Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Purbbabange Palarajagan
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
ঢাকা সাহিত্য-পরিষৎ গ্রন্থাবলী
পূর্ববঙ্গে পালরাজগণ।
শ্ৰীবীরেন্দ্র নাথ বসু ঠাকুর
প্রণীত।
ঢাকা নয়াবাজার হইতে--
নরেন্দ্র নাথ ভদ্র কর্তৃক প্রকাশিত।
মূল্য ৬০ বার আনা।
প্রাপ্তিস্থান।
ঢাকা সাহিত্য-পরিষৎ কাৰ্যালয়। আশক গলি, ঢাকা
গ্রন্থকারের নিকট।
১৮নং, রজনী বসুর লেন, ঢাকা।
“প্রতিভা” কাৰ্যালয়। ঢাকা ।
“ঢাকা রিভিউ” কাৰ্যালয়। নয়াবাজার, ঢাকা।
এতদ্ভিন্ন ঢাকা ও কলিকাতার প্রধান প্রধান পুস্তকালয়ে
প্রাপ্তব্য।
উৎসর্গ।
-
“ব্রহ্মানন্দং পরমসুখদং কেবলং জ্ঞানমূৰ্ত্তিম্।
দাতীতং গগনসদৃশং তত্ত্বমস্যাদিলক্ষ্য।
একং নিত্যং বিমলমমলং সর্বদা সাক্ষিভূতং ।
ভাবাতীতং ত্রিগুণৱহিতং সদগুরুং ত্বং নমামি।”
শ্রীগুরুসমর্পণমস্তু।
First four formes printed by Shaikh
Ansar Ali at the East Bengal Printing
and Publishing House, last four forines
at the Ranısundir Strain Machine Press
Dacca.
ভূমিকা। গত ১৯১২ খৃষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় ইতি- হাসের উপাদান সংগ্ৰহাৰ্থ আমরা ভাওয়াল, কাশীমপুর, তালিপাবাদ, চাদপ্রতাপ, প্রভৃতি পরগণার বহু স্থানে ভ্রমণ করি। এখন ইহার অধিকাংশ স্থানই মনুষ্যবসতি- শূন্য এবং শ্বাপদসঙ্কুল নিবিড় বনাকীর্ণ। কিন্তু ইহার অন্তরালে বহু শতাব্দীর প্রাচীনকীৰ্তি প্ৰচ্ছন্ন ভাবে বৰ্তমান আছে। হিউয়ে সাঙ এর বর্ণিত সমতট এবং কামরূপ রাজ্যের বহু বৌদ্ধস্তপের ভগ্নাবশেষ অরণ্যানীতেই বৰ্তমান আছে, এইরূপ অনুমিত হয়; এবং এমন কি এই প্রদেশে মৌৰ্যসম্রাট অশােকের কীৰ্ত্তিরও নিদর্শনাদি প্রাপ্ত হওয়া যায়। গৌড়ের পাল- রাজবংশের অধঃপতনের সময় তদ্বংশীয় কোন কোন নৃপতি জলবেষ্টিত এবং সুরক্ষিত পূৰ্ব্ববঙ্গের এই অংশে আগমন করিয়া কতিপয় রাজ্য স্থাপন করেন। তাহাদের রাজপ্রাসাদ, দুগ, এবং নগরাদির ভগ্নাবশেষ অদ্যাপি এই প্রদেশের বহুস্থানে দৃষ্ট হয়। বৌদ্ধযুগের এই নিদর্শন সমূহ দেশের ইতিহাসের অতি প্রয়ােজনীয় উপকরণ, সন্দেহ নাই। বড়ই দুঃখের বিষয় যে, এই সমস্ত স্থান ঢাকা নগরীর অনতিদূরে অবস্থিত থাকা সত্ত্বেও, দেশের শিক্ষিত সমাজ এই লুপ্ত গৌরব এবং ইর্তি- হাস উদ্ধারের চেষ্টা করিতেছেন না। অরণ্যাভ্যন্তরস্থ স্তুপ- গুলি খনন করিলে এই ইতিহাসশূন্য দেশের সুপ্ত ইতিহাস ( ৩ ), পুনরুদ্ধার হইতে পারে। এ বিষয়ে আমরা গভর্ণমেন্টের এবং জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করিতেছি। এই প্রদেশে ভ্রমণকালে আমরা বহু সহৃদয় ব্যক্তির সহায়তা এবং সহানুভূতি পাইয়াছি। তাহাদের অনুগ্রহ ভিন্ন এই পুস্তকের উপকরণ সংগ্রহ সম্ভবপর হইত না। সুতরাং তাহাদের নিকট আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতেছি। ভাওয়ালের কুমার বাহাদুর শ্ৰীযুক্ত রবীন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী তাহার জমীদারীস্থিত একটি প্রস্তরস্তম্ভ ( পরিশিষ্ট বর্ণিত শাকসর স্তম্ভ) অনুগ্রহপূর্বক লেখককে দান করিয়া স্থানান্তরিত করিবার অধি- কার প্রদান করিয়াছিলেন। কুমার বাহাদুরের প্রাইভেট সেক্রেটারী শ্ৰীযুক্ত যােগেন্দ্র চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় তদ্বিষয়ে বহু সাহায্য করিয়াছেন। সুপণ্ডিত শ্ৰীযুক্ত গগাবিন্দচন্দ্র মুখােপাধ্যায় মহাশয় নানাস্থানের সংবাদাদি প্রদান করিয়া এবং নানাবিধ মূল্যবান উপদেশাদি প্রদান করিয়া অশেষ উপকার সাধন করিয়াছেন। গড় কাশীমপুরের সুপ্রসিদ্ধ জমীদার শ্রীযুক্ত সারদা প্রসাদ রায় চৌধুরী মহাশয় আমাদের ভ্রমণকালীন সৰ্ব্ব- প্রকার বন্দোবস্তাদি এবং সুখস্বাচ্ছন্দ্যের ব্যবস্থা করিয়া- ছিলেন, এবং উপকরণসংগ্রহে নানাপ্রকার সাহায্য করিয়া- ছেন। কাশীমপুরের কর্মচারী শ্ৰীযুক্ত দুর্গানাথ নন্দী, শ্রীযুক্ত ভূপেন্দ্র প্রসাদ চক্রবর্তী, এবং শ্ৰীযুক্ত সারদা মােহন থােষ মহাশয়গণও এই প্রবন্ধের উপকরণ সংগ্ৰহাৰ্থ যথেষ্ট পরিশ্রম করিয়াছেন।
( 3 ) বােয়াইলের জমীদার শ্রীযুক্ত লাবণ্য মােহন রায়, বি, এল, এবং শ্রীযুক্ত অমূল্য মােহন রায়, এম, এ, বি, এল, মহাশয়দ্বয় বহু প্রাচীন একখানি বুদ্ধমূর্তি খােদিত ইষ্টক সংগ্রহ করিয়া দিয়াছেন। চিত্রশিল্পী শ্ৰীযুক্ত নরেন্দ্র চন্দ্র দেব মহাশয় ভ্রমণকালীন সর্বদা আমাদের সঙ্গে থাকিয়া নানা স্থানের আলােকচিত্র { prottograph) প্রস্তুত করিয়াছেন। পুস্তক সংলগ্ন প্রায় সমস্ত চিত্ৰই তাহার প্রস্তুত। সাভারের সুপ্রসিদ্ধ চিকিৎসক শ্ৰীযুক্ত ব্রজনাথ দত্ত কবিরাজ মহাশয়, এবং শ্রীযুক্ত কালীমােহন সাহা, শ্ৰীযুক্ত বরদাপ্রসাদ সাহা, প্রযুক্ত নলিনী মােহন সাহা, শ্ৰীযুক্ত যশােদালাল সাহা, এবং কতিপয় স্বর্ণকার তাঁহাদের সংগৃহীত প্রাচীন মুদ্রাসমূহ প্রদর্শন করিয়াছেন। ভাটপাড়া নিবাসী শ্ৰীযুক্ত রাধিকামােহন অধিকারী ও ক্রমান শ্যামাচরণ সরকার নানাবিধ প্রাচীন দ্রব্যাদি সংগ্রহে প্রভূত পরিশ্রম করিয়াছেন। এতদ্ব্যতীত, সুপ্রসিদ্ধ সাহিত্যিক শ্রীযুক্ত উমেশচন্দ্র বসু মহাশয়, ঢাকা সাহিত্য পরিষদের পুরাতত্ত্ব সমিতির সভ্য স্বর্গগত শ্ৰীযুক্ত বিজয় কুমার রায়, বি, এ, এবং বন্ধুবর শ্রীযুক্ত পীযুষকিরণ চক্রবর্তী বৰ্ত্তমান প্রবন্ধ রচনার সাহায্যার্থ উপকরণ সংগ্রহ করিয়া দিয়াছেন। উপরােক্ত মহােদয়গণের নিকট আমি পুনরায় আন্ত- রিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতেছি। ইহাদিগের নিকট আমি ঋণী।
বর্তমান পুস্তক প্রণয়নে আমি প্রধানতঃ নিম্নলিখিত পুস্তকসমূহ হইতে সাহায্য গ্রহণ করিয়াছি। Taylor's Topography and Statistics of Dacca ; Hanter's Statistical Accounts of Daca ; Sir Alexander (mningham's Archirological Survey of India ; and Ancient Geography of India : Stewart's History of Bengal : V. A. Sinith's Early History of India ; Elliott's History of India, as told by its own historians; Montgomery Martin's Easteru India; J. A. Vas's District Gazetteer of Rangpur: Dr. Rajenilra Lal Mitra's Indo Aryans ; Dr. Hultzsch’s South Indian Inscription : Major Remnell's Memoirs : List of Ancient Montments; Khan Bahadur Syed Aulad Hossein's Notes on the Antiquities of Dacca ; Bradley Birt's Romance of an Eastern (apital ; Bhavdarkar's Report on the search of Sanskrit Manuscripts; Dr. Kern - Brihat Samhita ; Francis (ladwin's Ayeen Akberi ; Mc. Crindle's Ancient Inslia as described by Ptolemy, Megasthenes, and Arrian ; Samuel Beal': Buddhist Rocords of the Western World (Hieuent-Sang ); Asiatick Researches ; Journals of the Asiatic Society of Bengal ; Indian Antiquary; Epigraphia Indica ; Dr. Grierson's Epic of Rangpur (J. A.S. B); Sandhyakar Nandi's Ramacharitam, (Edited by Mabama hopadhya H. P. Sastri); fate; রাজতরঙ্গিণী, কালীপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রণীত বাঙ্গলার ইতিহাস, শ্ৰীযুক্ত ; নবাবী আমল ; শ্রীযুক্ত যতীন্দ্রমােহন রায় প্রণীত ঢাকার ইতিহাস ; শ্ৰীযুক্ত যােগেন্দ্রনাথ গুপ্ত প্রণীত বিক্রমপুরের ইতিহাস ; ভাওয়ালের ইতিহাস; শ্ৰীযুক্ত আনন্দনাথ রায় প্রণীত বারভূঞা; শ্রীযুক্ত রমাপ্রসাদ চন্দ প্রণীত গৌড়রাজমালা; শ্ৰীযুক্ত অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় সম্পাদিত গৌড়লেখমালা; শ্ৰীযুক্ত দীনেশ চন্দ্র সেন প্রণীত বঙ্গভাষা ও সাহিত্য ; গৌড়ে ব্রাহ্মণ ; প্রাচ্যবিদ্যা- মহার্ণব শ্রীযুক্ত নগেন্দ্র নাথ বসু প্রণীত বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস ; রামাই পণ্ডিত রচিত শূন্য পুরাণ (শ্রীযুক্ত নগেন্দ্র নাথ বসু সম্পাদিত): চতুভূজ রচিত হরিচরিত- কাব্য; বাচম্পতি মিশ্র কৃত কুলরাম ; মহেশের নির্দোষ- কুল পঞ্জিকা ; বারেন্দ্র কুল পঞ্জী ; রাঢ়ীয় ঘটক কারিকা ; ভট্টগ্রন্থ ; ক্ষিতীশবংশাবলী ; কায়স্থকৌস্তুত ; সম্বন্ধনির্ণয় ; ধ্রুবানন্দ রচিত গৌড়বংশাবলী ; যশােমাধবসংবাদ ; মানিকচন্দ্রের গান ; দুল্ল মল্লিক রচিত গােবিন্দচন্দ্র রাজার গান ; ধৰ্ম্মমঙ্গল ; শ্ৰীযুক্ত দীনেশ চন্দ্র সেনের প্রবাসী পত্রিকাতে প্রকাশিত প্রবন্ধ ; শ্রীযুক্ত বিজয় কুমার রায় এবং শ্রীযুক্ত মেঘনাদ সাহার প্রতিভা পত্রি- কাতে প্রকাশিত প্রবন্ধদ্বয় : ইত্যাদি, ইত্যাদি। বর্তমান প্রবন্ধ টাকা সাহিত্য পরিষদে পঠিত হয়, এবং পরে ইহা ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ পরিচালিত প্রতিভা পত্রিকাতে ১৩১৯ সনের অগ্রহায়ণ ও পৌষ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। প্রতিভা সম্পাদক এবং মদীয় অধ্যাপক শ্ৰীযুক্ত অবিনাশ চন্দ্র মজুমদার, এম, এ, বি, এল, মহাশয়ের আগ্রহে ও যত্নে প্রবন্ধটী বহু পরিবর্ধিত ও ;
০
সংশােধিত হইয়া বৰ্তমান আকারে প্রকাশিত হইল।
ইতিহাস প্রিয় ব্যক্তিগণ সাদরে গ্রহণ করিলে পরিশ্রম
সার্থক জ্ঞান করিব। প্রবন্ধটীতে বহু ভুলভ্রান্তি থাকিবার
সম্ভাবনা; সহৃদয় পাঠকগণ কোন ভ্রম পরিদর্শন করিয়া
দিলে সাদরে গৃহীত হইবে। পুস্তকে মুদ্রাকর প্রমাদও
দৃষ্ট হইবে। তজ্জন্য আমরা পাঠকগণের নিকট ক্ষমাপ্রার্থী।
এই পুস্তক ঢাকা সাহিত্য পরিষদের গ্রন্থাবলিভুক্ত
করা হইল ।
১৮, রজনী বসুর লেন।
ঢাকা।
শ্ৰীবীরেন্দ্র নাথ বসু ঠাকুর।
১৩২০ বঙ্গাব্দ।
সূচীপত্র। পৃষ্ঠা।। /0 ভূমিকা উপক্রমণিকা ১ ভাওয়ালের প্রাচীনত্ব ; মৃত্তিকায় লৌহকঙ্কর ; আকবরের সময়ে ভাওয়াল অঞ্চলে লৌহ খনির অস্তিত্ব ; লােহাকইড়ে লৌহ প্রাচীর এবং স্তুপ, এবং স্থানের দৈবী শক্তি সম্বন্ধে প্রবাদ ; মির্জাপুর অঞ্চলে প্রাচীনকালে লৌহের কারবারের চিহ্নাদি ; অন্তমেল, অ্যান্টিবােল, এবং আঁটি-ভাওয়াল একই স্থান ; একই স্থান ; ভাওয়াল নামের উৎপত্তি সম্বন্ধে বিভিন্ন মতামত ; প্লিনীর সময়ে কাপা- সিয়ার সূক্ষ্মবস্ত্র ; ভাওয়াল অঞ্চলজাত কাঁঠালের হিউয়েন্থ- সাঙ, কৃত বর্ণনা ; পালরাজগণের জাতিনির্ণয় ; পাল- রাজগণের ধর্ম ; বৌদ্ধধৰ্ম্মাবলম্বী হইলেও পালরাজগণের হিন্দুধর্মের প্রতি আস্থা। শিশুপাল ১৬ একডালার সন্নিকটস্থ দুরদুরিয়া গ্রামের দুর্গ এবং প্রাচীন নগরের ভগ্নাবশেষ ; টোকের প্রাচীনত্ব, প্রাকৃতিক v অবস্থান, এবং প্রাসাদাদির ভগ্নাবশেষ ; শিশুপালের রাজধানী দীঘলির ছিট ; শৈলাট ; শাইটহালিয়া ; বড়চালা এবং মির্জাপুরে আবিস্কৃত মন্দির এবং তদভ্যন্তরস্থ দেবমূর্তি প্রভৃতি ; চণ্ডালরাজ প্রতাপ ও প্রসন্ন, এবং তাহাদের রাজধানী রাজাবাড়ী ; মােগগীর মঠ; খাইভা ডােস্কা ; ভাওয়াল অঞ্চলে কোচ ও বংশীগণের উপনিবেশ। ; যশােপাল যশােপালের রাজধানী মাধবপুরের নামের উৎপত্তি, এবং প্রাকৃতিক অবস্থান ; রাজ প্রাসাদাদির ভগ্নাবশেষ ; যশােমাধব, তাঁহার আবিষ্কার বৃত্তান্ত, যশােপাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠা, তঁাহার পরবর্তী ইতিহাস, রূপ ও ঐশ্বৰ্য্য বর্ণনা, মাধবের স্ত্রীর অন্তর্ধান ; ধামরাই গ্রামের ঐতিহাসিকতা; বাইদূগাও; কাউনদিয়া ; গণকপাড়া এবং গৌরীপাড়া ; জরুন ; সুরাবাড়ী ; বড়ইবাড়ী ও ঢােলসমুদ্র ; জাঠিলিয়া বঙ্খ রি। হরিশ্চন্দ্র পাল ৪৫ সাভারের প্রাকৃতিক অবস্থান, এবং প্রাচীন নাম ; হরিশ্চন্দ্রের রাজ্যের বিস্তৃতি ; সাভারে দীৰ্ধিকার সংখ্যা এবং তালিকা; অন্তঃপুর অথবা রাজপ্রাসাদের ভগ্নাবশেষ; তথায় প্রাপ্ত গুপ্তপতিগণের স্বর্ণমুদ্রা ; রাজাসন ; তথায় প্রাপ্ত ইষ্টকনিৰ্মিত বুদ্ধমূর্তিসমুহ, এবং কারুকাৰ্যখােদিত ইষ্টক ; কোটবাড়ী ; কাটাগাঙ্গ ; হরিশ্চন্দ্র মহিষী কর্ণ- ; ; ; বতী এবং ফুলবতী হইতে কর্ণপাড়া এবং ফুলবা ভুয়া ; তাম্বুলবাড়ী ; দোলমঞ্চ ; রাজগুরুর আশ্রম ; সেনাপাড়া; গােপেরবাড়ী ও ঘাসমহল; পীলখানা; রথখােলা; হরিশ- বাগ ; গান্ধারিয়া রাবণরাজার বাড়ী ; ঢালিপাড়া ; সাধাপুর ; মানুষপােড়ার টেক ; রাজকোঙা ; ভাটপাড়া ; চাইরা চৌমাথা মেরিখােলা; ছইলাকলমা ; বুরুজ ; আধুনিক রঙ্গপুর জেলার ধর্মপাল ; পটিকানগরপতি মানিকচন্দ্রের পুত্র গােবিন্দচন্দ্রের সাভারপতি হরিশ্চন্দ্রের কন্যা অধুনা পদুনার সহিত বিবাহ ; ধৰ্ম্মপালের সহিত ময়নামতীর যুদ্ধ ; যুদ্ধে হরিশ্চন্দ্রের প্রাণত্যাগ ; হরিশ্চন্দ্রের সমাধি ; গােবিন্দচন্দ্রের সংসার ত্যাগ, এবং পুনৰ্ব্বার রাজ্যগ্রহণ; গােবিন্দচন্দ্রের বংশধরগণ ; ধৰ্ম্মপালের দুর্গের ভগ্নাবশেষ ; হরিশ্চন্দ্রের ভাগিনেয় এবং উত্তরাধিকারী দামােদর, এবং তৎবংশধর শিবচন্দ্র, তরুরাজ খাঁ, এবং তৎপুত্র বুদ্ধিমন্ত, ভাগ্যবন্ত প্রভৃতির বিবরণ ; রাজাসনে নবাবিষ্কত ইষ্টকলিপিদ্বয় ; হরিশ্চন্দ্রের কাল নির্ণয় ; গোড় হইতে হরিশ্চন্দ্রের পূর্ববঙ্গে আগমন; হরিশ্চন্দ্রের বিনাশ। পরিশিষ্ট ১০১ # ১ নবাবিষ্কৃত শাকাসরের স্তম্ভের বিবরণ।
চিত্ৰসূচী
পৃষ্ঠা।
০ ০
৩৪
১। ঢাকা জেলার উত্তরাংশের মানচিত্র
(রেণেলের অনুযায়ী )
২। লােহাকইড়
৩। মাধবপুরের বড়দীঘি
৪। মাধবপুরের ছােটদীঘি
৫। যশােপালের মাধবপুরস্থ প্রাসাদ এবং মাধব মন্দির
প্রভৃতির আনুমানিক মানচিত্র
৬। মাধবের চৌবাচ্চা
৭। ধামরাইর শ্ৰীশ্ৰীযশােমাধব...
৮। সাভারের আনুমানিক মানচিত্র
৯। সাভারের সাগরদীঘি এবং তাহার পশ্চিম তটস্থ
রাজবাটীর ভগ্নাবশেষ
১০। সাভারে প্রাপ্ত প্রাচীন স্বর্ণমুদ্রা
১১। হরিশ্চন্দ্রে রাজাসন
১২। সাভারে প্রাপ্ত ইষ্টকনিৰ্মিত বুদ্ধমূর্তি
১৩। সাভারে প্রাপ্ত বুদ্ধমূৰ্তি থােদিত ইষ্টক ...
১৪। সাভারে এবং গণকপাড়ায় প্রাপ্ত কারুকার্য
খখাদিত ইষ্টক
১৫। হরিশ্চন্দ্রের কোটবাড়ীর প্রাকারের কিয়দংশ
৪৫
৪৭
৫ ৭
-
{ ॥/• )
৬৪
৭৬
১৬। ভাটপাড়ার বুরুজ অথবা নহবৎখানা ...
৯৭। ধর্মপালের রাজধানীর আনুমানিক মানচিত্র
১৮। সাভারে প্রাপ্ত খােদিত ইষ্টকলিপি (১নং)
১৯। সাভারে প্রাপ্ত খােদিত ইষ্টকলিপি ( ২নং)
২০। শাকাসর শুম্ভ
No text on this page.
র পুর্ববঙ্গে পালরাজগণ উপক্রমণিকা। বৰ্তমান ঢাকা জেলার অন্তর্গত ভাওয়াল, কাশীমপুর, চাদপ্রতাপ, সুলতানপ্রতাপ, এবং তালিপাবাদ, এই পাঁচটী পরগণা আমাদের বর্তমান প্রবন্ধের কেন্দ্রস্থল। ইহার অধিকাংশ স্থান এখনও নিবিড় অরণ্যসমাকুল, এবং পাশ্চাত্য শিক্ষায় এই প্রদেশবাসিগণ এখনও অনেক পশ্চাৎবর্তী। এইজন্য অনেকে হয়ত এই বনাবৃত প্রদেশ- কে একটু অবজ্ঞার চক্ষে দেখেন। কিন্তু এই অরণ্যের অন্তরালে প্রায় দ্বিসহস্রাধিক বৎসরের অতীত ইতিহাসের উপকরণ লুক্কায়িত আছে, এবং তাহার আলােচনা ব্যতীত বঙ্গের ইতিহাসের একটী অতি প্রয়ােজনীয় অধ্যায় প্রচ্ছন্ন থাকিয়া যাইবে। এই প্রদেশের প্রাচীনত্বের সর্বপ্রধান প্রমাণ ইহার অতি পুরাতন মৃত্তিকা। মৃত্তিকার স্তর ও অন্যান্য নৈস- র্গিক অবস্থা দৃষ্টে ভাওয়াল অতীব প্রাচীন স্থান বলিয়া প্রতীয়মান হয়। এই প্রদেশের মৃত্তিকা যেরূপ গাঢ় রক্তবর্ণ, সেরূপ আর বঙ্গদেশের, অন্ততঃ পূর্ববঙ্গের অন্য কুত্রাপি দৃষ্ট হয় না। বর্ষাকাল যখন পূর্ববঙ্গের বহুস্থান জলে নিমজ্জিত হয়, ভাওয়াল অঞ্চল তখনও জলতল হইতে বহু উচ্চে অবস্থিত থাকে। ভাওয়াল হইতে আরও কিয়দ্র উত্তরে ২০ হইতে ৫০ ফিট উচ্চ বহু লােহিত মৃত্তিকার টিলা দৃষ্ট হয়। এই টিলাশ্রেণী ত্রিপু- রার পর্বতমালার সহিত সমান্তরাল ভাবে অবস্থিত। (১) কবি শ্রীযুক্ত গােবিন্দ চন্দ্র দাস মহাশয় তাহার জন্ম- ভূমি ভাওয়ালের বর্ণনায় গাহিয়াছেন,-- “রাঙ্গা মাটী পলাকাটী খাটী সােণার মত। টিলায় টিলায় ভুল হয়ে যায় মৈনাক শত শত।” ভূতত্ত্ববিদগণের মতে এই মৃত্তিকার অধিকাংশই কঙ্কর, এবং তাহাতে লৌহের অংশ অত্যন্ত অধিক। (২) মৃত্তিকা কত পুরাতন হইলে এইরূপ অবস্থায় পরিণত হইতে পারে, তাহা সহজেই অনুমেয়। আবুল ফজলের সময়ে সরকার বাজুহাতে লৌহের খনি ছিল, এবং ঐ প্রদেশ নিবিড় অরণ্যাবৃত ছিল। (৩) ভাওয়ালের কতকাংশ সরকার বাজুহার অন্তর্গত। এই অঞ্চলে ভ্রমণকালে আমি কাশীমপূর হইতে ৬৭ মাইল দূরবর্তী লােহাকইড় নামক একটা স্থান দর্শন করি। স্থানটা যে অতীব পুরাতন তাহা দর্শনমাত্রই প্রতীয়মান হয়। লােহাইড়ের কতকাংশে ২৩ টী প্রাচীর এবং কতকগুলি ক্ষুদ্র স্তুপ (>) Taylor's Topography and Statistics of Dacrat. Page 4. (২) [vid. Page 2 (0) "The forests of this Sircar (Bazoona) supply inbers fit for building boats and for the beams of houses, and here is an iron iniue."-Aycen Akberi, as translated by Francis Gladwin 47 E. B. P. I P. llouse, Bacca.
No text on this page.
বর্তমান আছে। উক্ত প্রাচীর এবং শুপ লৌহের ন্যায় এক প্রকার পদার্থে নিৰ্ম্মিত, এবং অদ্যাপি প্রায় ২৩ হাত উচ্চ আছে। বিশেষজ্ঞগণের পরীক্ষায় জানা গিয়াছে, উহা অপরিণত লৌহ (in on (ore),-কঙ্কর এবং লৌহের মধ্যবর্তী অবস্থা। হইতে পারে, আবুল ফজলের বর্ণিত লৌহখনি এই স্থানেই বিদ্যমান ছিল। শুনা যায়, লােহাকইড়ে পূর্বে লৌহ নিৰ্ম্মিত অতি বৃহদাকার কটাহের ভগ্নাংশ, এবং হাতুড়ী, বাটালি, প্রভৃতি যন্ত্র পাওয়া গিয়াছে, এবং এখনও যায়। যাঁহারা স্বচক্ষে উহা দর্শন করিয়াছেন, তাহাদের নিকট হইতে আমি এই বিবরণ শ্রবণ করিয়াছি। এতদ্দেশীয় হিন্দু মুসলমান মাত্রেরই ধারণা যে, বহু প্রাচীন স্থান এবং দ্রব্যাদি দেবানুগৃহীত। তদনুযায়ী লােহাকইড়ে পরবর্তীকালে একটা দরগ। স্থাপিত হইয়াছে। চতুর্দিকে বহু পুরাতন বৃক্ষরাজি সূৰ্য্য- কিরণ প্রবেশের পথ রুদ্ধ করিয়া দণ্ডায়মান। ঐ স্থানের বৃক্ষাদি কত্তন করা নিষিদ্ধ। কেশা পাগলা নামক কোনও ব্যক্তি নাকি ঐ স্থানের একটী সুবৃহৎ গজারী বৃক্ষ ছেদন করাতে পুত্র পৌত্রাদি সহ অচিরে পঞ্চত্ব প্রাপ্ত হয়। কর্তিত বৃক্ষের একটী অংশ অদ্যাপি ঐ স্থলে পতিত আছে, অপর তিন অংশ জলস্রোতে ভাসিয়া গিয়াছে। ঐ অংশের মধ্যস্থিত সারভাগটুকু মাত্র এখনও বত্ত মান ; তাহা নয় হাত লম্বা, এবং উহার বেষ্টনী প্রায় তিন হাত। কিংবদন্তী এই, যে, ভাওয়াল রাজ ঐ স্থানের দৈবী শক্তি পরীক্ষা করিবার জন্য গজারী বৃক্ষের অবশিষ্টাংশ লইয়া যাইবার জন্য দুইটী হস্তী প্রেরণ করেন। বৃক্ষাংশ স্পর্শ করিবার অব্যবহিত পরেই হস্তিদ্বয় প্রাণত্যাগ করে। অতিরঞ্জিত হওয়া সত্ত্বেও এই ঘটনা আমরা লিপিবদ্ধ করিলাম। আলােচ্য বিষয়ের সহিত বিশেষ কোন সম্বন্ধ না থাকিলেও স্থানের প্রাচীনত্ব প্রমাণের জ : লােহাকইড়ের বিবরণ বিবৃত হইল। ভাওয়ালের অন্তর্গত মির্জাপুর, কাসর, এবং নিকট- বর্তী অন্যান্য গ্রামসমূহে ভ্রমণ কালে দেখিলাম যে, তদঞ্চলে মৃত্তিকায় লৌহকঙ্করের পরিমাণ অত্যন্ত অধিক। কোনও স্থান খনন করিলে, এবং এমন কি মৃত্তিকার উপরিভাগেও নানাবিধ যন্ত্রাদির অসংখ্য ভগ্নাবশেষ প্রাপ্ত হওয়া যায়। লৌহ গালাইয়া ঢালাই করিবার জন্য যেরূপ নানাবিধ মাটির ছাঁচ ও নল প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়, তদ্রুপ বহু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ড ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পতিত আছে। সুতরাং, বােধ হয় পূৰ্ব্বকালে এই সকল স্থানে লৌহের খনি অথবা লৌহের বিস্তৃত কারবার ছিল। মৃত্তিকার প্রাচীনত্ব ব্যতীত ভাওয়াল প্রভৃতি স্থানের প্রাচীনত্বের আরও বহু প্রমাণ বিদ্যমান। হিন্দুদের পুরাণ, মহাভারত, প্রভৃতিতে এই সমস্ত স্থানের যে উল্লেখ আছে, তাহা যথাযথরূপে নির্দেশ করা সুকঠিন, এবং তাহাতে কতক পরিমাণে অনুমানের উপর নির্ভর করিতে হয়। সুতরাং ঐতিহাসিক হিসাবে উহার মূল্য অপেক্ষা কৃত অল্প বলিয়া তাহার আলােচনায় বিরত হইলাম। খৃষ্ট পূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে টলেমি (IPtolemy) ভারতের যে ভৌগােলিক বৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করিয়া গিয়া-
?
ছেন, তাহাতে ব্ৰহ্মপুত্ৰতীরে অবস্থিত অ্যান্টিবােল
( Antibol ) নামক একটী স্থানের উল্লেখ করিয়াছেন।
ক্যাপ্টেন উইলফোর্ড, (Captain Wilford ) এই
অ্যান্টিবােলকে আধুনিক ফিরিঙ্গিবাজার বলিয়া নির্দেশ
করিতে ইচ্ছুক। কিন্তু, তাহার অনুমান সন্দেহজনক
বলিয়া মনে হয় ;
কারণ, টলেমির বর্ণনার সহিত
ফিরিঙ্গিবাজারের কোনই সাদৃশ্য নাই। পরন্তু, ডাক্তার
জেমস টেলার ( Tr. •James Taylor ) এই অ্যান্টিবােল
এবং ভাওয়াল একই স্থান বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন। (৪)
ভাওয়ালের উত্তরাস্থত আঁটি (পরগণা) ভাওয়ালের
সহিত সংযােগ করিলে, আঁটি-ভাওয়াল হয়। টলেমির
বর্ণনানুযায়ী ভাওয়ালের পূর্বদিকে ব্রহ্মপুত্রের প্রাচীন
ধারা প্রবাহিত ছিল। মহাভারত প্রভৃতিতে দৃষ্ট হয় যে
ভাওয়াল অঞ্চলের সংস্কৃত নাম অন্তমেল। (৫) এই
অন্তমেল হইতেই বােধ হয় অ্যান্টিবােল এবং অটি-
ভাওয়াল নামের উৎপত্তি। সুতরাং, অন্তমেল, অ্যান্টি-
বােল, এবং অটি-ভাওয়াল একই স্থান বালয়া অনুমিত
হয়। টলেমির সময়েও, অর্থাৎ খৃষ্ট পূৰ্ব্ব তৃতীয় শতাব্দীতে,
ভাওয়াল একজন বৈদেশিক ভ্রমণকারীর নিকটও ভারতের
মধ্যে একটী উল্লেখযােগ্য স্থান বলিয়া প্রতিভাত
হইয়াছিল।
টলেমি অ্যান্টিবােলকে ভারতের
(8) Taylor's Topography and Statistics of Dacca.
