Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Naludar Chithi Vol.1
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
নীলু
সার
প্রথম খণ্ড
সুনীতি রায় কর্তৃক প্রকাশিত
২৯১এ, নিউ পার্ক স্ট্রীট, কলিকাতা
৩০শে জুন
১৯৩২
কলিকাতা,
নষিধান প্রেস ; ৩নং রমানাথ মজুমদার টি হইতে
ভষনাথ মুখার্জি থানা মুদ্রিত।
নিবেদন উৎসবময় যার জীবন, যিনি জীবনে উৎসব সাধন করে’, মরণকেও উৎসবে পরিণত করে, তার প্রিয় নববিধানের সাধক, সেবক, প্রচারক, জ্ঞানী, কর্মী, ভক্ত, নরনারী, বৃদ্ধ বালক যুবক সকলকে “উৎসব হয়ে এস,” “উৎসব হয়ে যাও” বলে কত আহ্বান করেছিলেন, নববিধানের সেই একনিষ্ঠ সাধক, সকলের শ্রদ্ধেয় ও প্রিয়তম “নালুদা” ( সাধু প্রমথলাল সেন) তার জীবনে ছােট বড় যে সকল সুন্দর সুন্দর চিঠি লিখেছিলেন, তাহার কয়েক খানি মাত্র এই খণ্ডে প্রকাশিত হইল। তার সহজ সরল ভাষার মধ্যে যে এক অপূর্ব প্রাণ-শক্তি ছিল, তাহা যারা তার উপাসনা প্রার্থনা- দিতে যােগ দিয়াছেন, তারা সকলেই জানেন। তার চিঠিগুলির মধ্যে তার জীবনে পরীক্ষিত সত্যের কথাই তিনি লিখেছেন। নববিধানের সহজ মানুষের ভাষায় গৃহ-পরিবার, উৎসব, পরলােক, মণ্ডলী, কেশবচন্দ্রের পরিচয় ও তাহাকে গ্রহণ এই সকল বিষয়ে তিনি কত যে লিখেছেন, তার কিছু পরিচয় এই প্রথম খণ্ডের চিঠিগুলি হইতে পাওয়া যাইবে। এ পর্যন্ত যতগুলি চিঠি সংগৃহীত হয়েছে, তা প্রকাশ করিতে হইলে আরাে দুই খণ্ড আগামী বৎসরের মধ্যে ছাপাইতে হইবে। যার অনুগ্রহ করে প্রকাশ করিবার জন্য চিঠিগুলি পাঠাইয়া দিয়া সঙ্কলনের কাজে সহায়তা করেছেন, তাঁরা বিশেষ ধন্যবাদের পাত্র। — তারা যদি তাদের আত্মীয় বন্ধুগণকে, “নালুদার” আরো যে সব চিঠি এখনো অনেকের কাছে আছে, সে গুলি প্রকাশের জন্য পাঠাইয়া দিতে অনুরােধ করেন, তাহা হইলে এই কাজ সম্পূর্ণ হইবার সম্ভাবনা থাকিবে। নববিধানের অপূর্ব সমন্বয়ে একনিষ্ঠ সাধকের স্থান কত উচ্চে, অথচ তাঁর যাঁরা শ্রদ্ধা ও ভালবাসার পাত্র, তাদের সঙ্গে তার সম্বন্ধ কত নিকট, প্রাণের যােগ কত গভীর, তাহার প্রমাণ এই চিঠিগুলির প্রত্যেক লাইনে পাওয়া যায়। এই সমন্বয় দর্শন, মনন ও ধ্যান যার সমস্ত জীবনের সহজ সরল সাধন, তার প্রিয় নববিধান যে উচ্চ যােগতত্বের সংবাদ আনিয়াছে, তাহা যে সকল মণ্ডলী বা দলের সীমাকে অতিক্রম করিয়া উৎসবময়ী নববিধান-জননীর কোলের দিকে দেশবাসী ও বিদেশস্থ সকল নরনারীকে টানিয়া আনিতেছে ও আনিবে। অনেকেই তাহার পরিচয় এই চিঠিগুলি পড়িলেই পাইবেন ও উপকৃত হইবেন, এই আশা করিয়া “নালুদা’র চিঠি” (প্রথম খণ্ড) প্রকাশ করা হল। সিয়লা মণ্ডলীর কাজ
No text on this page.
নালুদার
(১)
পাটনা
৩রা জানুয়ারী ১৯২৯
ভাই নির্ভর,
আমি পাটনায় এসে প্রথমে হরিদাসের বাড়ীতে উঠেছিলাম,
সেখানে মাস দেড়েক থেকে পরেশ বাবুর বাড়ীতে এসেছি, আজ
সকালে সুধেন অনুকে এখানে নাবিয়ে দিয়ে গেলেন। এতক্ষণ তার
সঙ্গে কথা হল, তােমার যে চিঠি আমার জন্মদিনের উপহার, তার
যে কথাগুলি বাদ দিতে বলে ছিলে, তাই বাদ দিয়ে বাকি সুমুকে
পড়ে শােনালাম। এবার বছরের প্রথম দিনে তােমার এই চিঠি
পড়ি, কাল দ্বিতীয় দিনে নববিধানের গুণে কত কি পাওয়া গিয়াছে,
যিনি মনে করিয়ে দিলেন, তিনি যেন বলে দিলেন, এবার নতুন
বছরের calendar ট্যালেণ্ডার কিছুই নেই, ভাই প্রিয়নাথের একটা
গান, আর নির্ভরের এই দান--আমি যে সব কথা শুনতে চাই,
তাই তাে লিখেছ। ওখানে যা দেখতে পাচ্ছ, তাই আরও ভাল করে
দেখ—ওখানে যদি পাঁচটী লােককে মনের মত পাও, তার চেয়ে
আর আনন্দের বিষয় কি আছে ? এখানকার কথা ভুলে যাও,
ওখানকার ভাই বােনদের যদি নববিধান জননীর কথা বলে
মাতাতে পার, তাদের দিয়ে জননী যে কাজ করিয়ে নেবেন, তা কি
আমাদের দিয়ে হবে ? এখন আর কারু মুখাপেক্ষা করা কি
২ নালুদার চিঠি ভাল? নববিধান যে ঋণে আমাদের ঋণী করেছেন, কে কত সেই ঋণ স্বীকার করি, তা পরিশােধ কৰ্তে কত চেষ্টা করি, তার পরীক্ষা বছরে বছরে হয়ে, আবার এই বছর হবে। প্রস্তুতির (preparatory) এ কটা দিন ঐ পরীক্ষা বিশেষ করে হয়, যারা উৎসবটাকে বড় মনে করে, প্রস্তুতিকে ছােট মনে করে, তারা ক্রমে ক্রমে উৎসবকেও ছােট মনে করে, শেষে উৎসবও করে না, প্রস্তুতিও চায় । আমরা অনন্তের সন্তান হয়ে, অনন্তের আলােকে, অনন্তের চোখে অতীতকে বর্তমানকে ভবিষ্যৎকে দেখবো, গেল বছরের শেষ দিনে এই কথা বিশেষ করে মনে হয়ে ছিল ; তাই প্রস্তুতির প্রতিদিন মনে হতাে, এখনও আমাদের কিছু হয় নি, অনন্ত নববিধানের কাছে অসংখ্য ঋণে ঋণী যারা, তারা হাজার হাজার টাকা শরীর মন প্রাণ সর্বস্ব দিলেও যে ঋণ সেই ঋণ, তাই শােধ দেওয়ারও আদি অন্ত ? এক গঙ্গা কথা মনে আসছে, তার ভেতর এই কটা কথা লিখে এখন নিশ্চিন্ত হই। তােমাদের নালুদা শ্ৰীমতী নির্ভরপ্রিয়া ঘােষ (২) পাটনা ১০ই জানুয়ারী ১৯২৯ ভাই নির্ভর, এ mail এ তােমার কোনাে চিঠি পাই নি-- তাহলেতাে তোমাকে হারিয়ে দিয়েছি, যৌবনে চিঠি লেখা সম্বন্ধে হার মানিনি— নালুদার চিঠি মাঝখানে অন্য রকম, এখন বার্ধক্যে (?) যদি তােমাকে হারিয়ে দিয়ে থাকি, এটুকু জেনে চলে যেতে পাল্লেম্মদক্ষি?এখানে যে মেয়েদের Conference হয়ে গেল, ছুটুসুষমা যার পাণ্ডা ছিলেন, তার কিছু খবর ছুটু টুটুর কাছে পেয়েছ কিনা জানিনে-আমিত খবরের কাগজ পড়া বন্ধ করেও Congressএর weekএ কলিকাতায় কি হয় একটু দেখছিলাম, সেখানেও মেয়েদের Conference হয়েছে। কেউ কিছু কাগজ পত্তর তােমাকে পাঠিয়েছেন কি না জানি নে –আমি যা পাই, পাঠাতে চেষ্টা করব কুমি-যে tিy ছিলে St. Paulএর বিষয় পড়ছ, খুব interesting লাগছে, আমিও যখন Manchester Colleges feala, Church Historyco FU parallels আমাদের historyর পেতাম, তাই জিনিষট+living হত। তারপর যখনই পড়েছি, কত কি note কববার মত জিনিষ পেয়েছি। গেল বছরে যে সিমলে ছিলাম, তার আগের বছরেও St. Paul সম্বন্ধে যা পেয়েছি, তা কিছু কিছু note করেছি। আমি যখন Max Mullerএর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, তিনি জিগগেস করে ছিলেন, “কি কৰ্তে এখানে আসছ ?” আমি যখন বল্লাম “Theology পড়তে, তিনি বল্লেন “The best study of Theology is the study of the history of Theology"-ota 999 history লেখা কি যাকে তাকে দিয়ে হয় ? সরস্বতীর মনােনীত সেই কাজের জন্য inspired না হলে, হাবজা গােবা যা তা লিখে history বলে পরিচয় দিলেইত history হবে না;শিষতঃ বিধানের লীলা লিখতে গেলে কি বলতে গেলে, “কেশবচন্দ্র, চিরঞ্জীব না হলে কি চলে? তুমি যখন নতুন করে Bible পড়তে 8 নালুদার চিঠি আরম্ভ করেছ, তখন কি old Testament কি New Testamentএ নববিধানকে confirm করবার মত কতকগুলি বিশেষ • কথা পাবে। আমার উপাসনা কি কথাবার্তা যদি মনে থাকে, তার কিছু কিছু তার ভেতর মনে হবে। ওখানে তােমাদের schoolএর libraryতে, কি অন্য libraryতে ব্রাহ্মসমাজের বই কি কি আছে জানিনে ; রাও বােধ হয়, তার কতকগুলি বই দিয়ে এসেছিলেন। কি কি নেই জেনে সেগুলি কলকাতা থেকে পাঠিয়ে দেবার ব্যবস্থা করতে হয়। এখন যামিনী কলকাতায়, তিনি গণেশ বাবু স্বপ্রকাশ প্রভৃতির সাহায্যে এই কাজটা কল্লে ভাল হয়। তুমি যদি মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের বিষয় লিখ, তাহলে তার আত্মজীবনী ছাড়া তার জীবন-চরিত অজিত, ভবসিন্ধু প্রভৃতি যা লিখেছেন, তাও দেখা ভাল ; তা ছাড়া তার ব্রাহ্মধর্মের ব্যাখ্যান* “ব্রাহ্মধৰ্ম্ম “মাঘােৎসব”এর উপদেশগুলি পড়া ভাল, তার ছেলেদের ভেতরে তার ছবি কি অাকারে পাওয়া যায়, তাও দেখাতে পালে মন্দ হয় না, বিশেষতঃ বড় ও ছােট ছেলে দ্বিজেন্দ্র ও রবীন্দ্র, তার কোন্ দুদিক প্রকাশ করেন ? রামমােহন রায়ের সম্বন্ধে নতুন বই যা বেরােচ্ছে, তার খবর রাখছ কি? তার সমসাময়িক যারা, তাদের ভেতর খুব remarkable লােক ছিলেন, যেমন আমার প্রপিতামহ রামকমল সেন, সার রাধাকান্ত দেব, Christian Missionaries Carey, Marshman, এরা সব বাঙ্গালা দেশে কাজ করে ছিলেন; ঠিক সেই সময়ে বিলেতে Primitive Methodist conversion এর history যদি পড়, অবাক হয়ে যাবে। Carey, Marshmanএর lives o Primitive Methodist conversion4g history নীলুদার চিঠি ওখানকার সকল libraryতেই থাকবার কথা। শেষের বইখানাতে thriling অনেক জিনিষ পাবে—জীবন্ত ভগবানের জীবন্ত লীলার কথা মুঙ্গেরের আগে এমন করে লেখা পাব, আমি ত কল্পনাই করি নি-যখন আমাদের দেশে রামমােহন রায়ের পরােক্ষ ব্ৰহ্ম- জ্ঞানের কথাই জানতাম, তখন যে Careyর মত লােক কত প্রতিকুল অবস্থার ভেতর কত কাজ করে গেলেন, যাতে দেশের হাওয়া বদলে গেল। ঠিক তখন Englandএ কত persecutionএর ভেতর মেয়ে পুরুষ উভয়েই ধর্মের জিনিষ কত কি পেলেন—স্বর্গের অমৃত ভাই বােনে মিলে খেলেন-তুমি এখন এই সব নতুন করে খেয়ে, হজম করে, নিজে মােটাসােটা হয়ে, আর দশ জনকে খাইয়ে মােটা সােটা করে দাও। তােমাদের নালুদা শ্ৰীমতী নির্ভরপ্রিয়া ঘোষ (৩) C/O Dr. P. N. Chatterjee Bankipore P. O. Patna ৫ই জানুয়ারী, ১৯২৯ ভাই সতু, তােমার শেষ চিঠি “urgent" তাও পেয়েছি, Dr. South worthকে বললা, ইংরেজীতে না লিখে লিখে এখন লিখতে গেলে আটকে যায়--যখন তার চিঠি পেয়েছিলাম, তখন “না” বলে
"
নালুদার চিঠি
বাবটা মনে এসেছিল—এখনও সেই “না” কি করে লিখব
ভাবছি—ঠিক হবেই জানাব।
আজ অন্য বিষয়ে লিখছি-ওখানে 8th Januaryতে
কি হবে? আমার মনে হচ্ছিল, এবার এই উপলক্ষে “সেবকের
নিৰেদম” (৪র্থ খণ্ড) থেকে “কর্মযােগটী” ছাপিয়ে বিতরণ কল্লে
কেমন হয় ? নরেনকে সে বিষয়ে লিখলাম—তিনি যদি হাজার
কতক অমনি ছাপিয়ে দেন—তাঁর সঙ্গে একবার দেখা করে, কথা
কয়ে দেখবে কি ? জ্ঞানাঞ্জনকেও লিখলাম।
তােমাদের
নালুদা
যুক্ত সত্যানন রায়
(৪)
C/O P. K. Sen, Esq..
Patna
১৮ই মাচ্চ, ১৯২৯
তােমাদের থিলিদিদির New York যাবার কথা যে লিখেছ,
বােধ হয় যে বিষয়ে (Zoology) পণ্ডিত আছেন, সেই বিষয়ে
*।
tv ।। -
৮১৬ ॥
১১।
.
১১*;
আমেরিকার মিডভিল থিওলজিকাল স্কুলের টুাষ্টীরা ১৯২৮ সনে ভাই প্রমথ
লাল সেনকে ডি, ডি, (Doctor of Divinity) উপাধি দান করিবেন স্থির করেন।
১৯২৮ সনের শেষ ভাগে বিদ্যালয়ের পক্ষ হইতে ঐ উপাধিপত্র (diploma) লইয়া
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ কলিকাতায় উপস্থিত হন। নালুদা শেষে পাটনা হইতে
কাহাকে এই তার করেন : “Grateful but cannot accept degree.”
নালুদার চিঠি
৭
আরও পণ্ডিত হবার জন্যে যাচ্ছেন-২১শে তো ওখান থেকে রওনা
হবেন ? তাহলে এ চিঠি পাবার পরও আমার কথা তাকে
জানাবার সুযােগ হবে-আমার ইংরেজী লেখা অভ্যাস থাকলে
হয়ত দুলাইন লিখতাম। তুমি তাকে বলল, পণ্ডিতদের জন্যে যা
শেখবার শিখুন, আমাদের মত laymenদের জন্যে এমন কিছু
চাই, যা shelf ভােলা থাকবে না, যে—সে পড়বে, আর শিক্ষার
সঙ্গে আনন্দ পাবে। যে সঙ্ঘের কথা তােমাকে লিখেছি, তিনি,
Dr. Eno, Miss Bux তােমার সঙ্গে মিলে আমাদের সেই
সঙ্রেই ভগ্নী। New York থেকে Chicago যেতে কতক্ষণ
লাগে জানিনে—আশা করি নির্ভরের সঙ্গে দেখা হবে-সেখানে
মিললে নতুন কিছু হবে না?
তােমাদের
নালুদা
শ্ৰীমতী সুনীতি ঘোষ
(৫)
C/O Braja Kumar Niyogi Esq.,
Hazaribagh
৯ই এপ্রিল, ১৯২৯
নমস্কার,
এখানকার উৎসবের কিছু কিছু খবর আশা করি পেয়েছেন।
অপু বাবুরা যে দিন ফিরলেন, সেই দিনই শুনলাম, বিষ্ণু বাবুও
একেবারে চলে গেলেন-সে প্রায় এক সপ্তাহ হবে—এর ভেতর
৮
নলুদার চিঠি
ভেবেছিলাম, আপনার, কি অক্ষয় বাবুর কাছ থেকে ঘটনাটার
আগে পরে কি হ’ল জানতে পারব—তার ছেলে কি শেষ সময়ে
আসতে পেরেছিলেন ? এই উপলক্ষে আপনাদের একসঙ্গে
উপাসনাদি কি কি কাজ হ’ল, জানতে ইচ্ছে করে-হাজারি
বাবু কি প্রায়ই আসেন? ওখানে Good Friday কেমন হ’ল ?
আপনি সস্ত্রীক আশা করি ভাল আছেন। অক্ষয় কেমন ?
আপনাদের
নালুবাবু
শ্রদ্ধেয় ভাই গােপালচন্দ্র গুই
হাজারিবাগ
১৬ই এপ্রিল
১৯২৯
পরশু রবিবার নববর্ষের সকালে বিশেষ উপাসনায় তুমি থাকলে
দেশ হত--সতু ছিলেন, খড়গ ও প্রেমাদিত্য-অবিনাশ গান কল্লেন
বিকেল বেলা তােমাকে দুলাইন লিখলে হয় মনে হয়ে পেসিল
কাগজ নিতে যাচ্ছি, এমন সময় তােমার ৯ই তারিখের চিঠি, দেরাদুন
থেকে লেখা, হাতে পড়ল তখুনই খুলে পড়লাম-মা’র জিব
আড়ষ্ট হয়ে যাচ্ছে, একটা হাত অবশ কাছে বসে দেখা, কিছু
কৰ্ত্তে । পারা, কি কষ্টের, একটু একটু বুঝতে পারা যায়—এবার
যে Good Friday মাকে নিয়ে হচ্ছে, এখনও চলবে, তাই
ভাবতে ভাবতে New Testament খুল্লাম-'Count it all joy
নালুদার চিঠি
when ye fall into diverse trials' বার কন্ট্রে গিয়ে কত কথা
বেড়িয়ে পড়ল—তা আর এক খানা কাগজে টুকেছি—এই সঙ্গে
পাঠাচ্ছি—এবারে Good Fridayর দিনে বিশেষ করে মনে
হয়েছিল না, Christ থেকে কত দূরে পড়েছ, আমারও মনের
কথা তাই, Christএর কথায় যেন Christকে পাই : “Satan
hath desired to have you: But I have prayed for
thee that thy faith fail not: and when thou art
converted, strengthen thy brethren." $1 Cell gf
কত দূরে পড়েছ ভাবছিলে, তিনি তােমার কত নিকটে দেখ,
তােমার জন্যে, আমার জন্যে, কত জনের জন্যে প্রার্থনা কচ্ছেন—
"that our faith fail not". -কেশবও কি তাই কচ্ছেন না ?
তোমাদের
নালুদা
মতী সুনিতী ঘােষ।
=
Himalaya Brahma Mandir,
Secretariat P. O.
Simla, 1st June, 1929
ভাই
অনুকুল,
আজ উপাসনার সময় তােমার শশুর মহাশয়ের কথা মনে
হচ্ছিল-গেল বছরে তার সিমলে সবার কথা ছিল না ? আমি
যখন কলকাতায় ফিরলাম-সকালে নবদেবালয়ের উপাসনায় তাকে
পেতাম-তারপর সেই যে পুজোর সময় দেশে গেলেন—ফিরে এসে
নালুদার চিঠি
পূজোয় মাতবেন বলে গেলেন, তার পর আর দেখা নেই—আমিও
সেই যে কলকাতা ছাড়লাম নবেম্বরের গােড়ায়, তারপর আর
ফিরলাম কি ? কৃপাসুন্দরের কাছে শুনলাম, তােমার শ্বশুরের খুব
অসুখ-তাই কি? কেমন আছেন ? তােমার নিজের পরিবারের
সকলে ভাল ত? আমি এখানে এসে যে উপকার পাব ভেবেছিলাম,
তা কিছু কিছু পাচ্ছি-পা ফুলে। দেরাদুনেও ছিল-এখানে দেখতে
পাচিনে –ডাল, রুটি, খিচুড়ি সবই খাচ্চি, হজমও হচ্চে একটু একটু
পাহাড়ের রাস্তায় উপরে উঠি, তা’তে ভালই বােধ হয়—এ সব ভাল
লক্ষণ নয়? কিন্তু শরীর যে খুব মজবুত হচ্ছে, তা তাে বলতে
পাচ্চিনে-একটু কিছু পরিশ্রম করতে গেলেই ক্লান্ত হয়ে পড়ি।
তােমার সেই P. K. L. এবার পায়ের jointএ লাগিয়ে বোনা
কমেছে-তার জন্যে তােমাকে আবার কৃতজ্ঞতা দি।
তোমাদের
নালুদা
পু-বুড়ো তো ফিরেচেন-কীৰ্ত্তনের দল কেমন জমাট হচ্চে?
শ্ৰীযুক্ত অনুকুলচন্দ্র মিত্র।
(৮)
Himalaya Brahma Mandir,
Simla.
9th July, 1929
ওহে অনুকুল ঠাকুর,
আমিও তােমাকে লিখব ভাবছি, আর তুমিও আমাকে লিখেছ
দেখছি-আমার শরীর সম্বন্ধে কপাবাবুকেও যখন লিখেছ, তখন
নালুদার চিঠি
১১
আমি সে বিষয়ে কিছু নাই বা লিখলাম? তােমাকে যেমন My
Sweet Ektara একখানা পাঠিয়েছিলাম, তােমার ভাই অমূল্যকেও
একখানা পাঠিয়েছিলাম তােমার খােল আছে, তার harmonium
আছে, যার যে যন্ত্র আছে এখন তা চাইনববিধানের ঐক্যতান
বাদন শােনাতে হবে-তোমরা দুজন যদি প্রাণে প্রাণে এক হয়ে
নববিধানের গান গাও—আর বুড়াে টুভাে তাইতে যােগ দেন—সেই
গানের টানে কত প্রাণকে টানবে, কে জানে? এখন আর অভিমান
করে ঘরে বসে থাকবার সময় নয়—এখন সকলে মিলে নগর সঙ্কী-
ব্রনে মত্ত হবার সময়—তােমাদের ওখানে মত্ততার ঝড়ে আমাকে
এখান থেকে উড়িয়ে নিয়ে যেতে হবে এখন সেই সময়--ন্যান্নার
কোন খবর নেই কেন ? তােমার শ্বশুর মহাশয় কোথায় ?
তােমাদের
নালুদা
শ্ৰীযুক্ত অনুকুলচন্দ্র মিত্র
হিমালয় ব্রহ্মমন্দির
সিমলে
৭ই আগষ্ট ১৯২৯, বুধবার
চির আদরের মণিকা,
যাদের কথা মনে মনে হচ্ছে, কাগজে কলমে ভাব প্রকাশ না
হলেও উপাসনার সময়, আরাধনা ধ্যান প্রার্থনার ভেতর যাদের
সঙ্গে দেখা শুনে। হয়, তাদের হাতের লেখা দেখলে কি মনে হয়,
নালুদার চিঠি
তা কি বুঝিয়ে দেওয়া যায়। আর দুদিন পরে হয়ত এ চোখে
আর দেখবে না, এ হাতে আর লিখবে না—তখন কি হবে ?
‘নববিধানে কি সেই সাধন আসে নি, যাতে এখানেই যে যেখানে
থাকিনে কেন, সেই দেখা না হয়, যা এখান থেকে চলে গেলে
আরও ভাল করে হবে? যখন নতুন বিশ্বাসী ভক্ত বলেন-“হে
দীনবন্ধু, হৃদয় দ্বারে দ্বারস্থ তুমি, সর্বদা দ্বারে দাড়াইয়া ভিতরে
আসিবার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করিতেছ। তােমাকে যেন হৃদয়ে
আসিতে দি। তােমার হৃদয় তুমি লও। তােমার সঙ্গে বসা,
দাড়ান, কথা কওয়া, দেখা করা, সকলই নুতন হইতেছে। নূতন
নূতন চমৎকার চমৎকার সাধনপ্রণালী ইহার ভিতর হইতেছে।”
তখন তার প্রাণের ভেতর তুমি আমি ছিলাম না কি? এখনও
কি তিনি আমাদের ভেতরে থেকে সেই প্রার্থনা কচ্চেন না? তা
হলে গেল রবিবারের আগের রবিবারে এ গান গাইতে কে
বল্পে? “নূতন বিধানে কাহার আদেশে উঠেছেরে জয়গান? নবযজ্ঞের
অনলে কে দিবি আপনারে বলিদান! কে আজ রয়েছে দুয়ারে
দাড়ায়ে, মােহন বেশেতে সাজি-আমাদের তরে, আমাদের ঘরে
জননী এসেছে আজি।” সে দিন তার “অভিন্নহৃদয় পরিবার থেকে
প্রার্থনা হ’ল, “একজন এ দেশে, একজন অন্যদেশে থাকলই বা
একপ্রাণ হইবে। নববিধান আসিলে হইবে। আমরা পাঁচজন
নববিধানের লােক হয়ে কত তফাৎ হ'তে পারি, তার উৎকৃষ্টতম
দৃষ্টান্ত আমরা দেখিয়েছি। এ সব তাে টের দেখলাম, এখন
প্রাণের সাধ যা, তা পূর্ণ কর। এক প্রেম-পরিবার, কর। ঠাকুর,
কেউ আপনার নয়, তুমি যাদের এক কর, তারাই আপনার। সব
নালুদার চিঠি
মুখ এক মুখ হবে। যেখানে থাকুক সকলের নাড়ী, এক নাড়ী হবে।
সকলের প্রাণ এক হবে।” সেই রবিবারে সেই উপাসনার পর যে
তিনখানা চিঠি পেলাম, তার একখানা তোমার হাতের লেখা মনে
হ’লনা পড়ে আমার যা মনে এল লিখলাম-এখন তো এক এক
দিন এক এক গঙ্গা কথা মনে আসে-সকালে উপাসনায় কিছু
বেরিয়ে যায়, যামিনীর সঙ্গে কথাবার্তায় আরও কিছু, তা ছাড়া যা
আসে তা কোথায় যায়? সেই সঙ্ঘের কথা মনে আছে ত ? সে
সময় লক্ষ্ণৌয়ে কত গরমের ভয়—কিন্তু সব কেমন অনুকূল হয়ে
গেল—মন খুল, হাত খু—কি রকম ভাঙ্গা শরীর মন নিয়ে তােমার
দিদিরা গিয়েছিলেন মনে আছে ? আর কি রকম শরীর মন নিয়ে
ফিরে গেলেন ? সে সব মনে হলে কি চোখে জল আসে না? তার
পর ১৫ বছর হয়ে গেল-শরীর মন আরও কত ভেঙ্গে গিয়েছে।
কিন্তু যাঁর কৃপা অহৈতুকী তার আর ভাবনা কি? তিনি সেই
কপার গুণে তার নববিধানে আরও কি
নতুন
লীলা দেখাবেন, তা
আমাদের আগে থাকতে জানতে দেবেন কেন ? Jubilee Jubilee
বলতে বলতে ক’জন এই “নবযজ্ঞের অনলে আপনাকে বলি দিতে
প্রস্তুত, তাই দেখছেন কি? না, যেমন দেখছেন, আর সেই সঙ্গে
নতুন আশা, বিশ্বাস, ভক্তি, ভালবাসা দিয়ে আমাদের প্রস্তুত করে
নিচ্ছেন ?
