও জল, হাওয়া, আলাে ও উত্তাপ ফুটন্ত জলে চাল দিলে ফুলে ভাত হয়ে ওঠে কেন—ঠাণ্ডা জলে কেন এমন হয় না? এর কারণ, আসলে একটি চালের দশভাগের নয় ভাগই হলাে শ্বেতসার বা ষ্টার্চ ( Starch)। এই শ্বেতসার পদার্থটি হচ্ছে বিভিন্ন অনুপাত অনুযায়ী কাৰ্বন, হাইড্রোজেন আর অক্সিজেনের মিশ্রণে কতকগুলাে খুব সূক্ষ্মদানা বা গ্রানিউল (Granule)-এর সমষ্টি। এই যে সূক্ষ্মদান এগুলি ঠাণ্ডা জলে গলে না ৰা পরস্পরের সঙ্গে আলাদা হয়ে যায় না, বরং একটি অপরের গায়ে বেশী করে লেগে যায়। কিন্তু গরম জলের উত্তাপে এই প্রত্যেকটি দানা বা গ্রানিউল’ যায় ফেটে এবং তখন তাই থেকে এক রকম আঠালাে পদার্থ বার হয় ; তাই ফুটন্ত জলে চাল দিলে ফুলে ভাত হয়ে ওঠে। দুধে জ্বাল দিলে সর পড়ে, অথচ জলে জ্বাল দিলে সর পড়ে না কেন ? দুধে মাখন বা চর্বি জাতীয় পদার্থ থাকে বলেই দুধ জ্বাল দিলে আগুনের তাপে সেটা সরের আকারের দুধের জলীয় অংশের ওপরে ভেসে ওঠে ও আস্তে আস্তে ঘনীভূত হয়ে সর হয়ে দাড়ায়। জলে অমন কোন মাখন বা চব্বি জাতীয় জিনিস তত থাকে না, তাই সর পড়ে না। দুধে জ্বাল দিলে উথলিয়ে পড়ে অথচ ফু দিলে উথলান কমে যায় কেন? এর জবাব হচ্ছে, দুধ যখন জ্বাল দিয়ে গরম করা হয়, তখন দুধের চর্বি ( Fat) ও ছানা (Casein ) অংশ দুধের ওপরে ভেসে ওঠে এবং ফেনার সৃষ্টি ক'রে একটা পর্দার মত তৈরী করে, যার ফলে দুধের জলীয় অংশ উত্তাপে বাষ্প হয়ে বাইরে বেরােতে না পেরে দুধটাকেই ঐভাবে ফুলিয়ে তােল। তখন ফু দিলে উথলানােটা কমে এই জন্যে যে, আমাদের মুখের বাতাসের জল, হাওয়া, আলাে ও উত্তাপ বেগে ঐ ফেনার পর্দাটা চার পাত্রে সরে যায়, সেই সুযােগে দুধের জলীয় অংশের বাষ্প খানিকটা বাইরে বেরােবার পথ পায়। পাথুরে চুনে জল দিলে গরম ধোঁয়া বেয়ােয় কেন ? এটাকে বলা চলতে পারে রসায়নের খেলা-বিজ্ঞানের জগতে অহরহই এমন ব্যাপার ঘটছে। একটা রাসায়নিক পদার্থের সঙ্গে আর একটা পদার্থ মিশে আর একটা নূতন জিনিস তৈরী হচ্ছে। এক্ষেত্রেও ঠিক তাই। তবে এইটুকু জেনে রাখ চুনটা তৈরী হয় এক জাতীয় পাথর পুড়িয়ে। এ আর একটা নাম হলাে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (Calcium Carbonate)। রাসায়নিক মতে জল-অণু বা Water Molecule থাকে না বলেই জল পেলে তখনই তাতে উত্তাপের সৃষ্টি হয় এবং সেটা তখন হয়ে যায় ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Calcium Hydroxide)। ঘরে আগুন ধরলে চারিদিক থেকে হু হু করে এত বাতাস আসে কেন ? এর সােজা জবাব হচ্ছে এই যে, বাতাসের ধৰ্ম্মহ হ’লবায়ুমণ্ডলীতে যদি কোন জায়গার বায়ু কোন রকমে গরম হয়ে ওঠে, তখনই সেখানে চারিপাশের ঠাণ্ডা বাতাস ছুটে যায়। তাই যেখানে আগুন লাগে সেখানে ওপরকার বাতাস হঠাৎ গরম হয়ে ওঠে, আর সেইজন্যে অত বাতাস ঝড়ের বেগে সেখানে এসে হাজির হয়। আগুনের শিখা সব সময়ই উপরমুখাে:হয়ে জ্বলে কেন? ব্যাপারটা হচ্ছে, যখনই কোনও আগুন জ্বালানাে হয়, তখনই বাতাসের মধ্যে যে জায়গাটুকু দখল ক'রে আগুন জ্বলছে, সেখানে ‘অক্সিজেন’ ও ‘কাৰ্বন’ এ দুটি জিনিসের মেশামিশিতে এক রকম গ্যাস তৈরী হতে থাকে। এই গ্যাস আমাদের চারপাশের বাতাসের চেয়ে হাল্কা, কাজে কাজেই সেটা আশপাশের বাতাস সরিয়ে ওপর দিকে উঠে যায়, তাছাড়া ঐ ভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড আশপাশের বাতাস ঐ গ্যাসকে ওপরে যাওয়ার রাস্তা ছেড়ে নীচের দিক দিয়ে এসে আগুনের শিখায় অনবরতই অক্সিজেন যােগায়, এই জন্যই আগুনের শিখা উপরমুখাে হয়ে জ্বলে সব সময়। মাটির তৈরী হাঁড়ি, কলসী বা ইট আগুনে পােড়ালে অমন লাল হয়ে যায় কেন? জবাব জেনে রেখাে, যে মাটি দিয়ে ওগুলাে তৈরী হয় তাতে ‘আয়রণ- অক্সাইড’ (Iron-Oxide) বলে পদার্থটি প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাই ঐ সব মাটির তৈরী জিনিস যখন ভাটিতে পােড়ানাে হয় তখন সেখানকার আগুনের তাপের মাপমতাে ঐ জিনিসগুলির মাটিও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় রঙ বদলে অন্য ধরণের মাটিতে রূপান্তরিত হয়ে যায়। রঙের সৃষ্টি হ’ল কোথা থেকে? এর জবাব,-আলােই হল রঙের উৎস, আললা যেখানে নেই, কোনও রঙেরও অস্তিত্ব নেই সেখানে। তার কারণ আলাের সাহায্যে মাত্র দুই উপায়ে ‘রঙ’ যে আছে সেটা আমরা বুঝতে পারি। প্রথমতঃ রঙিন পদার্থে আলাে প্রতিফলিত হওয়ার ফলে সেটাকে রঙিন দেখি, দ্বিতীয়তঃ স্বচ্ছ রঙিন পদার্থের মধ্য দিয়ে যে আলাে আসে সেই আলােতে আমরা রঙের আভাস পাই। সূর্যের সাদা আলো রামধনুর সাতটি রঙে ভাগ ভাগ হয়ে গেছে, একেই বলা হয় স্পেকট্রাম (Spectrum) বা বর্ণালী। এই যে সাতটি রঙ, এর মধ্যে মাত্র তিনটি রঙকে বলা হয় Primary Colour বা আদত রঙ, আর বাদবাকী- গুলােকে বলা হয় Secondary Colour বা মিশেল রঙ। এখন আবার ঐ আলােকরশ্মির রঙ আর রঙিন জিনিসপত্রের রঙের দুটি আলাদা আলাদা ব্যাপার, অর্থাৎ এই Primary বা আত রঙ তিনটি ঐ দুইক্ষেত্রে এক নয়, একটু তফাত আছে। জিনিসপত্তরে সাধারণত যে সব রঙ আমরা দেখি তার মধ্যে আদত তিনটি রঙ হচ্ছে—লাল, নীল আর হল। এই রঙ তিনটিকে আলাদা আলাদা মাপে মেশালেই আলাদা রঙ তৈরী হয়।

জল, হাওয়া, আলাে ও উত্তাপ ছায়া আর প্রতিবিম্নে তফাৎ কি ? আলাের সামনে যখন কোন জিনিস আসে, সেটি তখন আলাের পথ নােধ করে। কাজেই যে আলােকরশ্মিগুলি আটক পড়ে, ঠিক তার উল্টোদিকে সেই জায়গাটুকু অন্ধকারেই থেকে যায়—আললাবিহীন এমন অন্ধকার অংশটুকুকেই ‘ছায়া’ বলা হয়। প্রতিবিম্ব হচ্ছে আলাের সাহায্যে কোন পদার্থের অবিকল রূপটির প্রতিফলিত ছবি। আয়নাতে, জলে বা ঐ ধরণের যে কোন জিনিসে এই যে ছবি ফুটে ওঠে তাকেই বলা হয় প্রতিবিম্ব'। আয়নাতে প্রতিবিম্ব পড়ে কেন? আর কেনই বা প্রতিবিম্বতে ডান হাতটাকে বাঁ হাত বলে মনে হয় ? এটা বুঝতে হলে আমাদের জানা উচিত যে আলােকরশ্মি খুব চকচকে পালিশ করা জিনিসে গিয়ে যখন ধাক্কা খায়, তখন কি হয় ! কি হয় জানাে ? তােমরা জানাে একটা রবারের বলকে দেওয়ালের গায়ে ছুড়ে মারলে ফিরে আসে। বলটা যদি Right angle বা ৯০ ডিগ্রী angle-এ ছুঁড়ে মারাে, তাহলে সেটা সােজাই ৯০ ডিগ্রী angle-এ ফিরবে, আবার যদি টেরচা করে ছুড়ে মারে, তাহলে যত ডিগ্রী angle-এ ছুড়বে, উল্টো দিকে ঠিক তত ডিগ্রী angle-এর মাপেই বলটা আসবে। আলােকরশ্মিও ঠিক ঐ ভাবেই ঠেক খেয়ে ফেরে। ধরো, যদি আমরা আয়নার সামনে দাড়াই তাহলে আলােকরশ্মি যে কোণ বা angle-এ আমাদের শরীরটাতে এসে ঠেক খেয়ে সরল রেখায় গিয়ে পড়ে ঐ আয়নার ওপর, বলের মত আবার ঠিক সেই কোণ অনুযায়ী ফিরে আসে চোখের পর্দায়—অর্থাৎ ফেরবার পথেও আলােকরশ্মির angle-এর মাপ একই থাকে ; খালি গতিটা হয় উল্টো দিকে। আয়নার ওপরে প্রতিফলিত হয় আমাদের দেহের ওপরের আলােকরশি, কিন্তু উল্টো হয়ে সটান আবার আমাদের চোখের পর্দায় প্রতিফলিত হয়, কাজেই তখন আমরা আয়নার ভেতর আমাদের চেহারা দেখতে পাই, আর ঐ উল্টো দিকে আলােকরশ্মির গতি ৰ'লে, ডান হাতটাকে বাঁ হাত বলে মনে হয় ৫(১ম) জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড অর্থাৎ সবই উল্টো দেখি। আয়নার প্রতিবিম্ব, ওটা আলােরই খেলা। কথাটা ভাল করে বুঝতে চাও যদি খুব অন্ধকারে আয়নাতে মুখ দেখবার চেষ্টা করাে। দূরের জিনিস ছােট দেখায় কেন? অল্প কথায় হচ্ছে, যে জিনিসটাকে আমরা দেখি তার ওপরদিকের আলাের সীমারেখাটা আর নীচের দিকের আলাের সীমারেখা পরস্পরকে কাটাকুটি করে উল্টো হয়ে চোখের ভিতরের পর্দায় (Retina) ক্যামেরার ফোকাসের (Focus) মতাে পড়ে। ক্যামেরার ফোকাসে যেমন দূরের জিনিস ছােট দেখায়, তেমনি চোখের পর্দায় দূরের জিনিস ছােট দেখায়। অর্থাৎ কাছের জিনিসের আলাের সীমারেখা দুটো কাটাকাটি করে যেখানে মেশে সেখানে কোণটা। (Angle) হয় মাপে বড়, আর দূরের জিনিসের বেলায় কোণটা হয়ে যায় ছােট, তাই চোখের পর্দায় দূরের জিনিসটি ছােট আকারেই প্রতিফলিত হয়। শীতকালে নারকেল তেল জমে যায়, অথচ সরষের তেল জমে না কেন ? নারকেল তেলে চব্বির (fat acid) পরিমাণ বেশী। চব্বি বা fat avid-কে তরল রাখবার জন্যে যেটুকু উত্তাপ দরকার, বাইরের আবহাওয়াতে তখন তা পাওয়া যায় না--কারণ শীতকালে বাইরের আবহাওয়া ঠাণ্ডা হয়ে যায় অনেক বেশী। সরষের তেলে ঐ জাতীয় চব্বি (fat acid) খুব কম পরিমাণে আছে তাই ওটা শীতকালেও জমে না। তবে খুব বেশী ঠাণ্ডায় রাখলে সরষের তেলও ঘােলা হয়ে ওঠে এবং জমে যায়। মােমবাতি বা প্রদীপের আগুনে ফু দিলে নিভে যায় অথচ টিকে, কাঠকয়লা ও কয়লার আগুনে ফু দিলে আগুন জ্বলে ওঠে কেন? ব্যাপারটা হচ্ছে এই যে, আগুন প্রথমতঃ জ্বলে ‘অক্সিজেন' আর ‘কাৰ্বন’ এই দুটোর Combustion বা সংঘর্ষের ফলে। কিন্তু কার্বনের মাপ জল, হাওয়া, আলাে ও উত্তাপ অনুযায়ী উপযুক্ত অক্সিজেন চাই, তবে এই আগুন জ্বলবে। কম বেশী হলে চলবে না। মােমবাতি বা প্রদীপে কার্বনের সৃষ্টি হয় ঐ বাতির চর্বি বা তেল থেকেই। কাজেই তাতে কার্বন’ যে পরিমাণ থাকে, তবে তার পক্ষে তােমার মুখের জোরালাে ফু বা দমকা হাওয়াতে মেশানাে অক্সিজেনটা মাত্রায় বেশী হয়ে পড়ে। কাজেই আগুনও নিভে যায়। অন্য দিকে কাঠকয়লা, টিকে বা কয়লাতে কাৰ্বন বা ‘অঙ্গারের অংশটা খুব বেশী-সেইজন্যে বাতাস বেশ জোরেই দরকার, নইলে আগুন জ্বলবে না। ঘাম লাগলে বা খােলা হাওয়ায় রূপা ও তামার জিনিস কালাে হয়ে যায় কেন ? ঘামের সঙ্গে ‘গন্ধক'-জাতীয় পদার্থ থাকে এবং হাওয়াতে গন্ধযুক্ত জলজান ( Sulphurated Hydrogen) কিংবা সালফার ডায়ক্সাইড' থাকে। এই গন্ধকজনিত রাসায়নিক ক্রিয়াতে রূপা ও তামার জিনিস ঘামে এবং খােলা হাওয়াতে কালাে হয়ে যায়। গ্রীষ্মকালে যত তাড়াতাড়ি কাপড়-চোপড় ময়লা হয় শীতকালে তার চেয়ে বেশ তাড়াতাড়ি ময়লা হয় কেন? এর কারণ হচ্ছে গরমকালে আমাদের চারপাশের বায়ু গরম থাকার ফলে বায়ুর জলীয় অংশের চাপ হাল্কা হয়ে আমাদের অনেক ওপরে থাকে কিন্তু শীতকালে বায়ুমণ্ডলীতে থাকে ঠাণ্ডার ভাগ বেশী, বায়ুর জলীয় অংশের চাপটাও থাকে বেশী কাছাকাছি, ফলে নীচের ধুলো ও ধোয়া গ্রীষ্মকালের মতাে ওপরে উঠতে পারে না অত সহজে। সেইজন্যে শীতকালে ধুলাে আর ধোয়াটা বেশী লাগে আমাদের গায়ে, আর জামা-কাপড়ে—তাই তারা তাড়াতাড়ি ময়লা হয়। fল, শকুন প্রভৃতি পাখীরা পাখনা না নেড়ে কি করে আকাশে উড়ে বেড়ায় ? ব্যাপারটা হচ্ছে এই যে ঐ সমস্ত পাখীরা সাধারণতঃ যে উচ্চতায় উড়ে বেড়ায়, সেখানে বায়ুর চাপ খুব বেশী, দ্বিতীয়তঃ ওদের ডানাও খুব মজবুত ;

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড ওরা তাই সেখানে পৌছায় শুধু হাওয়ায় ভর করে, পাখা দুটো মেলেই হাওয়ার ঢেউয়ে ভেসে বেড়ায়। সেখানকার বায়ুর চাপ এমনই যে তাদের শরীরের ভারকেন্দ্র (Centre of Gravity) ভারসমতা ঠিক রেখে তার। ডানা না নেড়েই ওপরে উড়ে বেড়াতে পারে। তবে চিল, শকুন যখন মাটি থেকে ওপরে উঠতে শুরু করে তখন ডানা নাড়তে হয়, কারণ সেখানকার বায়ুর চাপ, তাদের শরীরের ভারকেন্দ্রে ভারসমতা রাখার পক্ষে যথেষ্ট নয়। পৃখিবী প্রতি সেকেণ্ডে সাড়ে আঠারো মাইল বেগে ঘুরছে অথচ পাখীরা যখন আকাশে ওড়ে তখন তারা কি করে বাসায় ফিরে আসে? এটা কি করে ঘটে জান ? পৃথিবীর মাঝখান থেকে একটা শক্তি আমাদের সব সময় টেনে রেখেছে তার দিকে, যার ফলে আমরা পৃথিবী ঘােরা সত্ত্বেও ছিটকে পড়ি না। এই যে শক্তি একে বলা হয় “মাধ্যাকর্ষণ শক্তি'; এই মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর মাটি ছাড়িয়ে শূন্যের বায়ুমণ্ডলীকেও টেনে রেখেছে, কাজেই যখন পাখীটাকে ওপরে উড়তে দেখ, তখন সে মাটির সংস্পর্শ থেকে দুরে থাকলেও মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে বাঁধা থাকে, কাজেই সেও ঐ বায়ুস্তরের মধ্যে থেকে পৃথিবীর সঙ্গে ঘুরছে এবং ঐ একই বেগে। তবে পৃথিবীর ওপরের মাটি থেকে, শূন্যে ১ লক্ষ ৬০ হাজার মাইলের বেশী দূরে যদি কোন রকমে পাখীটা গিয়ে পড়ে, তাহলে সে আর ফিরতে পারবে না; কারণ অতদূর পর্যন্ত পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টান পৌঁছায়। দার্জিলিং হলাে পাহাড়ের উপর, অর্থাৎ ঐ জায়গাটি কলকাতার চেয়ে সূর্যের কাছাকাছি, অথচ সেখানে গরম না হয়ে ঠাণ্ডা হয় কেন? ঠাণ্ডা এইজন্যে যে, যদি আমরা আমাদের ওপরের বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে ওপরের দিকে যাই, তাহলে প্রতি ৩০০ ফিটে এক ডিগ্রী করে বায়ুর তাপ কমে যাবে, কাজেই সূর্যরশ্মির উত্তাপটাও ঐ সব জায়গায় বায়ুমণ্ডলীর ঠাণ্ডা জল, হাওরা, আলাে ও উত্তাপ হাওয়াতে অনেক কমে যায়, তাই ওসব জায়গা গরম না হয়ে হয় ঠাণ্ডা। তাছাড়া আর একটা কারণ, পৃথিবীর ভেতর থেকে মাটির ওপর যে উত্তাপ অহরহ বার হচ্ছে, সেটাও পাহাড়ের ওপর পর্যন্ত পৌছবার আগেই অনেক ঠা হয়ে পড়ে। শিশির-বিন্দু কি? গ্রীষ্মকালে শিশির দেখা যায় না কেন? গরমকালে বাইরের গরম হাওয়া নদী, নালা, বিল প্রভৃতি থেকে অনেক পরিমাণে Moisture বা আর্দ্রতাকে গ্রাস করে ফেলে বলেই তখন ‘শিশির দেখা যায় না। কিন্তু শীতকালের রাত্তিরে আকাশ সাধারণতঃ পরিষ্কার থাকে এবং মেঘের চাপ পৃথিবীকে গরম করে রাখে না, তখন মাটি, গাছ, পাথর সবাই নিজের নিজের উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়ে নিজেরাই বাতাসের চেয়ে ঠাণ্ডা হয়ে পড়ে ; কাজে কাজেই বাতাসও এই সব জিনিসের সংস্পর্শে এসে ঠাণ্ডা হতে থাকে; এবং ঠাণ্ডা আবহাওয়া গ্রীষ্মের গরম হাওয়ার মত অতটা জলীয় বাষ্প গ্রাস করতে পারে না, ফলে খানিকটা আর্দ্রতা (Moisture) ঘনীভূত হয়ে ফোটা ফোটা জলে পরিণত হয় এবং খােলা জায়গায় মাটিতে গাছপালায় জিনিসপত্রে আশ্রয় নেয়। গাছের পাতায়, ঘাসে, লতায় এদের তাই আমরা শীতকালের সকালে উঠেই দেখতে পাই। এই জলের ফোটাগুলিকেই বলে শিশির। কুয়াসা জিনিসটা কি? কুয়াসা হচ্ছে অসংখ্য জলবিন্দুর সমাবেশ, যার প্রত্যেকটা জলবিন্দুর ভেতরে রয়েছে একটা সূক্ষ্ম ধূলিকণা বা ধোয়ার কণা। একটা নির্দিষ্ট উত্তাপের আবহাওয়াই কেবলমাত্র কতকটা আর্দ্রতাকে বা Moistureকে অদৃশ্য বাষ্পের আকারে গ্রাস করতে পারে। কিন্তু যখনই কোন ঠাণ্ডা পদার্থ বা ঠাণ্ডা বাতাসের সংস্পর্শে আবহাওয়ার ওই নির্দিষ্ট উত্তাপটা কমে যায়, বা ঠাণ্ডা হয়ে আসে, তখনই সে অদৃশ্য বাষ্প তরল জলীয় পদার্থে পরিণত হয়। এই জলীয় পদার্থের খানিকটা ঘনীভূত হয়ে ঘাস, গাছ, পাতাকে আধার জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাও করে সেখানেই জলবিন্দু গড়ে; সেই জলবিন্দুগুলাে হলাে ‘শিশির। কিন্তু ওই অদৃশ্য বাষ্প যখন বায়ুমণ্ডলীর ধূলিকণা বা ধূমকণাকে আধার ক'রে, তারই ওপর জলবিন্দু তৈরী করে হাওয়ার দোলায় চেপে শূন্যে ভেসে বেড়ায়, তখনই তাকে শিশির’ না ব'লে বলি আমরা ‘কুয়াসা। সােনায় পা লাগলে রূপার মত সাদা হয়ে যায় কেন ? বৈজ্ঞানিকরা বলেন অগলিত সােনার সঙ্গে মিশে যাবার ক্ষমতা একমাত্র পারদ বা পারা ধাতুটিরই আছে। এর বেশী বুঝিয়ে বলতে অনেক জায়গা লাগবে এবং তা বেশ শক্ত হবে। বাতাসটা কি জিনিষ ? রাসায়নিকেরা বলেন, বাতাসটা হচ্ছে কতকগুলাে গ্যাসের সংমিশ্রণ। মােটামুটি বাতাসের শতকরা ২১ ভাগ হচ্ছে ‘অক্সিজেন’, ৭৮ ভাগ নাইট্রোজেন আর এক ভাগ হচ্ছে ‘আর্গন’ গ্যাস। এই তিন রকমের গ্যাস ছাড়াও বাতাসে আছে ‘হিলিয়াম’ (Helium), ‘নিয়ন' (Neon), জেনন’ (Xeron) আর ক্রিপটন (Krypton) গ্যাস। কাৰ্ব্বন ডায়ক্সাইড গ্যাসও খুব সামান্য আছে বলে জানা যায়। কাঠ যখন আগুনে পােড়ে তখন ফটফট শব্দ হয় কেন? অণুবীক্ষণ যন্ত্রে যদি এক টুকরাে কাঠ রেখে দেখ, দেখবে কাঠের ভেতরে রয়েছে অসংখ্য ফাক আর গর্ত। এই সমস্ত গর্তে হাওয়া বন্ধ হয়ে থাকে। কাজেই যখন কাঠ পুড়তে আরম্ভ করে, তখন ঐ সমস্ত গর্তে বাতাস চট করে গরম হয়ে ওঠে। হাওয়া গরম হলেই বাড়তে থাকে। হাওয়াটা ঐ ভাবে বেড়ে ওঠার ফলে ঐ সমস্ত গর্তে চাড় লাগে এবং তার ফলে কাঠের খণ্ডগুলাে নানা জায়গায় ফাটতে থাকে। এই ফাটার শব্দই আমরা শুনতে পাই যখন কাঠ পােড়ে।

