Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Heramba Rajyer Dandabidhi
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
হেডম্ব রাজ্যের দণ্ডবিধি
কাছাড়ের শেষ ভূপতি গােবিন্দচন্দ্র
প্রণীত।
( সংস্কৃত ও বঙ্গভাষায় লিখিত।)
গৌহাটি বঙ্গসাহিত্যানুশীলনীসভাধ্যক্ষ
শ্ৰীযুক্ত পদ্মনাথ ভট্টাচাৰ্য্য বিদ্যাবিনােদ এম, এ,
মহােদয় কর্তৃক লিপি
মিকা সমেত।
e-st} ea-es
গৌহাটি বঙ্গসাহিত্যানুশীলনী সভাকর্তৃক
প্রকাশিত।
১৩১৮
মূল্য • ছয় আনা মাত্র।
কলিকাতা
২৫২৬নং আমহাষ্ট স্ক্রীট
সরস্বতী যন্ত্রে
শ্রীজগদীশ চন্দ্র দাস ঘােষ কর্তৃক মুদ্রিত।
প্রাপ্তিস্থান
শ্ৰী বিপিনচন্দ্র দেব লস্কর (প্রকাশক)
লক্ষ্মীপুর, কাছাড় ।
অথবা
শীকীর্তিচন্দ্র দে চৌধুরী
নুতন পটি, শিলচর।
No text on this page.
এe
,
হেড়ম্বরাজমন্ত্রিবংশজ শ্ৰীযুক্ত বিপিনচন্দ্র দেব লস্কর
হেডম্বরাজ্যের দণ্ডবিধি। ভূমিকা। আজ দুই বৎসর হইল “অসাম মণ” উপলক্ষে কাছাড় রাজগণের অন্যতম রাজধানী মাইবং দেখিতে গিয়াছিলাম। * তথাকার কয়েকটি বিষয়ের তথ্য সম্বন্ধে স্থানীয় লােকের নিকট অনুসন্ধান করিলে উহার কাছাড়ের বড়খলানিবাসী রাজমন্ত্রিবংশীয় শ্রীযুক্ত বিপিনচন্দ্র লস্কর মহাশয়ের এবং যুক্ত নন্দলাল বৰ্মা ও শ্ৰীযুক্ত মণিচরণ বৰ্ম্মা এই দুই জন কাছাড়া জাতীয় ব্যক্তির নাম করিয়াছিল। শ্রীযুক্ত বিপিন বাবুর সঙ্গে আমাদের পূর্বেও অল্প পরিচয় ছিল, তাই তাহার নিকট চিঠি লিখিয়া অপর দুইজনের পরিচয় জানিতে পারি এবং তাহাদের নিকটে যে যে ঐতিহাসিক বস্তু আছে তাহার বিবরণ অবগত হই। এই সংস্কৃত-বাঙ্গালা দণ্ডবিধিখানি ঐসকল বস্তুর অন্যতম। ইহা শ্ৰীযুক্ত বিপিন বাবুর নিকট হইতে আমরা পাইয়াছি। দুঃখের বিষয় দণ্ডবিধিখানির পঞ্চদশটি পত্র মাত্র আমাদের হস্তগত হইয়াছে। তাহাও এত জীর্ণ ও কীটদষ্ট যে অনেক গুলি অক্ষর ও শব্দ পড়িতে পারা যায় নাই ; আবার পড়িবার নিমিত্ত নাড়াচাড়া করিবার সময়েও পত্রগুলির অনেক অংশ খসিয়া পড়িয়া গিয়াছে । এই পত্রগুলির সংখ্যা ৮ হইতে ২২, উভয় পৃষ্ঠা লিখা। আদি অংশ যে পাওয়া যায় নাই পত্র সংখ্যাই তাহার প্রমাণ। পশ্চাদ্ভাগও • আসাম ভ্রমণ বিষয়ক প্রবন্ধাবলী বঙ্গীয় সাহিত্য-পরিষৎ পত্রিকায় প্রকাশিত হইতেছে ; দ্বিতীয় প্রবন্ধে মাইবং সম্বন্ধীয় বিবরণী অনুসন্ধিৎসু পাঠকগণ দেখিতে পাইবেন।
যে অসম্পূর্ণ তাহাও প্রকরণের শেষ সূচক কোনও শব্দ বা চিহ্ন না থাকায় স্পষ্ট প্রতীত হইতেছে । এই গ্রন্থখানি গৌহাটিস্থ বঙ্গ-সাহিত্যানুশীলনা সভায় প্রদর্শিত হইলে ইহা প্রকাশযােগ্য বলিয়া সভার সভ্যগণ স্থির করেন। পুথির স্বত্ত্বাধিকারী শ্ৰীযুক্ত বিপিনচন্দ্র লস্কর মহাশয়ও প্রকাশার্থ ব্যয়ভার বহনে স্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। তৎপর ইহা মুদ্ৰণার্থ প্রেসে প্রেরিত হইলে শ্রীযুক্ত নন্দলাল বৰ্মা মহাশয় হইতে হেড়ম্ব রাজ্যের দণ্ডবিধি বিষয়ক আর একখানি পুথি আমাদের হস্তগত হইয়াছে। উল্লেখ সৌকৰ্য্যার্থে বিপিন বাবুর গ্রন্থের নাম ক-পুথি এবং নন্দলাল বাবুর গ্রন্থের নাম ও পুথি প্রদত্ত হইল। খ-পুথিখানিও খণ্ডিত ; মাএ ১১ খানি পাতা, ১৬ হইতে ২৬। তবে পাতাগুলি বড় ; প্রত্যেকটিতে প্রায় ৩০টি করিয়া ছত্র, প্রতি ছত্রে অক্ষর সংখ্যা গড়ে ২৭। ইহারও আদি এবং অন্ত নাই। কিন্তু ইহার প্রাপ্ত অংশ সমগ্রই বঙ্গানুবাদ; সংস্কৃতাংশ ছিল বলিয়াই স্পষ্টতঃ অনুমিত হয় *; তাহা পূর্বতন পঞ্চদশ পত্র সহ বিলুপ্ত হইয়াছে। ক-পুথি দণ্ডবিধিখানি কাছাড় রাজ্যের শেষ রাজা গােবিন্দচন্দ্র কর্তৃক ১৭৩৯ শকের ১লা বৈশাখ তারিখে ( অর্থাৎ ১৮১৭ খৃষ্টাব্দের এপ্রিল মাসের মধ্যভাগে) জারি হইয়াছিল। অতএব ইহার ভাষা ৭ কারণ ক-পুথির ৮ হইতে ২২ পাতায় বঙ্গানুবাদ যাহা দেখা যায় তাহা খ- পুখির ঊনবিংশ পত্রের মধ্যভাগ হইতে আরম্ভ করিয়া পঞ্চবিংশ পত্রের শেষ ভাগে অবসিত হইয়াছে ; ইহাতে ক পঁখির প্রথম সাত পত্রের বজাংশ খ-পথির বড় জোর ৪ পাতা অধিকার করিতে পারে; তন্মধ্যে তিনটি পাতা আছে, ১৬ হইতে ১৮ ; অতএব বঙ্গানুবাদ ১৫ সংখ্যক পত্রে আরব্ধ হইয়াছিল এবং তৎপূর্বে ১৪ পাতা পর্ষন্ত সংস্কৃতাংশ ছিল ইহাই সঙ্গত অনুমান। অপিচ প্রায় প্রত্যেক প্রকরণের প্রারম্ভে ও অবসানে "ভাষা” শব্দটা দেখা যায়। যথা “অথ বাকু পারুষ্য সংক্ষেপ ভাষা” ; ‘ইতি শস্থরক্ষা সংক্ষেপ ভাষা প্রকরণং”); ইহাতে বাংল যে অনুবাদ তাহাতে সংশয় থাকিতেছে না। •
No text on this page.
vk দুখীয়াশবাণপঞ্জি জেতীযাশাক খ+গশপণ ২২ইমাহন স্বরুশণরঙ্গি धुनिक এবঠকেদম * ঠোবিবাকেঅইলাকবিয়া ধাকলামা: গ্রডভাগবাহাইক নববধমান গকে পুননবমলওন হাদিসশােস্ক:- মাশহুম সুজ্জাম কবিহেঃ জানাকাদিষধাবানুবকৰিঝিকবিন এবৰু ফু িমাস হরিণাদিক মাককিবরিনএবল্প শূন্যঘদিবঞ্চনাকবি-২৪] বি.কো, যাহা পূর্বনিরূপণবনিশেও এই এহওক, বাহাদুবেহুচুককে *নইণ্ডবিলুিসা't যানীওভাষামোবেকনখে4ংশফি১৭৩৮১ গাইবেশাখেজাবীবী --- ১ঘদিযে সুরা-কি তাতে গামমুক ওযধানিনযাস, পাখাব্যিবহ মেশান ৫এf4*; মু।' বাকি ঠা জ$}ই ঘ এবফুফু যাটমামব্ধি কাৰক পৃর্কিদমা” নাদিমাধানপ্রক সব মিবিয' - বিক্রসমাসী ঘ ব্যবহৃথবিযেব্যক্তি দস্তখণককন্য: গাবাইদহেদও গহস্রছা-- দিকবিঘা বা জাদ, •াহে ক-পুথি দণ্ডবিধির একপৃষ্ঠা।
. এবং ইন প বের -ও কম্পগান ও কষ্ট বেঞ্চ এই সব বাধ নেব ধ্রু%িBদ্ধাশকিঘ% প্রদাবাদি কে প্রপোষণ কমে তাহ খা । কষ্ট তােমার মদি দুকে এমএগহৰশকক এর খাল ১২ দণ্ডদিহে যি কম ,শবমসি হhe৯৭২ দ-দশম বলেজে ৯৭৮-3একাদশীশ কপোপ দণ্ড ও মাঃ শe ৬ দা ও এযে দশা হল ৪}} ১০ শিশব বল-৩৭ ন দণ্ড ২, পঃ দশশ হতে ১ দণ্ড এই অনুম অধিংশ হককে দণ্ড জানি এখা শ।শ হা ১৪ দাও ? ১৫y দহ প. ম* * বলতে ১৭/ ' দয় *** কাতে, ১৯৭: দম ? গুলশ’শ হব? ২৮ দাহ ।ঞ্জিীবশি হাত {{৮৭ দণ্ড হয় ? প্ৰে:মাপ- t.২াবে ২ -৩াহকে এক্ষে ) ঠোহি এককে অস্ত ভাগ ** যা এ ১৩ + যার ? বম জামির ২২, সে ফি ১n ? » 3 -একাদশ ও দ্বাদশ শও হযে৷ দশী * } দশyrশ ও ল দ শ নির্য বিবেক ॥এব ৫ঠাবিক।" ১২. স'S খবিস প্রাঃ স শোতে ঘা হযগকে সপ্তমাশন । :-***- এখুশি -ও শাম:শ ও ৫োশও ৪ঠীফশ ? ** 2 # 5 "শ নি; চুয জানিবা হতে প্রামাম প্রকাশ কেমষ কি, " ..? এক বাবি মঞ্চেধঃ 1 সুবাত বিজ্ঞ যে, cr! ১৭ গেম '৫০ নাগাইযী শুধৰে মৰ্ক সূবশকে - শ ম 2013 এলদিব মশক হর্বি:৩) মাম & ।! যা কিকাদি ব্যবহাব কা যে এই মাসে ওঁদ খুন 3 হৃদ বণর্ক? •-৬২৩ জা দত্ততেহয ? অল্প মুঠ দুব শী। যা হু হবে ফাইন প্ৰকাশ কৰ্ক :3 বাকি কে? শঃ কাশী ত্রিী ও বাণকোঠ বিশ্বস্থ কৈ তবে মূল্যা নুৰূপ দত্যাগ श्य #ঘ-সি ঘেণ্ঠ ককিযা সুদেতে হিম জন্মই যেই ওনি কি যককে সেই ব্যক্তিত্বে ঞয শোতে মুগ দিফ কাড়াত সেঃ মুন্যে? ডি, নদ দিতে হয় গ ঘ ৯ শ'এনি তাবধিারিত্ব ব্রিঙ্কিকান যখte * দহে কিনে কিঙ্কিম হয যে সুব, পাকহি সুবওঁ জানি। একবাধিক। ধাক এতে ৭২ কিনে মোত ই হয় যে কত কঠি কা জানিক। নক কাশীশা হল দ২৪ ক্যন মন্দি-অ "গন ফল হয় বহিস্কানি শত পনা ৫ম পম মেহেe - খই ফাহয় বে~ি-ওদিক- 4। ২টি ক্ষুদ্র বহারি মা এ প্রক। ', 'এ শ, পা মা ভাষা। পরকিয়া হে" বিস *দশ কে? :জায়গা বার খ-পুথি দণ্ডবিধির একটি পত্র
No text on this page.
[ ৩ ] প্রায় শত বৎসরের প্রাচীন। এই নিমিত্ত ইহার মুদ্রাঙ্কন কালে বঙ্গভাষার কোনও অংশ পরিবর্তিত বা পরিশােধিত হয় নাই। সংস্কৃতাংশে মধ্যে মধ্যে বর্ণাশুদ্ধি দুই একটি যথামতি সংশােধন করিয়া দেওয়া হইয়াছে, কেননা সংস্কৃত লিপির শুদ্ধ্যশুদ্ধির কোনও ঐতিহাসিক মল্য নাই। গ্রন্থখানি ছিন্ন গলিত ও কীটদষ্ট হওয়াতে মধ্যে মধ্যে অক্ষর পড়িয়া গিয়াছে ; যেগুলি আনুমানিক বসাইয়া দিতে পারিয়াছি তাহা বন্ধনী [ ] মধ্যে প্রদর্শিত হইয়াছে, যাহা পারি নাই তাহা তারকাচিহ্ন (*) দ্বারা সুচিত হইয়াছে; এবং যে শব্দ বা বাক। লেখকের প্রমাদ বশতঃ পড়িয়া গিয়াছে বলিয়া বােধ হইল তাহা বেষ্টনী () মধ্যে প্রদত্ত হইয়াছে। খ পুথিখানিও পরিশিষ্টে মুদ্রিত হইল, মুদ্রাঙ্কনে ক-পুথির রীতই অবলম্বিত হইয়াছে। রাজা গােবিন্দচন্দ্র ১৮৩০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করিয়াছিলেন । অতএব ক-পুথিখানি ১৮১৭ খৃষ্টাব্দ ও ১৮৩০ খৃষ্টাব্দের মধ্যে কোনও সময়ে লিখিত হইয়াছিল। তদানীন্তন লিপিভঙ্গী কি প্রকার ছিল তাহা প্রদর্শন করিবার জন্য এতৎ সহ ক-পুথিখানির ত্রয়ােদশ পরে দ্বিতীয় পৃষ্ঠার চিত্র প্রদত্ত হইল। এবং তৎ সঙ্গে অক্ষরাদির তুলন: নিমিত্তে খ-পুথির একবিংশ পত্রের চিত্রও দেওয়া গেল। খ-পুথি- খানি সম্বন্ধে এই বলা যায় যে ইহার ভাষা ও লিপিভঙ্গী উভয়ই ক-পুথিখানি হইতে কতকটা ভিন্নরূপ। উহা যে প্রাচীনতর তাহাতে সন্দেহ নাই ; কেননা ক-পুথিখানিতে যেমন সংস্কৃত ও বাঙ্গাল পাশা- পাশ দেখিতে পাওয়া যাইতেছে, খ-পুথিখানিতে তাহা নাই , বাঙ্গালা অংশ স্বতন্ত্র ভাবে লিখিত রহিয়াছে। অথচ গােবিন্দ চন্দ্র যখন শেষ রাজা ছিলেন, তখন খ-পুথিখানি অবশ্যই তদীয় পূর্ববর্তী [ ৪ ] কোন ও নৃপতির সময়ের বলিয়াই ধরিতে হইবে। গােবিন্দ ১৮১৩ খৃষ্টাব্দে সিংহাসনারােহণ করেন এবং ১৮১৭ খৃষ্টাব্দে তদীয় দণ্ডবিধি প্রচারিত করেন। ১৮১৭ অব্দের পূর্বে তিনি আর একখানি দণ্ডবিধি অন্য আকারে প্রণয়ন করিয়াছিলেন ইহা কল্পনা করাও যুক্তিসঙ্গত নহে । খ-পুথির স্বত্ত্বাধিকারী শ্ৰীযুক্ত নন্দলাল বম্মা বলেন যে এইখানি তাম্ৰধ্বজ নৃপতির সময়ে প্রণীত হইয়াছিল। তাম্ৰধ্বজ নৃপতি ১৭০৮ খৃষ্টাব্দে পরলােক গমন করেন বলিয়া আসামের ইতিহাস প্রণেতা শ্রীযুক্ত ই, এ, গেইট সাহেব লিখিয়াছেন। কিন্তু সম্প্রতি শ্ৰীযুক্ত নন্দলাল বা আমাদিগকে যে নারীরসামৃত নামক নারদীয় পুরাণের একখানি পদ্যানুবাদ গ্রন্থের প্রতিলিপি প্রদান করিয়াছেন, তাহার শেষভাগে আছে “হরিধ্বনি কর গ্রন্থ হৈল সমাপন। যােল শত বাইশ শাকেতে যে হৈল লিখন। তাম্ৰধ্বজ মহারাজ ছিল মহাভাগ। সর্বলােকে সদা যারে করে অনুরাগ। তান পুত্র রাজা শূরপ মহাশয়। চন্দ্র প্রভা নামে দেবী তান মাতা হয়। কবি বাচস্পতি তান বাক্য অনুসারে। নারীরসামৃত রচিলা পরে।” অতএব দেখা যাইতেছে যে ১৬২২ শাকে অর্থাৎ ১৭০০ খৃষ্টাব্দেই তাম্ৰধ্বজ রাজা নামশেষ অবস্থায় পরিণত এবং তৎপুত্র শূরদর্প সিংহা- সনে কিয়ৎকাল যাবৎ অপষ্ঠিত। * আশ্চর্যের বিষয় এই যে শ্ৰীযুক্ত গেইট সাহেব এই “নারদপুরাণের সংবাদ জানিতেন, অথচ ইহার প্রণয়ন তারিখটা লক্ষ্য করেন নাই। তিনি [ ৫ ] ; যাহাহউক ইহাতে মাত্র ১০ বৎসরের অগ্রপশ্চাৎ দেখা যাইতেছে। খ-পুথিখানি তাম্ৰধ্বজের সময়ের হইলে কিঞ্চিদধিক দুই শত বৎসরের প্রাচীন এবং গােবিন্দ চন্দ্রের সময়ের শতাব্দী কালেরও পূর্ববর্তী। গােবিন্দচন্দ্র যে আইন জারি করিয়াছিলেন তাহার প্রতি প্রকরণে একটি ভূমিকা ( jreamble) দেখা যায় ; তাহাতে আছে যে “বিবাদদর্পণ” নামক গ্রন্থানুসারে তদীয় আইন প্রণীত হইয়াছিল । “বিবাদদর্পণ” নামক কোনও সংস্কৃত নিবন্ধ আছে কি না জানিনা দুই এক স্থলে জিজ্ঞাসা করিয়াও ইহার তথ্য জানিতে পারা যায় নাই। কিন্তু আমার বােধ হয় এই “বিবাদদর্পণ” গােবিন্দচন্দ্রের পূর্ববর্তী সময়ের কাছাড়ের আইনেরই নাম। এমনও হইতে পারে যে, খ-পুথি- খানি যে গ্রন্থের একাংশ, তাহারই নাম “বিবাদদর্পণ” ছিল। বড়ই দুঃখের বিষয় খ-পুথিখানির অগ্রভাগ ও শেষভাগ উভয়ই বিলুপ্ত হইয়াছে, নচেৎ ইহার নাম জানা যাইত। আরও পরিতাপের বিষয় যে, ক-পুথিখানিরও নাম, গ্রন্থের অগ্রপশ্চাৎ উভয় ভাগই না থাকায়, জানা যাইতেছে না। বঙ্গীয় সাহিত্য-পরিষৎ পঞ্জিকা হইতে জানা যায় যে, সর্বপ্রথম ১৭৯৩ খৃষ্টাব্দে ইংরাজরাজের আইনের বঙ্গানুবাদ হইয়াছিল। কাছাড় রাজ্য তখন স্বাধীন হইলেও সমীপবর্তী শ্রীহট্ট জেলা ইংরাজের অধীন ছিল ; সেই শ্রীহট্ট জেলার পণ্ডিতেরাই কাছাড়ে দণ্ডবিধি প্রভৃতির প্রণয়ণে সহায়তা করিয়ছিলেন। তাই গােবিন্দচন্দ্রের আইন খানিতে, বােধ হয় ইংরেজের অনুকরণেই, দুইটি জিনিষ দেখিতে পাই, যাহা পূৱবৰ্ত্তী ; আহােমদের বুৰঞ্জী (ইতিহাস) অবলম্বনে তাহার ইতিহাস লিখিয়াছিলেন; তদন্থ সারেই বোধ হয় তাজের সময় নিরূপণ করিয়াছেন। এতৎ সম্বন্ধে পশ্চাৎ আলােচনা করা যাইবে।
[ ৬ ] * - আইনে (খ-পুথিতে) ছিল না; এক, প্রতি প্রকরণের পূর্বে একটি ভূমিকা (preamble); অপর, সংস্কৃতের পার্শ্বে ই বঙ্গানুবাদ, যেমন ইংরেজির পাশ্বে বাঙ্গালা । হেড়ম্বরাজোর এই দণ্ডবিধিতে উল্লেখিত অপরাধ এবং তাহার দণ্ডবিধান আলােচনা করিয়া সেই রাজ্যের তখনকার সামাজিক অবস্থা কি ছিল তাহার অনেকটা ধারণা জন্মিবার কথা; এবং প্রধানতঃ তদন্ঠে ই এই পুথিখানি প্রকাশিত করিবার জন্য আমাদের এই প্রয়াস। কিন্তু এই দণ্ডবিধির উপর ঈদৃশ একটা ঐতিহাসিক মূল্য আরােপ করিবার সময়ে এইটুকুও প্রণিধানকরিতে হইবে যে এই সকল বিধি প্রাচীন স্মৃতিগ্ৰন্থ হইতে সংগৃহীত এবং সেই সকল গ্রন্থে যে যে অপরাধ ও দণ্ডের উল্লেখ আছে তত্তাবৎ প্রায়শঃ অবিকৃত ভাবে এই আইনেরও অন্তর্নিবিষ্ট করা হইয়াছে। তথাপি ভারতবর্ষের এক অনত্যালােকিত প্রান্তভাগবী এই ক্ষুদ্ররাজ্যটিকে ব্যবস্থাপক পণ্ডিতবর্গ যে আদর্শহিন্দুরাজ্যের আইনকানুনের উপযােগী মনে করিয়াছিলেন, ইহাও একটা দেখিবার বিষয়। বিশেষতঃ একটি হিন্দু স্বাধীন রাজ্য প্রাচীন আদর্শে পরিচালিত হইলে ইহার দণ্ডবিধি কীদৃশ হইত, তাহার নমুনাও এতদ্বারা পাওয়া যাইতেছে। পরি- তাপের বিষয় এই যে, এক খানি সমগ্র দণ্ডবিধি পাওয়া গেল না। এই দণ্ডবিধিতে বিবাদদর্পণ ব্যতীত অপর দুই খানি গ্রন্থের উল্লেখ আছে। মুদ্রিত গ্রন্থের ২২ পৃষ্ঠে শুদ্ধিচিন্তামণির এবং ২৩ পৃষ্ঠে বিবাদনির্ণয়ের মত উদাহৃত হইয়াছে। প্রধানতঃ যে স্থান হইতে ব্রাহ্মণ পণ্ডিতেরা গিয়া কাছাড় রাজ্যের বিধি-ব্যবস্থা প্রণয়নের সহায়তা করিয়াছেন, শ্রীহট্টের সেই ব্রাহ্মণবহুল পঞ্চখণ্ড পরগণার খাসা গ্রাম নিবাসী প্রাচীন পণ্ডিত শ্ৰীযুক্ত রামনাথ বিদ্যারত্ন মহাশয়ের নিকট এই গ্রন্থদ্বয় সম্বন্ধে অনুসন্ধান করিয়াছিলাম। তিনি লিখেন, “শুদ্ধি [ ৭ । চিন্তামণি পুস্তক আমাদের স্থানে আছে কিন্তু এই পুস্তকে অশৌচ ও তৈজসাদি শুদ্ধি ইত্যাদি সম্বন্ধে ব্যবস্থা আছে। স্ত্রীলােকের অঙ্গ- চ্ছেদ নিষেধ সম্বন্ধে আমদের এই পুস্তকে কিছুই লিখানাই। এই গ্রন্থ বাচস্পতি মিশ্রের কৃত। বিবাদনির্ণয় নামক গ্রন্থ গােপাল পঞ্চাননের* এই পুস্তকের কয়েকটি পাতা ( অর্থাৎ ৫৭ পাতা) আমার নিকট আছে কিন্তু ইহাতে ব্যবস্থার কিছু লিখা নাই।” আমরা নিজে এই গ্রন্থগুলি দেখিতে পাই নাই। শ্ৰীযুক্ত বিদ্যারত্ন মহাশয় যাহাই বলুন না কেন, যে সকল পণ্ডিত এই দণ্ডবিধি প্রণয়ন করিয়া