Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Rasakadamba
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
রসকদম্ব
বেতালভট্ট রচিত
কালিদাস রায় সম্পাদিত
মুলা। বাধা /
বরেন্দ্রনাথ ঘােষ
বরেন্দ্র লাইব্রেরী
২০৪, কর্ণওয়ালিস ষ্টট
কলিকাতা
দেলপৌর্ণমাসী।
প্রিন্টার-শ্রীশাতুলচন্দ্র ভট্টাচার্য
মামলী প্রেস
১৪রামতনু বহর লেন, কলিকাতা
ভূমিকা রসকদম্বের ভব্যতর অর্থ যাহাই হউক আমাদের দেশের রসনা- বন্ধু রসকদম্ব’ নামক সন্দেশের নামেই বইখানির নামকরণ করা হইল। গ্রন্থের কতকগুলি সঙ্গীত ‘ভারতবর্ষে প্রকাশিত হইয়াছিল এবং ১০/১২ খানি সঙ্গীত সুহৃথর শ্রীযুক্ত অভয়াচরণ চট্টোপাধ্যায়ের মুখে গীত হইয়া গ্রামােফোনের রেকর্ডে স্থান পাইয়াছে। পূজ্যপাদ রজনীকান্ত সেন মহােদয়ের সর্বজনসমাদৃত “কেন বঞ্চিত হব চরণে* গীতটির একটি প্যারডি কিছুদিন পূর্বে ভারতবর্ষে প্রকাশ করিয়াছিলাম। শ্ৰীযুক্ত নলিনীরঞ্জন পণ্ডিত মহোদয় তাহার “কান্তকবি রজনীকান্ত” গ্রন্থে সেই প্যাভিটিকে অবলম্বন করিয়া আমাকে এবং সেই প্রসঙ্গে সকল প্যারডিকারের প্রতি তীৰ কটাক্ষ করিয়াছেন। পণ্ডিত মহাশয়ের বিশ্বাস কোন কবির কোন গানের প্যারডি লিখিলে সেই কবি বা সেই গানের অবমাননা করা প্যারডি-রচনা-পদ্ধতি আমাদের দেশে ছিল না-উহা বিলাত হইতে আমদানী, বিলাতের লােকেরা যে ভাবে প্যারডির বিচার করেন—সেই ভাবেই বাংলার প্যারডিরও বিচার করা উচিত। সাধারণতঃ দেশবিখ্যাত কবির সর্বজনপরিচিত সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীত ৰা কবিতারই প্যারডি রচিত হইয়া থাকে। যে সঙ্গীতের প্যারডি করা হয়, সে সীতটি সম্পূর্ণ অবণে না থাকিলে প্যারডি উপভােগ করা যায় না, সেজন্য যে সঙ্গীতটি সকলেই জানেন তাহারি প্যারডি হইয়া থাকে এবং সর্বজনসমাদৃত • সঙ্গীত, ভগবৎ-প্রেম, দেশপ্রেম বা নর-নারীর পবিত্র প্রেমকে অবলম্বন করিয়াই সাধারণতঃ রচিত। ভাষার ঈষৎ পরিবর্তন করিয়া এবং ছন ও সুর অক্ষুন্ন রাখিয়া Sublime শব্দ সমুচ্চয়কে কেমন করিয়া ridiculous করিয়া তুলা যায়--শান্তুপ্রসন্নরসােপেত রচনাকে কিরূপে কৌতুক রচনায় পরিবর্তিত করা যায়—সেই কলা-কৌশল দেখাইবার জন্য প্যারাভ। কাজেই প্যারডি রচনার দ্বারা আদৌ সূচিত হয় না। যে প্যারডিকারের মূল সঙ্গীতের প্রতি ভক্তি বা শ্রদ্ধা নাই—অথবা সঙ্গীতের পবিত্র বিষয়বস্তুকে অবমাননা করাই তাহার উদ্দেশ্য। বরং পক্ষান্তরে মহাকবির প্রতি প্যারডিকারের গভীর শ্রদ্ধাই সূচিত হয়। সেই জন্যই সাহিত্যগুরু বঙ্কিমচন্দ্র হইতে আরম্ভ করিয়া আধুনিক কবি শ্রীযুক্ত সতীশচন্দ্র ঘটক মহাশয় পৰ্যন্ত অনেকেই নিঃসঙ্কোচে যুগ- পাবন শ্লোক বা সঙ্গীতের প্যারডি লিখিয়াছেন। বিষবৃক্ষে চণ্ডীর শ্লোকের প্যারডি পড়িয়া কে বলিবে, চণ্ডীর এতি বঙ্কিম বাবুর ভক্তি ছিল না? আজ যদি ভক্তিভাজন রসসাগর কান্ত কৰি বঁচিয়া থাকিতেন তবে তিনি তাহার গানের প্যারডি পড়িয়া সুখীই হইতেন—বিরক্ত হইতেন । মােট কথা প্যারডি একশ্রেণীর কারুকলা, উহাকে শিল্প হিসাবেই বিচার করিতে হইবে—উহার ঈষম্ন রস উপভােগ করিতে হইলে অন্য কোন রসের পাত্রে ঢালিয়া সেবন করিলে চলিবে না। পণ্ডিত মহাশয় প্যারডি রচনাকেই দূষণীয় বলিয়াছেন—আমার রচিত প্যারডির শিক্ষাংশের টী দেখাইয়া বে-সঞ্চালন বা নেত্ৰ-ঘূর্ণন করিলে আমার বলিৰায় কিছু ছিল না। কড়ই পে, বর্ধমান।
উৎসর্গ।
আমার পারিবারিক জীবনের পরমব
মনস্বী, অগ্রজোপ
শ্রীযুক্ত ক্ষেত্ৰনাথ পা
মছােদখে
৫. ?
No text on this page.
রসকদম্ব
মাসের পয়লা
কালকে সৰে মাস পােয়ালাে আজকে মাসের পয়ল।
এরি মধ্যে টাকার তাগিদ করে তােমা গয়লা।
চাকর এসে বলে “বাবু,
লাগবে খুকীর মিছরী সাবু,
এক চোচা নেই হলুদগুড়াে এককুচি নেই কয়লা।”
পারেননিক আনুতে আজো দুইটি আনা পয়সা,
ভাতা বলেন খেতে বসে “উহু, ঘি ভরসা।”
মােটে দিন দু-তিনেক গেল,
কাপড় সেমিজ ধুয়ে এল,
ভগ্নী বলেন ‘যায় না পরা এযে বেজায় ময়লা।
ছেলে গুলােয় হাজার বকে, মুড়কি মুড়ি খায় না,
দুপুর রাতে, আরে মশায়, খাজার ধরে বায়না,
কার কথা আর বলব বলো?
সবাই আমার শক্ত হলো,
দিনে দিনে বাড়ছে শুধু ঋণ-নদীর ফয়লা।
এর উপরে, বলেন কেন? গৃহিণী, চান গয়না,
গােরু বাছুর পায়না ছানি, খাঁচায় পােযেন ময়না,
বলেন ‘পায়ে লাগছে কাদা,
হয়না উঠান শানে বাঁধা ?
এদিকে নেই পায়খানার ছাদ, ঢেকি-ঘরের ছায়গা
অন্যমনক
শ্ৰীমান মনােমােহন বাবু
থাকেন সদাই অন্য মনে।
খেতে চলেন পায়খানাতে
শুতে চলেন ধুতরাে বনে।
মশারীটায় চাদর বলে
কাধে ফেলে, গেলেন চলে
একদা এক চাড়াল বাড়ী
মেয়ের পাত্র অন্বেষণে।
1'
উল্টে পরেন জামা জুতাে
হাতেও ভুলে পরেন মােজা,
সারা বাড়ী কলম খোজেন
কলন কিন্তু কানেই গোঁজা।
মুখে চুরুট নিতে ভুলে
আগুন ধরান গোপের চুলে,
টিঞ্চারাইডিন মেখে চলেন
মান করিতে ইস্টেসনে।
গোপ কামাতে কামান ভুরু
কাটেন টেরী জুতার ব্রুশে,
কলাগুলােয় ছুড়ে ফেলেন
খােসা গেলেন চুষে চুষে।
মাছের মুড়ে মনে করে’
মুখে তুলেন বিলে ধরে;
ছড়ি ভেবে শাবল হাতে
দুপুর রাতেই যান ভ্রমণে।
৫
-
দুপুর বেলা ঘুমিয়ে উঠে
ভাবেন বুঝি হলাে তাের,
নােটগুলো ডাকবাক্সে ফেলে
খাটা করেন ইসিওর।
একদা তঁার লাঠিটিরে
খাটে রেখে শুইয়ে ধীডম,
৯
আপনাকেই লাঠি ভেবে
দাড়িয়ে ছিলেন একটি কোণে।
হঠাৎ বুঝে
তলা ভেবে যেদিন তিনি
স্ত্রীয়ের মাথায় মেলেন চটী,
সেদিন নিজের অবস্থাটা
নিলেন খাট।
জানিনে ঠিক, সেদিন ভ্রমে
আপনাকে কোন ক্রমে
সেতার ভেবেছিলেন কিনা
কর্ণ দুটীর বিমর্দনে।
বিয়ের পদ্য
বিয়ের পদ্য আমায় তবু লিখতে হবে ভাই ;
কারণ—বর না হলে চলে, কিন্তু বিয়ের পদ্য চাই ।
বিয়ে-বাড়ীর গােণ্ড গােলে
পথ কে আর কানে তােলে ?
প্রায়ই লােকের মন্টা করে কেবল খাই-খাই ।
১০
সদ
যাদের নিয়ে পদ্য লেখা, বরক’নে দুইজনে,
আপন ভাবেই বিভাের থাকে, কিছু কিআর শশানে ?
কনের বাড়ীর কর্তা সকল,
মাথায় ঘায়ে কুকুর-পাগল
চন্দ ছড়া নিয়ে তারা করবে কি আর ছাই।
বরযাত্রিগণের মতি শুধুই ভােজন পানে,
দয়ের হাঁড়ীর দিকেই তারা দৃষ্টি লােলুপ হানে।
কেউ-কেউবা ঝগড়া বাধায়
রাস্তা খরচ করতে আদায়।
বিয়ের পদ্য কে পড়ে তার ঠিক ঠিকানা নাই।
সবাই তবু দিতে গেলে এক এক খানা লয়,
কুশাসনের অভাব হলে বসাও তাতে হয়।
কেউ বা তাতে জুতা পোছে,
রুমাল কোরে মুখও মােছে,
আমি ত ভাই বাজার করি যখনি কামাই।
রসকদম্ব
বসন্তের চিতি
বন্ধু,
হথা,
বাংলা দেশের বসন্তে আজ
কোনােরূপে বেঁচে আছি,
কোকিল এবং ভােরা চেয়ে
অনেক বেশী মশা মাছি।
দখিন বায়ে ঘর্ম ছােটে,
নাক জ্বলে যায় ধূলাের চোটে,
প্রাণটা হলো কথাগত
কেবল কাশি, কেবল হাঁচি।
বসন্ত ষে এলেন তাহার
চিহ্নত নাই বাগান বনে,
গেহে গেহে দেহে দেহে
এলেন বিষের বিস্ফোটনে।
হেমন্ত তার সঙ্গে এসে,
রাজ্য জমায় হৃদয় দেশে,
আতঙ্কেতেই চলে গেছি
প্রাণাস্তেরি কাছা কাছি।
রসকদম্ব
দীঘি পুকুর শুকিয়ে এলে
পদ্মকুমুদ কে আজ ফুটায় ?
জলাভাবে ওলাউঠা
দলে দলে দোলায় উঠায়।
কাব্যকলা ঝসে যে যায়,
কম-বনের কচি মােচায়
ভাবছি কোখা গিয়ে বাঁচি
সাচি পুরী কিংবা রাঁচী।
শুদ্ধ করে কথা বলার আমার সদাই চেষ্টা,
আমি বলি কেষ্টপ্রসাদ লােকে বলে কেষ্টা।
মাছেরে তাই কহি মচ্ছ,
কাছারে তাই বলি কচ্ছ
কোটেরে তাই কোষ্ঠ কহিপিপাসারে তেষ্টা।
আষেরে কই আম্র, যেমন জামেরে কই জা,
তামায় যেমন তাম্র কহি মামায় কহি মা।
পাঠশালাকে পট্টশ্যালক,
আটচালাকে অষ্টচালক,
কম্বলে কই অল্প-শক্তি ভেবে ভেবে শেষটা।
চিত্র কলায় চিত্তরম্ভা, কাঁচিরে কই কাঞ্চী,
কাসিরে কই বারাণসী, হাঁচীরে কই হাঞ্চী।
আলুরে কই
শশুরে কই শশ্রুমশাই,
অবাক হয়ে চেয়ে রহে মুমুক্ষু এই দেশটা ।
অলাবু তাই
অযাচিত উপদেশ
গিন্নীর কাছে হঠাৎ আজকে শুনলাম, হৃষীকেশ,
( ভুতনাথাে যেন বলছিল) তুমি পদ্য লিখছ বেশ।
চাও যদি তবে বাগাতে চাকরী
গােটা পাঁচ সাত নকল না-করি,
মােদের আফিসে বড়বাবুটির বরাবর কর পােশ।
ভাল কথা, শােনন, পদ্য লিখছ অমৃতাক্ষরে লেখ,
অমৃতছন্দে লিখে সাইকেল কত বড় হলে দেখ।
১৪
শক্ত শক্ত শব্দ লাগিয়ে
শেখ দেখি ভাই পথ বাগিয়ে,
নোেবল প্রাইজ পেতে পারে। যাতে দেব তার উপদেশ।
গল্প লেখ’ত ডিটেকটিভিই সব হতে ভাল’ জেন,
সাতকড়িবাবু দেখতে দেখতে বড়লােক হ’ল কেন ?
