Makardah Saraswat Library, Howrah

Lal Panja Ed. 1st

Bandyopadhyay, Sri Saradindu · 2009/08/4

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

লা
পাঞ্জা
শ্ৰীশরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স,
২০৩১১, কর্ণওয়ালিস্ স্ট্রীট, কলিকাতা।

কলিকাতা।
প্রথম সংস্করণ
এক টাকা
প্রিন্টার—ঐশিশিরকুমার বসু
ভগ্নদূত প্রেস
১৯৮১, কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট,
কলিকাতা।

নান্দী এই নাটকটি লিখিতে লিখিতে আমি নিজেই মাঝে মাঝে লজ্জা বােধ করিয়াছি। কচিৎ আননও যে পাই নাই এমন নয়। ইহার বিষয়বস্তু যে নিতান্ত লঘু ও সস্তা তাহা আমি জানি। কোনে-কালে ইহা সাহিত্য পদবাচ্য হইবে এমন দুরাশাও করি না। mystey thriller জাতীয় যে সকল নাটক পাশ্চাত্য দেশে জনপ্রিয় হইয়াছে, সেই নাটকের টেনি মক্স করিবার চেষ্টা করিয়াছি মাত্র, সিদ্ধকাম হই নাই বলাই বাহুল্য। এইটুকু শুধু ভরসা, এ পথে শক্তিমান লেখক যদি অতঃপর চলেন, বাংলা নাট্যমঞ্চের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাইবে। রহস্য নাটক লেখার একটা অসুবিধা এই যে, প্রথম অভিনয়ের পর রহস্য আর চাপা থাকে না। তাই, জীবনের যে রহস্য কখনাে পুরাণে। হয় না তাহার অবতারণা করিতে হইয়াছে। জীবন-নাট্যে হাসি ও অশ্রু ওতপ্রোত ভাবে মিশ্রিত, অঙ্ক গর্ভাঙ্কে তাহাদের বিভাজিত করা যায় না। আমিও সে চেষ্টা করি নাই। হাসি ও অশ্রু, grotesque ও ridiculous অনেক স্থলে তন্তুর মত জট পাকাইয়া গিয়াছে। নাটকের ঘটনাকাল, সুরু হইতে শেষ পর্যন্ত, যদিও, কয়েক মাসের উপর প্রসারিত, তবু প্রতি অঙ্কে একদিন বা দুই দিনের অধিক ঘটনা উল্লিখিত হয় নাই ; ঘটনার বিরাম স্থলগুলি পাঁচটি অঙ্কের দ্বারা নির্দিষ্ট হইয়াছে।

( ১ • ')
চরিত্রগুলি, একটি ছাড়া, সবই কাল্পনিক। মাঝে মাঝে যে কবিতা
উদ্ধৃত হইয়াছে তাহার জন্য কবিগুরু হইতে আরম্ভ করিয়া কয়েক
মধুকণ্ঠ নবীন কবির নিকট ঋণ স্বীকার করিতেছি।
গলদ যেখানে বেশ, কৈফিয়ৎও সেখানে দীর্ঘ হইয়া পড়ে। আমার
নাটক লেখার অক্ষম প্রচেষ্টাকে ক্লান্তিকর সাফাই দিয়া আর ভারাক্রান্ত
করিব না। অলমিতি
শ্ৰীশরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
মুঙ্গের-কার্তিক ১০৪৪।

চরিত্র -পুরুষ- আশুতােষ প্রৌঢ় ধনী ব্যবসায়ী ঐ ' কেশব ত্রিদিব ব্যারিষ্টার • আশুতোষের সেক্রেটারী কেশবের পুত্র শেখর মদ্যপ যুবক বামার দা মৃত্যুঞ্জয় লালাদ পাঞ্জ। রণবীর ? ভদ্রলােক, কম্পাইওার ও ভৃত্য । --স্ত্রী – আলত। আশুতোষের কন ঝর্ণ। কেশবের কন্য অনসূয়া শেখরের ভগিনী ভদ্রমহিল, ঝি ইত্যাদি।

No text on this page.

লাল:পাঞ্জা
প্রথম অঙ্ক
প্রথম দশ
প্রসিদ্ধ ধন। ব্যবসায়ী আশুতােষ রায়ের বাড়তে পাহার লাইব্রেরী ঘর! রাত্রি 'আন্দাজ
সাড়ে আটটা। অ শতাব বাবু সময় পায়চারি করিতেছেন। তাহার বয়স
পঞ্চাশ, শীর্ণ মুখ, চোখ একট। অতপূর্ণ সতকতা। তিনি মাঝে মাঝে চমকিয়া
গাদযুক্ত খোলা জানালার দিকে তাকাইতেছেন।
আশুতােষ। লাল পাঞ্জা!-লাল পাঞ্জা! [ ভাতভাবে পিছনে তাকাইলেন ]
না-ভয় পাচ্ছি কেন? সে ত আমার কোনও অনিষ্ট
করতে চায় না, বরং•••••• [টবিলের উপর হই, একট। রক্তবর্ণ
হাতের পাঞ্জার আকৃতির কাগজ তুলিয়া লইলেন, তাহার উপর লিখিত
কয়েক টি কথা পাঠ করিলেন, আবার রাশিয়া দিলেন কিন্তু
কিন্তু-( সহসা টেবিলের উপর স্থিত বণ্টি টিপিলেন ? )
জনৈক আন্দালের প্রবেশ
আশুতোষ। আলতা কোথায় ?
আদ্দালি। আজ্ঞে তিনি ত পার্টিতে গেছেন।
নাশুতােষ। কোথায় গেছে? কার বাড়ীতে পার্টি ?
আর্দালি। তা ত মিসিবাবা কিছু বলে যান নি হুজুর।

৪ লাল পাঞ্জা { :ম অঙ্ক আগুতােষ। টেলিফোনে চারদিকে খোঁজ নাও-যেখানে থাকে এখনি তাকে ডেকে পাঠাও। আর্দালি। যাে হুকুম- ( প্রস্থানােত । . আশুতােষ। কিন্তু থাক। ডাকবার দরকার নেই। যাও | আন্দানি প্রস্থান করিল ] আজকের রাতটা আমােদ করে নিক। কাল থেকে বন্ধ করে দেব। [ উপবেশন ] লাল পাঞ্জার হুকুম ! কাউকে এখনো বলিনি। কিন্তু না, সত্যিই ত ! আলত! যেন দিন দিন উজ্জ্বল হয়ে উঠছে, কেবল থিয়েটার পার্টি নাচ নিয়ে মত্ত হয়ে আছে। মা ম | মেয়ে, শাসন করতে পারিনা' নিও বক্ষে হও ! ] কিন্তু আমিও ত বেশী দিন নয় । Anginal Pectoris যখন ধরেছে। তার ওপর লাল পাঞ্জ। কিছু মাথায় হাত ; * চি ! কর লন, ত:পর ণি :: :: অ?ার প্রবেশ আশুতােষ । অজয়বাবুকে ডেকে দাও- আর্দালি। যাে হুকুম (নিক্রান্ত আশুতোষ। অজয়কে সব কথা বলব-কিছু লুকোব না। মনে হচ্ছে, আজ বললে আর বাবার সুযােগ পাব না। হয়ত এর পরে নিজের দুষ্কৃতির কথা জায় বলতে পারব না। অজয়ের প্র.বশ। নোম্য মূর্তি যুবক, গায়ে একটি মােট: ৩ ::রর চার । আশুতােষ। এস অজয়। এই চেয়ারটাতে বস-- ( অজয় নির্দিষ্ট চেয়ারে উপবিষ্ট হইল ) আশুতােষ। [ চারিদিকে তাকাইয়া ] অজয়, লাল পাঙ্গার নাম শুনেছ ?

১ম দৃশ্য ! লালপঞ্জ ৫ শুনছি বৈকি। । . • অয়। লাল পাঞ্জার নামে ত দেশে একটা আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। আশুতােষ । অজয়,আমি লাল পাঞ্জার চিঠি পেয়েছি। অজয়।. [ সবিস্ময়ে ] সে কি! আপনি! আশুতােষ। হ্যা, আমি । অজয়। কিন্তু-যতদূর শুনেছি, দুষ্টের দমন করাই দুষ্টের দমন করাই লাল পাঞ্জার কাজ ! আপনি ত্ব সেরকম কিছু করেন নি। আশুতোষ । আমি কি করেছি তা তুমি জানােনা কিন্তু , লাল পাঞ্জা জানে। লাল পাঞ্জার অজানা কিছু নেই! তবু, কেন জানিনা, সে আমাকে আমার দুষ্কৃতির জন্যে শাসন করতে চায়নি বরং বন্ধুর মতন আমাকে সাবধান করে দিয়েছে। অ জয়। আশ্চর্য ! এ রকম ত কখনো শুনিনি। আশুতোম। এই দ্যাখ [ পঞ্জি। দেখাইনে ] অজয়। [ লইয়] তাইত ! এই যে লেখা রয়েছে আপনার কন্যা আলতা দেবীর উদ্ধৃঙ্খলতা সংযত করুন । বাঙালী গৃহস্থ কন্যার এরূপ স্বেচ্ছাচার শোভা পায় না। রীতিমত হিতােপদেশ দিয়েছে দেখছি। অ শুতােষ । অজয়, তুমিও হয়ত লক্ষ্য করেছ, আলত। সম্প্রতি কিছু বাড়াবাড়ি করছে। মেয়েদের স্বাধীনতা ভাল, কিন্তু তারও একটা সীমা আছে, স্বৈরাচার ভাল নয় ! তোমার কি মনে হয় ? অজয়। প্রভুকন্যার আচরণ সম্বন্ধে মতামত প্রকাশ করবার আমার অধিকার নেই। আশুতােষ। তােমার অধিকার আছে, সে কথা আমি পরে বলছি। আজ সকালে লাল পাঞ্জার এই চিঠি পেয়ে শুধু লাল পাঞ্জা (১ম অঙ্ক আলতার আচরণ নয়, নিজের অতীত জীবনটাও যেন চাখের সামনে দেখতে পেলুম। [ কিছুক্ষণ স্তব্ধ থাকিয়া ] অজয়, জীবনে আমি অনেক অন্যায় করেছি। এই যে অমর অতুল ঐশ্বৰ্য্য দেখছ, এর ভিৎ-বিশ্বাসঘাতকতার ওপরু প্রতিষ্ঠিত। অজয় বিস্ময় প্রকাশ করিল না, শান্তমুখে নীরব হইয়া রহিল। আশুতোষ । যৌবনে অদম্য অর্থ লালসায় আমি এক মহাপাতক করে- ছিলুম। আজ তাের কাছে কিছু লুকোব না। হচ্চে, লাল পাঞ্জার চিঠি আমার বিবেকের চিঠি - বন্ধু হত্যার রক্তে রাঙা হয়ে আমাকে আমার পাপের স্মরণ করিয়ে দিতে এসেছে। উঃ ! [ কিছুক্ষণ হাত ও ঢকিয়া রহিলেন ] তােমার বাবা প্রিয়নাথ যৌবনে আমার বন্ধু ছিলেন। ৫ মনে অজয়। জানি। বাবার মৃত্যুর আশুতােষ। জানো! কিন্তু তুমি কি করে জানলে ? তোমার বাবার যখন মৃত্যু হয় তখন ত তুমি আনয় বছরের ছেলে। অজয়। পর আমি অনাথ আশ্রমে প্রতি পালিত হয়েছিলুম, তারপর লেখাপড়া শেষ করে যখন বেরুলুম তখন কোথাও আশ্রয় নেই। সেই সময় আপনি হঠাৎ এসে আমাকে সেক্রেটারির পদে নিযুক্ত করলেন। এই অযাচিত কৃপা দেখে আমার মনে হয়েছিল যে, আমার বাবার সঙ্গে হয়ত আপনার পরিচয় ছিল। আশুতােষ । সেজন্যে নয়, তাজয়, শুধু সেজন্যে নয়। অনুতাপের তাড়নায় তােমাকে সাহায্য করেছিলুম। শােনন, তােমার বাৰ, ১ম দৃশ্য ] লাল পাঞ্জা সমস্ত আমাদের বন্ধু ছিলেন। তার টাকা ছিল, আর, আমরা দুজন ছিলাম নিঃস্ব। দু’জন। আপনার সঙ্গে কি আর কেউ ছিলেন ? আশুতোষ। আর একজন ছিল। সে ছিল সব কাজে আমার মন্ত্রণা দাতা। কিন্তু তারনাম করব না, জীবনে টাকার মােহে অনেক বিশ্বাসঘাতকতা করেছি, সে পাপ আর বাড়াব না। অজয়। আমি তার নাম জানতে চাইনি। আশুতােষ। তারপর শােনন। আমরা পরামর্শ করে প্রিনাথের কাছে টাকা ধার চাইলুম। বন্ধুদের ওপর তার অগাধ বিশ্বাস ছিল, সে কোনাে রকম লেখাপড়া না করে পুজি আমাদের ধার দিলে। সেই টাকা নিয়ে আমরা কলকাতায় ব্যবসা ফেঁদে বসলুম। [ কিয়ৎকাল নীরব থাকিয়া ? বছরখানেক পরে প্রিয়নাথ হঠাৎ রােগে পড়ল। ডাক্তারের সন্দেহ করলেন টি বি; ভাল চিকিৎসা এবং হাওয়া বদলানো দরকার। প্রিয়নাথের হাতে বেশী টাকা ছিলনা, চাকরীও ছেড়ে দিতে হল । সে আমাদের কাছে তার টাকা চেয়ে পাঠালে। তখন আমাদের ব্যবসার একটা মস্ত টাল যাচ্ছে। নতুন ব্যবসা, এসময় প্রিয়নাথের টাকা ফেরৎ দিলে হয়ত ব্যবসা ফেসে যেত । দু’জনে পরামর্শ করে প্রিয়নাথের ঋণ অস্বীকার করলুম। আশুতােষ গামিলন, অজয় নিজের করতলের দিকে তাকাইয়া নিশ্চভাবে বসিয়া রাহল। আশুতোষ । প্রিয়নাথ আর দ্বিতীয়বার টাকা চাইলে না । তার রোগ ক্রমে বেড়ে উঠল। সুচিকিৎসা হল না। কোনাে চিকিৎ- সাই সে করালে না ; বােধ হয় মনুষ্য জীবনের ওপর তার ;

লাল পা [১ম অঙ্ক ঘৃণা জন্মে গিয়েছিল। তারপর মাস যেতে না যেতে ফ্লার মৃত্যু সংবাদ পেলুম। মনে আছে, খবর পেয়ে মন্ত একটা আরামের নিশ্বাস ফলেছিলুম [ সহসাড়াইয়া উঠিয়া ] এসব কথা আজ আমাকে বলছেন কেন ? আশুতোেষ। প্রায়শ্চিত্ত করছি-প্রায়শ্চিত্ত করছি। শােননা, আমার দিন ঘনিয়ে এসেছে—অ্যাাইন ধরেছে, কোনরকমে এমিল নাইট্রেটের ক্যাপসুল শুকে বেঁচে আছি। কিন্তু এভাবে জোড়াতাড়া দিয়ে আর কদ্দিন ? শিগগির যেতে হবে। তাই যাবার আগে ভাল করে প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই। তুমি বস--[অজয় বসিল ] অজয়, আজ আমি আমার উইল তৈরি করেছি। উইলে আমার মৃত্যুর পর তােমাকে আমার মেয়ে আলতার অভিভাবক নিযুক্ত করেছি। আমাকে ? আশুতােষ। হঁা, তােমাকে। জেনে শুনেই করেছি। তুমি যদি তােমার পিতৃহত্যার প্রতিশােধ নিতে চাও, আমার মেয়ের ওপর সহজেই প্রতিশোধ নিতে পারবে, তাই তাকে তােমার হাতে তুলে দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু জানি তুমি তা পারবে না। এই দু’বছরে আমি তােমাকে চিনেছি, এক- জনের অপরাধে আর একজনকে শাস্তি দিতে তুমি পারবে । অজয়। কিন্তু এ গুরুভার আমার মাথায় না দিয়ে আশুতােষ। আমার বিষয় সম্পত্তির ভার তােমার মাথায় চাপাই নি। তুমি সৎ, কিন্তু ছেলেমানুষ—বিষয়বুদ্ধিতে এখনও কঁচা ; অজয়।

১ম দৃশ্য ] ৯ তাই আমার বন্ধু কেঁশবকে আমার সম্পত্তির ট্রাষ্টি নিযুক্ত করেছি। তাকে আপনার মেয়ের অভিভাবক নিযুক্ত করলেও ত এজয়। পারেন। আশুতােষ। অজয়, কেশব আমার বাল্যবন্ধু, সারা জীবন আমরা দুজন একই পথে চলেছি। তবু, আলতাকে তার হাতে সপে দিতে পারি নি, কোথায় যেন বেধে গেছে। হয়ত আমি শিগগির মরব না; কিন্তু যদি মরি, তুমি তার অভি- ভাবক থাকবে। তাকে সৎশিক্ষা বে, দরকার হলে শাসন করবে, সংশে সৎ পাত্রে তার বিয়ে দেবে-এই আশা করেই আমি তােমাকে তার অভিভাবক নিযুক্ত করেছি। অজয় । কিন্তু আপনি বােধ হয় জানেন, আপনার মেয়ে আমার প্রতি - আশুতোষ ! তােমার প্রতি সে খুব প্রসন্ন নয়। তুমিও তার চপলত পছন কর না, তা আমি লক্ষ্য করেছি। কিন্তু অজয়, আলতা এখনও ছেলে মানুষ, মাত্র উনিশ বছর তার বয়স, এখনও শেংশোধন করবার অনেক সময় আছে। আর আমার বিশ্বাস, যদি কেউ তাকে বশ করতে পারে ত সে তুমি- তালির প্রবেশ আর্দালি । কেশব বাবু এসেছেন। আশুতােষ। নিয়ে এস- কিন্তু আমি [ আর্দালি নিষ্ক্রান্ত [ম অঞ্জ f আশুতােষ। আজ এই পর্যন্ত থাক।" তােমাকে সব কথা বলে আমার মনটা হালকা হয়েছে। যদি আরও কিছু আলােচনা করবার থাকে, কাল হবে। বেশ--[ ঘড়ির দিকে তাকাইয়া] আজ আর বােধ হয় অন্য কোনও কাজ নেই? আমি বাড়ী যেতে পারি ? আশুতােষ। হ্যা যাও।–[ নিজ মনে ] নটা বেজে গেছে, এখনও আলতা ফিরল না। যাক, আজকের রাতটা কেশব প্রবেশ করিলেন। অজয় ভঁহাকে নমস্কার করিয়া নিষ্ক্রান্ত হইল। কেশবের দেহ স্কুল, মাথার চুল অধিকাংশ পাকিয়া গিয়াছে, মুখের মাংস লােল হইয়া ঝুলিয়া পড়িয়াছে, স্বভাবতঃ রক্তবর্ণ চোখের কোলে গভীর কালীর দাগ। বর্তমানে তাহার দৃষ্টি বিভ্রান্ত; তিনি অজয়কে লক্ষ্য করিলেন না। আশুতােষ। কেশব, তুমি এসেছ ভালই হয়েছে। কেশব। ভালই হয়েছে ! [ [ সাগ্রহে ] আশু, তবে কি তুমি বুঝতে পেরেছ আমি কেন এসেছি ? আশুতােষ। না-কি হয়েছে! কি হয়েছে ! [ শুল্ক হাস্য ] খবর পাওনি তা হলে! র’স বলছি [ দ্বার বন্ধ করিলেন তুমি ; আগুতােষ। ব্যাপার কি কেশব ! তুমি অমন করছ কেন ? কেশব। [পাশে বসিয়া আশুতােষের হাত ধরিয়া} আও, আমার আজীবনের বন্ধু ; আজ বন্ধুর কাজ করবে ? আশুতোেষ। [ হতবুদ্ধি ভাবে ] বন্ধুর কাজ! -আমাকে কিছু টাকা ধার দেবে ? আশুতােষ। ধার! কত ? কেশব। তােমার পক্ষে কিছুই নয়—এক লাখ পঁচাশি হাজার। আশুতােষ। সে কি!

১ম দৃশ্য ] লাল পাঞ্জা শেয়ার মার্কেটে speculate করেছিলুম, এক লাখ আশী হাজার, ধার হয়েছে। সাতদিনের মেয়াদ-আসছে শনিবারে ধার শোধ না করFে আশুতোষ । কিন্তু সেজন্যে ধার চাইবার দরকার কি? তুমি নিজেই ত ইচ্ছে করলে ব্যাঙ্ক থেকে দু'লাখ টাকা বার পার। [ বিকৃত হানা ] পারতুম, কিন্তু এখন আর পারি না। এখন আমার বাড়ী গাড়ি ঘটিবাটি বিক্রি করলেও দু’হাজার টাকা সব গেছে। আশুতোষ। সব গেছে ? তঁা, শেয়ার মার্কেটের জুয়ায় সব গেছে। শনিবারের ধার শােধ করতে না পারি, আত্মহত্যা করতে উঠবে না। এখন যদি হবে। আশুতোষ । কিন্তু আমি যে তােমাকে আমার উইলে — কি—কি? আশুতােষ । কেশব, আজ আমি আমার উইল তৈরী করেছি ; তাতে তােমাকে আমার সম্পত্তির ট্রাষ্টি নিযুক্ত করেছিলুম। কিন্তু কেশব । আমাকে টপটি রেছিলে ? [ মুখে আনন্দ ফুটিয়া উঠিয়া আর নিবিয়া গেল কিন্তু সে ত তোমার মৃত্যুর পর অর্থাৎ-- [ থামিয়া গেলেন ? আশুতোেষ। কিন্তু এখন ত আর আমি তােমাকে ট্রাষ্টি রাখতে পারি না। কেশব । কেন ? আশুতোষ। কেশব, তুমি যতদিন ধনী ছিলে ততদিন তোমাকে হয়ত বিশ্বাস করতে পারতুম, কিন্তু এখন কি করে বিশ্বাস করব?

লাল পাঞ্জা ( ১ম অঙ্ক তুমি ত আমার মেয়েকে ঠকিয়ে সমস্ত আত্মসাৎ করবে। না-কালই আমি উইল বদলে ফেলব। কেশব। বেশ, তাই করাে, তােমার উইল সম্বন্ধে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু এখন আমাকে ঐ টাকাটা দাও, শপথ করছি- আশুতােষ। বন্ধুকে টাকা ধার দেওয়া।-কেশব, প্রিয়নাথকে মনে আছে ? বন্ধুকে টাকা ধার দেওয়া যদি সহ্য না হয় ? কেশব। 'আমাকে বিশ্বাস না করতে পারাে, রীতিমত রেজিষ্ট্রী করে টাকা দাও-তা হলে ত আর ভয় নেই আশুতােষ । না কেশব, আমি তােমাকে অত টাকা ধার দিতে পারব । আমার শরীরের যে অবস্থা, আজ আছি কাল নেই। তারপর আমার নাবালিকা মেয়ে যদি তোমার কাছ থেকে টাকা উদ্ধার না করতে পারে ? মেয়েকে ত পথে বসিয়ে যেতে পারি না। [ উঠিলেন ] উইলখানা বদলে ফেব- [ নিজ মনে ] অজয়কেই ট্রাষ্টি করি, আর ত কেউ নেই। সে ছেলেমানুষ কিন্তু চুরি করবে না- কেশব । দেবে না ? আশুতােষ। না কেশব । কি জানি কে,, তােমার সম্বন্ধে চিরদিনই আমার মনে একটা দুর্বলতা আছে। তােমার কথা কোনাে দিন এড়াতে পারিনি; কিন্তু আজ লালপাঞ্জার চিঠি পেয়ে নিজের স্বরূপ যেমন দেখতে পেয়েছি, আর সকলকেও তেমনি চিনতে পেরেছি। যেখানে টাকার গন্ধ আছে সেখানে ত আর তােমাকে বিশ্বাস করতে পারি না বন্ধু! কেশব। দেবে না তাহলে ! অকৃতজ্ঞ scoundrel! আজ যে ১ম দৃশ্য ] লাল তােমার এত সম্পত্তি সে’ কার জন্যে? প্রিয়ুনাথের কাই থেকে টাকা ধার নেবার পরামর্শ কে দিয়েছিল। আমি । তারপর সে যখন টাকা ফেরৎ চাইলে তখুন, গাড়োলের মত টাকা ফেরৎ দিতে যাচ্ছিলে-আমি, যদি না আটকে রাখতুম, তাহলে আজ এ সব আসত কোথা থেকে? বেইমান কৃতঘ্ন কোথাকার! আশুতােষ। কেশব- কেশব-- সহসা বুকে হাত রাখিয়া বসিয়া পড়িলেন ; কেশব হিংস্রভাবে তাকাই রহিলেন। কেশব-শিগগির [ ২ বার। অ্যাজাইনার অ্যাটাক ! ইঙ্গিত করিম ] কী কী? কেশব। আশুতােষ । শিগগির আমার দেরাজের মধ্যে ঘুরে ক্যাপসুল আছে- কী-কী তাহার মুখের ভাব তাশা ও আশঙ্কা সৃণ হই: . ক আশুতােষ! দেরাজের মধ্যে শিগরি -উঃ বুক ফেটে যাচ্ছে-সুধ আছে, তই ভেঙে আমার নাকের কাছে ধর- [ নিও:নন ] ট্র ষ্টি—ট্রাষ্টি–! দেখি, দরজা বন্ধ আছে ? ( ২জ। দেলিন আশুতােষ। কেশব -বাচাও—শিগগি-উঃ ! কেশব দেরাজ খুলিয়া কয়েকটি এমিল নাইট্রটর ক্যাপসুল বাহির করিয়া নাড়াচাড়া করিতে লাগিলেন ; আশুতোষকে দিলেন ন', দিলে না! উঃ-আ ল তা [ মৃত্যু ]

