Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Juliyas Sizar
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
জুলিয়াস সীজার।
জোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক
ভাষান্তরিত ।
কলিকাতা
আদি ব্রাহ্মসমাজ যন্ত্রে
রণগােপাল চক্রবর্তী দ্বারা
মুদ্রিত।
৫৫, নং আপার চিৎপুর রােড,
সন ১৩১৪ সাল।
মুল্য ১ টাকা।
No text on this page.
নাট্যোলিখিত ঐতিহাসিক তথ্যের
ব্যাখ্যা।
৪
প্রথম অঙ্ক।
পৃষ্ঠা পংক্তি
১৫ “পম্পের শােনিতে সিক্ত-আসিতেছে মহাদর্পে বিজয়
উল্লাসে।”
স্পেনে “মা” যুদ্ধে সীজার পম্পের পুত্রদিগকে পরা-
ভূত করেন। তাহার পর সীজার চিরজীবনের জন্য
রােমের অধিনায়করূপে মনােনীত হয়েন। এই
উপলক্ষে মােমে বিজয়-উৎসব অনুষ্ঠিত হইতে
ছিল। “পম্পের শােনিতে সিক্ত’–ইহার অর্থ
পম্পের পুত্রদিগের শােনিতে সিক্ত।
১৬ “সাধান মার্চের পঞ্চদশ দিনে”—মূলে আছে
“আইডস অফ মার্চ–রােমীয় পঞ্জিকায়, ইহা ১৫ই
মার্চ
দ্বিতীয় অঙ্ক।
০৯
৯ উরুদেশ অক্ষত করিয়া স্বেচ্ছায়” North কৃত
‘Plutarch” গ্রন্থে এই ঘটনার উল্লেখ আছে।
y০ পৃষ্ঠা পঞ্চম অঙ্ক। ১১৬ “হিবুলাবাসী অলিদেরাে কর তুমি মধুতে বঞ্চিত।” সিসিলির অন্তর্গত হিলা নামক একটি প্রদেশ উৎকৃষ্ট মধুর জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। সীজারের অন্ত্যেষ্টি উপলক্ষে অ্যান্তনি যেরূপ মধুমাখা অথচ হুল ফুটানাে গূঢ় শ্লেষ পূর্ণ বাক্যে বক্তৃতা করিয়াছিলেন এই স্থলে তাহারই ইঙ্গিত করা হইয়াছে। ভ্রম-সংশােধন। পৃষ্ঠা ভুল ফ্লেভিয়াস ও ম্যারল্লাসকে “বিচারপতি বলা হইয়াছে। আসলে উহারা tribune অর্থাৎ, পৌরজনের সত্ত্ব- রক্ষক নগরপাল (magistrate) অচল টঅল কেন চিন্তা করে মত কেন চিন্তা করে যত যে কু সময় যেটুকু সময় বিপুল নৈন্য বিপুল সৈন্য কিছই নাহিক স্থির এবে •••••• কিছুই নাহিক স্থির ০ ০ ০ ০ ০ অচল অটল २१ '৩৩ C. • ৫০০ ১০৭ ১১৮
পাত্রগণ।
জুলিয়াস সীজার।
অক্টেভিস্ সীজার,
মার্কস অ্যান্টনিয়স,
লেপিডা,
জুলিয়াস সীজারের মৃত্যুর পর, রে
ত্রি-নামক।
সিসিরাে,
পুর-জ্যেষ্ঠগণ। ( Senators)
পবিয়স,
পপিলিয়স লীনা,
জুলিয়াস সীজারের বিরুদ্ধাচারী
মার্কস ব্রুটাস,
ক্যাশ্য,
ক্যাস্কা,
ট্রেবােনিয়ম্,
লিগারিয়স,
ডিশিয়স ব্রুটাস,
মেটেলাস সিম্বার,
সিনা,
ষড়যন্ত্রীর দল।
ফ্লেভিয়াস ও ম্যারল্লা,
পৌরজন-সত্ত্বরক্ষক রােমের
নগর-পাল-দ্বয়।
আর্টিমিডােরাস,
একজন তত্ত্বজ্ঞানী।
একজন দৈবজ্ঞ। সিনা,–একজন কৰি। আর একজন কবি।
০
লুসিল্য,
টিটিনিয়াস,
মেসালা,
কেটো-পুত্র,
ভােলমনিয়াস
ভ্যারাে;
ব্রুটাস ও ক্যাশ্যসের মিত্রগণ।
ক্লাইটাস
ক্লডিয়াস
ষ্ট্যাটো
লুসিয়
ডার্ডানিয়াস
ব্রুটাসের ভৃত্যগপ।
পিণ্ডারস,
ক্যাশ্যসের ভৃত্য।
ক্যালফর্ণিয়া, সীজারের স্ত্রী।
পাের্সিয়া,
ব্রুটাসের স্ত্রী।
পুর-জ্যেষ্ঠগণ, পৌরজন, রক্ষী ও পরিচালকবর্গ।
ঘটনাস্থল-অভিনয়ের প্রথমাংশকাল নােম ; পরে সার্ভিস
ও ফিলিপির সন্নিকটে।
জুলিয়াস্ সীজার।
-
প্রথম অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য।-রােম-নগরী; রাজপথ।
( ফুেভিয়াস ও ম্যারল্লাস-বিচারপতিদ্বয় এবং পুরবাসী ইতর লােকের দল।
ফ্লে। বাড়ী যা’ বাড়ী যা তোরা যত সব অকৰ্ম্মার দল !
আজ কি ছুটির দিন ? তােরা সব কারিগর লােক
-তােরা কি ৬নস্ নারে, উচিত না করমের দিনে
পথ দিয়া চলা’ হেন বিনা নিজ ব্যবসায়-চিহ্।
বল, তুই কি করিস, কিসের ব্যবসা তাের বল্।.
১পুর। আমি মশাই ছুতাের।
ম্যার। কোথা তাের বুকে-ঝােলা চামড়ায় বক্ষ-আবরণ ?
কোথা তাের মাপকাঠি ? -ভাল বস্ত্র কেন তাের আজি?
আর তুই ?—তােরি বা কি ব্যবসায়, ব শীঘ্ন করি।
২ পুর। আমি মশাই একজন মস্ত কারিগর ; তােমারা যাকে
চামার বল’ আমি তাই।
{
জুলিয়াস্ সীজার।
ম্যার। চামার যেন বুঝলেম, কিন্তু তাের ব্যবসাটা কি বল না।
আমার কথার সিধে জবাব দে।
২ পুর। আরে মশাই, আমার ব্যবসাটা খুব খাটি ব্যবসা; তাতে
চুরি নেই, ঠকামি নেই। সে ব্যবসায়ে মনটা খুব সাফ
থাকে। আমি মশাই খারাপ জিনিস দুরস্ত করে’দি।
ম্যার। আরে ব্যাটা পাজি লক্ষ্মীছাড়া, তাের ব্যবসাটা কি বল না,
ব্যবসাটা কি তাের—তাই জিজ্ঞাসা করচি হারামজাদা।
২ পুর। মশাই, অমন করে মুখ খারাপ কোরাে না বলচি, আমি
তাহলে তােমাকে পর্যন্ত দুরস্ত করে দেব।
ম্যার। আরে ব্যাটা তুই বলিস কি ?—আমাকে দুরস্ত করবি ?
তুই তাে ভারি মুখফোড় লােক দেখুচি।
২ পুর। আমি যেমন ফোড় দিয়ে ছেড়া জুততা শেলাই করে দি,
তেমনি তােমার মুখুও আমি শেলাই করে দিতে পারি,
তা তুমি জানাে মশাই ?
ফ্লে। তুই তবে জুততা শেলাই করি, বুঝি?-তুই জুতাে-শে-
লাইওয়ালা মুচি?
২পুর। হ মশাই ফোঁড়-যন্তর দিয়েই আমার গুজরান চলে। আমি
মশাই, আর কোন যন্তর ব্যভার করিনে। আমি মশাই
পুরােনাে জুতাের ডাক্তার। যখন তার যায়যায় অবস্থা
হয়, আমি তখন তা সারিয়ে দি। মশাই, চামড়ার কাজে
আমার যেমন হাতের সাফাই এমন আর কারাে নয়।
ফ্লে। কিন্তু আজি কেন তবে, এলি তুই দোকান ছাড়িয়া ?
এই সব লােক লয়ে, কেনরে ভ্ৰমিদ রাজপথে ?
২পুর মশাই, তা বােঝে না ? বেড়িয়ে বেড়িয়ে যখন ওদের
প্রথম অঙ্ক।
;
জুতাের তলা খয়ে যাবে, তখন আমারি কাজ বাড়বে,
এই আর কি। আসল কথাটা তবে বলি শুনুন ;-আজ
আমরা সীজারকে দেব বােলে আপনারাই আমাদের
ছুটি করে নিয়েছি। আজ আমরা তার জয়ে জয়জয়কার
করে আনন্দ করব।
ম্যার। কিসের আনন্দ তব ? জয় করি’ কি সামগ্রী
আনিলেন তিনি?
বিজিত করদ-রাজা
কত জন আসিতেছে
তাঁহার পশ্চাতে ?
বিজয়ীর রথ-চক্র ভূষিতে কি আসে তারা
বন্দীর বন্ধনে ?
লােষ্ট্র মৃৎপিণ্ড তােরা তােরা সব অচেতন
জড়েলরা অধম ;
পাষাণ-হৃদয় তোরা, নির্দয় নিষ্ঠুর অতি
তােরা নােম-বাসী।
প্রবল-প্রতাপ সেই পম্পে”রে কি তােরা কভু
দেখিনি চোখে ?
কতদিন, কতবার, উঠেছিস্ তােরা যেরে
প্রাচীর-উপরে,
উত্তুঙ্গ দুর্গের পরে,
মন্দিরের চুড়াদেশে,
দেখিতে তাহারে ;
শৈশবেও তােরা যেরে
সারাদিন থাকিতিস্,
সেথায় বসিয়া
জুলিয়াস্ সীজার।
অযুতঅযুত কষ্টে,
কখন যাইবে পম্পে
রোম-রাজপথ, দিয়া
—সেই প্রতীক্ষায়।
আর, ঊরু জয়-রথ দৃষ্টিপথে আসিলেই
অমনি যে তােরা
ছাড়িতি মুহুর্মুহু
ভীম সিংহনাদ
-যায় ঘাের প্রতিধ্বনি “টাইবার-নদী-তট
করিত কম্পিত।
আর, এবে তােরা কিনা, ভালাে ভালাে বস্ত্র পরি
এসেছি হেথা,
নিজ নিজ কর্ম ছাড়ি” ঘুরিয়া বেড়াস্ সষে
ছুটির আমেদে,
ছড়া কুসুম-রাশি
সেই সীজারের পথে
যে ক্রুর সীজার
-পম্পের শােনিতে সিক্ত—আসিতেছে মহাদর্পে
বিজয়-উল্লাসে !
চলে যা’ এখান থেকে, যাঁ’ সবে আপন গৃহে;
হয়ে কৃতাঞ্জলি
ক্ষমা চা’ দেবতা-কাছে। -না যেন পাঠান তঁারা
এ রোম নগরে
ভীষণ সে মহামারী -অকৃতজ্ঞতা-পাপে
দণ্ডিতে তােদের।
ফ্লে। যাও বাপু যাও সবে ; খণ্ডিতে এ. অপরাধ,
জড়াে কর স্বশ্রেণীর দীনদুঃখীজনে ;
প্রথম অঙ্ক।
1,
লয়ে গিয়া তাহাদের টাইবার-নদী-তটে
এত অশ্রু তার জলে কর বিসর্জন
লে কর,
যাতে সেই তটিনীর নিম্নতম স্রোতাে জল
উচ্চতম তটভূমি করয়ে চুম্বন।
(পৌরজনের প্রস্থান)
উহাদের মাঝে যারা অধম শ্রেণীর লোেক
দেখাে যেন তারা নাহি হয় বিচলিত।
ওই দেখ যায় ওরা নীরব নিৰ্বাক্ হয়ে
নিজেদের যথার্থই ভাবি’ অপরাধী
তুমি যাও ওই দিকে
সভা-ভবনের পানে ;
আমি যাই:এই দিকে; আর শােননা বলি,
—ওরা যদি করে থাকে মূর্তিগুলি বিভূযিত,
খুলিয়া ফেলিয়া দিবে সে সব ভূষণ।
ম্যার। খুলিয়া ফেলিব মােরা ? কিন্তু তুমি জান না কি
“লুপার্কা”—উৎসব-দিন আজিকে হেথায় ?
ফে। হােক সে উৎসব-দিন, কোনাে মুৰ্ত্তি আজি যেন
• সীজারের জয়চিত্নে না হয় ভূষিত।
আমি গিয়া খেদাইব
ইতর লােকের দল
রাজপথ হতে ; কোনাে তুমিও তাহাই।
সিজারের পাথা হতে বাড়ন্ত পালােকগুলা
উপাড়িলে না পারিবে অধিক উড়িতে; •
.
=
* প্যান্-নামক কোন রােমীয় দেষতার সম্মানার্থ, প্যালাটাইন্শৈলের উপর,
একটা ঘেয়ের মধ্যে, প্রতি ফ্রেব্রুয়ারী মাসে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হইত।
জুলিয়াস্ সীজার।
নচেৎ উধাও হয়ে, ছাড়ায়ে মানব-দৃষ্টি
উড়িবে সে ;-মােরা নীচে র’ব ভয়ে ভয়ে।
দ্বিতীয় দৃশ্য-নগরের চত্ত্বর ভূমি।
(কার্য সহকারে, সমারােহে বহির্গত সিজার; দৌড়-ক্রীড়ার জন্য আন্তনি ;
ক্যালিফর্ণিয়া, পাের্শিয়া, ডিসিয়াব্রুটাস, ক্যাসিয়াস, ও কাস্কা;
পশ্চাতে লােকের বহুল জনতা; উহাদের মধ্যে একজন দৈবজ্ঞ )
সীজার। ক্যালিফর্ণিয়া,-
ক্যাস্কা।
চুক তােরা সবে,
সীজার কহেন কথা।
(বাদ্যের বিরাম )
সীজার।
ক্যালিফর্নিয়া।
ক্যালি। হেথা আমি আছি নাথ!
সীজার।
• ক্রীড়া-চক্র-ভূমে
দৌড়িবে আন্তনি যবে থেকো সেই পথে।
আন্তনি। সীজার
সীজার।
দৌড়-কালে,
ক্যালিফর্নির দেহ ; কহে বৃদ্ধগণ,
ভুলােনা ছুইতে
লুপার্কাল-উৎসবে, একজন পুরোহিত, কেবলমাত্র একটা সরু কটিবন্ধ
পরিধান কৃর্নিয়া, রাস্তা দিয়া দৌড়িয়া যাইত। অ্যান্তনি এই দলের প্রধান
ছিলেন।
প্রথম অঙ্ক।
পবিত্র এ ক্রীড়া-কালে, মুখ্য পুরোহিত
পরশিলে, বন্ধ্যা নারী হয় গর্ভবতী।
আন্তনি। সীজার বলেন যদি-কর এই কাজ,
-তখনি সম্পন্ন হবে ; ভুলিব না আমি।
সীজার। কর সূরু; ছাড়িয়ােনা কোন অনুষ্ঠান।
(বাদ্যারম্ভ
দৈবজ্ঞ। সীজার।
দীজার।
কে ডাকে মােরে ?
ক্যাস্কা।
থামায়ে দে বাদ্যধ্বনি,
চুপ ক সবে।
( বাদ্যের বিরাম)
সীজার। এই এ জনতা-মাঝে কে মােরে সীজার বলি
ডাকে তীক্ষ্ণ স্বরে
-যে স্বর ছাড়ায়ে উঠে সুতীব্র সমস্ত এই
বাদ্যের নির্ঘোষ ?
কি বলিবি বল্ ওরে !
শুনিতে সীজার দ্যাখ
রয়েছে উন্মুখ।
দৈবজ্ঞ। সাবধান ! মার্চের পঞ্চদশদিনে।
সীজার। লােক্টা কে, বল দেখি?
ব্রুটা।
ও এক দৈবজ্ঞ
সাবধান হতে বলে মার্চ পঞ্চদশে।
সীজার। নিয়ে এসো মাের কাছে, দেখি ওর মুখ।
ক্যাঙ্কা। আয় ব্যাটা এই দিকে—দ্যাথু তাকাইয়া
সৗজারের মুখ-পানে।
জুলিয়াস্ সীজার।
'T
সীজার।
কি বলিলি তুই
-বল্ পুনৰ্ব্বার আমি চাহি শুনিবারে।
দৈবজ্ঞ। সাবধান ! মার্চের পঞ্চদশ দিনে।
সীজার। মাথা-পাগলা শােক ওটা—দেখিছে খেয়াল ।
চল’ মােরা যাই চলি উহারে ছাড়িয়া।
(তুরী ভেরীর শব্দাড়ম্বরটা ও ক্যাস্কা ব্যতীত আর সকলের প্রস্থান)
ক্যাশা। দেথিতে কি যাবে তুমি দৌড়ের খেলা?
ব্রুটাস। না, আমি যাব না সেথা ;
ক্যাশা।
চল না, দেখিগে।
ব্রুটা। আমি নহি ক্রীড়া-প্রিয় ; আন্তনির প্রকৃতিতে
আছে যত চাঞ্চল্য-উদ্যমের ভাব
আমার নাহিক তত ; বাধা আমি নাহি দিব
তােমার ইচ্ছায়, দেও বিদায় আমারে।
ক্যাশা। কিছু দিন হতে সখা লক্ষ্য করিতেছি আমি
নাহি আর তব নেত্রে সে কোমল ভাব,
নাহি সে প্রণয় স্নেহ
চিরকাল আমি যাহা
পাইয়াছি তােমা হতে অক্ষুন্নভাবে।
দারুণ কঠোর ভাবে
নিতান্ত পরের মত
দেখিতেছ তব বন্ধু ক্যাশাসেরে এবে।
ব্রুটাস। ভুল বুঝাে নাহে তুমি ; অন্যভাব মুখে মাের
যদ্যপি দেখিতে পাও, জানিবে নিশ্চয়,
সে আর কিছুই নহে,-- নিজ চিন্তা-আবরণ
পড়িয়াছে মাের এই মুখের উপর।
T
প্রথম অঙ্ক।
আমার
কিছু দিন হতে চিত্ত উত্তেজিত হয়ে আছে
কতিপয় আত্মগত চিন্তার প্রবাহে।
কখন কখন তারি ছায়া পড়ে একটুকু
আমার যতেক কাজে-চার্ধ্ব ব্যবহারে।
আমার বন্ধুরা যেন হন দুঃখিত তায়
(বন্ধুদিগের আৰে আমি তােমারেও গণি )
যদি কিছু অবহেলা
করে থাকি তােমাদের,
অন্তভাবে নিয়াে তাহা-মিনতি আমার।
এই মাত্র জেনাে শুধু.
হতভাগ্য ব্রুটাসের
যুঝাযুঝি চলিতেছে নিজ চিত্ত-সনে,
তাই সে পারে না এবে দেখাতে অন্যের প্রতি
প্রণয়ের শুধুমাত্র বাহ্ন নিদর্শন।
ফ্যাশ। ক্রুটাস তাহলে আমি বড়ই করেছি ভুল
-বুঝি নাই ঠিক তব চিন্তার স্বরূপ ;
—বুঝিবারে করিয়াছি
কতই গভীর চিন্তা,
হইল সে সব দেখি ভস্মে-ঘৃত-ঢালা।
আচ্ছা বল দেখি সখা তােমারে সুধাই আমি,
তুমি কি দেখিতে পাও আপনার মুখ ?
সখা, পারি না তাহা, নিজেরে না ছাখে চক্ষু
- দ্যাথে অন্য পদার্থের প্রতিবিম্ব শুধু।
সে কথা বলেছ ঠিক, দুঃখের বিষয় কিন্তু -
এ হেন দর্পণ কোনাে নাহি তব কাছে
যা-দিয়া দেখিতে পারাে . প্রচ্ছন্ন ঘােগ্যতা নিজ,,
যা-দিয়া দেখিতে পারে আপনার ছায়া।
জুলিয়াস্ সাজার।
কত মান্য রােমবাসী অমর সীজার ছাড়া
অধুনা শাসন-চাপে যারা প্রপীড়িত
তাঁহাদের মুখে আমি শুনেছি আক্ষেপ এই ঃ-
“আহা যদি থাকিত গাে ব্রুটাসের আঁখি” !
তুমি যে খুজিতে বল আমার অাপন-মাঝে
যাহা আমি আপনাতে না পাই দেখিতে,
—এ কথা বলিয়া মােরে কোন্ বিপদের মুখে
জাইয়া যাইতে চাই বল’ দেখি শুনি।
আচ্ছ। তবে শুনিবারে হওগাে প্রস্তুত সথা :-
যেহেতু দর্পণ-বিনা না পাও দেখিতে
ভালাে করি আপনারে,-- আমিই দর্পণ হয়ে,
তােমারে দেখাব আমি তব মন-কথা।
দেখ সখা, আমা:পরে করােনা সন্দেহ কিছু।
-তােমা কাছে এই মাত্র মিনতি আমার।
আমি যদি হাসিম অধম ভাঁড়ের মত ;
কিম্বা সদা করিম প্রণয়-শপথ ;
দেখায়ে আসক্তি ঘাের গাঢ় আলিঙ্গন দিয়া
পরে কুৎসা রটাতাম আমি যদি কারো
বলিতে পারিতে তবে “এ বড় বিষম লােক,
—ইহা হতে আছে ঘাের বিপদ-আশঙ্কা”।
;
(বাদ্যাড়ম্বর ও জয়ধ্বনি)
কি হেতু এ জয়ধ্বনি? আশঙ্কা হতেছে মোর
সীজারকে রাজারূপে করিছে বরণ।
প্রথম অঙ্ক।
১১
হতেছে আশঙ্কা তব ?
ইথে কি বুঝিব তকে
-এ কাৰ্যে নাহিক তব ইচ্ছা একটুকু?
নাহি ইচ্ছা মাের সখা; তবু ভালবাসি তারে।
কেন বল দেখি মােরে রেখেছ আটকি ?
বল’, কি বলিবে মােরে; লােক-হিতকর কথা
থাকে যদি কিছু তবে বল’ তা এখনি।
একদিকে থাক মান,
মরণ অপর দিকে,
উভয়েরে করি আমি সমান উপেক্ষা ;
কিন্তু যদি দেবতারা করেন আদেশ মােরে,
প্রাণ দিয়া মান কাথি-না ডরি মরণে।
যেমন আকৃতি তব পরিচিত মাের কাছে,
তেমনি ও-মনােভাব জানি আমি বেশ ।
এপ্লন বলিব যা’-সে মানমর্যাদারি কথা,
একটুকু ধৈৰ্য্য ধরি’ শােনাে তবে সখা।
জীবন-সম্বন্ধে, তব অথবা অপর কারাে
কি মত জানি না, তবে মাের এই মত :-
ররঞ্চ না বা ভাল, কিন্তু বাঁচি’ আমা-সম
কোন এক পদার্থের ভয়েভয়ে থাকা
–বিষম লাঞ্ছনা, গণি ;
জন্মেছি স্বাধীন হয়ে
সীজারেরি মত, সখা তুমিও তাহাই ;
-অম্নে পুষ্ট তারি মত ; দুজনেই মােরা পারি
সহিবারে হেমন্তের নিদারুণ শীত।
শােননা তবে -ঘাের-শীত কোনাে এক বােড়াে দিনে
ক্ষুব্ধ “টাইবার পড়ে আছাড়িয়া তটে-
১২
জুলিয়াস্ সীজার।
সীজার বলিল মােরে:- পারাে কি সাহস করি
ঝাঁপায়ে পড়িতে এই প্রচণ্ড প্রবাহে ?
তখনি বলিবামাত্র
পরিধান-বস্ত্র-সস্থ
ঝাঁপায়ে পড়িয়া জলে করিনু আহান।
সীজারাে দিলেন ঝাপ; গর্জিতে লাগিল নদী,
বলিষ্ঠ এ বাহুদিয়া লাগিনু যুঝিতে ;
প্রচণ্ড স্রোতের জল ঠেলিয়া রুধিয়া মোরা
প্রস্তাবিত গমস্থলে চলিনু সাতারি।
পৌঁছিবার আগে সেথা, সীজার কহিলা ডাকি
“ক্যাশাস্! ধরহ মােরে-নতুৰা ডুবি।”
তখনি সাঁতার দিয়া প্রচণ্ড স্রোতের মুখে
ক্লান্ত সে সীজারে আমি করিনু উদ্ধার।
সেই সে মানুষ কিনা হয়েছে দেব এবে
—আর আমি ক্যাশিয়া-হতভাগ্য জীব।
এখন সীজার যদি অভিবাদনের কালে
ঈষৎ নােয়ান মার্থা তাচ্ছিল্যের ভাবে,
প্রত্যভিৰাদনে তার তাঁহার নিকটে মাের
আনত করিতে হবে সমস্ত শরীর।
সীজারের একবার জ্বর হয় স্পেদেশে ;
-দেখিলাম, কঁপিছেন থর থর করি ;
সত্য কহিতেছি আমি।
এই দেবতারি দেহ
কপিল সঘনে-ওষ্ঠ হইল বিবর্ণ ;
-যে আঁখির ভঙ্গিমায়
জগৎ স্তম্ভিত ভয়ে,
সে আঁখির জ্যোতি তৈজ হল অপহৃত।
প্রথম অঙ্ক।
মােগের যন্ত্রণা-বশে করিছেন আর্তনাদ
-তাও আমি শুনিয়াছি স্বকর্ণে আমার।
যে সীজার কহিতেন দর্পভরে উচ্চকণ্ঠে
“আমার বক্তৃতা লিখি’ রাখহ পুস্তকে”
সেই সে সীজার কিনা রুগা বালিকার মত
বলিলেন ক্ষীণ কণ্ঠে “দেরে একটু জল।”
কি আশ্চৰ্য্য ! যেই লােক দুর্বল-প্রকৃতি হেন
সে কিনা একাধিপতি বিশাল ধরায়।
( জয়ধ্বনি-বাদ্যনির্ঘোষ)
আবার সে জয়ধ্বনি।
সীজার ভূষিত হয়
আরাে বুঝি নব নব সম্মান-ভূষণে।
দেখিছ না সখা তুমি, সংকীর্ণ এ ধরাপৃষ্ঠ
চাপিয়া বসিয়া আছে বিরাট সীজার ?
আর মােরা ক্ষুদ্র জীব পায়ের তলার নীচে
ঘুরিয়া বেড়াই হীন মরণ যাচিয়া !
খন কখন নর
নিজ অদৃষ্টের প্রভু ;
আমাদের নক্ষত্রের নাহি কোন দোষ,
দোষ আমাদেরি সখা-মােরা ক্ষুদ্র বলি।
ব্রুটাস-সীজার;--এই সীজারে আছয়ে কি ?
কিবা মন্ত্র-গুণ আছে সীজারের নামে ?
উচ্চারি’ তব নাম ওই নাম কেন তবে
উচ্চকণ্ঠে লােক সবে করে উচ্চারণ ?
ওই দুই নাম যদি লেখা যায় পাশাপাশি
তব নাম দেখা যাবে সমান সুন্দর ;
'র
১৪ :
জুলিয়াস্ সীজার।
উচ্চারণ কর যদি —সমান শােভিবে মুখে ;
ওজন করিলে হবে গুরুত্বে সমান ;
এই নামে পড়’ মন্ত্র -ও নামেও প্রেত-আত্মা
আবিভূত হরে আসি তােমার সম্মুখে। এ
বিশ্বদেবতার নামে জিজ্ঞাসি তােমারে আমি
-কি অমৃতে পুষ্ট হয়ে বাড়িল সীজার ?
ধিক্ কাল তােরে ধিক! ধিক্ রােম্! তাের সেই
মহাত্মা জনের বংশ হয়েছে বিলােপ।
প্রলয়ের পরে, হেন কোন্ যুগ গেছে, যাহে
একাধিক-লােক-যশে না ছাইল ধরা ?
রােমের সম্বন্ধে আগে কে পারিত বলিবারে
-এক ব্যক্তি জুড়ে আছে সমস্ত নগর?
এখনো তাে আছে নােম, রয়েছে যথেষ্ট স্থান,
কিন্তু সেথা রহে এবে একটি মানুষ।
তুমি আমি - উভয়েই
শুনিয়াছি পিতৃমুখে
ব্রুটাস নামেতে ছিল মহাত্মা রােমেতে
সয়তানের রাজ্য তিনি
পারিতেন সহিবারে ,
তথাপি না পারিতেন সহিতে রাজায়।
তুমি মােরে ভালােবাসাে সন্দেহ করি না তায় ;
কিন্তু এ উত্তেজনা--তাও বুঝিয়াছি।
মাের যাহা মতামত
বলিব তােমায় পরে,
আপাতত আমি সখা নাই এ কাজেতে।
'
৯ এই ব্রুটাসের পূর্বপুরুষ যিনি “টাকুইদিগকে রােম হইতে বহিরুত
করিয়ঃ রাজার পরিবর্তে কল্পলের আধিপত্য স্থাপন করেন।
প্রথম অঙ্ক। বিষয়টি গুরুতর ; ' দেখিব ভাবিয়া আমি যা তুমি বলিলে মােরে ; থাকিলে বক্তব্য আৱো,শুনিব যতনে। শুনিয়া তােমার কথা উচিত উত্তর দিতে চাই অবসর। আপাতত প্রিয়সখা, বলি যা তােমারে আমি তাই আলােচনা কোরো পুনঃ পুনঃ মনে - বরং এ শাসনাধীনে হব আমি গ্রামবাসী, তবু না করিব স্পর্ধা রােমক বলিয়া। দুৰ্ব্বল এ বাক্যে মাের এটুকু আগুননা যে জ্বলিল ব্রুটাস-হৃদে-সুখী আমি ত ই। ক্যা। ( অনুচরবর্গের সহিত সীজারের পুনঃ প্রবেশ ) ব্রু। ক্রীড়া বুঝি হ’ল শেষ, ক্যা। যাবে পার্শ্ব দিয়া যবে, তাহা হলে বর্ণিবে সে যাহা আজি সবিশেষ । আচ্ছতা’ করিব আমি, সীজারের ভালে যেন আর, যত 'অনুচর বিবর্ণ হইয়া গেছে সিসিরাের আঁখি-রাঙ্গা কথা কাটাকাটি হলে ব্রু। ঘটিয়াছে যে ব্যাপার ফিরিছে সীজার এবে। বস্ত্র ধরি টেনে ক্যাকায়, রূঢ় ধরণেতে তার ঘটিয়াছে বলিবার মােত। কিন্তু দেখ ক্যাশিয়া জলিতেছে ঘাের রােষানল ; তিরস্কৃত সবে যেন ; ক্যালিফর্শিদেবীর কপােল ; —যা হয় সুর্বদা তা, কারো সাথে মন্ত্রণাসভায় । শুনিব ক্যাঙ্কার কাছে।
জুলিয়াস্ সীজার। আন্ত। সীজার! ; সীজার। আন্তনিয়া! বল’, কি আদেশ তৰ। সীজার। স্থূলকায় লােক যেন থাকে মাের চারি পাশে, আর, যারা স্নিগ্ধশিরনিদ্রা যায় রাতে। ওই যে ক্যাশা-এর ক্ষুধাক্লিষ্ট কৃশ মুখ, শীর্ণ তনু- মনে হয়, বেশি চিন্তা করে। জে নে তুমি, উহারাই বড় ভয়ানক লােক আন্ত। সীজার, উহা-হতে নাহি কোন ভয় ; ক্যাশা মহাত্মা লােক, নানাগুণে গুণবান, সীজার। একটু স্থূল হলে হইত উত্তম। আমি নাহি ডরি; কিন্তু ভীরু যদি হইতাম ওরি সঙ্গ করিতাম যতনে বর্জন। সূক্ষ্মদর্শী ক্যাশিয়া, অধ্যয়ন করে বেশী -লােকদের কাৰ্য্য সব দেখে তলাইয়া। ক্রীড়া নাহি ভালবাসে আস্তনি তােমার মােতো, শশানে সঙ্গীত কোন-কদাচিৎ হাসে। যদিও বা হাসে কভু হাসে সে এমনি ভাবে —নিজসাথে নিজে যেন করিছে ছলনা কিছুতে যে হাসি তার উদ্রেক হইতে পারে -মনে করিতেও যেন হয় তার ঘৃণা। এই সব লােকদের না থাকে মনের শান্তি যতক্ষণ দেখে-আছে আরাে কেহ বড়। সেজন্যই বলি, এরা বড় ভয়ানক লােক; সীজার তাদের কিন্তু নাহি করে ভয়।
প্রথম অঙ্ক।
১৭
আমি শুধু বলিতেছি -কাহারা ভয়ের পাত্র ;
এসাে মাের ডাদিকে—এ কাণ বধির
সত্য করে বল’ সখা
ক্যাশা-সম্বন্ধে এবে
•কিবা তব মতামত-কি-ভাবে উহারে।
( অনুচরবর্গের সহিত সীজারের প্রস্থান, কেবল ক্যাস্কার অবস্থিতি )
ক্যাঙ্কা। তুমি তখন আমার চাদর ধরে টেনেছিলে, তুমি কি
আমার সঙ্গে কথা কইতে চাও?
