Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Sree Sree Ramkrishna Bibekollash
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
ওঁ নম ভগবতে রামকৃষায়, শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ বিবেকোল্লাস, শ্ৰহৃদয়নাথ দেবশৰ্ম্মণঃ চক্রবর্তী বিরচিত শ্রদ্ধাস্পদ শ্ৰীযুত সারদানন্দ স্বামী- মহােদয় কর্তৃক সংশােধিত মাননীয় শ্ৰীযুত তারাতি ভট্টাচাৰ্য- মহােদয়ের অনুগ্রহে প্রকাশিত।
No text on this page.
রামকৃষ্ণ পরমহংস Cherry Press Ltd., Calcutta.
No text on this page.
.....
{$2.
স্বামী বিবেকানন্দ।
No text on this page.
************
ও নম ভগবতে
রামকৃষায়,
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ বিবেকোলাস,
শ্রীহৃদয়নাথ দেবশৰ্ম্মণঃ চক্রবর্তী
বিরচিত
শ্রদ্ধাস্পদ শ্ৰীযুত সারদানন্দ স্বামী-
মহােদয় কর্তৃক সংশােধিত
মাননীয় শ্ৰীযুত তারাতি ভট্টাচার্য্য
মহােদয়ের অনুগ্রহে প্রকাশিত।
No text on this page.
উৎসর্গ
পরমারাধ্যম শ্রী শ্রীদুর্গাপ্রসাদ দেবশৰ্ম্মণঃ চক্রবর্তী-
পিতৃদেব করকমলে অর্পিত,
( ১ )
কি দিয়ে পূজিব আছে কি আমার,
দেহমন প্রাণ সঁপেছি আগে,
বাসনা স্বরূপ ক্ষীণ দীপ শিখা,
অধম তনয় হৃদয়ে জাগে,
( ২ )
নিরাশা পবন বহি ঘন ঘন,
নিভাইতে চায় পলকে পলকে,
আশা আবরণে রেখেছি ঢাকিয়া,
জ্বলিতে পারে বা মধুর আলােকে।
আশা ছিল বলে মহাপুরুষের,
মহিমা কুসুমে রচিত মালিকা,
* এতে) জ্ঞান গন্ধরাজ প্রতিভা পলাশ,
চির প্রভাময় সুমতি যুথিকা।
( ৪ )
ভক্তি-জবা আর যশ নাগেশ্বর,
সারল্য সেফালি সৌভাগ্য বঙ্গণ
দয়া পজিনী শ্রদ্ধা পারিজাত,
০
(
হৃদি পুষ্পেষ্ঠানের প্রস্ফুটিত ফুল,
ভক্তি বারিযােগে হয়েছে বর্ধিত,
স্বর্গীয় সৌরভ পরিপূর্ণ ভাবে,
কুসুমরাজিতে সদা বিরাজিত।
৬ )
অর্পিল যতনে মধ্যম নয়,
ভক্তি অশ্রু জলে বিধৌত হার,
কৃপাকরি পিতঃ করুন গ্রহণ,
সাধ্যাতীত তব ঋণ শােধিবার,
শ্রীচরণাশ্রিত,
শ্ৰহৃদয়নাথ দেবশৰ্ম্মণঃ চক্রবর্তী।
নিবেদন শাল তাল তমাল বনরাজী বিরাজিত ব্ৰজমণ্ডল মধ্যবর্তী নব নিকুঞ্জ নিবহে নানাবিধ প্রসূন প্রস্ফুটিত হওয়াতে পরিমল গন্ধে অন্ধ হইয়া মধুপবৃন্দ গুন্ গুন্ ঝঙ্কারে শ্রীরাধাগােবিন্দ গুণানুবাদ কীৰ্ত্তন করতঃ দিগ- দিগন্তর মুখরিত করিতেছে, বিবিধবর্ণ বিশিষ্ট সুকণ্ঠ বিহঙ্গকুল বিটবী অটবে নির্বিবাদে অবস্থানপূর্বক বিশ্বস্রষ্টার অত্যদ্ভুত মহিমা কীর্তনে আদিষ্ট, সুনীল নীলাম্বর আবরণ মধ্য হইতে বিমল সুধাকরের সুধাসম কিরণ সম্পাতে. দিবারজনী সমভাবাপন্ন, ময়ূর ময়ূরী বিলাস উচ্ছাসপূর্ণ হৃদয়ে পরস্পর সম্মুখীন হইয়া পরম রমণীয় বিবিধবর্ণ চিত্রিত পুচ্ছ বিস্তার পূর্বক নৃত্যামােদ সম্ভোগে নিযুক্ত, কৃষ্ণসার প্রভৃতি শ্বাপদগণ নবাঙ্কুরিত তৃণ- গুল্মদি আহাৰ্য্য গ্রহণপূৰ্ব্বক জঠরাগ্নি নির্বাপণে আহলাদিত হইয়া অনন্ত অম্বর তলে সুকোমল শ্যামল শস্পােপরি শয়ন করিয়া চর্বিত চর্বণে স্বভাবসিদ্ধ বিশ্রাম সুখভােগে নিরত, কলনিনাদিনী কলুষ অপহারিণী নীলবসনা যমুনা সাগর বিরহে ব্যথিত হইয়া অবিরল গতিতে প্রবাহিতা, শৈলরাজ গােবর্ধনগিরী গােকুল গােপ কুলােব গােকুলবান্ধব গােকুলা- নন্দের অচিন্ত্য মহিমা কীর্তনে বিব্রত, গােপাঙ্গনা গােপিনীগণ মােহন বনমালা বিভূষিত পীতবসন শ্যাম কলেবর যমুনাতটনিকটচারী শিষ্ট শান্ত- মৃৰ্ত্তি সুরাসুর নববন্দন রাধিকামনরঞ্জন ননন্দন দরশনে পরিতপ্ত প্রণয়- পিয়াস চরিতার্থকরণ নিমিত্ত তাপতপ্ত জীবনের চিরশান্তি লাভাশায় সুখসাধন সম্ভবপর অবাস্তব কল্পনা বিজড়িত অভীষ্ট ফললাভের বিদ্যোৎ- পাদক সংসারারণ্য পরিত্যাগান্তে ভগবৎ দর্শনাভিলাষে সমাগতা, এবস্তুত মােক্ষপ্রদ চিরশান্তি বিরাজিত বৃন্দাবণ্যে বাস করিয়াও উদয়াস্ত মধ্যগত ব্রিটীশ সাম্রাজ্যের প্রাথমিক শাসন কর্তার সর্বপ্রকারের সহায়তা সম্পাদক বৃহস্পতি সদৃশ অগাধ বিদ্যা-বিনয় সম্পন্ন স্বর্গীয় মহাত্মা দেওয়ান গঙ্গা- গােবিন্দ সিংহের পৌত্র প্রাতঃস্মরণীয় ভগবৎ ভক্তাগ্রগণ্য দেব দ্বিজানুরক্ত কৃষ্ণচন্দ্র সিংহ নামান্তর (লালাবাবু) যিনি অতুল বৈভব মুহূর্তে তৃণবৎ পরিত্যাগানন্তর বৃন্দাবনধামে উপনীত হইয়া শ্ৰীশ্ৰীকৃষ্ণচন্দ্রমা বিগ্রহ স্থাপনপূর্বক চিরস্মরণীয় অদ্ভুত কীৰ্ত্তি সংস্থাপনে আনন্দ লাভ করিয়াছেন, যাহার অপার করুণাবলে দৈনন্দিন শতসহস্র প্রাণীর গ্রাসা- চ্ছাদনের অভাব জনিত দুঃখ বিদুরিত হইয়া পরমানন্দে জীবনযাত্রা নিৰ্বাহপূৰ্ব্বক ভগবৎ চরণ প্রান্তে প্রতিপালকের নিৰ্বিপ্নে গােলােক নিবাসের জন্য সর্বান্তঃকরণে প্রার্থনা করিতেছে, যাহার নাম দিবা রজনী জনগণ মুখে জগতীতলে সর্বশক্তিমান জগদীশ্বরের নামের সমতা প্রাপ্ত হইয়া মুখরিত হইতেছে, যাহার অনির্বচনীয় বৈরাগ্য দর্শনে ভগবৎভক্ত জ্ঞানে অতুল বিভব সমম্বিত ধনগৰ্ব্বে গর্বিত লছমী নারায়ণ শেঠ চরণ প্রান্তে লুণ্ঠিত হইয়া করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করত অশ্রুজলে অভিষিক্ত হইয়াছিল, যাহার অপরিসীম বীরত্ব দর্শনে ব্রজবাসীগণ স্তম্ভিত হইয়া মন্দির সংস্থাপনার্থ স্থান প্রদানে বাধ্য হইয়া কৃপা ভিক্ষার প্রার্থী হইয়া- ছিল, যিনি অবশেষে অনিত্য জগতে যথা কর্তব্য কার্য সম্পাদনান্তর ব্ৰজরজে নশ্বর দেহ রাখিয়া ভগবৎ পার্ষদরূপে বিরাজিত হইয়া পরম কারুণিক পরমেশ্বরের লীলা দর্শনে স্বার্থকতা লাভ করিতেছেন, যাহার অতীত ঘটনাবলী ভাবিতে ভাবিতে ভাবুক ও বিভ্রান্ত পথে পদার্পণ করে, যাহার উৎকর্ষতা প্রতিপাদনার্থ বিশেষণ প্রয়ােগের ব্যবস্থায় ব্যবস্থিত হইয়া সাহিত্যকানন পরিভ্রমণান্তে তদুপযােগী বিশেষণের দুষ্প্রাপ্যতা হেতু লেখনীর লিখন শক্তির সীমা নির্দেশে সমর্থ হয় এতাদৃশ মহানুভবের বংশাবতংস কৃতিবান্ সৰ্বগুণসম্পন্ন স্বর্গীয় কুমার শরচ্চন্দ্র সিংহ মহােদয়ের প্রাণ প্রতিমাত্মজ ন্যায়পরায়ণ সনাতন হিন্দুধর্মের উন্নতি বিধায়ক সৎ- " .
গুণাধার সেবাইতশ্রেষ্ঠ শ্রীল শ্ৰীযুক্ত কুমার বীরেন্দ্রচন্দ্র সিংহ বাহাদুরের অধিনতা বন্ধনে আবদ্ধ হইয়া বিষয় বাসনা হইতে অবসর লাভে বঞ্চিত হওত সংসার দাবদহনের দীপ্যমান জ্বালা সতত অনুভূতান্তে জরামরণ- সঙ্কুল সঙ্কীর্ণ পথে ক্রমশঃ অগ্রসর হইয়া অশান্তিময় জীবনে কালাতিপাত করিতেছিলাম, শ্ৰীবৃন্দাবনধাম স্থিত শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের সেবাশ্রমের নিঃস্বার্থ পরােপকাররূপ দৈনন্দিন কার্যকলাপ পৰ্যবেক্ষণান্তে অত্যন্ত আনন্দিত হইয়া কিঞ্চিৎ আলােচনা করিবার বাসনা বলবতী হওয়ায় আশ্রম সম্বন্ধীয় গ্রন্থাদি পরিদর্শনান্তে যাহা অবগত হওয়া গেল তাহার কণামাত্রও বর্ণন করা মাদৃশ জনের বিদ্যা বুদ্ধি দ্বারা আলােচিত হওয়া কখনই সম্ভবপর নহে, কিন্তু আকাঙ্ক্ষার শতমুখী প্রবাহের গতিরােধে অসমর্থ হইয়া মহানুভব মহাত্মার মহতী কাৰ্য্য সম্বন্ধে যৎসামান্যও বর্ণন করিতে পারিলে সুখ ও শান্তির ছায়া হৃদয় মুকুরে প্রতিফলিত হইবে এ, বিশ্বাসের বশবর্তী হইয়াই গ্ৰন্থখানি বিরচিত হইল গুণগ্রাহী সজ্জনগণ দোষানুসন্ধানে বিব্রত না হইয়া পরিশ্রম ও অর্থব্যয়ের সফলতা সম্পাদনের সহানুভূতি স্বরূপ একবার আদ্যন্ত পাঠ করিবেন উপসংহারে এই একমাত্র প্রার্থীত বিষয় কিমধিক নিবেদন মিতি। বশম্ব, শ্রীহৃদয়নাথ দেবশর্মণঃ চক্রবর্তী।
No text on this page.
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ বিবেকোল্লাস।
No text on this page.
