Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Manpyathi
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
নন-প্যাধি শ্ৰীশচন্দ্র নন্দী
শ্রীহরিদাস চট্টোপাধ্যায়
শুরুদাসচট্টোপাণ্ডুপন্স
২০১১ কুণওয়ালিস টু
কলিকা
কলিকাতা
মেট্রোপলিটান প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং হাউস লিমিটেড,
শ্ৰীসাবিত্রীপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক মুদ্রিত।
শ্রদ্ধেয় রস-সাহিত্যিক
শরদিন্দুনাথ রায়ের
পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে
No text on this page.
নিবেদন ১৩৩০ সালের কার্তিক মাসের তর্ষে নারদবিচিত্রিত, পরশুরাম রচিত “চিকিৎসা-সঙ্কট প্রকাশিত হয়। উহা পাঠ করিয়া আমি বিশেষ আনন্দ লাভ করি এবং মামার মনে হয় যে নাটিকাকারে রূপান্তরিত করিতে পারিলে উহা জনপ্রিয় হইতে পারে। কিন্তু এই কার্যে হস্তক্ষেপ করিবে কে এই চিন্তার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের স্বর্গর্গত কবি, হাস্যরসিক শরদিন্দুনাথ রায়ের কথা মনে হইল। বাংলার রঙ্গ-সাহিত্যে তাঁহার স্থান বর্তমানে কত উচ্চে নির্দিষ্ট হইতে পারিত সুধীসমাজ তাহা বিচার করিবার পর তিনি অকালে ইহধাম হইতে বিদায় জান। তাহার বর্তমানে এই গুরুভার বন্ধুমণ্ডলী আমার উপর অর্পণ করিলেন। পরশুরামের অপূর্ব রচনার সহিত ভাষা সংবােজন করা আমার পক্ষে দুঃসাহসের পরিচায়ক কৃত দ্বিধা ও সঙ্কোচের সহিত যে বন্ধুগণের অনুরােধ রক্ষা করিতে সম্মত হইয়াছিলাম তা এখনও আমার মনে পড়ে। যাহা হউক শরদিন্দুনাথকে স্মরণ করিয়া লিখিতে আরম্ভ করিলাম এবং পরলোেক হইতে তাহারই প্রণা আমাকে শেষ পর্যন্ত অনুপ্রাণিত রাখিয়াছিল। ১৩৩১ সালের ১৭ই বৈশাখ কাশিমবাজার রাজবাটীতে ইহার প্রথম অভিনয় হয়। ইহার পরেও একাধিক স্থানে ইহার অভিনয় নাই।
9 হইয়া গিয়াছে। তন্মধ্যে কলিকাতার মনােমােহন রঙ্গমঞ্চে “মির্জাপুর ড্রামাটিক ইউনিয়ন”এর অভিনয় উল্লেখযােগ্য। এই সকল অভিনয়ে যোগদান করিয়া যাহারা ‘মনপ্যাথি’কে সাফল্যমণ্ডিত করিয়াছিলেন তাহাদের নিকট আমি কৃতজ্ঞ। রচনার এত বিলম্বে ইহা কেন মুদ্রিত হইল তাহার একটা কৈফিয়ৎ দেওয়া আবশ্যক। আমি মুদ্রাবন্তকে বড় ভয় করিতান, বিশেষত নিজের রচনা বিষয়ে। শুভানুধ্যায়ী বন্ধুবর শ্ৰীযুক্ত সাবিত্রীপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায় এত দিন পরে সেই ভয় ভাঙ্গিয়া দিলেন। ইহার জন্য তাঁহার নিকট আমি ঋণী। কাশিমবাজার রাজবাটী। } বিনীত- শ্ৰীশ্ৰীশচন্দ্র নন্দী দোলপূর্ণিমা, ১৩৩৮।
ভূমিকা
“চিকিৎসা-সঙ্কট”—একটা তুচ্ছ ছছাট গল্প। লিখিবার
সময় ভাবি নাই যে কোনও কালে তাহার পাত্রপাত্রী
রঙ্গমঞ্চে দেখা দিবে। তথাপি এ গল্প সাধারণের মনে
লাগিয়াছে এবং ইহার অভিনয়ও বহু স্থানে হইয়াছে। মূল
রচনা এত ছােট যে তাহা যথাযথ গ্ৰহণ কৰিলে অভিনয়
অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হয়, সে জন্য অনেকেই তাহা ইচ্ছামত
বাড়াইয়া ও বদলাইয়া নাট্যের উপযােগী করিয়াছেন।
মহারাজ শ্রীশচন্দ্র এ বিষয়ে অগ্রণী, তিনিই প্রথমে
“ননপ্যাথি” নামে রূপান্তরিত করিয়া ইহার অভিনয় নিজ
প্রাসাদে করান। তাহার সেই রচনা এখন সাধারণের
জন্য প্রকাশিত হইল। তিনি নানা রু কর্মে ব্যস্ত
থাকিয়াও যে হাস্যরসে মন দিবার সময় পান, তাহা
আশ্চর্যের বিষয়। নীরস কৰ্তব্যভারের অবকাশে কিঞ্চিৎ
রসচর্চা সহৃদয়তার লক্ষণ।
মহারাজ নিজে উপভোেগ
করিয়াই ক্ষান্ত হন নাই, অন্যকেও আনন্দে ভাগ দিতে
চান। “মনপ্যাথি” নাটিকা রচনায় তাহার সদয় সার্থক
হইয়াছে।
পরশুরাম
No text on this page.
প্রস্তাবনা
মনপ্যাথি’, মনপ্যাথি’,
সাবে এতে মনের ব্যাধি,
থাকবে না আর এ সংসারে
আধি ব্যাধির ভয়।
নিরালাতে গভীর ধ্যানে
দীরঘ শ্বাসে, হতাশ প্রাণে,
আকাশ পানে তাকিয়া থাকা
তাই কি বুকে সয়।
চাদের আলাের রজত নায়ে,
কুসুম বাসে, মলয় বায়ে,
হৃদয় মাঝে মনের মাণিক
করবে তারে জয়।
No text on this page.
পাত্রপাত্রী নন্দদুলাল মিত্র ••• গুপী বােস নিধু ও বন্ধু ডাক্তার তফাদার নেপালচন্দ্র রায় হকিম সাহেব মীরমুন্সি সাধু পুরুষ। জমিদার উকীল নন্দের বন্ধুদ্বয়। এ্যালােপ্যাথ ডাক্তার হােমিওপ্যাথ ডাক্তার ফরাক্কাবাদের হকিম ঐ সহকারী ভণ্ড তপন্থী। উড়িয়া ভৃত্য ভিখারী, মাড়ােয়ারী, বেয়ারা, নাপিত, সেতারী, চেলাদ্বয় ইত্যাদি। স্ত্রী। গুপী উকীলের স্ত্রী মিসেস বােস পিসীমা মিস্ শান্তা মল্লিক এ এ এ . নৃন্দের পিসী . মিসেস বােসের ভগ্নী, লেডি ডাক্তার
No text on this page.
অ্যাধি
প্রথম অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য
স্থান-নন্দবাবুর বৈঠকখানা
কাল-সন্ধ্যা
গুপী। তাইত হে, নন্দ এখনও এল না কেন? মনে
করে দেখ, এতটা রাত হল—
বন্ধু। মাইরি, দাদা আমার নিশ্চয়ই কা’র প্রেমে পড়েছে,
নইলে এত দেরী ত’ কোন দিন হয় না।
নিধু। সে বাওয়া সে চিজই নয়। গঁাটের পয়হা খরচ
করে আমােদ করবার ছেলেই সে নয়।
গুপী। সে কথা ঠিক বলেছ। বাপ, মনে করে
দেখ, Commissariatএ চাকরি করে যথেষ্ট টাকা
রেখে গেছে নগদ টাকা, এক বাণ্ডিল কোম্পানির
মনপ্যাথি
কাগজ, এত বড় বাড়ীখানা, মনে করে দেখ,
অভাব কিসের!
নিধু। আমি ত তাই বলি,-না তােমার অভাব
কিসের! টাকার ত বাওয়া গাছ লাগিয়েছ,
কিছু ঝড় না। সেই বিরিঞ্চি আমলের ফরাস
তাকিয়া, আর মান্ধাতা আমলের কতকগুলাে ছবি ;
দেখলে বাওয়া আমার গা গিস গি করে।
পয়হা খরচ হবে বলে’ না আমার এতদিনের
মধ্যে একখানা মটর কিনলে না। অবশ্য
বন্ধুবান্ধবদের মাঝে মাঝে দু'একদিন বই কি আর
বেশী চড়াতে হত। তা বাওয়া নন্দার আমার
ট্রাম আর ট্রাম। ট্রামই ওকে খেয়েছে।
বন্ধু। আমি বলি দাদা, মাইরি বেথা কর। বউদি না
হলে কি বাড়ী মানায়। বউদি’ এলে মাইরি,
তােমার ঘােড়া, জুড়ী গাড়ী, মােটর সব হবে।
কান টানলে মাইরি, মাথাও আসে।
গুপী! যাই বল তােমরা, মনে করে দেখ ক্রমশই
মনপ্যাথি
বন্ধু। মাইর,
যে ভাববার কথা হয়ে দাঁড়াল। কোন
trespassএরchargeএ পড়ল না কি!
fourth man এর অভাবে আজ দেখছি
bridgeটা আর হয় না।
নিধু। না ফিরে এলেও খেলার অবস্থা যে থাকবে তা
বলে মনে হয় না বাওয়া।
বন্ধু । পঁাড়াও মাইরি, পাশের বাড়ী থেকে ফোন করে
দেখি ; নিজের বাড়ীতে রাখলে যে খরচ বাড়বে।
(উত্থান)
গুপী। মনে করে দেখ, ভাল কথা বলেছ বন্ধু,
মেডিক্যাল কলেজ, ক্যাম্বেল, থানাগুলাে
নিধু। তার সঙ্গে আবগারীর দোকানগুলাে বাদ দিও
বাওয়া।
বন্ধু। সে সব মাইরি, আমাকে কিছু বলতে হবে না
( ধূলাগায়ে, জামা ও কাপড় ছেড়া, কাগজ-মােড়া বাণ্ডিল হস্তে
হাঁপাইতে হাঁপাইতে নন্দের প্রবেশ)
সকলে। (উঠিয়া) একি! একি ।
মনপ্যাথি
গুপী। একি!
মনে করে দেখ assault নাকি ?
322 ?
=
কিছু ?
বন্ধু। মাইরি, কার প্রেমে পড়েছিলে দাদা?
নন্দ। আর ভাই, ট্রাম
ভাই, ট্রাম থেকে পড়ে গিয়ে আজ
নাকালের একশেষ।
গুপী। কেউ ধাক্কা টাকা দেয় নি ? মনে করে দেখ,
ঠিক মনে করে দেখ
নন্দ। না—ঠিক মনে আছে-
নিধু। পয়হা দিয়ে উঠেছিলে ত? না বাওয়া আর
( অঙ্গভঙ্গী করিল)
সে ধাতের ছেলেই আমি নই, এ যাত্রায় খুব
বেঁচে গিয়েছি কিন্তু, কিছু লাগে টাগে নি।
গুপী। আঁা। লাগে নি, মনে করে দেখ, তাই কি
কখনও হতে পারে! কাল সকালে টের পাবে।
নিধু। ওরে রঘু, থােরা গরম দুধ পিলিয়ে দাও বাওয়া,
সব ঠাণ্ডা হয়ে যাবে।
(রঘু চাকরের প্রবেশ )
বন্ধু। মাইরি, পা দুটো কি একেবারে কাটা গেছে ?
দেখি, দেখি। (তথাকরণ)
৪
মনপ্যাথি
!
রঘু। উঃ ! কি সরবনাশ ! মাের বাবুর দ্বিটা গােড় কণ
কাটি যাইচি । হা মাের কপালরে,মা, মা-
( প্রস্থান)
নন্দ। তােমরা কি আমাকে পাগল ঠাওরালে ? সত্যি
বলছি, কিছু লাগে নি।
নিধু। না ট্রামে উঠবার আগে কিছু টেনে উঠেছিলে
নাকি ?
নন্দ। দুঃখের কথা কি বব ভাই, মিউনিসিপ্যাল মার্কেটে
গিয়েছিলাম কটা জিনিষ কিনতে। বেস্পতিবারের
বারবেলাটা হাতে হাতে ফলে গেল।
নিধু। বাওয়া কবি সাধে বলে গিয়েছেন (সুর করিয়া)
“পার ত কেউ জন্মনাক, বিষবারের বার বেলা
জন্মাও ত সামলাতে পারবে নাক তার ঠেলা—তার
ঠেলা—তার ঠেলা।”
গুপী। আহা, মনে করে দেখ, নিধু যে গান ধরে
ফেলে, থাম, থাম ! এখনই 124-Aতে পড়ে
যাবে।
বন্ধু। মাইরি, দাদার এ রকম অসুখ, আর তুমি মাইরি,
গান ধরে ফেললে।
৫
মনপ্যাথি নন্দ। অসুখ কিছু নয়। গুপী। উহু মনে করে দেখ, শরীরের ওপর অত অযত্ন করাে না। তুমি, মনে করে দেখ, Penal Code ত পড়নি। এই গ্রীষ্মকালের সন্ধ্যে বেলার ফুরফুরে দখিন হাওয়ায়, মনে করে দেখ, মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া ভাল লক্ষণ নয়। নন্দ। মাথা তত ঘােরে নি, কেবল এই কেঁচার কাপড়টা পায়ে বেধে- বন্ধু। আরে না না, মাইরি, ঘুরেছিল বৈ কি।মাথাটা ঘুরেছিল, ট্রামটা ঘুরেছিল, পিথ্যিবীখানাই ঘুরেছিল। —আহা দাদারকি চেহারাই হয়েছে মাইরী। । ক্রমশই তালপাতার সেপাই হয়ে দাড়াচ্ছ- বাওয়া। Gota fra vanishing pointa fotos হাওয়ার সঙ্গে মিশে না যাও। হ্যা, তা বটে, শরীরটা একটু খারাপ হয়েছে, কিন্তু মাথাটা—( ভাবিতে লাগিল ) গুপী। হ্যা, এই মাথাটার একটা ব্যবস্থা কর। এইত, কাছাকাছি, মনে করে দেখ, ডাক্তার তফাদার নিধু।
মনপ্যাথি
ভিজিট।
রয়েছেন। অত বড় physician, মনে করে
দেখ, সহরে আর পাবে কোথা ?