ক্রটা। হাঁ ক্যাস্কা ; সীজারকে যে আজ.এত বিষন্ন দেখছি?
ব্যাপারটা কি ?
ক্যাস্কা। কেন, তুমি ত তার সঙ্গে ছিলে—ছিলে না কি ?
ত্রু। তাহলে ক্যাস্কাকে কেন এ কথা জিজ্ঞাসা করব ?
ক্যাঙ্কা। আর কিছুনা, লােকেরা তাঁকে রাজমুকুট দিতে
যাচ্ছিল। আর যখন সেই মুকুট তাকে দেওয়া হল, তখন তিনি হাত
দিয়ে সেটা সরিয়ে দিলেন ; সেই সময়, লােকেরা খুব জয়ধ্বনি
করছিল।
। দ্বিতীয়বার যে গােলমালটা শােনা গেল—সেটা কিসের
জন্য ?
ক্যাঙ্কা। সেটাও ঐ একই কারণে।
ক্যাশিয়া। তারা ত তিনবার জয়ধ্বনি করে ; শেষের জয়-
ধ্বনিটা কিসের জন্য ?
ক্যাঙ্কা। ঐ একই কারণে।
। লােকেরা কি তাকে তিনবার রাজমুকুট দিতে গিয়েছিল?
ক্যাস্ক।। , আর তিনবারই তিনি হাত দিয়ে সরিয়ে নি
জুলিয়াস সীজার।
ছিলেন কিন্তু প্রতিবারই পূৰ্ব্বাপেক্ষা যেন একটু মৃদুভাবে।
আর, যত বার তিনি মুকুটটা সরিয়ে দিচ্ছিলেন, ততবারই সেই সব
ভাল মানুষগুলাে জয়ধ্বনি করে উঠছিল।
ত্রু। কে তাঁকে রাজমুকুট দিতে গিয়েছিল?
ক্যাঙ্কা। আবার কে-আনি।
ব্রু। কি রকম করে দিলে বল’ দিকি ক্যাস্কা।
ক্যাস্কা। সে সব বলা আমার কর্ম নয়। সে একটা বাদামি-
কাণ্ড; আমি ভালাে করে দেখিনি। মার্ক-আশুনি একটা
রাজমুকুট দিলে--এই শুধু আমি দেখলেম। তা, সে আবার
রীতিমত রাজমুকুটও নয়—সে একটা যেসে মুকুট মাত্র। আমি
তােমাকে পূর্বেই বলেছি, প্রথমবারে মুকুটটা হাত দিয়ে সরিয়ে
দিলেন। কিন্তু যাই করুন, আমার মনে হয়, মনে-মনে যেন তার
মুকুটটা নেবার ইচ্ছে ছিল। তারপর, আন্তনি যখন দ্বিতীয়বার
দিলে তখনও তিনি হাত দিয়ে সরিয়ে দিলেন। কিন্তু আমার মনে
হচ্ছিল, মুকুট থেকে যেন তিনি আঙ্গুলগুল কিছুতেই সরিয়ে নিতে
পারছেন না। তারপর অন্তনি তাকে তৃতীয়বার মুকুটটা দিলে,
সেবারও তিনি সরিয়ে দিলেন। তাতে, লােকেরা আবার জয়ধ্বনি
করে উঠল ; তাদের সেই ফাটা-ফাটা হাতে তারা করতালি দিতে
লাগল ;-তাদের সেই ঘেমে রাতটুপিগুলো উপর-পানে ছুড়ে
ফেলতে লাগল। আর যথন সীজার রাজমুকুটটা নিলেন না, তখন
তাদের সেই দুর্গন্ধ মুখ খুলে এত জয়ধ্বনি করতে লাগল যে তাতে
সীজারের প্রায় দম্ আটকে এল ; সীজার মূৰ্জিত হয়ে পড়লেন।
আর আমি-মুখ খুলে পাছে, সেই খারাপ বাতাসের নিঃশ্বাস নিতে
'হয়, এইজন্য হাসতেও সাহস করলেম না ।
।
প্রথম অঙ্ক। ১৯ ** ১. ক্যাশিয়া। তিনি সেই চত্তরেই মুচ্ছিত হয়ে পড়লেন; মুখে গাজলা উঠতে লাগল—আর একেবারে কথা বন্ধ। । তা খুব সম্ভব—তাঁর মুচ্ছ-যােগ আছে আমি জানি। আমাদের চুলিত ভাষায় যাকে “পতন-রােগ” বলে। ক্যাশিয়াস। পতন ?-না, সীজারের পতন-রােগ নেই। তুমি, আমি, এই ভাল মানুষ ক্যাস্কা—আমাদেরই অধঃপতন। তােমার কথার ভাব তাে আমি কিছুই বুঝতে পারচিনে; কিন্তু সীজার পড়ে গিয়েছিলেন সত্যি। আর এ কথাও ঠিক, সেই সব বাজে লােক গুলাে তুষ্ট হলেই হাততালি দিচ্ছিল, আর কষ্ট হলেই “ছি ছি” করে উঠছিল। ব্রু। তাঁর তখন জ্ঞান হল তখন তিনি কি বল্লেন ? ক্যাঙ্ক। পােড়ে যাবার আগে যখন তিনি দেখলেন, মুকুটটা নেওয়াতে লােকে খুসি হয়েছে—তখন তিনি তার ভিতরের কাপ- ডুটা খুলে দিতে আমাকে ইশারা করলেন ; সেই কাপড়টা খুলে দিতেই ঠিক সেই কাপড়টার উপরে তিনি মূৰ্জিত হয়ে পড়ে গেলেন। তারপর, যখন জ্ঞান হল, তখন তিনি বল্লেন; দেখুন মহাশয়গণ। যদি আমি কখন কোন অন্যায় কথা বলে থাকি, কিংবা অন্যায় কাজ করে থাকি, সে আমার দুর্বলতা বই আর কিছুই নয়।” আমার কাছে দুইনিটে চুড়ি দাঁড়িয়ে ছিল, তারা বলে উঠল ;- “আহা! সীজার কি ভাল মানুষ !”, তখন সীজারের সমস্ত দোষ তারা একেবারেই ভুলে গেল। তবে তাদের কথা, ছেড়ে দেও; সীজার যদি তাদের মায়ের বুকে ছুরি কসিয়ে দিত, তাহলেও তারা ঠিক..ঐ কথাই বলত।
২০',
জুলিয়াস্ সীজার।
।
। আর, তার পরেই তিনি এই রকম বিষন্ন হয়ে চলে
গেলেন।
ক্যাস্কা। হাঁ।
ক্যাশিয়াস। সিসিররা কিছু বল্লেন ?
ক্যাস্কা। হাঁ, তিনি গ্রীক ভাষায় কি একটু বল্লেন।
ক্যাশিয়াস। তার মটা কি ?
ক্যাস্কা। তাই যদি বলতে পারব, তাহলে কি তােমাদের
কাছে আমি আসি? ফাহােক, যারা বুঝতে পেরেছিল তারা
পরস্পর মুখ চাওয়াচায়ি করে হাসতে লাগল, আর মাথা নাড়তে
লাগল! কিন্তু আমি তার এক অক্ষরও বুঝতে পারিনি। আমি
তােমাদের আরও দুই একটা খকর দিতে পারি। ম্যারল্লাস, ও
ফ্লেভিয়াস, সীজারের মূর্তি গুলাে হতে রেশমের চাদর-আচ্ছাদন
টেনে ছিড়ে ফালায় তাদের জন্মের মত নিস্তব্ধ করে দেওয়া
হয়েছে। এখন তবে বিদায় হই। আরাে কত কি বাঁদরামি হয়ে
ছিল; সে সব এখন আর মনে পড়ছে না।
। ক্যাসিয়াস। আজ রাত্রে আমার সঙ্গে আহার করকে ক্যাস্কা ?
ক্যাস্কা। না, আমার অন্য জায়গায় নিমন্ত্রণ আছে।
ক্যাশিয়াস। কাল আমার সঙ্গে মধ্যাহ্ন ভােজন করবে ?
ক্যাস্কা। হাঁ, আমি যদি বেচে থাকি, যদি তােমার মত
উৎসাহটা আমার থাকে, আর যদি ভােজের মত ভােজটা হয়।
ক্যাশিয়াস,। আচ্ছা, এখন তবে আসি, আমি তোমার প্রতী-
ক্ষায় থাকব।
ক্যাস্কা। আমিও তবে এখন বিদায় হই।
| প্রথম অঙ্ক।
২১
→। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে লােকটার বুদ্ধিশুদ্ধি যেন ভোতা হয়ে
গেছে। বিদ্যালয়ে যখন পড়ত তখন ও বেশ চালাক চতুর ছিল।
ক্যাশিয়াস।
এখনাে তাহাই আছে । যদিও কাজেতে তার
দেখা যায় বিলম্বের ভাব,
মহৎ ব্যাপারে কিন্তু, সাহসের কাজে আর,
এখনাে তেমনি তৎপর।
বুদ্ধি বেশ খালে তার ; তবে, যে গ্রাম্যতা দেখ,
-সে শুধু চাটনির মত।
তাই, ওর কথাগুলা পরিপাক করে লােকে
আরাে যেন রুচির সহিত।
ব্রু। সে কথা বলেছ ঠিক; এখন তোমার কাছে
লই বিদায় ।
কাল যদি ইচ্ছা হয় আলপিতে মাের সনে
যাৰ তৰ গৃহে।
কিন্তু যদি তুমি এসাে গৃহে মােৰ, তােমা তুঝে
করি তীক্ষা ।
ক্যাশিয়াস।
আমিই যাইব ঝে; ততক্ষণ ভেবাে সখা
জগতের গতি।
(ক্রটাসের প্রস্থান)
ক্যাশিয়াস। '
টাস । হৃদয় তৰ উদার মহান্ অতি;
তবু আমি দেখিবারে পাই।
২২.
জুলিয়াস্ সীজার।
!
--তােমা-সম খাঁটি সােনা রূপান্তর করা যায়
গড়ি পিটি নিজ ইচ্ছামত।
তাই, মনে হয় মাের মহতেরি সনে সদা
মহতের সংসর্গ বিহিত।
কে এমন আছে বল যারে নাহি পারা যায়
লওয়াইতে কু-পথের দিকে।
আমা’পরে সীজারের বিষম বিদ্বেষ, কিন্তু
স্নেহ তার ব্রুটাসের প্রতি।
আমি যদি হইতাম
বুরুটাস, আর যদি
রুটা ক্যাসাস হইত,
পারিত না লওয়াইতে আমারে ক্রুটাস কভু
আমি যথা লওয়ায়েছি তারে।
আজি রজনীতে আমি নানা ছাঁদে পত্র লিখি,
ব্রুটাসের গুবক্ষেতে করিব. নিক্ষেপ ;
-মনে হবে, যেন.কৃত
পৌরজন লিখিয়াছে
পত্র গুলি এই মর্মে টাঙ্গ-সমীপে।
সমস্ত রোমের কাছে
ক্রুটাসের নাম আজি
যার পর নাই সমাদৃত”
—এই মর্মে হবে লেখা ; “সীজার সে অত্যাকাঙ্ক্ষী
-একথাও থাকিবে ইঙ্গিতে।
তার পর দেখা যাবে সীজার কেমনে
বসেন সুদৃঢ় হয়ে নিজ সিংহাসনে।
হয়, ভঁরে নাড়া দিয়া পাড়ি ভূমিতে
নয়তাে দুর্দিন হবে মােদের ভুগিতে ।
- প্রথম অঙ্ক।
তৃতীয় দৃশ্য।
• বজ্র-বিদ্যুৎ-এক দিক দিয়, নিষ্কোষিত অসি হন্তে ক্যাস্কা এবং
অপর দিক দিরা সিপিয়াের প্রবেশ ।
সিসিরাে।
এসো এসাে ক্যাঙ্কা? বলি, সীজারকে তুমিই কি
পৌছাইলে গৃহে ?
হঁপাইছ কেন এত ? -এক দৃষ্টে চেয়ে আছি
কেন আমা-পানে ?
ক্যাস্কা। সমস্ত এ পৃথ্বীরাজ্য কঁপিতেচে মুহুর্মুহু
লঘু দ্রব্য সম
-আর কিনা এ সময়ে
রয়েছ সিসিররা তুমি
অচল টঅল ?
সিসিরো! দেখেছি আমি প্রচণ্ড ঝটিকা-বায়ু,
জটাময় বট বৃক্ষে করেছে দ্বিখণ্ড ;
দেখিয়াছি, মহা সিন্ধু ফেনায়ে ফুলিছে রােষে
উদ্ধে উঠিবারে উচ্চ মেঘের সমান ;
কিন্তু কভু দেখি নাই দেখিনু যা আজি রাতে,
ঝটিকা অনল-পিণ্ড করিছে বর্ষণ
পৃথিবী নাশিতে যেন
হইয়াছে সমুদ্যত,
নিশ্চয় করিয়া আমি কহিনু তােমারে।
সিসিরাে। আরো কি আশ্চর্য কিছু দেখিয়াছ তুমি ?
ক্যাস্কা। সামান্য গােলাম এক ( দেখিলেই গােলাম বলি”
চেনা যায় তারে )
২৪ জুলিয়াস্ সীজার। উঠাইল বাম হস্ত, এলে যেন একত্তরে কুড়িটা মশাল। তবু সে হাতটি তার পপড়ে নাই একটুকু রয়েছে অক্ষত। তাছাড়া, দেখিনু আমি, ( তখন হইতে আমি ধরিয়াছি অসি) মন্ত্র-ভবনের কাছে সিংহ এক, তাকাইয়া কটমট করি’ আমা পানে, চলি গেল রোষ ভরে, না করিয়া কিছু মাত্র হানি। এক শত নারী সেথ। অতীব বিবর্ণ-মুখ, স্তম্ভিত তরাসে, বলিল শপথ করি : “দেখিয়াছি, রাজপথে করে বিচরণ অগ্নিময় নর সবে ; তা ছাড়া পেচক এক -নিশাচর পাখী - মধ্যাহ্নেও আছে বসি” নগর-চত্বরে, আর ডাকে তীক্ষ্ণ স্বরে।” এই সব অলক্ষণ একত্তর হয় যবে, তখন মানুষ । এ কথা যেন না বলে : “আছে তার যুক্তিগর্ভ স্বাভাবিক হেতু।” আমার বিশ্বাস, উহা অশুভ সুচনা করে প্রথম অঙ্ক। ২৫ অদ্ভুত ঘটনাময় - সিসিরাে। বলিয়াছ ঠিক্ কথা; এ বিষম কাল। বুঝি’ প্রকৃত হেতু ঘটনার অন্য ব্যাখ্যা করে লােক সবে। মন্ত্রণা-ভবনে কাল সীজার আসিবে কি না জান কি হে তুমি ? ক্যাস্কা। আসিবেন; অন্তনিকে বলেছেন এ সংবাদ পাঠাতে তােমায় । সিসিররা। বিদায় ক্যাস্কা তবে ; এ অশান্তু রাতি নহে । ভ্রমণের তরে। ক্যাস্কা। বিদায় সিসিরাে। ( লিসিরোর প্রস্থান) ( ক্যাশিয়াসের প্রবেশ ) ক্যাশি। কে আসে ? ক্যাঙ্কা। রােমক আমি। ক্যাশি। চিনি তােমারে ক্যাস্কা তব কণ্ঠস্বরে। ক্যাস্কা। শ্রুতিশক্তি ভাল অব ; কিরূপ রাতিটা আজি বল ত ক্যাসা। ক্যাশি। শুদ্ধচিত্ত লােক যারা তাহাদের কাছে ইহা অতি রমণীয়। ক্যাস্কা। কে কবে দেখেছে বল হেন রুদ্র ভীম মূর্তি নভো দেবতার ?
জুলিয়াস সীজার। ক্যাশি। তাহারাই দ্যাখে, যারা জানে—এই মর্ত্যভূমি পূর্ণ অনাচারে। আমি কিন্তু মিয়াছি সমস্ত এ রাজপথে, বিপদ-সঙ্কুল এই রাতে। দ্যাখ ক্যাস্কা, আমি এই অবারিত বক্ষ মাের বজ্র কাছে রাখিয়াছি খুলি; বক্ৰ বিদ্যুতের ছটা অনাবৃত করে যকে গগনের নীল বক্ষদেশ —সেই সে মুহূর্তে আমি বিদ্যুৎ-ঝিলিক্ মাঝে আপনারে করিনু অর্পণ। ক্যাস্কা। কিন্তু কেন বল দিকি ঘাটাও দেবতাকুলে প্রকাশিয়া হেন দুঃসাহস ? মহাশক্তিশালী সব সেই দেবতারা যবে, মর্ত্যজনে করিতে বিস্মিত পাঠান্ ভীষণ দূত উৎপাত-আকারে, কোন্ নর না হয় কম্পিত ? ক্যাশি। ক্যাস্কা, তুমি জড়মতি ; জীবনের যে, স্ফুলিঙ্গ থাকা চাই রােমক-অন্তরে, তােমাতে অভাব তাহা ; —কিংবা থাকিলেও তুমি না কর তাহার ব্যবহার। বিবর্ণ হইয়া তুমি একদৃষ্টে চেয়ে থাকো মগ্ন হয়ে ভয় ও বিস্ময়ে আকাশের হেরি’ রুদ্র ভাব ; কিন্তু যদি ভেবে দ্যাখ প্রকৃত সে কারণ উহার,
প্রথম অঙ্ক।
-কেন ছােটে উল্কাপিণ্ড, কেন এ নি:শব্দচারী
প্রেতগণ,পশুপক্ষী নানা,
কেন চিন্তা করে মত চিন্তাহীন শিশু, আর
অতি বৃদ্ধ, হতবুদ্ধি জন,
কেন এ পদার্থ সব
নিজ ভাব হারাইয়া
ধরে অন্য বিকৃত আকার,
তাহলে বুঝিবে তুমি -ভয় প্রদর্শিতে, আর
সতকিতে মৰ্ত্তবাসিজনে
দেবতারা প্রকৃতিৰে
রুদ্রভাবে পূর্ণ করি’
করি-দেন বিকট-আকৃতি।
কিন্তু আছে এক জন
ভীষণ এ রাত্রি-সম
—পারি আমি তােমায় করিতে।
সেও করে বজ্রনাদ,
বিদ্যুৎ ছােটায় সেও,
অনাবৃত করে গােরস্থান,
রােমের মন্ত্রণা-গৃহে
সিংহ-সম ঘােতর
সিংহনাদ ছাড়ে অনিবার।
কিন্তু জেনাে সুনিশ্চিত —বল পৌরুষের কাজে
সমান সে আমাদেরি মত।
তথাপি জানিবে তারে
অতি ভয়ঙ্কর—এই
প্রাকৃতিক উপদ্রব সম।
ক্যাস্কা। তুমি সীজারকে লক্ষ্য করে বচ-তাই না ক্যাস্কা ?
ক্যাশি। যে কেন হউক না সে, আছয়ে রােমকদের
পিতৃপুরুষেরই মত দেহের শকতি,
২৮ জুলিয়াস্ সীজার । কিন্তু এবে ঘাের কাল হইয়াছে উপস্থিত। -পিতৃতেজ আমাদের গিয়াছে মরিয়া। সুকোমল মাতৃভাবে চালিত হতেছি মােরা —সহিতেছি অধীনতা স্ত্রীলােক সমান। ক্যাস্কা। লােক মুখে শুনি, কাল সীজারকে প্রধানের বসাইতে ইচ্ছা করে রাজ-সিংহাসনে। ইতালি-প্রদেশ ছাড়া জলে স্থলে সর্বত্র করিবেন নাকি তিনি মুকুট ধারণ। ক্যাশি। তা হলে আমিও জানি কোথায় বসাতে হবে এই মাের তীক্ষ ছাের খানি; ক্যাশিয়াস আপনারে দাসত্ববন্ধন হতে মােচন করিবে অচিরাৎ। এইরূপে তুমি দেব । ক্ষীণজনে কর বলী, অত্যাচাৰী কৰহ দমন। কি বা শৈ-অট্টালিকা কিবা তাবিজড়িত দুর্ভেদ্য অনধিগম্য দুর্গ প্রাকার, বায়ুশূন্য কারাগার, লৌহের নিগড় কিম্বা, —মনােৰল নাহি পারে কেহ রুধিবারে। এসব বন্ধনে যবে ক্লান্ত হয় এ জীবন হেন শক্তি আছে জীবনের অনায়াসে করি চূর্ণ বিসর্জিতে পারে আপনারে। এ সত্যটি জানা গেলে —আর যাহা আছে কিছু সমস্তই জানা হয় মাের; '' যখন সমস্ত বাধা
প্রথম অঙ্ক।
-সহি যে দৌরাত্ম্য এবে তখন তা ইচ্ছামতে
পারি আমি ঠেলিয়া ফেলিতে।
ক্যাস্কা। আমিও পারি তা জেনাে ; প্রত্যেক দাসের হাতে
স্ববন্ধন মােচনের আছয়ে শকতি।
ক্যাশি। সীজার কি হেতু তবে
হ’ল হেন অত্যাচারী ?
হতভাগ্য মূঢ় নর! জানি, সে কখনাে
ধরিত না ব্যারূপ
সমস্ত রােমেরে যদি
মেষরূপে না হেরিত চখে ;
হত কভু সে সিংহ যদি না রােমকগণ
হইত মৃগের পাল, কহিনু তােমারে।
শীঘ্র জ্বালাইতে চাহে
যে জন অনল কাের
—প্রথমে ধরায় তাহা ক্ষীণ তৃঃ দিয়া।
মনে হয়, রােমপুরী ছার আবর্জনা-রাশি,
যবে ভাবি মনে-ওই হীন দাহ্য দিয়া
প্রদীপ্ত করিয়া তুলে
সীজারের মতাে হেন
জঘন্য সামগ্রী ; কিন্তু, ব্যথিত হৃদয় ।
কোথায় লইলি মােরে ? হয়তাে কহিনু ইহা
দাসত্বের কামী কোন দাসের সম্মুখে।
কি উত্তর দিব রে ? কিন্তু আছে শস্ত্র মাের ;
বিপদ-আপদ আর তুচ্ছ মাের কাছে ।
ক্যাস্কা। কহিছ ক্যাস্কার কাছে, ক্যাস্কা নহেক জেনে
হাসি-মুখে পাড়া-গল্পে লােক।
এই লও হস্ত মাের, অত্যাচার প্রতীকারে
হও তুমি এখনি তৎপর।
জুলিয়াস্ সীজার। যে যানা যত দূরে তাহাকেও অতিক্রমি আমি হ’ব আরাে অগ্রসর। সাধুজন অভিমত । ক্যাশি। এ কথা রহিল স্থির : শােনাে বলি ক্যাস্কা তবে —কতিপয় রােমবাসী মহাশয় লােক। তাঁহাদেরাে আমি এতে করিয়াছি প্রবর্তিত, তঁাহারা দিবেন যােগ আমার সহিত মহৎ উদ্দেশ্যপূর্ণ বিপদ-সঙ্কুল এই দুঃসাহসি কাজে। আর, এই পযােগে জানিলাম, তারা সবে অপেক্ষিবে আমা তরে পম্পের দুয়ারে। ভীষণ রজনী এই ; -পথে কেহ নাহি চলে, সাড়াশব্দ নাহি কোন, সকলি সিস্তব্ধ। হের প্রকৃতিও. আজি বিলক্ষণ অনুকূল, পড়ে যেন তার ছায়া মােদের এ কাজে ; —সেইমত রক্তময়, সেই মত তেজোদীপ্ত, সেইমত ভয়ানক ভীষণ প্রচণ্ড। ক্যাস্কা । এসো আরাে কাছাকাছি, কে দেখ আসিছে ওই অতি দ্রুতপদে। কাশি। ও “সিনা”—নাহিক ভয় ; চিনেছি চলন দেখি’ –সিনা বন্ধুজন। (সিনার প্রবেশ ) যাও কোথা তাড়াতাড়ি ? সিনা। তােমারি গাে অন্বেষণে। ও কে ও?—“ সির” ?
প্রথম অঙ্ক।
ক্যাশি। না, ও ক্যাঙ্কা ; ভয় নাই ; মােদেরি দলের লোক ;
তারা কি প্রতীক্ষা করে মােরে ?
সিনা। খুসি হইলাম শুনি; একি এ ভীষণ রাত্রি।
আমাদেরই দুই তিন জন
দেখেছে অদ্ভুত দৃশ্য ;
ক্যাশি।
প্রতীক্ষা কি করে তারা ?
-কহ শীঘ্ন সিনা তুমি মােরে।
সিনা। হাঁ, করে প্রতীক্ষা তারা ; যদি কোনরূপে তুমি
ক্রটাকে টানিতে পার দলে
ক্যাশি। নিশ্চিন্ত হও তুমি ?
এই পত্ৰ লয়ে সিনা
রাখ গিয়া ক্রুটাসের কেদারার 'পরে।
নিশ্চয় পাবেন তিনি ; এই পত্র দেও ফেলি’
তাহার গবাক্ষ ; আর, এই পত্রখানি
অাটি দে ও আটা দিয়া
পূর্বতন টাসের
প্রতিমূৰ্ত্তি 'পরে ; আর, সব শেষ করি’
পস্পের দুয়ারদেশে
সত্বর যাইও ফিরি’ ;
সেখানে পাইবে তুমি মােদের সবায়।
“ডিশিয়াস বুরুটাস” আর সে “ত্রিবােনিয়াদ”
আছে কি সেথায় ?
;
সিনা। কেবল “সিম্বার” নাই; সে গেছে খুজিতে তােয়া
তােমার ভবনে।
চলিলাম আমি তবে ;
পত্রগুলি দিব আমি
তব কথামহ।
জুলিয়াস্ সীজার । ক্যাশি। এই কাৰ্য করি’ শেষ যেও তুমি তার পর পম্পের ভবনে। (সিনার প্রস্থান) প্রভাত না হতে-হতে এস ক্যাস্কা, যাই দেহে ক্রটাসের গৃহে। মােরা তার তিন ভাগ করিয়াছি অধিকার ; পুন দেখা হলে, অবশিষ্ট ভাগ সহ করিব আয়ত্ত মােরা সমগ্ৰ ক্ৰটাসে । ক্যাঙ্কা। টাস, আছেন বসি’ লোকের হৃদয়-মাঝে সমুচ্চ আসনে। যে কাৰ্য আমাদের দোষ বলি’ হবে গ, তিনি যােগ দিলে তাহাই হইবে গুণ ; তা সেও সােনা হবে। সেই রসায়নে। ক্যাশি। ঐটাস, সুবােগ্য অতি প্রয়োজন আমাদের তঁারে লাভ করা। সিনা। এসমস্ত ক্যাশিয়াস ঠিক্ তুমি ধরিয়াছ, , চল এবে যাই। অতীত হয়েছে এবে দ্বিপ্রহর রাতি; দেখ, প্রভাতের আগে জাগাইতে হবে তারে, করিতে হইবে আর তারে হস্তগত । ( সকলের প্রস্থান )। ৯ of ।
দ্বিতীয় অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য।—ব্রুটাসের উদ্যান।
(ব্রুটায়ে প্রবেশ ।)
ঐ। লুশাস! আছিস হেথা ? ওরেরে লুশ্যা!
তারা দেখি’ অনুমান না পারি করিতে
কতটা বিলম্ব আছে
হইতে প্রভাত ;
এ হেন গভীর নিদ্রা এ সময়ে তোর
হলেই ছিল ভাল ; কত রাতি এবে ?
ওরেরে শ্যস, ওরে !--ওঠরে লুশ্য !
উলু। ডাকিছ কি প্রভু মােরে ?
নিয়ে আয় তুই
আলিয়া মােমের বাতি অধ্যয়ন-ঘরে ;
ভালা হলে বাতি তুই ডাকি আমায়।
লু। যে আজ্ঞে, জালিয়া বাতি আসিব এখনি ।
( প্রস্থান।)
। তার মৃত্যু বিনা কভু এ কাজ হবে না সিদ্ধ ;
তার প্রতি দ্বেষ মাের নহে স্বার্থ-লাগি ;
জন-হিত-তরে শুধু এ মাের শত্রুতা।
মুকুট পরাবে তারে। -ইথে তার স্বভাবেতে
বিকৃতি ঘটিবে কি না তাই শুধু ভাবি।
পরিষ্কার-দিবসেই
সর্প দেখা দেয়, আর
তখনি পথিক চলে পথে ভয়ে ভয়ে।
।
৩৪ জুলিয়াস্ সীজার। ৩ উচ্চপদে, পরাবে মুকুট তারে ! তাহা হলে, বেশ জেনাে বিষ-দন্ত মুখে তার দেওয়া হবে পূরি’ ; তখন সে অনায়াসে পারিবে করিতে হানি —যা ইচ্ছা করিবে পরে আমাদের প্রতি। শকতির হয় অপব্যবহার –তা-হ’তে যখনি ঘটে দয়ার বিচ্ছেদ। এ কিন্তু মানিতে হবে সীজারের কুপ্রবৃত্তি কভু নহে জয়ী তার সুবুদ্ধির পরে। প্রসিদ্ধ আছে এ কথা ? —বিনয় নম্রতা শুধু তরুণ দুরভিলাষী-জনের সােপান ; -আরােহণ করে যবে থাকে মুখ ফিরাইয়া সােপান-ধাপের দিকে একদৃষ্টে চাহি; উঠিলে শিখরে, আর না চাহে ধাপের পানে, একেবারে তার প্রতি হয় সে বিমুখ। যে সকল ধাপ দিয়া উঠিল সে ক্রমান্বয়ে, পরে তাহাদেরি প্রতি করিয়া উপেক্ষা উৰ্দ্ধতম আকাশের অতি উচ্চ মেঘ’পরে একদৃষ্টে একমনে রহে তাকাইয়া। সীজারাে করিতে পারে এইরূপ ব্যবহার, আশ্চর্য্য বল তাহে কিবা ; কিন্তু পাছে করে তাই এইজন্য নিবারণ করিতে হইবে আগে হ’তে। লীজার এখন যাহা -সে বিষয়ে আমাদের নাহি কোন বিবাদ-কলহ ;
দ্বিতীয় অঙ্ক।
৩৫
কিন্তু ভাবিতে হবে : এই যে সীজারে দেখি
-সে যবে বাড়িয়া উঠি
চুড়ান্ত সীমায় আসি
হইবেক উপনীত
তখন সে হইবে কিরূপ ?