প্রভাত বর্ণন। কি কর কি কর, বিহগ নিকর, মধুর কণ্ঠে ধরনা তান, পূর্ণ অবতার, রামকৃষ্ণ নাম, যে নামিকে মাতিবে জগত প্রাণ। বারেক নয়নে, পূরব গগণ, হেরিলে জাগিবে ঊষার স্মৃতি, শশাঙ্ক কিরণ, নাহি রবে আর, তরুণ অরুণ লােচন ভাতি। কুসুম কাননে, পত্র আবরণে, ফুটিছে মল্লিকা মালতী কুন্দ, মলয় মারুত, পরশি হায়, বিতরিছে তার মধুর গন্ধ ॥ মধু পান আশে, ভ্রমরা ভ্ৰমরি, 'গুন্ গুন্ রবে বসেছে ফুলে, হাসিছে নলিনী, স্বচ্ছ সলিলে, স্বামী দরশন পাইবে বলে। শশধর বঁধু, ত্যজি কুমুদিরে, চলে গেছে তার আপন বাসে, তাই কুমুদিনী, বিরহে কাতরা, যােদন করিছে নীরবে বসে।
[ ১২ ] শর্বরী ভূষণ, তারকা নিক, বিলয় হতেছে গগণ কোলে, মাতৃ ক্রোড়ে শিশু, করিছে যােদন, যামিনী প্রভাত হইল বলে। শঙ্খ ঘণ্টারব, প্রতি দেবালয়ে, মধুর মঙ্গল আরতি তরে, বৃদ্ধ নর নারী, স্তব পাঠ করে, চলেছে সবাই নদীর তীরে। যামিনী যাপন, করিয়ে যুবতী, অধিক অলসে অবশ কায়, নিশি শেষে জাগি সম্বরি অম্বর, বিষাদ চঞ্চল চরণে ধাম। বিমুক্ত কবরী, বাঁধিতে বাঁধিতে, সলাজে দেখিছে নয়ন কোণে, মরমে মরিবে, বিপথ গামিনী, দেখা যদি হয় পড়শী সনে। ভাবিতে ভবেশে, এই সুসময়, তরু শাখে পাখী ভজন করে, মানব হইয়ে, এখনও শয্যায়, রহিয়াছ সবে অলস ভরে। কলুষ নাশিনী, কল্যাণদায়িনী, করুণাময়ীর কমল পায়,
ليا
L
দেও উপহার,
মানস বিকার,
ভক্তি অশ্রুজল মিশায়ে তায়।
লােগ শােক জ্বালা,
ভুলি অবিরত,
সহস্র বিষাদ চাপিয়ে হৃদে,
ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি,
দেও প্রতি ভরে,
কৃপা করি তিনি রাখিবে পদে।
বড় সুসময়,
এ হেন সময়,
এরূপ সুযােগ হবেনা আর,
ভ্ৰাতৃভাবে সবে,
একতায় থাকি,
রামকৃষ্ণ আজ্ঞা করহ সার।
ও নম ভগবতে
রামকৃষায়
প্রস্তাবনা।
আসমুদ্র হিমাচল কেবল শুনিতে পাই,
রামকৃষ্ণ নাম বিনে জীবের আর গতি নাই,
কি সুধা এ নামে আছে, কি উপায়ে কার কাছে,
কিরূপে হইব জ্ঞাত এ নামের মধুরতা,
-দয়া পরবশ হয়ে কে বলিবে এ বারতা।
( ২ )
-মহেন্দ্রনাথের কথা উদয় হইল মনে,
রামকৃষ্ণ কথামৃত লিখেছেন সযতনে,
প্রমাণ প্রয়ােগ আদি, ব্যবহার যথাবিধি,
লিপি কোমলতা যত সম্ভবে সরলভাবে ,
করেছেন জ্ঞানীশ্রেষ্ঠ ভাবী কষ্ট অনুভবে।
( ৩ )
রামকৃষ্ণ লীলা সব কারুণ্য ও ভক্তিরসে,
চিত্রিত চরিত্রখানি অপরূপ ভাবাবেশে,
শেষ করি অধ্যয়ন, বিগত সন্দেহ মন,
কিন্তু নব ভাব আসি উদয় হইল মনে,
আরও কিছু গূঢ়তত্ত্ব পেতে পারি অন্বেষণে।
با
لا
( ৪ )
*চঞ্চল অন্তর বড় উপায় করিতে স্থির,
উর্মিমালা সমাকুলে যে প্রকার সিন্ধুনীর,
শিষ্যােখা ভক্তগণে, জিজ্ঞাসিমু সযতনে,
রামকৃষ্ণ দরশন করিবারে বড় আশা,
দয়া করে বলে দাও মিটিবে কি এ পিপাসা?
।
শাস্ত্রেতে অনধিকার বিদ্যা বুদ্ধি বলহীন,
জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা করি নাই কোন দিন,
পঙ্গু যথা লজে গিরি, সন্তরণে সিন্ধুবারি,
বামন হইয়ে আশা ধরে করে শশধর,
এরূপ দুরাশা হৃদে জাগরূক নিরন্তর।
দেখেছি তরঙ্গ রঙ্গ নিদাঘ নিশীথকালে,
দেখেছি তুষারশুভ্র অতি উচ্চ গিরি কোলে,
শর্বরী শিশির শােভা, দুৰ্ব্বাদলে মনলােভা,
মলয় মারুত খেলা দেখেছি নিকুঞ্জ বনে,
দেখেছি চপলা হাসি চিত্রিত গগণ কোণে।
( ৭ )
বালিকা অধর পাশে সরল মধুরহাসি,
শাখাপত্র অন্তরালে শশীর কিরণরাশি,
উদ্যানে প্রসূনকুলে, গুঞ্জরে মধুপ:দলে,
ললিত লবঙ্গলতা বিতরে সুমিষ্ট ঘ্রাণ,
সুপ্ত গগণের কোলে শুনেছি পাপিয়া গান।
[
১৬ ]
( ৮ )
শ্বাপদ সঙ্কুল ঘাের গভীর গহন বন,
প্রভাকর কররাশি নাহি করে বিতরণ,
প্রবাহিতা নিরিণী, করি কুল কুল ধ্বনি,
চিরতৃষা নিবারিতে চলেছে সাগর পানে,
জন্মাবধি পরিতৃপ্ত এই সব দরশনে ।
( ৯ )
যে যাহা ভাবনা করে তাই তার সিদ্ধ হয়,
শাস্ত্রেতে যা লিখা আছে কভু তাহা মিথ্যা নয়,
কৃপা করি ভক্তগণে, সঙ্গে লয়ে মৃঢ়জনে,
দক্ষিণেশ্বরেতে গিয়ে একেবারে উপস্থিত,
দরশনে আঁখি তৃপ্ত চিত্ত বৃত্তি হরষিত ।
( ১০ )
সারল্যের চিরাধার পবিত্রতা পারাবার,
করুণা প্রেমের খনি পূর্ণব্রহ্ম অবতার,
গৈরিক বসনে ঢাকা, দয়া-দাক্ষিণ্যেতে মাখা,
মরি কি অপূৰ্ব্ব মূৰ্ত্তি যােগে সিংহ সমবল,
হেরি বিগলিত হ’ল বজ্রসম বক্ষঃস্থল।
(১১)
নয়ন মুদ্রিত করি রহিলাম ক্ষণকাল,
ভীম তম শূল হস্তে ভয়ঙ্কর মহাকাল,
শূন্যে অবস্থিতি দেখি, জুড়াল যুগল আঁখি,
ভাবিলাম কৃপালাভে বঞ্চিত হবনা আর,
শুভযােগ উপস্থিত যাহা কিছু জানিবার।
الا
]
( ১২ ) •
কুটিলতা পরিপূর্ণ অযােগ্য হৃদয়াসন,
উপযুক্ত স্থানাভাব রাখিতে ও ঐচরণ,
রাগ দ্বেষ মায়া মােহ, আবরি নশ্বর দেহ,
নির্মম নির্দয়ভাবে করিতেছে অধিকার,
তপ্ত ভব-সিন্ধু জলে পুড়িতেছি অনিবার।
দয়ার জলধি তুমি তুমি চির দয়াময়,
কৃপাবিন্দু বরিষণে কর হৃদি সুধাময়,
তােমাতে সম্ভব সব, যত কিছু অভিনব,
করুণা অপাঙ্গে তব রক্ষিত ভুবন,
তােমারি কটাক্ষে হয় সৃজন প্রলয় লয় ।
( ১৪ )
মম সম মহাপাপী ত্রিজগতে নাহি আর,
কৃপাপাত্র হইবার সম্পূর্ণ অনধিকার,
তবে যদি নিজগুণে, এ অধম হৃদাসনে,
তিলেকের তরে তব ঐপদ অর্পিত হয়,
আশাতীত ফল লভি হবে চির শান্তিময় ।
( ৫ )
পিপাসিত চিত দেখি জগত আরাধ্য ধন,
রাগাগা ভক্তি সুধা করি দীনে বিতরণ,
বলেন মধুর ভাষে, বহুদিন যে পিয়াসে,
মনকষ্টে অনুদিন করিতেছ কাল,
হইবে বাসনা পূর্ণ নাহি আর কোন ভয়।
[
L
(১৬ )
অল্পায়ু হইয়ে জীব জনমিবে কলিকালে,
মুক্তি কষ্ট সাধ্য পথ কঠোর তপস্যা বলে,
তাই মনে চিন্তা করে, রামকৃষ্ণ রূপ ধরে,
অবনীতে অবতীর্ণ পূর্ণব্রহ্ম অবতার,
অভীষ্ট লাভের কষ্ট দূরীভূত করিবার।
( ১৭ )
পর উপকার মন্ত্র জীবের কল্যাণ তরে,
দিবে নরেন্দ্রনাথ অনন্ত জগদাধারে,
৩দ্ধ এই মন্ত্র বলে, উন্নতি অবনী তলে,
জীবন সংগ্রামে জয়ী হইবে জগতবাসী,
সমাধি মগন ঐ যােগেশ্বর যােপে বসি।
( ১৮)
ভুতপূর্ব যুগয়ে পার হতে মহার্ণবে,
অনশন বাতাহারে তপশ্চৰ্য্যা করি সবে,
মুক্তি পথে অগ্রসর, হ’ত জীব নিরন্তর,
সে দুঃখের অবসান হবে চিরদিন তরে,
না যাবে কলির জীব শমনের অধিকারে ।
হয় নাই হইবে না হেন দয়া অবতার,
স্বচক্ষে দেখিবে সবে প্রত্যক্ষ প্রমাণ তার,
নিজে আচরিয়ে ধৰ্ম্ম, শিখাবে ধৰ্ম্মের গল্প,
অসহ যাতনা সহি দেখাবে সুন্দর পথ,
যে পথে যাইলে জীব হবে পূর্ণ মনােথ ।
[
]
( ২• )
জ্ঞান ভক্তি কৰ্ম্ম যোগ একাধারে অধিকার,
দেখায়েছে রামকৃষ্ণ পূর্ণব্রহ্ম অবতার,
জীবের দুর্গতি দেখি, দিবানিশি ঝরে আঁখি,
কিরূপে হইবে ভবে দরিদ্রের দুঃখ নাশ,
এইমাত্র এক চিন্তা পরিপূর্ণ হৃদাকাশ ॥
( ২১)
স্বর্গাদপি গরীয়সী জন্মভূমি রক্ষা তরে,
সমরে জীবনাহুতি করিয়াছে কত নরে,
কিন্তু হেন অঘটন, দেখেছে কি কোন জন,
ধর্মে ধৰ্ম্মে চিরদ্বন্দ্ব নিবারণে তনু মন,,
মানবের সুখ তরে করিয়াছে সমর্পণ ?