১৬৪ টাকা
মফঃস্বলে দিন ৯৯৯৯ টাকা ফি।
মনে করে দেখ, ইয়া গাট্টাগােট্টা চেহারা। বিলেতী
আর এমেরিকান ডিগ্রীর মস্ত ল্যাজ। পাঁচখানা
মােটর। মনে করে দেখ, কাল সকালে তাঁকে
মাথাটা একবার দেখিয়ে এস।
বন্ধু। আমি বলি মাইরি, নেপাল ডাক্তারকে দেখালেই
ভাল হয়। অমন বিচক্ষণ হােমিওপ্যাথ, মাইরি,
সহরে আর দুটী নেই। মেজাজটা একটু তিরিক্ষি
বটে কিন্তু বুড়াের বিদ্যে অসাধারণ। বইয়ের
একেবারে পাহাড়।
নিধু
রেখে দাও বাওয়া তােমার হুমােপাখী আর
বইয়ের পাহাড়। বইয়ের আলমারী সাজিয়ে বসে
থাকলেই বাওয়া বিদ্যে হয় না। ওই দুটো
সাগুদানা আর দু’ ফেঁটা ওষুধে তােমার কিছু হবে
বাওয়া।
৭
মনপ্যাথি
(রঘুর প্রবেশ)
রঘু। বাবু মা কাদুয়ছি।
নন্দ। তুই বুঝি খবর দিয়ে এলি, আমি ট্রাম থেকে পড়ে
গিয়েছি ?
রঘু। সে বাবু যে সেতে বেলে কউথেলে আপণঙ্কর দ্বিটা
গােড় একেবারে কাটি যাইছি।
নন্দ। পিসীমা হয়ত কেঁদেই আকুল।
গুপী। যাও ভাই, মনে করে দেখ, আর দেরী করাে না,
একবার দেখা দিয়ে এস।
(নন্দ ও রঘুর প্রস্থান)
নিধু। বাবুর পা কেটে গিয়েছে, কি সুসংবাদ বাওয়া
যে বাড়ীর মধ্যে তাড়াতাড়ি না দিলেই নয়।
আজকের আমােদটাই মাটি।
বন্ধু। যা বলেছ মাইরি।
সকলে। চল চল।
( সকলের প্রস্থান)
দ্বিতীয় দৃশ্য
স্থান—অন্তঃপুর
কাল-সন্ধ্যা
পিসীমা। হাঁ বাবা, পায়ে বেশী লাগে নি ত ?
নন্দ। বললাম ত’ পিসিমা, এ যাত্রায় খুব বেঁচে গিয়েছি।
পিসী। রঘু যেমন করে ছুটে এসে বলে গেল, আমি ত’
কেঁদেই সারা, বাছার আমার কি হ’ল।—তাের বাপ
ম’রবার সময় আমার হাত ধরে বললে, দিদি, নন্দের
আর কেউ রইল না। (চক্ষু মাৰ্জনা) আমি কি
আর কথা বলতে পারলুম। সেই থেকে তােকে
কোলে পিঠে করে মানুষ করছি। তাের মা সে
ত’ তুই হ’বার এক বছর পরেই মারা গেল।
নন্দ। রঘু দেখছি একটা কাণ্ডই বাধিয়ে তুলেছে।
পিসী। রঘু যে ব’লছিল তাের পা দু’টোয়—
নন্দ। ওর যেমন কথা।
পিসী। সত্যি বল বাবা, আমার কাছে লুকু নি।
নন্দ। পড়ে গেলাম ত পায়ে কাপড় বেধে। কিন্তু খুব
বেঁচে গিয়েছি, কোথাও লাগে নি।
পিসী। এই রঘু যে ব’লছিল বাবুর মাথাটায়
মনপ্যাথি
নন্দ। হ্যা, সবাই বলছিল বটে মাথাটা-হা, কাল
সকালে ডাক্তার তফাদারের ওখানে যাচ্ছি। সবাই
ব’লছে যখন, একবার দেখিয়ে আসি।
পিসী। হ্যা বাবা, ভাল করে চিকিৎসা করাও।-বাছার
আমার মনে সুখ নাই। বৌমার কাল হওয়ার
পর থেকে একদিনও বাছার মুখে হাসিটী দেখিনি।
( চক্ষু মাৰ্জনা) বাবা বিয়ে ক। এই খালি সংসারে
কি মন টেকে। গুপী উকিলের এক শালী আছে,
বেশ বড়সড় মেয়ে। আবার পাশ টাসও কি
করেছে। তুই মত কর, আমি সব যােগাড় করে
দেব। আবার সােনার সংসার হবে।
নন্দ। কেন পিসীমা, আবার ও সব কথা কেন। বেশ ত’
আছি, আবার ও সব ঝাটে দরকার কি?
পিসী। আমি আর কদিন আছি বাবা! আমি যাবার
আগে তােকে সংসারী দেখে গেলে সুখে মরতে
পারব।
নন্দ। আচ্ছা দেখি ভেবে।
পিসী। বাছার আমার মুখটি শুকিয়ে গিয়েছে, চল্ মুখে
দুটো দিবি।
( প্রস্থান)
১০
তৃতীয় দৃশ্য
স্থান-পথ
কালরাত্রি
গুপী। আজ, মনে করে দেখ, আর রক্ষে নেই। ফিরতে
যেমন দেরী হ’ল আজ পিঠে সম্মার্জনী না পড়লে
বাঁচি।—সেই কোর্টে বেরিয়েছি। নিষ্কৰ্ম্মা বন্ধুটা
নিয়ে গেল ধরে তার বাড়ী। তারপর, মনে করে’
দেখ, নন্দবাবুর ঐ বিপদ, ফিরি কি করে ?—অত
বড় মক্কেল, মনে করে দেখ,—মক্কেলই আমাদের
আক্কেল।—(চিন্তা) assaultটা ফসকে গেল—
grievous hurt, অন্ততপক্ষে trespassটাও হ’ল
! এই সারলে রে, এক বেটা ভিখারী এই
দিকে আসছে।
( প্রস্থান)
( ভিখারী বালকের প্রবেশ ও গীত)
ওগাে একটী পয়সা দাওনা
ঘুরি ফিরি পথে পথে
খেতে কিছু পাই না।
১১
মনপ্যাথি তােমরা চড় মােটর গাড়ী আমরা যে তার তলায় পড়ি, তরাসে পালিয়ে বেড়াই (তবু) প্রাণ ত’ মােদের বাঁচে না। আমরা বেড়াই মাঠে ঘাটে সুখে ঘুমাও তােমরা খাটে, বাগান বাড়ী বাবুগিরি ন’লে তােমাদের চলে না। ( প্রস্থান) ( গুপীর প্রবেশ ও পশ্চাতে ভিখারীর প্রবেশ) গুপী। মনে করে দেখ ভিখারী। বাবা, একটি পয়সা দাও না? গুপী। বেটা ভিক্ষা করা, মনে করে দেখ, বে-আইনী, তা জানিস? মনে করে দেখ, পুলিশ, মনে করে দেখ, পুলিশ- ভিখারী। ওগগা একটী পয়সা দাও না। ( উভয়ের প্রস্থান) ১২
চতুর্থ দৃশ্য
স্থান—ডাক্তার তফাদারের রােগী দেখিবার ঘর
কাল-প্রভাত
(একজন স্থূলকায় মাড়য়ারী দাড়াইয়াছিল। ডাক্তার
পেটের উপর ষ্টেথেস্কোপ দিয়া দেখিয়া পরে
ফিতা দিয়া তাহার পেট মাপিলেন)
ডাঃ। (খুসী হইয়া) ব্যস্ সওয়া ইঞ্চি বঢ় গিয়া। আউর
থােরা ঘিউ rub করনেসে ঠিক হাে যায়ে গা।
মাড়য়ারী। ঘিউকে হাম কারবারী হয়। হাম হরবখৎ
পেটমে ঘিউ ডালেঙ্গে।
ডাঃ। যাে ঘিউ আপনােক বাজারমে বেচতে থে,
উমে হােগা নেই। Pure ঘিউ হােনা চাহিয়ে।
মাড়য়ারী। হাঁ হাঁ, উয়া ভি হামরা পাশ হয়। হামরা
মল্লুকসে যাে ঘিউ আতা উ একদম খাঁটি, লেকিন
বাজারমে ছােড়নে কা বখৎ—( মাথা চুলকাইল)
ডাঃ। ব্যস হাম সমজ গিয়া। আউর দেখিয়ে
chemical examination peute Chan units
করকে ভেজ দেনা।
মাঃ
বহুত খুব।
১৩
মনপ্যাথি
(শ্লেট হস্তে চাপরাশির প্রবেশ)
ডাঃ। (শ্লেট পড়িয়া) বড়া আদমি ?
বে। জি হুজুর।
( ডাক্তার জিনিষপত্র গুছাইতে লাগিলেন )
ডাঃ। আপকা ( হাত বাড়াইলেন)
মাঃ। আপকা কেনা ভিজিট ?
ডাঃ। মালুম হায় নেই ? সাইন বােড় মে দেখিয়ে।
( মাড়য়ারী সাইন বাের্ড দেখিয়া বিস্ময় ও হতাশের
ভঙ্গী করিয়া ভিজিট দিয়া প্রস্থান করিল)
(নন্দের প্রবেশ)
নন্দ। গুড মর্ণিং সার।
ডাঃ। Good morning, well, what can I do
for you?
নন্দ। আজ্ঞে সার, বড় বিপদে পড়ে আপনার কাছে
এসেছি। কাল বিকেলে হঠাৎ ট্রাম থেকে পড়ে
গিয়ে
ডাঃ। (সহসা উঠিয়া ) Dislocation ? Compound
fracture ?-হাড় ভেঙ্গেছে ?
১৪
মনপ্যাথি
নন্দ। তা কি জানি !
ডাঃ। গায়ে কি ব্যথা আছে ?
নন্দ। (হাত পা নাড়িয়া) না।
ডাঃ। পেটের কোন অসুখ আছে ?
নন্দ। (পেট টিপিয়া) না, দাস্ত বেশ পরিষ্কার হয়েছে।
ডাঃ। সর্দি আছে ?
নন্দ। (নাক ঝাড়িয়া) এখন নেই, তবে মাসখানেক
আগে-
ডাঃ। আচ্ছা আচ্ছা হয়েছে। আর কি রকম কি বােধ
করেন সব খুলে বলুন ত ?
কাল থেকে ক্ষুধাটা একটু কমেছে। আর রাত্রে যে
স্বপ্ন দেখেছি সার, সে আর আপনাকে কি বলব।
সে মনে করলে (সভয়ে) এখনও আমার ভয় হয়।
ডাঃ। That's all right—আচ্ছা আপনাকে একবার
examine করি। বসুন এই চেয়ারে। (নন্দের
উপবেশন) জিভ দেখি ? (নন্দ জিহ্বা বাহির করিল)
[ ডাক্তার প্রথমে magnifying glass ও torch light দ্বারা
পরে পিছাইয়া গিয়া opera glass দ্বারা পরীক্ষা করিতে লাগিলেন
এবং টেবিলের উপর কাগজে মাঝে মাঝে লিখিতে লাগিলেন ]
মনপ্যাথি ডাঃ। এখন আপনি জিভ টেনে নিতে পারেন। এইবার আপনার পাল্টা দেখব। (নন্দ হাত বাড়াইল) ডাঃ। (হাসিয়া) দাড়ান। ( দুই হাত মােটরের দুইটি ‘স্পার্কিং প্লাগ’ উচু করিয়া ধরিতে দিয়া মধ্যস্থ ‘মিটারটি দেখিতে লাগিল।) ডাঃ। 15-20-30-45-55-60 এইবার হয়েছে। (প্লাগ’ টেবিলে রাখিয়া লিখিতে লাগিলেন) এইবার আপনি হাত নামিয়ে নিতে পারেন।—আচ্ছা দেখুন, আপনি সােজা তাকান, look straight- [ প্রথমে বুক ও পেটের উপর হাত রাখিয়া আঙ্গুল দিয়া টোকা দিলেন ( Percussion) ও পরে কিল মারিতে লাগিলেন। কিন্তু তাহাতেও পরীক্ষা ঠিক হইল না দেখিয়া একটি হাতুড়ীর দ্বারা বুক ও পেটের উপর একটী গােল কাঠ বসাইয়া তাহার উপর ঘা দিতে লাগিলেন ] নন্দ। বাবা! বাবা ! ডাঃ। অস্থির হবেন না। এসব আমাদের latest science (পেটে ষ্টেথস্কোপ লাগাইয়া) এইবার একটু হাসুন দেখি ?
মনপ্যাথি
নন্দ। হাসি না এলে হাসব কি করে সার ?
ডাঃ। আচ্ছা আপনার কাতুকুতু লাগে ? Are you
ticklish ?
( তথাকরণ)
নন্দ। হা হা হা, দোহাই সার, কাতুকুতু দেবেন না।
ডাঃ। That's all-right (কপালের উপর ষ্টেথস্কোপ
দিয়া) এইবার চোখ বুজুন। কি ভাবছেন?
নন্দ। কাল রাত্রের সেই স্বপ্নের কথা।
ডাঃ। Hang your dream-ও সব ভুলে যান।
আপনি ভাবুন যে আপনি অগাধ জলে ডুবে
যাচ্ছেন।
নন্দ। (চক্ষু বুজিয়া) সৰ্ব্বনাশ !
ডাঃ। আপনার চোখ কান নাক দিয়ে জল ঢুকছে।
নন্দ। (চোখ খুলিয়া) কৈ না!