সীজারকে মনে করি
ভুজঙ্গ-অণ্ডের মত ;
–ফুটাইয়া তুলি যদি এবে,
স্বজাতি-স্বভাব-বশে
করিবে দংশন, তাই
অঙ্কুরেই দলিব তাহারে।
(লুসের পুনঃ প্রবেশ।
লু। তব কক্ষে, প্রভু ওগগা! জ্বালায়েছি বাতি ;
গবাক্ষে খুজিতে গিয়া চকমকি শিলা,
পাইলাম এই পত্র-লাক্ষা দিয়া আঁটা, (পত্র প্রদান
আর আমি জানি বেশ—ছিল না এ পত্র
সেথায়, যখন আমি গেলাম শুইতে।
ব্রু। শােগে যা আবার তুই -এখনাে হয় নি ভাের ;
কাল কি নয়রে সেই মার্চ পঞ্চদশ ?
শু। জানি না মশাই আমি।
পাঁজি দেখে আয়।
লু। যে আজ্ঞে, জানিয়া আসি বলিব এখনি।
(লুসের প্রধান।)
। বাষ্পময় যে কিরণ উচ্ছসিত নভে
তাহারি আলােকে ইহা পারিব পড়িতে। (পত্ৰ খুলিয়া পঠন)
জুলিয়াস সীজার।
“ওঠো জাগো হে ব্রুটা। ঘুমায়ােনা আর,
-এরূপ অনেক লেখা পেয়েছি কুড়ায়ে।
‘র’বে কি রােম* –ইত্যাদি;—পড়ি কথাগুলি
টুকুর টুকুর করি; রহিৰে কি রােম
একের শাসনাধীনে-সেই রােমপুরী,
যার পথ হ'তে পূৰ্বপুরুষের মাের
খেদাইল টারর্কিনে—হল যবে রাজা ?
“অগ্নি-বাক্য, আশু কাৰ্য, শীঘ্র প্রতীকার’
আমাকে বলিছে বুঝি করিতে বক্তৃতা,
আর সাধিবারে কাৰ্য্য না করি’ বিলম্ব ?
করি এই অঙ্গীকার রােম তব কাছে --
চাহ যাহা, তাহে যদি হয় প্রতীকার
-জানি, টাস্ তাহা সাধিবে নিশ্চয়।
-
(লুলের পুনঃ প্রবেশ।)
লু। আজি, বটে মার্চের চতুর্দশ দিন। (দ্বারে অধাত)
দেখে আয়, লুস ওরে--কে ঠ্যালে দুয়ার।
লুক্ষে প্রস্থান।)
ক্যাখাস্ যে দিন মোরে করে উত্তেজিত
সীজার বিরুদ্ধে, সেই দিন হ’তে মাের
নিদ্রা নাহি চোখে ; কোন ভীষণ সঙ্কল্প
প্রথম যখন হয় মনেতে উদয়,
আর যবে হয় তাহা কার্যে পরিণত
এ দুয়ের মাঝখানে যে কু সময়
-
দ্বিতীয় অঙ্ক।
তাহা যেন ভয়ঙ্কর-দুঃস্বপন-সম ;
তখন কুমতি-রাণী, আর তার যত
প্রলয়ের সহচরী—সকলে মিলিয়া
করয়ে মন্ত্রণা ঘাের ;-ক্ষুদ্র রাজ্যসম
মনােরাজ্যে বাধি’ উঠে বিষম বিপ্লব।
(লুসের পুনঃ প্রবেশ। )
নু। ভগ্নিপতি ক্যাশিয়াস দ্বারে উপনীত,
সাক্ষাৎ করিতে চান তব সাথে প্রভু।
। তিনি কি একাকী ?
প্রভু! আরাে আছে তােক।
ব্রু। জানিস্ তাদের তুই ?
, আমি জানি না।
মুখ দেখি’ যাতে আমি না পারি চিনিতে,
টানিয়া পরেছে টুপি দু-কান ঘেঁসিয়া,
ঢেকেছে আর অর্ধমুখ উত্তরীয়-বাসে।
ক্র। আসুক উহারা ;-সেই বিদ্রোহীর দল।
(লুসের প্রস্থান।
ষড়যন্ত্র কুমন্ত্রণা! লজ্জা হয় বুঝি
দেখাইতে মুখ তাের রজনী-গভীরে
—যে সময়ে দুষ্কৰ্ম্ম বিচরে অবাধে ?
কেমনে দিবসে তৰে পাইবিরে তুই
হেন তমােময় গুহা-যাইয়া যেথায়
বিকট আনন তাের রাখিবি লুকায়ে ।
৩
জুলিয়া
সীজার।
কাজ নাই অন্বেষিয়া ওরূপ প্রদেশ,
বরঞ্চ ও-মুখ তব রাথুরে ঢাকিয়া
হাসিমাখা সৌজন্যে ; কিন্তু যদি তুই
বার হােস পথ-মাঝে নিজ মূর্তি ধরি,
ঘাের রসাতলে তেরে নারিবে লুকাতে।
(ক্যাশ, ক্যাস্কা, ডি, সিনা, মেটেলাস, মিম্বর ও
টিরিবােনিয়াসের প্রবেশ।)
}
কা। এ-তব বিশ্রামু-কালে আসিয়া হেথায়
করিনু ধৃষ্টতা ঘাের ; ত্রুটাস তােমায়
কষ্ট কি দিলাম মােরা ?
উঠিয়াছি আমি
আছি জেগে সারা রাতি ; এসেছেন যারা
-এদের কি জানি আমি ?
জাননা এদের ?
প্রত্যেকেরে জানো তুমি ; ইহারা সবাই
বিশেষ ভকত তব ; আর, এরা চান্,-
—যে শ্রদ্ধা তােমা-পরে আছে ইহাদের
সেই শ্রদ্ধা নিজ প্রতি থাকে যেন তক।
—ইনি টিবােন্য ;
সুখী তব আগমনে।
ক্য। ডিশ্য-ব্রুটাস্ ইনি;
হইলাম সুখী।
ক্যা: এই ক্যাস্কা, এই সিনা, আর এ সিম্বর।
৪
দ্বিতীয় অঙ্ক।
০৯
সিনা।
•
। সকলেরি আগমনে হনু আনন্দিত।
জাগিয়া সমস্ত রাতি সতর্ক-নয়নে
দেখিলে কিছু-কি যাহা চিন্তার বিষয় ?
কা। একটি কথা কি তােমা জিজ্ঞাসিব আমি ?
(ক্রটাস ও ক্যাশ্যসের মধ্যে চুপি চুপি কথা।)
ডি। এইত গাে পূৰ্বদিক ; হয় না কি হেথা
দিবাকরের উদয় ?
-না ; করিবে মার্জনা,
-হয় এইখানে ; আর, ওই যে হােথায়,
শাদা-শাদা রেখাগুলি—যাহে মেঘদল
হয়েছে চিত্রিত-উহা দিবসেরি
ক্যাস্কা। তােমরা উভয়ি ভ্রান্ত ; দেখ গাে ভাবিয়া;
এই মাের অসি-অগ্রে দেখাই যে দিক
সেই দিকে উঠে সূৰ্য্য দক্ষিণ ঘেঁসিয়া,
-তৌলদণ্ডে মাপে যেন নববর্ষ-ঋতু।
আরাে দুই মাস পরে, উত্তরে ঘেসিয়া
হইবে উদয় ; আর সেই উচ্চ ভানু
—ওই সভাগৃহ-সম—উঠে ঠি হােথা।
। মাের হাতে,দাও হাত সবে একে একে।
ক্যা। শপথ করিয়া আর করি এ প্রতিজ্ঞা
। না, না, না, শপথ নহে; লােক-মুখে ব্যক্ত অসন্তোম,
প্রাণের যন্ত্রণা ঘোের, প্রচলিত কুনিয়ম আর
—এ সৰ যদি না হয়
যথেষ্ট উত্তেজনা-হেতু,
ছাড়ি দিয়া যাও তবে নিজ নিজ অলস শয্যায় ,
জুলিয়াস্ সীজার। - । অত্যাচার উচ্চে বসি অসঙ্কোচে করুক রাজত্ব, প্রাণ হাতে করি’ সবে থাকে। চাহি’ অদৃষ্টের পানে। কিন্তু যদি এই সবে থাকে উদ্দীপনা এত -ভীরু জনে। যাহে উঠে জলি, মেহ-বিগলিত-চিত নারীয়াে হৃদয় হয় বীরভাবে পাষাণ-কঠিন, তাহলে হে ভ্রাতৃগণ ! অপরে কি কাজ বল’ ইহাই যথেষ্ট উত্তেজনা। মহৎ উদ্দেশ্য, হেন -তাই কি যথেষ্ট নয় উত্তেজিতে প্রতিকার তরে ? কি আর বন্ধন চাই ? -সম্মিলিত রােমকেরা গুপ্তভাবে হয়েছে একত্র ; উহায়া দিয়াছে কথা, নাহি হবে বিচলিত তিলমাত্র ;-- আর কিবা চাই ? সজ্জন, সজ্জন-কাছে হয়েছে বচনে বদ্ধ --“হয় সিদ্ধি, নয় দেহ পাত।” পুরােহিত, ভীরুজন, সাবধানী ধূর্ত লােক, —ইহারাই করয়ে শপথ ; জরাজীর্ণ দুৰ্ব্বলেরা, অনুতাপী পাপীজন, —শপথ করে ত ইহারাই। অন্যায় অধৰ্ম্ম বলি যে কাজে সন্দেহ থাকে, -শপথ করিতে হয় তাহে। কিন্তু এ ধরমব্রতে, অদম্য উদ্যমে এই, করিও না কলঙ্ক অর্পণ। - দ্বিতীয় অঙ্ক । •৪১ এইরূপ মনে ভাবি’ --আছে এই উচ্চ কাজে শপথের কোন প্রয়ােজন! আন্তনি কুচক্রী বড় । আর যদি পরে, বৃদ্ধি করিতে পারে e নিজ শকতি-সম্বল তাহা হলে সে শকতি প্রসারিত করি’ আরো কষ্ট কিছু দিতে পারে আমাদের সবে। এরি নিবারণ তরে আমি বলি এই কথা -সীজার আন্তনি হােক উভয়ই নিপাত। । বেশী রক্তারক্তি হলে রক্ত-পিপাসুর-মত দেখিতে হইবে এই কাজ। আগে করি শিরচ্ছেদ তার পত্ন অঙ্গগুলি একে একে চোপাইয়া কাটা’. -সে যেন দেখানাে হয় মৃত্যুর পরেও দ্বেষ, নহে শুধু মঙ্গণ অবধি দেখ বিবেচনা করি, আন্তনি সে সীজারের অঙ্গ ছাড়া নহে আর কিছু ; আর মােরা নাহি বধি ক্রর কশায়ের মত, এ মােদের যজ্ঞে বলিদান। মােদের এ বিদ্রোহিতা, সীজায়ের আত্মা-সাথে, - রক্ত কতু না থাকে আত্মায়। আহা! যদি পারিতাম করিয়া অঙ্গচ্ছেদ তাঁর। কিন্তু হায়! এর তরে অবশ্য করিতে হবে সীজারের উষ্ণ রক্তপাত। পরশিতে আত্মা ধু ৪২ জুলিয়াস্ সীজার। এসো মােরা দিই বলি - যাতে হয় তাহা দিয়া দেবতাগণের অতি উপাদেয় ভােগ ; করি ছেদন যেন তার সেই মৃতদেহ অপবিত্র কুকুরের উপভােগ্য করি। চতুর প্রভুরা যথা উত্তেজিয়া নিজ দাসে হিংসা-কাজে, পরে তারে করয়ে ভৎসনা, সেইরূপ হয় যেন মােদের হৃদয়-ভাব, -কৰ্তব্য করি শুধু না দেখায়ে দ্বেষ। তাহলে বুঝিবে লােকে —আমরা ঘাতক নহি, কেবল জঞ্জাল মােরা করিতেছি দূর। এসো তারে করি বধ নির্ভীক অটল ভাবে —কিন্তু নহে নিষ্ঠুর ঘাতকের-ত ; আর, সেই আন্তনি ভেবােনা তাহার কথা, কেনা জানে-সেঁতাে শুধু বাহু সীজারের ; ছিন্নশীর্ষ সীজারের বাহুটির মত, সেও পারিবে করিবারে কারাে কোন হানি। ক্যা। ডরি আমি তবু তারে ; কেননা, যে-অনুরাগ বদ্ধমুল তার মনে সীজারের প্রতি শােনন বলি ক্যাশিয়া, ভেবােন তাহার কথা, সে শুধু করিতে পারে আপনারি ক্ষতি। সীজারের মৃত্যু-শশাকে ভাবিয়া দিবস-রাতি অবশেষে মরিবে সে সীজারেরি তরে ; ভাবনা অসহ্য তার ; জানি আমি বিলক্ষণ- রঙ্গরসে সঙ্গসুখে তাহার আসক্তি। " দ্বিতীয় অঙ্ক। ৪৩ ছি। তার জন্য নাহি ভয় ; বাঁচিয়া থাকে সে যদি, এর পরে, হাসিবে সে এই কথা লয়ে। ( ঘড়িতে ঘণ্টা বনি।) ক্র। থামাে ! ক'টা বাজে? ক্যাশ্যস। বাজিল ঘড়িতে তিন। টি। গৃহ-হ’তে ছাড়িবার এইত সময়। কা। কিন্তু সে সীজার আজি বাহির হইবে কি না -এখনাে সন্দেহ মাের আছে বিলক্ষণ। হয়েছে সে আজ কাল বিশ্বাস-প্রবণ বড় ; নিজ-পূৰ্ব্বমতের যা সম্পূর্ণ বিরােধী —সেই মিথ্যা সূচনায়, যজ্ঞফলাফলে, স্বপ্নে, এবে দেখিতেছি তার অগাধ বিশ্বাস। এই সব অলক্ষণ, রজনীর এই সব অজ্ঞাতপূৰ্ব ঘাের বিভীৰিকা-রাশি, দৈবজ্ঞ-বচন আর, হয়তাে দিবে না তারে আসিতে আজিকে এই পৌরসভাগৃহে। ডি। সে ভয় কোরােনা কভু; করিয়া থাকেন যদি এইরূপ মনে, আমি ফিরাব তাহারে। “গাছেতে ঠেকিয়া শৃঙ্গ গণ্ডার পড়য়ে ধরা, ভল্লুক সে ধৃত হয় দরপণ দিয়া; গর্তে ধরা পড়ে হাতি, জালে ধৃত হয় সিংহ, নর বশীভূত চাটুকারের বচনে।” -এই সব কথা তিনি শুনিতে, বাসেন ভাল যদি বলি-“চাটুকার চক্ষুশূল তব,”
৪৪।
জুলিয়াস সীজার।
বলিবেন তিনি মােরে —“সে কথা বলেছ ঠিক
-এই চাটুবাক্যে মাের আরাে বেশি ভুলি।
তলে তলে আমি কাজ
করিব তাহার পরে,
–ঠি দিকে লয়ে যাক তাঁর মননগতি
নিশ্চয় করিয়া আমি কহিতেছি তােমা-সঝে
—লয়ে যাব আমি তারে সভাগৃহ পানে।
৫
ক্যা। আমরা সকলে গিয়া
লইয়া আসিব তারে ;
। আটটার ভিতরে ;-নহে তাহাই কি সীমা ?
সিনা। সেই সে সীমার যেন না হয় ব্যত্যয়।
মেট। জানি আমি, লিগার ক্র, দ্ধ সীজারের পরে
কেননা, সে একবার সভা-মাঝে যৰে
পম্পের প্রশংসা করে
-সীজার তখন তায়
করেছিল অতিমাত্ৰ তীব্র ভৎসন।
কি আশ্চর্য্য! তার নাম তােমাদের কারাে মনে
হ’ল উদয়—তাই ভাবি আমি মনে।
শােনাে ওহে মেটেলা! ও তার গৃহে তুমি,
আমারে সে বাসে ভাল বিশেষ কারণে।
তারে তুমি মাের কাছে পাঠাও এখনি গিয়া,
আমি তারে বলে-কয়ে করিব প্রস্তুত।
কা। হইল প্রভাত এবে, এখন ব্রুটা তকে
আমরা তােমার কাছে ইনু বিদায়।
ভাই-সব ! যাও চলি’, ভুলােনা প্রতিজ্ঞা নিজ,
প্রকৃত রােমক বলি দেও পরিচয়।
দ্বিতীয় অঙ্ক।
ক্ৰ। আজিকে তােমরা সবে ধারণ করিবে মুখে
অম্লান অবিকৃত সুপ্রসন্ন ভাব ;
তােমাদের মুখে যেন
হয় ব্যক্ত কভু
অন্তর্নিহিত গৃঢ় সঙ্কল্প নিজের।
রােমক নটের মত
রাখিবে মুখের ভাব
বরাবর একরূপ অক্লান্ত ভাবে।
বিদায় এখন তবে।
(ক্রটাস ছাড়া সকলের প্রস্থান।
ওরেরে লুশ্য!-ওরে !
—গভীর নিদ্রায় মগ্ন ?-নাহি ক্ষতি তায়।
সম্ভোগ করে তুই
বিমল সুপ্তি-সুধা,
আমি নাহি দিব তাহে তিলেক ব্যাঘাত।
নাহি তাের মনােমাঝে সে সব কল্পনা-মূৰ্ত্তি
মস্তিষ্কে আইসে যাহা চিন্তার উদ্বেগে ;
তাই তুই, এইরূপ
কেমন নিশ্চিন্ত ভাবে
গভীর নিদ্রার মাঝে আছিস্ মগন !
(পাের্শিয়ার প্রবেশ।)
পাে। ব্রুটা! হৃদয়-নাথ ।
কেন গাে পােশিয়া তুমি
উঠিলে এ অসময়ে ?—কিবা অভিপ্রায় ?
প্রাতের এ তীব্র শীত
ও-তব দুৰ্বল দেহে
লাগানাে উচিত নয়, কহিনু তােমায়।
৪৬ জুলিয়াস্ সীজার। . পাে। তােমারাে উচিত নয় ; জানি কি কাৰ্য-বশে, গেলে তুমি চুপি-চুপি মাের শয্যা ছাড়ি’ ; আবার, বিগত কল্য সায়াহ্ন-ভােজন কালে, উঠিয়া সহসা, রাখি বাহু বক্ষ’পরে করিতে লাগিলে ঘরে ঘন ঘন পায়চালি, চিন্তামগ্ন হয়ে, আর ছাড়ি’ দীর্ঘশ্বাস। কি হয়েছে-জিজ্ঞাসিনু, রহিলে আমার পানে তাকাইয়া কটমট করি’ তীব্রভাবে ; করিনু জিজ্ঞাসা পুন ; -খুটিতে লাগিলে মাথা, ফেলিতে লাগিলে পা সজোরে অধীরে। তবু জিজ্ঞাসিনু আমি, —না দিলে উত্তর কোন, হস্তের ইঙ্গিতে শুধু বলিলে যাইতে। চলিয়া গেলাম আমি পাছে তব দীপ্ত রােষ আরাে উদ্দীপিত হয়, শুধু এই ভয়ে ; তখন ভাবি, বুঝি এ ভাব ক্ষণিক শুধু সকলেরি যাহা ঘটে সময়ে-সময়ে ; কিন্তু পরে দেখিলাম, এই ভাবে হয়ে মত্ত, বাক্য আহার নিদ্রা সব গেছে ঘুচি। যে ভাব-প্রভাবে তব চিত্ত অভিভূত হেন -হয় যদি প্রকটিত ও-তব আননে, নারিব চিনিতে তােমা ব্রুটাস গাে! সত্য করি’ কহিনু তােমারে। -সখা । প্রাণেশ্বর। করি তেমা অনুনয় দুঃখের কারণ তক কহ প্রকাশিয়া। তাহলে নিশ্চয় আমি
দ্বিতীয় অঙ্ক।
। শরীর অসুস্থ মাের -এইমাত্র, জেনাে প্রিয়ে
অপর নাহিক কোন চিন্তার বিষয়।
পাে। জানি নাথ, বিজ্ঞ তুমি ! যাতে সুস্থ হও পুন
অবশ্য করিবে তুমি তাহার উপায় ।
ব্রু। করিতেছি সে উপায় ; -লক্ষ্মীটি শােওগে তুমি ;
সত্য কি অসুস্থ তুমি ?-তাই যদি হয়,
শিথিল বসন পরি’,
আর্জ প্রভাতের বায়ু
নিঃশ্বাসে গ্রহণ করা—তাই কি ঔষধ ?
সত্য কি অসুস্থ তুমি ? তাহা হলে কখনাে কি
সুখ-শয্যা ছাড়ি মাের, সাহস করিয়া
রজনীর সংক্রামক
অবিশুদ্ধ আর্জ-বায়ু
লাগাইতে গাত্রে তব রােগ-বৃদ্ধি তরে?
গাে না ক্রুটাস, তব এ ব্যাধি মনের ব্যাধি
-কহ মােরে, জানিবারে আমি অধিকারী।
ধরিয়া চরণ তব
কাতরে মিনতি করি,
কহ গাে আমার কাছে সমস্ত প্রকাশি।
এক দিন ছিল মাের রূপের যে প্রতিপত্তি
তারি নামে আমি তােমা করি অনুনয়,
প্রণয়-শপথ যত
পূৰ্বে করেছিলে তুমি,
-অনুনয় করি সেই শপথের নামে,
আর, সে মহা-শপথ যাহার প্রভাবে মােরা
দুই দেহ মিশে গিয়া হইলাম এক,
সেই শপথের নামে কহ তব অর্ধাঙ্গেরে
কেন এ বিষন্নতাব দেখি তব আজি।
৪৮ জুলিয়াস্ সীজার। কহ কে-কে এসেছিল আজি রাতে তব কাছে ? আসিল কয়েক জনতাহা আমি জানি ; —সে সব ভীষণ লােক নৈশ-আঁধারেও যারা নিজ নিজ মুখ সব রেখেছিল ঢাকি। পাের্শিয়া লক্ষ্মীটি তুমি পায়ে পড়িয়ােনা মাের ; পাে। সাধে কি পড়িগাে পায়ে, এখন যে তুমি, নহ সেই সৌম্য-শান্ত সুধীর ব্রুটাস, মাের ; করেছ যে অঙ্গীকার বিবাহের কালে তার বলে পাব আমি আর সব অধিকার -শুধু তব গুপ্তকথা না পাব জানিতে ? মােরা যে একাত্মা দোহে -সে কি তবে আংশিক ? তব সঙ্গে এক সাথে করিব ভােজন, সুখ-শয্যা বিছাইব, মাঝে মাঝে কব কথা, -এই কিগাে একমাত্র মাের অধিকার ? তবে-কি বুঝিব আমি —তব সুখ-নগরীর, উপকণ্ঠে শুধু আমি করিতেছি বাস ? ইচ্ছার অধিক যদি নাহি হয়, তাহা হলে পোশিয়া রক্ষিতা--নহে পত্নী ক্রুটাসের। তুমি ধৰ্ম্ম-পত্নী মাের, এ বিষন্নহৃদয়ের রক্ত-বিন্দু-সম তুমি, ওগাে প্রিয়তমে! পে। • তাহা যদি সত্য হয়, তব গােপনীয় কথা শুনিতে আমি কি নহি পূর্ণ অধিকারী? মানিলাম নারী আমি, কিন্তু সে এমন নারী -ক্রটাস করিল যারে পত্নীত্বে বরণ !
দ্বিতীয় অঙ্ক। •৪৯ মানিলাম নারী আমি, কিন্তু সেই নারী জেনো মহাকুলােবা, পূজ্য কেটোর দুহিতা ! এ-হেন জনক যার, এহেন যাহার পতি সে কি গাে সামান্য এক অবলা রমণী ? খুলে বল’ মাের কাছে গোপন-মন্ত্রণা তৰ, কখনই করিব না আমি ত’ প্রকাশ। মম ধৈৰ্য্যদৃঢ়তার প্রমাণে দিয়ছি আমি উরুদেশ অস্ত্ৰক্ষত করিয়া স্বেচ্ছায় ; ধৈৰ্য্য ধরি, সহিনু তা, --আর আমি পারিব না ধৈর্য্য ধরি’ রাখিতে এ পতির রহস্য ? দেবতা তােমরা সবে । এ-হেন মহত্বপূর্ণ উচ্চমনা স্ত্রীরত্নের যােগ্য কর মােরে। ওই শােননা, ওই শােননা ! কে করে আঘাত দ্বারে, পাের্শয়া যাওগো চলি’ ক্ষণকাল তরে। ক্রমশ সময়ক্রমে ও-তব হৃদয়, বিয়ে মম হৃদি-রহস্যের হবে অংশভাগী ; বলিব বুঝয়ে তােমা যে কাজে প্রবৃত্ত আমি, বিষাদের হেতু কিবা বলিব তাহাও। যাও শীঘ্রহেথা হতে। (পােশিয়ার প্রস্থান।) লুণ্ঠস! কে ঠ্যালে দ্বার ? ( লিগায়িয়াসের সহিত লুসের পুনঃ প্রবেশ।) লু। কোন এক রুগ্নব্যক্তি চাহে আলাপিতে। ৭
জুলিয়াস্ সীজার।
ত্রু। (স্বগত) মেটেলা যার কথা কহিল আমার কাছে
-সে ক্যায়স-লিগারস্ আসিয়াছে বুঝি।
ছেড়া তুই যারে চলি ;
(লুসের প্রস্থান।)
ঐ।
তবে বাপু লিগেরস্।
কি খবর বল, আমি শুনিতে উৎসুক।
লি। ক্ষীণকণ্ঠ-বিনিসৃত
এ মাের অভিবাদন
দয়া করি মহাশয় করহ গ্রহণ!
নির্ভীক কেয়াস্ ! তুমি
আজি বাধাইলে পীড়া ?
-আহা! যদি সুস্থকায় থাকিতে এখন।
লি। ব্রুটা বলেন যদি
করিতে হইবে কোন
মহাকাৰ্য—তবে জেনে বেশ সুস্থ আমি।
সেইরূপ আছে এক
মহৎ ব্যাপার কোন,
কষ্ট যদি নাহি হয়, শােননা মন দিয়া।
লি। রােমকদিগের পূজ্য
আছেন দেবতা যত
তাঁদের শপথ করি কহিতেছি আমি,
-নাই মাের কোন পীড়া ; রােমের প্রাণ যে তুমি,
বীরপুল, মহাবংশ-হ’তে সমুদ্ভুত,
-তুমি মন্ত্র পড়ি’ যেন কোন ক্লিষ্ট প্রেতাত্মারে
এ দেহ হইতে মাের করিলে বাহির।
এবে আজ্ঞা কর মােরে, —এখনি ছুটিয়া যাব,
সাধিব অসাধ্য কাজ, বল’--কি করিব।
হেন কোন কাজ যাহে, অসুস্থ যে সেও সুস্থ হয়।
দ্বিতীয় অঙ্ক।
লিগে। আবার, আছে যে সুস্থ-অসুস্থ কি হইবে না তায় ?
সে কথাও ঠিক বটে ; কি কাজ—বলিব পরে
সমস্তই তােমার নিকটে ;
এখন যেতেছি মােরা তারি কাছে যার তরে
মােদের এই কাৰ্য্য উপস্থিত।
লিগে। চল’ তবে ; নববৎসাহে প্রজ্জ্বলিত করি’ হৃদি
তােমাদের সাথে আমি করিব গমন
-জানিনা কি কাজে ;
ইহাই যথেষ্ট-মােরে
ব্রুটা লইয়া যান ;
ত্রু।
চল তবে সাথে।
( প্রস্থান।
দ্বিতীয় দৃশ্য।
(রােম।-সীজারের প্রাসাদশালা )
সীজার। কি দ্যুলােক, কি ভূলােক-কেহ নহে শান্ত আজি রাতে ;
ক্যালিফর্ণি তিনবার বলি উঠে, স্বপনের মাঝে :-
“রক্ষা কর! সীজারে করিছে হত্যা”—কে আছিস ওরে!
ভৃত্য। আজ্ঞে!,
তুই বলে’ আয় - আজি যেন পুরােহিতগণ
যজ্ঞভূমে দিয়া বলি কহে মােরে ফলাফল তার।'
(ক্যালিফর্ণিয়ার প্রবেশ।).
ক্যালি। কিবা তব অভিপ্রায় ? -বাহির হইবে না কি ?
আজিকে নড়িতে নাহি পাবে গৃহ হতে।
সীজার।
=
৫২ জুলিয়া সীজার । । সীজার। যাইবে সীজার আজি ; অমঙ্গল বিভীষিকা —তাহাদের ছিল দৃষ্টি আমার পশ্চাতে ; সীজারের মুখামুখী যখন হইবে তারা অন্তর্হিত হবে সব মুহূর্তের মাঝে। ক্যালি। সীজার। কখনাে আমি শুভাশুভ সূচনায় করিনি বিশ্বাস, কিন্তু আজি পাই ভয়। প্রত্যক্ষ করেছি মােরা নানাবিধ দৃশ্য আজি ; তাছাড়া, পাহারা-কালে রক্ষী একজন, দেখিয়া ভীষণ দৃশ্য আমারে কহিল আসি -“বিকট সিংহিনী এক প্রসবিল পথে ; ব্যাদান করিয়া মুখ যত সব গােরস্থান বাহির করিয়া দিল মৃতদেহগুলা ; অগ্নিময় বীরগণ বুঝিল মেঘের মাঝে রীতিমত সৈন্য-ব্যুহ করিয়া রচনা ; মন্ত্রসভা গৃহহাপরি হইল শােণিত বৃষ্টি, যুদ্ধ-কোলাহলে নভ উঠিল কাঁপিয়া ; হেষিতে লাগিল অশ্ব ; মৃতকল্প জন সবে রুদ্ধ কণ্ঠে করিতে লাগিল আৰ্তনাদ দানা দৈত্য ভূত প্রেত সুতীব্র চীৎকার করি’ ছুটাছুটি করিতে লাগিল পথময়।” এ-সব সীজার ওগাে । অদৃষ্ট-অশ্রুতপূৰ্ব্ব, সত্যই ইহাতে আমি পাইয়াছি ভয়। লীজা। মহাশক্তি দেবতারা করিল সঙ্কল্প স্বাহা কে করিতে পারে বল তাহার খণ্ডন। ;
দ্বিতীয় অঙ্ক।
ধূমকেতু কভু নাহি
;
যা হ’বার হোক, তবু
সীজার বাহির হবে ;
এ সকল বিভীষিকা আর অলক্ষণ
মাের তরে নহে শুধু, বিশ্বজন-হিতাহিত
উহাতে সূচিত হয় নিৰ্বিশেষ ভাবে।
ক্যালি। ভিক্ষুগণ মরে যবে,
দেখা যায় গগনের মাঝে
কিন্তু যবে মরে রাজা দীপ্ত করি’ উল্কাপিণ্ড
দেবতারাও করেন ঘােষণা।
সীজার। ভীরুর মরণ হয় বহুবার মরণের আগে ;
বীর যে—সে একবার করেমাত্র মৃত্যু আস্বাদন।
যতেক আশ্চৰ্য্য আছে সব চেয়ে অধিক আশ্চর্য
–লােকে করে মৃত্যুভয় ; কেনা জানে এই কথা
-মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী, একদিন ঘটিবে নিশ্চয়।
(ভূতাের পুনঃ প্রবেশ।)
বল মােরে, কি কহিল দৈববেত্তা পুরােহিতগণ ?