গুপ্তহত্যা, গুম, রাহাজানী,
জেল, দাগাবাজী, জাল, বেইমানী,
ইত্যাদি কর লােমহর্ষণ ঘটনার সমাবেশ।
নাটক লেখত লিখ’ ভাই যেন খাস-দখলের মত,
নইলে লিখিবে যাহাতে থাকিবে নাচ-গান-হাসি যত।
কোরাে না গিরীশ ঘােষের মতন,
কেবল কাদুনী-কথার বাঁধন,
টাজেডি করােনা,মিলন করিয়ে বিয়ে দিয়ে করাে শেষ।
রাজনীতি নিয়ে লিখা কিছুই, হয়ে যেতে পারে জেল,
ব্রাহ্মদিগকে গালাগালি দিয়ে লেখ না আটিকেল ?
উৎসাহ চাও? তা—আর দেব না?
ছাপার জন্য কিছু ভেব না।
আৰ্য-ভারতী-আফিসে রয়েছে আমাদের অমরেশ ।
.
কুশল =
জিজ্ঞাসিছ, কেমন আছ,
শােনন তবে গদাই বাবু,
কুশল কোথায় ? ঋণের মূষল
করছে যারে সদাই কাবু।
চাইলে টাকা হইগাে বােবা,
বন্ধ এখন নাপিত ধােবা,
নানান রােগের ভান করে ভাই
রাত্রিকালে খাচ্ছি সাবু।
পুজি পাতি যা ছিল তা
নিয়ে বিয়ে হলেন ‘বি’,
ভাবি এখন কেমন করে
যোগাই আবার ‘টেবীর’ দাবি।
সাক্ষী আছেন গিরীশ কাকা
দিচ্ছি মাসে তিরিশ টাকা,
ভরসা এখন, হাকিম হবেন,
ডিগ্রী পেয়ে প্রমান ‘হাবুঃ
স্বীকার করি, জীব দিল যে
আহারাে সেই দিবেই দিবে।
ওষুধের বিল, ছেলের পড়া
মেয়ের বিয়ের ভার কে নিবে?
ট্যাক্স চাদা বাড়ী ভাড়ার
তাড়ার চোটে ভাবছি এবার
বন বাদাড়ে যাই পালায়ে
পাই যদি ভাই একটী তাবু।
• -
নব্যবাবু
ধন্য তােমার সাধনা, ভাই,
সখা আমার,—বলিহারি ।
অনেকটা ত আগিয়ে গেছ
সখীই হবে তাড়াতাড়ি।
লা তােমার চিকন চুলে
সীথিতে, ভাই, পরাণ ভুলে,
একটু সিদূর পরে’ নিও,
চাও ত না হয় দিতে পারি।
কামানাে ঐ ঠোটের পরে
একটি ঘােট নােলক ধরাে,
লম্বাঝুলের পাঞ্জাবীটা
কাপড়খানার তলায় পরে।
কজিঘড়ির সােণার শাখা
বাঁ হাতে ওই ‘কাফে' ঢাকা
ডান-হাত কেন থাকবে কাকা?
চল হ্যামিল্টনের বাড়ী।
কেঁচা খুলে শাড়ী (?) খান,
নাও দেখি ভাই জড়িয়ে গায়ে,
আতা যদি না পরােত
‘পম্পশু’-জোড়াই থানা পায়ে।
বদলিয়েছ চাউনি চোখে,
ভুল করে চার পাড়ার লােকে।
কথার ঢঙে, ঠোটের রঙে
আমিই তােমায় চিনতে নারি।
--
১৮
অলকা
বঞ্চিত
কেন-বঞ্চিত হ'ব ভােজনে।
মােরা-কত আশা করে
নিজবাসা ছেড়ে
খেতে--এসেছি এখানে ক’জনে।
ওগাে-তাই যদি নাহি হবে গো,
এত কি গরজ তােমার বাড়ীতে
ছুটিয়া এসেছি কবে গাে?
হয়ে-মুধার জ্বালায় অঙ্ক
এসে-দেখিব কি খাওয়া বন্ধ ?
তবে—তাড়াতাড়ি ‘পাত কর' বলে ডাক
তব আত্মীয় স্বজনে।
,
মােয়—শুনেছি তােমার বাড়ী,
চাহে যদি কেউ একহাতা কিছু
এনে দেয় হড় হড়ী।
তুমি-পাবনা হইতে দধি ভারে ভার
মালদহ হতে এনেছ আচার,
একি-সবি মিছে কথা? দিও নাক ব্যথা
মােরা,-খাবনা বেশী ওজনে।
১৯
।
স্বতং পিবে
“ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ,
ঋণ করেও ঘি খাওয়া চাই,
চার্বাকের ঐ চর্বিতন্ত্র
লিখে গেছে ঠিক কথাটাই।
এ ঋণ কিছু শুধতে না হয়,
স্বতে যে হয় বল উপচয়,
(তাই) ঘৃতভুকে চাইতে টাকা
পাওনাদারের সাধ্য কি ভাই ?
ঋণ কেন কই?—ঘৃতননী,
চুরি করাও চলতে পারে,
সাক্ষ্য ইহার মানতে পারি
বৃন্দাবনের পুরাণকারে।
হরিলে মাখন সরে
হতেন জোয়ান কেমন করে
(আর) কংসসনে যুঝতেন এত
কেমন করে বলাই কানাই ?
রসক
পিপে পিপে ঘিয়ে শুধু
জ্বত দেশে যজ্ঞ-অনল
পুড়িয়ে খেলে পরে
গায়ে কিছু বাড়ত ত বল।
হন হতােনা দেশের দশা,
হতাে-নাক মারতে মশা,
( লাট-) কৌন্সিলে আজ গােবধ নিয়ে
হতােক করতে লড়াই।
হাসিমে দিলে
বাপরে ওরে, বাপরে ওয়ে,
কি হাসিটাই হাসিয়ে দিলে,
গেলাম, গেলাম, তলিয়ে গেলাম
হাসির বানে ভাসিয়ে দিলে।
পেট বুক সব ফাঁপিয়ে দিলে,
লিভার পিলে কাঁপিয়ে দিলে,
মলম, মলাম, হাঁপিয়ে দিলে
মাজার কাপড় ফাঁসিয়ে দিলে।
চায়ের পেয়লা ভাঙলাে, হােঃ-হাের
চেয়ার হতে’ পড়ব নাকি ?
হি, হি, হা, হ, হাসতে হাসতে
দম আটকে মরব নাকি?
উল্টে গিয়ে দোয়াত, হা, হা,
কাপড় জামা ভিজল আহা,
আসছে কান্না, আনা আনা
হাঁচিয়ে দিলে, কাসিয়ে দিলে ।
মুখের চুরুট কোথায় গেল?
ধল আগুন জামায় বুঝি,
চশমা কোথা? হাসপাতালে
নিতে হলে আমায় বুঝি।
বর আমায়, হাছ যে ভাই,
জল পাখা কই ? মূৰ্ছাবা যাই,
ভ্যান্তা করে, খাস্তা করে’
নাড়ীভুড়ি ভাসিয়ে দিলে।
রুস
নেশাখােরের অভিধান।
গাঁজা খেলে ‘গেঁজেল’ যদি মদ খেলে হয় মাতাল,
নস্যি নিলে নেসেল’ তবেচা-খােরেরা চাতাল।
ফুরুক ফুরুক গুড়ক তবে
টানলে পরে ‘গুর্খা হবে,
চুরুট খেলে চোঠা' বুঝি গুলি খেলে ‘গুলাল।
সূতি খেলে সূৰ্ত্তিবাজত শূৰ্ত্তিবাজের মতই
চর রসের হরস পেলে চৌরস হয় স্বতই।
রাখলে দাড়ী যদি দেড়েল
তাড়ী খেলে তবে ‘তেড়েল’
চও খেলে ‘চণ্ডাল’ হবে, অর্থাৎ হবে চাড়াল।
সিদ্ধি খেলে সিদ্ধপুরুষ ‘সিধেল’ বলে কেউ কেউ,
বিড়ি খােররা ‘বিড়ে হয়ে করবে তবে মেউ মেউ।
কোকেনথােরে কি বলে ভাই
অভিধানে খুঁজেই না পাই,
আমিখােয়র পাইনাৰ নাম ভেবে আকাশ পাতাল।
লজ্জাহরণ।
নিকষ কুলীন সন্তান তুমি দরিয় সজ্জন,
মুদীর দোকান খুলেছ বলিয়া লজ্জিত কি-কারণ?
চারিদিকে দেখ তােমারি সঙ্গে
সব কর্তারা নেমেছে বঙ্গে ;
তােমারে ঘেরিয়া করিছে বিরাজ গৌরব পুরাতন।
হাতাবেড়ী হাতে, হের, ঘরে ঘরে ছ্যাছাক তুলি রোল,
ঠাকুর’ বিরাজে পাচকের সাজে রাধে মাংসের ঝোল।
গ্রামে গ্রামে ওই মুখ চোয়ার
ছাত্র দলন, গুণ্ডা, গোয়ার,
গুরু মশা’য়ের রূপে নেমেছেন ‘গুরু-আচাৰ্য্যগণ।
রঙ্গমঞ্চে অভিনয় করি গণিকারা আজ দেবী
সন্ন্যাসী নামে বিকায় সুব্ধ যত গঞ্জিকাসেবী।
দাড়ী পাকিলেই লভিছে উপাধি
যােগী, আচাৰ্য, মুনি, ঋষি, আদি,
চপ, কাটলেট চায়ের দোকান ‘আশ্রম-তপােবন ।
বৈরাগী তিনি সেবাদাসী যার জেমী মামী আর বামা,
ফেয়ার, হলেন গেরুয়া ধরিয়া অমুকানন্দ স্বামী।
২৪
।
মূখ গ্রাম্য হাতুড়েরা আজ
‘কৰিাজ’ নামে করিছে বিরাজ,
মঠ-মােহান্ত মটরে চড়িয়া মজা করে লুণ্ঠন।
বদ্যার জাহাজ
ইংরাজী আমি জানিনা বলে কি, জানিনা কিছুই আর?
রয়েছে বাংলা সমােসকৃতে যে ঢের মাের অধিকার।
তােমাদের এই কালিদাস কবি
পড়িয়া ফেলেছি তার পুথি সবি
বেণীসম্ভব,-“রঘুসংহার,
মেঘদূত-বধ তার।
মাদরাক্ষস নাটক লিখেছে বরুচি কবি আহা,
ভাষ্যসমেত পড়িয়া ফেলেছি কতবার আমি তাহা।
সাংখ্যের স্মৃতি পাণিনির গীতা
মনুসংহিতা,-হনুসংহিতা
দশম অঙ্ক মাগবত নিঙাড়ি নিয়েছি সার।
পণের কাণ্ড মহাভারত যে লিখে গেছে বাল্মীকি
বিংশ পৰ্ব ব্যাস রামায়ণ তাও আর পড়ি নি কি ?
সদ
লােচনসের কবিকঙ্কন,
রামপ্রসাদের মানভঞ্জন,
চণ্ডীদাসের চতীর গান পড়িয়াছি কতবার।
বিদ্যাপতির বিদ্যাররূপ বর্ণন বলিহারি,
গােবিন্দদাস গীতগােবিন্দে চটক দিয়েছে ভারি,
নীল দর্পণ লিখে মাইকেল
ছয়টি বছর খেটে গেল জেল।
আছে মুখস্থ নিধুর মধুর অঙ্গদ-রায়বার।
পড়েছি পড়েছি হেমচন্দ্রের পলাশী যুদ্ধগান
গিরীশ ঘােষের বিষবৃক্ষ ও অমৃতের বলিদান।
বঙ্কিমকৃত ‘মেবার পতন’
‘গােলে-বকাওলী’ ‘মনের মতন
নবীন সিংএর ‘চন্দ্রকেশর’ ‘মৃণালিনী’ ‘সংসার’।
দ্বিজুর পাঁচালি দাশুরই মতন, খুড়াের ভাইপাে বটে,
হরু ঠাকুরের বিদ্যে কি আছে রবিঠাকুরের ঘটে ?
