Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Jadab-kalanka

Dhar,banku Bihari · 2009/10/8

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

যাদব-কলক।
(পৌরাণিক নাটক।
(So called by the defeats and disasters of
the unconquerable Jadavas.)
মন্দঃ কবিযশঃ প্রার্থী গমিষ্যামুপহাস্যতাম।
প্রাংশু লভ্য ফলে লােভাদুদ্বাহুরি বামনঃ।
রঘুবংশম্।
শ্ৰবন্ধু বিহারী ধর প্রণীত।
২১ নং রামবাগান ব্রাঞ্চ লেন হইতে
শ্রীগােকুল চন্দ্র দত্ত কর্তৃক প্রকাশিত।
কলিকাতা।
t,
FEBRUARY 1897.
Copy right reserved.
মূল্য ৮০ বার আনা

No text on this page.

শ্রীদুর্গা।
উপহার পত্র।
স্বর্গিয় পিতা নশীবাম ধর, ও পরম পরমারাধ্য
পরমেশ্বরের পাদপদ্ম শবণ করিয়া বহু যত্ন
কৃত যাদব-কাঙ্ক খানি পবম পূজনীয়
ঐ যুক্ত বাৰু গেন্ট বিহারী ধব,
বাদা মহাশয়ের শ্ৰী কর
কলে অর্পণ
কহিলাম ।
করি লহ আৰ্য্য! জাবকে ধন।
করিযাছি ছেলে খে
গাথিরা কল্পনা মালা
শি অমি তর করে কার হন।
আপনার স্নেহের ;
বন্ধু বিহার--

No text on this page.

দুর্গা।
শরণং
উক্তি।
কিঞ্চিৎ ধর্মোপদেশ সনামং যাদব-কলঙ্ক নামধেয়ং নব
নাটকমিদং ভূত পূৰ্বেণ মদন্তেসিনা শ্রীমতা বন্ধু বিহারি ধরণ
প্রণীতং ময়াচ পরিশােধিতমেতৎ। ইত্যপি সৰ্বে বিদাঙ কুৰ্ব্বন্তু
যৎ গ্রন্থক রয়মেব গ্রস্থ প্রণয়নস্য প্রথমাবতারঃ। মুম্প তমিদং
পঠিত্ব সহৃদয়: পাঠকাশ্চেদীযদপি হর্ষমনু ভবন্তি তদৈষ ষােড়শ
বর্ষ দেশীয়ে গ্রন্থদাত্মনো লিখিলমেব পরিশ্রমং ফলােপধায়ক
মতে। আস্যায়ং প্রথমােত্মম ইতি বিবিচ্য গুণপক্ষপাতিনাং
মহাত্মনাং বিচারণীয় গ্রন্থােয় মিত্যলং প্রপঞ্চেন ।
,
বৎসস্ত শুভাকাঙ্কিণ
এহেম চন্দ্র দেবশৰ্ম্মণ

No text on this page.

যাদব-কলঙ্ক।
প্রথম অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য।
মায়াকানন।
দণ্ডী, সৈন্যগণ।
দী। সৈন্যগণ, চল মােরা যাই ফিরি আপন ভবনে ,
একাননে নাহি কোন বন্য পশু,
পশুহীন বন্য মাঝে বৃথাকেন ক র পশু অন্বেষণ ?
পরিশ্রমে যদি কোন ফলােদয় নাহি হয়,
তবে বৃথা কেন কর পরিশ্রম ?
১ সৈন্য। মহারাজ! নাহি বটে বন্য পশু,
কিন্তু, হের কি বা কাননের শােভা।
মৃদুহঁসে হাসিছে লতিকা,
গুণ গুণ রবে গাইছে মক্ষিকা !
২ সৈন্য। মহারাজ, হের হের সন্ধা অগিমন !

যাদব-কলঙ্ক। : তবে বৃথা কি কারণে আর করি পরিশ্রম? দেহ আজ্ঞা, যাই মােরা দুর্গের প্রাসাদে ! ৩ সৈন্য। মহারাজ, নেহার নেহার- অপূৰ্ব্ব ঘােটকী আগত এ স্থানে। ৪ সৈন্য। নেহার রাজন! সে ঘােটকী হেরি সন্ধা আগ মন, অপূৰ্ব্ব রমণী বেশ করিল ধারণ! ( উৰ্বশীর ছায়া মৃত্তির আবির্ভাব।) দণ্ডী। (স্বগত) অলৌকিক ! অদ্ভুত সৌন্দৰ্য্য । মরি, কি বা অপূৰ্ব্ব শোভা খেলিছে এ বিপিন মাঝারে ; নিশ্চয় মায়াবিনী হবে, তানাহলে বেশ ভূষা কেন বা ত্যজিবে ? হায় হায়, কি এক মোহের মােহে মােহিত হইয়া, অঙ্গ মম কাঁপে থর থর । একি একি, ত্যজি একানন সে রমণী কোথায় বা করিল গমন ? (প্রকাশ্যে) সৈন্যগণ কর তার অন্বেষণ। ৫ সৈন্য। কৈ, কোথায় রমণী ? হেরিতে না পাই কিছু। বৃথা কি কারণে এ বিপিনে কর উন্মত্তের রােল ?—দেহ আজ্ঞা করি মােরা স্বস্থানে গমন। দণ্ডী। (স্বগত) হায় হায়, মজিণাম মাধুর্যের তরে ; হায়রে, নির্জনে বসিয়া বিধি একেছে কি তােরে ? আরেরে, মম তরে এ স্থানে কি করিলি প্রবেশ, সদয় কি মম প্রতি ? দেহ বার্তা, সুস্থ জ্ঞান করি প্রাণ। } যাদর-কলঙ্ক। ৬ সৈ। নিশ্চয় হইবে রাজন! এ মায়াবিনী ছলে বলে ভূলাইয়ে মায়ায়, অতুল বিপদ মাঝারে করিবে বর্জন তােমায় । ( ছায়া মূর্তির দুরতর বনে গমন) জী। একি একি! কোথায় লুকাল, সে রমণী এবিপিনে কোথায় পশিল—-? যা হােগ সে হােগ, কি হবে ভাবিলে এখন ; এ অপূৰ্ব্ব মায়াবিনী নয়নে হেরিয়া, কি যানি, কি এক ভাবেতে হৃদয়ে তুলিল মােরে পাগল করিয়া । এ মায়াবি ধরি যদি কোন জন পারে প্রদানিতে, যানি ও তা হলে তারে অযুত সুবর্ণ মুদ্রা করিব অর্পণ। * সৈ। মহারাজ ! বৃথা কি কারণে হতেছ উতলা, কর দরশন-মুহুর্তের তরে করিয়া গমন, তব ঠাই প্ৰদানিব তঁারে করিয়া বন্ধন! শুন সবে বচন আমার- যাহার নিকট দিয়া, যাইবে এ পলাইয়া, তখনি তাহারে আমি করিব নিধন ! যথােচিত পুরষ্কার করিব প্রদান সে রমণীরে মােরে করিলে অর্পণ !! সৈন্যগণ, বদ্ধ পরিকর হােয়ে আপন অস্ত্রাদি লয়ে মায়াবিনী ধরিবারে চেষ্টা করহ এখন। দণ্ডী ।

যাদব-কলঙ্ক।
ছলে বলে যে প্রকারে পারি লব
আমি তুরঙ্গিণী, তাহে প্রাণ
বিসজ্জিতে হয় দিব বিসর্জণ—
আজি হােগ কালি হােগ যাইবে জীবন,
তবে থাকি সংসার মাঝারে
যদি পারি মহৎ কাৰ্য্য করিতে সাধন,
কেনই বা না থাকিব এ মায়ার সংসারে বন্ধন ?
৩ সৈ। বীরােচিত বাক্য মহারাজ !
বীর যেই জন বিরত্ব স্থাপিত
সেই সদা করে আকিঞ্চন!
দেহ অজ্ঞা, করিব পালন !!
দণ্ডী। সৈন্যগণ,
করই শিবিরে গমন !
ধইি আমি রমণীর পছু।
(প্রস্থানােদ্যগ-এবং সহসা বনঅলােকিত হইয়া বনদেবীর উদয়।)
গীত।
বন। প্রেমিক রে, বৃথা নারী প্রেমে মোজোনারে মােজন।
পড়ে নারীর মায়া ফাঁদে নিজেকে হারাইও না !
কত দুঃখ পেয়ে জলে, শেষেতে জলধি কুলে,
উতরিয়া প্রেম জালে, প’শে প্রান তেজনা ;
নারী প্রেম বিষধর, দেখিতে অতি সুন্দর,
ভাল বেসে নিলে তুলে (প্রাণে প্রাণ ফিরে পাবে না ?
( ভাল বাসা ভাল বেসে (মন) ভাল দিকে যায়না) !!

যাদব-কলঙ্ক ৫ (বনদেবীর অন্তর্ধান ও ছায়া মূর্তির তিরােভাব ) দণ্ডী। একি, একি, কি শুনি, কি শুনি, মধু মাখা প্রেম বাণী। ঐ ঐ-যাই-যাই- ( প্রস্থান) ১ সৈ। মহারাজ! মহারাজ! কোথা যান। দাড়ান, দাড়ান যুব মোরা তব সাথে । ৫ সৈ। হায় একি বজ্রাঘাৎ অকস্মাৎ বাজিল হৃদয়ে। অকথ্য কথন কেমনে বা কহিব রাজ্ঞীরে ! কোথ। ভরুতা! কও কথা, দেখ দেখ মায়াবিনী লয়ে যায় রাজারে মােদের ভূলাইয়ে মায়ায় । ৭ সৈ কি আর করিব এখন! কিহবে গভীর বন মাঝে করিলে রােদন; এ নিনাদ পশিবে না কাহার কর্ণেতে। (শূন্যে বন দেবী) বন পশেছে পশেছে নিনাদ কর্ণেতে আমার ; যনি সব বিবরণ, রাজ্যে তােরা কররে গমন। ( সকলের প্রস্থান ) প্রথম অঙ্ক। দ্বিতীয় দৃশ্য। উপবন। ! উৰ্বশী ও দীরাজ ! দণ্ডী। দেবী, দেহ পরিচয়, মানবী গন্ধৰ্ব্বী, রাক্ষসী, কিন্নরী, বা যক্ষী বিদ্যাধরী। কে তুমি, কাহার নারী ? কিছু না বুঝিতে পারি ! ব্যকুলিত মন মম তব পরিচয় হেতু ! ! সুন্দরি, নহে তুমি মানবী কখন ? মানবী ত হয় না’ক সুরূপা এমন। হবে মায়াবিনী, অথবা ইন্দ্রানী, নহে কামের কামিনী ? নতুবা বিপিন মাঝােরে কেন ভ্রম একাকিনী ? কে বা তুমি মহাশয় ? কি কারণে চাহ পরিচয় ? দেহ অগ্রে নিজ পরিচয় পরিচয় বিনিময়ে দিব পরিচয়। দণ্ডী। সুশীলে ! শুনলো পরিচয় মাের- আমি অবন্তী রাজ! নাম মাের দণ্ডী রাজ, ( যশ মম আছে বিঘােষিত ত্রিভূবন মাঝে, কে যদিব-কলঙ্ক। ৭ ভয়ে যার পশুগণ পশে বিপিন বিজনে! অয়িগণ প্রাণভয়ে সম্মুখে না রহে যাঁর। সেই বীর দণ্ডী অভি ধান নাম মাের । মম ভয়ে কঁপে বন, কঁাপে ত্রিভূবন পশি যবে বন মাঝে শিকার কারণ। * উৰ্ব্ব। শুমি তুমি মহারাজ ! তবে কি কারণে ছাড়ি রাজ বেশ, পরিহরি বীর ভাব, শিকারী সম- ভ্রম এ বিপিনে ? দণ্ডী। বিধাতা সদয় আজি ভ্রমি বনে বনে শিকার কারণে, কিন্তু, ভাগ্য দোষে সকলি হইল অসার। দণ্ডী। সুন্দরী! কি কারণে দিবসে ঘােট কী, নিশায় মানবীবেশ করহ ধারণ! উৰ্বশী। শুনহ রাজন! কহি তার বিবরণ। উর্বশী আমার নাম, বাসব সভার মাঝে প্রধান নর্তকী আমি; ত্রিদিব স্বামি স্নেহ নেত্রে হেরিতেন মােরে। সদা ভাসিতাম আনন্দ সাগরে, শােক তাপ ছিলনা অন্তরে! কেহ ভাসিত না অশ্রুনীরে। সখিগণ সনে সদা প্রফুল্ল অন্তরে গাহিতাম গীত সুমধুর স্বরে ভাগ্য দোষে শুনহ রাজন, মূর্তিমান ক্রোধ অবতার ঋষী এক দিল দরশন।

যাদব-কলঙ্ক।
ভীষণ মুরতি তাঁর ; ধীরে ধীরে পশিলেন সভা মাঝে।
হেরি তায়, শশব্যন্তে প্রভু মাের দিলেন আসন !
ঋষীবর নৃত্য গীত করিল আকিঞ্চন ;
বুঝি তাহা, দেবরাজ দিলেন অাদেশ মােরে !
গাহিলাম গান, হােল নৃত্য অবসান।
হেন কালে বিদ্রুপের ছলে ঠরিলাম অথি তঁায় ।
দুর্বাসা তাহার নাম, বুঝিলেন মনভাব মাের।
দিতে তার প্রতি শােধ, জলদ গম্ভীর স্বরে
ঋষীবর হেন অভিশাপ প্ৰদানিল মাের।
ভ্রমি তাই বনে বনে যেখানে সেখানে :-
দুর্বাসার দারুণ শাপে
জ্বলি সদা মনস্তাপে।
দণ্ডী। অয়িলো সুন্দরী,
কিক্ষতি তােমার তাহে;
আর তােমায় ভ্রমিতে না হবে বনে বনে ;
এসলে সুন্দরী ! তােমা ধনে
লয়ে যাই নিজ নিকেতনে।
রমণীগণ, যার, মমবলে হয়তাে শাসিত,
তারা সবে রবে দাসী সম তব পদ তলে ।
তুমিই প্রধান রাজ্ঞী হইবে আমার।
হেরি তােমা প্রেমাঙ্গিনী,
প্রাণ মাের টলল প্রেমেতে।
শুনলো রূপসি, কি আর কহিব
কহিতে না সরে বাণী ;

যাদব-কলঙ্ক।
৯
কি এক গভীর মােহে হইয়ে মোহিত
করি সদা প্ৰেম আকিঞ্চন।
উৰ্বশী মহারাজ। নবীন প্রেমিক।
তেঁই সদা কর প্রেম আলিঙ্গন।
দণ্ডী। সুন্দরি ! বুঝত সকলি।
কি আর কহিব, কহিতে অধিক ;
শুন বলি, আমি তব প্রাণপতি।
উর্বশী রাজন, নীচ ভাষে
কি কারণে হও নিমগন ?
লনে। বুঝনা আপনার মনে,
প্রেমিক যে জন, প্রেম সেবা সদা করে আকিঞ্চন।
প্রেম করি মস্তকে ধারণ,
প্রেমের কারণ,—ধরি এই তব চরণে।
(পদ ধারণ)
উর্বশী। ছি! ছি! মহারাজ।
দণ্ডী।
এ কার্য না সাজে হে তোমার !
দণ্ডী। প্রেমিক যে জন
প্রেমের কারণ—সহে সব সেই জন।
প্রেমের কারণ,মদনমেহন
করেছেন সত্যভামার পদ ও ধারণ!
( কর ধারণ)
উর্বশী। নরপতি, একি ব্যবহার ?
আপন মহিষীগণে,
a

১০
যাদব-কলঙ্ক।
উর্ধ্ব।
গৃহে গিয়া সযতনে করগে কারণ!
ছি ছি, মহারাজ ! তুমি কি গাে এই বৰ্বর ?
পরের রমণী সনে কথা কও পাপ মনে ?
দণ্ডী। সলিল শীতল কিম্বা অগ্নির সমান
মিষ্ট ভাষা কহ, কিম্বা কর তিরষ্কার?
উর্বশী। মহারাজ । পরনারী কিহে এতই রূপসি ?
করি তাহা দরশন ভুলিল তোমার মন।
শুনলাে সুন্দরী, বলিব তেমায়
ইহার বিশেষ কারণ!
রাজন! ত্যজ মম প্রেম আশা,
শাপান্ত হইলে মাের যাব ত্রিদিব ভবনে
শুন হে রাজন্ তখনত আর পাবেনা আমায় !
তাই বলি বিরহ হুতাশে কেন ভাঙ্গিবে অন্তর।
দণ্ডী। সুন্দরী, যদিও তুমি রবে স্বর্গপুরে,
তথাপি অন্তর হইতে মাের রবেনালাে দুরে।
কিন্তু, ভাবি মনে, বিধি তােমা
কি কারণে, মন তব গঠিলা পাষানে।
মহারাজ। বলি শুন,
কেন মিছা পুনঃ পুনঃ,
মম স্তুপ করিছ সঘন!
নৃপতে! কেমনে গো ভজিব তােমারে।
হেরি পূর্ণশশধরে, নলিনী কি হাস্য করে ?
চাতকী কি ধায় কভূ সুরম্য সরসী পানে ?
আনন্দ মগনে, প্রবেশে কি নদী-কভূ
উর্ব ।

যাদব-কলঙ্ক
ক্ষুদ্র জলাশয়ে?
মহারাজ! করহ গৃহেতে গমন,
অনর্থক কষ্ট পাবে কিসের কারণ ?
দণ্ডী। শুনলাে স্বজনি! আমারে ভজিলে,
আজ্ঞাকরি রব সদা তেমার নিকটে !
উৰ্ব। জানত রাজন প্রণয়ের স্থানে
বিচ্ছেদ বিহরে সদা।
দণ্ডী। সুশীলে, তা’বলে বিরহে ভয়
করা উচিত নয় !
উৰ্ব্ব । শুনহ রাজন! হেন ভালবাসা রেখে।
মনে চিরদিন ; শেষে যেন ভালবাসা
হয়না মলিন।
দণ্ডী। এত দিনে মিলা’ল বিধাতা
সম কপােত কপতী ।
(উভয়ের প্রস্থানেদ্যোগ)
(সহসা বন আলােকিত ও বনদেবীর)
(গীত)
বন। মজিলিরে বৃথা প্রেমে, কথা মাের নাশুনিলে।
পরিয়ারে নারী প্রেমে, নিজে কেরে বিকাইলে ।
নিরখে পায় যে জ্বালা, পরশে হয় সে কালা ,
প্রেমিক এসেরে শেষে সদা ভূলায় অবলা।
পরশে সে ভালবাসা হয়রে মলিন,
থাকিলে দুরেতে সদা দেখেরে নবীন।

যাদব-কলঙ্ক।
আগেতে না বুঝিলিরে কি কাজ করিলে,
মুগ্ধকর নারী প্রেমে জীবন দানিলে ।
(বনদেবীর অন্তর্ধান )
( উভয়ের প্রস্থান)
প্রথম অঙ্ক ।
তৃতীয় দৃশ্য।
বিচার-গৃহ।
দণ্ডীরাজ, মহিষী।
মহি। মহারাজ । কি কারণে
কোন স্থানে, ফেলি সৈন্য-গণে
করিতে ভ্রমন, হােয়ে ছিলে নিমগন।
দণ্ডী। শুনলো প্রেয়সি, করিয়া ভ্রমণ,
লেভিছি এক অপূৰ্ব্ব-রমণী,
রূপে তার হইয়া মােহিত আনিয়াছি
তারে আলয়ে আমার ।
মহি।
কেমনে বা লেভিলে রাজন ?
ইচ্ছা হয়, শুনি বিবরণ।
শুন বলি বিবরণ,
সৈন্য সহ পশি যবে বন মাঝে
শিকার কারণে, সেবে ভাগ্য দোষে
সকলি বিফল হ'ল।
করি তাহা দরশন, অদেশি
সৈন্যগণে শিবিরে কহিতে গমন।

যদর-কলঙ্ক।
১৩
re
হেন কালে ভাগ্য বলে অপূৰ্ব্ব ঘােটকী এক হইল উদয়
হেরি সন্ধা আগমন, ধরিবারে তারে নাহি
করি যতন। ক্ষণপরে
হেরি সে ঘটকী অপূৰ্ব্ব রমণীবেশে হইল সজ্জিত
ধাই তাহার পানে
অতপর প্রেম ভাষে তুষিয়া
তাহারে লয়েছি হৃদয়ে ;-
আজি দিব তাহা তােমার করে
তব সম সে রমণী হইল আমার।
মহিষী। মহারাজ ! কি কারণে হেন বেশ করে সে ধারণ ?
দণ্ডী। দুর্বাসার শাপের কারণ
দিবসে ঘােটকী নিশায়
রমণী বেশ করে সে ধারণ
তে কারণে অশ্ব সম তারে
অশ্বশালে রেখেছি যতনে করিয়া বন্ধন।
সন্ধা আগমনে, সে অশ্বিনী
রমণী বেশ করিবে ধারণ !
সুন্দরী,
মম অবিদ্যমানে বিদ্রোহী হয়েছে কেহ ?
মহিষী। তব সম বীর কেবা অাছে
মহারাজ! থাকে যদি তুমিই আমার !
তব শুশাসন বলে রাজ্যে তব
নাহিক বিদ্রোহী কেহ।
(একজন অপরাধীর সহিত কতিপয় প্রহরির প্রবেশ)