ভৃত্য। নড়িতে দিবে না তােমা, প্রভু ওগাে, আজিকে তাহারা;
যপশুটার অন্ত্র
সমস্তই উৎপাটিল যবে
তবুও গেল না দেখা
তাহার সে হৃদয়-প্রদেশ।
সীজার। ভীরু জনে লজ্জা দিতে এইরূপ করেন দেবতা ;
সীজার হইবে এই পশুসম হৃদয়-বিহীন
যদি সে বসিয়া থাকে। গৃহে আজি বিপদের ভয়ে।
সীজার না করিবে তা ; বিপদ সে জানে বিলক্ষণ
-সীজা র বিপদ চেয়ে আরাে বেশি বিপদজনক।
৫৪,
জুলিয়া সীজার।
মােরা দুটি সিংহ-শিশু প্রসূত হয়েছি এই দিনে ;
দোহা মাঝে আমি জ্যেষ্ঠ আরো আমি অধিক ভীষণ।
সীজার অবশ্য আজি হইবে বাহির ;
ক্যালি
হায় নাথ !
এই ঘাের দুঃসাহসে নষ্ট হ’ল সুবুদ্ধি তােমার ;
বাহির হয়ে না আজি ; পাও নাই ভয় তুমি,
বােলাে- আমি পেয়ে ভয় তােমারে রাখিনু আটকিয়া ;
আন্তনিকে পাঠাইব
জ্যেষ্ঠদের মন্ত্রণা-সভায় ;
সে গিয়া বলুক সেথা
—শরীর অসুস্থ তব ;
তােমার চরণ ধরি’ করি এই কাতর-মিনতি।
সী। বলুক আন্তনি তবে -শরীর অসুস্থ আজি মাের ;
রাখিনু তােমারি কথা, আজিকে রহিব আমি গৃহে।
;
(ডিশ্যসের প্রবেশ।)
এই যে ডিশ্য হেথা ; ওই গিয়া দিউক সংবাদ।
ডি। জয় হােক সীজারের। ধুরন্ধর সিজারের জয়!
জ্যেষ্ঠদের সভাগৃহে তােমারে লইতে এনু আমি।
সী। ঠিক সময়েতে তুমি আসিয়াছ বহিতে সন্দেশ ;
বল’ গিয়া তাহাদের -আজিকে যাব না আমি সেথা।
যদি বলি, পারিব না, মিথ্যা হবে মাের এই কথা ;
আরাে মিথ্যা হবে, যদি বলি আমি,-না হয় সাহস।
যাইব না আমি আজি --এই শুধু বলিও ডিশ্য।
ক্যা। বলিও অসুস্থ তিনি।
সী।
সীজার কহিবে মিথ্যা কথা ?
দ্বিতীয় অঙ্ক।
যে সীজার বিস্তারিল রাজ্য তার সমস্ত ধরায়,
বলিতে ডরিবে সে কি সত্য কথা জ্যেষ্ঠদের কাছে ?
বলগে তাদের তুমি —যাইবে না সীজার আজিকে।
ডি। মহা সীজার ওগাে ! বলা চাই একটা কারণ ;
নতুবা হাসিবে তারা যদি বলি শুধু ওই কথা।
সী। ইচ্ছাই কারণ মাের —যাইব না এইমাত্র শুধু ;
জ্যেষ্ঠগণে সন্তোষিতে জানিবে গাে ইহাই যথেষ্ট।
তব সন্তোষের তরে সমস্তই কহিব খুলিয়া
- কেন না তােমার পরে আছে মাের প্রীতি সমধিক
ক্যালিফর্ণিয়া আজি, রাখে মাের আটকিয়া গৃহে ;
স্বপ্নে সে দেখিল রাতে --যেন এক প্রতিমূৰ্ত্তি মাের
উৎসারিছে রক্তধারা শতমুখী ফোয়ারার মত,
আর যত ঝােমবাসী হৃষ্টপুষ্ট সবল-শরীর
-হাসিতে হাসিতে আসি করে তাহে হস্ত প্রক্ষালন।
তাই, দেবী ক্যালিফর্ণি এই সবে অলক্ষণ গণি,
বিপদ-আশঙ্কা করি’, সকাতরে করে অনুনয়,
-যা’তে না বাহির হই, থাকি আজি আপন ভবনে।
ডি। এই স্বপ্নটির ব্যাখ্যা হইয়াছে বিপরীত মত ;
অতি শুভ এই স্বপ্ন, ইথে হয় সৌভাগ্য সূচনা।
এই যে মূরতি তব উৎসারে’ শােণিত শতধারে
—যাহাতে রােমকগণ করিতেছে দেহ প্রক্ষালন,
ইহাতে সূচিত হয় মহাপুরী রােম তােমা হতে
নূতন
জীবন পাবে -নবরক্ত করিয়া শােষণ।
আর, সব প্রধানেরা ব্যগ্র হয়ে আসিবে ছুটিয়া
জুলিয়াস্ সাজার।
লইতে সে রক্ত-চিহ্ন প্রসাদের স্মৃতিচিহ্নরূপে।
দেবী-দৃষ্ট স্বপনের ইহাই প্রকৃত অর্থ জেনো।
সী। বেশ সুনিপুণ ভাবে করিলে ইহার ব্যাখ্যা তুমি।
ডি। বলিলে সংবাদ এক, বুঝিবে,এ ব্যাখ্যা সত্য কি না।
বলি তবে সে সংবাদ -হ’ল স্থির জ্যেষ্ঠ-সভামাঝে
—মহাত্মা সীজারে আজি করা হবে ভূষিত মুকুটে।
বলিয়া পাঠাও যদি তাহাদের,-আসিবে না তুমি,
-বদলাতে পারে মত; তাছাড়া যদি বা কেহ বলে,
“সভাভঙ্গ করা হােক যাবৎ না পত্নী সীজারের
দেখেন সুস্বপ্ন পুন” হবে তাহা অতি হাস্যকর।
লুকান্ সীজার যদি
-কবে নাকি তারা চুপি চুপি
“ওই দেখ, হইয়াছে ভয় আজি সীজারের প্রাণে”।
মার্জনা করিবে মােরে, কহিলাম এই সব কথা
তােমা ভালবাসি বলে’ ;—যুক্তি নত ভালবাসা-কাছে।
সী। কি অলীক ভয় তব দেখ দিকি ক্যালিফর্ণি এবে।
একটু টলিনু আমি—ইহাতেই লজ্জা হয় মাের।
দাও মাের উত্তরীয়, এখনি যাইব আমি সেথা।
(পুরিয়া, ব্রুটা, লিগেরিয়া, মেটেল, ক্যাস্থা, তিৰােনিয়াস,
ও সিনার প্রবেশ।)
ওই দেখ, প্ল রিয়াস আসিয়াছে লইতে আমারে।
প্ন। মীজার! কুশল তৰ?
সী।
এসসা গাে প্লজিয়াস হেথায়।
একি ! ব্রুটাস তুমিও উঠিয়াছ এত প্রাতঃকালে ?
ফাস্কা, কুশল তব ? কেইয়া-লিগেরিয়াস্ ওহে !
t,
দ্বিতীয় অঙ্ক।
৫৭
যে জ্বরে বিশীর্ণ তুমি -সে যেমন তব শক্ত ঘাের,
সীজারো নহেক তত ;
ঘড়িতে সময় কত এবে ?
। সীজার। বাজিল আট ;
সীজার। •
এ শ্রম সৌজন্ত তরে
ধন্যবাদ করি তোমা ; ওই দেখ আসিছে অস্তনি।
( আস্তনির প্রবেশ)
আমােদে যে যাপে রাতি সেও আজি উঠিল সকালে ;
আন্তনি আছ ত ভাল?
আন্তনি।
সীজারেরে জিজ্ঞাসি কুশল।
মীজার। যাত্রার উদ্যোগ কর; দোষী আমি এ বিলম্ব-তরে ;
এই যে গো সিনা তুমি! -এই যে মেটেলাস!—টি বােন্যস!
তব সাথে হবে কথা আজি ঘণ্টাখানেক ধরিয়া ;
মনে যেন থাকে, তব
আসিতে হইবে মম গৃহে।
থেকে মাের কাছাকাছি—রবে মাের তাহলে স্মরণে।
টিবাে। সীজার! রহিব কাছে ; (স্বগত) রহিব এতটা কাছাকাছি
করিবে তারাও মনে মনে
-হয় ভাল, থাকি যদি আরেকটু তােমা হতে দূরে।
সীজার। এসাে এসাে বন্ধুগণ! পিও কিছু সুরা মাের সাথে;
তারপর, যাব মােরা এক সঙ্গে বন্ধুজন সম।
। (স্বগত) দেখিবারে সম যাহ, নহে তাহা সমান আসলে
এই কথা ভাবি যবে বিদীর্ণ হয় মাের হিয়া।
( প্রস্থান।)
খুব বন্ধু যারা তব
৫৮ জুলিয়াস সীজার। তৃতীয় দৃশ্য। (রােম ; সভাগৃহের নিকটস্থ রাজপথ।) ( একখানি পত্র পাঠ করিতে করিতে আবৃটিমিভােরাসের প্রবেশ।) ; ; ; আটি। (পাঠ) সীজার টাস-সম্বন্ধে সতর্ক হইবে; ক্যাশ্য-সম্বন্ধে সাবধান হইবে; ক্যাস্কার নিকটে আসিবে না; সিনার উপর নজর রাখিবে; টি বােনিয়াসকে বিশ্বাস করিবে না; ডিশ্যস- ব্রুটাস তােমাকে ভালবাসে না; কেয়াস্ লিগােরিকাসের তুমি অনিষ্ট করিয়াছ। এতগুলি লােক—কিন্তু তাদের সবারই যেন এক মন এক প্রাণ-আর সেই মনপ্রাণ তােমারই প্রতিকূলে নিয়ােজিত। যদি তুমি আপনাকে অমর জ্ঞান না কর, তাহা হইলে সতর্ক থাকিবে। বিশ্বস্ত- তাই ষড়যন্ত্রের অবসরকাল। সর্বশক্তিমান দেবতারা তোমাকে রক্ষা করুন। -তােমার ভক্ত আর্টিমিডােরা। দাড়াই হেথায় ; যবে সীজার যাবেন এই পথে, দিব তারে এই পত্র প্রার্থীজন-আবেদনচ্ছলে। যখন ভাবিয়া দেখি -এড়াইতে নারে সাধুজন ঈর্ষার দংশন কভু কাদি উঠে এ মাের পরাণ। পড় যদি এই পত্র প্রাণ তব বঁচিবে সীজার । মিলিয়াছে চক্রিগণ-সাথে। ( প্রস্থান।) নতুবা বুঝিব, দৈব }
দ্বিতীয় অঙ্ক।
৫৯
চতুর্থ দৃশ্য।
নােম। ব্রুটাসের গৃহের সম্মুখে—রাজপথের অপরাংশ।)
পাের্শয়া ও লুসের প্রবেশ।)
পাে। যারে বাছা যারে তুই শীঘ্র যারে জ্যেষ্ঠসভা-গৃহে ;
চাহি না উত্তর তাের, যারে তুই এখনি চলিয়া।
এখনাে দাঁড়ায়ে কেন ?
কি কাজ বল গাে ঠাকুরাণি
পাে। কি কাজ-বলিতে ইহা লাগিবেরে যতটা সময়
তার আগে তুই যেরে সেথা গিয়া আসিবি ফিরিয়া।
গুরেরে হৃদয়। তুই দৃঢ় হয়ে থাক্ মাের সাথে ;
রসনা-হৃদয় মাঝে পড়ক পৰ্বত ব্যবধান।
ধরি বুদ্ধি পুরুষের কিন্তু আমি অবলা রমণী
কি কঠিন রমণীর গুপ্ত রাখা রহস্যমন্ত্রণা।
এখনাে দাঁড়ায়ে হেথা ? কি করিতে হবে ঠাকুরাণ?
ছুটে যাব সভাগৃহে -এইশুধু, আর কিছু নয়?
পে। দেখিয়া আয় রে তুই কেমন আছেন তাের প্রভু।
গেছেন অসুস্থ হয়ে ;
দেখিবিরে বিশেষ করিয়া
-কি কুরে সীজার ওবে, প্রার্থী কে-কে হয় অগ্রর।
বাছা ওরে শােন তুই! -ও কিসের শব্দ হয় হােথা ?
লু। আমিতে শুনিনি কিছু
পাে।
ওরে বাছা, শােন ভাল করি;
দাঙ্গা-হাঙ্গামার-মত নিলাম যেন কোলাহল,
আর সেই শব্দ আসে জ্যেষ্ঠদের সভাগৃহ হতে।
।
৬০
জুলিয়াস্ সাজার।
(আউখিডােরাসের প্রবেশ।)
আটি।
লু। শুনি নাই ঠাকুরাণি।
পাে।
ওরে তুই আম এই দিকে
কোথা গিয়াছিলি তুই ?
নিজ গৃহে ওগাে ঠাকুরাণি।
পাে। ঘড়িতে বাজিল কটা?
আটি।
ঠাকুরাণি, বাজে ন’টা একে
পে গেছেন সীজার কিয়ে এতক্ষণে সভাগৃহ পানে ?
আটি। এখনাে যা নি তিনি; আমি গিয়া দাড়াব সেথায়
--যখন যাকেন তিনি সভাগৃহে সেই পথ দিয়া।
পাে। নাহি কিরে তাের কোন আবেদন সীজারের কাছে ?
আটি। আছে এক ঠাকুরাণি ; দয়া করি’ শুনিলে সীজার
মিনতি করিব তারে আত্মরক্ষা-উপায় চিন্তিতে।
পে। জানিস্ কি তবে তুই -কেহ তার করিবেক হানি ?
আ#। জানিনা কিছুই আমি, তবে হয় বড়ই আশঙ্কা।
কল্যাণ হউক তব ;
বড় সরু পথ এইখানে;
চলিবে যে-সব লােক সীজারের পিছনে পিছনে
জ্যেষ্ঠবর্গ, বিচারক সাধারণ প্রার্থীর দল
মারা যাবে তাহাদের চাপে
দাড়াইগে আমি তবে একটুকু ফাঁকা জায়গায় ;
কহিব সীজারে, যবে যাইবেন সেই পথ দিয়া।
{ প্রস্থান)
।
মা-হেন ক্ষীণজীবি
দ্বিতীয় অঙ্ক।
পে। ঘরের ভিতরে যাই;
কি বিষম দুৰ্বল হায়
রমণী-হৃদয়! নাথ,
দেবতারা যেন সবে মিলি
সফল করেন শীঘ্র তােমার সে মহাব্ৰত আজি!
-বুঝিবা লুস্ ছোড়া শুনিল আমার এই কথা-
ব্রুটাসের আবেদন গ্রাহ নাহি করিবে সীজার।
যারে শীঘ্র লুসিয়াস। ভাল আছি ৰলগে প্রভুরে,
-বলিস্ প্রফুল্ল আমি ;
উত্তরে কি বলেন ঐটা
জানিয়া সত্বর তুই আশিবিরে এখানে ফিরিয়া ।
( সকলের প্রস্থান)
ইতি দ্বিতীয় অঙ্ক।
জুলিয়া সীজার।
তৃতীয়
অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য-য়ােম-সভাগৃহ; জ্যেষ্ঠবৰ্গ আসীন।
;
সভাগৃহাতিমুখী রাজপথে লোকের জনতা; তাহার মধ্যে আর্টিমিডােরাস
ও বৈজ্ঞ : বাদ্যোদ্যম ; সীজার, টাস, ক্যাস্কা, ডিশ্যস, মেটেলাম, টি বােদ
নিরাস, সিনা, আন্তনি, লিপিলাস, পপিলাস, বিয়াস প্রভৃতির প্রবেশ।
আর্টি।
সীজার। আসিয়াছে মার্চের পঞ্চদশ দিন।
দৈবজ্ঞ। এসেছে, সীজার বটে—হয়নি অতীত।
আটি। জয় হাে সীজারের!-পড় এই লিপি।
ডিশ্যস। টিবােনিয়াসের এই আবেদনপত্র
পােড় অবসরে—তার বিনীত প্রার্থনা।
সর্বাগ্রে সীজার ওগো ! পড় পত্র মাের ;
আছে কথা ইথে তব নিজের সম্বন্ধে,
মহান সীজার! তুমি কর ইহা পাঠ।
সীজার। মােদের সম্বন্ধে যাহা -দেখিব তা সকলের শেষে।
আটি। সীজার পড় গাে ইহা করিও না তিলার্ধ বিলম্ব।
সীজার। এলােকটা ক্ষিপ্ত না কি ?
বিয়াস।
যা বেটা, সরে’ যা হেথা হতে
ক্যাশ্য। রাজপথে করেকি প্রার্থনা কেহ ?'—চল সভা-গৃহে।
লােকজনের সহিত ভাগৃহে
সীজারের প্রবেশ।
জ্যেষ্ঠগণের আসন হইতে উথান।)
পপিল্য। মহান্ উদ্যম তব হােক সিদ্ধ—করি এ কামনা।
=
পপি।
ফ্যাশ্য। কিসের উদ্যম ওগো পপিল্যস ?
হই বিদায়।
( সীজারের নিকট অগ্রসর)
। কি কহিল পপিলস্?
ক্যাম্।
কার্যসিদ্ধি করিল কামনা।
প্রকাশ হইয়া গেছে বুঝিবা মন্ত্রণা আমাদের।
দেখ দেখ, কিভাবে ও যাইতেছে সীজার-সমীপে;
-দেখ বেশ লক্ষ্য করি।
ক্যাস।
ফাস্কা, শীঘ্ন কাৰ্য কর শেষ।
বুঝিবা ঘটয়ে বাধা ; ব্রুটাস! কি করি বল’ এবে।
প্রকাশ হইয়া থাকে যদি এই মন্ত্রণা মােদের,
ক্যাস সীজার কিংবা ফিরিবে কোন-একজন ;
মরিব আপন-হাতে।
হয়ো না কাশ্যস বিচলিত;
কহিছে না পপিন্সস মােদের সে মন্ত্রণার কথা ;
সীজারের হাসিমুখ -নাছি কোন ক্রোধের লক্ষণ।
কাশ্যস। টি বােস জানে বেশ -কখন্ সে কাজের সময়।
দেখ তুমি লক্ষ্য করি
-মানিকে আনিছে সরায়ে।
( আন্তনি ও বিবাসের প্রস্থান।)
(সীজার ও জ্যেষ্ঠণের সমগ্ৰহণ।)
ভিশ্যস। কোথায় সে মেটেলাস ? এখনি সে গিয়া
দি’ আবেদন তার সীজার-সমীপে।
আছে সে প্রস্তুত ; তুমি কর গিয়া পক্ষ-সমান।
সিনা। দেখ ক্যাস্কা তুমি-ই উঠাবে হাত সৰ্বপ্ৰথমে।
জুলিয়াস্ সীজার। -এই সবে হয় শুধু ক্যাঙ্কা। ভাল করি দেখ ভেবে -আছিত প্রস্তুত সবে মােরা? সীজার। সীজার, ও তার এই জ্যেষ্ঠ পরিষৎ আজি, বল’-কোন্ অন্যায়ের করিবে বিচার ? মেটেলাস-সিম্বার। প্রবল-প্রতাপ ওই সীজারের আঁচরণে সিম্বার করিছে এই বিনীত প্রার্থনা (জানু পাতিয়া উপবেশন।) সীজার। ওরূপ করিতে আমি সিম্বার নিষেধি তােমা ; মধুর-বচন, আর চরণ-লেহন মূঢ়জন বিচলিত, সীজার নহেক জেনাে সে-ধাতুর লােক। অতিনীচ ক্ষুদ্র যারা -ওই সবে হয়ে প্রীত অন্যথা করিতে পারে পূর্বের আদেশ। এইরূপে টলাইবে দীজারের মন তুমি ? -ভ্রাতা তব নির্বাসিত উচিত বিচারে। তার তরে তুমি যদি কাকুতি-মিনতি কর —দূর করি দিব তােমা কুকুরের মত। জানিবে, সীজার কাছে। করে অন্যায়, কিম্বা দণ্ড-হতে বিনা-হেতু না দেয় নিষ্কৃতি। মেটে। মাহি কি হেথায় কেহ —আমা-চেয়ে মিষ্টভাষে রহিত করাতে পারে এই নির্বাসন ? । সীজার! এ-হস্ত তব করি আমি চুম্বন -কিন্তু না চুম্বন করি তােষামােদ-তরে। এই আকিঞ্চন মাের -প্লব্যসসিম্বারে তুমি নির্বাসন-হতে শীঘ্র দেও অব্যাহতি।
তৃতীয় অঙ্ক। ৬৫ ; সীজার। সীজার। কহিছ ঐটাস তুমি ? ক্যাশস। সীজার। মার্জনা কর, মার্জনা করহ তুমি ব্যস-সিম্বারে ; খে, ক্যাশিয়াস পড়ে তােমার চরণতলে। হইতাম আমি যদি তােমাদের মত, পারিতে টলাতে মােরে ; হতে যদি পারিতাম কৃপাপ্রার্থী অপরের, তা হলে নিশ্চয়, প্রার্থনাও অপরের পারিত টলাতে মােরে ; কিন্তু জেনাে, নহি আমি অপরের মত। আমি স্থির অবিচল ওই ধ্রুবতারা-সম -স্থৈর্য গুণে অতুল যে গগন মণ্ডলে। শােভিছে আকাশে বটে অসংখ্য নক্ষত্র-রাজি সকলেই জ্যোতির্ময়—সবাই উজ্জ্বল, কিন্তু তাহার মাঝে -যে রহে অচল স্থির আপন আসনে। সেইরূপ ধরাতেও আছয়ে অসংখ্য জন -রক্ত-মাংস-বুদ্ধি-বলে যাহারা সমান ; কিন্তু তাহার মাঝে আছে জানি একজন যে শুধু অটলভাবে আছে প্রতিষ্ঠিত। সে নহে অপর কেহ সে-আমি সীজার ; আর, এ কাজেও তার কিছু দিব নিদর্শন। ছিলাম অটল আমি দিলাম আদেশ যৰে -“এখনি সে সিম্বার হউক নির্বাসিত ; আছয়ে একটি ७ ১
জুলিয়া সীজার।
অটল এখনো আছি সেই সে আদেশে মাের,
সিম্বার সে নির্বাসিত রহিবে এখনাে।
সিনা। শােনন গো সীজার-বলি-
সীজার।
যাও!-ও হেথাহুতে!
তুমি কি উঠাতে চাও অলিম্পগিরি ?
ডিশষ। মহান সীজার ওগাে!
সীজার।
দেখিছ না-বুরুটাও
পদতলে পড়ি’ করে বৃথা অনুনয় ?
ক্যাস্কা। হন্তু সবে এইবার
বলুক আমার হয়ে
(ক্যাস্কা সাজারের গ্রীবাদেশে অস্ত্রাঘাত করায়, সীজার
তাহার বাহুধাৰণ ; তাহার পর সীজারের প্রতি অন্য
ষড়যন্ত্রদিগের অস্ত্রাঘাত-সর্বশেষে ঐটাসের )
সীজার। ব্রুটাস! তুমিও?—তবে, যায় যাক প্রাণ।
(মৃত্যু-জ্যেষ্ঠবর্গ ও লােকজন হতবুদ্ধি হইয়া পলায়ন।)
সিনা। জয়! জয় ! বল সবে,
-অত্যাচারী হইল নিপাত,
দাসত্ব ঘুচিম্বা গেল, স্বাধীন হইনু সবে আজি।
যাও ছুটি',ঘােষাে ইহা
উচ্চকণ্ঠে রাজপথময়।
ক্যাস। কেহ কেহ যাও চলি বক্তার বক্তৃতা-বেদি-পরে।
। জ্যেষ্ঠবর্গ!—পৌরজন। ভয় নাই, ভয় নাই কোন ;
স্থির হও, পলায়ে না । -দৌরাত্ম্যের হ’ল প্রতিশােধ।
ক্যাস্কা। ব্রুটাস! যাও গাে তুমি বক্তা-রেদির নিকটে।
ডিশ্যস। ক্যাশা যাউক সেও।
কোথায় সে প্ল বিয়াস এৰে ?
তৃতীয় অঙ্ক।
৬৭
সিনা। -আছে হেথা ; এ বিদ্রোহে গিয়াছে সে হতবুদ্ধি হয়ে।
মেটে। দলবদ্ধ হয়ে সবে একসঙ্গে থাক কাছাকাছি।
না হে না—কিসের ভয়? প্লব্যস! নিশ্চিন্ত হও তুমি।
কেহ না তুলিবে হাত তােমা-পরে, কিম্বা অন্য কোন
পৌরজন-পরে ;-তুমি
বুঝাইয়া বল তাহাদের।
ক্যাশ্যস। যাও চলি হেথা-হতে; কি জানি যদি বা কোন দল
আমাদের প্রতি করে আক্রমণ, আর যদি তাহে
হানি কিছু হয় তব
এই ঘাের বার্ধক্যের কালে।
ক্র। সেই ভাল ; যারা এই কাজে লিপ্ত—আমরা ব্যতীত
আর কেহ নাহি হয় যেন এই বিপদের ভাগী।
( টি বােনিয়াসের পুনঃপ্রবেশ।
ক্যাশস। কোথায় আনি একে? —তাহারেত নাহি দেখি হেথা।
টি। পলাইয়া গিয়াছে সে নিজগৃহে হতবুদ্ধি হয়ে।
স্ত্রী পুরুষ শিশু সব একদৃষ্টে রহে তাকাইয়া,
কভু বা চীৎকার করে, কভু পথে করে ছুটাছুটি,
প্রলয়ের কাল যেন হইয়াছে একে উপস্থিত।
। কহ শুনি হে বিধাত এবে তব কিরূপ বিধান;
# মরিব তা জানি মােরা, কিন্তু কে আসিবে সে দিন
তারি তরে যত চিন্তা সকার থাকিতে জীবন।
ক্যাস্কা। লয় যে হরণ করি
জীবনের বিশ বর্ষ কাল,
করমে হরণ সে-ত
মৃত্যু-ভয় তত-বরষের।
তা’ যদি স্বীকার কর তবে-ত সে মৃত্যু হিতকা
মােরা যে কয়ে দেছি সীজারের মৃত্যুভয়-কাল)
জুলিয়াস্ সাজার। , । মাের-ত তা হলে তার হিতৈষী পরম সুহৃৎ। নতকায় হও সবে পুরবাসী রােমক তােমরা। নতকায় হয়ে সবে এস মাের করি প্রক্ষালন মমাদের সমস্ত হত তপ্ত এই সীজার-শােণিতে ; সিক্ত করি’ অসি তাহে এস মাের। যাই সবে চলি’ বণিক-চত্বর-মাঝে ; আর সেই রক্ত-অসি ঘুরাইয়া মমাদের মস্তকোপরি উচ্চকণ্ঠে এস সকে বলি :- “হ’ল শান্তি, হ’ল মুক্তি জয় জয়। স্বাধীনতা জয়!” ক্যাশস। রক্তে তবে ধােও হাত ; কত-কত ভবিষ্যৎ যুগে, কত নব-নব রাজ্যে, কত-কত অজ্ঞাত ভাষায়, মােদের এ নাট্যরঙ্গ অভিনীত হবে পুনর্বার। ত্রু। সীজারের দেহ হতে -শুধু রঙ্গ-অভিনয়চ্ছলে কত-কত বার আরো জানি হইবে রক্তপাত.; সেই দেহ সীজারের পড়িয়া রয়েছে এবে পম্পে-প্রতিমূৰ্ত্তি-তলে অতি তুচ্ছ ধূলির-সমান। ক্যাশস। হবে তার রক্তপাথ যতবার বলিবে লোকেরা আমরা কয়েক জন স্বাধীনতা আনিলাম রােমে ভিশ্যস। সেথা কি চলিব তবে? কাশ্যস। হাঁ, , চ তােমরা সবাই, ব্রুটাস হবেন নেতা ; আর, যাবে তাঁর পিছে পিছে অলঙ্কত করি’ পথ ষত বীর-পুরুষ রােমের। জ। চুপ! কে আসে হেথায় ? (একজন ভৃত্যের প্রবেশ। এষে দেখি ভৃত্য আত্মনির।
তৃতীয় অঙ্ক। ভৃত্য। আদেশিলা প্রভু মােরে :- সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করি’ —ব্রুটাস উদার-চেতা, ভালবাসি ব্রুটাসেরে, সীজারের প্রতি মাের যদি অনুগ্ৰহ কৰি বলেন বুঝায়ে মােরে তাহা হলে আন্তনি কভু না বাসিবে ভাল তাহলে সে ঐটাসেরি তার এ অপরীক্ষিত থাকিবে তাহার সাথে —এইরূপ প্রভু মাের । জানি আমি প্রভু তব কভু তারে ভাবি নাই কহিবে তাহাকে তুমি বুঝাইয়া দিব তঁারে ; —হইবে না কোন হানি, ভৃত্য। এখনি যাইয়া আমি “এইরূপ"ব্রুটাসের পদে বলিবিরে এই কথাগুলি ;” বীৰ্য্যবান, সুবিজ্ঞ, সজ্জন ; যথোচিত করি শ্রদ্ধা ঠারে ; ছিল ভয়, শ্রদ্ধা, ভালবাসা। টোস আসিতে দেন কাছে, —কোন দোষে সীজার নিহত জীবন্ত এ ক্রুটাসের চেম্বে গতপ্রাণ সেই-সে সীজারে ; হইয়া সম্পূর্ণ অনুগত নবরাজ্যে, বিপদে আপদে, বিশ্বস্ত অনুচর সম। আদেশিলা কহিতে তােমায়। অতি বিজ্ঞ সাহসী রােমক ; তিলমাত্র নূন তাহা চেয়ে ; আসিবারে হেথায় নির্ভয়ে আর, করি এই বাক্য দান ফিরিবেন অক্ষতশরীরে। সঙ্গে করি’ আনিব তাঁহায়। (আশুনির পুনঃ প্রবেশ।) এসাে গাে আন্তনি এসো। আন্তনি। তুমি সেই মহান সীজার, অছি শুয়ে নিম্নভূমে? -সঙ্কীর্ণ ক্ষুদ্র এই স্থান?
