Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Lilayeta Ed. 1st

Dey,sushilkumar · 2009/12/4

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

লী লা য়ি তা

No text on this page.

লীলা মি তা

এম সংস্করণ
শ্রাবণ, ১৩৪১
এক টাকা

লীলায়িত
সুশীলকুমার দে
শ্রীগুরু লাইব্রেরী
২০৪ কর্ণওয়ালিস ঈউ,
কলিকাতা

প্রকাশক : নেপচন্দ্র দাস, এম-এ
মডার্ণ পারিশিং সিন্ডিকেট
৪• মির্জাপুর ট, কলিকাতা
প্রিন্টায় : সুরেশচন্দ্র দাস, এমএ
অবিনাশ কাস
• মির্জাপুর ঐট, কলিকাতা

বন্ধুর
শ্ৰীযুক্ত সজনীকান্ত দাস
বিচিত্রলীলামযে

No text on this page.

প্রাচীন কালের কবিগণ রচে বিরহ-মিলন-গাথা,
কত ‘মুক্তক’ মুক্তার মত সােনার ছন্দে গাঁথা ;
সুপ্ত তাদের স্মৃতিটি, প্রীতিটি তবু আজো বেঁচে আছে,
বাজিছে এখনাে সে-সুরের রেশ হৃদয়ের কাছে কাছে।
শূদ্রক, ভাস, ভারবি, হর্ষ, ভবভূতি, কালিদাস,
তারা তো রয়েছে চোখের সমুখে লয়ে যশ অবিনাশ ;
আরাে আছে কত ছােট-ছােট কবি চোখের অন্তরালে,
তারাও রচেছে প্রাণের কথাটি গানের ইন্দ্রজালে।
ওগাে বিজ্জকা, অমরু, অচল, হে শীলাভট্টারিকা,
তোমাদেরাে ভালে ছিল একদিন গীৰ্বাণ-বাণী-টীকা ;
তােমাদেরাে ছিল সেই সুখ-দুখ, সেই কবি-অভিমান,
সেই কল্পনা,তােমরাও যে গাে অমৃতের সন্তান।

ক্ষুদ্র শ্লোকের আয়তনে বাঁধা ক্ষুদ্র সে-সুখদুখ
কোথায় নিভৃতে ফুটেছিল কবে ভরি’ কোন্ কবি-বুক,
ভেদিয়া সুদূর বিগতকালের আধারের যবনিকা
দু’চারিটি যেন প্রাণ-প্রদীপের রক্ত-ফেঁাটার শিখা।
কার তরে এই আরতির আলাে জ্বলেছিল কোন্ রাতে
কার তরে এই প্রীতির পুষ্প ফুটেছিল কোন প্রাতে ?
বকুলের মত আকুল করিল মুখের মদিরা কার ?
অশােকের মত রাঙিল কাহার চরণের সঞ্চার ?
কে আসিল কবে প্রাণে-প্রাণে শুধু মাধুরীর রূপ ধরি’
মধুমাসে যেন মাধবী-বীথির মধুময় মঞ্জরী ;
হাসিতে ঝরেছে সােনার কিরণ, রােদনে মুকুতা-ধারা,
বেদনার মােহ-গন্ধে মধুর বিধুর হরষে হারা।
কার সে-মুখের মুগ্ধ আবেশ ভরে দিল সারা বুক,
সব সুখ তাই হয়ে গেল দুখ, সব দুখ হল সুখ ;
তাই সুখে দুখে ডুব দিয়ে তারা কত দিবা-বিভাবরী
তনু মন প্রাণ ছানিয়া এনেছে রসের কুম্ভ ভরি।

উপল-বিষম জীবনের পথে আলাে-ছায়া-মাঝখানে
বহে গেল তাই সব গান শুধু ঝর্ণার কলতানে ;
কত কৌতুক ঝলকি উঠিল প্রসন্ন প্রাণ-ছায়ে,
দেহ-কুসুমের মদির সুবাসে অধীর প্রীতির বায়ে।
প্রাবটের তাই নিবিড় বেদনা শুধু শ্যাম শােভা ধরি’
শরতের লঘু স্নিগ্ধ শীকরে শত গানে পড়ে ঝরি’;
রৌদ্র-দহন হয়ে যায় তাই আলাে-ছায়া-একাকার,
হাস্যের ধারা মর্মরি’ ওঠে শতগানে শতবার।
প্রাণে প্রাণে তবু সব গান যেন একটি কি গান গাহে,
সব কথা শুধু একটি কথায় ফুটিয়া উঠিতে চাহে ;
লঘু-লীলায়িত সকল লীলায় শতরূপে সঞ্চরি’
সকল পদ্মে ফেলেছে চরণ একটি কে সুন্দরী।
তাই শত গানে একটি কি গান ধ্বনিয়া উঠিছে মনে,
সে-গানটি শুধু তুমি আর আমি শুনেছি সঙ্গোপনে ;
শত কবি যাহা বলেও বলেনি শতরূপে শত গানে,
নিভৃতে নীরবে সে-কথাটি জাগে তােমার আমার প্রাণে

No text on this page.

খসে খসে পড়ে আলােল অলক, কুণ্ডল দোলে সঘনে গালে,
পত্ৰলেখাটি মুছে-মুছে আসে স্বেদ-বিন্দুর সূক্ষ্ম-জালে,
করুক কুশল কান্তার সেই নয়ন ক্লান্ত লীলার ভরে,
মঙ্গলতরে কিবা কাজ আর ডাকিয়া বিধাতা, বিষ্ণু, হরে ?
-অমরু
জন্ম যাহার মনের ভুবনে, প্রিয়-অপাঙ্গে বসতি যার,
রতি-মুখ-শতপত্রের অলি, প্রেম-নাটিকার সূত্ৰধার,
কে ধরে জগতে শক্তি তাহার, যার ভয়ে হর সুচিরতরে
অর্ধেক করি’ নিজ পৌরুষ দেহের তাৰ্দ্ধে উমারে ধরে ?
অতনু সে নিজে, ত্রিভুবন-জয়ে বিভব তাহার হাস্যকর
পুষ্পের ধনু, ভ্রমরের গুণ, কেবল পাঁচটি পুষ্প-শর ;
লক্ষ্য তাহার অলক্ষ্য মন, ধন্বী তবু সে নিপুণতব
একেরে দু’ভাগ না করিয়া করে দুয়েরে এক সে-ধনুর !
দামােদরগুপ্ত, ললিতাক ইত্যাদি
বেতসের বন প্রাসাদ হয়েছে, আঁধার হয়েছে দীপের মত,
ভূমিতল যেন শয্যা কোমল, উপাধান হল পাথর যত,
কর্দম হল চন্দন যেন, রূপ যার নাই রূপ সে ধরে
যাহার প্রসাদে, সেই দেবে আমি বন্দনা করি’ ভক্তিভরে।

লী লা য়ি তা
পুষ্পধনুর ধনু সে নিপুণ, লক্ষ্য তাহার সূক্ষ্মতর,
সারা অঙ্গটি অক্ষত রাখি’ মৰ্ম্মে আসিয়া বিধিছে শর!
পঞ্চশর সে হেরিল যখন ব্যর্থ আপন পাঁচটি শর,
জ্বলিল যখন গৌরীপতির নয়নের শিখা প্রখরতর,
যে বশীকরণ-অস্ত্র ধরিল মন্মথ শেষে রােষের ভরে
বামনয়নার কটাক্ষ সেই এখনাে বিশ্ব বিজয় করে।
-মনােবিনােদ
গৃহ নির্জন হেরিয়া নবােঢ়া বসিল শয্যা 'পরি
হেরে প্রাণ ভরি’ প্রিয়ের আনন,—সে ঘুমায় ভাণ করি’ ;
গােপনে চুমিতে হেরে রােমাঞ্চ হয় সে-গণ্ডদেশে,
লজ্জায় মুখ হেঁট হল যেই, চুম্বিল প্রিয় হেসে।
অমরু
মন্থনকালে সুরাসুর মিলি’ লভে অনর্থ যে-সব নিধি,
আমি দেখি আজ কান্তার মুখ সেই সব দিয়ে গড়েছে বিধি,
বদনে ইন্দু, নিঃশ্বাসে তার দেব-কুসুমের সে-পরিমল,
অধরে অমৃত, কটাক্ষে তার আজো আছে ভরি’ সে-হলাহল ।
-অজ্ঞাত