তবু এক তার ‘বিবিচোর’ ছাড়া
আর সব বই করিয়াছি সারা,
‘মেয়েবম্বেটে’ ‘বেজায় রগড়’ ‘মায়াবিনী’ 'একাকার।
২৬
বুদ
অপূৰ অধ্যাপনা
(১)
এর মানেটা বুঝলে নাক
বুঝলে না হে অর্থ এর ?
যা তা’ নহে এ বাছাধন!
বিদ্যে এতে লাগবে ঢের।
কতই বা আর বয়স হলো
কেমন করে বুঝবে বলো?
ঐ কথাটা বুঝতে গিয়ে
চুল পাকিল আমাদের।
আমাদেরই মধ্যে আবার
এ কথাটা ক’জন বুঝে ?
পাবেনাক একটী লােকও
দেশটা গােটাই এস খুজে।
গূঢ় অর্থ অনেক আছে,
ধৈৰ্য্য ধরাে, বসে কাছে,
কি যে তথ্য, বুঝিয়ে দিলে
তবে তখন পাবে টের।
।
२१
নয়,
চালাকি ফক্তিক। নয়,
ভেতরে এর ঢুকতে হবে,
আজে। এটা বুঝলেনাক
তবে আবার বুঝবে কবে?
ব্যাপারটাই আর এমন কিযে
বুঝতে, একটু, বলে নিজে
এ কথাটা হচ্ছে কি না
সেই কথাটার নিছক জের।
(২)
অর্থ কি আর করব ইহার? এযে রতন শুদুল্লভ,
এ যে রসের পায়েস পিঠে, রসিকমনের মহােৎসব।
আঃ মরে যাই আঃ মরে যাই,
লিখে গেছে কি লেখাটাই,
বােঝাতে যে করব জবাই,—কতে হবে অনুভব ।
বােঝাব কি ? নাচব আমি,-নাচ, নাচ’, বুঝ’ নিজে,
দেখনা মাের দুলছে মাজা, দেখনা এই দু’চোখ ভিজে।
এই দেখনা আমার গা-টা
মুহুর্মুহু দিচ্ছে কাটা
একটু খানি মজব রসে, থামাও দেখি কল
?
২৮
জামটা ইহার হাজার টাকা, হাজার কেন? লক্ষ টাকা,
বালাই নিয়ে কোথায় পাই, যাবাে লাহাের মক্কা ঢাকা।
কি চমৎকার মরি, মরি,
একি লীলা তােমা, হরি!
ডােবাে ােেবাে রসের ডােবায়-- বােঝান যে অসম্ভব।
মেসেন পত্র
বেশী দেরী নাই সন্ন্যাসী হয়ে ভাই
পড়ি বুঝি কবে ভেসে,
ব্ৰহ্মচৰ্য্য চলিতেছে একাঙ্গাই
কেন না রয়েছি মেসে।
ধােপর অভাবে কাপড় হয়েছে গেরুয়া,
শয্যা কেবল সার হইয়াছে খেরুয়া,
চোরে নিয়ে গেছে সবই কেবল, ফেরুয়া
সম্বল আছে শেষে।
বেড়ে গেছে দাড়ী সময় পাইনি বলে
হয়নি নাপিত ডাকা,
তেলের বােতল পাইনা খুজিয়া তাই
হয়নাক ভেল মাখা।
২৯
রসক
খড়ি উঠে গায় তৈলবিন্দু বিহনে,
কটা হ’ল চুল দেরী নাই জটা বয়নে,
কুলায় বাঁধিবে অচিরে কেশের গহনে
দেশের পাখীরা এসে।
ম্যানেজার করে সন্ন্যাসে সুবিধাই,
কুশাসন দেয় পেতে,
মৎস্য মাংস বন্ধ করিয়া তাই
কাচকলা দেয় খেতে।
পরণের ধুতি এখনাে এতেও ছাড়িনি,
গাঁজার ককে এখনাে ধরিতে পারিনি
এ দু’টা হলেই বলে তারা দীন-তারিণী
ছুটিব সাধুর বেশে।
ভাজাজ
ফিরে এস ভােজরাজ পেট ভরে ভােজ খাই
প্রজা যদি হতে হয় তােমারই হইতে চাই।
দিয়ে,-চারি পাশে দধিধারা
ধৃত ক্ষীর নাদী ধারা
রচ ধারা-নগরীটি রাজধানী হােক তাই।
সােবর রচ’ তুমি দিয়ে পানা সরবৎ,
ছানাবড়া দিয়ে রচ’ নানা নব পর্বত,
মিহিদানা রাজভােগে রচ’ তব রাজপথ,
চ তরমুজ রসে হ্রদ,
রাবড়ীর রচ’ নদ,
লুচি দিয়ে সাঁকো বাঁধে তারপরে আসি যাই।
পায়সের চূণ,–গঙ্গা-বরফীর ইষ্টক,
মুড়কীর সূকী বা গুড়ো করা পিষ্টক,
মিলাইয়া ইমারত রচ আহা, ঝকম
তাহে ছ্যাক ছ্যাক নহবৎ
পেটুকের সহরৎ,
দিনরাত অপসাপ গুপগাপ, গান গাই।
সরােবরে রেখ রুই ডিমভরা কইমাছ,
ইলসে ভেটকী রেখাে হবে ভাল ‘ই মাছ,
পাতাচাই, রেখ তাই, চারিপাড়ে শালগাছ,
রেখ—-বাগিচায় লিচু আম,
কলা পেলে কিছু জাম,
লতা শুধু পানলতা, আ-গাছায় কাজ নাই।
৩১
চাহিনা অশােক, আলা, আকবর, সাজাহান,
নহেত তােমার মত তাহাদের তাজা প্রাণ,
সে রাজায় কাজ নাই যে না করে খাজাদান
ফিরে-এস তুমি ভােজরাজ
কর রােজ ভােজকাজ
দুর্দিনে পেটভরে ভােজ খেয়ে প্রাণ পাই।
জুভাৰ
চার গান
চকচকে যার পায়ে তা
সভ্যতােক ত বলব তাকে,
চিব কেমন দরের মানুষ
পায়ের জুতাের গড়ন-জকে।
জুতাণীর পরশ মিঠে
মােদের গায়ে গালে পিঠে,
জুতাের তলায় পড়তে লুটে,
দেখছ নাক এ জাতটাকে ?
কালােয় মাের। ঘেন্না করি,
( যদিও গা’র চামড়া কালাে)
৪
কেবল কালাে চামের জুতাে
মােদের আহা মন ভুলালাে।
চুল
দিয়ে তাই জুতাে ঝাড়ি,
তীর্থ মােদের মুচির বাড়ী,
পূজোর ঘটে টরিয়া
চলি ক্যাচর মচর তাকে।
জুতােই মােদের মাথার বালিশ,
জুতােয় বীরাসনটি গাড়ি
ভদ্রলােকের চুরির জিনিষ
জুতােই নেমতন্নবাড়ী,
তারেই ছাঁদার
তুল্য ভেবে
খেতেও বসি বগল দেবে।
চামড়াবাঁধা পুথির পাশে
আলমারীতে জুতােও থাকে।
চণ্ডীপাঠে পেট ভরেন।
জুতো সেলাই মিলায় তােড়া,
চণ্ডী ছেড়ে চাদনীতে তাই
জুতাের দোকান খুলছি মে
0
৩
অসকা
দিচ্ছি জুতো গােবধ করি।
জুতােই ভবনদীর তরী
পায়ের ধুলাের বালাই গেছে
গুরুর ও সে চরণ ঢাকে ।
জেনেছি ভাই এ সংসারে
জুতােই মােদের পুজ্য খাটি,
গিন্নীদের তাই জুতাে পরাই
গালে বুলাই, জিভে চাটি।
জুতো আপন রূপের জোরে
বুড়ােরে দেয় “ইয়ং” করে
‘ইয়ং এণ্ড কোং নাম দিয়েছে
তাইতে জুততার কারখানাকে।
৩
ছবিয়ােগ
বর্ষাথী আমার ছাতি, আজকে তুমি নাই,
যাচ্ছে ফাটি বুকের ছাতি তােমার শােকে ভাই।
মাথার’পরে বাদল ঝরে,
তার চেয়ে মের চোখেই পড়ে, •
অশ্রুধারা তােমার তরে, কোথায় তােমায় পাই?
চারটি টাকায় কিনেছিলাম তিনটি বছর আগে,
সঙ্গে ছিলে বাড়ে ব’রম-পুর হাজারিবাগে।
নতুন ছিলে যখন তুমি
বুলিয়েছিলাম গালে, চুমি
আজো মধুর গন্ধ পরশ স্মৃতির পুরে জাগে।
থাকতে তুমি আমার কাধে, বইতে কাছে কাছে,
আজো জামায় দাগটি বাটের মলিন হয়ে আছে।
তােমায় জীবনসঙ্গী ভেবে
রেখেছিলাম বগল দেবে,
বসলে তুমি থাকতে কালে হারও ভেবে পাছে।
রসকদম্ব
ছিলে কি আর শুধুই ছাতি, তুমিই ছিলে ছড়ি,
খ্রীষ্মিকালে ঘাম মুছেছি তােমায় রুমাল করি’ ।
হাত চলেনা পিঠে যেথায়,
চুলকে দিতে তুমিই সেথায় ।
তােমায় দিয়ে আম পেড়েছি পাঁচির’পরে চড়ি।
রৌদ্রে পুড়ে জ্যৈষ্ঠমাসে বাঁচিয়ে দিলে মাথা,
ওরে আমার দিলদরদী-পথের সাথী ছা।
সে দিন যখন গ্রহের ফেরে
পাগলা কুকুর আসল তেড়ে,
তুমিই তখন মধ্যে পড়ে' হলে আমার ত্রাতা।
এড়িয়ে যেতাম আড়াল দিয়ে যতেক তাগিদদারে,
ব্যাঙের ছাত—মাসিকগুলাের ডাকাত এডিটারে।
নেই তেমন আঙুলে বল
কাজেই লেমনেডের বােতল,
তােমার ডগায় খুলে আমি খেইছি বারে বারে।
খােকার ঘােড়া ছিলে, খােকা ছুটতাে তােমায় চড়ে
খেলাপাতী পাতত খুকী তােনারে ঘর করে।
রা
লুকিলে নভেল টেবিলতলে
যে সব ছাত্র কৌতূহলে
পড়ত, তুমি ছত্র, তাদের পড়তে পিঠে জোরে।
হয়ত নৃতন লােকের কাছে সুখেই আছ নিজে,
হায়রে আমি পথে পথে মরছি ভিজে ভিজে।
মরছি হেঁচে মরছি কেসে,
জাছনাত, মলিন বেশে
শালিক সমান কাঁপছে হেথায় তােমার মালিকটি ৰে।
হয়ত নেহাৎ দায়েই পড়ে গিয়েছে কেউ নিয়ে,
বেরােয়নাক ধরাপড়ার ভয়ে মাথায় দিয়ে।
হয়ত মাকড়শাদের জালে
বন্দী হয়ে স্কুলছ চালে,
আরণ্ডলারা ডিম পেড়েছে তােমার মাঝে গিয়ে।
নতুন মালিক হয়ত দালাল, নম্বত ভবঘুরে,
নয় উমেদার, সারাটিদিন মরছ ভিজে, পুড়ে।
কেমন আছ নতুন হাতে?
সইবেত ভাই তােমার খাতে।
তােমার শােকে প্রাণের সাথী, পরাণ আমার বুয়ে।
সন্দেশসুন্দরী
হাতেমা হেরি মম
মজিয়াছে মন
ওগো সন্দেশ সুন্দরী,
তব—পান্তুয়া-ঠোটে
রস পিইবারে
রসন উঠিছে গুঞ্জরি'।
আমসন্দেশে কাল’জাম দিয়া,
কে রচিল তব আঁখিযুগ প্রিয়া?