Page 111.
(৫) oid. Page 111,
( ৬ ) পূৰ্ব্বসীমা বলিয়া বৰ্ণনা করিয়াছেন, এবং তখন এই স্থানই ভৌগােলিকদিগের কুমধ্য (৫).Meridia) বলিয়া গণ্য ছিল। অ্যান্টিবােল ও ভাওয়াল যদি অভিন্ন হয়, তবে উহা নিশ্চয়ই তখন ভারতের মধ্যে একটি বিখ্যাত স্থান বলিয়া পরিগণিত ছিল, সন্দেহ নাই। সুপ্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ শ্ৰীযুক্ত রামকমল সেন মহাশয় তদ্রচিত অভিধানের [A Dieticonary from English to Bengali ] ভূমিকায় লিখিয়াছেন যে, ভাওয়ালে মহাভারত বণিত ভগদত্তের রাজধানী ছিল । এবং তাহার মতে “গালয়” হইতেই ভাওয়াল নামের উৎপত্তি। কেহ কেহ বলেন, কুরুক্ষেত্র সমরে ভদ্রপাল অথবা ভবপাল প্রদেশের নৃপতি কৌরব পক্ষাবলম্বন করিয়া সমরে প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন; এই ভদ্রপাল অথবা ভবপাল হইতেই ভাওয়াল নামের উৎপত্তি। ব্রহ্মগুপুরাণে “ভদ্র” প্রদেশের নাম পাওয়া যায়। শ্ৰীযুক্তষতীন্দ্র মােহন রায় “ঢাকার ইতিহাসে এই মতের উল্লেখ করিয়াছেন। অনেকের বিশ্বাস, মােগল রাজত্বকালে ভাওয়াল গাজী হইতেই ভাওয়াল নামের উৎপত্তি। কিন্তু এ বিষয়ে মতদ্বৈধ বৰ্ত্তমান। হয়ত ভাওয়াল হইতেই উক্ত গাজীর নাম ভাওয়াল গাজী হইয়াছিল। প্রাচীনকালে ভাওয়ালের অন্তর্গত কাপাসিয়ার সূক্ষ্ম বস্ত্র পৃথিবী বিখ্যাতছিল। কার্পাস শব্দ হইতেই বােধ হয় কাপাসিয়া নামের উৎপত্তি। কাপাসিয়ার নির্ধিত বহু সূক্ষ্ম বস্ত্র দুই সহস্রাধিক বৎসর পূব্বে ও বিদেশীয় বণিকগণ কর্তৃক এমন কি রােম ( Rome) প্রভৃতি স্থানে- ও নীত হইত। রােমান পণ্ডিত প্লিনী (Pliny) খৃষ্টীয় প্রথম শতাব্দীতে কাপাসিয়া জাত সূক্ষ্মণ বস্ত্রের বর্ণনা লিপিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন। পাশ্চাত্য জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ নগরী রােমেও উহ ধনীর বিলাস সামগ্রী বলিয়া আদৃত হইত। সুতরাং প্রমাণিত হইতেছে, দ্বিসহস্র বৎসর পূর্বেও ভাওয়ালের শিল্পকাৰ্য্য সুবিখ্যাত ছিল। খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে চীনদেশীয় পরিব্রাজক হিউ- য়েন্থ সাঙ, ভারত পরিভ্রমণ করেন। তিনি কামরূপ এবং সমতট রাজ্যের যে বর্ণনা দিয়াছেন, তাহাতে বােধ হয় ভাওয়াল এই উভয় রাজ্যের মধ্যবর্তী স্থলে অবস্থিত ছিল। বরাহ মিহির আধুনিক পূর্ববঙ্গকে সমতট আখ্যায় উল্লেখ করিয়াছেন। (৬) প্রয়াগ স্তম্ভে মহারাজ সমুদ্রগুপ্তের যে প্রস্তর লিপি উৎকীর্ণ রহিয়াছে, তাহাতে পূর্ববঙ্গকে সমতট আখ্যা প্রদান করা হইয়াছে। (৭) কানিংহাম সাহেব (Sir Alexander Cunninghami apatingata 98 দেখাইয়াছেন যে, পূর্ববঙ্গকেই (Delta of the Ganges) হিউয়েন্থ-সাঙ, সমতট এবং টলেমী গাঞ্জে রিজিয়া (Gange Regia) আখ্যা প্রদান করিয়াছেন। (৮) হিউয়েন্থ-সাঙ, এই প্রদেশ-জাত পনস (কাঠাল ) ফলের যে বর্ণনা ( Dr. Kern's "Bribat Samhita." XIV. 0. (1) J. A. S. B. Vl. Live 10 of inscription. (b) Cunning lanı's "Aucient Geography of India." Page, 502, 3, ( ৮ ) দিয়াছেন, (৯) তাহা অতীব কৌতুহলােদ্দীপক ; এবং উহা হইতে স্পষ্টই প্রতীয়মান হয় যে, হিউয়েন্থ-সাঙ, ভাওয়াল-জাত পনসেরই বর্ণনা করিয়াছেন। ভাওয়ালে যেরূপ প্রভূত পরিমাণে এবং উৎকৃষ্ট পনস জন্মে, অন্য কুত্রাপি তদ্রুপ জন্মে কি না জানি না। ভাওয়াল বােধ হয় এখনও এই জন্য বিখ্যাত। সুতরাং দেখা যাইতেছে যে, বহু বিদেশীয় লেখক এবং পরিব্রাজক তাহাদের গ্রন্থাদিতে ভাওয়াল প্রভৃতি স্থানের উল্লেখ করিয়া গিয়াছেন। ইহাদ্বারা নিঃসন্দেহরূপে প্রমাণিত হইতেছে যে. দ্বিসহস্রাধিক বর্ষ হইতে ভাওয়াল সভ্য জগতে বিদিত। বৰ্ত্তমান প্রবন্ধে আমরা যে নৃপতিগণের বিবরণ পাঠকগণের সমক্ষে উপস্থিত করিতেছি, তাহারা দ্বিসহস্র না হইলেও, প্রায় সহস্র বর্ষ পূব্বে পূৰ্ব্ববঙ্গে রাজত্ব করিতেন। (a) Tir panas. (pa11:--)tuit. thnghi pleutin Inl, is highly esteeme. The fruit in its large ido il pirmpkin. When it is rip, it is of a yellowish-red colour. Wheu divided, it has in the middle many tenis u lilller fruits of the size of a prigrain 49 ; breaking thioni, ilicon forth it juice of a yellowislı redd {())) and of delicious Havorir The fruit sludder mes collects un the irriga boriunor, but noturotinas at the tree roots als in the city of the crib crowing tireling (the clinaroot). Sunn 13. Budellist Records of the Western world.” 1:21.. {}।.
; ৯ ) ভাওয়ালের অন্তর্গত কাপাসিয়ায় শিশুপাল, তালিপা- বাদ পরগণার অন্তর্গত মাধবপুরে ( গাজী বাড়ীতে) যশােপাল, এবং কাশীমপুর পরগণার অন্তর্গত সাভার কোটবাড়ীতে হরিশ্চন্দ্র পাল রাজত্ব করিতেন। পরে যথাক্রমে ইহাদের প্রত্যেকের বিবরণ উপস্থিত করিতেছি। এই নৃপতিগণ সম্বন্ধে নানারূপ কিংবদন্তী প্রচলিত আছে। অনেকের ধারণা, ইহারা অপেক্ষাকৃত নিম্নবংশ সস্তৃত এবং গৌড়ের পালরাজগণের পূৰ্বপুরুষ ; কিন্তু এরূপ ধারণা ভ্রমাত্মক, তাহা আমরা পরে বুঝাইতে চেষ্টা করিব। কোন কোন পাশ্চাত্য ঐতিহাসিকও পূর্বোক্ত প্রবাদ অবলম্বনে ঐরূপ ভ্রমপূর্ণ বণনা স্ব স্ব গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন। কাহারও মতে পূর্বোক্ত নৃপতিগণ ভূইঞা (১০), আবার কাহারও মতে বানিয়া (১১) ছিলেন। সাভারে মাহিষ্য জাতীয় কতিপয় ব্যক্তি রাজা হরিশ্চন্দ্রকে নিজেদের পূর্বপুরুষ বলিয়া প্রচার করেন। শ্ৰীযুক্ত দীনেশচন্দ্র সেন মহাশয় কোণ্ডা নিবাসী শ্ৰীযুক্ত ভারতচন্দ্র রায়কে হরিশ্চন্দ্রের বংশধর বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন (১২)। ইঁহারা হরিশ্চন্দ্রকে আদি- পুরুষ করিয়া এক বংশাবলীও উপস্থিত করেন। বংশাবলী অনুসারে ভারতচন্দ্র হরিশ্চন্দ্রের অধস্তন অষ্টত্রিংশ পুরুষ। ইহাদের উক্তি অনুসারেও বংশাবলীখানা একশত বৎস- (so) llunter's Statistical account of Bengal.Dacca, (>>) Taylor's Topography and Statistics of Dacca. Pages 63, 64. (১২) প্রবাসী, অষঢ়, ১৩১৯।
( ১ ) রের অধিক কালের লিখিত নহে। অন্য কোনরূপ বিশেষ প্রমাণ না পাইলে এই বংশাবলী ঐতিহাসিক হিসাবে প্রামাণ্য বলিয়া গৃহীত হইতে পারে না। হরিশ্চন্দ্র পালবংশীয় নৃপতি, তাহা তাহার সদ্য প্রাপ্ত ইষ্টকলিপি হইতে নিঃসন্দেহরূপে প্রমাণিত হইবে। সুতরাং তাঁহার বংশধরগণ অদ্যাপি জীবিত থাকিলে পালের পরি- বৰ্ত্তে রায় উপাধি ধারণ করিতে পারেন না। দ্বিতীয়তঃ, হরিশ্চন্দ্র গৌড়ের পাল নৃপতিগণের বংশধর, তাহা পরে প্রমাণিত করিবার চেষ্টা করিয়াছি। গৌড়ের পাল নৃপতিগণ নিশ্চয়ই মাহিষ্য ছিলেন না, তাহা ইতিহাস পাঠকগণ অবগত আছেন। তৃতীয়তঃ, বৌদ্ধ ধর্ম ত্যাগ করিয়া হিন্দু ধৰ্ম্ম অবলম্বন করিবার সময় হরিশ্চন্দ্রের বংশ- ধরগণ সমাজের অপেক্ষাকৃত নিম্নস্তরে নিক্ষিপ্ত হইয়াছেন, এইরূপ অনুমান করাও বােধ হয় যুক্তি সঙ্গত নহে, এবং তাহা নিশ্চয়ই প্রমাণসাপেক্ষ। সমাজ বিনাদোষে রাজবংশীয়গণের প্রতি এইরূপ ব্যবহার করিতে সাহসী হইবে, ইহাও বিশ্বাসযােগ্য বলিয়া মনে হয় না। পালরাজগণ [ কমৌলিতে প্রাপ্ত ] বৈদ্যদেব প্রশ- স্তিতে সূৰ্য্যবংশ সদ্ভূত ক্ষত্রিয় বলিয়া বর্ণিত হইয়াছেন। "এতস্য ; হরেঃ) দক্ষিণদৃশশা বংশে মিহির জাতবা পূৰ্বং। বিগ্রহপালে নৃপতিঃ সৰ্বাকারর্থি-সংসিদ্ধঃ ॥” সন্ধ্যাকর নন্দি-বিরচিত “রামচরিত” কাব্যে তাহারা “সিন্ধুকুলাের্ভূত” এবং “শ্রীপতেঃ নাভিস্যুতঃ” বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছেন। সিংহগিরি রচিত “বল্লালচরিতে”
( ১১ )
অন্তর্গত “ব্যাসপুরাণে” পালরাজগণ ক্ষত্রিয় বলিয়া বর্ণিত
হইয়াছেন।
গ্রন্থকার তাহাদিগকে অধম ক্ষত্রিয়
বলিয়াছে- সত্য; কিন্তু সেনরাজগণের আশ্রিত গ্রন্থকার
তাঁহার প্রভু বংশের প্রতিদ্বন্দী রাজবংশকে বিদ্বেষ বশতঃ
অধম ক্ষত্রিয় বলিবেন, তাহাতে আশ্চর্যের বিষয় কিছুই
নাই। আবুল ফজল পালবংশীয় নৃপতিগণকে “কায়েথ”
( কায়স্থ ) বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। (১৩) কায়েথ,
অথবা কায়স্থগণ মসী জীবি ক্ষত্রিয় । মসীজীবি হইতে
অসিজীবি ক্ষত্রিয়গণ স্বভাবতঃই অধিক সম্মানের পাত্র।
সেই জন্যও হয়ত সিংহগিরি { মসীজীবি ক্ষত্রিয়) কায়স্থ
বংশীয় পালনৃপতিগণকে অধম ক্ষত্রিয় বলিতে পারেন।
এতদ্ভিন্ন পালনৃপতিগণ সব্বাই ক্ষত্রিয় রাজকন্যাগণের
পাণিগ্রহণ করিতেন। ক্ষত্রিয় না হইলে ক্ষত্রবংশে বিবাহ
হওয়া সম্ভব পর নহে। [ “রামচরিত" কাব্যের ভূমিকায়
মহামহােপাধ্যায় শ্রীযুক্ত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয় এই
প্রশ্নের মীমাংসা যেরূপ ভাবে করিতে প্রয়াসী হইয়াছেন,
তাহা সন্তোষ জনক বলিয়া বােধ হয় না, এবং আমরা
তাহার মতের সমর্থন করিতে পারি না।]
পালবংশীয় দ্বিতীয় নৃপতি ধৰ্ম্মপাল রাষ্ট্রকূট পতি
পরবলের কন্যা রমাদেবীর পাণিগ্রহণ করেন।
“শ্রীপরবল দুহিতু ক্ষিতিপতিনা রাষ্ট্রকূটতিলক।
রাদেব্যা পাণির্জগৃহে গৃহমেদিন! তেন ( ধৰ্ম্মপালেন)।”
—দেবপালদেবের (মুঙ্গেরে প্রাপ্ত) তাম্রশাসন।
(20) Fraucis Gladwin's Translation of Aveen Akberi.
IPage 11.
( ১২ ) বিগ্রহপাল হৈহয়বংশ সস্তৃত। লজ্জাদেবীকে বিবাহ করেন। “লজ্জেতি তস্য জলধেরিব জন্ধু কন্য। পত্নীৰভূব কৃত-হৈহয়-বংশভূষা।” -নারায়ণপালদেবের {ভাগলপুরে প্রাপ্ত) তাম্রশাসন। রাজাপাল রাষ্ট্রকূটপতি তুঙ্গদেবের দুহিতা ভাগ্যদেবীর সহিত পরিণত হন। “রাষ্ট্রকূটান্বয়েন্দোস্তুঙ্গগোঙ্গমৌলে দুহিতার তনয়ে। ভাগ্যদেব্যাং প্রসূতঃ।" -প্রথম মহীপালদেবের (বাণগড়ে প্রাপ্ত) তাম্রশাসন। তৃতীয় বিগ্রহপাল দাহলাধিপতি কর্ণের কন্যা যােব- ন, চেদীর রাজকন্যা, এবং রাষ্ট্রকূট রাজকন্যাকে বিবাহ করেন। ইতিহাস আলােচনা করিলে পালরাজ- গণের ক্ষত্রিয়ত্বের বহু প্রমাণ প্রাপ্ত হওয়া যায়। পূব্ববর্তী পালরাজগণের তাম্রশাসন প্রভৃতিতে তাহাদের জাতি সম্বন্ধে কোনরূপ উল্লেখ না থাকাতে অনেকে সন্দেহ করেন, যে হয়ত তাহার। নিম্নজাতীয় ছিলেন। কিন্তু, এইরূপ অযথা সন্দেহ সম্পূর্ণ অমূলক। বৌদ্ধধৰ্ম্মবলম্বী বলিয়া তাহারা জাতিভেদের পক্ষপাতী ছিলেন না, এবং সেই জন্যই তাহাদের জাতি সম্বন্ধে বিশেষ কোন উল্লেখ দৃষ্ট হয় না । সন্ধ্যাকর নন্দী এবং বৈদ্যদেব রামপাল এবং তৎপুত্র কুমারপালের সমসাময়িক ব্যক্তি ছিলেন, সুতরাং, পালরাজগণের জাতি সম্বন্ধে তাঁহাদের উক্তি অবিশ্বাস করিবার কোনও কারণ নাই। আমাদের বিশ্বাস, তাহারা কায়স্থজাতীয় ছিলেন। তৎকালে কায়স্থগণ ব্যবহারিক জীবনেও ভাবাপন্ন থাকাতে সাধারণতঃ ক্ষত্রিয় বলিয়াই পরিচিত ছিলেন। এবং ক্ষত্রিয় শব্দদ্বয় তখন প্রায় একার্থ-বােধকই ছিল ; শাস্ত্রাদিতে কায়স্থদের পৃথক উল্লেখ থাকিলেও তৎকালে ঐ অর্থগত প্রভেদ লক্ষিত হইত না। কায়স্থগণ প্রকৃত পক্ষে মসীজীবি হওয়ার পর হইতেই বােধ হয় অসিজীবি ক্ষত্রিয় এবং মসজীবি কায়স্থের প্রভেদ পরিস্কুটতর হইয়াছে। পালরাজগণ কায়স্থ ছিলেন, এই বিশ্বাস আকবরের সময়েও প্রচলিত ছিল, তাহা আবুল ফজলের গ্রন্থ হইতেই প্রমাণিত হইতেছে। আবুল ফজল নিশ্চয়ই তৎসময়ে প্রচলিত প্রবাদ অথবা কোন গ্রন্থ হইতে এই সংবাদ সংগ্রহ করিয়াছিলেন। ইহার মূলে যে কোন সত্য নাই, তাহা বিশ্বাস করিতে আমরা অক্ষম। ঐতিহাসিক প্রমাণ বলিয়া গৃহীত না হইলেও ইহাতে অবিশ্বাসযােগ্য কিছু নাই। পালরাজগ সম্বন্ধীয় যাহা কিছু এপর্যন্ত আবিষ্কৃত হইয়াছে, তাহার প্রত্যেকটিতেই তাহারা যে বৌদ্ধধৰ্ম্ম- বলম্বী ছিলেন, তদ্বিষয়ক সুস্পষ্ট নিদর্শন বর্তমান। ইহা সৰ্ববাদিসম্মত, সুতরাং এ সম্বন্ধে আলােচনা বাহ্য মাত্র ! সাভারে হরিশ্চন্দ্রপালের প্রাসাদ প্রভৃতির ভগ্নাবশেষের মধ্যে বহু প্রস্তর নিৰ্ম্মিত, ও ইষ্টক খােদিত বুদ্ধ ও বৌদ্ধমুর্তি আবিষ্কৃত হইয়াছে। [ এতদ্বিষয়ে পরে আলােচিত হইয়াছে।] সাভারের হরিশ্চন্দ্রপাল ও তদ্বংশধরগণ যে বােদ্ধধর্মাবলম্বী ছিলেন, ইহাই বোধ হয় তাহার যথেষ্ট প্রমাণ। বৌদ্ধধর্মাবলম্বী যশােপাল স্বীয় রাজধানীতে হিন্দু- ( ১৪ ) = দেবতা মাধবের প্রতিষ্ঠা করিলেন, ইহা প্রথম দৃষ্টিতে কিঞ্চিৎ আশ্চৰ্যজনক বােধ হয়, সন্দেহ নাই। কিন্তু, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী গৌড়ের পালরাজগণও বিশেষ বিশেষ হিন্দুপাপােপলক্ষে এবং হিন্দু দেবদেবীর সংরক্ষণার্থ ব্রাহ্মণদিগকে ভূমি দান করিতেন, তাহা তাঁহাদিগের বহু তাম্রশাসনে বর্ণিত আছে। অন্য ধর্মাবলম্বী হইলেও তাহারা হিন্দুর দেবদেবী এবং ব্রাহ্মণের প্রতি শ্রদ্ধাবান ছিলেন। মুঙ্গেরে প্রাপ্ত দেবপাল দেবের তাম্রশাসনে ধৰ্ম্মপালের বর্ণনায় লিখিত হইয়াছে, “শাস্ত্রার্থভাজা চলতােহ শস্য বর্ণান্ প্রতিষ্ঠাপয়তা স্বধৰ্ম্মে। শ্ৰীধৰ্ম্মপালেন সুতেন সােহভূৎ স্বর্গস্থিতানা মণঃ পিতণাম। এই শ্লোকে ধর্মপাল শাস্তুশাসন হইতে বিচলিত ব্রাহ্মণাদি বর্ণসমূহকে স্ব স্ব শাস্ত্রনির্দিষ্ট ধৰ্ম্মে প্রতিষ্ঠা- পয়িতা বলিয়া বর্ণিত হইয়াছেন। খালিমপুরে প্রাপ্ত ধর্মপালদেবের তাম্রশাসনে ভূমিদান কালে সৰ্বজাতীয় প্রজাগণকে যথাযােগ্য সম্মান করিবার, বিশেষতঃ বর্ণ- শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণকে সর্বাগ্রে সম্মান প্রদর্শণ করিবার কথা লিখিত আছে। ব্রাহ্মণ-মাননা পূৰ্ব্বকং যথাহং নয়তি বােধয়তি সমাপয়তি চ।” এই সকল হইতে স্পষ্টই প্রতীয়মান হয় যে, বৌদ্ধ হইলেও পালনৃপতিগণ দেবদ্বিজে শ্ৰদ্ধাপরায়ণ ছিলেন। সুতরাং, এমতাবস্থায় যশোপাল কর্তৃক মাধব প্রতিষ্ঠা
( ১৫ )
অসম্ভব বলিয়া বােধ হয় না। সেই সময়ে বোৱধৰ্ম্ম
ক্রমশঃ ভারত হইতে লুপ্ত হইয়া হিন্দুধর্মের পুনরভ্যুত্থান
হইতেছিল। সুতরাং তৎসময়ে বৌদ্ধপতিগণেরও
কিঞ্চিৎ হিন্দুভাবাপন্ন হওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। বৌদ্ধ
তান্ত্রিক যুগে হিন্দুর ন্যায় বৌদ্ধগণও মূর্তিপূজায় বিশ্বাসবান
হইয়াছিলেন ; এবং মৃত্তিকা নিয় হইতে উখিত প্রত্যক্ষ
ক্ষমতাপন্ন মাধবকে প্রতিষ্ঠিত করা যশেপালের পক্ষে
অস্বাভাবিক নহে।
( ১৬ ) শিশুপাল। ভাওয়াল পরগণার বহু স্থানে ইষ্টকস্ত,প, মৃৎপ্রাচার, বৃহদায়তন দীর্ঘিকা প্রভৃতি দৃষ্ট হয়। ইহার অধিকাংশই শিশুপাল রাজার কীৰ্তিচিহ্, দেশ প্রচলিত প্রবাদ এইরূপ। ভাওয়াল অঞ্চলস্থিত দুরদুরিয়া, কোট, দীঘ- লিয়ার ছিট, শৈলাট, শাইটহালিয়া, প্রভৃতি গ্রামসমূহেই শিশুপালের কীৰ্তিচিহু বহুল পরিমাণে দৃষ্ট হয় । বঙ্গের স্বাধীন মুসলমান নৃপতিগণের ইতিহাসে একডালা দুগের বহুস্থানে উল্লেখ দৃষ্ট হয়; কিন্তু একডালা গ্রামে বর্ণিত দুর্গের কিংবা কোনরূপ প্রাচীন কীৰ্ত্তির কোন চিহ্রই দৃষ্ট হয় না। পরন্তু, একডালার ৮ মাইল উত্তরে কাপাসিয়ার নিকটবর্তী দুরদুরিয়া গ্রামে উক্ত দুর্গের বহুচি অদ্যাপি বৰ্তমান। সুতরাং মনে হয়, ঐ স্থানেই সুপ্রসিদ্ধ একডালাব দুর্গ অবস্থিত ছিল। দুরদুরিয়া গ্রাম বানার নদীর পূর্বতীরে অবস্থিত। ঠিক নদীতটেই একটী দুর্গের ভগ্নাবশেষ দৃষ্ট হয়, এবং তাহার বিপরীত দিকে একটা নগরের বহুচিঃ অদ্যাপি বিদ্যমান। এই নগর এবং দুর্গ উভয়ই শিশুপাল রাজার নিৰ্মিত,' এইরূপ প্রবাদ। কেহ কেহ বলেন ( প্রথম ) বল্লালসেন এই দুর্গ নিৰ্ম্মাণ করেন। দুর্গ নিয়ে বানার নদী পাচশত হস্তেরও অধিক বিস্তৃত, ও অতিশয় গভীর, এবং পার্বত্য নদীর ন্যায় খরস্রোতা। নদী গর্ভ হইতে তটদেশ প্রাচারের ন্যায় উত্থিত হইয়াছে, এবং শীতকালে তটের প্রায় ৫০ ফিট নিয়ে জল থাকে। সুতরাং, ” ( ১৭ ) তটদেশের উচ্চতা সহজেই অনুমেয়। বানার নদী দুর্গটীকে প্রায় অর্ধচন্দ্রাকারে বেষ্টন করিয়াছে। তটদেশে কঙ্কময় কঠিন লোহিত মৃত্তিকা। নদীতীরে এবং দুর্গের চতুর্দিক সুপ্রশস্ত মৃৎ প্রকার বেষ্টিত। প্রকার এখনও প্রায় ১২৯৪ ফিট উচ্চ রহিয়াছে। পশ্চিম দিকে দুর্গ নিয়েই বানার নদী, এবং অপর তিন দিকে ঠিক দুর্গ প্রকারের অব্যবহিত নিম্ন দিমা প্রায় ৩০ ফিট প্রশস্ত পরিখা। পরিখার অনেক স্থান এখন ভরিয়া গিয়াছে, কিন্তু উহার চিন্তু এখনও সুস্পষ্ট রূপে বিদ্যমান। দুর্গ-প্রাচীরের দৈর্ঘ্য দুই মাইলেরও অধিক। সুতরাং, অতি বিস্তীণ ভূমিখণ্ডে এই দুর্গ অবস্থিত ছিল। দুর্গপ্রাকারে পাঁচটী প্রবেশদ্বার দৃষ্ট হয়, কিন্তু কোনটীতেই ইষ্টক বা প্রস্তর নির্মিত থাকার কোন চিহ্ন বর্তমান নাই। দুর্গটীর অবস্থান এবং এইরূপ সুরক্ষিত স্থান-নিৰ্বাচন নির্মাতার রণ কৌশলের পরিচায়ক। দুর্গ-প্রাকার-বেষ্টিত স্থানের মধ্যে পুনরায় অন্য একটা স্থান প্রাচীর বেষ্টিত অবস্থায় অবস্থিত। এই প্রাচীরেরও বহু চিহ্ন বর্তমান। ইহার মধ্যে আবার একটী ইষ্টক- নিষ্মিত প্রাচীরের ভগ্নাবশেষ বিদ্যমান আছে। এই স্থানে ইষ্টক-প্রাচীরের পরিবর্তে এখন একটা লম্বা মৃৎস্ত প এবং তদুপরি বহু ইষ্টক পতিত আছে। কোনও কোনও স্থানে ইষ্টক-প্রাচীরের ভিত্তিও দৃষ্ট হয় ; হয় ; প্রাচীরের চতুর্দিকে চক্রাকার আর একটা পরিখা দৃষ্ট হয়, এবং বােধ হয় যেন উক্ত ইষ্টক প্রাচীর উহারই এক অংশ বিভক্ত
( ১৮ )
করিয়া লইয়াছে। এই পরিখা নদীর সহিত সংযুক্ত,
এবং আনুমানিক প্রায় ৬০০ গজ লম্বা।
দুর্গের মধ্যে দ্বিতীয় প্রাচীর এবং পরিবেষ্টিত
স্থানটী বােধ হয় সুরক্ষিত রাজপুরী। এই পুরীর তিনটী
প্রবেশদ্বার দৃষ্ট হয়, এবং পুরীমধ্যে দুইটী অট্টালিকার
চিহ্ন সুস্পষ্ট বিদ্যমান। দুইটী উচ্চ স্ত,প প্রায় নদীতীরে
অবস্থিত। দক্ষিণ দিকস্থ সুপােপর প্রায় বৃত্তাকার
একটী ইষ্টকনিৰ্ম্মিত ভিত্তি দৃষ্ট হয়। উহা বােধ হয়
পূৰ্বে শক্রর আগমন পৰ্যবেক্ষণ করিবার জন্য অত্যুচ্চ
‘বুরুজ { tower) ছিল । বুরুজের চতুর্দিকে ইষ্টক
প্রাচীরের চিহ্ন বর্তমান এবং প্রাচীরের চারি কোণে বােধ
হয় চারিটী অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র ‘বুরুজ’ ( Bustios) ছিল।
উহারও স্পষ্ট চিহ্ন আছে।
উত্তর দিকস্থ স্তুপের ভিত্তিচিহ্ন-সমূহ স্পষ্ট নহে।
দুইটী, চতুষ্কোণ সমুন্নত স্থান উহাতে দৃষ্ট হয় ; উহার
অদূরে একটী দীর্ঘিকা বৰ্ত্তমান। দীঘিঁকা দুর্গ পরিখার
সহিত একটী অপ্রশস্ত খাল দ্বারা সংযুক্ত।
দুর্গমধ্যস্থ বিভিন্ন প্রাচীরের মধ্যস্থিত ভূভাগ-সমূহে
বহু ইষ্টক এবং মৃত্তিকা-স্তপ বর্তমান, এবং মধ্যে মধ্যে
দীর্ঘিকার চিহ্নও দৃষ্ট হয়। ঐ সমস্ত জলাশয় কালক্রমে
শুষ্ক হইয়া গিয়াছে। এতদ্ব্যতীত দুর্গমধ্যে স্তুপীকৃত এবং
বিক্ষিপ্ত বহু ইষ্টক পড়িয়া আছে। নদীতীরে বহু মৃত্তিকা
এবং ইষ্টক-শুপ দৃষ্ট হয়, এবং উহা রাজপুরীর নানা
অংশ বলিয়া স্থানীয় ব্যক্তিগণ কর্তৃক বর্ণিত হয়।
দুর্গ এবং রাজপুরীর অনেক অংশ নদীর স্রোতে ভাঙ্গিয়া
গিয়াছে। প্রাচীনগণের উক্তি অনুসারে, পূৰ্বে ঐ স্থানে নদী অত্যন্ত অপ্রশস্ত ছিল। এই দুর্গ স্থানীয় ব্যক্তিগণ কর্তৃক রাণীবাড়ী নামে অভিহিত হইয়া থাকে। প্রবাদ এই, শিশুপালবংশীয়। রাণী ভবানী ঐ দুর্গে বাস করতেন ; এবং মুসলমানগণ বােধ হয় ( ১২০৪ খৃষ্টাব্দে) ইহাকে পরাজিত করিয়াই শিশুপাল-রাজ্য জয় করেন। ১৩৫৩ খ্রীষ্টাব্দে বােধ হয় এই দুর্গেই বঙ্গের দ্বিতীয় স্বাধীন মুসলমান নৃপতি ইলি- য়াস সামসুদ্দি সম্রাট ফিরােজসাহ দ্বারা অবরুদ্ধ হন। অবরােধ-কালে ইলিয়াস শাহ ফকিরের ছদ্মবেশে দুর্গ ত্যাগ করিয়া রাজা ভবানী (বিয়ানী) নামক জনৈক দেশ- বিখ্যাত সাধুর মৃতদেহের সৎকার কাৰ্যের সময় উপস্থিত থাকিয়! পরে সম্রাটের সহিত সাক্ষাৎ করিয়া নিজ দুর্গে প্রত্যাবর্তন করেন। ছদ্মবেশে তাহাকে কেহ চিনিতে পারে নাই। (১৪) এই রাজা ভবানী বােধ হয় পূর্বোক্ত রাণী ভবানীর কোন বংশধর। দুর্গ জয়ে অসমর্থ সম্রাট ফিরােজ সাহ ব্যর্থমনােরথ হইয়া প্রত্যাবর্তন করেন। ইলিয়াস সাহের পুত্র সেকেন্দর সাহের রাজত্বকালে সম্রাট কর্তৃক পুনরায় এই দুর্গ আক্রান্ত হয়। এবারেও দুর্গজয়ে অসমর্থ সম্রাট অবশেষে সন্ধি করিতে বাধ্য হন। ১৪৮৯ খ্রীষ্টাব্দে আলাউদ্দিন হােসেন সাহ বঙ্গদেশে অবস্থানকালে এই দুর্গেই তাহার বাসস্থান নির্দিষ্ট করিয়াছিলেন। তিনি সুপ্রসিদ্ধ ফকির কুতুব, আলমের সিদ্ধ স্থান পাণ্ডুয়াতে (>8) Stewart's "listory of Bengal".