नौना निका
‘কেন বিশীর্ণ মালতীর মত শুকাও ?' সখীরা কহে,
লজ্জায় বালা বলিতে পারে না, যদিও বিরহ দহে;
কোনাে মতে রুধি’ আঁখির বাষ্প, চায় শুধু বার-বার
প্রাঙ্গণে যেথা চূতশাখাগুলি ফুলভারে একাকার।
-বাক্ট
;
বাহু দু’টি যেন মৃণাল ; মুখটী যেন নব শতদল ;
শ্রোণী তার যেন তীর্থের শিলা; লাবণ্য যেন জল ;
নেত্র-যুগল শফরীর মত ; শৈবাল হেন কেশের রাশি ;
পয়ােধর দু’টি ক্রৌঞ্চমিথুন যেন লীলাভরে রয়েছে ভাসি’;
মদনের বাণে দগ্ধ যাহারা, তাহাদের অবগাহন-তারে
বুঝি এ স্নিগ্ধ কান্তি-সরসী সদয় বিধাতা যতনে গড়ে !
“হে করভ-উরু! এ নিশীথে কোথা চলেছ সাহসভরে ?
“যেখানে আমার প্রাণের অধিক প্রিয়জন বাস করে।”
“একাকিনী তুমি চলেছ, তবুও ভয় নাহি হয় মনে?”
“উদ্যত-ধনু মদন সহায়,—-চলেছে সে মাের সনে?”
–বিকটনিতম্ব
৭।

नौ ना मिय
প্রেমের দীক্ষা অতি অভিনব-নাহি আয়ােজন কিছুই তার ;
পূজার প্রতিমা আপনি কান্তা, গুরু নাহি লাগে এ দীক্ষার ;
পূজা হেথা শুধু চোখের চাহনি, চুম্বন, আর আলিঙ্গন ;
নিবেদ্য হেথা অনুরাগভরে শুধু আপনার হৃদয়-মন।
-বণ
বধু আসি’ করে প্রভাতে প্রণাম গুরুজন-পদতলে,
“হও পুত্রিণী” আশিস্-বচন যখন তাহা বলে,
কাছে দাড়াইয়া প্রিয়তম-বধূ অপাঙ্গে ফিরে চায়,
দৃষ্টিতে তার কত যে আদর, আনন্দ উথলায় ।
—জগন্নাথ
বনান্তে ভ্রমে ভ্রমর, চুমে না চম্পক-কলিটিরে ;
নহে রসহীনা,সেও তাে রসিক, তবুও চাহে না ফিরে!
-লক্ষ্মী
ফিরে প্রিয়, সাথে ফিরে কত আশা,কোনাে মতে কাটে দিন
সন্ধ্যায় পােড়া বন্ধুরা আসে,গল্প অন্তহীন।
“দংশন মােরে করিল কি যেন” বলি’ ছলে তাড়াতাড়ি
নিভায় প্রদীপ কাতরা তন্বী চীন-অংশুক নাড়ি।

লী লা য়ি তা
দেখিতে পারে না শাশুড়ী আমারে, দেখিতে পারে না ননদ যত ;
অপরাধ শুধু—তাদের ছেলেটি মাের কটাক্ষে হয়েছে হত ।
;
হে বলাকা-মালা, আকাশ-লক্ষ্মী-হৃদয়ে মুকুতাহার !
বলিও তাহারে-জীবনে যত্ন রাখে যেন অনিবার ;
আমি নারী, ছাড়ি দুর্বহ দেহ শুষ্ক মালার মত,
সে শুধু পুরুষ, সহিবে কেমনে বিরহ-দুঃখ যত ?
—সিন্ধোক
অতি-দুরারােহ রয়েছে সমুখে পৰ্বত দু'টি উচ্চরূপ,
ভীম দেহ-বনে ঘন ভুজলতা, রয়েছে আড়ালে নাভির কূপ ;
সে-অঙ্গে ভ্রমে অনঙ্গ ব্যাধ, কটাক্ষ হয় শরটি তার,
কান্তার সেই দেহ-কান্তারে, হে মন-হরিণ, ঘুরােনা আর।
ভর্তৃহরি
“গেলে কি ফেরে না, তবে মাের তরে কেন ভাব’, সুন্দরি ?
ক্ষীণ তনু তব !” কহিনু যখন নয়নে বাষ্প ভরি’,-
মন্থর-তারা আঁখি তা’র নিল আঁখির নিঝর টানি,
ভাবী-মরণের উৎসাহে হ’ল উজ্জল হাসিখানি!

লীলা যি গ
এমনি ত আজ করে জৰ্জর আঁখি-শর তব, তাতে আবার
কি কাজ, তরুণি, লেপিয়া যতনে কজ্জল-ছলে গরলভার ?
যখন শশীর অবিকল কলা ধর সুকোমল দেহে,
চন্দ্রকান্তমণি আমি, ওগাে, আর্জ তােমার স্নেহে;
সূর্যের মত তুমি হও এবে খর কান্তির খনি,
উৎসারি আমি কোপের অনল, সূৰ্য্যকান্ত-মণি!
-অচলসিংহ
;
কত লীলাভরে চঞ্চল আজ হয় মানিনীর নয়ন দু’টি ;
দূরে আসে প্রিয়, নয়ন তখন কত উৎসুক উঠিল ফুটি’ ;
কাছে সে আসিলে, চল-অপাঙ্গে বিচলিত আঁখি ক্ষণেকরে ;
আশ্লেষে হ’ল অরুণ সে-আঁখি ; যখন দয়িত বসন ধরে,
কোপ-অঞ্চিত হ’ল ভুরু দু’টি; নিরুপায় প্রিয় যখন শেষে
চরণে ধরিয়া করিল প্রণতি, ভরিল সে-আঁখি অশ্রু এসে।
—রতিপাল
•
;
ঘােটা খুলিয়া একবার, প্রিয়ে, দেখাও সবারে মুখ তােমার,
স্ত্রৈণ বলি যে আছে অপবাদ, আজ হােতূ তাহা যশ আমার ।
-অজ্ঞাত

লী লা য়ি তা
ধন্য তােমরা, সখি, তােমাদের এত কথা থাকে মনে,
পটু চাটু শত, নৰ্ম্ম-বিলাস হয়েছে যা’ প্রিয়-সনে ;
কটিবসনের বন্ধন যবে টুটাল সে প্রিয়-কর,
শপথ আমার, সখি, যদি কিছু মনে থাকে তারপর !
যখন শিল্পী যৌবন তার তমুটি নিটোল করিয়া গড়ে,
রতিপতি আসি’ যখন তাহার সে-নূতন গৃহে প্রবেশ করে,
চারিদিকে যেন পড়ে যায় সাড়া, উৎসব জাগে অঙ্গ ভরি,
মঙ্গলঘট হয় পয়ােধর, লাবণ্য-শাখা শিয়রে ধরি'।
অজ্ঞাত
ওই যে দলিত হলুদের মত গৌর শরীরখানি,
তার সাথে কিবা পাণ্ডুর শােভা বিরহ দিয়াছে আনি';
সােনার সঙ্গে রজত মিশায়ে এ কি আজ অভিনব,
হরিণ-নয়নে, শিল্পী বিরহ রচেছে অঙ্গ হব।
• রাজশেখর
১১