( ২২ )
রামকৃষ্ণ জন্মলীলা বিবরিত অতঃপর,
যাহা শুনি উথলিবে হৃদে সুখ সরােবর,
স্বর্গীয় আনন্দরসে, শান্তির সুথপরশে,
শােক তাপ দূরীভূত বরষিবে আঁখি জল,
বাল বৃদ্ধ বনিতার অপগত কলিমল ॥
পূৰ্ব কথা।
হুগলী জেলায়,
কামার পুকুর,
গ্রাম অতি পুরাতন,
খুদীরাম নাম,
সজ্জন ব্রাহ্মণ,
দুঃখে থাকে অনুক্ষণ,
জায়া চন্দ্রমনি,
সহ দীন ভাবে,
সামান্য কুটিরে বাস,
সাধ্বী সতী সদা,
পতি সেবা করে,
নাহি মিলে অবকাশ,
দুঃখের যাতনা,
সেই জন জানে,
যে জন দুঃখেতে রয়,
না দংশিলে ফণী, বিষের তীব্রতা,
অনুভব নাহি হর,
পাষাণ নন্দিনীর,
হৃদি বিরিল,
খুদীরাম দুঃখ দেখে,
ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণী,
সরল প্রকৃতি,
কিরূপে থাকিবে সুখে,
দীন দয়াময়ীর,
দয়া উপজিল,
দুর্গতি বিনাশ তরে,
পবিত্র উদরে,
হইল প্রবেশ,
জ্যোতির্ময় রূপ ধরে ।
[ ২১ ]
গর্ভের লক্ষণ,
জানিতে পারি,
খুদীরাম মনে ভাবে,
কি খেলা খেলিলে, লীলাময়ী কালি,
আরও কত দুঃখ দিবে,
তুমি শবাসনা, তােমারি বাসনা,
পূর্ণ হয় চিরকাল,
যা ইচ্ছা তােমার, কর ইচ্ছাময়ী,
কে বুঝিবে মায়াজাল ।
জন্ম-কৰ্ম্ম, সাধনা ও সিদ্ধি।
( ১ )
বারশত বিয়াল্লিশ ফাল্গুনের ষষ্ঠ দিনে,
শুক্লপক্ষ দ্বিতীয়ায় শুভ যােগ সম্মিলনে,
প্রসবিল চন্দ্রমনি, নিল নীলকান্তমণি,
যাহার তুলনা স্থল জগতে বিরল অতি,
নব সুত বদনেতে পূর্ণ শশধর দ্যুতি।
নিদিয়ে অনঙ্গ অঙ্গ হয়ে ছিল সমুদ্ভুত,
মনুষ্য কি দেব শিশু কে করিবে স্থিরীকৃত,
সর্বক্ষণ হাস্যানন, দীর্ঘ দীপ্ত সুনয়ন,
সৰ্বাঙ্গ লাবণ্যময় তরুণ অরুণ মত,
করুণার মকরলে তনুখানি বিজড়িত।
( ৩ )
মাতৃ-স্নেহ বৃন্তে দোলে দ্বিজসুত ফুফুল,
মকরন্দ গন্ধে অন্ধ ধায় ভক্ত ভৃঙ্গকুল,
ফোটে না চন্দন বনে, চৈত্র রথ উপবনে,
যে ফুল কুঙ্কুম কুঞ্জে নন্দন কাননে নাই,
চন্দ্রমনি কল্পবৃক্ষে দুলিছে দেখিতে পাই।
( ৪ )
এ শিশু অমূল্য রত্ন রত্নাকরে প্রসবে না,
অমরার ধনাগারে গজ কুম্ভে মিলিবে না,
সুমেরুর তুঙ্গ অঙ্গে, গহ্বরে অথবা শৃঙ্গে,
কুবের সুবর্ণ সৌধে এ রত্ন না পাওয়া যায়,
নাহি মণি হেন কভু অনন্ত ফণী ফণায়।
২৩ ]
নাম রক্ষা নিজামণ অশন শাস্ত্র বিধি :
চুড়াক্রিয়া কর্ণবেধ বিদ্যারম্ভ সংস্কারাদি,
করাইয়া খুদীরাম, লভিল কৈবল্যধাম,
জ্যেষ্ঠ সুতে সমর্পিয়ে সংসার পালন ভার,
শিক্ষা দীক্ষা বিবাহাদি কনিষ্ঠ সুতের আর ।
( ৬ )
রামকৃষ্ণ অর্ধাঙ্গিনী সারদা সুন্দরী সনে,
দেব দ্বিজাৰ্জনে রত সতত প্রফুল্ল মনে,
রূপে লক্ষ্মী গুণে বাণী, রামকৃষ্ণ প্রণয়িনী,
স্বামী, সেবা মহাব্রতে করিবেন কালক্ষয়,
নারীর পরম ধৰ্ম্ম এ ভিন্ন কিছুই নয়।
( ৭ )
এইরূপে কত দিন সংসার সাগরে বাস;
করিলেও তৃপ্তি তার নাহি হয় অভিলাষ,
পতিতপাবনী পারে, গেলেন দক্ষিণেশ্বরে,
রাণী রাসমণি কীৰ্ত্তি করালবদনা কালি,
খা মুণ্ড বরাভয়ে শােভিছেন মুণ্ডমালি ।
( ৮ )
দানব দলন তরে ত্রৈলােক্য মােহিনী আজ,
ডাকিনী যােগিনী সনে ধরিয়াছে নব সাজ,
লােল জিহ্বা ভয়ঙ্করা, নর করে কোটী বেড়া,
শবরূপ মহাদেব হৃদি পরে অধিষ্ঠান,
মহা জ্যোতির্ময়ী মূর্তি হেরিলে থাকে না জ্ঞান।
( ২৪ ]
কৃপা হলে কালিকার অভাব কি থাকে আর,
রামকৃষ্ণ প্রাপ্ত হন সেবা কাৰ্য্য অধিকার,
মাতৃসেবা অর্চনায়, দরশন করি মায়,
মনুষ্য দুর্লভ জন্মের স্বার্থকতা সম্পাদন,
করিলেন জীবনের যাহা কিছু প্রয়ােজন।
( ১০ )
অকপট প্রেমপূর্ণ রামকৃষ্ণ অর্চনায়,
কৈলাসবাসিনী আজ পুলকে পূর্ণিত কাম,
অসময়ে মুকুলিত, মহীরুহ লতা যত,
কোকিল কুজিত কুঞ্জে মলয় মারুত বর,
কৈলাস নিবাসীগণ অন্তর আনন্দময় ॥
( ১১ )
অজস্র অমৃত ধারে মন্দাকিনী পূত জল,
উখিত তরঙ্গ রঙ্গ শ্রুতি মধু কোলাহল,
কদম্ব কেতকী বালা, বেল সুই যুথিমালা,
টগর চম্পক দাম হাসিছে কানন মাঝে,
সেজেছে কৈলাসপুরী অপরূপ নব সাজে।
( ১২ )
ফুটিছে মধুর হাসি সবারি অধর কোণে,
লুটিতেছে পরিমল অনিল পুষ্পিত বনে,
কেহ নাচে কেহ গায়, উদ্দাম তরঙ্গ প্রায়,
সুগন্ধি কুসুম তুলি কেহ বা গাঁথিছে মালা,
মাতৃপদে সমর্পিয়ে জুড়াবে জীবন জ্বালা,
لسا
२९
لا
জগত জননী শ্যামা অতি ভয়ঙ্করা বেশ,
দিশ্বসনা ত্রিনয়না লম্বিত চাঁচর কেশ,
গলে মুণ্ডমালা দোলে, শিব শব পদতলে,
ডাকিনী যােগিনী সঙ্গে রণরঙ্গে অগ্রসর,
সাধ্য কি সহিবে ধরা ভবানীর পদভর।
( ১৪ )
দমুজ দলনী সেই ঘাের রণ বেশ হেরি,
রামকৃষ্ণ সবিনয়ে বলে করজোড় করি,
লীলাময়ী লীলা তব, বুঝিতে না পারে ভব,
ওরূপের গূঢ়তত্ত্ব বুঝিবারে শক্তি হীন,
তােমারি সৃজিত বিশ্ব ভােমাতেই হয় লীন।
অনন্ত ব্রহ্মাণ্ড কোটী আছে তব ভাণ্ডোদরে,
তাই বিশ্বেদরী নাম অভিধান ব্যাখ্যা করে,
অচিন্ত্যরূপিণী তুমি, চিন্তায় কি পাব আমি,
আকিঞ্চন মাত্র সার বৃথা হয় পরিশ্রম,
অসীম সসীমে পূর্ণ সম্পূর্ণ এ মন ভ্রম।
( ১৬ )
অনন্ত মূরতি ধরে কত বিভিন্ন আকারে,
বিরাজিত চরাচরে কে তাহা বর্ণিতে পারে,
নাহি আসে ধারণায়, নাহি আসে কল্পনায়,
অপ্রশস্ত অসম্পূর্ণ মম হৃদি নিকেতন,
প্রেম ভক্তি বিরহিত অসংবদ্ধ প্রাণ মন ।
لما
]
( ১৭ )
না জানি কেন যে আশা তবু ঐ পথে ধায়,
আবরিত দেহ মন মায়া মােহ নিরাশায়,
চিন্তার পথেতে মন, প্রধাবিত অনুক্ষণ,
শত চেষ্টা করিলেও ফিরিতে নাহিক চায়,
প্রবল জলধি জলে ভীষণ আবৰ্ত্ত প্রায়।
( ১৮
আশা-পথ পানে আর কতদিন এইভাবে,
মায়ার শৃঙ্খলে বাঁধি রাখিবে নশ্বর ভবে,
জ্ঞানাতীত ইন্দ্রজাল, কর মাগাে অন্তরাল,
চিন্তা-মরু মাঝে পড়ি ভ্রান্ত পথিকের মত,
কৃপা-বারি বিন্দু বিনে জীবন না হয় গত ।
{ ১৯ )
সকলি দিয়াছ মাগাে অসম্পূর্ণ কিছু নাই,
কিন্তু নীরসতা হেরি যখন যেদিকে চাই,
শিশুর সরল হাসি, যাতে মুগ্ধ ধরাবাসী,
নক্ষত্র খচিত নভঃ বিচিত্র পুষ্পিত বন,
সকলি নৈরাশ্য মাখা বিষাদের নিকেতন
( ২০ )
দীন দয়াময়ী নামের 'সফলতা সম্পাদন,
করিলে করুণাময়ী করে কৃপা বিতরণ,
সত্য ত্রেতা দ্বাপরেতে, কিরূপে মা অবনীতে,
অবতীর্ণ হয়েছিলে কি কাৰ্য্য সাধন তরে,
পরম পবিত্র কথা শুনিতে বাসনা করে ।
[
২৭ ]
( ২১ }
ভক্তের ভক্তিতে আজি পরাভক্তি প্রদায়িনী,
মাভৈঃ মাভৈঃ রবে দিলেন আশ্বাস বাণী;
স্থির হয়ে শুন বলি, যুগত্ৰয় কার্যাবলি,
ভােমা হতে হবে এই কলির কলুষ ক্ষয়,
জ্ঞান ভক্তি উপকার জীবনের সারময়।
( ২২ )
যখনি জগতে হয় অধম্মের অভূত্থান,
অবনী আসিতে হয় ত্যজি চির শান্তি স্থান,
সত্যে মীন অবতারে, ধৰ্ম্ম সংস্থাপন তরে,
সাম যজু ঋগাথৰ্ব্ব চারি বেদের উদ্ধার,
ব্রাহ্মণাদি চতুৰ্বর্ণে হয়েছিল উপকার |
সাগর ভূধর সহ বসুধা পৃষ্ঠেতে করি,
কুৰ্ম্মরূপে গুরুভার বহি দিবা বিভাবরী,
বরাহ দশনােপরি, ক্ষিতি উত্তোলন করি,
সৃজন করেছি সব যাহা কিছু প্রয়ােজন,
কৰ্ত্তব্যের ত্রুটী আমি করি নাই কদাচন।
( ২৪ )
হিরণ্যকশিপু আর হিরণক্ষ্য ভ্রাতাদ্বয়,
দুর্দান্ত হইয়ে যবে করে বিশ্ব অপচয়,
নৃসিংহ মুরতি ধরি, নখে বিদারণ করি,
নিপাত করেছি আমি ভীষণ দানব দল,
হলে কষ্টের সৃষ্টি হত সব রসাতল।
২৮
3
( ২৫ )
বলিরাজ ত্রেতা যুগে দোর্দণ্ড প্রতাপ বলে,
অপৰ্যাপ্ত অত্যাচার অবনীতে আরম্ভিলে,
বামন মূরতি ধরে, বলিকে ছলনা করে,
ধরা নিৰ্বিবাদ করি পাতালে রেখেছি তায়,
দ্বারে তার বাঁধা আছি বদ্ধ হয়ে প্রতিজ্ঞায়।
( ২৬ )
অত্যন্ত গৌরবে যবে দুর্ধর্ষ ক্ষত্রিয়গণ,
বীরত্বের শীর্ষ দেশে করেছিল আরােহণ,
পরশু লইয়া হাতে, ধরাভার বিনাশিতে,
নিঃক্ষত্র করেছি আমি পৃথিবীরে বহুবার,
অন্যথায় জীবমাত্র বাস করা হত ভার।
( ২৭ )
তপন তনয় যার অশ্বশালে নিমােজিত,
মন্দার কুসুমে মালা ইন্দ্র গাঁথে অবিরত,
শশী ছত্র ধরে শিরে, অনিল ব্যাজন করে,
দেবতা তেত্রিশ কোটী ভৃত্য ভাবে ব্যবহার,
পদ্ম-যােনি দশাননে দেন হেন রাজ্যভার ।
( ২৮ )
বরের প্রভাবে রাজা পেয়ে অতি সুসময়,
বিসর্জিল দয়াধৰ্ম্ম শ্রদ্ধাভক্তি সমুদয়,