তোমাদের
নালুদা
মতী মণিকা মহলানবিশ
নালুদার চিঠি
।
(১০)
হিমালয় ব্রহ্মমন্দির
সিমলে
২২শে আগষ্ট, ১৯২৯
উৎসবের নমস্কার,
সিদ্ধেশ্বর চিঠি লিখলেন—কলকাতায় তার খুব অসুখ হ’ল, তাই
পাটনা হয়ে এলাহাবাদে আসবেন—আপনার সঙ্গে মিলে কিছু
কাজ করবেন—তাকে পাটনার ঠিকানায় যে চিঠি দিয়েছি তার
জবাব এখনও পাইনি--আপনার ওখানে আসবেন শুনে তার নামে
একখানা “Behold the Man" card আপনার cardএর ভেতর
দিয়েছি—আজ আর একখানা পাঠাচ্ছি—এখানে যে রকম ঠাণ্ডা
বােধ হচ্চে, আমার আর বেশী দিন থাকা সুবিধে হবে না—যদি
সুবিধে হয় জন্মাষ্টমীর পর এখান থেকে বেরােতে চাই—যদি
দেরাদুনে না যাই, আর খবর পাই যে আপনি এলাহাবাদে
সিদ্ধেশ্বরকে নিয়ে কাজ কচ্চেন, তাহলে ঐখানে যামিনীকে নিয়ে
নেবে যাই-কিছু কাজ হতে পারে।
আপনাদের
“নালুবাবু”
যুক্ত জ্ঞানেন্দ্রচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
(১১)
হিমালয় ব্রহ্মমন্দির
সিমলে
৩০শে আগষ্ট, ১৯২৯
নমস্কার
পরশু জন্মাষ্টমী হ’ল-তার আগে রবিবারে ভাদ্রোৎসবে
দেরাদুন থেকে হরেন এসেছিলেন-আপনার telegram ও চিঠির
-
নালুদার চিঠি মর্ম তিনি দেখে গিয়েছেন-জ্যোতিলালের সঙ্গে পরামর্শ করে যদি এলাহাবাদে যাবার আগে দেরাদুনে যাওয়া ভাল মনে করেন তাই জানাবেন—তা জেনে এখান থেকে বিদেয় হতে হবে। Behold the Man seriesএর যে ক'খানা cards পাঠিয়েছি, তা ঠিক পৌছেচেত? ওখান থেকে একখানা বার কল্পে কেমন হয় ? আপনি সেই যে ঈশ্বর-দর্শন সম্বন্ধে প্রশ্ন করেছিলেন, সে সম্বন্ধে কেশবচন্দ্রের যে একটি প্রার্থনা আছে, তা’ copy করিয়ে পাঠাচ্ছি। যদি ওখানে ছাপিয়ে বিলােনাে মত হয়, তা হলে ঐটি রাখবেন- হলে ফেরত ডাকে ফিরিয়ে দেবেন কি? আপনার libraryতে ত্রৈলােক্যনাথের “পথের সম্বল” আছে বলে বিশ্বাস—তার বিধান ভারত” আছে কি? সিদ্ধেশ্বর যে “ব্রাহ্মিকাদের প্রতি উপ- দেশের” list করেছিলেন, তা তার কাছে আছে কি? আপনাদের “নালুবাবু” শ্ৰীযুক্ত জ্ঞানেন্দ্রচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১২) হিমালয় ব্রহ্মমন্দির সিমলে ১৪-৮-২৯ কাল যে সব চিঠিগুলি খুলে পড়লাম, তার ভেতর তোমার দুখানা ছিল—কাল আবার তােমার কাছ থেকে পটল, লেবু ও লেবু কাটিবার ছুরি এ’ল-তুমি হারিয়ে দিতে পারবে দেখছি-
নালুদার किमि
আমার পেটুকতা নিবারণ না করে, তার সহায়তা করে তুমিও না
পেটুক হয়ে যাও -সে বিষয়ে যদি হারিয়ে দাও তা’তে ভাবিত
হবার কারণ থাকবে-কিন্তু শেষ চিঠিতে যে একা একা উপাসনা
করে উপকার পা’চ্চ, সে বিষয়ে হারিয়ে দিলে আমাকেও এগিয়ে
দেওয়া হবে-এখন এই সাধন আমাদের প্রত্যেকের বিশেষ করে
করা চাই আরাধনা, ধ্যান, প্রার্থনা, এমন হওয়া চাই যে when
liſted
brothers and sisters are liſted
up too-এবারে ওখানে নিজের ঘর পেয়ে ও নির্জনতা পেয়ে
তােমার তাই খুব কবে হােক।
তোমাদের
নালুদা
মতী সুনীতি ঘােষ
I
am
up /
see my
(১৩)
হিমালয় ব্রহ্মমন্দির
সিমলে
৭, ৯, ১৯২৯
অসংখ্য নমস্কার,
আমায় যা লিখেছেন-প্রশান্তকে যা লিখেছেন ও পাঠিয়েছেন
সব পড়া হয়েছে—এই রকম উঠে পড়ে লেগে থাকলে রাবণ বধ
হবে না কেন? আরও ভেতর থেকে উৎসাহ উদ্যম আসুক—দুজন।
চারজন করে অনেক জনকে ভাসিয়ে নিয়ে থাকসেতুবন্ধ হবে,
সীতা উদ্ধার হবে-আমাকে আপনাকে আরও কাউকে কাউকে
নলুদার চিঠি ১৭ বাঁচিয়ে রাখার মানে আর কি? কাল এখানে উপাসনা করে পরশু দেরাদুনে যাবার কথা—একেবারে নীচে না নেমে সইয়ে সইয়ে নাবাই ত ভাল—বিশেষতঃ জ্যোতিলাল হরেন প্রভৃতি যে সব ভাই বােন সেখানে আছেন, তাদেরও জাগান উচিত। Dehra- Dun এর Card কাল আপনাকে পাঠিয়েছি, আপনাদেরটা কখন বেরােবে? এর পরেই বেরােলে ঠিক হয়—আমাদের জন্যে অপেক্ষা করলে দেরী হয়ে যাবে। যেখানে যেখানে দুচার জন ভাই বােন আছেন, সেই সেই পান থেকে এক এক খানা করে Behold the Man বেরােলে, ক্রমে ক্রমে জাল বিস্তৃত হলে কতজন তাতে পড়বে, কে জানে? হৈ চৈ করবার দরকার নেই। সিদ্ধেশ্বর বেশ সেরে উঠেছেন ত ? বাড়ীর সকলে ভাল, আশা করি। আপনাদের “নালুবাবু” শ্ৰীযুক্ত জ্ঞানেন্দ্রচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৪) দেরাদুন ১৬ই সেপ্টেম্বর, ১৯২৯ অনেক অনেক নমস্কার, এখানে এসে এই প্রথম চিঠি আপনাকে লিখছি—শরীর মহাশয়কে নিয়ে মহা সমস্যায় পড়েছি.....এ সময়ে ডাক্তার কাছে না থাকলে যে গৃহস্থদের অতিথি হব, তাদের মুস্কিলে ফেলা হবে। যামিনী জিনিষ পত্তর রেখে গিয়েছেন, আ জ একটি শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হয়ে
নালুদার চিঠি
গেলে কাল জানা যাবে, কবে নাগাদ আসতে পারবেন যদি ফিরতে
সত্যি দেরী হয়, তাহলে আমার কি করা উচিত, জ্যোতিলালের
সঙ্গে পরামর্শ করে জানাব। Beholdএর দ্বিজদাস বাবুর যা লেখা,
তার proofততা অনেকদিন হ’ল দেওয়া হয়েছে -Press থেকে
তৈয়ারি forms এখনও পাওয়া যায়নি—অন্য matter এবং
copyও অনেকদিন হ’ল দেওয়া হয়েছে—তার proofs এখনও
পাওয়া যায় নি। পূজোর ছুটা কবে থেকে আরম্ভ ? এখানেও দুএক
দলের আসবার কথা আছে। সিদ্ধেশ্বরের চিঠিও এই মাত্র পেলাম
তিনি অক্টোবরের প্রথমেই চলে যেতে চান কেন? আমরা সিমলে
থেকে চলে আসার পর আর কি Materials প্রশান্তকে
দিয়েছেন ? Paramhansa and Keshub সম্বন্ধে লেখা যদি
পূজোর ভেতর বেরােয়, সময়ােপযােগী হয়-প্রশান্তকে সে বিষয়ে
তাড়া দিতে হয়। সমস্ত বই পরে বেরােলে চলবে—এখন ছােট
ছােট এক এক খানা বই বেরােলে মন্দ হয় না। কি বলেন ?
আপনাদের
“নালুবাবু”
শ্ৰীযুক্ত জ্ঞানেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
(১৫)
দেরাদুন
১৯, ৯, ১৯২৯
নমস্কার,
আপনিও যে D. N. Mukerji মহাশয়কে ধরেছেন, বেশ
করেছেন- তাকে অনেকবার তর্জমার কথা বলেছি-এক আধট।
নালুদার চিঠি
প্রার্থনা করেও নিয়েছি-তারপর যে সেই—এখন আবার আপনার
তাকাদায় যে জেগেছেন, আর ছাড়বেন না। তবে তর্জমা সম্বন্ধে
matter বুঝে করাই ভাল -যে জন্মদিনের প্রার্থনাটা নমুনা স্বরূপ:
উল্লেখ করেছেন, সেটার spiritএ ঢুকতে না পেলে তর্জমা না করাই
ভাল—যে difficulties আপনি দাগ দিয়ে জানিয়েছেন, তার
কোনােটাই থাকে না~~এ বিষয়ে দেখা হলে কথা হবে। তিনি
এখন যে যে প্রার্থনার তর্জমা করতে পারেন ক'রে যান—জিনিষটা
হয়ে গেলে সমালােচনা সম্ভব হবে। যামিনীর সঙ্গে “জীবনবেদের
তর্জমা কত্তে গিয়ে যা শেখা গিয়াছে তা এই যে, “উপদেশের চেয়ে
কেশবচন্দ্রের প্রার্থনা” গুলি তর্জমা করা শক্ত—তাই বিশেষ বিশেষ
প্রার্থনা সম্বন্ধে খুব সাবধান হতে হয়-জন্মদিনের প্রার্থনাটি সেই
বুকম।
শরীর সম্বন্ধে এর আগের চিঠিতে যা লিখেছি, তারপর নতুন
ওষুধ নিয়ে কাজ হচ্চে-খাওয়া দাওয়াও বদলান হয়েছে—এখন
ডাক্তার চোখের ওপর আমাকে রেখে দেখছেন বলে সুবিধে
হচ্ছে, তাতে সব যায়গায় আশা করতে পারিনে--তাই এখানে
আরও দুদিন থেকে ওষুধ পথ্য ঠিক করে নিয়ে বেরােতে
চাই।
আপনাদের
“নালুবাবু*
যুক্ত জ্ঞানেন্দ্রচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
নালুদার চিঠি C/O Major J. L. Sen Dehra-Dun 21. 9.1929 ওহে সত্যানন্দ, তুমি হাজারিবাগ থেকে এলাহাবাদে যে চিঠি লিখেছিলে, তা এইখানে পেলাম-সেই সঙ্গে জ্ঞানবাবুর ও তােমার নির্মলদার স্ত্রীর চিঠিও পেলাম—তােমার মাকে নিয়ে কলকাতায় ফিরেছ-ডাক্তার দেখিয়ে তার চোখের গতি হ’ল কিনা পরে বোধ হয় জানাবে তােমার যে বেরিবেরির মত কি হয়েছিল, তা গিয়েছে ত? Jubilee সম্বন্ধে কি কি কাজ কি ভাবে হবে, জানতে ইচ্ছে হয়—দেবেন যে “বিধান ভারত” ছাপিয়ে (reprint) দিতে রাজি হয়েছেন, সেটা একটা মস্ত কাজ-সৰ্বাঙ্গসুন্দর করে ছাপাতে পারলে তাকে একটা ভাল prize দেওয়া উচিত-দেখলেই লােকের পড়তে ইচ্ছে হবে, পয়সা দিয়ে কিনে ঘরে রাখতে ইচ্ছে হবে। Cooperative volumeএ কে কে লেখা দিয়েছেন, কে কে দেন নি, জানলে তাদের খুচিয়ে দেখা যায়। তােমাদের Foruna লােক জন যে আসছেন, তাদের কি এই সব বইয়ে interest করান যায় না? তুমি যে লিখেছিলে, ছােট ঘােট (carda) করে যা ছাপানাে হচ্ছে, তা coordinate কল্পে হয় না-সে কি রকম? আমার শরীর পাহাড়ে যা ছিল, এখানে তা নেই- আবার নতুন করে তাঁর সেবা আরম্ভ নালুদার চিঠি হয়েছে—অনেক সময় তাতেই যায়- নির্মলের ছেলের ভাল নাম কি ? ডাক নাম তাে georgie? প্রেমাদিত্যের ঠিকানা জান কি ? তােমাদের নালুদা শ্ৰীযুক্ত সত্যানন্দ রায় (১৭) C/O Major J. L. Sen দেরাদুন ২৩, ৯, ১৯২৯ অনেকদিন তােমার চিঠি পাইনি-আমিও লিখিনি-এখানে যে দু হপ্তা হ’ল এসেছি, সে খবর পেয়েছ কি? আসার দুদিন পরে তােমার যামিনীদা হাইদ্রাবাদের উৎসবে গেলেন—এখনও ফেরেন নি। আবার তোমার দিদির অসুখ শক্ত বলে’ ছুটু এসেছেন শুনলাম। হরেন রাত্রিতে আমার কাছে থাকেন- সন্ধ্যার সময় যে উপাসনা হয়, তাতে এ বাড়ীর সকলকে পাওয়া যায়।-তােমার নির্জনে উপাসন। কেমন এগােচ্ছে ? খাতায় অনেক কিছু লেখা হচ্ছে ত? “প্রকৃত ব্রাহ্ম ও ব্রাহ্মসমাজ” সম্বন্ধে যে সব কথা সংগ্রহ ক’চ্চ, তা কতদুর এগােলাে Jubileeর ভেতর বই বেরােতে পারে কি ? তােমাদের নালুদা শ্ৰীমতী সুনীতি ঘোষ
২২
নালুদার চিঠি
(১৮)
দেরাদুন
২৬, ৯, ১৯২৯
এই মাত্র তােমার চিঠি পেলাম~-পড়লামও তার জবাব
দিতে বসলাম-এ রকম বড় হয় না ? Miss Bux ও 'থিলিদির
কথা জানতে চেয়েছিলাম—জানতে পেলাম। প্রশান্তবাবু সিমলেতে
কি বিষয়ে বক্তৃতা দেবেন, জিজ্ঞেস করাতে তোমার যামিনীদা
suggest prafceam-Challenge of the New Social
Order-সেই বিষয়েই বলেছিলেন-Navavidhan এ বেরােলে
দেখতে পাবে। “প্রকৃত ব্রাহ্মসমাজ” মানে পৃথিবীতে স্বর্গ-তােমার
পাঠের ফল যদি Miss Buxকে বল, আর তিনি সেই বিষয় লেখেন,
স্বদেশী জিনিষ হয়--The New Social Order in the light
of the New Dispensation gra e fofa 9864 faca study
করে তার ফল যদি দেশকে দাও, তাতে দেশের ও জগতের
লাভ-সে বিষয়ে লিখতে গিয়ে william James টেস্ এসে
পড়ে ভাল—না হয় ত টেনে আনবার দরকার নেই। তােমার
নির্ভরদির বিষয় থিলিদি যা বলেছেন, তা অনেকটা সত্যি—আমি
তঁাকে নবেম্বরের আগেই চলে আসতে লিখেছিলাম—তা সম্ভব
নয় লিখেছেন-থিলিদিকে ও Miss Buxকে আমার নমস্কার
দিও।
তোমাদের
নালুদা
এমতী নীতি যােব
নালুদার চিঠি (১৯) দেরাদুন ৫, ১০, ১৯২১ ভাই সতু, এখন বােধ হয় তােমরা সব যে যেদিকে বেরিয়ে পড়বার বেরিয়ে পড়েছ, এই ভয়ে তােমাকে খড়গকে আরও কাউকে কাউকে লিখিনি, আজ তােমার চিঠি পেয়ে সাহস করে এই চিঠি লিখছি। দেবেন বিধান ভারত” ছাপানাে সম্বন্ধে পেছােচ্ছেন শুনে যেমন দুঃখু হয়, “বিমলদা” যােগ (Yoga) ও দুর্গাপূজা সম্বন্ধে লেখা ছাপাতে উৎসাহী হয়েছেন শুনে সুখ হয়। গেল বছরে পূজোপলক্ষে “আমার মা” ছাপা হয়েছিল—ভার কিছু বােধ হয় আছে—এবারেও বিক্রী ও বিলি ক'ল্লে হয়। ইংরেজীতে কিছু ঐ বিষয়ে লেখা হয়—সেই সঙ্গে Kethub and Ramkrishnaর বিষয়ওঁ লেখবার জন্য প্রশান্ত বাবুকে materials দেওয়া হয়েছে—এই মাসে যদি কিছু বার কত্তে পারেন timely হয়-হাকু বােধ হয় এই মাসে ইংরেজী “জীবনবেদ” বার করবেন। আমার ইচ্ছে হচ্ছিল যে, cotata forumy a series of talks or lectures on the 7eevan Veda এই সময় দেওয়া হয় কিন্তু lectures গুলির General title হবে “Behold the Man"--আসছে মাসে (November) দ্বিজদাস বাবুর বইয়ের সঙ্গে আরও কিছু বেরােন চাই। তার পরের মাসে “মুঙ্গের” সম্বন্ধে বাংলা ও ইংরেজীতে ছােট ছােট বই বের করা শক্ত নয়। জ্ঞানবাবু ও সিদ্ধেশ্বর বাবু নীলুদার চিঠি যে rated materials দিচ্চেন, প্রশান্তবাবু যদি সেই rateএ এই ছুটীর ভেতর বই (booklets) লিখে ফেলেন, এ তিন মাসে খান ছয়েক বই বেশ বেরােতে পারে-এই সঙ্গে তােমার “বিমলদাও” যদি তার লেখা (in English and Bengali) collect করে ছাপান, তাহলে আরও যিনি যা সংগ্রহ কচ্চেন, তা বেরিয়ে যেতে পারে। নিরঞ্জনও কত কি করবেন বলেছিলেন- কি হল? পূজোর ছুটীতে কলকাতায় যাবেন না কি ? জ্ঞানবাবুর ওখানে বােধ হয় পূজোর সময় ভিড় হবে—তিনিও দুদিন পরে যেতে বলেছেন-তা ছাড়া এখানে জ্যোতিলাল কাছে থেকে ঔষধ পথ্য যেমন ব্যবস্থা কচ্চেন, তা সব জায়গায় সম্ভব নয়। হাওয়াও বেশ ঠণ্ডা। Diary সম্বন্ধে তােমার ছাপানো card পেয়েছি--যে উক্তি গুলি তুলে দেওয়া হয়েছে, তার references দিতে পাল্পে মন্দ হয় না—তা ছাড়া নববিধান সম্বন্ধে দুচারটে মানে গান ও তার ইংরেজী তর্জমা দিলে কেমন হয় ? Fifty years before and fifty years after the Navavidhan এই heading দিয়ে দেশের ভেতর ও বাইরে যে সব remark able events হয়েছে, তার বিষয় কিছু থাকতে পারে। এখন এই পর্যন্ত। বিমলদার বােনের operation হল কি না-হবার পর কেমন আছেন, এখনও জানতে পাই নি। তােমার ছােটকাকা কোথায় ? নসুদের কোনাে খবর পাও কি ? তোমাদের নালুদা যুক্ত সত্যানন রায়
নালুদার চিঠি
( ২০ )
84, Upper Circuar Road, (Calcutta)
20 September, 1928.
ভাই নির্ভর,
চিঠি খানা রেখে দিলে শেষে যে টুকু লেখা হয়েছে তাও
যাবেনা। সেই ভয়ে আরও কিছু লেখবার থাকলেও কালকের
চিঠি কালই পােষ্ট করব। তারপর যখন মনে হল, 'আজকেও
চিঠি দিলে যাবে Port Saidএ পাবার আশা আছে, তখন
আরও কতকগুলাে কথা রাত্রে মনে এল। এখন লিখছি, French
Steamerএ Libraryতে পড়বার মত বই কি কি পেলে, তা যেমন
জানতে ইচ্ছে কচ্ছে, তেমনই ভাবের ভাবুক দু একজন fellow
passengers পেয়েছ কিনা, তাও জানতে চাই।
“The spirit
of St. Francis de Sales" বইখানা কাছে থাকলে কি কত্তে
জানিনে। তবে আমার এক সময় French শিখতে ইচ্ছে
হয়েছিল। ঐ রকম কতকগুলি Saintsদের (সাধু ও সাধ্বী )
বিষয় আরও ভাল করে জানবার জন্যে Paul Sabatierএর
Life of St. Francis of Assisi দেখেছ কি ? তার সঙ্গে
প্রথমে চিঠি লিখে আলাপ হয়। তারপর Berlin Congress
দেখা। এক সঙ্গে ছবি ভােলা হয় East and West, আমার
তাে চিঠি পত্তর লেখা অনেক দিন থেকে বন্ধ। তঁারও কোন খবর
পাইনি। বােধ হয়, বেঁচে আছেন। যদি কোনও সূত্রে দেখা
হয়, আমার কথা বলতে পার। Miss Anna Stoddmt 6974
হয় তার সঙ্গে আমার পরিচয় করে দেন। তিনিও ইংরেজীতে
নালুদার চিঠি St. Francis of Assisi Life 671682 i fofa Englandu ছিলেন। এখনও বেঁচে আছেন কি না, জানিনে। Franceএর সঙ্গে Saintsদের ভেতর দিয়ে বিশেষ যােগ। তাই মনে হচ্ছিল, তুমি যখন Franceএর ভেতর দিয়ে যাবে, যদি সময় পাও, সেই দিক থেকে নূতন পরিচয় কি হল জানাও। Franceএর সঙ্গে ltaly ও Spainএর কথা মনে হয়। St. Yeresa তে Spain এর মেয়েদের ভেতর তঁার মত সাধ্বীর জীবন তােমার হাতে দিয়ে আমি মনে মনে ভাবছিলাম ঠিক জায়গায় আছে। তুমিত বইখানা এখানে রেখে গেলে। জাহাজে সে রকম বই আছে কি ? কাল সন্ধ্যার সময় অনুকুল এখানে এসেছিলেন। মাদ্রাজের বন্ধুদের আদর অভ্যর্থনার কথা শুনে আনন্দ হল। এই সুযােগে তাদের সঙ্গে পুরাণাে সম্বন্ধ নূতন হল। তার ফল তুমি আমেরিকা থেকে ফেরবার আগেই বােধ হয় কিছু কিছু দেখতে পাওয়া যাবে। সেখানে আমার পাগলা বন্ধু J. E. Howlএর সঙ্গে যামিনী, সতু, রাও, বিনয় প্রভৃতি কারু দেখা হয়নি। যদি তােমার সঙ্গে দেখা হয়, কি রকম পাগলামি এখন করেন, খবর পাওয়া যাবে। কিছু কাল আগে খবর পেয়েছিলাম, Hobo Newsএর Editor-Hobo collegeএর Principalষামিনী টামিনীর সঙ্গে দেখা হলে খবর নিতেন। তাঁর বিষয় তােমাকেও বােধ হয় কিছু কিছু বলেছি। আমাদের সঙ্গে যখন ০xfordএ পড়তেন তখনই তাকে অদ্ভুত বলে সব লােকেই জানত। তাঁর বাবা Millionaire-তার দেওয়া এক পয়সাও নেন নি। তাই কাগজে বেরুলাে “The Man who refused a Million Dollars" আর দেশ বিদেশ থেকে লােক
নালুদার চিঠি
३१
তাকে দেখবার জন্যে আসত। Meadvilleএর মাষ্টারেরা তাকে
The Leader of the Unemployed বলে বর্ণনা কত্ত।
এখানে উৎসবের সময় সেই যে Bill Simpson এসেছিলেন, খুব
খেয়েছিলেন, সেই ধরণের কতকতটা।
স্কুলের খবর বােধ হয় শরৎ বাবু, সরযু প্রভৃতির কাছে পাচ্ছ ?
নূতন Principal এখনও আসেননি। বিধান এসেছিলেন।
তাকে স্কুলে আরও interest করবার জন্যে মাঝে মাঝে লিখবে
বােধ হয়।
সেই সঙ্গে—লিখতে পাঙ্গে বেশ হয়। ওখানে
যাতায়াতে এখানকার যে যে বন্ধন আগ্ধ হয়ে গিয়েছিল, তা
আবার দূর হতে পারে। আবার নূতন নূতন বন্ধনের সৃষ্টি হতে
পারে। চিঠি লেখাতে যেটুকু হারিয়ে দিয়েছ, তার চেয়ে আরও
বেশী হারিয়ে দিতে হবে। নিরঞ্জন কেমন আছেন ? তিনি বােধ
হয় French জানেন। তা হলে জাহাজে নূতন লােকের সঙ্গে
আলাপ করার সুবিধে হবে। আজ এই পর্যন্ত।
তোমাদের
নালুদ।
শ্রীমতী নিরপ্রিয়া ঘােষ
( ২১ }
84 Upper Circular Road (Calcutta).
4th October 1928
ভাই নির্ভর,
9919 Mrs. Booth, Mother of the Salvation Army
দিন। এই দিনে তোমাকে মনে পড়ার ভেতর কিছু আছে বোধ
২৮ নলুদার চিঠি হয়। সেই যে Simla থেকে একটা লেখা পুরাণাে New Dispensation থেকে যামিনীকে দিয়ে type করে তােমাকে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম, সেটা এখানে পড়তে সময় পাওনি, জাহাজে কি পেয়েছিলে ? "The Lady. Soldier." got9971 71-11 তখন Lucknow ছিলেন। লেখাটা সেখানকার ও তাঁর বলে মনে হয়। তােমাকে পাঠাবার বিশেষ কারণ বােধ হয় বুঝতে পেরেছ। আমাদের পরের যুগের (generation) যে সব মেয়েদের দেখছি, তার ভেতর নববিধানের নিশান নিয়ে বেরিয়ে পড়তে প্রথমে তোমাকেই দেখলাম। এখন যিনি Salvation Army? General, $Echoes and Memories getta Cat4 78 991671 "The Call and Ministry of Woman" অধ্যায়টা পড়ে।--অরন্তে যথেষ্ট opposition হয়ে ছিল। শেষে "Woman has won her place in the Army. She has won a very wonderful place in the world by means of the Army. The Army of course has taken no part in the political struggle, but in the realms of the fight, the hand of the salvation woman, both officer and soldier, has helped to carry the former to victory. The woman who marched at the head of the little bands of despised salvationists in years gone by were accustoming the public mind to the spectacle of woman in command, of woman taking an active unshrinking
নালুদার চিঠি
share in public duty, and overcoming by the grace
of God her supposed inferiorities. Thus we may
truly say that we were opening a door throughi
which woman might carry the message of Love
and Life to multitudes who would never receive it
save from a womans life. That door will never
again be shut."
.
তোমাদের
নালুদা
শ্ৰীমতী নির্ভরপ্রিয়া ঘােষ
(২২)
পাটনা
২৬শে নভেম্বর, ১৯২৮
ওহে সত্যানন্দ,
আশাকরি, যামিনীদা’র সঙ্গে আজই দেখা হয়েছে-তাকে
জিজ্ঞেস কত্তে বলেছি, তুমি আমার দুখানা চিঠি পেয়েছ কি না
তা’তে Behold (বইখানির) সম্বন্ধে প্রায় সব কথাই আছে-
এখন উঠে পড়ে লেগে যাতে টাকাটা পাওয়া যায় ও বই খানি
সৰ্বাঙ্গসুন্দর হয়, তাই দেখতে হবে। তােমাকে কি ‘বিমলদা’র
কথা লিখেছি ? তিনি বইখানির সম্বন্ধে কি নতুন পরামর্শ দেন,
টাকা দিয়ে কতটা সাহায্য ক’তে পারেন, জিজ্ঞেস কল্পে হয় না ?
নালুদার চিঠি
এ বিষয়ে সুর্য্যি ও জিতুর সাহায্য নিতে পার। •••••••••অনুকুলের
সঙ্গে দেখা হয় কি ? Congressএ একটা stall নিয়ে আমাদের
iterature বিক্রী ও বিতরণের ব্যবস্থা কি কল্লেন ?
তোমাদের
নালুদা
শ্রীযুক্ত সত্যানন্দ রায়
(২৩)
পাটনা,
২০শে ডিসেম্বর,
১৯২৮।
ভাই নির্ভর,
এ mail তােমার কোন চিঠি আসেনি। তবে একটা
packet এসেছে, শুধু printed matter দেখে যদি ফেলে রেখে
দিতাম, তাহলে এ সময়ের যে একটা বিশেষ দান, তা থেকে বঞ্চিত
থাকতাম। সেদিন সুনুর দেওয়া বাক্স খুলে দেখি, Heart of Rose
১৭ইয়ের জন্যে, এতে আর একটী Heart--Heart of Jesus.
শরীরের যে রকম অবস্থা, মুঙ্গেরে যাওয়া হবে কিনা সন্দেহ—কিন্তু
Heart of Chris যত রকমে পাই, ভালই সন্দেহ নাই আজ
সেই heartএর বিষয় ভাবতে গিয়ে যে সব কথা মনে এল, তার
দু একটা লিখি ! “Love the Lord thy God with all thy
heart, all thy mind &c and love thy neighbour
as thyself (i. e., 4 thou lovest God, love thy
নালুদার চিঠি ৩১ brother or sister, as God loves thy brother or sister do thou love him or her. Less then that is not Perfect Love. And it is Perfect Love which casts. out Fear) এই সব কথা ভাবতে ভাবতে Heart of Keshubএর কথা মনে হল—আচার্য্যের উপদেশ (অষ্টম ভাগ) খুলে “জগৎ ব্রাহ্মের পর নহে” পড়লাম। তােমার একখানা চিঠিতে যামিনীর জীবনবেদের ইংরাজী তর্জমা চেয়েছ, তাতে এখনও শেষ হয়মি যদি হয়ে থাকে, যামিনীকে জিজ্ঞেস করে তােমায় পাঠাতে বলব। কিন্তু Dr. v. Raiএরটাতে “The Bible of Life" বলে ছাপানাে হয়েছে। 31 5151 Life and Teachings of Keshub Chunder Sen কি ওখানে Libraryতে নেই ? তার ভেতরেও জীবনবেদের অনুবাদ আছে। জীবনবেদে তার যেমন ভেতরকার কথা আছে, তেমনই অন্য আকারে ( ভাবে। প্রার্থনা, উপদেশ, নিবেদনাদিতেও আছে। তুমি যে Dr. Hutcheonএর প্রশ্নের উত্তরে ভয়ানক রকম আছে” বলেছ, সে কথা যে খুব সত্যি, তা তােমাদের আমাদের সঙ্গে মিলে প্রমাণ কত্তে হবে—কে কেমন ভাল করে তা প্রমাণ কতে পারেন, এইবার তার বিশেষ পরীক্ষা হবে। যদি Jubilee of the Navavidhan কত্তে হয়, ভাই বােনে মিলে ত? প্রত্যেক উৎসবে দেখেছি, বােনেরাই better halves এবারে সিমলেতে যা হয়, তারপর লক্ষ্ণৌয়ে ভাই-ফোটা, কলিকাতায় ভিক্টোরিয়াতে জন্মােৎসব তারপর যখন ১৭ই, Christ, mas ও মুঙ্গেরের কথা ভাবি, দেখি তারাই তো আমার প্রধান সহায়। তাই মনে হচ্ছিল, ভাইদের দিয়ে যা হবার হউক, তােমাদের
নালু দার চিঠি
দিয়ে আরও বেশী হবে বিশ্বাস করে তােমাদের উঠে পড়ে লাগতে
হবে, তুমি ওখানে থাকতে থাকতে অনেক কিছু হতে পারে।
নববিধান সম্বন্ধে Course of Study তােমাকে দিয়ে যে টুকু
আরম্ভ হয়েছে, এখন তােমার প্রতিদিনের উপাসনা ধ্যান ধারণের
ভেতর যত out-pouring of the Spirit হবে, সে Course
ঠিক হয়ে যাবে। নববিধান, কেশবের প্রাণ, আমাদের গানের
ভেতর যেমন পাবে, এমন আর কোথায় ? “নগরসঙ্কীৰ্ত্তন” বই
এক খান সঙ্গে আছে ত? Berlinএ যে Congress (190)
আমি কিছু বলে ছিলাম, তার Report বােধ হয় ওখানে পাবে।
বাংলা শিখতে বলে ছিলাম, রবীন্দ্র বাবুর দ্বারা সে কাজ আরম্ভ
হয়েছে-এখন তােমাকে দিয়ে তা এগােলে, তারপর দলে বলে
এখন থেকে আমরা গিয়ে কীৰ্ত্তন কল্লে আরও এগিয়ে যাবে।
আজ এই পর্যন্ত।
তােমাদের
নালুদা
শ্ৰীমতী নিভরপ্রিয়া ঘােষ
( ২৪ )
C/O G. C. Banerji Esq.
