Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Draupodir Sayambar Part. 1
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর
প্রথম ভাগ।
2
পৌরাণিক দৃশ্য
“মহাভারত-নাট্যকাব্য” প্রণেতা
প্রফুল্লচন্দ্র মুখোপাধ্যায়
প্রণীত।
২৩ নং বিড়ষ্ট্রট হইতে
শ্ৰীপ্রভাতচন্দ্র মুখােপাধ্যয় কর্তৃক প্রকাশিত
“ইদ্যং সজ্যং ধনুঃ কৃত্বা সজৈরেভিশ্চ সায়কৈ।
অতীত্য লক্ষ্যং যে বেদ্ধা স লা মৎসুতামিতি”
Calculta;
PRINTED BY P. O. MOOKERJEE & SONS.
AT THE FULL MOON PRINTING WORKS,
No. 21, Deadon Street. E. O.
1899.
মূল্য ১ম একটাকা মাত্র।
No text on this page.
দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগের ) চরিত্রবৃন্দ। বক্তা ব্যাসশিষ্য বৈশম্পায়ন। শ্রোতা পরীক্ষিতাত্মজ জন্মেজয়। ০ ০ ০ শ্রীকৃষ্ণ। পুংমুক। বলরাম। কৃষকগণ। জরাসন্ধ । প্রদ্যুম্ন। দ্রুপদ। ধৃষ্টদ্যুম। শিখা। সত্যজিৎ। মন্ত্রিগণ। মহর্ষিগণ। দত্তবক। সাত্যকি। বেদব্যাস। ভীষ্ম। দুৰ্য্যোধন। দুঃশাসন। শকুনি। কর্ণ। দ্রোণাচার্য। অশ্বত্থামা। কৃপাচার্য। কৌরব প্রতিহারী। সডহুগণ। দ্রুপদরাজদূত। নগরপাল। সভাপাল। ভেরীবাদক। বৈতালিকগণ। নটগণ। তাটগণ। শিশুপাল। বিরাট। কাচক। সুশৰ্ম্মা। শল্য। ব্রাহ্মণ চতুষ্টয়। জনৈক ব্রাহ্মণ। ব্রাহ্মণগণ। কুম্ভকার। দূত। যুবা। ছদ্মবেশী পঞ্চপাণ্ডব স্ত্রী-চরিত্র। কুন্তী। দ্রৌপদী। বাণী। সুহাসি। সুভাষী। মােহিনী। দামিনী। অন্যান্য সখীগণ। কেশিনী। পুরনারীগণ। কুম্ভিনসী। বৃদ্ধা। স্ত্রীমুক। নটীগণ।
No text on this page.
দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর। প্রথম অঙ্ক। প্রথম গর্ভাঙ্ক। (রাজসভা) দ্রুপদ, ধৃষ্টদ্যুম্ন, মন্ত্রিগণ, সভাস্থগণ ও মহর্ষিগণ। ধ্রুপদ। ওন মন্ত্রি, শুন সভাজন! হৃদয়ের মধুর বাসনা-প্রস্রবণ এতদিন রুদ্ধ ছিল ভবিতব্য-বাধে। আজি আশার তাড়নে, মধুময়ী মায়ার ছলনে, যেন কোন দেবতার অত-আদেশে স্বপ্নময় সেই প্রস্রবণ- শ্রোতােময়ী নদীরূপা হ’তেছে প্লাবিত। যা- উজ-সিদ্ধ-পূত-হােমগুণে পাইয়াছি ধৃষ্টদ্যুমে কন্যা দ্রৌপদীরে। তাহাদের কৰ্ম্মফলে রাজলক্ষ্মী কুমারী আমার, পূর্ণিমায় পরিণত লাবণ্য-প্ৰভায়। করুণার প্রতিমূর্তি বলা যাজ্ঞসেনী উপযুক্ত সৎপাত্রে কবিতে অর্পণ, একান্তই করেছি মনন ; কিন্তু মন্ত্রি, মনুর বিধানে স্বয়ম্বরে পাত্ৰ নিৰ্বাচন, ক্ষত্রিয়ের চিরন্তন প্রণা।
২০৯৬ স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত সমাগত হে সাধু-সজ্জন! এ বিষয়ে কিবা যুক্তিমত? ১ম ঋষি। মহারাজ। যে উচ্চ-বাসনা তব সমুদিত প্রাণে, তাহে আর আমরা কি দিব বিধি দান? ভগবান-আশীষ প্রসাদে সিদ্ধকাম তুমি নরনাথ ! বিশেষতঃ মহর্ষির বরে কুলােজ্জল পুত্রকন্যা করিয়াছ লাভ। কমলার অংশােঙবা কুমারী তােমার, হেন অলৌকিক রূপরাশি এ সংসারে একান্ত দুর্লভ, গুণে তিনি বালা-শিরােমণি ! যাহে কৃষ্ণা সৎপাত্রে হয়েন অর্পিতা, এ প্রাণের একান্ত প্রার্থনা। মন্ত্রী। শুভদিন শুভতিথি ক্রমে সমাগত ; নরনাথ! আজ্ঞা কর দাসে, কুমারীর স্বয়ম্বর-সভা কোন্ স্থানে তব মনােনীত ? স্বয়ম্বরে কোন্ পণে কৃষ্ণা সুকুমারী পতিগলে বরমাল্য দিবেন তুলিয়ে ? দ্রুপদ। শুন তবে মন্ত্রীবর, শুন সভাজন। আজি প্রকাশিব সভাস্থলে অন্তরের প্রবল বাসনা, রুদ্ধস্রোতঃ খুলে দিব সহস্রধারায় ! মনে বড় সাধ হে ধীমন্ । দ্রৌপদীরে বীর-করে করি সমর্পণ। গুণবতী কৃষ্ণা কন্যাধনে, } আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ~~ ২০১৭ বীরপত্নী বীরমাতা দেখিব নয়নে। কিন্তু হায়, বীরেন্দ্র-সমাজমাঝে বীরপূজ্য কোন্ মহাজন ? ছিল সাধ, কুন্তীসুত পাণ্ডুবংশধর মহাধনুর্ধর বীরেন্দ্র-কেশবী আহা ফান্ধনীর কয়ে কৃষ্ণাধনে করিব অর্পণ হায় হায়, সে আশাকুসুম মুকুলে শুকায়ে গেছে জন্মের মতন। পড়েন। কি মনে মন্ত্রী। 'অমাব শৈশব শত্রু দ্রোণাচাৰ্য্য সনে প্রাণতম শিষ্য । বীর ধনঞ্জয়, কি ভীষণ পুরুষত্ব বীৰত্ব প্রভাবে - পৰাজিত ক'বেছিল মােরে ? কি 'অদ্ভুত অলৌকিক অস্ত্রশিক্ষা তার! স্বচক্ষে দেখেছি হে সচিব। অর্জনের কভ্রষ্ট শাখ-বর্ষণে, প্রচ্ছন্ন মাও যেন পূর্ণরাহু-গ্রাসে ! সব্যসাচী দুইকরে হানে বজুরাশি ; বাণের গর্জনে ভ্রম হ’ল মহাসিন্ধু-গর্জন তুফান ! ছত্রভঙ্গ ছত্রবতী-সেনা, সেনাপতি বিকলাঙ্গ অতি, জর জ্বর প্রাণ আমা শবের ব্যথায় ! হায় হায়, সে হেন বীরেন্দ্র-বীরমণি- হইয়াছে ভস্মীভূত জতুগৃহ-দাহে। ভেবেছিনু সেই বস্তুলে, কন্য। বিনিময়ে d, • ২০১৮ স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত সেই ধন ফিবে পাব হারাধন প্রায়, ঘুচাব দ্রোণের ভয়, সেই তেজ হবে নির্বাপিত বীরশ্রেষ্ঠ অর্জনের সমর-সাগবে ! হ অর্জুন । হা পাণ্ডব বীরশােজ্জল আজ যদি তােমরা থাকিতে ধরামান্সে, তা হলে কি ছার স্বয়ম্বর আড়ম্বরে- বীরত্ব পরীক্ষা কবি সংশয়ের সনে কৃষ্ণাধনে দিতাম বিলায়ে? মন্ত্রী। শান্ত হন পাঞ্চালাধিপতি। বিশত অনুশােচনা নহে কাৰ্যকৰী। বিলীন পাণ্ডব-ববি চির অস্তাচলে, শত আবাহনে আব না পা’ব উত্তর। দুবাচার জ্ঞাতিদ্বেষী ধার্তরাষ্ট্রগণ - দ্রুপদ। গান্ত হও মন্ত্রীবব ও কথা তুলোনা অা। সদাচাৰ ভীষ্মের উদারনীতিজ্ঞান, প্রত্যক্ষ প্রমাণ তার কাল জতুগৃহ । হে সচিব! উত্তমের কথা দূৰ হ’তে শুনিতে মধুর,—কিন্তু হায়, সন্নিকটে বিপরীত হেরিবে প্রচুর। ধাৰ্তরাষ্ট্র-পাপ-প্রবণতা কথায় কি হয় হে বর্ণিত ধৃষ্টদ্যুম্ন প্রিয় পুত্র মাের, দ্রোণের প্রমুখ দুর্যোধনের ধৃষ্টতা – অবশ্য করিবে নষ্ট রণক্ষেত্র মাঝে। তাহে "অব নাহি মন ভয। ’ ক’বাব হবে, 'ভাবিলে কি হবে ? ? AA }, আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২৩৯৯ এ ভাবতে দ্রৌপদীর বর আছে স্থির বিধির বিধানে ; কিন্তু তার সণিশেষ বীরত্ব প্রভাব, অবশ্য পরীক্ষা ল’ব বীরেন্দ্র-সমাজে। তাই আমি মনে যাহা কবিয়াছি স্থির, অবধান হে সভাস্থগণ ! স্বয়ম্বর মহাসভাস্থলে, বিজ্ঞানের চরম উন্নতি বলে, মহাশূন্যে নীল নভােস্থলে কৃত্রিম আকাশ-যন্ত্র স্থাপিয়া কৌশলে, তদুপরি মহালক্ষ্যরূপ মীনচক্ষু হউক অর্পিত ; অতি দুরানম্য দৃঢ় মহাশরাসনে যেই বীর অব্যর্থ সে শায়ক-সন্ধানে, ব্যোমন্ত্র-ক্ষুদ্রছিদ্র কবি অতিক্রম বিন্ধিতে সে মীনচক্ষু হইবে সক্ষম, আমার স্নেহ-প্রতিম দ্রৌপদী কুমাবী, সেই মহাবীর-গলে ধৰ্ম্ম সাক্ষ্য করি’ বরমাল্য করিবে প্রদান। ধৃষ্টদ্যুম্ন ! স্থির এই বাসনা আমার। সকলে। সাধু সাধু সাধুবান্ধু হে পঞ্চালরাজ ! ধৃষ্টদ্যুম্ন। পিতৃদেব ! অতি সব সদ্যক্তি মনে আপনাব, এর চেয়ে আর কিবা আছে যুক্তিমত ? এইরূপ স্বয়ম্বর-প্রথা এ সংসাবে সম্পূর্ণ নূতন ! ভানুমতী-স্বয়ম্বরে শুনেছি শ্রবণে, লক্ষ্যবিদ্ধ ছিল বটে বিধি ;
