Bally Sadharan Granthagar
Sumbho Sanghar Ed. 4th
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
শু-সংহার।
কালী করালবদনা বিনিছুন্তাসিপাশিনী।
বিচিত্রাঙ্গদা নৱমালবিভূষণ।
পিচপবিখানা শুমাংসাতিভৈৰবা ।
অতিৰিস্তাৱনা জিম্বলিলভীষণ।
নিষ বক্তমনা নাদাপূণিতদিয়ুখ।
সা বেগেনাভিপতিতা ঘাতয়ন্তী মহারা।
প্রমথনাথ মিত্র প্রণীত।
চতুর্থ সংস্করণ।
কলিকাতা,
১ নং কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট-বেঙ্গল মেডিক্যাল লাইব্রেরী হইতে
এগুরুদাস চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত।
৩৭ নং মেছুয়াবাজার থ্রীট-বীণাযন্ত্র
শরচ্চত্র যেৰ দ্বারা মুহিত।
১২১৩
No text on this page.
নাট্যামােদী,
শ্ৰীযুক্ত বাবু ক্ষেত্ৰমােহন সা
সুহৃদ্বরেষু
ভাই।
শুম্ভ নিশুন্তে যুদ্ধ অবলম্বন কবি মিত্রাক্ষর পদ্যে এক
থানি নাটক লিখিবার জন্য তুমি আমাকে অনেক দিন হইতে
বলিয়া আসিতেছ, সমযাভাবে ও মনেব অস্থিৰতার জন্য তাহা
এত দিন পাবি নাই। এক্ষণে এই শুম্ভ-সংহাব” অপাব আনন্দের
সহিত তােমার হন্তে অৰ্পণ কবিলাম।
এই বিষয় অবলম্বন কবিষ। অমিত্রাক্ষর পদে দানব দলন
নামে একখানি কাব্য অনেক পূর্বে প্রকাশিত হইযাছিল,
‘দানব দলন কাব্যের অনেক স্থানে সুন্দৰ ও উচ্চ উচ্চ ভাৰ
আছে—কাব্যামােদী মাত্রেই তাহা আবেব দ্রব্য। কিন্তু
আক্ষেপের বিষধ যে, এরূপ উচ্চদবের কাব্য জনসমাজে সমুচিত
খ্যাতি লাভ কতে পাবে নাই। স্থানে স্থানে উক্ত গ্রন্থকত্তা
সহিত আমার মতের জনৈক্য হইছে, কিন্তু তথাপি কৃতজ্ঞ
তার সহিত স্বীকার করিতেছি যে, “শুম্ভ সহাব প্রণয়নে
‘দানব-ফলন” কাব্য হইতে আমি অনেক সাহায্য পাইয়াছি।
তােমার
প্রমথ,
No text on this page.
নাট্যোলিখিত ব্যক্তিগণ।
দেবগণ।
বিষ্ণু ইত্ৰ পবন বরুণ রবি যম ও নার
দেবীগণ।
লক্ষ্মী গৌৰী জয়া বিজয়া ও পদ্মা।
দৈত্যগণ।
দৈত্যপতি।
নিশুম্ভ
পূলােচন
সেনাপতিগণ।
ও ও ও
বক্তবীজ
সুগ্রীব
•
দূত।
দৈত্য-স্ত্রীগণ।
•
।
।
দৈত্যরাণী।
নিত-পত্নী।
শাভা
সখী ও পরিচারিকায়।
No text on this page.
শুম্ভ-সংহার।
প্রথম অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য।
বিষ্ণুলােক।
বিষ্ণু আসীন; বীণাযন্ত্র সহযােগে নারদ হবিগুণ
গানু করিতেছেন।
লক্ষীর প্রবেশ।
লক্ষ্মী-প্রণমি, পুণ্ডরীকাক্ষ! তব পদাম্বুজে।
বি।-বহু দিন পরে আজি নিরখি মনি, "
ও সমােজ-মুখ তব সরােজ-আসা।
উজ্জ্বল হইল মম এ আঁধায় পুরী,
তিরপিত হল মম মনের বাসনা।
মরি, আজ পূর্ণ হল অন্তরের সাধ;
চকোরে পিয়াতে সুধা আসিয়াহে চা।
লক্ষ্মী—এ সােজ-মুখ-রবি তুমি, রুমের।
২
স্ত-সংহার।
তিলেক থাকিতে নারি বিনা দরশন,
যেখানে সেখানে থাকি, আমার অন্তর
ও রাঙ্গা চরণ ধ্যান করে অনুক্ষণ।
নার।—প্রণমি, জননি, আমি ও পদ-সরােজে;
কৃপাদৃষ্টি রেখ’ মাতঃ অভাগা সন্তানে,
অচলা ভকতি যেন অন্তরে বিরাতে,
সদা যেন সুখে থাকি হরি-গুণ-গানে।
বহু দিন স্বর্গ-ছাড়া তুমি, গাে জননি,
কদে এ ত্রিদিবপুরী না হেরে তােমারে ;
দোর্দণ্ডপ্রতাপ সেই দৈত্য-কুল-মণি,
রাখিয়াছে তােমারে মা হৈম কারাগারে।
হের, মাতঃ ত্রিদিবাম্বে। ত্রিদিব-দুর্গতি,
দৈত্যদল শাসিতেছে অমর-নিকরে;
লাজে নতশিরা যম, অগি, শচীশতি ;
নিস্তেজ সতেজতনু হের প্রভাকরে।
বড় ভাগ্যবান সেই দৈত্যকুলেশ্বর,
চঞ্চল অচলা আঁজি তাহারি আগারে,
কমলার কৃপাদৃষ্টি দৈত্যের উপর,
উৎপীড়িতে চিত্রিত যতেক অমরে।
হতভাগ্য দেবগণে পালি’ছ, জননি,
করিতে কি দৈত্যদলচির-ক্রীতদাস?
কেন বা অমরগণ অমর না জানি,
অমরত্ব মনে করে সর্বনাশ।
লক্ষ্মী।—বখায়, নারদ, তুমি যাও এ গঞ্জনা,
প্রথম অঙ্ক।
৩
পরম ভকত মম দেবারি দানব,
কত মতে আমারে যে করে আরাধনা,
আমি কি বলিব তাহা জানেন মাধব।
চঞ্চলা আমার নাম, কাজেও চঞ্চলা,
এক স্থানে স্থির হয়ে থাকি না কখন,
কখন কোথায় আমি হই না অচলা,
নিত্য তুষি নব নব ভক্ত-জন-মন।
তবে যে রয়েছি বদ্ধ শুন্থের ভবনে,
কেবলি তাহার সেই ভক্তি-সাধনায় ;
বিনা দোষে ভক্তজনে ত্যজিব কেমনে,
উভয় সঙ্কট এবে না দেখি উপায়।
উপায় বিধান এর কর, রমাপতি।
আর না থাকিতে পারি তোমা ছাড়া হয়ে,
আর না দেখিতে পারি দেবের দুর্গতি,
অার না থাকিতে পারি দৈত্যের আলয়ে।
বিষ্ণু।-যা বলিলে সত্য,—সেই দুষ্ট দৈত্যপতি
ভুবলে দ্বিভুবন করিয়াছে জয়,
সদা উৎপীড়িছে যত অমর-সন্ততি,
হেরিলে অমর-দশা বিদরে হয়!
পরাজিত দেবল দনুজ-বিক্রমে,
দেবপতি পুরন্দর লাজে ম্রিয়মাণ,
দৈত্য-ক্রীতদাস সম বায়ু, অগ্নি, যমে,
নিরখিলে কাহার না কাদে মন প্রাণ।
তাহাতে আবার সেই দৈত্য দুরাচার,
৪
শুম্ভ-সংহার।
ত্রিশূলীর বলে বলী; ত্রিশূলি-কৃপায়
নিজ রাজদণ্ডতলে রেখেছে সংসার ;
জানি সে অমরের হবে কি উপায়।
আবার কমলা তায় দৈত্যের সহায়,
অচল। চিরচঞ্চলা দৈত্যের ভবনে,
নিরীহ অমরগণে কি হইবে, হয়,
দিবানিশি তাই আমি ভাবিতেছি মনে।
লক্ষ্মী।—কি হইবে তবে, হায়, ত্রিদিব-উপায় ?
নারদ।-না মরিলে দৈত্যরাজ নাহিক উপায়।
বি।-আমি কি করিব বল, কমল-অসনে!
বুজোগুণে করি আমি সংসার পালন,
জীব-নাশ-হেতু আমি হইব কেমনে,
জানি দেবের দশা কি হবে এখন।
নারদ।-আর কিছু দিন যদি দৈত্য দুরাচার,
এরূপ সাম্রাজ্য করে অবনীমণ্ডলে,
উচ্ছিন্ন হইবে তবে এ ভব-সংসার,
কি আর বলিব, দেব, তব পদতলে!
লক্ষ্মী।—আমিই বা কত দিন দৈত্য-কারাগারে
বন্দিনী হইয়া বুব-কহ, জীবিতেশ ?
কত দিন ও চরণ নয়নে না হেরে
রহিব গুরে গৃহে,কহ, হৃষীকেশ ?
কত দিন রব আর এ ঘাের বিপাকে
লতিকা পাপ ছাড়া কত দিন থাকে?
বিষ্ণু।—বিরূপাক্ষরক্ষিত সে দানবনিকর,
প্রথম অঙ্ক। ৫ এত দন্ত তাহাদের ধূর্জটী-কৃপায়, ত্রিলােক-সংহারকর্তা মােগুণ হর, বধিলে দৈত্যরাজে নাহিক উপায়। ভালবাসে ভােলানাথ দানবনিকরে, তাই পরাজিত দেব দৈত্যের সংগ্রামে ; তমােঙণী রুখের না বধিলে তারে, কার সাধ্য কেবা বধে এ ত্রিদিব-ধামে! লক্ষ্মী।—কি হইবে তবে, নাথ, অমরের গতি। বিষ্ণু-কর যাহা বলি আমি তােমায় সম্প্রতি ; একবার যাও, রমে, তুমি ইন্দ্রালয়ে, জানায়ে ইন্দ্রের মাের অাশীষ-বচন, বল গে তাহারে যত দেবগণে লয়ে, কৈলাসে শঙ্করী-পাশে করিতে গমন। ব’ল তারে জানাইতে অম্বিকা-সদন- দেবের দুর্গতি যত দৈত্য-অত্যাচারে ; দৈত্য-ক্রীতদাস এবে যত দেবগণ, ত্রিদিবে কৈহই দৈত্যে আঁটিতে না পারে। দেবের দুর্গতি শুনি নগেন্দ্র-নন্দিনী, অবশ্যই দেব-দুঃখে হবেন কাতরা, একেই সদাই তিনি রণ-উন্মাদিনী, দৈত্যের বিপক্ষে অসি ধৰিবেন ত্ব। বাঁধিবে তুমুল যুণ উমায় দৈত্যেশে, দৈত্যবাণে সতীদেহ ক্ষত নিরখিলে, কষিবেন সতীপতি দৈত্যের বিনাশে,
৬
শুম্ভ-সংহার।
ত্বরায় মরিবে দৈত্য ত্রিশূলী কুষিলে।
ইহা ভিন্ন দৈত্যনাশে নাহিক উপায়,
ইহা ভিন্ন দেবগণ না পাবে নিস্তার,
দৈত্যরাজ সৰ্ব্বজয়ী ধূর্জটী-কৃপায় ;
ধূর্জটাই করিবেন দৈত্যের সংহার।
নারদ।—কি কাজ বিলম্বে আর তবে, সুরেশ্বরি?
চল মােরা যাই ত্বরা দেবরাজপুরে,
বাসবের মৃততাৎসাহ উত্তেজিত করি ;
চল দেবগণে লয়ে কৈলাস-শিখরে।
লক্ষ্মী।আজ্ঞা দেহ বাই তবে ইন্দ্রের ভবনে,
অমর-কুলের হিত সাধিবার তরে;
অরুণ, বরুণ আদি যত দেবগণে,
লয়ে যাই তুষিবারে দেবী অম্বিকারে।
বিষ্ণু।—পরাজিত দৈত্যরণে অমরনিকর,
টলমল দৈত্যভরে অমরভবন,
অমরের হিভতরে যাও হে সত্বর,
অণুমাত্র বিলম্বেতে নাহি প্রয়ােজন।
দেবগণ পাবে ত্রাণ গৌরীর
কৃপাতে,
তুমিও হইবে মুক্ত কারাবাস হতে।
লক্ষ্মী।-প্রণমি, পুণ্ডরীকাক্ষ! তব পদাজে।
দ্বিতীয় দৃশ্য।
ইন্ট্রালয়।
ইন্দ্র ও দেবগণ আসীন।
ই-বল, ওহে দেবগণ, কত দিন আর,
নীরবে সহিব এই দৈত্য-অত্যাচার ?
ধিক্ এই দেবনামে, ধিক্ এই স্বর্গধামে,
দেবকুলে জন্মিয়াছি মােরা কুলাঙ্গার,
ডুবাই দেবনাম কলঙ্কে এ বার !
পবন।-দৈত্যপতি-ব্রাসে সদা সশঙ্কিত প্রাণ,
থরথর কাপে যত অমরসন্তান,
কাপে এ ত্রিদিবপুরী, কাপে যত দেবনারী,
আকুল সপ্তর্ষিকুল ভয়ে ম্রিয়মাণ,
দৈত্যহন্তে কার(ও) আর নাহি পরিত্রাণ ।
বকুণ।দৈত্য-ক্রীতদাস সম যত দেবগণ,
যােগায় গন্ধের ভার আপনি পবন,
ব্রাসেতে কম্পিত কায়, দেব-গায়কেতে গায়
দেবারি শুন্তের যশঃ পূরিয়া ভুবন,
দেব-অপরায় নাচে তুষি দৈত্য-মন।
ইন্দ্রা-কি ফল, হে দেবদল, আর এ জীবনে ?
দেবগণ দৈত্যদাস ঘুষিবে ভুবনে!
গেছে স্বাধীনতা-ধন, যা রাজ্য, সিংহাসন,
শুম্ভ-সংহার।
অমরের অমরত্ব ঘুচুক এক্ষণে,
জীৱন্তে এতেক জ্বালা সহিব কেমনে!
রবি।—দিতি-সুদলে ভালবাসেন ঈশান,
তিনিই করেন সদা দৈত্যের কল্যাণ।
জয়ী দৈত্য দেবরণে, কাহাকেও নাহি মানে,
ত্রিদিবের দেবগণে করে অপমান
বিরূপাক্ষ-বলে দৈত্য এত বলবা।
২।—বিলাপের আক্ষেপের সময় এ নয়,
ত্রিদিবের স্বাধীনতা চিরলুপ্ত হয়।
আজ্ঞা দেহ, সুরপতি, আমি হয়ে সেনাপতি,
সংগ্রামে আদানি দৈত্যে—বিলম্ব না সয়,
ত্রিদিবে স্বাধীনতা চিরলুপ্ত হয়।
দ্বাদশাংশে অংশুমালী মিলিয়া এক্ষণে,
দগ্ধ কর রুদ্রতেজে দিতি-মুতগণে।
বরুণ বিস্তারি কায়া, সপ্ত সিন্ধু উথলিয়া,
প্রবল তরঙ্গাঘাতে বিপুল গর্জনে,
নাশ দৈত্যে;-দৈত্য-নাম রেখ না ভুবনে।
উ, ওহে বায়ুপতি দেব প্রভঞ্জন!
নীরব বিষভাবে কেন হে এমন?
সংহার দৈত্যের বংশ, উনপঞ্চাশৎ অংশ,
একত্র করিয়া রণে করহ গমন,
দানবের দপ্ত-তরু কর উৎপাটন।
ভবিষ্যৎ অন্ধকারে করিয়া প্রবেশ,
বারেক নয়ন মেলি দেখ, হে লেশ।
প্রথম অঙ্ক।
১
দেখ বায়ু দেখ রবি, স্বর্গের সৌভাগ্য দেবী
ঘন ঘনাবৃত ঘোর তমােময় বেশ,
ত্রিদিবের স্বাধীনতা হল বুঝি শেষ!
চল, ওহে দেবগণ পুনঃ যাই রণে,
অন্যথা-ফৰি গে বাস নিবিড় কাননে ;
বন্ধ অধীন-পাশে, বল কোন্ সুখ-আশে,
দেখাবে কলঙ্কী মুখ সবার সদনে,
অাপনি দেখিতে ঘৃণা হয় মনে মনে।
কেবলি কি দেব-দন্তু অবনীমাঝারে ।
বায়ুর বীরত্ব যত দরিদ্রকুটীরে ?
বরুণ নিপূণ হেরি, ডুবাতে সুখের তরী,
নিরীহ আরােহী সহ তরঙ্গ-প্রহারে ?
রবি-তেজ মর্ত্যে শস্য দগ্ধ করিবারে ?
ইন্দ্র।-শুন্তে ভক্তিতে ভুলি ভােলা মহেশ্বর,
দিয়াছেন তারে এই দেবজয়ী বর।
দৈত্য নহে দেব-বধ্য, দৈত্য-বধ দেবাসাধ্য,
জিনিতে নারিবে দৈত্যে যতেক অমর
প্রাণপণে কল্পশত করিলে সমর।
বিধাতার বিড়ম্বনা দেবের উপরে,
আপনি কমলা বদ্ধ দৈত্য-কারাগারে ;
শ্রীহীন ত্রিবিধাম, ঘৃণিত অমর-নাম,
দুরাশা বিজয়াশা দৈত্যের সমৰে ;
বিধাতা বিমুখ যারে, কে রয়ে তাহারে ?
তাই বলি, রণে আর নাহি প্রয়োজন,
শুম্ভ-সংহার ।
চল যাই ত্যাজি এই ত্রিদিব-ভবন ;
দৈত্য-কৃপাধীন হয়ে, দৈত্যের পীড়ন সরে,
কি কাজ তিদিবে রয়ে, হে অক্ষরগণ ?
এখন দেবের পক্ষে বিধেয় কানন।
কভু না বিফল হবে ত্রিশূলীর বর,
বৃথা এই অমরের রণ-আড়ম্বর।
লক্ষীর প্রবেশ।
এস, মা ত্রিদিবেশ্বরি, ত্রিদিবের ক্ষেমঙ্করি,
কি হেতু এ কুপা আজি দাসের উপর,
পবিত্রিলে পদার্পণে 'জামর-নগর।
আছিলা, জননি, বদ্ধ দৈত্য-কারাগারে,
কেমনে পাইলে মুক্তি কই তা দাসেরে ?
মরেছে কি দৈত্যরাজ, নির্ভর কি হল আজ
আকুল অমর-কুল ত্রিদশ• আগারে ?
পেলেন কি পরিণ ধরা দৈত্য-ভারে ?