৭০। জুলিয়াস্ সীজার। ০ . বিদায় বিদায় সথা ! কিবা তব অভি প্রায় ; অপরাধী আর কে ; এই ঠিক শুভক্ষণে, আমারে করহ হত্যা যে অসি করিল পান এবে ওই হস্ত যাহা -ওই হস্তে কর পূর্ণ সহস্র বৎসরো যদি এ হেন মুহূর্ত শুভ মরণের হেন স্থান, গণিব সৌভাগ্য বলি- আর, যত ফুগ-নেতা ত্রু। হে আন্তনি! করিও না মােদের এ কাৰ্য হেরি সহসা ভাবিতে পার কিন্তু না দেখিতে পাও —সে হৃদি দয়া অতি ; সমস্ত দেশের দুঃখ (অনলে অনল যথা ধারহীন অকর্মণ্য ধরে মােদের বাহু ছাবে, বন্ধুভাবে, করিতে তােমা নাহি জানি মহাশয়গণ -আর কার হবে রক্তপাত, আমি যদি হই সেই জন, সীজারের শুভমৃত্যুকালে, ভাগ্যবান ওই অসি দিয়া সর্বোত্তম রক্ত ধরা-মাঝে। সদ্যতরক্তে রক্তময় তােমাদের মনের বাসনা। বাঁচি আমি, তবু না পাইব -শুভদিন মরিবার তরে। হেন মৃত্যু-সাধন-উপায় যদি মরি সীজারের পাশে, বাছা-বাছা মহাত্মার হাতে। মৃত্যু-ইচ্ছা মােদেরনিকটে; —হেরি এই রক্তমাখা হাত, মাে-সৰারে ঘাতক নিষ্ঠুর; তুমি এই হৃদয় মােদের ; এ কাৰ্য করেছি মােরা অত্যাচারে হইয়া কাতর ; -দয়াতেই দয়া হয় দূর) এই অসি তােমার সম্বন্ধে । প্রতিহিত্য-বিদ্বেষের কল ; অনুরাগ-শ্রদ্ধাসহকারে প্রস্তুত, এম মােদের ", তৃতীয় অঙ্ক। ৭১ } ক্যা। উপাধি-মান-সন্ত্রম তৰ মতামত হবে এবে শুধু ধৈৰ্য্য ধরি’ যাব না পারি মাের —আতঙ্কে বিহ্বল যারা ; কহিব, কি হেতু আমি -সেই আমি—ছিল যার না। তব বিবেচনা-পরে দেও এবে তােমাদের প্রথমে ব্রুটাস, আমি ভারপর ক্যাশিয়াস ; এইবার মেটেলাস সাহসী ক্যাস্কা তুমি । শেষ, কিন্তু নহ লেশ সবাই সম্রান্ত অতি- আর কি আছয়ে মাের এখন তােমরা কভু —হয় ভীরু, নয় নীচ সীজার! সত্যই আমি তােমার প্রেতাত্মা যদি -তব শবপার্শে আমি লইতেছি নিজহাতে পাবে না কি তুমি তাহে যতগুলি অক্ষত পদমর্যাদার বিতরণে অন্য-সম সমান প্রবল। থাকো তুমি ক্ষণকাল-তরে, প্রশমিতে এ মহা-জনতা তার পর তােমার নিকটে ফরিলাম এ কাৰ্য ভীষণ, ভালবাসা বধিবারাে কালে। নাহি মাের তিলেক সংশয় ; প্রত্যেকের রক্তমাখা হাত ; তব হস্ত করিব গ্রহণ ; এইবার ডিল তােমার ; —সিনা তব; এইবার এসাে টি বােনস সকলের শেষ কম প্রিয় অন্য-সব চেয়ে ; কিন্তু হায়! কি কহিব আমি? প্রতিপত্তি তােমাদের কাছে ? ভালভাবে না দেখিবে মােরে ; তােষামােদী বলিবে আমায়। তােমারে যে বাসিতাম ভাল ; আসি’ এৰে করে দরশন, মিত্রভাবে-শান্তি-সুখ-কামে, রক্তমাখা শত্রুদের হাত, মৃত্যু-চেয়ে অধিক বানা? রহিয়াছে ও-তব শীরে .
१२ জুলিয়াস সীজার। ততগুলি আঁখি যদি থাকিত আমার, আর যদি তাহা হতে অশ্রুধারা ক্ষত-ত-রক্তধারা-সম বহিয়া যাইত বেগে, হত তবে মাের যােগ্য কাজ ; -এ মৈত্রীবন্ধন চেয়ে সুশােভন হ’ত সমধিক। মার্জনা করিবে সখা ! রুধিয়া দাঁড়ালে হেথা আত্মরক্ষি-মৃগ-সম ; হেথায় পড়িয়া গেলে ভূমে ; আর হেথা এই সব ব্যাধগণ আছে দাড়াইয়া রঞ্জিত হইয়া ওই শিকারের লােহিত শশাণিতে। জগৎ! তুমিই ছিলে এ হেন মৃগের বনভূমি ; আর ও-হৃদয় ছিল সমস্ত জগতের হৃদি হেথা তুমি মৃগসম শতনৃপতির অস্ত্রাঘাতে নিহত হইয়া আহ : আছ শুয়ে অতি দীনভাবে। কাশ্যস। শােনাে বলি আন্তনি। আন্তনি। মার্জনা করিবে তুমি মােরে ; সীজারের শত্রু যারা তারাও বলিবে এইরূপ ; একথা বন্ধুর মুখে একটুও নহেক অধিক ; বরঞ্চ নাহিক ইথে জ্বালাময় যথেষ্ট আবেগ। ক্যাশ্যস। এইরূপ স্তুতিবাদ করিছ যে তুমি সীজারের দূষি না তােমায় আমি ; কেবল জিজ্ঞাসি এই কথা -কি ভাবে মিলিতে চাও তুমি এবে মােদের সহিত ? চাহ কি গণিত হতে আমাদের বন্ধুগণ-মাঝে, কিম্বা মাের যাব চলি তােমা-পরে না করি নির্ভর ? আন্তনিও আমি-ত লইয়াছি বন্ধু ভাবে হস্ত তােমাদের ; কিন্তু দেখিলাম যবে সম্মুখে এ সীজারের দেহ ;
৭৩
-হইলাম বিচলিত, বন্ধু মাের সবাই তােমরা,
ভালবাসি সবারেই ; শুধু আছি এই আশা-ভরে,
বলিবে তােমরা মােরে –কি হেতু কিসের লাগিয়া
ভয়ানক লােক বলি ঠাহরিলে তােমরা সীজারে।
। তা যদি না ভাবিতাম নিষ্ঠুর হইত এই কাজ।
কিন্তু আছে আমাদের হেন ন্যায্য সুসঙ্গত হেতু,
পুত্র-ও হইতে যদি
সীজারের তুমি গাে আন্তনি,
শুনিয়া মােদের কথা ন্যায্য বলি’ করিতে স্বীকার।
আন্তনি। তাই শুধু চাই আমি; আর, আমি করি এ প্রার্থনা,
যেন এই মৃতদেহ
নীত হয় বণিক: চত্ত্বরে,
তথায় বলিব কিছু বন্ধুভাবে অন্ত্যেষ্টির কালে।
ত্রু। অবশ্য হইবে তাহা যাহা তুমি করিছ প্রার্থনা।
ক্যাশ্যস। ক্রুটাস! শােনােগে বলি-
(চুপি চুপি ব্রুটাসের প্রতি)
-বুঝিছ না কি-করিছ তুমি!
আন্তনি কহিবে কথা দিওনা তােমার মত তাহে;
ক্রটা, জাননা তুমি কতটা হইবে বিচলিত
জনসাধারণ সবে
আন্তনির শুনিয়া বক্ততা।
ও কথা কি বলিতেছ- অমিই উঠিয়া বেদি-পরে
বলিব প্রথমে, কেন বধিলাম সীজারে আমরা।
আন্তনি বলিবে যাহা —করিব তাহার প্রতিবাদ ;
মােদেরি সত্ৰতি লয়ে বলিতে সে পারিবে সেথায় ;
অন্ত্যেষ্টির অনুষ্ঠান সমস্তই হবে বিধিমতে ;
এই কাজে লাভ বই কোন ক্ষতি নাহি আমায়।
৭৪
জুলিয়াস সীজার।
।
ক্যাশা। চুপি চুপি ঐটাসের প্রতি।)
কি জানি কি ঘটে তায় মাের কিন্তু লাগিছে না ভাল।
। আন্তনি যাওঁগাে লয়ে সীজারের এই মৃতদেহ।
অন্ত্যেষ্টির বক্তৃতায় মােদের দৃষিতে নাহি পাবে,
যত ইচ্ছা, সীজারের গুণ শুধু করিবে কীৰ্ত্তন ;
বলিবে-কহিছ কথা আমাদেরি অনুমতিক্রমে
নতুবা এ অন্ত্যেষ্টিতে
কোন হাত থাকিবে না তব।
যে বেদিতে উঠি আমি প্রথমে করিব সম্ভাষণ,
তুমিও সেথায় গিয়া কহিবে, আমার হলে শেষ।
আতনি। আচ্ছা তাই হবে; আমি নাহি চাই ইহার অধিক।
। যাই মাের; তুমি এসাে শব লয়ে মােদের পশ্চাতে।
(আন্তনি ব্যতীত আর সকলের প্রস্থান।)
আন্তনি। হা! সীজার! তুমি এবে শােণিতাক্ত মৃৎপিণ্ড সম।
ক্ষম’ সখা --করিতেছি এই সব কশায়ের সাথে
হেন নম্র ব্যবহার ;
অতীত মহাত্মাগণ-মাঝে
সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলে তুমি ।
ধিক্ ! সেই হস্ত কলঙ্কিত
যে করিল এ অমূল্য দুর্লভ দেহের রক্তপাত।
তব অক্ষতগুলি খুলিয়া রক্তিম ওষ্ঠ নিজ
অনুনয় করে মােরে নিৰ্বাক্ নীরব ভাষায়
যেন এ রসনা মাের মর্মব্যথা কহে তাহাদের।
এই শােন শাে তবে করি আমি ভবিষ্যদ্বাণী ;
-দেবতার অভিশাপ পড়িবে সে চলিপরে
সমস্ত ইতালি দেশে গৃহযুদ্ধ বাধিবে বিষম ;
রক্তারক্তি হত্যাকাণ্ডে, আর সব ভীষণ ব্যাপারে,
তৃতীয় অঙ্ক। ৭৫ দেশের সমস্ত লােক -জননীরা হাসিমুখে অস্ত্রাঘাতে ছিন্নভিন্ন দয়ামায়া যাবে সব সীজারের প্রেত-আত্মা যমদূত সঙ্গে করি দাড়ায়ে সীমান্তদেশে -“হােক সব ছারখার যুদ্ধের পিশাচ যত ; আচ্ছন্ন হইয়া যাবে । পুতিগন্ধ বাহিরিয়া শৰগুলা করিবেক অভ্যস্ত হইবে এমনি দেখিবে কোলের শিশু নিদারুণ ভীষণ সংগ্রামে ; —নৃশংসতা হবে প্রচলিত। -উন্মত্ত প্রতিশােধ লাগি সদ্য আসি’ যমপুরী-হতে, রাজকণ্ঠে দিবেন আদেশ; এই বলি’ দিবেন ছাড়িয়া অমনি হত্যাকাণ্ডে ধরা রাশি রাশি মৃতদেহ-হতে পরিব্যাপ্ত হইবে আকাশে। আৰ্তনাদ কবরের তরে। (একজন ভূতের এবেশ । অটোভ্যাস সীজারের ভৃত্য বুঝি তুই? তাই বটে। আশুনি। সীজার লিখিল পত্র তাহারে অাসিতে রােমপুরে। ভৃত্য। পাইয়া সে পত্র তিনি আসিছেন সত্বর হেথায় ; আর তিনি বলিলেন —এই কথা তােমারে জানাতে। (সীজারের মৃতদেহ দর্শন করিয়া।) হ! সীজার। আন্তনি। দেখিতেছি বক্ষ তাের উঠিয়ে একটু বিলে গিয়া প্রাণ খুলি’ কৰু অশ্রুপাত
৭৬
জুলিয়া সীজার।
শােকাবেগ সংক্রামক ; তব নেত্রে অশ্রুবিন্দু হেরি
ভরিয়া উঠেছে জলে মােয়রা এই নয়ন-যুগল।
আসিছেন প্রভু তব ?
আজি রাতে থাকিবেন তিনি
কোনাে স্থানে-রােম-হতে দশক্রোশমাত্র ব্যবধান।
আন্তনি। সত্বর ফিরিয়া যাও -বল’ গিয়া যা” ঘটিল হেথা ;
বল, রােম শােকাচ্ছন্ন, বােম এবে ভয়ঙ্কর স্থান,
নিরাপদ নহে রােম এখনাে সে সীজারের তরে।
যাও শীঘ্র:হেত-হতে -না, না, না, দাঁড়াও একটুকু
যাবৎ না লয়ে যাই
মৃতদেহ বণিক-চত্বরে
চলিয়া যেওনা তুমি ।
ওই সব রক্ত-পিশাচের
নৃশংস আচরণ
কি ভাবে গ্রহণ করে সবে
-স্বচক্ষে দেখিয়া গিয়া জানাইবে সমস্ত তাঁহায়।
এসো তবে লয়ে যাই সীজারের এই মৃতদেহ ;
একটু লাগায়ে হাত তুমিও সাহায্য কর মােরে ।
(শব লইয়া প্রস্থান।)
দ্বিতীয় দৃশ্য রােম,বণিক-চত্ত্বর।
( একদল পৌরজনের সহিত ক্রন্টাস ও ক্যাশ্যসের প্রবেশ ।)
পৌরজন। আমরা বুঝিতে চাহি, ভাল করি’ চাহি বুঝিবাঁকে
। , এস তবে বন্ধুগণ! শােমাে আসি বক্তব্য আমার
ক্যাশিয়াস! যাও তুমি অন্য রাজপথে সেথা গিয়া
বিভাগ করিয়া দেও যত সব জনতার লোক।
তীয় অঙ্ক।
৭৭
যাহারা শুনিতে চায় মাের কথা, তারা থাক্ হেতা ;
আর যারা ইচ্ছা করে ক্যাসের কথা শুনিবারে,
তারা যা তার সাথে ; কি কারণে সীজার নিহত
সমস্ত হইবে ব্যক্ত প্রকাশ্যে লােকের সমীপে।
প্রথম পুরবাসী। আমি চাহি শুনিবাক্সে ব্রুটাসের কথা।
দ্বিতীয়। আমি শুনিবারে চাই—ক্যাশ্যস কি বলে ;
তাহলে পারিব মােরা মিলায়ে দেখিতে
উভয়েরি হেতুবাদ—শুনিয়া দোহারে।
( কতিপয় পৌরজন-সহ ক্যাসের প্রস্থান।
{ বক্তৃতা-স্থানে ব্রুটাসের প্রবেশ।)
তৃতীয়। চুপ ! চুপ ! উঠেছেন ব্রুটাস বেদিতে।
শেষ পর্যন্ত যেন থাকে ধৈৰ্য্য তব ।
রােমকগণ, ভ্রাতৃগণ, বন্ধুগণ!
আমার যা বক্তব্য তােমর শােনন; আর যদি গুতে
ইচ্ছা কর—সকলে নিস্তব্ধ হও। আমার সততায় তােমরা
বিশ্বাস কর ; আর যদি বিশ্বাস করূতে চাও আমার কথায়
শ্রদ্ধা স্থাপন কর। আমার কার্যের ভালমন তোমরা বিচার
কর; আর যদি সুবিচার করূতে চাও-তােমাদের বুদ্ধিকে
সজাগ রাখাে।
উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে যদি এখানে সীজারের কোন
প্রিয়বন্ধু থাকেন, আমি তাকেই বলচি—সীজারের প্রতি
ব্রুটাসের যে ভালবাসা--সে ভালবাসা তারচেয়ে কে
অংশেই কম নয়। তাতে যদি সেই বন্ধু জিজ্ঞাসা করেন,
-
৭৮. জুলিয়াস্ সীজার। কেন তবে ব্রুটাস সীজারের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ কর লেন ?-তার উত্তর এই আমি যে সীজারকে কম ভাল ৰাসতেম তানয়-আমি ভালবাসি রােমকে আরাে অধিক। তােমরা কি ইচ্ছা কর, শুধু সীজার জীবিত থাকে, আরু অন্যের দাসত্ব করে মরে,-না, বরং সীজারের মৃত্যু হয়, আর অন্য সকলে স্বাধীনভাবে জীবনধারণ করে? সীজার আমাকে ভালবাসতেন,-আমি তার জন্য অশ্রু- পাত করি ; তিনি সৌভাগ্যবান ছিলেন,-আমি তাকে সম্মান করি; কিন্তু তিনি রাজত্বলােলুপ আত্মম্ভরী ছিলেন, তাই আমি তাকে বধ করেছি। অশ্রু-ভালবাসার জন্য; আনন্দ-সৌভাগ্যের জন্য ; সম্মান-বীর্যের জন্য ; আর মৃত্যু- -তার সেই সর্বগ্রাসী আত্মম্ভরিতার জন্য। কে আছে এমন নীচ এখানে, যে দাস হতে ইচ্ছা করে? যদি কেহ থাকে বলুক তার কাছে আমি অপরাধী। কে আছে এমন অসভ্য এখানে, যে রােমক হতে ইচ্ছা না করে?—যদি কেহ থাকে, বলুক, আমি তার কাছে অপরাধী। কে আছে এমন নরাধম এখানে, যে আপ- নার দেশকে ভাল না বাসে ?যদি কেহ থাকে, বলুক -আমি তার কাছে অপরাধী। প্রত্যুত্তরের অপে- ক্ষায় রইলেম। পৌরজন। কেহ না, ব্রুটাস, কেহ না। ক। তাহলে কারও কাছে আমি অপরাধী নই। আমি সীজারের প্রতি যেরূপ আচরণ করেছি, তােমরাও ব্রুটাসের প্রতি ঠিক সেইরূপ আচরণ করতে পারতে। তাঁর মৃত্যু
তৃতীয় অঙ্ক।
৭৯
হেতুদ, পৌরসভার কার্যবিরণীতে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে।
যে বিষয়ে তার যোগ্যতা ছিল, তার কিছুমাত্র লাঘব করা
হয় নি, কিম্বা যে দোষের জন্য তার মৃত্যু হ’লতাও
কিছুমাত্র বাড়িয়ে বলা হয় নি।
( সীজারের মৃতদেহ লইয়া আন্তনি প্রভৃতির প্রবেশ।)
এই যে, শােকাৰ্ত্ত আন্তনি সীজারের মৃতদেহ নিয়ে এখানে
উপস্থিত। যদিও এই মৃত্যুতে আন্তনির কোন হাত ছিল
, তবু এর যা’ শুভফল, তা তিনি সমস্তই ভােগ করতে
পাবেন; আমাদের এই সাধারণতন্ত্রের মধ্যে, তারও জন্য
একটা পদ নির্দিষ্ট থাকবে। আর, তােমাদের কার জন্যই
ৰা না খাবে? এখন এই শেষকথাটি বলে আমি এখন
এখান হতে বিদায় হই -রোমের হিতের জন্যই আমার
প্রিয়তম বন্ধুকে আমি হত্যা করেছি। যে ছুরিকা সীজারের
হৃদয় বিদ্ধ করেছে, সেই ছুরিকাই আমার নিজের জন্য
রক্ষিত। যদি কখন আমার দেশ, আমার মৃত্যু আবশ্যক
বলে মনে করে, তখন সেই ছুরিকা দিয়েই আমার নিজের
হৃদয় বিদ্ধ কর ।
পৌরন। বেঁচু থাকো ব্রুটাসবেঁচে থাকো-বেঁচে থাকো।
১মপুরবাসী। এসো আমরা জয়জয়কার করে, ব্রুটাসকে বাড়ী
পৌছে দি।
দ্বিতীয়। যেখানে ওঁর পূর্বপুরুষের প্রতিমূর্তি আছে, এসাে সেই
খানে আশ্মরা ওরও একটা প্রতিমুর্তি রেখে দি।
তৃতীয়। উনিই আমাদের সীজার হােন।
*
জুলিয়াস্ সাজার। চতুর্থ। সীজারের কিছু ভালগুণ ছিল সমস্তই ব্রুটাসে আছে, মুকুটটা ওরই মাথায় পরিয়ে দেওয়া যাক। প্রথম। জয়জয়কার করতে করতে ওঁর বাড়ীতে আমরা ওকে নিয়ে যাই চল। ব্রুটাস। ভ্রাতৃগণ ! দ্বিতীয়। চুপ! চুপ! টাস্ কি বলচেন শােনন। প্রথম। আরে, তােমরা চুপ কর না। ব্রুটাস। ভ্রাতৃগণ! একা আমি করিব প্রস্থান হেথা হতে; সীজারের মৃতদেহ, আর তার স্তাবক আন্তনি, -এ দোহার কাছে থাকি অলঙ্কৃত কর এই স্থান তােমরা সকলে ;-আমি করি এই অনুনয় এবে। বক্তৃতা করিতে মােরা আন্তনিরে দিয়াছি সম্মতি; যাবৎ না আতনি বক্তৃতা করেন সমাপন আমি ছাড়া একজনাে যেন নাহি করয়ে প্রস্থান, এই এ মিনতি মাের। ১ম পুরবাসী। থাকো সবে, শুনিব আমরা মার্ক আন্তনির কথা। তৃতীয়। উঠুন আন্তনি বেদি-পরে ; শুনিব তাহার কথা ; ওঠো তুমি মহাত্মা আন্তনি। আন্তনি। ব্রুটাসের জন্য আজি লভিনু এ অনুগ্রহ তব। ( বেদীর উপরে আরােহণ) চতুর্থ। ব্রুটাসের নামে এবে কি বলেন উনি ততীয়। কহিছেন,- -ত্রুটাসের জন্য উনি লজিলেন এই অনুগ্রহ। ?
তৃতীয় অঙ্ক।
চতুর্থ। না যেন বলেন উনি কোন কথা টাস-বিরুদ্ধে।
প্রথম। এই এ সীজার ছিল -জানি মােরা বড় অত্যাচারী।
তৃতীয়। আছে কি সন্দেহ তায়? -গেছে চলি রােমের কণ্টক।
দ্বিতীয়। চুপ সৰে? শােনা যাক কি কহেন স্বপক্ষে আন্তনি।
আশুনি। সৌম্য বােমকগণ।
পৌরজন। চুপ !–চুপ-চুপ সবে! শােনা যাক কি বলেন উনি।
আতনি। বন্ধুগণ! ভ্রাতৃগণ ! কৃপা করি’ কর অবধান।
আসিঙ্গাছি আমি হেথা সীজারের অন্ত্যেষ্টির তরে,
নহে স্তুতির উদ্দেশ্যে ; মানুষের যা কিছু দুস্কৃতি
-থাকি যায় পরে; কিন্তু যাহা কিছু সুকৃতি তাহার
বিলীন হইয়া যায়
চিতাভস্মে তার সাথে-সাথে।
সীজার সে আত্মম্ভরী। সত্য হলে মহা দোষ বটে;
মহৎ দণ্ডও তিনি
ভুঞ্জিলেন সেই অপরাধে।
এমু আমি টাসের
--সকলের—অতিক্রমে
আর এই ব্রুটা ইনি একজন মহাশয় লােক ;
(কেবল ব্রুটাস কেন সকলেই মহাশয় লােক !)
এ হেথা বলিবারে
দীজারের অন্ত্যেষ্টির তরে।
সীজার ছিলেন মাের বিশ্বস্ত সুহৃৎ, ন্যায়বান ;
দ্রুটাস বলেন কিন্তু
আত্মম্ভরী ছিলেন সীজার ;
-আর, এ টাস্ ইনি একজন মহাশয়-লােক।
সীজার আনিলা রােমে কত বন্দী দেশান্তর হতে
-যাহাদের মুক্তিপণে গেল ভরি’ হােমের ভাণ্ডার।
ইহাতে কি মনে হয় ছিলেন সীজার আত্মম্ভরী
২ জুলিয়াস্ সীজার। ; কঁদিলে দরিদ্ৰজন সীজার করিত অশ্রুপাত। আত্মম্ভরী, গঠিত সে এচেয়ে কঠোর উপাদানে। ব্রুটাস্ বলেন তবু আত্মম্ভরী ছিলেন সীজার। বলিতে পারেন তিনি --তিনি অতি মহাশয় লােক। দেখেছ সবাই, আমি লুপার্কাস-উৎসবের দিনে মুকুট দিলাম তারে তিনবার,—তিনবারই তিনি দিলেন তা সরাইয়া -একেই কি আত্মম্ভরী বলে? ব্রুটাস্ বলেন তবু সীজার ছিলেন আত্মম্ভরী। ব্রুটাসের কথা আমি আসি নাই করিতে খণ্ডন, আমি আসিয়াছি হেথা বলিবারে সত্য যাহা জানি। পূৰ্ব্বে-তােমরা সবে বড়ই বাসিতে ভাল তারে, -আর, নহে অকারণে ; কি হেতু না কর তবে শােক আজি সীজারের তরে ? হায় হায় ! এই কি বিচার ? সুবিচার গেছ তুমি পলাইয়া পশুর হৃদয়ে, মানুষের বুদ্ধিশুদ্ধি সমস্তই হইয়াছে লােপ। মার্জনা করিবে মােরে —শােক-তপ্ত এ মাের হৃদয় আছে এৰে সীজারের শবাধারে সীজারের সাথে ; যাবৎ না আসে ফিরে ক্ষণতরে করিব বিরাম। ১ম পুরবাসী। মনে হয় অনেকটা আছে যুক্তি উহার কথায়। দ্বিতীয়। এ বিষয় ভালরূপে দেখ যদি বিবেচনা করি, অন্যায় হয়েছে বড় জুলিয়াস সীজারের প্রতি। তৃতীয়। বলেন কি?-হয় নাই ? খুবই ইয়াছে; মনে হয় আসিবে উহার স্থানে কোনাে লােক আরাে অত্যাচারী।
তৃতীয় অঙ্ক।
চতুর্থ। শুনেছিলে সে কথাটা? -সীজার না লইল মুকুট।
তাই বলি, কখনই আত্মম্ভরী ছিলেন না তিনি।
প্রথম। তাহলে কেহনা-কেহ অবশ্যই এর জন্য দায়ী।
দ্বিতীয়। দেখ দেখ,-বেচারীর আঁখি রাঙা কাঁদিয়া-কাঁদিয়া।
তৃতীয়। অমন মহাত্মা আর নাহি রােমে আন্তনির মত।
চতুর্থ। ওই শােন!—ওই শােন। আবার কি কহিছেন উনি।
আন্তনি। এইত সেদিন মাত্র -ষবে সীজারের বাক্য
সগর্বে মস্তক তুলি থাকিত বঁড়ায়ে
সৰ্বজগৎবিরুদ্ধে ;
আর কিন তিনি আজি
আছেন পড়িয়া, কেহ না করে সম্মান !
শােনাে মহাশয়গণ ! হ’ত যদি ইচ্ছা মাের
উত্তেজিতে মন তব বিদ্রোহের দিকে,
তাহা হ'লে করিতাম বড়ই অনিষ্ট আমি
ব্রুটাস্ ও ক্যাশিয়াস—উভয়ের প্রতি।
জান-ত তােমরা সবে ব্রুটাস ও ক্যাশিয়াস
দুজনেই তারা অতি মহাশয় লােক।
তাদের অনিষ্ট কোন চাহিনা করিতে আমি;
বরঞ্চ করিব আমি অনিষ্ট নিজের,
-এমন কি—তােমাদেরাে, তবু না করিতে চাহি
অনিষ্ট তাদের যারা মহাশয় লােক।
কিন্তু দেখ, এই হেথা | একটি শাসন-পত্র,
সীজারের নাম যাহে আছে মুদ্রাঙ্কিত
পাই তাহার কক্ষে এই দানপত্রখানি;
পােরজন শুনে যদি মরম ইহার
3)
জুলিয়াস্ সীজার।
( শুনাতে চাহিনা কিন্তু মার্জনা করিবে মােরে)
ছুটিয়া আসিয়া তারা, অস্ত্ৰক্ষতগুলি
করিবে চুম্বন, আর
ডুবাইকে আপনার
বসন-অঞ্চল সেই পূতরক্ত-নীরে।
পাইলে একটি কেশ স্মৃতিচিহ্ন.তৰুে, ও
যাচিয়া লইবে তারা আগ্রহ করিয়া ;
আর নিজ-মৃত্যুকালে
দানপত্ৰে দিয়া যাবে
উত্তরাধিকার-সূত্ৰে নিজ-বংশধরে।
৪র্থ পুর। পড় ওই দানপত্র —দানপত্র পড়গো আন্তনি।
পৌরজন। দানপত্র দানপত্র।— শুনিব ঐ দানপত্র মাের।।
আন্তনি। বন্ধুগণ! ধৈর্য্য ধরু; পড়ি না আমি উহা
তোমাদের কাছে ;
সীজার যে তােমাদের কত ভালবাসিতেন
-না জানাই ভাল।
তিৈমরাত কাষ্ট্র নও, তােমরা পাষাণ নও,
তােমরা মানুষ ; আর মানুষ হইয়া
শুনিলে সে দানপত্র
মাতিয়া উঠিৰে তাহে
পাগল করিয়া দিবে তােমাদরু সকে।
তােমরা যে সীজারের উত্তরাধিকারী, তাহা
জানাই ভাল ;
• কেননা, জানিলে তাহা
কি বিষম কা হকে
শিহরি ভাৰিলে।
জতুর্থ। পড় ওই দানপত্র—চাহি উহা শুনিতে আমরা।
পড়িয়া শুনাও তুমি সীজারের দানপত্রখানি।
তৃতীয় অঙ্ক।
;
আন্তনি। রহিবে কি ধৈৰ্য্য ধরি? একটু কি হবে ক্ষান্ত?
-বলিয়া ফেলেছি আমি অধিক মাত্রায় ;
বলিলে ছিল ভাল ; ভয় হয় পাছে এই
মহাশয়লােকদের হয় কোন ক্ষতি,
-সেই সে মহাত্মা সব বধিল সীজারে যারা
গুপ্তঘাের দিয়া ; সত্য, ডরি আমি তাই।
চতুর্থ। ভারি মহাশয়লােক । বিশ্বাসঘাতক তারা সবে?
পৌরজন। দানপত্রদানপত্র দানপত্র শুনাও মােদের।
দ্বিতীয়। পাষণ্ড পামর তারা- দানপত্র-পড় দানপত্র।
আন্তনি। তবে কি এ দানপত্র নিতান্তই হইবে পড়িতে ?
তাহলে দাঁড়াও ঘিরি এ মৃতদেহের চারিধারে,
দেখাইব তােমাদের -যে করিল দানপত্রখানি।
আমি কি নামিব নীচে ? অনুমতি দিবে কি আমায় ?
