Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Chittra O Charittra

Ray Choudhury, Pramathanath · 2010/01/10

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

চিত্র
চরিত্র
প্রমথনাথ রায়চৌধুরী
মূল্য ॥ আট আনা।

৪ নং সিমলা স্ট্রীট প্যারাগণ প্রেসে
ঐবিষ্ণুপদ হাজরা কর্তৃক মুদ্রিত।
২০১ নং কর্ণওয়ালিশ স্ট্রীট
বেঙ্গল মেডিকাল লাইব্রেরী হইতে
শ্রী গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত।

উৎসর্গ পত্র
প্রাণের বিভা, সােণার শচী. প্রাণাধিক অজয়,
তােদের হাতেচিত্র ও চরিতুলে দিলাম । কেন দিলাম,
তা যখন বুঝবি, তখন যদি আমি এখানে না থাকি, দুঃখ
নাই, যেখানেই থাকি, আমার উদ্দেশ্য সার্থক হতে দেখলে
কৃতার্থ হব।
ভাই-বোনে তােদের এনি টান, যেন এক-প্রাণ
আমার চোখেও তিন এক;আর তা ছাড়া কেমন অসম্পূর্ণ।
পিতার একটী দান যা তিনটীতে পপলি—সমান ভাগে
পেলি ; তা ভাগ করে নয়—একত্রে চিরদিন ভােগ
করি।
আশীৰ্বাদক
তােদের বাবা

No text on this page.

সূচী। छ। ••• ৪ ৮ ০ ০ ০ ০ ০ ০ ••• ৮ ••• ০ ০ ০ ••• বিষয় দেশের মােড়ল ও দশের মাথা পােলাও-পুলি ও পুলিপােলা ও অনাথ পরিবার সাতপুরুষে মুনিব দায়ী কে ? রুটী-সমস্যা বিচার ঘরে আগুন হা-জিৎ দামােদরের বন্যা বিদুরের ক্ষুদ ১৪ ••• ••• ••• ••• ২১ ০ ০ ০ মেয়েতে মা-রূপ ৪০ ৩১ ••• * * * মা-পাগলা ছেলে গুরুজী কা ফতে মায়ের মার প্রণামী সাবাস্ স্ত্রী চাষার কলিজা ছােট মুখে বড় কথা ৩৭ ••• •• అని • বিষয় পৃষ্ঠা ৪ ০ ••• ৪১ ৪ । ০০ ০ ৪৬ যুদ্ধ-যাত্রা প্রতাপের বিদায় আমাসাধন বাঙ্গালীর অন্তঃপুর বাহবা মা দুই ভাই অতুলন সাত শত কলঙ্কিণী-রাণী ও রাজা-চোর সাচ্চা পান্না ৪৭ ০ ০ ০ ৪৮ ৫০ ০০ ••• ••• ৫২ s ৫৭ পতিত মেয়ের পূজা ॥ ০ ০ পণের বদলে শুভ পণ! সােণার ছাই ! রাজার রাজা সহায় ০ ••• ••• প্রাণের বাড়া মান বিড়িওয়ালা :: মরণ না বচন : ••• ৮ ••• সরসােক্তি সব লাল হাে য গা হলদিঘাটার ইন্ধন হলদিঘাটার ঋণ হলদিঘাটার প্রায়শ্চিত্ত ৮০০ १२ •••

• বিষয়
পৃষ্ঠা
•••
৬
৭৮
। এ এ
উৎসাহী ও বুদ্ধির টেকী ?
কাটা-হাতের জ্বলুনি
খোঁড়া পায়ের দৌড়
বন্দির সন্ধি
৮.
•••
•••
৮২
শােকে সান্ত্বনা
•••
৮ঃ
৮৬
৮ ০৫
•••
• এ
৮৮
আগুনে হাত
মা ও মেয়ে
তিনশই তিন লাখ
সারা দেশের হৃদপিণ্ড
৯•
০ ০ ০
as

No text on this page.

দেশের মােড়ল ও দশের মাথা
সমাজের থাম, দাড়িয়ে থাক
উচু মাথায় দেশের বুকে,
লম্ব-কোচা, আমরা ওছা
পায়ের চাপে মরি সুখে।
তােমরা লড়ছে, মােদের গড়ছে,
বুকে ব্যামম, মুখে ওঝা।
আমরা মজুর, তােমরা হুজুর
বুঝিয়ে দিচ্ছ কাজে সােজা।
তোমরা সাধু !-৪ বা যাদু!
উঠছে হঠাৎ চৌমহলা,
আমরা হাভাত!-ঠক তাই নেহাৎ!-
হােক্ না কুঁড়ে পচা-গলা।
আমরা কুলী, শূন্য-ঝুলি,
কেন না, ক্ষুদ হলেই কুলােয়,
কালিয়ার সাথ তােমার ঘি-ভাত।
নৈলে সৃষ্টি যাবে চুলোয়।

চিত্র ও চরিত্র
আঃ কি দরদ! পরছে। গরদ,
ময়লা পাছে আমরা করি,
খাচ্ছ লুটে,—আমরা মুটে
পাছে চাদির চাপায় পড়ি।
শাল-দোশালা গায়ের ঘামে
গন্ধ ছাড়বে,-তাই ত আহা,
মমাদের পন্থা ছিন্ন কন্থা,
কি ব্যবস্থা, বাহ বাহ !
আমরা খাটি, ক্ষীরের বাটী
তােমাদেরই মানায় পাতে,
গদাই-ভূড়ি, চাপবে জুড়ী,
গুড় করছি পাঁজর তাতে।
অাঁচড়টী গায় লাগবে না গো,
দশের মােড়ল, দেশের মাথা,
দীঘ-প্রস্থ দুখীর দোস্ত,
পেযাে ঘুরিয়ে ননীর জাতা!
মিছিল করে মশাল ধরে
তােমাদের বুথ হচ্ছে টান,

দেশের মােড়ল ও দশের মাথা
গাধা-ঘােড়াও নই যে মােরা,
আমরা চুলে টুটবে মান।
বেচে থাকতেই দেখে যাবি,
পাষাণ, তােদের পাথর-মুত্তি,
জোঁকের মত ফাঁপ, না রে ভাই,
দুখীর রক্তে ও যে শক্তি।

পােলাও-পুলি ও পুলিপােলাও
খাও ধনী, খাও, খুব খাও
পােলাও-পুলি পরম-অন্ন,
আমি চল্লেম পুলিপপালাও,
তােমার কি দায় আমার জন্য ?
মান রাখতে চাকরী গেল,
পড়ল ‘সাবাস্ সাবাস ডাক,
মাসিক পত্রে ছবি ছাপায়,
দৈনিক পিটায় জয়ঢাক।
আমার বাড়ী অসত্র,
জোটে না আজ আমার ভাত,
ধন্য দিয়ে ভুলায় দেশ,
অয়ের বেলায় গুটায় হাত।
অচিকিৎসায় মল মেয়ে,
স্ত্রীকে কল্লাম অন্তর্জলী,
থােকা ধুছে জ্বরে পড়ে,
কি পালাল দেউলে বলি।

পােলা-পুলি ও পুলিপােলা
,
বন্ধুরা সব মুখ ফিরাল
চাইতে গেলাম যখন কড়ি,
মহাজনের সিংদরজায় এ
হত্যে দিলাম ধূলায় পড়ি।
মাথা-খোড়া কান্নার চোটে
বাবু এলেন হাতে কোড়া,
মদের নেশায় ধনের উন্মায়
ভাবলেন আমার গাধা-ঘােড় ।
সপাং সপাং চা চাবুক,
পিঠের চামড়া উঠে আসে,
মােসাহেবদের ভারি আমােদ
দেখিয়ে দেখিয়ে আমায় হাসে !
ঘয়ে বাঘের মত তেড়ে
গর্জে উঠলাম হঠাৎ কখন,
বাবুর নাকে মারলাম মুষ্টি,
হলেন ঠাণ্ডা জন্মের মতন।
খাও ধনী, খাও কালিয়া কাবাব,
উড়াও মজা ‘ফ্যানের’ তলায়,
চল একটী হতভাগা
ফাঁসির রশি পরুতে গলায়!

অনাথ-পরিবার
যদি সিংহবাহিনী মা,
এলি একটি বছর পরে,
অভাগী আজ ভাঙ্গা কুলােয়
সাজিয়ে ডালা বরণ করে।
কুপুষি তিন মেয়ে রেখে
নিরুদ্দেশ হঠাৎ স্বামী,
পােড়ামুখী বলে লােকে,
বিধবা-সধবা আমি ।
মেয়ে তিনটি দেখে লােকে
ভাবে, এ কি বানর-ছানা।
দশ হাতে তুই খাচ্ছি লুটে,
দুখীরই মােস নি দান।
এখানে মন লাগবে কি তাের,
দেখছি না এ ভাঙ্গা কুঁড়ে ?
ঘটার পূজা পাও গিয়ে মা,
লক্ষপতির যক্ষপুরে!

অনাথ-পরিবার
কি দেখতে আর আসবে হেথা ?
অনুৰে ধু ক্ষুধার রােদন,
উৎসবের সাজ হবে মলিন,
বৃথা যাবে ধনীর বােধন।
ঢাকের বাজনায় নৃত্য করে
বাছারা যায় দেখতে পূজা,
ফেরে গলাধাক্কা খেয়ে,
মহিমা তাের, দশভুজা !
আচ্ছা বিচার? আমার গৃহ
শ্মশান সম অাঁধার নীরব,
পাশের বাড়ী হাসির তুফান,
মহাঘটায় দুর্গোৎসব।
সন্তান-খাগী সাজি যদি,
বিশ্বমাতা সর্বনাশী,
তবেই তােরে ক্ষমা করি,
তবেই তােরে ভালবাসি।
!
তিন্ তিনটে নরবলি-
মন ওঠে না, এলােকেশী
একচোখাে মা, ক্রোরপতির
ছাগের মন্য এতই বেশী?

সাতপুরূষে মুনিব।
ও ধনী, আজ সমাজ তােমায়
দেয় যে ডেকে বড় পড়ি,
আমাদেরই
বুকের পাঁজর
গড়ে নি তার ওঠার সীড়ি?
দেনার কড়ি ভূতে যােগায়,
সে মানে না সুকাল সকাল,
উলের ঘর শাদা, হজু,
ওটা বড়মাধী কপাল !
আমাদের কি, বারাে মুনিব—
পাইক, কাকুন, মােসাহেব,
তাদের জেব, না ভরে যদি,
বেয়ােয় মােদের যত আয়ে!
তুমি কর সহরে বাস,
আসে টাকা, ফুর্তি কেনাে,
রােগে তাপে পল্লী উজাড়,
সেটা ভাড়ার বাসা যেন!