ডাঃ। Hopeless ! আপনি তাই ভাবুন।
নন্দ। যে আজ্ঞে ( চোখ বুজিল)
ডাঃ। ধরুন (নন্দ দুই হস্তে ষ্টেথস্কোপ মাথার উপর
ধরিয়া রহিল। ডাক্তার নানা অঙ্গভঙ্গী করিয়া
ঘড়ি দেখিয়া সময় গুণিতে লাগিলেন)
১৭
মনপ্যাথি ডাঃ। All right (ষ্টেথস্কোপ খুলিয়া রাখিলেন ) নন্দ। অবস্থাটা কি রকম বুঝছেন? ut: 1 Very bad-very serious. নন্দ। আঁ,বাঁচব’ত? ডাঃ। আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করব। নন্দ। আমার কি হয়েছে ? অসুখটা কি ? ডাঃ। আরাে দিন কতক watch না করলে ঠিক বলতে পারবনা। তবে সন্দেহ করছি Cerebral tumour with strangulated gangliatrephine করে মাথার খুলি ফুটো করে অস্ত্র করতে হবে, ঘাড় চিরে nerve এর জট ছাড়াতে হবে। Short circuit হয়ে গেছে কিনা। এ ছাড়া concussion of the Thyroid glande 60 পারে। Operation না করলে বােঝা যাবে না। জানেন ত, latest theory / নন্দ। (মাথায় হাত দিয়া বসিয়া পড়িল) মরে যাব না ত সার? ডাঃ। (উঠাইয়া) দমে যাবেন না, তাতে collapseএর ! - ১৮
মনপ্যাথি
chance আছে।
Hearta 199 cumulative
action বড় খারাপ, তা হলে আর আপনাকে
সারাতে পারব না। Come to me again
after seven days ;--my friend Major
Gossain, a specialist in surgery, 614
সঙ্গে একটা consultationএর ব্যবস্থা করা যাবে।
আর দেখুন, আমি prescriptionএর তলায় সব
লিখে দিয়েছি। 676778 476. Dr. Cowdri's
Mythological Laboratory 627 atatata
blood, stool, urine আর sputum পরীক্ষা
করাতে হবে। এ ছাড়া আপনার চোখের জলের আর
গায়ের ময়লার molyculo-chemical analysis
করাতে হবে। সব লেখা আছে। Yes, your
diet-egg-flip
bone-marrow,
chicken
stew এই সব খাবেন। বরফ জল,
ice cream
খুব খেতে পারেন। আর দেখুন, দরকার হলে
আমার এই 2250 c.c. indigenous injection
syringe-(প্রকাণ্ড একটী কঁচের নল বাহির
করিলেন)
মনপ্যাথি
ও বাবা!
ডাঃ। (হাসিলেন) Injectionএ ভয় পাবেন না, এসব
আমাদের latest theory, কিছুদিন পরে
আপনাদের আর বােধ হয় ওষুধই খেতে হবে না।
নন্দ। আঁ ।
ডাঃ। Your prescription ( মাপে প্রায় নন্দের সমান
একখানি প্রকাণ্ড prescription দিলেন)-164
rupees (ডাক্তার হাত বাড়াইলে নন্দ টাকা দিল।
-thank you.
(নন্দের প্রস্থান)
পঞ্চম দৃশ্য
স্থানগুপী বাবুর বাড়ী কাল—প্রভাত উত্তীর্ণ
(মিসেস বােস গান গাহিতেছিলেন)
সারা দুপুরটী বসে বসে আমি সাধের লেটী বুনেছি
লাগাব বলিয়ে জ্যাকেটে আমার, এমন লেষ্টী বুনেছি।
সারা দুপুরটা করি নাই কিছু করি নাই বসে কিছু আর
শুধু ক্রুশ সূতা লয়ে, কত ক্লেশ সয়ে লেটী আমার বুনেছি।
যখন বকিতেছিল সে আলিপুর কোর্টে, বেচারি আমার স্বামী গাে,
যখন ঝরিতেছিল সে মুখ হইতে ‘জুরিস’এর* যত বাণী গো,
তখন যত সাসি দোর, এটেছিনু মাের, গরম হাওয়া বােধিতে
খুলেছিনু ফ্যা, প্রাণ আন চান, (তবু) সাধের লেষ্টী বুনেছি।
লেষ্টী আমার বােনা নয় শুধু সারি সারি সূতা সাজায়ে
আছে ধারে ধারে তা’র ফুলের বাহার সকল লেটী জড়ায়ে,
সবার মাঝারে আছে তায় বােনা আধ-ফোটা কুঁড়ি গােলাপের
কে দেখিবে আর লেষ্টী আমার আমারই কারণে বুনেছি।
( গান শেষ হইলে ই-মি-কুকার হস্তে এবং পরিধানে পেটুলুন
গেঞ্জি ও স্কন্ধে গাউন লইয়া গুপীর প্রবেশ)
গুপী। তুমি ত গানই গাচ্ছ। এদিকে মনে করে দেখ,
* Jurisএর
২১
মনপ্যাথি
স্পিরিট ফুরিয়ে গিয়ে সব আধ-সিদ্ধ হয়ে আছে।
এদিকে কোর্টে যাবার সময় হয়ে এল।
( কুকার খুলিল)
মিসেস। আঃ, আমি ওসব বুঝি না। আজ ক’দিন
থেকে বলছি ওসব স্পিরিটের কাজ নয়। চারকোল
জ্বালাও কোন হাঙ্গামা থাকবে না। আমাকে
ও-সব নিয়ে বিরক্ত করাে না। হঁ্যা, ভাল কথা,
লেসের যে প্যাটার্ণ টা দিয়েছি, কোর্টের ফেরত
সেটা নিয়ে এস। (প্রস্থান করিতে করিতে)
—যেন ভুল না হয়।
(প্রস্থান)
গুপী। এমন বিপদেও মনে করে দেখ, মানুষ পড়ে।
ওঁর হুকুম আর ফরমাস শুনতে শুনতে জীবনটা
কাটুল। কোর্টে যা’ পাব তা আগে মনে করে’
দেখ ওঁর হাতে তুলে দিতে হবে। নইলে কথাই
ক’বেন না। আর দুবেলা, মনে করে দেখ, এই
ই-মিই ভরসা।
নেপথ্যে নন্দ। গুপী বাবু বাড়ী আছেন?
২২
মনপ্যাথি
গুপী। কে নন্দ বাবু নাকি ? ( তাড়াতাড়ি কুকার
লুকাইয়া) এস এস, মনে করে দেখ ভায়া এস।
আজ বড় সৌভাগ্য যে মনে করে দেখ ভায়া
সশরীরে দীনের কুটীরে এসে হাজির ; তার পর
কি খবর ? ডাক্তার তফাদারের ওখানে গিয়েছিলে ?
কি বলে ?
নন্দ। এই ত তার কাছ থেকেই আসছি, তিনি যা
বললেন, তাতে আর ত’ আমি বাঁচব না।
(কঁদিয়া ফেলিল)
গুপী। আরে থাম থাম। ও-সব বুজরুকদের কথায় ভয়
পেয়াে না। কি বললে কি ?
নন্দ। বলেন যে আমার মাথা ফুটো করে অস্ত্র করতে
হবে, মাথা ফুটো করলে ত আমি বাঁচব না দাদা-
( ক্রন্দন)
গুপী। আহা কঁদ কেন ? এলােপ্যাথি ছাড়া কি আর
চিকিৎসা নেই। কাটাকুটির মধ্যে যদি না যেতে
চাও তবে আমাদের বন্ধু বলছিল মনে করে দেখ
নেপাল বাবু হােমিওপ্যাথকে দেখাও।
দেখাও। শুনছি
২৩
মনপ্যাথি
অসাধারণ চিকিৎসক one dose cure -তােমার
মাথার ভেতর মনে করে দেখ যদি ওলট-পালট
হয়ে গিয়েই থাকে তবে হাতুড়ে বদ্দির কাজ নয়,
ভাল ভাল ডাক্তার দেখাও।
নন্দ। এবার নেপাল বাবুকেই দেখাব মনে করেছি।
গুপী। তা বেশ ওঁকেই দেখাও। আর যদি কোবরেজকে
দেখাতে চাও তবে মনে করে দেখ তারিণী
কোবরেজকে দেখাতে পার। অত ভাল আর অত
বুড়াে কররেজ আর এদেশে নাই। বিক্রমপুরে
মনে করে দেখ আদি নিবাস, সংস্কৃত ভাষায়
অসাধারণ পাণ্ডিত্য। তুমি বুঝি মনে করে দেখ ওঁর
সংস্কৃত বক্তৃতা শােন নি ?
নন্দ। আগে নেপাল বাবুকে দেখাই, তারপর দরকার
হলে কোবরেজ মশায়কে দেখাব,—আমি বাঁচব ত ?
গুপী। মনে করে দেখ নিশ্চয়ই বাঁচবে ; আমরা মনে
করে দেখ তােমাকে মরতে দেব কেন।
নন্দ। যা হয় কর ভাই। তা হলে আজ আসি, দেখি
বরাতে কি আছে।
২৪
মনপ্যাথি
গুপী। আমরা মরা মানুষ জীয়ন্ত করি আর মনে করে’
দেখ তােমায় বাঁচাতে পারব না।
(নন্দ বাবুর প্রস্থান)
(মিসেস বােসের প্রবেশ )
মিসেস। হঁাগা, আজ আর কোর্টে যেতে হবে না ?
আমার লেস্ না আনলে টের পাবে কিন্তু। হাগা,
নন্দবাবু এসেছিলেন না?
গুপী। হ্যা, কেন?
মিসেস। কেন আবার জানেন না বুঝি! ন্যাকামির আর
জায়গা পেলে না। (গায়ে ঢলিয়া পড়িয়া) সত্যি
বলছি শান্তার একটা ব্যবস্থা কর। নন্দ বাবুর সঙ্গে
একদিন দেখা করিয়ে দাও তা হলেই সব মিটে
যাবে। তুমি যদি এটা করবে বল তবে এখনই
এক বােতল স্পিরিট ঝিকে দিয়ে আনিয়ে দিই।
গুপী। আবার ঘুস, bribery মনে করে দেখ 161
I, P. c. তা’ জান ? আচ্ছা দেখছি চেষ্টা করে।
মিসেস। এস তবে।
গুপী। (মিসেস বােসের রিষ্টওয়াচ দেখিয়া ) এখনও
আধ ঘণ্টা সময় আছে।
(প্রস্থান)
২৫
ষষ্ঠ দৃশ্য
স্থান-নেপাল বাবু হােমিওপ্যাথের বাটী কাল-প্রভাত
রাশিকৃত পুস্তক-বেষ্টিত ডাক্তার গড়গড়া টানিতেছিলেন ও পুস্তক
পাঠ করিতেছিলেন। দূরে ডাঃ হানিম্যানের একখানি ছবি। নন্দ ধীরে
ধীরে সঙ্কোচের সহিত প্রবেশ করিয়া নমস্কার করিল।
নেপাল। ( কম করিয়া চাহিয়া) বসবার জায়গা
আছে।
(নন্দ বসিল)
নেপাল। শ্বাস উঠেছে?
নন্দ। আজ্ঞে ?
নেপাল। রােগীর শেষ অবস্থা না হলে ত আমায় ডাকা
হয় না, তাই জিজ্ঞাসা করছি।
নন্দ। আজ্ঞে আমিই রােগী।
নেপাল। সেটা আগে বলতে হয়। তা’ ডাকাত ব্যাটারা
ছেড়ে দিলে যে বড় ? তােমার হয়েছে কি ?
নন্দ। সে দিন ট্রাম থেকে পড়ে গিয়ে
নেপাল। বেশী কথা বল কেন। প্রথমে কাকে দেখিয়ে
ছিলে ?
২৬
মনপ্যাথি
নন্দ। ডাক্তার তফাদারকে।
নেপাল। মরণ হয়নি তােমার,—তফাদার কি বলেছে ?
বল্লেন আমার মাথার ভেতর টিউমার না কি
হয়েছে।
নেপাল। তফাদারের মাথায় কি আছে জান?—গােবর,
আর টুপীর ভেতর শিঙ, জুতাের ভেতর খুর,
পালুনের ভেতর ল্যাজ।—খিদে হয় ?
নন্দ। দু’দিন থেকে একবারে হয় না।
নেপাল। ঘুম হয় ?
নন্দ।
নেপাল।
মাথা ধরে ?
?
নন্দ। কাল সন্ধ্যে বেলায় ধরেছিল।
নেপাল। বাঁ দিক
নন্দ। আজ্ঞে হ্যা।
নেপাল। না ডান দিক?
নন্দ। আজ্ঞা হা।
নেপাল। (ধমক দিয়া) ঠিক করে বল।
নন্দ। আজ্ঞে ঠিক মাঝখানে।
২৭
মনপ্যাথি
নেপাল। পেট কামড়ায়?
নন্দ। সেদিন কামড়েছিল। নিধে কাবলী মটর ভাজা
এনেছিল, তাই খেয়ে
নেপাল। আবার বেশী কথা বলে। পেট কামড়ায় না
মােচড় দেয় তাই বল।
নন্দ। ( ভাবিয়া ) তাইত ঘঁাচোড় পাচোড় করে।
নেপাল। আচ্ছা দাড়াও Lilienthal খানা দেখি ।
(নন্দ দাড়াইল) বস—Schusslerএর theory
ভাল। (দুইখানি পুস্তক দেখিয়া ) আচ্ছা, ঘুমালে
তােমার কাণ নড়ে ?