পৌরজন। আইস নামিয়া তুমি।
নামিয়া আইস তুমি নীচে।
( আন্তনির অবতরণ।)
তৃতীয়। অনুমতি দি মাের।
চতুর্থ।
দাঁড়াও ঘিরিয়া চারিধারে।
প্রথম। অতটা যানে ঘেঁসি’-- শব-হতে থাক কিছু দূরে।
দ্বিতীয়। আন্তনিরে স্থান দেও- বঁড়াবেন মহাত্মা আন্তনি।
অন্তনি। ঠেলিয়া এলােনা অত, একটুকু থাকহ, তফাতে।
পৌরজন। পিছু হটি যাও সবে ;
যাও সরি-দেও ছাড়ি স্থা
আন্তনি। বিন্দুমাত্র অশ্রু যদি
থাকে তব মেজমাঝে,
-অশ্রুপাত করিবার এই এ সময়।
দ্বিতীয়।
জুলিয়াস্ সীজার।
ন
তোমাদের পরিচিত এই সেই উত্তরীয় ;
আমার স্মরণ হয়—যে দিন প্রথমে
করিলেন পরিধান —পরাভবি’ "নব্বিদের
পরেন শিবিরে ইহা সায়াহুকালে।
দেখ, এই স্থান দিয়া গেছে কাশ্যসের ছাে;
কি বিষম চীর হেথা করিল ক্যাস্কা ;
ব্রুটাস ছিল যে অতি সীজারের প্রিয়পাত্র
গিয়াছে তাহার ছােরা এইখান দিয়া।
সেই কাল-অসি যবে
বক্ষ হতে করিলেন
টানিয়া বাহির—ঝরিল রুধির বেগে ;
যেন সেই রক্তধারা
দেখিতে বাহির হল
—সত্য ব্রুটাসেরি কিনা এ কর আঘাত।
কেননা, জানত সবে, ব্রুটাস ছিলেন সেই
সীজারের হৃদয়ের আরাধ্য দেবতা।
বিধাত
! তুমিই জান কত ভালবাসিতেন
সব চেয়ে মর্মান্তিক এই মৰ্মাঘাত।
দেখিল সীজার যবে ব্রুটাস আঘাত করে,
পড়িলেন একেবারে বিহ্বল হইয়া,
( বিশ্বাসঘাতীর চেয়ে আরাে নিদারুণ সেই
কৃতন্ত্রের বাহুবলে হয়ে অভিভূত)
ফাটিয়া পড়িল তার মহান্ বিশাল বক্ষ।
তখন ঢাকিয়া মুখ উত্তরীয়-বাসে
পম্পে-প্রতিমূর্তি তলে পড়িয়া গেলেন তিনি।
ঝরঝর রক্তধারা লাগিল ঝরিতে।
:
তৃতীয় অঙ্ক। আহা কি পতন সেই -ভাবি’ দেখ বন্ধুগণ, সেই সঙ্গে আমাদেরাে হইল পতন। আর, এই রক্তমাখা বিশ্বাসঘাতীর দল মােদের মস্তকোপরি লাগিল রাজিতে। এখন কাঁদিছ সবে ? দেখিতেছি, করিতেছ অনুভব মর্মান্তিক বেদনা অন্তরে। কারুণ্য-রস-পূত ওই অশ্রুবিন্দুগুলি ; কি!-কাঁদিছ চীৰ হেৰি শুধু পরিচ্ছদে? হেথা দেখ--কি হয়েছে । স্বয়ং সীজার হেথা ক্ষতবিক্ষত-দেহ দারুণ আঘাতে। ১ম পুর। ওঃ! কি দারুণ দৃশ্য! দ্বিতীয়। হায় হায় মহাত্মা সীজার। তৃতীয়। আজি কি বিষন্ন দিন। চতুর্থ। কি নিষ্ঠুর! কি বিশ্বাসঘাতী ! প্রথম। কি বিষম হত্যাকাণ্ড! দ্বিতীয়। চল-মােরা লব প্ৰতিশােধ। মার, কাট, লুটপাট, ছারখার করু আজি সব। বিশ্বাসঘাতীরা যেন একজনাে না থাকে বাঁচিয়া । আন্তনি। ক্ষান্ত হও ভ্রাতৃগণ ! প্রথম। শােন্ ! কি কহেন আন্তনি; থাম্ থা! চুপ! হােথা কহিছেন মহাত্মা আন্তন। দ্বিতীয়। শুনিব উহাৰ কথা চলিব-মরিব ওর সাথে। আন্তনি। প্রাতৃগণ! বন্ধুগণ! নাহি চাহি উত্তেজিতে তােমা সবে সহসা এ প্রচণ্ড বিদ্রোহে। *;
জুলিয়াস্ সীজা।
এ কাজ করেছে যারা তারা মহাশয়লোক।
কষ্ট তার ব্যক্তিগত কি অনিষ্ট লাগি
-হয়! আমি জানিনা তা ; কেন বা তাদের দ্বেষ,
তাও আমি কিছুমাত্র না পারি বুঝিতে।
তারা বিজ্ঞ, তারা মা তােমাদের কাছে তারা
অবশ্যই করিবেন
হেতু প্রদর্শন।
আমি হেথা আসি নাই -বন্ধুগণ জেনাে বেশ
করিবারে তােমাদের হৃদয়হরণ।
আমি নহি বাক্যপটু বাগ্মী ক্রুটাস-সম ;
জানত তােমরা, আমি স্পষ্টবক্তা লােক
-আসক্ত বন্ধুর প্রতি ; তারাও এ জানে বেশ,
অনুমতি দেছে তাই বলিতে আমায়।
বিদ্যাবুদ্ধি নাহি মাের, শবদ-সম্পদ নাহি,
গুণ, কীর্তি, বাকশক্তি-নাহি কোন কিছু
* উদ্দীপিতে পারি যাহে লােকেদের রােষানল ;
আমি শুধু বলে যাই কথা সােজাসুজি ;
আমি বলি শুধু যাহা
তােমরা সবাই জান ;
দেখাই আমি শুধু ক্ষতমুথগুলি :-
বেচারীরা বলে যেন নীরব ভাষায় আকা!
-“আন্তনি! বলগাে তুমি আমাদের হয়ে।”
আমি যদি হইতাম ক্রটাস, ও ক্রুটাস সে
আনি হইত যদি—তাহলে নিশ্চয়
সে অস্তনি উত্তেজিতে পারিত হৃদয় তব ;
প্রতি ক্ষতমুখ হতে করিত বাহির
এহেন জ্বলন্ত ভাজা
নােমনগরীর সব
প্রস্তর পাষাণে তাহে হইত বিদ্রোহী।
পৌরজন। বিদ্রোহী হইব মােরা।
১ম পুরবাসী।
আলাইব ক্রুটাসের ঘর।
তৃতীয়। এসস সবে যাই মােঙ্গা চক্রীদের করি অন্বেষণ।
আন্তনি। যাইও না ভ্রাতৃগণ, আরাে কিছু আছে বলিবার।
পৌরজন। চুপ! চুপ! থামাে সবে! কহিছেন মহাত্মা আন্তনি।
আন্তনি। জান না তােমরা ওগো কি কাজে যাইছ সবে;
কি বসিবে ভাল তােমরা সীজারে
-জান না তােমরা তাহ; আমি বলি, শােনাে তবে ;
দানপত্র-কথাটা কি গিয়াছ ভুলিয়া ?
পৌরজন। ঠিক ঠি! দানপত্র ! থামাে সবে নিৰ সে কথা
আন্তনি। এই সেই দানপত্র --সীজারের মােহর-অঙ্কিত ;
প্রতি রােমকেরে তিনি কিছু কিছু করেছেন দান ;
প্রত্যেক জনায় তিনি দিয়াছেন মুদ্রা ত্রিংশৎ।
দ্বিতীয়। সীজার মহাত্মা লােক ; প্রতিশােধ প্রতিশোধ লব
মােরা সীজারের তরে ।
তৃতীয়।
সীজার রাজার যােগ্য লােক।
আন্তনি। স্থির হও বন্ধুগণ !
ধৈৰ্য্য ধরি’ শােনাে মাের কথা।
পৌরজন। চুপ চুপ ! চুপ হােথা! আরে, থাম না তােমরা সবে।
আন্তনি। তাছাড়া দেছেন তিনি তােমাদের সবে তার যত
কুঞ্জবন, ফুলের বাগান
-টৈবারের এই পারে ; করিতে পারিবে তাহা ভােগ
বেড়াবার পথগুলি,
জুলিয়াস্ সাজার। ; পুত্রপৌত্র-আদি-ক্রমে, —বিচরিবে আনন্দে সেথায়। এ হেন সীজার সেই ; পাবে কি দ্বিতীয় তঁার-মত ? পৌরজন। অমন পাব না আর ;-কভু না, কভু না ;-এস সবে, পুণ্য-ভূমি-পরে গিয়া করি মৃত দেহের সৎকার ; তারি আলা-কাঠ লয়ে পুড়াইব চক্রীদের গৃহ ; উঠাও এ শব তবে। দ্বিতীয়। কেহ গিয়া আনহ আগুন। তৃতীয়। ভাঙ্গো কাষ্ঠাসনগুলা। চতুর্থ। দরজা জানলা যতসব ফেল ভাঙ্গি। (মৃতদেহ লইরা পৌরজনের প্রস্থান।) আন্তনি। সার্থক বক্তৃতা মাের ; —ফল এর ফলুক এখন। সাক্ষাৎ অনর্থ তুই অবতীর্ণ আজিকে হেথায় যে পথে যাইতে চাস, যারে তুই এবে সেই পথে। ( একজন ভৃত্যের প্রবেশ।) কি সংবাদ ব ওরে! অক্টোভ্যস্ এসেছেন রােমে। আন্তনি। কোথা তিনি ? লিপিডাস আর তিনি সীজাৰু-ভবনে। ভৃত্য। আন্তনি। যাব সেথা; কি আশ্চৰ্য, ইচ্ছামাত্র আইলেন তিনি। অদৃষ্ট প্রসন্ন তবে ; এইরূপ থাকিলে প্রসন্ন, সর্বসিদ্ধি হবে লাভ। শুনিলাম প্রভু-মুখে আমি, করিয়া দিয়াছে দূর টাক্যাশ্যস দুজনার ( ক্ষিপ্তজনের মত রােমপুরী-ফাটক-বাহিরে।
তৃতীয় অঙ্ক। '৯১, আন্তনি। বােধ করি, তারা সব —কিরূপ করেছি আমি পাইয়াছে একটু আভাস উত্তেজিত লােকের হৃদয় ; অক্টোভ্যস-সীজার সমীপে। (প্রস্থান।) লয়ে চল্ মােরে এবে তৃতীয় দৃশ্য।—রোম-রাজপথ। সিনা। দেখি স্বপনে আমি করিনু ভােজন ; আরাে ভরিল কল্পনা মাের ; নাহি চায় প্রাণ ; তবু —আজি রাতে সীজারের সাথে কত কি অশুভ দরশনে তাই ঘরের বাহির হতে কি-যেন-কি লয়ে যায় টানি। (পৌরজনের প্রবেশ।) প্রথম পুরবাসী। ওরে ! তাের নাম কি ? দ্বিতীয়। তুই যাস, কোথায় ? • তৃতীয়। তুই থাকিস্ কোথায় ? চতুর্থ। তুই বিবাহিত-না, অবিবাহিত ? দ্বিতীয়। আমাদের প্রত্যেকের কথায় সিধে জবাব দে। প্রথম। আর দেখ,-সংক্ষেপে। চতুর্থ। আর দেহ্-বেশ বিবেচনা করে। তৃতীয়। আর দুেখ,—সঠিক করে। আমার নাম কি, আমি যাচ্ছি কোথায়, আমি থাকি কোথায়, আমি বিবাহিত, না অবিবাহিত- এই সব প্রত্যেক কথার সিধে জবাব আমাকে দিতে হবে, বিবে- চনা করে জবাব দিতে হবে, ঠিক জবাব দিতে হবে। প্রথমতঃ বিবেচনা করে,-আমি বিবাহ করিনি। সিনা।
• ৯২
জুলিয়াস্ সাজার।
দ্বিতীয়। তবে কি তুই বলতে চা, যারা বিবাহ করেছে তারা
নির্বোধ ? এর জন্য তুই দেখুঁচি আমার কাছে একটা
থাপ্পড়, খাকি। আচ্ছা বলে-যা --এইবার সিধে জবাৰু
চাই।
সিনা। আমি যাচি একেবারে সিধে—যেখানে সীজারের অন্ত্যেষ্টি
হবে।
সিনা।
প্রথম। বন্ধু ভাবে, না, শক্তভাবে ?
বহুভাবে।
দ্বিতীয়। হুঁ, এটা বেশ সিধে জবাব বটে!
চতুর্থ। আর থাকিস্ কোথায় ?-সংক্ষেপে বল।
সিনা। সংক্ষেপে যদি বলতে হয়, আমি সভাঘরের নিকটেই থাকি।
তৃতীয়। এইবার তাের নামটা কি, ঠিক বল।
সিনা। ঠিক কথা বলছি, আমার নাম সিনা।
প্রথম।
ওরে ! ওকে কুটিকুট করে ফেলু, ও একজন ষড়ষন্ত্রী।
সিনা। আমি কবি সিনা, আমি কবি সিনা।
চতুর্থ। ওর খারাপ পদ্যের জন্যই ওকে টুকরো-টুকরাে করে
ফে।
সিনা। আমি ষড়যন্ত্রী সিনা নই।
চতুর্থ। তাতে কিছু এসে যায় না ; -সিনা নাম-ত বটে। ওর
বু ছিড়ে ওর নামটা টেনে বের কত রে ; তারপরে ও
• যা চলে।
তৃতীয়। ওকে টুকরাে টুকরাে করে ফেল। ওরে ঘর জ্বালানে
মিঞারা সৰ! চলে আয় চলে আয়! চল ব্রুটাসের
। বাড়ী-চল কাশ্যসের বাড়ী—সব জালিয়ে পুড়িয়ে দে।
তৃতীয় অঙ্ক।
কেউ যা ডিশসের বাড়ী-কেউ যা’ ক্যাস্কার বাড়ী-
কেউ যা লিগারাসের বাড়ী—চরে সবাই চল।
( প্রস্থান)
ইতি তৃতীয় অঙ্ক।
চতুর্থ অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য-রােম, আন্তনির গৃহ।
( অন্তনি, অক্টোভ্যস্ ও লেপিডাস টেবিলের সম্মুখে আসীন।)
অক্টো।
আন্তনি। মরিবে ইহারা তবে ; -দাগ-দেওয়া এই সব নামে।
অক্টো। মরিবে ভ্রাতাও তব ; —আছ কি সম্মত লেপিডস্?
লেপি। আছয়ে সম্মতি মাের -
দেও চিহ্ন আন্তনি ও-নামে।
লেপি। মত দেই—যদি মরে ভাগিনেয় তােমারাে আন্তনি।
আন্তনি। মরিবে সে ; এই দেখ, তার নাম করিনু চিহ্নিত।
কিন্তু দেখ, লেপিডাস, যাও তুমি সীজারের গৃহে ;
আনাে দানপত্রখানি --দিব ছটি কোন কোন দান।
লেপি। ঠিক এই স্থানে আসি’ পাইব কি তােমার সাক্ষাৎ?
অক্টে।। পাবে দেখা এইখানে,
কিম্বা সেই পৌরসভাগৃহে।
( লেপিডাসের প্রস্থান।
আন্তনি। ও-ব্যক্তি অযােগ্য অতি
-লঘুচেতা, নিতান্ত অসার
ওকে পাঠাইতে ভাল শুধু ফাই-ফরমাস-কাজে।
সুবিভক্ত হবে যবে
তিন ভাগে এই এ ধরণী
তার কি একটা অংশ পাইবার যােগ্য লেপিডাস?
অক্টো। তুমিইত ভাবে যােগ্য ; তাই-ত লইলে মত তার
-কে-কে হবে চিহ্নিত করাল এ মৃত্যু-তালিকায়।
অস্তনি। অক্টোভ্যস তােমা চেয়ে হয়েছে বয়স বেশী মাের ;
যদিও উহার পরে রাশি রাশি চাপাই সম্মান
:
;
7
চতুর্থ অঙ্ক। শোক-নিন্দা-হতে শুধু অব্যাহতি পাইবার তরে) সে সমস্ত বহিবে সে —গাধা যথা বহে স্বর্ণরাশি, হইয়া ঘর্মাক্ত-কায় আর করি’ ঘাের আর্তনাদ ; যেদিকে চালাব কিন্তু —অবাধে চলিবে সেই দিকে। যেখানে লইতে ইচ্ছা আমাদের সেই ধনরাশি, সেথা হয়ে উপনীত নামাইয়া ফেলিব সে বােঝা ; আর, তখন তাহারে দূর করি’ দিব খেদাইয়া ; গর্দভের মত সেও বােঝাটা নামায়ে পৃষ্ঠ হতে নাড়িতে-নাড়িতে কাণ চরিয়া বেড়াবে ময়দানে। অক্টো। যথা ইচ্ছা কর, কিন্তু জানিও, সে পরীক্ষিত বীর। আনি। অশ্বটাও তাই মাের ; -তাই-ত দি’ দানা-ঘাস তারে । কখন্ ছুটিতে হবে, কখন্ থামিতে হবে ঝন্টু, সমস্ত শিখাই তারে -দেই শিক্ষা সংগ্রামের কাজে আমারি মনের তেজে দেহ তার হয় সঞ্চালিত। কতকটা এইরূপ লেপিডাস ; শিক্ষা-চাই তার । নিজ বুদ্ধি খাটারে সে পারে না করিতে কোন কাজ। যাহা বহু-পুরাতন, অকৰ্ম্মণ্য, কাজের বাহির, অন্যদের দেখাদেখি তাহাই সে করে অন্ধভাবে। বলিও না তার কথা, -ঘটি-বাটি-সম দেখি তারে। গুরুতর কথা এক বলি এবে, শােনাে অক্টোভ্যস ; -ত্রুটাস-ক্যাশ্যাস দেহে করিছেন সৈন্যের সংগ্রহ। মমাদের উচিত এবে আক্ৰমিতে তাদের সত্বর ; এসসা মােরা দৃঢ় করি বন্ধুতার সমস্ত বন্ধন যতদুর পারি-করি সহায়-সম্বল সংগ্রহ ;
জুলিয়া সীজার।
আর চল করি মােরা সুমন্ত্রণা মন্ত্র-গৃহ-মাঝে;
শক্রর রহস্য-ভেদ,
আসন্ন বিপ নিৰায়ণ,
—এ-সব কিরূপে হয়, চিন্তা করি তাহার উপায়।
অক্টো। , চল’ কবি-গে তাই, -আসন্ন বিপদ আমাদের ।
বহু শত্রু চারি দিকে; আর আছে কতিপয় লােক
যাহাদের মুখে হাসি কিন্তু ঘাের নষ্টামি অন্তরে।
দ্বিতীয় দৃশ্য--সার্ভিসের নিকটবর্তী
ব্রুটাসের তঁাবুর সম্মুখে ।
ভয়চাৰু-বাদ্য ; ঐটাস, লুসিল্যস, লুশ্যস ও সৈনিকগণ ; টিটিনস্ ও পিতারস
আসিয়া সৈনিকদিগের সহিত সম্মিলন।)
দ্রু। কে আসে? দাঁড়াও কোথা।
সুশ্য।
দাড়াও সঙ্কেত-কথা বলি।
। কি সংবাদ লুসিলম্ ? ক্যাশ্য কি এসেছে নিকটে ?
লুসি। এসেছেন সন্নিকটে ; আর, আসিয়াছে পিণ্ডারস
তােমারে অভিবাদিষ্ঠে আপন প্রভুর আজ্ঞামতে।
পিণ্ডা। (ব্রুটাসকে পত্র প্রদান।
দ্রু। করেছেন তিনি মােরে এ পত্রে সাদর-সম্ভাষণ ;
তব প্রভু-আচরণে দেখিতেছি কিছু হের-ফের ;
(নিজ ইচ্ছাকৃত, কি অপরের মন্ত্রণার বশে )
তাই দেখি মনে হয় —যাহা কিছু পূৰ্ব্বকৃত মাের
-অকৃত করিতে যদি
পারিতাম পুনর্বার তাহা।
কিন্তু সে যাহাই হউক, এসেছেন তিনি সন্নিকটে,
-তাতেই সন্তুষ্ট আমি ।
;
চতুর্থ অঙ্ক।
পিণ্ডা। আমার প্রভুরে তুমি নিরখিবে পূৰ্ব্বেরি মতন
শ্রদ্ধাবান তব প্রতি -ইথে মাের নাহিক সংশয়।
ত্রু। সন্দেহ করি না তাহে; লুসিল্যস ! শােন বলি কথা ;
জানিবারে চাহি আমি সম্ভাষিল কি ভাবে তােমায়।
লুসি। যথেষ্ট শিষ্টাচার মান-মৰ্যাদা-সহকারে,
কিন্তু নহে পূৰ্ব্ববৎ
বন্ধুসম খুলিয়া পরাণ ।
। যেরূপ করিলে তুমি বরণনা, মনে হয় তা
বন্ধুর জ্বল প্রেম যাইতেছে ক্রমশঃ নিবিয়া ;
এ-তুমি করিও লক্ষ্য বরাবর—কহিতেছি আমি-
যখনি নিবিয়া আসে
প্রণয়ের জলন্ত আগ্রহ
তখনি আরম্ভ হয় যত্ন কৃত বাহ শিষ্টাচার ;
স্বাভাবিক প্রণয়েতে নাহি কোন ছল কৃত্রিমতা ;
খল-প্রেম অশ্ব-সম ; চলে যবে লাগামের বলে
—থাকে গ্রীবা বাঁকাইয়া, করে বেশ তেজ প্রদর্শন ;
কিন্তু যবে অশ্বারােহী করে তারে কঁাটার প্রহার
—নারে সে করিতে সহ্য ; নুয়ে পড়ে তাহার মস্তক ;
নীচ-জাতি অশ্ব-সম খিন্ন হয় পরীক্ষার কালে।
আসিছে কি সৈন্য তার ?
লুসি।
শীঘ্রই আসিবে সৈদ্য তাঁর ;
আজি রাতে সারডিসে তাহাদের থাকিবার কথা
।
অধিকাংশ অশ্বারােহী আসিয়াছে ক্যাশাস্ত্রের সাথে।
(নেপথ্যে সৈন্যপদ শব্দ।)
ব্রু! ওই শােনন, ক্যাসিয়াস আসে বুঝি সৈন্যের সহিত ;
ধীরে ধীরে যাত্রা করি’ তােমরাও মেলাে’ উঁরি সাথে।
জুলিয়াস্ সীজার। (ক্যাশ্যাস ও সৈন্যগণের প্রবেশ) ক্যশ্যাস। দাড়াও, দাঁড়াও সবে সৈন্যগণ তােমরা হেথায়। ব্রু। দাড়াও সঙ্কেত-কথা একবাক্যে করি উচ্চারণ। নেপথ্যে। দাড়াও ! নেপথ্যে। দাড়াও সবে । নেপথ্যে। দাড়াও, দাড়াও সৈন্যগণ। ক্যাখস। তুমি ভাই আমা-পয়ে করিয়াছ অন্যায়াচরণ। । স্বর্গের দেবতা সবে! তােমরাই করহ বিচার ; আমি-কি করেছি কভু শক্ত-প্রতি অন্যায় ব্যভার ? তবে কি করিব আজি অন্যায় এ ভ্রাতৃজন-প্রতি ? ক্যাস। ক্রুটাস! তােমার এই সৌম্য প্রশান্ত মুখ-ভাব প্রচ্ছন্ন করিয়া রাখে অন্তরের মন্দ অভিপ্রায় ; তুমি যবে কর মন্দ ব্রু। ক্যাশিয়াস হও সাবধান ; ধীরে ধীরে কহ’ কথা, কর তুমি আত্মসম্বরণ। তােমারে জানি গাে ভাল ; উপস্থিত সৈন্যের সমক্ষে, কলহ উচিত নহে; সৈন্যগণ জানুক সকলে —নাহিক একটু মাত্র মনন্তর আমাদের মাঝে। উহাদের বল’ তুমি সরিয়া যাইতে হেধা হতে ; তার পর, তুমি চল” আমার সে তাঁবুর ভিতরে, • সেথা গিয়া, যত-ইচ্ছা কর তব দুঃখ নিবেদন -সমস্ত শুনিব আমি। ক্যাস। পিওরস। প্রচার আদেশ -যেন সেনাপতিগণ সৈন্যদের লয়ে যায় দূরে।
চতুর্থ অঙ্ক। ৯৯, ব্রু। লুসিলিয়াস তুমিও প্রচারে আদেশ ওইরূপ ; যাবৎ না হয় শেষ কথাবার্তা আমাদের মাঝে -একটী প্রাণীও যেন নাহি আসে তাঁবুর নিকটে ; দ্বারদেশে থাকুক প্রহরী। তৃতীয় দৃশ্য—ব্রুটাসের তাবুর অভ্যন্তর। ( ক্রুটাস ও কাশ্যসের প্রবেশ। লুস ও টিটিস ক্যাশ্যাস। আমা-প্ৰতি করিয়াছ তুমি যে অন্যায়, তাহা এই -লুশ্য-পেলাকে তুমি, উৎকোচ-গ্রহণ-অপরাধে করেছিলে অপরাধী; আমি তারে জানি ভাল, তাই পক্ষ সমর্থিয়া তার কত পত্র লিখিনু তােমায় -তুমি উপেক্ষিলে তাহা; রাখিলে না মাের অনুরােধ। ত্রু। এই স্থলে পত্র লেখা হয়েছিল অন্যায় তােমারি। ক্যাস। এরূপ সঙ্কট-কালে ধতব্য নহে ক্ষুদ্ৰ দোষ। ব্রু। ক্যাশিয়াস, বলি তবে ; লােকে বলে,আছয়ে তােমারাে এই হাত-পাতা রােগ ; কাঞ্চনের বিনিময়ে তুমি কৰ্ম্মাদি বিক্রয় কর অযােগ্য লােকের নিকটে । ক্যাশ্যাস। মাের হাত-পাতা রােগ ? কহিলে ক্ৰটাস তুমি ইহা, —হ’ত ইহা শেষ কথা তব। । ক্যাম্পাসের নামে শুধু ক্ষমিলাম এই অপরাধ, আর তাই শাস্তি হতে অনায়াসে পাইলে নিতি। ক্যশ্যাস। শান্তি ? • ক্র। মনে থাকে যেন মার্চের সে পঞ্চদশ দিন। অন্যায় করিল বলি’ মরেনিকি সীজার মহান ? নতুবা দেবতা সাক্ষী
জুলিয়াস্ সীজার।
ছিল কি তাদের মাঝে একজনো হেন নরাধম
যে করেনি অস্ত্রাঘাত অন্যায়ের প্রতীকার-তরে ?
যে হস্তে বধিমু তারে
দস্যুদল-পােষক বলিয়া
-কলঙ্কিত করিব কি,
সেই হস্ত উৎকোচ গ্রহণে?
বেচিব কি বিস্তীর্ণ এ রাজ্যের অশেষ পদমান
সেই ছার মূল্যে যাহা ধরি এই মুঠার ভিতরে ?
বরঞ্চ হইব আমি
অতিনীচ জঘন্য কুকুর
তবু না হইতে চাহি
এ-হেন রােমক কলঙ্কিত।
ক্যাস। ক্লটাস শােনাে গো বলি -কটুবাক্য কোরাে না প্রয়ােগ,
-করিব না সহ আমি ; আপনারে হয়েছ বিস্মৃত
শাসন করিবে মােরে ? জানাে আমি সৈনিক-পুরুষ
—প্রবীন তােমার চেয়ে, তােমা-ছেয়ে যােগ্য সমধিক ?
কি নিয়মে কোন্ কৰ্ম্ম কোন জনে দেওয়া সমুচিত
—তােমা-চেয়ে বুঝি ভাল।
থামাে থামাে, হয়েছে যথেষ্ট,
ক্যাশিয়াস! নহ তুমি যেরূপ বর্ণিছ আপনায়।
ক্যাসিয়াস। হাঁ ঠিক তাহাই আমি।
-কভু নহে, কহিতেছি আমি।
ক্যাস। বলিও না বেশী কথা, পারিব না আত্মসঙ্কুরিতে
তৰ নিজ দেহ-পরে থাকে যদি একটু মমতা,
: ঘাটামােনা মােরে আর বলিতেছি ক্ৰটাস তােমারে
ক্র। যাও যাও! তােমা-সম ক্ষুদ্রজনে কে করে গণনা ?
ক্যাস। ইহা কি সম্ভব, তুমি বলিবে আমারে এই কথা ?