সাতপুরুষে মুনিব
মার’, ধর’, জুলুম কর,
সাতপুরূষে মুনিব তবু,
চাদা-মাথটু যখন যা চাও,
দিতে হয় নি কর, প্রভু!
বার ভূতের যােগান দিই নি,
তাদের চক্রে পড়লাম গিয়ে,
বিদ্রোহী নাম রটুল আমার,
হুলস্থূল আমায় নিয়ে ।
কালে-ভদ্রে তােমার দেখা,
ভুলে যাচ্ছ চেনা লােক,
মড়া-কান্না কালাম পড়ে,
মাছের মা’র কি পুত্রশােক ?
দাওয়ালি কি বললেন কাণে,
পা ছাড়িয়ে হালে-তফাৎ!
হাভাতে।তার বদিয়াতী,
দেশে পাততে হবে না পাত!
ভিটেয় ঘুঘু চড়াব তাের,
আমি গােন সাপের বাচ্চা।

১০
চিত্র ও চরিত্র
মমসাহেব পপ ধলেন সুরে-
‘মজাটী চাদ, দেখবে আচ্ছা।
জেলে দিলে, জোত-জমি সব
কিনে নিলে করে নীলাম,
খালি বাড়ী,ইজ্জত নিল
তােমার লেঠেল নিধিরাম।
সসত্ত্বা মাের ঘরের নারী,
বা’র কলে তার পেটের ছেলে,
লাথি খেয়ে মরে সতী,
তখন আমি পচছি জেলে।
বেঁচে থাক, সুখে থাক,
সাতপুরুষে মুনিব আমার,
যাচ্ছি আমি খাদরবারে,
সেথায় যদি থাকে বিচার।

দায়ী কে ?
আমি একটি দাগী জোচ্চোর,
একের নম্বর ফেরেববাজ,
এ জন্য কে দায়ী জান ?
তােমার সমাজ-মহারাজ।
পরের দুঃখে ঝরলে আঁখি,
লােকে বস্ত-কাব্যি-রােগ,
পরের বেগার খেটে সুখী,
ঠাট্টা চত-কৰ্ম্ম-ভােগ।
অচিকিৎসায় পড়শী মরে,
বাবুদের গোফ তেমনই চোখ,
তাসের আডড়ায় আমার শ্রাদ্ধ,-
‘হতভাগা, হদ্দ বােকা!”
কার বিপদ, কার অভাব, ক্লেশ,
খুজে খুজে আমি সারা,
বৰ্ত সবাই-এ সব রেখে
পয়সা আন্না লক্ষ্মীছাড়া!

চিত্র ও চরিত্র
মধুর খোঁজ যে পায়, সে কি
গণে মধুকরের দুল,
তখন ত জানি না আমার
মূলেই হয়েছিল ভুল!
বিনা সুদে খতে দাদন,-
ছি ছি হব কুসীদজীবী ?
ভাবতাম, সমাজ কছি উচু,
জানি না, এ উইয়ের ঢিবি।
ফুরিয়ে গেল পুজিপাটা,
বাম সত্যি হতভাগা,
ভালমাষীতে পেট ভরে না,
চায় দুনিয়া চাদির চাকা ।
খসে পড়ছে চালের ছাে,
পাওনা চাইলে গালি খাই,
যাদের জামিন হ'য়ে ঋণী,
বলে—‘পাগলা গারদ নাই ?
গলাম, গলায় ফাঁসী দিয়ে
সংসারের চোখ ভরাই জলে,

দায়ী কে
বরক, নরক, আস্ত নরক!
সমাজ নামে ঠকিয়ে চলে।
বুঝলাম—যারা নিরেট পাষাণ,
জীবন-যুদ্ধে তারাই টেকে,
ননীর পুতুল পড়েন গলে
শিখলে সেটা ঠকে’ ঠেকে।
শিশুর মত ধবধবে মন,
কোথাও একটু ছিল না দাগ,
লোকের কাছে দাগা পেয়ে
দুনিয়ার ওপর হ’ল রাগ!
জাগার শােধ দাগাবাজী,
এ যুগের এই নীতি খাটি,
পাওনাদারদের ফাঁকি দিয়ে
দিলাম চম্পট পরিপাটী।
মুছছ আঁখি !—দ্বিপদ তুমি,
আস নি বন পাহাড় থেকে,
তফাৎ, তফাৎ, ঠকি না আর,
ঠকামােতে গেছি পেকে!
'

রুটী-সমস্যা
ধনী, গরীব দাড়ায় কোথা?
দুধের হাটে তফাৎ তারা,
ক্ষুদে ও যদি ভাগ বসাবে,
গরীব যায় যে মাঠে মারা ।
দেউলেরই খাইয়ে বাড়ে,
মা-যষ্ঠ দেন একটী পাল,
এই মুখের গ্রাস যােগা’তে,
মাটীর বুক আজ রক্তে লাল।
আগের খরচায় চলে না আর,
আয়ের পথে হাজার বাধা,
একই জমি তিনবার চযে’
ফস। কিন্তু ফছে আধা।
নূতন জমি গজায় না ত,
আস্ত ভেঙ্গে টুকরাে করা,
তবে ম্যালেরিয়ার কৃপায়
উদর সবার আছে ভরা।

রুটী সমস্যা
১৫
খয়রাতী সব ডাক্তারখানায়
ডাক্তার বাবু দয়াল ভারী,
তেল-কুচকুচে দেহটি যার,
আদত অসুখ কেবল তারই।
‘ফিরি-ইস্কুল, মাষ্টার বাবু,
ঘুমের চোখে দেবেন খোঁটা,
‘বিনি পয়সায় কি চাও হে আর ?
বিদ্যে অমনি গাছের গােটা।
‘ডসনের বুট-ছেলের আঁখুট,
চৌবে বলেন, লেড়কা আচ্ছা,
টাকা সাধেন,
কথায় কাজে বেজায় সাচ্চা।
‘আটগুণ সুদে
গােচারণ মাঠ-তাও আজ আবাদ,
গরুর রুটী মানুষে মারে,
অতিথ, দেখলে করি তাড়া,
সমাজ গেছে ছারেখারে।
লিখলে পড়লে তােমরা চটো-
জাত ব্যবসা ছাড়ছে ব্যাটা!--

চিত্র ও চরিত্র যুক্তি শুনলে চটে লাল- হাভাতেরা হচ্ছে জ্যাঠা। ধতি চাষা’ কাজের বেলা, মনে ঘৃণা ‘ইতর’ বলে, সাপের হাঁচি বেদেয় চেনে, আর কত কাল ভবী ভােলে ?

বিচার।
দুই দুইবার জেলের ফেতা
কাজলগাঁর কাদে জোলা,
তিনটি উপােস দিয়ে শেষটা
মালে মদন মুদীর গােলা।
পুলিশ দুজন নিচ্ছে ধরে,
হেসে সে বেশ নাড়ছে দাড়ী,
যাচ্ছেন যেন নূতন জামাই
জুড়ী চেপে শ্বশুরবাড়ী।
হাজতে আধমরা কাদে
আদালতে এল যবে,
'জেলের হুকুম হােতূ না হুজুর
জে কচ্ছে সে,অবাক্ সবে ।
লােকটা দাগী অপরাধী
দায়রার জজ জানেন বেশ,
কিন্তু তাহার চোখে মুখে
নাই কলুষের চিহ্ন দেশ !

চিত্র ও চরিত্র
দেখছেন হাকিম অপরাধীর
ডাগর চোখ, উজল ভাল,
নাই সেথা ছাপ ‘অপরাধী
বলেন, রায়টা দেবো কাল ।
হাকিম পরদিন ডেকে তারে
বলেন কণ্ঠে স্নেহ ভরে,
এ প্রবৃত্তি কেন তােমার,
ববে কাদে সত্য করে ?
কাদের বলে-ব্যবসা আমার
মাটা হ’ল পড়ে বিলেত,
মহাজন শেষ করূলে নীলাম
ছাগল-গরু জমি-জিরেত।
মনে আছে সে সব কথা-
প্রথম যখন কুপথ ধরি,
ঘরে মড়া, ঘুলাম ঘর ঘর,
জুটল না মা’র গােরের কড়ি।
মম কেঁদে, এক ফোঁটা জল
কেউ ফেললে না আমার তরে,

বিচার
কেউ বলে যা, চরগে মাঠে,
কেউ বলে ‘সিদ দে না ঘরে।
সিদ ? ছি ছি! সাম্না সানি
লােকের মাথায় দেবে বাড়ি ।
সমাজ আমায় দিল দাগা,
তার সাথে আজ জন্মের আড়ি।
এ গায় সে গায় দিন দুপুরে
করূতে লাগলাম রাহাজানি,
ধরা পলাম, জেলে গেলাম,
পেকে উঠলাম ঘুরিয়ে ঘানি।
কয়ে থেকে ছুটি পেয়ে
গেলাম মায়ের গােরের কাছে,
বল্লাম ‘ছেলের মাটি পাও নি -
এর শােধ মা, বাকি আছে।
বাস্তু উজাড়, গেরস্তি সাফ
পাই না দেশে কোথাও মুখ,
জেলই আমার আরাম খানা,
ঘানিই আমার স্বর্গ-মুখ ।

চিত্র ও চরিত্র
হাকিম শুনে অনেকক্ষণ
হাত বুলাতে লাগলেন টাকে,
বললেন কাদে, বল তােমার
চাকরির ইচ্ছা যদি থাকে।
কেঁদে ফেল্লে কাদের, বল্লে-
‘দাগীর চাকরী কোথায় জুটে !
হাকিম বললেন আমার ঘরে।
কাদের পড়ল পায়ে লুটে।

ঘরে আগুন
হো হে, হাে হো, চল প্রিয়ে,
ঘরে আগুন দিয়ে পালাই,
সে আগুনে পুড়বে দেশ,
ফুর্তি করে দেখবো তাই !
ভিটে বাধা দিয়ে
কসাইর ছেলে কল্লে জামাই,
খালা, খালা, এবার খালাস,
মেয়ে হয়ে গেছে জবাই !
ওগাে শােন, শাঁখ বাজা ও ত,
জছে চিতা ধূ ধূ ওই,
প্রাণ ভরে আজ উলু দাও না,
কঁদছ কেন, স্নেহময়ী ?
গেছে উড়ে
কোথায় হে ?
ওই শ্মশানের ধোয়া হয়ে,
জানােয়ারের দলে চল,
পালাই কাচ্চা-বাচ্ছা ল’য়ে!

