Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Karnananda
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
কর্ণানন্দ।
যদুনন্দনদাস বিরচিত।
।
রামনারাযণবিদ্যারত্ন কক
এপ কাশিত।
মুর্শিদাবাদ,
বহরমপুর,—রিতক্তি প্রদায়িনী সভা-
রাধারণ যন্ত্রে,
উক্ত বিদ্যারত্ন দ্বারা মুদ্রিত।
চৈতন্যাব্দ, ৪০ ৬।
সম ১২৯৮.। ১৫ ই অশ্বিন।
No text on this page.
উৎসর্গ। বিষম-সমর-বিজয়ি— —শ্ৰীশ্ৰীশ্ৰীশ্ৰীশ্ৰীমন্মহারাজ-ত্রিপুরা-রাজ্যাধী- শ্বর-বীরচন্দ্ৰ-বৰ্ম-মাণিক্য-বাহাদূর- - করকমলেষু। মহারাজ! আমি সম্প্রতি কর্ণানন্দ” নামক গ্রন্থ মুদ্রিত করিয়া আপনার করকমলে সমৰ্পণ করিলাম, আশা করি ভবদীয় অমাত্যপ্রবর শ্ৰীযুক্ত বাবু রাধারমণ ঘোষ বি, এ, সেক্রেটরী মহাশয়ের সহিত এই গ্রন্থ পাঠ করিয়া অপিনি নিজ কর্ণের অনল সম্পাদন করুন, তাহা হইলেই আমি নিজ পরিশ্রম সার্থক জ্ঞান করিব। আশীর্বাদক শ্রীরামনারায়ণ বিদ্যারত্ন। মুর্শিদাবাদ, বহরমপুর, রাধারমণ যন্ত্র।
No text on this page.
পূর্বাভাস। “কর্ণানন্দ এন্থের রচয়িতা যদুনন্দন দাস। এই গ্রন্থে সাটী নির্যাস ( পরিচ্ছেদ) আছে। ১ম নির্যাসে নিবাস আচাৰ্য্য প্রভুর শাখা বর্ণন। ২য় নির্যাসে উপশাখা বর্ণন। ৩য় নির্যাসে আচাৰ্য = পরিবারদিগের মুলশাখা বৈদ্য বংশাবতংস শ্ৰীযুক্ত রামচন্দ্র কবিরাজের মহিমা বর্ণন। ৪র্থ নির্যাসে এবীরহাথীর মহারাজের প্রতি শ্রীরামচন্দ্ৰ কবিরাজের শিক্ষা বর্ণন। ৫ম নির্যাসে জীবগোস্বামির পত্রিকাপ্ররণ এবং শ্রীগােপাল ভট্ট গােস্বামির সহিত মিলন। ৬ষ্ঠ নির্যাসে, “এক শক্তি শ্রীরূপ, অপর শক্তি শ্রীনিবাস দ্বারা ভক্তিশাস্ত্র ও ভক্তি প্রচার করিব” এইরূপ শ্ৰীমন্মহাপ্রভুর প্রতিজ্ঞা বর্ণন। এবং আট কবি- রাজ ও ছয় ঢ ক্ল বৰ্ত্তির বিবরণ। ৭ম নির্যাসে শ্রীরঘুনাথদাস গােস্বামির দেহ- ত্যাগ সম্বন্ধে সন্দেহচ্ছেন। এই বিষয় গুলি কর্ণানন্দে বিস্তৃত ভাবে বর্ণিত হইয়াছে। আচাৰ্য্য প্রভুর যাবতীয় শাখা উপশাখাদির বর্ণন, এই গ্রন্থেই স্পষ্টরূপে দেখিতে পাওয়া যায়। ভক্তিরত্নাকর, নরোমবিলাস ও প্রেমবিলাসে অনেক বিষয় বর্ণিত হইয়াছে কিন্তু, এই গ্রন্থের নবাস আচাৰ্য্যই প্রধান বর্ণনীয় সুতরাং শ্রীনিবাস আচা- য্যের পরিবারবর্গ ইহাতে যে প্রণালী, উপাসনা প্রভৃতি অনেক বিষয় জানিতে পারিবেন তাহাতে আর অণুমাত্র সন্দেহ নাই। এই গ্রন্থে, বনবিষ্ণুপুরে শ্রী শ্রীকালাদ বিগ্রহের সম্মুখে বীরহাম্বীর রাজার প্রতি শ্রীরামচ কবিরাজের শিক্ষা বর্ণন পাঠ করিলে নিশ্চয়ই জানা যায় যে গুরুর নিকট শিষ্যকে কিরূপ ভাবে উপাসনাদি জানিতে হয়। ভক্তিপথানুবর্তী বৈষ্ণবগণ অতি সযত্বে এই গ্রন্থ পাঠ করিবেন, দেখবেন ইহার রসাস্বাদনে কর্ণ ও মনকে আনন্দমুহ.-সাগরে নিমগ্ন করিয়া এই কৰ্ণানন্দ গ্রন্থ নিজ নাম সার্থক করিবেন। আচাৰ্য প্রভুর শাখা ও উপশাখাদির বিষয় জানিতে হইলে এই গ্রন্থ ভিন্ন আর কোন সুগম উপায় দেখতে পাওয়া যায় না। শ্ৰীনিবাসচার্যের জন্মভূণী চাকৰি বহু দিন ভাগীরথীমগ্ন, এখন গ্রামের বিগ্রহাদি বৈষ্ণব কর্তৃক সেবিত হইতে ছেন গ্রাম স্থানান্তরে নীত। বনবিষ্ণুপুর, বুধাইপাড়া ও মালিহাটি প্রভৃতি গ্রামে ঐ বংশীয়গণ বৰ্ত্তমান। উপশাখাদির বংশীয়গণ সৈয়দাবাদ, বােরাকুলী, ফরিদপুর, মওলগ্রাম, গােসাঞিগ্রাম, ঐ • গোয়াস, ইসলামপুর, দেউলগ্রাম, ও সোনালি প্রভৃতি ভিন্ন ভিন্ন গ্রামে বিস্তৃত হইয়া বাস করিতেছেন। গ্রন্থকর্তা যদুনন্দন দাস ইনি নিজের পরিচয় এই কৰ্ণানন গ্রন্থের দ্বিতীয় নির্যাসের মধ্যস্থলে, যাহা লিখিয়াছেন, তদ্ভিন্ন আর কিছুই জানিতে পারি নাই। ইনি মুর্শিদাবাদের অন্তর্গত ১২। ১৩। ক্রোশ দক্ষিণে কাটোয়া নগরের উত্তরাংশে শ্ৰীশ্ৰভাগীরথী নদীর পশ্চিমতীরে অবস্থিত মালিহাটী * (মেলেটা) নামক গ্রামে বাস করিতেন এবং ইনি জাতিতে বৈদ্য ছিলেন এবং আচাৰ্য্য প্রভুর কন্যা শ্রীমতী হেমলতাঠাকুরাণীর ভ্রাতুষ্পত্র ও শিষ্য শ্রীসুবলচন্দ্র ঠাকুর মহাশয়ের শিষ্য, যথা-- “সুবলচন্দ্র ঠাকুর সদানন্দময়। ভ্রাতুষ্প হয় তাঁর শিষ্য মহাশয়। = , ০০০ p0 দীন যদুনন্দন বৈদ্য দাস নাম তার। মালিহাটী গ্রামে স্থিতি প্রেমহীন ছার। সেবকাস কভু সেবা না করিল। তথাপি তাহার গুণে সে পদ ধরিল।” যদুনন্দনদাস বৈদ্য হইলেও “যদুনন্দনদাস ঠাকুর” এই বলিয়া সর্বত্র বিখ্যাত। ইনি এই কৰ্ণানন্দ ১৫২৯ শকাব্দে বৈশাখমাসের পূর্ণিমায় খাগড়ার নিকট ঐশ্রতাগীরথীর পশ্চিমতীরে অবস্থিত বুধাইপাড়া গ্রামে (শ্ৰীহেমলতা- ঠাকুরাণীর পাটে) এই গ্রন্থ সমাপ্ত করেন। অনুমান করি,এই গ্রন্থ “শাখাবর্ণন” বা “শাখা প্রকাশ” প্রভৃতি নামে অভিহিত হওয়া উচিত ছিল কিন্তু, এই গ্রন্থের লেখা শেষ করিয়া শ্ৰীমতী হেমলতাঠাকুরাণীকে শ্রবণ করান হয়, উক্ত ঠাকুরাণী এই গ্রন্থ শ্রবণ করিয়া কর্ণে সমধিক আনন্দ লাভ করত নিজমুখেই এই গ্রন্থের “কর্ণানন্দ” নাম প্রদান করেন। * মালিহাটী নিবাসচাৰ্য্য বংশীয়দের একটা পাট, রাজশাহীর অশু- গত পুঠিয়ার পূর্বতন রাজা রবীন্দ্রনারায়ণ ঐ পাটের দুইটি বৈষ্ণবের নিকট শীয়-বিচারে পরাস্ত হইয়া উক্ত বৈষ্ণব সমীপে পূর্বকৃত নিজাপরাধ ক্ষমাপণ করত মালিহাটীর ঠাকুরের নিকট শিষ্য হন। (ইতি ভক্তমাল)। ܘܢ • যথা- “বুধাইপাড়াতে রহি শ্ৰীমতী নিকটে। সদাই আনন্দে ভাসি জাহীর তটে । পঞ্চদশ শহ আর বৎসর উনত্রিশে। বৈশাখ মাসেতে আর পূর্ণিমা দিবসে। নিজ প্রভু পাদপদ্ম মন্তকে ধরিয়া। সমাপ্ত করিল গ্রন্থ শুন মন দিয়া। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভুর দাসেরঅনুদাস। তঁার দাসের দাস এই যদুনন্দন দাস। গ্রন্থ শুনি ঠাকুরাণীর মনের আনন্দ। শ্রীমুখে রাখিল নাম গ্রন্থ “কর্ণানন”। এই লেখা অনুসারে বর্তমান ১৮১৩ শকাব্দার বঙ্গাব্দ ১২৯৮ সালের আশ্বিন মাসের ১৫ই তারিখের গণনায় এই “কর্ণানন্দ” গ্রন্থ ২৮৪ বৎসর ছয় মাস পর দিবসের হইল (১৫২৯ শকাব্দীর বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথি কোন তারিখে গিয়াছে ইহা স্থির জানিতে না পারায় ঐ বৈশাখ মাস সম্পূর্ণই ধরিলাম, কিন্তু উক্ত নির্ধারিত দিন সংখ্যার ৫। ১০ বা ১৫। ইত্যাদি দিনের নূনাধিক্য অবশ্যই সম্ভব)। এই যদুনন্দনদাসের আরও ক এক খানি গ্রন্থ দেখা যায়। যথা—কৃষ্ণদাস কবিরাজ প্রণীত সংস্কৃত বৃহৎ গোবিন্দলীলামৃত গ্রন্থের মুল অবলম্বন করিয়া পয়ারাদি ছন্দে অনুবাদ ১। শ্রীরূপগােস্বামিপ্রণীত বিদগ্ধমাধব নাটকের পয়ারাদি ছন্দে অনুবাদ ২। এবং অগ্রে পশ্চিমদেশীয় পরে ক্ষেত্রাদি দর্শনার্থ দাক্ষিণাত্যপ্রদেশে কৃষ্ণবেণা নদীর তীরস্থিত ও তত্ৰত্য সোমগিরি নামক সন্ন্যাসিক শিষ্য (যিনি চিন্তামণি নাম্নী বেশ্যয় আসক্ত হইয়া পরে নিজ ভাগ্যবলে ও উক্ত বেশ্যার উপদেশ দিতে সংসারে বিরক্ত হইয়া বৃন্দাবন গমন করেন ও পথিমধ্যে বিভিন্নভাবাত্মক কৃষ্ণগুণ বর্ণনাময় কৃষ্ণকর্ণামৃত গ্রন্থ লিখেন, সেই) বিশ্ব মঙ্গল ঠাকুরের (শান্তিশতক প্রণেতা নামান্তর শিহল মিশ্র) প্রণীত (কোষ- কাব্য) শ্রীকৃষ্ণকৰ্ণামৃত গ্রন্থের শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ প্রণীত বৃহৎ টাকার অনু- সারে পয়ারাদি ছন্দে অনুবাদ ৩। এই তিন খানি গ্রন্থের অনুবাদ লইয়া মূল কর্ণানন্দ সহিত চারি খানি গ্রন্থ শ্ৰীযদুনন্দনদাসের প্রণীত। এতদ্ভিন্ন শ্রীনিবাস আচাৰ্য্য প্রভুর পৌত্র শ্রীরাধামোহন ঠাকুরের প্রণীত ও সংগৃহীত পদামৃতসমুদ্র নামক বিস্তৃত গানের গ্রন্থে এবং ঐ গ্রন্থ অনুসারে ও বহুস্থল হইতে শ্রীবৈষ্ণবদাস নামক মহানুভব কর্তৃক সংগৃহীত রাধাকৃষ্ণের বিবিধ রসভাবাত্মক চতুঃশাখা ও তিন সহস্র এক শত একটী পদ বিশিষ্ট অতীশ সুবিস্তৃত গীতকল্পতরু (পদকল্পতরু নামে বিখ্যাত) গ্রন্থে এই যদুনদনদাসের অনেকানেক বিবিধ রমভাবাত্মক পদাবলী দেখিতে পাওয়া যায়, সুতরাং ঐ সমস্ত পদাবলীকে এক খানি গ্রন্থরূপে পরিগণিত করিলে এই মূল কৰ্ণানন্দ লইয়া সৰ্বশুদ্ধ পাঁচ খানি গ্রন্থ যদুনন্দনদাসের বিরচিত বলিয়া প্রসিদ্ধ আছে। এতদ্ভিয় তিনি আর কোন গ্রন্থ রচনা করিয়াছেন, কি না, তাই আমি এপর্যন্ত অবগত নহি। এই গ্রন্থ এবং গ্রন্থকার সম্বন্ধে এতদ্ভিন্ন কোন বিশেষ বিবরণ যদি কোন সাধু মহাত্মা অবগত থাকেন; তাহা আমাকে জানাইলে বাধিত হইব। = এই গ্রন্থ মুদ্রাঙ্কনের পুর্বে আমি আদর্শস্বরূপ তিন খানি গ্রন্থ প্রাপ্ত হই, তন্মধ্যে দুই খানি মালদহ নিবাসী শ্ৰীযুক্তবাবু গােপালচন্দ্র দাস উকীল মহা- শয়ের নিকট প্রাপ্ত, অপর খানি মুর্শিদাবাদ, ইস্পামপুর নিবাসী (ও শ্রীনিবাস- অাচার্য্য প্রভুর উপশাখা-বংশীয়) শ্ৰীযুক্ত বাবু রাধাকৃষ্ণ ঠাকুর বি, এ, মহা- শয়ের নিকট লব্ধ। গ্রন্থপাঠেই সমুদয়প্রতিবাদ্য সম্যকরূপে জানিতে পারিবেন। অধিক লিখিলে প্রবন্ধ দীর্ঘ হইয়া পড়ে সুতরাং এইস্থলেই ক্ষান্ত হইলাম। আমি যেরূপ পরিশ্রমে এই গ্রন্থ সংগ্রহ করিয়াছি তাহাতে সাধুমহাত্মাগণ সযত্নে পাঠ করিলেই তাদৃশ পরিশ্রম সার্থক বােধ করিব। এই গ্রন্থ ভক্তিপথাৰু বত্তিবৈষ্ণবগণের ত আদরের সামগ্রী বটেই, পরন্তু ইদানীন্তন পুরাতত্ত্বানুসন্ধিৎসু মহাশয়গণও ইহাতে অনেক জ্ঞাতব্য বিষয় অবগত হইতে পারিবেন, সুতরাং তাহাদেরও অবশ্য-দ্রষ্টব্য। অলং পল্লবিতে ইতি- নিবেদক ক শ্রীরামনারায়ণ বিদ্যার বহরমপুর। ১২৯৮। ১৫ ই অশ্বিন।
কর্ণানন্দ। প্রথম নির্যাস। শ্ৰী শ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্রো জয়তি। অনৰ্পিতচরীং চিরাৎ করুণয়াবতীর্ণ কলো সমর্পয়িতুমুন্নতােজ্জ্বলরসাং স্বভক্তিয়িং। হরিঃ পুরটসুন্দরদ্যুতিকদম্বসন্দীপিতঃ সদা হৃদয়কন্দরে স্মরতু বঃ শচীনন্দনঃ ॥১॥ শ্রীকৃষ্ণ কৃষ্ণচৈতন্যঃ সসনাতনরূপঃ। গোপাল রঘুনাথাপ্ত ব্রজবল্লভ পাহি মাং । ২। সনাতনপ্রেমপরিপ্লতান্তর শ্রীরূপসখ্যেন বিলক্ষিতাখিলং। নমামি রাধারমণৈকজীবনং গােপালভট্টং ভজতামভীষ্টদং । ৩ । শ্রীরাধারমণপ্রেষ্ঠং রসশস্ত্র প্রবর্তক। ঐনিবাসপ্রভুং বন্দে পরকীয়ারসার্থিনং ॥ ৪। জয় জয় মহাপ্রভু জয় কৃপাসিন্ধু। জয় জয় নিত্যানন্দ জয় দীনবন্ধু । জয় জয়াদ্বৈতচন্দ্র দয়ার সাগর। জয় জয় শ্রীবাসাদি প্রভু-পরিকর। জয় শ্রীরূপ সনাতন প্রেমময় রূপ।
কর্ণানন্দ। জয় শ্রীগোপাল ভট্ট প্রেমভক্তি কূপ। জয় শ্রীল রঘুভট্ট দয়া কর মােরে। জয় রঘুনাথ দাস রাধাকুণ্ড-তীরে। জয় জয় জীবগােসাঞি করুণার নিধি। জয় আচার্য প্রভু গুণের অবধি। জয় জয় রামচন্দ্র কবিরাজ গোবিন্দ। দোহার চরিত্র রসে জগত আনন্দ। জয় শ্রী বৈষ্ণব গােসাঞি পতিত- পাবন। দয়া কর প্রভু মােরে লই শরণ। শুন শুন ভক্তগণ করি এক মন। দুই শক্তি মহাপ্রভু কৈলা প্রকটন। নিজ মনােহভীষ্ট তাহা করিতে প্রকাশ। পৃথিবীতে ব্যক্ত লাগি মনের উল্লাস। গ্রন্থ প্রকটিলা তাতে শ্রীরূণে শক্তি দিয়া। আনন্দ হইল চিত্তে শক্তি প্রকাশিয়া। হেন মহা মহাধন কৈল প্রকটন। লক্ষ গ্রন্থ প্রকাশিলা যাহার কারণ। হেন সে দুর্লভ ধন প্রকাশ লাগিয়া। শ্রীনিবাসে শক্তি হেতু প্রকাশিলা গিয়া ॥ দুই শক্তি প্রকাশিয়া মনের আনন্দ। যাহা আস্বাদিয়া জীব হইল স্বচ্ছন্দ। হেন সে দুর্লভ ধন প্রকাশ লাগিয়া। ঐনিবাসে শক্তি হেতু প্রচারিল গিয়া ॥ হেন শ্রনি- বাস মাের আচাৰ্য ঠাকুর। কল্পবৃক্ষাশ্রয়ে জীব তাপ কৈলা দূর। শ্রীনিবাস কল্পবৃক্ষরূপে অবতার। করুণা করিয়া জীবের করিল। নিস্তার। রামচন্দ্র কবিরাজ যে বৃক্ষের শাখা। তাহার অনন্ত গুণ কি করিব লেখা। মধুর মূরতি রামচন্দ্র কবিরাজ। বৃক্ষসম গুণ যার জগতের মাঝ । তাহার অনুজ হয় অতি গুণবা। গােবি কবিরাজ যাহার আখ্যান। আর শাখা তাতে গােবিন্দ চক্রবর্তী নাম। তিন জন শাখা সৰ্ব্ব গুণের নিধান। এই আদি করিয়া যতেক বৃক্ষের শাখা। অনন্ত অপার তার কে করিবে লেখা এবে ত কহিয়ে বৃক্ষের উপ- প্রথম নির্যাস। শাখাগণ। শ্রীবলরাম কবিরাজাদি উপশাখাগণ শাখা অনু- শাখ। যার জগৎ ব্যাপিল। করুণা কটাক্ষ যাতে পত্ৰ নিক- সিল। নানা সৎ ভাবালি পুষ্প বিকসিত। স্তব্ধ পরকীয়া যাতে গন্ধ আমােদিত। এই মতে বৃক্ষ অতি সুগন্ধ হইল। নিরমল প্রেমভক্তি ফল উপজিল । শুন শুন ভক্তগণ করি নিবেদন। শ্রবণাদি জলে কর বৃক্ষের সেচন। কৰ্ম্ম জ্ঞানাদিক সব দূরে তেয়াগিয়া। ফল আস্বাদহ সবে আকণ্ঠ পূরিয়া । শ্রীনিবাস রূপে কল্পবৃক্ষের সাজন। গৌড়দেশে লক্ষ গ্রন্থ কৈলা প্রকটন। ঐরূপ গোস্বামিকৃত যত গ্রন্থগণ। যত গ্রন্থ প্রকাশিলা গোস্বামী সনাতন। শ্রীভট্ট গোসাঞি যাহা করিলা প্রকাশ। রঘুনাথ ভট্ট অর রঘুনাথ দাস। জীব গোস্বামিকৃত যত গ্রন্থ চয়। কবিরাজ গ্রন্থ যত কৈলা রসময় । এই সব গ্রন্থ লইয়া গৌড়েতে স্বচ্ছন্দে। বিস্তারিল প্রভু তাহা মনের আনন্দে। শ্রীনিবাস বায়ু রূপে গ্ৰন্থ মেঘ লইয়া। লইয়া আইলা বিঁহো যতন করিয়া ব্ৰজগিরি-মধ্য হইতে গ্রন্থ মেঘ আনি। গৌড়দেশ কৃষি সিঞ্চে দিয়া প্রেমপানি। কলি রবি-তাপে দগ্ধ জীব-শস্যগণ। কৃষ্ণ প্রেমামৃত বৃষ্টে পাইল জীবন। প্রেমের বাদল হইল পৃথিবী ভরিয়া। ভকত ময়ূর নাচে মাতিয়া মাতিয়া। যাজি গ্রামে বসতি করিলা প্রভু যবে। প্রত্যহ বৈষ্ণবগণ আসি মিলে তবে তা সবাকে প্রেম কথা কহে ভক্তিযোগে। ঘুচাইল তা সবার জ্ঞান কৰ্ম্ম রােগে । এইরূপে কত দিন প্রেমানলে যায়। কৃষ্ণপ্রেম- রসে ভাসে ভাবময় গায়। বৈষ্ণবের উপরােধে বিবাহ করি। কত দিন পরে পুন অর বিভা কৈল। ভক্তিরসামৃতসিন্ধু ৪ কর্ণানন্দ। উজ্জ্বল দেখয়। বিদগ্ধমাধব ললিতমাধবাদিময়। হরিভক্তি- বিলাস আর ভাগবতামৃত। দশম টিপ্পনী আর দশমচরিত। মথুরামাহাত্ম আর বহুবাবলি। হংসদূতাদিক উদ্ধবসন্দেশ সকলি। ষটসন্দর্ভ তােষণী ভাগবত দশম। গীতাবলি বিরুদাবলি পঢ়ে করি ক্রম। মুক্তচরিত্র আর কৃষ্ণকুর্ণা- মৃত। ব্রহ্মসংহিতাদি অর গােপীপ্রেমামৃত। কত নাম জানি আমি লক্ষ গ্রন্থ যত। মাধব মহোৎসবাদিক দেখে অবিরত। পড়িয়া শুনাইলা গ্রন্থ বৈষ্ণবের গণে। প্রেম- মৃতে ডুবি রহে রাত্রি আর দিনে । সংখ্যা করি হরি- নাম লয় প্রহরেক। গ্ৰন্থ দরশনে যায় আর প্রহরেক । রাধা- কৃষ্ণ গােবিন্দ কীৰ্ত্তন দুই যাম । স্মরণবিলাস-প্রেমে ভাসে অবিরাম। চণ্ডিদাস বিদ্যাপতি শ্রীগীতগােবিন্দ। রায়ের নাটক গ্রন্থ গান পরানন্দ। রজনীতে ভক্ত সঙ্গে রাসাদি বিলাস। গান শিক্ষা দিল ভক্তি প্রেমের উল্লাস। দিনে শালগ্রাম সেবা তুলসীসেবন। পরম ভক্তিতে করে জলের সিঞ্চন। রাধা- কৃষ্ণ ধ্যান মন্ত্র নাম দোহাকার। এই মত স্মরণ লীলা স্মৃতি সৰ্বকাল। শ্রীরূপ সনাতন বলি সঘন হুঙ্কার। শ্রীগোপাল ভট্ট বলি করেন ফুৎকার। রাধাকৃষ্ণ কুণ্ড বলি ক্ষণে মূচ্ছ। যায়। গিরিগগাবর্ধন বলি করে হায় হায় । এই রূপে রাত্রি দিনে প্রেমানলে যায়। প্রেমামৃত আস্বাদয়ে আনন্দ হিয়ায় ॥ সুকৃতী বাসয়ে ভাল দুষ্কৃতী হাসয়। এবে সেই লােক সবে আনন্দে ভাসয় । গৌরগুণ গান প্রভু নিত্যানন্দ গুণ। এই মতে দিবা রাত্রি উপজে করুণ । এবে কহি শ্ৰীঅ- * যাম-প্রহর।
প্রথম নির্যাস।
৫
চাৰ্য্য প্রভুর শাখাগণ। যা সবার নাম স্মৃতে প্রেম উদ্দীপন।
তত্র প্রমাণ-শ্লোকঃ ॥
বন্দে এলশ্রীনিবাসপ্রভুশাখাগগগ মহান।
যুন্নামস্মৃতিমাত্ৰেণ কৃষ্ণপ্রেমােদয়াে ভবেৎ।
শ্রী আচাৰ্য্য প্রভুর যত শাখাগণ। শ্লোক ছন্দে দোহে
তাহা করিলা বর্ণন । ঠাকুর মহাশয় যে করিলা
বর্ণন। কর্ণপূর কবিরাজ যা কৈল রচন। এই দুই
মহাশয়ের শ্লোক অনুসারে। মোর প্রভুর আজ্ঞা তাহা
পয়ার করিবারে। প্রভু অজ্ঞা শিরে ধরি গেল কত দিন।
বৈষ্ণুবরূপেতে আজ্ঞা করিলেন পুন। আজ্ঞা বলবান্ ইহা
বর্ণন করিতে। ইহার ভাল মন্দ কিছু না পারি বুঝিতে।
মুঞি ছার হীনবুদ্ধি কি জানি বর্ণন। অপরাধ ক্ষম প্রভু
লইনু স্মরণ ॥ প্রভু-আজ্ঞাবাণী আর বৈষ্ণব-আদেশ। মনে-
মধ্যে ইহা আমি বুঝিনু বিশেষ। অজ্ঞবর শ্রেষ্ঠ আমি
আর কি কহিব। বৈষ্ণব গোসাঞি মেরে সকল ক্ষমিব।
তােমা সবার পদরজ মস্তকে করিয়া। কিছুমাত্র কহি ইহা
পয়ার করিয়া । অর্থ পশ্চাৎ বর্ণনের না লইবা দোষ।
সবার চরণ বন্দো হইয়া সন্তোষ। এবে কহি প্রভুর শাখা
উপশাখাগণ। অপরাধ ক্ষমি ইহা করহ শ্ৰবণ এক দিন
নিজৰাটীর পশ্চিম দিশাতে। সরােবর-তট আছে বসিলা
তাহাতে। হেন কালে দোলাতে চড়ি আইসে এক জন।
পথে যায় বিবাহ করি বাজায় বাজন। মন্মথ সমান রূপ
দেখি প্রভু ভাবে। এমন অপূর্ব রূপ দেখিলাম এবে।
সুবৰ্ণ কেতকী-পুষ্প-সমান বরণ। সুবিস্তীর্ণ বক্ষস্থল অতি
৬
কর্ণানন্দ।
মনোরম। লেমিশ্রেণি যুক্ত তাতে প্রকৃষ্ট উদর। রক্তবর্ণ
তুল্য যার পদ আর কর। পূর্ণিমার চন্দ্র যিনি সুন্দর বদন।
উন্নত নাসিকা আর সুন্দর দশন। বিম্বফল জিনিয়া অধর
মনোরম। মনোহর শোভিয়াছে এ পদ্ম লোচন। কুম্বুগ্রীব
ক্ষীণ মধ্য সুকুঞ্চিত কেশ। উলট। কদলী উরু জানু সন্নি-
বেশ। পট্টবস্ত্র পরিধান গলে পুষ্পমালা। চন্দনের পঙ্ক গায়
দেখি সুধাইলা। ইহেঁ। কিবা কামদেব অশ্বিনীকুমার।
কিবা কোন দেবতা গন্ধর্ব-পুত্র অরি। এইরূপে তার রূপ
দেখি পুনঃ পুনঃ। কহিতে লাগিলা প্রভু কৃপা বাঢ়ে দুন।
হেন যে শরীর পেয়ে যদি কৃষ্ণ ভজে। তবে সে সফল
তনু নহে বৃথা মজে॥ কহে তা সভার সঙ্গী কহ দেখি ভাই।
কোন গ্রামে বাটী ইহার রহে কোন ঠাঞি। কোন জাতি
কিবা নাম কই বিবরিয়া। তাহা সব কই কথা প্রণাম
করিয়া রামচন্দ্র কবিরাজ পরম পণ্ডিত। বাচস্পতি
সম কেবা সরস্বতী খ্যাত। সদ্বৈদ্য-কুলােব যজস্বী
প্রধান। মহা চিকিৎসক ইহেঁ। দিগ্বিজয়ী নাম।
কুমারনগরে বাটী খ্যাতি কীর্তি নাম। শুনি প্রভু হর্ষে
গেল আপনার ধাম ॥ প্রভু যত কহিলেন গাঢ় কর্ণ
করে। শুনি কবিরাজ গেলা হর্ষে নিজ পুরে॥
ধীর কিছু উত্তর না দিলা। প্রভুর চরণ মনে ভাবিতে
লাগিল | এইমতে কষ্টে দিন গােঙাইলা ঘরে। রাত্রিকালে
আইলেন প্রভুর দুয়ারে। এক দ্বিজগৃহে রাত্রি কষ্টে গােঙা-
ইলা। প্রভাতে প্রভুর পদে আসিয়া পড়িল। কান্দিতে
কান্দিতে ভূমে গড়াগড়ি যায়। ছিন্নমূল বৃক্ষ যেন ভূমিতে
পরম সু-
প্রথম নির্যাস। ৭ লোটায়। গদগদ নাদে কহে দেহ পদ ছায়া। মাের উত্তা- পিত প্রাণ না করহ মায়া। প্রভু উঠি তার বাহুলতা উঠা- ইয়া। হর্ষে গাঢ় আলিঙ্গন দিল করি দয়া ॥ কৃষ্ণ ভক্তি হউক বলি আশীৰ্বাদ কৈল। প্রেমে গদ গদ কিছু কহিতে লাগিল। জন্মে জন্মে তুমি মোর বান্ধব সহায়। বিধাতা সদয় অানি দিলেন তােমায় । এত বলি রাধাকৃষ্ণ মন্ত্র দিল তারে। শুনাইলা রাধাকৃষ্ণ লীলা বারে বারে। পড়াইলা গ্রন্থগণ অলপ দিবসে। আশীৰ্বাদ করি তারে অজ্ঞা দিল শেষে। তুমি আমার নিজ স্বরূপ সৰ্ব্বথায়। প্রেমময় হও তুমি গােবিন্দ কৃপায় । বৃন্দাবনে তােমার সদৃশ একজন। বিধি আনি নিধি দিল নাম নরােত্তম ॥ চিরদিন একত্রেতে করিনু বসতি। তােমা দিয়া দুই চক্ষু দিল দয়ামতি। এইরূপে তারে কৃপা করি শিখাইলা। নরোত্তম ঠাকুর তার সঙ্গে করি দিল।। নরােত্তমে রামচন্দ্রে প্রেম বাঢ়ি গেল। এক প্রাণ ভিন্ন দেহ হেন প্ৰেম হৈল । তবে প্রভু শ্রীগোবিন্দ কবিরাজ প্রতি। দয়া কৈল শিষ্য হইল অর্পিয়া শকতি। তাহার অনুজ হয় পরম পণ্ডিত। মহাভাগবত দেহে প্রেম- ময় চিত৷ রাধাকৃষ্ণ বিহারগীত রসপদ্য-মতে। কবিরাজ আজ্ঞা দিলা অতিকৃপা যাতে তাহার স্বপদ্য গীত কৈল বহুরীতে। পৃথিবী ভাসিল যবে প্রেমামৃত গীতে দুই কবিরাজের দুইত ঘরণীরে। তাহারে করিলা দয়া সদয় অন্তরে । তবে প্রভু দিব্যসিংহ * প্রতি দয়া কৈল। প্রভু কৃপা পাই যেহে। ধন্য অতি হৈল। তার পর সুচরিতা দুই প্রভুর ঘরণী। দোহারে * দিব্যসিংহ-গােবিল কবিরাজের পুত্র।
কর্ণানন্দ।
করিলা দয়া প্রভু গুণমণি। জ্যেষ্ঠা শ্ৰীমতী ঈশ্বরী ঠাকুরাণী
নাম। কি কহিব তাঁর গুণ অতি অনুপাম। কনিষ্ঠা শ্ৰীমতী
গৌরাঙ্গপ্রিয়া ঠাকুরাণী। তাহার চরিত্র আমি কি কহিতে
জানি। দুই জনে মহাপ্রীত অতি গুণবান্। দেহে বিদগধ
দেহে রসের নিন। ভজন-পরাকাষ্ঠা দোহার না পারি
কহিতে। পরম সুধীর দেহে মধুর চরিতে। প্রভুর পরম
প্রিয়া অতি গুণবতী। বৈদগ্ধ্য অবধি দোহে মধুর মূরতি ।
স্তব্ধ রাগানুগা দোহার ভজন একান্ত। পরকীয়া ভাব দোহার
ভজন নিতান্ত । কি কহিব দোহাকার নৈষ্ঠিক ভজনে।
কৰ্ম্ম জ্ঞানাদিক কভু নাহি শুনে কাণে। আমি হীন ছার কিবা
করিব ব্যাখ্যান। প্রভুর প্রেয়সী দেহে প্রভুর সমান। দোহা-
কার শিষ্যোপশিষ্যে ভাসিল ভুবন। আগে বিস্তারিব তাহা
করিয়া যতন। জ্যেষ্ঠ পুত্র শ্রীবৃন্দাবন আচাৰ্য হয় নাম ।
তাহারে করিলা দয়া প্রভু গুণাম ॥ মধ্যম পুত্র প্রভুর রাধা-
কৃষ্ণ আচাৰ্য। তার গুণ কি কহিব সকলি আশ্চৰ্য্য । তাহারে
করিল। দয়া প্রভু গুণনিধি। পরম আশ্চৰ্য্য যেহে গুণের
অবধি ॥ শ্রীগােবিন্দগতি নাম কনিষ্ঠ তনয়। তারে কৃপা
কৈল প্রভু সদয় হৃদয় । শ্রীগোবিন্দগতি প্রভু শ্রীগুরু-
প্রণালী। লিখিলেন নিজ শ্লোকে হইয়া কুতুহলী।
তথাহি শ্লোকঃ ॥
শ্রীচৈতন্যপদারবিন্দ-মধুপাে গোপালভট্টপ্রভু
শ্রীমংস্তস্য পদাম্বুজ মধুলি শ্রী শ্রী নিবাসায়।
আচাৰ্যপ্রভুসংজ্ঞকোহখিলজনৈঃ সর্বেষু নীবৃৎসু যঃ
খ্যাতন্তৎপদপঙ্কজাশ্রয়মহাে গোবিন্দগত্যাখ্যক ।
প্রথম নির্যাস । শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য পাদপদ্মের অশ্রয়। মধুকর হইয়া যিহে। সদ। বিলয় ॥ শ্রীগোপাল ভট্ট গােসাঞি হইয়া সদম। আচাৰ্য্য প্রভুকে কৃপা কৈল অতিশয় ॥ শ্রীআচাৰ্য প্রভুর পাদপদ্মের আশ্রয়। শ্রীগোবিন্দগতি ইহা নিজ শ্লোকে কয়। মহাদাতা হন তিহাে মহন্ত গুণবান। তাঁর শিষ্যে উপশিষ্যে ভাসিল ভুবন। সে সকল কথা আগে কহিব বিস্তারি। এবে কহি প্রভুর শাখা সংক্ষেপ আচরি। তবে প্রভুর নিজ কন্যা নাম হেমলতা। হারে করিলা দয়া করি প্রশ্ন | উঁর শিষ্য উপশিষ্য অনেক হইল। তিাে প্রেম- মৃতে, সব মহী ভাসাইল। আর কন্যা ক্লষ্ণুপ্রিয়া নাম ঠাকুরাণী। ভঁরে নিজ পদাশ্রয় দিল দয়ামণি আর কন্যা কাঞ্চনলতিকা যার নাম। তঁারে নিজ পদাশয় দিল দয়াবান। তবে প্রভু কাঞ্চনগড়িয়া প্রতি দয়া। দাস ঠাকুরে দয়া করিলা আসিয়া ॥ তিঁহাে মহাভাগবত পরম পণ্ডিত। প্রভুর নিকটে যার সদা ছিল স্থিত । জয়- কৃষ্ণ জগদীশ শ্যাম, বল্লভাচাৰ্য। তাঁহার তনয় তিন গুণে মহা আৰ্য। ঈশ্বরের কৃপাপাত্র তিন মহাশয়। মহা- ভাগবত হয় প্রেমের অালয়। তথায় তাহার জ্যেষ্ঠ ঐ গগাকুলদাস। ঠাকুর করিলা কৃপা পরম উল্লাস। মস্তকে বহিয়া জল কৃষ্ণসেব করে। তার প্রেম চেষ্টা কেহহ বুঝিতে না পারে। তার পুত্র শ্রীকৃষ্ণবল্লভ ঠাকুরেরে। সুন্দর দৈখিয়া কৃপা করিলা তাহারে। বালক কালেতে কৃপা তাহারে হইল। তিঁহে মহাভাগবত শিষ্য বহু কৈল। তথায় নরসিংহ কবিরাজ প্রতি। দয়া কৈল মন্ত্র দিল [ ২ ] ২।