( ২০ ) প্রতিবৎ একবার পদব্রজে তীর্থ দর্শন করিতে আসিতেন। সুতরাং আমরা দেখিতে পাই, শিশুপাল-নির্মিত এই দুগ মুসলমান রাজত্বের সময়েও একডালা দুগ নামে বিশেষ প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছিল। বানার নদীর পূর্ব তীরে এই দুর্গ অবস্থিত। পশ্চিম তীরে ঠিক দুর্গের বিপরীত দিকে শিশুপাল প্রতিষ্ঠিত নগরের চিহ্নসমূহ বৰ্ত্তমান। অতি বিস্তৃত ভূখণ্ড ব্যাপিয়া এই নগর অবস্থিত ছিল। নদীতীরে এবং প্রাচীন নগরের সর্বত্রই বহু ইষ্টক চতুর্দিকে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় রহিয়াছে। নদীতীর হইতে প্রায় দুই মাইল দূরে দুইটী প্রকাণ্ড এবং অতি গভীর দীর্ঘিকা বর্তমান আছে। উহারা উভয়েই শিশুপাল কর্তৃক খনিত, এইরূপ জন প্রবাদ। নদীতীরে শিশুপালের কাচারী বাড় অবস্থিত । এখন শুধু সেখানে একটা ইকবহুল মৃৎশুপ উহার অতীত জীবনের সাক্ষ্য প্রদান করিতেছে। কাচারী বাড়ীর অদূরে দুগৰাড়ীর ভগ্নাবশেষ, এবং একটী মস- জি দৃষ্ট হয়। মসজিদৃঢ়ী প্রায় প্রস্তর-নির্মিত ; এবং ‘সেখ আলার মসূ’ি নামে খ্যাত। খুব সম্ভবতঃ সুল- তান আলাউদ্দিন কর্তৃক পরবর্তী কালে উক্ত মসজি নির্মিত হইয়াছিল। দুরদুরিয়ার ( একডালা দুগের) পর টোকের নাম উল্লেখ যােগ্য। টোকেও শিশুপালের বহু কীৰ্ত্তি-চিহ্ন বৰ্তমান। টোক কাপাসিয়ার অন্তগত, এবং বানার ও ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গমস্থলের অদূরে বানার নদীর পূর্বতীরে অবস্থিত। টোক শিশুপালের রাজধানী ( আধুনিক দীঘলির ছিট) হইতে কয়েক মাইল মাত্র দূরে। এই স্থানে বলা আবশ্যক যে, শিশুপালের প্রকৃত রাজধানীর ভগ্নাবশেষ দীঘলিরছিট গ্রামে বিদ্যমান। দুরদুরিয়া কিংবা টোকে শিশুপালের রাজধানী ছিলনা; এতদুভয় স্থানেই শিশুপালের দুর্গ এবং প্রতিষ্ঠিত নগর অবস্থিত ছিল। টলেমি বণিত টুগমা (Tugma) দ্বাদশ শতাব্দীতে আরব দেশীয় ভৌগােলিক অল এট্রিসি (El-Edrissi) বর্ণিত টোক ( Tauk ), নবম শতাব্দীর মুসলমান পরিব্রাজকগণ বর্ণিত টফেক ( Tarek ), এবং শিশুপালের দুর্গ টোক একই স্থান বলিয়া টেলর ( Taylor) অনুমান করিয়াছেন। ( ১৫) ক্যাপটে উইলফোর্ড এবং ডি অ্যাভি (D'Anville) টুগ,মা প্রভৃতি স্থানকে অন্য স্থানে নির্দেশ করিয়াছেন ; কিন্তু এবিষয়ে টেলরের অনুমানই আমাদের নিকট যুক্তি সঙ্গত বলিয়া বােধ হয়। সুতরাং টোকের ঐতিহাসিকতাও বহু প্রাচীন বলিয়া প্রমাণিত হইতেছে। টোকের অবস্থান অতি সুন্দর—ঠিক দুর্গের উপযােগী। এই স্থানে শিশুপালের দুর্গের বহু চিদি অদ্যাপি বর্ত- মান, কিন্তু অতি নিবিড় বনাকীর্ণ এবং শ্বাপদসঙ্কুল স্থান (>e) Taylor's "Topography and Statistics of Dacca." Page 116.
২২ )
হওয়াতে সমস্ত প্রাচীন স্থানগুলি দর্শন করা সম্ভবপর
নহে।
শ্রীপুর রেলষ্টেশন হইতে ১৫ মাইল দূরে দীঘলির
ছিট নামক গ্রাম অবস্থিত। এই গ্রামেই শিশুপালের
রাজধানী ছিল এইরূপ জন-প্রবাদ। গ্রামটী ভাওয়ালের
উত্তর পশ্চিমাংশ-স্থিত, এবং নিবিড় অরণ্যাবৃত। উহা এখন
কালবশে শ্বাপদকুলের আবাসভূমি হইলেও, উহার স্থানে
স্থানে প্রাচীন প্রাসাদের ভগ্নাবশেষ, প্রাচীরদির জীর্ণ
তনু, এবং শুষ্ক দীর্ঘিকা নিচয় পূৰ্ব স্মৃতি জাগরিত করিয়া
প্রবাদ-বাক্যের পােষকতা করিতেছে। দীঘলির ছিটে
কয়েকটী ইষ্টক-বহুল মূৎস্ত প বৰ্তমান, এবং উহার সান্নিধ্যে
একটি সুবৃহৎ গভীর দীর্ঘক। দৃষ্ট হয়। ঐ স্তপগুলি
রাজধানীর অট্টালিকা সমূহের ভগ্নাবশেষ ; এবং উক্ত
দীর্ঘিকাটি শিশুপালের খনিত। স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের বিশ্বাস,
যে, ঐ স্থানে প্রভূত ধনসম্পত্তি স্তপনিয়ে নিহিত আছে ;
কিন্তু যক্ষের ধন বলিয়া কেহ তাহার অনুসন্ধান করতে
সাহস হয় না। শিশুপালের বাড়ী দুষ্প্রবেশ নিবিড়
বনাকীর্ণ; কয়েকটা বনাবৃত বৃহৎ স্তুপ দূর হইতে দৃষ্ট
হয়। দীঘলির ছিট আধুনিক নাম ; রাজধানীর
প্রাচীন নাম জানা যায় না।
দীঘলির ছিটের অনতিদুরে শৈলাট গ্রাম অবস্থিত।
এই স্থানেও শিশুপালের প্রাসাদের বহু ভগ্নাবশেষ দৃষ্ট
হয়। প্রাসাদের চতুর্দিকেই সুগভীর পরিখা বর্তমান।
রাজপ্রাসাদের সম্মুখস্থ একটী স্থান পুষ্পবাটিকা বলিয়া
নির্দিষ্ট হয়। ইষ্টক নিৰ্ম্মিত রাজপথের চিত্মাদিও স্থানে
( ২৩ ) স্থানে দৃষ্ট হয়। শৈলাট গ্রামের চতুর্দিকে আরও বহু ভগ্ন শুপাদি বৰ্তমান ; ঐ সকলও শিশুপাল রাজারই কীর্তি- চিহু। শৈলাট গ্রামের কিঞ্চিৎ পূৰ্ব্বদিকে অবস্থিত শাইট- হালিয়া গ্রামেও একটা প্রাসাদের ভগ্নাবশেষ বৰ্ত্তমান আছে। তাহার চতুর্দিক সুপ্রশস্ত পরিখা বেষ্টিত ; এবং এখানেও ইষ্টকনিৰ্ম্মিত রাজপথের সুস্পষ্ট চিহ্লাদি দৃষ্ট হয়। ভগ্নস্তপের সন্নিকটে একটী প্রকাণ্ড দীর্ঘিকা বৰ্তমান ; উহার চারিপার ইষ্টকনিৰ্ম্মিত। “দাস রাজার বাড়ী" বলিয়া এইস্থান বিখ্যাত। কিন্তু, ইহাও বােধ হয় শিশুপালেরই একটী প্রাসাদ ছিল। ভাওয়াল অঞ্চলে ভ্রমণকালে শুনিলাম কাপাসিয়ার সন্নিকটস্থ বড়চালা নামক গ্রামে কতিপয় বর্ষ পূর্বে অরণ্যমধ্যে একটি মন্দিরের ভগ্নাবশেষ দৃষ্ট হয়। ঐ স্থানে খনন করাতে মৃত্তিকা নিম্নে একটী প্রস্তর নির্মিত শিবলিঙ্গ, একটী বিষ্ণুমূর্তি ও দশাবতার-মূর্তি-অঙ্কিত প্রস্তর ফলক এবং অন্যান্য বহু দ্রব্যাদি পাওয়া গিয়া- ছিল। মির্জাপুর নামক গ্রামেও নাকি ঐরূপ একটী মন্দিরাভ্যন্তরে কয়েকটী যজ্ঞকুণ্ড দৃষ্ট হইয়াছিল। এই সমস্ত মন্দির প্রভৃতি পালরাজগণের সময়ের, এইরূপই অনুমিত হয়। গৌড়ের পালরাজগণের ইতিহাস আলােচনা করিলে দেখা যায়, দ্বিতীয় বিগ্রহপালের রাজত্বকালে কাহােজ (নেপাল) বাসী কোনও ব্যক্তি যুদ্ধে জয়লাভ করিয়া বিগ্রহপালের রাজ্যের একাংশের উপর স্বীয় আধিপত্য ( ২৪ ) বিস্তার করেন, এবং আধুনিক দিনাজপুরে এক জয়স্তম্ভ নিৰ্মাণ করিয়া তাহাতে “কালােজাম্বয়জ গৌড়পতি” নিজের এই উপাধি উৎকীর্ণ করেন। সেই স্তম্ভলিপি এখনও বর্তমান। (১৬) পুনরায় দুষ্কাৰ্য্যরত দ্বিতীয় মহীপালের রাজত্বকালে কৈবৰ্ত্তজাতীয় দিব্য বা দিব্বোক যুদ্ধে মহীপালকে নিহত করিয়া বরেন্দ্রভূমি অধিকার করেন, এবং দিব্বোকের ভ্রাতুস্পুত্র ভীম বরেন্দ্রের রাজপদে অভিষিক্ত হন; পরে বহুচেষ্টায় মহীপালের কনিষ্ঠভ্রাতা রামপাল যুদ্ধে ভীমকে পরাজিত করিয়া বিজিত রাজ্য পুনরধিকার করেন। (১৭) “ভীম রামপালদেবের আক্রমণ বেগ প্রতিহত করিবার আশায়, বরেন্দ্রমণ্ডলের প্রান্তভাগের নানাস্থানে যে সকল মৃৎ- প্রাকার রচনা করাইয়া ছিলেন, তাহা এখনও “ভীমের ডাই” এবং “ভীমের জাঙ্গাল” নামে কাৰ্থত হইতেছে।” (১৮)। গৌড়ের পালরাজগণের রাজত্বকালে যে রূপ নানা নিজাতীয় ব্যক্তির বিদ্রোহের বিবরণ আমরা প্রাপ্ত হই, শিশুপালের অথবা তৎবংশধরগণের রাজত্ব কালেও আমরা তদ্রুপ চণ্ডাল বিদ্রোহের জনপ্রবাদ শুনিতে পাই। শিশুপাল অথবা তদীয় বংশধরগণের মধ্যে কাহারও রাজত্ব সময়ে প্রতাপ ও প্রসন্ন নামে চণ্ডাল (১৬) “গৌড়রাজমালা।"—-৩৭ পৃঃ। (১৭) সন্ধ্যাকর নন্দিরচিত “রামচরিতম্।”{ Edited by Mahainalupadhaya }} .l'. Sustri). (১৮) “গৌড়রাজমালার " উপক্রমণিকা। ক্রযুক্ত অক্ষয় কুমার - |• পৃষ্ঠা।
( ২৫ ) জাতীয় দুইভ্রাতা একটী স্বতন্ত্র রাজ্যস্থাপনের চেষ্টা করেন। রাজেন্দ্রপুর রেলষ্টেশন হইতে অনতিদূরে, এবং আধুনিক জয়দেবপুরের দশক্রোশ উত্তর পূর্বে রাজাবাড়ী নামক স্থানে তাহাদের রাজধানী স্থাপিত এখনও রাজাবাড়ীতে রাজবাটীর চিহ্রস্বরূপ প্রাচীরাদির ভগ্নাবশেষ ও পরিখাদি দৃষ্ট হয়। ঐ স্থানটী এখনও “চাড়াল রাজার বাড়ী” নামে খ্যাত। এই চণ্ডাল ভ্রাতৃদ্বয় গৃহবিবাদে রাজ্যচ্যুত হন। প্রতাপ ও প্রসন্ন বােধহয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন। বৌদ্ধধর্মের বিনাশের পর তদ্ধর্মাবলম্বী নৃপতিকে বিদ্বেষ বশতঃ চণ্ডাল বলিয়া অভিহিত ক রা স্বাভাবিক। রাজাবাড়ীতে প্রাপ্ত একখানা লিপি লণ্ডন মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। তাহাতে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী কোন নৃপতির উল্লেখ দৃষ্ট হয়। সুতরাং, ইহা হইতে অনুমিত হয় যে প্রতাপ ও প্রসন্ন বােধ হয় বৌদ্ধ-ধম্মাবলম্বী ছিলেন। প্রবাদ এই, তাহারা নীচজাতীয় বলিয়া ব্রাহ্মণাদি উচ্চবণের ব্যাক্তিগণ তাহাদের সৃষ্ট অন্ন গ্রহণ করিতেন । ক্ষমতা গৰ্বিত চণ্ডাল ভ্রাতৃদ্বয় বলপূৰ্ব্বক ব্রাহ্মণ গণকে সৃষ্ট অন্ন ভােজন করাইতে দৃঢ়সংকল্প করিয়া রাজ্যের সমুদয় ব্রাহ্মণগণকে নিমন্ত্রণ করেন। ব্রাহ্মণগণ ভােজনে উপবিষ্ট হইলে প্রতাপ ও প্রসন্ন উভয় ভ্রাতার স্ত্রীই পরিবেশনার্থ অনুপাত্র হস্তে উপস্থিত হইলেন। প্রত্যুৎপন্নমতি জনৈক ব্রাহ্মণ তখন বলিলেন, “আমরা রাজার অন্ন গ্রহণ করিব। উভয় ভাতার মধ্যে প্রকৃত রাজা কে তাহা নির্ণীত হইল না; এবং এই সূত্রেই গৃহ- বিবাদ আরম্ভ হইয়া প্রতাপ ও প্রসন্ন উভয়েই রাজ্য- চ্যুত হইলেন। ব্রাহ্মণগণেরও জাতি নষ্ট হইল না। যুদ্ধে উভয় ভ্রাতাই প্রাণ হারাইয়া ছিলেন, এইরূপ প্রবাদ। প্রতাপ ও প্রসন্নের মােগগী নামী এক ভগ্নী ছিলেন। তাহার বাটীর ভগ্নাবশেষ এখন “মােগগীর মঠ" নামে খ্যাত হইয়া “চাড়াল রাজার বাড়ী”র অদুরেই বৰ্ত্তমান। খাইড ড়ােঙ্কা নামক এক রাজার নামও ভাওয়াল অঞ্চলে শ্রুত হয়। তাহার সম্বন্ধে অনেক ভাটের গানও এদেশে প্রচলিত আছে, এবং তাহাতে । তিনি কাযেথ বলিয়া বর্ণিত হইয়াছেন । “খাইড ভােস্কা ছিল রাজা- খাইড ডেস্কা ছিল রাজা মহাতেজা কায়েতের কুলে, কত দালান কোঠা তৈয়ার কল ভাওয়াল জঙ্গলে, সে যে আপন মনে। সে যে অপিন মনে প্রতাপেতে রাজ্য শাসন করে, কত সুখশান্তি বিরাজ করে প্রজার ঘরে ঘরে, নানা স্থানে স্থানে। নানা স্থানে স্থানে শুভ ক্ষণে পুষ্কর্ণি কাটিল, বেলাই বিল শুষ্ক করি নিজ প্রতাপ দেখাইল, ভাই অদ্ভুত কাহিনী।” (১৯) শ্ৰীযুক্ত দীনেশচন্দ্র সেন মহাশয় বলেন, যে, “জন- শ্রুতি ও নাম পৰ্যালােচনায় নি তিব্বতদেশীয় ছিলেন, এইরূপ বােধ ইন্ন। খাইড়া ডেস্ক (১৯) শ্ৰীযুক্ত যতীন্দ্রমােহন রায় প্রীত “ঢাকার ইতিহাসে এই গানটী উদ্ধত হইয়াছে।
( ২৭ ) কায়স্থ জাতির সহিত মিলিয়া যাইতে চাহিয়াছিলেন, ভাট পরিচয়ে ইহাই প্রতিপন্ন হয়।” শ্ৰীযুক্ত দীনেশচন্দ্র সেন মহাশয় খাইডা ভােস্কা সম্বন্ধে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হইয়াছেন, তদ্বিষয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। সেন মহাশয় অবগত আছেন কিনা জানিনা, যে, পূৰ্ব্ববঙ্গে বৃহৎ কাষ্ঠখণ্ডকে খাইড, এবং স্থূলকায়কে ভােস্কা অথবা ঢেঙ্কা বলা হইয়া থাকে। হয়ত নৃপতি অত্যন্ত স্কুলদেহ হও- য়াতে লােকে বিদ্রুপ করিয়া তাহাকে খাই ভােস্কা বলিত, এবং ক্রমে সেই নামই প্রচলিত হইয়া গিয়াছে। উক্ত নৃপতি তিব্বতদেশীয়, অথবা বিদেশাগত এরূপ কোন প্রবাদ নাই। সুতরাং, বিনাকারণে পুর্বোক্তরূপ সিদ্ধান্ত করা আমরা সমীচীন বােধ করি না। বিশেষতঃ, তিব্বতীয় ভাষায় খাইড ডােস্কা শব্দের কোনরূপ অর্থ হয় কিনা, জানিনা। এমতাবস্থায় এই অদ্ভুত নাম শ্রবণ মাত্রই তাহা তিব্বত দেশীয় বলিয়া অনুমান করা উচিত নহে । কাহারও কাহারও মতে খাইড়া ভােস্কার অপর নাম খট্টেশ্বর ঘােষ ; তিনি কায়স্থ জাতীয়, এবং তাহার সন্তানগণ অদ্যাপি ভাওয়ালের অন্তর্গত বাইরা গ্রামে বাস করিতে- ছেন। খট্টেশ্বর ঘােষ ভাওয়ালের তদানীন্তন একজন প্রতাপশালী ভূস্বামী ছিলেন। কথিত আছে, যে, ভাওয়ালের অন্তর্গত সুবৃহৎ বেলাই বিল পূৰ্ব্বে একটী খরস্রোতা স্রোতস্বতীরূপে বিরজমান ছিল। এই স্রোত- স্বতীতে খাই ডােঙ্কার পুত্র এবং পুত্রবধু নৌকাডুবি হইয়া মারা যাওয়াতে প্রতাপশালী নৃপতি ক্রুদ্ধ হইয়া উহা হইতে ৮টী খাল কৰ্ত্তন করিয়া উহার সমস্ত জল
( ২৮ }
নিঃশেষিত করেন, এবং উহা তদবধি এই বিলে পরিণত
হয়। ঢাকার ইতিহাসে” শ্ৰীযুক্ত যতীন্দ্র মােহন রায়
লিখিয়াছেন, “গত বৎসর বেলাই বিলের একটী মৎস্থের
ডাঙ্গা খনন কারতে মৃত্তিকার নীচে সারি সারি কঁঠাল
গাছের গােড়া পাওয়া গিয়াছে। সুতরাং, বিল হইবার
পূৰ্ব্বে ঐ স্থানটা একটী জনপদ ছিল এরূপঅনুমান করা
অসঙ্গত নহে।”
ভাওয়াল এবং কাশীমপুর অঞ্চলে বহু কোচ এবং বংশী
জাতীয় লােকের বাস। ইহারা পূৰ্ব্বকালে কোচবেহারের
এবং নেপালের অধিবাসা ছিল সন্দেহ নাই। কোন
সময়ে ইহার এইরূপ দলবদ্ধ হইয়া বঙ্গের এই অঞ্চলে
বাস করিতে আরম্ভ করে, তাহা প্রণিধানযােগ্য বিষয়।
ইহাদের পূজা পার্বণাদিতে অনেক বৌদ্ধ রীতির আভাস
অতি সুস্পষ্টরূপে বৰ্তমান। ইহার অত্যন্ত নির্ভীক প্রকৃতি,
সরল, এবং বিশ্বাসী। আহােম এবং কোচগণ বহুবার
লুণ্ঠনের উদ্দেশ্যে পূর্ববঙ্গ আক্রমণ করে। দিনাজপুর
স্তম্ভলিপি হইতে "কাম্বোজান্বজ গৌড়পতি’র অধীনে
নেপালবাসীগণ কর্তৃকও বঙ্গবিজয় বার্তা আমরা প্রাপ্ত
সম্ভবতঃ, এই সকল আক্রমণের পর বিদেশীয়
ব্যক্তিগণ দলবদ্ধ হইয়া এই অঞ্চলে বাসস্থান নির্দিষ্ট করে,
এবং তদবধি ইহারা এই প্রদেশেরই অধিবাসী হইয়া
গিয়াছে ।
শিশুপাল অথবা তদীয় বংশধরগণের মধ্যে কাহার
রাজত্বকালে এ অঞ্চলে নিম্নজাতীয় ব্যক্তিগণের প্রভাব
( ২৯ )
বিস্তৃত হয়, এবং বিদেশীয়দিগের আক্রমণ এবং লুণ্ঠন
ব্যাপার আরম্ভ হয়, তাহা নিরূপণ করা সুকঠিন।
পূৰ্ব্বে শিশুপালের যে সমুদয় কীর্তি চিত্নের বিষয়
উল্লিখিত হইল, তদ্ব্যতীত ভাওয়ালের আরও বহু স্থানে
এই নৃপতির কীৰ্ত্তি চিত্নাদি দৃষ্ট হয়। কিন্তু, ঐ সমস্ত
স্থান নিবিড় অরণ্যাবৃত হওয়াতে অতিশয় দুর্গম, সুতরাং,
সমস্ত স্থানের সন্ধান পাওয়াও দুঃসাধ্য।
( ৩০ ) যশেপাল। যশােপাল রাজার কাৰ্ত্তি চিহ্রাদি মাধবপুর এবং তৎসন্নিহিত বহু স্থানে দৃষ্ট হয়। মুসলমান গাজীদিগের রাজত্বকালে মাধবপুরের নাম গাজীবাড়ী হইয়াছে, এবং অদ্যাপি ঐ গ্রাম উক্ত নামেই পরিচিত। যশেপালের গৃহদেবতা মাধবের নামানুসারেই বােধ হয় যশেপালের রাজধানীর নাম মাধবপুর হইয়াছিল। এই বিগ্রহের বিবরণ পরে উক্ত হইবে। গাজাবাড়া গ্রাম চঁাদ প্রতাপ ও তালিপাবাদ পরগণার মধ্যবর্তীস্থলে অবস্থিত। গাজীবাড়ী গাজাখালি নামক নদীর তীরে অবস্থিত। পূৰ্বে গাজাখালি নদী ঢাকার একটা প্রধান নদী বলিয়া পরিগণিত ছিল। রেণেলের মানচিত্রে আমরা যে কানাই নদী দেখিতে পাই, সেই কানাই নদীর সহিত বংশাই নদীর একটী প্রবাহের সম্মিলনের ফলে গাজীখালি নদীর উৎপত্তি হইয়াছে। গাজীখালির পূর্বদিকে নদীতীরে হইতে কিঞ্চিৎ দূরে যশােপালের বড় দীঘি ও ঘােট দীঘি নামে খ্যাত দুইটা বৃহৎ দীর্ঘিক। বৰ্তমান। উভয় দীঘিকাই “জান” ( সংযােজক পয়ঃ প্রণালী ) দ্বংরা একটী বিলের সহিত সংযুক্ত। শীতকালেও উভয় দীর্ঘিকাতে গভীর জল থাকে। উভয় দীর্ঘিকাই উত্তর দক্ষিণে খােদিত ও পরস্পর সমান্তরাল ভাবে অবস্থিত। এই উভয়ের পর- স্পর ব্যবধান বােধ হয় ৪০০ গজের অধিক হইবে না।
---
মাধবপুরের বড়দীঘি
মাধবপুরের ছােটদীঘি
E. B. P. & P. House, Dacca.
No text on this page.
৩১ } বড় দীঘি ও ছােট দীঘি এতদুভয়ই আনুমানিক একখাদা * ৩৭৫ হাত x২০০ হাত) পরিমাণ বিস্তৃত। বড় দীঘিতে বাধান ঘাটের কোন চিন্তু বর্তমান নাই, বােধ হয় কাল- বশে ধ্বংস প্রাপ্ত হইয়াছে। ছােট দীঘির উত্তর তটে এখনও ইষ্টক-নির্মিত ঘাটের সুস্পষ্ট চিহু দৃষ্ট হয়। দীঘি ও ছােট দীঘি আধুনিক নাম, দীর্ঘিকা-দ্বয়ের প্রাচীন নাম জানা যায় না। দীর্ঘিকাদ্বয়ের উত্তর তটে এবং উহাদের মধ্যবর্তী স্থানে রাজপ্রাসাদ অবস্থিত। ৫০/৬০ বৎসর পূর্বেও বাটীর ভগ্নাবশেষ বৰ্তমান ছিল ; গ্রামস্থ বহু প্রাচীন ব্যক্তি তদ্বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন। ঐ সমস্ত গ্রামে বসাত হওয়াতে গ্রামবাসিগণ ক্রমে তাহা সমতল করিয়া ফেলিয়াছে। যে স্থানে বাটী অবস্থিত ছিল, তথায় অদ্যাপি বহু ইষ্টক বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পতিত আছে। কৃষকগণ বলল যে ইষ্টকের পরিমাণ এত অধিক যে তথায় হলচালন অত্যন্ত আয়াসসাধ্য। গ্রামবাসিগণ রাজবাটীতে একটী ইষ্টকে বঁাধান বৃত্তাকার ক্ষুদ্র চৌবাচ্চা প্রদর্শন করিয়া বলিল যে, প্রায় তিন বৎসর পূর্বে কোনও ব্যক্তি মৃত্তিকা খননকালে ঐ স্থানে পাত্রপূর্ণ বহু মুদ্রা প্রাপ্ত হয়। স্থানীয় জমিদারের প্রধান কর্মচারীও ঐ উক্তি সমর্থন করাতে উহা বিশ্বাসযােগ্য বলিয়া মনে হইল। যে ব্যক্তি ঐ গুপ্ত ধন পাইয়াছে, বহু অনুসন্ধানেও তাহার কোন সন্ধান পাওয়া যায় নাই, এবং পুরস্কার ঘােষণা করা সত্ত্বেও উহার একটা মুদ্রাও কেহ কেহ দিতে ঐ মুদ্রা পাওয়া গেলে হয় ত যশোেপাল পারিল না।
রাজার লুপ্ত ইতিহাস উদ্বারের অনেক সহায়তা হইত। উক্ত ইষ্টক নির্মিত চৌবাচ্চাটীর ইষ্টকগুলি এত পুরাতন, যে সামান্য অঙ্গুলির চাপেই উহা একেবারে গুড়া হইয়া যাইতে লাগিল। রাজবাটীর চতুর্দিকেই সুপ্রশস্ত পরিখা বেষ্টিত। বাটীর দক্ষিণ দিকে বহুদূরব্যাপী বিল ( জলাকীর্ণ স্থান). এবং অপর তিন দিকেই পরিখার সুস্পষ্ট চিহ্ন বৰ্তমান। বড় দীঘির অব্যবতি পশ্চিম হইতে পরিখ। আরম্ভ হইয়া বাটীর চতুর্দিক বেষ্টন করতঃ, ছোট দীঘি অবা- বহিত পূৰ্ব দিক দিয়া বিলের সহিত সংযুক্ত হইয়াছে ই। পরিখার অপর দিকও বিলের সহিত সংযুক্ত। পশ্চিম দিকের এবং উত্তর দিকের পরিখায় বর্ষাকালে জল থাকে। উত্তর দিকের কিয়দংশ অনেক পরিমাণে ভরিয়া গিয়া একটী ক্ষুদ্র বাইদ সজল নিম্নভূমি রূপে পরিণত পূর্ব দিকের পরিখা প্রায় বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে, কিন্তু, এখনও উহার সুস্পষ্ট ‘চহ্ন বিদ্যমান। পরিখার পার্শ্বে স্থানে স্থানে মৃৎপ্রকারের চিদি বৃষ্ট হয়। যশেপালের বাটীর পশ্চিম দিকস্থ পরিখ হইতে অনুমান অৰ্দ্ধমাইল পশ্চিমে গাজীখালি নদী প্রবাহিত। গাজীখালির পশ্চিম তীরে মাধবচালা বা মাধব টেক অ- স্থিত ; মাধব চালার দক্ষিণ দিকে পূর্বোক্ত বিস্তৃত বিল। এই মাধবচালার প্রসঙ্গে এ স্থানে যােপালের গৃহদেবতা মাধবের বিষয় উল্লেখ করা কর্তব্য। দেশ প্রচলিত প্রবাদ এই, একদা যশেপাল নৃপতি এক শ্বেত হস্তীপৃষ্ঠে কোনও স্থানে যাইতে ছিলেন। তাঁহার রাজধানীর অদূরেই হইয়াছে। ;
একটী স্থানে উপস্থিত হইয়া হস্তী হঠাৎ ভয় চকিত ভাবে
দণ্ডায়মান হইল, শত অঙ্কুশ প্রহারেও অগ্রসর হইল না,
এবং শুণ্ড উত্তোলন করিয়া একটী স্থান পুনঃ পুনঃ প্রদর্শন
করিতে লাগিল। সুশিক্ষিত হস্তীর ঈদৃশ অদ্ভুত ব্যবহারে
বিস্মিত হইয়া রাজা ঐ স্থান খনন করিতে আদেশ
দিলেন। রাজাদেশে বহুদূর খনিত হইলে একটী মন্দির
এবং তন্মধ্যস্থ মাধব মূৰ্ত্তি দৃষ্ট হয়। তখন হঠাৎ দৈববাণী
হয় যে, যশােপাল মাধবকে স্থানান্তরিত করিলে তাহার
রাজ্য এবং বংশ নষ্ট হইবে। “যশোমাধব সংবাদে
মাধবমূর্তির প্রাপ্তি সম্বন্ধে লিখিত আছে,
“মাটি কাটি শ্রীমন্দির বাহির করিল।
কপাট ভিতরে আটা খুলিতে নারিল ।
অতঃপর মহারাজা ব্যাকুল হইয়া ।
তিন দিন অনাহারে রৈল হত্যা দিয়া।
ভক্তি দেখি ভগবান নারিল থাকিতে।
দৈববাণী আসি তারে কৈল অলক্ষিতে।
তাের বংশ থাকিবে না তুলিলে আমারে।
ধন বংশ চাও যদি ফিরে যাহ ঘরে।
তমােপূর্ণ পৃথিবী দেখিয়া আমি ডরে।
লুকাইয়া আছি হেথা মৃত্তিকা ভিতরে।”
ভক্ত নৃপতি ইহাতে বিচলিত হইলেন না; প্রত্যুত্তরে
তিনি মাধবকে বলিলেন,-“তুমি মাের ধনবংশ তুমি
শিরােমণি।” পার্থিব সম্পদ অপেক্ষা পারলৌকিক
সম্পদকেই অধিক বাঞ্ছনীয় মনে করিয়া যশোেপাল
মাধবকে ঐ স্থান হইতে উত্তোলিত করিলেন, এবং তথায়
{ ৩৪ )
প্রকাণ্ড মন্দির নির্মাণ করিয়া তাহাতে মাধবকে স্থাপিত
করিলেন। যে স্থান হইতে মাধবকে উত্তোলিত
করা হয়, সেই গর্তটী এখনও বিদ্যমান, এবং “মাধবের
চৌবাচ্চা” নামে খ্যাত। উহা একটী ক্ষুদ্র পুষ্করিণীর
ন্যায় এবং প্রায় ২৫ হাত লম্বা ও ২০ হাত প্রশস্ত।
যশােপাল যে স্থানে মাধবের মন্দির নিষ্মিত করেন,
সেই স্থান এখন “মাধব চালা” অথবা “মাধব টেক” ,
নামে খ্যাত, এবং তাহারই মধ্যে “মাধবের চৌবাচ্চা”
অবস্থিত। মন্দিরের ভগ্নাবশেষ এখন বর্তমান নাই,
কিন্তু সমস্ত টেষ্টীতে ( উচ্চ ভূমিতে) বহু ইষ্টক বিক্ষিপ্ত
অবস্থায় পতিত থাকিয়া অতীত কীর্তির সাক্ষ্য প্রদান
করিতেছে।
দৈববাণী কাৰ্যে পরিণত হইয়া যশােপাল নিৰ্ব্বংশ
হইলেন, এবং 'হার রাজ্য নষ্ট হইল। ভক্তের স্মৃতি
অক্ষুন্ন রাখিবার জন্য মাধব তদবধি নিজ নামের পূব্বে
ভক্তের নাম সংযোগ করিয়া যশােমাধব নামে খ্যাত
হইলেন। বংশ গেল যশােনাম মাধবে মিলিল।”
যশেপালের রাজ্যবিনাশের পর তঁাহার রাজধানীও ক্রমে
জনশূন্য হইয়া গেল। মাধব বােধ হয় অনাদৃত অবস্থাতেই
তথায় অনির্দিষ্ট কাল অবস্থান করেন।
পরে স্থানীয়
জনৈক জমিদার গােবিন্দপ্রসাদ রায় বন মধ্যে সেই
মূৰ্ত্তি প্রাপ্ত হইয়া শিমুলিয়া গ্রামস্থ জনৈক ব্রাহ্মণকে উহা
দান করেন। পরে সেই ব্রাহ্মণ নিজ জামাতা ধামরাইর
পার্শ্ববর্তী "পঞ্চাশ' নামক পল্লীবাসী শ্ৰোত্রায় ব্রাহ্মণ রাম
জীবন রায় মৌলিককে বিবাহের যৌতুক স্বরূপ (?)