૨૨
চিত্র ও চরিত্র
সমাজ-নাড়ীর রসটী পিয়ে
ফুলছেন,হােড়-চোড়া ওরা।
বলছেন, আমরাই দেশের মাথা,
চুলােয় যা না, দুঃখী তােরা!
ম্যালেরিয়ায় স্বাস্থ্য গেছে,
মাথা বিক্রী ঋণের দায়ে,
একটি তত্ত্ব হয় নি বলে
মাথা খুড়লাম বেয়াইর গায়ে।
পণে গেছে যথাসৰ্ব্ব,
‘তত্বে’ রক্ত উঠল মুখে,
তবু মেয়ে চিতায় পােড়ে,
বাজ পড়ে না দেশের বুকে ।
হহ হহ, হাে হাে, চল প্রিয়ে,
পরে আগুন দিয়ে পালাই,
সে আগুনে পুড়বে দেশ,
ফত্তি করে দেখব তাই।

হার-জিৎ
বখরিদের দিন গরু জবাই,
হিন্দু বলছে ‘খবরদার!
মুসলমান বছে, হিন্দু,
কোরবাণী এ,—হুসিয়ার !”
এমন সময় মােলা একটি
তপসা হতে এলেন তথা,
বলেন, যারা মুসলমান,
শুবে তারা আমার কথা।
কোরাণ যাদের অস্থিমজ্জা
ইমান্ যাদের ধৰ্ম্মের জান্,
ইসলামের ভাব বুঝবে তারা,
বুঝবে ভায়ের দরদ-টান।
হােক হিন্দুদের আচার যুদ,
দু’দলের এক জন্ম-মাটি,
একটি ক্ষেতের ফসল কেটে
সমাজ বাধল দুইটি আঁটি।

২৪
চিত্র ও চরিত্র
কোরবাণীর দল সছে দেখে
উঠলাে হিন্দুর জয়গান,
অন্তরীক্ষে লিখলেন একজন
‘লড়াই জিতলাে মুসলমান।

দামােদরের বন্যা
জীবনে ভাই ভুলব না সেই দামােদরের বন্যা,
ভরলাম কেটে পাঁজর, জল-যক্ষিনীর উদর,
তিন্ তিটে তাজা ছেলে, পরীর বাড়া কন্যা!
স্ত্রীটি তখন টাটকা শােকে পড়ে মৃততুল্য,
আর আসে পালাজ্বর, ভেসে গেছে কুঁড়ে ঘর,
সেই দিন প্রথম বুঝলেম রে ভাই, গাছের তলার মূল্য।
শেয়াল-কুকুর আসে ছুটে মড়ার পচা গন্ধে,
তারাও পালায় আমায় দেখে, বানও পথে গেছে ঠেকে,
কাণে তাল, মড়ার গন্ধ ঢুকছে নাসারন্ধে !
একটি হপ্তা পেটে যায় নি একটি দানা অন্ন,
এতে লাগছে দন্তে দন্ত, আমরা এমনই ভাগ্যবস্তু,
সূৰ্য্যদেবের দিনের মশাল বন্ধ মােদের জন্য !
গো গো করে ধুছে জ্বরে পাশেই গৃহলক্ষ্মী,
বল্লাম-ম না সর্বনাশী, শূনন্য ও কি বিকট হাসি।
মনের বিকার না, ভেজাল নিশাচর সব পক্ষী।

২৬
চিত্র ও চরিত্র
হঠাৎ একদল এল, যেন মুক্তিফৌজের সৈন্য!
কোথাকার এ চঁাদের দল? কাঁপছে ঠোঁট, চোখ ছল ছল,
বাম—তােমরই ‘কলির দেবতা, ধন্য, বঙ্গ ধনা!
বলে তারা, একটু মুখে দি, এনেছি খাদ্য।
বলান—খেয়ে তিনটি মাণিক, বেঁচে আছি, এই ত অধিক।
স্ত্রী-হত্যা হয়, বাঁচাও ওকে, থাকে যদি সাধ্য!
মা বলে সব উঠল ডেকে হয়ে শশব্যস্ত,
শবের গায়ে দিল কাঁটা!-বল্লাম, ‘ওয়ার সেবা খাট।
ভগবান আজ জলের হাতে কলেন বুঝি ন্যস্ত ।
মরণ ত হ’ল না খুইয়ে পুত্র, স্ত্রী ও কন্যা,
অনেক দিন গেছে কেটে, হা হা ওঠে কলজে ফেটে,
জীবনে ভাই ভুলব না সেই দামােদরের বন্যা !

বিদুরের ক্ষুদ
কলুটোলার রাস্তা দিয়ে একদা এক অপরাহ্নে
আসতেছিলাম যবে একা বাড়ী,
একটা জায়গায় রাস্তাজোড়া গাড়ী-ঘােড়ার ভিড়ে
আটকে রইল খানিক আমার গাড়ী।
ছিন্ন ক্লিন্ন বস্তু-পরা ভিখারী এক অন্ধ এসে
‘জয় হােল্ক গোেয় দাড়াল এই বলি,
আমি বল্লেম, হাত পাত ত, দিব তােমায় কিছু,
-পকেট হতে বাহির কল্লেম থলি।
গর্বভরে বল্লে অন্ধ, ‘পণ করেছি, আজকে আমি
কারও কাছে ভিক্ষা শাহি নিব,
আমার ক্ষুদ্র পুঁজিটুকু এনেছি এই সাথে করে,
তাহাই ধরে কূষ্ঠাশ্রমে দিব।
যেতে হবে কোন্ পথে মাের, সেইটা মাত্র বলে দাও,
দীনের এবার ধার শুধিবার পালা,
বল্লেম, পথের কাঙ্গাল, ওই কষ্টের পূজি দিয়া
ঘুচবে না ত এক রােগীরও জ্বালা!

২৮
চিত্র ও চরিত্র
সে কহিল, “হীন বাছে কি দয়ার ঠাকুর আমার ?
বেশী মেহ অক্ষমটীরই পরে,
রাজ-ভােজ তাই রুচে না শ্রীমুখে, প্রাসাদ ছেড়ে
ক্ষুদের লােভে যান বিদুরের ঘরে।
শুনে’ অশ্রু এল চোখে, বল্লেম, ধন্য দীনবন্ধু,
দেখালে কি লীলা আমায় ডাকি,
ফুটালে নাথ, জুড়ালে নাথ, ভুলালে কোন্ রূপে
এক সঙ্গে আজ দুই জন্মান্ধের আঁখি।
বল্লেন তারে গাঢ়কণ্ঠে, ‘ভাই, তােমারে পথ দেখাব,
এস সাথে, গাড়ীতে মাের চড়,
জালেম আজ, মালেম আজ,-কোটি ভক্তের চেয়ে
ভক্তশ্রেষ্ঠ, তােমার পূজাই বড়!

মেয়েতে মা-রূপ
খােলা-ছাদে ধূলা মেখে
তিন ভাই-বােন খেলে,
ঘােরে সাথে হরিণশিশু,
খুকির পােষা-ছেলে।
টবের গাছে ফুটে আছে
ফুলের হাসিটুক,
তারই পাশে ফুটে থাকে
তিনটী হাসিমুখ।
আর্জ চোখে স্তব্ধ হয়ে
দেখি চারটা বেলা,
মন-উড়ানাে প্রাণজুড়ানাে
চারটা প্রাণের খেলা।
হেলান দিয়ে আরাম-চৌকি,
আমি মুগ্ধ কবি
সােণার দৃশ্য দেখে দেখে
আঁকি সােণার ছবি।

চিত্র ও চরিত্র
খুকীর সাথে ঘুরছি ছাদে
ফর্তি করে ভােরে,
চাকর খুকুর বেড়াল-ছানা
আছে টুটী ধরে।
পাছে পাছে কেঁদে কেঁদে
মিনি আছে ছুটে,
দেখে’ খুকুর চোখ দুটিতে
যুগল মুক্তা ফুটে।
বলে, ‘মা’র বুক খালি করে’
কেন কাড়লি ছা’কে,
বলেই খুকী ছা’কে নিয়ে
বুঝিয়ে দিলে মাকে!
ওগাে স্নেহ-দেবি, তােমায়
মা বলেই ত জানি,
দেখা দিলে মেয়ের রূপে
আজ যে অভিমানী।
*
মুখ ফুটে জানালে,-“মানুষ
পশু-পাখীর ভাই,
একটি যৌথ-পরিবার,
মায়ের বাছা সবাই।

মা-পাগলা ছেলে
তারা নামে গান বেঁধেছি,
তিন বছরের ছেলে
সারাদিন তাই গেয়ে বেড়ায়
সায়াটী প্রাণ ঢেলে ।
মুখের এমনই ভঙ্গি করে,
এমনই ছাদেই গায়,
মনে হয়, ওই গানের মাঝে
ও যেন কি পায় ।
যেন সে কোন্ মায়ের ছবি
মায়ার স্বপন প্রায়,
ঐ একরত্তি প্রাণে খুসির
ঢেউ খেলিয়ে যায় ।
সে খেয়ালীর বেকের মধ্যে
এইটী এবে প্রবল,
আমার খেলায়-মাতাল ছেলে
মায়ের নামে পাগল।

চিত্র ও চরিত্র
পুত্রের মা, পিতার মা,
কে তুই রে এক সঙ্গে
বাপ-ছেলেকে হাসা, কাদা,
ভাসা কি তরঙ্গে!
দুধের বাছা আমার ক্ষুদে,
হা জননী মাের,
তার ও কাছে রাখ আশা,
এতই তৃষা তাের ?
অবুঝের এ মাতৃপূজা,
তাহাই যদি চাস,
গামা মায়ের রাঙ্গা পায়ের
হােক সে ছােট্ট দাস।

গুরুজী কা ফতে!
কহিছে বান্দা মুক্ত-কৃপাণ করে-
পিপীলিকা সম মােগলবাহিনী নড়ে,
প্রাণ ল’য়ে তাই পালাবে কি সবে ডরে ?
সহসা সহ অশনি গড়া’ল মণি যেন দশদিক,
‘গুরুজী কা কতে, গুরুজী কা ফতে’ ডাকিয়া উঠিল শিখ :
গরজে বান্দা,-হই মুষ্টিমেয় মােরা,
ফিরিব না কেউ, ফিরিতে পাবে না ওরা,
সারা পাঞ্জাবে আয় শেষে নিশি ঘােরা!
সহসা সহস্র অশনি গ ড়াল মথি যেন দশদিক,
‘গুরুজী কা ফতে, গুরুজী কা ফতে’ গরজি উঠিল শিখ।
কহিছে বান্দা,-এক ঈশ্বর মানি,
‘দিল্লীশ্বর জগদীশ্বর বাণী
স্তাবকের চাটু, দাও তারে আজি হানি।
সহসা সহস্র অশনি গড়াল মথি যেন দশদিক,
‘গুরুজী কা ফতে, গুরুজী কী ফতে’ ডাকিয়া উঠিল শিখ
গরজে বান্দা,খালসা না তাের সব ?
ধন-বলে হবে মনােবল পরাভব ?