তবতালশাঁসে রচা
চিবুক শােভছে
নিখিলের প্রাণ মন হরি।
কিবা-ভিজে-গজা, জিভ, সিঙেড়ার নাক,
শুকপাখী তাহে লাজ পায়,
ফুলােকচুরীতে গড়া
কপােল তােমার
হাসিলে কেমন টোল খায়।
জীলিপ কাণে মিহিদানা-দুল,
পুলীর আঙুল করে তুল তুল,
আর-হাসাে তুমি কিবা
এলাচ দানার
শাদা দাতগুলি বার করি।
1
ই
k
দুই -হাতে তাের শােভে
ৰকীয়া চুড়ি,
বুদে-দিয়ে-রচা হার দুলে,
আহা-অমৃতী পাকের
বালাজোড়া তোের
মধুঝঙ্কার তুলে।
তুই সেই ভােরাজের দুলালী,
যুগে যুগে মাের পরাণ ভুলালি,
তুই-তিলে তিলে বুঝি
মধুসঞ্চয়ে
স্বর্গের নব অঙ্গী।
বন্যতা।
যাহা কিছু কামাই সবি চ্যারিটিতেই যায়,
দানের পুণ্য ছাড়া আমার কিছুই নাহি হয়।
বড় ছেলেয় দিচ্ছি পঁচিশ,
মাসে বাইশ নিচ্ছে শচীশ,
দুধের নােজও আছে খােকার, গয়লা টাকা চায়,
গয়লা পালন হচ্ছে, কাজেই কানই বলা যায়।
পাঁচশ’ টাকার গয়না দিয়ে দিলাম মেয়ের বিয়ে,
ফেরত ত আর দিলনাক, বেহাই গেল নিয়ে,
দ
তা ছাড়া এই পূজার সময়
কাপড় চোপড় তাও দিতে হয়,
মূল্যটা তার রাখছি লিখে খয়রাতী খাতায়,
বাধ্য নহি দিতে, কাজেই দানই বলা যায়।
ভায়ের মায়ের (আমায়রা তাই, তার-ও হলে যা।
ভায়ের কাছেই থাকে তাইতে বলছি ভায়ের মা),
কাশী যাওয়ার সময় যখন,
টাকার জন্য লিখল মাখন,
শটি টাকা—দুইটি আনা খরচ হলাে তায়,
ভায়ের দেওয়ার কথা,-তাইতে দানই বলা যায়।
গিন্নীকে দেই দু’দশ টাকা প্রায়ই মাঝে মাঝে,
তিনি তাতে গয়না গড়ান, একেবারেই বাজে।
মায়ের শ্রাদ্ধে ভাগনে বেচু
চাইলে টাকা, দিলাম কিছু,
বাবার মেয়ের শ্রাদ্ধ, তা’ত আমার নহে দাম,
দেখলে ভেবে এরে নিছক দানই বলা যায়।
গিন্নী আমার রাধতে জানেন, তবু ঠাকুর পুষি,
গরীব বামুন পাচ্ছে খেতে তাতেই আমি খুসি?
যেদিন আমি যাইনা বাজার
ঝি-চাকরের জয়জয়কার।
চুরি করে নিশ্চয়ই ত বেশীর ভাগই খায়,
প্রকার ভেদে পরােক্ষে তায় দানই বলা যায় ।
তা ছাড়া প্রায় সকল জিনিষ পয়সা দিয়েই কিনি,
দেখতে গেলে পয়সা নিয়ে খেলছি ছিনি মিনি ।
পাচটা লােককে কোনরূপে
পালন করি
চুপে চুপে
কোনো রূপে পরােপকার একটা অছিলায়,
চাক পেটাতে কিন্তু ভায়া দেখবে না আমায় ।
মদন
মােহন
ক্রমান মদনমােহন বাবুর রূপে সবার মন ভুলে,
কে রঙালল এ কার্তিকে এমন কালাে রঙ গুলে?
দশগাছি চুল একটি দিকে
অন্য ভাগে পাঁচটি রেখে,
টেরি তিনি কেটে থাকেন স্নানের পরে টাকচুলে।
তার উপরে চলেন তিনি বাবুগিরির তাকু মেরে।
খেংরা গোঁপে তা দেন সদা কোষ্টা যেন পাক মেরে।
ক
গোঁজ-আঙুলে আবার যখন
হীরের আংটী পরেন মদন,
লােকে বলে ফুলের মালা দুম্বা ভেড়ার লাঙ্গুলে ।
বাঁধা জাতে হাসলে পরে (বেশ কথাটি কয় নালু)
মদন বাবু হাসেন যেন ভালুকে খায় শাক আলু।
থাকলে গায়ে লাল জামিয়ার
কুঁচের মতন খােলে বাহার।
ফেঞ্চকাটে কাটা ছাঁটা, দাড়ী তাহার জলে।
আধেক ধরা টিকের মত, পান খেলে হয় রঙ, ঠোটে
কাকের মুখে সিদূরে আম এম্নি প্রবাদ যায় বটে।
গােদা পায়ে পম্পং জোড়া
গােদের উপর দু’বিষ ফোড়া,
শ্যাওড়া গাছে আলােক লতা, মিহিন চাদর গায় ঝুলে।
এর উপরে রেশমী কামিজ পরতে না হন লজ্জিত
ময়লা যেন তাকিয়াটি রেশমী ওয়াড় সজিত।
নাইতে গেলে জলে যেমন
চেহারা হয় চেপ্টা বামন,
তেমনি বেঁটে মদন বাবুর বিপুল ভুরি যায় দুলে ?
৪২
পেটের দাম।
বলেছিলাম পুত্র তােমার
কার্ত্তিকটি—সােনার চঁাদ,
মিথ্যে কথা, গগাবর গণেশ,
আহা কি ছিরির ছাদ
মন যােগাতে বলেছিলাম
মেয়ে গুলােয় পরীর দল,
রক্ষা কালরি বাচ্চা ওরা
অশােকবনের চেড়ীর দল।
রূপে তুমি মন মােহন
বলেছিলাম হয় মরণ,
সত্যি কিন্তু শমন-বাহন
এমনি তুমি কুদর্শন।
আয়নাতে মুখ দেখলে পরে
থাকবে না সন্দেহ তায়,
তবে কেন বলেছিলাম ?
কেন জান? পেটের দায়।
রসকদম্ব
সত্যপীর,
বলেছিলাম পুণ্যে তুমি
স্বয়ং যেন যুধিষ্ঠির,
ন্যায়-ধর্মের প্রতিপালক
পয়গম্বর
আসল কথা তুমি একটি
ভীষণ রকম পাষ-গু
অত্যাচারী দৈত্য তুমি
ভােগ-গর্দভ
বলেছিলাম দাতা তুমি
বলির মতন গুণধাম,
আরে রামঃ, সাল বেলায়
কেউ করেনা তোমার নাম।
তােমার বাড়ী হতে দেখি
পিপড়ে গুলােও কেঁদে যায়,
সে সব কথা বলেছিলাম,
কেন জান? পেটের দায়।
বলেছিলাম জ্ঞানী তুমি
সর্ব বিদ্যায় বিশারদ,
তুমি গেলে পূরণ করতে
পারবেনা কেউ তােমার পদ।
-
মিথ্যে সবি। তােমার মতন
নেই মুঢ় দুনিয়ায়,
অকালকুষ্মও তুমি
সড়ভরতও বলা যায়।
গিন্নী তােমার অন্নপূর্ণা ।
নেই এতে সত্য লেশ,
গয়নাতে গা, কাটলেটে গেট
তে তিনি শক্ত বেশ
লক্ষীর হাতে আঢ়ি কিনা
একটি মুঠোও কেউ না পায়
তবে যে সব বলেছিলাম,
সেটা কেবল পেটের দার।
বলেছিলাম তােমায় আমি
আভিজাত্যে পুরন্দর,
সমাজপতি মহাকুলীন
সৌরকুলের
ধুরন্ধর।
আরে রাম, তােমার বাড়ী
পা ধুলে বা পাতলে পাত,
নেহাৎ যে জন অনাচারী
থাকেনাক তারাে জাত।
ক
তবে যে ঐ পােলাও খেতাম
করে আমার ঘাড়টি হেট
সে এই দগ্ধোদরার্থে
অর্থাৎ ভরতে পােড়া পেট।
অনেক মিছেই বলিয়াছি
তৈল ঢালি গােদা পার,
কেন বলেছিলাম জানো?
শুদ্ধ কেবল পেটের দায়।
প্রশস্তি।
ফুলের মধ্যে শিমুল তুমি, ফলের মধ্যে মাকাল,
গাছের মধ্যে ভুততা শেওড়া মাছের মধ্যে পাঁকাল।
নেশার মধ্যে চরস গাঁজা,
চাষার রাজ্যে শুকো হারা,
আমার ঘরে বিরাজ করে মুক্তিমন্ত আকাল।
চালের মধ্যে আউশ তুমি ডালের মধ্যে খেসারী,
পাড়ার লোকের কানের জ্বালা জাতের মধ্যে কারী
বানের মধ্যে উটের গাড়ী
অঙ্গের মধ্যে খোচা দাড়ী,
বাল্যকাগে ছেলের মধ্যে ছিলে নিশ্চয় রাখল।
আনাজ মধ্যে তেতাে কুমড়াে বাহন মধ্যে পেচক,
তেলের মধ্যে ক্যাস্টর অয়েল, বিষম রকম রেচক।
পাখীর মধ্যে কাদা-খোঁচা।
অপদার্থ সবার ছা,
চোখের জলে নাকের জলে মাের জীবনের নাকাল।
তোমরা ও আমল্লা
(১)
তােমরা মােটর হাঁকায়ে চলিয়া যাও,
আমরা হোঁচট খাই,
চাকার কার ছিটেয় সাজিয়া ভুত
আফিসের পানে ধাই।
চলি হাঁটুজলে রাস্তা খুঁজিয়া খুঁজিয়া,
হেঁটোর কাপড় কোমড়ে তুলিয়া গুজিয়া,
দেরী হলে পাছে রুজী মারা যায় বুঝি বা
চলি তাই ছুটিয়াই
৪৭
গরমের দিনে তােমাদের ঘরে ঘরে
ফ্যান ঘুরে কন ফন,
আমরা দুপুর রৌদ্রে পেটের দায়ে
ঘুরে মরি বন বন।
শাল দোলায় তােমরা বেড়াও সাজিয়া
পরি ছেড়াজামা গা’র তেলে মােরা ভাজিয়া,
করিয়াছি ধােপা নাপিতের সনে কাজিয়া
মিটাতে ইচ্ছা নাই।
1
তোমরা পােলাও দেখায়ে দেখারে খাও
মােরা খাই নিমসীম,
তােমরা মােরগ হংস ডি খাও,
আমরা ঘােড়ার ডিম।
চপ কাটলেট হােটেলে গিলিয়া ঠাসিয়া,
থিয়েটারে যাও পেটের গেঞ্জি ফাসিয়া,
আমরা যেন গাে বানে আসিয়াছি ভাসিয়া,
খালি পেটে তুলি হাই।
দুপুরু গদিতে তােম ডাকাও নাক,
সিংহনিনাদ ছাড়ি’
আমরা কুঁড়েয় অথবা আঁস্তাকুড়ে
সারারাত মশা মারি।
৮
রসদ
তােমর বিশাল তােমরা সবাই হস্তী,
আমরা ফড়িং দেহে প্রাণটুকু অস্তি,
তােমাদের সাথে কেমনে হইবে দোস্তি
আচ্ছা বল ত ভাই ?
(২)
ফাঁকি-জুকী দিয়ে আমরা করেছি টাকা
তার ভাগ বুঝি চাও?
দুপুর বেলায় একটু ঘুমুই তাই
হিংসেয় মরে যাও।
চপ কাটলেট কোপ্তা কাবাব খাই
হজমের ঠেলা আমরাই সামলাই,
পেট ছেড়ে দিবে, করিবে যে আইঢাই
একদিন যদি খাও।
জানলা ত চাদ গালে ক্ষুর ঘসে নিতি
কামানর কত ঠেলা,
সাবান বষিতে জান না ত গায়ে জোর
লাগে কত দুই বেলা।
হিংসেয় মরাে, আমরা বােতল টানি
বাও দেখি চাঁদ আমাদের লালপানি?
৪
রসকদম্ব
ভারি ত মুরদ থাক, থাক, জানি, জানি,
হও কেন পিছ-পাও।
‘ফ্যাস-মাফিক পােষাক করিতে হয়
খেটেখুটে সাবধানে,
গলদঘর্ম হতে হয় কত বয়ে’
থােপার গাধাই জানে।
wহব-সুবোর সাথে খেলা, বসা, চলা,
বাংলা নয় গাে ইংরাজি কথা বলা,
কত ঠেলা জানাে, মাঝে মাঝে কানমলা
চুপ করে সই তাও।
সােজা নয় চাদ ভাল খাওয়া, ভাল পরা,
মটর ল্যাণ্ডো চড়া,
দেনার খবর যদি শােনাে তবে হবে
চোখ দুটা ছানাবড়া।
ঘুঘু দেখিয়াছ ফদি ত দেখনি তার,
দোকানের বিল দেখ যদি একবার,
হয়ে যাবে তবে আধ হাত জিভ বার
বকামােনা নাও! নাও।
রসকদম্ব
কোণীর বাণী
(প্যারাভ)
যখন সঘন গৃহিনী গরজে বরিষে বকুনি-ধারা,
সভয়ে অমনি আবরি নয়ন, লুপ্ত সংজ্ঞা সাড়া।
রক্তিমা ধরে অধীর রাগে তাহার আনন খানি
সতত কুঠার-পাণি সে-যগাে আমার নিদয়ারা।
জ্যোৎস্না-নিশীথে তাহার সকাশে পরাণ বেহাগ গাহে,
ত্রস্ত স্মরিরে শ্রীহরি, ঘরণী যেন্নি গহনা চাহে।
তখন চরণে রাজে, আমার চটুল চতুর পাণি,
আমার কুটীর রাগ সেযেগাে আমার হৃদয় রাণী।
আপিসে হােটেলে বাজারে গঞ্জে সকালে বিকালে সবে,
তাহার কুটী ত্রাসে হৃদয়ে আরত সকলি বাজে।
সাহেবেনাে তাড়া চেয়ে হায় তারে বড়ই কঠোর জানি’
আমার কাঠের ঘানি সেযেগাে আমি তা’ সদাই টানি।
বহুদিন পরে করেছি আর এবার ছুটীর দাবি,
দেখিব হরষে বধুরে সাদরে, হইয়া অধীর ভাবি।
শুনিব কলহ রাস-কণ্ঠে শাসন-প্রখর বাণী।
আমার ছুটীর রাণী সেযযগাে আমার বিদায়-রাণী।
রসকদ
बा
(প্যারডি)
অয়ি—জীবনধনহারিণী ।
অয়ি—নির্জলা,সূৰ্য্যকৰােজ্জল বরণী
গণিকা-রিণীতারিণী।
নীল-বােতল-লবাসিনী টলমল,
ফেনিল বিকম্পিত, মাতাল-সম্বল,
স্তম্ভিতে চুম্বিয়া কর তুমি চঞ্চল,
শুভ্রে ধূসর-কারিণী।
প্রথম অক্ষমী আগম তব সেবনে,
প্রথম মােমরসে আস’ তপােবনে,
চরম সর্বনাশ তুমি জন ভবনে,
ধ্যানধৰ্ম্মশতপুণ্যকারিণী।
চোর-কল্যাণময়ী বলি গণ্য,
দেশবিদেশে লুটিতেছ অন্ধ,
ভৈরবী-যােগিনী-সমাদৃতভগিনী,
'থান্য-মধুদ্রাক্ষাচারি ।
}
মক
নব্যা
জাননা—বিশ্রামটাও কাজের মধ্যেই—সেটাই বড় কাজ,
আছে-বাজে কাজের জন্যে তােমার মা ভগিনী তাজ।
কুলীর দ্বারাই যে কাজ চলে
সে কাজ তারা করতে বলে,
পত্নী তােমার বাঁদী দাসী? হয়না মনে লাজ ?