না”
.
from
লে
রে
017"
뢰
বি
+++++
গ
মাধবপুরস্থ প্রাসাদ এবং মাধব মন্দির প্রভৃতির আনুমানিক মানচিত্র
মাধবের চৌবাচ্চা
E. B. l. af 1. llunsc, Dacca.
No text on this page.
( ৩৫ ) উক্ত মূৰ্ত্তি দান করেন। তদবধি মাধব যশােমাধব নামে ধামরাই গ্রামে উক্ত মৌলিক বংশেই প্রতিষ্ঠিত আছেন। মৌলিক মহাশয়দের প্রদত্ত বিবরণ অনুসারে ১০৭৯ তৃঙ্গাব্দে (খৃঃ ১৬৭২) মাধব মূৰ্ত্তি তাহাদের হস্তগত হয়। মৗলিক মহাশয়দের নিকট যে দুইখানা প্রাচীন দলিল আছে, ( ২০ } তাহা হইতে জানা যায় যে, যশােমাধব পর্বে মরাল গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, এবং তৎকালে রামশৰ্ম্মা, ভগীরথ শৰ্ম্মা, ও রাধাবল্লভ শৰ্ম্মা ঠাকুরের সেবাইত নিযুক্ত ছিলেন, এবং রামজীবন মৌলিক “পুরুষানুক্রমে সেবার সরবরাহ করিতেন। আওরঙ্গ- জেব বাদশাহের রাজত্বকালে তিনি হিন্দুর সমস্ত দেব- দেবীমূৰ্ত্তি ভগ্ন করিয়া দিতে আদেশ প্রদান করেন। মুসলমানগণের অত্যাচারের ভয়ে পূজারীগণ এবং রাম- জীবন মৌলিক গােপনে মাধব বিগ্রহ মন্দির হইতে মৌলিক মহাশয়ের নিজবাটীতে স্থানান্তরিত করেন । তদবধি মাধব তথায়ই বিরাজ করিতেছেন। মৌখিক মহাশয়দের ভদ্রাসনবাটী পূৰ্বে ‘ঠাকুর বাড়ী পঞ্চাশ’গ্রামেই ছিল, এবং উহাই আদি ধামরাই। পরবর্তী কালে বর্তমান স্থানে মাধবকে প্রতিষ্ঠিত করা হয় । এই স্থান পূৰ্বে বনাকীর্ণ ছিল। ঠাকুরবাড়ী পঞ্চাশে” “মাধববাড়ীর ঘাট" বলিয়া একটী ঘাট অদ্যাপি বৰ্তমান আছে। উহার সন্নিকটেই মাধবের পুরাতন মন্দির অবস্থিত ছিল। (২০) এই দলিল দুইখানার নকল শ্ৰীযুক্ত যতীন্দ্রমােহন রায় প্রণীত “ঢাকার ইতিহাস” প্রথম খণ্ডে প্রকাশিত হইয়াছে। উভয় দলিলই ১০৭৯ বঙ্গাব্দে লিখিত।
( ৩৬ } নবাবী আমলের কাগজ পত্রে “মাধব বাড়ীর ঘাট” বলিয়া ঐ স্থান চিহুিত হইয়াছে। মাধবের নামে বহু দেবোত্তর সম্পত্তি আছে ; তাহার আয়দ্বারা প্রত্যহ মাধবের ষােড়শােপচারে পূখ। হয়। ধামরাইর মাধবের রথযাত্রা দেশ বিখ্যাত ; সময়ে ধামরাইতে প্রায় লক্ষ লােক সমবেত হয়। বিচিত্র বসনভূষণ ও প্রভূত স্বর্ণালঙ্কার সজ্জিত মাধবমুর্তি বাস- বিকই মনােমুগ্ধকর। এরূপ সুন্দর মুক্তি এতদ্দেশে কুত্রাপি দৃষ্ট হয় না। মাধব সম্বন্ধে আরও বহু জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। মাধবমূৰ্ত্তি দারু নিৰ্ম্মিত এবং নবজলধরশ্যামবর্ণ। কথিত আছে, যে কাষ্ঠ খণ্ডদ্বারা শ্রীক্ষেত্ৰধামের জগন্নাথ মুক্তি নির্মিত হয়, তাহারই অবশিষ্টাংশ দ্বারা বিশ্বকৰ্ম্ম মাধব মূর্তি নির্মাণ করেন। মাধবের মূর্তি নির্মাণ সম্বন্ধে লিখিত আছে - “অৰ্দ্ধমূৰ্ত্তি রাখি বিশ্বকৰ্ম্মা মহামতি । চলে গেল নিজস্থানে হয়ে ক্ষুমতি। তারপর শুনহ অদ্ভুত বিবরণ। যেমনে মাধবমূৰ্ত্তি হইল গঠন। জগন্নাথ নিরমিয়া যে কাষ্ঠ আছিল। গৃহে আনি যত্নে তারে মৃরতি গঠিল । শঙ্খচক্রগদাপদ্ম চতুভূজধারী। কস্তুরি শােভিত কর মাধব মুরারি। পদতলে নিরমিল রুক্ত শতদল। রবি শশি যার তেজে করে ঝলমল। - ধামরাইর শ্ৰী শ্ৰীযশােমাধব A. B. . ( . IIouse, lail.
No text on this page.
ক্ষীরোদসাগর শয্যা অনন্ত আসন। কিরীট কুণ্ডল আর রত্ন আভরণ। লক্ষ্মী সরস্বতী দোহে করে পদসেবা। দশ অবতার দিল লীলা বােঝে কে বা কপালে মাণিক দিল সূৰ্য কোন ছার। করিয়াছে চুরি যাহা পাওা দুরাচার । } হিরণ্য গভের যেবা বুদ্ধি দিয়াছিল। সেই মূর্তি বিশ্বকৰ্ম্মা অভেদ গড়িল । গড়িয়া বিরলে মূর্তি সহস্র বৎসর। পূজা করে মত্ত লােকে, নাহি জানে নর।” পৃথিবী তমােপূর্ণ দেখিয়া ভয়ে মাধব মৃত্তিকানিম্নে অবস্থান করিতেছিলেন, পরে তাহাকে যশােপাল তথা হইতে উত্তোলিত করিয়া প্রতিষ্ঠিত করেন। কথিত আছে, মাধব প্রতিষ্ঠার পর যশােপালের উপর স্বপ্নাদেশ হয় যে, মাধবের স্ত্রী তখনও সেই গর্ভমধ্যে বিরাজ করিতেছেন। যশোেপালের আদেশে পুনরায় সেই গর্ত্ত খনন কালে খননকারীদের অনবধানতাবশতঃ খনিত্রের আঘাতে মাধবের স্ত্রীর নাসিকা ভগ্ন হইয়া যায় । ইহাতে তিনি তৎক্ষণাৎ ভূপ্রােথিত হইলেন, বহু চেষ্টাতেও আর তাহাকে পাওয়া গেল না। কথা প্রসঙ্গে যশােমাধবের প্রতিষ্ঠা-স্থান ধামরাই গ্রামের ঐতিহাসিকতা সম্বন্ধে দুই একটা কথা বােধ হয় এ স্থানে নিতান্ত অপ্রাসঙ্গিক হইবে না। প্রাচ্য- বিদ্যমহর্ণব শ্ৰীযুক্ত নগেন্দ্র নাথ বসু মহাশয় ধামরাই সম্বন্ধে যে সিদ্ধান্ত করিয়াছেন, এবং শ্রীযুক্ত দীনেশচন্দ্র
৩৮ )
সেন মহাশয় যাহার সমর্থন করিয়াছেন, নিম্নে তাহা
উদ্ধত হইল।
বসু মহাশয় বলিতেছেন,-“বহু দিবস হইল সুহৃদ্ধর
শ্ৰীযুক্ত দীনেশচন্দ্র সেন মহাশয়ের নিকট ধামরাই নামক
প্রাচীন গ্রামের নাম শুনিয়া তৎকালে বলিয়াছিলাম যে '
স্থান ধৰ্ম্মরাজিকা শব্দের অপভ্রংশ। মৌর্য সম্রাট ও শাক
৮৪০ ০ ০ ধৰ্ম্মরাজিকা প্রতিষ্ঠাপিত করিয়াছিলেন, সম্বন্ধে
অশোকাবদান ইওে এইরূপ প্রমান পাইয়াছি।
“অশােকের নাম। রাজা বভূবেতি। তেন চতুরশীতি-
ধৰ্ম্মরাজিকাসহস্রং প্রাতিষ্ঠাপিতং । যাবৎ ভগবচ্ছাসনং
প্রাপ্যতে তাবৎ তস্য যশঃ স্থাস্ফীৎ।"
বসু মহাশয়ের সিদ্ধান্ত স প্রমাণ করিবার জন্য শ্রীযুক্ত
দীনেশচন্দ্র সেন একখানি প্রাচীন দলিলের বিষয় উল্লেখ
করিয়াছেন। সম্প্রতি ধামরাইবাস। শ্ৰীযুক্ত কামাখ্যা
প্রসাদ বসু, বি, এল, মহাশয় একখানি ৩০০ বৎসরের
প্রাচীন দলিল উপস্থিত করিয়াছেন, তাহাতে দেখা যায়,
ধামরাই গ্রামের প্রাচীন নাম ধৰ্ম্মরাজিই ছিল। ধৰ্ম্ম রাজি
চলিত ভাষায় ধামরাই হইয়াছে। উক্ত অশােকাবদান
হইতে জানিতে পারি যে, সম্রাট অশােক যে সকল
ধৰ্ম্মরাজিকা প্রতিষ্ঠা করেন, পুষ্পমিত্র সেই সকল ধ্বংস
ধামরাই গ্রামে এইরূপ কোন ধৰ্ম্ম রাজিকা
ছিল, তাহা হইতেই এ স্থানের ধৰ্ম্মরাজিকা নামকরণ
হইয়া থাকিবে।" (২)
(২১) শ্ৰীযুক্ত দীনেশচন্দ্র সেন--প্রবাসী, আষাঢ়, ১৩১৯।
সম্প্রতি শ্ৰীযুক্ত যতীন্দ্র মােহন রায় তৎপ্রণীত “ঢাকার
ইতিহাসে” উল্লিখিত দলিলখানির নকল প্রকাশিত করিয়াছেন।
শাকাসর গ্রামে সম্প্রতি একটী প্রস্তরস্তম্ভ আবিষ্কৃত
হইয়াছে। উহার বিশেষ বিবরণ পরিশিষ্টে প্রদত্ত হইল।
ধামরাই হইতে শাকার অধিক দূরবর্তী নহে। ধামরাই
গ্রাম অশােকের ধৰ্ম্মরাজিকা অবস্থিত ছিল, ইহা
প্রমাণিত হইলে, এইরূপ অনুমান করা অসঙ্গত নহে যে,
শাকার প্রাপ্ত স্তম্ভটীই হয়ত ধামরাইর ধৰ্ম্মরাজিকা
ত। কালক্রমে উহা ভূপতিত হইয়াছে, এবং হয়ত
পরে উহা কিঞ্চিদ্দরবী শাকাসর গ্রামে নীত হইয়া
গ্রামবাসিগণ কর্তৃক বনদেবতা জ্ঞানে পূজিত হইতেছে।
এইরূপ অনুমান করিবার অন্য একটি কারণ এই যে,
এইরূপ প্রস্তরস্তম্ভ পূর্ববঙ্গের আর কুত্রাপি দৃষ্ট হয় না ;
এবং ভারতের অন্যান্য স্থানের অশােক স্তম্ভের সহিত ইহার
সাদৃশ্য
লক্ষিত হয়।
যশেপালের রাজধানী মাধবপুর (গাজীবাড়ী) এবং
মাধব মন্দির ( আধুনিক মাধব চালা) হইতে কিয়দ্দরে
ৰাইগাও নামক গ্রামে জীয়স পুষ্করি নামে একটী দীর্ঘিকা
আছে। সাধারণের বিশ্বাস, যে গাভী অতি অল্প পরিমাণ
দুগ্ধ প্রদান করে, তাহার কিঞ্চিৎ জীয়স পুষ্করিণীতে দিলে
গাভী দুগ্ধবতী হয়। উক্ত জলাশয়ের আরও বহু দৈবী
ক্ষমতার নানাবিধ গল্প সাধারণ্যে প্রচলিত আছে। জীয়স
নামধেয় বহু পুষ্করিণী বঙ্গের সর্বত্রই পরিদৃষ্ট হয়। শ্রীযুক্ত
দীনেশচন্দ্র সেন মহাশয় অনুমান করেন যে, ঐ জলাশয়-
সমূহে বৌদ্ধযুগে ধৰ্ম্মের কোনরূপ প্রক্রিয়াদি সাধিত
হইত। (২২) এই অনুমানের কোন কারণ তিনি উল্লেখ
(২২) শ্ৰীযুক্ত দীনেশ চন্দ্র সেন। -প্রবাসী,“আষাঢ়, ১৩১৯
করেন নাই। যাহা হউক, প্রবাদ এই যে, বাইগাও গ্রামস্থ জীয়স পুষ্করণী যশেপালের খনিত। বাইগাওর সন্নিকটে কাউদিয়ার দীঘি নামক আর একটি অতি বৃহৎ জলাশয় বর্তমান কাউয়। গ্রামের নামানুসারেই উক্ত দীর্ঘিকার নাম হইয়া উহার প্রাচীন নাম জানা যায় না। এই কোটি যশােপালের রাজধানীস্থিত বাধি ও ছােদ ছি! হইতেও বৃহত্তর,—প্রায় উহাদের দ্বিগুণ হইবে। এই জলাশয়ও যশােপালের খনিত, এইরূপ প্রবাদ । মাধবপুরের সন্নিকটে গণকপাড়া গ্রাম বৰ্ত্তমান। গণকপাড়া এবং গৌরাপাড়া রেণেলের ( Renn) মান- চিত্রে বৃহৎ এবং বিখ্যাত স্থান বলিয়া চিহ্নিত। নদীর গতি এই স্থানে বহু পরিবর্তিত হওয়াতে উহার প্রায় সমস্তই নদী স্রোতে ভাঙ্গিয়া গিয়াছে। টেল লিখিয়াছেন যে, তাহার সময়েরও কতিপয়বর্ষ পূৰ্বে গৌরীপাড়াতে দুর্গ প্রাকার সমূহের ভগ্নাবশেষ বৰ্তমান ছিল। (২৩) টেলরের সময়ের পূর্বেই তাহা নদীকবলিত হয়। প্রবাদ এই, গ্রামদ্বয়ে রাজগণকগণ বাস করিতেন, এবং এখানেও যশেপালের রাজপ্রাসাদ বৰ্ত্তমান ছিল। এখনও এস্থানে বহু ইষ্টকাদি এবং সময়ে সময়ে নানা কারুকাৰ্য্য- খােদিত ইষ্টকও দৃষ্ট হয়। হিন্দু রাজত্বের অবসানের পরও এইস্থান সুবিখ্যাত ছিল। বঙ্গের পাঠান নৃপতি মােগল কর্তৃক বিতাড়িত হইয়া এই প্রদেশেই বহুদিন ( * ) Taylor's "Topography and Statistics of Dacca.' EPaug 111, লুকায়িত থাকেন, এবং ওসমানের অধীনে পাঠানগণ এইখানে সমবেত হইয়া মােগলের বিরুদ্ধে অনেক খণ্ডযুদ্ধ করেন। তাহারা গণকপাড়াতে দুর্গ এবং বাসূবনদি নির্মাণ করেন। ধামরাইর নিকটে 9.ঠানতলি নামক গ্রাম এখনও তাহার সাক্ষ্য প্রদান করিছে । কথিত আছে, ইসলাম খা যখন বঙ্গের রাজধানী পূব্ববঙ্গে স্থানাশুরিত করিতে কৃতসংকল্প হন, তখন তিনি গণকপাড়াতেই বঙ্গের ব্রাজধানী স্থাপন করিতে ইচ্ছা করেন? কিন্তু উহা নিম্নভূমি এবং অস্বাস্থ্যকর বলিয়া ঢাকাতে রাজধানী স্থাপিত হয় (২৪)। ইহা দ্বারা সহজেই অনুমিত হয় যে, ইসলাম খাঁর পূৰ্বেও, অর্থাৎ হিন্দু রাজত্বের সময় হইতেই গণকপাড়া সুবি- খ্যাত স্থান ছিল, নচেৎ এ স্থানে সমগ্র বঙ্গদেশের রাজ- ধানী প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তাব হওয়া অসম্ভব। গড় কাশীমপুর হইতে কিয়দ্দরে অবস্থিত জরুন এবং সুরাবাড়ী নামক পল্লীদ্বয়ে যশেপালের কীর্তি-চিহৃদি দৃষ্ট হয়। জরুন গ্রামে কতিপয় বর্ষ পূব্বে মৃত্তিকা খনন করিতে করিতে একটি প্রাচীর দৃষ্ট হয় । পরে আরও বিস্তৃত ভাবে ঐ স্থান খনন করাতে বহু অট্টালিকার চিহ্নাদি বাহির হইয়া পড়িয়াছে। প্রবাদ এই, ঐ স্থানে . - (18) Taylor's "Tropog meplay and Statistics of Parca.' -Page 114.
( ৪২ ) } যােপালের বাসভবনাদি ছিল। কালবশে উহা ভূ-প্রােথিত হইয়া গিয়াছে। সুরাবাড়ী গ্রামেও ৪৫ মাস পূর্বে মৃত্তিকা খননকালে অট্টালিকার ভূপ্রােথিত ভগ্নাবশেষ বহির্গত হইয়াছে। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, পূর্ববঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপাল, যশােপাল, শিশুপাল, প্রভৃতি পাল রাজগণের যে সমস্ত কীর্তি-চিহ্নদি দৃষ্ট হয়, তাহার সমস্ত স্থানেরই ইষ্টক সমূহ, দুর্গ প্রাকার, এবং পরিখা প্রভৃতিতে অত্যাশ্চৰ্য্য সাদৃশ্য দৃষ্ট হয়। সুরাবাড়ী, জরুন, মাধবপুর, একডালা, সাভার প্রভৃতি সমস্ত স্থানই আমি দর্শন করিয়াছি, এবং সমস্ত স্থানের ইষ্টকাদিই আমার নিকট সংগৃহীত আছে, কিন্তু তাহাদের মধ্যে কোনরূপ পার্থক্য দৃষ্ট হয় না। পূর্বে যে সমস্ত স্থানের বিষয় উল্লিখিত হইল, তদ্ব- তীত বড়ইবাড়ী গ্রামে যশেপালের বহু কীওি-চিহ্নাদি দৃষ্ট হয় । এ স্থানটি বিশেষ উল্লেখযোেগ্য। বড়ইবাড়ী গ্রামটি তুরাগ নদীর উপর অবস্থিত, নদীর তীর হইতে বর্তমান বঙইবাড়ী গ্রাম প্রায় এক মাইল উত্তর দিকে। গ্রামের উত্তরে একটি সমুন্নত ভূমিখণ্ডের উপর যশাে- পালের কীত্তি-চিহ্লাদি দৃষ্ট হয়। ঢোল সমুদ্র সব্বপ্রথম উল্লেখযােগ্য। এরূপ সুবৃহৎ দীর্ঘিক। এ অঞ্চলে অন্য কুত্রাপি দৃষ্ট হয় না। প্রায় তিন খাদা ভূমির উপর এই সুবিস্তীর্ণ দীর্ঘিকা বিরাওমান। ইহার গভীরতাও সুপ্রসিদ্ধ ; শীত কালেও ইহাতে প্রায় ১৫২০ হাত জল থাকে। কথিত আছে যে, দীর্ঘিকার নিম হইতে ঢােল বাজাইলে উপর হইতে তাহার শব্দ শুনা না যায়,
( ৪৩ )
',
যশােপাল নৃপতি এইরূপ গভীর করিয়া এই দীর্ঘিকা
খনন করিতে আদেশ প্রদান করেন। তদনুসারে ইহার
নাম ঢােলসমুদ্র হইয়াছে। এই প্রবাদ বাক্য মিথ্যা
বলিয়া মনে হয় না। কিরূপ গতার করিয়া খনন করিলে,
জীর্ণ সংস্কার ব্যতীতও, খননের প্রায় সহস্র বৎসর
পরৈ শীতকালে দীর্ঘিকাতে ১৫:২০ হাত জল থাকিতে
পারে, তাহা সহজেই অনুমেয়। ঢােল সমুদ্রের উত্তর ও
পশ্চিম দিকে বাঁধান ঘাটের চিন্তু অদ্যাপি বর্তমান
আছে।
ঢােল সমুদ্র হইতে অনতিদুরে কোটামণি নামক আর
একটী দীর্ঘিকা বৰ্ত্তমান। ইহা ঢোল সমুদ্রের ন্যায় বৃহৎ
না হইলেও, ক্ষুদ্র নহে। ইহাও প্রায় এক খাদা
ভূমির উপর খনিত ! কোটামণির পশ্চিম দিকে ঘাটের
চিন্তু বর্তমান। এই জলাশয়ের পশ্চিম তটে রাজবাটীর
ভগ্নাবশেষ দৃষ্ট হয়। ঐ স্থানে বহু ইষ্টক চতুর্দিকে
বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পতিত রহিয়াছে। মধ্যস্থলে একটি ভগ্ন
স্তপ আছে ; উহার ব্যাস প্রায় ১০/১২ হাত।
যায়, রাজবাটীর সন্নিহিত স্থানে হল-চালনা কালে
কৃষকগণ মুদ্রাদি,
অথবা প্রস্তর-খােদিত
মৃত্তি প্রভৃতি প্রাপ্ত হয়। কিন্তু আমরা বহু অনুসন্ধানেও
বড়ইবাড়ী হইতে কিছুই সংগ্রহ করিতে পারি নাই।
রাজবাটীর অভ্যন্তরে কোটামণি হইতে কিঞ্চিৎ দূরে
আর একটি অনতিবৃহৎ পুষ্করিণী দৃষ্ট হয়। উহা রাজাঃ-
পুরান্তবর্তী ছিল, এইরূপ প্রবাদ। এতদ্ব্যতীত বড়ইবাড়ীতে
আর একটি পুষ্করিণী বৰ্তমান আছে : তাহও বেশী
( ৪৪ ) বড় নহে। ঐ জলাশয়ে রাজার হস্তী স্নান করান হইত, এইরূপ জনশ্রুতি। বড়ই বাড়ী হইতে প্রায় চার মাইল উত্তরে জাঠিলিয়া গ্রামে যশোেপাল-খনিত আর একটি দীঘিঁকা দৃষ্ট হয়। উহাতেও একটি বাধান ঘাটের চিতু অদ্যাপি বর্তমান জাঠিলিয়া হইতে কয়েক মাইল উত্তরে বঙ্খ রি নামক গ্রাম। এখানেও ষশােপালের বাটীর ভগ্নাবশেষ বৰ্ত্ত- মান । রাজবাটীর পূর্বে ও দক্ষিণে দুইটা দীর্ঘিকা আছে, এবং তাহাতে বাধান ঘাটের চিহ্লাদি দৃষ্ট হয়। এ অঞ্চলে যশােপাল রাজার কীর্তি-fচাদির বিবরণ আমি যতদূর সংগ্রহ করিতে পারিয়াছি, উপরে তাহা বিবৃত হইল। এতদ্ব্যতীত অরণ্যাভ্যন্তরে হয়ত আরও বহু ধ্বংস-চিত্নাদি বর্তমান আছে।
No text on this page.
ভ
Wha
৬
-
-
সাভার ।
-
প্রতি . بین २ . MALAG saar -1 For 14 क หา D- HIST -wriu Yonimada Otoño शनी
No text on this page.
( ৪৫ ) হরিশ্চন্দ্র পাল ঢাকা নগরীর প্রায় ১৪ মাইল উত্তর পশ্চিমে ধলেশ্বরী তীরে সাভার গ্রাম অবস্থিত। এই স্থানে ধলেশ্বরী ভয়ঙ্করী মূর্তি স্বতঃই প্রাণে আতঙ্কের সঞ্চার করিয়া দেয়। সাভারের অনতিদূরে বিভিন্ন স্থানে বংশাই নদী এবং ঢাকা নগরীর নিম্নবাহিনী বুড়িগঙ্গা নদী ধলেশ্বরীর সহিত মিলিত হইয়াছে। তিনটি বৃহৎ নদীর প্রায় সঙ্গম স্থলে অবস্থিত হওয়াতে, সাভার স্বভাবতই বাণিজ্য- প্রধান স্থানের উপযােগী, এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত। ইহার প্রাকৃতিক দৃশ্যও অতি মনােরম। কাশীমপুর পরগণার প্রায় সীমান্ত ভাগে অতি উচ্চ ভূমির উপর সাভার অবস্থিত। এই সাভারে এবং ইহার চতুঃপার্শ্ববর্তী গ্রাম সমুহে হরিশ্চন্দ্র রাজার বহু কীৰ্ত্তি চিহ্লাদি দৃষ্ট হয়। সাভার রাজা হরিশ্চন্দ্র পালের রাজধানী ছিল। ইহার প্রাচীন নাম সম্বন্ধে মতভেদ দৃষ্ট হয়। অক্ষাং ২৩° ২৫'৫” উঃ, দ্রাঘিং ৯০° ১০” পু। (২৫) “বংশাবতী পূৰ্ব্ব তীরে সর্বেশ্বর নগরী, বৈসে রাজা হরিশ্চন্দ্র জিনি সুরপুরী।” এই পরটি সাভারে লােকমুখে শুনিয়াছি ইহার উপর আস্থা স্থাপন করিলে সাভারের প্রাচীন নাম (২৫) বিশ্বকোষ।
( ৪৬ }
সর্বেশ্বর এইরূপ অনুমিত হয়। কিন্তু কাহারও মতে
সাভারের প্রাচীন নাম সম্ভার। • ২৬) আপাতত; যে
পর্যন্ত জানা গিয়াছে, তাহাতে এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তে
উপনীত হওয়া সমীচীন নহে।
কথিত আছে, হরিশ্চন্দ্র গৌড় হইতে সসৈন্তে আগমন
করিয়া সাভারে রাজ্য স্থাপন করেন। বিশ্বকোষকার
অনুমান করেন যে, “যে সময় সেনরাজগণ বিক্রমপুরে
রাজত্ব করিতেন, সেই সময়ে, অথবা তাহার কিঞ্চিৎ
পূৰ্বে হরিশ্চন্দ্র প্রভৃতি পালরাজগণ বিক্রমপুর হইতে
মানিকগঞ্জের অন্তর্গত দাসসাড়া পৰ্য্যন্ত ভূভাগে সুপ্রতিষ্ঠিত
ছিলেন। (২৭) এই উক্তির শেনরূপ প্রমাণ উল্লিখিত
হয় নাই ; সুতরাং হরিশ্চন্দ্র রাজ্যের বিস্কৃতি সম্বন্ধে ও
কোনরূপ সিদ্ধান্ত করা সুকঠিন।
সাভার এবং তৎচতুঃপার্শ্ববর্তী গ্রাম
হরিশ্চন্দ্রের রাজধানী প্রতিষ্ঠিত ছিল। এই রাজধানীতে
হরিশ্চন্দ্র খনিত এত দীর্ঘিক। অদ্যাপি বর্তমান যে,
অঞ্চলে একটা পরগণাতে ইহার
সংখ্যক জলাশয়ও দৃষ্ট হয় না। কথিত আছে, রাজা
হরিশ্চন্দ্র তদীয় রাজধানীতে “কুড়ি বুড়ি” { ৪ • • শত )
দীর্ঘিকা খনন করেন, তন্মধ্যে রাজ বাটীর চতুর্দিকে ১২
গণ্ডা (৫০) এবং রাণী কর্ণাবতীর ভবনে { আধুনিক
(২৬) শ্ৰীযুক্ত বিজয় কুমার রায় বি, এ প্রতি
কত্তিক, ১৩১৯।
(২৭) বিশ্বকোষ।
সমূহ নিয়া
সাভারের সাগরদীঘি এবং তাহার পশ্চিম তটস্থ রাজ বাটীর ভগ্নাবশেষ। E. B. l. P. llouse, Dicet
No text on this page.