৩ • জল, হাওয়া, আলাে ও উত্তাপ ঘুর্ণিবায়ুর সৃষ্টি হয় কি করে? খানিকটা জায়গা যখন আশপাশের বায়ুমণ্ডলীর চেয়ে বেশী গরম হয়ে ওঠে, তখন ঐ জায়গাটার চারধারের বায়ু ঐ গরম বায়ু ভৰ্ত্তি জায়গাটা দখল করতে ছুটে আসে সেখানে। যদি তখন ঐ গরম জায়গার বায়ু আর ঐ চারপাশের বায়ুর উত্তাপের তফাৎটা বেশীরকম হয়, তাহলে ঐ চারপাশের বায়ুর ছুটে আসার গতিটাও খুব বেড়ে ওঠে; কাজেই তখন ঐ চারপাশের ঠাণ্ডা বাতাস ঘূর্ণির আকারে ঐ ভাবে ঘুরতে শুরু করে। সে জন্যেই এই ধরণের বায়ুপ্রবাহকে বলা হয় ঘূর্ণিবায়ু। ভুমিকম্প হয় কেন? এর জবাবে সাধারণতঃ বৈজ্ঞানিকেরা বলে থাকেন বৈজ্ঞানিকেরা বলে থাকেন যে পৃথিবীতে আমাদের পায়ের তলায় মাটির নীচে, অনেক নীচে, যে শক্ত পাহাড় আছে সেগুলােতে ‘ফাট’ ধ'রে একটা আর একটার ঘাড়ে ভেঙে পড়ে। এই যে ভেঙেপড়া, ইংরেজীতে একে বলা হয় faulting। এই ভাবে মাটির তলার পাথুরে পাহাড়ে চিড়, খাওয়ার ফলে ওপরের মাটি কেঁপে ওঠে, তাকেই আমরা বলি “ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের আর একটা কারণ কেউ কেউ বলেন “অগ্ন্যুৎপাত বা Volcanic erruption। পৃথিবীর ভেতরের জমাট- বাঁধা উত্তাপ যখন মাটি ফুড়ে আগ্নেয়গিরির ভেতর দিয়ে বেরিয়ে আসে, তাতেও কঁাপন লাগে পৃথিবীর ওপরের মাটিতে, এটাও একটা কারণ বটে ভূমিকম্পের। তবে আগের কারণটাই যে বড় বড় ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে, এটা বৈজ্ঞানিকরা জোর করেই বলে থাকেন। গরম ইস্তিরি’ ঘসলে কাপড় যেমন সমতল ও সমান হয়, ঠাণ্ডা “ইস্তিরি’ ঘসলে অমন হয় না কেন? তার কারণ গরম ইস্তিরি কাপড়চোপড়ের সূতােয় বাতাসের যেটুকু আতা থাকে তাকে নষ্ট করে তার সূতাের ‘অণুকণা বা Molecule ৪ জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড গুলােকে বেশী সচল কোরে তােলে, তাতেই অতি সহজেই দূতের আড়ষ্টতাব নষ্ট হয়ে যায়। তাই তখন সহজে কাপড়ের সূততগুলাে সমান ও টান হয়ে কাপড় জামাকে সমতল ও মসৃণ করে তােলে। ঠাণ্ডা ইস্তিরিতে তা সম্ভব নয়। সমুদ্রের জল নীল এবং লােনা কেন ? এ সম্বন্ধে জার্মান রসায়নবিদ রিচার্ড উইল ষ্টেটারের মত হচ্ছে যে, সমুদ্রের জলে তামা মেশানাে পদার্থের ভাগটা বেশী, আর বিভিন্ন সমুদ্রের জলে তামার ভাগ কম বেশী ঘটার ফলে কোন সমুদ্র কম নীল, কোনটা বা বেশী। যে সমুদ্রের জল যত নীল সেখানকার জল তত লােনা। নদীর জলের চেয়ে সমুদ্রের জল লােনা এই কারণে যে, নদীর তলার মাটি হচ্ছে বেলেমাটি, তাতে মুন খানিকটা শুষে নেয়, কিন্তু সমুদ্রের তলা পাথরের মত শক্ত বলেই মুনের ভাগটা ঐ ভাবে শুষে নেয় না, বরং রােদ লেগে মুন শুকিয়ে বা ঘন হয়ে যাওয়ার ফলে জলের নােন্ত ভাবটা দিন দিনই বেড়ে চলে। জলে-দুধে মিশ খায়, কিন্তু তেলে-জলে মিশ খায় না কেন ? দুধে আর জলে মিশ খায়, তার কারণ, ঐ দুটো তরল পদার্থের ভেতরে যে ছােট ছােট ‘অণু বা Molecule থাকে, তারা পরস্পরের সঙ্গে সহজেই যুক্ত হতে পারে; অর্থাৎ তারা একই মাপের Molecule, কিন্তু যখন বিভিন্ন জাতের Molecule বা বিভিন্ন মাপের Molecule-কে একসঙ্গে মেশাবার চেষ্টা করা হয় তখন তারা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না। কাজেই সে-সব জিনিস , একটা আর একটার সঙ্গে মেশে না। জলের সঙ্গে তেল মেশে সেই কারণেই জলের ‘অণু বা Molecule-গুলাে তেলের ‘অণুর চেয়ে আকারে অনেক ছােট। জলের ‘অণুকে বলা হয়, পোলার মলিকিউল' ( Polar Moleculo ). আর তেলের অণুগুলাে হচ্ছে ‘ নপােলার (Non-Polar ) 1 জল, হাওয়া, আললা ও উত্তাপ শিলাবৃষ্টি হয় কেন? বৃষ্টির সময় জলের ফোঁটাগুলাে সময় সময় প্রবল হাওয়ার বেগে মাটির দিকে না এসে ওপর দিকে উঠে গিয়ে ঠাণ্ডা বায়ুর স্তরে পৌঁছায়। সেথানে পৌঁছানাে মাত্রই জলবিন্দুগুলো ঠাণ্ডা লেগে বরফ হয়ে জমে যায়, আবার বায়ুর বেগ কমলে এইগুলিই মাটিতে এসে পড়ে বৃষ্টির সঙ্গে ; এই বরফের টুকরো- গুলােকেই বলা হয় শিলা। হারিকেনের গরম চিমনিতে ঠাণ্ডা জল দিলে বা ঠাণ্ডা কাচের গেলাসে ফুটন্ত গরম জল ঢাললে কাচ অমন ফেটে যায় কেন? তার কারণ চিমনিটা যখন গরম থাকে তখন গরম কাচ যে সব মলিকিউল বা “অণুকণায়’ গঠিত সেই অণুকণাগুলাে উত্তাপের ধর্ম অনুযায়ী উত্তাপ লাগার সঙ্গে সঙ্গে সচল হয়ে ওঠে। উত্তপ্ত অবস্থায় সেগুলি সচলই থাকে। কিন্তু ঠাণ্ডা জল শুধু চিমনির বাইরের দিকের দেওয়ালে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঐ অংশটুকুর অণুকণাগুলাের সচলতা যায় কমে। ফলে সেখানকার কাচটা কিছু সঙ্কুচিত হয়। অথচ চিমনির ভেতরের দিকে ‘অণুকণাগুলাে উত্তপ্ত থাকায় তাদের সচল গতি একই ভাবে থাকে এবং সেই গতিবেগ বাইরের সঙ্কোচনের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে না পারার ফলেই সেখানে চাড় লেগে কাচটা অমন ফেটে যায়। ঠাণ্ডা কাচের গেলাসে ফুটন্ত জল ঢাললেও ঠিক এহ ব্যাপারই ঘটে অর্থাৎ গেলাসের ভেতর দিকের কাচ-অণুগুলাে সহসা বেশী সচল হয়ে উঠে বাইরের দিকের সঙ্গে সামঞ্জস্য হারায়। শীতকালে পুকুরের জল ঠাণ্ডা, কুমাের জল গরম কেন? এর কারণ শীতকালে আমাদের চারপাশের বাতাস থাকে ভয়ানক ঠাণ্ডা, সেই ঠাণ্ডা বাতাসের ছোয়াচ লেগে পুকুরের জল অমন কন্কনে ঠাণ্ডা হয়ে পড়ে-কিন্তু কুয়াের জল থাকে অনেক নীচে, সেখানে বাতাস আসা যাওয়া করতে পারে না অমন সহজ ভাবে। তাই শাতকালে কুয়াের জল গরম জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড মনে হয়। আর ঠিক ঐ কারণে গরমকালে—গরম হাওয়া কুয়াের জলের সংস্পর্শে এসেও তাকে গরম করে তুলতে পারে না, তাই গরমকালে কুয়াের জল ঠাণ্ডা। আগুনে জল দিলে আগুন নিভে যায় কেন? এই জন্য যে, আগুনের ওপর যখন জল ঢালা হয়, তখন আগুনের তাপে জল বাষ্পে পরিণত হয়, সেই জলীয় বাষ্প ভেদ করে তখন বাতাস বা অক্সিজেন আগুনে পৌছতে পারে না, কাজেই বাতাস না পেয়ে আগুন নিভে যায় । বাতাস ছাড়া আগুন যে জ্বলে না তাও বুঝতে পারছু। বরফ জলে ভাসে কেন? ঠাণ্ডায় যখন জল জমে যায় তখন আকারে বাড়ে না কমে ? সমানআয়তনের বরফ সমানআয়তন জলের চেয়ে হাল্কা বলেই বরফ জলে ভাসে, অর্থাৎ জলের আপেক্ষিক গুরুত্ব (Specific Gravity) বরফের চেয়ে বেশী । ঠাণ্ডায় সব জিনিসই সঙ্কুচিত হয়, কিন্তু ঠাণ্ডায় জল জমে বরফ যখন হয়, আকারে বেড়েই যায়। এমন সৃষ্টিছাড়া কাণ্ড যে কেন ঘটে, তা বৈজ্ঞানিকের। এখনও আবিষ্কার করতে পারেন নি। তবে অনায়াসে বলা যায় বিশ্বের মঙ্গলের জন্য। মরুভুমিতে বৃষ্টি হয় না কেন? মরুভূমির উপরেও মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়তে দেখা গেছে, তবে মাটি অবধি পৌছায় না, কারণ মাটিতে পৌছবার আগেই মরুভূমির গরম তাপে বৃষ্টির জ বাষ্প হয়ে বাতাসে মিলিয়ে যায়। তাই মরুভূমিতে বৃষ্টি হয় না। প্রতিধ্বনি কি? প্রতিধ্বনিটা আর কিছুই নয়, শব্দের প্রতিফলন বা শব্দের ঢেউয়ের কোন কিছুতে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসাটা। শব্দের ধৰ্ম্মই হচ্ছে ঢেউয়ের মত ছড়িয়ে পড়া। কিন্তু যখন সে তার গতিপথে কোন বাধা পায় তখনই তা ফিরে জল, হাওয়া, আলাে ও উত্তাপ আসে। ফাকা ঘরে বা কুয়াের ভেতর আওয়াজ করলে জোরে প্রতিধ্বনিত হয়। কারণ শব্দকে গ্রাস করার (absorb) মত কোন জিনিস সেখানে থাকে না, কাজেই দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে বদ্ধ বায়ুতে শব্দটা ফিরে আসে। এই ফিরে আসা শব্দটাকে প্রতিধ্বনি হিসাবে আমরা শুনতে পাই। বিদ্যুৎ চমকালে বা বন্দুক ছুড়লে আগে আলাে দেখতে পাওয়া যায়, আর পরে শব্দ শুনতে পাওয়া যায় কেন? এই জন্য যে, আলাের গতি শব্দের গতির চেয়ে দ্রুত। আর তাছাড়া বিদ্যুৎ চমকালে তার আগুনই বায়ু-তরঙ্গে ঐ শব্দের সৃষ্টি করে, কাজেই আগে আলো, তার পরে তো গর্জন। আলাের গতি প্রতি সেকেণ্ডে ১৮৬০ ০ ০ মাইল। ইলেক্‌টিক বালব ওপর থেকে পড়লে অত জোরে শব্দ হয়ে ভাঙে কেন ? তার কারণ ইলেকট্রিক বালগুলো ‘ভ্যাকুয়াম’ বা ‘বায়ুশূন্য’ হয়—কাজেই যখন বাটা ওপর থেকে পড়ে ভাঙে, তখন বাইরের বাতাস সঙ্গে সঙ্গে সবেগে ঐ বায়ুশূন্য জায়গায় ছুটে যায়, বাতাসের এই সংঘর্ষ থেকেই ঐ শব্দের আলােড়ন সৃষ্টি হয় এবং আমরা শব্দ শুনতে পাই। ছুচ জলে ডােবে অথচ বড় বড় জাহাজ জলে ডােবে না কেন ? ছুচ জলে ডােবে, কারণ নিরেট লােহ আপেক্ষিক গুরুত্ব অনুযায়ী জলের চেয়ে ভারী । জাহাজ ডােবে না এই জন্যে যে, জাহাজের মাল-মশলা লােহা লড়, কলকজা—এ সবের ওজন আর এর ভেতরে যে বাতাস থাকে, তার ওজন এক করলেও জাহাজ যে-পরিমাণ জল সরিয়ে জলের ওপর ভাসে, সেই জল- পরিমাণের ওজনের চেয়ে জাহাজের মােট ওজন কম বা হাল্কা থাকে অর্থাৎ আপেক্ষিক গুরুত্বটা কমই থাকে, কাজেই জাহাজ জলে ভাসে।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড নারিকেলের ভেতরে জল কোথা থেকে আসে? মােটামুটি জেনে রাখাে যে, নারিকেলের জলটা প্রকৃতির ব্যবস্থা অনুযায়ী নারিকেল গাছের শরীরের কারখানায় তৈরী হয়। এবং জল, হাওয়া, রােদ আর গাছের শিকড়ের সাহায্যে মাটি থেকেই রস টেনে নিয়ে নারিকেল ফলটি তার ঐ জলটি তৈরী করে নেয়। টেলিফোনে কি করে কথা শােনা যায় ? মােটামুটি ব্যাপারটা হচ্ছে এই তুমি যেই টেলিফোনে কথা বললে, অমনি তােমার কথার শব্দ থেকে শব্দ-ঢেউ' ( Sound waves) তৈরী হলাে। সেই ঢেউ টেলিফোনের মাউথপিস বা যেখানে মুখ রেখে কথা বলছে, তার ভেতর দিয়ে গিয়ে সেখানে যে ডায়াফ্রাম' ( Diaphragm) আছে তাকে কাপিয়ে তুললে—এবং ডায়াফ্রামের নীচেই ঠিক মাঝখানে বােতামের মত যে জিনিস আছে, সেটাও তখন কাপতে লাগল ঐ কঁাপনের ঢেউ লেগে। এই বােতাম বা Button-এর নীচেই আবার খুব সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম সব কার্বনের গুড়ো রাখা আছে এবং এই গুড়ােগুলির মধ্য দিয়ে ইলেকট্রিক কারেন্ট বা বৈদ্যুতিক প্রবাহ অনবরতই যাওয়া আসা করছে। এখন শব্দের ঢেউয়ের গুরুত্ব অনুযায়ী ঐ বােতামটির চাপ কখনও বেশী কখনও কম হয়ে পড়ছে ঐ কার্বনের ওভাের ওপর। যখন কার্বনের গুড়াের ওপর বেশ চাপ পড়ছে তখন কারেন্টও বেশী বাচ্ছে—যখন চাপ পড়ছে কম, তখন কারেন্টও কম যাচ্ছে। এইভাবে বৈদ্যুতিক তরঙ্গের যে পরিবর্তন হচ্ছে, ঠিক সেই মত কথনও কম কখনও বেশী কারেন্ট তার বেয়ে চলে যাচ্ছে, যে তােমার কথা শুনছে তার রিসিভার যন্ত্রে সেখানে পৌঁছেই ঐ কারেন্টটা আবার একটা ছােট ইলেকট্রো-ম্যাগনেটের “তার-কুণ্ডলী বা কয়েলের (coil) ভেতর দিয়ে গিয়ে রিসিভার-যন্ত্র” বা যেটি শ্রোতার কানে লাগানাে আছে তার “ডায়াফ্রামকে কাপিয়ে তুলছে। এই কঁপন আবার সেখানের বাতাসে শব্দ-তরঙ্গের সৃষ্টি করছে। এই শব্দ-তরঙ্গই জল, হাওয়া, আলো ও উত্তাপ স্নায়ু মারফৎ শ্রোতার মস্তিষ্কে কথার অনুভূতি জাগায়। তখনই টেলিফোনে কথা শােনা যায়। খালি ঘরে কথা বললে আওয়াজটা গগমে হয় কেন ? এর কারণ, আমাদের চারপাশের আসবাবপত্র সব কিছুই বাসের শব্দ- তরঙ্গ থেকে কিছু শব্দ গ্রাস করে নেয়। খালি ঘরে ঐ ধরণের কিছু থাকে না বলে শব্দতরঙ্গ শক্ত দেওয়ালে ঘা খেয়ে প্রতিধ্বনিত হয় এবং তাই আওয়াজটা খুব গৰ্গমে হয়—ইটের দেওয়াল দেওয়া ঘরে আওয়াজ যতটা গগমে হয়, কঁচা মাটি বা কাঠের দেওয়াল দেওয়া ঘরে ততটা গগমে হয় না। তার কারণ, কাঠ বা নরম মাটির শব্দ গ্রাস করবার ক্ষমতা আছে ইটের চেয়ে বেশী। গ্রামগাফোন রেকর্ডে কথা ও সুর কেমন করে তােলে ? সব কথা বলতে অনেক জায়গা লাগবে। মােটামুটি জেনে রাখাে প্রথম যার গান বা কথা রেকর্ডে তুলতে হয় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ইডিওতে। সেখান থেকে তার গলার আওয়াজটাকে বা শব্দতরঙ্গ’গুলােকে “মাইক্রো- ফোন বলে একটা যন্ত্রের সাহায্যে বিদ্যুৎ-তরঙ্গে' পরিণত করে নেওয়া হয় রেকডিং রুমে। এখানে ঠিক গ্রামােফোনের মতই একটা কলে রেকর্ডের বদলে রাখা হয় রেকর্ডের মাপমতই একটা এক ইঞ্চি পুরু ‘মােমের’ চাকৃতি এই চাকৃতিটা প্রতিমিনিটে ৭৮ বার ঘােরে। এর পর যখন গায়ক ও বক্তা গলার আওয়াজ লাউড স্পীকারে ঠিকমত পাওয়া যায়, তখন ঐ মােমে চাকৃতির ওপর একটা পিনের মত জিনিস ছুইয়ে দেওয়া হয়, ঠিক যেম করে তােমরা গ্রামগাফোন বাজাবার সময় সাউণ্ড-বক্সে’ পিনটা লাগি রেকর্ডের ওপর আস্তে আস্তে রাখে, ঠিক তেমনি করে। গায়কের গলা স্বর বা শব্দ-তরঙ্গ বৈদ্যুতিক তরঙ্গে রূপান্তরিত হওয়ার ফলে বিদ্যুতের ডে ঐ মােমের চাকৃতির ওপরের পিনটাকে নাচাতে ও কাপাতে থাকে। ওদি চাকৃতিটা তাে ঘুমুছেই; ফলে রেকর্ডের ওপর খাঁজগুলো সরু দাগের আকা ;

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাও পরপর গড়াতে থাকে। উপরন্তু শব্দের জোরের কম বেশী অনুযায়ী ‘পিনটি নেচে নেচে কখনাে বেশী গর্ত করে কখনাে কম গর্ত করে, অর্থাৎ রেকর্ডের ওপর ঐ যে লাইনগুলাে দেখ, ওর ভেতরে আছে পাহাড়ের মত উচু নীচু জায়গা, তাছাড়া পিনের কাপনের ফলে আবার ঐ খাজের দেওয়ালগুলােও শব্দের কাপন অনুযায়ী ঢেউখেলানাে হয়ে যাচ্ছে। ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে দেখলেই দেখতে পাবে রেকর্ডের লাইনগুলাে নদীর মত আঁকাবাঁকা আর তার ভেতরটাও উচু নীচু ; গ্রামােফোন বাজাবার সময় পিনটা ঐ উচু নীচু জায়গার ওপর দিয়ে খাজের দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে এগিয়ে চলে, ফলে ‘পিন’টা সেই শব্দ-তরঙ্গগুলােকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে ‘সাউণ্ড-বক্সের ডায়াফ্রামে (diaphragm); তাই আমরা রেকর্ডে গান শুনতে পাই। ধন ঐ যে মােমের চাকৃতি তৈরী হ’লল, ঐটাই হলাে আসল রেকর্ড। ওর থেকে তথন Electrotyping উপায়ে উঁচ তৈরী করে তার ওপর পিচ, রজন প্রভৃতি জিনিস মেশানন, কনডেইট (Condensite) বলে একরকমের কালাে জিনিস চেপে ধরে ছাপ নেওয়া চলে অন্য আর একটা কলে। ঐগুলােই হলো আমাদের গ্রামােফান রেকর্ড। গাছপালার জগৎ গাছ তাে তার পাতা আর শেকড় দিয়ে খাদ্য সংগ্রহ করে, তবে গাছের ছাল কাটলে গাছ মারা যায় কেন? এর কারণ গাছের শেকড়ই জল এবং জলের আকারে খনিজ লবণ ইত্যাদির রস টেনে নিয়ে গাছের শরীরের পুষ্টি সাধনের ব্যবস্থা করে, কিন্তু আমাদের শরীরের ভেতর যেমন শিরা উপশিরার মারফৎ রক্ত চলাচলের গাছপালার জগৎ ; ব্যবস্থা আছে, গাছের শরীরেও বিভিন্ন তন্তু বা টিসুর (Tissue) মারফৎ পাতা এবং বোঁটায় সেইভাবেই সেই রস পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। এই সমস্ত Tissue বা গাছের সূক্ষ্ম শিরাগুলি থাকে ঐ গাছের ছালের নীচেই, কাজেই গাছের ছাল কেটে নিলে গাছের খাদ্য পাওয়ার যথেষ্ট অসুবিধে হয়, তাই গাছ মরে যায়। গাছের বয়স ঠিক করা যায় কি করে ? গাছের বয়স ঠিক করতে হলে, গাছকে আড়াআড়ি ভাবে কাটলে দেখা যাবে তার ছালের নীচেই রয়েছে গাছের কাণ্ড’ বা গুড়ি ; গুড়িটা আবার কতকগুলো স্তরের সমষ্টি। প্রত্যেক বছর গাছের গুড়িতে এই রকম একটি করে স্তর পড়ে, গুড়িতে যতগুলি স্তর দেখতে পাবে, গাছের বয়স তত বছর। কোন্ গাছ সব চেয়ে বেশী দিন বাঁচে? আমাদের দেশে অশ্বখ আর বটগাছ সবচেয়ে বেশী দিন বাঁচে ; ইংরেজ বৈজ্ঞানিক মিঃ ফ্রান্সিস জর্ডহিথ, বিলাতের গাছগুলাে কে কতদিন বাঁচে তার একটা হিসাব বার করেছেন, তাতে দেখা যায় যে, সিডার' ( Cedar) গাছ বাঁচে ২০০০ বছর, ইউ’ গাছ বঁাচে ৩২০০ বছর ; সব চেয়ে বেশী নাকি এই গাছের পরমায়ু। কোন্ গাছ সব চেয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ে ? সব চেয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ে বাশ জাতের গাছ—কোনও কোনও জাতের বাশ রাতারাতি এক ফুট বাড়ে, এমন নাকি দেখা যায়। অধিকাংশ গাছের পাতাই সবুজ হয় কেন? অধিকাংশ গাছের পাতাই সবুজ এই জন্যে যে, গাছের পাতা সূর্যরশ্মির সাতটা রঙের মধ্যে যে লাল ও বেগুনে রঙ থাকে তা গ্রাস করে নেয়, কিন্তু সবুজ রঙকে গ্রাস করে না। গাছের পাতা এই সবুজ রঙ থেকে তার জীবনী শক্তি সংগ্রহ করে। এই জীবনীশক্তি ছােট ঘােট অণুর আকারে পাতার ৭২ জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড ভেতরের কোষে কোষে ভাসতে থাকে। এই সূক্ষ্ম অণুগুলিকে বলা হয় ‘ক্লোরােপ্লাষ্ট (Chloroplast), এর মানে করতে পার সবুজ ‘জীবনীশক্তি। যে পদার্থটি অহরহ এই অণুগুলিকে সবুজ করে রাখে তাকে বলা হয় ‘ক্লোরােফি (Chlorophyll)। এই সৃষ্টি সুর্যের আলাে থেকেই। গ্রীক ভাষায় ‘Chloros' কথাটির মানে সবুজ, আর ‘Phylon' কথাটির মানে পাত, তার থেকেই কথাটির উৎপত্তি। গাছে পা হয় কেন ? গাছে পা হয় এই জন্যে যে, গাছকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যে গাছের খাবার যে রস, তা ঐ পাতারাই জমিয়ে রাখে তাদের কোষগুলােতে। এ ছাড়া পাতার আরও অনেক কাজ আছে-গাছের জন্য সূর্যের আলাে ধরা, বাতাস থেকে কার্বনিক এ্যাসিড গ্যাস টেনে নিয়ে গাছকে বড় করে তােলা সে সব করে ওই পাতারা। গাছের খাসপ্রশ্বাসের কাজ ঐ পাতারাই করে। পাতা ছাড়া গাছের ডালপালা বা শেকড় এ কাজগুলি করতে পারে না। গাছের পাতা হলদে হয়ে ঝরে যায় কেন ? দিনের পর দিন গাছটি গাছের পাতায় ক্লোরােফিল’ (Chlorophyll) তৈরী করবার উপযােগী রস জোগায় বলেই আমরা গাছের পাতাকে সবুজ দেখতে পাই। কিন্তু এমন একটা সময় আসে যখন পাতার কোষ বা cell-গুলো গাছের কাছ থেকে তাদের প্রয়ােজনমত সব জিনিসের জোগান আর পায় না। এটা সাধারণতঃ ঘটে ঋতু বা আবহাওয়া অনুযায়ী। কারণ আসলে গাছরা ভারী হুশিয়ার, সে যখন দেখে যে, আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তার রসের জোগানটা কমে আসছে, তখনই সে তার পাতায় পাতায় “ক্লোরােফিল তৈরী করবার উপযােগী রসের জোগান দেওয়া বন্ধ করে দিয়ে শেকড়, গুড়ি আর ডালপালাকে রস জুগিয়ে আসল দেহটিকেই বাঁচিয়ে রাখবার চেষ্টা করে। কাজেই তখন রসের জোগান না পেয়ে পাতাগুলাের ‘জীবনীশক্তি গাছপালার জগৎ ; যায় কমে, ক্লোরােফিল’ (Chlorophyl) তৈরী না হওয়াতে পাতাগুলাের ভেতর হলদে রঙ ‘ক্যারেটিন’ দেখা যায়, তাই অমন হলদে হয়ে গিয়ে কুঁচকে কুঁকড়ে ঝরে পড়ে। কোন্ গাছ সবচেয়ে আস্তে আস্তে বাড়ে? ‘লিচেন’ (Lichen) ব'লে এক রকম গাছ আছে, যার বাড়া অত্যন্ত কম। পঞ্চাশ বছরে এই গাছ একতের বেশী বড় হয় না; কিন্তু এই গাছ বেঁচে থাকে প্রায় দুশাে বছর। লজ্জাবতী লতা ছুলেই পাতাগুলাে কুঁকড়ে যায় কেন? এ প্রশ্নের জবাব বৈজ্ঞানিকেরা সঠিক আবিষ্কার করতে পারেন নি, তবে এটুকু জেনে রাখ যে, গাছেরও জীবনীশক্তি আছে। জীব-জগতে স্নায়ুস্পন্দনের সাহায্যেই এই ধরণের ব্যাপার ঘটে। সেই আন্দাজ করে বলা চলতাে এটা ঐ গাছের স্নায়ুতে সাড়া জাগায়, কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা গেছে, স্নায়ু বলতে যা বােঝায় তা গাছপালার নেই। তাই এখনও এই ব্যাপারটা এক রহস্য। বসন্তকালে গাছপালার নতুন পাতা হয় কেন? তার কারণ বসন্তকালেই চারপাশের আবহাওয়ার উত্তাপ ও রৌদ্র সবচেয়ে বেশী পরিমাণে গাছপালার উপযােগী খাদ্য তৈরী করে দিতে সক্ষম হয়, তখন তারা মাটি থেকে বেশী রস পায়, আকাশ থেকে বেশী রৌদ্র পায় ; তাই তারা তখন পায় নতুন জীবন। গাছপালার জীবনে ঐ দুটোই সবচেয়ে বেশী দরকার এটি নিশ্চয়ই জান। বসন্তকালে আলো হাওয়া জল উপযুক্ত পরিমাণে পেয়ে শুধু গাছপালা নয়, সব জীবজন্তু আর মানুষের মধ্যেও নতুন জীবনের সাড়া জাগে। কোন্ গাছের পাতা আকারে সবচেয়ে বড় হয় ? সব চেয়ে বড় আকারের পাতা দেখা যায় সিলােন বা সিংহলে ‘টালিপট পাম’ বলে তাল জাতীয় গাছে। এর পাতা আমাদের দেশের তালপাতার মতই ৮ (১ম) ;

৭ঃ জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড দেখতে, তবে তার চেয়ে অনেক বড় হয়। এই পাতা দিয়ে সেখানে ছাতা তৈরী হয়। ফুলের গন্ধ আসে কোথা থেকে? ফুলের কেন গন্ধ থাকে ? ফুলের গন্ধটা সাধারণতঃ আসে গাছ তার শরীরের ভেতরে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় যে তেল বা গন্ধসার (Essence) উৎপাদন করে তার থেকেই। ফুল- গাছের এই যে তেলটি তৈরী হয়, সেটি কিভাবে হয়, সে এক বিরাট বৈজ্ঞানিক তথ্য। তবে এই যে তেল, সেটা সাধারণতঃ পেট্রোল বা তারপিন তেলের মত হাওয়ায় উড়ে যায়, তাই আমরা গন্ধ পাই। ফুলের যে সুগন্ধ হয় এর দরকার কি? এর দরকার তােমার আমার জন্য নয়, গাছের নিজের দরকারেই তারা করে এই গন্ধের সৃষ্টি এবং ফুলে যে মিষ্ট গন্ধ থাকে সে গন্ধ আমরা গাছের পাতায় বা গাছের শেকড়ে পাই না। গাছ তার সুগন্ধটি ফুলেই জমিয়ে রাখে, তার কারণ ফুলের রেণু থেকেই হয় বীজের সৃষ্টি ; এই ফুলের রেণু মৌমাছি, প্রজাপতি বা ঐ ধরণের পােকামাকড়, যার ফুলকে ফলে পরিণত করে বা অন্য উপায়ে বীজ সৃষ্টির সাহায্য করে, তাদের আকর্ষণ করার জন্যেই ফুল গন্ধ ছড়ায় আকাশে বাতাসে চারিদিকে। তাছাড়া ফুলের গন্ধের ঝঝে গাছের পক্ষে ক্ষতিকর বহু ছােট ছােট বীজাণুও নষ্ট হয়। প্রজাপতি, মৌমাছি প্রভৃতি জাতির পােকামাকড় রঙ ও গন্ধ নাকি খুব সহজেই অনুভব করতে পারে। সব ফুলে সুগন্ধ থাকে না কেন? তার কারণ প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত ফুলের রেণুই যে মৌমাছি, প্রজাপতি বা কীটপতঙ্গের সাহায্যে বীজে পরিণত হয় তা নয়, চারিধারের বাতাসই অনেক সময় কোনও কোনও ফুলের রেণু সংগ্রহ করে নিয়ে উড়িয়ে ফেলে নতুন ফুলে এবং তাতেই বীজের সৃষ্টি হয় ; কাজেই সে ক্ষেত্রে প্রজাপতি, মৌমাছি বা কোন কীটপতঙ্গকে টেনে আনার জন্য সেই সমস্ত ফুলের একেবারেই গন্ধের দরকার হয় না, তাই সব ফুলের সুগন্ধ গ্রাকে না।

