Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Robaiyat-e-omar Khaiyam
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
Sai
مه. **
en 2 : 1
ا ی م درہم
741 کرم
No text on this page.
ৰােবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম
কাচ্ছি
বাম
প্রকাশক
ঐ শচীন্দ্র লাল মিত্র
কমলা বুক ডিপাে লিমিটেড
,কলের স্কোয়ার ফলিকা
৭
মুল্য সাড়ে তিন টাকা
মুদ্রার
রবীন্দ্র নাথ মিত্র
এপতি প্রেস
৩৮, নন্দকুমার চৌধুরী লেন, কলিকাতা
প্রকাশকের নিবেদন গত নয় বৎসরের মধ্যে শ্রীযুক্ত কান্তিচন্দ্র ঘােষের ‘রােবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ নামক ক্ষুদ্র পুস্তকখানির এতগুলি সংস্করণ নিঃশেষিত হইয়াছে, যাহাতে মনে হয় বঙ্গদেশের শিক্ষিত সম্প্রদায়ের মধ্যে এখন এমন কেহ নাই যিনি এই কবিতাগুলির সহিত পরিচিত নহেন। এতদিন পরে ইহার চিত্রিত সংস্করণ প্রকাশিত হইল। ইহার জন্য পাঠক সাধারণের নিকট কোনও কৈফিয়ৎ দিবার প্রয়ােজন আছে বলিয়া মনে হয় না, কেননা ইহা তাহাদেরই একান্ত আগ্রহ এবং সনির্বন্ধ অনুরােধের ফল। তাহাদের নিকট এই চিত্রিত সংস্করণ আদৃত হইলে আমাদের যত্ন শ্রম এবং অর্থব্যয় সার্থক মনে করিব । এই সংস্করণে যে সকল চিত্র প্রকাশিত হইল, তাহার অধিকাংশ উদীয়মান শিল্পী শ্ৰীযুক্ত মনীষী দের অঙ্কিত। এ কার্যে তাহার উৎসাহ এবং প্রেরণা বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য। বাকিগুলি শ্ৰীযুক্ত সিদ্ধেশ্বর মিত্র, শ্রীযুক্ত চঞ্চলকুমার বন্দোপাধ্যায় ও শ্ৰীযুক্ত বসন্তকুমার গঙ্গোপাধ্যায়ের অঙ্কিত। ইহারা অঙ্কিত। ইহারা সকলেই প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষ ভাবে শিল্পীগুরু অবনীন্দ্রনাথের শিষ। শেষােক্ত দুইজন ফরাসী দেশে তাহাদের শিল্প- শিক্ষা সমাপ্ত করিয়াছেন। আশা করি এই চিত্রগুলি সাধারণের নিকট উপযুক্ত সমাদর লাভ করিবে। ‘বিচিত্রা’ সম্পাদক শ্রীযুক্ত উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাহার কলাভিজ্ঞা ভাতুপুত্ৰী শ্ৰীমতী ইন্দিরা এই গ্রন্থ পরিকল্পন বিষয়ে গ্রন্থকারকে তথা আমাদিগকে অনেক বিষয়ে সাহায্য করিয়া কৃতার্থ করিয়াছেন। ইতি, ১লা আষাঢ়, ঞ শচীন্দ্র লাল মিত্র ম্যানেজিং ডিরেক্টর, কমলা বুক ডিপাে লিঃ কুঞ্চিকা ঈরাম আরব্য ও পারস্যের মধ্যবর্তী অধুনা- লুপ্ত নগরী—গােলাপের জন্য বিখ্যাত। জামশিয়ে—পৌরাণিক যুগের ইরাণী বাদশাহ ঐশ্বৰ্য্য ও জাঁকজমকের জন্য খ্যাত- নামা। দামুদ পৌরাণিক বাদশাহ—তাহার সময়ে পলভি ভাষার প্রচলন ছিল। কৈকোবাদ, কৈখরুপারসী বাদশাহ। রুস্তম- সােরাব-রুস্তম কাহিনী সকলেই জানেন। হাতেমতাই বদান্যতার জন্য বিখ্যাত। মামুদশাহ- ভারত-বিজয়ী মামুদ গজনি। বাম— বন্য গর্দভ শিকারের জন্য বিখ্যাত।
No text on this page.
No text on this page.
e
শ।
-~-দীর্ণ-হিয়া কোন সে রাজার রক্তে নাওয়া এই গোলাপ
কার দেওয়া সে লালচে আভা, হৃদয়-ছাচা শােণিত ছাপ।
ফুল-বাগিচায় ওই যে ফোটে রঙ্গের বাহার আশ মানির
কোন রূপসী সীমন্তিনীর অখির দিঠি, করুণ, স্থির।
No text on this page.
ভূমিকা ফাসি আমরা জানি নে, কিন্তু ও ভাষার বড় বড় কবিতা একালের ইউরােপের হাতে রূপান্তরিত কবিদের নাম আমাদের সকলেরই নিকট সুপরিচিত। হয়ে আমাদের কাছে এসে উপস্থিত হয়েছে, এবং হাফিজ ও সাদীর নাম ভদ্রসমাজে কে না জানে? আমরাও তার অপূর্ব রস দেখে চমৎকৃত ও মুগ্ধ হয়ে ওমর খৈয়ামের নাম কিন্তু দু’দিন আগে এদেশে কেউ গিয়েছি। শশানে নি, এমন কি ফাসিনবিশেরাও নয়। যদি এ যুগের সমজদারদের মতে তিনিই হচ্ছেন ইরান- দেশের সব চাইতে বড় কবি। এ কবিতার জন্ম হৃদয়ে নয়, মস্তিষ্কে। ওমার আজকের দিনে ওমার যে আমাদের একজন খৈয়াম ছিলেন একজন মহা পণ্ডিত। তিনি সারা- অতিপ্রিয় কবি হয়ে উঠেছেন, সে ইউরােপের প্রসাদে। জীবন চর্চা করেছিলেন শুধু বিজ্ঞানের, কাব্যের নয়। ওমার প্রায় হাজার বছর আগে পারস্য দেশের অঙ্কশাস্ত্রে ও জ্যোতিষে তিনি সেকালের সর্বাগ্রগণ্য নৈশাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তারপর তার পণ্ডিত ছিলেন। তিনি এই জ্ঞানচর্চার অবসরে কবিত্বের খ্যাতি কালক্রমে বৃদ্ধি পাওয়া দুরে থাকু- গুটিকয়েক চতুস্পদী রচনা করেন, এবং সেই চতুস্পদী সাহিত্যসমাজে তার নাম পর্যন্ত লুপ্ত হয়ে এসেছিল। কটিই তার সমগ্র কাব্যগ্রন্থ। এত কম লিখে এত কিছুদিন পূৰ্বে জনৈক ইংরাজ কবি ওমারকে বড় কবি সম্ভবত এক ভর্তৃহরি ছাড়া আর কেউ কখন আবিষ্কার করেন, এবং সেই সঙ্গে তাঁর কবিতা হন নি। ভর্তৃহরির সঙ্গে ওমারের আরও এক বিষয়ে ইংরাজিতে অনুবাদ করে ইউরােপের চোখের সমুখে সম্পূর্ণ মিল আছে। উভয়েই জ্ঞানমার্গের কবি, ধরে দেন। ভক্তিমার্গের নন। আকাশ-রাজ্যে একটি মূতন জ্যোতিষ্ক আবিষ্কৃত ওমারের সকল কবিতার ভিতর দিয়ে যা ফুটে হলে বৈজ্ঞানিক সমাজ যেমন চঞ্চল ও উৎফুল্ল হয়ে উঠেছে, সে হচ্ছে মানুষের মনের চিরন্তন এবং সব ওঠেন, মনােরাজ্যে এই নব নক্ষত্রের আবিষ্কারে চাইতে বড় প্রশ্ন :- ইউরােপের কবি-সমাজ তেমনি চঞ্চল ও উৎফুল্ল হয়ে “কোথায় ছিলাম, কেনই আলা, এই কথাটা জানতে চাই উঠলেন। ফলে এযুগে ইউরােপের এমন ভাষা নেই যাত্রা পুনঃ কোন লােকেতে ?