কাপড় কাচা, বাসন মাজে, এটো ঘুচোও, বাপ,
দুদিন পরে বলবে, করে পায়খানাটাও সাফ,।
ঘটর বটর বাটনা বাঁটো,
আলুর সঙ্গে আঙুল কাটো,
রান্না ঘরের ধোঁয়ায় ঢুকে মাথায় হাটে বাজ।
চিঠিলেখা, গল্প করা, নাটক নভেল বােঝা,
মূখের সব ভালো বাজে, যেন কতই সােজ।
দেশের দশের খবর রাখা,
বিলাস ভাবে সাবান মাখা,
উলের লেসের ফুলতােল বা নারীদেহের সাজ।
চাকর দাসী রাখতে নায়াে মিছে আমায় দোষো,
দুজন না হয় মাসী পিশীই নীচের ঘরে পােথযা।
বুঝেছিত তােমার ওজন,
না হয় বলাে, দাসী দুজন
খরচ দিয়ে পাঠিয়ে দিতে লিখছি বাবায় আজ।
তােমার মুদ
তুমি—নির্মম করে চুরমার কর নারীর মর্ম খোঁচায়ে,
অবন দিতে অক্ষম রয়েছ শাসন ওঁচায়ে।
তুমি—লক্ষ্যশূন্য বাক্যবাগীশ ঘুরিয়া বেড়াও পাড়াতে
জাননা কেমন, কঠেল। ধন, দুইবলা ভাত বাড়াতে।
তুমি, -সকল কৰ্ম্ম হস্তা, জি, ফুটোঘটি ছেড়া কস্থা,
রােজগার ভারি, তবু ঘরবাড়ীকোনরূপে রাখি গােছায়ে
টাকা, বেশী না আনিলে
লয়ে ছেলে পিলে
স্বচ্ছলে চলে কেমনে,
তুমি, বলদের প্রায়, বােঝন যে দায়
কে পারে তােমায় বচনে?
আমি—ধোয়ায় কাসিয়া কাঁদিয়া,
নিতি-মরছি রাঁধিয়া খাঁধিয়া
তবু যশ নাই,
দোষ দাও, কেন
কাপড়ো দেইনা কোচায়ে।
ঃ
সমাজে
যদিও হােটলে গিয়ে খেয়ে আসি মাংস,
জলচর ভূচরের খাই অধিকাংশ।
সহরে খাইয়া কি এখানে ও ওখানে
যাই বটে কাটলেট চপ চা'র দোকানে,
টীমারে যদিও খাই মাঝিদের হাঁড়ীতে,
যদিও মােরগ খাই লুকাইয়া বাড়ীতে, ,
তাই বলে মূখেরা মনে মনে ভাব কি,
যার তার সাথে আমি সমাজেও খাবকি ?
শুড়িদের হেঁসেলের চাট সহ আধারে
ভেতােমদ খাই বটে বসে তার পদারে।
আকাচা কাপড়ে খাই অস্নানে সকালে,
তেলী বাড়ী খাই বটে লােভ কিছু দেখালে,
খাই বটে একপাতে শেঠেদের সঙ্গে,
তারা ধনী, সখা ভাবে চলে রস রঙ্গে।
কেহ যদি জিজ্ঞাসে—এই সব খাওকি ?
সমাজে স্বীকার করি ভাবিয়াছ তাওকি ?
কোথাও পােলাও পেলে দোষ কিছু দেখিনা,
পাইলে পাটার ঝোল জাত খোঁজ রাখিনা,
মুচি যদি লুচি দেয় খাই তাও আড়ালে।
শিবুসার দোকানেও বেশী দেনা দাড়ালে,
নূতন খাতার দিনে দিনে খাই কচুরী
রাত্রিতে খাই বটে কোৰ্ম্মাও খিচুরী।
তাই বলে মূখেরা মনে মনে ভাবকি ?
সাদাভাত শাকােল যেথা-সেথা খাৰ কি ?
যদিও অপােচ আদি ঠিক মত মানিন।
সংস্কৃত খিটিমিটি একটুও জানিনা।
গােত্র বংশ গাঁই পারিনাক বলিতে-
সন্ধ্যার প্রয়ােজন হেরিনাক কলিতে।
যদিও মরিলে গােরু দেই মােরা উড়ায়ে
বুড়া জ্ঞাতি খুড়াটির দেই মাথা মুড়ায়ে
তাই বলে যাব কি গাে মসজিদে নমাজে?
তাই বলে জাতে কিগাে ছােট হব সমাজে?
তাই বলে সাদাভাত যেথাসেথা বকি ?
দেবলের সাথে চলে তার বাড়ী যাব কি।
গণকের জল খায়, আরে রাধা মাধববা!
কি ভীষণ তার বাড়ী আমি কিনা পা খােবাে ?
যার বাপ নাপিতের বাজকতা চালাত
তার বাড়ী খেতে হবে ? ক নয় জ্বালা ত।
রসক
অমুকের শালা গেল বাগদাদে পালায়ে
নিব তার ভাগনীর জামায়েরে চালায়ে ?
করণ করিল যেবা গঙ্গার ওপারে।
অথবা মন্ত্র দিল যার বাপ খােপারে,
পনের-বছুরে মেয়ে যার বাড়ী অনূঢ়া,
যার বাড়ী খায়নাক ও পাড়ার মসুর,
তার বাড়ী খাবাে আমি? কুলে যেবা নীচুতে
খাওয়া থাক তারবাড়ী পা খােবােনা কিছুতে।
গােপনে অনেক খাই জানে কোন শালা কি ?
স্বীকার করিব তাই ? পেয়েছ কি চালাকি ?
কন্যাদয়ােদ্ধার
মােরা-টাকা পেলেই রাজি আছি
করতে কন্যাদায়গ্নদ্ধার,
তাহােনা শ্বশুর অশ্ব, তাহার
পশুর মতন ব্যবহার ।
বায় যাবে জাত যায় যাবে কুল,
ঠেলবে ঠেলুক খুড়ে মাতুল
হােনা বৌটি শেষে না হয় গোপদাড়ী চুল প্রায়শ্চিত্তে হােক সাবাড়। পেঁচী খাদী হােকনা হদী হােনা নেড়ী, হােকনা রােগা জ্বরেভােগা হােনা খোঁড়া হােনা টেড়ী। হােনা কুড়ী-কুষ্টি কালো হােনা তাদের গুষ্ঠি কালাে না থােক তাহার কুষ্ঠী ভালাে কোন বিচার নেই তার। হােক না দেখতে তিন ছেলের মা হােক্ না উনিশ কিংবা যােলাে, পোঁটা ঝরা সাতবছুরী বিয়ের বয়স নেই বা হােলো। হােক না হেঁপােহােক না কেশে। রাগবে রাগুক পিশে মেসসা, শ্বশুর বাড়ী হােনা বেঁশাে সে সব দিকে নির্বিকার। বাপের খর- চান্ত করে’ পাশ করেছি এগজামিন,
বি-এ এম-এর
নেইক সাধ্যি
রােজগারে যে ধবে ঋণ।
পিতৃ ঋণের ব্যবস্থাটা
কাজেই দেখ শ্বশুর ব্যাটা
করবে কেটা?
আমরা এটা বুঝি সার।
ভিম বলে
কা
ঠিক বলেছ ঠিক বলেছ, হয়নি এটা খেয়াল,
ঘর করতে হলে আবার লাগবে তাহার দেয়াল,
ঘর ঢুকতে দুয়ারাে চাই,
ভাগ্যে এটা বল্লিরে ভাই,
কপাট-ও চাই নইলে ঠিকত, কবে কুকুরশেয়াল।
ভাগ্যে তুমি বল্লে, তাইত
নইলে ওঘর কিসে ছাইত।
উলু গুলােয়ে ভেবেছিলাম বুঝি গরুর পােয়াল।
ভাগ্যে তুমি বল্লে আবার
রান্নাঘরটি হবে আমার,
নইলে ভাবতাম ওটা বুঝি হবে তােমার গােয়াল।
রক
গিন্নীর রান্না
গিন্নী, তােমার কি সুমিষ্ট রান্না,
খাওয়াও যাহা আহা আহা রাজাও তাহা খান।
আহারেধেছ এ বােল কি অম্বল ?
দিনে-রান্নাঘরের সব সম্বল,
এযে-লােম বাছতে যায় কম্বল
(বড় দুঃখে, থুড়ি) আনন্দে পায় কান্না।
এযে-মাছের সঙ্গে ভাঙ্গা চুলাে,
আর—দেখছি পথের কাঁকড়গুলাে,
ঘুটেপাটের কাঠি, ঝাটার ধুলাে,
( ছাই ভয়-থুড়ি) খাচ্ছি হীরক পান্না।
দেছ—বেগুন পােড়ায় হদি বাটা,
এযে বড়ার মাঝেও মাছের কাটা,
তােমার-গলদা চিংড়ি গদি ঘাঁটা
(ঠেলে রাখতে, থুড়ি খেতে কে আর চাননা।
আহ—পরমান্নও হয়েছে লাল
দেই—ঠেসে বুঝি লঙ্কার ঝাল,
থােকার-চড়চড়িতে চড়াই যে গাল
( তুমি ত্রেতার, থুড়ি) কলির জনক কন্যা।
রসকদম্ব
তুমি-কন্তু, থুড়ি, রাজার বাড়ি
আহা—যদি ভুলে কাড়তে হড়ী,
ঠিক—বইত,তবে বলতে পারি,
(তেলের পিপে পেয়ে) ভাতেও তৈল বন্যা।
ছিলে—চিল্কা কিংবা লিভার পুলে,
এলে—ধিতে আমার লিভার শূলে।
কেন—নিউক্যাসল্ কি আসন সােলে
( ঠিক—খাদের ধারে ) করলে না ঘরকন্না ?
মিঠে বঁধু
মধুময় বঁধু তব মিঠাই বেবাক।
পেটে পেটে ঢাকা তব জিলিপির পাক।
চোখদুটা রাগে ভরা যেন দুটী ছানা বড়া
গােল্লায় পাঠাইতে জান কত তাক।
মিছরির ছুরী যেন কথা গুলি মিঠে হেন
হুলে ভরা হৃদিখানি যেন মউচাক।
মগজের গােলে খােলে রসের ভিয়েন চলে
ভারসি বাসে ঘুরে বােলর ঝাঁক।
কিনী
চাকরী তােমাতে
তােমার মায়াতে
মােহিত বাঙালী জন,
হেন সাধ্য কার
তােমারি মায়ার
বাধন করে বিচ্ছেদন।
সংসার পাতান দারা স্বত নিয়ে
তুমি না থাকিলে পুষিব কি দিয়ে?