গাছপালার জগৎ ৭৫ সবুজ রঙের ফুল দেখা যায় কিনা? খাটি সবুজ রঙের ফুল বড় একটা দেখা যায় না। এদেশের কঁঠালী চাপ ফুলের রঙটা গােড়াতে প্রায় সবুজ থাকে, তার পরে হলদে হয়ে যায়। খাঁটি সবুজ রঙের ফুলও ফোটানো হয়েছিল উদ্ভিদবিদদের চেষ্টায় ১৮৫০ খৃষ্টাব্দে, ‘বাণ্টিঘুরে'। এই ফুলটি “ভিরডিফ্লোরা' ব'লে গােলাপ জাতের গাছে ফুটেছিল। সূর্যমুখী ফুল সব সময়ে সূর্যের দিকে মুখ ফিরিয়ে থাকে কেন? এর কারণ গাছপালা আর ফুল এদের মধ্যে কারুর কারুর সূর্যের দিকে আকর্ষণটা খুব বেশী থাকে এবং তাদের এই আকর্ষণ বা টানের ধর্মকে ইংরেজীতে বলা হয় “Heliotropism"। এই “Heliotropism” সূৰ্য্যমুখী ফুলে খুব বেশী থাকে, অর্থাৎ সূৰ্য্য কিরণটা প্রকৃতির নিয়মানুযায়ী তার প্রয়ােজন, সেই কারণেই সূর্যমুখী ফুল ঐ ভাবে সূর্যের সঙ্গে সঙ্গে ঘােরে। জুরের ফুল হয় না কেন? ডুমুরের ফুল হয় না একথাটা সত্যি নয়, কারণ যে ডুমুর ফলটি দেখ, ওটিই আসলে ডুমুরের ফুল। একটা ডুমুরের ফল যদি দু’ আধখানা করে কেটে আতস কাচ দিয়ে দেখ, দেখবে তার ভেতরে রয়েছে অসংখ্য ঘােট ঘােট ফুলের কুঁড়ির মত জিনিষ, এগুলিই ডুমুরের ফুল। ইংরেজীতে এই ঘােট ঘােট ফুলের মত জিনিসকে বলা হয় Florets। সব চেয়ে বেশী দিন ফল দেয় কোন্ গাছ ? নাসপাতি বা ‘পিয়ার’ গাছ ৩০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থেকে ফল দেয়, এটা নাকি দেখা গেছে। সংখ্যায় সব চেয়ে বেশী ফল দেয় আখরােট গাছ। এক এক বছরে একটা আখবােট গাছে নাকি ১ লক্ষ আখরােট ফল ফলেছে এও দেখা গেছে।

৭৮ জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড কুকুরদের ও-রকম গা-ঘামার তেমন কোনও ভাল ব্যবস্থাই নেই। কারণ ওদের ঘর্মগ্রন্থিগুলাে আছে মাত্র পায়ের থাবায়, তাই ওরা গরমের দিনে ওভাবে জিভ বার করে শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ে শরীর ঠাণ্ডা রাখে। বিড়ালের চোখ রাত্রিতে জ্বলে কেন? শুধু বিড়ালের চোখ নয়, রাত্রিতে আরও অনেক জীবজন্তুর চোখ ও-রকম জ্বলে; এর কারণ হচ্ছে মানুষের মতই বিড়াল বা এই সমস্ত জীবজন্তুরও দেখবার জন্য ক্যামেরার লেন্সের মত জিনিসটা ছাড়াও চোখের ভেতরের দেওয়ালে ‘ট্যাপেটাম’ বলে একটা পদার্থের প্রলেপ থাকে। এই ‘ট্যাপেটাম’ থেকে এক রকম উজ্জ্বল আলাে তাদের চোখের পর্দা বা রেটিনায় প্রতিফলিত হয় ও ঐ জীবগুলিকে অন্ধকারের মধ্যে দেখবার শক্তি দেয়। এই আলাে দিনের আলােয় দেখা যায় না, রাত্তিরেই দেখা যায়, তাই মনে হয় রাতের বেলায় বিড়ালের চোখ জ্বলে। মাছি যখন পা উপর দিকে করে ঘরের ভিতরের ছাদে হেঁটে বেড়ায় তখন পড়ে যায় না কেন? এর কারণ, মাছিদের প্রত্যেকটি পায়ে একটা প্যাডের মত চাকতি থাকে। এগুলাে এমনভাবে তৈরী যে দেওয়ালে রাখার সঙ্গে সঙ্গে সেটি বায়ুশূন্য হয়ে দেওয়াল বা ছাদের গায়ে কামড়ে ধরে। তাই মাছি উল্টো হয়ে যখন ঘরের ভিতরে ছাদে হেঁটে বেড়ায়, তখন পড়ে যায় না। গরু কোন কিছু খাবার পর আবার জাবর কাটে কেন? এর কারণ গরুর খাবার হজম করার ব্যাপারটা একটু অন্য ধরণের। মানুষ কোন কিছু খাবার পর, মানুষের খাবারটি পাকস্থলীতে যাবার পরই হজম হয়ে যায়। গরুর সেরকম ব্যবস্থা নেই। গরুর পাকস্থলীটা চারভাগে ভাগ করা। গৰু কোন কিছু খাবার পর খাবারটা পাকস্থলীর ‘পাউচ বা ১নং অংশে হাজির হয়, সেখানে খানিকটা নরম হবার পর সেটা যায় পাকস্থলীর ২নং অংশে। পাকস্থলীর এই দুটি অংশ থেকে গরু ইচ্ছামত তার খাওয়া-খাবারটা জীব-জগৎ মুখে এনে হাজির করতে পারে। এই ভাবে মুখে খাবার ফিরিয়ে এনে সে আর চিবিয়ে সেটাকে গিলে ফেলে, তখন খাবারটা প্রথমে পৌছায় পাকস্থলীর ৩নং অংশটিতে, সেখান থেকে তারপর যায় পাকস্থলীর ৪নং অংশে। সেখানে খাবারটা পুরােপুরি হজম হয়ে যায়। শুধু গরু নয়, যে সব জানােয়ারের পায়ের ক্ষুর দু’ভাগে চের। তারাই জাবর কাটে, এটাও জেনে রেখাে। গরু ঘাস, খড়, খােল খায়—কিন্তু তাই থেকে দুধ হয় কি করে ? প্রশ্নটা সােজা হলেও জবাবটা খুব সােজা নয়। জেনে রাখাে, ঘাস খড়ের থেকেই দুধ তৈরী হয় না। সমস্ত জীবজন্তু ও মানুষের দেহে বিভিন্ন ধরণের গ্রন্থি বা গ্ল্যাণ্ডস (Glands) আছে। এই সব গ্রন্থির কতকগুলির কাজই হলাে শরীরের রক্তপ্রবাহ থেকে জল ও অন্যান্য জিনিষ টেনে নিয়ে বিভিন্ন ধরণের লালা বা রস রস (Secretion) তৈরী করে শরীরের নানা কাজে লাগান ; আগেই যেমন পড়েছ চোখের গ্ল্যাণ্ড অগ্রন্থির কাজ হলাে চোখের জল তৈরী করা, থুথু বা লালা তৈরী করে জিভের স্বাদগ্রন্থিগুলাে- তেমনি ঐ দুধও জীববিশেষের বিশেষ বিশেষ গ্রন্থির সাহায্যে তাদের দেহের রক্ত থেকেই তৈরী হয়। দুধটা জীবমাত্রের সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখার উপযােগ খাদ্য হিসাবে তৈরী হয়। কুকুরগুলাে রাত্রিবেলায় বেয়াড়া সুর ক'রে ডাকে কেন? পশুবিৎ পণ্ডিতেরা বলেন, কুকুরের পূর্বপুরুষেরা আদিকালে শেয়ালের মত দল বেঁধেই জঙ্গলে বাস করত। শেয়ালরা যেমন দল বেঁধে রাত্রিবেলা হা হুক্কা ডাক ডেকে তাদের জাত ভাইদের জড়ো করে, কুকুররাও সেকালে অমনি করে রাত্রিবেলায় জাতভাইদের ডেকে এক দলে জড়াো করতাে। প্রাচীন কালের সেই স্বভাবটি এখনও তারা ষােল আনা ভুলতে পারেনি বলেই অমনি বেয়াড়া সুরে রাতের বেলায় ডাক ছেড়ে তাদের দলবলকে দলে ডেকে নেবার চেষ্টা করে।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড গরুর মত চিবিয়ে না খেয়ে কুকুর গিলে খায় কেন? গরু চিবিয়ে বা জাবর কেটে যেমন করে খায়, কুকুর তেমনি ক'রে না খেয়ে কেঁৎ কেঁৎ করে গিলে খায় এইজন্যে যে, কুকুরের মুখে চিবােবাৰ উপযােগী কষের পাতও নেই ; আর জাবর কাটার ব্যবস্থাও নেই। বিড়ালকে উচু থেকে ফেলে দিলে আঘাত পায় না কেন? এই জন্যে যে প্রকৃতি তার শরীরের গড়ন আর ওজন এমনভাবে তৈরী করে দিয়েছেন যে, সে যখনই ওপর থেকে পড়বে, তখনই তার চারটি পায়ের থার ওপর ভর করেই পড়বে, যার ফলে তার শরীরে চোট লাগবে না। এ ব্যবস্থা প্রকৃতি করেছেন এই জন্যে যে, বিড়ালকে তার খাবার-দাবার সংগ্রহ করবার জন্যে আনাচে-কানাচে, কার্নিশে বা গাছের ডালের মত বিপজ্জনক উচু জায়গা দিয়ে চলাফেরা করতে হয় ব'লে। ঐসব জায়গা থেকে পা পিছলে পড়বার সম্ভাবনা যথেষ্ট আছে কাজেই ওভাবে প্রকৃতি তাকে বাঁচাতে সাহায্য করেছেন। মাছকে খাবার দিলে চিবিয়ে না খেয়ে গিলে খায় কেন? তার কারণ মাছদের শ্বাসপ্রশ্বাস নেবার জন্য অনবরতই মুখ খুলতে আর বন্ধ করতে হয়। বেচারার বেশীক্ষণ মুখ বন্ধ করে থাকবার উপায় নেই, তাই তাকে খাবারটা টপ, ক’রে গিলে খেতে হয়। গিলে না খেলে, মুখ খুললেই খাবার বেরিয়ে যায় মুখ থেকে। জলের তলায় মাছেরা সহজেই বাস করে, অথচ আমরা বাস করতে পারি না কেন? এই প্রশ্নের জবাব হচ্ছে, স্থলচর জীব মাত্রেই বাতাস থেকে অক্সিজেন নিয়ে বেঁচে থাকে। অথচ জলচর জীবেরা বেঁচে থাকে জল থেকে অক্সিজেন নিয়ে। এই অক্সিজেন নেবার জন্যেই খাসযন্ত্রের দরকার। মাছদের জল থেকে অক্সিজেন নিতে হয় বলে তাদের খাস যন্ত্রটা ঠিক স্থলচর জীবদের মত নয় এবং স্থলচর জীবের বাস-যন্ত্র জলের থেকে অক্সিজেন নেবার মত করে জীব-জগৎ ১ তৈরী নয়; কাজেই স্থলচর জীৰমাত্রেই যেমন জলের তলায় ডুবে বেশীক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে না, তেমনি মাছেরাও ভাঙ্গায় উঠে বেশীক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে না। তবে কই, মাগুর, শিঙি প্রভৃতি কোনও কোনও জাতের মাছ ডাঙায় উঠে অনেকক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে, এর কারণ তাদের দেহে জলের তলা থেকে অক্সিজেন নেওয়ার ব্যবস্থাও যেমন আছে, তেমনি আবার ডাঙায় উঠে অক্সিজেন নিয়ে খানিকক্ষণ বেঁচে থাকবার উপযােগ ফুসফুসও আছে। মাছের নাকের ছেদা আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা আমাদের মত নিশ্বাস নেয়না, এও জেনে রেখাে। চিংড়ীমাছের শরীরে শিরা, উপশিরা, হাড় ও রক্তের সন্ধান মেলে , তবে ওরা কি করে বাঁচে? চিংড়ীমাছের দেহ চালাবার যন্ত্রটি তার শরীরের কোন্ স্থানটিতে আছে ? বেঁচে থাকতে হলে শিরা, উপশিরা, হাড়, মাংস, রক্ত থাকা চাই-ই, এমন ধারণা তােমাদের হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু জেনে রেখাে, জীব-জগৎটা বিরাট এবং এই জীব-জগতে অণু পরমাণু থেকে শুরু করে মানুষ পৰ্যন্ত কোটি কোটি রকমের জীব আছে এবং তাদের দেহ ও শরীরের গড়ন অনুযায়ী তারা আলাদা আলাদা শ্রেণীতে ভাগ করা। চিংড়ীমাছ অতি নিম্নস্তরের জীব, তারা যে শ্রেণীতে পড়ে তাদের বলা হয় ‘আন্নালুসা’ ( Annalusa)। এই শ্রেণীর জীবদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে—এদের শরীর আঙটির মতাে টুকরো টুকরাে কতকগুলাে অংশের সমষ্টিতেই তৈরী হয় এবং এদের দেহে রক্ত থাকে না। চিংড়ীমাছের শরীর চালাবার যন্ত্রটা আসলে থাকে তার মাথার খােলের ঐ অংশটার ভিতরেই ; ঐখানেই আছে ওদের শাসপ্রশ্বাস, খাওয়া দাওয়া প্রভৃতির অন্যান্য যন্ত্র—ঐ অংশটিকে ইংরাজীতে বলে ‘কারাপেস(Carapace)। হাঁস বা পানকৌড়ীর পাল জলে ভেজে না কেন? হাঁস বা পানকৌড়ীর পালখ জলে ভেজে না তার কারণ এদের শরীরে স্যাজের দিকে তেলগ্রন্থি বলে এক ধরণের ‘গ্ল্যাণ্ড আছে—সেখান থেকে ;

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড চর্বি বা তেলজাতীয় পদার্থ বার হয়ে প্লালকগুলিকে সব সময়ে তৈলাক্ত বা তেলা’ করে রাখে। জোনাকী-পােকারা রাতে জ্বলে কেন? জোনাকী পােকার গায়ে যে জিনিসটা আগুনের মত জ্বলে, ওটা মােটেই আগুন নয়, ওতে কোন তাপ নেই ; জোনাকীর দেহের ভেতরে কয়েকটা প্রক্রিয়ার ফলে ঐ আভা দেখা যায়। দিনের আলােয় সেই আভা দেখা যায় না, অন্ধকারেই সেটা ফুটে ওঠে। তবে দিনের বেলাতে ঘর অন্ধকার করে যদি জোনাকী পােকা ছেড়ে দাও, তাহলেও আলাে দেখতে পাবে। মাছের পটকা কি কাজে লাগে ? এর জবাব, মাছের ঐ পটকার ভেতরে বায়ু বা গ্যাস ভর্তি থাকাতেই মাছ জলে ভাসতে পারে। সব জাতের মাছের পটকা ‘বায়ুথলি’ সমান নয়। যে সমস্ত জাতের মাছ গভীর জলে থাকে, তাদের পটকা খুব ছােট হয় বা কোনও কোনও জাতের মাছের একদম পটকা থাকেই না। যে সব মাছের পটকা বড়, তারা খুব বেশী জলের নীচে যেতে পারে না। সাপ-ব্যাঙ শীতকালে যখন গর্তের ভেতর ঘুমিয়ে থাকে, তখন তারা কি খায় ? তারা তখন কিছু খায় না। কারণ, তখন তাদের খাবারের দরকারও হয় । সাপ, ব্যাঙ প্রভৃতি কয়েকটি জীবের শীতকালে এই যে ‘ঘুমন্ত বা জড় অবস্থা, একে ইংরেজীতে বলে “Hibernation”। এই Hibernation-এর ব্যবস্থা আছে শুধু কতকগুলো ‘ঠাণ্ডার-ওয়ালা জীবের শরীরে; অর্থাৎ তাদের রক্তের কোন স্থায়ী উত্তাপ নেই, মানুষ বা অন্যান্য জীবজন্তুর মত। এই ঠাণ্ডার-ওয়ালা জীবজন্তুর রক্তের উত্তাপ বাইরের আবহাওয়ার উত্তাপের সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ে কমে। কাজেই শীতে তারা আমাদের মত কাবু হয়ে যাতে না পড়ে, সেই ব্যবস্থায় শীতের সঙ্গে লড়াই করবার চেষ্টা করে দেহের সমস্ত কলকজা বন্ধ করে রেখে শীতের হাতেই আত্মসমর্পণ জীবজগৎ সমস্ত করে। কাজ করলেই শরীরের ক্ষয় এবং সে ক্ষতি মেটাতেই আমাদের খাদ্যের দরকার। কাজেই Hibernation অবস্থাকে অনায়াসেই বলা চলতে পারে যে, না-খেয়ে বেঁচে থাকবার সােজা উপায়। আমরাও যদি কাজ না করে দিন রাত্তির ঘুমিয়ে থাকি তাহলে আমাদেরও খাবারের প্রয়ােজনটা অনেক কম বােধ হয়। কোন্ পাখীর ডিম সবচেয়ে বড় ? বর্তমান যুগে যত রকম পাখী দেখতে পাওয়া যায় তার মধ্যে উটপাখীর ডিম সবচেয়ে বড়। কিন্তু যে সব পাখী লােপ পেয়েছে, তার মধ্যে নিউ- জিল্যাণ্ডের মােয়াস (Mous) পাখীর ডিম হতে এক ফুট লম্বা। যে সমস্ত জীব ডিম পাড়ে, তারা একসঙ্গে কতগুলি পৰ্যন্ত পাড়ে? অণ্ডজ প্রাণীরা ১ থেকে ৮,০০,০০০টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে এক সঙ্গে। জীবের ডিম পাড়ার হিসাব দেওয়া সম্ভব নয়। মােটামুটি জেনে রেখাে হাঁস বা মুরগি ১টি করে ডিম পাড়ে এক পক্ষকাল ধরে। কুমির একসঙ্গে ১০ থেকে ১৫টি ডিম পাড়ে। সাপ ২২৫টি, কচ্ছপ •টি, কড মাছ এক একবারে ১০ লক্ষ ডিম পাড়ে। শামুক ৫টি, উইপােকা একসঙ্গে ৮,০০,০০• ডিম পাড়ে। উট খাবার এবং জল না খেয়ে কি করে অনেকদিন বাঁচে? উট অনাহারে অনেক দিন থাকতে পারে এইজন্য যে, তার পিঠের ওপর যে কুঁজটি দেখাে, সেটাতে থাকে একরকম চর্বি জমাননা, খাবারের অভাব যখন ঘটে, তখন তার ঐ কুঁজের চৰ্বি তার শরীরকে পুষ্ট করে ঐ কুঁজ থেকে খাবারের মতই শক্তি যুগিয়ে। পণ্ডিতেরা দেখেছেন যে, উটকে অনেকদিন না খেতে দিয়ে রাখলে, তার কুঁজটি আস্তে আস্তে ছােট হয়ে আসে ও হেলে পড়ে, কেননা তখন তার চর্বির ভাগটা কমতে থাকে। আর উট জল না খেয়ে থাখতে পারে, তার কারণ হচ্ছে উটের পেটের মধ্যে তার পাকস্থলীর চারধারে অল জমিয়ে রাখার উপযােগী বহু বলি আছে। যখন খায়, তার তেষ্টা মেটাবার জন্য যেটুকু দরকার সেটুকু ৮ঃ জ্ঞান-বিলনের মধুভাও খেয়ে নিয়ে ঐ বাকিটুকু সেই সমস্ত গুলিতে জমিয়ে রাখে এবং তাকে যখন জলহীন মরুভূমির মধ্যে চলতে হয়, তখন ঐ সমস্ত থলি থেকে জল টেনে নিয়ে শরীরই তার জলের অভাব মেটায়, কাজেই তেষ্টায় সে অধীর হয়ে ওঠে আমাদের মতাে। মশা মাছি ও ঝিঝিপােকা যে ডাকে, তার শব্দটা কি ? মশা মাছির ডাকটা আসলে তাদের ডাক বা মুখের শব্দ নয়, ওটা তাদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের শব্দ। মশার ডানার নীচে একজোড়া ডাম্বেলের মত একরকম প্রত্যঙ্গ আছে, সেখানে মশার ডানার আঘাত লেগে ঐ রকম ভন ভন শব্দের সৃষ্টি করে। মাছিদের পায়ে ডানার আঘাত লেগে ভন্ ভন্ শব্দের সৃষ্টি হয়। ঝি ঝি পােকার ঝি ঝি শব্দটা হয় তাদের পায়ে পা ঘষার শব্দ থেকেই, ঠিক যেমন বেহালাতে বেহালার ছড়ি ঘষলে শব্দ হয়, তেমনি কাণ্ডই ঘটে ওদের পায়ে পা ঘষা লেগে-আমরা তাই শুনি ঝিঝি শব্দের আকারে। মৌমাছি মধু কোথায় পায়? মৌমাছি ফুল থেকে Nectar বা মধুরেণু সংগ্রহ করে তার লম্বা শিশি- বােতল-ধওয়া বুরুশের মত জিভ দিয়ে এবং তারপর ঐ জিভের শােষক নল দিয়ে মুখে টেনে নেয় ঐ মধুরেণু, সেখান থেকে তা যায় মৌমাছির পেটের ভিতরের মধুথলিতে, সেখানের অম্নরসের সংস্পর্শে এসে ঐ মধুরেণু বিশুদ্ধ মধুতে পরিণত হয়। বিড়াল জল দেখলে ভয় পায় কেন? বিড়াল জল দেখলে ভয় পায় এইজন্য যে, অন্য জন্তুর মত তার দেহের ললামে তৈলাক্ত কোনও পদার্থ নেই অর্থাৎ সেটা অল-নিরােধক ( water proof) নয়। কাজেই অন্যান্য জন্তুর মত গায়ের জল তারা ঝেড়ে ফেলতে পারে না। জলে তারা ভিজে যায়, এই ভিজে যাওয়ার ফলে তাদের বড় শীত করে বা কষ্ট হয়। তাই তারা জল দেখলে ভয় পায়। শীতকালে যে জীব-জগৎ কারণে তােমরা ককনে জলকে ভয় করে, অনেকটা সেই কারণেই বিড়াল পকে ভয় করে। কোন্ জীব চোখ না বুজেই ঘুমােয় ? মাছ চোখ না বুজেই ঘুমােয়, কারণ তার চোখের ওপরে জীবজন্তু বা মানুষের চোখের মত চোখের পাতা নেই। এই জন্যে অনেকে বলেন- মাছ ঘুমােয় না। কোন্ জীব ভাকতে পারে না? জিরাফের দেহটি দেখেছ তাে কত বড়। কিন্তু জীবতত্ত্ববিদ পণ্ডিতেরা বলেন, জিরাফ নাকি একেবারেই ডাকতে পারে না। কোন্ জীবের দৃষ্টিশক্তি নেই? কেঁচো, উইপােকা এদের কোনটিরই দৃষ্টিশক্তি নেই। কোন্ জীবের দৃষ্টিশক্তি সবচেয়ে বেশী ? জীব-জগতে পাখীদের দৃষ্টিশক্তি অন্যান্য জীবের চেয়ে বেশী, কারণ পাখীদের চোখে ক্যামেরার ডায়াফ্রামের মত শক্ত রিং আছে দৃষ্টিকে কেন্দ্রীভূত করার জন্য। ঈগল, পাচা, শকুন তাই বহুদূর থেকে দেখতে পায়। কোন্ পাখী উড়তে পারে না? উটপাখী, এমু এবং কিউই পাখী উড়তে পারে না। সবচেয়ে তাড়াতাড়ি যেতে পারে কোন জীব ? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি যেতে পারে মাছি; মাছির গতির কাছে আর সবাই হার মানে। মাছি ঘণ্টায় ১০ থেকে ৬০০ মাইল বেগে যায়। পাখীদের মধ্যে বাজপাখী আর ঈগল সবচেয়ে দ্রুত যেতে পারে, তারা ঘণ্টায় ১৭ থেকে ১৮০ মাইল পর্যন্ত যায়। স্থলচর জীবনের মধ্যে চিতাবাঘ সবচেয়ে দ্রুতগামী জীব, তারা ঘণ্টায় ৬০ মাইল যায়। আর মাছদের মধ্যে টান্নি মাছ যেতে পারে ৬০ মাইল বেগে।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড জীব-জগতে কোন্ জীব সবচেয়ে বেশীদিন বাঁচে? সবচেয়ে বেশীদিন বাঁচে তিমি মাছ, এরা তিনশাে বছরের বেশী বাঁচে। এছাড়া কচ্ছপ, কুমির, হাতী এদেরও পরমায়ু কম নয়। সবচেয়ে বড় আকারের পােকা-মাকড় কি? সবচেয়ে বড় আকারের পতঙ্গ হচ্ছে এরিবাস এগ্রিপপিনা (Arebas Agrippina)। এর ডানাসুদ্ধ মাপ হচ্ছে ১১ ইঞ্চি। আর ডানা বাদ দিয়ে সবচেয়ে বড় আকারের দেহ যদি ধরা হয়, তাহলে সবচেয়ে বড় পােকা ‘ম্যাক্রোডন্টিয়া সারভিন্টনিস' বলে গুবরে জাতের পােকা। এটির দেহ লম্বায় ৬ ইঞ্চি মাপের হয়। ; আকাশের রাজত্বের খবর আকাশ কি ? আকাশ হলাে পৃথিবীর বাইরের শূন্যতা; কিন্তু এই শূন্যতাই আবার বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা আছে। সমুদ্রের জলের সমতার (Sea-level) ঠিক ওপর থেকে শুরু হলো বায়ুস্তর অর্থাৎ বাতাসে ভৰ্ত্তি এই স্তর ; বায়ুস্তরের নীচের দিককে বলা হয় “ট্রপপাস্ফিয়ার' ( Troposphere)। ওপরের স্তরকে বলা হয় স্ট্রাটোস্ফিয়ার’ (Stratosphere)। এই স্ট্রাটোস্ফিয়ার আমাদের মাথার ১০ মাইল ওপর পর্যন্ত বিস্তৃত। তার ওপরে ২০২২ মাইল উচুতে ‘ওজোনােস্ফিয়ার’ (Ozonosphere); এই বায়ুস্তরে আছে ওজোন (Ozone) গ্যাস। তার ওপরে হচ্ছে ‘আয়ােনােস্ফিয়ার' ( Ionosphere); এখানে আছে বিদ্যুৎ-অণু।