কর্ণানন্দ। অর্পিয়া শকতি । পরম পণ্ডিত তিহে প্রভুরে ধেয়ায়। তাঁর প্রেম চেষ্টা গুণ বুঝন না যায়। তাঁর শিষ্য উপশিষ্য অনেক হইল। তবে প্রভু রঘুনাথ করে কৃপা কৈল। রামকৃষ্ণ চট্টরাজ প্রভুর এক শাখা। তাহার মহিমা গুণ কি করিব লেখা। হরিনামে রত সদা লয় হরিনাম। সংখ্যা করি জপে নাম সদা অবিশ্রাম। তার পুত্র গােপীজনবল্লভ চট্টরাজ। বিখ্যাত আছেন যিহাে জগতের মাঝ । প্রভুতে পরম প্রীতি প্রভু দয়া করে। তাহার মহিমা কিছু নারি বর্ণিবারে । তারে কৃপা করি প্রভু করি প্রসন্নতা। যারে সমর্পিল কন্যা শ্রীল হেমলতা । শ্রীকুমুদ চট্টরাজ প্রভুর প্রিয় ভৃত্য। প্রভুপদ বিনে যার নাহি আর কৃত্য। তার পুত্র শ্রীচৈতন্য নাম চট্টরাজ। প্রভুর কৃপাপাত্ৰ যিহে মহা- ভক্তরাজ হারে করিলা দয়া সদয় হইয়া যারে সম- পিল কন্যা শ্রীল কৃষ্ণপ্রিয়। রাজেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় চট্ট রাজের জামাতা। ভঁহারে করিলা দয়া লভি প্রসন্নতা। তঁাহার অনন্ত গুণ না পারি লিখিতে। সদাই নিমগ্ন রাধাকৃষ্ণের লীলাতে ॥ প্রভুতে পরম প্রীতি প্রভু প্রাণ তার। সদা হরিনাম যিহাে করে অনিবার। দুই কন্যা চট্টয়াজের দুই গুণবন্ত। সুস্নিগ্ধ মুরতি দুহে অতি শুদ্ধ শান্ত। শ্ৰমালতী প্রতি তবে প্রভু দয়া কৈল। প্রভু কৃপা পাই যিহাে অতি ধন্য হৈল । অার কন্যা শ্রীফুলবি নাম ঠাকু- রাণী। তাহারে করিল দয়া প্রভু গুণমণি। তবে সেই কলনিধি চট্টরাজ নাম। সদা হরিনাম জপে এই তার কাম। প্রভু কহে তুমি চৈতন্যের প্রিয়তম। লক্ষ নাম জপ তুমি প্রথম নির্যাস। করিয়া নিয়ম। প্রভুর পরম প্রিয় সেবক প্রধান। বৃন্দা- বন চট্টরাজ প্রিয় ভৃত্য প্রাণ | কি কহিব ইহঁ। সবার ভজন প্রসঙ্গ। কহিতে বাঢ়য়ে চিত্তে সুখব্ধি তরঙ্গ । তথা বর্ণ বিঞ্জ প্রতি অতি শুদ্ধ দয়া। তাহারে করিল দয়া সদয় হইয়া নাম শ্রীগােপাল দাস তারে কৃপা কৈলা। নিজ জাতি উদ্ধারিতে তারে আজ্ঞা দিল । কাঞ্চনগড়িয়া গ্রামে প্রভুর ভক্তগণ। একেক লক্ষ হরিনাম করেন নিয়ম। দিবসে লয় নাম রাত্রিকালে বসি। কেশে ভাের চালে বান্ধি লয় নাম বসি। সবেই প্রভুর প্রাণ সবার প্রাণ প্রভু। অতি প্রিয় স্থান সেই না ছাড়য়ে কভু । গোপাল দাস ঠাকুরের শিষ্য মহাশয়। গােপীমোহন দাস মির্জাপুরালয় । হিহ মহাভাগবত কি তার কথন। যার শিষ্য শ্যামদাস খড়গ্রাম ভবন। প্রভু কৃপা কৈল গােবিন্দ চক্রবর্তী নাম। বাল্য কালেতে যিহো ভজন অনুপম। প্রেম- মূৰ্ত্তি কলেবর বিখ্যাত যার নাম। ভাবক চক্রবর্তী খ্যাতি বোরাকুলি গ্রাম। তাঁর শিষ্য উপশিষ্যে জগৎ ব্যাপিল। অাগে তাহা বাখানিব খ্যাতি যাহা হৈল। তাহার ঘরণী সুচরিতা বুদ্ধিমত্তা। ঈশ্বরীর কৃপাপাত্রী অতি সুচরিতা। লক্ষ হরিনাম যিহে করেন গ্রহণ। ক্ষণে ক্ষণে মহাপ্রভুর চরিত্র কথন। শ্রীগােপালভটু আর শ্রীরূপ সনাতন। আচাৰ্য্য প্রভুর পদ সদাই ভাবন।ঠাকুরাণীর গুণ ব্যাখ্যা করিব বা কত। যাহার ভজন রীত জগতে বিখ্যাত। জ্যেষ্ঠ পুত্র রাজবল্লভ চক্রবর্তী নাম। তার গুণ কি কহিব অতি অনু- পাম । তাহার চরিত্র কথা না পারি কহিতে। প্রভুপদ কর্ণানন্দ। বিনা যার অন্য নাহি চিতে। অার দুই পুত্র মাতার সেবক হইলা। রাধাবিনোদ কিশােরী দাস ভক্তিপরা। কর্ণ- পূর কবিরাজে প্রভু দয়া কৈল। প্রভুর শাখা বর্ণনাতে যিহো ধন্য হৈল। অপার ভজন যার না পারি কহিতে। সদা মগ্ন রহে যিহে মানস সেবাতে । লক্ষ হরিনাম যিহে করেন গ্রহণ। এই মতে রহে যিহে সুখাবিষ্ট মন। বনবিষ্ণুপুর প্রতি কৃপা কৈল। সেখানে অনেক শিষ্য প্রকাশ হইলা। তবে শ্রী আচাৰ্য ব্যাস প্রতি দয়া কৈলা। তাহাকে সেবক করি বহু শিখাইলা। সে সব রহস্য গুণ কহনে না যায়। তিহহা মহাবিজ্ঞ অতি প্রেমী মহাশয়। তঁার শাখা উপশাখা অনেক হইল। তাঁরা মহাভাগবত জগৎ তারিল। শ্রীবংশীদাস ঠাকুর যেই মহাশয়। প্রভুর প্রিয় শাখা হয় মধুর আশয়। হরিনামে রত সদা লয় হরিনাম। সংখ্যা করি জপে নাম সদা অবিশ্রাম । শ্ৰীগােপালিদাস ঠাকুর প্রভুর এক শাখা। প্রভুর পরম প্রিয় গুণের নাহি লেখা। বঁধইপাড়াতে বাড়ি শ্রীকৃষ্ণ কীর্তনিয়া। যাহার কীর্তনে যায়: পাষাণ গলিয়া ॥ ঐরূপঘটক নাম প্রভুর প্রিয় ভৃত্য। রাধাকৃষ্ণ নাম বিনা; যার নাহি কৃত্য। তার পর দয়া কৈল রঘুনন্দনদাসে। ঘটক বলিয়া খ্যাতি দিলেন সন্তোষে। দুই ঘটক হয়েন মহাগুণবানে। প্রভুর চরণ দোহে সৰ্বস্ব করি জানে৷ সুধাকর মণ্ডল প্রভুর ভৃত্য এক জন। তার স্ত্রী শ্যামপ্রিয়া কৃপার ভাজন । তার পুত্র রাধা- বল্লভ মণ্ডল সুচরিত। হরিনাম বিনা যার নাহি আর কৃত্য। তরে প্রভু কামদেব মণ্ডলে কৃপা কৈল। প্রভু কৃপা পা প্রথম নির্যাস। স্মরণ ॥ বিহো ধন্য অতি হইল। নিগুঢ় তাহার ভাব কে কহিতে পারে। রাধাকৃষ্ণ লীলা স্ফরে যাহার অন্তরে। সদা হরিনাম যিহো কৱেন গ্রহণ। প্রভুর চরণ দুটী অন্তরে তবে প্রভু কৃপা কৈল গোপাল মণ্ডলে। প্রভু পদে নিষ্ঠা যার অতি নিরমলে। প্রভুর শ্বশুর দুই অতি বিচক্ষণ। দোহার চরিত্র কিছু না য়ায় বর্ণন॥ দুহে অতি শুদ্ধাচার নিরমল তনু। মহাপ্রভুর পদ ধ্যান নাহি ইহা বিনু। শ্রীগোপাল চক্রবর্তী প্রভুর প্রিয় ভৃত্য। অবিশ্রাম ঝরে আঁখি করে কীর্তনে নৃত্য। অার শ্বশুর শ্রীরঘুনন্দন চক্ৰ, বর্তী। প্রভু কৃপা পাইয়া যিহহ হৈলা কৃতকীর্তি । দুই শ্যালক প্রভুর তাহা কহি শুন। দুই জনে হৈল প্রভুর কৃপার ভাজন। জ্যেষ্ঠ শ্যামদাস চক্রবর্তী মহাশয়। প্রভুর কৃপা পত্তি হয় সদয়হৃদয় । তিঁহো ত পণ্ডিত হয় শ্রীভগবতে। ভাগবত পদে যিহহা প্রেমে মহামতে। তাহার অনুজ ক্ষতি ভক্ত মহাশয়। ফরিদপুরবাসী কহি তাহার আলয়। রামচরণ চক্রবর্তী প্রভুর সেবক। তার যত শিষ্যগণ কহিব কতেক। লক্ষ হরিনাম জপে সংখ্যা করিয়া। রাধা কৃষ্ণ লীলা কথা কহে আস্বাদিয়া। কীর্তন লম্পট বড় সদা নাচে তথ। সদা অশ্রু ঝরে আঁখি প্রেম পূর্ণ যথা। বৈষ্ণব- গণের প্রাণ স্নিগ্ধ পাত্র মত। তাহার অনন্ত গুণ কে গণিবে কত। প্রভুর কৃপাপাত্র এক চট্ট কৃষ্ণদাস। লক্ষ হরি নাম জপে নামেই বিশ্বাস। তাহার সেবক যত নাহি তার অন্ত। সবে হরি নামে রত সবে গুণবন্ত। বনমালী দাস নাম বৈদ্যকুলে জন্ম। প্রভুর প্রিয় সেবক কে বা জানে তার কর্ণানন্দ মৰ্ম্ম শ্রীমোহন দাস নাম জন্ম বৈদ্যকুলে। নৈষ্ঠিক ভজন যার অতি নিরমলে। তিহো মহা মহাশয় মধুর অাশয়। প্রভুর পরম প্রিয় সদয় হৃদয়। শ্রী রাধাবল্লভ দাস প্রভুর সেবক। মহাভাগবত তিহাে ভজন অনেক। প্রভুর পরম প্রিয় শ্ৰীমথুরা দাস। হরি নাম জপে সদা পরম উল্লাস। রাধাকৃষ্ণ- দাস নাম প্রভুর প্রিয় ভৃত্য। অবিশ্রাম ঝরে প্রেমে কীর্ত- নেতে নৃত্য। শ্রীরণ দাস হয় প্রভুর কৃপাপাত্র। মুখে সদা রহে যার হরিনামামৃত। আর ভৃত্য হয় প্রভুর রামদাস নাম। সদা প্রেমােম্মদে নাচে লয় হরি নাম। শ্ৰীকবিবল্লভ হয় প্রভুর নিজ দাস। প্রেমে রাধাকৃষ্ণ নাম গান মহোল্লাস। অনেক পুস্তক প্রভুকে দিয়াছে লিখিয়া। যেন মুক্তাপাতি লেখা মহা আঁখিরিয়া। বনমালী দাসের পিতা শ্রীগােপাল দাস। প্রভুর সেবক হয় অতি শুদ্ধভাষ। তার পর শ্যাম দাস চট্টে কৃপা কৈলা। তিহে। মহাভাগবত প্রভু কৃপা পাইলা। তথায় অাত্মারাম প্রভুর প্রিয়দাস। সদা হরিনাম জপে সংসারে উদাস । শ্রীনকড়ি দাস প্রতি অতি কৃপা কৈলা। প্রভুর চরণ তিহে সর্বস্ব করিল। শ্রীগোপীরমণ দাস বৈদ্য মহাশয়। তাহারে প্রভুর কৃপা হৈল অতিশয় । হরি- নামে প্রীতি তার লয় হরি নাম। রাধাকৃষ্ণ লীলা গান মহা- প্রেমধাম। গোয়াসে তাহার বাড়ি বড়ই রসিক। সদা কৃষ্ণ- রসকথা যাতে প্ৰেমাধিক। শ্রীদুর্গাদাস নাম প্রভুর নিজ- দাস। সদা হরিনাম জপে অন্তরে উল্লাস। তবে প্রভু কৃপা কৈলা শ্যামদাস কবিরাজে। যাহার ভজন ব্যক্ত জগতের মাঝে। তবে প্রভু কৃপা কৈলা রঘুনাথ দাসে। প্রভু কৃপা
প্রথম নির্যাস।
১৫
পাইয়া যিহে অন্তরে উল্লাসে। কুমুদানন্দ ঠাকুরে প্রভু
দয়া কৈলা। প্রভু কৃপা পাইয়া যিহে কৃতার্থ হইলা।
শ্রীরাম দাস ঠাকুর প্রভুর প্রিয় ভৃত্য। রাধাকৃষ্ণ ধ্যান বিনা
নাহি যার কৃত্য ॥ রাধাবল্লভ দাস ঠাকুর সবল উদার।
প্রভুর চরণ ধ্যান অন্তরে যাহার । গােকুলানন্দ দাস চক্র
বর্তী মহাশয়। প্রভু কৃপা কৈলা তারে সদয় হৃদয় । আরেক
সেবক শ্রী গোকুলানন্দ দাস। সদা হরিনাম জপে নামেতে
বিশ্বাস । তবে শ্রীগোপালদাস ঠাকুরে দয়া কৈলা। প্রভুকৃপা
পাইয়া যিহে ধন্য অতি হৈলা। তবে প্রভু কৃপা কৈল শ্যাম
দাস প্রতি। চট্টবংশে ধন্য তিহে পরম ভকতি । তবে
পুরুষােত্তম দর্শনে প্রভু যাত্ৰা কৈলা। বনপথে পথে প্রভু
আনন্দে চলিলা । এক দিন এক গ্রামে রাত্রিতে রহিলা।
দস্যগণ রত্ন বলি গণি হাতে পাইলা চোরগণ পুস্তক
হরিয়া নিজপথে। তবে রাজপাশ গেল। পুস্তক নিমিত্তে ॥ হেন
কালে বিপ্র এক ব্যাস চক্রবর্তী। পুরাণ গুনায় রাজাকে করি
মহা অৰ্ত্তি। পুরাণ-শ্রবণ হেতু রাজা আচাৰ্য নাম দিল।
এই হইতে আচার্য্য নাম সংসারে হইল।। হেনই সময়ে
বিপ্র ভ্রমরগীতা পড়ে। ব্যাখ্যা শুনি প্রভু হাসে থাকি
কিছু দূরে। তবে প্রভু সমধ্যে যাইয়া বসিলা। বসিয়া ত
সেই ব্যাখ্যা সকলি খণ্ডিলা। তবে রাজা চিত্তে বড় হরিষ
হইল। ব্যাখ্যা শুনিবারে তবে চিত্ত মগ্ন হইল। রাজা নি-ে
দন করে বিনয় করিয়া। আপনে করহ ব্যাখ্যা করুণা
করিয়া প্রভু ব্যাখ্যা কৈল শ্লোক গােস্বামির মতে। শুনিয়া
হইল রাজা যেন উনমতে। প্রণাম করিয়া পায় পড়িল।
কর্ণানন্দ। তখন। প্রভু কৃপা কর মােরে লই শরণ। হায় হায় হেন ব্যাখ্যা কভু নাহি শুনি। ফুকারি ফুকারি কান্দে পড়িয়া ধরণী গদ গদ নাদে কহে শুন মহাশয়। করুণা, করহ মেরে হইয়া সদয় । প্রভু কহে এই বিপ্রের নাম কিবা হয়। শ্রীব্যাস আচার্য্য বলি রাজা নিবেদয়। প্রমাণে ইহার নাম মাচাৰ্য সে হয়। প্রভু কহে অাচাৰ্য্য নাম হইল নিশ্চয় তাবে রাজা প্রতি প্রভু কহেন বচন। তােমারে ত কৃপা করুণ ব্রজেন্দ্র-নন্দন। মল্ল ভূপতি নাম শ্ৰীবীরহাম্বীর। কৃপা কৈলা প্রভু তারে সদয় গম্ভীয়। কৃষ্ণপদে নৈষ্ঠিক ভকতি হইল তার। প্রভুকে সঁপিলা সব রাজ্য ব্যবহার। কি কহিব সেই প্রভুর পদাশ্রয় কথা। যে পদ শরণে হয় বাঞ্ছা-সুফি তা। সে পদ দর্শন স্পর্শে আশ্রয় সেবন। অনায়াসে মিলে তারে প্রেমামৃত ধম । সেই বনবিষ্ণুপুর দেশে বহু জন। অনেক হইল শিষ্য না যায় লিখন। ব্যক্ত করিয়া তাহা গ্রন্থে শলিখিল। শ্ৰমতীয় * মুখে আমি যে কিছু শুনিল। করণ- কুলেতে * জন্ম অতি শুদ্ধাচার। করুণাকর দাসের পুত্র দুই সহােদর। প্রভুগৃহে পত্র দেহে সদাই লিখয়। এই হেতু বিশ্বাস নাম দিল দয়াময় । জ্যেষ্ঠ শ্রীজানকীরাম দাস মহা- শ্ৰীমতীর--হেমা তার। । করণ-কায়স্থ। কায়স্থগণের আদিপুরুষ ভূলোকস্থিত চিৰসেনের যষ্ঠপুত্রের নাম করণ। সেই সেই সপ্ত পুত্রের নামানুসারেই কায়স্থদিগের উপাধি হইয়াছে। যথা- “বসু ঘোষাে গুহো মিত্র দত্তঃ করণ এব চ। মৃত্যুঞ্জয়শ্চ সপ্তৈতে চিত্রসেনসুতা ভুবি ॥” শব্দকল্পদ্রুম অভিধান। ৭১০ পৃঃ।} প্রথম নির্যাস। ১৭ শয়। তবে কৃপা করিলেন প্রভু দয়াময় । তাহার অনুজ প্রসাদ দাসে কৃপা কৈলা। প্রভু কৃপা পাইয়া দেহে মহাভক্ত হৈলা। পূর্বে ইহাদের ছিল মজুমদার পদবী। প্রভুদত্ত এবে হইল বিশ্বাস খেয়াতি। তথীতে করিলা দয়া বল্লবী কবিপতি। পদাশ্রয় পাই যিহো হইলা সুকৃতী। হরিনাম জপে সদা করিয়া নিয়ম। লক্ষ হরিনাম বিনা না করে ভোজন। প্রভুর নিকটে রহে প্রভু প্রাণ তার। প্রভুরে সঁপিল যিহে গৃহপরিকর। তার জ্যেষ্ঠ সহােদর দুই মহাশয়। জ্যেষ্ঠ রামদাস প্রতি হইল সদয় । মধ্যম গোপাল- দাস প্রতি কৃপা কৈলা। তিন সহোদরে প্রভুর বড় দয়া হৈলা ॥ দেউলি গ্রামেতে স্থিতি শ্রীবল্লভ ঠাকুরে। তাহারে করিলা দয়া করিয়া প্রচুর। যার গৃহে আসি প্রভু প্রথমে রহিলা। তাহাতে প্রভুর প্রীতি অধিক জন্মিলা ॥ যবে মুখে শুনিলেন গ্রন্থ--প্রাপ্তি বাণী। হৃত গ্রন্থ পাই প্রভুর জুড়াইল পরাণি। যার সঙ্গে রাজা-পাশ করিল গমন। যাহার আদেশে পইল গ্রন্থ মহাধন ॥ এই হেতু প্রভু তারে কৃপা ত করিয়া। কহিতে লাগিল তার মাথে পদ দিয়া ॥ তােমারে করুন দয়া শ্রীরাধারমণ। শ্রীগােবিন্দ জীউ আর মদনমোহন। গোপীনাথ আর রূপ সনাতন। শ্রীগােপালভটু আর শ্রী জীবচরণ। রঘুনাথ ভট্ট আর রঘুনাথ দাস। তোমারে করুন দয়া পরম উল্লাস। শ্রীকৃষ্ণদাস অর গােসাঞি লােকনাথ। তােমা প্রতি করুন সবে কৃপাদৃষ্টি পাত । তােমার বাঞ্ছা পূর্ণ করুন এই সব জন। অনায়াসে পাবে তুমি প্রেম মহাধন। তাহারে সদয় হইয়া প্রভু স্থির [ ৩ ] কর্ণানন্দ। হইয়া। হইল। আনন্দে তাহার গৃহে বসতি করিল। বল্লবী কবিরাজ অাদি সঙ্গেতে করিয়া। রাজার অলিয়ে গেল। হৃষ্টচিত্ত রাজা প্রভু দেখি তবে আনন্দে উঠিয়া। অষ্টাঙ্গ হইয়া পড়ে ভূমে লোটাইয়া । প্রভু নিজ পদ তার মস্তকে ত দিল। আনন্দিত হইয়া প্রভু আসনে বসিল। পার্ষপণের পরিচয় সকল কহিয়া। যথাযােগ্য সম্ভাষ কয়েন আনন্দ পাইয়া। কৃষ্ণকথা আলাপন করি কত ক্ষণ। শুনিয়া রাজার হৈল উল্লসিত মন। অানন্দের সিন্ধু রাজার উথলিল মনে। কে কে বলিয়া প্রভুর ধরিল চরণে। জন্ম সার্থক হইল পাইল দরশন। সে পদ দর্শনে হয় বাঞ্ছিত পুরণ। এই মত কতক্ষণ সভাতে রহিয়া। বাসাতে আইলা প্রভু প্রসন্ন হইয়া । রাজা নিজালয়ে যাই বিশ্রাম করিল।। শয়নে থাকিয়া রাজা ভাবিতে লাগিল। মনে করে কৃষ্ণসেবা করিব প্রকাশ। স্বপ্নে কালাচাদ রূপে দেখে সুপ্রকাশ তথা নিজ প্রভু রূপ বাজারে দেখায়। দুই প্রভু-শােভা দেখি অন্তরে ভাবয় । দেখিতেই শোভা সেঁহার বর্ণন অচিরে। সুধারাশি খসে যার অক্ষরে অক্ষরে । দুই প্রভুর দুই পদ করিল বর্ণন। যে পদ আস্বাদে বাঢ়ে প্রেমানন্দ ঘন। স্বপ্নে পদ পঢ়ে রাজা রাণী যে শুনিয়া। গোঙাইল সব নিশি কান্দিয়া কান্দিয়া । কিবা অদভুত পদ করিয়া শ্রবণ। ভাবেতে আবিষ্ট হৈল। পট্ট- দেবীর মন। তবে রাজা জাগিলেন শয্যাতে বসিয়া। নিজ প্রভুর পাদপদ্ম হৃদয়ে ভাবিয়া ॥ রূপ সনাতন বলি সঘণ ফুৎকার। ঐভট্ট গােসাঞি বলি করে হাহাকার। জাগরণে মহারাজের স্থির নহে মন। যে দেখিল সেই রূপ অন্তরে প্রথম নির্যাস । ১৯ স্ফুরণ। ক্ষণে হাহাকার করে ক্ষণে মনে ভাবে। স্বপ্ন ভঙ্গ হৈল কঁহা গেল হেন ভাবে জাগরণে মহারাজ সেই রূপ দেখে। নিজ প্রভু রূপশোভা আনন্দ বিলােকে। দেখিতেছে প্রভু কহেন এই সেবা কর। দেখিবে অপূৰ্বরূপ হইয়া সু- স্থির ॥ আনন্দিত মহারাজ মুখাবিষ্ট হইয়া। হেন কালে পটু- দেবী চরণে পড়িয়া । কি আশ্চর্য্য পদ রাজা করিল বর্ণন। কৃতার্থ করহ মোরে করহি শ্ৰবণ। রাজা কহে পদ অামি না করি বর্ণন। রাণী কহে রাজা তুমি না কর বঞ্চন। বঞ্চনা কর রাজা তুষ্ট কর মন। অন্যথা শরীরে মাের না রবে জীবন। তবে রাজা জানিলেন প্রভু-কৃপা বিনে। এমত অদ্ভুত ভাব জন্মিব কেমনে। তবে রাজা তুষ্ট হইয়া কহিল বচন। আনন্দে করহ তুমি এ পদ শ্রবণ তথাহি পদং । প্রভু মাের শ্রীনিবাস, পূরাইল মোর অশ, তুয়া বিনা গতি নাহি আর। আছিনু বিয়ষ-কীট, বড়ই লাগিত মিট, ঘুচা- ইলে রাজ-অহঙ্কার ॥১করিতু গরল পান, সে তেল ডাহিন বাম, দেখাইলে অমিয়ার ধার। পিয় পিয় করে মন, সব লাগে উচাটন, এগতি তােমার ব্যবহার ॥ ২॥ রাধাপদ সুখরাশি, সে পদে করিলে দাসী, গোরাপদে বান্ধি দিলে চিত। শ্রীরাধারমণ সহ, দেখাইলা কুঞ্জগেহ, জানাইলে দুই প্রেম- প্রীত। ৩। যমুনার কুলে যাই, তীরে সখী ধাওয়া ধাই, রাধা কানু বিলসই সুখে । এ বীরহাম্বীর হিয়া, ব্ৰজপুর সদ। ধিয়া, যাহা অলি উড়ে লাখে লাখে । ৪। শুন গো মরম সখি! ,কালিয়া কমল আঁখি, কিব। কৈল কর্ণানন্দ। কিছুই না জানি। কেমন কেমন করে মন, সব লাগে উচাটন, প্রেম করি খোয়ানু পরাণি ॥১॥ শুনিয়া দেখিনু কালা, দেখিতে পাইনু জালা, নিভাইতে নাহি পাই পানি। অগুরু চন্দন আনি, দেহেতে লেপিনু ছানি, না নিভায় হিয়ার অঞ্জিনি॥ ২॥ বসিয়া থাকিয়ে যবে, আসিয়া উঠায় তবে, লইয়া যায় যমুনার তীরে। কি করিতে কি না করি, সদাই ঝুরিয়া মরি, তিলেক নাহিক রহি স্থিরে ॥ ৩ | শাশুড়ী ননদী মোর, সদাই বসিয়ে চোর, গৃহপতি ফিরিয়া না চায়। এ বীরহাম্বীর চিত, শ্রীনিবাস অনুগত, মজি গেল। কালাচান্দের পায় । ৪। শুনিতে শুনিতে রাণীর আনন্দ বাঢ়িল। ভাবাবেশে অবশ তনু প্রেম বাঢ়ি গেল। সদা গর গর চিত ধরণে না যায়। কি শুনিল বলি রাণী করে হায় হায়। তবে রাণী ধীর মন হইল যখন। রাজারে কহয়ে রাণী বহু নিবেদন মহারাজ ! তুমি মোরে কর অঙ্গীকারে। শ্রীনিবাস গদাশ্রয় করাহ আমারে । রাজা ত জানিল মনে প্রভু কৃপা বিনে। এমত অপূৰ্ব্ব ভাব জন্মিব কেমনে। রাণী ভাগ্যবতী রাজা ভাবে মনে মনে। সুপ্রসন্ন বিধি বুবি হইল এত দিনে। ভাগ্যের অবধি নাহি কহে বার বার। চিত্তেতে জানিল রাজা প্রভুর ব্যবহার। তবে রাজা তুষ্ট হইয়া প্রভু আনাইয়া। ভূমে পড়ি গড়ি যায় আনন্দ হইয়া । নিবেদিল প্রভু পদে যতেক বৃত্তান্ত। শুনিয়া প্রভু ত মনে বুঝিল নিতান্ত । তবে পট্ট- মহাদেবীর নিকটে আসিয়া। কহিতে লাগিল। রাণী চরণে পড়িয়া'। মোরে প্রভু অঙ্গীকার কর এই বার। ক্ষেম অপ- প্রথম নির্যাস। রাধ প্রভু কর অঙ্গীকার ॥ পতিত উদ্ধার হেতু তোমার অব- তার। জানি প্রভু উদ্ধারিলে মাে হেন দুরাচার ॥ রাণীর আৰ্ত্তি দেখি প্রভু সুপ্রসন্ন হইয়া। সুখাবিষ্ট হইয়া প্রভু দিল। পদছায়া ॥ অাগে হরি নাম মন্ত্র করান শ্রবণ। তবে ত যুগল মন্ত্র করায় গ্রহণ। কামগায়ত্রী কামবীজ উপাসনা দিয়া । মুঞ্জরী-যুথের কথা কহে বিবরিয়া। পরকীয়া লীলা এই মুঞ্জরীযুথ বিনে। পরকীয়া রস তারে নামিলে কখনে। ইহা সবার অনুগ বিনা ব্ৰজ প্রাপ্তি নহে। নিশ্চয় করিয়া আমি কহিলাম তোহে এই ভাব শুদ্ধ মত অতি নিরালে। জাহ্নদ হেম যেন পরম উজ্জ্বলে। নিজ মনঃকথা তোরে কহিল বিবরি। ভজহ কৃষ্ণের পদ কৰ্ম্মাদি দূর করি। সিন্ধ- দেহে কর তুমি মনিস সেবন। বাহ্যদেহে কর সদা শ্রবণ কীৰ্ত্তন। শুদ্ধভাবে ভজ সদা বৈষ্ণবচরণ। অনায়াসে পাবে রাধাগোবিন্দচরণ। এতেক বৃত্তান্ত প্রভু উপাসনা দিয়া। প্রসন্ন হইল চিত্ত অনিন্দিত হিয়া। তবে রাজপুত্রে প্রভূ করিলেন দয়া। আনন্দিত হইয়া প্রভু দিল পদচ্ছায়। শ্ৰধাড়িহাম্বীর নাম হয় যুবরাজ। প্রভু কৃপাপাত্ৰ যিহে। মহা ভক্তরাজ। তবে রাজা কালাচান্দের সেবা প্রকাশিল। শ্রীঅঙ্গ শোভা দেখি আনন্দে মজিল ॥ কালাচান্দ রূপ শোভা আনন্দে বিলােকে। আপনি আনন্দে প্রভু কৈল অভিষেকে। বৈষ্ণবের সেবা রাজা করে অনিবার। এইত কহিল যত রাজার ব্যবহার ॥ রাজার পরমার্থ শুনি শ্রীজীব গােসাঞি। নাম শ্রীগোপাল দাস খুইলা তথাই। ব্যাসাচাৰ্য প্রতি কৃপা অগেত লিখিল। নিজ পুরােহিত প্রভু তাহারে করিল ।
২২
কর্ণানন্দ।
তাহার পর শ্রীব্যাস আচাৰ্য্য ধরণী। তাহারে করিল দয়া
প্রভু গুণমণি। নাম তার হয় ইন্দুমুখী ঠাকুরাণী। তাহার
পরমার্থ রীত কি বলিতে জানি। তার পুত্র শ্যামদাস
চক্রবর্তী মহাশয়। তাহারে করিলা দয়া প্রভু কৃপাময়।
প্রভু কৃপা করে ভগবান কবিবরে। পণ্ডিত রসিক তিহে।
হয় মহা ধীরে।
তবে প্রভু নারায়ণ কবি প্রতি দয়া ।
শরণ লইয়া তিহে দিল পদছায়া ॥ শ্রীনৃসিংহ কবি-
রাজের হয় সহােদর। তাহার মহিম-সিন্ধু বাক্য অগােচর।
বাসুদেব কবিরাজ বড় গুণবন্ত। কৃষ্ণপদে নৈষ্ঠিক চিত্ত যাহার
নিতান্ত। তাহারে করিলা দয়া সদয় হইয়া। কৃতার্থ করিলা
তারে পদচ্ছায়া দিয়া। তবে প্রভু কৃপা কৈলা বৃন্দাবন
দাসে। কবিরাজি খ্যাতি তার জগতে প্রকাশে ॥ তবে প্রভু
কৃপা কৈল নিমাই কবিরাজে। রূপ কবিরাজের ভ্রাতা খ্যাত
জগমাঝে লক্ষ হরিনাম জপে সংখ্যা যে করিয়া। সংকী-
নে নৃত্য করে সুখাবিষ্ট হইয়া। আবেশে অবশ তনু
সঘনে ফুকার। লম্ফ ঝম্প করে ক্ষণে ক্ষণে হুহুঙ্কার।
নয়নের ধারা যার বহে অবিরাম। পুলকে আবৃত তনু
সদা বহে ঘাম । তার পর কৃপা কৈলা শ্ৰীমন্তচক্রবর্তী। পদা-
শ্রয় পাইয়া যিহো হইল কৃতকীর্তি। লক্ষ হরিনাম লয় নামে
ত বিশ্বাস। বড়ই রসিক তিহে সংসারে উদাস। তবে প্রভু
কৃপা কৈলা শ্রীরঘুনন্দনে। যারে কৃপা করি প্রভু সুখাবিষ্ট
মনে। তার পর কৃপা কৈল। গৌরাঙ্গ দাসেরে। তাহার
অনন্ত গুণ কে বর্ণিতে পারে। সদা হরিনাম লয় ভাবা-
বিষ্ট মনে। নিজ প্রভুর পাদপদ্ম সদা চিন্তে মনে। সদা
প্রথম নির্যাস। হরিনাম যিহো করেন গ্রহণ। রাধাকৃষ্ণ লীলা তার সদাই স্মরণ। রূপ সনাতন বলি সঘন ফুৎকার। ভট্ট গোলাঞি বলিতেই বহে অশ্রুধার ॥ গৌরাঙ্গ বলিতে যিহাে ভাবাবিষ্ট মন। নিজ প্রভুর পাদপদ্ম ভাবে তত ক্ষণ ॥ শ্ৰীমন্ত ঠাকুর এক বিপ্ৰকুলে জন্ম। তারে কৃপা কৈল। প্রভু সুখ- বিষ্ট মন। গােপীজন বল্লভ প্রতি প্রভু দয়া কৈল। মহা ভাগবত তিহো জগৎ ব্যাপিল। যাহার ভজন কথা কহনে না যায়। মহামগ্ন রহে যিহে। মানস সেবায়। তবে প্রভু কৃপাকৈল শ্রীচৈতন্যদাসে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য বলিতেই প্রেমে ভাসে । তবে প্রভু কৃপা কৈল শ্রীগোবিন্দ নামে। এ গৌরাঙ্গ বলতেই হয় প্রেমোদ্দামে। তন্তুবায়-কুলােষ তুলসীরাম দাসে। সদা প্রভুপদ চিন্তে পরম লালসে। উৎকল দেশেতে জন্ম বলরাম দাস। বিপ্রকুলােদ্ভব ভিঁহে সংসারে উদাস। তবে প্রভু কৃপা কৈল চৌধুরী দয়ারামে। ব্রাহ্মণকুলে জন্ম দুহে রহে এক গ্রামে। দুই জনে মহাপ্রীত কহনে না যায়। সৰ্বস্ব সঁপিল যিহে প্রভুর নিজ পায় । তার ভক্তরাজ এক শ্রীহরিবল্লভ। সরকার খ্যাতি তিহো জগত দুর্লভ প্রভুত করিলা কৃপা হইয়া সদয়। যাহার ভজন রীতি কহন না যায়। আর শিষ্য প্রভুর কৃষ্ণবল্লভ চক্রবর্তী। প্ৰভুকৃপা পাইয়া যিহহ হৈল। মহামতি। গৌড়দেশবাসী শ্ৰীকৃষ্ণ পুরােহিতে। তাহারে করিলা দয়া হৈয়া কৃপান্বিতে। সেই দেশবাসী শ্যামভট্টে কৃপা কৈলা। দুই জনার শিষ্য প্রশিষ্যে জগৎ ব্যাপিলা একত্র নিবাসী শ্রীজয়রাম চক্রবর্তী। প্রেমী জয়রাম বলি যার হৈল ২৪ কর্ণান। খ্যাতি। তবে কৃপা কৈলা প্রভু ঠাকুরদাস ঠাকুরে। তাহার ভজন রীতি বড়ই গম্ভীরে। মথুরা নিবাসী হয় শ্রীমথুরাদাস। বি প্রকুলে জন্ম তার মহাসুখোল্লাস। শ্ৰীশ্যামসুন্দর দাস সরল ব্রাহ্মণ। লক্ষ হরিনাম যিহহ করেন গ্রহণ । শ্রীআত্ম রাম প্রতি প্রভু দয়া কৈল। একত্র নিবাসী তিনে মহাপ্রীত হৈল । বৃন্দাবনবাসী হয় মহা সুখরাশি। বৃন্দাবনদাস নাম মহাগুণরাশি । তাহারে করিল দয়া প্রভু গুণনিধি। তার গুণ কি কহিব মুঞি হীনবুদ্ধি। তবে ত করিল দয়া গােবিন্দ- রাম প্রতি। আত্মসাৎ কৈল প্রভু করি মহা আৰ্ত্তি । তার পর কৃপা কৈল। শ্রীগােপাল দাসে। একস্থানে স্থিতি তিনে মহা- নন্দে ভাসে। শ্রীকুগুনিবাসী তিন মহাভক্ত ধীর। প্রভু কৃপা কৈল তিনে হইয়া সুস্থির। শ্রীমােহনদাস আর ব্ৰজানন্দদাস। শ্রীহরি প্রসাদ আর সুখানন্দ দাস ॥ প্রেমী হরিরাম অরি মুক্তারামদাস। প্রভুপদে নিষ্ঠা সদা অন্তর উল্লাস। সবে মিলি একত্রেতে করেন ভজন। লক্ষ হরিনাম সবে করেন গ্রহণ। ভজন-পরাকাষ্ঠ। যার না পারি কহিতে। অাবেশে রহেন সদা মানসেবাতে। বঙ্গদেশে স্থিতি হয় নাম কলানিধি। বিপ্ৰকুলে জন্ম তার আচাৰ্য উপাধি। তারে কৃপা কৈল প্রভু হইয়া কৃপাবা। আর এক শিষ্য তার রামশরণ নাম। প্রেম- দাস রসিকদাস দুই সহোদর। বৈষ্ণবের সেবাতে দুহে বড়ই তৎপর ॥ বিষ্ণুপুর দেশে রহে কত কত জন। অনেক হইল শিষ্য না যায় লিখন। দেশেতে থাকিয়া কৈল শিষ্য বহুতর। নাজানি সে নাম তার আমি অবর। নানা দেশ বিদেশ হইতে কত জন। আইলেন সবে হৈলা কৃপার ভাজন। রাঢ়
প্রথম নির্যাস।
বঙ্গ দেশ যত গৌড়দেশ আর। ব্রজভূমি মগধ উৎকল দেশ
আর ॥ বড়গঙ্গা-পার আর বৃদ্ধকঙ্কাল। গঙ্গামধ্যে দেশ হয়
যত কিছু অার যার শিষ্য উপশিষ্য তার উপশিষ্যে। সকল
অশ্ৰিত হৈল কহিলা উদ্দেশে। কে পারে কহিতে তার
শিষ্যগণ যত। দিক দেখাইতে কিছু কহিলাম মাত্র। শিষ্য
উপশিষ্য যত কে পারে গণিতে। সহস্ৰবদন যদি পারে
কোন রীতে। সংক্ষেপে কহিল কিছু প্রভুর শাখাগণ।
কৃষ্ণপ্রেম মিলে যার করিলে স্মরণ ॥ কৃষ্ণ কিবা কৃষ্ণভক্ত
সমান চরিত। আপন পবিত্র হেতু গাঙ তার গীত । ইহা
যেই পড়ে শুনে সেই ভাগ্যবান। অনায়াসে কৃষ্ণপ্রেম হয়
বিদ্যমান। কৰ্ণানন্দ কথা এই ধার নির্যাস। শ্রবণ পরশে
ভক্তের জন্মে প্ৰেমোল্লাস। শ্ৰীঅাচাৰ্য প্রভুর-কন্যা শ্রীল
হেমলতা। প্রেম-কল্পবল্লী কিবা নিরমিল ধাতা। সে দুই
চরণপদ্ম হৃদয়ে বিলাস। কর্ণানন্দ রস কহে যদুনন্দন দাস।
॥ ॥ ইতি শ্রী কর্ণানন্দে শ্রী অচিাৰ্য প্রভুর শাখা বর্ণন
নামক প্রমথ নির্যাস সম্পূর্ণ । । । ।
[ ৪ ]
দ্বিতীয় নির্যাস। জয় জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দ। জয়াদ্বৈতচন্দ্র জয় গৌরভক্তবৃন্দ। এবে কহি শুন প্রভুর উপশাখাগণ। প্রধান প্রধান কিছু করিয়ে গণন। রামচন্দ্র কবিরাজ ঠাকুরের শাখা। কিছু মাত্র কহি আগে করি দিক্ লেখা। শ্রীবল্লভ মজুমদার বিপ্ৰকুলে জন্ম। কবিরাজ দয়া কৈল হইয়া কৃপাধীন। সদা কাল যায় যার কৃষ্ণ-পরসঙ্গে। আনন্দে আবশ যিহাে প্রেমের তরঙ্গে। আরেক সেবক ভর হরিরাম আচাৰ্য। পরমপণ্ডিত বড় সৰ্বগুণে আৰ্য্য । তঁাহার নন্দন গােপীকান্ত চক্রবর্তী। তিহে হরিনামে রত প্রেমময় কীর্তি। পিতার সেবক তিহে অতি ভক্তরাজ। তাঁহার যতেক শিষ্য লিখিতে হয় ব্যাজ। কবিরাজের শিষ্য বলরাম কবিপতি। প্রেমময় চেষ্টা যার অলৌকিক রীতি ॥ কবিরাজের শিষ্যোপশিষ্যে জগৎ ব্যাপিল। তারা সব ভাগবত, জীবে কৃপা কৈল। না পারি বলিতে কবিরাজের শিষ্যগণ। আপন পবিত্র হেতু গাই যার গুণ | জয়কৃষ্ণাচাৰ্য অার জগদীশচাৰ্য। শ্যামবল্ল ভাচার্য্য এই তিন মহা আৰ্য। অার শিষ্য ঈশ্বরীর অতি গুবা। দুই বধূ গুণবতী অতি গুণধাম ॥ দুয়েতে পরম প্রীত প্রেম- চেষ্টাময়। নিস্তারিতে জীব সব করুণা হৃদয় । হরিনাম লয় দুহে সদা অবিরাম। রাত্রি দিনে জপে নাম সংখ্যা অবিশ্রাম । লক্ষ নাম না লইলে জল নাহি খায়। অপূর্ণ রহে সদা দ্বিতীয় নির্যাস। ২৭ মনঃ- অানন্দ হিয়ায় দুই বন্ধুর নাম শুন করি একমন। যে নাম শ্রবণে হয় বাঞ্ছিত পূরণ। জ্যেষ্ঠা বধূ সত্যভামা নাম ঠাকু- রাণী। আর বধূ চন্দ্রমুখী নাম গুণমণি। একত্র দুইজনের সদা ভজন প্রসঙ্গ। প্রেমেতে পূরিত দেহ প্রফুল্লিত অঙ্গ। নিজে- শরীমুখে যেবা করিল শ্রবণ। সুখাবিষ্ট হইয়া করে স্তবের পঠন। ঐরূপ গোসাঞি অার শ্রীদাস গোসাঞি। বলিয়াছেন দুই প্রভু অননন্দিত হই। মহাপ্রভুর অষ্টক আর চৈতন্য- কল্পবৃক্ষ। আনন্দে পড়েন স্তব পাইয়া বড় সুখ । কার্পণ্য- পঞ্জিকা অার হরিকুসুমাঞ্জলি। বিলাপকুসুমাঞ্জলি পড়ে হইয়া কুতূহলী। প্রেমম্ভোজমাখ্য চাটুপুষ্পাঞ্জলি। শিক্ষা অদি করি পড়েন সকলি । ক্ষণে ক্ষণে পড়ে দুহে শ্রীরাধাগোবিন্দ। পরানন্দে দুহে সদা ভজন স্বচ্ছন্দ। দুহা- কার শিষ্যোপশিষ্যে জগৎ ব্যাপিল। তা সবার নাম কিছু লিখিতে নারিল | রাধাবল্লভ চক্রবর্তী অার বৃন্দাবন। চক্ৰবৰ্তী মহাশয় ভকত প্রধান ॥ বৃন্দাবনী ঠাকুরাণী সেবক তাহার। রাধাবিনোদ চক্রবর্তী কিশোরী চক্রবর্তী আর। মাতার সেবক দুহে ইশ্বরীর অনুসেবক। ইহা সবার মত শিষ্য সকলি অনেক। এবে কহি ঠাকুরঝি শ্ৰীল হেমলত। শ্ৰীমতীর শিষ্যগণে আছে যার খ্যাত। শ্রী সুবলচন্দ্র ঠাকুর সদানন্দ- ময়। তঁার ভ্রাতুস্পুত্র তাঁর শিষ্য মহাশয়। গােকুল চক্রবর্তী সেবক তঁাহার। মহাদাত প্রেমময় গম্ভীরঅাচার। আর শিষ্য তার রাধাবল্লভ ঠাকুর। মণ্ডল গ্রামবাসী তিহহ হয় ভক্ত- শর॥ শ্রীবল্লভ দাস আর সেবক তাহার। গােমাঞি নিবাসী তিহেঅনুরাগসার। দীন যদুনন্দন বৈদ্যদাস নাম ২৮ কর্ণানন্দ। তার। মালিহাটি গ্রামে স্থিতি প্রেমহীন ছার। করুণা চাহিয়ে তাঁর চরণে পড়িয়া। কভু যদি দয়া হয় হৃদয়ে ভাবিয়া সেবকাভাস কভু সেবা না করিল। তথাপি তাহার গুণে সে পদ ধরিল। কানুরাম চক্রবর্তী সেবক তঁাহার। দর্পনারায়ণ চণ্ডীসিংহ দুই ভৃত্য তার । রামচরণ মধু বিশ্বাস রাধাকান্ত বৈদ্য। কতেক কহিব অামি নাহি আর বেদ্য। জগদীশ কবিরাজ আর শিষ্য তার। রাধাবল্লভ কবিরাজের ভ্রাতা ভক্তসরি। শ্রীগতি প্রভুর শিষ্য প্রধান তনয়। শ্রীকৃষ্ণপ্রসাদ ঠাকুর গম্ভীর হৃদয় । শ্রীরানন্দ আর শ্রীহরি ঠাকুর। তিন পুত্র শিষ্য তার তিন ভক্তশূর। তিন পত্নী মধ্যেতে কনিষ্ঠা যেই জন। তিঁহাে ত হইল। প্রভুর কৃপার ভাজন। সর্বজ্যেষ্ঠার নাম শ্রী সত্যভামা যিহাে। শ্রীরাধামাধবকে কৃপা করিয়াছেন তিঁহহ। জগদানন্দ ঠাকুর গতি প্রভুর সেবক। পরমমধুরাশয় গুণেতে অনেক ॥ তুলসী- রাম দাসের পুত্র শ্রীঘনশ্যাম। তাহারে করিল। দয়া হইয়া কৃপাবা। কন্দর্প রায় চট্ট গতি প্রভুর দাস। তার কীর্তি গুণগান জগতে প্রকাশ । শ্ৰীব্যাস কন্যার নাম শ্রীকনক- প্রিয়া। তাহারে করিলা কৃপা সদয় হইয়া । জানকী বিশ্বাস- পুত্র শ্রী হাড়গোবিন্দ। কায়মনে সেবে দুহে প্রভুপদদ্বন্দ । প্রসাদ বিশ্বাস পুত্র বৃন্দাবন দাস। প্রভুপদে নিষ্ঠারতি পরম বিশ্বাস। ব্রজমােহন চট্টরাজ তাঁর শিষ্য অরি। পুরুষোত্তম চক্রবর্তী অার শিষ্য তঁার। আর শিষ্য প্রভুর জয়রামদাস নামে। মধুর চরিত্র বৈসে সােণারুন্ধি গ্রামে। আর ভৃত্য রাধাকৃষ্ণ আচাৰ্য্য ঠাকুর। ভজন-পরাকাষ্ঠা বড় গুণের প্রচুর।