১৪
লালা
১ম অ
[ কাছে আসিয়া ] হয়ে গেছে!
এইবার-[ উচ্চ-১']
ডাক্তার! ডাক্তার !
(ক্যাপল ভাঙিয়া নাকের কাছে ধরিলেন। জানালার গরাদের ভিতর দিয়া
লাল মুখােষ পর্গ। একটা ভয়ঙ্কর মুখ দেখা গেল। সে হাতের রক্তব
পাঞ্জা তুলিয়া ধরিয়া বিকট স্বধে হান্য করিয়া উঠিল।)
কেশব।
[ ভয় বিকৃত-কণ্ঠে ] লাল পাঞ্জা!
৪

দ্বিতীয় দশ ব্যারিষ্টার ত্রিদিব রায়ের প্রশস্ত ড্রয়িং রুম। কয়েকটি আধুনিক তরুণ তরুণী ইতস্তত বসিয়া আছেন। ঝর্ণা পিয়ানাের সম্মুখে বসিয়া গান গাহিতেছে ; সে খুব সুন্দরী নয়, কিন্তু মুখের ডৌল অতি সুকুমার ও মিষ্ট-বয়স সতের-আঠার। আলতা—অপরূপ সুন্দরী, গৌরী কৃশাঙ্গী—একটি সেটিতে বলিয়া গানের তালে তালে পা নাড়িতেছে ; তাহার পরিধানে রূপালী জরীর শাড়ী, হাতে হাতীর দাতের পাখা, বেণীতে যুথী পুষ্প বিজড়িত। সেই সেটির অন্য কোণে বসিয়া ডাক্তার রণবীর একটি মােটা চুরুট টানিতেছে ও একদৃষ্টে আলতার পানে তাকাইয়া আছে ; রণবীরের চেহারা গজস্কন্ধ, কথা বলিবার ভঙ্গী ঈষৎ মুরুব্বিয়ানা ব্যঞ্জক। অদুরে আর একটি সেটির একপ্রান্তে কুমার অর্ধশয়ান থাকিয়া দীর্ঘ হােলডারে সিগারেট টানিতেছে , তাহার দুঃস্বপ্ন-ভরা দৃষ্টি শূন্য নিবদ্ধ। সে কবিতা-প্রিয় ও কল্পনা-বিলাসী, অধিকাংশ সময় কবিতা উদ্ধত করিয়া কথা বলে। ঐ সেটীতে মৃত্যুঞ্জয় বসিয়া আছেন ; কোট-প্যান্ট পরা, বেঁট গোপ-কামানাে ব্যক্তি, মুখের বর্ণ এত কালো যে হাসিলে দাঁতগুলি অস্বাভাবিক শাদা দেখায়, কিন্তু তিনি স্বভাবত গম্ভীর। তাহার হাতে একটী চামড়ার স্ট্যাচেল। গান চলিতেছে । আমার মন-চুয়ানন মধু ঝরবে যখন-বাতাসে ক্ষরবে যখন -আসবে না কি বঁধু? গন্ধে যখন ভরবে চরাচর আসবে না কি মধু-মাতাল পাগল মধুকর ? ওগো তার তরে যে আমি পথটি চেয়ে কাটাই দিবাস্বামী, লালগাঞ্জা [ ১ম অঙ্ক আমার বুকের বরমালা মুখের মধুটালা পরিয়ে দেব তার গলাতে আসৰে যখন বরমালার বর- মধু-পাগল মধুকর। গান শেষ হইলে পুরুষগণ মৃদুহস্তে করতালি দিলেন; ঝর্ণা লজ্জিত মুখে আলতার পাশ ঘেষিয়া ৰসিল আলতা। ঝর্ণা। রণবীর। বরমার বরের জন্যে ভারি অস্থির হয়ে পড়েছিস্ যে ! দেখি, মন-চুয়ানাে মধু যাকে-তাকে দিয়ে ফেলিস নি যেন ; একটা কাচের জারের মধ্যে যত্ন করে ধরে রাখি! যাঃ! আলতাদি’র সবতাতেই ঠাট্টা! সকলে মিলে গাইতে বলেন তাই গাইলুম, নইলে আমি কি ভাল গান জানি ? কেন, আপনি ত ভালই গাইলেন । আপনার গলাটি বেশ মিষ্টি। মিষ্টি। খুব মিষ্টি! ভয়ঙ্কর মিষ্টি ! একদম মিষ্টি ! সকলে কিছুক্ষণ অবাক হইয়া রহিলেন খুব সাবধানে থাকিস ঝর্ণা। তোর গলা যে রকম ভয়ঙ্কর মিষ্টি, হয়ত কোনদিন পিপড়ে ধরবে। মাঝে মাঝে রােদ্দ রে দিস্ ! মৃত্যুঞ্জয়। জাতা। মৃতুঞ্জয়। কুমার। [ হঠাৎ হাস্য ] হিঃ হিঃ হিঃ- [ নিজ মনে ] দেৰি, মরণে ভাবিনা আর ভয়ঙ্কর অতি'। তুমি যাহে দেছ পদ, সে যে ফুল কোকনদ সে নহে শ্মশান-চুল্লী ভীষণ মুরতি।

২য় দৃশ্য ] লাল পাঞ্জা ১৭ মৃত্যুঞ্জয় হাসিতে হাসিতে কুমারকে অকস্মাৎ চিমটি কাটিলেন। কুমার চমকাইয়া উঠিয়া দাড়াইল মৃত্যুঞ্জর। হিঃ হিঃ হিঃ- হঠাৎ গম্ভীর হইলেন। কুমার। [ রণবীরকে জনান্তিকে ]:কে হে লােকটা? চিনি না। বােধ হয় ত্রিদিব বাবুর বন্ধু !-কি হয়েছে? কুমার। মনে হই হঠাৎ আমাকে চিমটি কাটলে বল কি! চিমটি কাটলে !-না, ও তােমার দুল। হয়ত ছারপােকা কামড়েছে রণবীর। রণবীর। - কুমার। ছারপােকা। তা হবে- ছারপােকা কামড়েছে, নিতম্ব ফুলে গেছে ছারপােকাগুলো ভারি বজ্জাৎ! মৃত্যুঞ্জয়। | বর্ণাকে ] গা সম্বন্ধে আপনার খুব সাবধান হয়। দরকার। বঃ মৃত্যুঞ্জয় । { শত ] কেন ? কি হয়েছে ! গলা খারাপ হয়ে গেলেই গেল। কিন্তু ইন্সি ওর করে রাখলে আর লােক মনের ভয় নেই। ঝর্ণা। মৃত্যুঞ্জয়। রণবীর। গলাও কি ইন্সিওর করা যায় নাকি ? চুলের ডগা থেকে পায়ের সুকতলা পর্যন্ত ইন্সিওর করা যায়। এই দেখুন- স্যাচেল খুলিতে উদ্যত : ও-আপনি বীমার দালাল।কিন্তু এখানে ঢুকলেন কি করে ?—বলি, ত্রিদিব বাবুর সঙ্গে পরিচয় আছে-না দোর খােলা দেখে ঢুকে পড়েছেন ? পরিচয় আছে-তিনি আমার একটি লাইফ !

১৮ লাল পাঞ্জা [ ১ম অঙ্ক } রণবীর। .. তা হলে আর তা হলে আর কিছু বলবার নেই।-যা, বাজে সময় ন হচ্ছে। ত্রিদিব বাবু যখন আমাদের নিমন্ত্রণ করে নিজেই অনুপস্থিত, তখন তার কর্তব্য আমরাই করি। মিস আা, ঝর্ণা দেবীর গানের পরে আপনার নৃত্য ছাড় আর কিছু জমবে না। সুতরাং-একটা অজাত্য আলতা। কিন্তু আমি ত নাচের ড্রেস পরে আসিনি। রণবীর। কোনও ক্ষতি নেই। এ [ সাগ্রহ মৃদু কাঠ ]-আপনি যে বেশেই নাচুন, আমি মুগ্ধ হবার জন্যে প্রস্তুত হয়ে আছি। মি আলতা, সেদিন মিলন-মন্দিরের উৎসবে একটিবার আপনার নৃত্য দেখেছিলুম, সেই থেকে প্রত্যহ রাত্রে আমি আপনাকে স্বপ্ন দেখি- আলতা। [ পাখার দ্বারা মৃদু প্রহার করিয়া ] মিথ্যে কথা বলতে আপনাদের একটুও বাধে না। মিথ্যে কথা নয়—এই অগ্নি ছুয়ে বলছি- [ সিগার তুলিয়া ধরিল } আলত।। আচ্ছা আচ্ছা! রণবীর। তাহলে নাচুন। আলতা। আপনার যখন এত আগ্রহ ঝর্ণা তুই একটা নাচের গান [ উঠি। ] মৃত্যুঞ্জয় । আপনার পা দুটি ইন্সিওর করা আছে ত! যদি না থাকে- রণবীর। কোনও লােকসান হবে না। কারণ উনি প্রাচীন ভারতীয় নৃত্যকলা দেখাবেন, বিলিতি জিমনাষ্টিক দেখাবেন না'। মৃত্যুঞ্জয় হঠাৎ হাসিয়া রণবীরের পেট খামচাইয়া ধরিলেন। মৃত্যুঞ্জয়। হিঃ হিঃ হিঃ- রণবীর। - শরীর। , ২য় দৃশ্য ] লাল পা ১৯ ও কি মশাই, পেট খামচাচ্ছেন কেন! ছাতুন-ছাড়ুন। আরে, এত বড় বিপদ হল দেখছি! আপনি কি রকম ভদ্রলােক মশাই। অপরিমিত হাস্যে মৃত্যুঞ্জয় রণবীরকে খামচাইতে লাগিলেন। ত্রিদিবের প্রবেশ ত্রিদিব । সুশ্রী সুগঠন, বয়স পঁয়ত্রিশের কাছাকাছি। ত্রিদিব । এ কি! কি হয়েছে ! এত হৈ চৈ কিসের? রণবীর। কোথা থেকে এক বন্ধু পাগল জুটিয়েছেন, 'বলা নেই তমা নেই খামচে খামচে গায়ের মাংস তুলে নিলে। তাই ত ! এ যে মৃত্যুঞ্জয় ! কি সর্বনাশ, ওর সামনে কেউ হাসির কথা বলেছে নাকি ? আলতা। কৈ, তেমন কিছু ত নয়। কিন্তু তাতে কি হয়েছে ? ত্রিদিব । তাতেই সর্বনাশ হয়েছে! ওর হাসি পেলে আর রক্ষে নেই। এমনিতে মৃত্যুঞ্জয় বেশ গম্ভীর প্রকৃতির লােক, কিন্তু একবার হাসি পেলে আর ওকে সামলানো যায় না, হাত-পা ছুড়ে আঁচড়ে কামড়ে ও একেবারে দক্ষযজ্ঞ বাধিয়ে দেয় ! কুমার। তাহলেছারপােকা নয়, আমাকে চিমটি কেটেছিল। ত্রিদিব । যা যাক। মৃত্যুঞ্জয় তুমি চুপ করে ব’স ! [ সকলকে সম্বােধন করিয়া ] আমার বড় ত্রুটি হয়ে গেছে, আপনাদের অভ্যর্থনা করবার জন্যে উপস্থিত থাকতে পারিনি। আলতা -তােমাদের কাছে অর্থাৎ মহিলাদের কাছে আমি বিশেষভাবে মার্জনা চাইছি। আঠা। কোথায় গিয়েছিলেন যে এত দেরী হ’ল ?

লাল পাঞ্জা { ১ম . ত্রিদিব । হঠাৎ এমন একটা কাজ পড়ে গেল স্বে অবহেলা করবা উপায় নেই। যাক, আমি আসার জন্যে আমােদ-প্রমাে যেন বিঘ্ন না হয়। যেমন চলছিল চলুক রণবীর। আমরা মিস্ আলতার একটি নৃত্য দেখার আশায় তাঁকে অনুরোধ কছিলুম-এমন সময় ত্রিদিব। [ জ কুঞ্চিত করিয়া ] নৃত্য! আলতা, তুমি—নাচবে? আলতা। রণবীর বাবু অনুরােধ করলেন, আর—সকলেরই ইচ্ছে- তাই- ত্রিদিব। [ গম্ভীর অপ্রসন্ন মুখে ] বেশ—সকলেরই যখন ইচ্ছে, আর তােমারও যখন অনিচ্ছে নেই, তখন তাই হােক। রণবীর। [ তীক্ষকণ্ঠে ] আপনার অনিচ্ছা আছে না কি? আপনি একজন শিক্ষিত ভদ্রলােক, আপনার কাছ থেকে এটা ত প্রত্যাশা করিনি। ত্রিদিব । আমি বিলেত ফেরৎ বটে, এবং শিক্ষিত ভদ্রলােক বলে নিজের পরিচয় দিয়ে থাকি। তবু পুরকন্যাদের প্রকাশ্যে নাচানাচির ব্যাপারটা ঠিক বরদাস্ত করতে পারিনা রণবীর বাবু। কিন্তু আমার মতামতে কিছু আসে যায় না। আপনারা আজ আমার অতিথি, আপনাদের মনােরঞ্জন করাই আমার কর্তব্য। এমন কি আপনারা যদি আমাকে নাচতে বলেন তাহলে হয়ত আমাকেই নাচতে হবে-[ মৃত্যুঞ্জয় হাসিবার উপক্রম করিল ] হাসির কথা নয়- হাসির কথা নয়, তুমি চুপ করে ব’স। রণবীর। বেশ, তাহলে এবার আরম্ভ হােক ঝর্ণা উঠিয়া গিয়া পিয়ােনােতে বসিল এবং গান গাহিতে আরম্ভ করি গানের ভাব ও ছন্দানুযায়ী আলতা নৃত্য করিল।

য় দৃশ্য } ২১ লাল গঙ্গা ঝর্ণা ঝরার হন্দেরে নেচে চ জল-ধারার আকুল আনন্দেরে নেচে চল পিছল স্রোতে ছড়ানাে-উপলপথে মেখে নে রবির হাসি বন ফুলের গন্ধ রে! মনে যে লাগল পরশ ফাগুনের ফেনিল হরষ- চামেলি পড়ল খসে শিথিল বেণী বন্ধে রে। ক) নৃত্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ সমস্ত অংলো নিভিয়া গেল। অন্ধকারে গণ্ডগোল—“কি হল! ‘মেন ফিউজ পুড়ে গেছে'—ত্রিদিবের কণ্ঠস্বর—অাপনারা ব্যস্ত হবেন না, আমি আলোর ব্যবস্থা করছি। বেয়ারা ! বেয়ারা! অকস্মাৎ তাক্ষ অনসৈর্গিক হানিতে গােলমাল শুরূ হইয়া গেল ! পঁচি সেকেণ্ড পরে আবার আলাে জ্বলিয়া উঠিল। সকলে পরম্পর তাকাইতে লাগিলেন। তারপর ত্রিদিব দেখিতে পাইলেন অদূরে একটি ঢালাইয়ের উপর লাল খাম রাখা আছে— ত্রিদিব । একি। খাম কোথা থেকে এল ? খাম ছিড়িয়া লাল পাঞ্জা বাহির করিলেন ত্রিদিব । -- লাল পাঞ্জা! সকলে। ত্রিদিব '. [. বিভিন্ন স্বরে ] লাল পাঞ্জা- পাঞ্জার ওপর কি লেখা রয়েছে দেখছি—[ পাঠ ] ‘আলতা দেবীর পিতা- [ থামিয়া গেলেন ] আততা। [ ভয়ার্ত কণ্ঠে ] কি-কি হয়েছে ত্রিদিব বাবু ?

২২ লাল পাঞ্জ। ( ১ম অন্ধ ! ত্রিদিব। কিছু না। •[ পাঞ্জা মুষ্টিতে তাল পাকাইয়} পকেটে রাখলেন আলতা, চল, এখনি তােমাকে বাড়ীতে যেতে হবে। আলতা। কে? বাবার কথা কি লেখা আছে ওতে ? ত্রিদিব । তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। চল আলতা। রণবীর। অসুস্থ! তাহলে ত আমার যাওয়া দরকার, আমি ডাক্তার! ত্রিদিব বাবু, আপনি থাকুন, আমি আলত। দেবীকে বাড়ী নিয়ে যাচ্ছি। ত্রিদি। আপনার আর দরকার হবে না রণবীর বাবু। আলতা। আঁ! তবে কি-তবে কি- ত্রিদিব। এস আলতা। ( আলতাকে ধরিয়া লইয়া প্রস্থান) কুমার। দারুণ দেবতার ডাক যে পেল তার আগুন লাগিয়াছে সুখের ঘরে ! সহসা একটি মুণ্ড সেটীয় পিছন হইতে উকি মারিল ও কি ! কে তুমি : বেরিয়ে এস। একটী ভদ্রবেশী যুবক বাহির হইয়া আসিল রণবীর। আপনিও কি ত্রিদিব বাবুর অতিথি নাকি ? যুবক। ত্রিদিব বাবু আমাকে নিমন্ত্রণ করতে ভুলে গিয়েছিলেন। বটে! কে আপনি ? যুবক। দেখতেই পাচ্ছেন, আপনাদের মত একজন ভদ্রলােক। রণবীর। হু’-এখানে ঢুকলেন কখন ? যুবক। এই সবে মাত্র ঢুকে আপনাদের লীলা খেলা • দৈতে আরম্ভ করেছিলুম, এমন সময় আলাে নিভে গেল। রণবীর। নাম কি ? যুবক। লালাদ পাঙ্গা। রণবীর। রণবীর।

২য় দৃশ্য ]
ধুবক।
লালপাঞ্জা
মৃত্যুঞ্জয়। [ হঠাৎ চীৎকার করিয়া ] লাল পাকা - লাল পাঞ্জা।
ধরেছি[ যুবককে চাপিয়া ধরলেন ]
. ছেড়ে দাও বাবা বীমা কোম্পানী। আমাকে বীমা
করিয়ে কোন লাভ হবে না, হয়ত যা প্রিমিয়াম দিতে
দিতে দেখবে ফৌদ্ধ হয়েছি। কেন মিছে লােকসান
দেবে-ছেড়ে দাও।
মৃত্যুঞ্জয়।
ধরেছি-লাল পাঞ্জা—ধরেছি-
ছাড়বে না। নিতান্তই তাহলে কাতুকুতু দিতে হল দেখছি।
মৃত্যুঞ্জয়কে বগলে কাতুকুতু দিল, মৃত্যুঞ্জয় তাহাকে ছাড়িয়া দিয়া উচ্চৈঃস্বরে
হাস্য ও দাপাদাপি করিতে লাগিল। যুবক সকলের পরিবার
চেষ্টা ব্যর্থ করিয়া প্লােয়ন করিল
যাঃ! নিশ্চয় লাল পাঞ্জা— মৃত্যুঞ্জয়কে | আঃ থামুন না
মশাই লাফাচ্ছেন কেন?
মৃত্যুঞ্জয়। লাল পাজাকাতুকুতু - [ লাফাইতে লাগিলেন ]
.
রণবীর।

দ্বিতীয়
অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য।
অজয়ের বহিঃকক্ষ। ঘরের একপাশে তক্তপােষের উপর ফরাস পাতা, কয়েকটী
চেয়ারও আছে। অজয় ফরাসের উপর একটা তাকিয়া কোলে লইয়া বসিয়া আছে ;
ত্রিদিব একটা চেয়ারে উপবিষ্ট। পূর্বোক্ত ঘটনার পর মাসাবধি কাল অতীত হইয়াছে।
সময়-এভ'ত।
তাহলে আশুবাবুর ‘উইলের আর নড়চড় হতে পারে না?
অজয়।
ত্রিদিব ।
অজয়।
ত্রিদিব ।
অজয়।
ত্রিদিব ।
অর্থাৎ আমাকেই আল্তা দেবীর অভিভাবক হতে হবে।
হ্যা।
। তবে তুমি ইচ্ছা করলে আদালতে দরখাস্ত দিয়ে
ওপদ ত্যাগ করতে পার। আইনতঃ তােমার ওপর কোনও
জোর নেই।
আমি যদি পদত্যাগ করি তাতে কি ফল হবে ?
আ ল তা আ পা ত ত আদালতের শাসনাধীনে চলে যাবে ;
তারপর কোর্ট যাকে ভার দেবেন সেই অভিভাবক হবে।
কোর্ট সম্ভবত আতার পিতৃবন্ধু কেশব বাবুকেই তার
গার্জেন নিযুক্ত করবেন এবং কেশববাবুরও সম্ভবত তাতে
আপত্তি হবে না।
ও-[ চিন্তিত মূখে নীরব রহিল ]
কিন্তু তুমি এত উদ্বিগ্ন হচ্চ কেন আমি ত বুঝতে পারছি
না। আতার অভিভাবক হওয়া এমন কি দুর্ঘটনা যে
অজয়।
ত্রিদিব ।

'স দৃশ্য ] লাল পাঞ্জা অজয়। ত্রিদিব। তুমি সেই চিন্তাতেই একেবারে কাবু হয়ে পড়েছ?—জাননা, এ সৌভাগ্য পাবার জন্যে কত বড় বড় লােক লােলুপ হয়ে আছে। তুমি বুঝছ না ত্রিদিব দা। আমি দীপরিদ্র- এই পাহাড়-প্রমাণ দায়িত্ব আমি কি বহন করতে পারব ? ভাই, দীন-দরিদ্রের কঁাধই সব চেয়ে বেশী মজবুত হয়, সুতরাং পাহাড়-প্রমাণ দায়িত্ব যদি কেউ বহন করতে পারে ত দীন দরিদ্রই পারে। যাঁরা রূপাের চামচে মুখে করে জন্মগ্রহণ করেছেন, শেষ পর্যন্ত চাচেটা বহন করবার ক্ষমতাও আর তাঁদের থাকে না। যেমন ধর আমি। বাবা? অনেক টাকা রেখে গিয়েছিলেন, তাই গিয়েছিলেন, তাই বিলেত থেকে ব্যারিষ্টারী পাশ করে এসেছি ; কিন্তু এমন অকর্মণ্য যে, সে বিদ্যেটা কাজে লাগাবার ক্ষমতা পর্যন্ত নেই। আমার ব্যারিষ্টারী করা প্রায় লুকোচুরি খেলার মত দাঁড়িয়েছে। কি রকম ? হয় মর্কেল আমাকে দেখে পালায়, নয় আমি মক্কেল দেখে পালাই—এই আয় কি! { হাসিয়া ] ত্রিদিব দা, তুমি নিজের মূল্যটা কমাতেই ভালবাস কিন্তু তাতে কি সকলকে ঠকানাে যায় ! তুমি যে কি বস্তু তা আমি জানি। ‘আমি আবার কী বস্তু ? মুখের সামনে বলব না; কিন্তু আমি জানি। আরে এ যে হেঁয়ালির মত ঠেকছে, নিলে করছ কি প্রশংসা করছ বুঝতেই পারছি না। [ সহসা সচকিত ভাবে ] আরে অজয়। ত্রিদিব । অজয়। ত্রিদিব । অজয়। ত্রিদি।

লাল প , * ত্রিদিব। অথম। সর্বনাশ! তুমি আমাকে লাল পাঞ্জালে সন্দেহ করছ না ত? | অজয় হাসিতে লাগিল ] আরে কি বিপদ! তুমি কি ক্ষেপে গেলে নাকি ও কথামাক। জাননা, যে রাত্রে আশুবাবু মারা যান সেদিন সকালে তিনি লালপঞ্জার চিঠি পেয়েছিলেন ? অা-তাই নাকি? আর, আমার বিশ্বাস তাইতেই ভয় পেয়ে তিনি এই অসম্ভব উইল তৈরী করেছিলেন। -না-ও তােমার। বাজে কথা। আশুৰাবু বিচক্ষণ ব্যক্তি ছিলেন ; আর উইলের ব্যবস্থাও এমন কিছু মন্দ করে যান নি। যদিও-কেশব বাবুকে সম্পত্তির ট্রাষ্টি করাটা সদ্বিবেচনার কাজ হয়েছে কি না বলতে পারি না, ভয়ানক ধূৰ্ত্ত আর ধড়িবাজ বলে বাজারে লােকটার নাম ডাক আছে। কিন্তু তােমাকে যে আশুবাবু আলতার গার্জেন নিযুক্ত করে গেছেন এইটেই সব চেয়ে আনন্দের ত্রিদিব। কথা। অজয়। ত্রিদিব। তুমিও এই কথা বলছ ত্রিদিব দা ? নিশ্চয় বলছি। আমার বিশ্বাস আক্তার তোমার মত একজন অভিভাবকেরই দরকার হয়েছিল। তােমাকে সত্যি বলছি অজয়, আন্ত। সম্প্রতি যেন একটু বাড়াবাড়ি করছিল ; আমাদের দেশে বাঙালীর ঘরের মেয়ের পক্ষে যা যা অশােভন, তাই যেন সে একটু অতিরিক্ত মাত্রায় করছিল- অজয়। লাল পাঞ্জাও তাই লিখেছিল।

“অম দৃশ্য! ত্রিদিব । ত্রিদিব। অক্ষয়। ত্রিদিব । অজয়। লাপাঙ্গা ২৭. আঁাল কি! আরে এত বড় মুস্কিল হ’ল দেখছি। অমি যা বলি লাল পাঞ্জাও যদি তাই বলে তাহলে সন্দেহের কারণ হয়ে পড়ে। [ হাস্য ! না না, হাসির কথা নয়- হাসির কথা নয়, ভয়ানক গম্ভীর কথা। ত্রিদিবদা খােননা, আলতার দায়িত্ব গ্রহণ করাই আমি স্থির করেছি। এই ত চাই। দায়িত্ব ভারী বলে যদি ভয় পাও, তাহলে তােমার মনুধ্যত্বের মূল্য কি ? মনুষ্যত্বের মূল্য আমার যাই হােক, তবু ভয় যে পাচ্ছি ত্রিদিবদা তা অস্বীকার করবার উপায় নেই। দায়িত্ব নিতেই হবে জানি, তবু ভয় কিছুতেই যাচ্ছে না। ভয়টা কিসের ? নিজের দুর্বলতার। বুঝতেই পারছ, আমায় কঠোর হতে হবে। যদি কঠোর হতে না পারি ? [ ঘাড় নাড়িয়া ] তা বটে। আতাকে শাসনে রাখা খুব সহজ হবে না। আজই সে এ বাড়ীতে আসবে। এইখানেই তার থাকার ব্যবস্থা করেছি। কারণ দুর থেকে ত অভিভাবক হওয়া চলে না। তাকে আমার কাছে আমার বাড়ীতে থাকতে হবে। সে ত। ঠিক কথা। [ ইতস্ততঃ করিয়া ] উইলের সব provision আমি জানি না। তােমার সম্বন্ধে কি রকম ত্রিদিব । অজয়। ত্রিদিব । অজয়। ত্রিদিব। অজয়। ব্যবস্থা হয়েছে ? নগদ বিশ হাজার এবং যতদিন অভিভাবক থাকব ততদিন মাসিক আড়াই শ টাকা পাব ।

