Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Bhanda

Mukhapadhyay,bhutnath · 2010/03/26

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

THE HYPOCRITE
সামাজিক নক্স
প্রণেতা-শ্ৰীভূতনাথ মুখােপাধ্যায়।
প্রকাশক-শ্ৰীবিননাদ বিহারী বন্দ্যোপাধ্যায় ।
৪৯, বাগবাজার ষ্ট্রীট, কলিকাতা।
জ্যৈষ্ঠ-১৩১৬।
All Rights Reserved]
[ মূল্য আট আনা।

o alcutta:
PRINTEID BY S. C. GIOSE
AT THE
LAKSIMI PRINTING WORKS.
(4/1, 64/2 SunEA'S STREET.
T909.

উৎসর্গ
মহাজনের পদাঙ্ক অনুসরণই শাস্ত্রোপদেশ। ভগবানের
রচিত এঅনন্ত বিশ্বরাজ্যের সর্বস্বই তঁাহার। সুতরাং তাঁহারই
প্রদত্ত পুষ্প-চন্দনাৰ্যে তঁাহার পূজার আয়ােজন বিহিত,
তাহারই যথাসর্বদ তাঁহাকে অর্পণ করিয়াই আমরা প্রীত।
নাট্যজগতে যাহাকে আমি অবিচল আন্তরিকবিৰাসে দেবতার
আসনে বসাইয়া আপনাকে গৌরবান্বিত মনে করি, যে
মহাজনের আদর্শ সম্মুখে রাখিয়া আমার নাট্য-জীবনের প্রথম
সােপানে পদার্পণ, যাহার যুগান্তকারী এক একখানি সজীব
মহানাটকের গভীর ভাব-প্রবাহে আমার কর্মজীবন প্রথম
স্পন্দত, নাট্য সাম্রাজ্যের সেই ছত্রপতি বঙ্গীয়
রঙ্গালয়ের প্রাণ-প্রতিষ্ঠাতা, উদা-চেতা, কবিকুল-ভূষণ, পরম
পূজ্যপাদ শ্রীযুক্ত গিরিশচন্দ্র ঘােষ মহাশয়ের
পবিত্র করকমলে আমার গুরুপূজার প্রথম পুষ্প-এই
অকিঞ্চিৎকর রচনাটি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভক্তি সহকারে সমর্পণ
করিলাম। ইতি-
আপনার মেহেয়-
= 4
বাগবাজায়, কলিকাতা
১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩১৬।
ge

No text on this page.

কৈফি কল্পনার সাহায্যে সমাজ-চিত্র বিকৃত করিয়া হাস্যরসের উদ্দীপনা প্রয়াসে, এ সামাজিক চিত্র অঙ্কিত হয় নাই। সমাজ-শরীরে নানা দোষদুষ্ট যে গভীর ক্ষত ধীরে ধীরে বদ্ধিত হইয়া অলক্ষ্যে সমস্ত সমাজটাকে ধ্বংশের পথে আনয়ন করিতেছে, সেই ক্ষতের প্রতি সাধারণের দৃষ্টি আকৃষ্ট করিয়া তাহার নিদান-নিরাকরণ জন্যই, সমাজের এই অবিকৃত চিত্র -অপ্রিয় সত্যের, অবতারণা করা হইয়াছে। রঙ্গমঞ্চে অভিনয় দর্শনান্তে দর্শকগণের শুধু ‘বাহবা’ বা ‘ছিছি’ শব্দ দ্বারা এই পুস্তকের রচনা-কৌশল মাত্র সমর্থিত বা উপেক্ষিত হয় ইহা বাঞ্ছনীয় নহে। রঙ্গালয় কেবল আমোদ উপভােগের স্থল নহে-পরন্তু শিক্ষারও ক্ষেত্র, ইহা স্মরণ রাখিয়া, দর্শকবৃন্দ অভিনয় দর্শন কালে স্থির ও ধীর ভাবে অভিনয়ের উদ্দেশ্য পৰ্যবেক্ষণ এবং গৃহে ফিরিয়া সেই উদ্দেশ্যের সম্মক অনুশীলন করতঃ আচার, অভ্যাস, সংস্কার ও চরিত্রগত দুর্বলতা পরিত্যাগ পূর্বক সমবেত-চেষ্টা সাহায্যে সমাজ রক্ষায় মনযােগী হইলে, গ্রন্থকারের এই ক্ষুদ্র গ্রন্থ প্রকাশ-চেষ্টা সার্থক হইবে । গ্রন্থকার।

কৃতজ্ঞতা ঐe=
তা @:-
===
প্রিয় সুহৃদ শ্রীমান সিদ্ধেশ্বর দাস এই পুস্তকের
আদ্যোপান্ত ভ্রম ও প্রুফ, সংশোধন কাৰ্যে বিশেষ
সহায়তা করায় গ্রন্থকার তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতাপাশে
আবদ্ধ।
০৪.rar.arsan

।
চরিত্র
পুরুষ
এটর্ণী।
+ +
যােগেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সতীশচন্দ্র
যােগেশের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
জ্যোতীষচন্দ্র
ঐ মধ্যম পুত্র।
কে, ডি, সেন
ব্যারিষ্টার (জ্যোতিষের বন্ধু )।
মটুকমােহন চক্রবর্তী (পাগলা ব্রাহ্মণ)
গজেন্দ্র ঘোষাল (ব্যবসায়ী শিক্ষক)
নদেরাদ রায়
নিৰ্ম্মা সমাজপতিগণ।
যাদবচন্দ্র মুখােপাধ্যায়
কালীচরণ চট্টোপাধ্যায়
কেশবলাল মহলানবিশ
যদুনাথ ভৌমিক
অবলা কলেজের শিক্ষক।
রাম চাটুয্যে, নারান, বর, বরযাত্রী, হােটেলওয়ালা ইত্যাদি।

স্ত্রী তারাসুন্দরী কিরণবালা শশীবালা ••• নানদবালা মনােরমা বিদূৎলতা স্নেহলতা যােগেশের স্ত্রী। সতীশের স্ত্রী মটুকের স্ত্রী। গজৈন্দ্রের স্ত্রী নদেরর্চাদের ২য় পক্ষের স্ত্রী। মটুকের কন্যা। গজেলের কন্যা। যাদবের কন্যা। করালীর কথা। কে, ডি, সেনের স্ত্রী। ( অবলা কলেজের প্রিন্সিপ্যাল)। যাদবের রক্ষিতা বৃদ্ধা বারবণিতা। ॥ ৫১ * * কনকলতা • • • আশালতা + ৩ + মিসেস সেন ০ ০ । গােলাপ সুন্দরী ৩ . এ অবলা কলেজের ছাত্রীগণ, হােটেলওয়ালী, ঝী, ইত্যাদি।

Gikurinčacebo-li

No text on this page.

4
প্রস্তাবনা।
রঙ্গপট।
নট-নটীর গীত।
উঠলল হুজুগ সহরেতে হিদুয়ানী সংস্কার,
ঠেলবাে জাতে বিলাত ফেরৎ মাড়াবনা ছায়া তার।
উইলস হােটেলে যাও,
ঘরে বসে মুরগী খাও,
মেয়েদের কলেজ, পাঠাও, আপত্তি তায় আছে কার,
বিলাত ফেরৎ বসবে পাসে, এযে বেজায় অনাচার ।

প্রস্তাবনা
তুলে দাও শ্রাদ্ধ বাপের,
তােল পূজা দেবী দেবের,
দাও তুলে দাও ক্রিয়াকাণ্ড টানা টানির যে বাজার,
নেড়ের হাতের রান্না মন,
চপ, কাটলেট, আণ্ডা-ঘোঁট,
মুড়ি দিয়ে খাও চুপি চুপি নগদ কিম্বা করে ধার ;
দোষ দেখিনা তায় ত কোন এযে হালের দেশাচার।
পাত পেতে খাও শুড়ীর বাড়ী,
খেয়ে আঁচাও তাড়াতাড়ি,
রাতটা কাটাও যথায় তথায় দেখছে কেবা আর,
ভােরে উঠে গঙ্গাযাত্রা,
সাত্ত্বিকতার পূর্ণ মালা,
ডুব দিয়ে চাও আসে পাশে (কয়রা) দেখলে সূয্যি নমস্কার,
ডাকলে খেতে ‘সাগরপেয়াে’ আমরা কি যাই বাড়ী তার।
নই আমরা কেয়ােকেটা,
পুরুষত্ব, বুকের পাটা,
মস্তো মােদের, মানবেনা যে, কুৎসা রটাও তার,
যা কিছু সব মােদের ভাল,
উপ-গিন্নী গৃহের আলাে,
টেরপেলে কি এলাে গেলাে, আমরা সবাই নির্বিকার,
শুনব নাকো কারো কথা রাখব শুধু দেশাচার।
-

(এস) লােকের চো দিয়ে ধূলি,
হিড়িকুটে ভাই যাঁকিয়ে তুলি,
চেঁচিয়ে বলি-ধৰ্ম্ম কৰ্ম্ম গেলাে ছারেখার,
বিলাত ফেরৎ ষণ্ডা যত,
সমাজ-দেহের দুষ্ট ক্ষত,
ফেলবাে ছেটে একেবারে, রাখব কেবল জাতবিচার,
আমরা সবাই খাঁটি হিদু, করিনা কারেও কেয়ার।
হিদুর ঘরের এক এক রথী,
কৃত বিদ্য—সমাজ-পতি,
বলিহারি বুদ্ধি তাদের ব্যবস্থা কি চমৎকার,
কেটে আপন উত্তমাঙ্গ,
ক্রমে হচ্চেন অবসাদ,
ভাবেন তবু এই উপায়ে রক্ষাপেলে দেশাচার
হবে দেশের মহােশ্নতি (অন্তে) মিলবে স্বর্গে অধিকার।

No text on this page.

===
-,-,-,---
প্রথম অক।
প্রথম দৃশ্য।
যােগেশবাবুর বৈটকখানা।
যােগেশ, গজেন্দ্র, ও নদেরর্চাদ।
গজেন্দ্র। আমি তখনই বলেছিলাম—যােগেশ বাবু! আজকালকার ছেলে-
দের হাতে বিষয় সম্পত্তি দেবেন না; এখন বিবেচনা করে দেখুন কি
হ’ললা ?
যােগেশ। আমি বুড়াে হইচি,—বিষয় সম্পত্তি আর নিজে দেখতে পারি
, তাই ছেলেদের হাতে দিয়েছি। এখন থেকে তারা দেখুক,
তা নাহলে শিখবে কবে ?
গজেন্দ্র। তা দেখুন না--কেমন শিখলে ? জ্যোতীষটা বেড়ে ছেলে
ছিল, যেমন বিদ্বান্ তেমনি ব্রাহ্মণ-পণ্ডিতে ভক্তি ; কে তাকে এমন
দুৰ্ব্ব দ্ধি দিলে, একেবারে মাটী হয়ে গেল।
যােগেশ। মাটী কিসে হ’লাে? বিলাত গিয়েছে, ভালই হয়েছে। লেখা
পড়া শেখবার জন্য বিলাত যাওয়ায় আমি কোন দোষ দেখি না।
নদেরাদ। আপনি বলেন কি? ব্রাহ্মণের ছেলে বিলাত যাবে ?
আপনার উচিত তেমন ছেলের খরচপত্র সব বন্ধ করে দেওয়া ; কি
কবদ্ধি !—কি কুবুদ্ধি !!

যােগেশ। আপনাদের মত সুবুদ্ধিদাতার পরামর্শ নিলে দু’দিনে ভিটে খা খা করবে। নদেরাদ। আপনি এখন একথা বলছেন বটে, কিন্তু আপনার পিতা বেঁচে থাকলে কখনই এ কার্যের অনুমােদন ক’ত্তেন না। যােগেশ। আমি ত আর সেকেলে কতকগুলাে orthodox বুড়ােদের মত আহাম্মক নই। ছেলেটা মানুষ নাহ’য়ে যাতে মাটা হয়ে যায়, সে চেষ্টা ত আমি করতে পারি না। তার অনেকদিন থেকে ঝােক বিলাত গিয়ে medical degree নিয়ে আসবে। তা গেছে যখন, তখন ভাল করে পাশ হয়ে ফিরে এলে দেশেরও উপকার দশেরও উপকার। গজেন্দ্র। তা বিবেচনা করুন যদি জাতই গেল, তবে আর দেশের দশের উপকারে কি লাভ হবে ? যােগেশ। দেখুন আমার ও সব prejudice নেই—জাত, জাত, করে ঘরে বসে থাকলে ত আর উদর পূর্তি হবে না। যাতে উন্নতি হয় সে বিষয়ে আমাদের খুব liberal হওয়া উচিত। মিছে জাতের বাঁধন দিয়ে উন্নতির পথে কাঁটা দেওয়া নিতান্ত মূখত; বুঝে দেখুন—আমরা এই জাত জাত করেই বা কি উন্নতি করচি, আর ইংরাজের জাত না মেনেই বা কি উন্নতি করচে ? দেশ থেকে দেশান্তরে গেলে যে জাত যায় একথা আমি মানি না। বাকি অখাদ্য ভােজন, তা এখানেই বা কোন না হচ্ছে? দেশ কাল ভেদে সব কাজ করতে হয়। এ ঘাের দুর্দিনেও ত আপনারা চোক খুলবেন না। গজেন্দ্র। শুনছ হে রায় মশাই ? আমাদের যােগেশবাবুও খেপলেন। নদেরাদ। তা যােগেশবাবু আপনিও কেন বিলাত যান না। যােগেশ। বয়েস থাকলে যেতুম বৈকি।

প্রখম অফ
[ সতীশের প্রবেশ ]
সতীশ। বাবা আজ imailএ জ্যোতীষের চিঠি এসেছে। সে লিখচে শীঘ্রই
বাড়ী ফিরবে। তার Examination শেষ হয়ে গেছে। এখন সে
সেখানকার কি St. Thomas Hospital এ Practice কচ্চে।
বােধ হয় next mailএ রওনা হবে।
যােগেশ। বেশ বাবা শুনে সুখী হ'লেম। আহা কতদিন তাকে দেখি
নাই! তুমি বাড়ীর ভেতর সংবাদ দাও, তারা সকলেই বড় উদ্বিগ্ন
আছে।
সতীশ। আজ্ঞে যাই। আপনি বেরােবেন না? বেলা অনেক হয়ে
গেছে যে। [ প্রস্থান ]
যােগেশ। এই যাই আর কি।
গজেন্দ্র। তা বিবেচনা করুন যােগেশবাবু ! ছেলেত আসচেতার কি
উপায় করবেন?
যােগেশ। উপায় আবার কি? ছেলে বাড়ী ফিরে আসছে, এ তাে আনন্দের
কথা। আপনি কি বলছেন ?
গজেন্দ্র। বলচি কি—বিবেচনা করুন,তাকে ত আপনি আর গ্রহণ করতে
পারছেন না।
যােগেশ। কেন—গ্রহণ করতে পারব না কেন ?-কি দোষ ?
গজেন্দ্র। বলেন কি দোষ নয় ! যার জাত গিয়েছে তার সঙ্গে কি একত্র
বাস করতে আছে ?
যােগেশ। বিলক্ষণ আছে—খুব আছে।
গজেন্দ্র। আপনি তা হলে সমাজ মানেন না ?
যােগেশ। সমাজ আবার কি ? এখনও কি সমাজ আছে ?

গজেন্দ্র। তা হলে আপনি তাকে গ্রহণ করছেন? যােহেশ। অলবাৎ-আপনারা ত্যাগ করতে বলেন না কি? নদেরাদ। দেখুন যােগেশবাবু তাহলে আমরা সকলে মিলে আপনাকে এক ঘরে করবাে। যােগেশ। তাহলে বেঁচে যাই বাবা, প্রণামী আর যৌতুকের টাকা দিতে দিতে নাজেহাল—আয়ের অর্ধেক কাবার, সে দায় থেকে অব্যাহতি পাই। গজেন্দ্র। বলেন কি যােগেশ বাবু-আপনি হােলেন কি? আপনি সমাজ মানেন না, ধৰ্ম্ম-কৰ্ম্ম মানেন না—এতে যে আপনার ছেলে বিলাত যাবে তার আর আশ্চৰ্য্য কি? যােগেশ। বাবা ধৰ্ম্মও মানি কৰ্ম্মও মানি, তবে গরিবের প্রতি অত্যাচারের জন্য যত অকাল কুষ্মণ্ডের গড়া যে সমাজ—সেটাকে মানি না বটে। গজেন্দ্র। বটে আপনি আমাদের গালাগাল দিচ্ছেন—চল হে রায় মশাই এর একটা বিহিত করতে হবে। যােগেশ। হাঁ হুঁ তাই ভাল, যান-একটা বিহিত টিহিত করুনগে। নদেরাদ। যােগেশ বাবু ঠাট্টা করবেন না। আপনাকে আমরা এক ঘরে করতে পারি কিনা দেখবেন। যােগেশ। খুব পারবেন—আপনাদের অসাধ্য কাজই নেই; কিন্তু ঠকতে আপনারাই ঠকবেন। গজেন্দ্র। রায় মশাই উঠুন-আর এ স্থানে থাকা নয়। আজই সকলকে ডেকে যাতে এর একটা প্রতিকার হয় করতেই হবে। নদেরাদ। দেখে নেবেন যােগেশ বাবু দেখে নেবেন। আপনাকে একঘরে করব তবে আমার নাম-নদেরাদ রায়। (উভয়ের প্রস্থান) প্রথম অক যােগেশ। বলি ও ঘােষাল মশাই--ও রায় মশাই অত গরম হয়ে যাচ্ছেন বটে—কিন্তু শেষে জাল গুড়তে হবে। আঃ বেটারা গেল না বাঁচা গেল। উপকারের সঙ্গে খােজ নেই, চোকাঙ্গানী কত। কাজ নেই, কৰ্ম্ম নেই কিসে পরের অনিষ্ট করব কেবল এই চেষ্টা। পরছিদ্রান্বেষী, পরস্পর সহানুভূতিশূন্য, ঈর্ষাপরায়ণ লােকে আমাদের সমাজটা ভরে এগিয়েছে। এই জন্যই আমাদের জাতের এত অধােগতি, হেতুশূন্য স্বার্থ- পরতায় পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে আমরা বিজাতির নিকট এত লাঞ্ছিত ও অপমানিত ; আক্ষেপের বিষয় তবুও আমরা সতর্ক হই না—জেনে শুনেও স্বীয় দোষ ক্ষালনে চেষ্টা করি না। ( প্রস্থান) দ্বিতীয় দৃশ্য। অবলা কলেজ। স্নেহলতা, আশালতা, কনকলতা, বিদ্যুৎলতা ও কেশবলাল ( ছাত্রীগণের গীত।) আহা বেঁচেছি—বেঁচেছি শিবগড়া, কাদাঘাটা, সে দায় থেকে এড়িয়েছি। এখন কলেজ, গিয়ে নলেজ, পেয়ে আইডলেটারী ছেড়েছি। খ

«
রামায়ণ, মহাভারত,
ছি ছি আর পড়ব না,
ও সব কবির কল্পনা,
লঙ্কাকাণ্ড কীচকবধ কেউ কি তা দেখেছে ?
বাল্মিকি চুলােয় যাক,
বেদব্যাস মাথায় থাক,
পুরাণ গুলাে ছিড়ে সব উনুনেতে দিয়েছি।
(এখন) পড়ি সবাই হামলেট
ম্যাকবেথ এ্যাণ্ড রােমিও জুলিয়েট
জনসন, এ্যাডিস,
থ্যাকারে কিম্বা মিল্টন,
পড়ে আমরা নূতন লাইফ, পেয়েছি,
পায়ের আলতা মুছে ফেলে মােজা বুট এঁটেছি।
।
কেশব। অয়ি বালিকাবৃন্দে ! আজ তােমাদের এত বিলম্ব হল কেন?
স্নেহ। পণ্ডিত মশাই আজ বড় মজা হয়েছে। আমাদের পাশের বাটীর
সেই যুবক যিনি বিলাত গিয়াছিলেন তিনি আজ ফিরে এসেছেন।
আমার পিতা ও আমার ভগ্নীগণের পিতা সেই যুবককে লয়ে বড়
গােলযোেগ বাধিয়েছেন। সৰ্ববাদি-সম্মতিক্রমে তাঁকে একঘরে করবার
জন্য আমাদের বাড়ী একটা মিটিং হয়েছিল। সমাজে যাতে তাকে
না গ্রহণ করা হয় সেই জন্য মহা আয়ােজন চলছে। আমরা এতক্ষণ
সেই মজাই দেখছিলাম।