নন্দ। আজ্ঞে তা ত কোন দিন দেখিনি।
নেপাল। (আর একখানি বই দেখিয়া ) Knerr এর
dealing of the subject সুন্দর। আচ্ছা
কাছে এস ( মাথার চুল টানিয়া) লাগছে? (একটী
চুল ছিড়িয়া লইলেন)
নন্দ। উ হু হু মাথা গেল যে মশায়—
নেপাল। চেঁচিও না বলছি।
আমি ত মাত্র চুলের
tension কি রকম তাই test করছি (আবার
২৮
মনপ্যাথি পুস্তক পাঠ) Nash আর Kentএর কি exhaustive ব্যাখ্যা—আহা! কি সুন্দর! charming! wonderful ! (বিভাের হইয়া রহিলেন) নন্দ। আমার ওষুধ নেপাল। আবার বেশী কথা বলে। হা ঐ দেখ মহাত্মা হানিম্যানের ছবি টাঙ্গান রয়েছে। যাও ভক্তিভরে প্রণাম করে এস। (নন্দের ধীরে ধীরে তথাকরণ ও নেপালের পুস্তক পাঠ) নন্দ। (কিছুক্ষণ ঔষধের জন্য দাড়াইয়া) ওষুধটা কখন পাব? নেপাল। তুমি বড় বেশী বক ছােকরা। এটা দেখছি তােমার একটা main symptom (পুনরায় পুস্তক পাঠ)-া হয়েছে। দেখ এখন একটা ওষুধ দিচ্ছি নিয়ে যাও। (বাস্ক হইতে ওষুধ দিলেন) আগে শরীর থেকে এলােপ্যাথিক বিষ তাড়াতে হবে। আমার পাঁচ বছর বয়সে খুনে ব্যাটারা আমাকে দু’ গ্ৰেণ কুইনাইন দিয়েছিল। এখন সে ৪
মনপ্যাথি
জন্যে বিকেলে আমার মাথা টিপ টিপ করে। সাত
দিন পরে ফের এস, তখন আসল চিকিৎসা সুরু
হবে।
নন্দ। ব্যারাম কি আন্দাজ করছেন ?
নেপাল। (রাগিয়া) তা জেনে তােমার চারটে হাত
বেরুবে ? যদি বলি তােমার পেটে differential
calculous হয়েছে কিছু বুঝবে? পাকা ছােকরা।
-দেখ, ভাত খাবে না, দু’বেলা রুটী ; মাছ, মাংস
বারণ, শুধু মুগের ডালের যুস; স্নান বন্ধ, গরম
জল একটু খেতে পার। পান তামাক খাবে না।
তামাকের ধোঁয়া লাগলে ওষুধের গুণ নষ্ট হয়ে যায়।
নন্দ। আপনার
নেপাল। ভাবছ আমার আলমারী শুদ্ধ ওষুধ নষ্ট হয়ে
গেছে। সে ভয় নেই। আমার মাকে সালফার
থাটি মেশান থাকে। হাঁ করে তাকিয়ে আছ
কি? ফি কত বলে দিতে হবে ? দেখছ না
দেওয়ালে নােটীশ লটকান রয়েছে। বত্রিশ টাকা
ফি, আর ওষুধের দাম চার আনা।
ননপ্যাথি
নন্দ। (টাকা দিয়া ধীরে ধীরে প্রস্থান করিতে করিতে )
বাবা পয়সা দিয়ে ঝকমারী। মাথার অসুখ না
পেটের ব্যারাম। সব ঘুলিয়ে যাচ্ছে। আমার কি
হল ! ( কপালে করাঘাত)
(প্রস্থান)
৩১
দ্বিতীয় অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য
স্থান-নন্দর বাটীর বৈঠকখানার বারান্দা
কাল-প্রভাত
( আলগিন হইতে চাদর লইয়া গায়ে দিয়ানন্দ বাহির হইতেছিল)
(নিধুর প্রবেশ)
নিধু। ও নন্দা, কি বাওয়া সেজে গুজে বেরুচ্ছ নাকি ?
ব্যাপার কি? মুখখানি ভারী ভার ভার।
নন্দ। সবই ত জান ভাই।
নিধু। গাটের পয়হা ত বাওয়া জলের মত খরচ করছ।
সেই ন্যাপাল ডাক্তার বলে কি?
নন্দ। আর কি বলে।
নিধু। বুঝেছি বাওয়া, নন্দাকে ভাল মানুষ পেয়ে জেরায়
বুঝি থ’ করে দিয়েছে। পড়ত আমার পাল্লায়
বাছাধন, তা হলে কত বড় হােমিওক একবার
দেখিয়ে দিতাম। এক চুমুকে তার আলমারী শুদ্ধ
ওষুধ যদি না সাবড়ে দিতে পারি তা হলে আমার
.
৩২
মনপ্যাথি নাক কেটে দিও বাওয়া। তারপর এখন বেরুচ্ছ কোথায় ? নন্দ। যাব আর কোথা ভাই। একবার তারিণী কোব- রেজের কাছে যাচ্ছি। দেখি তিনি যদি কিছু করতে পারেন। নিধু। সেই বােখরেজের কাছে। নন্দা আমার কথা শােন, অমন কম্ম বাওয়া করাে না। নন্দ। কেন ভাই এলােপ্যাথি হােমিওপ্যাথি সব রকম ত দেখান হল, তা একবার কবরেজ দেখাতে দোষ কি ? নিধু। তােমার পয়হা তুমি ট্যাকে রাখলে রাখতে পার আর ইচ্ছা করলে বাওয়া ফেলেও দিতে পার। বলি কোবরেজ কি আর দেশে আছে ; বাম ত বাওয়া এসব বােখরেজবােখরেজ। নন্দ। তবে কি করব ভাই ? নিধু। কাল অফিসে শুনছিলাম এই লােয়ার চিৎপুর রােডে ফরাক্কাবাদ হ’তে একজন সাচ্চা হকিম এসেছে। এর মধ্যেই খুব নাম ডাক। কত রাজা ;
মনপ্যাথি
মহারাজারা সব চিকিৎসা করাচ্ছে। তাকে একবার
দেখাও না নন্দা। পয়হার মায়া ত বাওয়া ত্যাগ
করেছ।
নন্দ। দেখি আগে একবার তারিণী কোবরেজকে দেখিয়ে
আসি। তিনি যদি কিছু না করতে পারেন তারপর
হয় হকিম সাহেবকে দেখান যাবে। আমার
বরাৎ বড় মন্দ ভাই।
নিধু। | বেগরাও কেন বাওয়া, যাও না যে কাজে বেরিয়েছ।
নন্দ। কেউ বলে মাথা অস্ত্র করবে, আবার কেউ বলে
পেটের অসুখ।
নিধু। সাধে বলে নানা মুণির নানা মত।
মুণির নানা মত। যকের টাকা
ওমনি করেই যায় বাওয়া।
নন্দ। দেখি যখন জলে নেমেছি তখন বরাতে যাই
থাক, এর শেষ একটা দেখবই।
( প্রস্থান)
৩৪
দ্বিতীয় দৃশ্য
স্থান-কবিরাজের বাটী
কাল—দ্বিপ্রহর
(কবিরাজ মহাশয় তৈলাক্ত দেহে একখানি চেয়ারে বসিয়া ধূমপান
করিতেছিলেন। সম্মুখে তক্তপােষ তাহার উপর তেলচিটে পাটি
ও কয়েকটী ময়লা বালিশ। দূরে র্যাকের উপর কয়েকটি ঔষধের
শিশি; তাহার মধ্যে কয়েকটির নাম পড়া যায় যথা—“বৃহৎ অট্টালিকা
চুর্ণ ‘গব্যজাব বটিকা’ ‘শূকরী ঘূত’ ইত্যাদি)
কবিরাজ।
অঃ ক্যাবলা! মহিষাসুর ত্যালের কড়াইটা
লামায়ে রাখ।
(নন্দের প্রবেশ ও নমস্কার )
কবিরাজ। বাবুর কই থেইকা আসা হচ্ছে ?
নন্দ। আজ্ঞে আমার নাম শ্রীনন্দদুলাল মিত্র, জোড়া
সঁকো থেকে আছি।
কবি। রুগীর ব্যায়রামটা কি ?
নন্দ। আজ্ঞে আমিই রুগী।
কবি। কেমন ধারা ?
মনপ্যাথি
নন্দ।
গত বিষ্যত্বরে ট্রাম থেকে নামতে গিয়ে পড়ে যাই।
বিশেষ কিছু লাগে নি। তবে সবাই বল্লে মাথাটা
তাই ডাক্তার তফাদারকে দেখালাম। তিনি বল্লেন
অস্ত্র করতে হবে।
কবি। কি কইলা, মাথার খুলি ভাইঙ্গ্যা দিছে নাকি?
নন্দ। আজ্ঞে না, নেপাল বাবু বল্লেন ‘পাথুরী’ তাই আর
মাথায় অস্ত্র করাইনি।
কবি। নেপাল ? সেইটা আবার কে ?
নন্দ। জানেন না, চোরবাগানের ডাক্তার নেপাল চন্দ্র
রায় M. D. F. T. s. c. P. c. etc. মস্ত হােমিও
প্যাথ।
কবি। অন্যালা? তাই কও। সেইটা আবার ডাক্তার
অইল কবে ? বলি, পাড়ায় এমন বিচক্ষণ কোবরাজ
থাকতে পােলাপানের কাছে যাও ক্যান ?
নন্দ। আজ্ঞে বন্ধুবান্ধবেরা বল্লে ডাক্তারের মতটা আগে
নেওয়া দরকার, যদি অস্ত্র চিকিৎসা করতে হয়।
কবি। যন্তি বাবুরে চেন? খুলন্যার
উকিল যন্তি বাবু?
নন্দ। আজ্ঞে না।
মনপ্যাথি
কবি। তার মামার অইছিল, উরুস্তম্ভ। সিবিল সার্জন
পা কাটুল। তিনদিন অচৈতন্নি। জ্ঞান অইলে
পর কইলেন “আমার ঠ্যাং কই”—ডাক্ তারিণী
স্যানেরে। দেলাম টুইক্যা এক দলা “চর্বণ প্রকাশ”
আর কিছু “বৃহৎ অট্টালিকা চূর্ণ”। তারপর কি
অইল কও দিকি ?
নন্দ। আবার পা গজিয়েছে বুঝি?
কবি। (নেপথ্যে চাহিয়া) অরে! অ ক্যাবলা ! দেখ, দেখ
কুকুরে সবটা ‘বিড়ালাদ্য ঘৃত’ খাইয়া গেল (বলিতে
বলিতে প্রস্থান ও হুকা হস্তে পুনঃপ্রবেশ )
কবি। দর্শনস্পর্শনশ্নৈবাধেজ্ঞানং ত্রিধা মত
দর্শামূত্ৰজিহ্বাদেঃ স্পর্শনান্নাড়িকাদিভিঃ,
প্রদূৈতাদিবচনাদিতি ত্রেধা সমুচ্যতে।
অর্থাৎ দর্শন, স্পর্শন ও প্রশ্ন, এই তিন উপায়ে ব্যাধি
পরিজ্ঞাত হওয়া যায়। অর্থাৎ মূত্র জিহ্বাদির দর্শন,
নাড়ী ও ত্বগাদির স্পর্শন এবং রােগীকে ও দূতাদিকে
রােগের বিষয় জিজ্ঞাসা, এই তিন প্রকার রােগ
পরিজ্ঞানের উপায়। বুঝলা? দ্যাও নাড়ীটা একবার
৩৭
০
মনপ্যাথি
দেহি (প্রথমে ইষ্ট দেবতাকেপ্রণাম করিয়া অনেকক্ষণ
ধরিয়া নাড়ী দেখিলেন) হ,—যা ভাবছিলাম তাই।
ভারি ব্যামাে অইছিল কখনাে ?
নন্দ। অনেকদিন আগে ‘টাইফয়েড’ হয়েছিল।
কবি। ঠিক ঠাওর করছি। পাঁচ বছর আগে ?
নন্দ। প্রায় সাড়ে সাত বছর হল।
কবি। একই কথা, পাঁচ দেইরা সাড়ে সাত।
প্রাতঃকালে বােমি হয় ?
নন্দ। আজ্ঞে না।
কবি। হয়, জান্তে পার না। নিদ্রা হয় ?
নন্দ। ভাল হয় না।
কবি। অইবেই না ত’, উৰ্দ্ধ, অইছে কি না। দাত কন্
ক করে ?
নন্দ। আজ্ঞে না।
কবি। করে, জান্তে পার না। যা হােক তুমি ভয় কইর
বাবা, আরাম অইয়ে যাইবানে। আমি ওষুধ
দিচ্ছি।
(কবিরাজ মহাশয় আলমারীর নিকট গিয়া একটা শিশি বাহির
করিলেন)
Obow
মনপ্যাথি
কবি। (শিশির প্রতি) লাফাইনে, লাফাইনে, থাম্
থা। আমার সব জীয়ন্ত ওষুধ, ডালে কথা
এই বড়ি—আহা!—“গব্যজাব বটিকা”
বুঝলা, সকাল সইন্দ্যা একটা কইরা খাইবা।
(ঔষধদান) আবার তিন দিন পরে আইবা। বুঝলা?
নন্দ। আজ্ঞে হ্যা।
কবি। ছালি বুঝছ। অনুপান দিতে অইব না? ট্যাব
লেমুর রস মধুর লগে মাইরা খাইবা। ভাত খাইও
।
ওল সিদ্ধ, কচু সিদ্ধ, কচু পােড়া, কলা
পােড়া এই সব খাইবা। লবণ চুইবা না। মাগুর
মাছের ঝােল একটু চিনি দিয়া রাইন্দ্যা খাইতে
পার। গরম জল ঠাণ্ডা কইরা খাইবা।
নন্দ। ব্যারামটা কি ?