চিত্র ও চরিত্র
তােরা কি পাষাণ? তােরা কি শ্মশান-শব ?
সহসা সহ অশনি গড়া’ল মথি যেন দশদিক,
‘গুরুজী কা ফতে, গুরুজী কা ফতে’ গরজি উঠিল শিখ।
শ
আপন বচনে আপনি বান্দা মাতে,
লাফায়ে পড়িল অরি মাঝে অসি হাতে,
ক্ষুদ্র বাহিনী ঝাপায়ে পড়িল সাথে,
অরি অগণ্য ঘিরিয়া ফেলিল তাদের চারিদিক,
‘গুরুজী কা ফতে, গুরুজী কা ফতে’ ডাকিছে, যুঝিছে শিখ।
সাগরের বুকে অধীর তরঙ্গ প্রায়
খালসার দল মিলাইয়া গেল হায়,
কোথা মিলাইল, কোন মহিমার গায় ?
একবার শুধু শেষবার গেল কাপাইয়া দশদিক,
‘গুরুজী কা ফতে, গুরুজী কা ফতে মরিয়া বাঁচিল শিখ !

মায়ের মার প্রণামীল
চাকরী করে ছেলে এল,
হাজার টাকা নিয়ে,
মায়ের পায়ের ধূলা নিল
নােটটা হাতে দিয়ে।
মা বলেন, 'বাছা, তুমি
চিরজীবী হও,
কিন্তু তােমার মা’র প্রণামী
এবার ফিরে লও।
আমার চেয়ে ও আছেন বড়,
তঁাহারে ল ও চিনি,
তোমার মাতা, আমার মাতা,
দশের মাতা তিনি।
তঁাহার গােলা দেশ-বিদেশে,
তঁার মিলে না ভাত,
সে ধনধান্যে সবাই ধন্য,
তারই শূন্য হাত!

চিত্র ও চরিত্র
অতি বন্যায় দেশ যে গেছে,
বাচাও তারে গিয়া,
মায়ের মা’র আজ প্রণামী দাও
হাজার টাকা দিয়া।

সাবাস স্ত্রী!
দীন-দুঃখী কেরাণী এক
চাটুকু ছাড়ি
মলিনমুখে দোষীর মত
এল ফিরে বাড়ী।
অনেকগুলি ছেলে-মেয়ে,
বৃহং পরিবার,
এবার সবার ভাগ্যে শুধু
নিরেট অনাহার !
প্রিয়া শুনে’ বল্লে তারে,
‘এমন কি আঘাতে
চারী ছেড়ে খালাস হলে
গােষ্ঠী মেরে ভাতে ?
কেরাণী কয়, ‘হোঁসের মালিক
বেয়ারার কাণ ধরি’
বলেন, ছােট লােককে শিক্ষা
দিতে হয় এই করি।
বল্লে তখন কেরাণীর স্ত্রী,
‘মাজকে ধন্য হগেম,
বহু পুণ্যে তোমার মত
স্বামী পেয়েছিলেন।

চাষার কলিজ।
মােদের গায়ের একটা নিরেট চাষ',
দেখা হ’ল সেদিন তাহার সাথে,
বঙ্গে আমায়, 'ও বুঝি মণিদা,
শীতকাপড় যা দেখছি মশাইর হাতে ?
আমি বল্লেন, ঠিক ঠাউরেছ বটে,
কিনতে হ’ল কিন্তু বেশী দিয়া,
শীত ত হাজির, তােমার গায়ে এবার,
কাপড় কেন দেখছি না হে, মিঞা?”
চাষী বলে, ভিখারী এক এসে
চাইতেছিল গায়ের কাপড় পানে,
যেই তাহার গায়ে দিলেম তুলে,
খুসীর বানটী ডেকে উঠল প্রাণে।
তিনটি সেলাম রেখে ভূমির 'পরে
বল্লেম, সােণা মাটি, দোয়া কর,
নাই বা জুটল শীতুরী এই শীতে,
তাের রাজ্যে ত রয়েছে কাঠ-খড়!”

ছােট মুখে বড় কথা
বাগানযাত্রী একটি সৌখিন বাবু
বনে, ভাড়া যাবি, গাড়ােয়ান?
সে কহিল, “বাব, কিন্তু আগে
মদের বােতল করুন খা খা !
‘ছোট মুখে কড় কথা!’-বল্লেন বাবু রেগে,
‘ভাড়া যা চা, চল, পাবি তা-ই।
সে কহিল, হাজার টাকা দিলেও
তােমার জায়গা এ গাড়ীতে নাই।
চলন্ত সে গাড়ীর পানে পথিক
চেয়ে রইলেন ক্ষণেক অচপল,
কখন খসে পড়লো হাতের যােত,
উথলে উঠলো কখন চোখে জল!

যুদ্ধ-যাত্রা
জাপের আরও সৈন্য চাই,
জঙ্গী রুষের সঙ্গে যুদ্ধ!
প্রচার হতেই, মানের লাগি
মরতে ক্ষেপলাে দেশটি শুদ্ধ।
শয্যাগত জাপানী এক
ঘৃণা-লজ্জায় রইল মরে,
রণের শিঙ্গা ডাল সবকে,
আমায় গেল হেলা করে ?
একদিন উঠে দাড়াল সে
ঠেলে ফেলে রােগের তাড়া,
একটু আগে চলে’ই, প’ল,
আর দিল না কিন্তু সাড়া ।
শেষনিঃশ্বাসের সাথে ফুটলাে
শে-কথাটি অকারণে,
এবার চল্লেন রণে আমি,
এবার চলেম রণে!

প্রতাপের বিদায়
যশাের, সােণার যশাের।
তোমার চরণ স্মরণ করে
অধম পুত্র তাের।
আশা ছিল, তােমায়, রাণী, সিংহাসন দিব আনি,
পূরলাে না সাপ, হে কল্যাণী,
ভাঙ্গলাে স্বপন-ঘাের,
সােণার স্বদেশ, বিদায় এখন,
ছাড়বাে তােমার ক্রোড়!
শাের, আমার যশাের !
মোগল, চতুর নােগল ।
বঙ্গের বাঘ বন্দী করেছ,
হে খল, পাতিয়া কল,
এৰে মনে মনে করেছ ফন্দি, হবে পােষমানা নতন বনী,
সাধন পরায়ে করিবে সন্ধি,
এতই জয়ের বল ?
এই ত ঢের, যে নারিলাম দিতে
সমুচিত প্রতিফল ।
মােগল, চতুর মােগল!

১২
চিত্র ও চরিত্র
ঈশানী, হায়, মা ঈশানী।
খুজিলাম বৃথা পূজিলাম তােরে,
আর ত তােরে না মানি।
অপরাধ, শ্যাম, যদিই মাের, কেন এ শিরে পল না রে
ন্যায়ের করাল দণ্ড ধাের ?
নিতাম তা স্নেহ জানি।
ডুবাইলি দেশ, মজাইলি জাতি,
কোন্ দোযে, হা পাষাণী?
ঈশানী, করালী ঈশানী !
মূষিক, ঘরের মূবিক,
পরেরে সঁপিয়া আপনার দেশ
কলঙ্কে ভরিলি দি।
দেশরাজার ভক্ত ভূত,
রাজদ্রোহী জানিয়া নিত্য
একদা তােদের প্রায়শ্চিত্ত
করিবে জানিস্ ঠিক,
সব অবমানে সকলের আগে
দিবে তারা কুলে ধিক্‌ ।
মুষিক, ঘরের মূষিক?
বিদায়, স্বদেশ, বিদায়।
দিল্লীর পথে, আশীৰ্বাদ কর,

প্রতাপের বিদায়
যেন এ জীবন যায় ।
বন্দী প্রতাপ মরণে ফুল,
ভেটিবে শত্রু বিজয়ী তুল্য,
বিকাইবে তাই আয়ু অমূল্য
পথের ধূলির প্রায়,
কোটি প্রাণে ফিরে আসি যেন।-এবে
বেঁচে কে মরিতে চায়?
বিদায়, স্বদেশ, বিদায় !