দ্বিতীয় নির্যাস। ২৯ কৃষ্ণপ্রসাদ চক্রবর্তী গতি প্রভুর শিষ্য। রাধাকৃষ্ণ লীলা রসে ভিঁহে রহেন অবশ্য তাঁর ভ্রাতুস্পুত্র শ্রীমদন চক্র- বর্তী। কৃষ্ণলীলামৃত রসে যার সদা আৰ্ত্তি । বল্লণীকান্ত চক্রবর্তী তার এক শিষ্য। মধুর রসেতে মগ্ন রহেন অবশ্য। ঘনশ্যাম কবিরাজ তার কৃপাপাত্র। উদ্দেশ লাগিয়া দেখাইল দিগাত্র । অশেষ সেবক গতি প্রভুর ভক্তরাজ। জানিয়ে নাম তার লিখিতে হয় ব্যাজ । প্রভুর উপশাখা গণের না যায় লিখন। কিছু মাত্র দেখাইল দিগ্ দরশন। আমি অতি তুচ্ছবুদ্ধি না জানি মহিমা। অপরাধ না লইবে জন্মাবে করুণ। আগে পাছে নাম লিখি না লইবে দোষ। সবার চরণ বন্দি হইবে সন্তোষ। কৰ্ণানন্দ কথা এই সুধার নির্যাস। শ্রবণে পরশে ভক্তের জন্মে প্রেমমাল্লাস। অাচাৰ্য প্রভুর কন্যা শ্রীল হেমলতা। প্রেমকল্পবল্লী কিব। নিরমিল ধাতা। সেই দুই চরণপদ্ম হৃদয়ে বিলাসে। কর্ণা- নন্দ রস কহে যদুনন্দন দাসে। ৷ * । ইতি শ্রী কর্ণানন্দে শ্ৰীআচাৰ্যপ্রভুর উপশাখ। বর্ণন নামক দ্বিতীয় নির্যাস সম্পূর্ণ । | ২ | তৃতীয় নির্যাস। ১ = । জয় জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দ। জয়াদ্বৈতচন্দ্র জয় গৌরভক্তবৃন্দ। আর এক কথা কহি শুন মন দিয়া। কহিব রহস্য কথা শ্রবণ পূরিয়া। যে কথা শ্রবণে হয় হৃদয়ে আনন্দ। কি কহিব সেই কথা মুঞি অতি মন্দ । শুন শুন ভক্তগণ রামচন্দ্রের মহিমা। যার গুণকীর্তনে চিত্তে উপজয়ে প্রেমা ॥ এক দিন মদীশ্বরী শ্ৰীল হেমলতা। কহিতে লাগিলা মোরে করি প্রসন্নতা। শ্ৰীমতীর মুখে আমি যে কথা শুনিল। শুনিয়া অামার চিত্ত প্রসন্ন হইল । শ্রীরাম- চন্দ্র মহিমা সিন্ধু শ্ৰবণ পরশে। আনন্দে ভাসিল আমি মহাসুখখাল্লাসে। প্রভুতে রামচন্দ্রে যেন একই শরীর। গম্ভীর আশয় যার মহাভক্ত ধীর । কিবা সে মাধুৰ্য রূপ চরিত্র মাধুৰ্য্য। যতেক শুনিল গুণ সকল অশ্চিৰ্য্য। প্রভু মনোবেদ্য রামচন্দ্ৰ কবিরাজ। ব্যক্ত হইয়া অাছে ইহ জগতের মাবা। জগৎ বিখ্যাত শ্রীরামচন্দ্রকীর্তিগণ। সুশীল গাম্ভীৰ্য্য অতি বিখ্যাত ভুবন । ইহা কিছু ব্যক্ত করি করিব বর্ণন। আপন পবিত্র হেতু স্পর্শি এক কণ॥ এক দিন বনবিষ্ণু- পূরের বাড়িতে। বসিয়া আছেন প্রভু উল্লসিত চিতে। দুই ঈশ্বরী দুই পাশে বসিয়া আছিয়। অনিন্দে প্রভুর রূপ নয়নে দেখয়। আপনার ভাগ্য দুহে বহু প্রশংসিল। হেন প্রভুর পাদপদ্ম বহুভাগ্যে পাইল। তবে প্রভু কৃষ্ণকথা তৃতীয় নির্যাস। ৩১ কহে পরানন্দে। শুনিতেই ঈশ্বরীর বাঢ়িল অানন্দে। এই মতে কতক্ষণ কৃষ্ণ কথা-রসে। নিমগ্ন হইল। প্রভু মহাপ্রেমে- ল্লাসে ভাবে গর গর মন স্থির নাহি হয়। অশ্রু কম্প পুল- কেতে শরীর ব্যাপয়। ক্ষণে হুহুঙ্কার ছাড়ে ভূমে গড়ি যায়। ক্ষণেক ফুৎকার করি ডাকে উভয়। শ্রীগৌরাঙ্গচন্দ্র বলি ক্ষণে মুচ্ছা যায়। অবেশে অবশ হইয়া করে হায় হায়। শ্রীরূপসনাতন বলি ক্ষণে ডাকে মুখে। শ্ৰী ভট্ট গোসাঞি বলি ভাসে প্রেম সুখে । এই মত প্রভুর যবে কতক্ষণ গেল । অন্য কথালাপে প্রভুর মনস্থির হইল । তার পর কতক্ষণে স্নান করিয়া। শুভ্র বস্ত্র পরি তবে আসনে বসিয়া ॥ তিলক অর্পিয়া ভালে গাত্রে নামাক্ষর। স্তবপাঠ করে প্রভু করিয়া সুস্বর । কিবা সে কণ্ঠের ধ্বনি কোকিল জিনিয়া। স্তব পাঠ করে প্রভু হৃষ্টচিত্ত হইয়া । অনিন্দিত চিত্ত প্রভু বসিয়া আসনে। শ্রীবংশীবদন * সেবা করেন যতনে। চন্দন তুলসী দিয়া সেবা যে করিল। সেবা সমর্পিয়। প্রভু ধ্যানেতে বসিল। নিজাভীষ্ট সিদ্ধি দেহে মন স্থির করি। দেখে রাধাকৃষ্ণ লীলা আশ্চৰ্য্য মাধুরী ॥ রাধাকৃষ্ণ জলকেলি করে দরশন। দেখিয়া ত সেই লীলা সুখাবিষ্ট মন। যমুনাতে জলকেলি রচিয়া সুঠাম । অন্য অন্যে জলযুদ্ধে করিল। পয়ান। বেঢ়িয়া ত কৃষ্ণচন্দ্রে যত গােপীগণ। মেঘেতে বেঢ়িল যেন তড়িতের গণ। অঙ্গের অলঙ্কার যত দাসীগণে দিল। জিনিব কৃষ্ণেরে বলি জলে প্রবেশল | সেবাপরা সখীগণ তীরেতে রহিয়া। অঙ্গ- শোভা দেখে দুহার নয়ন ভরিয়া। শ্রীরূপমঞ্জরী অরি বংশীবদন বিগ্রহ বঁধইপাড়াতে রাধামাধব জীউর মন্দিরে বর্তমান।
কর্ণানন্দ
লবঙ্গমঞ্জরী। শ্রীগুণামঞ্জরী অার শ্রী রতিমঞ্জরী। শ্রীরসমঞ্জরী
আর বিলাস মঞ্জরী। শ্রীমঙুলালী মঞ্জৰ্য্যাদি যতেক মঞ্জরী ॥
ইহ সবার পাছে রহি করে দরশন। সুস্থির হইয়া করে লীলা
নিরীক্ষণ কটি আঁটি সবে মেলি বসন পড়িল। অতিদৃঢ় করি
সবে কেশ যে বান্ধিল। প্রথমেই যুদ্ধের যবে হইল আরম্ভ।
কহিতে লাগিল। তবে করি মহদিম্ভ। তবে ত সে জলযুদ্ধ
আরম্ভ হইতে। শ্রীকৃষ্ণের মুখে জল দেন অলখিতে। কিবা
সে অঙ্গের গতি কটির চালনি। কিবা সে হস্তের গতি কিবা
-ধুনায়নি । কিবা গতিভঙ্গি কিবা পদের সঞ্চার। নিমগ্ন
হইয়া জল বরিখে অপার। কিবা অদভূত গতি কুচের চালনী।
কি মাধুৰ্য তাহে অতি গ্রীবা-ধুনায়নি। মধ্যে মধ্যে ভঙ্গি
ও বাক্যের তরঙ্গ। সুধাব্ধি জিনিয়া কিবা কণ্ঠের তরঙ্গ। রাধা
সুবদনী তবে সখীগণ লইয়া। জল বরিষয়ে কৃষ্ণের নয়ন
তাকিয়া। তার মধ্যে কত শত চাতুরী অপার। বৈদগ্ধী
অবধি কিবা জলের সঞ্চার ॥ জল বরিষয়ে সবে অনিন্দিত
মনে। শ্রাবণের মেঘ যেন করে বরিষণে মুখে হাস্য কিবা
তাহে লাবণ্যের সিন্ধু। সুধীর সমুদ্রে মা হৈল। কৃষ্ণ ইন্দু।
কভু জানুজলে যুদ্ধ কভু কটিজলে। কভু বজলে কভু
কণ্ঠদ + জলে । কভু যুদ্ধ মুখামুখি কভু বক্ষবিক্ষি। কভু
নেত্রে নেত্রে যুদ্ধ কভু নখানখি। বাকযুদ্ধ কভু হয় কভু হাতা-
হাতি। ক্রীড়ায় অবশ সবে আনন্দেতে মতি। এইমত জলযুদ্ধ
* ধুনায়নি—ঢালনি।
* কণ্ঠদষ্ম—কণ্ঠপরিমিত। দগ্ন মাত্র দ্বয়স মানে” পরিমাণার্থে শব্দের
উত্তৰ দয়, মাত্র এবং দ্বয়সঢ় প্রত্যয় হয়। ( মুগ্ধবােধ)।
তৃতীয় নির্যাস। ত বাছিল অপরি। বিক্ৰম করিয়া করে জলের সঞ্চার। তবে কৃষ্ণ সকলের হরিলা বসন। নির্মল যমুনাজলে অঙ্গ নিরী- ক্ষণ। কিবা সে সৌষ্ঠব অঙ্গ লাবণ্য তরঙ্গ। হৃদয়ে আনন্দ বাঢ়ে সুখের তরঙ্গ। জলকেলি লীল। এই অগাধ অপার। জীব ক্ষুদবুদ্ধি তাহা কি পাইবে পার। ইহার বিস্তার শ্রীগোবিন্দলীলামৃতে। কবিরাজ গোসাঞি তাহা করিলা বেকতে। আনন্দে অবশ রাধা অপিনা পারে। খসিয়া পড়িল তাতে নাসার বেশরে । লীলা সমাধিয়া সবে তীরেতে উঠিল। সেবাপর সখীগণ আনন্দ হইল। যার যেই বস্ত্রা- লঙ্কার সবে পরাইয়া। অঙ্গশােভা নিরীখয়ে অনিন্দিত হইয়া। তবে ধনি সুধামুখী সখীগণ লইয়া। কৃষ্ণসঙ্গে কুঞ্জ- গৃহে প্রবেশিলা গিয়া। বৃন্দাকৃত ভক্ষ্য যত আনিল তখন। সামগ্রী দেখিয়া সবার আনন্দিত মন। নানাজাতি ফল তাহা করিয়া রচনা। ভক্ষ্যের সামগ্রী দেখি আনন্দে নিমগ্না । কত প্রকার মিষ্টান্ন আর বিবিধ ব্যঞ্জন। আস্বাদয়ে তাহা দু”হে আনন্দে মগন ॥ সেবাপন্ন সখীগণ সেবা সে করয়। যার যেই সেবা তাহা সবেই রচয় দেখি সখীগণ দুহার অঙ্গের মাধুরী। রূপ নিরখিয়া সবে আপনা পাশরি। কিবা সে লাবণ্যসার নিরমিল বিধি। কি মাধুৰ্য্য সুধাসিন্ধু রূপের অবধি॥ কিবা দিয়া দিব ভাই রূপের উপমা। মাধুৰ্য্য অবধি কিবা অঙ্গের সুষমা। উপমা দিবারে চাহি নাহিক উপমা। যাহার শ্রীঅঙ্গশোভা তাহার তুলনা। অমৃতের সর বিধি তাহাতে ছানিয়া। কোটিচন্দ্র মুখশােভা ফেলয়ে নিছিয়া। তবে রাধা মুখচন্দ্র করি নিরীক্ষণ। নাসা শূন্য দেখি [ ৫ ] ৩৪ কর্ণানন্দ। কোথা নাসা আভরণ। বিলাস বিভ্রমে কিপড়িয়াছে জলে। আভরণ লাগি সবে হইল। বিকলে। অন্য অন্যে মনে সবে যুকতি করিল। নাসার বেশর লাগি ব্যগ্র চিত্ত হইল। ঈঙ্গিতে কহয়ে তবে ঐরূপ মঞ্জরী। এগুণমঞ্জরী প্রতি কটাক্ষ নিহারি। এগুণমঞ্জরী তবে ঈঙ্গিত করিয়া। মণি-মঞ্জ- রীকে কহে প্রসন্ন হইয়া। তুমি ধনি গুণবতী রাধচিত্ত জান। কতবার আনিয়াছ রাধা-আভরণ কভু কুণ্ঠজলে লীলা কভু বক্ষজলে। দিবসেই লীলা কভু হয় নিশা- কালে। এই মত কত বার আনিলে অলঙ্কার। এবে তুমি খুজি আন কহিলাম সার। তবে সেই মণিমঞ্জরী আদেশ পাইয়া। অন্বেষিতে গেলা ধনি আনন্দিত হইয়া। যমুনার তীরে তবে আসিয়া দেখিল। তটে নাহি পাই তবে জলে প্রবেশিল । নিৰ্ম্মল যমুনাজলে করে নিরীক্ষণ। দেখিতে না পায় তাতে নাসা-আভরণ। দর্পণের প্রায় নীর দেখিতে উজ্জ্বল। রবির কিরণ তাতে করে ঝলমল। কতক্ষণ অন্বে- যিয়া না পায় দেখিতে। পাইয়া চিত্তে তবে হইল। ব্যথিতে। লীলাকালে জলে দোহার হইল বহু রণ। দুহে সুবিদগ্ধ দুহে অতি বিচক্ষণ। যমুনাতে পদচিহ্ন অতি মনাে- হর। তার মাঝে পড়িয়াছে নাসার বেশর। তাতে ঢাকা পদ্ম- পত্র না হয় বিদিত। না পাইয়া আভরণ, হইলা চিন্তিত। শুভ্রবর্ণ বালি আর শুভ্রবর্ণ পাত। ঢাকিয়াছে তেঁই তাহে না হয় বিদিত। এই মত কতক্ষণ করি অন্বেষণ। দুঃখ- চিত্ত হইয়া তবে করেন ভাবন। এথ ঈশ্বরী দুই প্রভুরে দেখিয়া। কহিতে লাগিলা কিছু অতিব্যগ্র হইয়া ॥ প্রহরেক
তৃতীয় নির্যাস।
৩
দিবস হইতে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এতক্ষণ গেল প্রভুর ধ্যান না হয়
অন্ত দেখিলেন অঙ্গের সব জড়িমা হইল। মহাপ্রভুর ভাৰ
দুহার মনে পড়ি গেল। শ্বাস প্রশ্বাস নাহি হয় উদর স্পন্দন।
দেখিতেই দুই জনার উড়িল জীবন। কর্ণ উচ্চ করি কত
করিলেন ধ্বনি। না হয় চেতন তাতে হরিধ্বনি শুনি।
এইরূপে রাত্রি যবে হইল প্রহরেক। মনে ঈশ্বরীর তবে
বাঢ়ি গেল শােক। অনিষ্ট আশঙ্কা কত উঠি গেল মনে।
এবে বুঝি বিধি মােরে হৈলা নিষ্করুণে। বক্ষে করাঘাত মারে
ভূমে গড়ি যায়। কি করিলে বিধি! বলি করে হায় হায় ।
ক্ষণে স্থির হই দুহে মনে ধৈৰ্য্য করি। বসনে বাতাস
দুহে করে ধীরি ধীরি ॥ প্রভু ধ্যানভঙ্গ নহে রাজা ত শুনিয়া।
শীঘ্র করি আইলেন ত্বরাযুক্ত হৈয়া। প্রভুগৃহে আইলা রাজা
হৃদয় কাতর। অষ্টাঙ্গ প্রণাম কত ভূমির উপর। দেখিলেন
রাজা তবে ভাব গাঢ়তর। ভাব দেখি রাজা তবে অন্তরে
কাতর । হেন সে ভাবের চেষ্টা না শুনি কোথায়। নাসাতে
অঙ্গুলি ধরে করে হায় হায় । ঠাকুরাণী পাশে রাজা
আসিয়া বসিল। শ্ৰীমতী দোহারে তবে কহিতে লাগিল।
ঠাকুরাণী কহে শুন কহিয়ে বচন। লাগিলা কহিতে তারে
ভাব বিবরণ ॥ প্রহরেক দিন যবে ধ্যানেতে বসিলা। শ্রীমতীর
মুখে রাজা সব তত্ত্ব পাইলা। রাজা মহাব্যগ্র হইয়া কি
করে উপায়। দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়ি রাজা করে হায় হায় । সেই
ক্ষণে শ্রীবল্লভী কবিরাজ আসিয়া। ঈশ্বরীরে প্রণমিল ভূমে
লোটাইয়া। তবে শ্রীব্যাসাচাৰ্য শ্রীকৃষ্ণবল্লভ। জানকী দাস
প্রসাদ দাস আইলেন সব। প্রভু দেখি সবে তবে বিষয়
কর্ণানন্দ। হইয়া। ভাবিতে লাগিল। সবে অধােমুখ হইয়াও নানা যত্ন করে সবে না হয় চেতন। ধ্যানভঙ্গ নহে দেখি উড়িল জীবন। তৃতীয় প্রহর রাত্রি গেল যে বহিয়া। হায় হায় করে কত বিলাপ করিয়া হায় নিদারুণ বিধি কি করিলে তুমি। বুকে করাঘাত করে ললাটাইয়া ভূমি । এত দিনে বিধি মােরে হইল নিদারুণ। হায় হায় করি কত করয়ে ক্রন্দন। তবে প্রভু ভক্তগণে একত্র হইয়া। কহিতে লাগিল সবে মহাব্যগ্র হইয়া। শুন শুন ঠাকুরাণি ! স্থির কর চিত। প্রভু মাের ভাবে মগ্ন পাইব সম্বিত্। কিছু স্থির হৈলা দুহে বিষাদ সম্বরি। প্রভুর কাছে বসিলেন কিছু ধৈৰ্য্য ধরি । একত্র হইয়া সবে মনে ত ভাবয়। কোন প্রকারেতে প্রভুর ধ্যান ভঙ্গ নয়। এই মতে রাত্রি গেল দিবস প্রবেশ। ধ্যান ভঙ্গ করিতে চিন্তা পাইল অশেষ। রাজা আদি করি যত প্রভু ভক্তগণ। দুঃখিত চিত্ত হইয়া সবে করেন ভাবন। এই- মতে কত চিন্তা করিতে লাগিলা। তৃতীয় প্রহর দিবা প্রবেশ করিল। তবু ত না হয় চেষ্টা বিষাদ-অন্তর। অনিষ্ট আশঙ্কা মনে সদা নিরন্তর । হায় হায় কি করিব কোথাকারে যাব। এমন গুণের নিধি কোথা গেলে পাব। অন্তরে ব্যথিত সবে করেন বিষাদ। বিধি নিদারুণ বুঝি পাড়িল প্রমাদ। এই মতে সেই দিন গেল যে বহিয়া। তৃতীয় দিবস এবে প্রবেশিকা- সিয়া উঠিল ক্রন্দনধ্বনি অতি উচ্চতর। আছাড় খাইয়া পড়ে ভূমির উপর। সম্বরিয়া ঠাকুরাণী ধৈৰ্য্য করি মনে। নাসা তুলা আরােপিয়া করে নিরীক্ষণে। তুলা নাহি চলে নাসায় দেখিল যখন। কেশ ছিড়ি আছাড় খাই পড়িল তখন।
তৃতীয় নির্যাস। ৩৭ গড়াগড়ি যায় ভূমে করে হায় হায়। বক্ষে করাঘাত মারি কান্দে উভরায়। ক্ষণে উঠে ক্ষণে পড়ে ক্ষণে অচেতন। ক্ষণে হাহাকার করি করেন ক্রন্দন এইমতে বিলাপ তবে করিতে লাগিল। আকুল হইয়া সবে হইল। বিকলা। হা হা বড় নিষ্করুণ নিদারুণ বিধি। কেন বা হরিয়া নিলে সুখের অবধি। দিয়া বিধি দয়ানিধি কেন হরি নিলে। মহারত্ন দিয়া পুন কাড়িয়া লইলে। তবে ত শ্ৰীমতী জীউ ভাবে মনে মনে। ভাবিতেই এক বার্তা পড়ি গেল মনে। প্রফুল্ল হইল চিত প্রফুল্ল বদন। কহিতে লাগিলা তবে হইয়া হাষ্টমন। ভক্ত- গণ সবে মেলি করে নিবেদন। কহ কহ ঠাকুরাণি ! কিবা তব মন। রাজা আদি করি সবে আইলা নিকটে। বার্তা কহি স্থির কর যাইব সঙ্কটে। তবে ত শ্ৰীমতী কথা কহেন আনন্দে। প্রসন্ন হইয়া শুন যত ভক্তবৃন্দে। পূর্বে আমি প্রভু মুখে যে কথা সুনিল। সেই সব কথা এবে মনেতে পড়িল। রামচন্দ্র কবিরাজ প্রভুতত্ত্ব জানে। প্রভুর মনের বার্ত। অন্যে নাহি জানে। তিঁহাে যদি আইসেন তবে সে আনন্দ। কহিতে লাগিল। কথা করি মন্দ মন্দ ॥ ঠাকুরাণী কহেন শুন প্রভু এক দিনে। কবিরাজের গুণ কথা করেন ব্যাখ্যানে। পরম সুধীরাবধি ভজন গম্ভীর। তার মনােবৃত্তি জানে সেই মহাধীর । অামার চিত্তবৃত্তি সব কবিরাজ জানে। কবিরাজ আসিব আজি দেখিনু স্বপনে। এই কথা বার বার কহেন আনন্দে। হেন কালে রামচন্দ্র আইলা পরানন্দে। প্রভু দেখি ভূমে পড়ি প্রণাম অচরি। বহু স্তুতি করি কহে যোড় হস্ত করি। প্রভু উঠি তবে তারে আলিঙ্গন কৈল।
কৰ্ণানন্দ।
কুশল বার্তা প্রভু তারে কহিতে লাগিল। কবিরাজ কহেন
তােমার দরশন বিনে। পদ দরশন বিনে কুশল কেমনে।
এখন মঙ্গল হৈল পাইনু দরশন। কৃতার্থ হইনু আমি সফল
জীবন। হাতে ধরি প্রভু তবে কবিরাজে লঞ। নিকটে
বইলা প্রভু অনিন্দিত হইয়া ॥ কৃষ্ণকথা আলাপনে কতক্ষণ
গেল। দুহে দু দরশনে অনিন্দ বাঢ়িল । তবে কথক্ষণে
দুহে স্নানাদি করিয়া। স্তব পাঠ করি দু'হে আইসেন চলিয়া।
ক্ষণে গৌরচন্দ্র বলি সঘনে ডাকয়। রূপ সনাতন বলি অশ্রু-
যুক্ত হয়। শ্রী ভট্ট গােসাঞি বলি করেন ফুৎকার। মধ্যে মধ্যে
“রাধাগোবিন্দ” করেন উচ্চার। হেন মতে আইলা প্রভু
স্নান যে করিয়া। শ্রীবংশী বদনে অসি প্রণমিলাসিয়া। বস্ত্রাদি
পরিবর্ত করি তিলক অর্পণ। শ্রীকুণ্ড গােবর্ধন বলি ডাকে
ঘন ঘন তবে নিজ কীৰ্তি করি আনন্দিত হইয়া।
তুলসীরে জল দিতে গেল। হৃষ্ট হইয়া। তবে শালগ্রাম
সেবা করিয়া যতনে। অনেক মিষ্টান্ন অদি কৈলা নিবে
দনে। মুখবাস দিয়া তবে আরতি করিল। অঙ্গনে আসিয়া
বহু পরণাম কৈল। গৃহে ত আসিয়া প্রভু প্রসাদ সেবা
করি। কবিরাজে শেষ দিল বহু কৃপা করি। তবে দুহে
বসিলেন মহানন্দ সুখে। আশ্চর্য সে সব কথা কহিব বা
কাকে। তবে ত আমরা দুহে রন্ধন করিয়া। নানা অন্ন
ব্যঞ্জন কৈলু আনন্দ পাইয়া রন্ধন প্রস্তুত হইল প্রভুকে কৈল
নিবেদন। শালগ্রাম আনি তবে করাইল ভােজন। মন্দিরে
লইয়া পুন করাইল শয়ন। মন্দ মন্দ করি তবে করেন ব্যজন।
তার পরে প্রভু তবে অঙ্গনে আসিয়া। পরণাম কৈল বহু
তৃতীয় নির্যাস। ৩৯ ভূমে লােটাইয়া। অনিলে নিরখে যত বৈষ্ণবের গণে। বৈষ্ণ- বের শোভা দেখি মহাব্দষ্ট মনে। বৈষ্ণবের গণে তবে প্রভু নিবেদিল। প্রসাদভোজন লাগি প্রভু জানাইল। সব বৈষ্ণব কহিলেন যে আজ্ঞা তােমার। অনুমতি পাই প্রভুর আনন্দ অপার। স্থান সংস্কার করাইল আনন্দিত মনে। আসিয়া ত বৈষ্ণবগণ বসিল ভােজনে। বৈষ্ণব সব বসিলেন হয়ে শারি শারি। দেখিয়া ত প্ৰভু সবে আপনা পাসরি। আপনে প্রভু পরিবেশন করিতে লাগিল। আমি সব আনি দিয়ে অন্ন ব্যঞ্জ- নের থালা। আকণ্ঠ ভরিয়া বৈষ্ণব করিল ভােজন। আর কিছু চাহি প্রভু করে নিবেদন। কিছু অর না চাহিয়ে শুন দয়ানিধি। পাইলাম প্রসাদ মোরা ভাগ্যের অবধি। ভোজন সমাপিয়া তবে আচমন কৈল। মুখশুদ্ধি করি তবে আসনে বসিল। তার পরে তবে প্রভু আইলা গৃহমাঝে। আনন্দে নিমগ্ন হৈলা দেখি কবিরাজে। তবে মােরা উভয়েতে স্নান সংস্কার করি। পিঠের উপরে তাথে উণবস্ত্র ধরি । প্রভু আসি বসিলা তবে করিতে ভােজন। আমরা ত দুইজন করি পরি- বেশন ॥ জিজ্ঞাসিলু কবিরাজ বসুন জেনেতে। প্রভু কহে প্ৰসাদ ইহে পাইব পশ্চাতে । এত বলি প্রভু প্রসাদ পান হৃষ্ট মনে। রামচন্দ্র বসি তাহা করেন ব্যজনে। ভােজন সারিয়া. প্রভু উঠিলেন তবে। অজ্ঞা দিল রামচন্দ্র ভাজন কর এবে। আচমন করি প্রভু বসিলা সেই খানে। উঠিলেন কবিরাজ করিতে ভােজনে। প্রভুর আসন আর ভােজনের পাত্র। ব্যঞ্জনের বাটী আর প্রভু জলপাত্র। বসিয়া প্রসাদ পান আনন্দিত হইয়া। প্রভুর অজ্ঞা বলি তাহা ৪ কর্ণানন্দ। ২ মস্তকে করিয়া করিতে ভােজন কত ভাবের সঞ্চার। পুলকে পূর্ণিত দেহ নেত্রে জল ধার। এইমতে কবিরাজ সমস্ত খাইয়া। আচমন করি প্রভুর নিকটে বসিয়া। চর্বিত তাল তাহা লইলাম গিয়া প্রভু যাই তবে শয্যায় করিলা গমন। শয়ন কৈল রামচন্দ্র চাপেন চরণ। তবে কতক্ষণ প্রভু শয়ন করিয়া। উঠিলেন প্রভু হরিধ্বনি উচ্চারিয়া। তবে আমরা প্রভুকে নিভৃতে পাইয়া। নিবেদিলাম প্রভু পদে বিনতি করিয়া ॥ নিরন্তর কবিরাজের প্রশংসা কর প্রভু। হেন পাত্র হেন কাৰ্য্য নাহি দেখি কভু। গুরুর আসন আর ভােজনের পাত্র। ব্যঞ্জনের বাটী আর যে বা জল- পাত্র। কেমতে বসিয়া ইহে। করিলা ভােজন। মনেতে সন্দেহ প্রভু কৈল নিবেদন। প্রভু কহে রামচন্দ্র গুণের সাগর। ইহার মনােবৃত্তি নহে তােমার গোচর। পশ্চাতে জানিবা ইহা শুন দিয়া মন । দেখিবে তােমরা তাহা ভরিয়া নয়ন। প্রভু আজ্ঞা শিরে করি আনন্দিত মন। চর্বিত মূল লইয়া করিলা ভােজন । তার পরদিন প্রভু রামচন্দ্র লইয়া। আইলেন তবে দুহে আনন্দিত হইয়া অঙ্গনে আসিয়া ফিরে একত্র হইয়া। কবিরাজে লইয়া ফিরে আন- দিত হইয়া। আগে প্রভু পিছে কবিরাজ করেন গমন। হাত ধরাধরি দুহে ফিরেন অঙ্গন। আঙ্গিনাতে এক বড় * আছয়ে পড়িয়া। কহিতে লাগিল প্রভু ত্ৰাসযুক্ত হইয়া। * বড়-পলাল (পোয়াল বা বিচ্যালী, আওড়) দ্বারা নির্মিত ধান্যাদি রাখিবার পাত্র, রাঢ় বরিন্ত্রে প্রসিদ্ধ। কিম্বা বেঁড়ে, জলের কলশী প্রভৃতির স্থাপন পদার্থ। ( ভক্তমাল গ্রন্থে উল্লেখ আছে)।
তৃতীয় নির্যাস।
৪১
লক্ষিয়া পড়িল। প্রভু সর্প যে বলিয়া। সর্প দেখ কবি,
রাজ নয়ন ভরিয়া। কবিরাজ কহে প্রভু সর্প এহি হয়।
দেখিল দেখিল প্রভু করিয়া নিশ্চা। তার পর কতক্ষণ
ভ্রমণ করিয়া। সর্প নহে বড়, এই দেখি নিরখিয়া ॥ কবি-
রাজ কহে ইহা সত্য হয় প্রভু। বড় হয়ে সর্প ইহা নাহি
হয় কভু । আমরা বসিয়া ইহা করি নিরীক্ষণ। দুহ রূপ
শোভা দেখি জুড়ায় নয়ন। এই মত দুই জনে আনন্দিত
হৈয়া। গৃহ মাঝে দুই জন বসিলেন গিয়া ॥ অামরা দুহে
মিলি তবে করি অনুমান। বুঝিলাম রামচন্দ্র গুণের নিধান।
তার পরে আমিরাত আছিয়ে নির্জনে। হেন কালে প্রভু
তথা কৈলা অাগমনে। আসিয়া কহেন কথা মধুর করি।
শুন শুন তােম। দুহে কহি বিবরিয়া। নয়নে দেখিলে এবে
রামচন্দ্রের গুণ। ইহার দৃষ্টান্ত কহি শুন দিয়া মন ।
“পূর্বে দ্রোণাচাৰ্য সব শিষ্যগণ লইয়া। অস্ত্র শিক্ষা
করায়েন আনন্দে বসিয়া। দুৰ্য্যোধন আদি করি যত সহোদর।
যুধিষ্ঠির আদি করি পঞ্চ সহোদর। কত দিন সবাকারে অস্ত্র
শিক্ষা দিয়া। আজি পরীক্ষা লইব সবায় কহিল হাসিয়া।
এত বলি এক বৃক্ষ অতি উচ্চতর । এক পক্ষী রাখিলেন
তাহার উপর। ক্রমে ক্রমে সবারে শুরু কহেন ডাকিয়া।
অস্ত্র মারই পক্ষীর নয়ন তাকিয়া ॥ এক চক্ষে মার বাণ আর
চক্ষে যায়। এইমত কথা গুরু কহেন সবায়। দুর্যোধন আদি
করি যত সহােদয়। ধনুর্বাণ লৈয়া আইলা হরিষ অন্তর।
একে একে সব তবে ধনুর্বাণ লৈয়া। বিন্ধিবার তরে আই
লেন সন্ধান পূরিয়া। ধনুকে সন্ধান বাণ করিলেন যবে। কি
[ ৬ ]
কণানন্দ। দেখিতে পাও প্রেণে ডাকি কহে তবে ॥ ধনুব্বাণ হাতে করি কহে শিষ্যগণ। বৃক্ষ দেখি ডাল দেখি কহিল বচন। ক্রোধ করি দ্রোণ তবে কহেন উত্তর। বসিয়া ত মহগিয়া লৈয়া ধনু শর। এইমতে সবাকারে করিয়া পরীক্ষা। তােমাদের নহি বেক ধনুকের শিক্ষা পশ্চাতে ডাকিয়া দ্রোণ বলিল অৰ্জ্জুনে। সন্ধান পূরিয়া বীর আইল তৎক্ষণে। গুরু প্রণ- মিয়া বীর ধনুক লইয়া। বিন্ধিবার তরে গেলা আনন্দিত হৈয়া । ডাকিয়া কহেন বীর অর্জুনের প্রতি। কি দেখিতে পাও তাহা কহ শুদ্ধমতি। অর্জুন কহেন গুরু পক্ষ মাত্র দেখি। এবে পক্ষ নাহি দেখি দেখি মাত্র আঁখি। দ্রোণ কহে মার বাণ পূরিয়া সন্ধান। তাকিয়া বিন্ধহ বাণ পক্ষের নয়ন । তবে ত অর্জুন বীর বাণ ছাড়ি দিল। এক নেত্রে ফুটি বাণ অন্য নেত্রে বাহির হৈল । ধন্য ধন্য বলি দ্রোণ কহেন ডাকিয়া। কহিতে লাগিল। সব শিষ্য নির- খিয়া। বৃক্ষ নাহি দেখে বীর দেখে মাত্র পক্ষ। পক্ষ নাহি দেখে পুনঃ দেখে মাত্র চক্ষ। আমি যে কহিলাম তাহা দেখিতে সে পায়। বৃক্ষকে না দেখিবেক বৃক্ষের কিবা তবে ত অৰ্জ্জুন পুন গুরুকে প্রণমিয়া। শিষ্যগণ মাঝে যাই বসিলেন গিয়া। আনন্দে পূর্ণিত হইলা দ্রোণা- চার্যের মন। পুনঃ পুনঃ এই বাক্য কহে ঘন ঘন ॥ তুমিহ আমার সম হও সর্বথায়। এমত অদ্ভুত কাৰ্য্য না দেখিয়ে কায় ॥ হইতে প্রিয় সব। শিষ্য তুমি যে আমার। অন্যথা নাহিক আমি কৈল সারােদ্ধার ॥ শুনিয়াত দুৰ্য্যোধন বিষন্ন হৈল। মনে। দুঃখচিত্ত হৈল রাজা ভাবে মনে মনে।” দায় ॥
তৃতীয় নির্যাস। ৪৩ ইহা কহি অনিন্দ পাইল প্রভু মনে। রামচন্দ্র গুণ গান বুঝি দেখ মনে। আমি যে কহিল তাতে নাহি অন্য- খায়। ভোজন করিলা আজ্ঞা মানি সর্বথায় ॥ অরি দেখ বড়, এক আছিল অঙ্গনে। সর্প কহিলাম তাতে সর্প করি মনে। পুনঃ কহিলাম সর্প নহে বড় হয়। কবিরাজ কহে বড় এইত নিশ্চয় । তোমরা দুই জনে ইহা বুঝ মন দিয়া। কহিতে লাগিলা প্রভু আনন্দ পাইয়া। সন্দেহ ঘুচিল এবে কহ বিবরণ। প্রভুপায় হৈল মোর সন্দেহ ছেদন । তােমার কৃপা বিনা ইহা জানিব কেমতে। জানিলাম আমরা এবে চিত্তের সহিতে। প্রভু কহে আজি হৈতে তোমরা ভাগ্যবান। দেখিলে শুনিলে রামচন্দ্রের গুণগ্রাস ॥ দ্রোণা- চাৰ্য শিষ্যমধ্যে যেমন ফণি ২৪ | তে মতি রামচন্দ্রের বুঝহ অনুমানি। রামচন্দ্র গুণসিন্ধু মহিমা তপার। কহিলাম তােমারে আমি করি সরোদ্ধার মাের গণে সে লইবে রামচন্দ্রের মত। সেই সে আমার গণে হইব মহত্ ॥ রাম- চন্দ্র নরােত্তম নয়ন যুগল। নেত্র বিনা শরীরের সকল নিস্ফল। যেন রামচন্দ্র গুণ তেন নরোত্তম। দুই জনে ভেদ নাহি দুহে এক সম। এ দোহার মৰ্ম্ম জানে কবিরাজ গােবিন্দ। আর সে জানিল ইহা চক্রবর্তী গোবিন্দ । যেই জন লইবে রামচন্দ্র অনুসার। সেই সে পাইবে রাধাকৃষ্ণ- লীলাপার ॥ মঞ্জরীর যূথ মাঝে পরকীয়া মতে। বৃন্দাবনধাম প্রাপ্তি হইব নিশ্চিতে । তােমর। শুনহ ইহা মনের সহিতে। নিশ্চয় করিয়া ইহা কহিলাম তেতে। কহিতে কহিতে * ফাণি-অর্জুন
৪৪
কর্ণানন্দ
প্রভুর বাঢ়ে অতি সুখ। রামচন্দ্র গুণ কহে হইয়া পঞ্চমুখ ।
এইমত কত প্রভু করেন ব্যাখ্যান। আমরা শুনিয়ে তাহা পাতি
দুই কাণ। ভক্তগণে ঠাকুরাণী কহিতে কহিতে। আরেক
অপূর্ব কথা পড়ি গেল চিতে। তোমরা শুনহ তাহা করি
এক মন। গাঢ় শ্রদ্ধা করি শুন করিয়া যতন। হেন অদভুত
কথা শ্রবণ মঙ্গল। পরম পবিত্র কথা অতি নিরমল । এক
দিন পূর্বে প্রভু করেন ভোজন। দক্ষিণ বামেতে তবে
বসিলা দুই জন এক ভিতে রামচন্দ্র আর ভিতে নরোত্তম।
ভােজন করয়ে তিনে অতি মনােরম। ভােজন-অানন্দ-কথা
কহিতে না পারি। দেখিয়া আমরা তাহা অাপনা পাশরি ।
কৃষ্ণ-কথা-রসাবেশে মনের আলাদ। দুই জনে পরশিয়া
দিছেন প্রসাদ। পুনঃ পুনঃ পরশিয়া দিছেন ব্যঞ্জন। আমরা
থাকিয়া তাহা করি নিরীক্ষণ। সেব্য হইয়া সেবকেরে
পরশে কিমতে। মনেতে সন্দেহ মাের বাঢ়ি গেল চিতে।
তার পর সকলে ভােজন সমাপিয়া। আচমন করিলেন মহা-
হৃষ্ট হৈয়া। তবে আমি তিন জনে বসিয়া নিভৃতে। কৃষ্ণের
চরিত্র-কথা লাগিল কহিতে ৷ কহিতে কহিতে কথা কৃষ্ণের
প্রসঙ্গ। আনন্দে অবশ তিনে প্রফুল্লিত অঙ্গ। প্রেমে গর
গর চিত্ত নাহি হয় স্থির। পুলকে পূরিত দেহ নেত্রে বহে
নীর। আর কত বহে তাতে প্রেমের সঞ্চার। কত শত ভাব
তাতে না জানিয়ে পার। এইমত কত ক্ষণ কৃষ্ণ-পরসঙ্গে।
আর কত বহে তাতে সুখের তরঙ্গে। তার পর কত ক্ষণ
অবসর পাইয়া। জিজ্ঞাসিলু প্রভুকে মােরা বিনয় করিয়া ।
প্রভু কহে কহ কহ শুনিয়ে বচন। তবে প্রভু-পদে মােরা
তৃতীয় নির্যাস। ৪৫ কৈল নিবেদন। রামচন্দ্র নরোত্তমে ভোজন করিতে। পর- শিলে ইহা আমি দেখেছি সাক্ষাতে । কৃপা করি কহ প্রভু ইহার কারণ। গুরু হইয়া শিষ্যে পরশি করিল। ভোজন প্রভু কহে শুন শুন সাবধান হইয়া। দুই জনে দুই হস্ত কহি বিবরিয়া। কিবা দুই জন হয় আমার নয়ন। অভেদ শরীর রামচন্দ্র নরোত্তম। নিশ্চয় জানিহ ইহা শুনহ কারণ। নিজ অঙ্গ পরশিলে দোষ কি কারণ! ইহা আমি দেখিলাম শুনিনু শ্রবণে। মনােমধ্যে তােমরা এবে কর অনুমানে। এই সব কথা ঈশ্বরী কহিতে কহিতে। আচম্বিতে বাম চক্ষু লাগিল নাচিতে। বাম উরু বাম অঙ্গ করয়ে নর্তন। রামচন্দ্র আগমন জানিলা কারণ। নিজেশ্বরী মুখে সবে বচন শুনিয়া। দেখিব যে রামচন্দ্র নয়ন ভরিয়া । এইমতে সবে ভেল অানন্দে পূরিতে। সবাকার দক্ষিণ চক্ষু লাগিল। নাচিতে। জানিলাম বিধি এৰে পূৱাবে মনােরথ। একত্র হইয়া সবে নিরীক্ষয় পথ। সবেই আনন্দ পাইলা ভাবে মনে মন। হেন কালে রামচন্দ্রের হৈল অগিমন। দূর হইতে সবে রামচন্দ্রেরে দেখিয়া। অনিবারে গেল। তবে হৃষ্টচিত হইয়া। আপনি ঈশ্বরী দুই করিল গমন। রামচন্দ্রে দেখে দুহে ভরিয়া নয়ন। ঈশ্বরী দেখিয়া রামচন্দ্র কবিরাজ। পুলকে পূরিত দেহ অঞ হৃদি মাঝ। কবিরাজ তবে ঠাকুরাণীকে দেখিয়া। কত পরণাম করে ভূমে লোটাইয়া দেখি রামচন্দ্র সবে উল্লাস-হৃদয়। অন্ধ- কার নাশি যেন রবির উদয় । উঠে কবিরাজ তবে করযােড় করি। বিষন্ন দেখিয়ে কেন কহ ত ঈশ্বর ! প্রভুভক্তগণ সবে ব্যাকুল দেখিয়া। কি লাগি বিষ দেখি কহ বিবরিয়া । ।