কবি। আধানং গমনেহশক্তিৰ্দৌর্বল্যং দুৰ্বলাগ্নিতা
শােথঃ সদনমঙ্গানং সঙ্গে বাতপুরীষয়াের
দাহস্তা চ সর্বেষু জঠরেষু ভবন্তি হি।
অর্থাৎ যারে কয় উদরী ; উদ্ধ, শ্লেষ্মও কইতে
পার। (নন্দ দর্শনী দিল, কবিরাজ তাহা টাকে গুজিলেন)
মনপ্যাথি
কবি। সাইরে যাইবানে বাবা, কোন চিন্তা কইর না।
( নলের প্রস্থান)
কবি। আহা এই বড়ি,চরকে কি লেখাই ল্যাখছে।
এই বড়ি খাইয়া মৃত্যু অইলেও স্বর্গলাভ।
ভযু থাকে না।
৪ ০
তৃতীয় দৃশ্য স্থান—লােয়ার চিৎপুর বােড় কাল–অপরাহ্ন (নন্দের প্রবেশ ) নন্দ। না আর পারি না। এই শেষ বার। আর চিকিৎসায় কাজ নাই। এই ত লােয়ার চিৎপুর বােড। ঠিকানা ভুল করিনিত! (ইতস্ততঃ নিরীক্ষণ) । ( মীর মুন্সীর প্রবেশ ) মুন্সী। আদাব বাবুসাব। নন্দ। দেখুন, হকিম সাহেবের বাড়ী কোনটা বলতে পারেন ? মুলী। কোউন হকিম সাব ? নন্দ। আজ্ঞে, এই ফরাক্কাবাদ থেকে যিনি এসেছেন। মুলী। আরে ওহি বাৎ বােলেন। “হাজিক-উল-মুলক বি-লাে--মা-নুরুল্লা--গজ-ফরুল্লা--অল-হকিম- উনানী” হামার মনিব। আমি তার মীর মুন্সী আছি। ৪১
মনপ্যাথি
নন্দ। তা ভালই হয়েছে আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হ'ল।
আমি একবার হকিম সাহেবের চিকিৎসা করাতে
চাই।
মুন্সী। বহুৎ আচ্ছা, কি বেমারী বােলেন, হামি হুজুরে
এত্তেলা ভেজিয়ে দি।
নন্দ। বেমারী কি সেটা জানতেই ত আসা বাপু।
মুন্সী। তবভি কুছু ত বােলেন। -তাকতি, বুখার,
পিলহি, চেচক, ঘেব, বাওয়াসিব, রাতঅন্ধি
ও সব বুঝলুম না বাপু, আমার প্রাণটা ধড়ফড়
করে।
মুন্সী। (সােল্লাসে) সাে হি বােলেন—দিলতড়না।
মােহর আনিয়েছেন ?
নন্দ। মােহর।
মুন্সী। হকিম সাহেব চঁাদি ছুতে নেই। নজরানা দো
মােহর। আপকো পাস না রহে হামি দেবে।
পঁয়তাল্লিশ রুপেয়া, আউর বাট্টা দো রূপেয়া, আউর
রেশমী রুমাল দো পেয়া।
৪২
মনপ্যাথি
নন্দ। ( চিন্তা করিয়া) বেশ চলুন। আপনার কাছেই
মােহর নেব।
মুন্সী। দরবারে যাকে পহেলা হুজুরকে, “বন্দেগী জনাব”
বােলবেন। তব রুমালকা উপর দোন মােহর
রাখকে হুজুরকা সামনে থােরবেন। সমজ লিয়া ?
নন্দ। দরবার আবার কি বাপু?
মুন্সী। আইয়ে হামি সব বায়ে দেবে।
নন্দ। (দীর্ঘনিশ্বাস) চলুন—নিরুপায়।
'৪৩
চতুর্থ দৃশ্য
স্থান-হকিম সাহেবের দরবার
কাল-সন্ধ্যা
(সম্মুখে ধূপদান, পাশে পিকদান, পানদান, আতরদান ইত্যাদি।
হকিম সাহেব মছলদের উপর আসীন। দূরে একজন সেতার
বাজাইতেছিল)
(হকিম ও মুন্সি কথা বলিতেছিল)
মুন্সি। (নেপথ্যে চাহিয়া) আইয়ে বাবুজি, হকিম সাহেবকা
দরবারমে আইয়ে। (নন্দের প্রবেশ ) আপনার
সব কথা হুজুরে পেশ করিয়েছি। ( হাঁকিল ) বাবু
নন্দলাল মিত্র, জমিদার, বেমারী ‘দিল তড়পা,
নজর লিয়া হকিম সাহেব হুজুর বাহাদুর সে-লা
মৎ।
(নন্দ সভয়ে অগ্রসর হইল)।
নন্দ। ব-ব-বন্দেগি জনাব (নজর দিল)।
হকিম। (গম্ভীর স্বরে) শির লাও।
নন্দ। ওরে বাবা ( পিছাইয়া গেল)।
৪৪
মনপ্যাথি
মুলী। ডর নেহি বাবুসাব, জনাবকে আপনার মাথা
দেখলা।
( মুন্সী নন্দকে নিকটে লইয়া গেল।
হকিম। ( কিছুক্ষণ নন্দের মাথা টিপিয়া) হচ্ছি পিল
পিলায়ে গয়া।
মুন্সী। শুনছেন? আপনার মাথার হাড় বিলকুল লরম
হয়েছে।
নন্দ। (নিজের মাথা টিপিয়া) কৈ? বুঝতে ত পারছিনা।
হকিম। ঘাবরাও মৎ (নন্দ চমকাইল)
নন্দ। বাঁচব ত ?
মুন্সী। হুজুর বােলেন।
নন্দ। হুজুর সাহেব, আমি বাঁচব ত ?
হকিম। (গম্ভীর ভাবে ) সুক্ষ্মা সুরুখ!
মুন্সী । ( সুরমা লইয়া) চোখ দেখি ? (চক্ষুতে দিল )
নন্দ। আঃ আমার চোখেত কিছু হয় নাই।
মুলী। আঁখ ঠাণ্ডা থাকবে নি হােবে।
ও বাবা, কিছু যে দেখতে পাচ্ছিনা সাহেব। চির
দিনের জন্য নিদূ হবে না ত বাবা। দোহাই
**
৪৫
মনপ্যাথি
!
হুজুর! জনাব! বন্দেগি ! আমি যে কিছুই দেখতে
পাচ্ছি না।
হকিম। ফুলাগাও (মুন্সী নন্দের চক্ষুতে ফু দিল)।
নন্দ। বাবা ! ( চাহিল)।
হকিম। রােগন বব্বর।
মুন্সী। (নেপথ্যে চাহিয়া) এ জি, বাবর অস্তুরা
লাও।
(ক্ষুর লইয়া নাপিতের প্রবেশ ও নন্দের মাথা কামাইতে উদ্যত )
নন্দ। হাঁ-হাঁ আরে তুমি কর কি ? অস্ত্র করেগা ? ওরে
বাবা! আমার অসুখ নেহি ভাল হােক বাবা।
(নাপিত ও মুন্সী জোর করিয়া ধরিল) মেরে
ফেল্লে ! খুন কলে!হাকে রক্ষে কর বাবা!
তােম্ লােকদের পায়ে পড়তা বাবা! (মাথার চাঁদি
চারকোণ করিয়া কামাইয়া দিল এবং মুন্সী ঔষধ
ঢালিল)।
মুন্সী। ঘাবুরান কেন বাবু সাব ? ইয়ে বব্বরী সিংহীকা
ঘেউ আছে। বহুত কিম্মত। কুছ ডর নেই।
মাথার হাড়ি শকৎ হােবে।
৪৬
মনপ্যাথি
নন্দ। (মাথা হাত দিয়া শুকিয়া) ওয়াক্! দরকার নেই
বাবা আমার হাড্ডি শক্ত হওয়া। ছেড়ে দাও বাবা
ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে যাই। (অগ্রসর হইল)
মুন্সী। বাবুসাব হামার দস্তুরী ?
নাপিত। হামকা বকসিস্? এৎনা মেহনৎ কিয়া।
নন্দ। (রাগিয়া) এর ওপর আবার বকসিস্ ?
( দুই জনে রাস্তা অবরােধ করিল।
নন্দ। এই নাও বাবা! (দুইটি টাকা ফেলিয়া দিয়া
বেগে প্রস্থান)।
৪৭
পঞ্চম দৃশ্য
স্থানগুপী উকিলের বাটা
কাল-প্রভাত
(মিসেস বােস গাহিলেন)
ভােরের বাতাস বলে গেল কানে কানে,
কিসের কথা, কি সে ব্যথা কে তা জানে।
ভাঙ্গা বুকে কেঁদে কেঁদে,
ছেড়া তারে সুরটী বেঁধে,
সকল ভুবন ভরে দিল গানে গানে।
গভীর রাতে বন মাঝে,
(আবার) এসেছিল সেই সাঁঝে,
তার মন ব্যথা বুঝিনারে অনুমানে।
বেদনাতে তার প্রাণ
গেয়েছিল সেই গান,
সে সজল আঁখি চেয়েছিল মাের মুখপানে।
মিসেস। না কিছু ভাল লাগে না। এতখানি বেলা হল
এখনও চা টা আলে না।
গুপী। (দুটী কাপ হস্তে ) এই যে মনে করে দেখ দাসকে
স্মরণ করতেই দাস হাজির
৪৮
.
মনপ্যাথি
মিসেস। আর ন্যাকাম করতে হবে না। (চা লইয়া) অশেষ
ধন্যবাদ। (গুপীর দন্ত বিকাশ। উভয়ের চা পান)
মিসেস। নাঃ তােমাকে নিয়ে আর পারা গেল না।
আবার চায়ে চিনি বেশী দিয়েছ।
গুপী। সাধে কি বলি, মনে করে দেখ তা’ত তুমি শুকে
তােমার ওই মিষ্টি হাতে চা করলে চাই কি
চিনি না দিলেও চলতে পারে।
মিসেস। খুব হয়েছে। আচ্ছা এবার থেকে তাই হবে।
ও সব থাক। আচ্ছা তােমাদের নন্দবাবু সম্বন্ধে
কি ঠিক করলে বল ত ?
গুপী। কি করব মনে করে দেখ ভেবে পাই নি।
মিসেস। দেখ, এই যে নন্দবাবুর অসুখ অসুখ করে
ডাক্তার বদ্দির শ্রাদ্ধ করছ, এ অসুখ কি ওরা
সারাতে পারে? এ রােগ সারান ও গুলাে বন্দির
কর্ম নয়।
গুপ। তার মানে ?
মিসেস। সেই কথাই ত আজ ক’দিন ধরে তােমাকে
বলছি, তা তুমি ত কাণই করছ না।
৪১
মনপ্যাথি
গুপী। বাস্তবিক, মনে করে দেখ করা যায় কি বলত ?
বেচারা ত টাকা পয়সার মায়া ত্যাগ করেছে। মনে
করে দেখ এমন কিপটে, এক পয়সার মা বাপ,
জলের মত দু’হাতে নিজের চিকিৎসার জন্য খরচ
করছে।
দেখলে আমাদেরও কষ্ট হয়।
মিসেস। তা সে কষ্টের লাঘব তুমিই ত করতে পার;
ওষুধ ত তােমার হাতে।
গুপী। কি রকম?
মিসেস। তােমরা বুঝবে কেমন করে? এ প্রেমের পীড়া।
পানি পীড়ন না করলে এর শান্তি নাই।
গুপী। হু—কথাটা মনে করে দেখ ঠিক বলেছ বটে।
কিন্তু সর্বাগ্রে ত একটী প্রেমময়ী প্রেমিকা চাই।
এত মনে করে দেখ বিশ্বপ্রেমের কাজ নয়।
মিসেস। তাই ত বলছিলাম সেদিন, শান্তার সঙ্গে এক
দিন নন্দবাবুর দেখা করিয়ে দাও।
গুপী। যা! মনে করে দেখ বল কি! শান্তার সঙ্গে?
কথাটা মনে করে দেখ এতদিন খুলে বলতে হয়।
সে রাজী আছে ?
মনপ্যাথি
মিসেস। জানত যে একজেদী মেয়ে। ছেলে বেলা
থেকে ডাক্তারী পড়া সখ। তাই বলে কি চিরদিন
আইবুড়াে থাকবে। যা হােক আমি তাকে রাজী
করিয়েছি। চল তােমাকে সব খুলে বলছি।
( প্রস্থান)
(বন্ধু ও নন্দের প্রবেশ)
নন্দ। গুপী বাবু কি বাড়ীতে নেই ?
বন্ধু। মাইরী অন্দর মহল পৰ্যন্ত না দেখলে ত ঠিক করে
বলা যায় না। এই যে চায়ের পেয়ালা পড়ে
রয়েছে। গুপীদা
বাড়ী আছ ?-
-কিম্বা হয়ত
রান্না ঘরে রান্নার কসরৎ হচ্ছে। গুপীদা ?
গুপীদা ?—দেখছ দাদা আঁচলের টান। আমি
সাধে বলি বে-থা কর। দাড়াও মাইরী মক্কেলের
গলায় ডাকি, চঁদ সুর সুর করে বেরিয়ে আসবে।
( ভিন্ন গলায়) উকিল বাবু বাসায় আছেন?
গুপী। (নেপথ্য হইতে) কে ? কে ?
বন্ধু। (সেই গলায়) জরুরী কাজ।
গুপী। (নেপথ্য হইতে) যাচ্ছি যাচ্ছি (ব্যস্ততা সহকারে
মনপ্যাথি প্রবেশ) এ কি! এ যে মনে করে দেখ বন্ধু আর নন্দবাবু। আমি ভাবলুম- বন্ধু। (হাসিয়া) মাইরী নইলে কি দাদার দর্শন পাওয়া যেত। গুপী। আমার স্ত্রী একটু বাহিরে গেলেন। তাই তাকে গাড়ীতে তুলে দিতে গিয়েছিলাম। তা মনে করাে ভাই কিছু। আমি মনে করে দেখ নন্দ বাবুর কাছেই যাচ্ছিলাম। তা দেখা হল ভালই হল, মনে করে দেখ এখানেই কাজটা সেরে রাখি। নন্দ। আর দাদা আমার কাছে কাজ। আমার অসুখ ত কিছুতেই সারল না। গুপী। সে সব ত মনে করে দেখ শুনেছি। তবে এবার যে অসুখটা একেবারে সারবে এটা আমি হলপ করে বলতে পারি। বন্ধু। হলপ করে! মাইরী হাত গণে না কি ? গুপী। না হাত গণে নয়। আমার মনে করে দেখ একজন পরিচিত ডাক্তার আছে। সে এ সব caseএ ভারী expert
মনপ্যাথি
-
নন্দ। (হাত জোড় করিয়া) দোহাই দাদা রক্ষা কর,
আর ডাক্তারে কাজ নাই, খুব হয়েছে।
বন্ধু। নিমতলায় মাইরী হিমালয়ের কৈলাস পাহাড় থেকে
একজন মস্ত বড় সাধু এসেছেন। শুনলাম নাকি
তার আশ্চর্য ক্ষমতা। গায়ে হাত বুলিয়ে দিয়ে
মাইরী অসুখ সারিয়ে দেন। তাকে একবার
নন্দ। বাঁচালে ভাই। আমিও ভাবছিলাম যদি ভাল
একজন সাধু পাই তবে---
গুপী। Humbug বন্ধুটা তােমাকে মনে করে দেখ পাগল
করে ছাড়বে না দেখছি। একবার ওর কথায়
নেপাল ডাক্তারকে দেখিয়ে মনে করে দেখ তােমাকে
কি নাকালই না হতে হয়েছিল।
বন্ধু। মাইরী আমারই যত দোষ। তােমার সেই ন্যাজযুক্ত
তফাদার ডাক্তারই বা দাদার কি হিত করলে ?