প্রথম অঙ্ক • 14-07-4 অশা। আচ্ছ। পণ্ডিত মশাই বিলাত যাওয়া কি আমাদের শাস্ত্রনিষিদ্ধ ? কনক। হঁ পণ্ডিত মশাই! শাস্ত্র মানে কি ? কেশব। অহা হা বুঝলে না শাসতি ইতি শাস্ত্র। শাস ধাতুর উপর এ্যল্ প্রত্যয়। অর্থাৎ মধ্যপদলোপী সমাস। যে শাসন করে তাকেই শাস্ত্র বলে । বিদ্যুৎ। পণ্ডিত মশাই ইংরাজ ত আমাদের শাসন করে । কেশব। হাঁ হাঁ ঐ ইংরাজই হ’ল শাস্ত্র। এই ভারতবর্ষের শাস্ত্র হল গভর্ণর জেনারেল—ইহাকে উপনিষদে উপশাস্ত্র বলে—আর প্রধান শাস্ত্ৰ হ’ল ইংলণ্ডেশ্বর সপ্তম এডওয়ার্ড। মেহ। তবে পণ্ডিত মশাই আমাদের দেশে বিলাত গেল জাত যায় বলে কেন ? কেশব। ও সব মূর্থের উক্তি—বড় বড় বৈয়াকরণের মতে বিলাত যাওয়ায় মহাপূণ্য। তােমাদের পিতারা বোধ হয় ব্যাকরণ পড়েন নাই। তােমর। বাড়ীযাইয়া তাহাদের ব্যাকরণ শিক্ষা দাও গে, সব গোল মিটে যাবে। কনক। পণ্ডিত মশাই আজ সকালবেলা অামি সংস্কৃত পড়তে পড়তে একটী শ্লোকের মানে বুঝতে পারি নাই। কেশব। আজ আমার শরীরটা কিছু অসুস্থ আছে:-কাল সব মনে বুঝিয়ে দেব। স্নেহ। আহা পণ্ডিত মশায়ের বস হয়েছে কি না। কেশব। না না বালিকে ! আমার তেমন বয়স হয় নাই—বৃদ্ধ হই নাই। তবে এই যে শুভ্র কেশ দেখিতেছ—ইহার কারণ অতিরিক্ত ব্যাকরণ অধ্যয়ন। ব্যাকরণ পাঠ করে আমার কেশের অন্ধকার দূর হয়ে, এখন আলােক প্রাপ্ত হয়েছে—তাই শুত্র দেখাচ্ছে।

মেহ। পণ্ডিত মশাই আজ কাল ত’ অনেক রকম Hair dye উঠেছে তাই একটা ব্যবহার করুন না কেন? বলেন ত আপনার জন্য একটা আনিয়ে দি। সাদা চুল আমরা দেখতে পারি না। কেশব। তা তােমাদের ন্যায় সুশীলা বালিকার অনুরােধে আমি সবই করতে প্রস্তুত। এই দেখনা পূৰ্ব্বে আমি তাজুল চর্বণ করতেন না। কিন্তু তােমরা যখন প্রীতিভরে আমায় তাৰুল এনে দাও আমি অতি সুখেই তা চর্বণ করি। মেহ। পণ্ডিত মশাই আজ আমি স্বহস্তে তালবিহার দিয়ে আপনার জন্য পান প্রস্তুত করে এনেছি। কনক। পণ্ডিত মশাই আজ আমি আপনার জন্য ভাল নস্য এনেছি। বিদ্যুৎ। পণ্ডিত মশাই আমি আপনার জন্য একটী পশমের টুপী তৈরী করে এনেছি। শীতকালে বাড়ী যাওয়া আসার সময় আপনার মাথায় বড় ঠাণ্ডা লাগে, আপনি এইটা মাথায় দিয়ে কলেজ আসবেন। আশা। পণ্ডিত মশাই আমি বাবার বাস্ক হ’তে আপনার জন্য ভাল সিগারেট এনেছি—আমরা থাকতে আপনাকে আর তামাক সেজে খেতে হবে না। কেশব। আহা! তােমরা আমার উপযুক্ত ছাত্রী। তােমরা অতি সুশীলা, সচ্চরিত্রা, বিদ্যাবতী, বুদ্ধিমতী, প্রেমবতী ; তােমাদের উপহার আমি সাদরে গ্রহণ করব। স্নেহ। তবে আমার এই পান খান (হস্তে তাল প্রদান ) কেশব। আহা স্নেহলতা-তােমার হস্তলতা ও দেহলতা অতি সুকোমল, তুমি অতি শীঘ্র ব্যাকরণে অভিজ্ঞতা লাভ করিবে। পাণিনি বলেন- প্রথম অক যে স্ত্রীলােকের দেহ সুকোমল, তার ব্যাকরণে অসাধারণ পাণ্ডিত্য জন্মিয়া থাকে। কনক। আচ্ছা পণ্ডিত মশাই আপনি স্নেহলতাকেই ভালবাসেন, আমাদের দেহ বুঝি কঠিন হ’লল ? কেশৰ। না না আমি সকলের কথাই বলছি, আহা তােমাদের দেহ- লতাও অতি কোমল-অতি কোমল-বটতলার মুড়া মাখনের চেয়েও কোমল। দাও বালিকাবৃন্দে, তােমাদের উপহার আমায় দাও, আমি সাদরে তাহা গ্রহণ কচ্চি। ( বিদ্যুৎলতা কর্তৃক টুপী পরাইয়া দেওন) বিদ্যুৎ। পণ্ডিত মশাই আপনাকে বেশ মানিয়েছে। কেশব। তা মানাবে বৈ কি! বিদ্যুৎলতার কোমল হস্তনিৰ্ম্মিত শিরভাজ পরলে বনের বানরকেও রাজপুত্রের মত দেখায়। কনক। আমি আপনার নাকে নস্থ দিয়ে দেব। কেশব। দেখাে বালিকে ! নাসিকা-মধ্যে যেন অধিক নস্ত প্রবেশ করাইয়া দিও না। কনক। না পণ্ডিত মশাই (নস্ত দান ) অশা। আমি সিগারেট ধরিয়ে দিচ্ছি—আপনি টানুন। কেশব। না গো—এখনি ক্লাসের মধ্যে Principal এসে পড়বে। আশা। আমরা দেখছি পণ্ডিত মশাই-এলেই আপনাকে সাবধান করে দেব। আপনি টানুন না। কেশব। যখন সকলে বলছ—তখন টানি ( সিগারেট টান ও ঘন ঘন কাশী এবং সকলের হাস্য)

স্নেহ। পণ্ডিত মশাই শী পালান শীঘ্র পালান—lPrincipal এদিকে
আসছেন।
কেশৰ। এঁ—এ কাশী ও স্তভাবে প্রস্থান)
( মিসেস সেনের প্রবেশ )
মিঃ সেন। কৈ তােমাদের ক্লাসে এখন কেউ নেই ?
আশা। আজ্ঞা-পণ্ডিত মহাশয়ের শরীর কিছু অসুস্থ, তাই এই মাত্র
তিনি আমাদের পড়া দিয়ে বিশ্রাম-ঘরে গেছেন।
মিঃ সেন। আজ তােমরা সকাল সকাল বাড়ী যাও। বৈকাল বেলা
এখানে একটা মিটিং হবে তাতে সকলেরই উপস্থিতি দরকার। স্নেহলতা
তুমি সকলকে সঙ্গে আনবে। ( প্রস্থান)
স্নেহ। ভাগ্যিস পণ্ডিত মশাইকে সাবধান করে দিয়েছিলেম ।
( ছাত্রীগণের গীত।)
বড় মজা কলেজ আস৷
নাইকো কোন গােল,
পড়া শােনা হােক বা না হােক
শিখছি নূতন ভােল।
চা চলন্ ফিট ফাট,
বেড়াতে যাই গড়ের মাঠ,
গাড়ী ঘােড় চড়ি নাকো—
চড়ি কেবল বাইসিকে।
সকলের প্রস্থান।
১৪

প্রথম অঙ্ক।
তৃতীয় দৃশ্য।
অন্তঃপুরস্থ-কক্ষ
গজেন্দ্র ও মানদা।
গজেন্দ্র। মেয়েটার জন্য এত জায়গা থেকে সম্বন্ধ আনলুম, মেয়ের আমার
তার কোনটাই পছন্দ হল না। এদিকে ক্রমশঃ বষস্থাও হয়ে পড়ছে
আর ত’ রাখা চলে না !
মানদা। তুমি কেমন ধারা পুরুষ কে জানে! মেয়ের পছন্দ হয় না বলে
কি হাল ছেড়েদে চুপ করে বসে থাকবে ? আমার ত’ ভাবনায় ঘুম
হয় না।
গজেন্দ্র। বলি গিন্নি! আমি কি আর নেহাত চুপ করে বসে আছি—এই
দেখ না এক হাঙ্গামায় পড়া গেছে।
মানদা। হাঙ্গামা আবার কিসের ?
গজেন্দ্র। তা জান না, আমাদের ব্রাহ্মণ-সমাজে যে মহা হুলস্থূল। যা
কখনও হয়নি—আমাদের যােগেশ বাবু তাই কল্লেন।
মানদা। তা বাপু আপন ছেলেকে কে ত্যাগ করতে পারে ?
গজেন্দ্র। ত্যাগ করতে না পারেন একঘরে হয়ে থাকবেন। রায় মশাই,
চক্রবর্তী মশাই থেকে যাতে এর একটা বিশেষ ব্যবস্থা হয় এখন
তারই চেষ্টা করা যাচ্ছে।
মানদা। বলি হাঁ গা আমরা ত’ এখানে ভাড়া করে আছি—আমাদের ও
সব ঘেঁটে দরকার কি? আমরা চিরকাল ত’ আর এখানে বাস
কচ্ছি না।
গজেন্দ্র। গিন্নি তুমি জান না-আমি এখানে একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি

হয়ে পড়েছি। দশজনে আমায় সমাজপতি বলে মানে, আমি যদি এসব না দেখব তবে দেখবে কে? মানদা। বলি খুঁড়িয়ে বড় হলে ত’ আর হবে না। আমার ত’ সব জানা আছে। ঐ যােগেশ বাবু আর করালী বাবুর অনুগ্রহেই ত’ আমা- দের এখানে স্থিতি হল। গজেন্দ্র। কেন যখন আমি হিন্দু একাডেমীতে পড়াতুম তখন আমায় কে না চিনত ? মানদা। বলে—গাচ নেইকো যথায় ভ্যারেণ্ডা বৃক্ষ তথায়। ছিলে ঢুলীপাড়ায়, তারা তােমাকে মার ঠাওরাবে না কেন? গজেন্দ্র। তুমি মেয়ে মানুষ তাই ঠাট্টা করে উড়িয়ে দিচ্চো। বুঝে দেখনা আমি ঐ স্কুলটা ছাড়তে স্কুল উঠে গেল। তার পর কতবার হেয়ার স্কুলে হেডমাষ্টারী করবার জন্য আমায় সাধাসাধি। আমি গট হয়ে বসে রইলুম। এখন স্বাধীন ভাবে একা একটা স্কুলও চালাচ্চি, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসাও করছি। অল্পদিনের মধ্যে দেখতে পাবে এ অঞ্চলে যত Government স্কুল আছে সব কাণা করে দেব। মানদা। বলি এই ত’ সবে ‘অ’ ‘আ’ ‘ক’ ‘খ’ র ছাত্র নিয়ে স্কুল কেঁদেছ, এর মধ্যে অত লাফালাফী কেন ? গজেন্দ্র। আহা তুমি আমার Brain এর intelligence বুঝলে না। এই যে আমি একা একদিকে দাড়ী হাতে ঘিএর ওজন দেখছি, অন্যদিকে সব ছেলেদের পড়া বুঝিয়ে দিচ্ছি, এ কত বড় Brain-power বল দেখি। আমি গালাগাল দিয়ে বলতে পারি—কোন্ বেটা স্কুল মাষ্টার আছে আমার মত এক সঙ্গে এত বড় দুটো কাজ করবে করুক দেখি ।

প্রথম অক। মানদা। ঐ এক সঙ্গে দু’ কাজ কর বলেই ত’ কোন উন্নতি নেই। আমি বলি কি,এখন ছেলে পড়ান কাজটা উঠিয়ে দিয়ে যাতে দোকান খানা ভাল রকম চলে সে বিষয়ে একটু নজর দাও। গজেন্দ্র। তুমি বল কি ? আমি Competiton দিয়ে স্কুল খুলেছি, তুমি বল কি না তুলে দাও? আমি ঐ খানে College প্রতিষ্ঠা করব, তবে আমার নাম গজেন্দ্র মাষ্টার। আর সমাজ নিয়েও এদিকে যেরূপ মাতা গেছে, শীঘ্র একটা হুলস্থুল কাণ্ড করি দেখ না। সংবাদ পত্রেও তুমুল আন্দোলন হবে । মানদা। বলি সমাজ নিয়ে ত’ খুব ঘেট করছ—এ দিকে ঘরের কীর্তি ঢাকবে কিসে? আঠার বছরের আইবুড়াে মেয়ে বাড়ীতে যার, তার আবার সমাজ নিয়ে ঘোট কেন? ওসব ছেড়ে দিয়ে যাতে মেয়েটির কিনারা হয় আগে তাই কর। নইলে দশজনে আমাদেরই যে একঘরে করবে। গজেন্দ্র। গিন্নি! সে জন্য তােমায় কিছু ভাবতে হবে না। খালি দেখে যাও কি তুমুল কাণ্ডটা করে যাই। তুমি কি ভাব আমি মেয়ের বিষয় কিছু ভাবি না—খুব ভাবি। একটা সম্বন্ধও ঠিক করেছি। এই মাসে যাতে শুভ কৰ্মটা সম্পন্ন হয় তারও চেষ্টায় আছি। মানদা। এই যে স্নেহলতা আমার এদিকে আসছে। (স্নেহলতার প্রবেশ ) এস মা এস। আজ মুখখানি তােমার শুকনাে দেখছি কেন ? স্নেহ। আজ আমাদের পণ্ডিত মশায়ের অসুখ হওয়ায় আমাদের সকাল সকাল ছুটী হয়। আমরা তাই এতক্ষণ টেন খেলছিলাম। ছুটো- ছুটী করে একটু পরিশ্রম হয়েছে কি না—তাই মুখ শুকিয়ে গেছে। টিফিনের সময় জলখাবারওলা বেটাও আসেনি। ১৭

মানদা।
দেখ মা তোমায় আমি একটা কথা বলি। তুমি হ’ল গেরস্ত
ঘরের মেয়ে—ক্রমে বড় হচ্চ, আর তােমার এখন রাস্তায় বেরোন ভাল
দেখায় না। তাই বলছিলাম কি—যা পড়বার এখন থেকে তা বাড়ীতে
বসেই পড় না কেন?
মেহ। কেন বয়েস হয়েছে বলে কি বেরুতে পাব না? এ (তামাদের
অন্যায় অত্যাচার। আমাদের College এ একটা ('ycle Club
হয়েছে।
আর আর মেয়েরা বেশ Cyclc চড়তে শিখেছে—আমিই
কেবল শিখতে পারিনি। পণ্ডিত মশাই তাই আমায় কাল থেকে যেতে
বলেছেন। সুতরাং আমায় ত, এখন প্রত্যহই বৈকাল বেলা বেরুতে
হবে। বাবা! আমায় একখানা (Cycle কিনে দিতে হবে।
গজেন্দ্র। ছি মা মেয়েমানুষের কি Cycle চড়তে আছে ?
কেন চড়তে থাকবে না ? আমাদের Principal Mrs Sain ত’
রােজ Cycle করে College আসেন। আর কত মেয়ে (Cycle
চড়ে, রােজ গড়ের মাঠে বেড়াতে যায়।
গজেন্দ্র। তারা হ’ল খ্রীষ্টান—তাদের চড়তে আছে। আমরা হলেম
হিন্দু—আমাদের মেয়েদের কি বড় হলে রাস্তায় বেরােতে আছে ?
হে।
তােমার ঐ কেমন একটা foolishness তা আজও গেল না।
হিন্দু মেয়েদের আর কিছুই করতে নেই, কেবল ঘরে বসে বাঁধতে
আছে—আর দোরে গােবর ছড়া দিতে আছে। আমি ও সব কিছুই
মানি না। আমায় Cycle কিনে দেবেন কি না বলুন?
গজেন্দ্র। আমার অবস্থা ত দেখছ,কোথায় পাব না? এই তােমায়
স্কুলে দিয়ে অবধি যা পুঁজি ছিল—সব দিয়েছে। ক্রমে তােমার মার
গহনাগুলিও বাঁধা পড়েছে। আজ টেনিসের ব্যাট, কাল ফুটবলের
১৮

প্রথম অক
চাদা, পরশু হারমােনিয়াম—এই সব ফরমাজে আমি দোর হয়ে
পড়েছি। আর এখন টাকা কোথায় পাব বল ?
স্নেহ।
কেন দোকানখানা বেচে ফেল না। অসভ্যের মত দোকানে
বসে জিনিষ বিক্রি করা দেখলে আমার হাড় শুদ্ধ জ্বালা করে। আর
যদি না দিতে পার স্পষ্ট বল, আমি Ladies Emancipation.
Hall এ নাম লেখাই। তা হলে আর বাড়ীতেও আসছি না।
গজেন্দ্র। না মা তােমায় Emancipation Hallএ আর নাম লেখাতে
হবে না আমি কালই সব বেচে তােমায় Cycle কিনে দেব। এখন
যাও মা মুখ হাত পা ধুয়ে জলটল খাওগে। আজ আর কোথাও যেও
নাবাড়ীতেই থেক, তােমায় আজ দেখতে আসবে।
আজ বৈকালে আমার engagement আছে। আমাদের
(College এ একটা মিটিং হবে, আমাকে সেথায় attend করতে হবে।
আমি আজ বিকালে কিছুতেই বাড়ী থাকতে পারব না।
গজেন্দ্র। তা মা একান্তই যদি থাকতে না পার সকাল সকাল বাড়ী ফিরাে।
স্নেহ। Of course I shall try. ( প্রস্থান )
মানদা। দেখলে গা মেয়ের দৌড় দেখলে। আমার ত কথা শুনে
পেটের ভেতর হাত পা সে ধিয়ে গেছে।
গজেন্দ্র। গিন্নি! এখন আর কিছু গােল করে না—এখনি মা আমার বেঁকে
দাঁড়াবেন। আগে ঐ বড়য্যেদের একঘরে করে ফেলি—তার পর
তুমি যা হয় ক’বাে।
মানদা। যাই এখন মেয়েটাকে জলখাবার:দিই গে ।
গজেন্দ্র। হাঁ হাঁ যাও যাও আমিও একবার করালী বাবুর বাড়ী যাই।
(উভয়ের প্রস্থান)

চতুর্থ দৃশ্য।
ইডেন গার্ডেনের সম্মুখ।
পতাকা হস্তে স্নেহলতা, বিদ্যুৎলতা, কনকলতা, আশালতা
মিষ্টার সেন, মিস্ট্রেস সেন ও অবলা কলেজের
অন্যান্য ছাত্রীগণ।
( ছাত্রীগণের গীত।)
নূতন মজা উড়িয়ে ধ্বজা প্রচার করি ইম্যানসিপেস—
কোথায় গাে সব বঙ্গ নারী কর এসে যােগদান,
আমরা সবাই দেশহিতৈষিণী,
বঙ্গমাতার দুঃখনাশিনী,
পরের দুঃখ দেখতে নারি, দোব সবায় স্যালভেস
এইস্ত্রী, বিধবা, কি কুমারী,
স্বামী-প্রেমে বঞ্চিতা আছ যত নারী,
কারাে নাইকো ভয়, করােনা সংশয় হিঁদুয়ানী ড্যাম্নেসন্
পাবে যত্ন যত রত্ন তত, এ এক নূতনতর ফ্যাস।
সেন্। তােমরা এইখানে সারবন্দী হয়ে দাঁড়াও। তাইত এখনও মিষ্টার
বনার্জি এলাে না কেন?
(জ্যোতিষের প্রবেশ)
এই যে মিঃ বনার্জি। Good evening তােমার জন্যই আমরা
অপেক্ষা করছি।

প্রথম অক।
জ্যোতিষ। Good evening Mr. Sain. বলি ব্যাপার খানা কি?
তােমায় যে দেখতেই পাওয়া যায় না।
সে। তুমি লণ্ডন থেকে ফিরে এসেছ তা খবর পেয়েছি। ক’দিন বড়
ব্যস্ত ছিলাম তাই দেখা করতে যেতে পারি নাই।
জ্যোতিষ। বলি এ সব কি ?
সেন। ক্রমে শুনবে-ক্রমে শুনবে। দাড়াও আগে আমার wife কে
তােমার সঙ্গে Introduce করে দি (পত্নীর হস্ত ধারণ করিয়া) ইনি
হচ্ছেন আমার wife, ইনি একজন Educated lady. Calcutta
University Graduate. সম্প্রতি অবলা কলেজের Principal
হয়েছেন। (পত্নীকে মিঃ বনার্জির প্রতি দেখাইয়া) ইনি আমার
একজন Particular friend বিলাতফেরৎ ডাক্তার। Shake
hand কর Shake hand কর (উভয়ের করমর্দন )
জ্যোতিষ । শুনে খুব সুখী হ'লেম। আর এগুলি সব কারা ?
সে। এরা হচ্ছে cmancipated girls. আজ অবলা College এ
একটা grand meeting ছিল। অবলা কলেজের সঙ্গে আজ
একটা
নূতন
Hall খােলা গেছে, নাম-Female Emancipation
Hall. আমাদের দেশে যত স্বামী-প্রপীড়িত স্ত্রীলােক আছে
আর যে সমস্ত যুবতী-বালিকা তাঁদের পিতামাতা কর্তৃক ill-treated
হয়ে থাকে , তাদের জন্য এই Hall খােলা হয়েছে। যারা এই
Society তে নাম লেখাবে, তাদের খাবার পরবার কোন খরচ লাগবে
; তারা স্বচ্ছন্দে এইখানে থাকবে—আর লেখা পড়া শিখবে।
জ্যোতিষ। বলি এ গুলি সব বালিকা না কি?
সে। হাঁ যখন এখনও মিস্ আছে—তখন বালিকা বলতে হবে বৈকি ?