লাল পল ২য় অঞ্জ ত্রিদিব। অজয়। ও-নগদ বিশ হাজার ক্লিসের জন্যে ? তা ঠিক জানি না। শুনেছি, আশুবাবু নাকি আশুবাবু নাকি আমার বাবার কাছে কোনো সময়ে ঐ টাকা ধার নিয়েছিলেন, তাই বােধ হয় মৃত্যুকালে শােধ দিয়ে গেলেন। ত্রিদিব। ও- অজয়। ত্রিদিব। ত্রিদিব দা, এখন যদি কিছু উপদেশ দেবার থাকে ত দাও কিছু দরকার হবে না অজয়! তুমি নিজে ভাল বুঝে যে পথে চলবে সেইটেই হবে সব চেয়ে ভাল পখ। উপদেশ দিয়ে তােমাকে বিব্রত করব না; তবে মাঝে মাঝে এসে তােমাদের নূতন ঘরকন্না দেখে যাবো। [ ঈষৎ গাঢ়স্বরে ] আতা আমার অশেষ স্নেহের পাত্রী, শুধু এইটুকু স্মরণ রেখাে! আজ উঠলুম- অনয়ার প্রবেশ তন্ন দাঙ্গী, মাথায় কোকড়া চুল, চোখদুটী হরিণের মত আকর্ণ বিস্তৃত। মূপ- খনি স্বভাবত: স্নান, হানিলে মনে হয় যেন তার করিয়া আসিতেছে। পরিবানে মামুলি শাড়ীশেমিজ। তা। অজয়দা, আজ কি চা খেতে হবে না- ( ত্রিদিবকে দেখিয়া সরিষা আসিল ) অজয়। অনু, দু’পেয়ালা চা দিয়ে যাও [ অনুর সস্থান ] ত্রিদিব । [ বিস্মিত ভাবে ] এ মেয়েটি কে? অজয় । অনসূয়া আমার বোন। ত্রিদিব । বােন! তােমার বোন আছে তা ত জানতুম না ! অজয়। আমিও জানতুম না। এক দিন গভীর রাত্রে গঙ্গার ঘাটে ওকে কুড়িয়ে পেয়েছি ।

‘ম দৃশ্য ) লীল পাঞ্জা ২৯ জয়। ত্রিদিব। আরে তুমি যে অবাক করলে দেখছি। গঙ্গার ঘাটে বােন কুড়িয়ে গেলে কি রকম? সে অনেক কথা ত্রিদিবদা, আর এদিন বলব। কাহিনী বড় দুঃখের। সংসারে ওর ঠাই ছিল না, তাই গঙ্গায় ডুবতে যাচ্ছিল। আমি কুড়িয়ে এনে ওকে আমার কাছে রেখেছি। ত্রিদি।... কুমারী। হ্যা, কুমারী। [ ট্রে’র উপর দু’পেয়ালা চা লইয়া অনসূয়ার প্রবেশ ] অনু, ইনি ত্রিদিববাবু, একে আমি দাদা বলি। অনসূয়া ত্রিদিবকে প্রণাম করিল অজয়। ত্রিদিব । করতে হয়, [সা] ম্লেচ্ছ আরে হয়েছে হয়েছে। কি বলে আশীৰুদ অজয় ? হা-হা-চিরজীবিনী হও। সংসর্গে থেকে সব ভুলে মেরে দিয়েছি। ও আশীৰ্বাদ করবেন না, আশীৰ্ব্বাদ করুন যেন শিগগির মরতে পারি। অনু। অজয়। ছি অনু, আমার কাছে কি দিব্বি করেছ ভুলে গেলে । অনু। 7 ত্রিদিব । আচ্ছা-আর বলব না। না, ও সব কথা একেবারেই বলা উচিত নয়। ভয়ানক গহিত কথা। [ চা পান করিয়া ] আঃ কি চমৎকার চা তৈরী করেছ। বেয়ারার হাতের চা খেয়ে খেয়ে চায়ে অরুচি ধরে গিয়েছে, এবাের থেকে ভাল চা খাবার হলেই অনুর কাছে চলে আসব—কি বল অনু? তুমি ইচ্ছে লালঞ্জা { ২য় অঙ্ক অনু। ত্রিদিব। : অজয়। অজুয়। অনু। যখন অজয়ের বােন, তখন আমারও বােন। অর্থাৎ আমিও তােমার দাদা। দাদা--[ সহসা অচিলে মুখ ঢাকিল ] [ বিপন্নষ্ঠাব ] কি হল! ঐ রে, হয়ত কী বেফাঁস কথা বলে ফেলেছি! নাঃ আমি উঠলুম অজয়-কোটের বেলা হয়ে গেল। মক্কেল না থাক, বার-লাইব্রেরীতে হাজৰিত দিতে হবে। ( প্রস্থান) অনু, তােমার নিজের দাদা আছেন-না ? অনু উত্তর দিল না ফোপাইতে লাগিল কেন তার নাম বলছ না অনু; নাম বললেই আমি তাকে খুঁজে বার করতে পারি। না-না, সে আমি পারব না। [ দ্রুত প্রস্থান । অজয় বিষয়ভাবে বসিয়া রহিল। সহসা আল তার প্রবেশ অজয় তাড়াতাড়ি উঠিয়া দাড়াইল অজয় বাবু, এ কথা কি সত্যি! আমাকে আপনার বাড়ীতে থাকতে হবে ? হ্যা, সেই রকম ব্যবস্থাই হয়েছে। কিন্তু এর মানে কি ! আমি নিজের গাড়ীতে থাকতে পাব না কেন? তার অনেক কারণ আছে ! একটা কারণ এই, যে, অতবড় বাড়ী তােমার একার জন্যে দরকার নেই, তাই ওটা'কেশব বাবু ভাড়া দেবার ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু এ কি অত্যাচার। আমি নিজের বাড়ীতে থাকতে পাব না? আলতা। অজয়। আলতা। = অজ্য। আলতা ।

: ১৯ দৃশ্য ] লপাঞ্জা অজয়। অজয়। এ বাড়ীঝে তােমার নিজের বাড়ী মনে করতে পার। কিন্তু আমি এখানে থাকতে চাই না।[ মুরিদিকে অবজ্ঞাসূচক দৃষ্টিতে তাকাইয়া ] এ রকম বাড়ীতে থাকা আমায় অভ্যেস নেই, আমি থাকতে পারব না। অবস্থা গতিকে মানুষকে গাছতলায় থাকতে হয়—এ বাড়ীটা। ত আমার মন বােধ হয় না। অনেক দিন এতে আছি, কোনও কষ্ট হয় নি। তােমারও কষ্ট হবে না। [ জ্বলিয়া উঠিয়া ] আপনি আমায় ঠাট্টা করছেন ! তােমার সঙ্গে আমার ঠাট্টার সম্বন্ধ নয়, আমি তােমার আলতা। অজয়। আলতা । অজয়। ত। আমি জানি। বাবা যে ভুল করে গেছেন সেই ভুলের সুযােগ নিয়ে আপনি আমাকে জব্দ করতে চান। কিন্তু আমি আপনার শাসন মানি না, আমি আমার নিজের ইচ্ছামত চলব। মনে রাখবেন, এটা স্ত্রী স্বাধীনতার যুগ, নারী নিৰ্যাতন এ যুগে অচল ! তা আমার মনে আছে। কিন্তু তুমি কি করতে চাও? আমি এখানে থাক না। কিন্তু এখানে ছাড়া আর ত কোথাও তােমার আশ্রয় নেই! কেউ আশ্রয় দেবেও না; কারণ আশ্রয় দিলে তাকে আইনত অপরাধী হতে হবে। [ বিবর্ণ মুখে ] আশ্রয় নেই। কেউ আমাকে আশ্রয় দেবে আলতা। অজয়। আলতা। না। না। আলতা চেয়ারে বসিয়া পড়িল তাহলে এই খানেই আমাকে থাকতে হবে ? 'আলতা।

লাপা। [২য়-অঙ্ক। নয়। হ! উ: এ সহ! অসহ। [ প্রজ্বলিত চক্ষে ] অজয় বাবু, আপনার মৎলব আমি বুঝেছি। আপনি আমাকে নিজের বলে এনে পদদীপ ] কিন্তু তা হবার নয়। আমার প্রাণ থাকতে তা হবে না জানবেন। তোমার কথা আমি বুঝতে পারছি না, বােঝবার দরকারও নেই। মােট কথা, তুমি এই বাড়ীতে থাকবে এবং আমার মতানুযায়ী চলবে। এর বেশী কিছু আমি তােমার কাছে চাই না, কোনােদিন প্রত্যাশা করব না। এবার তুমি ভেতরে যাও। এখনি হয়ত কোনও লােক আসবে । [ ঔদ্ধ বিদ্রুপের সুরে ] আমাকে কি হারেমের মধ্যে পর্দানশীন আলতা। অজয়। হয়ে থাকতে হবে ? না। কিন্তু বিনা প্রয়োেজনে পুরুষের সঙ্গে বেশী মাখামাখিও আমি পছন্দ করি না। আজ বাবা নেই—তাই- মুখ ঢাবিয়া কাদিয়া ফেলিল আলত। উঃ ষড়যন্ত্র ! অনসূয়ার প্রবেশ অনু। আলতা। অনু। ওমা! আলতা এসেছে? [ দ্রুতপদে নিকট গিয়া হরণপুৰ্ব্বক ] এস ভাই। মুখ তুলিয়া ] তুমি আবার কে? আলতার মুখ দেখিয়া মুগ্ধ বিস্ময়ে ] আঁ! অালত। এত সুন্দর! অজয়দা, কি দুষ্ট, তুমি একবারও ত বলনি যে আলতা এত সুন্দর! এ যে চোখ ফেরানাে যায় না। তুমি কে? আলতা।

১ম দৃশ্য ]
পাঞ্জা
অনু। আমার পরিচয় পরে দেবে ভাই—এখন এস [ হাত ধরিয়া
টানিয়া তুলিল ] সকাল বেলাই বুঝি রাগারাগি কান্নাকাটি
করতে ভ্যাছে? তাহলে সমস্ত দিনটা খাপ যায়।
তুমি আসবে শুনে কখন থেকে চা-টা সব তৈরী করে
রেখেছি ; তক্ষণে সুব ঠাণ্ডা জল হয়ে গেল।
অজয়।
ঠাণ্ডা জলই ভাল। তাতে মাথাটা একটু ঠাণ্ডা হতে
পারে।
আল্তা। অজয় বাবু, আপনি—আপনিউ, লাল পাঞ্জা এত
লােককে শাস্তি দেয়, আপনাকে শাস্তি দিতে পারেনা।
অনু আলতাকে টানিয়া লইয়া গেল

দ্বিতীয় দৃশ্য
[ পার্কের এক অংশ। পার্ক ঘিরিয়া বড় বড় বাড়া দেখা যাইতেছে। কাল—মধ্যাহ্ন।
একটি বেঞ্চের উপর লালাদ বসিয়া আছে ও নিজ মনে আঙ্গুল গণিয়া
জল্পনা করিতেছে।
লালাদ। এক দুই তিন চার।-না, পাঁচ। মৃত্যুঞ্জয় বাবুকে বাদ
দেওয়া চলেনা। সৰ্বসাকুল্যে পাঁচটি। জাল ক্রমে গুটিয়ে
আসছে।
শেখরনাথ ঈষৎ টলিতে টলিতে প্রবেশ করিল ও লালদের পাশে উপবিষ্ট হইল।
তাহার গায়ে ময়দা টুইলের সার্ট ; মাথার চুল উস্কখুস্ক ! চেহারা ভাল কিন্তু
অত্যধিক অত্যাচারে বিকৃত হইয়া পড়িয়াছে ; চক্ষে একটা অস্বাভাবিক
দীপ্তি। বয়স চবিশ-পঁচিশ ।
শেখর।
[ লালচাদকে নিরীক্ষণ করিয়া তুমি ছােটলােক।
লালাদ। তাই নাকি! কিন্তু মশাই এত শিগগীর বুঝলেন কি
করে ?
লালাদ।
তােমার গায়ে ভদ্রলােকের সাজ পােশাক, সুতরাং তুমি
ছােটলােক হতে বাধ্য। যারা ছােট লােকের মত জামা-
কাপড় পরে কিম্বা একেবারেই পরে না, তারাই শুধু
ভদ্রলােক।
নেহাৎ মিথ্যে নয়। কিন্তু এই দিব্যজ্ঞানটি লাভ ই কি
করে ? আপনা-আপনি, না দ্রব্যগুণে?
তােমার মত একটা ছোটলােককে আমি খুঁজে বেড়াচ্ছি -
কিন্তু পাচ্ছিনা। হয়ত তুমিই সে ! [ সন্দেহপ্রখর দৃষ্টিতে
চাহিয়া রহিল, তাহার মুষ্টি দৃঢ়বদ্ধ হইল ]
খৈর।

২য় দৃশ্য ] লালপাঞ্জা লালাদ। দোহাই আপনার, আমি আর যাই হই ‘সেনই। এই আপনার গা ছুঁয়ে বলছি। শেখর। সব গুলিয়ে যাচ্ছে—টাকা কড়ি যা ছিল. ফুরিয়ে গেছে। শেষ কপর্দক শুড়ির বাড়ী দিয়ে এসেছি ! [ হাস্য শেষ পারাণীর কড়ি আমার কণ্ঠে নিলাম গান—একটা গান শুনবে ? লালাদ। যদি দেহতত্ত্ব না হয়, শুনতে রাজি আছি। দেহতত্ত্ব নয়-মনস্তত্ত্ব। মাতালের মনস্তত্ত্ব, -গীত- ওগো বহ্নি, জ্বলে জ্বলে বহে জীবন নদী খর বৈতরণী কল কল ছলছল ! তারি তীরে সে তিমিরে প্রাণ-বহ্নি জ্বলে জ্বলে। হাসে মৃত্যু বিষ-কণ্ঠে খল খল নাচে ধ্বংস-কঁপে পৃথ্বী টলমল ; তারি ছন্দে মহানন্দে চিতা-ধূমে শব-গন্ধে প্রেম-বহ্নি, জ্বলে জ্বলে।। লালা। গলাটি ত বেশ। চেহারা দেখেও ভদ্রলোেক-থুড়ি- ছােটলােক বলেই বােধ হচ্ছে! লেখাপড়াও জানেন বলে মনে হয়। তবে এতটা অধঃপতন হল কি করে ? অধঃপতন এখনো কিছুই হয়নি। ফাসির দড়ি দেখেছেন ? সেই দড়ি গলায় জড়িয়ে যেদিন কঁসির মঞ্চ থেকে ঝুলে শেখর।

লাল পাঞ্জা
[ ২য়.অৰু
লালাদ।
পড়ৰে সেইদিন হবে আমার চরম অধঃপতন ; তার আগে
নয়। [ উঠিয়া কিছুদুর গিয়া ] আমায় একটা চাকরি দিতে
পারবেন? আরও কিছুদিন বাঁচিতে চাই। কিন্তু বাঁচতে
হলে টাকা দরকার। দেবেন একটা চাকরি ?
[ স্বগত। চাকরি আমি
আমি পকেটে নিয়ে বসে আছি।
[ প্রকাশ্যে ] কি বললেন—চাকরি ! এ আর বেশী কথা
কি? ঐ যে সামনেই প্রকাণ্ড বাড়ী দেখছেন, ওর মালিক
মস্ত বড় মানুষ,প্রকাণ্ড ব্যবসাদার-ঐখানে চলে যান।
চাকরি জুটতে কতক্ষণ ?
ঐ বাড়ী ? আচ্ছা যাইতে যাইতে ফিরিয়া ] আপনাকে
নমস্কার। আপনার ভদ্রলােকের মত সাজ পােষাক বটে,
তবু আপনি ভদ্রলােক।
[ প্রস্থান ]
[ কিছুক্ষণ চাহিয়া থাকিয়া ] সত্যি মাতাল ? না ঢং করেছিল ?
কিছু মৎলব নেই ত ? [ উঠিয়া ] এখানে আর নয়, গা
তুলতে হল। না আবার সব জট পাকিয়ে যাচ্ছে।
( প্রস্থান)
লালাদ।

তৃতীয় দৃশ্য কেশবের বহিঃকক্ষ। চেয়ার টেবিল ইত্যাদি দ্বারা সজ্জিত। টেবিলের ওপর টেলিফোন। কেশব একাকী বসিয়া কাজ করিতেছেন। টেলিফোন বাজিয়া উঠিল। হলো : হা: ৪ ব্রোকারের অফিস থেকে কথা বলছেন ? কি চাই••• দর নামছে ? না না, অ্যামাল- গামেটেড এখন ছাড়বেন না—আরও দশ হাজার কিনুন••• হা হা দশ হাজার। কভার করতে হবে ত।•• •••ওসব বাজে বাজার গুজব ; অ্যামাগামেটেড আবার চড়বে। •••কী বলছেন, আপনার সন্দেহ আছে ?••••••শতকরা পঁচিশ টাকা অগ্রিম চাই ? বেশ, চেক পাঠিয়ে দিচ্ছি।••• কি বলছেন ?••• অবশ্য আমার নামে কেনা হবে !...... হ্যা আমার টাকা—আমার টাকা। আচ্ছা নমস্কার [ ফোন রাখিয়া কুঞ্চিত মুগে | আমার টাকা নয়, এ সন্দেহ ওদের হল কোত্থেকে? না, বেশী দেরী করলে চলবে না; তাড়াতাড়ি আর টাকা খাটিয়ে নিজের লােকসান তুলে নিতে হবে! বেশী জানাজানি হবার আগে-[ চেক লিখিয়া ঘণ্টি টিপিলেন ; এক-ট্য কর্মচারী প্রবেশ করিল ] এই চেকখানা এখনি পাঠিয়ে দাও। চেক ইয়া কর্মচারীর প্রস্থান কেশব উঠিয়া চিন্তাক্রান্ত মুখে পায়চারি করিলেন (কশব। [ চমকিয়া কে ডাকলে ?-না, কেশব’ বলে আমাকে কে ডাকবে ?-কিন্তু ঠিক যেন মনে হল কে ডাকলে,- লাল পাঞ্জা কেশব! গলাটা যেন চেনা চেনা না, ভুল শুনেছি। *[মুখের উপর হাত চালাইয়া] সে রাত্রে লাল পাঞ্জার সেই হাসি-[ শিহরিয়া উঠিলেন ] , ঝর্ণার প্রবেশ ঝর্ণা। ঝর্ণা। কেশব। ঝর্ণা। ঝর্ণার [ উৎসুক ভাবে ] বাবা, গান শুনলে ? গান। শােনন নি? পার্কে বসে কে একজন গাইছিল। তােমার জানলা খোলা রয়েছে, তবু শুনতে পাওনি ? উঃ কি সুন্দর গান ! না, আমি শুনিনি। [ আবদারের সুরে ] বাবা, আমাকে একজন ভাল গানের মাষ্টার রেখে দাও না। গান শিখতে এত ইচ্ছে করে, কিন্তু শেখাবার কেউ নেই। সেদিন ললিতাদের বাড়ীতে সকলে গান গাইতে বললেন, কিন্তু ভাল গান একটাও জানি বলে গাইতে পারলুম না। গানের মাষ্টার ! আচ্ছা, দেখব দেখাে লক্ষ্মীটী। আজ ঐ গানটা এত ভাল লেগেছে, কিছুতেই ভুলতে পারছি না [ ‘ওগো বহ্নি’ গানের সুর ভজিবার চেষ্টা করিল ] ঝর্ণা, ভেতরে যাও-এখন কাজের সময় । { জিভ কাটিয়া ] অফিসে বুঝি গান গাইতে নেই! আচ্ছা- কিন্তু মাষ্টারের কথা মনে থাকে যেন [ প্রস্থাননাদ্যত ? তােমার দাদা বাড়ীতে আছেন। দাদা ত নিজের ঘরে বসে বসে কবিতা আওড়াচ্ছে। কী কেশব। ঝর্ণা। কেশব । ঝর্ণা। কেশব। ঝর্ণা।

*** . * ঝর্ণা। ( প্রস্থান ৩য় দৃশ্য । লাল পাঞ্জা যে হয়েছে দাদার ! রাতদিন খালি কবিতা আর কবিতা। তাও যদি ভাল কবিতা হত! তা নয়, খালি দুঃখের কথা, শুনতে শুনতে মন খারাপ হয়ে যায়। কেশব। হু। তাকে একবার আমার কাছে পাঠয়ে দাও। আচ্ছ- অার্দালির প্রবেশ আর্দালি। হুজুর, এক বাবু মুলাকাত মাংতে হায়। কেশব। ক্যা মাংতা ?.. আর্দালি। মালুম নহি হুজুর । কেশব। বৈঠনে বােলল । আর্দালি। হুজুর [ প্রস্থান উদাস ভঙ্গীতে কুমার প্রবেশ করিল। কেশব তাহাকে তীচক্ষে নিরীক্ষণ করিলেন । কেশব। কুমার। কেশব । কুমার, কি হয়েছে তােমার? দুঃখের বরযায়- থাক। আমি তােমার কাব্যের উচ্ছাস শুনতে চাই না। আমি জানতে চাই, তােমার কি হয়েছে । কুমার নীরব রহিল । তুমি জানো তােমার এই অবহেলায় আমার কত ক্ষতি হচ্ছে ? আমি খবর পেলুম, আলতা সম্বন্ধে তুমি সম্পূর্ণ উদাসীন হয়ে আছ, অন্য লােকে যখন তাকে নানাভাবে বশ করবার ফন্দি আঁটছে, তুমি আকাশের দিকে মুখ তুলে, দুঃখের কবিতা আওড়াচ্ছে। এর মানে কি? এর মানে ত আপনি জানেন । } , কুমার।

লাল পাঞ্জা •[ ২য় অঙ্ক কুমার। কেশব। [ কুদ্ধস্বরে ] সেই হতভাগা হা-ঘরে মেয়েটা। যাকে তুমি রংপুর থেকে নিয়ে পালিয়ে এসেছিলে—আর প্রত্যাশা করেছিলে যে তার সঙ্গে আমি তােমার বিয়ে দেব! মুখু ইডিয়ট কোথাকার। যে তােমার সঙ্গে কুলত্যাগ করতে পারে, সে আর একজনের সঙ্গে তােমাকে ত্যাগ করতে পারে না? তাকে তুমি বিয়ে করতে চাও। বাবা-সেতার কোনাে দোষ নেই, আমি তাকে বিয়ে করব বলে চুপ কর। বাপের সামনে এসব কথা উচ্চারণ করতে লজ্জা হয় না। রংপুরে তােমাকে ব্যবসার কাজে পাঠিয়েছিলুম তুমি সেখানে গিয়ে এক কেলেঙ্কারি করে এলে! কোথাকার এক বিধবার মেয়ে, তাকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হলে। জানো, মেয়েটা যদি এখন মামলা করে, তােমাকে নিয়ে পুলিসে টানাটানি করবে ? [ অবরুদ্ধ কণ্ঠে ] বাবা, সে মরে গেছে। [ সাগ্রহে ] মরে গেছে। তাহলে ত কোনাে গােলমালই নেই। যে মরে গেছে তার জন্যে আক্ষেপ করা বৃথা। শােননা কুমার, যে ছেলেমানুষী করে ফেলেছ তার আর চারা নেই, কিন্তু এখন থেকে সব ভুলে গিয়ে আলতার পেছনে লেগে থাক। আমি আশ্চর্য হয়ে যাই যে আলতার মত মেয়ে হাতের কাছে থাকতে অন্যদিকে তোমার মন যায় ! কিন্তু আবার কিন্তু! ( গলা খাট করিয়া ] আর একটা দিক ভেবে দেখছ না! যে সম্পত্তি এখন আলগােছে ধরে আছি, তুমি কুমার। কেশব। যা। কুমার। কেশব।

৩য় দৃশ্য ] লাল পাঞ্জা young idiot! আলতাকে বিয়ে করলেই সেটা যে নিজের হয়ে যাবে। এতটুকু বিষয়-বুদ্ধিও নেই। কুমা কিন্তু [ সক্রোধে ] কিন্তু কিন্তু কিন্তু ! কোন কথা শুনতে চাই । আলতাকে তােমার বিয়ে করা চাই বুঝলে? যেমন করে হােক। এই আমার হুকুম-যাও। কুমার ক্ষণকাল হেঁটমুখে দাঁড়াইয়া রহিল, পরে প্রস্থান করিল; কেশব নিজ . চেয়ারে বসিলেন। কেশব। idiot' ! নিজের ইষ্ট বােঝেনা !. [ আর্দালির প্রবেশ ] আর্দালি । হুজুর, বাবুঠো আভিত বৈঠা হায়। কেশব। ভেজ, দেও। আর্দালি । [ প্রস্থান ] শেখর প্রবেশ করল। নমস্কার করিবার জন্য হাত কর্ণিয়া য়ারে বসিয়া পড়িল । কেশব । { ও সুর কে আপনি ? শেখর। আমি বেকার। নাঃ, বেকারই বা কেন ? যার কাজ নেই, সে বেকার। আমার ত কাজ রয়েছে—মস্ত কাজ। দেখুন, আমার সব পয়সা সব ফুরিয়ে গেছে। তাই চাকরি খুজতে বেরিয়েছি। কেশব। তাপনি ত দেখছি মদ খেয়েছেন। ঠিক ধরেছেন, মদ খেয়েছি। যতক্ষণ পয়সা ছিল খেয়েছি। কিন্তু কেন খেয়েছি তা ত জানেন না। কেশব । জানতে চাই না। আপনি বিদেয় হােন্-এখানে চাকরি হবেনা।

লাল পাঞ্জা
[ ২য় অঙ্ক
শেখর। চাকরি হব না! বেশ চললুম ! [ উঠিয়া ] কিন্তু কেন
• মদ খাই সেটা জানা দরকার। আমার একটা বােন ছিল
তাকে খুজে বেড়াচ্ছি-কিন্তু পাচ্ছিনা। বুকের মধ্যে
একদা আগুন জ্বলছে, তাকে নিভতে দেওয়া হবে না, তাই
অহর্নিশি তাতে মদ ঢালছি। দয়া মায়া মনুষ্যত্ব সব গলা
টিপে মেরে ফেলতে হবে কিনা, তাই মদ খাচ্ছি-এবার
বুঝেছেন? নমস্কার। [ নমনােত ]
কেশব। শুনুন [ শেখর ফিরিল ] বসুন. [ বসিল ] আপনি দেখছি
ভদ্রলােকের ছেলে। আপনার বাড়ী কোথায় ?
রংপুর।
কেশব। রংপুর! [ কেশবের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হইয়া উঠিল ] আপনার মা বাপ
আত্মীয় স্বজন কেউ নেই ?
শেখর। এক বিধবা মা ছিলেন, তিনি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছেন।
আর, এক বােন ছিল, তাকে-তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি-
কেশব। বড়ই দুঃখের বিষয়। তা আপনার বােনটি কি হারিয়ে
গেছে ?
শেখর। হা, হারিয়েই গেছে। হাওড়া ব্রীজের ওপর থেকে একটি
দোয়ানি গঙ্গার জলে পড়লে যেমন হারিয়ে যায় তেমনি
হারিয়ে গেছে-
কেশব। আহ! আচ্ছা আপনার কি মনে হয়, কোনাে লােক
তাকে-
! আমার মত আপনার মত একটি ভদ্রলােক তাকে
ভুলিয়ে নিয়ে এসেছে ! ভদ্রলােক ! ভদ্রলােক ! [ হাস্য ।
সেই ভদ্রলােকটিকেই ত খুঁজছি।
তাকে-তাকে নিশ্চয়ই চেনেন ?