{ ' ৪৭}
কর্ণ পাড়ায়) ৭ গণ্ডা ( ৩০টা) দীর্ঘিক। খনিত হয়।
প্রকৃত পক্ষে সাভার অঞ্চলে এখনও এত জলাশয় দৃষ্ট হয়
যে, তাহাতে পূর্বোক্ত প্রবাদ বাক্য নিতান্ত অসম্ভব বলিয়া
মনে হয় না।
আমরা বহুসংখ্যক দীর্ঘিকার নাম সংগ্রহ করিয়াছি ;
নিম্নে তাহার তালিকা প্রদত্ত হইল। প্রবাদবাক্যানুসারে
যে চারিশত দীর্ঘিকা খনিত হয়, খননের প্রায় সহস্র বৎসর
পরে, অধুন। তাহার অধিকাংশই ভরাট হইয়া গিয়াছে,
কতকগুলি “ বাইদ ” ( নিম্ন ভূমি) এবং ধান্যক্ষেত্রে
পরিণত হইয়াছে। বােধ হয় সাভারে ও তৎপার্শ্ববর্তী গ্রাম
সমুহে, অর্থাৎ প্রাচীন রাজধানীর সীমার মধ্যে অদ্যাপি
প্রায় ২ • দীঘি কা বর্তমান আছে। কিন্তু ইহাদের
অধিকাংশেরই কোন নাম নাই, সুতরাং তাহা তালিকা-
ভুক্ত করা গেল না। যেগুলির নাম আছে, তাহাদেরও
প্রায় অনেক নামই আধুনিক ; হয়ত অবস্থান, প্রচলিত
প্রবাদ, এবং সন্নিহিত গ্রামের নামানুসারেই পরবর্তী কালে
তাহাদের নামকরণ করা হইয়াছে। নিম্নে দীষিকা-
সমূহের দীর্ঘ তালিকা প্রদত্ত হইল; এবং অধিকাংশ নামের
পার্শ্বে, ইহা যে গ্রামে অবস্থিত, তাহারও নাম লিখিত
হইল।
১। সাগর দীঘি। দীধিকা-সমূহের মধ্যে ইহার
নামই সর্বপ্রথম উল্লেখযােগ্য। ইহা অতি বৃহদায়তন
এবং অদ্যাপি ইহাতে বাঁধন ঘাটের চিহ্ন বর্তমান।
ইহার
পশ্চিম তটে রাজবাটীর ভগ্নাবশেষ বর্তমান
সাগরদীঘি ‘আইচের না’ ( মজিদপুর) গ্রামে অবস্থিত।
২। কেলি সরােবর। মজিদপুর গামে সাগরদীঘির পশ্চিমে অবস্থিত। ইহা অন্তঃপুরস্থিত ছিল, এবং রাজ্ঞীগণ ইহাতে জলকেলি করিতেন, এইরূপ প্রবাদ। দীর্ঘিকাটি প্রায় ভরাট হইয়া গিয়াছে। ৩। নিরামিষ দীঘি। জালেশ্বর গ্রামে সাগর দীঘি হইতে প্রায় অর্ধ মাইল দূরে অবস্থিত। প্রবাদ এই, ইহা বিধবা রাজ-মাতার জন্য খনিত হইয়াছিল। মৎস্য স্পর্শে জল অপবিত্র হইবার আশঙ্কায় ইহাতে কোন মৎস্য থাকিতে দেয়া হইত না। গ্রামস্থ ব্যক্তিগণ বলেন যে, এই জলাশয়র এরূপ কোন গুণ আছে, যদ্দার ইহাতে জীবিত মৎস্য ছাড়িয়া নিলেও অচিরেই পঞ্চত্ব প্রাপ্ত হয়। ৪। মঠবাড়ীর দীঘি। ভাটপাড়া গ্রাম বুরুজের ” ( ইহার বিষয় পরে উক্ত হইবে ) উত্তর- পশ্চিমে অবস্থিত। কথিত আছে, রাজস্থাপিত মঠ এই জলাশয়ের তীরেই স্থাপিত ছিল; তাহার ভগ্নাবশেষ এখনও বর্তমান। এই মঠ হইতেই বােধ হয় দীর্ঘিকার নাম- করণ হইয়াছে। ৫। দুই সতীনের দীঘি। মজিদপুর গ্রামে অব- দুষ্টটি দীর্ঘিকা এক স্থানে খনিত। রাঙ্গা হরিশ্চন্দ্রের দুই মহিষা কর্ণাবতী এবং ফুলবতীর স্মরণার্থই বোধ হয় ইহা খনিত হইয়াছিল। ৬। কোদাল ধােয় দীঘি। আড়াপাড়া গ্রামে অস্থিত। কথিত আছে, রাজা হরিশ্চন্দ্র একদা দুভিক্ষ পীড়িত প্রজার সুবিধা ও জলকষ্ট নিবারণের জন্ত এক রাত্রির মধ্যে বহুস’থ্যক দীঘিক খােদিত করান। খননকারিগণ এই দীর্ঘিকায় তাহাদের কর্দমাক্ত কোদাল ( খনিজ ) ধৌত করিয়াছিল ; তাহা হইতেই এই নামের উৎপত্তি। দোয়াত ধােয়া দীঘি। এই স্থানে রাজকৰ্ম্ম- চারিগণ দোয়াত ধৌত করিতেন; তজ্জন্যই এই নামের উৎপত্তি। ইহা বাগুইলপুর গ্রামে অবস্থিত । ছােবামার পুষ্করিণী। জালেশ্বর গ্রামে গ- স্থিত। রাজার তৈজসপত্রাদি ‘ছােবা’ সাহায্যে এই জলা- শয়ে ধৌত করা হইত, এই রূপ প্রবাদ। ৯। কুমইরা পুষ্করিণী। কথিত আছে, ইহাতে পূর্বে কুম্ভীর ছিল। সাগর দীঘির পূর্ব দিকে অবস্থিত, মধ্যে মাত্র একটি বাইদ ব্যবধান। ১০-১৬। সাত পুকুর। জামসিন গ্রামে সাতটি পুকুর এক স্থানে অবস্থিত আছে। মধ্য স্থানের জলাশয়টি বেশ বিস্তৃত ও গভীর, অন্য গুলি প্রায় শুষ্ক হইয়া গিয়াছে। ১৭। ধােপাখােলার পুকুর। সাধাপুর গ্রামে অ- স্থিত, রাজ-রজকের জন্য খনিত। মালী পুকুর। সাধাপুর গ্রামে অবস্থিত। মালীর ব্যবহারের জন্য খনিত। ১৯। কুমার পুকুর। সাধাপুর গ্রামে অবস্থিত। কুম্ভকারের সম্পত্তি। তাম্বুল বাড়ীর পুষ্করিণী। কর্ণপাড়া গ্রা { ৫০ } অবস্থিত। দোলমঞ্চ, তাম্বুল বাড়ী এবং রাজ-রুর আমের মধ্যবর্তী স্থানে বর্তমান। ২১। সেনা বাড়ীর দীঘি। কর্ণপাড়াস্থিত; প্রাচীন সেনানিবাসের অন্তর্ভূত। ২২। রাজ-গুরুর পুষ্করিণী। কর্ণপাড়া গ্রামে অৰ- স্থিত। ইহার পশ্চিম দিকে রাজগুরুর আশ্রম বর্তমান ছিল। ২৩। শ্মশান পুকুর। মানুষপােড়। টেকের সংলগ্ন অশান-সন্নিহিত। ২৪। বেল গাছি পুকুর।। সেনাপাড়ার দক্ষিণে অব- ২৫। কলা গাছি পুকুর স্থিত। বােধ হয় সেনা- ২৬। বট গাছি পুকুর। গণের ব্যহারের জন্য খনিত ২৭। তাল গাছি পুকুর। হইয়াছিল। নাম ২৮। বড়ই গাছি পুকুর। পরিবর্তিত হইয়াছে। ১৯। জীয়স পুষ্করিণী। প্রবাদ এই, ইহাতে দুগ্ধ দিলে গাভী দুগ্ধবতী হয়, ইত্যাদি। শ্ৰীযুক্ত দীনেশচন্দ্র সেন মহাশয় অনুমান করেন, জীয়স পুষ্করিণী নামধেয় জলাশয় গুলিতে কোনরূপ বৌদ্ধ ক্রিয়াদি সম্পন্ন হইত। ৩০। চৌমাথা পুষ্করিণী। ভাটপাড়ার নিকটে রাজধানীর চারিটি সুপ্রশস্ত রাজপথের সঙ্গমস্থলে এই জলাশয় খনিত হয়, এইরূপ প্রবাদ । ৩১। কবিরাজ পুষ্করিণী। সাভার। ৩২। ব্রহ্মচারীর পুষ্করিণী। সাভার। বড় আখরার দীঘি-সাভার (পুকুর পাড়)।
৩৬-৩৮।
৪১।
৪৪।
৩৪। শােলর দীঘি-বলি মেহার।
দেব পুষ্করিণী --বলি মেহর।
তাল বাগের পুষ্করিণী-( পাশাপাশি তিনটি।
বলিমের।
সাত গাছি পুকুর-বলি মেহার ।
লাল টেকির পুষ্করিণী--বলি মেহার।
কড় ফুরার পুষ্করিণী-বলি মেহার ।
৪২। ছােট ফুরার পুষ্করিণী—আনন্দপুর।
বন পুকুর--বাচ্চা।
জলরি-বাড়া।
৪৫। কইঠার পুষ্করিণী--বাচ্চা।
৪৮। ইমাম বাড়ীর পুষ্করিণী—বাড়া।
৪৭। ইদ বাড়ীর পুষ্করিণী-বাচ্চা।
৪৮। লাল পুকুর-জালেশ্বর।
৪৯। চটীমারা পুষ্করিণী—জালেশ্বর।
৫। আইচের পুষ্করিণী—ভাটপাড়া।
৫১। চৌধুরী বাড়ীর পুষ্করিণী—ভাটপাড়া।
৫২। ঠাকুর বাড়ীর পুষ্করিণী—ভাটপাড়া।
৫৩। ভাটপাড়ার দীঘি-ভাটপাড়া।
৫৪। চাইরা পুষ্করিণী—-ভাটপাড়া।
৫৫, ৫৬। জোড় পুষ্করিণী— পাশাপাশি দুইটি ) গাণ্ডা।
৫৭। বিরিঙ্গির পুষ্করিণী-গাণ্ডা।
৮।
রাজা বাড়ীর পুষ্করিণী-গাণ্ডা।
৯। পিঠাণী পুকুর-নয়া বাড়ী।
৬। বাঘার পুষ্করিণী-মদনপুর।
৬১। দীঘি-বাড়ী রাড়ী।
গারাক্ষেত শুখা পুষ্করিণী-রাজার না।
৬৩। দেয়পুকুর-জামসিন।
৬৪। ডাকাতমারা পুষ্করিণী—জামসিন।
৬৫। ছইলার পুষ্করিণী—ছইলা।
৬৬। মজুমদার বাড়ীর পুষ্করিণী—উলাইল ।
৬৭। কানাইলালের পুষ্করিণী—কাৎলাপুর ।
৬৮। বয়র বাড়ীর পুষ্করিণী--বয়রা বাড়ী।
শুখা পুষ্করিণী-মজিদপুর ।
৭০। ইছামতী পুষ্করিণী–কর্ণপাড়া।
৭১। ক্ষি প্রগতি সরােবর-ফুলবাড়িয়া।
৭২।
পুকুর-কোণ্ডা, ইহার নামের
উৎপত্তি পরে বর্ণিত হইয়াছে।
রাজার পুকুর-বাগবাড়ী।
৭৪। সুখসাগর ।
রাজসাগর।
ধন পুকুর।
৭৭। নিম্মুইলা পুকুর ।
৭৮। পেট কাটা পুকুর।
৭৯। হাড়ি বাড়ীর পুষ্করিণী।
৮। আন্ধার উথা।
৮১। সলার ( ঝাঁটা ঘােয়া ) পুকুর—কথিত আছে
পুরবাসীগণের সম্মার্জনী ধৌত করিবার জন্য এই জলাশয়
৭৩।
।
খনিত হয়।
{. ৫৩ }
৮২। চৌমাচ্চা পুষ্করিণী।
৮৩।
নাওগাড়। পুণিী।
৮৪। বেকাই পুষ্করিণী।
৮৫। কেউচার পুষ্করিণী।
৮৬। সাগর ডুগী ।
৮৭। সাতবােয়াইলা পুকুর।
৮৮। নালার ঘােণ।
৮৯। আন্ধা পুকুর।
৯০। সানবান্ধা পুষ্করিণী—ইহাতে সুস্পষ্ট বাধান
ঘাটের চিতু বর্তমান।
৯১। দাইতা বাড়ীর পুকুর।
৯২। সদুপালােয়নের দীঘি।
৯৩। গজারিয়ার দীঘি।
মরা পুকুর।
দীর্ঘিকার এই সুদীর্ঘ তালিকা হইতে সহজেই
অনুমিত হইবে, রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাজধানী কিরূপ
সুশশাভিত, সমৃদ্ধিশালী, বহুবিস্তৃত ছিল।
সাভারের চতুঃপার্শ্ববর্তী প্রায় ত্রিশ খানি গ্রাম লইয়া
হরিশ্চন্ত্রের রাজধানী অবস্থিত ছিল, তাহা তৎখনিত
দীথিকা সমূহের অবস্থান পর্যালােচনা করিলেই প্রতীয়-
মান হয়।
জলাশয় ব্যতীত হরিশ্চন্দ্রের আরও বহু কীৰ্ত্তির
ভগ্নাবশেষ অদ্যাপি বর্তমান। তাহার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
নিয়ে বিবৃত করিতেছি।
৯৪।
এবং
৫৪ ) : [ চিত্র সাগর দীঘি সুবিস্তীর্ণ জলাশয়, তাহা পূৰ্বেই বর্ণিত হইয়াছে। এই বৃহৎ দীর্ঘিকার পশ্চিম তটে রাজবাটী এবং রাজাপুরের ভগ্নস্তুপাদি বর্তমান। দ্রষ্টব্য]। প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড প্রায় ১৫২০ হাত উচ্চ কয়েকটি ইষ্টবহুল মৃত্তিকাপ এখন সেই সুবিশাল রাজ প্রাসাদের চিহ্ন বক্ষে ধারণ করিয়া আছে। স্থপ- গুলি এবং তাহার চতুঃপার্শ্ববর্তী স্থান সমূহ এরূপ নিবিড় নাকীর্ণ যে, এমন কি হস্তীর ও তথায় প্রবেশ লাভ বহু আয়াসসাধ্য। হস্তী-পৃষ্ঠে আমরা বহু পরিশ্রমে এই স্থান দর্শন করিতে সক্ষম হইয়াছি। পরিদর্শকগণের পক্ষে এই সমস্ত স্থান দর্শন করিবার জণ্ঠ শীতকালই উপযােগ, কারণ তখন অরণ্যানী এত নিবিড় থাকে না। স্বপগুলির উপরিভাগে খালের ন্যায় লম্বা ৫১ ফিট প্রশস্ত, এবং সুগভীর বহু গৰ্ভ দৃষ্ট হইল। অনুসন্ধানে জানিলাম, সাভারের অধিকাংশ ধনী ব্যবসায়িগণই এই স্থান খনন করিয়া লব্ধ ইন্সমূহ দ্বারাই স্ব স্ব বাসভবন নিৰ্মাণ করিয়াছেন। এইরূপে অতীত ইতিহাসের শেষ চিহ্নসমূহও লুপ্ত হইতে চলিয়াছে। এই সমস্ত স্থান বিশেষজ্ঞগণের তত্ত্বাবধানে খােদিত হইলে, অতীতের লুপ্ত ইতিহাস উদ্ধারের বহু উপকরণাদি অবশ্যই প্রাপ্ত হওয়া যাইত। ঐ স্থানের নিকবর্ত্তী বহু প্রাচীন ব্যক্তি বলিলেন যে, স্থানীয় ব্যবসায়িগণ কর্তৃক ঐ স্থাপসমূহ খনন কালে বহু প্রস্তরমুর্তি, ইয়কমূর্তি, খােদিত ও লিখিত ইষ্টক, সাভারে প্রাপ্ত প্রাচীন স্বর্ণমুদ্রা E. B. F. & P. Hoits, laccal.
No text on this page.
( ৫৫ )
কয়েকখানা স্বর্ণ ও রৌপ্য নির্মিত থালা এবং বহু গুপ্ত
ধন অনেকে প্রাপ্ত হয়। এখনও কৃষকগণ হলচালনা-
কালে প্রাচীন মুদ্রাদি, এবং মূর্তি প্রভৃতি প্রাপ্ত হয় ;
কিন্তু, অজ্ঞ কৃষকগণ ইহার মূল্য বুঝিতে না পারিয়া ইহা
রক্ষা করা আবশ্যক বিবেচনা করে না। আমরা বহু
চেষ্টায় কয়েকটি প্রাচীন দ্রব্য সংগ্রহ করিয়াছি; ক্রমে
যথাস্থানে তাহ উল্লেখ করিব।
এই স্থানে আমরা সংবাদ প্রাপ্ত হই যে, রাজবাটীর
সন্নিকটস্থ একটি ক্ষেত্রে হলচালনকালে কিয়দিন পূর্বে
জনৈক দরিদ্র মুসলমান কৃষক ৩৪টি অতি প্রাচীন স্বর্ণ
মুদ্র প্রাপ্ত ইয়া উহা সাভারের জনৈক ধনী ব্যবসায়ীর
নিকট বিক্রয় করিয়াছে। তদনুযায়ী অনুসন্ধান আরম্ভ
করিয়া, বহু চেষ্টায় এবং নানা উপায় উদ্ভাবন করিয়া
উহার একটি স্বর্ণমুদ্রা আমরা সংগ্রহ করিয়াছি।
চিত্র দ্রষ্টব্য ] সাভার এবং তাহার চতুঃপাশ্ববর্তী বহু
পল্লী হইতে আমরা বহু পরিশ্রমে এবং বহু অর্থ ব্যয়ে
৫৬টি মুদ্রা সংগ্রহ করিয়াছি; উহার কোনটিই ৪০০
বৎসরের ন্যন প্রাচীন নহে, কিন্তু, পূর্বোক্ত স্বর্ণ মুদ্রাটি
ভিন্ন অপর কোন মুদ্রার সহিত বর্তমান প্রবন্ধের কোন
সম্বন্ধ নাই বলিয়া উহাদের বিবরণ প্রদান করা অনাবশ্যক
মনে করি।
সাভারে একটি প্রচলিত কিংবদন্তী এই যে, হরিশ্চন্দ্র
রাজ! অলক্ষ্মীমূর্তি-অঙ্কিত মুদ্রা তাহার রাজ্যে প্রচলিত
করেন, এবং তাহাতেই তিনি নিবংশ হওয়াতে তাহার
ভাগিনেয় দামাের তাহার উত্তরাধিকারী হন। সাভা-
;
রের বহু ব্যক্তি আমাদের সংগৃহীত স্বর্ণ মুদ্রাটিকে হরিশ্চন্দ্রের সেই মুদ্রা বলিয়া নির্দেশ করিলেন। মুদ্রাটির উভয় দিকেই দুইটি নগ্ন মূৰ্ত্তি অঙ্কিত, কিন্তু কোনরূপ লেখার চিহ্ন নাই। উহার প্রাচীনত্বের চিহ্ন উহার অঙ্গেই বর্তমান, এবং অজ্ঞ কৃষক কর্তৃক মৃত্তিকানিয়ে প্রাপ্ত হওয়াতে ইহার অকৃত্রিমতা প্রমাণিত হইতেছে। পূর্বোক্ত কিংবদন্তীতে যদি আস্থা স্থাপন করা যায়, তবে, এই মুদ্রাটি রাজা হরিশ্চন্দ্রের মুদ্রা বলিয়া অনুমান করা বোধ হয় অসঙ্গত নহে। এ বিষয়ে আমরা কোনরুপ সিদ্ধান্ত করিতেছি না। এতৎসম্বন্ধে ভবিষ্যতে মুদ্রা- তত্ত্ববিদগণ আলােচনা করিবেন, এই আশায় আমরা মুদ্রাটির চিত্র প্রকাশিত করিলাম। শ্ৰীযুক্ত নিখিল নাথ রায় তৎপ্রণীত “ মুর্শিদাবাদের ইতিহাস ” নামক গ্রন্থে রবিগুপ্তের একটি মুদ্রার চিত্র প্রকাশিত করিয়াছেন। আমাদের প্রাপ্ত মুদ্রাটির সহিত ঐ মুদ্রার কথঞ্চিৎ সাদৃশ্য লক্ষিত হয়। স্থানীয় মুদ্রাত- বিদগণের মতে , ইহা পরবর্তী কালের গুপ্তরাজগণের বিক্রমপুরের ইতিহাসে ” আমাদের মুদ্রার অনু- রূপ একটি মুদ্রার চিত্র প্রকাশিত হইয়াছে। গ্রন্থকার তাহাকে সেন-রাজগণের মুদ্রা বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন কিন্তু, তাহার অনুমানের কোনরূপ কারণ লিখিত হয় নাই। মুদ্রাটি কোথায় এবং কিরূপে পাওয়া গিয়াছে তাহারও কোন উল্লেখ নাই। রাজবাটা এবং রাজান্তঃপুরের পূর্বদিকে সাগর দীঘি অবস্থিত ; তাহার পূর্ব তীরে একটি বাইদ ; এবং বাইদের মুদ্রা।
হরিশ্চলের রাজাসন। E. . . & P. louse, Dacca.
No text on this page.
সাভারে প্রাপ্ত ইষ্টক নির্মিত বুদ্ধমূর্তি।
No text on this page.
সাভারে প্রাপ্ত বুদ্ধমূর্তি খােদিত ইষ্টক E. B. P. & P. Monse, Dacca.
No text on this page.
পূৰ্বদিকে রাজাসনের ভিটা অবস্থিত। এই স্থানে রাজা হরিশ্চন্দ্রের (এবং তাহার মৃত্যুর পর তাহার ভাগিনেয় এবং উত্তরাধিকারী রাজা দামােদরের বহিৰ্বাটী ছিল। এইস্থানে রাজ সিংহাসন স্থাপিত ছিল বলিয়া ইহার নাম রাজাসন হইয়াছে। রাজাসনের কিঞ্চিৎ দক্ষিণে কুমইরা দীঘি অবস্থিত। ৪। ৫টি স্তুপ মাত্ৰ এখন রাজাসনের চিহ্নস্বরূপ বর্তমান। [ চিত্র দ্রষ্টব্য] তন্মধ্যে দুইটি স্তুপ কৃষকগণের নির্দয় হল-চালনে ভূমির সহিত প্রায় সমতল হইয়া গিয়াছে। কয়েক বৎসর পরে কেবল বিক্ষিপ্ত ইষ্টক রাশি ভিন্ন এই স্থপসমূহের কান চিহ্নই বর্তমান থাকিবে না। হল-কর্ষণ-কালে বহু প্রস্তর ও ইষ্টক মূৰ্ত্তি এবং নানাবিধ কারুকার্য সমন্বিত ইষ্টক কৃষকগণ প্রাপ্ত হয়। এই স্থানে প্রাপ্ত তিন খানা খােদিত ইষ্টক কর্ণ- পাড়া নিবাসী জনৈক ভদ্রলােক প্রাপ্ত হন। উহার মধ্যে একখানা বুদ্ধ মূৰ্ত্তি মাত্র ঢাকা সাহিত্য পরিষদে সযত্নে রক্ষিত আছে। [ চিত্র দ্রষ্টব্য। রাজাসনে প্রাপ্ত অপর একখানা বুদ্ধমূর্তি খােদিত ইষ্টক বােয়াইল জমীদার বাড়ীতে রক্ষিত ছিল। জমীদার শ্ৰীযুক্ত লাবণ্য মােহন রায়, বি, এল, এবং শ্রীযুক্ত অমুল্য মােহন রায়, এম, এ, বি এল, মহাশয় দয় উক্ত ইষ্টক খণ্ড লেখককে প্রদান করিয়া কৃতজ্ঞতা ভাজন হইয়াছেন। [ চিত্র দ্রষ্টব্য] ইক খনার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বৃত্ত মধ্যে আটখানা বুদ্ধ মূর্তি খখাদিত ছিল। পাঁচ খানা মুত্তি বেশ স্পষ্ট আছে। অপর তিনখান ভগ্ন হইয়া গিয়াছে। বুদ্ধ মূর্তি গুলি বিভিন্ন প্রকার শাসন-বদ্ধ।
{. ৫৮, ) এতদ্ভিন্ন আরও বহুসংখ্যক মূর্তি কৃষকগণের তাচ্ছিল্য বশতঃ বিনষ্ট হইয়াছে। এতদ্ভিন্ন রাজাসানে বহু খােদিত ইষ্টক পাওয়া যায়। চেষ্টা করিয়া আমরাও তাহার কয়েক খণ্ড সংগ্রহ করিয়াছি। [ চিত্র দুষ্টব্য]। { দক্ষিণ দিকের ক্ষুদ্র খোদিত ইষ্টকখানা পূৰ্ব্ব বর্ণিত গণক- পাড়ায় প্রাপ্ত ; অপর তিনখানা সাভার রাজসনে প্রাপ্ত। স্থানাভাবে মাত্র তিনখানা ইষ্টকের চিত্র সন্নিবিষ্ট হইল ; এরূপ বহু ইষ্টক লেখকের নিকট সংগ্রহীত আছে।) এই সমস্ত কারুকার্যখােদিত ३२ कपूर হইতে রাজা হরিশ্চন্দ্রের সময়ের স্থাপত্যের কিঞ্চিৎ আভাস পাওয়া যায়। এই রাজাসনে অনুসন্ধান করিতে করিতে আমরা দুইখানা ভগ্ন ইক-লিপি প্রাপ্ত হইয়াছি। আশা করি, তারা হরিশ্চন্দ্রের তমসাচ্ছন্ন ইতিহাসের কিয়দংশ উদ্ধার হইবে। যথা স্থানে তাহার বিবরণ লিখিতে হইবে। রাজাসনের পশ্চিমে ও উত্তরে দুইটি বাইদ, দৃষ্ট হয়, এবং উহা রাজাসনের অদূরেই পরস্পর মিশিয়া গিয়াছে। বােধ হয়, উহা পূর্বে কোন জলাশয় ছিল। অথবা উহা রাজ-পুরীর পরিখা চিহ্নও হইতে পারে। সাভারের উত্তর দিকে কোট বাড়ী অবস্থিত। হিন্দু রাজত্বে সাধারণতঃ দুর্গকে কোট বলা হইত। এই কোট- বাড়ী রাজা হরিশ্চন্দ্রের দুর্গ ছিল। [ চিত্র দ্রষ্টব্য।] কোট বাড়ী ৫০ বিঘারও অধিক পরিমাণ ভূমি খণ্ডের উপর স্থাপিত ; এই সুবিস্তৃত ভূমিখণ্ডে এখন নানা প্রকার সাভারে এবং গণকপাড়ায় প্রাপ্ত কারুকার্য খােদিত ইষ্টক। B. . . & F. IIous, lail.
No text on this page.
হরিশ্চন্দ্রের কোটবাড়ীর প্রাকারের কিয়দংশ। 1 . . . P. lol, tat.
No text on this page.
( ৫৯ ) বৃক্ষ জন্মিয়াছে, এবং ইষ্টক রাশি ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পতিত আছে। কোট বাড়ীর চতুর্দিকে এখনও ১০। ১২ হাত প্রশস্ত, এবং প্রায় ১৫ হাত উচ্চ লােহিত মৃত্তিকা- নিৰ্মিত দুর্গ-প্রাকার দণ্ডায়মান। দুর্গ-প্রাকারের অব্য- বহিত নিমেই পশ্চিমে বংশাই নদী, দক্ষিণে কাটাগাঙ্গ ( ইহার বিবরণ নিম্নে বিবৃত হইতেছে), এবং উত্তর ও পূৰ্ব্বে প্রায় ৩০ হাত প্রশস্ত পরিখা বর্তমান। দুটি চতুষ্কোণ, এবং চতুর্দিকে চারিটি প্রবেশ পথের চিহ্ন অদ্যাপি বৰ্ত্তমান। ঐ স্থানে দুর্গ-প্রাকারে পথ পরিমিত স্থান ফাঁক আছে। দুর্গ-প্রাকারের নিয়ে বংশাই নদীতে একটি বাঁধান ঘাট ছিল। এখন তাহার কোন চিহ্নাদি দৃষ্ট হয় না, কিন্তু, প্রাচীনগণ ৪০ | ৫০ বৎসর পূর্বে উহার সুস্পষ্ট চিহ্ন দেখিয়াছেন। কোট বাড়ার দক্ষিণ দিক প্রকারের নিম্ন দেশ দিয়া বংশাই নদী হইতে কাটাগাঙ্গ আরম্ভ হইয়া রাজান্তঃপুর এবং সাগর দীঘিয় উত্তর দিক দিয়া ঘুরিয়া, প্রায় চতুষ্কোণ একটি ভূমিখণ্ডকে বেষ্টন করতঃ, কোট বাড়ীর প্রায় দুই মাইল উত্তরে পুনরায় বংশাই নদীতে যাইয়া মিশি- যাছে। ইহা দুর্গ এবং রাজধানীর কিয়দংশের চতুর্দিক পরিখা, তদ্বিষয়ে কোনরূপ সন্দেহ হইতে পারে না। কাটাগাঙ্গ অদ্যাপি প্রায় ৪০ ফিট গভীর। কাটা- গাদের ধারে ধারে প্রাকার বর্তমান ; কাটাগাঙ্গ খনন কালে বােধ হয় সেই মৃত্তিকা দ্বারাই এই প্রকার নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল। প্রাকারের বহুস্থানে ইষ্টক রাশিও দৃষ্ট } ; হয়; এবং উহা ৭। ৮ ফিট প্রশস্ত, এবং ৫ ফিট উচ্চ স্থানে স্থানে উহা কাল-বশে অনেকটা ক্ষয় প্রাপ্ত হইয়াছে। রাজা হরিশ্চন্দ্রের ফুলবতী এবং কর্ণাবতী নাম্নী দুই মহিষী ছিলেন। উভয়ের পৃথক পৃথক বাস-ভবন ছিল। ফুলবতীর ভান এখন ফুলবাড়িয়া, এবং কর্ণাবতীর ভবন কর্ণপাড়া নামে খ্যাত হইয়াছে। ফুলবাড়িয়া গ্রামে এখন বহুলােকের বসতি হওয়াতে প্রাচীন চিহ্নাদি সমস্তই লুপ্ত হইয়াছে। কিন্তু, এখনও তথায় হরিশ্চন্দ্র খনিত ২। গুটি দীর্ঘিক। বর্তমান; এবং ফুল- বাড়িয়ার পার্শ্বে যে একটি শুষ্ক খালের ন্যায় দৃষ্ট হয়, বােধ হয়, উহাই ফুলবতী-ভবনের পরিখা ছিল। সাভার হইতে প্রায় এক মাইল দক্ষিণে কর্ণাবতী- ভবন ( আধুনিক কর্ণপাড়া) এখনও অবস্থিত। এস্থানে এখনও বহু প্রাচীন কীৰ্ত্তির ধ্বংসাবশেষ বর্তমান আছে। কর্ণাবতীর-ভবনে অবস্থান কালে রাঙ্গা তাম্বুলবাড়ীতে তানুল চৰ্ব্বণ করিতেন, এবং বিশ্রামাদি করিতেন। একটি ভগ্নস্তুপ এখন তাবাড়ীর ভগ্নাবশেষ বক্ষে ধারণ করিয়া আছে। তাম্বুলবাড়ীর দক্ষিণে নদী-ত হইতে অনতিদুর দোলমঞ্চের ভগ্ন স্তুপ বৰ্ত্তমান। বাসন্তী পূর্ণিমায় এই স্থানে সােলােৎসব হইত। মঞ্চের অধিকাংশ সমতল করিয়া বসতি হইয়াছে। অবশিষ্টাংশ আনুমানিক প্রায় ২০ হাত লম্বা, ১৫ হাত প্রশস্ত, এবং ১০ হাত উচ্চ।
দোলমঞ্চের দক্ষিণে নদীতীরে রাজ-গুরুর আশ্রম
অবস্থিত ছিল। এখন তথায় বসতি হওয়াতে তাহার
চিহ্নাদি বর্তমান নাই ; নিদর্শন স্বরূপ উহার পূর্ব দিকে
অদ্যপি রাজগুরুর দীঘি বর্তমান অাছে।
তালবাড়ীর পূর্ব দিকে সেনাপাড়া নামক গ্রাম
অবস্থিত। বােধ হয়, এই স্থানে সৈন্যগণের বাসস্থান ছিল,
এবং ইহা হয়ত রাজধানীর পার্থ রক্ষা করিবার জন্য দুর্গ
ছিল।
সেনাপাড়াব উত্তরে সেনাপাড়ার দীঘি অবস্থিত।
সেনাপাড়ার চতুর্দিকে পলিখা ছিল, তাহার সুস্পষ্ট
চিঙ্গাদি অদ্যাপি বৰ্তমান আছে।
রাজাপুরের উত্তর দিকে নদনপুর নামক স্থান
বৰ্তমান। এই স্থানে হাট বাজার ছিল, এইরূপ কথিত
রাজাসনের দক্ষিণপূল্টে একটি বিশাল প্রান্তর
আছে। প্রবাদ এই, এই স্থানে রাঙ্গা হরিশ্চন্দ্রের
গােশালা এবং গােচারণ মাঠ ছিল। সে স্থানে গােশালা
ছিল, তাহা অদ্যাপি গােপের বাড়ী, এবং হংসন্নিকটস্থ
গােচারণ মাঠ ঘাসমহল নামে খ্যাত।
রাজাসনের নিকটে একটি স্থান পীলখানা নামে
খ্যাত। এই স্থানে রাজার হস্তীশালা ছিল, এইরূপ
।
প্রবাদ ।
পীলখানাব সন্নিকটে বথখােলা বর্তমান। রথ যাত্রার
দিন এই স্থানে রথ টানা হইত।
রাজাসন হইতে এক মাইল দক্ষিণপূর্বে হরিশবাগ
( ৬২.১ A অবস্থিত। কথিত আছে এই স্থানে রজার উদ্যান ছিল । এখন উহা নিবিড় অরণ্যে পরিণত হইয়াছে। রাজাসন হইতে প্রায় এক ক্রোশ দক্ষিণে, এবং ফুল- বাড়িয়া হইতে প্রায় এক ক্রোশ পূৰ্বে গান্ধারিয়া গ্রাম অব স্থিত; ইহার প্রাচীন নাম গান্ধার গড়। বােধ হয়, এই স্থানে পূর্বে দুর্গ ছিল। ইহা অতিশয় সুরক্ষিত; ইহার চতুর্দিকে প্রায় ২০০ হাত প্রশস্ত পরিখা বর্তমান। পরিখার কোনও কোনও স্থান সুগভীর, কিন্তু, অধিকাংশ স্থানই ধান্ত ক্ষেত্রে পরিণত হইয়াছে। পরিখা বেষ্টিত গান্ধারিয় গ্রাম প্রায় দেড় মাইল ভূমি খণ্ডের উপর অবস্থিত গাদারিয়ার পশ্চিমাংশে রাবণ রাজার বাড়ী প্রদর্শিত হইয়া থাকে। এই রাবণরাজা হরিশ্চন্দ্রের ভাগিনেয়- দামোদরের বংশােদ্ভূত। রাবণ রাজার বাড়ীর পশ্চিমে ঢালিপাড়া নামক স্থানে বহু ঢালি সৈন্ত বাস করিত, এইরূপ প্রবাদ। ঢাল পাড়ার উত্তর পূৰ্ব্বাংশে অবস্থিত বাগ বাড়ীতে রাজ-পণ্ডিত- গণ বাস করিতেন । গান্ধারিয়ার উত্তরে সাধাপুর নামক গ্রামে রজক, কুম্ভকার, স্বর্ণকার, প্রভৃতি শ্রমজীবিগণ বাস করিত। তাহার নিদর্শন স্বরূপ অদ্যাপি তথায় ধােপাখােলার পুকুর, মালা পুকুর, কুমার পুকুর, প্রভৃতি বর্তমান আছে। রাবণ রাজার বাড়ীর উত্তর দিকে মানুষপােড়ার টেক ( উচ্চ স্থান ) দুইটি অবস্থিত। এই স্থানে পুৰ্ব্বে শশ্মশান ছিল। ইহার নিকটেই শ্মশান কার্যের জয় একটি পুষ্করিণী বর্তমান। } গান্ধারিয়ার দক্ষিণে রাজকোণ্ডা নামক একটি গ্রাম আছে। ইহাও পরিখা বেষ্টিত। হরিশ্চন্দ্রের উত্তরাধি কারিগণ পরবর্তী কালে এইস্থানে রাজধানী স্থাপন করিয়া- ছিলেন, এইরূপ প্রবাদ। কাট বাড়ী হইতে ১০ মাইল উত্তর পূর্বে ভাটপাড়া গ্রাম। ইহার প্রাচীন নাম ভট্টপল্লী। রাজভট্টগণ এই স্থানে বাস করিতেন, এইরূপ প্রবাদ। এস্থানেও বহু প্রাচীন দীঘিকাদি বর্তমান। তাহাদের নাম পূর্বেই তালিকাভুক্ত করা হইয়াছে। এই গ্রাম হইতে আমরা প্রায় ৫০ খান। প্রাচীন গ্রন্থ সংগ্রহ করিয়াছি। ( ২৮) সময়ানুরে তদ্বিষয়ে আলােচনা করিবার ইচ্ছা রহিল। ভাটপাড়ার উত্তর পশ্চিমে চাইরা চৌমাথা নামক স্থানে চারিটি রাজ পথের সম্মিলন স্থল ছিল। ইহার নিকটই চাইরা পুষ্করিণী । মেরিধােনা নামক স্থানে পূৰুে হাট বাজার ছি, এইরূপ প্রবাদ। ভাটপাড়ার সন্নিকটে দুইলাকমা নামক রাজসেদিগকে লক্ষ্য স্থির করিতে শিক্ষা দেওয়া হইত এইরূপ প্রবাদ। এখন সেখানে নিবিড় গজারী বন। বনের মধ্যে স্থানে স্থানে বহু ইষ্টক স্তুপ দৃষ্ট হয়। নিরামিষ দীঘি ও কাটাগাঙ্গের মধ্যবর্তী স্থানে, প্রায় { ২৮) ভাটপাড়া নিবাসী শ্ৰীযুক্ত রাধিকা মােহন অধিকারী, এবং শ্ৰীমান খামাচরণ সরকারের চেষ্টাতেই এই গ্রন্থ সমূহ সংগৃহীত হইয়াছে। তজ্জন্য তাহারা লেখ- কে আন্তরিক ধন্যবাদ ভাজন।
( ৬৪. }..