"Gyan Kutir"
Allahabad
২০শে এপ্রিল, ১৯২৭
সেই পরশু রাত্রে যে সব কথা হােল, তার ভেতর কোন্ কোন্
কথা তােমার চিন্তা কল্পনার ভেতর ঢুকে তােমাকে ঘুমুতে দিচ্ছে
নালুদার চিঠি
, জানতে ইচ্ছে করে যে প্রেমনদীর কথা হয়েছে, সে পুরােণণা
প্রেমের নদী
নয়,
নববিধানের নতুন প্রেমের নদী-A. P. Senএর
বাড়ীতে যে social serviceএর কথা হল, তা নববিধানের
social service যদি না হয়, তা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে কোনাে লাভ
আছে কি ?•••এই শুভক্ষণ দেখে তুমি নববিধানের জননীর দিকে
তাকিয়ে যা আরম্ভ করে দেবে, তার আশীর্বাদে তা কি ফল প্রসব
করবে, কে জানে? এখানে আজ ভােরে এসে দেখি, বাড়ী
নতুন,
তার ভেতর বাইরে থাকবার পক্ষে অনুকুল, সকালে দুতালায়
আকাশের তলায় উপাসনা হল, “দেবালয়-দর্শন” প্রার্থনাটি (দৈ, প্রা,
২য় ভাগ) পড়া হল-থানিকক্ষণ নীমতলায় দাড়ান হল ওখানে
যে উৎসব পাওয়া গেল, তা যেন এখানে না হারাই-এখানে যেন
তা আরও বেশী করে পাওয়া যায়। এখন যদি আমার জন্য,
আমাদের জন্য তুমি ও তােমরা প্রার্থনা না কর, তাহলে আমাদের
যা পাবার কথা, তা পাব কি করে ? তােমরাও যা পেয়েছ, রাখবে
কি করে ? Dr. Eno, Miss Bux, বুলাদি, সেই ceylonese
ভগ্নীটিকে বলে, যা তােমাকে বল্লাম।
তােমার ও তােমাদের
নালুদা
শ্রীমতী সুনীতি ঘোষ
(২৫)
Gyan Kutir, Allahabad,
২৫শে এপ্রিল, ১৯২৭
তােমাকে তে কতবার বলেছি, এ wirele telegraphy
সময়-রােজ রোজ messages আসছে যাচ্ছে কি না বলতে হয়--
৩৪ নালুদার চিঠি কাল তােমার চিঠি পেলাম-না পরশু ? এখনও খুলিনি—তার আগে তােমাকে যা লেখবার ইচ্ছে হয়েছিল, তাই কিছু লিখি। মনে হচ্ছিল, সেই ১৯১৪তে যে সঘ হয়, তার প্রধান পাণ্ডা ছিলেন মহারাণী সুনীতি দেবী—এবারেও আর এক সঙ্ঘ হ’লদেখতে তত বড় নয়, কিন্তু full of possibilities-এবারে আর একজন সুনীতি দেবী প্রধান পাণ্ডার কাজ কল্লেন-কিছু যদি না কৰ্ত্তেন, তাহলে এ চিঠি লেখবার কি দরকার ছিল? কিন্তু এখন তার সৌভাগ্যের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব বাড়ল—সরস্বতীর কি রকম মেয়ে তিনি, তা দেখতে চাই। যে দিন এখানে সকালে পৌছলাম, সেই দিন মহারাণীর এক খানি চিঠি বিকেলে পেলাম-সম্প্রতি যে নাতি হারিয়েছেন, সে কথা লিখেছেন—তার সঙ্গে এখন দিনকতক নির্জন সাধন প্রয়ােজন লিখেছেন-তুমিও তাে তােমাদের দুএক জন বন্ধুর সঙ্গে কোন্ পাহাড়ে মাসখানেক কাটাবে বলেছিলে ? সেবার সঙ্ েসত্যি সত্যি যা হয়েছিল, তা কতকগুলি স-সঙ্গীতে প্রকাশ হয়েছিল-“আনন্দধ্বনি তুলেছে”র শেষ verseটি মনে আছে ত? “মােহ মায়া ঘুচে গেছে, অশ্রুগল মুছে ফেলেছে-- অসার ভাবনা যত ভুলে গিয়েছে, হরিনামে হরিপ্রেমে সবাই মেতেছে।” এবারকার বিশেষত্ব কি? সেবার সজের পরের বছরে আমি ত কাজের বাইর হয়ে বিছানায় শুয়েছিলাম—নাদান আমার মনের কথা লিখেছিল, "Lord now lettest Thou Thy ser. vant depart in peace for mine eyes have seen Thy salvation." এবারে লক্ষ্ণৌ থেকে এলাহাবাদে এসে মনে হচ্ছে, এবার এ সুনীতি দেবীর আর নিস্তার নেই—তিনি যখন নালুদার নালুদার চিঠি ৩৫ একটা কথায় সায় দিয়েছেন, তখন যে দুটো কথায় সায় দেবেন না, কে বল্পে? তিনটে, চারটে, পাঁচটা কথায় সায় দিতে দিতে কোথায় গিয়ে পড়বেন, কে জানে ? তোমাদের নালুদা মতী সুনীতি যােব। (২৬) Gyan Kutir Allahabad ২৭শে এপ্রিল, ১৯২৭ পর পেনসিলে যে চিঠিখানা লিখে রেখেছিলাম, কাল তা পাঠিয়ে দেবার পর তােমার চিঠিখানা পড়লাম-পড়ে আনন্দ হল ; আরও আনন্দ হত যদি আমার চিঠি পাবার আগে তুমি লিখতে-- এখন যে আকাশ নববিধানের, হাওয়া নববিধানের, তার উপর বিজ্ঞানের (science) যে সব নতুন নতুন আবিষ্কার (Diacoveries) হচ্ছে, তাতে "B.Sc." “M.Sc." দেরই বার বার পরীক্ষা হচ্ছে—পেছিয়ে পড়লে, না বিজ্ঞান, না বিধানের ভেতর তারা স্থান পাবেন। আজ নির্ভরের দাদামহাশয়ের দিনকাল রাত্রে শিবেশের বাড়ীতে যে উপাসনা হ’ল, তাতে সেবকের নিবেদন থেকে “নৃত্য” কিছু কিছু পড়লাম—যে নবভক্তি এসেছে, তার একটা বিশেষ প্রকাশ ভাই অমৃতলালের জীবনে দেখা গিয়েছিল “সােম ভক্তির” নৃত্য-তা আমাদের প্রত্যেকের ভেতর
নালুদার চিঠি
যে টুকু আছে, তার চেয়ে অনেক বেশী চাই—নির্ভরের ভেতর যে
টুকু দেখেছি, আনন্দ পেয়েছি। মাদ্রাজ অঞ্চলে একলা প্রচার কর্তে
যাওয়া আমাদের মেয়েদের ভেতর নতুন-সে পথ তিনি দেখিয়ে-
ছেন—সে পথে তার সঙ্গে আমরাও গিয়েছি। এবার যে লক্ষ্ণৌয়ে
দেখা গেল, সুমুকে দিয়ে আর একটা পথ খােলা হয়েছে সে পথে
আমরাও অনুর সঙ্গে গিয়েছি।...পরশু নির্ভরের যে চিঠি পেলাম,
কাল পড়লাম, তুমি কাছে থাকলে তােমাকে পড়তে বলতাম। ৩নং
ভেঙ্গে চুরে নতুন করে গড়তে হবে—সে কাজে তুমি তােমার
নতুন দলকে নিয়ে কি রকম লেগে যেতে পার, দেখতে হবে।
তােমাদের ছুটা হ'লে তুমি কোথায় থাকবে? নির্ভর যে ছুটি
গুলাে মাটি হতে দেন না—এবার আমাদের সুনুর turn-এক
একটা ছুটিতে “প্ৰেমনদীর” তােড় কত বাড়তে পারে-হরিদ্বারের
গঙ্গার তােড় কোথায় লাগে-তাই দেখাতে হবে। নির্ভরকে একটু
আগে লিখলাম-এখন তােমাকে লেখা এইখানে শেষ করি। যদি
Collegeএ থাক, তাহলে যার যার সঙ্গে পরিচয় করে
দিয়েছ, প্রত্যেককে আমার সাদর নমস্কার জানাবে কি? সেই
Ceylonese, Miss Bux, "qattfr," Dr. Eno, 69$ Anglo
Indian Ac?
তোমাদের
নালুদা
মতী সুনীতি ঘােষ
নালুদার চিঠি
৩৭
(২৭)
হাজারিবাগ
রামনবমী
ওহে ডাক্তার,
তােমার দানের জন্য অনেক ধন্যবাদ-মান পেয়েছি—কিসে
করে পাঠিয়েছিলে ? Post Office থেকে Notice এল,
damaged condition—তাই ক্ষিতীশকে দিলাম—তিনি আনিয়ে
দিলেন-তার ভেতর তােমার চিঠিও পেলাম-কেমন ক'রে
তৈয়েরি ক’তে হয়, তা ক্ষিতীশ ও তার ছেলেকে বলে দিলাম।
বুড়ো যে আবার বেরিয়েছেন, তার মানে মন্দিরে গান করবার
লােকের অভাব হবে—অনুকুল বাবু তাে সে দিকে যাবেন না
না যান, তার যে গান করবার গলা আছে, খোল বাজাবার শক্তি
আছে, তা যদি আরও বাবহার না করেন, তাহলে সব মরচে পড়ে
যে কি অবস্থা পাবে, ভাবলেও ভয় হয়-বিষ্ণুবাবুর গান, বুড়াের
গান, অনুকুল বাবুর গান, এ সব থেকে বঞ্চিত হলে চলবে কি
করে’? বলি তােমার সেই শ্বশুর মহাশয়ের খবর কি? তিনি
কি এখনও দেশে আছেন ? তার ঠিকানা কি ? বিষ্ণুবাবুর
শ্রাদ্ধে তুমি গিয়েছিলে কি? মহারাণীর সঙ্গে সিমলে কে কে
যাবেন ? সতুর সঙ্গে দেখা হয়েছে কি ? আশা করি, সপরিবারে
ভাল আছ।
তােমাদের
নালুদা
শ্ৰীযুক্ত অনুকুলচন্দ্র মিত্র।
নালুদার চিঠি (২৮) Co. Prof. Satyendra Ray Hewett Road Lucknow, 10 October, 1927 ওহে ডাক্তার, সিমলে থেকে আমি নেবেছি, সে খবর বােধ হয় পেয়েছ এখানে এসে কলকাতার লােকের দেখা পাওয়া, কি খবর পাওয়া আরও সহজ হ’ল। নির্ভর ত এসেছেনই—তা ছাড়া যারা যারা দেরাদুনে, নাইনীলে গেলেন, তাদের কাছ থেকে কিছু কিছু খবর পাওয়া গেল। কিন্তু যে সব ভেতরকার খবর জানতে চাই, তা কোথায় পাই? যখন দু চার জন মিলে ভক্তির সহিত মার নাম গান করেন, সেই গানের ভেতর পাই--সে গানের লােক যে চাই-সিমলেতে উপাসনায় কমই পেতাম—এখানেও তাই—তাই অনুকুলের কথা মনে হত-নির্ভরের মা ও মাসীমার কথা মনে হত—এখানেও হচ্চে বিধানের গান জানা লােক না থাকলে, পৃথিবীতে কি নিয়ে থাকব? তুমি কোথায় জানিনে- সিমলেতে যে দুখানা চিঠি লিখেছিলে, তা পড়েছি। এখন তার নামগানের ভেতর দিয়ে, মা তার সন্তানদের প্রাণ টানতে চান—সব প্রাণ গুলােকে এক কতে চান—তার সেই মনের সাধ মেটাবার জন্যে, তাঁর গানের ভক্তদের বিশেষ করে চাই—নির্ভরের মা মাসীকে বলল, তাদের চাই, তােমাকে চাই—খেল চাই, করতাল চাই- আর কি চাই, বল দেখি? তোমাদের নালুদা যুক্ত অনুকূলচন্দ্র মিত্র নালুদার চিঠি ৩৯ (২৯) ৩নং (কলিকাতা) ১১ই আগষ্ট তােমার দুতিন খানা চিঠি পেয়ে জবাব দিই নি-মনে তা ছিল বলে একদিন যখন চিঠি লেখবার ভাব এল, তােমার চিঠিগুলি কাছে নিয়ে বসলাম-কা’কে কাকে লিখলাম মনে নেই—কিন্তু তােমাকে ধেনের Careএ লিখবাে ভাবছি, এমন সময় আবার একখানা চিঠি পেলাম-খুলে দেখি Isabella Thoburn College তার জবাব দেওয়া হয় নি তােমার নতুন কাজের কথা হল- কিছু যে পরিশ্রম কৰ্ত্তে হচ্ছে, সেটা বােধ হয় তােমার শরীর মনের পক্ষে ভাল—সব বিষয়েই চৰ্চ্চা না থাকলে, অনেক পেছিয়ে পড়ে থাকতে হয়। যা হােক, তােমার কাছ থেকে এখন থেকে এমন চিঠি পাব, যাতে আমারও উৎসাহ উদ্যম বাড়বে:•••••এখন True Faith প্রচার করবার সময়-* নববিধান * প্রচার করবার সময় এই সব বই ও কাগজ যাতে ঘরে ঘরে যায়, তার উপায় কৰ্ত্তে হবে। তারপর তর্জমা-তুমি এখন Physics পড়াচ্ছ--তা ছাড়া আর কিছু পড়বার সুযােগ পাচ্ছ কি না জানিনে—যদি “ আচার্যের উপদেশ ” ও “প্রার্থনা” পড়বার সময় পাও, তাহলে তর্জমার কথা ভুলে যেও না। তােমাদের লালুদা মতী সুনীতি ঘোষ।
৪ নালুদার চিঠি (৩০) ৩ নং, কলিকাতা ২৮শে আগষ্ট, ১৯২৬ ১১ই ভাদ্র ......১০০ খানা True Faith চেয়ে true faithএরই কাজ কল্পে—সেই সঙ্গে যা যা মন্তব্য Navavidhanএর advertisements সম্বন্ধে প্রকাশ করেছ, তাতে আরও বিশ্বাসের কথা আছে—কাগজের ভার যতদিন তােমাদের যামিনীদা নিয়েছিলেন, আমি অনেকটা নিশ্চিন্ত ছিলাম, তারপর যাঁরা নিলেন, বেশী দিন রাখতে পাল্লেন না-আমাকে আবার ভাবতে হচ্ছে। বিজ্ঞাপন (বাইরের) শূন্য কাগজ লাখ লাখ বিক্রী হয় এক General Bootbএর War Cry-তাছাড়া অন্য কোন কাগজের কথা জানিনে-সে রকম বিশ্বাসী দল—“Missionaries, warriors, covenanters" কোথায় ? কেশবচন্দ্র যা চেয়েছিলেন—ওদের ভেতর যেমন দেখতে পেয়েছিলেন, এমন যদি নিজের দলে দেখতে পেতেন। “ওদের কত জীবন্ত ভাব ! কত তেজ ! আমাদের সকল বিষয়ে লজ্জা দিলে ওরা। ওরা গরীব হয়ে, বৈরাগী হয়ে আসছে। আবার ওদের মধ্যে মেয়েরা সৈন্যাধ্যক্ষ হয়ে নিশান ধরেছে। আমাদের মধ্যে তা তো নেই।” এ প্রার্থনাটী অনুবাদ করে দিতে পার ? অনুবাদের রহস্য কি ? আগে জীবনে তা পূর্ণ কল্পে লেখায় তা দেখান সহজ হয়-তাই নয় কি ? General Boothএর দিন বিশেষ করে তােমাকে মনে হচ্ছিল—লেখবার ইচ্ছেও হচ্ছিল। এবার “ নির্ভরধি ” স্কুলের
নীলুদার চিঠি
৪১
মেয়েদের নিয়ে তিনটে গান করেছিলেন। Mrs. Booth সম্বন্ধে
একজন মেয়ে যা বললেন, তা যদি তুমি শুনতে, তােমার বােধ হয়
মনে হত, তা তােমারই জন্যে। তাঁর সঙ্গে যখন প্রথম প্রথম
General Booth (তখন শুধু william Booth)এর পরিচয় হয়,
তখন তার health খুব delicate-কি করে অত বড় ব্যাপারের
ভার নিতে সাহসী হয়েছিলেন ? সেই faith এর জোরে, যে
faithএর কথা True faithএ আছে-“And God is both
living and loving Hence faith holds living and
loving communion with Him who is dearer than
life." তুমি যে আবার শয্যাগত হয়েছিলে, শুনে যেমন ভাবনা
হল--তার ভেতর যে প্রার্থনাটি ভাল লাগল বলে’ তর্জমা কর্তেও
পাল্পে-চিঠি ও প্রার্থনার তর্জমা ভাবনাকে সান্ত্বনায় পরিণত
করে দিলে।
তারপর যে লিখেছ—সেই দান সম্বন্ধে—“নােতুন বলেই লজ্জার
কথা—তবে আশার কথাও-এ কথা আমার বাবার সময়ের
পুরােনাে কথা—আমাদের মধ্যে দুদিনের তরে হীনতা বহিছে-
জাগিবে আবার জাগিবে, এই আশা ও প্রার্থনা”। দুই পূর্ণ
হােক, পূর্ণ হােক, পূর্ণ হাে ।
তোমাদের
নালুদা
শ্ৰীমতী সুনিতী ঘােষ।
(৩১)
৩ নং, কলিকাতা
২রা সেপ্টেম্বর, ১৯২৬
আজ আমার বাবার স্বর্গারোহণের দিন।••••••••তুমি যে
দুদিন যেতে না যেতে দুবার ভুগলে, সে খবর এখন শুনতে ইচ্ছে
৪২
নালুদার চিঠি
হয় না—এখন তর্জমায় মেতে গিয়ে, physicaএর ভেতর বিধানের
metaphysics দেখে তােমার মেজদার মত thought provoking
কথা বল—তাই শুনতে চাই। তাই প্রার্থনা করি, নববিধানের
নবভক্তের প্রার্থনার spiritএর ভেতর আরও ভােব-সেখানে যে
স্বাস্থ্য ও শান্তি আছে, তা নিজে পাও-পাঁচজনকে দাও।
True Faithএর মূল্য যখন দেওয়া যায় না, তখন দিতে চেষ্টা
ক’ কেন ?
তবে এখানে ছাপাখানার লােকেরা যখন বিনা
পয়সায় ছাপেনা, আর কাগজ বিনা মূল্যে পাওয়া যায় না, তখন
আমাদের ঋণমুক্ত করবার জন্যে যা দান করবে, তার ওপর
ভগবানের, ভক্তদের, আর আমাদের মত পাপীদেরও কত আশীর্বাদ
যে পাবে, তা কে বলতে পারে ?
তোমাদের
নালুদা
মতী সুনীতি ঘােষ।
(৩২)
৩ নং,
কলিকাতা
২৫শে মে, ১৯২৫
এই একটু আগে তােমার কথা মনে হচ্ছিল-তােমার চিঠির
জবাব দেওয়া হয়নি। কি বলে apology করব &c. &c.
আর একখানা চিঠি হাতে পড়লে তােমার হাতের লেখা। কাল
২৬শে তােমার দীক্ষার সাধৎসরিক মনে করিয়ে দিয়ে ভালই করলে,
পর প্রতাপ বাবুর দিন। তার শেষ অসুখে দেরাদুনে গিয়েছিলেন
অসুখ বাড়ার খবর শুনে এখান থেকে আমি ও যোগানন্দ
নালুদার চিঠি
৪৩
গিয়েছিলাম। বাঁকিপুর, গাজীপুর, লাহাের প্রভৃতি স্থান থেকেও
কেউ কেউ গিয়েছিলেন—একটা hotelএ আমরা সব ছিলাম
Royal hotel কি ? যােগীর পুনরুত্থান, ভােগীর পুনরুত্থান, রােগীর
পুনরুত্থানের কথা প্রতাপবাবু বলেছিলেন-আজ কাল উপাসনাদিতে
তার কথা মনে পড়ছে। এই মে মাসে যে কটা সাম্বৎসরিক জানা
ছিল, তার ওপর যে দুচারটে জানা গেল, তার ভেতর তােমার এই
দীক্ষা একটি। তুমি যে লিখেছ-“আমাদের মা যে বাইরে ভেতরে
কত আদর করে নাওয়াচ্ছেন, খাওয়াচ্ছেন, এই যােগে মায়ের সঙ্গে
যুক্ত হয়ে অভ্যস্ত পাপের হাত থেকে মুক্ত হতে মনটা ব্যাকুল হয়ে
উঠছে”-এ ব্যাকুলতা নববিধানের ব্যাকুলতা। পরমহংস রামকৃষ্ণ
দেবের ভাষায় বলি—এই ব্যাকুলতার ঝড় তোমার ভেতর বইতে
থাকুক-~-আমার ভেতর বইতে থাকুক-সমস্ত দেশের ভেতর বইতে
থাকুক-সমস্ত পৃথিবীতে বইতে থাকুক – সকলে পাপমুক্ত হােক!
তোমাদের
নালুদা
মতী সুনীতি ঘোষ
(৩৩)
ভাগলপুর,
২৯২১৯২৪
সরস্বতীর লীলা দেখতে দেখতে চলে এলাম-এখনে এসেও
তার লীলা দেখছি, সেই কথাই বলছি.••••••••••.তােমাকে দিয়ে
তিনি যে সব কাজ করিয়ে নিয়েছেন, তা কিছু কিছু দেখছি-তুমি
৪৪
নালুদার চিঠি
আমাদের সাধন ভজনের সহায় হয়েছ। এবার স্কুলের উৎসবে থাকতে
পাল্লাম না-শুনলাম, বেশ হয়েছে-তােমাকে দিয়ে সরস্বতী আরও
কত কি করিয়ে নেবেন, তা তার মুখের পানে তাকিয়ে টের পেলে
ত? তােমাকে কত নির্ভয়, নিশ্চিন্ত কৰ্তে চান, তা দেখতে পেলে,
তােমার দর্শনের ফলে কত ভাই বােন সরস্বতীর নির্দিষ্ট পথে যেতে
পারবেন, তাও দেখতে পাবে।
শ
তােমাদের
নালুদা
মতী সুনীতি ঘােয়
(৩৪)
ব্ৰহ্মমন্দির
২৯শে মার্চ, ১৯২৪
ভাই ধনী,
আমাদের ত এখন প্রতি বছরেই Jubilee করা উচিত নয় কি?
প্রতি মাসে কল্পে আরও ভাল ; তা কেন, প্রতি সপ্তাহে করা যেতে
পারে। তুমি ত এখন “আচার্যের উপদেশ” নিয়ে নাড়া চাড়া কর ।
আজকের তারিখে ঠিক পঞ্চাশ বছর আগে কি উপদেশ হয়েছিল,
বলতে পার কি? “বিধান আসিয়াছে, নূতন বিধান আসিয়াছে,
এই সংবাদ যখনই জগতে প্রচারিত হয়, তখনই ইহা বিশ্বাস-কর্ণে
যাহারা শ্রবণ করে, তাহারা আশা এবং নূতন উৎসাহে জাগ্রত
হইয়া উঠে”—তুমি, wyllie, ছেলে, মেয়ে, শ্বশুর, শাশুড়ী পঞ্চাশ
বছর পরে কি নূতন আশা ও নূতন উৎসাহ নিজেদের ভেতর
নালুদার চিঠি
৪৫
দেখচ ? তােমাদের সকলের শরীর মন এই আশা ও উৎসাহে
কেমন ভাল হচ্ছে, তাই শুনতে চাই—রােগের কথা, শশাকের কথা ত
অনেক শুনি, কিন্তু এখন যে নূতন বিধানের Jubileeর সময়, কেবল
Jubileeর কথা শুনতে চাই—এই Jubilee ভেতরে ভেতরে চলবে,
তােমার চিঠি তার ভেতর পড়ে কত চিঠি বার কচ্ছে, সে গুলাে
পাচ্ছ, পড় কি ? শ্রীচৈতন্যের জন্মােৎসব শেষ হতে না হতে ইশার
প্রাণ-দানের উৎসব এসে পড়ল, “দুঃখেতে পাই যদি হে তােমায়”
গান জান ত? দুই জনের কথাই আছে। এইখানে Good-friday
করবার কথা হচ্ছে।
তােমাদের
নালুদা
মতী সুজাতা সেন
পুঃ-রবীন্দ্র বাবুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল কি ?
(৩৫)
Rajah Bagh
Kidderpore
Calcutta
26. 3. 19.
প্রাণাধিক সতু,
গেল সপ্তাহে যে চিঠি লিখেছি, তাতে মত্ততার কথা আছে—এই
মত্ততা খুব ঘনীভূত আকারে আমাদের প্রত্যেকের ভেতর না
থাকলে, আমরা যে বেঁচে আছি, তার গভীর প্রমাণ নিজেরাই পাব
। এই রকম প্রত্যেকে মত্ত হলে, এদের নিয়ে যে দল হবে, সে
দলের কাছে কি কেউ দাড়াতে পারবে? এই মত্ততাই পরিত্রাণ
নালুদার চিঠি আর এই দলকে দিয়ে কত লােকের পরিত্রাণ হবে। পরলােকবাসী সাধুদের নিয়ে এই দল হয়েছে-“আবার তারা তারাই সবাই এসেছে রে--যারা যুগে যুগে জগৎ মাতায়”—আমরা এই দলের আহ্বান শুনে যােগ দিতে চাই-কে কত সত্যি সত্যি চাই, তার পরীক্ষা আবার হচ্চে—এই পরীক্ষায় যারা পাশ হবে, তারা নব- জীবনের অনন্তর্জীবন পাবে। ওখানে এখানে সব জায়গায়ই কাজের ভেতর, ভাবের ভেতর ঢুকে দেখলে, Dissipationই বেশী দেখা যায়—এখন Concentrationএর সময়। নববিধানের লােকেরা যে জননীকে পেয়েছেন, তিনি সহজে পাশ করে দেবেন না--আমর। কত সময় নষ্ট করেছি -শক্তি নষ্ট করেছি, জীবন নষ্ট করেছি, তা ভালবেসে দেখিয়ে দেবেন। আমরা তা দেখে অনুতপ্ত হয়ে, তিনি কৃপা না কল্পে আমাদের আর গতি নেই জেনে, তার কৃপার উপর একান্ত নির্ভর কলে তিনি যদি পাশ করে দেন, তাহলে আমরা তার কৃপায় কি না কত্তে পারি ? আমাদের আগে যারা এসেছেন, তাদের এই অবস্থা যখন হয়েছে তখনই দলের জোরে প্রত্যেকের জোর বােধ হয়েছে-- আবার আমাদের ভেতর এই ভাব না হলে কাজ- কৰ্ম্ম পড়াশুনাে সব হাওয়ায় উড়ে যাবে। তােমার কি মনে হচ্ছে ? গেল সপ্তাহে বােধ হয় ২২শে তারিখে, তােমার ৪ঠা ফেব্রুয়ারীর চিঠি পেলাম। টাকা কড়ির কথা এর আগের চিঠিতে লিখেছি। তাই এতে আর লিখলাম না। তােমাদের নালুদ। শ্ৰীযুক্ত সত্যানন্দ রায় নালুদার চিঠি ৪৭ (৩৬) Rajah Bagh Kidderpore Calcutta 10. 4.19 প্রাণাধিক সতু, আজ যার জন্মদিনে তােমাদের workingmanএর জন্ম হয়, তার সঙ্গে ওখানে থেকে নতুন করে পরিচয় কি হল, জানতে ইচ্ছে হয়। এখানে এসে তার পরিচয় দিতে হবে। তুমি আজকের দিনে সেই প্রার্থনাটা আবার পড়ছ কি না জানিনে। “মা এতদিনে বড় হারি নাই; এইবার হারিয়ে গেলাম। আমাদের দলেথ চেয়ে মহাত্মা বুথের দল বড় হইল। তার সৈন্য সমুদ্র টলমল করিয়া আসিতেছে। আমাদের ওঁদের চিহ্নিত বলে, প্রেরিত বলে মানিতে হইৰে। ওরা তাে বিধান মানে না, কিন্তু ওদের কত জীবন্ত ভাব। কত তেজ! আমাদের সকল বিষয়ে লজ্জা দিলে ওরা। ওরা গরীব হয়ে বৈরাগী হয়ে আসছে। আবার ওদের মধ্যে মেয়েরা সৈন্তা- ধ্যক্ষ হয়ে নিশান ধরেছে। আমাদের মধ্যে তাতে নেই। ও এক আশ্চর্য্য অদ্ভুত নতুন সংবাদ । এ তােমার বিচিত্র লীলা। প্রাণেশ্বরী, তবে কি ওরা ভারত নেবে? এই দল পড়িয়া থাকিবে? তাই তাে, আমরা গুণে বড় না হইলে তাই হইবে। মা, ওরা যেমন বৈরাগ্য দেখাচ্ছে, আমরা যদি তদপেক্ষা অধিক বৈরাগ্য দেখাতে পারি, ওরা যেমন পিতা পিতা বলছে, আমরা যদি তেমনি মা মা মা মা আদ্যাশক্তি ভগবতী বলিতে বলিতে রণক্ষেত্রে উপস্থিত হইতে পারি,
৪৮
নালুদার চিঠি
তবে হয়।” তুমি ওখানে এই দুটা জিনিষ আমাদের দিতে হবে,
তা কি অনুভব ক…? ব্রহ্মানন্দ যে মাকে পেয়েছিলেন, সেই মাকে
ওরা না পেলে, যুদ্ধের পর যে প্রকৃত peace, তা কি হবে ?