লক্ষ্মী-গরে নি অমর-জেত। দুরন্ত দানব,
সমতেজে শাসিতেছে অমর মানব।
সেই দর্প, সেই দন্ত, ভুবন-সম্রাট শুম্ভ
নিরুদ্বেগে সততাগিছে অতুল বিভব,
আমিও বন্দিনী তথা এখনো বাসব।
ঐশ্বর্যের স্তুপমাঝে ঢলিয়া শরীর,
যামিনী-আগমে নিদ্রা যায় দৈত্য-বীর ;-
এই অবসরে আমি, ছাড়ি সেই দৈত্য-ভূমি
প্রথম অঙ্ক। আসিয়াছি নিরখিতে শ্রীপদ হরি, বুব যতক্ষণ স্বর্গে রবেন মিহির। বলিৱা এসেছি আমি বিনয়ে নিদ্রায়, স্বপন দৈত্যের কাছে যেন নাহি যায়, দৈত্যরাজে কোলে করি, কাটাইতে বিভাবরী, চেতনা আসিয়া যেন দৈত্যে না জাগায়, মরে নি-নিদ্রিত দৈত্য ক্ষণিক নিদ্রায়। ইন্দ্র।-দেবের উপরে যত দৈত্য-অত্যাচার, অবিদিত, জননি গাে, কি আছে তােমার? আর না সহিতে পারি, দেহ আজ্ঞা, সুরেশ্বর, যাই ত্যজি রপূরী কানন-মাঝার, দারুণ এ অপমান সহে না গো আর! সমুদ্রমন্থন-কালে সুধা করি পান, অমর হয়েছি যত অদিতি-সন্তান ;- জীয়ে রব চিরদিন, হয়ে দুষ্ট দৈত্যাধীন, চিরদিন সহিব গাে এই অপমান, মরণ থাকিলে কভু পাইতাম ত্রাণ । মােহিনী মূরতি ধরি কেন নারায়ণ, করিয়াছিলেন দেবে অমৃত বণ্টন ? কেন দয়াময় হবি, দেবেরে অমর করি, রেখেছেন ইন্দ্রে দিয়ে স্বর্গ-সিংহাসন। সর্বশ্রেষ্ঠ দেবজাতি কিসের কারণ। লক্ষ্মী।-জানি আমি সব, ইন্দ্র, কি বলিবে আর- দেব-দুঃখে সদা দহে অন্তর আমার!
১২
শুম্ভ-সংহার।
দেব-দুঃখে নারায়ণ, সদা বিষাদিত মন,
চিন্তিছেন চিন্তামণি, হায়, অনিবার,
কিসে দেবগণ পাবে এ দায়ে নিস্তার।
আমিও তিষ্ঠিতে আর নারি দৈত্যপুরে,
দৈত্য-পূজা আর ভাল লাগে না আমারে।
স্বাধীন বিহঙ্গ বনে, থাকে প্রফুল্লিত মনে,
ক দিন অধীন হয়ে বাচিতে বা পারে-
যদিও সে স্থান পায় সুবর্ণ-পিঞ্জরে ?
মাের কারাবাস-হেতু আরো চিন্তামণি,
চিন্তাষিত, বিষাদিত দিবস যামিনী,
তে কারণে আজি মােরে পাঠালেন এই পুরে,
শুন, শক্ত, কহিলেন যাহা চক্রপাণি,
ত্বরায় মরিবে তাহে দৈত্য-কুলমণি।
ইন্দ্র।—অমরের এমন কি পুণ্যের সঞ্চার,
হইবে অমরত্রাস দৈত্যের সংহার।
তবে দেব চক্রপাণি, দেবের দুর্গতি শুনি,
কৃপাময় কৃপা যদি করেন এ বার,
তবেই সে দৈত্যহন্তে পাইব নিস্তার।
নতুবা অমরশূন্য হবে স্বর্গধাম,
কলঙ্কিত হবে তার কৃপাময় নাম?
লক্ষ্মী।—শুন শুন, দেবরাজ, না করিয়া কালব্যাজ,
সত্বর গমন কর কৈলাস শিখরে,
জানাও গে দেব-দুঃখ দেবী অম্বিকারে।
দেবের এ দশা শুনি, অবশ্যই কাত্যায়নী
প্রথম অঙ্ক।
==
।
পাবেন বেদনা তার কোমল অন্তরে,
করুণা-আধার তিনি এ বিশ-সংসারে।
দৈত্যের অটুট দন্ত শুনি ত্রিনয়নী
উঠিবেন রণপ্রিয় রণউন্মাদিনী-
ভীমা অসি ধরি করে, দৈত্যের সংহার তরে,
খাইবেন রূণ-আশে ভৈরবীরূপিণী ;-
কে রক্ষিবে দৈত্যরাজে রুষিলে ঈশানী?
হরের পরম ভক্ত দৈত্যচূড়ামণি,
নাশিতে ভকত-জনে যদি শূলপাণি,
যদি সেই ভােলানাথ না দেন সমরে হাত,
সঙ্কটে পড়িলে তার মানস-মােহিনী,
অবশ্য সহায়তার হবেন তখনি।
ব্যোমকেশ বৈরিভাবে দাঁড়ালে সমরে,
কে আর রক্ষিবে সেই দনুজ-ঈশ্বরে ?
মরিবে অমর-ত্রাস, ঘুচিবে অমর-ব্রাস,
নির্ভয় হইবে দেব ত্রিদিব-মাঝারে,
আমিও সে কারামুক্ত হইব অচিরে।
ইন্দ্র।—কি চিন্তা মােদের আর, ওগাে সুখেরি !
বুঝিনু নির্ভয় আজ হল সুরপুরী :-
কমলা সদয়া যারে, সে আর কাহারে ডরে ?
সহায় যে অভাগায় আপনি হরি,
কি ভয় ভাহার আর, ওগাে শুভঙ্করি?
জননি! যদ্যপি দয়া হয়েছে তােমার,
দয়ার উপর দয়া কর আর বার,
১৪
শুম্ভ-সংহার।
আমা সবে চল লয়ে, কৈলাসে গৌরীশালয়ে,
তােমা সহ গেলে পাব প্রসাদ উমার,
তােমা বিনা অমরের কে আছে গাে আর
লক্ষ্মী।--আমি গেলে হয় যদি, ওহে সুরের!
চল তবে যাই লয়ে যতেক অমর ;
দেখে আসি অম্বিকারে, তপােমগ্ন মহেশ্বরে,
বিলম্ব করে না তবে চলহ সত্বর,
প্রভাতে করিবে পূজা মােরে দৈত্যবর।
ইত্ৰ।-কি কাজ বৃথায় আর কাল-ব্যাজ করি,
বিমান প্রস্তুত ওই হের, শুভঙ্করি!
তুল ও বরাজ বথে, দেবগণে লয়ে সাথে,
যাইতেছি পরে তব পদ অনুসারি,
যাত্ৰা করি তাহরির চরণ স্মরি।
তৃতীয় দৃশ্য।
গৌরী, লক্ষী ও দেবগণ।
গৌরী।—ত্যজিয়া কমললে, সঙ্গে লরে দেবকুলে,
এ গভীর নিশাকালে কেন, গাে কমলে?
কি অসুখ হল পুন, কহ, গগ গলে।
প্রথম অঙ্ক।
চিরকাল দেখিতেছি চঞ্চল-ভাব,
সুখ-সরে স্থিত তবু সুখের অভাব!
লক্ষ্মী।—নিশায় না। আমি আর আমি বা কখন,
জান না কি পরাধীন আমি গো এখন ?
বন্দিনী করিয়া মােরে, রাখিয়াছে কারাগারে,
দোর্দ-লপ দৈত্য বিলােক-দমন,
ভয়ে যার থরথরি কঁাপে ত্রিভুবন।
চঞ্চল স্বভাব মাের ঘুচেছে, ঈশানি,
হয়েছি পিঞ্জরাবদ্ধ। ধৃত বিহাঙ্গিনী!
নানাবিধ উপচারে, ভক্তিসহ সমাদরে,
সারাদিন পূজে মােরে দৈত্য-কুলমণি,
তিলমাত্র অবকাশ না আছে, জননি!
সুষুপ্ত দানৰ এবে গভীর নিদ্রায়,
তাই আসিয়াছি এই গভীর নিশায়।
দৈত্যের অজ্ঞাতে রাতে, আসিয়াছি ত্রিদিবেতে,
যাব পুনঃ রাতে রাতে গোপনে ধরায়,
প্রত্যুষে উঠিয়া শুম্ভ পূজিবে আমায়।
দেখ, ত্রিনয়নি, এবে কি সুখ আমার!
পরাধীন বন্দিনী যে, কি সুখ তাহার?
হের পুনঃ, ব্রিনয়নে, দানবের উৎপীড়নে,
সশঙ্কিত দেবকুল স্বর্গের ভিতর,
মলিন লাবণ্যহীন শীর্ণ কলেবর !
দেব-দুঃখ আমি আর দেখিতে না পারি,
আরেক অপাঙ্গে তুমি হের, মা শরি!
শুম্ভ-সংহার।
দেবের দুর্গতি যত, হায়, আর কৰ কত,
সে প্রফুল্ল মুখ আর কাহারাে না হেরি,
ঘাের দুঃখভারে স্নান অবনত, মরি।
একে মহাবীৰ্যবান দৈত্যচুড়ামণি,
তাহাতে সহায় তার ত্রিশূলী আপনি,
ভােলানাথ মহেশ্বর দৈত্যে দিয়াছেন বৰু,
মরণের ভয় এক, তাও নাহি তার,
দেবের উপায়, মা গাে, নাহি দেখি আর ।
তােমাই রক্ষিত যত অমর-সন্তান,
তােমারই হেলায় ভুঞ্জে এত অপমান!
ইত্ৰ।—কি আর বলিব, মাতঃ জগত-জননি,
বলিতে দুঃখের কথা নাহি সরে বাণী।
দুঃখের অর্গলে বদ্ধ, বদ্বার সদা রুদ্ধ,
মরমে মরিয়া আছি, ত্রৈলােক্য-তাৰিণি,
দেব-ভাগ্যে এত দুঃখ কেন তা না জানি।
জানি কি দোষী মােরা তোমার চরণে,
না জানি কি অপরাধী ধূর্তটা-সদনে,
করিয়াছি কিবা পাপ, কেন এত মনস্তাপ
দিতেছ, গাে জগদম্বে, যত দেবগণে।
কি দোষে অমরগণে ঠেলিলে চলে?
দেখ, মাতঃ! বাৰু ৰি, বরুণাসি সবে
তেজোহীন-অহি যেন হিমের প্রভাবে।
দুর্দান্ত দৈত্যের ডরে, কঁপে সবে খরখরে,
ত্রাসে শঙ্কিত প্রাণ বসিয়ে ত্রিদিবে,
প্রথম অঙ্ক।
১৭
মেলিতে না পারে দেহ এ বিপূল ভৰে।
সঙ্কুচিত হয়ে আর রব কত কাল ?
অমর না হলে, মাতঃ, ধুচিত অাল!
এ দায়ে পাইতে ত্রাণ, সৰে ত্যজিতাম প্রাণ,
এড়াতাম এ যন্ত্রণা, এই অপমান,
দৈত্য-ক্রীতদাস যত অমর-সন্তান!
কেন বা অমর করি এত বিড়ম্বনা!
কেন বাইত্ব দিয়ে এতেক লায়না।
উচ্চ গিরিশৃঙ্গে তুলি, অবশেষে দিলে ফেলি
অতল সাগর-গর্ভে-কেন বা না খানি,
ইহাই কি ছিল মনে, জগত-ননি ?
উগ্রচণ্ডা তুমি, মাতঃ, দানব-বলনী,
দেব-হিতে স রতনাশিনী।
দেৰত্ৰাতা মহেশ্বর, মহাকাশ বিখত,
কোথা সে নামের গুণ, ভুবনকল্যাণ।
নিজ নিজ ধর্ম দেহে ভুলিলে, ঈশানি?
দুৰ্ম্মদ মহিষাসুরে মন্দিলে, জননি,
কোথা সে মহিমা তব, মহিষমর্দিনি ?
তুমি, মাতঃ, আদ্যাশক্তি, কোথা তব সেই শক্তি
অমর-নিকর-বিপু-বিক্রমজিনী।
কোথা সেই তেজঃ তৰ, সময়-বুঙ্গিলি ?
শুন্তের সৌভাগ্য-তেলে বুৰি সে খছি,
মন্দীভূত, ভিৰােহিত হয়েছে সম্প্রতি।
মােয়র দুর্ভাগ্য তরে, ভূলিয়াই আপনাকে
১৮
শুভ-সংহার।
দেখেও না দেখ এই দেব-অপমান,
মােদের লাঞ্জিছে দৈত্য তােমা বিদ্যমান।
মােরা চির-অনুগত, তব চির-পদাশ্রিত,
আজন্ম সেবিয়া, হায়, ও পদ-কমল,
অবশেষে, জগদম্বে, এই হল ফল ?
নিরীহ অমর-কুলে, দুঃখ-নীরে ভাসাইলে,
তবু ও চরণ তব শিরে ধরে আছি,
দেখি, কি তোমার ধৰ্ম্ম, বঁচি কি না বাঁচি!
নিস্তার, মা নিস্তারিণি অম্বিকে ঈশানি,
পাষাণ-নন্দিনী বলে হয়াে না পাষাণী ।
গােৱী।—ক্ষান্ত হও, ই, আর হয়ে না ব্যাকুল,
ক্ষান্ত হও, শান্ত হও, হে অমরকুল।
বুঝিয়াছি দৈত্য-পতি, পামর পাষণ্ড অতি,
হরের প্রসাদ লভি অমর-নিকরে
উৎপড়িছে দিবানিশি ঘাের অত্যাচারে।
কার সাধ্য কে বা স্পর্শে মম অক্ষ্য জনে,
এই ধরিলাম অসি দৈত্যের নিধনে,
. এখনি যাইব রণে, কার সাধ্য ত্রিভুবনে,
নবের রক্ষা-হেতু আমারে নিয়ে।
এখনি দৈত্যের দ খণ্ডিব সমরে।
দেখিব কতই বল তার বাহুদ্বয়ে,
দেখিব কতই তার সাহস হৃদরে,
দেখিব সে হরভক্ত, সমরেতে কত শক্ত,
দেখিব তাহারে হর কিবে কেমনে?
১৯
খ ধরিয়া অসি চলিলাম বলে।
হে ত্রিদিববাসিগণ যতেক অমর!
যাও নিজ নিজ স্থানে ত্যজি দৈত্যডর।
তােমাদের হিত-তরে, থরিলাম অমি করে,
দুয়ায় দানবকুল কৰিব সংহার,
বিনাশিয়া দৈত্যরাতে সাত্ত্বিৰ সংসার।
ই।-সার্থক জীবন অগি, মানস সফল,
বুবিনু নির্ভয় আজ হ’ল দেখল।
চল রবি, চল বায়ু, দানবের পরমায়ু
এত দিনে হ’ল শেষ বুঝিমু নিশ্চয়,
আপনি ভরা দেবে দিলেন অভয়।
যাই তবে মােরা সবে নিজ নিজ কানে,
প্রণমি, জননি, তব অভয় চরণে।
গোৱী।-বাও, হে অরগণ! নির্ভৰ অন্তরে,
দুর্দান্ত জানবপতি মৰিৰে অচিরে।
(দেবগণের পুন।
লক্ষ্মী।অনুমতি হে মােরে, যাই পুনঃ শুকাগারে,
দেখ সচেতন ঊষ উদয়চলে,
উজল কিরীট ওই শােভে উ-কালে,
হে মাতঃ, পূৰ্বপথে, অরুণ উঠিছে খে,
ত্বরায় যাবেন রবি বিশ্ব আলােকিতে,
হে অনুমতি, মাতঃ, যাই গাে মরতে।
গৌরী।—যাও, গে চঞ্চলে, আমি আশীবি ভােলা,
দৈত্য-ফায়াখা-মুক্ত হইবে রায়।
দ্বিতীয় অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য।
বিচা-তে মােকানন।
গৌরী, জয়া ও বিজয়া।
বিজয়া-দেখ লে দে লাে জয়া, সেজেছেন মহামায়া,
ভুবনমােহিনীরূপে মােহিয়া ভুবন,
অালােকিয়া রূপ-তেজে দৈত্য-উপবন ।
ফে লাে রূপের আভা, চমকে বিজলী-প্রও
মার্জিত সুচারু ও সুন্দর বদন,
মেঘমুক্ত শশী যেন উজলি গগন।
খে, সখি, একবার, সুরূপের একাধা,
গিরিশিরে বিকসিত কনক-কমল,
উজলিত আলােকিত আলি বিন্ধ্যাচল।
গরি, কি মােহিনী শােভা, রাঙ্গায় রাঙ্গার জাভা,
অলক-শােভিত রাঙ্গা পা দুখানি,
উজ্জল নখরে শােতে শত নিশামণি।
সে সখি, দেখ রঙ্গে, রাগ চাৰু জলে,
উজল মাধুরী সুষমায় খনি,
সোহাগে কাঞ্চনে মরি বেড়িয়াছে মণি।
দ্বিতীয় অঙ্ক।
সয়া মােহিনী মানৰী-বেশ, নাহিক রূপের শেষ,
একটি নম্বন মরি গিয়াছে মিলায়ে,
ঘূৰিহে অপর দুটি ডুবন ভুলায়ে।
বিজয়া-সুমার্জিত, উত্তলিত, সুগন্ধিত, বিকুঞ্চিত,
বিমুক্ত চিকুর-জাম, বিমুক্ত ফুল,
প্রাতঃসোৱকরে এবে করে ঝলমল।
শঙ্করের শিরােপরে, বহে কলকল স্বরে,
চঞ্চল-সলিলা গঙ্গ। শুভ্রাঙ্গী তটিনী,
তরল-রজত-শ্রোতঃ তরঙ্গ-রঙ্গিণী।
হে শঙ্করীর শিরে, বহিতেছে ধীরে ধীরে,
চঞ্চলা তরঙ্গায়িত কৃষ্ণা তরঙ্গিণ,
চুষিছে আহাড়ি পড়ি রাঙ্গা পা দুখানি!
জয়া।—নিন্দিয়া চন্দ্রিকা-ভালে, চাৰু ললাটিকা জলে,
সীমন্তে সির-বিন্দু চিত্রিত যতনে,
হেন রূপ আর কভু হেরি নি নয়নে।
বিজয়া।-হরির মােহিনী:বেশ, নিরখিয়া ব্যোমকেশ
প্রমত্তচঞ্চল-চিত্ত আকুল পরাণ,
কোথা পালাবেন হরি না পান সন্ধান ঃ-
না জানি এরূপ হেরে, কিবা ঘটে মহেশ্বরে,
তাই বলি, ওলােয়া, হও সাবধান,
সাবধান,-হর যেন না দেখিতে পান।
গৌৰী।—যা হােক, লাে সহচরি, যাও কেঁহে ত্বরা কবি,
বিলম্ব কৰাে না আর এই উপবনে,
এখনি কেহ না কেহ সিৰে এখানে।
২২ শু-সংহার। । জয়া-আয়, লাে মিয়া, আয়, যাই তবে দুজনায়, কৈলাস-শিখর এবে চঞ্চল চরণে, দৈত্য দেখিলেই দেবী পশিবেন বলে। বিজয়া।-মাড়া লাে াড়া লাে, অয়া, সাজাই ও চারু কান্না, রমণীয় গিৰিজাত বিবিধ প্রস্থানে, সুন্দর শােভিৰে সতী কুসুম-ভূণে। গৌরী।-এয়ােজন নাই ফুলে, দেখ লাে উদয়ালে, বসেছেন বিদেব জগত জাগাতে, ত্বরায় কৈলাসে গিয়ে দেখ ভােলানাথে । বিজয়া।-যাই, গাে অম্বিকে, তবে কেলাস-চলে, হেথা তুমি থাক বসি অচলের কোলে। জিয়া ও বিজয়ার প্রস্থান গৌরী।-(পরিক্রমণ করিতে করিতে, স্বগত) সমগ্র স্বভাব-চিত্র চিত্রিত এখানে, শােভার ভাণ্ডার হেরি এই উপবনে। হতভাগ্য দৈত্যগতি ! হয়ে পৃথিবীর পতি, তবুও ঐশ্বৰ্যতৃষা মিটাতে নাৰিলি। শেৰে অমরের ঘাের দুর্গতি কৰিলি। নির্মাষে দুষ্ট, আপনি জিলি। দূরে সুগ্রীবের প্রবেশ। ! গ্রীষ। ক্ষত- শুদ্ধ ত্রিলোকের রাজা, তুলি ধায় , অকুত-হলে আমি ভূমি ত্রিভুবনে,
দ্বিতীয় অঙ্ক।
নগরে নগরে গ্রামে পৰ্বতে কাননে।
আজি তঁার উপবন, অগ্নির কি কারণ?