৪৬ কর্ণানন্দ। ঠাকুরাণী কহে তবে প্রভুর সমাচার। বুঝিলেন রামচন্দ্র প্রভুর বিচার। তবে ঠাকুরাণী তারে গৃহেতে লইয়া। আনি লেন তারে অতি যতন করিয়া হাতে ধরি লইলেন হৃষ্ট- চিত্ত হইয়া। ভক্তগণ আইলেন পাছে ত লাগিয়া । ঠাকুরাণী কহে শুন পুত্র রামচন্দ্র ।। তুমি আইলে এবে সবার হইবে অনিন্দ। প্রভুরে যাইয়। তবে পরণাম করে। লােটা। লোটা পড়ে ভূমির উপরে। প্রণাম করিয়া তবে পুছেন কারণ। ঠাকুরাণী কহে তবে সব বিবরণ। তিন দিন তােমার প্রভু বসিয়া সমাধি। তোম। দেখি গেল মোর হৃদয়ের ব্যাধি। তোমার নিমিত্তে প্রাণ ধরিয়া অাছিয়ে। শুন শুন অহে পুত্র নিশ্চয় কহিয়ে। তােমার যত গুণ পুত্র প্রভু-মুখে শুনি। তােমা দেখি হে পুত্র জুড়ায় পরাণি। যত যত শুনি পুত্র তোমার গুণ গান। প্রভু-মুখে শুনি তাহা অনিন্দিত মন। তােমার গুণ অামি কত করিব ব্যাখ্যান। আমরা নহিয়ে পুত্র তােমার সমান। তুমি সে জানহ পুত্র প্রভুর হৃদয়। অন্যথা নাহিক ইথে কহিনু নিশ্চয়। ধন্য ধন্য অহে পুত্র তুমি ভাগ্যবান। প্রভু সদা তােমার গুণ করেন ব্যাখ্যান ॥ ঈশ্বরীর মুখে রামচন্দ্র বচন শুনিয়া। পরণাম করে কত ভূমে লােটাইয়া উঠি রামচন্দ্র তবে যােড় হাত করি। শ্ৰীমতীর আজ্ঞা লইয়া করে শিরোপরি । তবে শ্রীমতী রামচন্দ্রের হস্তেত ধরিয়া। লইলেন যথা প্রভু ধ্যানেতে বসিয়া। রামচন্দ্র যাই তবে প্রভুরে দেখিয়া"। ভাবেতে নিমগ্ন দেখে নয়ন ভরিয়া ॥ জড় প্রায় বসিয়াছে নাহিক চেতন। শ্বাস প্রশ্বাস নাহি দেখে উদর-স্পন্দন । | তৃতীয় নির্যাস। ৪৭ দেখি রামচন্দ্র তবে নাসায় হাত দিয়া। কহিতে লাগিল। কথা মধুর করিয়া । হেন অদভুত ভাব না দেখি নয়নে। পুর্বে মহাপ্রভুর ভাব শুনেছি এবণে । এবে তাহা সাক্ষাতে ভাব দেখিল নয়নে। প্রগাঢ় প্রগাঢ় ভাব জানিলেন মনে। বস্তুতে আবৃত তবে প্রভুরে করিয়া। শ্ৰীমতীর পাদপদ্ম মস্তকে বন্দিয়া । বস্ত্রেতে আবৃত তাতে করিল। প্রবেশ। জানিলেন সর্বকাৰ্য্য আশেষ বিশেষ। তবে রামচন্দ্র কহে শ্ৰীমতীর প্রতি। দণ্ড দুই অবধি প্রভু করিবে সম্প্রতি। দুই দণ্ড ব্যতীত তবে উচ্চ করিয়া। শুনাইবেন হরিনাম শ্রবণ পর্শিয়া। ধ্যান ভঙ্গ হইবেক কহিল নিশ্চয়। জানিবেন সব কাজ ইথে তান্য নয়। প্রদত্ত সিদ্ধদেহ করি আরােপিত। জানিল সকল কাৰ্য ঘেব মনােনীত। যমুনাতে আভরণ পদ- চিহ্ন পরে। পদ্মপত্র ঢাকিয়াছে তাহার উপরে। তাহা না পাইয়া এবে হৃদয়ে চিন্তিত। হেনকালে সেই স্থানে গেল। আচম্বিত। শ্রীমণিমঞ্জরী তবে তাহারে দেখিয়া। আইস আইস বলি কহে উল্লসিত হইয়া ইবে সে না পাই আমি রাধার আভরণ। তােমারে দেখিয়া আমি হইনু পরসন্ন ॥ তবে দুই জনে করে জল নিরীক্ষণ। খুজিতে খুজিতে দুহে ফেরে অনুক্ষণ। পদ্মপত্ৰচাকি যথা আছে অভরণ। পত্ৰ দূর করি তাতে পাইল তখন ॥ পাইল আভরণ তবে হাতে ত লইয়া। মনের আনন্দে তাহা লইল হাসিয়া। ধন্য ধন্য তুমি সখী অতি ভাগ্যবান। এইমত কত কত করেন ব্যাখ্যান। জলে হইতে উঠিলেন আভরণ লইয়া। তীরে ত আইলা দুহে মহাহৃষ্ট হইয়া। তথায় রাধাকৃষ্ণ ভােজন সমাপিয়া ৪৮ কর্ণানন্দ সুতি অাছেন দুই জন। অনিন্দ পাইয়া। সেবাপরা সখী যত হৃদয়ে চিন্তিত। না পাইয়া আভরণ অন্তরে ভাবিত। কুঞ্জ দ্বারে সবে গেলি নয়ন অপিয়া। বসিয়াছেন সবে তাহা পথ নিরখিয়া ॥ হেন কালে পথে আইসেন দেখিতে পাইল। পাইয়াছেন অভিরণ মনে ত জানিল । মন্থর গানে আইসে প্রসন্ন বদন। কত ভাব তরঙ্গ তাতে চঞ্চল লােচন । নিকটে আইলা দুহে আনন্দ হইয়া। দেহ আভরণ যাহা পাইলা খুজিয়া । তুমি সতী কুলবতী রাধচিত্ত জান। তোমা অনুগত ইহেঁ। তোমার সমান। রাধা-মনোবেদ্য তুমি ইহা আমি জানি। মণিমঞ্জরী নাম তাতে সবে অনুমানি। তুমি মণিমঞ্জরী জান রাধার বেদন। এই মত কত শত করেন ব্যাখ্যান। গুণমঞ্জরী হাতে দিল নাসার বেসরে। দিলেন আভরণ ভাসি আনন্দ সাগরে। গুণমঞ্জরী দিল রূপ মঞ্জরী হাতে। পাইয়া ত আভরণ পূরিল মনোরথে । অভাণ লইয়া সবে করেন গমন। দেখিলেন দুই জনে করিয়াছে শয়ন কৃষ্ণ-ভুজ-দেশে রাধা মস্তক অপিয়া। রসের অবেশে দুহে আছেন সুতিয়া ॥ নিরখিয়া মুখশোভা মনের উল্লাস। অভিরণ পরাইতে হৃদে অভিলাষ। পরাইল আভ- রণ নাসছিদ্র দেখিয়া। শ্রীরূপমঞ্জরী পরাইল কৌশল করিয়া। বিকাশে বৈদগ্ধী ইহার কহনে না যায়। মনের কৌতুকে বেশর পরইলা নাসায়। নিশ্বাসে দুলিছে তাতে অতি মন্দ মন্দ। মুখচন্দ্র-শোভা দেখি মনের আনন্দ। তবে রূপমঞ্জীর চরণ দেখিয়া। পদসেবা করে চিত্তে অনিন্দ পাইয়া । শ্রীগুণমঞ্জরী তবে এক পদ লইয়া। আপনার
তৃতীয় নির্যাস।
৪৯
জানূপরে অর্পণ করিয়া । মন্দ মন্দ করিতেছেন পাদসম্বা-
হন। সেবন করয়ে দুহে সুখাবিষ্ট মন। কতক্ষণ ব্যতিরেকে
গুণমঞ্জরী। শ্রীমণিমঞ্জরী প্রতি কটাক্ষ সঞ্চারি। ঈঙ্গিতে
কহিলেন তুমি পদসেবা কর। আইস অইস সখী বলি
কহেন বার বার। তবে মণিমঞ্জরী শ্রীচরণস্পর্শিয়া। পদ
সেবা করে চিত্তে সন্তোষ পাইয়া দেখিয়া শ্রীরূপমঞ্জরী
হৃদয়ে আনন্দ। কহিতে লাগিল। কথা করি মন্দ মন্দ ।
তোমার নিমিত্ত রাধাচৰ্বিততামূলে। বান্ধা অাছে এই
দেখ অামার আঁচলে। লইল অধরশেষ যতন করিয়া ।
কত সুখ উপজিল প্রসাদ পাইয়া । নিজসখী লাগি কিছু
আঁচলে বান্ধিল। ঐগুণমঞ্জরী দেখি সন্তোষ পাইল ।
এথ। শ্রীমতী দণ্ড দুই অপেক্ষা করিয়া । বস্ত্রেতে আবৃত
তাতে প্রবেশিলা গিয়া। বাহিরে রহিল যত প্রভুর ভক্তগণ।
শ্ৰীমতী সবার প্রতি কহেন বচন। সবে মেলি উচ্চ করি
কর হরিধ্বনি। অনিন্দিত হইয়া এই কহিলেন বাণী ।
তবে ঠাকুরাণী দুই জনেরে দেখিয়া। দুই জনে ভাবে মগ্ন
অাছেন বসিয়া । মনে ত জানিল দুহার অদ্ভুত চরিত।
দেখিয়া ত ঠাকুরাণী পাইল বহুপ্রীত। তবে শ্রীমতী প্রভুর
কর্ণে উচ্চ ত করিয়া। হরিধ্বনি করে চিত্তে অনিন্দ
পাইয়া । বাহিরেতে সবে মেলি করে হরিধ্বনি। হরিধ্বনি
বিনা আর কিছুই না শুনি। এইমত বহু বেরি করিতে
করিতে। হরিধ্বনি প্রবেশিলা প্রভুর কর্ণেতে। প্রবেশিতে
হরিনাম বাহ পাইল চিত্তে। হুহুঙ্কার করি প্রভু উঠে অচি-
ম্বিতে। বাহ যে পাইয়া প্রভু ইতি উতি চায়। যে দেখিতে
[ ৭ ]
কর্ণানন্দ। চাহে তাহা দেখতে না পায়। বাহাবেশে প্রভু তবে গর গর মন। নিপট্ট বাহ হইল যেন হারাইলা ধন। প্রভুর ভক্তগণ তবে বস্ত্র দূর করি। দেখিলেন অঙ্গশোভা অপূৰ্ব্ব মাধুরী। আনন্দ অবধি সবার নাহি কিছু ওরে। ডুবিলেন সবে যেন অনিন্দসাগরে। তবে প্রভু ক্ষণে ধৈৰ্য ক্ষণেতে অস্থির। স্তপ্রায় ক্ষণে রহে ক্ষণেত গম্ভীর। এই মতে প্রভু নিজভাব সম্বরিয়া। কহিতে লাগিল। কিছু সব নিরখিয়া। রামচন্দ্র আদি করি প্রভুর ভক্তগণ। শুনিয়া প্রভুর বাক্য হরষিত মন আনন্দের অবধি কিছু নাহিক সবার। যে আনন্দ হৈল তাহা কে পারে বর্ণিবার! আনন্দের সিন্ধু মাঝে ডুবিয়া রহিল। প্রাণ ছাড়ি গেল দেহে আসিয়া বসিল।। কত কত আনন্দ সিন্ধু কহনে না যায়। রামচন্দ্রে দেখে সবে হরিষ হিয়ায়। শ্ৰীমতী কহে রামচন্দ্র গুণের সাগর। প্রভুর চিত্তবৃত্তি পুত্র তোমার গােচর। পূর্বে মহা- প্রভু প্রিয় যেন রামানন্দ। প্রভু প্রিয় তেন তুমি হও রাম- চন্দ্র ॥ শ্রীকৃষ্ণের প্রিয় যেন সুবল মহাশয়। তেন তুমি প্রভু প্রিয় জানিল নিশ্চয়। প্রাণদান দিলে পুত্ৰ কহ সমাচার। বিবরি কহ পুত্র প্রভুর ব্যবহার। তিন দিন ধ্যানে বসি ছিল। প্রভু তোর। কারণ কহ রামচন্দ্র গোচর নহে মাের । তবে রামচন্দ্র কহে যােড়হস্ত করি। প্রভুর ভাবের কথা কহেন, বিবরিয়া। মদীশ্বরী প্রভু তুমি শুনহ কারণ। তিন দিন ধ্যানে ছিল যাহার কারণ | রাধাকৃষ্ণ জলকেলি মনেত চিন্তিয়া। যমুনাতে দেখি লীলা সুখাবিষ্ট হইয়া। নানান তরঙ্গে লীলা কথনে না যায়। উনমত হইয়া যুদ্ধ করে যমুনায়। কত কত তৃতীয় নির্যাস। ভবসিন্ধু তাতে প্রকাশিয়া। নাসায় বেসর তাতে পড়িল খসিয়া। রাধার বেসর পড়িল যমুনার জলে। না পাইয়া আভরণ হইল। ব্যাকুলে। এই মত যত কথা কহে বিব- রিয়া। শুনিয়া ত ঠাকুরাণীর আনন্দিত হিয়া। যত কিছু বিবরণ সকলি কহিল। অনন্ত প্রভুর ভাব নিশ্চয় জানিলা ধন্য ধন্য রামচন্দ্র তুমি গুণসিন্ধু। কহিতে না পারি কিছু তার এক বিন্দু। পূর্বে আমি প্রভু মুখে শুনিল তব গুণ। তােমার গুণকীৰ্ত্তি পুত্র করিয়াছি শ্রবণ। শুন শুন রামচন্দ্র তুমি গুণনিধি। তোম। পুত্র পাইল মােরা ভাগ্যের অবধি। এই মতে রামচন্দ্রে বহু প্রশংসিয়া। নয়নে ঝরয়ে নীর মুখ বুক বৈয়া। সুখের অবধি কিছু কহনে না যায়। রামচন্দ্র রামচন্দ্র বলি করে হায় হায় । নিছনি যাইয়ে পুত্র ইথে নাহি দায়। তব গুণে বিক্রীত হইলাম সর্বথায়। বাহিরে আইলা তবে রামচন্দ্রে লইয়া। সবেত অনিন্দ পাইলা প্রভুকে দেখিয়া ॥ যেবা সুখ উপজিল প্রভুর মন্দিরে। সহস্র মুখে তাহা কেবা পারে বর্ণিবারে। রামচন্দ্র চরিত্র দেখি সবে চমৎকার। ইহে প্রভুর প্রিয় অতি জানিল। নিৰ্দ্ধার ॥ তবে ত শ্ৰীমতী দুই মহানন্দ পাইয়া। রামচন্দ্র গুণ কথা কহে ফুক- রিয়া। শুন শুন ভক্তগণ শুনহ বচনে। রামচন্দ্র-চরিত্র-গুণ দেখিল নয়নে। অদ্ভুত কাৰ্য ইহার বাক্য অগোচর। কি কহিব রামচন্দ্র গুণের সাগর । তবে শ্রীমতী রামচন্দ্রে। লইয়া যতনে। সঙ্গেত লইয়া আর যত ভক্তগণে ॥ নিকটে প্রভুর যাই করে নিবেদন। এই রামচন্দ্র পাইল অমূল্য রতন। যেন তুমি তেন ইহ সমান চরিত্র। মননামাঝে ইহা আমি কৰ্ণানন্দ। লইয়া। জানিলু নিশ্চিত। শুন প্রভু দয়াময় গুণের সাগর। না জানে চরিত্র তােমার বাক্য অগোচর। দয়া কর অহে প্রভু লই স্মরণ। ভাল মন্দ না জানিয়ে কৈল নিবেদন। আপনার হিতাহিত কিছুই না জানি। কেবল ভরস। তোমার পাদ দুইখানি। পতিত পাবন হেতু তোমার অবতার। বারেক করুণা করি কর অঙ্গীকার। আমি গতি হীনবুদ্ধি কি বলিতে জানি। নিজগুণে দয়া কর তুমি গুণমণি। বহুভাগ্যে পাই- লাম তােমার চরণ। কৃতার্থ করহ প্রভু লইলাম স্মরণ। রামচন্দ্র হেন মোরে দয়া কর প্রভু। এমত গুণের নিধি দেখি- নাই কভু। এই মত প্রভু স্তুতি করিতে করিতে। প্রসন্ন হইল। প্রভু মনের সহিতে। তবে প্রভু রামচন্দ্ৰ শ্ৰীমতী নিজ-মন-কথা কহে নিভৃতে বসিয়া ॥ শ্রীরাধার অধর শেষ রামচন্দ্র লাগিয়া। রাখিয়াছি আমি তাহা অঞ্চলে বান্ধিয়া । এত বলি প্রভু নিজ অঞ্চল খুলিয়া। দিলেন অধর সুধা আনন্দ পাইয়া ॥ আগে রামচন্দ্রে দিল তবে ঈশ্বরী দু জনে। মহানন্দে তিন জনে করিল। ভােজনে॥ প্রসাদ মাধুরী গন্ধ অতি মনােহরে। প্রসাদ সৌরভ পাইয়া আপন পাসরে। আবেশে অবস তনু নাহি কিছু ওর। ভাবে ত নিমগ্ন হইয়া হইলেন ভাের। পুলকে পূর্ণিত দেহ সঘনে হুঙ্কার। নয়- নেতে প্রেমধারা বহে অনিবার। হায় হায় কি মাধুৰ্য কৈল আস্বাদন। সুধা গৰ্ব খর্ব যাতে করয়ে নিন। প্রভু কহে শুন দুহে সাবধান হইয়া। আনিলু প্রসাদ আমি রামচন্দ্র লাগিয়া ॥ দুর্লভ এই প্রসাদ করিলে ভােজ। আজি হৈতে হইল দুহে রামচন্দ্র সম। ব্ৰহ্মাদি দুর্লভ এই তৃতীয় নির্যাস। ৫৩ শ্রীরাধাধরামৃত। তাহা পান কৈলা এবে হৈলা কৃত কৃত্য। অন্যের আছুক দায় শ্রীকৃষ্ণের দুর্লভ। রামচন্দ্র হইতে তুমি পাইল। এ সব। শুন শুন প্রিয়া মাের কহিয়ে বচন। রামচন্দ্র হয় মাের জীবনের জীবন। রামচন্দ্র নরােত্তম দুহে এক দেহ। নিশ্চয় কহিল। ইহা নাহিক সন্দেহ। আর আমি কি কহিব ইথে নাহি দায়। দুই জনে মোর প্রাণ ভিন্ন মাত্র কয়। নিশ্চয় নিশ্চয় এই কহিয়ে নিশ্চয়। দুই জনে মাের প্রাণ ইথে অন্য নয়। তবে প্রভু সব ভক্ত- গণেরে লইয়া | এইমতে সব জনে কহেন ডাকিয়া। সবেই শুনিল রামচন্দ্রের গুণগণ। কৃতার্থ করিয়। তবে মানে সব জন। নিশ্চয় জানিলাম এবে রামচন্দ্র বিনে। প্রভুর মনের বেদ্য নহে কোন জনে। তবে সব ভক্ত প্রভুরে বিনতি করিয়া। নিবেদন করে সবে চরণে পড়িয়া । অহে রামচন্দ্র নথি দয়া কর মােরে। করুণা করিয়া এবে করহ উদ্ধারে । তুমি বিনা অন্য নাহি আম সবার গতি। রামচন্দ্র হেন দয়া করহ সংপ্রতি। বহু জন্ম ভাগ্যে মিলে তােমার চরণ। করুণা করহ মেরে লই শরণ ॥ কৃতার্থ করহ প্রভু তুমি দয়ানিধি। পতিতের ত্রাণ হেতু তুমি গুণনিধি দন্তে তৃণ করি মাগো দেহ পদচ্ছায়া। দয়া কর অহে প্রভু না করহ 'মায়। দুর্গতির ত্ৰাণ হেতু তােমার অবতার। নিশ্চয় জানিল প্রভু এই সারাৎসার । যার কৃপাপাত্র রামচন্দ্র মহা ভাগবত। কি কহিব ভার গুণ জগতে বিখ্যাত। হেন সে দয়ার পাত্র জগতে নাহি আর। নিবেদিব কত প্রভু কর অঙ্গীকার। এতেক ভক্তগণের বিনতি শুনিয়া। বাটুল ৫৪ কর্ণানন্দ। করুণ চিত্তে উল্লসিত হইয়া। প্রভু কহে তুমি সব আমার নিজ দাস। তোমা সব দেখি মাের চিত্তের উল্লাস। এতেক প্রভুর মুখে বচন শুনিয়া। আনন্দ হইলা সবে কহে বিবরিয়া। তিন দিন ধ্যানে প্রভু আছিলা বাসিয়া। ইহার কারণ প্রভু কহ বিবরিয়া। প্রভু কহে শুন শুন করি একমন। রামচন্দ্র জানে মাের মনের বেদন। ইহার স্থানে পাবে মোর চিত্তের বিশেষ। রামচন্দ্র কহিবেন ইহার উদ্দেশ। এত বলি রামচন্দ্রে ঈঙ্গিত করিয়া। কহিলেন শ্ৰীমতীর মুখ নিরখিয়া। তবে দুই ঈশ্বরী প্রভুর ঈঙ্গিত জানিয়া। জানিল কারণ তবে প্রসন্ন হইয়া। তিন জনে ইহা সবায় কহিবে কারণ। এত শুনি সবাকার আনন্দিত মন ॥ ভক্ত- গণে তিন জনে কহেন বচন। পশ্চাতে তােমা সবায় কহিব কারণ। নিজেশ্বরীমুখে সব বচন শুনিয়া। শুনিব যে প্রভুর ভাব শ্রবণ পূরিয়া এই ত কহিল প্রভুর ভাবের মহিমা। সহস্র মুখে কহি যদি নাহি পাই সীমা। মহাশ্চৰ্য্য প্রভুর ভাব মহিমার সিন্ধু। অাপন পবিত্র হেতু স্পর্শি এক বিন্দু। তবে সবে প্রভু গৃহে হইয়া আনন্দ। পরম আনন্দে সবে রহিলা স্বচ্ছন্দ। তবে শ্ৰীমতী প্রভুর ঈঙ্গিত পাইয়া। স্নান করি গেল। হে রন্ধন লাগিয়া । তার পর প্রভু রামচন্দ্র আদি করি। স্নানার্থে চলিলা সবে মহাকুতু- হলি। স্নান করি আসি সবে আইলা স্বচ্ছন্দ। প্রভু নিজকৃত্য করে হইয়া অানন্দ। রন্ধন প্রস্তুত হৈল কৃষ্ণে কৈল নিবে- দন। তবে বৈষ্ণবগণের করাই ভােজন। তার পর প্রভু নিজ ভক্তের সহিতে। বসিলেন সবে মেলি ভােজন তৃতীয় নির্যাস। করিতে। রামচন্দ্রে বসাইলা মনের হরিযে। আর যত ভক্ত- গণ বসিলা তার পাশে। তার পর দুই ঈশ্বরী প্রসাদ লইয়া। প্রভুরে আনিয়া দিলেন মহাব্দষ্ট হইয়া। তবে সব ভক্তগণে দিলেন প্রসার। পরিবেশন করে দুহে পাইয়া অহ্নদ। প্রভু বসিলেন তবে ভোজন করিতে। শ্রীমতী খাইয়া তবে পাতিলেন হাতে। প্রভুর অধর শেষ লইয়া কৌতুকে। সবাকারে দিলা তাহা মহানন্দ সুখে । তিন দিন বহি অন্ন জল দিল। মুখে। প্রসাদ সেবন করেন পরম কৌতুকে । এইমতে সবেই ভোজন সমাপিয়া। আচমন করি সবে বসি- লেন গিয়া। মুখশুদ্ধি করিলেন মনের আনন্দে। শয্যালয়ে গমন তবে করিলা স্বচ্ছন্দে । তবে প্রভু শয্যায় যাই করিল। শয়ন। রামচন্দ্র করিতেছেন পদসম্বাহন। রাজা আদি করি যত প্রভুর ভক্তগণ। প্রভু রামচন্দ্র রূপ করে নিরীক্ষণ । পশ্চাতে শ্রীমতী দুই প্রসাদ পাইয়া। বসিয়াছেন দুই জনে অনিন্দ পাইয়া। নিদ্রাতে আবেশ প্রভু হইলা যখন। রাম- চন্দ্র লইয়া সবে আইলা তখন। শ্ৰীমতীর নিকটেতে সবেই আসিয়া। কহিতে লাগিলা সবে বিনয় করিয়া । এইমতে দেখিল যত প্রভুর ভক্তগণ। জানিলেন শ্রীমতী যে লাগিয়া গমন। রামচন্দ্র মুখে যাহা করিয়াছি শ্রবণ। সাবধান হইয়া শুন করি একমন। শুন শুন ভক্তগণ শ্রবণ পূরিয়া। ধ্যানে বসিছিল প্রভু যাহার লাগিয়া । পরম আনন্দ এই রাধাকৃষ্ণ- লীলা। কহিতে না পারি তাহা অতি নিরমলা। কে কহিতে পারে তাহা করিয়া বিস্তার। সংক্ষেপে কহিয়ে কিছু যেবা বার্তা সার। অদভুত এই জলকেলি সুবিহার।
কর্ণানন্দ।
পরম আশ্চৰ্য্য লীলা কে কহিবে পার। যমুনাতে যেন মতে
শ্রীরাধার বেসর।
জলযুদ্ধে পড়িল নহে তাহার গােচর।
তাহার প্রাপ্তি লাগিয়া শ্রীগুণমঞ্জরী। মণিমঞ্জরী প্রতি
কটাক্ষ সঞ্চারি। তােমার প্রভুরে তবে লইতে আভরণ।
তাহা আনি দেহ তুমি করিয়া যতন। যমুনাতে পদচিহ্ন উপরে
অভরণ। তাহাতে ঢাকিল পুষ্প পত্র বিলক্ষণ ॥ পদ্মপত্রে
ঢাকা অাছে না পায় দেখিতে। না পাইয়া অভরণ মহা ব্য গ্র
চিত্তে ॥ শ্রীরামচন্দ্র জানেন প্রভুর অন্তর। খুজি আনি দিল
তাতে নাসার বেসর। এই হেতু তিন দিন বসিয়া
ধেয়ানে। রামচন্দ্র বিনা ইহা জানিব কোন্ জনে। এ আদি
করিয়া যত যতেক প্রকার। কহিলেন সব কথা করিয়া
নিৰ্দ্ধার ॥
শুনিয়া সবার মনে সন্তোষ অপার। রামচন্দ্র
হেন রত্ন জগতে নাহি আর। রাজা অদি করি যত প্রভু
ভক্তগণ। পুলকে পূরিত দেহ সাশ্রু যে নয়ন। স্তম্ভ কম্প
আদি করি ভাবের তরঙ্গ। পূরিত হইল তাতে বিকসিত
অঙ্গ। ভাব সম্বরিয়া তবে প্রভু ভক্তগণ। রামচন্দ্রে কহে
সবে ধরিয়া চরণ। যেন প্রভু গুণাশ্চৰ্য্য তো তুমি মহিমার
সিন্ধু। তােমার চরিতার্ণবের না পাই এক বিন্দু। কাতর
হইয়া মােরা করি নিবেদন। স্মরণ লইনু পদে কর কৃপা
নিরীক্ষণ। মোর প্রভুবন্ধু হও তুমি রামচন্দ্র। মহারত্ন নিধি
পাইনু মাের পরানন্দ । রাজা আদি করি আর ব্যাস
অাচাৰ্য। দেখিয়া রামচন্দ্র গুণ মানিল আশ্চৰ্য। তথা
প্রভু নিজশয্যা হইতে উঠিয়া। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য শব্দ কহেন
ডাকিয়া। তাহা শুনি ভক্তগণ মনের অনিন্দে। প্রভুর
তৃতীয় নির্যাস।
নিকটে অইল হৈয়া পরানন্দে। প্রভু স্থানে তবে সবে
সম্মতি লইয়া। চলিলেন সবে প্রভুর চরণ বন্দিয়া ॥ সুখের
অবধি নাই উল্লসিত হৈয়। শ্ৰীমতীর নিকটে আইল। কবি-
রাজে লইয়া আজ্ঞা হয় গৃহে এবে করিয়ে গমন। অনুমতি
দিলেন তবে করিয়া যতন। তার পরে রামচন্দ্রের লইয়া
সম্মতি। তিন জনে প্রণমিলা পরম ভকতি। শ্ৰীমতী দুই
রামচন্দ্রে করি নিরীক্ষণ। চলিলেন সবে মেলি অাপন
ভবন। এই ত কহিল প্রভুর অাশ্চৰ্য্য ভাব কথা। যাহা
শুনি প্রেমভক্তি মিলয়ে সর্বথা। শ্রীরামচন্দ্রের গুণ
শ্ৰীমতীর মুখে। ইহা যেই শুনে সেই ভাসে প্রেমসুখে।
শ্রদ্ধা করি শুনে যেই করি এক মন। সেই সে হইবে প্রভুর
কৃপার ভাজন। গাঢ়শ্রদ্ধা করি যেই শুনে কর্ণারে। তার
কর্ণ তৃষ্ণা কভু ছাড়িতে না পারে। কর্ণানন্দ কথা এই সুধার
নির্যাস। শ্রবণ পরশে ভক্তের জন্যে প্ৰেমােল্লাস । শ্ৰী আ-
চাৰ্য প্রভুর কন্যা শ্রীল হেমলতা। প্রেমকল্পবল্লী কিবা
নিরমিল ধাতা। সে দুই চরণপদ্ম হৃদয়ে বিলাস। কৰ্ণানন্দ
রস কহে যদুনন্দন দাস।
* । ইতি শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজ মহিমবর্ণনং নাম
তৃতীয় নির্যাস । * ॥ ৩॥ ॥
চতুর্থ নির্যাস। জয় জয় মহাপ্রভু শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য। পতিতপাবন যাহা বিনা নাহি অন্য । অার এক কথা শুন করিয়া যতন। মদী- শরী মুখে যাহা করেছি শ্রবণ রাজা ত যাইয়া তবে আপ- নার ঘরে। রামচন্দ্র গুণকথা চিনে অন্তরে । সদা গর গর রাজা ভাবে মনে মনে। রামচন্দ্র-গুণ সদা ভাবে রাত্রি দিনে। রামচন্দ্র হেন রত্ন নাহি পৃথিবীতে। জানিলাম ইহা আমি চিত্তের সহিতে। মনে ত বিচারি ইহা জানিল নিশ্চয়। ইহঁার মুখে শুনি সাধন যদি ভাগ্য হয়। তবে ত রাজ। যাইয়া প্রভুর গৃহেতে। পরণাম করে বহু লােটা ভূমিতে। শ্ৰীমতীরে যাইয়া তবে পরণাম করি। তবে রামচন্দ্রে যাই প্রণাম আচরি। প্রভুর নিকটে রাজা অতিদীন হইয়া। করযোড়ে কহে কিছু বিনয় করিয়া । পতিতের ত্রাণ হেতু তোমার অবতার। করুণা করিয়া মোরে কর অঙ্গীকার। দন্তে তৃণধরি প্রভু করহ করুণা। মো ছার অধমে প্রভু না করিবে ঘৃণা। করুণা করিয়া যদি দিলে পদচ্ছায়া। ত্রি- তাপে-তাপিত আমি না করিহ মায়া। এত দিন কাল মাের ব্যর্থ বহিগেল। রামচন্দ্র দেখি চিত্ত নিৰ্মল হইল । সাধ্য- সাধন আমি কিছুই না জানি। নিজ গুণে দয়া কর তুমি গুণ- মণি। ব্যাসের মুখেতে আমি যে কিছু শুনিল। তাহা শুনি মাের চিত্ত প্রসন্ন হইল ॥ রাজা কহে প্রভু তুমি হও দয়াময়। মোর প্রতি কৃপা কর হইয়া সদয় তুমি ত দয়ার সিন্ধু পতিতপাবন। করুণা করহ প্রভু লইনু শরণ ॥ অঙ্গীকার চতুর্থ নির্যাস। কর প্রভু অাপন জানিয়া। এত বলি রাজা পড়ে ভূমে লোটা- ইয়া আপনে প্রভু তবে উঠাইল যতনে। করুণা করিয়া কৈল গাঢ় আলিঙ্গনে। সাধ্য-সাধন এই গােস্বামির মতে। শুনাইবে রামচন্দ্র করিয়া বেকতে। এত বলি প্রভু রাম- চন্দ্রেরে ডাকিয়া। রাজায় সমর্পিল ভার হাতে ত ধরিয়া ৫ শুন রামচন্দ্র তুমি এই কাৰ্য্য কর। ছােট ভ্রাতা বলি ইহার কর অঙ্গীকার। এত শুনি রামচন্দ্র যে আজ্ঞা বলিয়া। শুনা- ইব কৃষ্ণকথা বিশেষ করিয়া পুন রামচন্দ্রে রাজা পরণাম করি। বিনয় করিয়া তবে বহু স্তুতি করি। তাহা দেখি প্রভু তবে আনন্দিত হইয়া। রাজায় কহিতেছেন সন্তোষ পাইয়া। শুন শুন রাজা তুমি করি একমন। তােমারে ত কৈল কৃপা রূপ সনাতন। অনু গ্রহ তােমারে যে করিবার তরে। গ্রন্থরূপী মহাপ্রভু প্রবেশিলা ঘরে। তুমি মহারাজা হও মহাভাগ্যবান। পৃথিবীতে ভাগ্য নাহি তােমার সমান। মহারত্ন গ্রন্থ এই পরম উল। প্রাদেশিতে তোমার চিত্ত হইল নিৰ্ম্মল । কিবা ছিলে তুমি দেখ মনেতে বুঝিয়া। হেন জনে কৃপা কৈল শক্তি-সঞ্চারিয়া মোর প্রভু আর ঐরূপ সনাতনে। তোমারে করিলা, কৃপা আনন্দিত মনে। ছয় গোসাঞি তােমায় করিতে অঙ্গীকার। চুরিছলে তােমারে কৃপা করিলা নির্ভর । ইহা শুনি মহারাজা গর গর মন। পুলকে পূরিত দেহ সজল-নয়ন। প্রেমে গদ গদ কহে অধি আধ বাণী। ফুকারি ফুকারি কান্দে লােটা ধরণী। তবে প্রভু তাহারে যতনে উঠাইয়া। হর্ষে গাঢ়-আলিঙ্গন দিল করি দয়া ॥ রাজারে লইয়া পুন রামচন্দ্র হাতে। সমর্পণ কৈল কর্ণানন্দ। তারে হরষিত চিতে। পুন পুন কহে প্রভু অতিব্যগ্র- চিত্তে। সাধ্য-সাধন কহ ইহায় গােস্বামির মতে। আর এক কথা ইহায় করাহ শ্ৰবণ। যেহেতু তােমার প্রতি গােস্বামি- লিখন। রামচন্দ্র প্রভু আজ্ঞা লইয়া সেইক্ষণে। রাজারে কহিল কিছু আনন্দিত মনে। কিবা বা কহিব তােমায় সাধনের কথা। তােমা প্রতি গোস্বামিকূপ হৈয়াছে সৰ্বথা মাের প্রভু পদাশ্রয় করে যেই জন। আগে কৃপা করে তারে রূপ সনাতন। ব্রজ হইতে গ্রন্থ গৌড়ে প্রচার লাগিয়া। লইয়া অইল প্রভু যতন করিয়া প্রতিজ্ঞ। করিয়া প্রভু আইলা গৌড়দেশে। প্রতিজ্ঞার হেতু আগে কহিব বিশেষে। গোস্বামি সকল তোমায় পাইয়া পিরীতি। গ্রন্থরূপে তােমার ঘরে করিলা বসতি। এতেক প্রভুর দয়া তােমার উপরে। তােমার ভাগ্যের সীমা কে কহিতে পারে ৷ প্রথমেই তোমার ঘরে গোস্বামি সকল। তাহাতে তোমার চিত্ত হইয়াছে নির্মল। তুমি মহাভাগ্যবান বুঝি নিজ চিত্তে। তােমার মহিমা ভাই কে পারে কহিতে । এবে তােমায় কহি আমি করিয়া নিশ্চয় । সাধনাঙ্গ শুনিতেই যদি চিত্ত হয়। বৈষ্ণব-সেবন অর তুলসী-সেবন। অন- আসে পাবে তবে কৃষ্ণের চরণ। মাের প্রভুর ধর্ম দেখ বৈষ্ণবসেবন। শ্রীবিগ্রহ সেবা ছাড়ি কৈল নিরূপণ । অত-" এব প্রভুর ধৰ্ম্ম এই সুনিশ্চয়। করহ বৈষ্ণবসেবা আনন্দ- একান্তে করহ তুমি বৈষ্ণবসেবন। চরণামৃত-পান তার প্রসাদ ভক্ষণ। বৈষ্ণবের পদরজ মস্তকে ভূষণ। নিষ্ক- *ট বৈষ্ণবের সঙ্গ অনুক্ষণ। নিরপরাধ হৈয়। বৈষ্ণবসেব চতুর্থ নির্যাস। কর তুমি। অনায়াসে কৃষ্ণ পাবে কহিলাম আমি। বৈষ্ণবের স্থানে হয় ক্ষুদ্র অপরাধ। মহাপ্রেমি ভক্তের প্রেমে পড়ে বাধ। কৃষ্ণ দিতে নিতে পারে বৈষ্ণবের শক্তি। হেন বৈষ্ণব ভজ ভাই করি মহাঅৰ্ত্তি। কৃষ্ণ কৃষ্ণভক্ত দুই সমান গুণ- গণ। ইহাতে প্রমাণ আছে পুরাণ-বচন । তথাহি শ্রীমদ্ভাগবতে। যস্যাপ্তি ভক্তি ভগবত্যকিঞ্চিন। সর্বৈগুণৈস্তত্র সমাসতেসুরাঃ। হরাবভক্তস্য কুতে মহগণ মনোরথেনাসতি ধাবতােবহিঃ॥ ইতি । এই সব মহাগুণ বৈষ্ণবশরীরে। কৃষ্ণের যত গুণ সব ভক্তেতে সঞ্চারে। এই সব গুণ হয় বৈষ্ণব লক্ষণ। কিছু মাত্র কহি নিজপবিত্র কারণ। কৃপালু অকৃতদ্রোহ সত্যবাক্য সম। নির্দোষ দান্ত মুঃ শুচি অকিঞ্চন। সর্বোপকারক সান্ত কৃষ্ণেক শরণ। অকামী নিরীহ স্থির বিজিতষড়,গুণ। মিত- ভুক্ অপ্রমত্ত মানদ অনভিমানী। গম্ভীর করুণ মৈত্র কবি দক্ষ মৌনী। কৃষ্ণপ্রেমজন্মাইতে ইহ মুখ্য অঙ্গ। অতএব সব ছাড়ি কর বৈষ্ণবসঙ্গ । অসৎসঙ্গত্যাগ এই বৈষ্ণব- আচার। এই সব বস্তু তােমায় কহিলাম সার। এইত কহিল ভাই বৈষ্ণবসেবন। এবে ত কহিয়ে তােমায় তুলসী- সেবন । নবপ্রকার তুলসী সেবা করে যেই জন। সেই সে হয়েন কৃষ্ণের কৃপার ভাজন। তুলসী দর্শন স্পর্শ আর কর ধ্যান। সদাই করহ ইহা হৈয়া সাবধান। তুলসীর নাম লও আর নমস্কার। তুলসীর নাম শ্রবণ কর অনিবার। তুলসী ৬২ কর্ণানন্দ। রোপণ কর তুলসীসেচন। তুলসীর সর্বদাই পূজা অনু- ক্ষণ। এ নবপ্রকারে যেই করে তুলসীসেবা। তাহার মহিমা গুণ কহিবেক কেবা । শ্রীকৃষ্ণ তারে প্রীত করে সুনিশ্চিতে। কৃষ্ণ স্থানে সেই রহে পাইয়া পিরীতে । তন্ত্র-প্রমাণ। দৃষ্টা-পৃষ্টা তথা ধ্যাতা কীর্তিতা নমিতা শ্রুতা। রােপিতা সেচিতা নিত্যং পূজিতা তুলসী শুভ।১। নবধা তুলসীদেবীং যে ভজন্তি দিনে দিনে। যুগকোটি সহস্রাণি তে বসন্তি হরেগৃহে। ২। এতেক শুনিয়া রাজ। অনিন্দিত মন। রামচন্দ্র পদে কিছু করে নিবেদন। চতুঃষষ্টি ভক্তি আদি যতেক সাধন। তাহা শুনিবারে ইচ্ছা হয় মোর মন। রামচন্দ্র কহে ভাই এক চিত্ত হৈয়া। আনন্দে শুনহ তাহা শ্রবণ ভরিয়া । এই ত সাধনাঙ্গ ভক্তি শুনহ রাজ। যাহার শ্রবণে পাই কৃষ্ণ প্রেমধন । শ্রেবণাদি ক্রিয়া তার স্বরূপ লক্ষণ। তটস্থ লক্ষণে উপজয়ে প্রেমপন। নিত্যসিদ্ধ কৃষ্ণপ্রেম সাধ্য কভু শ্রবণাদি শুদ্ধচিত্তে করয়ে উদয়। সেই ত সাধন- ভক্তি হয় দুই প্রকার। বৈধিভক্তি হয় রাগানুগা ভক্তি অার। শাস্ত্র অজ্ঞ। লইয়া ভজে রাগহীন জন। বৈধিভক্তি বুলি শাস্ত্রমত আচরণ। বহু প্রকার সাধন ভক্তি হয় বিবিধ অঙ্গ। সংক্ষেপে কহিয়ে কিছু তাহার প্রসঙ্গ। গুরুর সেবন দীক্ষা গুরুপদাশ্রয়। সাধুর্গানুগমন শিক্ষা পৃচ্ছ সদ্ধর্ম ময়। কৃষ্ণের পূজন ভোগ ত্যাগ করি কৃষ্ণপ্রীতে। একাদশ্য,- পাস প্রতি গ্রহ নিৰ্বাহ যাহাতে । গে। বিপ্র বৈষ্ণব চতুর্থ নির্যাস। পূজন ধাত্রী অশ্বথ। বিদূরে বর্জন নামাপরাধ সেবা যে সমর্থ । বহুশিষ্য না করিবে অবৈষ্ণব সঙ্গ। বহু গ্রন্থাভ্যাস যাতে নহে ভক্তি অঙ্গ । হানি লাভ সম শোকাদির না হইবে বশ। অন্য শাস্ত্র অন্যদেব নিন্দন। বিশেষ। গ্রাম্যবার্ত। না শুন অর বৈষ্ণবনিন্দন। প্রাণিমাত্রে মনােবাক্যে উদ্বেগ বর্জন ॥ স্মরণ পূজন বন্দন আর সঙ্কীর্তন। দাস্য সখ্য পরিচৰ্য্যা আত্মনিবেদন। বিজ্ঞপ্তি অার দণ্ডবৎ প্রণতি অগ্ৰে- গীতি। অভ্যুথান অনুব্রজ্যা তীর্থগৃহে স্থিতি। স্তবপাঠ জপ সঙ্কীৰ্ত্তন পরিক্রমা। মহাপ্রসাদ পান মাল্য ধূপগন্ধ মনাে- রমা । মূর্তির দর্শন অরাত্রিক মহোৎসব। তদীয় সেন নিজপ্রীত্যর্থে দান ধ্যান সব। তদীয় তুলসী বৈষ্ণব মথুরা ভাগবত। এই চারি সেবা কৃষ্ণের বড় অভিমত। কৃষ্ণ কৃপার্থে অখিল চেষ্টা যে করিব। কষ্ণজন্মাদি যাত্ৰা ভক্ত লইয়া মহোৎসব। সর্বথা শরণাপত্তি কীৰ্ত্তিকাদি ব্রত। চতুঃষষ্টি অঙ্গ এই পরমমহত্ত্ব। সাধুসঙ্গ নামসঙ্কীৰ্ত্তন ভাগ- বত শ্রবণ। মথুরাবাস শ্রী মুৰ্ত্তির শ্রদ্ধায় সেবন । সকল সাধন হৈতে এই মুখ্য অঙ্গ। কৃষ্ণপ্রেম জন্মায় এই পাঁচের অল্প অঙ্গ। বৈধিভক্তি সাধনাঙ্গ কৈল বিবরণ। যাহার শ্রবণে চিতে জন্মে প্রেমধন । তবে রাজ। সাধন অঙ্গ ভক্তি যে শুনিয়া। রামচন্দ্রে কহে কিছু বিনতি করিয়া । বিবিধাঙ্গ সাধন ভক্তি করিয়া শ্রবণ। রাগানুগ-মার্গ-ভক্তি শুনিতে হয় মন। তবে রামচন্দ্র মনে আনন্দ পাইয়া। রাজারে কহয়ে কিছু হাসিয়া হাসিয়া। শুন শুন ভাই তুমি রাগানুগ ভক্তি। শুনিতেই তােমার চিত্ত হৈল বড় আৰ্ত্তি ।