ক্র। অবশ্য ৰণিৰ আমি; হইব কি আমি নতশির
;
চতুর্থ অঙ্ক। ১১ তব অন্ধকাছে ? উম্মদের তীব্র চাহুনিতে আমি কি পাইব ভয় ? কি সাহসে বলিছ এ কথা ? কাশ্য। হা বিধাত!—ধিক্ ধিক! -এ-সমস্ত থাকিব সহিয়া ? । এ-সমস্ত,আরাে বেণী করিতে হইবে সহ তব। ফুলিয়া ফুলিয়া রােষে ভাঙ্গুক ও গর্বিত হৃদয় ; কর ক্রোধ প্রদর্শন তব নিজ দাসগণ-প্রতি, হউক কম্পিত তারা, আমি তাহে হব বিচলিত ? তােমাকে মানিব আমি ? সঙ্কুচিত হইব কি আমি তোমার রােষের ভয়ে ? মনােজালা কর পরিপাক তুমি আপনার মনে ; কিম্বা মর’ ফাটিয়া রােষেতে; আজ হতে তব রোষ হবে মাের হাস্যের খােরাক। ক্যাশ্যস। হা বিধাত। অবশেষে এই ছিল অদৃষ্টে আমার ? ত্রু। বলিতেছ স্পর্ধা করি’ -আম-চেয়ে শ্রেষ্ঠবীর তুমি ; -দেও তার পরিচয় মুখের এ বৃথা আস্ফালন কাৰ্য্যে কর পরিণত —পরিতুষ্ট হব তাহা হলে। হব সুখী-হয় যদি শিক্ষা মাের শ্রেষ্ঠজন-কাছে। ক্যাশ্যস। অন্যায় করিছ তুমি আমা-পরে বিবিধ প্রকারে ; বলিয়াছিলাম “জ্যেষ্ঠ নহে “শ্রেষ্ঠ” তােমা-চেয়ে আমি । “শ্রেষ্ঠ” কি বলিয়াছিনু ? কিবা তাহে আসে-ায় মাের, যদি বা বলিয়া থাক; ক্যাশ্যস। যত দিন ছিলেন সীজার, একথা বলিতে মােরে পান নাই সাহস তিনিও। । থামে, তারে ঘঁাটাইতে কভুনা সাহস হত তব ১০২ জুলিয়াস্ সীজার। ক্যাশ্যস। হত না সাহস মাের ? ক্যাশ্যস। সাহস হইত না মাের ? । প্রাণভয়ে কভু তুমি পারিতে না ঘাটাইতে তারে। ক্যাশ্যস। মাের ভালবাসা-পরে করিও না অধিক নির্ভর ; -করিয়া ফেলিব কিছু যার তরে হইব দুঃখিত। । যা করেছ-তারি তরে উচিত দুঃখিত-হওয়া তব। ক্যাশ্যস! ডরি না আমি এ-সমস্ত ভয় প্রদর্শনে, নিজ সততার বলে আছি আমি এত বলীয়ান্ ; -তব উক্তি যায় চলি মৃদুভাবে মাের পার্শ্ব দিয়া অলস বায়ুর-মত, -তুচ্ছ বলি’ গণি আমি তায়। কিঞ্চিৎ অর্থের তরে পাঠাইৰু লােক তব-কাছে, -তুমি হলে অস্বীকৃত ; জান তুমি,-অসৎ উপায়ে সংগ্রহ করিতে অর্থ নিতান্তই অপারক আমি। আছেন দেবতা সাক্ষী, বরঞ্চ সে অর্থ-বিনিময়ে নিজ রক্ত দিব ঢালি, তবু না লইব মােচড়িয়া নিরীহ সে চাষাদের কর্কশ কঠোর হস্ত হতে তাদের কষ্টের ধন ছলে-বলে অন্যায় উপায়ে। সৈন্তের বেতন লাগি চাহিলাম অর্থ তােমা-কাছে, —তুমি হলে অস্বীকৃত। এ-কাজ কি যােগ্য ক্যাশ্যসের? উত্তর যা দিমু আমি উচিত কি হয় নাই মাের? মার্কস-টাস যদি ধনলুব্ধ হঞ্জে কোন দিন, ঘৃণিত কাঞ্চন-রাশি নিজ বন্ধুগণ হতে লয়ে, আবদ্ধ করিয়া রাখে নিজহস্তে স্বার্থের উদ্দেশে, করেছ তুমি বন্ধুর সহস্র ত্রুটি -দেবতা তােমারা সবে, তখনি এ ঐটাসের পরে হানিয়া ভীষণ বজ্র চূর্ণ-বিচূর্ণ কোনাে তারে। কাশ্যপ। হই নাই অস্বীকৃত। অবশ্য হইয়াছিলে তুমি। ক্যাশ্যস। কখনই হই নাই; পাঠাৰু উত্তর যাকে-দিয়া সে জন নির্বোধ অতি; কি আর কহিব আমি -জ্বটাস এ-হৃদি বিদীর্ণ শতধা ; বন্ধুর উচিত সহ করা ; কিন্তু এ ক্রুটাস, দেখি আসলে যত না দোষ মাের বাড়াইয়া তােলে আরাে ; ত্রু। আরম্ভিলে তুমিইত আগে। ক্যাশ্যস। ভাল নাহি বাসস মােরে। দোষ তব নাহি ভাল বাসি। ক্যাশ্যস। বন্ধুজন-আঁখি—লক্ষ্য নাহি করে বন্ধুজন-ক্রটি। ত্রু। দোষগুলা হয় যদি অতি উচ্চ পৰ্বত-সমান; -তবু না দেখিতে পায় স্তুতিকারী তােষামােদী জন। কাশ্যস। এসসা তুমি আন্তনি। এসাে যুবা-অক্টোত্যায় তুমি ! ও আসি’ প্রতিশােধ শুধু এই ক্যাশ্যাসের পরে ; ক্যাশ্যস জীবনে ক্লান্ত বিরক্ত এ সংসারের-পরে ; প্রিয়জন করে ঘৃণা, শত্রু হ’ল পরাণের ভাই, শাসিছে দাসের মত, ত্রুটি মাের ধরে পদে-পদে, কেতাবে তা’ রাখে টুকি, আওড়ায় কণ্ঠস্থ করিয়া, পরে তা’ শুনায়ে দেয় গর্বভরে মুখের উপরে ; হায় কি দারুণ কষ্ট। মনে হয়—সমস্ত পুরাণ
১৪
জুলিয়াস্ সীজার।
ঢালিয়া ফেলিতে পারি আঁখি হতে অশ্রুবারিরূপে।
এই হেথা ছােরা মাের,
এই হেথা বক্ষ অনাবৃত ;
আর, এই বক্ষ-মাঝে অধিষ্ঠিত এই-এ হৃদয়,
যক্ষরাজ-ধন-চেয়ে
মূল্যবান যাহা সমধিক,
—মহা কাঞ্চন-চেয়ে ; ব্রুটাস! রােমক হও যদি
-বাহির করিয়া লও; যে না দিল কাঞ্চন ভােমায়
দিতেছে সে হৃদি তার, মারাে তারে সীজারের মত,
-পাতিয়া দিতেছি বক্ষ ; আমি ইহা জানি বিলক্ষণ,
যে সময়ে ঘৃণা তব অতিমাত্র লীজারের পরে
তখনাে তাহার প্রতি ছিল তব যেটুকু মমতা
তাহার তিলার্ধ নাই এবে তব কাশ্যসের পরে।
ত্রু। রাখ তব ছােরা তুলি; যতই কর না তুমি রােষ,
যাহা ইচ্ছা বল মােরে —না করিব অপমান বােধ ;
ইহাই করিব মনে করিয়াছ ঝোঁকের মাথায় ;
ক্যাশ্যাস জানিও মােরে মেষ-সম অতীব নিরীহ,
—এক যুগ-কাষ্ঠে বাঁধা আছি দোহে সখ্যের বন্ধনে।
জানিবে, আমার ক্রোধ চকমকি পাথরের-মত
—ঘসিলে আগুন উঠে, নিবে যায় তখমি আবার।
কাশ্য। রাগের মাথায় আমি কখন কি বলেছি তােমায়,
তাতেই কি হব সখা
তব চির-জিপ-ভাজন'?
ক্রটাস-ক্যাশ্যাস-পরে হইবে কি এরূপ নির্দয় ?
ত্রু। আমি যা বলেছি তােমা তাও জেনাে ক্ষণিক আবেগে।
ক্যাশ্যস। মানিলে এটুকু তুমি ? —দেও তবে ওই হস্ত তব।
জ} শুধু হও নহে মাের —আরে এই দিতেছি হৃদয়।
১০৫
কাশ্যস। ও যে হে! ঐটাস! টাস,!-
কি হয়েছে, বল’ মােরে খুলি।
শ্যা। নাহি কি আমায়-পরে এতটুকু ভালবাসা তব
যাহাতে সহিতে পার -ই যৰে রাগের মাথায়
আত্মবিস্মৃত আমি মাতৃদত্ত-স্বভাবের দোৰে ।
ঐ। ই ক্যাখ্যস, আজি হতে যখন দেখিব তুমি কষ্ট
তৰ ক্ৰটালের পরে,
তখনি কৰি আমি মনে
-মাতা তব করিছেন তৎ সনা—আর কিছু নয়।
কৰি। (নেপথ্য হইতে)
দেখে আসি এইক্ষণে কি করেন সেনাপতি দোহে;
মনার আছে দোহা-মাবে, একলাটি থাকা দুই জনে
নকে উচিত এবে।
লুসিব্যস। (নেপণ্য হইতে)
কিছুতেই পাবে না যাইতে।
কৰি। পরাণ থাকিতে দেহে না পারিবে আটকিতে কেহ।
(কবির প্রবেশ ও তার পিছনে পিছনে লুসিলিয়া
টিটিনিয়াসের গমন।)
ক্যাশ্যস। কি হয়েছে?-কি হয়েছে। কি ব্যাপার, বল দেখি শুনি।
কৰি। হি হি সেনাপতি ছি ছি। করিছ কি তােমরা দুজনে।
ভালবাসাে পরস্পরে প্রাণখুলি বন্ধুর মতন ;
বয়ােবৃদ্ধ তোমাদের চেনে, তােনাে আমার বচন।
কাশ্যস। হাঃ হাঃ হাঃ। এ কবির কি জন্য পয়ারের মিল।
। আরে বেটা নিজ
দূর হয়ে এখান হইতে।
ক্যাশ্যল মনে করিও না কিছু ওই ওর বলির খায়।
জুলিয়াস্ সাজার। } - - ব্রু। সহ্য হয়—যদি বলে এই-সব সময় বুঝিয়া। শবদ-ঝঙ্কারকারী এই সব বাতুল জনের কি কাজ যুদ্ধের মাঝে ? —দূর হ’রে বেটা হেথা হতে। ক্যাশ্যস্। যারে মা’ চলিয়া তুই। ( কবির প্রস্থান। ক্র। দেখ লুসিল্যস, টিটিস। আদেশে সামগণে করুক উদ্যোগ-আয়ােজন রাখিবারে সৈন্যদের এইস্থানে আজি রাত্রিকালে ; ক্যাশ্যস। মরাও এস, আর, মেসালাকে এনো সঙ্গে করি’ অবিলম্বে। { লুসিল্যাস ও চিটিন্যাসের প্রস্থান। লুসিলাস ! পাত্র ভরি’ আন্ তুই সুরা। ক্যাশ্যস। আমি নাহি জানিতাম -এত রুষ্ট হতে পার তুমি। । শােনাে বলি ক্যাশিয়া বহু দুঃখে এ চিত্ত অধীর। ক্যাশ্যস্।এই সব আগন্তুক দুঃখে যদি হও গাে কাতর তাহলে তােমার সেই তত্ত্বজ্ঞান লাগিবে কি কাজে ? । কে সহে আমার মত। -হইয়াছে মৃত্যু পাের্শিয়ার। কাশ্য। আহা!-মৃত্যু পাের্শিয়ার? পাের্শিয়া সে গেছেলােকান্তরে। ক্যাশ্য। রুষ্ট হয়ে সে-সময়ে কেন না বধিলে মাের প্রাণ? • অহহ! অসহ! হায়! কি বিষম দারুণ এই ক্ষতি। কিসে হল মৃত্যু তার? অধৈৰ্য্য আমার বিরহে, প্রবল দেখিয়া আর, -অক্টোভ্যস অন্তৰি দোহারে;
চতুর্থ অঙ্ক। ১৭. সে সংবাদ পেনু মােরা এই কথা শুনিয়া সে গিলিল অনল-রাশি ক্যাশ্য। মৃত্যু হ’ল এইরূপে? তার মৃত্যু সংবাদের সাথে ; হয়েছিল এমনি বিহ্বল, -ভৃত্য কেহ ছিল না যখন। এরূপেই হ’ল মৃত্যু তার। ক্যাশ্য। হা বিধাত! কি করিলে ? (সুরা ও বাতি লইয়া সুশাস্যের প্রবেশ ) ক্র। তার কথা বলিও না আর ; পাত্র ভরি দেরে সুরা —সব দুঃখ ডুবাব সুরায়। (মদ্যপান।) ক্যাশ্য। হৃদয় তৃষিত মাের সেই মহা-শপথের তরে ; -লুশ্যস! পূরহ পাত্র যাবৎ না পড়ে ছাপাইয়া (মদ্যপান।) ব্রু। এসস ওহে টিটিস্। ; (মেসালার সহিত টিটিন্যসের পুনঃপ্রবেশ) এসাে ওগাে মেটেলাস তুমি। নিশার সমুখে বসি’ এসাে মােরা করি আলােচনা —কি করা কর্ত্তব্য এবে। কাশ্য। সত্য কি পাের্শিয়া তুমি নাই ? । ওকথা আর না, থামো ; দেখগাে মেসালা, এই সব পত্রে আমি জানিলাম -অক্টোভ্যাস আন্তনি দেহে লইয়া বিপুল নৈন্য চলিছে ফিলিপি-অভিমুখে আক্ৰমিতে আমাদের।
জুলিয়াস্ সাজার।
.
মেসেল।
এই মর্মে আমিও অনেক
পাইয়াছি পত্র ;
অার কোন কথা আছে কি তাহাতে?
মেসাল। রাষ্ট্রের অরাতি বলি অক্টোভ্যস, আনি, লিপিডাস,
-একশত জ্যেষ্ঠদের
মৃত্যুদণ্ডে করিল দণ্ডিত।
ক। এ বিষয়ে আমাদের উভয়ের পত্রে নাহি মিল ;
আমি জানিয়াছি পত্রে প্রাণদও সত্তর জনের
—সিসিরাে তাহার মাঝে।
কাশ্যস।
সিসিররা তাদের একজন ?
মেসেল। সিসিরােও গতপ্রাণ এই দণ্ডবিধি-অনুসারে।
আৰ্য পেয়েছ কি তুমি কোন পত্র তব পত্নী হতে ?
। না মেসেলা, পাই নাই; -পাই নাই কোনই সংকাদ?
মেলা। অথকা, অপর কেহ লিখেছে কি পত্রে তার কথা?
। কেহ কিছু লিখে নাই।
মেসাল।
এ বড় আশ্চর্য কথা শুনি।
ত্রু। জিজ্ঞাসিছ কেন তুমি ? তৰু পত্রে আছে কি সে কথা ?
মেলা। নাহি কিছু।
সত্য বল’ প্রকৃত রােমক হও যদি।
মেসালা । সত্য তবে বলি শশানে সহ কর রােয়কের মত।
হইয়াছে মৃত্যু তার —আর অতি অদ্ভুদ প্রকারে।
। হোক-বিদায় পাের্শিয়া! মরিব ত আমরা সবাই ;
একদিন অবশ্যই মরিত পােশিয়*—এইকথা
চিন্তা করি’ মনে মনে সহি শােক ঞ্চৈৰ্য্যসহকারে।
মেলা। হাশ-লােকেরাই মহাশােক পারে সহিৰারে।
চতুর্থ অঙ্ক।
ক্যাশ্য। যুক্তিতে বুঝিতে পারি এই কথা তােমারি মতন,
কিন্তু এ প্রকৃতি মাের না পারে সহিতে তােমা-সম।
। থাক মৃত্যু-কথা, এসাে করি কাজ জীবন্তেরত।
-তােমার কি মত বল ? ফিলিপিতে যাৰ কি এখনি ?
কাশ্যস। না যাওয়াই ভাল।
কেন নহে ভাল?
ক্যাশ।
যুক্তি এই ঃ-
হয় ভাল-শত্রু যদি আগে আসে মােদের সন্ধানে,
নষ্ট হবে অথরাপি ক্লান্ত হৰুে সৈন্য তাহাদের ;
হইবে নিজেরি ক্ষতি ; আর, মােরা থাকি’ স্থিরভাবে,
সম্পূর্ণ বিশ্রাম লভি হ’ব আত্মরক্ষণে সমর্থ,
আর, কাজে তৎপর।
এ তব উত্তম যুক্তি বটে ;
কিন্তু যদি থাকে যুক্তি আরাে ভাল তােমার অপেক্ষা,
-কাজেই হইতে হবে নতশির সে যুক্তির কাছে ।
—ফিলিপি ও এই তুমি এর মাঝে আছে যত লােক,
তাদের হৃদয় নহে অনুকূল আমাদের প্রতি ;
স্বেচ্ছায় করেনি তারা। অর্থের সাহায্য আমাদের
তাদের ভিতর দিয়া
শত্রুগণ আসিবেক যবে,
সংখ্যায় বাড়িবে তারা -নববলে হবে বলীয়ান;
এসব সুযােগ হতে হইবেক তাহারা বঞ্চিত
করি যদি আক্রমণ তাহাদের ফিলিপেতে গিয়া ;
তাহলে এসব শােক রহিৰেক পড়িয়া পশ্চাতে।
কাশ্য। শােনাে ভাই, আমি বলি -ফিলিপিতে না যাইয়া যদি
জুলিয়াস্ সীজার। { । মার্জনা করিবে মােরে বুঝে দেখ আরাে এক কথা বন্ধুর সাহায্য মাের পাইয়াছি যতটা সম্ভব । অসংখ্য মােদের সৈন্য ; কাৰ্যকাল ফলােখ এবে ; এদিকে আবার দেখ, শসংখ্যা বাড়ে দিনে-দিনে মােরা সবে উঠিয়াছি শিখরের চুড়ান্ত সীমায় —পতনে উম্মুখ এবে ; আছে জেনাে মানুষেরাে কাজে জোয়ার ভাটার টান ; চলি যদি জোয়ারের মুখে উপনীত হই গিয়া অনায়াসে সৌভাগ্যের কূলে ; হারাইলে সে জোয়ার, সমস্ত এ ভব-যাত্রা-পথে বাধিবে জীবন-তরী বারম্বার দুঃখ-বালুচরে। ভাসিতেছি এবে মাের। উদ্বেলিত পূর্ণসিন্ধু মাঝে ; সময় বুঝিয়া যদি ধরি মােরা অনুকূল স্রোত, তবেই পাইব কুল, নচেৎ খােয়াব সরবস্ব। ক্যাশ্য। হও তবে অগ্রসর, -কর’ যাহা অভিরুচি তব ; মােরাও ভেটিব গিয়া শত্রুগণে ফিলিপি-প্রদেশে। ফ্রি। গভীর রজনী এবে ধীরে ধীরে আসে অলক্ষিতে মমাদের কথার মাঝে ; প্রকৃতির অকাট্য নিয়ম কে পারে লঙ্ঘিতে বল’, -এস করি একটু বিশ্রাম। নাহি আর কোন কথা ? ক্যাশ্য। অন্য কথা নাহি আর কিছু । এইবার তবে সথা! করি আমি বিদায় গ্রহণ। প্রত্যুষে উঠিয়া কাল চলিব আমরা হেথা-হতে। । দে« লুশিয়াস্! তুই নিয়ে আয় পরিচ্ছদ মাের। (লুশ্যসের প্রস্থান।)
চতুর্থ অঙ্ক। বিদায় মেসালা তবে, টিটিন্যস, হইনু বিদায়। ক্যাশিয়াস!-ভাই-ভাই! —আসি তবে—হউক সুনিদ্রা। ক্যাশ্যস্। প্রিয়তম সখা মাের। কি অশুভ-আরম্ভ এই রাতি! ব্রু। সমস্ত মঙ্গল এবে। কাশ্য। আসি তবে-হইনু বিদায়। চিটিন্য সুনিদ্রা হউক আৰ্য্য! আমরাও হইনু বিদায়। মেসাল। একি ! (ক্যাশ্যস, টিটিস ও মেলার প্রস্থান ও পরিচ্ছদ লইয়া লুশ্যসের পুনঃপ্রবেশ।) ব্রু। দেরে মাের পরিচ্ছদ ; কোথা তাের যন্ত্রখানি এবে? লুশ্যস। আছে তাবুতেই। ব্রু। ঘুম-ঘারে কহিছিস কথা ? নাহি দুষি তােরে আমি -ক্লান্ত তুই রাত্রি-জাগরণে। ক্লডিয়াসে ডাকি আন্ —অথবা অপর কোন দাসে; নিদ্রা যাক তারা আসি’ মাের এই তঁাবুর গদিতে। লুশাস। ভ্যারাে!-ক্লডিয়াস!-ওরে ! (ভ্যারাে ও ক্লডিয়াসের প্রবেশ। ভ্যারাে। ডাকিছ কি প্রভু আমাদের ? ত্রু। তােরা আজি থাক শুয়ে মাের এই তঁাবুর ভিতরে ; হয়ত পাঠাতে হবে কোন কাজে ক্যাশসের কাছে। ভ্যানরা। যে আজ্ঞে, রহিব হেথা দাড়াইয়া আদেশের তরে। । দাঁড়াতে দিব না আমি -শােও বাপু তােমরা হেথায় ; হয়ত হইতে পারে অন্য কোন প্রয়ােজন মোর। (ভ্যারাে ও ক্লডিয়াসের শয়ন।)
জুলিয়া সীজার । . এই দে« সুশিয়া ওরে! করিতেছিলাম যার খোঁজ পেয়েছি সে গ্রন্থখানি এই মাের জেবের ভিতরে। পুণ্য। তখনিত বলেছি -দেন নাই আমার নিকটে। ক। মনে করি না কিছু এবে বড় ভুল হয় মাের ; ক্ষণেক মেলিয়া আঁখি পারিবি কি আলাপিতে তুই তাের সেই যন্ত্রটিতে দু-একটী সঙ্গীতের তান? সুশ্য। অবশ্যই আলাপি -লাগে যদি প্রভুর তা ভাল। ৪। বড় ভাল লাগে মাের; কিন্তু বড় কষ্ট হবে তাের ; -তবে কিনা--আজি তুই- সুশ্য। এত প্রভূ কৰ্তব্য আমার। । আমি নাহি বলি তাের করিতে কর্তব্য কাজ তাের। শক্তি অতিক্রম করি; তরুণ তনুর প্রয়ােজন বিশ্রাম মাঝে মাঝে। সুশ্য। ঘুমায়েছি প্রভু বহুক্ষণ। ক। ভালই করিয়াছি -আবার ঘুমাবি এর পরে ; অধিক ক্ষণের তরে রাখিব তােরে আটকিয়া ; যদি বাঁচি, তোর পরে দয়া মাের থাকিবে নিয়ত। ( যন্ত্র বাজাইয়া গান।) শুটি ঘুমন্ত অতি ; ওরে তুই নিদ্রা প্রাণঘাতী। শুনাইছে তােরে গান, —আর তুই কিনা এম্বে তাের সেই গুরুভার লােহ-দণ্ড করিলি স্থাপন এই বালকের পরে। বৎস! তবে লই বিদায়। জাগাইয়া এবে তােরে চাহিনা করিতে হাের ক্ষতি ; যটি সরাতে লই ; ছ! তুই ঘুমা অকাতরে।
চতুর্থ অঙ্ক।
১১৩
ভাল কথা-দেখি-দেখি -বেঁধা মাের সাঙ্গ হল পাঠ
সেথা কি মুড়েছি পাত? -এই যে, হেথায় পাঠ শেষ।
( উপবেন।)
(সীজারের প্রেতাত্মার আবির্ভাব।
বাতিটা জ্বলিছে বড় মিটি মিটি ;-কেও আসে হেথা?
আঁখির ক্ষীণতা বশে হেরি বুঝি এ বিকট ছায়া ;
একি!-আসে মাের কাছে! তুই কিরে বাস্তবিক কিছু ?
দেবতা, না-দেবদূত অথবা দানবকে তুই?
শশাণিত স্তম্ভিত মাের -লােমাঞ্চিত হয় যে শরীর।
কে তুই?-আমায় বল।
প্রেতাত্মা।
তৰ বৈরি-প্রেতাত্মা, ঐটাস।
ব্রু। কি হেতু আইলি হেথা ?
প্রেতাত্মা।
ফিলিপিতে হইবে সাক্ষাৎ
-বলিতে আই তাই ।
পুন তবে দেখা হবে সেথা ?
প্রেতাত্মা। হৰে দেখা ফিলিপিতে।
ভাল, হবে সেথাই সাক্ষাৎ।
(প্রেতাত্মার তিরােভাব।)
ক। সুশ্য, কেনরে তুই চেঁচায়ে উঠিলি নিদ্রা-মাঝে?
দেখিলি কি স্বপ্ন কোন ?--তাই কিরে উঠিলি চেঁচায়ে ?
লু। চেঁচায়েছি কি আমি ? কই, আমি জানি না-ত
-ত প্রভু।
ত্রু। হাঁ, তুই চেঁচায়েছিলি; কিছু কি দেখিয়াছিলি চোখে ?
লু। না প্রভু কিছুই নয় ; -কিছুইত দেখি নাই আমি।
। যারে তুই ঘুমাগে ষা; ক্লডিয়সে! আছি জাগিয়া
জুলিয়াস্ সীজার।
ভ্যারাে। আজ্ঞা প্রভু!
ক্লডিয়াস।
আজ্ঞে প্রভু!
কেন তাের উঠিলি চেঁচায়ে ?
ভ্যারাে। আজ্ঞা প্রভু!
ক্লডিয়াস।
আজ্ঞে প্রভু!
কেন তােরা উঠিলি চেঁচায়ে ?
ভ্যারা।
উঠি চেঁচায়ে মােরা!
ক্লডিয়াস।
১
কিছু কি দেখিয়াছিলি চোখে ?
ভ্যাররা। কিছুই দেখিনি প্রভু!
ক্লডিয়াস।
ত্রু। যা তােরা বলিয়া আয়
যেন সে করয়ে যাত্রা
পশ্চাতে যাইব আমি।
আমিও-ত দেখি নাই কিছু।
কাশ্যসেরে মাের নাম করি
সৈন্য-সহ একটু প্রাক্কালে,
ভ্যারো।
যে আজ্ঞে বলিব মােরা গিয়া।
ক্লডিয়াস।
ইতি চতুর্থ অঙ্ক।
পঞ্চম অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য—ফিলিপির ক্ষেত্র।
(অক্টোভিয়াস, আন্তনি, ও তাহাদের সৈন্যগণের প্রবেশ।)
অক্টো। দেখ গাে আন্তনি, এবে ফলিয়াছে মােদের প্রত্যাশা ;
তুমি-ত বলিয়াছিলে —শত্রুগণ নাবিবে না নীচে,
থাকিবে শৈলের’-পরে —আরাে বেশী সমুচ্চ প্রদেশে
কিন্তু ফলে হ’ল না তা ; নিকটে তাদের সৈন্যদল ;
এ ফিলিপি-ক্ষেত্রেতেই আহ্বামিবে যুদ্ধে আমাদের।
মােদের পূৰ্বেই ওরা যুদ্ধ দিতে হবে অগ্রসর।
আন্তনি। রেখে দেও—জানি আমি উহাদের অন্তরের কথা,
-জানি, কেন করিতেছে এইরূপ ; গিয়া অন্য স্থানে,
সেখান হইতে তারা ধরি’ ভীরুজনের সাহস
আসিছে নামিয়া নীচে -দেখাইছে সাহসের ভাণ,
যাহাতে আমরা ভাবি —ওরা সবে বড়ই সাহসী ;
-কিন্তু নহে আসলে তা।
;
প্রস্তুত।
(দূতের প্রবেশ।)
দূত
সেনাপতি, হওগগা প্রস্তুত ;
শত্রুগণ,আসিতেছে সবিক্রমে মহা-সমারােহে ;
উড়ায়েছে তাহাদের রক্তময় যুদ্ধের নিশান
—করিবে এখনি যেন কোন কাজ না করি বিলম্ব।
আশুনি। চল ধীরে অক্টোভ্যস সৈন্য লয়ে বাম দিক দিয়া।
অক্টো। থাকিব দক্ষিণে আমি -তুমি থাক বাম দিক ভাগে।
আন্তনি। এ হেন সঙ্কটকালে কেন তুমি কর প্রতিবার
জুলিয়াস্ সাজার। । যুদ্ধের অক্টো। প্রতিবাদ নহে—কিন্তু করিব যা বলি তােমারে। ( সসৈন্যে যাত্রা (দুলুজি-ধ্বনি।সন্য-সহ ঐটাস ও ক্যাশাসের প্রবেশ ;) (পরে লুসিলিয়াস টিটিনিয়াস মেসালা প্রভৃতির প্রবেশ ।) ব্রুটাস। দাড়ায়েছে ওরা; চাহৈ করিবারে সন্ধি-সম্ভাষণ। ক্যাশ্যস। টিটিস তুমি হেথা দাড়াইয়া থাক দৃঢ়ভাবে, মমাদের করিতে হবে সম্ভাষণ বাহির হইয়া। অক্টো ইঙ্গিত এৰে করিব কি আমরা আন্তনি? আন্তনি। না না, ওরা আক্ৰমিলে তবে মােরা হব অগ্রসর, সেনাপতিদের মাঝে হবে কিছু কথাবার্তা আগে। অক্টো। নড়িয়ােনা যাবৎ-না করা হয় যুদ্ধের ইঙ্গিত। ত্রু। প্রহারের আগে বাক্য, ইহাই কি তােমাদের নীতি ? ভাবিও না আমাদের বাক্য-প্রিয় তােমাদের মত। ব্রু। সুবাক্য-ও ভাল জেনাে কু-আঘাত করিবার চেয়ে। জান্তনি। কু-আঘাত প্রয়ােগেও সুবাক্য বলিতে পটু তুমি ; তার সাক্ষী, তুমি যবে বিধিলে হৃদয় সীজারের তখনো বলিলে—”জয় সীজারের। হও চিরজীবী।” ক্যাশস। যে ভাবে আন্তনি তুমি করহ আঘাত পরে —এখনাে অজ্ঞাত তাহা; বাক্যে কিন্তু ভালো এত বিষ্ণ “হিবলাকসী অলিদেলে, কর তুমি মধুতে বঞ্চিত -হয় তারা মধুহীন ; আন্তনি। বিষহীন নহে কিন্তু জেনাে। । শুধু নহে বিষহীন শব্দহীন: করেছ তাদের » তাদের গুঞ্জনে তুমি আন্তনি করেছ হরণ;
পঞ্চম অঙ্ক।
শাসাও সতত তুমি শত্রুগণে দংশনের আগে।
আন্তনি। তােরা নরাধম কিন্তু করি নি আমার-মত ;
চোপাইলি তােরা যবে ছােরা দিয়া সীজারের দেহ,
বানরের-মত তোরা খি ছাইলি দন্ত পাতি সবে,
আবার কুকুর-সম
চাটিতে লাগিলি গাত্র তঁাক,
দাস-বৎ নত শিরে
সীজারের চুম্বিলি চরণ।
ক্যাশ্যস বিশ্বাসঘাতী চৌর-সম পিছন-হইতে
আঘাতিল গ্রীবাদেশে ; ধিক্ তােরা চাটুকার সবে।
ক্যাশ্যস।(ব্রুটাসের প্রতি)
চাটুকার ?—এই কথা
শােনা গেল তােমারি কৃপায় ;
ক্যাশসের কথা মত তখন হইত যদি কাজ,
শুনিতে না হত তবে একটুক্তি ও রসনা-হতে
অক্টো। প্রকৃত প্রস্তাবে এসস ; তর্কেই ঘর্মাক্ত যদি মােরা,
স্বেদ-বিন্দু রক্ত-বিন্দু হইবে-যে প্রমাণের স্থলে।
দেখ, আমি খুলি অসি ষড়যন্ত্রীগণের বিরুদ্ধে ;
এমনি রহিৰে খােলা যাবৎ-না সীজারের সেই
তেত্রিশটি আঘাতের হইবেক পূর্ণ প্রতিশােঞ্চ
অথবা, না করে পান বিশ্বাসঘাতীদের অসি
অন্য-সীজারের রক্ত।
মৃত্যু তব হবে না সীজার
যদি না আনিয়া থাক বিশ্বাসঘাতীর দল সাথে।
অক্টো। সেই আশা করি আমি; করি নাই জনমগ্রহণ
মরিতে টাস-হাতে।
হও যদি কুলের প্রদীপ,
১১৮ জুলিয়াস্ সীজার। এব চেয়ে শ্লাঘ্য মৃত্যু তব ভাগ্যে না ঘটিবে কভু। ক্যাশ্যস। খিটখিটে স্বতাব,ক্ষুদ্র এই পাঠশালার পড়ুয়া নহে যােগ্য হেন উচ্চ সম্মানের তরে ; তাহে পুন মিশিয়াছে ছদ্মবেশী নট আর বিলাসীর সনে। আন্তনি। পুরাতন ক্যাশ্যস সে আছে দেখি তেমনি এখনাে। অক্টো। চল চল হে আন্তনি কাজ নাই হেথায় থাকিয়া ; ওরেরে বিশ্বাসঘাতী । যুদ্ধে করি তােদর আহ্বান; থাকয়ে সাহস যদি, আয় তােরা রুণভূমি-মাঝে ; এবে যদি না পারিস, আসিস্- সাহস হবে যবে। ( অক্টোভ্যাস অস্তনি সসৈন্যে প্রস্থান। কাশ্যস। বহুক পবন তবে, গরজিয়া উঠুক তরঙ্গ, ভাসুক তরণী, ঝড় উঠিয়াছে ;-কি জানি কি হবে, —কিছুই নাহিক স্থির এবে। শােন বলি ওহে লুসিলস। লুসি। আজ্ঞে ? (ব্রুটাস ও লুসিলসের মধ্যে চুপি চুপি কথা।) শােনহে মেসাল। মেসালা। কি আদেশ সেনাপতি তব ? ক্যাশ্যস। আজি মাের জন্মদিন ; দেও হস্ত তােমার মেসালা তুমি সাক্ষী-নিতান্তই আমি মাের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেই পম্পের মতন একটিমাত্র যুদ্ধের উপরে ন্যস্ত করিয়াছি দেখ সমস্ত মােগের স্বাধীনতা। মেসালা, তুমি জান —ছিল মাের সুদৃঢ় বিশ্বাস *এপিকুরাসের” মতে ; এবে কিন্তু হইয়াছে মাের , | কিন্তু যেহেতু এখনাে। পঞ্চম অঙ্ক। অন্যরূপ মনােভাব ; করি আমি এখন বিশ্বাস অলক্ষণ-সূচনায় ; -আসিতেছিলাম মােরা যবে সার্ডিস-প্রদেশ-হতে, মােদের প্রথম ধ্বজা’পরে বসিল উড়িয়া আসি বড়-বড় দুইটা গড় ; সৈন্য-হস্ত-হতে তারা খাদ্য লয়ে ভরিল উদর, ফিলিপি পৰ্যন্ত এল বরাবর আমাদের সাথে; আজি প্রাতঃকালে তারা হেথা-হতে গিয়াছে উড়িয়া উহাদের স্থলে এবে শকুনি গৃধিনী কাক চীল উড়িয়া মস্তকোপরি দেখে নীচে আমাদের পানে শিকার ভাবিয়া মনে ; উহাদের ঘাের মারাত্মক পক্ষ-চন্দ্রাতপ-তলে, রহিয়াছে সৈন্য আমাদের সদ্য মরণের মুখে ! মেসালা। করিওনা ও-সবে বিশ্বাস। ক্যাস। অংশতঃ বিশ্বাস করি -নাহি করি সম্পূর্ণরূপে ; এখনাে পরাণ মাের পরিপূর্ণ অভিনব তেজে । বিপদের মুখে আমি অগ্রসর হই দৃঢ়ভাবে। ব্রু। (লুসিয়াসের সহিত চুপি চুপি ) তুমি যাহা বলিতেছ লুসিল্যস তাই সত্য বটে। ক্যাস। শােনা বলি হে ব্রুটাস, -দেবতারা হলে অনুকুল, আমরা দুইটি সখা শান্তভাবে কাটায়ে জীবন, উপনীত হতে পারি নিরাপদে বার্ধক্য-সীমায় ; ঘটনার নাহিক স্থিরতা, দেখ ভাবি-কি করিব যদি ঘটে দশা-বিপৰ্যয়। যদি এই যুদ্ধে মােরা পরাজিত হই, তাহা হ'লে "
১২
জুলিয়াস্ সীজার।
;
জানিবে টাস—এই আমাদের শেষ বাক্যালাপ ;
বল’ দেখি তুমি, এবে কি সঙ্কল্প করিয়াছ মনে।
ঔ। যেই তত্ত্বজ্ঞান ধৰি দূষিলাম আমি সে কেটোরে
—করিতে উদ্যত যবে আত্মহত্যা—সেই নীতি-মত
এখনাে চলিব আমি ; মনে হয়—কেন তা কে জানে-
পাছে মন্দ ঘটে কিছু সেই ভয়ে আয়ু নাশ করা,
যে সকল দৈবতারা শাসন করেন মর্ত্যজনে,
আটক করিতে যাওয়া তাঁহাদের সঙ্কল্প-বিধান,
—ইহা হেয় অতিশয় -কাপুরুষ ভীরুজনােচিত।
ক্যাশস। এই যুদ্ধে হলে হার লয়ে যাবে যখন তােমায়
রােম-স্নাজপথ দিয়া শত্রুগণ বিজয়-উল্লাসে,
ব্রুটাস তখন তুমি হইবে কি পরিতুষ্ট তাহে?