এক বিঘা ভূমি ব্যাপিয়া, এবং সমভূমি হইতে প্রায় ২৫০
হাত উচ্চ একটি প্রকাণ্ড মৃৎস্প বর্তমান আছে। ইহাকে
সচরাচর বুরুজ বলা হয়। এ চিত্র দ্রষ্টব্য ]। স্তপােপরি
দুইটি ইষ্টকে বাঁধান কূপ দৃষ্ট হয়। একটি প্রায় ভরিয়া
গিয়াছে, অপরটি এখনও ৪৫ হাত গভীর আছে।
রাজপুৱীর প্রহরীগণ বােধ হয় এই বুরুজেয় ( Towar )
উপর হইতে শত্রুর অাগমন লক্ষ্য করিত।
বলেন, ইহা নহবৎ খানা ছিল।
সাভার
এবং তৎচতুঃপার্শ্ববর্তী গ্রামসমূহে রাজ।
হরিশ্চন্দ্রের রাজধানীতি যে সমস্ত কীৰ্তিচিহ্নাদি অ্যাপি
বর্তমান আছে, তাহার বিবরণ আমরা উপরে সংক্ষেপঃ
বিবৃত করিতে চেষ্টা করিয়াছি। নিবিড় অরণ। মধ্যে
নানাস্থানে হয়ত আরও কত অনাবিষ্ক ৮ ভগ্নস্তুপালি লােক
চক্ষুর অন্তরালে লুক্কায়িত আছে।
আধুনিক রঙ্গপুর জেলার সে ধৰ্ম্মপাল রাজার কীর্তি
চিহ্নাদি দৃষ্ট হয়, তাহার সহিত সাভার-রাজ হরিশ্চন্দ্র
পালেব বৈবাহিক সম্পর্কাদি বর্তমান ছিল, এইরূপ প্রবাদ ।
এইস্থানে বলা আবশ্যক যে, গৌড়ের পাল রাজবংশের
দ্বিতীয় নৃপতি ধর্মপা, এবং নিম্ন বর্ণিত ধৰ্ম্মপাল বিভিন্ন
ব্যক্তি।
প্রথম ধৰ্ম্মপালের প্রায় দুই শত বৎসর পরে
দ্বিতীয় ধৰ্ম্মপালের অভ্যুদয় হয়। বরেন্দ্র কুণগ্রন্থ, চতুত্ব
রচিত হরিচরিত কাব্য, এবং দাক্ষিণাত্য-পতি রাজেন্দ্র
চোলের তিরুমলয় গিরি লিপিতে দ্বিতীয় ধৰ্ম্মপালের উল্লেখ
দৃষ্ট হয়। নিম্নে যথাস্থানে বিশদভাবে তাহা বিবৃত হইবে।
ভাটপাড়ার বুরুজ অথবা নহবৎখানা E. B. I. & P. House, Dacca.
No text on this page.
(৬৫) ১০১২ চোল খৃষ্টাব্দে দণ্ডভুক্তি-পতি ( সত; গৌর মণ্ডল ) ধম্মপালকে যুদ্ধে পরাজিত করেন। সুতর:, ইহা প্রমাণিত হইতেছে, সে, দ্বিতীয় ধৰ্ম্মপাল একাদশ শতাব্দীর প্রথম পাদে রাজত্ব করিতেন। কিন্তু লামা তারানাথের গ্রন্থ, এবং খালিমপুরে প্রাপ্ত প্রথম পালের তামশাসন হইতে প্রমাণিত হয় যে, প্রথম ধৰ্ম্মপাল খৃষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীর শেষ ভাগে রাজত্ব করিতেন। সুতরাং, এই উভয় ধৰ্ম্মপালের মধ্যে দুই শতাব্দীর অ ধক ব্যবধান বর্তমান। গৌড়ের পাল রাজ- বংশের বংশাবলিতে দ্বিতীয় ধৰ্ম্ম পলের নাম দৃষ্ট হয় না সম্ভবতঃ হরিশ্চন্দ্র পাল প্রভৃতির ন্যায় তিনিও পালরাজ- বংশের আদিশাখা হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া পৃথক একটি খণ্ড- রাজ। পিন করেন। ব্ৰহ্মপুত্ৰনদ পর্যন্ত দ্বিতীয় ধৰ্ম পালের রাজ্য বিস্তৃত ছিল, এইরূপ অনুমিত হয়। ( ২৯) ধম্মপালের রাজধানীর ভগ্নাবশেষ, ও বহু কীৰ্ত্তি চিহৃদি অদ্যাপি বর্তমান আছে। এই ধৰ্ম্মপাল যে পালবংশীয় নৃপতি ছিলেন, তদ্বিষয়ে সন্দেহ নাই, কারণ, তাঁহার রাজধানীর ভগ্নাবশেষের মধ্যে প্রাপ্ত একটি বহু প্রাচীন বাসুদেব মুত্তিতে পালরাজগণের রাজচিহ্ন সিংহারূঢ় হন্তীর মূত্তি খােদিত আছে। { ৩০) ঐ মূর্তি সন্নিকটস্থ এক বৈরাগীর আখড়ায় পূজিত হয়। (za) Montgomery Martin's "Eastern India.” Vol. III. Page 406. (0) J. A. Vas's “ District Gazetteer of Rang. pur." Page 20 } ( ৬৬ ) পটিকানগর-পতি মাণিক চন্দ্র কাহারও মতে দ্বিতীয় ধর্মপালের ভ্রাতা, (৩১) এবং কাহারও মতে স্যালাপতি (৩২) ছিলেন। মাণিকচন্দ্র মহিষী ময়নামতী, এবং ধর্মপাল মহিষী বনমালা (ধৰ্ম্ম-মঙ্গল প্রণেতা মানিক গাঙ্গুলির মতে সফুল্লা বা সাফুল, সীতারাম ও ঘনরামের মতে সামুল) ভগ্নী ছিলেন। মাণিকচন্দ্রের পুত্র গােপী চন্দ্রের ( দুর্লভ মল্লিকের গােবিন্দ চন্দ্র, এবং চৈতন্য ভাগ- বতের গোপীলালের) সহিত হরিশ্চন্দ্র রাজার অন' এবং পদুনা নাম্নী দুহিতৃদ্বয়ের বিবাহ হয়। ( ৩৩) ইহারা ভারতবিখ্যাত সুন্দরী ছিলেন । শ্ৰীযুক্ত দীনেশ চন্দ্র সেন মহাশয় লিখিয়াছেন, ---“যে অদুনা পদুনার নাম এক সময়ে ভারত বর্ষের সর্বত্র ছাট ; বাের্গা ও চারগণের গাথায় প্রচারিত হইত, সে দিনও বােম্বাই হইতে তাহাদের চিত্র রবিবৰ্মা অঙ্কিত করিয়া কৃতার্থ হইয়াছিলেন, দাক্ষিণাত্যে যে বঙ্গীয় রাজা ও তাহার মহিষীদের করুণ প্রসঙ্গ লইয়া এখনও অনেক নাটক রচিত ও অভিনীত হইয়া থাকে, এবং উত্তর পশ্চিমে লক্ষ্মণ দাস প্রমুখ বহু- সংখ্যক কবি মাহাদের গুণ গাথা গাহিয়াছেন, এবং যাহা- দের সম্বন্ধীয় গতি এক সময়ে বাঙ্গলা দেশ ও উড়িষ্যার (os) Montgomery Martin's " Eastern India." Vol, ill. Page 407. (৩২) ধৰ্ম্মমঙ্গল, এবং মাণিকচন্দ্র রাজার গান (0) Montgomery Martin's "Eastern India." Vol. Ill. Page 407.
ঘরে ঘরে শ্রুত হইত, সেই গােপী চন্দ্র ও তঁাহার মহিষা-
দ্বয়ের প্রথম প্রেম-মিলন এই সাভারেই হইয়াছিল।” (৩৪)
দুল্লভ মল্লিক রচিত “গােপীচন্দ্র রাজার গান” নানক
দেশ প্রচলিত পুঁথিতে মাণিকচন্দ্রের পিতৃ পিতামহের নাম
পাওয়া যায়। অন্য কোনরূপ ঐতিহাসিক প্রমাণ না
পাইলে উহার যাথার্থ্য সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ হওয়া যায় না।
যাহা হউক, আপাততঃ আমরা উহাই সত্য বলিয়া মানিয়া
লইতেছি। পূর্বোক্ত পুথিতে দুইটি ছত্র এইরূপ পাওয়া
যায়।
‘সুবর্ণ চন্দ্র মহারাজা ধারিচন্দ্র পিতা।
তার পুত্র মানিকচন্দ্র শুন তার কথা।
এই দুই ছত্র হইতে মাণিকচন্দ্রের পিতৃপিতামহের
নাম পাওয়া যাইতেছে ।
মাণিকচন্দ্রের মৃত্যুর পর ধম্মপাল তাঁহার রাজ্য অধি-
কার করিয়া বসেন। সুতরাং, মাণিকচন্দ্রের তেজস্বিনী
পত্নী ময়নামতীর সহিত ধৰ্ম্মপালের রাজ্যঘটিত গােলযোেগ
এবং মননামালিন্য উপস্থিত হয় । তাহার ফলে উভয়
পক্ষে যুদ্ধ হয়। সাভারে রাজা হরিশ্চন্দ্র সসৈন্যে
জামাতার সাহায্যার্থ উপ 'স্থত হন। ত্রিস্রোতা অথবা
তিস্তা নদী--তীরে যুদ্ধে হরিশ্চন্দ্র বােধ হয় নিহত হন।
কারণ, এইস্থানে এই যুদ্ধে নিহত না হইলে স্বরাজ্য
পরিত্যাগ পূর্বক হরিশ্চন্দ্রের এইস্থানে প্রাণ ত্যাগ
সম্ভব পর বলিয়া বােধ হয় না। যুদ্ধস্থলের অদূরেই
(৩৪) প্রবাসী। আষাঢ়, ১৩১৯।
হরিশ্চন্দ্রের সমাধিস্থান দৃ হয়। দেওনাই নদী তীরে অবস্থিত ময়নামতীর দুর্গ এবং বাসভবন হইতে বহু রামগঞ্জের পূর্বদিক চড়চড়া গ্রামে “হরিশ্চন্দ্র পাট” নামে খ্যাত একটি প্রায় বৃত্তাকার স্তুপ দৃষ্ট হয়। ইহাই হরিশ্চন্দ্রের সমাধিান, এইরূপ প্রবাদ। এই প খনন করতে মওক: গ্নে একটি গুহাংশ দৃষ্ট এখন তাহার নিন ভাগ শাস্ত্র বৰ্ত্তমান। প্রস্তর বাধান গর্ত দৃষ্ট হয়, তাহার উপরিভাগ ১৩ টি এবং নিম্নদেশ ১ ফিট পাশের প্রস্তরখণ্ড গুলি এরূপ ভাবে সঙ্গিত, উভয় দিকেই দুইটি সিঁড়ি নিম্ন- দিকে নামিয়া গিয়াছে, এইরূপ বােধ হয়। ইহা যে কাহারও সমাধি হন, তাহ! দর্শন মাত্রেই প্রতীয়মান হয়। সুতরাং উহা হরিশ্চন্দ্রের সমাধি-মন্দির এইরূপ জন. প্রবাদে অবিশ্বাস্য কিছুই নাই। ( ৩৫} পৰ্ম্মপালের মৃত্যু অথবা পরাভবের পর গােপীচন্দ্র অথবা গগাবিন্দচন্দ্র সিংহাসনারূঢ় হন । প্রবাদ এই, ইনি মাতার উপর রাজ-কাশের ভার ন্যস্ত করিয়া এক শত স্ত্রীর সহিত বিলাসিতায় মগ্ন হন। কিন্তু, ইহার মাতৃ-গুরু হাড়ি- সিদ্ধার উপদেশে শীঘ্রই ইহার মতি পরিবর্তিত হয়, এবং গােপীচন্দ্র উক্ত যােগীর সহিত সন্ন্যাসী হইয়া গৃহ ত্যাগ করেন। সাধারণ লােকের বিশ্বাস যে, তিনি অদ্যাপি বনে বনে পরিভ্রমণ করিতেছেন। গােপীচন্দ্রের এই অদ্ভুত জীবন কাহিনী অদ্যাপি রঙ্গপুর অঞ্চলে এবং এমন (৩৫) Montgomery Martin's '' Eastern India.
গী ও
কি কামরূপ প্রভৃতি স্থানেও “শিবের গীত অথবা
“মাণিক চাঁদের গীত আখ্যায় ইতর সাধারণ কর্তৃক
সােৎসাহে
হইয়া থাকে । গ্ৰীয়ারসন এই
“মাণিক চাঁদের গাত সংগ্রহ করিয়া, বিস্তৃত ভাবে
ইহার আলোচনা করিয়াছেন, এবং এমন কি ইহাকে
‘Epic ot Railg|pur' আখ্যা প্রদান করিতেও কুষ্ঠিত
হন নাই। ( ৭ )
উক্ত গ্রাম্য গীতির আখ্যায়িকা ভাগ আমরা সংক্ষেপে
নিয়ে প্রদান করিতেছি।
মাণিক চন্দ্রের পত্নী ময়নামতী তান্ত্রিক প্রক্রিয়াদিতে
অত্যন্ত পারদর্শিনী ছিলেন ; তাহার গুরু হাড়িসিদ্ধা
প্রভূত ক্ষমতাসম্পন্ন যােগী পুরুষ ছিলেন। মাণিকচন্দ্র
বহু দিন অক্ষুন্ন প্রতাপে রাজ্য শাসন করেন। পরে এক
জুন দক্ষিণদেশী । বাঙ্গালী) দেওয়ান নিযুক্ত করাতে
তাঁহার অত্যাচারে প্রজাগণ প্রপীড়িত হইয়া বিদ্রোহী হয়;
এবং এই বিদ্রোহ দমনেই মাণিকচন্দ্র প্রাণ ত্যাগ করেন।
সতী-প্রথা অনুসারে
ময়নামতী
জলন্ত
স্বামীর
অনুগমন করিলেন, কিন্তু অগ্নির লেলিহান জিহ্বা তাহার
একগাছি কেশও দগ্ধ করিল না। তাহার মৃত্যু দেবগণের
বাঞ্ছিত নহে জানিয়া ময়না চিতা হইতে অবতরণ
করিলেন। ইহার ১৮ মাস পরে তাহার পুত্র গােপীর
জন্ম হয় এই অস্বাভাবিক দীর্ঘ কাল গর্ভস পুত্রের
(09) The song of Manik chandra. J. A. S. B..
Vol XLVII ( 1878 ). P. 135.
চিতায় মৃত
( ৭ );
ভবিষ্যৎ মহত্বের নিদর্শন। ময়নামতী যথা সময়ে
সাভারের রাজা হরিশ্চন্দ্রের কন্যাদ্বয় অদুনা ও পদুনাৰ
সহিত স্বীয় পুত্রের বিবাহ দেন। কন্যাদ্বয়ের
এক শত পরিচারিকা আগমন করে। ময়না আধ্যাত্মিক
ক্ষমতার সাহায্যে জানিতে পারেন যে,
অষ্টাদশ বর্ষ
বয়ঃক্রম কালে সন্ন্যাস গ্রহণ না করিলে, পুত্ৰ গােপীচন্দ্র
অচিরেই কালগ্রাসে পতিত হইবেন। মাতার চেষ্টায়
পুত্র নবীন যৌবনে সন্ন্যাস গ্রহণ করিয়া অরণ্যবাসী
হইলেন। মাতৃগুরু হাড়িসিদ্ধ। অরণ্যে তাঁহার সহগামী
হইলেন। সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে অদুনা পদুনার বিলাপ
এবং স্বামীকে প্রতিনিবৃত্ত করিবার জন্য অনুনয় এবং
নানাবিধ যুক্তি প্রয়ােগ গ্রাম্য গীতিতে অতি মৰ্ম্ম গ্রাহী
ভাবে বর্ণিত হইয়াছে।
(মাণিক চঁাদের গান’ হইতে এই অংশ নিয়ে এবং,
গ্ৰীয়ারস কৃত তাহার নৰ্ম্মগ্রাহী ইংরেজী অনুবাদ পাদ
টীকায় উদ্ধত হইল।
“ না যাইও না যাই ও রাজা দূর দেশান্তর ।
কারে লাগিয়া বান্দিলাম সীতল মন্দীর ঘর।
বান্দিলাম বঙ্গলা ঘর নাহি পাড় কালী।
এমন বয়সে ছাড়ি যাও আমায় বৃথা গাবুরালী।
নিন্দের স্বপনে রাজা হব দসিন ।
পালঙ্গে ফেলাইব হস্ত নাই প্রাণের ধন ।
দস গিরির মা ও বইন রবে স্যামি ইবে কোলে ।
আমি নারী রােদন করিব খালী ঘর মন্দিরে।
(৫: ১ } খালী ঘর জোড়া টাটি মারে লাঠির ঘা। বয়স কালে যুবতী বাড়ী নিতে কলঙ্ক রাও। আমাকে সঙ্গে করি লইয়া যাও । জীয়ব জীবন ধন আমি কন্যা সঙ্গে গেলে। রাঁধিয়া দিমু অন্ন ক্ষুধার কালে । পিপাসার কালে দিমু পানী। হাসিয়া খেলিয়া পােহামু রজনী। আইল পাতার দেখিলে কথা কহিয়া যামু। গরি লােকের বাড়ী গেলে গুরু শ্যাম বলি। সিতল পাটি বিছাইয়া দিমু বালিসে হেলান পাও। হাউস রঙ্গে যাতিম হস্ত পাও !! হাত খানি দুঃখ হইলে পাও খানি যাতিমু। এ রঙ্গর কৌতুকর বেলা সুতি ভুম্ িএ সুতি ভুগ্ধাইমু। গ্রীস কালে বদনত দিমু দণ্ড পাখার বাও। মাঘ মাসি সিতে দেসির। বমু গা ও ৩৮ (৩৮) Nay, nity, my kingto distant farics thou shalt not fare Nor desolate the life that breathes for thee alone. Few are my years, no grey yet mingles withiny hair: homeWill widow me, my lord, before my bridehood's done ? "In dreams thy face will haunt me, and my arms close pressed will seek to hold thee. ?
{ ৭২, , , দুল্লভ মল্লিক রচিত “গােবিন্দচন্দ্র রাজার গান” হইতে এই অংশের বর্ণনা নিয়ে উদ্ধত হইল । { “তভাগা উনারে রাজ; সঙ্গে করি লহ। দেশান্তরে যাব আমি কর অনুগ্রহ । তুমি রােগী হবে আমি হইব মােগিনী : রাজিয়া বিদেশ যোগাইল অন্ন পানি। বসিয়া থাকিই তুমি বনের ভিতরে। আনিব মাগিয়া ভিক্ষ। আমি ঘরেঘরে। নগরে নগরে ভ্রমি বসিবে খন। তৃষ্ণ হলে জল আন কে দিবে তখন বনে বনে কাটা ভাঙ্গি জালিব আ গুনি । সুখেতে বঞ্চিব নিশি বােগীয়া মােগিনী । সর্ল দুঃখ পাশরয়ে নারী যার পাশে। আমারে করিয়। সঙ্গে চল দেশে দেশে। না ছাড়া না ছাড়া মােরে বঙ্গের গােসাঞি। তােমা বিনে উদুনা থাকিবে কোন ঠাঞি। নারী পুরুষ দুই হয় এক অঙ্গ। শিব বটে লােগীয়া ভবানী তার সঙ্গ। Ev'in the poorest wife and bride upon her bosom bends her master's head to rest : Shall sorrow be my mate and love unsa‘isfied ? "The voice of scandal ne'er liath spared a widow's fame;
(90):.)
গােপীচন্দ্রের অরণ্য- যাত্রার পূর্বে পুত্রের
কাঙ্কিণী ময়নামতী অগিতাপে ফুটন্ত তৈলপূর্ণ কটাহে
অনায়াসে নিমজিত হইয়া, অক্ষতশরীরে পুনরায় পুত্রের
মঙ্গলার্থে নানাপ্রকার প্রক্রিয়াদি করেন।
Therefore, blespool if thoil geest. go
with thee!
In hunger, and in thirst, oh king my
care: tlion lt claim,
The night I will giile with one and
POLSV.
"In summer's heai, o paim-leaf flis hall
still thy sighs.
Against thy brewest I'll restle clow, when
cold winds blow,
And holi Indra's jor-the lips of live score
Alone I'll give. riith the belovel, let me
gu.
Now 11 young and camely, worthy of
a king
wl youth ind beauty slip viru Hfer to
be til
wash Gainst they can My banin trip, to
thee, I cling
A helpless :recper-Bide with me, my
husband, biele."
( শ...
অরণ্যবাস-কালে একদা গোপীচন্দ্র গঞ্জিকা ক্রয়
করিবার জন্য হাড়িসিদ্ধাকে ১ টি কড়ি দিতে প্রতি-
এত হন। প্রতিশ্রুত অর্থ সংগ্রহে অসমর্থ গােপীচন্দ্র
অগত্যা হীরা নাম্নী জনৈকা বারাঙ্গনার নিকট দ্বাদশ বর্ষের
জন্য আত্মবিক্রয় করেন। প্রণয়প্রার্থিনী হীরা গােপী-
চন্দ্র কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হইয়া, প্রতিশােধ গ্রহণের অভি-
পারে তাহার দ্বারা অতি হীন এবং কষ্টদায়ক কাৰ্যাদি
করাইত, এবং সর্বদা তাহাকে প্রহার করিত। অবশেষে
হাড়িসিদ্ধ তাহার উদ্ধার সাধন করিয়া হীরা এবং
তাহার পরিচারিকাকে তাহাদের দুর্ব্যবহারের জন্য কঠোর
শাস্তি প্রদান করেন। হীরাকে দ্বিধা বিভক্ত করিয়া
তাহার উৰ্দ্ধাংশ বাদুড়, এবং নিম্নাংশ মৎস্যরূপে পরিণত
করেন ; এক দুঃশীল পরিচারিকাকে
তাহার বৃদ্ধ
বসে এক দুবৃত্তের নিকট বিবাহ দেন; এবং সে উহাকে
প্রত্যহ নির্দয় ভা৫ে প্রহার করিত।
বহু কাল পরে গােপীচন্দ্র পুনরায় রাজধানীতে,
প্রত্যাবর্তন করিয়া তাহার পরিত্যক্ত রাজ্য পুনগ্রহণ করিয়
কর হ্রাস করিয়া প্রজাদিগকে সুখী করেন। “গাণিকচন্দ্রর
গীতে” পটিকানগরে গােপীচন্দ্রের রাজধানী অবস্থিত
ছিল, এইরূপ উল্লেখ আছে। ধৰ্ম্মপালের রাজধান, ইতে
এক ক্রোশ পশ্চিমে অবস্থিত পটকপাড়া ও
পটিকানগর অভিন্ন বলিয়া অনুমিত হয়। (৩৯)
উ:খিত
(4) Babu Bisweswar Bhattacharya in the
১. ১. s. B. vol. vi. March, 190.
( ৭৫ )
গােপীচন্দ্রের মৃত্যুর পর তার পুত্র ভবচন্দ্র অথবা
হবচন্দ্র সিংহাসন লাভ করেন। তাঁহার অপর নাম উদয়-
চন্দ্র হইতেই তাঁহার রাজধানীর নাম উদয়পুর হইয়াছিল।
বাঘদ্বার পরগণাস্থিত এই রাজধানীর ভগ্নাবশেষ এখন
নিবিড় বনাচ্ছাদিত। বহু বর্ষ পূৰ্ব্বে বুকানন
এই স্থানে প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড ভগ্ন ভূপ, এবং উদ্যানাভ্যন্তরস্থ
পথ?দির সুস্পষ্ট চিহ্নাদি দর্শন করিয়া তাহার বর্ণনা
লপিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন। অধুনা একটি পথের দুই
পাশ্বস্থিত দুই শ্রেণী দীর্ঘিক মাত্র দৃষ্ট হয়।
ভবচ একদ। কোন নিষিদ্ধ সময়ে রাজ-প্রতিষ্ঠিত দেবী-
মনির গমন করতে দেবীর আভশাপে তাহার বুদ্ধি লুপ্ত
হয়, এইরূপ প্রবাদ। ভবচন্দ্রের নির্বুদ্ধিতা দেশবিখ্যাত।
“বচন্দ্র (হৰচল } রাজার গবচন্দ্র মন্ত্রী ছিলেন। এত
ভয়ের নিব্বদ্ধিতাজ্ঞাপক পুকুর চুরি প্রভৃতি বহু
কাবহ প্রচলিত গল্প প্রত্যেক বঙ্গবাসীর নিকট
সুপরিচিত। এই নির্বোধ রাজার রাজত্বকালেই বােধ
হয় রঙ্গপুরের পাল-রাজত্বের অবনতির সূত্রপাত হয়।
ভবচন্দ্রের পরেও অপর এক জন তবংশীয় রাজার রাজত্বের
বিষয় অার। অবগত আছি, কিন্তু তাহার নাম অজ্ঞাত।
ক্ষেণবীয় নীলধ্বজ এই নৃপতিকেই পরাজিত করিয়া
রাজ্য স্থাপন করেন, এবং ধরলা নদীর পূর্বতীরে
কোচবেহার-রাজ্যান্তৰ্গত কমাৎপুর নামক স্থানে রাজধানী
নিৰ্মাণ করেন।
(৭৬), অনুসন্ধানে রঙ্গপুরে আমরা পূর্বোক্ত চারি জন পাল- বংশীয় নৃপতির সন্ধান প্রাপ্ত হইয়াছি। নিম্নে ইহাদের রাজধানী, দুর্গ, এবং প্রতিষ্ঠিত নগর প্রভৃতির কিঞ্চৎ পরিচয় দিতে ছ। রঙ্গপুরের অন্তর্গত ডিমলার কিঞ্চিৎ নিয়ে তিস্তা নদীর যে প্রকাণ্ড, বাক দৃষ্ট হয়, তাহার প্রায় দুই মাইল দক্ষিণে ধর্মপাল রাজার রাজধানীর ভগ্নাবশেষ দৃষ্ট হয়। চিত্র নগর টি চতুষ্কোণ, উত্তর-দক্ষিণে প্রায় এক মাইল, এবং পূর্ব- পশ্চিমে অৰ্দ্ধ মাইল বিস্তৃত। নগরের বহির্ভাগে চতুর্দিকে সুবৃহৎ প্রাকার দণ্ডায়মান। প্রা বের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে দেওয়ান খানা ভগ্নাবশেষ দৃষ্ট হয়। উত্তর দক্ষিণ এবং পশ্চিম দিকস্থ নগর-প্রাকারের অব্যবহিত নিম্নেই প্রায় ৪০ ফিট প্রশস্ত একটি পরিখা, কিন্তু নগরের পূর্ব দিকে এই পরিখা কিংবা প্রকারের মধ্যে কোন প্রবেশ পথ দৃষ্ট হয় না। পূর্বোক্ত তিন দিকের প্রকার ? পরিখার ঠিক মধ্যস্থলে প্রতিদিকে এক একটি প্রবেশ পথ । ঐ সকল প্রবেশদ্বারের নিকট বহু পরিমাণে ইষ্টক দৃষ্ট হয়, এবং উহা বে সুরক্ষিত ছিল তাহার চিহ্নাদি সুস্পষ্ট। প্রকারের প্রত্যেক কোণে, এবং মধ্যে ৪ বহু স্থানে চতুষ্কোণ মিনার ( bassion) ছিল, তাহার ভগ্নাবশেষ বর্তমান ; এবং বােধ হয় ঐ মিনার-সমুহ হইতে, প্রহরীগণ দূর হইতেই শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ কর.. পারিত। উত্তর, পূৰ্ব্ব এবং দক্ষিণ দিকের পরিখা হইতে প্রায় তিন শত হাত দূর নগরকারের সমান্তরাল ভাবে ==
D. B. P... ||on... Darn.
नगर
In
مر مرز
नाल! काली की
न
जा
ধর্মপালের রাজধানীর আনুমানিক মানচিত্র।
No text on this page.