এ হেন হিমানীমাকে কিসের অনল?
অগ্নি এ ত নয়—এ যে আলােক বিমল ।
বিমল উজ্জ্বল অতি, উত্তাপবিহীন জ্যোতি,
ভুলিয়া গোলােকে বুঝি উৰি আসি,
কিম্বা ব্রহ্মলােকে হেরি এই ভেলােরাশি।
(পৰিক্ৰমণ)
গিরি-অধিত্যকা-দেশে, বিমল নিঝর-পাশে,
এ কি এ? কামিনী এক, নবীনা যুবতী।
ইহারি রূপে এই সমুল জ্যোতিঃ।
কিবা রূপ, আহা মনি, উজলিত বিগিরি,
রূপের জ্যোতিতে মরি ধাধিতে খাথি।
ভ্রম এ ত নয়?-খি গড়িয়া দেখি।
(নয়নমন)
, আমার ভয় নয়, কামিনীই দুনিম,
ওই যে বঙ্গী বসি উলকা,
জলের ফোয়ারা-পাশে জলের ফোয়ারা।
নতশিরে হেঁট মুখে, একষ্টে কি ও দেখে?
পুরুপের প্রতিবিম্ব পড়িয়াছে অলে-
তাই দেখিতেছে কর রাখি গণ্ডতলে।
চারু সুষমার ডালি, সুন্দর বদন তুলি
কি দেখিহে ইতস্ততঃ চাহি পালে?
শুনিতেছে বুঝি দূর কোকিলের গানে।
২৪
শংহার।
পলকে চাহিতে মৰি কাড়ি নিল মন,
কেমনে যাইব ত্যজি এই উপবন।
(প্রকাতে)
কে গা তুমি, সীভিনি, কেন হে একাকিনী।
কোথায় বসতি। ভূমি কাহার মণী?
দৈত্যের প্রমােবনে বসি কেন, খনি?
ভ্য-পতি-দূত আমি দেহ পরিচয়,
সত্য কহ সব মােরে, কিছু নাহি ভয়।
গৌরী—কি জিজ্ঞাস, দূত! ভুমি?-কাহার রমণী আমি?
আমারে যে স্থানে আমি তাহারি রমণী।
জিজ্ঞাসিছ বীমণি, হে কেন একাকিনী?
শুধু হে ৰয়, আমি চিৰ-একাকিনী।
জিজ্ঞাসিছ দৈত্যবর, কোথায় আমার ঘর?
সত্যই কহি মাৰি তৰ সন্নিধানে-
সর্বত্র আমার বাল যে দেখে যেথানে।
সুগ্রীব-দৈত্য-পতি-দূত আমি যে কথা কহিলে তুমি,
কিছু না বুঝি, ধনি, কহি নিশ্চয় ;-
কি কহিব দৈত্যৱাৰে তৰ পরিচয়।
গৌরী-লিম আমি ফাহ, দৈত্যরাজে বল তাহা,
ইহার অধিক মাের পরিচয় নাই,
যা কহিন্দু, জ্যৈবাজে বল গিয়ে তাই।
সঞ্জীৰ-থাক তবে তুমি এই অধিত্যকা-ছেলে,
কহিগে ইহাই তবে আমি সে দৈত্যেশে।
1
দ্বিতীয় দৃশ্য।
দৈত্য-সভা।
শুম্ভ ও নিশুম্ভ প্রভৃতি উপবিষ্ট।
সুগ্রীবের প্রবেশ।
।--রুহ, দূত। কোথা হতে আসিলে এখন?
সুগ্রীব-জকর আদাইয়া ভ্রমি ত্রিভুবন,
উপনীত মাস এৰে এ সভামণ্ডপে।
হে রাজন! যে যাই, করি দরশন,
সকলেই নতশিরঃ তােমার প্রতাপে।
• হে রাজন! তব বঃ দীপ্ত চাৰি থারে;
সকলেই তব যশঃ উচ্চ রবে গায়,
অন্দরে করে আমি ফিরি তব জোরে,
আমার অগম্য ন ল অাছে ধরা।
কিন্তু বড় অপরূপ হেৰি নয়নে,
হে দানবপতি, ভৰ প্ৰমােকাননে।
শু-কিরূপ যে অপরূপ কহ, দূত, শুনি?
সুগ্রীব।কা সুমাপিয়া, প্রভাত
বথ সহ বিস্ক্যালে আইয়ু যখন,
হে দানবপতি! তথা হেরিনু বিস্ময়ে-
ফিৰ্যালােকে আলােকিত তব উপবন,
২৬
শুভ-সংহার।
উল উত্তাপহীন আপােক বিমল,
ঝলসে না সে ঔল্যে কাহার(ও) নম্বন,
ভাবিলাম কোটি চন্দ্ৰ ধৰি বিন্ধ্যাচল,
ৰাখিয়াছে তুষিবারে তােমারে, রানু।
প্রথমে কিছুই চক্ষে দেখিতে না পেয়ে,
মিলাম শৃঙ্গে শৃঙ্গে খুঁজি ইততঃ,
অবশেষে, হে রাজন! দেখিলাম চেয়ে
একটি নারীর রূপে দিক আলােকিত।
অধিত্যকা-দেশে, তব বিহার-উদ্যানে,
বসিয়া বিনােদবেশ নবীন যৌবনী,
বিস্তৃত বিপুল কেশ, হাসি মুবদনে,
যেন কৃষ্ণ নৰ ঘন-কোলে সৌদামিনী।
অনুমানি হেরি তার পীনােত স্তন,
(যৌবন-আগৰে নারী-ছয়ের শােত)
ফাটিয়া পড়িছে তার নবীন যৌবন,
দানব, মানব, মুনিজন-মনােলােত।
কখন কুসুমপাশে বসি সেই বালা, .
দেখিছে কুসুমকলি ফুটিছে কেমনে,
কখন বা ব্রভাবে উঠিয়া চঞ্চল,
শুনিছে বিহগান চাহি পানে।
হারায়ে বিজলী-ছটা, চঞ্চল চরণে,
গণ উপরে মরি লুটায়ে অঞ্চল,
ভ্রমিতেছে ইতস্ততঃ প্রমাে-কাননে,
অধীরা যোনভরে সদা সচঞ্চল।
দ্বিতীয় অঙ্ক।
২৭
হে রাজন! সে রূপে নাহি দেখি ও
আপনার ভাবে ধনী আপনিই পাের।
শু।—কি বলিলে, দূত! তুমি? সত্য কি সকলি।
সত্যই কি দেখিয়াছ সেই মহিলারে ?
এমনি তাহার রূপ রয়েছে উজলি
প্রসােদকানন মম? সত্য বল মােরে?
সুগ্রীৰা-হে রাজন! তুমি মাের মকের মণি,
কি আর কহিব, প্রভাে! তােমার চরণে,
চক্ষেই দেখিয়াছি আমি সে রমণী,
অধিত্যকা দেশে, তব প্রমােঙ্গ-কাননে।
কামে বিহার ভূমি সে নারী-তন,
মম-মানস নয়নযুগল,
আনলে খেলিছে তথা অশান্ত মন,
ভরা যৌবনের ভরে সদা সচঞ্চল।
বরাঙ্গীর গযুগ রক্তশতদল,
মার-কুসুম-শােভা চারু ওষ্ঠাধরে,
বিলুষ্ঠিত মুক্তকেশ করে বলল,
বিভ্রমে এমিহে জ আনন্দ অরে।
আর কি কহিব, প্রভাে! তসলিখনে,
অন্তরের ভাৰ সব রহিল অন্তরে,
আঁখি যা দেখেছে, তাহা না আসে বলে,
বিধির অপূর্ব সৃষ্টি খনী-মাঝারে।
অবাকু ইমু আমি মনে হেরে,
তাৰি পচ্ছটা দেশ করেছে উ,
শুম্ভ-সংহার।
জিজ্ঞাসিতে যাই, মুখে কথা নাহি সরে,
দিয়াছিল বাজারে কে বুঝি অর্গল।
মৰি, কি রূপের ছটা হতেছে বাহির,
আলােকিত বাহে মোর মানস-মন্দির।
৩।দূত! সূচত্র ভূষি,কেবলি কি ভাবে
দূর হতে নিরখিয়া ফিরিয়া আসিলে ?
কেবলি ইহাই কি হে বলিতে আমারে
উপনীত হইয়াছ এই সভাতলে ?
নি।-একাকিনী কেন বামা বিন্ধ্যাচল-শিরে?
কোথায় বসতি তার ? কাহার রমণী ?
জিজ্ঞাসিয়াছিলে কি হে সেই মহিলারে,
কি মানসে উপবনে বসি সেই ধনী?
গ্রীব।-তােমাদের বলে বলী আমি, দৈত্যমণি।
আমি কি ডরাই করে এ বিশ্ব-ভুবনে।
কেনই বা উরাইব দেখি সে রমণী?
সুধায়েছি সব তারে সেই উপবনে।
কহিল রমণী মােরে মধুর বচনে ;
আমারে যে ভজে, আমি তাহার রমণী,
সর্বত্রই বাস মাের যে দেখে যেখানে,
সাথী নাহি মাের, আমি চির-একাকিনী।
অনুগ্রীব। বিলম্বে তবে নাহি প্রয়ােজন,
আর এক বার যাও বিগিৰি-শিরে,
কহ গে সে মহিলারে, আদরে এখন
ত্রিলােকের পতি শু ভজিবে তাহারে।
দ্বিতীয় অঙ্ক।
যে ভজে বামারে বা তাহারি রমণী,
যাও, হে সুগ্রীব যাও বল গে তাহারে
ত্রিলােকের পতি তন্তু দিবস যামিনী
ভজিবে জাহারে সদা পরম আদরে।
বেগণ নতশির যাহার চরণে,
সে ভারে রাখিবে তুলি নিজ শিৰােপৰি।
ত্ব বাহার এই বিপুল ভুবনে,
সে তারে করিবে মন-রাজ্যের ঈশ্বরী।
ভাল করি বুঝাইয়া সে নারী-রতনে,
ত্বরায় আনহ তুমি মম সন্নিধান,
অষ, গজ, রথ, কিম্বা শিবিকারােহণে,
যাহাতে সে আসে, যাহা চায় তার প্রাণ।
বৃথায় ক্ষেপণ আর করাে না সময়,
হুরায় আইস ফিরি বিলম্ব না সয়।
সুধীব।—ফেন বা বিলম্ব হবে, ওহে তৈমণি!
এখনি যাইব তব আজ্ঞা ধরি শিরে;
এখনি লইয়া আসি সে কৌত-মণি,
দোলাই তব গলে আনন্দ অন্তরে।
৩।-অবিলম্বে আন গিয়ে তুমি সে বামারে।
(সুগ্রীবের প্রস্থান
নিত। গত
সম্মুখে ভেটিতে ভীত কুমতি মন,
দূত-বাক্য ছৱবেশে প্রবেশিল ধী,
-সংহার।
শ্রবণ-বিবৰ দিয়া হায় রে, এখন,
গনপতির প্রেম-বিমুগ্ধ অরে।
তৃতীয় দৃশ্য।
বিন্ধ্যাচল-প্রমােব্দ-কানন।
(গোরীর ইতঃ পরিক্রমণ)
সুগ্রীবের এবেশ।
মুৰীৰ।কি, গাে ধনি! কি করি? কি ভাবে ভছি ।
আবার এলাম আমি তােমায় দেখিতে।
হেঁটমুখে একদৃষ্টে ফুলে কি দেখিছ।
রূপের কি প্রতিবিম্ব পড়েছে উহাতে।
রূপের সাগর তুমি, ওগাে বিনােদিনি,
চাপল্য ভরলে সদা সচঞ্চল ভাব,
কি রূপ আবার তুমি দেখিয়ে, খনি
ও যরাতে রূপের কি আছে গাে অভাব।
ঈষৎ হাসিছ কেন আমারে হেরিয়া,
উল কবির বিজলিন করিয়া ?
গৌরী।—এই যে আসিয়াছিলে, কি হেতু আবার?
ধুলিয়া বল না কেন নি অভিপ্রায়,
একাকী আলিংকেলহে বাবা,
ও নাই ফল কি বলিবে না।
শুভসংহার। বণে পরাৰি মােৰে, ৰাগ যথায় লয়ে যান, যাব আমি অত-শিনে, যথা রাখিবেন, আমি খুহিব খায়; এই গবে বলে আমি মানি হয়ে। গ্রীব।-সে কি, খনি! সে কি কথা। গণ কি বলিছ ? আন কি, মুশরি, তুমি কারে বলে । পাগলে মত তুমিও কথা ভুখি হাসি পায় সে জব ভাড়া পণ। নয়নকাণেতে ভয় হয় না সব, বিশেষ মৈত্যের সহ-নির্মম নির্ণয়, চাহিয়া হবে না তারা সময়ে যখন, দুচাৰু নয়ন ফি উন্নত হয়। কোমলাজি। ঘুঞ্জ সাজ কি তােমারে ? কাত হিড়িতে ভূমিকুমের দল; পবন ঈষৎ যদি লগ ধরে, ব্যথিত করে লা ম ধরাজ কোমল। দানবের বইমেলা ২ কেমনে খুখিবে তুমি আছ নাহি জানি! কোমল- মূল-মেলে তা ৱিৰে আত্মঘ, সনি মিতে কুকালে খেজী, কেমনে দিবে তুমি মরে । হানিৰীখনত ভবন, পাৰা মাৰিলে।
দ্বিতীয় অঞ্চ।
যুদ্ধ কি মুখের কথা, হেলে-খেলা, নি।.
হাড় এইসৰ্বনেশে ছড়ি পণ,
আপনার নাশহেতু ইয়া আপনি,
বিষম পাকে, ধনি, হয়ো না যান।
छामा बाबाराव वरिष,
লয়ে যাই তােমাকে পােপর আয়ে
দৈত্যনাথ সহ সেথা হইবে মিলিত
চা চাহে মিল যেন হইবে সংসারে।
গৌরী-বৃথা বাক্যৰয়ে, দূত, নাহি প্রয়োজন,
বল তুমি গিয়ে সেই সু-ঈশ্বরে,
কভু না লক্ষন হয়ে যােব বৃঢ় পণ,
জিনিবে যে মােরে, আমি বমি হারে।
ডাক আনি দৈত্যনাথে গ দৈত্য,
আসিয়া খুৰুন তিনি অবগার গলে,
দেখিবে তখন এই নারী-ভুজ,
দেখিবে দানগণ মরিবে কেমনে।
দানবের যন্ত্র বিবি অবহেলে,
ভাসাব শােণিত-শ্রোতে দৈত্য-নীতিনী,
দৈত্য-সেনাপতি মহ ভীষণ আনলে
পােড়াই দৈত্যরাতে অগ্নিবাণ হানি।
বিজয়ী দৈত্যদল পপিলে সমরে,
নিবিড় শয়ে গালে ছাই সংসার,
বধিৰ কৰিব সবে কো-টঙ্কারে,
নােৰিব বায়ুর গন্ধি দেব আঁধার।
।
।
৩৪
শুভ-সংহাব।
সুগ্রীব।—বা হই, খনি, শুনি এই কথা,
না জানি, কি আছে মনে তােমার, সুন্দরি।
কি ভাবিলেও মনে পই বড় ব্যথা,
ও বঙ্গ অত্যাখাতে ফলঙ্কিবে, মনি।
গৌৰী।—বথা বাক্যব্যয়ে, দূত, নাহি প্রয়ােজন,
বল তুমি গিয়াসেই সু ঈশ্বর,
কছু না লখন হবে মাের দৃঢ় প,
জিনিবে যে মেয়ে, আমি বরিব তাহারে।
সুগ্রীব।—ভাল কথা শুনি যদি মণ ভাব, খনি,
আর না বলিব,-কর যাহা ইচ্ছা তাই,
আত্মনাশে বৃঢ় পণ করে আপনি,
তাহাতে আমার কিছু প্রয়োজন নাই।
মরিবে যে রােগী, তাকে মহৌষধি দিলে
গিলে কি সে তাহা? আর কি কব তােমারে।
ভাল না করিলে, খনি, এই কথা তুলে
পিপীড়ার পাখা উঠে মৰিষায় ভরে।
থাক থাক ক্ষণকাল, দেখিবে অচিরে,
মৃত্যু বিভীষিকা সম দৈত্য সৈন্যগণ,
ভাসাবে ও চারু অঙ্গ প্রতপ্ত ধিরে,
রায় লইবে আসি তােমারে শমন।
-
তৃতীয় অঙ্ক। প্রথম দৃশ্য। দৈত্যগ। শুম্ভ, নিশুম্ভ প্রভৃতি উপবিষ্ট। নিতম্ভ। ফনিষ্ঠ আমি, কি কবি আর- কার যা আপনাকে কে উপদেশ; নমিত চরণেত এ বিশ্ব-সংসার, ভয়ে ভীত পর্গে ,পাতালেতে শেষ। ভুবন-সম্রাট ভ্রাতঃ, মুৰি আগনি, কিন্তু এ জগতে যেন নাহি কোন অন * ভ্রমে নাহি পড়ে কামৰমণি! আপনিও পড়েছেন ভ্রমতে এখন। সত্য সে ল প রূপসী, পের জয় তা কি আলােকিত, কিন্তু কি লাফিয়েকীর্তি তুচ্ছাৰী-এলে পারফিউচিত? ৩।-একে ত নুরী ছেমৰীৰ মৌ, সে জলের কল অৰি বিন;
ভ-সংহার। ত্রিলোকের পতি আমি ত্রিলােকমন, শ্রেষ্ঠ যাহা সৃষ্ট তাহা আমার(ই) কারণে। এ জগতে কেবা হেন শ্রেষ্ঠতম জন, এ জগতে কেৰাহেন আছে ভাগ্যথা, এ জগতে উপযুক্ত কেই বা এমন, সে মণি যাহার গলে শােভিবে সুন্দর। ভুজম-শিরে শােতে সমুজ্জ্বল মণি, কে কোথা দেখেছে তাহা ভেক-শিরে জলে? শঙ্কর-ললাটশোভা চারু নিশামণি, কে কোথা দেখেছে তাহা শশাভে বৃষ-ভালে? নিশুম্ভ-অনুজ তােমার জামি, হে দৈত্য-রান।. আমার কি সাধ্য আমি বুঝাই তােমারে? কিন্তু, ভেবে দেখ দেখি স্থিৰ কৰি মন- কে তুমি? আবদ্ধ এবে কার প্রেম-ভােৱে ? তােমার প্রমােৰনে এসেছে রমণ, এসেছে আনুপূনঃ ঘা সে চলিয়া, তােনার উচিত কি হে সেই কথা শুনি, তার রূপে মুগ্ধ হওয়া আপনা ভুলিয়া? এমন ঐশ্বৰ্য্য অৰে আছে বা কাহার। শত শত দেব-কন্যারূপে খনি, উলবণ সয়ে-ফিঞ্চয়ী তােমা, সংসার-দুলছ-রূপা শুভা দৈত্যরাণ। পরনারী কল্যাণকর হয়, পৃথী! ব্যর্থ করােলন।...