লী লা য়ি তা
;
উজ্জ্বল হার বুকে শােভে তব, ওঠে ঘন রণরণি’
মুখর মেখলা কটির প্রান্তে, চরণে নূপুরধ্বনি ;
পটহ-নিনাদে ভরি’ দশ দিক চলিয়াছ অভিসারে,
তবু কেন লাজে তনু থরথর, ভয়ে চাহ চারিধারে ?
ক
অর্গ ট
যৌবরাজ্যে নূতন নৃপতি বসিল মদন ক্ষণেকতরে,
অরাজক ভাবি’ সকল অঙ্গ লুণ্ঠন করে পরস্পরে ;
নিতম্ব লুঠে কটির গুরুতা, বক্ষ-তনিমা উদর হরে,
চরণের যত চঞ্চল গতি লােচন আসিয়া হরণ করে।
অমরু
একাসনে পাছে হয় বা বসিতে-উঠে এসে কথা কয় ;
পান আনি ব'লে আশ্লেষ হতে নিজেরে সরায়ে লয় ;
আলাপে সুযােগ দেয় না ত, রাখি’ আশে-পাশে পরিজনে
সেবার আড়ালে কৃতার্থ করে যত রাগ আছে মনে।
—পুলিন্দ

লীলা য়ি তা
কৌমার মাের হরেছিল যেই সেই বর, সেই চৈত্র-রাতি,
তেমনি ফুল্ল মালতী-গন্ধ, কদম্ব-বায়ু বহিছে মাতি’ ;
আমিও ত সেই —তবু সেদিনের সে-সুরতলীলা কিসের তরে
রেবাতটে সেই বেতসীর মূলে আজিও চিত্ত আকুল করে !
--শীলাভট্টারিকা
।
এ-ফুলে ও-ফুলে মধুপান লাগি’ এত তৃষ্ণা যে ভ্রমর সহে,
সে ত রসহীন কুসুমের দোষ, অমরের দোষ কখনাে নহে।
-অনুরাগ
পতির প্রথম অপরাধ-কালে, জানে না ত অভিমান,
বাঁকা কথা আর তনু-বিভ্রম,-সখীর শিক্ষা-দান।
বালিকা কেবল কাদিছে,-মথিত আঁখির পদ্মফুল,
লুটে অশ্রুর লােল ধারা বেয়ে স্বচ্ছ কপােল-মূল !
-লীলাচ
কৌস্তুভ-শােভী বক্ষে বিষ্ণু লক্ষ্মীরে কত আদরে ধরে ;
গৌরীপতিও দেহের অর্ধে গৌরীরে আজো বহন করে ;
মনে হয় তাই জন্ম-অবধি মাগিয়া সৰ্ব্ব-অঙ্গ-লীন
বাঞ্ছিত কোনো প্রিয়ারে, ব্রহ্মা তপস্যা করে চিরটি দিন।
।

नौना विका
শিথিল হয়েছে কেন আজ পীন বক্ষের ঘন গরিমা-ভার ?
হায় নারী, বুঝি কিছুই থাকেনা দৃঢ় হ'য়ে কভু হৃদয়ে তার।
—শবশক্তিক
রচি ভঙ্গ, তবুও যে আঁখি উদ্বেগে চেয়ে থাকে ;
কথাটি কহি না, তবু পােড় মুখ হাসিটি ধরিয়া রাখে ;
তনু যে শিহরে, কঠোর করিয়া যতই বাধিনা প্রাণ ;
সে জন সমুখে আসিলে কেমনে রাখিব মানের মান ?
-ভদন্ত অবােগ্য
শয্যায় প্রিয় আসিলে, আপনি কটির গ্রন্থি টুটে,
শ্লথ মেখলায় লাগিয়া বসন নিতম্বে আসি’ লুটে,
এইটুকু শুধু মনে আছে, পরে নিবিড় পরশে তার
কে আমি, কে প্রিয়, কেমন বিলাস, মনে নাই কিছু আর!
—বিকটনিতম্ব
গ্রীষ্ম-পথিক অতি-তৃষা, ঢালিছে তরুণী ঘটের বারি
করপুটে তার, উৰ্দ্ধ-নয়নে মুখপানে চাহে পথিক তারি ;
সে-করপুটের আঙুলের ফঁাকে যত বহে যায় জলের ধারা,
তন্বীও তত ক্ষীণ করে ধারা,-পান বুঝি আর হয় না সারা!

লীলা মি তা
রাত কেটে যায়, তােমরা ঘুমাও, ওগাে সখি, আমি কেমন করে
ঘুমাব, আজ যে শেফালী-গন্ধ নয়নের নি নিয়েছে হ'রে।
মুখ হ’তে মুখ নামাইয়া, আঁখি চরণে বদ্ধ রাখি ;
তাহার আলাপ শুনিতে লােলুপ কাণ দু'টি ছলে ঢাকি ;
কপােল পুলক-স্বেদ-উদ্গম যতনে আবরি করে,
কি যে করি, সখি, কঁচুলী-গ্রন্থি শতধা টুটিয়া পড়ে।
অমৰু
নিজের মুখটি দেখে না মুকুরে--চন্দ্র যে দেয় ব্যথা
কোকিল-কূজন হ’তে ভয় তা’র—তাই মুখে নাই কথা;
দুঃসহ জ্বালা দেয় বলে তার মদনের 'পরে রাগ,
মদনের মত তুমি, তবু বাড়ে তোমা’পরে অনুরাগ ?
-
প্রিয়ের সদনে মুগ্ধা বালিকা আজ অভিসারে যাবে সে যবে,
জলদ-আঁধারে পিচ্ছিল পথে নীরব-চরণে চলিতে হবে,
নূপুর তুলিয়া জানুর উপর চুপি-চুপি তাই আপন ঘরে
চোখ দুটি ঢাকি’ অতি সাবধানে পথচল আজ শিক্ষা করে।

লী লা য়ি তা
কৃশত হয়ে ইন্দু তােমার মুখ-ইন্দুর জয়ের তরে
শম্ভর জটা-তটিনীর তটে তপস্যা বুঝি এখনাে করে ।
-অজ্ঞাত
স্বপ্নে দেখিনু উদ্যান-গৃহে যেন অশােকের 'পরে
লাক্ষা-অরুণ স-নূপুর পদ ফেলিনু দোহদ-তরে,
কি বলিব, সখি, নিকুঞ্জ হ’তে কখন্ আসিয়া ধীরে
ধূর্ত সহসা সে-পায়ের মান রাখিল আপন শিরে!
—মধুকূট
বিশীর্ণ বপু, সকল বিষয়ে নিস্পৃহ অন্তর,
নাসায় বদ্ধ নয়ন, মৌনে একান্ত তৎপর ;
দেখে মনে হয় একাভিনিবেশ করিয়াছ বুঝি সব,
কোন্ জন সেই একজন, সখি,-ব্ৰহ্ম, না বল্লভ ?
-লক্ষ্মীধর
;
পাছে পায়ে ধরে, পা-দুখানি তাই বসনে ঢাকিয়া রাখে ;
চেয়েও চাহে না ; হাসি আসে, তবু হাসিটি যতনে ঢাকে ;
কথা কয় শুধু সখীগণ সাথে কত ছলে আজ বধু ;
মান তার ভাল, অনুকুল প্রেমে নাহি বুঝি এত মধু!