নের একটি প্রাকার এবং পরিখা দৃষ্ট হয়। নগরের বহি- ভাগে নিম্ন শ্রেণাস্থি ব্যক্তিগণ বাস করিত; এবং এই বহি- জাগস্থ নগরের চতুর্দিকেই এই প্রাকার এবং পরিখা নির্মিত হইয়াছিল। নগরের দক্ষিণদিক বহিঃপ্রকারেরও বহির্দেশে রাজার অশ্বশালা ছিল ; তাহারও চিহ্নাদি বৰ্ত্তমান; নগরের পশ্চিম দিকস্থ প্রকারের প্রায় ৩•• হাত বাবধানে উহার সমান্তরাল ভাবে একটি উচ্চ এবং সুপ্রশস্ত পথ উত্তর-দক্ষিণে বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। হয়, উহা নগরের পশ্চিমদিকস্থ বহির্ভাগের বহিঃপ্রকার ছিল। নগরের প্রায় ১ মাইল উত্তরপশ্চিমে ধৰ্ম্মপাল- খনিত চন্দনপাট নামক একটি সুবৃহৎ দীর্ঘিক। বর্তমান আছে। সন্নিকটবর্তী আরও নানা স্থানে বহু দীৰিকা দৃষ্ট হয়। পূৰ্ব্ব বণিত নগরের সুরক্ষিত অবস্থিতি দর্শনে মনে হয় ঐ খানে ধর্মপালের দুর্গ ছিল। রাজা দুর্গ মধ্যে না খাকিয়া, ঐ স্থান হইতে প্রায় মাইল দূরে, এবং হীঘােষ নামক একটি ক্ষুদ্র নদীর কিঞ্চিৎ পুর্বে অবস্থিত রাজ- পুরীতে থাকিতেন; সেখানে পুরীর ভগ্নাবশেষ কয়েকটি ক্ষুদ্র ইষ্টকস্তুপ, দীথিকা, এবং চতুষ্কোণ একটি ইকবহু বৃহৎ মৃত্যুপ মাত্র বর্তমান। শেষােক্ত স্তুপটির নাম ‘র মােল্লা ভের কাজি’ ; মুসলমান রাজত্বে ২৫ জন করের নামে উহা উৎসৃষ্ট হইয়াছিল বলিয়া উহার এরূপ নাম হইয়াছে এইরূপ প্রবাদ । স্থানের মুসলমান আখ্যা সত্ত্বেও কোন মুসলমান রাজপুরী অথবা দুর্গের ;
*।
( ৭৮)
সীমামধ্যে বাস করিতে সাহস করে না ; তত্ৰত্য সম'
অধিবাসীহ হিন্দু।
ধম্মপালের পর গােপীচন্দ্রের রাজধানী দেওনাই
নদীর পশ্চিম তটে, এবং ধর্মপালের দুর্গের প্রায় দুই
মাইল পশ্চিমে অবস্থিত ছিল ; ময়নানতাও এই স্থানে
বাস করতেন। এই দুর্গ, প্রসাদ প্রভৃতি ঠিক ধর্মপালের
দুর্গাদির অনুরূপ। গোপীচন্দ্রের নগর আনুমানিক ৪০০
গজ লম্ব', ৪০. গজ প্রশস্ত; এবং উহা হইতে প্রায়
১০০ গজ দুরে নগরের বহিঃপ্রকার দণ্ডায়মান। বয়পাল,
অথ 1 গােপীচ ঐ কাহারও বাজধানীতেই ইষ্টক নির্মিত
গৃহের চিহ্নাদ পা না যায় না। পঙ্গপুর মধ্যে এই
রূপ বহু স্থানে ধম্মপাল এবং তাহার এংশধরগণের বহু কাও:
চিহ্নাদ বৰ্ত্তন। কিন্তু এই প্রবন্ধে তাহার বিশদ বিবরণ
প্রদান করলে প্রবন্ধের কলেবর অনক বুদ্ধি পাবে, এই
অশষ তাহার এব তরণ করলাম না।
রাজা হরিশ্চন্দ্রর প্রসঙ্গে আমরা ধর্মপাপ এবং তুংশীয়
গণের বিবরণ ও প্রদান করিয়াছি। কঞ্চিৎ অপ্রাসঙ্গিক
হইলেও আশা করি, ইহ। প ঠকগণের নিকট বিরক্তিকর
হইবে না। যাহা হউক আমরা পুনর য় আমাদের পূর্ব
প্রসঙ্গে উপস্থিত হইতেছি।
রাজা হরিশ্চন্দ্রের লিখিত বংশাবলী সম্বন্ধে আমরা
পূৰ্বেই উল্লেখ করিয়াছি। উহার উপর বিশেষ
আস্থা স্থাপন করা যায় না, তাহা আমরা পরে দেখাব।'
গান্ধারিয়া নিবাসী যুক্ত কৈলাসচন্দ্র রায় মহাশয়ের
পাহায্যে বন্ধুবর শ্রীযুক্ত পীযূষ কিরণ চক্রবর্ত্তী হরিশ্চন্দ্রের বংশধর গণের যে বিবরণ আমাকে সংগ্রহ করিয়া দিয়াছেন নিয়ে আমি তাহা যথাযথ বিশ্বত করিলাম। হরিশ্চন্দ্রর মৃত্যুর পর, তাঁহার কোন পুত্রসন্তান না থাকাতে, তাহার ভাগিনেয় দাােদব (দামু রাজা) রাম) প্রাপ্ত হন। ইনি হরিশ্চন্দ্রের ভগ্নী রাজেশ্বঃী দেবীর { রাজি দেবীর) পুত্র। কেহ কেহ বলেন, কেহ কেহ বলেন, পুর্ব বণিক রাজাসন তঁাহাবই প্রাসাদের ভগ্নাবশেষ। হরিচ দু হইত অধস্ত শমপুৰ শিবনানা তথ্য দর্শন করিয়া ভারত ভ্রমণ করেন। ই ন অ বিদ্যোৎ সাহী ও পরম ভক্ত ছিলেন। শও5:এর পরে বা বংশ অবস্থা শােচনীয় হইয়া পড়ে। বিশাল রাধানার gf কাংশ পতিত বনাকীর্ণ হইয়া যাওয়াতে, বা-বংশীয়ের সর্বেশ্বর নগর পরিত্যাগ ক্রয় নিকটবী কোণ্ডা, গন্ধ। নিসা, চান্দুলিয়া পভাত স্থানে বসতি করিতে থাকেন। শিবচন্দ্রের একাদশ অধস্তন পুরুষ তরুর ঃ গ। মুলা মান রাজস্ব হুগলীর ফৌজদারের সহযোগী পণে নিধু ও হইয়া খ। উপাধি প্রাপ্ত হন। শুভরাজ, বুজ, বুদ্ধিমত্ত ও ভাগ্যবস্তু, তরে এই চাষি পুন। শু বা ও ধুবরাজ Wতার সাত হুগলীতে বাস করতেন। পিতা মতার ১ তাহারা সেই দেশেই থাকেন। তাহাদের বরের সােণাবাড়ীর চৌধু উপাধি ধারণ করিয়া সােণাবাড়ীয়া গ্রামে বাস করছেন। বুদ্ধিমন্ত রায় ও ভাগাবন্ত রায় নবাব-সরকারে কার্য করিতেন। যবন-
( ৮০ )
সংস্রব-দোষে জাতিপাত হওয়াতে ভাগাবন্ত রায় দে
ত্যাগ করেন। তিনি খন্দকার নামে পরিচিত হন,
এবং তাঁহার সমাধিস্থান অদ্যাপি খন্দকারের দরগা ।
বলিয়া প্রসিদ্ধ। কোণ্ডা গ্রামে তাঁহার নামানুসারে
একটি পল্লীর নাম ভাগ্যবস্তপাড়া হইয়াছে। এই বংশের
যশােবন্তরায় টাকার দেওয়ানী কাৰ্য্য করিয়াছিলেন ।
তিনি ইতিহাসে সুপরিচিত। পূৰ্বোল্লিখিত বংশাবলী
অনুসারে শ্ৰীযুক্ত ভাতচন্দ্র রায় এখন হরিশ্চন্দ্রের
বংশধর।
আমরা গত সেপ্টেম্বর মাসে (১৯১২) ঐতিহাসিক
তথ্য সংগ্রহের চেষ্টায় যখন সাভারে ও তৎপার্শ্ববর্তী বহু
স্থানে ভ্রমণ করিতেছিলাম, তখন এক দিন সাভারের
রাজাসন দর্শন কালে তত্ৰত্য জনৈক কৃষকের নিকট
হইতে একখানি খােদিত ইষ্টক-লিপি সংগ্রহ করি।
চিত্র দ্রষ্টব্য ] ইহার কয়েক দিন পরেই আমার জনৈক
শ্রদ্ধেয় বন্ধু উক্ত রাজাসন হইতেই সংগৃহীত অপর এক খানা
ইষ্টক লিপি আমাকে প্রেরণ করেন। [ চিত্র দ্রষ্টব্য)।
উভয় ইষ্টক-লিপিই বাংলার আভাসযুক্ত দেবনাগরী
অক্ষরে লিখিত। এই ইষ্টক-লিপিদ্বয়ের সাহায্যে আশা
করি. সাভারের লুপ্ত ইতিহাস কিঞ্চিৎ পরিমাণ উদ্ধার
হইতে পারে।
প্রথমােক্ত ইষ্টকলিপিখানা অতি বৃহৎ একখানি।
ষ্টকের উপর খোদিত ছিল, তাহা দর্শন মাত্রই প্রতীয়
মান হয়। বােধ হয় ইহাতে ৪ পংক্তি লিপি খােদিত
সাভারে প্রাপ্ত খােদিত ইষ্টকলিপি (১নং)। B, P. & J. Hous
No text on this page.
সাভারে প্রাপ্ত খােদিত ইষ্টকলিপি ( ২নং)। h, B. . & P. IIouse, Dacca.
No text on this page.
( ১ ).
ছিল। কিন্তু ইহার প্রায় অর্ধাংশ ভগ্ন হইয়া যাওয়াতে,
প্রথম ও দ্বিতীয় পংক্তি লুপ্ত হইয়া গিয়াছে। দ্বিতীয়
পংক্তির শেষ অক্ষর ‘পটি বেশ সুস্পষ্ট আছে।
প্রথম ইষ্টক-লিপিখানার নিম্নলিখিত রূপ পাঠোদ্ধার
হইয়াছে।
শ্ৰীশ্ৰীমদ্রা
রিশ্চন্দ্র পাল দ
:
দ্বিতীয় পংক্তির ‘প’টি বােধ হয় “অধিপ শব্দের
শেষ অক্ষর। প্রথম দুই পংক্তিতে বোধ হয় হরিশ্চন্দ্রের
রাজ্য এবং রাজধানীর পরিচয় ছিল ।
দ্বিতীয় ইষ্টক-লিপিখানার অধিকাংশই ভগ্ন হইয়া
গিয়াছে।
একটি ক্ষুদ্র অংশমাত্র আমাদের হস্তগত
হইয়াছে। এই লিপিখানার প্রত্যেকটি পংক্তির উপরে
ও নীচে সুন্দর খােদিত কারুকার্য বর্তমান।
এই লিপিখানাতে কয় পংক্তি ছিল, তাহা অনুমান
করা কঠিন,--তবে উহাতে দুইটি পংক্তির সুস্পষ্ট চিহ
বর্তমান। বােধ হয়, উহার উপরে ও নীচে আরও
কয়েকটি পংক্তি ছিল। দ্বিতীয় ইষ্টক-লপিখানার নি,
লিখিত রূপ পাঠোদ্ধার হইয়াছে।
বড় ১২৪
পুরী
এই ‘বত’ শব্দের পূর্বে নিশ্চই ‘সং শব্দ ছিল, এবং
গুরী শব্দের পূর্বে হরিশ্চন্দ্রের রাজধানীর নাম ছিল।
{ ৮২ ) এই ইষ্টক-লিপিদ্বয়ের সাহায্যে নিম্নলিখিত বিষয় গুলি প্রমাণিত হইতেছে। হরিশ্চন্দ্র পালবংশীয় নৃপতি ছিলেন। তৃতীয় পংক্তির ভয় শেষ 'অক্ষরটি নিঃসন্দেহ হ’ ছিল 'পাল’ শব্দের পর যে ভগ্ন ‘দটি দৃষ্ট হয় উহা বােধ ছঃ “দে, এবং তার পর এ টি ‘ব’ ছলএই ‘দেব’ ব্দ তিচক নহে; প্রত্যেক নৃপতির নামের পরেই এই সম্মানসূচক উপাধি সংযুক্ত থাকে। হরিশ্চন্দ্র পাল- বংশীৰ নৃপতি, এবং কোন পাবং “য় নৃপতিই মাহিষ্য- জাতায় ছিলেন বলি। জানা যায় না, সুতরাং রাজা হরিশ্চন্দ্র পালক ও মাহিষ্যজাতীয় অনুমান করিবার কোনই কারণ নাই। দ্বিতীয় ইকলিপিখানা হরিশ্চন্দ্রের নামযুক্ত না হইলে ও, তাহার বাসভবনের ভগ্নাবশেষের মধ্যে পাওয়া যা ওয়াতে, উহা তাঁহার কোন বংশধরের, এইরূপ অনুমানের যথেষ্ট কারণ বর্তমান আছে। এই ইষ্টক- খণ্ডে খোদিত তারিখে (১২৫৪ সংবতে) সাভারে কোন নৃপতি রাজত্ব করিতেন, তাহা নিশ্চিতরূপে নির্দেশ করা সুকঠিন। এ বিষয় মীমাংসার জন্য, এবং হরিশ্চন্দ্রের রাজত্ব-কল স্থির করিবার জন্য আমরা হরিশ্চন্দ্রের সম- সাময়িক অন্যান্ত ঘটনার আলোচনা করিতেছি। প্রথমতঃ, পূৰ্বেই উক্ত হইয়াছে অধুনিক রঙ্গপুর জেলার অন্তর্গত পটি কানগরের রাজা মাণিকচন্দ্রের পুত্র গােপীচন্দ্র অথবা গােবিন্দচন্দ্রের সহিত রাজা হরিশ্চন্ত্রের ( ৮৬ ) , অদুনা পদুনা নাম্নী কন্যাদ্বয়ের বিবাহ হয়। সুতরাং ইহা প্রতীয়মান হইতেছে যে, জামাতা গোবিন্দ চন্দ্র ষে সময়ে পট নগর বাজত্ব করিতেন, তাহার অব্যবহিত পূর্ঘেই হচিদ্র সাভারে রাজত্ব রিয়া শিয়াছেন। মামাতার সিংহাসন লাভ ন্যই ধৰ্ম্মপ:রে সহিত যুদ্ধে হচিদ্র নিহত হন, তাহা পূর্ধ্বই বর্ণিত হা:ছ । মা ঐ’স পেসিডন্সির উত্তর আক ট জেলার অন্তভুক্ত তিরুমাঃ গিৰিলিপিতে তামিল ভাষায় মহর দ রাজেন্দ্র- যে দিগ্ধি জয়-কাহিনী বর্ণিত অাছে পাদটীকায় তাহার ইংরেজী অব দ উ, হল। (৪০) । 8. 'In the 1311 year (of the reign of King Para Besori Varman alias the lord Sri-Rijen fra Chol- 1):v, wh:) ..suized by this) great, warlıke arny (the following)... ..030.2-vishya which was dujicult to approach, (and which he subdueel in) close ligiits; the pood Kosalais: du, where Brahman iscinhled; Tandabutii, in whose guders been abounded, (and which he acquired, after having destr:yed Dharma Pal (in) hot batilc; Takkanaldar, whose ſame reached ( all ) directions, (and which he occupied ) after having forcibly attacked Ranasu a ; Vangaladusa, where the rain wind never stopped. ( and from which ) Govinda chandra fled, having descend :d from his male elephant ; clephants of rare strength and treasures of women, ( which he scized after having been pleascd to put lo flight on a hul ballle-field Malipala, decked
( ৮৪ ))
ইহা হইতে জানা যায় যে, রাজেন্দ্ৰচোল দেব
বিষয়, এবং কোশলনাড়ু দেশ যুদ্ধে অধিকার করিয়া-
ছিলেন, এবং তন্তবুত্তি অথবা তন্তভুক্তিপতি ধর্মপাল,
তরুণলাড়পতি রণশূর, বঙ্গাদেশপতি গােবিন্দচন্দ্র,
এবং উত্তরিলাড়মপতি মহীপালকে যুদ্ধে পরাজিত করিয়া-
ছিলেন। • ৪১)
( as he was ) with ear-rings, slippers and bracelets ;
Uttiraladam, as rich in pearls as the ocean ; and the
Ganga, whose waters dashed against bathing-places
covered with sand.' Hultzech's "South Indian Indian
Inscriptions" vol 1.
(৪১) ওজ্ঞবিষয় = উড়িষ্যা { গৌড় রাজমালা, ৪• পৃঃ)
কোশলনাড়ু =কোশল দেশ (?)
তবুন্তি =তন্তভুক্তি বা বিহার, সম্ভবতঃ গৌড়মণ্ডল
{ এনগেন্দ্রনাথ বসু-শূন্যপুরাণ)
বঙ্গাল দেশ =বঙ্গদেশ ( শীনগেন্দ্রনাথ বসু, এবং গৌড়
রাজমালা)
তন লাড়ম= উত্তর রাঢ় (নগেন্দ্র নাথ বসু এবং
গৌড় রাজমালা)। রায় বাহাদুর বেঙ্কর এবং ডাক্তার
স্থলজ
“ তৰুণ লাড়ম * দক্ষিণ বিরাট বা দক্ষিণ বেরার
অর্থে এবং , উত্তরিলাড়ম উত্তর বেরার অর্থে গ্রহণ
করিয়াছেন।”
“কিন্তু, এডডবিষয় (উড়িষা) বঙ্গাল দেশ ( বঙ্গ)
গঙ্গার সহিত উল্লিখিত দেখিয়া “লা” কে রাঢ় অর্থে
গ্রহণই সমীচীনতর বােধ হয়।” গৌড়রাজমাল ৪০
পৃঃ, পাদ টাকা।
( ৮৫ ১ প্রথম রাজেন্দ্রচোল দেব ১০১২ খৃষ্টাব্দে সিংহাসনা- রােহণ করিয়াছিলেন, এবং বােধ হয় তাহার অনতি- পরেই পূৰ্ব্ব ভারত আক্রমণ করিয়াছিলেন। তিরুমলয়- গিরিলিপি তাঁহার বাজত্বের ত্রয়ােদশ বর্ষে, অর্থাৎ ১০২৪ খৃষ্টাব্দে উৎকীর্ণ হইয়াছিল। রাজেন্দ্রচোল দেবের রাজ- ত্বের নবম বর্ষে উৎকীর্ণ মেলপাড়ির চোলেশ্বর মন্দির- লিপিতে পূৰ্ব্ব ভারতের দিগ্বিজয়-কাহিনীর কোন উল্লেখ নাই, অথবা পূর্বোক্ত নৃপতি এবং দেশসমূহেরও কোন- রূপ উল্লেখ দৃষ্ট হয় না। (৪২) সুতরাং ইহা হইতে সহজেই অনুমিত হয় যে, রাজেন্দ্রচোল দেবে রাজত্বের নবম হইতে এয়ােদশ বৎসরের মধ্যে, অর্থাৎ অর্থাৎ ১০২ হইতে ১০২৪ খৃষ্টাব্দের মধ্যে তিনি পূর্ব ভারত আক্রমণ করিয়াছিলেন ; এবং ঐ সময়ে বিহারপতি ধৰ্ম্মপাল, উত্তর রাঢ়পতি মহীপাল, দক্ষিণ রাঢ়পতি রণশূর, এবং বঙ্গদেশ- পতি গােবিন চন্দ্র দিগ্বিজয়ী রাজেন্দ্র চোলের নিকট পরা- জিত হইয়াছিলেন। তিরুমলয় গিরিলিপিতে উল্লিখিত বৎসরের যাথার্থ্য পরীক্ষা করিবার জন্য নিয়ে আমরা আরও প্রমাণ উল্লেখ করিলাম। ১৭৯৪ খৃষ্টাব্দে সারনাথে ভূগর্ভ হইতে একটি বুদ্ধ মূর্তির ভগ্নাবশেষ আবিষ্কৃত হয়। তাহার পাদপীঠে প্রথম মহীপালদেবের একটি প্রস্তরলিপি খােদিত ( 82 ) Epigraphia Indica vol. VII-Appendix. List of Inscriptions of Southern India.
( ৮৬ ) আছে। তাহাতে ‘সংবং ১০৮৩ পৌষ দিনে ১১ অতি স্পষ্টাক্ষরে খোদিত। (৪৩) ইহা হইতে প্রমাণিত হইতেছে যে, ১০৮৩ সংবতে অর্থাৎ ১০২৬ খৃষ্টাব্দে মহী- পালদেব জীবিত ছিলেন। সুতরাং তিকমলয় গিরিলিপি অনুসারে ১০০ হইতে ১০২৪ খৃষ্টাব্দের মধ্যে রাজেন্দ্র- চেল দেব কর্তৃক মহীপালদেবের পরাজয় বাৰ্ত্তায় অবিশ্বাস্য কিছুই নাই। পূৰ্ব্বে উক্ত হইয়াছে, রাজা মাণিক চন্ত্রের মৃত্যুর পর ধাপ তাহার রাজ্য আত্মসাং করিবার চো করেন। মাণিক চন্দ্র মহিষী ময়নামতী পুল গাে‘বন্দ চন্দ্রের সিংহা- সন লাভের জন্য ধর্মপালের সহিত যুদ্ধ করেন। জামাতা গােবিন্দচন্দ্রকে সাহায্য করিবার জন্য সাভার নৃপতি হরিশ্চন্দ্র পাল দেব সেই যুদ্ধে যােগদান করেন এবং সম্ভবতঃ যুদ্ধেই নিহত হন। সুতরাং, হরিশ্চন্দ্র গোবিন্দচন্দ্রের সিংহাসন লাভের অব্যবহিত পূৰ্বে পাণ ত্যাগ করেন। তিরুমলয় লিপি অনুসারে গােবিন্দচন্দ্র ১৯২০ হইতে ১০২৪ খৃষ্টাব্দের মধ্যেই সিংহাসনরূঢ় ছিলেন, এবং যুদ্ধে রাজেন্দ্ৰচোল দেবের নিকট পরাজিত হইয়াছিলেন। ইহার অব্যবহিত পূৰ্বেই ( একাদশ শতাব্দীর প্রথম পাদে। করিশ্চন্দ্র- পাল দেব সাভারসিংহাসনে আরূঢ় ছিলেন, ইহাই প্রমাণিত হইতেছে। দ্বিতীয়তঃ, রামাই পণ্ডিত রচিত “শ পুরণে ৪৩) গৌড় লেখমালা। প্রথম লগ।
( ৮৭ )
বহু স্থানে হরিশ্চন্দ্র অথবা হরিচন্দ্র বাজার উল্লেখ দৃষ্ট
হরিশ্চন্দ্র রাজা। করে ধৰ্ম্ম পূজা
ভন্ন বাহু’ত ঘর।”
হরিশ্চন্দ্রের ধর্ম পূজা: বর্ণনায় কাব পুনরায় গাহিয়া
ছেন,-
চন্দ্র সূক্ষ্য আপক গ্রহ-তারাগণ।
হরিশ্চন্দ্র ধন্থ আমরা ভূবন "
“হরিশচন্দ্র মহ’রাজা পুণিী কপু।
রি’লন ধৰ্ম্ম জুগ পতি।
“শূন্যে পূজএ হরচন্দ্র বিসাদ ভাবিআ মতি।”
ইত্যাদি, ইত্যাদি।
‘শূন্য পুরাণের’ মুখবন্ধে প্রাচ্য বিদ্যা মহার্ণব শ্রীযুক্ত
নগেন্দ্রনাথ বসু মহাশয় নানাবিধ যুক্তিতর্ক দ্বারা, রামাই
পণ্ডিতের বর্ণনানুযায়ী সামাজিক, রাজনৈতিক এবং
তৎসাময়িক ধৰ্ম্মের ইতিহাস অতি বিশদ ভাবে আলােচনা
করিয়া নিঃসন্দেহ ভাবে প্রমাণিত করিয়াছেন যে,
রামাই পণ্ডিত ধৰ্ম্মপাল এবং হরিশ্চন্দ্রের সমসাময়িক
ব্যক্তি।
বাহুল্য জ্ঞানে সেই সমস্ত আলােচনার
পুনরবতারণা করা হইল না। ক মহাশয় বিশিষ্ট
প্রমাণাদি প্রদর্শন করিয়া স্থির করিয়াছেন যে, রামাই
( ৮৮ ) পণ্ডিত দশম শতাব্দীর শেষ পাদে, অথবা শতাব্দীর প্রথম পাদে আবিভূত হইয়াছিলেন। সুতরাং রামাই পণ্ডিতের সমসাময়িক হরিশ্চন্দ্রও ঐ সময়ে শজত্ব করিতেন, ইহা প্রমাণিত হইতেছে। পূর্বোক্ত প্রমাণ- বলে আমরা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হইয়াছি, রামাই পণ্ডিতের আবির্ভাব বিচারেও সিদ্ধান্তই সমর্থিত হইতেছে। বসু মহাশয় মুখবন্ধের এক স্থানে লিখিয়াছেন, “রাজা হরিশ্চন্দ্র বা হরিচন্দ্রকেও আমরা রামাই পণ্ডিতের সমসাময়িক লােক বলিয়া মনে করি। * * কিন্তু, তিনি কোন স্থানের রাজা ছিলেন তাহা জানা যায় না।” সাভারের রাজা হরিশ্চন্দ্রের সন্ধে অতি অল্প দিন হইল আলােচনা আরম্ভ হইয়াছে, সুতরাং শূন্যপুরাণের’ মুখবন্ধ লিখিবার সময় হয়ত বসু মহাশয় তৎসম্বন্ধে বিশেষ কোন সংবাদ অবগত ছিলেন না, এবং তজ্জন্যই এইকপ লিখিয়াছেন। ‘শূন্যপুরাণ বর্ণিত হরিশ্চন্দ্রই যে সাভায়ের হরিশচন্দ্র তদ্বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। ঐ সময়ে আবির্ভূত অন্য কোন হরিশ্চন্দ্রের অস্তিত্ব সম্বন্ধে কিছুই জানা যায় না। মছলি সহরে প্রাপ্ত তাম্রশাসনে হয়, গাহড়ল-রাজ রশচন্দ্র দেখ ১২৫• সংবতে, অর্থাৎ ১১৯৩ খৃষ্টাব্দে রাজত্ব করিতেন। টাব্দে রাজত্ব করিতেন। ৪৪। কিন্তু সাভারের হরিশ্চন্ত্রের আবির্ভাব কাগ একাদশ শতাব্দীর প্রথম পাদ। সুতর প্রায় দুই শত বৎসরের ব্যবধান ( 88 ) Epigraphia Indica. Vol. X pari v.
