Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Jiban-sangeet Part 1 Ed. 3rd
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
1
নমঃ সচ্চিদানন্দ হয়ে।
জীবন-সঙ্গীত।
প্রথম ভাগ।
তৃতীয় সংস্করণ।
(পরিবর্ধিত
গানাৎ পরওয়াে ন ছি।
শ্রীনন্দলাল বন্দোপাধ্যায় কর্তৃক
রচিত ও গীত।
কলিকাতা,
উইলী নোটস প্রিন্টিং ওয়ার্ক,
৩ নং হেষ্টিং স্ট্রীট।
।
No text on this page.
উপহার
ফুটেছিল ফুল হৃদিকাননে।
গেথেছিনু মালা অতি যতনে।
ভকতি চন্দন তাহে লেপিয়ে।
দিয়াছিনু প্রভু পদে পরায়ে ।
ভাই বােন জন্য দেব প্রসাদ।
লইয়ে এসেছি করি আলাদ।
স্বর্গের নির্মাল্য পর হে গলে।
দেখিব কেমন মাণিক জ্বলে।
যে সুখ পেয়েছি, বলিব কত।
গেয়ে দেখ ভাই, পাইবে তত ॥
মাতিয়ে মাতাই, ভাই ভগিনী।
মাতায়ে মাতি পুনঃ আপনি।
No text on this page.
সূচী
পত্র।
সঙ্গীত।
পৃষ্ঠা।
অনেক দিন পরে
•।
৪১
অন্তরে কেবল মম •
৩১
৩৯
অপার প্রেম সিন্ধুনীরে
আজ শুভদিনে
৩৭
আপনার ঘরে
৬৪
২২
১২
আমার কেবা বল
আমি কি আর আমাতে
আর নাই রাতি
এই কি তুমি মম
এই গুণে
এই তাে হে হৃদয়
এমন দয়াল হরির ...
এমন সখার প্রতি
ন সঙ্গীত। পৃষ্ঠা এস সবে মিলে এস এস এস ৪ ৪ • ৪১ ৪৮ ও কি হ’লরে ও সেই নবদ্বীপে ওমা যাসনে মায়ে ... কত গুণের তুমি ... কবে ফুলের মত কিছু হ’লনা কি ধন লইয়ে বল ... ২৬ ১২ কেন ভাই ভাই ৪৬ কে মা তার २० ৮ ০ কেমন করে থাকি কে বসে ঐ কেমনে ভুলিব তােমায় ৬১ ৪৪ খােজ কোথা ৫৪ চিদাকাশে নীলাকাশে গােপাল গােঠে • সঙ্গীত। পৃষ্ঠা। ২৩ ৬৫ ১১ ১৮ ৪৭ २१ জয় জয় মহিমা তুমি যারে কর তােমা বিনা আর ... তােমারি কিরণ পেয়ে দুইটী ধারা পথে দেখা দিয়ে কি দেখলাম নরনারী ... নববিধানে রঙ্গে নববিধানের মন্দিরে পাঁচ খানি দেহ পাঁচ ভেয়ে আজ পিতা পরম পিতার... পাঠায়ে নববিধি পাপে তাপে তাপিত ৪ ০ ২৫ ৪১ ১৭ পেতে দে মা প্রভাত আরতি প্রভাত সময়ে ২৪ | সঙ্গীত। পৃষ্ঠা। ১৪ ৩২ বড় আশার কথা বলরে বল হরি বিফল জীবন বিফলেতে দিন গেল বিদায় আশীষ ভক্তি করে ডাক দেখি ভারত গৌরব ৫ ৩১ ৫ ৪৩ ৫২ মধুমাখা হরিনাম মঙ্গল আশীষ মধুর মৃদঙ্গ বাজে ৬৪ ৪ মন রে ভ্রান্তি তােমার ১১ মা আমার অন্তরে ••• মা বলিয়ে কেন ডাকনা ৪ মা তােমার কোলে ১০ :: ৫৯ রােগে শােকে দেহ নিজ হাতে লুকাবে কোথায় ... ১৯ / সঙ্গীত। পৃষ্ঠা। ৪৭ ২১ ১৪ : শুনে যা ভাই ঐক্যতান সকলি দিয়াছ সদা বল হরি হরি সবে বল ধৰ্ম্মের সাড়া পেয়ে ছুটে ... সার্থক জীবন মম সিন্ধুতে এক বিন্দু। সুধামাখা হরি সে যে আমার সুপ্রভাত নিশা হরি নামে না মজিলি হরি নামে কত সুখ হরি পদে মজ হরি হে আমারে হরি হরি বল ওহে মন বৃথা হরি হরি বল ওরে মন, এতে হরিরূপ সাগরে ২১ ।। ৮ ২৮ ৯ ২৯ হরি তুমি লুকাবে
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
জীবন-সঙ্গীত।
প্রথম ভাগ।
“গানাৎ পরতরাে ন হি।”
প্রাতঃকাল।
ভৈরব।—একতালা।
প্রভাত আরতি, করিছে প্রকৃতি,
নিভৃত নিকুঞ্জ, কাননে।
তাই একে একে,
উঠে সবে জেগে
হরি হরি বলি, বদনে।
থরে থরে কত,
বন ফুলে শােভে, বনমালী,
গুণ গুণ গুণ,
গাইছে অলি
ঝারে ওঁকার, সঘনে।
কুসুম ডালি
জীবন-সঙ্গীত।
৭
৭
তরুলতা করি প্রাতঃস্নান
শিশিরসিক্ত দণ্ডায়মান,
নত করি শির
করে প্রণাম
জয় জয় জগ বন্দনন।
ভাবেতে বিভাের
হয়ে সমীরণ
হেলিয়া দুলিয়া করিছে ভ্রমণ,
লতা পাতা ফুলে
দেয় আলিঙ্গন,
জয় জয় মন মােহনে ।
দেব কন্যা উষা
দেখে সে ঘটা
ধীরে ধীরে তুলে মুখের ঘােমটা,
পূরব গগনে অরুণ ছটা
জয় জয় হৃদি শােভনে।
সহসা বিহগ
দেখে চারিদিকে লেগেছে ধুম,
আর কি থাকিতে পারে নিঝুম
গাইছে ললিত পঞ্চমে।
শুকের বাতি
ভাই বােনে করি মঙ্গল আরতি,
ভাঙ্গিয়ে ঘুম
সুখের উৎসবে
জীবন-সঙ্গীত।
জগত পতি
প্রণমি তােমার চরণে। ১।
D
পূরবে ভাতি
মঙ্গল স্মরি
ফুটন্ত ফুলে
ললিত-ইংরি।
আর নাই রাতি,
গাও জগপতি মঙ্গল গাথা,
ওঠ নর নারী
ভকতি করি শুন হরি কথা।
ভ্রমর দোলে,
গুণ গুণ রােলে কার গুণ রটে ;
ডালে বসি পাখি, সুললিত ডাকি
বলে মেল আঁখি, সুপ্রভাত বটে।
আলােক আঁধারে কোলাকুলি করে
দুইটী সােদরে স্নেহ প্রেমভরে
প্রভাত বায়ু,
পরশিয়া স্নায়ু
বাড়াইয়ে আয়ু চলে ধীরে ধীরে।
শিশির ফোটা
শশাভিত পাতা কিবা মন ইরে;
।
মুকুতা ছটা
জীবন-সঙ্গীত।
সহজে রসনা,
শিখাতে হল না
করে নাম রটনা হরে হরে হরে। ২।
রামকেলী-তৃতালী।
৫
মধুর মৃদঙ্গ বাজে
তাল মান সুরে অনুরাগ ভরে
বিভু চরণ সরােজে মন ভৃঙ্গ রাজে;
প্রিয় দরশনে,
প্রাণ রমনে
দেখি আঁখি ভরি হৃদয় রাজে।
ধুই পাদ পীঠ
নয়ন আসারে
ছাই প্রেম ফুলে যেখানে যা সাজে;
ভুলি শােক লভি
তৃপ্তি শান্তি
রাখি প্রাণ তার কাজে। ৩।
বাগে।-তৃতালী।
মা বলিয়ে কেন ডাক না।
রসনা রসনা মায়ের তুল্য নাম পাবি না;
ভক্ত কোলে ভগবতী, চিত্তবিনােদিনী সতী
চিদঘন মুরতি হৃদে হের না।
জীবন-সঙ্গীত।
মায়ের আজ কৃপাগুণে মিলি ভ্রাতা ভগ্নীগণ
করিব আনন্দ মনে মায়ের বন্দনা ;
মধুময়
মধুর হইল ভুব
মধুর মধুর
উপাসনা। ৪।
হইল সব
কাল্যাংড়া। -আড়খেমটা।
ভক্তি করে ডাক দেখি মন কেমন হরি থাকতে পারে ;
দয়াময় নামে তিনি পরিচিত এ সংসারে।
ভক্তাধীন ভগবান,
ভক্তের রাখেন মান
ভক্তিভােরে শ্রীচৈতন্য বেঁধেছিল তাহারে ;
প্রহলাদ ঐ নামের বলে, মরে নাই অনলে জলে
পান করি হলাহলে অমর এই চরাচরে। ৫
তবু উদাসীন,
(বাউল) ভৈরবী।একতলা।
বিফলেতে দিন গেল হরি না ভজিয়ে
আর কি পাবে দিন
জাগ থেক না ঘুমায়ে ।
তােমার) নাহি স্বার্থ জ্ঞান,
আছে অভিমান
বড় বুদ্ধিমান এ সংসারে ;
জীবন-সঙ্গীত।
আপনি না ভজিলে, কারে ভজিতে না দিলে
আছ ঘাসের গাদায় কুকুর শুয়ে।
হরি পরম স্বার্থ ; পরম পুরুষার্থ
বুঝে যেবা অর্থ যত্ন করে
সে যে ক্ষতি লাভ বুঝেছে,
সকলে জিতেছে
হৃদয়ে ধরেছে করুণালয়ে।
( তােমার এই যে ধন জন, নিশার স্বপন
যাবে কি কখন, পরপারে ;
হরি বলেছেন আমাকে, (মন রে) হৃদয়ে বসে থেকে,
দিবেন পার করে অসময়ে। ৬।
(
(কবি ভাঙ্গা) বিভাস।-আড়খো।
এমন দয়াল হরির মধুর নামে
যদি রুচি না হল
তবে কুভােজন করিয়ে রে মন
উৎকট রােগ জন্মাল।
তােমায় বারে বারে নিষেধ করি;
বিষয় বিষ খেও না; তুমি আপনার
বুদ্ধি আপনি মলে, কার দোষ দিব বল ।
জীবন-সঙ্গীত।
৭
তমায় মনে করি বুঝয়ে বলি গােটা দুই কথা,
সদা কুসঙ্গে কুপথে ফের দেখা পাই কোথা;
হলে দিনে দিনে জরাজীর্ণ
ওরে কাল নিকট হল।
হরিনাম মহৌষধি কররে সেবন
চোরা সন্নিপাত রে তাের হবে নিবারণ,
একবার আনন্দ বদনে হরি হরি বল। ৭।
( বাউল) আলেয়া।—শ্লথ তৃতালী।
সদা বল হরি হরি ;
সদা বল হরি হরি, হরি ভবের কাণ্ডারী।
হরি নাম রে নয় সামান্য,
নামে পাগল শ্রীচৈতন্য,
নারদ ঋষি হলেন ধন্য, বীণা যােগে গান করি।
হরি নামে জগাই মাধাই তরিয়েছিল গৌর নিতাই,
আমরা তরে যাব সবাই, কেন সমন ভয়ে মরি।
হরি নাম নিলে মুখে,
পরশে যাইয়া বুকে
হৃদয় ভাসে স্বর্গ সুখে আর কি এ নাম ভুলতে পারি। ৮।
জীবন-সঙ্গীত।
.