মিঃ সে। কেন? বালিকা বলায় আপত্যটা কি ? ইংলণ্ডে চব্বিশ পঁচিশ বৎসর বয়স্কা স্ত্রীলোকদিগকে বালিকা বলা যায়, আর আমাদের দেশে আঠার উনিশ বৎসরের মেয়েদের কি বালিকা বলা যেতে পারে না ? জ্যোতিষ। না আপত্য কিছুই নয়। তবে কি জানেন, আমাদের দেশের জল হাওয়ার দোষে এদের বালিকা বলতে কেমন বাধ বাধ ঠেকে। তা যাই হোক মিষ্টার সেন্, excuse me, আমি একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে পারি কি ? সেন। স্বচ্ছন্দে—স্বচ্ছন্দে। জ্যোতিষ। বলি এঁরা ভদ্রঘরের কন্যা ত ? সেন্। নিছক কুলীন—নিছক কুলীন। সমাজে তােমাকে নিয়ে যারা ঘেট পাকাচ্চেন—এরা সব তাদেরই কন্যা। (স্নেহলতাকে দেখাইয়া) এটা হচ্ছে তোমাদের সমাজপতি গজেন্দ্র বাবুর কন্যা। ( বিদ্যুৎলতাকে দেখাইয়া) এটা হচ্ছে মটক বাবুর কন্যা। (কনক লতাকে দেখাইয়া) এটা হচ্ছে যাদব বাবুর কন্যা। ( আশালতাকে দেখাইয়া) আর এটা হচ্ছে তোমাদের পরম ধাৰ্মিক করালী বাবুর এখন বুঝেছ বড়য্যে, এদের পিতারাই হচ্ছেন তােমাদের পাড়ার সমাজপতি। জ্যোতিষ। তা হয়েছে বেশ—ওদিকে আমার পাড়ার ধনুর্দ্ধরেরা যেমন সমাজ নিয়ে মেতেছেন, তাদের কন্যাগুলিও তেমনি উপযুক্ত হয়েছে। যা হােক মিষ্টার সেন্ খুব মাতিয়ে তুলেছ। সেন। এই সবে মাত্র পত্তন হচ্ছে—এখনও মাতাবার ঢের বাকী আছে। জ্যোতিষ। তা এ হুজুগ মন্দ নয়। সেন। জান ত ভাই, হুজুগ না হলে আমি থাক্‌তে পারি না। যখন প্রথম অক ইংলণ্ডে ছিলাম তখনও একটা হুজুগ নিয়ে ছিলাম। সেখানে Hinduism এর চূড়ান্ত করে আসা গেছে। এখন এখানে ফিরে এসে একটা কাজত চাই। অরিও এর মধ্যে অনেক মানে আছে- তােমায় :ivately বলব। তা যাই হােক ভাই তােমার পাড়ার লােকেদের বলিহারী। যত নিষ্কর্মা মূখ একত্র হয়ে হয়েছেন কিনা —সমাজপতি। তাদের ঘরের ব্যাপার দেখে কে-পরকে নিয়ে ব্যস্ত। তুমি ওবেটাদের কথা কানেও তুলনা ; ওরা সব আমার মুটোর ভেতর। জ্যাতিষ। সে তুমি কি পাগল হয়েছ ? Damn do I care those illiterate fools. তবে কি জান, একবার দৌড়টা দেখছি। তা যখন মেয়েরা সব ধ্বজা তুলেছেন—তখন আর গোঁড়ামী বেশী দিন টেকছে না। জাল আপনাদেরই গুড়তে হবে। সেন। আরও মজা আছে হে সবুর কর। তুমি যখন এখানে ছিলে না, মটুক পাগলা আর 'তার গুণধরী wife এর সঙ্গে একদিন খুব Civil war বাধে। শেষে তার স্ত্রী এসে আমার হাতে ধরে কান্না-বল্লে কিনা “আমায় Divorce Suit এনে দিতে হবে। আর আমি স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে পারি না”। তুমি ত জান মটুক বাবুর শ্বশুরবাড়ী আমাদের বাড়ীর পেছনে, কাজেই পাড়ার মেয়ে এসে ধরলে, কি করি অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে শেষ পাগলীকে জব্দ করবার জন্য একটা চা চালা গেল-একখানা false suit বার করে দেওয়া গেল। এই না পেয়ে মটুক পাগলা গজেন্দ্র মাষ্টার আর করালী বাবুকে সঙ্গে এনে আমার কাছে কান্না। তখন খুব এক হাত নিয়ে শেষ মিটিয়ে দিলাম। সেই অবধি সব শালা আমার কাছে জব্দ। এই দেখনা সকলে ভােল তুলেছে তােমর বাড়ী খাবে না। কিন্তু = ; আমার সেই চৌরঙ্গীর বাড়ীতে ওরা কতদিন এসে যে fowl curi) খেয়ে গেছে তার ঠিকানা নেই। সব বেটাদের ভণ্ডামী। Next Saturday আমার বাড়ীতে একটা Evening Party আছে- দেখতে পাবে সব বেটার আসবে। তােমার সামনে একেবারে plate এ মুখে ধরিয়ে দেব। জ্যোতিষ। বলি আমি কি আর জানি না ? যাতে বাস্তবিক পরস্পরের কল্যাণ হয়, দেশের উন্নতি হয় সে সব কাজে কেউ নেই ; ঘোট পাকাতে সবাই মজবুত। যাহারা ঈর্ষা-বশে গৃহবিচ্ছেদে ও স্বজাতির-অনিষ্ট চেষ্টায় কৃতসঙ্কল্প, তাদের দ্বারা দেশের কোন উন্নতির আশা করাই বিড়ম্বনা মাত্র। হায়! কবে এরা প্রকৃত মানুষ হতে চেষ্টা করবে, ঈর্ষা দ্বেষ ভুলে পরস্পর সৌহৃদ্য-সূত্রে আবদ্ধ হয়ে দেশের এই ঘাের দুদ্দিন দূর করবে, তা বিধাতাই জানেন। সেন। সে অনেক দূরের কথা বড়য্যে দ্বেষ হিংসা যাদের অঙ্গের আভরণ, স্বজাতির অনিষ্টচেষ্টা, যাদের মূলমন্ত্র ; উপদেশে, অপমানে, লাঞ্ছনায় এমন কি—বৈদেশিকের নির্মম নিষ্পেষণে ও স্বদেশ-জননীর করুণ-ক্রন্দনেও যাহাদের চৈতন্যোদয় হল না, তাদের মত্ পরিবর্তিত হওয়া কি সম্ভব ? আমিও যখন first ইংলণ্ড থেকে আসি, তখন মনে করেছিলাম এদের নিয়ে একবার দেশের জন্য লাগবে-ভ্রম বুঝিয়ে দিয়ে পরস্পরের মধ্যে একতা স্থাপন করে মায়ের মুখ উজ্জ্বল করবে কিন্তু আমাদের দেশের লােকের আচরণ দেখে ওকাজে একেবারে ইস্তফা দিতে হয়েছে। যাতে আমার সৎসঙ্কল্প বিকাশ পেতে না পারে, যাতে আমার চেষ্টা ব্যর্থ হয়, সমাজে যাতে আমি প্রতি পদে পদে অপদস্থ ও লাঞ্ছিত হই, যাতে আমি একজন ঘৃণ্য অপরাধীর মত ওদের ২৪ প্রথমঅঙ্ক দোরে দোরে ঘুরে বেড়াই, তার জন্য কত বেটা যে কত চেষ্টা করেছিল তা আর তােমায় কি বলবাে। এখন ঈশ্বরানুগ্রহে যাহা হউক দু পয়সা উপার্জন করছি—একটু মানুষের মত হতে পেরেছি, সুতরাং আবার সবাই আমার দ্বারস্থ। টাকা বড় সরেস চিজ, হে; আত্মীয় স্বজন বন্ধুবান্ধব সব ঐ টাকাতেই বশ, টাকায় না হয় দুনিয়ায় এমন কাজই নেই। নইলে দেখনা কেন টোলের পণ্ডিত গুলাে এসে আমায় ব্যবস্থাপত্র দিয়ে গেলেন, বললেন কি না—একটা সামান্য রকমের প্রায়শ্চিত্ত করে একদিন ব্রাহ্মণ ভােজন করিয়ে দিলেই আপনি জাতে উঠবেন। আমি তাতে বড় একটা গা করলুম না। শেষে সব ফস্কে যায় দেখে তারা নিজেরাই আমার কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে কালীঘাটে গিয়ে খেয়ে এলেন, তাতে তাদের জাত গেল । এইত তােমাদের সমাজ, আর এই রকম তার ব্যবস্থা। জ্যোতিষ। দিন দিন আমাদের সমাজ-মধ্যে ভণ্ডের সংখ্যা যেরূপ বৃদ্ধি হচ্চে, এবং আত্মসম্মান বজায় রাখবার অছিলায় সেই ভণ্ডপতিগণ যে ভাবে স্বার্থ সিদ্ধির জন্য চেষ্টিত হয়েছেন, তাতে সমগ্র জাতিটা যে অচিরে ধ্বংসমুখে পতিত হবে তার আর বিচিত্র কি। যাক ওসব কথা । এখন Mr. Sain কি বাড়ী যাচ্ছ—না এই ধ্বজাধারিণীদের নিয়ে ভারত উদ্ধার করবে ? সেন। ক্রমে ক্রমে এরা আপনারাই ভারত উদ্ধার করবে, আমি পথ দেখিয়ে দিলাম মাত্র। তা বাড়য্যে কি এখন চল্লে ? Good night কিন্তু মনে থাকে যেন Next Saturday Evening Partyতে without fail join করতে হবে। তােমার বাটীতে আমি অবশ্য Card পাঠিয়ে দেবাে। २९ গ

জ্যোতিষ। Good night আমিও promise করে যাচ্ছি যে নিশ্চয়ই
সেদিনকার partyতে attend করবে। Good night Mrs. Sain
Good night all ( প্রস্থান)।
মিঃ সে। তােমার friendটী তত বেশ রসিক লােক।
সেন। আমিও বড় কম নই। এখন চল গাইতে গাইতে Governor
General এর বাড়ী প্রদক্ষিণ করে সব বাড়ী বাড়ী যাওয়া যাক।
সহর জুড়ে agitation তােলা যাক।
( ছাত্রীগণের গীত।)
সারি, সারি, সারি, বাড়ী, বাড়ী, বাড়ী,
চল যাই দেশ মাতাই ;
লেডিজ, ইম্যাসিপেস’, ‘লেডিজ ইম্যাসিপেস,
জয়নাদে ভুবন ভাসাই
হলে বঙ্গের দুখ-নিশি অবসা
সুখ-রবি পশ্চিমেতে ঐ বুঝি উদিল,
জাগিল সন্তান যত সরম ত্যজিল,
আর নাই ঘুমঘাের (এখন) পদভরে মেদিনী কঁপাই।
(নামাবলীর কোট প্যান্ট পরিয়া হােটেলওয়ালা ও হােটেলওয়ালীর
গীত গাহিতে গাহিতে প্রবেশ।)
(গীত।)
উভয়ে। খুলেছি হিন্দুহােটেল যাবে নাকো কারাে জাত,
খানার চোটে করবাে এবার যত বাজীমাত।

প্রখম অফ
হােটেলওয়ালী। হিন্দু মতে গঙ্গা জলে বেঁধেছি আমি বীফ,
হোটেলওয়ালা। মাটন, পোর্ক, মুর্গির চপ দিচ্ছি খুব চিপ
উভয়ে।
যোগাই মোরা ঘরে ঘরে ডাক্তার উকিল কি পণ্ডিত,
হােটেলওয়ালী। যেয়াে না ইংলিস হােটেলে
হােটেলওয়ালা। বারমেড, এখানেও মেলে
উভয়ে।
দোবাে যা চাও—বীফ, ষ্টিক, রাইশ, কারী,
পােলাও কি ভাত।
সেন। বাঃ বাঃ এরা দেখছি ভেলি করেছে মন্দ নয়। সহরময় দেখছি
নূতন ভাবের তুফান বেশ জেরি চলেছে। (প্রস্থান)।
পঞ্চম দৃশ্য।
নদের চাদের বাটীর অন্তঃপুরস্থ কক্ষ।
মনােরমা ও ঝী।
মনন। বাবা কোথা থেকে এক কেশাে রুগীর সঙ্গে বে দিলেন, হতচ্ছাড়া
মিনসের হাতে পড়ে হাড় মাস কালী হ’লাে। না পেলুম একদিন
সখ করতে। না পারলেম একদিন সাধ মেটাতে। আমার এই যে
full youth এর কদর ও কি বুঝবে? বাড়ীতে এলাে ত’ অমনি খ
খ করে কাশী। দেখলে হাড় জ্বলে যায়। পােড়ারমুখখা মিনসে
ত’ মরেও না। এর চেয়ে বিধবা হয়ে থাকা ভাল।
२१

AN
ঋী।
'?
ঝী। ছি দিদিবাবু সােয়মীকে কি ও কথা বলতে আছে ? সােয়ামী
যতদিন আছে মেয়ে মানুষের ততদিনই ভাল।
মননা। অমন স্বামী থাকায় না থাকায় যে সমান।
তা যাই হােক দিদিবাবু, হাতের নােয়া, মাথার সি দূর ত’ বজায়
থাকবে।
মননা। বজায় থেকে লাভ?
ঝী। লাভালাভ জানি না—লােকতঃ বলে তাই জানি।
মনাে। লােকতঃ আবার কি? লােক ত, আমার জন্যে ভেবে অস্থির ;
এই যে সধবা অবস্থায় আমি মনকষ্ট পাচ্চি এ তারা কি দেখতে আসচে ?
আমি বিধবা হলে তারা আবার আমার বে দেবে ?
ঝী। সে কি দিদিবাবু আপনি বলেন কি?
মনাে। থাম্ ন্যাকা মাগী—কিছুই জানেন না। এখন তুই যা দেখি
মাষ্টার মশাই এখনও কেন এলেন না দেখ দেখি। আর শােন আগে
ঐ আলমারী থেকে বােতলটা আর গেলাসটা নাবিয়ে দেয়া।
(ঝী কর্তৃক বােতল ও গেলাস প্রদান।
ঝী। দিদিবাবু সেদিন আমায় আপনি এই সরবৎ দিয়েছিলেন—বেড়ে
মজার সরবৎ। খেলে যে মনে কি আনন্দ হয় তা আর আপনাকে
কি বলব!
মননা। তবে সে দিন খেতে চাসনি যে ?
ঝী। আমি কি আগে তা জানতুম, লােকে বলে মেয়েমানুষকে বােতলের
ওসব খেতে নেই। তা যাদের বরাতে নেই তারাই খাবে না। আমি ত’
দিদিবাবু খুব খাব। বলি দিদিবাবু আজ কি একটু দেবেন না। একটু
খানি থেলেই দিদি বাবু কেমন হাত পা আপনি কাজে এগিয়ে আসে।
২৮

প্রখম অফ
মনাে। নে নে এইটুকু খেয়ে শীগগির যা-দেখিস কোথাও যেন দেরী
করিসনি।
ঝী। (মদ্যপান) না দিদিবাবু আমি এই হন্ হন্ করে যাচ্ছি। কি
মজার জিনিষ দিদিবাবু! আমি তা হলে চলুম।
মননা। যা শীগগির যা দেরী করিসনি।
( ঝীএর গীত।)
সাধ করে কি যাইনা ছেড়ে, যত্ন এমন কোথায় পাব,
বাসন মেজে কাপড় কেচে, সােণার তাগা হাতে দোব।
গতর করব না মাটী, দেহখানি রাখবাে পরিপাটী,
গেলে পরে এমন চাকরী অরিত না পাব। (প্রস্থান।
মননা। তাই আজ এখনও মাষ্টার মশাই এলেন না কেন? মনটা ত
কিছুতেই স্থির করতে পাচ্ছি না। দেখি Hamlet খানা যদি ভাল
লাগে। (কিঞ্চিং পাঠান্তে বিরক্ত হইয়া) দূর ছাই পড়তেও আজ
তেমন মন যাচ্চে না। কি করি?—একটু খাই (মদ্যপান)।
(গীত।)
মন মানা নাহি মানে,
কে জানে কি হলাে কি অনল জ্বলিল প্রাণে ;
সারা নিশি হইয়ে বিভােরা,
জেগে থাকি প্রেমে মাতুয়ারা;
কত রজনী পােল ভানু গেল অস্তাচল,
আমার ধ্রুবতারা না উদিল গগনে।

WWW.1"
;
(নেপথ্যে। ও ঝী—ও ঝী।)
মননা। বাইরে কে ডাকে? মাষ্টার মশাইএর মত গলা না-দেখি কে ?
( প্রস্থান)
(যদুনাথ ও মনােরমার পুনঃ প্রবেশ)
মননা। আমি আপনার জন্য ভেবে মরি—আপনার কি এই আক্কেল ?
যদু। কি করবাে বল পরের চাকরী করতে হয়। কলেজ থেকে
বেরােতেই আজ কাল সন্ধ্যা হয়ে যায় ; তবে তুমি কিনা আমার নিতান্ত
প্রিয়া ছাত্রী—তাই গৃহে পদার্পণ করে কাপড় ছেড়েই চলে আসি।
মনন। আপনি ত আর আমায় ভালবাসেন না--এখন কত নূতন ছাত্রী
পেয়েছেন তাদের নিয়েই ভুলে থাকেন, কাজেই আসতে সন্ধ্যা হয়ে
যাবে বইকি।
সে কি মনােরমা ! তােমায় আমি যেমন ভালবাসি—এমন আর
কাকেও না। তুমি যখন স্কুলে যেতে, মনে করে দেখদেখি কেমন তখন
আমি তােমায় রােজ বাড়ী পৌছে দিতাম না ?
মনন। তা ত, দিতেন—এখন বুঝি স্নেহলতাকে বাড়ী পৌঁছে দিতে যান।
যদু। না না তােমার জন্য আমি যত interest নিই তেমন আর
কারাে জন্য নিই না। তােমার মত তীক্ষা-বুদ্ধি ছাত্রী অতি বিরল।
তা যাই হােক—বলি ও বােতলে কিছু আছে না কি?
মননা। আছে বৈ কি এই সন্ধ্যার সময় মনটা কেমন খারাপ হয়েছিল
তাই একটু ঢেলে খেয়েছিলাম—আর ঐ ঝীটাকে একটু দিয়েছিলাম।
তা মাষ্টার মশাই আপনি একটু খাবেন ?
যদু।
হ আমারও শরীরটা কিছু অসুস্থ- একটু খেলেও হয়। বলি
নেশা টেশা হবে না ত’?
কঁহু।
৩০