স্বয়ম্বরপৰ্বাধ্যায়। [ মহাভারত । কিন্তু যদি এ উপায় হয় নির্ধারিত, বিজ্ঞানের ততুল মহিমা গাইবে উত্তরকালে ভারতীয় কবি। আদর্শ-দ্রৌপদী-স্বয়ম্বর- জগতে হইবে রাষ্ট্র কবিতার হারে। কিন্তু পিতা, আমার বাসনা; ছিদ্র-অতিক্রান্ত-মীনঅাঁখি শুদ্ধচক্ষে হবেনা লক্ষিত ; তৎনিম্নে সভাস্থল মাঝে- যন্ত্ৰছায়া নিরখিয়ে জলাধার-জলে, মৎস্য-চক্ষু হইবে দর্শিত। দ্রুপদ। সুন্দর প্রস্তাব বৎস! বীৱমান বীরকাম বীরত্বেই শােভে, ক্ষত্রিধৰ্ম্মে এই ত বিধান। তবে মন্ত্রীবর মহাকাৰ্য্য চতুর্দিকে করহে ঘোষণা ; শিল্পীগণে স্থপতিনি করে, ভাস্করেব কারুকৰ্ম্মিদকে প্রেরহ ত্বরায় রাজাদেশ । নগরের প্রাগুত্তর প্রান্তর সীমায়, পরিস্কৃত সমতল দীর্ঘভূমিমাঝে, প্রতিষ্ঠা করহ মন্ত্রি, স্বায়ম্বরী-সভা। চতুর্দিকে প্রাকার পরিখা সুবেষ্টিয়ে, সুরক্ষিত করহ বিরাটসভাস্থল। মধ্যে মধ্যে তােরণের দ্বারে- স্থাপহ কদলীতরু, পূর্ণকুন্ত অশাখাবলী ; অয়স্কান্ত নীলকান্ত মণি-মাণিকের হরে, আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১০১ জ্বলে যেন স্তম্ভশ্রেণী কিরণ-প্রভায়। মহা মহা সৌধাবলী সুপা ধবলিত তুষার-জাল-জড়িত অত্যুন্নত হিমাচল শিখরের মত, শােভে যেন সভার চৌদিকে। . প্রাসাদেব বিস্তৃত কু িউম-ভূমি মণিময় শিলাপটে হ’ দ্ভোসিত। রমণীয় সৌধ-দ্বারশ্রেণী বাততপে বিশুদ্ধ করিতে, হয় যেন সুবিন্যস্ত সমত্রপাতে। বিচিত্র সােপানমার্গ প্রস্তর আত, কারুকার্য নির্মিত সুন্দর আস্তরণে, হয় যেন শুদ্ধ বিস্তারিত। অতি সুবাসিত বারি সমাজপ্রদেশে সদা যেন পরিষিক্ত রহে। মনােরম সভা স্থানে স্থানে, দুগ্ধফেননিভ অতি মহাহ শয়ন, সন্নিবেশে করহ আদেশ মন্ত্রীবর! পূর্ণরূপে দ্রৌপদীরে সন্দর্শন হেতু, চৌদিকে পরাৰ্দ্ধ-মঞ্চ করাও নির্মাণ। নানাবিধ বৈবাহিক শুভ বাদধ্বনি, সদাই ধ্বনিত হ’ক পাঞ্চালনগয়ে। কলাবিৎ কলকণ্ঠ গীতশান্ত্রিগণে, বৈবাহিক শুভগানে মত্ত যেন রহে নিশীদিন। সুনিপুন নৰ্ত্তকের শুভ অভিনয়ে, নিমন্ত্রিত রাজন্যসমাজ প্রাণে যেন হন পুলকিত। WE { ২১০২ স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত । সুন্দরী নর্তকীগণ জন-মনোহরা সভ্যজনােচিত বেশে, সুবিমল হাসভাষে, মনােলোভা ছটা বিস্তারিয়ে অহােনিশি সুধাকণ্ঠে ককক ঝঙ্কার অতীব বিশুদ্ধ তনমানে। কি অব বলিব মন্ত্রীবর | দ্রৌপদীব স্বম্বর-সভা! এর চেয়ে অপার সুখের সম্মিলন হয় নাই জীবনে আমার কভু ;- বৈবাহিক কাৰ্য-প্রণালীতে কোন অংশে যেন মন্ত্রি, নূ্যন নাহি রহে। মন্ত্রী। মহারাজ! অধিক কি কব, আমার সৌভাগ্য গুণে, আমি হেনজন পাঞ্চালেশ দ্রুপদের মন্ত্রণাপ্রদায়ি ; পাইয়াছি প্রভূত ক্ষমতা রাজেন্ট্রে মন্ত্রীর সমাজে। কুমারীর শুভ স্বয়ম্বরে অবশ্য খুলিবে প্রভু, এ প্রাণের দ্বার। আমা হতে যতদূব কার্য সুসম্ভবে, মহারাজ ! তাহে মাের রবে অলসতা ? রাজবাক্য শিয়ােধাৰ্য্য সর্বদা আমার। দ্রুপদ। ধৃষ্টদ্যুম্ন ! তবে যাও ত্বরা অন্তঃপুরে, মহিষীরে, আর আর পুরনারীগণে, এ শুভ সংবাদ বৎস, করহ প্রচার। বৈবাহিক মহােৎসবে রাজ-অন্তঃপুর আনন্দ প্রবাহে বৎস, কর ভাসমান। সুশীলা সঙ্গিনীগণ-সুপরিবেষ্টিত। ৯ । এ • A • Ac আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) : ২১০৩ রাজকন্যা যাজ্ঞসেনী তােমার ভগ্নীয়ে স্বয়ম্বর উপযােগী বিবিধ সদগুণে অজি হ’তে কর বিভূষিতা ; স্বয়ম্বর হবেন দ্রৌপদী,- এ কথা বিশদভাবে বুঝাও তঁাহারে। ধৃষ্টদ্যুম। শিরােধার্য পিতার আদেশ । ( ধৃষ্টদ্যুম্নের প্রস্থান) প্রণমি চরণে ঋষিগণ ! আশীর্বাদ করুন অধীনে, নির্বিঘ্নে এ মহাশুভ কাজ সুখে যেন হয় সম্পাদিত। সার মাত্র দ্রৌপদী আমার এ সংসারে, তাব শুভ-স্বয়ম্বরে- কোন বিধ বিষ যেন না করে অশুচি। ১ম ঋষি। মহারাজ ! ব্রাহ্মণের আশীর্বাদ না হয় নিস্ফল দেব দিজে তুমি মতিমান, মূর্তিমান ধৰ্ম্মবাজ তুমি, দেবতা সন্তুষ্ট তব প্রতি ; তাই কহি নবপতি! দ্রৌপদীর সুখ-স্বম্বব মহাসুখে নিৰাপদে হবে নির্বাহিত। মন্ত্রীবরে যেরূপ প্রণালী সুনিম, মহাকাৰ্য্য বিবরণ কবিলে আদেশ, অতি যুক্তিসিদ্ধ, তাহা তােমাতেই সাজে। ওহে মহারাজ যজ্ঞসেন। সজ্ঞেদ্ভব-অযােনী-সম্ভবা ;
^^^ { ২১০৪ স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত * লক্ষ্মীস্বরূপিণী যাজ্ঞসেনী- পুরুষপ্রধান—বীরোত্তম ভুবনপবন কোন সার্বভৌম সম্রাটের করে, অবশ্যই বরমাল্য করিবেন দান, বিধাতাব অলঘ্য বিধান, ইথে আর নাহিক সংশয় নরনাথ ! দ্রুপদ। ধন্য আমি কৃতার্থ জীবন! বুঝিলাম সাব, আমার দ্রৌপদী কন্যাধন, উপযুক্ত সৎপাত্রে হবেন অর্পিত, এ অপেক্ষা আর নাহি আকাঙ্খা আমার। তবে চল মন্ত্রীবর । পূজ্যপাদ পুৰোহিত-ৰসে, তার পাশে যুক্তি কার লই গে’ মন্ত্রণা। ভারতের যাবতীয় রাজন্যসমাজে, সমাদর-শুভ-নিমন্ত্রণ পাঠাইতে হইবে অচিরে। মন্ত্রী হে! অন্তরে ভেবে দেখ, অনন্তু কাৰ্য্যের ভার মস্তকে আমার, আর কি সুস্থির হতে পারি ? (সমুদয় সভাস্থের সহিত গাত্ৰোথানান্তর) মনে হলে স্বয়ম্বর শুভ আড়ম্বর, সৰ্ব্ব অঙ্গ মহানন্দে হয় কণ্টকিত। উৎসবের আনন্দসাগরে ঝাপ দিনু, দেখাে তগবন্! সমস্ত সংসার সনে
আদিপর্ব ]
দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ)
২১০ ৫
আনন্দের কূল যেন পাই।
মহর্ষিব পাদপদ্মে করি প্রণিপাত।
মহর্ষিগণ। আশীৰ্বাদ, সভ ত্বক সুন্দর জামাতা!