তৃতয়ী অঙ্ক।
৩৭
শু।-বৃথা বুঝাও না, ভাই, মােরে তুমি জান,
লভিতে সৈ নারীত্বে প্রতিজ্ঞা আমার।
সুগ্রীবের প্রবেশ।
সম্বাদ কি, দূত? কই, কোথা সে রমণী ?
পিছে কি আসিছে ধনী শিবিকারাহণে?
আগে কি এসেছ তুমি, ওহে বীরমণি!
মঙ্গলম্বা লয়ে আমার সনে?
সুগ্রীব।-সম্বাদ মঙ্গল আর কহিব কেমনে।
বাসনার বিপরীত ঘটেছে এখন,
কহিনু যতনে আমি সে নারী-নে,
পতিত্বে তােমারে, প্রভাে! করিতে বরণ।
সদর্পে কহিল তবে মণী আমারে ;-
সমরে জিনিতে পারে পারিবে নেন,
যে জন পারিবে তার মর্প হরিবারে,
পতিত্বে তারেই সেই নিবে বরণ।
বলিল সকল কথা কহিতে তােমারে,
বিনা যুদ্ধে এক পা নড়বে না ধনী;
যেন পারিবে ল'তে সবলে তাহানে,
হয়ে রবে ৰা ভাৰ চিৰ-প্রেমানী।
৪।—জাকাশকুম তােমার বচন,
বিস্মিত হই গুনি রমণীর বাণী,
মাের সহ নারী চাহে করিয়ে?
উন্মাদিনী নয় ত সে, কুৎ, শুনি?
সংহার।
সুশ্রীব-উন্মাদিনী কেমনে বা কবি তারে,
স্বরূপ ছিল গনী তার এই পণ,
বার বার এই কথা কহিল আমারে,
গর্পে কাহানি হলে তােমারে, রাজ!
ত।—সত্য কি, যে দূত। সত্য এই তার পণ।
আমার সহিত চাহেন কৰিবারে ?
জানে না কি শুৎ আমি শমন-মন?
জানে না কি ব্রিসংসার ঝাশে মাের ভরে।
অফ, ব,ইত্ৰ আদি বেঙ্গল
পরাজিত যে শুয়ে অটুট বিশে;
হাসি পায় শুৰি এই প্রলাপ-ৰচন,
সে শুন্তে মণ জালি কাবাদে এনে!
বাথানি তাহারে আমি, ধন সে দল!
গর্বিত বচন তার বীরুতিক,
যা হােক, দেবি তার সেই ধীরগণ,
কি তাহলে চাহে ধন করিতে সময়।
বীরাঙ্গনা সেশরীষ্টা বীর তরে,
বীর-যােগ, ৰী-ভােগ্যাসে নারীরন;
আমাণ ধীয় ল কে আছে সংসারে ?
বিধাতা গড়েছে তাতে আমার কান।
সসৈন্যে গৰক বিষিখানে,
কোন সেনাপতি মােহখানে?
বনায় আসেয়ালে,
অর্থ কবিকে।
তৃতীয় অঙ্ক।
ডাকি আন, দূত, ভূমি ধূমলোচনেরে,
সেনাপতি পদে আমি বলি তারে।
সুিগ্রীবের প্রান।
বিষম ক্রোধাগ্নি জ্বলি উঠে অন্তরেতে,
শুনিল না গাষিণ আমার বচন।
আবার শুনিয়া হাসি নারি সন্ধরিতে,
কোমরাঙ্গী আমা সহ চাহে কি না যুণ'।
সুগ্রীব ও ধূম্রােচনে প্রবেশ।
বু।—কি কারণ স্মরিয়াছ এ দাসে, রান।
কি কাজ সাধিতে হৰে কহ, দৈত্যনাথ।
কাহারে পাঠাতে হবে শমন-সদন?
কৰিতে কি হবে জাতিগত ইত্ৰপাত।
নির্মিত হবে কি গিরি আমি বেমেধে।
দেখাতে হবে কি যমে ঘাের থমালয় ।
অনুমতি দেহ, প্রতো। যাইয়া এখানে
উপাড়িয়া সাগরেতে ফেলি হিমালয়।
বায়ুরে কি লৌহ সম কৰি দিৰ গুৰু
শব-পরমাণুণি মিশায়ে উহার ।
উৎপাটিতে হবে বল করত।
কি করিতে হবে, প্রভা, আখে আমায়।
৩।মানি, হে মূষলােচন। ভৰ তে আমি,
তােমার গলা কিছু নাহি ভূমণ্ডলে ;
অকুতসাহস ভব, বীরশ্রেষ্ঠ ভূমি,
ওহম।
সকলি কৰিতে গা ভূমি অৰহেলে।
শুন, সেনাপতি। তুমি কি মনে
বিষাদল-মিখানে খাও একবার,
দেখিবে ভ্ৰমিছে তথা প্রমােকাননে,
নবীনা যুবতী এক প্রেমের আধার।
রূপ-অহঙ্কারে মত্ত কলাপিনী প্রয়,
গিরি-অধিত্যকা-দেশে যদি গরবিনী
পাঠায় সুগ্রীবে আমি আনিতে হায়,
তার পাশে এই পণ করিল সে ধনী-
চিনিতে পারিবে তারে যে অন সময়ে
সলে লইতে তারে পারিবে যে জন,
যে জম পারিবে তার দর্প হরিবারে,
তাৰেই করিবে না পতিকে বরণ।
শীঘ্রগতি খাও, বীর! তুমি বিন্ধ্যাচলে,
সমরে সর-সাধ মিটাইয়া কাৰ,
খর্ব করি গর্ব তার নিজ দুজলে,
অবিললেন তার নিকটে আমার।
সেনাপতি-পদে তােৰ বৰিলাম আর
শীঘ্রগতি যাও, শীর। বিলবে কি ।
ধুম্র-কোথাকার সে রমণী বুঝিতে না পারি,
মোরে সহিত চাহে করিবারে !
এ কথা শুনিয়া হাসি সৰিছে নাকি,
হেন মতি ভার কিসের কারণ।
যা হােক, এখনি,আরে ৰিব ধৰিয়,
তৃতীয় অঙ্ক। ৪১ রণ কি করিব আর রমণীর সনে। হহঙ্কারে গর্ষ ভয় ধর্ষিত করিয়া, এখনি জানিয়া দিব তােমার চরণে। চলিলাম তব করিতে পালন, প্রণমি চৰণে তৰ, হে দৈত্য-রাজ। সুগ্রীবের সংত্ব করহ গান, যাও, বিলম্বেতে আর নাহি প্রয়ােজন। ( সুগ্রীব ও ধূলােচনের প্রস্থান। নেপথ্যে রণবাদ) দ্বিতীয় দৃশ্য। বিকাল- একালন। সুগ্রীব ও ধলােচনের প্রবেশ। বু।—এই ত হেউমি বিসমিনে। এই আসি যে প্রমােকালে। ফহ, দূত। কহ শুনি, কোথা সেই ৰৱাননী? পলাইল বুৰি মােৰ আগমন ওৰে। কে না ভরে সূক্ষেত্রে এ বিষন। অচলে হেলতে পাখি গানে, মুষ্টিতে চুণিজে পরিচিয়িফুক,
শু-সংহার।
হিছাড়ি হার, উথলা পাৰাবাৰ,
চিবাইতে পারি বা ছন্তে ঝড়ছে,
বিশ্ব উড়াইতে পারি নিখামের ঝড়ে।
কালান্ত ভীত নয়ন-ভঙ্গীতে,
ঘূৰাই ইত্রের মুখ অঙ্গুলিইঙ্গিতে,
রমণীর অহঙ্কার, তেজ গ দ তার,
একাকী, সুশ্রী, তুমি পানিতে ভাবিতে,
আমারে আনিলে কেন মণী-বকেতে?
মুজীব-এই যে এখানে ছিল সেই গরবিণী,
কোথায় পলাশ এবে তব নাম শুনি?
এই ত ঋণে পূৰ্ব্বে, কতই কহিল গর্বে,
ডাকিল কে দৈত্যনাথে সমরে জানি,
কোথায় লুকাল পুনঃ সেই মায়াবিনী?
ধূ। লুকায়ে কি করিবে, কি সাধ্য তাহার
ক্ষণেক দাড়াতে পারে সম্মুখে আমার?
যা হােন্থ, গ্রীব তুমি, দেখ ওই বনভূমি,
পাতি পাতি কৰি এৰে খোৰ চাৰি থার,
বামারে লইয়া ভূলে দিব উপহার।
[সুগ্রীবের প্রদান
(
বিগিরি ইদেশে)-
বিাচল! কি ভাবিবির বাৰে ।
আমায় দেখিয়াত হয়েছে কি মনে?
নয়ন-নির্ব-বারি ঝরিভেহ ধৰি ৰীৰি
তৃতীয় অঙ্ক।
৪৩
ঘাড় ভুলি কি দেখিছ-পলাবে ফোনে।
পলায়ে বা যাবে বল, তুমি কোন্ স্থানে।
হেন সাধ্য কার বল, বুঝিবে তােমারে
মাের হাত হতে। তুমি দেখাও সত্বরে
কোখা সেই মায়াবিনী, কোথা সেই গরবিণী,
এখনি বাহির করি ও হে তাহারে,
নতুবা বিন্ধিৰ তােমা ভীম ভী শৰে।
কোথায় লুকায়ে আছে কই, সে রূপসী,
তুষারে ঢেকেছ কি হে সেই রূপরাশি।
দেখ এই ভীষ ভুলে, রাখিয়াছি বাণ মূলে,
অনর্থ ঘটিবে তব যদি আমি কষি,
তুমি ত প্রহরী হয়ে আছ হেথা বসি।
এখনি কাটিব শৃঙ্গ খণ্ড খণ্ড করে,
গুড়া করে দিব সেই গাৰ প্ৰহারে,
এডিয়া পবন-বাণ, ও প্রকাণ্ড দেহখান,
ডুয়ে ফেলিব আমি অতল সাগরে,
এই হাসিলাম বাণ, ৰক্ষ আপনারে।
(শৱসান)
গিবিশিরে গৌবী ও নিয়ে সুগ্রীবের প্রবেশ।
বু।—এই নাকি? হা হে দূত। এই কি সে ঘনী?
যটে বটে, রূপ বটে! ধন্য বয়াননী।
কোথায় লুকায়েছিল, কোথা হতে পূনঃ এলাে,
এ দেশ করিল গালে পে পৰিণী
৪৪.
শহার।
কোথায় লুকায়েছিল খালােকরূপিণী?
সী।—পাতিপাত করিয়া বেছিলাম গিরি,
কোথায় লুকায়েহিল না জানি সুন্দরী।
অনুমালি এৰা, হৰে বোর মায়াবিনী,
ধীরে আসি গড়াইলগিরিশৃঙ্গেরি,
কেমন রয়েছে যেখখাড়'হট স্কুল।
ধূ। গাে বাহাশিমুখি। কই দেখি শুনি,
কি হেতু রয়েছ হেট কৰি মুখখানি?
মাের আগমন শুনে, ভয় কি হয়েছেনে ?
ভয় কি? চুই না আমি অবলা গমণী,
ভয়ার্ত জনের সজা ভয় প্রানি।
আমা বিদ্যমানে তােমাকে চুইতে পারে ?
খাড়াইয়া আহি আমি করবার করে।
হিমময় বিন্ধ্যাচলে, কেন বা লুকায়েছিলে?
বিগিৰি সাধ্য' কি ষৈ লুকায় তোমারে?
এ কি লুকাবার 'রূপ। দেখাও সংসারে।
ও কি তােমার, বাহ! এ মাের গনে,
সমাদরে লয়ে যাই তােমায় যতনে ;
দৈত্যেশ ত্রিলােক, হইবে তােমার বয়,
হিবে নিঙয়ে তুমি তরে ভবনে ;
ভয়ের কি সাধ তােমা পর্ষণে সেখানে।
গোমী।—নিয়ে তোমার কাফফসি'-
-এইকি মাখিয়াতােষায়।
দেখিতে না পারিকে দুষলেন ?
তৃতীয় ।
৪৫
কি আমার বল হে এ রায়!
জয়ে আস আমি, ভরি না কাহায়।
কেনই বা লুকাইব দেখিয়া তােমারে?
লুবায় স্থান মাের আছে কি সংসারে।
যেথায় দেখিবে তুমি, সে বিদ্যমান আমি;
তােমার কথায় কেন ভেটিৰ গুতেরে?
কি দার পড়েছে মাের, কহ তা আমারে।
দেখিবে, হে বীরবর! মােয় তীর
ধরায় বিন্ধিৰে সেই ভক্তের অঞ্চ।
তুমি যদি রণ-পাশে, এসে থাক মাের পাশে,
অবিলম্বে ভেবে মারে সময়,
তােমারে সংসার হতে করি হে অন্ত।
ধূম্র -সুগ্রীব! বলে কি যাম? ভেবেহে কি মনে
এতই সাহস মােরে সংগ্রামে আহবানে।
জামি ত্যৈসেনাপতি, ভয়ে কাপে বহুমতী,
মাের বীর্য কে না জানে এ বিশ্ব-ভুবনে ?
এতই সাহস মােরে বধিৰে পালে?
(গৌরীর প্রতি
এ বুদ্ধি বল, বাহা, কে দিল তােমারে,
আমার সহিত তুমি চাহ যুঝিবার।
আমি দৈত্য-সেনাপতি, তুমি গাে কোয়লা অতি,
অলির বল নাহি তােমার শরীরে,
খসিবে হাতে থঃ এ দুঙ্কারে।
বীর মৈলে বীর্য কে বুঝিতে পারে
৪৬
শুভ-সংহার।
ত্রিদিবে ত্রিদিবপতি জানে সে আমারে,
পাতালে বাকি জানে, ধরায় ধরণী জানে,
নিয়ত যে প্রণীড়িত মাের পদভারে,
নারী তুমি, কি জানিবে ধুলােচনেবে।
গৌরী।-হ, গাে দৈত্যসেনাপতি! ভেবেছ কি মনে
তােমার সমান বীর নাহি ত্রিভুবনে ?
মূর্থের মতন কেন, আত্মস্থ কর হেন?
ক্ষমতা যদ্যপি থাকে প্রবেশহ রণে ;
মুখেতে বড়াই শুধু করে মূখ জনে।
ধূম্র।অবােধ বালিকা তুমি, কি বলিব আর,-
ভাবিয়াছ যুদ্ধ বুঝি বিপিনবিহার।
নহিলে এমন পণ, করিবে বা কি কারণ?
এখনও বলিতেছি হাড় অহঙ্কায়,
এখনও শুন, খনি, বচন আমার।
আর রক্তপাত তুমি করা’ও না মােরে,
মিটিয়াছে সাধ মাের ওই কাজ করে,
লােকে যেন অবশেষে, স্ত্রীঘাতী বলে না যােষে,
চাহি না নাশিতে মোর যশঃ এ সংসারে,
চরমে রমণীৰ কৰিয় সমরে।
গৌরী।—সাং হি মিটিয়াছে রক্তপাত করে,
তবে কেন এলে এই রণসাজ প'রে ।
আজম করিয়া পাপ, পাইতেছ মনস্তাপ,
সে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করিবার তরে,
এসেই কি নিজ রক্ত দিতে এ সমরে ?
তৃতীয় অঙ্ক।
ভাসিবে এখনি তুমি মাের অনায়াতে
শালকাষ্ঠখণ্ড সম শােণিত-নদীতে,
দেখিবে তখন, বীর ! বল তব অঙ্গুলির
আছে কি না বাহে মাের লােমাগােতে;
সেনাপতি। ৰীৰ তুমি, বিখ্যাত জগতে।
মরিতে বাসনা যদি হয়েছে তাের,
ধর অন্ত্র, বিলম্বেতে কি ফল আর ?
তৰ প্রাণ আগে, দিয়া যমজ-আগে,
পূব নকলা-সংকয় আমার,
বিনাশিয়া দৈত্যকুলে সাবি সংসার।
ধূম্র -কি বলিলে ? এত সখ্য। বধিবে আমারে।
কার সাধ্য বখে মােরে এই ব্রিসংসারে ?
পরাবি ইত্রে রুশ, জয় করি ত্রিভুবনে,
মরিতে হইবে শেষ ৰমণীয় করে।
অবলা বণী ভূমি বধিবে গায়ে?
লহ জ্ব, থর ধনুঃ করেতে তুলিয়া,
আর করিব নয় বলা বলি,
তােমার ও ক্ষু, এখনি কৰিব ,
নাগপাশ-যোধি মাই চলি,
শেষে এই ছােঙ্গ যাইলে লইল্প।
গৌরী।-(শর কবি-
সেনাপতি। তুমি কাছে এখন ।
মাের হাত বুলি কৈগণ।
ক্রিক্ষিববিজয়ী হয়নি
৪৮ শুৎ-সংহার। কাপে থরথরে, একের দরশন- অবলা নারীর ভুলে শকতি কেমন। রােখিল রবির কর মােৰ শৰৱাল, আর কি দেখিছ, বীর। ভাৰ পয়াল। হয়, এই গরবিণ মহাবীৰ্যৰতী, সামান্য রমণী কভু নহে এ যুবতী, চোখ চোখ তীক্ষ্ণ বাণে, আকুলিল সৈন্যগণে ; ভাঙ্গিল বিকট ঠাট, হৰিল শকতি দানব-দুর্ভাগ্য নারী-রূপে মূর্তিমতী। অস্থির করিল মােরে বিষম সমরে, হেন তেজ হেরি নাই অবনী মাঝারে, যাই হােক, প্রাণপণে, বুঝিব বামার সনে, কালি নাহি দিব কুলে পলাইয়া ডরে, সমরে মরিলে যশঃ রহিবে সংসারে। (প্রকাশ্যে) ধন্য অস্ত্রশিক্ষা , ধন্য বীরাঙ্গনা! বাখানি সহ মুখে তব বীরপণ। বিচ্ছিন্ন করিলে, ধনি, আমার এ জনকিনী, ভাসাইলে রক্তস্রোতে এ বিপুল সেনা, ধন্স তব অশিক্ষা, বীপ । ক্ষান্ত হও, বীরাঙ্গনে । কলি সৈন্যগণে আমার সহিত আমি প্রবেশই রণে; দেখিব কোমল, হানিবে গর,
চতুর্থ অঙ্ক।
৪১
এখনি কাটিং উহা ভীম প্রহণে,
এখনি পাঠাব তােমা শমন-সদনে।
(উভয়ের যুদ্ধ—ধূম্রলােচনের পতন
সুগ্রীবের প্রস্থান।
চতুর্থ অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য।
অন্তঃপুরস্থ উদ্যান।
সখীসহ শুভ্রার প্রবেশ ।
সখী।-শুনে কি, ঠাকুরাণি । তােমার হৃদয়-মণি
অন্য এক রমণীর প্রেম-ফাদে পড়েছে,
তােমার সতিনী এক পােড়া বিধি গড়েছে।
শুভ্রা।- ছি ছি, সখি! সে কি কথা, ও কথা বল না হে,
আমার স্বনাথ আমার-আমার লল,
আমাথই নারী তিনি জানেন না আর লাে।
সখী।-অৰা হইমু মেনে, তােমার ও কথা শুনে,
পুরুৰে ৰিস এত কর, সখি!কেমনে?
পুৰ নূতনে বৰ জান না কিনে?