হেরি তার কীর্তিচয়, পিশাচ লজ্জিত হয়,
বসুন্ধরা কত দিন সবে এই পাপ ভার,
রাবণ দমন তরে রামচন্দ্র অবতার ।
]
কৃষ্ণ রূপে অবতীর্ণ দ্বাপরে মথুরা পুরী,
দুষ্ট কেশী কংশ ধ্বংসি ব্রজ নিরাপদ করি,
ব্রজ গােপী ভক্তি বশে, বাধ্য হয়ে ব্ৰজাবাসে,
বৃন্দাবন লীলাকরি পরে যাই দ্বারকায়,
ব্রজ নিবাসিনী তাতে বড়ই যাতনা পায়।
( ৩০ )
কোকিল কুজিত কুঞ্জে পুঞ্জ পুঞ্জ ফোটে ফুল,
প্রস্ফুটিত প্রসূনেতে প্রমত্ত মধুপ কুল,
ভাতিক সমীরণে, দুলিত কেতকী গণে,
নব মল্লিকার মালা পরেছি সাদরে গলে,
অসহ যাতনা পাই সে স্মৃতি উদিত হলে ॥
ত্যাজি লাজ কুল ভয় করি আত্ম সমর্পণ,
ব্রজের দ্বাদশ বনে করে মাের 'অন্বেষণ,
দিবানিশি ভেদ নাই, যখন যেখানে যাই,
দুর্গম গহনবন অথবা গিরি শিখর,
দুরাগত ধ্বনীত কোথা শ্যাম নটবর।
গােপীকাগণের সেই প্রেম অশ্রু বরিষণ,
অাখি পালটিয়ে আর করি নাই দরশন,
স্বকাৰ্য্য সাধনতরে, জন্মভি বারে বারে,
বুঝিতে না পেরে সবে রােদনে কাটায় কাল,
কে জানিবেমূল্ম তত্ত্ব পেতেছি যে মায়াজাল।
السا
3
ভেবেছি দ্বারকা গিয়ে শান্তি পাব কিছু দিন,
দুরাশায় পরিণত অনন্তে হল বিলীন,
দুৰ্য্যোধন যুধিষ্ঠিরে, কলহ হস্তিনাপুরে,
হইয়াছে ভয়ানক করিবারে প্রশমন,
অনতি বিলম্বে তথা যাওয়া অতি প্রয়ােজন।
( ৩৪ )
ইন্দ্রপ্রস্থে গিয়ে যাহা করিলাম দরশন,
বুঝিলাম এইবার কুরুক্ষেত্র মহারণ,
কালের প্রভাবে যাহা, নিশ্চয় ঘটিবে তাহা,
শত চেষ্টা করিলেও কভু ফিরিবার নয়,
বালী বাঁধে সিন্ধু নদ অবরােধ নাহি হয়।
( ৩৫ )
পণ রাখি অক্ষ-ক্রীড়া করি দুই ভ্রাতাদ্বয়,
শকুনি মন্ত্রণা বলে যুধিষ্ঠির পরাজয়,
সাম্রাজ্য ও ধনাগার, দুর্যোধন অধিকার,
করিয়াছে পণবঙ্গে অবশিষ্ট কিছু নাই,
বিষাদিত ধৰ্ম্ম-পুত্র কি করিবে কোথা যাই।
( ৩৬)
দেখিলাম চিরকাল সুসময়ে কোন জন,
ভ্রমেও বলেন কৃষ্ণ কর কৃপা বিতরণ,
বিপদে পতিত হলে, হাকৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে,
গগণ বিদীর্ণ করে করি উচ্চ কোলাহল,
এসময়ে রক্ষা কর তুমি দুর্বলের বল।
[
لا
( ৩৭ )
বিচারেতে প্রতিপন্ন অধৰ্ম্মেতে পদার্পণ,
শকুনির চক্রে পড়ি করিয়াছে দুৰ্য্যোধন,
ন্যায়পক্ষ সমর্থন, করে থাকি অনুক্ষণ,
যতােধর্ম ততােজয় শাস্ত্রের সত্যতা তরে,
অঙ্গীকৃত হইলাম রক্ষিতে ধাৰ্মিক বরে ।
( ৩৮ )
বিশেষ চেষ্টায় যবে ফলিলনা কোন ফল,
ধ্বংসিতে ক্ষত্রিয় বংশ জ্বলিবে সমরানল,
নিশ্চয় বুঝিয়ে সার, করিলাম অঙ্গীকার,
নিরপেক্ষ রব আমি ধরিবনা, ধনুর্বাণ,
দেখি কত দূরে হয় এ যুদ্ধের অবসান ।
( ৩৯ )
কুরুক্ষেত্র রণক্ষেত্র বিশাল বারিধিমত,
উত্তাল তরঙ্গ সম রথ রথী সংখ্যাতীত,
লইয়ে সারথী রথী, নক্ষত্র পতিত গতি,
ভ্রমে সে সাগর বক্ষ অতুল সাহস করি,
সম্মুখ সমরে আজ মরি কি বিপক্ষ মারি।
( ৪০ )
ভীম প্রভঞ্জনে ভিন্ন প্রকাণ্ড পাদপ সম,
বিপক্ষ কৃপাণ ছিঃ বীর অঙ্গ মনােরম,
তাড়িত তরঙ্গ রঙ্গে, ভাসে সব একসঙ্গে,
রণদক্ষ বাজী-রাজি ন রূপে লক্ষ ধায়,
মাতল মকর রূপে শ্রেণীবদ্ধ হয়ে যায়।
السا
৩২ ]
( ৪১ )
ছুটিছে মথিয়া সিন্ধু গর্জনেতে সুগভীর,
মাতঙ্গে তুরঙ্গে পশে রণরঙ্গে যতবীর,
বাড়বাগ্নি শিখাসম, বিদ্যুৎ অনলােপম,
সুতীক্ষ শায়ক পুঞ্জ নিম্মুক্ত সুশাসন,
সাধ্য কি যাইতে পারে অগ্রে তার সমীরণ।
( ৪২ )
মহাকাল কৈবর্তের মৃত্যু-সম মহাজালে,
মৎস্যরূপী বীরাবদ্ধ সমর সাগর জলে,
কেহ সিক্ত রক্তে দেহ, নীরােপরি ভাসে কেহ,
এদৃশ্য বর্ণনে বর্ণ বিবর্ণতা প্রাপ্ত হয়,
ব্ৰহ্মার সৃজিত বিশ্ব ল হবে সুনিশ্চয়।
( ৪৩ )
আৰ্তনাদ সিংহনাদ ঘাের অশনি গর্জন,
তিষ্ঠ তিষ্ঠ রক্ষ রক্ষ শ্রুত এই সােধন,
কেহ বলে অগ্রসর, হও দেখি বীরবর,
একবাণে নিমিষেতে পাঠাব শমনাগার,
মৃত্যু কালে চিন্তার পিতা মাতা পরিবার।
( ৪৪ )
বিবিধ বিচিত্র শব্দ উঠিতেছে নিরন্তর,
সিন্ধুগরজন সম ধ্বনি অতি ভয়ঙ্কর,
কার সাধ্য কর্ণ পাতে, কুরুক্ষেত্র প্রাঙ্গণেতে,
অমিত বিক্রম তেজে ভীষ্ম দ্রোণ কর্ণবীর,
প্রলয় কালেতে যথা প্রবল পয়ােধিনীর।
[
৩৩
( ৪৫ )
পাণ্ডবের প্রতিকুল রথী মহারথী যত,
পূর্ণ শক্তি প্রয়ােগেতে যুঝিতেছে অবিরত,
পঞ্চ ভ্রাতা কর জোড়ে, বলিছে বিনয় করে,
কোথা কৃষ্ণ দয়াময় নিরুপায় পাণ্ডু কুল,
দুঃসময়ে দেখা দিয়ে রাখ মান রাখ কুল।
{ ৪৬ )
জ্ঞান কৃত পাপ কাৰ্য মনবুদ্ধি অগােছর,
হৃদয়ে করিয়ে বাস দেখিতেছ নিরন্তর,
তবু যে দীনের প্রতি, দৃষ্টি নাই একরতি,
অগাধ জলধি জলে পাণ্ডুপুত্রে বিসর্জন,
এ খেলার গূঢ় তত্ত্ব কে করিবে নিরূপণ।
( ৪৭ )
ভক্তির অধীন আমি বাঁধা আছি ভক্তি ডােরে,
ভক্তের বিপদ দেখি থাকিতে কি পারি দূরে,
চক্ষুর নিমিষে আসি, অর্জুনের রথে বসি,
চলিলাম নিবারিতে ভীষ্মের অতুল বল,
যার বাণে নিপতিত বীর শির ধরাতল ।
( ৪৮ )
ধূমকেতুনিভ নভে প্রভাময় সুদর্শন,
যার তেজে উজলিল কুরুক্ষেত্র রণাঙ্গণ,
মধ্যাহ্ব-তপন সম, রথখানি মনােম,
পিতামহ রথ-পাশে উদিত হইল যবে,
সভয়ে চকিত নেত্রে এক দৃষ্টে হেরে সবে।
৩
[
৩৪
لا
( ৪৯ )
হেরি পার্থে প্রতিপক্ষে বিনাশিতে বাসনায়,
নিশিত শায়ক পুঞ্জ ধায় উল্কাপিণ্ড প্রায়,
অপূৰ্ব্ব কৌশল বলে, ক্ষিপ্র হস্তে বাণ তুলে ;
আঁখি পালটিতে ত্বরা হানে অর্জুনের প্রতি,
ধন্য শিক্ষা লভিয়াছে কুরু বৃদ্ধ সেনাপতি।
( ৫০ )
কালভুজঙ্গিনী সম অতি খরসান অসি,
খেলিয়া দামিনী সনে বেষ্টিত বিমান আসি,
বিপক্ষের প্রহরণ, কাটিতেছে অগণণ,
একা শত্রু অস্ত্র, যত পার্থ সমুন্নত বুকে,
ধন্য পার্থ মহাবীর সুখ্যাতি বিপক্ষ মুখে ॥
( ৫১ )
কিন্তু হায় কি ভীষণ জগৎ বিম্ময় কাজ,
সাধিছে সমরাঙ্গণে শান্তনু কুমার আজ,
সমূলে পাণ্ডব সৈন্য, পলকেতে ছিন্ন ভিন্ন,
চুম্বিতেছে বসুন্ধরা কে করে গণনা তার,
বুঝিবা পাণ্ডবকুল রক্ষা নাহি পায় আর ।
( ৫১ )
অৰ্জ্জুনন্দন আজি ভীষ্মের শায়ক জালে,
সরথি সারথী রথ মজ্জমান রণজলে,
কলেবর বাণাঘাতে, ভাসিতেছে রক্ত স্রোতে,
শ্যামাজে শােণিত ধারা এখনও মনেতে হয়,
'নীলাম্বরে বিভাষিত নবরক্ত মেধােদয় ।
[ ৩৫ ]
সহাস্য-বদনে ভীষ্ম হেরে দৃশ্য সমুদয়,
(বলে) পিতামহ জ্ঞানে রক্ষে এখনও গৌরবাক্ষয়,
কৰ্ত্তব্য বিস্মৃত হয়ে, সুধু মম মুখ চেয়ে,
মৃদু যুদ্ধ করি পাৰ্থ করিতেছে সৰ্ব্বনাশ,
কৌরব-গৌরব-রবি আজি মুক্ত রাহু গ্রাস।
( ৫৪ )
নিরুৎসাহ হয়ে যবে পাণ্ডব সৈনিকগণ,
রণস্থল হতে সবে করিতেছে পলায়ন,
মাতিয়ে বীরত্ব মদে, কৰ্ত্তব্যের অনুরােধে,
বলিলাম ক্রোধভরে কি কর ক্ষত্রিয়গণ,
কোন বীর সমরেতে করে পৃষ্ঠ প্রদর্শন ॥
( ৫৫ )
অমর হইয়ে কেবা সমরে গমন করে,
রণ ভয়ে ভীত ক্ষত্র না দেখি এ ধরাপরে,
নরাধম কুলাঙ্গার, শত্রু না করি সংহার,
কেমনে ফিরিবে সবে যাও দেখি বীরগণ,
জগৎ-বিধ্বংসকারী দেখ নাই সুদর্শন।
হৃদয় দুর্বল হলে উৎসাহে না করে কাজ,
জ্ঞানাভাবে বীরকুলে ভবিষ্যতে পাবে লাজ,
পাণ্ডব দুৰ্বল হেরি, চলিলাম দম্ভ করি,
দেখুক ত্রিলােক আজ একা তীক্ষ্ণ চক্ৰধারে,
পলকেতে বিনাশিব ভীম দ্রোণ বীরবরে।
৩৬ ]
( ৫৭ )
সাধিব সাধুর প্রতি করিব সাধুর ত্রাণ,
পতপ্ত মহীর হবে আজি অবসান,
স্নিগ্ধ শান্তি জলধার, বরষিয়ে অনিবার,
তুলিব ধৰ্ম্মের ধ্বজা সুবিশাল নভঃ স্থলে,
চিরস্থায়ী কীৰ্ত্তি মম মুছিবে না কোন কালে ।
( ৫৮ )
প্রশান্ত শান্তনু সুত মহা ভক্তিমান বীর,
অর্জুনের রথে কৃষ্ণ দৃষ্ট মাত্র নত শির,
বলিলেন মৃদু হেসে, আমার জীবন নাশে,
চক্রধারী চক্ৰধরি এত কষ্ট কি কারণ,
প্রস্তুত হইয়ে আছি যেতে শান্তি নিকেতন ॥
( ৫৯ )
যমুনা পুলিনচারী প্রিয় কেলি কুঞ্জবন,
গােপীজন মনোেহর, কোথা তব বৃন্দাবন,
মােহন মুরলি তানে, মজাতে গোপীনীগণে,
জয় রাধা শ্রীরাধা বলে সঁপেছিলে মন প্রাণ,
সে ভাব অভাব এবে বীর বেশে বিদ্যমান ।
( ৬০ )
যশােদা মাতার দত্ত চুড়া পীত ধড়া কই,
আদরের বেশ ভূষা সকলি কি জল সই!