। না ক্যাশ্য-কথন-না ভাবিও না, ব্রুটাস কখনন
যাবে রােমে বন্দিভাবে তত নীচ নহেক ক্রুটাস ;
আরম্ভিল যেই কাৰ্য্য মার্চের পঞ্চদশ দিনে
ক্রটাস করিবে শেষ —জেনাে তুমি—ঠিক ঐ দিনে ;
জানিনা, হইবে কি না তােমা-সনে আবার সাক্ষাৎ;
বিদায়বদায় তবে ক্যাশিয়াস জনমের মত।
যদি পুন দেখা হয় -মিলিব, আবার হাসিমুখে,
নতুবা জানিব মনে এ বিদায়ই অন্তিম বিদায়।
ফ্যাশ্য। ব্রুটাস বিদায় তবে তােমা-সনে জনমের মত।
যদি দেখা হয় পুন
-তথৰ হাসিব দোঁহে মিলি,
তা না হলে—সত্য বটে এ বিদায়ই অন্তিম বিদায়।
क
চল তবেসৈন্য লয়ে রণক্ষেত্রে হও অগ্রসর ;
পঞ্চম অঙ্ক | ১২১ আজিকার কাৰ্য্যশেষ জানিতে পারিত আহা তবে-কিনা অবশ্যই -তখন যাইবে জানা চল সবে সৈন্যগণ । হইবার আগে, যদি লােকে -কি হইবে শেষ পরিণাম। হইবে এ দিবসের শেষ, এদিনেরাে ফার্ষ-পরিণাম ; চল চল!হও অগ্রসর। দ্বিতীয় দৃশ্য—ফিলিপি যুদ্ধক্ষেত্র। (দুন্দুভি নি। জটাল ও মেলার প্রবেশ। ক্ষ। যাওহে মেসালা তুমি দেও এই লিপিগুলি আসুক এখনি তারা ; —অক্টোভ্যস-সৈন্য যেন ঠিক এই অবসরে পরাভব সুনিশ্চিত ; আসুক মােদের সৈন্য যাও চলি ছুটাইয়া ঘােড়া, ও-দিকের সৈন্তদল-মাঝে ( উচ্চনাদে ভেরী নির্ঘোষ।) কেননা, হতেছে লক্ষ্য এৰে হইয়াছে কিছু নিরুৎসাহ; আক্ৰমিলে ওদের সহসা দুটাও চুটাও ঘােড় তবে, করিয়া তিলার্ধ বিল। তৃতীয় দৃশ্য—যুদ্ধ ক্ষেত্রের অপরাংশ। সুতিধ্বনি। ক্যাশা ও টিটিনিয়াসের প্রবেশ । ফ্যাশস। দেখ দেখ টিটিস, -পালাইছে নরাধম সবে! আমিই হয়েছি এবে ঘােয় শক্র আপন সৈন্যের ; মমাদের পতাকাবাহী রণে ভঙ্গ দিতেছিল যবে, সে ভীরে বধি” আমি লইলাম পতাকা জাহার।
জুলিয়াস সীজার। টিটিনস। যুদ্ধের আদেশ দিলা পাইয়া সুবিধা কিছু বাড়িল আগ্রহ তার ; এ দিকে আন্তনি আসি ক্রটাস একটু তাড়াতাড়ি ; অক্টোভ্যস-সৈন্য-সহ রণে, সৈন্যগণ আরম্ভিল লুট ; ঘিরিয়া ফেলিল আমাদের। পিতারদের প্রবেশ। আরাে দূরে যাও পলাইয়া ; তােমাদের তাঁবুর ভিতরে। পিণ্ডারস। পালাও পলাও প্রভু; মার্ক-অ্যান্তনি এবে ক্যাশ্যস। যে গিরিতে আছি মাের। দেখ দেখ টিট্যিস, -আগুন জ্বলিছে যেথা ? —ওইনা মােদের তাঁবুগুলা ক্যাশ্যস। টিটিন্যস। যদি ল এখনি ছুটায়ে ঘােড়া জানিৰারে চাহিওর টিটি। এখনি আসিব ফিরি’ হাঁ আৰ্য, ওই সেই তাঁবু। আমাপরে থাকে ভালবাসা, যাও ওই সৈন্যদের মাঝে, শত্ৰু কিম্বা মিত্র আমাদের। দ্রুতগামী চিন্তার মতন। { প্রস্থান। ক্যাশ্যস। যারে পিণ্ডারস তুই দৃষ্টি মাের নহে তীক্ষ্ণ ; আর তুই বল, মােন আরাে উচ্চে ওই গিরি-পরে টিটিন্যস গেল কিনা দেখু; মা’ দেখিস রণক্ষেত্ৰ-মাঝে। [ উচ্চে পিণ্ডারসের আরােহণ।। ঠিক এই দিনে আমি ঘুরিয়া আসিল কাল ; সেথাই করিব শেষ । লইলাম প্রথম নিশ্বাস ; করিলাম যেথায় আরম্ভ -আয়ু-চক্ৰ থামিবে হেথায়।
পঞ্চম অঙ্ক। ১২৩ • পিণ্ডারস। (উপর হইতে ] কি আর বলিব প্রতু হায়! ক্যাশ্যস। বল, ওরে! কি সংবাদ । পিণ্ডারস। টিটিনসে ফেলিয়াছে ঘিরি’ যত অশ্বারােহী দল ছুটি গিয়া তাহার নিকটে ; টিটিন্যস, পলাইছে দুটাইয়া ঘােড় দ্রুত বেগে ; -ধরিয়া ফেলিল প্রায় : অশ্বারােহী শত্রুরা উহারে ; ওই, ওই টিটিনস ; কেহ কেহ পড়িতেছে নামি’- টিটিন্যসস ওই দেখ । পড়িল নামিয়া ঘােড়া হতে; —বন্দী হইল এবে; (জয়ধ্বনি)ওইশােননা করে জয়ধ্বনি ক্যাশস। নামি আমি; কি হবে দেখিয়া আর, হয়েছে যথেষ্ট ; কাপুৰুষ ভীরু আমি রহিয়াছি এখনাে জীবিত ; চখের সামনে মাের বন্দী করে প্রিয় সুহৃদেরে, আর অমি আছি হেথা ! পিণ্ডারসের অবতরণ। == —আয়রে হেথায় তুই। পার্থিয়া-দেশে আমি ? করায়ে-শপথ এই ;- তাহাই করিব আমি; ঘুচিল দাসত্ব তাের; সীজারের দেহ-মাঝে শােন বলি পিণ্ডারস ওরে। বন্দী কি করিয়াছিনু তােরে করিনু প্রাণবধ তাের *করিতে বলিবে যাহা মােরে রাখ, সেই শপথ এখন । যেই অসি প্রবেশিল গিয়া সেই অসি দিয়া তুই এবে এই নেরে—ধ মুঠা করি; --এইবার দেৱে বসাইয়া। 4 বিদ্ধ কৰু এই বক্ষ আবৃত করি মুখ জুলিয়াস্ সীজার। সীজার দেখেগাে তুমি সেই মাের অসি দিয়া —প্রতিশােধ হইল তােমার যাহে তুমি হইলে নিহত। * পিওরস। দাসত্ব ঘুচিল মাের! কিন্তু মুক্ত হতে না কভু যদি পারিতাম আমি করিবারে নিজ ইচ্ছামত ; শােনাে প্রভু ক্যাশিয়াস! পিণ্ডারস যাবে বহুদূরে পলায়ে এ দেশ হতে যেথা রোমবাসী কোন জন না পাবে সন্ধান তার ; মুহূর্ত না রহিব হেথায়। [ প্রস্থান। টিটিনসে ও মেলার পুনঃপ্রবেশ। মেলালা। দেখ ওগো টিটন্যস! এ শুধু হইল বিনিময় ; অক্টোভ্যস পরাভূত কটাসের ভীম বাহুবলে, আবার কাশ্যস-সৈন্য পরাভূত অ্যান্তনির কাছে। টিটিস। এ সংবাদে, সংবাদে, ক্যাম্পাসের তবু হবে কতক সান্ত্বনা। মেসা। টিটিন্যশ! কোথা তুমি ক্যাশাসেরে আসিলে ছাড়িয়া? টিটি। বিষাঙ্কে আচ্ছন্ন হয়ে ছিলেন এ গিরির উপরে পিণ্ডারসের সহিত -পিণ্ডারস নিজ দাস তার। মেস। কে শুয়ে এ ভূমি’পরে ? -নহেন কি ক্যাশিয়াস ইনি ? টিটি। নহে জীবক্তের-মত ; হায় হায় ! একি সর্বনাশ ? মেসা। ৩ নহে কি ক্যাশিয়া ? টিটি। ছিলেন ক্যাশ্যস ইনি বটে, এখন নাহিক আর ; অস্তমান মবি! তুমি যবে রক্তিম কিরণ-সহ মগ্ন হও যামিনীর মাকে । ঠিক যেন সেইরূপ অস্ত হ’ল ক্যাম্পাসের দিন । পথ অঙ্ক -আপ্লুত রকত-নীরে ; হ’ল অস্ত রোমের তপন ফুরাল মােদের দিন; আসুক দুর্দিন-ঘন এবে -সুসিদ্ধ মােদের কাৰ্য্য! মাের কাৰ্যসিদ্ধির উপরে অবিশ্বাস করি’ মনে এ-অনর্থ ঘটালেন ইনি। মেসা। এ কাৰ্য্যটা হ’ল শুধু সুসিদ্ধিতে অবিশ্বাস করি; ওরে ভ্রান্তি সর্বনাশী নৈরাশ্য-বিষাদ-প্রসূত। বিশ্বাস-প্রবণ এই মানুষের কল্পনা-দর্পণে দেখাস কেনরে তুই বস্তু যাহা না বাস্তবিক ? আন্তি! তুই অতিশীঘ্র মাতৃগর্ভে হইয়া সঞ্চার, ঠিক প্রসবের কালে নাহি হােস ভূমিষ্ঠ সহজে ; যে জননী হতে জন্ম -তারেই বধিস্ অবশেষে। চটি। ওরে পিণ্ডারস!—ওরে! কোথা তুই ওরে পিণ্ডারস ? মেসা। তুমি যাও টিটিস। কর গিয়া তাহার সন্ধান। আমি যাই মহামতি ব্রুটাসের কাছে, সেথা গিয়া ঢালি দেই কর্ণে তার এ বিষাক্ত দারুণ সােদ। কেননা, সুতীক্ষ্ণ অসি কিম্বা বিষদিগ্ধ বাণ-সম মর্মভেদী হবে তার এ সংবাদ শুনিলে যবে টিটি। তুমি যাও শীঘ্র করি -আমি হেথা খুজি পিণ্ডারসে । (মেসালার প্রস্থান। কেন পাঠাইলে মোরে সুসাহসী ক্যাশিয়াস ও গাের দেখা কি করিনি আমি তােমার সুহৃদগণ-সাথে? তাহারা যে পরাইল জয়-মাল্য এ মাের ললাটে, আর দিল বলি’ মােরে দেখাতে তােমারে ক্যাশিয়াস; শেননি কি যৰে তার করিয়া উঠিল জয়ধ্বনি?
১২৬ জুলিয়াস্ সাজার। ; হায় হায় ! সমস্তই বিপরীত বুঝিয়াছ তুমি । এবে লও এই মালা পর ইহা তােমার ললাটে তােমারি ব্রুটাস, মােরে বলি দিল দিতে এই মালা -আমি করিতেছি শুধু তার সেই আদেশ পালন ক্রটাস! সত্বর এসাে ; দেখ আমি করি কিভাবে বীর ক্যাশ্যাসের পূজা; মােরে তবে দেও অনুমতি দেবতা তােমরা।আমি করি কাজ রােমকের মত ; ক্যাশ্যাসের অসি! তুই আয় টিটিসের হৃদয়ে। হতিধ্বনি-ঐটাস, কেটোর পুত্র, ষ্টো, ভলামিন্স ও লুসিলিয়াসের সহিত মেসালার পুনঃ প্রবেশ। । বল’গো মমসালা বল কোথা সেই কাশ্যসের দেহ; মেসা। ওই দেখ, আছে হােথা টিটিস করিতেছে শােক। । একি! টিটিনিয়াস যে উর্ধদিকে রহে মুখ করি। কেটো-পুত্র। মরিয়াছে টিটিস। জুলিয়াস সীজার মহান! এখনাে প্রতাপ তব বিদ্যমান অটুট অক্ষয়! এখনাে তােমার আত্মা ফিরিতেছে বাহিরে অবাধে ; —আমাদেরি নিজ অসি আমাদের নিজ অক্স-দেশে, করিছ প্রয়ােগ তুমি। ( মৃদু দুন্দুভিখনি।) কেটো-পুত্র। মহাবীর রুটিনস ওগাে ! দেখ, কিবা টিটিনস্ ক্যাশিয়াতে ভূষিঙ্গ মুকুটে। । আর কি দেখিতে পাৰে রােমক হেন রােমে?
পঞ্চম অঙ্ক। অবশিষ্ট শেষ-বীর -দেওগাে বিদায় মােরে ; প্রসবিবে নােম আর যতই ফেলিনা অশ্রু কাশ্যস! শুধিব-শুধিব এসাে তবে যাই মােরা, হবে না অন্ত্যেষ্টি এর শােকাতুর হই পাছে। কেটো-পূত্র চল তুমি, ল্যাভিয়ে ফ্ল্যাব্যস্ দেহে আড়াই প্রহর এবে; আসিতে রাত্রি, যুদ্ধে যে রােমকদের মাঝে, অসম্ভব—তব সমবীর জেনাে, এই মৃত ব্যক্তিতরে -অশ্রু-ঋণ নারিব শুধিতে তব ঋণ কোনাে অবসরে ; “খ্যাসসেস্ট পাঠাই এর দেহ। আমাদের তাঁবুর ভিতরে, চল তবে, চল লুসিল্যস্! —চল’ যাই রণক্ষেত্ৰ-মাঝে ; তােমরা করিও যুদ্ধ শুরু । শােনাে সবে রােম-বীরগণ। পরীক্ষিব ভাগ্য পুনৰ্ব্বার। ( প্রস্থান।) চতুর্থ দৃশ্য—রণক্ষেত্রের অপরাংশ। দুন্দুভিধ্বনি।দুই পক্ষের সৈন্যগণ যুদ্ধ করিতে করিতে প্রবেশ ; পরে ঐটাস, কেটো-পুত্র, লুসিলিয়াস প্রভৃতির প্রবেশ। ত্রু। এখনাে হে ভ্রাতৃগণ। থাক সবে উন্নত মস্তকে। কেটো-পুত্র। কে আছে জারজ হেন যে না রূহে অটল সাগ্রামে ? কে যাইবে মাের সাথে ? উচ্চকণ্ঠে করিব ঘােষণা রণক্ষেত্রে নাম মাের ; শােননা আমি কেটোর নন্দন। অত্যাচারিদের শত্রু পরম সুহৃৎ স্বদেশের ; কেটোর নন্দন আমি গুন গুন গুন সৰ্বজন। (শদিগকে আক্রমণ। ক্রমণ)
জুলিয়াস্ সীজার ।
। আর, আমি এ ক্রুটাস মার্কস-ব্রুটাস এই আমি;
টাস দেশবন্ধু । আমি-ই ক্রুটাস জেনাে সবে।
(শত্ৰুদিগকে আক্রমণ করিতে করিতে প্রস্থান।
কেটো-পুত্রের পতন ।
সুসিলিয়াস। মহামতি কেটোপুত্র! হইল কি পতন তােমার ?
তুমি টিটিস সম সগৌরবে ত্যজিলে পরাণ,
কেটোর নন্দন তুমি
হবে তব উচিত সম্মান।
১ম সৈনিক। আত্মসমর্পণ কর —নতুবা মরিবি মাের হাতে
কেটো-পুত্র। মৃত্যুর নিকটে শুধু করিবরে আত্মসমর্পণ,
শীঘ্র মােরে হত্যা ক -এই দেই কিছু পুরস্কার ;
( অর্থ প্রদানে উদ্যত।}
হত্যা ক ব্রুটাসেরে -বধি তারে হ’রে সম্মানিত।
২য় সৈনিক। দেরে তােরা পথ ছাড়ি’; মহামান্য বন্দী আমাদের।
বল গিয়া আন্তনিরে —ব্রুটাস-সে হইয়াছে ধৃত।
প্রথম। এ সংবাদ দিব আমি; এই-যে আসেন সেনাপতি।
(আন্তনির প্রবেশ।)
আন্তনি। কোথায় ব্রুটাস এবে? —বল, তিনি আছেন কোথায়।
লুসিলাস। হন নাই বন্দী তিনি, আছেন এখনো মুক্তভাবে ;
কভু না পারিবে শক্ত ধরিতে সে মহাত্মা কটাসে
পরাণ থাকিতে তার ; হেন লজ্জা অপমান-হত
• রঙ্কুণ দেবভাগ।
টাস জীবন্ত কি মৃত
যে ভাবে থাকুন তিনি --ক্রটাস-সে ব্রুটাসেরি-মত।
আনি। এ নহে টাস, বাপু; তবে কিনা মূল্যের হিসাবে
এই-এ অর্জিত দ্রব্য
কোন অংশে নুন নহে জেনাে ;
পঞ্চম অঙ্ক। ১২৯ খে বন্দী করে এরে ; এইরূপ লােকদের বাঞ্ছনীয় মাের কাছে ; সন্ধান করিয়া এসাে অলিৰে ঘটিল যাহা কোনাে কিন্তু সদয় ব্যভার; বন্ধুতাই—শত্রুতার চেয়ে এবে তবে হও অগ্রসর, ব্রুটাস-সে জীবিত কি মৃত আসি’ অক্টোভ্যসের তাঁবুতে। ( প্রস্থান) । ৩ পঞ্চম দৃশ্য-রণক্ষেত্রের অপরাংশ। ( ক্রুটাস, ডার্ডেরিয়ান, ক্লাইটাস ষ্টাটো ও ভলনিয়াসের প্রবেশ। ধ্রু। বন্ধুমাঝে অবশিষ্ট আছ স্বল্প যে কয়েকজন -এই শৈলে কর স্থিতি। ক্লাইটাস। ষ্ট্যাটিলস্ দেখাইল পথ মশাল ধরিয়া হাতে; কিন্তু আৰ্য,—আসেনি সে ফিরি’ তাই মনে হয়, বুঝি ধৃত কিম্বা হইল সে মৃত। ত্রু। ক্লাইটাস বােসস তুমি। “মৃত” এই কথাটাই ঠিক মৃত্যুটাই আজকাল প্রচলিত সখের সামগ্রী ; ক্র। শােনাে বলি ক্লাইটাস। { কানে কানে কথন) ক্লাইটাস। একাজ হবে না আমা-হতে। । চুপ!—আর কথাটি না। বরঞ্চ মরিব নিজ হাতে। । শােনাে বলি ডার্ডেন্য ! (কানে কানে কথা।।) করিব এহেন কাজ আমি ? ক্লাইটাস। শােন বলি ডাডেন্যস। ১৭ ক্লাইটাস। ভার্ডে।
১ মারা যাইতাম দেহে।
জুলিয়াস্ সীজার।
ভাড়ে।
ক্লাইটা কি বলি তুই ?
ফ্লাইটাস। কি অষখা অনুরােধ করিল ব্রুটা তােরে-বন্দু।
ডার্ডে। -বধিবারে তারে ; দেখ, চিন্তায় মগন তিনি এবে।
ক্লাইটাস। ও দিব্য-শােতন ঘট দুখঃনীরে এত তরপুর
উথলিয়া পড়ে জল
দেখ ওই অখি-বন্ধু দিয়া।
ঐ। ভদ্র ভলনিয় ! হেথা আম, আছে কোন কথা।
ভলম্। কি আশে-বল প্রভু।
ঐ।
ভলম! এই কথা শুধু
--দুই-দুইবার রাতে সীজারের প্রেত-আত্মা আসি’
দেখা দিল মাের কাছে ; আসিল মাডিসে একবার,
আৰু গত কন্য হেথা, ফিলিপির রণক্ষেত্র মাঝে ;
জানি আমি-আসিয়াছে মৃত্যু-কাল মাের ।
, না, প্রভু।
ক্র। আসিয়াছে ভলস্ ! কহি ভরে নিশ্চয় করিয়া।
‘দেখি না তুই কিয়ে আমাদের অদৃষ্টের গতি ?
শত্রুগণ আনিয়াছে মমাদের হটায়ে গর্ভমুখে,
(মৃদু দুন্ধুতিধ্বনি।
উচিত সে-গর্তে এবে
ঝম্প দেওয়া আপনা হইতে ।
বিলম্বিলে শত্রুগণ ঠেলা-দিয়া ফেলিবে উহাতে।
ভদ্র ভলমনিয়াস।
এক সঙ্গে পাঠশালে ; সেই পূৰ্ব্ব-প্রণয়-খাতিরে
ধর’ এই অসি মাের -আর আমি গিয়া দ্রুতবেগে
পড়ি উহার উপরে ;
পঞ্চম অঙ্ক।
'১৩১
এ নহে বন্ধুর কাজ প্রভু।
( মৃদু দুন্দুভিধ্বনি)
ফ্লাইটা। পলাও পলাও প্রভু বিলম্ব কোরােনা হেথা আরু।
। বিদায় রে ক্লাইটাস। বিদায়—বিদায় ভলম্য!
স্ট্র্যাটো তুই সারাক্ষণ ঘুমাইয়া ছিলি অকাতরে
তুইও বিদায় দেরে ; স্বদেশ-নিবাসী ভ্রাতৃগণ।
এক জুনাে নাহি হেথা ফে না ছিল খাটি ভক্ত মাের
সমস্ত জীবন-পথে; —ইহাতেই আনন্দিত আমি।
অক্টোভিয়াস্ আন্তনি, যত না লভিল গউব
এই হীন জয় লাভে -আজ এই পরাজয়ে আমি
ধন্য হনু ততােধিক ; দেও মােরে তােমরা বিদায় ;
রসনা করিল শেষ জীবনের সমস্ত কাহিনী;
রাত্রির আঁধার-রাশি সম্বিত এ-আঁখির সম্মুখে ;
খাটিল এই অস্থিরাশি যার লাগি এত দিন ধরি”
আইল আমার সেই অন্তিমের বিশ্রাম-সময়।
(দুন্দুভিধ্বনি। নেপথ্যে।-“পলাও পাও প্রভু”।)
ফ্লাইটা। পলাও পলাও প্রভু !
যারে তােরা—যারে হেথা হতে,
পশ্চাতে আসিব আমি।
(ক্লাইটাস, আর্ডেন্যস ও ভলসের প্রস্থান।)
* দেখ স্ট্র্যাটো, তুই শুধু থাক্
জানি, তুই অতি ভদ্রলােক;
মৰ্য্যাদা-জ্ঞানের তুই দিয়াছিস কিছু পরিচয়
আপন-জীবনে ;শােন?
তােরে, করি এই অনুরােধ,
দশ
১৩২
জুলিয়া সীজার।
ধরি এই অসি মাের, থাক তুই মুখ ফিরাইয়া,
আর আমি দ্রুতবেগে পড়ি ওই অসির উপরে।
করিবিলিনু যাহা ?
ট্র্যা।
আগে প্রভু দেও হস্ত তব ;
বিদায় লই তবে তব-কাছে জনমের মত।
। সুজন সুশীল স্ট্র্যাটো! জন্ম-শােধ হইনু বিদায়।
সীজার! নিশ্চিন্ত হও;
আমি এবে যে আগ্রহ-ভরে
বধিতেছি আপনারে ছিলনাকো অর্ধেক তাহার
-বধিমু তােমায় যবে !
[ দৌড়িয়া গিয়া অসির উপর পতন ও মৃত্যু।
দুন্দুভিধ্বনি।-রণক্ষেত্র হতে প্রত্যাবর্তন। অট্টাভিয়াস, আন্তনি, মেসেল।
লুসিলিযাস সসৈন্যে প্রবেশ।
অক্টোভ্যস।
ও লােকটা কেবা বল দেখি।
মেসলাে। ও মাের প্রভুর ভৃত্য।
বল ট্র্যাটো—কোথা তাের প্রভু।
স্ট্র্যাটো। শুনগো মেসালা তবে -যে বন্ধনে আছ বন্ধু তুমি
প্রভু মুক্ত তাহা হতে ; বিজয়ীরা কি আর করিবে ?
-আগুণ জ্বালাতে পারে শুধু তার দেহের অঙ্গারে।
কেননা, ব্রুটাস নিজে নিজেরেই করিল নিহত
ঘটনায় আর কেহ নহে শােভাগী।
লুসিল্যস। ব্রুটাস কিরূপ লােক -এখন জানুক সৰ্ব্বজন;
ধন্যবাদ করি তােমা —সপ্রমান করিয়াছ তুমি,
যাহা কিছু বলিয়াছি পূৰ্বে আমি তােমার সম্বন্ধে।
অক্টোভাস। ব্রুটাসের ভৃত্যদের নিয়ােগ করিব মাের কাজে
তাঁর মৃত্যু
পঞ্চম অঙ্ক। ১৩৩ : আমা'র কার্যে কি তুই করিবিরে সময় ক্ষেপণ? স্ট্র্যাটো। করিমেসালা যদি পরামর্শ দেন করিবারে। অক্টোভ্যস। বল’ গো মেসালা তাই। মেসালা। প্রভু মাের মরিলা কেমনে? স্ট্র্যাটো। ধরিলাম আসি আমি দ্রুত আসি পড়িলেন তাহে মেসাল। প্রভুর করিল যেই শেয-সেবা-যা তব সাথে আন্তনি। সকল রােমক-মাঝে ইনিই ছিলেন সৰ্বোত্তম ইনি ছাড়া আর যত ষড়যন্ত্রী, করিল সে কাজ —মহােচ্ছ সে সীজারের ঈর্ষা-দ্বেষে হইয়া চালিত ; ইনি শুধু সাধারণ হিতকল্পে, সৎ অভিপ্রায়ে হ’ন সেই দলভুক্ত । সৌম্যশান্ত স্বভাব তাঁহার তাহাতে মিশ্রিত ছিল উপাদান। এইরূপ ভাকে -স্বয়ং প্রকৃতি দেবী সারকে দাঁড়াইয়া উঠি, সৰ্বজগৎ-সমক্ষে বলিতে পারেন অনায়াসে -একজন লােক বটে। তাঁহার গুণের অনুরূপ এস মোরা সসম্ভ্রমে করি তাঁর অন্ত্যেষ্টি সৎকার; আজি রাতে এ তাবুতে থাকিবেক অস্থিরাশি তার ; বীর-সমুচিত মান লভিবেন তিনি বিধিমতে। বিশ্রাম করিতে হেথা জাকি” আনে সৈন্যদের সব ভাগ করি” সই মাের এ. শুভ দিনের গৌরব। সমাপ্ত। অক্টো।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.