পাঁচ বছর আগে এই সময় লক্ষেয়ে যাওয়া হয়েছিল কি জন্যে,
মনে আছে, বােধ হয়। সঘং শরণং গচ্ছামি ।
তোমার
নালুদা
শ্ৰীযুক্ত সত্যানন্দ রায়
(৩৭)
Rajah Bagh
Kidderpure
Calcutta
15. 4. 19,
প্রাণাধিক সতু,
গেল সপ্তাহে যে চিঠিখানা লিখেছি, তা ঐ সপ্তাহের Mail
গিয়েছে কি না জানিনে। এর ভেতর দু তিনটে ঘটনা ঘটেছে,
তার বিষয় আর কেউ লিখবেন কি না জানিনে। ১১ই শুক্রবার
তােমার বিনয়দার মাকে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। তার আগের
দিন রাত্রে তিনি মারা যান-শুনতে পাই plague হয়েছিল
আমি সেদিন সমস্তদিন সহরে ছিলাম-রাত্রে এখানে ফিরি- ভাড়া-
গাড়ী কি tram দুই পাওয়া দুষ্কর ছিল, কারণ Gandhi, arrest।
তারপর বেচারা জ্ঞানাঞ্জনের দাদা নিরঞ্জনের স্ত্রীর একটী মরা
ছেলে বেরােয়সে ১লা বৈশাখের আগের রাত্তির। ১লা সকালে
নলুদার চিঠি
কমলকুটারের নবদেবালয়ে যে উপাসনা হয়, তাতে জ্ঞানাঞ্জনকে
পাই—মহারাণী সুনীতি প্রভৃতি ব্ৰত নেন-জ্ঞানাঞ্জনও ব্ৰত নেন
কি ব্ৰত বল দেখি? ধ্যান-ব্রত-আমি তাকে বলেছি, এ ব্রত পালন
কল্লে তার সঙ্গে আমার উপকার হবে-আমাদের উভয়ের উপকারে
মণ্ডলীর উপকার হবে-না? আজ ২রা বৈশাখ, পূর্ণিমা-সন্ধ্যার
সময়ে জিতুদের ওখানে গিয়েছিলাম তােমার মােহিতার মেয়ে
মীরার আশীর্বাদ হ’ল-অজয় গুপ্ত (শ্যামগুপ্তের ছেলে) সঙ্গে
বিয়ের কথা শুনেছ কি ? জিতু বেচারা খেটে খুটে আজই জরে
পড়ে উপাসনায় যােগ দিতে পাল্লে না। সেখানে তােমার মার
সঙ্গে দেখা হল-তারা 3, Ramkanta Mistry Laneএ উঠে
গিয়েছেন, সে খবর নিশ্চয়ই পেয়েছ। তােমার ভাগনী বুলুর
(কমলা) সঙ্গে প্রেমাদিত্যের বিয়ের কথা হয়েছে, তা-ও বােধ হয়
শুনেছ। আশীর্বাদের উপাসনা করবার জন্যে তােমার মা আমাকে
বলছিলেন। এবার শুধু এই কটা খবর দিয়েই চিঠি শেষ করি।
তোমার
নালুদা
শ্রীযুক্ত সত্যানন্দ রায়
(৩৮)
7 Budge Budge Road,
Kidderpore,
२४ाकून
প্রাণাধিক সতু,
গেল সপ্তাহে যে চিঠি লিখেছি, তা কোথায় পাবে জানিনে।
আজও যা লিখচি, তা কোথায় বসে পড়বে, তাও জানিনে। এখন
নলুদার চিঠি দেখচি, atmosphere না হলে কিছুই হয় না—এত বড় বিধান এল -এর উপাসনা সাধন ভজন এল—প্রথম দল এল—সে দলের লােক একে একে চলে যেতে লাগল এখনও দুএকজন আছেন দ্বিতীয় দলের লােক কে কে ? “একটী ভক্ত তাহাকে প্রিয় বলিলে তাহার এত আহলাদ হয়, না জানি দশ জন ভক্ত একত্র হইয়া তাহাকে প্রিয় বলিলে এবং পরস্পরের মধ্যে সেই প্রিয়তমের সৎপ্রসঙ্গ করিলে, তাহার মনে কেমন আনন্দের হিল্লোল উঠিতে থাকে। যদি তিনি দেখিতে পান এমন একটী দল আছে, যাহারা তাহার কথা লইয়া আমােদ করিতেছে, তবে তাহার কত আহলাদ হয়। যেমনই তিনি সেই দলের মধ্যে যান, সেই দলের সকলেই একত্র হইয়া তাহাকে বলে, প্রিয়তম, তুমি আসিয়াছ ? পৃথিবীতে ঈশ্বর এমন একটা দল সৃষ্টি করিবেন, যাহার মধ্যে দিবানিশি সৎপ্রসঙ্গ হয়। এই জন্যই ঈশ্বর পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন, তাহার অন্য কোন উদ্দেশ্য নাই। সংসার-জঙ্গলের মধ্যে তিনি একটী ভক্তদল প্রস্তুত করিতেছেন। ব্রাহ্মসমাজের এই উচ্চ আদর্শ।” ওখানে এই দলের লােক দু এক- জন পেলে, পড়ে শুনে যা লাভ হয়েছে, তার চেয়ে আরও বেশী লাভ হবে। কাল সন্ধ্যার সময় সুধার বাড়ীতে এক সভা হয়। তার ছেলে বুড়াে একট। bud-a-hand clubএর মত ঐ দিনে করে, তার দিনকতক পরেই মারা যায়। তার বন্ধুবান্ধবেরা সেই জিনিষটা জাগিয়ে রেখেছে—কাল তার বাৎসরিক হল—আমার preside করবার কথা ছিল—মহারাণী সুনীতি দেবীকে এগিয়ে দিয়ে আমি আর সকলের সঙ্গে বসে যােগ দিচ্ছিলাম। বুড়াের জীবনটী তার বন্ধুদের ভেতর যে ভাবে কাজ কচ্চে, দেখে শােকের নলুদার চিঠি সঙ্গে আনন্দ হল। তােমার কথা মনে হচ্ছিল—তুমিও তাে অল্প- দিনের পরিচয়ে বুড়াের সম্বন্ধে বেশ একটা ভালবাসার সঙ্গে শ্রদ্ধার ভাব পােষণ ক’ত্তে। যামিনীও সভায় ছিলেন-তার সঙ্গে এক সঙ্গে এখানে ফিরলাম-তােমার মার কাছে ও যামিনীর কাছে তােমার চিঠি এসেছে শুনলাম। যামিনীকে জিজ্ঞেস কচ্ছিলাম, ওখানে নববিধান সম্বন্ধে, নববিধানের উপাসনা সম্বন্ধে দু একজন পাগল (Pagal No :) কি পাওয়া গিয়েছে? ভাল ভাল বই সঙ্গে করে আনতে বলি। কিন্তু এই রকম পাগল সঙ্গে করে আনলে আরও আনন্দের বিষয় হবে। এখন সভ্য,ভব্য শিক্ষিত লােকের সংখ্যা বেড়ে লাভ নেই—এখন যারা ভক্ত ব্ৰহ্মাননের ত্রিবিধ ভাবাপন্ন, তাঁদেরই চাই। যামিনী বলছিলেন, তােমার একটা photoতে তােমাকে বেশ সাহেব সাহেব দেখাচ্চে-তাই না কি? তাহলে এখানে যখন আসবে, ভাল করে গঙ্গাস্নান করিয়ে তবে তােমাকে আমরা আদর করে নেব। আমরা কটা ভাই কি ছিলাম, কি হইলাম। লােকলজ্জা বিসর্জন দিলাম, চঞ্চলা ভক্তি, প্রগলভা ভক্তি, জঙ্গুলে ভক্তি, মাতালে ভক্তি আজ হইয়াছে। একটা জননী তুমি মাঝখানে দাড়াও। সমস্ত ভারত তােমার চারিদিকে নাচুক।” তুমি যদি এই রকম দু একটী ভাই সঙ্গে করে নিয়ে এস, তাহলে তাদেরও মাথায় করে আমরা নাচব! তােমার নালুদা শ্ৰীযুক্ত সত্যানন্দ রায় নালুদার চিঠি (৩৯) Rajah Bagh Kidderpore Calcutta 24. 7.19. ভাই সতু, T "A Nun; Her Friends and her order" petra ৮২তে আমি যখন নাড়াচাড়া ক’ত্তাম, দেখেছিলে কি ? যদি England হয়ে আসবার সুযােগ পাও, তাহলে Lancashire Stonyhurtcollege দেখে আসতে চেষ্টা করে—আর Ireland এই Roman Catholicsদের অনেক কিছু আছে। যে বইখানির কথা বল্লাম, তা হচ্ছে -“A Sketch of the Life of Motha Mary Xaveria fallon, sometimes superior General of the Institute of Bless and virgin in Ireland এই ধরণের জীবন থেকে আমাদের যা শেখবার, তা শিখতে হবে ত? একটা জীবনব্যাপী কাজের জন্যে বিশেষ প্রস্তুতি : Mrs. Coyney had asked for a preparation of five years for the young foundrese. About these five years we hear little: the Convent reticence draws impenetrable veil over them." (P. 47) "France was well tried during her probation. Besides her Schoolwork she was lade.. with house-hold tasks- she who longed for nothing so much as to flee away like the an নালুদার চিঠি dove and he at rest. Gently bred and reared as she was, she had menial tasks alloted to her, she waited on the nuns at table and once she scoured down a. long flight of stairs. At the end of it all we have the verdict upon her of one of her sisters, 'Her life was altogether supernatural : her very appearance breathes holiness: her every action, little or great, was the glory of the Lord God'." এই রকম মেয়ে, এই রকম ছেলে না পেলে, কি কোন মেয়েদের, কি, ছেলেদের স্কুল রেখে তৃপ্তি হয় ? Victoria Inst.এ কবে এই ধরণের মেয়ে পাওয়া যাবে, সেই আশায় ধৈৰ্য্য ধরে আছি। তার বাড়ীটা হলে একটা কাজ হয়—কিন্তু মেয়ে তৈয়েরী, ছেলে তৈয়েরী করবার লােক চাই ত? তুমি, যামিনী ও জ্ঞানাঞ্জন যে সেবক-ব্রত নিয়েছিলে। যামিনী world নিয়ে লেখা টেখার দিক থেকে জিনিষটাকে একরকম দাঁড় করিয়েছে, এখন টাকা, টাকার দিক থেকে স্থায়ী হওয়া চাই ত ? তুমি ফিরে এলে বিশেষভাবে কোন্ কাজটা নিয়ে লেগে থাকবে, তা হয়তাে ভাবছ। জ্ঞানাঞ্জন ত পাচটা নিয়ে ছিলেন—আপাতত temperance ছাড়া আর কিছুতে মন দিতে বড় পারেন না-- সেদিন বলছিলেন, শরীর খুব খারাপ-workingman working এর অভাব—তারও বাড়ীর চেষ্টা আরম্ভ হল—কিন্তু যে জিতু জ্ঞানাঞ্জন বিশেষ উৎসাহী, তাদেরই না পেয়ে বেচারা উপেন , অনুর- বাবা) সেদিন দুঃখু কচ্ছিলেন। Steady workers ভারী দরকার। বিধাতা বিশেষ বিধানে বিশেষ কাজ কাকে কি দেবেন,
৫৪
নালুদার চিঠি
তিনিই জানেন। কিন্তু তার কাজ বলে করা চাই—যতক্ষণ না
তিনি অন্য কাজ দেন, ততক্ষণ যে কাজের ভার নিয়েছি, তা কি ছাড়া
যায়? এই রকম যারা কাজ পেয়ে তাই নিয়ে আছে, কিছুতেই
ছাড়ে না, এই রকম লােক, এই রকম ছেলে, এই রকম মেয়ে চাই।
তােমার
নালুদা
যুক্ত সত্যানন্দ রায়
( 8 )
Rajabagh
15. 2.18.
ভাই ধনী,
আমার চিঠি লেখার পাট উঠে গিয়েছে, তা বােধ হয় তােমাকে
আগেই জানিয়েছি—তা না হলে তােমার চিঠি পেয়ে কি জবাব
দিয়ে থাকতে পাত্তাম? তিন থানা চিঠির মধ্যে শেষ চিঠি
খানাতে ওখানে মন্দির করা দরকার জানিয়েছ। নববিধান সমস্ত
দেশের জন্য, পৃথিবীর জন্য এসেছেন-কে আগে নেবে, কে জানে ?
ভারতে আগে বাংলা দেশ নিয়েছে—সে রকম অন্য দেশ নেয় নি।
এখানে একজন, ওখানে একজন বিশ্বাসীর ভেতর মন্দির-প্রতিষ্ঠার
ভাব জাগছে। বছর তিন আগে গিরিডিতে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠিত
হ’ল—আমাদের সমবিশ্বাসী ভাই অমৃতলাল ঘােষের ভেতর তার
ভাব জেগেছিল, সেইটী কাজে পরিণত হ’ল। তােমার ভেতর যদি
সেই রকম ভাব জেগে থাকে, তাহলে তা যতক্ষণ না কাজে পরিণত
হয়, তােমাকে ঘুমোতে দেবে না। যার চরিত্রে নববিধান মূর্তিমান
নলুদার চিঠি ৫৫ হ’ল—তুমি তার মেয়ে তিনি তার কমলকুটীরে নবদেবালয়- প্রতিষ্ঠার সময় যে প্রার্থনা করেছিলেন—তা বােধ হয় তুমি অনেকবার পড়েছ—আর একবার পড়াে‘আমার মা বডড ভাল রে বড় ভাল। তিনি কি তােমাকে ডেকে বলেছেন--ধনী, আমার মাকে একটী মন্দির এই ব্ৰহ্মদেশে করে দাও ? তুমি যদি সেই কথা শুনে তার মা’র মনের সাধ মেটাবার জন্য উঠে পড়ে লাগাে, বিধান- জননী তােমার যা দরকার সব দেবেন, আর আমরা সেই কাজের সহায়তা করে ধন্য হব। কিন্তু তার কথা ঠিক শােনা চাই। আমি তােমার সেজদির এখানে গেল শনিবার থেকে আছি- বােধ হয় ২২শে পর্যন্ত থাকব-আমরা ভিক্টোরিয়া স্কুলের একটা বাড়ী যাতে হয়, তার চেষ্টা ক’চ্চি-তােমাকে লিখব ভাবছিলাম, এমন সময় তােমার চিঠি পেলাম—কোনটা আগে হবে ? আমরা যে তােমাদের দুজনের বিশেষ সাহায্য এই কাজটার জন্যে চাই-পাই যেন । আজ এই পর্যন্ত তােমাদের নালুদা শ্ৰীমতী সুজাতা সেন (৪১) 40 Ekbalpore Road, কলিকাতা, ২২শে জানুয়ারী, ১৯১৫ প্রাণাধিকা, তােমার দুখানা চিঠিই পেয়েছি—সব কাজ বন্ধ ছিল তাই জবাব দিতে পারিনি—তোমাদের বীণাপাণি নববিধানের নতুন
নালুদার চিঠি
নতুন গান তৈয়ের করে সকলকে শুনিয়ে নববিধানের সুখ শান্তি
সকলকে দেবেন, সেই দিকে তাকিয়ে তাকে মানুষ কর ।
ভােমার মা ঢাকার সমিতি দেখলেন, গিরিধির মন্দির-প্রতিষ্ঠা
দেখলেন, যুবকদের conference দেখলেন, আমাকে এখানে দেখতে
এসেছিলেন, তারপর ৮ই জানুয়ারীর public meetingএ গিয়ে-
ছিলেন, এখন আবার রােগে শুইয়ে পড়েছেন-নববিধানের জননী
তাকে সুখ শান্তি দিন।
তোমার।
নালুমামা
মতী ইন্দিরা রায়
(৪২)
Lily Cottage
23 June, 1915
ভাই ধনী
কাল রাত্রে তােমার চিঠি পেলাম—এ বাড়ী সম্বন্ধে শুধু তােমায়
লিখিনি ত; তােমার দিদিকে, সেজদিদিকে, নদিদিকেও লিখেছি।
তােমার মেজদিদিকেও লিখতাম, তার অসুখ বলে তাকে লিখিনি।
তােমার দিদি যদি কিনে নিতে পারতেন, তাহলে তো কোনাে
কথাই হত না, তােমাদের আলাদা আলাদা লেখবার দরকর
হত না। আপাতত এই ঠিক হয়েছে, যার যার টাকার ভারি
দরকার, তাদের কত দিলে তাঁরা তাঁদের shares ছেড়ে দিতে
পারেন, তাই জেনে তাদের shares কিনে নেবার চেষ্টা থােক।
বেশী দরকার ক্যাবলার, তারপর তোমার সেজদার- এই দুজনকে
নীলুদার চিঠি
তুষ্ট কর্তে পাল্লে, আপাততঃ রাত্রিটা রক্ষা পায়। ক্যাবলা মফস্বল,
পরশু ফেরবার কথা ছিল, ফেরেন নি। তার সঙ্গে ও তােমার
সেজদার সঙ্গে একটা বােঝাপাড়ার চেষ্টা হচ্ছে। কি হয়, বােধ হয়,
জানতে পারবে।
তােমার বাবার যাতে নাম থাকে, তার জন্য ছেলেদের ভেতর
কিছু কিছু চেষ্টা হচ্ছে। তার বই থেকে দু একটা লেখা নতুন
করে ছাপিয়ে, তা তার জন্মদিন ও স্বর্গারােহণের দিনে বিতরণ করা,
কাজটী Brotherhood কচ্ছে। জ্ঞানাঞ্জন তার একজন পাণ্ডা, এ
কাজে তােমার দিদি মাঝে মাঝে সাহায্য করেন, তুমিও বোধ হয় কর,
আরও নিয়মিত রূপে কলে ভাল হয় না? আমাদের কাগজ world
পড় কি ? 82, Harrison Road যে Boarding ছিল, তার
অর্ধেকটা studentsদের থাকবার জন্য থাকবে, আর বাকিট।
Brotherhoodএর Oice, workers ইত্যাদি কাজের জন্য
থাকবে। এখন যারা থাকবেন, তারা নতুন ভাবে থাকবেন in
the spirit of Keshub Chunder Sen—তাই সমস্ত জিনিষটার
নাম কেশব-নিকেতন করা হচ্ছে। ছেলেরা নিজের নিজের খরচ
দিয়ে থাকবে, কিন্তু জ্ঞানাঞ্জন, সতু প্রভৃতি workers ও officesএর
জন্য আপাততঃ মাসে মাসে কিছু কিছু সাহায্য দরকার জানিনে
একাজ কতদিনে এরূপ সাহায্য ব্যতীত চলতে পারবে। এখন এক
বৎসরের বন্দোবস্ত কৰ্ত্তে হয়, কুচবিহারের মহারাজা মাসে ২০,
কুড়ি টাকা করে দিতে পারেন, আরও টাকা কুড়ি ২০ চাই। তুমি
কিছু দিতে পারবে ? আশা করি, তােমাদের খুকির নামকরণ বেশ
হয়ে গেল। কি নাম হল ? ভগবান্ তোমাদের সকলকে কুশলে
রাখুন।
তােমাদের
নালুদা
শ্ৰীমতী সুজাতা সেন
নালুদার চিঠি (৪৩) Lily Cottage 78 Upper Circular Rd. Calcutta, 10 June, 1915 ভাই ধনী আমার শরীর খুব খারাপ হয়েছিল বলে চিঠি পত্তর লেখা বন্ধ ছিল, তােমারও কি তাই ? তুমি যে এক যুগ লেখনি; কেমন আছ ? শরীর মন ভাল ত? আমি কুচবিহারে মাস দুই থেকে হঠাৎ এখানে চলে এলাম, কোথায় আছি ঠিকানা দেখেই বুঝতে পারবে। তােমার বাবার এই বাড়ী কি শেষে নিলেমে বিক্রী হয়ে যাবে ? দু-একদিনের মধ্যে তােমার দিদি কি তুমি যদি কিনে না নাও, তাহলে কার হাতে গিয়ে পড়বে, কে জানে ? তােমার দাদাদের সঙ্গে কথা কয়ে জানলাম, আপাততঃ ক্যাবলার share যদি কিনে নেওয়া যায়, তাহলেও কিছু দিনের জন্য বাড়ীটা হাতে থাকে। তার পর যদি তােমার দিদি, কি তােমাদের আর কেউ সমস্ত বাড়ীটা কিনে নিতে না পারে, তখন আমরা public subscriptionsএর দ্বারা কিনে নিতে চেষ্টা করব ; তােমার ভাইয়েদের টাকার দরকার এত হয়েছে, তারা আর অন্য উপায় দেখেন না। এ অবস্থায় তাদের কাছ থেকে জিনিষটা নিয়ে নিয়ে, তােমার বাবার Memorial স্বরূপ যাতে থাকে, তার চেষ্টা করতে হবে। শুনছি যার সঙ্গে negotiation হচ্ছে, তিনি ১,৩৫,০০০ একলাখ পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা দর দিয়েছেন ; বাজারে এখনও কথাট। রটেনি, রটলে আর
নালুদার চিঠি
পাঁচজন খরিদ্দার জুটবে, আরও বেশী দর দিতে পারে, ১,৫০,০০০ কি
২,০০,০০০ দেওয়া আশ্চৰ্য্য নয়। ক্যাবলার immediately টাকা
দরকার। সুতরাং এখন আর no time to lose জেনে, তাদের
shares (২৭,০০০ কিংবা ৩০,০০০} কিনে নিতে পারলে, আপাতত
বাড়ীটা রক্ষা হয়। তােমার দিদি এ বিষয়ে তােমাকে কি লিখেছেন
জানিনে। আমি যে তােমাকে লিখলাম. তা তুমি ও তােমার স্বামী
ছাড়া আর কেউ যেন আপাততঃ জানতে না পারেন। আশা করি,
ছেলেপিলে নিয়ে তােমরা দুজনে ভাল আছ। ভগবান তােমাদের
কুশলে রাখুন।
তােমাদের
নালুদা
শ্ৰীমতী সুজাতা সেন
(৪৪)
৮২ নং হারিসন রােড
কলিকাতা
১৩ই জানুয়ারী
ভাই ধনী,
কাল ১লা মাঘ আরম্ভ হবে, programme একখানা পাঠালাম,
গেল কাল তােমার চিঠি পেলাম, ৮ই জানুয়ারির meeting
প্রায় ১০০০ এক হাজার লােক হয়েছিল। সেদিন ১০০০ "Behold
the Light of Heaven in India" পাওয়া গিয়াছিল, প্রায়
সবই বিতরণ করা হয়েছে, ছাপা হয়েছে ৫০০০ পাঁচ হাজার, তা
বােধ হয় তােমাকে বলেছি; তাতে খরচ হয়েছে বেশ, পাঠাতেও কিছু
নালুদার চিঠি খরচ হবে, তোমার দিদি ১০০ টাকা দিয়েছেন, আরও ৫০ টাকা পেলে তােমাদের ওখানে ও অন্যান্য স্থানে পাঠান যায়। টাকা যদি বেশী হয়, তাহলে অন্যান্য লেখা ছাপিয়ে যাতে লােকে পড়তে পায়, তার ব্যবস্থা করা হবে। এখন থেকে ক্রমাগত সে বিষয় চেষ্টা থাকলে কিছু কাজ হতে পারে। আমার idea-তােমার বাবার এক একটা বিশেষ বিশেষ লেখা কিংবা বক্তৃতা, যেমন “Behold the Light," ছাপিয়ে পৃথিবীতে ভাল ভাল কাগজের Editors দের পাঠান, দেশে যত ব্রাহ্মসমাজ আছে প্রত্যেক ব্রাহ্মসমাজে পাঠান, তা ছাড়া জগতে কত জ্ঞানী লােক আছেন, যত জনকে পারা যায় পাঠান, এই রকম “নববিধানের জয়রে কর ঘােষণা”। আমা- দের সমাজের গুটিকতক খুব intelligent যুবাকে এই কাজের জন্য পাওয়া যাবে। তােমার বাবার বেশী ভাগ বক্তৃতাদি বাংলায়, সে সব ইংরেজীতে তর্জমা করা চাই, একটা uniform edition of his work with index চাই, এ সব কর্তে গেলে লােক চাই, টাকা চাই। লােক যখন পাওয়া যাচ্ছে, তােমরা কিছু কিছু করে দিলে টাকা বেশ উঠে যাবে। একেবারে অনেক টাকা দেওয়া সুবিধে নয় যাদের, তারা মাঝে মাঝে কিছু কিছু করে দিলে অনেক কাজ এগিয়ে যায়। আপাততঃ Behold the Lightখানা ভাল করে প্রচার করবার জন্য যে টাকা দরকার, তুমি তাতে যা contri bute কর্তে পার, আশা করি, করবে। ভগবান্ তােমাদের সকলের মঙ্গল করুন। তােমাদের নালুদা মতী সুজাতা সেন নালুদার চিঠি (৪৫) ৮২ নং হারিসন রােড কলিকাতা ১১ই ফেব্রুয়ারী প্রাণাধিক, আজ শ্রীপঞ্চমী-সরস্বতীর আশীৰ্বাদ পেয়েছ—আরও পাও- যেন বিধানের কথা আরও ভাল করে বলতে পার। তােমার নালুমামা go-Meadville cerce srafalants Face 57, “Please tell "Nadan' that I have fallen in love with him. I I thought I was the only Kalb-i-Keshub. So glad to see another. I wish he would help me to grow into Keshub a little morel" যুক্ত সত্যেন্দ্র রায় ( ৪৬) ৩ নং (কলিকাতা) ১৯শে মে ভাই ফুটি, তােমাদের মেজকাকার কথাগুলি করাচির বন্ধুরা এই রকম করে রাখছেন—যামিনী বাবু সেখান থেকে খান কতক পাঠিয়ে- ছেন—তােমাকে একখানা দিতে বলেছেন—এইখানা তােমাকে পাঠালাম। আশা করি, তোমরা সকলে ভাল আছ। তােমাদের ছোট কাকা শ্ৰীযুক্ত বিজনকুমার সেন
নালুদার চিঠি
(৪৭)
৩ নং (কলিকাতা), রবিবার
৯ই আগষ্ট
ভাই অনুকুল,
যদি একটু সকাল সকাল মন্দিরে আসতে পার, তাহলে
কাঠগােলার ভেতর বসে উপাসনার আগে একটু কেত্তন করা যায়-
তার পর উপাসনা হয়ে গেলে ভাদ্রোৎসব ও অন্যান্য বিষয়ে
কথাবার্তা হতে পারে--অন্য কোনাে দিকে না তাকিয়ে শুধু ওপরের
দিকে তাকিয়ে এলে অনেক কিছু পাবে। আশা করি, ভাল আছ
তােমাদের
নালুদা
যুক্ত অনুকুলচন্দ্র মিত্র।
( ৪৮ )
নং, কলিকাতা
২৫শে আগষ্ট, ৮ই ভাদ্র
ভাই ধনী,
প্রায় দু মাস হল, যে দিন তােমার একখানা চিঠি পাই, সেই
সঙ্গে দ্বিজদাস বাবুরও একখানা চিঠি পাই—তার নকল তােমাকে
পাঠিয়ে দেব বলে করে রেখেছিলাম—এত দিন পরে পাঠাচ্চি।
তােমার সেজদি ও দিদির সঙ্গে কথা হয়েছিল—তাঁরা Behold the
Man ছাপাবার জন্যে প্রত্যেকে ১০০ কি ২০০১•• দিতে পারেন।
বইখানা কি, বুঝতে পেরেছ ত? প্রায় দশ বছর হ’লworld &
নলুদার চিঠি
the New Dispensation ঐ heading দিয়ে দ্বিজদাস বাবু
a series of articles লেখেন—সেই গুলি বইয়ের আকারে
ছাপাবার জন্যে বন্ধুদের ভেতর অনেকেই অনুরােধ করেন—তােমার ,
ভুলুদা করাচি থেকে একখানি
সুন্দর
চিঠির
সঙ্গে ২৫ টাকা পাঠিয়ে
দেন, বই ছাপা হলেই যেন তাকে একখানা পাঠানাে হয়—ডাক্তার
মতিবাবুও ( কাশীপুরের) সেই অনুরােধ করেন। তারা তাে
আজ পরলােকে। আমাদেরই দোষে লেখাগুলি বইয়ের আকারে
এখনও বেরােয় নি। আরও কত দেরী হবে জানিনে--যাতে শিগগির
শিগগির বেরােয়, তার জন্যে আমাদের সকলেরই চেষ্টা করা উচিত।
টাকার সম্বন্ধে যাতে দ্বিজদাস বাবুকে ভাবিত হতে না হয়, তা করা
উচিত নয় কি?