- যাতে ওমারের একাধিক অনুবাদ নেই, ইউরােপের এমন সহর নেই যেখানে এই নবকাব্যরসের ঐকান্তিক এ প্রশ্নের জবাবে ওমর খৈয়াম বলেন - চর্চার জন্য একাধিক কাব্যগগাষ্ঠী গঠিত হয়নি। এই নব নক্ষত্রের একটি নব উপাসক-সম্প্রদায়ও সে দেশে ‘সব ক্ষণিকের, আসল ফাকি, সত্য মিথ্যা কিছুই নাই।” গড়ে উঠেছিল, শুনতে পাই গত যুদ্ধে সে সম্প্রদায় সেকালের মুসলমান সমাজে মারা গেছে। সে যাই হক সেকালের এসিয়ার উপেক্ষিত হয়েছিলেন, এবং একালের ইউরােপীয় - ওমার ৩ সমাজে আদৃত হয়েছেন, তার কারণ তার এই জবাব “দ্য ফলের আশায় মােরা মাছি খেটে রাতিদিন, যারা মুসলমান ধর্মে বিশ্বাস করেন, তাঁদের কাছে এ মরণ পারের ভাবনা ভেবে আঁখির পাতা পাকহীন ; মত শুধু অগ্রাহ্য নয়—একেবারে অসহ্য ; কেননা মৃত্যু-আঁধায় মিনার হ'তে মুয়েজ্জিনের কণ্ঠ পাই- মুর্থ তোরা, কাম্য তোদের হেথায় হােথায় কোথাও নাই।” এ কথা ধৰ্ম্ম মাত্রেরই মূলে কুঠারাঘাত করে। অপর পক্ষে এ বাণী মেনে নেবার জন্য এ যুগের ইউরােপের মন সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। ইউরােপের মন একান্ত অপরপক্ষে আমাদের দেশের রাজকবি ভর্তৃহরির মত জেরুজিলামের রাজকবিরও মুখে “Vanity of বিজ্ঞান-চর্চার ফলে, খ্ৰীষ্টধর্মের উপর তার প্রাচীন vanities--all is vanity", a TPTT perf বিশ্বাস হারিয়ে বসেছিল, কিন্তু তার পরিবর্তে কোনও “জগৎ মিথ্যা, ব্ৰহ্ম সত্য”। অর্থাৎ সংস্কৃত ও ইহুদি মুতন বিশ্বাস খুঁজে পায় নি। সুতরাং ওমারের কবি দুইজনেই এই বিশ্বের অন্তরে এমন একটি সার কবিতায় বর্তমান ইউরােপ তার নিজের মনের ছবিই সত্য, এমন একটি নিত্য বস্তুর সন্ধান পেয়েছিলেন, দেখতে পেয়েছিল। এই হচ্ছে প্রথম কারণ, যার যেখানে মানুষের মন দাঁড়াবার স্থান পায়, এবং যার দরুণ ওমারের বাণী ইউরােপের মনকে এতটা চঞ্চল সাক্ষাৎকার লাভ করলে মানুষ চির শান্তি চির আনন্দ করে তুলেছিল। লাভ করে। ওমর খৈয়ামের মতে, ও হচ্ছে মানুষের মন-ভােলানাে কথা—আসল সত্য এই যে, জগৎও এস্থলে কেউ বলতে পারেন যে “Vanity of মিথ্যা, ব্ৰহ্মও মিথ্যা। পূর্বোক্ত রাজকবিরা মানুষের vanities all is vanity” এসিয়ার এই প্রাচীন চোখের সুমুখে একটা অসীম আশার মুক্তি বাণী ত দু’হাজার বৎসর পূর্বে ইউরােপের কানে খাড়া করেছিলেন, ওমর খৈয়াম করেছেন অনন্ত পৌচেছিল। বাইবেলের একটা পুরাে অধ্যায়ে নৈরাশ্যের। ওমারের বাণী আমাদের মনকে জাগিয়ে ( Ecclesiastes) ত ঐ কথাটারই বিস্তার করা তােলে, কেননা এ যুগে আমরা কেউ জোর করে হয়েছে, প্রচার করা হয়েছে; অতএব ওমারের বাণীর বলতে পারি নে যে, আমরা সৃষ্টির গােড়ার কথা আর ভিতর কি এমন মূতনত্ব আছে যাতে করে সে বাণী শেষ কথা জানিই জানি। ইউরােপের মনকে অনেকটা পেয়ে বসেছে ? মুনত্ব এই যে—ওমারের মতে, যে প্রশ্ন মানুষে চিরদিন করে আসছে, বিশ্ব কোন দিনই তার উত্তর এতক্ষণ ধরে ওমারের দর্শনের পরিচয় দিলুম এই দেয় না, কেননা দিতে পারে না। তার চোখে এই কারণে যে, এই দর্শনের জমির উপরই তাঁর কবিতার সত্য ধরা পড়েছিল যে, এ বিশ্বের অন্তরে হৃদয় নেই, ফুল ফুটে উঠেছে। যাদের মতে “জগৎ মিথ্যা ব্রহ্ম মন নেই, এ জগৎ অন্ধ নিয়তির অধীন, সুতরাং তার সত্য”, তারা আমাদের উপদেশ দেন। ভিতর-বাহির দুই সমান অর্থহীন,সমান মিয়া। তিনি “মায়ামমমিদং অখিলং হিতা আবিষ্কার করেছেন যে- এশিশু অহ্মপদং বিদিহ।” উয়ে ধে, ভিতর বাহির, দেখছে যা সব মিথ্যা কাক, ওমারের মতে কিন্তু “মায়াময়মিদং অখিলং” হচ্ছে ক্ষণিক এ সব ছায়ার বাজী, পুতুলনাচের ব্যর্থ জাক।” একমাত্র সত্য-অবুখ সার সত্য নয়, অসার সত্য। তিনি তাই উপদেশ দিয়েছেন- অথচ এই “এক লহমা সময় আছে সর্বনাশের মধ্যে তাের, কারণ, তিনি দার্শনিক হলেও কবি, এবং চমৎকার ভােগ-সায়রে ডুব দিয়ে কর একটা নিমেষ নেশায় ভাের।” কবি। দর্শন তাঁর হাতে জ্যামিতির প্রতিজ্ঞার আকার ধারণ করেনি, ফুলের মত ফুটে উঠেছে। বলা বাহুল্য ওমারের মুখে এ কথা হচ্ছে জ্ঞান- এবং সে ফুল যেমন হালকা, যেমন ফুরফুরে, তেমনি বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের বাণী। এ জীবনের যখন সুন্দর, তেমনি রঙীন। এর প্রতিটি হচ্ছে ইরানদেশের কোন অর্থ নেই, তখন যা ইন্দ্রিয়গােচর আর যা অনিত্য গােলাপ,-এ গােলাপের রঙের সম্বন্ধে ওমার জিজ্ঞাসা, তাকেই বুকে টেনে নিয়ে আসা যাক, তাকেই উপভােগ করেছেন- করা যাক। ওমারের পূর্বেও অনেকে মানুষকে এই উপদেশ দিয়েছেন কিন্তু তাদের কথার সঙ্গে ওমারের ‘কা দেওয়া সে লালচে আভা, হৃদয়-ছাচা শশাণিত-দুপ”- কথার অনেকটা প্রভেদ আছে। যারা বলতেন “eat, উত্তর অবশ্য—ওমার ! তােমার। drink and be merry, for tomorrow we রক্তে-নাওয়া গােলাপগুলির মুখে একটি সহাস্য don't dic”, তারা বিশ্ব-সমস্যার দিকে একেবারেই পিঠ care ভাব আছে। আর তাদের বুকে আছে ফিরিয়েছিলেন। আর প্রাচীন গ্রীসের Epicurean-রা একাধারে অমৃত ও হলাহলের মিশ্রগন্ধ—এক