খামাসাধন
‘পূজা আলেম, পূজা আলেম,
ও পূজারী, দুয়ার খােল,
বল্লেন একটা ভক্ত এসে,
মায়ের পূজার সময় হল।
দেউলে কচি কিরণ তখন
এমন ভাবেই পড়েছে,
যেন উচু চূড়াটী তার
কাচা সোণায় গড়েছে।
নিকটে নীল তমালবনে
ভাের গাহিছে ভােরের পাখী,
উঠান-ভরা যুথির রাশি
মেছে অলস অবশ আঁখি।
দুয়ার খুলে বাহির হলেন
দেবীমঠের সাধু সেবক,
গৈরিক, রুদ্রাক্ষ পরা,
সৌম্যমুর্তি নবযুবক।

শ্যামাসাধনা
স্নিগ্ধ গৌর পুষ্ট দেহ
প্রাতঃস্নানের দীপ্তিমাখা,
প্রতিভালােক খেলে চোখে,
মুখে প্রসন্নতা আঁকা।
মধুর স্বরে তিনি
গভীর
কহিলেন সেই অভ্যাগতে,
‘পুরাণপন্থী, যাত্রা এবার
নূতন পথে, নূতন মতে।
ফিরে নে যাও পূজা, ভক্ত,
স্যামসাধন, শক্ত বুঝ,
মৃন্ময়ীরে পূজা দিলে,
চিন্ময়ী পান তবে পূজা :

বাঙ্গালীর অন্তঃপুর
গরিব-ঘরের একটি বধূ
বল্লে স্বামী দেশে এলে,
‘পাঠালে যে দুশাে টাকা
দিয়েছি তা জালে ফেলে।
স্বামী বল্লেন ‘গেলে নাকি ?
দুটো টাকা জমান কষ্ট,
দুশাে টাকা একটি দমে
করে ফেলে অনি নষ্ট।
স্ত্রী কহিল, চারুর ভিট
নিলেন কচ্ছে পাওনাদার,
দুশাে টাকা দিয়ে রাখলাম
দেশে একটি পরিবার।
স্বামী বল্লেন, টিকে আছি
আছ বলে’, পুণ্যময়ী,
তােমরা কচ্ছ ভাঁড়ার ভত্তি,
আমরা গাধার বােঝা বই।

বাহবা মা
জাপানী যুবক ভগ্ন হৃদয়ে
মাতার নিকট জানাল দুখে,
‘সরকার মােরে করিলা নিরাশ
রণক্ষেত্রের মরণ-সুখে।
মাতা কহিলেন, কোন্ অপরাধে
কঠোর আদেশ তােমার প্রতি ?
‘একা দেকলে মাকে যাইতে নিষেধ।
পুত্র কহিল বিষাদে অতি।
শুনিয়া জননী কহিলেন হাসি,
‘করিতে হবে না ভাবনা, ও রে,
যেরূপেই পারি, পাঠাব ত্বরায়
যশের সভায়, পুত্র তােরে”
পুত্র কহিল, মিছে সাধা-কঁাদা,
হবে না উপায়, হবে না আর।
মাতা কহিলেন, কৰ্ত্তব্য যা চায়
জিরায় সে দাবী সাধ্য কার ?
পরদিন ছেলে মা’র মৃতদেহ
দেখিল, বিরাজে দেবতাবৎ!
অক্ষম পত্রে দিলেন মা করে
স্বজাতির-ঋণ শোধের পথ।

দুই ভাই ।
মণি হেরে গেল বিলেত আপীল,
ডিক্রি পাইল ফণী,
এক ভাই হল পথের কাঙ্গাল,
এক ভাই হ’ল ধনী।
দু’বছর গেছে, দুই ভাগ্নে আয়
মুখ-দেখাদেখি নাই,
পরের অধিক হয়েছে এখন
মায়ের পেটের ভাই।
সেদিন সহসা কি ভাবিয়া ফণী
আসিল মণির কাছে,
তখন ভোরের ফুলের গন্ধ
ফুটিতেছে গাছে গাছে।
ফণী কহে, ভাই, দেখিনু শিয়রে
মৃন্ময়ী শ্যামা বসি
চিন্ময়ীর মত ভীমা-ধক ধক,
চোখে জ্বলা, করে অসি!

দুই ভাই
কহিলা,-দু’ভায়ে মিলে না যখন,
দশের মিলন ফাঁকি,
আপনারে লয়ে এমন মাতিলে,
সুধায় কে পরে ডাকি ?
গেলেন মিলায়ে জননী, শিহরি
দেখিনু নয়ন মেলি,
ভােরের কিরণ ডাকিছে তখন
দুয়ার নীরবে ঠেলি'।
এসেছি, ভাই রে, জানাইতে এবে,
অর্ধ-বিষয় তােরে
দিব ফিরাইয়া, গ্রহণ করিস
যদি তুই দয়া করে।
বহুক্ষণ ধরে বুকে বুকে দোহে
রহিলা বন্দী হয়ে,
মায়ের করুণা দুইটা হৃদয়ে
নীরবে চলিল বয়ে ।

অতুলন সাত শত।
ভয়হারা সাত শত।
রক্ত পতাকা উর্ধে তুলিয়া
দাড়াল জাপের মত,
অতুলন সাত শত।
ছোট পােত ঘন দোলে।
ঘিরিয়া তাহারে ক্ষিপ্ত সাগর
গরজে অট্ট রােলে ।
ছােট পােত তাহে দোলে।
অরাতি ফেলেছে ঘিরে!
কষীয় সেনানী বহু বল লয়ে
এ আসীয় বাহিনীরে,
সহসা ফেলিলা ঘিরে।
হে সাহসী বীরগণ!
কহিল শক্র মুগ্ধ, করে।
আত্মসমর্পণ,
হে অতুল বীরগণ!

অতুলন সাত শত
এল উত্তর তার!
টিল সাত শ বন্দুকে সেই
অগ্নির সমাচার,
দ্রুত উত্তর তার।
বাজাই’! বানাই।
সাত শ পরাণে একটা ছন্দ,
মরণে শঙ্কা নাই।
‘বাঞ্জাই’ ! '
বাঙ্গাই’!
সাত শত মহাবীরে !
"আহত তরণী লইল অতলে
ভয়াল করাল নারে,
সাত শ আসীয় বীরে।
সাত শ দেবতা তরে!
মরণ রচিল অমর সমাধি
নালের নিবিড় স্তরে,
সাত শ দেবতা তরে!
বুকের রক্তে লেখা!
রহিল একটী স্বদেশ-ভক্তি
যায় নি যা কোথা দেখা,
সলিলে রহিল লেখা ?

কলঙ্কিনী-রাণী ও রাজা-চোর
‘আমার চিতাের, আমার চিতাের ।
আকবর্ সা কাড়তে এল, হবে এ তার গাের।
—উদয়সিংহের সেবাদাসী
সেনা চালায় রণে আসি ।
বলে, পূজা ফিরাবি মা, পতিত মেয়ের ভাের ?
মরণে কার নাই অধিকার ? চিতাের, আমার চিতাের।
‘আমার চিতাের, আমার চিতাের ।
পুণ্য স্তন্যঋণ শােধবার পালা এবার মাের।
বীরনারীর পরাক্রমে
হটলাে মােগল ক্রমে ক্রমে,
ভারতরাজের সাধের বাজি হয় বা কেঁদে ভাের ?
চিতাের চির বীরধাত্রী, দাসী ত নয় চিতাের।
‘আমার চিতাের, আমার চিতাের !
জয়ধ্বনি কণ্ঠে কণ্ঠে লাগলাে হ’তে জোর ।
বাদশা ধরা পড়ার ভয়ে
দিলেন ভঙ্গ সেনা লয়ে,
দিতে গিয়ে, নিতে হয় বা গলায় ফাঁসীর ভোর !
শুনলেন,ক্ৰমে ক্ষীণ,ক্ষীণতর, চিতোর, আনাৰ চিতাের

কষ্কিন-রাণী ও রাজা-চোর
.
‘আমার চিতাের, আমার চিতাের।
বাহবা নারী! সাবাস বড়াই! আচ্ছা লড়াই ঘাের।
চারণ-কবি তুলে মাথা
গাইলে সেদিন বীরগাথা,
শুলে তাহ, শিখলে তাহা বীরের ভূমি চিতাের,
উচ্চ কলঙ্কিনী রাণী ! তুচ্ছ রাজা চোর!

সাচ্চা পান্না
পান্না ত নয় শুধু ধাত্রী,
পান্না নারীজাতির রাণী,
মেবারের মুখ উজল করে’
গিয়েছে সে রাজপুতানী ।
রাজা যখন হলেন গত,
রাজার পুত্র নেহাৎ বাক,
রাজ্য চালায় বনবীর,
রক্ষক শেষ হ’ল ভক্ষক ।
রাজার মরণ-সমাচার
ওলে পান্না যখন দুখে,
ভাবলে,-এবার খুনীর ছুরী
পড়বে রাজার ছেলের বুকে।
বল্লে চেয়ে উদ্ধ’ পানে,
মেবার, তােমার ভাবী-রাজার
আমার হাতে মানুষ হতে
তুমিই দিয়েছিলে ভার।

সাচ্চা পানামা তােমার কাছে বিশ্বাস তার প্রাণপণে আজ রাখবে দাসী, রাজার রাজ্য দ্য পাবে, প্রভুপুত্রের জীবন নাশি ? বিশ্বস্ত এক লােকের হাতে সরা’ল সে রাজকুমারে, খুনীর ছুরী প্রতীক্ষিয় রইল জেগে নিজ আগারে। এল ছুটে ক্ষ্যাপার মত রাজপুতাধম বনবীর, বল্লে, পাত্রী, চায় এ অসি শুধু একটা শিশুর শির! পান্নার মনে এল হঠাৎ- সিংহশিশুর অন্তর্ধান জানলে, বিশ্ব খুজে ব্যাব কর্বে তাহার রক্ত পান ! —দেখিয়ে সুপ্ত আপন পুত্রে, দেখলাে অবিকৃত মুখে শিশুর শােণিতলােভী ছুরী বিলাে তারই শিশুর বুকে।

চিত্র ও চরিত্র
পান্নার মুখ নির্বিকার,
ফাটছে বুক বজ্রাঘাতে !
কে, তার শ্যামল মাতৃপাণি
রাখলেন স্নেহে ধাত্রী মাথে।

পতিত মেয়ের পূজা।
বিকিয়ে মােহন বেশ আর চাচর কেশের রাশি,
কলঙ্কিনী ভাবলে,-হ’ব প্লেগ-ওয়ার্ডের দাসী ।
শেষ সম্বল বিলিয়ে দিয়ে
বাহির হ’ল পথে গিয়ে,
কেউ ফিরাল মুখ, কেউ বা হাসলে তারে চিনি,
কালের আদরিণী, আজ পথের ভিখারিণী।
দেবতা তারে নিলেন ডেকে, অনাদৃতার শিরে
বরাভয়ের পদ্ম-পাণি রাখলেন ধীরে ধীরে।
বল্লেনমেছে কাণে কাণে,
‘তুষ্ট হলেম তােমার দানে,
সতী মেয়ের পাশে তুলে পতিত মেয়ে তোরে,
রাখলেম আমার চিরদিনের ভক্ত দাসী করে।