গিয়াছেন তাহারা নিশ্চয় না জানিয়া একটা কথা লিপিবদ্ধ করিয়াছেন, ইহা বিশ্বাসযােগ্য বােধ হয় না। খ-পুথিতেও ঐ দুই গ্রন্থের এ ভাবেই উল্লেখ আছে ; অতএব ইহাতে ভ্রম সম্ভাবনা করা কতদূর যুক্তিসঙ্গত তাহা সুধীগণ বিবেচনা করিবেন। যাহারা প্রাচীন স্মৃতিশাস্ত্রব্যবসায়ী এতদ্বিষয়ের চূড়ান্ত মীমাংসা করিবার ভার তাহাদের উপরেই থাকিল। কাছাড়ী নৃপতিগণ আপনাদিগকে হিড়িম্ব বা হিড়ম্বের ভগিনী- পুত্র ঘটোৎকচের বংশীয় বলিয়া খ্যাপিত করিয়াছেন। কাছাড়ীগণের প্রাচীন ইতিহাস কিছুই লিপিবদ্ধ নাই, যাহা কিছু জানা যায় সমস্তেরই ভিত্তি কিংবদন্তীর উপর। মাত্র পাঁচ ছয় শত বৎসর পূর্বে যখন উহারা একদিগে আহােম ও অপরদিকে ত্রৈপুর রাজগণের সংঘর্ষে আসিয়াছে, তখন হইতে এই দুই ইতিহাস প্রিয় রাজবংশের বুরঞ্জী ও রাজমালা হইতে কাছাড় রাজগণের ইতিবৃত্ত যৎসামান্য অবগত হওয়া যাইতেছে। আমাদের এই প্রদেশকে অনেকে পাণ্ডববর্জিত বলিয়া অবজ্ঞার চক্ষে দেখেন; কিন্তু পাণ্ডবগণের পদার্পণের এত নিদর্শন সূৰ্ম্মা ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় প্রদর্শিত হয় যে ভারতের এক দিল্লী প্রদেশ-ভিন্ন এতাদৃশ ইহার প্রণীত স্মৃতিসংহগিবন্ধাবলী কামরূপ অঞ্চলে পঠিত হইয়া থাকে [ ৮। --- আর কুত্রাপি পাওয়া যায় না। পাণ্ডবগণের জ্যেষ্ঠতাতপুত্র দুৰ্য্যোধন রাজা ভগদত্তের কন্যা ভানুমতীর পাণিগ্রহণ করিয়াছিলেন। কামাখ্যা, পৰ্বতের পাদদেশে পাণ্ডুনাথ দেবালয়ে পঞ্চ পাণ্ডব—মায় কুন্তী ও দ্রৌপদী—প্রদর্শিত হইয়া থাকেন। সভাপর্বে ও অশ্বমেধপৰ্ব্বে, পাণ্ডবগণের বাহিনী যে প্রায়ূজ্যোতিষপুরে আগমন করিয়াছিল-- সঙ্গে পঞ্চপাণ্ডবেরও যে দুই এক জন ছিলেন-তাহার স্পষ্টই উল্লেখ আছে। নাগপৰ্বতে ও মণিপুরে এবং প্রমীলার নারীদেশে ( জয়ন্তীয়ায়) যে মধ্যম পাণ্ডব আসিয়াছিলেন, ইহাও আমরা জানিতে পারিতেছি। অতএব ভীমসেনের সুযােগ্য পুত্র হিড়ম্বভাগিনেয় ঘটোৎকচ হইতে কাছাড়রাজগণ যে তাঁহাদের বংশ গণনা করিয়া আসিতেছেন, ইহাতে কাহারও বিস্মিত হইবার কোনও কারণ নাই। বিশেষতঃ সমীপন্থ কোচরাজগণ শিববংশীয়, আহােমরাজগণ ইন্দ্রবংশীয়, মণিপুর রাজগণ বহনবংশীয় এবং ত্রৈপুররাজগণ দ্রুবংশীয় হওয়াতে, ইহাদের ভীম-হিড়িম্বার পুত্র ঘটোৎকচের বংশীয় হওয়া অতি শশাভন ও সম্ভবপরই দেখায়। হিড়িম্ব-হিড়িম্বার স্থান এই অঞ্চলে ছিল কি না তাহা নির্ণয় কর। দুরূহ। মহাভারতের আদিপর্ব ১৫৫ অধ্যায়ে ভীম ও হিড়িম্বার বিহারস্থান যে ভাবে বর্ণিত আছে * তাহাতে উহা আসাম প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়া বিচিত্র নহে। যাহা হউক সূৰ্মা ও ব্রহ্মপুত্ৰোপত্যকা ব্যাপক যে এক বিশাল পার্বত্য জাতি কাছাড়ী নামে পরিচিত ইহাদের তথৈব বন দুর্গে পুস্পিতক্রমসাধু। সরঃ রমণীয়েষু পন্মােৎপলযুতেষু চ। নদীদ্বীপ প্রদেশে বৈদুৰ্য্যসিকতা চ। সুতীর্থবনতােয়া তথা গিরিনদীমুচ।
[ ৯ । রাজগণ হিড়িম্বার পুত্র ঘটোৎকচের বংশীয় বলিয়া পরিচয় প্রদান পূর্বক প্রাচীন কাল হইতেই হিন্দু দেবদেবীর প্রতি ভক্তি প্রদর্শন করিয়া আসিতেছেন। তাহাদের রাজত্ব দক্ষিণে সুরমম্যাপত্যকার কাছাড় জেলা হইতে আরম্ভ করিয়া উত্তরদিকে পর্বতরাজি ভেদ করিয়া ব্রহ্মপুত্রোপত্যকার অধিকাংশ স্থান ব্যাপক ছিল। রাজগণ হিড়িম্বার বংশজাত বলিয়া কাছাড়ী রাজ্যের নাম হৈড়িম্ব বা তদপভ্রংশ হেড়ম্ব বলিয়া খ্যাত হইয়াছিল। এখানে কাছাড়ীজাতির নামকরণ সম্বন্ধে কিছু বলা আবশ্যক। শ্ৰীযুক্ত বিপিনচন্দ্র লস্কর মহাশয় বলেন, “ইহারা একবার কোচদিগকে পরাস্ত করিয়াছিলেন বলিয়া ইহাদিগকে কোচ+অরি =কোচারি বলা হইত এবং তাহা হইতেই 'কাছাড়ী এবং কাছাড়ী হইতে কাছাড় হইয়াছে।” আসামের ইতিহাস প্রণেতা শ্ৰীযুক্ত ই, এ, গেইট মহােদয়ও কাছাড়ী হইতে তদধ্যুষিত জেলার নাম কাছাড় হইয়াছে বলিয়া লিখিয়াছেন। কিন্তু ‘কোচারি’ হইতে কাছা- ডীর উৎপত্তি সম্ভবপর বলিয়া বােধ হয় না, কেন না কোচের অ্যুদয়- কাল নিতান্ত আধুনিক, খৃষ্টীয় ষােড়শ শতাব্দী মাত্র। ইহার পূর্বেও বােধ হয় কাছাড়ী নাম ছিল। দ্বিতীয়তঃ কাছাড়ী হইতে জেলার নাম কাছাড় হইলে ব্রহ্মপুত্রোপত্যকার যে অধিকাংশ ভূভাগ তাহাদের হিমগিরিকুঞ্জেযু গুহানু বিবিধা চ। সাগরস্ত প্রদেশে মণিহেমচিতেষু চ। পল্ললেষু চ রমেষু মহাশালবনেষু চ। দেবারণ্যে পুণ্যে তথা পর্বতসাধু।” ইত্যাদি। এই গুলির একত্র সমাবেশ প্রকৃতির লীলাবৈচিত্রময়ী এই আসাম ভূমিতেই সবে ; একদিকে হিমালয়ের গিরিকুঞ্জ, অপরদিকে (সেই প্রাচীনযুগে । সমুদ্র প্রদেশ, ইহাতেই সন্তাবিত ছিল।
[ ১ ] ; অধিকৃত ছিল, আগে সেই স্থানের নাম “কাছাড়” হইত, কেননা এই মতানুসারে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা হইতেই কাছাড়ীয়া আসিয়া কাছাড় জেলার নামকরণ করিয়াছে। তৃতীয়তঃ কাছাড় হইতে বরং “কাছাড়ী” হওয়া সম্ভব; কিন্তু বিপরীত হওয়া সম্ভবপর নহে, অন্ততঃ . ঈদৃশ উদাহরণ প্রায় দেখা যায় না। আমাদের বিশ্বাস, কাছাড়' এই নামটি পৰ্বতসমীপন্থ (কচ্ছ) স্থান বলিয়া শ্রীহট্টের লােকেরা দিয়াছে। বােধ হয়, এই স্থানই কাছাড়ীদের আদিম বসতিস্থল না হইলেও নাভিস্থল ছিল, এখান হইতে স্থানীয় নামে পরিচিত হইয়া কাছাড়ীর ব্রহ্ম- পুত্ৰোপত্যকাতেও এই নামে প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছিল । ভুবন পাহাড়ে ভুবনেশ্বরের স্থানে যে সকল ভগ্ন প্রস্তরমূর্তি দেখা যায়, ঐ গুলি বহু প্রাচীন বােধ হয়; এবং এতদ্বারা এইস্থলে যে বহুপূৰ্ব্বে শিবশক্তিভক্ত (হরগৌরীচরণপরায়ণ ) কাছাড়ীরাজগণের অধিকার ছিল তাহাই সুচিত হইতেছে। আহােমদের ইতিহাসে কাছাড় রাজ্য ও হেড়ম্ব রাজ্য উভয়েরই উল্লেখ দেখা যায় । কাছাড়ীগণের প্রথম রাজধানী যে কোথায় ছিল তাহা ঠিক বলা যায় না। সম্ভবতঃ এতৎপ্রদেশের পার্বত্য স্থান বিশেষে ইহাদের আদি রাজধানী ছিল । তৎপরে ব্রহ্মপুত্ৰোপত্যকাস্থ সমতলভূমিতে রাজধানী পরিবর্তিত হয়। নোগা জেলার অন্তর্গত কপিলীনদীর উপত্যকায় ‘হাইয়ংথল’ নামক স্থানে শিবমন্দিরাদির যে ভগ্নাবশেষ পরিদৃষ্ট হয়, ইহা কাছাড়ীদের রাজধানীর চিহ্ন বলিয়া আসাম প্রত্নতত্ত্বজ্ঞ শ্ৰীযুক্ত হেমচন্দ্র গােস্বামী মহাশয় “জোনাকী” পত্রে প্রকাশিত তদীয় প্রবন্ধ- বিশেষে নির্দেশ করিয়াছেন; কিন্তু ইহাই ব্ৰহ্মপুত্ৰোপত্যকার প্রথম • আসাম প্রদেশে মু প্রচলিত রিপুঞ্জয় স্মৃতি সংগ্রহে “ক” শব্দ দ্বারা কাহাড়ী- দিগকে 'অভিহিত করা হইয়াছে । * কানাকী নব পৰ্য্যায় দ্বিতীয় ভাগ ৩৯৮ পৃঃ।
No text on this page.
ডিমাপুরের তােরণ দ্বার -
MILNati
INSTITUWASILI
1
AN
No text on this page.
[ ১১ ] রাজধানী কি না বলা যায় না। শ্রীযুক্ত মণি চরণ বর্মা বলেন, “কাছাড়রাজগণ এক সময়ে সদিয়া অঞ্চলেও রাজত্ব করিয়া- ছিলেন বােধ হয় ; কারণ আজ পর্যন্তও সেই অঞ্চলাস্থিতা বিখ্যাত। দেবী “কেচাই খান্তির” পূজা আমাদিগকে দিতে হইতেছে”। ইহাতে দেখা যায় ঐ অঞ্চলেও একদা কাছাড়রাজগণের বসতিস্থল ছিল, নচেৎ এতদূর তাহাদের উপাস্য দেবীর স্থান হইতে পারিত না। শ্ৰীযুক্ত গেইট সাহেব বলেন, দৈয়ং নদীর সন্নিকৃষ্ট ‘কসােমারি পাথার নামক স্থানে কাছাড়ীগণের এক প্রাচীন নগরীর ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। যাহা হউক ঐতিহাসিক যুগে অর্থাৎ আহােমদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময়ে ডিমাপুরে তাহাদের রাজধানী দেখা যায়। এই রাজধানীর নামকরণে রাজগণ তাহাদের পূর্বপুরুষের জননী হিড়িম্বার স্মৃতিরক্ষা করিয়াছিলেন বােধ হয় ; “হিড়িম্বা” নামই কালে “ডিমাপুরে পরিণত হইয়াছে। এই পরিবর্তনের একটু কারণও কারণও দেখা যাইতেছে। আহােমের ইহাকে “চিড়িমা” বলিত, বােধ হয় উচ্চারণদোষে। আদ্যক্ষর ‘চি’ অর্থ নগর, তাই কালে নগরবাচক বলিয়া ‘চি’ ভাগের লােপ পাইয়া পশ্চাদভাগে তদ্বাচক পুরশব্দ বসিয়াছে। সে যাহা হউক, ডিমাপুরে রাজধানীর চিহ্ন এখনও বর্তমান। এখানে বহু স্থান যুড়িয়া ইষ্টক প্রাচীর দেখা যায় এবং ইষ্টক নিৰ্ম্মিত একটি সুন্দর তােরণদ্বার এখনও বর্তমান রহিয়াছে। এই তােরণ- দ্বার দিয়া প্রাচীরমধ্যস্থিত স্থানে প্রবেশ করিলে শ্রেণীবদ্ধ প্রস্তর- স্তম্ভাবলী পরিদৃষ্ট হয়। ঐ গুলিতে সুন্দর কারুকার্য্য রহিয়াছে এবং প্রত্যেকটি আস্ত পাথর কাটিয়া তৈয়ার করা ; অর্থাৎ কঁচা মাংস ভক্ষণকারিণী ; এখামে নরবলি পৰ্যন্ত হইত। (iiit', listory of 195um.1. 246 দ্রষ্টব্য।
১২ ] হইয়াছে বলিয়া বােধ হয়। আশ্চর্যের বিষয় এই যে এই প্রস্তর ডিমাপুরের নিতান্ত সন্নিকটস্থিত কোনও স্থানে দেখ। যায় না ; দশবিশ মাইল দূর হইতে এই বিশাল প্রস্তর খণ্ডগুলি আনতি হইয়া এখানে প্রােথিত হইয়াছে। আর এক একটিতে কি সুন্দর কাজ করা রহিয়াছে। লতা, পাতা, ফুল, পশু, পক্ষী খােদিত আছে, নাই কেবল কোনও দেবমূৰ্ত্তি বা নরমূর্তি। এইটাও এক আশ্চর্যের কথা যে হাইয়ংথলের দেবমন্দির যাহাদের স্থাপিত এবং যাহারা কেচাইখান্তি দেবীর উপাসক ছিলেন, সেই হৈড়িম্বেয় বংশীয় নৃপতিগণের ব্রহ্ম- পুত্ৰোপত্যকাস্থ শেষ রাজধানীতে দেবমূৰ্ত্তি বা মন্দির দেখিতে পাওয়া যায় না। অপিচ, ইতিহাসে আমরা ডিমাপুরের কোনও নৃপতির নামও পাইতেছি না। ডিমাপুরে অনেক গুলি সরােবর আছে; একটির জল অদ্যাপি অতি নিৰ্ম্মল ও সুপেয়। এই স্থানে সম্প্রতি আসামবেঙ্গল রেলওয়ের মণিপুর রােড়, ষ্টেশন হইয়া বাজার হাট প্রভৃতি বসিয়াছে। বহুকাল আহােমগণের সঙ্গে সংগ্রাম করিয়া পরিশেষে ডিমাপুর হইতে কাছাড়ীরা রাজধানী মাইবং নামক স্থানে পরিবর্তিত করে। মাইবঙ্গে সম্প্রতি আসামবেঙ্গল রেলওয়ের একটি ষ্টেশন হইয়াছে, ডিমাপুর হইতে ইহার দূরত্ব ৮৫ মাইল। শ্ৰীযুক্ত গেইট সাহেবের মতে ১৫৩৬ খৃষ্টাব্দে আহােমগণ কর্তৃক ডিমাপুর বিধ্বস্ত হইলে পর কাছাড়ীগণ ধন শ্রীনদীর তীরভূমি (ডিমাপুর) পরিত্যাগ করিয়া মাহুর নদীর তীরস্থ এই মাইবঙ্গে আসিয়া নূতন রাজধানী স্থাপন করে। কিন্তু মাইবঙ্গের রাজধানীর নির্মাণ কাৰ্য তৎকালেই সমাপ্ত হইয়াছিল, একথা বলা যায় না। সম্প্রতি দুই খানি প্রস্তরফলক আবিষ্কৃত হইয়াছে, উভয় খানিতে প্রায় একই কথা লিখা। তাহা হইতে জানা যায় যে শক ১৪৯৮ অব্দের ২৬ শে শুভমস্তু শ্ৰীশ্ৰীযুত মেঘনারায়ণ দেব হচেঙ্গা বংশতঃ ভাত রাজা হৈ মাইবাঙ্গ রাজ্যত পাথরে সিঙ্গার ( সিংহদ্বার) বাইলেন শকাব্দাঃ ১৪৯৮ বিতেরীথ আষাড় ২৬।
( =(
ون
؟)
حیدر 2/5)
دات نت - 22
IC
যশােনারায়ণের রৌপ্যমুদ্রা
HOW
যশােনারায়ণের সিকি।
| ১৩ ] আষাঢ় তারিখে (জুলাই ১৫৭৬ খৃষ্টাব্দে) রাজা মেঘনারায়ণ এই মাইবঙ্গে প্রস্তর দ্বারা (অন্ততঃ) একটি সিংহদ্বার বঁধাইয়াছিলেন। আসামবেঙ্গল রেলওয়ে প্রস্তুত হইবার কালে মাইবঙ্গের রাজধানীর অনেক চিহ্ন বিলুপ্ত হইয়াছে। ইষ্টকের প্রাচীর এবং গৃহাদির ভগ্নাবশেষ রেলওয়ের নির্মাণকাৰ্য্যে সহায়তা করিয়া চিরকালের নিমিত্ত অদৃশ্য হইয়াছে । মেঘনারায়ণের সিংহদ্বারটিও অতীত অস্তিত্বের সাক্ষ্যদানার্থ প্রস্তরফলকদ্বয় রাখিয়া বােধ হয় রেলওয়ের কঙ্করাদিতে সাযুজ্য লাভ করিয়াছে। আবার কত প্রস্তরমূর্তি ও কত প্রাচীন মূদ্রা তদুপলক্ষে অন্তর্হিত হইয়াছে, তাহার ইয়ত্তা নাই । দুই একটি মাত্র মূর্তি আজিও মাইবঙ্গ ষ্টেশনে ভগ্নাবস্থায় দৃষ্ট হইয়া থাকে। মুদ্রাগুলির মধ্যে মাত্র রাজা যশােনারায়ণের দুইটি মুদ্রা * শ্রীযুক্ত নন্দলাল বৰ্ম্মা কর্তৃক কোনও প্রকারে সংগৃহীত হইয়াছে। এই দুইটি মুদ্রার বড়টিতে ১৫৫ এই শকাব্দের অঙ্ক আছে। ইহা ১৫০৫' ( অর্থাৎ ১৫৩ খৃষ্টাব্দ) হইবার কথা। ইহা হইতে দেখা যায়যে খৃষ্টীয় ষােড়শ শতাব্দীর শেষার্ধে রাজা যশােনারায়ণ এই কাছাড় রাজ্যে হাচেঙ্গস + বংশে (অর্থাৎ মেঘনারায়ণেরই বংশে) * বড়মুদ্রাটির লিপি এই ঃ-“হরগৌরীচরণ পরায়ণ হচেসা বংশজ শ্ৰীষশাে- নারায়ণ দেখ ভুপাল শাকে ১৫৫”। সিকি মুদ্রাটির লিপি এই হরগৌরীচরণ পর ঐশ্ৰীষশােনারায়ণস্য ”। | ইহা ১৫৫০ হইতেও পারিত। কিন্তু ইহাতে দোষ এই হয় যে শ্রীযুক্ত গেইট সাহেবের ইতিহাসে সেই সময়ে কাছাড়ে অন্য ভূপতির রাজত্বের উল্লেখ দেখা যায় । # হচেঙ্গসা,কাহাড়ীদের একটা পােত্র ; হেডম্বাধিপগণ এই গােত্রেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এসে বলা আবশ্যক যে মেঘনারায়ণের শিলালিপিতে এবং যশাে- নারায়ণের মুদ্রাতে উল্লেখ না থাকিলেও, ষােড়শ শতাব্দীতে কাছাড় রাজ্য হেড় নামেই পরিচিত ছিল। কণ্ঠভূষণ লিখিত শঙ্করদেবের চরিতে আছে, হেডম্ব দেশ হইতে দূত আসিয়া শঙ্করদেবকে বলিতেছেঃ- “হেড দেশর রজা পঠাইছে আমাক । অনেক ভকতি ভাবে তােমাকে নিবাক।”
[ ১৪ ] রাজা হইয়াছিলেন এবং সম্ভবতঃ তিনি এই মাহবঙ্গেই রাজত্ব করিতেন। আহােমদের বুরঞ্জী হইতে সংগৃহীত ঐযুক্ত গেইট সাহেবের ইতিবৃত্তে জানা যায় যে এই সময়ে কাহাড়ী রাজা শত্রুদমন বড়ই পরা- ক্রান্ত নৃপতি ছিলেন। তিনি দুইবার দুর্ধর্ষ আহােম সৈন্ঠ পরাজয় করিয়া প্রথমবার ‘অসিমর্দন’ এবং দ্বিতীয় বার “প্রতাপনারয়ণ” নাম গ্রহণ করিয়া মাহবঙ্গের নাম “কীৰ্ত্তিপুর” রাখিয়াছিলেন। ইনি জয়ন্তীয়ার রাজা ধনমাণিককেও যুদ্ধে পরাস্ত করিয়া তাহার কাছ হইতে কর গ্রহণ করিয়াছিলেন। কিন্তু প্রায় সেই সময়েই কাছাড়ের সমতল প্রদেশে ব্রহ্মপুর ওরফে খাসপুর নামক একটি নগরীর উল্লেখ দেখা যায় । বােধহয় এই পার্বত্য রাজধানীতে রাজারা অতি অল্পকালই অবস্থিতি করিয়াছিলেন। এতৎ স্থলে বীরদর্প নারায়ণের নামও কিঞ্চিৎ উল্লেখ যােগ্য ; তাহার সময়ের একটি শঙ্খ পাওয়া গিয়াছে ইহাতে নারায়ণের দশ অবতার অঙ্কিত আছে। তার পর কয়েক জন অপ্রখিতনাম নৃপতি রাজত্ব করিবার পর তামধ্বজ রাজপদারূঢ় হন। আহােমরাজ মহা প্রতাপ রুদ্ৰসিংহ তখন * M. (Gut১ Ilistory of Assium P. 207. দুষ্টব্য। + শখের উপরে খােদিত লিপিটি এই :—“১৫৯৩ শকত আঙ্ণ মাসত । শ্ৰীযুত বীরদগ্ধ নারায়ণ কালত ই শঙ্কাটি।” আপাত দৃষ্টিতে শকাঙ্কটিকে ১৩৯৩’ পড়া যাইতে পারে; কিন্তু আসাম ইতিহাস প্রণেত। শ্ৰীযুক্ত গেইট সাহেব ইহা “১৫৯৩” শক পড়িয়াছেন। এইরূপ পড়িবার প্রধান কারণ এই যে ‘অরুণােদই’ নামক একখানি অসমীয়া মাসিক পত্রিকার ১৮৫২ সালের আগষ্ট সংখ্যায় আহােমরাজগণের বুরঞ্জীর যে অনুবাদ প্রকাশিত হইয়াছিল তাহাতে এক “বিরদর্পের” কথা আছে। তিনি ১৫৬৭ শকে আহােমরাজ দুহিতার পাণিগ্রহণেচ্ছা প্রকাশ করিয়া দূত পাঠাইয়াছিলেন। এই “বিরাগের একটি নামান্তরও দেখাযায়, তাহা বলিদর্প নারায়ণ”। দুঃখের বিষয় বহু চেষ্টা করিয়াও শঙ্খটির যে স্থানে শকাৰু লেখা ঐ অংশের চিত্র দিতে পারা গেলনা। f
.
। ১৮,
বীরদর্পের দশাবতারাঙ্কিত শঙ্খ
No text on this page.