( সকলের প্রস্থান)
দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক।
বম স্থ দুপপ।
কুন্তী ও পঞ্চপাণ্ডব ।
কুন্তী। প্রখব বোঁদেব তাপ ।
চলেনা চবণ আব বাপ যুধিষ্ঠিব ।
সবাই কাতব বো-
ক্রোশ ক্রোশ সুদুর্গম পথ অতিবাহে
অবো প্রাণ দহে
হেলিলে ভীমের চন্দ্রানন ।
আৰক্তিম তপনের তাপে ;
বিন্দু বিন্দু ক্ষুদ্র অম্বু হ'য়ে,
স্বেদবানি ঝরিছে কপােলে,
ঝডাকাবে বহিছে নিশ্বাস,
বাছাব সােণার দেহ ভাসে ঘৰ্ম্মলে।
আয় বাবা, বসি এই বিটপীর মূলে,
কিছুক্ষণ মাের কোলে শুযে-
তুই আগে সুস্থ ক দেহ।
ওরে, কি পাষাণী আমি।
এত বেলা হল,
२७
২১০ ৬ স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত | জল বিন্দ না পারি দিতে তোদের পিপাসু মুখে- (রােদন ) ভীম। কতবার কবেছি বারণ- এ সময়ে মােব প্রতি করােনা দর্শন। ক্ষুদ্র পথ চলি আমি শান্ত-দেহ। এও কি মা চিন্তাৰ বিষয? কতবার বলিতেছি এস সবে স্কন্ধদেশে, তা’ত কেহ আসিবে না ? শুধু বল, চারিদিকে জনস্রোতঃ-ভয় : একজন পাচজন কবিছে বহন, এ সন্দেহে হয যদি পাব-প্রকাশ! তবে মাগো, আমি আব কি কবিতে পারি যুক্তি ববি’ জ্যেষ্ঠ সনে যাহা হয় কর। তবে ক্ষুধার যাতনা ? সে কথায় আমি নিরুত্তর। যুধিষ্ঠির। নিরুত্তর আমিও রে ভাই? তােমার সরল-ভাযে। ভাই বে! এ ভবপাম মাঝে এ দুঃখ কি বাখিবার আছে ? আজ তুমি প্রজানাথ রাজ্যেশ্বব হয়ে প্রাণ ভয়ে লুকায়িত প্রকৃতিব কোলে ? আজ তুমি অন্নের কাঙ্গাল ? অন্নাভাবে অনশন-অর্ধাশন-ব্রহ? ধিক্ ধিক্ শতাধিক ছাব যুধিষ্ঠিরে। কুন্তী। ও বাবা। বলােনা আর আমার সম্মুখে, বজ্রাঘাত ক'বোনা রে বুকে।
আদিপর্ব ) দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১০৭ ধিক, শব্দ ক’বোনারে অব উচ্চারণ। আমি অতি অভাগিনী! আমাকি কপালে তোরা আজ পথের ভিখারী। পূর্বজন্মে কবিয়াছি কত মাপাপ, তাৰি ফলে জি এ দুর্দশা। ক্রমাগত আসিতেছি ক্ষুদ্র বনপথে- লােকাল রাখি পৃষ্ঠদেশে ; স্নানাহি ক আআসেবা হল’ কাহার, বল, আর কতদূর পাঞ্চলিনগর বা পন। অর্জুন। তত্ত্বদর্শী ভগবান পাণ্ডব-সহায় পুরোহিত দৌম্যের বচন অনুসারে, বোধগম। হইতেছে মম, অদূর পাঞ্চালপুর। &F মাগত আসি ছি এক্ষিণ-প্রদেশে, অবশ্য নিকট পাব কোন লোকাশ্রয় । * আৰ্য। নিবেদি’ শ্ৰীচ বণে, বুখ। অনুশোচনাস আব কি বা ফল? দুরদৃষ্টে কাঘাত কবি, বৃথা অভিভূত হয়ে কোন ফল নাই। এস ভাই সহদেব । কিছু ক্ষণ বসি’ এই তকবর-মূলে, সেবা কবি জনীবে--ক্লান্ত অ গ্রাঙ্গবে। লোকালয় যদ্যপি রে হয় সন্নিকট, অবশ্য পথের সঙ্গী পাইব অচিরে। নিযাছি পাঞ্চালেব এজ। বড়ই অতিথি-প্রিয় ; তাহা যদি হয মা জননি।
২১০৮
স্বয়ম্বরপাধ্যায়
[ মহাভারত
আজিকাব সমস্ত যন্ত্রণা,
নিশ্চয় হইবে অবসান।
( সকলের তরুমূলে উপবেশন )
নকুল। স্থির কর্ণে শােন সহদেব ।
শুনিতেছি যেন ধীর মিশ্রিত গুঞ্জন।
পূজ্য ফানীর স্থিব-ভবিষ্যৎ-বাণী,
হ'ল বুঝি অচিবে সফল।
সহদেব। আমি যাই চক্ষে দেখে আসি,
সন্দেহেতে কিবা প্রয়োজন ?
প্রকৃত সংবাদ এবে করি আনয়ন।
যুধিষ্ঠির। না না না না
সমুৎসুক হইবাব নাহি প্রযােজন,
যেমন বসিণা আছ থাক সেইরূপে।
এই পথ বিনা আর নাহি অন্য পথ ;
যদ্যপি পথিক হয়,
অবশ্য এ পথ দিয়ে করিবে গমন।
* -সান-পত্র-অনুসারে,
অযাচিত প্রশ্ন কিম্বা তথ্য অন্বেষণ,
অধুনা পাণ্ডব-পক্ষে নহে শ্রেয়স্কব?
ভীম। চিন্তা নাহি তায় ;-
যেই বেন হোন না পথিক,
নির্ভীক অথবা অনির্ভীক ;
একবার চোখে নিবখিলে
বিধাতার অপরূপ এই সৃষ্টিগুলি,
বারেক কি না ল’বেন তথ্য অন্বেষণ?
( কতিপয় ব্রাহ্মণের প্রবেশ)
ব্রাহ্মণগণ। জয় জয় মহাবাজ দেব জয় !
আদিপর্ব ।
দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ)
১ম ব্রাহ্মণ। চল সবে সুব্রাহ্মণ গ্রামবাসিগণ !
কল্পতরু-ধৰ্ম্মরাজ দ্রুপদ- প্রাসাদে।
মুক্তহস্ত রাজার প্রসাদে,
ঘুচে যাবে অর্থ-কষ্ট দারিদ্র্য-যন্ত্রণা।
ভূরি ভূরি মণি রত্ন মহার্ঘ কাঞ্চন,
মাত্র “জয়” উচ্চারণে
অনায়াসে হ'বে করায় ত,
নিমেষে পাইব সবে ধনীর সম্মান।
যথা আছ ভিক্ষুক কাঙ্গাল!
এস সবে অম্লানবদনে--
কল্পতরু-দ্রুপদের রাজ নিকেতনে।
যুধিষ্ঠির। বস গবে যে যেমন মাছ,
আমি যাই, সংবর্ধনা কৰি দ্বিজবরে।
( যুধিষ্ঠির গাত্রোত্থানান্তর ব্রাহ্মণের প্রতি)
মহাশয় । করি নমস্কার,
কি হেতু এ লোক সমাগম ।
কোন্ পথে পথিক এ দেশবাসিগণ ?
দেখিতেছি আমি,
আবালবনিতাবৃদ্ধ সবে সমবেতে,
যেন কোন নিমন্ত্রণে হন অমুস্ত!
১ম ব্রাহ্মণ। কে আপনি মহাভাগ ?
যুধিষ্ঠির। প্রত্যক্ষে ত’ হয় অনুমিত,
এক অতি দরিদ্র ব্রাহ্মণ
অযাচিত প্রশ্ন করে বাসনার বশে ?
১ম ব্রাহ্মণ। মহাশয় ! কোথায় নিবাস ?
যুধিষ্ঠির। সন্ধ্যা যথা তথায় আবাস!
১ম ব্রাহ্মণ। ওহো! ভস্মাবৃত জলস্তু-পাবক,
* ---- ।
SAMA A - - - A ১১০ স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত ঘনাচ্ছন্ন যেন দিনদেব। একি! কোন ছদ্মবেশী স্বর্গের দেবতা? কি প্রতিভা-কি অমায়িকতা। মহােদয় ! পবে দিব আপনার প্রশ্নের উত্তর ; কিন্তু মাের কৌতূহল জিজ্ঞাস্য গভীর উন্মােচন করুন হে জন-মনােহ। কে আপনি? কি হেতু এ বন্যপথিমাঝে ? ফেরে তব অসামান্য অলৌকিক- সুবিরাট রাজেন্দ্র-প্রতিম স্নিগ্ধদেহ, দুই চক্ষে পলক যে পড়েনা আমার। পাণ্ডিত্য-প্রতিভা-মাখা হেবি’ তব জ্যোতির্ময়-আঁখি, বণ্টকিত শিহরিত আমি,- যেন ব্রহ্মাণ্ডের ভাবনা-আধার ! পুনঃ ওকি! মোহনীয় মূর্তি চতুষ্টয- উপবিষ্ট পান্থপ্রাণ পাদপের ছয়ে ? কেও নারী শ্বেতাম্ববা - অদিতির প্রতিকৃতি দেবতা-প্রসুতি মত স্থির দৃষ্টি ভরং প্রসন্নমুখ পানে ? কৃপা করি’ দেহ হে প্রকৃত পরিচয়, দুলিছে অন্তর অতি সংশয়-দোলায় । যুধিষ্ঠির। হে ব্রাহ্মণ ! একি ভাষ এ দরিদ্র জনে? অতি দীন পথের কাঙ্গাল আমি, ভিক্ষা-অন্নে কৰি দিনপাত। মােরা পঞ্চভাই, পূজ্যা জননীর সনে আসিতেছি বহুদূর হতে! ছিল দিন, গ্রাস আচ্ছাদন হেতু --- ««« AAA AA আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ ) ২১১১ কোন চিন্তা নাহি ছিল আমা সবাকার, দুখে তুখে দিন কেটে যেত। স্বীয় কৰ্ম্ম-দোষে দারুণ দারিদ্র্য-কাল-গ্রাসে, এবে মােরা হয়েছি পতিত। দেশে আর ভিক্ষা নাহি মেলে, দুখ-শেলে বিদ্ধ মর্মস্থল। বদান্য পাঞ্চালবাজ-দাক্ষিণ্য শুনিয়ে,, এ পথের হযেছি পথিক। পথিক্লেশে হয়ে জৰ্জৰিত, তরুতলে করি শ্রান্তিদূব । পিপাসিত প্রাণে তাই কহি হে ভূদেব ! মুক্তহস্ত কেন আজি ভূপ যজ্ঞসেন? ১ম ব্রাহ্মণ। শােন নাই দ্রৌপদীব স্বয়ম্বর কথা ? এতক্ষণে এ শু বারতা দেশে দেশে ভেসে গেল আনন-কল্লোলে । ঘােষ-দ্যকরগণ ঘোষ-যন্ত্রযােগে নগবের প্রতি পল্লীমাঝে এইক্ষণে, এই মহামাঙ্গলিক কথা- উচ্চতরালে করিল ঘোষণা ;- তাই শুনে নাগরিকগণে, দলে দলে চলিতেছে মহা হৃষ্টমনে। ভাল হ'ল, তোমরা ও চল এই যোগে, এ সুযােগে ঘুচে যাবে সমস্ত যন্ত্রণা। অর্জুন। ভাল, মহশষ ! কুমারী কি এত রূপবতী ? এ সংসাবে স্বয়ম্বব বিনা শনি * সানি ।