৪
কর্ণানন্দ।
রাগানুগভক্তি এই সৰ্বসাধ্য সার। সম্যক্ কহিতে শক্তি
নাহিক আমার। কিছু মাত্র কহি তাহা শুন দিয়া মন।
রাগানুগ ভক্তি-লক্ষণ শুনহ রাজন্ ॥ শ্রবণ কীৰ্ত্তনাদি ভক্তি
বৈধী লিখিল। বাগানুগ ভক্তি মধ্যে তাহাতে স্থাপিল।
গোস্বামিলিখন এই অতি সুনিশ্চয়। বৈধীভক্তি হইয়া যাতে
রাগভক্তি হয় । শ্রবণ কীর্তনের ইহা মহিমা শুনিয়া। যাজন
করয়ে যেবা শাস্ত্ৰ-আজ্ঞা লৈয়া । এই হেতু বৈধীভক্তি
গোস্বামিলিখন। যেহেতু রাগাঙ্গ হয় তাহা কহি শুন ।
শ্রবণ কীৰ্ত্তন বিনা রাগভক্তি নয়। তাহার কারণ কহি করিয়া
নিশ্চয় । অন্যের অছু কাজ রাধা ঠাকুরাণী। মাধুৰ্য্য
অবধি যিহাে গুণরত্ন খনি । সৰ্বপূজ্য। সর্বশ্রেষ্ঠা সবার
আরাধ্য। যাহার সৌন্দৰ্য্যাদি কৃষ্ণের নহে বেদ্য | তিহাে যদি
কৃষ্ণ নাম শুনে অচম্বিতে। শুনিবা মাত্রেতে ধনি লাগিল
কঁপিতে । বৈবশ্য দশা ধনির হৈল অচম্বিতে। নানা
ভাব তরঙ্গ তাহা কে পারে কহিতে । সৰ্বপূজ্য সর্বশ্রেষ্ঠ।
আর সৰ্বারাধ্য। যাহার সদ্গুণ গণের কৃষ্ণ নহে বেদ্য ।
সর্বাঙ্গে পুলক হৈল বিবশিত অঙ্গ। আর তাহে কত উঠে
ভাবের তরঙ্গ । সৰ্বাঙ্গ ব্যাপৃত ভাব কহিতে কি পারি। ভাব
হব আদি যত সাত্ত্বিক ব্যভিচারি। ভাবের তরঙ্গে দেহ নাহি
হয় স্থির। শুনিতেই কৃষ্ণ নাম হয়েন অস্থির। বহুমুখ ইচ্ছে
যিহো কৃষ্ণ নাম লিতে। অদাৰ্ব্বদ কর্ণ ইচ্ছে যে নাম
শুনিতে । উন্মাদিয়া নামের গুণ কে পারে কহিতে। অচে-
তনে চেতন যিহাে পারেন কহিতে। কৃষ্ণনাম চেনেরে
করে অচেতন। সৰ্বেন্দ্রিয় আকর্ষয়ে হেন নামের গুণ। হে
চতুর্থ নির্যাস। কৃষ্ণনামামৃতে যার লোভ হয়। লােকধর্ম বেদ ছড়ি সে কৃষ্ণ ভজয় ॥ হেন নাম মহাবল কি কহিতে জানি। শ্রীরূপের মুখে বহে সুধারস ধুনি । অক্ষরে অক্ষরে বহে মাধুর্যের সার। হেন অদভুত শ্লোক গোসাঞি কৈল পরচার । তথাহি বিদগ্ধমাধবে শ্ৰীমদ্ধপকৃতঃ শ্লোকঃ ॥ তুণ্ডে তাণ্ডবিনী রতিং বিতনুতে তুণ্ডাবলিং লব্ধয়ে কর্ণক্রোড়করঘিনী ঘটতে কর্ণাৰ্ব্বদেভ্যঃ স্পৃহাং। চেতঃ প্রাঙ্গণসঙ্গিনী বিজয়তে সৰ্বেন্দ্ৰিয়াণং কৃতিং নাে জানে জনিত কিয়দ্ভিৱমৃতৈঃ কৃষ্ণেতি বর্ণদ্বয়ী। ইতি৷ অথ স্তবাবল্যাং মোম্ভেজিমরখ্যস্তোত্রে শ্ৰীমদ্দাসগােস্বামিনোক্তং । প্রচ্ছন্নমানধম্মিল্লাং সৌভাগ্যতিলকোলাং। কৃষ্ণনামযশঃশ্রাববতংসোল্লাসকর্ণিকাং। প্রচ্ছন্নমান বাম্য ধম্মিল যাহার। সৌভাগ্য তিলক চারু লাবণ্যের সার ॥ কৃষ্ণনাম গুণ যশ অবতংস কানে। কৃষ্ণনাম গুণ যশ প্রবাহ বচনে। সেই রাধাভাব লঞ। আপনে গোর- চন্দ্র। কৃষ্ণনাম আস্বাদিলা পাইয়া অানন্দ। তথাহি স্তবমালায়াং শ্ৰীমপগোস্বামিনােক্তং । হরেকৃষ্ণেত্যুচ্চৈঃস্ফুরতি রসনাে নাম গণনা- কৃতগ্ৰন্থিশ্রেণী সুভগকটিসূত্ৰোজ্জলকরঃ। বিশালাক্ষা দীর্ঘার্গল যুগলখেলাঞ্চিত ভুজঃ স চৈতন্যঃ কিং মে পুনরপি দৃশোর্যাস্যতি পদং । ইতি । শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য হয় ব্রজেন্দ্রকুমার। নামামৃত আস্বাদিল বিবিধ প্রকার । হেন কৃষ্ণনাম রাজা কর অনিবার। যাহা [ ৯ ] কর্ণানন্দ। হৈতে প্রাপ্তি হয় মাধুর্যের সার। আর শুন মহাপ্রভুর শিক্ষা- উক শ্লোকে। হৃদয়ের তম নাশ উদয় চন্দ্রিকে। সদা আস্বাদিলা প্রভু স্বরূপাদি সাথে। যাহার শ্রবণে অতি শুদ্ধ হয় চিত্তে সেই শিক্ষাষ্টক ভাই কহিয়ে তােমারে। শ্রদ্ধা- সূত্রে গাঁথি পর হৃদয় উপরে। এই শুদ্ধ রাগ-ভক্তি কহিয়ে নিশ্চয়। বাহার শ্রবণে চিত প্রেম উপজয়। প্রভু কহে শুন স্বরূপ রামানন্দরায়। নাম সংকীর্তন কলিতে পরম উপায়। সংকীৰ্ত্তন যজ্ঞে কলিতে কৃষ্ণ আরাধনে। সেই সে সুমেধা পায় কৃষ্ণের চরণে। তথাহি শ্রীমদ্ভাগবতে ১১ স্কন্ধে ৫ অধ্যায়ে ২৯ শ্লোকে। কৃষ্ণবর্ণং ত্বিষাকৃষ্ণং সাঙ্গোপাঙ্গাস্ত্ৰপার্ষদং। যজ্ঞে সংকীৰ্ত্তনপ্রায়ৈ যজস্তি হি সুমেধসঃ ॥ ইতি। নাম সংকীর্তনে হয় সর্বনির্ধনাশ। সৰ্ব্ব সুখখাদয় কৃষ্ণ- প্রেমের উল্লাস। তথাহি পদ্যাবল্যাং শ্রীমন্মহাপ্রভুকৃত শ্লোকঃ ॥ চেতােদর্পণমার্জনং ভবমহাদাবাগ্নিনির্বাপণ শ্রেয়ঃ কৈরবচন্দ্রিকা বিতরণং বিদ্যাবধূজীবনং। আনন্দম্বুিধিবর্ধনং প্রতিপদং পুর্ণামৃতাস্বাদনং সৰ্বাত্মপনং পরং বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণসংকীর্তনং । সংকীৰ্ত্তন হইতে পাপ সংসার নাশন। কৃষ্ণপ্রাপ্তি সেবা- মৃত সমুদ্রে মজ্জন ৷ উঠিল বিষাদ দৈন্য পড়ে নিজ শ্লোক। যার অর্থ শুনি সব যায় দুঃখ শােক। তথাহি পদ্যাবল্যাং স্বশ্লোক: নাম। মকারি বহুধা নিজসৰ্বশক্তি
চতুর্থ নির্যাস।
স্তত্রার্পিতানিয়মিতঃ স্মরণে ন কাল।
এতাদৃশী তব কৃপা ভগবন্মমাপি
দুর্দৈবমীদৃশমিহাজনি নানুরাগঃ ।
অনেক লােকের বাঞ্ছা অনেক প্রকার। কৃপাতে করিল
অনেক নামের প্রচার ॥ খাইতে শুইতে যথা তথা নাম লয় ।
দেশ কাল নিয়ম নাহি সৰ্বসিদ্ধি হয়। সর্ব শক্তি নামে
দিল করিয়া বিভাগ। আমার দুর্দৈব নামে নহিল অনুরাগ ।
যে রূপে লইলে নাম প্রেম উপজয়। তাহার লক্ষণ শুন
স্বরূপ রামরায় ॥
তথাহি পদ্যাবল্যাং স্বশ্লোকঃ
তৃণাদপি সুনীচেন তরকারিব সহিষ্ণুনা।
অমানিনা মানদেন কীৰ্ত্তনীয়ঃ সদা হরি।
উত্তম হঞা আপনাকে মানে তৃণাধম। দুই প্রকারের
সহিষ্ণুতা করে বৃক্ষসম ॥ বৃক্ষ যেন কার্টিলেহ কিছু না বলয় ।
সুখাইঞা মৈলে কারে পানি না মাগয় । যেই যে মগয়ে
তারে দেয় অাপন ধন। ঘৰ্ম্ম বৃষ্টি সহ আনের কয়ে
রক্ষণ ॥ উত্তম হৈ বৈষ্ণব হবে নিরভিমান। জীবে সম্মান
দিবে জানি কৃষ্ণ-অধিষ্ঠান। এই মত হইঞা যেই কৃষ্ণ নাম
লয়। কৃষ্ণের চরণে তার প্রেম উপজয় ! কহিতে কহিতে
প্রভুর দৈন্য বাঢ়ি গেল। শুদ্ধভক্তি কৃষ্ণঠাঞি মাগিতে
লাগিল। প্রেমের স্বভাব যাহা প্রেমের সম্বন্ধ। সেই মানে
কৃষ্ণে মাের নাহি ভক্তিগন্ধ।
তথাহি পদাবল্যাং স্বশ্লোক।
ন ধনং ন জনং ন সুন্দরীং কবিতাং বা জগদীশ কাময়ে।
কর্ণানন্দ = মম জন্মনি জন্মনীশ্বরে ভবতারিহৈতুকী ত্বয়ি ॥ ইতি। ধন জন নাহি মাগো কবিতা সুন্দরী। শুদ্ধভক্তি কৃষ্ণ মােরে দেই কৃপা করি। অতি দৈন্যে পুন মাগে দাস্যভক্তি দান। আপনাকে করি সংসার জীব অভিমান । তথাহি পদ্যাবল্যাং স্বশ্লোক। অয়ি নতনুজ কিঙ্করং পতিতং মাং বিষমে ভবাম্বুধে। কৃপায়া তব পাদপঙ্কজস্থিতধূলিসদৃশং বিচিন্তয়। ইতি। তােমার নিত্যদাস মুঞি তােমা পাশরিয়া। পড়িয়াছে। ভবাবে মায়াবদ্ধ হইয়া। কৃপা করি কর মােরে পদধূলি- সম। তােমার সেবক করে। তোমার সেবন । পুনঃ অতি উৎকণ্ঠা দৈন্য হইল উদগম। কৃষ্ণ ঠাঞি মাগে প্রেম নাম- সংকীৰ্ত্তন। তথাহি পদাবল্যাং স্বশ্লোকঃ | নয়নং গলদশ্রুধারয় বদনং গদগদরুদ্ধয়া গিরা পুলকৈ র্নিচিতং বপুঃ কদা তব নাম গ্রহণে ভবিষ্যতি । প্রেমধন বিনা ব্যর্থ দরিদ্রজীবন। দাস করি বেতন মেরে দেহ প্রেমধন ॥ রসান্তরবেশে হৈল বিয়ােগ স্ফুরণ। উদ্বেগ বিষাদ দৈন্য করে প্রলাপন। তথাহি পদাবল্যাং স্বশ্লোকঃ। যুগায়িতং নিমেষেণ চক্ষুষ। বৃষায়িতং। শূন্যায়িতং জগৎ সৰ্ব্বং গোবিন্দবিরহেণ মে। উদ্বেগে দিবস না যায় ক্ষণ যুগসম। বর্ষামেঘ সম অশ্রু বর্ষে দ্বিনয়ন | গােবিন্দ-বিরহে শূন্য হৈল ত্রিভুবন। তুষানলে পোড়ে যেন না যায় জীবন। কৃষ্ণ উদাসীন হৈলা করিতে চতুর্থ নির্যাস। ৯ পরীক্ষণ। সখী সব কহে কৃষ্ণে কর উপেক্ষণ। এতেক চিন্তিতে রাধার নির্মল হৃদয়। স্বাভাবিক প্ৰেমস্বভাব করিল উদয় হর্ষ উৎকণ্ঠা দৈন্য প্রৌঢ়ি বিনয়। এত ভাব এক ঠাঞি করিল উদয় । এত ভাবে রাধার মন অস্থির হইল। সখীগণ-আগে প্রৌঢ়ি যে শ্লোক পড়িল। সেই ভাবে প্রভু সেই শ্লোক উচ্চারিল । শ্লোক উচ্চারিতে তদ্রুপ আপনে হইল । তথাহি পদ্যাবল্যাং স্বশ্লোকঃ । আশ্লিষ্য বা পাদরতাং পিনুষ্ট, মা, মদর্শনান্মৰ্ম্মহতাং করেতু বা। যথাতথা বা বিদধাতু লম্পটে। মপ্রাণনাথ স্তু স এব নাপরঃ। ইতি। এই শ্লোকে হয় অতি অর্থের বিস্তার। সংক্ষেপে কহিয়ে তার নাহি পাই পার । তথাহি যথারীগ। আমি কৃষ্ণপদদাসী, তিহে রসসুখরাশি, আলিগিয়া করে আত্মসাৎ। কিবা না দেন দর্শন, জারে মাের তনু মন, তবু তিহো মাের প্রাণনাথ। ১। সখি হে শুন মাের মনের নিশ্চয়। কিবা অনুরাগ করে, কিবা দুঃখ দিয়া মোরে, মাের প্রাণেশ কৃষ্ণ অন্য নয় ॥ ধ্রু॥ ছাড়ি অন্য নারীগণ, মাের বশ তনু মন, মাের সৌভাগ্য প্রকট করিয়া। তা সবার দেন পীড়া, আমা সনে করে ক্রীড়া, সেই নারীগণে দেখাইয়া ॥ ২॥ কিবা তিহাে লম্পট, শঠ ধৃষ্ট সুকপট, অন্য নারীগণ ৭০ কর্ণানন্দ। করি সাথ। মােরে দিতে মনঃপীড়া, মমার-অাগে করে ক্রীড়া, তবু তিহো মাের প্রাণনাথ॥ ৩॥ এ আদি করিয়া যত শ্লোকার্থগণ। স্বরূপাদি-সঙ্গে তাহা কৈল আস্বাদন। এই মতে প্রভু তদ্ভাবাবিষ্ট হইয়া। প্রলাপ আস্বাদিল তত্তৎ শ্লোক উচ্চারিয়া। পূর্বে অষ্টশ্লোক করি লোক শিক্ষাইল। সে অষ্টশ্লোকের অর্থ অপনে আস্বাদিল । প্ৰভুশিক্ষাষ্টকশ্লোক যেই পড়ে শুনে। কৃষ্ণ- প্রেমভক্তি তার বাঢ়ে দিনে দিনে। যদ্যপিহ প্রভু কোটি সমুদ্র গম্ভীর। নানা ভাব চন্দ্রোদয়ে হয়েন অস্থির। যেই যেই শ্লোক জয়দেব ভগবতে। রায়ের নাটকে যেই আর কর্ণামৃতে । সেই সেই ভাবে শ্লোক করিয়া পঠন। সেই সেই ভাবাবেশে করে আস্বাদন। দ্বাদশ বৎসর ঐছে দশা রাত্রি দিনে। কৃষ্ণরস অস্বিাদয়ে স্বরূপাদি সনে। শব- শাদি মহিমা অামি কি বলিতে জানি। যাহাতে হয়ে সদা অমৃতের ধুনি । শুদ্ধরাগে অাবিষ্টতা মন হয় যার। সেই সে জানয়ে ইহা নাহি জানে অরি। শ্রবণ কীৰ্ত্তনাদি যত রাগ ভক্তিসার। রাগানুগ। ভক্তজনে এই কাৰ্য্য সার॥ রাগাত্মিক। ভক্তিমুখ্য। ব্রজবাসী জনে। তার অনুগত ভক্তের রাগানুগ নামে। ইষ্টে গাঢ়তৃষ্ণা রাগ স্বরূপ লক্ষণ। ইষ্টে আবিষ্টতা তটস্থ লক্ষণ কথন ॥ রাগময়ী ভক্তির রাগানুগ। নাম। তাহা শুনি লুব্ধ হয় কোন ভাগ্যবান। লােভে ব্রজবাসী ভাবে করে অনুগতি। শাস্ত্রযুক্তি নাহি মানে রাগানুগ প্রকৃতি। তথাহি ভক্তিরসামৃতসিন্ধো পূৰ্ববিভাগে ২ লহৰ্যাং ১৩১। ১৪৮ অঙ্কে।
চতুর্থ নির্যাস। ৭১ বিরাজম্ভীমভিব্যাপ্তিং ব্রজবাসিজনাদিযু। রাগাত্মিকামস্তা যা সা রাগানুগোচ্যতে। তত্তাবাদি মাধুর্যে শ্রুতে ধীৰ্যদপেক্ষতে। নাত্ৰ শাস্ত্ৰং ন যুক্তি তল্লোভেৎপত্তিলক্ষণং । বাহ অন্তর ইহার দুই ত সাধন। বাহে সাধকদেহে করে শ্রবণ কীৰ্ত্তন। মনে নিজ সিদ্ধদেহ করিয়া ভাবন। রাত্রি দিনে চিন্তে রাধাকৃষ্ণের চরণ। নিজ ভাবাশ্রয় জনের পাছে ত লাগিয়া। নিরন্তর সেবা করে অন্তৰ্ম্মনা হইয়া । তথাহি ভক্তিরসামৃতসিন্ধো পূৰ্ববিভাগে ২ লহৰ্যাং ১৫১ অঙ্কে। শ্রমজপগোস্বামিনোক্তং । সেবা সাধকরূপেণ সিদ্ধরূপেণ চাত্র হি। তাবলিনা কাৰ্যা ব্ৰজলােকানুসারতঃ । হেন সে গম্ভীর ভাব অকথ্য কথন। যাহা প্রবেশিতে নারে আম সবার গন। পূর্বে ব্রজে যবে কৃষ্ণ স্বয়ং ভগ- বান্। রাধা শুদ্ধভাবে যবে প্রবেশিলা মন। ঐরাধিকার ভাবকান্তি অঙ্গীকার করি। তাহা আস্বাদিতে নবদ্বীপে অৰ- তরি। হেন অদভুত ভাব ক্ষুদ্রজীব হইয়। কহিতে বা কেব পারে প্রবেশ করিয়া করিরাজ গোসাঞি ইহার মরম জানিয়া। লিখিয়াছেন নিজ গ্রন্থে বেকত করিয়া । দাসী- ভাবুক্রান্ত হইয়া ব্রজেন্দ্রনন্দন। অনুগত্য ভাবে কৈল তাহা আস্বাদন। অন্ত্যলীলা মধ্যে ইহা লিখিলা বিস্তার। দেখহ সেই লীলার করিয়া নির্ধার। সপ্তদশ আর অষ্টাদশ পরি- ছেদে। বেকত করিলা তাহা করি অস্বাদে ॥ কূৰ্মাকৃতি- १२ কর্ণানন্দ। ভাবে প্রভু পড়িয়া আছিল। তাহাতেই যেই ভাব আস্বাদন কৈলা। স্বরূপগোসাঞি আসি করাইলা চেতন। স্বরূপেরে কহে তবে মনের বেদন। চেতন হইতে হস্তপদ সব বাহির হৈল। পূৰ্ব্ববদ্যথা যােগ্য শরীর হইল ৷ উঠিয়া বসিল প্রভু চাহে ইতি উতি। স্বরূপেরে পুছে প্রভু আমা আনিলে কতি। বেণুনাদ শুনি আমি গেলাম বৃন্দাবন। দেখি গোষ্ঠে বেণু- বাজায় ব্রজেন্দ্রনন্দন। সঙ্কেত বেণুনাদে রাধা অনি কুঞ্জ- ঘরে। কুঞ্জেরে চলিলা কৃষ্ণক্রীড়া করিবারে। তার পাছে পাছে আমি করিনু গমন। তার ভূষণ ধ্বনিতে মমর হরিল শ্রবণ। গোপীগণ সঙ্গে করি হাস পরিহাস। কণ্ঠধ্বনি উক্তি শুনি মাের কর্ণেল্লাস। কেন বা আনিলে মেরে বৃথা দুঃখ দিতে। পাইয়া কৃষ্ণের লীলা না পাই দেখিতে । অষ্টাদশ পরিচ্ছেদে জলকেলি লীলা। তাহাতেই যেই ভাব প্রকাশ করিলা। জলকেলি লীলা এই করি দরশন। নানান কৌতুক দেখে প্রবেশিয়া মন। কালিন্দী দেখিয়া আমি গেলাম বৃন্দাবন। দেখি জলক্রীড়া করে ব্রজেন্দ্রনন্দন। রাধিকাদি গােপীগণ সঙ্গে এক মেলি। যমুনাতে মহা রঙ্গে করে জল- কেলি ॥ তীরে রহি দেখি আমি সখীগণ সঙ্গে। দেখায় মাের জলকেলি রঙ্গে। স্বরূপেরে কহে প্রভু আবেশ হইয়া। আপন মনের কথা প্রকাশ করিয়া শ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্য যাহা কৈল আস্বাদনে। সবে এক বেদ্য তাহা স্বরূপাদিগণে ॥ স্বরূপাদি বিনা তাহা অন্য বেদ্য নয়। নিশ্চয় করিয়া ইহা গ্রন্থকার কয়। আর এক কথা তাহা মন দিয়া শুন। মাৎ- সৰ্য্য ছাড়িয়া রাজা করহ শ্রবণ। শ্রীরূপমঞ্জরী যবে শ্রীরা- এক সখী
চতুর্থ নির্যাস।
ধার সাক্ষাতে। প্রার্থনা করিল। এই হার অগ্রেতে।
তথাহি স্তবমালায়াং চাটুপুষ্পঞ্জলো।
ঐরূপগােস্বামিননা বাক্য।
কদা বিষােষ্ঠি তালং ময়া তব মুখাম্বুজে।
অর্প্যমাণং ব্ৰজাধীশসূনুরাচ্ছিদ্য ভোক্ষাতে।
কেলিবিংসিনাে বক্ৰকেশবৃন্দস্য সুন্দরি।
সংস্কারায় কদা দেবি জনমেতং নিক্ষ্যেসি।
অশ্যার্থ।
শ্রীরাধা বিঘােষ্টী কবে তোমার অধরে। তাম্বুল রচিয়া
দিব সুগন্ধি কপূরে। তোমার মুখে দিব তাহা আনন্দিত
হঞা। ব্ৰজরাজনন্দন তাহা খাইৰ কাড়ি। মদীশ্বরী মুখ
হৈতে লইয়া বীটিকা। পান করি মহানল পাইব অধিকা
তুমি মােরে কৃপাকর প্রসন্ন হইয়া। দেখিব কবে বা তাহা
নয়ন ভরিয়া । হে দেবি তুমি যবে বিলাস বিভ্রমে। কেলি
ক্লান্তিযুক্ত হঞা হইবেক শ্রমে। বিলাসে আনলে তাহা
করিব সংস্কৃার। কবে সে রচিয়া দিব কুন্তলের ভার । এইসব
গুহ কথা রাজারে কহিল। শুনিতেই রাজার অতি সন্তোষ
হইল। পুন রামচন্দ্র কহে শুনহ রাজ। গুহাতি গুহ
এই কথা মনােরম। নিত্যসিদ্ধ হইয়া যার এইসব কায ।
ইহা বুঝ দেখি তুমি নিজ হিয়া মাঝ । শ্রীরাধার যারা সব
নিত্য পরিকর। তা সবার হেন ভাব বড়ই দুষ্কর। মঞ্জরী
রূপে যিহে। সদা করেন সেবন। সাধকাবস্থায় সদা তাহাই
স্মরণ। অতএব সিদ্ধ ইঞা সাধন করণে। প্রকারে জানা-
ইলা তাহা নিজ ভক্তজনে। ইথে অনুগত যিহে তার হেন
[ ১ ]
কর্ণানন্দ। রীতি ও হো সে সাধন কর পাইয়া পীরিতি ॥ পীরিতি । তবে শুন দাসগোসাঞির প্রার্থনা বচন। সাধক দেহেতে সদা সিদ্ধের করণ। নিজভীষ্ট দেহে রাধার পাইয়া দর্শন। শ্রীরাধার পদসেবা করেন প্রার্থন। শুন দেবি তােমার শ্রীচণের দাসী। হইতেই মোর ইচ্ছা সদা অভিলাষি। তােমার সঙ্গের সখী তােমার সমান। হেন সখী ভাবে সদা মাের পর- মি। অতএব তুয়া পদে এই নিবেদন। কৃপা করি দেহ নিজ পদের সেবা। সদা অলিম মোর চরণের সেবা। ইহা ছাড়ি মোরে কভু অন্য নাহি দিব। তথাহি স্তবাবল্যাং বিলাশকুসুমাঞ্জলো ১৬ শ্লোকে ৷ শ্ৰীমদ্দাসগোস্বামিনােক্ত । পদাজয়ােস্তব বিনা বরদাস্যদেব নান্য কদাপি সময়ে কি দেবি যাচে। সখ্যায় তে মম নমোহস্তু নমােস্তু নিত্যং দাস্যায় তে মম রসোহস্তু রসোহস্তু সত্যং। আর কিছু শুন ভাই অপূৰ্ব্ব কথন। সুদৃঢ় সুদৃঢ় এই গোস্বামিলিখন। শ্রীরূপমঞ্জরী দেখি রাধাসরোবর। ইহা দেখি যেই ভাব উঠয়ে অন্তর। শুনহ দেবি যবে তােমার সরোবর। হইলেন মাের যবে নয়ন গোচর। তবে সে আইল মাের নয়নের পথে। পদ্ম-নয়নী ধনি দেখি সাক্ষাতে । সেই হৈতে চিত্তে মশার লালসা জন্মিল। চরণ কমলে দাসী হৈতে ইচ্ছা হইল । শ্রীরূপমুঞ্জরী মাের নয়নযুগল। বৃন্দাবনে নেত্রদিপ্তী করিল। সকল । সেই হৈতে তোমার ঐ বৃন্দাবনেশ্বরী। শ্রীচরণে অলক্তক দিতে ইচ্ছ।
চতুর্থ নির্যাস।
করি। কভু যদি ইহা কর করুণ করিয়া। সেবন করিয়ে
অামি তব আজ্ঞা পঞিা। রামচন্দ্র কহে কথা শুনহ রাজি।
পরম আশ্চৰ্য্য কথা শুন দিয়া মন। বৃন্দাবনে রাধাকৃষ্ণ করি-
বারে সেবা। মনের লালসা তোমার হাছে যদি বা। রাগের
সহিতে যদি চরণসেবন। হইতে পারি যদি দুহর কৃপার
ভাজন। জন্মে জন্মে যদি বাস শ্ৰব্ৰজমণ্ডলে। প্রচুর পরিচর্যা
সেই পরম নির্মলে। তবে ত স্বরূপ রূপগোসাঞি সমান।
গণের সহিত গোপাল ভট্টের চরণ। ইহা সবার পদে নিষ্ঠা
যার চিত্ত হয়। তবে সেই জন দুহার চরণ সেবয় ॥
তথাহি স্তবাবল্যাং বিলাপকুসুমাঞ্জলো
১৫। ১৪ শ্লোকে।
যদা তব সরোবরং সরসভুঙ্গসংঘোল্লসৎ
সরোরুহকুলােজ্জ্বলং মধুরবারিসম্পূরিং।
স্ফটং সরসিজাক্ষি হে নয়নযুগ্ম সাক্ষাদ্বতো
তদৈব মম লালসজনি তবৈব দাসে রসে ।
যদবধি মম কাচিন্মঞ্জরী রূপপূৰ্ব্ব।
ব্ৰজ ভুবি বত নেদ্বন্দ্বদীপ্তিং চকার।
তদবধি তব বৃন্দারণ্যরক্তি প্রকামিং
চরণ কমল লাক্ষা সংদিদৃক্ষ। মমভৃৎ।
স্তবাবল্যাং মনঃশিক্ষায়াং ৩ শ্লোকে।
যদীস্রােবাং ব্রজভুবি সরাগং প্রতি জনু-
যুবদ্বন্দ্বং তচ্চেৎ পরিচরিতুরাদভিলষেঃ।
স্বরূপং শ্রীরূপং সগণমিহ ভস্যাজমপি
ফুটং প্রেহ্মা নিত্যং স্মর নম তদা ত্বং শৃং মনঃ।
৭৬ কর্ণানন্দ স্মযুদ্ধে বিবশ শ্রীরাধা গিরিভৃতে। সেবন করিয়ে যদি রূপের সহিতে। তবে সে পাইয়ে ব্ৰজে সাক্ষাৎ সেবন। তদাশ্রিত জনে মাত্র মিলে এই ধন। রাধাকৃষ্ণ পূজা নাম সদাই গ্রহণ। দুহাকার ধ্যান অার নাম সংকীর্তন। বহু পর- নাম সদা মনের আনন্দে। অবিরত এই সেবা করহ স্বচ্ছন্দে । এই পঞ্চামৃতপান নিয়ম করি। অনলে সেষ সদা গােয- ন গিরি ॥ যুথের সহিতে রূপানুগ হইয়া। সেবন কৰ দুহার মন মজাইয়া। তথাহি স্তবাবল্যাং মনঃশিক্ষায় ১১ শ্লোকে। সমং শ্রীরূপেণ স্মরবিবশ রাধাগিরিভৃতে- ব্রজে সাক্ষাৎ সেবালভনবিধয়ে তদণযুজো। তদিজ্যাখ্যাধ্যান শ্রবণ নতিপঞ্চামৃতমিদ ধয়ন্নিত্যা গােবর্ধনমসুদিনং ত্বং ভজ মনঃ। শ্রীরূপমঞ্জরী আর শ্রীগুণমঞ্জরী। উপমা দিবার নাহি সমান মাধুরী। রূপমঞ্জরী শ্রীগুণমঞ্জরীর প্রতি। প্রার্থনা করিল। তারে পাইয়া পীরিতি । উদয় হইল যবে মধুর উৎ- সব। বহুব্রজাঙ্গনা কৃষ্ণে বেঢ়িলেন সব ॥ হাস্য পরিহাস্য কত লাবণ্য মধুরী। নানান কৌতুক লীলায় আপনা পাশরি । হাস্যরসে উজ্জ্বল শ্রীরাধা সুধামুখী। শ্রীকৃষ্ণে প্রেরণ করে হইয়া বড় সুখী। নেত্রে অঞ্চলে তারে প্রেরণ করিয়া। দেখহ যে গুণমঞ্জরী আছে লুকাইয়া। ইহার বদন যাই করহ চুম্বন। কৌতুক দেখিব কবে ভরিয়া নয়ন। তথাহি বমালায়াং উৎকলবল্লরীস্তবে ৪৬ অঙ্কে। উদঞ্চতি মধূৎসবে সহচরীকুলেনাকুলে
চতুর্থ নির্যাস।
৭৭
কদা ত্বমূষলােকসে ব্ৰজপুরন্দরস্যাজ।
স্মিতােজ্জ্বলমদীশ্বরী চলগঞ্চলপ্রেরণা-
মিলীনগুণমঞ্জরীবদনমত্র চুম্বম্ময়া।
এই ভাবদৃঢ় কৰি শ্ৰদাস গােসাঞি। নিজগ্রস্থ মাঝে
তাহা লিখিলা তথাই। ঐবিশাখাননশস্তবে লিখিলেন
শেষে। তার মধ্যে এই বাক্য পরমনির্যাসে।
তথাহি বাবল্যাং বিশাখানদস্তোত্রে ১৩৪ অঙ্কে।
এমপপাদম্ভোজধূলীমাকৈসেবিন।
কেনচিৎগ্রথিত। পদ্যৈমালয়ে তদায়ৈঃ ।
অস্মার্থ ।
মজপেয় পাদধূলির সেবন।
কোন জন এই পণ্য
করিলা গ্রন্থন। এই পদ্যমালা গাঁথি অনিন্দিত মন। মনো-
হর মাল্যগন্ধ পাবে কোন জন। শ্রীরূপের আশ্রিত যেই
সেই গন্ধ পায়। সেই গন্ধ পাইতে আর নাহিক উপায়।
অতএব গোসাঞি ইহা মনেতে জানিয়া। মনের আনন্দে
লিখেন বেকত করিয়া। শ্রীরূপ সনাতন অঙ্ক লইয়া শিরে।
বসতি করিলা যিহে রাধাকুণ্ডতীরে।
তথাহি।
রাধাকুণ্ডতটে বসমিমতঃ সভ্রাতৃরূপাজ্ঞায়া। ইত্যাদি।
নিয়ম করিয়া গােসাঞি তথা বাস কৈল। নিরবধি এই
তার নিয়ম হইল। অনন্ত গুণ রঘুনাথের কে করিব লেখা।
রঘুনাথের নিয়ম যেন পাষাণের রেখা।
তথাহি বাবল্যাং স্বনিয়মদশকে ১ শ্লোকে।
গুরো মন্ত্রে মামি প্রভুরশীগর্ভজপদে
৭৮
কর্ণানন্দ।
স্বরূপে শ্রীরূপে গণযুজি তদীয়প্রথমজে।
গিরীন্দ্রে গন্ধৰ্ব্বীসরসি মধুপুৰ্যাং ব্রজবনে
ব্ৰজে ভক্তে গোষ্ঠালয়িযু পরমাস্তাং মম রতিঃ |
অস্থার্থ ।
শ্রী গুরু অর মন্ত্র অার কৃষ্ণনাম। তাতি রসময় তনু
চৈতন্যগুণাধান স্বরূপ গোসাঞি অর রূপ গোসাঞি।
গণের সহিত আর তার বড় ভাই। ঐগিরীন্দ্র আর গান্ধব্বী-
সরোবর। এমথুৱামণ্ডল আর বৃন্দাবন স্থল । শ্ৰব্ৰজমণ্ডল
অার ব্রজভক্ত জনে। পরমাস্থা প্রতি মাের এই সব স্থানে।
এই সব কথা রাখ চিত্তের ভিতরে। ইহাতে রহিত যেই সেই
মতান্তরে । পরকীয়া লীলা এই অতিগঢ়ি তর। ভাগ্যহীন
জনের ইহা না হয় গোচর। এই ভাব প্রাপ্তি লাগি যদি
লোভ থাকে। নিয়ম করিয়া সেব আপন প্রভুকে ॥ শ্ৰীকবি-
রাজ গােসাঞি মরম জানিয়া। লিখিলেন নিজগ্রহে বেকত
করিয়া ! পরকীয়া ভাবে অতি রসের নির্যাস। ব্রজ বিনা
ইহার অন্যত্র নহে বাস। পরকীয়া লীলা এই রূপের সম্মত।
নিশ্চয় করিয়া ভাই কহিলাম তত্ত্ব। মহাপ্রভু যেবা লীলা
কৈল আস্বাদন। সবে এক জানে তাহা স্বরূপাদি গণ ॥ পর
কীয়া রসে প্রভুর সদা অভিলাষ। সামান্য শ্লোকেতে কেন
মনের উল্লাস।
তথাহি চৈতন্যচরিতামৃতে মধ্যখণ্ডে ১ পরিচ্ছেদে ॥
বঃ কোমরহরঃ স এব হি বর স্তএব চৈত্ৰক্ষপা-
স্তেচালিতমালতীসুরভপ্রৌঢ়াঃ কাদম্বানিলাঃ।
সাচৈবাস্মি তথাপি, তত্র সুরহব্যাপারলীলাবিধে
চতুর্থ নির্যাস। রেবাধেসি বেতসীতরুতলে চেতঃ সমুৎকণ্ঠতে । নৃত্য মধ্যে এই শ্লোক পড়ে বার বার। স্বরূপ বিনা অর্থ কেহো না বুঝে ইহার ॥ দৈবে নীলাচলে আইলা ঐরূপ গোসাঞি। শ্লোক শুনি অভিপ্রায় করিল। তথাই। রূপ জানিল প্রভুর ভাব গঢ়িতর। শ্লোক লিখিলেন প্রভুর জানিয়া অন্তর। শুন পূর্বে দেখ দুহে কোমারের কালে। বেতসীর বনে লীলা কৈল কুতুহলে। দৈব সংযােগে দুহার বিবাহ হইল। বিবাহ হইতে সেই সুখ না জন্মিল। বিবাহ হইলে পুন দু'হর হইল মিলন। পূৰ্ব্ববৎ সুখ তাতে নহে অস্বাদন। পূর্বে পরকীয়া দুহার ভাব বিশেষে। অত- এ শ্লোকে প্রভুর হয়েত অবেশে ॥ মহাপ্রভুর অন্তর কথা কেহো নাহি জানে। শ্রীরূপ গোস্বামী জানি কৈল। প্রকাসনে। তথাহি চৈতন্যচরিতামৃতে মধ্যখণ্ডে ১ পরিচ্ছেদে শ্রীরূপকৃতশ্লোক। প্রিয় সোহং কৃষ্ণঃ সহচরি কুরুক্ষেত্ৰমিলিত স্তথাহং সা রাধা তদিদমুভয়েঃ সঙ্গমসুখং। তথাপ্যন্তঃখেলধুরলীপঞ্চমজুষে মনােমে কালিন্দীপুলিনবিপিনায় স্পৃহয়তি। সেই তুমি সেই আমি সে নবসঙ্গম। তথাপি আমার মন হরে বৃন্দাবন। বৃন্দাবনে তোম। লৈয়া যে সুখ আস্বাদন। সে সুখ মাধুর্যের ইহা নাহি এক কণ৷ সেই রাধা সেই কৃষ্ণ সেই বৃন্দাবন। অচিরে মিলন হেতু বাঞ্ছা তানুক্ষণ। বৃন্দা- বন বিনা নহে পরকীয়া ভাব। অন্যত্র সঙ্গ হৈলে নহে সেই কর্ণানন্দ। সুখ লাভ। অতএব এই ভাবের ব্ৰজেই বসতি। বৃন্দাবন- ধামে কৃষ্ণের অত্যন্ত পীরিতি। এতেক বচন যদি রামচন্দ্র কহিল। শুনিয়া রাজার চিত্তে আনন্দ বাছিল। রামচন্দ্রে কহে রাজা বিনয় করিয়া। ধামশ্রেষ্ঠ হয় কিবা কহবিবরিয়া। অনন্তকোটি ব্রহ্মাণ্ডমধ্যে শ্রেষ্ঠ কোন ধাম। কোন ধামে কৃষ্ণ সদা করেন বিশ্রাম। এই সব কথা মোরে কহ মহা- শয়। রামচন্দ্র কহে তবে হইয়া সদয় । তথাহি বারছে অনন্তকোটি ব্রহ্মাণ্ডে অনন্ত ত্রিগুণােচ্চয়ে। তৎ কলা কোটিকট্যাংশ। ব্ৰহ্মবিষ্ণুমহেশ্বরাঃ। ইতি। ঈশ্বর পরম কৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান। সর্ব অবতরি সর্ব কারণ প্রধান। অনন্ত বৈকুণ্ঠে যার অনন্তাবতার। অনন্ত ব্ৰহ্মাণ্ড ইহ সবার অাধার ॥ সচ্চিৎ আনন্দ তনু ব্রজেন্দনন্দন। সর্বৈশ্বৰ্য্য সর্বশক্তি সর্ব পরিপূর্ণ। তথাহি ব্ৰহ্মসংহিতায়াং। ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ। অনাদিরাদি গোবিন্দঃ সৰ্ব্বকারণকারণং। বৃন্দাবনে অপ্রাকৃত নবীনমন। কামগায়ত্রী কামবীজে যার উপাসন। পুরুষ যােষিত কিবা স্থাবর জঙ্গম। সৰ্ব্ব- চিত্ত আকর্ষয়ে সাক্ষাৎ মম্মমদন। এই শুদ্ধ ভাবে যেই করয়ে জন। অনায়াসে মিলে তারে ব্রজেন্দনন্দন । তথাহি ভক্তিরসামৃতসিন্ধো পূৰ্ববিভাগে ১ শ্লোকে। অখিলরসামৃতমুর্তি প্রস্মরচিরুদ্ধ তারকাপালিঃ। কলিতশ্যামালিলতে রাধাপ্রয়ান বিধু জয়তি।