শ্যাম অঙ্গ মনলােভা, হেরিলে যাহার শােভা,
মুনি মন মুগ্ধ হত ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমা ঠাম,
দেখাও করুণা করে মুক্তি নয়নাভিরাম।
نسا
৩৭
لا
শ্রীদাম সুদাম আদি যত বাল্য সখাগণ,
লয়ে চরাইতে ধেনু বৃন্দাবন উপবন,
প্রিয় বৎস গাভীগণ, হাম্বা রবে সম্বােধন,
নাহি করে আর তারা তাই বুঝি বীতরাগ,
ব্রজ ছাড়ি যুদ্ধস্থলে উপনীত মহাভাগ।
( ৬২ )
নব নব প্রেম উৎস নাহি বুঝি বনে বনে,
ভাল নাহি বাসে আর ব্রজের গােপীকাগণে,
যে তােমারে ভালবাসে, অশ্রু জলে সেই ভাসে,
অঘটন ঘটাইতে কে আছে তােমার মত,
অভিনব বেশ হেরি হইয়াছি আনন্দিত।
( ৬৩ )
অবতরি লীলাময় পৃথিবীর নাট্টালয়ে,
পূরিবে মনের সাধ করি নব অভিনয়ে,
কর ওই দরশন, কুরুক্ষেত্র রঙ্গাঙ্গণ,
রণ-মদমত্ত কত বীর বৃন্দ অগণিত,
রঞ্জিত নর শােণিতে ভীষণ রাক্ষস মত |
( ৬৪ )
ব্ৰজের মধুর রস অবহেলে পরিহরি,
বীভৎস রসাভিনয়ে প্রমত্ত হইলে হরি,
হও অভিনয়ে রত, ক্ষেত্র তার কালােচিত,
গৃধিনী শকুনি কাক শৃগাল দর্শকগণ,
মহাহিংসা পিশাচীর তুষিবে হৃদয় মন।
[
لا
( ৬৫ )
সুতী শায়কচয় তুণীর হইতে লয়ে,
নিক্ষেপিলা পিতামহ মহাশক্তি প্রকাশিয়ে,
পাণ্ডু সৈন্যে কোলাহল, রক্ত সিন্ধু রণস্থল,
হহরি চমকিত হয়ে বলে কৃষ্ণে ধনঞ্জয়,
বিলুন্ঠিত সৈন্য শির দৃষ্ট কর দয়াময় ।
মহা ক্রোধে সুদর্শনে করিলাম উপদেশ,
ত্বরিতে করহ গিয়ে ভীষ্মের জীবন শেষ,
ইচ্ছা মৃত্যু নিরূপণ, হয়েছিলাম বিস্মরণ,
ক্রোধ হতে প্রমােৎপত্তি ভ্রমেতে প্রমাদ হয়,
হেরিলে থাকে না জ্ঞান পাণ্ড, পক্ষে বলক্ষয় ।
( ৬৭ )
পুনরপি কুরুবীর বলিছে সহাস্যাননে,
কেমন চালিত রথ অশ্ব রশি আকর্ষণে,
অধঃ উৰ্দ্ধ চারি পাশে, প্রকৃত সারথী বেশে,
বঙ্কিম নয়নদ্বয় কি সুদৃশ্য অপরূপ,
নিরথি নয়নানন্দ ভুবন মােহনরূপ ।
( ৬৮ )
কটি বেড় পীতবাস উড়িছে পবন ভরে,
চঞ্চল কুন্তলদামে মরি কিবা শােভাধরে,
স্বেদ বিন্দু মনােরম, মুকুতার পাঁতি সম,
সাজিয়াছে চন্দ্রাননে মরি মরি কি সুন্দর,
বাসনা হয়েছে পূর্ণ ওহে শ্যাম নটবর।
[ ৩৯
]
সৌভাগ্য আকাশে আসি শ্যাম নবঘনােদয়,
চাতক শান্তনু সুত সুশীতল পেয়ে পয়,
এস এস নন্দলাল, দূরে আর কত কাল,
থাকিবে অধমে ছাড়ি বিলম্ব নাহিক আর,
হৃদিপদ্মে বইয়ে ত্যজিব এদেহ ভার।
( ৭০ )
লীলাময় হরি তুমি তব লীলা বােঝা ভার,
ঘুরাইলে ফিরাইলে ইচ্ছামত বার বার,
ভেঙ্গে দেও খেলাঘর, কৰ্ম্মে কর অবসর,
পাদ পদ্ম পূতরঙ্গ সম্বল করিয়ে দান,
প্রেরণ করহ দীনে যথা ছিল অবস্থান।
( ৭১ )
ভবসিন্ধু পারে আমি দাড়াইয়ে সকাতরে,
পর পারে কর পার বলিতেছি কর জোড়ে,
শান্তি নিকেতন পথে, তুলি পদ তরুণীতে,
যে পথের পথিক হলে আসিতে না হয় আর,
পায় ধরি সেই পথে লও ভব কর্ণধার ॥
( ৭২ )
শুনেছি বিনয় তব শুনিতে না চাহি আর,
তৃণাদপি তুচ্ছ রাজা দুর্যোধন কুলাঙ্গার,
মহা জ্ঞানবান হয়ে, কুরু পক্ষ সমর্থিয়ে,
অধৰ্ম্মের সহায়তা ধৰ্ম্ম শিরে পদার্পণ,
তােমারি মন্ত্রণা বলে কুরুক্ষেত্র মহারণ।
الا
৪ ০
السا
( ৭৩ )
কালান্তক যমােপম মহাধ্বংস অভিনয়ে,
নায়ক প্রধান হলে তুমি ভীষ্ম মহাক্ষয়ে,
তুমি নাহি দিলে বল, লভি কার বাহুবল,
অসীম সাহস করে মহারণে ব্রতী হয়,
বৃদ্ধকালে রণস্থলে দিলে ভাল পরিচয়।
( ৭৪ )
কি বলিলে শ্রীনিবাস এ উক্তি যে যুক্তি হীন,
যুদ্ধের কারণ আমি হয় কভু সমীচিন,
আত্ম সংগােপন করি, কত খেল লুকোচুরি,
কাষ্ঠ পুত্তলিকাবৎ কুহকে নাচাও সবে,
চক্রধারী এ চাতুরী গােপনে না রবে ভবে।
( ৭৫ )
দোষী কর দাসে তুমি তাতে কিছু ক্ষতি নাই,
চরণ সরােজরাজে এইমাত্র ভিক্ষা চাই,
চরণে চরণ দিয়ে, শ্রীরাধারে বামে লয়ে,
অঙ্গে অঙ্গ মিশাইয়ে হৃদি বংশী বট মূলে,
বাজাও মােহন বেণু, গমক মুচ্ছ না তুলে।
( ৭৬ )
তপন তনয়া শুনি ললিত বাঁশীর গান,
বহিবে উজান ধারা গগয়ে তব গুণ গান,
হাম্বা রবে গাভীগণ, আহারের অন্বেষণ,
ইতস্তত বিচরণ করিবে রাখাল সনে,
সুখী কি হবে না দাস এই চিত্র দরশনে ।
L-~-
৪ ১
لا
( ৭৭ )
ব্ৰজ ভাব মহা ভাব ঐ ভাব ভাল লাগে,
দর্শন পিপাসু দাস অভিনব অনুরাগে,
বাঞ্ছা কল্পতরু তুমি, অখিল ব্ৰহ্মাণ্ড স্বামী,
অন্তর্ষামি হয়ে কেন ছলনা করিছ এত,
জান না কি দয়াময় দীন তব পদাশ্রিত।
( ৭৮ )
ভক্তাধীন ভগবান ভক্তিমান ভীষ্ম তরে,
উপনীত হৃদাকাশে অভিস্পিত বেশ ধরে,
দ্বিভুজ মুরারি হেরি, খরতর শয়ােপরি,
শায়িত বীরাগ্রগণ্য আনন্দে অবশ কায়,
ভক্তি ডােরে না বাঁধিলে এ ধনে না বাঁধা যায় ।
( ৭৯ )
ভক্তের ভক্তিতে আমি ভক্ত ভার বহি শিরে,
দৈবকী উদরে জন্মি মাতা বলি যশােদারে,
নন্দ বাধা মাথে করি, গােচারণে সদা ফিরি,
কেবল ভক্তির খেলা ভিন্ন আর কিছু নয়,
কুরুক্ষেত্রে ব্রজলীলা কভু কি সম্ভব হয় ?