কথায় যা-কিছু ইন্দ্রিয়-গােচর তাকেই সন্তুষ্টচিত্তে গ্রাহ্য করে মদিরগন্ধ। ওমারের কবিতার বস ফুলের আসব, সে নিয়ে ইন্দ্রিয়-সুখের চর্চাটা একটি সুকুমার বিদ্যা করে রস পান করলে মানুষের মনে গােলাপী নেশা ধরে, তুলে নিয়েছিলেন। এস্থলে বলা আবশ্যক যে, তার সে অবস্থায় আমাদের মন থেকে ইহলােক পরলােক ইন্দ্রিয় অর্থে বহিরিন্দ্রয় ও মানসেন্দ্রিয় দুই বুঝতেন। সকল লােকের ভাবনাচিন্তা আপনা হতে ঝরে তঁারা ছিলেন শান্তিতে, কিন্তু ওমারের হৃদয়-মন চির পড়ে। অশাহ। ব্রহ্মজিজ্ঞাসা যে ব্যর্থ—এ সত্য ওমার শ্ৰীযুক্ত কান্তিচন্দ্র ঘােষ এই মন-মাতানো কাজ সন্তুষ্ট মনে মেনে নিতে পারেন নি, এর বিরুদ্ধে তার ভােলানাে কবিতাগুলি বাঙলা করে বাঙালী পাঠক সকল মন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল। তাঁর কবিতার সমাজের হাতে ধরে দিচ্ছেন ; আশা করি সেগুলি ভিতর দিয়ে বিশ্বের বিরুদ্ধে মানবাত্মার এই বিদ্রোহ, সকলের আদরের ও অানন্দের সামগ্রী হবে, কেমন। উপহাস ও বিক্ৰপের আকারে ফুটে বেরিয়েছে, কিন্তু এ অনুবাদের ভিতর যত্ন আছে, পরিশ্রম আছে, তার সকল হাসিঠাট্টার অন্তরে একটা প্রচ্ছন্ন কাতরতা নৈপুণ্য আছে, প্রাণ আছে। ওমর খৈয়ামের এত আছে, এইখানেই তার বিশেষত্ব। ওমর খৈয়ামের স্বচ্ছন্দ ও সলীল অনুবাদ আমি বাঙলা ভাষার কবিতা যে আমাদের এতটা মুগ্ধ করে তার প্রধান ইতিপূর্বে কখনাে দেখিনি। • এt-dev -সেটা נורות 88
:
ত
কল্যাণীয়েষুE
বাংলা ছন্দে তুমি ওমর খৈয়ামের যে তর্জমা করেছ তা গ্রন্থ
আকারে প্রকাশের পূর্বেই আমি দেখেচি। এ-রকম কবিতা এক
ভাষা থেকে অন্য ভাষার ছাঁচে ঢেলে দেওয়া কঠিন। কারণ এর
প্রধান জিনিষটা বস্তু নয়, গতি। ফিটজ, জেরার্ডও
তাই ঠিকমত
তর্জমা করেন নিমুলের ভাবটা নিয়ে সেটাকে মূতন করে সৃষ্টি
করেছেন। ভাল কবিতা মাত্ৰকেই তর্জমায় মূতন করে সৃষ্টি করা
দরকার।
তােমার তর্জমা পড়ে আমার একটা কথা বিশেষ করে মনে
উঠেছে।
সে হচ্ছে এই যে বাংলা কাব্যভাষার শক্তি এখন এত
বেড়ে উঠেছে যে, অন্য ভাষার কাব্যের লীলা অংশও এ-ভাষায়
প্রকাশ করা সম্ভব। মূল কাব্যের এই রস-লীলা যে তুমি বাংলা
ছন্দে এমন সহজে বহমান করতে পেরেচ এতে তােমার বিশেষ
ক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে। কবিতা লাজুক বধুর মত এক ভাষার
অন্তঃপুর থেকে অন্য ভাষার অন্তপুরে আসতে গেলে আড়ষ্ট হয়ে
যায়। তােমার তর্জমায় তুমি তার লজ্জা ভেঙ্গেচ, তার ঘােমটার
ভিতর থেকে হাসি দেখা যাচ্ছে। ইতি—২৯ শ্রাবণ, ১৩২৬।
#bg24
|
.
_ON,
No text on this page.
-এখন এক
কোন বিরহের তীব্র সুরা পান করিলে কবি ?
পেয়ালা মাঝে জাগল কাহার দীপ্ত মুখের ছবি।
ছন্দেতে কারু পায়ের নূপুর বাজল তালে তালে
কণ্ঠটী কার জড়িয়ে এল তােমার সুরের জালে ।
----০১৭-
No text on this page.
শিতি
কোন্ বিরহের তীব্র সুরা পান করিলে কবি?
পেয়ালা মাঝে জাগল কাহার দীপ্ত মুখের ছবি।
ছন্দেতে কার পায়ের নূপুর বাজল তালে তালে-
কণ্ঠা কার জড়িয়ে এল তােমার সুরের জালে।
নিমেষীরে ধন্য করে গাইলে তুমি গাথা,
নিমেষ তরে ভুলিয়ে দিলে বিশ্ব মনের ব্যথা।
একটী নিমেষ—মরুর মাঝে একটা জলের ধারা,
এক নিমেষ-অন্ধকারে উজল সন্ধ্যা তারা।
চাইলে না তাে বিত্ত কোনাে বিশ্ব সভার মাঝে-
কোন গরবীর কণ্ঠমালা শিরে তােমার রাজে!
নৈশপুরের কোন্ দেবী সে যার রূপেরি ছটা
উজল করে রাখলে আয়ুর দীর্ঘ বরষ কটা।
গােলাপ বনের মাঝখানেতে ছােট্ট কুটীর খানি,
উদাস হাওয়ায় মিশত যেথায় স্রোতস্বিনীর বাণী,
সেই খানেতে তােমার রচা হৃদয়-হঁাচা গান
তুলে কাহার কণ্ঠ বীণায় তীব্র করুণ তান!
রাজসভাতে বসতে তুমি সবার শেষে আসি-
বাদসাজাদীর মুখের 'পরে খেত নাকি হাসি !
চিকের পারে কঁাকন তার বাজত মধুর বােলে,
অলকু-খসা ফুলা এসে পড়ত নাকি কোলে?
-
কোন্ সাহারায় রাত্রি শেষে গাঁথছ তারার মালা ?
নিজের বােন তাবুর মাঝে জাগে সে কোন বালা?
পেয়ালা হাতে কাটবে রাতি ? সুরমা-পরা আঁখি
পিয়াস-আকুল পথ-চাওয়া তার সফল হবে নাকি!
আসবে না কো ঝড়ের সাথে সৰ্ব্ব-নাশের দায়
শেষ প্রহরের জেটা টেনে ব্য-ত্বরিৎ পায়।
মিলন-তৃষা উঠবে জলে বিদ্যুতেরি সনে,
রক্ত বুকের উঠবে নেচে নিবিড় আলিঙ্গনে।
পাগল-করা চুম্বনে তার ওড়না রবে মুখে !
কাচল খানি টুটবে নাকো তুষার-সাদা বুকে !
অন্তরেতে ঝড়ের খেলা, বাইরে পড়ে বাজ—
শিথিল , নীবির বাঁধন-আকুল পেশােয়াজ।
ওমর কবি ! ওমর কবি! সেই নিমেষের নেশা
নিশ্বাসেরি মতই আজও বিশ্ব প্রাণে মেশা ?
আজিও সে নিমেষটুকু পাগল হাওয়ার মত
মিলন রাতের গােপন কপাট খুলিয়ে দেখায় কত !
চুম্বনাকুল ঠোঁটের কাপন, বিদায়-চোখে চাওয়া,
দুই বিরহের মধ্যে মিলন নিবিড় ঘন পাওয়া,
সজল দুটা মেযের মাঝে বিদ্যুতেরি হাসি-
নিমেষটী সেই বিশ্বে ফোটায় সত্যে পরকাশি।
No text on this page.
.
পণ্য এখন
-বৃথাই খোজা ? বন্ধু, তোমার পেয়ালাটুকুর মাঝে,
তদ্বী সাকীর কটাক্ষেতে বিরল মধুর সাঝে-
কিছুই কি নাই ? জীবন-সুর অশ্রু দিয়ে মেশা ?
প্রণয়-মিলন—আর কিছু নয়—মুহুর্তেকের নেশা ?
No text on this page.