চতুর্থ নির্যাস।
{
তথাহি বরাহে।
অক্ষর নিত্যানন্দং গোবিন্দস্থানম ব্যয়ং।
গােবিন্দদেহতাে ভিন্নং পূর্ণং ব্রহ্মমুখশ্রয়ং।
যত্ব হ্ম পরমেশ্বৰ্যং নিত্যং বৃন্দাবনাশ্ৰয়ং।
তৰ্দেবি মাখুরং মধ্যে বৃন্দারণ্যং বিশেষতঃ ।
গুহাগ হতং রম্যং মধ্যে বৃন্দাবনং স্থিত।
পূর্ণব্রহ্মখৈশ্বৰ্যং নিত্যমানন্দমবয়ং।
বৈকুণ্ঠাদি দেবাংশং স্বয়ং বৃন্দাবনং ভুবি। ইতি।
ব্ৰহ্মশকে কহি শ্রী কৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান্। সর্বৈশ্বৰ্যময়
যিহে। গোলক নিত্যধাম। নিত্য আনন্দ যার অক্ষয় অব্যয়।
মড়ৈশ্বৰ্য পূর্ণ যার পার্ষগণোচ্চয় স্বয়ং কৃষ্ণ স্বয়ং ধাম ইথে
অন্য নয়। বৃন্দাবন স্বয়ং ভুবি ইথে কি সংশয়। বৈকুণ্ঠাদি
ধাম যার হয়ে সে অংশ। স্বয়ং বৃন্দাবন ভুবি সৰ্ব্ব অবতংশ।
গােলক শব্দেতে কহি গোকুলনগরী। গোকুলের আখ্যা
গোলােক কহিল বিবরি ॥ অন্য গোলোক গােকুলের হয়েন ।
বৈভব। তাহার প্রমাণ কহি শুন যেই সব ।
তথাহি লঘুভাগতামৃতে ধাম প্রকরণে ৭২ অঙ্কে।
যত্ত গােকলােক নামস্যাচ্চ গোকুলবৈভবমিতি।
রাজা কহে ষড়ৈশ্বৰ্য কাহারে বলয়ে। তবে রামচন্দ্র তার
প্রমাণ কহয়ে।
তথাহি শ্ৰীভাগবতামৃতে ।
বিবিধাদ্ভুত মাধুৰ্য গাম্ভীৰ্য্যৈশ্বৰ্য্যবীৰ্য্যকং।
ঔদাৰ্যং ধৈৰ্য্যমিত্যেৎ ষড়ৈশ্বর্যমুদীরিতং ।
নানা আশ্চৰ্য্য মাধুৰ্য গম্ভীৰ্য যাহার। বীৰ্য্যৈশ্বর্য
[ ১১ ]
কর্ণানন্দ। শুনহ ঔদাৰ্য ধৈৰ্য্য নাহি তার পার । তথাহি। ঐশ্বৰ্যস্য সমস্য বীৰ্য্যস্য যশসঃ শ্রিয়। জ্ঞানবৈরাগ্যয়োশ্চৈব ষাং ভগ ইতীঙ্গনা। সমগ্র ঐশ্বৰ্য্য আর বীৰ্য্য সমর্থ হয়। যশঃশ্রিয় জ্ঞান বৈরাগ্য সমগ্ৰ নিশ্চয় । পুন রাজা কহেন শ্রীরামচন্দ্র প্রতি। এই সব কথা কহ পাইয়া পীরিতি । গঙ্গা যমুনার এই মহিমা শুনিতে। গুণাধিক্য কেবা তাতে কহ ত নিশ্চিতে । সৰ্বারাধ্য হয় এবে যে শুনিল। শ্রীরাধিকার মহিমা শুনিতে ইচ্ছা হইল । কৃষ্ণের স্বকীয় লীলা আর পরকীয়া। এই সব কথা কহ বিস্তার করিয়া । এত শুনি রামচন্দ্র আনন্দ অন্তরে। কহিতে লাগিলা তাতে করিয়া বিস্তারে ॥ রাজন তুমি বড় প্রশ্ন কৈলে। পরম পবিত্র এই কথা নির- মলে। গঙ্গার মহিমা যত শাস্ত্রে আছে খ্যাতি। তাহা হৈতে যমুনার কোটি গুণ খ্যাতি। শাস্ত্র পরসিদ্ধ ইহা কিছু অন্য নয়। পুরাণবচনে ইহা অছিয়ে নিশ্চয় । যে যমুনার উভয় তটে মননারম। শুদ্ধস্বর্ণ বদ্ধ যাতে মাণিক্য রতন। হেন সেই যমুনার পরশ মাত্রেকে। কোটি গঙ্গাসাগুণ কহিল তোমাকে। যমুনার মহিমা ভাই কি কহিব আর। যাতে নিত্য লীলা করে ব্রজেন্দ্রকুমার । তথাহি। তত্রেভিয়তটী রম্যং শুদ্ধকাঞ্চননির্শিতং । গঙ্গাকোর্টিগুণপ্রেক্তং যস্য স্পর্শবরাটকঃ ॥ ইতি এবে ত কহিয়ে শুন শ্রীরাধার মহিমা। আপনেই কৃষ্ণ ।
চতুর্থ নির্যাস। যার নাহি পায় সীমা। শ্ৰীৰাধা হয়েন ওণর হনের খনি। যাহার মহিমা সর্ব শাস্ত্রেতে বাখানি। শ্রীরাধার গুণসিন্ধু কৃষ্ণ না পায় পর। তার গুণ কি কহিব মুঞি নিৰ্বদ্ধি ছার। অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ডে যত দেবীগণ। সবার হয়েন ইহে শিরের ভূষণ। তথাহি শ্ৰী বৃহগৌতমীয়ে। চরিতামৃতে আদিখণ্ডে ৪ পরিচ্ছেদে। দেবী কৃষ্ণময়ী প্ৰোক্তা রাধিকা পরদেবতা। সৰ্বলক্ষমীময়ী সর্বকান্তিঃ সম্মােহিনী পরা । ইতি । কৃষ্ণ কান্তাগণ দেখি ত্রিবিধ প্রকার। লক্ষীগণ নাম এক মহিষীগণ অার। ব্রজাঙ্গনা রূপ আর কান্তাগণ সার। শ্রীরাধা হৈতে কান্তাগণের বিস্তার। অবতরি কৃষ্ণ যৈছে করে অবতার। অংশিনী রাধা হৈতে তিন গুণের বিস্তার । লক্ষীগণ তঁার বৈভব-বিলাসংশরূপ। মহিষীগণ তঁার বৈভব প্রকাশ স্বরূপ। আকার স্বভাৰ ভেদে ব্রজদেবীগণ। কায়রূহ- রূপ তার রসের কারণ । বহু কান্তা বিনা নহে রসের উল্লাস। লীলার সহায় লাগি বহুত প্রকাশ । দেবী কহি দ্যোতমান। পরম সুন্দরী। কিম্বা, কৃষ্ণ ক্রীড়া পূজা বসতি নগরী। কিম্বা রসময় প্রেম কৃষ্ণের স্বরূপ। তঁার শক্তি তার সহ হয় একরূপ ॥ কৃষ্ণের বাঞ্ছা পূর্ণরূপ করে, আরাধনে। অতএব রাধিকারূপ পুরাণে বাখানে। তথাহি শ্ৰীদশমে ৩০ অধ্যায়ে ২৩ শ্লোকে। অনােরাধিতাে নূনং ভগবান হরিরীশ্বরঃ। যয়ো বিহায় গোবিন্দঃ প্রীলে যানয়দ্রহঃ । ইতি।
কর্ণানন্দ। অতএব সৰ্বপূজ্য। পরমদেবতা। সর্বপলিকা সৰ্ব্ব জগ- তের মতা। সৰ্বলক্ষীগণ পূৰ্বে করেছি অখ্যানে। সৰ্ব্ব লক্ষীগণ যাহা হৈতে বিদ্যমানে। কিম্বা কান্তাশব্দে কৃষ্ণের সর্ব ইচ্ছা কহে। কৃষ্ণের সকল বাঞ্ছা রাধাতেই রহে। রাধিকা করেন কৃষ্ণের বাঞ্ছিত পূরণ। সৰ্বকান্তিশব্দের এই অর্থ নিরূপণ ॥ জগৎ মােহন কৃষ্ণ তাহার মােহিনী। অতএব সমস্তের পর ঠাকুরাণী। কৃষ্ণ যেন আদিপুরুষ স্বয়ং ভগ- বান্। সর্ব প্রকৃতি আদি রাধা শাস্ত্র পরমাণ, ॥ হেন কৃষ্ণ প্রিয়। রাধা গুণের অবধি। যার গুণ কৃষ্ণচিত্তে সূরে নিরবধি। দুর্গাদি ত্রিগুণ যার কলাকোটি অংশ। শ্রীকৃষ্ণ বল্লভ রাধা সর অবতংস । তথাহি শ্রীবরাহে। তৎপ্রিয়। প্রকৃতিস্বদ্যা রাধিকা তস্য বল্লভ। তৎকলা কোটিকট্যংশ। দুর্গাদ্যা স্ত্রিগুণাহিকাঃ। ইতি । সর্ব শিরোমণি ভাব মহাভাব হয়। আর যত ভাব সেই ভাবের আশ্রয় ॥ হেন মহাভাব যার শরীরে নি অন্য ধামে যেই ভাবের কভু নহে বাস। মহাখা ভাবিত যার চিত্তেন্দ্রিয় মন। সদা কৃষ্ণ যার চিত্তে হয়ে স্ফুরণ। কৃষ্ণময়ী কৃষ্ণ যার ভিতরে বাহিরে। যাহা যাহা নেত্র পড়ে তাহা কৃষ্ণ স্ফরে। মহাভাব স্বরূপা শ্রীরাধাঠাকুরাণী। সৰ্ব্ব গুনখনি কৃষ্ণকান্তা শিরােমণি। স্বকীয়াতে মহাভাব কভু নহে গতি। পরকীয়া ভাবে যার সদাই বসতি। সেই পরকীয়া ভাবের বৃন্দাবনে বাস। নিরন্তর উঠে যাতে রসের উল্লাস । মহাভাব স্বরূপ এই শ্রীদাস গোসাঞি। প্রেমম্ভোজ মর-
চতুর্থ নির্যাস।
লাক্ষে লিখিলা তথাই ।
তথাহি প্রেম্ভোজমাখ্যস্তোত্রে।
মহাভাবোজ্জ্বলচ্চিন্তারদ্ভোবিতবি গ্ৰহাং।
সখীপ্রণয়সগন্ধ রবােদ্বৰ্ত্তন সুপ্রভাং ইতি
এ অাদি করিয়া গোসাঞি যত যত শ্লোকে। লিখিলেন
সেই ভাব করিয়া প্রত্যেকে। হলদিনীর সার অংশ প্রেমসার
তাব। ভাবের পরাকাষ্ঠা এই হয় মহাভাব।
তথাহি উজ্জ্বলনীলমণৌ রাধাপ্রকরণে ২ অঙ্কে ॥
মহাভাব স্বরূপেয়ং গুণৈরতিবরীয়সী ইতি ॥
প্রেমের স্বরূপ দেহ প্রেমের ভাবিত। শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়া
শ্রেষ্ঠ জগতে বিদিত।
তথাহি ব্ৰহ্মসংহিতায়াং।
অনিন্দচিন্ময়রস প্রতিভাবিতাভি-
স্তাভির্য এব নিজপতয় কলাভিঃ ।
গোলোক এব নিবসতথিলা ভূত
গােবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি । ইতি !
মহাভাব চিন্তামণি রাধার স্বরূপ। ললিতাদি সখী তার
কায় ব্যুহরূপ। রাধা প্রতি কৃষ্ণস্নেহ সুগন্ধি উদ্বর্তন। তাহে
অতি সুগন্ধি দেহ উজ্জ্বলবরণ ॥ করুণামৃত ধারায় স্নান
প্রথম। তারুণ্যমৃত ধারায় স্নান মধ্যম । লাবণামৃত ধারায়
তদুপরি স্নান। নিজলজ্জা শ্যামপট্টসাড়ী পরিধান কৃষ্ণানু-
রাগে দ্বিতীয় রক্তিম বসন। প্রণয়মান কঞ্জুলিকায় বক্ষ আচ্ছা-
দন। সৌন্দৰ্য কুঙ্কুম সখী প্রণয় চন্দন। স্মিতকান্তি কপূর
তিনে অঙ্গবিলেপন | কৃষ্ণের উজ্জ্বল রস মৃগমদভর। সেই
কর্ণানন্দ। মৃগাদে বিচিত্রিত কলেবর। প্রচ্ছন্ন মান বমি ধন্মিস বিন্যাস। ধীরা অধীরত্ব গুণ অঙ্গে পটবাস। রাগ তালরাগে অধর উজ্জ্বল। প্রেমকৌটিল্য নেত্রযুগলে কজ্জ্বল। সূদ্দীপ্ত সাত্ত্বিক ভাব ঈর্ষাদি সঞ্চারি। এই সব ভাব ভূষ। রাধা অঙ্গ ভরি ॥ কিলকিঞ্চিতাদি ভাব বিংশতি ভূষিত। গুণশ্রেণী পুষ্পমালা সর্বাঙ্গে পূরিত। সৌন্দৰ্য্য তিলক চারু ললাটে উজ্জ্বল। প্রেমবৈচিত্য রত্নহার হৃদয় তরল ॥ মধ্যবয়ং স্থিতি সখীস্কন্ধে করন্যাস। কৃষ্ণলীলা মনোবৃত্তি সখী আশপাশ নিজাঙ্গ সৌরভালয়ে গৰ্বপৰ্য্যঙ্ক। হে বসিয়াছে সদা চিন্তে কৃষ্ণসঙ্গ। কৃষ্ণ নাম গুণ যশ অবতংস কানে। কৃষ্ণ নাম, গুণ যশ প্রবাহ বচনে। কৃষ্ণকে করায় শ্যাম রস মধুপান। নিরন্তর পূর্ণ করে কৃষ্ণের সৰ্ব্ব কাম । যাহার সৌভাগ্য গুণ বাঞ্ছে সত্যভামা। যাঁর ঠাঞি কলা বিলাস শিখে ব্রজরাম । যাহার সৌন্দর্য্য গুণ বাঞ্ছে লক্ষী পার্বতী। যার পতিব্রত। গুণ বাঞ্ছে অরুন্ধতি। যার সগণগণের কৃষ্ণ না পায় পার ? তার গুণ গণিবেক জীব কোন ছার। তথাহি। সৌভাগ্য বর্গমনোৎ মৌলিভূষণমঞ্জরী। অবৈকুণ্ঠমজাঙানি চকসিমাস তদশ আনলৈক সুধাসিন্ধু চাতুৰ্যৈক সুধাপুরী। মাধুৰ্যৈক সুধাবল্লী গুণরত্নৈকপেটিকা ॥ ইতি। আনন্দ-সুধাসিন্ধু এক বিধি সিরজিল। চাতুর্যের পুরি করি রাধা নিরমিল। কিবা বিধি সিরজিল এক মাধুর্যের লতা। গুরত্নপেটিকা এক নিরমিল ধাত! | রাধাপাদপদ্ম-
চতুর্থ নির্যাস।
৮৭
রেণু যার অনারাধ্য। সুমধুৰ্যরস তারে কভু নহে বেদ্য ।
শ্রীরাধার পাদাঙ্কিত ভূমি বৃন্দাবন। ইথে অনাশ্রিত জনে
প্রাপ্তি নহে ধন ॥ রাধাভাবে গম্ভীরচিত্ত যেব সাধুজনে।
তাহাকে সম্ভাষ না করে যেই জনে। সেই জনে কভু নহে
শ্যামসিন্ধু অবগাহ। নিশ্চয় কহিল ইহা নাহিক সন্দেহ।
তথাহি স্তবাযল্যাং সংকল্পপ্রকাশস্তোত্রে ১ শ্লোকঃ ।
অনারাধ্য রাধাপদাভোজ রেণু,
মনাশ্ৰিত্য বৃন্দাটবীং তৎপদাঙ্কা।
অসংভাষ্য তদ্ভাবগম্ভীরচিত্তান্
কৃতঃ শ্যামসিন্ধো রসস্যাবগাহঃ ।
ব্ৰহ্মাণ্ডাদি মধ্যে রাধা নাম মনােহর। স্মৃর্তি হইয়াছে
তাহা সদা নিরন্তর । অগম নিগেম যেই রাধার গুণগণ
নারদাদি মুনি করে যে নাম কীর্তন। হেন রাধা-পাদপদ্ধে
করি অনাদর। গোবিন্দভজনে যার বাঞ্ছা নিরন্তর।
রাধা নাহি ভজে কৃষ্ণে করে রতি। সে বড় কপটী দম্ভী অতি
মূঢ়মতি । তাহার নিকটে বস কভু যেন নয়। সেই
পতিত স্থান যানিহ নিশ্চয়। সেই স্থানে নহে যেন আমা:
বসতি। ক্ষণমাত্র নহে যেন সেই স্থানে মতি।
তথাহি স্তবাবল্যাং স্বনিয়মে ৬ শ্লোকঃ ।
অনাদৃত্যোদগীতামপি মুনিগণৈ বৈণিকমুখে
প্রবীণং গান্ধৰ্বামপি চ নিগমৈস্তৎপ্রিয়তমাং।
"য একং গােবিন্দং ভজতি কপটী দাম্ভিকতয়া
তদভ্যর্ণ শীর্ণে ক্ষণমপি ন যামি ব্রতমিদং। ইতি।
ব্ৰহ্মাণ্ডাদি মধ্যে এই রাধানাম কীর্তি। সাধু জন চি
কৰ্ণানন্দ। । * * তাহা সদ। অাছে স্ফ ৰ্ত্তি । রধাজনে সিক্তচিত্ত অবশ্য করিয়া। রাধা সহ কৃষ্ণ ভজে দৃঢ় চিত্ত হইয়া তাহাকে প্রণাম করি প্রেমের সহিতে। নিরন্তর এই বাঞ্ছা মোর অবিরতে। তার পাদপদ্ম দুটা প্রক্ষালন করি। ভক্ষণ করিয়ে পুন ধরি শিরোপরি । প্রতিদিন এই নিত্য নিয়ম অামার। করুণা করেন যেন রাধাপরিবার । তথাহি স্তবাবল্যাং স্বনিয়মে ৭ শ্লোকে। অজাণ্ডে রাধেতি ফ্রদভিধয় সিক্তঞ্জয়। হয়সাকং কৃষ্ণং ভজতি য ইহ প্ৰেমনমিত। পরং প্রক্ষালৈচ্চরণকমলে তজ্জলমহহ মুদ। পীত্ব শশ্বচ্ছিরসি চ বহামি প্রতিদিনং। ইতি। এই সব নিৰ্দ্ধার করি শ্ৰী দাসগোসাঞি। নিয়ম করি কুণ্ড- তীরে বসিলা তথাই । সঙ্গে কৃষ্ণদাস অার গোসাঞি লোকনাথ। দিবানিশি কৃষ্ণকথা সদা অবিরত। হেনই সময়ে গ্রন্থ গােপাল চন্দু নাম। সবে মেলি আস্বাদয়ে সদ। অবিরাম । অস্বদিয়া চিত্তে অতি আনন্দ উল্লাস। অত্যন্ত দুরূহ কিবা শ্লোকের অভিলাষ। বাহার্থে বুঝয়ে তাহা স্বকীয়া বলিয়া ॥ ভিতরের অর্থমত্র কেবল পরকীয়া । শ্ৰীজীবের গম্ভীর হৃদয় না বুঝিয়া। বহিলোক বখানয়ে স্বকীয়া বলিয়া গ্রন্থের মমার্থ বুঝায় যেন পরকীয়া। অনিমে নিমগ্ন সবে তাহা আম্বাদিয়া। পরকীয়া লীলা এই স্থান বৃন্দাবন। ইহা ছাড়ি অন্যধামে নহে আগমন। তথাহি স্তবাবল্যাং স্বনিয়মে ২ শ্লোক: নচান্য ক্ষেত্রে হরিনু সনথেত্যাদি। ২.
চতুর্থ নির্যাস। এই বৃন্দাবন মাের সাধন ভজন। এইস্থানে দেহত্যাগ আমার নিয়ম | ব্ৰজেদ্ভিব ক্ষীর যে অামার ভক্ষণ। বৃক্ষগ এই আমার বসন। ইহাতেই নিৰ্বাহ মাের দম্ভ দূর করি। শ্রীকুণ্ডে রহিয়ে কিবা গোবর্ধন গিরি। রাধাপ্রেম- সরােবরের নিকটে নিশ্চয়। এইস্থানে মরি যেন হেন বাঞ্ছা হয়। শ্রীজীব রহেন যেন আমার অগ্ৰেতে। শ্রীকৃষ্ণদাস অার গোসাঞি লোকনাথে । দেহত্যাগ করিব আমি ইহা সবার অাগে। হেন দশা কবে মোর হইব মহাভাগে । তথাহি স্তবাবল্যাং স্বনিয়ম দশকে ৯ শ্লোকে। ব্ৰজোৎপন্নক্ষীরাশন বসন পত্রাদিভিরহং পদার্থ নিৰ্বাহ ব্যবহৃতিমদম্ভং স নিয়মঃ । বসামীশাকুণ্ডে গিরিকুলবরে চৈব সময়ে মরিষ্যেতু প্রেষ্ঠে সরসি খলু জীবাদিপুরতঃ ইতি। চম্পূ গ্রন্থ মৰ্ম্ম জানি গোসাঞি কবিরাজ। নিত্যলীলা স্থাপন লিখিলা গ্রন্থ মাঝ ॥ শ্রীগোপালচল্ নামে গ্রন্থ মহা- শূর। নিত্যলীলা স্থাপন যাতে ব্রজরসপূর। রসপুর শব্দে কহি নিত্য পরকীয়া । হৃদয়ে ধরহ তুমি যতন করিয়া। এই রস লীলা নিত্য নিত্য করি জানে। সেই জন পায় শুদ্ধ ব্রজেন্দ্রনন্দনে। যেই লীলা সেই নিত্য ইথে নাহি আন। প্রকটাপ্ৰকটে মাত্র লীলার বিধান। স্বেচ্ছাময় কৃষ্ণলীলা করে অবিরতে। লীলা প্রকাশিলা তাতে নিত্য লীলা ইথে । তথাহি। প্ৰকটকটে নিত্যং তথৈব বনগোষ্ঠয়য়াঃ। গোচারণং বয়স্যৈশ্চ বিনাসুরবিঘাতনং। [১২] কৰ্ণানন্দ। গোচারণ বয়স্যাদি সঙ্গে লীলাগণ। নিত্যলীলায় মা- নাহি অসুর মারণ। নিত্যলীলায় লীলায় এই ভেদ মাত্র। কহিলাম তোমারে ইহা পরম পবিত্র । নিত্যলীলাদি রস সব কহিল কারণ। যাহা নিত্যস্থিতি মাতা পিতা বন্ধুগণ। ইহাতে দৃষ্টান্ত আছে শুনহ রাজ। তাহার প্রমাণ কহি শাস্ত্রের বচন। ধামান্তর হৈতে যবে কৃষ্ণ বৃন্দাবন আইলা। নিত্যপরিকর সঙ্গে সদা বিহরিল। দ্রোণ ধরা আদি করি বৈকুণ্ঠে পাঠাইয়া। বিহার করেন সদা আনন্দিত হৈয়া । দ্রোণ ধরা আদি করি নন্দাদির অংশে। প্রকট হইলা আসি ব্রজ অবতংসে। প্ৰেষ্ঠ হইতে প্রেষ্ঠ এই বন্ধুগণ লইয়া। নিত্যলীলা বিরাজমান ব্ৰজেতে রহিলা। এই নিত্য লীলা তােমায় কহিলাম সার। অনন্ত কহিতে নারে তাহার বিস্তার। মুঞি ছার হীন নহে লীলার গােচর। কি কহিব সেই লীলা সৰ্ব্ব পরাৎপর । তথাহি লঘুভাগবতামৃতে প্রকটাপ্রকট লীলায়াং ৬১৬২ অঙ্কের ব্রজেশদেরংশভূত। যে দ্রোণাদ্যা অবতরন্। কৃষ্ণস্তানেব বৈকুণ্ঠে প্রহিণোদিতি সাংতং । ১। প্রেষ্ঠেভ্যোহপি প্রিয়তমৈ জনৈ গোকুলবাসিভিঃ। বৃন্দাবণ্যে সদৈবাসৌ বিহারং কুরুতে হরিঃ ॥২॥ এই সব সাধনাঙ্গ কহিলাম সার। সম্যক্ কহিতে তার কে পাইব পার। নিত্যলীলা আদি করি নানা পরকার । কৃষ্ণতত্ত্ব রাধাতত্ত্ব লীলাতত্ত্ব অরি। আশয়ালম্বন উদ্দী- পন আদি করি। রতিভেদ তাহাতে সামর্থ। সর্বোপরি । রামানন্দরায় সঙ্গে যতেক সিদ্ধান্ত। রাজায় শুনাইলা তার
চতুর্থ নির্যাস।
বিস্তার একান্ত। শ্রীসনাতনে যত সিদ্ধান্ত কহিল। ক্রমে
ক্রমে সব তাহা রাজারে বলিল। তবে রাজা রামচন্দ্রে
প্রণাম করিয়া কহিতে লাগিল। কিছু বিনতি করিয়া শিক্ষা
পাই মহারাজার মনের আনন্দ। কহিতে লাগিলা কিছু করি
মন্দ মণ। কৰ্ণানন্দ কথা এই সুধার নির্যাস ॥ শ্রবণ পরশে
ভক্তের জন্মে প্রেমমাল্লাস। শ্ৰীআচাৰ্য প্রভুর কন্যা শ্রীল
হেমলতা। প্রেমকল্পবল্লী কিবা নিরমিল ধাতা। সে দুই
চরণপদ্ম হৃদয়ে বিলাস। কৰ্ণানন্দ রস কহে যদুনন্দন দাস।
* ইতি শ্ৰীকৰ্ণানন্দে শ্রী বীরহাম্বীর মহারাজার প্রতি
শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজ শিক্ষানাম চতুর্থ নির্যাস ॥ * ॥৪॥ ॥
পঞ্চম নির্যাস। । কিবা জয় জয় শ্রীচৈতন্য জয় নিত্যানন্দ। জয়াদ্বৈতচন্দ্র জয় গৌর ভক্তবৃন্দ । তবে রাজা রামচন্দ্রের পদধরি। কহিতে লাগিল। কিছু বচন মাধুরী। পূর্বে যে প্রভু তােমায় কহিলা বচনে। তাহা শুনিয়াছি আমি আপন শ্রবণে। কি হেতু তোমাদের প্রতি গোস্বামিলিখন। কৃতার্থ করাহ তাহা করাইয়া শ্রবণ। তবে রামচন্দ্র কহে শুনহ কারণ। যে হেতু মােদের প্রতি শ্রীজীব লিখন পূৰ্বে শ্রীজীব- গােস্বামী মাের প্রভুস্থানে। পাঠাইলা গােপালচল্ করিয়া যতনে। গ্রন্থ দেখি প্রভু মোর আনন্দ হৃদয়। গ্রন্থ কৈলা গোসাঞি অতি রসময় ॥ শুদ্ধ পরকীয়া লীলা গ্রন্থেতে লিখিল। তাহা দেখি প্রভু মোর সুখ বড় পাইল। শ্রীরূপের গম্ভীর হৃদয় না জানিয়া। বহিঃ শ্লোক বাখনিয়ে স্বকীয়া বলিয়া । ভিতরের অর্থে কেহাে নারে প্রবেশিতে। শুদ্ধ পরকীয়া লীলা লিখিলা নিতন্তে ॥ রস গ্রন্থ প্রকাশিলা অমৃতের সার। কি আশ্চৰ্য্য কি আশ্চর্য্য ইহা কহে বার- বার। কেহো যেন কোথায় মহারতন পাইয়া। সম্পুটে রাখয়ে তাহা গোপন করিয়া ভিতরের বস্তু কেহহ দেখিতে পায়। সম্পুটে দেখয়ে বস্তু সনে কিবা দায় ॥ বস্তু যেবা রাখিয়াছে সেই জন জানে। অন্য লোকে হয় মাত্র সম্পুট গিয়ানে। এইমত সিদ্ধান্ত গোসাঞির বড়ই গম্ভীর। প্রবেশ করয়ে তাতে যিহে ভক্তধীর ॥ নির্যাস রসতত্ত্ব ইহা কেহে। বুঝায়। অতএব প্রভু মোর সবার প্রতি কয় না দেখিল পঞ্চম নির্যাস। এই গ্রন্থ কহিল নিশ্চয়। সেই হৈতে সেই গ্রন্থ নিত্য পূজা করে। ভিতরের অর্থ কেহাে বুঝিতে না পারে। দৈব- যোগে সেই গ্রন্থ শ্রীব্যাস চক্রবর্তী। সেই গ্রন্থ দেখি তার ফিরি গেল মতি। ভিতরের অর্থ তাহা কিছু না বুঝিয়া। বাহ অর্থ বুঝিল তাহা স্বকীয়া বলিয়া। পূর্বে আছিল ইহে বড় বিজ্ঞবর। দৈবক্রমে তাহার হইল মতান্তর । পূর্বে যবে প্রভু মাের যাজি গ্রামপুরে। মাের ভ্রাতায় কহিলা কৃষ্ণলীলা বর্ণি বারে। রাধাকৃষ্ণ লীলারস করিল বর্ণন। রসপদ্য গুণ শুনি জুড়ায় শ্রবণ শুদ্ধ পরকীয়া লীলা বর্ণন করিল।। যাহা অস্বা- দিয়া লােক উন্মত্ত হইলা ॥ খেতরি মধ্যে ঠাকুর মহাশয় সঙ্গে। পদ আস্বাদিয়া ভাসে প্রেমের তরঙ্গে। আমি সহোদর তার সঙ্গেতে রহিয়া। কৃষ্ণকথা-রস কহি আনন্দিত হইয়া । হেন কালে তথা আইলা শ্রীব্যাসচক্রবর্তী। চারি জনে এক সঙ্গে রহি দিবা রাতি। তার মধ্যে তিহৈ কিছু বাদাৰ্থ করিল। তাহা শুনি চিত্তে মাের দুঃখ বড় পাইলা। কই দেখি তোমরা নিত্যস্মরণ-প্রক্রিয়া। কিরূপে করহ তাহা কই বিবরিয়া। তবে ত অামরা স্মরণ-ব্যবস্থা কহিল। তাহা শুনি চিত্তে কিছু কুণ্ঠ উপজিল। তবে ত কহিল এই পর- কীয়া ভজন। স্বকীয়াতে প্রাপ্তি হয় শুনহ বচন। শ্ৰীজীবের বাক্য এই অতি অনুপম। তাহাতেই এই বাক্য আছে পর- মণি। মাের প্রভুর হৃদয় না বুঝহ তুমি। নিশ্চয় করিয়া ইহা কহিলাম আমি। ইহা শুনি তিন জনে বিচার করিল। প্রভু বুঝি মনােবৃত্তি ইহারে কহিল। বড়ই সন্দেহ মনে বাড়ি গেল অতি। কি করিব বলি ইহা ভাবে দিন রাতি। সাধন এক
কণানন্দ
প্রাপ্তি এক ইহা কেমনে হইব। সদাই অন্তরে ভাবি কাহারে
পুছিব। মোর ভাতা পদ কৈল পরকীয়া মতে। মনে ছিল
সেই পদ গৌড়ে প্রকাশিতে। এত চিন্তি তিন জনে বিচার
করিল। ভাবিতে ভাবিতে ইহা নিশ্চয় জানিল । শ্রীজীব
গোসাঞির স্থানে পত্ৰী করিয়া লিখন। পাঠাইব পত্র দঢ়া-
ইলাম তিন জন। গোস্বামি-পার্ষদবর্গে এক লিখন। মনে
বিচারি ইহা লঞ যাবে কোন জন। রায় বসন্ত নামে এক
মহাভাগবত। বৃন্দাবন যাবার লাগি চিন্তে অবিরত। অামরা
কহিল তারে যত বিবরণ। তার দ্বারে পত্রী মোরা দিলু তিন
জন॥ শ্রীজীব গােস্বামিঅার যত পার্ষদবর্গে। কহিবে সকল
কথা যত মহাভাগে। পত্ৰী তবে লইয়া রায় গেল বৃন্দাবন।
শ্রীগোস্বামিপদে যাই দিলেন লিখন । তার পর পার্ষদবর্গে
পত্র দিলেন লৈয়া। কহিলেন সব কথা বিস্তার করিয়া । কত
দিন ব্যতীত গোসাঞি দিল প্রত্যুত্তর। পার্ষগণ পত্র লইয়া
আইল সত্বর। লিখিলেন গোসাঞি এক অমার প্রভুরে।
ব্যাসপ্রতি কিছু কহে বিতৃষ্ণ অন্তরে। আবেশ করিয়া এই
গােস্বামিলিখনে। ব্যাস শর্মা সংপ্রতি আছেন কোন স্থানে।
অবশ্যই এই বার্তা লিখিবে আমারে। বুঝিতে নারিয়ে আমি
তাহার অন্তরে। তবে অামাদের প্রতি গোস্বামিলিখন। পরম
আশ্চৰ্য্য পত্রী কর্ণরসায়ণ । মােরে পত্র লিখিবারে কিবা
প্রয়ােজন। শ্রীমৎ আচাৰ্য যাহে কৃপার ভাজন। বিশেষে
উপদেশিলা অাচাৰ্য মহাশয়। তঁার যেই মত সেই মোর মত
হয়। সাধনে যেই ভাব্য সেই প্রাপ্তি বস্তু হয়। পত্ৰীতে বুঝা-
ইল ইহা নাহিক সংশয়। এই তত্ত্ববস্তু শ্রীগোসাঞি কৃষ্ণদাস।
পঞ্চম নির্যাস। ৯৫ নিজগ্রন্থ মাঝে তাহা করিলা প্রকাশ। ব্ৰজের কোন ভাব লইয়া যেই জন ভজে। ভাবযােগ্য দেহ পঞিা কৃষ্ণ পায় ব্রজে। এই সব সারবস্তু কহিল নিশ্চল। শুনহ গােস্বামি পত্ৰ শ্ৰবণ মঙ্গল। মাের প্রভু প্রতি আগে গোস্বামিলিখন। তাহি মধ্যে তােমার নাম করহ শ্রবণ। রায় বসন্ত যবে বৃন্দা- বন গেলা। মাের প্রভুর বার্তা গোসাঞি জিজ্ঞাসিলা। জানাইলা সব বার্তা রায়বসন্ত। জানিলেন গােসাঞি যতেক বৃত্তান্ত। অাগে পত্ৰী পঠাইলা আমার প্রভুকে। পত্রি পাই মাের প্রভু ধরিলা মন্তকে। পত্রে বেদ্য হইলা প্রভু যত সমাচার। পত্রী পড়ি প্রভুর নেত্রে বহে জলধার। তার পরে রায় যবে আইলা গৌড়দেশে। পত্রী পাইয়া অামাদের বাড়িল সন্তোষে ৷ তাহারে পুছিনু আমি সকল কারণ। শৰ্মা উক্তি কেন হবে গােস্বামিলিখন। রায় কহে যবে গােসাঞি শুনিলা কারণ। শৰ্ম্ম। বিনা হেন উক্তি করিব কোন জন। ভক্তমুখে হেন বাক্য কভু নাহি হয়। ব্রাহ্মণ পণ্ডিতের মত এই ত নিশ্চয়। ভাদ্রমাসে প্রভু প্রতি গোস্বামিলিখন। বৈশাখে মােদের প্রতি পত্রী করহ শ্রবণ। তত্ৰ পঞ্জী । স্বস্তি মদীয় সমস্তসুখপ্রদপদদ্বন্দ্ব- শ্রী শ্রীনিবাসচাৰ্য্য চরণেষু- জীবনামা সোয়ং নমস্কৃত্য বিজ্ঞাপয়তি। ভবতং কুশলং সদা সমীহে তন্তু বহুদিনং যাব প্রাপ্তমিতি তেন বয়মানন্দ- নীয়ঃ। অত্রাহং সংপ্রতি দেহনৈরুজেন বর্তে অনন্য চ তথা বর্তন্তে কিন্তু শীভূগর্ভগোস্বামিচরণঃ দেহং সমর্পিতবস্তুঃ কর্ণানন্দ। আত্মানন্তু শ্রী বৃন্দাবননাথায় জ্ঞানপূর্বকমিতি বিশেষঃ। স্ব- পরিকরাণাং বিশেষতঃ শ্ৰীবৃন্দাবনদাসস্য কুশলং লেখ্য কিঞ্চিদসে পঠতি নবেতি। পর ঞ্চ শ্রীব্যাস শৰ্ম্মা সংপ্রতি, কথং কুত্ৰ বৰ্ত্ততে। শ্রীবাসুদেব কবিরাজো বা তদপি লেখ্যং। অপর রসামৃতসিন্ধু মাধবমহােসবোত্তরচ হরিনাম- মৃতানাং শোধনানি কিঞ্চিদবশিষ্টানি বৰ্ত্তন্ত ইতি বর্ষাশ্চেতি সংপ্রতি ন প্রস্থাপিতানি পশ্চা, দৈবানুকুল্যেন প্রস্থাপ্যানি। কিঞ্চাত্ৰকীয় সর্বেষাং যথাযথং নমস্কারাদয়েজ্ঞেয়ঃ তকী- য়েষুতু মম নমস্কারাদয়েবিচ্যা ইতি ভাদ্রে সুদি। শীরাজ মহাশয়েযু শুভাশিষঃ ॥ স্বস্তি সমস্ত বৈষ্ণবগণ প্রশস্ত শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজ শ্রীনরো- কমদাস শ্রীগোবিন্দদাসখ্য মদ্বিধসুখাস্পদ সম্পপেষু শ্ৰীবৃন্দ বনজ্জিীব নামাহং সালিঙ্গনং নিবেদয়ামি। সমীহে বিশেষতস্তু ভবতং কুশলং স্নেহসূচক পত্রস্য সমুপলম্ভাত্তদেব মুহব্বা- ঞ্চামি তত্র যন্ময়া মেহং বিধায় শ্রীমতি গীতানি প্রস্থাপিতানি তেন ত্বরিতমঙ্গল সঙ্গতােহস্মি কিং বহুনা নিরুপাধি স্নিগ্ধেযু। অথ যন্মুহু নিত্যস্মরণ প্রক্রিয়া' মৃগ্যতে তত্তথা শ্রীরসামৃত- সিন্ধেী ব্যক্তমেবস্তি সেবাসাধকরূপেণেতাদিনা। সাধকরূপেণ বহির্দেহেন সিদ্ধরূপেণ নিজেষ্ট সেবানুরূপ- চিন্তিতদেহেত্যের্থঃ। তত্ৰচ সিদ্ধরূপেণ রাগানুগানুসারে- শৈবেতি কালদেশ লীলা ভেদ। বহুধেতি কিয়তী লেখ্য। সাধকরূপেণ সেবাতু বৈধপ্রক্রিয়া আগমাদ্যনুসারেণ জ্ঞেয়া। শ্ৰীমদাচাৰ্য মহাশয়া শুত্র বিশেষং উপদেক্ষ্যন্তি এতেহস্মাকং সর্বমেবেতি কিমধিকেন। বৈশাখস্য চতুর্দশে হইনি।
পঞ্চম নির্যাস। P গোবিন্দ-পদারবিন্দ--নির্গলষ্মকরন্দপানতুন্দিলমত্তমনাে- ভৃঙ্গসদ্বৈষ্ণবানুশাসনপরিশীলনপবিত্ৰচরিত্রসজাতীয় সাধুগােষ্ঠী চরণামৃতাস্বাদনাপ্যায়িতশেষান্তঃকরণপরমারাধ্যতমেষু কস্যচিৎ সংসারণবনিমজ্জিনঃ প্রণতিপুরঃসরালিঙ্গন- পৃৰ্বিক। বিজ্ঞপ্তিঃ। এবং তত্ৰভবতং দর্শনাভাবতে দূরহস্য সমনিন্দকারি- ভাগ্যোদয়ে যথা ভবতি তথা বিচার কর্তব্য। অতঃ পরম- সৎসঙ্গবাসবিচায়পারাবার ভবনেব কর্ণধারঃ। পরন্তু শ্রীরাধা- কৃষ্ণলীলয়া বিরচিতানি মন্তি গীতানি লব্ধ।নি অপরং যদ্যা- চিতং তদনুসন্ধেয়ং। শ্ৰীমতো গোস্বামিনঃ পত্রেণ সাধনপ্রক্রিয়া বিজ্ঞাতব্যা শ্রীমদ্ভিরিতি । শ্রীগােবিন্দ কবীন্দ্রচলনগিয়েশ্চঞ্চদ্বসস্তানিলে- নানীতঃ কবিতাবলীপরিমলঃ কৃষ্ণেন্দুসম্বন্ধভা। শ্ৰীমজ্জীব-সুরাঙ্ িপাশ্ৰয়জুষাে ভৃঙ্গা সমুদয় সর্বস্যাপি চমৎকৃতিং ব্রজবনে চক্রে কিমন্যং পরং । ইতি সঙেক্ষপলিখনং পত্নী শুনি মহারাজের আনন্দ অপার। সর্বাঙ্গে পুলক কম্প নেত্রে জলধার॥ ভাবে গদ গদ রাজা পড়িলা ভূমিতে। চিৎকার করিয়া তবে উঠে অচম্বিতে। রামচন্দ্র পদ ধরি করয়ে ক্রন্দন। উঠাইয়া তবে কৈল গাঢ় আলিঙ্গন। দুই জনে গলা ধরি অত্যুচ্চ রোদন। হায় হায় শব্দমাত্র কহে ঘনে ঘন। ভাগ্যবান তুমি রাজা স্থির কর চিত। তােমারে প্রভুর কৃপা হৈল যথোচিত। তবে রাজা কহেন এই শুন মহাশয়। মাের পরিত্রাণ হেতু তুমি দয়াময়। তােমা হৈতে [ ১৩ ] কর্ণানন্দ। ৫ পাইলাম রসের সিদ্ধান্ত। নিজ প্রভুর মত এবে জানিল নিতান্ত । তুমি মহাভাগবত তােমার কৃপা হৈতে। ব্রজের নিৰ্ম্মল ভাব জানিল নিশ্চিতে ॥ রামচন্দ্র কহে শুন বচন আমার। তােমারে কহিলাম এই সিদ্ধান্তের সার ও মন- মাঝে ইহা তুমি করিবে গােপন। অন্যত্র প্রকাশ যেন না হয় কখন ॥ তুমি মহারাজ হও বিজ্ঞশিরােমণি। নিজ হিয়া মাঝে তুমি বুঝহ আপনি। অার এক কথা কহি শুনহ রাজ। জ্ঞান কৰ্ম্ম ছাড়ি কর ভাব আস্বাদন। জ্ঞান কৰ্ম্মাদি হৈতে ইহা কভূ প্রাপ্তি নহে। নিশ্চয় করিয়া ইহা কহিলাম তোহে। তবে রাজা পুন রামচন্দ্র প্রতি কয়। কৃপা করি কহ তাহা ঘুচুক সংশয়। ইবে কহ মােরে ভট্টগােস্বা- মির মিলন। কিরূপে মহাপ্রভু সঙ্গে হৈল দরশন। রাম- চন্দ্র কহে কহি শুনহ রাজন্। কহিয়ে তােমারে আমি তাতে দেহ মন । শ্রীরূপ দক্ষিণ তীর্থ কৈল পর্যটন। চৈতন্যচরিতা- মৃতে অাছে সকল লিখন। মধ্যখণ্ডে দেখিই নবম পরিচ্ছেদে। দক্ষিণের তীর্থযাত্ৰা করিহ স্বাদে ব্যক্ত করি তার মাঝে নাম না লিখিল। গোপনে রাখিল তাতে প্রকাশ না কৈল। তাতে এক লিখিলেন বচনের সার। শ্রবণ করহ তুমি এই বার্তার সার। চৈতন্যচরিতামৃতে এই ব্যক্ত হয়। গোস্বামির মিলন তাতে লিখিল নিশ্চয় । “শ্রীবৈষ্ণব এক বেঙ্কট ভট্ট নাম। প্রভুর নিমন্ত্রণ কৈল করিয়া সম্মান। নিজ ঘরে লৈয়া কৈল পদিপ্রক্ষালন। সে জল স্ববংশ সহ করিলা ভক্ষণ” সংক্ষেপে এই বাক্য করিল। স্ফুটন। তাহার বৃত্তান্ত কহি তাতে দেহ মন । মহাপ্রভু দক্ষিণতীর্থ করিতে করিতে।