প্রথম অক
মনাে। সে কি মাষ্টার মশাই আমি কি আপনাকে মাতাল করে দেব।
যদু। (মদ্যপান করিয়া ) খাসা জিনিস যে মনােরমা–আর একটু দাও।
(মদ্যপান)
মনন। মাষ্টার মশাই! এ বাড়ীতে আর ত আমার থাকতে ইচ্ছা হয় না।
আমার husband এর মুখ দেখলে রাগে গাটা গিস্ গি করে।
মনে হয় অমনি জুতাের ঠোক্কর মেরে তাড়িয়ে দি। সেটা নিতান্ত fool
তাই আবার আমার পায়ে এসে ধরে। তা আপনি কোথায় নিয়ে যাবেন
বলছিলেন—সেথায় কেন চলুন না ?
যদু। হাঁ Aristotle বলে গেছেন অমন ধারা diseased husband
দের এই রকম wife এর নিকট জুতার ঠোক্করই ঔষধ। Lady
Cleopetra বলে ইংলণ্ডে একজন শিক্ষিত যুবতী ছিলেন তার
husband এর শিরঃপীড়া ছিল। Cleopetra প্রত্যহ তাঁর স্বামীকে
তিনবার kick করতেন। ক্রমে এক মাস এই রকম treatment এ
থেকে তাঁর husband quite cure-একেবারে আরাম। তা
যাই হক মনােরমা তােমার জন্য আমি আমার College এর
নিকট একটী নিভৃত মন্দির ঠিক করেছি। সেইখানে নির্জনে
দু’জনে বিদ্যাভ্যাস করা যাবে। কিন্তু তােমার husband কে যে
আমার ভয় করে।
মননা। আপনি সে জন্য কিছু ভাববেন না—আমার husband একটী
সম্পূর্ণ গধা।
যদু। মনােরমা আজ অনেক রাত্র হয়ে গেছে—তবে এখন উঠি।
মননা। শুধু মুখে যাবেন—একটু জল টল খান। (জলখাবার দান )
যদু। (জলযােগান্তে) শুধু মুখ কি মনােরমা ! বেড়ে রাঙ্গা মুখ হয়েছে-

তার উপর তােমার কথাও রাখা গেল, এখন আসি। এখনি নদের চাদ
বাবু এসে পড়বেন বুঝতে পাচ্চ না। তা হলে তুমি সেখানে যেতে
রাজী ত ?
মননা। পা বাড়িয়ে আছি—আবার রাজী কি ?
(নেপথ্যে কড়াধ্বনি)
যদু। ঐ কড়া নাড়ছে কে ? বােধ হয় বাবু এসেছেন—যা ভাবছিলাম
তাই হয়েছে । এখন যাই কোথা বল ?
মননা। কোন ভয় নেই আপনি ঐ খিড়কীর দোর দিয়ে পালান—আমি
যাই দরজাটা খুলে দিয়ে আসি।
( উভয়ের প্রস্থান)
(নদের চাদ ও মনােরমার পুনঃ প্রবেশ )
নদের। বলি বাড়ীর ভেতর এত গোলমাল হচ্ছিল কিসের গা ?
মনন। এই চোর এসেছিল আর কিসের গােলমাল হবে গা ?
নদের। বল কি? চোর এসেছিল গেল কোথা ?
মনন। যাবে আর কোথা—তুমি বাড়ী নেই, ঝী বাড়ী নেই—খিড়কী দিয়ে
পালিয়ে গেল। আমি মেয়ে মানুষ কেমন করে ধরে রাখি বল ।
নদের। কেন ঝী নেই কেন ?
মনাে। ন্যাকা মিসে জানেন না—ঝী কি রাত্রে বাড়ী থাকে নাকি ?
নদের। তাইত কিছু নিয়ে যাইনি ত।
মননা। আমি জেগে ছিলাম-নইলে আমায় শুদ্ধ নিয়ে যেত।
নদের। তা যাই হােক-তুমি ত আমার আছ—এখন চল দেখি
খাবার দেবে।
মনাে। বলি খাবার কি আর রেখেছে--চোরে সব খেয়ে গেছে।
নদের। ব্যাটার চোর—ত দেখছি ভারি সন্ধানী—জলখাবারটী শুদ্ধ
খেয়ে গেছে, বলি আমার হুকো কলকে নিয়ে যাইনি ত।

প্রথম অক
মনাে। না সে ভয় নেই, আর কি হবে—এখন বাজার থেকে কিছু খাবার
কিনে এনে খেয়ে শােও গে।
(উভয়ের প্রস্থান)
ষষ্ঠ দৃশ্য।
বিডন স্কোয়ার।
গােলাপ সুন্দরীর কক্ষ-গােলাপ ও থাক।
গােলাপ। দেখ, থাকি আজ আমি একাদশী করে আছি মিনসেরা সব
এখনি আসবে—তুই পাটাটা অজি রাধগে যা।
থাক। তা যাচ্ছি। আচ্ছা তােমায় আমি একটা কথা জিজ্ঞাসা করি-
তুমি পাগলা ঠাকুরকে অত ভালবাস কেন? সে কি তােমায়
মাসকাবারে কিছু দেয় ?
গােলাপ। কি জানিস থাকি-তুই যখন দেশে গেছলি—তখন পাগল
ঠাকুর অামার অনেক উপকার করেছিল। আমার বাবু এলে তামাক
সেজে দেওয়া, মদটা আসটা নিয়ে অসা, এমন কি সময় অসময়ে ভাত
রাধা কাপড় কাছাটা পৰ্যন্ত করে দিত। আমি কি তেমনি ন্যাকা
মেয়ে মানুষ যে উপকার না পেলে তাকে এমনি ঘরে ঢুকতে দি।
থাক। তা সত্যিই ত আমার একটা অমনধারা লােক হলে আমিও তাকে
খুব যত্ন করি। নইলে হ’রের মতন ?—খ্যাংরা মার খ্যাংরা মার। ঐ
তােমার পাগলা ঠাকুর আসছে,যাই আমি রান্না বান্নার জোগাড় দেখি ।
গােলাপ। হাঁ তুই যা রাত্রিও অনেক হলাে।
(মটুক চাদের প্রবেশ)
গােলাপ। এস এস পাগলা ঠাকুর এস-বলি এত রাত্তির হল কেন?
আমার বাবুরা সব কোথা ?

W6
মটুক। সব আসছে—সব আসছে। এই মদের বােতল টোল আমায়
দিয়ে পাঠিয়ে দিলে—তারা পেছিয়ে আসছে। আজ আমায় অপমান
করেছে—অপমান করেছে। আমি গলায় দড়ি দেব।
গােলাপ। ছি ঠাকুর গলায় কি দড়ি দিতে আছে—কে তােমায় অপমান কল্লে?
মটুক। মাগ—মাগ। আমায় লাথি মেরেছে-বাড়ী থেকে তাড়িয়ে
দিয়েছে। আমি তার মুখদর্শন করব না।
গােলাপ। তােমার মাগ তা হলে দিগগজ মেয়ে মানুষ—তুমি বেটাছেলে
কিছু করতে পারলে না?
মটুক। সে বেটাছেলের বাবা—তার গায়ে খুব জোর। আমার মত
দুটোকে মেরে ফেলতে পারে।
গােলাপ। তাইত বলি পাগলা ঠাকুর ! অমন মাগ কি পুষতে আছে।
তুমি আমায় মাসে মাসে দশটা করে টাকা দাওনা আমি তোমায় কত
যত্ন করবাে দেখবে।
মটুক। তাই দোব—আর আমি তার মুখদর্শন করবাে না।
গােলাপ। বলি ঠাকুর ! প্রায়ই ত শুনতে পাই মাগ তােমায় ঝাটা লাথি
মারে—আবার ত সুড়সুড় করে তার কাছে যাও।
মটুক। আর যাবনা—আর যাবনা। এগুলাে এখন রাখি কোথা?
গােলাপ। ও থাকি এ দিকে একবার আয়ত, আমি আজ আর ও গুলাে
ছোঁব না—তুই সব আলমারীর ভেতর রেখে দে।
( নেপথ্যে যাই ) (থাকর প্রবেশ ও বােতল রাখিয়া প্রস্থান)
(যাদব ও গজেন্দ্রের প্রবেশ)
যাদব। বলি কি গাে গিন্নি আজ এমন শুকনাে শুকনাে দেখছি কেন ?
গােলাপ। আজ যে আমি একাদশী করেছি।
৩৪

প্রথম অক
যাদব। এা আমি থাকতে একাদশী-আমার অকল্যাণ !
গজেন্দ্র। বলি যাদব বাবু তােমার গিন্নির নিষ্ঠা টুকু আছে দেখছি যে।
গােলাপ। তা বয়েস ত, হয়েছে। একটু পরকালের ত, কাজ করতে হবে।
যাদব। গিন্নি—তােমার আমার কি পরকাল আছে ?
গােলাপ। নাও এখন কথা রাখ, আমি আজ আর বেশী রাত জাগতে
পারব না।
যাদব। তা মাংস টাংস গুলাে কি রান্না হলো?
গােলাপ। আমি ত আর একাদশী করে ও গুলাে ছোঁব না। তাই থাকি
আজ রাধছে।
যাদব। বলি তােমার হাতের রান্না খাবেন বলেই যে এরা এসেছেন।
গােলাপ। তা কি করব বল ?
যাদব। বে—তবে নাও এখন বােতল টোল পাড়।
গােলাপ। ও থাকি এ দিকে আর একবার আয় ত। বাবুদের সব বােতল
গেলাস পেড়ে দিয়ে যা।
( মাংস লইয়া থাকর প্রবেশ)
থাক। এ মাংস গুলাে তবে এইখানে থাক। (বােতল ও গেলাস প্রদান)
যাদব। মটক বাবু তা হলে এ গুলাের ব্যবস্থা করুন। মাষ্টার মশাই
আপনি মাংস বখরা করুন।
গজেন্দ্র। বলি তােমার গিন্নিরও ত এক বখরা চাই।
গােলাপ। না আপনারা খান আজ আর আমি খাব না।
যাদব। তা কি হয় ? “সস্ত্রীকে ধৰ্ম্মমাচরেৎ”। তুমি না খেলে যে সব
ফাঁকা হ’ল। নাও এক ঢোক খেয়ে দু’খানা মাংস চিবােও।
গােলাপ। সে কি গাে—আমি একাদশী করেছি যে।

যাদব। আমরাও কি আর একাদশী করিনি। নাও লক্ষ্মী—চাদপাণা মুখ
করে ঢুকূ করে খেয়ে ফেল; বলি এত আর আঁষি নয়।
গােলাপ। না বাবু আজ আর আমি খাব না। একটু পুণ্য করছি
তাও কি তােমরা আমায় করতে দেবে না ?
যাদব। পুণ্য টুন্য গুলাে দিনের বেলায় সেরে রেখাে না সােণার চাদ!
এখন নাও টুক করে খেয়ে ফেল দেখি।
গােলাপ। তা দাও আমার গলায় ঢেলে দাও--আমি আর ছোব না।
যাদব। দাও ত মটক বাবু—গলায় ঢেলে দাও ত !
মটুক। (তথা করণ)। এখন আসুন মাষ্টার মশাই একটু নি।
যাদব। এই দেখ দেখি বাবা এতক্ষণে আসর জমকাল।
গােলাপ। তবে পাগলা ঠাকুর আপনাকে একখানা গান গাইতে হবে।
মটক। আমি কি গান জানি।
যাদব। যা জানেন মট ক বাবু,গেয়ে দিন না—নি নি আর এক
পাত্র করে চলুক।
(সকলের মদ্যপান)
গজেন্দ্র। তা মটুক বাবু দেরী করছেন কেন? একখানা গেয়ে দিন।
মটকের গীত।
ছি ছি কুলবালা তােমার একি অত্যাচার,
আমি তােমার ভয়ে গৃহছাড়ি দুখ পাই অনিবার।
ঝাটার চোটে পৃষ্ঠ ফাটে,
তবু ধরি তােমার রাঙা পায়,
আমায় পাগল বলে খেপায় সবাই
সত্যি ত আমি পাগল নই,
পাগল সেজে কাজ বাগিয়ে চলে যাই আপন ঘর।

প্রথম অক
যাদব। বলি বাঃ বাঃ মটুক বাবুর বেড়ে গলা যে। বলি এ গান খান।
শিখলেন কোখেকে।
মট ক। আমি নিজে বেঁধেছি--নিজে বেঁধেছি—নিজে সুরও দিছি।
(পুনঃ ঐ গীত।)
সপ্তম দৃশ্য।
যােগেশের অন্তঃপুরস্থ কক্ষ।
তুলেচে।
তারাসুন্দরী ও কিরণবালা।
কিরণ। মা আপনি কেন মিছে ভাবচেন। আজ কাল কি আর জাত
আছে।
তারা। অমন কথা বলাে না বউ মা, দেখুচ ত’ পাড়ার সকলে’ একটা
গােলমাল
কিরণ! তা পাড়ার লােকেদের মত, যদি শুনতে চান, ত’ ঠাকুরপােকে
আলাদা করে দিন। আচ্ছা ভেবে দেখুন দেখি মা, ঠাকুরপাে যখন
বিলেতে ছিল, তখন তার অদর্শনে আপনি কত অধীরা হয়েছিলেন
এখন ঈশ্বরের ইচ্ছায় ঠাকুরপাে বাড়ী ফিরে এসেছে, এখন কি আবার
তাকে ত্যাগ করবেন ? লােকে পাঁচ কথা বল্লেই বা। বলি সােমও মেয়ে
আইবুড় রাখা, তাদের গড়ের মাঠে হাওয়া খেতে দেওয়ার চেয়ে ত’
বিলেত যাওয়া মন্দ নয়।
তারা। সােমত্ত মেয়েকে আর কে মা গড়ের মাঠে পাঠায়।
কিরণ। আপনার ঐ হরিনামের ঝুলির দিকে মন কি না, তাই কোথায়
কি হচ্ছে তার ত আর খবর রাখেন না।
;

তারা। তা আমি মেয়ে মানুষ কোথায় কি হচ্ছে কেমন করে খবর রাখব। কিরণ। তবে বলি শুনুন—আমরা যেমন বউ মাথায় ঘােমটা দিয়ে শাশুড়ীর সঙ্গে সঙ্গে ফিরি-সংসারের সমস্ত কাজ কৰ্ম্ম করি, তেমন বউ আর পাচ্ছেন না। এখনকার বৌএরা সব গাউন এটে স্বামীর হাত ধরে গড়ের মাঠে হাওয়া খেতে যাবে–শাশুড়ী ননদ গুলিকে দাসী বাদীর মত নাকে দড়ি দিয়ে খাটাবে—নয়ত বাড়ী ছাড়া করবে, বুঝেছেন। শশানেননি ঐ যে কে ব্যারিষ্টার আছেন, তার স্ত্রী কি একটা সমাজ খুলেছেন, তাতে না কি স্ত্রী স্বাধীনতা দেওয়া হবে। ঠাকুর পাে সেদিন Eden garden এ বেড়াতে গেছলাে, এসে বলে, এক দল বাঙ্গালীর মেয়ে নিশান হাতে গান গেয়ে গেয়ে ঐ সমা- জের প্রচার করছিল। ওমা তার মধ্যে গজেন্দ্র মাষ্টারের মেয়ে, মটুক পাগলার মেয়ে, করালী বাবুর মেয়ে, যাদব বাবুর আরপক্ষের মেয়েরা সব আছেন। তা ছাড়া আরও কত যে মেয়ে জুটেছে, তা আর কি বলব। বলি মা-এতে যদি জাত না যায়--তবে অরি জাত যায় কিসে ?—শুধু বেটাছেলে বিলেত গেলে? ঐ সব মেয়েরা আবার ঐ ব্যারিষ্টারের বাড়ী বঁটা চামচেও ধরতে শিখেছেন। আপনি কেন আর ও বিষয় নিয়ে তােলাপাড়া ক’চ্ছেন। আজ কাল কি আর জাতের বিচার আছে ? সব একাকার হয়ে গেছে। তারা। ঐ তুমি বল কি বউ মা—ওঁরা না সমাজের মাথা ? ওঁদের এই কাজ ! তা আমি সে জন্য, কিছু ভাবি না। যাহ’ক জ্যোতিষ আমার যখন বাড়ী এসেছে তখন আর আমি কিছুই চাই না। তবে লােকত একটা কথা আছে কি না ? ৩৮ প্রখম অক ( জ্যোতিষের প্রবেশ।) জ্যোতিষ। এই যে মা। বউদিদি যে। বলি কিসের কথা হচ্ছিল ? কিরণ। ঠাকুর পাে! মা বলেন পাড়ার লােকেরা না কি জটলা বেঁধে আমাদের এক ঘােরে করবে। জ্যোতিষ। তা তােমরাও কি সেই হুজুগে মেতেছ না কি ? তারা। না বাবা না-তবে কানাকানি শুনতে পাই কি না ? জ্যোতিষ। মা !তুমি ছুচোর কিচ কিচিনি কানে তােল ? তারা। ও কথা বলিস নি, হাজার হােক ব্রাহ্মণ ত’ ? অবার শুনতে পেলে আরও যাতে ঘোটটা পাকিয়ে ওঠে তাই করবে । জ্যোতিষ। কেন? চুরিও করি নি-ডাকাতিও করি নি--কোনও অপ- কৰ্ম্মও করি নি-আর কারও একচালায় বাসও ত’ ক’চ্চি না। ভয়টা কিসের? যদি বল কাজ কর্মের সময় কেউ আসবে না?—সে জন্য কিছু ভেব না। পােলাওএর গন্ধ বড় সরেশ জিনিষ, আর তার ওপর সুবর্ণ মুদ্রা দক্ষিণা দিলে-ওরা ত’ রায় ঘােষাল-কত বিষ্ণু ঠাকুরের সন্তান আসবে। আর যদি নিতান্তই না আসে মা, তাতেই ব ক্ষতি কি? যারা খেতে পায় না—অন্নাভাবে দোরে দোরে ঘুরে বেড়ায় এমন গরীব দুঃখী লােক ত’ আসবে,তাদের খাওয়ালে সুখও আছে—পুণ্যও আছে । অমন ভূত ভােজন করিয়ে লাভ কি ? তারা। শুনছি না কি ওই মাষ্টার মশাই আর মটুক বাবু মিলে করালী বাবুকে নাচিয়েছে। তা না হলে করালী বাবু ত’ লােক মন্দ নয়। জ্যোতিষ। লােক ত’ মন্দ নয়--তবে ঐ নাচাটাই যে দোষ। কাকে কান নিয়ে গেছে বলে কাকের পেছনে ছোেটাও ত’ আহাম্মকী। মা তুমি জান না, ঐ করালী বাবুই বল, আর যদুগােপাল বাবুই

ব’লও সব সমান, সব সমান—উনিশ আর বিশ। সকলের
গুণাগুণ ত’ জানা আছে। পরস্পর দোহাই দিয়ে সব রেহাই পেতে
চান। সাহস করে নিজের ঘাড়ে কেউ দায়িত্ব নেন না—ও সব
ফন্দি ত’ বােঝ না।
তারা। এই দেখনা বাবা, পাড়ায় ব্রাহ্মণদের বার্ষিক সিধে আর একটা করে
টাকা পাঠালুম—সব ফিরিয়ে দিয়েছে। কেবল দু’চার ঘরে নিয়েছে।
ঐ কেষ্ট বড়য্যের ছেলে,—আর কে তাদের নাম জানি না।
জ্যোতিষ। তা দেবেই ত। মা তুমি যে সিধে সাজাতে পারনি।
তারা। কেন বাবা ? বরাবর যেমন সিধে সাজিয়ে দি’ এবার বরং তার চেয়ে
ভাল করেই দিইচি।
জ্যোতিষ। বলি ঐ কতকগুলাে, চাল কুঁচকলা বড়ী আর ঘি ত’? তা
আর ফিরিয়ে দেবে না কেন? ঐ থালের উপরে যদি দু’ চারখানা মােহর
সাজিয়ে দিতে তা হলে কোন গুণনিধি ফিরিয়ে দিতেন দেখতুম। বুড়াে
হ’লে মালােক চিনলে না? তা’ যা’ হাে’ক দু’ চার ঘর সু ব্রাহ্মণ
ত’ নিয়েছে। ও রায় ঘােষালরা না নিলে ত’ বড় ব’য়েই গেল।
তুমি ও গুলাে সব ভট্টাচাৰ্য মােয়দের বাড়ী পাঠিয়ে দাও।
(সতীশের প্রবেশ)
সতীশ। এই যে জ্যোতিষ তুমি বাড়ী আছ? ব্যারিষ্টার সেন যে তােমার
সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। তুমি বাড়ী আছ ত’ জানি না,
আমি বলেছি বাড়ীনেই। তা যাই হােক এই চিঠি খানা আর
এই কার্ড দিয়ে গেছেন (পত্র ও কার্ড প্রদান)। আর তােমায়
positively কাল যেতে বলে গেছেন। আমায়ও যাবার জন্য
বিশেষ করে জেদ করেছেন। কাল তার বাড়ী কি একটা না কি
৪০