আমি এইমাত্র মাইরী শুনে এলাম অমন মহাপুরুষ
মাইরী কখন এদেশে আসেন নাই।
গুপী। আমার মনে করে দেখ এবারকার যে ডাক্তার
তাকে দেখলেই আমার নন্দ ভায়ার রােগ সেরে
মনপ্যাথি
যাবে, গায়ে আর মনে করে দেখ হাত বুলুতে
হবে না।
বন্ধু। মাইরী এবার এলােপ্যাথ না হােমিওপ্যাথ।
গুপী। (নন্দের বুক চাপড়াইয়া) মনে করে দেখ মন
প্যাথ” “প্রেম প্যাথ”ও বলতে পার।
নন্দ। সে কি দাদা?
গুপী। এখানে ভিজিটের বালাই নাই।
ঘরের পয়সা
ঘরেই থাকবে। তবে মনে করে দেখ যদি রােগ,
সারে তবে একটা মস্ত জিনিষ দিতে হবে।
বন্ধু। মাইরী সেটা আকাশের চেয়ে মস্ত।
গুপী। হঁ্যা।
নন্দ। তােমার হেঁয়ালিত দাদা বুঝতে পারলাম না।
গুপী। এখন মনে করে দেখ বুঝে কাজ নেই, পরে বুঝবে।
এই আমি লিখে এনেছি। আজ বিকেলে মনে
কবে দেখ এই ঠিকানায় যেও। কোন দ্বিধা করাে
। আমি মনে করে দেখ তােমার কথা বার্তা সব
বলে রেখেছি। তােমার রােগ এবার সারবে, সারবে,
সারবে।
৫৪
মনপ্যাথি
নন্দ। আমি দাদা নাচার। দাও (কাগজ গ্রহণ) কিন্তু
এই সাধুর কাছে আমাকে যেতেই হবে। জয় বাবা
সাধু ( উদ্দেশে প্রণাম)
গুপী। বেশত তােমার যদি মনে করে দেখ এই সাধুর
ওপর এত ভক্তিই হয়ে থাকে, তবে ফেরবার পথে
সাধু সন্দর্শন করেই বাড়ী যাওনা।
নন্দ। তাই হবে।
বন্ধু। তােমার সঙ্গে যে আমারও মাইরী যেতে ইচ্ছা
হচ্ছে।
গুপী। না না বন্ধু তােমার সঙ্গে মনে করে দেখ আমার
একটু পরামর্শ আছে। ভারী জরুরী। (নন্দের
প্রতি) মনে করে দেখ ভুল না ভায়া, যেয়াে।
নন্দ। কিন্তু এই শেষবার।
( গুপী ও বন্ধু একদিকে, নন্দ ভিন্ন দিকে প্রস্থান করিল)
যষ্ঠ দৃশ্য
স্থান-নিমতলার ঘাটের একাংশ
কাল—প্রভাত উত্তীর্ণ
(সম্মুখে ধূনী জ্বলিতেছে। তৎপশ্চাতে ভস্মাচ্ছাদিত সাধু ও দুই
জন চেলা। সাধুর জটার পুরােভাগে “ওঁ” লেখা ; পাশ্বে কোশা-
কুশি। গাঁজায় টান দিতেছিল)
সাধু। (সহসা নেপথ্যে চাহিয়া) দেখাে একঠো আদমি
ইধার আতা হ্যায়। বড়া আদ্মী মালুম হােতা।
১ম চেলা। জী, বহুৎ নগীচ ভি আ গিয়া।
সাধু। ধুনী আউর থােড়া জ্বালা দেও।
আভি হাম
ধেয়ামে বৈঠেঙ্গে। বাৎ চিৎ বহুৎ হুসিয়ারিসে
কয়না।
২য় চেলা। আজ্ঞে কিছু করতে হবে না বাবা। ওর
চেহারা দেখেই বুঝেছি, বেটার টাকা আছে কিন্তু
বুদ্ধি নেই। বাবার আশীর্বাদে এক্ষেত্রেও খােট্টা
চেলার চাইতে আমিই বেশী কাজ দেখাতে পারব।
সাধু। আচ্ছা তােম উধার যাকে চরণামৃত ঠিক রাখ্যো।
মনপ্যাথি
১ম চে। জী।
২য় চে। মাথা নাড়ে কেন? মিগী রােগ আছে না কি?
নন্দ।
(নন্দের সভয়ে প্রবেশ )
মরার হাড়টার নেই ত বাবা। কত সাধু-সন্ন্যাসী
মরার ওপর বসেই থাকে। (দূর হইতে নিরীক্ষণ)
বাবা বাঁচলাম। দুর্গা-হরি-কালী-তারা ! (উদ্দেশে
প্রণাম)।
২য় চে। আসুন আসুন বাবু, কোন ভয় নেই, কোন ভয়
নেই।
নন্দ। (মাথা নাড়িয়া) না ভয় নেই। (দূর হইতে
জোড়-করে) দোহাই বাবা রক্ষে কর বাবা !
(নন্দ সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করিয়া করজোড়ে বসিল)
২য় চে। আপনি খুব ভাল সময়ে এসেছেন। বাবা প্রায়
তিন ঘণ্টা হল ধ্যানে বসেছেন। দেখছেন না
একেবারে সংজ্ঞাশূন্য। এইবার শেষ হয়ে এল
বলে। এখন উনি যাকে যা বলবেন মিলে যাবে,
ত্রিকালজ্ঞ কিনা। আপনি বাবার আরও কাছে
গিয়ে বসুন।
মনপ্যাথি
নন্দ। (গদ গদ স্বরে) বাবা!
২য় চে। বাবার অদ্ভুত ক্ষমতার কথা শুনেছেন নিশ্চয়।
নন্দ। হ্যা, বন্ধু বলছিল, গায়ে হাত বুলিয়ে দিলে রােগ
সেরে যায়।
২য় চে। বাবা সাক্ষাৎ কলিযুগের ধন্বন্তরি । কত বড় বড়
ডাক্তার তাদের রুগীদের জন্য লুকিয়ে এসে বাবার
কাছে থেকে অসুধ নিয়ে যায়, আর হাতে হাতে
ফল পায়। অসুধ কি জানেন ?—এই ছাই। কিন্তু
এতেই আশ্চর্য্য উপকার হয়।
নন্দ। দেখি আমার বরাতে কি আছে। ( গদগদস্বরে )
বাবা ! দেখাে বাবা !
২য় চে। হিমালয়ে একশ’ আট বছর ধরে তপস্যাই
করেছেন। আর সে কি কঠোর তপস্যা। রৌদ্রে,
বৃষ্টিতে, হিমে, তুষারে, উফ! সে আপনি কল্পনাও
করতে পারবেন না।
বলেন কি? তবে এখন বাবার বয়েস কত হল?
২য় চে। বােধ হয় হাজার বছরের ওপর হবে। কিন্তু
৫৮
মনপ্যাথি
দেখতে চল্লিশ পঞ্চাশের বেশী বলে মনে হয় না।
দেব-দেহের এম্নি মাহাত্ম।
সাধু। ( সজোরে ) ব্যোম্।
নন্দ। ( সভয়ে) ওরে বাবা !
২য় চে। কোন ভয় নাই। এইবার ধ্যান শেষ হয়ে
আছে। যােগবলে ওঁরা স্বর্গ, মর্ত, পাতাল, ভ্রমণ
করে বেড়ান। এখন বৈকুণ্ঠ থেকে আস্তে আস্তে
মৰ্ত্তলােকে নেমে আসছেন। আর কি নিষ্ঠা, শুধু
দুদণ্ড কাছে বসলেই ব্যাধিমুক্ত হওয়া যায়।
নন্দ। হ্যা তা বটে (মাথা নাড়িয়া) আমি অনেকটা
ভাল বােধ করছি।
২য় চে। (সােৎসাহে) দেখলেন হাতে হাতে ফল।
আমরা নিত্য প্রত্যক্ষ করছি।
সাধু। (সজোরে) হর হর হর ।
নন্দ। কামড়ে দেবে না ত ?
২য় চে। পাগল আর কি। বাবার সমাধি-ভঙ্গের সময়
অম্নি হয়।
সাধু। আমার সামনে কে ? মহাভাগ্যবান পুরুষ?
মনপ্যাথি ২য় চে। (সােৎসাহে) দেখেছেন দেখেছেন, অন্তদৃষ্টিতে আপনাকে দেখতে পেয়েছেন। সাধু। কিন্তু কুলকুণ্ডলিনী বিমুখ। বৃহস্পতি কেন্দ্ৰাধিপতি হয়ে দ্বিতীয় স্থানে গত হয়েছেন। তার ওপর একি! চন্দ্রের ওপর শনির দৃষ্টি, মস্তিষ্কবােগে মরণযােগ। কিন্তু ভয় নাই, ভয় নাই—অষ্টমাধিপতি বলবান, অচিরে ব্যাধিমুক্তি। নন্দ। দোহাই বাবা রক্ষে করুন- ২য় চে। বাবার কথা শেষ হতে দিন। কথা বলবেন , শুনুন। সাধু। লগ্নাধিপতির সঙ্গে সপ্তমাধিপতির সম্বন্ধ, কেন্দ্রা- ধিপতির সঙ্গে কোণাধিপতির মিলন—রাজযােগ, অসীম সম্পদ, পরমা সুন্দরী পত্নী নন্দ। আমি যে বিপত্নীক বাবা- ২য় চে। চুপ চুপ! বাবা সে সব জানেন। সাধু। অদ্য হ’তে ত্রিরাত্র মধ্যে মহাভাগ্যের সূচনা। কিন্তু। গ্রহের কোপদৃষ্টি হতে মুক্তি চাই। নন্দ। কি করলে মুক্তি হবে ?
মনপ্যাথি সাধু। বিভূতি লেপন-কবচ ধারণ—পুরশ্চরণ। নন্দ। বাবা ? ২য় চে। চুপ। সাধু। ( সজোরে ) ব্যোম-ব্যোম-বব্যোম-বব্যোম-হর- হর-হর-ব্যোম-ব্যোম-বব্যোম-বব্যোম-হর-হর-হর- কালী-করালী-কালী-করালী-হর-হর-হর- (মূর্ঘ্যর ভাণ) ২য় চে। (নেপথ্যে চাহিয়া) চরণামৃত, চেলা মহারাজ চরণামৃত। (১ম চেলার পাত্র হস্তে প্রবেশ) উভয়ে সাধুকে উঠাইয়া বসাইয়া তাহা পান করাইল। সাধু স্থির দৃষ্টিতে নন্দের পানে চাহিয়া রহিল ) ২য় চে। এইবার আপনি প্রসাদ পান, সব ব্যাধি মুক্ত হবেন। নন্দ। (পাত্র মুখের কাছে লইয়া) য়্যাঃ কি গন্ধ । ২য় চে। বাবার প্রসাদ চরণামৃত, মুখ বঁাকাবেন না। তা’ হলে চিরদিনের জন্য মুখ ওনি বঁাকা হয়ে যাবে। নন্দ। ওরে বাবা (মাথায় ঠেকাইয়া কষ্টে পান করিল)
মনপ্যাথি
১ম চে। ইত বিকুল
ইত বিকুল দাওয়াই বাবু সাব,। (নন্দের
শরীরে চরণামৃতের প্রতিক্রিয়া হইতে আরম্ভ
করিল)
২য় চে। এইবার বাবার সামনে এখানে বসুন (নন্দকে
বসাইল) আপনার সঙ্গে চামড়ার কোন জিনিষ
নেই ত।
নন্দ। হঁ্যা, মােনিব্যাগ আছে।
২য় চে। ওটা দিন আমি রেখেদি।
১ম চে। হামকো দিজিয়ে বাবু সাব,
( ২য় চেলা নদের নিকট হইতে উহা লইয়া ১ম চেলাকে আধা
আধি দিবার ইঙ্গিত করিয়া ক্ষান্ত করিল)
নন্দ। বাবা আমি বাঁচব ত ?
সাধু। দেবীর ইচ্ছা।
গাত্রাবরণ উন্মােচন কর।
(সাধু চক্ষু মুদ্রিত করিল)
নন্দ। (স্বপ্নাবিষ্টের ন্যায়) আঁ—
২য় চে। জামাটা খুলে ফেলুন।
(নন্দ নিজে খুলিবার চেষ্টা করিল, কিন্তু পারিল না। ২য় চেলা
খুলিয়া ১ম চেলাকে দিল। সে পকেটে হাত দিয়া যাহা পাইল লইল)
মনপ্যাথি
সাধু। দেবী প্রসন্ন হয়েছেন আর কোন চিন্তা নাই।
কাছে এস।
নন্দ। আঁা-
( ২য় চেলা নন্দকে সাধুর আরও নিকটে লইয়া গেল। সাধু
চেলা সহ নলের সর্বাঙ্গে ভস্ম মাখাইয়া দিল )
নন্দ। (জড়িত স্বরে) আমার মাথার পেট আর পেটের
মাথা !
২য় চে। (নন্দকে ঝাকাইয়া) এখন শরীর কেমন ?