৩য় দৃশ্য লাল পাঞ্জা চোখে দেখার সৌভাগ্য হয়নি, এই ত এত দুঃখ। নামও ধাও জানিনা। সে সময় বাড়ী ছিলুম না-কলকাতায় লেখা পড়া করছিলুম। বাড়ী গিয়ে দেখলুম মা লজ্জায় গলায় দড়ি দিয়েছেন-বাড়ী দিয়েছেন—বাড়ী খালি, শুনলুম তারা কলকাতায় এসেছে। ব্যাস, আমিও বেরিয়ে পড়লুম। [ ক্ষণকাল গভীর চিন্তা করিয়া ] আপনার কাহিনী শুনে বড়ই সহানুভূতি হচ্চে। 'ভদ্রলােকের ছেলে—আচ্ছা, আপনাকে আমি চাকরি দেব। কি কাজ করতে পারেন? কাজ ? বাঙালীর ছেলে, লেখাপড়া শিখেছি, কাজ করতে ত কেউ শেখায়নি। তবে, চেষ্টা করলে হয়ত মাষ্টারি করতে পারি N মাষ্টারি। গান গাইতে জানেন ? গান [ হাস্য ] জানি! য়ুনিভারসিটি শেখায়নি বলেই বােধ হয় জানি। শেখর। শেখর। শুনবেন ? কেশব। না, শােনাবার দরকার নেই ; আমি আপনাকে গানের মাষ্টার নিযুক্ত করলুম। বিলক্ষণ ! পরীক্ষা না করে নিযুক্ত করলেই হল ? [ গীত ] শেখর। ওগো বহ্নি জ্বলে জ্বলে! বহে জীবন-নদী পর বৈতরণী কলকল খলখল-ইত্যাদি ঝর্ণা পর্দা সরাইয়া প্রথমে উকি মারিতে লাগিল, তারপর পিতার চেয়ারের পিছনে গিয়া দাড়ইল । [ কানে কানে ] বাবা ইনিই পার্কে বসে গাইছিলেন। ঝর্ণা।

| ৪৪ কেশব। শেখর। কেশব। শেখর। কেশব। ঝর্ণা। লাল পাঞ্জা [ ২য় অঙ্ক হু', শুনুন, রূামার এই মেয়েকে গণ শেখাতে হবে। কথা, আপনি আছেন কোথায় ? গাছতলায়। কাল রাত্রি পার্কে বেঞ্চিতে শুয়ে কাটিয়েছি বেশ বৈশ। তাহলে আমায় বাড়ীতেই আপনি থাকুন। বাইরে কয়েকটা খালি ঘরু পড়ে আছে—কোনও কষ্ট হবে। না। আপনার নামটি জানা হয়নি। শেখরনাথ আচাৰ্য্য । [ ঝর্ণকে ] আপনিই গান শিখবেন ? আপনারই মত আমার একটি বােন ছিল—কথায় কথায় হাসত, গান শেখার জন্যে জ্বালাতন করত- যাক যাক, ও সব কথা যাক। ঝর্ণা, তােমার মাষ্টারকে গানবাজনার ঘরে নিয়ে যাও। আসুন মাষ্টার মশাই। চলুন--হ্যা একটা চিঠি আছে। চিঠি । আপনার বাড়ীতে যখন ঢুকছি, একজন লােক চিঠিখানা দিয়ে বললে, বাড়ীর মালিককে দেবেন। ও-দিন [ পত্র লইলেন ] আসুন মাষ্টার মশাই। ভিতর দিকে শেখর ও বার্ণার প্রস্থান [ পত্র হস্তে কিছুক্ষণ কূটল চক্ষে সেইদিকে চাহিয়া রহিলেন ] যেখানে বাঘের ভয় সেইখানেই সন্ধ্যে হয়। , ওকে 'চোখের আড়াল করা হবে না; নিজের বাড়ীতে নজরবন্দী রাখতে হবে। [ কুটিল হাস্যে ] বুঝে বুঝে কেউটে সাপের গর্তে হাত দিয়েছে। ছোঁড়া যখন মদ ধরেছে তখন আর ভয় নেই, শেখর। কেশব। শেখর। কেশব। ঝর্ণা। কেশব। ;

৩য় দৃশ্য
লাল পাঞ্জা
৪৫
ঐ মদেই, ওকে শেষ করব।
[ চিঠির খাম ছিড়িয়া প্রায়
আমাদ করিলেন ] অা-লাল পাঞ্জা।
তাঁহার শিথিল হস্ত হইতে পাঞ্জা পড়িয়া গেল, তিনি ভয়ার্ত চক্ষে একবার বাহিরের
দ্বার ও একবার ভিতরের দ্বারের দিকে তাকাইতে লাগিলেন—তারপর ভূপতিত
পাঞ্জার উপর দৃষ্টি পড়িল ; কহিতে উহা তুলিয়া লইলেন।
কি লিখেছে! দেখি কি লিখেছে-“শীঘ্রই দেখা হইবে
সাবধান।” দেখা হবে? কেন? কেন? কি করেছি
আমি!—আঁ, কে ?
মৃতুঞ্জয়কে লইয়া আর্দালির প্রবেশ
আর্দালি। মুরুঞ্জি বাবু মুলাকাত মাংতেহেঁ।
কেশব। ও-মৃতুঞ্জয় ! তুমি! [ কপালের ঘাম মুছিলেন ] আমি
ভেবেছিলুম-যাক্। দেখ, তােমার সঙ্গে কাজের কথা পরে
হবে, আজ নয়। আজ আমার শরীরটা ভাল নেই।
মৃতুঞ্জয়।
মনে রাখবেন, মােটরের কারবুরেটার থেকে কুকুরের ন্যাজ
পৰ্যন্ত সমস্ত আমরা ইলিওর করি ।
কেশব।
হা হা, সে আমার মনে আছে। এখন তুমি যাও।
আর্দালি। চলিয়ে মুরুঞ্জি বাবু
মৃত্যুঞ্জয়। মুরুঞ্জি বাবু! হিঃহিঃহিঃ
সহসা আন্দালির পেটে তর্জনীর খোচা মারিলেন। চমকিত আর্দালি পিছু হাঁটিয়?
প্রস্থান করিল ; মৃতুঞ্জয় উচ্চ হাসিতে হাসিতে তাহার অনুসরণ করিলেন।
সেই হাসি ! হা সেই হাসি—যা সেদিন রাত্রে শুনেছিলুম।
কে মৃতুঞ্জয় ? কে ৪ ? লাল পাঞ্জা!
কাপিতে কাপিতে বসিয়া পড়িলেন।

তৃতীয় অঙ্ক
প্রথম দুশ
[ অজয়ের বহিঃকক্ষ। সময় সকাল আন্দাজ আটটা। অজয় বাড়ী নাই। অনসূয়া
ও আলতা একটি ছােট টেবিলে বসিয়া চ পান করিতেছে ও গল্প করিতেছে।
আলতা আসিবার পর অজয়ের বহিঃকক্ষে টেবিলের আমদানি হইয়াছে, যদিও
ভক্তেপােষ মজুত আছে।
আলতা। তুই যাই বল, তােমার অজয় বাৰু একটি আস্ত শয়তান।
অনু। অজয়দা শয়তান ! [ উচ্চ হাত ]
আলতা। হাসছ যে ?
আলতা!
অনু।
[ হাসি থামাইয়া ] সত্যি আলতা, এমন হাসির কথা আর
কখনাে শুনিনি।
বেশ, হাসাে তাহলে। কিন্তু একদিন টের পাবে অজয়
বাবু কতবড় শয়তান। উনি হচ্ছেন মিটমিটে ডান্, ছেলে
খাবার রাক্ষস ; ওঁকে যতই দেখছি ততই তা বুঝতে পারছি।
সেইটেই আমার সব চেয়ে আশ্চর্য্য লাগে। তুমি ত ওঁকে
আমার চেয়ে ঢের বেশী দেখছে, তবু চিনতে পারনি !
চিনতে পারিনি আবার ! পেরেছি বলেই বলছি -খাটি
জলজ্যান্ত শয়তান।
[ গম্ভীর হইয়া ] অজয়দা শয়তান নয়।
ওঁর নিন্দে করলে,
এমন কি ওঁর সম্বন্ধে মন্দ কথা চিন্তা করলেও পাপ হয়।
তােমাকে ত বলেছি, উনি আমার জন্য কী করেছেন।
সেই জন্যেই তুমি ওঁর দোষ দেখতে পাওনা। কিন্তু তুমি
আলতা
অনু।
আলতা ।

১ম দশ্য ।
লাল পাঞ্জা
৪৭
ভুল বুঝেছ, তােমার জন্যে উনি যা #রেছেন । মােটই
নিঃস্বার্থ ভাবে করেন নি।
ছি আলত, ওকথা বলতে নেই।
আলতা। যা বিশ্বাস করি তা” বলতে আমি ভয় পাই না।
যে লােক আমার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবার স্পর্ধা রাখে,
তাকেও আমি মহাপুরুষ জ্ঞানে স্তব করতে পারব না।
অনু। আলতা, অজয়দা সম্বন্ধে শুধু এইটুকু জেনে রাখ যে, কারুর
অনিষ্ট তিনি কখনাে করতে পারেন না। তিনি যা করেন
ভালর জন্যেই করেন।
আলতা। [ বিদ্রুপের সুরে ] তুমি ত তা বলবেই। বােধ হয় মনে মনে
ওর প্রেমে পড়েছ !
অনু। [ tকিতে দাড়াইয়া ] আলতা! [ বসিয়া পড়িয়া ] ও কথা আর
কখনো বােললা না ( অপূর্ণ চোখে ] তুমি ত সবই জানাে।
তবে কেন আমার মনে কষ্ট দিচ্ছ ? অজয়দা আমার মার
পেটের বড় ভাই ; তাকে ভক্তি করি ভালবাসি; কিন্তু
আর একজন -[ আঁচলে মুখ ঢাকিয়া ]
আলতা। [ অনুর হাত ধরিয়া অনুতপ্ত কণ্ঠে ] আমার দোষ হয়েছে, আর
কখনো বলব না। কেঁদনা ভাই-লক্ষ্মীটি -
[ চোখ মুছিয়া ] চল, রান্নাবান্না সব পড়ে আছে, কুটনন।
কোটা পৰ্যন্ত হয়নি। তজয়দা সকাল বেলাই বেরিয়েছেন,
এখনি হয়ত ফিরবেন।
আলত।। তা হলেই বা, এত তাড়া কিসের?
অনু। , না ভাই, ঠিক সময়ে না খেলে ওর শরীর খারাপ হয়।
যদিও মুখে কিছুই বলেন না, আমি
বুঝতে
আলতা। আচ্ছা একটা কথা জিজ্ঞাসা করি। আমি কারুর নিতে
পারি ।

আলতা। আলতা। অনু। শাল পাঞ্জা [ ৩য় অঙ্ক। করছি না, কিন্তু এই যে তুমি দু'বেলা রাধছ, একটা রাঁধুনি রাখবার ক্ষমতা কি অজয় বাবুর নেই ? শােনাে কথা, ক্ষমতা থাকবে না কেন? তবে 'তােমাকে আশ্রয় দিয়েছেন তাই তােমাকে খাটিয়ে নেন ; রাঁধুনী রাখবার খরচটা বেঁচে যায়-কেমন ? [ হাসিয়া ] অ| কপাল ! তুমি বুঝি তাই বুঝলে? রাধুনী ত ছিল, আমি এসে তাকে তাড়িয়েছি। তাড়াতে কি দেন অজয়দা! যখন বললুম র ধুনীর রান্না আমি মুখে দিতে পারব না, তখন রাজী হলেন। কিন্তু কেন ? এর ত কোন মানেই হয় না। কেন মানে হবে না? আচ্ছা তুমিই বল, বাড়ীতে মেয়ে- মানুষ থাকতে বাড়ীর একটি মাত্র পুরুষ মানুষ রাঁধুনীর রান্না খাবে, এটা কি লজ্জার কথা নয় ? লজ্জার কথা। কি জানি যদি এটুকু না পারি, আপনার জনকে নিজের হাতে রেধে খাওয়াবার ক্ষমতাও না থাকে, তাহলে মেয়েমানুষ হয়ে জন্মেছি কেন ভাই ? পুরুষকে রেধে খাওয়াবার জন্যেই বুঝি মেয়েমানুষের জন্ম ? না—কিন্তু ভালবাসবার জন্যেই মেয়েমানুষের জন্ম । ভালবাসার সঙ্গে রান্নার সম্বন্ধ কি ? ঐ রান্নার সঙ্গে মেয়েমানুষের কতখানি ভালবাসা মিশে থাকে তা তােমাকে বঝাতে পারব না ভাই।' 'তুমি ত কোনদিন কাউকে রেধে খাওয়াওনি। , তা খাওয়াইনি। কোনদিন দরকার হয়নি। আলতা। ৩ অনু। আলতা । আলতা। অনু। সালভা।

অনু। অনু। ১ম দশা লাল পাঞ্জ। অভাবের দুরকারটাই কি সবচেয়ে বড় দরকার ? ভালবাসার দাবী, কি কিছু-নেই? অল। কি জানি; বাবাকে ত ভালবাসতুম, কিন্তু কৈ মিছে তর্ক থাক? এখন ওঠ—আঙ্গ তােমাকে খেতে হবে। আলতা। [ অবাক হইয় ] আমাকে ? হ্যা। অষুদা যত মন্দ লােকই হােন, তোমার হাতের রান্না খেতে আপত্তি করবেন না। আলতা। কিন্তু কিন্তু আমি যে কিছু রাঁধতে জানি না। অনু। শিখবে। একদিনেই কি হয় ? আলতা। কিন্তু -( মনের ঔৎসুক্য দমন করিয়া ] না অনু, আমি হয়ত পুড়িয়ে ঝুড়িয়ে সব একাকার করে ফেলব। সবাই হাসবে। অনু । সবাই কে ? আমি আর অজয়দা ত ? তা আমি হাসব কথা দিচ্ছি। আর অজয়দা যদি হাসেন তাতেই ৰা কি ? গায়ে ত আর ফোস্কা পড়বে না। আলতা। ভাই অনু, আমার ভারি লজ্জা করছে। অনু। অমন গােড়ায় গােয় একটু লজ্জ করে। তুমি যখন নাচতে শিখেছিলে তখনও ত লজ্জা করেছিল। তােমার নাচ কিন্তু ভাই একদিন দেখাতে হবে। দুপুর বেলা ধরে দোর বন্ধ করে-কি বল ? আণত; সহসা দজ্জা পাইল, যেন তাহার গােপনীয় দুষ্কৃতি ধরা পড়িয়া গিয়াছে। আলত। :চর খবর তুমি কো-খেকে পেলে ? খবরের কাগজে পড়েছি। নাও এস, আর দেরী নয়, অনেক বেলা হয়ে গেল। ৪ লাল পাঞ্জা আলতা। চলতি [ উভয়ে প্রস্থান করিল ] পােষের নীচ হইতে লালাদ বাহির হইল; এগ্রিক ওদিক দেখিয়া- লালচাদ। না, কবিদের কথা বিলকুল মিথ্যে। এতদিন ধারণা ছিল তরুণরা একটু নিরিবিলিংপেলেই নিজেদের মধ্যে কেবল রসের কথা আলােচনা করেন। তা নিজের কানে যা শুনলুম তাতে রস ত কিছু পেলুম না। একজন যদি বা প্রেমের কথা একবার উচ্চারণ করলেন, অন্যটি কেঁদেই আকুল। এদিকে আমি শালা তক্তপোয়ের তলায় কাঠ হয়ে পড়ে আছি, আর, একপাল আরসােলা আমার গায়ের ওপর কুচকাওয়াজ করছে। আর এ সব পােযাচ্ছে না। [ গুহানােদ্যত ] ও বাবা, কারা যেন আসছেন! সকান দেবার ত রাস্তা নেই—আবার তক্তপােষের তলায় ঢুকি। [ তথা করণ ] অজয় ও রণবীর কথা কহিতে কহিতে প্রবেশ করিল ; রণবীরের কথার ভঙ্গীতে মুরুব্বিয়ানা প্রকাশ পাইতেছে! রণবীর। অজয়। আলাপ না থাকলেও আপনাকে আমি অনেকবার দেখেছি আপনি যে আশুবাবুর সেক্রেটারী ছিলেন তাও জানি কিন্তু ঘনিষ্টভাবে পরিচয় করবার সুযােগ ঘটে ওঠে নি। এতদিন পরে যে সে সুযােগ ঘটল এটা আমার সৌভাগ্য । চেয়ার নির্দেশ করিল না, সৌভাগ্য আর কি-[ উপবেশন ] তা সে যাক, মিস আলতা ভাল আছেন ত ? কুমারী আলত। ভালই আছেন। পিতার মৃত্যুর পর কিছুদিন সামাজিক আমােদ মালে যােগ না দেওয়াই রুচিসঙ্গত। কিন্তু তবু, আমরা তার রণবীর। অজয়। রণবীর।

১মশ
লাল পাল
এই শােতে সহানুভূতি না জানালে আমাদের, কৰ্ত্তৰৰ
জুটি হয় !
' তা ত’ বটেই। শোকে সহানুভূতি জানাে প্রত্যেক
মানুষেরই কর্তব্য।
রণবীর।
মিস্ আলতা বাড়ীতেই আছেন ত ?
হলফ, দিয়ে বলতে পারি না, তবে আমার বিশ্বাস তিনি
বাড়ীতেই আছেন।
রণবীর। তাহলে তাকে যদি একবার খবর দেন ত ভাল হয়। তার
সঙ্গে দেখা করব বলেই এসেছি।
অজয়। দেখা করবেন!-কোনাে দরকার আছে কি?
রণবীর।
বললুম ত’ সহানুভূতি জানাতে চাই।
অজয়। কিন্তু জানানাে ত হয়ে গেছে। আমার কাছে যখন
জানিয়েছেন তখন তার কাছেও জানান হয়েছে।আর
কোন কাজ আছে কি ?
রণবীর। { বিরক্তভাবে ] না, তার সঙ্গে দেখা করাই প্রধান কাজ।
কিন্তু তা ত হতে পারে না। আপনি জানেন বােধ হয়,
আমি তার অভিভাবক। ও জিনিষটার আমি অনুমােদন
করি না।
রণবীর।
[ শ্লেষ-মন্থর কণ্ঠে ] আপনি অনুমােদন করেন না! কোন্
জিনিষটার অনুমােদন করেন না শুনি?
অজয় । আপনি যে জিনিষট। প্রস্তাব করেছেন। অনাত্মীয় পুরুষদের
সঙ্গে অকারণে মেয়েদের মেলামেশা আমি পছন্দ করিনা।
সব।
বটে। কিন্তু আপনি ভুলে যাচ্ছেন যে আলতা আমার
বান্ধবী।

লাল পাঞ্জা at বজয়। রণবীর। আলতা না-আলতা দেবী। মহিলাদের সম্বন্ধে সসম্ভ্রমে কথা বলা বাঞ্ছনীয়। তাই নাকি! আপনি শিষ্টাচারও জানেন দেখছি। [ গলার মধ্যে বাঙ্গপূর্ণ হাস্য করিল শিখলেন কোথায়? অনাথ আশ্রমে। আজ তা হলে আপনি আসুন। নমস্কার। [ উঠিয়া বিষাক্ত কণ্ঠে ] অজয়বাবু, আমি ডাক্তার, আপনার কী রােগ হয়েছে বলব ? whitow হয়েছে। অর্থাৎ শাদ। বাংলায় যাকে বলে 'আঙুল ফুলে কলা গাছ। বুঝলেন। দ্বারের দিকে চলিল এয়। রণবীর। ত্রিদিব প্রবেশ করিল ত্রিদিব। রণবীর বাবু যে ! ভাল ত ? তারপর অজয়, আলতার খবর কি ? ভাল। তুমি ভেতরে যাও ত্রিদিব দা। নিদিব ঈষৎ বিস্মিতভাবে একবার অজয় একবার রণবীরের পানে তাকাইল, তারপর অন্দরের দিকে অগ্রসর হইল । রণবীর অট্টহাস্য করিয়া উঠিল রণবীর। ও-ত্রিদিব বাবুর বেলা মহিলার সম্ভম রক্ষার দরকার নেই দেখছি, তিনি আসবামাত্র অন্দরমহলের ছাড়পত্র পেয়ে গেলেন। বলি, ব্যাপারখানা কি ? ঝেড়েই কাশুন না, অজয় বাবু। ত্রিদিব । [ ফিরিয়া ] কি, কি হয়েছে অজয় ? অজয়। কিছু না। রণবীর। যা হয়েছে তা এতক্ষণে বুছতে পারছি। কালনেমির লঙ্কাভাগ। [ হাস্য ] দু’জনে মৎলব করে আলতা আৰু ত্রিদিব। ১ম দৃশ্য ] লাল পাঞ্জা হার বিষয় ভাগাভাগি করে নেবে, তৃতীয় ব্যক্তিকে আমল বে না—এই ত তা অগিতা কার ভাগে পভুল? ভিৰি। চোপ র৪ ছুচো কোথাকার। তােমাকে আমি ভদ্রলােক বলে জানতুম ; দেখছি তুমি একট। ইতা; একটা আস্ত ক্যাড। রণবীর। [ অট্টহাস্য করিল ] ল্যাজে পা পড়তেই যে ফোঁস করে উঠেছ ত্রিদিব বাবু! 'ঠিক ধরেছি তাহলে diognosis ভুল হয়নি। হাঃ হাঃ--হঃ- [ ঘুষি বাগাইয়া ] বেরােও বেরােও এখান থেকে-ক্যাডা- ভারাস উল্লুক! নইলে ঘুষি মেরে মুখের চেহারা বদলে দেব। অঙ্গয় । [ বাবা দিয়া ] যেতে দাও ত্রিদিবদা, ছুচো মেরে হাত গন্ধ করো না। রণবীর। হা-হা-হাঃ সাবাস! বলিহারি । দুজনে মিলে খাসা অভিনয় করেছ। তােমাদের জোড়া নেই বাবা- একেবারে রাজঘােটক। কিন্তু বাঘেরও ঘােধ আছে যাদু। মনে রেখাে। এক সঙ্গে রাজকন্যে আর মােল আনা রাজত্ব ভােগ দল করা অতি সহজ নয়। [ প্রস্থান ] দিব! কী সাংঘাতিক বদমায়েস! ভদ্রসমাজে ভদ্রলােক সেজে বেড়ায়, কখনাে ভাবতে পারিনি যে লােকটার মন এত নােংরা। আলতা প্রবেশ করিল আসত। কিসের এত গােলমাল হচ্ছিল ! [ ত্রিদিবকে দেখিয়া সহাস্যে ] আপনি চেঁচাচ্ছিলেন নাকি?