প্ৰখন অক । Evening Party আছে। (মার প্রতি) মা কাল বড় মজা হয়ে গেছে, আমি আফিষের ফেরতা লালবাজার দিয়ে আসছি, দেখি না রায় মশাই, ঘােষাল মশাই, আরও সব মশাই আছেন—এ দিক ও দিক দেখে ওইখানে একটা হােটেলে ঢুকে পড়লেন। হােটেলটা হিন্দু হােটেল, হােটেল ওয়ালাদের সব নামাবলীর কোট পেন্টেলুন পরা। দেখে আমার কেমন সন্দেহ হ’ল। কিছুক্ষণ পরে আমিও ভেতরে ঢুকলুম। দেখি না সবাই মিলে বেড়ে মুরগীর শ্রাদ্ধ করছেন। আমায় দেখে ডিস্ লুকোনর চেষ্টা। মটুক পাগলা ত’ আমায় মারতেই আসে বলে কি না মূল্য দিয়ে খাচ্চি”। তা’ যাই হােক এসব ভণ্ডামী দেখে শুনে কি আর ওদের কথায় কান দিতে আছে ? হায়, হায়! এরাই আবার সমাজপতি! তা যেমন সমাজতেমনি তার পতি। তারা। ওঁরা যে বাবা শুনেছি কায়েতের বাড়ী খান না। তা ওঁরা প্রকাশ্যে কিছু করেন না—তবে লুকিয়ে চুরিয়ে রমা ঢুলির বাড়ীতেও পাত পেতে আসেন। তাতে কোন দোষ নেই। কথায় না আছে—‘লুকিয়ে খেলে শুকিয়ে যায়’ও এক রকম তাই। জ্যোতিষ। দাদা ঠিক বলেছ। ওদের দেখলে আমার কেমন পা থেকে মাথা পর্যন্ত জ্বলে ওঠে। যত ভণ্ড জুটে দেশটাকে আর সমাজটাকে একেবারে ছারখার করে দিলে। ( যােগেশের প্রবেশ ) যােগেশ। এই যে জ্যোতিষ। আমি তােমায় খুঁজছিলাম। তা বেশ এক সঙ্গে সকলের দেখা হ’ল ভালই হল। দেখ আমি এই মাত্র বেড়িয়ে ফিরে আসছি, রাস্তায় দেখি না গজেন্দ্র বাবু করালী বাবু সব দাড়িয়ে আছেন। আমায় দেখে ডেকে বল্লেন “কি মশাই কি ব্যবস্থা সতীশ। ৪১ করেছেন?” আমি আর কি বলব—বল্লুম ব্যবস্থা আর কি করব ? তবে ছেলের প্রায়শ্চিত্তটা করিয়ে দিছি। তাতে সকলে বল্লেন “ও আপনি কি করেছেন না করেছেন কেউ তাে তা দেখতে যায় নি। আপনি যদি আমাদের মত, নিয়ে চলেন তাহলে আমরা আপনাকে জাতে তুলে নিতে পারি ; তবে পাঁচশাে টাকার দরকার”। তা—সকলের মনোরঞ্জনার্থ না হয় পাঁচ শশা টাকা খরচ করব—কি আর জ্যোতিষ। আপনি বলেন কি ? পাঁচ পাঁচ শো টাকা তুলে দেবেন ? বুঝছেন না কোন উপায়ে কতকগুলাে টাকা আত্মসাৎ করবার জন্য সকলে এই মতলব এটেছে। যখন টাকা খরচ করলেই জাতে ওঠা যায় তখন সে জাতের আর মর্যাদা কি ? জাতটা কি বাজারে কেনা বেচার জিনিষ? আপনি ও ভণ্ডদের কথা শােনেন ? যােগেশ। কি জান আমি বুড়াে হইচি আর ও সব হাঙ্গামায় কাজ কি। জ্যোতিষ। হাঙ্গামা কিসের ? হাঁ বুঝতুম আমাদের যথার্থ কোন অন্যায় হয়েছে, ঘাড় পেতে দু’ কথা শুনতুম। আপনি সমাজকে ভয় করছেন, সমাজ কোথায়? আর তার সমাজপতিই বা কে? চরিত্রহীন ব্যক্তির দ্বারা কখনও কোন দেশে সমাজ শৃঙ্খলা রক্ষিত হয় না। দেখছেন না যত ভণ্ড মিলে কেবল আমাদের অনিষ্টের চেষ্টায় আছে। কোনটা বদমায়েস পাগলা, কোনটা নিরক্ষর স্কুল-মাষ্টার, কোনটা বেশ্যাশক্ত—এদের নিয়ে আবার সমাজ ? এরা আবার সমাজপতি? এমন সমাজকেও ধিক, আর এমন সমাজে যারা থাকতে চান তাদেরও ধিক। যােগেশ। ছি জ্যোতিষ হিন্দুর ছেলে হয়ে সমাজ না মানলে কি চলে? জ্যোতিষ। হিন্দুর ছেলে হিন্দুই আছি। হিন্দু ধর্মেও অটুট বিশ্বাস ৪২ করি। তা’ বলে ভণ্ডামী করে সনাতন হিন্দু ধর্মের গৌরব নষ্ট করতে চাই না। সতীশ। জ্যোতিষ ত’ বাবা ঠিক বলেছে। হাঁ বুঝতুম যারা নিষ্ঠাবান, পবিত্র-হৃদয়, সদাচারী, সচ্চরিত্র ব্রাহ্মণ, তারা যদি এ কথা বলতেন অবশ্য মেনে নিতাম। তা’ নয় এযে আচার-ভ্রষ্ট, হিন্দু-কুল-ক'লঙ্ক ভণ্ড দলের স্বার্থ সিদ্ধির ষড়যন্ত্র,-এও শুনতে হবে? এমন জাত গেলই বা ? জ্যোতিষ। বাবা! ধৰ্ম্মের চেয়ে ত’ আচার বড় নয়। ঈশ্বর করুন আমার ধৰ্ম্মে যেন চিরদিন মতি থাকে। ভণ্ডের দল পুষ্ট করার জন্য তা বলে অধৰ্ম্ম সঞ্চয় করতে ইচ্ছুক নই। সতীশ। বাবা! যদি নিতান্তই কিছু টাকা খরচ করতে ইচ্ছা হয়ে থাকে, এই শীতের দিনে গরীব দুঃখীকে গাত্র-বস্ত্র দিন, কাঙ্গালী ভোজন করান, অর্থব্যয় সার্থক হবেধৰ্ম্ম সঞ্চয় হবে। মিছে ভূত ভােজনে আমারও মত নেই। যােগেশ। তা বাবা তােদের মত না নিয়ে কি আমি কাজ করি? বাস্ তা হলে আমি এখন এক প্রকার নিশ্চিন্ত হলেন। ( প্রস্থান ) (পরিচারিকার প্রবেশ) পরি। (জ্যোতিষের প্রতি) ওগাে দাদা বাবু তােমায় একবার বাইরে চক্রবর্ত্তী মশাই ডাকচেন। সতীশ ! কে মটুক বাবু বুঝি? আবার কি মতলব ? জ্যোতিষ। আচ্ছা তাকে এইখানে ডেকে দাও! (তারা সুন্দরী ও কিরণ বালার প্রতি) তােমরা একবার এ ঘর থেকে যাও ত’ (পরি চারিকা, তারা সুন্দরী ও কিরণবালার প্রস্থান) দেখি আবার কি হুজুগ নিয়ে এসেছেন। ৪৩ WAAAA d ( মটক চাঁদের প্রবেশ) মটক। ( ব্যস্ত ভাবে) সৰ্ব্বনাশ হয়েছে-সৰ্ব্বনাশ হয়েছে। বিদ্যুৎ লতা মূচ্ছা গিয়েছে। সতীশ। এ কি হয়েছে ? মটক। আমার মেয়ে বাড়ীতে এসে মূচ্ছ। গেছে। একবার জ্যোতিষ বাবুকে পাঠিয়ে দিতে হবে। জ্যোতিষ। কি মটক বাবু! আমি আপনায় বাড়ী গেলে আপনার জাত যাবে না ত’। তা—এখন যখন আমাদের সঙ্গে আপনাদের দলাদলি চলচে তখন আমি কিন্তু fee ছাড়ব না। যােলটী টাকা দিন চলুন আপনার বাড়ী যাচ্ছি। মটক। আমি পাড়ার লােক, আপনার লােক—আমি fee- জ্যোতিষ। বলি কাজের সময় আপনার লােক—পরমাত্মীয়, আর খোঁচা- খুঁচির বেলায় ? মটক। আমি কি ও সবে থাকি? আমি কিছু জানি না কিছু জানি না। জ্যোতিষ। সেকি ? এক ঘরে করেছেন—এ বাড়ী কি মাড়াতে আছে ? আপনি আবার এক ঘরে হবেন। যা হক fee আমি ছাড়চি নি। মটক। তােমার পায়ে পড়ি ওসব ভুলে যাও। গরীব মানুষ খেতে পাই না। একটু দয়া কর । জ্যোতিষ। বলি চেপে ধরলেই কেঁচো—আর ছেড়ে দিলেই সাপ। আপনি আমার বয়ােজ্যেষ্ঠ-পায়ে ধরবেন না। দেখুন আমি বিলাত থেকে আসবার পূর্বে মনে করেছিলাম পাড়ার কারাে কাছে fee নােব । কিন্তু আপনাদের ব্যবহার দেখে আমার সে কুবুদ্ধি ঘুচে গেছে। এখন চোক ফুটেছে, লােক চিনেছি। ? ৪৪

প্রথমঅক
মটক। আর কেন ? খুব হয়েছে। আমি আর কারাে কথা শুনব না।
আপনি সদাশয় তার সন্দেহ কি—এখন সদয় হন।
সতীশ। যাও ভাই জ্যোতিষ। বিপদ আপদের সময় আর দলাদলির কথা
ভুলে কাজ নেই।
জ্যোতিষ। তবে চলুন এবারটা রেহাই করা গেল। ( সকলের প্রস্থান)
নবম দৃশ্য।
চৌরঙ্গী-মিঃ সেনের বাটির হল।
মিঃ সেন, মিস্ট্রেস সেন ও বলপাটা।
মিঃ সেন। কৈ তােমার ডাক্তার friend এলেন কৈ ?
সেন। বােধ হয় callএ গিয়া থাকবেন, তাই দেরী হচ্ছে।
(Orchestra সঙ্গত।)
(জ্যোতিষের প্রবেশ )
সেন। এই যে মেঘ না চাইতেই জল Good Evening.
মিঃ সেন।
Good Evening. আমি বলি বুঝি আপনি ভুলে গেছেন।
জ্যোতিষ। Good Evening. না ভুলিনি। আমাদের পাড়ার ঐ মটক
বাবুর মেয়েকে একবার দেখতে গেছলুম তাই একট, দেরী হয়ে গেল।
সেন। বড়য্যে কি তাকে Sweet-heart করবার চেষ্টায় আছ না কি ?
জ্যোতিষ। না বাবা এ Bitter-heartএ Sweet-heart করবার বড়
ইচ্ছা নাই।
সেন। তবে যে তুমি বড় ওদের বাড়ী গিয়েছিলে?
১৫

সেন। জ্যোতিষ। কি করি ভাই, মটক বাবু নিজে বাড়ীতে এসে, পায়ে ধরে পড়লেন। তাঁর মেয়ের Hysteric feat হয়েছিল, তাই একবার দেখতে গেছলুম সেই জন্য এখানে আসতে দেরী হ’ল। সেন। ওঁ রা তােমাকে সমাজে একঘরে করবেন বলেছেন, তবে তােমার বাড়ী যে গেলেন? জ্যোতিষ। তা আর জান না-gratisএর জন্য। অন্য ডাক্তার আনলে যে fee দিতে হবে। সেন। তা’ তুমি যে বড় gratisএ গেলে ? জ্যোতিষ। তা’ আর করা যায় কি। বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ এসে পায়ে ধরে পড়লাে। চারচোকে ত’ চাওয়া চায়ি আছে। এড়াতে পারলুম না। ও বেটাদের কি চোক আছে ? জ্যোতিষ। তা বলেছ ঠিক। সেন। কেমন বড়য্যে, যখন আমি বিলাতে ছিলাম তখন এদের নিন্দা করলে যে বড় চোটে যেতে। আমি anglicised হয়েছি বলে কত গালাগালি দিতে। বলি সাধ করে কি আর anglicised হই। দেখনা কেন, কত বৎসর পরে স্বদেশে ফিরে এসে, এই সমস্ত লােক- দের এরকম ব্যবহার দেখলে আর কি এদের সঙ্গে মিশতে ইচ্ছা করে—না এদেশে বাস করতে ইচ্ছা হয়? বহুদিনের পর স্বদেশে ফিরে এসে কোথায় আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবাসীর সহানুভূতি পাবনা এক বাজে হুজুগ জাত নিয়ে গােযােগ, বাড়ী ছাড়া করবার মতলব । ক্রমশঃ তা নিয়ে রেশারেশি, শেষ মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ । আমি ঐ দুঃখে বাবা জাতে উঠতেই চাইনি। তুমি জান না ও বেটাদের কাছে যত নী হবে ততই চেপে ধরবে। জব্দ আমার কাছে। ৪ প্রথম অক জ্যোতিষ। কি জান ভাই দেশের লােকের নিন্দা শুনলে প্রাণে কেমন একটা আঘাত লাগে। পরস্পরের প্রতি সদ্ভাব ও সহানুভূতি রাখাই জাতিয়ত্ব। জাতীর গৌরবে সমাজের গৌরব। সমাজের গৌরবে দেশের উন্নতি। সেন। বলি বাঁড়য্য এ কি England পেলে যে Nationality বুঝবে। এখানে বাবা কেবল Individuality—স্ব স্ব প্রধান। আমার কোন গুণ না থাকলেও আমাকে মানতে হবে, চরিত্রে হীন হলেও আমি সকলের শ্রেষ্ট, বিষ হারিয়ে টোড়া হইচি তবু কুলে পানা চক্কর ত্যাগ করব না, দেশ উৎসন্ন যাক তাতে ক্ষতি নাই আমার কিন্তু জেদ বজায় থাকা চাই; এই রকম সব লোেকই আমাদের দেশে অধিক। কাযেই প্রকৃত গুণবানের উন্নতির পথে কাঁটা দেওয়া, চরিত্রবানের কুৎসা রটনা করা, প্রতিভাবানকে এক ঘরে করা, ভাই ভাইকে ঠাই ঠাই করাই হচ্চে এদের নিত্য কৰ্ম্ম-চিন্তনীয় বিষয়। সাধ করে কি গালাগাল আসত ? আমি ভাই না দেখে কখনও কারাে নিন্দা করি । ঐ যে সমাজপতিরা সব আসছেন, তুমি একটু গা ঢাকা হয়ে থাক। তােমায় দেখলে কেউ আর বাড়ী ঢুকবে না। তুমি বরাবর আমার Bed roomএ চলে যাও। ঠিক সময় মত নেবে এস। আজ বেটাদের সব ভিরকুট ধরিয়ে দেব। (জ্যোতিষের প্রস্থান) (মটুক, যাদব, করালী, গজেন্দ্র ও নদেরর্চাদের প্রবেশ) সেন। আসুন আসুন আপনাদের জন্য এতক্ষণ ভাবছিলাম। গজেন্দ্র। তা বিবেচনা করুন আমাদের একটু দেখে শুনে আসতে হয় ত ? সেন। তা বৈ কি। তা বৈ কি। এখন সব বসুন। u Private party ৪৭

কোন ভয় নেই। আপনাদের ক’জনকে নিয়ে আমােদ আহলাদ
করবার জন্যই এই party।
( Ball dance আরম্ভ)
করালী। কি excellent dance দেখেছেন?
সেন। বলি সব বসে রইলেন যে একটু একটু চলুক।
গজেন্দ্র। মাপ করবেন মশাই আমরা ও সবেতে নেই।
সেন। আহা নেই বল্লে কি চলে? করে নি না। আমার কাছে আর
সব লুকোন কেন? যাদব বাবু আসুন আসুন, গােলাপ বিবির
বাড়ীতে—আমার ত’ অবিদিত নাই। (সুরাপূর্ণ পাত্র দান )
যাদব। আচ্ছা আপনি যখন বলছেন তখন এক চুমুক খাই (সুরাপান।
ওহে মাষ্টার তুমিও একটু খাও—বেড়ে জিনিষ।
(মটুক ব্যতীত সকলের সুরাপান)
সেন। কৈ মটুক বাবু নিলেন না—আপনি না খেলে কি হয় ?
মটুক। আজ্ঞা আমি কাচের পাত্রে খাই না। কঁচটা অশুদ্ধ।
করালী। হাঁ হাঁ ওঁর আবার একটু নিষ্ঠা আছে।
সেন। তার জন্য ভাবনা কি? আমি পাথর বাটী আনিয়ে দিচ্ছি।
Boy একঠো পাথরকা কটোরা লেয়াও।
(ভৃত্যের প্রবেশ ও পাথর বাটী প্রদান )
সেন। আসুন মটুক বাবু আপনাকে আমি ঢেলে দিচ্ছি।
মটুক। (সুরাপান) মাষ্টার মশাই বেড়ে জিনিষ। যাদব বাবুকি
ধেনাে খান।
( বাবুর্চি কর্তৃক খানার ডিস প্রদান )
নদেরাদ। বাঃ এর ওপর ফাউলের কাটলে বেড়ে চলবে ।
৪

প্রথম অক A মটুক। আমি গঙ্গাজলে রান্না না হলে খাই না। যাদব। হ হে সব গঙ্গাজলে তৈ’রী। ঐ বাবু ঘাট থেকে জল আনিয়ে রান্না। কেন বাবা দেরী করছ—চালাও না? জুড়িয়ে যায় যে । ( জ্যোতিষের প্রবেশ) জ্যোতিষ। (স্বগতঃ) এই যে মহাপ্রভুরা গােগ্রাসে গিলচেন। (প্রকাশ্যে) বলি বাঃ বাঃ এই যে সমাজপতি মশায়েরা—চক্ষু বুজিয়ে মুরগীর ঠ্যাং চুষচেন। বলিহারি ! বলিহারি । যাদব। ও নদেরাদ বাবু! এ আপদটা জুটলাে কোথা থেকে? মাথাটা যে একেবারে কাটা গেল। জ্যোতিষ। বলি ও মাষ্টার মশাই ! আর লজ্জা কেন। চলুক—চলুক। মটুক বাবু! আপনার নিষ্ঠাকে কিন্তু বলিহারী। আপনি কাচের পাত্রে মদ্যপান করেন না-গঙ্গাজলে রান্না না হলে মুরগী খনি না, আচারটুকু দেখচি অটুট রেখেছেন। আচ্ছা, মটুক বাবু ! বলি সেদিনে হয় হােটেলে গঙ্গাজলে ব্রাহ্মণের হাতের রান্না মুরগী খেয়েছিলেন- আজ যে বাবা খােদ ফয়জুর হাতের রান্না চব্য চুষ দিব্য গলধঃকরণ কর- চেন। আপনারই না নিজেকে ঘাের হিন্দু বলে পরিচয় দেন। বলিহারী বাবা আপনাদের ভণ্ডামীকে। ছিঃ ছিঃ এই মুখে আবার সমাজের ঘেঁট। দড়ি কলসিও কি জোঠে না। (পরস্পর মুখাবলোকন )

দ্বিতীয় অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য।
অবলা কলেজ-সংলগ্ন ইম্যানসিপেসা হল
বিদ্যুৎলতা, স্নেহলতা, কনকলতা, আশালতা, সেন, মিলে সেন
কেশব, যদু ও জ্যোতিষ।
ছাত্রীগণের গীত)
ফ্যান্সি ড্রেসে মুচকে হেঁসে করবাে আমরা দেশােঙ্কার,
এলিয়ে দিয়ে মাথার বেণী ধরব এবার রিভলভার।
উঠিয়ে দেব সিথির সিঁদুর,
রাখবাে নাকো ঘােমটা আর
সাবেক চাল ঘুরিয়ে দিয়ে করব সব সংস্কার।
পুরুষগুলাে কাওয়ার্ড বড়
বাজে কাজে বেজায় দড়,
(তাদের) নাইকো স্পিরিট বােক। তারা অতি কুলাঙ্গার।

দ্বিতীয়অঙ্ক যদু। হে দুর্ভিক্ষ-প্রপীড়িত, বিদেশি-পদদলিত, লাঞ্ছিত, অবমানিত, নিদ্রিত, শ্রান্ত, ক্লান্ত,মােহান্ধ ভারতবাসী! একবার জাগাে। জেগে দেখ আজ বঙ্গ নরনারীর ভারতমাতার দুঃখে কি heroic আত্মবলিদান! কি Patriotic Self Sacrifice ! কি সুশিক্ষায় ইহাদের মন সমুন্নত। সেই জন্য আজ আমি এই Ladies Emancipation Hallএর সম্বাৎসরিক উৎসব উপলক্ষে সমগ্র ভারতবাসির হইয়া উপস্থিত অগ্নিবৃন্দের দীর্ঘ জীবন প্রার্থনা করিতেছি। ভগ্নিগণ! তােমরা অক্ষয় অব্যয় হইয়া দেশ- হিতৈষিনীর কাৰ্যে ব্ৰতী থাক। আর স-ভগ্নি মিষ্টার সেন যাঁহাদের উদ্যোগে এই মহৎ কাৰ্য্য সম্পন্ন হইয়াছে, আমি তাহাদেরও আন্তরিক ধন্যবাদ দিতেছি। সকলে। Three cheers for Jadu Babu, জ্যোতিষ। বলি সেন, ব্যাপার যা দাড় করিয়েছ তাতে মেয়েরা দেখছি, এর পর পল্টনে ঢুকবে। CI Oh yes ! next year we shall try to become volunteers. যাতে শীঘ্র আমাদের নাম enlist হয় তার চেষ্টা করা যাচ্ছে। সেন। কি বড়য্যে অবাক হয়ে রইলে যে? জ্যোতিষ। কাজেই। দেখে শুনে আর বাক্য ফুৰ্ত্তি হচ্ছে না। সেন। দেখছ না এদের ভিতর একটা independent spirit ঢুকিয়ে দিয়েছি। এই Spiritএর জোরে এরা একদিন বঙ্গের মুখােজ্জ্বল করবে। জ্যোতিষ। এই সব মেয়েরা যখন ধ্বজা তুলেছেন, বলি তখন আরও কি বঙ্গের মুখ মলিন আছে? তা যাই হক এ spiritটা কেন বঙ্গ- নরেদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিলে না। এ নারীদের কেন মাথা খাচ্ছ ?