১৪
যাদব-কলঙ্ক।
দণ্ডী! কি কারণে কোরেছ বন্ধন ?
১ প্ৰ। মহারাজ ! এ অতিব দুর্জন!
নাহি পারি এরে করিতে শাসন।
শুনি তব আগমন, এ দুষ্ট এক
রমণীর ভবন-ভিতরে করিয়া গমন,
লােয়েছে তার বহু মূল্য সামগ্রি করিয়া হরণ।
দী। কি কারণে মম
আগমনে, করিল
এ হেন অন্যায় আচরণ?
কেমনে বা যা নিব রাজন!
মন্দ আচরণ হেতু সৰ্ব্বদা যানীয় প্রজাগণ ।
দণ্ডী। আরে, কি কারণে করেছ
এ মন্দ আচরণ ?
অপ। মহারাজ, এরা লােক ঠাউরাতে পারেনি বাবা,
মিছি মিছি আমায় ধাের এনেছে।
দণ্ডী। আরে, দুষ্ট জন।
বল সত্য বাণী, নহে
জীবন তাের হইবে সংশয়।
অপ। বাবা অত ঘােমকোনা, তাহলে আর কথা
কৈতে পরবােনা, আপনি পাঁচ জন লোককে
জিজ্ঞাসা করুণ, তাহলে জানতে পারবেন, একাজটা
আমি করিনি বাবা।
দী। দুষ্ট জন, হও সাবধান।
পুন’ যেন নাহি শুনি

যাদব-কলঙ্ক।
তব হেন আচরণ!
প্রহরিগণ! দেহ বন্ধন
করিয়া মােচন।
প্র। যথা আজ্ঞা মহারাজ!
( বন্ধন মােচন ও এক জন প্রহরি কর্তৃক লইয়া যাওন)
দণ্ডী। প্রহরিগণ !
আজ্ঞামতে দিবে শাস্তি দুষ্ট জনে।
প্র-গণ। যথা আজ্ঞা মহারাজ ?
(প্রহরিগণের প্রস্থান)
মহিষী। প্রাণেশ্বর ! কি কারণে
পূৰ্ব সম রাজকর্মে নাহি মতি তব ?
পাইয়া নবীন। ললনা, তাই কিহে
নাহি কর রাজ্য আলােচনা ?
শুনহ রাজন্ করি নিবারণ,
পাইয়া ললনা, রাজ কার্য ভূলনা ভুলনা।
শুন প্রাণেশ্বরী ! আজি হ'তে
তব হস্তে পূৰ্ব সম রাজ কৰ্ম্ম করিনু অর্পণ।
মহিষী। মহারাজ! হের সন্ধা অগমন !
করি আমি অশ্বশালয়ে গমন
করিবারে রমণী বেশ দরশন।
(প্রস্থান)
দণ্ডী। দিন যায়, দিন আসে !
বুঝিতে না পারি দিনের মহিমা !
দিনে দিনে নব আশা হতেছে উদয়,

যাদব-কলঙ্ক। পুন’ দিনে দিনে, হতেছে মলিন। দণ্ডীরাজ নাম মাের! সৈন্য সনে পশি যবে সমর প্রাঙ্গণে, ভয়ে মাের শত্রুগণ করে পৃষ্ট প্রদর্শন। সন্মুকে না 'রহে কেহ :- ভয়ে মেরি বিষধর, বিষপানে ত্যজি কলেবর পশিয়াছে বিবর মাঝারে ? কিন্তু, পাইয়া নবীনা ললনা , ইচ্ছ। আর নাহি করি রাজ্য অলচোনা ! প্রাণ মাের করে সদা প্রেম আলিঙ্গন। যেন প্রেম মাের অঙ্গের ভুষণ ! প্রেমের লাগিয়া আনিয়াছি স্বর্গের ললনা! আছে বটে মহিষী আমার, দূর হউগ, নাহি চাহি রাজ্য মাের করিতে শাসন- যাই, প্রেমের কারণ— উর্বশীর বিলাস-ভবন। (প্রস্থানােস্কাপ) (মহিষীর গীত গাহিতে গাহিতে প্রবেশ) কোথা যাও ? কোথা যাও ! হৃদয় রতন, বিপদ সাগরে কেন হও নিমগন । করিমানা, যেওনা যেওনা, মায়াবিনী সনে মােজনা (মােজনা)।

যাদব-কলঙ্ক।
রাখ রাখ দুখিনীর কথা,
নৈলে পরে পাবে মন ব্যথা।
রাখ ধৰ্ম্ম, কর সদা ধৰ্ম্ম পালন।
রাজ্য শাসিবারে তুমি করহ যতন
মণ্ডী। এস প্রাণেশ্বরী, লয়ে যাই
তােমা ধনে মাের নবীন-ললনার
বিলাস-ভবনে।।
( প্রস্থান)
মহিষী। যাই আমি দুষ্টা যেন
নাহি পারে প্রভূর উপরে প্রভূত্ব
করিতে স্থাপন !!
( দারুলােদ্বেগে প্রস্থান )

দ্বিতীয় অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য।
দ্বারকানগর-~~-শয়নকক্ষ ।
শ্রীকৃষ্ণ শায়িত, রুক্মিণীর পদ-মর্দন।
{ নারদের গীত গাইতে গাইতে প্রবেশ )
(পদসেবীকার প্রস্থান ও দুতের প্রবেশ
নারদ।
(গীত )
বল হরি হরি হরি হরি সদা মন।
দিওনা যেতে জীবনেরে অকারণ।
হে জগত-পতি, ধরম-মুরতি।
দয়াদানে কর (এই) অধমেরি গতি।
ভকতি বারি দানে, নিবারহে মনাগুণে।
( নৈলে) পাপাহুতি ক্রমে, বাড়িবে হুতাশন ।
“নমঃ ব্ৰহ্মণ্যদেবায় গো ব্ৰহ্মণে হিতায়চ।
জগদ্ধিতায় শ্রী কৃষ্ণায় গােবিন্দায় নমঃ নমঃ”
( কৃষ্ণের আলিঙ্গন করণ)।
এস এস ঋষীরাজ করি আলিঙ্গন।
কি কারণে আগত এখানে?
ভকতের তরে ধরি এ জীবন,

***" "শ"
যাদব-কলঙ্ক।
ভকতের তরে সহে সব এই জন,
ভকত লাগিয়ে করি অত্ম বিসর্জন !
মদ। যানি তাহা সব বিবরণ।
ভকতের মন-বাঞ্ছা করহ পূরণ,
শুন প্রভূ,
ভকতের আজ্ঞা তব অঙ্গের ভূষণ
ভকতের প্রেম-অশ্রু কর তুমি হৃদয়ে ধারণ !!
শুন প্রভূ !
ভাগ্য বলে হেরি আজি ও রাঙ্গা চরণ।
ক। ঋষীরাজ। কি কারণে
আগত এ স্থানে।
নারদ।
আসিয়াছি অপূৰ্ব বারতা করিতে প্রদান ;
শুনি, যথাবিধি শাস্তি তার করিও প্রদান।
শ্রীকৃ। (স্বগত) কি কারণে আগত তা বুঝিতে
না পারি! ( প্রকাশ্যে ) ঋষীরাজ ! শুভ বা অশুভ
সংবাদ শীঘ্ন করহ প্রদান !
নারদ। শুন প্রভূ অশুভ বারতা !
দুর্বাসার অভিশাপে উর্বশী
সুন্দরী অছিল। যে কানন মাঝারে।
দণ্ডী রাজ! শিকার গমনে
হেরি তার অপূর্ব কামিনী বেশ,
আনিয়াছে তারে আলয়ে তাহার।
এল কৃ। ঋষীবর !

যাদব-কলঙ্ক।
অতঃপর কি ঘটনা করহ প্রচার।
নারদ। শুন প্রভু !
মানব অবন্তী পতি! ভূতলে জনম !
উর্বশী স্বর্গের দেবী !
সে সুন্দরী তারে সেবি করিতেছে কি
কুকাজ! ছি ছি ! একি অপযশ !
নরও দেবের এই প্রণয় বন্ধন
করিলে তুলন, ব্রাহ্মণে চণ্ডালে যত হয়
ভেদ জ্ঞান,-এও তত।
সে কারণ করিয়া চিন্তন
আসিয়াছি তব পাশে
যানা’তে বারতা !
অহো ! এযে বিষম বারতা !
দণ্ডীরাজ ? ভয়ে যার যুদ্ধে সবে
করে পলায়ন, প্রজাগণ সদা যার গাহিত
সুষশ ; সতত পূণ্য কাৰ্যে রত যেই জন,
চরিত্র যাহার করিলে শ্রবণ
ভয় করে দুরেতে গমন ;
সেই জন অপরাধী হেন মন্দ আচরণে?
নারদ। মহাশয় ! মদনের মােহ দৃষ্টে
এ সংসারে কোন
জনে নাহি পারে করিবারে বশ ?
মদনের মােহ দৃষ্টে, মােহ কাৰ্য্য
সকলি সাধিত হয়।
•

যাদয়-কলঙ্ক
--
ঐক। ঋীষবর, বস বস ! আসিতে
হয়েছে ক্লেশ! অবশ্য শ্রমসিদ্ধ
হইবে তােমার! স্বগত) যাহোগ সেহােগ,
কি হবে ভাবিলে এখন!
( প্রকাশ্যে ) দুতবর, সাজত্বরা, অবন্তী-রাজ্যে
করিতে গমন !
দুত। হের ঋষীবর,
চিন্তা বলে চিন্তান্বিত চিন্তামণির অন্তর।
কৃ। নারদ,
এখনি দূত করিব প্রেরণ
অবন্তীপতির সদনে দুতের প্রতি)
মম বাক্য যানাবে দণ্ডীরে,
শুন বলি,-
মৃগয়া করিতে গিয়া পেয়েছে যে অপূৰ্ব্ব
অশ্বিনী, যেন তাহা করে সে প্রদান
সদনে জামার!
স্বেচ্ছায় অশ্বিনী যদি না করে
প্রদান, বলিহ তাহলে তারে
স্বর্গ মর্ত্ত রসাতলে রক্ষিতে নারিবে
কেহ পরাণ তাহার।
দুত। প্রভো! আজ্ঞা তব করিতে পালন
নহি অকুন্ঠিত, যাই তবে
দণ্ডীর সদনে, আজ্ঞা তব করিতে পালন।
(দুতের প্রস্থান)

যাদব-কলঙ্ক।
==
কৃ। ছলে বলে যে প্রকারে পারি লব তুঙ্গিণী।
স্বেচ্ছায় অশ্বিনী যদি করিবারে দান
করে অস্বীকার,তাহলে সমর ঘােষনা
নিশ্চয় হইবে প্রচার
( দুততর পুন’ প্রবেশ)
শুন প্রভু। পশি দীর
সভীর মাঝে—তবােক্ত তুরঙ্গিণী
করিতে প্রদান কহিলাম তায়—
কিন্তু মােরে করিল উত্তর,
দিব না অশ্বিনী কভু।
ক। বুঝেছি সকল,
রে দুত বলি শুন, দণ্ডীর
নিকটে পুন’ তুমি করহ গমন !
ত। যথা আজ্ঞা দেব!
( প্রস্থান)
এ কৃষ্ণ। “দিলনা অশ্বনী” ।
এবার দীর আরনা দেখি নিস্তার !
মম সনে করি বাদ, মৃত্যু মুখে হইতে পতিত
করিল সে সাধ!
নারদ। শান্তিময়
হৃদে তব দিলাম অশান্তি ঢালি ; যদুমণি! তাহে
কোর’ নাক রােষ ।
শান্তিময় ! বিদায় এখন।
( প্রস্থান ।

দ্বিতীয় অঙ্ক।
দ্বিতীয় দৃশ্য।
অবন্তীনগর-রাজ-সভা।
মন্ত্রিবর!
দণ্ডীরাজ, মন্ত্রি, সৈন্যগণ ।
দপ্তী।
প্রদান রাজ্যের কুশল,—আছে কি বিদ্রোহী কেহ ?
মন্ত্রি।
মহাবাজ !
নাহিক বিদ্রোহী বা দুষ্টজন,-রাজ্যে তব কোন জন
করিবে সাহস তব সম বীরসনে করিতে বিবাদ ?
দণ্ডী। কহ সৈন্যগণ ! সে দুষ্টের বারতা
যেবা মম আগমনে পশি’ রমণীর ভবন ভিতরে,
প্রজারে আমরি করিতে পীড়ন,
সাহসেতে বেঁধেছিল হিয়া।
মন্ত্রী। নাহি কোন বিদ্রোহী রাজন ।
দুষ্টজন তব মূখ হতে
শাসিত বাণী করিয়া শ্রবণ,
হয়েছে শাসিত! কিন্তু মহাবাজ ।
মম জ্ঞানে এই অমঙ্গল করি দরশন !
{ যাদব দুতের প্রবেশ )
১ সৈ। মহারাজ! কি কারণে বার বার

যাদব-কলঙ্ক। - দুত বর বেশে আসি পশে সভার ভিতরে ? দণ্ডী। আরে দুষ্ট। কাহার আজ্ঞায় পশ তুমি সভার ভিতর। দুত তুমি, দুত সম করহ ব্যবহার। হত। দীরাজ! পশি আমি সভা মাঝে তব প্রভৃআজ্ঞা হেতু মাের- গুন বলি । কুমতি এবার ঘটেছে তােমার, তা না হলে “হরি সনে করিতে বিবাদ কেবা কবে করিয়াছে সাধ । স্বেচ্ছায় অশ্বিনী যদি না কর প্রদান, তা হলে রাখ মনে, স্বর্গ মর্ত্ত ত্রিভূবনে নারিবে রক্ষিতে কেহ পরাণ তােমার— দণ্ডী। রে দুত, ফিরে গিয়া প্রভূর সদনে তব বলিস ঠায়, থাকিতে শােণিত বিন্দু, দীরাজ কভূ অশ্বনী নাহি করিবে প্রদান ! দুত। দেখি, তুমি প্রতিজ্ঞা আপন কতক্ষণ রক্ষিবারে করহ যতন ! ( প্রস্থান) দণ্ডী। সৈন্যগণ, আজি হতে অশ্বিনীরে রক্ষিবারে করহ যতন! মন্ত্রিবর। আজি হতে রাজ-দও মাের তব হস্তে করিব প্রদান !

যাদব-কলঙ্ক।
-
( উন্মত্তের ন্যায় )
সাজ সাজ সৈন্যগণ ! পশিবারে মাধব-সমরে ;
আজি হ'তে রণ বাদ্য করহ ঘােষণা-
আজি হতে উড়াও পতাকা।
না—না—তি—তিষ্ঠ ক্ষণ কাল,
আজি আজ্ঞা মাের নাহি করিহ পালন,
পুনঃ যবে আজ্ঞা আমি করিব প্রদান,
সেই দিন, সেই ক্ষণে, যুদ্ধ আজ্ঞা মাের
করিহ পালন।
মন্ত্রীবর !
প্রজাগণে নম্রতায়, বন্ধুগণে শীল তায়
করিও রঞ্জন! ঘৃণা হিংসা চৌৰ্য্য দ্বেষ
নাহিক রাজ্যেতে মাের। রক্ষি বারে
আজ্ঞা মম সাধ্য মতে করিও
যতন সবে।
* সৈন্য ।
শুনই রাজন্ !
যদবধি রবে প্রাণ,
আজ্ঞা তব করিব পালন ;
অজি হতে প্রতিজ্ঞা মােদের।
মন্ত্রী। মহারাজ! অদ্যাবধি আজ তব
কেহ করেনি লঙ্ঘন। কোন জন
ছাড়ি জীবনের আশা আজ্ঞা
তব করিতে লঘন করিবে প্রয়াশ।

২৬ যাদব-কলঙ্ক। ২ সৈন্য। ছার প্রাণ তুচ্ছ করি জ্ঞান- জীবনের আশে পশিনা সমরে কখন, আজি হােক, নহে কালি জীবন হইবে বিলীন, জীবনে নাহিক মমতা; তবে কি কারণে অমূল্য জীবনে মাখিব কলঙ্গ ! দণ্ডী । ধন্য সৈন্যগণ, যথোচিত বাক্য বটে, তা না হলে অবন্তীরাজ কেমনে বা ভিত এতেক সন্মান । মন্ত্রীবর ! সৈন্যসনে করহ শিবিরে গমন, যাব আমি পশ্চাতে তােমার। মন্ত্রী। যথা আজ্ঞা মহারাজ ! {সৈন্যগণের সহিত মন্ত্রীর প্রস্থান দণ্ডী ! হায় হায় ! ভাবি মনে কেমনে বা পাই পরিত্রাণ এ হেন সঙ্কটে ; কি করি উপায় ! নিরূপায়, এ উভয় সঙ্কট মাের । হায় হায়, সঙ্কট ও না পড়ে কভূ এহেন সঙ্কটে। মাধবের হস্তে সে অশ্বিনী করিব প্রদান? না-না-তাহ পারিবনা কভূ। যদি আমি হস্তে তার এ অশ্বনী করি দান, ভাবিবে সে গদাধর, হৃদয়ে পাইয়া ভয় প্রেরিয়াছে প্রাণের অশ্বিনী তার

যাদব-কলঙ্ক।
সমীপে আমার। যদি নাহি করি দান--
সমরে দিবেন যােগ বধিতে পরাণ ;
কেবা ধরামাঝে হেন বীর যুদ্ধ করে
মাধবের সনে! তবে কি আশ্রয় ার করি
গ্রহণ? না-না—এতে সাজেনা আমার ;
পশি রণ সাজে শক্র মাঝে যবে,
সেবে অরিগণ প্রাণ ভয়ে করে পলায়ন
আজ কেমনে সেই ক্ষত্ৰকুলােদ্ভব বীর ছা
প্রাণের কারণ করিবে হীনতা স্বীকার।
হায় বিধি ? এত কষ্ট লিখেছিলে ভালে।
ছাত্ প্রাণ, ছার রাজ্য তুচ্ছ করি জ্ঞান।
হায় হায়, কি কারণে এ হেন
দুর্দশা মাের ?
আরে হীন মতি নর,
যথ শাস্তি হয়েছে তোমার
দৈব বাক্য লঙ্ঘিবার এই প্রতিফল।
দণ্ডীরাজ ! ফুরাইল নরলীলা তব
ভীরুতার অন্ধ কুপে হােয়ে নিমগন ।
হায় হায় ! যদি আমি উর্বশীর
রূপানলে নাহি মজিতাম ! যদি অামি
সে সর্বনাশিনী নারীরে গৃহে
মাের নাহি অনিতাম। যদি আমি
দৈব-বাক্য মতে কাৰ্য্য করিতাম ।
তা হলে তা হলে আজি
হেন চিন্তা নলে দগ্ধ কভূ হতনাঅন্তর।

২৮
যাদব-কলঙ্ক।
হায় বিধি ! এই কিহে বিধি তব !
কাল রাজ্যেশ্বর ! আজি কিনা
প্রাণ ভিক্ষা হেতু করিয়া চিন্তন
ইচ্ছি দ্বারে দ্বারে করিতে ভ্রমণ!
হায় বিধি, কি দোষে দুষিব তোমায় ।
হীন মতি নরগণ যদি রিপু বশে
না হ'ত চালিত তাহলে অভাগা
দণ্ডীর নাহি হ’ত এ হেন দুর্দশা।
রাজা কেবা ? আমি ও রাজ্য মাের
করিতো শাসন, তবে আজি কেন এ হেন দুর্দশা
মম। মানবগণ !
শিক্ষা লও অজি অভাগা দণ্ডীর
সদনে, রিপু বশে হইলে চালিত
পরিণামে কি ফল ফলে।
যেই জন রিপুগণে পারে করিতে দমন,
মম জ্ঞানে সেই সাধুজন,
সেই বটে সুখি এই সংসার মাঝরে ।
রে মন, চিন্তা বলে হইলে চিন্তিত কি ফল ফলিবে তব ?
যাই শেষ দেখা দৃর্শিবারে
মহিষীর বিলাস ভবনে।
(প্রস্থান)
( প্রহরী ও এক জন সৈন্যের প্রবেশ)।
প্ৰ। দাদা হে, মহারাজের গতিক খানা কি বাবা, দেখে শুনে
ত চোকে গেছি, ব্যাপার খানা কি, বলত দাদা।

যাদব-কলঙ্ক। ২৯ সৈ। ভায়া হে, সেই সেই সেই যে শিকার কোর্তে গিয়ে যে এক অলুক্ষুণে রূপসী কে নিয়ে এসেছেন-মনে পড়ে কি দাদা-শুননা অত চাও কেন ? সেই সেই জন্যেই লড়াই আর কি। দেখ বাবা যুদ্ধর কথা শুনে আমার মনটা কেমন কেমন কোরছে, যদি মরে যাই তাহলে আমি আর ইত্রি কে দেখতে পাবনা; এই বেলা একটু তার জন্যে কেঁদেনি (ক্রন্দন) প্র। কঁাদ বাবা মনের সুখে যত কান্তে পার কেঁদে নাও- সৈ। ঠিক, বেশ তালে ধরেছ বাবা, সাধে তােমায় আর বলি দাদা। এস ভায়া, যত টুকু কান্না হ’ল ততই ভাল। এখন আর কি কবে বর্ণ। সৈ। হেঁ দাদা চল চল । ( উভয়ের প্রস্থান) দ্বিতীয় অঙ্ক । তৃতীয় দৃশ্য। মহিষী, দণ্ডীরাজ। মহিষী। প্রাণেশ্বর! বল, বল, কি কারণে হেরি এহেন মলিন বদন তব। নবীনা ললনা দিয়াছে কি হৃদয়ে বেদনা ?