সুখের তুমি নও তত শুধু আপন-ভােলা কবি, ভাগ্য দেবীর হাতের আঁকা শােনিত-রাঙ্গা ছবি হৃদয়-পটে ফেলে ছায়া সত্য আভাষ মত- জ্ঞানের আলাে ফুটলাে না তো পুথির মধ্যে যত! ব্যাকুল হৃদি বৃথাই ঘুরে শান্তি কোথা মাগি, চিরন্তণী প্রশ্ন রহে বিশ্বমনে জাগি ;- চির পারে, গােরের মাঝে——চক্রপাণির ডাকে জীবন সে কি দিচ্ছে সাড়া মৃত্যু দুয়ার ফাকে । কোথায় আলাে ? জ্ঞানের ভাতি অন্ধকারে ঘেরা, ভাগ্যদেবীর রুদ্ধ দুয়ার—রিক্ত হাতে ফেরা ; বৃথাই শুধু হন্ত জুড়ে আকাশ পানে চাওয়া আছেন তিনি ? থাকুন তিনি-বিফল তারে পাওয়া . বৃথাই খোঁজা? বন্ধু, তােমার পেয়ালাটুকুর মাঝে, তন্বী সাকীর কটাক্ষেতে বিরল মধুর সাঝে- কিছুই কি নাই? জীবন-সুর অশ্রু দিয়ে মেশা ? প্রণয় মিলন-আর কিছু নয় আর কিছু নয়—মুহুর্তেকের নেশা। মরমি মনের হুতাশ বহে বিশ্বে চিরতরে শান্তিবারি কোথায় সে কার পেয়ালা হ’তে ঝরে। তীব্র ফেনিল কামের সুরা-প্রেমের নাহি দিশা ভণ্ডামিতে বিশ্ব মেটায় ক্ষুদ্র প্রাণের তৃষা। ===
হাজার বছর পরে সে এক বাংলা দেশের কবি,
নিজের মাঝে দেখছে তােমার দুঃখ সুখের ছবি,
বেহেস্তে কি জাহান্নমে, শূন্যে, যেথায় থাকো
অর্ঘ্য রচা তাহার আজি ব্যর্থ হবে নাকো !
মার্চ
su cene
Sr
No text on this page.
——রাত পােহালাে—ছ সখি, দীপ্ত উষার মাঙ্গলিক ? লাজুক তারা তাই শুনে কি পালিয়ে গেছে দিগ্বিদিক ?
No text on this page.
tofiji
১৫/sar
রাত পােহালাে—শুছ সখি,
দীপ্ত উষার মাঙ্গলিক ?
লাজুক তারা তাই শুনে কি
পালিয়ে গেছে দিগ্বিদিক।
পূর্ব গগনের দেব-শিকারীর
স্বর্ণ-উজল কিরণ-তীর
পড়ল এসে রাজপ্রাসাদের
মিনার যেথা উচ্চশির ॥ ১
জ্ঞার
৩মণw- T: স্বপ্নে যেন কণ্ঠ শুনি রাত্রি জানি শেষ প্রহর পাশালে মাের দৈববাণী কর্ণেতে কার বাজল স্বর! ব’লছে হেঁকে-ওঠরে বাছা, ভরিয়ে নে তাের পােয়ালাটুক, জীবন-সুরা শুকিয়ে না যায়, আপশােষে ফের ফাটবে বুক।। ২ রুদ্ধ-দুয়ার পাশালাটির সামনে সে কি হট্টগােল, ভােরের ডাকে বলছে কারা -খােরে, ওরে দুয়ার খোল। কতক্ষণ বা রইব হেথা, ছুটছে আয়ু ব্যস্ত পায়, বিদায় নিলে ফিরব না আর- অন্তহীন যে সেই বিদায়।। ৩ আর
No text on this page.
=
নওরােজেতে সেই পুরাতন ব্যর্থ যত মনের আশ,
উঠছে কত ভাবুক হৃদে, দিচ্ছে মােড়া স্মৃতির পাশ।
কোন্ দুখেতে যায় সে চলে কোন নিরালা বনের মাঝ,
ঈশার শ্বাসে গুল্মলতার নবীন যেথা পত্র-সাজ ।-
No text on this page.
৩মণ- নওরােজেতে সেই পুরাতন ব্যর্থ যত মনের আশ উঠছে কত ভাবুক হৃদে, দিচ্ছে মােড়া স্মৃতির পাশ। কোন্ দুখেতে যায় সে চলে কোন নিরালা বনের মাঝ, ঈশার শ্বাসে গুল্মলতার নবীন যেথা পত্র-সাজ। ৪। ঈরাম নিয়ে পালিয়েছে তার গৰ্ব্ব যা সব গুলবাহার, জাশিয়েদের খা-পেয়ালা- কোথায় গাে আজ চিহ্ন তার। দ্রাক্ষা বুকে তেমনি তবু জ’লছে আজও চুনীর হার, খুঁজলে না কোন্ মিলবে আজও ফুল-বাগিচা নদীর ধার ।। ৫। - vis।
এমgণue- দায়ূদ সাথে ফুরিয়েছে আজ সব পুরাতন ছন্দ-ফের, বুলবুলের কণ্ঠে শুধু বাজছে ভাষার সাবেক জের। সেই সুরেতে চাইছে সে আজ গােলাপ সখীর বর্ণ লাল- রক্ত-রাঙা দ্রাক্ষাসারে রাঙিয়ে নিতে হলুদ গাল। ৬ - আজ ফাগুনের আগুন-জালে হুতাশ-বােনা শীতের বাস- পুড়িয়ে সে সব ছাই করে দাও দাও আহুতি দুখের শ্বাস ! আয়ু-বিহগ,খোঁজ রাখাে কি- মেলিয়ে ডানা উড়ল হায়, পেয়ালাটুকু শেষ করে নাও —এক চুমুকেই–ফাগুন যায় ।।৭
No text on this page.
-আজ ফাগুণের আগুশ-জ্বলে হুতাশ-পােনা শীতের বাস- পুড়িয়ে সে সব ছাই করে দাও-দাও আহুতি দুখের শ্বাস ! আয়ু-বিহগ—খোজ রাখাে কিএমেলিয়ে ডানা উড়ল হায়, পেয়ালাটুকু শেষ করে নাও—এক চমুকেই—ফাগুণ যায় ।
No text on this page.
এমীম- 4 ৫ 44b Kh । কতই না আজ ফুল ফুটেছে, অযুত বরণ, উষার মাঝ, লক্ষ ফুলের সমাধি'পর- তাদের স্মৃতি তুচ্ছ আজ। এই ফাগুনের ফুলের বাসে দেখবে কোথা তলিয়ে যান জাশিয়েদের অতীত স্মৃতি, কৈকোবাদের জীবন গান।।। ভাগ্যলিপি মিথ্যা সে নয়- ফুরােয় যা’ তা ফুরিয়ে যাক। কৈকোবাদ আর কৈখসরুর ইতিহাসেই নামটা থাক। রুস্তম আর হাতেম-তায়ের কল্পকথা-স্মৃতির ফাস-~ সে সব খেয়াল ঘুচিয়ে দিয়ে আজকে এসে আমার পাশ । ৯।
৩১nel- আমার সাথে আসবে যেথায় দূর সে রেখে সহর গ্রাম এক ধারেতে মরু তাহার, আর এক দিকে শম্প শ্যাম। বাদশা-নফর নাইকো সেথা রাজনীতির চিন্তাভার ; মামুদ শাহ ?—দূরে থেকেই করব তারে নমস্কার। ১০ সেই নিরালা পাতায়-ঘেরা বনের ধারে শীতল ছায়, খাদ্য কিছু, পেয়ালা হাতে ছন্দ গেঁথে দিনটা যায় । মৌন ভাঙ্গি মাের পাশেতে গুঞ্জে তব মঞ্জু সুর- সেই তো সখি স্বপ্ন আমার, সেই বনানী স্বর্গপুর! ১১।
No text on this page.
Di -সেই নিরালা পাতায়-ঘেরা বনের ধারে শীতল ছায়, খাদ্য কিছু, পেয়ালা হাতে ছন্দ গেঁথে দিনটা যায় । মৌন ভাঙ্গি মাের পাশেতে গুঞ্জে তব মঞ্জু সুর- সেই তত সখি স্বপ্ন আমার, সেই বনানী স্বর্গপুর ————
No text on this page.