সেন। আহা বুঝলে না-এ মেয়েদের মাথা না খেলে কি আর বেটা-
ছেলেদের মাথা পাওয়া যায় ? সহরে থাকতে গেলেই একটা হুজুগ
চাই, নইলে লােকে মানে না। তাই এই একটা নিয়ে এক রকম
বেঁচে আছি। দিনগুলাে একরকমে কাটিয়ে দেওয়া—নইলে প্রাণটা
বড় হাঁপিয়ে ওঠে। তােমাদের পাড়ায় যেমন তােমায় নিয়ে হুজুগ
হয়েছে-বকে, ঘাটে, মাঠে, পথে সমাজ নিয়ে মিটিং। আমিও তাই
এক রকম করে এই বঙ্গনারীদের নিয়ে দেশহিতৈষিতার কাৰ্যে পড়ে
আছি-বুঝলে?
(ছাত্রীগণের গীত )
ভাতিল গগনে,
ভারত গগন ভালে বুঝি স্বাধীনতা-ভানু উদিল,
আঁধার ঘেরা, কোয়াসা পােরা, দুঃখ নিশি ঐ পােহাইল।
শত-সূৰ্য-কিরণ,
সুষুপ্ত সন্তান যত চমকি' চাহিল (শয়ন ত্যজিল)।
পুষ্পিত উপবন,
পঞ্চমে পিকবধূ সুমধুর গাহিল।
হরষে কম্পিত
তৃণ-তরু-লতা
নবীন তপন, কনক কিরণে দশদিশি ছাইল।
বহিল পবন,
( সকলের প্রস্থান )
৫২

দ্বিতীম্ন অঙ্ক
দ্বিতীয় দৃশ্য।
গজেরে স্কুল সংলগ্ন রক্।
গজেন্দ্র, মটুকাদ ও যাদব।
গজেন্দ্র। দেখুন যাদব বাবু কাল মুরগীহাটা থেকে দোকানের জন্য জিনিষ
পত্র কিনে মাথাঘষার গলি দিয়ে ফিরে আসছি, দেখি না সেই মােক্ষা
বেটী—সেই যে যে বেটীর টাকা ফাক দিয়ে আনা গেছলাে হে; আমায়
না দেখে ভয়ানক গালাগাল আরম্ভ করলে। আমি যেন কিছু জানি
, মাথা হেঁট করে চলে আসছি, আসতে আসতে আবার দেখি সেই
পথ দিয়ে সতীশও আসছে। বােধ হয় সব শুনেছে।
যাদব। বলি সেই একদিনের আলাপে বেটী তােমায় চিনলে কি করে ?
গজেন্দ্র। আপনাদের সঙ্গে করে সেখানে সেই একদিন মাত্র গেছলুম বটে,
কিন্তু সে বেটীর কাছে যখন ঐ Hindu Academyতে পড়াতুম রােজ
যে যেতুম। সেই বেটীর টাকা ফাকি দিয়েই ত ঐ স্কুল ছেড়ে এই
স্কুল আর দোকান ফাদলুম।
যাদব। তা’ যা হােক, সতীশ বােধ হয় অত বুঝতে পারে নি।
গজেন্দ্র। না হে না—আমায় দেখে মুচকে মুচকে হাসতে লাগল। যদি
বেটীকে ঠিকানা বলে দেয় তা হলেই ত’ মুস্কিল।
যাদব। না তা”, বােধ হয় দেবেনা, ওর জন্য বিশেষ ভাবনার দরকার নেই,
সংসারে থাকতে গেলে ও অমন হয়।
(করালীবাবুর প্রবেশ।
গজেন্দ্র। আসুন—আসুন করালী বাবু আপনার জন্যই অপেক্ষা ক’চ্চি।

ভণ্ড
করালী। মাষ্টার মশাই! যােগেশ বাবুর সঙ্গে না আপনার দেখা
হয়েছিল ?
গজেন্দ্র। তাই ত’ বলছি মশাই। যােগেশ বাবুকে বলুম আপনি পাঁচশশা
টাকা খরচ করুন আমরা পাঁচজনে মত, করে আপনাকে সমাজে তুলে
দি। তা” উনি ছেলেদের মত নিতে গেলেন। শুনলুম ছেলেরা না
কি বারন করেছে।
মটুক। ওঁর ছেলেরা খ্ৰীষ্টান, খ্রীষ্টান—ব্রাহ্মন মানে না। আমাদের সব
গালাগাল দিয়েছে।
যাদব। দেখুন কালী বাবু ব্যাপার খানা দেখুন। আমরা ওঁর হিত
করূতে চেষ্টা কচ্চি, উনি কিনা ছেলেদের দিয়ে আমাদের অপমান
করা। দেখা যাক কে ওঁকে জাতে তােলে ?
করালী। আচ্ছা মটুক বাবু—তা হলে এর একটা প্রতীকার করা চাই।
মটুক। আপনি যখন আছেন তখন আমাদের ভয় কি? আমি টোলে
গেছলুম তঁারা বিধান দিয়েছেন—দ্বাদশ সুবর্ণ গাভী দান করলে তবে
প্রায়শ্চিত্ত হবে। বিলাত যাওয়ার প্রায়শ্চিত্ত কি অমনি হয় ? এখন
পাচি শশা টাকা খরচ কল্লেও হবে না।
করালী। তবে শুনলুম না কি যােগেশ বাবু কোন্ টোল থেকে সংক্ষেপ
ব্যবস্থা নিয়ে এসেছেন ?
মটুক । তা’,যা’ তা’, টোল হলেই বুঝি হ’ল ? আমাদের কাছে একবার
এলেন না—আমাদের মত নিলেন না। কেন আমরা সমাজের কেউ
নই নাকি? এতে প্রকারান্তরে আমাদের অপমান করা হয়েছে
তা বুঝেছেন।
করালী। হা সে কথা ঠিক—আমাদের কাছে আসা উচিত ছিল।
৫৪

দ্বিতীয় অঙ্ক
(নদের চাদের প্রবেশ)
নদের চাদ। কালী বাবু! আমার সর্বনাশ হয়েছে ! (কম্পন)
করালী। কি রায় মশাই! ব্যাপার খানা কি হয়েছে কি ?
নদের চা। বুঝি যােগেশ বাবুর শাপ লাগলো। আমার স্ত্রীকে খুঁজে
পাচ্ছি না।
গজেন্দ্র। সে কি কথা! বলি রাগ করে বাপের বাড়ী যায়নি ত ?
নদেরাদ। চুলের ছাই তার কি বাপের বাড়ী আছে? আমি যে তাকে
বড় ভালবাসতুম, আমার দ্বিতীয় পক্ষের বিবাহ, আমি সৰ্বস্ব যে তার
নামে করে দিইচি। হায়! হায়! এখন বুঝি পথে বসতে হলাে।
যাদব। আপনি একটু স্থির হ’ন, অত বাড়াবাড়ী করতে দেখছেন
ত’ এখন সমাজ নিয়ে আমরা পড়েছি এ সময় আপনার ও কথা
টের পেলে--আমাদের মাথা কাটা যাবে। আপনার স্ত্রীকে যাতে
ফিরিয়ে আনতে পারি তার চেষ্টা করবো। অামার বোধ হয়
আপনার স্ত্রীকে যে পড়াতে অতি—সেই বেটারই কাজ। অমন
স্ত্রীর হাতেও সৰ্বস্ব দেয়।
নদেরাদ। কি করি বলুন বুড়ো বয়সের বে-না হলে পার পাই কৈ।
করালী। আপনি এখন সেই মাষ্টার বেটার সন্ধান নি। আমরাও
এদিকে দেখি। আপনার কোন ভয় নেই, কিন্তু দেখবেন, এ কথা
আর কারাে কাছে প্রকাশ করবেন না। তা হলে আমাদের মুখ
দেখাবার জো থাকবে না।
নদের চান। আজ্ঞ তা আর বলতে-তাকে ফিরিয়ে পেলে আর কি
প্রকাশ করি। এ বুড়াে বয়সে আর কি বে হবে।
(প্রস্থান)

গজেন্দ্র। দেখুন দেখি এ আবার এক ঝঞ্চাট। খুব ই সিয়ার হয়ে কথাটা চেপে রেখে ওঁর স্ত্রীর সন্ধান করতে হবে। (নারানের প্রবেশ) নারান। বলি এই যে বাবা। অহল্যা, দ্রৌপদী, তারা, কুন্তি, মন্দোদরীস্তথা, পঞ্চ কন্যা স্মরেন্নিত্যং হরের্ণাম হরের্নামৈব কেবলম্। বলি আজ পরত্নের একটী রত্ন কোথায় খসে গেল বাবা? আচ্ছা, কেন বাবা মিছে সমাজ নিয়ে মিটিং করচো, এতে লাভ কি ? যে উদ্যম, যে উৎসাহ যােগেশ বাবুর সর্বনাশ সাধনে নিয়ােগ করেছ, সেটা কোন সৎকাজে নিযুক্ত করলে যে একটা কাজ হয়। এই যে পাড়ার কত দরিদ্র নিম্ন ভদ্রঘরের বিধবা, মানের দায়ে অনশনে, অর্ধাশনে দিন কাটাচ্চে, কত অসহায় বালক অর্থাভাবে উপযুক্ত লেখা পড়া শিখতে পারছে না, কত ছাপােষা গৃহস্থ কন্যাদায়ে বিপন্ন হয়ে সে দায় থেকে উদ্ধার হবার জন্য ভদ্রাসনটুকু পর্যন্ত বন্ধক দিয়ে আবার নৃতন ঋণ-জালে জড়িয়ে সৰ্বস্বান্ত হ’বার চেষ্টা কচ্চে, কত রকম যন্ত্রনায় কত লােক যে পাগল হয়ে ছুটে বেড়াচ্চে, পাঁচজন একমত হয়ে সেই সব লােকেদের সাহায্য করবার জন্য যদি একটুও চেষ্টা কর, তা হলে যে বাবা একটা মানুষের মত কাজ করা হয়। তা না করে পরের অনিষ্ট করবার জন্য এত আড়ম্বর আয়ােজনে লাভ কি বাবা ? এর কিছুও যদি না পার বাবা, এই গরীব দেরই না হয় একটা উপকার কর। মদের দোকানের পাশের কাঁকড়া চড়চড়ির দোকানগুলাে তােলবার চেষ্টা দেখ। বাদী বেটীদের হাতে আর খাওয়া চলে না। বেটীরা ঠকিয়ে নেয়, কমও দেয়। মটুক। তুমি মাতাল-মাতাল।

দ্বিতীয় অঙ্ক নারান। ঐ ত’ বাবা কাজের কথা হলেই মাতালদের দোহাই দিয়ে নিজের ফাকায় থাকতে চাও। আচ্ছা আমি যেন একজন renowned মাতাল, মদ কি যাদু তােমরা খাও না? আমি ত’ বাবা শুড়ীর দোকান থেকে শুধু মদুটী খেয়ে বাড়ী ফিরে যাই। তােমরা যে চাদ বেশ্যার সঙ্গে মদ মাংসের ঘন্ট করে থাও। করালী। যান মশাই বাড়ী যা অনেক রাত হয়ে গেল। নারান। বাড়ী গিয়ে আর করব কি? ঘরে ত’ আর মাগ নেই। আজ আমি এই মিটিংএ preside করবাে। গজেন্দ্র। কিসের মিটিং মশাই ? নারান। কেন বাবা, এই যে দিনরাত সব গুজুর গুজুর করে কি সব resolution পাশ করা হয়—আমরা এলেই বাবা চুপ। মটুক। আমরা ভয় করি নাকি? ভয় না কি? নারান। তবে আর চুপ কেন? গজেন্দ্র। সে কি নারান বাবু ! আপনিও ত’ পাড়ার একজন সুব্রাহ্মণ, বলুন দেখি বিলাত ফেরতার সঙ্গে কি সমাজে চলা যায় ? নারান। কেন? দোষটা কি ? মটুক। বিলাত গেছে—দোষ নাই ? দোষ নাই ? জাত গেছে। নারান। আচ্ছা জাতটা গেল কিসে ? মটুক। স্নেচ্ছের অন্ন গ্রহণ করেছে—জাত যাবে না ? নারান। বলি স্নেচ্ছের অন্ন কোন্ আপনারাও না গ্রহণ করেছেন। ঐ ব্যারিষ্টারের বাড়ী Evening Party,লুকোলে ত’ আর হবে না। হ পাঁচটা যথার্থ নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণে বলতে কথাটা কতক মানতুম। আম- দের বাবা আবার জাত?

গজেন্দ্র। শুধুই কি মশাই তাই। এই বিলাতে যেতে গেলে পৈতে গাছটী না ফেলে দিলে জাহাজে কি তারা উঠতে দেয় ? বলুন দেখি ব্রাহ্মণের সেই যজ্ঞােপবীত ফেলা কি মহাপাপ ? নারান। বলি পৈতে ফেলতে হয় এ কথা ত’ কখন শুনিনি। আমি মাতাল হই আর যা হই nonsense এর মত কথা আমার কাছে বলােনা বাবা। নেহাৎ আমায় মুখ ঠাউরাে না; Entrance অবধি পড়া গেছলােUniversityও বার কয়েক দেখা আছে। মটুক। হাঁ আমি জানি পৈতে ফেলতে হয়—পৈতে ফেলতে হয়। আমি জাহাজের কাজ করতুম—আমি জানি—আমি জানি। নারান। আচ্ছা, তা ব্যবস্থাটা কি ক’চ্ছেন? মটুক। এখন পাঁচশাে টাকা দিলেও হবে না। বারটা সােনার গরু বিলােতে হবে, আর নৃতন করে পৈতে নিতে হবে । তা ছাড়া ব্রাহ্মণ ভােজন। নারান। আর আপনারা যে এত খাটলেন—আপনাদের এক একটা সােনার ল্যাজ গড়িয়ে দিতে হবে না? বলি বাবা বেড়ে দাও এঁটে বসে আছ। গজেন্দ্র। বলেন কি মশাই! বিলাত ফেরৎ কি অমনি জাতে ওঠে। এ ত’ আমরা কম বলেছি। নারান। হাঁ কম বৈ কি! যােগেশ বাবুর ভিটেয় যে টাক করেননি এই যথেষ্ঠ। বলি আপনারা জাতে তােলবার কে বলুন দেখি ? আমরা বাবা বনিদি লােক, প্রপিতামহের আমল থেকে এখানে বাস করছি, মুধ্যি কুলীন-নৈক্য, আমরা কোন গােল করলুম না। আর আপনারা দু’দিন এ পাড়ায় এসে একেবারে সমাজপতি হয়ে উঠলেন ? রায় ঘােষালকে আমরা ব্রাহ্মণের মধ্যেই ধরি না। এখন চেপে যাও বাবা,

দ্বিতীয় অঙ্ক
বেশী বাড়াবাড়ী করাে না, সবায়ের গুণাগুণ ত’ জানা আছে। কথা
মান ত’ হাটে হাঁড়ী ভাঙ্গব। হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবলম্।
( প্রস্থান )
গজেন্দ্র। . দেখলেন মশাই পাড়ার ব্রাহ্মণ দেখেছেন। এতে আর সমাজ থাকে
কি করে ? স্বচ্ছন্দে বল্লেন কি না বিলাতে গেলে দোষটা কি? আচ্ছা
দেখা যাবে দোষ আছে কি না?
মটক। আমাদের অপমান-আমাদের অপমান। নিশ্চয় এ যােগেশ
বাবু শিখিয়ে দিয়েছেন। ব্যাপারখানা ত’ বুঝচেন করালী বাবু।
করালী। যাক ও সব কথা—এখন নদেরচাদ বাবুর স্ত্রীকে চল খুঁজতে
( সকলের প্রস্থান)
বেরােই।
তৃতীয় দৃশ্য।
বিড স্কোয়ার।
গােলাপসুন্দরীর বাটীর কক্ষ।
যদু ও মনােরা।
মনে।
(গীত)
(আমি) প্রাণপােরা সাধের রাশি করব বিনিময়,
মনের মানুষ পেলে সুখে পেতে দি হৃদয়।
ধরা বাঁধায় থাকতে নারি
অরসিকের কি ধার ধারি
তুমি আমার মনের মত ওগাে রসময়।

Aw
দু। প্রেমময়ি ভগ্নি মনােরমে! তােমার গান অতি সুমিষ্ট। সুরও
অতি সুমিষ্ট। তােমার কমনীয় কণ্ঠের গীত আমার কণে বীণার ন্যায়
ঝকার ক’চ্ছে।
(গােলাপসুলীর প্রবেশ)
গােলাপ। ওগাে তুমি একটু সরে যাও ত’ কারা আসছে।
যদু। এ ঐ সরে যাব? এ কে কোথায় ফেলে যাব?
( যাদব, গজে, মটুক ও নদের চাঁদের প্রবেশ)
যাদব। কি গিন্নি নৃতন মেয়ে মানুষ কোথা থেকে আমদানি করলে ?
নদেরাদ। এই যে, এই যে—এই যে আমার স্ত্রী। এ তুমি এখানে !
গজেন্দ্র। (বহুর প্রতি) তবে রে বেটা বাঘের ঘরে গেঘের বাসা।
লােকের সর্বনাশ করতে বসেছ।
(প্রহার )
মটুক। বেটা-বেটা-বেহ্ম বেটা-পাজী বেটা-এই জন্য বুঝি বাড়ীতে
পড়াতে আসতে ?
(প্রহার )
গােলাপ। দেখ বাবু দাঙ্গা হাঙ্গামা করতে হয়-রাস্তায় কর।
যত্ন। ভগ্নি মনােরমে একবার দেখ কুলাের ন্যায় আমার পিঠটা পিটছে,
বুঝি বা ভেঙ্গে যায়।
(বেগে পলায়ন)
মটুক। ধরুধ বেটাকে।
( দ্রুত পশ্চাদ্ধাবন}
যাদব। নদের চাদ বাবু আর দেরী করবেন না—যত শীঘ্ৰ পারেন একখানা
গাড়ী ডেকে আপনার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ী যান।
নদেরাদ। বলি প্রিয়ে! আর কেন মনস্তাপ দাও ; এখন চলঘরে চল
--ঘরের লক্ষ্মী ঘরে চল।
মনন। মরতে এখানেও এসেছ। না আমি বাড়ী যাচ্ছি নি।
গজেন্দ্র । ছি গেরস্থর বৌ বাড়ী যাবনা বল্লে কি চলে? যাও মা যাও