তুমি, দিতেছ যে ঠেলা
তুমিই আমার নিত্যধন।
তােমারি ইচ্ছায় কাচ্চাবাচ্চা বাঁচে,
তােমার দয়ায় দেহে প্রাণআছে,
তুমি—নিয়ে যাও যে দেশে যাব গাে সে দেশে
পাই-না-পাই প্রােমােশন।
ঠেলি তা’ দুবেলা
লঙ্কা মল্লিচ
হিলি ওরে মারীচ, সাগর পারে লাবীপে।
ছিলিরে -মালীর বাগে ছিলিরে তুই সােনায় চিপে।
সূক্ষ্মা কাজল করে তােক
শূর্পণখা অকত চোখে।
চোলাই করে পিইত তােরে,
রাক্ষসেরা পিপে পিপে।
লঙ্কা-মরীচ আখ্যা পেলি
ছিলি বলে’ লঙ্কা দ্বীপে।
তােরে সেজে গড়গড়িতে
রাবণ রাজা গুরুক খেত।
নশ্যিটি তাের নাকে খুঁজে
কুম্ভকর্ণ ঘুমিয়ে যেত।
মন্দোদরী মাখত সুখে
তােরই আতর গায়ে মুখে,
তাের বীচি না থাকলে পানে
পানগুলাে তার লাগত তেঁত।
চা-র বদলে বীরবাহু বীর
সিদ্ধ করে তােরেই খেত।
তাের ধোঁয়াতেই ধুম্রলোচন
নর বানরে দগ্ধ করে।
তাের ধোয়াতেই রাক্ষসীরা
শুকত চুল স্নানের পরে।
৫
রসক - হলুদ বাটা তােরই সাথে মাখত তারা আগুন-তাতে। তােরই সুরস দিত তারা শিশুর মুখে আঁতুর ঘরে, তােরই পায় দিত তারা জামাই এলে আদর ভরে। পহিল চাষ করল যে তাের, নামটি তাহার মারীচ হলো। তাের ঝাঝিতেই বিশ্ব ভরে’ তাদের এত প্রতাপ বলও। জম্মালিনে সে বার ক্ষেতে তাের অভাবে আকাশেতে, রাক্ষসের নির্বংশ হলাে দলে দলে সবাই মলাে। বানর সেনা তুচ্ছ, কি আর লঙ্কাপুরীর করলে বলাে? লঙ্কা তিনি বিজয় সিংহ ফিরল যখন বাংলাদেশে, প্রবাল ভেবে বিজয়-চিহ্ন- স্বরূপ তােরে আনল শেষে
পদ্মা মেঘনা কর্ণফুলী
গায় জয় তাের লহর তুলি।
গাঙলি দেশের রান্নাঘরে
যদিও তুই কাঙাল বেশে,
রাঙা মাণিক আজো আছিস
সমাদৃত বাঙাল দেশে।
তাের সমাদর করতে আমি
পারি না হয় বিশেষ মত,
অনেক জ্বালায় জ্বলছি আমি
তাের জ্বালা আর সইব কত?
তবু, তাের সমাদর বাড়বে যতই
ভাতের অভাব ঘুচবে ততই
রবে কি আর অম্লশূলীর
তের প্রয়ােজনটা তত ?
পেটের জ্বালা থাকবে না আর
তুই যদি বােস কণ্ঠাগত।
প্রসকদম্ব
न
?
সবই ছিল—সবই ছিল।
বলে মাছ যাদের নৃতন তারা কি আর দিল?
রেল ইষ্টিমার টেলিগ্রাফী ছিল ছিল ভারতব্যাপী,
ছিল মােদের ফোটোগ্রাফী ছাপাখানা, পেপার-মিলও।
ওদের যাতা সবই ছিল বেশী ছিল মােদের বরং,
প্রমাণ করে ভেঙে দিতে পারি আমি ওদের ভড়ং।
টর্পেডাে কি ডুবােজাহাজ সবই ছিল, নেই বটে আজ
জাহাজ ছাড়াও বীর হনুমান লক্ষে সাগর ডিঙাইল।
এরােপ্লেন ত ছিলই মােদের, নয়ক শুধু শূন্যে ওড়া।
চত লড়াই মেঘেতে ভাই রথের সঙ্গে উড়ত ঘােড়া।
মাথার পরে পাহাড় ধরা, মুখের ফুয়ে ভস্ম করা,
নয়ক সােলা, স্বর্গে যাবার সিডি-ও তাই বিরচিল।
সবই ছিল, বরং বেশী ক্রমে ক্রমে লুপ্ত হলাে,
নেইক এখন ; সুযােগ গেলে, মিথ্যে সবই বলবে বলে,
মরবেনাক সত্য তাতে, করব প্রমাণ হাতে-হাতে,
মােদের ওরা প্রশিষ্যাধম মােদের কাছেই শিখে নিল।
৬
কল্পতরু ছিল হাজার, পরশমণি ঝুড়ি-ঝুড়ি,
গগুযে পান করত সাগর আসত যেত পাতাল ফুড়ি।
কি-আর ওরা করল বাহির করছে যে সব বিন্তে জাহির ?
মােদের যা ছিল, তার ত পায়নি ওরা একটি তিলও।
ভাড়
সত্য কথা বল্লে দেখি রেগে ত হও টঙ।
ভদ্রলােকের আসরে ভাই দিচ্ছ কতই সং।
হাসাচ্ছ ত দেখছি বেজায়,
অমন করে বলো কে যায়
লােক হাসাতে, মুখে মেখে চুনকালী আর রঙ ?
বয়স ত আর কম হলাে না
হুস কবে হয় আর বলাে না ?
ভাট-চালাকী চলছে আজো হাট-ঝুমুরে ঢঙ।
পদার্থ হায় ছিল যা’
ছ্যাবলামীতে পড়লে ছাতা
বিগ্নেবুদ্ধির গােড়ায় ক্রমে ধরে গেল জঙ।
একমৰে
বিলেতে যাইয়া কেহ হইয়া বিন
স্বদেশে ফিরিলে তার কি প্রতিবিধান
সে যে বড় হয়ে গেল এই অপরাধ
ধরি তারে জাত হতে করে দাও বাদ।
এতই নিষিদ্ধ খাদ্য খাইলাম হায়
কোন ফললাভ দেশে হইল না যায়।
তাহার অখাদ্য খাওয়া হইল সার্থক
এই দুঃখ সহ্য করা যায় কাহাতক ?
যদ্যপি অনুঢ় থাকে তবে তারে ধরাে
ভগিনী বা ভাগিনীর সাথে চেষ্টা করাে,
যদি রাজী নাহি হয়, দূর কর তারে
সবে মিলে এক ঘরে’ কর একেবারে ।
যদি উচ্চ পদ পায়, তাহার আফিসে,
অথবা তাহার কোন সহি সুপারিসে,
চেষ্টা করে জামায়ের চাকরীর তরে ;
চাকরী না দিলে তারে কর এক ঘরে।
ব্যারিষ্টার হয় যদি, বিনা পয়সায়
অনুরােধ করে দেখ তব মামলায়
রসক
ব্রিফ তব লয় কি না, দেখ চেষ্টা করে’
তা না হলে সবে মিলে কর’ এক ঘরে।
যদি বা কখনাে পড়াে বিষম ঠেলায়,
সবে মিলে গিয়ে তার ধরাে দুই পায়,
যদ্যপি বিপদে রক্ষা করিতে না পারে,
অগত্যা সকলে কর একঘরে তারে।
যদি না ভাগিনা তব পায় শিক্ষা-ব্যয়,
টাকা ধার দিয়ে যদি শােধ তারাে লয়,
যদি বা তােমার ট্যাক্স না দেয় কমিয়ে,
জাত গেছে বলে তারে দাও তাড়াইয়ে।
আত্মীয় বলিয়া খুব কম মেশামেশি-
খাতির বাড়াতে যাও গায়ে পড়ে ঘেষি,
তাতে যদি মাখামাখি নাহি করে বড়,
দূর
ছাই বলি তারে একঘরে করাে।
তার পর ছেলে মেয়ে বড় হলে তার,
বৈবাহিক সম্বন্ধের চেষ্টা এক বার,
করে দেখ যদি তব না হয় বেহাই,
একঘরে করাে তারে দিওনা রেহাই ।
যদি বা সে সমাজের নাহি ধারে ধার,
ভ্রাতা ভগিনী সব আছে ত তাহার,
ক
তাহাদের কুটুমের কুটুম যাহারা
শেষকালে একঘরে হউক তাহারা।
দেখাও সমাজ আলো যায় নাই মরে’
রাগিলেই করিবারে পারে একঘরে,
বিদ্যা বুদ্ধি অর্থবল কিছু থাকুক
পেতে পারে একঘরে করিবার সুখ।
জননেতা
গালপাট্টা-গুক্ষ পুরু পাকাভুরু, লম্বাদাড়ী-
চকচটোক, গাজুনে ঢাক)-গম্বাটিকি চশমাধারী।
বাংলা দেশের মাথার সব
কোথায় গেল? কেন নীরব ?
কোথায় আজি গেলেন শুনি বক্তৃতারি মঞ্চ ছাড়ি?
নেতাগিরির সখ মিটিয়ে তাে মুখটি করে ভোতা,
ভুরি এবং চঁাদার খাতা গুটিয়ে নিয়ে গেলেন কোথা?
বেশী দিন কি চলে মেকী ?
দেবতা কভু হয় কি ঢেকী ?
মাতৃপূজার ঘট কিগাে হয় পেত্নীতলার ছুতােহাড়ী ?
•
দেশের হাওয়া বদলে গেছে নেতাগিয়ির অনেক ঠেলা,
পরের টাকায় চলবে না আর ফুৰ্ত্তি কি সুৰ্ত্তি খেলা,
ছাড়তে হবে বিলিতি মদ,
করতে হবে গােলামী মদ,
ছাড়তে হবে তেলের পিপে ছাড়তে হবে ধামা আঢ়ি !
সাধের খেতাব ছাড়তে হবে, হতে হবে কাজের কাজী,
চলবেনা খােট, মিলবেনা ভোট শুবেনা কেউ গলাবাজী।
গতিক ভাল নয়ক দেখে,
চশমার খাপ ফেলে রেখে
তাই তারা লােকসভা হতে চেঁচা দিলেন লম্বা পাড়ী।
বিদ্যার প্র
আমরা যতেক এম-এ বি-এ পাশ-করা
বিশ্ববিদ্যা-শিবিরের যত ধনুর্ধর,
তুণঠাস। চোখাবাণ দুলে পিঠভরা
কাখে দুলে বিঙ্কিম ধনু মনােহর।
বর্ষ চতুর্দশ করি শুরুর শুশ্রষা
লভিয়াছি নানা বিদ্যা, পুঞ্জীভূত শরে।
৭১
রুক
অথবা ভরিয়া নেছি লােহার মঞ্জুষা
চাবিটি হারায়ে শুধু বহি পৃষ্ঠ’ পরে।
প্রয়ােগ চলে না হয় প্রয়ােজন হলে
বিনিয়ােগ-কালে মন্ত্র-স্মৃতির অভাব,
গুরুশাপ আনিয়াছি আশীর্বাদচ্ছলে
লােকে ভাবে মহারথী এইটুকু লাভ।
স্তজ হয়ে ঘুরি মাের তৃণবাণ-ভারে
ছুড়িতে জানিনা, তবু মত্ত অহঙ্কারে।
আমাদের বিদ্যা
আমাদের বিদ্যা যেন পশুর ভােজন,
গিলে যাই যাহা পাই না বুঝে ওজন।
ঘৃত পেটে নাহি সয়, কুকুরের মত,
টাক পড়ে লােমগুলি হয় অপগত।
বিড়ালের মত কিম্বা করি তৃণাহার
পরীক্ষা খাতায় করি সমস্ত উদগার।
অথবা গােরুর মত বহুকাল ধরি
জীর্ণ করি বার বার রােমন্থন করি।
१२
রসদ
( প্যারডি)
অমল ধবলাঙ্গ সুগােলঙ্গ টাকা ধরাতলে,
হেরিলে হরে এ প্রাণ মন বক্ষ ভাসে আঁখিজলে।
এমন কবিরাজে ত্যেজে ভজে সে ভজামণ্ডলে ?
তাহার কৃপা লাগি দ্বিজরাজ পূঙ্গে চণ্ডালে।
তুচ্ছ কৰি ধৰ্ম্মন্যায়ে
তুচ্ছ
করি জাতি কুলে
ঘুরছে সবে বম্বে ঢাকা খুঁজছে টাকা সব ভুলে।
ভট্ট ভনে ইহজীবনে নেইক টাকা এ কপালে।
কাটিতে পার মারিতে পার কিনিতে পার টাকা দিলে।
নস্য
লন্থ লিয়ে গিয়ে লাকের সগগা লাহি ভাইরে,
ভভরে এই লাকে আমার গন্ধ লাহি পাইরে।
গভতরটা হচ্ছে বড়
যাচ্ছে চলে যতই ভয়ে,
তালুর খােলহচ্ছে জড়ো তামাকপাতার ছাই রে।
৩
রসকদম্ব
কাসলে পড়ে আলকারা হাঁচলে উড়ে কালীর ছিটে,
সমান আমার বিষ্ঠা আতর বােটকা পচা টাটকা মিঠে।
লােকে বলে লাকের মাঝে
জীব জন্তু অনেক রাজে
গর্জে তারা লালাস্বরে লিভ্রা যবে বাইরে।
লােকে বলে ল্যাষ্টি আমায়, লাকের জলে সােংরা পুথি,
থােপার-বাপের শ্রাদ্ধ-করা লােংরা আমার চাদর ধুতি।
গাইয়েরা সব বেজায় খােনা
ছেড়েছি গালবাজনা শােনা,
গগগা নারায়ণ ব্রোভ লাবার ঘাটে গাইরে।
পরিণয়
( প্যারডি)
পড়াশুনা করব না। আর পরিণয়ে মন মজেছে।
পরীক্ষাতে বড়ই ঠেলা পড়াশুনায় কি লাভ আছে ?