} ২১১২ স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত ১ম ব্রাহ্মণ। অপরূপ অলৌকিক হেন রূপরাশি চক্ষে আর কখন দেখনি। হেন স্নিগ্ধ জ্যোতির্ময়ী রূপ * অনুপম এ জগতীতলে। জগজ্জ্যোতি পূর্ণচন্দ্র নিস্কলঙ্ক নন; কিন্তু মরি দ্রৌপদীর বদন চন্দ্রমা নিস্কলঙ্ক পূর্ণ ষােলকলা! চক্ষু যার হেন চন্দ্র করেনি ঈক্ষণ, বৃথা চক্ষু বৃথাই জনম তার। বিশ্বস্রষ্টা সৃষ্টিব কৌশল, করেছে পূর্ণত্ব লাভ কৃষ্ণার সৃজনে । রাজকন্যা অযযানিসম্ভবা, যজ্ঞসেন-যজ্ঞােঃ যজ্ঞবেদী মাঝে। সেই অতুলনা ললনার কমগাত্র হতে, নীলােৎপল ছুটিছে সৌরভ ক্রোশব্যাপী। অনিন্দ্যসুন্দর তার যৌবন সম্পদ, এ ব্ৰহ্মাণ্ড বিনিময়ে না হয় সুলভ। কত শত যতব্ৰত পরম সুন্দর মহারথ নৃপতি-নন্দন, কন্যারত্ন লাভ হেতু পরস্পর বিজিগীষু হয়ে করিছেন আগমন উৎফুল আশায়। আমরা সে ভুবনমােহিনী অনুপমা স্বয়ম্বর দ্রৌপদীরে করি’ দরশন, প্রাণ মন চক্ষুর করিব সার্থক। নির্থক আর বসে কেন ? এসনা সকলে মিলে মাতি মহােৎসবে! মী-স্বরূপিণী সেই কন্যার বিবাহে, আদিপর্ব ] ) দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১১৩ আর কি এ দেশে দীন রবে? ঘুচে যাবে এ দেশের দারিদ্র-যন্ত্রণা। তােমরাও দেবতুল্য অতুল্য লাবণ্যবান্, তোমরাও নহ সাধারণ, বীরোত্তম হেরি পরস্পরে। শুনিয়াছি, সেই স্বয়ম্বর মহাসভাস্থলে, আছে এক দুরানম্য দৃঢ়তায় ধনু! সে ধনুতে জ্যারােপণ করি’ পঞ্চবাণ করিয়া যােজন, যেই জন সচ্ছিদ্র সে ব্যোমযন্ত্র ছেদি’ মীনচক্ষু করিবে ভেদন, তখনি দ্রৌপদীর পাবে সেই জন। মহারাজ জাতি মান না করি বিচার, প্রভূত ঐশ্বৰ্য্য সনে কৈবে কন্যাদান। তাই বলি, ভগ্নোৎসাহ না হয়ে সুধীর। যত্ন কর কন্যলাভ হেতু। এই তব মহাভুজ-সমর-সাগর সেতু মহা বলবান্ কান্তিমান্ হেরিলে অনুজবরে, অন্তরে স্বতঃই জ্ঞান হয়, দ্রৌপদী ইহরি প্রণয়িনী অবহেলে লক্ষ্যভেদ করি', কৃষ্ণার যত্নে কণ্ঠে ধরি, জগতের শীর্ষস্থানে কৈবে আরােহণ। পুনঃ বলি, এস স্বয়ম্বরে, তোমা হতে ব্রাহ্মণের মানরক্ষা হবে। জয় জয় মহারাজ দ্রুপদের জয়। জয় দেবী দ্রৌপদীর হয়। ( ব্রাহ্মণগণের প্রস্থান) : ২৬৫ ১১৪ স্বয়ম্বরপাধ্যায়। | মহাজংরত যুধিষ্ঠির। শুনিলে ত’ মা জননি, ব্রাহ্মণের কথা ? অনাথ তোমার পুত্রগণ - বিধির বিধান উপেক্ষিরে, এত ভাগ্য, দ্রৌপদীরে পারে লতিবারে আবার পাণ্ডবগণ পূর্ণ-পরিচয়ে, প্রকাশ্যেতে প্রকাশিতে পারে । হা বাতুল! মুষ্টিভিক্ষা মিলেনা যাহার, তার পুনঃ রাজভােগ-আশা! ভীম। যদি-সার্বভৌম-সম্রাট ধাৰ্মিক যুধিষ্ঠির স্বীয় বুদ্ধি-দোষে বিভীষণ অগ্নিবাসে পারে পশিবারে, পুনঃ নিজ বাহুবলে অগ্নিদেবে করি পরাজিত দুয়ারে সমুচিত দিয়ে প্রতিফল, অগ্নিক্ষেত্র হতে পেতে পারে পরিত্রাণ ; এ যদি সম্ভব, মানবের শক্তি-সিন্ধুনীরে ডুবে যায় দু'টো রাক্ষসের মহাবল। যদি আজ অনাহারে মৃতপ্রায় হয়ে “পথের কাঙ্গাল” বলে-রাজা যুধিষ্ঠির ম্লানমুখে লােকালয়ে দিতে পারে পরিচয় ; তবে সেই অনন্ত শক্তির খণি পার সতি, বীরে পাণ্ডবগণ অনায়াসে সময়-সাগর সুমন্থিয়ে- পেতে পারে যৌশল্পীরে কক্ষের নিমেছে। দাদা, পাণ্ডবের এ দুর্দশা ভােগ- বিধির বিধান” নয়, 'তোমারি বিধান। যুধিষ্ঠির। প্রাণাধিক। অতি সত্য তােমার বচন ।
* * আদিপর্ব) দ্রৌপন্ধীর স্কয়ঘর {১ ভাগ) আমি অতি হীন, অজি মুর্থ, অজীব অধম নহে রাজপুত্র হইয়ে তােমরা এত ক্লেশ কেন সহ কর ? কার লাগি ভাইরে আমার । আমাদের প্রত্যক্ষ দেবতা ইষ্টদেবী মহাপূজা মা জননী - রাজ-রাজেশ্বরী হয়ে, অন্নাভাবে কেনরে পথের কাঙ্গালিনী? সে কি মাের ভাগ্যফলে নয় । কিন্তু কি করিব ভাই। ধৰ্ম্মের নিকট অকপটে হইয়াছি আজন্ম-বিক্রীত। ভাই রে। কি করি বল- কিছুই উপায় নাই। আমাদের মুখভােগ- সেই জগদীশ হরি দীনের দয়াল ইচ্ছাময়-ইচ্ছার অধীন! তার ইচ্ছা হলে, অবশ্যই একদিন পাৰ সুখদিন! হরি হরি। দয়াময়! দয়া কর দাসে। অনাথ পাণ্ডবগণ জননীরে লয়ে বড়ই বিপদে পড়েছে হে। ঠাকুর! বারেক চেয়ে দেখ, কূল দাও অকুল পাথারে! কুন্তী। হায় হায় ! পরে আমার । এত কষ্ট ছিল কিরে এ পােড়াকপালে। হ পতিদেব! হা রাজরাজেশ্বর! ভবিষ্যতে এত দুখ আছে কিহে বলে, স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত স্ত্রী-পুত্রেরে পথে ফেলে—আগে চলে গেলে? কোথা আছ? একবার চক্ষু ছেয়ে দেখ, পঞ্চপুত্র কোলে করি, পথের কাঙ্গালী হয়ে পথে বসে কঁাদি। ভীম। উত্তম, ও ভাল ;- যন্ত্রণার অবসান-পন্থা দূরে ফেলে, গলা ধরাধরি করি কাদাই উত্তম। বলি, দাদা! এ মােদের নূতন কি বল ? পূৰ্ব্বস্মৃতি করি উদ্ভাবন, অনর্গল অশ্রুজল দিয়ে জ্বলন্ত এ চিতানল হবে নির্বাপিত ? এইরূপ পথে বসে আলস্য আবেশে অরণ্যে রোদন,করি’ কি ফল বলনা ? চল আগে নগরেতে, নির্জন নিভৃতে বাস নিরুপিয়ে- জননীরে রাখি’ সঙ্গোপনে, স্বয়ম্বর-সভাস্থলে পশি’, দেখনা কি হয় দাদা পাণ্ডব কপালে! সত্য সত্য অনাহারে আছি বলি নিৰ্বল কি ভাব দীন পদাশ্রিত ভীমে অথবা দ্রোণের প্রাণ দেবেন্দ্র-প্রতিম মহাধনুর্দ্ধর ধনঞ্জয় লক্ষ্যভেদে নহেন সক্ষম ? যদি তব পদে থাকে মাের মতি, জননীর শ্রীচরণ-ধূলি যদি পাই, তবে আমি কাহারে ডরাই এ ত্রিলােকে? তাই বলি, অধোমুখে নাহি বােসে থেকে, ?
আদিপর্ব ।
দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ)
২১১৭
আগু এই মহাকষ্ট যাহে হয় দূর,
তার প্রতীকার করা সর্বাগ্রে উচিত!
যুধিষ্ঠির। চল ভাই!
( সকলের গাত্রোত্থান ; নকুল নেপথ্যাভিমুখে)
নকুল। দেখ দাদা, দেখ দূরে কেবা ওই জন
জ্যোতির্ময় তেজংপুঞ্জ কায়!
সুগম্ভীর অতি ধীর মন্থর-গমনে-
ভাবাবেশে আসেন এ দেশে?
যুধিষ্ঠির। ভগবান্ কৃষ্ণদ্বৈপায়ন!
আহা, এত দয়া না থাকিবে যদি,
দয়াময় বােলে কেন তবে ডাকে লােকে ?
( বেদব্যাসের প্রবেশ)
সকলে। সভক্তি বিনীতনতি ভগবান্ পদে।
বেদব্যাস। রাজ-রাজেশ্বর হও সবে!
ওমা কুন্তী দেবি!
রাজমাতা হয়ে মনসুখে
নিরুদ্বেগে বঞ্চ এ সংসার!
কুন্তী। ভগবন্! ও শ্রীমুখ হ'তে
অভাগিনী কুন্তীপ্রতি শুভ আশীর্বাদ
আর প্রভু, করােনা বর্ষণ!
এই বল, এই কর দেব!
পাঁচটি বাছারে রেখে,
যাহে তীব্র এ যন্ত্রণা হতে
ত্বরায় নিষ্কৃতি পাই;
হরি হরি বােলে
প্রাণ যেন যায় অবহেলে!
দেখ প্রভু, নয়ন মেলিয়ে,
স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত তােমার সে রাজ-রাজের যুধিষ্ঠির অনাথ ও ভাই ক’টি লয়ে,। পথের ভিখারী হয়ে পথে বসে কাঁদে। বেদব্যাস। স্থির হও মা জননি। ওমা পুত্রবতি। পুত্ৰপ্রাণী সতী-শিরােমণি? ফেলােনা ক্ষের দল, বৎসদের হবে অমঙ্গল। আর কিছু দিন ওমা স্থির হয়ে থাক, আসিছে সুখের দিন- মা, তােমার রজনী বিগতপ্রায়। কুগ্রহ আপন গৃহে করেছে গমন, অচিরাৎ সমুদিবে সুখময় রবি পাণ্ডবের হৃদয়-অম্বরে ! আমি সুনিশ্চয় সত্য-বাক্যে কহি, আর অনাথের প্রায় পথে পথে ফিরিতে হবেনা। যেমতি গো রাজেন্দ্র-সম্মানে- বিদায় লভিয়াছিলে প্রাসাদ হইতে নগর বারণাবতে, সেইরূপ পূর্ণমানে মাতঙ্গ-বিক্রমে, অবিরাট রাজেন্দ্র-সংক্ষুব্ধ ভয়ঙ্কর রূণসিন্ধু করিয়া মথুন, জয়লব্ধ-রত্ন লয়ে ফিরিবে নগরে। সেই হেতু দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর-বিধি ! আমি ইহা প্রত্যক্ষ নেহারি যােগবলে। নিশ্চয় অর্জুন বীর লক্ষ্যভেদ করি, পরাজিয়ে রাজন্য-সমাজ, রাজলক্ষ্মী ভৌপদীরে করিবে অর্জন!