লীলা যি তা
হে প্রাণ-বন্ধু, ফিরিতে তােমার কতদিন আরাে রয়েছে বাকি ?
চঁাদেরো কিরণ দহন করিছে-এই পােড়া দেশে কেমনে থাকি ?
বিজক।
দহন করিছে তঁাদের কিরণ-এ কথা, প্রেয়সি, ঠিক ত নহে;
হৃদয় আমার বিরহ-তপ্ত, সেথা আছ, তাই সে-তাপ দহে !
ধন্য সে নারী, স্বপ্নেও তবু প্রিয় আসে যা’র বুকটি ভ'রে ;
দয়িত-বিহনে আসে না নিদ্রা, স্বপ্ন আসিবে কেমন করে ?
বালা সে,—আমরা ভীরু ; অবলা সে,-আমাদের বল নাই;
সে বহে যুগ্ম-পীনপয়ােধর,-আমরা ভিন্ন তাই ;
গুরু-জঘনের ভার সে তাহারি,-আমরা চলিতে নারি ;
একের দোষে যে অন্যে অপটু, -ভেবে যাই বলিহারি ।
* *

नीना निज
ব্যাধির কৃশতা, ক্ষতের রুধির, দংশন-জালা,-কিসের তরে?
কিছুই ত নাই, বেচারী পথিক কেন তবে আজ সহসা মরে ?
মধু-লম্পট মধুকর যবে তােলে কোলাহল, তখন ভুলি’
বুঝি সে-সাহসী চাহিল আমের মুকুলের পানে নয়ন তুলি’!
-রামিল ও সােমিল
ঘুমাইলে তা’র হয় প্রিয়মুখ দর্শনে বুঝি হানি ;
জাগিয়া থাকিলে ( কি লজ্জা!) প্রিয় ধরে তার দুই পাণি ;
নবােঢ়া তন্বী,-এ ভাবনা আজ সংশয়ে ফেলে তারে ;
পারে না ঘুমাতে, জাগিয়া রহিতে তবু সে ত নাহি পারে।
শে।
পায়ে ধরে পতি, শিশু পুত্রটি খেলা ভাবি’ পিঠে চড়িল তার,
এত রাগ, তবু গৃহিণী তখন পারিল না হাসি চাপিতে আর
-দুর্গাস্বামী
‘তন্বী বালিকা অতি-মৃদু তনু”-কে কবে এ ভয় করে ?
দেখেছ কখনাে ভ্রমরের ভরে মঞ্জরী ভেঙে পড়ে?
হে সখা, ইহারে অতি-নির্দয় আশ্লেষে কর বশ,-
অল্প-পীড়নে ইক্ষু-যষ্টি দেয় না ত সব রস।
-বিকটনিতা

লী লা রি তা
মুখ-ইন্দুর সুন্দর রুচি হরেনি বাষ্পধারা;
নিঃশ্বাসে তার বিম্ব-অধর নহে আজো দ্যুতিহারা ;
তােমার বিরহে কপােলর ছায়া বুঝি আরাে মনােলােভ
পৰু লবলী-ফলের মতন ধরে পাণ্ডুর শােভা।
•
মান করে আছে,- প্রিয় এলে তবু সহসা সে-মান পড়ে না টুটি'
প্রথম দরশে ফুটে ওঠে মান যেমন ফুল্ল নয়ন দু’টি ;
পাশে যবে বসে, মান তা’র হয় মুখের মতন ঈষৎ নত ;
পরশের রসে বাহিরিয়া আসে সে যে রােমাঞ্চ-সুখের মত ;
আলাপের কালে, আপনি সে-মান নীবি-বন্ধের মতন খসে ;
চরণে ধরিলে, লজ্জার মত মান আর তার রহে না বশে !
লাবণ্য-তরু-মঞ্জরী এ কি ফুটে ওঠে নব রসের ভরে ?
বেলা-উচ্ছল কান্তি-জলধি লহরীটি নব রঙ্গে ধরে ?
অথবা মদন শিক্ষক হয়ে, উৎপথ যারা তাদের তরে
বুঝি অভিনব বেতস-শাখার শিক্ষা-যষ্টি ধরেছে করে ?

লী লা য়ি তা কর্ণাটী-নারী-অধর, চাহনি গৌরী মারাটির, বক্ষ-গরিমা অন্ধ দেশের প্রগলভা রমণীর, লাটীর কোমল বাহু, মলয়ীর তর্জনী-তৰ্জন, সব ছাড়ি’ কবি রাজশেখরের কাশী যেতে আজ মন ! “এক প্রহরের পরে ফিরিবে কি ? দুপুরের মাঝে ? তাহারাে পরে? সকল দিবস গেলে বুঝি তুমি ফিরিয়া আবার আসিবে ঘরে ?” প্রিয়তম তা’র যাবে দূর দেশে শত-দিবসের পথের পারে, মুগ্ধা বালিকা জানে না ত কিছু শুধু আঁখিজলে শুধায় তারে ! -ঝলজ ঝল বাসুদেব এত করি তবু হতে যে পারে না কখনাে মুখের সমান তার, আপনারে তাই নিত্য ইন্দু গড়িয়া গড়িয়া ভাঙ্গে আবার ! -অজ্ঞাত বাল্যে বালক, যৌবনে যুবা, বৃদ্ধ বয়সে নিতি বৃদ্ধ লইয়া ঘর করি মােরা,—এই আমাদের রীতি ; পুত্রী রে, তাের এক পতি লয়ে জন্ম কাটাতে সাধ- আমাদের কুলে হয়নি কখনাে হেন সতী-অপবাদ । -বিকা

৩
হস্তী-শিশুর কুম্ভ, বুঝি বা কাঞ্চন-ঘট দু'টি,-
কেহ বলে—আছে হৃদয়-সায়রে যুগল-সােজ ফুটি!
আমি বলি-না, না, মদন রেখেছে ত্রিভুবন জয় করি
আপনার দু’টি জয়-দুন্দুভি উপুড় করিয়া ধরি।
?
করতলে নাই লীলা-উৎপল,মুখখানি শুধু রয়েছে সেথা ;
বাষ্প আসিয়া ভরে দুই চোখ, অঙ্কিত ছিল কাজল যেথা;
কপােল ত নাই পত্র-রচনা, পাণ্ডিমা সেথা রয়েছে লুটি’ ;
নিঃশ্বাসে আজ মলিন অধর, হাসিটি ত সেথা ওঠে না ফুটি;
বিয়ােগের আজ এ যােগ-সাধন কর তুমি, সখি, যাহার তরে,
জানি সে-জন কত গৌরব লভেছে মদন-রাজার করে ।
শরদেব
শপথ করি—আজ হতে তার কপট বচনে আবার ভুলি
মানের অথবা অন্য কিছুর নামটি ও যদি কখনো তুলি,
তা হলে একেলা হয় যেন মাের চক্ষু-ধব ল রজনী সারা,
আঁধার-মলিন প্রাবৃটের দিন কাটে যেন মাের সঙ্গীহারা ।
২১

লী লা য়ি তা
অনঙ্গ সে ত, মারিবে কেমনে ?—পাঁচটি ত ফুল-শর,
দেহে-ঢাকা মন সে ত অমূৰ্ত্ত লক্ষ্য সূক্ষ্মতর !
স্পষ্ট সকল অনুপপত্তি—এই তর্কের কথা
এ অনুমিতির বিবােধ যে আনে সাক্ষাৎ মাের ব্যথা।
-বন্দতথাগত
ত্রিকোণ পৃথিবী, অর্ধেক তার রহে জুড়ে নগ-নদী,
অর্ধেক তার নারী আর শিশু, যােগী আর রােগী যদি,
থাকে কয়জন, তা হতে মান্য ছাড়ি গুরুজন সব ?
মিছে অপবাদ ‘অসতী অসতী’ মুখর এ মুখ-রব !
-বিকটনিতম্ব
প্রেমিক যে নয় জানিবে কেমনে হারানাে প্রেমের যে-ব্যথা প্রাণে ;
চোখ পেয়ে চোখ হারাবার ব্যথা-জন্ম-অন্ধ কি তার জানে ?
-রবিগুপ্ত
করতল তব পত্র-রচনা মুছিছে তােমার গণ্ডদেশে ;
লুঠিছে তােমার অধরের সুধা নিঃশ্বাস তব কি নিঃশেষে ;
ক্ষণেক তােমার কণ্ঠে ধরিয়া অশ্রু লুটায় স্তনের তটে ;-
মান আজ হয় তব প্রিয়জন,—আমরা তােমার কে আজ বটে!