ভ-সংহার।
শুভ্রা।পতি মােয় বিশতো দৈত্যকুলমণি,
সামান্য পুরুষ নে ভেব না, জনি।
সী-শোন নি কি, দুজনে! ভােমার এমােদ-বনে
এসেছে কামিনী এক দুরূপের খনি,
উজ্জল অঙ্গের জ্যোতিঃ-নবীন-যৌবনী।
শুভ্রা-বনশােভা দরশনে, কামিনী মােছ-বনে
এসেছে, আনুক ; তায় তাহার কি কাজ?
সখী।তাহাতেই মজেছেন দৈত্যপতি আজ।
শুভ্রাকে কহিল এই কথা তােমারে, ললনে ?
সখী।দূত-মুখে শুনিলাম আপন শ্রবণে।
শুভ্রা।-কোথায় বসতি তার ?—কে সে রমণী?
সখী।-কোথায় বসতি তার জানি না, স্বনি,
শুনিনু আবাস তার সমগ্র মেদিনী।
শুভ্রা।সমগ্ৰ মেদিনী? সে ত পথে রমণী
পথে পথে ফিরে, ঘরে সমগ্র মেদিনী,
আবাবিহীনা সেই রূপে খনি,
তাই ৰে আবাস তাৰ সমগ্ৰ মেৰ্থিনী;
তারি প্রেমে মজেছেন দৈত্য-চুড়ামৰি ?
মা রে কপাল হার, হা, কি কহিব ,
দাসীবেগ মাখী দৈত্যেশ-শােহিনী।
হেন হনতি নৃপ, কখন না জাৰি।
যি নহয়, থিন ঐক্টর,
বিখ,কি শােয়াশ।
চাল নেরে,পাৰিফিতে অৰিী
চতুর্থ অঙ্ক।
যাও, সখি! এই ক্ষণে বিন্ধ্যাচল-উপবনে,
ধরে আন সে বামারে দেখি সে সুন্দরী
হতে পারে কি না পারে আমার কিঙ্করী।
সখী।—গেছে সে ধূলােচন আনিতে তাহারে,
খর্ব কৰি গৰ্ব তার ভীষণ সময়ে।
শুভ্রা।—গ কিঃকিসের গর্ব সেই মহিলার ?
পথের নারীর সনে রপ কি আবার?
সখী।-শােন নি কি সে রমণী, নৃপের আসক্তি শুনি,
দূতের নিকট গর্বে করেছিল পণ,
বরিবে তাহারে ব্রণে জিনিবে যে জন।
তাই ত গিয়াছে রণে সে ধুম্রলোচন।
শুভ্রা।—ধি যত দৈত্যগণে, ধিক্ সে ধূলােচনে,
যুঝিতে নারীর সনে করিল গমন,
দৈত্যনামে করিল রে কলঙ্ক অর্পণ।
ধিক রে দৈত্যের খ্যাতি, আজি দৈত্য-সেনাপতি,
গিয়াছে ধরিতে অসি বুমণীর রণে,
পরাভৰি ইত্রে, যমে, অরুণে, বকুণে।
ধিক দৈত্য-যশােরাশি, ইন্দ্রাণী যাহার দাসী,
সেই দৈত্যপতি চাহে সামান্য নারীরে!
বিষ খাওয়া(ই) কেন মারে নি আমারে?
যা হােক, লো সহচরি, যাও এৰে ত্বরা করি,
জানাও গে দৈত্যনাথে বাসনা আমার,
ক্ষণেকের তরে চাই দয়শন তার।
সখী।যাইতে হবে না, সতি, তােমার প্রাণের পতি
ওই আসিছেন দেশ, দেখ লাে এখন বিবাহিত চিন্তাষিত দুঃখেতেন। দূত ওই আসিতেছে, ভূপতির পিছে পিছে, মুখেতে নাহিক কথা, সজল নয়ন- হারিয়াহে বলে বুঝি সে ধূমপােচন। দেব দুই সহােদর, চত মুখ ধনুর, আসিতেছে অধােমুখে, অতি ধীরে ধীরে, জানি কি ঘটিয়াছে নারীর সমরে। বিষম বিবাদে মগ, দেখ সখি, চিত্ত , দানব-কুলের চূড়া-বিরস বদন; কাজ নাই ভেটি ৰূপে মােদের এখন। চ, সখি, চল যাই দেহে অন্তরালে, বলিও সকল কথা সময় পাইলে। শুভ্রা।-রাজার বিরস মুখ, দেখিয়া বিদরে বুক, অতুল ঐখ, হায়, দুঃখের আবাস রে! সুরভি বুদামে দুই কীট করে বাস রে। হেরিয়া বন ওর, নিভিল ক্রোথামি মাের, চল, সখি। অন্তঃপুরে করি লাে গমন, কাজ নাই ভেটি নৃপে মােদের এখন। ( উভয়ের প্রস্থান । শুম্ভ, সুগ্রীব, চণ্ড ও মুতের প্রবেশ। ৩।-সভব, ওর দূত, ভােৱ ৰচন, পড়েছে সাৰী ৰণে সে তুলেছিল।
চতুর্থ শঙ্ক।
শনে যারাজ অমর-নিক,
ভয়ে যায় বিকশিত বিচার,
যে বীর কলি জয় বা, ই, যমে,
সে বীর পড়িল আনারী সংগ্রাম।
কাপি প্রত্যয় নাহি হয় মেয়ে;
পরাজিত বুদ্ধি বীয় হয়েছে সময়ে,
তাই বুঝি’লুকায়েহে অপমানে বলী,
লজ্জায় আমার মুখ দেখাবে না বলি।
পুত্র লুকায়েছে, হরি, প্রভাে! সে ধুলােটন
অন্ধতম কালকুলে, হে গৈত্যা!
আর আসিবে মাকছু জেটিতে তােমারে,
আর দেখাবে না মুৎ সংসারে কাহারে;
এড়াতে সংসার-জালা, রাখিয়া শরীর,
চিরশান্তিনিকেতনে গিয়াছে সেবীর।
বিবাদ করিয়া'শির দেহের সহিত
পড়িয়া পৃথক হয়ে, তপ্ত শােণিত
মধ্যস্থ হয়েছে হােমিদার তরে,
মিলিবার নয় শাহাদর সংসারে।
শু।—বিশ্বতে নিপতিত মৰণে।
শুকাল অম্বুধি-অম্বু, চায়ের কিরণে!
কহ, দূত। মােরে, কেমনে নি,
খেদাইল'গেম গবেনাৰী এফাকিমী?
দুঞ্জীব।-কেমনে হিব, এতে। ফুল'কেমনে
একাকিনী সে সমীক্ষায় সনে।
৫৪
শুম্ভ-সংহার।
}
যুদ্ধকালে কে পেয়েছে দেখিতে তাহারে ?
মধ্যাহ্ন-মাৰ্ত্তও পানে কে চাহিতে পারে ?
বীরতেজে, রূপতেজে, যৌবনের তেজে,
তেজস্বিনী সে কামিনী গভীর গরজে,
অনর্গল শরজালে ছাইল গগন,
এই মাত্র দেখিয়াছি, হে দৈত্যরা।
তেজস্বিনী সে বামার প্রচণ্ড প্রভাবে,
পলাইল ব্যহ ভাঙ্গি সৈন্যগণ সবে ;
আর কি কহিব, দেব ! দেখ এক বার,
কখন যা হয় নাই হয়েছে আমার,
রমণীর বাণে রক্ত ঝরিতেছে দেহে,
ত্রিদিবপতির বজ্র প্রতিহত যাহে।
শু।-বুঝিলাম সে রমণী শক্তির আধার ;
ভাল তার তেজ আমি দেখিব এ বার,
দেখিব কতই বল কোমল শরীরে,
কত বা অন্ত্রের শিক্ষা সে মৃণাল করে।
চণ্ডা-সাসিতে মনের সাধ, হে দানবপতি।
যদি হয় অভিলাষ, দেহ অনুমতি
আমাদের প্রতি, মােরা গিয়া এই ক্ষণে
বামারে আনিয়া দিব তব চরণে।
৩।তােমাদের(ই) কাজ ইহা, বুঝিলাম এবে,
যাও দুই ভাই মিলি সে ভীম আহবে,
সামান্য অবলা কভু নহে সে যুবতী,
অনিবাৰ্য তেজ তার বিষম শকতি ;
।
চতুর্থ অঙ্ক।
ভোমা ঠেছে বরিলাম সেনাপতি-প,
সময় করিয়া এল নিরাপদ।
মুণ্ড আমরা থাকিতে তব কি চিন্তা, মান।
যে থােক সে হােক বামা, দেখি এখন
কতই সাহস তার কোমল পরাণে।
বাণে বাণে উড়াইয়া প্রেরি এখালে।
দেহ অনুমতি ভবে, বিলম্বে কি কাজ,
পরি গিয়া দুই ভাইয়ে সময়ের সাজ।
বাজুক দুন্দুভি এবে খােৰ কোলাহলে,
বেরুক সে রবে যম আগে বিন্ধ্যাচলে।
শুম্ভ—এস তবে, বীরদ্বয় ! বিলম্বে কি কাজ?
দানবকুলের মান রাখ দোহে আজ।
[চণ্ড ও মুণ্ডের প্রস্থান।
শুত্রার প্রবেশ।
এস, শুভে। শুনােহ ফি সৰ সমাচায় ?
অবলা নারীর করে দৈত্যের সংহার ।
শুভ্রা শুনিনু, নবমণি। সৰুলি এখন,
নারীহতে হত আজি সে ধূম্রলোচন।
কিন্তু ভেবে দেখ, নাথ! এ হেন অনর্থপাত
স্বেচ্ছায় করিছ তুমি, হায়, অকারণ
একটি নারীর রূপে মজাইয়া মন।
হায়, হায়, মজ! এই কি উচিত কাজ।
বিধি-বিজেতা তুমি ক্রিলােকের স্বামী,
শুম্ভ-সংহার।
একবার মনে ইহা ভাব না ক তুমি ?
হায়, নিজ বুদ্ধিদোষে, অপমান হলে শেষে,
আবাস-বিহীন সেই পথের কামিনী,
উপেক্ষিছে তােমারে, হে দৈত্যচুড়ামণি ?
-কি কহিব, দৈত্যেন্দ্রাণি ! কি কহিব আর,
উপযুক্ত আমি এবে তব লাঞ্ছনার ।
যা হােক মে নারীগৰ্ব্ব, অবশ্য কৰিব পৰ্ব্ব,
কভু না লজ্জন হবে প্রতিজ্ঞা আমার,
নয় এ বিপুল কুল হবে ছারখার।
শুভা।-দৈত্যপতি! এ কুমতি কেন হে তােমার ?
অকারণে কেন নাশ যা আপনার?
বনশােভা শনে, তোমার প্রমােদবনে
এসেছিল সে যুবতী রূপের আধার,
তুমি কেন হাতে না হইলে উদার ?
আপন গুরুত্ব তুমি ভুলিলে কিরূপে,
মত্ত হয়ে সে বামার অপরূপ রূপে ?
কেন বা ঘটালে সেই কালসাপিনীরে,
কি ছলে কে আসিয়াছে না ভাবি অন্তরে ?
জান না কি, হে রাজন! রিপু তব ত্রিভূবন,
পাতালে পন্নগ, দেব ত্রিদি-মাঝারে,
সবাই সচেষ্ট সদা তব অপকারে।
শুম্ভ-অপকার!-কে করিবে কার অপকার?
কিসে বা কে করিবে তা হেন সাধ্য কার?
আমি ত্রিলােকের পতি, ভয়ে কঁপে বসুমতী,
চতুর্থ অঙ্ক।
আমার প্রতাপে, রাজ্ঞি, কাপে চারি ধার!
কার সাধ্য দিবে হাত অনিষ্টে আমার ?
শুভ্রা।-প্রকাশ্যে না থােক, কিন্তু সবাই গোপনে
তোমার অনিষ্ট-চেষ্টা করে প্রাণপণে।
জান না কি, অমরাৰি । দানবের চির-অরি
অদিতির গর্ভজাত যত দেবগণে?
ভয়ে মাত্র নও যারা তোমার চরণে !
তুমি ত্রিলোকের পতি, আমি নারী হীনমতি,
কি সাধ্য তােমারে আমি দিই উপদেশ,
আপনি ভাবিয়া মনে দেখ না, প্রাণেশ !
মনােবেগ শান্ত করে, চল, নাথ! অন্তঃপুরে,
চল, নাথ! শান্তিপ্রদ বিশ্রাম:অপারে,
কয়টি মনের কথা কহিব তােমারে।
মিনতি আমার এই তােমার চরণে,
বিলম্ব ক’র না আর এই উপবনে।
শু-চল, প্রিয়ে ! তমা সহ যাই হে তথায়,
অন্তরের শান্তি কিন্তু হারায়েছি, হায়!
[উভয়ের প্রস্থান।
দ্বিতীয় দৃশ্য। বিন্ধ্যাচল। (গৌরী উপবিষ্টা) চগু ও মুণ্ডের প্রবেশ। মুণ্ড—বসি বামা গিরি-হৃদে উজ্জ্বল বরণে, কাদম্বিনী-ক্রোড়ে যেন ৰূলহে দামিনী; ঝলিছে প্রেমের দ্যুতি রূপ-মুগ্ধ মনে, যৌবনে রূপসী, মরি, আরাে গরবিণ। উজ্জ্বল মুকুট গিরি পরিয়াছে শিরে, হারায়ে উষার দ্যুতি উদয়-শিখরে। চণ্ড আপন মনেতে বসি, রক্তে বিনােদিনী কত রঙ্গ করিতেছে-ভাব চঞ্চল- বিস্তারিছে কেশপাশ, এলাইছে বেল্প নাচিছে লহরে যেন শৈবালের দল। আবার বাধিছে বেপী পরম যতনে, প্রত্যেক গ্রন্থিতে, মরি, বাধিছে চঞ্চলা, বিমুগ্ধ অন্তর মম! কুগুল শ্রবণে খুলি পৰি পুনঃ পুনঃ করিতেছে খেলা, কটি আঁটিছে বামা, কসিছে কালী, ব্যস্ত ধনী বাঁধ দিতে যৌবনের শ্রোতে ; সুচাৰু অঙ্গুলি গুলি—চম্পকের কলি : মুক্তা-দন্তে কাটিতেছে আপন মনেতে ।
চতুর্থ অঙ্ক।
মুণ্ডা-সার্থক জনম তব, ওহে বিগিরি,
মহাযােগী! যােগফল পেয়েই এখন,
কত জন্ম পুণ্যফলে, বলিতে না পারি,
হেন রূপরাশি শিরে করেছ থারণ।
দেখ, চণ্ড। দেখ, ভাই! দেখ একবার,
বিঙ্কগিরি-শধরেতে মানস-তপন।
রূপেতেজে আলােকিত হের চারি ধার,
সার্থক হইল আজি যুগল নয়ন।
চা-দেখাতে কিছুই আর হবে না আমারে,
সকলি দেখেছি আমি, চল যাই তবে,
কাছে গিয়া ভাল করে দেখি গে উহুরে,
ডেটি গে বামারে এৰে ভীষণ আহাৰে।
(নিকটস্থ হইয়া গৌরীর প্রতি)--
একাকিনী কেন, খনি। বসিয়া বিজনে ?
রূপের ভাণ্ডাৰ বুঝি লুঠি বিধাতার
পলায়ে এসেছ তুমি সুকাতে এখানে,
বিশ্ব চরাচর, হায়, করিয়া 'আঁধায়।
সংসারের কোন শােভা নহে মনােনীত,
তাই বুঝি হেঁটমুখে রয়েছ হেথায় ?
ভোল দেখি মুখ, দেখি দেখি বেলা কত ?
উছুক ভাস্কর, ধনি, ও মুখ-প্রদায়!
মুণ্ড—কি রূপসি! রূপরাশি পৰ্বত-শিখরে
ঢালিয়াছ কেন? খনি! কহ না বচন ;
উচ্চদেশে রেখে কি দেখাতে সংসারে।
শু-সংহার।
লুকাইয়াছিলে তবে কহ কি কারণ?
একমনে কি ভাবিছ ?-রূপ আপনার ?
রূপসাগরের ঢেউ গণিছ কি বসি?
সুধাপাত্র হাতে করি কেন বৃথা আর?
পান কর যত পার ওই সুধারাশি।
রূপ-যৌবনের সুধা বৃথা কি শরীর
অনাড় হইয়া, ধনি, রবে চিরকাল ?
এস মাের সাথে, আমি পুলকে তােমারে
ভাসাই সুখান্ধি-নীরে তুলি প্রেম-পাল।
চল লয়ে যাই প্রেম-আক্রৗড় উদ্যানে,
খেলিৰে তথায় প্রেম-পুলকিত মনে।
গৌরী।-- (স্বগত)-
এ হেন তেজস্বী রূপ দেখি নে কখন,
দিতি-ই-আকাশের প্রভাকরদয় !
এ হেন প্রভাব বিনা কেন দেবগণ
মানিবে দৈত্যের কাছে চির-পরাজয়।
( প্রকাশ্যে )-
বীরবর! কহ মােরে লইবে কেমনে
প্রেম-আক্রৗড় উদ্যানে ? বনাগ্নি যে আমি,
নিমেষে পুড়িবে সব, পশিৰ যেখানে ;
কেমনে তথায় মােরে লয়ে যাবে তুমি ?
নিয়া থাকিবে দোহে আমার বে পণ ;
এসে যদি থাক হেথা যুঝিবার তরে,
ওর অবিলম্বেতে নাহি প্রয়োজন,
চতুর্থ অঙ্ক।
৬।
ধূমলোচনের পথ অনুসারিবারে।
কালের হয়েছে কাল, বিলম্বে কি কাজ।
ধর ধনুধর দোহে ধনুক দোহার,
গণ উল্কাপাত মাের যাণপাতে আজ
ও বীর-শরীরে ধৰি ৰুধিরের ধার।
চণ্ড ভাল, রসবত। ভাল বলিলে এখন,
সত্য, এত অস্ত্রপাত গণিব কেমনে!
হানিতেছ বুকে শেল সদর্পে যখন,
অন্তর জর্জর করি কটাক্ষের বাণে।
আবার ধরিলে ধনু ? সম্বর, সুন্দরি !
মম্বর অরির বাণ;-এড় যত সাধ
লৌহময় বাণরাশি,—তাহে নাহি উরি,
নয়ন-বাণেতে তব ভাৰি পরমদ।
গৌরী।-লৌহময় বাণ তবে সম্বর, ফজ!
কালের আঘাত হতে রক্ষ আপনারে,
ধর ধর ধনুঃশর, তুল বীরভুজ,
শিবার বদপি পার মাের ভীয় শয়ে।
মুশু-মরি, বিধুমুখি! ওই শরটি হানিতে
ছেড়ে নি ত নড়া? আহা! লাগে নি ত হাতে ?
গৌরী।-বৃথায় কথায় আর নাহি প্রয়ােজন,
কাৰ্যেতে প্রকাশ কর বীরত্ব আপন।
চণ্ড-অদ্ভুত-ৰুতি বাম মহা-ধবতী,
কাল-মরীচিকা সম হেরি এ যুবতী।
শুম্ভ-সংহার।
মুণ্ড।-কি চিন্তা তাহাতে, ভাই! দেখ দাড়াইয়া,
ধরি আমি ধনু, দেখ এ মরীচিকায়
কত দূর বাণ মােয় যাবে তাড়াইয়া ;
শেষে শােণিতের সরঃ করিব উহায়।
চা-থাক, ভাই! তুমি, আমি যুবি ওর সনে-
কালের কুটিল গতি কি জানি কি হয়,
কোমল মৃণাল বাথে প্রমত্ত বারণে-
এ ভীমা নারীর রণে হয় না প্রত্যয়।
মুণ্ডা-কে বা পারে ফিরাইতে অদৃষ্টের গতি ?