যাদব-কলঙ্ক। প্রণেশ্বরী, কোন মুখে করি উচ্চারণ যাহা মৰ্ম্মে মৰ্ম্মে, শিরায় শিরায় পেতেছি বেদনা। মহি। প্রাণাধিক। বল বল কিসের যন্ত্রণা এত, তব হৃদে করিল আঘাত। দণ্ডী। সুন্দরী! কি আর বলিব বল, কৃষ্ণসনে করি বাদ, ঘটায়েছি পরমাদ, প্রাণ লয়ে টানাটানি এবে ; নাহিক উপায়, নিরূপায়-- কহ প্রিয়তমে, কেমনে বা এহেন বিপদ সলিলে পাই পরিত্রাণ- মৃগয়া করিতে গিয়া লভেছি উৰ্বশী সুন্দরী জানি দের দামােদর দূতবর মুখে সে অশ্বিনী প্রেরিবার তরে কোহেছেন মােরে । যদি নাহি করি দান, সমরে দিবেন যােগ বধিতে পরাণ ! মহিষী। কি কারণে চিন্ত মহারাজ ! কি কারণে এতেক ভাবনা তব ! কি কারণে শান্ত হৃদে ইচ্ছ বিষ নিয়ােজিতে ? দেব দামােদর ইচ্ছেন যে অশ্বিনী-প্রভু।

যাদব-কলঙ্ক।
দেহ তাহা তারে।
মিছা কেন ইচ্ছ তুমি=জ্বালাতে সমর ভীষণ ।
প্রাণেশ্বর, প্রেয় তুমি রমানাথে তব
প্রাণের অশ্বিনী।
দী। প্রিয়তমে, কোন ৰীর
থাকিতে বাহুবল, সৈন্যবল,
পারে শত্রুকরে করিতে সখের প্রতিমা
অর্পণ ? এ ও সম্ভবে !
না-না-দণ্ডীরাজ তাহা পারিবেনা কভু ;
হয় হােক আমার বিনাশ,
অখণ্ডন বিধিলিপি কভূ হবেনা লঙ্ঘন ।
জ্বলুক সমর ভীষণ !
ডরিনা সমরে ছার, সমর ত
রাজাদের অলঙ্কার ; প্রিয়তমে, যাননা
কি তুমি? হরষে সমর মাঝে
প্রাণ মাের পারিব সাঁপিতে ;
কিন্তু অশ্বিনীরে মাের সপিতে নারিব ।
মহিষী। শুন বলি প্রাণেশ্বর,
মাধবের সনে বাদ দুরাশা
তােমার; সাজেনা সে আশা তব ।
প্রাণাধিক। কোন জন দয়া, মায়া স্নেহ
ভুলি, স্বহস্তে গরল তুলি পারে প্রদানিতে
আপন রসনায় ? শুন নাথ, অশ্বিনী
ত্যজিয়া যদি বাস হয় বনে, সেও ভাল

যাদব-কলঙ্ক। ক এড়াবে এ বিপদ জাল। দী। প্রিয়তমে! বীরাঙ্গনা বাম হােয়ে কি কারণে প্রাণেশে তব নিবার সমর মাঝারে করিতে প্রবেশ ? মানের অপেক্ষা নহে বড় এ জীবন। অশ্বিনী ফিরিবারে নাহি বল পুনঃ, তার চেয়ে বল বল যাক, এ জীবন। শুন রাণী, পুত্র লয়ে থাক রাজ্য সুখে! ভাবিয়াছি মনে, কিছু দিন লব বাস জনাকীর্ণ স্থানে ; অসিব আবার ফিরে কিছুদিন পরে। মহিষী। প্রাণেশ্বর! অশ্বিনী ফিরিয়া দাও- কাজ নাই রণে, শান্তির হৃদয়ে কেন আশান্তি ঢালিবে হেন ? করিওনা বিসম্বাদ, আজ মিনতি আমার। দণ্ডী। শুন রাণী, বার বার কেন বল হেন বাণী, বৃথা কেন কষ্ট পাবে! আসিনাই পরামর্শ তরে, আসিয়াছি শেষ দেখা দর্শিবারে— যত দিন রবে প্রাণ করিবনা অশ্বিনী প্রদান। আজি এই শেষ দেখা তব সনে—বিদায়-- বিদায়-এখন! ( দণ্ডীর প্রস্থান)

দ্বিতীয় অঙ্ক।
চতুর্থ দৃশ্য
উদ্যান।
(দণ্ডীরজের প্রবেশ )
দণ্ডী।
হায়, ভেবে নাহি কুল পাই ।
থাক সৈন্য মোর, থাক নিজ বাহুবল ।
অভয় হেতু দ্বারে দ্বারে করিব ভ্রমণ।
বীরগণ আছে যত ধরামাঝে,
অভয় কারণ যাব আমি সদনে তাদের ;
কুবের বরুণ যম, অথবা
মগধ ঈশ্বর নিকটে ভিক্ষা লব
আশ্রয় কারণ! ছার রাজ্য
অমূল্য জীবন করিলে রক্ষণ,
পাব কত শত রাজ্য পুনঃ।
এক কথা, লােকে হীন জন বলি
ঘূণিবে আমারে ; কি ক্ষতি
আমার তয় !
(নেপথ্যে গীত )
মহিষী।
কেন কেন কেন মন উচাটন।
দক্ষিণ নয়ন কেন কাপে সঘন ।

৩৪
যদির-কলঙ্ক
দণ্ডী। আহা, হেন কালে
কেবা গায় এহেন সঙ্গিত।
গীত।
নে—মহি। হায় হায় ! হেন দুঃখ ক’ব কায় ।
হৃদয় মণি চলে যায়
অবলা নারীরে ঠেলিয়া দু’পায় ।
দণ্ডী। মরি! কে হেন কঠিন পুরুষ!
গীত।
নে—মহি। জীবন সঙ্গিনী,
দুঃখের দুঃখিনী।
পতি বিনাহি যানে সে রমণী ।
দণ্ডী। মরি! কেবা সেরমণী !
গীত।
নে—মহি। রাজার নন্দিনী, রাজার কামিনী।
সে অভাগিনী পতি সােহাগিনী।
দণ্ডী। আহা, কে হেন ললনায়
দেয় দারুণ বেদনা ;
ইচ্ছা হয় হেরি সে বদন।
(মহিষীর প্রবেশ)
মহিষী। প্রাণেশ্বর! পুনঃসে রমণী বাধা দিতে
আসিয়াছে তােমাধনে প্রবেশিতে
সমর প্রাঙ্গণে-প্রর প্রভু
অশ্বিনী তাহার সমীপে ; অথবা

যাদব-কলঙ্ক। দেহ দুত পাঠাইয়ে দ্বারকাপতির সদনে। মহারাজ! নারি বটে, কিন্তু যানি বিবাদে কিফল-আজ এমাের প্রার্থনা, এমাের মিনতি, অশ্বী সহ দুত এক করহ প্রেরণ তঁায়। দণ্ডী। প্রেরি বা না প্রেরি তাহে বাক্য ব্যয় হবেনা করিতে তব- নিজ মনে করিয়া চিন্তন যাহা ভান্স ভাবি, তাহাই করিব ; যাও ব্যাধিওনা মােরে চিন্তা উদ্ভাবন কালে । মহিষী। মহারাজ ! আসিয়াছি বাধা দিতে সঙ্কটের পথে তােমা করিতে প্রবেশ ! ক্ষান্ত হও, ধরি পায়, (পদ ধারণ) রাখ দাসীর মিনতি, দ্বারকার শান্তি যেন হয়না চঞ্চল !! দণ্ডী। আহা কি যন্ত্রণা, বৃথা কেন পুনঃ পুনঃ সেই কথা। মহিষী। প্রাণেশ্বর ! বল বল বিবাদ মিটাবে তুমি, রাখিবে অচল। শান্তি দ্বারকা নগরে, তাহলে এখনি যাইব আমি, দিবনা ব্যাঘাত তব অমূল্য সময়ে।

বাদব:কলঙ্ক।
দণ্ডী।
( বিরক্ত ভাবে) আরেরে নিৰ্ব্বোধ রমণী !
ডাকিনি তােমারে আমি পরামর্শ তরে।
মহিষী। (কাতর ভাবে )
মহারাজ! দাসী আমি তব পদতলে,
তে কারণে বার বার করি
মঙ্গল কামনা তব ; পতি তুমি, পত্নী আমি
তব। স্বামির অর্ধাঙ্গ নারী-
স্বামি হেতু সহে দুঃখ,
স্বামি হেতু ভোগে সুখ ;
স্বামি বই ললনার কেবা আছে ধরা মাঝে ?
প্রেম ভক্তি করিয়াছি দান
শ্ৰীকরে তােমার-বুদ্ধিমান,
নহ অজ্ঞ তুমি ! তে কারণে
অধিক বলা না হয় উচিত ;
পতি কায়া, পত্নী তার ছায়া।
দী। শুন বলি, উপদেশ তব শিখতে হবেনা মােরে ;
বুদ্ধিমতী তুমি, তবে কি কারণে বার
বার ত্যক্ত কর মােরে।
মহিষী। প্রাণেশ্বর!
বল বল যুদ্ধে নাহি করিব গমন,
তাহলে অভাগিনী নাহি দিবেক
যন্ত্রণা হৃদি মাঝে তব !
রমণীর খােদমের রোলে ফাটে
প্রাণ, খােলে কাণ কিন্তু

যাদব-কলঙ্ক।
মহারাজ! কোথায় সে ভাব তব ?
সী। (স্বগত) মাধুর্য্যেরতরে সহি, এত দুঃখ।
( প্রকাশ্যে বিরক্ত ভাবে )
শুন রাণী ! বার বার যত বলি
বিরক্ত কোনাে মোরে, ততই
বাড়িছ তুমি যন্ত্রণাদায়িনী।
দুর হােক, এখানেও না চাহি থাকিতে ;
যাই তুমি যথা না পার যাইতে।
(বেগে প্রস্থান)
মহিষী। হায় হায় ! কি করি উপায়,
কেমনে বা রক্ষি প্রণেশ্বরে
এহেন বিপদ সলিলে।
শ্রীমধুসুদন, নারায়ণ,
রাখ রাখ প্রাণনাথে মাের
এহেন সঙ্কটে। তোমাবই মানবের
কেবা আছে ধরণী মাঝারে ?
শ্রীচরণে স্থান দিও পতিরে আমার ।
দয়াময় !
ফিরাও-ফিরাও মতি গতি তার ;
শত্রু বলি ঘৃণা যেন নাহি কোরো
তায়। (প্রস্থান)

দ্বিতীয় অঙ্ক।
পঞ্চম দৃশ্য।
বিলাস-ভবন।
( দীরাজ, উৰ্বশী )
প্রাণেশ্বর ! কি কারণে
হেরি আজ ভার ভার মন !
বল নাথ ! কিসের ভাবনা এত ?
(স্বগত) রূঢ় ভাষে সম্বােধিব ?
-না--তাহা নহেত উচিত,
কোন কালে লােভি বার তরে
যারে কত প্রেম ভাষে, পায়ে ধরি
লয়েছি হৃদয়ে; তারে কেমনে বা
বলি কটু বাণী। রে মন, কেন পুনঃ
প্রেম আলাপনে হও নিমগন ?
যাহার লাগিয়ে সোনার সংসার
করি ই শ্মশান ! যাহার লাগিয়া
রাজ্য ধন মন দিয়া বিসর্জন

যাদব-কলঙ্ক।
ইচ্ছ দ্বারে দ্বারে করিতে ভ্রমণ !
কেন পুনঃ তঁারে চাহ তুষিবায়ে?
যা হােক্ সে হােক, এই শেষ আলাপন ;
যাইবার কালে করি এক বার কথােবকথন ।
(প্রকাশ্যে) চন্দ্রাননে! কি আর বলিব বল,
জ্ঞান হয় মনে দীরাজ নিজ দোষে
ফেলিল যবনিকা আপন জীবনে।
উৰ্ব্ব। কহ প্রাণাধিক।
কি কারণে পড়িল যবনিকা
তব সম রাজার জীবনে ?
দী। তােমার কারণে
যদি তােমা ধনে নাহি আনিতাম
আলয়ে আমার,
তাহলে জগতপতির সনে করিতে না
হােততা মোরে বাদ বিসম্বাদ !
উ। কহ নাথ ! জগত বন্ধুর
সনে কেমনে বা বাধিল সংগ্রাম ?
কেমনে বা ঘটিল এ দুর্ঘটনা ?
জণ্ডী। মৃগয়া করিতে গিয়া পেয়েছি তােমারে
জানি তাহা কোন জন মাধবের
তুলিয়াছে কাণে ! রমানাথ
দূত দ্বারা যানায়েছেন মােরে, যদি
তােমারে না করি দান, তাহলে,

যাদব-কলঙ্ক।
তিনি দিবেন যােগ বধিতে আমায় !
প্রতিজ্ঞা ভিষণ মাের! যদবধি
রবে প্রাণ করিনা তােমারে প্রদান ।
কিন্তু, নাহি মম সৈন্য বল বাহুবল,
যুঝিবারে মাধবের সনে ;
এই সে কারণে ইচ্ছি বীর গণ
দ্বারে করিয়া ভ্রমণ ভিক্ষা লব অভয় দান?
উর্ব। মহারাজ কি দশা আমার হবে ?
এইসে কারণে লােভেছিলে মােরে ?
এই কি কারণে আমি তোমা করেছি বরণ :
বীর তুমি বুঝ প্রাণপণে !
শুন বলি। লোভি তোম। ধনে,
ধন মান গেল অধঃপাতে ;
থাক মাের অশ্বশীলে,
নিশায় নিবাস এ ভবনে তব,
আথবা পূৰ্ব সম ভ্ৰম বনে বনে ;
নাহিক ক্ষমতা, নাহিক মমতা
মম! অন্য জন হােত যদি,
তাহলে সুন্দরী! দেখতাম
ক্ষমতা আমার ! দেখিতে তখন বীর দণ্ডী
কেমনে বা সৈন্য সনে যুঝিতেন অরিমাঝে ;
কিন্তু দয়াময় নিদয় আজি! তানাহলে
এত সুখ, এত প্রেম যায় রসাতক্ষ।

যাদব-কলঙ্ক। ৪১ শুনলে ললনা! বিন্দু মাত্র শক্তি যদি থাকিত আমার রক্ষিবারে তোম, তাহলে নিজ মুখ নাহি দিতাম সলিলে ! উৰ্ব। (স্বগত) এবে মাের মন-বাঞ্ছা হইবে পূরণ, এবে শাপ মাের হবে বিমোচন। এত দিনে ফুরা’ল ধরার যন্ত্রণা মম- এত দিনে আশা পুনঃ হতেছে উদয় পশিবারে স্বর্গেতে পুনঃ। (প্রকাশ্যে) শুন নাথ ! তােম। হেন প্রেমিক বীহনে কেমনে এ নারী করিবে জীবন যাপন ? কেমনে বা তােমার বীহনে পশিব এ ভবন মাঝারে ? ভাবি মনে, পাছে বিপত্নী জ্ঞানে পত্নী তব দেয়গো গঞ্জনা। #ী। সুন্দরী, ভেবনা কখন তাহা। দণ্ডীরাজ ছাড়ি রাজ্য আশা যেতেছে চলিয়া বটে, কিন্তু মম ; অবিদ্যমীনে কোন জন করিবে সাহস করিতে অন্যায় আচরণ ? ওমলো ললনা ! ভেবনা ভেবনা পত্নী মম বিপত্নী জ্ঞানে হৃদে তব দিবেক যন্ত্রণা ? আজি এই শেষ আলাপন, অজি এই শেষ দেখা, আজি

যাদব-কলঙ্ক।
এই শেষ কখোবকথন তব সনে ; জ্ঞান
হয় এজীবনে পুনঃ রাজ্য সুখ, প্রেমসুখ
হবেনা কখন। হবে দেখা, পারি যদি
রক্ষিবারে এই নিলর্জ জীবন ! তাই বলি
এস এস দুজনার অনৗরে করি মিশামিশি ?
সুন্দরী ! আর তিষ্টতে না পারি ।
নেহার--নেহার-আসে পুনঃ পতি হার
কাঙ্গালিনী পতি আশে ; যাই-যাই--
তানাহলে পুন পুনঃ দিবেক যন্ত্রণা
পতিপরায়ণ।
(প্রস্থান
উ। মাধবের সমর ঘোষণা অচল অটল ।
তার অনুরােধে স্বর্গের দেবতাগণ
হবে সমাগত সমর কারণ ;
হাে’লে উপনিত দেবগণ ধরামাঝে,
হবে মাের শাপ বিমােচন,
হবে তবে ‘বাদব-কৃ লঙ্ক”।
(প্রস্থান)
(মুরলার প্রবেশ)
মুরলা। হােল মে জানাজানি। এখন প্রাণ নিয়ে সব
টানাটানি। দেখ—অতি বাড়াবাড়ি—শেষেতে
সব ছাড়া ছাড়ি—বাবা বেশীর কিছুই ভাল নয়।
দু জনে যেমন ছেলে দেখা দেখি, এখন তেমনি
হোল ছাড়া আঁখি। আহা--তাইতো বলি-

যাদব-কলঙ্ক।
(গীত)
মন-পাখি বুঝতে না পারে।
উড়ে যায় যারতার তরে।
মনে করি বােঝাই বােঝাই—
সেও ছাই-বুঝতেও নারে ;-
(মন-পাখি) থাকে সদা অাপন গেভিরে।
কেউনা তারে বুঝাতে পারে।
যাই-আপনার কাজ করিগে, মনিবের ত মাইনে খাই।
(প্রস্থান)

তৃতীয়
অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য
গঙ্গা-বক্ষ।
(মূর্তিমতী গঙ্গা ও যমুনা)
যমুনা।
কহ দিদি ! কি কারণে,
রাজ-দণ্ড ত্যজি দণ্ডী দণ্ডধর পশিবে :
অতল সলিলে তব ?
গঙ্গা। শুনলো ভগিনী, উৰ্বশী সুন্দরী
দুর্বাসার শাপের কারণ
দিবসে অশ্বিনী নিশায় কামিনী
বেশে আছিল। যে কানন মাঝারে
দণ্ডী দণ্ডধর পশি শিকার কারণে
প্রেম ভাষেলয়েছে হৃদয়ে
তারে ! দন্দপ্রিয় ঋষিবর

যাদব-কলঙ্ক
৪৫
জানি এ বারতা মাধবেরে
যানায়ে উৰ্বশীর সে রূপ মা
জ্বালায়েছেন সমর ভীষণ !
যমুনা।
কহ দিদি,
সমর বারতা যবে হইল প্রচার,
সেবে অবন্তীরাজন যুদ্ধসাজে
হইল কি সজ্জিত যুদ্ধের কারণ?
গঙ্গা। নহে তা ভগিনী!
মাধবের সমর ঘােষণা শুনিয়া
রাজন প্রাণ ভয়ে সশঙ্কিত চিতে
আশ্রয় কারণ
কুবের বরুণ যম জরাসন্ধ
দ্বারে করিয়া ভ্রমণ বঞ্চিত
আশ্রয়ে হােয়ে আসিবে এস্থানে
জীবন সপিবার তরে !
যমুনা। সৈন্যবল বাহুবল নাহি
কি তাহার ? মনে হয়
শুনেছিনু তব মূখ হােতে
অবন্তিয়াজন সমর কারণ
বিখ্যাত এ ধরামাঝে !
গঙ্গা। সৈন্যবস, বাহুবল, মাধবের
কি পারে করিতে
যমুনা । তবে কি পশিবে সলিলে তর ?
?

যাদব-কলঙ্ক। গঙ্গা। পশিতে নাহবে তায়, এখনি অর্জুনভামিনী জল কেলি তরে আসিবে তটেতে আমার ; দণ্ডীরাজ জীবন সপিতে আসিবে এস্থানে ; উভয়ের শুভ দরশনে লয়ে যাবে অর্জুনভামিনী পাণ্ডব-শিবিরে। দেখলো যমুনা! আসে ঐ রঙ্গে ভঙ্গে বামাদল সঙ্গে অর্জুনভামিনী ! এস এস লো ভগিনি যাই মোরা আপন ভবনে। ( উভয়ের অন্তর্ধান ) (দীরাজের প্রবেশ হা বিধাতঃ ! সসাগরা পৃথিবীর বীর পুত্রগণ দিলনা আশ্রয় কেই ; কেহ করিলনা স্নেহ ! পশিলাম যবে জরাসন্ধ দ্বারে আশ্রয়ের তরে, সেবে বীরগর্বে সে বর্বর হইয়া গর্বিত করিল বৃথা আস্ফালন । যা হােক সে থােক- হইব স্মরণাগত এবে পণ্ডবের। হায়রে উন্মাদ আমি, তানাহলে কৃষ্ণসখা পাণ্ডবের স্মরণ লইতে মাের হতেছে বাসনা। কৃষ্ণযে পাণ্ডব সখা-

যাদর-কলঙ্ক।
৪৭
;
সবার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে কোন জন?
আমার আর নাহিক নিস্তার,-
চাহিনা—চাহিনা আর
কাহারাে আশ্রয় ; ওহে দয়াময় !
চাহি শুদু তব মক্ষপদ।
বিপদভঞ্জন।
এবে অন্তিম সময় মাের, দেহ তব
চরণ হৃদয়ে আমার !
ওহো-বুঝিছি—বুঝিছি,
শত্রু বলি করিছ ঘৃণা প্রদর্শন
দয়াময় ! বাহিরে শত্রু বটে তব,
কিন্তু! অন্তর্যামি ত অন্তর জান!
হইয়া চির নির্ভয় বাচাইব প্রাণ,
অশ্বিনীরে চরণে করিব অর্পণ তঁার ?
-না-এ বাসনা বৃথা মোর ;
প্রতিজ্ঞাকুল গৌরব, প্রতিজ্ঞাকুল
সেরাভ, কেমনে সে হেন প্রতিজ্ঞ।
আমি করিব লঙ্ঘন ! দশাশন
হরিয়া রামের নারী যদবধি ছিল
দেহে প্রাণ, তদবধি সীতাদেবী
করেনি প্রত্যার্পণ তঁায় !
দশানন আছে মাের আদর্শ স্বরূপ।
তবে ছিল তার ভূজবল, ছিল
অজেয় পুত্র মেঘনাথ তার
.