আকাশের রাজত্বের খবর চাদের ভেতরের চরকা-বুড়ী কে? চাদের ভেতর গাছের তলায় বসে বুড়ী চড়কা কাটছে বলে যে জিনিসটা ছােটবেলা থেকে দেখে আসছ, এটা সত্যি সত্যি চাদের মা বুড়ী নয় ; ব্যাপারটা হচ্ছে পৃথিবীর মত চাদেও মেলাই পাহাড়, পর্বত, গর্ত, খােল এই সব আছে, তাই সব জায়গায় সমানভাবে সুর্যের আলাে পড়ে না। আর তাই চাদের ঐ জায়গাগুলােতে আলােছায়ার সমাবেশে অদ্ভুত যত ছায়াছবির সৃষ্টি হয়। সূৰ্য্য পশ্চিম দিকে না উঠে নােজই পূর্ব দিকে ওঠে কেন? সূৰ্য্য পশ্চিমদিকে ওঠে না এইজন্য যে, পৃথিবী তার নিজের মেরুদণ্ডকে ভর ক'রে অহরহ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকেই ঘুরছে। সূর্যের আলোের এত উত্তাপ কেন? সূৰ্য্যটা কত গরম? সূৰ্য্য হচ্ছে একটা প্রকাণ্ড অগ্নিপিণ্ড, চারধারে তার রয়েছে জলন্ত গ্যাস এই গ্যাস ক্রমশঃ ঘনীভূত হচ্ছে বলেই আলো আর উত্তাপ পাই আমরা । সূর্যের উপরিভাগের উত্তাপের মাপটা বৈজ্ঞানিকেরা বলেন- ছ’হাজার ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। রামধনু কি ? আকাশে যে মেঘ থাকে, সেগুলােতে থাকে অসংখ্য জলবিন্দু-সেই জলবিন্দুগুলাের ভেতর দিয়ে সূর্যের আলাে যখন সােজ। যেতে যেতে ঠেক খেয়ে বেঁকে পৃথিবীতে পড়ে তখন তাকে বলে সূৰ্য্যরশ্মির বক্ৰণ বা রিফ্লাকসন ( Refraction); তখনই সুর্যের আলােয় লুকানাে সাতটি রঙকে আলাদা আলাদা ভাবে পৃথিবী থেকে দেখা যায়-এই যে রঙের সমাবেশ এটি হলাে রামধনু। সময় সময় আলাদা আলাদা দুটি বিভিন্ন কোণে (angle) আলাে বেঁকে পড়ার দরুণ দুটি রামধনুও দেখা যায়।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাও রামধনু অমন ধনুকের মত গােল হয় কেন ? রামধনু যখন দেখা যায়, তখন সূৰ্য্য ৪৫ ডিগ্রী কোণে হেলে থাকে। ঐ অবস্থায় আলােক-রশ্মি বৃষ্টিকণায় প্রতিফলিত হয়ে যে ভাবে রিফ্র্যাক্টেড { Refracted) হয় বা আলােকরেখার গতিপথ যেভাবে বেঁকে যায় তাতে বৃষ্টিকণায় আলাের প্রতিফলন গােল হয়েই হয়। তাই রামধনু গােল দেখায় সূৰ্য ৪৫ ডিগ্রী কোণে থাকলেই ‘রামধনু’ দেখা সম্ভব, তা নইলে নয়। যেখানেই যাও, সূৰ্য্য আর চাঁদ সেখানেই তােমার সঙ্গে সঙ্গে যায় কেন? সূৰ্য্য মামা আর চাদ। মামা ভাগনেদের ভালবাসেন বলেই ঐ কর্মটি করেন, এটা যেন মনে করােনা। সূৰ্য্য আর চঁাদ-গােল পৃথিবীর বাইরে মহাশূন্যে রয়েছে বহুদূরে, কাজেই পৃথিবীর সব জায়গা থেকেই তাদের দেখা যায় আর ব্যাপারটা তাই অমন মনে হয়। সূৰ্য্যকে উদয় এবং অন্তের সময় লাল দেখায় কেন? তার কারণ তখন পৃথিবীর ওপরের বায়ুস্তর ভেদ করে সূর্যের রশ্মি পৃথিবীতে সােজাসুজি পড়ে না। উদয় ও অস্তের সূৰ্য্য Horizon বা দিকচক্রবালের নীচে চলে যায় এবং তার ফলে বায়ুস্তরের উপর সূৰ্য্যরশ্মির প্রতিফলন এমন একটা কোণ বা angle থেকে বাকা ভাবে হয়, যার ফলে সূর্য ওঠার সময় আমাদের চোখে সূর্যকে বড় দেখায়। পূর্ণিমার দিন চাদ যখন পূর্ব দিকে ওঠে এই একই কারণে তাকেও মস্ত বড় দেখায়। সূর্যকে ওঠবার সময় লাল দেখায় এইজন্য যে, ঐভাবে সূৰ্য্য নীচে থাকায় তার নীল বা বেগুনে আলােকরশ্মি ছােট ঘােট আলােক তরঙ্গে গঠিত বলে তখন বাতাসের ধূলিজাল ও জলকণা ভাে ক'রে ঐ পথে আমাদের চোখে প্রতিফলিত হয় না; কিন্তু কমলা ও লাল রঙের আলােকরশ্মিগুলো দীর্ঘ আলােক-তরঙ্গে গঠিত বলেই সেগুলো বায়ুমণ্ডলের নীচের গভীর আকাশের রাজত্বের খবর স্তর ভেদ করে চোখে পড়ে, তাই তখন সূর্যকে লাল দেখায়। আকাশে ধুলাে থাকলে ঐ সময়ে নানা রকম রঙ-এর খেলাও ঐ কারণে দেখা যায়। মঙ্গলগ্রহে লােক আছে নাকি? মঙ্গলগ্রহে লােক আছে কিনা বলা যায় না, সেখানে হয়ত অন্য কোনও ধরণের জীব আছে, এটা বৈজ্ঞানিকেরা অনেকেই আন্দাজ কবেন, তবে এখনও তা যথারীতি প্রমাণিত হয় নি। আকাশ নীল দেখায় কেন? আকাশ নীল দেখায়—কারণ, সূর্যরশ্মি বায়ুস্তর ভেদ করে পৃথিবীতে আসে, কিন্তু সূৰ্য্যরশ্মি এই বায়ুস্তর ভেদ করার আগেই, বায়ুস্তর তার ওপরের হাইড্রোজেন গ্যাস এবং তড়িৎঅণু ( Electron) মেশানাে সূর্যরশ্মি থেকে খানিকটা নীল রঙের আলাে শুষে নিয়ে পৃথিবীর চারধারে ছড়িয়ে দেয়, তাই আকাশ নীল দেখায়। কেউ কেউ বলেন, সূর্যের আলাে হওয়ার ভেতর দিয়ে আসবার সময় হাওয়ায় ভাসমান অসংখ্য ধুলিকণা ও অণুতে ঘা খেয়ে ছােট ছােট অলােক-তরঙ্গ থেকেই নীল আলাের উৎপত্তি হয়, কাজেই আকাশ অমন নীল। সূর্যরশ্মির ভেতর সাতটা রঙ লুকানাে আছে তা বােধ হয় তােমরা জানাে এবং এই সাতটা রঙ-এর সৃষ্টি হয় ছােট বড় বিভিন্ন মাপের আলােক-তরঙ্গ থেকেই। চন্দ্র ও সূর্যের চারিদিকে সময় সময় গােলাকার যে চিহ্ন পড়ে সেটা চন্দ্র-সূর্যের সভা কিনা—আর অমন দেখায় কেন? চন্দ্র সূর্যের চারধারে ঐ যে গােল আলাের বেড় সময় সময় দেখা যায়, ওকে আমাদের দেশে চন্দ্র-সূর্যের সভাই বলা হয় বটে, তবে ইংরেজীতে ওকে বলা হয় হালকা (Halo)। বায়ুমণ্ডলীর খুব উপরের স্তরের জলকণা বা তুষারকণায় সূর্য বা চন্দ্রের আলাে প্রতিফলিত হয়েই ওই জিনিসটার সৃষ্টি হয়—ঠিক যেমন করে বায়ুমণ্ডলীর জলকণাপূর্ণ স্তরে সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত হয়ে রামধনুর সৃষ্টি করে। ৭ (১ম) জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড দিনের বেলায় আমরা তারা দেখতে পাইনা কেন? এর কারণ দিনের বেলায় প্রখর সূর্যরশ্মি আমাদের চারপাশের বায়ু- মণ্ডলীতে ছড়িয়ে থাকে। সেই আলাে ভেদ করে বহু দূরের তারার মৃদু আলাে তখন আমাদের চোখে প্রতিফলিত হতে পারে না, তাই আমরা দিনের বেলায় তারা দেখতে পাই না। তবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় সূৰ্য্য ঢাকা পড়ে, তখন চারধারে অন্ধকার হয়ে পড়ে, তখন দিনের বেলাতেও সময় সময় তারা দেখা যায়। কাজেই তারারা রাতেও যেখানে থাকে দিনেও ঠিক সেইখানে থাকে। আকাশে কত তারা আছে ? সেটা বলা বড়ই শক্ত। কারণ কোটি কোটি গ্রহ নক্ষত্র রয়েছে মহাশূন্যে । তবে বিজ্ঞানীরা গুণে বলেছেন, পৃথিবীর ওপর থেকে শুধু চোখে যে ক'টি তারা দেখা যায় তার সংখ্যা হচ্ছে ৭,৬৪৭ সাত হাজার ছ'শো সাতচল্লিশ। কাজেই তুমি অনায়াসে অন্ধকার রাত্তিরে গোটা আকাশটার দিকে তাকিয়ে নিভুল ভাবে বলতে পার—“আমি তিন হাজারের কিছু বেশী তারা দেখতে পাচ্ছি।” আর পৃথিবীর ওপিঠের লােকগুলাে দেখছে বাকী সব তারা। বুঝতে পারলে ব্যাপারটা? চারে নিজস্ব কোন উত্তাপ আছে ? চাদের নিজস্ব কোন তাপ নেই, তবে সূর্যের তাপে সে গরম হয়ে ওঠে। আবার চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী যখন সূর্যের আলাের পথ বন্ধ করে দাড়ায় তখন সে হয় ঠাণ্ডা। সূর্যের আলােয় সাতটা রঙ লুকানাে আছে নাকি? সূর্যের কিরণে যে সাতটা রঙ আছে তা সহজেই যদি বুঝতে চাও তাহলে পুরানাে ঝড় লণ্ঠনের একটা তেশিরে বা তিন-কোণা কাচ যােগাড় করে তার ভেতর দিয়ে নােরটাকে দেখ। নয়তাে আর এক কাজ করতে পার, এক মুখ জল নিয়ে রােদে দাড়িয়ে ওপর দিকে খুব জোরে ফু দিয়ে ছুড়ে দেবে, দেখবে আকাশের রাজত্বের খবর তাতেও সাতটা রঙ। কারণ সূর্যের আলাের সাতটা রঙ তখন ঐ জলকণায় প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে প্রতিফলিত হয়। মেঘ করলে গরম আর গুমােট হয় কেন ? মেঘ করলে গরম আর গুমােট হয় এই জন্য যে, মেবেরা বাতাসের পথ আটকে ঘােরাফেরা করে আকাশে। তাতেই আমাদের চারিপাশের বায়ু চলাচলের ব্যাঘাত ঘটে। কাজে কাজেই পৃথিবীর ভেতর থেকে সব সময়েই যে উত্তাপ আসছে, সেও মেঘের চাপ ভেদ করে ওপর দিকে যেতে না পেরে আমাদের চারপাশের আবহাওয়াকে গরম করে তােলে। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় রাত্রের মত অন্ধকার হয় না কেন? আসলে চন্দ্রগ্রহণে ও সূর্যগ্রহণে অনেকটা তফাৎ। চন্দ্রগ্রহণ হয় তখনই, যখন পৃথিবীর কালাে ছায়াটা চাদে এসে পড়ে বলেই চাদকে কালাে দেখায় ; কিন্তু পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ যখন হয় তখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে সােজাসুজি এসে পড়ে চাদ এবং সূর্যগ্রহণের সময় যে কালাে জিনিসটি দেখতে পাও সেটা দই, সূর্যের ওপর চাদের ছায়া নয়। সূর্যের আলাে পেছনে থাকার ফলের চাঁদকে অমন কালাে দেখায় এবং এইজন্য রাত্রের মত অন্ধকার হয় না। তার পাশ থেকে যেটুকু সূৰ্য্যরশ্মি আকাশে ছড়ায় তারই আলােতে অমন কালাে মেঘলা দেখায়। মেঘেরা আকাশে নড়ে চড়ে কেমন করে? অমন ক্ষণে ক্ষণে চেহারা বদলায় কেমন করে ? মেঘটা আসলে হচ্ছে কোটি কোটি হাল্কা জলকণা, ধোঁয়া, ধুলাে ও তুষার- কণার সমষ্টি-হাওয়ার চেয়ে হাল্কা বলেই বাতাসে ভর করে ওরা অমনি আকাশে ভেসে বেড়ায়। আর বাতাসের চাপ লেগেই মেঘ চেহারা বদলে বদলে কখনও হাতী, কখনও উট, কখনও পাহাড়, কখনও বা গাছের মতই রূপ ধরে।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাও • চন্দ্র, সূৰ্য, নক্ষত্রের মধ্যে প্রভেদ কি? এথমে বলি সূৰ্য্য ও নক্ষত্রের মধ্যে বড় বিশেষ তফাৎ নেই, কারণ নক্ষত্র গুলাে আসলে সূর্যের মতই জলন্ত গ্যাসের গােলা এবং ঘােট খাটো এক একটি সূৰ্য তবে তারা অনেক দূরে থাকে বলেই অত ছােট দেখায়। কাজেই নক্ষত্র কারুর কাছ থেকে আলাে ধার করে না-আলােটা তাদের নিজস্ব। তবে গ্রহগুলাের নিজস্ব কোন আলাে নেই। তাদের দেহে সূর্যের আলাে প্রতিফলিত হওয়ার ফলেই অমন জ্বলজ্বলে দেখায়। চন্দ্র কিন্তু গ্রহও নয়, নক্ষত্রও নয়—একে বলা হয় “উপগ্রহ'; কারণ পৃথিবীর চারপাশে চন্দ্র ঘুরছে, এরকম বহু উপগ্ৰহ বিভিন্ন গ্রহের চারধারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সূৰ্য বড় না পৃথিবী বড় ? পৃথিবীর চেয়ে সূৰ্য্য অনেক বড়, কত বড় জানাে? পৃথিবীর চেয়ে ৩ লক্ষ ৩০ হাজার গুণ বড়। অর্থাৎ ৩ লক্ষ ৩০ হাজার পৃথিবী এক করলে তবে একটি সূর্যের সমান হবে। অমন দূরে আছে বলে অত ছােট দেখায়। পৃথিবী থেকে চঁাদ কতদূরে আছে ? চঁাদের মাপ কত? পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের কোন বাঁধা-ধরা মাপ পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ, চাঁদ পৃথিবীর চারধারে যে পথে ঘুরছে সেটা ঠিক গােল নয়, কাজেই চাদের গড়পড়তায় দূরত্বের মাপ হচ্ছে পৃথিবী থেকে ২৩৮৮৪• মাইল। চাদের মাপ হচ্ছে মােট ১৪৬,৫০০ বর্গ মাইল। চাৰে যে বাতাস আর জল নেই তার প্রমাণ কি ? প্যারিসের মিউডেন অবজারভেটারীর পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, চাদের আলাে বাস্তবিক পক্ষে ঠিক ঐ আগ্নেয়গিরির ছাইচাপা আগুন থেকে যে ধরণের আলো প্রতিফলিত হয়, সেই ধরণেরই আলাে। সেইজন্য বৈজ্ঞানিকেরা এইটাই সম্ভব বলে ধরে নিয়েছেন যে, চাঁদ আগাগােড়া জ্বলন্ত আগুনের ওপর ছাই দিয়ে ঢাকা। যদি সেখানে হাওয়া থাকত তাহলে ঐ ভাবে ফাকা ছাই দিয়ে আগুন ঢাকা সম্ভব হত না কখনই, বা ঐ ভাবে আগুন আকাশের রাজত্বের খবর নিভে নিভে ছাইও হয়ে যেত না। হাওয়ায় ছাই উড়ে গিয়ে আগুনই যেখা যেত। কাজেই সেখানে হাওয়া নেই, অতএব জলও নেই। উয়া জিনিসটা কি? অনেকের ধারণা উল্কা হচ্ছে ছােট ছােট তারা, কিন্তু তা মােটেই নয়। উল্কা বললে বুঝতে হবে—কতকগুলো ধাতু ও প্রস্তরের মতাে শক্ত পদার্থ যা তারার মতই সীমাহীন আকাশে ঘুরে বেড়ায়। ঘুরতে ঘুরতে তারা কখনও কথনও পৃথিবীর চারধারের বায়ুস্তরের মধ্যে এসে পড়ে। পৃথিবীর বাইরের এই বায়ুস্তরও ঠিক পৃথিবীর মতই সচল এবং সেইজন্যই উল্কাগুলো এই স্তরের সংস্রবে এসে পড়লেই তার সঙ্গে ঠোকাঠুকি খেয়ে দেশলাইয়ের কাঠির মত দপ করে জ্বলে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যায়। বছরের পর বছর ধরে এই রকম কত লক্ষ লক্ষ উল্কা পৃথিবীর বায়ুস্তরের টানে পুড়ে পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। খুব বড় ধরণের উল্কা হ'লে সমস্তটা পুড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আগেই মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে পৃথিবীর এলাকায় এসে পড়ে এবং তার আগুন নিভে গিয়ে বাকী অংশটুকু শক্ত একটা পিণ্ডের মত পৃথিবীর মাটিতে এসে পড়ে। সমুদ্রের ধারের দেশে সাধারণতঃ বৃষ্টি বেশী হয়; কিন্তু সমুদ্রের ধারে থেকেও কতকগুলাে দেশ মরুভুমি এর কারণ কি? সমুদ্রের ধারে থেকেও সে-দেশগুলো মরুভূমি হয়েছে এইজন্যে যে, এই জায়গাগুলাের ওপর দিয়েই 'Trade wind বা ‘গরম ঝড়’ অনবরত আসা- যাওয়া করে। ফলে, ওই সব দেশের মাটি তাে শুকিয়ে যায়ই, উপরন্তু ঐ ঝড় এলােমেলাে ভাবে না ব'য়ে এক পথ ধরে একই ভাবে আসা-যাওয়া করে যত রাজ্যের বালি বয়ে এনে ফেলে সেখানে। প্রাচীনকালে এই বাতাসে ভর করে পালতােলা জাহাজে করে ব্যবা-বাণিজ্যের পণ্য আনানেওয়া হতো বলে ঐ ঝড়ো-হাওয়াকে 'Irade wind বলে। মরুভূমির মাটি গরম হাওয়ায় বা ঐভাবে শুকিয়ে সব সময় গরম হয়ে থাকার ফলেই তার ওপরের বায়ুস্তরও জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড গরম থাকে, কাজেই সেখানে বৃষ্টি মাটিতে পৌছবার আগেই তা’ ওপরের বায়ুস্তর শুষে নেয়, সে কথা তাে আগেই বলেছি। পৃথিবী থেকে সব চেয়ে কাছে কোন্ নক্ষত্র ও কোন্ গ্রহ? ‘আলফা সেন্টরী’ (Alpha Centauri) এই নক্ষত্রটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আছে—এটিকে দক্ষিণ গােলার্ধেই দেখা যায়। কত কাছে জাননা? ২৫০ লক্ষ মাইলের পিছনে আরও সাতটা শূন্য বসালে যত হয় তত মাইল দূরে। এই নক্ষত্রটির তুলনায় সূৰ্য্য আমাদের বেশ কাছেই আছে বলা চলে, কারণ পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব মােটে ৯২ কোটি থেকে ৯৫ কোটি মাইলের মধ্যে। বৈজ্ঞানিকেরা কি করে এক গ্রহ থেকে আর এক গ্রহের দূরত্ব মেপে ঠিক করেন, সেটাও মােটামুটি জেনে রাখো। নিলসেন বলে এক বৈজ্ঞানিক ‘ইন্টারফোরােমিটার’ ব'লে এক যন্ত্র আবিষ্কার করেন, এই যন্ত্রের সাহায্যেই আলাের গতি মেপে গ্রহ নক্ষত্রের দূরত্ব ঠিক করা হয়। সব কাছে যে গ্রহটি আছে সেটি নতুন আবিষ্কৃত গ্রহ, নাম তার 1239 E. A., এটি নাকি পৃথিবীর মাটি থেকে চার হাজার মাইল দূরে আছে। এটি আবিষ্কার করেছেন ডক্টর কাল রেইনমুখ,। নদীতে বান দেখা যায় কেন? পৃথিবীর সর্বত্রই নদী এবং সমুদ্রে বান দেখা যায়। ‘বান’ আসলে জোয়ার-ভাটারই রূপান্তর । সূর্য ও চন্দ্রের আকর্ষণে সমুদ্রের ফোলে ও কমে এবং তাই নদীতে জোয়ার-ভাটা খেলে এ-কথা নিশ্চয়ই ভূগােলে পড়েছ। কিন্তু এই সাধারণ জোয়ার-ভাটা যখন ঘটে, তখন সূর্যের টানে উল্টো দিকেই থাকে চন্দ্রের টানের গতি। কিন্তু কখনও কখনও সূৰ্য্য আর চন্দ্র এক হয়ে একই দিকে টানে জলকে। তখনই নদীর জল ভয়ানক ভাবে ফুলে ওঠে এবং এই জল ফুলে ওঠার ব্যাপারটাকেই আমরা বলি ‘ন-ডাকা। মােটামুটি ব্যাপারটা হ’ল এই। সব নদীতে বান ডাকে আকাশের রাজত্বের খবর ; , তার কারণ, এই ‘বান-ডাকাটা নির্ভর করে নদীর গভীরতার আর নদীতলের সমতার ওপর। তারা মিটমিট করে কেন? বৈজ্ঞানিকেরা বলেন, তারার আলােক-তরঙ্গ বা Light Wave-এ আমাদের চারপাশের বাতাসের ঢেউ-এর কাপন লাগার ফলেই তারার আলাে আমাদের চোখে ঐভাবে কেঁপে কেঁপে প্রতিফলিত হয় ; আর তাই মনে হয়, তারারা জ্বলছে আর নিভছে। সূর্যের চারিধারে বেড় দিয়ে কত বেগে পৃথিবী ঘুরে আসছে? পৃথিবী একদিনে ১৬,০০,০০০ মাইল ঘুরে আসে। মিনিটে ১,১০০ মাইল, আর প্রতি সেকেণ্ডে সাড়ে আঠারো মাইল বেগে পৃথিবী সূর্যকে বেড় দিয়ে ঘুরছে। সূৰ্য্যকে বেড় দিয়ে এভাবে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর একটি বছর লাগে। পৃথিবী ঘুরছে অথচ আমরা ছিটকে পড়ে যাই না কেন? খুব সােজা কথায় এর জবাব হচ্ছে, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ-শক্তি মানুষ, জন্তু, ঘর-বাড়ী ও এই পৃথিবীর সব কিছু জিনিসকেই তার কেন্দ্রের দিকে টেনে রেখেছে এবং সেই টান পৃথিবীর ঐ ‘ঘুরিয়ে ফেলার গতি বা বেগ (Centrifugal force) এর চেয়ে অনেক বেশী শক্তিশালী। গ' ছাড়, পৃথিবীর এই ‘ঘুরিয়ে ফেলার গতি’ Centrifugal force আর মাধ্যাকর্ষণ-শক্তির একটা সমতা সব সময়েই বজায় আছে এবং পৃথিবী একতালে একই ভাবে ঘুরছে, যার ফলে আমরা ছিটকে পড়ি না; তবে যদি পৃথিবীটা কোনও দিন প্রকটু বেশী জোরে ঘুরে ওঠে বা ঘােরার বেগটা একটু কমিয়ে ফেলে তা হ'লে আমরা যে মহাশূন্যে ছিটকে পড়ব, তাতে সন্দেহ নেই। পৃথিবীটার ওজন কত? পৃথিবীর ওজন সব প্রথম বার করেন হেনরী ক্যাভেণ্ডি। কিন্তু পৃথিবীর ওজন নতুন করে বিনি আবিষ্কার করেছেন, তাঁর নাম ডক্টর পল, আর, হেল জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড তাঁর হিসাবে পৃথিবীর ওজন হচ্ছে ৫৯৯৭ এই চারিটি সংখ্যার পর ১৮টি শূন্য বসালে যত হয় তত টন। । ধুমকেতু কি? সূৰ্য্যকে বেড় দিয়ে গ্রহ নক্ষত্র যেমন সুনির্দিষ্ট পথ ধরে ঘুরছে-তেমনি এক ধরনের 'জ্যোতিষ্কও সূর্যের চারধারে ঘুরছে। এই সব জ্যোতিষ্ককে দেখলে মনে হয় ধোঁয়ায় ঘেরা হয়ে বেড়াচ্ছে-তাই এদের নাম ধূমকেতু। আর মনে হয় আলােকরেখায় গড়া এদের একটা করে লেজও আছে। প্রকৃত পক্ষে এগুলি এক একটি অগঠিত তারা। ধূমকেতু বিভিন্ন রকমের আছে এবং এদের চলার গতি ও গতিপথের মাপ বিভিন্ন। তাই বিভিন্ন ‘ধূমকেতু পৃথিবীর লােকের দৃষ্টিপথে আসে তাদের ঘােরার গতি ও গতি-পথের হিসাব অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে। মােটামুটি এই সব ধূমকেতু সওয়া তিন বছর থেকে ৮ বছর অন্তর এক একবার দেখা দেয়। কোনও কোনও ‘ধূমকেতু’র দেখা হয়ত লক্ষ বছরে একবার পাওয়া যায়, এমন কথাও জ্যোতিষীরা বলেন। হেলির ধূমকেতু ( Halley’s comet) ৭৬ বছর অন্তর দেখা দেয়। বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক হেলি’ (Halley) এই ধূমকেতু আবিষ্কার করেন—তিনিই হিসাব ক'রে বলেছিলেন ‘ধূমকেতু ৭৬ বছর অন্তর দেখা দেবে। নীহারিকা’ কি? অন্ধকার রাত্রে আকাশ পরিষ্কার থাকলে ধোয়ার মত জ্যোতিষ্ক দেখা যায় আকাশের গায়ে-তারই সাধারণ নাম নীহারিকা (Nebula) কিন্তু এ ধরনের সবগুলিই যে আসল নীহারিকা তা নয়। অনেক সময় ছোেট ঘােট তারার গুচ্ছকেও আমরা নীহারিকা বলে ভুল করি। আসল ‘নীহারিকা গুলােকে দূরবীন দিয়ে দেখলেও বাষ্পের আকারেই দেখা যায়। নীহারিকা মাত্রেই হাল্কা গ্যাসে গড়া আলােকপুঞ্জ। জ্যোতিব্বিরা একাধিক নীহারিকা আবিষ্কার করেছেন।