'আদিপর্ব । দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) সুধাই এখন, বল দেখি মা জননি। অপার এ দুঃখ-পারাবার, পুরুষত্ব-বলে- করিলে ক্লেশে সন্তরণ, হেন সুখময় কুল পে’তে কি কখন? দারুণ সংসার-চক্র সুখ দুখময়, দুখ পরে সুবিমল সুখ- এইরূপ ভ্রাম্যমান ভবের বিধান; তা’ত সবে জ্ঞানে মনে আছ মা বিদিত বৃথা আর কালক্ষেপ নাহি করি’ পথে, চল সবে নগরেতে যাই, তথায় প্রচ্ছন্ন বেশে নগরের শেষে, এক শ্রমজীবী কুম্ভকার-বাসে, নিবাস কর গে ছদ্মভাবে। আগামী ষােড়শ দিনে- রাজকন্যা দ্রৌপদীর হবে স্বয়ম্বর। শুদ্ধ সেই দিনে- স্বয়ম্বর-সভার মাঝারে-এই বেশে তােমরা পশিবে সবে ব্রাহ্মণ-সমাজে। মধ্যে এই কয়দিম, নাগরিকগৃহে-- ভিক্ষা করি, করিবে দিবসপাত। পদের অতিথিশালায় প্রতিদিন যাতায়াত নাহি প্রয়ােজন। বৎস যুধিষ্ঠির। এ আদেশ বিধিমতে করিও পালন, অবশ্য ব্যাসের বাণী হইবে সফল। ধষ্ঠির। শিরোধার্য অহৰি আদেশ ?
স্বয়ম্বরপাধ্যায় [ মহাত বেদব্যাস। ওই ওন দুর-কোলাহল, আর এই স্থানে থাকা নহে বিধেয়। ( সকলের প্রস্থান) ম তৃতীয় গর্ভাঙ্ক। সকলে ১ম সখী। কুসুমে গঠিত ২৪ সখী। ( রাজোদ্যান) সখীগণের গীত। পিলু-মুলতানী- ভতঙ্গ। প্রফুল অমল কমল-কোমল, খেলিছে বিমল হাসি, লহরে হরে থরে থরে থরে বরিছে সুধার রাশি। কুসুমে ভূষিত কুসুমের রাণী হাসে, কোথা”তুমি অলি? ‘সুধা দাও’ বলি এসনা কুসুম-পাশে ? নবীনা-তরণী নবীন-তুফানে হের হেথা ভেসে যায়, নবীন কাণ্ডারি। করোনাক দেরি, ধর হে ধর হে তায়। প্রদোষ কুমুদ , আছে পথ চেয়ে, কোথায় আছ হে শশি। কোথা রসময়। হয়েছে সময়, হও হে উদিত আসি। ৩৪ সখী। ৪র্থ সখী। সকলে।
জাদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১২১ সুহাসি। গুলো, আমাদের কনে কোথায় গেল? সুভাষী। ঐ দ্যাখনা জলে! মােহিনী। হালা, কনে কি কখন থাকে জলে ? সুভাষী। কোন কনে জলে--কোন, কনে স্থলে। দামিনী। ওর মানে কি? সুভাষী। মানে ? বুঝে দ্যাখ, আপনার মনে? দামিনী। পােড় কপাল তােমার বচনে! বলি হঁালা দুভাষী! তুই কবার কনে হয়েছিলি? মােহিনী। কবারই বা ভূলে ছিলি—কবারই বা জলে ছিলি? সুভাষী। কবা জানি? যখন রাজকন্যার কোথাও সম্বন্ধের কথা হয়েছিল, তখন ছিলেম স্থলে; আর এখন হবেন স্বয়ম্বরা, তখনি পড়েছি জলে ? সুহাসি। কেন? এর আবার মানামানের কথাটা কি ? দ্রৌপদী স্বয়ম্বরা হবেন বােলে ক্ষত দেশের রাজপুত্র আসবেন, মনের মতন যারে দেখবেন- তার গলায় মাস দেবেন? তাতে স্থলে জলের কথাটা কি হল? সুভাষী। অ—আমার পােড়াকপাল! তুই বুঝি এই মানে বুঝে বসে আছিস? রাজকন্যা মনের মতন পুরুষ দেখলেই অমনি মালা বদল করে কোনে হয়ে শ্বশুরবাড়ী যাবেন ? ওলাে, সুহাসি। তা হলে ত আগাগােড়াই স্থলের কথা ছিল। এ যে বিশ-বাঁও জল ! গভীর জল ? জোয়ার ভাটাও খেলে, ভলাও মেলেনা! কেবল হতেই শিখেছ, তলিয়ে তমানে বােঝনা ? এই শােন;-মহারাজা এই পণ করেছেন,কাশের মধ্যখানে একটা যন্তর অমনি আপনা আপনি ঝুলবে- সুহাসি। আচ্ছা ভাই, আপনা আপনি কেমন করে ঝুলবে? সুভাষী। ওলাে সুহাসি! এ যার তার কৰ্ম্ম নয়; স্বয়ং বিশ্বকর্মা না কি বিজ্ঞান না ফিজ্ঞানের কৌশলে সূর্যের আকর্ষণে সেই ঘরটা আপনা আপনি ঝুলিয়ে রাখবে। । !
স্বয়ম্বপাধ্যায়। [ মাভারত ৭ সুহাসি। আচ্ছা ভাই কথাৰ উপৰু আর একটা কথা কই, রাগ করিসনি। দিনের বেলায় না হয় সেই যন্তর ক্ষাপনা আপনি ঝুলবে,রবিতে আর সুর্যের আকর্ষণ খাবে না? মােহিনী। রাত্তিরে বুঝি নামিয়ে রাখবে ? সুভাষী। আ মরে যাই—মরে যাই! মােহিনীর কি বুদ্ধিখানি, যেন নির্বুদ্ধির খণি মন্ত্রী যদি কখন গােয়ে বিয়ে করেন, তা হলে ত দেখছি, রাজ্যে আমর বাড়বাড়ন্ত। ওলাে, শােন্ শােন্! সূর্যের কি আর রাত্তির দিন আছে ? ওর সমান টা নাকি পদ্মিনীটির উপরেও যেনি, পৃথিবীটির উপরেও তেমনি। তারপর যা বলি শােন্ ;-সেই যন্ত্বরের ঠিক মধ্যি- খানে একটি ক্ষুদ্র ছিদ্ধির থাকবে। আমি ঠিক ওপরে একটা মাছের চোখ প্যাট প্যাটু করে চেয়ে থাকবে ; তারি নিচে সভার মাঝখানে অর্থাৎ যেখানে সেই যন্তরের ছায়া পড়বে, একটা মস্ত জলের থালা থাকবে। যে কেউ সেই ছায়া দেখে এক সঙ্গে পাচটা বাণ ধনুতে যােজনা করে সেই মাছের চোখ বিঁধূতে পারবে, মহারাজা তাকেই রাজকন্যা দান কবেন। বুঝলি হাবি বুঝলি? সুহাসি। আচ্ছা সই, যদি কোন ইতর লােকেই লক্ষ্যটা বিধে ফেলে, অবেই ত সর্বনাশ ? মহারাজ ত পণ ওলটাতে পাবেন না, তা হলে আমাদের সখীর দশা কি হবে ? সুভাষী। এখন স্কুলে স্কুলের মানে বুঝতে পালি? মােহিনী। তাই ত ভাই কি হবে? সুৰী। ওলো, আর বসে ভাবলে কি হবে? এটা ত ছেলেখেলা নয়; যে সে ইতর লােক কি সেই অদ্ভুত লক্ষ্য বিধূতে পারে? এ যব বীরের কাজ। মহারাজ ত তাই চা, পেদী যাতে বীপত্নী হন, তারি ত এই আয়ােজন। এখন এমন করে সে ব্যাঙ্কে কথা কইলে কি হবে? রাজকুমারীকে ডেকে নিয়ে আয়। একটু আমাে করা যাক্, কঁারও মনটা ভাল থাকে।
২২ আদিল । দ্রৌপদীর ক্ষয় ৫ম ভাগ) দামিনী। আর ভাকতে যেতে হবেনা, শোন বাজনা বেজে উঠেছে। অন্যান্য সখীরা রাজকুমারীকে নিয়ে আসছে। ( অন্যান্য সখীগণ পরিবৃতা দ্রৌপদীর প্রবেশ; সখীগণের গীত) । । । সিন্ধু-খাম্বাজ- তারে ভালবাসি ভালবাসি। দেখা হলে রাখি বুকে পরকাশি’ মৃদুহাসি। সে ত কয়না কথা চায়না ফিরে, তবে—ভাসি কেন আঁখিনীরে ? সাধে বাদ আপনি সেধে, শুধু-আবছায়া মত এসে ধীরে গেল ফিরে, তারে বুকে রাখি-ভালবাসি । ভাষী। রাজকুমারি! প্রাণশখি। এমন মহামন্দের কালে তােমার মুখ-কমল মলিন কেন ভাই? দ্রৌপদীর গীত। কোষিকী-কানেড়া----আড়াঠেকা। জানিনা কাহার হ’ব সই, হৃদয়ে প্রতিমা গড়ি কল্পনার ভাবে রই। ভাবীপতি ভাবনার, বল সখি, হয় কার ? কাহারে পূজিয়ে প্রাণে ধরা দিয়ে ধরা লই ? ;
স্বয়ম্বৰপাধ্যায়।
[ হাঙ্গর
!