পঞ্চম নির্যাস। শ্রীরঙ্গক্ষেত্রে প্রভু গেলা অচম্বিতে৷ সেই তীর্থে বৈসে তৈলঙ্গ বিরাজ। শ্ৰত্ৰিমল্লট ভট নাম ব্রাহ্মণ-সমাজ। মধ্যাহ্ন- স্নান করি প্রভু তার ঘরে অাইলা। গােষ্ঠীর সহিত দেখি প্রেমাবিষ্ট হইলা। বহু প্রণমিয়া কৈল পাদপ্রক্ষালন। চরণোদক লৈয়া সগোষ্ঠী করিল। ভক্ষণ । যোগ্যাসনে বসা- ইয়া বহু নিবেদন। করহ করুণা প্রভু ইনু স্মরণ । সেই খানে প্রীতি পাই প্রভু যে রহিল। মহানন্দে তঁার ঘরে ভিক্ষা যে করিল। মহাপ্রভুর অবশেষ লইয়া যতনে। সগােষ্ঠীতে সেই প্রসাদ করিলা ভক্ষণে ॥ প্রসাদ পাইয়া সবে আনন্দে ভাসিলা। ভােজনান্তে প্রভুকে তষে মুখবাস দিলা। বিনতি করিয়া প্রভুর চরণে পড়িয়া। প্রার্থনা করয়ে আগে কৃতাঞ্জলি হইয়া। সংপ্রতি অইল প্রভু বর্ষা চতুর্মাস। তীর্থ নাহি ফেরে প্রভু করিয়া সন্ন্যাস। কৃপা করি রহ যদি এই চতুর্মাস। তবে সে আমাদের হয় অন্তরে উল্লাস । প্রসন্ন হইয়া প্রভু অনুমতি দিল। শুনিয়া ত তা সবার সুখ বড় হৈল। মহাপ্রভু তার ঘরে কৈল অবস্থানে। পরম আনন্দে ভট্ট করেন সেবনে। কাবেরীতে স্নান রঙ্গনাথ দরশন। ভক্তগণ সঙ্গে সদা কীৰ্ত্তন নন। সেই খানে সুখের সীমা পাইয়া রহিলা। এইমতে চাতুর্মাস্য ব্যতীত হইলা। বেঙ্কটের বালক গোপাল ভট্ট নাম। নিষ্কপট হইয়া সেবা কৈল গৌরধাম। তার পিতা সুচ- রিত্র তাহারে জানিয়া' পরিচর্যায় নিযুক্ত কৈলা হৃষ্ট হইয়া । চারি মাস সেবা কৈল অশেষ প্রকারে। কহিল না হয় অতি তাহার বিস্তারে । গোরকান্তি সুপাণ্ডিত্য বচন মধুর। সর্বাঙ্গে সুন্দর বহে লাবণ্যের পুর৷ কিবা সে আশ্চর্য্য তার অঙ্গে ॥
কৰ্ণানন্দ। মধুরিমা। মধুর মূরতি অতি কি দিব উপমা ॥ আজানুলম্বিত ভুজ নাভি যে গম্ভীর। মহানুভব যাহার চরিত্র সুধীর। পদ্ম জিনি নেত্র যার উন্নত বক্ষঃস্থল। রক্তবর্ণ তুল্য যার করপদ- তল ॥ মহাপ্রভুর মনােরথ মনে ত জানিয়া। না বলিতে করে কাৰ্য্য আনন্দিত হইয়া। সেবার বৈদগ্ধ্য দেখি প্রভু তুষ্ট মনে। মাের মনের কাৰ্য্য ইহে। জানিল কেমনে। এত বলি মহাপ্রভু তুষ্ট হৈল। মনে। সগােষ্ঠীকে কৈলা কৃপা দাস দাসীগণে। একদিন মহাপ্রভু করিয়াছেন শয়ন। ভট্টগোসাঞি করেন চরণ সেবন । চরণ সেবনে প্রভু বড় তুষ্ট হৈলা। নির্জনে তাহারে কিছু কহিতে লাগিল। শুনহ গোপাল তুমি সঙ্গিনী রাধার। ভট্ট কহে তুমি হও ব্রজেন্দ্রকুমার । রাধিকার ভাব লইয়া হৈল অবতীর্ণ। শ্যামবর্ণ ছাড়ি এবে হৈলা গৌরবর্ণ । এত কহি দু হাকার ভাব বিশেষে। স্বাভা- বিক দুহ ভাব করিয়া প্রকাশে । বাহ পাই দুহে যবে হইলেন স্থির। তবে তারে কহে প্রভু বচন মধুর। কত দিন পিতা মাতার করিয়া সেবন। পশ্চাতে তুমি তবে যাবে বৃন্দাবন। বৃন্দাবনে শ্রীরূপ সনাতনের সঙ্গে। সেখানে পাইবে বহু সুখের তরঙ্গে । এত বলি মহাপ্রভু সন্তুষ্ট হইয়া। কৌপীন বহিব্বাস দিল প্রসন্ন হইয়া কৌপীন বহিব্বাস মস্তকে লইয়া। বহু পরণাম করে ভূমে লােটা- তবে মহাপ্রভু তার মস্তকে পদ দিয়া। উঠা- ইলা প্রভু তারে আলিঙ্গন দিয়া। প্রভু কহে শুন কিছু তোমারে কহিয়ে। এই মোর অজ্ঞা তুমি পালহ নিশ্চয়ে। গোড় হইতে আসিবে এক ব্রাহ্মণ কুমার। নিশ্চয় জানি ইয়া।
•ঞ্চম নির্যাস। ১০১ । তিহে। শক্তি যে আমার। শ্রীনিবাস নাম তার মোর অদ- শনে। অল্প বয়সে তিহে আসিবে বৃন্দাবনে। এই কৌপীন বহির্বাস তারে তুমি দিবে। লক্ষ গ্রন্থ দিয়া তারে গৌড়ে পাঠাইবে । সনাতন রূপে কহিবে এ সব কারণ। ব্রজের বিলাস গ্রন্থ যেন করে সমর্পণ। মাের নিজ শক্তি তিহে। ইথে অন্য নয়। এ সব রহস্য কথা কহিবা নিশ্চয় । যে অজ্ঞা বলিয়া শিরে বন্দিল চরণ। ভূমে লােটাইয়া কৈল চরণ বন্দন। প্রভু কহে আর এক কহিয়ে তােমারে। দক্ষিণতীর্থ করি মুঞি আসিব সত্বরে। তবে তুমি বৃন্দাবনে করিবে গমন। আসন ডাের পাঠাইব তোমার কারণ। সে আসনে বসি তুমি গলে ডাের দিব। প্রেমমূৰ্ত্তি শ্রীনিবাসে কৃপা যে করিব। তাহারে কহিব এই বচনের সার। তোমার কৃপাতে মোর কৃপা কি কহিব আর। প্রভুদত্ত বস্ত্র দ্রব্য লইয়া যতনে। লুকাইয়া রাখিল অতি করিয়া গোপনে। ভট্ট গােসাঞি যবে বৃন্দাবনে গেল। শ্রীরূপ সনাতনের সঙ্গেই রহিল।। এসব প্রসঙ্গ চৈতন্যচরিতামৃতে। কবিরাজ গােসাঞি করিয়াছেন বেকতে ত। মহাপ্রভুর শাখা যবে করিল। বর্ণন। তাহাতেই এই বাক্য করহ শ্রবণ। শ্রীগােপালভট্ট এক শাখা মহােত্তম। রূপসনাতন সঙ্গে যার প্রেম আলাপন। ভট্টগােসাঞির স্তব গোস্বামী কৃষ্ণদাস। তাহাতেই এই সব করিলা প্রকাশ | নিরন্তর হরিভক্তি কথনে যার শক্তি। সদা সৎ-অনুভব যিহাে বিষয়ে বিরক্তি । মহাপ্রভুর আগমনে বিখ্যাত যার পাট। কে বুঝিতে পারে সেই চৈতন্যের নাট। হেন সে সৌভাগ্য যার কহনে না যায়। যার গৃহে
১০২
কর্ণানন্দ।
রহে প্রভু আনন্দে সদায়। সেই সে গােপালভটু অামার
হৃদয়ে। সদা ঘূৰ্ত্তি হউ মাের এই বাঞ্ছা হয়ে অবিরত
গলয়ে অশ্রু যাহার নয়নে। শ্ৰী অঙ্গেতে শ্বেত ধারা বহে
অনুক্ষণে । প্রচুর পুলক কম্প সদা অনিবার। কণ্ঠ ঘর্ঘর
করে তাতে নামের সঞ্চার। হরেকৃষ্ণ নাম মাত্র জিহ্বা।
উচ্চারিতে। হ হ হ হ হ হ শব্দ করে অবিরতে। ইহা
বলিতেই যিহে হয় অচেতন। সেই গোপাল কর মেরে
কৃপা নিরীক্ষণ ॥ বৃন্দাবনে খ্যাতি যিহে শ্রীগুমঞ্জরী।
সেই সে গােপালভট্ট সমান মাধুরী ॥ কলি-নরে কৃপা
করি হৈলা অবতীর্ণ। মধুর রস আস্বাদিয়া করিলা বিস্তীর্ণ ।
হেন সে মধুর রসে যাহার আস্বাদ। বিতরণ হেতু জীবে
করিলা প্রসাদ। প্রেমভক্তি রসে যিহে রহে অনিবার।
অস্বিাদন কৈল। যিহে। অনেক প্রকার । আশ্রয় রতি রস
ভেদে যিহে। হয় সমর্থ। তাহাতেই পুণ্য যিহাে কহিল
যথার্থ। এ অপি করিয়া ভট্ট গোস্বামিগুণগণ। কবিরাজ
গােসাঞি তাহা করিলা বর্ণন।
তথাহি।
নিরবধি-হরিভক্তিখ্যাপনে যস্য শক্তি
সতত-সনুভূতি নশ্বরার্থে বিরক্তি।
প্রভুবরগতিসৌভাগ্যে বিখ্যাতপট্ট
ফুরতু স হৃদি-মে গোস্বামি-গোপালভটুঃ ১।
ব্ৰজভুবি গুণমঞ্জৰ্য্যাখ্যায় যঃ প্রসিদ্ধ
কলিজন-করুণাবির্ভাবকেন প্রযুক্ত।
মধুর-রসবিশেষাদ-বিস্তারণায়
পঞ্চম নির্যাস । স্ফরতু স হৃদি মে-গগাস্বামিগোপালভট্টঃ ২৪ অবিরলগলদশ্রস্বেদ ধারাভিরামঃ প্রচুরপুলক কম্পস্তম্ভউচ্চৰ্য্য-নাম। হরি-হ হ হ হরিত্যদ্যক্ষরাদোহন্তচেতা ফুরতু স হৃদি মে গোস্বামি-গোপাল ভট্টঃ । ৩। ব্ৰজগতনিজভবাস্বাদস্বাদ্য খাদ্য নটতি হাতি গায়ত্যুন্মদং বিভ্ৰমাট্যঃ কলিত-কলিজননাদ্ধারায় বাহ্যদৃষ্টঃ স্ফুরতু স হৃদি মে গােস্বামিগােপালভট্টঃ ৪। বিদিতপদপদার্থঃ প্রেমভক্তেরসার্থঃ তিরতিরসভেদাস্বাদনে যঃ সমর্থঃ । ইদমখিতমােঘ্নং স্তোত্ররত্নং প্রধানং পঠতি ভবতি সোহয়ং মঞ্জরীযূথলীনঃ। ৫। এই স্তব অখিলের তম দূর করে। স্তোত্রগণ মধ্যে এই প্রবীণ প্রচুর। যেই জন পড়ে ইহা করি এক চিত্তে। মঞ্জ- রীর যুথ প্রাপ্তি হয় অচম্বিতে। যেই জন পড়ে ইহা ভাল এতাদৃশ। রাধাকৃষ্ণ সেবা প্রাপ্তি হইব অবশ্য । সনাতন গোসাঞি কৈল হরিভক্তিবিলাস। তাহাতেই এই বাক্য আছয়ে প্রকাশ ॥ হরিভক্তি বিলাস যে গোসাঞি করিল। সর্বত্ৰেতে ভােগ ভট্ট গোস্বামিয়ে দিল। ইহাতে জানাইল। তিহাে অভেদ শরীর। ইহা যেই জানে সেই ভক্ত মহাধীর । গোস্বামী করিলা গ্রন্থ বৈষ্ণবতোষণী। তাহাতে এই বাক্য আছে অমৃতের ধুনি। রাধাকৃষ্ণপ্রেমে পুষ্ট বিশেষ প্রকার। গোপালভট্ট রঘুনাথ দাস আর ॥ সেই দুই জন যদি হয়েন
১০৪
কৰ্ণানন্দ।
সহায়। তবে আর সুসিদ্ধ কি নহিব আমায় ॥ তাহার প্রমাণ
শুন কহিয়ে তােমাতে। সাবধান হইয়া শুন করি এক চিত্তে।
তথাহি।
রাধাপ্রিয়-প্রেম-বিশেষপুষ্টে।
গোপালভট্টো রঘুনাথ দাস।
স্যামুতে যস্য সং সহায়ে
কো নাম সার্থে। ন ভবেৎ সুসিদ্ধঃ ॥ ১।
অার এক কথা তাহা করহ শ্রবণ। এ সব প্রসঙ্গ কথা
কর্ণ-রসায়ন।
অত্র প্রাচীনােক্তং প্রমাণং।
সনাতনপ্রেমপরিপ্লতান্তর
রূপসখ্যেন বিলক্ষিতাখিলং।
নমামি রাধারমণকজীবনং
গোপালভট্টং ভজতামভীষ্টদং ।
এ তিনেতে তিল মাত্র ভেদ বুদ্ধি যার। সেই অপরাধে
তার নাহিক নিস্তার । সনাতন গােসাঞি-প্রেমে পূর্ণ যার
দেহ। এ সব রহস্য কথা বুঝিব বা কেহ ॥ শ্রীরূপের সঙ্গে
যার সখ্য-ব্যবহার। তাহাতে বিখ্যাত আছে সকল সংসার।
শ্রীরাধারমণ এক জীবন যাহার। হেন সে গোস্বামিপদে কোটি
নমস্কার । দৈবকীনন্দন কৈল বৈষ্ণব-বন্দন। তাহাতেই এই
বাক্য করিল লিখন। “বন্দিব গােপালভট্ট বৃন্দাবন মাঝে।
রূপ সনাতন সঙ্গে সতত বিরাজে।” এই বাক্য সর্বত্র আছয়ে
প্রকাশ।
এক করি জানে তিনে করিয়া বিশ্বাস। এই ত
কহিল ভট্ট গোস্বামি-প্রসঙ্গ। যাহার শ্রবণে বাঢ়ে প্রেমের
পঞ্চমনির্যাস। তরঙ্গ । এবে ত কহিতে প্রভুর প্রতিজ্ঞার কথা। যাহার শ্রবণে ঘুচে হৃদয়ের ব্যথা। তোমায় কহিয়ে ভাই বচনের সার। যত্ন করি পর কণ্ঠে নবরত্নহার। এত কহি নবুর শ্লোক যে কহিল। তাহা শুনি রাজা সুখ বড়ই পাইল। কর্ণানন্দ কথা এই সুধার নির্যাস। শ্রবণে পরশে ভক্তের জন্মে প্রেমমাল্লাস। শ্ৰীআচাৰ্য্য প্রভুর কন্যা শ্রীল-হেমলতা। প্রেম- কল্পবল্লী কিবা নিরমিল ধাতা। সে দুই চরণপদ্ম হৃদয়ে বিলাসে। কৰ্ণানন্দ রস কহে যদুনন্দন দাসে। | ॥ ইতি শ্রী কর্ণানন্দে শ্রীল জীবগোস্বামির পত্রিকা- শ্রবণ এবং গোপাল ভট্টগোস্বামির সহিত মিলন নামক পঞ্চম নির্যাস সম্পূর্ণ ॥ গং | ৫ | % । এমন ১৪।
কর্ণানন্দ। ষষ্ঠ নির্যাস। জয় জয় মহাপ্রভু পতিতের ত্রাণ। জয় জয় নিত্যানন্দ করুণা-নিধন। এবে ত কহিয়ে প্রভুর প্রতিজ্ঞার কথা। যাহার শ্রবণে ঘুচে হৃদয়ের ব্যথা। প্রভুর প্রতিজ্ঞা শ্লোক করহ শ্রবণ। করহ শ্রবণ তাহা কৰ্ণরসায়ন। তথাহি নব শ্লোকঃ। শুদ্ধং সাত-তত্বম ভগবামুদ্ভাব্য শক্ত্যকয়া ঐরূপাভিধয়া প্রকাশতিমপ্যেতৎ স্বশায়া। শ্রীমৰ্বিপ্ৰকুলে হমলে প্রকটয় শ্রী শ্রীনিবাসভিধং লীলাম্বরণং স্বয়ং স বিধে নীলাচলে শ্রী প্রভু। ১। গন্তুং শ্রীপুরুষােত্তমং কৃতমতিঃ ঐ নিবাসঃ প্রভু- শ্চৈতন্যস্য কৃপাষুধে জনমুখাত্বা তিরােধানতাং। দুঃখোঘৈঃ স মুহু মুমােহ ভগবান্ দৃষ্টাখ ভক্তব্যথা- আশ্বসাতিশয় দয়ামতিরদঃ স্বপ্নে সমাদিষ্টবান্ ॥ ২॥ ত্বং তাবনিতো মমৈব নিজয় শক্ত্যেতি ভূর্ণং ব্রজ শ্ৰীবৃন্দাবনম সন্তি কৃতিনঃ শ্রীরূপজীবাদয়ঃ । আদিষ্টাঃ পুরতন্ত্যমী ত্বয়ি ময়া তহুরাশ্যর্পণে নিঃসন্দেহতয় গৃহাণ তদমুং গৌড়ে জনা শিক্ষয় । ৩। ইত্যাদেশমবাপ্য তদ্ভগবত ঐশ্রীনিবাসঃ পুনঃ শ্ৰীবৃন্দাবনকুঞ্জপুঞ্জসুষমাদৃষ্টে মনঃ সংসধে। ত্বথাপ্রকটত্বমত্ৰভবতাং গােস্বামিনীং শােকতো হা হেত্যাকুলচিত্তবৃত্তিরপতন্মার্গান্তরে $ মূচ্ছিতঃ । ৪। মার্গারে—মধ্যপথে।
ষষ্ঠনির্যাস স্বপ্নে শ্রীল-সনাতনেন সহ তে রূপনামদিয়ঃ। প্রেচুং নহি তে বিষাদসময়ে। গােপালভটোস্তি যৎ। তম্মাম্মবরং গৃহাণ সকান্ গ্রন্থাংস্তথাস্মৎকৃতান গত্ব। গৌড়মলং প্রচারয় মতং ত্বং বৈষ্ণবান্ শিক্ষয়। ৫। ইত্যাদেশরসামৃতাল্পতমনা বৃন্দাবনীন্তর্গত। ভক্ত্যাদায় স মন্ত্রতত্ত্বমখিলং গােপালভটুপ্রভো। তগ স্থাদিধিচারচারুচতুরঃ সংপেষিতঃ শ্ৰীমতা তেন প্রেমভরেণ গৌড়গমনে তং প্রত্যুবাচোৎসুকঃ ॥৬॥ রাধাকৃষ্ণপদারবিন্দযুগলপ্রাপ্তেঃ প্রসাদেন তে, মৎসম্বন্ধভৃতং ভবিষ্যতি যদি প্রায় প্রয়াস্যাম্যহং। নেচে যামি কিমর্থমেতদখিলং শ্রুত্বাতিহর্ষোদয়া- ওে গােস্বামিবস্তিদর্থমুদগুর্গোখিসান্নিধ্যক। ৭। শ্রীগােবিন্দপদারবিন্দযুগলধ্যানৈকতানাত্মনা- মাদেশ সফলো ভবিষ্যতি তথা শ্ৰীশ্ৰীনিবাসায়াৎ। এতদ্দেয়তয়া ময়য়মবনীমাম্বাদিতঃ সাম্প্রতং # তস্মৗেড়মলং প্রয়াতু, ভযতাং কিং চিন্তয়াত্রায় ৮ শ্রীগােবিন্দমুখেন্দুনিগতমিদং পীত্বা নিদেশামৃতং তং গােস্বামিগণং প্রসন্নমসং ত্ব। পরিক্রম্য চ। ভও গ্রন্থচয়ং প্রগৃহ কুতুকান্নির্গত্য গৌড়ক্ষিতে কারুণ্যৈকনিধিঃ সদা বিজয়তে স্ত্রী নিবাস প্রভুঃ ৯। শুদ্ধ ব্রজলীলা গোড়ে করিতে প্রকাশ। ঐরূপেরে শক্তি * এতেষাং গ্রন্থানাং দেয়তয়া দাতব্যতয়া অয়ং শ্রীনিবাসঃ অবনীং ভুব অস্বাদিত প্রাপিতঃ। তস্মাৎ অয়ং গৌড়ং সম্যক্ প্রয়াতু গচ্ছতু। ভবত্তি চিন্তা অত্র ন কর্তব্য।
اه
কর্ণানন্দ
দিয়া।
দিল মনের অভিলাষ। এক শক্তি প্রকাশে রূপে শক্তি
গ্রন্থ প্রকাশিলা অতি আনন্দ পাইয়া ॥ নিজমনো-
বৃত্তি গৌড়ে করিতে প্রকাশ। বিতরণ হেতু গৌরের মনে
অভিলাষ। বড়ই আশ্চর্য্য গোর প্রকাশিলা শক্তি। কে
বুঝিতে পারে সে চৈতন্যের মনােবৃত্তি । নীলাচলে মহা
প্রভুর প্রকট বিহার । মনে ইচ্ছা হইল শ্রীচরণ দেখি-
বার ॥
সকল তেজিয়া প্রভু করিল গমন। শ্রীল-দাশ্রয়
হেতু নিবেশিলা মন। মনে অভিলাষ করি যাইতে যাইতে।
প্রভুর অদর্শন বার্তা পাইলেন পথে । শ্রবণমাত্র মূচ্ছ।
হইয়া পড়িলা ভূমিতে। দুঃখের সমুদ্র তাহা কে পারে
কহিতে। ক্ষণে ক্ষণে মূচ্ছ। প্রভু ক্ষণে অচেতন। ক্ষণে হাহা-
কার করি করয়ে রােদন। তবে মহাপ্রভু ভক্তের দুঃখ ত
দেখিয়া। কহিতে লাগিল। প্রভু সম্মুখে অসিয়! | আশ্বাস
করিলা বহু মাথে পদ দিয়া। কহিতে লাগিলা কথা মধুর
করিয়া তুমি মাের নিজ শক্তি করহ শ্রবণ। দুঃখ তেয়াগিয়া
শীঘ্র যাহ বৃন্দাবন ॥
শ্রীরূপ সনাতন যাহা করেন বসতি।
রাধাকৃষ্ণ-লীলাগ্রন্থ বিস্তারিল। তথি । সেই সব গ্রন্থ লইয়া
গৌড়ে ত প্রকাশে। বিতরণ কর তাহা মনের উল্লাসে। তবে
বাক্যামৃতরস আদেশ পাইয়া। চলিলেন মহাপ্রভুর চরণ
বন্দিয়া ॥ শ্রীল-বৃন্দাবনে তবে করিল গমনে। কুঞ্জ পুঞ্জ-শোভা
তঁাহা দেখিব নয়নে। শ্রীমথুরামগুলে যাইয়। উত্তরিল।।
দুই ভাইর অপ্রকট তাহাঞি • শুনিল।। শুনিবই মাত্র প্রভু
আছাড় খাইয়া। হাহাকার করে কত বিলাপ করিয়া।
যদি দুই ভাইর নহিল দরশন। তবে আর জীবনের কিব।
ষষ্ঠনির্যাস ।
প্রয়োজন মনে নির্ধারিলা ইহা নিশ্চয় করিয়া পড়িয়াছেন
বৃক্ষমূলে অচৈতন্য হা। তবে সেই দুই ভাই ভক্তের দুঃখ
দেখি। দরশন দিতে তাইলা হইয়া বড় সুখী। কহিছেন
প্রভু মাথে চরণ ধরিয়'। দেখ হ ভরে তুমি নয়ন ভরিয়া।
রূপ সনাতন শােভা দেখিয়া নয়নে। যে আনন্দ হইল
তাহা না যায় কহনে। কহিছেন দুই ভাই পাইয়া আনন্দ।
তােমাতেই উদ্ধার হল দীন হীন মন্দ ॥ শোক ত্যাগ করি
শীঘ্র করহ গমন। শ্রী ভট্টগোসাঞির অাশ্রয় করহ চরণ।
তার স্থানে মন্ত্র দীক্ষা করিবে যে তুমি। সেই দ্বারে মোর
কৃপা কি কহিব অগি। গ্রন্থ রাশি লইয়া তুমি গৌড়েতে
যাইবা। কলিহত জীব তুমি উদ্ধার করিবা । এই রসামৃত
বাক্য পাই। অাদেশে। বৃন্দাবনে গমন করিলা প্রত্যা-
দেশে। যাইয়া দেখিল। শ্রীল-গোস্বামি-চরণ। ভূমিতে
পড়িয়া বহু করিল শুবন। মেরে কৃ|| কর প্রভু সদয়
হইয়। কৃতার্থ করই প্রভু করুণ করিয়া। দুই ভাইর অজ্ঞা
প্রভু সব নিবেদিল।। যে লাগি গমন গোস।ঞ সকল
জানিলা ॥ শুনিয়া = গোস্বামির আনন্দ জাপার। সর্বাঙ্গে
পুলক নেত্রে বহে অশ্রুধারা। শুন নিবাস তুমি আমার
জীবন। তোমা দেখিবারে প্রাণ করিয়ে ধারণ । তুমিই সে
হও মাের জীবনের জীবন। তােম! লাগি মহাপ্রভু দিল। এই
ধন। এই দেখ মহাপ্রভুর শ্রীহস্তের লিখন তোমা লাগি
রাখিয়াছি করিয়া যতন।
দেখহ নয়ন ভরি প্রভু হস্তাক্ষর।
তোমার সৌভাগ্য বাপু বাক্য-অগোচর। আর দেখ মহা-
প্রভুর বসিবার অসন। ডাের পাঠাইলা মােরে করিয়া
১০ কর্ণানন্দ। ১ যতন ॥ মহাপ্রভু-দত্ত যেই আসনে বসিয়া। মন্ত্র দীক্ষা দিষ তোরে মহানন্দ পাঞ। আসনে বসিয়া তবে কৈল মন্ত্র দীক্ষা। গ্রন্থাবলী দিয়া তবে করাইল শিক্ষা গ্রন্থেতে নিপুণ যবে প্রভু মাের হইলা। দেখিয়া ত সব গোসারি সন্তোষ জন্মিলা ॥ অজ্ঞা করিলেন তুমি গৌড়দেশে যাহ। শ্রীরূপের অজ্ঞ। ইথে নাহিক সন্দেহ । শ্রীজীব কহেন শুন আচার্য্য মহাশয়। মহাপ্রভুর আজ্ঞা এই জানি নিশ্চয়। পূর্বে মহা- প্রভু এই তোমার নিমিত্তে। পত্রী পাঠাইয়াছিল। নীলাচল হইতে ॥ পত্রী দেখি মাের প্রভু কান্দিতে লাগিল। কান্দিতে কান্দিতে প্রভু ভাবিতে লাগিল।। প্রেমরূপে জন্ম এই নাম নিবাস। দেখিতে না পাইব বিধি করিলা নিরাশ। মাের প্রতি কহিলা গোসাঞি হইয়া সদয়। শ্রীনিবাসে সম- পিঁয় যত গ্ৰন্থচয় । এই গ্রন্থ লইয়া তুমি গৌড়দেশে যাহ। মহাপ্রভুর অজ্ঞা যাতে গ্রন্থরাশি লহ। তবে মোর প্রভু কিছু কহিতে লাগিল।। প্রভুর সঙ্গে রহি সদা মাের মনে ছিল। বৃন্দাবনে বাস আর প্রভুর সেবন। ইহা ছাড়ি কেমনে গোড়ে করিব গমন। গুরু-অজ্ঞা বলবতী ইথে অন্য নয়। নিজ মনোরথ-কথা তবে নিবেদয়। নিশ্চয় করিয়া যদি যাব গৌড়দেশে। তবে মোরে এই আজ্ঞা করহ সন্তোষে। অামার সম্বন্ধ প্রভু ধরিব যেই জনে। সেই সে পাইব রাধা- কৃষ্ণের চরণে অজ্ঞা কর সবে মিলি সদয় হইয়া। নতুবা না যাব আমি শুন মন দিয়া । ইহা শুনি গােসাঞি সব আনন্দ অপার। নয়নেতে প্রেমধারা বহে অনিবার। গোসাঞি সব একত্র হইয়া গােবিন্দ নিবটে। নিবেদন করে
ষষ্ঠনির্যাস
সবে করি করপুটে। শ্ৰীভট্ট গোসাঞি আর শ্রীদাস রঘু-
নাথ। শ্রীজীব গোসাঞি আর ভট্ট রঘুনাথ। লোকনাথ
গােসাঞি আর ভূগর্ভ-ঠাকুর। শ্রীগোবিন্দের প্রার্থনা সবে
করিল। প্রচুর ॥ শ্রীগােবিন্দ-পদযুগ ধ্যান চিত্তে করি। এই
আজ্ঞা শ্রীনিবাসে দেহ কৃপা করি। ইহার সম্বন্ধ প্রভু ধরিব
যেই জন। সেই সে পাইব রাধাকৃষ্ণের চরণ + এই নিবেদন
সবে করিলা সন্তোষে। তাহা শুনি শ্রীগােবিন্দের হইল
আদেশেরস আস্বাদন হেতু গৌড়ে অবতার। অস্বাদন
কৈলা রস বিবিধ প্রকার। যে লাগিয় অবতার জানহ কারণ।
ভাসাইলাম সব জনে দিয়া প্রেমধন। মাের শক্তিতে জন্ম
ইহার করিল প্রকাশ। প্রেমরূপে জন্ম হৈল নাম শ্রীনিবাস।
ইহার সম্বন্ধ চিত্তে ধরিব যেই জন। সেই সে পাইব রাধা-
কৃষ্ণের চরণ ॥ শ্রীগােবিন্দ মুখচন্দ্র অজ্ঞামৃত পাইয়া। শুনি-
লেন সবে মেলি শ্রবণ পাতিয়া ॥ শীঘ্র গৌড়দেশে সবে দেহ
পাঠাইয়া। গমন করুন ইথে গ্রন্থরাশি লইয়া। তবে মাের
প্রভু সরে প্রদক্ষিণ করি। ভূমে পড়ি কান্দে বহু ফুকরি
ফুকরি৷ সবাকার আনন্দ সিন্ধু বাঢ়ি গেল চিতে। যে আনন্দ
হইল তাহা কে পারে কহিতে । মাের প্রভু গােবিন্দের
আজ্ঞামৃত পাইয়া। বর্ণিলেন শ্রীগোবিন্দের মুখচন্দ্র চাঞ।
তথাহি পদং ।
রাগ সুহই।
বদনাদ কোন কুরে কুন্দিল গো, কেন। কুন্দল দুটা
আঁখি। দেখিতে পরাণ মাের, কেমন কেমন করে গো, সেই
সে পরাণ তার সাথি ॥ ১ | রতন কাটিয়া কেবা, যতন করিয়া
কর্ণানন্দ। গাে, কেন গঢ়িয়া দিল কানে। মনের সহিত মোর, এ পাঁচ পরাণি গো, যােগী হইলাম ওহারি ধেয়ানে ॥ ২॥ নাসিকা উপরে শােভে,এ গজমুকুতা গাে, সোনায় মণ্ডিত তার পাশে। বিজুরী সহিতে কেবা, চান্দের কলি কা গো, মেঘের আড়ালে থাকি হাসে । ৩। সুন্দর কপালে শােভে, কি সুন্দর তিলক গো, তাহে শােভে অল কার পাতি। হিয়ার ভিতরে মোর,বাকামল করে গোচান্দে যেন ভ্রমরের পাতি ॥৪৷ মদন- ফঁদ ওনা, চুড়ার টালনি গাে, উহা নাকি শিখিয়াছে কোথা । এবুক ভরিয়া মুঞি,উহা না দেখিনু গো,এই বড় মরমের ব্যথা ৫। কেমন মধুর রসে, সেনা বােল খানি গো, হাতের উপরে লাগি পাঙ। তেমন করিয়া খদি, বিধাতা গঢ়িত গো, ভাঙ্গিয়া ভাঙ্গিয়া তাহা খাঙ । ৬। কবির কর যিনি, বাহুর বলনি গে, হিঙ্গুলে মণ্ডিত তার অাগে। যৌন বনের পাখী, পিয়াসে মরয়ে গে, তাহার পরশ রস মাগি ॥৭॥ অমিয়া স্লখল কিবা, চন্দন তিলক গো, কপালে সাজিয়া দিল কে। নিরখিয়া চাদমুখ, কেমনে ধরিব বুক, পরাণে কেমনে জীয়ে সে ॥৮॥ চরণে নূপুরধ্বনি, খঞ্জ-নরব জিনি গো, গমন মন্থর গজমাতা। অমিয়া রসের ভাসে, ডুবল তাহে এ নিবাস গো, প্রেমসিন্ধু গঢ়ল বিধাতা ॥ ৯ | আস্বাদিয়া অন্যান্য গলা ধরিয়া রোদন। কে আনন্দ হইল তাহা বলিব কোন জন। মাের প্রভু যথাযোগ্য সম্ভাষে সবারে। দণ্ডবৎ প্রণাম করি প্রেম গর গরে। কেহ করে আলিঙ্গন কেহ করে নতি। সবাকারে হইল কৃপা গোর- বের স্থিতি। তবে অধিকারী গােস্বামী শ্রীকৃষ্ণ প্রতি।
ষষ্ঠনির্যাস
গােবিন্দের শয়ন করাইল অনিন্দিত ॥ অজ্ঞা মালা গােবি-
দের আনিয়া ধরিল। আনন্দিত হইয়া সবে প্রভুর গলে
দিল। প্রসাদ মালা পাইয়া সবার বাঢ়িল আনন্দ। প্রসাদ
ভােজন সবে করিলা স্বচ্ছন্দ। তাম্বুল তুলসীমালা সবাকারে
দিল। তবে সবে নিজ নিজ বাসারে আইলা। আর এক
দিনে সবে একত্র যবে হইলা। মাের প্রভু প্রতি সবে অজ্ঞ
যে করিলা। শুন শ্রীনিবাস গৌড়ে করহ গমন। গ্রন্থরাশি
লেহ তুমি করিয়া যতন ॥ ভট্ট গোসাঞি কহে শুন বচন
আমার। সবে মেলি শুন এই প্রভুর ব্যবহার এত কহি
গােস্বামির মনের উল্লাস। আনিয়া ধরিল গৌরের কৌপীন
বহিব্বাস। মাের প্রভুর মাথে তাহা বান্ধিয়া ত দিল। দক্ষিণ
আইতে প্রভু মােরে আজ্ঞা দিল । আমার প্রসাদি বস্ত্র
কৌপীন বহির্বাস। শ্রীনিবাসে দিতে অজ্ঞা অত্যন্ত উল্লাস।
পুন আজ্ঞ হইল তাহা শুনহ সত্বরে। তব কৃপায় মােরে
কৃপা জানাইবে তারে। এসব প্রসঙ্গ কথা কহিনু দুই জনে।
শ্রীরূপ সহিত কথা কহিনু সনাতনে । তবে দুই ভাই এই
প্রসঙ্গ শুনিয়া। কত সুখ উপজিল প্রেমে পূর্ণ হঞা। এত
শুনি যত গােসাঞি আনন্দ পাইলা। গৌড়তে যাবার লাগি
অনুমতি দিলা। তাহা শুনি প্রভু মোর ভট্ট গােস্বামিরে।
ঐগুণমঞ্জরী রূপ বর্ণন আচরে ।
তথাহি পদং ।
'প্রেমকপুঞ্জরী, শুন গুণমঞ্জরী, তুহু সে সকল শুভদাই।
তুহারি গুণ গণ, চিন্তই অনুক্ষণ, মঝু মন রহল বিকাই, হরি
হরি কবে মোর শুভদিন হেয়। কিশোরী কিশোর পদ,
[১৫]
১৪ কর্ণানন্দ। - মিলন সম্পদ, তুয়া সনে মিলব মোয়। হেরি কাতর জন, কর কৃপা নিরীক্ষণ, নিজ গুণে পূররি আশে। তাে বিনু নবঘন, বিন্দু বরিষণ, কেতােড়ই পাপিহা পিয়াশে ॥ তুহু সে কেবল গতি, নিশ্চয় নিশ্চয় অতি, মঝু মনে ইহ পরমাণে। কহই কাতর ভাসে, পুনঃ পুনঃ শ্রীনিবাসে, করুণায় কর অবধানে ॥ তুহ গুণমঞ্জরী, রূপে গুণে আগরী, মধুর মাধুরী গুণধাম। ব্ৰজনবযুবম্বন্দ্ব, প্রেমসেবা নিরবন্দ, বরণ উজ্জ্বল তনু শ্যামা। কি কহব তুয়া যশ, রহুসে তেহারি বশ, হৃদয় নিশ্চয় মঝু- জানে। অাপন অনুগ করি, করুণা কটাক্ষ হেরি, সেবা সম্পদ কর দানে। হােই বামন তনু, চঁদ ধরিব যনু, গরু মনে ইহ অভিলাষে। এজন কৃপণ অতি, উঁহু সে কেবল গতি, নিজ- গুণে পূরবি আশে। মূর্ধন্য অঞ্জলি করি, দর্শনে হ তৃণ ধরি, নিবেদহু বারহু বারে। শ্রীনিবাস দাস নামে, প্রেমসেবা ব্ৰজ- ধামে, প্রার্থই তুয়া পরিবারে ২॥ প্রভু যবে এই পদ করিলা বর্ণনে। সবেই আনন্দ অতি পাইলেন মনে। পদ শুনি সকলেই পরম হরিষে। শ্রীদাস গােস্বামী বড় পাইল সন্তোষে। ধন্য ধন্য বলি প্রভুরে করি- লেন কোলে। ভিজাইলা সব অঙ্গ নয়নের জলে। শুন শুন শ্রীনিবাস পরম হরিষে। তোমা দেখিবার লাগি দুভাই আদেশে । শ্রীকুণ্ড ছাড়িয়া আমি না যাই এক- সৃণ। তােমা দেখিবারে লাগি এথা আগমন। যেন শুনি- লাম তেন, দেখিনু নয়নে। তোমার ভাগ্যের সীমা কহিব কোন জনে। শ্রীরূপবিচ্ছেদে মােয় শরীর জর জর । সনাতন বিচ্ছেদে মমার পুড়য়ে অন্তর । দুভাই বিচ্ছেদে ষষ্ঠনি। ঐণ ধরি বারে নারি। দেখিয়া যুড়াইল তোমার গুণের মাধুরী । যেবা সুখে ছিনু আমি দুহার দর্শনে। সেই সুখ লভ্য হবে তােমার মিলনে। এই দেখ প্রভুদত্ত গােবর্ধন- শিলা। স্পর্শ করাই তবে শিলা গুঞ্ছামালা। তোমা লাগি মহাপ্রভুর হস্তের লিখন। সবেই|শুনিল মাের করিয়া যতম। তােমা লাগি গোবিন্দের অজ্ঞাত ধ্বনি। তােমা লাগি দুই ভাই কহিল আপনি তােমা লাগি এই যত গ্রন্থ পরকাশ। তােমা দেখিবারে ছিল সবাকার আশ । ভট্টগােস্বামির যাতে কৃপার ভাজন। অনায়াসে প্রাপ্তি তরে এইসব ধন । শ্ৰীভট্ট গোস্বামী শ্রীদাস গােস্বামির সঙ্গে। আনন্দ-তরঙ্গে দুহে ধরিতে নারে অঙ্গে। মহাপ্রভুর দত্ত কৌপীন বস্তু বহির্বাসে। মস্তকে বান্ধিয়া দিল পরম সন্তোষে। গােবি- দের প্রসাদি মালা আনি দিল গলে। বংশীবদন শালগ্রাম দিল সেই কালে । আশীর্বাদ করে সবে মনের আনন্দে। তোমার বাঞ্ছা পূর্ণ করুন শ্রীরাধাগোবিন্দে। তােমার বাঞ্ছা পূর্ণ করুন রূপ সনাতন। অবিলম্বে শীঘ্র গমন। তবে প্রভু নিজ প্রভুর চরণ বদিয়া। সকায়ে বলি। তবে আনন্দ পাইয়া । সৰাকার অনুমতি লইয়া মস্তকে। যত ব্রজ বসিগণে বন্দিলা প্রত্যেকে। মনের আনন্দে তবে গ্রস্থর।শি লইয়া। গৌড়েতে গমন শীঘ্র মম নিবেশিয়া ॥ গােস্বামি সকল তবে অনুব্রজি আইলা। যত ব্রজবাসী তার সঙ্গেই চলিলা । এক ক্রোশ অনুব্রজি আইলা যখন। সবা- কার উৎকণ্ঠা আসি হইল তখন। হায় হায় বিধি তুমি কি কাজ করিলে। নিধি দিয়া কেন পুনঃ হরিয়া লইলে। সে গৌড়ে করই
কর্ণানন্দ।
কালের বিচ্ছেদ কেবা করিব বর্ণন। পশু পক্ষী আদি সবে
করিলা ক্রন্দন। বিবর্ণ হইয়া কিছু হইলেন হিরে। প্রভু
প্রতি বাক্য সবে কহে ধীরে ধীরে ॥ শুন শুন নিবাস
কহিয়ে তোমারে। নির্বিঘ্নে তুমি আইস গৌড় নগরে।
ইহেঁ। গৌড়ে আইলা গােস্বামী বৃন্দাবনে। পথে পথে যায়
সবে করিয়া ক্রন্দনে। যে প্রকারে গৌড়দেশে গমন করিল।
প্রেমবিলাস গ্রন্থমাঝে বিস্তারি বর্ণিল। লিখিলেন সেই গ্রন্থ
জাহ্নবা আদেশে। গ্রন্থ প্রকাশিল তাহা নিত্যানন্দদাসে।
তাহাতে বিস্তার আছে এ সব প্রসঙ্গ। অমৃত জিনিয়া কিব।
বাক্যের তরঙ্গ। গ্রন্থ লইয়া প্রভু মাের আইলা গৌড়দেশে।
তথীতে তােমারে কৃপা করিলা বিশেষে।
ষেবা প্রতিজ্ঞা
করি প্রভু মাের আইল। আহার করাণ আমি প্রত্যক্ষ
দেখিল । যে প্রতিজ্ঞা কৈল প্রভু তার এই সাক্ষী। সিদ্ধ
প্রতিজ্ঞা প্রভু তােমাতেই দেখি । তুমি ভাই পদ যবে
করিলা বর্ণন। তাহাতেই এই বাক্যে করিয়াছ সূচন। দুই
পদ দুই কথা আছে পরকাশ। কিবা সে অশ্চিৰ্য্য কথা
সুধার নির্যাম, ॥
তথাহি পদং !