পণের বদলে শুভ পণ ।
পণ নিব দশ হাজার,
এ যে কর কুল-রাজার!
কবো যেরূপ ঘটা, কিছু না এ টাকা ক’টা!
ক্রেতা যেরূপ কড়, তাতে বেজায় চড়া বাজার!
তাই ত এবার নেব ফুকে’ ঠিক দশটা হাজার ।
শুনে এম-এ পাশ পাত্র
কইল না কথা মাত্র,
মনে মনে আঁটলে পণ, দিবে না নিতে পিতার পণ,
কৌশলে কিসে মানাবে, তাই ভাবলে সে সারা রাত্র,
গরীবের সেই পরাণ-ভুলানাে দামী নামী ভাবী-পাত্র।
একদা সহর ছাড়ি
পিতারে সে লয়ে বাড়ী
এল বেড়াবার ছলে,
কত দিন গেছে চলে।
পল্লীর শােভা বুড়ার হৃদয় একেবারে নিল কাড়ি,
পুত্রেরে লয়ে পল্লীর পথে বাহিরিলা গৃহ ছাড়ি।

পণের বদলে শুভ পণ
-
‘বিশ বর্ষ আগেকার
সে পল্লী কি আছে আর?'-
কহিল বুড়ারে আসি বাল্যসাথী এক চাষী,
‘হা অন্ন ! হা অন্ন ! ঘরে ঘরে আজ পড়ে গেছে হাহাকার,
রােগে শােকে দহি সােণার পল্লী হয়ে গেছে ছারখার।”
তখন তিমির স্তুপে
রবি লুকাইছে চুপে !
বুড়া দেখিলেন মাঠে-
ভিখারিণী এক হাঁটে,
উবৃত্তি রাঙ্গীর আজ!-দেখিলা বিষাদে চুপে,
উঠিল। কাদিয়া, ‘হায় মা সুফলা, দেখ দিলি এ কি রূপে?”
কহে অশ্রু মুছি ত্বরা,
‘নিৰ্বাসিত-দিল ধরা ?
এ কি তার খেলা-ঘর ?
নাই আs bালে খই,
গৃহে ধান নাই, দেহে প্রাণ নাই, বেঁচে আছে ক’টি মরা ।
ধিক্ এ ঘটা! ধিক্ এ পণ! ফকীরে ভিখারী কর

সোণার ছাই!
ভূষণার সীতারাম ।
ভুবন ভরিয়া রটিল। একদা
অপম বাঙ্গালী-নাম,
ভূণার সীতারাম।
গুনিয়া অরাতিদল
সোণার রাজ্য করিতে ভস্ম
জলিল সমরানল,
নিৰ্ম্মম অরিদল !
ভূষণা দিল রে ঝাপ !
দেশ, বিদেশের দেখিল সবাই
বিস্ময়ে সে বীরদাপ,
আগুনে দিল রে ঝাঁপ ।
নিবিল অগ্নি যবে,
সোণা হয়ে গেল আদি-ইতিহাস
জয়-দীপ্ত পরাভবে,
ভুষণার সে গৌরবে।

সােণার ছাই
সােণা-ছাই ল’য়ে ঘরে
বাঙ্গালী রাখিল সে দেবপ্রসাদ
দশের পূজার তরে।
সােণা-ছাই আছে ববে।

রাজার রাজা সহায়
কলেরায় ও পাড়া উজাড় ।
মা ছেলেকে বলে,
ও পাড়ায় আর যানে, যাদু,
মন যে নাহি চলে ।
ঘরে ঘরে দুয়ার বন্ধ,
যে যার আপন বঁাচায়-
আপনার জন ছেড়ে সবাই
বিদেশে আজ পলায়!
ছেলে কহে, বিবেকের মান
বজায় রাখতে হলে,
আত্মপর না করে বিচার
টানতে হবে কোলে।
যারা খালি আপন বাঁচায়,
তারাই রােগী আতুর,
পরের মােঝ যে নেয় কঁাধে,
সেই ত বাহাদুর!

রাজার রাজা সহায়
কি ভয়? আজ যে রাজার রাজা
আছেন খাড়া পাছে,
জোর হুকুম তার, সবার পরে
আগেই জারী আছে!
মা কহিলেন, “বাছা, তােরে
আর করি না বারণ,
হাজার রাজা দাড়িয়ে পাছে
তিনি আৰ্ত্তেৰ তারণ।

প্রাণের বাড়া মান
জরােয়ারে কহে ওয়াজির খা,
‘বালক, নোয়াও শির!
রহে নির্ভীক অটল তেমনই
শিখের কিশাের বীর।
কহে, আপনার ধর্ম আর
সেই ধৰ্ম্মরাজে জানি,
শুধু মাের মাথা হয় সেথা নত,
আর কারে নাহি মানি।
ত.
ওয়াজির ডাকে, কাফেরর শির
নে জল্লাদ, এই বেলা,
হাসিয়া কিশাের কহিল, “দন্তী,
মৃত্যু শিখের খেলা ।
এই প্রাণ গেলে কিছু নাহি হবে,
মান গেলে দেশ যাবে,
হামার মরণে সারা পাঞ্জাব
নবীন জীবন পাবে।

বিড়িওয়ালা
বিড়িওয়ালা দু’শ টাকা নিয়ে
ফেমি-ফণ্ডের দ্বারে এসে হাজির,
সবাই বলে, ‘বাহবা তাের দান,
আদত দেশহিত তুই-ই কল্পি জাহির !”
সে কহিল, ধন্য নই গাে কভু,
ঘৃণায় মরি আগের কথা স্মরে,
ছিলাম ঝুট। পথের পকেট-কাটা,
খেটে খাই আজ খাটি ব্যবসা করে।
মায়ের ভাঁড়ার লুটে ছাড়লে যেদিন,
হাজার দুয়ার খুল্পে হাজার দিকে,
দশের সাথে মায়ের মায়াঘরের
প্রবেশমন্ত্র আমিও নিলেম শিখে !
যাহার অয়ে আজকে ধন্ত দাস,
তঁার তা দিয়ে তারেই দিব এবােধ,
এ ত নয় গাে দক্ষিণা কি দান,
এ যে গুরু ঋণের ক্ষুদ্র শােধ

মরণ না বাঁচন
তরু সিং পল ধরা!
মােগলেরা তারে বাঁধিয়া চলিল
লাহােরের পথে ত্বরা।
তরু সিং প’ল ধরা।
হাজার হাজার শিখ
ধাইল ভক্তে করিতে মুক্ত,
মােগলেরে দিয়ে ধিক্‌,
হাজার হাজার শিখ।
তরু সিং কি কয়,
‘ভাই সব, ফিরে যাও নিজ ঘরে,
মাের লাগি নাহি ভয়,
এ জয় ত নয় জয় ।
কি হবে এ প্রাণ গেলে ?
একটা পরাণ কে চায় রাখিতে
দশের জীবন চেলে।
কি হবে এ প্রাণ গেলে ?

মরণ না বঁাচন
৬৭
ধন্য ধ্বনিছে সবে!
“হে ত্যাগী, মৃত্যু অমর করিতে
ডাকে তােমা গৌরবে।
জয় দিয়ে গেল সবে।
বাশার কাছে আসি
কহে তরু সিং, ‘মানের বদলে
সন্ধি ভাল না বাসি,
প্রাণ চাও, দিব হাসি।

সরসােক্তি
বুট জোড়াটা বুরুস্ কর্তে
বাবু ডাকলেন চামার,
-সে কহিল, ‘সেলাম বাবু,
এ কাজ আর নয় আশার !
বাবু কন, ‘বেটা মুচি না ত,
শায়েস্তা খাঁ নবাব !
‘কই চামড়া ছেড়ে
খাচ্ছি মাংসের কবাব !
মুচি কয়,
ছােট জাতকে চেপে নিংড়ে
রসটা কতে বাহির
হিন্দুয়ানীর ধুয়া বাবু
সভায় কল্লে জাহির।
ঠুনকো জাত চুলেই ভাঙ্গবে
দূর থেকেই তাই বিদায় !
আমরা যে সব খরচ লেখা
কলি যুগের খাতায় !

স লাল হাে যা গা
‘সব হয়ে যাবে লাল!”
কহে পঞ্জাবকেশরী,-দেখি,
জটিল ভারত-ভাল,
সব হয়ে যাবে লাল।
'আমার খালা সেনা !
'আলসে-বিলাসে এতই মজিবে,
যাবে না তাদের চেনা,
অজেয় খাসা সেনা !
এমন মহান্ জাতি !
দেখা দিবে তাহে স্বদেশদ্রোহী,
প্রতুবিশ্বাসঘাতী।
লুটাবে এ মহা জাতি।
হে মাের সাধনভূমি।
সাগর-পারের স্নেহের নিষেকে
আবার বাঁচিবে তুমি !
আমার সাধনভূমি !

চিত্র ও চরিত্র
একদা তামসী রাতে।
পড়িবে ন্যায়ের অমােঘ দণ্ড
পতিত জাতির মাথে,
ভীষণ তামসী রাতে।
শুভ পরিণাম তরে ।
আপনি বিধাতা অযােগ্যে লয়ে
দিবেন যােগ্য করে,
মহামঙ্গল তরে।
এই ভেবে সুখে আছি ।
আমি তাের মান রেখেছি, রাখিব,
যতদিন প্রাণে বাঁচি।
তাই আজ সুখে আছি।

হলদিঘাটার ইন্ধন
‘দীন দীন’ ডুবিয়ে উঠল ‘হর হর’ রব,
বাবর বাদশা অবাক দেখে এমন পরাভব,
সংগ্ৰামসিং মহারাণা,
বলছেন আজ রাজপুতন
হবে রক্তে নদী, যে তক না হই সবাই শব,
পিছু হটে মরা, করা জাতির অগৌরব।”
বাবর বলে, ‘মন্ত্রী, ক’টি ভুট্টার তরে আজ,
মরুর দেশে এলাম কেন হারাতে মাের রাজ ?
হঠাৎ শুনে বিবেক-বাণী,
নতজানু, মাথাখানি
নুইয়ে বলেন, যে যেখানে, ব’স ধূলি মাঝ,
প্রাণ ভরে আজ কর সবাই সৰ্ব্ব-শেষের নেমা।
উঠল যখন নেমাজ সেরে কি এক তেজে বলী,
রাজপুতের বিরাট ব্যুহ গেল তাতে টলি’!
রক্তে রাঙ্গা ভাঙ্গাল
পুড়িয়ে দিয়ে গেল মােগল,
সেই কালানল পুষে রাখল বুকে আরাবলি,
একদিন তাই উঠল হঠাৎ হলদিঘাটে জলি।