ঐ।—টুরি।
হরি নামে না মজিলি; পাষাণ কেন না হলি।
এমন অমিয় ফেলি, বিষয় বিষ ভখিলি
কতই যাতনা পেলি, বিঘােরে প্রাণ হারালি ।
পেয়ে মানব জনম,
হল হরি ভজন
জীবনে মৃত সমান, কি করিতে কি করিলি ।
বিষয় কিরে এত মিষ্ট, যাতে পাও কত কষ্ট
ভাবিলে আপন ইষ্ট, দুষ্ট বুদ্ধে নষ্ট হলি।
একাকী ভবের কূলে,
ডাকি তােমায় আকুলে ;
দাও হয়ি পারে তুলে, কর যােড়ে কেঁদে বলি। ৯।
মুলতান।-তৃতালী।
এই কি তুমি মম প্রাণাধার;
পূজি তােমারে দিয়ে প্রীতি ফুলহার।
তুমি কি হৃদি করে,
এই মন্দিরে
কেন প্রাণ উথলে আনন্দে অপার ।
তুমি কি রসনা মূলে,
নইলে কেন হরি বলে
কেন ভাসি নয়ন জলে, উদাস প্রাণ আমার;
জীবন-সঙ্গীত।
১
কেন হৃদয়ে শােণিত ছুটে, মূখে নাহি কথা ফুটে,
ভববন্ধন টুটে পরশে তােমার।
আঁখি নিমীলিত করি, বসি মােগাসনােপরি
তােমারে নাথ ধ্যানে ধরি, একান্তে এবার;
আমাতে খেলিছ তুমি, তােমাতে মগন আমি,
আমি তুমি তুমি আমি হয়ে একাকার। ১০।
ঝিঝিট খাম্বাজ।-মধ্যমান।
হরি রূপ সাগরে ডুবেছে (এ প্রাণ আমার)
আমার কপাল গুণে সে সাঁতার ভুলেছে।
মন তার উদ্দেশে গেল, আজ গেল কাল গেল,
ফিরে তাে আর না আসিল সে জাদু করেছে।
যদি প্রাণ মন সব গেল,
কি লইয়ে আর থাকি বল,
তােমরা গিয়ে দেশে বল সে ডুবে মরেছে। ১১।
ভৈরবী।--একতালা।
হরি হে আমারে করিলে দয়া ;
দিয়ে দরশন ভরিয়ে প্রাণ
টটিলে সব দুঃখ মায়া।
১০
জীবন-সঙ্গীত।
পাষাণ হৃদয় বিগলিত হল, অসাড় রসনা
তব গুণ গাইল, সবেয়ি মিলি চরণ সেবিল,
শীতল হল তাপিত হিয়া।
নয়নে বহিলে গঙ্গা যমুনা, ভাব লহরি
যায় গণনা খেলিছে তাহে প্রাণ পতি হে,
বিতরিয়ে তব চরণ ছায়া।১২।
রামপ্রসাদী।
মা তােমার কোলে লুকাব ;
তাের স্নেহ পিতে পিতে সাধ পুরে ঘুমাইব।
হাসি হাসি মুখ খানি তাের, অনিমেষে নিরখিব
ভাবে হয়ে ভােলা ধরে গলা, ওষ্ঠে মা তাের মিশাইব।
প্রেম ভালবাসা হয়ে, তাের মা বক্ষে পসিব;
অনুরাগ ভরে চেয়ে মা তাের, নয়ন কোণে প্রবেশিব ।
তাের অলঙ্কার পরে মাগাে, মা হয়ে সেজে বসিব ;
এবার কে কারে মা বলে ডাকে একাকার হয়ে যাব। ১৩।
জীবন-সঙ্গীত।
.
দেশ ।-তৃতালী।
তােমা বিনা আর আমাদের কে আছে হে;
পি বল মাতাবল, সকলি যে তুমি
দুঃখে সুখে সদা থাক হে নিকটে।
যখন বিপদে পড়ি ডাকি দয়াময়
অমনি আসিয়া দেখা দাও হে আমায়,
দীন হীন জনে দাও পদাশ্রয়
তােমা হেন সখা মম, কে আছে বল জগতে। ১৪।
আলেয়া—আড়াঠেকা।
মা আমার অন্তরে রূপে আলাে করে ;
ডুবেছে মন প্রাণ রূপ সাগরে।
মায়ের ঐ পদতলে,
সাধু ভক্ত দলে দলে
অলি যেমন শতদলে, কি শােভা ধরে।
দেখিলে মায়ের মুখ,
দূরে যায় সব দুখ
মা নহেন তারে বিমুখ, যে ডাকে কাতরে ।
বুকে ধরে রাজা পদ, তুচ্ছ করি রাজ্যপদ,
বিপদ হয় সম্পদ, সমনে কে ভরে।
১২
জীবন-সঙ্গীত।
বিরহে হই আকুল,
দেখিলে হই পাগল
আমার একি হল বল, জানাই কারে। ১৫।
‘ঝিঝিট খাম্বাজ-মধ্যমান।
আমি কি আর আমাতে আছি ;
পাগল মাকে মা বলে পাগল হয়ে গিয়েছি ;
পিপাসায় হইয়ে কাতর, কেন এলাম প্রেম সাগর
ঘটিল বিপদ ঘাের, অকুলে পড়েছি ।
কেন হেরিলাম সে মধুর হাসি, পরাণে লাগিল ফাঁসী
সব ঘুচালে সৰ্ব্বনাশী পথের কাঙ্গাল হয়েছি। ১৬।
আলেয়া।—লো।
কি ধন লইয়ে বল থাকিব হে আমি ;
সবে ধন অমূল্য রতন হৃদয়ের ধন তুমি।
তােমারে হারায়ে, ব্যাকুল হইয়ে বেড়াই যে আমি ;
যাইব কোথায় পাইব তােমায় বল অন্তর্যামি,
দাও দরশন, কাঙ্গাল শরণ দীন হীন আমি।
তােমারে ভুলিয়ে, সংসারে মজিয়ে, থাকিবে কোন জনা,
ধন মান লয়ে কি করিব সঙ্গেতাে যাবেনা,
জীবন-সঙ্গীত।
তুমি হে আমার, আমি হে তােমার, আমার চিরদিনের তুমি।
(তােমার চিরাশ্রিত আমি)।
তােমারে লইয়ে, সৰ্ব্বস্ব ছাড়িয়ে বৃক্ষতল (পর্ণকুটীরও) ভাল;
যখন তুমি হৃদয়নাথ, হৃদয় কর হে আললা ।
আমি সব দুঃখ যাই পাসরিয়ে বলি আর যেও না তুমি,
আর যাইতে দিব না আমি (এই হৃদয় ছেড়ে)। ১৭।
সিন্ধু।-যৎ।
সিন্ধুতে এক বিন্দু ফেলে আত্মহারা হয়ে গেছি।
বড় ছােট মিশে গিয়ে দুজনেতে এক হয়েছি।
পাপ সংসারে আগুণ দিয়ে নূতন করে ঘর বেঁধেছি ;
বনের ঠাকুর গৃহে এনে কর্তা করে বসায়েছি।
আমার আমি গেল কোথা, তার তত্ব কিসের লাগি,
সে যে ব্রহ্মপুরে গেছে মরে এই সম্বাদ পাইয়াছি।
লা কেবলা বলত সবে, এখন কেবলরাম হয়েছি।
মার আদরের গােপাল হয়ে খেয়ে খেলিয়ে বেড়াতেছে। ১৮।
১৪
জীবন-সঙ্গীত।
(কবিভাঙ্গা) বিভাস-আড়খেটা।
বড় আশার কথা কথা শুনেছি নাথ তােমার মুখেতে ;
তুমি বলিয়াছ ভয় নাই রে, ওরে থাকতে তাের দয়াল পিতে।
যখন যেখানে থাকি, দিবা নিশি দয়াল হরি তােমারে ডাকি।
পিতা মাতা ভাই বন্ধু সব পেয়েছি এক তােমাতে।
আমি অন্ধকারে আলােক দেখতে পাই,
সম্পদে বিপদে প্রভু ভেদ রাখ নাই,
ঐ যে মাভৈরবে পূর্ণ জগত, কেবল শুনি কাণ পেতে।
ওহে ধনী হবার বড় সাধ ছিল,
তােমা ধনে পেয়ে নাথ আশা পূরিল,
করলে এত ধনে ধনী আমায়, ধন আর ধরে না যে ঘরেতে। ১৯।
কাফী।—যৎ।
সার্থক জীবন মম নাথ সম্মিলনে
শুভক্ষণে দেখেছিলাম তরুণ তপনে।
আজ ফুল ফুটেছিল হৃদয় উদ্যানে ;
সােহগে গাঁথি মালা কতই যতনে।
বাসনা পুরিল মম নাথ পরিধানে ;
সফল নেত্র যুগল রূপ দরশনে।
জীবন-সঙ্গীত।
১৫
সার্থক পূজোপহার নাথের গ্রহণে ;
সার্থক এ নমস্কার চরণ স্পর্শনে।
সফল প্রার্থনা হল ব্যাকুল ক্রন্দনে।
শুনিলে দীনবন্ধু থাকি সন্নিধানে।
কিবা কথা শুনিলাম আপন শ্রবণে ;
সরস রসনা হল নাম সংকীৰ্ত্তনে ;
হইল ধ্যান সফল আত্মার ধারণে। ২০।
খাম্বাজ।পােস্তা।
কত গুণের তুমি আমার প্রেমময় হরি ;
কি চক্ষে দেখেছি তােমায় ভুলিতে কি পারি।
গভীর বেদনা পাই, তব মুখ পানে চাই
হাতে যেন স্বর্গ পাই, দুখ পাসরি।
সজনে নির্জনে থাকি, তােমাকে লইয়ে সুখী ;
দুখের দুখী সুখের সুখী হৃদয়বিহারী।
কত ভাল বাস তুমি ভুলিতে কি পারি,