লাল পাল ৩য় অ ত্রিদিব। আরে না , ঐ হতঙ্গাগা রণবীরটা { মৃদুহাস্যে ]তুমিও কম চেঁচাওনি ত্রিদিব । কি হয়েছিল? রণবীর বাবু এসেছিলেন ? আলা। আলতা। কেন এসেছিলেন ? অলিতা। আলতা। জয় আলতা। ত্রিদিব । তােমার সঙ্গে দেখা করে সহানুভূতি জানাতে। ও-তা, তিনি চলে গেলেন কেন ? চলে গেলেন যেহেতু আমি তাকে বললুম যে তােমার সঙ্গে তার দেখা হতে পারে না। [ কুঞ্চিত করিয়া ] আপনি জানেন রণবীর বাবু আমার একজন বন্ধু ? শুনেছি বটে। তিনিও সেই ধরণের কথাই বললেন। [ তীব্র ক্রোধে ] তবে কোন স্পর্ধায় আপনি তাকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিলেন ? আহাহা-আলতা তুমি অমন করছ কেন? রণবীরকে তাড়িয়ে দিয়ে অজয় কিছুমাত্র অন্যায় করেনি। আর, সত্যি কথা বলতে কি, অজয় তাকে তাড়ায় নি, তাড়িয়েছি আমি। আর একটু হলেই একটি মুষ্ট্যাঘাতে তার ঈ। ভেঙে দিতুম। ত্রিদিব বাবু, আপনিও এদের দলে! আপনিও এমন করে আমাকে নির্যাতন করতে চান। তুমি ভুল করছ আলতা। রণবীরটা একটা প্ৰকাণ্ড ক্যাডাভারাস শয়তান। কোনাে ভদ্রমহিলার ওর সঙ্গে কথা কওয়া উচিত নয়। আলতা। ত্রিদিব ।

১ম দৃশ্য। লাল পাঞ্জা আলতা ত্রিদিব। ম কিছু শুনতে চাইনা, আপনারা সবাই মিলে আমাকে #ক্তি দিতে চান, আমাকে অপমা করতে চান। আমি বুঝেছি, কিন্তু এমন ভাবে দগ্ধ দগ্ধে না মেরে আমাকে একেবারে মেরে ফেলুন না, তাহলে আপনাদের সকলের প্রাণেই শান্তি হবে। বিশেষত অজয় বাবুর। [ ক্রন্দনােমুখী ) [ আলতার দুই স্কন্ধে হাত রাখিয়া দৃঢ়স্বরে ] পাগলামি করো না আলত। অজয় তােমার কতবড় শুভাকাঙ্ক্ষী তা যদি এখনাে না বুঝে থাকে। তাহলে সে তােমার বুদ্ধির দোষ। ও যা করেছে তাতে বিন্দুমাত্র অন্যায় হয়নি। তুমি নিজেই ভেবে দেখ দেখি, সম্রান্ত ঘরের বিদুষী মেয়ে তুমি, একজন অতি সাধারণ স্ত্রীলােকের মত কতকগুলাে অপদার্থ লােকের সঙ্গে হাসি তামাসায় সময় কাটানাে কি তােমার শােভা পায়! তুমি শিক্ষিতা, কিন্তু তােমার শিক্ষা যদি তােমাকে শান্ত সংষত হবার প্রেরণা না দিয়ে থাকে, তাহল সে শিক্ষার মূল্য কি? আজ তুমি ছেলেমানুষ, কাল তুমি ভবিষ্য বংশের জননী স্থানীয় হয়ে দাঁড়াবে। বুঝতে পারছ না কতবড় দায়িত্ব তােমার মাথার ওপর রয়েছে ? কিন্তু-আমি-আমি- নিজের সুখ সুবিধা খেয়ালের মোহে অন্ধ হয়ে থেকোনা আলতা। তােমাকে ত আমি জানি, একদিন তােমার চোখ ফুটবে। তখন আজকের কথা ভেবে, নিজের এই দায়িত্বহীন অর্থহীন প্রয়ােজনহীন জীবনের কথা ভেবে তােমার নিজেরই লজ্জা হবে। সে লজ্জা যাতে দুঃসহ না হয়ে ওঠে এখন থেকে সে চেষ্টা কর । কি করব আমি। কি করতে বলেন আমাকে আপনারা। আলতা। এদিব। আলতা।

নাল শাখা [ ৩য় অঙ্ক ভিদিৰ। -:- [ হঠাৎ আসচেতন হইয়া আলতাকে ছাড়িয়া দিয়া আমি কিছুই বলিনা, বলার অধিকারও নেই। ঝেকে, মাথায় লম্বা লেকচার দিয়ে ফেললুম, মাপ করে।আরে যাঃ, কোথায় এলুমতােমাদের সঙ্গে গল্প করতে করতে অনুর হাতের চা খাবো বলে- সব ভেস্তে গেল। নাঃ আমি চললুম। এর পর আর চায়ের আসর জমবে না। [ প্রস্থানে ত ] দাড়াও ত্রিদিবদা, আমিও বেরুব। তুমি আবার এখন কোথায় বেরুবে। একটু কাজ আছে শেয়ার মার্কেটের দিকে। আলতা, অনুকে বলে দিও আমি ফিরে এসে খাব। ফিরতে হয়ত একটু বেলা হবে। আমার কন্ঠে যেন বসে না থাকে ' চল ত্রিদিবদা। ৪ ত্রিদিব । * [ উভয়ের প্রস্থান আলত। কিছুক্ষণ দ্বারের দিকে চাহিয়া রহিল, তারপর ধীরে ধীরে বসিয়া পড়িল । আলতা। এর। আমাকে কোন পথে নিয়ে যাচ্চে? অজয়বাবু কি সত্যই আমার ভালর জন্যে ত্রিদি 'বাবু ত মিথ্যে বল বার লােক নয় । ( চিন্তা ] এক এক সময় মনে হয় ত্রিদিববাবু আমাকে মনে মনে ভালবাসেন, কিন্তু কখনাে ভাবে ইঙ্গিতেও তা প্রকাশ করেন নি কিন্তু আমার চিরজীবনের পরিচিত পথ ছেড়ে আমি কি করে চলব ! অজয়বাবু - আশ্চৰ্য লােক! লােহার মত শক্ত, অথচ দেখলে মনে হয় তুলাের চেয়েও নরম । হাসি-ঠাট্ট করতেও ত জানেন। অনুর সঙ্গে এমন করেন যেন পিঠোপিঠি ভাই বােন। অথচ র আমার সঙ্গে তক্তপােষের তলায় হুটোপাটী শব্দ হইল।

..১ম দৃশ্য 1, আলতাঃ লাল পাঞ্জা কি। কে? ( লালাদ হামাগুড়ি দিয়া বাহির হইল ও মেঝেয় পা ছড়াইয়া বসিয়া নাকের মধ্যে হইতে যেন, কিছু বাহির | চেষ্টা করিতে লাগিল ] •আলতা। [ সভয়ে উঠিয়া } এ যৈ একটা লােক। অজয়বাবু ! অসু- , ! ছুটীয়া ভিতর দিকে পলায়ন কৰূিল ও সশব্দে দ্বার বন্ধ করিয়া দিল। লালাদ। শালার আরশােলা! নাকের মধ্যে ঢোকবার জন্যে একেবারে ধস্তাধস্তি। [ ইট ] ভাগ্যে আর একটু আগে হেঁচে ফেলিনি, তাহলে গুণ্ডাদুটো মিলে ঠেঙিয়ে আধমরা করে দিত। [উঠিয়া] ইনিই আলতা দেবী! আধুনিক শিক্ষিত হলে কি হয়, বঙ্গমহিলা ত! অচেনা মানুষ তক্তপােষের তলা থেকে বেরুচ্ছে দেখেই অন্দর মহলের দিকে ছুট দিলেন। কিন্তু অর নয়, এখন হয়ত আলতাদেবীর আরাে গুটিকয়েক উমেদার এসে হাজির হবেন। আরে খেলে যা-এ যে বলতে না বলতেই লালচাঁদ পুনশ্চ তক্তপাসের তলায় ঢুকবার অবকাশ পাই না। কুমার প্রবেশ করিল। কুমার। পিতা ধৰ্ম্মঃ পিতা স্বর্গঃ পিতাহি পরমন্তপঃ পিতরি প্রী িমাপন্নে প্রীয়ন্তে সর্বদেবতা : লালাদ। আজ্ঞে হ্যা, খাঁটি নির্জলা সত্যি কথা -ভেজাল নেই। এবার আপনি বসুন, আমি বিদেয় হই কুমার। আপনি কে ? লালা। আমি কে সেটা এখন ঠিক মন পভুছে না। নাকের মধ্যে আরসোল। ঢুকেছিল, আর একটু হলেই ব্রহ্মকোটরে গিয়ে

দল পালা।
(৩য় অঙ্ক
কুমার।
।
বাসা বাঁধত, অনেক কষ্টে বার করেছি কিন্তু মাথা,
কেমন ঘুলিয়ে গেছে।
চললুম-নমস্কার। ( প্রস্থান ]
বােধ হয় পাগল। পৃথিবীতে সবাই পাগল ; হয়ত আমিও
পাগল! সেও পাগল ছিল নইলে মরতে গেল কেন? আর,
সে যদি মরেছে, আমিই পা বেঁচে আছি কেন? পাগলামি
সব পাগলামি
পাগল হইয়া বনে বনে ফিরি
আপন গন্ধে মম
কস্তুরী মৃগ সম।
ফাল্গুন রাতে দক্ষিণ বায়ে
কোথা দিশা খুঁজে পাইনা
যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই
যাহা পাই তাহা চাইনা।
অন্দরের দিক হইতে অনুপ্রবেশ করিল।
আলতা-রান্নাবান্না ফেলে কোথায় গেলে
এ কি! অনু! তুমি বেঁচে আছ
তুমি! তুমি!
অনু। সত্যিই তবে তুমি বেঁচে আছ।
তুমি! তুমি ! না-না-না- [ ব্যাকুল দিশাহারা ভা
ছুটিরা প্রস্থান করিল কুমার চিত্রার্পিতবৎ দাড়াইয়া রহিল ]
অনু।
কুমার।
কুমার।
অনু।

দ্বিতীয় দৃশ্য
কেশবের গৃহে শেখরের কক্ষ
মেঝে একধারে ফরাস পাতা; কয়েকটা বাদ্যযন্ত্র
ইতস্তত ছড়ানাে রহিয়াছে। ঘরের অন্য প্রান্তে একটী ঘােট টেবিল, দুটি চেয়ার ও
একটা আলমারি রহিয়াছে। ঝর্ণা ফরাসের উপর একটী সেতার লইয়া গান অভ্যাস
করিতেছে, অদুরে বসিয়া শেখর তাতে তাল দিতেছে, মাঝে মাঝে ঝর্ণার কণ্ঠের সঙ্গে
কণ্ঠ মিলিইয়া গাহিতেছে । বেলা বৈকাল আন্দাজ শাচটা।
- -
গান।
পল্লীবধূ সন্ধ্যা হল
জলকে চল জলকে চল।
দিঘির জলে নামে কালাে ছায়া-মায়াবিনী
বীথি পথে চল পল্লীজায়া-পথ চিনি
আসে রাত্রি সাথে লয়ে কাজল মায়া'
পল্লীবধু ওগাে’কে চল।
তুলসীমূলে দীপ হয়নি জ্বালা-সন্ধিক্ষণে
বেণীবন্ধে নাহি নবমল্লীমালা—সঙ্গোপনে।
ফুরায় বেলা ওগো পল্লীবালা-জলকে চল।
আজ এই পর্যন্ত থাক। তােমার চা খাবার সময় হল।
ঝর্ণ। সেতার খিয়া উঠিবার উপক্রম করিল কিন্তু উঠি উঠি করিয়াও
উঠিল না ; দেখিয়া মনে হয় চা পান করিবার জন্য সে বিশেষ ব্যগ্র নয়।
মাষ্টার মশাই, আপনি চা খান না কেন ?

লাল পাঞ্জা ঝর্ণা। শেখর। ঝর্ণা। শেখর। আগে খেতুম । কিন্তু চায়ে আর আমার নো হয় না, তাই ছেড়ে দিয়েছি। চায়ে বুঝি আবার কারু নেশা হয়?-চলুন না মাষ্টার মশাই, আমার সঙ্গে বসে চা খাবেন। দাদা বাড়ী নেই, বাবা অফিস ঘরে কাজ করছেন,-একলা একলা চা খেতে কি ভাল লাগে। ঝর্ণা । একসঙ্গে চা খাওয়াতে দোষের কিছুই নেই, কিন্তু ঐ চা খাওয়ার ব্যাপারের সঙ্গে সঙ্গে এমন একটা তিক্ত স্মৃতি আমার মনে জড়িয়ে গেছে যে—আমি পারব না। বেশ চা খাবেন না, কিন্তু একটু জলখাবার কিম্বা দুটো ফল? আপনি ত বিকেলবেলা কিছু খান না। না তাও নয়। ( ঝর্ণার মুখ মলিন হইয়া গেল ] আচ্ছা ঝর্ণা, তুমি চা খাওয়া ছেড়ে দিতে পার ? আপনি যদি বলেন এক্ষুনি পারি-[ আগ্রহভরা উৎসাহে ] বলুন না মাষ্টার মশাই, ছেড়ে দেব ? না তার দরকার নেই ।--আমার শুধু ভয় হয়, তুমিও ত বালিকা, আর, মনটি তােমার শতের নদীর মত স্বচ্ছ- কোথায় তােমার জন্যে বিপদ লুকিয়ে আছে কে জানে? বিপদ! কোন্ বিপদের কথা বলছেন মাষ্টার মশাই। কালবােশেখী ঝড়ের মুখে প্রজাপতির যে বিপদ সেই বিপদের কথা বলছি, বাঘ ভালুক ভরা জঙ্গলে একলা নিরস্ত্র ঘুরে বেড়ানাের যে বিপদ সেই বিপদের কথা বলছি। কিন্তু তুমি বুঝবে না ঝর্ণা। তােমার মত সরল নির্ভরশীল মেয়েরা গােড়ায় কিছু বােঝে না, এইটেই সব চেয়ে নাড় বিপদ। ঝর্ণা। শেখর। ঝর্ণা। শেখর।

লাল পাঞ্জা শেখর। ঝর্ণা ; কিন্তু এখনো যে আমি কিছুই বুঝতে পারলুম না। পারবে না। তুমি যাও চা খাওগে। আপনি খাবেন না ? (শের মাথা নাড়িল; ঝর্ণা ঈষৎ সঙ্কুচিত স্বরে একটা জিনিষ তৈরী করেছিলুম, আপনাকে দেখাতুম- কি জিনিষ ? একটা ছবি একেছি তুমি ছবি আঁকতেও জান? কার ছবি একেছ? . ঝর্ণা। শেখর। ঝর্ণা। আপনার। ঝর্ণা। শেখর। আমার ! সে কি, কেমন করে আঁকলে? কেন মন থেকে একেছি। ( উৎসুক আগ্রহে ] ভারি সুন্দর হয়েছে মাষ্টার মশাই। দেখবেন না? শেখর। [ ক্ষণকাল অবাক হইয়া তাকাইয়া থাকিয়া ] আশ্চৰ্য্য! আজ নয় ঝর্ণা-কাল সকালে দেখব। ঝণ। অত্যন্ত ক্ষুন্ন হইয়াছে তাহার মূখ দেখিয়া বােকা গেল। সে কিয়ৎকাল দাঁড়াইয়া থাকিয়া আস্তে আস্তে চলিয়া গেল। শেখর উঠিয়া আলমারি হইতে মদের বােতল ও গেলাস বাহির করিয়া টেবিলের উপর রাখিল। শেখর। আশ্চর্য! শকুন্তলা মিরাঙার কথা কাব্যে পড়েছি। কিন্তু তার। ছিল আশ্রম বালিকা । ঝর্ণ। এই পচা পঙ্কিল সংসারে থেকে এমন হল কি করে ? ( মদ্যপান ]-ওকে দেখে, ওর সংসর্গে এসে নিজেকে অশুচি মনে হয় ; আবার ভাল হতে ইচ্ছে করে, যেমন আগে ছিলুম। না, আর হয় না। আমি ত ভাল ছিলুম, নিস্পাপ নিষ্কলঙ্ক ছিলুম; সংসার আমার সারা গায়ে সারা মনে পাক মাখিয়ে দিয়েছে।

লাল পা [ ৩য় খ আমি কেন ভাল হব, কিসের আশায় ভাল হব। অধঃপথই আমার পথ। [ মদ্যপান বিভ্রান্ত ভাবে কুমার প্রবেশ করিল ; তাহার লক্ষ্যহীন দৃষ্টি শূন্তে স্থাপিত ০ কুমার। ওরে মাতাল দুয়ার খুলে দিয়ে পথেই যদি করিস মাতামাতি থলি ঝুলি উজাড় করে দিয়ে যা আছে তাের ফুরাস রাতারাতি। অশ্লেষাতে যাত্রা করে শুরু পাজি পুথি করিস পরিহাস অকারণে অকাজ নিয়ে ঘাড়ে অসময়ে অপথ দিয়ে যাস- হালের দড়ি আপন হাতে কেটে পালের পরে লাগাস ঝােড়ো হাওয়া আমিও ভাই তােদর ব্রত লব মাতাল হয়ে পাতাল পানে ধাওয়া। খুব ভাল কথা। চলে 'আসুন কুমার বাবু-[ মদের গ্লাস আগাইয়া দিয়া ] শূন্য ব্যোম অপরিমাণ মদ্য মনে করুন পান [ হাস্য ] কুমার। [ সচকিত হইয়া ] এ কি! ও-এটা আপনার ঘর!-[ চেয়ারে বসিয়া পড়িল ] শেখর বাবু, সে বেঁচে আছে- থাক বেঁচে-ক্ষতি কি? নিন, আর দেরী করবেন- জুড়িয়ে গেল। শেখর।

লাল পালা ও-আপনি জানেন না। • কেউ জানেনা,তার বেঁচে থাকা কত আশ্চৰ্য। এখনো যেন বিশ্বাস করতে পারছি না। [ মদের লােন দেখিয়া ] ওটা কি? শেখর। মদ। অমৃতসুধা-সাগর মন্থন করা জিনিষ। নিন, চক করে গিলে ফেলুন, দেখবেন যত অসম্ভব কথাই হােক বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে না। কুমার। মদ! কখনো খাইনি। মদে কী হয় ? ী হয় ? শেখর। মদে মানুষ দেবতা হয়, দেবতা পিশাচ হয়, মদে সব মনে করিয়ে দেয়, সব ভুলিয়ে দেয়। কুমার বাবু, আমি কবি নই, কিন্তু-বুঝেছি ভাই সুখের মধ্যে সুখ মাতাল হয়ে পাতাল পানে ধাওয়া! কুমার। শেখর বাবু, আপনি বলতে পারেন, মদ কি অনুতাপের আগুন নেভাতে পারে ? বুকে দুর্জয় সাহস আনতে পারে ? ভালবাসার জন্যে গৃহত্যাগী করতে পারে ? বােধ হয় পারে। খেয়েই দেখুন না- কুমার মদের পাত্র লইল সহসা কেশব প্রবেশ করিলেন। তঁাহার চেহারার অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটিয়াছে। চক্ষু কোটরগত, গালের মাংস বসিয়া পড়িয়াছে, চুল প্রায় সমস্ত পাকা। কুমার তাহাকে দেখিয়া তাড়াতাড়ি মদের গেলাস লুকাইল। এ কি! কুমার, তুমি এখানে কি করছ ! কুমার। আমি-আমি- কেশব। যাও-এখানে তােমার কি দরকার ? কুর। [ গাইতে যাইতে সহসা ফিরিয়া ] বাবা, সে-সে বেঁচে আছে- কেশব । চুপ ! [ সভয়ে শেখরের দিকে তাকাইয়া ] পরে হবে-ও কথা পরে হবে। এখন যাও। কুমার এস্থান করিল . লাল পাঞ্জা [ ৩য় অ¥ { শেখর। শেখর। কেশব। [ শেখরকে তীক্ষ্ণচক্ষে দেখিয়া কাহাসি ] কুমার একটা অন্ত পাগল। আপনাকে কিছু বলেছে নাকি? কবিতা বলেছেন। বলেছেন, দুনিয়ায় যদি কোন সুখ থাকে, সে হচ্ছে মাতাল হয়ে পাতল পানে ধাওয়া। এবিষয়ে তার সঙ্গে আমার মত একদম মিলে যাচ্ছে। কিন্তু একটা কথা বুঝতে পারছি না। কেশব বাবু, আপনার বাড়ীতে কি ভূত আছে? [ চমকিয়া ] ভূত! ভূত কিম্বা পিশাচ কিম্বা আলাদীনের দৈত্য-যা বলুন। নইলে আমার বোতল ফুরিয়ে গেলেই আবার নতুন বােতল রেখে যায় কে? [ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলিয়া ] ও তাই! আছে হয়ত! কিন্তু আপনার ত তাতে কোনাে অস্তবিধা হচ্ছে না? অসুবিধা-কিছু না। হাতের কাছে বিনামূল্যে অমৃত যােগান দেয় এমন বন্ধু কটা আছে! বেশ বেশ—[ উপবেশন করিয়া গল্পচ্ছলে ] শেখর বাবু আপনি লাল পাঞ্জার নাম শুনেছে নিশ্চয় ? লাল পাঞ্জা! রসুন, ভেবে দেখি। কাগজে পড়েছি বলে মনে হচ্ছে-কে একটা মাড়ােয়ারী কোটিপতি তার যুবতী স্ত্রীর প্রতি অমানুষিক অত্যাচার করত, লাল পাঞ্জ। তার ঘরে ঢুকে আগা-পাস্ত চাবকেছে। লােকে বলে, লাল পাঞ্জা নাকি বিবেকের চাবুক। মিথ্যে কথা! লাল পাঞ্জা একটা দুর্দান্ত বদমাযেস, বড় লােকের জীবনের রহস্য বার করে তাকে উৎপীড়ন করাই হচ্ছে তার পেশা। কিন্তু লােকটা কে, কেউ ধরতে পারছে শেখর। কেশব। শেখর।

লাল পাঞ্জা শেখর। শেখর। কেশব। শেখর। কেশব । না-পুলিসও হাল ছেড়ে দিয়ে বসে আছে। আমি তাকে পাই—[খড়মড় করিয়া উঠিয়া] ওকি! ওঁকি। ও—ি কে ডাকলে? শেখর বাবু, শুনতে পেলেন কে ডাকলে? কৈ না, আমি ত কিছু শুনিনি। শুনতে পেলেন না ? কে যেন আমার পেছন থেকে ডাকলে “কেশব! ওই—ওই আবার! ওই ডাকছে। তাই নাকি! তবে বােধ হয় সেই ভূতটা হবে ! ভুত! অা-না-না-ঐ! আশু! আশুর গলা! আমি তােমাকে মারিনি-আমি ওষুধ দিয়েছিলুম-লাল পাঞ্জা দেখেছে, ওষুধ দিয়েছিলুম, কেশব বাবু-কেশব বাবু! ঝকানি দিল ] সম্পত্তি ? আলতার সম্পত্তি ? আমি সব ফেরৎ দেব, শপথ করছি! ডবল করে ফেরৎ দেব। তুমি আর এসাে না-- আর এসাে না :- [ উন্মবৎ এস্থান মস্তিষ্কে কীট প্রবেশ করেছে-পাগলামির বীজাণু !- শুধু দিন যাপনের শুধু প্রাণ ধারণের গ্লানি সরমের ডালি নিশি নিশি রুদ্ধ ঘরে ক্ষুদ্র শিখা স্তিমিত দীপের ধূমাঙ্কিত কালী- আমারও পাগলামির ছোয়াচ লাগল না কি ? লাক- মন্দ কি ? ডাক্তার ডাক্তার ! Canst thou not minister to a mind diseased, Pluck out from the memory a rooted sorrow, And with some sweet oblivious antidote--? = শেখর। ক ৬৬ লাল পাঞ্জা [ ৩য় অঙ্ক ঝর্ণা। উৎ-এ রােগে ডাক্তারের চিকিৎসার বাইরে। Therein • the patient must minister'unto himself ! otstega মহৌষধ ত হাতের কাছেই রয়েছে-[ হাস্য ও মদ্যপান । হাতেএকটি ছবি লইয়া ঋণ পায় প্রবেশ করিল ঝর্ণা। মাষ্টার মশাই। শেখ; চকিত উঠিয়া মদের বোতল প্রভৃতি আড়াল করিয়া দাড়াইল ঝর্ণা! তুমি আবার এলে যে ? ঝর্ণা। ও কি! আপনি কি খাচ্ছিলেন ? শেখর। কিছু নয়। নিশ্চয় কিছু খাচ্ছিলেন। বােতলে কি আছে ? শেখর। [ কিছুকাল নীরব থাকিয়া ] মদ! ঝর্ণা। মদ! আপনি মদ খাচ্ছিলেন ! না না; মিছে কথা, আপনি আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছেন। শেখর। ঠাটা নয় ঝর্ণা, সত্যিই মদ খাচ্ছিলুম। [ শিথিল দেহে বসিয়া পড়িল কিন্তু কেন? কেন? আপনি মদ খাবেন কেন ? মদ ত মন্দ লোকেরা খায়। শের। আমিও মন্দ লােক ঝর্ণা। কক্ষনাে না, আমি বিশ্বাস করি না। আপনি- আপনি-[ : টার পর নাশ! রাখিয়া কান্না ] শেখর। [ বিস্মত বিটত ] ঝর্ণা, তুমি কাদছ ? [.মুগ তুলিয়া } আমার কান্না পাচ্ছে। কেন আপনি নিজেকে মন্দ লােক ববেন ? কেন আপনি মদ খাবেন ? শেখর। কেন মদ খাই তা তােমাকে বোঝাতে পারব না ঝর্ণ।। ঝর্ণা। আমি বুঝতে চাই না। আপনাকে আমি মদ খেতে দেব না। বলুন আর মদ খাবেন না ! s ঝর্ণা। ঝর্ণা। ঝর্ণা।

২য় দৃশ্য ] লাল পাঞ্জা ঝর্ণা। ' শেখর। ঝর্ণা। শেখর। ঝর্ণা। ঝর্ণা- [ সবেগে মাথা নড়িয়া ] না বলুন নইলে আমি পড়ে থাকব 'এখানে, পড়ে পড়ে খালি কাদব। বলুন। ঝর্ণা, তুমি যা বলহ তার মানে বুঝতে পারছ? আমি একটা নরকের কীট—আমার জন্যে তুমি বলবেন না ? বলবেন না ? বেশ, তবে- ছবির উপর মাথা রাখিয়া দিতে লাগল ওটা কি? { ইবি টানিয়া দেখিল ] আপনার ছবি। আমার ছবি ! এ কি করেছ ঝর্ণা ! আমারি চেহারা বটে, কিন্তু এর মুখে যে মনুষ্যত্বের চিহ্ন আঁকা রয়েছে। কপালে উদ্দীপনার আলো, চোখে বিশ্বাসের জ্যোতি। এ কার ছবি তুমি একেছ? আপনার ছবি একেছি। কিন্তু কিন্তু বিশ্বাস হয়না। আমার মুখে কি এখনো মনুষ্যত্বের চিহ্ন বর্তমান আছে। কালীর প্রলেপে মুছে যায়নি। ঠিক বলছ ঠিক বহি। আপনার মুখ থেকে মনুষ্যত্বের চিহ্ন মুছে যেতে পারে না। এবার বলুন, মদ খাবেন না। মদ খাবনা ? কিন্তু আমার গা ছুরে বন, আর কখনাে মদ ছোবেন না। তােমার গা ছুয়ে ! এসব তুমি কি বলছ ঝর্ণা, ক্লেদাক্ত নরকের কীকে কোন্‌ নিৰ্ম্মল নিঝরিণীর প্রলােভন দেখাচ্ছ ? তোমার গায়ে ত আমি হাত দিতে পারব না- আমার হাত পুড়ে যাবে । ঝর্ণা। শেখর। ঝর্ণা। ঝর্ণা। শেখর। ঝর্ণা। শেখর।