লী লা যি তা
সে যে অকরুণ, জানায় না তারে আমার ব্যাধির ব্যথা ;
সময়ে আসেনি বলিয়া তাহারে কহিও না রূঢ় কথা;
এ কুশল শুধু সুধায়াে তাহারে ~গােচরে আসেনি তার
এখনাে কি এই মলয়-অনিল, মুকুলিত সহকার!
-বাহুট
ইন্দু যেথায় নিন্দে না, নাহি দূতী-মুখে সংবাদ,
দেহ যেথা নাহি ক্ষীণ হয়, নাহি নিঃশ্বাস সবিষাদ,
সুপ্তির সুখ যেথায় আপন গৃহিণীরে ভুজে বাঁধি',
প্রেম সে কি ?—হায়, গৃহ-ধর্ম সে তের মতন সাধি!
-লক্ষ্মীধর
.
আজ শুধু মােয়র কাদিতে বারণ করো না এর টি দিনেব তরে,
কাদিব না কাল যদি বেঁচে থাকি, ওগাে সখি, তার যাবার পারে !
পতি-পত্নীর নিশীথ-আলাপে শুনেছিল যত কথা,
প্রাতে গৃহ-শুক গুরুজন মাঝে করে তাবি বাচালতা,
লজ্জায় বধু নিবারিতে তারে ধরে চঞ্চর আগে
ডালিমের ছলে কাণের দুটি খচিত পদ্মরাগে !

লীলা য়ি তা জিনিল প্রথমে তােরে সেই দেব চন্দ্র যে শিরে ধরে, উদ্ধত-মতি বুদ্ধ, আর সে প্রবাসী কান্ত পরে ; অতিকৃশা আমি অনাথা বালিকা, ওরে কাপুরুষ, সর- ধিক্ তােরে, ধিক্ পৌরুষ তাের, ধিক্ কাম্মুক-শর ! সুধার আকরে জ্যোৎস্না জনমে,—সে কি তৃষিতের তৃষ্ণা হরে ? মৃণালের সূতা দিয়ে কোনােদিন কেহ কি বসন বয়ন করে ? পাত্রে কি মাপা যায় কোনােদিন বকুল-ফুলের গন্ধভার ? স্বপ্নের মাঝে ধরিবে কেমনে সাক্ষাৎ সেই মূরতি তা’র ? রাজশেখর কত নারী তব হৃদয় ভরেছে,সেথা, হায়, আর স্থান ত নাই ; তন্বী নিজের অতি-ক্ষীণ তনু আরাে ক্ষীণ আজ করেছে তাই । -হাল এক শয্যায় মৌন-বিমুখ, অন্তরে ব্যথা যতনে ঢাকে, দু’জনার মনে রহে অনুনয়, বাহিরে তবুও গুমর রাখে । আড়-চোখে চাহি’ নিভৃতে সহসা চোখে চোখ এসে যখন পড়ে, ভগ্ন তখন মানের কলিকা হাসিয়া এ-ওর কণ্ঠ ধরে। অমরু

नीना नि
কপালে পড়েছে কুঞ্চিত রেখা, পলিত হয়েছে কেশ,
গলিত হয়েছে দস্ত, তবুও দুঃখের নাহি লেশ ;
শুধু মৃগাক্ষী যুবতীর যত হেরি মােরে পথমাঝে
‘বাবা’ ব'লে যবে সম্ভাষ করে, বুকে যেন শেল বাজে!
সুখের বাষ্পে নয়ন ঢেকেছে—কেমনে সেথায় দৃষ্টি সরে ?
হয়েছে কম্প-বিধুর ভিন্ন দু’বাহু—ক কেমনে ধরে ?
সারা প্রাণ-মন আবেগ-আকুল–মুখে তাই আর সরে না কথা;
আজ মিলনের আগে-ভাগে যেন আসে বিরহের সকল ব্যথা।
-এডামৰ
দুদ্দিন নিশি, বহে খর বায়ু, শুন্য নগর-বীথি,
দূর দেশে পতি,জঘন-চপলা রমণীর মনে প্রীতি।
-জঘনচপলা
নিগ্রহ যেথা—শুধু নীরবত, কোপ—কুটিতে লয়,
চোখের চাহনি—প্রসাদ যেখানে, হাসিটুকু—অনুনয় ;
আমাদের সেই প্রেম হের আজ বিপরীত রূপ ধরে,--
তুমি পায়ে পড়-নিষ্ঠুরা আমি—তবু রাগ নাহি পড়ে।
অমরু

লী লা যি তা
এই যদি হয় মুখখানি,তবে মুছে যাক্ শশী সুচির তরে।
এই যদি হয় কান্তি তাহার,সুবর্ণে তবে কি আর করে ?
পরাহত, হায়, কুবলয়,যদি আঁখি তা’র আজ এ শােভা ধরে।
বচন তাহার এই যদি হয়—মিছে কেন মধু কুসুমে ঝরে ?
এই যদি ভুরু,-ফুল-ধনু ধিক্ ! হাসি এই যদি, সুধায় ধিক্‌ ।
বিধির সৃজনে পুনরুক্তি যে নাই—তাহা আজ বুঝেছি ঠি!
--রাজশেখর
ভুরুটি হয়েছে কাক যেন, কটাক্ষ তার হয়েছে শর ;
ব্যাধের মতন নির্দয় বালা, হরিণের মত এ অন্তর।
সখীগণ পরে করিয়াছ রাগ ? শয্যায় নাহি রও,
তাই কি চাহ না ফিরিয়া, সরস কথাটি আর না কও?
কেতক-গৌরি। কোপ-ছলে এই হৃদয়-সঙ্গোপন
ঠিক্ হত, যদি মুখ ফিরাইয়া না হাসিত সখীগণ।
-ভানুদত্ত

লী য়ি তা
কেহ বলে-“সেত বহ্নিতে মেশে”; কেহ বলে—“ডােবে সাগর-জলে”;
“অন্য ভুবনে যায়”-কেহ বলে ; কত কথা কত লোকে যে বলে !
আমি দেখি চোখে প্রতি সন্ধ্যায় প্রচণ্ড রবি বিরামতরে
যত বিরহিণী নারীর হৃদয়ে অলক্ষ্যে আসি’ শয়ন করে !
-ইন্দুলেখা
মুখে শুধু মধু ঝরে রমণীর, বুক তা’র শুধু গরলে ভরে,
তাই সে-অধরে পান করে সবে, বুকে বুঝি তাই পীড়ন করে।
-অশ্বঘােষ ও ভর্তৃহরি
সখীজন পাশে কহে প্রিয়জন-“কেন গাে কাঞ্চী দিয়া
বসন-প্রান্ত সুনিবিড় করি' বাঁধিয়া ঘুমায় প্রিয়া ?”
“হেথায় আমার শুতেও কি মানা ?” এই বলে পাশ ফিরে
নিদ্রার ছলে ভাগ করে দিল আপন শয্যাটিরে !
-অমরু
“মুগ্ধে।” “কি নাথ ?” “কোরো নাক রাগ।” “কি রাগ করেছিআমি?”
“নাহি চাহ মেরে ?” “তােমার কি দোষ, সব দোষ মাের, স্বামী।
“রুদ্ধকণ্ঠে কঁদ কেন তবে ?” “কারাে কাছে কঁদি নাই!”
“মাের কাছে” “আমি কে তব ?” “দয়িতা”–“নহিব'লে কঁদি তাই।”
কুমার ভট্ট