হলদিঘাটার ঋণ !
মেবার, আমার মেবার !
হদিঘাটায় জ্বালিয়ে এলাম শ্মশান-বাতি তােমার ?
ভেদি আরাবলীর জঙ্ঘা,
বেরিয়ে এলি রক্ত-গঙ্গা,
কই হ’ল পতিত-চিতাের অভিশাপে পার?
সারা বিশ্বের সােণার কাঠি, জনমমাটী আমার ।
যুগের আশা পুড়িয়ে এলাম কালের চিতায় এবার,
বসাতে মা, তােমায় তক্তে, হোরি খেল্লাম বুকের রক্তে,
ভিজলল না ত মরুর বালি ধূলা মাখাই সার,
সারা বিশ্বের সােণর কাঠি, জনমমাটী আমার ।
বাদশার পক্ষ লক্ষ লক্ষ, আমার তরবার!
মুকুটধারী এ ভিখারী তােমার লাগিই বনচারী,
ভাঙ্গা বুকের রাজা সাধন ছাড়ছে হুহুঙ্কার !
সারা বিশ্বের সােণার কাঠি, জনমমাটী আমার।
মেবার, আমার মেবার !
তাের জনারের পােড়া রুটি স্নেহের উপহার।
জগৎমাতার নামের আগে, তােমার নাম মা, প্রাণে জাগে,
সে জীবানু ধরিয়ে যাবে শবকে হাতিয়ার।
সারা বিশ্বের সােণার কাঠি জনম-মাটী আমার ।

হলদিঘাটার ইন্ধন
e
#
A
মেবার, আমার মেবার !
একর রক্তে জীবন পাবে হাজার ভক্ত তােমার।
উ: ৫ জাতির শ্মশান থেকে, কত প্রতাপ ‘জয় মা ডেকে,
চুকিয়ে দিয়ে যাবে আজের দিঘাটার ধার।
সারা বিশ্বের সােণর কাঠি জনম-মা আমার।

হলদিঘাটার
প্রায়শ্চিত্ত ।
‘নীলা ঘােড়ার সওয়ার,
হো নীলা ঘােড়ার সওয়ার!
হেরে হদিঘাটার রণে, যাচ্ছেন প্রতাপ ভগ্নমনে,
পেছন থেকে কে ডাকে এই
‘নীলা ঘােড়ার সওয়ার ?
দেখলেন প্রতাপ পিছে আসে, শক্ত রক্ত-আঁখি,
অসিহাতে ছুটিয়ে ঘােড় ‘ফেরাে’ বলছে ডাকি।
ফিরিয়ে ঘােড়া বল্লেন প্রতাপ ‘এস এস ও ভাই,
ঘুরিয়ে রক্তমাখা কৃপাণ শক্ত বলে ‘চাই তৰ প্ৰ'
প্রতিহিংসা! প্রতিহিংসা! তােমার রক্ত চাই।
বল্লেন প্রতাপ, শক্ত করে ধর শক্ত, অসি,
যুদ্ধ নয় হে মােসাহেবী মােগলসভায় বসি।
শক্ত বলে তুমি সামাল, দিলে যে তাপ আছে মনে,
মাজার ছেলে তােমার তরে পরের দ্বারে ভিক্ষা করে,
প্রতাপ বলে এই ত সুযােগ, কথা কেন অকারণে ?

হলদিঘাটার প্রায়শ্চিত্ত
শক্ত বলে, ‘চল তবে, প্রান্তর দিয়ে পাড়ি,
নিজের রাস্তা করব, নয় ত তােমায় দেবো ছাড়ি।
কিছু দূরে যেতে শক্ত বলে, এই দিক দেখ, দাদা,
দেখছেন প্রতাপ হয়ে নত পথে দুটি মােগল ইত,
তাজা রক্তে রাঙ্গা উষ্ণীষ শিরে সদ্য বাধা।
প্রতাপ বল্লেন, এর মানে ত হচ্ছে না মাের বােধ !”
শক্ত বলে “দাদা, এই ত আমার প্রতিশােধ।

উৎসাহী ও বুদ্ধির টেকী
বল্লেন একটী বুদ্ধির টেকী
উৎসাহীরে, কেমন চঁাদ,
বাঙ্গলার ধাতে ব্যবসা জমে ?
ভাঙ্গন মানে বালির বাঁধ ?
কল-কারখানায় ফেস-ফেসানী-
দন্তভাঙ্গা সাপের বড়াই,
ফাঁকা আওয়াজ গেছে উড়ে,
তাল সাম্লাতে একটীও নাই।
পাণ্ডারা সব ঠাণ্ডায় গােন,
আমি একটি বহুদর্শক,
এই ত গুণের ওঝা তােমরা,
শবকে দিচ্ছ সুরার আরক।
উৎসাহী কয়, দোষ কি তােমার ?
মৃত জাতির এই ত ধরণ,
বরের সুধায় কার আসে,
মিষ্টি পরের নিষ্টিবন।

উৎসাহ ও বুদ্ধির পেঁকি
৭৭
ন
সাধন-অঙ্কুর শুকিয়ে গেছে,
ওটা তােমার মস্ত ভুল!
বা’র ছেড়ে তা ভেতর দিকে
মেলছে ক্ৰমে গভীর মূল ।
হাঁক-ডাক সব জমাট লাগি,
জলে, তা আর যায় কি শােনা ?
যতই আগুন লাগছে গায়ে,
ততই খাটি হচ্ছে সােণা।
অন্ধ, বিপথ ছাড়, চল,
দেখবে মায়ের কর্মশালা,
বাজছে ঘন জয় ঘণ্টা,
এবার, যাত্রী, তােমার পালা।

কাটা-হাতের জ্বলুনি
জাহাজে জাহাজে বাধায়ে যুদ্ধ
পাগল তরল নীলের রাশি
আসীয়ে-রুষীয়ে মায়ে চেয়ে
হাসিতে লাগিল প্রলয়-হাসি।
পড়ি শত্রুর আগ্নেয় গােল
জাপানী জাহাজে, হইল চূর্ণ,
দ্বিখণ্ড করি ফেলিল একটী
নাবিক-সেনার হস্ত, তূর্ণ।
ভ্রুক্ষেপ না করি আসীয় বীর
যুঝিতে লাগিল ক্ষ্যাপার প্রায়,
কহিল পাশের সঙ্গীটি, ভাই,
ডান হাত তব কোথায় হায় !
ছিন্ন হাতটা কুড়ায়ে আহত
কহিল, এ ক্ষতি গণিত কে বা :
কাটা-হাত জ্বলে এই খেদে,—এবে
এক হাতে হবে দশের সেবা

কাটা-হাতের জ্বলুনি
এত বলি, সেই ছিন্ন হস্ত
ছুড়িয়া ফেলিল অতল-তলে,
‘বান্জাই ! বলে দ্বিগুণােৎসাহে
ঝাঁপ দিল ঘাের সমরানলে।

খোড়া পায়ের দৌড়
খ একটী সাত দিনের পথ হেঁটে
এসেছে চলে তাহার খোড়-পর,
পুজি লয়ে অনাথাশ্রম খুজি
দাঁড়ায়ে মের সদর দরজায় !
–
আমি ছিলাম অন্তঃপুরে তখন,
চাকর খবর দিয়ে গেল এসে,
বাইরে যেতেই, সে তার ক্ষুদ্র থলি
বাহির কলে,দেখে বল্লেম হেসে,
অনাথ নয়, এটা সনাথ বাড়ী,
কিন্তু আতুর, হবে বতে মােরে,-
কার কথাতে কষ্টের পুজি দিতে
এসেছ আজ এই কষ্টটা করে?
সে কহিল একটু মিষ্টি হেসে,
তীর্থের টান সবার প্রাণেই আছে,
পথের কষ্ট গায় লাগে কি তখন,
দেবদর্শনে মনটা যখন নাচে?

গোড়। পায়ের দৌড়
আমি বমে, আমায় কোল দিয়ে
ধন্য কর্নে হবেই হবে ভাই,
লিখে-পড়ে’ পদের বড়াই করি,
খোড়া-পায়ের বণও দু’পায় নাই।

বন্দির সন্ধি।
শকৃত বীর দলে
এলেন এক রােমীয় নব্য
সুদূর বিদেশ, তিনি দেশের
মন্ত্রীসভার বিশেষ সভ্য।
শর্জ তারে দেখা’ণ লােভ,
‘ছাড়তে পারি তােমায়, বদী,
যদি ঘটাও দেশে গিয়ে
মােদের মনের মত সন্ধি।
রোমীয় কন, শৃঙ্খলের ভার
এতই গুরু, যাহার তরে
বিবেকটারে বিকিয়ে যাব
তোদের হাতে অকাতরে ?
তবু শত্রু কোন্ দুরাশায়
বলে, তবে কর স্বীকার,-
সন্ধি যদি না হয়, বন্দী,
কারাগারে ফিবে আবার?

চিত্র ও চরিত্র
বুক মেনে এলেন দেশে।
-ফিরলেন অঙ্গীকারের তরে,
বল্লেন, সন্ধির অন্তরায়
ছিলাম আমিই সর্বোপরে।
চলো পীড়ন-তিনি বলতেন,
‘লােক ইরা পরিপাটা,
এদের কৃপায় জন্মের শােধ
দেখলাম আবার জন্মমাটি।

শোকে সান্ত্বনা
ওরে আমার সােনার চাদ,
ওরে আমাৰ মাণিক,
বিশ্ব আধার হত তােরে
হারালে যে খানিক।
ওরে আমার হৃদপিঞ্জরের
পােষা প্রাণের পাখী,
মায়ের বুকটা খালি করে
দিলি এমন ফাঁকি।
নারীর কণ্ঠে উঠতে লাগলো
যখন আৰ্ত্ত ধ্বনি,
প্রতিবেশী বৃদ্ধ এসে
বল্লেন ‘মা জননী,
হাজার প্রাণে সীবিত
আজ যে তোমার ছেলে।
উঠছে সে দেশের মাথায়
মরণেরে ঠেলে !