[ ১৫ আসামের সিংহাসনাধিরূঢ়। এই প্রবল পরাক্রান্ত ভূপতি বহু সৈন্য সামন্ত পাঠাইয়া মাইবঙ্গ অধিকার করেন। এবং তত্ৰত্য ইষ্টক কারাদির ধ্বংস সাধন করেন। * তাম্ৰধ্বজ খাসপুরে চলিয়া যান এবং সম্ভবত তখন হইতেই রাজগণ খাসপুরে স্থায়িভাবে বাস করিতে থাকেন। অতঃপর শূরদর্প রাজা হন, কিন্তু তখন বোধহয় তাহার বয়স অল্প ছিল তাই কবি ভুবনেশ্বর বাচস্পতি তদীয় জননী চন্দ্রপ্রভাদেবীর অনুমতি অনুসারে নারদীয় পুরাণের পদ্যানুবাদ করেন। বাচস্পতি সম্বন্ধে প্রবাদ আছে যে পূর্বে কাছাড়ের অধিষ্ঠাত্রী রণচণ্ডীর নিকট নরবলি প্রদান করা হইত, তদর্থে রাজার চরেরা নিকটবর্তী শ্রীহট্ট প্রভৃতি স্থান হইতে মানুষ ধরিয়া আনিত ; ব্রাহ্মণের বাল হইত না, তাই রাজার চরেরা বাচস্পতির উপবীত ছিড়িয়া তাহাকে বলিদানার্থ নয়। আইসে। বাচস্পতির ন্যায় একজন সুপণ্ডিত ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় পাইতে রাজার অধিক সময় লাগিল না। সেই সময় হইতে কাছাড় রাজ্যে নরবলি দেওয়া নিষিদ্ধ হইল। + শূরদর্পের পরে কাছাড়ের উল্লেখযােগ্য রাজা কীৰ্তিচন্দ্র নারায়ণ ; ইনি ১৬৫৮ শকের ২৯শে ভাদ্র তারিখে ( সেপ্টেম্বর ১৭৩৬ খৃষ্টাব্দে। * রুদ্ৰসিংহের আক্রমণ তাৰিখ আহােম বুৰঞ্জী মতে (অন্ততঃ গেইটু সাহেবের ইতিহাস অনুসারে) ১৭০৬ খৃষ্টাব্দ। কিন্তু পূর্বেই বলিয়াছি নারীরসামৃতের মতে ১৭০০ খৃষ্টাব্দেই তাম্ৰধ্বজপুত্র শূরদপ সিংহাসনাধিরূঢ় ছিলেন। এমনও হইতে পারে যে নারীরসামৃতের শকাব্দ সংখ্যা ভমতঃ ১৬৩২ স্থানে ১৬২২ লিখিত হইয়াছে। ১৬৩২ শকে ১৭১০ খৃষ্টাব্দ হয়। আসাম ইতিহাসের মতে ১৭০৮ খৃঃ সেপ্টেম্বর মাসে রাজ। তাম্রজ পরলােকপ্রাপ্ত হন। কিন্তু আসামের ইতিহাসে উল্লেখিত এই সন তারিখ যে ভ্রমসঙ্কল নয়, তাহাই বা কি প্রকারে বলিতে পারি ? } মাইবঙ্গে দুইটি দীপগাছ (cyad or (Vis revoluta) আছে, কাছাড়ীর বলে, এই গাছের নীচে নরবলি প্রদান করা হইত। শূরদর্প রাজার সময়ে নরবলি প্রথা রদ হইলে আজ দুইশত বৎসর কাল যাবৎ নরবলি হয় না বলিতে হইবে। গাছ দুইটি পুরুষ প্রমাণ উচ্চ ; ইহাদের প্রাচীনত্ব অবিশ্বাস্য। অপিচ রাজা হরিশ্চ রে পরে কাড়রাজগণের কাহারও মাইবঙ্গে কোনও চিহ্ন দেখা যায় না। } " [.. ১৬ ] মণিরাম উজিরকে দুইখানি সনন্দ প্রদান করিয়া স্বীয় অস্তিত্বের পরিচয় রাখিয়া গিয়াছেন ; পশ্চাৎ সনন্দ দুইখানির সবিশেষ উল্লেখ করা যাইবে। রাজা কীর্তিচন্দ্রের পুত্র রামচন্দ্র ; তাহার কোনও নিদর্শন পাওয়া যার নাই। তাহার দুই পুত্র, জ্যেষ্ঠ হরিশ্চন্দ্র কনিষ্ঠ লক্ষ্মীচন্দ্র। জ্যেষ্ঠ হরিশ্চন্দ্র রাজা হন। মাহঁবঙ্গে পৰ্বতের পাদদেশে একটি পাষাণ নিৰ্ম্মিত নিরেট মন্দির আছে ইহার গাত্রলিপিতে হরিশ্চন্দ্র নারায়ণের নাম পাওয়া যায়।* দোলমঞ্চের অধােভাগের ন্যায় প্রস্তর ময় প্রায় আট হাত উচ্চ একটি ভিত্তির উপর এই পাষাণ মন্দির বিষ্ণু মণ্ডপের আকারে নির্মিত । এই গৃহটি পৰ্বতের একটি অংশ কাটিয়া তৈয়ার করা হইয়াছে। দৈর্ঘ্যে ১২ হাত এবং প্রস্থে ৭ হাত ; উচ্চতা খুবই কম। চারি পার্শ্বে দেওয়ালের গায়ে খােপ আছে। পশ্চিমের খােপটিতে অস্পষ্ট কিছু অঙ্কিত দেখা যায়, হয়ত ইহাই খড়ঙ্গরূপা রণ- চণ্ডীর চিহ্ন; তৎপাশ্বেই লিপি। রাজা হরিশ্চন্দ্রের এই মন্দিরে রণচণ্ডীর পূজা হইত কি না সন্দেহ। রাজ বাড়ীর যেখানে দীপগাছ প্রভৃতি পরিচিহ্ন দেখা যায় তাহা হইতে এই মন্দির দেড় মাইলের হরিশ্চন্দ্রের রাজত্ব কালও আজ দেড় শত বৎসরের পূর্ববর্তী। এই দুই গাছ এত প্রাচীনও হইতে পারে না। বােধ হয় এই দুইটি পূর্বতন বৃক্ষের সন্ততি হইবে এবং আজিও পূর্বপুরুষের সম্মানে সম্মানিত হইতেছে। # শ্রীশ্রীরণচণ্ডি পদারবিন্দে মধুকরস্ত বগা গােহাই শ্রীরাই * * * হিড়ম্বেশ্বৰ শ্ৰীশ্ৰীযুত হরিচন্দ্র নারায়ণ নৃপ সক সুভমন্তু সকাল ১৬৮০ মার্গশীর্ষস্থা * * দিবসগতে ভুমিপু ব্র বাসরে পাষা * নিন্মিত ৩ প্রাসাদ * * ৭ মিতি। শ্ৰীযুক্ত গেইট সাহেব শকাব্দটাকে ১৬৪৩ ( ১৭২১ খৃঃ ! পড়িয়া ভ্রান্ত হইয়া খাসপুরে পশ্চাদুল্লেখিতব্য) শিলালিপির উল্লেখিত হরিশ্চলের সহিত এই হরিশ্চন্দ্রের ভিন্নত্ব কল্পনা করিয়াছেন।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
[ ১ ]
উপর হইবে। অপিচ হরিশ্চন্দ্ৰ মাইবঙ্গে বাস করিতেন কি না
তাহাও সন্দেহের বিষয়। কেন না খাসপুরে রাজা হরিশ্চন্দ্রের পাট
এখনও প্রদর্শিত হইয়া থাকে। তবে সেই পাটে যে একটি ভগ্নমন্দিরের
শিলালিপি পাওয়া গিয়াছে * তাহাতে দেখা যায় যে ঐ মন্দির ১৬৯৩
শাকে, অর্থাৎ মাইবঙ্গের পাষাণ মন্দির নির্মাণের দশ বৎসর পরে,
নির্মিত হইয়াছিল।
রাজা হরিশ্চন্দ্র ধর্মপরায়ণ ছিলেন; আবায় তাহার সন্তানাদিও ছিল
না। তাই তদনুজ লক্ষ্মীচন্দ্রেয় + উপর রাজ্যভার অর্পণ করিয়া তিনি
ভগবচ্চিন্তায় মনােনিবেশ করিয়াছিলেন। কিন্তু হায়, তাহার অদৃষ্টে
বিশ্রামমুখভােগ ছিল না, তাই অকালে লক্ষ্মীচন্দ্র প্রাণত্যাগ করিলেন।
* ইহা সম্প্রতি কাছাড়ের ডিপুটি কমিশনারের অফিসে আছে। লিপি এই~-
নন্দ নন্দনাজ্ঞয়া
নেত্রাঙ্ক রস চন্দ্ৰমিতে
কে কার্তিক স্থিতে ভাস্ক
য়ে হেড়ষাধিপতি শ্রীম
দ্বারি চন্দ্র নারায়ণাভ
দয়িণী রাষ্ট্রে তদন্তর্গত
খাশুর নাম নগরে ৩ ত
২ পাদ পঙ্কজ মকর
লােলুপমানা এল শ্রী
মতি রাজমাতা লক্ষ্মী
তা দেবী শাখিতেষ্টকাদি
নিচয় নির্মিত বিচিত্র প্রা
সাদাভিরামঃ।
1 প্রযুক্ত গেইটু সাহেব তদীয় আসামের ইতিহাসে ইহাকেই বােধ হয় “সন্ধিকারী”
আখ্যায় অভিহিত করিয়াছেন।
# তৎকালে রাজা হরিশ্চন্দ্র মাইঙ্গের পাষাণ গৃহের নিকটে নির্জন শান্তি কুটীয়ে
অবস্থান করিয়াছিলেন কি না কে বলিতে পারে?
[ ১৮ ] লক্ষ্মীচন্দ্রের দুই পুত্র কৃষ্ণচন্দ্র ও গােবিন্দচন্দ্র * তখন নিতান্ত অল্পবয়স্ক ছিলেন; তাই হরিশ্চন্দ্রকে পুনশ্চ রাজ্যভার বহন করিতে হইয়াছিল। যথাকালে হরিশ্চন্দ্রের স্বর্গপ্রাপ্তি হইলে কৃষ্ণচন্দ্র রাজত্ব লাভ করেন। ইমিও অতিশয় ধর্মপরায়ণ ছিলেন ; অধিকন্তু সংস্কৃতশাস্ত্রে বিলক্ষণ পণ্ডিত ছিলেন। রাগপঞ্চাধ্যায় অবলম্বনে ইনি বঙ্গভাষায় মহারাস নামক যে গ্রন্থ রচনা করিয়া গিয়াছেন ইহা অতীব সুশ্রাব্য হইয়াছে। খাসপুরে ইহারও পাট আছে ; তাহাতে রণচণ্ডীর । মন্দির প্রভৃতি এখনও অনভিয়াবস্থায় বর্তমান রহিয়াছে। * সম্প্রতি কৃষ্ণচন্দ্র-গগাবিন্দচন্দ্রের মহিষী ইন্দুপ্রভার শ্বশুর ও পিতৃকুলের তর্পণকার্যে সহায়তাকল্পে প্রস্তত একখানি নামগােত্র তালিকা মুহিত হইয়াছে ; তাহা হইতে দেখাযায় যে হরিশ্চন্দ্ৰই কৃষ্ণচন্দ্র ও গোবিন্দচলের জনক ছিলেন এবং লক্ষ্মীচন্দ্র হরিশ্চন্দ্রের পিতৃব্য ছিলেন। আমরা এতৎপ্রবন্ধে শ্রীযুক্ত বিপিনচন্দ্র লস্কর মহাশয়ের প্রদত্ত হেড়ম্বরাজবংশ বিবরণীর অনুসরণ করিয়াছি; এবং ইহাই সমীচীন বােধ হয় ; কেননা নানাস্থান হইতে প্রাপ্ত পরস্পরবিবদমান কাছাড়ী রাজমালার সকলটিতেই হরিশ্চন্দ্রের পর লক্ষ্মীচন্দ্রের উল্লেখ দৃষ্ট হয়। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ও গােবিন্দচন্দ্র লক্ষ্মীচন্দ্রের পুত্র কি হরিশ্চন্দ্রের পুত্র এ বিষয়ে মতদ্বৈধ দেখা যায়। কাছাড়ীরাজবংশীয় ‘কুঙর শ্রীধু পূর্ণচন্দ্র বর্মা মহাশয় বলেন যে রাজ- ভ্রাতৃদ্বয় হরিশ্চন্দ্রেরই পুত্র ছিলেন। কিন্তু বহুদশী শ্ৰীযুক্ত নন্দলাল বৰ্মা মহাশয় বিপিন বাবুর মতেরই সমর্থক; এবং হরিশ্চন্দ্রের রাজত্যাগ প্রভৃতি ঘটনাতেও বিপিন বাবুর মতই যুক্তিসঙ্গত বলিয়া প্রতীত হইবে। আসাম ইতিহাস প্রণেতা শ্রীযুক্ত গেইট সাহেব লিখিয়াছেন যে ১৭৯০ খৃষ্টাব্দে সভ্ৰাতৃক মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তানিৰ্মিত গােমূর্তির গভে প্রবিষ্ট হইয়া বহির্গত হন ; তদবধি ব্রাহ্মণের। তাহাদিগকে ভীমবংশীয় ক্ষত্রিয় হিন্দু বলিয়া গ্যাপিত করেন। তিনি আরও বলেন যে মাইবঙ্গে অবস্থানকাল হইতেই কাছাড় রাজগণ কর্তৃক হিন্দু ধৰ্মগ্রহণের আরম্ভ হয়। কিন্তু বহুপূর্বকাল হইতেই যাঁহারা হেডম্বেশ্বর নামে পরিচিত হইতেন এবং ব্রহ্মপুত্রোপত্যকার যাহাদের রাজধানীর ভগ্নাবশেষ মধ্যে দেবমূৰ্ত্তি অদ্যাপি পরিলক্ষিত হয়, তাহাদের সম্বন্ধে শ্ৰীযুক্ত গেইট সাহেবের এতাদৃশ উক্তি সমীচীন বলিয়া বিবেচিত হইতে পারে না। । রণচণ্ডীর নাম পূর্বেও উল্লেখিত হইয়াছে ; বহুকাল হইতেই এই দেবী কাছাড়রাজগণের আরাধ্যা ছিলেন। রণচণ্ডী কোনও দেবতা-মৃত্তি নহেন, শিবাজীর ‘বনী’র মত, অথবা আহােমদের “হেংদাং” এর ন্যায়, একখানি তরবারি মাত্র। এইরূপ প্রবাদ যে নির্ভয় নারায়ণ নামক কাছাড়ের
No text on this page.
গােবিন্দচন্দ্রের মানমন্দির
হমি
সশ্রাবণ
রচন্দ্র
লোপদ
হ
দিসের
কুষ
No text on this page.
[ ১৯ ] রাজা কৃষ্ণচঞ্জ ৪০ বৎসর রাজত্ব করিয়া অপুত্রক অবস্থায় ১৭৩৫ শকে (১৮১৩ খৃষ্টাব্দে) পরলােক গমন করিলে তদীয় ভাগ গােবিন্দ চন্দ্র সিংহাসনাধিরূঢ় হন। ইনি অগ্রজের ন্যায় সংস্কৃতে ব্যুৎপন্ন ছিলেন এবং মহারাসপ্রণয়নে তাহার সহযােগিত্ব করিয়াছিলেন । কিন্তু ভ্রাতার ন্যায় তিনি সাধুশীল ছিলেন না। কৃষ্ণচন্দ্র মণিপুরের রাজ- কুমারী ইন্দুপ্রভার পাণিগ্রহণ করিয়া তাহাকে পাটরাণী করিয়াছিলেন। গােবিন্দচন্দ্র রাজ্য লাভের পরে অগ্রজের মহিষীকেই পাটরাণী পদে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছিলেন। খাসপুরে রাজা গােবিন্দচন্দ্রেরও পাট আছে এবং তথায় তঁাহার নির্মিত স্নানমন্দিরও একটি রাজা গোবিন্দের একটি মুদ্রা পাওয়া গিয়াছে ; * ১৭৩৬ শকাব্দে অর্থাৎ তাঁহার রাজ্যাভিষেকের পর বৎসরেই ঐ মুদ্রা প্রচারিত হয়। তাঁহার সিংহাসনারােহণের চারি বৎসর পরে তদীর দণ্ডবিধি প্রচারিত হয়। রাজা গােবিন্দ চন্দ্রের কোষ্ঠীতে লিখা ছিল যে অস্ত্রাঘাতে তাহার প্রাণবিনাশ হইবে। ক্ষত্রিয়াতিমানী হইলেও রাজ। এই নিমিত্ত সর্বদা সশঙ্ক থাকিতেন। দুর্ভাগ্যবশতঃ তাহারই সময়ে কাছাড়ে নানারূপ বিপ্লব ঘটিয়াছিল । প্রথমতঃ কাশী চন্দ্র (ওরফে কাচাদীন) নামক তাহার এক ভূত ; একজন প্রাচীন নৃপতি একদা রাত্রিতে স্বপ্নে দেখেন, যে দেবী তাহাকে বলিতেছেন, “বৎস আগামী কল্য নদীতে গেলে আমাকে সর্পরূপে দেখিতে পাইবে; যদি উহার শাখায় ধরিতে পার ৩বে আমি নিজমূর্তিতে পরিণত হইব, লেজে ধরিলে অসির আকৃতি ধারণ করিব।” রাজা তদনুসারে সর্প দেখিয়া ভয়ে মুখের দিকে পরিতে পারিলেন না তাই দেবী খড়গরূপেই পরিণত হইয়া পূজিত হইতে লাগিলেন। * শুভ্রার লিপি এইঃ- “হৈড়িম্বপূধীশ শ্রীচণ্ডী পদাজুষঃ শ্রীগােবিন্দ চন্দ্র রাঙ্গেজিকে শাকে।” লক্ষ্যের বিষয় এই যে এই মুদ্রাটিতে হেষের হলে “হৈড়িম্ব” এই বিশুদ্ধ সংজ্ঞা ব্যবহৃত হইয়াছ।
[ ২ ] উত্তরদিক্স্থিত পার্বত্য অঞ্চলে গিয়া নিজকে স্বাধীন বলিয়া ঘােষণা করে। রাজা উহাকে কৌশলক্রমে ধৃত করিয়া বিনাশ করিলে উহার পুত্র তুলসীচন্দ্র বা তুলারাম রাজার বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করিয়া উত্তর কাছাড়ে আপন রাজত্ব ঘােষণা করে। গােবিন্দ চন্দ্রের রাজত্ব ব্রিটিশ অধিকার ভুক্ত হওয়ার পরেও তুলারাম সেনাপতির রাজ্য” বহুদিন স্বাধীন ছিল। তৎপর মণিপুরের তৎকালীন রাজা, গােবিন্দমহিষী ইন্দুপ্রভার পিতৃব্য, হেড়ম্বরাজ পুনঃ পুনঃ আক্রমণ করিয়া গােবিন্দকে ব্যতিব্যস্ত করিয়া তুলিলেন। গােবিন্দ প্রথমে ব্রিটিশ গবর্ণমেন্টের সহায়তাপ্রার্থী হইয়া বিমুখ হইলে ব্ৰহ্মরাজের সাহায্য প্রার্থনা করিলেন। যখন ব্রহ্মদেশীয় সৈন্য কাছাড়ে আসিয়া উপস্থিত হইল তখন ব্রিটিশ গবর্ণ- মেন্ট কাছাড় হইতে ব্ৰহ্মদেশীয়দিগকে তাড়াইয়া উহা আপন ক্ষমতা- ধীনে আনয়নার্থ অস্ত্ৰগ্ৰহণ করিলেন। পরিশেষে ব্রহ্মদেশীয়গণের করাল কবল হইতে কাছাড় বিমুক্ত হইলে রাজা গােবিন্দচন্দ্র ইংরেজ- রাজের সামস্তরূপে রাজ্য শাসন করিতে লাগিলেন। কিন্তু ব্ৰহ্মদেশীয় ও মণিপুরীদের আক্রমণ ভয়ে খাসপুর পরিত্যাগ করিয়া ব্রিটিশ অখি- কারের সন্নিকৃষ্ট বরাক নদীর তীরস্থ হরিটিকর নামক স্থানে শেষ রাজধানী স্থাপন করিলেন। এখানেও গােবিন্দ কৰ্ম্মদোষে শান্তিতে বাস করিতে পারিলেন না। ব্ৰহ্মদেশীয়গণ কর্তৃক মণিপুর আক্রান্ত ও উপদ্রুত হইলে অনেক মণি- পুরী কাছাড়ে আসিয়া বসতি স্থাপন করে। রাজা গােবিন্দ পূর্বতন আক্রোশে উহাদের উপর বিষম অত্যাচার করেন। পরিশেষে এই মণিপুরীরা মণিপুররাজ গম্ভীর সিংহের অধিনায়কত্বে হরিটিকর আক্রমণ পূৰ্ব্বক উহার ধ্বংস সাধন করিয়া গােবিন্দের প্রাণবিনাশ করে। কোষ্ঠর লিখন সফল হইল।
[ ২১ ] ; গােবিন্দ উত্তরাধিকারি বিহীন ছিলেন; তাই তদীয় মৃত্যুর পর ব্রিটিশ গবর্নমেন্ট কাছাড় রাজ্য আপন অধিকারভুক্ত করিয়া লইলেন। প্রথমতঃ সহকারী কাগজ পত্রে “হেড়” নামই ব্যবহৃত হইত, পশ্চাৎ জেলার নাম ‘কাছাড় হইয়া গেল। আমরা কাছাড় রাজগণের অনেকগুলি “বংশাবলী” দেখিতে পাই। হান্টার সাহেবের ষ্টেটিষ্টিকেল একাউন্টস ঘটোৎকচ হইতে গােবিন্দ চন্দ্র পর্যন্ত ১০৩ পুরুষ দেখা যায় ; আবার শ্ৰীযুত বিপিন চন্দ্র লস্কর মহাশয়ের প্রদত্ত বংশাবলীতে ১৮৪ পুরুষ প্রদর্শিত হইয়াছে। এইরূপ নানা বংশাবলীতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা দেখা যায়। ফলকথা কোনটিই বিশ্বাস যােগ্য নহে। অবিশ্বাসের কারণ এই যে আহােমদের ইতিবৃত্ত কিংবা মুদ্রা ও শিলালিপি প্রভৃতি দ্বারা যে যে কাছাড়নৃপতির নাম ও তারিখ পাওয়া যায়, ঐ গুলির কোনও কোনও নাম বংশাবলীতে নাই; আবার কোনওটিতে থাকিলেও পৌৰ্বাপৰ্যে সমূহ ব্যত্যয় আছে। হান্টার সাহেব এই ‘বংশাবলী’ ব্রাহ্মণদের ‘জালিয়াতি’ (Brahmanical forgery) বলিয়াছেন। এবং কাছাড়ী কোচ প্রভৃতি রাজগণের কত্ৰিয়ত্ব বিধানকর্তা ব্রাহ্মণদিগকে শ্ৰীযুক্ত গেইট সাহেব পরগাছা অর্থাৎ মােসাহেব (priestly parasites) বলিয়া অভিহিত করিয়াছেন। * এই পরিবর্তন কখন হইল বলা যায় না। শ্ৰীযুক্ত গেইট সাহেব বলেন যে ১৮৩৫ খৃঃ সিলমােহরে ‘হেড়ম্ব’ নামইদেখিতে পাওয়া যায়। কিন্তু পশ্চাদুল্লেখিতব্য মণিরাম উজীরের অভয়খাতিলমা সনন্দের পৃষ্ঠে কাছাড়ের প্রথম শাসনকাটি, ফিশার সাহেবের ১৮৩১ খৃঃ ২৪ শে মার্চে দস্তখতে তাঁহার " In charge of Cachar” এই পদটী দেখা যায়। ফলতঃ কাছাড় নামটি যে বহুকাল হইতে প্রচলিত ছিল, ইহা তাহার অবান্তর প্রমাণ। । গেইট সাহেবের জবাব প্রবন্ধান্তরে প্রদত্ত হইয়াছে। (Sce “ Mr (iiit's History of Assam : A critical study, in Hindustan Review, January 1908). উহা হান্টার সাহেবের উক্তির উপরও এষােক্তব্য।
[ ২২ ] কিন্তু তাহার ভাবিয়া দেখেন নাই যে যদি ইউরােপীয়েরা একটা প্রবল সভ্যতার সহিত এদেশে না আসিয়া বর্বর অবস্থায় এখানে হঠাৎ একটা রাজ্যের অধীশ্বর হইয়া এতদ্দেশেই বসবাস করিতেন, তবে কাছাড়ীগণ যেমন হিড়িম্বার বংশীয় বলিয়া খ্যাপিত হইয়াছেন তাহারাও তেমনি পুরাণপ্রসিদ্ধ বীর বা দেবতাবিশেষের সন্তান বলিয়া এই ব্রাহ্মণগণ কর্তৃক সসন্ত্ৰমে সমাজ গণ্ডীতে পরিগৃহীত হইয়াআপনাদিগকে গৌরবান্বিত মনে করিতেন। ইহাই এই দেশের সনাতন রীতি। রাজাকে দেবাংশ বলিয়া সম্মান করা এবং তদর্থে প্রয়ােজন মতে দশ পাঁচটা অনৃত কথার অবতারণা করা এই সভ্যতালােকসমুজ্জ্বল সময়েও বােধ হয় সর্ব দেশেরই রীতি। ইংলণ্ডে হেরাল্ডস কলেজ (Herald's College) এ যে সব বংশাবলী প্রস্তুত হইত তাহাতে কি কল্পিত বংশপ্ৰবৰ্ত্তকের নাম চালান হয় নাই ? যাহা হউক, এই বিষয় নিয়া বিদ্রুপ করা সুরুচিসঙ্গত কিংবা রাজনীতিসম্মত কাৰ্য্য নহে। রাজা কীর্তিচন্দ্রের স্মৃতি যে দুইখানি সনন্দ দ্বারা সংরক্ষিত হইয়াছে তৎসম্বন্ধে কিঞ্চিৎ আলােচনা করিয়া তদুপলক্ষে দুই একটি অবান্তর কথাও এ স্থলে উপস্থাপিত করা যাইতেছে। প্রথম সনন্দ খানি এই ;- ক শ্রীরা[ম] ৭ অস্থিঃ প্রচণ্ড দৌর্শগু ভব প্রতাপ দাবা নল শশভিকৃত বৈরি নিকর শ- রদিন্দু সুন্দর জশ হেড়ম্ব পুর - পুরিত পুরন্দর শ্ৰীশ্ৰীজুক্ত কির্তি চন্দ্র নারায়ণ মহারাজা- মহা মহ এচ প্রতাপে
কীত্তিচন্দ্রপ্রদত্ত মণিরাম উজিরের সনন্দ।
*** ২৭
ই
১,
शिरमासान
মইমিগ্ন
।
***
৮-৮
২৬ ২৭
মুমিয়োকি
মেডাম
$২৯
এস =
19, ক ..