মিবারি আমায় রণে কেন তবে, ভাই!
কলঙ্কিছ বীধৰ্ম্ম-হয়ে হীনমতি ?
ধরিয়াছি ধনু যবে, কোন ভয় নাই।
চণ্ড-বীর-ধৰ্ম্ম নহে সত্য নিবারিতে রণে,
তথাপি না বােঝে, ভাই! অবােধ হৃদয় ;
যাও তবে, সাবধানে ঘুঝ ওর সনে,
ঘাের মায়াবিনী বামা কহিনু নিশ্চয়।
মুণ্ডা-থাম, তেম্বিনি ! বৃথা যুঝিয়া কি ফল?
থামে না যে হাত তব বাণ বরিষণে ?
এস দেখি একবার, দেখি কত বল,
কতই ঘৃঢ়তা তব অষলা-পরাণে।
তুমি একাকিনী, এস, আমিও একাকী
বুঝি তব সাথে, দেখি ক্ষমতা কেমন,
ভাই মােৰ দেখিবেন রণ দূরে থাকি,
অঙ্ক কে না খনিবে কোন প্রহরণ।
চতুর্থ অঙ্ক।
গৌরী-ধকু সকলে জল্প আজি এ সমরে,
কিম্বা তুমি একা যুঝ-সকলি সমান,
ধরিতে হইল অস্ত্র যখন আমারে !
এস তবে, দেখি তুমি কত বীর্যবান।
(উভয়ের যুগ্ধ)
চণ্ড-স্বগত)-
ধন্য বরাননি! ধন্য, ধন্য বীরাঙ্গনে।
ধন্য সেই লােক, যথা এ নারী নিবসে!
ধন্য সেই জন, যারে প্রেম-আলিঙ্গনে
তুষিবে এ সুহাসিনী মধুর সন্তাষে।
আমাদের(ও) ধম্ম বলি-যন্ত রে নয়ন।
হেরিনু আজি রে হেন নারী বীর্যবতী
ধিক্কার মােদের পূনঃ, উদ্যত যখন
নিবাইতে মােরা এই জগতের জ্যোতি।
(ভগবতীর নিরস্ত্র হইয়া অধোমুখে স্থিতি।
মুণ্ড-একি ধনি। কথা কেন নাহিক বনে?
আকুলনয়নে কেন চাহিতেছ, ঘনি?
মৃত্যুর কি পশষ পশিছে শ্রবণে ?
সঘনে বহিছে শ্বাস কেন, বিনােদিনি ?
এখনও কি মিটে নাই যুদ্ধের পিয়াস?
স্ব-সিক্ত কেন দেখি ও চন্দ্রবদন ?
ভাল ভাল, মিটেছে ত সময়ের আশ ।
কোথা, ধনি, চারু-ভুলে ভীষ প্রহরণ?
৬৪
শুম্ভ-সংহার।
কপিতেছ,গিরি তােমা ধরিছে যতনে,
তাই কি গিৰিৰে অসি দিয়াছি পুরস্কার ?
তুণের যে বাণ দেখি রহিয়াছে তুণে।
ধরেছ কি জয়ধ্বজ নিজে আপনার ?
যুদ্ধ কি মুখের কথা, ছেলে-খেলা, ধনি?
একি তুমি পাইয়াছ ধূমলোচনের
হেলায় বধিবে তাই ?-ভাল, বিনােদিনি!
ভাল পণ করেছিলে গরবের ভরে!
সে গৰ্ব কোথায়, ধনি। সে পণ কোথায় ?
চল তবে দৈত্যপতি-নিকটে এখন।
বৃথায় ভাবিলে আর কি হবে উপায়,
“ভাবিতে উচিত ছিল প্রতিজ্ঞা যখন।”
গৌরী।-(স্বগত)-
কি করি উপায় এই ভীষণ সমরে!
নিবারিতে নারি দৈত্য-পরাক্রম ঘাের ;
পারিনু দেব-বাঞ্ছা বুঝি পূর্ণিবারে,
পূরিল মেদিনী বুকি অপশে মাের!
স্মরি এবে দেবদলে এ বিপদকালে,
একাকিনী না পারিব মানবে নাশিতে ;
সহায় আমার তঁারা হন রণমূলে,
আর ত পারি না, হায়, শােণিতে ভাসিতে ।
(সহসা অন্তধন)
মুণ্ড-কোখা গেল বামা! এই এখানে যে ছিল।
মায়াবিনী সত্য বুঝি হবে এ ভামিনী,
চতুর্থ অঙ্ক। না হলে নিমেষমধ্যে কোথা লুকাইল- স্বচ্ছ দিবাভাগে ?-নহে তামসী যামিনী। কি বলিব ভূপে, যবে সুধিবেন মােরে, “কি ফল লভিল। কবি রণ-জাড়ম্বর ?” কেমনে বলিব আমি হারায়েছি তারে, চোখে ধূলি দিয়ে বাম হয়েছে অন্তর। হাসিবে সে দৈত্যকুল, হাসিবে মেদিনী, হাসিবে অমরগণ এ বারতা শুনি। (ইতস্তুতঃ অন্বেষণ) চণ্ড—এ কি! সহসা পুরিল দিক ভীষণ আরাবে, ভাজিতেছে বৃক্ষশাখা মড় মড় মড়ড়! সমকুল গিরি ঘাের স্ব স্ব রবে, সংসার পড়িছে ভাজি প্রলয়ের ঝড়ে। দেবগণের সহিত গৌরীর পুনঃপ্রবেশ। মুখ।-এ কি! এ কি! ! দেখ, ভাই, এ কি অসম্ভব ? দেখ এবে বামা ভীমা ঘাের তেজস্বিনী! কুটী-কুটিল মুখে ভয়ঙ্কর রব, হুহুঙ্কারে কাপাইছে দৈত্য-নীকিনী; দপ, প, দীপিতেছে ললাটিকা তলে, ধ ধক প্রকিতেছে ক্রোধাগ্নি নােচনে, পােড়াইছে বিশ্ব যেন ঘাের কালানলে, তেজস্বিনী মহামায়া প্রবেশিল রণে।
শুম্ভ-সংহার।
প্রবেশিল বাশা, ভীমা-মুরতি থৱিয়া,
পরে টলমল কৰি বিন্ধ্যাচলে,
কঁপিল-কাপিল, হায়, আমার(ও) এ হিয়া
ধরেছি ইন্দ্রের বই বাহে অবহেলে।
ও কে -সন্ধে কে ও? ইন্দ্র, বরুণ, পৰন,
যম, অগ্নি আদি যত অমর-নিকর।
বুঝিলাম মায়াবিনী-রূপেতে এখন
এসেছে পার্বতী গাজি করিতে সময়।
ধিক্ রে নির্লজ ইন্দ্র । ধিক দেবগণ!
এসেছ সময়ে ধরি রমণী-অঞ্চল ?
লজ্জা কি হল না মনে দেখাতে বদন,
সাজিতে সময়সাজে সহ দেবদল ?
এ গ্রহ কেন, হে ইন্দ্র। ভেবেছ কি চিতে
হাতে কি ও, দেখি দেখি, আছে আছে জানি,
তােমার সে জীর্ণ বস্ত্র বহু দিন হতে ;
ও কেন? উহা ও তুমি দেখিয়াছ হানি ?
দেখ, ভাই চণ্ড! রণে এসেছে বাসব,
এসেছে অরুণ, যম, বরুণ, পবন।
ভাগ্যে এসেছিল গৌরী, তাইত এ সব
লজ্জাহীন দেবে বলে দেখি এখন।
চণ্ড -দেখেছি সকলি, ভাই, কি বলিব আর ।
মায়ার মায়ায় আজি পড়িয়াছি মােরা;
কোমল-মুরতি দেশ ৰীৰ্য্যের আধার,
হায় সুখ-শােভা ভীমা ভয়ঙ্কর।
চতুর্থ অঙ্ক।
৬৭
মুণ্ডা-ভীষণ মিশিয়াছে সৌন্দর্যের সহ,
গর্জিছে সুবর্ণরূপা কাল ভুজঙ্গিনী;
যা হােক তা হােক, ভাই! অনুমতি দেহ,
ধর্কি পার্বতীর গর্ব সমরে এখনি।
চণ্ড।-চল যাই যুঝি মোরা মিলি দুই জনে,
ভাই রে । সাহস মনে হয় না আমার,
পাঠাতে তােমারে একা রুদ্রাণীর রণে,
অমর তেত্রিশ কোটি সহায় বাহার।
উভয়ে ধরিয়া ধনু বর্ষি শরজাল ;
তিটিতে নারিবে রণে কেহ ক্ষণকাল।
৫।আমার সহিত রণ হতেছে গৌরীর,
তুমি কেন কাছে হাত দিৰে, দৈত্যবর ।
দৈত্যকুল নহে কভু নিস্তেজ-শরীর,
এখন(ও) সমরে মুণ্ড হয় নি কাতর ।
তোমার সাহায্য, বল, লব কি কারণ,
কালি দিতে নিৰ্ম্মল দানবের কুলে ?
কলঙ্কিল দেবনাম শঙ্করী যেমন,
একাকী যুষিৰ বলি ডাকি দেবদলে ।
থাকুক বা যা প্রাণ, কি চিন্তা তাহার ।
দেখ আগে মাের বল, সুঝ তুমি পরে,
রণক্ষেত্রে গাড়ি ওই ত্রিশূল তােমার,
নীরব হইয়া দেখ কি হয় সমরে।
এস তবে, সতি।
শুম্ভ-সংহার।
দেখি সমরে এখন
ভীষণ মূর্তির বল কতই ভীষণ !
[যুদ্ধে পরাস্ত হইয়া দেবগণের প্রস্থান ।
পলাও, হে দেবগণ! পলাও এখন ;
তােমাদের কাজ নয় করিবারে রণ।
ক্লান্ত হইয়াছ, সতি! ছাড়িমু তােমায়,
কর গে বিশ্রাম-লাভ বাসনা যায়।
[ প্রস্থান।
গৌরী।-স্বগত)-
কি আশ্চর্য্য! হেন বীৰ্য্য দেখি নি কখন!
অদ্ভুত শকতিবা হেরি দৈত্যবরে,
উগ্রচণ্ডা শক্তি মােৰ খৰ্বিল এখন,
দেবগণ কে কোথায় পলাইল ডরে !
রজনী আগতা,-এবে অসুরের বল
শত গুণে বৃদ্ধি হবে; নিশার সমরে
মুণ্ডের নিধন আশা দুরাশা কেবল ;
জানি কি হবে ভেবে পাই না অন্তরে।
সাহসে করিয়া ভর, যদি নিশাকালে
ছাড়ি সমর-ক্ষেত, উদিলে ভাস্কর
অবশ্য পড়িবে দৈত্য দেব-শরজালে
অবিশ্রান্ত রণশ্রান্তে হইয়া কাতর।
কিন্তু যদি ছাড়ি রণ, নিশার বিরামে
নব রাগ-ভরে যথা রবি দেখা দিবে,
চতুর্থ অঙ্ক।
দেখা দিবে দৈত্য নব প্রচণ্ড বিক্রমে ;-
কি করি,-এখন তবে ডাকি সব দেবে।
!
(প্রকাশ্যে )
এস, ইন্দ্র! পলা’ও না ছাড়ি রণ-ভূমি,
অমর-ঈশ্বর তুমি অমর আবার!
রত্রহন্তা, জভেদী, বজ্রধর তুমি,
রণক্ষেত্র ছাড়া কি হে উচিত তােমার ?
এস, অগ্নি সৰ্ব্বভুক ! প্রভঞ্জন বায়ু।
এস, পাশধারী পশী ! কৃতা শমন!
ত্বরায় হইবে শেষ দানবের আযু,
পলাও না রণক্ষেত্র ত্যজিয়া এখন।
এস সবে পুনঃ মিলি এই নিশারণে,
যত্নবানু হই সবে দৈত্যের বিনাশে,
দেখ দৈত্য মরে কি না দেব-প্রহরণে,
প্লবনের মুখে শিলা ভাসে কি না ভাসে।
দেবগণের পুনঃপ্রবেশ।
দেখ শশী পাণ্ডুবর্ণ লাজে ম্রিয়মাণ,
দিও না বিশ্রাম আর লভিতে দমুজে,
এখনি হইবে এই নিশা অবসান,
পর ত্বর। ধনুর্বাণ দৃঢ় করি ভুঙ্গে।
যদি ছাড় রণক্ষেত্র, নিশার বিরামে
নব রাগ-ভরে যথা রবি দেখা দিবে,
৭০
শুম্ভ-সংহার।
দেখা দিবে দৈত্য নব প্রচণ্ড বিক্রমে;
আঁটিতে নারিবে দৈত্যে দিবার আহবে।
( সকলের মুশুকে আক্রমণ
৩।-আবার আবার এলে জালাতে এখন,
এস তবে, পুরাইব সমরের আশ;
রণঙ্গে বিবত কি দানব কখন,
নিদ্রায় অসির সহ করে যারা বাস ?
(দেবগণের এককালীন যুদ্ধ ; মুণ্ডের পতন
১৬ -গৌরীর প্রতি)
হানিলে ভীষণ শেল হৃদয়ে আমার,
'ভাঙ্গিলে হৃদয়, দেবি! বিষম প্রহরে,
সংসারে অতুল কীৰ্ত্তি রহিল তােমার,
বিনাশ করিয়া শৈৰে অধ্যায় সমরে।
ইও :- পড়িলে—পড়িলে, ভাই, অন্যায় সমরে !
অমর তেত্রিশ কোটি মিলি এককালে,
দ্রাণীসহায়ে আজি বধিল তোমারে,
নিল বীরত্ব-দীপ, হায় রে, অকালে।
উঠ, ভাই! উঠে কথা কও একবার,
ভরসা আমার তুমি সংসার-সাগরে,
উঠ, ভাই! উঠে এ হৃদয়ে আমার,
ভাসিছে ও বীরভঙ্গ রুধিরের ধারে !
মাতৃগর্ভে, মুণ্ড! তােরে দিয়াছিনু স্থান,
শুয়েছিনু দুই জনে এক মাতৃকোলে,
চতুর্থ অঙ্ক।
দুই জনে করেছিনু এক স্থান পান,
এখন ত্যজিয়া মােরে কোথা পলাইলে ।
উঠ, ভাই! কাজ নাই আর এ সমরে,
ধরাসনে পড়ে কেন মুদিয়া নয়ন!
অভিমান করেছ কি আমার উপরে,
হেরিবে না মুখ মাের করেছ কি পণ !
কোথা সে মধুর হাসি ও দ-বদনে,
কেন আজি হেৰি তব বদন বিরল,
কার কি হইয়াছি চণ্ডিকাৰ নে?
উঠ, ভাই! জানি তব অটুট সাহস।
হে চণ্ডিকে ! আদ্যাশক্তি তুমি, গাে জননি ।
এই কি শক্তির কাজ করিলে এখন ?
বলেছিলে যুঝিবে যে তুমি একাকিনী,
কেমনে ভুলিলে তুমি আপনার পণ ?
এই কি শক্তির কাজ করিলে প্রকাশ ।
অমর তেত্রিশ কোটি যুটি এককালে,
সোদরে অন্যায় রণে করিলে বিনাশ !
এই যশঃ রাখিলে গাে অবনীমণ্ডলে !
কি আর বলি আমি, শরি! তােমারে,
বুঝিলাম অতি নীচ যত দেবগণ,
নাশিলে ভ্রায় মাের অন্যায় সমরে,
নীচের সহিত আর করিব না রণ।
নির্ভয়ে বিদৰ হিয়া তীক্ষ্ণ শরজালে,
পাতিয়া দিলাম বুক-বিরিত প্রায়
१२
শু-সংহার।
করিয়াছ ঘাহ তুমি ভ্রাতৃ-শােক-শেলে ;
না চেষ্টিব রক্ষিবারে আর আপনায়।
হান বক্ষে শেল, দেবি! বিলম্বে কি ফল ?
ডুবাও আমারে ত্বরা শােণিত-সাগরে,
নিৰ্বাপিত হােক মোর শােকের অনল,
আর মুখ দেখাব না সংসারে কাহারে!
গৌরী (স্বত)-
কি কুকৰ্ম্ম করিলাম ! কেন অকারণে
ধরিলাম অস্ত্র আজি দৈত্যের সংহারে ।
ফেলিলাম অন্ধকূপে বীরত্বরতনে !
বধিলাম দৈত্যবরে অন্যায় সমরে!
ভাঙ্গিনু সাহস-জ। ঘাের যুদ্ধ-ঝড়ে,
বিমল বীরত্বালােক নিবানু এখন!
হায়, এই ভয়ঙ্কর গণ-আড়ম্বরে
করিনু আপন নামে কলঙ্ক অর্পণ।
কাজ নাই রণে, যাই কৈলাসেতে ফিরি,
যা হয় দেবের ভাগ্যে হউক এখন,
চণ্ডের এ ভাব আর দেখিতে না পারি,
উদাস-মূরতি ঘোর নৈরাতে মগন !
ইন্দ্র।—(স্বগত)
সৰ্ব্বনাশ হল! বুঝি চণ্ডের কথায়
করুণা উদিল মনে করুণাময়ীর ।
দৈত্য-বিনাশের তবে কি হবে উপায়,
আমাদের অবধ্য যে যত দৈত্যবী।
চতুর্থ অঙ্ক।
৭৩
চণ্ড – সক্রোধে )
কি ভাবি, ভগবতি। বিনত বদনে।
শ্রান্তি নিবারিছ কি গাে দাঁড়ায়ে নীরবে ?
ধর অসি শীঘ্রগতি,-ভেবাে না ক মনে
সহজে ছাড়িব আমি তােমারে আহবে।
ভাতৃ-শোকালে দগ্ধ করিলে আমায়,
নিবারি মনের ক্ষোভ শাস্তিয় তােমায়।
(চণ্ডের গদাঘাতে গৌরীর মৃচ্ছ
(গৌরী-দেহ রক্ষার্থে ইন্দ্রের বাত্যাগ)
চণ্ড।-(বাম হন্তে বজ ধরিয়া ভূমে নিক্ষেপ করিয়া)
ক্ষান্ত হও, ইজ! তুমি জালায়ো না আর,
তােমা সহ আমি নাহি চাহি যুঝিবারে;
ভেবাে না ক-কোন ভয় নাহি চণ্ডিকার,
মুচ্ছিতাবস্থায় আমি স্পর্শি না ওরে।
দানবের রণধৰ্ম্ম প্রাণাপেক্ষা প্রিয়,
হারি অস্ত্র মােরা অচেতন জনে,
অমরের মত মােরা নহি কভু হেয়,
বলি যাহা, করি তাহা মােরা প্রাণপণে।
গৌরী।—(মৃচ্ছভিজে সবেগে উঠিয়া)
আর করিব না ঘয়া, নারকী! তােমারে,
যাও রে ত্বরায় এবে শমন-অাগারে।
(অসি উত্তোলন)
চণ্ড |-গৌরীর হস্ত ধরিয়া-
মরিতে সত্যই আমি করিয়াছি স্থির,
it
শুম্ভ-সংহার।
কিন্তু, দেবি! তা বলে কি দিব গো তােমারে
লইতে আমার প্রাণ ছিন্ন করি শির ?
অপমান করিবে গো এ বীর-শরীরে ?