তুমি তােমার সেই বইয়ের প্রথম অংশটা আবার লিখে
পাঠিয়েছ – সে লেখা খাতা পেয়েছি-register না করে পাঠিয়েছ
দেখে আমিও একটা packet register না করে পাঠিয়েছি তাতে
যামিনী বাবুর
Brahmananda Keshub Chunder and
Paramhansa Ramkrishna 790 63151 68 pamphlet
আকারে বার করা হয়েছে তার কতগুলি আছে—এখানে কেউ কেউ
বলছেন, এ pamphlet এক লক্ষ ছাপিয়ে বিতরণ করা উচিত।
তার পর ‘True Faith' তােমাকে যে একখানা ছাপা হতেই
পাঠালাম, তা পেলে কি না খবর পাই নি—তার পর register করে
১০০ খানা পাঠিয়েছি। এ বইও কেউ কেউ বলছেন, এক লক্ষ
ছাপানো উচিত। একজন নিজের খরচে ৫০০০ পাঁচ হাজার
ছাপিয়ে বিতরণ কৰ্ত্তে চান। এ সব শুনে আনন্দ হয়। আমরা
নালুদার চিঠি ১০০০ ছাপিয়েচি-২৫০ Mangaloreএ পাঠিয়েছি, ৫০ খান Simlaতে পাঠিয়েছি, ১০০ খানা Lucknow-আমাদের খরচ হয়েছে ৭০ টাকা—বন্ধুদের ভেতর ৫ জন কি ৬ জন ১০/১৫ টাকা করে প্রত্যেকে দিলে টাকাটা উঠে যায়। ব্রহ্মানন্দ কি ছিলেন, তা এই বইয়ের ভেতর দিয়ে যেমন দেখা যায়, এমন আর কিসে! বিশেষতঃ Collegeএর ছেলেদের যেমন Bible ওমনই দেয়, সেই রকম এই বই একবার দিয়ে দেখতে হয়, অবিশ্যি যে চাইবে। বই যাতে ঘরে ঘরে বিরাজ করে, তার চেষ্টার সময় এসেছে, তােমার সে বিষয়ে কত উৎসাহ দেখতে চাই। ভাদ্রোৎসব ত’ এখনও চলছে-কাল সঙ্কীৰ্ত্তনে উপাসনা হল, আজ ক্ষিতি বাবুরও কথকতা আছে। তােমার ওখান থেকে লােভ হচ্ছে না? এখানে থাকলে বিনয় ভিক্ষের ঝুলি নিয়ে যেত। আশা করি, সকলকে নিয়ে ভালই আছি। তােমাদের নালুদা শ্ৰীমতী সুজাতা সেন (৪৯) ৮২ নং হারিসন রােড কলিকাতা ১৫ই নবেম্বর ভাই ধনী তােমার চিঠিখানি না পেলে, তােমাকে বােধ হয় আর এক- খানি চিঠি এর আগেই লিখতাম। তােমার চিঠি পাওয়ার পর নলুদার চিঠি আমি দার্জীলিঙ্গে দু সপ্তাহ তােমার মেজদির ওখানে কাটিয়ে এখানে ফিরে সিমুলতলায় গিয়েছিলাম, সেখানে তিন রাত্রির ছিলাম। তােমরা রেঙ্গুন থেকে চাটগাঁয়ে এসেছ শুনেছিলাম, কাল মণিকার কাছ থেকে ঠিকানা চেয়ে পাঠাতে তিনি রেঙ্গুনের ঠিকানা দিয়েছেন, তাহলে সেখানে ফিরে গিয়েছ, ছেলেপিলে নিয়ে ভাল আছ ত? wyllie কেমন, তােমার শ্বশুরের শরীর ভাল নয় শুনেছিলািম, তিনি কেমন আছেন ; তােমাদের যে কলিকাতায় আসবার কথা শুনেছিলাম, কি হল ? এবার তােমার বাবার জন্মােৎসব ভাল করে হয়, আমাদের ইচ্ছে-তােমাদের বাড়ী ত খালি, ভোপল বােধ হয় এর ভেতর আসবেন, জানিনে তার কতটা উৎসাহ হবে। আমি তাকে, আর তােমার দিদি, দাদা সকলকে বলেছি, লিখেছি যে, তােমার বাবার জন্মোৎসব অন্যবারে যে রকম হয়, তাতে সৰ্বসাধারণ যােগ দিতে পারে না, দেবালয়ে উপাসনা হয়, তাতে উমানাথ বাবু, মহেন্দ্র বাবু, আর ঘরের দুচার জন ছাড়া কেই বা আসে; ভগবান্ যে তােমার বাবাকে সমস্ত ভারতের জন্য সমস্ত জগতের জন্য পাঠিয়েছিলেন, তা কি আমরা ভুলে যাব ? ছেলেরা কল্পতরু পেয়ে যদি আনন্দিত হয়, তাদের জন্য তাই হােক, বুড়ােদের জন্য কিছু চাই। দেবালয়ের উপাসনায় যাতে পাঁচ জন যােগ দিতে পারেন তার ব্যবস্থা করা চাই, সৰ্ব্ব- সাধারণে শিক্ষিত (educated) যারা, তাদের কাছে তোমার বাবার জীবনের কথা বলতে হলে একটা public meeting করা চাই, গরীব গুৰ্ব্বদের খাওয়ান চাই, তাছাড়া ভাল রকমের আমােদ চাই; এবার এসবের কিছু কিছু আয়ােজন হচ্ছে, সাধারণের জন্য ;
নালুদার চিঠি
মন্দিরে ইংরেজীতে উপাসনা হবে, তাছাড়া একটী public
meeting 6 Calcutta University Institute Halla,
সুন্দরী বাবুর নৌকাবিলাস হবে। আমার বাের্ডিংএর ছেলেদের
কেউ কেউ বিশেষ উদ্যোগী হয়ে নিজেরা বেঁধে গরীবদের খাওয়াবে।
এই সব কাজে খরচ আছে, ৫০০ গরীব খাওয়াতে (লুচি, তরকারি,
মিষ্টান্ন ইত্যাদি) প্রায় ২০০ টাকা পড়বে, Meeting টিটিংএরও
খরচ আছে, প্রায় ২৫/৩০, টাকা হবে, তােমার দিদিদের দাদাদের
লিখেছি। অনেক বাজে খরচ হয়, কিন্তু এই জন্মােৎসবে যিনি যত
মুক্তহস্তে ভাল খরচ করবেন, তিনি তত স্বর্গের সম্বল লাভ
করবেন।
তােমাদের
নালুদা
@মতী সুজাতা সেন
(৫)
৮২ নং হারিসন রােড
কলিকাতা
১৮ই নবেম্বর
ভাই ধনী,
এর আগের যে চিঠি খানা লিখেছি, তা বােধ হয় পেয়েছ। সব
খবর ভাল তো? কাল কমলকুটীরে জন্মােৎসব বিশেষ ভাবে হবে,
আজ public meeting হবে, কাল ভোপল এলেন, আশা করি
লােক জনের অভ্যর্থনার ভার তিনি কতকটা নেবেন; কিন্তু খরচ
নালুদার চিঠি
পত্রের ভার বেশী ভাগ তােমার দিদি নিলে, আর তােমরা সব কিছু
কিছু নিলে ঠিক হয় না? কাঙ্গালী ভােজের (ব্রহ্মানন্দ-ভােজ)
খরচ প্রায় ২০০ টাকা হবে, তার পর রাত্রে ভদ্রলোেকদের খাওয়ান,
সেও প্রায় ২০০ টাকা পড়বে। কাঙ্গালী ভােজের টাকা ছেলের
বাড়ী বাড়ী ভিক্ষে করে কিছু তুলবে, বাকি তােমাদের কাছ থেকে
আশা করাই ঠিক নয় ? আশা করি, নিজে ভাল আছ। তােমার
মেজদিরা এসেছেন, কাল তাঁর ওখানে উপাসনা ও
হল।
তােমাদের
নালুদা
@মতী সুজাতা সেন
(৫১)
৮২নং হারিসন রােড
কলিকাতা
২রা ডিসেম্বর
প্রাণাধিক,
প্রাণের কথা, মনের কথা এমন সহজ করে’, সুন্দর কবে’ আর
কে বলবে ? তুমি চিরজীবী হও—আরও সহজ ভাব” লেখ—
তােমার লেখা পড়ে অনেকের উপকার হচ্ছে—আরও অনেকের
হবে-সরস্বতী তােমার সহায় হােন।
তোমার
নালুমামা
শ্ৰীযুক্ত সত্যেন্দ্র রায়
নালুদার চিঠি . (৫২). ৮২নং হ্যারিসন রােড কলিকাতা ৪ঠা ডিসেম্বর প্রাণাধিক, আসচে সপ্তাহে সােমবারে সাধু অঘােরনাথের স্বর্গারােহণের সাম্বৎসরিক-তুমি যে তার ভাইপাে, তা আগে তেমন করে মনে হয় নি এবার হচ্ছে—তাই বলছি, যদি তার বিষয় কিছু মনে আসে, তাহলে আসছে সপ্তাহের worldএর জন্যে লিখবে কি ? নালুমামা পুরবিবাবুর ইংরাজী গীতাঞ্জলি পেয়েছি -তুমি কি দেখেছ ? আর একটা কথা—তােমার Ramblings (including Rayings!) যা worldএ ও Unityতে বেরিয়েছে, তা এক যায়গায় করে Theistic Conferenceএর ভেতর ছাপালে কেমন হয় ? শ্রীযুক্ত সত্যেন্দ্র রায় (৫৩) ৮২ নং অ্যারিসন রােড কলিকাতা ৫ই ডিসেম্বর প্রণাধিক, তােমার চিঠি ও লেখা ‘or conterence' পেলাম--নৃপেনের remark শুনলাম--নৃপেন আর লেখেন না কেন ? তুমি যে লিখেছ, তােমার মেয়াদ ফুরিযেছে, তার মানে কি ? তোমার লেখা নালুদার চিঠি ' তােমার জন্যে, আমার জন্যে, আরও অনেকের জন্যে ভারি দরকার-আমার এক একটা আশা ও প্রার্থনা তােমাতে পূর্ণ হচ্ছে- রবিবাবুর গানের অনুবাদ চাই—আমাদেরও (ত্রৈলােক্য বাবুর ) গানের অনুবাদ চাই -আচার্যের প্রার্থনার অনুবাদ চাই—এ সব কে করবে ? তোমার নালুমামা শ্রীযুক্ত সত্যেন্দ্র রায় ৫৪ ) ৮২নং হারিসন রােড কলিকাতা ১৬ ডিসেম্বর প্রাণাধিক, এ সময় এখানে কাজের লােক সকলেই ভয়ানক ব্যস্ত-Ramblings যদি ছাপান হয়, proof ভাল করে দেখে দেওয়ার ভার তােমার নিজের নেওয়া দরকার। Unityতে যা যা বেরিয়েছে ও Good Friday Thoughts at World (8168 313 051 সহজ হবে কি না জানিনে-তােমার কাছে যদি সে সব থাকে, তাহলে তাই lesistered করে পাঠ:লে আমরা ভাল কোন pressএ দিতে পারি। ভাল করে ছাপানো খরচ যথেষ্ট হবে--আর ছাপাতে হলে ভাল কাগজে ভাল করে ছাপানই উচিত :-press এর bill বের হয় by instalments শোধ দেওয়া যেতে পারে। একটা কথা কেমন লাগে ? আমার হাতের লেখা আজকাল একটু
৭.
নীলুদার চিঠি
।
জড়ানে হয়েছে--তার কারণ অনেক লিখতে হয়, আর সময়ের
অভাৰতােমার
67311 printer, proof-reader
সকলেরই কাছে হেঁয়ালির মত—প্ৰতাপ বাবুর লেখা দেখে
একজন printer বলেছিল-“মশায় এ কি বিধাতার লেখা ?”
তােমার হাতের লেখা আর একটু intelligible হলে আমাদের,
বিশেষতঃ আমার অনেক সময় বেঁচে যেত !!
তোমার
নালুমামা
শ্ৰীযুক্ত সত্যেন্ত রায়
(৫৫)
All India Theistic Conference, 1912
Ram Mohan Ray Seminary
Bankipore, 26 Dec., 1912
প্রাণাধিক,
কলকাতা থেকে ছাড়বার সময় তোমার Master Charlatan
পেলাম—আমি কাল এখানে এসেছি-মন্দিরে Christmasএর
উপাসনা দুবেলা হােল-আজ conferenceএর উপাসনা হেরম্ব
বাবু ক'ল্লেন--Dr. Mallick সভাপতি হয়েছেন, বােধ হয় শুনেছ
আজ তার বক্তৃতা হল-কাল আমার উপাসনা করবার কথা—পরশু
যদি সব হয়ে যায়, তা হলে সেই দিনই কলকাতায় যাব -তুমি যে
লিখব না বলে আবার লিখলে ভালই কল্পে—যখন লেখা আসছে,
তখন লিখবে না কেন? “যাে আপসে আ’তা আনে দেও”।
তােমার
নালুমামা
যুক্ত সত্যেন্দ্র রায়
নালুদার চিঠি ৭১ (৫৬) Congress Camp P. O. Bankipore, 28 Dec., 1912 কাল তােমার আর একখানা চিঠি পেলাম--Delhi Outrage এর খবর কলকাতায় যে রাত্রে পেলাম, তার পরদিন Viceroyএর Private Secretaryকে একখানা telegram করি-তখন কোনাে meeting করে অনেকের indignation প্রকাশ করবার কথা মনে হয় নি। তাড়াতাড়ি চলে আসতে হল, কাল কি পরশু কলকাতায় ফিরে গিয়ে কিছু করা বােধ হয় too late হবে। Theistic Conferenceএ আমাদের লােকই বেশী ভাগ বল্লেন- সকালে আমার উপাসনা হল, রাত্রে যে সব প্রবন্ধ পড়া হল, তার ভেতর যামিনী, দেবেন সেন, হাজারিলাল, হাসারাম ছিলেন । বাকি দুজনের নাম Mr. Shiraz (Bahai movement) আর Mr. Shinde-তুমি ও নৃপেন থাকতে যদি ! তােমাদের নালুমামা যুক্ত সত্যেন্দ্র রায় (৫৭) ৮২ নং হারিসন রােত কলিকাতা ৩০শে ডিসেম্বর। প্রাণাধিক, আজ সকালে বাঁকিপুর থেকে ফিরলাম। সেখানে তােমার আরও একখানা চিঠি পেয়েছিলাম, তাতে The Bugle Call
१२
atants जिलं
আছে, বেশ! বেশ। মাঘােৎসবে এসে যদি ঐ bugle বাজাতে
পার, আরও ভাল হয় and may God-the God of the
New Dispensation-bless you, and bless you and
always bless you!
Cotta
নালুমামা
শ্ৰীযুক্ত সত্যেন্দ্র রায়
(58)
S.S. "Rewa"
12 September, 96
Saturday
Dearly Beloved Brethren,
Last Saturday it was my privilege to speak to
you a few words from the heart in view of my
coming departure then. And to-day I am on the
bosom of the wide, wide sea. Day before last we
left behind us the last faintest trace of land, the last
faintest sight of any other ship in these trackless
waters. And now the weather not being rough
though the sky is cloudy, alone the ship which
carries me sails merrily or I might say mightily along.
Such a triumphant career through the buffetting
billows of this unbounded deep is a sight for me to
contemplate with joy, with wonder and with
emulation.
atapats tot Brethern, since bidding you goodbye near Chandpal's ghat, if you ask me of what, of whom rather have I thought often and often, well I should say, of you, of each and all of you. Before leaving you, when I thought of my coming departure my heart became exceedingly sorrowful and I had no words to tell you what I felt. I have often asked myself if it were possible for me to live without the love and good will which you all bear me, and I have as often felt in reply that you are part of my being. part of my life, and I might as well think of living without God in God's world as think of living without you in an atmosphere which is filled with your love and good will towards me. Oh it is a blessed, blessed privilege to live and breathe in such an atmosphere, and I thank God for it. My brethern, I have had no sickness to speak of during the last three days and I hope I shall have none before reaching Madras tomorrow. If there be any I think it will not be from the rolling or reeling of the ship which I am perfectly enjoying but from the smell and taste of the food which I now and then take. And if not for my health 1 fear for nothing else. I have managed to get on with such food as I can take, and if I can manage to get on in this way the rest of the voyage it will be very well for me. Here in this ship every body seems kind to me from the Captain downward, I am thankful to say. And when I am in distant 98 নালুদার চিঠি England I do not know how it will fare with me, If her climate and the food that she will give me keep me up all right, well, may Heaven bless her. If not, I will trust in that Heaven and will do what He will bid me do. As I am getting far and farther from you in space, is it not true that in spirit I am drawing near and nearer to you ? If the eyes are windows of a man's soul I flatter myself that I have got glimpses into your souls which make me believe that by trusting in the common Father and in the brotherhood which knits us all together I shall be carried safely through all the trials that are in store for me. O my brethren, each one of you has been such a help to my spiritual growth, such a new revelation to me of the mysterious God, that my trust is deepening more and more that I shall never, never feel altogether alone wherever I may happen to be in this wide, wide world. Without your best wishes, without your anxieties on my account, without your deepest thoughts, aspirations and experiences expressed in whatever way you find ready for you, without all these and more what am I or who am I that I should think I can do anything? Believe me I cannot. I pray, therefore, my beloved brethren, deny me not those privileges, which you have allowed me hitherto, though I shall be far, far away from you. When the overland mail can carry messages from India to England in three weeks' নালুদার চিঠি 94 time what should prevent you from writing to me as often as you ought in order that I may say "Amen" to your deepest prayers, that I may invoke God's blessing on all your most earnest endeavours, · that I may join with you in all the sweetest hymns that you sing, -in short that I may feel that I am with you and you are with me and, though separated from each other by miles and leagues, we are yet one in spirit, one in truth, one in the love which knows no separation. It is getting dark now. The sun has just gone down. I shall not write more. I wish I could write to each of you separately. Certainly I shall do so if I am well and find time. This being Saturday evening let me pray with you in spirit. And may God's grace be with us now and always. Yours Ever One of You. Members of Young Men's Prayer meeting. (59) 6 S. S. "Rewa" 19 Sep. 96. Saturday. Dearly Beloved Brethern, Since writing you on last Saturday I have got on as well as I could. I have seen Madras and Colombo on the way and I hope you have heard of my safe arrival at both these places. Colombo is a very নালুদার চিঠি fine place and I do not remember to have seen a finer place than it. I have already been ten days on the sea and this is the eleventh day. We expect to reach Aden before Friday next, and I shall post this letter there so that when you receive this I shall have left behind me the seas of Asia and be on the seas of Europe. And I have no idea when you will hear from me next. Excepting God's company and that of the books I have with me, I have had no other company to speak of in this ship. For though I see about me men, women and children, it seems their thoughts travel one way while mine another. I have written separately to as many of you as I could and I mean to write to as many more as I can. This has been a privilege for me which I could not value too highly in my present situation. For when, though there are persons SO near me there is not one to whom I can open my heart, is it not a blessing to have persons, though very far from me, to whom my, heart opens, to whom my thoughts go and with whom they long to remain ? Yes, it is, and I am thankful for it. Believe me, my dear brethern, I have often longed to be with you, felt the want of your company, wished that I had about me those dear familiar faces which my eyes loved to look on, and were it not for the thoughts with which God blesses me, the hopes with which He inspires me, the ideals which He atagata forte 49 bids me be up and look up to, I would feel very, very sad and lonely. But then He is saying, I am always with thee. Of him I spoke a word or two on that Saturday preceding my departure. Of Him I wish to speak again and again. And who or what else is there of whom or of which if one began to speak he could speak on and on and never end, of whom one could not speak long but all speech soon ended in silent worship, in heart-felt prayer, in loving surrender of self? Omy beloved brethern, how little have we learnt to reverence God to stand in awe of His presence, to adore His perfections. We speak of praising Him, of trusting in Him, of loving Him. Alas: if we knew what it was to praise Him, to trust in Him, to love Him we would not think that we ever praised him, trusted in Him or loved Him. I think I am not very wide of the truth when I say that we are very near knowing all that. By trusting alone we know what trust is, by loving what love is. But if instead of doing that, we travelled the whole earth round, we would come back to our home no whit nearer the knowledge we went out in search of. And yet it lay all the time Very near us. I hesitate to speak of this knowledge, and, though I should be the last person to deem myself in any way worthy to speak of it, yet no matter being nearer to my thoughts now, nor pressing itself more strongly on them, I think I ought not 96 নালুদার চিঠি to put off speaking of our relations to God through trust and love. Sweeter, deeper, holier relations never existed than those between man and God. It is time, my beloved brethern, that we shoved aside all false prudence, false shame, false fear and whatever stands between us and God, and saw Him face to face, trusted in Him as never man trusted before and loved Him even as He loves us. O: for words to tell you how very deeply unworthy we are to speak of Him at all whom we adore saying, Thou art. And when He is and is so all-knowing, so infinite, so good, so great, so holy, so blessed, what was it that ever drove us to books or men to be told how to trust in Him? What was it, I ask in all earnest, that ever made us look to the right or left, to the past or the future for a measure of our trust in him? It was nothing but want of trust, my friend, it was that and nothing else I repeat. My brothers, the past can tell us through its history how others have trusted in God; great men living now can tell us how they have trusted in Him. But neither the past nor the great men living in the present can tell us how we are to trust in Him. Let us hourly thank God for all great men dead or living who have declared His glory and been witnesses of it. But God demands of us something more than this gratitude. He demands that we should trust in Him now and here, without looking to the right or left, the past নালুদার চিঠি OP or the future, without any "Because and Therefore," without any why or Wherefore. Was it not said of old "Trust in the Lord with all thine heart and lean not unto thine own nderstanding"? This is the time for that trust with all our heart, i.e., whole-hearted trust and not halfhearted. We all want in this trust. This is our first, fatalest sin, this want of trust in God. How can we be freed from this sin? How? In no other way save by trusting whole-heartedly now and here in Him of whom we say, He is. Here we have both the means and the measure, trust is the means and whole-hearted the measure. There is no other means, no other measure, and let us not look for any other means or any other measure. Let me quote from the Bible again: "Every word of God is pure; He is a shield unto them that put their trust in Him. Add thou not unto His words, lest He reprove thee, and thou be found a liar." In these words we are reminded of the purity of our relations to God. When we have seen Him and trusted in Him we are to trust Him ever afterwards. We know in whom we have trusted. Do we not know that? I do not say that we know the unknowable, that we have trusted in a visible being. I say that He in whom we have trusted is unknowable, is an invisible Being. And is not this knowledge sufficient for our purposes? Is not this knowledge the one thing needful to once ataata lot begin our lives with? Is it not the foundation on which to build our lives? We can not pretend to more knowledge of God than what he gives us in response to our trust in Him, to our earnest seeking after Him. Out of the mysterious deeps of His being He called us into existence, out of the abundance of His love He gave us life. Are any words necessary, therefore, to teach us to trust in Him? My beloved brethern, I need not write more to make you feel what I feel about our relations to God. Without more ado let us all humbly put our trust in Him. He will be a shield unto us all. Safe in His fatherly keeping we shall dwell as brothers, trusting each other, loving each other. And when we have once trusted Him let us not dare add unto His words lest He reprove us, and we be found liars. It is Monday morning when I finish this letter. Before another Saturday we shall have passed Aden and I hope I shall write to you again before we reach Naples. Meantime may God's grace be with us all. Ever Yours One of you. To Members of-Y, M, P. M.
atacata Tot by (60) S.S. "Rewa" 3 Oct. 96. Saturday Dearly Beloved Brethern. Since writing you last we haye passed Aden, Suez and Portsaid, and we are now sailing over the Mediterranean. The sea has been calm mostly and very calm here and there: so calm that I wished you were with me to look on its face. Nowhere was the sea very rough ; here and there only it was a little troubled. My voyage at the beginning seemed to me a long one, and now that I am near ending it, it seems to me a very short one. After we had left Colombo far behind us and were nearing Aden the voyage began to be more and more interesting. Far from Colombo to Aden the voyage lasted more than a week, and after about a week's sight of "water water everywhere" it was such a relief to sight land so often. I wish I had not forgot the little of History and Geography that I had learnt at school. I wish I had learnt more of them and remembered it all. As we were nearing Aden there was a rock here and a rock there raising its head above the waters- there was lazd visible at a distance. I wish there was one to tell me the history of these places. If it was some নালুদার চিঠি the north-eastern coast of Africa that we were sailing along, the fact had thoughts enough for me. Aden itself could not but be of interest deep as human nature. And the Red Sea through which we passed would have awakened thoughts in any one who knows its importance in ancient history which I am ashamed I am ignorant of. in the south part of it are a number of small islands, I have lately learnt from a book, and among them a group called the "Twelve Apostles." I do not know if any of you have any interest to know that there is a Shadwan Island in it about 10 miles of which is the reef on which the Carnatic was lost in 1866. But you have interest perhaps to know that while in the Gulf of Suez the Sinaitic Range could be seen though Sinai is hidden by intervening ranges. The history of the Suez Canal was not known to me, or knowing, I forgot it. To me it is interesting to learn that "the idea of joining the Red Sea and the Mediterranean, originated at the close of the last century by Napoleon Buonaparte, was first put into a practical shape by M. de Lesseps in 1854, when he obtained from the then Viceroy. Said Pasha, an Act of Concession empowering him to construct a canal. This was modified and renewed in 1856, and in April, 1859, excavation was commenced. In November, 1869, the canal was completed and the two seas united." Leaving Suez, in passing atenta fotos through the Suez Canal, the steamer slackened its speed and, after a day's voyage, we reached Port Said. The total length of the Suez Canal ia. 102 miles. I write all this because I feel a greater interest in my situation now than I did at the commencement of the voyage. Leaving behind me the last point of touch with Asia I am on the waters of Europe. And yet on the Mediterranean there is nothing to tell me, excepting my watch and my diary, that I am far away from the Bay of Bengal. My brethern, this is a novel experience to me. The sea is one even as God is one. The sea surrounds land even as God encompasses us all. The sea is all water even as God is all love. Mighty rocks are buried in it, giant ships are easily drowned in it, huge leviathans live in it, and yet look on its surface, it is water and nothing else. Even so are mighty wills and giant intellects easily dissolved in God's love, Living on land we divide it into parts and say, This is mine, That's thine, and quarrel and fight if you encroach on my portion or I on yours. But let us come out into the open sea and and say if we can divide it into parts and quarrel over them. Standing on the authority of the past, of written books or spoken words, we divide God's Truth into doctrines and say, This is mine and That's thine, and quarrel and fight over them. But let us once come out into the ocean of see 68 atagata fois God's love and see and say if we can divide it into parts and say This is mine and That's thine, and quarrel over them. From of old the sea has resisted all puny attempts at bending it to our wills such as the earth could not. And there it is still reminding us of the ages that are gone by, the ages that have made it what it is, that have brought it down to our age. It is older than we are, older than our fathers, our forefathers and the very remotest ancestors of whom we have any record. And yet geologists would tell us the sea had a beginning, and I should not be so foolish as to pursue my comparison of it with God's love farther than I have done. Older than the sea, older than anything that we see and consider as the oldest thing on earth, is God's love. What a thought is that! My beloved brethern, the sea had a beginning, its depths have been measured; it has bounds. "Hitherto shalt thou come, but no further; and here shall thy proud waves be stayed." But what bounds has God's love? Have its depths been measured? Had it ever a beginning? Unbounded and boundless, with depths unmeasured and unmeasurable, without beginning and without end, God's love is here as there, now as then, older than anything we know, newer than anything we see pure, all seeing true, beautiful, almighty and eternal. Should I hesitate to speak of it? Yes, let নালুদার চিঠি saw us all pause a while and look with reverence on what is, was and shall ever be. My brethern, instead of trying to write to you on the subject, I wish you were all with me at my upashana this morning and evening and we felt together what manner of love is that which God loves us with. That which was before we light, before the first man was created, is even here and now encompassing us all! That which melted Buddha's heart, that which filled Jesus soul, that which maddened Chaitanya, is not that very thingthe eternal love of God at our door to-day, begging leave to enter our homes? Is it not inviting us to taste of its sweetness, refresh ourselves at its fountains, purify ourselves by its fire, bathe ourselves in its ardours, fill our hearts with its enthusiasm, strengthen our wills by its power, and open our eyes by its touch, so that we might see who is it that begs at our door? Of it is God. It is He, whether we recognise Him or not, is. It is He who, whether we know Him or not, knows us. It is He who, whether we love Him or not, loves! My brethern, consider His eternity. Binding in one unending chain the remotest past with the nearest present He who was of old, is now and shall ever be! Why should time and space deceive us so easily? Does He not fill all time all space? Is he not present everywhere and always? Do we not live, move and have our being in Him?
নলুদার চিঠি more Why then should we waste our time with vain imaginations when the sweetness of God which is eternal is so near us? And is it not nearer to us than hands and feet, nearer than breathing? Omy beloved brethern, here I can not say what I feel. If tears had language I could attempt to describe to you the love of God. Strange that any words are necessary to make each one of us feel what is the deepest truth with respect to himself, that God loves him. Ol was ever sweeter, holier, diviner truth communicated to me? I am an off-spring of God: we are His offspring ; He loves us all; He is ours. My brethern, feel through every sentence than I can express. We knew not each other: He has made us know each other. We did not meet together: He has made us meet together. In time past we were not a brotherhood, but now Should we not shew forth the praises of him who hath called us out of darkness into His marvellous light?" This is the light of the New Dispensation into which we are born. My brethern, let us not quarrel about the past which has been for His sake who is; let us not be anxious about the future that will be, for His sake who is. Dearly beloved, let us lay aside all meddling with things which belong to God, and as "new born babes desire the sincere milk of the truth" that has been revealed to us, that we may grow thereby. we are one.
atagata Tot ba And this is the truth that God loves us, that He has called us together that we may live together loving each other. The place where we meet to pray is our prayer-meeting, the fraternity which we form among ourselves is our fraternity, evevy brother who is given to us is our brother, and He who gives us a brother is our Father. Or what a glori. ous privilege is ours! He who can call any bit of ground his and has a genuine love for it which he has not for another bit of ground, let him live and die in that bit of ground, it will be well for him. To be able to love anything as one's own is a privilege which is worth all one's earnest prayers and efforts. Brethern, let us learn to value the privilege that's ours. We e can call God our Father. The earth is our's, the sky is our's, the ocean is ozir's, and the place whither I am going is our Father's home in the west. It is Sunday evening when I write this. The sun is just setting behind clouds through which his glory shines. There is a hill near by rising above the waters and higher than the clouds which float about it. It is a more interesting thing than I imagined. It is a volcano named Stromboli and I see it belching fire and smoke. We passed by Sicily this afternoon and are nearing Naples which we reach early tomorrow morning. I shall post this letter there. From Naples we sail direct to London and I do not know when I write to you again.
atants to Beloved let us love each other; This beautiful earth, let me repeat, is ours; the sky which encompasses us is full of our God; the present moment is ours, let us make use of it in the way our Father demands of us. I feel I have not expressed myself half so well as I wished I could. But I pray that you may all feel more than I have expressed, and may God's grace be with us all. Ever yours, One of you. To Members of Y. M, P. M. (61) Το Jnanendra Mohon Sen, Oxford, 29. Dec. '96. Dear dear Jnan Baboo, Your kind letter is very welcome. I had often thought of writing to you but could not perhaps because I had no time. I have begun a letter to my prayer meeting friends which, if I can finish it, will give you some of my experiences here. I must heartily thank you for the many (or few?). welcome news which you communicate. It would be a good thing if you could revive the "Morning Star",
atogaus post
৮৯
Yes, I shall be happy to hear that you gave Mr.
Harwood a hearty welcome- I have heard from
Nolin mama about his accommodation at the India
Club.
Very sorry to hear of Protap Baboo's health
being bad. I hope to hear he has recovered.
Thank the members of “Our Fraternity" for
resolving to have a library. I shall be happy to
help them from here if I can. Yes, nothing will give
me greater pleasure than to learn that you meet
more than once a week for Upashana and other
good purposes. May God bless all your good
resolves!
My love to Sarala and blessings to the little ones
who, I am happy, remember me-May God bless
them all !
Yours always
Naloo.
02
No text on this page.
TE
নালুদার চিঠি
(১)
Peace Cottage
84 Upper Circular Road
Calcutta, 9 February 1930
ভাই সরল,
আমিও কাল রাত্রে তােমাকে যাত্রায় দেখে আনন্দিত হয়ে
ছিলাম—উৎসব যাতে শেষ না হয়, তাই এ লেবু সন্দেশ উপহার
পেয়ে আরও আনন্দিত।
তােমাদের
নালুদা
এমতী সরলা সেন
(২)
পাটনা
২৫শে জানুয়ারী, ১৯২৯
১২ই মাঘ
আজকের দিন যে সব কথা মনে আসছে, তার ক’টা কথাই
বা সকালের উপাসনায় বলতে পেরেছি—এসেছিলেন আমাদের
প্রায় সকলেই কিন্তু কি নিয়ে গেলেন জানিনে। উপাসনার পর
সেই বারাণ্ডায় বসে পড়ছিলাম লিখছিলাম। এত বড় মাঘােৎসব
কলকাতায় প্রতি বছর করে থাকি-এ বছরে সেখানে সশরীরে
নেই-যারা আছেন, তাদের ভেতর উৎসব কেমন হচ্ছে, তার
খবরও রড় নেই—প্রতি বছরেই উৎসবের সময় নতুন কাপড় পাওয়া
নলুদার চিঠি যায়—এ বছরে তাই বা কই? তার উত্তরে কাল একজোড়া নতুন কাপড় পাই, খানিক পরে দেখি, একখানা নতুন আলােয়ান এসেছে, আজ সকালে তাই পরে উপাসনা কল্লাম-কিন্তু এ নববিধানের কথা কি বলা আরম্ভ হয়েছে ? পরশু ব্রাহ্মিক উৎসব ছিল-প্রতি বছরে ঐ উৎসবে কত কথা বলে থাকি-এবারে এখানে বসে কি কল্লাম? এখানকার ভাই জােনের সহজে আনন্দের উৎসব তাে করবেন না—আর যিনি উৎসব দেন, তিনি উৎসব না দিয়েও ছাড়বেন না—তাই রােগের উৎসব, শােকের উৎসব হচ্ছে। আরতির দিনে অকিঞ্চনের বাবা এখানে সন্ধ্যায় গান টানে ছিলেন -শেষ গান শেষ হতে না হতে খবর পেলেন, অকিঞ্চনের মার কথা বন্ধ হয়ে গিয়েছে—দু তিন দিন সেই অবস্থায় থেকে শুকুর বারে দেহমুক্ত হলেন। এই উপলক্ষে তার পরিবারে প্রতিদিন উপাসনা হয়, সেখানে যা বলবার সুযােগ পাই বলি--বাকি এখানে এসে পড়ছিলাম, লিখছিলাম। ভােমার কাছে বােধহয় উপদেশ সব আছে-নবম ও দশম খুলে দেখছিলাম, “ৰান্ধি কা" বাহ্মি কা" বলতে, আৰ্যনারী বলতে কেশবচন্দ্র কি দেখতেন ? “ভাই ভগ্নী”, “পুরুষ- প্রকৃতি নারী-প্রকৃতি”,“পতিভক্তি”, “দীক্ষিতা ব্রাহ্মিকাদিগের প্রতি উপদেশ”, “ঋণ পরিশােধ”, “মহাভাব”, “সংসারে স্বৰ্গভােগ”, “আদর্শ চরিত্র”, “আৰ্য্যনারীদিগের প্রতি আচার্যের উপদেশ”, এই গুলাে দেখলাম, যে গুলো , কতবার দেখেছি, সে গুলো আবার দেখলাম-তাতে কত কি আগে। তেমন করে দেখিনি, তাও দেখলাম--“স্বর্গের ভক্তগণ, হরিকন্যাগন, তােমরা প্রেমোন্মত্ত হইয়া হরিনামগুণ গান কর। ব্ৰহ্মকন্যা, তুমি তােমার
৯৪
নালুদার চিঠি
অবিভক্ত প্রেম এবং অচলা ভক্তির আদর্শ দেখাইয়া আমাদিগকে
ভক্ত ও সুখী কর। এখন হরিকন্যার ধর্ম গ্রহণ না করিলে
কেহই সৰ্বাঙ্গসুন্দর ধার্মিক হইতে পারিবে না, সৰ্বাঙ্গসুন্দর ধর্ম
হইলে এ জীবন রাখিবার প্রয়ােজন কি?” (১ম ভাগ, পৃ ১৬৮)।
তোমাদের
নালুদা
মতী সুনীতি ঘােষ
(৩)
পাটনা
২৯শে জানুয়ারী, ১৯২৯
নববিধানের সুনু মানে কত কি, তা কি তুমি জান ? তুমিও
জাননা, আমিও জানিনে-যিনি জানেন, তিনি নববিধান-জননী
শ্রীকেশব তাঁকে দেখেছিলেন, তাই সকলকে জিগগেস করেছিলেন,
“আমার মাকে কি দেখেছি তাের বল সত্য করে’?” এখন
তিনি আরও ভাল করে দেখছেন, আর তােমাকে, আমাকে,
আমাদের সকলকে নতুন করে সেই প্রশ্ন ক’চ্ছেন। তুমি যে
নববিধানের ঘােষণার দিনে আমাকে দু লাইন লিখলে, তােমার
আর প্রিয়বাবুর দু লাইন পরশু শশাকের উৎসব থেকে বাড়ী ফিরে
এসে পেলাম-সে দিন তাে কলকাতায় সমশুদিনব্যাপী উৎসব
“১৯শে, ১৭ই, ১২ই” পৃথক করা মুস্কিল, এর ভেতর ‘নববিধানের
সুনু’র একটা প্রাণের কথা পাওয়া গেল—আমারও মন সায় দিয়া
বলে, “তুমি যদি ঐ সব দিনের মত প্রতিদিন না নতুন জন্ম পাও,
নালুদার চিঠি কাউকে মুখ দেখিও না”। আজ আৰ্য্যনারী-সমাজের উৎসবের দিনে জননী যে কথা মনে করিয়ে দিলেন উপাসনার সময়, তাই নানা রকমে প্রকাশ কৰ্তে চেষ্টা কল্লাম—সেই মাকে তােমরা ভাল করে চিনে আমাদের চিনিয়ে দিলে, তােমরাই নতুন আৰ্য- নারী হ’যে আমাদের ভক্তি শ্রদ্ধা পাবে।••••••••• তোমাদের নালুদা (৪) পাটন। ১০ই ফেব্রুয়ারী, ১৯২৯ ১লা ফান আজ হরিসুন্দর বাবুর দিন—সত্যসুন্দরের বাসায় উপাসন। কৰ্ত্তে হল আজ যে উপাসনায় পেয়েছিল—সে উপাসনায় পেয়ে- ছিল, না, হরিসুন্দরে পেয়েছিল ? সত্য যখন গাইলেন, “হৃদয়- পরশমণি”-মাতৃস্তোত্র পাঠ হ’ল-তার পর ভাগবত থেকে বেছে বেছে শ্লোক পাঠ হ'ল—তারপর “একদল সাধকের প্রয়ােজন” ('উপদেশ’ ৮ম ভাগ) থেকে কিছু কিছু পড়া হল- তারপর আচার্যের প্রার্থনা “হরিধন সৰ্ব্বস্ব” (কমলকুটীর, ২য় ভাগ) পড়া হ’ল-তারপর আমার প্রার্থনা, আর শেষে “কর প্রাণ- পণে নববিধান সাধন রে--মনে হ’লবঁকিপুরে এসে এই প্রথম উপাসনা হল—তোমরা যে ত্রৈলােক্য-উৎসব কল্লে (১০ই , তার ঢেউ এখানে এসে লাগল- যে নববিধানের প্রাণের ভেতর থেকে
নালুদার চিঠি
ঐ
গান বেরিয়েছিল বিশ্বাস-নয়নে দেখ ভবিষ্যৎ পানে রে,
উড়িছে নিশান কত বিবিধ বরণে রে-নিরাশ হইও না কেহ,
ভেবনা ভেবনা রে, আসিবে আবার কত আমাদের জনরে ।
আসিছে ঐ দলে দলে ভাবী ভক্তবংশরে-নবরূপে নববেশেরে !”