পাতালের রাজত্বের খবর পাতালের রাজত্বের খবর সাতটা—অতল, পাতাল কি? হিন্দুদের মতে ত্রিলােক আছে-স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল। আকাশকে বলা হয় স্বর্গ। মত্ত এই পৃথিবীটা, আর পাতাল হলে মাটীর নীচে। পুরাণের মতে পাতাল বিতল, সুতল, তলাতল, মহাতল, রসাতল ও পাতাল। যাক সে কথা, আধুনিক মতে পৃথিবীর গােটা দেহটা ধরতে হলে মাটির উপরের বায়ুস্তরকে বাদ দিলে চলে না। এবং পৃথিবীটা মােটামুটি ছ'টা এই রকম স্তরে ভাগ করা। প্রথমেই হলো বায়ুস্তর বা এ্যামস্ফিয়ার’ (Atmosphere), তারপর হলাে ‘জলস্তর বা হাইড্রোস্ফিয়ার’ (Hydrosphere), তারপর ‘অন্তর’ বা ‘লিথােস্ফিয়ার (Lithosphere), তারপর আছে ‘খনিজস্তর’; এর নীচে সব চেয়ে ব্যাপক এক স্তর--তাকে বলা হয় ‘গুরুতর’ বা ‘ব্যারিস্ফিয়ার’ (Barysphere); এর নীচেই পৃথিবীর কেন্দ্রস্তর’ (Centrosphere)—এই কেন্দ্রস্তরটি বৈজ্ঞানিকদের মতে গ্যাস অথবা জ্বলন্ত গলিত পদার্থে গড়া। ‘পাতাল’ বলতে আসলে বােঝায় ঐ লিথােস্ফিয়ার বা অন্তরের নীচের স্তরগুলি। লিথােস্ফয়ার’ এর উপরে আছে সমুদ্র, সাগর, হ্রদ, মাঠ, বন, পাহাড়-পর্বত। কিন্তু আমরা সাধারণতঃ মাটির নীচে ও জলের নীচেটাকেও পাতাল বলে থাকি। পাতাল রাজত্ব কোথায় ও সেখানে কি আছে ? পাতালের গভীর রাজত্ব বলতে তা'হলে বােঝাচ্ছে তিনটি স্তর—প্রথম হচ্ছে ‘খনিজস্তর (Ore zone), এই শুর গঠিত হয়েছে মাটি আর খনিজ পদার্থ একসঙ্গে মিশিয়ে। এর নীচেই যে গুরুত্তর’ বা ‘ব্যারিস্ফিয়ার’—সেই স্তরটি গঠিত হয়েছে লােহ ও নিকেল দিয়ে এবং সেইটিই পৃথিবীর সবচেয়ে মজবুত স্তর। তার জোরেই গােল পৃথিবী আমাদের সকলের, ঘরবাড়ীর ও পাহাড়-পর্বতের ভার বইতে পারছে। এই স্তরের নীচেই আছে জলন্ত গলিত পদার্থে গড়া জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাও কেন্দ্ৰস্তর বা Centrospere। এই জ্বলন্ত গলিত পদার্থই মাঝে মাঝে বেরিয়ে আসে পাহাড়-পর্বত ভেদ করে-আগ্নেয়গিরির ভেতর দিয়ে—একেই বলি আমরা অগ্ন্যুৎপাত। জল ও মাটির নীচে কতদূর পর্যন্ত মানুষ সন্ধান পেয়েছে ? সাবমেরিণ চলেছে ৩৮৪ ফুট জলের নীচ দিয়ে, ডুবুরী নেমেছে ৮১৪ ফুট জলের নীচ পর্যন্ত। জলের নীচে ‘ব্যারিস্ফিয়ার’ বা ‘জলগােলক’ নামানাে হয়েছে দেড় মাইল গভীরতা পর্যন্ত। মাটির নীচে মানুষ খনি খুড়েছে ৮০০০ ফুট পর্যন্ত—তেলের খনি পৌঁছেছে ১০০০০ ফুট গভীরতা পর্যন্ত। আর সমুদ্রের গভীরতার মাপ করেছে মানুষ যন্ত্রের সাহায্যে পঁয়ত্রিশ হাজার ফুটের বেশী পৰ্যন্ত। সুড়ঙ্গপথগুলাে কি পাতালে যাবার রাস্তা ? তা নয়। এগুলো দিয়ে পৃথিবীর মানুষ পৃথিবীর বুকেই যাতায়াত করে। তবে মাটির নীচে ও জলের নীচে ঐ পথগুলো তৈরী হয়েছে বলে ওকে লােকে সাধারণতঃ বলে পাতালের পথ। এমনি ধারা তিনটি সুড়ঙ্গ রেল পথ আছে আল্পস্ পাহাড়ের ভেতর দিয়ে। একটি ৮ মাইল লম্বা-নাম তার *মন্ট, সেলিস সুড়ঙ্গ’—আরও একটা সুড়ঙ্গ আছে আল্পস পাহাড়ের ভেতর দিযে সেটা সওয়া নয় মাইল লম্বা-নাম তার সেন্ট গটার্ড সুড়ঙ্গ'। আর বাকিটি হচ্ছে ‘সিম্পল সুড়ঙ্গ’-- এটি সওয়া বার মাইল লম্বা—পৃথিবীর মধ্যে এইটি হলাে মাটির ওপরে সব চেয়ে লম্বা সুড়ঙ্গ রেলপথ। জলের নীচে দিয়ে বিভিন্ন সুড়ঙ্গপথ বা টানেল আছে টেমস নদীর নীচে। লণ্ডন শহরের মাটির নীচে বহু সুড়ঙ্গপথ আছে-সেই সব সুড়ঙ্গ পথে ‘টিউব রেলওয়ে আছে। তার মধ্যে সবচেয়ে লম্বা হলে মর্ডেন থেকে ইষ্ট কিঞ্চলে পৰ্যন্ত ১৭ মাইল সুড়ঙ্গপথ । পাতালের জীব কারা? তারা কেমন করে কি খেয়ে বাঁচে? সমুদ্রের গভীর জলের নীচে যে সমস্ত মাছ, পােকা-মাকড়, কীট, জলজন্তু থাকে তাদেরই আমরা সাধারণতঃ বলে পাকি পাতালপুরীর বাসিন্দা। কিন্তু পাতালের রাজত্বের খবর সমুদ্রের জলের গভীরতাটাও বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা এবং বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন জাতের জীবরা ঘুরে বেড়ায়, এটা জীবতত্ত্ববিদ বলেন। শুধু কি তাই? সমুদ্রের জলের তলায় হাজার হাজার মাইল নীচে ঐ লােনা জলেই বেড়ে উঠছে সামুদ্রিক গাছপালা, ঝােপ-ঝাড়, জঙ্গল—ঠিক পৃথিবীর মাটিতে যেমন আমরা দেখতে পাই। মাটির ওপরে চারপাশের গাছ পাহাড় থেকে আমরা যেমন খাদ্য সংগ্রহ করে বেচে থাকি, সমুদ্রের তলার কোটি কোটি জীবও নিজের নিজের রুচি অনুসারে অমনি ঐ সব গাছপালা বা জলজ কীট-পতঙ্গ, জন্তু- জানােয়ার খেয়ে বেঁচে আছে। সমুদ্রের তলায় ডুবুরীরা নেমে দেখে এসেছে সে এক মজার রহস্যপুরী, কত রঙ বেরঙের মাছ, কত ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর জানােয়ার - হয়তাে আমরা কোনও দিনই কেউ দেখতে পাব না। সমুদ্রের তলা দিয়ে টেলিগ্রাফের তার কি ভাবে নেওয়া হয় ? এক মহাদেশ থেকে আর এক মহাদেশে টেলিগ্রাফের যে তার জলের ভেতর দিয়ে নেওয়া হয়েছে, তার ভেতর টেলিগ্রাফের শব্দ কি করে শােনা সম্ভব, কারণ জলের তলায় তাে বাতাস নেই ? উত্তরটা খুব সােজা। টেলিগ্রাফের তারের মারফৎ আমরা যে শব্দ শুনতে পাই, তার সঙ্গে বাতাসের কোন সম্পর্ক নেই, তার কারণ টেলিগ্রাফের ব্যাপারে শব্দ-তরঙ্গকে (Sound waves) বৈদ্যুতিক তরঙ্গে বদলে ফেলে তারের মারফৎ পাঠানাে হয়। অর্থাৎ তারের ভেতর দিয়ে শব্দ যায় না, যায় শব্দের নূতন রূপ ঐ ইলেকট্রিক-কারেন্ট। যখন শােনবার দরকার হয় সেটা সেখানে আবার বৈদ্যুতিক তরঙ্গকে শব্দতরঙ্গে বদলে নেওয়া হয়, এই ভাবেই কাজ চলে। তবে সমুদ্রের তলায় জল ও আরও নানারকম বাধা বিপত্তি থাকে বলেই সমুদ্রের তলা দিয়ে যে টেলি- গ্রাফের তার নেওয়া হয়, সেটা সাধারণ টেলিগ্রাফের তারের চেয়ে ঢের বেশী মযবুত এবং সম্পূর্ণ আলাদা উপায়ে তৈরী—সেটা তৈরী হয় এইভাবে, প্রথমে থাকে বৈদ্যুতিক তরঙ্গ যাবার তামার তার, তার ওপর থাকে নিকেল লােহা আর তামা সব মিশিয়ে-তৈরী ধাতুর পাঁচ পর্দা ফিতে জড়াননা, তার ওপর জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাও থাকে গাটাপার্চার পর্দা, এই গাটাপার্চার পর্দার ওপর আবার এক পুরু মশলা মেশানাে পাট জড়ানো হয়, তারপর তাকে আবার গ্যালভানাইজড চাদর আর ইস্পাতের তার দিয়ে মােড়া হয়। সব শেষে রবার মেশাননা পাট দিয়ে সেটা ঢাকা হয়। এই হলাে জলের তলার টেলিগ্রাফের তার যাকে বলা হয় কেব’ (Cable)। এই ‘কেবল সমুদ্রের তলায় পাতার জন্যে একরকমের আলাদা ধরণের জাহাজ আছে-তাকে বলা হয়, কেবল লেয়াস (Cable layers)। সমুদ্রের তলায় এই একেব-তার’ দেড় হাজার ফুট গভীরতা থেকে ১২/১৩ ফুট গভীরতার মধ্যে পাতা থাকে। পৃথিবীর বুক ফুড়ে কোন কোন দেশে কি কি করা হয়েছে? ফ্রান্সে ২৭৬৫ ফুট খুড়ে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর কুয়া ‘আতেজীয় কূপ’ তৈরী হয়েছে। বেলজিয়ামে ৪০০০ ফুট খুঁড়ে তৈরী হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর কয়লার খাদ। পৃথিবীর বুকে ৮০০০ ফুট খুড়ে মােরা বেলহাে’ বলে পৃথিবীর গভীরতম সােনার খনির সন্ধান পেয়েছে ব্রেজিল দেশের লােকেরা। ক্যালিফোর্ণিয়াতে ১০০০০ ফুট পর্যন্ত পৃথিবীর বুক খুড়ে পাওয়া গেছে খনিজ তেলের সন্ধান। মাটির নীচে ‘পাতালঘর”বলে কিছু ছিল নাকি প্রাচীন ভারতে মাটির নীচে রাজাদের প্রাসাদ তৈরী হতে—পুরাণে ও রামায়ণ মহাভারতে একথা পাওয়া যায়। ইতালী, রােম, মিশর ও আলেক- জান্দ্রিয়াতে প্রাচীন যুগের খৃষ্টানরা মাটির নীচে সুড়ঙ্গ কেটে তার দু'পাশে কফিনের মধ্যে মৃতদেহ পুরে রেখে আসতো-একে বলা হয় ক্যাটাকোস্থ (Catacomb); এইগুলােকেই বলা চলে সেকালের পাতাল-ঘর।

পৃথিবীর সবসেরা পৃথিবীর সবসেরা পৃথিবীর সাতটি আশ্চর্য জিনিস কি? পৃথিবীর সাতটি আশ্চর্য জিনিস বলতে প্রাচীন যুগে বােঝাতত এই ক’টি জিনিস—এক পিরামিড ছাড়া এর সব ক'টি জিনিসই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। (১) মিশরের বিখ্যাত পিরামিড-যীশুখৃষ্ট জন্মাবার প্রায় তিন হাজার বছর আগে তৈরী হয়েছিল। নীল নদের পশ্চিম পারে কায়রাে শহরের বিপরীত দিকে ‘গিজেহ্’ বলে জায়গাটি থেকে ৬০ মাইল দক্ষিণ পর্যন্ত এই পিরামিডের সারি দেখা যায়। এগুলির মধ্যে মিশরের রাজা জোসারের কবরের উপর ‘সাগ গারা’ পিরামিডটি সবচেয়ে প্রাচীন। (২) মসােলিয়ম-এশিয়া মাইনর প্রদেশের ক্যারিয়া প্রদেশের বিখ্যাত রাজা মশােলাসের এই স্মৃতিমন্দির তৈরী করান এঁর রাণী আর্তেমেশিয়া-খৃঃ পূঃ ৩৫২ অব্দে প্রাচীন গ্রীসের বিপরীত দিকে ঈজিয়ান সাগরের তীরে হালিকাণাসাস বলে জায়গাটিতে। প্রাচীনকালে এটি সুন্দর কারুকার্যের জন্য বিখ্যাত ছিল—ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে গেছে। (৩) ব্যাবিলনের শূন্যোদ্যান-বৰ্ত্তমান বাগদাদ শহর থেকে ৬০ মাইল দূরে এটা তৈরী হয়েছিল ৩৩৫ ফুট উচু আর ৮৫ ফুট চওড়া এক দেওয়ালের ওপর—তৈরী করিয়েছিলেন সম্রাট নেবুকানেজার—কারণ তাঁর রাণী আমাই- তেস ছিলেন ঠাণ্ডা পাহাড়ে দেশের মেয়ে—ব্যাবিলনের গরম হাওয়া তার সহ হত না—তাই সম্রাট অতো উচু দেওয়াল গেঁথে তার ওপর বাগান আর থাকবার মত প্রাসাদ করিয়ে দেন। এটা তৈরী হয়েছিল এখন থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে-ইতিহাসে সে কথা জানা যায়। (৪) নােভস দ্বীপের ‘কলােসা-যীশুখৃষ্ট জন্মাবার—প্রায় ২৯২ বছর আগে রােডাসীরা গ্রীক দেবতা এপােলাের মূর্তির অনুকরণে তাদের হেলিওস দেবতার প্রায় ১২০ ফুট লম্বা পেতলের মূর্তি গড়ে তােলে-গড়তে ৩০ জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড কারিকরের বারাে বছর সময় লেগেছিল। লিণ্ডাসের রাজা চার্লস এটি রােডস দ্বীপের বন্দরে প্রতিষ্ঠা করেন—এটি যীশুখৃষ্ট জন্মাবার প্রায় ২২৪ বছর আগেই ধ্বংস পেয়েছে। (৫) এফিসাসের ‘আয়না দেবীর মন্দির’-প্রাচীনকালে এশিয়া মাইনর প্রদেশে ‘এফিসাস’ বলে এক শহর ছিল, বর্তমানে স্মার্ণা শহরের দক্ষিণে ইজিয়ান সাগরের পূর্ব দিকে। প্রাচীন গ্রীক স্থপতিবিদ সিসিফনের (Ctesiphon) পরিকল্পনা অনুযায়ী খৃষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে এই মৰ্ম্মর মন্দির গড়ে উঠেছিল। এই মন্দিরে ১২৭টা মার্বেলের থামের ওপর ছাদ তােলা হয়েছিল-এই থামগুলাে ছিল ৬০ ফুট উচু—আর ওজন ছিল এক একটার দেড়শাে টন। খৃঃ পূঃ ৩২৬ অব্দে হেরােষ্ট্রেটা বলে এক পাগল এটিকে পুড়িয়ে দেয়। (৬) অলিম্পিয়ার ‘জুপিটার’ মূর্তি-গ্রীসের দক্ষিণ উপকূলের পশ্চিম দিকে অলিম্পিয়ার উপত্যকায় যীশুখৃষ্ট জন্মাবার সাড়ে চারশাে বছর আগে এই মূর্তিটি নাকি তৈরী হয়। ফিডিয়া বলে প্রাচীন যুগের এক গ্রীক ভাস্কর এথেন্স থেকে নির্বাসিত হয়ে এই মূর্তি গড়া সুরু করেন—শ্বেত পাথরের উপর হাতীর পাতের কারুকার্য করে-মূৰ্ত্তিটিকে সােনার পাতের পােশাকে মােড়ানো হয়। মৃত্তিটি ৪০ ফুট উচু ছিল বলে শােনা যায়। (৭) আলেকজান্দ্রিয়ার অন্তর্গত ফ্যারােস দ্বীপের আলােক যীশুখৃষ্ট জন্মাবার প্রায় ৩০ বছর আগে মিশরের রাজা টলেমী ফিলা- ডেলফাস্ সােটার, ফ্যারােস দ্বীপে আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে জাহাজকে পথ দেখিয়ে আনার জন্য এই আলােকস্তম্ভ তৈরী করান। এটি ৪০০ ফুট উচু ছিল বলে শােনা যায়। ১৩৭৫ খৃঃ অব্দের এক ভূমিকম্পে এটি ধ্বংস হয়ে যায়। মধ্যযুগের ‘সাতটি আশ্চর্য জিনিস বলতে বােঝায়- (১) নানকিনের পােরসিলেনের তৈরী টাওয়ার স্তম্ভটি, (২) চীনের প্রাচীর, (৩) রােমের কলােসিয়ম, (৪) পিসার হেলান স্তম্ভ, (৫) কনস্তান্তিনােপলের সেন্ট সােফিয়ার মজিদ (এটি পূৰ্ব্বে গির্জা ছিল—কিন্তু ১৪৫৩ খৃষ্টাব্দে তুরস্কের পৃথিবীর সবসের সুলতান দ্বিতীয় মহম্মদ এটিকে মজিদে পরিণত করেন, (৬) ইংলণ্ডের ষ্টোনহেঞ্জ, (৭) আলেকজান্দ্রিয়ার ক্যাটাকম্ব’ প্রাসাদ। এই ক'টি জিনিসের মধ্যে নাকিনের স্তম্ভটি-১৮৫৩ খৃষ্টাব্দে তাইপিং বিদ্রোহে ধূলিসাৎ হয়েছে। শুধু এর চিহ্ন হিসাবে এই স্তম্ভের চূড়ায় যে ধাতুপাত্রটি ছিল—সেটি রাখা আছে নাকিনের দক্ষিণদিকের ফটকে। পিসার হেলান স্তম্ভ ও সােফিয়ার মসজিদ ব্যতীত অন্যান্য জিনিসগুলিও ধ্বংশের পথে এগিয়ে চলেছে। এই সাতটির মধ্যে কেউ কেউ ইংলণ্ডের ষ্টোনহেঞ্জের পরিবর্তে আগ্রার তাজমহল’কে মধ্যযুগের সপ্ত আশ্চর্যের একটি বলে ধরেন। বৰ্ত্তমানকালে পৃথিবীর ‘সাতটি আশ্চর্য জিনিস হলাে- (১) এম্পায়ার ষ্টেট বিল্ডিং (নিউইয়র্ক) (২) পানামা খাল (৩) গােল্ডেন গেট ব্রীজ বা সেতু (সানফ্রান্সিকো) (৪) টেমস নদীর নীচে লণ্ডনের সুড়ঙ্গপথ (৫) আসুন বাঁধ (মিশর) (৬) ওয়াশিংটনের স্মৃতি মন্দির (যুক্তরাষ্ট্র) (৭) সিন্ধু প্রদেশের লয়েড, বাঁধ পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিভাশালী ব্যক্তি বলতে কোন কোন ব্যক্তিকে বােঝায় ? পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যত প্রতিভাশালী মনীষী জন্মেছেন তাদের মধ্যে লিওনার্দা দ্য ভিঞ্চিই সর্বশ্রেষ্ঠ। সাধারণতঃ লােকে তাকে শিল্পী বলেই জানে—কারণ তঁার লাষ্ট সাপার' (Last Supper) ও ‘মােনা লিসা' (Mona Lisa) ছবি শিল্পের জগতে এক বিস্ময়কর অবদান—কিন্তু তিনি শুধু ভাল ছবিই আঁকতে পারতেন না, তিনি ছিলেন উচুদরের ভাস্কর, স্থপতিবিদ, ইঞ্জিনিয়ার ও বৈজ্ঞানিক। পৃথিবীর বিভিন্ন বিষয়ে তিনি অনেক অধ্যয়ন ও গবেষণা করে গেছেন এবং পরে সে সমস্তই লােকে জানতে পেরেছে। বেতার, বিমানযান জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধু আবিষ্কার হবার বহু আগে এ সমস্ত জিনিস নিয়েও যে তিনি মাথা ঘামিয়েছিলেন তার প্রমাণ পাওয়া যায়। পৃথিবীর অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা নিয়ে ভারতবর্ষে জন্মেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’-লােকে কে সাধারণতঃ কবি’ বলেই জানতেন —কিন্তু তিনি ছবি আঁকা, বিজ্ঞান শিল্পের বিষয়েও তার বহুমুখী প্রতিভা দেখিয়ে গেছেন। অভিনেতা ও দার্শনিক হিসাবে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তুলনা করা চলে—এমন লােকও পৃথিবীতে কমই জন্মেছেন। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ঘড়ি যেটি এখনও সময় দিচ্ছে সেটির ইতিহাস কি? ফ্রান্সের ‘দিজন’ অঞ্চলে নােওদাম গীর্জার ওপরে যে ঘড়িটি দেখতে পাওয়া যায়—সেটিই নাকি পৃথিবীর প্রাচীনতম ঘড়ি যেটি এখনও চলেছে।-এই ঘড়িটি তৈরী করেন জ্যাকেস মার্ক এবং শহরবাসীর সেবায় এটিকে উৎসর্গ করেন রাজা ফিলিপ দি ডি-১৩৮৩ খৃঃ অব্দে। এই সাড়ে পাঁচশাে বছর ধরে ঘড়িটি বাজছে বলে ‘দিজনে’-র অধিবাসীরা এটিকে পৃথিবীর গৌরবের সম্পদ বলে মনে করে। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের যাদুঘরে আর একটি প্রাচীন ঘড়ি আছে, সেটি তৈরী হয় ১৪১০ খৃষ্টাব্দে, সেটিও এখনও ঠিক চলছে। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে দামী পােশাক কার আছে? সবচেয়ে দামী পােশক আছে হাওয়াই দ্বীপের রাজা তৃতীয় কামেহামেডার (Kamehameda III)। এই পােষাকটি একটি লম্বা ঝােলা জামা (cloak) ; এটি তাওয়াই দ্বীপের মধুখেকো ছােট ছােট মামাে পাখীর হলদে আর লাল পালক দিয়ে আগাগােড়া তৈরী। জানা যায় যে, রাজার এই পােশাকের পালক জোগাড় করতে এত ‘ মামাে’ পাখী মারা হয়েছে যে, দেশ থেকে মামাে’ পাথী একেবারে লােপ পেয়েছে। বর্তমানে হাওয়াই দ্বীপের রাজার এই পােশাকটির দাম কুড়ি হাজার পাউণ্ড বলে ধরা হয়েছে। পােশাক পৃথিবীতে আর কারুরই নেই। এত দামী } পৃথিবীর সবসেরা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আর দামী ঘােড় কার ছিল? আমেরিকার আইওয়া প্রদেশের বুন অঞ্চলের মিঃ সি. জি. গুডের ‘কলিন সুপ্রিম’ বলে যে ঘােড় ছিল-৯ মাস বয়সে ১৯৩৮ খৃষ্টাব্দে তার ওজন হয়েছিল দেড় টনের কাছাকাছি—অর্থাৎ প্রায় ৪০ মণ আর কি! অত মােটা আর অত বড় ঘােড়া এর আগে কেউ দেখেনি। এই ঘােড়াটার দাম উঠেছিল ১৬০০ পাউণ্ড পর্যন্ত। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সঠিক সময় দেয় কোন্ ঘড়িটি ? কলকজাওয়ালা পুরানো ধরনের ঘড়িতে প্রায়ই সময়ের গােলমাল হয় একথা তােমরা জাননা, কিন্তু ১৯৩৮ খৃষ্টাব্দে গ্রীনউইচের মানমন্দিরে (Greenwich Observatory) যে বৈদ্যুতিক ঘড়ি বসানাে হয়েছে—তাতে গােটা বছরে এক সেকেণ্ডের অতি সামান্য ভগ্নাংশের অনুপাতে সময়ের তফাৎ হয়—গ্রীনউইচের পেণ্ডুলাম দেওয়া ঘড়িতে এর আগে এমন সঠিক সময় ধরা সম্ভব হত না। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানী কোটি এখনও রয়েছে ? সুইডেনের ‘স্টোর কোপ্পারবার্গস বার্গম্ল্যাগস অকটেবােলাগ (Stor Kopparbergs Bergslags Aktiebolag ) ata a coragttaglio পৃথিবীর প্রাচীনতম ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যা এখনও অস্তিত্ব বজায় রেখেছে—এই কোম্পানীটি এখন সুইডেনের একটি কাগজের কারখানা পরিচালনা করেন। এটি গড়া হয়েছিল ১২৮৮ খৃঃ অব্দে—এরকম প্রমাণ এই কোম্পানীর পুরানাে কাগজপত্রে পাওয়া গেছে। পৃথিবীতে সবচেয়ে কোন ভাষায় বেশী লােক কথা বলে ? ১৯৪৯ খৃষ্টাব্দের মােটামুটি হিসেবে জানা যায় যে, চীনে ভাষায় কথা বলে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক লােক। ৪৩ কোটি লােক কথা বলে এই চীনে ভাষায়। তারপরেই হচ্ছে ইংরেজী ভাষা—এই ভাষায় কথা বলে ২৭ কোটি লোেক। তারপরে রুশ ভাষায় কথা বলে ৮ কোটি লোেক, জাপানী ভাষায় কথা বলে ৮ (১ম) জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধু ৫ কোটি লােক, স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে ৬ কোটি লােক। উর্দু ও হিন্দীর সংমিশ্রণে হিন্দুস্থানী ভাষায় কথা বলে ৭ কোটি ৯০ লক্ষ লােক। বাঙলা ভাষায় কথা বলে ৫ কোটি ৪০ লক্ষ লােক। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ রেলপথ কোথায় আছে? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ রেলপথ আছে আমেরিকায়। সেখানকার লাইনের মােট লম্বা মাপ হচ্ছে ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৮ শত ৪২ মাইল। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্রেন (কপিকল) কোথায় আছে ? যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া শহরে নেভিইয়ার্ড বলে বন্দরটিতে জাহাজ থেকে মাল খালাস করা, মাল বােঝাই করার জন্য যে ক্রেন আছে সেটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রেন। এটি ২৫০ ফুট উঁচু-এবং ৩৫০ টন ওজনের মাল একসঙ্গে তুলতে পারে। এটি তৈরী করতে ২ লক্ষ পাউণ্ড খরচ হয়েছিল। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় সেতু কোনটি? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় সেতু বা পুল হচ্ছে সাফ্রান্সিস্কোর ওকল্যাণ্ড সেতু-এটা মােট লম্বা হচ্ছে সাড়ে আট মাইল। পৃথিবীর মধ্যে বড় ঝুলানাে সেতু হচ্ছে ‘গােল্ডেন গেট’ ব্রীজ, সেটিও আছে আমেরিকার সানফ্রান্সিস্কো উপসাগরের উপরে। সবচেয়ে বড় জেপেলিন কোটি ? সবচেয়ে বড় জেপেলিনের নাম ‘হিণ্ডেনবার্গ’–এটা লম্বা ছিল ৯৭২ ফুট, আর ঘণ্টায় ৮৩ মাইল বেগে উড়তে পারতো। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাতের ফুল কি কি ? পৃথিবীর সবচেয়ে মস্ত ফুল যে কি তা ঠিক করে বলা শক্ত, যাইহােক জেনে রাখাে-সুমাত্রা দ্বীপে ‘রফলেসিয়া’ বলে একরকম ফুল আছে, তা যখন ফোটে তখন আড়াআড়িভাবে মাপে সেটা হয় প্রায় তিন ফুটের মতাে। এছাড়া সুমাত্রায় আরও একরকম ফুল আছে সেটা লম্বা ধরণের কচু ফুলের মত পৃথিবীর সবসেরা সেগুলাে লম্বায় প্রায় ষােল-সতের ফুট পর্যন্ত হয়। তার নাম হচ্ছে ‘এমাের- Fietanta fattata ( Amorphophallag-litanum ) পৃথিবীতে কতগুলি জাতির জাতীয়-পতাকা আছে? যতদূর জানা যায়, ৮১টি জাতের জাতীয় পতাকা বর্তমানে পাওয়া যায়। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের জাতীয় পতাকাই তিনটি রং দিয়ে তৈরী। সব জাতের কাছে তার জাতীয় পতাকার সম্মান সবচেয়ে বেশী। তােমরাও যে তােমাদের জাতীয় পতাকাকে তেমনি ভালবাসবে সে কথা কি বলে দিতে হবে ? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে দামী ডাক টিকিট কোনটি ? সেটির দাম কত ? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে দামী ডাক টিকিট যা সংগ্রহ করা আছে, তার মধ্যে ১৮৫৬ সালের বৃটিশ-গায়েনার এক সেন্ট দামের একখানি টিকিটই সবচেয়ে দামী ; এর দাম বর্তমানে সাড়ে সাত হাজার পাউণ্ড পর্যন্ত উঠেছে। পৃথিবীর মধ্যে কোথায় সবচেয়ে বড় যীশুখৃষ্টের মুর্তি আছে ? ব্রেজিলের রাজধানী রিও-ডি-জ্যানেরিও শহরে ২৪০০ ফুট উঁচু কর্কোভেড়াে’ বলে যে পাহাড় আছে—তার ওপরে ১১০ ফুট লম্বা এক যীশুখৃষ্টের মূর্তি আছে—এই মূর্তিটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আকারের যীশুমূৰ্ত্তি । এটি সিমেন্ট আর ছােট ছােট পাথর জমিয়ে গড়া হয়েছে। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পদার্থ কি? হীরক হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন পদার্থ। তবে কোন কোন বিশেষ ধরণের ইস্পাতও বর্তমানে হীরকের মত কঠিন বলে প্রমাণিত হয়েছে। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় ‘আবক্ষু-মুর্তি' বা বাষ্ট কোথায় আছে ? আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্ক শহরে মিঃ জর্জ গ্রে বানার্ড বলে এক মুৰ্ত্তিশিল্পী প্রেসিডেন্ট লিঙ্কনের যে আবক্ষমূৰ্ত্তি খােদাই করেছেন—সেটি পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় আবক্ষমূৰ্ত্তি ( Bust)। এই মুর্তিটি ১৬ ফুট উচু।