৩মণমি- রাজ্যসুখের আশায় বৃথা কেউবা কাটায় বরষ মাস, স্বর্গসুখের কল্পনাতে পড়ছে কারুর দীর্ঘশ্বাস।•••••• নগদ যা পাও হাত পেতে নাও, বাকীর খাতায় শূন্য থাক— দূরের বাদ্য লাভ কি শুনে ?- মাঝখানে যে বেজায় ফঁাক। ১২ সদ্য-ফোটা এই যে গােলাপ, গন্ধ-প্রীতি-উজল মুখ, বছে না কি মিথ্যা এ সব, এই ক্ষণিকের দুঃখ সুখ ! পৃথী-বুকে উঠছি ফুটে গর্বে পরি’ রঙীন সাজ- পাপড়ি টুটে ছড়িয়ে মােদের জীবন-রেণু পথের মাঝ ! | ১৩।
৩৯মa কুহক-রাণী আশার পিছে দি। ফিরে সর্বদাই, স্বপ্ন কারু সত্য বা হয়, কার ভাগে বা উঠছে ছাই। সব ক্ষণিকের-আসল ফঁাকি- সত্য মিথ্যা কিছুই নয়। মরুর 'পরে তুষার মত চিকমিকিয়ে পায় সে লয়।। ১৪। | Mufti জীবন-জমির পরে যারা যত্নে বােনে সােনার বীজ, হাওয়ায় বুনে ফুৎকারেতে ক’ছে যারা সব খারিজ ;- খত সে সব এইখানেতেই বীজ না ফলে পুনৰ্বার, গােরের ভিতর যে জন, সে কি জীবন নিয়ে ফিরবে আর !! |1.
No text on this page.
calle
সদ্য-ফোটা এই যে গােলাপ, গন্ধ-প্রীতি-উজল মুখ,
ব’লছে না কি মিথ্যা এ সব, এই ক্ষণিকের দুঃখ সুখ ।
পৃথী-বুকে উঠছি ফুটে গর্বে পরি রঙীন সাজ—
পাপড়ি টুটে ছড়িয়ে মােদের জীবন-রেণু পথের মাঝ!
(
No text on this page.
৩মণver- । জীর্ণ ভাঙ্গা সরাইখানার রাত্রি দিবা দুইটি দ্বার, তারির ভিতর আনাগােনা দুনিয়াদারি চমৎকার ! রাজার পরে আসছে রাজা, সজ্জা কতই বাদ্য ধুম তুচ্ছ সে সবকয়দিনই বা তার পরে তো সব নিঝুম! ১৬। জামশিয়েদের সুরায় পিছল খাস-দেওয়ানের খিলান মাঝ বাস বেঁধেছে আজকে সেথায় টিকটিকি আর সিংহরাজ ! রাজার সেরা রাজ-শিকারী বা কোথায় ঘুমিয়ে রয় আজকে তো তার মাথার 'পরে চাটু মেরে যায় বন্য-হয় ।।১৭ 17tU ** LE শ ৩৯ge- . দীর্ণ-হিয়া কোন্ সে রাজার রক্তে নাওয়া এই গােলাপ কার দেওয়া সে লালচে আভা, হৃদয়-হঁাচা শশাণিত ছাপ। ফুল-বাগিচায় ওই যে ফোটে রঙের বাহার আশ মানির কোন্ রূপসী সীমন্তিনীর আঁখির দিঠি করুণ’ স্থির ! ১৮ এই যে কোমল দূৰ্ব্বা যাহার বুকের ঘেরা আঁচলটুক সদ্য শীতল শয়ন মােদের- সব জিয়েছে নদীর মুখ আস্তে সখি পাশ ফিরে নাও কী জানি এর ব্যথার ফের কোন রূপসীর পাৎলা ঠোটের জিয়া-রসে জন্ম এর! । ১৯। :
No text on this page.
--একটি কোণে ব’সব দেহে, হট্টগােলের ঢের তফাৎ
ভাগ্য—যাহার খেলনা মােরা—ক'ব তারেই পাত্রসাৎ —
s
No text on this page.
৩৯ণাম- অতীত যা তার দুখের স্মৃতি, ভবিষ্যতের ভাবনা ঘাের- দিপিয়ারা সাকী গাে আজ পেয়ালা ভরে ঘুচাও মাের। আসছে যে কালতার কথা থাক- মিশব গিয়ে হয়ত আজ তুচ্ছ স্মৃতির সৌরভেতে লক্ষ অতীত কালের মাঝ ! ২০ গর্বে যারা বইত শিরে ভাগ্যদেবীর আশীষ-ভার, বক্ষে ষাদের দুলিয়েছি সৰ্ব্ব স্নেহ প্রীতির হার ;- আজ দুনিয়ার কোথায় তারা ? পেয়ালাটুকু আর সবার একটু আগে শূন্য করে ঘুমিয়ে ঘােচায় শান্তি-ভার! ২১ sif ৩মণwer ফুৰ্ত্তি যে আজ ক’ছি মােরা সেই পুরাতন ঘরের মাঝ, বসন্ত এই দিচ্ছে বাহার - নূতন ফুলের রঙীন্ সাজ ;- ভাগ্যে সবার সেইতে লেখা- মাটীর নীচে মরণ-পুর, মােদের পরে করবে কারা সেই পুরেতে শ্রান্তি দূর ! ২২ মিশব ধূলােয়—তার আগেতে সময়টুকুর স-ব্যাভার ঘৃত্তি করে নাই করি কোন? দিনকয়েকেই সব কাবার । পঞ্চভূতে মিলিয়ে যাব মৃত্যু-পারের কোন্ সে দেশ- নাইকো সরাব, সুরব সেথা সেই অজানার নাইকো শেষ! । ২৩। L
No text on this page.
এই যে কোমল দূর্বা যাহার বুকের ঘেরা অাঁচলটুক
সদ্য শীতল শয়ন মােদের সবজিয়েছে নদীর মুখ
আস্তে সখি পাশ ফিরে নাও-কী জানি এর ব্যথার ফের--
কোন্ রূপসীর পালা ঠোটের জিয়া রসে জন্ম এর ।
No text on this page.
৩৯ণাম- ====== সদ্য ফলের আশায় মােরা ম’রছি খেটে রাত্রি দিন, মরণ পারের ভাবনা ভেবে আঁখির পাতা পলকহীন। মৃত্যু-আঁধার মিনার হতে মুয়েজ্জিনের কণ্ঠ পাই- মূখ তোরা, কাম্য তােদর হেথায় হােথায় কোথাও নাই! ২৪, তর্ক তুলে ক’ত যারা লােক ভূলোক নস্যসাং- কোথায় তাদের কণ্ঠ আজি এক পলকে কিস্তিমাৎ ? বিধান তাদের ফুৎকারেতে উড়িয়ে সবাই দিচ্ছে আজ, মুখটি ছাদের ধূলােয় ঠাসা বন্ধ এখন জিভের কাজ ।। ২৫ , ৩মণ- T; বচনবাগীশ পণ্ডিতেরা বিজ্ঞভাবে নাড়ন শির, স্মরণ রেখাে বন্ধু আমার জীবন কভু নহে স্থির। এই কথাটাই সত্য ভবে, বাকী যা সব মিথ্যা, ভুল ; সৃজন-বেটায় আর ফোটে না ঝ’রলে পরে আয়ুর ফুল! ২৬ | . কতই না সে মাড়িয়ে আসা পণ্ডিততদের টোলের দোর, বয়স তখন নেহাৎ কাচা কাজটা শােনা তর্ক ঘাের ; বিচার-ঘটে বিশ্ব পােরা মুণ্ডমাথা নাইকো যার— তর্ক-ধাঁধার ফিতি-দুয়ার ঠিক যেথা তার প্রবেশ দ্বার !! ২৭
No text on this page.
নি A) অতীত যা’ তার দুখের স্মৃতি, ভবিষ্যতের ভাবনা ঘাের- দিল-পিয়ার সাকী গাে আজ পেয়ালা ভ'রে ঘুচাও মাের, আসছে যে কাল—তার কথা থাক–মিশব গিয়ে হয়ত আজ তুচ্ছ স্মৃতির সৌরভেতে লক্ষ অতীত কালের মাঝ । এ
No text on this page.