সং। *** {: +, ,
এর : ,
ক'দিন
• {1.
( ২ )
(১ম)
No text on this page.
[ ২৩ ] অভয় পত্র লিখনং মিদং কার্জ্য-- আর বড়খলার চান্দলস্করর বেটা মনিরামরে আমি জানিআ কাচারির-- নিঅমে উজির পাতিলাম এতে, অখন- অবধি তুমার উজিরর বেটা ও নাতিও পরিনতি তার ধারাসুত্র ক্রমে এই উ-- জির হৈআ জাইব আর মজুন্দারর বে- টা মজুন্দার হৈব বড়ভুইআর বে— টা বড়ভুইআ হৈব এতধর্থে অভয় দিলা--- ম এতে কাল কাদাল (ক) কুনদিন এই বাক্য- দড় কুন জনে না ডাড়িব (খ) আর চতুর সি-- মা পূৰ্বে বৈল্যা হাহর ও আভঙ্গ পচ্ছি- মে তাহিরর পচ্ছিমর শিয়া এই তা- হিররে বড়খলার জায়রে (গ) দিলাম--- আর উত্তরে পানিঘাট দক্ষিণে বড় বরাক এই পুর্বর চতুরস্কিমাএ দিলা— ম এতে কুন শন্দেহ না আছে আর ব্য- জ্যর মনুশ্য জে জনে উজির বাক্যে না চলে মেল দেয়নে হেলা করি আ- দেয়ঙ্গ (খ) করে খেম্মা ?)ও জমজুরী ইন (?) বশায় ?) তারে সর্বদণ্ড করিমু, এত অর্থে অভয় [প]ত্র দিলাে]ম- (ক) সর্বদা। (খ) নাড়িব। (গ) অধীনে। (গ) মেনি।
[ ২৪ ] ইতি শক ১৬৫৮ (তারিক] ২৯ ভাদ্র-* দ্বিতীয় সনন্দ খানি এই ;- []রাম ১৪ চণ্ডি শাক্ষি ৭* স্বস্থিঃ প্রচগুদৌর্দণ্ড ভব প্রতাপ দাবা নল শলভিকৃত বৈরি নিকর শর দি[] সুন্দর জশ হেড়ম্ব পুর পু রিত পুরন্দর শ্ৰীশ্ৰীজুক্ত কির্তি চন্দ্র নারায়ণ মহারাজা মহা- মহাগ্র প্রবল প্রতাপেসু- [এ স্থানে লালালিতে সিংহমূৰ্ত্তি অঙ্কিত আছে। অবয়খাতিলজমা (ক) প- ত্রলেখিতং কাজঞ্চ :- বড় [খ]লার চান্দ লস্কর[র] বেটা মনি- রাম উজির গং ভরতি (?) প্রতি আর আমার বংশেত জত দিবস রাজশ— পদ (খ) আছে অত দিবস জদ বুনিয়াদ (গ)-- বশাংবলি(ঘ) হাকিমইতি জমিধারি তুমারে দিলাম এতে তুমার আই— ল শিম উ(ঙ) বিশএত যে হিশাং(চ)করে— * দণ্ড বিধির লিপি ও ভাষার সহিত সনদের লিপি ও ভাষা মিলাইলে যে পার্থক্য লক্ষিত হইবে, তাহা একজন টোলের ভট্টাচার্যের লিপি ও ভাষার সহিত একজন জমিদারী সেরেস্তার মােহরের লিপি ও ভাষার তুলনা করিলে আজি ও দেখা যাইতে পারে। (ক) অভয় খাতির জমা।(খ) রাজ্যসম্পদ। (গ) আমুল।(ঘ) বংশাবলী। (ঙ) ৩। (চ) হিংসা।
খাসপুরস্থ রণচণ্ডীর মন্দির
No text on this page.
[ ২৫ ] - তার প্রাণ রৈক্ষা না করিমু আর আ- মার বংশে তুমার বংশরে পালন করিব মহা২ অপরাদ পাইলে ৭শা- ঠা(ছ) অপরাধ খেমিআ উছিত দণ্ড করি - মু আর আমার বংশে তুমার বংশকে অপনিআয়(জ) শাস্থি না করিমু তুমার-- বংশে আমার গুণ যে কবুল করে শ্রীর(ঝ)- এই খাতিলজমা না ডুলিমু (ঞ) শত্য ৭ এ- তধক্তে(ট)খাতিলজমা পত্র দিলাম- ই [তি শক ১৬] ৫৮ তারিক ২৯ভাদ্র অস্য— কাছাড়রাজ্য ব্রিটিশ অধিকার ভুক্ত হইবার অল্পপরে সনন্দ দুইখানি জেলার ভারপ্রাপ্ত টি ফিশার সাহেব সমীপে দাখিল করা হইয়াছিল। তন্নিদর্শনস্বরূপ দ্বিতীয়সনন্দের পৃষ্ঠে ফিশার সাহেব স্বহস্তে লিখিয়াছেন;- Produced before me the 24th March 1831 (Sd) T Fisher in charge of Cachar. এই সনন্দ দুই খানি যাহাকে প্রদান করা হইয়াছিল সেই রাজমন্ত্রী মণিরামের পিতা চাঁদ লস্কর (ওরফে চন্দ্রশেখর দেব শঙ্কর) শ্রীহট্ট হইতে কাছাড়ে আসিয়া বসতি স্থাপন করেন। এই গ্রন্থ প্রকাশক শ্রীযুক্ত বিপিন চন্দ্র লস্কর মহাশয় চদিলঙ্করের অধস্তন সপ্তম পুরুষ। তিনি বলেন, “চন্দ্র শেখর অবিবাহিতাবস্থায় প্রথম কাছাড়ে আসেন। তিনি মহারাজ কীর্তি- চত্রের পুৰ্ববর্তী রাজার সময়েই এখানে লস্কর’ এই সম্মানজনক উপাধি (২) সাতটা। (৮) অন্যায়। (ঝ) রণচণ্ডী (?)। (ঞ) ভঙ্গ করিব না। (ট) এতদর্থে।
[ ২৬ ] তৎপুত্ৰ মণি- প্রাপ্ত হইয়া বিবাহাদি করিয়া বসতি স্থাপন করেন। রামের সঙ্গে কীর্তিচন্দ্রের সৌহার্দ ছিল ; রাজা হইলে কীর্তিচন্দ্র মণি- রামকে মন্ত্রী করিবেন এই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। তাই এই সনদ প্রদান পূৰ্ব্বক তিনি স্বীয় প্রতিজ্ঞা পালন করিয়াছিলেন। মণিরাম বহুকাল মন্ত্রিত্ব পদে অধিষ্ঠিত থাকিয়া পরলােকগামী হইলে তাহার জ্যেষ্ঠ পুত্র কাশীরাম উজির হন। তৎপর কাশীরামের পুত্র মাণিক্যরম মন্ত্রিত্ব করিয়া নিঃসন্তান অবস্থায় পরলােকগমন করিলে তাঁহার পিতৃব্য রামপ্রসাদ মন্ত্রী হন। ইনিই কাছাড়ের শেষ রাজমন্ত্রী।” মন্ত্রিবংশীয়ভিন্নও কাছাড়ের বর্তমান অধিবাসিগণের মধ্যে লস্কর, চৌধুরী, মজুমদার, বড়ভুইয়া প্রভৃতি উপাধিবিশিষ্ট ব্যক্তি দেখা যায়। কাছাড়রাজগণ সমীপবর্তী শ্রীহট্ট জেলা হইতে অনেক অনেক সম্ভ্রান্ত কায়স্থাদি এবং মােসলমান ভদ্রলােককে নিজ রাজ্যে আনিয়া উপরি লিখিত উপাধি ? প্রদান পূর্বক প্রত্যেক পরগণায় সংস্থাপিত করিয়া- ছিলেন। অনেক ব্রাহ্মণকে দেবত্ৰ ব্ৰহ্মত্র প্রদান পূর্বক রাজ্যমধ্যে স্থাপিত করা হইয়াছিল। শ্রীহট্টের পঞ্চখণ্ড ও ঢাকা দক্ষিণ পরগণা + কথিত আছে যে চাদ লস্কর বড়খলায় আসিলে স্বপ্নাদিষ্ট হন যে “ এই স্থান নির্মাতা ভৈরবের অধিকার, তুমি প্রতি রবিবার ভৈরবের পূজা দেওয়াইলে তােমার বংশীয়ে এই স্থানে সুখসম্মানে বাস করিতে পারিবে।” অবধি চাঁদ ও তাঁদের বংশধৰুগণ কর্তৃক নির্মাতা ভৈরব পুজিত হইয়া কামিজেছেন। কাহাড়। তদর্থে নিষ্কর ভূমি দান করিয়াছেন। ইংয়ের গযমন্টও তাহা বজায় রাখিয়া- ছেন। । সম্প্রতি অনেক নিম্নশ্রেণী লােকের মধ্যে এই সকল উপাখি দেখা যায়। কাছাড় জেলায় রাধন্দোবস্ত অস্থায়ী; তাই, নুতন বন্দোবস্তের সময় আমিন- দিগকে বশীভূত করিয়া বে-সে ব্যক্তিই সরকারী কাগজ পত্রে ঐ সকল উপাধি ব্যবহার লিখেছে; কে স্বয়ং লিখিত অলিগলিতে যচ্ছৰে এই উপাধি- 'গুলি এহণ করিতেছে। আবার শুনা যায় স্বাধীন রাজত্বের অবসানের পর রাজার মােহর দুষ্ট লােকের হস্তগত হওয়াতে অনেক জাল সনদও তৈয়ার হইয়াছে।
[ ২৭ ] হইতে অনেক বিশিষ্ট পণ্ডিত রাজসভায় থাকিয়া স্থানীয় ব্ৰহ্মণগণের সহযােগে ব্যবস্থাদি প্রদান করিয়া রাজকার্য্যের সহায়তা করিতেন। এই দণ্ডবিধিও তাঁহাদেরই কীর্তিস্তম্ভ। ভূমিকা দীর্ঘ হইয়া পড়িল। তথাপি কাছাড়ের ঐতিহাসিক ও সামাজিক অবশ্য বক্তব্য বহু বিষয় বলিতে পারিলাম না। সুখের বিষয় যে শ্ৰীযুক্ত বিপিন চন্দ্র লস্কর মহাশয় এবং শ্রীযুক্ত নন্দলাল বৰ্ম্মপ্রমুখ অনেক শিক্ষিত কাছাড়বাসী কাছাড়ের বিস্তৃত ইতিবৃত্ত প্রকাশ করিবার নিমিত্ত যত্নপরায়ণ হইয়াছেন। আশাকরা যায়, অচিরেই তাঁহাদের চেষ্ট ফলবতী হইয়া বঙ্গ সাহিত্যকে একখানি সর্বাঙ্গ সুন্দর ঐতিহাসিক গ্রন্থ উপহার প্রদান করিবে। উপসংহারে শ্রীযুক্ত বিপিন চন্দ্র লস্কর মহাশয়কে এবং শ্রীযুক্ত নন্দ লাল বৰ্মা মহাশয়কে তাঁহাদের স্ব স্ব দণ্ডবিধি আমাদের নিকট প্রেরণ করার জন্যে এবং এই ভূমিকা লিখনকাৰ্যে অশেষবিধ সহায়তা করার নিমিত্তে আন্তরিক ধন্যবাদ প্রদান করিতেছি। ইতি গৌহাটি বঙ্গসাহিত্যানুশীলনী সভা শ্রীপদ্মনাথদেবশর্মা বঙ্গাব্দাঃ ১৩১৭। সভাধ্য।
No text on this page.
হেড়ম্বরাজ্যের দণ্ডবিধি
পাদেন বিংশতিকাৰ্ষপণাঃ ।
সগুণ ব্রাহ্মণের উপর নিগুণ
ব্রাহ্মণে যদি পাদ ভ্রমণ করায় তবে
রাজাতে ২০ বিস কাহন দণ্ড দিতে
কানে সার্ধদ্বিশতপণাঃ।
সগুণ ব্রাহ্মণের উপর নিগুণ
ব্রাহ্মণে যদি মারিবার নিমিত্তে কাই
উঠায় তবে রাজাতে ১৫|| পনর
কাহন দশ পণ দণ্ড দিতে হয়।
ব্রাহ্মণাভ্যাং পরস্পরশ ব্রাহ্মণে যদি পরস্পর পাদঘা[রা]
হস্তে পাবাে বিদারিতে কিম্বা হস্তদ্বারা মারামারি করেন
পরস্পরে দশবিংশতিপণ- তবে রাজাতে উভয়ে ১২ সাড়েবার ২
দপ্তাহে।
কাহন দণ্ড দিতে হয় কিন্তু এই দণ্ড
রুধিরাদি অবিত হইলে।
হেড়ৎরাজ্যের দণ্ডবিধি। ; ব্রাহ্মণাে ব্রাহ্মণং যদি অস্ত্রং সমান ব্রাহ্মণের উপর যদি ব্রাহ্মণে ভ্রময়তি তদা পঞ্চশত- মারণাৰ্থ অস্ত্রভ্রমণ করে তবে বাজাতে পণদণ্ড্যঃ। ৩১• একতিস কাহন চাইর (পণ) দণ্ড দিতে হয়। যত্র মুনিভির্দণ্ডো নােক্ত যেই খানে মুনি সকলে দণ্ড ত্রাপরাধানুরূপে দণ্ডো নিরূপণ না করিয়াছেন সেই ২ যুক্ত্যা] কল্পনীয়ঃ । খানে অপরানুসারে যুক্তিদ্বারা দণ্ড কড়িতে হয়। [ব্রাহ্মণ] জাতি প্রহারথিং ব্রাহ্মণকে যদি মারিবার নিমিত্ত হস্তস্যোদ্ধভ্রমণেন দ্বাদশপণ- ব্রাহ্মণে হস্ত উঠায় তবে রাজাতে দঃ। ৬০ বার পণ দণ্ড দিতে হয়। হস্তপাতনেন দ্বিগুণ এষ সমানজাতি ব্যক্তিয়ে একবার দণ্ডঃ সমেষু। হস্তদ্বারা মারিলে রাজাতে • দেড় কাহন দণ্ড দিতে হয়। উত্তমেধমশ্চেচ্ছমুদ্যময়তি উত্তমকে মারিবার নিমিত্তে যদি তদা সহপণদণ্ড। অধমে অস্ত্র উত্থাপন করে তবে রাজাতে ৬২|| সাড়ে বাইট কাহন দণ্ড দিতে হয়। সগুণব্রাহ্মণােপরি নিগুণ সগুণ ব্রাহ্মণের উপর মারামারি ব্রাহ্মণাে যদি প্রহারথিং হস্তং নিমিত্তে যদি নিগুণ ব্রাহ্মণে ভ্ৰাময়তি তদা দশকৰ্ষাপণ উঠায় তবে রাজাতে ১০ কাহন দণ্ড দণ্ড। দিতে হয়।
হেড়ম্বরাজ্যের দণ্ডবিধি। ভ্রমিতে { উভাভ্যাং ] উভয়ে [ ] এবঞ্চ সমান ব্রাহ্মণে যদি এক জনার উপর আরেক জয়ে প(র)- স্পর অস্ত্র প্রমায় তবে উভয়েহি রাজাতে ৩১একত্তিস কাহন চাই পণ ২ দণ্ড দিতে হয়। ব্রাহ্মণেষু কোপাৎ পাণিং শূদ্রে যদি ক্রোধ করিয়া ব্রাহ্মণকে প্রহরন শূদ্রঃ পার্ণিচ্ছেদন- হস্তদ্বারা প্রহার করে তবে তাহার দ্যঃ। হস্ত ছেদন করিতে হয়। কোপাৎ পাদেন প্রহরন পাদচ্ছেদন দণ্ড্যঃ। শূদ্রে যদি ক্ৰোধত পদ দ্বারা ব্রাহ্মণকে প্রহার করে তবে তাহার পাদ ছেদন করিতে হয়। সহাসনে বসন্ শূদ্রঃ কট্যাং ব্রাহ্মণের একাসনেতে একাকী কৃতচিহ্নঃ রাজ্যান্নিঃসাৰ্যঃ যদি বৈসে তবে(তাহার কটিদেশ অথবা (স্য) . নিতম্বসমীপমাংস চিহ্নিত করিয়া তাহাকে রাজ্য হইতে খণ্ডং কয়েং দূর করিয়া দিতে হইবে অথবা) তাহার নিতম্বের মাংস ছেদন করিতে হয়। কোপাৎ প্রহারাগং ভূকু শূদ্রে কোপ করিয়া ব্রাহ্মণকে । ট্যা মুখং বিস্তারয়তঃশূদ্রস্য মারিবার নিমিত্তে যদি ভূকুটা মুখ দ্ববােষ্ঠে ছেদয়েৎ। বিস্তার করে তবে তাহার দুই ফুট ছেদন করিতে হয়।
হেড়ম্বরাজ্যের দণ্ডবিধি। ব্রাহ্মণােপরি মুত্রমুজত শূদ্রস্য লিঙ্গং ছেদয়েৎ । শূদ্রে ক্রোধ করিয়া যদি ব্রাহ্মণের উপর প্রস্রাব করে তবে তাহার লিঙ্গ ছেদন করিতে হয় । ব্রাহ্মণণাপরি পুরীযােস- গে গুদং ছেদয়েৎ । শদ্রে যদি ক্রোধ করিয়া ব্রাহ্মণের উপর বিষ্ঠা ক্ষেপণ করে তবে তার গুদ ছেদন করিতে হয় । ব্রাহ্মণস্য কেশেম্বু পাদ- শূদ্রে যদি ক্ৰোধ করিয়া ব্রাহ্মণের ােের্বা গ্রীবায়াং বা অণ্ড কেশেতে ধরে কি গ্রীবাতে ধরে কোষে বা কোপাৎ শূদ্রস্য কিম্বা পায়েতে ধরে কিম্বা অণ্ড- গৃহ্নতঃ হস্তে ছেদয়েৎ। কোশেতে ধরে (তবে তাহার উভয় হস্ত ছেদন করাব।) যুগপদ্বাদে পথি তুল্যগমনে ব্রাহ্মণের সহিত তুল্য হৈয়া বাদ চ শষ্যসিনয়ােঃ সােপবেশনে করে যে শূদ্রে কিম্বা পথে যাইতে বা তাড়নরূপদণ্ড। সমান হৈয়া গমন করে যে সূত্রে কিম্বা এক সমান সয্যাতে শয়ন করে যে শূদ্রে কি এক সমান আসনেতে বৈশে যে শূদ্র তাকে রাজা বেত দিবেন। চর্মভেদে সর্বত্র সার্ধদ্বিশত- সমান ব্যক্তিয়ে মারণেতে যদি পণাঃ। চৰ্ম্ম ভেদ হয় তবে রাজাতে ১৫ পনর কাহন দশ পণ দণ্ড দিতে হয়।
হেড়ম্বরাজ্যের দণ্ডবিধি। [মাংসভেদে পঞ্চশত- সমান ব্যক্তিয়ে মারণেতে যদি পণাঃ। মাংসতে হয় তবে রাজাতে ৩১ একত্তিস কাহন চাইর পণ দণ্ড দিতে হয়। অস্থিভেদে সহস্ৰপণাঃ। সমান ব্যক্তিয়ে অস্থিতেদ করিলে ৬২ সাড়ে বাসইট কাহন দণ্ড দিতে হয়। কর্ণনাসাকরদন্তাচ্ছি- ভদ পঞ্চশতপণাঃ। কর্ণ কিম্বা নাসিকা কিম্বা দাদি ভেদ করিলে রাজাতে ১• একত্তিস কাহন চাইর পণ দণ্ড দিতে হয় । তেষাং পতনে দ্বিগুণঃ উপরে যে সকল লিখা গিয়াছে ভেদের কথা ইহাতে যদি ঐ সকলের পতন হয় তবে রাজাতে ৬২৩ সাড়ে বাসইট কাহন দণ্ড দিতে হয়। মারণে মারণং মারণেতে যদি মারিত ব্যক্তি মৃত হয় তবে তাহাকেহ রাজা প্রতিবদল শূলাদি দ্বারা মারিতে হয়। কৃতাপরাধেপি রাজনি কৃত কৃতাপরাধী যে রাজা তাকেহ প্রহার শুলমারোপ্যাগ্নৌ যদি কোন ব্যক্তিয়ে প্রহার করে পচেৎ । তবে তাকে শূল দিয়া গাথিয়া অগ্নিতে পাচনা করিব।
হেড়ংরাজ্যের দণ্ডবিধি। ব্রাহ্মণেতরবিষয়মেতৎ। ব্রাহ্মণের মারণান্তিক শান্তি নাই। সব পাপেম্ববস্থিতমপিব্রাহ্মণং সৰ্ব্ব পাপযুক্ত যে ব্রাহ্মণ তাহা- কদাচিদপি ন হন্যাৎ । কেহ বধ করিতে পারে না। ভাৰ্যাপুত্রদাসশিষ্যনিষ্ঠা ভাৰ্যা ও পুত্র ও দাস ও শিষ্য [দয়শ্চেৎ] কৃতাপরাধ স্তান এবং কনিষ্ঠ সহােদর এই সকলে * রজ্জ্বাবন্ধনে অপরাধ করিলে রজ্জাদি বন্ধন করিয়া অতিসূক্ষম- বাসের সুক্ষ্ম ২ কঞ্চি দিয়া পৃষ্ঠেতে খ্যানে তাড়না করিতে পারে এহাতে রাজ- তাদৃশ দও নাই। [তাড়] নং কুর্যাৎ। শিরসি তাড়ং কদাপি ন কিন্তু মস্তকেতে তাড়না করিলে কুৰ্যাৎ শিরসি প্রহরন, চৌর- চোরের প্রায় রাজদণ্ড দিতে হয়। * প্রাপ্নোতি । মহিষাদীনাং কুকুরাদীনাঞ্চ মহীষাদি ও কুকুরাদির স্বামী স্বামী শক্তোপ্যেতান, অবা- সমর্থ থাকিতে কোন ব্যক্তির উপর রয়ন, সার্ধদ্বিশতপণদণ্ডঃ। মহিষাদি ও কুকুরাদি রুষিতে যদি বারণ না করে তবে ১৫০ পনর কাহন দশ পণ দণ্ড দিতে হয়। * দ্যুক্তেপি যদি ন দূরকর ২ এমত বলিতে যদি রক্ষেৎ তদা পঞ্চশতপণদণ্ডঃ। মহিষাদিও কুকুরাদির স্বামীয়ে আসিয়া বারণ না করে ত(বে) রাজাতে ৩১০ একত্তিস কাহন চাইর পণ দণ্ড দিতে হয়।
হেড়ম্বরাজেয় দণ্ডবিধি।
বাপারুয্যাদি নীচে নীলােকে যদি [উত্তমব্যক্তিকে]
যদি সন্তমভিলয়েৎ তদা বাক্যদ্বারা অধিক [ বলে এহাতে
নীচং স এব তাড়য়ন, রাজ- নীচ লােককে যদি উত্তম ব্যক্তিয়ে ]
দণ্ড্যো ন ভবতি ।
হস্তদ্বারা [ তাড়না করে তবে রাজ ।
দণ্ড্য হয় না।
সম্পূর্ণ
জানা কর্ত্তব্য কোন ২ ব্যক্তিকে চৌর বলা যায়
তাহা নিরূপণের নিমিত্ত এই আইন শ্রীযুক্ত হেডম্বেশ্বর
পেন্দ্র বাহাদুরের হজুর কৌশল হৈতে বিবাদদর্পণ
গ্রন্থানুসারে দেববাণি ও ভাষাতে নীচের লিখিতানুসারে
শক ১৭৩৯ সালের ১পহিলা বৈশাখে জারী করিলেন।
চৌরৈঃ সহমিলনখনিত্রাদি চোরের সহিত সর্বদা সংসর্গ
চোরিতদ্রব্যানামন্যতমেনাপি করে যে কিম্বা যাহার পাশ চোর
চৌরমবধার্য রাজা চোরিত- কর্মের খনিত্ৰাদি অস্ত্র থাকে ও যাহার
দ্রব্যং স্বামিনে দাপয়িত্ব পাশ চোরিত দ্রব্য পাওয়া জায় সেই
শাস্ত্রোক্তং দণ্ডং গৃহ্নীয়াৎ। চোর হয়। এই এই চিহ্নদ্বারা চোরকে
অবধারণ করিয়া রাজাকে সপ্রমাণ
দ্রব্যস্বামীকে দ্রব্য দেওয়াইয়া চোরকে
যখাশাস্ত্র [ দণ্ড করি] বেন ।
চৌরাণাং নিগ্রহে পরমং চোরকে নিগ্রহ করিতে রাজা পরম
যত্নং কুৰ্য্যাৎ। [ চৌর-] যত্ন করিবেন চোরের নিগ্রহতে রাজার