৪৮
যাদবকল।
তে কারণে দাশরথি সনে
কোরে ছিল মহারণ; কিন্তু নাহি মম
তত বল। হায় হায় ! ভেবে আর
কি করিব, গঙ্গার পবিত্র জলে
জীবন সপিব ।
(গঙ্গা-বক্ষেরদিকে অধিক তর অগ্রস রহইয়া
কর জোরে গঙ্গার প্রতি)
অয়ি মাতঃ সুরধুনি ! কলুষ হারিণী !
এসেছি তােমার তীরে ভাসিতে গো
অনীরে, চা ওগাে অপাঙ্গে
দাসের পানে বিপদ তারিণী ।
জগদম্বে ! দেমা শিরে অভয় চরণ,
শিব শির বিহারিণী, হরিপদ
নিঃসারিণী, তােমার পবিত্ৰনীরে
সপিব জীবন! অনন্ত যাতনাময়
জীবন আমার,এজীবনে ভুগেছি
মাতঃ ! কেবল দুঃখ অনুক্ষণ !
এ পৃথিবী নরক ধাম, লেশ মাত্র নাহি
গো সুখের নাম, কিন্তু তুই
মা অন্তিম কালে সবারই সহায় !
মাগাে ! আসিয়াছি তব তীরে
মরমে মরিয়া, প্রসারি দুইকর
ধর, মা হু য়ে ধর,
অজ্ঞান তনয়ে তাের করুণা করিয়া!

যদি ব-কলঙ্ক।
৪৯
অনাদরে প্রাণ মন মম পুড়ে
অনুক্ষণ, করিয়া অভয় দান কেহই
দিলনা স্থান—দয়ার দেবতা
নাহিক এ ধরা মাঝে!
মাগো ! কালের নির্জন স্থানে
যাব জনমের তরে, পারিনা
সহিতে আর এত অনাদর,সকলে
করিছে ঘৃণা, যানি মা বিকার শূন্য
অন্তর তোমার !
জননী! নেমা কোলে অধম সন্তানে।
{জল মধ্যে ঝম্প প্রদান)
(সখিগণ সনে সুভদ্রার প্রবেশ)
১ম সখি। এস লাে সখি ! সবে মিলি
আজি করি জল কেলি
এ গঙ্গার তটে !
১য় সখি । কাজ কি ভাই আর
তােমার অত রঙ্গ রসে।
৩য় সখি। নৈলে আর বল বঁচিকিসে ?
৪র্থ সখি ।
দেখলে স্বজনি!
কে বা সুঠাম পুরুষ
বীর বেশে আকণ্ঠ মগন
গঙ্গা জলে ভাসে !
সুভদ্রা। (অগ্রসর হইয়া) কেবা তুমি মহাশয় ?
দেহ পরিচয়, ভিক্ষামাগে

যাদব-কলঙ্ক।
তব ঠাই এই বাম দল!
পরিচয় দিলে তব হবেন হীনতা
প্রকাশ!
দী। (জলমধ্য হইলে উখিত হইয়া)
(স্বগত) পুনঃ যেন মনে হয়
ভাগ্যবলে রবে এ জীবন ।
(প্রকাশ্যে) অয়িলো সুন্দরী !
মম দুঃখ করিলে প্রচার
কি ফল হইবে বল ?
তোমরা অবস। সরলা,
মম দুঃখ শুনিলে পরে
পাবে শুদু হৃদি মাঝে জ্বালা।
১ম সখী। কহ মহাশয় ! অবশ্য ফলিবে সুফ।
দণ্ডী। শুনগাে সুন্দরীগণ, বলি শুন
মম বিবরণ, প্রেমের কারণ,
আজি মম হেতা আগমন ;
আমি অবন্তীরাজ, নাম মাের
দীরাজ ! ভাগ্য বলে শিকার
গমনে পাইয়া ললনা রেখেছি,
আলয়ে জানি দেব গদাধর যুঝিবেন
মম সনে। কিন্তু, নাহি মম
বল যুঝিবারে জগতবন্ধুর সনে ।
তে কারণ বীরগণ দ্বারে
করিয়া ভ্রমণ যাচিনু অভয় কারণ।

যাদব-কলঙ্ক।
৫১
কিন্তু, ভাগ্য দোষে কেহ
দিলনা আশ্রয় !
সুভদ্রা। নরনাথ !
কে করবে তোমারে নিধন?
শুন পরিচয় মাের !
পতি মাের তৃতীয় পাণ্ডব !
অভিমন্যু পুত্র মম,
সাক্ষ্যৎ সমন সম--
আৰ্য মাের ভীম--
ভীম সম বীর কেবা আছে
ধরণী মাঝারে,--তার অনুরোধে
দাদা ক্ষমিবে তােমায়,
ক্ষমিলে
দেখিতে হইবে তারে
আপন উপায়। ঘটিবে
মাধব সনে ঘােরতর রণ;
হইলে সমর শেষ, যেও
তুমি আপনার দেশ !
দণ্ডী। মুভদ্রে। সখিগণ সনে
চলি যাও আপন আপন ভবনে।
নারিবে রক্ষিতে জীবন আমার।
অন্তিম সময় মাের। গঙ্গাদেবী তরঙ্গে তরঙ্গ
কেলি এখনি করিবে কেলি !
যাও দেবী গৃহে যাও নিশ্চিন্ত হইয়া!

যাদব-কলঙ্ক
না ভাবিহ কিছু তায়।
কেন মহারাজ হতেছ হতাশ ?
আমার অশ্বসে হৃদে তব হ'লন।
বিশ্বাস ! বীরের ভগিনী, বীয়ের রমণী,
সীরের জননী আমি। বীরাঙ্গনা
বাক্যে তব হ’লনা অশ্বাস ?
রক্ষিবেন পতি মাের নিশ্চয় তােমারে,
তবে সখা ভয়ে হইয়া সঙ্কিত
যদি করে অপমান মাের, মাগিব
অাশ্রয় কারণ ভীম ভাশুর সদনে।
নিশ্চয় যানিহ রাজন! কুলধৰ্ম্ম তরে
কোন ভয় না করিয়া
তােমারে আশ্রয় দিবে ;
হয় প্রাণ দিবে
বিসর্জন মাধব-সমরে !
দণ্ডী । (স্বগত) হায় ! তুচ্ছ প্রাণের করি
রমণীর অঞ্চল করিয়া ধারণ
হ’ল রক্ষিবারে এ ছার জীবন!
ধিক্ ধিক! শত ধিক এ জীবনে।
কিন্তু অশি। মনে পুনঃ পুনঃ
হতেছে উদয় যেন রক্ষা পাব এ
মহাসঙ্কটে! যাই অর্জনভামিনী
সনে, নিশ্চয় রক্ষা পাব এ জীবনে ;
না হয় সখার কারণ শ্রীমধুসুদন
!

যাদব-কলঙ্ক।
করিবেন সন্ধি সংস্থাপন ! (প্রকাশ্যে )
সুন্দরী ! যাই চল তব সনে
এ ছার জীবন রক্ষার কারণে !
শুনহ নররায় ! বলি তােম।
পুনরায়, এস এস তোমাধনে
লয়ে যাই মম ভৗম ভাশুর সদনে।
( সকলের প্রস্থান )
তৃতীয় অঙ্ক ।
দ্বিতীয় দৃশ্য।
পাণ্ডব শিবির।
( ভীমের প্রবেশ)
ভীম ! কালের বিচিত্র লীলা বুঝা নাহি যায় !
কর্মক্ষেত্রে যারে সবে আপনার
ভেবে করে লালন পালন, সেই জন
করে অবতন ; হায়! সকলি কালের গতি।
ধার্মিক সুজন অবন্তীরজিন !
অসংখ্য-অসংখ্য চমু তঁার !
ক্ষত্রিয় তনয়—সজিব ! সজিব !
হায়! মানবের আশা-তৃষা কভূনা ফুরায়,
পলকে পলকে নব আশা মনেতে যুয়ায়।
প্রেমের তাড়নে পড়ি বিষময় নারী প্রেমে
জর জর করেছে অন্তর তার। হায় হায় !

৫৪
যাদব-কলঙ্ক।
কি করি উপায়, ক্ষত্ৰ-ধৰ্ম্ম লুপ্ত এবে প্রায়।
প্রাণের কারণ অবন্তীরাজ কুবের, বরুণ,
যম, জরাসন্ধীদি দ্বারে কোরেছে ভ্রমণ।
কিন্তু হায় ! তবু নাহি লােভেছে আশ্রয়।
দূরে লক্ষ করিয়া)
একি হেরি, কেবা আসে উন্মাদিনীবেশে ?
যে হও সে হও, কেহ নাহি বাধিতে
নারিবে আমারে ; ভরসা তাহারে আমি
দিয়াছি যখন, তখন প্রাণপণে রক্ষিব তাহায় ?
দিনমণি অস্ত যদি উত্তরেতে যায়,
দিক্ষাহীন নর যদি পাদপদ্ম পায়,
তবুও—তবুও ক্ষত্ৰ-ধৰ্ম্ম লুপ্ত নাহি হইবে রায়।
( কুন্তীর প্রবেশ
একি জননী অামার !
মাতঃ ! কি কারণে, কেমনে,
গরিহরি অন্তপুর অগিত এস্থানে।
ঘেটেছে কি অমঙ্গল মাতঃ ?
অথবা কোন অরি আক্রমিতে পুরী
আসিয়াছে রাজ্যেতে মােদের ?
দেহ মাতঃ ! দেহ বার্তা অবিলম্বে ;
সাজি তবে যুদ্ধের কারণ,
বল মাগাে, কোন হীন জন অসিয়াছে
জামােদর ভক্তে হারিতে বাণ?
কেমনে বা আসিয়াছে পাণ্ডব সনে

যাদর-কলঙ্ক।
৫৫
..
করিতে সংগ্রাম ! বল মাগাে,
কেবা সেই দুষ্ট জন, কেবা সেই
নির্বোধ অরি অসিয়াছে
যুঝিবারে পাণ্ডব সনে? ছার প্রাণ
তুচ্ছ জ্ঞানে দিব বিসর্জন
সমর প্রাঙ্গণে, সাজিব
যুদ্ধ সাজে
আসে আপনি যদি দেব যদুপতি ;
অথবা, যাদব দল যদি আসে, তাহলে
তা'হলে জননী তব আশীর্বাদে
পতঙ্গ সম বধিয়া তাদের, যাদব-কুলে
করিব কলঙ্ক অর্পণ।
ভেবনা কখন মাতঃ । বীর
বৃকোদর
যুদ্ধ-বাৰ্তা করিয়া শ্রবণ, রবে
ছার প্রাণের কারণ শিবির ভিতরে !
কুস্তি। অবােধ !
পাণ্ডব অরি অক্ৰমিতে পুরী
আসিয়াছে পাণ্ডব আলয়ে ।
নহে পাণ্ডব অরি, প্রসাদে
যাহার ভােগ রাজ-সুখ, যাহার প্রভাবে
বিপদে সম্পদে পাও পরিত্রাণ,
যাহার কৌশলে বারে বারে পার
রক্ষিবারে জীবন আপন, সেই জন
অরি তার।
ভীম। মাত! এই সে কারণে পরিহরি

যাদব:কলঙ্ক।
অন্তপুর অসিয়াছ পাণ্ডব শিবিরে !
এই কি কারণে আসিয়াছ ভীমের
সদনে। যাও মাগাে আলয়ে তােমার ;
নারিবে বুঝতে আমারে ; যদবধি
রবে দেহে প্রাণ তদবধি বীর বৃকোদর
থাকিতে শােণিত বিন্দু দণ্ডী দণ্ডধরে
নারিবে ত্যজিতে।
কুস্তি। কি আশ্চর্য যাদুমণি, একি ভাব
তব ! যাহারে ভিবারে ধ্যান করি
কতশত ঋষিবর পর্বতে, গহ্বরে,
কান্দারে, বেড়ায় খুঁজিয়া, সেই
হরি দয়াময় সহায় তােদের ;
কে মনে তাহার সনে করিবে সংগ্রাম' ?
বােলেছেন ধৰ্ম্মরাজ দণ্ডীরে ত্যজিতে,
এই সে কারণে আসিয়াছি বােঝাতে
তােমারে, কর তুমি দণ্ডী পরিহার !
মাগো ! বুঝাতে নারিবি
আমারে, বৃথা কি কারণে কষ্ট পাবে, চলি যাও
অাপন ভবনে।
(স্বগত) ধীরে
ধীরে কর আঘাত হৃদয়ে !
(প্রকাশ্যে) মাগো!
ধৰ্ম্মরাজের এই কিমা উচিত ব্যবহার।
জানি মা মােদের সখা দেব দামােদর,
তথাপি স্মরণাগত রক্ষিব মা সাধ্য মতে।
ভীম।
!

যাদব-কলঙ্ক।
৫৭
কুন্তী। নির্বোধ ।
বৃথা কেন কর জ্বালাতন !
মদনমোহন সনে করিয়া সংগ্রাম
চাহ হারাইতে নিজ প্রাণ ?
পঞ্চ ভাই বসি একাসনে যাহা ভাল
বুঝ মনে তাহাই করিবে এস মাের সনে !
ভীম। মাগো বার বার কেন কর জ্বালাতন,
যাও চলি আপন ভবনে !
কুন্তী। (স্বগত) হায় হায় একি দুর্বিপাক,
কোথা হােতে অবন্তীরাঙ্গন
করিল পাণ্ডব আলয়ে অাগমন !
( প্রকাশ্যে ) দয়াময়! তুমিই পাণ্ডব
সহায়, তব বলে করে এত অহঙ্কার,
তব বলে পাণ্ডবগণ বিজয়ি সংসারে !
( দুঃখে প্রস্থান )
ভীম। কি ভয়, সমরে কাপাব
বিটপি-পল্লব মুকুল
( নকুল ও সহদেবের প্রবেশ )
নকুল। ভ্রাতঃ! দাসদ্বয় আসিয়াছে তব পাশে,
আজ্ঞা হােলে করি মােরা ধৰ্ম্মরাজের
বারতা প্রদান !
ভীম।
(ক্রোধ সহকারে ) আজ্ঞা তব বুঝতে হবেনা মােরে ।
সহদেব। শুন দাদা! ধৰ্ম্মরাজ বােলেছেন

৫৮ যাদব-কলঙ্ক। দণ্ডীরে ত্যজিতে, পরিহরি দণ্ডী দণ্ড ধরে, শান্তি অভিষিক্ত দেহ করুন এখন! মকুল। ( ( পদ প্রান্তে পতিত হইয়া) দাদাগো চরণে ধরি, দ ও পরিহরি, এস মম সনে, লয়ে যাই তােমা ধৰ্ম্মের সদনে। ভীম । শুন ভাই ! কেন বৃথা কর অনুরোধ ! নারি ব রক্ষিতে আমি ! যাও ভাই বলগে ধৰ্ম্মরাধে বৃকোদর দ ও দণ্ডধরে রক্ষি বার তরে করিয়াছি প্রতিজ্ঞা ভীষণ। সহদেব । দাদ। মা ধরের সন সমর-বাসনা তব অ কারণ, কেন দাদা চা ও বিসর্জিতে বিশ্ববিজয়ি পাণ্ড বনাম ! দাও দাদা, দাও ফিরি, অশ্বী সহ দণ্ডীরাজে যাদব- শ্ৰী করে! কেন দাদা পরের লাগিয়া ইচ্ছা তুমি হারাইতে নিজ প্রাণ? পরের লাগিয়া কেন চাহ ধন মান দিতে বিসর্জন ? ভীম । শুনরে অনু জদী দণ্ডধরে দিলনা আশ্রয় কেহ, কেহ করিনা স্নেহ, তে কারণে হৃদি মাঝে মম হইল দয়ার সঞ্চার ; এই হেতু রক্ষিবারে আমি করিয়াছি অঙ্গিকার, করিয়াছি প্রতিজ্ঞা ভীষণ তায় রক্ষিবারে ! ভাব রে, অনুজ, ভাব নিজমনে,

যাদব-কলঙ্ক।
কেমনে ক্ষত্ৰকুলােদ্ভব বীর তুচ্ছ প্রাণের
কারণ, করিবে আপন প্রতিজ্ঞা লঙ্ঘন ।
জ্ঞান হয় যেন দেব যদুপতি, কহিলেন মম
প্রতি “দেহ অবন্তীপতিরে আশ্রয়,
তাহলে বৃকোদর, অমর অক্ষয় যশ
হবে উপার্জন পাণ্ডব ভিরে ;
তে কারণ রক্ষিয়াছি দণ্ডী দণ্ডধরে,
তেকারণে দিয়াছি আশ্বাসতারে !
সহদেব। শুন দাদা, তব বাক্যে হল
যেন বীরত্বের সঞ্চয় মম, তব
বাক্যে হৃদিমাঝে মাের বীর-ভাব
হইল উদিত ; দাদা প্রতিজ্ঞা আপন
করহ পালন, প্রতিজ্ঞা পালনে করহ
যতন, যতনে অক্ষয় যশ হবে উপার্জন ।
শুন ভাতৃদ্বয় ! বুঝিয়াছ অন্তর আমার,
কি কারণে, দিয়াছি আশ্রয় অবন্তীরাজনে ?
সহদেব শুন মম বাণী, যাহ তুমি
ধৰ্ম্মরাজে বুঝাবার তরে, শুনরে
নকুল যাহ তুমি আলয়ে আমার
আশ্বাসিতে অবন্তীপতিরে!
নকুল। দাদ ! আজ্ঞা তব করিতে পালন,
দাস এই করিল গমন।
( প্রস্থান)

যাদব-কলঙ্ক।
সহদেব ।
দাদা! যাই তবে ধৰ্ম্মের
সদনে তব অজ্ঞামতে !
( প্রস্থান)
ভীম। রণরঙ্গে মাতাব সবারে,
ছুটাব উৎসাহ হৃদয়ে
সবার-রণে ত্রাসিব যাদবগণে--
( অর্জুনের প্রবেশ )
অর্জুন। শুন আৰ্য, ধৰ্ম্ম আজ্ঞা মতে
আসিয়াছি তবপাশে !
ভীম ।
এস এসরে অর্জুন
বীর জন কভূ পারে আশিতেরে
আশ্রয় হােতে করিতে বঞ্চিত।
যথার্থ বীর তুমি, তেকারণে
পরামর্শ তরে আসিয়াছ আমার
সদনে ; কি ভয় ? সমরে কাপা’ব বন,
কাপা’ব ত্রিভূবন ; কহত অৰ্জ্জুন কেমনে
আশিতেরে করিব বিদায়।
অর্জুন। শুন দাদা, আসি নাই আশ্রিতেরে
করিতে রক্ষণ, আসিয়াছি বাধা দিতে
মাধব-সমরে তােমা করিতে প্রবেশ ।
ভীম রে বর্বর , বীর বট তুমি !
এইকিরে বীরের বীর ভাব ?
এইকিরে ধৰ্ম্মপুত্র যুধিষ্ঠিরের
হ’ল সুবিচার ?—এই বীরগর্বে
;

যাদব-কলঙ্ক।
হওরে গর্বিত।
আরেরে বব্বর, তুই কি সে মহাবীর
অভিমন্যু পিতা, তুই কি সেই
ক্ষত্রকুলােদ্ভব পাণ্ডুর নন্দন, প্রভাবে
যাহার রণ মাঝে মহারথী হয় পরাভব ?
কোথায় সে ভাব, কোথায়
সে বিরত্ব তব, যাহা হেরি দেব নর
যক্ষ রক্ষ ভয়ে করে পৃষ্ঠ প্রদর্শন ?
মৃত্যু ভয়ে ভীত কিরে তুই ?
কর, ক্ষত্ৰকাৰ্য, প্রকাশই ক্ষত্ৰ-ধৰ্ম্ম,
যাহা করি প্রদর্শন, পিতা-পিতামহ
তব করিয়াছেন অক্ষয় অমর যশ উপার্জন ?
বীর তুমি, কি কারণে
স্মরণাগতেরে চাহ করিতে বর্জন?
বীরবর! ধর অস্ত্র শত্রুর বিরুদ্ধে ;
শিব-দত্ত পাশুপৎ বাণ টঙ্কারহ
ধনু মাঝে তব।
দ্রোণচাৰ্য গুরু,
বীর বলি শিখায়েছেন ধনু বিদ্যা তোম,
যাহার প্রভাবে রণমাঝে সকলে করেরে
প্রশংশা তােমার। কি কারণে চাহ
শত্রুপদে হইতে পতিত ।
বীরের মুখ হোতে কেমনে এ হেন
অকথ্য কথন হ’ল উচ্চারণ, বুঝিতে
নারিল ভীম ক্ষুদ্র বুদ্ধি বলে !