-
কি হবে কি জানিবল;
সদা প্রাণ সচঞ্চল;
কি নামে বিকাব শেষে? এ বেদন কারে কই,
যে ল’বে তাহারি হ’ব ?-দাসী কিম্বা মনােময়ী।
।
সখীগণের গীত।
কাফি
-দারা
এ জগৎ সদাই মিলময়,
যেমন দেবের তেমনি দেবী হয়।
তােমার মত তুমি পাবে, মনের মত মিলে যাবে,
হৃদয় মাঝে প্রেমে বসাবে,
তখন মনে করাে দুখীর কথা,-
প্রাণের সনে প্রাণই কথা কয়।
সুভাষী। প্রিয়সখি! অকূল সমুদ্র, যত ভাববে, ততই তলিয়ে যাবে।
ভাবুলে কি হবে? ভগবান্ অবশ্যই সুখের দিন দেবেন।
আজ সকালে রাণীমা আমাকে আদেশ কলেন, কুমারী যেন
কোনরূপ দুর্ভাবনা না ভাবেন; কেবল সুখের কথায়, সুখের
চিন্তায় যেন দিন কেটে যায়। ভয় কি? দেবতা ব্রাহ্মণের
আশীর্বাদে এই রাজপুরী আলো করেছ; আবার তাদেরই
আশীর্বাদে কোন ভুবনমোহন রাজ-রাজেশ্বর তােমার প্রিয়তম
বর হবেন। সিংহিনীর মান শৃগাল কি বুঝবে? তুমি
অবশ্যই দেখবে রাজকুমারি, সেই অগণিত লােকপালের
মধ্যেই কোন সিংহ-বিক্রম বীরশ্রেষ্ঠ ধনুর্দ্ধর লক্ষ্য বিদ্ধ করে
তােমাকে মহারাণী বােলে আদর করে গ্রহণ কবেন।
( সহসা দ্রৌপদী চমকিত হওন )
-~-~- আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর কায়দার (১ম ভাগ) ২১২৫ / একি একি! যাকুমারি। ! কুমারি! হঠাৎ এমন করে চোকে উঠলেন কেন? দ্রৌপদী। কি বলিব লাে প্রাণ-স্বজনি! কালি নিশীশেষে - দেখিয়াছি অতি কুপন। সকলে। এ্যা, স্বপ্ন দেখেছ ? কি স্বপ্ন দেখেছ কালে? দ্রৌপদী। সইরে! সে ভয়ানক কথা! আমার মনের ব্যথা মনেতেই থাক, সে কথা আমারি বুকে থাক চাপা থা! সুভাষী। একি সর্বনেশে কথা সই? তােমার মনের ব্যথা তােমাতেই থাকবে। আমরা তার ভাগ পাবনা? আমাদের তােমার ব্যথার ভাগী করবেনা? বল ভাই, আমাদের অনুগ্রহ করে বল। স্বপ্ন দেখেছ,-এই কথা। তা কি কখন সত্য হয় রাজনন্দিনি? বল, এই পদাশ্রিত দাসীদের বল,নিশ্চয় সমৰ ভার কমে যাবে। সুহাসি। বল রাজনন্দিনি! বল, আমাদের এমন ক'রে দগ্ধে মোনা! আমরা বড়ই ব্যাকুল হয়েছি। জৌপদী। শুন তবে সখি! দুরন্ত সে স্বপনের খেলা। আজি রজনীর শেষে নিদ্রাবশে আছিলাে বিবশ, স্বপ্নাবশে দেখিলাম অদ্ভুত ঘটনা! অতি ঘােয় বরসভা। অগণিত নাজমুখ চৌদিকে বিয়াজে, বােতর ব্যখানি ঘাের কোলাহল। আমি তােমাদের মনে সভাশে আছি সমাসীন, দেখিলাৰ মাজ- । . ।
স্বয়ম্বরপাধ্যায় লক্ষ্য বিদ্ধ হইল অক্ষম। ওহে, তারপর সেই সিহকায় । সকলে। তারপর তারপর ? দ্রৌপদী। তারপর এক অতি তেজপুঞ্জশালী সিংহসম বিরাট পুরুষ-ভিখারি কাঙ্গাল বেশে বহেলে লক্ষ্য বিদ্ধ করিলনিমেষে। তারপর এক লম্ফে আসি’- আমার হৃদয়ে তুলি ছিন্ন ভিন্ন করি সেই খার-সভা, কত দূর দেশান্তরে লয়ে গেল মােরে! তারা সখি, শত শত ভাই! তার মাঝে পাঁচজনে আসি’ বলে মােরে করিল আশ্রিল, পাঁচজনে উপভােগ্য করিল আমারে। তারপর? ওহহা সই শরিলে সে কথা সফল। বল বল হ’য়ােনা নীরব। জৌপদী। অতঃপর শােন সখি! অবশিষ্ট যারা ছিল, তার মাঝে প্রধান যে জন, আমা’ প্রতি আরম্ভিল মহা অত্যাচার। একদিন মহাক্রোধেধর হইতে ছলে বলে কৌশলে তুলায়ে খামিগণে দাসী পণে কিনিল আমারে। বহু লােকনাফে, সবলে প্রাকলি, । মাের কেশপাশ ধরি.. : উলঙ্গ করিতে মােরে, হুহুঙ্কারে ফোটীবাস কৈল খান । । #r :
mon. আর, দ্রৌপদী। র। ১ ভাগ) ২১২৭ সিংহসম পঞ্চবামী মম, অকস্মাৎ যেন, মন্ত্র বনে দুৰ্বল শৃগাল হয়ে স্বচ্ছন্দে দেখিল বসি ঘোর অমান। হাহাকারে করিনু ক্রন্দন, আঁখি-জলে বুক ভেসে গেল, কিন্তু, কেহই এলনা মােরে করিতে রক্ষণ! প্রাণ যায় -নাহিক উপায়- দুর্জন উলঙ্গ করে, হেনকালে সই, যেন নীল-কমলে গঠিত, চারু-আঁখি,-অপরূপ ঘনশ্যাম কায়- ভুবন-মােহন-এক অতি সুন্দর পুরুষ, কোথা হতে আমার প্রাণের মাঝে অস্থি ভয় নাই- ভয় নাই” বলি, দিল মােরে কত শত সুচিক্কণ, বাস। কোন মতে লজ্জা রক্ষা হইল আমার। সকলে। উঃ কি ভয়ঙ্কর কথা। তারপর তারপর সখি? দ্রৌপদী। তারপর বিপক্ষ সে শত শত জন, আমাদের ধনরত্ন বস্ত্র অহঙ্কার সবলে কাড়িয়া লয়ে, দেশ হতে বনবাসে দিল দুরু ক’! এক বন্ত্রে ভিখারিণ হয়ে ভিখারি সে পঞ্চামী সন বনে বনে আরভিনু নিয়ে। এইরূপে অনিদ্রায় অনাহারে- স্বয়ম্বরপাধ্যায় [ মহাভারত . কত দিন কত যুগ যেন, অশ্রু প্লাবনে ভাসি’ কাই কেটে গেল। তারপর সব কথা হয়না স্মরণ, কতই আবর্ত হই এটা যেন ক্ষীণ মনে হয়, বিশ্ব যেন রক্তে ভ রক্তের সাগর! কত শত নরমুণ্ড-রক্তাক্ত বন্ধ সনে ভাসমান মােরা যেন শশাণিত-প্লাবনে! সে যে কি ভীষণ প্রান্তিক ঘটা, কি যে হাের যুদ্ধের হল হলা! কথায় কি প্রকাশিব সই ? রক্তস্রোতে হাবু ডুবু খাই, প্রাণ করে হাঁপাই হাপাই, তারপর অকস্মাৎ স্বামিগণ সনে যেন ডুবে গেনু রক্তসিন্ধু তলে! চৌদিকে রক্তের ছড়াছড়ি,- গড়াগড়ি খাই রক্ত খেয়ে ? অকস্মাৎ দেখিলাম চেয়ে, পঞ্চপুত্র যেন মাের ছিল কোলে শুয়ে, আচখিতে হ’ল মুণ্ডহীন! যেন এক দুরন্ত পিশাচ এসে পাঁচ কোপে-পাচটি ছেলের গলা কেটে, উধাও হইয়ে উড়ে গেল, অজ্ঞান মূচ্ছিত হয়ে পড়িনু ভূতলে! তারপর জ্ঞান হয়ে দেখি, রণ-সিন্ধু থম্ থম্ গম্ভীর নিখয়, নাহি আর রণ-কোলাহল, যেন একয়েপরে- পি ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর ৫৯ ভাগ ) ২১২৯ নবীন জেগেছে ধরা! শুধু আমি স্বামিগণ সনে কোনক্রমে প্রাণে বেঁচে আছি। আর সবে শব হ'য়ে নিস্পন্দ শরীরে চারিদিকে যেন পড়ে আছে। তাহাদের বেয়িয়া লাে কাতারে কাতারে, অশ্রু-পরিপ্ল, তা- কাতরা বিধবা কত ঘাের হাহাকারে পরস্পর প্রিয়পতি পাশে আছাড়ি পড়িল শুয়ে বক্ষে কর হানি। তারপর মাের পতিগণ কিছুদিন মেয়ে ল’য়ে করিল বিশ্রাম। সুখ দুঃখ সম্পদ বিপদ- কিছুমাত্র বুঝিতে না পারি ! অতঃপর শােন সখি ;- কি জানি কেন রে- ৰামী ল’য়ে উঠিতেছি শৈলশিয়ােদেশে, অকস্মাৎ একটা বিকট কালরূপ- কালমুখ করিয়্যেদান ধাইল আমার পানে। * রক্ষ” প্রাণনাথ বলি’ যেমনি দৌড়ি বেগে হঠাৎ হইল মাের চরণ খলিত । মহাশূন্য হতে পড়ি আমি পাতালের তলে আচম্বিতে ঘুম ভেঙ্গে গেল! বল, সখি কি করি উপায়। আমার স্বপ্নের সেই কাতর চীৎকার স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ ২ এখনো পলিছে কাশে এখনাে াগিছে প্রাণে ঘৃত সমুর দুভাষী। কি ভয়ঙ্কর! কি সর্বনেশে অগ্ন। শুভ বিবাহের সময়ে এত বড় অমঙ্গলের ভাব মনে আনাও যে বড় কুলক্ষণ সখি? মুহাসি। তাই ত! কি হবে সখি। মহারাণীকে এ কথা ত জানান উচিত? সুভাষী। বাপরে! এ কথা আবার তার কানে তােলে। একে ত এ বিবাহের কি ফল দাঁড়াবে, তাই ভেবেই অস্থির! কে লক্ষ্য বিদ্ধ কবে—কেমন জামাই হবেন, এই ভেবে তার প্রাণে এক তিলও সুখ নাই। তার উপর এ কথা শুনলে কি রক্ষে আছে? যা আমরা জালেম, এ কথা—এই ভয়ঙ্কর } স্বপ্নের কাহিনী যা আমরা জানলেম ;-আর কেউ মুখেও এ না-ঘূণাক্ষরে কারাের কাছে প্রকাশ ক’রনা। দামিনী। প্রাণসখি! শান্ত হও,-মঙ্গলের দিনে চোখের জল ফেলােনা। স্বপ্নের কথা সত্য হয়। ভয় কি? সর্বভয়হারিণী বিপদ- নাশিনী ভবানী আছেন। এত দিন ভগবান্ পশুপতির পূজা করে এলে,—তার আশীর্বাদে অবশ্যই মনের মত পতি পাবে। মােহিনী। তা বই কি? সর্বমঙ্গলা নিশ্চয় তোমার মঙ্গল করবেন। এস, সফলে মনে প্রাণে তারে ডাকতে ডাকতে ভবানীর মন্দিরে গিয়ে যােড়শােপচারে তার পূজা করি। গীত। দেশী-টোড়ি---মধ্যমান। কূল দেমা কুলকুণ্ডলিনি। পাথারে পড়িয়ে ডাকে কাতরা নন্দিনী। সংশয়ে আকুল প্রাণ, কর মাগাে পরিত্রাণ, দ্রৌপদীরে পতি দেমা পশুপতি-রাণি ; দেমা দে সুখের দিন দীনিস্তারিনি।
পর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর ও ১ম ভাগ)
২১৩১
তীয় অঙ্ক।
প্রথম গর্ভা
(হস্তিনাপুর-রাজোদ্যান)
শকুনি।
-
শকুনি। মিট মিট মিট!
খুব বেশী চেচিয়ে চাবে না,
অড়চোখে,—কিম্বা এই চাওয়া-বােঝা করে-
চাবে শুধু মিট মিট মিট ?
তবে এক কথা, যদি পদ্ম-আঁখি হয়,
এই ধর, আমার মতন
যদি লম্বা টানা-আকৰ্ণ-বিস্তৃত হয়,
সব চক্ষু তথাপিও কমােনা মেলন।
হাতে রেখে—একদিক টেনে-
ধীরে ধীরে-অপাঙ্গেরভঙ্গী করে, চাবে।
বস্। সব কাজ ঘরে বসে পাবে!