নন্দ। আঁ অনেক ভাল।
। (মনে মনে মন্ত্র পাঠ ও বারি প্রক্ষেপ) ওঁ শান্তি-
ওঁ শান্তি—ওঁ শান্তি—ওঁ আপদ শান্তি—ওঁ বিপদ
শান্তি—ওঁ রােগ শান্তি—ওঁ মস্তিষ্ক শান্তি—ওঁ জঠর
শান্তি—ওঁ শান্তিরেব শান্তি-নিরােগ ভব।
২য় চে। কেমন শাস্তি পেলেন ?
নন্দ। (জড়িত স্বর) খু-উ-ব।
সাধু। এইবার কবচ ধারণ। কাল ব্রাহ্মমুহুর্তে পুরশ্চরণ
সাধু।
নন্দ। (জড়িত স্বরে) হ্যা
মনপ্যাথি
সাধু। কবচ লেয়াও (১ম চেলার প্রস্থান)
আর কোন চিন্তা নেই বাবু। এখন আপনি
বিশ্ব জয় করতে পারবেন।
( ১ম চেলা একটা প্রকাণ্ড মাদুলী লইয়া আসিল এবং সাধু
নন্দের গলায় মনে মনে মন্ত্র পাঠ করিয়া পরাইয়া দিল)
সাধু। সুখী হও।
২য় চে। মাদুলীর ভেতর কবচ আছে। সাবধানে
রাখবেন।
নন্দ। (মাদুলীতে হাত বুলাইয়া) মাদুলী !-না বাবা
এটা বাদুলি !
২য় চে। কাল সূর্যোদয়ের পূর্বে আসবেন, পুরশ্চরণ
নন্দ।
আজ তবে আসি (উঠিতে চেষ্টা করিয়া পড়িয়া
গেল ) ওরে বাবা ! এ বাবাদুলি নিয়ে বাড়ী যাব
কি করে ?
সাধু। এই একঠো গাড়ী বােলাও (১ম চেলার প্রস্থান)
কোন চিন্তা নেই। তিন দিনের মধ্যে অসীম
সম্পদের অধিকারী হবে।
৩৪
মনপ্যাথি
২য় চে। চলুন আপনাকে গাড়ীতে তুলে দিয়ে আসি
( নন্দকে ধরিয়া দাড় করাইল) দেবজ্যোতিতে
দেহ দুর্বল হয়েছে। কিন্তু কি সুন্দর দেখাচ্ছে
আপনাকে। (নন্দকে ধরিয়া লইয়া চলিল)
নন্দ। বেঁচে থাক আমার বাবাদুলি! (নিজ বক্ষ আলিঙ্গন
( উভয়ের প্রস্থান)
সপ্তম দৃশ্য
স্থান—অন্তঃপুরস্থ কক্ষ
কাল-দিপ্রহর
( ব্যস্ততাসহকারে রঘুর প্রবেশ )
রঘু। মা লাে-ওমা কোউঠিকি যাউচ
( পিসিমার প্রবেশ)
পিসিমা। কিরে রঘু দৌড়ে এলি কি হয়েছে?
রঘু। হে জগন্নাথ মহাপ্রভু! তুম্ভ মনে এই খিলা! মাে
বাবুটী
পিসিমা। কি হল তাের বাবুর?
রঘু। একবারে সাধু হেই গলা?
পিসিমা। সে কিরে সাধু হল কি?
রঘু। হেলা মাের মুণ্ড আর গণ্ডি। মাের বাবু ভস্ম
মাখিছি, মুণ্ড চুড় অড়য়া হেইছি, আঁখি দিইটা
লাল, আউ বেকেড়ে কণ গােটায়ে বাঁধিচি।
পিসিমা। ওরে আমি যা ভয় করেছি তাই হয়েছে।
কোথা রে তাের বাবু।
মনপ্যাধি ( গলায় দোদুল্যমান সুবৃহৎ মাদুলী ও ভস্মাচ্ছাদিত অঙ্গে নন্দের প্রবেশ) পিসিমা। (ক্রন্দনের সুর করিয়া) ওরে বাছারে !-তাের কি হল রে!—তােকে এ বেশে আমাকে দেখতে হল রে !-ওরে মহেন্দর রে! তুই কি আমাকে এই দেখতে পাের ছেলেকে আমার হাতে সেঁপে দিয়েছিলি ভাই! নন্দ। পিসিমা শােন- পিসী। আর কি শুনব রে। তুই যে এম্নি করে সংসার ছেড়ে সন্নাসী হয়ে যাবি, এ যে আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারি নাই বাবা । রঘু। এমিতি কাম কাইকি করিবাকু গলু বাপ। নন্দ। তুই থাম বেটা। গােল বাধাবার গুরু গোঁসাই। পিসী। ওরে তুই ভাল ভাল বদ্দি দেখা, তাের অসুখ ভাল হবে। নন্দ। এই নিমতলায়— পিসী। ষাট, ষাট, নিমতলার নাম করতে নাই। নন্দ। বন্ধু বল্লে একজন খুব বড় সাধু এসেছে- ৬৭
মনপ্যাথি
পিসী। তার কাছে কি দীক্ষা টিক্ষা নেওয়া হয়ে গিয়েছে ?
নন্দ। আর দীক্ষা ।
পিসী। তবে কি তার চেলা হয়েছিস্?
নন্দ। তার চেলাদের পুলিশে দেব।
পিসী।
ও কথা কি বলতে আছে বাবা। ওঁদের কত চেলা।
তাতে কাজ নেই বাবা, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আয়।
নন্দ। ঘরে ত ফিরে এসেছি পিসীমা। কিন্তু সেই
জোচ্চোর, ধাপ্পাবাজ, ভণ্ড--
পিসী। ক্ষ্যামা দে বাবা ! অন্তর্যামী তারা, জান্তে পারলে
শাপ শাপান্ত করবেন।
নন্দ। তা করুক আমি ভয় করি না।
পিসী। কিন্তু এবেশ কেন নিলি বাবা! আমার যে
কতদিনের ইচ্ছা একটি সােণার পিতিমে ঘরে এনে
?
বসাই।
নন্দ। সাধকরে এ বেশ নিই নাই পিসীমা। বন্ধুটাই ত
বল্লে, কে জানে বেটারা বদমায়েস। আমাকে
জোর করে কি একটা খাইয়ে দিলে, তাতে এমন
ঘাের এলে যে কি বলব।
৬৮
৫
মনপ্যাথি
পিসী। আমার পােড়া কপাল।
নন্দ। বাড়ী এসে তবে আমার ভাল হল। বেটারা
ছাই মাখিয়ে ভূত সাজিয়ে দিয়েছে।
রঘু। কি ! মাের বাবুকু জোর করি সাধু সজাই দেল।
মারি কিরি তার হাড় গােড় ভাঙ্গি দেবি।
নন্দ। থাম বেটা
আর হাড় গােড় ভাঙ্গতে হবে না !
নে এখন আমাকে সাবান আর তেল দিবি চল।
পিসী। হ্যা বাবা শীগগীর চান করে আয়, তােকে এ বেশে
দেখে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে।
৩৯
অষ্টম দৃশ্য
স্থান-শান্তার বাটা
কাল-অপরাহ্ন
( মিসেস বােসের প্রবেশ)
মিসেস। (নেপথ্যে চাহিয়া) তাের যে আর সাজ
গােজই শেষ হয় না।
( শান্তার প্রবেশ
শান্তা। কই সাজগোেজ আবার কি করেছি। তােমার
যেমন কথা !
মিসেস্। বুঝতে কি আর বাকী আছে। আমাদেরও এই
রকম একদিন ছিল। দেখবাে কেমন তাের বিদ্যে,
এ patientএর কেমন চিকিৎসা করিস্ দেখবাে।
এবার তাের ডাক্তারী পড়া সার্থক হবে।
শান্তা। এ রকম কোন patient আজ পর্যন্ত ত পাইনি,
তুমি বরঞ্চ এ সব বিষয়ে পাকা।
মিসেস্। দুদিন পরে তুইও পাকবি। তখন কি আমাদের
আর তাের বাড়ীতে ঢুকতে দিবি !
মনপ্যাথি
শান্তা। হ্যা তাই বুঝি করে। তােমরা আমার গলায়
দড়ি দিচ্ছ তা কি আমি আর বুঝতে পারছি না।
তােমার যেমন একটী হনুমান জুটেছে, এটি বােধ
হয় হবেন একটী জাম্বুবান।
(গুপীর প্রবেশ)
গুপী। মনে করে দেখ তার কাছাকাছি বটে।
মিসেস। এই যে নাম করতে না করতেই হাজির। কৈ
তােমার নন্দ বাবু কোথায়?
গুপী। মনে করে দেখ এই এল বলে। (শান্তাকে
দেখিয়া) মনপ্যাথ মনে করে দেখ, এত সােজা কথা
নয়। আসবে না।
শান্তা। দিদিকে তাই বলছিলাম আপনার সঙ্গে মিলবে
ভাল।
গুপী। মনে করে দেখ এই হনুমান আর জাম্বুবান না হলে
যে রামায়ণই লেখা হত না। আর সীতা ঠাকুরুণকে
মনে করে দেখ চিরদিনই সেই লঙ্কার অশােক বনে
চেড়ীদের হাতে বেত খেতে হত। তােমরা মনে
করে দেখ রামায়ণের case notes ত পড়নি?
৭১
মনপ্যাথি
মিসেস। সেগুলি বুঝি মহাশয়ের লাঙ্গুলে জড়ান আছে।
দেখ, ও সব ঠাট্টা রাখ, এখন গম্ভীর হয়ে কাজটা
যাতে হয় তাই কর।
গুপী। গম্ভীর হব ? আচ্ছা এই নাও। (গম্ভীর হইল)
শান্তা। দেখুন মিষ্টার বােস, এত গম্ভীর হওয়া মােটেই
ভাল নয়।
হঠাৎ দম বন্ধ হয়ে গেলে তখন
Caesarean section করতে হবে।
গুপী। (হাসিয়া) আচ্ছা তােমার adviceই নেওয়া
গেল। (মিসেস বােসের প্রতি) আমার কিন্তু
দোষ নাই।
মিসেস। তােমার কোন কাণ্ডজ্ঞান নেই। কাজের সময়
গুপী। হাঁ মনে করে দেখ এই লঙ্কা কাণ্ডের পর থেকে
কাণ্ডজ্ঞানটা একেবারে লােপ পেয়েছে।
মিসেস। না তােমাকে নিয়ে আর পারা গেল না।
গুপী। তা কি আর করব।—তাইত মনে করে দেখ
শান্তার patient এখনও এসে হাজির হল না।
পথ ভুলে গেল নাকি?
৭২
মনপ্যাথি মিসেস। দেখিস্ তুই যেন হেসে ফেলিস না। একটু কথাবার্তার পর আবার কালই আসতে বলবি। গুপী। আর তার সঙ্গে মনে করে দেখ ওই চটুল চোখের চোখা চাহনি খানকতক ছুড়লেই কাৰ্য্য সিদ্ধি। বাস্তবিক তােমাদের চোখে hypnotic attraction আছে। মিসেস। নিশ্চয়ই। পুরুষ মানুষেদের মুরদ খুব বােঝ গিয়েছে। তাইত বলছিলাম নন্দ বাবুকে একবার নিয়ে আসতে। চোখচোখি হলে হয়। গুপী। ওই যে নন্দ আসছে। চল মনে করে দেখ এখন আমরা একটু আড়ালে যাই। ( সকলের প্রস্থান) (নন্দের প্রবেশ ও চতুর্দিকে নিরীক্ষণ) নন্দ। এই বাড়ীইত বটে, ঠিকানা মিলিয়ে নিয়েছি। বেয়ারাটী আমায় দেখে অমন করলে কেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ডাক্তার বাবু বাড়ী আছেন- মুচকি হেসে বললে এই ঘরে বসুন। আমার নামটাও জিজ্ঞেস্ করলে না। গুপীদা বােধ হয় আমার কথা ডাক্তার বাবুকে সব খুলে বলেছেন।
মনপ্যাথি
*
?
(গম্ভীরভাবে শান্তার প্রবেশ)
নন্দ। ও বাবা! এ আবার কে? লেডি ডাক্তার না কি
কি করি—পালাব নাকি? যাই হােক ওঁরই
পরামর্শ নেব।
শান্তা। আমি আপনার কি করতে পারি?
নন্দ। বড় বিপদে পড়ে আপনার কাছে এসেছি।
শান্তা। Pain আরম্ভ হয়েছে ?
নন্দ। পেন ত কিছু টের পাচ্ছিনা।
teil Prima para ?
নন্দ। হঁ্যা।
teri First Confinement ?
নন্দ। আজ্ঞে ।
শান্তা। প্রথম পােয়াতী ?
( সলজ্জভাবে) আজ্ঞে আমি নিজের চিকিৎসার
জন্য এসেছি।
শান্তা। আপনার চিকিৎসা ? ব্যাপার কি সব বসে
বলুন ।
( উভয়ে বসিল)
৭৪
মনপ্যাথি
নন্দ। দুঃখের কথা আর কি বলব। এই বিষ্যৎবারে
ট্রাম থেকে নামতে গিয়ে পড়ে যাই। আমার
কোথাও কিছু লাগে নি। কিন্তু বন্ধুবান্ধবরা সবাই
বললে ডাক্তার দেখাতে, তাই প্রথমে ডাক্তার
তফাদারের কাছে যাই।
শান্তা। তিনি কি বললেন ?
নন। তিনি বললেন যে আমার মাথার ভেতর টিউমার
না কি হয়েছে, অস্ত্র করতে হবে। তারপর এত
বড় একটা নল বার করে বললেন গা ফুড়তে হবে ।
ও ! injection দেব বলেছিলেন বুঝি?
নন্দ। হঁ্যা। সেই ভয়ে আর তার কাছে যাই নাই।
তারপর চোরবাগানের নেপাল বাবু হােমিওপ্যাথকে
দেখাই। তিনি বললেন আমার পেটের ভেতর
“কোলাকুলি” না কি হয়েছে।
দিলেন--বাবা !