লী লা য়ি তা
যৌবন যাবে অচিরে, অবলে, রূপ আর কতদিন ?
শুধু যুবজন-বঞ্চন-পাপ হবে না কখনাে ক্ষীণ।
যাবে প্রাবৃটের পূর্ণতা সাথে তটিনীর শােভা ঘুচি’,
তটরুহ-তরু-পাতন-পাতক যাবে না ত কভু মুছি'।
মন্মথ বুঝি হয়েছে বালার অনুগত কিঙ্কর, -
ইঙ্গিতে তাই এখানে ওখানে ধায় সে নিরন্তর!
—ভর্তৃহরি
নিঃশ্বাসে আজ শুকায় বদন, সারাটি হৃদয় মথিত করে ;
নিদ্রা কেমনে আসিবে—আঁখি ত সে-মুখ না হেরি’ নিত্য ঝরে ;
ক্ষীণ হয় তনু ; পায়ে পড়ে লভে প্রিয়তম আজ কি অপমান ;-
তবু, হায় সখী, কি গুণে জানি না মিছে আজ করি এ-হেন মান!
অমরু
লাবণ্যে ঢাকে তনুর তনিমা, তব ধ্যানে সখী সহে
বিরহের যত দুৰ্ব্বহ ব্যথা—এ কিছু নূতন নহে।
শুধু এ নূতন—নিঃশ্বাস-ভরে গালে শ্যাম রেখা পড়ে,
কলঙ্কী চাদ আজ তাই তার মুখের স্পর্ধা করে।
শূজার

লী লা য়ি তা
এখনাে ফিরায়ে আছে মুখখানি, কথাটিও নাহি কহে,
জলে ধুয়ে-মুছে এখনো ও দু’টি আঁখি নিৰ্ম্মল নহে;
পায়ে পড়ে প্রিয় হতাশ হয়েছে, তবু অশ্বাস হয়-
এত রাগে তবু চরণ দুখানি সরায়ে ত নাহি লয়।
-বােপালিত
হায় রে পাণিনি, বলেছ মনেরে নপুংসক যে কি ভুল করি,
তাই শুনে তারে প্রিয়ার নিকটে পাঠানু—এখন বিপদে মরি ।
হে প্রতিবেশিনি, ক্ষণেক মােদের হের এই গৃহতল,-
এ শিশুর পিতা দেয় না ত মুখে বিরস কূপের জল,
কি করি? একাকী যাই যেথা নদী তমালের বনে হারা,
যত কর্কশ বেতস-গ্রন্থি ছিড়ক ও দেহ সারা!
-বিজ্ঞজকা
।
হাতের বলয় গেছে প্রিয়-সাথে, গেছে কত অাঁখিনীর,
ধৈৰ্য্যও গেছে তারি সাথে, হায়, চিত্ত রহেনি স্থির ;
দৃঢ় করি’ মন প্রিয় যবে গেল, সব গেল সাথে তার,--
হে মাের জীবন, প্রিয়ের সঙ্গ ছাড় তুমি কেন আর ?

ধিক্ সে কু-কবি বুদ্ধির দোষে যে করে এমন ভুল- যে করে নারীর সুন্দর মুখ চন্দ্রের সমতুল। চন্দ্রে ত নাহি ভুরুর ভঙ্গ, চাহনি সে সবিলাস, কোপ-সুমধুর বিভ্রম, আর প্রসাদ-মধুর হাস! ধনদৰে চন্দ্রে আঁকিয়া বিধাতা প্রথম, বার-বার তা'রে মুছিয়া পরে পরিণত করি’ আপন শিল্প বুঝি ওই মুখ-চন্দ্র গড়ে ! -বল্পণ ; চন্দ্র-কিরণ—সে যে মন্থনে ওঠে একসাথে বিষের সনে ; মুক্তা জনমে লবণের নীরে ; চন্দন জাগে সাপের বনে ; শতপত্রের পত্র, হায় রে, জাগে সে প্রখর রবির করে ; বাহ-আকারে ভুলেছিনু,এরা মদনের তাপ কেমনে হরে ? শূন্যে নিহিত দৃষ্টি, তবুও কৌতুকে ভরে আঁখি ; আলাপে বিরাগ, তবুও অধর ক্ষুরে কেন থাকি থাকি ? ধ্যানে নিমীলিত মন যদি, তবে কেন পুলকের রেখা ? থাক্‌ অভিনয় ! প্রসীদ তন্বি-মান আছে তব দেখা।

লী লা য়ি তা
রুদ্রের জটাবল্লীর ফুল, রজনীর হাসি-রেখা,
সন্ধ্যা-নারীর নিতম্বে যেন অম্লান নখ-লেখা,
তমিস্রা-ভেদী বিষাণ ব্যামের, কামের সে কাৰ্ম্মক,
প্রতিপদ-শশী প্রেমিক জনের মনে আনে কত সুখ।
-ফহস্তিনী
মুখখানি যেন পূর্ণ ইন্দু,—বিধাতা যখন গলি তারে
তাহারি ছটায় নিমীলিত নিজ আসন-পদ্মে বসিতে নারে।
-শ্রীহর্য
চাও যেন তুমি কিছুই জান না, আধ-আধ কথা কও,
আশ্লেষে তুমি তেমনি কখন্ অঙ্গ সরায়ে লও,
শুধু মাথা নাড়ি’ তেমনি অপটু প্রতি-উত্তর দান ;-
আজ যেন নব-বধুটি তোমারে করে তব অভিমান।
শ,ক
দূর হ'তে এসে হেসে-হেসে তুমি মধুর কণ্ঠে স্বাগত কহ ;
উত্তর দাও প্রণতির সাথে, মাথায় সকল আজ্ঞা বই ;
তবুও স্নিগ্ধ নহে ত নয়ন,-কি কঠিন আজ তােমার প্রাণ,--
ভিতরে ঢাকিয়া সব রাগ, শুধু বাহিরে কর এ-আত্মদান।
৩১

লী লা য়ি তা
প্রিয়ার মুখের মতন করিয়া চন্দ্রে বিধাতা যখন গড়ে,
চন্দ্রের কর তখন বিধির আসন-পদ্ম মুদিত করে,
আত্মদ্রোহী হ’ল সে-চন্দ্র,দুঃস্থিত হ’ল পদ্মাসনে
বিধাতা, তাই ত সকল শিল্প ফুটিল না আর সে-অঙ্কনে!
-মুরারি
দিনের বেলায় ভাল করে দেখ,-হেথা আমি শুই, শাশুড়ী হেথা ;
রাত্রি-অন্ধ অতিথি, ভুলিয়া এসাে না আমার শয্যা যেথা।
তােমাদের মুখে, সখি গাে, যে-কথা শিখিনু যতনভরে,
মনে ছিল সব, বলি বলি করি’ বলিনি ক্ষণেকতরে ;
ধুত্ত সহসা বুকে ধরি’ মােরে, আবেশে নয়ন মুদি
মুখের সে-কথা নিল পান করি’, অধরে অধর রুধি।
=অমরু
মুখের পদ্ম শুকায়, নয়ন-চন্দ্রকান্ত ঝরে,
হৃদয়ে তাহার প্রেম-উচ্ছ্বাস সাগরের রূপ ধরে ;
হে সুভগ, তা’র হয় এই দশা, তুমি নাই যবে পাশে,
যখন শুভ্র সারা বিভাবরী, চণ্ডাল-চঁাদ হাসে।
চলচন্দ্র

“মুগ্ধে, মুখ-স্বভাবে তােমার কত কাল মিছে কাটে-
মানে উৎসাহ বাধ’, প্রেমে শুধু সরলতা নাহি খাটে!”
সখীগণ যবে বােঝায়, তখন মুগ্ধা সভয়ে কহে
“চুপি-চুপি কহ,-শুনিবে, প্রিয় যে প্রাণের ভিতরে রহে।”
-অমরু
এত ক্লেশ সহি’ সুরাসুর যত মিছে সমুদ্র মথিত করে,-
জানে না কি তারা এমন অমৃত রয়েছে বামার বিশ্বারে ?
চোখে তাের আজ নামে দুর্দিন ; সাদা মুখ যেন তালের পাতা ;
হাতে মুখ রেখে গালে যে পাঁচটি আঙুলের দাগ রয়েছে গাঁথা ;
দুর্গা জানেন! নিশ্চয় কোনাে যুবা আছে তাের বুকটি জুড়ি',
ধুলাখেলা যা’র সঙ্গে সে-দিন, তারাে সাথে কেন এ সুকোচুরি ?
-রাজশেখর
ভ্রমণের সীমা-রতিমন্দির ; বচনের – সখীকান ;
প্রিয়-অভীষ্ট-অবধি চিত্ত, মৌন-অবধি মান ;
দৃষ্টির সীমা—চরণ ; হাসির--অধরের অরুণিমা ;
কুল-রমণীর সীমা সব ঠাঁই,—প্রেমের ত নাই সীমা।
••