ঐ ভাবনা ভেবে ভেবে গুমরে মরি ;
প্রকাশ করিতে নারি চক্ষে বয় বারি।
জীবন-সঙ্গীত।
তুমি নাথ প্রেমদাতা প্রাণের সঙ্গে কওহে কথা,
তােমায় ছেড়ে যাব কোথা, চরণে ধরি। ২১।
ভূপালী।-তৃতালী।
দেখা দিয়ে কোথা আর লুকাবে এখন।
অনাথ সনাথ হয় লভে যে চরণ
দাও দাও হৃদে রাখি কাঙ্গালের ধন।
এখন জানি তােমার ঘর বাড়ী
যাতায়াতের বাড়াবাড়ী, আর কি পার
ওহে হরি করিতে বারণ? নয়ন মুদিয়া
হেরি তব প্রেমানন।
উপাসনা পুষ্পরথে যাই আকাশ পথে
নিমেষে বৈকুণ্ঠধামে করি হে গমন
যথা ভকত মাঝারে তুমি ভকত রঞ্জন। ২২।
*
তুপালী।--তৃতালী।
হরি পদে মজ ওরে মম
ভুলি সুখ দুখ দারা ধন জন।
জীবন-সঙ্গীত।
১৭
বৃথা চিন্তা বৃথা মায়া চিরস্থায়ী
নহে কায়া, এ তাে মম অহং ছায়া
সঙ্গে সর্বক্ষণ
ত্যজি যাই অন্তঃপুরে কেন বেড়াই
ঘুরে ঘুরে ; তঁারি তরে আঁখি ঝরে
সে যে প্রাণধন। ২৩।
সারঙ্গ-তৃতালী।
পাপ তাপে তাপিত জননি।
মানব সব হাহাকার রব ছাড়ে
দিবা রজনী।
হইল স্নানতর যৌবন সুন্দর
পশি কীট তাহে করে ছারখার
জ্ঞান হত মদে মত্ত এমনি।
পাপ প্রলােভন, যেন হুতাশন,
নিরন্তর সবে করিছে দহন,
নাই উপার তৰ পায় মাগে ধরণী।
এমনি করিয়ে সারা জীবন যায়
৭
d
=
f
2.
১৮
জীবন-সঙ্গীত।
তবু কি নাহি চেতনা পায়
যাতে মরে তাই করে তার তারিণী। ২৪।
মুলতান।-আড়াঠেকা।
এমন সখার প্রতি কেন এত উদাসীন
ওরে আমার পাষাণ প্রাণ মভি বুদ্ধিহীন।
সখা কত ভাল বাসে তাের দুখে মুখে কাদে হাসে
ছাড়ি নিজ গৃহবাসে তাের কাছে রাত দিন।
কেন বল শক্ত কথা সখা পান মনে ব্যাথা
ভাল করে কও না কথা তাই বুঝি আঁখি মলিন ।
সখা যদি চলে যায় কবি তখন হায় হায়
তখন মজা দেখবে সবায় যেমন তুই সুকঠিন।
সখা গেছে প্রেমে পড়ে তাই নারে যেতে ছেড়ে
আছে তাের দ্বারে পড়ে যেন কত কাঙ্গাল দীন হীন। ২৫।
T
+
সুইমল্লায়। ঐ।
তােমারি কিরণ পেয়ে ফুটেছে হৃদি কমল
এস বসে তাহে নাথ পড়িয়াছে শতদল।
{
জীবন-সঙ্গীত।
মলিন পঙ্কে টানিছে জলে ডুবাতে চাহিছে
উৰ্দ্ধমুখে তাই ডাকিছে তুমি ভরসা কেবল। ২৬।
=
।
ভৈরবী।--তৃহার্শ।
লুকাবে কোথায় (হরি তুমি)
তৃষিত নয়ন আমার পিছে পিছে ধায়।
যাবে তুমি হিমালয়ে রেখেছি তারে বলিয়ে
আছে উচ্চশির হয়ে প্রহরীর প্রায়।
পশিবে অতল জলে সে যে তােমায় ধরে তুলে
উত্তাল তরঙ্গচ্ছলে একি হল দায়।
বনে বনে ফুল পাখী দিবা রাতি ফিরে চৌকি
কোন বনে পালাবে দেখি ধরিবে তােমায়।
আকাশে আকাশ হয়ে যাবে বুঝি মিশাইয়ে
চন্দ্র তারকানিচয়ে ছাড়ে না তােমায়।
সতীর অবগুণ্ঠনে রহিবে কি সদোপনে
প্রকাশে মিষ্ট বচনে সিন্দুর ফোটায়।
ধূলাে খেলার গােলে মালে মিশিবে শিশুর দলে
হেসে তারা ভেকে বলে (ও হে হরি দেখবি আয়।
}
T
}
।
জীবন-সঙ্গীত।
ভকত হৃদয়কমলে লুকাবে কোন কৌশলে
ভাসিয়ে নয়ন জলে বলে দেয় সবায়। ২৭।
বাহার।--তৃতালা ।
এস সবে মিলে করি হরি সাধনা
হরি সাধনা মধুর
উপাসনা
রবে না রবে না পাপ যাতনা
হৃদয় আসন পাতি বসায়ে তাহারে
পূজিব অভয় পদ ভকতি উপচারে ;
দেখিব সুন্দর রূপ নয়ন ভরে।
রাখিব হৃদয়ে গাঁথি ছাড়িব না ছাড়িব না। ২৮
*
=
{বাউল) সুরটমল্লার।-।
কেমন করে থাকি বল সত্যেতে
থাকি সত্যেতে আমি থাকি পুণ্যেতে।
ইচ্ছা হয় সত্য বলি সত্যের সঙ্গে হাসি খেলি
সত্যের করে নামাবলি পরি গায়েতে
সতেতে ডুবিয়ে রব সতত্যতে চক্ষু মাজিব
সত্যের হাত ধরিব আর সৎ পথে।
4
-
+
[
জীবন-সঙ্গীত।
২১
সত্যের লইয়ে বাতি করে তন্ন তন্ন পাতি পাতি
এ জীবনের মলা মাটী ফেলিব তফাতে। ২৯।
ঝিঝিট।-ঠুংরি
সে যে আমার যতনের ধন
মন প্রাণ সদা তারে করে আকিঞ্চন।
নয়ন মুদিয়ে থাকি পলকে আঁধার দেখি
হৃদয় মাঝারে যদি না পাই দরশন।
রচিয়ে চিকণ হার দিই তারে উপহার
সে আমার আমি তার আপন হতেও আপন।
হৃদয়ে তাহারে পাই হাতে যেন স্বর্গ পাই
আর কিছু নাহি চাই বিনা চরণ। ৩০।
ঝিঝিট।---একতালা।
সাড়া পেয়ে ছুটে আসিলাম নিকটে
তেমনি করে একবার দাড়াও না (হৃদমাঝারে )
{ দেখে জনম সফল করি)।
তােমারি নামে ফুটেছে ফুল
গন্ধে প্রাণ করেছে আকুল
-
১২
জীবন-সঙ্গীত।
L
Y
যতনে গাঁথিয়া এনেছি মালা
আদর করে একবার পর না ।
( দেখি দেখি তােমায় কেমন সাজে।
বড় ভালবাস সদা মনে রাখ
বিবেক বংশীতে নাম ধরে ডাক
সে রব শুনিয়ে সংসারে মজিয়ে
থাকিতে তো আর পারি না। ৩১।
ঝিঝিট।-আড়াঠেকা।
আমার কেবা বল নাই,
শত শত ভগিনী শত শত ভাই।
মা আমার জগন্মাতা পিতা পরমপিতা
বিশ্ব জুড়ে বন্ধুতা কারেও না ডরাই।
তবু হই মর্মাহত ভাই নয় মনের মত
পাপাচারে অবিরত জড়িত সদাই।
এ বড় লজ্জার কথা এ মুখ লুকাই কোথা
এমন কর্মে ভগ্নী রতা মুখে বলতে নাই।
এ সব দেখে শুনে ইচ্ছা হয় যাই বনে
বেঁধে রাখে প্রাণের টানে যেতে নাহি পাই।
জীবন-সঙ্গীত।
দিলি মুখে গালে কালি তবু নাই মন্দ বলি
তােদের শুভ করুন কালী দেখে মরে যাই। ৩২।
তুপালী।-ঠুংরি।
জয় জয় মহিমা তােমারি
স্রষ্টা পাতা তুমি পিতা মাতা ধাতা
এ ভব সঙ্কটে তুমি পবিত্ৰাত
দীনজন বান্ধব হৃদয়বল্লভ
অতি যতনের ধন প্রেমময় হরি।
সর্ব ভুবন পতি জগজ্জন গুরু
শান্তিদাতা কৃপা কল্পতরু
সুর নর বন্দন পাপামুর মর্দন
সুজন পালন দুষ্টে দণ্ডধারী।
জল স্থল শূন্য করি পরিপূর্ণ
নূতন বিধানে নব অবতীর্ণ
নূতন বিভূতি সুন্দর মুরতি
এস নাথ নবরাগ্নে রঞ্জিত করি।
T
{
।
T
৭
জীবন-সঙ্গীত।
অশৰ অস্পর্শ অনন্ত অপার
অতি চমৎকার মহিমা তােমার
|
যে ডাকে কাতরে দেখা দেও তাহারে
তব নাম স্মরণে চখে বয় বারি। ৩৩।
'।
ভৈরব।—ইংরি।
প্রভাত সময়ে বদন ভরিয়ে
গাও হরিগুণ ধাম।
উঠ নর নারী নিদ্রা ছাড়ি
দেখ হৃদয়ে প্রাণারাম
আঁধার নাশি মুখে আধ হাসি
বালক ইন্দু বিভাতি ;
উষার কোলে মহী সকলে
প্রকাশে জ্যোতির জ্যোতি।
সিছে ধরা বন ভরা
কুসুম দন্তের পতি;
নাচে গায় বিহগে নব অনুরাগে
কাননে আমােদে মাতি। .