শান্তা। তারপর ?
তারপর আর কি করব প্রাণের দায়ে তারিণী
কোবরেজকে দেখালাম।
মনপ্যাথি
শান্তা। তিনি কি বললেন ?
নন্দ। তিনি বললেন আমার পেটের ভেতর উৰ্দ্দশ্লেষ্ম
হয়েছে। কিন্তু তাতে আমার মন মাল না।
আমার বরাত বড় মন্দ। (কপালে করাঘাত)
শান্তা। তা’ত বুঝতেই পারছি। তারপর কি করলেন?
নন্দ। কি আর করব। ফরাক্কাবাদ থেকে একজন হকিম
সাহেব এসেছেন তাকেও দেখালাম। তিনি
বললেন আমার মাথার হাড় সব চুরমার হয়ে
গিয়েছে।
শান্তা। বলেন কি?
নন্দ। এই দেখুন মাথা কামিয়ে কি একটা ওষুধ দিয়ে
দিয়েছিল।
শান্তা। তারপর ?
নন্দ। সে কথা আর আপনাকে কি বলব,—নিমতলায়
ক’বেটা ভণ্ড সাধুর হাতে পড়ে নাকালের একশেষ!
শান্তা। এর জন্য আমার কাছে এসেছেন কেন?
নন্দ। তা কি জানি। গুপীবাবু বল্লেন এই ঠিকানায়
এলেই অসুখ সারবে।
৭৬
মনপ্যাথি
শান্তা। হ্যা, গুপীবাবু বলছিলেন বটে সেদিন আপনার
কথা।
দেখুন আপনি আর বিয়ে করেন নি
কেন?
কেন করিনি তা কি করে বলব।
শান্তা। বিয়ে করলে এ রােগ আপনার হতই কি না
সন্দেহ। অবস্থা এখন যা দাড়িয়েছে তা’ serious
—ডাক্তাররা যা বলেছেন তা ঠিক।
আপনার
রােগটা মাথা আর পেট থেকে আরম্ভ হয়েছিল ;
কিন্তু এখন দুয়ের মাঝামাঝি স্থানটা
স্থানটা অধিকার
করে বসেছে। স্থানটা বড় খারাপ।
নন্দ। সর্বনাশ !
শান্তা। (উঠিয়া) দেখুন, আজ আমি ভারী ব্যস্ত আছি।
কাল আর একবার আসবেন, আপনার সম্বন্ধে কি
করা যায় স্থির করা যাবে।
নন্দ। আজ্ঞে কালই আবার আসব। আপনার কাছে
যখনই আসতে বলবেন তখনই আসব। (প্রস্থান
করিতে করিতে ফিরিয়া) কাল কখন আসতে
৭৭
৫
মনপ্যাথি
শান্তা। এই সময় আসবেন।
(নল পুনরায় ফিরিয়া চাহিয়া প্রস্থান করিল
শান্তা। আহা বেচারী কি সরল, কিন্তু কি দুঃখী।
( গুপী ও মিসেস বােসের প্রবেশ
গুপী। মনে করে দেখ ওষুধ ধরেছে।
মিসেস। যাবে কোথা। তুইও যে গম্ভীর হয়ে পড়লি ?
তােমার যেমন কথা।
৭৮
নবম দৃশ্য
স্থান--বারান্দা
কাল-প্রভাত
পশ্চাতে
(কেঁচার এক অংশ গায়ে দিয়া নৃন্দের প্রবেশ।
তােয়ালে স্কন্ধে রঘু ভৃত্যের প্রবেশ)
নন্দ। (হাই তুলিয়া তুড়ি দিতে দিতে) নাঃ রাত্রে ভাল
ঘুম হল না।
সারারাত্রি কি ভাবছিলাম কে
জানে।—এ স্বপ্নটা বেশ, সে রাত্রির মত নয়।
এমন স্বপ্ন বােজ দেখিনা কেন ?
রঘু। বাবু মূহ ধােইব নাহি ?
নন্দ। আঃ! থাম বেটা।
রঘু। এজ্ঞে।
নন্দ। আর বিয়ে করিনি কেন ?—না, কাজটা ভাল
হয়নি। অসুখটা এখন মাথার আর পেটের মাঝা-
মাঝি এসে দাড়িয়েছে বল্লেন। (মাথা ও পেটের
মাঝামাঝি স্থান মাপিয়া, বুকে হাত দিয়া) অসুখটা
এখন এইখানে। তঁা ঠিক বলেছেন।
রঘু। এতে বেড়া হলা মুহ যদি ন ধােইব তেবে মু যাউচি।
মনপ্যাথি
নন্দ। যা দূর হ বেটা (রঘুর প্রস্থান)
নন্দ। আজকে আবার যেতে বলেছেন। হঁ্যা, যেতে হবে।
গুপীদা বলছিলেন তাকে দেখলেই আমার অসুখ
সেরে যাবে। হ্যা আমার অসুখ অনেকটা সেরেছে
কিন্তু মনটা এখন এমন করছে কেন ?
(নেপথ্যে)
বন্ধু। মাইরী দাদা বাড়ীতে আছ ?
নন্দ। কে বন্ধু যে, এস ভায়া! আজ যে এত সকালে?
( বন্ধুর প্রবেশ )
বন্ধু। মাইরী সকাল কোথা। প্রায় যে এগারটা বাজছে
আর তুমি মাইরী একি! মুখও ধােওনি, দাড়িয়ে
দাড়িয়ে কি ভাবছ ?
নন্দ। আর ভাই, মনটা ভাল নেই। কাল সারা রাত্রি
ঘুম হয় নি।
বন্ধু। মাইরী বটে বটে! শরীর থেকে অসুখটা মনে
চলে গেল. কবে আবার? আর রাত্রে মাইরী
ঘুমই বা হয় না কেন?
মনপ্যাথি
নন্দ। আর ভাই এই ট্রাম থেকে পড়ে গিয়েই আমার
যত বিপদ।
বন্ধু । মাইরী এবার প্রেমে পড়, হাত পা ভেঙ্গে জর জর
হােক, বাস্ তা হলেই সব আপদ দূর হয়ে যাবে।
মাইরী যাহা মুস্কিল তাহা আসান, শাস্ত্রেই আছে।
নন্দ। তাইত।
স্কু। মাইরি মনােপ্যাথ ডাক্তার কি বলে? তাঁকে
দেখেই মাইরি অসুখ সাল নাকি?
নন্দ। না ভাই, তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা করােনা।
বন্ধু। পরিৎ যে বেজায় মাইরি। ভাল ভাল, তা হলে
ধরা পড়েছ ? মাইরী চল চল চান টান করবে।
তােমার অবস্থা মাইরী ভাল বলে বােধ হচ্ছে না।
(নন্দের হাত ধরিয়া টানিয়া লইয়া বন্ধু প্রস্থান করিল)
৮১
দশম দৃশ্য
স্থান-রাজপথ
কাল-বৈকাল
(নিধুর প্রবেশ)
নিধু। বাওয়া গুপীদার কি বুদ্ধি। হাজার হলেও উকিলি
মাথা, নইলে ঐ রকম পয়হা করতে পারে। এবার
কিস্তি কিন্তু বাওয়া রাণীর। মাৎ না হয়ে যায় না।
বন্ধুটা এখন এল না কেন। বেলা ত পড়ে এল।
বাওয়া কবি সাধে বলে গিয়েছেন (সুর করিয়া)
“প্রেমে নর আপনি হারায়, প্রেমে পর আপন
হয়-
(বন্ধুর প্রবেশ)
বন্ধু। তুমি যে মাইরী গােরাঠাদের মত পথে পথে প্রেম
বিলিয়ে বেড়াচ্ছ ? ব্যাপার কি ?
নিধু। ব্যাপার আমার চেয়ে তাে বাওয়া তুমিই ভাল
জান। নন্দাকে নিয়ে তুমি আর গুপীদা বাওয়া কি
নাচানই না নাচাচ্ছ।
বন্ধু। ভূত ছাড়াতে হলে মাইরী নাচন কেঁাদন সবই
৮২
মনপ্যাথি
কৰ্তে হয়।
দাদার ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা, জানতে
মাইরী।
নিধু। বলিহারী তােমাদের বুদ্ধি বাওয়া। গজ গেল, দাবা
গেল, রাজা যায় যায় খুব চাল চেলেছ বাওয়া।
বন্ধু। সকালে গিয়েছিলুম দাদার কাছে। মাইরী অবস্থা
খুব সঙ্গীন। বুক ধড়ফড়, রাতে ঘুম নাই, উদাস
উদাস ভাব, সব লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে।
নিধু। বল কি বাওয়া এর মধ্যেই এতদূর?
বন্ধু। মনােপ্যাথ ডাক্তারের কাছে মাইরি খুব ঘন ঘন
যাওয়া হচ্ছে।
নিধু। বাহবা বাওয়া !-গুপীদা এল না?
বন্ধু। সে আগেই গিয়েছে। প্রজাপতির বাহন, মাইরী
সে এখানে থাকলে চলে।
নিধু। চল চল বাওয়া যাওয়া যাক, আর দেরী করা
ঠিক নয়।
( প্রস্থান।
একাদশ দৃশ্য
স্থান--শান্তার বাটী
(শান্তা ও নন্দ বসিয়া কথা বলিতেছিল)
শান্তা। আজ কি রকম আছেন ?
নন্দ। অনেকটা ভাল। তবে
শান্তা। তবে কি ?
নন্দ। ভাবছি রােগটা কেমন করে সারবে। আপনি কাল
যা বলেছিলেন রােগটা এখন (বুকে হাত দিয়া)
এই খানেই বটে--
=
(গুপীর প্রবেশ)
গুপী। মনে করে দেখ তা হলে এত দিনে বুঝতে পেরেছ।
( উভয়ে উঠিয়া দাড়াইল)
নন্দ। ( লজ্জিত হইয়া) না তা নয়।
গুপী। তােমার মনে করে দেখ এটা হচ্ছে hearts
disease, একটী sweetheart না হলে কি মনে
করে দেখ এ বােগ আর কেউ সারাতে পারে ।
৮৪
মনপ্যাথি তাই মনে করে দেখ এই ব্যবস্থা করেছি। এখন তােমার মনপ্যাথ ডাক্তারকে মনে ধরবে ত? নন্দ। তা-তা তােমর সবাই যখন বলছ তখন মনে ধরূবে কেন ? গুপী। মনে করে দেখ এই ডাক্তারের কাছে কিন্তু চির- কাল থাকতে হবে। রাজি ? নন্দ। রাজি না হয়ে কি করি। রােগ ত সারাতেই হবে। গুপী। তুমি এই patientএর ভার নিতে প্রস্তুত ? শান্তা। অপ্রস্তুত আমি কিছুতেই নই মিষ্টার বােস, তবে উপযুক্ত ফি’ চাই! গুপী। আচ্ছা তার জন্য মনে কর দেখ আমি জামিন থাকলাম। দেখি ভাই হাতখানা। { মিসেস বােসের প্রবেশ } মিসেস। আমি অপরিচিতা বলে কিছু মনে করবেন না নন্দ বাবু। এটা আমার ভগিনী, বর্তমানে আপনার প্রেমাকাভিক্ষণী। গুপী। (উভয়ের হাত ধরিয়া) এবং আমার শালিকা অতি রসিকা (উভয়ের হাতে হাতে মিলাইয়া) এই ৮৫ মনপ্যাথি গুপী। বাঁধন তােমার ওষুধ। সম্মুখে আসিয়া) কি ভাই চোখ বুজলে যে? নন্দ। ওষুধের action আরম্ভ হয়েছে। এর মধ্যেই। মিসেস। তুইও চোখ বােজনা। শান্তা। আমার ত আর অসুখ করেনি। নিধু। নন্দার দেখছি আর তর সইল না। আমরা আসতে না আসতেই বাওয়া মধু মিলন। (সুর করিয়া) “আহা কিবা মানিয়েছে রে, আহা কিবা মানিয়েছে ;—যেন মেঘের কোলে ইন্দ্রধনু, কৃষ্ণের পাশে বলরাম- বন্ধু। তুমি যে মাইরী গান ধরে ফেল্লে, থাম থাম। দাদার আবার শরীর খারাপ, দেখছ না?—কেমন দাদা, বউদি নইলে কি বাড়ী মানায়, বলেছিলাম না মাইরী ? নন্দ। হঁা ঠিক বলেছিলে, এখন বুঝতে পারছি। নিধু। এবার বাওয়া মােটর কিনবে ত? নন্দ। নিশ্চয়ই। ৮৬
মনপ্যাথি
বন্ধু।
আমাদের চড়াবে?
সে কথা বলতে।
নিধু। আর বাওয়া ট্রামে চড়বে ?
নন্দ। আবার।
গুপী। কেমন মনে করে দেখ আর মাথায় কোন গােলযােগ
আছে ?
নন্দ। না।
গুপী। পেট ঠিক হয়েছে ?
নন্দ। হঁ্যা।
গুপী। শরীরে মনে করে দেখ আর কোন অসুখ নাই ?
নন্দ। ।
গুপী। তা হলে
তা হলে এইবার মনে করে দেখ ডাক্তারের ফি’
তােমার সেই জিনিষটী ডাক্তারকে দিতে হবে।
বন্ধু। মাইরী সেই আকাশের চেয়ে মস্ত জিনিষটা কি
দাদা?
গুপী। প্রাণ।
নন্দ। সেত অনেকক্ষণ দিয়ে ফেলেছি। আমাতে কি
আর আমি আছি দাদা।
৮৭
মনপ্যাথি মিসেস। শুনছিস লাে ? শান্তা। বেশ, তবে আমি patientএর charge নিলাম। গুপী। আগা গােড়া মনে করে দেখ wrong diagnosis হয়েছে, রােগ সারবে কোথা হতে। thanks পাওয়া উচিত আমার স্ত্রীর—থুরী, মনে করে দেখ মিসেস বােসের। এইবার দরকার একটু long change-a Honeymoon trip- বন্ধু। মাইরী বলিহারী বউদির ‘মন-প্যাথি’! ! যবনিকা ৮৮
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.