শােকে সান্ত্বনা
ম্যর হতে যাচ্ছিল, মা,
পাড়ার প্রাণ মান,
সে মরে কি, যে দেয় বলি
পরের লাগি প্রাণ?
আমার ঘরে তারই জোড়া
আছে এক রতন,
ওই কোলে মা দেব তুলে,
তারে জন্মের মতন!
কিন্তু যদি আসে সুযােগ
খাটবে সেও পালা,
বিশ্ব মােদের দেবায়ন,
নয় ও রঙ্গশালা।

আগুনে হাত
য:ধীনতার লীলাভূমি
সভ্যতার সেই আদি আবাস,
রোম যখন আপন দেশে
করূতেছিল দুঃখের প্রবাস,
=
রােমীয় এক যুবা-নেতা
পড়লেন ধরা শত্রু-করে,
আলাে তারা দরবারে ঠায়
বিচার-ছলে শাজার তরে।
শক্রদলের মাঝে বন্দী
দাঁড়ায় সােজা উঁচু-মাথায়,
দেখে তার সেই অটলমূৰ্ত্তি,
পলক নাই সব অাঁখিপাতায়।
লােভে যখন টলো না সে,
বিচারক কন কক্ষ স্বরে,
‘
জিব। তোমার পােড়াব আজ
মন্ত্রণা না ভাঙ্গলে পরে!

আগুনে হাত
হ’ল উত্তর, হা রে মূখ,
বিবেক নিয়ে পরিহাস,
আগুন মােদের খেলার জিনিস,
দুঃখ মােদের পায়ের দাস।
—ডান হাতটি অনায়াসে
ধরুলাে দীপ্ত শাল মাঝে,
জয়গর্বের হাসি মুখে !
ঐ অধােবদন লাজে ।

মা ও
মেয়ে।
‘দাদা কোথায় গেল, মাগাে, দাদা কোথায় গেল?
মধার পক্ষ গিয়ে এবার চাঁদের পক্ষ এল।
গল্প বলে রতন পাড়ে,
সারস জলে পালক ঝড়ে,
চোখটা খালি ভরে উঠে, বুকটা কেমন করে,
ঘুমের ঘােরে স্বপন দেখি,-দাদা আসছে ঘরে ।
বিন্নির খৈ, নুতন গুড়,-মুড়কি করে কে?
খেতে বসে’ পালাই কেঁদে পাতে ভাত রেখে।
নাই সে আকাশ বালা-ছাওয়া,
বয় শরতের মাতলা হাওয়া,
বাঁশের ঝাড়ে আগুন দিয়ে চাদ উঠে ঐ এল,
দাদা কোথায় গেল, মাগো, দাদা কোথায় গেল?
মা বল্লেন, দ্যাখ, ঐ যে মাঠের পরে মাঠ,
জানি কার সে সরিৎ-ঘেরা হরিৎ রাজ্যপাট ?
তারই গােলার সােণা-ধানে,
তারই নদীর সুধাপানে
মানুষ তােরা, বলি পড়তে সেই দেবতার পায়ে,
দাদা তোর এই গায়ের পূজা দিতে গেছে মায়ে।

মা ও মেয়ে
বায়ে দেশ শেষ, পথে পচাগন্ধ মড়ায়,
শিশু রােগী ফেলে ভাইটী ভয়ে পালিয়ে পার ।
বােীরে রাত জেগে খালি
সেবা কল পরাণ ঢালি,
তার বসও নিয়ে মিশলো যে বসন্তের গায়,
তার অবব এই বুকটা চিরে পাষাণ করে মা’য়।

তিনশই তিন লাখ
লাখে লাখে পারসীক।
তাহাদের গতি রােধিয়া দাড়াল
শুধু তিন শত গ্রীক ।
লাখে লাখে পারসীক।
এ কি বিধাতার কল।
তিন শত বীর দিল যে হটায়ে
অগণ্য অরিদল,
ক্ষুদ্রের এ কি বল ।
গ্রীসের বিজয়ী সেনা।
বাজাইয়া তুরি প্রবেশিল পুরী,
নাহি যায় ভাল চেনা,
জীবিত কয়টী সেনা !
আগে কার-কয় সবে-
পূজা দিবে দেশ ?-কে সে জয়দাতা ।
সেনানী কহিল—তবে,
পূজারীরই পূজা হবে!

সারা দেশের হৃদপিণ্ড
সারা দেশের মহামিলন সভা
রাজধানীর খােল মাঠে বৈঠক,
ওজন দরে টিকেট প্রেম বিকায়,
দেশের পাঁচ প্রাণ গণ্ডীর বাইরে আটক!
সাহিত্যিকে রাজনৈতিকে আজ
মিটে যাবে সখের দলাদলি,
মাদার টিংচার বিলিষ্টারে কযে’
মনে প্রাণে ধরবে গলাগলি!
চাপকান আর গাউনের জাতিভেদ
ছটা ইবে ফেলে একটা ছাঁচে,
অশ্বযানকে জাতে তুলে মােটর
টাবে একেবারে বুকের কাছে ।
সব ধম্মের হবে সমন্বয়,
সব মতের হবে সমাহার,
সভাপতি হাত পা মুখ নেড়ে
করতালি নিচ্ছেন বার বার।

চিত্র ও চরিত্র
এমন সময় ডিঙ্গিয়ে কাটার বেড়া
এল আদুল গায়ে রুক্ষ চুলে
সভ্যদলের ভিড়ে এক অসভ্য
বকটী যেন হংস মধ্যে ভুলে !
।
মার্ট সভার রসভঙ্গ করি
সভাপতির কাছে পৌছল গিয়ে,
হোড়া চোড়া প্রতিনিধি দল
বসে যেথায় কেদারা ঠেস্ দিয়ে ।
নানাগলায় ‘পাগল পাগ’ রবে
সভার মাঝে উঠলাে ভারি গােল,
গলাধাক্কায় হল্লার পরিণতি,
রুখে দাঁড়িয়ে বল্লে, সেয়ান পাগল !-
‘সারা দেশের হৃদপিণ্ডটা পড়ে
দেশের
বেড়ার ঝইরে করুকু ধু ধুক,
তােমরা গাও সাম্যনীতির জয়
গায়ের জোরে চড়ে যতটুক!

কবিবর শ্রীযুক্ত প্রমথনাথ রায়চৌধুরী প্রণীত
কাব্যগ্রন্থাবলী
তিন খণ্ডে প্রকাশিত হইয়াছে।
প্রথম খণ্ড।
১। পদ্ম, ২। যমুন, ৩। গীতি, ৪।গীতিকা,
৫। দীপ্তি, ৬। দীপালী, ৭। আরতি।
দ্বিতীয় খণ্ড।
-
-
১। গৌরাঙ্গ, ২। গল্প, ৩। 'গাথা, ৪। আখ্যায়িকা,
৫। চিত্র ও চরিত্র।
।। ৩
তৃতীয় খণ্ড
১। কবিতা, ২। পাথেয়, ৩। পাষাণ, ৪। পাখা,
৫। গৈরিক, । গান।
মূল্য সাধারণ সংরণ এতিখণ্ড ১, এক টাকা,
বিশেষ সং-
২, দুই টাকা মাত্র।

ঐতিহাসিক পঞ্চাঙ্ক নাটক
ভাগ্যচক্র
( মিনার্ভা থিয়েটারে অভিনীত )
মূল্যবান এন্টিক কাগজে সুন্দর ছাপা ; আকার সুবৃহৎ, কিন্তু
মূল্য অতি সুলভ ১এক টাকা মাত্র।
নব প্রকাশিত নূতন ঐতিহাসিক পঞ্চাঙ্ক নাটক
হামিৰ বা ছিনতাইকার
(মিনার্ভায় অভিনীত )
কাগজ ও ছাপা সুন্দর। মূল্য ১ এক টাকা মাত্র।
আকেল সেলামী
(প্রহসন)
মূল্য ॥ আট আনা।
এতদ্ব্যতীত উক্ত কবিবরের রচিত ঐতিহাসিক
পঞ্চাৰু নাটক
হুমায়ুন
সামাজিক পঞ্চাঙ্ক নাটক
শীই প্রকাশিত হইবে ।
২১নং আলিশ টি মেসার্স গুরুদাল চট্টোপাধ্যায় এ
সনসেই দোকানে ও অন্যান্য প্রধান প্রধান পুন্যালয়ে পাওয়া যায়।

উক্ত কৰিবরের নিম্নলিখিত কাব্যগ্রন্থগুলি
পৃথকভাবে বিক্ৰয়াৰ্থে প্রস্তুত আছে—
১। গৌরাঙ্গ (দ্বিতীয় সংস্করণ)
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কর্তৃক ইন্টারমিডিয়েট পরিক্ষার্থিনী
ছাত্রীদিগের জন্য পাঠরূপে নির্বাচিত।
উৎকৃষ্ট কাপড়ে বাঁধাই, মূল্য ১ম এক টাকা।
গীতিকা
ইহাতে গীতি ও গীতিকা উভয় কাব্যের
কবিতা একসঙ্গে আছে। মূল্য ॥ আট আনা মাত্র।
৮n
৩। আখ্যায়িকা
এটি কাগজে ছাপা ও কাপড়ে ৰাধাই, মূল্য আট আনা মাত্র।
৪। পাথেয়।
এটি কাগজে ছাপা এৰু কাপড়েরাধাই, মুল • টানা মাত্র

গৈরিক
এটি কাগজে ছাপা এবং কাপড়ে বাঁধাই, মূল্য • বার আনা।
পাষাণ
কাপড়ে বাঁধাই মূল্য ॥ আট আনা মাত্র।
৭। চিত্র ও চরিত্র
কাপড়ে বাঁধাই মূঃ ॥ আট আনা মাত্র।
৮।
পাথার
কাপড়ে বাঁধাই মূল্য ॥ আট আনা মাত্র।
গান
সরলিপি সহ কাপড়ে বাঁধাই মূল্য ॥ আট আনা মাত্র।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Chittra O Charittra

Author
Ray Choudhury, Pramathanath
Title
Chittra O Charittra
File name
Chittra O Charittra
Text
OCR done
Citation
1934
Published
2010/01/10
Publisher
Gurudas Chattopadhyay
Language
Sanskrit
Pages
114
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Ray Choudhury, Pramathanath
DLI number
511004
Barcode
4990010018192.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
7G4OoYVtMUZ
Download PDF

Chittra O Charittra