দ্বিতীয় অঞ্চ
ঘরের লক্ষ্মী ঘরে যাও। এসব নােংরা জায়গা, এখানে কি তােমাদের
থাকতে আছে।
মননা। আচ্ছা যাচ্চি, কিন্তু তােমাদের বন্ধুকে বেশ করে বুঝিয়ে দাও-ফের
যদি আমার libertyর ওপর উনি হাত দেন ত ঝেটিয়ে বিষ ঝেড়ে দোব।
নদের চাদ। না গাে না। এখন চলনা ; আমার মাথা কাটা যায় যে। যা’
হয় বাড়ীতে গিয়ে করাে এখন। (গােলাপ' ব্যতীত সকলের প্রস্থান)
গােলাপ। কোথা থেকে হাড়হাবাতে হতচ্ছাড়া মিন্সেরা এসে পড়লাে।
এমন সােণারদ ছড়ীটা হাত ছাড়া হয়ে গেল। ( প্রস্থান)
চতুর্থ দৃশ্য।
ইম্যাসিপেস হল্ সংলগ্ন পার্ক।
টেনিস ব্যাট হস্তে বিদ্যুৎলতা, স্নেহলতা, কনকলতা, ও আশালতা ।
(গীত)
পার্কে যাওয়া হাওয়া খাওয়া নাই ত কোন দোষ,
যাদের সয়না সেটা থাক ঘরে কর আপশােষ।
খেলি মােরা টেনিস্ ক্রিকেট এ্যাণ্ড ফুটবল,
এতে গায়ে বাড়ে বল,
বঁধা বাড়ায় হাঁড়ী কাড়ায় করে যে অলস।
ঝিরি ঝিরি বইছে বায়,
ছুটোছুটি করি আয়,
হেথ, তাতে থাকবে ভাল মেজাজ হবে খােস্।

বিদ্যুৎ। কিলাে মেহলতা তাের না কি marriage?
মেহ। বাবা বলেন ত’ শুনতে পাই।
(গীত )
মেহ। যারে চোকে না দেখিনু কানে না শুনিনু
তার সনে ছি ছি কেমন করে হবে লভ।
বিদ্যুৎ। মাথা কাটা যায়, শুনে হাসী পায়,
আমাদের সিষ্টে অফ ম্যারেজ।
স্নেহ। বর ক’নেয় দেখা নাই, একি গাে বালাই,
বাঁধবে তারে প্রেম-ডােরে হবে সে লাভার।
বিদ্যুৎ। ঘটক বেটা প্রেমের কাটা,
করব তাদের পগার পার।
সকলে আমরা সব ফিলভ, শিখেছি,
নূতন কেতায় প্রাণ গড়েছি,
থাকব না কো ধরা বাঁধায়,
সখের ওপর ক’রবাে লভ।
আশা। আচ্ছা মেহ তুই এখন কি করবি ?
কেন free love শিখেছি, আর কি ধরাবাধায় থাকি।
কনক। ঠিক বলেছিস ভাই। আমরা এখন হাওয়ার মত সর্বত্র যাও
আসা করব। রূপের আগুনের হলকা ছােটাব। হাসির ফাদ পেতে দোৰ।
Lover দের ঘােল খাওয়াব। কথার চোটে দেশ মাতাব। নয়ন
বানে শীকার করব। Volunteer বেশে fight করব। টেনিসেতে

দ্বিতীয় অঙ্ক
prize নােৰ। আমাদের কি এখন marriage পােয়? চল্ ভাই
আজ ভাল করে match খেলতে হবে।
(গীত )
চল চল বেলা হ’ল ম্যাচ খেলতে চল,
হারিয়ে দিয়ে নােব প্রাইজ, ভাবনা কি বল।
খেলব মােরা নূতনতর খেলা,
ফ্যান্সি-ফেয়ারে হবে ক্যান্সীর মেলা,
গড়ের মাঠে তুলবাে ধ্বজা না হলে কি হলাে?
অক্টারলনি মনুমেন্ট কিম্বা স্কোয়ার ট্রাফালগার
ভেঙ্গে চুরে যাক সব হােক চুরমার,
সহর জুড়ে নামটা মােদের জাহির হলেই হলাে।
( সকলের প্রস্থান)।
পঞ্চম দৃশ্য।
গঙ্গার ঘাট
মানদা ও শশীবালা।
শুনেছ গা ঘােষাল বৌতিন কাল গিয়ে এক কালে ঠেকেছে,
তবু তাকে নিয়ে ঘর না করলেই নয়।
মানা। কি গা দিদি কি হয়েছে ?
শশী। এই পাড়া শুদ্ধ ঢঢ়ি হয়ে গেল আর তুমি জান না?

মানদা। কৈ গাে কিছু ত’ শুনিনি।
শশী। এই দেশ শুদ্ধ লােক শুনলে আর তুমি শুনলে না।
মানদা। কি শুনলে দিদি-কি শুনলে?
শশী। ভদ্র ঘরের বৌমদ খেয়ে গাড়ী করে যে গান গেয়ে বেড়ায় এ ত’
কখনও শুনিনি ; সঙ্গে আবার কত্তা ছিলেন।
মানদা। কাদের বৌ গা—
কেন রায়েদের বৌ বেরিয়ে গেছলােতা’ কি শােননি।
মানদা। হাঁ হাঁ শুনেছিলাম বটে—তাদের বাড়ীর ঝীয়ের মুখেই শুনে
ছিলাম। তা’ কার কি মনে আছে। কত্তার দোষ কি?
শশী। বহু কি তুমি ঘােষাল বৌ! সেই বৌকে নিয়ে আবার ঘর ক’ত্তে
আছে ? কি ঘেন্না কি ঘেন্না ! বৌটারও গলায় দড়ি-মিন্সেরও
গলায় দড়ি।
মানদা। এা বল কি দিদিতাকে আবার ঘরে এনেছে ?
তবে আর বলছি কি ? আমরা হলে ত’ সাত জন্মে ভাতারের
কাছে মুখ দেখাতে পারতুম না। এ দিকে বাবু যা হয় মিন্সেকে
মারি আর গাল দি এমন কাজ আমরা করতে পারি না।
মানদা। কি বলব দিদি—কালে কালে কতই দেখবাে।
শশী। এই দেখনা আমাদের এরা—এক বিলাত ফেরতাকে জাতে ঠেলছেন।
আর এ দিকে যে বেরিয়ে যাওয়া বৌকে নিয়ে ঘরকন্যা চালাচ্ছে সেটা
কেউ নজর করেন না। লেখাপড়া শেখবার জন্য বেটা ছেলে বিলাত
গিয়ে প্রানের দায়ে অখাদ্য খেয়ে থাকে, তাতে দোষটা কি ? আমাদের
কত্তারাও ত’ এখানে হােটেলে মােটেলে কত কি খেয়ে আসেন। ঘরের
বৌ বেরিয়ে গেলে আবার তাকে নােওয়া, এ ত’ কখনও শুনিনি—এতে
শশী।
৩৪

দ্বিতীয় অঙ্ক
কি দোষ হয় না? ওমা কি ঘেন্না কি ঘেন্না ! কালামুখীর সে কালামুখ
ভাতারের কাছে দেখাতেও লজ্জা করলে না গা। আর রায় মশাই বা কি
রকম লােক-চ্ছন্দে তার হাতে ভাত খাচ্চেন। বুড়াে হয়েছেন—নাই
বা বৌ রইলাে একটা ব্রাধুনি রাখলেই ত’ হত ।
মানা। আর কি জাত জন্ম আছে সব নৈরেকার হয়ে গেছে। চল বােন
ডুবটা দিয়ে আসিবেলাও হয়ে এল। গিয়ে আবার রান্না বান্না ক’ত্তে
হবে। মেয়েটা স্কুলে যাবে সকাল সকাল ভাত চাই।
শশী। আমি ত ঘােষাল বৌ অমন হলে গঙ্গায় ডুবে মরতুম।
(উভয়ের প্রস্থান।)
করালী বাবুর বহিৰ্বাটী
গজেন্দ্র, করালী ও মটুক।
গজেন্দ্র। দেখুন কালী বাবু আমার বােধ হয় যখন গাড়ীতে ভােলা হয়
তখন কেউ দেখে থাকবে—অার তাই বা কেমন করে—অত রাত্রে
ত’ রাস্তায় লােক জন ছিল না। যাই হােক এ কথাটা আমাদের এখন
চেপে যেতে হবে।
মটুক! ও সব কথা অার তুলবেন না-এখন আপনার মেয়ের বের কি
হলাে বলুন।
করালী। কি মাষ্টার মশাই আপনার মেয়ের বে নাকি?

গজেন্দ্র। আজ্ঞা মশাই আপনাদের অনুগ্রহে এক রকম ঠিক হয়ে গেছে। করালী। বেশ – কোথায় হ’ল ? গজেন্দ্র। আজ্ঞা ঐ সাতরা গাছি রাম নারান চাটুষ্যের বাড়ী—তারা বনিদি লােক। আমার কোন খরচ নেই—তঁারা সব খরচ করবেন- অগ্রিম মেয়ের গহনাও পাঠিয়ে দিয়েছেন। করালী। তা’ বেশ হয়েছে—ছেলেটি কি করে ? গজেন্দ্র। এই বার বুঝি মােক্তারী এজামীন দেবে। মটুক। তাহলে মাষ্টার মশাই বাজার টাজার যা করতে হবে, তার ভার আমাকেই দেবেন। কালী। হ আমাদের মটুক বাবু ও সব বিষয়ে খুব মজবুদ, ওর মতন সস্তায় জিনিষ কেউ আনতে পারবে না—আর ও বিষয়ে উনি অনেক facas experienced. মটক। আমি এই বত্রিশ বছর পাঁচ মাস বাজার ক’চ্চি। আমি সব জিনিষের দর জানি। আমায় কেউ ঠকাতে পারে না। করালী। তা মটুক বাবু অত দিন কি হবে ? মটুক। হা ঠিক হবে—আমার ঠিক হিসাব আছে। এক দিনও কম: হবে না। গজেন্দ্র। তা’ বটে ত’-উনি কি আমাদের আজকের লােক। আচ্ছা মটুক বাবু আপনার বয়স কত হবে? মটক। এই বিয়াল্লিশ বৎসর তিন মাস। করালী। তা’ মাষ্টার মশাই নেমন্তন্নটা কি রকম কচ্চেন ? মটুক। রকম আবার কি?—বিলাত ফেরতা বাদ, আমি সব বাড়ী বাড়ী গেছলুম, সকলেই বলেছেন যােগেশ বড়য্যে এলে তারা কেউ আসবেন

দ্বিতীয় অঙ্ক
। আর ঐ নারান মাতালকেও বাদ। এইবার দেখব এক ঘরে করতে
পারি কি না।
গজেন্দ্র। তা বিবেচনা করুন আমাদের মত, যখন নিলেন না, তখন আর
আমরা কেমন করে সমাজে নিতে পারি।
মটুক। এই বার ঠিক হয়েছে, পাঁচশাে টাকা খরচ করলেও আর জাতে
উঠতে পাচ্ছেন না।
গজেন্দ্র। তা বিবেচনা করুন আমাদের কোন দোষ নাই—আমাদের
কথামত চল্লে কি এতটা হত।
করালী। দোষ আবার কি? আমরা যােগেশ বাবুকে কত রকম করে
বােঝালুম উনি কি শুনলেন। তা’ এখন দেখুন--একঘরে হয়ে থাকবার
মজাটা দেখুন।
গজেন্দ্র। তা হলে মটুক বাবু আমার বাড়ীতে চলুন, সেইখানে বসে সব
ফর্দ করা যাবে।
মটুক। তাই চলুন। এইবার দেখে নােব কেমন না জাতে ঠেলতে পারি।
(সকলের প্রস্থান।)
৩৭

সপ্তম দশ্য। পাঠাগার মেহল মেহ। বাবার এ অন্যায় উপরােধ। তাকে চোকে দেখলুম না—তার বিষয় personally কিছুই জানলুম না ; একজন unknown person, young কি old তাও জানি না, সে কি না হবে আমার lover তাকে বিয়ে করতে হবে। My God! 1 can not brook the idea of such a thing. (691 621631675 personal freedom go উপর বাপ মায়ের কোন হাতই থাকতে পারে না। তাই ত’ Miss আশাকে চিঠি লিখলুম—এখনও আসছে না কেন? কি করব কিছুই বুঝতে পারছি না। এত দিন ধরে female eimancipation এর cause faca fiery agitation pas caca face principle of করব? না তা কখনই হতে পারে না। (পুস্তক পাঠে মনােনিবেশ চেষ্টা ) (মানদা ও গজেরে প্রবেশ । গজেন্দ্র। দেখেছ গিন্নি! বিয়ের নামেই মা আমার কত শান্ত মূর্তি ধারণ করেছে। এখনও ত’ ছেলে মাষী ভাব যায় নিতাই তােমায় বলেছে বিয়ে করব না। এই গহনা আর টাকা পেলে বাকী যে টুকু চাঞ্চল্য আছে তা ও সেরে যাবে। মানদা। কি জানি বাবু আমার ত’ মেয়ের কথাবার্তা শুনে সকাল থেকে পেটের ভেতয় হাত পা সেঁধিয়ে গেছে।

দ্বিতীয় অঙ্ক গজেন্দ্র। থাকু থাক, ও সব কথা একেবারে ভুলে যাও-কোন রকমে কালকের দিনটা কাটিয়ে দিতে পারলেই বাস্-নিশ্চিন্ত। স্নেহ। এত রাত্রে আবার তােমরা এখানে কি করতে এসেছ ? একটু নিরিবিলি বসে আছি—তাতেও disturb করতে এলে ? গজে। না না—এই গহনা গুলি ৰেহাই মশাই পাঠিয়ে দিয়েছেন, ভাই একবার তােমার গায়ে পরিয়ে দেখতে এলুম, ঠিক হলাে কি না? গেহ। কেন আমায় অনর্থক ওবিষয়ে অনুরােধ করছেন—আমি ত" এ সম্বন্ধে সব কথা স্পষ্ট বলে দিয়েছি। গজেন্দ্র। ছি মা ও সব অলক্ষণের কথা কি মুখে আনতে আছে ? গেরস্থ ব্রাহ্মণের মেয়ে,বিয়ে থা হবে--সংসার ধর্ম করবে,দেখে সুখী হব। আমরা আর কত দিন। তােমার বিয়ে টা দিতে পারলেই আমরাও নিশ্চিন্ত। মানদা। তুমি ত আমার অবাধ্য নও-মার মনে কি কষ্ট দিতে আছে ? নাও এই গয়নাগুলি একবার পর দেখি । স্নেহ। (স্বগতঃ ) গয়না গাটী গুলােই বা ছাড়ি কেন। গজেন্দ্র। আর তারা এই টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন—তােমার মনের মত জামা কাপড় যা করতে হয় করে নিও। (ক্যাস বাক্স প্রদান ও মানদা কর্তৃক গহনা পরাইয়া দেওন), মানদা। দেখদেখি স্নেহ এইবার কেমন মানিয়েছে। বাপ মার মনে কি একটুও সাধ আহ্লাদ যায় না। গজেন্দ্র। এস গিন্নি চলে এস,—চলে এস। মাকে আর আমার বিরক্ত করাে না। (মেহর প্রতি) আজকে আর বেশী রাত জেগে না। সকাল সকাল শােওগে। (জনান্তিকে মানদার প্রতি) দেখলে গিন্নি গহনা আর টাকা পেয়ে মেয়ের আমার মতি ফিরে গেল।

মানদা। এখন ভালয় ভালয় কালকের দিনটা কাটলে মা মঙ্গলচণ্ডির পূজা দিয়ে বাঁচি। ( উভয়ের প্রস্থান) স্নেহ। বেশ হ’লল, গহনা আর টাকাগুলাে ত’ হাত করা গেল—আর এখন ভয় নাই। এইবার নির্বিঘ্নে যেথা ইচ্ছা যেতে পারি। কৈ Miss আশালতা এখনও আসছে না কেন? তবে কি আজকের পরা- মর্শের কথা ভুলে গেল? (পুরুষবেশে আশালতার প্রবেশ ) আশা। কিলাে Miss মেহ, এখন থেকেই যে কনে সেজে বসে আছি। স্নেহ। এই তুমি আমার বর আসবে বলে বেশ মানিয়েছে তােক। আশা। কেন, পছন্দ হয়েছে নাকি? মেহ। এমন বর কার না পছন্দ হয়—নে ভাই ঠাট্টা তামাসা রাখ। যা’ বলেছিলাম তার কতদূর কি হল ? আশা। তবে আর এত রাত্রে এলুম কি করতে? Every arrangement complete. ঘাটে নৌকা তৈরী—উঠলেই হয়। আমিও বাবার ক্যাবাক্স থেকে কিছু টাকা সংগ্রহ করেছি—নৌকাতে পণ্ডিত মশাইও অপেক্ষা করছেন। চল্ ত’ বেরিয়ে পড়ে একটা ছােট খাট pleasure trip নিয়ে আসা যাক। তারপর যা’ বরাতে থাকে হ’বে। বাড়ীর সঙ্গে সমন্ধ ত’ এই পর্যন্ত। স্নেহ। কিলাে ভয় পাচ্ছিস নাকি? Caged birdএর মত পরাধীন থাকার চেয়ে আকাশের মুক্ত পাখীর মত স্বাধীন হওয়া কি ভাল নয়? চল্ রাত ও ক্রমশঃ অধিক হয়ে আছে, আয় বিলম্ব করা উচিৎ নয়। আমি আর একটুও স্থির হতে পাচ্ছি না। এখনি সব জেগে উঠলে আমাদের সমস্ত আয়ােজন পণ্ড হয়ে যাবে। ৭০, দ্বিতীয় অঙ্ক - - - আশা। তবে চল, গয়নাগুলাে গা থেকে খুলে এই বাক্সর ভেতর পাের। বাইরে মাঝি বেটা দাঁড়িয়ে আছে তাকে দিয়ে সব নিয়ে যাওয়া যাবে। মেহ। তবে খানকতক বইও সঙ্গে নােয়া যাক। Journeyতে monotony বােধ হ'লে বইগুলােয় অনেক কাজ দেখবে। (নেপথ্যে-স্নেহ এখনও তুমি জেগে আছ-শােওনি ?) স্নেহ। ঐ মা জেগে উঠেছে সর্বনাশ করলে—আশা তুই ও ঘরের ভিতর যা। (আশালতার অন্তরালে অবস্থান) ( মানদার প্রবেশ ) মানদা। রাত যে অনেক হয়েছে স্নেহ-এখনও জেগে রয়েছ। অসুখ করবে-শােও গে। স্নেহ। হাঁ যাই না। তুমি শােগে আমি এই বই ক’থানা তুলে রেখে যাচ্ছি। মানদা। আচ্ছা এস আর দেরী কোর না। ( প্রস্থান) ( আশালতার প্রবেশ) আশা। আর না আর দেরি করা চলে না। শেষে সব পণ্ড হবে। স্নেহ। তবে এই বাক্স নে চল, খুব পা টিপে টিপে চল মা বড় সজাগ। Farewell my sweet Study! Good bye dear father and farewell my loving mother ! শৈশবের সুখ-স্মৃতি farewell to thee! (ক্যাস বাক্স, পুস্তক প্রভৃতি লইয়া উভয়ের প্রস্থান।) ৭১ অষ্টম দৃশ্য। মটুকের বাটী-অন্তঃপুর। শশীবালা ও বিদ্যুৎলতা। শশী। আগে আসুক মিঙ্গে-অজ তার একদিন কি আমার একদিন। এই এক হাতে রইল তাগা জোড়া আর এক হাতে রইল ঝাটা-তাগা জোড়া কিনে দেয় ভাল-নইলে ঝেটিয়ে বিষ ঝেড়ে দোব। হত- ভাগা হাড়হাবাতে মিন্সের হাতে পড়ে আমার হাড় মাস কালী হ’ল। পেলুম ভাল গহনা পরতে, না পেলুম ভাল কাপড় পরতে ; বাদীর মত খেটে খেটে হাড়ে দূৰ্য্য গজিয়ে গেল। পােড়ারমুখখা মিন্সের মাগ ম’লাে খেটে--আর উনি হয়েছেন সমাজের কর্তা। (মটুকের প্রবেশ) মটুক। কি গিন্নি আজ রণবেশ কেন? বিদ্যুৎ। বাবা খুব সাবধান, আজ মা তােমার সঙ্গে duel লড়বেন। শশী। এই যে এসেছেন। এই তাজোড়া কিনে দেবে কি না বল ? মটুক। বাড়ীতে ঢুকতে না ঢুকতেই ফরমাস্ -এই এলুম তেতে পুড়ে আগে একটু ঠাণ্ডা হই। শশী। কেন কোন্ চুলােয় গিয়েছিলে? মটুক। যাব আর কোন্ চুলােয়—এই গজেন্দ্র বাবুর মেয়ের বে তাই বাজার টাজার করতে এত দেরী হ’ল। १२