বিদর এ বক্ষ, দেবি ! ভীক্ষু শেল হানি,
কিম্বা এড় অন্য অস্ত্র-অভিরুচি যাহে;-
ছাড়িলাম হাত, শেল হান, গো টু দ্রাণি !
ঐভ্রষ্ট করিতে কভু দিব না এ দেহে।
গৌরী।-বধিব তােমারে আমি করিয়াছি পণ,
যাহে অভিরুচি, তুমি মর তবে তাহে,
আসন্ন-কালের বাঞ্ছা পূরাও এখন,
যাও তবে, বীরবর! চিরশান্তি-গৃহে।
(ভগবতীর শেল প্রহার ; চণ্ডের পতন )
পঞ্চম অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য।
দৈত্য-সভা।
(শুম্ভ, নিশুম্ভ, রক্তবীজ ও এক পার্শ্বে সুগ্রীব আসীন)
ক
শুই।--শরীর এত ছল! ক্রোধে পুড়ে দেহ!
বীরপৰ্ম্মে কালি তিনি ছিলেন কেমনে?
দুচিল এখন মাের সকল সন্দেহ,
হলে কি পড়ে ধূম্র, চণ্ড, মুণ্ড রণে!
শরীর এত ছল! ধিক্ শরীরে।
চাহি না শুনিতে আর ও রণ-বারতা,
এখনি চণ্ডীর দন্ত খণ্ডিব সমরে,
রোষেন রুমুন হর দৈত্যকুল-ভাতা।
শঙ্করীর এত ছল ! এত কুটিলতা!
শৈবদলে বিনাশিতে এত সাধ র্তার!
ছিড়িলেন নিজে তিনি তাঁর মেহল,
ইষ্টদেব-পত্নী বলে ক্ষমিব না আর।
শরীর এত হল! লয়ে দেবগণে
এসেছেন দেখাইতে দানবনিকরে
দানব-দলনশক্তি ? চল যাই রণে,
ভাসাই গে রক্তস্রোতে দেবী চণ্ডিকারে।
শুম্ভ-সংহার।
শরীর এত ছল! অন্যায় সমরে
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দৈত্যগণে করিয়া বিনাশ,
বেড়েছে এতই তাঁর সাহস অন্তরে।
নাহি কি অমর-প্রাণে আর সেই বাস।
শরীর এত ছল! সহে না ক আর!
সাজা রে বিমান ত্বরা,-যাইব সমরে,
বিচ্ছিন্নব রণ-বড়ে বীরত্ব উমার,
ডুবাব অমরে পূনঃ ত্রাসের সাগরে।
শঙ্করীর এত ছল! যাইব আপনি,
আপনি যাইব রণে দণ্ডিতে গৌরীরে,
দেখিব কতই বল ধরেন রুদ্রাণী,
সাজ, হে বীরেন্দ্রবন্দ, পশিতে সমরে।
নিশুম্ভ-শৃশে! অগ্রজ ভূমি, বসি সিংহাসনে
আজ্ঞা দিৰে প্ৰিয়ানুকে সাধ সাধিবারে,
বিরাম লভিবে সদা জামা বিদ্যমানে;
আমরা থাকিতে তুমি যাইবে সমরে ?
আজ্ঞা দেহ, দৈত্যনাথ! ধরি করবার
দেবগন্ধধৰ্ব্বকারী, তীক্ষ্ণতর শরে
কাটি বিন্ধ্যাচলে, মায়া ঘুচাই মায়ার,
ডুবাই অমর-আশা ত্রাসের সাগরে।
এখনও নিশুম্ভ-দেহে রয়েছে জীবন,
এখন(ও) নিশুম্ভ-বীৰ্য আছে সমতেজে,
এখন(ও) নিস্তবাহু হয় নি ছেদন,
এখনও ধরিতে পারি প্রহরণ ভুলে।
-
পঞ্চম অঙ্ক।
৭৭
তােমাৰ দক্ষিণ বাহু-আমি বিদ্যমান,
বিপদ-সাগরে তব সায় ভবসা,
কে আছে জগতে, ভাই। সােহব সমান
মুখে সুখ, দুঃখে দুঃখী নিবাশায় আশা।
শুন্ত-সুধাধার বষিলে শ্রবণযুগলে,
জানি, বে নিশুম্ভ! তুই আমাৰ ভরসা,
সােদর সমান কেবা আছে ভূমণ্ডলে,
সুখে সুখ, দুঃখে দুঃখী নিরাশায় আশা।
কিন্তু, ভাই । মন বাঁধা স্নেহেব নিগডে,
চাহে না অবােধ মন পাঠাতে তােমারে
ভয়ঙ্কর সেই কাল-প্রলয়েব ঝড়ে-
বিশ্বমাতা চণ্ডী যথা নাযিকা সমবে।
নিশুম্ভ চণ্ডিকা সমরে, তাহে দৈত্যের কি ডর ?
শত চণ্ডী সমবেত হাে ৰণস্থলে,
সহস্র তেত্রিশ কোট অমুক অমৰ,
তথাপি কবিব জয় বণ অবহেলে।
বণচণ্ডী চণ্ডমুণ্ডে অন্যায় সমবে
করেছে বিনাশ লয়ে অগণিত দেবে,
শাবি এখনি পাপ অমবনিকবে,
খণ্ডিব চণ্ডীর দত্ত প্রচও অহবে।
বক্ত।-বীজ উপস্থিত, আজ্ঞা দেহ তারে
রক্তবীজ বপিবারে সেই বণভূমে,
মাথায় আঘাত সদা হস্ত রক্ষা করে,
আমরা থাকি,দেব। আপনি সংগ্রামে-
।
৭৮
শুম্ভ-সংহার।
দানবকুলের শিরঃ! হবে কি ভাঙ্গিতে,
চণ্ডিকার বর্ণতৃষ্ণা স্বেদে আপনার ?
ত্রিলােক-বিজেতা তুমি রমণী-বঙ্গেতে ?
হাসিবে যে স্বর্গ মর্ত্ত, হাসিবে সংসার !
নিশুম্ভ।—আজ্ঞ দেহ, দৈত্যনাথ ! লয়ে রক্তবীজে,
ভাসাই গে রক্তস্রোতে অমর-নিকরে ;
আজ্ঞা দেহ সাজি দেহে সমরের সাজে,
যাই পাৰ্ব্বতীর গর্ব খৰ্বিতে সমরে।
৩।-দেখ, ভাই! মায়াজাল পাতি মহামায়া
নাশিতে উদ্যত আজি দানবনিকরে,
শৈবকুল-বিনাশিনী হল শিবজায়া।
ক্ষোভ, রােষ, অভিমান ধরে না অন্তরে।
দেখিব চরম তবু, কিসে কিবা হয়,
দেখিব অমরগণে, দেখিব গৌরীরে,
সাহস-পতাকা দৈত্য ভীরু কভু নয়,
আনন্দে সমরে প্রাণ বিসর্জিতে পারে।
তোমাদের কথামতে মিনু এখন
দুর্দম সমলিঙ্গ,-ক্রোধের উচ্ছাস ;
কর, রক্তবীজ! তবে সমরে গমন,
নিন্তের সহ কর গৌরী-গৰ্ব্ব নাশ।
রাখ দৈত্যকুলমান এ ঘাের বিপদে,
তােমা দোহে বরিলাম সেনাপতিপদে।
বক্তা-বৃথা গর্ব করি রণে খাব না, রাজন!
কাৰ্যেতে প্রকাশ হবে বীরত্ব যেমন।
শু।—যাও তবে, বিলম্বেতে নাহি প্রয়ােজন।
(সকলের প্রস্থান।
দ্বিতীয় দৃশ্য।
বিন্ধ্যাচল-রণক্ষেত্র।
(গৌরী ও দেবগণ)
গৌরী।--দেখ, ইন্দ্র! দেখ দেখ আসিছে সময়ে
পুনঃ দুই মহাদৈত্য বীরত্ব-জাধায় ;
আসিছে সৈনিকফুল কাভারে কাতারে,
চলিয়া আসিছে যেন বিপূল সংসার।
অগ্রভাগে রক্তবীজ রক্তিম-বরণ,
ভীম করবার ভুলে, ভয়ঙ্কর-বেশ,
বীরত্বৰিীত বক্ষ, গর্বিক্ত-লােচন,
ব্যহমথ্যে শুভানু নিগুত শৃশে।
ভয়ঙ্কর ভাবে দৈত্য পশিখেছে পে;
বক্তযুক্তি বক্তবীজ, বীরেন নি,.
বিপূল ব্যুহের মাঝে কত দুজনে--
সাগরের মাঝে যেন যুগ্ম লঞ্চ!
সাবধানে এ , ওহে বধ !
সাবধানে র , হাথ!
শুভূ-পহার। করিবে বিষম দৈত্য ভীষণ সমর, দৃঢ় কৰি থর নিজ নিজ প্রহরণ। ইচ্ছ।--বাপের প্রভাবে যথা উঠে ব্যোমন উন্নত আকাশে ; মাতঃ ! তােমার প্রভাবে পাইব আমরা পূনঃ সে সুখের স্থান- অমর-নিবাস, মাশি দুয়ত বুনবে। অটল হইয়া আজি যুঝিব, জননি! আর কি হারাই কি এ রণসাগরে ? কারী যখন ভূমি, শঙ্করি! আপনি, কেন না করিব বঙ্গ আজি এ সমরে ? গৌরী।-ই! দেবরাজমত এই কথা বটে! অমর যেমন মােরা, যদ্যপি অটল হইরণে, তবে বল, মােদের কে আঁটে। ধৰ তৰে অস্ত্র, আর বিলম্বে কি ফল? রবীজের প্রবেশ। রক্ত-আক্রম, যে সৈন্যগণ। কেবসৈন্যগণে, সৈন্যে সৈনে য়াের রণ বাজুক এখন, সদেবে বামারে আমি আমি এখানে, অমরের আশা আদি কৰি উৎপাটন। এস, দুর্গে! বিলবেতে নাহি প্রয়ােজন, শিৰানি। যুঝহ এৰে সহ শৈবাল, আদ্যাশক্তি! শক্তি ভৰ দেখাও এখন, মঙ্গলে! চিহ এবে আপন ময়ল।
- ৮১
জানুজ সহ ইহ গন সমরে,
একা একা ঘূৰি এস তােমায় আমায়,
হ-যুদ্ধে, জগদখে! আনি তোমারে ;
রণধৰ্ম্ম রেখো, আর কি কর তােমায়।
গৌরী-মৃত্যু ডাকিতেছে তোম। শমনের পাশে,
যাও করা কথা হবে চিরশান্তি-আশে।
( উভয়ের যুদ্ধ ; গৌরীর পুনঃ পুনঃ অাঘাতে রক্তবীজের
শত শত রক্তবীজের বল ধাৰণ
(গৌৰী পৰান্ত)
রক্ত-আদ্যাশক্তি। কঁপিতেছ কেন খরখরে
এই কি শক্তি কাজ রাখিলে সংসারে।
নিবার সমাপ্তি ক্ষণকাল-তরে,
প্রহরি অস্ত্র মােঝ নিরন্তু শরীরে।
প্রস্থান।
গৌরী।—এ কিসব আজ *রি দরশন।
বিন্দুমাত্ৰ ৰক্তপাত হইতে বীরের,
শত-বীজৰ কৰিব ধারণ,
আশ্চৰ্য্য বিক্রম হেরি এই অনুরের।
উগ্রচণ্ডা শক্তি মাের ব্যর্থ হল আজ,
হায়, পড়িলাম এবে বিষম সঙ্কটে।
কোথা গেল গেল সং দেবরাজ
সুমণা লই এবে কার নিকটে ?
४२
শু-সংহার।
কোথা, পয়ে! প্রিয়সখি ! এস একবার,
সুমন্ত্রণা উপশ দেখ আসি এবে,
কেমনে দুর্দম দৈত্যে করিব সংহার,
অস্থির হয়েছি, সবি! দৈত্যের প্রভাবে।
দেবগণের প্রবেশ।
বল, ওহে সমবেত অমর সকল!
কেমনে অনুকুল হইবে বিনাশ?
কেমনে নিবিবে ঘাের রৌরব অনল?
হায়, বুঝি না পারি পুরাইতে অাশ!
শােণিতা দেহ মাের দেখ, দেবরাজ!
পরাস্ত হয়েছি, হায়! অনুর-প্রভাবে,
প্রখরা শকতি মাের ব্যর্থ হলাে আজ,
কি আর বলিব আমি, দেখেই ত সবে!
ই -অদ্ভুত-বিক্রম দৈত্য, অজেয় সমরে,
দেখেছি সকলি, মাতঃ, কি বলিব আয় ।
কেমন তেজষিক্ত বহে তার শিরে,,
বলিতে না পারি ;-বিন্দুমাত্র পাতে তার
শতক্তবীজ-বল ধরে বার বার।
না জানি সমরে, মাতঃ, কি হয় এ বার !
পদ্মার প্রবেশ।
পদ্মা।–কেন এ দুর্গতি, দুর্গে ? আহা মরি মরি,
জরজর কোমলা তীক্ত অত্যাখাতে
এ মন্ত্রণা কে তােমারে দিল, গে শ}ি?
এসেছ মৃণালগঞ্জে পাষাণ দিতে?
পরিহর কমলায় মােহিনী মুভি,
প্রলয়-সংহা-মূৰি কৰং ধারণ,
লৌহ-ধায়ে লৌহ এবে কাট, ভগবতি।
চীবেধে যায় কি গাে প্রমত্ত বারণ?
ভূমে ঘাহে রক্তবিন্দু পড়ে উহার,
এ হেন উপায় কোন কর, হৈমবতি।
রক্তবীজ-র-লহ এই অনুধায়
বিশেষ সম্বন্ধ গাছে, জান লাকি, সতি।
সৰ্ব্বভূকে বদনাগ্রে রাখ, গাে ত্রাণি।
. বিন্দুমাত্র দৈত্যক্ত না পড়িতে ভূমে
নিজগুণে অগিদ্যে ভক্ষুণ অমনি
এই মাত্র সদুপায় এ সমরে, উমে।
খ, দেবি! কালীমূৰ্ত্তি খােরা ভয়ঙ্করা,
কালিমায় .ক ওই সুচারু বরণ,
এত গুণে এ মুরতি কর গো এরা,
ভুল-রে কর, সাধ্বি! পাষাণ হোন।
ডাক ধ, রক্ষ, মাতৃ, পিশালে,
ধরায় দানবরক্ত না হতে পতিত,
শূন্যে শূন্যে থাকি পাস কৰু সকলে
রক্তবীজ ধানবের প্রত গেণিত।
ইহা ভিন্ন রক্তবীজ হবে না বিনাশ,
অন্যখা-ছাড়হ এই সময়ের লাশ।
৮৪
শুম্ভ-সংহার।
গৌরী—ডাক তবে য, র, পিশাচে দলে,
সংহার-মূরতি আমিরি গলে।
[দেবগণ ও গৌরীর প্রস্থান।
(অন্ধকার-মেঘগর্জন ও বজাত)
রক্তবীজের প্রবেশ
রক্ত-ঘােতর ধনখটা গনমণ্ডলে
উন্ম-দামিনী-নৃত্য ঘরাশি-কোলে।
ভীষণ প্রলয় ঝড়ে, বিশ্ব বুঝি যায় উড়ে,
বড় বড় ঘাের নাচে, ঘের নিশাকালে
গর্জিতেছে অষ্ট বস্ত্র মিলি এককালে!
গর্জিতেছে এভঞ্জন ভীম বেগে কৰি
উড়াইছে বলে রণরশি;
রক্তে ডুবাইতে সৃষ্টি কৰিছেন বক্তবৃষ্টি,
ত্রিলোক-সংহারকর্তা কৈলাসেতে বসি;-
ভয়ঙ্কৰবেশে দেখা দিল এ তামসী।
(নেপথ্যাভিমু-ে
এ কি, এ কি!
ভয়ঙ্কর কালী এ যে রণে দিল হানা,
লট পট কেশাল করালবদনা,
ভয়ঙ্কর হস্কারে, কঁপাইছে চরাচরে,
ভীম-দুখে জীম-অন্ত্রে বাজিছে না,
প্রলয়-সংঘাত-মুর্ভি বিরেখ।
কুটি-বিত মুখে অট্ট এই হাস,
বিনাশী কালাগল লােচনে প্রকাশ
লােল-লি ল ল জালে জগি খ কি,
কড়মড় ভয়ঙ্কর বিকট শন,
দৈত্য-নাড়ী-গাথা-অস্থি ভীষণ ভূষণ;
ধ-মুণ্ডমাল্লা গলে, বি-বিনাশিনী,
ভীমা ভীম-প্রিয়া ভীম ভীষণ-ভাষিণী।
ভৈরুব পিশাচলে, বুটিতেছে পালে পালে,
সঙ্গিনী-যোগিনী মাতৃ বিকট:হাসিনা,
ছিন্ন ভিন্ন দৈত্য-ল-মুণ্ড-বিলাসিনী।
ঝর ঝর মুণ্ডমাসে শাের্ণিত,
পুলকে করিছে পান প্রেত অগণিত,
পদভরে টলমল, স্বর্গ মর্ত্য রসাতল,
দয়ে রক্ত-শ্রোত বেগে প্রবাহিত,
অকাল-প্রলয়-মুর্তি আজি উপনীত।
রেণ-ৰা ৰাৰে তাক রবে,
ভয়ঙ্কর মহাকালী পশিলা আহবে,
নির্ভয়ে দিব এ প্রাণ, কালীপ বলিদান,
পলায়ে কলঙ্ক কভু ঝাখিব না তবে,
পলাইলে দৈত্যনাথ ফুশে বিৰে।
সঙ্গিনীদল সহ কালিকার প্রবেশ।
এস, গাে ভ্রাণি। শির! এৰেশ সময়ে,
অ্যাশক্তি। শক্তি এনে দেয়া আমারে,
শুভ-সংহার।
নিখিল-প্রলয়ঙ্করী, সংহমূঙ্গি ধরি,
এসেছ, শিনি! আজি বধিতে শৈববরে,
দেখি, দুর্গে। ব্যক্তি কিন্তু মরি ব করে।
গৌরী-কালপূর্ণ দৈত্য। তোর বিয়ে কি কাজ?
শেষ অসি ধরেছিস্ করে তুই আজ।
(যুদ্ধ ; রক্তবীজের পতন; রক্তবীজের ছিন্নমুণ্ড লইয়া
কালিকার রক্তপান; পিশাচলের রক্তবীজের
দেহ রক্ত সমুদায় পান)
নিশুন্তের প্রবেশ।
নিশু।-এ কি, দুর্গে ! একি বেশ! চিনিতে না পারি,
প্রলয়-সংহার মূৰ্ত্তি ধরেছ, শঙ্কার।
বরণ কালিয়ামস, লােহিত লােচনত্রয়,
দৈত্য-মুণ্ডমালা গলে, দৈত্য চৰ্ম্মারি,
নশিয়াহ রজবীতে তুমি, খেৰি।
ধানবকুলের আগা মাহি বি আর,
দুর্গাকরে দৈত্যকুল হল ছারখার,
বিনাশিতে শৈবদে, শিবানী সমস্থলে।
ভীম তুঙ্গে থল, দৈত্যে করিতে সংহার,
বুঝিলাম দৈত্য-শূন্য হবে এ সংসার।
গৌরী।-দৈত্যকুল নিলিতে গরু খামার,
অচিরেই দৈত্যকুল কবির।
পঞ্চম অঙ্ক।
৮৭
নি।-তথাপি গাে প্রাণপণে, যুঝিব তােমার সনে,
দেখি উগ্রচণ্ড শক্তি কালিকা তোমার।
এস, দুর্গে। বিলম্বেতে কিবা ফল অর?