লাল পাঞ্জা
[ ৩য় অঙ্ক
বে, তবে আমিই তােমার গায়ে হাত দিচ্ছি [ শেখরের ডান
হাত দুহাতে লইয়া নিজ বক্ষে রাখিল 3 এবার বুল।
[ আবেগরুদ্ধ স্বরে] ঝর্ণা ! [ তারপর সসুমে মাখা.নীচু করিয়া 'j
আর ছোঁব না।
উভয়ে কিছুক্ষণ এভাবে অবস্থান
শেখর।

চতুর্থ অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য।
আলতার শয়ন কক্ষ। একপাশে স্যা, অন্য দিকে ড্রেসিং টেবিল ; একটি লাল
নাইট ল্যাম্প ঘরটিকে ঈষদালােকিত করিয়া রাখিয়াছে।
একটা আবছায়া মানবের মূর্তি নিঃশব্দে গবাক্ষ দিয়া প্রবেশ করিল, তাহার মুখে
লাল মুখােষ, হাতে কি একটা রহিয়াছে ; আলতার শয্যার উপর উহা রাখিয়া দিয়া
মুৰ্ত্তি আবার ছায়ার মত নিঃশব্দে গবা পণে অদৃশ্য হইয়া গেল।
কিয়ৎকাল পরে আলতা ও অনু ঘরে প্রবেশ করিয়া বড় আলাে জ্বালিল।
অনু।
এই ঘরে-চুপি চুপি
-চুপি চুপি-কেমন ?
আলতা। ভাই, যদি অজয়বাবু এসে পড়েন?
অনু।
আসবেন না। আর যদি এসেই পড়েন, তিনিও দেখবেন ।
আলতা। না, সে আমি পারব না।
'অনু। কেন, লজ্জা করবে ?
আলতা। -তা নয়, তবে উনি এসব ভালবাসেন না।
অনু। তাহলে আজকাল একটু ভয়ও হয়েছে ?
আলতা। ভয় আবার কিসের! আমি কাউকে ভয় করি না।
'অনু। আমি সে ভয়ের কথা বলিনি। মানুষ যাকে শ্রদ্ধা করে তার
মনে কষ্ট দিতে ভয় পায়, সেই ভয়ের কথা বলেছি।-আচ্ছা
আলতা, সত্যি বল, এখন তুমি আগেকার মত সকলের
সামনে নাচতে পার ? [আলতা চুপ করিয়া রহিল ] বলনা ভাই,
পারাে?
“আলতা। বােধ হয় পারি না, লজ্জা করে।

লাল পাঞ্জা [ ৪র্থ অঙ্ক আলতা । কেনলজ্জা করে ? আগে ত করত না! [ নড়িয়া চড়িয়া ] তােমাদের দুই ভাই বোনের সংসর্গে এসে আমার মন বোধ হয় দুর্বল হয়ে পড়েছে। লজ্জা দুৰ্বলতার লক্ষণজান ত ?—কিন্তু ও কথা এখন যাক। আজ কি রান্না বান্না কিছু হবে না? অজয়বাবুর কি আজ একাদশী ? একাদশী হয়ে যাবে কেন, ত্রিদিব বাবুর বাড়ীতে তার অনু। নেমন্তন্ন। আলতা। অনু। ওআমি নিতু না। কী সব ভাই কাজের কথা হবে তাই ত্রিদিববাবু নেমন্তন্ন করেছেন! ওরা দুজনে মিলে শেয়ারের ব্যবসা করেছেন কিনা। ই-ওসব কাজ-টাজ মিছে কথা। অজয়বার নিজেই যেচে নেমন্তন্ন নিয়েছেন, আর, কেন নিয়েছেন তাও আমি বুঝতে পেরেছি। আলতা । অনু। কেন ? আলতা। আমার হাতের রান্না খাবার ভয়ে পালিয়েছেন। [ তিক্তস্বল কেন ভাই রােজ রােজ তুমি আমাকে বাঁধতে বল! আমি পারি না, ইনিও মুখে দিতে পারেন না তাই নেমন্তন্ন খেয়ে পেট ভরাতে গেছেন। কিন্তু তােমার রান্না ভাল লাগে না এ কথা তিনি একদিনও বলেছেন কি ? বলেন নি—হয়ত সঙ্কোচ হয়েছে। তােমার অজয়দা ভাল- মানুষ লােক, মুখ ফুটে বলতে পারেন নি। অজয়দা ভালমানুষ লােক, তাহলে স্বীকার করছ ? আমার স্বীকার করা না করায় কি আসে যায়। আমি ত আলতা। অনু । আলত।

১ম দৃশ্য ] লাল পাঞ্জা অনু। আলতা। পর, বাইরের লােক। তুমি তাকে ভালমানুষ বলে জানাে- তাহলেই হল । আলতঃ, কি উলটো বােঝা মেয়ে তুমি ইচ্ছে করে তােমায় ধরে ঝকানি দিই!—এই য়ে কোঁকড়া চুলে, ভরা মাথাটি, ওর মধ্যে বুদ্ধি কি এক ফোঁটা নেই? পদ্মপলাশের মত চোখদুটি কি মুখের শোভার জন্যেই ভগবান দিয়ে ছিলেন ? চোখে কি দেতেও পাও না ? কী দেখব? দেখবে তােমার মাথা আর তােমার মুণ্ডু !-নাও, নাচতে যদি নিতান্তই লজ্জা করে, একটা গান গাও- না ভাই, আমার কিছু ভাল লাগছে না। শরীরটা কেমন যেন ক্লান্ত বােধ হচ্ছে—[ বিছানার দিকে তাকাইল ] ও কি। আমার বিছানায় ফুল রাখলে কে? শ। হইতে পাচটা লাল গােলাপের গুচ্ছ তুলিয়া লইল ওম। সত্যি ত! পাঁচটি গােলাপ ফুল ! কোত্থেকে এল আলতা ! অনু । ভাই ? আলতা। তা ত জানিনা! জানলা খােলা রয়েছে দেখছি! কে অনু ! অালত। রেখে গেল ? হয় ত তােমার কোন বন্ধু চুপি চুপি রেখে গেছেন। বন্ধু ? কে বন্ধু ? পাঁচটি ফুল-লাল ফুল -[সহসা আল হার চক্ষু উদ্দীপ্ত হইয়া উঠিল ] অনু, বুঝেছি কে ফুল রেখে গেছে ! কে ? লাল পাঞ্জা! পঁাচটি লাল ফুল, বুঝতে পারলে না ? লালপাঞ্জা! কিন্তু শুনেছিলাল পাঞ্জা শুধু হাতের ছাপ অনু। আলতা। অনু । পাঠায়।

লাল পাঞ্জা
৪র্থ অঙ্ক
.
৬
আলতা।, সে যাদের শাস্তি দিতে চায় তাদের পাঠায়। লাল পাঞ্জা
আমার বন্ধু-আমার-[ মুগ্ধ ভাবে ফুলের আ'লইল ]
অজয় প্রবেশ করিল
অজয়। এই যে অনু তুমি এখানে। তােমাকে খুজছিলুম।
অনু। কেন অজয়দা, তুমি এখনো ত্রিদিববাবুর বাড়ী গেলে না?
, এইবার যাব। আঙ্ক শেয়ার মার্কেটে কিছু লাভ
করেছি, তাই ভাবলুম তােমার জন্যে যাহােক কিছু নিয়ে
যাই। [পকেট হইতে মখমলের কোটা বাহির করিয়া দুটী দুল দেখাইল]
কেমন, পছন্দ হয় ?
অজয়দা, একবার এদিকে এস ত [ দূরে লইয়া গিয়া চাপাগলায় |
আলতার জন্যে কি এনেছ?
অজয়। কিছু ত আনিনি।
আনাে নি! কেন আনলে না ?
অজয়।
মনে ছিল না।
অনু। তুমি ইচ্ছে করে আনেন নি। উঃ, অজয়দা, সুশিমাঝে
মাঝে এমন কাণ্ড কর যে লজ্জায় আমার মুখ দেখাবার
যে থাকে না। না, আমি তােমার উপহার নেব না।
কেন তুমি আলতাকে অমন করে অবহেলা করবে ।
( দ্রুত প্রস্থান ]
আলতা এতক্ষণ আরক্তমুখে শক্ত হইয়া দাঁড়াইয়াছিল। অজয়ও যখন ধীরে ধীরে
নিষ্ক্রান্ত হইবার উপক্রম করিল, তখন আলতা তাহার অপমানলাঞ্জিত মুখে জোর
করিয়া একটু হাসি আনিয়া অজয়ের দিকে ফিরিল।
আলতা । অজয় বাবু দাড়ান-[ অজয় ফিরিল ] অনুর জন্যে কি উপহার
এনেছেন দেখি –[ অজয় দেখাইল বেশ জিনিষ। কিন্তু এর
চেয়ে ভাল নয়। [ ফুল দেখাইল ]

'.
১ম দৃশ্য ]
লাল পাঞ্জা
অজয়।
গােলাপ ফুল দেখছি! কোথায় পেলে?
আলতা। আমার এক বন্ধু আমাকে উপহার দিয়েছেন।
অজয়। ও! তা-বন্ধু এলেন কোন দিক দিয়ে ?
আলতা। ঐ জানালা দিয়ে !
অজয় ।
বটে! বন্ধুটির নাম জানতে পারি কি?
আলতা। শুনবেন তার নাম ? লাল পাঞ্জা।
অজয়। লাল পাঞ্জা!—কিন্তু লাল পাঞ্জার সঙ্গে তােমার বন্ধুত্ব আছে
তা ত জানতুম না।
আলতা। [ অবরুদ্ধ ক্রোধে ] শিগগিরই জানতে পারবেন। আপনি
মনে করেন, ইচ্ছে করলেই আমাকে অপমান করতে পারেন;
সেটা আপনার ভুল। আপনি সাবধানে থাকবেন।
আমি খুব সাবধানেই থাকি, রাত্রে ঘরে দোর বন্ধ করে শুই ।
কিন্তু অপমান আমি তােমাকে কোনদিন করিনি।
আলতা। করেছেন-একশ বার করেছেন। কিন্তু তা বােঝবার
ক্ষমতাও বােধ হয় আপনার নেই।
অজয়। তা হবে—আর কিছু বলবার আছে কি? না থাকে আমি
চললুম। তােমার শােবার ঘরে বেশীক্ষণ থাকলে তােমাকে
অপমান করা হবে । ( প্রস্থাননাত ]
আলতা। অজয়বাবু ! [ অজয় ফিরিল ] দোহাই আপনার, আমাকে
মুক্তি দিন। আমি আর সহ্য করতে পারছি না। আপনি
আমাকে অব্যাহতি দিন।
অজয়। তােমার কথা ঠিক বুঝতে পারছি না।
আলতা। আপনার বাড়ীতে আপনাদের সংসর্গে আমার দম বন্ধ হয়ে
আসছে! স্নেহ মমতা ত দূরের কথা যেখানে দুটো মিষ্টি
কথাও পাওয়া যায় না-সেখানে আর আমি তিষ্ঠিতে পারছি

লাল পাঞ্জা [ ৪অঙ্ক না। কোথাও আশ্রয় না পাই আমি গাছতলায় থাকব, আপনি আমাকে ছেড়ে দিন। কিন্তু তা কি করে হবে? আমার কর্তব্যে ত আমি অবহেলা করতে পারি না! তােমার বাবার উইল- আলতা। বাবার উইলের নাগপাশ ছিড়ে বেরুবার কি আমার কোন উপায় নেই ? তােমার কুড়ি বছর বয়স কিম্বা বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত আমি ত কোনাে উপায়ই দেখছি না। আলতা। বিবাহ! কি বললেন –বিবাহ ? অজয়। হা-বিবাহ। উইলের নির্দেশ এই যে, তােমার বিবাহ হলেই আমার দায়িত্ব শেষ হবে। আলতা। [ অর্ধ গত ] এ কথা আগে শুনিন কেন! তাহলে ত এতদিন ( ধরে আমাকে অপমান সহ্য করতে হত না। অজয়। কি করতে–বিবাহ ? আলতা। নিশ্চয় ! কেন, আপনি আশ্চর্য হচ্চেন নাকি ? অজয়। ! আমার একটা মহৎ গুণ, কোনো অবস্থাতেই আমি আশ্চর্য হই না। কিন্তু বিবাহের পাত্রটি হত কে ? লা পাঞ্জা নাকি ? আলতা । লাল পাঞ্জা! { ফুলের দিকে চাহিয়া ! হঁ্যা, তাকেই আমি বিয়ে করতুম! কেন করব না! লাল পাঞ্জার মত স্বামী পাওয়া ত ভাগ্যের কথা। অজয়। [ উদিকে তাকাইয়া ] হয়ত লাল পাঞ্জার বয়স ৭৫ বৎসর। আলতা। কখখনো না—তিনি যুবাপুরুষ! আদর্শ যুবাপুরুষ তিনি, অসহায় নারীকে নির্যাতন করেন না—উদ্ধার করেন।

! ১ম দৃশ্য ) লাল পাঞ্জা ৭৫ তা হবে। তােমার সঙ্গে যখন তার এত মাখামাখি তখন তুমিই ভালাে জানে। আলতা।' { অধর দংশন ] মাখামাখি নেই—আমি তাকে কখনাে দেখিনি। কিন্তু তিনি আমাকে চেনে। আমার পক্ষে তাই যথেষ্ট অজয়। তাহলে—লাল পাঞ্জাকেই বিবাহ করা স্থির ? আলতা। আমার বিবাহ ত বিবাহ নয়, আপনার হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবার একটা উপায় মাত্র! • লাল পাঞ্জা কেন, আমি যাকে সামনে পাব তাকেই বিবাহ করব ; শুধু আপনার জেলখানা থেকে মুক্তি চাই। অজয়। সে বেশ কথা, তাই কোরো তাহলে ! [ দ্বার পর্যন্ত গিয়া ] কিন্তু পাত্র যদি আমার পছন্দ না হয়, আমি বিয়ে হতে দেব ( প্রস্থান) আলতা । এর সব পাথর দিয়ে তৈরী! দয়া নেই মায়া নেই, একটা মিষ্টি কথা পৰ্যন্ত কইতে জানে না। আমি পারব না, পারব না-যেদিকে দু’চোখ যায় চলে যাব। এর চেয়ে গাছতলাও ভাল । সেই যে রূপকথার রাজকন্যা প্রতিজ্ঞা করেছি, সকালে উঠে যার মুখ দেখবে তাকেই বিয়ে করবে, আমিও তাই করব। নেপথ্যে ত্রিদিবের কণ্ঠস্বর-অজয় : অজয় । আলতা। ঐ ত্রিদিববাবু এসেছেন ! ঠিক হয়েছে ! আমি ওকে ভাল- বাসিনা কিন্তু তবু; আমি মুক্তি চাই—মুক্তি চাই। ত্রিদিব প্রবেশ করল ত্রিদিব । অজয় কোথায় ? অনু বললে, এখানে আছে । 'আলতা । ছিলেন, চলে গেছেন। ৮ ৭৬ ত্রিদিব । আত। ত্রিদিব। আলতা। লাল পাঞ্জা [ ৪র্থ অঙ্ক ও, তাকে খুঁজতেই বেরিয়েছিলুম-তারপর, তােমার খবর কি? তুমি আজকাল খুব ভাল রধিতে শিখেছ শুনলুম, কে আমাকে ত একদিনও নেমন্তন্ন করে খাওয়ালে না। ভাল’রধিতে শিখেছি কে বললে ? অজয় কাল বলছিল। বােধ হয় ঠাট্টা করে বলেছেন। ঠাট্টা বলে ত বােধ হল না। বরং আমি নেমন্তন্ন করাতে বেশ একটু বিমর্ষ হয়ে পড়ল। তা সে যাহােক তুমি আমাকে রেধে খাওয়াচ্ছ কবে বল। নেহাৎ দি নেমন্তন্ন না কর তাহলে অনাহুত ভাবেই একদিন খেয়ে যাব !-কিন্তু একে বারে ফাঁকি পড়তে রাজি নই। আজ চললুম, অজয় হয়ত এতক্ষণ আমার বাড়ীতে গিয়ে হাজির হয়েছে। [ গমনােছত ) ত্রিদিব। আলতা। ত্রিদিব বাবু, শুনুন- অলতার কণ্ঠস্বরে এমন কিছু ছিল যে ত্রিদিব চমকিয়? রিয়া চাহি। ত্রিদিব। { কাছে গিয়া কি হয়েছে ? আলতা, আজ তােমার মুখ এত বিমর্ষ দেখছি কেন? আবার কিছু হয়েছে নাকি ? [ অন্যদিকে মুখ ফিরাইয়া ] ত্রিদিব বাবু, আপনি-আপনি- থামলে কেন, কি বলবে বল ? আলতা । ত্রিদিব। আলতা। বলতে লজ্জা করছে যে ! ত্রিদিব । লজ্জা করছে। এমন কী কথা যা আমার সামনে বলতে লজ্জা করছে। আমার দিকে ফেরো ত দেখি। -[ জোর করিয়া ] আপনি আপনি আমায় বিয়ে অালতা। করবেন ? কী! কী বললে ? ত্রিদিব ।

১ম দৃশ্য ]
লাল পাঞ্জা
৭৭
আলতা । বললুম তকতবার বলব ?
ত্রিী ‘ব।' হাত গুনতে ভুল করেছি; কিন্তু মনে হল তুমি’যেন বললে
‘আপনি আমায় বিয়ে করবেন।
আলতা। তাই ত বলেছি।
ত্রিদিব কিছুক্ষণ স্থির হইয়া দাঁড়াইয়া রহিল ; তারপর নিজেকে একটা ঝাকানি
দিয়া যেন মিথ্যার স্বপ্ন ঝাড়িয়া ফেলিল।
ত্রিদিব। না, বিশ্বাস হচ্ছে না—[ আলতার সম্মুখীন হইয়া দেখি তােমার
মুখ [ মুখ তুলিয়া ধরিল ] এবার সত্যি কথা বল দেখি কী
হয়েছে ?
আলতা। [ হাত চাপিয়া ধরিয়া ] ত্রিদিব বাবু, আপনি আমাকে উদ্ধার
করুন, অজয় বাবুর হাত থেকে আমাকে বাঁচান-আমি
আর কিছু চাই না।
ত্রিদিব । [ ছাড়িয়া দিয়া ] তাই বল ! ( ঈষৎ হানিয়া] এক মুহূর্তের
জন্যে আমার মনে হয়েছিল, বুঝি সত্যিই তুমি আমাকে
বিয়ে করতে চাও।
আলতা । সত্যিই চাই, ত্রিদিব বাবু।
ত্রিদিব ।
[ সস্নেহে পিঠে চাপড় মারিয়া ] পাগলি ! রাগ হলে আর জ্ঞান
থাকেন। অজয়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে ত? ও কিছু নয়,
এক সঙ্গে থাকতে গেলে ঘটি-বাটীতে ঠোকাঠুকি লাগে,
মিটে গেলে আর কিছু থাকবে না। কিন্তু তোমার এ
অভ্যেসটা ত ভাল নয় ! রাগ হলেই যদি যার-তার কাছে
বিয়ের প্রস্তাব করে বসে। তাহলে বিপদে পড়বে। সকলে
ত্রিদিব বাবু নয়—আসল কথাটি বুঝবে না; তখন সারা
জন্ম ধরে কাদলেও আর উপায় থাকবে না।

৭ লাল পাঞ্জা [ ৪র্থ অঙ্ক আলতা। ত্রিদিব । t আপনিও আমাকে অপমান করলেন! উঃ ভেবেছিলুম আপনি আমাকে ভালবাসেন। ভালবাসি আলতা। তােমাকে এত ভালবাসি যে সে তুমি কল্পনাও করতে পারবে না। আর, সেই জন্যেই তােমাকে বিয়ে করে তােমার জীবনটা নষ্ট করে দিতে পারব না। তুমি জান না কিন্তু আমি জানি তােমার মন কোথায় বাঁধা পড়েছে। যেদিন মান-অভিমান দর্প-অহঙ্কার সব ভেঙে পড়বে, সেদিন তুমিও বুঝতে পারবে। কিন্তু আর নয়, এবার চলুম- [ প্রস্থান ] কেউ আমাকে চায় না! এত নগণ্য আমি! আমি কী করব এখন। আমার জীবনটা যেন দিন-দিন জট পাকিয়ে যাচ্ছে ; গুটিপােকার মতন নিজের জালে নিজে জড়িয়ে পড়েছি। কেন এমন হল! কেন এমন হল! কেন এমন হল! [ উদ্ভ্রান্ত ভাবে প্রস্থান ] । আলতা। অনু প্রবেশ করিল অনু। কুমার। অষ্ট। আলতা! কৈ, কেউ ত নেই। এরা সব গেল কোথায়! বাক্ষ পথে কুমারকে দেখা গেল [ চাপা গলায় ] অনু—আমি এসেছি। তুমি! আবার! কুমার আসিয়া অনুর সম্মুখে নতজানু হইল অনু, আজ চোরের মত লুকিয়ে আমি তােমার কাছে এসেছি। আমার দুর্বলতা আমাকে তােমার কাছে অপরাধী করে রেখেছিল ; তারপর তুমি যখন চলে গেলে তখন বুঝতে পারলুম নিজের কী সর্বনাশ করেছি। আমাকে কুমার।

কুমার। ১ম দৃশ্য। লাল পাঞ্জা ক্ষমা কর অনু, আমি ভাবতে পারিনি যে ইহজন্মে তোমার কাছে ক্ষমা চাইবার অবকাশ পাব । অনু । কিন্তু—আমি যে ভুলতে চেয়েছিলুম- ভুলতেই ত হবে অনু; আমার দোষ-ত্রুটি ভুলে গিয়ে আমার হাত ধরে তােমাকে দাড়াতে হবে | উঠিয়া ] আমার দুৰ্বলতা আমি কাটিয়ে উঠেছি-এখন তুমি আমার পাশে এসে দাড়াও, আমার অতীত দুৰ্বলতার সব গ্লানি মুছে দাও, পৃথিবীতে সকলের সামনে মাথা উচু করে দাঁড়াবার অধিকার দাও-[ হস্ত প্রসারণ এস! অনু কিছুক্ষণ নিশ্চল হইয়া রহিল ; তারপর ধীরে ধীরে কম্পিতহ: কুমারের প্রসারিত হও ধারণ করিল

দ্বিতীম্ন দৃশ্য
কেশবের গৃহে বহুমূল্য আসবাবে সজ্জিত ড্রইং রুম। পিয়ানােতে বসিয়া শেখর
ও তাহার পশ্চাতে দাড়াইয়া ঝর্ণা গান করিতেছে। কখনাে ঝর্ণার কখনও
শেখরের গলা শুনা যাইতেছে। গানের ‘আমার প্রিয়া
কখাগুলি শেখর গাহিতেছে।
পিয়াল বনে আমার প্রিয়া বেড়ায় ঘুরে ছন্দ হয়ে,
প্রজাপতির পাখ অথির—ছুটে অধীর অন্ধ হয়ে ।
হরিণী চমকি ফিরিয়া চায়
ভ্রমরী গুমরি গুমরি গায়
পিয়াল ছয় মলয় বায় সুখে ঘুমায় গন্ধ হয়ে ।
ঝরে কুসুমের রেণু-কণা
কানন বধূরা আনন।
নুপুর পায় প্রিয়া আমার নেচে বেড়ায় ছন্দ হয়ে ।
গান শেষ হইলে শেখর ঝর্ণার হাত ধরিয়া নিজের সম্মুখে বসাইল ; ঝণ রকি
(চয়ারে বসিয়া দুলিতে লাগিল । শেখর তাহার অনতিদূরে বসিল।
শেখর।
ঝর্ণা, একটা অমানুষকে তুমি মানুষ করে তুললে -
সত্যি।–[ সুর ] হরিণী চমকি ফিরিয়া চায়
ভ্রমরী গুমরি গুমরি গায়-
শেখর। আমার কথা শেষ পর্যন্ত শােননা। মানুষ ত করে তুললে
কিন্তু তার অবশ্যম্ভাবী পরিণামটা ভেবে দেখেছ কি ?
ঝর্ণা। কৈ না দেখিনি ত[ সুরে ]
পিয়াল ছায় মলয় বায় সুখে ঘুমায় গন্ধ হয়ে ।
ঝর্ণা।

২য় দৃশ্য ) লাল পাঞ্জা শেখর। পরিণাম হচ্ছে এই যে, মানুষটা তােমাকেই গ্রাস করতে চাইবে। মানুষের দাবী যে অনেক ঝর্ণা! বেশ ছিলে, 'এখন হঠাৎ মানুষ তৈরি করে বিপদে পড়লে দেখ দেখি! ঝর্ণা। বিপদ কিসের! মানুষ যদি তৈরি করে থাকি সে মানুষটা ত আমারই। আমি তাকে নিয়ে ভাঙব গড়ব খেলা করব -যা ইচ্ছে করব। তুমি বাধা দেবে কেন? শেখর। বাধা দিই নি। কিন্তু মানুষটা ত কাচের পুতুল নয়- মানুষ ! ঝর্ণা। বেশ ত! ভালই ত! ( উচুয়া ] যাই, তােমার খাবার তৈরী হল কি না দেখি গে- [ গমনােদ্যত। শেখর। ঝর্ণ, শােনাে- না-[ ফিরিয়া ] ঝরে কুসুমের রেণুকণা কানন বধূরা আনমনা শেখর উঠিয়া ধরিতে গেল ; ঝণ। হাসিতে হাসিতে ছুটিয়া পলাইল । শেখর কয়েকবার পায়চারি করল ; তাহার স্মিতমুখ ক্রমশ গম্ভীর হইল । শেখর। , আর দেরী করা উচিত নয়, কেশব বাবুকে বলা দরকার। কেশব বাবু ভাল লােক, আমাকে অনেক দয়া করেছেন—কিন্তু এই চরম দয়া করবেন কি ?-বিশ্বাস হয় না—আমি ত দীন দরিদ্র, জীবন পথের একমাত্র সম্বল গলা। [ বিমর্ষ হাস্য ] তবু-বলা যায় না। ভাগ্য দ্বেতা কোন পথ দিয়ে কোথায় নিয়ে চলেছেন কে জানে। আশ্চৰ্য্য মানুষের জীবন! কী খুজতে বেরিয়েছিলুম, কী খুজে পেলুম। প্রতিহিংসার শ্মশানবহি বুকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলুম, যাত্রা শেষে দেখছি ভালবাসার ঘূত-প্রদীপ ঝর্ণা।