এ বিষয়ে, আমাদের চেয়ে
নারীর চাওয়াটা বড় ভাল ।
ওরা কি চায়না? চায়, ধীরে-কোণ টেনে।
বব।
ওই এফ চাহনীরটানে,
টেনে আনে বসুন্ধরা খানা।
স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত কোণে বসে রাজ্য জয় করে। এই দেখনা, আমার দুৰ্য্যোধন। এত বড় চোখে চেয়েছিল, তাতে কোন কাজ পেয়েছিল রে পাগল? যেমন আমার মত—মাের শিক্ষা মত চাওয়া-বােঝা ক'রে বাপু, অপাঙ্গে চাহিলে, অমনি ত সব কাজ হাতে বসে পেলে। বলি, ওই এক চাহনীর গুণে গেল ত বারণাবতে সমাতৃ পাণ্ডব ? মােলােত আগুনে পুড়ে ? ওই দেখ, অমনি প্রাণটা দমে গেছে। আ মােলা। আবার একি জ্বালা। যখনি তাদের সেই পোড়ায় ব্যাপার মনে পড়ে, আমার প্রাণটা পােড়ে কেন? দাড়াও-দাড়াও-গুণে দেখি। হা হা বাবা, আমার মতন জ্যোতির্বিদ নান্তি-নাস্তি—আর নাই এ তাবৃত মাঝে। খড়ি পেতে গুণে দেখি বাবা। - (খড়ির দ্বারা অঙ্কিত করিয়া গণনা করণ) = এই যে এই যে হা হা পশ্চিমের ঘরে- সব কটা জড় হ'য়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। ওই যে ওই যে পুরােন- গৃহদ্বারে অগ্নি দিয়ে গেল! উঃ-দেখ মেথি অগ্নির কি তেজ! বারুদের ঘর কিনা।
আদিল । দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (শ ভাগ ) ২১৩৩ . * 4 ** দাউ দাউ দপ-ধু ধু জলে গেল। অগ্নিশিখা উঠে জলে জলে। হাহাকার করে পাণ্ডবেয়া পুড়ে মরে, ফট, ফট, ফেটে গেল ভীমের মাথাটা, উলটি পড়িল কুন্তী’পরে। যুধিষ্ঠির হাঁক পাক অর্জুনের সনে; পাষণ্ড নকুল সহদেব- উভয় ঘােট উভয়েলে, দুম করে পড়িল জ্বলন্ত ভূমিতলে! দেখেছ কি মজা। ভীমটে গড়িয়ে পােড়ে- হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ- ভীমটে গড়িয়ে পড়ে। দুর তাের হতভাগা মুখ পুয়ােচন। বেশ দিলি, অগ্নি বেশ দিলি, এক লম্ফে পলাইতে হয় ? তা না হয়ে—একি তাের সাধ । পাণ্ডব কেমনে পুড়ে মরে ওখানে দাড়িয়ে দেখে? হুস করে—একটা হল এসে একেবারে ভস্ম ক'রে গেল। চীৎকার করে মূখ হ’ল চীৎপাত, এক দণ্ডে হইল নিপাত। পুরােচন পুড়ে মরে স্বর্গে চলে গেছে। তার আর নাহিক সন্দেহ ;- ফায়ণ, সে কুরুদের কর্মে প্রাণ দে’ছে। আর পাণ্ডবেরা ? হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ- সব ব্যাটা ভূত হয়ে আছে। ।
স্বয়ম্বরপাধ্যায় [ মহাভারত যুধিষ্ঠির ব্রহ্মদৈত্য হয়ে বারবতের সেই একটা প্রকাণ্ড তাল গাছে পা ঝুলিয়ে বােসে আছে ! ভীমটে পিশাচ হ'য়ে ভাগাড়ে ভাগাড়ে পেট ল’য়ে ত্রিশূন্যেতে মরে ঘুরে ঘুরে। অর্জুনটা বেলগাছে থাকে। আর সে নকুল সহদেব ? সে দুটো, কটাৰ পিছে কবন্ধ হয়ে অন্ধকারে--অন্ধকারে-কে গুম হ'য়ে! এ ক’টারনাহিভর আর,- ভয় সেই কুন্তীটারে । সে বেটী প্রেতিনী হয়ে নিশ্চয় এ রাজপুরে ঘােরে। ওখানে দাড়িয়ে কেয়ে ? দা মেলে নড়েন। কথা কনা? কে তুই ওখানে? ধপধপে সাদা বাস পরও বাপয়ে। প্রহরী প্রহরী। আরে কে আছি হেথা ! তবু ও নড়েনা? সাদ-সাদা-আগাগােড়া শাখা। ও বাবারে! কত বড় হল। আকাশে সটান্ এর মাথা ঠেকে গেল। নিশ্চয় সে কুন্তী বেটী প্রেতিনী হইয়ে হাঁ করে দাড়িয়ে আছে। দুৰ্য্যোধন! দুৰ্য্যোধন! ওরে দুঃশাসন! আমি যে পেত্নীর হাতে মারা যাই ৰাৰ।। ওরে.আয়রে আয়! এখনাে আসিলে রক্ষা হয়। { আদিপর্ব ) দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১৩৫ ~ পেত্নীটা এগিয়ে আসে হাউ-মাউ-উ । পেত্নীটা এগিয়ে আসে হাউ-উ-উ ! (বেগে দুৰ্য্যোধনাদির প্রবেশ) দুৰ্য্যোধন। মাতুল! মাতুল! এফি! কি কারণ ভয়াকুল কম্পিত শরীর। শকুনি। ও বাবারেও বাবারে, আবার মাতুল বলে আসে। আমি নই—আমি নই-- রক্ষা কর-দোহাই দোহাই। দুৰ্য্যোধন। মাতুল-মাতুল ! শকুনি। কে তোর মাতুল? আমি তাের ছেলে, তাের ভাই আমার মাতুল। দোহাই-দোহাই পেত্নী দেবি! আমারে খেয়ােনা- টপ করে মুখেতে ফেলােমা! দুৰ্য্যোধন। একি সখা! এ যে দেখি উন্মাদ-লক্ষণ। অকস্মাৎ মাতুল উম্মাদ ? সখা-সখা! তুমি ডাক দেখি? কর্ণ। মাতুল! মাতুল। অকস্মাৎ একি তব ভাব বিপর্যয় ? চেয়ে দেখ, এসেছেন মহারাজ নিজে। শকুনি। এ এ কি হবে কি হবে। একাই তােমারে রক্ষা নাই, আবার এসছ বাছা,ছেলে সঙ্গে কমে। এই কি উচিত বৰ্গ খাবা ? আমি কি তােমার কিছু কয়েছি অহিত। তাই মােরে পেঙ্গী হয়ে স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত ক ভূতেরে লেলিরে দাও বাছা ? আজ নােৱে ছেড়ে দাও, } কাল সেই তালতলে গিয়ে জোড়া জোড়া ম’ষ দিয়ে পূজা দেব যােড়শােপচারে। কর্ণ। ওহো, এতক্ষণে বুঝিয়াছি মহারাজ। মাতুল আমার ভেবে ভেবে পাণ্ডবের হীন-ভবিষ্যৎ বিকৃত-মস্তিস্ক আলি। বাক্যেই প্রমাণ তার, এস সখা, একবাক্যে করি সম্বােধন। সকলে। মাতুল-মাতুল ! চেয়ে দেখ সম্মুখে ফিরিয়ে, এত ভীত ছয় মৃত- পায়ে ভয়ে ? শকুনি। রাম-রাম-রাম-রাম। ঝাকে ঝাকে হেঁকে এসে ধরে। দোহাই তোমার পেত্নী মাসি ! তুমি একা যা কর- কর। ও গুলােরে লেলিয়ে দিন। ভীমটে জীবন্ত-ভুত ছিল- এখন সে হয়ে মহাভূত! ওর দয়া ভাগাড়েও নাই। কটা স’ষকটা হাত দিলে দয়া হয়, এখনি সংগ্রহ করি মাসি- হেলেপুলে সঙ্গে করে পেট ভরে খেও। দুঃশাসন। কি আপ! একেবারে বেহুস অজ্ঞান। মামা, মা? একেবারে ক্ষেপে গেলে?
আদিপর্ব। দ্রৌপদীর স্বয়ন্দর (১ম ভাগ) ২১৩৭ ছি ছি ছি ছি! কোথা ভূত-কোথায় প্রতিনী। ফিরে দেখ-চক্ষু চেয়ে দেখ, আমি তব দুঃশাসন-প্রিয় ভাগিনেয়, প্রিয়তম সখা অঙ্গরাজ, আর স্বয়ং সম্রাট উপস্থিত । শকুনি। ——সত্য সত্য তুমি দুঃশাসন ? না-এটাও ভূতের মায়! ভাল, আগে অঙ্গুলিটা কামড়াও দেখি? ( দুঃশাসন অঙ্গলি দংশন করণ) এ্যা—এ-বটেই ত-বটেই ত! ভো নারকীদেব! দু তাের পােড়া মন ! হায় তোর ভস্মের কপাল ! বাবা-বাবা। দুর্যোধন বাবা? ও আমাৰ মুখেতে আগুন ও আমার মুখেতে আগুন, একেবারে চক্ষু দুটো গেছে ? বাবা তুমি এখানে দাঁড়িয়ে। আমি মরি ছার বৃথা প্রেতিনীর ভরে ? বেঁচে থাক বাবা-বেচে থাক বাবা! দুৰ্য্যোধন। হয়েছে কি ? অকস্মাৎ কি কারণ মনের বিকার ? কুন্তী-কুন্তী-ভীম-ভীম- এ সকল কথা কেন মুখে ? শকুনি। বলি বাবা, বলি বাবা, কথাটা কি জান? প্রদোষ-ভ্রমণে গাঙ্গ রাজোদানে এসে, বারণাবতের সেই পােড়ার ব্যাপার ২৬৮ স্বয়ম্বরপৰ্বাধ্যায়। [ মহান্দারত অকন্মাৎ মনে পড়ে গেল। ভাবিলাম, তােমরা হেথায় কেহ নাই, দেখিনা কেমন করে ননীর সনে পাপাত্মা পাণ্ডবগণ মরেছে পুড়িয়ে। তাই বা, খড়ি পাতি—গণনা করিতেছি, হঠাৎ মনেতে যেন এল, ওই দূরে ধপধপে সাদা-বাস পর। কুন্তী যেন পেত্নীরূপে রয়েছে দাড়িয়ে। এই কথা, নচেৎ কিছুই নয়। তবু বাবা, কিঞ্চিৎ অন্তরে ভয়ের সঞ্চার হয়েছিল- ভয়ের সঞ্চার হয়েছিল। তা বাবা, হতেই পারে, তা বাবা, হতেই পারে। বয়স ত ক্রমেই এগিয়ে এল নিত্যই এমন ঘটে থাকে, কে কোথা সংবাদ বল রাখে? কর্ণ। তৰু মামা, তােমার মতন কেহ নয়। কে এত ভূতের ভয়ে হয়েছে উন্মাদ ? এত ভয়? একেবারে বেহুস অজ্ঞান। শকুনি। তা বটে—তা বটে বাবা! বাক্-যাক- সকল কথা ছেড়ে দাও! এখন এদিকে এস দেখি, জ্যোতিষের চিত্র অঙ্কণের কিরূপ পারদর্শিতা মামায় তােমার? কর্ণ। একি কাণ্ড। মহারাজ । মাতুলের জ্যোতিষ গভীর গবেষণা- অভ্যভুত চিত্রাঙ্কণকর নিরীক্ষণ। r আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) দুর্যোধন। হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ—অতি চমৎকার। কুরু-পাণ্ডব ঘটিত এই বিগ্রহ-ব্যাখ্যা ব্যাখ্যা করি দাও বুঝাইয়ে। হেমাতুল। অতুল কৌশলে তব পুড়েছে পাণ্ডব ; আবার তুমিই নিজে সে পাপ চিত্ৰণ চিত্রিত করেছ মরি বিচিত্র লেখনে। তুমি নিজে বােঝাইলে যত ভাল হবে, আমাদের শুদ্ধ চক্ষে তত কি শােভিবে ? শকুনি। এই দেখ,-পুরোচন-কৃত- বারণবতের সেই শয়ন-ভবন। পশ্চিমের ঘরে এই দেখ ঘুমায় সকলে; নির্ভাবনা,কোন চিন্তা নাই। তােমাদের খুল্লতাতপত্নী কুন্তী দেবী ঘুমান অম্লান মনে ; ওই দেখ পুরােচন উকি দিয়ে দেখে । দেখ দেখ ধীরে ধীরে আসার চলন, আগেতে ভীমের পানে চাহে আড়চোখে ! বস্ব-নিঃসন্দেহ। পুনঃ হের, জ্বলন্ত মশাল করে রৌদ্রমূৰ্ত্তি কালরূপধারী পুরােচন গৃহদ্বারে লাগাল আগুন! ধূ ধূ ধূধূ গৃহ জ্বলে গেল! আবার এ ধরে চেয়ে দেখ, ভীমটে কেমন পােড়ে গড়িয়ে গড়িয়ে। ওই দেখ যুধিষ্ঠির ছােটে চতুর্দিকে, জ্বলন্ত প্রস্তর খণ্ড পড়িল মশুকে, = স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত পপাত ধরণীতলে; ওই দেখ দেখিতে দেখিতে । সব কটা ছাই হয়ে গেল। কিন্তু বড় দুঃখের বিষয়, পুরােচন(ও) সেই সঙ্গে জ্বলে পুড়ে মােলো ! যবনের বুদ্ধি কিনা, কত ভাল হবে। ওখানে দাঁড়িয়ে থাকে ? দেখিতে দেখিতে—অট্টালিকা হৈল প্রজ্জলিত, পালাবার পথ নাহি পেলে, কাজেই তােমার কাৰ্য্যে পুড়ে প্রাণ দিলে? দুৰ্য্যোধন। যাক্, সে কথায় নাহি প্রয়ােজন,- উপায় কি বল তার ? যেমন আমার কর্মে জীবন সপেছে, আমার(ও) কৰ্তব্য আমি ফয়েছি পালন, তাহার সংসার ভার করেছি গ্রহণ। কর্ণ। কিন্তু সখা, মাতুলের চিত্র বলিহারী। যেই কাৰ্য পরিষ্কার মসৃণ অন্তরে দুষ্কর কার্য-কুশলী, সে কাৰ্য্য, অপকার- এ হেন করাবৃত ভূমির উপরি এমন সুন্দর চিত্রাঙ্কণ, বাস্তুবিক মাতুলের বিশেষ বিদ্যায় পরিচয়। শকুনি। বেন কেনরে বাবা, এ কেমন মাটী? কর্ণ। কেন, মাটীর আবার কি গুণ? শকুনি। কি বলে পাগল ছেলে? শুধু কি আমার গুণে এ চিত্রের শােভা ? এতেও মাটীর গুণ বেশী চাই বাবা। কর্ণ। ভাল করে বুঝাইয়ে বল ?