T
T
T
-
জীবন-সঙ্গীত।
সরসি সলিলে শ্বেত শতদনে
ভ্রমরে করে মধু পান
হরিপদকমল মধু চল চল ,
ভকতে করে মধু দান। ৩৪।
বসন্ত বাহার - একতালা।
পাঁচ খানি দেহ একখানি হয়ে
করিব তােমারি কাম---
পাচ খানি মুখ একখানি করে
গাইব তােমারি গান।
পাচ খানি হৃদয় একখানি হয়ে
ধরিব তােমারি ধ্যান
পাচ ভেয়ে হাত ধরাধরি করে
চলে যাব স্বর্গধাম
পাঁচটী ভয়ে জড়াজড়ি করে
চরণে লইব স্থান।
পাঁচটী হৃদয়ে ফুটে যত ফুল
গাঁথিয়ে মােহন মালা
জীবন-সঙ্গীত।
পাঁচটা প্রাণ থরে থরে রাখি
সাজায়ে সুন্দর ডালা ;
পাঁচ ভয়ের ভক্তি অনুরাগ ঘুড়ি
ওহে প্রাণ প্রাণ
পাঁচটা হৃদয়ের যাহা ছিল ভাল
করিব তােমারে দান। ৩৫।
ভৈরবী।--ছো।
কিছু হল না (আমার)
সাধনা ভজনা কেবল অষ্ম বঞ্চনা।
ভাবে কাঁদি ভাবে হাসি
ভাবে মজি ভাবে ভাসি
( কই) ভাবতে আমার স্বভাব হল না।
করিলেন দেব ঈশা ছাড়িয়ে প্রাণের আশা
হরিপদ ভরসা আত্ম বলিদান ;
যাতে প্রাণ দিতে হয় আমি মন দিলাম না
তপােধন তপােবনে মগন গভীর ধ্যানে
নিত্যানন্দরস পানে বাহজ্ঞানহীন ।
জীবন-সঙ্গীত।
২৭
পাছে ডুব দিতে হয় ভয়ে জলে নামলাম না।
হায় আমার কি হবে আর কতদিন যাবে
কেমনে পার হব ভবে কিছুই জানি না
এবার বাগে পেলে হরি ছেড়ে দিও না। ৩৬।
ער
সুরটমল্লার।—ণ তৃতালী।
(মধুকাণের।-সুর)।
দেখলাম নর নারী আঁখি নীরে
পেয়ে জননীরে
নিৰারে না পারে তৃষ্ণা নীরে।
কেহ বা বলে ধন জন
থাকিতে কেন লােদন
কেহ বা বলে কথা শোন
অমন করে ভাবিসনি রে ;
তবু কি ধৈরজ মানে
কাদে সে পরাণের টানে
(বলে) একাবার দেখা মাকে এনে
কখন যে দেখিনি রে
।
T
।
1
/
।
1
}
২৮
জীবন-সঙ্গীত।
কেহ পুত্র শােকে কাতরা
পতি বিরহে বিধুরা
বিত্ত নাশে দিশা হারা
মায়াময় ধরণী রে ;
আর ত নাহি সান্ত্বনা
জগত জননী বিনা
রবে মৰ্ম্ম বেদনা
ডেকে দেখ জননীরে। ৩৭ ।
।
-
।
মল্লা।-তৃতালী।
হরি নামে কত সুখ পাই
আয় প্রেম ভরে গাই।
তাই করেছি কণ্ঠের হার পাছে ভুলে যাই।
যখন বলি হরি হরি হৃদয়ে বিরাজেন হরি
বােমাঞ্চিত এ শরীর প্রেমে গলে খায় ;
নামে তাতে হয়ে অভেদ দূর করে ভেদাভেদ
নামার্ণবে ঝাঁপ দিয়ে মনের খেদ মিটাই
পৰ্বত নদী গহনে একাকী কি সজনে
জীবন-সঙ্গীত।
৯
দেখি ভেবে মনে মনে কোন অভাব নাই;
নাম যখন আছে ঘটে সকলি আপনি যােটে
তাই হয়ে নামের মুটে দ্বারে দ্বারে বিলাই।
দ্বিতন্ত্রীর সুর মিলায়ে গলার সঙ্গে ভিড়ায়ে
লক্ষটী ঠিক রাখিয়ে প্যানে বসে যাই ;
আমারে আর কেবা পায় ধরেছি কাহার পায়
নিরুপায় পায় উপায় ঘুচে আপদ বালাই।
এ সংসার অরণ্যে পাপ প্রলােভনে
সুদিনে দুর্দিনে এমন বন্ধু নাই;
প্রাণ মন দিয়ে তারে সর্বস্ব জনমের তরে
প্রেম গদ গদ স্বরে হরিগুণ গাই। ৩৮।
কীৰ্ত্তন।
}
E
হরি হরি বল ওরে মন বৃথা যায় রে জীবন।
যে জঙ্গেতে ভবে আসা সাধন ভজন;
পরম দয়ালু হরি দারিদ্রভঞ্জন।
কি লয়ে সংসারে থাকা কে কার আপন
কি দুঃখে আর ঈদ তুমি হরি তাপ হরণ ।
জীবন-সঙ্গীত।
তােরে বড় ভালবাসি এনেছি নাম রতন;
আদরে হৃদয়ে রাখ করে কণ্ঠের ভূষণ।
সংসার দুর্দিনে, বিমুখ বান্ধব জনে ;
ভীষণ শ্মশানভূমে, সহায় হরি নিরঞ্জন। ৩৯।
Sos
হরি হরি বল ওরে মন, এতে লাভ বই ক্ষতি হবে না।
যত সাধু মহাজনে করে ঐ নামের বেচা কিনা;
তারা পেয়েছে পরম অর্থ বেদ পুরানাদি দেখ না।
মােটা লাভের ব্যবসা বটে তা কি তুমি জান না ;
ওরে ঐ ব্যবসায় ধ্রুব প্রহলাদ করে গেছে রে বালাখানা।
তাের সাত পুরুষে একাল ধরে করে গেছেরে যত দেনা ;
তা শশাধে সাত পুরুষ বসে কবে রে বাবুয়ানা।
এতে ব্যাপার হবেই হবে সন্ধ কর না
তা না হলে গৌর নিতাই বিয়ে যেতে পারত না।
হরি হরি বলরে মন দেখবি নামের কত মহিমা ;
ওরে অনায়াসে তরে যাবি যমের বাবাও ছুতে পারবে না।
কথার কথা নয়রে মন করে কর্মে দেখনা ;
*
71
জীবন-সঙ্গীত।
|
অসার ভাবনা ভেবে আর পুঁজি ভেঙ্গে খেও না ।
শুনতে চাও না দেখতে চাও আমার সঙ্গে এস না;
নববিধানেতে ঘরে ঘরে আর দৌলত ধরছে না।
ঈষা মুসা মহম্মদ গৌর নানক নাবুদ কয়জনা;
এঁরা প্রতি জনে মহা ধনী মন ছুয়ে কর বেচা কিনা।
কেশব সেন গদিয়ান সাবাস তার সাধন খানা;
বসা তুলেছে একচেটে করে খদ্দের ঝুকেছে যােল অনা। ৪০।
ing
অন্তরে কেবল মন হরিরূপ ভায়;
প্রাণ পুলকিত অতি দেখি সে শােভায়।
নিমীলিত আঁখি আর নাহি মেলি চায়
পাছে চাইলে সে রূপ রাশি অমনি লুকায়।
ভক্ত সঙ্গে ভক্তবৎসল, অপরূপ দেখায়
এমন সুন্দর ঠাম, কে দেখেছে কোথায়।
হরিরূপ রসকূপ, নাহি তুলনায়,
আমার হইল আজ, ৰােবার স্বপ্ন প্রায়। ৪১৪
*
২
জীবন-সঙ্গীত।
ঐ
.