পরব জড়িপেড়ে কাপড়,
পরব গায়ে রেশমী চাদর,
শালার আদর শালীর কদর নাগরদোলায় মন কেড়েছে।
সেটেহলে আয় যাব না
নয়ন জলে আর নাব না
পাণয়ের নামে আমায় হাজার তিনেক পণ জুটেছে।
৭৪
রসকদম্ব
সান্তনা
( স্ত্রী-শাসিতের)
ভাগ্যে তুমি সুন্দরী নও প্রিয়ে,
তাই, কোন রূপে চলছে জীবন তােমাধনে নিয়ে।
নইলে মাথা ভাঙতে ইটে,
খ্যাঙরা আরাে পড়ত পিঠে,
এই দেহটার গীঠে গীঠে উঠত ফুটে বিয়ে।
ভাগ্যে তুমি
নও বিদুষী,
(ক-অক্ষর গােরুর মাংস,
ভাগ্যে তুমি
গান করনা
( গলাটা যে ভগ্নকাংস্য।)
তাই- কোন রূপে বার বাড়ীতে
পারি আমি হাঁপ ছাড়িতে
নইলে বনে হ’তই যেতে লম্বা পাড়ি দিয়ে।
ভাগ্যে তুমি
নওক প্রিয়ে
বড়লােকের কন্যারত্ন,
ভাগ্যে নেই বাপের বাড়ীর
তেমন কিছু আদর যত্ন,
রসকদম্ব
একশােটির দিনে রেতে
নইলে বাপের বাড়ী যেতে
সেজেগুজে বাহির হতে বাক্স গুছাইয়ে।
রক্ষে, প্রিয়ে,
শুনূতে নাহি
অামাে একটা
অল্প শুনে তােমার কর্ণ,
ভাগ্যে তুমি
পাচ্ছ ইহার একটি বর্ণ,
নইলে আমার কালােশশী
আজ ঘটাতে একাদশী,
ঠাট্টা আটা করে আজো তাইতে আছি জিয়ে।
বিয়ে
(প্যারডি )
আর কবে বিয়ে দিবি মা, ঠাকুর-মা
ফুরালাে ক্রিকেট খেলা, বিয়ে দে’গাে এই বেলা
পড়ে পড়ে তনু ক্ষণ, ক্রমে আঁখি জ্যোতিহীন,
এখনাে বিয়ে না দিলে আর কি করিব ক্ষমা ?
খাওয়ায়ে পায়ে মাগাে করেছ কত ঘতন,
অনাদর মা কেন এত দেখবে কবে বধুরতন ?
৭৬
চোখে চশমার ঠুলি, পেকে এল চুলগুলি,
বয়স ত হলাে না কম যত কেন তায় কম।
সামলা মাহাত্ম্য
সবাই মিলে জুটছ কেন হরিঘােষের গােয়ালে ?
কোন্ মাধুরীর লাগি হােথা বি-এ-জীবন খােয়ালে ?
গুতাের্থতি, করছ হােথা
শিঙ গেলে শিঙ পাবে কোথা ?
ভরছে কি আর নাদা-জঠর শুকনাে দুটো পােয়ালে ?
দু একদিন পাও যদি ঘাস
জাবর কাটো তাই বায়ােমাস,
এমনি করে আটকে যাবে চোয়ালে আর চোয়ালে।
চাষীর বাড়ী বয় ধারা হাল,
অনেক ভালাে তাদের কপাল,
পেটটা ভরে খেতে ত পায়, খাটে বটে জোয়ালে।
তবু আছে শিঙ বাকানন,
বীবর্গের ঢঙ খাননা,
সিঙ তােমাদের ভাঙবে, তবু মচকাবেনা নােয়ালে।
৭৭
রসফ
দেশে গতি
দেশের কথা বলল না আর, এ দেশের কি হবে গতি ?
আমার কদর বুঝলে নাক দেশের যত মূঢ়মতি।
জন্মালে হায় অন্য দেশে
যেতাম নাক এমন ভেসে।
কাধে কাধেই নাচতে হতাে, হতাম একটা মহারথী।
কেষ্টবিষ্ট হয়ে পড়েছে হেথায় মধে, রামা, শ্যামা,
গণ্য হবে তৈল ঢালে, বড় হবে, ধরাে ধামা।
চলছে মােকা চলছে মেকি,
চলছে ঘানি চছে ঢেকী,
চলছে খােকা চলছে খেকী হচ্ছে সবাই সমাজপতি।
হায়রে দেশের দশা হেরে বুক ভেসে যায় নয়ন জলে
বুঝবে দাতের মর্যাদাটা অবােধ এ দেশ ফোলা হলে।
হারা হায় হেলায় রতন,
মিলবে না আর আমার মতন।
আমার তাতে বয়েই গেল, অবােধ দেশের কেবল ক্ষতি।
০৮
রক
বিবাহ
(প্যাভি)
বিবাহ—এই বিবাহের জন্য এত তাড়াতাড়ি,
(এই বিবাহ, এই বিবাহ, এরি তরে মারামারি।)
ও যার—বিষম ঠেলায় সকাল বেলায়
ছাড়তে বুঝি হয়গাে বাড়ী।
কোথা সেই—চন্দ্রমুখের
রসের কথা-সুখে-দুখের
চাদের সুধা নিয়ে কোথায় কাড়াকাড়ি
(কোথায় সুধা কাড়াকাড়ি)
অর—কোথা এই ছিন্নমস্তা, খড়গহস্ত।
কন্যা প্রসবিনী নারী।
জ্বলেইআছে তেল-বেগুনে
ছেলে মেয়ের মারছে পুনে
যদুর পিশী, মধুর মাসী আসে শুনে,
( পাড়ার লােকে আসে শুনে)
রাত্রে—ঘ্যানঘ্যানানী-প্যান প্যানানী
গয়না তরে মুখ হাঁড়ী।
কার
দেখাইয়া দাও আমারে
তােমরা ভাই সেই মামারে
যে বেটার-উপরােধে—এ ঝকমারী,
বেতাল-ভট্ট ভনে জেনে শুনে
করত কে এ কেলেঙ্কারী।
ই
ভারি বাড়াবাড়ি অল্পেতে দেখি খপ করে উঠ ক্ষেপে।
চোখ রাঙা করি প্রতি কথাতেই চপ করে ধরে চেপে।
যেন খাজাখ। নবাবের বেটা,
যেন চেঙ্গিজ নদীরের জ্যেঠা,
ভাব বুঝি তবে বসেই পড়বাে থপ করে’ ভয়ে কেঁপে।
ভুরতে সব বেখুব বাতুল
তুমি যা বলিবে তাহে নাহি ভুল,
সােকে যারে বলে আমজাম তারে টপ করে বলে পেঁপে
করােনা চালাকী যথায় তথায়
চটে উঠনাক কথায় কথায়,
একদিন কবে পটকাবে ফেটে দপ করে’ ফুলে ফেপে ।
দুঃখীচরণ
"দুঃখীচরণ চকবত্তী রাখেন বা কার তক্কা,
রাজা উজীর মারেন ঘরে চলেন লাহাের মা।
লঙ্কাগিরির টেক্কা দিতে
কে আঁটে য় ফকরিতে?
লক্ষ লােকের সাক্ষ্যে সদাই বাজান আপন ঢাকা।
পাকা ফাজিল ছাকা করে
মুলু জেনেন বাক্যজোরে,
বুঝতে বাকি নেইক বেবাক ফকী এবং ফক্কা।
ধাক্কা খেলে শিক্ষা হবে
আলেও তার জাগবে তবে
টকো লােকে টক্করে উঁদ পাবেন কবে অকা।
সালাদ
কি যেন কি বিশেষ কথা
বলুতে, যদু, ভুলে গেলাম,
বলছি, (আরে কেহে চাচা
কেমন আছ সেলাম সেলাম।)
৮১
হা কথাটা হচ্ছে কি এই
ওর নাম কি-ঠিক মনে নেই,
(ওরে হরে তামাক দেয়ে,
এক্ষুনি কি তামাক খেলাম?
কি বছিলাম ভাবছি বসে
উঠ ছকেন? একটু বসাে,
( ওহে বিপিন শােন’ শােন’-
নিমাইয়ের আজ চিঠি পেলাম।
দাড়াও যদু আসছে ঠোটে
পড়ছেনাক মনেই মােটে,
(নলিন ভায়া বােসো বােসাে
তােমার দেশ যে ঘুরে এলাম।)
কি বলছিলাম তাইত, যদু,
(চাচা খুব ত খাচ্ছ কদু ?
আল কথা চাচা মাের
বাগানখানা হলো নিলাম ?
হ্যা ভাই যদু কথাটা এই
(নলিন, তােমার কাল ছুটী নেই?)
তাই ত তাই ত ভাই হে যদু
কি যেন কি বলতেছিলাম ।
২
কবিবন্ধুৰ আক্ষেপ
পিতা কন, হতে যদি ডেপুটী মুন্সেফ,
জমিদারী এষ্টেটের কিম্বা ম্যানেজার,
এ বুড়া বয়সে তবে হত না আক্ষেপ
হিল্লে পেত, বেঁচে যেত এ সেন-সংসার।
পত্নী কন, হতে যদি পুলিশের লােক,
অন্ততঃ নেহাৎ পক্ষে ওভার-লীয়ার,
পেতে হতােনাক তবে গহনার শোক
বাড়ীটি দোতালা হত, ভাবনা কি আর?
কহেন শ্যালকগণ তােম বারবার
বলিয়াছি ছাড় ছাই কাব্যি-লেখা লােগ।
তার চেয়ে কয়লার কর কারবার
খেয়ে বেঁচে যাবে আর কিছু নাহি হােগ।
গ্রামবাসিগণ কয় ভেবেছিনু হায়
হইবে উকীল তুমি এ মহকুমার।
শলা পরামর্শ পাব সব মামলায়
কীও কিছু লাগিবে না মকরুদমার।
কহেন আত্মৗয়াগণ কেবেছিনু হবে
টিকিট কি মালবাবু কোন এস্টেসনে,
व्रजकारण
তীর্থ ধৰ্ম্ম করাইতে পাশটাশ গবে
নিয়ে যাবে কাশী গয়া পুরী বৃন্দাবনে।
কহেন আত্মীয়গণ হইলে ডাক্তার
রােগী নিয়ে হ’ত বল ভাবনা কি আজ,
আমাদের পাঁচজন পেত উপকার
অন্ততঃ নেহাৎ পক্ষে হলে কবিরাজ।
কবিরাজো নাহি হয়ে হইলাম কবি,
সবি হায় ব্যর্থ হলো ইহ পরকাল,
অর্থহীন ছন্দোবন্ধে ভুলিল না ভবী,
সংসারে বিফল আমি সমাজে কাল।
মুরুৰি
বিয়ে না থাক, টাকা না থাক, খেতাব তা থাক ভাই,
আমার মতন আলাপ খাতির অন্য কারো নাই,
ব্যারিষ্টাররা আমায় পেলে,
মামলা মোকদম। ফেলে
বলে ‘ব্রাদার চলাে চলো বাগান বাড়ী যাই।'
হাইকোর্টের জজ, মিত্রিসাহেব নাম শুনে যার কাপাে,
রামা শ্যামার যার কাছে ভাই চলেনাক ট্যাপে,
বলে সেদিন শুছ, ইয়ে,
অঘ্রাণে যে মেয়ের বিয়ে
একটা দিন ভায়া তােমায় সকল সময় চাই।
কাতলামারীর নবাবজাদার দাবা খেলার নেশা;
সন্ধ্যে বেলায় তার বাড়ীতে যাওয়াই আমার পেশা,
ধাপার কুমার বল্লে ‘খুড়ো,
তােমার পাতে মাছের মুড়ো,
দেওয়ালে ধপাৎ করে সােয়ান্তি না পাই।
কর্ণেল নাগ, আমার হুই-হরেন্দ্র নাথ বসুর
ভায়ের শালার পিশশ্বশুরের মামার খুড়ো শ্বশুর।
রমাদ ইঞ্জিনিয়ার
ছেলে বেলার ঘুড়ির ইয়ার,
ভোের রাজা, ফরিদপুরের কালেকটাররা তাই।
কারাে সঙ্গে তুই তুকারী কেউবা সহপাঠী
কারাে সাথে একপাতে খাই কারেও মারি চটা,
চাকরী চিঠি সই সুপারিশ,
কোষ্টা পেতে ইচ্ছা করি,
সবই আমার হাতের মুঠোয়, ভাবনা কি আর ছাই।
রক
বিহীৱ চিতি
শুধায়েছ বন্ধু মোরে
বিদেশে বেঘােরে পড়ে
প্রিয়া বিনা রয়েছি কেমন,
গুন তবে কবি ভনে কেমনে সিদ্ধির বনে
যাপিতেছি অকবি-জীবন।
আজি আমি লক্ষীছাড়া গৃহমাঝে গৃহহারা
পদ্মাপারে এ দুয় প্রবাসে,
কবিতা পলায় ছাড়ি বাড়ী যেন ভুততাবাড়ী
গদ্য-দন্ত জাগে চারিপাশে।
চারিদিকে ঝুলে ঝুল
শুইবার ঘরে ভুল,
হতেছে বই-ঘর বলে।
বসে আছি কানে তুলাে, জ্বালাইছে ছুচোগুলাে
মিছি মিছি কিচি মিচি গােলে।
ইদুর গড়েছে গড়, ছুট দিনে জড়বড়
আলু লয়ে খেলে ফুটবল
হাড়ী কাসীর পরে তাহারা বাণিজ্য করে
দেউলিয়া বেড়াল সকল।
পুস্তকের সার শুষে
উদরস্থ করি চুষে
জ্ঞাননিষ্ঠা আল জানায়,
.