যাদব-কলঙ্ক।
৩
অর্জন। যা বল সে বল, একমাত্র রক্ষা কৰ্ত্তা যিনি,
তারে, কেমনে বা যুদ্ধ হেতু ডাকিব
সমরে ? একাৰ্য আমি নারিব
করিতে; শুন দাদা দেহ অশ্বীসহ দণ্ডী রাজে
মাধব-এ করে !
ভীম। অর্জন, ভেবেছ কি তব সম বীর নাই মেদিনীমণ্ডলে।
ভেবনা কখন, ক্ষত্ৰকু মাঝে তব সম বীর
কত শত আছে বিদ্যমান ! ভেবনা
কখন তব সহায় বীহনে বীর বৃকোদর
অশ্বীসহ দণ্ডীরাজে করিবে অর্পণ
মাধব শ্ৰীকরে ! যাওরে অর্জন নিজ বধু’মান
নাশিবারে লওগে শরণ যদুপতি
পাশে ; ভেবনা কখন আশিতেরে
করিলে বঞ্চিত যশ তব হবে উপার্জন ?
যারে অধাৰ্ম্মিক ক্ষত্ৰকুলগ্লানি, ধৰ্ম্ম
বল বাহুবল ত্যজি ল ওগে শরণ যাদব
পতির সদনে ! পার যদি লয়ে যেও সাথে
অন্য যত বীরগণে। দূর হও ! বীর পৃকোদর
ক্ষত্ৰকুলগ্নানি মুখ নাহি করে রে দর্শন !
যদি যদুপতির শরে যায় এ জীবন, তাহলে
তাহার অপেক্ষা সুখ নাহি হবে ;
নিরূপম নিত্যধামে পাব নিকেতন।
(যুধিষ্ঠিরের প্রবেশ)
এস এস আর্য্য। প্রণমি চবণে!

যাদব-কলঙ্ক।
খুধি ।
এসেছ কি যুদ্ধ সাজে হইতে সজ্জিত।
অথবা ক্ষত্ৰ-কুল-ধৰ্ম্ম দিতে বিসর্জন ?
শুনরে অনুজ। ত্যজ ভাই দণ্ডী দণ্ডেশ্বরে,
বৃথা কেন কুযশের ধ্বজা উরাইবিরে
ভাই; কটাক্ষে করেন যিনি জগৎ সংহার,
কেমনে রণসাজে যুঝিবে তাঁহার সনে?
ধর ধর ভাই, বিহিত বচন ধর,
দণ্ডী পরিহার কর ; কেন ভাই সবে
মিলে চাহ হারাইতে প্রাণ? কিনেছিলে
বিনা মূলে বিশ্বময়, বিহর,
মধুসুদনে।
ম; দাদা বৃথা কেন কর তিরষ্কার মােরে ।
ভাব নিজমনে আশ্রিততরে
কেমনে করিব বঞ্চিত ! প্রতিজ্ঞা করেছি
যখন, নারিব কখন সে প্রতিজ্ঞ।
করিতে লম্বল, তাহে প্রাণ যায় যাক্,
তথাপি ক্ষত্ৰ-ধৰ্ম্ম করিব পালন।
ধৰ্ম্মরাজ ! কেন চাহ আশ্রিতেরে করিতে বর্জন ?
জাননা কি অৰ্য! ক্ষত্ৰ-ধৰ্ম্ম
অশ্রিতেরে করিতে রক্ষণ, বিদিত ভূবনে
ইহা জ্বলন্ত অক্ষরে! অটল অচল প্রতিজ্ঞা
মম ; চিরকাল আজ্ঞা তব করেছি পালন,
কিন্তু আৰ্য! এ অজ্ঞা আমি নারিব
রক্ষিতে এখন। অচল সে আৰ্য-ভক্তি এ

৬৪
যাদব-কলঙ্ক।
(প্রস্থান)
হৃদি হইতে কে যেন তুলিয়া নিল !
যত দিন রবে প্রাণ, তত দিন করিব
না দণ্ডী দান–প্রতিজ্ঞা আমার
অটল অচল !
যুধি। ভাইরে অর্জন! একি সর্বনাশ
একি দুর্বিপাক, ঘটিল হরিষে
বিষাদ মাের ; হা বিধাতঃ কি আর
করিব, কি আর ভাবিব, রক্ষা কর
এই অমঙ্গলে, মঙ্গলময় তুমি,
তােমরই ভরসা !
এস দাদা, এস এস যাইপুন:
মােরা বুঝাইতে বীর বৃকোদরে !
(প্রস্থান)
তৃতীয় অঙ্ক।
তৃতীয় দৃশ্য।
দ্বারকানগর-রাজ-কক্ষ।
শ্রীকৃষ্ণ ও দূত।
যা-দূ। শুন দেব ! বীর, বৃকোদর,
দণ্ডীরাজে দেখি নিরাশ্রয় ব্যথিত
হইয়া চিতে দিয়াছে আশ্রয়!

যাদর-কলঙ্ক। প্রবল পদ্মার স্রোতে যথা তৃণগণ ভেসে যায় নহি মানে কোন বাধ,—তেমতি, বীর বৃকোদর, ত্যজি বিপদের ভয় দিয়াছে আশ্রয় সে অবন্তীরাজনে! ক। দূত ! সত্য কিরে তব বাণী ? দূত। যদুমণি ! অন্তৰ্য্যামি তুমি, তবে কি কারণে করহ ছলনা এই দীন বার্তাবহ সনে ? রে দূত মদনে আনহ এখানে ! ( দূতের প্রস্থান) অরেরে পাণ্ডব, এত গৰ্ব নাহি সাজে তব, কার বলে এত গৰ্ব্ব, এত বীর- ভাব কর প্রদর্শন ; রে ভীম, ভেবেছ কি বীর নাই তব সম জগত-ভিতরে ? ভ্রান্তি, ভ্রান্তি মাত্র তব বিবেচনা--- ভেবনা তব ভয়ে যাদবগণ রবে দ্বারকানগরে। রে র ! কার বলে বার বার বিপদ হােতে পাও পরিত্রাণ ? ভেবেছ কি নিজ বলে ? নহে তাহা ; বৃকোদর কার বলে এত গৰ্ব্ব, এত অহঙ্কার, মুহুর্তে ব্রহ্মাণ্ড : আজ দিব রসাতল, অনলে পতঙ্গ সম ষাদৰ:কলঙ্ক। হইতে নিধন, কে দিলরে উপদেশ তােরে ? কে দিলরে হেন কুমন্ত্রণা! প্রতিজ্ঞা অমার আজি জ্বালাব সমর ভীষণ, পাণ্ডবগণ করিব নিধন! বন্ধু মাের ভীম নানা শক্র সে আমার-নতুবা বন্ধুসনে করিতে বিবাদ,--কেবা কবে করিয়াছে সাধ! ভয়ে মাের কুবের বরুণ আদি যত দেবগণ—দিলনা আশ্রয় তুই কিনা ক্ষুদ্র নর হয়ে কোরেছ অবজ্ঞা মােরে ? রণে ইন্দ্র প্রস্থ দিব ছারেখরে । কি আশ্চর্য্য ! নিষেধ করিনু আমি আশ্রয় দানিতে, অবহেলে বাক্য মাের দিল সে আশ্রয় ! আরেরে অর্জন! এই কিরে বন্ধুত্যার তিব্র প্রতিফল? ল’ব এর প্রতিশােধ- (দূত সহ মাদনের প্রবেশ) মদন! করহ ইন্দ্র প্রস্থেতে গমন,-বলিবে পাবে যেন অশ্বীসহ দণ্ডীরাজে প্রদান করে সে মােরে। যদি নাহি করে দীন—তাহ'লে শুনহ মদন, যুদ্ধের কারণ কুরু-দন্স বিন মম আজ্ঞামতে ত্রিভূবন করিবে নিমন্ত্রণ !

যাদব-কলঙ্ক।
মদন। পিতা-পিতা—বুঝিতে নারিনু মন-ভাব
তব,—ত্রিভূবন হােল নিমন্ত্রণ, তবে কি কারণে,
কোন্ অপরাধে, কুরু-দল নাহি হােল নিমন্ত্রণ ?
কৃ। শুন ৰৎস্য ! আজ্ঞা মম করহ
পালন! ত্রিভূবন যেন হয় নিমন্ত্রণ।
মদন। দূতবর-সাজাহ ত্বরিত রথ, যাব ইন্দ্র প্রস্থে ।
পিতা তব সনে করি বাদ, পাণ্ডব বংশ
হবে লয়,—চল দূত যাই ইন্দ্র প্রস্থে।
দূত। বীর বৃকোদর করিয়াছে প্রতিজ্ঞা ভীষণ
করিবারে ঘােরতর রণ। যাই দেব!
আজ্ঞা তব করিতে পালন। (প্রস্থান)
মদন। পিতা, পাণ্ডব যে তব সখা,
সখার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরিবে কেমনে ?
অল্প বুদ্ধি লঘুচেতা পাষণ্ড বর্বর
ভীম, পারে করিবারে সমর সাধ, কিন্তু
পিতা! সাজে কি সাধ তব ?
একৃ । শুন বৎস্য ! শত্রু সনে করিতে
সমর, কোন্ জন নাহি করে আকিঞ্চন?
সাধিল শত্রুর কাৰ্য! বন্ধু হােত যদি,
তাহলে নাহি করিত এহেন ঘৃণিত
বিচার? যাওরে কুমার করহ স্বকাৰ্য্য
সাধন।
মদন। পিতঃ! নমে পুত্র তব পদে।

যাদব-কলঙ্ক।
৪ কৃ।
এস বৎস্য ! মন-বাঞ্ছা তব
হউগ পূরণ।
(মদানের প্রস্থান)
ভাবি মনে,—চির কাল অনুগত
হোয়ে, কেমনে করিল বাসনা
যুঝিবারে মম সনে।
(বলরামের প্রবেশ)
বল।
একি আজ শুনিরে অনুজ !
ভীম নাকি দিয়াছে আশ্রয় সে
অবন্তীরাজনে ? দেথরে অনুজ
ভাবি নিজ মনে !
পাণ্ডবগণ ভক্ত বটে, কিন্তু অন্তরে তা নহে।
জানি আমি ভাল রুপে পাণ্ডবগণে-
ধনঞ্জয় যবে যাদব পুরে কোরেছিল
আগমন—তখনি বলিছি তােমারে,
সতর্কিত ভাবে রাজ্য পালিবারে; কিন্তু
মম বাক্য অবহেলে পেয়েছ ত প্রতিফল তার। ভাবরে
সুভদ্রা হরণ! কি আর করিব বল, চক্তি তুমি !
সকলি তোমারি চক্র ।
শ্ৰকৃ। দাদা কেমনে জানিব বলনা
অন্তর সবার ?—যা হােগ সে হােগ,
সাজ দাদা সমর তরঙ্গে, মাত সমর
কারণ, কর নিমন্ত্রণ যত দেবগণে!
বল। শুন চক্রপাণি। সকলি তােমার চক্র,
চক্ৰ কিছু বুঝিতে নারিনু। ভক্ত তাের

যাদব-কলঙ্ক।
পিতা মাতা, ভক্ত তাের প্রাণ, কহরে
অনু! কেমনে সে ভক্তে তুই প্রহারিবি
বাণ ?
শ্রীকৃ। দাদা, ভক্ত কেবা মাের ? ভক্ত কি
প্রভূর হৃদয়ে দেয় গাে বেদনা
কভূ ? ভক্ত হেতি যদি, তা'হলে
অবন্তীরাজনে করিতনা অভয় প্রদান।
মাতে সমর কারণ, যুদ্ধ সাজে করহ
সজ্জিত যত যাদব বরগণে,
উত্তেজিত করই সব যাদব সৈন্যগণে।
নিমন্ত্র কারণ যত দেবগণ আসিবে
করিবারে রণ ; যাও দাদা,
মাতাও হৃদয় সবার যুদ্ধের
কারণ!
এত দিনে পাণ্ডব বংশ,
পড়িল রে কৃষ্ণ কোপানলে ।
এসরে ভাতৃদ্বয় মিলি করি যুদ্ধ
সাজে সৈন্য আয়ােজন।
(উভয়ের প্রস্থান)

তৃতীয় অঙ্ক। চতুর্থ দৃশ্য । ইন্দ্রপ্রস্থ-যমুনাপুলিন ( বিদুয়ের প্রবেশ) বি। দুর্দন্ত কলির প্রভাবে জ্ঞাতি-ধৰ্ম আর নাহি রয়। ছি ছি, অধৰ্ম্ম আচরণ আর সহিতে না পারি ; হরিণ হরিণী যেমতি বিনা দোষে ব্যাধ হস্তে ত্যজে প্রাণ, তেমতি ক্ষত্ৰকুলাধম অধৰ্ম্মী নারকী দুর্যোধনের কুট মুন্ত্রণ। কারণ পাণ্ডবের হয় বুঝি লয় । যেমতি প্রাবৃটে আকুলিত মনে হতাশ প্রাণে বিহঙ্গমকুল ভ্রমে স্থানে স্থানে, তেমতি সৌবলেয়ের মন্ত্রণা-বলে পাণ্ডবের প্রমে কভূ, বনে কভূ বা নির্জনে। পাণ্ডবের দুঃখ- ছবি আর হেরিতে না পারি; অন্ধরাজ ধাম্মিক সুজন, কিন্তু হায়! দুর্দন্ত সন্তান কারণ লােভিতেছে অক্ষয় অযশ । লােকে পুত্র চায় খ্যাতিলেভিবারে, ত্রাণ পেতে ভয়ঙ্কর নরকানল হতে, কিন্তু মাের আর্য ভাগ্যে সবি বিপরিত। ছিছি ! পুনঃ বুঝি পাণ্ডবে নাশিতে জ্ঞাতি- ধৰ্ম্ম দিয়া জলাঞ্জলি দেয় যােগ যাদব সহিত! !

যদিব-কলঙ্ক।
৭১
যাই---পারি যদি বুঝাইবারে শান্তিদাতা
পাব সখীরে। ( অগ্রসর হওন)
( সহসা আলােকিত হইয়া স্বরস্বতীর আবির্ভাব )
(চমকিয়া) একি! একি । কিহেরি ! কিহেরি!
অয়ি মাতঃ শ্বেতাঙ্গিনী বিদ্যাপ্রদায়িনী
নারায়ণ ! প্রণমামি ও রাঙ্গা চরণে।
জননী অভাগা সন্তান আমি,
কি জানিব মহিমা তােমার !
( প্রণাম )
বৎস্য রে !
দোলচিত্তে বৃথা কেন কর আরােহণ ?
বুথ। পরিশ্রম, বৃথা আকিঞ্চন,
নিয়তির গতি কভূ নারিবে রােধিতে !
প্রভূর আদেশে দুষ্টা বেশে বসি যুধিষ্ঠিরের
রসনা মাঝারে যুদ্ধ অজ্ঞা করার প্রচার ;
যাও বৎস্য ! আনন মগনে
মায়াময় শ্রীহরির লীলা-খেলা
দেখাও জগতে !
( অন্তধন !)
বিদু। নারায়ণী কোথায় লুকালি জননী।
বারেক অফুটন্ত অাধ আধস্বরে
বৎস্য রবে কর সম্বােধন,জুড়া অনন্তাল ।
(আলােকিত হইয়া কমলার আবির্ভাব )
সার্থক--সার্থক জীবন!
নয়ন ! প্রাণভরি কর দরশন ;

৭২
যাদব-কলঙ্ক।
অয়ি মাতঃ হরিপ্রিয়। ইন্দিরা কমলা !
নমে দাস রাতুল চরণে।
(প্রণাম )
কম। বৎস্য রে !
ত্যজশােক, পরিহর মন ক্ষোভ।
পতির আজ্ঞায় কুরু-সভা মাঝে
হইয়া উদয় সুমন্ত্রণা দানিব তথায় !
রাজা দুর্যোধন জ্ঞাতি-ধৰ্ম্ম করিবে পালন।
( অন্তর্ধান )
বিদু। জননী-জননী-
তৃতীয় অঙ্ক।
পঞ্চম দৃশ্য।
ইন্দ্রপ্রস্থ-রাজসভা।
যুধিষ্ঠির, অর্জুন, নকুল, সহদেব।
মদনের গীত গাহিতে গাহিতে প্রবেশ।
গীত।
মদন। কোরনা করেন। রণ শ্রীকৃষ্ণের সনে,
ভালবাসা দেখাতেছ ভাল তব বন্ধু জনে।
যার বলে তৰ বলতার সনে কিব’লে বল
দেখাতে যেতেছ বল, লজ্যা ভয় কি নাহি মনে

যাদব-কলঙ্ক।
।
জগতের পতি যে জনতার সনে করে রণ--
হারাইতে ধন প্রাণ,—কেন হে বাসনা মনে।
বলি ওহে শুন শুন—করিতে যেওনা রণ,-
হারাইওনা নিজ প্রাণ—হেন কাৰ্য অনুষ্ঠানে।
ধি । এস এস বৎস্য, আছত কুশলে,
কহ রে পিতার কুশল ?
মদন। মহারাজ! জ্বালায়ে সমর ভীষণ,-
কেমনে জিজ্ঞাসহ কুশল বারতা ?
ধৰ্ম্মরাজ ! আর তব নাহি ক নিস্তার,
পিতার প্রবল অরি দী কুলাঙ্গারে
দিয়াছ অাশ্রয় ! ভেবনা কখন পিতার
তারিরে আশ্রয় দানিলে—পারিবে সুখে
রাজ্য করিতে শাসন ! পিতার আজ্ঞার
কারণ, অজি মম তব রাজ্যে আগমন !
ভাবি মনে, কোন্ প্রাণে, কেমনে দিয়াছ
'আশ্রয় অবন্তীরাজলে ; শুনা আৰ্য্য, অশ্বী
সহ দণ্ডীরাজে করহ প্রদান মোরে--
যদি তহা নাহি পার,-তাহলে—শুন ধৰ্ম্মরাজ :
যুদ্ধের কারণ কর আয়োজন ! ধৰ্ম্মরাজ
এই তব ধৰ্ম্মের প্রশ্রয় ? কার কাছে।
শিখেছিলে এহেন বিচার ?
তুমিনা পিতার বন্ধু ? কেমনে দিয়াছে
আশ্রয় শক্রর পিতার ?
ধৰ্ম্মরাজ। নীচ ধৰ্ম্ম রক্ষা করি—

৭৪
যাদব-কলঙ্ক।
কি কারণে কোন প্রাণে মোক্ষ-পদ
ধৰ্ম্ম নষ্ট করিলে হেলায় ?
যুধি । শুন বৎস্য ! কি আর বলিব বল,
শুনিল না বৃকোদর আমাদের কৃপা ;
বীর বৃকোদরে হিতােপদেশ কত
দিলেন জননী মম, কিন্তু শুনিল না
তঁার উপদেশ। দণ্ডী দণ্ডধরে নাহি
করিল বর্জন ।
অর্য্যি ! রাখ রাখ মধুমখি। মায়ার
বচন তব ! ঐ মধুমাখা বাণী, শুনি
যদুপতি আকুলিত অতি ! তব মধুমাখা
বাক্যের মায়ায়,--ভুলাতে নারিবে
আমায় ! না চাহি শুনিতে আর মায়ার
বচন তব ! অবন্তীরাজনে দিয়াছ অাশ্রয়,
সে কারণে পাবে প্রতিফল!
ধৰ্ম্মরাজ! যাহার ভয়ে ত্রিভূবন লােক
করিলনা আশ্রয় দান, ঔারে কেমনে
অবহেলে দীরাজে দিয়াছ আশ্রয় ?
যাহারে লভিবারে কত শত যােগিবর
কত শত যুগ করি আরাধন, লভে
চরণ, তঁারে কেমনে তুমি ভাবিলে
সামান্য জন ? নাহি মনে বীর ধনঞ্জয়,
কেমনে কাহার প্রসাদে বীর নাম
করিলে অর্জন, কাহার প্রসাদে

যদির-কলঙ্ক। সুভদ্রা করিয়া হরণ, পাইলে সে বিপদে পরিত্রাণ ? কেমনে পাইলে উদ্ধার যবে দুর্যোধন, বহুশিষ্য সনে, তব সর্বনাশের কারণ দুর্বাসারে পাঠাইলা সেই বিজন বিপিনে ? কাহার প্রসাদে রাজ- সুয় যজ্ঞে পেলে পরিত্রাণ, যবে দুষ্ট দুৰ্য্যোধন তােমা নাশিবারে ইচ্ছা মতে ভাণ্ডারের ধন কোরেছিল বিতরণ ? কাহার প্রসাদে সেই যজ্ঞে ত্রিভূবন বাসী নরপতিগণ নেমেছিল তক পদতলে ? ধৰ্ম্মরাজ ! ভেবেছ কি নিজ বাহুবলে ? ভেবনা কখন ! যুধি। শুন বৎস্য ! বৃথা কেন কর বাক্য বিন্যাসন ; অবােধ বৃকোদর দীরাজে ত্যজিবারে হয়নি সন্মত এ দুঃখ বারতা জানাইও বিশ্বপিতা বিশ্বময় হরি সদনে। চিরভক্ত পাণ্ডবেরা অপরাধী তার ঐ চরণে ! বােল তারে তিনি যেন ঘোষ ত্যজি পূৰ্ব্ব-সম ভাবেন চিরদাস পাবেরে । (ভীমের প্রবেশ) মদন। আৰ্য। পাবে প্রতিফল দণ্ডীর আশ্রয় কারণ। পিতার আজ্ঞায় যুদ্ধের কারণ— কুকদল বিনা ত্রিভুবন হবে নিমন্ত্রণ !