ললিত।--খেমটা ।
বল রে বল হরি হরি বল,
এতে প্রাণ করে শীতল।
ক্ষীর ছানা নবনীত, খেয়েছ সকল,
সুধামাখা হরিনাম কেমন মিষ্ট বল।
পাপ রােগে, ভুগে ভুগে, হয়েছ দুর্বল
সুব্যবস্থা নামৌষধি, সঞ্চারে অন্তরে বল ।
ধন দারা পুত্র কন্যা, কেবা কার বল
অসময়ের বন্ধু হরি, চিরকালের সম্বল।
কিসের দুঃখ কিসের শােক, কেন চক্ষে জল
বার হরি সহায় তারে কাদায় কার সাধ্য বল ।
এ সব দেখে শুনে মন আমার, ইওরে সরল
কি ভয় জীবন মরণে, হরি পৃষ্ঠবল। ৪২।
(ব্রহ্মসনাতনে আনন্দ অন্তরে ডাক সুরে)
নববিধানে রঙ্গে বিবাদ জ্ঞান আর প্রেমে ।
জীবন-সঙ্গীত।
জ্ঞান বলে সে যে হরি অনন্ত অপার
প্রেম বলে হৃদয়নাথ হৃদয়ে আমার
বলি ভাবনা কি আর।
জ্ঞান বলে অসীম তার সীমা কেবা পায়
প্রেম বলে অসম্ভব অন্তরে দয়ায়
সে যে জানে সবায়।
জ্ঞান বলে নিরুবধি ডাক কি নাম ধরে
প্রেম বলে যা বলে ডাকি বুঝবে কেমন করে
সে যে ঠারে ঠোরে।
জ্ঞান বলে নিরাকার কি দেখিবি চোখে
প্রেম বলে সােণার হরি দেখে যা ভাই বুকে
কত ব’লৰ মুখে।
জ্ঞান বলে নির্লিপ্ত সে কি সম্বন্ধ রাখে
প্রেম বলে অমন কথা এন নাকো মুখে
বড় বাজে বুকে।
জ্ঞান বলে অতীন্দ্রিয়ের তত্ত্ব কেবা জানে
প্রেম বলে দিবানিশি আছি তার সনে
৭
তা কে না মানে।
E
{
জীবন-সঙ্গীত।
জ্ঞান বলে অগম্য তঁার কেবা যাবে কাছে
প্রেম বলে তাই পিতা মাতা বন্ধু হয়ে আছে
সদা কাছে কাছে।
জ্ঞান বলে বুঝিনাকো কথার চাতুরী
প্রেম বলে পড়েছেন ধরা হৃদয় করে চুরি
রেখেছি গারদে পুরি।
জ্ঞান বলে অরূপের রূপ আবার কোথা
প্রেম বলে কি বুড় হয়ে খেলে চোখের মাথা
চিরকাল একই কথা।
জ্ঞান বলে অশব্দের শব্দ যায় কি শােনা ?
প্রেম বলে তাই শুনে শুনে হয়ে গেছি সােণা
এই চেয়ে দেখ না।
জ্ঞান বলে অম্পর্শে আছে স্পর্শ সুখ ?
প্রেম বলে তায় বুকে রেখে ভুলি সব দুথ
হেরে চাদ মুখ।
জ্ঞান বলে কি বা বােঝ তুমি পুরুষ না নারী
প্রেম বলে পণ্ডিত বট বিদ্যা তােমার ভারি
ক’রনাকো জাতি।
1
।
জীবন-সঙ্গীত
৩৫
জ্ঞান বলে জানি বেদ ললিতবিস্তর
প্রেম বলে আমার কাছে পড় দিয়ে ভরাভর
হবে প্রেমের সাগর।
জ্ঞান বলে প্রমাণ যুক্তি আছে লক্ষ লক্ষ
প্রেম বলে বিশ্বাসের কাছে কেবা সমকক্ষ
এতেই জীবের মক্ষ।
জ্ঞান বলে ওহে ভাই! দ্বন্দ্বে কাজ নাই
এস দু জনেতে সমতানে হরিগুণ গাই
বেশ ব’লেছ ভাই।
এইরূপে জ্ঞান প্রেমের বিবাদ ভাঙ্গিল
মনের আনন্দে সবে হরি হরি বল
রে ভাই হরি হরি বল। ৪৩।
*
}
কীৰ্ত্তন।~~-একতালা।
পাচ ভেয়ে আজ মাকে সাজায়ে
আয় ভাই দেখি নয়ন মেলিয়ে
( আহা মা কেমন সেজেছে রে) (পাঁচ ভেয়ের ফুলে
ঐ দেখ ভাই, মা হাসিছে যেন মা কত কি পেয়েছে
জীবন-সঙ্গীত।
তাই আবার লয়ে সকলে দেখাচ্ছে
দেখিয়ে স্বরগ আনন্দে ভাসিছে;
আয় ভাই আয় ভেদাভেদ ভুলি
মার নামে সবে দুই হাত তুলি
গাই ভাই মায়ের নাম রে ।
জয় মায়ের জয়, জয় মায়ের জয়, জননীর জয়,
ব্ৰহ্মকৃপা বলে রে ভাই কিবা নাহি হয়।
কই এলাে স্বরগ রাজ্য কই এলো
( নর নারী কেঁদে বলে, ভাঙ্গা প্রাণ যােড়া দিতে,
সকল দুঃখ ভুলাইতে, ঘরে ঘরে মুক্তি দিতে,
ভেয়ে ভেয়ে মিলাইতে, সকল বিবাদ ভেঙ্গে দিতে
ঐ আসে বুঝি আসে রে (স্বরগ রাজ্য)
আয় ভেয়ে ভেয়ে বসি গলা ধরে।
{নহিলে আসবে না আসবে না, বেশ জানি
তাই এসেও আসে না)। ৪৪ {
জীবন-সঙ্গীত।
৩৭
লইয়ে সন্তানে
৭
সাময়িক।
গাথা।—একতালা।
আজ শুভ দিনে,
হৃষ্টমনে, তব চরণে
বসেছে আসি,
তব দাস দাসী
মাগিছে আশীষ, সন্তান কারণে।
কুল পাবন,
ন্যায়পরায়ণ
সত্যভূষণ, হইয়ে অমর
থাকে তােমাতে,
প্রেম ভক্তিতে
সংসারপথে, অটল স্থির।
তুমি স্নেহ হয়ে,
আছ হৃদয়ে
পালিছ তনয়ে, পরম মাতা;
হইয়ে সুপুত্র, করিছ কৃতার্থ
খুলি যােগনেত্র, দেখাও পিতা।
সম্পদে বিপদে, থাকি সমভাবে
দেখি তােমাকে মঙ্গলময়ী ;
করিগাে প্রণাম,
বরাভয় দান
• আনন্দ বিধান, কর আনন্দময়ী ।
{
জীবন-সঙ্গীত।
কৃতজ্ঞতা উপহার, প্রেমপুষ্পভার
চরণে তোমার, দিলাম জননী;
করি প্রেম স্মরণ
থাকি প্রেমে মগন,
দিবা রজনী। ৪৫।
প্রেম কীর্তন
বেহাগ।—একতলা”।
পিতা পরম পিতার কোলে ;
আমরা যে পৃতৃহীন, কেহ যেন নাহি বলে।
কোথায় তাহার সেই, দিব্য দেহ কান্তি ?
এই ত আমরা সবে তারি প্রতিকৃতি
তার অধিকারী ধনে, নহি কি গুণে ?
পিতৃ-কীর্তি রাখিব, আদেশ পালিব
ভাই ভগিনী প্রেমে মিলে।
কেমন প্রেমে গঠিত, হৃদয় খানি
যেমন ছিল রয়েছে তেমনি
দেবতার স্থানে, মােদের কারণে
মাগিছেন কত বর;
যেন মম স্থলে, থাকি অবনীতে
জীবন-সঙ্গীত।
গায় তব নাম, পায় শান্তি সুখ ;
যেমন সুখী আমি হরি বলে।
আর নাই সে ভাবনা, ভবের যাতনা
এবে নিবিয়াছে, শান্তি জলে,
পেয়ে অন্তে হরিপদ, পরম সম্পদ
নিত্য ধনে ধনী, রাখি হৃদি কমলে। ৪৬।
r
বসম্ভবাহার।--ঝাপ তাল।
অপার প্রেম সিন্ধুনীরে হইয়ে তরঙ্গ ;
মহাদেশ পদমূল ধুইব করিয়ে রঙ্গ।
নানা মহাজনতরী, দুলে এই বক্ষোপরি
গায় হরিনামের সারি, বাজে বিধান মৃদঙ্গ ;
মিলা’য়ে সেই সনাতনে, নববিধান কীৰ্ত্তনে
মাতাব জগৎ জনে, যেন প্রমত্ত মাতঙ্গ।
আজ তব দাস দাসী, শ্রীচরণ তলে বসি
* মাগে বরাভয় আশীষ, তব নিত্য সঙ্গ;
যেন শত রসনার বলে, এই ক্ষীণ রসনা বলে
মা বলে তােমায় ডাকিলে, টুটে শমন আতঙ্গ। ৪৭।
৪০
জীবন-সঙ্গীত।
বসন্তবাহার। -তিওট ।
নববিধানের শ্রীমন্দির, শান্তি নিকেতন ;
যথায় সপার্ষদ শ্রীহরির অবতরণ।
ঈশা মুশা জন, নারদ ত্রিলােচন,
মহম্মদ শাক্য, গােরার সম্মিলন,
ভেদাভেদ দূর করি, যত সব নর নারী
বলে শ্রীহরি হরি পতিতপাবন।
যথায় মেকা আর বেথলিহেম,
কাশী নবদ্বীপধাম কপিলাবস্তু প্রয়াগ বৃন্দাবন,
যমযম যমুনা জর্ডান, বহিছে অবিরাম
অবগাহনে লভে জীব, নবজীবন।
করিতে বিধি প্রচার বিধান দরবার
আনন্দময়ীর, নববৃন্দাবন
উঠিছে তরঙ্গ কত, নবীন নবীন তত্ত্ব
করিছে পরাক্রমে ভুবন শাসন।
আয় রে আয় জগতবাসী
আয় ভাই সদ্ভাবে মিশি
বিবাদ কুতর্কে, কিবা প্রয়ােজন,
জীবন-সঙ্গীত।
৪১
এস ডাকি ভাই মা মা বলে
পাষাণ প্রাণ যাক গলে
হলাে নিশান্তে উদয় সুখের তপন। ৪৮।
( বাউল) বিভাস।- খেমটা।
পাঠায়ে নববিধি, গুণনিধি বঙ্গ ভূমে অবতরি।
যাচিয়ে স্বর্গরাজ্য চতুৰ্বৰ্গ বিলাঞ্চ হে বাড়ী বাড়ী;