( ৮০ )
অসম্ভব যত কিছু সম্ভব আমাতে সব,
প্রহ্লাদে করিতে রক্ষা স্তম্ভেতে হই উদ্ভব,
ছিদ্র কুন্তে লয়ে বারি, প্রাণাধিকা রাসেশ্বরী,
এসেছিল গৃহে ফিরি কেবল ভক্তির বলে,
ভক্তি ভােরে নন্দরাণী বেঁধেছিল উদূখলে ৷
[ ৪২ ।
( ৮১ )
ভজ ধাতু ভাববাচ্যে প্রত্যয় করিলে ক্তি,
ভক্তি শব্দ নিস্পাদিত ব্যাকরণ সার উক্তি,
ভজধাতুর অর্থ সেবা, ( নহে ) দারাপুত্র গৃহ সেবা,
ভগবৎ সেবা ভিন্ন অন্য সেবা অর্থ নয়,
বিপরীত অর্থ মাত্র মুখতার পরিচয়।
( ৮২ )
বেদ ও শ্রুতির মত যজ্ঞার্থে পশু নিপাত,
এ দৃশ্য দর্শনে হৃদে হয় যেন বজ্রাঘাত,
সৰ্ব্ব ধর্ম সার মৰ্ম্ম, অহিংসা পরম ধৰ্ম্ম,
প্রচারিতে চরাচরে হই বুদ্ধ অবতার,
রূপান্তর হইলেও এক ভিন্ন নাহি আর।
( ৮৩)
জন্ম বট পত্র পরে ভেসেছি কারণ জলে,
নাহি ছিল মাতা পিতা মম প্রাক্তনের ফলে,
কাৰ্য্য সাধনের তরে, জন্মিলাম বহু ঘরে,
কত পিতা মাতা হল আত্মীয় স্বজনগণ,
পথিকে পথিকে যথা পথ মধ্যে আলাপন ।
( ৮৪ )
বৈকুণ্ঠে কমলাপতি অযযাধ্যায় রঘুরাম,
বৃন্দাবন লীলাকারী আমি সেই রাধাশ্যাম,
শঙ্কর শঙ্কর সম, ব্যাসদেব নারায়ণ,
বুদ্ধ ও গৌরাঙ্গ দেব যত কিছু অবতার,
মহাশক্তি অংশ হতে উৎপত্তি এ সবাকার।
৪৩
( ৮৫ )
কিঙ্করে করুণা করি কলুষনাশিনী কালি,
বিবৃত করিয়ে সব অতীত ঘটনাবলী,
রামকৃষ্ণ হৃদি হতে, অন্তর্ধান পলকেতে,
দেখিতে না পেয়ে মাকে বরিষণ অশ্রুজল,
কলিতে এরূপ কৃপা পূৰ্ব্বজন্ম কৰ্ম্মফল ।
( ৮৬ )
যদিও সুগন্ধি ফুল ফোটে পত্র অন্তরালে,
বিস্তারিত হয় গন্ধ পবন হিল্লোল বলে,
রামকৃষ্ণ তপােবল, প্রকাশিল ভূমণ্ডল,
তপঃ সিদ্ধ তাপসের দরশন অভিলাষে,
সাগর তরঙ্গ সম জীবস্রোত যায় আসে ।
( ৮৭ )
শিক্ষিত সুসভ্যগণ পরীক্ষা গ্রহণ তরে,
বেদ গীতা তন্ত্রাদির নানারূপ প্রশ্ন করে,
মীমাংসা গল্পের চ্ছলে, শুনি সবে কুতূহলে,
(বলে) এরূপ সিদ্ধান্ত আর শুনি নাই কোন দিন,
(ইনি) কলি পাবনাবতার ইহাতে সন্দেহ হীন।
( ৮৮ )
রামকৃষ্ণ জীবনের অদ্ভুত ঘটনাচয়,
উৰ্ব্বী পত্রে বীণাপাণি সতত লিখিতে রয়,
সুরতরু বড় শাখা, লিখনীতে যায় লিখা,
সিন্ধু নদ মস্তাধার এ সংযােগ যদি হয়,
তাহলে গুণানুবাদ হতে পারে সুনিশ্চয়।
শ্রীরামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ।
( ১ )
স্বামী বিবেকানন্দ দত্ত যে নরেন্দ্রনাথ,
অষ্টাদশ মহাশক্তি ফিরে যার সাথে সাথ,
বিদ্যা বুদ্ধি জ্ঞানে ধীর, সংসারেতে কর্মবীর,
শুভক্ষণে সম্মিলন হল রামকৃষ্ণ সনে,
অতুল আনন্দ লাভ করিলেন দুই জনে ।
রামকৃষ্ণ দেব সনে কথােপকথন তার,
উভয়েতে জানাজানি অন্যে কি জানিবে তার,
জ্ঞান-সূৰ্য্য প্রতিভায়, উদ্ভাষিত হল কায়,
কঠিন বেদার্থ সব তরল জলের মত,
বিবেকানন্দের মুখে বহির্গত অবিরত।
অপরূপ ভাবাবেশ বিবেকানন্দের মনে,
বিষয় বাসনা ত্যজি মাতিল অনন্ত প্রেমে,
আৰ্য্য ধৰ্ম্ম সার মৰ্ম্ম, জগতে প্রচার কৰ্ম্ম,
এ ভিন্ন অবনীতলে কিছুই কর্তব্য নাই,
বিতরিব এই মন্ত্র যখন যেখানে যাই।
( ৪ )
বিবেকানন্দের দেহ নব বলে বলীয়ান,
বাবাদিনী বীণাপাণি সদা কণ্ঠে অধিষ্ঠান,
পূর্ণ ব্রহ্মচর্য্য বেশ, দেখিলেই হ আবেশ,
মরি মরি কি সুন্দর নয়নরঞ্জন রূপ,
কটাক্ষে বিবেক বলে ত্যজিল বিষয় কুপ ।
[ ৪৫
৪৫]
(এরূপ) ত্যাগের আদর্শ জীব পৃথিবীতে মেলা ভার,
ভাতিল ভাস্বর ভাতি যশঃ কীৰ্ত্তি মহিমার,
ধৰ্ম্মের বিপ্লব দিনে, বেদান্তের ভাষ্য শুনে,
বঙ্গবাসী বিমােহিত বাল বৃদ্ধ বনিতায়,
স্বনাম পুরুষ ধন্য আত্ম দৃপ্ত প্রতিভায়
বাজিল বিজয় ডঙ্কা উন্নত ভারত ভূমে,
আহলাদে উৎফুল্ল সবে বিবেক আনন্দ নামে,
স্বামীর বক্তৃতা শুনে, আনন্দ পাইবে মনে,
যে সিদ্ধান্ত কোন দিন পশে নাই কর্ণ মুলে,
অনায়াসে লব্ধ তাহা স্বামীজির কৃপা বলে ।
স্বামীর অব্যর্থ বাক্য সংক্ষেপ আভাষ তার,
সৰ্ব্ব দেবময় এক ব্যাপিত এ ত্রিসংসার,
ফুল্ল পারিজাত ফুলে, কিম্বা তার পরিমলে,
গুঞ্জরিত অলিকুলে শশী শুভ্র হাসিতে,
মলয়া অচলবাসী মৃদু মন্দ মারুতে।
( ৮ )
নদী নদ সবােবর দীর্ঘিকা বা পারাবার,
তুষার মণ্ডিত শুভ্র অভ্রভেদী চুড়া যার,
ফেণময়ী নিঝরিণী, নব তান তরঙ্গিনী,
প্রতিধ্বনি প্রতিহত গিরি গুহ সমুদয়,
শাখী শাখে সমাসীন সুস্বর পতত্রি চয়।
[
৪৬ ]
)
শূন্যমার্গে স্বর্গে কিম্বা ভূগর্ভে কি রসাতলে,
বনে প্রস্রবনে শব্দে আলােতে কি দাবানলে,
পােতে পথে ঘাটে মাঠে, জপে তপে যােগী মঠে,
সরলে অথবা শঠে পটে বা প্রান্তর মাঝে,
গয়া কাশী তীর্থ ক্ষেত্র সুপবিত্র ব্রজ-রজে ।
( ১০ )
সাংখ্য পাতঞ্জল আর মীমাংসাদি দরশন,
বেদগীতা ভাগবত তন্ত্র সার অধ্যয়ন,
করি জীব বহু পথে, উপাসনা নানা মতে,
সাকার ভাবিবে কেহ কেহ ব্ৰহ্ম নিরাকার,
বেগবতী নদী যথা মিশে গিয়ে পারাবার।
বর্ণিতে বিবর্ণ বর্ণ স্বামীজীর উপদেশ,
লিপিবদ্ধ হইয়াছে নাহি কিছু অবশেষ,
ঘুচে গেল মন ভ্রান্তি, পাইল সকলে শান্তি,
বুঝিল ধর্মের মর্ম কোন পথ পরিষ্কার,
সন্তোষ বিবেকানন্দ অপনীত শির ভার।
( ১২ )
পরে পারাবার পারে প্রস্থান করিল ধীর,
আমেরিকা মহাদেশ এক প্রান্তে পয়ােধির,
বিজ্ঞানের শীর্ষ স্থান, ধনী দীন কি বিদ্বান,
সকলেই সমভাবে বিদ্যা আলােচনা করে,
এরূপ দেশেতে মূৰ্থ কভু কি থাকিতে পারে।
[
৪৭
চারিদিকে পরিব্যাপ্ত সুনীল জলধি জল,
তদূৰ্দ্ধেতে দৃশ্য মাত্র নিরমল নভঃস্থল,
গ্রহ উপগ্রহ যত, ভ্রমিতেছে অবিরত,
বিচিত্র কুসুমােদ্যান পরিপূর্ণ ফলফুলে,
শ্রেণীবদ্ধ অট্টালিকা নির্মিত কৌশল জালে ।
( ১৪ )
এ হেন উন্নত দেশে ধর্ম প্রচারিতে গেলে,
হাস্যাস্পদ হতে হবে এ দুঃখ যাবে না মলে,
এ চিন্তা যদিও মনে, কিন্তু তাহা সঙ্গোপনে,
হৃদয়ে পােষণ করি অসীম সাহস করে,
লাঞ্ছনাও শ্লাঘনীয় স্বকাৰ্য্য সাধন তরে।
রামকৃষ্ণ কৃপাপাত্র নব বলে বলীয়ান,
কার সাধ্য বাকযুদ্ধে করে তার অপমান,
ওজস্বিনী বক্তৃতায়, মন্ত্রমুগ্ধ অহীপ্রায়,
স্তম্ভিত সুসভ্যগণ বাক্শক্তি বিরহিত,
পরস্পর বাক্যব্যয় (এযে ) কল্পনার বিপরীত।
বিবেক বৈরাগ্য গুণে অচল অটল বীর,
তর্কযুদ্ধে অগ্রগণ্য সদা সমুন্নত শির,
সুপ্রসন্ন সদা হাসি, হেরে আমেরিকাবাসী,
ভক্তিভাবে অবনত অপূৰ্ব্ব মহিমা বলে,
হেন লীলা এ প্রদেশে হয় নাই কোন কালে।
বিবেকোল্লাস।
( ১ )
ইউরােপের নানা দেশ করি পরে পর্যটন,
ভারতের কৃতিরত্ন ভারতেতে পদার্পণ,
সমস্ত স্বদেশবাসী, বিশেষ আগ্রহে আসি,
অভ্যর্থনা সমাদর যত দূর হতে পারে,
করেছিল সবে মিলি স্বামীজী সম্মান তরে।
( ২ )
বাঙ্গালী বিবেকানন্দ ভারতের মুখোেল,
গুণ গরীমায় যিনি সুবিখ্যাত ভূমণ্ডল,
তঁার অভ্যর্থনা তরে, আয়ােজন প্রতি ঘরে,
যেরূপেতে হয়েছিল কিঞ্চিৎ বৰ্ণন তার,
নিম্নে প্রকটিত হল সমিতি সংক্ষিপ্ত সার।
( ৩ )
কল্যাণদায়িনী,
জননী মােদের,
এখনও নীরবে কেন মা বসে,
এস ত্বরা করি,
বরিতে সাদরে,
সুসন্তান তব এসেছে দেশে,
শুন মন দিয়া,
ভারত নিবাসী,
গাইতেছে সবে আপন মনে,
বিবেকানন্দের,
বিজয় মহিমা,
উঠেছে উন্নত গগন পানে,
الا ]। জলধি কানন, পৰ্বত কন্দর, জ্ঞান গরিমার প্রতিভা প্রভা; প্রতাপ কিরণ, দিগ দিগন্তরে, সুযশঃ দীপ্ত মহিমা আভা, কাঞ্চন নিৰ্ম্মিত, পাত্রেতে যতনে, ব্রীহি দুৰ্ব্বাঙ্কুর সুগন্ধি ফুল, প্রসূন মালিকা, সুশ্বেত চন্দন, যাহাতে প্রসন্ন দেবতা কুল, বরণ কর মা, বিবেকানন্দে, সস্নেহ সােহাগ কোমল করে, আশীর্বাদ করি, তুলি লও কোলে, বহুদিন পরে এসেছে ফিরে। গৌরব পদক, শােভে গলদেশে, উজ্জ্বল মহিমায় উন্নত শির, কৰ্তব্য কবচে, দেহ সুরক্ষিত, জ্ঞান-অসি হস্তে শােভিত বীর, কীৰ্ত্তি মুক্তামালা, কণ্ঠে বিলম্বিত, অসীম সাহস শিরে শিরস্ত্রাণ, সম দম দুই, কর্ণ আভরণ, হেরে হরষিত ভারত প্রাণ, ৪ [ } সততা গরীমা, মহিমা মণ্ডিত, ধৰ্ম্ম উপদেশে বিজয়ী বীর, অপার করুণা, স্নেহময় হৃদি, শান্তি সুধাসিন্ধু শান্ত সুধীর, বক্ততা প্রাঙ্গণে, প্রদীপ্ত ভাস্কর, বদনে ফুরিত স্থির চিত্ত বল, তর্ক-সিন্ধু মাঝে, হলে নিমজ্জিত, নহে বিচলিত অচল অটল, বিলঘি ভারত, অনন্ত জলধি, বহুদূর ব্যাপী প্রসারি নাম, কঠোর যাতনা, সহি দিবানিশি, হইয়াছে এবে সফল কাম। অমর রাঞ্ছিত, প্রসূন নিচয়ে, গ্রথিত মালিকা ব্যতীত আর, নাহি হেন ধন, দুর্ভাগ্য ভারতে, গুণ গরীমার যােগ্য উপহার, জাহ্নবী জীবনে, বিধৌত মালিকা, প্রেম অশ্রুসহ শােভিলে গলে, কখনই তাহা, হইবে না স্নান, সজীব রহিবে স্মৃতি হিল্লোলে, [ ৫১ ] ধৰ্ম্ম সমীরণ, সঞ্চালিবে ধীরে, বিতরিবে সদা যশেরি বাস, সে সুবাস পেয়ে, জগৎ নিবাসী, স্বেচ্ছায় ছাড়িবে স্বগৃহ বাস, বরিত যতনে, যতনের ধন, জগত জননীর মৃণাল ভুজে, বহু গুণধার, বিবেকানন্দ, বিরাজিছে আজি নবীন সাজে, ধরে না আনন্দ, ভারত ভূমেতে, পাইল ভারত নব জীবন, অভিনব ভাব, সবারি হৃদয়ে, বহিল শান্তি সুখ সমীরণ, যাহার যতনে চরম উন্নতি, সমগ্র ভারতম, কালের কবলে হয়ে কবলিত, নবভূমে তার উদয়, যাও সগৌরবে, নাহি কোন ভয়, হউক নূতন দেশ, স্মরি তব গুণ, গ্রহণিবে সবে, নাহি তথা দ্বেষা দ্বেষ,
لا
অমর নিচয়,
সম্ভাষণ তরে,
সুগন্ধি কুসুম মালা,
লয়ে দাড়াইয়ে, স্বর্গের সােপানে,
সহ সব দেব বালা,
রম্ভাতরু তলে,
পূর্ণ হেমঘট,
পূত মন্দাকিনী ভরি,
উর্বশী মেনকা,
রম্ভা তিলােত্তমা,
বিদ্যাধরি আদি করি,
বহু আয়ােজনে,
তুষিবে অমরে,
কি ভয় তােমার আর,
এহেন সম্ভোগ,
ভাগ্যবান বিনে,
নাহি ঘটে সবাকার।
রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ তত্ত্ব
ধৰ্ম্ম সংস্থাপিতে যবে ধরাপরে আগমন,
দ্বিভাগে বিভক্ত হয়ে জন্ম লন নারায়ণ
শুদ্ধ সত্ত্ব এক জন, অন্যে রজ অনুপম,
এরূপ ব্যবস্থা বিধি দৃষ্ট-যুগ চতুষ্টয়,
স্থির চিত্তে আলােচনা ফলে হয় পরিচয়।
( ২ )
শুদ্ধসত্ত্বে রামকৃষ্ণ রজাংশে নরেন্দ্রনাথ,
সামঞ্জস্য উভয়েতে যদি হয় দৃষ্টিপাত,
রামকৃষ্ণ-সত্ত্বময়, দরশনে পরিচয়,
বিবেকানন্দের কাৰ্য্য প্রথিত ধরণী পরে,
চিন্তা করি দেখ কথা সত্যতা প্রমাণ তরে
শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের
শ্রীবৃন্দাবন দর্শন
( ১ )
রাধা রাসেশ্বরী রাস বিলাসিনী,
আশীষ করিতে এসগাে সাদরে,
রামকৃষ্ণ দেব যুগ অবতার,
দরশন তরে দাড়িয়ে দুয়ারে।
সাজ ফুল সাজে অপূৰ্ব্ব শােভাতে,
সাজায় যেরূপ সখিগণ মিলি,
মল্লিকা মালতি যুথী বকুলেতে,
টগর চম্পক কুসুম শেফালি,
( ৩ )
কর উপদেশ চম্পক লতায়,
বাছিয়া তুলিতে আঁচিলে ফুল,
সঙ্গে লয়ে সব ব্রজ গােপীকায়,
শ্যাম লাগি যারা ছেড়েছে কুল ॥
( ৪ )
দয়া দাক্ষিণ্যের প্রসূন রাজীতে,
প্রেম ভক্তি ডােরে গাঁথা ও মালিকা,
শেভিলে সে হার রামকৃষ্ণ গলে,
হবে যশােরাশি জগত ব্যাপিকা,
.