৮২ লাল পাঞ্জা [৪র্থ অঙ্ক শ। জ্বলছে! কিন্তু অনু—আমার হারিয়ে যাওয়া বােন্5 সে আজ কোথায়। হাত ধরাধরি করিয়া অনু ও কুমারের প্রবেশ! শেখরকে দেখিয়া অনু ক্ষণকালের জন্য পাষাণ মূর্তিতে পরিণত হইল; তারপর ছুটিয়া গিয়া তাহাকে জড়াইয়া ধরিল অনু। দাদা!—আমার দাদা! [ কাদিতে লাগিল ] শেখর। অনু! অনু-ছােট বােনটি আমার। শেখর কিয়ৎকাল আত্মহারা ভাবে ভগিনীকে জড়াইয়া লইয়া চুলে হাত বুলাইয়া আদর করিল তারপর ঈষৎ প্রকৃতিস্থ হইয়া শেখর। কুমারবাবু, অনু,এখানে কি করে এল ? কুমার। এখানেই ত ওর স্থান শেখরবাবু। শেখর। বুঝতে পারছি না। অনুর সঙ্গে আপনার সম্বন্ধ কি ? কুমার। অনু আমাকে ভালবাসে, আমি অনুকে ভালবাসি-এর • চেয়ে বড় সম্বন্ধ পৃথিবীতে আর কী আছে শেখরবাবু। [ রে ধীরে অনু:ক ছাড়িয়া দিয়া ] তবে- তবে আপনিই ? অনু। অশ্রুসিক্ত মুখে ] দাদা, আমরা আজ বাবার আশীৰ্বাদ নিতে এসেছি, তুমিও আশীৰ্বাদ কর। নতজানু হইয়া শেখরের জানু জড়াইয়া ধরিল শেখর। আশীৰ্বাদ! কুমারবাবু, আপনি অনুকে বিয়ে করবেন ? কুমার। হ্যা, বাবা যদি অনুমতি না দেন, তার অবাধ্য হয়েই বিয়ে করব। শেখরবাবু, আপনি অনুর দাদা, আপনার কাছে আমি অপরাধী ; ক্ষমা চাইবার যােগ্যতা আমার নেই- শেখর। দরকার নেই, দরকার নেই ভাই! তুমি অমুকে বিয়ে করবে, আমার পক্ষে এই যথেষ্ট উর্ধ্ব চাহিয়া ] আজ কি আমার সব ফিরে পাওয়ার দিন! মনুষ্যত্ব স্নেহ প্রেম- সব এক সঙ্গে গেলুম।

ঝর্ণা। ২য় দৃশ্য ] লাল পাঞ্জা ঝর্ণ। প্রবেশ করিল ঝর্ণা। দাঙ্গা!-[ অনুকে দেখিয়া ] ইনি কে? কুমার। উনি-তােমার বৌদিদি। আঁ—সত্যি! ইনিই আমার হারিয়ে যাওয়া বৌদিদি -- যার জন্যে তুমি খালি কবিতা আওড়াতে? আজকাল বৌদিকে পেয়েছ বলে পুঝি আর কবিতা বল না? কুমার। হা ঝর্ণা। শেখর । ঝর্ণা, তােমার বৌদির আর একটা পরিচয় আছে—উনি আমার বােন। কর্ণ উ: -কী আশ্চর্য্য!—চল ভাই বৌদি, তােমাকে আমার ঘরে নিয়ে যাই—[ হাত ধরিয়া লইয়া যাইতে যাইতে ] আচ্ছা, তুমিও গান গাইতে জানো? [ উভয়ের প্রস্থান ] কুমার। তাপরিচয়ের মাঝে থাক তুমি অশ্যালক বেশে ঘনিষ্ঠ হলেই তব শালা মুর্তি বাহিরায় এসে। কি বিচিত্র ব্যাপার ! শেখরবাবু, তুমি যে একদিন আমার শা। হবে, এ কথা কে জানত! শেখর। কেউ না। এমন কি, তুমি যে একদিন আমার শালা হবে একথাও কেউ জানত না। কুমার। আঁা-বল কি! ঝর্ণ। তাহলে? শেখর। [ ঘাড় নাড়িয়া ] ঠিক ধরেছ। দু’জনে সহাস্যমুথে করমর্দন করিল কুমার। তাহলে বাবার কাছে দু’জনে একসঙ্গেই দরখাস্ত পেশ করব। যদি না মঞ্জুর হয়, তখন দু’জনে হাত ধরাধরি করে একসঙ্গেই রাস্তায় গিয়ে দাড়ানো যাবে--কি বল । মরার বাড়া ত গাল নেই।

লাল পাঞ্জা ( ৪র্থ অঙ্ক কেশব প্রবেশ করিলেন, চক্ষে উন্মাদের দৃষ্টি [ নিজমনে ] সব গেছে-যাক। টাকা ত' ধূলাে-যাক। আমার টাকা নয়, আলতার টাকা—আর মেয়ের টাকা- হাঃ হাঃ হাঃ-[ উৎকর্ণ ভাবে শুনিয়া ] আশু! তােমার সঙ্গে বােঝাপড় পরে হবে, আগে এখানকার দেনা পাওনা শােধ করে নিই লাল পাঞ্জা! তাকে আমি চাই! লাগে—বিশ হাজার, পঞ্চাশ হাজার-তাকে চাই। আমাকে সর্বস্বান্ত করেছে। একবার মুখােমুখি দেখব সেকে! তারপর পৈশাচিৰ মুখভঙ্গী করিয়া পকেট হইতে পিস্তল বাহির করিলেন। শেখর। কেশব। কেশব বাবু- [ বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মত ফিরিয়া ] কে তুমি তােমাকে চিনিনা। ( নিকটে গিয়া ] তুমিই কি লাল পাঞ্জা!-চিনেছি! চিনেছি । তুমিই লাল পাঞ্জার চিঠি হাতে করে আমার বাড়ীতে ঢুকেছিলে ! তােমাকে মদ খাইয়ে মারব ভেবেছিলুম, কিন্তু তুমি মরনি। কুছ পরোয়া নেই, এবার মরতে হবে-[ পিস্তল তুলিলেন ] কুমার। বাবা- কেশব। ছুটিয়া গিয়া কেশবের হাত চাপিয়া ধরিল। কে " কুমার ! [ সন্দিগ্ধ ভাবে নিরীক্ষণ করিলেন ] তুমিই যে লাল পাজা নও তার প্রমাণ কি ? তুমি একটা হা-ঘরে মেয়েকে বিয়ে করতে চেয়েছিলে—আমি দিইনি। প্রতিশােধ-হাঃ হাঃ হাঃ-প্রতিশােধ ? টেলিফোন বাজিয়া উঠিল, কেশব ভয়ার্তভাবে চমকিয়া উঠিলেন।

২য় দৃশ্য ] লাল পাঞ্জা কেশব। —ঐ ! লাল পাঞ্জা হাসছে! ঘুমের মধ্যে ঐ হাসি শুতে পাই-জৈগে জেগে শুনতে পাই। কোথায় গেল? কোথায় গেল । [ চারিদিকে চাহিলেন ] (মৃত্যুঞ্জয় প্রবেশ করিল ) তুমি! তুমি হাসছিলে? তুমি তাহলে লাল পাঞ্জা!. [ ঘাড় ধরিলেন ] মৃত্যুঞ্জয়। আজ্ঞে আমি মৃত্যুঞ্জয়। কেশব। মৃত্যু ঞ্জ য় ! মৃত্যুকে তুমি জয় করেছ ? কি চাও তুমি? মৃত্যুঞ্জয়। [ ভয়কল্পিত স্বরে ] আপনার একলাখ টাকার life কোম্পানী accept করেছে, সেই খবর দিতে এসেছিলুম,-আপনার first premium ও দাখিল হয়ে গেছে, রসিদ এনেছি- কেশব। { ছাড়িয়া দিয়া ] ঠিক কথা ! এক লাখ টাকার লাইফ ইন্সিওর!—আমি মরলে টাকা পাব ত! [ মৃত্যুঞ্জয় সভয়ে বড় নাড়িল ] বা, তাহলে আমার মরা দরকার, এক লাখ টাকা পাব ! রণবীর প্রবেশ করিল কেশব। রণবীর। কেশব। দুষমনের মত চেহারা-কে তুমি ! কি সর্বনাশ! এ ত দেখছি উন্মাদ পাগল-কেশব বাবু ধরেছি-হা-হা-হাঃ এতক্ষণে ধরেছি! লাল পাঞ্জা! [ অগ্রসর ] [ পিছু হাটিতে হাটিতে ] চেপে ধরুন—চেপে ধরুন। কি করছেন আপনারা ! দেখছেন না, কেশব বাবু পাগল হয়ে গেছেন। রণবীর।

লাল পাঞ্জা
[ ৪র্থ অঙ্ক
দেখছি ত, কিন্তু ধরবে কে! ওঁর হাতে কি রয়েছে-
দেখছেন না ?
রণবীর!
ও বাবা।
ত্রিদিব প্রবেশ করিল
!
বলবে
ত্রিদিব। কেশববাবু শুনলুম নাকি-এ কি!
'কেশব। তুমি ত্রিদিব ব্যারিষ্টার। বলতে পার লাল পাঞ্জা কে ?
—বলবে না! গুলি করব, সবাইকে
খুন করব!
না? [ একে একে সকলের দিকে তাকাইয়া ] এরা সবাই লাল
পাঞ্জা!! [ চীৎকার ] সবাইকে আমি খুন করব ! কিন্তু
, পিস্তলে একটি গুলি আছে!তবে উপায় ! কাকে
মারি?—ঠিক হয়েছে । আমি মরব। লাইফ ইন্সি ওর
করেছি, মরলে লাখ টাকা পাবলাখ টাকা-
নিজের বুকে পিস্তল লাগাইয়া গুলী ছুড়িলেন।
এই সময় দুই দিক হইতে এক সঙ্গে অজয় ও চদি প্রবেশ করিল
লালাদ। [ মৃতদেহ দেখিয়া এক নম্বর-নিষ্ক্রান্ত। বাকি সকলেই
উপস্থিত। দাড়ান, কেউ নড়বেন না; আমি পুলিশে
ফোন করছি-
রণবীর।
আপনি কে ?
আমি লাল চাদ পাঞ্জা [ ফোন্ তুলিয়া হলাে-
লালাদ।

পঞ্চম অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য
অজয়ের গৃহাভ্যন্তরে একটি কক্ষ। অক্ষতা একাকিনী একটি ছােট টেবিলের উপর,
সযত্নে টেবল-ক্লথ বিছাইতেছে। কাল-সন্ধ্যার পর।
আলতা।
আমার সৰ্ব্বস্ব গিয়েছে—কিন্তু কৈ দুঃখ ত হচ্ছে না। বরং
মনে হচ্ছে, আমার প্রাণটা টাকার তলায় চাপা পড়েছিল,
এতদিনে মুক্তি পেয়েছে ! [ যড়িতে সাতটা বাজিল ] অজয়
বাবু এখনাে এলেন না। সেই সাত-সকালে খেয়ে বেরিয়ে
ছেন, এখনো ফেরবার নামটি নেই। পুরুষমানুষ জাতটা
বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়াতে কি ভালােই বসে! আর
আমরা যে সারাদিন একটি বাড়ীতে পড়ে থাকি, সেদিকে
কারুর নজর নেই। [ ঘরের এটা-ওটা গুছাইয়া রাখিতে রাখিতে ]
অনু চলে গেছে সে তার ভায়ের কাছে স্বামীর কাছে
গিয়েছে। নিশ্চয় খুব সুখে আছে। আর ঝর্ণা-সে ত
অসুখী হতে জানেনা। ওরা বেশ আছে। [ দীর্ঘশ্বাস ? দূর
ছাই, কিছু ভাল লাগে না। একটা গান গাই। অনেক
দিন গাইনি, হয়ত ভুলে গেছি-[ খামখেয়ালী হাত ?
মৃদুকণ্ঠে গান
ভাল লাগে তার পথ চাওয়া
যে-পথ স্মৃতির ঝরা কুসুমে ছাওয়া
-ভাল লাগে।

লাল পাঞ্জা
{ ৫ম অঞ্চ
সে আসিবে কি না
জানিনা-ওগাে জানিনা,
তবু মরমে বাজে বীণা
তনু পুলকে দখিণ হাওয়া
ভাল লাগে।
মন-বীথি পথে বাজে চরণ-ধ্বনি
রহি শ্রবণ পাতি, প্রহর গণি ;
-
সে, ত আসেনা-
শুধু অচেনা
পায়ের ধ্বনি করে আসা যাওয়া
ভাল লাগে।
অজয় প্রবেশ করিল ; গান অর্ধপথে থামিয়া গেল ।
আলত।
{ ধীরে সুস্থে টেবিলের সম্মুখে উপবেশন করিয়া ] বেশ গানটি।
কার উদ্দেশ্যে গাওয়া হচ্ছে জানতে পারলে আরাে ভাল
লাগত।
[ লজ্জা দমন করিয়া গম্ভীর মুখে ] কারুর উদ্দেশ্যে গাওয়া হয়নি,
নিজের মনেই পাওয়া হচ্ছিল।
ও-আমি ভেবেছিলুম বুঝি লাল পাঞ্জাকে-[ আলতা অধর
দংশন করিল ]-যাক, আমার চা কৈ? গৃহস্বামী যখন
সমস্ত দিন খেটে-খাটে গৃহে ফিরে আসেন, তখন চা তৈরী
থাকে না কেন ?
চা তৈরি আছে। গৃহস্বামীর ত সময়ের ঠিক নাই, তাই
থার্মে। ফ্লাস্কে ভরে রাখা হয়েছে।
কাবার্ড খুলিয়া চা জলখাবার লইয়া টেবিলে রাখিল।
আলতা।

১ম দৃশ্য ] লাল পাঞ্জা র। | মহানন্দে ] হুররে! থি চিয়াস! বন্দে মাতরম্ ! ইনক্লপ জিন্দাবাজ! গড, সেভ দি কিং! স্নালতা। ফলল কী হল। চেচিয়ে পাড়া মাথায় করলেন । অজয়। . •ার হইয়া চা পান পূর্বক ] দেখ আলতা, আমরা এই পুরুষ জাতটা অত্যন্ত নিরীহ ভালমানুষ ; ঠিক সময়ে থেতে পেতে আর কিছু চাইনা। তাই, আমরা বাড়ীতে পদার্পণ করতে না করতে যখন লক্ষ্মী ঠাকরুণের মত চা আর রসগােল্লা এনে হাজির কর, তখন আনন্দে আমাদের প্রাণটা একে- বারে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে। [ অনিন্দ গােপন করিয়া ] ও-তাই আমি ভেবেছিলুম বুঝি আর কিছু হয়েছে। না—আর কিছু হয়নি। [ কিছুক্ষণ নিবিষ্ট মনে ভােজন ] আচ্ছা, আলতা, অনু চলে গিয়ে অবধি তােমার খুব কষ্ট হচ্ছে আলতা। অজয়। -না ? আলতা। অজয়। আলতা। কষ্ট হবে কেন ? একলা তােমাকেইন্তু সংসারের সব কাজ করতে হয়, তাই বলছি। আমি কি এতই অপদার্থ যে দু’জনের সংসার চালাতে পারি ! তার চেয়ে বলুন আপনারই কষ্ট হচ্ছে। অনু যেমনটি পারত, আমি কি তেমনটি পারি! [ অজয় মুখ ফিরাইয়া হাসিল ] হাসছেন যে ? কৈ হাসলুম ! হাসিনি ত । এত মিথ্যে কথাও বলতে পারেন আপনি। অজয়। আলতা।

লাল পাঞ্জা
[ ৫ম অঞ্চ,
আজ আঁা-হেসেছিলুম নাকি ; তাহলে বােধ হয় অন্যমনস্ক হয়ে
হৈসে ফেলেছিলুম।
কৈফিয়ৎ দেবার দরকার নেই। [ মুগ্ধ ভার করিয়া কাবার্ডের
নিক গেল ; সেখানে এটা-ওটা নাড়িতে নাড়িতে আমার একটা
টাকা চাই।
ওরে ব্বাসরে! একশ টাকা ! হাসির খেসরেৎ নাকি ?
কী হবে শুনি?
আলতা। দরকার আছে।
অজয়। [পকেট হইতে মনি-ব্যাগ বাহির করিতে করিতে স-নিশ্বাসে] দরকার
যখন আছে তখন দিতেই হবে। [ উদাম কণ্ঠে ] দরকারটা
সম্ভবত গােপনীয়, আমি জানতে পারিনা?
আলতা। [ ফিরিয়া ] শীত আসছে গরম জামা কাপড় চাই না?
অজয়। , ও-তা একশ টাকার গরম জামা কে পরবে ?
আলতা। আপনি পরবেন, আবার কে পবে। গরম কাপড় যে
এক টুকরো বাড়ীতে নেই, তা জানেন ?
অজয়। তাই আমি একশ টাকার গরম জামা পরে ভাল্লুক সেজে
বসে থাকব!আর তুমি ?
আলতা। আমার আছে। এ বছর চলে যাবে।
কেন, একটা ভাল ফার-কোট কিম্বা কাশ্মীরী শাড়ী-
আলতা। বল্লুম না, আমার আছে।
বেশ, যা ভাল বােঝ কর। তুমি যখন বাড়ীর গিন্নী তখন
তোমার শাসন মেনে চলতে হবে বৈকি।
অজয় কয়েকটি নােট দিল ; আলতা সেগুলি আলমারিতে তুলিয়া রাখিল।
আলতা। অজয় বাবু, একটা কথা কয়েকদিন ধরে আপনাকে জিজ্ঞাসা
অজয়।
করূব ভাবছি-

. অজয়। করে ১ম দৃশ্য । লাল পা আমিও একটা কথা তােমাকে জিজ্ঞাসা করব ভাবছি। তা তােমার কথাটাই আগে হক। -আলতা। [ একটু সঙ্কুচিত ভাবে ] আমি কি একেবারে নিঃস্ব? কেশব বাবু কি আমার কিছুই রাখেন নি ? অজয়। শুধু তােমার বসত-বাড়ীখানা আছে। তাআজকালকার মন্দার বাজারেও তার দাম লাখ দেড়েকের কম হবে না। আলতা। তাহলে আমি-আপনার গলগ্রহ নই ? অজয়। তুমি আমার গলগ্রহ নও-[মুখের পানে চাহিয়া হাসিয়া ] বরং আমিই তোমার গলগ্রহ। তােমার টাকায় খাচ্ছি পরছি বাড়ী ভাড়া দিচ্ছি—আর তােমার ওপর প্রভুত্ব করছি।-কি চমৎকার ব্যবস্থা তোমার বাবা গিয়েছেন। আলতা । বাবার কোনাে কাজের সমালােচনা করবার ধৃষ্টতা আমার নেই। আপনারও থাকা উচিত নয়। অজয়। [ জিভ কাটিয়া ] সমালােচনা করিনি। তিনি আমাকে অনাথ আশ্রম থেকে কুড়িয়ে এনে সুবচেয়ে বিশ্বাসের পদে প্রতিষ্টিত করে গেছেন। বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে পেরেছি কিনা জানি না, কিন্তু তার নিন্দে করৰ আমি এত অধম আমি নই। আলতা। ও কথা যাক। এখন আপনি কি বলবেন বলুন । অজয়। ও-হঁা। [ ক্ষণেক নীরব থাকিয়া ] দ্যাখ, অনু যতদিন ছিল, কোনাে কথা ছিল না, কিন্তু এখন তুমি আর আমি ছাড়া এ বাড়ীতে আর কেউ থাকে না। লােকে আমি ! হয়ত কুৎসা করবে।

লাল পাঞ্জা [ ৫ম অঞ্চ আলত। [ বিক্ষিত ] কুৎস। কবে কেন? তাদের মন কুৎসিত তাই কুৎসা করবে। বুঝতে পারছ, না। আলতা। . আলতা। আলতা। [ উত্তপ্ত মুখে ] বুঝেছি। আপনি এই সব কুৎসাকে ভয় করেন ? নিজের জন্যে করি না। কিন্তু তােমার জন্যে করি। [ ঘৃণা ভরে ] আমি করি না। ইতর লােকের ঘৃণিত কুৎসা আমি গ্রাহ করি না। জনমত যতই ঘৃণিত হােক, তাকে উপেক্ষা করে সমাজে থাকা চলে না। তাই ভাবছিলুম, তােমার জন্যে একটি সঙ্গিনী যদি যােগাড় করতে পারা যায়- [ তীক্ষ কঠে ] আমরা কি এতই দুৰ্বল যে আমাদের পাহারা দেবার জন্য একজন চৌকিদার দরকার। আমরা জানি চৌকিদার দরকার নেই, কিন্তু বাইরের লােক তা বুঝবে না। [ উঠিয়া ] দেখি যদি একটি আধ- বয়সী গিন্নীবান্নি গােছের ভদ্রমহিলা যােগাড় করতে পারি —সংসারের কাজেও তিনি তােমাকে সাহায্য করতে পারবেন। { জ্বলিয়া উঠিয়া ] যে মুহূর্তে আপনি গিন্নিবান্নি ভদ্রমহিলাকে এ বাড়ীতে ঢােকাবেন, সেই মুহূর্তে আমি তাকে বিদেয় করব—এই বলে দিলুম। ভদ্রমহিলার সাহায্য আমি চাই । এ বাড়ীতে একটা ঝি আছে—সেই আমার পক্ষে অজয়। অালত। যথেষ্ট। ঝি। পত্র হস্তে ঝি প্রবেশ করিল একটা লােক এই চিঠিখানা দিয়ে গেল। অজয়ের হস্তে চিঠি দিয়া প্রস্থান অামার চিঠি। ১ম দৃশ্য ] লাল পাঞ্জা অজয়। - খামের উপর নাম দেখিয়া ] তােমার চিঠি দেখছি। আতা। কে লিখেছে? অজয়। বলতে পারিনা। [ ক্ষণেক নীরব থাকিয়া ] হয়ত লাল পাঞ্জা! খাম আলতাকে দিয়া ধীরে ধীরে প্রস্থান আলতা। [ খাম উল্টাইয়া পাল্টাইয়া দেখিতে দেখিতে আমাকে ত চিঠি লেখে না। তবে কি সত্যিই-[ পত্র বাহির করিয়া পড়িল.] , রণবীর বাবু লিখেছেন। কি আশ্চর্য! [ কিছুক্ষণ হতবুদ্ধি ভাবে বসিয়া রহিল ] না-আমি যাব। [ পত্র দেখিয়া ] অজয় বাবু সম্বন্ধে গােপনীয় কথা! কী গােপনীয় কথা! কি করেছেন উনি?—আমি যাব ; আমাকে জানতেই হবে। কিন্তু এই রাত্রে ! তা হােক--দোষ কি! রণবীর বাবু একজন ডাক্তার, ভদ্রলােক দোষ কি ? [ পত্র দেখিয়া ] একলা ট্যাক্সিতে করে যেতে লিখেছেন। তাই যাব- আজই আমার জানা দরকার । অজয় বাবু সম্বন্ধে গােপনীয় কথা কী থাকতে পারে ? জানতে ভয় করূছে -তবু না জেনেও আমি পারব না- বেশভূষার সামান্য পরিবন করিয়া আলত বাহির হইবার উপক্রম করিল সে দ্বারের সম্মুখীন হইয়াছে-অয় প্রবেশ করিল অজয়। [ আপাদমস্তক দেখিয়া ] কোথায় যাচ্ছ ? আলতা। আমি একটু বেরুব। আমার দরকার আছে । অজয়। এত রাত্রে কোথায় তােমার দরকার ? [ আলতা নীরব ]; আলতা, কী হয়েছে, কে চিঠি লিখেছিল ? আলতা। তা আমি বলতে পারব না। অজয় বাবু, আমার বিশেষ দরকার, এক ঘণ্টার মধ্যেই ফিরে আসব। অজয়। চল—আমিও তােমার সঙ্গে যাচ্ছি।

লাল পাঞ্জা ( ৫ম অঙ্ক 1; আছে. আলতা। আমি একলা যাব। ৫ [ গমনােছাত ] অজয়। আলতা, যৈও না। আমি-আর্মি মিনতি করছি, যেও না, অগিতা। আমাকে যেতেই হবে অজয় বাবু, আমার দরকার [ প্রস্থান }, অজয় কিছুক্ষণ দাড়াইয়া রহিল অজয়। দরকার আছে।--পৃথিবীতে শুধু আমারই কিছু দরকার নেই- চিঠিখানা মেঝে পড়িয়াছিল ; দেখিতে পাই অজয় সাগ্রহে তুলিয়া লইল