“সেই নববিধানের সুনু” মানে কত কি তা কিছু কিছু দেখেছ
আরও নির্ভরদির সঙ্গে মিলে দেখ.........
তোমাদের
নালুদা
খ্ৰীমতী সুনীতি ঘােষ।
(৫)
হাজারিবাগ
৯ই এপ্রিল, ১৯২৯
....তােমাদের ওখানে যে এবারে এত গুলো উৎসব হ’ল,
আনন্দের বিষয়-হরিদ্বারে যাওয়া, হৃষীকেশে নাওয়া, সেই Clock
Towerএর কাছে দোল পূর্ণিমায় উপাসনার পর ফুটুকড়াই খাওয়া
শুনলে মুখ দিয়ে লাল পড়ে-তবে ঈশাকে নতুন করে’, শ্রীগৌরাঙ্গকে
নতুন করে কতটা পাওয়া হ’ল, তাও জানা চাই। আমার তাে
এতগুলাে উৎসব বাদ পড়ে’ শেষে এখানকার উৎসবে একটু যােগ
দিতে পেয়ে কিছু তৃপ্ত হলাম-কিন্তু পূর্ণ তৃপ্তি কবে হবে? এ
সব ভাসা ভাসা উৎসব মনে হচ্ছে-এতে আশ মিছেনা-তােমার
জন্যে যে সব কথা মনে আসে, সব লিখতে না পাল্লে লিখতে সাহস
হয় না—যে যে দিন উপাসনা উৎসব মনে হয়, সেই সমস্ত উৎসবটা
তােমার বুকের ভেতর না দেখতে পেলে উৎসব কি ? এখানে
Good Fridayর দিন, তার পর শনি, রবি, মােম চারদিন যে
০ ০ ০ ০ ০।
নালুদার চিঠি
C
উপাসনা হ’ল, তা কি তােমায় ভেতর গিয়েছিল-পাটনায়
প্রশান্তের সেই উপাসনার ঘরে প্রশান্ত ও সুষমার গানের সঙ্গে,
নানান রংয়ের ফুলের সঙ্গে মিলে যে উপাসনা হত, তা সশরীরে
তােমার বুকের ভেতরে কি গিয়েছিল-সেই গুলিই ত আমার চিঠি
-তাই তার আগে যে পরেশবাবুর বাড়ীতে ছিলাম-সেই উপা-
সনার ঘরে আসন পাতা হত, যারা দেহে আছেন তাদের সঙ্গে
দেহমুক্তদের আসনও পাতা হত, আর সুন্দর সুগন্ধ ফুল দামােদর
বাবু নিয়ে আসতেন, তঁার গান, আমার আরাধনা, পরেশবাবুর
প্রার্থনা মিলিয়ে যে উপাসনাকে তারা উৎসব বলতেন। তার কোন
কিছু বাদ দিলে কি চলত ? তােমার প্রাণের ভেতর সেই উৎসব
নতুন উৎসব সৃষ্টি করে নতুন আকারে যদি আমার কাছে না
আসে, তাহলে তােমাকে ভাবের ভাবুক বলি কি করে ? যদি
ঈশার মরণে নূতন জীবনের আস্বাদন একটু পেয়েছ—এখন সেই
নতুন সুমুকে চাই।......
তােমাদের
নালুদা
মতী সুনীতি ঘােষ
Himalaya Brahma Mandir
Secretariat P. O.,
Simla, 1 June 1929.
অনেক অনেক নমস্কার,
হাজারিবাগ ছেড়েছি একমাস হ’ল-সেখানে আপনার হাতের
লেখা দুখানা চিঠি পাই-তখন চিঠি পড়া বন্ধ—তাই একখানাও
'।
নালুদার চিঠি
পড়া হয় নি-সেই কথা মনে হয়ে পরশু থেকে যে আবার চিঠি
লিখতে আরম্ভ করেছি, আপনাকে কখন লিখব ভাবছি, এমন সময়
আপনার হাতের লেখা আর একখানি চিঠি পেলাম—তাই মনে
হচ্ছে, আপনি অনেক দিন বাঁচবেন-এ চিঠিখানি পড়বার আগে
তিন খানি চিঠির জন্যে অশেষ কৃতজ্ঞতা দি। হাজারিবাগ থেকে
তাড়াতাড়ি দেরাদুনে যেতে হ’ল—এক শােকাৰ্ত্ত পরিবার ছেড়ে
আর এক শােকার্ত পরিবারের সঙ্গে দিন কতক রইলাম। শরীর
সম্বন্ধে-শরীর সম্বন্ধে এই উপকার দেখলাম, একটু একটু হেঁটে
বেড়াতে পারি, এখানে যে উপকার পাব আশা করেছিলাম,
তা’ কিছু কিছু পাচ্ছি—ভাত, ডাল, খিচুড়ী, রুটি, সবই খাচ্ছি
হজমও হচ্ছে—পায়ের ফুলাে নেই। একটু একটু বেড়াতেও
পারছি-যদি ওষুধ না খেয়ে, জল হাওয়ার গুণে এই উপকার
হয়েছে, আরও যদি হয়, মন্দ কি ? তাই এখন আর অন্য চিকিৎসার
কথা না ভেবে পাহাড়ের হাওয়ার গুণের কথা ভাবি যদি এখন
জুবিলির কথা বলুন-নিত্য জুবিলি না হয়ে হঠাৎ ৫০ বছর পরে
একটা লােক দেখান কিছু করে লাভ কি? থঙ্গ, বেণীবাবু
প্রভৃতির সঙ্গে মনে মনে দেখা হয় কি? এক সঙ্গে উপাসনা কোথায়
কোথায় হচ্ছে? বেহারীবাৰু কি মুঙ্গেরে গিয়েছেন? অবনীর
মা ভাল আছেন ত ?
আপনাদের
“নালুবাবু”
শ্রীযুক্ত গােপালচন্দ্র গুহ
নালুদার চিঠি
(৭)
Himalaya Brahma Mandir
Secretariat P. O.,
Simla, 7 June 1929.
নমস্কার,
আপনার ৫ই এর চিঠি আজ পেলাম—তাই তো আপনি শেষে
৩নং ছাড়লেন। নতুন বাসায় পরিচিত আর কেউ থাকেন কি ?
আপনারা কে এক ওখানে আছেন ? অবনীর মা’র পছন্দ হয়েছে
ত? আমাদের রামবাবু, হৃদয়বাবু ঐ পাড়ায় থাকেন কি? প্রেমেন্দ্র
ও দেবেনবাবু তিন নম্বরেই আছেন ত? সেখানকার উপাসনা
তারাই তাে কচ্চেন? মন প্রাণ খুলে যায়, আনন্দ উথলে উঠে
যে উপাসনায়, তাতেই তো কাজ হয়। আপনি নতুন বাসায়
গিয়ে সেই রকম উপাসনা পাচ্ছেন কি? তাতেই Jubilee আছে।
রবিবারে সকালে যে বেণীবাবু, দেবেন বাবুর সঙ্গে মিলে উপাসনার
সুযােগ পান, তাতেও Jubileeর ভাব খুলেছে, আশা করি। দুজন
হােক, তিন জন হােক, নববিধানের জননীর চরণতলে যে কজন
মিলবে, তাদেরই প্রাণের ভেতর জননী তার নতুন প্রাণ ঢেলে দিয়ে
তাদের ভাসিয়ে নিয়ে যাবেন—বিশ্বাস ভক্তি কমে না গেলে, রােজ
য়ােজ এই জননীর চরণতলে সকলে মিলে বসবার সৌভাগ্যের মত
আর কি আছে ?
আপনাদের
“নালুবাবু”
.
শ্রদ্ধেয়-গোপালচ গুহ
নালুদার চিঠি
(৮)
হিমালয় ব্ৰহ্মমন্দির
সিমলে,
২২শে আগষ্ট, ২৯
সত্যের সুধা,
আজ উপাসনায় প্রথম গান হ’ল, “জয় জয় ব্রহ্মনাম-জয়
ব্রাহ্মধৰ্ম্মবিধান”–শেষ গান হ’ল, “নববৃন্দাবনের নবলীলা দেখবি
আয় তােরা”--আজ ৬ই ভাদ্র একটা বিশেষ দিন-কাল ৭ই ভাদ্র
আর একটা বিশেষ দিন—এই রকম কত বিশেষ দিন আসছে
যাচ্ছে-দেখতে না দেখতে আমরা ভাদ্রোৎসবের ভেতর এসে
পড়েছি-উৎসব যদি দুঃখী তাপীদের জন্যে না হয়, তাহলে তা
স্বর্গের দান কে বলবে ? এই সময় যেখানে রােগ শােক, সেইখানে
“আমাদের তরে, আমাদের ঘরে, জননী এসেছেন আজি” গাইতে
হবে—তােমাকে আমাকে সেই জন্যে বাঁচিয়ে রেখেছেন তিনি।
সতুকে বললা, পরশু দুটো registered packet পেয়েছি—একটা
কাল খুলে তােমাদের দান Donay Bible খানা দেখলাম—তার
জয়ে এদের হয়ে কৃতজ্ঞতা দি’—চিঠিখানা এখনও খােলা হয় নি।
তােমাদের
নালুমামা
।
মতী সুধা বন্দ্যোপাধ্যায়
নলুদার চিঠি
১০১
(৯)
হিমালয় ব্রহ্মমন্দির
সিমলে,
২রা সেপ্টেম্বর, ১৯২৯
প্রিয়তমেষু,
অনেক দিন তােমাদের খবর টবর পাই নি -কে কেমন আছ
জানতে ইচ্ছে করে—আরও ইচ্ছে করে জানতে, নতুন বিধানের
আলাে তােমাদের ঘরে পরিবারে কেমন দেখতে পাচ্ছ। আজ
তােমাদের ঠাকুরদাদার দিন-চল্লিশ বছর আগে তিনি দেহমুক্ত
হন—তুমি যে ঘরে থাক, ঐ ঘরে খাটের উপরে কত দিন হাত পা
ফুলে বসে থাকতে হয়েছিল—শুতে পারতেন না—বেলা তিনটের
কাছাকাছি হঠাৎ সব ফুরিয়ে গেল, মনে হ’ল। এ তিন বছর আমি
এই দিনে সিমলেতে রইলাম-আজ সকালে উপাসনায় দৈনিক
প্রার্থনার ১ম ভাগ থেকে “বংশ-স্মরণ” পড়লাম। সে এ বংশের
কথা নয়, নববিধানে যে বংশে জন্ম, তার কথা—এখন আমরা সেই
বংশের কথা যত ভাবব, আর বংশের গৌরব রাখতে চেষ্টা
করব, ততই দেখতে পাব, সে বংশের ধ্বংস নেই—সকলেই অক্ষয়
অমর জীবনের আস্বাদন পেয়ে আর সব ভুলে যাচ্ছে—তােমর।
সেই জীবনের আস্বাদন পেয়ে আপনাদের পরিবারে Jubilee
কর!
তােমাদের
(ছাট কাকা
শ্ৰীমন্ বিজনকুমার সেন
১০২ নালুদার চিঠি । (১) ব্ৰহ্মমন্দির মুঙ্গের, ৫ই মাৰ্চ, ১৯২৮ এই মাত্র মনে হল, ভেবে চিন্তে যে সব কথা লিখি বা বলি, যে সব কাজ করি, তার মূল্য কি ? অনন্ত সরস্বতী ক্রমাগত বয়ে যাচ্ছেন, সেই হাওয়ার ভেতর যা পাওয়া যায়, তাই যদি রাখা যায়, দেওয়া যায়, তার মূল্য আছে-“The wind bloweth where it listeth ; thou hearest the sound thereof but cannot tell whence it cometh or whither it goeth"; so is every one that is born of the spirit (সরস্বতীর সন্তান। তােমাকে বােধ হয় এর আগেও বলেছি—এই সরস্বতীর কন্যাদের ভেতর তােমার স্থান তােমাকে না দিলে আমার পরিত্রাণ নেই-উৎসবের সঙ্গে, সঙ্গে, বিশেষতঃ মুঙ্গেরের উৎসবের সঙ্গে তােমাকে না স্বীকার কল্পে সে উৎসব পূর্ণ হবে কিরূপে? তাই ভাগলপুরের উৎসব শেষ করে এখানে কৃপা ও ক্ষিতীশকে নিয়ে এসেছি—আজ সন্ধ্যার সময় সেখানে ফিরে গিয়ে চৈতন্যোৎসব করবার কথা -এ সব উৎসবে তুমি থাকলে, সরস্বতীর কথা কিছু কিছু ধরে রাখতে—তাই তােমার কথা মনে হচ্ছে-তা ছাড়া কলকাতা থেকে খবর এসেছে, ৩ নম্বরের বাড়ীওয়ালা এই মাসের শেষে আমাদের উঠে যেতে বলেছে—অনেক বাড়ীভাড়া জমেছে—এই সময় সরস্বতীর আদর যদি হয়-“born of the spirit"-নবশিশুর দল সৃষ্টি হলে আবার একটা নতুন সম্ভব নালুদার চিঠি আমাদের দিয়ে হবে সেই ভাবে গােপাল বাবুকে লিখেছি। কাল ৬ই মার্চ-আর এক সুনীতির কথা মনে হচ্ছে—তাকেও দুটো কথা লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে। তােমাদের নালুদা শ্ৰীমতী সুনীতি ঘােষ (১১) ভাগলপুর, ১০ই মার্চ, ২৮ শনিবার এখানকার বাৎসরিক উৎসব শেষ করে গেল শনিবার মুঙ্গেরে গিয়েছিলাম-সেখানে আর কিছু হােক, না হােক, সেই মন্দিরে বসে তিনখানা চিঠি লিখতে পেরেছি-তােমাকে যেখানা লিখে- ছিলাম, আশাকরি, ঠিক সময়ে পেয়েছিলে। সােমবার রাত্রে এখানে এসে মঙ্গলবারে পূর্ণিমার চৈতন্যোৎসব হ’লতার পর দিন চলে যাবার কথা—সেদিন রাত্রে এখানকার মহিলা-সমিতির উৎসব তোমার মেজদির ওখানে হবে আমাকে থাকবার জন্যে অনুরােধ কল্লেন—রইলাম-এখন মনে হচ্ছে, না থাকলে আমিই, যাতে সমস্ত উৎসব পূর্ণ হল, তাথেকে আপনাকে বঞ্চিত কৰ্ত্তাম—দেখতে কিছুই নয়—ব্রাহ্মিকা-সমাজের উৎসব হয়ে গিয়েছে-তাতে আমাকেই উপাসনা কর্তে হয়েছিল- তােমাদের নালুদা শ্রীমতী সুনীতি খােব
১০৪
নালুদার চিঠি
(১২)
৩নং
৪ঠা অক্টোবর, ১৯২৮
আমি কিন্তু এখানে এসে মুঙ্গেরের কথাই ভেবেছি-সেখানে
যদি পূজোর সময় একটা উৎসব হয়, কেমন হয় ? এখন উৎসব
ভাবলেই তােমাকে বিশেষ করে মনে হওয়াই স্বাভাবিক-যদি
শরীর মহাশয় সহায় হন, সেইখানেই যাবার চেষ্টা হবে—তবে
Behold the Man ছাপান, আর ছােট খাট কাজ যা আছে,
তার জন্যে আটকে না যাই—যামিনীদা’কে telegram করেছি,
প্রায় এক সপ্তাহ হােল, কোন সাড়া শব্দ নেই। আজকের দিন
Salvation Armyদের কাছে বিশেষরূপে স্মরণীয়-তারা আজ
তাদের মাকে পৃথিবী থেকে বিদায় দিয়েছিলেন—Mrs. Boothএর
funeral Englandএ যে দৃশ্য লােকে দেখেছিল, Duke of
wellingtonএর মৃত্যুর পর সে রকম না কি দেখেনি ••••••••এখন
fafa General, 819 Echoes and Memories putra pfe
পাও, “The call and ministry of woman" অধ্যায়টি পড়াে,
“Woman has won her place in the Army. She
has won a very wonderful place in the world by
means of the Army...... The women who marched at
the head of the little band of despised salvationists
in years gone by were accustoming the public mind
to the spectacle of woman in command of woman
atpata foto
taking an active unshrinking share in public duty
and overcoming by the grace of God her supposed
infirmities. Thus we may truly say that we were
opening a door through which women might carry
the Message of Love and Life to multitudes who
would never receive it save from woman's
lips-That door will never again be shut." - cutata
নিভরদিদিকেও এই কথাগুলি তুলে দিয়েছি।
তোমাদের
atat
শ্ৰীমতী সুনীতি ঘােঘ
a
(13)
Himalaya Brahma Mandir
Simla, 18 June, '28
Beloved Jyoti Kumar,
Nothing could be more welcome today than
your letter and the registered packet containing
gifts for distribution tomorrow and the days
following of the utsay for which they are intended.
I take this opportunity of saying how grateful I am
for two other letters received from you and how
all here who know you feel your absence. May
the blessings of the Divine Mother be with you all
there as with all here during this festive season 1
yours ever
"Babuji"
Jyoti Kumar Anand
> 8
নালুদার চিঠি (১৪) নববিধান আশ্রম 84 Upper Circular Road Calcutta, 2 Nov, 1928 “আমাদের মন, আমাদের সাধন সব যদি ঠিক থাকে, তাহলে যােগাযােগ হওয়া কত সহজ” তােমার চিঠিখান। তাই নতুন করে’ প্রমাণ কল্পে-কদিন তােমাদের খবর পাই নি-অতিথিদের নিয়ে ব্যস্ত আছ—তারপর তােমার সতুদা গেলেন—কোনাে উৎসব হল কি না মন জানতে চাইছিল—তােমার চিঠি পেয়ে সে ইচ্ছে পূর্ণ হােল-মনে হল, সৰ্বান্তর্যামী যিনি, তিনি তার ছেলে মেয়েদের যখন সকলকে মিলিয়ে একটা কিছু করিয়ে নিতে চান, তখন কি রকম তাদের ভেতর যােগাযােগ করে দেন, দেখলে আশ্চর্য হতে হয়—ভাবলে চোখে জল আসে। আমরা যে কি করি—তিনিই তাে সব করিয়ে নেভাল করিয়ে নাইয়ে, নতুন কাপড় পরিয়ে উৎসব কর্তে বলেন, প্রকৃতির ভেতর শারদীয় উৎসব তাই- আমাদের দুর্গোৎসবও আর কি ? এর আগে তােমার দু-একখানা চিঠি এসেছিল, একখান। বিশেষ ভাবে উপাসনার সাহায্য কল্পে, তা কি বলেছিলাম ? এখন মনে হয়, প্রত্যেক চিঠি, যার দ্বারা কোনাে উপকার পেয়েছি, তা তখুনই স্বীকার কল্লে মন্দ হয় না। অন্ততঃ আমি যে কাঠ কি পাথর নই, কিন্তু নববিধানের একজন হই, তাতে প্রমাণ হয় । এক বিষয়ে যােগাযােগ তেমন দেখতে -
নালুদার চিঠি
পাচ্ছিনে, তাই একটু ভাবিত আছি—কি বিষয়ে জান ? Behold
the Man ছাপন সম্বন্ধে।•••••
তোমাদের
নালুদা
শ্ৰীমতী সুনীতি থােষ
(১৫)
পাটনা
২৮ নবেম্বর, ১৯২৮
ভাই নির্ভর,
তােমাকে মনে করিয়ে দেবার মত আরও কিছু হয়েছে বলি -
এ mailএ তত তােমার দুখানা চিঠি পেয়েছিপেয়ে মনে হয়েছে,
এবারে বােধ হয় তুমি আমাকে হারিয়ে দেবে। ছুটু সুধেন এখানে
আছেন, তা তাে জান ? গেনু অনু এর ভেতর বেড়াতে এসেছিলেন।
যে রবিবারে Dr. Drummond মন্দিরে উপাসন। কল্লেন, সে
দিন ছুটু গেদু মন্দিরে গিয়াছিলেন-আমি যাই নিতাই বােধ
হয় দুজনেই আমার সঙ্গে বাড়ীতে দেখা কর্তে এসে ছিলেন। গেনুর।
চলে যাওয়ার পর কাল ছুটুদের ওখানে উপাসনা ও খাওয়ার
নেমন্তন্ন ছিল—ডাক্তারের মানা সত্ত্বেও গিয়াছিলাম-হরিদাস
সস্ত্রীক, প্রশান্ত সস্ত্রীক, ছুটু, সুধেন, বনলতা ও আমি আমরা আট
জন উপাসনার পর এক সঙ্গে খেলাম-বাড়ীটী যে রকম নতুন ও
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, উপাসনার জায়গাটী যে রকম করে সাজানো
হয়েছিল--আর গান টান বা হল, আমার ত উৎসব উৎসব মনে
নালুদার চিঠি
হল। “হিন্দু যে বলেন, ১২ মাসে ১৩ পার্বণ, তিনি কম বলেন-নব
বিধানবাদীর ইচ্ছে কল্লে উৎসব” এই ভাবের প্রার্থনা পড়া হল -
তুমি যে Chicago থেকে তখন এখানে এসেছিলে, তাই মনে হয়।
( ২৯শে নবেম্বর )
কাল রাত্রে উপরের ঐ ক লাইন লিখে রেখেছিলাম এবার
যে ভ্রাতৃদ্বিতীয়, তারপর জন্মােৎসব গেল, কোথায় কি হ’ল, সব
খবর এখনো পাইনি--তবে কলকাতা থেকে খবর এই পেয়েছি
যে, সেখানে বিশেষ কিছু হয় নি-সতু লিখেছেন, “দেবালয়ে একটা
ফুলও ছিল না। কিন্তু লক্ষ্ণৌয়ে গেল বছরে যা ধরিয়ে দেওয়া
হয়েছিল, এ বছরে আমরা না থাকলেও যে দুটী Souvenir
বেরিয়েছে, তাইতে ভেতরের অনুরাগ উৎসাহ কিছু লেখা আছে—
তােমাকে সে দুইটাই আশা করি পাঠান হয়েছে-তা যদি হয়, যে
দুটী আমি পাঠাচ্ছি, তা ওখানে কাউকে দিলে হয়-জন্মােৎসবের
Souvenirটী বােধ হয় সকলের পক্ষে নয়—ভ্রাতৃদ্বিতীয়াব
Souvenirটী যদি ওখানে ভগ্নীদের ভাল লাগে, তাহলে তাতে
• আরও কিছু matter দিয়ে কিছু বদলে সদলে নতুন করে
ওখানে ছাপিয়ে ওখানকার উৎসবের রূপে এখানে পাঠিয়ে দিলে,
এখান থেকে যে ভীটী ওখানে গিয়াছেন, তার বুদ্ধির নতুন
পরিচয় পাওয়া যায়।
তোমাদের
নালুদা
শ্ৰীমতী নির্ভরপ্রিয়া ঘোষ
নালুদার চিঠি
(১৬)
পাটন।
২৭শে ডিসেম্ব,
১৯২৮
ভাই নির্ভর,
এ mail তােমার কোন চিঠি পাই নি, আমিও এ mail দুটো
Book Post পাঠানাে ছাড়া এখনও পর্যন্ত কিছু লিখি নি
দু-লাইন লিখতে বসেছি-এখন পরেশ বাবুর বাড়ীতে আছি-
পুরাণে বাঁকিপুর এখানে কতকটা জেগে আছে সেই উপাসনার
ঘরে প্রকাশবাবু প্রভৃতির সঙ্গে কত উপাসনা করেছি, সেখানে যে
দু-একজন সেই পুরাণাে দলের এখনও শরীরে আছেন, তাদের সঙ্গে
মিলে Christmas হল, নতুনদের ভেতর সে রকম atmosphere
হলে কি আমাদের চলে? কলকাতার কেউ এবার মুঙ্গের গেলেন
না, কলকাতার যে কি হবে জানিনে, এবার লক্ষ্যেই বিশেষ করে
সবেরই মান রাখলে --ভ্রাতৃদ্বিতীয়া, ১৯শে নবেম্বর, ১৭ই ডিসেম্বর
ও মুঙ্গের। সুনু এখানে এসেছিলেন, একদিন সুখেনের ওখানে
থেকে মুঙ্গেরে গেলেন-আজ তাঁর সেখান থেকে চিঠি পেলাম।
ভাগলপুর থেকে তার মেজদি এসে যােগ দিয়েছেননিৰ্ম্মল বলে -
ছেন, “নালুদাকে বলো, তিনি না থাকলেও উৎসব হয়”-এই কথা
যেন আরও দশজন ভগ্নীর কাছে শুনতে পাই—ক্রমে একশত জন,
লক্ষ জন মিলে এই কথা বলে স্বর্গেব উৎসব সকলে শর্তে দেখবে।
নালুদার চিঠি
তােমার কাছ থেকে এই কথা নতুন করে নতুন আকারে বেশী করে,
খুব ভাল করে শুনতে চাই—শুনতে শুনতে যেন চলে যাই।
তােমাদের
নালুদা
শ্রীমতী নির্ভরপ্রিয়া যােব
(১৭)
ভাগলপুর
২১শে মার্চ,
১৯২৭
মুঙ্গের থেকে আমার ক’থানা চিঠি পেয়েছ ?—এখন কলকাতায়
যাবার জন্যে প্রস্তুত হচ্ছি-কিন্তু হরেন্দ্রের পরামর্শ নিলে এখান
থেকে দেরাদূনেই যেতে হয়—আমার মনও তাতে সায় দেয়।
কিন্তু ৩ নম্বর ও স্কুল (Victoria) থেকে চিঠির পর চিঠি আসছে-
“এখানেও আপনাকে চাই”--তাই দুদিনের জন্য একবার হয়ে
আসি—এই মনে করে যাচ্ছি। এখন কুম্ভমেলার কথা বলতে পার
কি? হরেন্দ্র লিখেছেন, এই মাসের ভেতর গিয়ে পৌছতে-হবে
কি ? কবে আমাদের কুম্ভমেলা হবে ?
তারই জন্যে আমার
যাওয়া। তারই Missionaries চাই—Minister৪ চাই—সেবক
সেবিকা—তার ঝড় উঠছে দেখে যারা ছুটে গিয়ে ঝড়ের ভেতর
পড়বে, তাদের চাই—তারা কই ?
তােমাদের না তাদের ?)
নালুদ।
শ্ৰীমতী সুনীতি ঘােষ
নলুদার চিঠি
(১৮)
৩নং
২৫শে মার্চ
শুক্রবার
এখানে এসে কি তােমাকে চিঠি লিখি নি ?......কুম্ভমেলায়
যেতে হলে কি লক্ষ্ণৌকে অতিক্রম করে যাওয়া যায় ?...কুম্ভমেলায়
যাবার ইচ্ছে মানে পুরােণো বিধানে উৎসবেব ঝড় দেখা। ..