(
যমুনা-জীবনে স্বর্ণ কুম্ভ ভরি,
লয়েছিলে যবে কলঙ্ক ভঞ্জনে,
ললিতা বিশখা লয়ে সহচরি,
পূর্ণ কুম্ভ কর পবিত্র জীবনে,
পূতবারি যােগে অভিষেক করি,
কর আশীর্বাদ বাঞ্ছা পূর্ণ হয়,
যে জন্য জনম লভিয়াছে তিনি,
সৰ্ব্বথা প্রকারে হয় নিরাময়,
( ৭ )
কিঙ্কিণী ঝঙ্কার গগণ ব্যাপিয়া,
মারুতে মিশিয়া ধায় চারিদিকে,
ভূষণ প্রভায় তমঃ বিনাশিয়া,
উজলিল ব্রজ মধুর আলােকে,
( ৮ )
দয়াবতী সতী শ্যাম সােহাগিনী,
আর কি নীরবে থাকিতে পারে,
উঠিলেন ত্যজি সুখ ফুলাসন,
আশিসিতে প্রিয় তাপস-প্রবরে ॥
( ৯ )
কুজিত নিকুঞ্জ মধুপ ঝঙ্কারে,
হেরিয়ে মােহিনী মূরতি পানি,
শারী শুক সব বসি শাখাপরে,
অমিয় ধারায় ভাষায় মেদিনী,
L।
]
( ১০ )
জাগি শ্যামরায় এহেন সময়,
ললিত অধরে মধুর হাসি,
বলে আজি কেন চঞ্চল হৃদয়,
আনন্দে ভাসিছে বদন শশী,
( ১১ )
কিনা জান নাথ কেন এ ছলনা,
রামকৃষ্ণ দেব পূর্ণ অবতার,
জ্ঞানের আদর্শ এসেছে দেখনা
ভক্তিমাখা তনু মেহের আগার ।
( ১২ )
যে ভাবে তােমায় ভাব না। তাহায়,
হেরিলাম হরি জনম ভরে,
দিনান্তে যে জন করেনা স্মরণ,
ভাব দিবানিশি তাহারি তরে,
( ১৩ )
ভক্তের অধীন তুমি চিরদিন,
বেদোক্তি সত্যতা প্রমাণ করিতে,
যুগল হইয়ে দিয়ে দরশন,
ভাসাইব আজি সুখের স্রোতেতে,
( ১৪
সাজিল প্রকৃতি মােহন বেশে,
রাই রঙ্গিনীর বাসনা পূরিতে,
শারদী চন্দ্রমা সুনীল আকাশে,
বিতরে কিরণ তমঃ বিনাশিতে,
[ ৫৭ ]
গায় শুক শারী দয়েল পাপিয়া,
শিখি কেকারবে বন মুখরিত,
পিক্ কুহুরবে ঢালিছে অমিয়া,
বনরাজী আজি নব মঞ্জুরিত,
পূরি পূত বারি সুবর্ণ গাগরি,
খঞ্জন গমনে লয়ে গােপীকায়,
কুসুম কেশরে পূর্ণ ব্রজপুরী,
তমালে কোকিল ললিত গায়,
( ১৭ )
মঞ্জরিত হল মঞ্জু কুঞ্জবন,
গুঞ্জরিল অলি কুসুম আসনে,
কিঙ্কিণী ঝঙ্কার উঠিল গগনে,
মােহন বাঁশরী বাজিল সুতানে,
( ১৮ )
রামকৃষ্ণ অবতারে,
তুষিতে পরমাদরে,
ব্রজেশ্বরী শ্রীমতির আশিয়ােজন,
এ সংবাদ স্বর্গে নীত সহ সমীরণ,
(১৯)
বৃষভভতে ভূতপতি,
ব্ৰহ্মার মরালে গতি,
শচীপতি আগমন প্রমন্তু বারণে,
আর যত সুরগণ স্বাগত স্তনে,
[ ৫৮ ] ( ২০ ) উর্বশী কিন্নরীগণে সাজি ফুল আভরণে, মন্দার কুসুমে গাঁথি মালা সুচিকণ, সমাগত বৃন্দাবনে সহ দেবগণ। ভুলে নন্দন বন, সম এই বৃন্দাবন, মহাপূণ্য তীর্থ ক্ষেত্র জ্ঞানীশ্রেষ্ঠ নরে, সষতনে দেবগণ অভিষেক করে, ( ২২ ) গলে দোলাইয়া মালা, যত সব দেব বালা, মঙ্গল আরতি করে পূত ধৃতরসে, জয়রাধা গােবিন্দ ধ্বনি বহিছে বাতাসে। ( ২৩ ) বাদিত্র বাদিত ঘন, শিরে পুষ্প বরিষণ, আনন্দ হিল্লোলে পূর্ণ হল বৃন্দাবন, স্বপ্নাতীত দৃশ্য এই অদ্ভুত দর্শন। ( ২৪ ) ধান্য দুৰ্ব্বা করে করি, শুভাশীৰ্ব্বচন পড়ি, স্বস্তৃিক সহিত সবে করে সমর্পণ, যে জন্য জনম তব হােক্ সম্পাদ। ( ২৫ ) বিশেষ সুকৃতি বলে, জন্ম লভি ধরাতলে, কীৰ্ত্তি রাজ্যে চিরদিন থাকিবে অমর, ধৰ্ম্ম ক্ষেত্রে জয়ী হবে সম্মুখ সমর।
৫৯ ]
( ২৬ )
অমৃতের ধারাসম,
উপদেশ সর্বোত্তম,
অজস্র বর্ষণ করি পুলক অন্তরে,
স্বস্থানে প্রস্থান সব দেবগণ করে।
শ্রীবৃন্দাবনধামে শ্রীরামকৃষ্ণ সেবাশ্রম দর্শনে ;
(১)
পুণ্যপ্রদ বৃন্দাবনে,
রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমে,
পর উপকার ব্ৰত যেরূপে নিৰ্বাহ হয়,
নিম্নে শুভ দৃষ্টিপাতে পাইবেন পরিচয়।
( ২ )
শ্ৰযমুনা প্রবাহিনী,
করি কুল কুল ধ্বনি
দিবা নিশি ভেদ নাই চলেছে মথুরা পানে,
কালা বাবু কুঞ্জ নাম তার তীর সন্নিধানে।
( ৩ )
রামকৃষ্ণ বসু নাম,
সদাশয় গুণধাম,
উচ্চ শিক্ষা প্রাপ্ত হয়ে সাধুভাবে দিন ক্ষম,
হেরি তার ব্যবহার পাষাণও গলিত হয় ।
( ৪ )
পৈত্রিক সম্পত্তি তার, কুঞ্জ অতি চমৎকার,
উপলে গঠিত সৌধ অত্যন্ত বিস্তৃত স্থান,
তার এক অংশে এই সেবাশ্রম বিদ্যমান।
শ্রীহরেন্দ্র ব্রহ্মচারী,
অনারারি সেক্রেটরী,
যাহার বহুল শ্রমে আশ্রমের কাৰ্য্য সব,
নিৰ্বাহিত হয় বলে সেবাশ্রমের এ গৌরব।
আশ্রয় বিহীন যারা, রােগেতে হইয়ে সারা,
বৃক্ষতলে পথ পার্শ্বে সতত পড়িয়ে রয়,
তমাত্র সযতনে মূহুর্তে আনীত হয়,
[ ৩১ ] ( ৭ ) সেবাশ্রম কর্মীগণ, সেবা কাৰ্য্যে প্রাণপণ, করিতেছে সময়ের অতি সৎব্যবহার, ধন্য ধন্য সেবাশ্রম ধন্য তার ওয়ার্কার, ( ৮ ) শীতাতপ ঝড় জল, উপেক্ষিত এ সকল, কলেরা বসন্ত রােগী স্ট্রেচারেতে আনয়ন, আছে কি এ ধরাতলে এ কৰ্তব্য পরায়ণ ? দরিদ্রের সেবা ধৰ্ম্ম, এরূপ উৎকৃষ্ট কৰ্ম্ম, ভদ্রবংশােদ্ভব সবে করিতেছে অনিবার, আশ্রমেতে নাস্তি প্রথা রােগীর জাতি বিচার ( ১০) দুর্গন্ধ পুরীষে মাখা, জীর্ণাবাসে বপু ঢাকা, বিগলিত দেহখানি দেখিতেই ভয়ঙ্কর, কার সাধ্য নিকটেতে হতে পারে অগ্রসর, (১১ ) আশ্রম সেবকগণ হেন রােগী আনয়ন, করিয়াছে করিতেছে কে করে গণনা তার, জগতে ইহাকে বলে নিঃস্বার্থ পরােপকার, ( ১২ ) সূৰ্য না উদিত হতে, সেবাশ্রম জনস্রোতে, রােগীগণ আর্তনাদে শ্রবণ বধির হয়, শুধু রব প্রাণ গেল দয়া কর দয়াময় ।
[ ৬২ ]
( ১৩ )
কৃষ্ণানন্দ ব্রহ্মচারী, কিবা দিবা বিভাবরী,
সমভাবে আশ্রমের সৰ্ব্ব কার্য সম্পাদন,
সেবা কাৰ্য মধ্যে ইনি অতিশয় বিচক্ষণ,
( ১৪ )
দেশ দেশান্তর হতে,
রামকৃষ্ণ আশ্রমেতে,
চিকিৎসিত হইবার তরে আসে কতশত,
বিবৃত করিতে তাহা লেখনীর সাধ্যাতীত,
সম্রান্ত শিক্ষিতগণ,
বৃন্দাবন আগমন,
করা মাত্র সেবাশ্রম কাৰ্য্য দেখিবার তরে,
উপনীত হন সবে অত্যন্ত আগ্রহ ভরে,
সেবার বিধান দেখি,
হইয়ে অত্যন্ত সুখী,
বিচার করিয়ে তারা লিপিবদ্ধ সবে করে,
বাষিক রিপাের্ট তাহা প্রকাশিত হয় পরে,
( ১৭ )
সৎকার্যের সমাদর,
হয়ে থাকে নিরন্তর,
প্রজ্জ্বলিত বহি কভু কাপড়ে না ঢাকা যায়,
নিভৃতে ফুটিলে ফুল বিতরে সুগন্ধ বায়।
( ১৮ )
ভারত সন্তানগণ,
যথা যােগ্য কাৰ্য্যে ধন,
দান করিতেছে তাই চলেছে উত্তমভাবে,
দাতাগণ দীর্ঘজীবী হবেন নশ্বর ভবে
[ ৬৩ ৬৩ ] ) আশ্রম নির্মিত তরে, সেক্রেটরি চেষ্টা করে, হয়েছেন কৃতকাৰ্য্য ব্রহ্মচারী মহাশয়, তটিনীর তটোপরে সেবাশ্রম সুনির্ণয়, २० পরিপূর্ণ ফল ফুলে, শাখী শাখে কুতূহলে, মনােরম নবাশ্রমে বিবিধ বিহঙ্গ গান, ( শুনে) মনুষ্য দূরের কথা মুগ্ধ হয় মুনি প্রাণ, ( ২১ ২১ ) কেকারবে শিখিগণ, ইতস্তত বিচরণ, সুন্দর চিত্রিত পক্ষ করি সবে প্রসারণ, নৃত্য করে ইচ্ছামত দৃশ্য অতি মনােরম, পূৰ্ব্বেতে যমুনা নদী, বহিতেছে নিরবধি, পরপারে গ্রাম নাই সুদূর বিস্তৃত বন, প্রবাহিত অনায়াসে স্বাস্থ্যপ্রদ সমীরণ, ( ২৩ ২৩ ) কৃপাকরি ভগবান, দিয়াছে উত্তম স্থান, সেবাশ্রম অনুরূপ সন্দেহ নাহিক তাতে, রােগী রােগমুক্ত হবে জলবায়ু সেবনেতে। ২৪ ) দেশ হিতকর ব্রত, ( হবে) এ আশ্রমে অবিরত, নির্মিত হইবে যােগীর উপযুক্ত বাসস্থান, শুভযােগ উপস্থিত দরিদ্রের তরে দান,