যাদবকার্ফ ।
?
আরে বৃকোদর, কি কারণে দিয়ছি
আশ্রয় অবস্তীরাজনে ভাবনিকি
মনে, আশ্রয় কারণে যাদবগণের
তিক্ষু শরস্রোতে, ইন্দ্র প্রস্থ
যাবে ছারেখারে ?
ভীম। রেক্সিণেয় ! কি আমারে দেখাইছ ভয় ?
ভেবেছ কি মনে, নির্ভিক পাণ্ডবগণে দেখাইৰে
ভয় তব বৃথা আস্ফালনে ? জানিরে যাদব
গণের বীর্য্যব, বাহুবল যত, বীরত্ব জানিতে
তােদের বাকি কিছু নাহি মাের !
ভূলেছ কি মনে কি কারণে নিবাসহ
দ্বারকানগরে ? পুনঃ শুন আমার
সদনে ; পিতা তব যবে মগধঈশ্বর সনে
প্রবৃত্ত হােয়েছিল রণে, সেবে তার
ভুজ-যুগ-বলে হােয়ে পরাজয়,
আশ্রয়ের তরে পশে ছিল জলধি তলে।
সে কারণে মগধের ভয়ে মথুরা ছাড়িয়া
তােরা আছিস দ্বারকাধামে।
বলিস, জনকে তাের, বৃকোদর শােণিত বিন্দু
থাকিতে জীবনে, দণ্ডী দণ্ডধরে
করিবেনা যাদব করে প্রদান !
দিবাকর হয় যদি পশ্চিমে উদয়
শীতলতা পায় যদি দহনের শিখা,
পিপীলিকা তুলে যদি কৈলাস পর্বত,

যাদব-কলঙ্ক।
তথাপি বীর বৃকোদর আপন প্রতিজ্ঞা
কমিতে পালন করিবে যতন!
মদন। শুন বৃকোদর! জানি ভাল মতে
যে কারণে পিতা মম পােশ ছিল
জলধি তলে। ভক্ত তার পিতা মাতা,
ভক্ত তাঁর প্রাণ, বাড়াতে ভক্তেরই
মান কোরেছিলেন আশ্রয় গ্রহণ !
বেনাক মনে, ছার প্রাণের কারণে
আশ্রয় কোরেছিলেন গ্রহণ।
করিলে মনন, পারিতেন কত শত
জরাসন্ধ করিতে নিধন! বৃকোদর,
লাজ তবে যুদ্ধের কারণ, কর সৈন্য
অয়ােজন, থাকে যদি আত্মিয়জন,
যুদ্ধের কারণ কর নিমন্ত্রণ !
আশ্রয় কারণ তাদের করহ স্মরণ !
যাই আমি পিতার আজ্ঞা মতে
স্বর্গ, মর্ত্ত, রসাতল, করিবারে
নিমন্ত্রণ। দেখি, প্রতিজ্ঞা
পালনে কতক্ষণ করহ যতন !
(প্রস্থান !)
ভীম।
মন! হােয়না চঞ্চল,
অবশ্য ফলিবে সুফল!
(প্রস্থান !)
( যুধিষ্ঠিরের নেত্র হইতে জল পতন )

যাদব-কলঙ্ক।
নকুল।
দাদা, বৃথা কেন করহ বােদন ?
যদুপতি প্রতিজ্ঞা কোরেছেন যখন,
তখন নিশ্চয় প্রতিজ্ঞা পালনে,
দেবগণ সহ আসিবেন করিবারে রণ।
সুধি। হায় হায়, কি হবে কি হবে !
কেমনে পা’ব পরিত্রাণ এহেন সঙ্কটে।
অর্জুন। দাদা ! বীর নাম করিয়া অর্জন,
নারিব শিবির ভিতরে করিতে
মগন, যবে যাদবগণ আসিবেন
করিবারে রণ ?
যুধি। বিধির লিখন কভূ হবেনা খণ্ডন,
অপরাধী কেশব চরণে, নাহিক উপায়
নিরুপায়, বলরে অর্জুন, কেমনে বহিব
এহেন দুঃখের ভার, কেমনে এহেন সঙ্কটে
পাইব নিস্তার ?
সহদেব ! দাদা ! ত্যজ শোক, কর যুদ্ধ অয়োজন,
হােক ইন্দ্র প্রস্থ প্রেতের ভবন,
ছার প্রাণে কারণ, ভীরুতার পদ করিয়া
হেলন, রশিলে এ জীবন নাহি হবে
যশ উপার্জন! বরঞ্চ অযশ ।
দাদা ! দেহ আজ্ঞা ভাতৃগণ মিলি
যাদব-সনে করিব ঘােরর রণ।
দাদা! নিল বৃথা বীর বৃকোদরে।
ধৰ্ম্মের কারণ, রক্ষিয়াছেন অবন্তীরাজনে,
নকুল।

যাদব-কলঙ্ক।
৭৯
}
তাহে নাহি কোন দোষ; দাও দাও যােগ
ভীমের সহিত, যুদ্ধের কারণ করি নিমন্ত্রণ
মােদের আত্নিয়জনে ?
যুধি। ভাইরে অর্জুন, সাজ তবে যুদ্ধসাজে,
দেহ আজ্ঞা বৃকোদরে আত্নিয়জনে
যুদ্ধের কারণ করিবারে নিমন্ত্রণ।
যাওরে নকুল, যাও তুমি কুরু-সভা মাঝে
সাহায্যের তরে ; রাজনীতি ভাল জানে
দুৰ্য্যেধন, কর কুরুগণে সসৈন্যে বরণ !
সহদেব ! যাও তুমি নকুলের
সাহায্য কারণ, ভাতৃগণ, সৈন্য
সমাবেশ করহ এখন ।
বাজাও সমর ভেরী বাজও এখন ।
(সভাঙ্গ)

চতুর্থ অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য
হস্তিনানগর-কৌরব-সভা।
দুর্যোধন, দুঃসাশন, শকুনি, কর্ণ, ভীষ্ম, দ্রোণ, দ্রৌণি, কৃপাচার্য
ইত্যাদি সভাসদগণ।
দুৰ্যো। গুরুদেব,
বহুদিন হােল গত পশি
নাই যুদ্ধসাজে সমর প্রাঙ্গণে।
ভাবিয়াছি মনে বীরগণ সনে
যাব স্বিকার কারণে।
স্রোণ। দুৰ্য্যেধন, মন-বাঞ্ছা তব
হইবে পূরণ, সে বিষয়ে চিন্তা তব
হবেনা করিতে ; শিকার কারণ,
অথবা জাগণে করিতে দমন, যখনি

যদিব-কলঙ্ক। যা করিবে অজ্ঞা, তখনি, ভীষ্ম দ্রোণ কর্ণ কৃপাদি হইবে নিযুক্ত ইচ্ছা তব করিতে পূরণ ! কিন্তু রেখ মনে, তব সভাসদগণ অধৰ্ম্ম আচরণ সহিতে অক্ষম। শকুনি। কি বাবা শিকার কোর্তে যাবে ? নাকেন তীর্থ ভ্রমণ বাবা ; দেখ যদি তীর্থ ভ্রমণ কর, তাহলে এইবেলা থেকে তােমার সব এইযে যারা সাহায্য কোরবেন, তারা, এই যেন একটু, বুঝছ ! একটু গায়ে জোর কোরেনেয়। যেন প্রভাস তীর্থের মত তীর্থ হয় না। আবার শুনচ, পাণ্ড- বের সাহায্যের জন্য ব্যাকুল হােতে হয়না ! পাছে আবার অকুল হও, তাই একটু মনে কোরে দিলাম । দুঃসা। মাতুল, কি কারণে বার বার তুল তুমি সেই কথা, ভেবছ কি মনে কুরুদল সাহায্য কারণে করিবে সদা পাণ্ডবের তােষামোদ ? বিপির লিখন হেতু চিত্রসেন কোরেছিল পরাজয় কুরুদল বীরগণে। শকুনি। বাবা, আমি ত তাই বেলছি । যেন অার কোন রাজার কাছে পরাজয় মানতে না হয়। (নকুল ও সহদেবের প্রবেশ) নকুল। অৰ্য্যগণ, চিরদাস মাদ্রী পুত্রদ্বগ নমিতেছে তব পদতলে! (উভয়ের প্রণাম কর) যাদব-কলঙ্ক। ভীষ্ম। করে নকুল, কি কারণে ত্যজি ইন্দ্র প্রস্থ আসিয়াছ হস্তিনানগরে ? কররে কুশল বারতা প্রদান, পঞ্চভ্রাতা সব আছত কুশলে ? সহদেব। পিতামহ ! তব আশীর্বাদে কুশল মঙ্গল বটে; কিন্তু, অমঙ্গল ঘটনা কারণে আজি আগমন হস্তিনাপুরে । (আগ্রহভাবে) ক হরে নকুল, কি বা অমঙ্গল ঘটিয়াছে পাণ্ডব ভিতরে, পাণ্ডবের অমঙ্গল, এও সম্ভবে- থাকিতে দেব দামােদর, কেমনে ঘটিল এ অমঙ্গল। (স্বগত) যাদের কত শত কুটবুদ্ধে নারিল দুৰ্য্যোধন করিতে নিধন, তাদের কোন জন নিক্ষেপিল বিপদ মাঝারে ? নকুল। গুরুদেব-গুরুদেব ! দানিলে সংবাদ কণ্টকিত হবে তব কায়! রসনারে, (অধােবদন) সহদেব। বিধি-বিড়ম্বনা হেতু পাণ্ডব সখা দ্বারকাপতির সনে দিপ্তমান হতেছে সমর- তে কারণে সাহায্যের তরে- ( অধােবদন )

যাদব-কলঙ্ক।
কৃপা। হায় হায়, কি মি কি শুনি,
হেন অশুভ বারতা পাব স্বপ্নেও
ভাবিনি,-ভাবি মনে কেমনে
পাইবে নিস্তার জগত বন্ধুর সনে
করিয়া সংগ্রাম ?
দ্রোণ। কহরে নকুল ! বুদ্ধের কারণ
যাদব-পতি কোন কোন, জনে
কবিয়াছেন নিমন্ত্রণ ?
নকুল। কুরুদল বিনা ত্রিভূবন করিয়াছেন
নিমন্ত্রণ যুদ্ধের কারণ।
শুন পিতা, এও চক্রীর চক্র,
এ চক্র বুঝিতে নারিনু। যুদ্ধের
কারণ ত্রিভূবন হােল নিমন্ত্রণ,
তবে কি কারণে কুরুদল হল
অনিমন্ত্রিত ?
শকুনি। দুর্যোধন,মাধবের সনে রণ,
কি আর কহিব, নিজ মনে
কর আন্দোলন !
দুৰ্য্যো। শুনরে নকুল, নাহি মম হেন
সৈন্য যাহা পারে যুঝিবারে
যাদব সনে ! যদি আমি তৰ
সাহায্যের তরে, করি
যুদ্ধেতে গমন, তা হলে

৮৪
যাদব-কলঙ্ক।
দেব হলধর সৈন্য সনে শত ভ্রাতা
করিবেন নিধন।
সহদেব। (স্বগত) জানি আমি দুৰ্য্যোধন, পাণ্ডবের
সৰ্ব্বনাশের কারণ, করিতেছে সদা
অন্বেষণ। (প্রকাশ্যে) শুন দুর্যোধন,
ক্ষত্ৰ-ধৰ্ম্ম করিতে পালন আসিয়াছি
তােমার সদনে। মৃত্যুভয়ে ক্ষত্ৰকুলজাত
বীর রহে ক ভূ
শিবির ভিতরে ? জানি
আমি, বিরত্ব তুমি কর প্রদর্শন তব পিতা
মাতা অবলা সরলার কাছে, কেমনে বলনা
যুঝিবে যাদবগণ সাথে ।
শকু। দুর্যোধন, দেখ বাবা যেন ভেলকি টানে টেনে না নিয়ে
যায় তােমায় ; দেখ প্রাণ বড় ধন, প্রাণ বাঁচাবার জন্যে
সবাই করে যতন, দেখ বাবা তুমি আমার কথা শুন,
যুদ্ধ কোরতে যেওনা যেওনা --গেলে পরে বাবা আর
ফিরবেনা।
কর্ণ । (স্বগত) হেরিয়া পাণ্ডবে ভাতৃস্নেহ কেন মনে হয়,
স্নেহলতা কেন ঈদে হ’তেছে উদয়,
মাতৃলীলা, শৈশবের খেলা কেন মনে হয় ?
একি! পুনঃ পুনঃ সুললিত তানে
কে যেন কহিছে কাণে দিতে যােগ পাণ্ডব সনে !
(জ্যোতির্ময়ী কমলার ছায়ামূৰ্ত্তির আবির্ভাব ও তিরােভাব)
একি বিভীষক-প্রজ্জলিত ছবি-

যাদব-কলঙ্ক।
(প্রকাশ্যে শকুনির প্রতি)
রে বর ! ভেবেছ কি মনে,
তব মতে ভীষ্ম কর্ণ দ্রোণাদি যত বীরগণ
ক্ষত্ৰ-ধৰ্ম্ম দিবে বিসর্জন ?
দুৰ্য্যোধন ! লহ প্রাণের কারণ যদিব স্মরণ
কিন্তু রাখ মনে, আজি হতে কর্ণবীর নাহি
সভা মাঝে তব আসন করিবে গ্রহণ;
থাকি যদি তব সভা মাঝে, কহিবে
দেবতা নরে কর্ণবীর ছার প্রাণের কারণ
আশ্রিতেরে নাহি করিয়া রক্ষণ, নিজ দল
বল লয়ে দেছে মােগ যাদব সহিত ।
এ প্রাণ থাকিতে কবীর নাহি বীর নামে
মাখিবে কলঙ্ক ! দুৰ্য্যোধন, আজি হতে
নহি আমি সখ। তব, অস্ত্র বৰ্ম্ম মম অাজ
সব দিনু বিসর্জন।
(ধনুর্বাণ নিক্ষেপ)।
(স্বগত) হ। বিধাতঃ ! পাব কুলে
লভিয়া জনম, নরি আত্ম বিবয়ণ
করিতে বর্ণণ। (ধনুৰ্ব্বাণ লইয়া প্রকাশ্যে )
চলরে নকুল ! কর্ণধীর
যাবে তব সাথে যুদ্ধের কারণ ;
বীর কর্ণ দেখাবে আজ সনর স্থানে
ভৃগুরাম-গুরুদেব-বল ; চলরে নকুল
বিলম্বে কি ফল । শুন মহারথীগণ

যাদব-কলঙ্ক
কবীর আজ্ঞা তব করিছে যান ?
ভীষ্ম। ক্ষত্ৰকুলোদ্ভব বীর নাহি রবে
কুটবুদ্ধি দুৰ্য্যোধনের সভা-মাঝে ; চল চল
বীরগণ যাই মােঝ কুরু-পক্ষ
ছাড়ি ধৰ্ম্মরাজের সাহায্য কারণ।
(সকলের এনােদগ)
দুৰ্যো। শুন বীরগণ ! কেন মােরে করহ বর্জন,
ক্ষম' মাগি তব শ্রীচরণে, দোষ
যদি হােয়ে থাকে মম। বীরগণ!
রােষ ত্যজি পূৰ্বাসন করই গ্রহণ।
(সকলের হস্ত ধরিয়া স্ব স্ব আসনে উপবেশন করা)
কর্ণ । বীরবর! ক্ষত্ৰ কুলগ্নানি
শকুনির মুখ নাহি আর করিব দর্শন,
যুদ্ধ ভয়ে ভীত যেই জন, সে কি পারে কভু
ক্ষত্র কুল-সভা-মাঝে লভিতে আসন ? ·
সকলে। সাধু সাধু কর্ণবীর! সাধু! সাধু ।
শকুনি। এ আবার কি হ'ল বাবা, কোরতে গেলাম রাজার
হিত, শেষে হোল কিনা বিপরিত, দেখ বাবা তােমাদের
কিছু দোষ নাইসব আমার কপালের দোষ।
(স্বগত) ভগবান, কবে আমার মন-বাঞ্ছা পূর্ণ হবে ? হায়
হায়, আমার শত ভ্রাতা ও পিতার শােকে হৃদয় ফেটে
যাচ্ছে। যদি দেখাবার হােত ত খুলে দেখাতে পারতেম ।
হা হৃষিকেশ ! কবে আমি দুর্যোধনের সহিত শত ভাত
নিধন কোর্বো। পাষণ্ড, আমার পিতাকে অনাহারে মৃত্যু

যাদব-কলঙ্ক।
৮৭
শয্যায় শায়িত কোরেছে,—আমার নিরেনব্বই ভ্রাতা নাশ
কোরেছ, তার প্রতিশােধ আমি কবে লব ? অ ামার
ক্ষমতা নাই যে যুদ্ধ করে নাশ কোৰ্ব্বো। কিন্তু পিতৃদত্ত
অস্থিতেই সব নাশ কোরবো; ছলে, বলে, যে প্রকারে
পারি ধৃতরাষ্ট্রের বংশলােপ কোরবােই কোরবো। সেই
জন্য পণ্ডিবের সঙ্গে যুদ্ধ করিয়ে কুরু বংশে বাতিদিতে
কাউকে রাখবাে না; আমিও মােরবে তোমাদিগকেও
মারবো, তবে আমার মন-বাঞ্ছা পুর্ণ হবে। হে শ্রীমধুসুদন।
সে দিন আমার কবে দিবেন।
দ্রোণ। শুন দুৰ্য্যোধন, জ্ঞাতিত্বপালন
কবিবার তরে, অবশ্য সাজিতে
হইবে তােমায় সমর কারণ !
কর্ণ। রাজন, দেহ অজ্ঞা,
ধৈৰ্য নাহি মানে মন !
দুৰ্যো। বীরগণ ! তব আজ্ঞা মতে
দুর্যোধন অবশ্য পাণ্ডব সাহায্য
করিবে গমন।
নকুল ! যাহ তুমি ই প্রস্থে যেতেছি
পিতৃ পাশে জানায়ে বারতা।
সহদেব। ক্ষত্রোচিত কাৰ্য্য মহারাজ।
(নকুল ও সহদেবের প্রস্থান)
কৃপা। কুমার! চল যাই তব
পিতৃ পাশে জানাতে সংবাদ।
দুৰ্যো। বীরগণ, আজ্ঞা কিবা হয়

৮৮
যাদব-কলঙ্ক।
পিতৃ পাশে জানাতে সংবাদ ?
ভীষ্ম।
জানাতে বারতা কেবা দেয় বাধা ?
শকুনি। তা এ কাজটা হচ্ছে ভাল, আর কাজ নাই সন্দেহে, এই
বেলা কোরে ফেল।
সকলের প্রস্থান।
চতুর্থ অঙ্ক
দ্বিতীয় দৃশ।
ইন্দ্রপ্রস্থ—দুর্গ।
(মহারাজ যুধিষ্টির, দীরাজ)
যুধি। দণ্ডারাজ, রাখ রাখ মৰ্ম্মভেদিবাণী,
কাজ নাই আর শুনি, যায় প্রাণ
যায় যাবে তথাপি তোমারে নাহি
কহিব পুনঃ উৰ্বশী প্রেরিতে।
ভাবি মনে, অর্জুন নকুল ভীম
সহদেব গেল করিতে নিমন্ত্রণ
মৃত আত্মীয় জনে, কি কারণে নাহি
পুনঃ করিল আগমন ?
ওী। মহারাজ, চিন্তাক র দূর ;
হের দূরে, নকুল সনে তব সাহায্য

যাদব:কলঙ্ক।
৮৯
কারণে দ্রুপদ রাজ পুত্ৰসনে
আসিছেন আপন সদনে।
(সসজ্জিত দ্রুপদ, নকুল, ধৃষ্টদুয়ের প্রবেশ )
নকুল। আৰ্য, আজ্ঞা তব করিছি পালন,
কুরুগণ তব সহায্য কারণ
করিবেন আগমন। হের মহারাজ !
দ্রুপদ রাজ পুত্র সনে আসিয়াছেন তব স্থানে।
( যুধিষ্ঠিরের দ্রুপদ রাজাকে প্রণাম করণ )
খুধি ! মহারাজ !
ভাগ্য দোযে পড়িয়াছি
কৃষ্ণ কোপানলে, করূন আশ্বাস,
আশ্বাসিতে নাহি কেহ মাের।
প। দীর্ঘজিবী হও মহারাজ ;
ভাবি মনে এক মাত্র ত্রাণ কৰ্ত্তাসনে
করিয়া সংগ্রাম কেমনে পাবে পরিত্রাণ ।
যুধি। নাহিক উপক্ষি, নিরূপায়, কহত রাজ
কেমনে বা পাইব নিস্তার কৃষ্ণ কোপনলে ?
# পদ। মহারাজ, নাহিক উপায় ;
বৃথা কেন হওশোকে নিমগন, নহে
এ শােকের সময় ! যুদ্ধ সাজে দেহ আজ্ঞা
সৈন্যগণে, ভাবি মনে কি কারণে
কুরুগণ যুদ্ধের কারণ করিল না
অাগমন ?