জীবের দুঃখ আর থাকল না ভয় ভাবনা এত যখন দয়া ভারি
সাজিয়ে নবীন সাজে ভক্ত মাঝে বলছ মুখে হরি হরি;
সঙ্গে লয়ে মহহ্মদ মুশা গৌর ঈশা নানক নারদ আদি করি ।
মিশে যমযম যমুনা জর্ডনে হয়েছে নূতন ত্রিবেণী
ভাছ তার প্রেম হিল্লোলে তুফান তুলে সাজায়ে প্রেমের তরী
মজিল বিধিবাদী, নিরবধি অপরূপ রূপ নেহারি;
আয় রে আয় জগতবাসী হের আসি অবতীর্ণ দয়াল হরি! ৪৯।
বিস।--- তাল ঐ।
ও সেই নবদ্বীপে,
গৌরাদে
দেখবে যদি পরাণ ভরি ;
জীবন-সঙ্গীত।
কর নৃত্য
হয়ে দীন
হয়ে প্রেমে মত্ত,
হরি হরি ধ্বনি করি।
রাগে রচিত, প্রেমে বিগলিত
সদা মুখে হরি হরি ;
হয়েছে বাহ শূন্য,
চৈতন্য
আহা কি রূপ মাধুরী ।
লয়ে দন্তে তৃণ,
বিলাচ্ছেন প্রেম বাড়ী বাড়ী ;
নিবাতে দুঃখ পাপ, শােক তাপ,
চচেন সুধা কলস পূরি।
শ্রীবাসের অঙ্গনে,
সঙ্কীৰ্ত্তনে
নাচে গায় গৌর হরি
কভু হাসে কাঁদে, ভাবের ছাদে
ধূলায় ধূসর ধরায় পড়ি।
জীবের দুঃখে কাতর হয়ে,
দণ্ড লয়ে
ওহে নবীন ব্রহ্মাচারি
বলি বলি যাচ্ছ কোথায় নেয়াও আমায়
আমি তােমার পায়ে ধরি।
}
জীবন-সঙ্গীত ।
( সঙ্গ ছাড়ব না ছাড়ব না )
( আর কি ধন ল'য়ে গৃহে রব )
ও সেই জগাই মাধাই, নষ্ট দু ভাই
তরালে হে দয়া করি
( হরি নাম দিয়ে হে।
আমি অতি ভক্তি বিহীন, নিতান্ত দীন
পাপভরে ডুবে মরি।
( আমায় তরাও রাও হে হরিনাম দিয়ে )। ৫
সুরটমল্লার।----আড়াঠেক।।
ভারতগৌরব ওহে রাজা রামমােহন ;
অজ্ঞান আঁধারে তুমি প্রভাততপন।
জাগালে ভারত জনে, যে আলােক প্রদানে
ছাইল সে জ্যোতিঃ আজ, এ ভব ভবন।
বিধান ভিত্তি স্থাপন করে গেছে গুণধাম
গায় যার যশশাগান, বিধিবাদিগণ
এবে তুমি মাতৃ কোলে, মম হৃদয়কমলে
ভক্তগণ সঙ্গে মিলে, সুখে করিছ রমণ। ৫১।
জীবন-সঙ্গীত।
খাম্বাজ।--তৃতালী।
কেমনে ভুলিব তােমায় (প্রিয়ে হে)
নিশি দিন হৃদয়ে হৃদয়ে গাঁথা।
রাখিয়া গিয়াছে তব অনুরূপ ছবি
নিরখি নিরখি, কত সুখী মনে
তব দরশনে প্রাণ সদা চায় ।
সে স্নেহ ভালবাসা মমতা যতনে
ভুলিতে কি পারি জাগিছে স্মরণে
প্রফুল্ল বদনে,
অমিয় বদনে
সকলি রয়েছে যেন বিদ্যমান প্রায়। ৫২।
আলেয়া।--তৃতালী।
ও কি হ’লরে চন্দ্র অস্ত; আঁধার ঘেরিল,
নিরাশা রহিল আকাশ ভাঙ্গিয়া মাথায় পড়িল।
(বহুদিন) ভারতের সৌভাগ্য-রবি গেছে চলে
বিধি কি বিপদ ঘটালে, আবার কি আছে কপালে
কেন যায় কেশব আজ অকালে, কান্দায়ে ভারতবাসী সকলে
চাঁদের আলােয় ছিলাম ভাল, কে তাহে বাধ সাধিল
জীবন-সঙ্গীত।
৪%
আজ ফণীর মাথার মণি কে হরিল।
আর কে তেমন করে ধর্মকথা শুনাবে
যাতে জুড়ায় প্রাণ, মহাপাপী পায় ত্রাণ
হরিনামসুধা কর্ণে ঢালিবে মা আনন্দময়ীর নাম গাইবে
আর কে বিডনপার্কে টাউনহলে মাতাবে বক্তৃতার বলে
তুমি গেলে হে সবে ফৈলে হায় হায় কি হল।
ভারতের দুঃখের কথা বলিতে তুমি গিয়াছিলে বিলাতে
ভ্ৰাতৃভাব বিলাতে ইংরাজে ভারতের প্রেমে বান্ধিতে ধর্মের অমূল্য
সত্য ঘঘাষিতে, এসে দেশের নানা উৎপাত উঠাতে করে সূত্রপাত,
কোথা যাও কেশব তােমার সে সব পড়ে রহিল।
মন্দিরের বেদিতে কে বসিবে সে যে রয়েছে শূন্য, আমাদের
হৃদয় শূন্য এ দুঃখের কথা কেবা বুঝিবে, দগ্ধ প্রাণে কে শান্তি
ঢালিবে ঐ প্রতাপ তােমার, ঘরে এল বুকে করে নেবে চল, হা
কেশব কি হল, তাকে কি সান্ত্বনা দি বল।
বিপদে ডাকি তােমায়, অভয়ে, কঁপি সভয়ে দূরদূর করে হিয়ে
বস মা আনন্দময়ী হৃদয়ে শান্ত ভগবতী দেখায়ে।
কেশব রয়েছে কোলে স্তন টানে কুতুহলে
হাসে মার মা মা বলে সবে মায়ের জয় বল। ৫৩।
৫৩
জীবন-সঙ্গীত।
ভূপালী।--তৃতালী।
কেন ভাই ভাই ঠাই ঠাই দেখিবারে পাই ।
এ হেন নিদারুণ ভাব সাজে না সাজে না।
প্রেমে গড়া ঘরখানি দেখ ভেঙ্গে যায়
বহু যতনের ধন নিমেযে ফুরায়
হও ক্ষান্ত হও শান্ত ধরিতেছি পায়
ভাঙ্গা যােড়া দিত যে জন সে ত আর নাই।
পেয়েছি যে ধৰ্মধন, জগতে বিলায়ে খাই
যাহার যা প্রাপ্য বুঝে দিব চল যাই
এতে নাহি লাজ বরং পৌরুষ বাড়িবে
রক্ষা পাইব সবে নিদারুণ বিচ্ছেদে
যার জন্যে করি এত, সেকি এ ভালবাসিত
রাখ কথা, তার ভালবাসার দোহাই।
কেশব গিয়েছেন স্বর্গে তিনি কি আর মন্ত্রে নাই,
তারিত প্রতিকৃতি তােমরা সকলে ভাই
দগ্ধ প্রাণের এই শান্তি, এতে ধরিয়ে জীবন
বিধির আদেশে করিব ব্রত পালন
কোথা প্রেম কোথা ক্ষমা কোথা সাম্য কোথা গাে মা
আয় মা আয় নহিলেকলি হারাই। এ ।
জীবন-সঙ্গীত।
৪৭
ভৈরবী।--একতালা।-
শুনে যা ভাই ঐক্যতান বাদন
শুনিলে বিধানবাদ্য জুড়াবে শ্রবণ ।
বাজায় বীণা বীণাপাণি, দাউদ নারদ মুনি।
তম্বুরা শূলপাণি বাশরী নন্দ নন্দন ।
মিরিয়ম মুসার ভগিনী আনন্দে বাজায় খঞ্জনী
করে ভগীরথ শঙ্খধ্বনী বিগলিত নারায়ণ।
গণেশ মৃদঙ্গ ল’য়ে বাজায় ভাল লয়ে লয়ে
গৌর নিতাই দুটী ভেয়ে নাচিছে কেমন।
(হরি বলে)।
কেশব একতন্ত্রী করে বাধি সবে এক সুরে
প্রেমদাসের গলা ধরে করেন বিধান কীর্তন। (নব) ৫৫।
বাহার।~~-একতালা।
দুইটী ধারা পথে যেতে যেতে
পড়ে গায়ে গায়ে ঢলৈ ।
বাড়ীতে বাড়ীতে
প্রেমে গেল কেমন মিলে।
দুইটী হৃদয়
জীবন-সঙ্গীত।
দুই মাণিক দু ঘরে জ্বলিত
বিতরিত কত আলাে।
দুইটা রতন আদরের ধন
স্নেহের ভূষণ ভাল ;
সােণার সােহাগা সম
মিশে গেল এবে গলে।
( যেমন) মিলিল দুটী যা ছুটাছুদী
অনন্ত প্রেমের পানে
অনন্ত মহিমা, দুটী কণ্ঠবীণা
বাজুক অনন্ত গানে।
অনন্তের ইচ্ছা হউক পূর্ণ
আশীষ সকলে। ৫৬।
কীৰ্ত্তন ভাঙ্গা।--একতালা।
ওমা যাসনে মায়ে বাপে কঁাদায়ে
নয়নের পুতলি আমার
ঘরে থাক না কেন প্রাণসম
ওরে তাের গেলে হবে গৃহ অন্ধকার।
|
জীবন-সঙ্গীত ।
(মাগাে) তােরে পেয়েছিনু জহরে পাই
ভাসিনু সুখে অপার ;
মাণিক একটী ছিল যদি দুটী হ’ল
তােদের গলায় রাখব গেঁথে করে গলার হার।
( আয় রে ) দু কোলে দুজনে বসায়ে যতনে
হেরি প্রেমমুখ বারম্বার ;
এ প্রাণ থাকিতে তােদের বিদায় দিতে
ওরে প্রাণ কেমন করে, বহে অশ্রুধার ।
ওমা দাড়া দাড় দাড়া, দি তােদের সঙ্গে
নিত্য উপাসনা নিষ্ঠা ব্রহ্মাচার,
মা রহিল সঙ্গে (ভয় নাই ভাবনা নাই।
তারে বিপদে সম্পদে ডেক বারেবার। ৫৭
৮
আলেয়া।-একতালা।
অনেক দিন পরে আসিলাম ঘরে
আয় ভাই রাখি বুকে ;
কেমন ছিলি তােরা ভাই রে আমার
ছিলি ত পরম সুখে।
.