দ্বিতীয় দৃশ্য
রণবীরের
গৃহে দ্বিতলের একটী কক্ষ। মেঝেয় কার্পেট, একটী সােফা, একটী
ষধের আলমারি প্রভৃতি রহিয়াছে। রণবীর বক্ষ হুবদ্ধ করিয়া পায়চারি
করিতেছে। সময়-রাত্রি।
রণবীর।
অর্ধেক রাজত্ব আর রাজকন্যে-রাজত্ব ত ফাক হয়ে গেছে
-এখন বাকি রাজকন্যে ! তাই বা মন্দ কি! দেখি কে
পায়। [ দ্বারের নিকট গিয়া উচ্চকণ্ঠে ] হরিহর।
শীর্ণকায় কম্পাউণ্ডার প্রবেশ করিল
ব্রণবীর।
আজ্ঞে ?
রাত রয়েছে, ডিসপেন্সারি বন্ধ করে তুমি বাড়ী যাও।
আর রামদীনকে বলে দাও, আজ রাখিরটা তার ছুটি।
কাল সকালে যেন আসে।
হরিহর।
যে আজ্ঞে -[ স্বগত ] আজ একটু এ রকম ফের আছে
দেখছি। আজ্ঞে তা রাত্তিরে যদি রুগী আসে ?
রণবীর।
আসে ত আমি আছি-যাও।
হরিহর। [ গত ] হু হু-রুগী নয়, রুগিনী আসছে ।-যে আজ্ঞে
[ এস্থান ]
রণ ধর অলিমার হইতে ব্রাওি তানিয়! এক মেজার গ্লাস পান করিল
রণবীর! ঐ অজয়টা হচ্ছে হর্নেল ঘুঘু ! মিটমিটে ডান, হেলে খাবার
রাক্ষস। কিন্তু বাবা আমিও এক হাত ভানুমতীর খেল
দেখিয়ে দোব। [ আবার মদ্যপান ক’দিন থেকে মনে
}

! লাল পাঞ্জা [ ৫ম অঙ্ক হচ্ছে একটা লােক অনবরত আমার পেছু পিছু ঘুরচ্ছ। কেউ কিছু সন্দেহ করে নাকি? | চিন্তা ] কোকেন বিক্রী ফ-িতা কোন্ শালার ডিসপেন্সারি করেনা? আর; এ ব্যাপার ত এখনাে আরম্ভই হয়নি; আজই হেস্ত নে হয়ে যাবে । [ ঘড়ি দেখিয়া ] আসার সময় হ’ল। অসিদ্ধে নিশ্চয় ; না এসে যাবে কোথায়! ( উৎকর্ণ ভাবে শুনিয়া ] ঐ আসছে-সিড়িতে পায়ের শব্দ--প্রথমটা নিজমূর্তি দেখানাে চলবে না; ভদ্রভাবে-মার্জিত ভাবে-গায়ে সভ্যতার বার্লিস লাগিয়ে-[ মুখের ভাব পরিবর্তন করিয়া দাঁড়াইল, ; . আলতার প্রবেশ রণবীর বাবু আলতা। বণবীর। * আসুন মিস আলতা। এই কৌচটাতে বসুন ; আপনি আমার বাড়ীতে পদার্পণ করবেন, এ সৌভাগ্য আমার কল্পনার অতীত- আলতা। আপনার চিঠি পেয়ে আসতে হল। নৈলে এত রাত্রে - রণবীর। [ অনুযােগের সুরে ] কি করব মিস্ আলতা, চিঠি লেখ। ছাড়া আমার আর গতি ছিল না। আপনি হয়ত জানেন না, আমি একবার বন্ধুভাবে আপনার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলুম, কিন্তু এমনি আমার দুর্ভাগ্য দেখা ত পেলুমই , উপরন্তু অজয়বাবু আর ত্রিদিববাবু আমাকে অপমান করে বিদেয় করে দিলেন- আলত। সে আমি শুনেছি—কিন্তু ও কথা থাক—কী গােপনীয় কথা বলবেন লিখেছিলেন- রণবীর। [ পাশে বসিয়া ] মিস আলতা, আপনি হয়ত আমাকে ২য় দৃশ্য ] লাল পাঞ্জা অালতা । রণবীর। আলতা। রণবীর। একজন সাধারণ বন্ধু বলেই মনে করেন। কিন্তু আপনার প্রতি আমার মনােভাব যে কত গভীর [ তাড়াতাড়ি ] কি গােপনীয় কথা বলবেন বলুন। অজয় বাবু সম্বন্ধে আপনি কী জানেন ? পরের নিন্দে করতে আমি ভালবাসি। কিন্তু অজয়বাবু সম্বন্ধে আমি এমন অনেক কথা জানি যা মহিলার সামনে বলা যায়না [ উঠিয়া দাড়াইয়া ] তবে আমাকে মিছে ডেকে পাঠিয়েছিলেন কেন ? বসুন বসুন। আপনি যখন শুনতে চান তখন বলছি। অজয় চৌধুরী যে একজন জোচ্চোর ধড়িবাজ, এতদিনে নিশ্চয় আপনি তা বুঝতে পেরেছেন। আপনার বাবাকে মিষ্ট কথায় ভুলিয়ে উইল তৈরী করে নিয়েছিল তার ফলে আপনি এখন তার বাড়ীতে একরকম বন্দী হয়ে আছেন। মিথ্যে কথা! অজয় বাবু জোচ্চোর নন্ ; আর, তার বাড়ীতে আমার বন্দী হয়ে থাকার কথাও মিথ্যে ! মিথ্যে ! জানেন, এই নিয়ে আপনার কি জঘন্য বদনাম রটেছে ? সমাজে ত কাণ পাতবার যাে নেই। কিন্তু আপনি জানবেন কোথেকে। অজয় যে অনাথ আশ্রমের কুড়ানো ছেলে, একথাও বোধ হয় জানেন না ? জানি—তিনি নিজের মুখেই বলেছেন। আপনার, আর কিছু বলবার আছে? আছে বৈকি! জানেন, কে বশবাবু আপনার যত টাকা শেয়ার মার্কেটে লােকসান দিয়েছেন, সব অজয়ের পকেটে গেছে। আপনাকে নিঃস্ব করে আজ সে বড়মানুষ । निना। রণবীর। আলতা। রণবীর। ৭ শালতা। লাল পাঞ্জা [ ৫ম অঙ্ক [ উচ্ছ্বসিত মুখে ] সত্যি! আমি জানতুম । রণবীরব, এত বড় সুখবর আপনি যে আমাকে দেবেন তা আমি প্রত্যাশা করিনি। কিন্তু আর বােধ হয় আপনার কিছু বলবার নেই। আমি তাহলে উঠলুম-নমস্কার। [ দ্বার রােধ করিয়া দাড়াইল ] আলত। বােসস। এখনো আমার আসল কথাই বলা হয় নি। আসল কথা। হা-আসল কথা। আলতা, আমি তােমাকে ভালবাসি। রণবীর। আলতা। রণবীর। রণবীর বাবু ! আলতা। রণবীর। { আলতা। আলতা, আমি তােমাকে চাই। মরুভূমির তৃষ্ণায় পাগল হয়ে মানুষ যে ভাবে জল চায় আমি তেমনি তােমাকে চাই-[ অগ্রসর ] রণবীরবাবু, এ সব আপনি কী বলছেন! মিথ্যে ছল করে আvাকে এখানে এনে এ সব কথা বলতে আপনার সঙ্কোচ হচ্ছে না ? আপনি ন ভদ্রলােক। ভদ্রলােক ! পৃথিবীতে ভদ্রলােক নেই, সবাই পশু !- কেবল মুখের ওপর এক পোচ ভদ্রতার বাণিশ মাখানো। আলতা-[ অগ্রসর রণবীর। আলতা। রণবীর পথ ছাড়ুন, আমি বাড়ী যাব । বাড়ী যাবে, তােমার বাড়ী কোথায় ? সে ত অজয়ের বাড়ী। সেই বাড়ীই আমার বাড়ী। সেখানে আর তুমি ফিরে যাবে না আলতা । আজ থেকে আমার বাড়ীই তােমার বাড়ী। নরম সুর অাত, আলতা । রণবীর।

২য় দৃশ্য ] লাল পাঞ্জা ই ৫ "অমর কোনাে কুমলব নেই, আমি তােমাকে বিয়ে । করব। ‘আলতা। আপনি যদি আমাকে এখনি পথ ছেড়ে না,দেন, আমি চেঁচামেচি করব । রণবীর। চেঁচামেচি করবে! ( কুটিল হাস্য ] ও বাড়ীতে আর কেউ নেই-শুধু তুমি আর আমি। আলতা। [ ভয়ার্ত কণ্ঠে ] আঁ- রবীর। চেঁচামেচি কান্নাকাটি কিছুতেই কিছু হবে না-আট ঘাট বেঁধে কাজ করেছি!-শােনো আলতা, আমি মরীয়া ; যদি রাজি না হও, তােমার এমন অবস্থা হবে, যে, তুমি- আমাকে বাধ্য-হয়ে-বিয়ে করবে। বুঝতে পারছ তার মনে ? '! স্কুট কাসচক শব্দ করিয়া কাপিতে কাপিতে বসিয়া পড়িল রাজি নও! রাজি নও? আচ্ছা তবে[ আলমারি হইতে উপারমিক সরঞ্জ আনিয়া ] দেখছ ? একটি ইনজেকশানে আমিনিটের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়বে। তারপর ? অত। { sৎকার করিয়া ] রক্ষে কর-কে আছ বাচাও ! রণবীর। বটে! তবে কে রক্ষ করে দেখি। রণবীর তার হাত টানি ইনজেকশন দিতে উদ্যত হইল, কিন্তু সহসা বিকট হাসির শব্দে শতর মত ফিরিয়া দেখিল, লাল মুখােশ পরা একটি লােক ছরের সম্মুখে হাসি দাড়াইয়াছে। রণবীব। লাল পাঞ্জা। [ সিরিঞ্জ পড়া গেল ] দলপঞ্জ রণবীরের সম্মুখ আসিয়া দাঁড়াইল। কিয়ৎকাল উভয়ের এইভাবে অবস্থান লাল পাঞ্জা। [ বিকৃত কণ্ঠে ] পিছু ফেরে। সন্ত্রচালিতবৎ রণবীর ফিরিল। লালপাঞ্জা সিরিঞ্জ কুড়াইয়া লইয়া তাহার হাতে ইনজেকশন দিল। রণবীর।

লাল পাঞ্জা [ ৫ম অঙ্ক রণবীর। [ জড়িত কণ্ঠে ] লাল পাঞ্জা-চিনেছি তােমার্কে- অজ্ঞান হইয়া মাটিতে পড়িল আলতা এতক্ষণ মৃন্মৰ্ত্তিৰ মত দাঁড়াইয়া ছিল, লালপাঞ্জা তাহার নিকট গেল লালপাঞ্জা। [ কর্কশ স্বরে ] এস। আল মাথা ঘুরিয়া পড়িয়া যাইবার উপক্রম করিল, লালপাঞ্জা তাহাকে কোলে তুলিয়া লইয়া প্রস্থান করিল। কিছুক্ষণ পরে সতর্কভাবে ত্রিদিব ঘরে ঢুকল। ত্রিদিব । কোথায় গেল রণবীরটা! বাড়ীতে কেউ নেই। রণবীরকে দেখিয়া ] এ কি! [ পরীক্ষা করিতে করিতে ] পটল তুলেছে নাকি? না, আছে। আলমারি হইতে ব্র্যাণ্ডির বােতল অনিয়া মুখে ঢালিয়া দিল ; রণবীর ধীরে ধীরে উঠিয়া বসিল। রণবীর। তুমি আবার কোথেকে এসে জুটলে বাবা! একটি একটি করে এসে হাজির হচ্ছ-তােমাদের কি আজ নৈশ ভােজনের নেমন্তন্ন করেছিলুম? কৈ মনে পড়ছে না ত ? ব্রাণ্ডির বােতল এক নিশ্বাসে শেষ করল ত্রিদিব। কি হয়েছিল তােমার ? রণবীর! কিচ্ছু হয়নি বাবা, মুচ্ছে। গিছলুম। 'চাদ মুখেতে রোদ লেগেছে ডালিম ফেটে পড়ে।'—ত্রিদিববাবু, তুমি কি জন্যে এসেছ জানা হল না, আমি চললুম। [ উঠিয়া ] বড় জবর খবর আছে-পুলিশকে দিতে যাচ্ছি ! হাঃহাঃহাঃ! বলি, লাল পাঞ্জাকে চেনো?-চললুম, একবার তার সঙ্গে মােলাকাত করে সটান থানার দিকে রওনা হব। তিনি অধমের ভিটের পায়ের ধূলাে দিয়েছিলেন কিনা! আমি ত’ মরেছি; কিন্তু বাবা মরবার আগে ঘটোৎকচের মতন কুরু বংশ চেপে মরব- [ প্রস্থান ] ত্রিদিব কিয়ৎকাল কুঞ্চিত ললাটে দাড়াইয়া রহিল, তারপর দ্রুত প্রস্থান করিল।

তৃতীয় দৃশ্য অজয়ের বহি:কক্ষ; তক্তপােষ ইত্যাদি পূর্ববৎ। একটী উেক-চেয়ারে আলতা চক্ষু মুদিয়া শুইয়া আছে। অজয় তাহাকে বাতাস করিতেছে ও মাঝে মাঝে উৎকণ্ঠিত কোমল কণ্ঠ নাম ধরিয়া ডাকিতেছে । আলতা ধীরে ধীরে চক্ষু মেলিয়া কিছুক্ষণ শুন্য দৃষ্টি চাহিয়া রহিল, তারপর ধড়মড় করিয়া উঠিয়া ভীতচক্ষে চারিদিকে চাহিল। অজয়। আলতা। ভয় নেই আলতা, তুমি নিজের বাড়ীতে ফিরে এসেছ। তুমি ! [ দু’হাত দিয়া অজয়ের হাত চাশিয়া ধরিয়া হাতের উপর কপাল রাখিয়া কাদিয়া ফেলিল, তারপর অশ্রুসিক্ত মুখ তুলিল | মার কক্ষনো তােমার অবাধ্য হব না। লক্ষ্মী মেয়ে। [ সযত্নে চুলে হাত বুলাইয়া দিল। ] কিন্তু—আমি কি করে এখানে ফিরে এলুম! লাল পাঞ্জা! লাল পাঞ্জা কৈ ? [ বিল কারে ] কৈ এখানে ত দেখছি না। তাকে আবার অজয়। আলতা। অজয়। কেন ? আলতা। অজয়। তিনি—তিনিই আমাকে উদ্ধার করেছিলেন। উঃ-সে সময় তিনি যদি না যেতেন তাহলে আমার যে কী হত- থাক-লাল পাঞ্জার বীরত্ব কাহিনী শােনবার আমার আগ্রহ নেই। তিনি কে তাও যদি জানতে পারতুম, বুকের রক্ত নিয়ে তার পূজো কতুম। হু-ব্যাপার অনেকদূর গড়িয়েছে দেখছি।কিন্তু মনে আলত। অজয়।

হতে পারে। লাল পাঞ্জা [ ৫ম অঙ্ক রেখাে এখনি প্রতিজ্ঞা করেছ কখনন, আমার অবাধ্য হবে না। আন্ত। তাতে কি হয়েছে? অজয়। অাৎ লাল পাঞ্জাকে যদি বিয়ে করতে চাও, হয়ত আমার অমত আলতা অজয়ের প্রতি একটী চকিত কটাক্ষ হানিল ; তাহার মুথে অল্প হাসি ক্ষুরিত হইয়া উঠিল । আন্ত। অমত হবে কেন? লাল পাঞ্জা কি সুপাত্র নয় ? অজ। অতি বড় সুপাত্র হলেও আমার অমত হতে পারে ? আলতা। কেন অমত হবে সেই কথাই ত জানতে চাইছি। অজয় । আমার স্বার্থ আছে। আলতা। কী স্বার্থ ? অজয়। স্বার্থ কি একটা ? ধর, বিয়ে হলেই ত তুমি এ বাড়ী ছেড়ে চলে যাবে, তখন আমাকে বেধে খাওয়াবে কে ? অল্তা। [ অৰ্দ্ধ গত ] এ বাড়ী ছেড়ে আমি কোথাও যেতে পারব . আলতা। আঁ! তবে কি লাল পাঞ্জাকে নিয়ে এইখানেই ঘর সংসার পাতবে মৎলব করেছ নাকি ?—আর আমি ? মুগ তীপিয়া হাসিল ] আপনিও থাকবেন । রেধে খাওয়া- নাের জন্যেই ত আমাকে দরকার-তা রেধে খাওয়াব। অর্থাৎ এমন রান্না রাধবে যে দুদিনে আমাকে বাড়ী ছেড়ে পালাতে হবে। তখন তুমি আর লাল পাঞ্জা সুথে স্বচ্ছন্দে ঘরকন্না করবে-এই ত ? লাল পাঞ্জার ওপর কি হিংসে হচ্ছে নাকি ? হিংসে হবে কিসের জন্যে। আন্ত। অজয়।

হয় দৃশ্য। লাল পাঞ্জ। ট , আলত। তবে তার ওপর আপনার এত রাগ কেন ? [ কাছে আসিয়া ] আমার বিছনায় তিনি ফুল রেখেছিলেন বলে ? অজয়। [ গন করিয়া ! হা! কেন তােমার বিছনায় ফুল রাখবে? কোন্ অধিকারে ? আর, তুমিই বা তাকে বিয়ে কতে চাইবে কেন? আলতা। তাহলে সত্যিই হিংসে করেন | আরো কাছে আসিয়া ] আচ্ছা মনে করুন, আমি যদি লাল পাঞ্জাকে বিয়ে করতে না চাই, আর একজনকে বিয়ে করতে চাই—তাহলে আপনি কি করবেন ? অজয়। আর একজনকে ! কাকে ? আন্ত। যাকে আমি ভালবাসি ; যে আমাকে দু’চক্ষে দেখতে পারে না; আমাৰ সৰ্ব্বস্ব ঠকিয়ে নিয়ে যে পকেটে পুরেছে ;- ( গলা কাপিতে লাগল ] আলত :- অনিবদ্ধ ] টানতে টলতের প:বশ করন : এল। তাড়াতাড়ি অজয়কে ছাড়। দিয়া ৭টারক : হবির যে জয়ের লকে মু কইন; রণবীর! তো : কেয়াবা। একেবারে ধাকৃষ্ণের মিলন, কেবল কম গাছটি নেই কিন্তু স্রেফ রাসলীলা করলেই ত চলে না অজন্তু বার, এবার যে গিরি গােবর্ধন ধারণ করতে হবে । রণবীর বা, আপনি এনে কি চান ? রণবীর ! কিছু চাইন। বাবা; যা চেয়েছিলাম তা ও বেহ। ক হয় গেছে। এখন পুলিশে যাচ্ছি !-হাঃ হাঃ হাঃল পা। খুক্তি জ নর যে পায় তারি । অজয়। আপনার মাথা খারাপ হয়েছে নাকি ? 'রণবীর। মাথ: মেজাজ চরিত্র-বিলকুল খারাপ হয়ে গেছে বাব’ ১০২ । লাল পাঞ্জা . [ ৫ম অঙ্ক কিন্তু তােমায় আমি চিনেছি। ভিজে বেরালটি সেজে থাকো, দেখলে মনে হয় ভাজা মাছটি উটে “খেতে জান মা কিন্তু এবার একেবারে নিঃষশ চিনেছি। আপনি বলতে চান কি। বলতে চাই যে, তুমিই-লাল পাঞ্জা! ত্রিদিব প্রবেশ করিল। মিথ্যে কথা-রণবীর, লাল পাঞ্জা কে, দেখতে চাও ! এই অজর। রণবীর। ত্রিদিব । রণবীর। = উন্মুক্ত করতল দিয়া রণবীরের বুকে আঘাত করিল, তাহার বুকে রক্তবর্ণ পাঞ্জার ছাপ পড়িল। অ্যা-তুমি! [ অভিভূত ভাবে একবার অজয়ের দিকে, একবার ত্রিদিবের দিকে তাকাইতে লাগিল ] তবে কি আমি করলুম- তক্তপােষের তলা হইতে লালচাঁদ বাহির হইল। লালচাদ। ভুলই করেছ রণবীর ডাক্তার । রণবীর। তুমি আবার কে, তক্তপােষের তলা থেকে বেরিয়ে এলে ? আয়ান ঘােষ ? লালাদ। না, আমি পুলিশ ইন্সপেক্টর লালচাদপাঞ্জা! [হইসিল বাজাই] ত্রিদিববাবু, আপনি নিজের মুখে স্বীকার করছেন যে আপনি লাল পাখা? এদিন। স্বীকার না করে আর উপায় কি ? অনেকগুলি সাক্ষী গজিয়ে গেছে যে ! ত্রিদিবদা, এ তুমি কি করছ ? ত্রিদিব । ঠিক করছি অজয়, তুমি কথা কয়ো না। ত্রিদিববাবু, আপনি—আপনি লাল পাঞ্জা! আন্ত।

৩য় দৃশ্য ]
লাল পাঞ্জা
ত্রিদিব। ) বিশ্বাস হচ্ছে না? কিন্তু আমার লাল পাঞ্জা হওয়াই ত সব
চেয়ে স্বাভাবিক। আমি জেলে গেলে কারুর কেননা
অসুবিধা নেই—অতএব আমিই লাল পাঞ্জ!
ত্রিদিব দা-
ত্রিদিব। চুপ- স্থিরনেত্রে কিছুক্ষণ অজয় ও আতার যুগ্ম মূর্তির পানে চাহিয়া
রহিল ; তারপর লালদের দিকে ফিরিল ] ইন্সপেক্টর বাবু, এবার
আমাকে গ্রেপ্তার করুন।
দুইজন কনষ্টেবল প্রবেশ করিল।
লালাদ।
আপনার হাতে হাতকড়া লাগাবার দরকার নেই, আমি
জানি আপনি পাবেন না। ত্রিদিববাবু, লাল পাঞ্জা আজ
পর্যন্ত কোনও অন্যায় অত্যাচার করে নি, বরং যেখানে
পুলিশের হাত নেই, সেখানে সে দুৰ্ব্বত্তের হাত থেকে
দুৰ্বলকে রক্ষা করেছে। কিন্তু তবু, দেশের আইনের চোখে
সে অপরাধী ; কারণ, আইনকে ডিঙিয়ে নিজের হাতে
শাসনের ভার তুলে নেবার অধিকার কারুর নেই।
বাধ্য হয়ে আপনাকে আজ আমি গ্রেপ্তার করছি। আপনি
অপরাধী কি না, এবং আপনার অপরাধের গুরুত্ব কতখানি
সে বিচার আদালত করবেন।
আলতা, চললুম তাহলে তােমাদের দুজনের মধ্যে বেশ
ভাব হয়ে গেছে তা বুঝতে পারছি। আর ঝগড়া ॥
করো না। অজয়, বিয়ের নেমন্তন্নটা বােধ হয় আমার
ফস্কে গেল : যাহােক, তারপরে আর একটা শুভদিনে
নিশ্চয় হাজির থাকতে পারব-বছর খানেকের বেশী জেলে
থাকতে হবে মা। চলুন তালান বাবু।
ত্রিদিব ।

১০৬ লাল পাঞ্জা [ ৫ম অঙ্ক কালাদ। রণবীর। লালাদ । ঈড়া! শুধু আপনি নন, আর একটি আসামী এখানে রয়েছে। বঙ্গবীর ডাক্তার, তোমাকেও যেতে হবে। তে হাতকড়া পরাইল ] আমি!, আমি কি করেছি ? আজ রাতে যা করেছ সেটা ছেড়ে দিলুম, কারণ তাতে একটি সম্ভ্রান্ত মহিলার নাম জড়িয়ে আছে। কিন্তু তুমি যে বে-আইনী কোকেন বিক্রী কর এ খবরটা ত পুলিশ মহলে চাপা নেই ডাক্তার। তিন দিন আগেই ওয়ারেন্ট বেরিয়েছে -এখন চল। গিরিগগাবর্দ্ধন ধারণ তােমাকেই করতে ত্রিদিব ও রণবীরকে লইয়া কনেষ্টবলছয় প্রস্থান করিল লাল চাদ একটু ইতস্তত করিল। অজয়। ইন্সপেক্টর বাবু, আমায় কি কিছু বলবেন ? লালচাদ। হঁা সামান্য একটা কথা !- অজয়বাবু আমি পুলিশ বটে কিন্তু নিকেঁাধ নই—কিছু কিছু বুঝি। আশাকরি লাল পাঞ্জার জীবনে এইখানেই যবনিকা পড়ল। { 'না) আলতা। [ ক্ষুটার ] ত্রিদিব বার- লালপঞ্জা! অজয়। অলতা, এখনো বুঝতে পার নি ? আ। কি বুঝব? অজয়। তা। ত্রিদিব দা কতবড় আত্মত্যাগ কর জেলে চলে গেলেন! তাত্মত্যাগ ! কিন্তু উনিই ত লালপাঞ্জা! না আলতা, উনি লালপঞ্জা নয়। শুধু, তোমার-অামার

লীল পাঞ্জা
৩য় দৃশ্য.]
সুখে পাছে এতটুকু বিঘ্ন হয়, তাই উনি পরের. অপরাধ
নিজের ঘাড়ে তুলে নিলেন।
লালপাঞ্জা তবে কে ?
'অজয়।
লালপাঞ্জা খামখেয়ালী হাস্য ] এই দাখ[ আরক্ত করতল
দেখাইল ]
আলতা। তুমি-তুমি- তুমি-[ দীর্ঘকাল মুগ্ধ বিস্ময়ে চাহিয়া রহিল]
তুমিই আমার বিছানায় ফুল রেখেছিলে ? [ অজয় স্মিতমুখে
ঘাড় নাড়িল) তুমিই আজ আমার উদ্ধার
করেছ?
(অজয় শুধু হাসিল) লালপঞ্জার ওপর তাহলে আর তােমার
রাগ নেই ?
অজয় । না।
এখন তুমি স্বচ্ছন্দে তাকে বিয়ে করতে পার।
আলতা। দাড়াও আগে তােমাকে-মানে-লালপাঞ্জাকে প্রণাম
করি।
নতজা হইয়া গলায় আঁচল দিয়া অজয়কে প্রণাম করিল ।
যবনিকা

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Lal Panja Ed. 1st

Author
Bandyopadhyay, Sri Saradindu
Title
Lal Panja Ed. 1st
File name
Lal Panja Ed. 1st
Text
OCR done
Citation
1937
Published
2009/08/4
Publisher
Gurudas Chattopadhaya And Sons, Calcutta
Language
Sanskrit
Pages
118
Library
Makardah Saraswat Library, Howrah
Classification
Drama Plays
Keywords
Drama
DLI number
551030
Barcode
4990010021099.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
8bEW79j2Rva
Download PDF

Lal Panja Ed. 1st