সত্যেন্দ্রকেও লিখব ভাবছি—যদি এখান থেকে না লিখতে পারি,
গাজীপুর থেকে চেষ্টা করব। যামিনীও বােধ হয় আমার সঙ্গে
যাবেন।
তোমাদের
নালা
শ্ৰীমতী সুনীতি ঘােষ
হিমালয় ব্রহ্মমন্দির
সিমলে, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ১৯২৭
ভাই শান্তি,
এখানে এসে চিঠি পত্তর লেখাও হয়নি- পড়াও হয়নি—এখন
যাবার সময় লিখছিও পড়ছিও তােমার চিঠি ‘যামিনীদা’র হাতে
পুড়েছিল। তিনি খুলে আমাকে পড়তে দিলেন –আমি পড়লাম
এখন তো আবার একটা উৎসবের সময় এল—সেইটে যদি লক্ষোকে
১১২
নালুদার চিঠি
হয় ? সেখানে যাবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি-গােলমালের পর যে
গভীরতর নতুন শান্তি নববিধানের বিধানে লেখা আছে, এবার
শান্তির কাছে সেই শান্তির কথা শুনতে চাই।
তােমাদের
নালুদা
শ্ৰীমতী শান্তি রায়
{ ২০)
৩নং, ৪ঠা অক্টোবর
--
ভাই সুধেন,
শুনছি তােমর যাব যাব করে’ এখন নাকি পেছিয়ে যাচ্ছ ?
বার দিনের বেশী ছুটী নেই--তাই নাকি যেতে চাচ্ছ না? যেতে
আসতে ৬দিন, আর সেখানে যদি ৬দিন থাকা হয়, তাও তো মন
নয় ? তার চেয়ে বেশী হলে ভাল হত, কি মন্দ হত, তা আলােচনা
করে লাভ কি ? A bird in the hand is worth two in
the bush" যদি সত্যি হয়, তােমরা গেলে তােমরা যে আনন্দ
পাবে, তাই কি কম ? তােমরা আমাদের দল ভারি কল্পে আমাদের
যে আনন্দ হবে, তা তার চেয়ে কত বেশী, কে জানে? দুই যােগ
দিলে (add) মােট (total) কত হয় ? অঙ্ক কসে দেখ। আর
এ শুভ সুযােগ জীবনে দশবার হবে না—এ একবারই হবে--
(Bhuloda's Memorial gathering--Karachi) U18 667
এ সুযােগ কিছুতেই ছাড়া উচিত নয়। তাই যা প্রথমে ঠিক
নালুদার চিঠি
.
করেছিলে, তাই ঠিক থাকু-must go-আর ইতস্ততঃ নয় ।
তােমাদের ত ৯ই ছুটি ? সেই দিনই বেরিয়ে পড় না? আমাদের
নানা মুনির নানা মত হয়েছে-কেউ বলছেন, ১০ই যাওয়া ভাল,
কেউ ১১ই, কেউ ১২ই, তাই আমাদের অপেক্ষায় না থেকে
তােমরা বেরিয়ে পড়লে আমাদেরও বেরােবার তাড়া হবে -
তােমরা pioneers হবে ! যামিনীর খুব আহলাদ হবে।
তােমাদের
নালুদ।
শ্ৰীযুক্ত সুধীন্দ্রনাথ মজুমদার
(২১)
৩ নং রমানাথ মজুমদার স্ট্রীট
কলিকাতা, ৭ই ফেব্রুয়ারী
প্রাণের ভগ্নী ধনী,
কতদিন তােমাকে চিঠি লিখিনি--তাই বলে কি সত্যি সত্যি
কিছুই করিনি ? তোমাকে ত কতবার বলেছি, লেখা যদি একখানা
হয়, না লেখা দশখানা কেন, একশো খানা চিঠি তােমার কাছে
যায়-যায় না কি? মনে ইচ্ছে হলে, বাইরে কাগজ, কলম, শরীর
টরীর সহায় হলে, একখানা চিঠি বেয়ােয়—আর আনন্দের সঙ্গে
সঙ্গে মনে মনে তােমাকে কত বার পাই। সেদিন প্রচারামের
উৎসব হল তোমার দিদি আসবেন না আসবেন না করে এসে
পড়লেন-কত আনন্দ হ’ল। তারপর যে মণিকা গিরিডিতে ছিলেন,
তাঁকে হঠাৎ দেখতে পেলাম, তখন যে তােমাকে মনে হ’ল, সে কি
য়ে নববিধানে আমরা কত আনন্দ পেয়েছি, সেই নববিধানই দেখিয়ে
দিচ্চেন, আমরা কত আনন্দ আপনাদের দোষে হারিয়েছি—এখন
t
১৫
১১৪ নলুদার চিঠি পঞ্চাশ বছরের পর স্বর্গের আলো -Behold the light of Heaven in India-কত সরল হয়ে, উজ্জ্বল হয়ে, আনন্দ-সুখ- শান্তি-স্বাস্থ্যপ্রদ হয়ে চারিদিকে প্রকাশিত, তা’ ভেতরের সব দরজা খুলে দেখতে হবে, সকলকে দেখাতে হবে-কে কত দেখতে পারে, কে কত দেখাতে পারে, তাই নিয়ে আমাদের পরস্পরের সঙ্গে ঝগড়া হবে। ভােমাকে দিয়ে কত আনন্দ আনন্দময়ী মা কত জায়গায় ছড়িয়েছেন—কিন্তু ভবিষ্যতের আলােকে তা কিছুই নয়—আরও কত আনন্দ তােমাকে দিয়ে ছড়াবেন-তােমাকে এখন চুপ করে বসে থাকলে চলবে না-তােমার নিজের পরিবারে তােমার স্বামীর শরীর মন তােমার আনন্দে দিন দিন আরও সুস্থ হবে-তােমার শর মহাশয় রােগশয্যায় আরাম পাবেন-তোমার ছেলে মেয়েরা স্বর্গের জীবন পাবে—আর পরিবারের বাইরে কত ভাই বােন নবজীবন পাবে। তাই আমি প্রার্থনা করি, ধনী, যেখানে সেখানে যেন কেবল আনন্দধ্বনি শােনা যায় । তােমাদের নালুদাদ। .এমতী সুজাতা সেন (২২) ব্ৰহ্মমন্দির ১৯শে মার্চ, ১৯২৪ ওহে ডাক্তার, ভাল আছ ত? দলে বলে ও বালের গেলে—এখন দলে বলে এখানে এলে বাহাদুর বলব-পুরণো নতুন যত পাপী আছে, সব নালুদার চিঠি টেনে নিয়ে এস-এখানে শ্রীগৌরাঙ্গের জল্পোৎসব যা হচ্ছে, তা আরও বেশী করে, ভাল করে হবে। এবারে দুএক রাত্তির পীর- পাহাড়ে কাটাবার কথা হচ্ছে, দেরি কজে মরবে। তোমাদের মালুদা শ্রীযুক্ত অনুকুলচন্দ্র মিত্র। Rajah Bagh Kidderpore Calcutta 2.4.19. প্রাণাধিক সতু, যে মত্ততার বাংলা বছর তো শেষ হতে চল্প—তাই যামিনী ও জ্ঞানাঞ্জনকে বলেছিলাম, এই সময়ে নতুন বছরে কি বুত নেওয়া উচিত, ভাববার সময়। উৎসবের সুফল ব্রত নিলে ভােগ করা যায়। কথা এর আগের চিঠিতে লিখেছি, তার আধার ব্রত-ব্রত পালন মানে উন্মত্ত থাকা—বিদ্যুৎ ধবে রাখবার যেমন উপায় বেরিয়েছে, উৎসবে যা পাওয়া যায়, তা রাখবার উপায় ব্রত। এবার উৎসবে বেশীর ভাগ এইখানে বসে বসেই যােগ দিয়েছি যে দুচার দিন নিকেতনে থেকে যােগ দিতে পেরেছিলাম, তার ভেতর জ্ঞানাঞ্জনকে নতুন করে পাওয়াটা বিশেষ লাভ। এখন তাকে নিয়ে উপাসনা কত্তে পেলে, তার সঙ্গে কথা কইতে পেলে, তার চেয়ে সৌভাগ্য
১১৬
নালুদার চিঠি
আর নেই। সেদিন তাকে বলেছিলাম, তুমি ফিরে আসবার আগে
এখানে আমাদের ভেতর যেন মত্ততা এমন জমাট হয় যে, তুমি এসেই
উৎসবের ভেতর পড়ে যাও। জ্ঞানাঞ্জনকে যে ভাবে পাচ্চি, সেইভাবে
যদি আরও পাই, তা হলে সেও একটা উৎসব হবে, আমিও একটী
উৎসব হব, আর আর সকলে একটা একটা উৎসব হবে, তার সঙ্গে
তুমি একটা উৎসব হয়ে মিশলে, একটী মহােৎসব হবে। আজকাল
কোন্ কোন গান খুব গাও ? একি অপরূপ মাগাে তােমার
পদকমলে। মকরন্দ-লােভে প্রমও ভকত-ভ্রমর ভ্ৰমিছে দলে দলে ।
শিব, শুক, ধ্রুব, প্রহলাদ, নারদ, গৌরাঙ্গ, ঈশা, মুষ, মহম্মদ,
জনক, নানক, কবির সুধীর, তব গুণ গায় প্রেমে গলে। প্রেমে এত
মাখামাখি ইহাদের পরস্পরে, জানি না কেহ মাগো এ বারতা এ
সংসারে ; {এত গুপ্ত কথা) (কেহ জানিত না। এখন আসিয়া
কেশব, রটালে এসব, গােপনীয় কথা ধরাতলে । &c &c" এবার
এখানে এসে এই সব গান গাইতে হবে ।
তোমার
নালুদা
মান সত্যানন্দ রায়
(২৪)
C/O Dr. P. N. Chatterji
Patna
ওহে প্রেমেন্দ্র,
এত বড় উৎসব হয়ে গেল—আর কোনো খবর নেই—কুেবল
"Come o Cone" খামের ওপর কার হাতের লেখা দেখলাম -
।
নালুদার চিঠি
১১৭
আর শেষ রাত্রে যে স্বপ্ন দেখতে দেখতে ঘুম ভেঙ্গে গেল, তাতে
ন্যান্নাবাবুর মাথার ভেতর থেকে নতুন একটা কি বেরিয়েছে দেখলাম
—এখন যদি জিজ্ঞেস কর, কি দেখলাম, কিছুই বলতে পারব না।
তোমাদের
নালুদা
ওহে প্রেমের
পেলুম জন্মােৎসব নব
হয়েছে সুন্দর
তাই করি নমস্কার
সাদরে বার বার।
তোমাদের
নালুদা
মা প্রেমেন্দ্র রায়
( ২৫)
৩ নং, কলিকাতা
২৭শে সেপ্টেম্বর
ভাই ধনী,
দুদিনের জন্য বালেশ্বর গিয়েছিলাম—আমাদের একজন ৯৫
বছরের বৃদ্ধ সাধক চলে গেলেন-তার আদ্যশ্ৰাদ্ধ হ’ল -সেই সঙ্গে
একজন ডাক্তার পরিবার আছে-দীক্ষা নিলেন। কাল ফিরেছি-
আজ তােমার ২১ তারিখের চিঠি পেলাম-এর আগে যে চিঠি
পেয়েছি, তার কথা পরে বলব।
১১৮ নালুদার চিঠি আজ একটা আমাদের দেশের পক্ষে কত বড় দিন-রাজা রামমোহন রায়ের স্বর্গারােহণের দিন-সকালে উপাসনায় কত কথাই বল্লাম—নববিধানের আলােকে রামমােহন রায়কে আমরা দেখতে শিখছি—অন্য লােকে অন্য চোখে দেখছে-দেশ শুদ্ধ, লােক যখন এক চোখে দেখবে, কত বড় উৎসব হবে। এই নববিধানের নববিশ্বাসী ভক্তের পরিবারে তােমাদের জন্ম তােমাদের প্রত্যেকের পরিবারে যে সব অনুষ্ঠান হয়, তা যদি নব- বিধানের ভাবে হয়, তাহলে প্রত্যেকটি একটা একটা উৎসব হয় । জাতকর্ম, নামকরণ, দীক্ষা, বিবাহ প্রত্যেকটি যদি উৎসব না হয়, তাহলে করে’ কি লাভ? তাড়াতাড়ি কাজ সারার ভাব এসে, যাতে পরিবারের ভেতর নতুন আনন্দ, শান্তি, প্রেম, পবিত্রতা আসবার কথা, সেখানে পুরাণো মলিন ভাব আনছে। জন কতক গৃহ-লক্ষ্মী চাই, যারা পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলি সৰ্বাঙ্গসুন্দর না করে ছাড়বেন না—তুমি তাদের ভেতর একজন হয়ে তােমার এই প্রথম মেয়ের বিয়ে সেই রকম করে দিয়ে দৃষ্টান্ত দেখাও দেখি? কলুটোলার বাড়ীতে হীরুকাকা, মতিকাকা প্রভৃতির বিয়ের সময় প্রায় একমাস উৎসবের মত হত—সে ত পুরাণে। বিধানে--নতুন বিধানে ছেলে মেয়ের বিবাহে কি রকম উৎসব হওয়া উচিত, তা যে সব বাপ মায়েরা দেখিয়ে যাবেন, তারা পৃথি- বীতে আনন্দ পাবেন, স্বর্গেও আনন্দ পাবেন। তােমার মেয়ের বিয়ে সেই রকম করে দাও, দেখ আমাকে পাও কি না। আজকাল মেয়েদের কাপড় পরা দেখলে আমার ত’ ঘর থেকে বেরােতে ইচ্ছে হয় না। নববিধানে মেয়েরা কি রকম angels and ministers
নালুদার চিঠি
১১১
of grace হতে পারে, কে দেখাবে? তােমরা যে টুকু দেখিয়েছ,
তোমাদের মেয়েরা তার চেয়ে বেশী দেখাবে না কি ?
২৭শে লিখতে আরম্ভ করে’ ২৮শে তে এসে পৌছেছি--তােমার
আগেকার চিঠিতে যে নতুন selectionsএর কথা লিখেছ, তা যদি
এই চিঠি পেয়েই registered করে পাঠিয়ে দাও, করাচী যাবার
আগে পেতে পারি।
২৬শে তােমার শ্বশুর মহাশয়ের দিন ছিল-উপাসনা আমাকেই
কতে হয়েছিল।
আশাকরি, wyllie ও সন্তানদের নিয়ে ভালই আছ।
তােমাদের
নালুদা
মতী মুজাতা সেন
No text on this page.
বিবিধ ১২২ নালুদার চিঠি পাটন। ১৭ই জানুয়ারী-১৯২৯ বৃহস্পতিবার ভাই নির্ভর, সােমবারে যে দুখানা বিলেতী ডাকের চিঠি কলকাতা থেকে re-directed হয়ে এল, তার ভেতর তােমার চিঠি ছিল না-- মঙ্গলবারেও কোন চিঠি পাই নি, তাই ভাবছিলাম এবারেও বুঝি তােমাকে হারিয়ে দিলাম কিন্তু কাল যামিনীর চিঠির ভেতর তােমার চিঠি পেয়ে তা আর ভাবতে পাল্লাম না। তােমার পড়া শুনার চাপের কথা শুনে আমার নিজের Oxfordএর experienceএর কথা মনে হয়। at first Indian student 2691 অনেকটা free ছিলাম—ছেলেরা বলত, “এ বেশ সেয়ানা, Ruskin Tuskin পড়ছে—আর আমরা Hebrew আর Greek চিবিয়ে চিবিয়ে মরছি!”—পরীক্ষার সময় বলেছিল কি জান? “Mr. Sen, তােমাকে দেখে মনে হচ্ছে, আরও দু একটা Examinations হলেও ক্ষতি নেই, কিন্তু আমাদের রাত্তিরে ঘুম হচ্ছে না। তা ছাড়া ছেলেদের সঙ্গে যে ভাব হয়ে ছিল, যেন পূৰ্ব জন্মে তারা আমার আপনার ছিল । যে আড়াই বছর ছিলাম-In my fathers western home ছাড়া কিছু মনে হয় নি ঠিক সেই সময না গেলে সে রকম experience ত কি না জানি না। সে যাহা হউক, তােমার চিঠিতে যা যা orderএর নালুদার চিঠি কথা, তা না পেয়ে কিছু মনে করে না। একটা কথা আবার বলি, কে কোথায় থাকে যখন ঠিক নেই-তখন এক জনের চিঠির ভেতর আর এক জনের চিঠি দিও না-এ সম্বন্ধে Economy কর্তে গিয়ে ঠকেছ, ঠেকে এখনও শেখ নি-আমি এখানে, যামিনী ছিলেন লাহােরে, এখন কলকাতায় মহারাণী সুচারু দেবী Budge Budge Road চিঠি আলাদা করে লিখলে, দু পয়সা বেশী খরচ হয়, but that pays in the end. আর দু পয়সা বাঁচালে business suffer করে-এ বিষয়ে আগে একটু lint দিয়েছি- যদি দেখি, তা নিলে না, তাহলে কিছু টাকা পাঠিয়ে দেব শুধু Postageএর জন্য!•••••••••প্রস্তুতির পর আরতির দিন যে একটা খুব বড় দিন, তা যত দিন যাচ্ছে, আরও ভাল করে কি দেখা যাচ্ছে না? এখানে প্রস্তুতির কদিন সুনু ছিলেন তাকে যতটা পাওয়া গিয়েছিল, তার জন্যে কি কৃতজ্ঞ হব না? আবতির আগের দিনে সুনু ও ছুটু কলকাতায় গেলেন, সেখানে বোধ হয় আজ গেনুর মেয়ের জন্মদিন, রথ দেখা কলা বেচা দুই হবে, কাল কি পরশু সুমুকে লক্ষৌ ফিরতে হবে, ছুটুও বােধ হয় এখানে ফিরবেন। গেল mail আমার চিঠির সঙ্গে তার ও সুনুর চিঠি আশা করি পেয়েছ। বড় মহারাণীকে চিঠি লিখেছ কি ? তার ঠিকানা Mansfield House, 18 New Cavendist Street, London. faqa779 479 699 পাচ্ছ কি ? আজ এই পর্যন্ত। তোমাদের নালুদা মতী নির্তপ্রিয়া ঘোষ
নালুদার চিঠি
পাটন।
২৮শে ডিসেম্বর, ১৯২৮
ভাই সত্যবতী,
৯ই ডিসেম্বরে তােমাদের চার জন ভাই বােনকে বিশেষ করে
মনে হচ্ছিল—তার ভেতর নৃপেন তাে দেহমুক্ত—এখন তুমি,
তােমার দাদা ও নান্না সাধু অঘােরনাথকে যেটুকু মনে করিয়ে
দিচ্ছ, সামনের বছরে আরও বেশী করে মনে করিয়ে দেবে না কি ?
তােমার Christmas ও New Year greetings পড়ে তাই
প্রার্থনা করি।
তােমাদের
নালুদ।
Miss S, Roy
(৩)
Rajah Bagh
Kidderpore
Calcutta
18. 6.19
প্রাণাধিক সতু,
গেল সপ্তাহে যে চিঠি লিখি, তারপর দুটী আশীর্বাদ হয়ে গেল
কুরবার কমলার, আর রবিবারে সুষমার—এ খবর বােধ হয় তােমার
মা কি কপার কাছে পেয়েছ। তােমার তো এইমসে পড়া শেষ
নালুদার চিঠি হবার কথা—তারপরে আর কতদিন থাকবে, সে খবর আশা করি শীগগির পাব। যদি অক্টোবর নবেম্বর পর্যন্ত থাকা হয়, তা হলে আরও কিছু দিন চিঠি লেখালেখি চবে। সেই ওদিকে যেমন লিখছিলাম, তাই continue কত্তে ইচ্ছে হয়। পড়াশুনাের ভেতর দিয়ে ও অন্যান্য experienceএর ভেতর দিয়ে নববিধানের নতুন কি কি পা’চ্চ, তাই জানতে ইচ্ছে হয়। এ যে কত বড় বিধান, কত উচ্চ, কত গভীর, কত প্রশস্ত, তা কোটি কোটি লােকের দেখা শুনা পাওয়া পরার দ্বারা প্রমাণিত হবে—আমরা সই ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে এখনই তার এমন প্রমাণ দেব, যা চারিদিকে কেউ অস্বীকার ক’তে পারবে না। এ প্রমাণে আমাদের পরিত্রাণ, জগতের পরিত্রাণ। “ভবিষ্যতের সন্তান” পড়েছ ত? আর একবার পড়ে।••••••সম্প্রতি ৮২ নম্বরে বই ঘাটতে ঘাটতে “The Song of Songs” একখানা পেয়ে একটু একটু দেখছিলাম।-St. Bernardএর Sermons থেকে Selections-এমন বই কে আলে ভাবছিলাম-জ্ঞানাঞ্জনও প্রথমটা বলতে পারে নি-শেষ- কালে দাগ দেখে বুঝলাম, তােমার বাবার বই-Catholic Saints দের লেখা না পড়লে কি ঈশার জীবনের ভেতরের কথা জানা যায় ? তুমি কিছু কিছু সঙ্গে করে নিয়ে আসতে পার তত ভাল। আজ এই পর্যন্ত। নলুদ। এমন সত্যানন যার
নলুদার চিঠি
(৪)
Hern Dale
Mussooree
28th Sep. 195
ভাই ছােট কাকাবাবু,
সেই Lily Cottageএ একদিন দেখা হয়েছিল, আমি তখন
বিনয়েদের বাড়ীতে যাবার জন্যে প্রস্তুত হচ্ছি, তােমার সঙ্গে
বেশী কথা কইতে পারি নি--তার পর কি আর দেখা হয়েছিল ?
ভাদ্রোৎসবের সময় আমি কলকাতায় ছিলাম-উৎসবের দিন
রাত্রের উপাসনা আমাকে কৰ্ত্তে হয়—তুমি কি উৎসবে যােগ
দিয়েছিলে? তার দুদিন পরে এখানে চলে এলাম, এসে একটা
উপকার হলাে, কলকাতা কিংবা ঢাকার মত এখানে বেড়াতে
কষ্ট হয় না—আনন্দই হয়। তুমি কেমন আছ? স্ত্রী ছেলে মেয়ে
ভাল আছে ত ? কালীবাবুর সঙ্গে দেখা হয় কি ? ঠিক কুড়ি
বছর আগে তিনি, আমি, বিনয়ে তিন জনে মিলে তীর্থে
বেরিয়ে ছিলাম-হরিদ্বার হয়ে লাহােরে গিয়েছিলাম-এবার
হরিদ্বারের চেয়ে ওপরে এসেছি। তােমাদের পূজোর ছুটি কবে
ও কদিন ? সে সময় কলকাতায় সমিতি হবে, সে খবর বােধ হয়
পেয়েছ- তাতে থাকবে ত? আজ এই পর্যন্ত।
তোমাদের
নালু
যুক্ত দেবেন্দ্রনাথ বসু
নালুদার চিঠি
১৭
Navavidhan Pracharasram
3, Ramanath Mazumdar Street
Calcutta, 4th July, 1925,
নমস্কার,
সাধু হীরানন্দকে মনে আছে কি? ১৪ই জুলাই, মঙ্গলবার,
তার স্বর্গারােহণের দিন-এবার ঐদিনে আপনাকে ও মহাত্মা
গান্ধীকে পাওয়া যাবে কি না ভাবচি। কোন্ সময়ে গেলে আপনার
সঙ্গে দেখা হয় জানিনে—এই চিঠি যে যুবকটা নিয়ে যাচ্ছেন, তাকে
দিয়ে জানালে আমি গিয়ে দেখা করে সব ঠিক করে আসতে পারি।
আপনার
প্রমথলাল সেন
শ্রীযুক্ত প্রফুল্ল রায়
No text on this page.
۹ن নালুদার চিঠি (১) হিমালয় ব্ৰহ্মমন্দির সিমলে ২৯শে জুলাই, ২৯ এখানে যাদের সঙ্গে ছিলে, তঁাদের ছেড়ে সেই সােমবারে চলে গেলে—তারপর আজ দ্বিতীয় সােমবার—আমাদের কথা, বিশেষত পেটুক আমার কথা যে ভােল নি, তার তাে প্রমাণ কত দিয়েছ।••• এখানে যে দুমাস ছিলে, আমার খাওয়া পরার কোন রকম অসুবিধে না হয়, তার জন্যে কত উপায় বার কল্লে। এখন কথা হচ্ছে, হিমালয়ের সুনু তা ছাড়া আরও কিছু কল্লেন কি না—ওখানে যে ঘরে আছেন, নতুন হিমালয়কে বুকে করে রেখেছেন কি না— এখন বাইরে থেকে ব্যাঘাতের সম্ভাবনা কম-ভেতরে একমনে ধ্যান করবার সুযােগ পাচ্ছেন কি না? এখানে আমাদের সঙ্গে মিলে উপাসনা করে যা পে’তে, তার চেয়ে বেশী কিছু পাচ্ছ কি ? যে শােক সেদিন পেলে, তার ভেতর কত কি লুকোনো ছিল, তা ক্রমে ক্রমে দেখা যাচ্ছে কি ? এখন একা উপাসনার যে সুযােগ পাচ্ছ, তাতে স্বর্গের কত রকম সৌভাগ্য লুকোনাে আছে, তুমিও জাননা, আমিও জানিনে। বর্ষায় এখানে কত রকমের ফুল ফোটে, তা দেখতে দেখতে চলে গেলে ; ওখানেও তােমাদের কলেজের বাগানে কত রকমের ফুল ফুটেছে, দেখছ বােধ হয়। আজ সকালে উপাসনায় “পুষ্পভাব প্রার্থনা পড়া হ’ল“ফুলের মতন মা শরীর হউক, ফুলের মতন মন হউক”। ভেতরে বর্ষা হচ্ছে কি
নালুদার চিঠি
না. মার প্রতি বিশ্বাস, অনুরাগ, ভক্তির ফুল ফুটছে কি না, জানতে
চাই--সেইখানেই উৎসব Jubilee--তা হচ্ছে কি না, তাই শুনতে
চাই।
তোমাদের
নাদ।
শ্ৰীমতী সুনীতি যোধ
পাটনা
১৭ই ডিসেম্বর, ১৯২৮
আজ সকালে ডাকের চিঠির সঙ্গে একটা বাক্স করা কি এল -
ওপরে হাতের লেখা তােমার—চিঠিখানা পড়লাম আমার সম্বন্ধে
যা প্রার্থনা করেছ, তােমার সম্বন্ধে আমি তাই করি—এখনও ভাই
বােনদের কাছে প্রার্থনা কর্তে শিখিনি—এইবার তোমাদের শেখাতে
হবে। আচার্যদেবের “পুষ্পভাব” আবার পড়লাম, “ফলতত্ত্ব এবং
ফুলতত্ব”ও আবার পড়লাম। এখানে Chrysanthemum খুব
হয়েছে—থাকেও অনেক দিন-সাদ। গুলি দেখে spotless
purityর কথা মনে হয়—গােলপ বড় দেখতে পাই নেতাই
অখিলবাবু, কাগজের গােলাপ কিনে আমার টেবিলের ওপর রেখে
গিয়েছেন—তুমি এখন গােরাপের মধ্যে বাস কচ্চ। , আমি যখন
প্রথমবার সিমলে যাই, গোলাপ এত হয়েছিল-আমার বর্ণনা পড়ে
আমার মেজদ। লিখেছিলেন—lt seems you sleep on a bed
of roses--তোমার সেই souvenirগুলি (ভ্রাতৃদ্বিতীয়। উৎসবেব )
১৩২
নালুদার চিঠি
আর আজ যা এল, তা pack করা দেখে তাঁরই কথা মনে হল
“হৃদয় যদি শুষ্ক হয়, পুষ্পকে বল, হে কোমল পুষ্প ভাই, পুষ্প
ভগিনি! তােমরা অতি সুন্দর, সুন্দর হস্তে নিশ্মিত, অতি নিৰ্ম্মল
এবং সুকোমল ; বল আমার প্রাণ কেন কঠিন হইল—আমার হৃদয়
কেন অবিশুদ্ধ হইল? দেখিবে, এই বলিতে বলিতে তুমিও
পুষ্পের ন্যায় পবিত্র, নির্মল ও সুকোমল হইবে। ফুল যদি তােমাদের
সহায় হয়, তােমরা সুখী হইবে, বিশুদ্ধ হইবে, ভক্ত হইবে, কোমল
হইবে।” এবার ভাই-দ্বিতীয়ায় ভগ্নীদের কাছে ভিক্ষা কর্তে
শিখেছি—ফুলের ভেতর নেবার যা কিছু আছে, তা আমাদের
চেয়ে তােমরা আরও সহজে বার করে নিয়ে আমাদের দেবে—
এবার তােমাদের এই কাজ। সেই
তােমাদের
নালুদা
শ্ৰীমতী সুনীতি ঘােষ
(৩)
পাটনা
১৪ই ডিসেম্বর, ১৯২৮
শ্রীচরণেষু,
আজকে ঠাকুমার স্বর্গারােহণের দিনে কলুটোলার বাড়ীর কথা
মনে হয়। বাবা টাবা তাঁর কত আগে চলে গেলেন তিনি
ছেলে মেয়ে সকলকে বিদায় দিয়ে, শেষে নাতি নাতনীদেরও
কাউকে কাউকে বিদায় দিয়ে, গেঁড়িদের বাড়ীর সেই পথের ঘরটিতে
নালুদার চিঠি
দেহ রেখে গেলেন। তার ছেলে মেয়েদের পরিবার পাঁচ দিকে
ছড়িয়ে পড়লেও, মাথার ওপর তিনি যে guardian angel হয়ে
রয়েছেন, তা যেন আমরা নাতি নাতনীরা সকলে মিলে দেখতে ,
পাই। তাদের সময় তারা কত তীর্থ করতেন। আমরা ছেলে
বেলা থেকে “চেতঃ সুনির্মলং তীর্থ” বলে আসছি-কিন্তু সেই
সঙ্গে সঙ্গে বাইরেও যে সব তীর্থ দেখেছি, তার আদর করিনি, তাই
ঘর বাড়ী দেবালয় ব্ৰহ্মমন্দির এখনও সামান্য মনে করি। তাই
মুঙ্গেরের আদর করি নি।
তােমার হাতের লেখা দেখে আনন্দ
হ’ল, মনে হ’ল, এখনও হাতে জোর আছে। আমার শরীর
কলকাতার চেয়ে ভাল—ফুটির আবার colic হয়েছিল শুনে মনে
হচ্চে, এবারে মুঙ্গেরে একসঙ্গে গিয়ে থাকলে কেমন হয়, রথ দেখা
কলা বেচা দুই হতে পারে।
মেহের
নালু
শ্ৰীযুক্ত অমৃতলাল সেন
{ ৪)
C/O H. D. Chatterji Esg.