জীবন-সঙ্গীত।
মায়ের কথা বলি দেশে দেশে ফিরি,
শুনে কত লোকে ফেলে অশ্রুবারি,
বলে থাক থাক শুনি প্রাণ ভরি,
যেও না যেও না অতৃপ্তি রেখে।
ভেয়ে ভেয়ে তােরা করিস মারামারি,
তার জন্য তিরস্কার নাহি করি,
যা হ’ক তা হক জিজ্ঞাসা করি,
কোন ত কষ্ট দেও নাই মাকে।
মায়ের রাঙ্গা চরণ কেমন পূজেছিলি,
দেখা ভাই আমারে হৃদয় খুলি,
আয় ভাই ডাকি মা মা বলি,
ওরে মা যে সৰ্বস্ব সুখে দুঃখে ।
তােদের নাকি মন্দ বলে কত লােকে,
সাদার উপর কালি কাগজেতে লিখে,
কোথা হরিনাম বলবে সােণার মুখে,
বলে অকথা কু কথা বকে।
কেমন আছে রে প্রিয় ভগিনী,
বল বল ভাই তাদের কথা শুনি,
জীবন-সঙ্গীত।
তারা ত সঙ্গে মাকে ডাকে।
ভাল আছে ত বালক বালিকা,
প্রিয় দরশন ফুটন্ত মল্লিকা,
হাসি হাসি মুখ সরলতা মাখা,
কোলে করি কত চুম খাই
মুখে। ৫৮।
মিশ্ৰ কীৰ্ত্তন -একতালা।
সবে বল ধৰ্ম্মের জয় যততধৰ্ম্মস্ততেজয়,
ব্ৰহ্মকৃপা বলে রে ভাই কিবা নাহি হয়,
দেখ চাহিয়ে তার দিব্য পরিচয়।
যারা ফেলে চক্ষের জল, সার করে বৃক্ষতল,
সারা বছর চেয়েছিল, হয়ে নিঃসম্বল,
তারা আর কাঁদে না, কেঁদে কঁাদায় না,
পাইয়ে সান্ত্বনা,
আজ আনন্দে সকলে বল জয় ব্রহ্ম জয়।
এখন হরি হরি বলে ধূলা মুঠা তুলে,
সােণা মুঠা হয়ে যায় (এমনি নামের মহিমা রে,
হরি হরি বলে পড়ে অতল জলে,
জীবন-সঙ্গীত।
ভেসে লাগি কিনারায় । (এমনি নামের গুণই বটে।
আজ আনন্দে সকলে বল জয় ব্ৰহ্ম জয়। ৫৯ ।
ভজন-সুংরি ।
মধু মাখা হরি নাম করে হার,
হরি আমার সখা প্রেমে মাখা মাখা,
সুখের সাগরে খেলি সাঁতার।
হরি ধনে ধনী কিছু নাহি জানি
হরিপদ করি সার,
পিয়ে হরিরস মদিরা মন মাতােয়ারা
বাহ হারা আনন্দ অপার ।
নাহি অন্য কাম জপি হরিনাম
নাশে সব বিকার,
করে নাম রটনা সবশ রসনা
নয়নে ধরে না প্রেমের ধার।
এমন সুখে ছাড়ি কেন লােকে
অনিবার,
আনন্দে নন্দ গ্রাণে মকরন্দ
টুটে ভববন্ধ দুঃখ কারাগার। ৬০।
ফিরে দূরে
জীবন-সঙ্গীত।
৫৩
বেহাগ-আড়া।
মন রে ভ্রান্তি তােমার।
দিতে চাও বিসর্জন স্বর্ণপ্রতিমার।
মাকে বিদায় দিবে, কারে লয়ে গৃহে রবে,
আলােক উজ্জ্বল গৃহ, করে অন্ধকার।
নিত্য নিত্য মন করে, মার পূজার তরে,
কোথায় পাইবে এত, পূজা উপচার ;
জাননা তুমি জাননা, মা যে অন্নপূর্ণা,
ত্রিভুবন পালিনী, পালন সংসার।
যে দরিদ্রের আলয়ে, সামান্য প্রেম পেয়ে,
থাকে পরিতৃপ্ত হয়ে, জানে চরাচর ;
যে একবিন্দু প্রেম পেলে, দেয় রে সিন্ধু কোল,
তাকে দিবি জলে ফেলে, একি অবিচার। ৬১।
ঝি ঝিট।---একতালা
বিফল জীবন, বিফল মরণ।
তরুলতা মুগ পক্ষীসম
হরিপদ মন না হল মগন।
জীবন-সঙ্গীত।
পিঠে পাপভার, চক্ষে দুঃখধার,
চলিয়াছি পথে, কেহ নাহি সাথে,
কেন এসেছি, কেনই বা যাই,
নাই কি কারণ।
বিধির বিধানে, সকলে এখানে,
সাধিছে সকলে, তাহার উদ্দেশ,
বিধির বাহিরে আমি কি কেবল
অন্যের গঠন ?
সব তােরা নে, পথ ছেড়ে দে,
রব এদেশে, যাইব স্বদেশে,
ঐ কে ডাকেরে আমায়,
আয় আয় বলে, মায়ের মতন। ৬২।
ভৈরব।-~-একতালা।
চিদাকাশে নীলাকাশে, জ্যোতি প্রকাশে
জল কমল স্থল কমল,
হৃদয় অমল হাসে।
জেগেছে পাখী, জেগেছে প্রাণ,
জীবন-সঙ্গীত।
মধুর ললিত তুলিয়া তান,
দুলিছে হৃদয়, দুলিছে কমল করুণা বাতাসে।
ফুটেছে বন, মানস কানন,
শুভ্রবসনে উষা আগমন,
ভকতি করিছে পূজা আয়ােজন,
নমি পরমেশে।
করে মন গুণ গুণ, অলি গুণ গুণ,
প্রভাত সংঙ্গীতে সমান নিপুণ ;
প্রেম মদিরা পিয়ে মাতােয়ারা,
পরম উল্লাসে
উঠেছে যােগী, উঠে নাই ভােগী,
উঠেছে ভকত, প্রেমানুরাগী,
বন্দে ছন্দে জগৎ বন্দে
প্রাণেশ মহেশে। ৬৩।
ভৈরৰ।--অদ।
খােজ কোথা আমারে জীব,
আমি রে তাের পাশে।
জীবন-সঙ্গীত।
জবাই কি বলিদানে, হাড়ে কি মাসে,
তর্কে বা যুদ্ধে কভু, আমায় কি প্রকাশে ।
মন্দিরে মসজিদে, কাশী কি কৈলাসে,
অযযাধ্যায় দ্বারকায় নাই, আছিরে বিশ্বাসে ।
কর্মকাণ্ডে নইরে আমি, যােগ বৈরাগ সন্ন্যাসে,
পলকে পায় সে আমায়, যে জন তল্লাসে।
সহর বাহিরে ধাম, গৃহরে মানসে,
কুবির কহে শুন সাধু সবার সকাশে। ৬৪।
মালকোষ -- একতালা।
সুপ্রভাত নিশা জাগােরে ভাই, হরি হরি বলল
শ্রীহরি স্মরণে, পাপ নাশনে, দিন যাবে ভাল,
তঁাহারি কার্য্যে, তাহারি রাজ্যে,
তাঁর সাহায্যে চলাে, কৃপাময়ের
এতই করুণা, জনম হবে সফলল।
চৌদিকে ফেরে, পাপ তস্কর
মৃত্যু লইয়া রঙ্গে,
যেওনা একেলা সে পথে বিপদ রাখ নাম সঙ্গে ;
গাইছে নন্দ সদানন্দ প্রেমানন্দে বিলাে। ৬৪।
জীবন-সঙ্গীত।
৫৭
ভৈব।--যৎ |
লহ নিজ হাতে তুলে।
আমি ছোবনা মলিন হবে ছুলে ।
পাপে তাপে জীবন, শুকায়ে গিয়েছে,
তােমারি করুণায়রিয়ে বেঁচেছে।
দেখ দেখ চেয়ে, তােমারি প্রেমে নেয়ে,
শােভে পাষাণ প্রাণ, ফল ও ফুলে।
তুমি যে পিতামাতা, শােকে শান্তি দাতা,
এসব মরম কথা, গিয়েছিনু ভুলে ;
দাও হে চরণ, হৃদয় ভূষণ
কূল পেলে কূলহীন, পড়িয়ে অকূলে। ৬৬।
কীৰ্ত্তন।
(তােমার এই গুণে জগৎ জনে,
পড়ে আছে ঐ চরণে।
পাপী সাধু সমভাবে,
দেখিছ প্রেম নয়নে।
জীবন-সঙ্গীত।
ক্ষুধা তৃষ্ণা অনিবার,
শান্তি নাহি দেখি আর,
মেটে ক্ষুধা দূরে আশা
হৃদে রেখে তােমায় যতনে।
ব্যাকুলে ডাকিলে পরে, ৫
দেখা দেও দয়া করে,
শূন্য প্রাণ পূর্ণ তায়
প্রেমালােক বিতরণে।
শােকে তাপে ভগ্ন প্রাণ,
তােমার করিলে দান,
যায় শােক যায় তাপ,
শােকী তাপী সবে জানে।
তুমি হে আশা ভরসা,
সংসার দুর্দিনে,
কুদীন সুদীন হন,
তব শরণ মননে।
মরণ ভয় বারণ,
শ্ৰীমূরতি দরশনে,
।
জীবন-সঙ্গীত।
৫৯
তাই অনিমেষে চেয়ে থাকি,
রেখে নয়ন নয়নে।
তুমি হে হৃদয় স্বামী,
কি আর বলিব আমি,
দেখ দেখ রেখ দাসে,
অন্তিমে সেই দিনে। ৬৭।
ছায়নট।~~একতালা।
রােগে শােকে দুখে তাপে, আয় মা আয় কাছে
তুমি বিনা আপনার, আমার কে আছে।
জানিনা জানিনা কোথা পরকাল
কোথা কোন লােকে
চল চল যাই তােমার সঙ্গে
তব পাছে পাছে।
গড়েছ তুমি ভাঙ্গিবে তুমি
এতে কিবা কথা আছে
সে তােমার তােমারি
অচল শরণ যাচে। ৬৮।
জীবন-সঙ্গীত।