দ্বিতীয় অঙ্ক
শশী। চিরকাল কেবল পরের বাজার করেই মলে-আমার জন্যে কল্পে
কি? এখন এই তাগা জোড়া কিনে দিচ্ছ কি না বল ?
মটুক। তাই ত’ বলছি—সাধ করে কি পরের বাজার করি। ও থেকে দু
পয়সা রােজগার হয়, নইলে তােমার তাগা কিনে দেব কেমন করে ?
তাগা হবে—ভাবনা কি।
শশী। বলি আমি মলে নাকি ?
মটুক। না না এই আসছে মাসে—আসছে মাসে।
শশী। আর ভবি ভুলছে না, বরাবরই আসছে মাসে দিচ্ছ; এই ঝাঁটা
মারব আর তাগা আদায় করবে।
মটক। ঐ মেয়ের সামনে আমার অপমান, জান সমাজের মধ্যে আমি
এখন একজন গণ্য মান্য লােক হইচি ।
শশী। তাের সমাজের কথায় আগুণ, আমি রইলুম শুধু হাতে, উনি
ক’চ্ছেন সমাজের ঘোট।
(প্রহার)
মটক। দেখ কখনও আমি তােমার গায়ে হাত তুলিনি, আজ আমার
কিন্তু ভয়ানক রাগ হচ্ছে।
তবেরে মিন্সে আমার গায়ে তুমি হাত তুলবে। (পুনঃ প্রহার )
মটক। তবেরে মাগী এই দেখ, তােকে রাখে কে ? (প্রহারােত)
বিদ্যুৎ। খবরদার বাবা-মার গায়ে হাত তুলল না। স্ত্রীলোেক
পীড়ন করাে না। (শশী বালার প্রতি) মা তােমার কোন ভয় নেই।
আমাদের Emancipation Hallএ নাম লেখাবে চল, স্বামীর
অত্যাচার থেকে মুক্তি পাবে।
মটক। এ এ মেয়েটা বলে কি ? ছি গিন্নি রাগ কি করতে আছে।
শশী। না রাগ করব কেন? তােমার মুখে চিনির পানা ঢেলে দোব।
4
শশী।
৭

ঐ ঘােষালদের বাড়ী নেমন্তন্ন যাবনা আছে এক খানা গয়না, না
আছে একখানা ভাল কাপড়। নেমন্তন্ন বাড়ী, পাঁচজন সেজে গুজে
আসবে তার মাঝে আমি একটা দাসী বাদীর মত বেহালে যাব না কি ?
মটক। না—তা কি আর ভাল দেখায়। এই এবারকার মত কারুর বাড়ী
থেকে দু একখানা চেয়ে চিন্তে নাও—আসছে মাসে তােমার আগ
বেওজর গড়িয়ে দেব।
বিদ্যুৎ। মা ! বাবার ও false কথায় বিশ্বাস করে না। আমায় ঐ
রকম টেনিস ব্যাট কিনে দেবেন বলেছিলেন। তা’ আজও দিচ্ছেন।
আমি পণ্ডিত মশায়ের ব্যাট নিয়ে তবে খেলে আসি।
মটক। ছি মা আর কেন উস্কে দিচ্ছ। তুমি ত মা বুদ্ধিমতী, লেখাপড়া
শিখেছ-বাপের অমৰ্য্যাদা করতে আছে কি ?
শশী। বটে বটে আমায় ফাকী দেবে, চল্ মিনসে সভার মাঝে তােমায়
অপমান করব তবে আমার নাম শশী বানী। মনে করেছ অমনি
ছাড়ব (গলায় অঞ্চল দিয়া টানন)
মটুক। আহা হা-কর কি কর কি। মেয়ের সামনে মাথা কাটা যায়
যে। গলার কাপড় ছেড়ে দাও আমি আস্তে আস্তে যাচ্ছি।
শশী। কাপড় ছেড়ে দেব ? এই আর এক পালটা দিলুম। দেশের লােকের
কাছে পাগলামী করলে তারা ছেড়ে দেবে। আমার কাছে ভিট
কেলমি-ড্যাকরা নচ্ছার মিন্সে আমায় ফাকী। এই ভাল মানুষের
মত চলবে ত’ চল, নইলে জোর করে টেনে নিয়ে যাব। আয় ত’
বিদ্যুৎলতা আমার সঙ্গে আয়ত।
মটক। ছি ছি কর কি কর কি—এত লােকের সামনে কর কি।
(শশীবালা কর্তৃক মটুককে টানিয়া লইয়া প্রস্থান)
৭

দ্বিতীয় অঞ্চ
বিদ্যুৎ। যাই মা। এইবার বেশ হয়েছে। মাকেও Emancipation
IIall এর member করে নেবার বেশ সুবিধা হয়েছে। Bengali
husband দের কঠোর অত্যাচারে সংসারের সুখ নষ্ট হয়ে যেতে
বসেছে। Next meeting এ এ বিষয় নিয়ে move করতে হবে।
যাতে husband and wife এর connection free থাকে তার
জন্য বিশেষ চেষ্টা করতে হবে, নইলে emancipation এর cause
নষ্ট হয়ে যায়।
(প্রস্থান)
নবম দৃশ্য।
গজেরে বাটী-
-বিবাহ সঙ্গ
গজেন্দ্র, করালী ও নদের চাঁদ।
গজেন্দ্র। কেন মেয়েটাকে লেখা পড়া শিখতে দিয়েছিলাম। আমার
অকলঙ্ক কুলে কালী ঢেলে দিয়ে গেল। উঃ সর্বনাশ করলে—সর্বনাশ
করলে। এখনি বর আসবে, আমি কেমন করে বেহাইএর কাছে মুখ
দেখাব। আমি পালাই, আপনারা যা হয় করবেন।
করালী। তা কি হয়। এ আপনার কাজ আমরা কেমন করে করব ?
এক কাজ করুন তাড়াতাড়ী সেখানে খবর পাঠান –বলুন মেয়ের
হঠাৎ ভয়ানক বাড়াবাড়ী ব্যামযা হয়েছে।
( নেপথ্যে বাদ্যধ্বনি ও কোলাহল)
গজেন্দ্র। আর খবর দেওয়া হয়েছে ঐ বর আসছে। আমি এখন কি
করি—কি করি? পালাব—পাল বিকোথায় পালাব ?

কালী। আর পালাবেন কোথা ঐ সব এসে পড়েছে। এখন স্থির হন –কি আর করবেন বলুন। (রাম চাটুযে, বর ও বর যাত্রীগণের প্রবেশ ) গজেন্দ্র। বেহাই মশাই আমার সর্বনাশ হয়েছে—মাথায় বজ্রাঘাত হয়েছে। রাম। এা বলেন কি! এমন শুভদিনে আবার কি বিপদ উপস্থিত ? গজেন্দ্র। আমার কন্যাকে পাওয়া যাচ্ছে না। হায়! হায়! কি হলাে ! কি হলাে !-কি সর্বনাশ হলাে ! রাম। এা বলেন কি! মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না—এ কি কথা? আমি এই সব ভদ্র লােকদের নিয়ে এসেছি, আমায় দাড়িয়ে অপমান করতে চান্। হয় যেখান থেকে পারেন মেয়ে নিয়ে আসুন-নইলে চল্লিশ ভরি সােনা, নগদ দু’শাে টাকা আর আমার যাবতীয় খরচ পত্র এখনি চুকিয়ে দিন। ভদ্রলােকের সঙ্গে দাগাবাজী—ইত্রমী। গজেন্দ্র। আয়া! গহনা, টাকা, কড়ি সব নিয়ে পােড়াকপালী মেয়ে কোথায় চলে গেছে। আমার সর্বনাশ করে গেছে। আমায় রক্ষা করুন—রক্ষা করুন। রাম। বটে ! জুরি ! জুরি ! আমার সঙ্গে প্রতারণা! Procession খরচ, গহনা, নগদ টাকা কড়ি সব কড়ায় গণ্ডায় আদায় করব তবে ছাড়ব। বরযাত্রীগণ। আর আমারও না খেয়ে এ বাড়ী থেকে নড়চি নি। গজেন্দ্র। কি করব মশাই-টাকা ত’ আমার ঘরে নেই। বিধাতার বিড়ম্বনা কি করব বলুন? রাম।, ও সব ফন্দি আমাদের কাছে খাটবে না। যেখানে থেকে পারেন এখনি টাকা চুকিয়ে দিন। আপনাকে ভদ্রলােক জেনে বিশ্বাস করে দ্বিতীয় অঙ্ক কনের গহনা আর খরচ পত্রের দরুণ অগ্রিম টাকা পাঠিয়ে দিলাম— এখন বলছেন কি না মেয়ে পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্বাসঘাতক! প্রতারক ! এই কি আমার বিশ্বাসের প্রতিদান ! গজেন্দ্র। ভগবান জানেন আমি কোন দোষে দোষী নই। হতভাগা মেয়েটার জন্য আমার এই অপমান। রাম। ও সব চালাকি—ফন্দী রাখুন। আপনিই ত’ সেই মেয়ের জন্ম- দাতা। আমি কোন কথা শুনতে চাই না। এখনি টাকা নিয়ে আসুন। গজেন্দ্র। (করালী বাবুর প্রতি) করালী বাবু আপনার পায়ে পড়ি এই বিপদের সময় দরিদ্র ব্রাহ্মণকে রক্ষা করুন। করালী। আমি কি করব বলুন- আমার অবস্থা ত’ আপনি জানেন ? গজেন্দ্র। আজ্ঞা আপনার অবস্থা জানি বলেই ত’ বলছি। এ দায় থেকে আমায় উদ্ধার করুন। বিপন্ন ব্রাহ্মণকে বাঁচান—আমায় কিছু টাকা ধার দিন। করালী। বলি ধারটা যে দোৰ কি দেখে দোব—আপনার সঙ্গে আলাপ আছে সত্য—তা” বলে ঘরের টাকা ত’ জলে ফেলে দিতে পারি না। আমি এখন চলুম-আমায় এখন অনেক জায়গায় নিমন্ত্রণ রাখতে হবে। ছি আপনার সংসর্গে এসে আমারও অপমান। ( প্রস্থান) গজেন্দ্র। দেখুন রায় মশাই, বিচার দেখুন। বিপদের সময় লাঞ্ছনা ভােগ করাবার জন্য অম্লানবদনে আমার একলা ফেলে চলে গেলেন। আমি ওর সঙ্গে একত্র বসে সমাজে ঘোঁটি করে যােগেশ বাবুকে এক ঘরে করলুম। ওঁরা পেছনে ছিলেন বলেইত’ এ কাজে এত সাহস হয়েছিল ; না হলে যােগেশ বাবু আমার কত উপকার করেছিলেন

A
তাঁকে এক ঘরে করা কি আমার সাধ। আহা! তিনি অতি সদাশয়
লােক। বােধ হয় এখনও তার পায়ে ধরলে তিনি আমায় মার্জনা করেন।
তাকে সমাজে অপমানিত করবার জন্য কি না করেছি। শুধু করালী
বাবুর পরামর্শেই যােগেশ বাবুর মত সরল প্রকৃতি ব্রাহ্মণকে পদে পদে
অমৰ্য্যাদা করেছি—এখন তার কাছেই বা মুখ দেখাই কি করে ।
আমি—এ ঘাের কলঙ্ক হ’তে এখন অব্যাহতি পাই কিসে? বায়
মশাই! আপনি কি কিছু সাহায্য করতে পারেন না?
নদের। আপনাকে সাহায্য করব—এ একটা বড় কথা হলাে।
কি না আমার হাল অবস্থা ত’ জানেন। টাকা থাকলে অবশ্যই
আপনাকে সাহায্য করতুম ; আপনাকে মুখ ফুটে বলতে হতাে না।
গজেন্দ্র। বন্ধুত্বের বেশ পরিচয় পেলুম-শিক্ষাও বেশ হলাে। পরের
অনিষ্ট করতে গিয়ে নিজের সর্বনাশ আমি স্বেচ্ছায় ঘরে থেকে
আনলুম-প্রতিফলও বেশ পেলুম।
(ঝী এর প্রবেশ )
ঝী। কত্তা বাবু! গিন্নি মা বল্লেন ঐ যােগেশ বাবুর হাতে পায়ে ধরে,
তঁাকে এখনি একবার ডেকে নিয়ে আসুন, তিনি উকীল মানুষ তিনি
এলে আমাদের অনেক ভরসা হবে—সব গােলমাল মিটে যাবে।
গজেন্দ্র। যােগেশ বাবুর কাছে কি মুখ দেখাবার জো আছে। তাকে
নেমন্তন্ন পৰ্যন্তও করি নি।
নদের। তাই করুন গজেন্দ্র বাবু এ ভিন্ন ত’ আর উপায় দেখছি না।
বিপদে পড়লে সবই করতে হয়।
গজেন্দ্র। বেহাই মশাই একট, অপেক্ষা করুন আমি যােগেশ বাবুকে
ডেকে আনি।
-

দ্বিতীয় অঙ্ক রাম। ছিছি কি ঘৃণা-আমারও অপমান। এমন ঘরেও ভাইপাের বে দিতে এসেছিলাম। ভাল ঘর জেনে সম্বন্ধ কলুম শেষে এই কেলেঙ্কারী। (যােগেশ, গজেন্দ্র ও নারানের প্রবেশ) গজেন্দ্র। (যােগেশের প্রতি) কিছু মনে করবেন না মশাই—কিছু মনে করবেন না। না বুঝে এক ঘরে করতে গেছলুম। আপনি এমন সদাশয় তা জানতুম না। স্লেগেশ। কি রামনারান বাবু-আপনারই ভাইপাের সঙ্গে বিবাহ ? রাম। আর কি বলব মশাই, আপনাদের এই পাড়াতে বে দিতে এসে মানটা খুব বেড়ে গেল। যােগেশ। অামাদের পাড়া বলবেন না—আমি এখন এ পাড়ার একজন সমাজচ্যুত নগণ্য ব্যক্তি মাত্র। যাদের পাড়া তাঁরা এই আপনার সামনেই খাড়া আছেন। আমি এ বিবাহের বিন্দু বিসর্গও জানি না। এই মাত্র আপনার বেহাইএর কাছে আপনার নাম শুনে ছুটে এলুম- শুনলুম ব্যাপারও বেশ গুরুতর। রাম। যা হােক আপনি যখন এসেছেন তখন আর কোন গােল নেই। কিন্তু খুব শিক্ষাটা পেলুম মশাই। যােগেশ। থাক্ ও সব কথায় আর কাজ নেই। ব্রাহ্মণকে বৃথা আর পীড়ন কল্লে কি হবে। আপনার টাকা আর গহনা যা গজেন্দ্র বাবুকে দিয়েছেন তার দায়ী আমি রইলুম। আর যদি আপত্তি না থাকে ত’ এখন আসুন আমার বাড়ীতে পায়ের ধুলাে দেবেন আসুন। এতগুলি ভদ্রসন্তান. যে শুধু মুখে ফিরে যাবেন, তা চোকের সামনে কেমন করে হতে পারে—আমি তা ছেড়ে দিতে পারি না। রাম। তা আপনি যখন বলছেন তখন আর আপত্তি কি।

নারান। কি গজেন্দ্র বাবু! আপনার করালী বাবু এখন কোথায় ? অসময় দেখে বুঝি সরেছেন। বলি বড়মানুষ দেখে, তার হুজুগে মেতে আমাদের একঘরে করতে গিয়েছিলেন, এখন আপনার ঘর রক্ষা করে কে? বড় মানুষদের চেনেন না ত’—ঘরের পয়সা খরচ করে মাথাটী হেঁট করে বড় মানুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে হয়। এখন যে কাজটী হ’লল তাতে বড় মুখ করে মাথা তুলে সমাজের ঘেঁটি করার দফায় গয়া হলাে। বলিহারী বাবা তােমাদের সমাজকে—আর তাব সংস্কারের চেষ্টাকে। ভেতরে গলদ রেখে শুধু বাইরে সাফ করলে কি আর চলে। গজেন্দ্র। আমার অপরাধ হয়েছে। আর আমায় কিছু বলবেন না--যথেষ্ট শিক্ষা পেলুম। এমন সদাশয় ব্যক্তির অনিষ্ট করতে গিয়ে তার শাপ হাড়ে হাড়ে ফলেছে। এখন আপনাদের দোহাই—এসব কথা আর কারাে কাছে প্রকাশ করবেন না। নারান। না সে জন্য ভাববেন না। মাতাল হই আর যাই হই, পরের উপকার করতে পারি আর না পারি—পরের অনিষ্ট করতে যেন কখন প্রবৃত্তিও না হয়। বলিহারী কিন্তু আপনাদের ! বাইরে সমাজ শাসন ব্যাপারে এত হুলস্থুল লাগিয়েছেন আর ঘরে মেয়েছেলে, দের শাসনে রাখতে পারেন না। সমাজ শাসন করতে না গিয়ে যদি ঐ মেয়েটাকে শাসন করতেন, যদি তাকে স্কুল কলেজে না দিয়ে গৃহ-ধৰ্ম্ম শেখাতেন, সংসার-কর্মে ব্ৰতী রাখতেন—তা হলে কি অাজ এই প্রকাশ্য কেলেঙ্কারীটা হত । এখন দেখুন—বুঝুন—শিখুন। আর সমাজ সম্বন্ধে কোন কথা যেন আপনাদের মুখ থেকে না শুনতে পাই।

দ্বিতীয় অঙ্ক ( মটুকের গলায় বস্ত্র দিয়া শশীবালার টানিয়া আনিতে আনিতে প্রবেশ) যােগেশ। এ আবার কি।-এ আবার কি। শণী। বটেরে মিন্সে–মেয়ের সামনে আমার গায়ে হাত তােলা। এই সভার মাঝে সকলের সামনে এই তিন ঝাটা। ( প্রহার ও প্রস্থান) মটুক। দেখেছেন—দেখেছেন। আমি বিষ খাব-গলায় দড়ি দেব। মাগ আমায় অপমান করে - আমি তাগা দিতে পারিনি ব'লে আমায় অপমান ? নারান। বলি মটুক বাবু উনি কি আপনার স্ত্রী ? আমি ভেবেছিলাম হিড়িম্বা না আর কি! বলিহারী বাবা---আপনাৱা এক একটি রত্ন। কেউ ফেলা যান না। খুব জবর সমাজপতি বটে। তা যাক গলায় দড়িও দিতে হবে না, বিষও খেতে হবে না -যেমন কাজ তেমনি তার প্রতিফল। আপনাদের ধিক! ঘরের মাগকে শাসনে রাখতে পারেন না— বাহিরে লম্বা চওড়া সভা-সমিতি করে সমাজ শাসন করতে যান। (নদেরর্চাদের প্রতি) আপনি এদের মধ্যে দেখছি বুদ্ধিমান :- বেড়ে আপােষে মিটমাট করে নিয়েছেন। ধিক আপনাদের সমাজ-কর্তৃত্বে ! আর ধিক অপনাদের সমাজ- পতিঙ্গে! যত ভণ্ডর দল জুটে এমনি করে দেশটাকে কি অধঃপাতে দিতে হয় ? ?

( পট পরিবর্তন)
উজ্জ্বল দৃশ্য।
( নট ও নটীগণের গীত )
দেশ হুজুগে ভণ্ড তাের দিলি দেশটা ছারেখার,
করলি যেমন কর্মকাণ্ড তেমনি দণ্ড পেলি তার ।
হিদুয়ানী নাই এক বিন্দু,
সাজলি তবু গোঁড়া হিন্দু,
সমাজ-ধর্মে দিয়ে কালী করলি সৰ একাকার।
তােদের সব বলিহারি, নাই কি কড়ি
কিনে কলসী দড়ি-গলায় বেঁধে ও গঙ্গাপার।
বলি নাকো মিথ্যা কথা,
ঘুরি নাকো আমরা বৃথা,
খুঁজে দেখ পাবে এমন কত ভও অবতার।
যবনিকা।
সম্পূর্ণ।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Bhanda

Author
Mukhapadhyay,bhutnath
Title
Bhanda
File name
Bhanda
Text
OCR done
Citation
1909
Published
2010/03/26
Publisher
Binodbihari Bandhopadyay, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
102
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Drama
Keywords
Mukhapadhyay,Bhutnath
DLI number
510916
Barcode
4990010018112.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
6bEIRHQs4Vg
Download PDF

Bhanda