তামাম- তাদের সাথে করমু রােপণ বীজটা গােপন জ্ঞান-তরুর, জলটা সেচন আপন হাতে ফল ফসল হৃ-মরুর ; যতে সে মাের চয়ন করা জ্ঞান-ফসলের অর্থ-জের :- স্রোতের মতই ভাসতে আসা, হাওয়ার মতই উধাও ফের। ২৮ নী val কেনই বা মাের জন্ম নেওয়া এই যে বিপুল বিশ্বমাঝ, আসছি ভেসে কিসের স্রোতে হেথায় বা মাের কিসের কাজ? কোথায় পুনঃকেই বা জানে ফিতে হবে একটা দিন- উধাও সে কোন্ মরুর 'পরে হাওয়ার মতই লক্ষ্যহীন! ২৯। = ৩৯ণাম । কোথায় ছিলাম, কেনই অসা- এই কথাটা জানতে চাই, জন্মকালে ইচ্ছাটা মোর কেউ তো কেমন সুধায় নাই। যাত্রা পুনঃ কোন্ লােকেতে? প্রশ্নটা মাের মাথায় থাক— ভাগ্যদেবীর কুর পরিহাস পেয়ালা ভরে ভােলাই যা! ৩০ ( t পৃথ্বী হ’তে দিলাম পাড়ি, নভংগ্রহে মনটা লীন সপ্ত-ঋষি যেথায় বসি ঘুমিয়ে কাটান রাত্রিদিন। বিদ্যাটা মাের উঠল ফেঁপে, কাটুলাে কত ধাঁধার ধাের- মৃত্যুটা আর ভাগ্য-লিখন ওই খানে গােল রইল মাের।। ৩)
No text on this page.
-বচন-বাগীশ পণ্ডিতেরা বিজ্ঞভাবে নাড়ন শির,
স্মরণ রেখাে বন্ধু আমার—জীবন কভু নহে স্থির।
এই কথাটাই সত্য ভবে, বাকী যা সব মিথ্যা, ভুল ;
সৃজন-বোটায় আর ফোটে না ঝ’রলে পরে আয়ুর ফুল ।-
No text on this page.
তমণ- রুদ্ধ-দুয়ার জীবন-ঘরের কুঞ্চিকাটীর নাইকো খোজ দেখতে না পাই ভাগ্য-বধূর ঘোটা-ঢাকা মুখসরােজ; বারেক দুবার কণ্ঠে কাহার শুনছি শুধু নামটা মাের কয় দিনই বা ?—সাঙ্গ তাে হয় সৰ্ব্ব-নামের নেশার ঘাের !। ৩২। তিমির-পথের যাত্রী মােরা দীপ্ত আশার রশ্মি কই ? মর্ত্যে হয়ে লক্ষ্যহারা- স্বর্গ পানে তাকিয়ে রই। কর্ণে পশে দৈববাণী কোথাও সে নেই আলােক-পথ, অন্ধ-নিয়ত, চালিয়ে বেড়ায় ভাগ্যদেবীর বিশ্বরথ ! ৩৩। * *৯৯৮ ৫।
৩৯per তখন ফিরে মুখটী চুমি মাটর গড়া পেয়ালাটির, সুধাই তারে—রহস্যটার অর্থ সে কি খুব গভীর? অধর’পরে রাখতে অধর, বাজল কানে অফুট স্বর— যদিন বাঁচো পান করে নাও, ফিরবে না আর মরণ পর! ৩৪ এই যে আমার পেয়ালা-ধু জীবন-সাড়া দিচ্ছে আজ কোন্ অতীতের সাক্ষী এ জন কোন্ সেকালের স্মৃৰ্ত্তিবাজ ! আজ পরিচয় ভিন্ন রূপে মৃত্যু-শীতল মাটির চাপ- স্মৃতির নিশান নাই কি তবু ওই অধরে চুমাের ছাপ! ৩৫। L
No text on this page.
রক
|
-কেনই বা মাের জন্ম নেওয়া এই যে বিপুল বিশ্বমাঝ,
আসছি ভেসে কিসের স্রোতে-হেথায় বা মাের কিসের কাজ ?
কোথায় পুনঃ—কেই বা জানে—ফিতে হবে একটা দিন
উধাও সে কোন মরুর পরে হাওয়ার মতই লক্ষ্যহীন ।
No text on this page.
৩মণ
|| /
সাঁঝের ঝোঁকে দেখ
সেদিন
হাটের মাঝে কুম্ভকার
নিঠুর হাতে ঠাসছে সে এক
পিণ্ড ভিজা মৃত্তিকার।
মাটীর ঠোটে ফুটুল বাণী
আওয়াজটা তার বেজায় ক্ষীণ
আস্তে ভায়া আস্তে পেশাে,
নেহাৎ এ জন ভাগ্যহীন।। ৩৬।
পেয়ালাটুকু ভরিয়ে নে গাে,
এতই কিসের চিন্তা তাের ?
সময়টা সব কাটছে বৃথা
ভাবনা কি তাই দিনটা ভাের !
একটা কাল’তে মরণ-পারে,
আসছে যে কাল’ কোথায় আজ ?
তাদের কথা ভাববি বসে
এই ক্ষণিকের ঘূর্তি মাঝ ।।৩৭
৩৯rier এক লহমা সময় আছে। সর্বনাশের মধ্যে তাের- ভােগ,-সায়রে ডুব দিয়ে কর একটা নিমেষ নেশায় ভাের ! আয়ুর তারা পড়ছে খসে মরণ-উষার চরণ’পর যাত্রা যে কাল করতে হবে, ফুরিয়ে নে সব ত্বরিৎ কর। ৩৮ কোন্ সে রসের আশায় বঁধু মাছ ঘুরে রাত্রিদিন ঘূর্ণী পথের নাইকো সীমা, অনন্ত সে কোথায় লীন। সে সব ছেড়ে ঘূৰ্ত্তি কারাে, দ্রাক্ষারসে হও বিভাের, ব্যস্ত তুমি যে রস আশে- মিথ্যা, না হয় তিক্ত ঘাের ! ৩৯ : ।।।।
No text on this page.
Bীয় -তখন ফিরে মুখটী চুমি মাটীর গড়া পেয়ালাটীর, সুধাই তারে—রহস্যটার অর্থ সে কি খুব গভীর ? অধর’পরে রাখতে অধর, বাজল কানে অফুট স্বর- যদিন বাঁচো পান করে নাও, ফিরবে না আর মরণ পর।
No text on this page.
৩মgণাম জানিস্তাে সব বন্ধু তাের- কাণ্ডটাই বা কয়দিনের বাস্তুভিটায় কাল যে মাের মুতন বিয়ের ফুর্তি-জের। বন্ধ্যা বধু যুক্তিদেবী- সেই রাতে তার নির্বাসন, সেই বাসরে মুতন বধূ আঙ রলতার সম্ভাষণ ! ॥ ৪০। অস্তি-নান্তি শেষ করেছি, দার্শনিকের গভীর জ্ঞান, বীজগণিতের সূত্র-রেখা যৌবনে মাের ছিলই ধ্যান। বিদ্যারসে যতই ডুবি, মনট। জানে মনে স্থির দ্রাক্ষারসের জ্ঞানটা ছাড়া রস-জ্ঞানে নই গভীর! ৪১। Ap
৩৯ণ
এই তাে সেদিন সাঁঝের বেলা,
পেয়ালা হাতে গােপন পায়,
স্বর্গ-তী এল সে মাের
মুক্ত-দুয়ার পানশালায় ;
বললে মােরে পাত্ৰ-সুধায়
চুমুক দে’ নাও একটি বার
দেখ চেখে—আর কিছু নয়,
সেই পুরাতন ব্রাক্ষাসার ! ৪২।
!
সেই পুরাতন দ্রাক্ষা—তাহার
ন্যায়-বিধানের হউক জয়,
অমােঘ যাহার সূত্রেতে হয়
সর্ব ধর্ম সমন্বয়।
আঙুর-চোয়া অলকিমিয়া
রসের সেরা রসান-ভূপ,
জীবন-কাসার পাত্রখানা
স্পর্শে ধরে সোনার রূপ ।। ৪৩।
No text on this page.
২
-পেয়ালাটুকু ভরিয়ে নে গাে, এতই কিসের চিন্তা তাের ?