বেহাগ।--একতালা।
পেতে দে মা অভয় চরণ
আমি শুইয়ে দি তায় মাকে,
এ সংসারের ঝাল পালা
আর ছোবে না তাকে।
তুমি বস্তু তােমার ছায়া
জানি জননীকে,
মার কোলে বসিল মা
সুখী হলেম দেখে ।
এস মা আনন্দময়ী
এস আমার বুকে,
শােক তাপ নিবারি
তােমায় মা মা মা বলে ডেকে। ৬৯।
এস এস এস এস ওহে প্রজাপতি
অমৃতানন্দ সহ বহে প্রীতি সরস্বতী।
এ মধুর মিলনে, তােমার বিধানে,
তুমি নাথ প্রেমময়, করহে তাহে বসতি।
জীবন-সঙ্গীত।
তব পাদ মূল যেন ধন্য করে কুল,
হও তুমি অনুকূল করি মাের এই মিনতি। ৭০।
।
বেহাগ।-একতালা।
কে বসে ঐ মায়ের কোলে ।
এবে হয় অনুভব প্রাণের কেশব
নইলে অমন করে কে মা মা বলে ।
ডাকিছে সকলে মায়ের গলাধরে,
আমার মাকে কি দেখেছিস বল সত্য করে
দেখেছি দেখেছি তােমার মাকে দেখেছি
ভুবন মােহিনী যায় ভুবন ভুলে। ৭১।
ইমন কল্যাণ।-তিব্র তাল ।
বিদায় আশীষ, কুশল প্রসাদ দেও সখা দেও আমারে।
এ ভালবাসা হৃদয়ে গাঁথা, রবে জাগিয়ে চিরদন তরে।
বলেছি কত করেছি কত স্নেহ ক্ষমা গুণে ক্ষমেছ তাত।
ছিলাম যে সুখে, কি বলিব মুখে, নাই তার ভাষা আঁখি ঝরে।
ডাকি দয়াময়ে, সঙ্কট সময়ে আসি দেখা দিন সবার হৃদয়ে
দিওন আশীষ পরাণ ভরিয়ে প্রেমে বাঁধা থাকি পরস্পরে । ৭২।
জীবন-সঙ্গীত।
কীর্তন।একতলা।
সকলি দিয়াছ কিবা না পেয়েছি
মিটেছে কৈ পিয়াস।
জেন হে জেন পরাণ বঁধু তােমাতেই মম প্রত্যাশা।
বনে কত কুসুম ফুটে, আবেশ চুম্বি ছুটে
ফুলবান গিয়াছে, ফুটে তােমাতেই মম প্রত্যাশা।
( তােমার ফুল বানে আহত আমি
চাদে কত সুধা ঢালে, পান করে ওজন ভুলে।
বিভাের নেশা ধরাতলে, তােমাতেই মম প্রত্যাশা।
সুললিত গায় পাখা, গান শুনে তার গান শিখি
আত্মারাম প্রাণারাম, তোমাতেই মম প্রত্যাশা।
নদী সর সিন্ধু মিলে, নাচে গায় তুফান তুলে
আনমনে পা পিছলে, দিয়েছি তায় গা ভাসা।
( আনমনে তাই শুন্তে শুন্তে । ( তোমার প্রেম সাগরে )
দিয়াছ দম্পতি প্রেম সােহগে গলিত হেম
অভ্যাসি তােমার প্রেম, তােমারি ভাল বাসা।
( আদি তােমার প্রেম তােমাতেই মম প্রত্যাশা )
সুকুমার কুমার মুখে চুম খাই মনের সুখে,
জীবন-সঙ্গীত।
এমনি করে রাখব বুকে তােমাতেই মম প্রত্যাশা।
সতীরে সাজায় যেমন দিয়ে নানা আভরণ
দিয়ে আমায় ধন মান জন ভুলাবে নাহি ভরসা।
{ ধন দিয়ে তােমায় না দিয়ে ) ( আমায় করেছ সিয়ানা চতুর)
নয়নে নয়ন রাখি, অনিমেষ চেয়ে খাকি
আরাে দেখি আরাে দেখি দেখে মিটে কৈ পিয়াসা। ৭৩।
রামপ্রসাদী।
কে মা তাের কোলে দোলে।
'আর ডাকে মা মা মা বলে ।
আমার প্রাণের কেশব কে বলে শব
ঐ যে শােভে তােমার কোলে ।
জগতের আশা ভরসা ঐ মা তাের শিশু ছেলে
যাচার করে আচার শিখায় ভাই ভগিনী সকলে।
আমার মাকে দেখসে বলে ডেকে আনে সকলে
এই আমার সুন্দরী মা দেখরে তােরা নয়ন খুলে। ৭৪।
জীবন-সঙ্গীত।
1
সিন্ধু খাম্বাজ ---পোস্ত।
আপনার ঘরে আপনি রব যাব নাক কারাে দ্বারে।
যা চাই তাই হাতে পাই বসে নিজ অন্তঃপুরে ।
পরম ধন সেই চিন্তামণি যা চাই তা দিতে পারে,
কত মুণি ঋষি পড়ে আছে চিন্তামণির নাচ দোয়ারে ।
পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ফিরে কথায় কথায় কথা বাড়ে
এতে লাভ নাই ক্ষতি আছে দেখলাম বসে হিসাব করে ।
প্রাণের গভীর দুঃখের কথা আর আমি বলিব কারে
মনের মানুষ আছে পরে গােপনেতে বলব তারে। ৭৫।
ইমন কল্যাণ --তেওয়া।
মঙ্গল আশীষ, বরিষ দয়াময়, হে দীনবন্ধু ধপরে।
তব কৃপা বিনা সকলি বৃথা কি কাজ এ প্রাণ ধরে।
কর দৃঢ় কৰ্ম্মঠহস্ত, পরহিতে জীবন নস্ত
তারিতে বিপদ গ্রস্থ দেহ সুমতী হিয়া মাঝারে।
ধৰ্ম্ম অর্থ মােক্ষ চতুবর্গ সাধন
উপায় স্বরূপ মানব জীবন
তব পদে নাহি করিলে অর্পণ
কি ফল ভার বহন করে। ৭৬।
জীবন-সঙ্গীত।
কীৰ্ত্তন।
এই তাে হে হৃদয় বিহারী
আমার হৃদি মাঝে বিরাজিত অপরূপ মাধুরী ।
নয়নের তারা তুমি, শুভ সম্মিলন
কর্ণে সুধাময় নাম মধু বরষণ
রসনায় দয়াল নামভব ভয়হারী।
তুমি অন্নের অন্ন প্রাণের প্রাণ
মনের মন জ্ঞানের জ্ঞান আত্মার আত্মা আত্মরাম হরি,
প্রেম যােগে ভাবাবেশে ভেদাভেদ পাসরি।
আকাশে অনন্ত তুমি বিরাট মহান
ধরাতলে বিশ্বরূপ, দেদীপ্যমান
সাকারে নিরাকার তুমি, আহা মরি মরি।
হস্তে মহাশক্তি তুমি নানা পুণ্য কৰ্ম্ম,
ভাবনায় ভাবময়, মরমের মর্ম
নব বৃন্দাবনে তুমি বিবেক বংশীধারী। ৭৭।
খাম্বাজ-তৃতালী।
তুমি যারে কর আপনার
কে ভাল বাসে নাহি বাসে আর কেন সে বিচার ।
৩৬
জীবন-সঙ্গীত।
নয়নের হয়ে তারা দেখাও রূপ আঁখি ভরা
রসনায় মা নাম কি ভয় ভাবনা তার।
আপন ঘরে আপনি থাকি যাইনা কার দ্বার
খুলিয়ে রেখেছ তােমার অনন্ত ভাণ্ডার
তােমারি প্রেম পেয়ে রাখিব কি লুকাইয়ে
শত্রু মিত্রে করি তাই সম ব্যবহার।
সুখে রাখ দুঃখে রাখ সকলি স্বীকার ;
উঠাইলে উঠি ছুটাইলে ছুটি
প্রাণ দানে ইচ্ছা পূর্ণ হউক তােমার । ৭৮।
ভৈরবী।--তাল একতালা।
কবে ফুলের মত হবে।
তুই হবি মা লতা পাতা আমি তাতেই ফুটে রবাে॥
পাতার রঙ্গে ফুলের রঙ্গে দিব্য রঙ্গ মিলবে।
যে চাহিবে আমা পানে তার প্রাণ কেড়ে বাে ।
পুষ্প পরাগ প্রেমের সােহাগ তাহে শুদ্ধ নবানুরাগ
হয়ে নির্বিকার বিতরাগ, গন্ধ ছড়াইবাে;
পুণ্য ভরা হাসি হেসে, চিত্ত বিকার ঘুচাইবে ।
শিশির বিন্দু দলে দলে যেন কত মুক্তা ঝলে,
জীবন-সঙ্গীত।
৬
প্রেম গালে প্রেম হিল্লোলে, সুখে দোল খাব,
ভক্ত কোলে ভগবতী রূপে ভুবন ভুলাইবাে॥ ৭৯।
नि
আমার গােপাল গােঠে যাবে না।
রা যারে প্রভাত তপন্স ধির সমীরণ বিহঙ্গগণ ডেকনা ডেকনা
বনে বনে বুলে কণ্টকদলে পায় কত বেদনা
পাপ সার্দল ভল্লুক দেখায় বিভীষিকা
কখন কি হয় বড় ভাবনা।
সে ছটা গরু রাখিব বেন্ধে আর ছেড়ে দিবনা
তারা খন্দ খেয়ে খাওয়ায় গাল
বাছার আমার কত লাঞ্ছনা।
রছে বায়না গলা যে ছাড়েনা আজ ঘরে থানা
রে করিবে খেলা আনন্দ মেলা
দেখতে মার সাধ কি যায় না ॥ ৮০।
সম্পূর্ণ।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.