যাদব-কলঙ্ক।
ধৃষ্ট। ধৰ্ম্মরাজ! কি ভাবিছ মনে,
সমরে পরাজিব যত দেবগণে।
(দুর্গ মধ্য হইতে সসজ্জিত অর্জুন, সহদেব, ভীষ্ম, দ্রোণ, শকনি,
দুৰ্য্যেধন, অশ্বথামা, কর্ণ, কৃপাচাৰ্য ইত্যাদি বীরগণের প্রবেশ )
সুধ। গুরুদেব, প্রণমি ঐ চরণে তব,
হায় কি আর কহিব, ভাগ্য
দোষে পড়িয়াছি কৃষ্ণ কোপানলে ;
দেহ ভরসা মােরে অকল পাথারে,
তোমাবই আমাদের কে বা আছে
করিতে আশ্বাস ?
ভীষ্ম। ধর্মরাজ! ভেবনা কখন
দেব দামােদর নিধন কারণ
জ্বালায়েছেন সমর ভীষণ ?
প্রাণপণে দেবগণ সনে কৱিষ সমর।
বৃথা ভীষ্ম নাম ধরি, যদি দেবগণে
পরাজিতে নারি।
অশ। মাতো সমর কারণ, ধনুর্বাণ
করহ ধারণ, চল যাই মোরা
রণস্থলে প্রাণ দিতে বিসর্জন।
শকুনি। না বাবা এ কাজটা ভাল হচ্ছে না, দেখ ধৰ্ম্মরাজ ! কৃষ্ণ
বাবা তােমাদের অগতির গতি, তার সঙ্গে যুদ্ধটা কি ভাল
হচ্ছে? তাই বেলচ্ছি কোথা সেই তােমার দীরাজ, আর
সেই কে তােমার উৰ্বশী রূপসী, মাও বাবা ফিরে দাও,
রূপসীতে কাজ নাই।

যাদব-কলঙ্ক।
৯১
কর্ণ । আরে রে বব্বর, বৃথা কেন
ভীরুতার পরিচয় করিছ প্রদান।
ক্ষত্ৰকুলে লােভেছ জনম, রণস্থলে করি
মহারণ দেহ ছার প্রাণ বিসর্জন।
শকুনি। কৰ্ত্তার বেশী রাগ, বাবা থামে থামে ।
যুধি। সহদেব, দেখ ভাই
কি আছে ভবিষ্য লেখা রাশিচক্র
5ན། །
( সহদেবের রাশিচক্র গণনা কর।
সহ। দাদা, হবে মহারণ,
কিন্তু, দেব দামােদর বাড়াতে
মােদেরই মান জ্বালায়েছেন সমর ভীষণ !
ভস্ম । ভক্তাধীন নারায়ণ কেমনে করিবেন আপন
ভক্তগণে স্বহস্তে নিধন!
দ্রোণ। যুদ্ধরােলে কাপাও মেদিনী,
শুন শিষ্যগণ !
স্ত্র শিক্ষা দাতা গুরু-বল
দেখা ও রণস্থলে।
কর্ণ। রণে দেখাব প্রতাপ শিক্ষা দাতা
ভৃগুরাম-গুরুদেব-বল।
(দুর্গ মধ্য হইতে অস্ত্রাদি লইয়া সৈন্যগণ ও গদাহস্তে
ঘটোৎকচ এবং তীমের প্রবেশ )
ভীম। কুমার, রণে প্রকাশিও
তাপন প্রস্তাব!

৯২
যাদব-কলঙ্ক।
ঘটে।। পিতা! রাক্ষসে রাক্ষসে যদি হয় রণ তাহলে
বটে যশ উপার্জন, নহে সামান্য
যাদব সনে করিয়া সংগ্রাম, বৃথা
কেন বীর নাম করিব কলঙ্কে শােভিত ?
অর্জন। বীরগণ,
এস সবে বিলম্ব না সহে !
যাব এবে যুদ্ধের কারণ ;--
ভিষ্ম। স্বকার্য সাধন শ্রেয়ঃ-
(দণ্ডীরাজ ও ভীম ব্যতিত সকলের প্রস্থান)
দণ্ডী ।
শুন বৃকোদর, তব সম বীর
নাহি হেরিয়াছি কভূ, স্বপ্নেও
ভাবিনি কখন পণ্ডিব সনে
দেব যদুপতি করিবেন মহাস্ত্র
ধারণ, ভাবিনি কখন যুদ্ধের কারণ
দুর্যোধন তব সাহায্য কারণ
করিবেন আগমন !
শুনহ রাজন, সকলি প্রভূরলীলা !
তাহলে কুরুগণে কি কারণে
নাহি করিবেন নিমন্ত্রণ ?
এস মহারাজ, বীরগণ রণ সাজে
করিয়াছেন যুদ্ধেতে গমন।
হের দূরে যাদবগণ
বীর গর্বে হতেছে গর্বিত।
ভীম।
এসহ রাজন, বিলম্ব

যাদব-কলঙ্ক।
সহে, যাদবগণের বীর গর্ব
করিতে দমন ।
দণ্ডী। বৃকোদর, নাহিক অস্ত্রাদি মম,
--নিরস্ত্র এখন আমি।
ভীম। সে বিষয়ে চিন্তা কি বা তব ?
(দুর্গ মধ্য হইতে ধনুর্বাণ লইয়া )
লহ মহারাজ ধনুৰ্ব্বাণ করিনু অর্পণ।
শক্রনে যুঝিব প্রাণপণে
যতক্ষণ রবে প্রাণ এজীবনে। এসহ রাজন
বিলম্ব না সহে !
( উভয়ের প্রস্থান)
চতুর্থ অঙ্ক।
তৃতীয় দৃশ্য।
পূজা-গৃহ।
( কুন্তী, দ্রৌপদী, ভীম ও প্রস্তরময় কৃষ্ণমূৰ্ত্তী )
একান্তে এক পাশে বসিয়া কুন্তী দেবীর কৃষ্ণমূর্তি
পূজা করণ ]

যাদব-কলঙ্ক। ভীম। ( দ্রৌপদীর প্রতি) দেবী, বীরাঙ্গনা বাম হােয়ে, কি কারণে যুদ্ধভয়ে ভীত তুমি, পুনরায় বলি তোম। শুন সুবদনি, বৃথা কেন যুদ্ধ করে করহ অমঙ্গল ধ্বনি, যত কঁদনা তুমি, তব নয়ন বারি নারিব নিবারিতে আমি ! চাননে, জাননা কি বিম আমার ? বিরত্বের পরিচয় কি আর কহিব তােমায় দ্রৌপদি। প্রাণেশ যুদ্ধ করি মাধবের সনে কেমনে বা রক্ষা পাবে এ জীবনে ? ভাবি মনে পাছে যদি মৃত্যু গ্রাসে হও হে পতিত ! ভীম। কি কহ সুন্দরি ! কে বা কার ? মায়ার সংসারে ভেবেছ কি প্রিয়ে ! কভূ পারাপার ? তা যদি ভাবিতে, তা যদি বুঝতে, তাহলে হেন কথা কন! কহিতে । দ্রৌপদী। প্রাণেশ্বর- তাম। একি কৃষ্ণা, অন্তর তোমার ?

যাদব-কলঙ্ক।
মাতা মম ইষ্টদেবে পুজে,
তুমি কেন প্রাণেশ্বরে লভিরে
করিছ অনুরোধ, নারিব রক্ষিতে
আমি! আর তিষ্ঠিতে নারি।
বীরগণ যুদ্ধের কারণ
করিছেন অন্বেষণ মমরে।
প্রিয়তমে, মাতৃদত্ত তুলসী পত্র
দয়াময় পদতল হতে তুলি ল'য়ে
দেহ মম শিরে!
( প্রস্তরময় কৃষ্ণ পদতল হইতে তুলসী পত্র লইয়' দ্রৌপদী
কর্তৃক ভীমের মস্তকে প্রদান)
প্রিয়তমে, হাসি মুখে
দাও লে বিদায়।
দৌপদী। প্রাণেশ্বর বড় দুঃখ রহে গেল
মনে, অন্য পতিগণ যুদ্ধকালে
নাহি দিল দরশন !
চন্দ্রাননে,
যাই-যাই—তিষ্টিতে না পারি ;
বিদায় এখন।
দ্রৌপদী। হায়, হায়, নারিলাম নিবারিতে
ভীম
।
---
-
(সজল নেত্রে প্রস্থান)
( কুন্তীদেবী কর্তৃত তুলসী পত্র ও পুষ্প প্রস্তরময় কৃষ্ণ
পদতলে প্রদান এবং প্রণিপাত কারিয়া গীত )

যাদর-কলঙ্ক।
গীত।
কুন্তী। তুমি জগতেরি পতি, অগতির (তুমি) গতি।
পােড়েছি বিষম জালে, রাখ এবে শান্তমতি।
বল তুমি কোন প্রাণে, তােমারি রক্ষিত জনে,
রণেতে বধিবে প্রাণে,–তারা যে অবােধ অতি ।
ত্রিজগত যার করে,-তঁার সনে রণ করে,
রক্ষকে যে নাহি ডরে, কেন রণ বাতুলেরি প্রতি।
তব দরশন প্রয়াসী, অসি ত্যজে ধরি বাঁশী,
মােহন বেশে দেখাও আসি,—তব সে শান্ত মূরতি।
অবােধ সন্তানগণ,-করিতেছে বৃথা রণ,
দেখা দাও দুঃখিনীর রতন,“প্রাণ আকুলিত অতি ।
( প্রস্তরময় কৃষ্ণ মূৰ্ত্তি হইতে মূর্তিমান স্বীকৃষ্ণের আবির্ভাব )
ঐ কৃষ্ণ। পিতৃস্বসে ! কিসের কারণ
আকুলিত চিতে যুদ্ধকালে মােরে
করিলে স্মরণ? দেহ মাতঃ পদধুলি
শিরে, বিলম্ব না সহে, যেতে
হবে রণমাঝে, জানত সকলি ?
কি আর জানাব আমি !
কুন্তী। দয়াময়,
যদি তুমি রণ মাঝে তব
ভক্তগণে করহ নিধন, তা হলে
নীলমণি তব অমর যশ হবে

যাদব-কলঙ্ক।
১৭
লোপ জানিহ নিশ্চয়। চক্রধারী !
এই কিরে ছিল তোর মনে ? জেনেছি
বাসনা তব, পুত্রগণে করিয়া নি ধন,
লভিবে উৰ্বশী সুন্দরী ?
কুষ। মাতঃ! নাহি কোন দোষ মম।
ভাল মতে দুত দ্বারা জানালাম
পুত্রগণে তব, মাগিলাম সুতদ্বারা
অশ্বী সহ দণ্ডীরাজে, কিন্তু মাত
বৃকোদর যুদ্ধের কারণ করিল
যে আয়োজন ? বীর গর্ধ্বে হইয়া
গর্বিত দিলনা সে দীরাজ মােরে।
দিব তার প্রতি ফল, প্রতিজ্ঞা কারণ,
আলায়েছি সমর ভীষণ, করিব পাঙৰ
নিধন। পাণ্ডবেরা ভক্ত হােত যদি,
তা হ'লে শক্ররে আমার নাহি
করিত আশ্রয় প্রদান ?
ভ্রান্তি, ভ্রান্তি হেতু বার বার
পুত্রগণে তব করেছি রক্ষণ!
বার বার আপন জীবন করিয়াছি
কলঙ্কে শােভিত ; কিন্তু মাত: আজি
নারিব প্রতিজ্ঞা মম করিতে লঘন !
নারিব রক্ষিতে মাগাে তব অনুরােধ !

১৮
যাদব-কলঙ্ক।
কুন্তী। দয়াময় কর দয়া মম
প্রতি, যদি একান্তই তুমি
করিবে মম পুত্রেরে নিধন,
নিজ কাৰ্য্য করিবে সাধন,
তা হলে অন্তিমে নম
মন-বাঞ্ছা করহ পূরণ।--
রণ সাজে সজ্জিত তুমি, অবিলম্বে
ছেদ মম শির, পুত্রশােক নারিব
সহিবারে আমি।
কৃষ্ণরে তা যদি না পারি, তাহ'লে
কাঙ্গালিনী পঞ্চ পুত্র ভিক্ষা মাগে
তব পাশে, কর তুমি
ইচ্ছ যাহা নিজমনে? (পদ প্রান্তে )
পঞ্চ পুত্র ভিক্ষা মাগি আজি,
পূরাও কাঙ্গালিনীর আশা, দয়াময় আর
হােওনা নিদয়।
৪র। নহি আমি মানের ভিখারী কভু,
পূজ ইষ্ট দেবে
মরথ হইবে পূরণ !
বিদায়—বিলম্ব না সহে।
প্রস্থান ।
কুন্তী। প্রাণিপাত করি তব পায়,
তােমারি কৃপায় বার বার
পাই ত্রাণ বিপদ হইতে, অগতির
ণ কর্তা তুমি !
; 7 বার প্রাণিপাত এবং পুৰ্ব্ববৎ ইষ্টদেব পূজায়
-যুক্ত হওন)

চতুর্থ অঙ্ক।
চতুর্থ দৃশ্য।
প্রান্তর
( পাগলিণী বেশে উৰ্বশী)
উর্ধ্বশী ।
ধীরে-ধীরে---চল পতি হার।
কাঙ্গালিনী, পাবে কি পুনঃ তারে ?
পরে-পরে, চল চল ধীরে
ইচ্ছা হয় যদি লভিবারে ;-
কারে-কারে লভিবারে ? যে প্রাণ, ভয়ে
দেছে বিসৰ্জ ন ! তারে ? নানা
এ জীবনে নয়। আমি—আমি কে—
কেথায় যাচ্ছি–আমি কোথা
আমিই কি সেই উৰ্বশী সুন্দরী !
নানা—তুমি পতিহার উন্মাদিনী।
পতি-~-পতিকে অামার ?
প্রণয়ের তরে জীবন সপিছিনু
তারে, সেত নহে পতি মাের, হা-হা-হা
পতি—পতি মম। আমি—অামি
উন্মাদিনী,কেন ? প্রেম ভিখারিণী
তাই উন্মাদিনী ? প্রেম-প্রেম এ
জগতের নর-প্রেম কভূ নাহি জানি।
জানি--জানি—বেশ ভালরূপ

১০০ যাদব-কলহ। জানি ; প্রেমেরি লাগিয়ে ভ্রমিতেছি ধরমাঝে,-প্রেমেরি লাগিয়ে করিয়াছি শাপ উপার্জন ! প্রেম- প্রেম এ জগতের নয় ; হত যদি, তাহ'লে হেন দশা হতনা। আমার ! ভালবেসে মানবগণ, হরতন। আপন জীবন ;-প্রেম-প্রেমিকই জানে। আমি কি মায়াবিনী ! মায়াবিনী বটে, আমার মায়ায় দীরাজ হারায়েছে অাপন দায়ায়, ধন মান রাজ্য দেছে বিসর্জন আমার কারণ। এইত প্রেমের সুখ ; ভালবেসে শেষে রণ ভয়ে হারাল আপন জীবন। চল-ধীরে-ধীরে প্রাণ ত্যজিবারে। প্রাণ ত্যাগ কি কারণে ? অমূল্য জীবন করিব রক্ষণ। না-না-যাৰ ধীরে ধীরে- অভাগিনী—এজনমে সুখ নাহি হল। দুঃখে দুঃখে দিন বয়ে গেল। ধীরে-ধীরে ধীরে চলি গেল। যাক আমি ও যাব ধীরে। শাপ-শাপ - কিবা মাের-কি কারণে ভমি স্থানে স্থানে ; ভ্রমে ভ্ৰমিছি করিব ভ্রমণ

যাদব-কলঙ্ক।
১১
ক শাপের কারণ। শাপ, কিসের শাপ ?
জেনেছি রত্ন চক্ষু ফুটেছে
আমার,-পাপের কারণ লভিয়াছি
দুৰ্ব্বাসার অভিশাপ ! এও প্রেমের
কারণ--প্রেমের কারণ মানবগণ
অকালে হারায় জীবন ! কবে হবে
শাপ বিমােচন—হবে—চল ধীরে
ধীরে ! প্রেম ভিখারিণী মনমত
প্রেম তাের হােলনা ধরায়। আহ
প্রেমের কারণ দিছি শাপ বীর
ধনঞ্জয়ে। ওহে বৎস্য মােরে
মাতৃসম নমেছিল পদে-
আমি প্রেমের কারণ দিছি তারে অভিশাপ ।
চল ধীরে ধীরে।
( অগ্রসর)
(বৃদ্ধার প্রবেশ
বৃদ্ধা। কে মা তুমি অনাথিনী অালু থালু বেশে
প্রম একাকিনী ?
উর্বশী। অমি—আমি উন্মাদিনী-
পতি হারা কাঙ্গালিনী—নি পতি
আশে-বল মাগো কেবা তুমি
মন সম অভাগিনী ?
বৃদ্ধা। আমি ও মা উন্মাদিনী, অমি
পতি অশে,—পতি করেন।
গ্রহণ কিন্তু মােরে ভালবেসে।

যাদব-কলঙ্ক। উর্বশী। বল মাগো কে বা গতি তোর ? বৃদ্ধ!! পভি মাের সদাই উম্মাব- আমি তাই উন্মাদিনী। উক্বাশী। মাগো পাব কি সেই পতিরে মরি ?--দেহ গো ভরসা মোরে, হয়েছি ভরসা হীন! বৃদ্ধ। পাবে--ধীরে ধীরে, এস মা সনে—পাবে বহুদূরে ভছে কি লগ লেক ! মাগো পতি তোর দারাজ অাছে কুলে পাণ্ডব জলয়ে ! হবে নহরণ। তোম। হে করে সনে ; গোবিন্দের অনুরোধে হবে অষ্ট করে নিলন, তাহে হবে তোর শাপ বিমোচন ; এস ধীরে ধীরে নন সনে ! উর্ষ শী। দূরে-দূরাতর স্থানে যমুনাগুলিনে হবে মহরিণ, তাহে হবে তাের শাপ বিমােচন, কে ! নহে ও সামান্য রমণী-ধীরে ধীরে, ৰাৰ দরে- দূরে—বহুদূরে! (প্রস্থান যাদব-কলঙ্ক। উর্বশী। (নেপথ্যে) কালি-কালি—মাগো কর দয়। অবলা সরলা প্রতি! কালি। (নেপথ্যে) দূরে দূরে--এস সাথে বহু দূরে হবে যেতে, দুরে- বহু দূরে-মহারণস্থলে। চতুর্থ অঙ্ক পঞ্চম দৃশ্য। রণা। (অর্জুন শায়িত } অর্জন। বীর চুড়ামণি ফাণিরে— কি কারণে লােটে অস্থি শির তব তুমিতলে--উঃ-অসহ- তাসহ য শ্ৰণা—সহিতে না পারি। উঃ—প্রাণ যায়—প্রাণ যায় । কার্তিকেয় ! যত–ধন্য তুমি--ধন্য ভব অস্ত্রশিক্ষা—তব শরে সব্যসাচী আজি লোটে ধরাতলে। অপূৰ্ব্ব—অপূৰ্ব্ব তবু অস্ত্রশিক্ষা, অপূৰ্ব্ব রণ-কৌশল তব। দয়াময়! এই কি ছিল তব মনে ?

১০৪ যাদব-কলঙ্ক। == এই কি কারণে বীর নাম দেছিলে মােরে ! অন্তিম-অন্তিম সময় মম- গােল কবিহারী হরি-অন্তিম সময়ে দেহ দরশন মােরে- দেহ শ্রীচরণ শিরে ; আর না—আর অস্ত্রাঘাত সহিতে না পারি। উঃ প্রাণ যায়— গেল ; অর্জন—অর্জন কোথা তোর অস্ত্রশিক্ষা-কোথা তাের রণ বিদ্যা। হায় ! কত শতরণে- কত শত বীর--মম শরে লুটায়েছে ধরাতলে—আজ কি না সেই-বীভৎসু লুটে রণস্থলে। --নারায়ণ এলজা মাের কর নিবারণ। (কার্তিকের প্রবেশ) কার্তি। তারে শচীকান্ত! দেব দলত্যজিবার পেয়েছত প্রতিফল? জাননা কি মনে কাহার কৃপায় বার বার পাও পুনঃ ত্রিদিব রাজ্য ? কাহার কৃপায় ভােগ তুমি সুর্গ সুখ ? অর্জ। বীরবর! নহি আমি শচীকান্ত- ভীমের অনুজ-শ্রীহরির সখা--নাম মাের ধনঞ্জয় ! ভাগ্য দোষে আজি তব শরে- কার্তি। (লজ্জিত ভাবে বীরবর! যদি তুমি ধনঞ্জয়, ৫.