সময়টা সব কাটছে বৃথা-ভাবনা কি তাই দিনটা ভাের।
একটা কাল’তে মরণ-পারে, আসছে যে ‘কাল’ কোথায় আজ ?
তাদের কথা ভাবি বসে এই ক্ষণিকের স্ফুৰ্ত্তি মাঝ !–
No text on this page.
৩৯e ) সেই পুরাতন দ্রাক্ষাবঁধু মামুদ শাহের মতন যেই, দুঃখ-কাফের মূর্তিগুলােয় বীরের দাপে তাড়ায় সেই ; ঐন্দ্রজালিক অস্ত্রী যার দীর্ণ করে সকল ভাণ, আত্মারে যে করায় পুনঃ স্বরূপে অধিষ্ঠান!। ৪৪। বিজ্ঞ যিনি বিজ্ঞ আছেন- তর্ক নিয়ে থাকুন ঘাের, সৃষ্টি-বিচার, তত্ত্বকথা ঘুচিয়ে এস সঙ্গে মাের ; একটি কোণে ব’সব দোঁহে, হট্টগােলের ঢের তফাৎ, ভাগ্য-যাহার খেলনা মােরা- করব তারেই পাত্ৰসাৎ! ৪৫। L .
৩মe- উন্ধে, অধে, ভিতর, বাহির, দেখছ যা সব মিথ্যা ফাক, ক্ষণিক এ সব ছায়ার বাজী পুতুলনাচের ব্যর্থ জাক; পৃঙ্খীটা তাে মায়ার খেয়াল সূৰ্য্য বাতির ফানুস-খােল ছায়ার পুতুল আমরা সবাই চৌদিকে তার ক’ছি গােল! ৪৬। রক্ত অধর এই যে চুমি, পান করি লাল মদির টুক- মিথ্যা এ সব শূন্য স্বপন আপশােষে তাই ফাটবে বুক ? কাটা অসীম শূন্যে ঘরে, শূন্যে ঘেরা মায়ার জাল- শূন্যে খেলা শেষ করে আজ মিশব না হয় শূন্যে কাল।।৪৭।
এম-ি নদীর ধারে ফুটবে যবে, ফুটবে গােলাপ রঙ-বাহার- পান করসে কবির সাথে রক্ত-রাঙা দ্রাক্ষাসার।•••••• কাল-সাকীটী পেয়ালা ভরে আসবে যবে সর্বশেষ বরণ ক'রাে হাস্য মুখে, বিনা দ্বিধার চিহ্নলেশ। ৪৮ ! ' ছটি আঁকা সৃজন-ঘরের রাত্রি দিবা দুই রঙের, নিয়ৎ দেবী খেলছে পাশা, মানুষ খুঁটি সব ঢঙের ; পড়ছে পাশা, ধ’রছে পুনঃ, কাটছে ঘুটি, উঠছে ফের বাক্সবন্দী সব পুনরায়, সাঙ্গ হলে খেলার জের। ৪৯ i 53 * , ৩৯ণা- নাইকো পাশার ইচ্ছা স্বাধীন- যেই নিয়েছে খেলার ভার, ডাইনে বাঁয়ে ফেলছে তারে, যখন যেমন ইচ্ছা তার। মানুষ নিয়ে ভাগ্য-খেলায় করেন যিনি কিস্তিমাৎ- সবটা জানেন তিনিই শুধু - জয়-পরাজয় তাঁরই হাত।।। ললাট’পরে নিয়ৎ দেবীর ভাগ্যলিপির হতছাপ উঠবে না সে-চেষ্টা বৃথা মিথ্যা এসব মনস্তাপ; দীর্ঘনিশাস উঠুক না হয় ক’লজে-ফাটা অশ্রুধার- ভাগ্যদেবীর হন্তটি না ধবে লেখন পুনর্বার।। ৫১। L
No text on this page.
জানিস্তাে সব বন্ধু তােরাকাণ্ডটাই বা কয়দিনের
বাস্তুভিটায় কাটল যে মাের নুতন বিয়ের সূৰ্ত্তি-জের।
বন্ধ্যা বধূ যক্তিদেবী—সেই রাতে তার নির্বাসন,
No text on this page.
৩৯ger- মাথার 'পরে উপুড়-করা পেয়ালা—যারে স্বর্গ কয়, যার নীচেতে চুপটি করে চক্ষু বুজে দিনটা বয় , হস্ত জুড়ে তার কাছেতে চাইছ কিবা ভাগ্য-দীন। নিয়ৎ-সুতােয় বদ্ধ ও যে, তােমার মতই শক্তিহীন। ৫২। মৃত্তিকাতে তৈরী যেদিন মূর্তমানব পৃঙ্খীতল, সেই মাটিতেই বীজটি বপন ভবিয়ে যা ধবে ফল। সেই সৃজনের প্রথম উষার অগ্যলিপির অঙ্কপাত ফুটবে পুনঃ শেষ বিচারের প্রলয় উযার জন্মসাথ ।। ৫৩।
৩মরণ- তােমায় নাহয় বলেই রাখি— প্রথম যেদিন যাত্রা মোর- চোখের জলে বিদায় নিয়ে পেরিয়ে এ স্বর্গ-দোর ;- কোন্ পাপেতে হেথায় আসা ভাগ্য-দেবীর অনুজ্ঞায় - আসতে পথে দেখম যে মাের অস্থিতে কা চিহ্ন ভায়। ৫৪। দ্রাক্ষালতার শিকড় সেটা তার না জানি কতই গুণ— জড়িয়ে আছেন অস্থিতে মাের দরবেশী-ভাই যাই বলুন গগন-ভেদী চীৎকারে তার খুলবে নাকো মুক্তি দ্বার, অস্থিতে এই মিলবে সে খোজ সেই দুয়ারের কুঞ্চিকার । ৫৫
No text on this page.
না।
-এই তাে সেদিন সাঁঝের বেলা, পেয়ালা হাতে গােপন পায়,
স্বর্গ-দূতী এল সে মাের মুক্ত-দুয়ার পানশালায়।
ব’লে মােরে-পাত্র-সুধায় চুমুক দে’ নাও একটি বার
দেখনু চেখে--আর কিছু নয়, সেই পুরাতন দ্রাক্ষাসার !
No text on this page.
৩= এই তাে জানি বন্ধু আমার সত্য জ্যোতির প্রকাশটুক -রাগেই কিম্বা প্রেমেই ফুটে ভরায় যা মাের আঁধার বুক, নিমেষ তরে পাই যদি তার আভাটা মাের পানশালায়, আঁধার-ঘেরা মন্দিরেতে কেনই যাব-কোন্ জালায়! ৫৬ | t এস তুমিই প্রভু পথটীতে মাের গর্ত-বােঝাই রাখলে পাপ, করলে সেটা সুরায় পিছল- তুমিই প্রভু করবে মাপ ; আপন হাতেই খুলবে না কোন্ ভাগ্য-সুতাের পাকটা ঘাের, পতনটা সেই পাপের ফলে ব’বে কিগাে দেবতা মাের?৫৭।
৩মাণমি- / মানব সৃজন করলে দিয়ে মৃত্তিকাতে পাপের ছাপ, মহান্ তােমার বিশ্ব-বাগে খেলাও পঞ্চ-রিপুর সাপ; পাপের কালাে মূর্তি নিয়ে জীব জগতে ঘুরছে হায় মানুষ তােমায় করছে ক্ষমা তুমিও, দেব, ক্ষমিও তায়! ৫৮ শুনছ বঁধূ-উপােস ভেঙে, রাত্রি যবে এক প্রহর, রানেরি পর্বশেষে উঠ গিয়ে কুমাের-ঘর, চাদের দেখা নাই আকাশে, ঘরটীতে কেউ নাইকো আর- শুধুই কেবল তৈরী ভাঙ্গা সুরাই যত মৃত্তিকার ৫৯।
No text on this page.
নদীর ধারে ফুটবে যবে, ফুটবে গােলাপ রঙ-বাহার,
পান করসে কবির সাথে রক্ত-রাঙা দ্রাক্ষাসার ;
কাল সাকীটী পেয়ালা ভ’রে আসবে যবে সর্বশেষ
বরণ কোরাে হস্তিমুখে বিনা দ্বিধার চিহ্নলেশ ।---
No text on this page.