লী লা যি তা
‘যাই ব’লে যবে গেল সে, তখন ধরিনি সে-কথা কানে ;
ফিরেও চাহিনি, ফিরে-ফিরে যবে চাহিল আমার পানে।
সেই নিরালয় আলয়ে রয়েছি, সেই-সে কঠোর প্রাণ,
থা, সখি,—আছে জীবনের আশা; কান্না?—এ শুধু ভাণ!
=ে
অমরু
দৃষ্টিতে আজ উঠিল সে জাগি’, একদা দৃষ্টি যাহারে দহে,
বামনয়নার সমকক্ষ সে বিরূপাক্ষ ত কখনাে নহে।
রাজশেখর
বস্তু সে কোন্ সুখ-দুখ-হীন নিগুণ,—তারে কিসের ছলে
অরসিক যত বুদ্ধিবিহীন পণ্ডিত, হায়, ‘মােক্ষ’ বলে ।
মদ-কল ফোটে কণ্ঠ-কূজনে, স্মের-তারুণ্য অাখির ঠারে-
মদিরাক্ষীর সে-নীবি-মােক্ষ—আমি বলি শুধু মােক্ষ তারে।
ফুলি’ ফুলি’ হের কঁপিছে অধর, ফুরিত গণ্ডে ঝরে
স্বেদ-জল-কণা, ভ্রুকুটি আরাে যে কুটিল কোপের ভরে !
প্রিয় যবে রাখে মাথা সে-চরণে, অমনি সকলি ভুলি’
নুপুর-বলয়ে লগ্ন তাহার কুন্তল দেয় খুলি’!
-রুভট্ট

লী লা য়ি তা
ন
লােচন রচিল উৎপল-ভ্রমে, আনন পদ্ম-অমে,
বি-ফলের ভমে বিধি তার রচিল অধর ক্রমে,
বিশ্বের সেই বিভ্রম-ভূমি সর্ব অঙ্গে তার
বিধাতারই যদি ভ্রান্তি এমন,-আমরা কি করি আর ?
বীৰ্য্যমিত্র
তাহার দেহের যখন যেখানে দৃষ্টি আসিয়া পড়িল যার,
সেইখানে তা'রি বদ্ধ দৃষ্টি,সারা দেহ কেহ দেখেনি তার।
অপরাধী প্রিয়,-সখীগণ তারে শিখায়ে দিয়েছে যত
মান করিবার ভাণ, সব অজি করে সে শিক্ষামত,
তবু জানে না ত মুগ্ধা বালিকা কখন্ সে অজ্ঞাতে
জানাল সকল প্রাণের আকৃতি স্নিগ্ধ দৃষ্টিপাতে।
—ইন্দুরাজ
“ছেয়েছে শয্যা চন্দন-কণা গাঢ়-আশ্লেষে চূর্ণ হয়ে,
কর্কশ এ যে,“তুমি সুকুমার” বলি’ মােরে বুকে তুলিয়া ল'য়ে,
অধর-পীড়নে আকুলি’, পায়ের অঙ্গুলি দিয়ে বসন টানি
ধুর্তের যাহা নিজের উচিত—কি যে হ’ল তাহা নাহি ত জানি!

লীলা মি তা
বিলাস-লীলায় জন্ম-অন্ধ, সতত লজ্জা-বাস,
নিজ দেহ বুঝি নিজেও দেখেনি, ম্লান মুখে ক্ষীণ ভাষ,
হৃষ্ট জনেরা শশাকের উৎস,-জন্তু সে, নারী নহে,
কূলবধূ-প্রেম?-কে যাবে সেথায়, কারাগার তা'রে কহে।
-ঈশ্বরদত্ত
সব প্রেমে বুঝি বঞ্চনা আছে, তা না হলে কেন বিরহ আসে?
তা না হলে কেন বিরহ সহিয়া বেঁচে থাকে লােকে কিসের আশে
এক শয্যায় অন্য নারীর নাম যবে প্রিয় লয়,
অভিমানে খেদে মানিনী তখন মুখ ফিরাইয়া রয় ;
চাটুভাষী প্রিয় থেমে যায় যবে নিরাশায় নিরুপায়,
ঘুমায়েছে কিনা দেখিতে তরুণী আড়চোখে ফিরে চায় ।
অমরু
কৌস্তুভ আর লক্ষনীর সাথে দুগ্ধ-সাগরে উঠি',
বন্ধু বাঁধি’ কুমুদের সনে, কিরণে অমৃত লুঠি,
মৃগাক্ষী-মুখ স্পন্ধিয়া, হয়ে শিবের চুড়ার ধন,
হে চন্দ্র, কেন মাের 'পরে কর বহ্নির বরিষণ।
-

লীলা মি তা আগে যে মােদের ছিল এক দেহ, ছিল না ত তারপর তুমি নহ আর কেহ, আমি হত-আশা নারী! এখন আমি যে শুধুই গৃহিণী, তুমি শুধু মাের স্বামী, প্রাণ ছিল মাের কুলিশ-কঠিন, তারি ফল লভি আমি ! —ভাবকদেরী ক শুষ্ক হৃদয়ে জ্বলে না, দ্বিগুণ সরস হৃদয়ে জ্বলে, চিরদিন এ কি অতিবিচিত্র ইন্ধন প্রেমানলে ! অজ্ঞাত অবচন—সে ত বচন তাহার দয়িত-সন্নিধানে ; বিলােকন—যবে লােচন তাহার ফিরে না প্রিয়ের পানে। বিনা অঞ্চলে যখন সকল অবয়ব-আবরণ- তখনি তাহার হয় বুঝি তাহা অঙ্গ-সমর্পণ ! -বামনস্বামী “স্মরিও আমারে, সুন্দরি, কভু পাও যদি অবসর !” “সম্ভব ইহ, বিধি যদি করে আমারে জাতিস্মর।” “একই জীবনের অতীত-স্মরণে জাতিস্মর কি বলে ?” “একটি জীবন কোথায় ? প্রাণ ত তােমারি সঙ্গে চলে!” ৩৭

শী লা যি তা
নিদ্ৰা আসিছে, আসে না কখনাে বিরক্তি সেই জনে ;
দোষ কভু তা’র ধরে না ত মন, গুণ শুধু তার গণে ;
যায় বিভাবরী, যায় না কখনাে মিলনের যত আশা ;
ক্ষীণ হয়ে যায় তনু-লতা, তবু ক্ষীণ নহে ভালবাসা।
—বিহণ
বিরহের শ্বাসে কত না তাহার কঁচুলী নিত্য ছিড়িয়া পড়ে,
একবার তুমি এস ওগাে,আর সেলায়ের সূতা নাই যে ঘরে!
-মােরিকা
কুটির গুণ রচেছি, শিখেছি নয়নের নিমীলন,
হাসিটি রুধিতে শিখেছি যতনে, মেনে দিয়েছি মন ;
সখীগণ সব কলা-কৌশল শিখায়েছে নিরালাতে,
মানের লাগিয়া বেঁধেছি হৃদয়,—সিদ্ধি বিধির হাতে।
অমরু
মিলনে সে আনে ঈর্ষার জ্বালা, বিরহে দহন করে ;
স্পর্শনে করে অবশ এ তনু, দর্শনে প্রাণ হরে ;
পেলেও তাহারে নাহি সুখ, আর গেলেও সে নাহি সুখ,
এ কি বিচিত্র বল্লভ মাের ভরে আছে সারা বুক।
==