নিগ্রহ যশাে বর্ধতে । যশােরদ্ধি হয় অতএব পরম যত্ন করিব।
হেড়রাজ্যের দণ্ডবিধি।
চৌরা দ্বিবিধাঃ প্রকাশ
চোর দুই প্রকার হয় প্রকাশ
চোর ও অপ্রকাশ চোর।
অপ্রকাশাঞ্চ।
[ তত্র ] প্রকাশচৌরা কপট তােল করে যে বণিগাদি
বণিগাদয়ঃ।
সেই প্রকাশচৌর।
অপ্রকাশচৌরাঃ সন্ধি[চৌর সন্ধানাদি দ্বারা চৌরি করে যে
দয়ঃ]।
সেই অপ্রকাশচৌর।
[ জানা কর্তব্য ] কপট তােল করি ও কপট গণ
করি ও কপট লেখ্য [ দ্বারা ] ধনের বৃদ্ধি ও হ্রাস করিয়া
পুত্ৰদারাদিকে প্রতিপােষণ [ করে যে ] ব্যক্তি ঐ ২
ব্যক্তিরায়ে কত হ্রাসেতে কি দণ্ড
দণ্ড হবে তাহা
[ নিরূপণের ] নিমিত্তে এই আইন শ্রীযুক্ত হেডম্বেশ্বর
নৃপেন্দ্র [ বাহাদুরের ] হজুর কৌশল হৈতে বিবাদ
দর্পণ গ্রন্থানুসারে [ দেববাণী ও] ভাষাতে নীচের
লিখিতানুসারে শক ১৭৩৯ সালের ১পহিলা বৈশাখে
জারী করিলেন ইতি।
কপট তাে]
[যে
লনেন
কপট তােলও কপটগণন ও
কপটলেখ্যেন কপটগণনেন কপট লেখ্য এই সকল দ্বারা ধনের
অর্থস্য বৃদ্ধিহ্রাসাভ্যাং বণিজঃ বৃদ্ধিও হ্রাস করিয়া পুত্র দারাদিগকে
পরিবারান পুষ্ণন্তি। প্রতিপালন করে যে ব্যক্তি।
যঃ কপটতুলাদিনা পর যে ব্যক্তিয়ে কপট তােলার
দ্রব্যাষ্টমাংশমপহরতি সপণ- দ্রব্যের অষ্টম ভাগের এক ভাগ হরণ
হেড়রাজ্যের দণ্ডবিধি। ৯ শতদ্বয়্যঃ করে সে রাজাতে ১২া সাড়ে বার কাহন দণ্ড দিতে হয়। যস্তু নবমাংশমপহরতি স পঞ্চবিংশতিপণন্যূনপণশত- দ্বয়ং দণ্ডং দদ্যাৎ। নবম ভাগের এক ভাগ হরণ করিলে রাজাতে ১০৩ দশ কাহন পনর পণ দণ্ড দিতে হয়। দশমাংশহরণে পঞ্চাশৎপণ- ন্যূনপণদ্বিশতং দণ্ডঃ । দশমাংশ হরণ [করিলে * * ৯০ নও কাহন [ ছয় পণ ] রাজাতে দণ্ড দিতে হয়। একাদশাংশহরণে পঞ্চপণা- একাদশাংশ হরণেতে [ ৮ অ ]ষ্ট ধিকসপ্ততিপণন পণ- কাহন সাত পণ দণ্ড দিতে হয়। দ্বিশতং। (৭/ সাত কাহন তের পণ” এই পাঠ হওয়া উচিত বােধহয়। ২০০ + ৫- ১৩৫পণ হইলেও ২০০ - (৭০+২)=১২৫ পণই সংস্কৃতাংশের সঙ্গত অর্থ। দণ্ডানুপাতে ইহাই উপলব্ধ হয়।) ৭০ = দ্বাদশাংশহরণে পণশতং দ্বাদশাংশ হরণেতে রাজাতে ৬০ দণ্ডঃ। ছয় কাহন দণ্ড দিতে হয়। ত্রয়ােদশাংশহরণে পঞ্চ ত্রয়ােদশাংশ হরণেতে ৪ চারি পণাধিক সপ্ততিপণাঃ। কাহন এগার পণ রাজাতে দণ্ড দিতে হয়। চতুর্দশাংশহরণে পঞ্চাশৎ চতুর্দশাংশ হরণে তে ৩০• তিন কাহন দুই পণ দণ্ড দিতে হয়। পণাঃ।
হেড়রাজ্যের দণ্ডবিধি।
পঞ্চদশাংশহরণে পঞ্চবিংশতি
[প]ণাঃ।
পঞ্চদশাংশ হরণেতে ১০ এক
কাহন নও পণ দণ্ড দিতে হয়। এই
ক্রমে অধিকাংশ হরণেতে অধিক দণ্ড
দিতে হয়।
সপ্তমাংশমপহরতি সপ্তমাংশ হরণেতে ১৪/• চৌদ্দ
তস্য পণদ্বিশতােপরিপঞ্চ- কাহন একপণ দণ্ড দিতে হয়।
বিংশতিপণবৃদ্ধি।
ষষ্ঠাংশহরণে পণদ্বিশতো ষষ্ঠাংশ হরণেতে ১৫০ পনর
পরি পঞ্চাশৎপণবৃদ্ধি।
কাহন দশ পণ দণ্ড দিতে হয়।
পঞ্চমাংশহরণে পণশি পঞ্চমাংশ হরণেতে ১৭• সতর
তােপরি পঞ্চসপ্ততিপণবৃদ্ধি। কাহন তিন পণ দণ্ড দিতে হয়।
চতুর্থাংশ হরণে পণদ্বিশতত চতুর্থাংশ হরণ করিলে ১৯৭৩
পরি শতপণবৃদ্ধি। উন্নইস কাহন বারপণ দণ্ড দিতে হয়।
( শুদ্ধপাঠ ১৮ আঠার কাহন বার পণ
হইবে।)
তৃতীয়াংশহরণে পণদ্বিশতাে তৃতীয়াংশ হরণ করিলে ২১/০
পরি পঞ্চবিংশতিপণাধিক- একইস কাহন পাচ পণ দণ্ড দিতে
শতপণবৃদ্ধি।
(শুদ্ধপাঠ ২০/ বিশ কাহন পাঁচ পণ হইবে।)
দ্বিতীয়াংশহরণে পণশি দ্বিতীয়াংশ হরণ করিলে ২২৭০
তােপরি পঞ্চাশৎপণাধিক বাইস কাহন চৌদ্দপণ দণ্ড দিতে হয়।
শতপণবৃদ্ধিঃ ।
( শুদ্ধপাঠ ২১একইস কাহন চৌদ্দ পণ।)
হেড়ষরাজ্যের দণ্ডবিধি।
চোরিতদ্রব্যমষ্টধা চোরিত দ্রব্যকে অষ্ট ভাগ করিয়া
বিভজ্যাষ্টমাংশঃ নবধ বিভজ্য প্রতিভাগেতে যাহা হয় এই এক
নবমাংশ ইত্যাদি ক্রমেণ ভাগকে পুনশ্চ নবমাংশ ও দশমাংশ
থােধ্য।
ইত্যাদি)ক্রমে বৃদ্ধি ও হ্রাস করিতে
হয়।
(অনুবাদ দুর্বোধ ও অবিশুদ্ধ )
জানা কর্তব্য তাম্ৰাদি ঔষধ দ্বারা সুবর্ণ করি বিক্ৰী
করিলে এবং কুকরাদির মাংস হরিণাদির মাংস করি
বিক্ৰী করিলে এবং অল্পমূল্য দ্রব্য যদি বঞ্চনা করি বহুমূল্য
বিক্ৰী করিলে যাহা দণ্ড হবে তাহা নিরূপণের নিমিত্ত এই
আইন শ্ৰীযুক্ত হেডম্বেশ্বর নৃপেন্দ্র বাহাদুরের হজুর
কৌশল হৈতে বিবাদদর্পণ গ্রন্থানুসারে দে(ব)বাণী ও
ভাষাতে নীচের লিখিত্যানুসারে শক ১৭৩৯ সালের
১পহিলা বৈশাখে জারী করিলেন ইতি।
অসুবর্ণস্য ঔষধাদি যােগাৎ সুবর্ণাতিরিক্ত যে দ্রব্য তাতে
সুবৰ্ণত্ব ভ্রম মুৎপাদ্য যঃ ঔষধাদি কোন লগাইয়া সুবর্ণের
ক্রয়াদিব্যবহার করােতি। সমান করিয়া সুবর্ণ হেন ভ্ৰম জন্মাইয়া
যশ্চাশ্বাদিমাংসং হরিণাদি এবং কুকুরাদির মাংসকে হরিণাদির
মাংসত্বেন প্রকাশ্য বিক্ৰীণীতে মাংস হেন প্রকাশ করিয়া বিক্রয়াদি
স নাসাদন্তকরশূন্যঃ করণীয়ঃ ব্যবহার করে যে ব্যক্তি তাহার
পণসহশ্রদ্যশ্য।
নাসা ছেদ ও হস্ত ছেদ ও দন্ত শূন্য
করিয়া ৬২০ (সাড়ে বাসইট কাহন)
রাজা দণ্ড লৈতে হয়।
১২
হেড়ঙ্গরাজ্যের দণ্ডবিধি।
( অনুবাদে ‘কুকুরাদির’ হলে ‘অশ্বাদির’
হওয়া উচিত ছিল। অথবা সংস্কৃতাংশে
‘যশ্চাশ্বাদিমাংসং' স্থলে ‘যশ্চ শ্বাদিমাসং’
হওয়া উচিত ছিল।)
[অল্পমুল্য] দ্রব্যং গৃহীত্ব অল্পমূল্য দ্রব্য আনীয়া যদি বহু-
[বহুমূল্যত্বং প্রকাশ্য [যে মূল্য দ্রব্য হেন প্রকাশ করিয়া স্ত্রী ও
স্ত্রীবালকান, বঞ্চয়ন্তি তেই বালককে বঞ্চনাকরিয়া স্ত্রী ও বালকে-
র্থানুরূপতত দণ্ড্যাঃ। তে বিক্রয় করে তবে মূল্যানুরূপ অর্থাৎ
যত টাকার দ্রব্য হয় তত টাকা
রাজাতে দণ্ড দিতে হয়।
ঔষধাদীনাং যােগাদ্ধে ঔষধাদি দিয়া সুবর্ণাদিতে কৃত্রিম
মাদিকং কৃত্রিমং কৃত্ব। যে জন্মাইয়া যেই ব্যক্তিয়ে বিক্রয় করে
বিক্রীণন্তি তে ক্ৰেত্রে মূল্যং সেই ব্যক্তিয়ে ক্রয়কর্তাতে মুল্য
দত্ত্বা মূল্যদ্বিগুণং দণ্ডং রাজনি ফিরৎ দিয়া রাজাতে মূল্যের দ্বিগুণ
দদুঃ।
দণ্ড দিতে হয়।
এক রাত্রি ও এক দিবস কাল
শুদ্ধসুবর্ণে নন্দিবমগ্নে
স্ময়মানে ক্ষযাে ন ভবতি।
ব্যাপক অগ্নিতে দাহ করিলে কিঞ্চি-
স্মাত্র ক্ষীণ না হয় যে সুবর্ণ তাকেহি
শুদ্ধ সুবর্ণ জানি।
তথা রজত পলশতে পলয়-
মেব ।
এক রাত্রি দিবা ব্যাপক অগ্নিতে
দাহ করিলে শত পলে দুই পল ক্ষীণ
হয় যে রজতেতে তাকেহি শুদ্ধ রজত
বলি।
হেড়ম্বরাজ্যের দণ্ডবিধি। ১৩ তথা তাবতি পুষি রঙ্গে দীসে বা পলাষ্টকমেব। পিতল ও রাঙ্গ ও শশা [এক রা]ত্রি দিবা ব্যাপক অগ্নি[তে দাহ] করিলে যদি অষ্ট পল [ক্ষীণ হয় তবেহি শুদ্ধ জানিবা। তথা তাবতি তাম্ৰে পল শত পণ তাম্ৰেতে চ পল ক্ষীণ পঞ্চকং। তাদৃশে লৌহে দশ পলানি শত পণ লৌহেতে দশ পণ যদি ক্ষীয়ন্তে। ক্ষীণ হয় তবেই [শুদ্ধ] শােহা। জানা কর্তব্য অপ্রকাশ চোর অর্থাৎ সিংহদিয়া গৃহেতে প্রবিষ্ট হৈয়া চোরি করে যে ব্যক্তিয়ে তাহার কি ২ দণ্ড হবে তাহা নিরূপণের নিমিত্ত এই আইন শ্ৰীযুক্ত হেডম্বেশ্বর নৃপেন্দ্র বাহাদুরের হজুর কৌশল হইতে বিবাদদর্পণ গ্রন্থানুসারে দেববাণী ও ভাষাতে নীচের লিখিতানুসারে শক ১৭৩৯ সালের ১ পহিলা বৈশাখ জারী করিলেন ইতি। খননং কৃত্বা গৃহং প্রবিশ্য খনন করিয়া গৃহেতে প্রবিষ্ট হৈয়া যে চৌরা শৌৰ্য্যং কুন্তি চৌরি করে যে ব্যক্তি এমত চোর- রাজা তেষাং হস্তৌ ছিত্ত্বা কে রাজায় হস্তদ্বয় ছেদন করিয়া, তীক্ষশূলে নিবেশয়েৎ। তীক্ষশূলেতে প্রবিষ্ট করেন।
৪ হেড়রাজ্যের দণ্ডবিধি। [উত্তম পুরুষাণাং না[রীণাং, কুলীন পুরুষ ও স্ত্রীলােক ও মরকত মাকতাদিরানা (হরণে অর্থাৎ প্রস্তৱাদি ও রত্ন এই সকলকে বধ্যঃ। রাত্রিতে উপরের লিখিতানুসারে যদি চোরি করে তবে সেই বধ্য হয়। মধ্যমপুরুষহরণে হস্ত মধ্যম পুরুষকে যদি হরণ করে পাদৌ ছিক্কা চতুষ্পথে স্থাপ্য। তবে রাজা তাহার হস্ত ও পদ ছেদন করিয়া সেই চোর ব্যক্তিকে চতু- পথেতে রাখিবেন। অধমপূরুষহরণে পণসহ- যদি অথম পুরুষকে হরণ করে তবে রাজাতে ৬২ || বাসইট কাহন আষ্ট পণ দগু দিতে হয়। অশ্বহারং হস্তপাদৌ কটিং ঘােটক হরণ করে যে ব্যক্তি ছিত্ত্বা প্রমাপয়েৎ। তাহার হস্ত ও পদ ও কোটি ছেদ করিয়া মারিবেক। গবােষ্ট্রগজাপহরণে এক গাে ও অষ্ট্র অর্থাৎ উট ও গজ চরণাদিকঃ কাৰ্যঃ । অর্থাৎ হস্থি এই সকলকে চোরি করিলে তাহার এক চরণ ছেদন করিবেক। বিংশতিদ্রোণন্নধান্যাপ- বিংশতি প্রোণের [পরিমাণ হরণে তৎসমং ধান্যং স্বামিনি ধান্যের নূন ধান্য [চোরি করিলে] দাৎ দেকাদশগুণঞ্চ রাজনি ধান্তের স্বামিকে তাদৃশ [ধান্য দিয়া দগুনে দগ্নাচ্চ। রাজাতে ঐ ধান্যের [এক]দশ গুণ ধান্যের মূল্য দণ্ড [দিতে হয়।
হেড়ম্বরাজ্যের দণ্ডবিধি। ইতােধিকাপহরণে মারণীয়ঃ বিংশতি দ্ৰোণ পরিমিত ধান্যের অধিক ধান্য চোরি করিলে মারণীয় হয়। সুবৰ্ণরজতাপহরণে শতপলা- সুবর্ণ ও রজত যদি শত পণের অধিক চোরি করে তবে সে মারণীয় ধিকে বধঃ। হয়। (পণের স্থলে ‘পলের’ হইবে।) ননে কর্ণচ্ছেদ। উপরের লিখিত সুবর্ণ ও রজতের নন চোরি করিলে কর্ণ ছেদন যােগ্য হয়। স্বল্পসুবর্ণরজতাপহরণে অল্প সুবর্ণ ও অল্প রজত চোরি তাড়নং। করিলে তাড়না করিতে হয়। কাষ্ঠভাণ্ডতৃণমৃগয়বংশ- কাষ্ঠ ও বস্তুৰক্ষণ ভাণ্ড ও তৃণ বংশােদ্ভবস্বল্পধান্যসূত্রাস্থিচর্ম ও মৃত্তিকা নির্মিত যাবস্তু ও বাস শাকানং সর্বেষামল্পমূল্যা- । ও বংশদ্ভব যাবস্তু ও অল্প ধান্য নাঞ্চ হরণে মূল্যাৎ পঞ্চ ও সূত্র ও অস্তি ও চর্ম ও শাক এই গুগুণে দমঃ। সকল ও অল্পমূল্য যাবস্তু তাকে চোরি করিলে রাজাকে ঐ দ্রব্য মূল্যের পঞ্চগুণ দও দিতে হয়। * * [কৃৎস্ন] বেদাধ্যেতৃ বেদায্যেতৃ ব্রাহ্মণের তৃণ কাষ্ঠ ও ব্রিাহ্মণস্য] তৃণ কাষ্ঠ পুষ্প- পুষ্প ফল এই সকল চোরি করিলে ফল হ]রণে হস্তচ্ছেদঃ । হস্ত ছেদন করা হয়।
হেড়ম্বয়াজ্যের দণ্ডবিধি।
চৌরাপহৃতং ধনং ধনিকে
দাপয়িত্ব দণ্ডঃ কাৰ্য্যঃ ।
রাজা চৌরকে আনাইয়া ধনিকের
ধন দেওয়াইয়া উচিত দণ্ড করিবেক।
ব্রাহ্মণস্যাবমান(ন)মেব বধঃ .
যদি ব্রাহ্মণ চোর হয় তবে
তাহাকে অপমান করিব। ব্রাহ্মণের
যে অপমান সেই বধের তুল্য।
মধ্যবিধব্রাহ্মণচোরস্য ললাটে মধ্যম ব্রাহ্মণে যদি চোরি করে,
ভগাদি চিহ্নং কৃত্বা রাজ্যাম্নিঃ- তবে তাহার ললাটেতে ভগাঙ্ক
সারয়েৎ।
করাইয়া রাজ্য হৈতে বাহির
করিবেক।
চোরিতত্বেন জ্ঞাতানাং চোরিত দ্রব্য হেন জানিয়া যেই
দ্রব্যাণাং ক্রেতা রক্ষিত ব্যক্তিয়ে ক্রয় ও রক্ষণ ও গােপন
গােপন চৌরসমদণ্ড্যঃ । করে সেই চৌরসমানদণ্ড্য হয়।
জানা কর্তব্য অকস্মাৎ কৰ্ম্ম করে যে ও বল করি
কৰ্ম্ম করে [ যে ও দর্প] করি কৰ্ম্ম করে যে তাহার দণ্ড
কি হবে তাহা নিরূপণের [ নিমিত্ত ] এই আইন শ্রীযুক্ত
হেডম্বেশ্বর নৃপেন্দ্র বাহাদুরের হজুর কৌশল হৈতে
বিবাদর্পণ গ্রন্থানুসারে দেববাণী ও ভাষাতে নীচের
লিখিতানুসারে শক ১৭৩৯ সালের ১ (পহিলা) বৈশাখ
জারী করিলেন ইতি।
হেড়ম্বরাজ্যের দণ্ডবিধি। ১৭ সহসা বলেন দর্পিতৈর্যৎ কৰ্ম্ম ক্ৰিয়তে তৎসাহসং। অকস্মাৎ যে কৰ্ম্ম করে ও বল- দ্বারা কর্ম করে যে ও দুর্গদ্বারা কর্ম করে যে তাহার নাম সাহস। সেই প্রথম মধ্যম উত্তম ভেদে প্রথমমধ্যমােত্তমভেদাৎ তৎ ত্রিবিধং। তিন প্রকার হয়। লাঙ্গলসেতুপুষ্পমূলফলেষু লাঙ্গল ও সেতু পুষ্প ও মূল ও চোরিতেষু সাহসেন বিনা- ফল এই সবের মধ্যে অল্পমূল্য যেই শিতেষু বা বা তেষাং মধ্যে যেই দ্রব্য হয় তাহাকে যদি সাহসাদি অল্পমূল্যেষু পণশতং। দ্বারা চোরি করে অথবা বিনাশ করে তবে রাজাতে ৬• সয়া ছয় কাহন দণ্ড দিতে হয়। সেতুক্ষেত্রাদিবহুমূল্যেযুত ব্য সেতু ও ক্ষেত্রাদি বহুমূল্য দ্রব্য সমধনদণ্ড। যদি চোরি করে অথবা নাশ করে তবে সেই দ্রব্যের সমান দণ্ড দিতে হয়। সেতু পুল ইতি খ্যাত ক্ষেত্রাদি ভূম্যাদি। [ পশুবস্ত্রা ] মােনশিলা পশু ও বস্ত্র ও অন্ন পানীয় দ্রব্য [ পট্টাদৌ] অল্পমূল্যে পর্ণ শিলা পট্টাদি এই সকলের মধ্যে অল্প শতদ্বয়ং। মুল্য যেই যেই দ্রব্য তাহাকে নাশ করে ও চোরি করিলে রাজাতে ১২৫০ সাড়ে বার কাহন দণ্ড দিতে হয়।
১৮ হেড়ম্বরাজ্যের দণ্ডবিধি। বহুমূল্যে তদ্রব্যসমধনং দঃ। বহুমূল্যের যেই যেই দ্রব্য যদি] চোরি করে কি নাশ করে তবে রাজাতে সেই দ্রব্যের সমান মূল্য দণ্ড দিতে হয়। স্ত্রীপুংহেমরত্নদেবপ্রিধন- কৃমিকোষোববস্ত্রবিশেষেধু মূল্যসমদণ্ডঃ । স্ত্রী ও পুরুষ ও হেম ও রত্ন ও দেববিগ্রধন ও কৃমি ও কোষােব অর্থাৎ তসরাদি বস্ত্র ও পট্টবস্ত্রাদি ঐ সকল দ্রব্য চোরি করিলে রাজাতে ঐ দ্রব্যের সমান মূল্য দণ্ড দিতে হয়। হীনপুরুষে দ্বিগুণদণ্ডঃ হীনবর্ণপুরুষে যদি সাহস করি উপরের লিখিতানুসারে কৰ্ম্ম করে তবে রাজাতে দ্রব্যের দ্বিগুণ মূল্য দণ্ড দিতে হয়। চোরের সংসর্গ নিবৃত্ত্যর্থ * * * চৌরসংসর্গনিবৃত্ত[ য়ে ] তাড়নীয়ঃ স্যাৎ। যে হয় তাহাকে রাজা তাড়না করিতে হয় । অথ প্রথমসাহসস্যাল্পধনে উত্তরােত্তর ক্রমে অধিক [ অপ- শতং মধ্যমধনে দ্বিশতং তদ- রাধ ] করিলে উত্তরােত্তর ক্রমে দণ্ডও পেক্ষ্য কিঞ্চিদধিকে সার্ধদ্বি-] অধিক হয়। তদযথা ১৫||• পনর শতং , বহুমুল্যে তমূল্যসমং কাহন দশ পণের ন্যূন ধন ঢারি মধ্যমসাহস পঞ্চশতং ত- করিলে ৬• সয়া ছয় কাহন দণ্ড
হেড়ম্বরাজ্যের দণ্ডবিধি।
ত্রাপি ক্রিয়াভেদে বিব- ১৫||• পনর কাহন দশ পণ চোরি
ক্ষণীয়ঃ ।
করিলে ১২| সাড়ে বার কাহন দণ্ড
তদপেক্ষাত কিঞ্চিৎ অধিক ধন
চোরি করিলে ১৫|• পনর কাহন
দশ পণ দণ্ড এতদপেক্ষাত কিঞ্চিৎ
অধিক ধন চোরি করিলে সেই ধনের
তুল্য ধন দণ্ড এবং বহুমূল্য দ্রব্য হয়
তবে তাহার মুল্যের সমান দণ্ড।
(এই অনুবাদ মুলের বিস্তৃত ব্যাখ্যা।
জানা কর্তব্য মাতাপিতা স্ত্রী ও পুত্র ঐ সকলকে
ভরণ পােষণ না করিলে এবং ব্রাহ্মণেতে ও ক্ষত্রিয়েতে
ও বৈশ্যেতে ও শূদ্রেতে বিষ্ঠাদিয়া কিম্বা সুরা ও লসুন
ভােক্ষণকায় এবং মােহন ও বশিকরণ ও উচ্চাটন ঐ
সকল করাইবার উপদেশ করে যে এবং ব্রাহ্মণের ভেশ
ধারণা করে যে শূদ্রে তাহার কি দণ্ড হবে তাহা নিরূ-
পণের নিমিত্ত এই আইন শ্রীযুক্ত হেড়ম্বশ্বর নৃপেন্দ্র
বাহাদুরের হজুর কৌশল হৈতে
বিবাদদর্পণ গ্রন্থা-
নুসারে দেববাণী ও ভাষাতে নীচের লিখিতানুসারে শক
১৭৩৯ সালের ১ পহিলা বৈশাখ জারী করিলেন। ইতি
[সমথ স্য] স্ত্রীপুত্ৰভরণপো-
সমর্থ থাকিয়া যেই ব্যক্তিয়ে
[ ষণাকর ]ণে বশতপণা মাতা ও পিতা ও স্ত্রী ও পুত্র এই
সকলকে যদি ভরণপােষণ না করে
দণ্ড।