জ্ঞান বিজ্ঞানের মধু পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে উঁচু শহর কোনটি ? সমুদ্রতট থেকে সবচেয়ে উচু শহর হচ্ছে বলিভিয়ার রাজধানী ‘লা গাজ’ (Lia, Paz); এটি সমুদ্রতট থেকে ১২,৭০০ ফুট উচুতে অবস্থিত। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে উচু রেলওয়ে স্টেশন আছে পেরু প্রদেশের ‘মবােকোখা (Morococha) বলে জায়গাটিতে। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন জীবিত কে? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন জীবিত বলতে বলা হয় দক্ষিণ-পশ্চিম মেক্সিকোর-সান্টা মারিয়া দেল টু গ্রামের প্রকাণ্ড সাইপ্রেস গাছটিকে। এই গাছটির বয়স মেপে বৈজ্ঞানিকরা বলেছেন—এটির বয়স ৫ হাজার বছরেরও বেশী—এই গাছটির গুড়ির বেড় ১৭৫ ফুট। এই গাছটি EI Tule' নামে পরিচিত। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় মুক্তা কোনটি ? পৃথিবীতে যত মুক্ত আছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় মাপের মুক্তাটি পাওয়া গেছে কয়েক বছর আগে–ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জের পালাওয়ান দ্বীপের ব্রুক্স পয়েন্ট বলে জায়গাটিতে। এটি মাপে ৯ ইঞ্চি লম্বা, চওড়ায় ৩ থেকে ৫ || ইঞ্চি -এই মুক্তাটি শামুকের মধ্যে থেকে পাওয়া যায়নি—এটি পাওয়া গেছে ক্যাম্ নামক বড়গােছের একটি সামুদ্রিক জীবের খােলর ভেতর। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় ফোয়ারা কোথায় আছে? আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের গ্রান্ট পার্কে—বাকিংহাম মেমমরিয়াল ফাউন্টেন’ বলে যে ফোয়ারাটি আছে সেইটিই পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় ফোয়ারা। এটি মিস্ কে বাকিংহাম বলে এক মহিলা তার ভাইয়ের স্মৃতিরক্ষার্থে শিকাগো শহরে তৈরী করিয়ে দিয়েছেন। এই ফোয়ারার চারিধারে সবসুদ্ধ বাহাত্তরটি উৎস-মুখ আছে, সেখান থেকে জলের ধারা বেরিয়ে ৩০০ ফুট চওড়া এক জলধারা তৈরী করে, আর মাঝখানের উৎসমুখ থেকে ৮০ ১৮৪৮ পৃথিবীর সবসেরা ফুট উচুতে জল ওঠে। এই ফোয়ারা খুলে দিলে মিনিটে ১৬০০ গ্যালন জল বেরােয়। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে উঁচু স্মৃতিস্তম্ভ কোথায় আছে? আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াশিংটন শহরে ওয়াশিংটন ন্যাশন্যাল মনুমেন্ট নামে যে স্তম্ভটি আছে—সেটিই পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে উচু স্তম্ভ। এই স্তম্ভটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট, ওয়াশিংটনের স্মৃতিতে স্থাপিত হয়েছে। খৃষ্টাব্দের ৪ঠা জুলাই এটির নির্মাণ কাৰ্য শুরু হয়—কিন্তু শেষ হওয়ার আগে ১৮৫৫ খৃষ্টাব্দে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে আবার ১৮৭৬ খৃষ্টাব্দে কাজ শুরু হয় ও ১৮৮৪ খৃষ্টাব্দের ৬ই ডিসেম্বর কাজ শেষ হয়। ১৮৮৮ খৃষ্টাব্দের ৯ই অক্টোবর-এর মধ্যে সাধারণের প্রবেশাধিকার ঘােষণা করা হয়। এটি লম্বায় ৫৫৫ ফুট-এর ভেতরের ৯০০ সিড়ি বেয়ে তবে ওপরে ওঠা যায়। পৃথিবীর প্রাচীনতম শিল্পকলা ও ভাস্কর্যের নিদর্শন দেশে পাওয়া গেছে ? আমাদের ভারতবর্ষেই পৃথিবীর প্রাচীনতম শিল্পকলা ও ভাস্কর্যের নিদর্শন পাওয়া গেছে। অজন্তার ও বাঘগুহার দেওয়ালের আঁকা ছবি, ইলােরার গুহায় পাথরের খােদাই করা যে সব মূর্তি আবিষ্কৃত হয়েছে সেগুলিই নাকি পৃথিবীর প্রাচীনতম শিল্পকলা ও ভাস্কর্যের নিদর্শন। ভারতের সবচেয়ে বড় খােদাই করা মূৰ্ত্তি হচ্ছে, মাদ্রাজের মহাবলীপুরমের মন্দিরে ‘অর্জুনের তপস্যা’ বলে যে মূৰ্ত্তি আছে সেটি। এটি লম্বা ৯৬ ফুট, চওড়া ৪৩ ফুট, আর উচু ৩০ ফুট। পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান হাতে আঁকা ছবি কোনটি ? শিল্পী গেরাে’র (Gainsborough) আঁকা ‘ব্লু বয়’ ( Blue Boy) বলে ছবিটির দামই এখন সবচেয়ে বেশী—১৯২১ খৃষ্টাব্দে ১ লক্ষ পাউণ্ড মূল্যে বিক্রীত হয় এবং সেই ছবিটি পরে শিল্পী রেণন্ডসের আঁকা ‘মিসেস সিডন এ্যাজ দি ট্রাজিক মিউজ’ নামের ছবিটির সঙ্গে একত্রে ২ লক্ষ পাউণ্ড মূল্যে বিক্রীত হয়েছে।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুও
পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় মাপের হাতে আঁকা ছবি (oil
painting ) কোথায় আছে?
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাপের ছবি অয়েল পেন্টিং টাঙ্গানাে আছে ভিনিসের
ডােগে প্যালেসের (Doge's Palace) হলঘরে—এই ছবিটির নাম ‘প্যারাডাইস
(Paradise)। ছবিটি ৮২ ফুট লম্বা ও ৩৩ ফুট চওড়া।
পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে জোরে ট্রেন চলে কোথায় ?
আমেরিকার ডজ, সিটি (Dodge City) থেকে লা জুণ্টের (La Junte)
মধ্যে ‘সুপার চীফ (Super Chief) বলে ডিসেল ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক শক্তিতে
পরিচালিত যে ট্রেনটি যাতায়াত করে সেইটি পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগামী ট্রেন।
ঘণ্টায় ৮৭ মাইল বেগে এই ট্রেন চলে। কিংস ক্রশ থেকে ইয়র্ক পৰ্য্যন্ত
‘করােনেশন এক্সপ্রেস’ ঘণ্টায় ৭২ মাইল বেগে ছুটে চলে। এটি বৃটিশ রাজ্যের
দ্রুতগামী ট্রেন।
পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা রেলপুল’ কোথায় আছে?
পূৰ্ব্ব-আফ্রিকার নিয় জাম্বেসী প্রদেশে পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা রেলপুল
আছে—এটা লম্বায় ১২০৬৪ ফুট। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে উচু রেলপুল হচ্ছে
ফ্রান্সের ‘ফ্যাডে ভিয়াডাক্ট’ সেতুটি—এটি ৪৩ ফুট উচু।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাহাজ কি?
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাহাজ হচ্ছে ‘কুইন এলিজাবেথ’ নামে জাহাজটি।
এটি ৮১ হাজার টনের জাহাজ।
পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজপ্রাসাদ কোথায় আছে?
'স্পেনের মাদ্রিদ শহরে যে রাজপ্রসাদ আছে সেটি পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে
বড় রাজপ্রাসাদ।
পৃথিবীর মধ্যে বচেয়ে
বড় হােটেল কোনটি? কোথায়
আয়ে?
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগাে শহরের ‘ষ্টিভেন্স হােটেল’ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে

পৃথিবীর সসের ১১ বড় হােটেল। এই হােটেলে অতিথিদের থাকবার জন্য সাতাশ শশা ঘর আছে। পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় ‘ছবিঘর বা সিনেমা কোথায় আছে? যুক্তরাষ্ট্র নিউইয়র্ক শহরে ‘রক্সি’ থিয়েটার বলে যে ছবিঘর বা সিনেমা হাউস আছে, সেটি পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড়। এই থিয়েটারের হলে ••• লােক একসঙ্গে বসতে পারে। পৃথিবীর মধ্যে কোন ষ্টেশনটির নামে সবচেয়ে বেশী অক্ষর আছে? বৃটেনের এঞ্জেলসী অঞ্চলের এল-এম-এস রেলের ঘােট স্টেশনটাই পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় নামের স্টেশন। নামটা দিলুম। LLANFAIRPWLLGWYLLGOGERYCH WYRNDROBWLLLL- ANTSILIOGOGOGOCH পৃথিবীর সধ্যে সবচেয়ে বড় ঘণ্টা কোনটি ? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘণ্টা হচ্ছে, মস্কোর ‘জার’ (Tsar Bell) বণ্টাটি। এটি তৈরী হয় ১৭৩৩ খৃঃ অব্দে, এটির ওজন হচ্ছে ৪ লক্ষ ৪০ হাজার পাউণ্ড বা ১৯৬ টনের বেশী। এটা লম্বায় সাড়ে উনিশ ফুট আর ব্যাস হচ্ছে ২২ ফুট ৮ ইঞ্চি। পৃথিবীতে মােট কতরকমের ভাষা আছে? এ প্রশ্নের উত্তরে একেবারে সঠিক জবাব দেওয়া সম্ভব নয়, তবে মােটামুটি হিসাবে যতটা জানতে পারা যায়—সে হিসাবে পৃথিবীতে কমসে কম ৩৪২৪ রকমের ভাষা আছে। এবং জানা যায় তার মধ্যে এক ভারতবর্ষেই কমপক্ষে ২২২টি ভাষা আছে। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী রকমের ভাষা জানতেন কে ? রােমের ভ্যাটিকান প্রাসাদের গ্রন্থাগারের লাইব্রেরীয়ান যিনি ছিলেন, সেই কার্ডিন্যাল মেজ্জোফ্যান্টি (Cardinal Mezofanti) ১২৪টি ভাষা জানতেন। পরের যুগে ১৮৩৭ সালের রাজ্যাভিষেকের সময় প্রােফেসর আর, সি, কেট = ১ জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুও বলে যে আমেরিকান অধ্যাপক লণ্ডনে আসেন তিনি ৪০টি ভাষায় কথাবার্তা বলতে পারতেন। ভারতবাসীদের মধ্যে হরিনাথ দে ৩৪টি ভাষা জানতেন। তার চেয়ে বেশী রকমের ভাষায় আর কোনও ভারতবাসীই ব্যুৎপত্তি দেখাতে পারেন নি। পৃথিবীর কোথায় সবচেয়ে বড় ঘড়ি আছে ? ‘মনট্রিল’ শহরের ঘড়ি-ঘরে যে প্রকাণ্ড ঘড়িটা আছে সেইটাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ঘড়ি। মনট্রিলের ঘড়িঘর ওয়েষ্টমিনিষ্টারের ঘড়িঘরের চেয়ে বারাে ফুট বেশী লম্বা এবং মাটি থেকে ৩৩০ ফুট উচু। এই ঘড়িটার তিনটে ডায়াল (Dial) আছে-প্রত্যেকটার ব্যাস হচ্ছে ৬০ ফুট—এই ঘড়ির ঘণ্টা নির্দেশের কাটাটা ২ ফুট লম্বা, ওজনেও প্রায় ১৯ মণ—মিনিট নির্দেশের কাটাটি ৩০ ফুট লম্বা ও ওজনে প্রায় ৩৭ মণের কাছাকাছি। বিদ্যুতে চলা সবচেয়ে বড় ঘড়ি আছে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাণ্ডের বিমান বন্দরে। এই ঘড়িটা বিমান বন্দরের জমিতে আকাশের দিকে মুখ করে চিৎ করা অবস্থায় আছে বাতে আকাশ থেকে ঘড়িটা দেখা যায়। পৃথিবীর কোন দেশে সবচেয়ে বেশী জমিতে চাষ হয় ? যুক্তরাষ্ট্রে চাষ আবাদের কাজে যতটা জমিকে লাগানাে হয়েছে অমন আর কোথাও হয়নি—সেখানে ৩ কোটি ৪২ লক্ষ একর মাপের জমিতে চাষ করা হয়—রাশিয়াতে ৩ কোটি ৩২ লক্ষ একর মাপের জমিতে চাষ আবাদ হয়। তারপরেই আমাদের ভারতবর্ষ ; আমাদের দেশে ৩ কোটি ১০ লক্ষ একর জমিতে চাষ আবাদ হয়, অথচ আমরাই পৃথিবীর সবচেয়ে গরীব জাতির মতই বেঁচে থাকি এটাই আশ্চর্যের কথা। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে গভীর খনি কোথায় আছে? যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া প্রদেশে ৭৫•• ফুট গভীর খনি আছে—সেটি পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর খনি। • এই পৃথিবীর সবসেরা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মােটরবাস’ কোথায় চলাচল করে? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় মােটরবাস সম্প্রতি তৈরী হয়েছে বর্তমান যুদ্ধে সৈন্য আনা-নেওয়ার জন্য। এই মােটরবাস আমেরিকার কলােরেটে ল্ডিংয়ের কাছাকাছি ক্যাম্প কারসন বলে জায়গায় সৈন্য ছাউনিতে ব্যবহার করা হয়েছে। এই মােটরবাসের একটিতে ২৬০ জন একসঙ্গে বসে যেতে পারে। সিরিয়ার দামাস্কাস শহর থেকে ইরাকের বাগদাদ শহরে যাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে মােটরে যাওয়া। পাঁচশো মাইলের এই পথ অতিক্রম করার জন্যে এক নূতন ধরণের মােটরযান সেখানে বর্তমানে চলাচল করে ; এইগুলি পৃথিবীর অন্যতম বড় মােটরযান। এই গাড়ীগুলিতে ১৮টি চাকা আছে-গাড়িটি ৬৮ ফুট লম্বা এবং ৮ফুট ৮ ইঞ্চি চওড়া। এই মােটরযানে ৩ জন আরােহী আরামে বসে এবং শুয়ে যাতায়াত করতে পারে। মােটরযানের পেট্রল ট্যাঙ্কে একসঙ্গে আড়াইশাে গ্যালন তেল ধরে। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা গাছ কোনটি ? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা গাছ হচ্ছে ক্যালিফোর্ণিয়ার ‘ম্যামথগ্রোভ পার্কের “জেনারেল শ্যারম্যান” নামে সিকোইয়া গাছটা। এটা লম্বায় ৩০০ ফুট উচু। আর বৃটিশ রাজ্যের সব চেয়ে লম্বা গাছ আছে অষ্ট্রেলিয়ার মেলবাের্ণ শহর থেকে ৪০ মাইল দূরে। এটি একটি ইউক্যালিপটাস গাছ, লম্বা ২৯ ফুট, গাছটার বেড় হচ্ছে ৬৩ ফুট অর্থাৎ পনরো জন লোেক হাত ধরাধরি করেও গাছটাকে বেড় দিতে কষ্ট হয়। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা নােক কে ? সবচেয়ে লম্বা জাতি কারা? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা নােক যে কয়জন ছিলেন, তার মধ্যে একজন জাতিতে রাশিয়ান, নাম—মানফ (Macknov), অপরজন ল্যাঙ্কা- শায়ারের হেল বলে জায়গার জন মিউট, এরা দু'জনেই লম্বায় ছিলেন ১১০ ; জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড ৯ ফুট ৩ ইঞ্চি। বর্তমানে যিনি সবচেয়ে লম্বা লােক, তার নাম জে এরলিক (Jake Erlich)। ইনি ৮ ফুট ৬ ইঞ্চি লম্বা। প্যাটাগােনিয়ার (Patagonia) লােকেরা অন্য সব জাতের মানুষদের চেয়ে লম্বা হয়। এদেশের পুরুষরা গড়ে ৭৩ ইঞ্চি বা ৬ ফুট ১ ইঞ্চি লম্বা হয়। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে একটানা সােজা ও লম্বা রেললাইন কোথায় আছে? পৃথিবীর একটানা সােজা আর লম্বা রেল লাইন আছে—অষ্ট্রেলিয়ার নাল্লাবার প্লেনের ওপর। এখানকার ট্রান্সকন্টিনেন্টাল রেলওয়ের লাইন একটানা সােজা ৩২৮ মাইল গেছে। এই তিনশো আটাশ মাইলের মধ্যে কোথাও একটি নদী পার হতে হয় না এবং একটিও গাছ নজরে পড়ে না। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে উচু বাড়ী কোথায় ? উচু বাড়ী নিউইয়র্কের এম্পায়ার ষ্টেট বিল্ডিং; বাড়ীটাতে আছে ১০২ তলা, আর উচু হচ্ছে ১,২৪৮ ফুট। এটি ১০৪ তলা বাড়ী—মাটির নীচে ২ তলা আছে। এই বাড়ীটির সদর দরজা দিয়ে ঢুকে পায়ে হেঁটে সবচেয়ে উপর তলায় যেতে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে এর চেয়ে একটি উচু বাড়ী তৈরী শুরু হয়েছিল রুশিয়ায়—সেটির নাম প্যালেস অফদ সােভিয়েট-এই বাড়ীটি যখন তৈরী হবে তখন সেটি উচু হবে ১৩৬৪ ফুট। ১৯৩৯ খৃষ্টাব্দে এই বাড়ীর লােহার কাঠামােটা গড়ে উঠেছিল—কিন্তু জাৰ্মানীর সঙ্গে যুদ্ধ বেধে যাওয়ায় সেই সমস্ত লােহার কড়ি বরগা খুলে নিয়ে কামান আর গােলা তৈরীর জন্যে গালিয়ে ফেলা হয়। জার্মানরা হেরে যাওয়ার পর —আবার রাশিয়ানরা এই বাড়ী তৈরীর কাজে লেগেছে ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দ থেকে। পৃথিবীর সেরা ধনী বলতে কাদের নাম করা চলে? এড সেল ফোর্ড ( মার্কিন ), হেনরী ফোর্ড (মার্কিন); রথচাইল্ড, ( ইহুদী); ডিউক অফ ওয়েষ্টমিষ্টার (ইংরেজ ), বরােদার গায়কবাড় (ভারতীয়); আগা থ। (ভারতীয়); হায়দ্রাবাদের নিজাম (ভারতীয়); ;

•• ; পৃথিবীর সবসেরা সাইমন পাতিনাে (বলিভিয়া), লর্ড আইভিয়াগ (ইংরেজ ); রকফেলর ( মার্কিন ); লুই দ্ৰেফাস ( ফরাসী); ফ্রিৎজ থাইসেন (জাৰ্মান); ফ্রেডরিক ফ্লিক (জাম্মান); এন ইয়াং সাং (চীন)। পৃথিবীর মধ্যে মধ্যে কোন শিকারী সবচেয়ে বেশী প্রাণী বধ করেছেন ? লর্ড রিপন সবচেয়ে বেশী প্রাণী শিকার করেছেন বলে জানা যায়। ডিউক অফ, পাের্নল্যাণ্ড তার মােট শিকারের হিসাব দিয়েছেন। তার হিসাব থেকে জানা যায় লর্ড রিপন ১৮৬৭ খৃষ্টাব্দ থেকে ১৯০০ খৃষ্টাব্দের মধ্যে মােট ৩৭০,৭২৮টি প্রাণীকে বধ করেছেন। এই হিসাবের মধ্যে বাঘ, গণ্ডার, বন্যমহিষ, সম্বর, হাঁস, পাখী, খরগোেস, হরিণ সবই ধরা হয়েছে। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ কোনটি ? বর্তমানে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ হচ্ছে আমেরিকার “Midway” বলে এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার শ্রেণীর জাহাজটি—এটিতে যে পরিমাণ বৈদ্যুতিক শক্তিকে কাজে লাগানাে হয়—তা ১০ লক্ষ বৈদ্যুতিক বাতিকে সঙ্গে জ্বালাতে পারে। এতে যে পরিমাণ লােহালক্কড় ও মালমশলা লেগেছে—তা দিয়ে ২৫ হাজার মােটর গাড়ী তৈরী হতে পারতাে। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় শহর কোনটি ? লণ্ডন হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শহর। এখানে প্রায় ছিয়াণী লক্ষ লােক বাস করে। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা ‘মােটর-রাস্তা কোথায় আছে? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা মােটর চলার রাস্তা হচ্ছে প্যাসিফিক হাইওয়ে—যে রাস্তাটি ক্যানাডার পশ্চিম উপকূলের ভ্যানকুভার শহর থেকে মেক্সিকান সীমান্ত পর্যন্ত গিয়েছে সেটি দেড় হাজার মাইল লম্বা। অপরটি আটলান্টিক সিটি থেকে ফিলাডেলফিয়া, সেন্ট লুইস ডেনভার, পল্টলেক, সিটি, সাক্ৰামেন্টো ও ওকল্যাণ্ড হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূল পর্যন্ত গেছে জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড —এটি ৩২১৯ মাইল লম্বা। এর চেয়ে লম্বা মােটর চলার রাস্তা তৈরী হচ্ছে- সেটি আলাস্কা থেকে ‘টিয়েরা ডে ফুয়েগাে’ অবধি যাবে। এটি তৈরী হয় পর এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রাস্তা বলে গণ্য হবে। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় বই কোনটি ? সবচেয়ে বড় আকারের বই হচ্ছে ভিয়েনার ষ্টেট টেকনিক্যাল স্কুলের *Anatomical Atlas বলে বইটি। এটির মাপ লম্বায় প্রায় ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি, চওড়ায় ৩ফুট। এটি ছাপতে ১৮২৫ খৃষ্টাব্দ থেকে ১৮৩০ খৃষ্টাব্দ এই পাঁচ বছর লেগেছিল। পাতার সংখ্যা হিসাবে সবচেয়ে বড় বই হচ্ছে ১৭০০ খৃষ্টাব্দে চীনের সম্রাট যে চীনা অভিধান লেখান সেইটি। এই বইটি ৫২০ টি ভলিউম বা খণ্ডে ভাগ করা, এক এক খণ্ডে ১৭০টি করে পৃষ্ঠা আছে। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে দামী বই কোনটি ? সবচেয়ে বেশী দামে বিক্রী হয়েছে এই হিসাবে সবচেয়ে দামী বই হচ্ছে ১৮৪৪ খৃষ্টাব্দে রুশিয়ার মাউন্ট সিনাইয়ের পাদদেশে সেন্ট ক্যাথারিণ-এর মন্দিরে কোডেক্স সিনাইটিকাস বলে নিউ টেস্টামেন্টের সবচেয়ে প্রাচীন যে সংস্করণ পাওয়া গেছে সেইটি। এটি ১৯৩৩ খৃষ্টাব্দে রুশ গভর্ণমেন্ট বৃটিশ মিউজিয়মের কর্তৃপক্ষের কাছে ১ লক্ষ পাউণ্ড মূল্যে বিক্রয় করেছেন। সবচেয়ে বেশী খরচ পড়েছে এই হিসেবে পৃথিবীর সবচেয়ে দামী বই হচ্ছে, পারস্যের শাহের কাছে আফগানিস্তানের আমীর হাতেলেখা যে পুথিটা উপঢৌকন পাঠিয়েছিলেন সেইটিই বিশেষ উল্লেখযােগ্য। এই বইটি বাঁধাতেই নাকি খরচ পড়েছে ৩০ ০০০ পাউণ্ড। কারণ এই পবিত্র বইটির মলাট সােনার পাত দিয়ে মােড়া ও নানা রত্নে খচিত। হীরা, চুনী, মুক্তা বসিয়ে এই বইয়ের বাঁধাই করা হয়েছে—এটি বাধাতে মােট ৩৯৮টি মণিমুক্তা লেগেছে। পৃথিবীর মধ্যে কোন দেশের লােক বেশীদিন বাঁচে? কুশিয়ার বৈজ্ঞানিক অধ্যাপক ইলিন মানুষের বয়স নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি দেখেছেন রুশিয়ার লােকরাই বরাবর অন্য দেশের বাসিন্দাদের চেয়ে বেশী। পৃথিবীর সবলের। বেশী দিন বাঁচে। রুশিয়ার লােক গণনার হিসাবে দেখা গেছে এখনও সেখানে এমন লােক ৩০ হাজারেরও বেশী আছে—যাদের বয়স একশাে বছরেরও এখনও রুশিয়াতেই কেবল একটি ১৬৬ বছরের লােক বেঁচে আছেন। ইনিই বর্তমানের সবচেয়ে বেশী বয়সের জীবিত মানব। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় বইয়ের দোকান কোথায় আছে? লণ্ডনের চ্যারিং ক্রশ রােডের ওপর ডবলিউ, এণ্ড জি, ফয়েল লিমিটেড ( W. &. G. Foyle Ltd.) বলে যে বইয়ের দোকানটি আছে সেটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পুস্তক বিক্রেতা। এই বইয়ের দোকানের শাখা ডাবলিন, টরেন্টো ও কেপটাউনে আছে। দোকানটিতে ৩০ লক্ষ বই মজুদ রাখা হয়। দোকানটিতে ৫০০ লােক কাজ করে এবং প্রত্যেক দিন গােটা পৃথিবী থেকে প্রায় ৩ হাজার চিঠি আসে। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে দামী পদার্থ কি ? ‘রেডিয়াকে বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে দামী পদার্থ বলা হয়-এক গ্রাম (Gramme) রেডিয়ামের দাম ১৪৪ ৪০ পাউণ্ড—অর্থাৎ-দেড়লক্ষ টাকার উপর। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত সােনার খনি কোথায় আছে? দক্ষিণ আফ্রিকার সােনার খনিগুলি পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশী সােনা উৎপাদন করে। এখানে বছরে গড়ে ১১৭৩৫০০০ আউন্স সােনা তােলা হয়। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় সােলার ঢেলা কোন্ খনিতে পাওয়া গেছে, এবং কোথায় আছে ? অষ্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া প্রদেশের সােনার খনিতে সবচেয়ে বড় সােনার ঢেলা পাওয়া গেছে। এটির নাম Welcome Stranger বর্তমানে এটি ইংলণ্ডে আছে—এটর ওজন ২৫২০ আউন্স। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় হীরকখণ্ড' কি? ১৯০৫ খৃষ্টাব্দে আফ্রিকার প্রিটোরিয়ার নিকটবর্তী প্রিমিয়ার খনি থেকে ‘কুলিনান’ ( cutlinan) বলে যে হীরকখণ্ড পাওয়া যায় সেটিই পৃথিবীর ।

১১ জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড সবচেয়ে বড় হীরকখণ্ড বলে বিখ্যাত। এটির আসল ওজন ছিল ৩১০৬ ক্যারাট এবং ১৯০৭ খৃষ্টাব্দে ট্রান্সভ্যাল গভর্ণমেন্ট বৃটেনের রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডকে এটি উপহার দেন। ১৯০৮ খৃষ্টাব্দে এটি কেটে ৯টি হীরকখণ্ডে পরিণত করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় খণ্ডটিই ‘ষ্টার অফ, আফ্রিকা’ নামে বিখ্যাত হীরকখণ্ড বলে পরিচিত। গত মহাযুদ্ধে মৃত সৈনিকদের স্মৃতিরক্ষার্থে পৃথিবীর মধ্যে কোথায় সবচেয়ে বড় ‘মেমমরিয়াল’ তৈরী হয়েছে? ১৯৩২ খৃষ্টাব্দে ফ্রান্সের ‘থিয়াপভা ( Thiepval) বলে জায়গাটিতে যে মনুমেন্ট’টি তৈরী হয়েছে সেটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যুদ্ধ-স্মৃতিস্তম্ভ। এই মনুমেন্টের গায়ে ৭৩৪১৩ জন মৃত সৈনিকের নাম লেখা আছে যাদের অন্তিম শয্যার কোন সন্ধান জানা যায়নি। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় ‘ীম-লাইনড’ (Stream-lined) জাহাজ কোথায় আছে ? যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ষ্টেটে ‘ পিউজেট সাউণ্ড নেভিগেশন কোম্পানীর ‘কা-ল-আহ্লাহ্ ( Kab.Lock-Ab-Lah) 769 যে মিলাই, জাহাজটি ‘সিটুল ( Seattle) থেকে ‘ড্রিমারটন' ( Bremerton) যাওয়া আসা করে সেটিই পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় স্ত্রীমলাইন্ড, জাহাজ। জাহাজটিতে ২০০০ আরােহী ও ১১• খানি মােটরগাড়ী নিয়ে যাবার ব্যবস্থা আছে। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় কার্পে ট কোথায় আছে? নিউইয়র্কের ওয়ালডফ এ্যাষ্টোরিয়া (Waldori Astoria) হােটেলে সবচেয়ে বড় কার্পেট আছে, এটি লম্বায় ৭০ ফুট ও চওড়ায় ৫০ ফুট। এই কার্পেটটির কোথাও জোড়া নেই। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় মাপের পতাকা কোন দেশে আছে ? আমেরিকায় আমেরিকান জাতির একটি জাতীয় পতাকা আছে-যেটির মাপ হচ্ছে ২০,৭•• বর্গ ফুট—সেটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড়মাপের পতাকা।