Museum Road
Patna
১১ই নভেম্বর, ১৯২৮
ভাই মণিক,
সেই লক্ষ্ণৌয়ে সঙ্ঘের কথা বেশ মনে আছে কি ? সেখানে
আমাদের ভাই বােনেরা আজ ভাই দ্বিতীয়ার উৎসব কচ্চেন গেল
নালুদার চিঠি
বছরে আমি তাদের সঙ্গে সশরীরে যােগ দিয়ছিলাম—এ বছরে
আমি এখানে বিশেষ ভাবে শরীরের জন্যে এসেছি-সে পুরাণে।
প্রাথনা নতুন করে ক’চ্চি—তােমাদেরও যােগ দিতে বলছি-
"ফোটা দেওয়ার অর্থ এই যে, তাের এত আদর, তুই উপযুক্ত হ,
ভাল হয়ে চলিস। কার সম্পর্কে ফোটা দেওয়া হল ? জগজ্জননী
যে সকলের মা। হে মঙ্গলময়, দয়া করে এমন আশীর্বাদ কর,
যেন সুমিষ্ট পবিত্র ভ্রাতৃপ্রণয় হৃদয়ে রেখে, জগতের সকলকে ভাই
বলে, ভগ্নী বলে ডেকে, অত্যন্ত বিনয়ী নম্র প্রণত হয়ে সকলের
সেবা করে’ শুদ্ধ হই।”
তোমাদের
নালুদা
এমতী মণিকা মহলানবিশ
(৫)
৩নং, কলিকাতা
২৬শে মে, ১৯২৫
আজ এখানে খাবার সময়ে হঠাৎ পায়েস দেখে সকলেই জিগগেস
কতে লাগলেন, আজ কি কারু জন্মদিন? আমিও জানতাম না
পায়েস (
কেন, তবে মনে হল, আজ তো আমাদের সুনুর জন্মদিন
( দীক্ষা), তাই নয় কি ? অন্য জন্মে কাজ কি ? কাল তােমার
চিঠির জবাবে যে কথা লিখেছি, তার ভেতর নতুন জন্মের কথা
ছিল—আজ আবার তােমার চিঠি পড়লাম—“নেযে খেয়ে স্বর্গে
যাব”—এই স্বর্ণ ই ত’ প্রকৃত স্বর্গ-স্বর্গীয় ভাবে নাওয়া, স্বর্গীয় ভাবে
নালুদার চিঠি
খাওয়া, তার বেশী স্বর্গের জননীর কাছে কি চাইতে পারি ?
সেই নাওয়া, সেই খাওয়া সকলের ভাগ্যে ঘটবে—এই কথাই নিজে
শিখে সকলকে বলতে হবে-এই ত নববিধান-এই নববিধানে
দীক্ষা রােজ রােজ নিলে আর কিছু কত্তে হয় না-তােমার এই
দীক্ষা রােজ রােজ হাে।
তোমাদের
নালুদা
মতী দুর্নীতি ঘোষ
(৬)
৩নং, কলিকাত।
১লা অক্টোবর, ১৯
তােমার চিঠি কাল পাই।••••• ওখানে গিয়ে খুব বেড়াতে
পাবে ভেবে যে আনন্দ তােমার হয়েছে, সে আনন্দের ফল দেখতে
চাই—যখন শুনব শরীর মন সুস্থ হয়েছে, তখন বুঝব আনন্দ
সফল হয়েছে। তাতেই কি সন্তুষ্ট হব? শরীর মন সবল হয়েছে
শুনলে আরও আনন্দ হবে—তাহলেই কি হবে? যতক্ষণ না
শুনি, “দেহ মনে ভাই দুজনে মেতেছে নাম-কীৰ্ত্তনে”, ততক্ষণ আনন্দ
পূর্ণ হবে না। তাই হােক, জন্মদিনের জন্য এই প্রার্থনা।
তােমাদের
নালুদা
শ্রীমতী সুনীতি ঘোষ
নালুদার চিঠি
(1)
C/O P. K. Sen Esq.
পাটন।
১৭ই এপ্রিল, 1924,
ভাই সুনু,
আমার চিঠি পেয়েছ ত? তাতে কি লুপ্ত তীর্থ উদ্ধারের
কথা লিখেছি? প্রকাশবাবুর বাড়ীতে কাল রাত্রে ছিলাম—সেই
খান থেকে এই চিঠি লিখছি। এ কেমন তীর্থ, কেমন করে তােমাকে
জানাব? তুমি কখনও এখানে প্রকাশবাবু থাকতে ছিলে কি?
তাঁদের সঙ্গে মিলে উপাসনাদি যা করেছি, সে উপাসনায় যা দেখেছি
—সে উপাসনার বিশেষত্ব সব যেন নতুন করে আবার পাচ্ছি-
তাই মনে হচ্ছে, যেখানে যা একবার পাওয়া গিয়েছে সেখানে গিয়ে
সেই জিনিষ আবার যদি পাওয়া যায়, যেন হারানাে ধন পাওয়া
গেল মনে হয়। মুঙ্গেরে এই রকম হয়েছিল—তাই মুঙ্গের নতুন
করে কত প্রাণকে টানছেন—তুমি ওখানে বসে কি কি তীর্থ
উদ্ধার কল্পে বল? মা ও বােনেরা ভাল আছেন ত ?
তোমাদের
নালুদা
মতী সুনীতি ঘােষ
(৮ }
৩, কলিকাতা
১৬ই জুন, ১৯২৪
তােমরা যে বনতীর্গে গিয়েছিলেত থেকে “মন তীর্থের
কথা মনে হােল-আমাকে লেখবার ইচ্ছে হোল—আমি তোমার
নালুদার চিঠি চিঠি পেয়ে ভাবছিলাম, আমিও তো আজকাল তীর্থের কথা ভাবছি, পড়ছি, বলছি-সুনুও এই বিষয় লিখেছেন, ভালই হয়েছে—তবে চিঠিতে কি সব কথা লেখা যায় ? “উপাসক! তুমি কে, জান না? যে হও সে হও, তুমি অমৃতের উৎস, তুমি রত্নের আকর। কে কাঙ্গাল? তুমি আমি দুজনই—রত্ন নাই বলিয়া নহে, রত্ন আছে তাহা দেখি নাই বলিয়া।” তুমি ওখানে থেকে কি কি রত্ন পেলে, তা আমাদের দেখালে তাই নিয়ে আলােচনা করা যাবে। সেই আশায় রইলাম। মাকে আমার প্রণাম জানাবে। তােমাদের নালুদ। মতী সুনীতি ঘোঘ ৩নং ১৭ই ডিসেম্বর, ১৯২৩ ( জন্মদিন ) ভাই সুনু, তােমার চিঠি পড়লাম—তার ভেতর আমার নতুন জন্ম হল- সেদিন সরলার ওখানে সেই প্রার্থনাই করেছি-মুঙ্গেরের ঋণ পরিশােধ কৰ্তে হলে পরস্পর পরস্পরের ভেতর ভক্তির নতুন জন্ম হবেই-তাই সকলের হােক। তােমাদের নালুদা ইমতী সুনীতি ঘোষ ১৮
নালুদার চিঠি
৩নং
১৭ই ডিসেম্বর, ১৯২৩
ভাই গে,
তােমার ও অন্যদের উপহার পেলাম--ভভারের বেলা পূর্বেব
আকাশ সুন্দর দেখলাম-এখন এই সুন্দর ফুলগুলি পেলাম
তােমরা সকলে প্রার্থনা করো, তােমাদের সকলের সঙ্গে আমারও
ভেতর যেন স্বর্গের সৌন্দর্যে পূর্ণ হয়। সরযু মণিকাকে এই প্রার্থন।
জানিও।
তোমাদের
নালুদা
এমতী জনপ্রিয় যােব
(১১)
20 South Hill Park
Hampstead
London N. W.
১লা সেপ্টেম্বর, ১৯১১,
জ্ঞানবাবু, নমস্কার, ইন্দিরার বিয়ের নেমন্তন্ন চিঠি পেলাম—
আশা করি নতুন আবার একটা পরীক্ষা এলেও বিয়ে ভালয় ভালয়
হয়ে গিয়েছে। মণিকার যে খুব জর হয়েছিল, এতদিনে বােধ হয়
ভাল হয়েছে। তবে একটা পরীক্ষার পর আবার একটা পরীক্ষা এসে
আনলের ভেতর ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে, বােধ হয়, আনন্দকে বিমল ঝরে
দিলে—তার জন্য সেই আনন্দময়ী জননীর কাছে বিনীত কৃতজ্ঞতাই
নালুদার চিঠি শােভা পায়—তিনি কৃপা করে আমাদের সকলকে এই কৃতজ্ঞতা রসের আস্বাদন দিন। ইন্দিরার বিয়ে যতদিন হয় নি, ভাবনা ছিল- আবার বিয়ে হয়ে গিয়েও ইন্দিরাকে ছেড়ে দিয়ে আপনারা থাকবেন কি করে’, সেও একটা ভাবনা - যার চরণতলে সকল ভাবনা দূর হয়, তিনি আপনাদের সকলকে শ্রীচরণে আশ্রয় দিন। আপনাদের “নালুবাবু” Sj Jnanendra Mohon Sen.
No text on this page.
পৰলােক
১৪২
নালুদার চিঠি
(১)
C/O B. K. Niyogi Esq.
Hazaribagh
৪ঠা এপ্রেল, ১৯২৯
প্রাণাধিক মণিকা,
মুঙ্গের, কলিকাতা, ভাগলপুরে পরে পরে তিনটে উৎসবে বাদ
পড়ে যখন এখানকার উৎসবের কথা পাটনায় গেল, বল্লাম, কেউ
যদি গিয়ে নিয়ে আসতে পারেন, চেষ্টা করে দেখি-Good Friday
ছুটীতে উৎসব হ’ল-যারা যারা এসেছিলেন, মহেশবাবু ছাড়া
সকলেই চলে গিয়েছেন। এখন তােমাদের চিঠির জবাব দিতে
চেষ্টা কচ্চি-পাটনা থেকে redirected হয়ে Good Fridayর
বিকেল বেলা আমার হাতে পড়ল—তােমার শাশুড়ী ঠাকুরাণীর
অনেক বয়স হয়েছিল—বােধ হয় ৯০এর ওপর হবে—তিন চার
পুরুষ দেখলেন—এত দিন পৃথিবীতে থেকে চলে যাওয়া যে কি,
যারা অল্প দিন থেকে চলে যায়, তারা কি বুঝতে পারে ? তা
পারুক আর নাই পারুক, মাকে, মা শরীরে থাকতে থাকতে কিরূপ
ভক্তি কতে হয়, শরীর ছেড়ে চলে গেলে কিরূপ সম্বন্ধ সাধন কৰে
হয়, তা বিধানের আলােকে যদি দেখতে না পাওয়া যায়, আর কোন
আলােকে পাবে? নববিধান পুরাণাে বিধানের ভাল জিনিষগুলি
আগেকার চেয়ে আরও ভাল করে’, সুন্দর করে আমাদের হাতে
দিচ্ছেন, আমরা পৃথিবীর মলিন হাতে স্বর্গের দান না নি, সে বিষয়ে
সাবধান করে দেন। পুরাণো বিধানে “মাতরং পিতরঞ্চৈব সাক্ষাৎ
প্রত্যক্ষ দেবতাম” রূপে দেখতে শিখেছিলাম—পরে ভুলে গিয়ে
নালুদার চিঠি
১৪৩
ছিলাম—তাই ভাল করে মনে করিয়ে দেবার জন্যে মৃত্যু এল,
শােক এল, শশাকের জলে চোক পরিষ্কার হ’ল—“জননী ধর্গাদপি
গরীয়সী” এই সত্য প্রকাশিত হ’ল—সুবােধ, প্রবােধ, ছেলে মেয়েরা
এই শোকে পরিষ্কার চোখে মাকে, ঠাকুমাকে দেখে, তাকে না
হারিয়ে নতুন করে ভাল করে পেয়ে কৃতার্থ হােন, এই প্রার্থনা
করি।
তোমাদের
নালুদা
শ্ৰীমতী মণিকা মহলানবিশ
(২)
C/
OB. K. Niyogi Esg.
Hazaribagh
25 April, 29
Beloved Brother and Sister.
Jamini sends dreadful news. It must have come
to you all as a bolt from the blue--the shock of
which I too have been trying to feel with you.
But she who is the chief loser, our dear sister
Nischinta Devi's sorrow is too sacred and too deep
for words. Perhaps others can neither realise nor
comprehend it; it is known to herself only and
God. But we who have been taught to worship
the same God as our Divine Mother who has often
388 atauto Foto said to us "Can a woman forget her suckling child? Yea, she might forget, yet will I not forget thee"-we know She never leaves us alone in our distress. And when She seems to take back to Herself the person She gave us to love, it is only to try our love and faith, for She gives back to us our Loved One, not in the old form we saw on earth, but in heaven's new form. Is it not our privilege to find that we are nearest to the Mother in Heaven when we seem to be farthest from Her and that She with Her Heavenly Host, comes and dwells with us in our hours of bereavement on earth. In that Heavenly Host do we not hear the sweet words of the Man of Sorrows who said: "Blessed are they that mourn: for they shall be comforted"? and the voice of our own bhaktas saying 'cat 447 471 491 (sorrow is the supreme service of God) ? May this sweet faith sustain you all, and especially our dear sister, in her terrible trial ! always yours 'Nalooda Mr. and Mrs. Behari Lal Anand
নালুদার চিঠি
১৪৫
(৩)
Himalaya Brahma Mandir,
Secretariat P. O.,
Simla, Friday, 7 June, 1929.
নমস্কার,
সেই গেল বছরে এখান থেকে কলকাতায় ফিরে গিয়ে দিন
কতক দেখ। শুনাে হয়েছিল—তার পর আমি যে ভাঙ্গা শরীর
নিয়ে কলকাতা ছাড়লাম, সে প্রায় সাত মাস হল—এখানে কিছু
কিছু উপকার পাচ্ছি—কত দিন থাকা হবে জানিনে। পাটনায়
যখন পরেশ বাবুর বাড়ীতে ছিলাম, যে চারজন বন্ধুকে রােজ
উপাসনাদিতে পেতাম, চারজনই বিপত্নীক, নােজই উৎসবের
মত হত। সেখান থেকে হাজারিবাগে গেলাম, ক্ষিতীশচন্দ্রের
পিতা চলে গেলেন-তাঁদের নিয়ে দু'চার দিন উপাসনা করার
সুযােগ পেলাম-শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হবার আগেই দেরাদুনে বিমলবাবুর
মা’র শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে আহত হয়ে গেলাম। শােকার্ত পরিবারের
সঙ্গে দিন কতক কাটিয়ে এখানে এসে আর একটি শােকার্ত পরিবার
নিয়ে উপাসনা হয়। আপনার খবর এই মাত্র জামাই
অনুকূলের
কাছে পেলাম-দিন কতক আগে ভাইকে হারিয়ে এখন আবার
ভগ্নীকে হারিয়েছেন। কাছে থেকে এই সময় উপাসনার ভেতর
দিয়ে যা পেয়ে দেওয়া যায়, দুরে থেকে উপাসনারই ভেতর দিয়ে
তা পেয়ে দেওয়া যায় না কি ? “মহামিলন-সঙ্গীত গাইব সকলে,
বসি’ মা আনন্দময়ীর চরণতলে।”
আপনাদের
“লালুবাবু”
যুক্ত অনুকুলচন্দ্র গায়
নালুদার চিঠি
(৪)
হিমালয় ব্ৰহ্মমন্দির,
সিমলে,
২৯শে জুলাই, ১৯২৯
প্রণাধিক মুধা ও দেবেন,
এ ক’দিন বিশেষ করে তােমাদের কথা কে মনে করিয়ে দিচ্ছে?
সেই Royd Streetএর বাড়ী-সেই যে ঘরে তােমাদের সেই
একমাত্র ছেলে দেহটা রেখে চলে গেল—সে কান্নাকাটি সেই দিনে
তারপর বছরে বছরে ঐ দিনে তােমাদের কতজনের সঙ্গে মিলে
সেই ঘরে বসে যে শশাকের উৎসব করেছি, তা কি ভুলে গেলে
চলে ? সে উৎসবে যা পেয়েছি, তা হারালে পরলােকে যাব কি
নিয়ে? সেই বাইরে বৃষ্টির জল, আর ঘবের ভেতর আমাদের
চোখের জল-তা’তে কত শান্তি, কত সান্ত্বনা পাওয়া যেত।
তারপর সেই খাওয়া—সে কি খাওয়া, না, “বুড়াে”কে সকলে মিলে
নতুন করে পাওয়া? এ তিন বছর এখানে থেকে সে সৌভাগ্য
থেকে বঞ্চিত—কিন্তু aeroplane এর দিনে মনে হয়, যেখানে
যেখানে এইরূপ যেতে ইচ্ছে হয়, দুদিনের জন্যে যাওয়া অসম্ভব নয়।
এখানে বর্ষা না হলে পাহাড়ের চেহারা পােল না-কত রকমের
ফুল ফুটতে পায় না- মন্দিরের বেদী সেই সব ফুলে সাজান হয়,
সেই বেদীর কাছে বসে আমাদের প্রতিদিনের উপাসনা হয়—আজ
হিমালয়ের প্রার্থনা থেকে “পুষ্পভাব” পড়া হ’ল। “আমার ফুল
ফুটেছে, ফুটেছে বলে পাগলের মত চীৎকার করি। হিমালয়ের
উপর দাড়াইয়া বলি ভারতকে, দেখ আমার ফুলের বাহার কত।
নালুদার চিঠি ১৪৭ সকলকে ফুল লইতে বলি।” তােমাদের “বুড়াে” দেহে থাকতে শুধু তােমাদের ছিল না—আরও কত জনের ছিল-এখন আবার তার চেয়ে আরও কতজনের প্রেমের শ্রদ্ধার আস্পদ হয়েছেন, কে জানে? নতুন বাড়ীতে উপাসনা, বােধ হয়, ছাদের উপর নতুন ঘরে হবে—ফুল দিয়ে যখন সাজাবে, তখন প্রত্যেক ফুলের ভেতর প্রেমেন্দ্রকে দেখাে-সে তার ভেতর থেকে তােমাদের প্রার্থনা ক’ত্তে বলছে-“হে হৃদয়বন্ধু, আমাদের মধুময় কর ; মধুময় চিন্তা, মধুময় কথ', সব মধুময় হউক। ফুলের মতন, মা, শরীর হউক, ফুলের মতন মন হউক, নিস্পাপ নিৰ্ম্মল হই।” তােমাদের নালুমামা পু-তোমরা যে বুড়াের নাম করে এই সময় কিছু দান কর, আমার মনে হচ্ছিল, এবার যদি টাকা না দিয়ে একখানা Catholic- দের Bible কিনে এখানে পাঠিয়ে দাও, আমারও কাজে লাগে ও এখানকার মন্দিরের libraryতে তার স্মৃতিরূপে থাকবে। সে 7? (Doney Bible) 6714 59 Catholic Orphan Press, 4 Portuguese Church Street ছাড়া অন্য স্থানে পাবে না। শ্ৰীমতী সুধাংশুবিকাশিনী দেবী . যুক্ত দেবেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
১৪৮
নালুদার চিঠি
C/O H. D. Chatterjee Esq.
Income Tax Commissioner
Patna
১২ই নবেম্বর, ১৯২৮
আমাদের ধনী,
হিমালয়ে যে ক' মাস ছিলাম - দু বেলা বেড়াচ্ছিলাম—চা
খাচ্ছিলাম -হজম হচ্ছিল—মনও খুলে গিয়েছিল-চিঠি পত্তর
লেখবার সুবিধেও ছিল—কিন্তু লিখিও নি, পড়িও নি। তবে সেখানে
মন্দিরে ছিলাম-ঘােট বড় যে সব উৎসব হত, তার খবর যা যা
ছাপানাে হয়েছিল, তা ও pamphlet ট্যাক্সেট যা ছাপানাে
হয়েছিল, সব তােমাকে পাঠিয়েছি। কলকাতায় গিয়ে শান্তিকুটীরে
উঠেছিলাম-সেখানে পা পড়তে না পড়তে পা দুটী এমনি ফুলে
উঠল, যা খাই তাতেই অরুচি; মনে মনে হলাে, এবার চির শান্তি-
কুটীরে যেতে হবে, কিন্তু বেড়ানাে বন্ধ করে, মুড়ি ও দই খেয়ে
আস্তে আস্তে অনেকটা ভাল হয়ে উঠে, দু-মাস পরে এখানে এলাম।
এখানে দুদিনেই যে উপকার বােধ হচ্ছে, পাঁচ দিন থাকলে
যদি আরও উপকার হয়, হয়তো থাকা হবে।
কাল তােমার একখানি চিঠি কলকাতা থেকে re-directed
হয়ে এলাে—সেখানে আরও দুখানা চিঠি পেয়েছিলাম—প্রথম
খানার কথা বলি, তােমার শশুর মহাশয়ের দিনে তােমার দাদার
ওখানে উপাসনা আমাকে কৰ্ত্তে হয়েছিল—যে “পরলােকের সন্ধান”
বেরােয় নি বলে তােমাকে মুখ দেখাতে পারি নি, ত। সেই সময়
নালুদার চিঠি
১৪৯
বোেয়সে দিন প্রথম হাতে পেলাম, কি আনন্দ হল। তােমার
নদাদার কাছে শুক্লা, ২৮শে সেপ্টেম্বরে (?) তােমার জন্মদিন,
চিঠি লেখা হবে কি না হবে কে জানে? Telegramএ প্রাণের
প্রার্থনা একটু জানালাম। তারপর একদিন সন্ধ্যার সময় অন্ধকারে
বাইরে বসে আছি-ডাকওয়ালা একখানা চিঠি আমার হাতে দিলে,
লেখা পড়তে পারা যায় না, খাম খানা দেখে, আর কি দেখে মনে
হলো--তােমার কাছ থেকে এসেছে—তাই মনে হয়েই যে আনন্দ
হল, তাও কি সামলানাে যায় ? তার পর সে চিঠি পড়ে এক গুণ
আনন্দ কত গুণ যে হল, কে বলবে ?
“পরলােকের সন্ধান পাঁচ বছর আগে বেরােলে আরও কত
লােকের হাতে দিতে পারতাম কিন্তু যখন বেরোলাে, তখন থেকে
দেড় মাসের ভেতর এক এক করে কত প্রিয় জন চলে গেলেন,
শেষে তােমার মণিদাদাও চলে গেলেন। এই বই খানি বার
করিয়ে, তােমাকে দিয়ে ব্রহ্মানন্দ-জননী কত পরিবারে শোকার্তদের
সান্ত্বনা দিলেন। এই বই খানি আবার যখন ছাপ। হবে, প্রত্যেক
paraর ওপরে বিষয়টী লিখে দিয়ে, একটি কি দুটি সূচী করে দিলে
আরও ভাল হবে।
তােমার মণিদাদা চলে গেলেন, তার যাবার আগে “পব :
লোকের সন্ধান” বেরিয়েছিল—একখান। তার হাতে দিতে পাবি
নি, সে আমাদেরই দোষ। আর একখানা বই দেখে যেতে পাপ্লেন
না, সেও আমাদেব দোষ । সেই বইখানার জন্যে আমার যে ভাবনা
হয়েছে, ছাপা না হলে আমারও নিস্তার নেই, তােমাদেরও নিস্তার
নেই।
নালুদার চিঠি
১২ বছর আগে Behold the Man কাগজে একটু একটু
করে বেরােচ্ছিল, তােমার ভুলদাদা পড়তে পড়তে এমনি মুগ্ধ
হয়েছিলেন, inadvance ২৫, টা টাকা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন,
তােমার মণিদাদাও ছাপা হলেই এক copy চেয়েছিলেন,
Dr. Moti Loll Mukherjee ও তাই-এক এক করে তারাও
চলে গেলেন। এদিকে centinaryর হুজুগে লােকে ভেতরকার
কথা সব জানতে পাচ্ছে না-এ বই খানা বেরােলে কিছু পাবে ।
ইংরেজদের pressএ ছাপতে দেওয়া হয়েছেinadvance প্রায়
৬০০ (Rs. 600/-) টাকা চাই, ছাপা হলেই বাকি ৬০০ কি
আরও বেশী দিতে হবে। হৈ চৈ না করে’ বই খানা ছাপিয়ে,
Christmasএর সময় হাজার হাজার লােক কলকাতায় যাবে, তাদের
হাতে দিতে পাল্লে একটা কাজ হয়। তাই ২০০ টাকা advance
দিয়ে এসেছি, তােমরা পাঁচ বোনে মিলে যদি সমস্ত টাকা এখুনই
immediately না দিতে পার, তাহলে Press এর উপর presure
দেব কি করে? এখনই too late হয়েছে, এর পর আরও
late হলে—কে কবে পরলােকে চলে যাবে। সেখানে গিয়ে
তােমার বাবার কাছে, কি তার মার কাছে মুখ দেখাবো কি
করে ?
তোমাদের
নালুদা
জীমতী মুজাতা সেন
নালুদার চিঠি
Kurseong
প্রীতিপূর্ণ নমস্কার,
আপনার শােকের কথা কাল শুনলাম। কি লিখব, জানিনে।
মা ইহসংসার থেকে চলে গেলেন, এ একটা সাধারণ ঘটনা নয়, নয়
বছর আগে আমি মা হারা হই। আপনার শােকের কথা
শুনলে সে সময়কার কথা মনে আসে। সংসারে সকল সম্বন্ধের
আগে মা’র সঙ্গে সম্বন্ধ। কত ভাবে, কত রকমে তাঁর জীবনের
সঙ্গে আমাদের জীবন জড়িত। হঠাৎ তিনি আমাদের ছেড়ে
চলে গেলেন, তার সঙ্গে যে সম্বন্ধ, তা কি কেটে যায় ? মা’র মা
যিনি, তাকে যখন পাই, আর কাউকে হারাইনে। তার ভেতর
আমরা প্রত্যেকে আপন আপন মাকে ও আর আর প্রিয়জনকে
দেখে আনন্দিত হই। সেই দয়াময়ী জননী আপনাকে এই গভীর
শশাকের সময়ে তার মুক্তিপ্রদ, শান্তিপ্রদ চরণে আশ্রয় দিয়া কৃতার্থ
করুন।
অাপনার শোকে শােকার্ত
নালু।
সুরেশচ বং
। 1)
ভাগলপুর
১৭ই এপ্রিল,
প্রাণাধিকা,
তােমাকে কি লিখব ? কাল সকালে উপাসনায় “প্রকৃতিই
সামঞ্জস্য প্রার্থনা পড়া হ’ল-তার কিছু পরে শুনলাম, যাকে
০
১২
নালুদার চিঠি
“প্রকৃতিনন্দন” বলতাম, সে দেহমুক্ত হয়েছে। শেষের ক’বছর দেহের
যা অবস্থা হয়েছিল, আমাদের সকলের দেখে কষ্ট হত, সে অবস্থা
থেকে মুক্ত করে যিনি তাকে কোলে তুলে নিলেন, এখন সেই
জননীর কোলে তাকে দেখতে চাই—যাতে তাই দেখতে পাই,
তার জন্যে সেই জননী তােমার চেয়ে, আমার চেয়ে, আমাদের
সকলের চেয়ে ব্যাকুল। তাই আজ সকালে বেড়াতে বেড়াতে
কত জায়গায় তাকে দেখতে পেলাম--উপাসনায় ফুলের মতন হব,
আচাৰ্যদেবের প্রার্থনা ও উপদেশ পড়া হ’লতার ভেতর তাকে
নতুন করে পেলাম—তাই সে এক সময় একটা বন্ধু-বিয়ােগ উপলক্ষে
আমায় Tennysonএর যে কথা গুলি তুলে দিয়েছিল, তা Tenny.
son খুলে দেখলাম :-
“Thy voice is on the rolling air;
I hear thee where the waters run;
Thou standest in the rising sun,
And in the sitting thou art fair.
Far off thou art, but ever nigh,
I have thee still, and I rejoice,
I prosper, circled with thy voice,
I shall not lose thee though I die."
যে নববিধান-জননী তাকে আমার জীবনের সহায় করে বন্ধু
করে পাঠিয়েছিলেন, তােমার স্বামী করে পাঠিয়েছিলেন, আজ
নালুদার চিঠি
সেই জননীর কৃপায় আমরা সকলে তাকে আরও আপনার রূপে
যেন পাই।
তােমাদের
নালুদা
শ্ৰীমতী সুমতি সহানবিশ
(৮)
ভাগলপুর
১৯শে এপ্রিল,
ভাই ধনী,
কলকাতায় গিয়ে যদি ঘন ঘন তােমার চিঠি না পাই,
তাহলে মনে হবে, নিত্য উপাসনা বুঝি নিত্য উৎসবে পরিণত হচ্চে
। তুমি কি বিনয় সেহানবিশকে জানতে ? সকলে তাকে
আমার ছেলে বলত—শেষাশেষি পাগল হয়ে যায়-এখন শুনচি
সে আর দেহে নেই-রবিবারে কুষ্টিয়ায় তার শ্রাদ্ধ হবে—আমি
তাই কলকাতায় শীগগির শীগগির যাচ্চি। সে যে আমার কি
ছিল, তা কি কথায় প্রকাশ করা যায় ? তাকে আমি প্রকৃতি-নন্দন
বলতাম--তার চোখ দিয়ে প্রকৃতিকে (Nature দেখতাম
তাই বােধ হয়, যে দিন উপাসনায় “প্রকৃতিই সামঞ্জস্য প্রার্থনাটী
পড়া হয়, সেই দিনই তার দেহত্যাগের খবর এল—তােমার সেজদি
তাকে জানতেন ও ভালবাসতেন।
তােমাদের
নালুদা
মতী সুজাতা সেন
১৫০
নালুদার চিঠি
{ ৯.)
৮২নং হ্যারিশন রােড,
কলিকাতা,
১ই সেপ্টেম্বর,
ভাই ধনী,
কাল তােমার একখানি চিঠি অনেক দিন পরে পেলাম, তুমি
আমাকে একখানা চিঠি তার আগে দিয়েছিলে, তা পেয়েছিলাম কি
না জিগগেস করেছ ; সে বােধ হয় অনেক কাল আগে, দু একমাসের
মধ্যে তােমার কোনাে চিঠি পেয়েছি বলে মনে হয় না।
এই ঠিকানায় তােমার মাসিকদান যা পাঠাও, তাতে তােমার
হাতের লেখা দেখতে পাই। এক এক সময় সংসার অন্ধকারময় মনে
হয় সত্যি। তুমি যে ওখানে বসে একটা একটা করে শশাকের খবর
পাচ্ছ, তাতে মন খারাপ হচ্ছে, তা আর আশ্চযি কি-জল জ্যান্ত
একটী একটা আপনার লােক চলে যাচ্ছে, তা ভাবলে কি চুপ করে
থাকা যায়? সেই Chaman ও মটরীর সঙ্গে লক্ষ্ণৌয়ে দেখা হল, তার
কদিন পরে শুনলাম, Chaman আর নাই! কল্যাণের বিয়ে আমি
দি, তারও ত মৃত্যুর কথা ভাবলে in the midst of life we
are in death মনে হয়। তারপর বুড়ো, আহা! সে যে আমাদের
ভারি প্রিয় ছিল, সুধা ও দেবেনের সংসার অন্ধকার হল। আমাদের
কাকাবাবুর যাওয়া স্বতন্ত্র, তিনি বুড়ো হয়েছিলেন, ইদানীং রােগে
কষ্ট পাচ্ছিলেন, কষ্ট দেখে লােকের মনে হত, আর একদিন
বাচতে না হয়; কিন্তু তাঁর চলে যাওয়াতে একটী মস্ত শােকের
উৎসব হয়ে গেল, এ রকম উৎসব এর আগে কখনও দেখিনি,
নালুদার চিঠি
$¢ ¢
এখানে থাকূলে দেখতে পেতে। আমি আর আগেকার মত চিঠি
পত্তর লিখতে পারিনে, তা না হলে তােমার চিঠি পাবার আগেই
তােমাকে লিখতাম। বুড়াের মৃত্যুর খবর এত পরে কেন পেয়ে
জানিলে ? : বােধ হয়, কারুর ভুল হয়েছিল। কলিকাতা কবে
আসবে, মাঘােৎসব পৰ্যন্ত থাকবে ত ?
তােমাদের
নাদ।
এমতী সুজাতা সেন
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.