( ৮০ ) থাকাতে এতদুভয় হরিশ্চন্দ্রের মধ্যে গােলঘােগের কোন- রূপ সম্ভাবনা নাই। এতদ্ভিন্ন, এতদ্ভিন্ন, রামাই পণ্ডিতের বর্ণনানুযায়ী হরিশ্চন্দ্র যে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং শূন্যবাদী ছিলেন, তাহারও যথেষ্ট নিদর্শন অদ্যাপি সাভারে পাওয়া যায়। সাভারে বাজবাটীর ধ্বংসাবশেষ হইতে আবিষ্কৃত কতিপয় বুদ্ধ মূর্তির বিতরণ ও চিত্ৰ পূৰ্বেই প্রদত্ত হইয়াছে। সাভারে অনুসন্ধান কালে আমরা কয়েকখানা বহু পুরাতন হস্তলিখিত “ধৰ্ম্মমঙ্গল গ্রন্থ, এবং, বােধ হয়, “শূন্যপুরাণের" অতি জীর্ণ ৩। ৪ খানা মাত্র পুষ্ঠা সংগ্রহ করিয়াছি। ইহা হইতে স্পষ্টই প্রতীয়মান হয় যে, বৌদ্ধ ধৰ্ম্মাবলম্বী হরিশ্চন্দ্রের সময় সাভার অঞ্চলে ধৰ্ম পুজার এবং শূন্যবাদের যথেষ্ট প্রচলন ছিল। “শূন্য পুরাণের মুখবন্ধে প্রাচ্য বিদ্যা মহাণৰ শ্ৰীযুক্ত নগেন্দ্রনাথ বসু মহাশয় সহদেব চক্রবর্তী রচিত “ধৰ্ম্ম মঙ্গলের উল্লেখ করিয়া লিখিয়াছেন যে, তাহাতে হরিচন্দ্র” বা হরিশ্চন্দ্র রাজার ধৰ্ম্ম-নিন্দা, অপুত্রক হেতু মহিষী সহ রাজার বন- গমন, তাঁহার নানা দেবদেবীর উপাসনা, বন-মধ্যে রাজার পিপাসায় প্রাণত্যাগ, রাণীৰ ধৰ্ম্মস্তুতিতে ধৰ্ম্মের অনুগ্রহ, খাজার প্রাণলাভ এবং পুত্রলাভ, ধৰ্ম্মের ছলনায় পুত্র- বলিদা", এবং পুনরায় তাহার কৃপায় পুত্রের প্রাণ লাভ, প্রভৃতি ব্যাপার বর্ণিত আছে। কিন্তু, আমাদের সংগৃহীত “ধৰ্ম্মমঙ্গলে ইহার কোনরূপ উল্লেখ নাই। অপর এক প্রবন্ধে এতদ্বিষয়ে আলােচনা করিবার ইচ্ছা রহিল। বসু মহাশয়ই অপর এক স্থানে লিথিয়াছেন,-পর-
বর্তী ধৰ্ম্মমঙ্গলকাগণ ধর্মের জন্য হরিশ্চন্দ্রের পু-বলি-
দানের কথা লিখিয়াছেন, কিন্তু শূন্যপুরাণে এ প্রসঙ্গ
নাই। পরবর্তী কবিগণ ধৰ্ম্মের মাহাত্ম্য ঘোষণা করি-
বার উদ্দেশ্যেই সম্ভবতঃ পু-বলিদানে প্রসঙ্গ যােগ
করিয়া থাকিবেন।
তৃতীয়তঃ, চতুজ-বচিত "হরি চরিত কাব্যে
লিখিত আছে-
গ্রামােমাে হস্তামনঞ্জু কৈ পুঞ্জ।
শ্ৰীমান করঞ্জ ইতি ব্যতমাে বন্দ্যোম।
দ
।
কর্ণঃ পূজাপতিগুণৈঃ পপূির্ণ কমঃ ,
স্বরেখ ইতি বিপ্লবরে। হবতীর্ণ
তং গ্রামাগণনীয় গুণঃ সমগং।
ঐ গ্রাই গনবরং নৃপ ধােপ। * (*৫ )
অর্থাৎ বরে ভূমে করঞ্জনামে এক শ্রেষ্ঠ ম আছে,
এই গ্রামে বিপ্র প্রবর স্বর্ণরেখ
জন্ম গ্রহণ করেন।
রাজা ধম্মপালের নিকট হইতে তিন উ সমগ্র গ্রাম
খানি লাভ করিয়াছিলেন। ইহা হইতে আমরা প্রাপ্ত
হইতেছি যে, স্বর্ণরেখ আমাদের বতি ধর্মপালের
সমসাময়িক ব্যক্তি ছিলেন। সুতরাং স্বর্ণবেথের তারিখ
স্থির করিতে পারিলে তৎসঙ্গে ধৰ্ম্মপালের এবং তৎ
সঙ্গে তাহার সমসাময়িক (তিরুমলঃ লিপি অনুসারে
গােবিন্দচন্দ্রের, এবং তৎসঙ্গে গােবিন্দচন্দ্রের
(৪৫) হৰি চরিত কাব্য। ১০শ স্বর্গ।
( ৯৯ )। সাভারপতি হরিশ্চন্দ্রের রাজত্বকালও স্থিরীকৃত হইবে। এতদুপায়ে প্রাপ্ত তারিখ এবং পূর্ববর্ণিত উপায়ে প্রাপ্ত তারিখের ঐক্য হইলে, আমাদের সিদ্ধান্ত বল- বক্তর হইবে , বারেন্দ্র কুলগ্রন্থমত, বারেন্দ্র কাশ্যপ গােত্রের বীজ পুরুষ সুযেণ আদিশূরের সভায় সস্থিত ছিলেন। সুতরাং, তিনি আদিশূরের সকালবৰ্ত্তী। হচিরত কাব্যোলিখিত স্বর্ণরেখ ধী-পুরুষ সুষেণ হইতে অধ- স্তন দশম পুরুষ । { ৪৬ ) সুতরাং, আদিশূরের সময় নির্ণীত হইলে তৎসঙ্গে স্বর্ণরেখে সময় ন 'নর্ণীত ইবে। আদিশূরে। সনার নির্দেশ সবে বশে লক্ষিত হয়। কুলাবের মতে ৮৫৪ শ“বেদবাণা- iহমে শাকে” }; * রেন্দ্র কুরপঞ্জর” মতে (“শাকে বেদ কলষক বিম" ) , বাচস্প’ – মিশ্রের মতে {“বেদ বাণ’ঙ্গ শাকে”। ৬৫৪ শকে; ভট্ট গ্রন্থম, ৯৯৪ শকে । “শক ব্যবধান কর অবধান ' হ্মণ শ বারে কাশ্য প গোত্র । বাজ পুষ সু , তৎপুত্র ব্রহ্মা ও তৎপুর দক্ষ, তৎপুত্র পীতাম্বর, তৎ- পুত্র শান্তনু মহামুনি, তৎপুত্ৰ জীগনি (জীবন), তৎপুত্র পীতাম্বর, তৎপুত্র হিরণ্যগর্ভ তৎপুত্র বেদ , এই বেদগর্ভের পুত্র স্বর্ণরেখ। সুতরাং, স্বর্ণরেখ সুষেণের ১০ ম পুরুষ অধস্তন হইয়াছেন। নগেন্দ্রনাথ বসু, শূন্য পুরাণ, মুখবন্ধ।
ననని য। অঙ্কে অঙ্কে বামাগতি বেদযুক্তে তদা । ক গত তুলাঙ্ক অঙ্কে গুরুপূর্ণ দিনে। ); “ক্ষিতীশ বংশাবলির” যতে ( *নবনবত্যধিক নবশতী শকাব্দে” }; কায়স্থ কৌস্তুভ রচয়িতার মতে ৩৮০ বাংলা সনে, অর্থাৎ ৮১৪ শকে; “দত্তবংশমালার মতে ৮৪ শকে (“শাকে সবেদাষ্ট শতাব্দকে” ; “Indo- Aryans' গ্রন্থে রাজা রাজেন্দ্র লাল মিত্রের মতে ৯৬৪ খৃষ্টাব্দে, অর্থাৎ ৮৮৬ শকে; “সম্বর নির্ণয়ের মতে ৯৯৯ সংবতে, অর্থাৎ ৮৬৪ শকে; “গেড়ে ব্রাহ্মণ রচয়িতার মতে ৯৫৪ শকে; (১৭) “বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস” প্রণেতা প্রণেতা প্রাচ্যবিদ্যামহার্ণব শ্ৰযুক্ত নগেন্দ্র নাথ বসুর মতে ৬৭৫ হইতে ৬৭৭ শকের মধ্যে “গৌড়রাজমালা”র আনুমানিক { ১০৬০ খৃষ্টাব্দে } আদিশূর গৌড় মণ্ডলে পঞ্চ ব্রাহ্মণ আনয়ন করেন। এই বিভিন্ন মতাবলীর মধ্যে কোনটি প্রকৃত পক্ষে গ্রহণীয়, তাহা স্থির করিতে গেলে মস্তক বিঘুণিত হয়। যাহা হউক, নিয়ে আমরা এতদ্বিষয়ে আলােচনা করিতেছি। রাজা রাজেন্দ্র লাল মিত্রের "Indo-Aryans" 27.7 67777 বংশের প্রতিষ্ঠাতা বীর- সেন ও আদিশূরকে অভিন্ন ব্যক্তি বলিয়া মনে করিয়া- ১৫৪ শকে অর্থাৎ ৭৩২ খৃষ্টাব্দে আদিশূর পঞ্চ ব্রাহ্মণ আনয়ন কয়ািছিলেন, এইরূপ অনুমান করাই আমরা সমীচীন বােধ করি। কারণ, (১) প্রসিদ্ধ কুলাচাৰ্য বাচস্পতি মিশ্র তঁাহার কুলগ্রন্থে “বেদবাণাঙ্গ শাকে । ৬৫৪ শকাব্দে ] আদিলুর পঞ্চ ব্রাহ্মণ আন-
যন করিয়াছিলেন, এই রূপ নির্দেশ করিয়াছেন।
‘বারেন্দ্র কুলপঞ্জিকা'র মতও
অনুকুল।
তাহাতেও ‘শাকে
বদ কলষটক বিমতে’ [ ৬৫৪
শকাব্দে ] আদিশূরের পঞ্চ ব্রাহ্মণ আনয়ন নির্দিষ্ট
হইয়াছে।
{ ২} প্রাচীন কুলাচাৰ্য্য ইরিমি লিখিয়াছেন,
“পালবংশীয় রাজা দেবপালের অভ্যুদয়ের পূর্বে আদি-
শূন্ম আবিভূত হইয়াছিলেন। ( ৪৮ ) দেবপাল
খৃষ্টাব্দে অর্থাৎ ৭৬৬ শকাব্দে সিংহাসনারােহণ
করেন। ( ৪৯ । সুতরাং হরিমিশ্রের উক্তিও আমা-
মতের অনুকূল।
। ৩) বারেন্দ্রগণের লাহেড়ী বংশাবলীতে লিখিত
আছে পালংশায় দ্বিতীয় নৃপতি ধৰ্ম্মপাল সু-
প্রসিদ্ধ ভট্রনারায়ণের পুত্র আদিগাঞি ওঝাকে ধামসার
গ্রাম দান করিয়াছিলেন ।
রাজা শ্রীধৰ্ম্মপালঃ সুখমমরধুনী তীরদেশে বিধাতু
নামাদিগাএি বিং গুণযুততনয়ং ভট্টনারায়ণস্য।
যজ্ঞান্তে দক্ষিণাথং স কনক-রজতৈধাম সারাভিধান
গ্রামং
তস্মৈ বিচিত্র সুরপুরসদৃশং প্রাদদং
পুণ্যকামঃ” । ( ৫০)
(৪৮) বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস।
প্রথম খণ্ড ৯৮পৃঃ।
( 82 ) V. A. Smith-"Indian Antiquary"
Vol. XXXVIII.
(৫) লাহেড়ী বংশাবলী ।
এই আদিগাঞি ওঝা আদিশূরানীত পঞ্চব্রাহ্মণের
একতম শালি গােজ ক্ষিতীশের পৌত্র। ক্ষিতী:-
শের পুত্র ভট্টনারায়ণ। ভট্টনারায়ণের পুত্র আদি-
গাঞি ওঝা।
তৎসুতশ্চ ক্ষিতীশঃ স আগতে গৌড়মণ্ডলে।
ভট্টনারায়ণস্তস্মাৎ সৰ্ব্বশাস্ত্রবিশারদ।
তৎপুত্রঃ ভুবিবিখ্যাতঃ সৰ্ব্বশাস্ত্রে পণ্ডিতাঃ ।
আদ্যে: বরাহ বাটুশ্চ রামাে লালে নিপােস্তথা।”(৫০)
এরূপ স্থলে ইহা স্পষ্টই প্রতীয়মান হইতেছে যে,
ধৰ্ম্মপালের
বৎসর পূর্বে আদিগাঞি
ওয়ার পতামহ ক্ষিতীশ কান্যকুজ হইতে আদিশূর
কর্তৃক গোঁড়ে আনীত হইয়াছিলেন। ধর্মপাল ৭৮
খৃষ্টাব্দে, ৭০২ শকাব্দে সিংহাসনারােহণ করেন। (৫২)
সুতরাং ইহা কইতেও অর্থাৎ ৭০২ - ৫০ = ৬৫২ শকাব্দ
পাইতেছি, এবং এতদ্দ। আমাদের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সমর্থিত
হইতেছে।
(৪) কাশ্মীরজ ললিতাদিত। ৬৯৫ হইতে ৭৩১
খৃঃ [ ১৭ হইতে ৬৫৪ শকাব্দ পর্যন্ত কাশ্মীরে রাজত্ব
করিয়াছেন। তাঁহার দিগ্বিজয় কালে তিনি যাইতেছে ;
কান্যকুব্দ পতি যশােধর্মকে { ভবভূতি প্রভৃতি মহাকবিগণ
ম? শাবার
শশাভিত করিয়া
ছিলেন ] পরাজিত করিয়াছিলেন, এবং গৌড় রাজ্য
৫১। হরিমিশ্র।
(৫২) v. A.
Vol. XXXVIII.
Smith Indian Antiquary
অধিকার করিয়াছিলেন। ( ৫৩) গৌড় রাজ্যের তৎ- কালীন নৃপতির নাম “রাজতরঙ্গিণী’তে উল্লিখিত নাই। ললিতাদিত্যের পৌত্র জয়াদিত্য ( জয়াপীড়) ৬৬৬ হইতে ৩৯৬ শকাব্দ পর্যন্ত কাশ্মীর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত থাকেন। সিংহনাৱােহণের অব্যবহিত পরেই পিতামহের ন্যায় তিনিও দিগ্বিয়ে বহির্গত হন। নানাদেশ জয় করার পরে রণক্লান্ত সৈন্য এবং সামন্তু নৃপতিগণকে স্বদেশ গমনে অনুমতি প্রদান করিয়া তিনি একাকী গৌড় রাজ্যে এবং ক্রমে সমৃদ্ধিশালী গৌড় রাজধানী পৌবন নগরে প্রবেশ করেন । গৌড়ে তখন নামক জনৈক নৃপতি রাজত্ব করিতেন। (৫৪) নানারূপ ঘটনার পর সুয়াপীড় জয়ক্তের একমাত্র কন্যা কল্যাণদেবীর পাণিগ্রহণ করেন, এবং দিগ্বিজয়ী জামাতা অচিরে পঞ্চগৌড়ের রাজগণকে পাজিত করিয়া শ্বশুঙ্ক তাঁহাদেব অধীশ্বর করি- লেন। (৫৫) রিমিরচিত প্রাচীন কুলাচাৰ্যকারি- কায় এবং অন্যান্য বহু কুলগ্রন্থে আদিশূর “পঞ্চগৌড়া- ধিপ বলিয়া বর্ণিত হইয়াছেন। রজিতরঙ্গিণীর বর্ণ- ( ৫৩ ) “রাজ তরঙ্গিণী'। চতুর্থ তরঙ্গ। (৫৪) গৌড় ১জাশ্রয় গুপ্তং জয়ন্তাখেন ভূভুজা। প্র ববেশ ক্ৰমেশাথ নগর পৌণ্ড্রবর্ধন। রাজ তরঙ্গিণী। চতুর্থ তরঙ্গ। ( ৫৫ ) ৪১৮ হইতে পরবর্তী শ্লোকাবলী দ্রষ্টব্য। রাজ তরঙ্গিণী। চতুর্থ তরঙ্গ। } • ( ৯৬ ) ৭৫৪ শক এবং প্রাচীন কুলগ্রন্থাদির বর্ণনায় ঐক্য দর্শনে, এবং প্রায় সমকালবৰ্ত্তী হওয়াতে, শ্রী:যুক্ত নগেন্দ্র নাথ ব মহাশয় জয়ন্ত এবং আদিশূরকে অভিন্ন ব্যাল বলিয়া অনুমান করিয়াছেন । জামাতার সাহানে। “পঞ্চ গৌড়াধিপ' হইয়া, প হয় জয়ন্ত আদিশূর উপাধি ধারণ করিয়াছিলেন। ওই সাময়িক অন্য কোন নৃপতি “পঞ্চগৌড়াধিপ” ছিলেন বালয় জানা যায় না। সুতরাং রাজতরঙ্গিণীর এবং প্রাচীন কুন্থাদির বর্ণনার পর- স্পর সামঞ্জস্য করিবার অন্য জয়ন্ত এবং আদিশূরকে অভিন্ন ব্যক্তি মনে করা অযৌক্তিক নয়। পঞ্চব্রাহ্মণ আনয়ন করি, তাহার ১৪১৫ বৎসর পরে- জয়ন্ত আদিশূর বৃদ্ধকালে অয়াপীড়কে কন্যাদান করিয়া- ছিলেন, এইরূপ অনুমান করাই স্বাভাবিক। এই অনুমান সত্য বলিয়া ধরিয়া লইলে, ৬৫৪+১৫=৬৬৯ শকাব্দ প্রাপ্ত হইতেছি। এই তারিখের সহিত রাজ- তরঙ্গিণী বর্ণিত জয়াপীড়ের ‘গিয়ের তারিখের সম্পূর্ণ ঐক্য হওয়াতে আমাদের সিদ্ধান্ত সমর্থিত হইতেছে। ( ৫ ) আদিশূর থে পঞ্চব্রাহ্মণ আনয়ন করিয়া ছিলেন, তাঁহাদের অধ ন প্রায় পঞ্চদশ পুরুষগণকে আদিশূরের দৌহিত্র বংশে জাত বল্লালসেন (৫৬) কৌলিন্য প্রদান ( ৫৭ ) সুতরাং, আদিশূর (৫৬) “জাতত বল্লালসেনাে গুণিগণিতস্তস্য দৌহিত্র- বংশে।* বারেন্দ্র কুলপাঞ্জকা । (৫৭) বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস।” প্রথম খণ্ড, ৯৮ পৃঃ।
( ৯৭ ) ৮ বল্লাল সেন হইতে আনুমানিক ১৫x২৫-৩৭৫ বৎসর পূৰ্বে বর্তমান ছিলেন। বল্লাল সেন ১৯৯১ শকে ‘দান- সাগর” গ্রন্থ, (৫৮) এবং ১০৯০ শকে ‘অদ্ভুত সাগর’ গ্রন্থ (৫৯) রচনা করেন। অদ্ভুত সাগরে' এক স্থানে লিখিত আছে, ---‘ভুজ-বসু দশ মিতে শকে শ্রীমদ্ বল্লাল সেন রাজাদৌ” ইত্যাদি। ইহাতে ১০৮১ শকাব্দ বল্লাল সেনের রাজত্বের প্রথম বৎসর রূপে নির্দিষ্ট হইয়াছে। ( ৬০ ) ১০৬০ শকের আনুমানিক ৩৭৫ বৎসর পূৰ্ব্বে বদি আদিলুর বর্তমান থাকিয়া থাকেন, তবে এতদ্বারা ৭০৬ শকাব্দ তাহার আবির্ভাবকালরূপে নির্দিষ্ট হইতেছে । সম্পূর্ণ ঐক্য না থাকিলেও, আমাদের সিদ্ধান্তের বিরােধী নহে। আনুমানিক গণনায় যথার্থ সময় নিরুপণ করা সুঠিন, এবং তাহাতে এইরূপ সামান্য ব্যবধান হওয়া স্বাভাবিক। পূর্বোক্ত এই সকল যুক্তির বলে, ৬৫৪ শকাব্দেই আদিশূর কর্তৃক পঞ্চ ব্রাহ্মণ আনয়নের সময় নির্দিষ্ট করা ইহা ( ৫৮) নিখিল চক্ৰতিক শ্ৰীমদ্বল্লাল সেনেন পূর্ণে শশি-নব-দশমিতে শকবর্ষে দানসাগরে রচিতঃ বল্লালসেন রচিত “দানসাগর”। }, A. S. B. 1496, (৫৯) “শাকে খ-নব-থেকে। Bhandarkar's Report on the search for Sanskrit manuscripts during 1887–88, and 1890-9। () Babu Manomohan Chakravarty: J. A. S. B, 19o6.
আমরা সমীচীন বোধ করি। যাহা হউক, পূর্বে উক্ত হইয়াছে, যে, দ্বিতীয় ধৰ্ম্মপাল স্বর্ণরেখ নামক জনৈক ব্রাহ্মণকে করঞ্জ গ্রাম দান করেন; সুতরাং স্বণরেখ ধৰ্ম্ম- পালের সমসাময়িক ব্যক্তি। স্বর্ণরেখ আদিশূরানীত বারেন্দ্র কাশ্যপ গােত্রের বাজ পুরুষ সুষেণ হইতে অধস্তন দশম পুরুষ, তাহাও পূর্বে উক্ত হইয়াছে। ২৫ বৎসর এক পুরুষের আনুমানিক কাল ধরিয়া লইলে, স্বর্ণরেখ আদিশূসের সমসাময়িক সুষেণ হইতে ২৫০ বৎসর পরে বর্তমান ছিলেন। ইতিপুধ্বে ৬৫৪ শকে আদিশূর ব্রাহ্মণানন করিয়াছিলেন বলিয়া নির্দিষ্ট হইয়াছে। সুতরাং, স্বর্ণরেখ, এবং তৎসঙ্গে দ্বিতীয় ধম্মপাল, এবং তৎসঙ্গে ( তিরুমলয় লিপি অনুসারে গােবিন্দচন্দ্র ৬৫৪ +২৫• = ৯০৪ শকাব্দে, থাং, ৯৮১ অর্থাৎ, ৮১ খৃষ্টাব্দে বর্তমান ছিলেন। গােবিন্দচন্দ্রের শ্বশুর সাভারপতি হরিশ্চন্দ্র পালদেব ইহার করেক বৎসর পূৰ্ব্বে, অর্থাৎ, খৃষ্টিয় দশম শতাব্দীর শেষপাদে ধৰ্তমান ছিলেন, বর্তমান যুক্তিতে এইরূপই প্রতীয়মান হইতেছে। ইতিপূর্বে ও, নানা- প্রকার যুক্তি দ্বারা প্রমাণ করা হইয়াছে যে, হরিশ্চন্দ্র খৃষ্টীয় দশম শতাব্দীর শেষ পাদে, অথবা একাদশ শতাব্দীর প্রথম পাদে বৰ্তমান ছিলেন। সুতরাং, এই যুক্তি তাহার পােষকতাই করতেছে। চতুর্থতঃ, গ্ৰীয়ারস মাণিকচ (গগাবিন্দ চন্দ্রের পিতা এবং হরশ্চন্দ্রের বৈবাহিক ) খৃষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীতে বর্তমান ছিলেন, ইহাই প্রতিপন্ন করতে চেষ্টা ( ৯৯ ) করিয়াছেন। (৬৯) কিন্তু, আমরা ইতিপূর্বে যে সমস্ত প্রমাণ উপস্থিত করিয়াছি, তাহাতেই গ্ৰীয়ারসনের অনুমান অমূক বলিয়া প্রতিপন্ন হইবে। মাণিকচ যে মুসলমান রাজত্বের পূর্বে, অর্থাৎ, খৃষ্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীর পূর্বে বর্তমান ছিলেন, তাহার প্রমাণ স্বরূপ ইহাও উক্ত হইতে পারে যে, ‘মাণিষ্ণচন্দ্রের গ”ে কড়ি দ্বারা রাজ কর আদায়ের কথা লিখিত আছে। মাণিক চাদ রাজা বঙ্গে বড় সতি। হাল থানায় মাসড়া সাধে দেড় বুড়ি কড়ি । দেড় বুড়ি কড়ি লােকে খাজানা যােগাঃ তার বদলী ছয় মাস পাল খায়।' এইরূপ কড়ি দ্বারা রাজকর আদায়ের প্রথা হিন্দ- শাসন কালে প্রচলিত ছিল। সুতরাং ইহা নিশ্চয় যে মাণিকচন্দ্র এবং তৎসঙ্গে হরিশ্চন্দ্র মুসলমান অ্যদয়ের পূৰ্বেই বর্তমান ছিলেন। শ্ৰীযুক্ত দীনেশচন্দ্র সেন মহাশয় এই প্রসঙ্গে পরে লিখিয়াছেন, “এই পুস্তক ( “বঙ্গভাষা ও সাহিত্য ) পাঠ করিয়া মান্যবর গ্ৰীয়ারসন সাহেব আমাকে লিখিয়া পাঠাইয়াছেন যে, এখন তিনি মাণিক রাজার গান মুসলমান বিজয়ের পূর্বে বিরচিত বলিয়া মনে করেন। যাহাহউক, বহু আলােচনার পরে আমরা সিদ্ধান্ত করিয়াছি যে, সাভারপতি হরিশ্চন্দ্রপালদেব খৃষ্টীয় দশম শতাব্দীর শেষ পাদ, অথবা, খুব সম্ভবতঃ, একা, (৬৯) J. A. S. B. Vol. XLVll. 1878 ( ১০০ ) দশ শতাব্দীর প্রথম পাদে সাভারে আগমন করিয়া রাজ্য স্থাপন করেন। কোন স্থান হইতে তিনি সাভার আগমন করেন, তদ্বিষয়ে আলােচনা করিলে, ইহাই অনুমিত হয় যে, গৌড়ের পালবংশীয় দ্বিতীয় বিগ্রহ- পালদেবের হস্ত হইতে স্খলিত হইয়া ৯৬৬ খৃষ্টাব্দে বারেন্দ্র ভূমি যখন “কাঘােজানুয়জ গৌড়পতির” করতলগত ( ৬৩) “অনধিকারী” কাম্বােজ (নেপাল) বাসীগণ কর্তৃক বিজিত দ্বিতীয় বিগ্রহপাল যখন গৌড় রাষ্ট্রের কোনও নিভৃত কোণে, মগধে অথবা মিথিলায় লুক্কায়িত; গৌডের এই মহাবিপদের সময়ে চলেল্ল- রাজ বােবৰ্মার উত্তরাধিকারী খৃষ্টাব্দে অঙ্গ ও রাঢ় আক্রমণ করিয়া সমগ্র বিধ্বস্ত করিয়াছিলেন ; (৬৪) গৌড়ের পালরাজবংশের ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব সম্বন্ধে যখন সকলেই নিরাশ হইয়া ধদে ; (৬০) দীনাজপুর জেলার অন্তর্গত বাণগড় অথবা বাণনগরের বিশাল ভগ্নস্তুপ হইতে সংগৃহীত, এবং দীনাজপুরের রাজবাটীর উদ্যানে পরিক্ষিত একটা প্রস্তর- স্তম্ভের পাদদেশে ‘কালোজাম্বয়জ গৌড়পতির” শিবমন্দির উৎসর্গমূলক কয়েক পংক্তি লিপি উৎকীর্ণ আছে। গৌড়রাজ মালা। ৩৫ পৃঃ। (১৪) খাজুরাহাতে প্রাপ্ত ১০০২ খৃষ্টাব্দের একখানা শিলালিপিতে বঙ্গের এই বিক্ষয়-কাহিনী বর্ণিত আছে। Sir A. Cunningham's "Archeological Survey of India." Vol. XXI.
শাকসির স্তম্ভ। E. B, P. & P. Ilonse, Daica.
No text on this page.
পড়িয়াছিলেন, খুব সম্ভবতঃ তথনই হরিশ্চন্দ্র গৌড়
ত্যাগ করিয়া সাভারে আগমন করিয়া একটি খরাজ্য
স্থাপন করেন।
পালরাজবংশ যখন ধ্বংসেম্মুখ, তখন রাজবংশধর
গণ পূৰ্ব্ববঙ্গের জলবেষ্টিত সুরক্ষিত স্থানসমূহে প্রস্থান
করেন, (৬৫) তাহা পূৰ্বে উক্ত হইয়াছে। হরিশ্চন্দ্র
গৌড় হইতে আগমন করিয়া সাভারে রাজ্য স্থাপন
করেন, দেশ প্রচলিত এই প্রবল কিংবদন্তীও আমাদের
উক্তির সমর্থন করিতেছে।
হরিশ্চন্দ্র প্রতিষ্ঠিত এই রাজ্য বােধ হয় ১৩৩০
খৃষ্টাব্দে সম্রাট মহহ্মদ টোলক কর্তৃক পূর্ববঙ্গ বিজয়
কালে মুসলমানের ব রতলগত হয় ।
পরিশিষ্ট
বর্তমান প্রবন্ধ লিখিত এবং আংশিক প্রশিক
হইবার পর বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্রীযুক্ত এ, ই, ষ্টেট
মহােদয় গত ডিসেম্বর মাসে (১৯১২ খ্রীঃ অঃ) আমাকে
সংবাদ দেন যে ভাওয়ালের অন্তর্গত শাকাগর গ্রামে একটি
প্রস্তর স্তম্ভ পতিত আছে, এবং লােকে তাহাকে মাধব
আখ্যা প্রদান করিয়া মধ্যে মধ্যে পূজা করিয়া থাকে।
risce) Journal & Proceedings of the 4. S.
B. (New Series Vol. VII. No. 11.
।
কাগরের এই মাধবের বিষয় পূৰ্ব্বেও শুনিয়াছিলাম,
কিন্তু, আমাৰ সংবাদ দাতৃগণ তাহাকে বিষ্ণু মূর্তি বলিয়াই
বর্ণনা করিয়াছিলেন। সচরাচর যে রূপ বিষ্ণুমূর্তি দৃষ্ট হয়,
ইহাও তদ্রুপই একটি, এই বিবেচনায় আমি ইতি পূৰ্ব্বে
উহা দেখিতে যাই নাই।
এযুক্ত ষ্টেপলটন মহােদয়ের সংবাদ দানের অব্যবহিত
পরেই আমি ঐ গ্রামে গমন করি। স্তম্ভটা এখন যেস্থানে
পাতত আছে, তাহার সন্নিকটে বহু পুরাতন দুইটা দীঘিক।
দৃষ্টহয়! শীতকাল বলিয়া উভয় দীধিকাতেই জলে অনতি
গভীর। দীঘিকাগর্ভে বহু পুরাতন বৃক্ষাদি জন্মিয়া উহাদের
প্রাচীনত্বের সম্যক পরিচয় প্রদান করিতেছে। চতুর্দিক
সমুচ্চ তীর ভূমিও উহাদের বৃহদায়তনের পরিচায়ক।
দীঘিকাদ্বয় এবং স্তম্ভটি সম্বন্ধে কোনরূপ প্রচলিত জনশ্রুতির
সন্ধান পাইলাম না। স্মরণাতীত কাল হইতে স্তম্ভটিকে
নাধব জ্ঞানে গ্রামবাসীগণ পাণাদিতে তৈল সিন্দুর প্রভৃতি
প্রদান করিয়া থাকে।
শনিলাম কতিপয় বর্ষ পূর্বে কোনও মুসলমান ফকির
হিন্দু পূজিত এই প্রস্তর খণ্ডকে নিকবর্ত্তী নদীতে নিক্ষেপ
করে। হিন্দুগণও ইহাতে উত্তেজিত হইয়া ভাওয়ালের
স্বর্গীয় রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণের সাহায্যে ফকীরের বিরুদ্ধে
মােকদ্দমা উপস্থিত করে। কার্যটি নিতান্ত অসঙ্গত
হইয়াছে বিবেচনা করিয়া ঢাকার নবাব বাহাদুর স্বীয়
ব্যয়ে হিন্দু দ্বারা প্রস্তরটিকে পুনরায় নদীগর্ভ হইতে
উত্তোলন করিয়া সংস্কারাদি করাইয়া দেন। তদবধি
প্রস্তরের মহিমা হিন্দুর নিকট আরও বর্ধিত হইয়াছে।
( ১০৩ )
।
প্রস্তরটি স্তম্ভের উপরিভাগ মাত্র, নিম্নভাগ হয়ত
নিকটেই কোথাও ভূগর্ভে প্রােথিত আছে। অন্য কোনও
স্থান হইতে উহা ঐস্থানে আনীত হইয়াছে এরূপ অনুমিত
হয় না, কারণ, উহা এহ ভারী, যে উহা স্থানান্তরিত করা
নিতান্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার। স্তম্ভটী Sandstone নিৰ্মিত,
এবং অষ্টকোণ, স্তম্ভগাত্রে নানারূপ মূৰ্ত্তি বর্তমান, কিন্তু
কোনও লিপ দৃষ্ট হইল না। হয়ত উহার অনাবিষ্কৃত
নিম্নভাগে কোনরূপ লিপি থাকিতে পারে। শীর্ষদেশে
আট দিকে আটটী মূর্তি খােদিত আছে ; মূর্তিগুলির
ধ্যানাসন, মস্তকে কিরিট, পদনিম্নে পদ্ম। মুর্তিগুলির
নিম্নে কিঞ্চিৎ স্থান ব্যাপিয়া কারুকার্য খােদিত আছে,
কিন্তু, তাহার প্রত্যেকটী অংশই এক একটা নৌকার ন্যায়।
উহা কোন রাজচিন্তু কি না, স্থির করিতে পারিলাম না।
গাত্রে আরও নানা স্থানে বােধ হয় নানারূপ মূর্তি
প্রভৃতি অঙ্কিত ছিল, কিন্তু, তাহা এতই অস্পষ্ট হইয়া
গিয়াছে যে, প্রায় কিছুই দৃষ্ট হয় না। যে মূর্তিগুলি
এখনও বর্তমান আছে, তাহাও Magnifying glass দ্বারা
দেখিলে কিঞ্চিৎ পরিস্ফুট হয়। অত্যন্ত প্রাচীন না
হইলে খােদিত মূর্তি - এরূপভাবে বিনষ্ট হইয়া যাইতে
পারে না। ঢাকা জেলার অধিকাংশ প্রাচীন স্থান দর্শন
করিয়াছি, কিন্তু, অন্য কুত্রাপি প্রস্তরস্তম্ভ আছে কি না
জানি না। যদিও এই স্তম্ভের সময় নির্ধারণ করা সুকঠিন,
তথাপি ঐতিহাসিক হিসাবে ইহ উল্লেখযােগ্য। স্তম্ভটি
বৌদ্ধযুগের তদ্বিষয়ে কোনও সন্দেহ নাই,খােদিত বৌদ্ধ
মূর্তিসমূহ হইতেই তাহা প্রমাণিত হইতেছে। পূর্বে যে
} পালরাজগণের বিবরণ লিপিবদ্ধ হইয়াছে, হয় ত ইহা -তাহাদেরই কাহারও কীৰ্ত্তিস্তম্ভ। ধামরাই গ্রামের সহিত অশােকের ধৰ্ম্মরাজিকার কোনও সম্বন্ধ আছে কিনা তদ্বিষয়ে পূৰ্বেই আলােচনা করা হইয়াছে। ধামরাই গ্রাম শাকাগর হইতে অধিক দূরবর্তী নহে। অশােকস্তম্ভের সহিত এই স্তম্ভের কিঞ্চিৎ সাদৃশ্য ও লক্ষি ও হয়। আমি এবিষয়ে কোনরূপ সিদ্ধান্ত করিতেছিনা। আশা করি, ভবিষ্যতে ইহার নিম্নভাগ আবিষ্কৃত হইলে স্তম্ভটার কাল নির্ধারণে সুবিধা হইবে। স্তম্ভটী ভাওয়ালের শ্রদ্ধাস্পদ কুমার বাহাদুরের গমী- দারীর মধ্যে পতিত আছে, সুতরাং, উহা তাহার সম্প'ত্ত। তিনি কৃপাপূর্বক লেখককে উহ! দান করি। উহ স্থানান্তরিত কর বার অধিকার প্রদান করিয়াছিলেন এবাঁহার কৰ্ম্মচারীর নিকট তদনুযায়ী আদেশ পত্র ও প্রেরণ করিয়াছিলেন। তজ্জন্য আমি তাহা আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতেছি। স্তম্ভট স্থানা- অরিত করিবার বন্দোবস্ত করিলে বহু গ্রামবাসী এক ত্রিত হইয়া তাহাদের আপত্তি জানায়। এতগুলি ধৰ্ম্ম- বার প্রাণে আঘাত দেওয়া অনুচিত বিবেচনা করি শুম্ভটি স্থানান্তরিত করা হয় নাই। পরন্তু, উহা ঐ স্থানেই যাহাতে সুরক্ষিত হয়, তাহার বন্দোবস্ত শীঘ্রই করিব ইচ্ছা আছে। * শ্ৰীবীরেন্দ্রনাথ বসু।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.