পাচ-মিশেলী প্রশ্ন পঁচ-মিশেলী প্রশ্ন রবিবার ছুটি কেন? ওটা খৃষ্টানদের মতে Lord's Day অর্থাৎ ঐদিন যীশুখৃষ্টের কাজে সবাইকে লাগতে হয়। ৩২১ খৃঃ অকে রােমসম্রাট ৩২১ খৃঃ অব্দে রােমসম্রাট কষ্টোইন আইন ক'রে ঐ দিনে একমাত্র কৃষি কাজ ছাড়া সব কাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করেন। সেই থেকেই রবিবার দিন ছুটির প্রচলন হয়েছে। খৃষ্টিয় উনবিংশ শতাব্দীতে ভারতের গভর্ণর জেনারেল লর্ড ওয়েলেস্লী প্রথম এদেশে রবিবার দিনকে ছুটির দিন ব'লে ঘােষণা করেন। এক ঘন্টা সময়কে ৬০ ভাগে ভাগ করা হয়েছে কেন? এ ব্যবস্থাটা হয়েছে এইজন্যে যে, যীশুখৃষ্ট জন্মাবার তিন হাজার বছর আগে ব্যাবিলনিয়া এবং আসিরিয়ায় যে সুমিরিয় জাতি বাস করত, তারাই প্রথম সময়ের মাপ আবিষ্কার করে এবং তখনকার দিনে এক থেকে ষাট পৰ্যন্তই ছিল সংখ্যা গণনার মাপকাঠি। অর্থাৎ এখন যেমন আমরা এক থেকে একশাে পৰ্যন্ত গুণে আবার একশাে-এক, একশো-দুই এমনি করে গণনা করি তারা সে হিসেব জানত না। কাজেই তারা সময়ের মাপ করবার বেলায়ও ঐভাবে যাট ভাগে ভাগ করেই এক ঘণ্টা তৈরী করেছিল। সেই থেকেই ষাট মিনিটে এক ঘণ্টা ও ষাট সেকেণ্ডে এক মিনিট, এই ভাবেই সময়ের হিসেব চলে আসছে। ঘড়ি যখন চলে তখন টিক্ টিক্ করে শব্দ হয় কেন? তার কারণ বুঝতে হলে বাবা, মা, বা দাদা, দিদিকে বলবে একটা ঘড়ির পেছন দিককার ঢাকনা খুলে তােমাদের দেখাতে। দেখবে ঘড়ির ভেতরে অনেকগুলাে চাকা আছে। সেকেণ্ডের কঁাটার পেছনে যে চাকাটা ঘুরছে, তার পাশে একটা চাকা একবার এদিক ওদিক এই রকম করে ঘুরছে, তাকে বলা হয় ব্যালান্স হুইল। বড় ঘড়িতে পেলাম যে কাজটি করে, ঘােট ঘড়িতে এটি সেই ‘ঘড়ির চলার গতি’তে সমান তাল বজায় রাখার কাজটি করে।

•• জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাও আচ্ছ। এর সঙ্গেই দেখবে লাগানাে রয়েছে দু’দাতওয়ালা কাটা চামচের মত একটি ছােট অংশ—এই অংশটিকে বলা হয় প্যালেট ফর্ক ও আরবার' ( Pallet Fork & Arbour); এর শেষ প্রান্তের দুটো দাত পাশের ঘুরন্ত চাকাটিকে বা Escape wheel-কে একবার আটকাচ্ছে, আর একবার ছেড়ে দিচ্ছে। এই আটকানাে আর ছাড়ার ব্যাপারটা ঘটছে প্রতি সেকেণ্ডে একবার করে এবং প্রতিবারই ঠোকাঠুকির ফলে একটা টিক ক'রে আওয়াজ হচ্ছে; এখন অনবরতই ঘড়ি চলছে, কাজেই সেকেণ্ডের পর সেকেণ্ড ঘড়ি টিক্ টিক শব্দ করেই চলেছে। থার্মোমিটার ভেঙে গেলে, পারাটা চারিধারে গড়িয়ে পড়ে অথচ কাগজ দিয়ে বা হাতে করে সহজে ভােলা যায় না কেন? এর কারণ হচ্ছে এই যে, পারার ছােট ঘােট গােল টুকরােগুলােকে নিরেট মনে হলেও আসলে পারা জিনিষটা জলের মতই তরল পদার্থ। কাজেই জল যেমন হাত দিয়ে টিপে ধরা যায় না, পারাও তেমনি ধরতে পারা যায় না। অন্যান্য তরল পদার্থের ধর্মানুযায়ী সেও হাত ফসকে পালায় বা জলের মতই গড়িয়ে পড়ে। ঘি বা মাখন আগুনে জ্বল দিলে গলে, অথচ ছানা ওরকম গলে না কেন ? এর কারণ কি জান ? ঘি বা মাখনে চব্বির ( Fat) অংশই বেশী থাকে, ছানাতে প্রােটিনের (Protein) অংশটিই বেশী। অর্থৎ ঘি বা মাখনে কাৰ্বন, অক্সিজেন আর হাইড্রোজেনের ভাগটাই এমন ভাগে থাকে যাতে সেটা সহজেই গলতে বা পুড়তে পারে—কিন্তু ছানাতে থাকে নাইট্রোজেনের ভাগটাই বেশী, কাজেই সেটা ওভাবে গলানাে সম্ভব হয় না। রটিং কাগজ কালি শুষে নেয় কেন? তার কারণ ব্লটিং পেপার এমনভাবে তৈরী করা হয়, যাতে কাগজটিতে তুলার আঁশের মতই জলশােষক আঁশ থাকে, অর্থাৎ এই আঁশের কোষে পাঁচমিশেলী প্রশ্ন ১২১ কোষে বায়ুভৰ্ত্তি খুব ঘােট ঘােট ঘেঁদার ব্যবস্থাও থাকে—তাই কোন তরল পদার্থের সংস্পর্শে ঐ কাগজটি এলে তরল পদার্থটিকে সেই সব শােষক কোষ- গুলি টেনে নেয়। এই কারণেই ব্লটিং পেপার কালি শুষে নেয়। লেখবার কাগজ কালি টানে না ঐ ভাবে, তার কারণ ঐ সমস্ত কাগজগুলির বায়ুভৰ্ত্তি কোষগুলিকে রােলারের চাপে চেপ্টে বায়ুশূন্য ও মসৃণ করে দেওয়া হয়। গরমে দুধ টকে যায় কেন? এ সম্বন্ধে বিখ্যাত খাদ্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রবার্ট হাচিন বলেন যে, দুধে ল্যাটি অ্যাসিড, বর্তমান থাকার জন্যেই দুধ টকে যায়। এই প্যাকটি অ্যাসিড, দুধে উৎপন্ন হয় নানা কারণে। প্রথমতঃ দুধে সব সময়ে ব্যাক- টেরিয়া ল্যাকটিস নামে জীবাণু ঘুরে বেড়াচ্ছে। এরা বাইরের আব- হাওয়ার উত্তাপে আকারে ও সংখ্যায় বাড়ে এবং তার ফলেই বেশী গরম পড়লে দুধে ল্যাকটিক অ্যাসিডের ভাগটা বেড়ে যায়, তাতেই দুধ টকে যায়। ‘লা’ ঝাল হয় কেন? লঙ্কার ভেতরে যেখানে সঙ্কার বীচিগুলাে আটকানাে থাকে, সেখানে ‘গুকোসাইড’ (Glucoside) বলে এক রকম পদার্থ জমান থাকে। ঐ ‘গ্লুকোসাইড' জিনিসটাতে ঝাঁঝালাে ও ঝাল স্বাদের একরকম উড়ুকু তেল (volatile oil) থাকে, তার থাকে, তার থেকেই থেকেই লঙ্কার ঐ ঝাল-স্বাদের জন্ম। এই গ্লুকোসাইড’ জিনিসটি মরিচ, পিপুল ও আরও বহু ফল ও বীজে থাকে এবং সেগুলির স্বাদও সেইজন্য ঝাল হয় । সােনার চেয়ে দামী ধাতু কি কি ? সােনা সব চেয়ে দামী ধাতু নয়। সােনার চেয়ে বেশী দামী ধাতু বলতে বােঝায়—১। বেরিলিয়াম (Beryllium) ২। প্লাটিনাম (Platinum) csfuato (Radium ) 81 প্যালাডিয়াম ( Palladium ) ৯ (১ম) ১২২ জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাও ৫। অসমিয়া (Osmium) ৬। ইরিডিয়াম (Iridium) ।। ভ্যানাডিয়াম (Vanadiam ) দুধে লেবুর রস দিলে ছানা কেটে যায়, আর দম্বল দিলে দই হয়ে যায় কেন? এর কারণ হচ্ছে, ছানা কাটার ব্যাপারটা আসলে ঘটে লেবুর রসে যে এ্যাসিড থাকে তারই রাসায়নিক ক্রিয়ায় দুধের ‘কেসিন’ (Casein) অংশ আলাদা হয়ে যায়। আর দম্বল দিলে দই হয়ে যায় সেটা হচ্ছে জীবাণুদের কাণ্ড—দইয়ের দম্বলে যে ল্যাকটাস জীবাণু থাকে তা তাে আগেই পড়েছ। মাকড়সার জাল কি করে তৈরী হয় ? মাকড়সার শরীরের পিছন দিকে একটি অংশ আছে, যেখানে এক রকম টুচটে আঠার মত জিনিস আপনা থেকেই তৈরী হয় এবং সেই রস বার হওয়ার জন্যে সেখানে স্পিনারেট (Spinnerets) বলে কতকগুলি নালী আছে। মাকড়সার শরীরের ঐ অংশে রস তৈরী হয়ে বেরিয়ে আসে যখন তখনই বাহরের হাওয়ায় শুকিয়ে গিয়ে সব সরু রেশমের সূতার আকার নেয়। মাকড়সার। ঐ সূতার মত জিনিসটাকে তাদের পায়ের সাহায্যে বিছিয়ে দিয়ে লাল বােনে। ‘উরুটি কি করে অত ফোলে? এর কারণ, পাউরুটির ময়দাতে ‘ঈষ্ট (Yeast) ব’লে একরকম পদার্থ দেওয়া হয়। এই ‘ঈষ্ট পদার্থটিতে ‘মাণু থাকে এবং তার ফলে রুটির ময়দাতে যে কার্বোহাইড্রেট থাকে—তাতেই এর প্রক্রিয়ায় পচন’ ক্রিয়া শুরু হয়। কাজেই ‘ঈষ্ট মাখানাে ময়দার তাল আগুনের উত্তাপে রাখলে ময়দার ভেতরের কার্বন ডায়ক্সাইড গ্যাসটা বিস্তার লাভ করে, ফলে পাউরুটি অত বেশী ফুলে ওঠে। কাঠ জলে বা ভােলা জায়গায় রাখলে পচে কেন ? তার কারণ, কাঠটা আসলে মরা গাছ। মাছ, মানুষ, জীবজন্তু যতক্ষণ পাঁচ-মিশালী প্রশ্ন বেঁচে থাকে, ততক্ষণ তার জীবনীশক্তি তাকে নানারকম জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে। কিন্তু যে মুহূর্তে তার জীবনীশক্তি হারায়—তখনই জয়ী হয় জীবাণুরা। ঠিক এই ব্যাপারটা ঘটে মরা গাছ’ বা কাঠে। নানারকম ‘ব্যাক্টেরিয়া বা জীবাণু তখন কাঠকে আক্রমণ করে বা কাঠের গায়ে ‘ফানজি বা শ্যাওলা জাতের সূক্ষ্ম উদ্ভিজ্জ কাঠের ভেতর বেড়ে উঠে কাঠকে অন্তঃসার- শূন্য করে ফেলেখােলা হাওয়া ও জলের মধ্যে এই ব্যাপারটা ঘটে অত্যন্ত তাড়াতাড়ি, তাই কাঠ এইভাবে পচে বা ক্ষয় হয়। ‘মুক্তা’ কি ক'রে ঝিনুকের ভেতর জন্মায়? ‘ঝিনুক’ বা ‘শুক্তি’ জাতীয় জীবের শক্ত খােলর ভেতরটা একরকম হড়হড়ে সাদা রসে সব সময় ভিজে থাকে ; এই সাদা রসের আবরণটা ঝিনুকের ভেতরের নরম দেহটিকে ঐ শক্ত খােলার সঙ্গে ঘষাঘষির আঘাত থেকে রক্ষা করে। এই আবরণটাকে বলে ন্যারে ( Nacre) বা ‘মাদার অব পার্ল। এই সাদা রসটাই শুকিয়ে ঝিনুকের খােলার ভেতরটিতে অমন সুন্দর চকচকে রূপালী একটি মসৃণ আবরণের সৃষ্টি করে যে, তা তােমরাও দেখেছ—এখন ‘মুজার’ জন্মটাও ঐ রস থেকে হয়। কি করে ? যে সব ঝিনুকের দেহের ভেতরে খুব ছােট বালুকণা ঢুকে যায়, সে সব ঝিনুকের ভেতরে তখন ঐ ছােট বালুকণা একটি অস্বস্তির সৃষ্টি করে; কিন্তু ঐ হড়হড়ে রসটা বা ন্যারে’টা যখন ঐ বালুকণার চারধারে লেগে বালুকণাটিকে ঢেকে দেয়, তখন আর ঝিনুকের ভেতরটাতে অস্বস্তি থাকে না, এই ভাবে ক্রমশঃ ঐ রস জমে জমেই বালুকণাটিকে সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলে এবং সেটা তখন ঝিনুকের খােলার ভেতরে লেগে যায়। ঐটাকেই বলি আমরা মুক্তা'। খবরের কাগজের নীচে এ. পি. (A. P.) ও ইউ. পি. (U, P.) বা P. T. I. লেখা থাকে কেন? খবরের কাগজের খবরের নীচে এ. পি.' বা ‘ইউ. পি. লেখা থাকে ১২০ নান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড এই যে ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায় খবর ছড়িয়ে দেবার জন্য এদেশে এসােসিয়েটেড প্রেস’ ( Associated Press) ও ইউনাইটেড প্রেস’ (United Press) নামে যে দুইটি প্রতিষ্ঠান আছে, ও কথা দুটি তাদেরই ইংরাজি নামের সংক্ষিপ্ত চেহারা। ‘এ. পি, দেখলেই বুঝবে খবরটি কাগজওয়ালার পেয়েছে ‘এসােসিয়েটেড প্রেসের কাছ থেকে, আর ‘ইউ. পি.' দেখলে বুঝবে ‘ইউনাইটেড প্রেস’ বলে প্রতিষ্ঠানের দেওয়া খবর। রয়টার’ লেখা থাকলে বুঝতে হবে- সেটা রয়টার’ নামে যে খবর দেওয়ার প্রতিষ্ঠান পৃথিবীর অধিকাংশ জায়গা থেকে খবর পাঠাচ্ছে, খবরটী তাদের পাঠানাে। সম্প্রতি ভারতের রয়টার প্রতিষ্ঠানটি Press Trust of India নামে একটি প্রতিষ্ঠানভুক্ত হয়েছে। তাই আজকাল খবরের কাগজের তলায় লেখা হচ্ছে P. T, I. মানুষের মাথায় কত চুল আছে ? এ প্রশ্নটা শুনলেই তােমরা হয়ত বলবে—তা কি বলা যায় ? সত্যি কথা, সঠিক গুণে বলা শক্ত যে, মানুষের মাথায় কতগুলি চুল আছে। কারণ মাথা তো সবারই সমান নয়, কারুর বড়, কারুর ঘােট ; তবে বৈজ্ঞানিকেরা বলেন, সাধারণতঃ মানুষের মাথায় গড়পড়তা ১ লক্ষ চুল থাকে। এই যে হিসাবট। তারা পেয়েছেন, তা চুলগুলিকে একটি একটি করে গুণে নয়। কি করে জান ? তার চুলের ব্যাস মেপে দেখেছেন যে, এক একটি চুলের ব্যাস হচ্ছে ১ ইঞ্চির ৪০০ ভাগের এক ভাগ, অর্থাৎ চারশাে চুল গােছ করলে এক ইঞ্চি ব্যাস পাওয়া যাবে এবং মাথার চুলওয়ালা অংশের মাপ কতাে ইঞ্চি বার করলে সহজেই বলা যেতে পারে গড়পড়তা সেখানে কত চুল আছে। বিভিন্ন দেশে-মিষ্টার’ ( Mr.) “মিসেস্’ ( Mrs.) ও ‘মিস’ (Miss) এর পরিবর্তে কি শব্দ ব্যবহার হয় ? এর জবাবে নীচের এই তালিকাটি দেখলেই সব বুঝতে পারবে ইংল্যাও মিঃ (Mr). মিসেস (Mrs) মিস্ (Miss) আলবানিয়া Zotni Zonje Zonjushe পাচ-মিশেলী প্রশ্ন জাৰ্মানী, অষ্ট্রিয়া- Herr Frau Fraulein ফ্রান্স ও বেলজিয়াম-Monsieur Madame Mademoiselle বুলগেরিয়া Gospodin Gospoja Gospojitza চেকোশ্লোভাকিয়া- Pan Pani Sleena সুইডেন, ডেনমার্ক ও নরওয়ে Herr Fru Froken আয়ালাও- Uasal Ban Uasal Uasal এস্তোনিয়া- Harra Prona Preili ফিল্যাণ্ড- Herra Ronva Neiti গ্রীস Kyrios Kyria Thespaenis হল্যাও Mijneer Mevronw Juffron w হাঙ্গারী- -Ur -NE Kisasszony ইতালী-- Signor Signora Signorina Sonor Socora Senorita ল্যাভিয়া- Kungs Kundze Janukundze লিথুয়ানিয়া Ponas Ponia Panela পােল্যাণ্ড Pan Pani Panno পৰ্ত্ত গাল- Senhor Senhora Senhorita কুশিয়া- Grashdanin Grashdanka Grashdanka রুমানিয়া Domnul Domna Domnisoara বিভিন্ন দেশের প্রধান মুদ্রার নাম কি ? কয়েকটি দেশের মূল অথবা প্রধান মুদ্রার নাম জানাচ্ছি । মু মুদ্রা বলতে যেমন আমাদের দেশে টাকা বােঝায়, তেমনি এক এক দেশের নামকরা মূল মুদ্রাটির নামই শুধু দিচ্ছি—সুইজারল্যাণ্ড, বেলজিয়াম ও ফ্রান্সে যে মুদ্রা চলে বেশ, তার নাম ‘ফ্রাঙ্ক, তবে তিনটি দেশের ‘ফ্রাঙ্ক • জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড তিন রকম দেখতে। তুরস্কের প্রধান মুদ্রার নাম ‘পিয়ান্ত্রে' (Piastre)। ইতালীর প্রধান মুদ্রা হচ্ছে ‘লীরা’ (Lire)। রুশিয়ার প্রধান মুদ্রার নাম ‘কবল’ (Rouble)। স্পেমের প্রধান মুদ্রা হচ্ছে ‘পেসেতা'। জার্মানীর প্রধান মুদ্রা হচ্ছে মার্ক’ (Mark)। চেকোশ্লোভাকিয়ার মুদ্রার নাম কোণা (Koruna)। রুমানিয়ার মুদ্রা হচ্ছে ‘লিউ’ (Lei)। জাপানের মুদ্রা ‘ইয়েন' (Yen )। চীনদেশের মুদ্রা হচ্ছে ‘ইয়য়ান’ (Yuan)। ফিনল্যাণ্ডের মুদ্রা ‘মার্ক’ (Mark)। আইসল্যাণ্ডের মুদ্রা ক্রোনা’ (Krona)। সুইডেন ও ডেনমার্কের প্রধান মুদ্রা হলাে ক্রোনার’ (Kronor)। যুগােশ্লাভিয়ার মুদ্রা-দিনার’ (Dinar)। ভেনিযুয়েলার মুদ্রা -বলিভার’ (Boliver)। উরুগুয়ের ও মেক্সিকোর মুদ্রা ‘পেসো (Pego); ইরাণের প্রধান মুদ্রা হচ্ছে ‘রিয়াল’ (Bial)। গুয়াটেমালার প্রধান মুদ্রা-কোয়েৎসাল’ (Quetzal) ; থাইল্যাণ্ডের মুদ্রার নাম—‘বাহত’ (Baht)। পর্তুগালের মুদ্রার নাম ‘এস্কুভাে’ (Escudo)। পােল্যাণ্ডের মুদ্রা হচ্ছে ‘জেটি’ (zloti)। পেরুর মুদ্রার নাম ‘সল’ (Sol)। পানামার মুদ্রার নাম ‘বালবােয়া’ (Balboa)। নরওয়ের মুদ্রা-“ক্রোন' (Krone), নেদার- ল্যায়ণ্ডের মুদ্রা-গিল্ডার’ (Guilder)। ইংলণ্ডের বিখ্যাত রয়াল একাডেমীর চিত্রপ্রদর্শনী কোথায় হয় ? এক সময়ে এই চিত্রপ্রদর্শনী হতে ট্রাফার স্কোয়ারস্থিত ন্যাশন্যাল গ্যালারী নামে চিত্র সংরক্ষণাগারে। কিন্তু ১৮৬৮ খৃষ্টাব্দের পর থেকে বার্লিংটন হাউসে এই চিত্রপ্রদর্শনী স্থান পরিবর্তন করে। ইরাকের পাইপলাইন কি ? ইরাকের পেট্রলের খনি থেকে যে তেল পাওয়া যায়, তা ভূমধ্য- সাগরের উপকূলে সহজে নেওয়ার জন্য মাটির তলা দিয়ে যে পাইপ বসান হয়েছে—তাকেই বলা হয় পাইপ-লাইন। এই পাইপলাইনের প্রথম অংশের উদ্বোধন করেন ইরাকের রাজা ১৯৩৫ খৃষ্টাব্দের ১৪ই জানুয়ারী—এই পাইপ- লাইনের একটি মুখ শুরু হয়েছে প্যালেষ্টাইনের ‘হাইফা শহরে, শেষ হয়েছে চ-মিশালী এন সিরিয়ার ট্রিপলি নগরে। এই পাইপলাইনের শাখা-প্রশাখা সমেত মােট মাপ হচ্ছে ১১৫০ মাইল। তৈরী করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ পাউণ্ড। । এই পাইপ দিয়ে বছরে গড়ে ৪০ লক্ষ টন পেট্রল চালান হয়। বােল্ডার ড্যাম্ (Boulder Dam) কি? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে উচু বাঁধ যা দিয়ে মানুষ নদীকে বেঁধেছে সেটাই হচ্ছে এই “বােল্ডার ড্যাম বা বাঁধ। এই বঁধটি আমেরিকার কলােরেডাে নদীর ব্ল্যাক ক্যানিয়ন অংশে গাঁথা হয়েছে। ১৯৩৬ খৃষ্টাব্দের ১লা মার্চ এই বাঁধটি তৈরী শেষ হয়। এটি ৭২৬ ফুট উচু—এই বাঁধটির উপরকার ক্ষেত্রের চওড়া মাপ হচ্ছে ৪৫ ফুট। এই বাঁধটি বর্তমানের পূর্তবিদ্যা বা ইঞ্জিনীয়ারিং বিদ্যার একটি আশ্চর্য সৃষ্টি। 4K । '।

বর্ণানুক্রমিক প্রশ্ন-সুচী ১৭ ৪৫ ১৭ ইরাকের পাইপ লাইন কি? ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর সূত্রপাত কোথায় এবং কবে? ইষ্ট ইণ্ডিয়া রেলওয়ে বাঙলাদেশে কবে ভােলা হয় ? ইলেকটিক বাল্য পড়ে ফাটলে অত ৪০ অক্ষিপট’ জিনিসটা কি? অন্ধকার কেন ঘুমের সাহায্য করে। অন্ধকারে দেখতে পাইনা কেন? অভিনেতা হিসাবে কোন্ কোন বাঙ্গালী বিখ্যাত? অস্তগামী সূর্য লাল ও বড় দেখায় কেন ? ২২ । ইন্তিরী করলে কাপড় সমান ও সমতল হয় কেন ? উ ৮৩ উই পােকা একসঙ্গে কত ডিম পাড়ে। উট জল না খেয়ে থাকতে পারে কেন ? উট না খেয়ে থাকতে পারে কেন? উটের পিঠের কুঁজটা কি কাজে লাগে ? উল্কা জিনিসটা কি ? উল্কাপাত কেন হয় ? ৮৩ ? ? ? ? ? আইন ব্যবসায়ে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন কোন্ কোন্ বাঙালী? আকবর বাঙলা সনের নতুন হিসাব প্রবর্তন করেন কেন? আকাশ কি? আকাশ নীল দেখায় কেন? আকাশে কত তারা আছে ? ‘আদি কবি' কাকে বলা হয় ? আগুনের শিখা সব সময়েই উপমুখে হয়ে এলে কেন ? আগুনে জল দিলে আগুন নিভে যায় কেন? আম কাঁচা অবস্থায় টক থাকে, পাকলে মিষ্টি হয় কেন? আয়নাতে প্রতিবিম্ব’ পড়ে কেন? এ এক গ্রহ থেকে অপর গ্রহের দূরত্ব আনা যায় কি করে ? এক ঘণ্টা সময়কে ৬০ ভাগে ভাগ করা হয়েছে কেন? একতার বলে কবে বাঙালী আর্যাবর্তে বিজয় নিশান উড়িয়েছিল ? ১১ ১০ ই ইংরেজরা এদেশে কবে প্রথম টাকা ওলন্দাজরা ভারতে এসেছিল কেন ? ১৭ তৈরী করে। ইংলণ্ডের রয়াল একাডেমির চিত্রপ্রদর্শনী কোথায় হয়? ইতিহাস চর্চায় কৃতী বাঙালী কে কে? ১৭ ‘কবিকৃত্তিবাস' কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? ১৯ ৩২ | কলিকাতার ইতিহাস কি?