[ ৬৪
لسا
( ২৫
অখণ্ড ব্রহ্মাণ্ড তুলে,
সবে একবাক্যে বলে,
কীৰ্ত্তিযস্ত সজীবতি সৰ্ববাদী সনমত,
সুসময় এসময় ক্ষেত্র তার উপস্থিত,
সুপবিত্ৰ ব্ৰজরজে,
দেশ হিতকর কাজে,
অর্জিত অর্থের ব্যয় ব্যয় মধ্যে সর্বোত্তম,
উপযুক্ত স্থানতার রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম,
( ২৭ )
হৃদয় ত্রিদিবে যদি,
দয়া মন্দাকিনী নদী,
অবিরল প্রবাহেতে করে স্নেহ বারিদান,
আশ্রম পঙ্কজ তায় কভু না হইবে ম্লান।
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের জন্মােৎসব উপলক্ষে। এস এস ভাই বেলুড়েতে যাই, জনম সফল করিবে যদি, অপূর্ব দর্শন দৃশ্য মনােরম, স্মরণ থাকিবে জনমাবধি, পতিত পাবনী ত্রিপথ গামিনী, ত্রৈলােক্যরিণী তটিনী তীরে, ব্যাপী বহুস্থান রম্য পুস্পােদ্যান, বিমল আনন্দ পাইবে হেরে, শুনি কোলাহল, বিদ্যাবুদ্ধি বল, ক্রমশঃ অচল হইয়ে পড়ে, জনস্রোত দেখি স্থির হবে আঁখি, হইবে বাসনা যেতে ঘরে ফিরে, রামকৃষ্ণোৎসবে কত যে আসিবে, উৎসবে মাতিবে আবেগ ভরে, বর্ণন তাহার করে সাধ্য কার, চল ত্বরাকরি প্রবেশ দ্বারে, হয়ে উপনীত, হেরে হরষিত, রামকৃষ্ণ স্মৃতি উদিত মনে, খুলে গেল প্রাণ, মান অভিমান, দুরে দুরীভূত ভাবের গুণে, [. ] নাহি হিংসা দ্বেষ, ভ্রাতৃ নিৰ্বিশেষ, অমিয় ভাবের উজল ধারা, অমর ভবন, শান্তি নিকেতন, হহরে হইলাম আপন হারা, মঠাধ্যক্ষ যিনি ব্রাহ্মানন্দ স্বামী, পূর্ণজ্ঞানালােকে ভূষিতকায়, তনু মনােরম, জ্যোতি অনুপম, নতশিরে সবে নমিছে পায় ; পূর্ণব্রহ্ম জ্যোতি মধুর মুরতি, ধরে অধরে আনন্দ তঁার, নয়ন ফিরাতে নাহি চাহে চিতে, শান্ত স্বভাব রহিত বিকার, সেক্রেটারী ভার, হস্তে আছে ধার, হেরি ব্যবহার পাষাণ গলে, একই আধারে বহুগুণ ধরে, সুবিরল অতি ধরণীতলে • হয় অনুমান, ধন জন মান, সম্রম কামনা শরীরে নাই। বিষয় বাসনা, রিপুর তাড়না, বিবেক বহ্নিতে হয়েছে ছাই ; মান-মন্দির যেন স্বচ্ছ নীয়, আবর্জনা শূন্য সুখ সদন, [ ৬৭ ] অনুরাগাসনে স্থাপিত যতনে জগত আরাধ্য জগজীবন। প্রেম পুস্পাঞ্জলি, অঞ্জলি অঞ্জলি, চরণ রাজিবে করি অর্পণ ; শান্তি সরঃ তীরে আনন্দ অন্তরে ; দিবস যামিনী করে যাপন ; ; জন্মার্জিত ; ছিল পুণ্য কত ; সজ্জন হিল্লোল লাগিল গায় ; এরূপ করুণা ; করিতে ভুল না ; পরমেশ তব মিনতি পায় ; এ দৃশ্য দেখিতে ; পশিল কর্ণেতে, করুণাময়ীর মহিমা গান গিয়ে সেইখানে ; বসি ধরাসনে ; শুনিয়ে মােহিত হইল প্রাণ । রাগ রাগিণীতে তান সুসঙ্গতে; বীণা বিনিন্দিত মধুর স্বর ; প্রবণ যুগলে ; বারেক পশিলে ; ভুলে যেতে হয় আপন ঘর ; রচনা কৌশল ; এতই সরল ; বিদ্যাবিহীনেও বুঝিতে পারে। সঙ্গীত ললিত পীযুষ পুরিত ; মেতে উঠে প্রাণ ভাবের ঘােরে ; ;
[ ৬৮
.]
রচিত যাহার ;
অমৃতের ধার ;
কলুষনাশিনী কালিকা গীতি,
হয়েছে সেজন;
সফল জীবন,
নাহি ভবে তার শমন ভীতি
;
যখনি যা দেখি ;
সুন্দর নিরখি
বিষাদের ছায়া বেলুড়ে নাই ;
ধন্য শান্তিধাম,
রামকৃষ্ণ নাম,
অন্তিম সময়ে বলিতে পাই।
(সংশােধিত হইবার পর সন্নিবেশিত )
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ মিশন।
জাহুবী-জীবন তটে, বিখ্যাত বেলুড় মঠে,
উপনীত হওয়া মাত্র খােলে মন প্রাণ ;
বলিতে কি পারে কেহ ইহার সন্ধান।
( ২ )
কেন হয় ভাবাবেশ,
চিন্তা না হয় শেষ,
দারা পুত্র স্নেহ মায়া সব ভুলে যাই,
সুধু পবিত্রতা ভরা দেখিবারে পাই,
সংসার সঙ্কটে থাকি, এ দৃশ্য না দেখে আঁখি,
ভীষণ তমসাচ্ছন্ন মাত্র চারিদিকে,
চিন্তা-জ্বরে জীর্ণ তনু মগ্ন রােগে শশাকে।
( 8 )
কি শক্তি আছে এমন,
তার এত পরাক্রম,
নিমিষে বিকাশে জ্যোতিঃ হৃদয়-গগণে,
চির সুখ শান্তি পায় মানব জীবনে।
( ৫ )
কত রম্য উপবন,
দেখিয়াছে এ নয়ন,
দিগন্ত বিস্তৃত কত সুখের নিদান,
তৃপ্তি লাভ তাতে কেন করে নাই প্রাণ।
রে প্রমত্ত মম মন,
বৃথা কর অন্বেষণ
মহাভাব আবির্ভাবের বিশিষ্ট কারণ,
রামকৃষ্ণ ব্রহ্মরূপ করেছ দর্শন।
| [ ৭০
]
( ৭ )
তাহারি মহিমা বলে,
আনন্দ অম্বুধি জলে
সুখ সন্তরণে শান্তি পেয়েছ অপার,
রামকৃষ্ণ বিনে আর এ মহিমা কার।
( 8 )
পরংব্ৰহ্ম পরাৎপর,
প্রেম পূর্ণ কলেবর,
জ্ঞানার্থকে জ্ঞান আর ভক্তে ভক্তি দান,
মােক্ষার্থীকে দেন মােক্ষ আৰ্ত্তে পরিত্রাণ।
কেনরে উদাস মনে,
মে ভ্ৰম নানা স্থানে,
চরণ সরােজে কর আত্মসমর্পণ,
অগতির গতি তিনি অনাথ-শরণ,
বাসনাকে উপহার,
দিয়ে কর নমস্কার,
সত্য তত্ত্ব জ্ঞান দাও কর এ প্রার্থনা,
যাতায়াত হবে রােধ পূরিবে বাসনা,
রামকৃষ্ণ কৃপা-বল,
লভ যদি এ সম্বল,
দূরারােহ হিমাচল লঙ্ঘনে কি ভয়,
ভেলাতে সাগর পার অসম্ভব নয়,
( ১২ )
অগতির গতি জন্য ;
স্বনাম পুরুষ ধন্য,
স্বামী বিবেকানন্দের ইচ্ছা অনুসারে,
কাৰ্যে পরিণত তাহা বিবিধ প্রকারে,
[ ৭১
لسما
(১৩)
কার্য্যের প্রভাব যদি,
চিন্তা কর নিরবধি,
সভ্য জগতের মধ্যে আদর্শ প্রধান,
মনুষ্যত্ব লভিবার উপযুক্ত স্থান,
| ১৪ )
দুর্ভিক্ষের প্রকোপেতে, যে দেশ উৎস পথে,
অগ্রসর হইয়াছে হাহাকার রব,
শ্ৰত মাত্র উপনীত ওয়ার্কার সব,
আর্থ-অস্ত্র বল মাত্র,
অভাবে ভিক্ষার পাত্র ;
এ বল সম্বল করি হন অগ্রসর,
দুর্ভিক্ষ পিশাচী সনে রণ ভয়ঙ্কর।
( ১৬ )
অন্নদানে প্রাণীগণে,
রক্ষা করি সযতনে,
অনশন দুঃখ রূপ পিশাচী সংহার,
সংবাদ পত্রেতে তাহা সর্বত্র প্রচার,
( ১৭ )
বলীয়ান ধৰ্ম্মবল,
আছে যার এ সম্বল,
করাল কবলে বল কি ভয় তাহার,
প্রাণ দিয়ে করে যারা পর-উপকার,
( ১৮)
জনপদ প্লাবনেতে,
ভাসে জীব শতে শতে,
বিষম দুর্গতি হ’তে করিছে উদ্ধার,
দামােদর নদ বন্যা প্রমাণ তাহার,
[ ২ ]
( ১৯ )
দেশের বিপদ পাতে,
তজ্জন্য জীবন দিতে,
জয় রামকৃষ্ণ বলে অগ্রসর হয়,
ভাষা নাহি পারে তার দিতে পরিচয়,
( ২০ )
যাদের জীবন ব্রত,
কাৰ্য দেশ হিত রত,
জীব জগতের মধ্যে এরূপে জীবন,
কর্তব্যের অনুরােধে করে কি অর্পণ ?
( ২১ )
সেই ধন্য নরকুলে,
লােকে যারে নাহি ভুলে,
মানস-মন্দিরে পূজা করে অনুক্ষণ,
সফল জনম তার সার্থক জীবন।
( ২২ )
ভৰ ধব তব পায়,
দীনাধম ভিক্ষা চায়,
রামকৃষ্ণ দত্ত মন্ত্র পর-উপকার,
হৃদয়-হৃদয়ে যেন জাগে অনিবার।
( সংশােধিত হইবার পরে সন্নিবেশিত )
সমাপ্ত।
目。 '.
কলিকাতা
২০১নং বহুবালার ঐট, চেরি প্রেস লিমিটেড,
তুলসীচরণ দাস দ্বারা মুদ্রিত।
১৩২৩
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.