৩৯ge- সেই সাজানাে মাটীর তাল তার মাঝে কেউ চুপ টা শশানে, কেউবা বােনে কথার জাল বললে কে এক হঠাৎ নােষে, ব্যস্তবাগীশ কষ্ট তার কেইবা এ সব কুম্ভ মােরা, কেইবা সেজন কুম্ভকার ।। ৬০ বললে সে এক কুম্ভ ধীরে- নয় বৃথা এ জীবন-শ্বাস, করলে যে জন বুদ্ধি খরচ সৃষ্টি আপন ক’রুবে নাশ ? এ সব কি আর অমনি যাবে- ফিরতে হবে পুনর্বার, সেই পুরাতন মাটীর ঘরে, সেই কবেকার জন্মাগার !। ৬১। In ৭। কান। হ ৩৯ণ- ৩ বললে আর এক পেয়ালা তারে তত্ত্ব এটা খুব গভীর, বালক-সেও পানের পরে খোঁজটা রাখে পাটীর ; গড় লে যে জন আপন হাতে কতই স্নেহ-কল্পনায় আর কি পারে রাগের ভরে নষ্ট কভূ করতে তায়! ৬২ •• ** সেই কথাতেই শান্ত হল উঠ ছিল যা তর্কজাল মৌন ভেঙে বললে পরে বিশ্ৰ৷ সে এক কাদার তাল-- বক্ৰ ব’লে সই পরিহাস, চিন্তে না পাই দিগ্বিদিক, গড়নকালে কুম্ভকারের হস্তটা কি পড়তো ঠিক ?। ৬৩
No text on this page.
- -
-তুমিই প্রভু পথটিতে মাের গর্ত-বােঝাই রাখলে পাপ,
করলে সেটি সুরায় পিছল—তুমিই প্রভু করবে মাপ!
আপন হাতেই খুলবে না কোন ভাগ্য-সূতাের পাকটা ঘাের,
পতনটা সেই পাপের ফলে--বলবে কিগাে দেবতা মাের ?
No text on this page.
তমণকাম- বলে আর এক কেউ বা তারে ব’লছে পাজী যাচনদার, মুখখানা তার আঁকছে দিয়ে নরক-ধোয়ার অন্ধকার ; যাচাই মােদের ক’রবে সে জন? কথার কথা ফকিকার- লােকটা নেহাৎ মন্দ সে নয়, মন্দ কি হয় তার বিচার !! ৬৪। কোণ টা হতে সুরাই সে এক ব’ললে ফেলে নিশাস-ভার- মাটর দেহ শুকিয়ে গেছে অনেক দিন তাে নেই ব্যাভার, মাের পুরাতন ব্রাক্ষা-বঁধু- পাই যদি আজ পরশ তার, হচ্ছে মনে-জীর্ণ দেহে বলটা ফেরে পুনৰ্ব্বার। ৬৫।
৩৯ণwf- পাত্রগুলাে কথার মাঝে আকাশ’পরে দেখতে পায় চন্দ্ৰ নবীন-যাহার লাগি সবাই ছিল প্রতীক্ষায় ; কে কার ঘাড়ে পড়ল তখন, বললে দিয়ে টিপনি এক খাদ্যেতে আর মদ্যে বােঝাই মুটিয়াগুলাের কাণ্ড দ্যাখ ।। ৬৬। চেতিয়ে তুলাে মরণ কালে দ্রাক্ষ ধায় প্রাণটা মাের, মদির-গানটা করিয়ে দিও, ঘুচবে যবে মায়ার ঘাের ; পরিয়ে দিও যত্নে মেহে আঙুর-পাতার বহির্বাস, গাের দিও এক বাগান-ধারে সজীব যেথায় ফুলের চাষ । ৬৭ D:
No text on this page.
কি
=
-গােলাপ সাথে পড়বে খসে বসন্তেরি সব বাহার,
মিশবে কোথা যৌবনেরও পাগল-করা গন্ধ ভার,
পাতার মাঝে চমকে ওঠে আজ পাপিয়ার উচ্চতান
কোন বিদেশের কণ্ঠটী ওই কোথায় সে কাল গাইবে গান।
No text on this page.
৩মাম- সৌরভেতে ক’বুবে আকুল, থাকবে যা’ মাের ভস্মসার জাল পেতে সে থাকবে বসে, হাওয়ায় বুনে গন্ধ তার ; ভণ্ড ঘতভক্ত বিটেল প'ড়বে ধরা চলতে পথ, মদিবগন্ধ পাগল হাওয়ায় উল্টোবে তার বিধান-রথ ৬৮ খেয়াল-পূজোয় পুতুল-খেলায় কাটুল কই দিন যে মাের, লােকের চোখে দোষের ভাগী র’টুল খারাপ নামটা ঘাের ; মূর্ত খেয়াল-দেবতা গুলােই খাতির ডোবায় মুরার মাঝ সুনামটা মাের সস্তা বিকোয় শুনলে মিঠে সুরের ভাঁজ! ৬৯।
৩ম ges দিব্যি দিয়ে ত্যাগ করি- চক্ষুজলও পড়ল ঢের শপথ কালে সবটা তবে যায়নি কেটে নেশার জের! তারপরে যেই ফাগুন এল বাড়িয়ে গােলাপ-রঙীন্ হাত কোথায় গেল ক্ষীণ অনুতাপ গন্ধ-আকুল মলয় সাথ! ৭০ খাতির খিলাৎ কাড়লে সে মাের- খেয়াল মাফিক কাৰ্য তার, দ্রাক্ষাদেবীর নাই মহিমা কাফের মতই সব ব্যাভার । প্রশ্ন তবু উঠছে মনে দ্রাক্ষাফলের চাষটা যার-- কোন্ মহার্ঘ পণ্য লােভে বিকোয় এমন সুধার ভার। ৭১ Ot, L
No text on this page.
এক অজা
—নিয়ত-দেবীর চরকা-সূতাের ধরতে পারি খেইটা আজ,
ভাগ্য সাথে যড়, করে তার ঢ কতে পারি দুয়ার মাঝ ;-
নিঠুর পায়ে চূর্ণ করি বিশ্ব-সৃজন-কল্পনায়,
নূতন সৃষ্টি গড়তে প্রিয়া পাব নাকি দুই জনায়!——
No text on this page.
৩মণ- গােলাপ সাথে পড়বে খসে বসন্তেরি সব বাহার, ৫ মিশবে কোথা যৌবনেরও পাগল-করা গন্ধভার। পাতার মাঝে চমকে ওঠে আজ পাপিয়ার উচ্চতান- কোন্ বিদেশের কণ্ঠটা ওই কোথায় সে কাল গাইবে গান। ৭২। নিয়ৎ-দেবীর চরক-সুতাের ধরতে পারি খেইটা অজি ভাগ্য সাথে বড় করে তার ঢুকতে পারি দুয়ার মাঝ, নিঠুর পায়ে চূর্ণ করি বিশ্ব-সৃজন-কল্পনায়, মূতন সৃষ্টি গড়তে, প্রিয়া, পারব নাকি-দুই জনায়!। ৭৩।
তমণকাম- দেখছ প্রিয়া—পূর্ব গগনের পূর্ণ-কিরণ চাঁদটা আজ দিচ্ছে উকি পাতার ফাকে মােদের মিলন-কুঞ্জ মাঝ ; তােমার কবি সেই যেদিনে ভুলবে ধার মিলন-সুখ, কার খোঁজে ওর পড়বে হেথায় অন্ত মলিন দৃষ্টি-টুক! ৭৪ । = বিভাের প্রাণে আসবে যেদিন- আকুল মিলন প্রতীক্ষায় তৃণাসনে অতিথ-সভা ছড়িয়ে যেথা তারার প্রায় ; উজল পায়ে আসবে যখন আমার যেথায় ছিল স্থান, উপুড় করে রেখে সেথায় আমার শূন্য পাত্রখান! ৭৫। তামাম শােধ,
No text on this page.
-উজল পায়ে আসবে যখন আমার যেথায় ছিল স্থান, উপুড় করে রেখে সেথায় আমার শূন্য পাত্রখান!-
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.