(যুদ্ধ ; দেবগণের প্রবেশ; সকলের এককাব্দীন
অস্ত্রাঘাতে নিশুম্ভর পতন ও মৃত্যু)
বণ্ঠ অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য।
গুদ্ধের অন্তঃপুর দেবালয়।
(মহাদেবের মন্দিরের সম্মুখ)
শান্তা ও শুভ্রার প্রবেশ।
পাস্তা অকস্মাৎ কেন মনে জ্বলিল আগুন ?
দেখিতে দেখিতে, হায়, হইছে দ্বিগুণ।
অকস্মাৎ কেন, দিদি ! পরাণ উঠিল কাদি।
না জানি কি সর্বনাশ ঘটিল এখন ?
আপনি হতেছে মন দুঃখেতে মগন !
বলিয়া হয়ে গেলেন সময়ে,
অকূল পাথারে, হয়; ফেলি মাগীরে,
প্রেমচিহ্ন স্থলে রাখি, হদ-পিঞ্জরের পাখী
উড়িয়া গিয়াছে, হায়, হতে শেল হানি।
আর কি পাই, আমি সুখের খামিনী?
ওভা=শান্ত হও, শা! তুমি হয়ে না বাবুল,
হেস হীনভাগ্য কন্টু নহে দৈত্যকুল।
বল তুমি মাের পাশে, পুজি আমি ব্যোমকেশে,
এ দুর্গমে দুর্গাপতি করিবেন ,
নাহি আনি কেন এত বা মহামায়া।
৮৯
লা--সারা নিশি নিৱা নাই নয়নে আমায়,
দেখেছি স্বপ্ন কত কি কহিব খান !
দেখিয়াছি রঙ্গে, চৌষটি যােগিনী-সঙ্গে
কাল-এলায়ে বেশ শিবানী উমার,
নাশিছেন দৈত্যদলে করি মহামার!
কালানলৰী ঘাের ঘূর্ণিত-লােচল,
হানিছেন তী ৰাণ ধৰি শাসন,
থােৰ ভয়ঙ্কর দৃশ্য, শােণিত-সাগরে বিধ
ডুবাইতেছেন ভীমা ক্রোধের উত্তেজে ;
অসি’তে নাশিলেন দেবী রক্তবীজে।
ঘাের-ঘূৰ্ণ-বায়ু-সৰ ঘূৰি ৰণৰূলে,
মহামার লাশিছেন দৈত্যদল বলে,
করে দৈত্যমুখ খােলে, দৈত্যমালা গলে,
বিকীর্ণ মুগ্ধজাল, চরণ চঞ্চল;-
জানি নাথের কি হল মণ!
শুভ্রা।ব্যাকুল হয়ো না, পাঞ্জা! শান্ত কর মন,
কপালে যা আছে, তাহা কে করে গুন!
বিধিৰ নিৰ্ব ৰাহ, অবশ্য ঘটিবে তাহ,
দৃঢ় হও, হয়ে না ক বিাদে মগন,
যা আছে দুর্গার মনে অটিবে এখন!
(নেপথ্যে দুভিধ্বনি)
শান্তা।-অকস্মাৎ কেন এই দুন্দুভি বাজিল।
আবার কে বল, মিষ্টি, সরে সাজি ?
শুভূ-সংহার।
দূরে কোলাহল খোরভেঙ্গেছে রুপাল মাের!
হায়, দিদি, সর্বনাশ হয়েছে আমার।
শুভ্রা-কাল-রণে বুঝি সব হলে ছারখার।
ব্যস্তভাবে শুভের প্রবেশ।
শু-(মন্দির শিবমূর্তির প্রতি করঘােড়ে-
দৈত্যনাথ! বিশ্ব! পিনাকী! ত্রিশূলী !
ভােলানাথ! থেক না ক এ কিঙ্কৰে ভুলি।
( শুভ্রার প্রতি)
চলিষ্ণু দেখিতে ব্লগে দুর্গার শােণিত,
এই বুঝি শেষ দেখা তােমার সহিত।
শুভ।--কেন, নাখ। তুমি কেন খাই খাবার,
সমরে ত গিয়াছেন দেব আমার?
গুপ্ত।-দেবৰ তােমার আর নাহি ভূমণ্ডলে,
প্রাণ ত্যজিয়াছে বীয় কালিকার শেলে!
শান্তা।-ওগাে মা!-কি হল। এই ছিল কি কপালে।
(পত্তন ও মৃত্যু)
৩। সাধ্বি। ভাগ্যবতী তুমি এ সংসারে
যদি প্ৰণ সঁপে থাক মনে করে।
শুভ্রা।-(শান্তার নিকটস্থ হইয়া)
তাহাই হয়েছে, দেৰ নিস্পন্দ শরীর,
চঞ্চল নয়ন দুটি মিমীলিঙ্গ-স্থির
পতি, বিয়ােগ-শােকে, খাত কোমল বুকে
ঘষ্ঠ অঙ্ক।
৯১
লাগিল বিষম, প্রাণ ত্যজিল ভগিনী
এড়াইল সব জালা পতি-সােহাগিনী।
শু-বুঝিলাম ভ্রাতৃজায়া বড় ভাগ্যবতী,
বড় দয়া ধূর্জটীর শঙ্কা সতীপ্রতি।
যা হােক, আদেশ এবে কর প্রহরীরে,
রাখিতে তার দেহ ক্ষণকাল ভরে ;-
ৰয়েই ভ্রাতার দেহ সমর-প্রাঙ্গনে,
ভ্রাতৃত্বায়া-দেহ এবে থাকুক এখানে;
বলি দিব প্রাণ আমি কালিকার শূলে,
শান্তার, তোমার দেহ যাবে রণহুলে
চারি দেহ দগ্ধ হবে এক চিতানলে !
পরিচারিকাদ্বয়ের প্রবেশ।
লয়ে যাও শান্তা-দেহ শাঝার মন্দিরে,
যাও, রাখ গিয়ে ইহা ক্ষণেকের তরে।
[শান্তার দেহ লইয়া পরিচারিকাদ্বয়ের প্রস্থান।
শুভ্রাকি করিলে, কি করিলে, হৃদয়-ঈশ্বর।
সর্বনাশ হল-ছাড় ছাড় ও সমর!
দৈত্যকুল হল ধবংশ, ছারখার দৈত্যবংশ,
ছাড় এ সমলিপাকা নাই ,
কুদ্ৰাণী উতা আজি নিধনে তােমার!
চল যাই ধরি গিয়ে মায়ের চরণ,
অভয়-চরণে চললই গে শরণ,
গুরুপত্নী গৌরীসনে, যেও না-যেও না রণে,
শুভ-সংহার। কুষিবেন ত্রিপুরারি দেব ত্রিলােচন ;- চল দুই জনে যাই কালিকা-সন। ৩।-হায়, দৈত্যকুলেস্রাণি! এই কি উচিত বাণী তােমার এখন? হায়, গিয়াছে সকলি, হারায়েছি ভ্রাতা, আতি, বান্ধব-মণ্ডলী। জীয়ে বব হতে, চিশােকজনলৈতে। শুদ্ধ-বৃক্ষপ-সম থাকিব কি পড়ি, সংসার-বৃক্ষের তলে যাব গড়াগড়ি। হাসিবে যে দেবরাজ, ত্রিসংসার দিবে লাল- কখন না, কখন না-কখন না হবে, দেখি, দেখিব আজি কি হয় আহবে। শিবানীর রণে প্রাণ যাইহে আমার, ঘুষিৰে আমাৰ যশঃ এই ত্রিসংসার। দয়াময়। দৈত্যনাথ! স্মরিয়া তােমার চলিলাম চামুঙাৰে ভেটিতে সমরে। (প্রস্থান। (বারিপূর্ণ ঘট লইয়া শুভ্রার শিব-সন্নিধানে স্থাপন; শুভ্রার হস্তচ্যুত হইয়া ঘট পতিত ও ভঙ্গ হওন) শুভ্রা।-(কাত হইয়া)- কেন না নিলেন পূজা আজি ত্রিলােচন? ঘাের অমঙ্গল আজি করি নি। ভাঙ্গিল মঙ্গলঘট, ভাঙ্গিল হৃদয়, নবকুলের ভাল না দেখি এখন, পুনঃ পুনঃ দুটিতেছে নানা জলক্ষণ। !
ষষ্ঠ অঙ্ক।
হে দেব ত্ৰিপুৰু-গরি! শিব! সতী-পতি।
কেন এত অবহেলা দৈত্যকুল-প্রতি।
কৃপাময় কপাথার। কেন কৈলে ছারখার
তােমার রক্ষিত যত দিতি সতি?
তােমা বিন নাহি যে গাে দৈত্যদের গতি।
উঠেছিল,মহেন্নতি-মার্গে দৈত্যকুল,
দিয়াছিলে দৈত্যকুলে ঐশ্ব অতুল,
এবে তব কৃপা-সরঃ, শুকায়েছে, বিশ্বস্তৃর!
মীনসম দুঃখ-পঙ্কে পেতেছি যাতনা,
ফলিছেন পদতলে দেবী ত্রিনয়না ।
আশার অর্ণবযান, ভেঙ্গে হলাে খান খান,
প্রলয়-সমর-ঝড়ে হেলায় তােমার,
ডুবি অতল জলে সকলে এ বার !
দানবনিকরে রক্ষ, দানব-রক্ষণ!
ডুবাও না, দয়াময়! এই নিবেদন।
(নয়ন মুদিত করিয়া খান)
(সচকিতে)
এ কি! এ কি !
এ কি ভয়ঙ্কর অজ করি দরশন,
নাহি আশুতােষ-মুৰ্ত্তি হরের এখন!
লটু পটু জটাজাল, গরকে কদিনী কাল,
ত্রিফল ত্রিশূল করে আকার ভীষণ,
ক্রোধাগ্নি জলি ভালে বিশ্ববিনাশন !
অন্তু-সংহার। প্রভাতের চত্র যা বিৰণ বরণ- তারাল-হারা;-বিহিত সজিন, জীবিত-ঈশ্বর মােয়, মৰি সমরেতে থােক, ভগ্নচি, হায়, এবে হতাশ-নয়ন। কি কৰিলে, কি করিলে, যে ত্রিলােচন। এতই তােমার ছল? এই কি ভুক্তির ফল ঋলিল এখন? আর সহে না অন্তরে, বাই বলে, দেখি গিয়ে হৃদয়-ঈশ্বৰে। [প্রস্থান। দ্বিতীয় দৃশ্য। যুদ্ধ হল। শুম্ভের প্রবেশ। শু।-ভগ্ন স্বধা তুঙ্গ শৃঙ্গ প্রলষের ঝড়ে, পতিত ধূম্রলোচন মুহিত লােচনে ; চণ্ড মু দুই ভাই পড়ি। সাড়ে, বিদূরিছে রূপশ্রান্তি যেন ধরাসনে ; নিপতিত যুক্তবীজ রক্ত-শুন্য কায়, ধরণ ঝাপিত সদা ব্যর পরে, বাহ বিশ্বরিয়া এবে সেই বীর, হায়, আশ্র ধরার কাছে মাখিছে কাতরে।
যষ্ঠ অঙ্ক।
৯
নিপতিত ধরাপৃষ্ঠে প্রাণের সােদর,
শতধা বিক্ষত বক্ষ ভাসিছে শােণিতে,
(হিমাচল-অঙ্গে যেন শোণিত-নিঝ)
দেখিছে আষারে যেন স্থির-নয়নেতে ।
কি কাজ সংসারে আর কি কাজ জীবনে ?
ত্রিলোকের আধিপত্যে কি সুখ(ই) বা আর!
হারাইয়া ভাতা, জ্ঞাতি, আত্মীয় স্বজনে,
একাকী কি মরিব শােক পরাবার !
সুখের সাগর মাের শুকায়েছে, মরি!
প্রমোদ-উদ্যান ত্যজি’ কে করিতে চাহে
মরুভূমে বাস ? আর সহিতে না পারি
বিষম যন্ত্রণা বন্ধু-বান্ধব-বিরহে !
লই আগে প্রতিশোধ শান্তিয়াগৌরীরে,
মিই আগে রসাতল ত্রিদিব প্রদেশ,
ছিটাই কালীর কালি আগে এ সংসারে,
অবশেষে কৰিব এ যন্ত্রণার শেষ ;-
ওই আসিতেছে কালী ভয়ঙ্কর বেশে,
দেখি আজ এ সমরে কে কারে বিনাশে ।
শুন্তের প্রস্থান ; নেপথ্যে যুদ্ধ ; গৌরীর
কেশ ধারণ করিয়া পুনঃপ্রবেশ।
শুম্ভ-ক্ষ, আদ্যাশক্তি ! এবে বক্ষ আপনারে,
কেশ ধরে শূন্যমার্গে ঘুরাব তোমারে।
গৌরী-কো, ওহে মহাযােগী-গৌরীপতি—হয়।
শুম্ভ-সংহার।
যোগ ভঙ্গ কৰি ক্ষণ হের এ দাসীরে,
বিষম সমরে, নাথ! হয়েছি কাতর,
যায় বুঝি প্রাণ দুষ্ট দানবের করে।
এ দাসীরে দেহ বল, দেব ত্রিপুরারি।
পতির বলেতে বলী অবলা সঙ্গত,
এ হেন লাঞ্ছনা আর সহিতে না পারি
কেশে ধরে দৈত্য মােরে দূরাতে উত্ত!
(শূন্যে মহাদেব)
মহা-অরে রে বর শুম্ভ! দুষ্ট দৈত্যাধম !
হবের প্রদত্ত বর ঘৃণিত করিলি ?
শঙ্করের অনুগ্রহে কৈলি অপমান?
fsদিবের আধিপত্য-স্বর্গ সিংহাসন
অতুল ঐশ্বৰ্যরাশি লভিয়া দুৰ্ম্মতি
তৃপ্ত নই তাহে। মত্ত হয়ে অহঙ্কারে,
অবশেষে সতী-কেশ করিলি ধারণ ?
আমার বলতে বলী-অবহেলি তাহা,
সতী-অপমানে আজ হইলি প্রবৃত্ত ?
অহঙ্কার আজি তাের ফুর্ণিব, কুমতি !
হরিলাম আমি তাের সকল শকতি।
(মহাদেবের অন্তর্ধান)
সতী কেশ ত্যাগ করিয়া)
বুঝিলাম—বুঝিলাম, হায় রে এখন,
আর রক্ষা নাহি মাের-বুঝি নিশ্চয়।
যষ্ঠ অঙ্ক। ১৭ বাম আজি অভাগায় সব ত্রিলােচন- না পারি তুলিতে আর নিজ ভুজদ্বয়। বুঝি সংসার, হায়, বৃথা মায়াময়, বেষ্টিত সকলে ভবে ঘােৰ মায়াজালে, চিরােয়তি অনিবার কেহ নাহি পায়, স্বল্প দিন তরে সব এ ছলমলে। পল্প নিয়ে দিন, হায় রে সকল ! নিৰ্ব্বাণ হইল এবে দৈত্য-দানল! বেগে শুভ্রার প্রবেশ । শুভ্রা - গৌরীর চরণে পতিত হইয়া - যক্ষ বক্ষ, রক্ষাকালি! বক্ষ এ দাসীরে, কৃপা কর, কৃপাময়ি! ক্ষম, ক্ষেমঙ্করি। বধ না-বধ না, মাতঃ, মাের প্রাণেশ্বরে, জগদম্বে ! তুমি গো মা জগত-ঈশ্বরী। বদিবে নাখেরে যদি, বধ জাগে মোরে, ঘুচাও জঞ্জাল আগে,-লতা পাতা কাটি, অতঃপুরে, জননি গাে, কাট তরুবরে ; রক্ষা কর-ছাড়িব না এ চরণ দুটি। গলায় পা দিয়ে, দেবি। বধ আগে মোরে, কিম্বা হান ভীম শেল হৃদয়ে আমার, তার পর বধু তুমি মুঈশ্বরে, চরণে চরম-ভিক্ষা এই গাে আমার। শুভদা বরদা তুমি জগত-জননী, এই কি তোমার কাজ। বিনা অপরাধে
৯৮
শুম্ভ-সংহার।
আপন সন্তানগণে নাশিলে, শিবানি।
শৈবদলে, দয়ামন্তি, নাশিলে অবাধে!
এই কি উচিত তব ? একেরে তুষিলে
অপর সজ্ঞানে ববি ? কি দোষে গো দোষী,
বল, এ নবকুল ও পকমলে?
বল, কি দেখেছ হেন অপরাধরাশি?
কি দোষ পাইয়া বলবল, গো ঈশানি !
ধৰিলে সংহার-মূর্তি দৈত্যকুল প্রতি ?
এই কি তােমার যৰ্ম্ম, জগত-জননি ?
শিবভক্ত শৈবকুলে নিলিলে, সতি।
বরদে গো! আর কিছু চাহি না চরণে,
জীবিতের প্রাণ মাের ভিক্ষা দেহ মোরে !
ত্রিলােকের আধিপত্য, স্বর্গ-সিংহাসনে
চাহি না আমরা, উহা দেহ বাসবেরে ।
হয়ে রব চির দিন ইঅনুগত,
শ্রীচরণে এই শেষ ভিক্ষা মাগি, মাতঃ ।
শু-হেন নীচ অভিলাষ কেন তব মনে
দৈত্যকুলোণি? হায়, চাহ বাচিবাৰে
চিরকাল হীনভাবে ইন্দ্রের অধীনে।
মারতে ত হবে, দি কি আছে সংসারে ?
দৈত্যকুল-চুড়া আমি ত্রিদশ-দমন,
পদতলে স্থিত মাের এই ব্রিসংসার,
বাসব কিঙ্কর মাের জানে ত্রিভুবন,
বাসবের অধীনত কৰিব স্বীকার !
ষষ্ঠ অঙ্ক।
৯৯
(গৌরীর প্রতি)
কি আর ভাবিহ, দেবি ! বধ ত্বরা মােরে ;
না চাহি ধরিতে আমি আর এ জীবন!
কি আর আমার তুমি রেখেছ সংসারে,
নাশিয়াছ জাতি, বন্ধু, আত্মীয়, স্বজন।
মরিতে ত হবে এই নম্বর সংসারে,
মরি তবে এই বেলা, জগত-জননি!
গুরুপত্নী তুমি, মাতঃ, মরি ভর করে
বৈকুণ্ঠ-লােকেতে আমি যাই গাে এখনি।
শুনেছি প্রতিজ্ঞা তুমি করেছ, ঈশানি
বিনাশিতে দৈত্যকুলে ; পাল সে প্রতিজ্ঞা ;
হলে কলুষ তব ঘুষিবে মেদিনী ;-
তব পদে দিতে প্রাণ দেহ, দেবি! অজ্ঞা।
ধর অস্ত্র, করি আমি সন্তানের কাজ,
রাখি মাতৃ-পণ দিয়ে নিজ প্রাণ আজ।
(গতিলােচনে গোরীর প্রতি দৃষ্টি ; গৌরী নিরুত্তর)
ভবানি! সম্মতি তৰ দিল গাে নীরবে ;
কি ফল বিলম্বে আর তবে, হর-রুমে।
জগদম্বে। দৈত্য-মাতঃ! পড়ুক গাে ভবে
শেষ-যবনিকা আজ দৈত্য-ভূমে!
(কালিকার শুলাগ্রে গুন্ত্রের পতন ও মৃত্যু)
(শুভ্রার পতন ও মৃত্যু)
যবনিকাপতন।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.