বর্ণানুক্রমিক প্রশ্ন-চী ০১ ৪ ০ কাতুকুতু দিলে হাসি পায় কেন? কোন কিছু দেখতে হলে আলাের দরকার হয় কেন? কয়লার ধোঁয়ায় চোখ বালা করে কেন? কাঁদলে চোখ দিয়ে জল পড়ে কেন? কান দিয়ে আমরা শব্দ শুনি কি কোন জীব সবচেয়ে বেশীদিন থাকে ? কোন পাখী উড়তে পারে না? কোন্ জীব সবচেয়ে তাড়াতাড়ি যেতে পারে? ‘কাঠ’ পচে কেন ? ৪৭ ৪৮ ৪ কানে চাপা দিলে গুন্ গুন্ শব্দ হয় ৪৮ ৪৫ ৪৯ খেলাধুলায় কৃতিত্ব দেখিয়েছেন কোন কোন্ বাঙালী? খাবার দেখলে জিভে ল আসে কেন? খােলা হাওয়ায় রূপা ও তামার জিনিস কালাে হয়ে যায় কেন? খালি ঘরে কথা বললে আওয়াজ গমগমে কেন ? খবরের কাগজের খবরের নীচে A P., U.P. ও PT.I. ছাপা হয় ৭১ ৭১ ১২৬ কানে খােলা হয় কেন? কানে খােল জিনিসটা কি ? কুয়া জিনিসটা কি ? কাঠ যখন আগুনে পােড়ে তখন শব্দ হ কেন? কোন গাছ সবচেয়ে বেশীদিন বাঁচে কোন গাছ সবচেয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ে? কোন গাছ বেশী ফল দেয় ? কোন গাছটি সবচেয়ে আস্তে আস্তে বাড়ে? কোন গাছের পাতা সবচেয়ে আকারে বড় ? কলাগাছ একবার মাত্র ফল দিয়েই মরে যায় কেন? কচুরী পানার শিকড় কি মাটিতে থাকে? কুকুর জিভ বার করে হাঁপায় কেন? কুকুরের গা ঘামে কি না? কুকুরগুলাে রাত্তিরে বেয়াড়া সুরে ডাকে ৪১ ২ ৭৭ গলার স্বরটা এক একজনের এক এক রকম হয় কেন? গরমকালে ঘাম হয় কেন ? গলা ভাঙে কেন ? গরম কাপড় চোপড় গায়ে দিলে কম শীত করে কেন? গরম কাচে জল দিলে ফাটে কেন? গরমে দুধ টকে যায় কেন? গাছের পাতা ও শেকড় দিয়ে খাদ্য সংগ্রহ করে, তবে ছাল কাটলে মরে যায় কেন? গাছের বয়স ঠিক করা যায় কি করে ? গাছের পাতা সবুজ হয় কেন? গাছের পাতা হয় কেন? গাছের পাতা হলদে হয়ে ঝরে যায় ৭১ কুকুর চিবিয়ে না খেয়ে কোৎ কোৎ করে গিলে খায় কেন? কোন জীব চোখ না বুজেই ঘুমােয় ? কোন্ জীব ডাকতে পারে না? কোন্ জীবের দৃষ্টিশক্তি নেই। ৭২ জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড গরু কোনও কিছু খাবার পর কবর কাটে কেন ? ৪। ৪২ গরুর পাকস্থলীটা কি ভাবে তৈরী ? গরুর দুধ তেরী হয় কি থেকে? ‘গ্রহ আর নক্ষত্রে’ তফাৎ কি ? গ্রামোেফান রেকর্ডে কি ক'রে গান ও কথা ধরা হয় ? আমােফোন রেকর্ড কি দিয়ে তৈরী হয় ? গ্রামােফোন রেকর্ড থেকে কি করে শব্দ বেরোয় ? গ্রীষ্মকালে শিশির দেখা যায় না। চালে আসলে কী কী আছে ? চুল নরম আর তেলা হয় কেন ? চোখ নাচে কেন ? চোখের গােলমাল কি? চোখ টেরা করলে একটা জিনিসকে দুটো দেখি কেন ? চোখে পেঁয়াজের ঝাঁঝ লাগলে বা বান্সি পড়লে চোখ দিয়ে জল বেরােয় ৭ ২৭ ৪ ৪ ঘ ঘুম পায় কেন? ঘুরপাক খেলে মাথা ঘােরে সব জিসি ঘুরছে বলে মনে হয় কেন ? ঘুমের সময় ঘর অন্ধকার করে দিলে ঘুম তাড়াতাড়ি আসে কেন? বাম হয় কেন? ঘরে আগুন ধরলে চারদিক থেকে বাতাস আসে কেন ? ঘাম লাগলে ব্যাপাের বা তামার জিনিসে কলঙ্ক ধরে কেন ? ‘ঘূর্ণি-বায়ু কি? ঘড়ি যখন চলে তখন টিক্ টিক্ শব্দ হয় কেন ? ঘি বা মাখন আগুনে খাল দিলে গলে কেন ? ১২ চোখে ধোয়া লাগলে জ্বল করে কেন ? চোখে সাবান লাগলে জ্বালা করে কেন ? চুনে জল দিলে গরম হয় ও ধোয়া বেরোয় কেন? চিল, শকুন পাখা না নেডে কি করে উড়ে বেড়ায় । চিংড়ি মাছের রক্ত নেই কেন? চাদের ভেতরে চরকা বুড়ি কে ? ‘চাদের সভা জিনিসটা কি ? চাদের নিজস্ব উত্তাপ আছে কি? চাদে যে বাতাস আর জল নেই তার প্রমাণ কি? চাদ পৃথিবী থেকে কত দূরে আছে ? চাদ মাপে কত বড়? ২ ૨૨ ছ ছায়া আর এতিবিষে তফাৎ কি ? জাতীয় আন্দোলনে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন কোন কোন বাঙালী? জ্বর হলে ঠোটে ফোস্কা পড়ে কেন? জুতাের ঘসটানি লেগে পায়ে ফোস্কা পড়ে কেন? চিকিৎসা বিদ্যায় কোন কোন বাঙালী কৃতিত্ব দেখিয়েছেন? চুল পাকলে সাদা দেখায় কেন? চুল কাটলে ব্যথা লাগে না কেন? ৪২ ২ বর্ণানুক্রমিক প্রশ্ন-সূচী জিভটা আমাদের সবসময়েই ভিজে থাকে কেন? জলে ডুবে মরার পর মানুষ ভেসে ওঠে ৪৫ ‘তারাখসা কি? সত্যিই কি তারা খসে পড়ে? তার মিটমিট করে কেন ? থ থিয়েটারে বাঙলা নাটকের অভিনয় কবে হয় ? থার্মোমিটার ভেঙে গেলে পারাটা চারিধারে ছড়িয়ে পড়ে কেন? এল জমে বরফ হলে আকারে বাড়ে না কমে ? জাহাজ জলে ডোবে না কেন? জলের তলায় মাছের বেঁচে থাকে ডাঙ্গায় উঠলে মরে যায় কেন? জোনাকী পােকা রাতে জ্বলে কেন? জোনাকী পােকার আলােটা কি আগুন ? জিরাফ ডাকতে পারে কি জলের নীচে মানুষ কতদূর পয্যন্ত সন্ধান পেয়েছে ? ৮ ২ দ २ ৮। ব ঝিনঝিন ধরার ব্যাপারটা আসলে কি ? ঝাল স্বাদটা লঙ্কা মরিচ ও পিপুলে কি কি থেকে হয় ? · দানব্রত করে কোন্ কোন্ বাঙালী অমর হয়ে আছেন ? দুটি চোখ দিয়ে আমরা একই জিনিসকে দুটো দেখিনা কেন ? দুধে জ্বাল দিলে সর পড়ে কেন? দুধে জ্বাল দিলে উথলিয়ে পড়ে আর ফু দিলে উথলানো কমে কেন? দূরের জিনিস ছােট দেখায় কেন? দিনের বেলায় তারা দেখা যায় না কেন? দুধে লেবুর রস দিলে ছানা কাটে কেন ? ৫৯ ৫৮ ১২২ ৪৫ টক খেলে দাত টকে যায় কেন? ট্রেড উইণ্ড' Trade Wind কি ? টেলিফোনে কি করে কথা শােনা যায় ? ধ ৬৮ ধর্ম ও সমাজ সংস্কারে কোন কোন বাঙ্গালী কৃতিত্ব দেখিয়েছেন? খোয়াতে সাধারণতঃ কি কি জিনিস ডুমুরের ফুল হয় না কেন? ডুমুর ফলটা ফুল নাকি ? ডিম-পাড়া জীবরা একসঙ্গে ৭৫ ধুলাে বালি চোখে পড়লে চোখ বালা করে কেন ? 'ধুমকেতু' জিনিসটা কি ? ডিম পাড়ে? তৃষ্ণা পায় কেন? তেলে ফলে মিশ খায়না কেন? তারাগুলো দিনের বেলায় কোথায় থাকে? নারীমুক্তি আন্দোলনে কোন্ কোন্ বাঙালী এগিয়ে এসেছেন ? নাক ডাকে কেন? নখ কাটলে ব্যথা লাগে না কেন?

৫৮ ৬৮ ১৪ । ১২২ ৪৭ জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাও নারিকেল তেল শীতকালে জমে, পৃথিবী ঘুরছে অথচ আমরা তার ওপর সর্ষের তেল জমে না কেন? থেকে ছিটকে পড়ি না কেন? নারিকেলের ভেতরে জল কোথা থেকে পৃথিবীর ওজন কত? আসে? পৃথিবীর সাতটি আশ্চর্য জিনিস কি? নক্ষত্র কি? ১২ পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিভাশালী নদীতে জোয়ার ভাটা হয় কেন? ব্যক্তি কে কে? নদীতে ‘বান ডকে কেন? ‘পারা জিনিসটাকে হাত দিয়ে ধরা 'নীহারিকা কি যায় না কেন? ‘পাতাল’ কি? প পাতালের জীব কারা ? প্রাচীন বাঙলার অতীত গৌরবের পৃথিবীর বুক খুড়ে কোথায় কি প্রধান নিদর্শন কোথায়, সেগুলি কি? করা হয়েছে ? পাহাড়পুর কোথায় ? ১৫. | পাতাল ঘর’ কি জিনিস? পুড়ে গেলে চামড়ার ওপর ফোস্কা হয় কেন? ২ পাউরুটি’ অত ফোলে কেন? পেঁয়াজের ঝাঁঝটা আসলে কি ? পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ঘড়ি পেঁয়াজ ছাড়াবার সময় চোখ জ্বালা কোথায় আছে? করে কেন? ৪৭ | পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে দামী পােষাক পাকা চুল সাদা হয় কেন? কার আছে ? পরিশ্রম করলে শরীরের ভেতরটা গরম পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আর দামী ঘােড়া বােধ হয় আর ঘাম দেয় কেন? কার ছিল? পাথুরে চুনটা আসলে কি ? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সঠিক সময় দেয় পাথুরে চুনে জল দিলে গরম হয়ে কোন ঘড়িটি ? ৫৫ | পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পাহাড়ের উপরের জায়গা ঠাণ্ডা হয় কেন? কোথায় আছে? পৃথিবী বেগে ঘুরছে, অথচ পাখীরা পৃথিবীতে সবচেয়ে কোন ভাষায় বেশী কি করে বাসায় ফিরে আসে ? লােক কথা বলে। পাৱা লাগলে সােনা সাদা হয়ে যায় কেন? ৬২ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ রেলপথ পাতা, কোন গাছের সব চাইতে বড় হয় ? কোথায় আছে। পুকুরের ‘পানা ভাসে কেমন করে ? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্রেন পাখীর ডিম সবচেয়ে বড় কোন কোথায় আছে? পাখীর? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় সেতু কোনটি ? ১০৬ প্রতিবিম্ব' কি? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় জেপলিন প্রতিধ্বনি’ কি ? কোনটি ? পৃথিবী থেকে সকাছে কোন নক্ষত্রটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাতের ফুল আছে? ০ ওঠে কেন? ৩ ১৪ বর্ণানুক্রমিক প্রশ্ন-সূচী ১৩৩ ১১১ কোনটি ? ১৮ ১৮ কোনটি ? পৃথিবীতে কতগুলি জাতির জাতীয় পৃথিবীর মধ্যে কোন স্টেশনটি নামে পতাকা আছে? সবচেয়ে বেশী অক্ষর আছে? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে দামী ডাক টিকিট পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘণ্টা কোনটি ? ১৭ কোনটি ? ১১১ পৃথিবীর মধ্যে কোথায় সবচেয়ে বড় পৃথিবীতে মােট কতরকমের ভাষা যীশুখৃষ্টের মুৰ্ত্তি আছে? আছে ? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পদার্থ কি ? ১০৭ পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী রকমের ভাষা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় বা কোথায় জানতেন কে ? আছে ? পৃথিবীর কোথায় সবচেয়ে বড় ঘড় পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে উচু শহর আছে ? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে গভীর খনি পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন কোথায় আছে ? জীবিত কে? পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মােটর বাস পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় মুক্তা কোথায় চলে ? ১৮ | পৃথিবীর মধ্যে লম্বা গাছ কোনটি ? ১১৩ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় ফোয়ারা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা লােক কে ? কোথায় আছে ? ১০৮ | পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা জাত কারা ? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে উচু স্মৃতিস্তম্ভ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে একটানা লম্বা কোথায় আছে? সােজা রেললাইন কোথায় আছে? পৃথিবীর প্রাচীনতম শিল্পকলা ও ভাস্কর্যের পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে উচু বাড়ী নিদর্শন কোন দেশে পাওয়া গেছে? কোথায় ? পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান হাতে আঁকা পৃথিবীর সেরা ধনী বলতে কারা ? ছবি কোনটি ? পৃথিবীর মধ্যে কোন শিকারী সবচেয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাপের হাতে আঁকা বেশী এাণ বধ করেছেন ? ছবি কোথায় আছে ? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ জাহাজ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে জোরে ট্রেন চলে কোনটি ? কোথায় ? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় শহর পৃথবীর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা রেলপুল’ কোনটি ? কোথায় আছে? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা মােটর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাহাজ কি? রাস্তা কোথায় আছে? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজপ্রাসাদ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় বই কোনটি ? কোথায় আছে? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে দামী বই কোনটি ? ১১৬ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় হেটেল পৃথিবীর মধ্যে কোন দেশের লােক বেশী দিন বাচে। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় ছবিঘর পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় বইয়ের কোথায় আছে? দোকান কোথায় আছে? ১১৪ ১১৪ ১১৫ কোনটি ?

১ ন-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড ১১৭ ১১৭ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে দামী পদার্থ কি? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত সােনার খনি কোথায় আছে ? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় সােনার ঢেল। কোন খনিতে পাওয়া গেছে ? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় হীরকখণ্ড ১৩ কি ? ১৪ পৃথিবীর মধ্যে কোথায় সবচেয়ে বড় ‘মেমমারিয়াল' মৃত সৈনিকদের জন্য তৈরী হয়েছে ? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় ‘ীম-লাইনড’ জাহাজ কোথায় আছে? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় কার্পেট কোথায় আছে ? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় মাপের পতাকা কোন দেশে আছে? ১১৮ ১৪ ১১৮ বাঙলাদেশের নাম ‘বঙ্গদেশ’ হলাে কেন ? বর্তমানে কোনজায়গাটিতে প্রাচীন ‘বঙ্গ' ছিল ? বিভিন্ন যুগে বাঙলাদেশ কি ভাবে ভাগ করা ছিল ? বলিরাজের পাঁচ ছেলের নাম কি ? বাঙলার ইতিহাস তাদের নামের সঙ্গে কি ভাবে জড়িত ? বল্লাল সেনের সময় বঙ্গরাজ্য কি কি ভাগে ভাগ করা ছিল ? বাঙালী জাতি আত্মত্যাগ ও একতার বলে সারা আর্যাবর্তে বাঙালীর বিজয়নিশান উড়িয়েছিল? বাঙলাদেশ মগধ সাম্রাজ্যের অধীন হয় কবে ? বাঙলার জনগণের নির্বাচিত প্রথম রাজা কে ? বাঙালীর রাজা ধর্মপালের দরবারে কোন কোন্ রাজ্যের রাজারা উপস্থিত থেকে ধর্মপালকে সারা আর্যাবর্তের সম্রাট, ব'লে মেনে নেন ? বাঙলা যে এককালে পূর্ব এশিয়ায় সভ্যতা বিস্তার করেছিল তার প্রমাণ কি? বাঙলার প্রাচীন গৌরবের নিদর্শন কোথায় ? বাঙলা সাল কবে থেকে গণনা আরম্ভ ১০ ১১৮ ১৪ क ফোস্কা জিনিসটা আসলে কি ? ফুটন্ত জলে চাল দিলে ভাত হয়ে ওঠে কেন ? ৫ 3 ৫৮ ৭৪ ৭০ ৭৪ ফু দিলে মােমবাতি নিভে যায় অথচ কয়লার আগুন জ্বলে ওঠে কেন ? ফুলের গন্ধটা আসলে কি? ফুলের গন্ধ থাকে কেন? ফুল মাত্রেই সুগন্ধ থাকে না কেন ? ফুল কি সবুজ হয় ? ফল কঁচায় টক এবং পাকলে মিষ্টি হয় কেন? ফন্স সবচেয়ে বেশী ফলে কোন গাছে ? ফুল যা রাত্তিরে ফোটে সেগুলাে সাধারণতঃ সাদা কেন? বাঙলা সন মুসলমানদের হিজরী সনে প্রভেদ কি ? বাঙলাদেশে পাশ্চাত্য জাতি কবে আসে ও প্রথম আসে কারা ? বাঙলাদেশে ইংরেজরা কি ভাবে সর্বপ্রথম আসে ? ব বর্তমান কালে পৃথিবীর সাতটি আশ্চর্য। তিনি কি ?

বর্ণানুক্রমিক এনসূচী তৈরী করে ? ১৮ ૨૨ ১৮ ૨૨ ২৩ ২৩ বাঙলাদেশে ইংরাজদের সর্বপ্রথম কুঠি কোথায় এবং কবে স্থাপিত হয় ? বাঙলাদেশে ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর সূত্রপাত কি ভাবে হয়? বাঙলায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সুত্রপাত কে করে ? বাঙলায় ইংরাজী শাসন ও বিচারের বাবস্থা কে করেন? বাঙলাভাষা কোথ; থেকে ও কেমন ক'রে এলো ? বাঙলা ভাষা অন্যান্য ভারতীয় ভাষার তুলনায় উন্নত কেন? বাঙলাভাষায় কোন্ কোন্ বিদেশী ভাষার শব্দ মিশে আছে ? বাঙলাভাষার আদি কাব্য কি ও আদি কবি কে ? বাঙলাভাষায় প্রথম ছাপা বই কি ও কবে ছাপা হয় ? বাঙলাভাষায় কোন ইংরেজ সর্বপ্রথম পণ্ডিত হয়েছিল ? বাঙলাদেশে প্রথম ছাপাখানা কোথায় হয় ? বাঙলাভাষায় প্রথম উপন্যাস কি ? বাঙলাভাণায় প্রথম সংবাদপত্র কি বাঙলাভাষায় আমত্রাক্ষর ছন্দের প্রচলন করেন কে ? বাঙলাভাষায় গদ্য সাহিত্যের প্রবর্তন করেন কে ? বাঙলাদেশে ইংরাজি শিক্ষার প্রথম প্রচলন হ'ল কবে? বাঙলাভাষায় উল্লেখযােগ্য সাহিত্য- পত্রিকা কি ? বাঙলাদেশের প্রথম থিয়েটার কি ? বাঙলাদেশে গোল টাকা ও তামার পয়সার চলন হয় কবে ? বাঙলাদেশে ইংরেজরা কবে টাকা ১৭ ২১ বাঙলাদেশে নােটের প্রচলন হয় কবে? বাঙলাদেশে তামার পয়সার বদলে অনির প্রচলন হলো কবে? বাঙলাদেশে সর্বপ্রথম ডাকটিকিট ও ডাকঘরের সৃষ্টি হয় কবে? বাঙলাদেশে রেলপথ ও ষ্টীমার পথ কবে খোলা হয় ? २२ বাঙলাদেশে প্রথম বাষ্পচালিত জাহাজ কবে দেখা দেয়। বাঙলাদেশে কবে প্রথম টেলিগ্রাফের ব্যবস্থা হয় ? বাঙলাদেশে ইংরাজ শাসনকর্তাদের ব্যবহার ও বিধির বিরুদ্ধে আন্দোলন ও প্রতিবাদ সর্বপ্রথম শুরু করেন কে ? ২৩ বাঙলাদেশে কবে টেলিফোন যন্ত্রের প্রচলন হয় ? বাঙলাদেশে সর্বপ্রথম ট্রামগাড়ী চলতে শুরু করে কবে ? বাঙলাদেশে প্রথম কলকারখানা কিভাবে হয় ? বাঙলাদেশে ছােটদের উপযােগী লেখা २४ লিখে কে কে প্রসিদ্ধ ? বাঙলার প্রথম জাতীয় সঙ্গীতের ইতিহাস কি? বাঙলাসাহিত্যের স্থান কোথায়? २० বাঙলাসাহিত্যে সবচেয়ে বড় ও বেশী দান করে গেছেন কে ? বাঙলাসাহিত্যের প্রথম নাট্যকার কে? ২৫ ‘বাঙলানাটক' প্রথম কবে অভিনীত হয় ? বাঙলা ভাষায় প্রথম শিশু-পত্রিকা কি? বাঙলাদেশে দুর্গাপূজার প্রবর্তন কে করেন ? বাঙলাদেশে লাইব্রেরী কোথায় হয় ? ২৩ ২০ ২৫ ২৬ ২০ ২০ ২৫ ২১ ২৭ জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড ২৭ ১৭ ৭৮ ২৮ বাংলাদেশে কোথায় কবে এথম পাথরে বাধানাে রাস্তা তৈরী হয় ? বাঙলাদেশে কবে কোথায় সর্বপ্রথম ইলেকট্রিকের আলাে জ্বলে ? বাঙলাদেশে কোথায় করে প্রথম ক্রিকেট খেলা হয় ? বাঙলাদেশে ফুটবল খেলা কবে ও কি ভাবে মরু হয় ? বাংলাদেশে ঘােড়দৌড় খেলা কবে আরম্ভ হয় ? বাংলাদেশে বিলাতী ধরণের বড় বাজার এথম কোথায় খােলা হয় ? বাংলাদেশের মানচিত্র কবে প্রথম আঁকা হয় ? বাঙালীদের মধ্যে কোন্ কোন্ বাঙালী কোন কোন বিষয়ে ভারতীয়দের বিদ্যুৎ চমকালে আগে আলো, পরে ৫ শ হয় কেন? বসন্ত কালে গাছপালার নতুন পাতা হয় কেন? ব্যাঙের ছাতা জিনিসটা কি ? বিড়ালের চোখ রাত্রিতে জ্বলে কেন? বিড়ালকে অনেক উচু থেকে ফেলে দিলেও আঘাত পায় না কেন? বিড়াল জল দেখে ভয় পায় কেন? ব্লটিং কাগজল শুষে নেয় কেন? বেতার যন্ত্র কি করে কাজ করে ? বিভিন্নদেশে ‘মিষ্টার' ‘মিসেস’ ও ‘মিস’ এর প্রতিশব্দ কি কি ? বিভিন্নদেশের প্রধান মুদ্রার নাম কি ? বােন্ডার ড্যাম কি ? ৮০ ২৮ ২১ ১২৪ ১২৭ অগ্রণী ? ১৩ ৩৬ ১৭ ভারতের প্রাচীন পাঁচটি জনপদের নাম কী ছিল ? ভাস্কো-ড়ি-গামা কবে ভারতে আসার পথ আবিষ্কার করেন ? ভারতবষে কোন্ জাতি সর্বপ্রথম ইংরাজি ভাষায় বুৎপাওঁ লাভ করে? ভারতীয়দের মধ্যে সর্বপ্রথম কে কি হয় ? ভারতীয় সংস্কৃতির উদ্ধারে কোন কোন বাঙালী বিখ্যাত? ভিজে কাপড় বেশীক্ষণ গায়ে রাখলে সর্দি হয় কেন ? ভয় পেলে গায়ের লােম খাড়া হয়ে ২৯ ৯ বাঙালীর ছেলে সর্বপ্রথম ইউরােপের যুদ্ধে প্রাণ দেয় কবে? বাঙালী কি যুদ্ধ-অপরাগ জাতি? বাঙালী ইউরােপের যুদ্ধে যােগ দেয় সবএম কবে ? বাঙলাসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি কোনগুলি? বাঙালী ও বাঙলাকে ভাল করে জানতে হলে কী কী বই পড়বে? বিভিন্ন বিষয়ে কোন কোন বাঙালী কৃতিত্ব দেখিয়ে প্রসিদ্ধ হয়েছেন? বিজ্ঞান চর্চায় কৃতী বাঙালী কে কে ? ব্যবসা বাণিজ্যে কৃতী বাঙালী কে কে ? ব্যায়ামের সময় ঘাম মে কেন? বিছুটি গায়ে লাগলে গা কুটকুট করে কেন ? বুকটা ধুক ধুক করে কেন ? বরফ জলে ভাসে কেন? ‘বাতাসটা আসলে কি? অ৮ ৩২ ওঠে কেন ? “ভূমিকম্প হয় কেন? মহাভারতের যুগে বাঙলা বেশ কি কি ভাগে ভাগ করা ছিল। ১৩ বর্ণানুক্রমিক প্রশ্ন-সূচী ১ মুসলমান শাসনে মােগল যুগে বাংলা দেশ কত ভাগে ভাগ করা ছিল? মাথার চুলে তেল দিলে বাড়ে, অথচ চোখের পাতার চুলে তেল দিলে বাড়ে না কেন? মাথা ঘােরা জিনিষটা কি ? মাথা ঘুরলে চোখের সামনের জিনিসগুলােও ঘুরছে বলে মনে ০৪ ৫৬ ৪ ০ ৮৭ ৮৮ রাজনৈতিক আন্দোলনে কোন কোন বাঙালী প্রসিদ্ধিলাভ করেছেন? রক্তের রঙ লাল কেন? রক্তের লাল কণিকা” এক একটি কত তার আসল রঙ কি? রঙের সৃষ্টি হ’ল কোথা থেকে? রোটা গরম কেন? রামধনু কি ? রামধনু ধনুকের মত গােল হয় কেন ? রবিবারের দিন ছুটি থাকে কেন? ল লালা জিনিসটি আমাদের কি কাজে লাগে ? লবণ বর্ষার দিনে জল হয়ে গলে যায় কেন? লবণ’ জিনিসটা আসলে কি? লজ্জাবতী লতা ছুলেই পাতাগুলো কু কৃড়ে যায় কেন? ‘লঙ্কা’ ঝাল হয় কেন? ৭৮ ৮২ ১২১ মাটির হাড়ি, কলসী, ইট পােড়ালে লাল হয় কেন? মােমবাতি বা প্রদীপের শিখায় ফু দিলে নিতে যায় কেন? মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কি ? মরুভূমিতে বৃষ্টি হয় না কেন? মাছি ওপর দিকে পা করে দেওয়ালে হাটে কেমন করে ? মাছ খাবার দিলে চিবিয়ে না খেয়ে গিলে খায় কেন? মাছের পটকা কি কাজে লাগে ? মশা মাছির ডাকটা কি তাদের মুখের শব্দ ? মৌমাছি মধু কোথায় পায় ? মাছ চোখ চেয়ে ঘুমােয় কেন ? মাছ ঘুমােয় কি না? মাছি কত তাড়াতাড়ি যেতে পারে ? মঙ্গলগ্রহে লােক আছে কিনা ? মেঘ করলে গরম আর গুমােট হয় কেন ? মেঘেরা আকাশে চ'লে বেড়ায় ও চেহারা বদল করে কি করে ? মানুষের শরীরে কতগুলি হাড় আছে ? মানুষের মাথায় কত চুল আছে? মাকড়সার জাল কি করে তৈরী হয় ? ‘মুক্তা’ কি করে হয় ? ৮৫ ৬৪ ৮৯ শ শিল্পকলায় কৃতিত্ব দেখিয়েছেন কোন কোন বাঙালী ? শিক্ষা প্রসারে কোন্ কোন্ বাঙালী বিখ্যাত হয়ে আছেন ? শীতকালে ঘাম হয় না কেন? শীতকালে গা-হাত, পা, ঠোট ফাটে কেন? শােক, দুঃখ, আনন্দ বা আঘাত পেলে মানুষ কাঁদে কেন? শব্দ শুনতে পাই আমরা কি করে ? ১২৪ শীতকালে নাক মুখ দিয়ে ধোঁয়া বার হয় কেন? ১২৩ | শীতকালে শীত করে কেন? ৪৮ ৪৯ # ১৩৮ জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধুভাণ্ড ৭১ ৮৭ ৯১ শীতে কাঁপুনি ধরে কেন? শরীরে রক্তের পরিমাণ কতটা আছে ? শীতকালে নারিকেল তেল জমে কেন? শীতকালে কাপড়-চোপড় তাড়াতাড়ি ময়লা হয় কেন? “শিশির’ আর ‘কুয়াশায় তফাৎ কি ? ‘শিলাবৃষ্টি হয় কেন? শীতকালে পুকুরের জল কনকনে ঠাণ্ডা অথচ কুমের জল গরম কেন ? শীতকালে সাপ-ব্যাঙ গর্তে যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন কি খায়? শুধু চোখে কতগুলি তারা দেখা যায় ? ১১ ১২ ৮২ ১৪ সব ফুলে গন্ধ থাকে না কেন ? বর্যমুখী ফুল সবসময়ে সূর্যের দিকে মুখ ফিরিয়ে থাকে কেন? সাপ 'শীতকালে ঘুমিয়ে থাকে কেন? সূর্য পশ্চিম দিকে না উঠে নােজই পূর্ব দিকে ওঠে কেন ? সূর্যের আলো বা রৌদ্রের এত উত্তাপ কেন? সুর্য আর চাদ আমাদের সঙ্গে চলে মনে হয় কেন? সূৰ্য্যকে উদয় এবং অন্তের সময় বড় ও লাল দেখায় কেন? সুর্যের আর চাঁদের সভা হয় কি ? সূর্যের আলােয় কটা রঙ আছে? সুৰ্য বড় না পৃথিবী বড়? সর্বগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় রাত্রের মত অন্ধকার হয় কেন? সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের তফাৎ কি ? সমুদ্রের ধারের কতকগুলো দেশ মরুভূমি কেন ? সুর্যের চারধারে পৃথিবী কত বেগে ঘুরছে ? সুড়ঙ্গ পথগুলো কি পাতালে যাবার রাস্তা ? সমুক্সের তলা দিয়ে টেলিগ্রাফের তার যায় কি করে ? সোনার চেয়ে দামী ধাতু আর কী কী আছে ? ১৮ ৩২ সঙ্গীতকলায় কোন কোন বাঙালী গায়ক বিখ্যাত? সাহিত্যে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন কোন কোন্ বাঙালী? সাংবাদিক হিসাবে খ্যাতি লাভ করেছেন কোন্ কোন বাঙালী? স্ত্রী শিক্ষা হিসাবে কোন কোন বাঙালী বিশেষ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন? সর্দি হয় কেন ? স্বপ্ন জিনিসটা কি ? স্বপ্ন দেখি কেন ? সাবানে ময়লা সাফ হয় কেন? সাবান চোখে লাগলে চোখ অাল। ৩৪ ৪ ২ ১৫৪ ૭૨ ৫৪ হ ৪ সাইকেল যখন চলে তখন দু'চাকার ওপর ভর করেই বসে থাকা যায় কেন ? সাবান জলে দিলে ফেনা হয় কেন? সমুদ্রের জল নীল কেন? সমুত্বের জল লােণা কেন? হাই ওঠে কেন ? হাসি পায় কেন? হাতে পায়ে ঝি ঝি ধরে কেন ? হাঁচি পড়ে কেন? ইসের পলিখ ভেজে না কেন? ৪৮

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Gyan-bigyaner Madhubhanda Vol. 1, Ed.12

Author
Roy,hiralal Ed.
Title
Moumachi
File name
Gyan-bigyaner Madhubhanda Vol. 1, Ed.12
Text
OCR done
Citation
1941
Published
2010/04/29
Publisher
G.bhattacharya
Language
Sanskrit
Pages
158
Library
Dipsikha Library, Howrah
Classification
Periodicals
Keywords
Roy,Hiralal
DLI number
514736
Barcode
4990010016768.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
3uTrPcBsQN4
Download PDF

Gyan-bigyaner Madhubhanda Vol. 1, Ed.12