লী লা য়ি তা
হৃদয় বাঁধিয়া অর্থের লােভে প্রবাসে যখন চলি,
প্রাণসম প্রিয়া, নিষ্ঠুর হয়ে কেমনে তারে তা’ বলি?
তবুও বলিয়া, অশ্রুর ধারা হেরি যবে চোখে তার,
আমাদের মত লােকের রহে না ধনলাভ-আশা আর ।
-মােরিকা
প্রিয়তম যবে সমুখে আসিয়া করিবে আলাপ মধুর হাসি'-
পশিবে আমার সারা দেহটি কি শ্রবণে অথবা নয়নে আসি’?
অজ্ঞাত
কপােল মুছেছে পত্র-রচনা, নয়নে কাজল-রেখা,
মিলাইয়া গেছে অধরের রাগ, চরণে লক্ষা-লেখা ;
“লিখিল না চিঠি” বলি’ মিছে তুমি নিষ্ঠুরা ভাব তায়,
ধরিতে পারে না লেখনী,-লিখিবে ? এ কেমন তব স্যায় ?
-আল্লাহ
-
শুধু পরিচয়, চোখে দেখে শুধু পাগল হয়েছে মন,-
আনন্দ ওঠে চরমে যখন দূতী দেয় দরশন !
কে চাহে তাহার প্রীতিসুনিবিড় মিলনের সুখ যত,
সে-বাড়ীর শুধু আশে-পাশে ঘােরা, তাহাতেই সুখ কত ।

লা লা মি তা
স্বামীরা স্বাধীন, তবে কেন মিছে লুটিছ আসিয়া আমার পা’য় ?
মন বসেছিলে অন্য কোথাও, কিছুদিন তরে?—কি দোষ তা’য় ?
পতির বিহনে সতী নাহি বাঁচে, এই কথা আজো সকলে কহে,
আমি বেঁচে আছি তােমার বিরহে,—দোষ ত আমার, তােমার, নহে !
-ভাবকদেবী
;
পায়ে সে পড়িল তবু ত চাহিনি ; সুধাল তবু ত দিইনি কান ;
চলে গেল, তবু ডাকিনি ফিরায়ে,তবে কেন আজ করি মান ?
-অজ্ঞাত
বুঝিনা -এ-হেন রূপটি স্রষ্টা নয়ন মেলিয়া কেমনে গড়ে ;
নয়নে পড়িলে, মুগ্ধ বিধাতা ছাড়িত কি তারে ক্ষণেকতরে ?
নিমীলিত-চোখে এ রূপ-সৃষ্টি সম্ভব নহে; বুঝেছি তাই
বুদ্ধের এই কথাটি সত্য-জগতের কোনাে স্রষ্টা নাই।
জোড় করি’ কর কাতর-নেত্রে চাহে কত মুখপানে,
কপটবিহীন আশ্লেষে বাঁধে, বসন-প্রান্তে টানে,
সব ঠেলি’ তবু সে শঠ-নিঠুর চলে যায় চিরতরে;
তবুও তরুণী ত্যজে প্রাণ আগে, বল্লভে তা’ররা পরে।
;
-অমরু

শীলা মি তা
প্রিয়ের সঙ্গে গিয়েছ তােমরা, নিশ্চয় সব আছ সুখে,
ওগাে মাের সুখ, নিদ্রা আমার, হাসিটি যে ছিলে মাের মুখে !
দেখেছ কি পথে মূচ্ছরে সেই ব্যথাহরা মাের সহচরী ?
সুখের সময়ে চাহিনি, তাই সে গেছে চলি’ আজ রাগ করি’!
--অরবিন্দ
কাণে সেই কথা, দেহে সে-পরশ, সেইরূপ আজো নয়ন ভরে,
হৃদয়ে এখনাে রয়েছে হৃদয়,—দৈব তা হলে কি আজ হরে ?
ব্রহ্মগতিজ্ঞ
চঁদ আজ দহে,-কলঙ্কী সে যে, লাজ-ভয় তার কি আছে আর ;
চন্দন হয় বিষের মতন, বিষধর-সনে বাস যে তার ;
আপনি পুড়েছে, পােড়ায় যে তাই নিষ্ঠুর সেই পঞ্চবাণ ;
হে মলয়, তুমি জগতের প্রাণ,-তবে কেন হর আজ এ প্রাণ?
-অক্সাত
প্রসারি’ দৃষ্টি প্রিয়ের পদবী নিরখি ক্ষুগ্ন-প্রাণে,
পথরেখা যবে আঁধারে মিলায় দিবসের অবসানে,
হত-আশা হ'য়ে চলে গৃহপানে—তবু প্রবাসীর প্রিয়া
হয়ত ফিরেছে বলিয়া আবার চাহে মুখ ফিরাইয়া।

লী লা য়ি তা
সখীর বাক্য, বন্ধুর কথা মাখ নাই কভু গায়ে ;
কানের পদ্মে আঘাত করেছ, পড়িলেও প্রিয় পায়ে ;
তাই আজ শশী দহে, চন্দন আগুণের কণা যেন,
একটি রাত্রি যেন এক যুপ, হার বুকে ভার হেন।
-অজ্ঞাত
শস্ত্র-আহত যারা তারা যায় স্বর্গে, তাদের অগতি নাই;
সূচীর শস্ত্রে আহত কঁচুলী বুঝি আজ ওঠে স্বর্গে তাই।
-অজ্ঞাত
“কেন ক্ষীণ তনু ?” “ক্ষীণ কোথা—আমি চিরকাল দেহ এমনি ধরি।”
“কালিমা তবে ও মুখে কেন ?” “বুঝি রান্নার কালী গিয়েছে ভরি।”
শুধামু যখন—“মনে নাই মােরে ?” “নাই, নাই” শুধু বলিয়া মুখে
তখন বালিকা সজল-নয়নে কঁাপিয়া কঁপিয়া পড়িল বুকে!
মান করে এসে আবার কেমনে তার কাছে বল যাই ?
জোর করে মােরে লয়ে যাবে হেন চতুরা সখী ত নাই ।
লাঘবের ভয়ে আসে না আপনি অভিমানী সেই জন;
কাল বহে যায়, জীবন ক্ষণিক-চিন্তায় দহে মন।
-অমরু

যে তা'রে দেখেনি, যে তা'রে দেখেছে, দুজনেই বুঝি হয় সমান ;
একের প্রাণ ত রয়ে গেছে খালি, অন্যের চুরি গিয়েছে প্রাণ।
স্মরিতে ত হয় শুধু তা'রে, মুছে ক্ষণেকেবাে তরে স্মৃতিটি যা’রি ;
স্মরণ করায়ে দিতে হয় যে, সে কেমন প্রেম বুঝিতে নারি।
-বাপতিরাঙ্গ
এ ভব-সাগরে মদন-ধীবর, রূপের বড়শি ধরিয়া করে,
মনাে-মীনে গাঁথি অধর-আমিষে, রাগের অনলে দহন করে ?
ভর্তৃহরি
কহি যাহা সার-সত্য শিখেছি-রমণীর মত এ সংসারে
কে আনিতে পারে এত সুখ, আর এমন দুঃখ কে দিতে পারে ?
-ভর্তৃহরি
কারণের লেশ না গণিয়া হয় হৃদয়ে আপনি যা’র উদয়,
স্তুতি-মুতি যা’রে পারে না, বাড়াতে অপরাধে যা’র হয় না ক্ষয়,
ত্রিলােকের যাহা সন্তাপহর, পীযূষের সাথে তুলনা যার,
সেই গুরু প্রেম হবে আজ, হায়, বাচাল কথায় লঘু অসার ?

এই লেখকের
দীপালি
প্রাক্তন
অদ্যতনী (যন্ত্র )
অপরাজিতা (যস্থ )

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Lilayeta Ed. 1st

Author
Dey,sushilkumar
Title
Lilayeta Ed. 1st
File name
Lilayeta Ed. 1st
Text
OCR done
Citation
1934
Published
2009/12/4
Publisher
Surendrachandra Das,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
58
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Lilayeta
DLI number
512856
Barcode
4990010019890.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
AlhQGtL2uie
Download PDF

Lilayeta Ed. 1st