যদিব-কলঙ্ক।
দেহ তবে তব অন্য নামের পরিচয়।
অর্জু। শক্তিধর ! হৃদি মাঝে হানিয়াছ তীক্ষ শর—
তাহে অসহ্য যন্ত্রণা—বাক্য নাহি রে ;
কার্তিকেয়–ন মম নামের পরিচয়।
নক্ষত্রানুসারে-অর্জ ন, ফাণি নাম
দেছেন জননী আমারে, নীলােৎপল কৃষ্ণকান্তি
হেরি মম কায়, সানন্দে কৃষ্ণ নাম দেছেন
জনক আমায়--রণমাঝে নাহি মানি পরাজয়
তেকারণে হোয়েছে বিজয়—খাণ্ডব দহিয়ে
ইন্দ্রস্থানে লেভিয়াছি বিষ্ণুনাম-সমরে—কুবেরে
করি পরাজয়লােভিয়াছি নাম ধনঞ্জয় ! আর কহিতে
না পারি—উদারুণ যন্ত্রণা-আরত সহেনা-
বীরবর অন্য নাম কহিব সংক্ষেপে-বীভৎসু—শ্বেতবাহন
কিরিটী অরি জিষ্ট, নাম কোরেছি অর্জন।
(কার্তিকেয় কর্তৃক অৰ্জ্জুনের বক্ষে শর নিক্ষেপ)
শক্তিধর হেন শিক্ষা লােভেছিলে কোথা ?
তীঘ্ন শরে যায় মম প্রাণ, তাহে
পুনঃ অস্ত্র কেন করিছ সন্ধান ?
কার্তি। (বিদ্রুপ সহকারে) ধনঞ্জয় ! রণ মাঝে নাহি মান
পরাজয়, তেকারণে তুমিহে বিজয় !
আজি মম অস্ত্র বলে পরাজয়।
(বিদ্রুপ সহকারে কার্তিকের শর নিক্ষেপ)
অর্জ। উঃ-প্রাণ যায়—আর সহেনা ;
(উঠিবার চেষ্টা ও ভূমে পতন)

১০৬ যাদব-কলঙ্ক হায় ! বিন্দু মাত্র শক্তি নাহি কায়-- (স্ববলে উঠিয়া) কাৰ্ত্তিকেয় ! চা ৰিয়ছি মনে নিরস্ত্র সময়ে পরাজিবে মােরে ? নাহি তাহে যশ, বরঞ্চ অযশ ! ধনঞ্জয় বিন্দু মাত্র শক্তি থাকিতে জীবনে কভূ পরাজয় নাহি করয়ে স্বিকার। কার্তি। বীরবর! এখনও রণ সাধ নাহি হল অবসান ? পুনঃ রণ কর অকিঞ্চন ? কার্তিকেয় নিপতিত জন সহ নাহি যুঝে পুনঃ পুনঃ । অর্জু। রে বব্বর ! আক্ষলনে নাহি প্রয়োজন, ধূর অস্ত্র ! যুঝি পুনঃ। (উভয়ের যুদ্ধ করিতে করিতে প্রস্থান এবং কার্তিকের পুনঃ প্রবেশ) কাৰ্ত্তি। বাধিল ---বধিল তুমুল সংগ্রাম নিজ্জীব—নিস্তেজ প্রায় পাণ্ডবের দল- যাই শত্রু সৈন্য বধিবার এইত সময় ! (বেগে প্রস্থান) ( শ্রীকৃষ্ণের প্রবেশ ) শ্ৰকৃ। ধরিয়াছি মানব জীবন ধরার রোদন কারণ ; না করিলে মমতা বর্জন, নারিব ভারতে ধৰ্ম্ম রাজ্য করিতে স্থাপন ( দূরে দৃষ্টি করিয়া) হায় ! পার্থ বীর কর্তিকের কালশরে মুচ্ছাগত প্রায় ;-পাণ্ডবকুল

যাদব:কলঙ্ক।
হয় বুঝি লয়।—শিব-শরে ভীষ্ম
বীর ত্যজে বুঝি প্রাণ, দ্রোণ বুঝি
হারায় জীবন,-দেবগণ প্রাণপণে
করিতেছেন রণ-হায় হায় !
অভিমন্যু বীর লুটল ধরায়,—ছি ছি !
ভকতের অপমান হেরিতে না পারি আর ।
ভকতের অস্ত্রাঘাত শেল সম
বাজিছে হৃদয়ে,—পাণ্ডবের। চির-ভক্ত
মাের,-করিয়াছে ক্ষত্ৰ কাৰ্য্য, প্রকাশিছে
ক্ষত্ৰ ধৰ্ম্ম, তাহে কেন রোব করি প্রদর্শন ?
হায় ! সকলে অস্থির—কেহ নহে স্থির।
মর্মভেদী দৃশ্য আর হেরিবারে নারি !
নহিরে মনের ভিকারী।—নিজ কুলে
করিব কলঙ্ক অর্পণ, দেব-বল করিব হরণ,
নহে ধৰ্ম্মাচার নাহি রবে আর
( দারুণেদ্বেগে প্রস্থান)
(কার্তিকের সহিত যুদ্ধ করিতে করিতে অভিমন্যুর প্রবেশ)
কার্তি। যাও যাওরে কুমার,
প্রাণ লয়ে কর পলায়ন, নহে
স্মর তব পিতার দুর্দশা !
অভি।
সত্য বটে পিতা মম লুটে ধরাতলে,
কিন্তু, বীরপুত্র অভিমন্যু রথী প্রকাশিবে
আপ বিক্রম, তাহে মরি কিম্বা মারি।

১০৮
যাদর-কলঙ্ক
}
ধর অস্ত্র, বাক্যব্যয়ে নাহি প্রয়োজন ! (শরনিক্ষেপ)
কাৰ্ত্তি। হের রে বর্বর ! অর্থপথে করি খান থান ;
থাকে অন্য অস্ত্র করহ সন্ধান।
( উভয়েয় ঘোরতর যুদ্ধ )
(কার্তিকের স্ববলে শক্তি বাণ নিক্ষেপ ও আলােকিত
হইয়া শূন্যে মিলন)
অভি। কার্ত্তিকেয়—আর তব নাহিক নিস্তার
এ সময়ে প্রিয়তমা দেবসেনা করহ স্মরণ,
নহে কল্পনার হবেনা। সময়।
(শরনিক্ষেপ ও কার্তিকের মুচ্ছ1)
যে শরে সুটায়েছ পিতারে আমার, সেইশরে
লুটাইনু তােমানি অস্ত্র এখন তুমি !
অভিমনুরথী নিরস্ত্র জনেরে অস্ত্র নাহি কররে সন্ধান।
(প্রস্থান)
কার্তি। হায়--শক্তি মম কে হরিল-- শক্তি—
জীবনদায়িনী শক্তি মোর-মাতঃ আদ্যাশক্তি !
শক্তি মাের করহ প্রদান।
(আলোকিত্ত হওন)
উদ্যাপন—উদ্যাপনে যত কিছু হয় উপার্জন
কার্তিকেয় বৃথা নাম ধরি যদি অৰ্জনির মুণ্ড লয়ে
গে খেলা খেলাইতে পারি ।
( ভীষ্মের সহিত যুদ্ধ করিতে করিতে শিবের প্রবেশ
শিব। শান্তনুনন্দন! বৃথা আকিঞ্চন
জিনিবারে রণ; যাহার প্রভাবে
4,

যাদব কলঙ্ক।
দুর্দন্ত অসুরগণ নত শিরে মানে পরাজয়,
কেমনে, কোন প্রাণে, ইচ্ছ লভিবারে
জয় তার সনে রণে?
ভীষ্ম। শম্ভু ! সত্য বটে দুর্দিন্ত অসুরগণ
নত শির তব শরে, কিন্তু হে কপর্দি !
রণে হয় জয় পরাজয় ;-ভাগ্যদেবী
সুপ্রসন্ন নহে আজি তব প্রতি।--হরি গুণ গানে
ভ্রম শ্মশানে শ্মশানে, বিজন বিপিনে,-
কি কারণে হেরি তােমা সমর প্রাঙ্গণে রুদ্রপতি,
জয় আশা পরিহরি যাও চলি
প্রিয়তমা উমার সদনে !
শিব। আরে-বীরগৰ্ব্ব বাড়িয়াছে তোর ?
রক্ষ এবে আপন পরাণ!
(শূল সন্ধান এবং হস্তে অচল হওন )
একি মায়াময়ি ! কার মায়া ?~~
ভবদেব ! নিরস্ত্র সময়ে
ভীষ্ম বীর অস্ত্র নাহি করয়ে সন্ধান!
( প্রস্থান)
শিব। ভাল, সুদীর্ঘ নিশ্বাসে নির্বাপিত
হইবে সমর ;-
(দুঃখে প্রস্থান)
(বলরামের প্রবেশ)
বল
কি হেরি কি হেরি! কার বলে হােয়ে
বলিয়ান পাণ্ডবেরা যুঝে প্রাণপণে ?
১০
ভীষ্ম।

১১০
যাদব-কলঙ্ক।
ভাল, আশা না মিটিবে, দেখি
তবু কে রাখে পাণ্ডবে -
( ভীমের প্রবেশ)
ভীম। পাষণ—পাষণ পরাণে ভয়
কোথা পাবে স্থান ?
বল। আরেরে বব্বর! ফুরাইল নলীলা
তাের ! ( মুশল সন্ধান ও ব্যর্থ হওন)
ভাল, ধনুর্বাণে আশীলতা হইবে সফল।
( প্রস্থানােদ্যগ )
ভীম। বলদেব ! কি কারণে ক্ষত্ৰ-ধৰ্ম্ম
দিয়া বিসর্জন প্রাণলয়ে কর পলায়ন ?
( আক্রমণ, উভয়ের যুদ্ধ ও বলরামের পতন )
যথা শাস্তি হয়েছে তােমার !
(প্রস্থান
বল। উঃ-বড় আঘাত বাজিল মরমে !

পঞ্চম অঙ্কু।
প্রথম দৃশ্য।
কৈলাস ধাম।
দুর্গা, কার্তিক।
দুর্গা। কুমার! মম পুত্ৰ হ'য়ে রণে করিয়াছ
হীনতা প্রকাশ ?
কেরে-কে হরিল মহা শক্তি তাের ?
কে বলিল রণে শক্তি বলে নাহি হবে জয় ?
বল,বলরে তারে শক্তি বলে করিব নিধন।
কহ বৎস্য, পিতা তব কেমনে বা প্রকাশিল
তাহার বিক্রম ?
কার্তিক। মাতঃ, লাজে নাহি পারি দেখাইতে মুখ !
বাক্য নাহি স্বরে প্রকাশিতে সে বিষম
বারতা; শুন গে। জননি! পাণ্ডবগণ
অক্ষয় যশ করিয়াছে এ রণে অর্জন,
বধিয়াছে শত শত দেব সৈন্য-গণে,
রণে করিয়াছে পরাজয় যত দেবগণে,
নারিয়াছে কেহ বধিতে পাবে।
মাগাে, শস্তানুনন্দনের বাণে পিতা মম পরাজয়
৩

১১২
যাদব-কল।
করেছেন স্বীকার ; যত দেবগণ হারায়।ছেন জ্ঞান,
হারায়েছেন মূল অস্ত্র পাণ্ডবের অস্ত্র শিক্ষা বলে।
দুর্গা। কুমার-কুমার বড় ব্যাথা ৰাজিল হৃদয়ে,
পতি পুত্র পরাজয় করেছ স্বীকার রণে!
পাণ্ডুবগণ ধরে দেহে এত বল।
পারে কি দেববল করিতে হরণ?
নানা কভূ না সম্ভবে ; নিশ্চয় চক্রীর চক্র।
যাওরে কুমার, যাও রণ সাজে পুনঃ রণমাঝে ;
নিজবলে পারিবে পাণ্ডবে করিতে নিধন,
যাব আমি পশ্চাতে তােমার।
কার্তিক। মাতঃ মন সাধ যেন হয়গো পুরণ,
পারি যেন লভিবারে জয় পুনঃ রণে;
দেহ চরণ, করি আমি রণেতে গমন।
(পদধুলি লইয়া প্রস্থান)
পঞ্চম অঙ্ক।
দ্বিতীয়
দৃশ্য।
যুদ্ধক্ষেত্র।
( ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর, ইন্দ্র, যম, বরুণ, বলরাম)
ব্ৰহ্মা। হায় ! জগবন্ধুর সাহায্যে আসিয়া,
পরাজয় স্বীকারিয়া, যাব মােরা লােক হাসাইয়া ?

যাদব-কলঙ্ক।
১১৩
•
ছি ছি। হেন অপমান কল্পনার দূর দৃশ্যে
কভূ হয়নি পতিত।
বলরাম। অমর-অমর এ দেবদল
রণে নাহি হারাবে জীবন
গত রণে সযতনে করি নাই অস্ত্র সঞ্চালন,
তেকারণ গেল জ্ঞনি, গেল মান,
রহিল পরাণ ;
নহিলে না হত কভু হেন অপমান,
যাদব কুল কভূ নাহি হারা’ত সন্মান।
বরুণ। পাণ্ডবের আর কভূ নাহিক নিস্তার।
নারায়ণ ! সুদর্শন ধরিয়াছ কিসের কারণ ?
শূলপাণি ! নাহি জানি মহিমা তােমার।
(কার্তিকের প্রবেশ)
কার্তিক। প্রতিহিংসা-প্রতিহিংসানলে
জ্বলে মন, জ্বলে প্রাণ অনিবার;
প্রতি হিংসা, প্রতি হিংসানল করিব নির্বাণ
অনিবাৰ্য শােক নিবারিতে নারি ;-
হে পাশি ! হেরি পণ্ডিবের অমিয় বিক্রম,
গৰ্ব্ব খর্ব হইল সবার।
মিছা অহঙ্কার, নারিবে সে গর্ব
কভূ করিতে দমন।
(প্রস্থান)
বিষ্ণ,। (স্বগত) মন ! অনিত্য সংসার ! কেবা কার ?
মায়ার ভাণ্ডা-আসা যাওয়া

১১৪ যাদব-কলঙ্ক। সক লি অসার। আসিয়াছি দু’দিনের তরে, যাব চ'লে দিন কতক পরে ; তবে রহিল কি আর ? অঙ্গার—যে অঙ্গরি স্পর্শ করি দারা-সুত-পরিবার যাবে চ'লে তপন ভবনে। ভাৰ মন, সেবে তুমি কার ? রবে পড়ে ভষ্মকারে ভীষণ প্রান্তরে ; নহে শৃগাল, কুকুর রক্ত মাংস করিবে ভক্ষণ । এসেছি এক লা—যাইব একলা, সঙ্গে কেহ নাহি যাবে। কুযশ, সুৰশ রবে মেদিনীমণ্ডলে ! পঞ্চ ভূত পঞ্চদিকে মিশাইবে কেহ নাহি রেধিতে নারিবে; ফুরাইবে নর-লীলা, এ মহা সংসারের খেলা। লোভিয়াছি ধরায় জনম, ধরা-ভার হরণ কারণ; কিন্তু হায় ! থাকিয়া সংসারে বংশ বৃদ্ধি হতেছে সদাই। ভাবিতেছি তাই, বহু বহু কাল হতে; ভাবিয়া না কুল পাই ! নিজ কুল হইবে নিৰ্ম্মল- যাবে সব আপন আগারে, ; -

যাদব-কলঙ্ক।
১১৫
কিন্তু রবে কুলের গৌরব,
তেকারণ যাদব কুলে
করিলাম কলঙ্ক রােপণ।
(গীত গাহিতে গাহিতে নারদের প্রবেশ)
d
গাও গাও বীণা গাওরে ।
হরি গুণ গানে মাতাও রে ।
বীণারে, হরি গুণ গাও তানিবার ।
হরি নমি বিনা সকলি আসার ।
বীণারে, মন সাধে বাজ-বাজ-রে ।
সুধার হরি নাম কভূ ভুলনারে
বিষ। নারদ! বুঝেছি সকল, নাহি কর ছন,
মনরখ নাহি হবে বিফল।
(কার্তিকের পুনঃ প্রবেশ
কাত্তিক। অত্যাচার-অত্যাচার সহিতে না
পারি আর ; পাণ্ডবের লভি জয়,
তৃণ জ্ঞান করিছে দেবেরে,
বৰ্ব্বর ! এবে রণে, রণজয় কভূ না সম্ভবে !
( প্রস্থানােদ্যগ)
( ভীমের প্রবেশ)
ভীম। পাষাণ—পাষাণ হৃদয়ে কেন হয়
ভয়ের সঞ্চার ! একি !

১১৬ যাদর-কলঙ্ক। কেবা আসে ভীষণ মুরতী বেশে ! ভীষণভীষণ মুরতী। ভষ্ম বুঝি হই, কোথা যাই- কিশে ত্রাণ পাই । ( ইতস্ততঃ করণ) কার্তিক। আরেরে বর্বর ! পলায়ে না পাবে পরিত্রাণ,-ধূর অস্ত্র, প্রতি সিংহানল করিব নিৰ্ব্বাণ। ভীম। ভীষণ—ভীষণ আকারে-- (রণ রঙ্গে দুর্গার প্রবেশ ) দুর্গা। আরেরে পাণ্ডব ! আর তব নাহিক নিস্তার। সুদর্শন করেছ হরণ—জিনিয়াছ রণ। কিন্তু দেখি, কে রাখে তােদের ; বড় ব্যথা-বেজেছে মরমে, তে কারণে আসিয়াছি সমর প্রাঙ্গণে। নেপথ্যে। মা—দনুজদলনী, অসুর নাশিনী ;- দুর্গা। কেরে—কে ডাকিলি হেন অসময় ! সাহসেতে বেঁধেছি হৃদয় সয়ম্ভুর সৃষ্টি দিতে লয় ; দেখি ! কে রাখে পাণ্ডবে। (অসি নিস্কোষিত)

যাদব-কলঙ্ক।
১১৭
(শূন্যে উৰ্বশীর আবির্ভাব)
উৰ্বশী । শূন্যে—শূন্য মনে—ত্রাণ কৰ্ত্তা গণ !
শূন্য আলম্বনে বিদায়—বিদায় এখন।
( জ্যোতিৰ্ম্ময়ী রূপে উদ্ধার )
( দণ্ডীরাজের প্রবেশ )
দণ্ডী। ঐ—ঐ—সে প্রাণের প্রতিমা
ঐ যায় স্বর্গপথ উছলিয়া
বৈজয়ন্ত ধামে।
বিষ্ণ। হের মা তারিণী, পতিত পাবনী,
পাপ হারিণী, দীন জন জননী, হের
ধায় বামী মুণি শাপে মুক্ত হয়ে
মুক্তি আগমনে! হের পাশি, হের
হে মুষলি, হের দণ্ডধর, বজ্রধর,
শিব শম্ভ, শঙ্গর, হের সখীসনে
মিলিল সুন্দরী!
ঘুচিল সংশয়,
টুটিল রণ রঙ্গ ভয়!
নারদ। নমস্তে নারায়ণ অখিল কারণ,
ব্ৰহ্ম সনাতন, রাবণ নাশন, নমস্তে
নমস্তে বামন ! নমঃ কৃষ্ণ রূপ,
গােকুল বিহার, বুদ্ধ অবতীর,
কল্কি রূপ, বিশ্ব ভূপ,
আদি, মধ্য, অনাদি, অনন্ত,
নমস্তে নমস্তে সচ্চিদানন্দ বিশ্বপরায়ণ !

যাদব-কলঙ্ক। নমঃ শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্ম, শাঙ্ক ধধারী, পীত বাস পরিধান, রাজীবলােচন, বনমালা বিভুষিত, গরুড় বাহন, মহিনী রূপ, অসুর নাশন, স্বকুল বিনাশন, হরি অবতার, গজেন্দ্র মােক্ষণ, ম্লেচ্ছ বিনাশন- নমস্তে-নমস্তে মুরারী !! • --

ক্রোড়
অঙ্কু।
স্বর্গরাজ্য-নাট্যশালা।
অপ্সরীগণ।
বিষ্ণ। ( দণ্ডীরাজের প্রতি) নেহার-নেহার রাজন!
প্রান ভরি হের সেই উৰ্বশী সুন্দরী ;
হের মতিমান, শূন্যে তার
কায়,আর তােম।
নাহি চায়। নহে আর প্রেম
শােকাতুরা, নহে আর তব
তরে উন্মাদিনী ;
সখীগণ সনে নৃত্য গীতে
রয়েছে মগন, পাশরেছে
ধরার ভাবনা এখন।
নয়ন! কর দরশন,
সংসারে লভিয়া জনম,
মহৎ কাৰ্য্য করিনু সাধন,
নহিলে না হ’ত কভু হেন
অঘটন।

যাদব-কলঙ্ক
গীত।
অস্পরীগণ।
সব সখি মিলে, আনন্দ সলিলে,
এস মোরা সবে ভাসি।
বিরাজিত মুখে,
স্বরগেরি সুখে,
মৃদুল মধুর হাসি।
ভবেতে জনম, দুখেরি কারণ,
সে দু’খেরি কাল এবে অবসান,
ছাড়ি ভবধামে, স্বরগে আগমে,
এসলে সুখ প্রকাশি।
হরি নারায়ণ শ্রীমধুশুদন,
সবে মিলে করি হরি গুণ গান ;
বিপদ সাগরে যিনি দয়া করে
দেন তরি দুঃখ নাশি।
আও সখিগণ, অাও একতানে,
এস মাতি হরি প্রেম আলাপনে ;
বিধি-নিয়োজন, সুখেরি কারণ,
আ ও সবে পুনঃ মিশি ।
যবনিকা পতন।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Jadab-kalanka

Author
Dhar,banku Bihari
Title
Pouranik Natak
File name
Jadab-kalanka
Text
OCR done
Citation
1897
Published
2009/10/8
Publisher
Gokul Chandra Dutta,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
132
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Drama
Keywords
Mahi
DLI number
512705
Barcode
4990010019754.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
7vafxTm3MGg
Download PDF

Jadab-kalanka