চামচিকা পাখা নেড়ে শিরে পাখা করে ফেরে
উর্ণনাভ চাদোয়া টানায়।
বােতায়া চাকে চাকে পড়ে এসে মুখে নাকে
এ নাকাল কাহারে জানাই,
উঠানে শিয়াল ডাকে মশকেরা ঝাকে কে
দিবসেও বাজায় সানাই।
বিছানা হয় না তােলা বালিশে ওয়ার খােলা
ঘটেনাক কভু একবারে,
চাদরেতে কালিপড়া মাঝে মাঝে দাগ ধরা
কেরোসিনে বল আকারে,
চিটালে উঠে মলা - সে কথা যায় না বলা
সভ্যজনে, এমনি প্রকার ।
হাতবাক্স পুথি শিশি ছাতা ঘড়ি দিবানিশি
অর্ধ শব্যা করে অধিকার।
গরপোকা দলে দলে বালিশের তলে তলে
করে মাের শশাণিত সঞ্চয়।
খুট দেওয়ালে ঝােলে বাকী দুই কেবা তােলে?
মশারিই মশার আশ্রয় ।
কি কি গেল ধােপাবাড়ী বলিবাৰে নাহি পানি,
ক’টি গৃহে ফিরিল আবার,
গায়ে জামা নাহি মিলে কেহ খাটো কেহ ঢিলে
কানাে দেখি বেড়েছে কলার।
শীতের কাপড় দুটো পােকায় করেছে ফুটো
কে তাদের রােদে দেবে বলাে?
বাকী গুলাে জঙ, ধরে’ সোঁত লেগে ছাতা পড়ে
বাক্সে জমে’ পিণ্ডবৎ হলাে।
কোনাে খানে যেতে হলে পড়ে যাই বড় গােল
মিলেনাক কাপড়ে জামায়,
মথিয়া তােরঙ খানি যদি জামা টেনে আনি
বােতমি মিলে না তার হায়।
সূতা ফিতা পিন দিয়ে তার কাজ সেরে নিয়ে
যদি আমি বেরুই সহরে,
ব তবে কহে ডাকি রেখে ছিলে জামাটা কি
দু’বছর হাড়ীর ভিতরে ?
এক পাটি জুতা পরি অন্য পাটি খুঁজে মরি,
আনি তার কূয়া-পার হতে
তাড়াতাড়ি যেতে রেগে,প্রায়ই মাের পায়ে লেগে
তেলের বােতল পড়ে পথে।
ধুতে মরি সারা গিটা দাড়া ভাঙা চিরুণীটা
ধুতি হায়, তাও কিগাে আছে?
নক
হাতে করে ঝেড়ে ধূলাে চেপে দেই চুল গুলো
মুখ দেখি আম্মারির কাছে।
বইগুলি করি মাটী
স্নান শেষে গামছাটি
ভুলে রাখি দেরাজ উপর,
টেবিলেতে পেয়ালটি
খাবারের এঁটো বাটি
পিপড়ের বসায় নগর।
কালী জমিয়াছে ঢের দেয়নিক মাস দেড়
কেহ হাত চিমনী গুলােয়,
লাগিতেছে কোেেসন,
মাসে একাধিক টিন,
বেশী অংশ ধুলােয় চুলােয় ।
ব্যয় করি তিন গুণ ক্ষর করি তেল নুন,
নিত্য যাহা খাইবারে পাই।
নিতান্ত পেটের ‘ইয়ে’ তাই গলে গলা দিয়ে
বলিব কি মাথা মুণ্ডু ছাই।
কিছু অর্ধসিদ্ধকরা কিছু পােড়, কিছু ধরা
মুন বেশী কি মুন বাদ,
কিছু পুন ঝালে জ্বলা অতিরিক্ত জ্বালে গলা
লাগে যেন পাচন বিস্বাদ।
মাছ নিয়ে যায় কাকে, কে দুধের বাটা ঢাকে ?
বেড়ালের মাগি দুধ কেনা,
রক
*
এ দিকে শুকায় কায়, ঠাকুর বক্সী চায়,
বাজারে বাড়িয়া যায় দেন।
জৈন ধর্ম রক্ষা করে
চিনি আনা হয় ঘরে,
ঘৃত ক্রীত অনলে তুষিতে,
আসুলার নাদি দা’লে, টিকটিকি ছানা পালে
ডিম পাড়ে চালের হাঁড়ীতে।
যাহা কেনা আছে ঘরে খুঁজে নাহি পেয়ে পরে
তাই কেনা হয় বার বার,
পচিয়া দুর্গন্ধ ভরে
তাই দুই দিন পরে
পরকাশে সত্তা আপনার।
মামুলি-তালিকা মত আসিতেছে দ্রব্য যত,
কে তাদের করে ব্যবহার।
কতক খাবার তরে কতক শােভার তরে
গৃহে বসে দিনের বাজার।
গৃহে যা প্রচুর রাজে প্রয়ােজন হলে কানে
খুজে দেখি কোন খানে নেই,
আনি তাহা ধার করে চাহিতে আসিলে পরে
পুন জায়গা গুণােগারে দেই।
নাই প্রয়োজন যার তাই আসে বারবার
কার দায়, কে এনে বারণ।
চলেনাক যাহা ছাড়া তার বেলা গুড় ঘর
মধ্বভাব করি গাে হরণ।
দোকানের বিল পেয়ে মাস-শেষে, রহি চেয়ে
ললাটে রাখিয়া হাত খানি,
ঘাম ঝরে ঘুরে মাথা যেন কুমােরের:জাত
অথবা সে কলুদের ঘানি।
রাত্রে শুনি রান্নাঘরে
শৃগাল সংগ্রাম করে
প্রতিদ্বন্দ্বী কুকুরের সাথে।
ছাগগুলি বারান্দায় ময়লা করিয়া যায়
বা’র দোর খােলা রয় রাতে।
-
উঠানে ছাইয়ের গাদা কিছুতে ছিদাম হাঁদা
ফেলিবে না পাশের বাগানে,
ফুটো বাতী মুড়ো ফাটা ছেড়া জুতাহাড়ী ফাটা
ভাঙা ঝুড়ি শােভিছে উঠানে,
বারান্দায় খড়ি কাঠ, ঘরে নাহি দেয় ঝট
কলা চোকা মেরেতে শুকায়,
যদি ভুলে ধরে ঝাটা আবর্জনা পুজি পাটা
গৃহ কোণে গাদা করে যায়।
সেথা তুলি সাদা ছাতা তেকরাজ নাড়ে মাথা
চারিদিকে মটরের চারা,
রাত্রি কালে কুতূহলে ভৈকরাজ্য তারা খাট তলে
ঐকতানে হয় মাতােয়ারা।
ভয় পেয়ে মাঝ রাতে হাতড়ে হাতড়ে হাতে
দেশলাই বাক্স যদি জোটে
হয় তাতে নাই কাঠি
নয় তার সবই মাটি
ঠাণ্ডা লেগে জ্বলে নাক মােটে।
ঘরের মেঝেটি ছাড়া খাটের তলায় যারা
করিয়াছে নবােপনিবেশ,
তাদের রাজ্যের বাণী কিছুই নাহিক জানি,
আবিষ্কৃত নহে সেই দেশ।
ছেড়া-খোঁড়া মর্চে পড়া ছাতা পড়া ঘূণধর
আসবাব রহে ঘরময়,
জীবজন্তু জ্যান্ত মরা, বালিশের তুলা ভরা
এ গৃহেরে করেছে আশ্রয়।
করিতেছি হেথা ঘর
শুধায়েছ রয়েছি কেমন,
সুদুর
বিদেশে পড়ি নিয়ত তাহারে স্মরি
কোনােরূপে রেখেছি জীবন।
এইরূপে বন্ধুর,
ভজবেণু—মূল ॥• ধাধা -
কবিবর শ্রীযুক্ত প্রমথনাথ রায় চৌধুরী বলেন--
৫
তােমার এৰেণু েপণিগাে বকুল ফরিল মােৰ বাৰ।
আধুনিক কৰিলে তুমিই একমা কৰি, তােমার বিশেষত্ব-ভূমি
ধ্যে ব্রহ্মাও দেখিয়া। একে এমন ফাগতের উপযােগ সরস শর
আৰক করা এ ঘেণর কবির কাজ-তুমি তাই। বেণু আমাকে
ও আকুল করে নাই-মাক করিয়াছে।” ভারতবর্ষ।
লাজালিশীঘ্রই প্রকাশিত হইবে।
পুট
১মখণ্ড (তৃতীয় সংস্করণ) উৎকৃষ্টৰাধ, ১
শীঘ্রই ৪র্থ সংস্করণ প্রকাশিত হইবে।
ক্ষুদকুঁড়া,
• আনা, বাঁধা ৬০
পপুটের ন্যায় পল্লীগাথা ও সয়স প্রণয় কবিতারাম।
পর্ণপুট-২খণ্ড—উৎকৃষ্ট বাঁধা মুল্য ১০
প্রবাসী-অধিকাংশ কবিতাই বেশ সহজ মূলৱ--অনেকগুলি গুদে
মেয়ে ও জাতি গৌৰৰে অনুপ্রাণিত। পল্লীসম্বন্ধীয় কবিতাগুলি ঝি।
বমী:-বঙ্গসাহিত্যের অপূৰ্ব্বসম্প,---ভাৰে বাণশশী, শলালিত্যে
কপ যােব অনিব।
কলিকাতার প্রধান প্রধান পুস্তকালয় ও ৩২, অপার সালা
রােডে @ষীকেশ চক্রবর্তী বি, এর নিকট প্রাপ্তব্য।
শ্ৰীযুক্ত কালিদাস রায় প্রণীত গ্রন্থাবলী সম্বন্ধে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ বলেন— “তােমার কবিতা বাংলা দেশের মাটির মতই মিথ ও স্যামল। বাংলা দেশের প্রতি গভীর ভালবাসায় তােমার মনটি কানায় কানায় ভরা-সেই ভালবাসার উচ্ছলিত ধারায় তােমার কাব্য-কানন সরস হইয়া কোথাও বা মেদুর কোথাও বা প্রফুল্ল হইয়া উঠিয়াছে। তােমার এই কাব্যগুলি পড়িলে বাংলার ছায়াশীতল নিভৃত আঙিনার তুলসীমঞ্চ ও মাধবীকু মনে পড়ে। ঋতুমঙ্গল মূল্য-•-দৃশ্য বাধাই ১১ T প্রবাসীর মন্তব্য। ষড়ঋতুর বিচিত্র বিলাসলীলা, রূপবৈচিত্র্য ও সশ সন্তানের বিশেষত্ব অবলম্বন করিয়া বহু খণ্ড-কবিতার সমষ্টি এই তুলল। কৰি বিচিত্র ছন্দের কবিতায় প্রকৃতির স্বড়ঋতুর বিশেষত্বের সহিত বাঙ্গালীর অন্তরের রোগ সাধন করিয়া দিয়াছেন। যারা প্রকৃতির বিচিত্রতার মধ্যে মানব মনের ভাৰ খৈয়ে ওতপ্রােত আদান প্রদান অনুভব করিতে চান তাঁরা ঋতুসংহার-রচয়িতা থাকবি কালিদাসের চরণানুসারী এই কবি কালিদাসের ঋতুমঙ্গল পাঠ কমিয়া খলিত হইবেন। প্রবাসী চৈত্র ১৪২৫। বল্লরী (২য় সংস্করণ, পরিবর্ধিত) আবঁধঃ ॥• বাধা মূল্য , ভারতীর মন্তব্য-কবিতাগুলির অধিকাংশই ভাবে স্নিগ্ধ, ভাষায় সুন্দর ফায়ে রৰীয়, চুলের পূর্ব লীলায় মনােহর। শব্দচয়নেও লেখকের দক্ষতা অপূর্ব। এই তরুণ কবি কঙ্কারে এখন একটা আন্তরিকতা আছে যে প্রাণের স্থায় সে ঝঙ্কারে সব স্পন্দিত হইয়া উঠে।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.