রাধাপদে সুধারাশি, সে পদে করিলা দাসী, গোরাপদে
বঁধি দিল চিত। শ্রীরাধারমণ সহ, দেখাইল কুঞ্জগৃহ, দেখা-
ইলা দুহু প্ৰেম রীত।
অপরাধে জানাইল আপন ব্যবহার। কি কহিব ফেন
তোমার আচার বিচার।
বসিয়া থাকিয়ে যবে, আসিয়া উঠায় তবে, লইয়া যায়
যনির্যাস। ১১৭ যমুনার তীর। কি করিতে কি না করি, সদাই ঝুরিয়া মরি, তিলে এক নাহি রহি স্থির। আপনকার কথা ভাই কহিলা অাপনে। তোমার ভাগ্যের কথা কহিব কোন জনে॥ তোমার প্রতি প্রভু মাের করেছেন দীক্ষা। আমি আর কি কহিব তোমার প্রতি শিক্ষা। এই ত কহিল ভাই কি কহিব আর। নিশ্চয় করিয়া সেব প্রভু পদ সার। তার কৃপায় তােমার এ দশা উপজিল। তােগার সঙ্গে আমি বড় সুখ পাইল। সংক্ষেপে কহিল এই রাজা প্রতি শিক্ষা। অনন্তু অপার তার কে করিবে লেখা। নির্জনেতে রহিয়া রাজারে শিক্ষা দিল। এক মাস রহি রাজায় সব শুনাইল। শিক্ষা করি এক গ্রাম কবিরাজে দিয়া। দণ্ডবৎ হইয়া পড়ে ভূমে লোটাইয়া। রামচন্দ্র সঙ্গে রাজা পাইল আনন্দ। সদা কৃষ্ণকথা রসে রহিলা স্বচ্ছন্দ। এই ত কহিল আচাৰ্য্য গুণগাণ। ভাগ্য- বান্ জনে ইহা করয়ে শ্রবণ । শুদ্ধ চিত্ত হইয়া যেবা এই কথা শুনে। তার পদরজ কর মস্তকভূষণে। শ্রীরামচন্দ্র- পদে মোর কোটি নমস্কার। যার মুখে শুনিলা রাজা সিদ্ধা- ন্তের সার। দয়াকর অহে প্রভু রামচন্দ্রের নাথ। করুণা করিয়া প্রভু করহ কৃতার্থ। স্বগণে করুণা কর আচাৰ্য্য ঠাকুর। জন্মে জন্মে হও তােমার উচ্ছিষ্টের কুকুর। কুকুর হইয়া রহিব সেই স্থানে। কভু যদি দয়া কর নয়নের কোণে ॥ দয়া কর অহে প্রভু সদয় অন্তরে। জন্মে জন্মে রহ যেন তুয়া পরিকরে । তোমার প্রতিজ্ঞা শুনি মনের উল্লাস। নিজগুণে দয়া কর পূর মোর অশ। কৃপা কর অহে ১১৮ কর্ণানন্দ। । t প্রভু কৰুণার সিন্ধু। পাতকির ত্ৰাণ হেতু তুমি দীনবন্ধু । দন্তে তৃণ ধরি আমি এই মাত্র চাঙ। জন্মে জন্মে যেন তুয়া পরিকরে গাঙ । তুয়াপদে ওহে প্রভু কি কহিব আর। অধম দুর্গম জনে কর অঙ্গীকার। পাতর্কির ত্রাণ হেতু তােমার অবতার। অতএব উদ্ধার প্রভু মাে হেন দুরাচার। মুঞি ছার হীনবুদ্ধি নিবেদিব কত। নিজ চিত্তে বুঝি কর যেবা মনোনীত নিগ্রহ করহ কিবা কর অনুগ্রহ। জগ- মাঝে কেহ নাহি বুঝি দেখ এহ। দয়া কর অহে প্রভু লইনু শরণ। কৃপ করি কর মাের বাঞ্ছিত পূরণ ॥ ভুয়া বিনু অহে প্রভু মোর নাহি গতি। দীনহীন জনে দয়া করহ সম্প্রতি। দৈবক্রমে অন্য জন্ম হয়ে ত আমার। সেখানে মিলয়ে যেন তুয়া পরিকর । বহু ভাগ্যে ভুয়া পরিকরে জনমিয়া। আশা পূর্ণ কর প্রভু সদয় হইয়া । তবে পূর্ণ হয় প্রভু মন অভিলাষ। জন্মে জন্মে হও তুয়া দাসের অনুদাস। ' সম্বরণ কর চিত্তে স্বদাস দেখিয়া । তথাপি হ তোমার গুণে খলবল হিয়া ॥ কত পাপী উদ্ধারিল। করুণা বাতাসে। পাতকী অবধি প্রভু রহিগেল দেশে। হেন জনে উদ্ধা- রিয়া দেখাও নিজ বল। পাতকি উদ্ধার নাম তবে সে সফল ॥ নিবারণ করি যদি আপনার ক্ষোভে। তথাপি হ তুয়া গুণে উপজয়ে লোভে। সাধ্য সাধন আমি কিছুই জানি। তোমার সম্বন্ধে ভৃত্য এইমাত্র জানি। কৃপা করি পূর্ণ কর আশার বন্ধন। এ দীন দুঃখিত জনের এই নিবেদন। বৈষ্ণব গোসাঞি মোর পতিতপাবন। কৃপা করি দেহ প্রভু চরণে শরণ ॥ আদোষদরশী চিত্ত তােমা সবাকার। অতএব যনির্যাস দোষ কিছু না লবে আমার। নিজ হিত আমি নাহি জানি ভালমতে। তথাপি প্রভুর গুণ বর্ণন করিতে ৫ বর্ণনের ভাল- মন্দ না জানি বিশেষে। তবে যে লিখিয়ে নিজ প্রভুর অদেশে। দোষ ত্যাগ করি প্রভু করহ শ্রবণ। দন্তে তৃণ করি করে। এই নিবেদন। বুধইপাড়াতে রহি শ্ৰীমতী-নিকটে । সদাই আনন্দে ভাসি জাহ্নবীর তটে । পঞ্চদশ শত আর বৎসর উনত্রিশে। বৈশাখ মাসেতে আর পূর্ণিমা দিবসে । নিজ প্রভুর দিপদ্ম মন্তকে করিয়া। সম্পূর্ণ করিল গ্রন্থ শুন মন দিয়া ॥ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু দাসের অনুদাস।তার দাসের দাস এই যদুনন্দন দাস। গ্রন্থ শুনি ঠাকুরাণীর মনের আনন্দ। মুখে রাখিল নাম গ্রন্থ কৰ্ণানন্দ। শ্রীমতী সগণে গ্রন্থ করি আস্বাদন। পূলকে পূরিত দেহ সাশ্রু নয়ন। পুনশ্চ শ্ৰীমতী কহেন মন্তকে পদ দিয়া। কহিতে লাগিল। কিছু ‘সিয়া হাসিয়া মাের কর্ণ তৃপ্ত কৈলা গ্রন্থ শুনাইয়া। শ্রবণ পরশে মোর জুড়াইল হিয়া। শুন শুন অহে পুত্র কহিয়ে তোমারে। বড়ই আনন্দ মোর তাহা শুনিবারে। কবিরাজের গণ অার চক্ৰবৰ্ত্তির গণ। ব্যবস্থা করিয়া মোরে করাহ শ্রবণ। তবে মুঞি প্রভুপদে করিয়া বিনতি। ভূমিতে পড়িয়া পদে কৈল বহু স্তুতি। প্রভু আজ্ঞা শিরে করি আনন্দিত মন। লিখিয়ে প্রভুর. অজ্ঞা করিতে পালন। অষ্ট কৰিৱজ আর চক্রবর্তী ছয়। পৃথিবীতে ব্যক্ত ইহা সবেই জানয় ॥ প্রধান অষ্ট কবিরাজ করিয়া বর্ণন। পশ্চাতে কহিব অন্য কবিরাজের গণ। কবিরাজের জ্যেষ্ঠ রামচন্দ্র কবিরাজ। অাছে নিয়হো জগতের মাঝ ॥১॥ তাহার অনুজ কৰি ব্যক্ত হৈয়া কর্ণানন্দ। ৫। ( ন + ন ৭। রাজু-গোবি... যাহার চরিত্রে দেখ জগৎ অনিল ॥ ২॥ তবে শ্রী কর্ণপূর কবিরাজ ঠাকুর। বর্ণিয়াছেন প্রভুর গুণ করিয়া প্রচুর। ৩। তবে কহি শ্রীনৃসিংহ কবিরাজ ঠাকুর। ভজন প্রবল যার চরিত্র মধুর । ৪। ভগবান্ কবিরাজ মধুর আশয়। প্রভুপদ বিনু যিহো অন্য না জানয় ॥ ৫। বল্লবীদাস কবিরাজ বড় শুদ্ধচিত্ত। প্রভু পদে সেবা বিনু নাহি অন্য কৃত্য। ৬। তবে শ্রীগােপীরমণ কবিরাজ ঠাকুর। বড়ই অনিন্দময় গুণের প্রচুর ॥ ৭। তবে কহি কবিরাজ শ্রীগােকুলানন্দ। নিরন্তর ভাবে যিহে প্রভু পদ দ্বন্দ ॥ ৮# এই অষ্ট কবিরাজের করিল বর্ণন। অপর কহিয়ে তাহা করহ শ্রবণ । শ্রীগােবিন্দের পুত্র কবিরাজ দিব্যসিংহ। প্রভুর পাদপদ্মে যিহহ হয় মত্ত ভৃঙ্গ ॥৯॥ শ্রী- বাসুদেব কবিরাজ শ্ৰীবৃন্দাবন দাস। বৈষ্ণবসেবাতে যার বড়ই উল্লাস ॥ ১১ আর কহি কবিরাজ দাস বনমালী। মানস সেবাতে যিহাে বড় কুতুহলী। ১২। বড়ই আনন্দ কবিরাজ দুর্গাদাস। বৈষ্ণবের ভুক্ত শেষে বড়ই বিশ্বাস ॥১৩৷৷ বড়ই রসিক রূপ কবিরাজ ঠাকুর। সদা অশ্রু বহে যার প্রেমময় পূর॥ ১৪। তাহার সহোদর ঐনিমাই কবিরাজ। প্রভু পদ সেবা বিনু নাহি আর কাজ। ১৫। শ্যামদাস কবিরাজ তাহার বৈমাত্র। সুস্নিগ্ধ মুরতি যিহো মহাবিজ্ঞ পাত্র। ১৬। নারায়ণ কবিরাজ নৃসিংহ সহােদর। তার গুণ কি কহিব বাক্য অগোচর ॥৭॥ শ্রীবল্লবী কবিরাজের দুই সহোদর। প্রভু পদে নিষ্ঠা যার বড়ই তৎপর । জ্যেষ্ঠ শ্রীরামদাস কবিরাজ ঠাকুর। হরিনামে রত সদা কৃষ্ণ প্রেম- যষ্ঠ নির্যাস। ১২১ কনিষ্ঠ। পূর ॥ ১৮ ॥ তাহার অনুজ কবিরাজ গোপাল দাস। বৈষ্ণব-সেবাতে যার বড়ই বিশ্বাস । ১৯। উনবিংশতি কবিরাজের করিল বর্ণন। ইহা সবার স্মরণ মাত্রে প্রেম উদ্দীপন। তবে কহি শুন এই চক্ৰবৰ্ত্তির গণ। প্রধান ছয় কহি আগে করহ শ্ৰবণ চক্ৰবৰ্ত্তি-শ্রেষ্ঠ যিহে শ্ৰীগাে- বিন্দ নাম। কি কহিব তার কথা সব অনুপম । কায়মনন বাক্যেতে প্রভুর করে সেবা। প্রভুপদ বিনা যিহাে না জানে দেবী দেব। ১। প্রভুর শ্যালক দুই কহি তাহা শুন। পরম বিদগ্ধ দুহ ভজন নিপুণ। জ্যেষ্ঠ শ্ৰীশ্যামদস চক্র- বর্তী ঠাকুর। বড়ই প্রসিদ্ধ যিহে রসেতে প্রচুর ॥ ২॥ রামচন্দ্র চক্রবর্তী ঠাকুর যাহার ভজন দেখি প্রভু হৈল। তুষ্ট । ৩ । তবে কহি শুন ইবে চক্রবর্তী ব্যাস। সদাই আনন্দে রহে বিষ্ণুপুরে বাস ॥ ৪ | আর কহি চক্রবর্তী রামকৃষ্ণ ঠাকুর। সদাই আনন্দময় চরিত্র মধুর। ৫। তবে কহি চক্রবর্তী শ্রীগোকুলানন্দ। বৈষ্ণব- সেবাতে যিহে রহেন স্বচ্ছন্দ । ৬। এই ছয় চক্রবর্তী করিলা শ্রবণ। অপর কহিয়ে তাহা শুন দিয়া মন। মহা- রাজ চক্রবর্তী শ্ৰীবিরহাম্বীর। প্রভু পদে নিষ্ঠা যার মহা- ভক্ত ধীর। ৭। মহা গুণবন্ত শ্রীল দাস চক্রবর্তী। হরি- নামে জিম্ব। যার সদা থাকে স্ফ ৰ্ত্তি । ৮। অার ভক্ত রাম- জয় চক্রবর্তী মহাশয়। তাহার অনন্ত গুণ, কহিল না হয় ॥৯৷৷ আর ভক্ত চক্রবর্তী শ্রীরাধাবল্লভ। নামপরায়ণ মিহে জগদ্- দুল্লভ। ১০। আর ভক্ত শ্রীল রূপঘটক চক্রবর্তী রাধা- কৃষ্ণ লীলারস সদা যার স্মৃৰ্ত্তি। ১১। আর ভক্ত চক্রবত্তা [ ১৬ ] ।
১২২ কর্ণানন্দ। t ঠাকুরের ঠাকুর। প্রভু পদে দৃঢ়রতি গুণের প্রচুর। ১২। দ্বাদশ চক্ৰবৰ্ত্তির এই কহিল প্রকাশ। যা সবার নাম স্মৃতে প্রেমের উল্লাস। এই সব ভাগবতের বন্দিয়া চরণ। পরম আনন্দে প্রভু করিলা শ্রবণ। শুনিয়া ত ঐমতীর মনের আনন্দ। যথার্থই এই মোর গ্রন্থ কৰ্ণানন্দ। শ্ৰীমতীর অজ্ঞা মুঞি লইয়া মস্তকে। পরমানন্দে কৰ্ণানন্দ লিখিল পুস্তকে। । ঐনিবাস-শাখাঃ- দাস-গগাকুলানন্দেী শ্যামদাসস্তথৈবচ। ব্যাসঃ শ্ৰীল গোবিন্দঃ শ্রীরামচরণশুখা । ষট চক্ৰবৰ্ত্তিনঃ খ্যাতা ভক্তিগ্রন্থনুশীলন। নিস্তারিতাখিলজনাঃ কৃতবৈষ্ণবসেবনঃ। ৬। শ্রীরামচন্দ্র-গোবিন্দ-কর্ণপূর-নৃসিংহকাঃ। ভগবান্ বল্লবীদাসস গােপীরমণ-গােকুলে। কবিরাজ ইমে খ্যাত। জয়ত্যষ্টেী মহীতলে। উত্তমা ভক্তিসঙ্গমালাদান-বিচক্ষণাঃ ॥৮॥ চট্টরাজ ইতি খ্যাতো রামকৃষ্ণাভিধানক। কুমুদানন্দসংজ্ঞাকঃ কুলরাজঃ প্রকীৰ্ত্তিতঃ ॥ শ্রীরাধাবল্লভঃ খ্যাতো মণ্ডলঃ পরিকীর্তিত। চক্রবর্তী সমাখ্যাতে জয়রামাভিধানক। এরূপ ঘটকাপি সৰ্ব্ববিখ্যাত এব চ। শ্রীমৎ-ঠাকুরদাসাখখ্যা ঠকুরঃ পরিকীৰ্ত্তিতঃ ॥ ৬ ॥ মহারাজাধিরাজঃ বীরহাম্বীরসিংহ। মল্লভূকুলােৎপন্নো ভক্তিম সুপ্রতাপবান ॥ ১৫ ২১। এবমষ্টী কবি দ্বাদশৈতে ধরামরাঃ। মল্লাবনিপতিকে শাখা ইত্যেকবিংশতি। শ্রী নিবাসকল্পদ্রোঃ শাখাবর্ণনমেব চ। (প্রেমবিলাসে এইরূপ। ১৮ বিলাসে শেষ।)
ষষ্ঠ নির্যাস।
কর্ণান্দ কথা এই সুধার নির্যাস। শ্রবণ পরশে ভক্তের জন্মে
প্রেমমাল্লাস। আচাৰ্য প্রভুর কন্যা ঐল হেমলতা।
প্রেমকল্পবল্লী কিবা নিরমিল ধাতা ॥ সে দুই চরণপদ্ম
হৃদয়ে বিলাসে। কৰ্ণানন্দ কথা কহে যদুনন্দন দাসে।
#। ইতি শ্ৰীকৰ্ণানন্দে আচাৰ্যপ্রভুর প্রতিজ্ঞা এবং
রামচন্দ্রাদি আট কবিরাজ ও ছয় চক্ৰবৰ্তির নামবর্ণন নামক
যষ্ঠ নির্যাস সম্পূর্ণ ॥ * ॥ ৬ ॥ * ॥
সপ্তম নির্যাস।
জয় জয়
জয় জয় মহাপ্রভু পতিতের ত্রাণ। জয় জয় নিত্যানন্দ
করুণানিধান । জয় জয় সীতানাথ অদ্বৈত ঈশ্বর।
ঐ বাসাদি প্রভুর পরিকর। জয় জয় ঐস্বরূপ গোসাঞি
দামােদর। জয় জয় শ্রীরামানন্দ রসের আকর। জয় রূপ
সনাতন পতিতপাবন। জয় জয় শ্রীগােপালভটের চরণ।
জয় রঘুনাথ ভট্ট শ্ৰী দাস গোসাঞি । জয় জয় হউ সদা
শ্রীজীব গোসাঞি । জয় শ্রী আচার্য প্রভু করুণা সাগর।
জয় জয় রামচন্দ্র সহ সহোদর। জয় শ্রীবৈষ্ণব গোসাঞি
পতিতপাবন। দন্তে তৃণ করি মাগে। দেহ এই ধন ।
শ্রী আচার্য প্রভুর পদ প্রাপ্তির লালসে। কৃপা করি পূর্ণ
কর এই অভিলাষে ॥ শুন শুন ভক্তগণ করি নিবেদন।
পরম পবিত্র কথা করহ শ্রবণ। গ্রন্থ শুনি প্রভু তবে প্রসন্ন
হইয়া। অনেক করিল। কৃপা অাচিত্ত হইয়া। শুন শুন ।
হে পুত্র কহিয়ে তােমারে। মাের প্রভুর পদস্ফৰ্ত্তি
তোমার অন্তরে । তবে শ্ৰীমতীর দুটী চরণে ধরিয়া। বহু
প্রণমিল মুঞি ভূমে লোটাইয়া। শুন শুন প্রভু তুমি দয়া
কর মোরে। বড়ই সন্দেহ মাের আছয়ে অন্তরে। কৃপা
করি কর যদি সন্দেহ ছেদন। শ্রীমুখের বাক্য শুনি জুড়ায়ে
শ্রবণ ॥ প্রভু কহে কি সন্দেহ কহ দেখি শুনি। তবে মুঞি
প্রভুপদে কহিলাম বাণী । প্রভুর চরিত্র কথা জাহ্নব।
আদেশে। রচিলেন প্রেমবিলাস নিত্যানন্দ দাসে। গ্রন্থ
লইয়া প্রভু যবে আইলা গৌড়দেশে। তাহাতেই এই
সপ্তম নির্যাস।
১২৫,
বাক্য লিখিলা বিশেষে। গ্রন্থের চুরির কথা তিহো যে
শুনিয়া। উছলি পড়িলা যাই কুণ্ডেই যাইয়া বড়ই বিরক্ত
চিত্ত দৈৰ্য্য নাহি রয় । হায় হায় হেন দুঃখ সহেন না যায় ।
শ্রীদাস গোস্বামী আগে দেহ ত্যাগ কৈল। ইহা শুনি চিত্তে
মোর সন্দেহ জন্মিল । শ্রীল কবিরাজ গোসাঞি লিখিলা
সূচকে। একে একে তাহা আমি লিখিল প্রত্যেকে। “ভূয়াৎ
রঘুনাথ দাসঃ” এই ত লিখন। বড়ই সন্দেহ পদে কৈল
নিবেদন। রঘুনাথ অপ্রকট কবিরাজ আগে। সূচকেতে এই
কথা লিখিলা মহাভাগে ॥ কবিরাজ আগে অপ্রকট রঘুনাথে।
কবে সে হইব গোসাঞি নয়নের পথে।
এই বাক্য
গোসাঞি লিখিলা বার বার। চিত্তেতে সন্দেহ মাের বাড়িল
অপার। বড়ই সন্দেহ পদে কৈল নিবেদন। কৃপা করি
কর প্রভু সন্দেহ ছেদন। শুনি ঠাকুরাণী বড় হরিষ অন্তরে।
কহিতে লাগিল। তবে বচন মধুরে। শুন পুত্ৰ পূৰ্বে প্রভু
মুখেতে শুনিল। এই কথা রামচন্দ্র প্রভুকে জিজ্ঞাসিল।
তার প্রত্যুত্তর প্রভু যেবা কিছু দিল। তাহা শুনি রামচন্দ্র
সুখ বড় পাইল ।
নিকটে থাকিয়া আমি শুনিল যে
কথা। সেই সব কথা তােমায় কহিয়ে সৰ্ব্বথা। প্রভু কহে
রামচন্দ্র কহিয়ে বচন। কহি যে আশ্চৰ্য্য কথা করহ শ্রবণ।
অনন্ত গুণ রঘুনাথের কে করিবে লেখা। রঘুনাথের নিয়ম
যেন পাষাণের রেখা ॥ গােস্বামি-প্রতিজ্ঞা এই সুদৃঢ় নিশ্চয়।
প্রতিজ্ঞা যে কৈল তাহা অন্যথা না হয়। এরূপ বিচ্ছেদে
গগাসাঞি কাতর অন্তরে। অন্ধপ্রায় রহিলেন রাধাকুণ্ড
তীরে । বড়ই বিয়ােগে গোসাঞি কাতর অন্তর। কিরূপে
কর্ণানন্দ।
f
দেহত্যাগ ইহা ভাবে নিরন্তর। হেন কালে গ্রন্থ চুরির
বারতা শুনিয়া। বড়ই বিষাদে উঠে রোদন করিয়া হায়
হায় কি হইল বড়ই প্রমাদে। এই বাক্য বার বার হয়ে
বিষাদে। তবে সেই গোস্বামী ধৈর্য্য ধরিতে নারিয়া।
রঘুনাথের পাদপদ্ম হৃদয়ে ধরিয়া। সিদ্ধ দেহ প্রাপ্তি যেন
হইল তাহার। দাসগােস্বামির চিত্তে দুঃখ যে অপার ।
এইমতে যত রাধাকুণ্ডবাসি-লােকে। সবাকার চিত্তে
অতি বাড়ি গেল শোকে। তবে রূপ সনাতন দুই সহাে-
দর। চিন্তিত হইল বড় মনের ভিতর। রঘুনাথের প্রতিজ্ঞা
সুদৃঢ় জানিয়া। দুই গােস্বামী কহেন কবিরাজেরে ডাকিয়া।
ইহা লাগি জগদ্গুরু প্রভুর লিখন। শ্রীনিবাসে সমর্পিবে
গ্রন্থ মহাধন। ভবিষ্য চৈতন্য গোসাঞি ইহার লাগিয়া।
গ্রন্থ প্রকাশিলা মােরে শক্তি সঞ্চারিয়া ॥ গৌড়ে বিতরণ
হেতু শক্তি শ্রীনিবাসে। এই হেতু মহাপ্রভুর হইয়াছে
আদেশে সর্বজ্ঞ শিরোমণি প্রভুর আজ্ঞা বলবা। কাহার
শকুতি আছে করিবারে আন। বৃথা শোকে দেহ ত্যাগ
কেনে কর তুমি। গ্রন্থ প্রাপ্তি হবে ইহা কহিলাম আমি।
রঘুনাথের সেবা তুমি কথােদিন কর। পুনশ্চ আসিবে মাের
যুথের ভিতর । দুই সহােদরের আজ্ঞামৃত করি পান।
পুন কবিরাজ দেহে হইল চেতন। আজ্ঞা দিল গগনেতে
যত দেবগণ। কবিরাজের প্রাপ্তি দেখি ভাবে ঘনে
ঘন। রঘুনাথের প্রতিজ্ঞ। ইহা লঙ্ঘন কি মতে। সকলে
মিলিয়া ইহা চিন্তে অবিরতে। পাষাণের রেখা যেন গো-
মির লিখন। খণ্ডন করিতে তাহা আছে কার ক্ষম।
সপ্তম নির্যাস। ১২৭ তথাহি স্তবাবল্যাং অনিয়মে ৯ শ্লোকে। ব্ৰজোৎপন্নক্ষীরাশনবসনপত্রাদিভিরহং পদার্থেনির্বাহ ব্যবহৃতিমদম্ভং সনিয়মঃ। বসামীশাকুণ্ডে গিরিবরকুলে চৈব সময়ে মরিয্যে তু প্রেষ্ঠে সরসি খলু জীবাদিপুরতঃ ॥ ইত্যাদি । ব্ৰজোদ্ভব ক্ষীর এই আমার ভােজন। ব্ৰজ বৃক্ষ পত্র এই আমার বসন। ইহাতে নিৰ্বাহ হয় দম্ভ পরিহরি। শ্রীকুণ্ডে রহিয়া কিবা গােবর্ধন গিরি। নিশ্চয় মরণ মোর রাধাকুণ্ড- তীরে। সুদৃঢ় নিয়ম এই বড়ই দুষ্করে। শ্রীল জীব রহিবেন অামার অগ্রেতে। শ্রী কৃষ্ণ দাস অার গোসাঞি লোকনাথে । এই জানি দৈববাণী হইল আচম্বিতে। শুনিলেন ইহা সবে আপন কর্ণেতে। শুন শুন কবিরাজ কহিয়ে তােমারে। গ্রন্থ প্রাপ্তি বার্তা তুমি গাইব অচিরে। দুই সহােদর আর দেবের বচনে। শুনিলেন কবিরাজ অাপন শ্রবণে। সিদ্ধ সাধক দেহ দুই এক যোগে। সাধক দেহে পুনঃ প্রাপ্তি হইল। মহাভাগে ॥ ইহার প্রমাণ কিছু শুন এক চিত্তে। ব্যক্ত করি লিখিলেন চৈতন্যচরিতামৃতে । “অন্তর্দশায় মহাপ্রভুর জলকেলি লীলা। দেখিয়া ত সেই ভাবে আবিষ্ট হইল।। যমু- নাতে জলকেলি গোপীগণ সঙ্গে। তীরে রহি দেখে প্রভু সখীগণ সঙ্গে। এথা স্বরূপাদি সবে চলে অন্বেষিয়া। জালিয়ার মুখে শুনি পাইলা আসিয়া । মৃতপ্রায় দৈখি প্রভুকে কাতর হইলা। স্বরূপাদি সবে তবে চিন্তিত হইল। উচ্চ করি হরি-ধ্বনি কহে প্রভুর কানে। শুনিয়া ত মহাপ্রভু পাইল। { # অন্ত্যলীলা ১৮ পরিচ্ছেদে।
১২৮
কর্ণানন্দ।
চেতনে।” অন্তর্দশা বাদশা তাহার প্রমাণ। এই মত কবি-
রাজের জানিব বিধান সিদ্ধ হইয়া সাধক বিঁহো কি
ইহার বিস্ময়। প্রাকৃতে এসব কাৰ্য্য কভু নাহি হয়। অতএব
সব কথা বড়ই দুর্গম। যথার্থ সুদৃঢ় এই রঘুনাথ নিয়ম।
প্রেমবিলাসে ইহা না কৈল প্রকাশে। প্রথমে লিখিলা কিছু
লিখিলা শেষে । ইহা শুনি রামচন্দ্ৰ আনন্দ অন্তরে।
দণ্ডবৎ হইয়া পড়ে ভূমির উপরে । প্রভু নিজপদ তার
মস্তকে ত দিয়া। হর্ষে গাঢ় আলিঙ্গন কৈলা উঠাইয়া। প্রভু
কহে শুন রামচন্দ্ৰ কবিরাজ। এই সব কথা তুমি রাখ হৃদি
মাঝ । তবে প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের হাতে ধরি। কহিতে
লাগিল। কিছু বচনমাধুরী । আমার সদৃশ তুমি সর্ব গুণধর।
মোর মনোবেদ্য তুমি কি কহিব আর তুমি বিনা অন্য না
জানে কদাচিৎ। তুমি মোর প্রাণ ইহা কহিল নিশ্চিত।
মাের গণ তোমার মত লইবে যেই জন। সেই সে হইব
মাের কৃপার ভাজন । শ্রদ্ধা করি এ প্রসঙ্গ যেই জন শুনে।
সেই ভাগ্যবান্ পায় প্রেম মহাধনে। শ্রীরূপের অদ্বৈত দেহ
যেই রঘুনাথ। শুনিয়াও রামচন্দ্র মানিলা কৃতার্থ। এসব
প্রসঙ্গ আমি যে কিছু শুনিল। অল্পক্ষরে সেই কথা তােমারে
কহিল । নিত্যসিদ্ধ যেই, তার ইথে কি বিচিত্র। কর্ণরসায়ণ
এই পরম পবিত্র। শ্ৰীমতীর মুখে বাক্য এতেক শুনিয়া।
পরাণ জুড়াইল মাের শ্রবণ করিয়া ॥ শুন শুন ভক্তগণ করি
নিবেদন। সন্দেহ ঘুচিল মাের করি আস্বাদন ॥ মদীশ্বরী
মুখচন্দ্র অমৃত পাইয়া। প্রাণরক্ষা হইল মাের সুপ্রসন্ন
হিয়া। এই ত কহিল মাের সন্দেহ ছেদন। কুতর্ক ছাড়িয়া
সপ্তম নির্যাস।
সদা কর আস্বাদন। শ্রী আচাৰ্য প্রভুর গণে কোটি পরণাম।
কৃপা করি পূর্ণ কর মোর মনস্কাম। তােমা সভার কৃপাতেই
সর্বসিদ্ধি হয়।
অনায়াসে প্রেমভক্তি তাহারে মিলয় ।
শ্রীরূপপার্ষগণ-প্রাপ্তি-অভিলাষে। সেই জন শুনুক ইহা
পরম লালসে। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু স্বগণ সহিতে। বাঞ্ছা পূর্ণ
কর সবে সুপ্রসন্ন চিতে। আচাৰ্য প্রভুর পদপ্রাপ্তি-অভি-
লাষে। কৃপা করি পূর্ণকর এই অভিলাষে। ঐআচাৰ্য
প্রভুর কন্যা শ্রীল হেমলতা। প্রেম-কল্পবল্লী কিবা নিরমিল
ধতা। সে দুই চরণপদ্ম হৃদয়ে বিলাসে। কৰ্ণানন্দ-কথা
কহে যদুনন্দন পাসে।
॥ * । ইতি মালিহাটী গ্রামনিবাসি-বৈদ্য-শ্ৰীযদুনন্দন দাস
ঠাকুর বিরচিত শ্ৰীকৰ্ণানন্দে শ্রীরঘুনাথ দাস গােস্বামির দেহ
ত্যাগ সম্বন্ধে শ্রীমতী হেমলতা ঠাকুরাণীর নিকটে গ্রন্থকর্তার
সন্দেহ ছেদন নামক সপ্তম নির্যাস সম্পূর্ণ ॥ ॥৭॥ *
॥ * ॥ ইতি শ্ৰীকৰ্ণানন্দ গ্রন্থ সম্পূর্ণ ॥ শুভমস্তু ।।
কর্ণানন্দকথা নিত্যং কর্ণানন্দকলধ্বনিঃ।
শ্রীনিবাসপ্রভাের্ভক্তঃ শায়তাং শ্ৰয়তাং মুদা।
১২৯৮। ৩০ চৈত্র।
{ ১৭ ]
No text on this page.
সুচীপত্র।
বিষয়।
পৃষ্ঠা হইতে পৃষ্ঠা পৰ্যন্ত।
১ম নির্যাসে, শ্ৰীঅাচাৰ্য্য প্রভুর শাখা খান।
২ নির্যাসে, আচাৰ্য্য প্রভুর উপশাখ বর্ণন।
ও নির্যাসে, রামচন্দ্ৰ কবিরাজের মহিমা ও শিষ্যে মানসিক ভাবে কা
লীলাভব বর্ণন।
৪র্থ নির্যাসে, বীরহাষীরের প্রতি রামচঞ্জ কবিরাজ কর্তৃক সাধ্য সাধনাদি
উপদেশ দান বর্ণন।
৫ম নিলে, শ্রীজীব গােখামির সংস্কৃত পত্রিকা প্রবণ ও পােপালটগােস্বামীর
সহ মিলন বর্ণন।
৬ষ্ঠ নির্যাসে, মন্মহাপ্রভুর প্রতিজ্ঞা এবং আট কবিরাজ ইকবীয়
বিবরণ বর্ণন।
শম নির্যাসে, শ্রীরঘুনাথ দাস গোস্বামির দেহত্যাগ সম্বন্ধে আমতী হেমলতা
ঠাকুরাণীর নিকটে গ্রন্থকর্তা শ্রীঘদুনন্দ দাস ঠাকুর মহাশয়ের
সন্দেহ ছেদন বর্ণন এবং গ্রন্থ সম্পূর্ণ। ১২৩
No text on this page.
কর্ণানন্দের অশুদ্ধশােধন। পৃষ্ঠা পঙক্তি। অশুদ্ধ বিবরি কথনে বিবরিয়া কহনে ২৪ ২০ মনকথা পূণিত আমি রামচন্দ্র অদভুত মন:কথা পুরিত রামচন্দ্রের औक्षा কৃপা যার কৃপা বাসিয়া হলি ৫৪ হলী ৫৪ ৫৬ ১৮ কহিষে অভয়ণ বর্ণনং নাম সহায়ক। ঐ falfs কহিতে অাভরণ বর্ণন নামক মহারাজ ঐ পীরিতি ঐ ২০ রজঃ সাপ্ত পিরীতে বৈধি ঐ বিবিধ কীৰ্ত্তিকাদি বিধি তুণ্ডলিং -কোলাং পীরিতে বৈধী ঐ বিবিধ কার্ত্তিকাদি বৈধী তুবলি- কেলাং [ ক ]. ১৮ ( 9 ) পৃষ্ঠা পঙক্তি। দুরতি অনেক ১৮ ফুরতি । माक যথারাগঃ ৬৮ ৬৯ পারাগ সবার সবারে ৭১ 5. করিয়াজ অর্থ মুঞ্জরী मिती मीक বদ্য কবিরাজ অর্থ মঞ্জরী मौलि শ্লোকয়ে গণযুজো ৭৪ ২২ ঐ ৭৫ ঐ ঐ গুণযুজো -মিত্যা -চিংগ্র অস্বার্থ ৭৭ ৯ -চিদগ্র অর্থ মিয়মত ঐ ১. মিত: ঐ ঐ অর্থ অর্থ: ৪ ৭৮ ঐ कोम প্রাণে बकानन ১৫ भीक বুলী কট্যাংশ যােষিত ভিন্নং ঐ মুরলী কোট্যংশ। ঘােষিৎ ২ভিন্ন গােলোক গোলোক চৈতন্যচরিতামৃত কোট্যংশ। গোলক ৪ ঐ ১৮ গোলোক চরিতামৃতে কট্যংশ। ৮৩ ১৪ ৮৫ [ • ] পৃষ্ঠা অশুদ্ধ রবো যায়ী সঞ্চারি অরুতি চকসি মাসতশা ৮৬ পঙক্তি। বরে শারী ঐ সঞ্চারী অরুন্ধতী ঐ চকাসমাস দুস্থঃ ॥ ঐ টুইঃ নচার ক্ষেত্রে হরিনুসনথেপি সুজনা- প্রসাদ ঘেন্না দপদপি বসামি ক্ষণমপি। সমং হে দগ্রাম্যাবলিভিয়ভিপি কথাৎ বিধান্তে সংবাসং ব্রজভূবন এর প্রতিষং। নয়৷ মেঝে হয়িতনুসনাথেত্যাদি। ৮৮ ২৪ অঙ্কে সমর্থ। ৯. সমর্থ। মহারাজের ২৩ মহারাজার ঐ ৫. এ- বি ? রাঙ্গ রাজের ৩ ৯২। ৯৩ ২৩।১ না দেখিল এই গ্রন্থ কহিল নিশ্চয় খেরি কুষ্ঠ মোর আনিলেন কুলেন इन #মি শ্রীমতি খেতরির কুণ্ঠা আমার আনিলেন তাহে কুলান বৃন্দ। शनि এময়ি অশুদ্ধশোধন সম্পূর্ণ। ৯৬
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.