২ . হেড়ম্বরাদ্যের দণ্ডবিধি। তবে সেই ব্যক্তিয়ে রাজাতে ৩৭ সাড়ে সাত্তিস কাহন দণ্ড দিতে হয়। বিষ্ঠাদিনা ব্রাহ্মণদূষণে শূদ্রস্য শূদ্রে যদি বিষ্ঠাদি আরা ব্রাহ্মণকে ঘােড়শসুবর্ণদণ্ড। দুষ্ট করে তবে রাজাতে ১৬ ষােড়শ সুবর্ণ দণ্ড দিতে হয়। লশুনাদিকং ভােজয়িত্ব শত শূদ্রে যদি ব্রাহ্মণকে সুনাদি সুবর্ণদণ্ড। ভক্ষণ করায় তবে রাজাতে ১০০ এক শত সুবর্ণ দণ্ড দিতে হয়। সুরাং পায়য়িত্ব বধ্য। সুরাপান করাইয়া যদি শূদ্র ব্রাহ্মণকে দুষ্ট করে তবে রাজা ঐ ব্যক্তিকে বধ করিতে হয়। • বিষ্ঠাদিনা ক্ষত্রিয়ং দূষয়িত্ব এবং সূত্রে যদি বিষ্ঠাদি দ্বারা অষ্টেী সুবর্ণা দণ্ডঃ । ক্ষত্রিয়কে দুষ্ট করে তবে রাজাতে ৮ আষ্ট সুবর্ণ দণ্ড দিতে হয়। লশুনাদিনা পঞ্চাশৎ। যদি লসুনাদি দ্বারা নষ্ট করে তবে রাজাতে ৫০ পঞ্চাশ সুবর্ণ দণ্ড দিতে হয়। 'সুরয়া অঙ্গচ্ছেদ। সুরাভক্ষণ করাইয়া যদি [ ক্ষত্রি- য়কে ] দুষ্ট করে তবে রাজা [হার] অঙ্গ ছেদ করিতে হয়। বিষ্ঠাদিন বৈশ্যং দূষয়িত্ব বৈশ্যকে যদি সূত্রে [বিষ্ঠাদি] চতুঃ সুবর্ণা দণ্ডঃ। নষ্ট করে তবে রাজাতে ৪ চাই সুবর্ণ দণ্ড দিতে হয়। }
হেড়রাজ্যের দণ্ডবিধি।
লশুনাদিনা পঞ্চবিংশতি-
সুবর্ণা দণ্ডঃ ।
সুরয়া অল্পাঙ্গচ্ছেদঃ।
লসুনাদি ভক্ষণ করাইলে রাজাতে
২৫ পঞ্চবিংশতি সুবর্ণ দণ্ড দিতে হয়।
সুরা পান করাইয়া দুষ্ট করিলে
অঙ্গুলী ছেদ করিতে হয়।
ইত্যুৎকৃষ্ট ব্রাহ্মণাদি বিষয়ং। এই সব দণ্ড উৎকৃষ্ট ব্রাহ্মণ ও
উৎকৃষ্ট ক্ষত্রি ও উৎকৃষ্ট বৈশ্যের হয়।
অন্যত্র দ্বিশতপণ দণ্ড। অন্যত্র এতাদৃশ কৰ্ম্ম করিলে ১২||
সাড়ে বার কাহন দণ্ড দিতে হয়।
এবং স্তম্ভনমােহনবশীকরণ স্তম্ভন ও মােহন ও বশীকরণ ও
বিদ্বেষপােচ্চাটনমারণস্বরূপ- উচ্চাটন ও বিদেষণ ও মারণ এই
যকর্মপি।
সব কর্মের উদ্যোগ করে যে ব্যক্তি
তাকে রাজা ১২ সাড়ে বার কাহন
দণ্ড দিতে হয়।
(শু পাঠ “সে রাজাতে")
যজ্ঞােপবীতাদিবিপ্রচিহ্ন যজ্ঞােপবীতাদি ধারণ করি
ধারণেন জীবিকাং কুর্বতঃ ব্রাহ্মণের যেই ২ চিহ্ন তাকেই
শূদ্রস্যাষ্টশতপণদগুঃ ।
ধারণ করিয়া যদি উপজীবিকা করে
তবে সেই শূদ্রে রাজাতে ৫০ পঞ্চাশ
কাহন দণ্ড দিতে হয়।
২২
হেড়খরাজ্যের দণ্ডবিধি।
অভ্যস্য বিক্রয়িণঃ দেব যাহার ভক্ষ্য যেই দ্ৰব্য না হয়
প্রতিমাভেদক পণসহস্র- সেই দ্রব্য যদি তাহার পাশ বিক্রয়
দণ্ডঃ।
করে এবং নির্মিত দেবতা প্রতিমা
ভাঙ্গে তবে ঐ ব্যক্তি রাজাতে ৬২ |
সাড়ে বাসইট কাহন দণ্ড দিতে হয়।
বিষাগ্নাদিনা পুরুষত্নীং বিষ দ্বারা কি অগ্নি দ্বারা
সেতুভেত্রীঞ্চাগর্ভিণীং স্ক্রিয়ং পুরুষকে মারে যেই স্ত্রীয়ে কিম্বা সেতু
শিলাং বধ্ব অপু প্রবেশ- অর্থাৎ পুল নষ্ট করে যেই স্ত্রীয়ে
য়েৎ।
তাকে শিলা বান্ধিয়া জলেতে ক্ষেপণ
করিবেক কিন্তু গর্ভমুক্তা হইলে জলে
ক্ষেপণা করিবে না।
পতিগুরুনিজাপত্যক্ষ্মীং কর্ণ স্বামী কি গুরু কি আত্মপুত্র
করনাসৌষ্ঠশূন্যাং কৃত্বা গােম্বারা এই সকলকে বধ করে যেই স্ত্রীয়ে
প্রমাপয়েৎ।
তাহার কান নাসা ও হন্তু ও ওষ্ঠ
অর্থাৎ ইট এই সকল ছেদন করিয়া
গাে দ্বারা মাযিবেক।
স্ত্রীণাং
শুদ্ধিচিন্তামণে
বধাঙ্গচ্ছেদনিষেধ।
কিন্তু শুদ্ধিচিন্তামণিকারের মতে
স্ত্রীলােকের বধ ও অঙ্গচ্ছেদ করিতে
পারে নহি। কিন্তু শিনােমুণ্ডনাদি
অপমান করিয়া দেশের বাহির
করিব।
হেড়ম্বরাজ্যের দণ্ডবিধি। শিষ্যগা গুরুগা পতিঘ্নী নিন্দি শিগামিনী ও গুরুগামিনী ও তগা চ ত্যাজ্যা। পতিঘ্নী অর্থাৎ পতিকেহ মারিয়াছে যেই স্ত্রীয়ে এই সকল স্ত্রীকেহ এতা- দৃশ মতে দেশের বাহির করিব এবং নিন্দিতপুরুষগামিনী যে স্ত্রী তাকেহ এতাদৃশমতে দেশের বাহির করিব। বিবাদনির্ণয়ে। ধান্যাদি বিবাদনির্ণয়েতে লিখিয়াছেন লাভযুক্তভূমিগৃহসমূহগ্রাম - ধান্যাদি শস্যযুক্ত যে ভূমি ও গৃহসমূহ গােষ্ঠাদিনানাবিধশস্তযুক্তল ও গ্রাম ও গােষ্ঠাদি ও নানাবিধ সংজ্ঞকস্থানদাহকা রাজপ- শস্যখলা নাম এই সকলেতে অগ্নি ভিগামীচ বীরণপত্রাগ্নিনা দিয়া দাহ করে যে ব্যক্তি এবং রাজ- দগ্ধবাঃ। বীরণং বিন্ন। ইতি পত্নীতে অভিগমন করে যে ব্যক্তি খ্যাতং। তাকে বীন্নাপত্র দিয়া বেষ্টিত করিয়া দাহ করিবেক। সম্পূর্ণ। জানা কর্তব্য যেই ২ খানে বধ ও হাদিচ্ছেন তাহার প্রতিনিধি দণ্ড কি দিবেক তাহা নিরূপণের নিমিত্তে এই আইন শ্রীযুক্ত হেডম্বেশ্বর নৃপেন্দ্র বাহাদুরের হজুর কৌশল হৈতে বিবাদদর্পণ গ্রন্থানুসারে দেববাণী ও ভাষাতে নীচের লিখিতানুসারে শক ১৭৩৯ সালের ১ পহিলা বৈশাখ জারী করিলেন ইতি।
হেড়ম্বরাজ্যের দণ্ডবিধি। বধপ্রতিনিধিদণ্ডঃ সুবর্ণ- অঙ্গচ্ছেদপ্রতিনিধিঃ : পঞ্চা- বধ যােগ্য অপরাধি ব্যক্তিয়ে যদি ১০৩১ শত সুবর্ণ দণ্ড দিতে পারে তবে ঐ ব্যক্তিকে বধ করাবেন না। অদেন যােগ্য অপরাধি ব্যক্তিয়ে যদি ৫০পঞ্চাশৎ সুবর্ণ দণ্ড দিতে পারে তবে অঙ্গ ছেদ করাবেন না। শৎ। রাজা বহিরণপ্রতিনিধিঃ রাজ্য হৈতে বাহির করিবার পঞ্চবিংশতিঃ। যােগ্য অপরাধি ব্যক্তিয়ে যদি ২৫, পঞ্চবিংশতি সুবর্ণদণ্ড দিতে পারে তবে বাহির করিবেন না। জানা কর্তব্য নিরপরাধিকে অপরাধি বলিয়া বান্ধিলে এবং অপরাধি ব্যক্তিকে ছাড়িলে অন্যের শরীরেতে শন্ত্র- পাতন মাত্রতে এবং স্ত্রীর গর্ভনাশ করিলে যেই যেই দণ্ড হবে তাহা নিরূপণের নিমিত্তে এই আইন শ্রীযুক্ত হেডম্বেশ্বর নৃপেন্দ্র বাহাদুরের হজুর কৌশল হৈতে বিবাদদর্পণ গ্রন্থানুসারে নীচের লিখিতানুসারে শক ১৭৩৯ সালের ১ পহিলা বৈশাখ জারী করিলেন। নিরপরাধং যাে বর্ধতি যশ্চ- নিরপরাধি ব্যক্তিকে যদি অপ- সাপরাধং মুঞ্চতি স পণ- রাধি হেন বলিয়া বান্ধে এবং অপ-
হেড়রাজ্যের দণ্ডবিধি।
২৫
4
সহশ্রদণ্ডাইঃ।
রাধি ব্যক্তিকে পাইয়া যে ছাড়ে এই
এই দুই ব্যক্তিয়ে রাজাতে ৬২||
সাড়ে বাসইট কাহন দণ্ড দিতে হয়।
কূটপ্রমাণেন কূটমুদ্রয়া কূট প্রমাণ অর্থাৎ মিথ্যা লেখ্য
বা যঃ কাৰ্যং সাধয়েৎ স পণ- পত্র করিয়া ও কূট মুদ্র। অর্থাৎ মিথ্যা
সহস্রদাহঁঃ। ইদল্লাপ- মহর বানাইয়া কাৰ্যোদ্ধার করে যে
রাধবিষয়ং।
ব্যক্তি সেই রাজাতে ৬২][৩ সাড়ে
বাসইট কাহন দণ্ড দিতে হয়। কিন্তু
সেই দণ্ড অতি অল্প বিষয়েতে করিতে
পরদেহে শস্ত্রপাতনমাত্রে অন্যের শরীরেতে অস্ত্র দ্বারা
ব্রাহ্মণীতরগর্ভপাতনে চ পণ- অল্পক্ষত করিলে এবং ব্রাহ্মণী ভিন্ন
সহস্রং।
যে স্ত্রী যদি উহার গর্ভ নষ্ট করে তবে
রাজাতে ৬২| সাড়ে বাসইট কাহন
দণ্ড দিতে হয়।
পরিশ্রমজননেন
যদি গর্ভিণী স্ত্রীকে পরিশ্রম
প্রয়োগেণ প্রহারেণ বা করাইয়া গর্ভ নষ্ট করে তবে ১৫
গর্ভপাতনে প্রথমমধ্যমােত্ত পনর কাহন দশ পণ এবং যদি
মসাহসদণ্ডাঃ।
ঔষধাদির যােগ করাইয়া গর্ভ নষ্ট করে
তবে ৩১• সয়া একত্তিস কাহন এবং
যদি প্রহার দ্বারা গর্ভ নষ্ট করে তবে
৬২ সাড়ে বাসইট কাহন দণ্ড
দিতে হয়।
হেড়ম্বরাজ্যের দণ্ডবিধি। অকৃতামপি রাজাজ্ঞাং কৃতাং রাজায়ে যে বিষয়ের আজ্ঞা না কৃত্বা যঃ প্ৰকাশয়তি রাজাং দিয়াছেন সেই বিষয়ের আজ খণ্ডয়তি বা কূট প্রস্তরাদিনা দিয়াছেন হেন বলিয়া যে প্রকাশ তােলয়তি বা তস্য মারণ- করে ও যে ব্যক্তিয়ে রাজা খণ্ডন মঙ্গচ্ছেদো বা। অপরাধস্যোৎ করে ও যে ব্যক্তিয়ে কুট প্রস্তুরাদি কৰ্ষাপকর্ষাভ্যাময়ং বিকল্পঃ। অর্থাৎ অল্পশিলাদ্বারা তােল করিয়া অধিক বানায় এই সকল ব্যক্তির মারণরূপ দণ্ড ও অচ্ছেদনরূপ দণ্ড করিবেক কিন্তু এই দণ্ড বিষয় বুঝিয়া করিতে হয়। ইতি সম্পূর্ণ। জানা কৰ্তব্য এক ব্যক্তিয়ে অন্য ব্যক্তিকে প্রকাশিত মছে বধ করিলে এবং অপ্রকাশিত মতে বধ করিলে যাহা দণ্ড হবে তাহা নিরূপণের নিমিত্তে এই আইন শ্রীযুক্ত হেডম্বেশ্বর নৃপেন্দ্র বাহাদুরের হজুর কৌশল হৈতে বিবাদদর্পণ গ্রন্থানুসারে দেববাণী ও ভাষাতে নীচের লিখিতানুসারে শক ১৭৩৯ সালের ১ পহিলা বৈশাখে জারী করিলেন । প্ৰকাশৰধকাচ্ছলেন নির্জন প্রকাশ করি বধ করে যে ব্যক্তি স্থানং নীত্ব বা বধকা যে তেষা- ও অপ্রকাশ করি বধ করে যে ব্যক্তি মঙ্গচ্ছেদনপূর্বকমারণং। এই দুই ব্যক্তিকে রাজায়ে অঙ্গচ্ছেদন- পূৰ্ব্বক মারিবেক।
হেড়ম্বরাজ্যের দণ্ডবিধি।
তাদৃশবধকস্য ব্রাহ্মণস্য কিন্তু এতাদৃশ বধক যদি ব্রাহ্মণ
শিরো মুগুয়িত্ব ললাটে হয় তবে বধ করিতে পারে না কিন্তু
ভগাঙ্কং দত্ত্বা গর্দভেন পুরাৎ শিবরামুণ্ডন করাইয়া ললাটে ভগাঙ্ক
বহিষ্করণং দণ্ড।
করাইয়া গর্দভেতে চড়াইয়া পুরী
হৈতে বাহির করিব।
জানা কর্তব্য অন্যের স্ত্রীর সহিত মৈথুন করিলে
ঐ ব্যক্তির কি দণ্ড হইবে এবং অন্যের স্ত্রীরে জাইয়া
যদি মােহ জন্মায় তবে কি দণ্ড হবে তাহা নিরূপণের
নিমিত্তে এই আইন শ্রীযুক্ত হেডম্বেশ্বর নৃপেন্দ্র বাহাদুরের
হজুর কৌশল হইতে বিবাদদর্পণ গ্রন্থানুসারে দেববাণী
ও ভাষাতে শক ১৭৩৯ সালের ১ পহিলা বৈশাখ জারী
করিলেন ।
পবৃস্ক্রিয়া
সহ নির্জনে
অন্যের স্ত্রীর সহিত প্রতিসন্ধান
রাদৌ প্রতিসন্ধানপূর্বক করিয়া [নির্জন স্থানেতে নিয়া কিম্বা
মবুস্থিতিঃ চিত্তাকর্ষণরূপ- [রাএ্যাদি] কালেতে অবস্থিত হইয়া
সম্ভাষণঞ্চ এক * * * * চিত্তাকর্ষণের উপযুক্ত কথা কহে যে
ক্রীড়াচু (ম্বনালিঙ্গনা] নিচ। ব্যক্তি ও অন্যের স্ত্রীর সহিত এক
[ পরস্ত্রি ] য়া সহ (ঈদৃশ) শয্যাতে শয়ন করে যে ও ক্রীড়া করে
মৈথুনানুকূলসম্ভাষণে প্রথম যে ও চুম্বন আলিঙ্গন করে যে ও
সাহসদণ্ডঃ।
অন্যের স্ত্রীতে মৈথুন করে যে এই
ব্যক্তিরা রাজাতে ১৫||• পনর
কাহন দশ পণ দণ্ড দিতে হয়।
২৮ হেড়ংরাজ্যের দণ্ডবিধি (মৈথুনানুকুলসম্ভাষণে ইহার অনু- বাদ ঠিক হয় নাই। পরদারাভিমর্ষিণাে ব্রাহ্মণে ব্রাহ্মণাতিরিক্ত যে তিন বর্ণ সে তরাত্রী কর্ণনাসাদিচ্ছেন- যদি পরদার করে তবে তাহার কণ রূপদগুং কৃত্বা প্রবাসয়েৎ। ও নাসাদি ছেদন করিয়া বাহির করাইব সমান বর্ণেতে এতাদৃশ দণ্ড। ক্ষত্রিয়াং বৈশ্যাং শূদ্ৰাং বা ব্রাহ্মণাে গত্বা পঞ্চশতপণ- দণ্ডাহ। ব্রাহ্মণে যদি ক্ষত্ৰিণী ও বৈশ্যানী ও শূদ্রানী গমন করে তবে রাজাতে ৩১০ একতিস কাহন চাইর পণ দণ্ড দিতে হয়। রজকৰ্ম্মকারাদিপ্রিয়ং গত্বা রজক অর্থাৎ ধুপা চৰ্ম্মকার অর্থাৎ চামার স্ত্রী যদি ব্রাহ্মণাদি গমন করে পণসহশ্রং। তবে রাজাতে ৬২| সাড়ে বাসইট কাহন দণ্ড দিতে হয় । ধনাত্রাদি সৌন্দেৰ্য্য] * * ধন ও ভাতাদির ও সৌন্দৰ্য এই দর্পেণ যা পতিং * * ব্যভি. সবের গৰ্ব্বেতে দর্প করিয়া স্বামীকে চরতি তাং # # লােকমধ্যে না মানীয়া অন্য পুরুষের সহিত কুকুরেণ খাদয়েৎ। [ব্যভিচার করে যেই স্ত্রীয়ে এতা- দৃশ] স্ত্রীকে রাজায়ে [লােকমধ্যে]তে আনাইয়া কুকুর দ্বারা খাবাইবেক।
হেড়ম্বরাজ্যের দণ্ডবিধি। অননুরক্তায়াং দৰ্পেণাভি অননুরক্ত অর্থাৎ মানে না যে গন্তারং লৌহময়ে স্ত্রী তাকে যদি দর্প করিয়া অভিগমন শায়য়িত্ব দাহয়েৎ। করে তবে তাহাকে অগ্নিমধ্যেতে লৌহময় পাত্রেতে শয়ন করাইয়া দাহ করাইবেক। মারণনিযুক্তাঃ পুরুষাস্তত্র- কাষ্ঠং ক্ষিপেয়ুঃ। মাণেতে নিযুক্ত যেই ২ পুরুষ সেই সকলে তাহার উপর কাষ্ঠ ক্ষেপণা করিবেক। চণ্ডালাদিস্ত্রীগমনে ক্ষত্রিয়- ক্ষত্রিয়ে ও বৈশ্যে যদি চালাদির স্ত্রী বৈশ্যে কৃতাশিরস্কপুরুষাঙ্কো গমন করে তবে তাহার শরীরেতে একসয়েৎ। মস্তক রহিত পুরুষ অঙ্কিত করাইয়া দেশ হৈতে বাহির করাব।
হেড়ম্বরাজ্যের দণ্ডবিধি।
টাকা।
দণ্ড বিধিতে ব্যবহৃত কতিপয় পারিভাষিক শব্দের ব্যাখ্যা।
কার্ষাপণ ও পণ -অশীতিভি বরাটকৈঃ পণ ইত্যভিধীয়তে ।
তৈঃ ঘােড়শৈঃ পুরাণং স্যাৎ”—পুরাণমিতি কার্যাপণম্। ইতি রঘুনন্দনঃ।
১৬ বরাট অর্থাৎ কড়িতে ১ পণ, ১৬ পণে এক কার্যাপণ বা কাহন।
ইদানীং এক কাহনের মুল্য।• চারি আনা কল্পিত হইয়া থাকে।
সুবর্ণ—“হেমােহঃ। স অশীতিরত্তিকাপরিমিতস্বর্ণ,” ইতি
শব্দকল্পদ্রুমঃ। ৮০ রতি অর্থাৎ ৭২ রতি ওজনের সােনা; ঐ পরিমিত
সােনায়ই মােহর হইত।
পল-পল লৌকিকৈ মানৈঃ সাষ্টরতিদ্বিমাষক।
তােলকং ত্ৰিতয়ং জ্ঞেয়ং জ্যোতিস্মৃৈতিসন্মত।” অতএব দেখা
যাইতেছে যে তিন তােলায় এক পল। আবার অমরকোষের মতে,
“পলং কচতুষ্টয়,” অর্থাৎ ৪ তােলায় পল।
দ্রোণ—“অষ্টমুষ্টি ভবেৎ কুঞ্চিঃ কুঞ্চয়ােহষ্টেীচ পুষ্কল।
পুষ্কলানিচ চত্বারি আঢ়কঃ পরিকীর্তিতঃ।
চতুরাঢ়কো ভবেদেণঃ।” অতএব ৮x8x8x3x =১০২৪
মুষ্টিতে এক দ্রোণ। “৩২ শের ইতি লৌকিকমান” ইতি
শব্দকল্পদ্রুমঃ।
পরিশিষ্ট হেড়ম্ব রাজ্যের দণ্ডবিধি-খ-পুঁথি ( ভূমিকা দ্রষ্টব্য)। [গ্রামের নিকট কৃষি করিয়া যদি বেঢ়া না দেয় এহাতে যদি পালকের ইচ্ছাব্যতিরেকে গবাদি পশুয়া শস্য নষ্ট করে তবে পালকের দোষ হয় নাহি জানিবা ॥ যদি এতেহ ইচ্ছা করিয়া পালকে নাশ করায় তবে তাহার চৌরের প্রায় দণ্ড জানিব । গ্রামাদির দূরতরস্থ কৃষিতে কদাচিৎ যায় যদি গবাদিপশুয়ে পালকের ইচ্ছাব্যতিরেকে শস্য নষ্ট করে তবে পালকে রাজাতে ৫ দগুদিয়া কৃষকে যদি * শস্য পুরাইয়া লৈতে চায় তবে পুরিয়া দিতে হয়। ক্ষেত্রিকে যদি [শস্য পুরাইয়া লৈতে চায় তবে গবাদি পশুয়ে নাশিত যে শস্য তাকে সৰ্বত্ৰহু পূরিয়া দিতে হয় জানিবা কিন্তু গােয়ে নাশিত যে শস্য তাকে যদি কৃষকে পালকের পাশত ও কি স্বামীর পাশত পূরিয়া লয় তবে তাহার অন্নাদিকে দেবতা ও পিতৃলােক গ্রহণ করে নাহি জানিবা। যদি রাত্রিতে যেই পৰ্যন্ত ভক্ষণ করিলে গবাদি পশু তৃপ্ত হয় তাবৎ ভক্ষণ করে তবে গবাদিপশুর বানিয়ে রাজাতে ১০দশ রাত্তি সবর্ণ দণ্ড দিতে হয়। যদি দিবাভাগেতে তাদৃশ ভক্ষণ করে তবে ৬ ছয় রাত্তি সুবর্ণ দণ্ড দিতে হয়। মাত্র ভক্ষণ করিলে ২ দুই রাতি সুবর্ণ দণ্ড হয়। রাত্রিতে ১০ দশ রাত্তির অনুসারে ৩ সােয়া তিন রাত্তি সুবৰ্ণ দণ্ড যুক্তিক্রমে জানি। কিন্তু গ্রাম সমীপন্থ কৃবিতে মুহুর্ত মাত্র ভক্ষণেতে দণ্ডনাহি এবঞ্চ গবাদি পশুয়ে শস্য নষ্ট করিলে শস্য যা দণ্ড হয় তাকে থামিয়ে দিতে হয় রক্ষক ব্যক্তিয়ে বেত্রাদি দ্বারা দিবাতে মুহূর্ত * যাহা দণ্ড হয় তাকে দিতে হয়। এবং পশ্বাদির দণ্ড ও তাড়নাদি কিঞ্চিমাত্র নাহি অজ্ঞান প্রযুক্ত জানি। মুহুৰ্ত্ত নন কাল গবাদি পশুয়ে শস্যাদি ভক্ষণ করিলে প্রতি গােয়েতে । চাইরপণ দণ্ড ও প্রতি মহিষেতে ॥ অষ্টপণ দণ্ড ও প্রতি দুগলেতে / একপণ দণ্ড ও প্রতি বাছুরিতে /• একপণ দণ্ড জানিবা । পালক ব্যক্তি যদি রাজ গ্রস্ত হয় ও কিম্বা বজ্ৰহত হয় ও কিম্বা বৃক্ষাদি পতিত হয় ও কিম্বা ব্যাঘ্রাদিয়ে হত হয় ও কিম্বা অকস্মাৎ ব্যাধিপীড়িত হয় এমত কালেতে যদি গবাদি পশু যায় অন্যের শস্য নষ্ট করে ইহাতে পালক ও স্বামী দোষী হয়নাহি জানিব । পালকাসমর্পিত পশুয়ে শস্য নষ্ট কৰিলে স্বামিতে হি দণ্ডাদি সমস্ত জানিবা । হস্তি ও অশ্ব ও কাণপশু ও কুজ পশু ও সাড় বৃষ এই সকলে যদি শস্য নষ্ট করে তবে দণ্ড : নাহি কিন্তু পালকের তাড়না বহুশস্য নষ্ট করিলে জানিব ইতিতু যুক্তি সিদ্ধঃ | ইতি শস্য রক্ষা সংক্ষেপ ভাষা প্রকরণং। +। অথ বা পারুষ্য সংক্ষেপ ভাষা৷ পারুষ্য [দ্বিবিধ] বাক্য দ্বারা আক্রোশন ও হস্তাদি দ্বারা তাড়ন বাক্য দ্বারা যে আক্রোশন তাকে ভাষাতে গালাগালি বলি। হস্তাদি দ্বারা যে তাড়না তাকে ভাষাতে মারামারি বলে। অপ্রিয় বাক্যরূপ যে পাশ্য সে তিন প্রকার হয়। প্রথম প্রকারের কথা। দেশ ও কাল ও কুল ও গুণ ও কীৰ্ত্তি ইত্যাদির অসত্য নিন্দা রূপ যে অপ্রিয় বাক্য তাকে প্রথম বাক পাষ্য বলি এবং যেই পাপ যেই ব্যক্তিতে নাই তাতে সেই পাপের মিথ্যা প্রকাশক বাক্য স্বরূপ যে বাষ্পরুষ্য তাকেই প্রথম বাৰু পারুষ্য বলি জানিবা । * । মধ্যম বাপারুষ্যের কথা। মাতাতেও ভগিনীতে মিথ্যা উপপাতক প্রকাশক বাক্যস্বরূপ যে বাপারুষ্য তাকে মধ্যম বাপারুষ্য বলি। * । উত্তম বাপারুষের কথা। মিথ্যা মহাপাতক প্রকাশক বাক্য স্বরূপ যে বাক পারুণ্য তাকে উত্তম বাকৃপাষ্য বলি। * • লােকেতে ভৎসন সামান্যকেহি বা পাষ্য বলে। ভাষাতে যাকে গালী বলে তাহার নাম বাকৃপারুষ্য জানিবা। প্রথম বাপারুষ্যেতে সমান বর্ণ দুইও ব্যক্তিতে ও অসমান বর্ণ দুই ব্যক্তিতে যাহা দণ্ড হয় তাহার কথা জাতিতে ও গুণেতে তুল্য দুই ব্যক্তিয়ে যদি পরস্পর বাপারুষ্য করে তবে উভয়ের সমান দণ্ড হয় জানিবা । জাতিতে ও গুণেতে উত্তম ব্যক্তিয়ে ও জাতিতে গুণেতে নূন ব্যক্তিয়ে যদি পরস্পর বাপারুষ্য করে তবে নব্যক্তির দ্বিগুণ দণ্ড জানিবা । উত্তম ব্যক্তির অর্ধেক দণ্ড জানিবা । জাতিতে ও গুণেতে অধম ব্যক্তিকে যদি উত্তম ব্যক্তিয়ে বাকৃপাষ্য করে তবেই অর্ধেক দণ্ড হয় জানিবা । এবং অন্যের স্ত্রীকে ও উত্তম ব্যক্তিকে যদি অই ব্যক্তিয়ে বাকৃপারুষ্য করে তার ত্রিগুণ দণ্ড জানিব। আমী ভ্ৰান্ত হৈয়া অথবা অবধান না করিয়া অথবা প্রতি প্রযুক্ত বলিয়াছি এমত আর কক্ষণ না বলব পূৰ্বে বাকৃপাষ্য করিয়া পশ্চাৎ যদি এমত বলে তবেই অর্ধেক দণ্ড দিতে হয়। উত্তম তুল্য ব্যক্তি দ্বয়ের পরস্পর আক্রোশন ও একেতে অন্যের আক্রোশন এহাতে ৮/১০ তেরপণ দশগও দণ্ড হয়। অধম ব্যক্তিতে যদি বাপারুষ্য করে তবে ১৫ বুড়িকম সাতপণ উত্তম বক্তিতে আক্রোশন করিলে ১| এক কাহন এগারপণ দণ্ড হয়। হীন বর্ণ ব্যক্তি দ্বয়ে যদি পরস্পর আক্রোশ করে অথবা একেতে অনন্য আক্রোশ করে তবে ৭০ বারপণ দণ্ড দিতে হয়। তদপেক্ষাত হীন বর্ণেতে আক্রোশ করলে l ছয়পণ দণ্ড হয়। পূৰ্ব পূৰ্ব্ব ক্রমে উত্তম বর্ণেতে আক্রোশ করিলে দণ্ডের দ্বিগুণাদি বৃদ্ধি এব উত্তর উত্তর ক্রমে হীন বর্ণেতে আক্রোশ করিলে দণ্ডের অৰ্দ্ধেকাদি হ্রাস যুক্তিক্রমে জানিবা। কাণ ও নপুংসক ও গুজা ইত্যাদিতে আক্রোশ করিলে » ছয়পণ দণ্ডহয়। বাকৃপারুষ্যের দণ্ড প্রকরণং । * || অথ মধ্যম বা পারুঘ্য দণ্ডঃ । ইতি প্রথম । } মাতাও ভগিনীকে যে ব্যক্তিয়ে বলে তােমার যে মত বুদ্ধি হৈয়াছে এমত বুদ্ধিতে তােমী অপকৃষ্ট স্থানেতে যাবা এমত বাক্য দ্বারা মিথ্যা শংসন করিলে রাজাতে ১ দণ্ড দিতে হয়। এই অনুসারে মধ্যম বাক্য দ্বারা পারুষ্যেতে ব্যক্তি ভেদে দণ্ড জানিবা ইতি মধ্যম বাক্- পাষ্য প্রকরণং। * | অথ উত্তম বাপারুষ্যং। অতিশয় দোষ ঘটিত বাক্যদ্বারা যে ভৎসন তাহার নাম উত্তম বাপারুষ্য জানি। ক্ষত্রিয়ে যদি ব্রাহ্মণকে উত্তম বাক্পাষ্য করে তবে রাজাতে ৬া দণ্ড দিতে হয়। এবং বৈশ্যে করিলে ৯১ দণ্ডঃ শূদ্রে করিলেহ ৯ly দণ্ড দিতে হয় এবঞ্চ বেত্রাদি দ্বারা কিঞ্চিৎ তাড়নীয় হয়। ব্রাহ্মণে যদি ক্ষত্রিয়কে উত্তম বাপারুষ্য করে , তবে রাজাতে ৩৭ তিন কাহন দুইপণ দণ্ড দিতে হয়। বৈশ্যেতে করিলে ১ দণ্ডঃ। শূদ্রেতে করিলে • দণ্ড দিতে হয়। পাতিত্য কারক দোষ ঘটিত বাক্য দ্বারা পারুষ্যেতে যেই দণ্ড হয় তাহার কথা। ব্রাহ্মণে যদি ক্ষত্রিকে দৃশ আক্রোশ করে তবে ১৫ | দণ্ড দিতে হয়। শূদ্রাক্রোশেতেহ এই অনুসারে হ্রসিত দণ্ড দিতে হয়। ক্ষত্রিয়ে যদি ব্রাহ্মণকে এতা আক্রোশ করে তবে ৩১• দণ্ড দিতে হয়। বৈশ্য ও শুদ্রে আক্রোশ করিলেহ এই অনুসারে দণ্ডের বৃদ্ধি জানিবা । আমী ধৰ্ম্ম কথা বলিতে পারি এবং বেদের উদাহরণকরণেতে সমর্থঃ দৰ্প করিয়া শূদ্রে যদি এমৎ বলে কিম্বা ব্ৰহ্মণকে বৃহৎ পাপের মিথ্যাভিশাপ করে তবে তাহার জিহ্বাচ্ছেন রূপ দণ্ড জানি ॥ এবঞ্চ অত্যন্ত নিষ্ঠুর বাক্য দ্বারা ব্রাহ্মণকে যদি শূদ্রে ভৎসনা করে এতেহ জিহ্বচ্ছেদন রূপ দণ্ড জানিবা । তােমী কিঞ্চিত্র না পঢ়িয়াছ এবষ্ণু তােমী পুণ্য স্থানীয় ব্রাহ্মণ না হয় এবঞ্চ তােমী দুশ্চৰ্মা ব্রাহ্মণ এমত অসত্য বাক্য যদি দৰ্ণ করিয়া শূদ্রে ব্রাহ্মণকে বলে তবে ১২• দণ্ড দিতে হয় জানিবা । স্বধৰ্ম্মেতে স্থিত যে রাজা এবং বৈশ্য নিষ্ঠুর তাকে যদি বলাৎকারাদি দ্বারা সূত্রে আক্রোশ করে তবে রাজায়ে তাহার জিহ্বা ছেদ করিয়া সর্বদাহরণ করিবেন । রাজাকে বলে ও আক্রোশ করে ও কর্ণকর্ণিত বাক্য শত্রুতে প্রকাশ করে যে শূদ্রে তাকে জিহ্বাচ্ছেদ করিয়। রাজ্য হৈতে বাহির করাবেন্ ইতি উত্তম বাপারুষ্যং। প্রথম বাপারুষ্য ও মধ্যম বাক্পরুষ্য ও উত্তম বাকপায্যের প্রভেদ যথা। সামান্য দোষ সূচক বাক্য দ্বারা যে ভৎসন তার নাম প্রথম বাপারুষ্য। মধ্যম দোষ সুচক বাক্য দ্বারা যে ভৎসন তাহার নাম মধ্যম বৃহৎ দোষ ও অতি বৃহদ্দোষ সূচক বাক্য দ্বারা যে ভৎসন তাহার নাম উত্তম। ইতি বাপারুষ্য প্রকরণং সমাপ্তং । * * অথ দণ্ড পারুষ্য সংক্ষেপ ভাষা। ভাষাতে যাহার নাম মারামারি তাকেহি দণ্ড পারুষ্য জানিবা জাতি ও গুণেতে সমান ব্যক্তিতে ক্রোধ করিয়া যদি ভস্ম ও অঙ্গার ক্ষেপকরে ও কিম্বা কর তাড়না করে তবে রাজাতে ২ দুই রাত্তি সুবৰ্ণ দণ্ড দিতে হয়। পর স্ত্রীতে যদি ক্ৰোধত এমত করে তবে ৪ চাই রাত্তি দণ্ড দিতে হয়। প্রধান স্ত্রীতে যদি এমত করে তবে ৬ ছয় রাত্তি দণ্ডদিতে হয় এবঞ্চ জাতি ও গুণেতে উত্তম ব্যক্তিতে যদি এমত কৰ্ম্ম করে তবে ৪ চাইর রাত্তি সুবর্ণ দণ্ড দিতে হয়। অতি প্রধান ব্যক্তিতে যদি এমত কৰ্ম্ম করে তবে ছয় রাত্তি সুবর্ণ দণ্ড দিতে হয় । যেই খানে মুনি সকলে দণ্ড নিরূপণ না করিয়াছেন তাতে অপরাধ বুঝিয়া যুক্তি দ্বারা দণ্ড কল্পিতে হয়। ব্রাহ্মণকে মারতে যদি ব্রাহ্মণে হস্ত তুলে তবে এ দণ্ড সৎ হস্ত পাতনেতে ১০ দণ্ড সমান ব্যক্তি মাত্রেতে এই দণ্ড জানিব। উত্ত জাতিতে অথবা উত্তম ব্যক্তিতে তাড়না করিতে যাহা দণ্ড হয় তাহার কথা। উত্তমকে মারিতে যদি অধমে অস্ত্র উত্থাপন করে তবে ৬২০ দণ্ড হয়। এবঞ্চ সগুণ ব্রাহ্মণের উপর যদি নিৰ ব্ৰাহ্মণে মারণাৰ্থ হস্তোত্থাপন করি ভ্রমণ করায় তবে ১০ কাহন lo দণ্ড হয়। পাদ ভ্রমণ করায় তবে ২১ বিংশতি কাহন দণ্ড হয়। কাষ্ঠ ভ্রমণ করায় তবে ১৪ দণ্ড হয়। দুই ব্রাহ্মণে যদি দণ্ড পারুষ্য করিয়া অন্যোহন্যে হস্ত ও পদ যৎ কিঞ্চিৎ বিদারিত করে তবে পরস্পর ১২ কাহন ও ১২ কাহন দণ্ড দিতে হয়। সমান ব্রাহ্মণের উপর যদি ব্রাহ্মণে মারণাৰ্থ অভ্রমণ করায় তবে ৩১• কাহন দণ্ড হয়। পরস্পর ভ্রমণেতে উতয়ের দণ্ড জানিবা । দণ্ড জানিবা শূদ্রে ক্রোধ করিয়া যদি ব্রাহ্মণকে হস্তদ্বারা প্রহার করে তবে তাহার হচ্ছেন রূপ দণ্ড জানিব।। ক্ৰোধত পাদ দ্বারা প্রহার করিলে পাদচ্ছেদন রূপ দণ্ড জানিবা । ব্রাহ্মণের একাসনেতে এক কালী যদি শূদ্র বইসে তবে তাকে দাগদিয়া পূরি হইতে বাহির করিব অথবা নিতম্বদেশ সমীপের মাংস খণ্ড কৰ্তন করিব। শূদ্রে কোপ করিয়া ব্রাহ্মণকে মারিবার নিমিত্ত যদি ভূকুটি দ্বারা মুখ বিস্তার করে তবে তাহার উভয় ওষ্ঠ ছেদ করিব। শূদ্রে ক্রোধ করিয়া যদি ব্রাহ্মণের উপর প্রস্রাব করে তবে তাহার লিঙ্গ কর্তন করিব। যদি বিষ্ঠা প্রক্ষেপ করে তবে তাহার গুদ ছেদ করিব। শূদ্রে যদি ক্ৰোধ করিয়া ব্রাহ্মণের কেশেতে ধরে ও কিম্বা গ্রীবাতে ধরে ও কিম্বা পায়েতে ধরে ও কিম্বা অণ্ডকোষেতে ধরে তবে তাহার হস্ত দ্বয় ছেদ করাব। ব্রাহ্মণব সহিত তুল্য হৈয়া বাদ করে যে শূদ্রে ও পথে যাইতে তুল্য হৈয়া গমন করে যে শূদ্রে ও শষ্যাতে আসনেতে একদা সৎ উপবেশন করে সূত্রে তাকে রাজা তাড়না করাবেন। মারনেতে যদি চর্ম ভেদ হয় তবে ১৫| দণ্ড দিতে হয় যদি মাংস ভেদ হয় তবে ৩১ দণ্ড দিতে হয় অন্তি ভেদেতে ৬২ • দণ্ড হয়। অল্পতর ভেদেতে এতাদৃশ দণ্ড মুক্তি ক্রমে হয় জানি। মারনেতে যদি মারিত ব্যক্তি মৃত হয় তবে তাকেহ রাজা প্রতি বদল মারিতে হয়। কর্ণ ও নাসিকা ও দন্ত ও অঙ্গুলী ভেদ করিলে ৩১• দণ্ড হয়। এই সকলের পতনেতে ৬২ গও হয়। কৃতাপরাধী যে রাজা তাকেহ যদি কোন ব্যক্তিয়ে প্রহার করে তবে তাকে “ল দিয়া গাথিয়া অগ্নিতে পাচনা করিব। এই শাস্তি ব্রাহ্মণাতিরিক্ত বর্ণেতে যানিবা। ব্রাহ্মণের মরণাতিক শান্তি নাই জানি। সৰ্ব্ব পাতক যুক্ত যে ব্রাহ্মণ তাকেহ বধ করিতে পারেনাহি। যেই ব্যক্তিয়ে যাকে আক্রোশ করে তাকে সেই ব্যক্তিয়ে আক্রোশ করিলে অপরাধী হয় নাহি এবঞ্চ যেই ব্যক্তিয়ে যাকে মারে সেই ব্যক্তিয়ে তাকে মারিলেহ অপরাধী হয় নাহি কিন্তু এহাতে একব্যক্তি অপরাধী হয় নাহি উভয় ব্যক্তি অপরাধী হয় জানিবা ভাৰ্যা ও পুত্র ও দাস শিষ্য ও কনিষ্ঠ সােদর এই সকলে অপরাধ করিলে, রজদি বন্ধ করিয়া বাসের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কঞ্চি দিয়া পৃষ্ঠেতে তাড়ন করিতে পারে জানিবা এহাতে রাজ দণ্ড নাই । কিন্তু মস্তকেতে তাড়না। রিলে চৌরের প্রায় দণ্ড্য হয়। মহিষাদি ও কুক্রাদির স্বামী সমর্থ থাকিতে কোন ব্যক্তির উপর মহিষাদি কষিতে যদি বারণ না করে তবে ১৫ || দণ্ড দিতে হয়। দূর কর দূর কর এমত বলিতে যদি মহিষাদিকে স্বামীয়ে বারণ না করে তবে ৩১ দণ্ড দিতে হয়। নীচ লােকে যদি সন্ত ব্যক্তিকে বাপারুণ্যাদি দ্বারা অতি জঘন [ করে | তবে নীচ লােককে যদি সন্তলােকে প্রহারাদি করে তবে রাজ দ্য হয় নাহি। ইতি দণ্ড পাষ্য প্রকরণং সংক্ষেপ ভাষা। চোরের কথা। চৌরের সহিৎ সদা সংসর্গ করে যে ও কিম্বা যাহার পাশ চোরকৰ্ম্মের খনিত্ৰাদি অস্ত্র থাকে ও যাহার পাশ চোরিত দ্রব্য পাওয়া যায় সেহি চোর জানিবা এতাদৃশ এতাদৃশ চিহ্ন দ্বারা চোরকে অবধারণ করিয়া রাজায়ে সপ্রমাণ দ্রব্য স্বামিকে দ্রব্য দেওয়াইয়া চোরকে যথা শাস্ত্র দণ্ড করিন। চোরকে নিগ্রহ করিতে রাজা পরম যত্ন করাবে চোরের নিগ্রহেতে রাজার যশােবৃদ্ধি হয় অতএব পরম যত্ন করিব। যেই যেই ব্যক্তিকে চোর বলা জায় তাহার কথা। চোর দ্বিবিধঃ। প্রকাশ চোর ও অপ্রকাশ চোর। কুট (তাল করে যে বণিগাদি তাকে প্রকাশ চৌর জানিব । সন্ধানাদি দ্বারা চোরি করে যে তাকে অপ্রকাশ চৌর জানিবা কুট তােলাতিক্ত ধাবৎ সন্ধানে চোরি করিতে পারে তাবৎ সন্ধানদ্বারা চোরি করে যে তাকেহি অপ্রকাশ চোর জামিবা কপট তােল ও কপট গণন ও কপট লেখ্য এইসকল দ্বারা ধনের বৃদ্ধি ও হ্রাস করিয়া পুত্ৰ দারাদিকে প্রাতপােষণ করে যে তাহার কথা। কপট তােলাদি দ্বারা যদি দ্রব্যের অষ্টম ভাগ হরণ করে তবে রাজাতে : ২০ দণ্ড দিতে হয়। এবং ক্রমে নবমাংশ হরণেতে ১০৬ দণ্ড ও দশমাংশ হরণেতে ৯ দণ্ড ও একাদশাংশ হরণেতে ৭৬ পণ দণ্ড ও দ্বাদশাংশেতে ৬০ দণ্ড ও এয়ােদশাংশ হরণেতে ৪| চতুর্দশাংশ হরণ করে তবে ৩ দণ্ড হয় পঞ্চদশাংশ হরণেতে ১ দণ্ড এই অনুক্রমে অধিকাংশ অপহরণেতে দণ্ডের বৃদ্ধি জানিবা তদ যথা সপ্তমাংশ হরণেতে ১৪/ দণ্ড ও ষষ্ঠাংশ হরণেতে ১৫ ||দণ্ড হয় পঞ্চমাংশ হরণেতে ১৭ দণ্ড হয় চতুর্থাংশ হরণেতে ১৯ । দণ্ড হয়। তৃতীয়াংশ হরণেতে ২১/ + দণ্ড হয়। দ্বিতীয়াংশ হরণেতে ২২ + দণ্ড হয়। অষ্টমাদি ভাগ যে প্রকারে হয় তাহার কথা। চোরিত দ্রব্যকে অষ্টভাগ করিয়া প্রতি ভাগেতে যাহা হয় তাকে অষ্টমভাগ জানিবা এই ক্রমে নবমাংশ ও দশমাংশ ও একাদশাংশ ও দ্বাদশাংশ ও ত্রয়ােদশাংশ ও চতুর্দশাংশ ও পঞ্চদশাংশ নির্ণয় করিবে। এবষ্ণ চোরিত দ্রব্যকে সপ্তভাগ করিয়া প্রতি অংশেতে যাহা হয় তাকে সপ্তমাংশ জানিবা এই অনুসারে ষষ্ঠাংশ ও পঞ্চমাংশ ও চতুর্থাংশ ও তৃতীয়াংশ ও দ্বিতীয়াংশ নির্ণয় জানিব ইতি প্রাথমিক প্রকাশ চৌর সংক্ষেপ ভাষা প্রকরণং *। । এই সকল স্থলে হিসাবে ভুল দেখা যায়; এই ভুল গুলি ক-পুথিতেও ১ পৃষ্ঠে দৃষ্ট হইবে।
অথ কূট দ্রব্য ব্যবহারি সংক্ষেপ ভাষা। সুবর্ণাতিরিক্ত যে দ্রব্য তাতে ঔষধাদি কোন দ্রব্য লাগাইয়া সুবর্ণের সদৃশ করিয়া সুবর্ণত্বের প্রম জন্মাইয়া ও কুকুরাদির মাংসকে হরিণাদি ভক্ষ্যপশুমাংস হেন প্রকাশ করিয়া বিক্রয়াদি ব্যবহার করে যে তাহার নাসাচ্ছেদ ও দন্তশূন্য ও হস্তচ্ছেদ করিয়া ৬২” রাজা দণ্ড লৈতে হয়। অল্প মুল্য দ্রব্য আনীয়া যদি বহুমূল্যের দ্রব্য হেপ্রকাশ করিয়া স্ত্রী ও বালককে বঞ্চনা করিয়া স্ত্রী ও বালকেতে বিক্রয় করে তবে মল্যানুরূপ দণ্ড দিতে হয়। ঔষধাদি যােগ করিয়া সুবর্ণাদিতে কৃত্রিম জন্মই যেই জনে বিক্রয় করে সেই ব্যক্তিয়ে ক্রয় কর্তাতে মূল্য দিয়া বাজাতে সেই মূল্যের দণ্ড দিতে হয়। যাকে শুদ্ধ সুবর্ণ বলি তাহার চিহ্ন । একরাত্রি ও একদিবা কাল ব্যাপক অগ্নিতে দাহ করিলে কিঞ্চিত্র ক্ষীণ না হয় যে সুবর্ণ তাকেহি শুদ্ধ সুবর্ণ জানিবা । এক রাত্রি ব্যাপক অগ্নিতে দাহ করিলে শত পলেতে দুই পল ক্ষীণ হয় যে রজতেতে তাকেহি শুদ্ধ রজত জানি। শত পল পিত্তল ও রাঙ্গ শীশাতে তাদৃশ দাহ করিলে যদি অষ্ট পল ক্ষীণ হয় তবেহি শুদ্ধ জানিবা শত পল তাম্ৰেতে ৫ পল শত পল লৌহেতে ১০ পল যদি ক্ষীণ হয় তবেহি শুদ্ধ জানিবা । * | ইতি কূট দ্রব্য ব্যবহারি সংক্ষেপ ভাষা প্রকরণং। অথাপ্রকাশ তঙ্কর দণ্ড সংক্ষেপ ভাষা । খনন করিয়া গৃহেতে প্রবিষ্ট হৈয়া চোরি করে যে তাদৃশ চোরকে রাজায়ে হস্তদ্বয় ছেদন করিয়া তীক্ষ্ণ শূলেতে প্রবিষ্ট করাবে। কুলীন পুরুষ ও স্ত্রীলােক,ও মরকতাদি রত্ন [ এই ] সকলকে রাত্রিতে তাদৃশ প্রকারেতে যদি হরণ করে তবে সেই বধ্য হয়। এবঞ্চ মধ্যম পুরুষকে যদি হরণ করে তবে রাজা তাহার হস্ত ও পাদ ছেদন করিয়া সেই ব্যক্তিকে চতুস্পথেতে স্থাপন করাবে। যদি অধম পুরুষকে হরণ করে তবে রাজাতে ৬২০ দণ্ড দিতে হয়। ঘােটক হরণ করে = • যে তাকে হস্ত ও পাদ ও কোটি ছেদ করিয়া মারিবে। গাে ও উঠু ও গজ এই সকলকে হরণ করে যে তাহার এক চরণাদি ছেদন করাবেন । বিংশতি দ্ৰোণ পরিমিত ধান্যের নুন ধান্য চোরি করিলে ধান্তের স্বামিকে তাদৃশ বার্তা দিয়া বাজাতে তাহার একাদশগুণ ধান্য দণ্ড দিতে হয়। দ্রোণ যাকে বলি তাহার কথা। অষ্ট মুষ্টি ধান্য একত্র করিলে যে হয় এর নাম কুঞ্চি এতাদৃশ অষ্ট কুঞ্চিয়ে একত্র হৈয়া যে হয় তাহার নাম পুস্কলা এতাদৃশ চাইর পুস্কলা একত্র হৈয়া যাহা হয় তাহার নাম আঢ়ক এতাদৃশ চাইর আঢ়ক একত্র হৈলে যাহা হয় তাহার নাম দ্রোণ জানিবা ।। এতাদৃশ বিংশতি দ্রোণ পরিমিত ধান্যের অধিক চোরি করিলে মারণীয় হয় স্বর্ণ ও রজত যদি শত পলের আধক চোরি করে তবে বধ্য হয়। এহার নূন চোরি করিলে কর্ণচ্ছেদন যােগ্য হয়। শাস্ত্রীয় পল ৪ চাইর সুবর্ণ ॥ লােকি পল ৮ অষ্টরতি ২ দুই মাসা। অল্প সুবর্ণ ও অল্প রজত চোরি করিলে তাছনীয় হয় ৷ কাষ্ঠনিৰ্ম্মিত ভাও ও তৃণ ও মৃত্তিকানিৰ্ম্মিত যাবদ্বস্তু ও বংশ ও বংশােদ্ভব যাবস্তু ও অল্প ধান্য ও সূত্র ও অস্থি ও চর্ম ও শাক এই সকল ও অল্প মূল্য যাবস্তু তাকে চোরি করিলে রাজাতে মূল্যের পঞ্চগুণ দণ্ড দিতে হয়। অঙ্গযুক্ত সকল বেদাধ্যে ব্রাহ্মণের তৃণ কাষ্ঠ ও পুষ্প ও ফল এই সকল চোরি করিলে হস্তচ্ছেদন হয। রাজায়ে চোরকে আনাইয়া খনিকের ধন দেওয়াইয়া পশ্চাৎ দণ্ড করিবে। যদি ব্রাহ্মণ চোর হয় তবে তাকে অবমান করিব ব্রাহ্মণের যে অবমান সেহি বধের তুল্য। মধ্যম ব্রাহ্মণে যদি চোরি করে তবে তাহার ললাট-দেশেতে ভগাঙ্ক করাইয়া রাজ্য হৈতে বাহির করিবে। চোরিত দ্রব্য হে জানিয়া যেই ব্যক্তিয়ে ক্রয় ও রক্ষণ ও গােপন করে সেই চৌর সমান দণ্ড্য হয় । ইতি অপ্রকাশ তঙ্কর দণ্ড সংক্ষেপ ভাষা প্রকরণং । ॥ অথ দণ্ড প্রকরণে সাহস সংক্ষেপ ভাষা। অকস্মাৎ করে যে কৰ্ম্ম ও বল দ্বারা করে যে কর্ম ও দর্প দ্বারা করে যে কৰ্ম্ম তাহার নাম সাহস সেহি প্রথম মধ্যম উত্তম ভেদে তিন প্রকার হয়। লাঙ্গল ও সেতু ও পুষ্প ও মূল ও ফল এই সবের মধ্যে অল্পমূলা যেই যেই দ্রব্য হয় তাকে যদি চোরি করে অথবা বিনাশ করে তবে রাজাতে ৬ দণ্ড দিতে হয়। সেতু [ ৩ ] ক্ষেত্রাদি বহুমূল্য দ্রব্য যদি চোরি করে অথবা নাশকরে সেই [চোরের সমান দণ্ড দিতে হয়। সেতুপুল ইতিখ্যাতঃ ক্ষেত্রাদি ভূম্যাদি এহার চোরি ও নাশ এই দুয়ের যথাসম্ভব অনুভবানুসারে বিবেচনা করিব। এতদতিরিক্ত দ্রব্যের কথা পশু ও বস্ত্র ও অন্ন পানীয় দ্রব্য ও শিলা পট্টাদি এই সকলের মধ্যে অল্প মূল্য যেই যেই দ্রব্য তাকে নাশ ও চোরি করিলে ১২০ দণ্ড বহুমূল্যের যেই যেই দ্রব্য তাতে সেই দ্রব্যের মূল্য সমান ধন দণ্ড। স্ত্রী ও পুরুষ ও হেম ও রত্ন ও দেববিপ্রথন ও কৃমিকোষােব বস্ত্র বিশেষ এই সকলেতেহ মূল্য সমান দণ্ড কিন্তু সাহস ককারক যদি হীন পুরুষ হয় তবে দ্বিগুণ দণ্ড দিতে হয় । চোরের সংসর্গ নিৰ্বত্যর্থ হরণকর্তা যে হয় তাকে তাড়না করিতে হয় । এতাদৃশ চোরের লক্ষণ কোন ব্যক্তিয়ে কোন দ্রব্য কোনদিগে লৈয়া যাইতে ও কিম্বা আপন গৃহস্থিত দ্রব্য ও কিম্বা কোন কাৰ্যার্থ গৃহ হৈতে বাহির করে যে দ্রব্য এইসকল দ্রব্যকে অস্মাৎ আসীয়া ঝাবট মারিয়া লৈয়া যায় ও কি বল করিয়া কাড়িয়া নিয়া যায় । ও কিম্বা দূর্গ করিয়া ভয় জন্মাইয়া নিয়া যায় অথবা নষ্ট করে যেই ব্যক্তিয়ে তাকেহি সাহস চৌর জানিবা। উত্তরােত্তর ক্রমে অধিক ধন চোরিতে উত্তরােত ক্রমে দণ্ডের আধিক্য জানিব । ত যথা-১৫ || পনর কাহন দশ পণের নন ধন চোরি করিলে ৬• দণ্ড ১৫ণ চোর করিলে ১২ তদপেক্ষাত কিঞ্চিৎ অধিক ধন চোরি করিলে ১৫ দণ্ড এতদপেক্ষাত অধিক ধন চোরি করিলে সেই ধনের তুল্য ধন দণ্ড এবং no বহুমূল্য দ্রব্য হয় তবে তাহার মূল্যের সমান দণ্ড । ৩. একত্রিংশৎ কাহন চাইর পণের দ্রব্য ও কিম্বা তা ধন চোরি করিলে ৩১ দণ্ড কিন্তু এই সব দণ্ড ক্রিয়া ভেদে জানিবা ! ক্রিয়াভেদো যথা সাহস ও বল ও দর্প এই তিনের সংসৃষ্টের প্রভেদ ও প্রত্যেকের-প্রভেদ ও চোর সমুহের সাহসাদির প্রভেদ ও একের সাহদি প্রভেদ বুঝিয়া দণ্ড করিবে। ইতি সাহস প্রকরণং। * । অন্য প্রকারীয় দণ্ড | সমর্থ থাকিয়া যেই ব্যক্তিয়ে মাতা ও পিতা ও স্ত্রী ও পুত্র ঐ সকলকে ভরণ পােষণ না করে সে রাজাতে ৩৭ দণ্ড দিতে হয়। শূদ্রে যদি বিষ্ঠাদি দ্বারা ব্রাহ্মণকে দুষ্ট করে তবে ১৬ সুবর্ণ দণ্ড। শুনাদি ভক্ষণ করাইয়া দুষ্ট করে তবে ১০০ শত সুবর্ণ দণ্ড। সুরাপান করিয়া দষ্ট করে তবে বধ্য এবঞ্চ শুদ্রে যদি বিষ্ঠাদি দ্বারা ক্ষত্রিয়কে দুষ্ট করে তবে ৮ অষ্ট সুবর্ণ দণ্ডঃ। শুনাদি দ্বারা দুষ্ট করে তবে ৫০ সুবৰ্ণ হয়। সুরা দ্বারা যদি দুষ্ট করে তবে অঙ্গচ্ছেদ রূপ দণ্ড হয়। এবং বৈশ্যকে দুষ্ট করিলে বিষ্ঠাতে ৪ সুবর্ণ শুনাদিতে ২৫ সুবর্ণ সুরাতে অল্পাঙ্গ ছেদ রূপ দণ্ড হয় এতাদৃশ দণ্ড উৎকৃষ্ট ব্রাহ্মণ ও উৎকৃষ্ট ক্ষত্রিয় ও উৎকৃষ্ট বৈশ্যেতে জানিবা অন্যত্র এতাদৃশ কৰ্ম্ম করিলে ১২০ দণ্ড জানিনা। স্তম্ভন ও মােহন ও বশীকরণ ও উচ্চাটন ও বিদ্বেষণ ও মারণ ও উচ্চাটন কর্মের উদ্যােগ করিলেহ ১২ দণ্ড জানিবা । যজ্ঞোপবীত আদি ব্রাহ্মণের চিহ্ন যেই যেই বস্তু তাকে ধারণ করিয়া উপজীবিকা করে যে শূদ্রে সে রাজাতে ৫০ দণ্ড দিতে হয়। যাহার ভক্ষ্য যেই দ্রব্য না হয় সেই দ্রব্য যদি তাহার পাশ বিক্রয় করে ও কি নির্মিত দেবত প্রতিমা ভাঙ্গে তবে রাজাতে ৬২০ দণ্ড দিতে হয়। বিষ বার ও অগ্নি. দ্বারা পুরুষকে মারে যেই স্ত্রীয়ে ও সেতু ভেদ করে যে স্ত্রীয়ে তাকে শিল বান্ধিয়া জলেতে ক্ষেপনা করিব। স্বামী ও গুরু ও আত্ম- পুত্র, এই সকলকে বধ করে যে স্ত্রীয়ে তাহার কর্ণ নাসা ও হস্ত ও ওষ্ঠ এই সকল ছেদ করিয়া গাে দ্বারা মারিবে । কিন্তু শুদ্ধি চিন্তামণি কারের মতে স্ত্রীলােকের বধ ও অঙ্গচ্ছেদ করিতে পারে নাহি এবঞ্চ সৰ্বমতেতেহি গৰ্ত্তিনী স্ত্রীলােকের বধ ও অঙ্গচ্ছেদ করিতে পারে নাহি জানিবা কিন্তু শিরােমুণ্ডনাদি অশেষাবমাননা করিয়া দেশের বাহিরকরিব শিষ্য গামিনী ও গুরু গামিনী ও পতিী যেই যেই স্ত্রীলােক হয় তা- কেহ এতাদৃশ মতে বাহির করিব এবং নিন্দিত পুরুষগামিনীকেহ এতাদৃশ মতে বাহির করিব । বিবাদ নির্ণয়েতে লিখিয়াছেন ধান্যাদি শস্যযুক্ত যে ভূমি ও গৃহসমূহ ও গ্রাম ও গােষ্ঠাদি ও নানাবিধ শস্যযুক্ত খল নাম স্থান এই সকলেতে অগ্নি দিয়া দাহ করে যে ও রাজপত্নীতে অভিগম করে যে তাকে বীঃপত্র দিয়া বেষ্টিত করিয়া দাহ করিবেক। অথ বধ প্রতিনিধি দণ্ড সংক্ষেপ ভাষা। বধযােগ্যাপরাধি ব্যক্তিয়ে যদি ১০০ শত সুবর্ণ দণ্ড দিতে পারে তবে তাকে বধ করাবেক নাহি । এবং অঙ্গচ্ছেদনযােগ্যাপরাধি ব্যক্তিয়ে যদি ৫০ পঞ্চাশৎ সুবর্ণ দণ্ড দিতে পারে তবে তাহার অঙ্গ ছেদ করাবেক নাহি। এই অনুসারে শাস্তি সামান্যেতে দণ্ডের অনুভব করিব শাস্তির অনুসারে দণ্ড দিতে পারিলে শাস্তি রক্ষা হয় জানিবা * নিরপরাধি ব্যক্তিকে যদি অপরাধি হেন বলিয়া বান্ধে ও অপরাধি ব্যক্তিকে পাইয়া যে ছাড়ে সে রাজাতে ৬২০ দণ্ড দিতে হয়। কুট প্রমাণ ও কূট মুদ্রা করিয়া কাৰ্যোদ্ধার করে যে সেহ রাজাতে ৬২• দণ্ড দিতে হয় কূট প্রমাণ মিথ্যা লেখ্যাদি দ্বারা যে প্রমাণ কূট মুদ্রা মিথ্যা মহর যাকে বলে তাহা নাম জানি। অল্পাপরাধ বিষয়েতে এতাদৃশ দণ্ড জানিবা। পরের শরীরেতে শস্ত্র পাতন মাত্রেতে ৬২৩, দণ্ড হয় এহাতে যদি ক্ষত হয় তবে অনুভব করিয়া তানুসারে দণ্ড করিব। এবঞ্চ ব্রাহ্মণী ভিন্ন স্ত্রীর গর্ভ পাতনেতেহ ৬২ দণ্ড হয় কিন্তু ক্রিয়া ভেদে এতাদৃশ দণ্ড ক্রিয়া ভেদো যথা। যদি গুৰ্বিণী,স্ত্রীকে পরিশ্রম করাইয়া গর্ভপাতন • করায় তবে ১৫|| দণ্ড ও যদি ঔষধদির যােগ করাইয়া গর্ভপাত করায় তবে ৩১• কাহন দণ্ড ও যদি মারণ দ্বারা গর্ভপাতন করায় তবে ৬২||• দণ্ড জানিব । রাজায়ে যে বিষয়ের আজ্ঞা না দিয়াছেন সেই বিষয়ের আজ্ঞা দিয়াছেন বলিয়া যে প্রকাশ করে ও যেই ব্যক্তিয়ে রাজা খণ্ডন করে ও যেই ব্যক্তিয়ে কূট প্রস্তৱাদি দ্বারা তােল করে এই সকল ব্যক্তির মারণ রূপ দণ্ড ও অঙ্গচ্ছেদন রূপ দণ্ড বিষয় বুঝিয়া করিবে বৃহৎ অপরাধি ব্যক্তিয়ে আজ্ঞালঘন করিলে মারণ অল্পাপরাধি ব্যক্তিয়ে আজ্ঞালন করিলে অঙ্গচ্ছেদন। এবঞ্চ অকৃতজর কৃতত্ব প্রকাশেতেহ কাৰ্যভেদে মারণ কাৰ্যভেদে অঙ্গচ্ছেদন জানি এই সকল বিষয়েতে মারণ ও অঙ্গচ্ছেদন রূপ যে দও তাকে অপরাধের আধিক্য অল্প বুঝিয়া করিবেক। অপরাধের আধিক্য ও অল্পত্ব অনুভব করিব এবঞ্চ কূট প্রস্তৱাদি দ্বারা তােল করিলেহ বহু মূল্য দ্রব্যের ন্যূনাধিক্য করণেতে ও অল্পমূল্য দ্রব্যের ন্যূনাধিক্য করণেতে অপরাধের ন্যূনাধিক্য অনুমান করিব এতাদৃশখতে বহুমূল্য দ্রব্যের অত্যন্ত হ্রাস ও অত্যন্ত বৃদ্ধি করিয়া ব্যবহার করাতে মারণ অল্প হ্রাস ও অল্প বৃদ্ধি করিয়া ব্যবহার করাতে অঙ্গচ্ছেদন। অল্প মূল্য দ্রব্যেতে দ্রব্যের হ্রাস বৃদ্ধির অনুসারে দণ্ডের হ্রাস বৃদ্ধি জানিব । *। এক ব্যক্তিয়ে অন্য ব্যক্তিকে প্রকাশিত মতে বধ করিলে ও কুন ছল করিয়া নির্জন স্থানেতে নীয়া বধ করিলে যাহা হয় তাহার কথা। আমী ঐ দুষ্ট ব্যক্তিকে বধ করিব ক্ৰোধত এমত বলিয়া যেই ব্যক্তিয়ে বধ করে ও কিম্বা সকল লােকের সাক্ষাৎ অকস্মাৎ অস্ত্রাদি দ্বারা বন্ধ করে ও কিম্বা হাদি দ্বারা বধ করে এতাদৃশ ব্যক্তিকে প্রকাশবধক নাম জানিবা । কুন ছল করিয়া নির্জন স্থানেতে নিয়া বধ করে ও কা নির্জন স্থানেতে পাইয়া বধ করে এতাদৃশ ব্যক্তিকে অপ্রকাশ • বধক নাম জানিব । প্রকাশবধক ব্যক্তি ও অপ্রকাণবধক ব্যক্তি এতাদৃশ উভয় ব্যক্তিকে রাজায়ে অঙ্গচ্ছেদন পূৰ্ব্বক মারিবে । কিন্তু এতাদৃশবধক যদি ব্রাহ্মণ হয় তবে বধ করিতে পারে নাহি অতএব তাহার শিরােমুণ্ডন করাইয়া ললাটেতে ভগাঙ্ক করাইয়া গর্দভেতে চঢ়াইয়া পুরা হৈতে বাহির করিব ॥ * | হতি প্রকাশবধকাপ্রকাশ বধক দণ্ড প্রকরণং ॥ * ॥ অথ স্ত্রী গ্রহণ সংক্ষেপ ভাষা --অন্যের স্ত্রীর সহিত প্রতি সন্ধান করিয়া নির্জন স্থানেতে কিম্বা রাত্যাদি কালেতে অবস্থিত হৈয়া চিত্তাকর্ষণের উপযুক্ত কথা কহে যে ও অন্যের স্ত্রীর সহিৎ এক শয্যাতে শয়ন করে যে ও ক্রীড়া করে যে ও চুম্বন ও আলিঙ্গন করে যে ও অন্যের স্ত্রীতে মৈথুনের কথা কহে যে এই সব ব্যক্তিয়ে রাজাতে ১৫ || দণ্ড দিতে হয়। ব্রাহ্মণাতিরিক্ত যে তিন বর্ণ সে যদি পরদার করে তবে তাহার কর্ণ ও নাসাদি ছেদন করিয়া বাহির করাইব সমান বর্ণেতে এতাদৃশ দণ্ড। অসমান বর্ণা স্ত্রী গমনের কথা ব্রাহ্মণে যদি ক্ষত্রিয়ণী ও বৈশ্বানী ও শূদ্রাণী গমন করেতবে রাজাতে ৩১০ দণ্ড দিতে হয়। রজক ও চৰ্ম্মকারাদির স্ত্রী গমন করিলে ৬২৷৩ দণ্ড দিতে হয়। ধন ও ভ্ৰাত্রাদি ও সৌন্দৰ্য্য এই সকলের গৰ্বেতে দর্প করিয়া স্বামিকে না মানীয়া অন্য পুরুষের সহিত ব্যভিচার করে যেই স্ত্রীয়ে তাদৃশ স্ত্রীকে রাজায়ে লােক মধ্যেতে কুক্কু দিয়া খাবাইবেক। অননুরক্ত। যেই স্ত্রী তাকে যদি দর্প করিয়া অভিগম করে তবে তাকে অগ্নি মধ্যে লৌহময় পাত্রেতে শআয়িয় দাহ করাবে। মারণেতে নিযুক্ত যেই যেই পুরুষ সেই সকলে তাহার উপর কাষ্ঠ ক্ষেপনা করবে। ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যে যদি চণ্ডালাদির স্ত্রীগমন করে তবে তাহার শরীরেতে মস্তক রহিৎ পুরুষ অঙ্কিত করাইয়া দেশ হৈতে বাহির করাব। শূদ্রে যদি তাদৃশ স্ত্রী গমন করে তবে তাহার শীরেতে মশুক রহিত পুরুষ মাত্র অঙ্কিত করাইব কিন্তু তাকে দেশের বাহির করিবেক নাহি জানিবা ॥ শূদ্রে যদি ব্রাহ্মণ স্ত্রী ও ক্ষত্রিয়াণী ও ও বৈশ্যানী গমন করে তবে বধ্য হয়। গুপ্ত। গমনেতে এতাদৃশ দণ্ড জানিবা শূদ্রে যদি অগুপ্তা ব্রাহ্মণী ও ক্ষত্রিয়াণী ও বৈশ্যানী গমন করে তবে তাহার লিঙ্গ ছেদন কৰি সৰ্বস্বাহরণ রিবেক ॥ ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যে যদি অগুপ্তাব্রাহ্মণী গমন করে তবে ৬২||• • দিতে হয়। শূদ্র। তুল্যা ব্রাহ্মণীতে যদি গমন করে তবে ৩১• দণ্ড। দতে হয়। ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যে যদি অত্যন্ত নিগু ন ব্রাহ্মণী গমন করে তবে শূদ্রের প্রায় দণ্ড জানিবা । যদি গুণবতী ব্রাহ্মণী গমন করে তবে ক্ষত্রিয়কে শর পত্র দিয়া বেষ্টিত করিয়া দাহ করিব। শর পত্র ভুঙ্গির পাতা জানি।। যদি বৈশ্যে গুণবতী ব্রাহ্মণী গম করে তবে তাকে লৌহময় দৰ্ত্ত বেষ্টিত করিয়া দাহ করাবেক লৌহময় দত্ত লৌহের কুশ প্রতিকৃতিঃ।। গুপ্তা ব্রাহ্মণীতে যদি বলাৎকার দ্বারা ব্রাহ্মণে গ. করে তবে রাজাতে ৬২০ দণ্ড দিতে হয়। যদি তাদৃশ ব্রাহ্মণীর ইচ্ছাত গম করে তবে ৩১০ দণ্ড দিতে হয়। যেই যেই অপরাধেতে প্রাণাস্তিক দণ্ড লেখা জায় তাতেহি ব্রাহ্মণের শিবরামুণ্ডন জানিবা ব্রাহ্মণের প্রাণান্তিক দণ্ড নাই । বলাৎকার করিয়া যদি স্বজাতীয় পরস্ত্রী গমন করে তবে সেই ব্যক্তিকে রাজায়ে লিঙ্গ ও অণ্ডকোষ ছেদন করাইয়া গর্দভেতে চঢ়াইয়া ভ্রমণ করাবে। যদি কুন ছল দ্বারা স্বজাতীয় পরস্ত্রী গমন করে তবে তাহার সর্বস্ব। হরণ করিয়া শরীরেতে ভগাঙ্ক করাইয়া পুরী হৈতে বাহির করিবেক। বল ও ছল ব্যতিরেকে দূতাদি দ্বারা সম্বাদ করিয়া সহায়যুক্তা স্বজাতী[াে] পরস্ত্রীতে যদি গমন করে তবে রাজাতে ৬২|| দণ্ড দিতে হয়। এতাদৃশ মতে যদি হীনবর্ণাতে গমন করে ৩১০ দণ্ড দিতে হয়। এতাদৃশ মতে যদি উৎকৃষ্ট বর্ণা স্ত্রীতে গমন করে তবেই বধ্য হয় । বিমাতা ও মাতৃস্ব ও শর্শ ও মতুলানী ও পিতৃব্যপত্নী ও মিত্ৰপত্নী ও শিষ্যপত্নী ও ভগিনী ও ভগিনীসখী ও ১/০ স পুত্রবধূ ও কন্যা ও আচাৰ্য্যস্ত্রী ও আপনার সগােত্র স্ত্রী ও শরণাগতা স্ত্রী ও রাজপত্নী ও তাপসী স্ত্রী ও স্তনপান করায় যে স্ত্রী ও সাধ্বীস্ত্রী ও উত্তম বর্ণাস্ত্রী গমনেতে লিঙ্গ কর্তন জানিবা যেই যেই বর্ণেরস্ত্রী গমনেতে পূৰ্ব্বে মারণাদি রূপ দণ্ড লিখিয়াছেন ও যেই যেই বর্ণের পশ্চাৎ লিখিবে তদতিক্তি উত্তম বর্ণা স্ত্রী গমনেতে এতাদৃশ শাস্তি জানিবা ।। মা খাতার ভগিনী শত্রু সশুড়ী পিতৃব্যপত্নী পিতার ভ্রাতৃবধূ অন্য * ব নাম সে বিস্পষ্ট প্রযুক্ত জানিবা গুপ্তা যে বিমাত্রাদি এই সকল স্ত্রী তাতে গমন করিলে এতাদৃশ দণ্ড জানি। ব্যভিচারিণী এই সকলকে গমন করিলে সেই ব্যক্তিকে ললাটেতে ভগাঙ্ক করাইয়া নিব্বাস করাবে। সুরা পানেতে ও হিরণ্য চোরিতে কুকুরপদচিহ্ন করাবে। ব্ৰহ্মবধিব্যক্তিকে মস্তক রহিত পুরুষ অঙ্কিত করাবে। শুদ্রে যদি ব্রাহ্মণী গমন করে তবে তাকে বীনাপত্র দিয়া বেঢ়িয়া অগ্নি” ক্ষেপন করিবেক এবঞ্চ তাদৃশ ব্রাহ্মণীকেহ শিয়ােমুণ্ডন করাইয়া [দেশের বাহির করিব।]
Printed by J. C. Ghose,
It the
Saraswaty Press,
20, Amherst Street, Calcutta.
No text on this page.
JOY ‘কালার্ট' ছিগুলি বিজয়া প্রেলে মুল্লিক।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.