আদিপর্ব।
দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ)
২১৪১
শকুনি। এটা পাণ্ডব-পােড়-মাটী ।
সকলে। হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ-
( উচ্চহান্য ; প্রতিহারীর প্রবেশ)
প্রতিহারী। জয় হ’ রাজ-রাজেশ্বর!
ছত্রবতী-নগরাধিপতি
মহামতি রাজা যজ্ঞসেন
পেরেছেন বার্তাবহ ভবৎসকাশে।
অপেক্ষায় থাকিতে না চান,
বলেন, বিশেষ প্রয়ােজন।
কি আদেশ হবে এ কিঙ্করে?
দুৰ্য্যোধন। ল’য়ে এস সমাদরে পাঞ্চালেশ-দূতে,
রাজোদ্যানে অভিযােগ শুনিব তাহার,
যেবা হয় কৰিব বিচার।
প্রতিহারী। যথা আতা মহারাজ!
( প্রস্থান ও রাজদূতকে লইয়া প্রতিহারীর পুনঃপ্রবেশ)
রাজদূত। বলি’ পাদপদ্ম কুয়াল।
দুৰ্য্যোধন। কি সংবাদ দূতবর।
বির পাঞ্চালেশ মহাত্মা ,
সর্বাঙ্গীন আছেন কুশলে ?
বিজে ত পূর্ণ শান্তি রাজত্বে তাহার।
কুমার কুমারী তার কুলের উজ্জ্বল
কুশলে আছেত বার্তাবহ।
অহােমহ কুশল কামনা
করেন ত কুরুকুলে মৃণমূলের
রাজদূত। সন্তি-সন্তি-সমস্তই শুভ।
মহারা! শত ধবা,
পাঞ্চলের সংবাদ গ্রহণ।
স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত শ অধুনা যে অভিনব মল-বারতা ৰুৱেছি বহন রাজ-রাজেন্দ্র সমীপে, গ্রহণ করুন মহাত্মন! ছত্রবতী-অধিপতি মহামতি ভূপ, একমাত্র প্রাণাধিকা দ্রৌপদী বালা করিবেন শুভ-স্বয়ম্বরা, লক্ষ্যবিদ্ধ পণ গ্রহণে। আসমুদ্র-কর-গ্রাহী তুমি কুরুরা, অধীনস্থ কুরুখ- কুরুগুরুগণ সনে, স্বয়ম্বর সভা উজলিতে যেতে হবে বৈবাহিক শুভ নিমন্ত্রণে ; এই হেতু প্রভু মম দ্রুপদ-নৃপতি পেরেছেন আমন্ত্রণ লিপি। ( পত্র প্রদান ) দুৰ্য্যোধন। অতি প্রীত হৈনু আমি পাঞ্চালেশ প্রতি। বৈবাহিক শুভ নিমন্ত্রণ করিনু গ্রহণ বর ! তব প্রভু অভিপ্রায় মত সমস্তই কাৰ্য্য হবে। প্রতিহারী, ল’য়ে যাও পাঞ্চালের দূতে, পানাহারে বিধিমতে করিবে যতন, প্রদান’ আরাম তারে প্রশান্ত বিশ্রামে। প্রতিহারী। যথা আজ্ঞ রাজ-রাজেশ্বর! (প্রতিহারীর সহিত রাজদূতের প্রস্থান ) শকুনি। হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ- * -- ।
আদিগবর] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১৪৩ আসমুদ্র-কর-গ্রাহী-আসমুদ্রকর-গ্রাহী। ও বাবাজী-ও বাবাজী! শুনিলে ত কি বলিল পাঞ্চালের দূত। বলিবেনা? অবশ্য বলিবে! শতবার লক্ষ্যবার অবশ্য বলিবে। দুঃশাসন। মাতুল আমার এই ছােট কথা শুনে হেসেই আকুল। আসমুদ্র-কর-গ্রাহী এ কথা কি অধিক-রতি ? হস্তিনা-ঈশ্বর রাজ-রাজেশ্বর দুর্যোধনে বলিলে জগদীশ্বর, অতি-উক্তি নয়। শকুনি। আরে বাবা, আরে বাবা, তা আমি জানিনা। কথাটা কে বলিত চাদ। আমারি কৌশল বলে যদি না সে ক'টা পাপী পুড়িত অনলে। দুৰ্য্যোধন। যে সংবাদ প্রকৃতই নেহরসময় আনন্দ মাখান-এাণময়, তাহারে পশ্চাতে ফেলে কি এক মিছার তর্কে মত্ত দুশাসন ? স্বয়ম্বরে যেতে হবে । কহ অরাজ! কি ভাবে—কি বেশে যাওয়া আমার উচিত? কর্ণ। যেমন যে বেশে গাছ। তুমি যাবে স্বয়ম্বরে, সাজসজ্জা তােমার কি ইথে প্রয়ােজন? শকুনি। মিছে নয়, যা বলেছ বাবা! রা-রাজ-রাজ-রাবেয়, সম্রাট-সার্বভৌমিক, matin [ মহাভারত ১৪৪ স্বয়পাধ্যায়। ৮ ৫ আসমুদ্র-ক-গ্রাহী একচ্ছত্ৰী তুমি, তােমার আবার বেশভূষা? মিছে নয়, যা বলেছ বাবা! দুৰ্য্যোধন। না না, তবু স্বয়ম্বর সন্ধীর কথা, মনােহর বেশ তৃষা অতি প্রয়ােজন। যদিও আমার নাম(ই) উজ্জ্বল ভূষণ, তথাপিও দ্রৌপদীরে নিয়ে নাকি কথা! শকুনি। হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ- বাপু, হাসালে তুমি। চক্রবর্তী সম্রাট থাকিতে পারে, দ্রৌপদীরে বর খুজে নিতে হবে নাকি? যেমন তোমারে কৃষ্ণা দেখিবে সভায়, ধেয়ে এসে মালা তুলে দেবে! কর্ণ। না মাতুল! এ সেরূপ স্বয়ম্বর নয়, এতে কিছু বীরত্বের কাছে পরিচয়। এও সেই মহারাজানুমতীস্বয়ম্বর প্রায়। লক্ষ্য-বিদ্ধ-পণ বিস্মরণ হ'লে কি মাতুল। শকুনি। শােনরে ও বাপু দুঃশাসন! একবার কর্ণের কথাটা কানে গােন। বাপু হে! এটা কি বড় কথা ? বীর মীর অতিবীয় জগদেবীর মহারাজ-অধিরাজ তোমার অগ্রজ লক্ষ্যৰিদ্ধে নহেন সক্ষম? হ মরে যাই-বালাই গলায় বেঁধে। বলি বাপু অঙ্গরা! সে ব্যাপার পদ কি সব ভুলে গেল? তখন ত তোমরা বালক ; } দ্রৌপুরীর (১ভাগ ) ২৪৫ সেই যবে দ্রোণে দক্ষিণা শােধ গিলে * দ্রুপদের হাতে পায়ে বেঁধে দ্রোণপদে সে কথা কি অকস্মাৎ স্কুলে গেল নাকি? লজ্জা নাই তার? এখন আবার লক্ষ্যবিদ্ধপণে মেয়ে দেবে? দুৰ্য্যোধন। চুপ করে ঘরে বসে থাক সেধে এসে পায়ে ধরে মেয়ে দিয়ে যাবে। কেন? কিসের তাহার স্পর্ধা এত ? হয়েখে দায়েখে দাও। দুঃশাসন। যা বলেছ মামা। একবার দ্রুপদের স্পর্ষ তেল খে। সত্যই ত! ঠিক কথা তোমার মাতুল। কৃতাঞ্জলিপুটে পিতৃদেব-পাদপদ্মে করি প্রণিপাত, সসমে আপনি দ্রুপ দাদার বিবাহ হেতু সম্বন্ধ আনিবে, তা না হয়ে স্বয়ং লক্ষ্যবিদ্ধ-পণ- এ সকল চতুরতা কেন ? সেই হবে- মহারাজ হাশনে সেই কন্যা দিবে, তথাপিও-- কণ। না হে দুঃশাসন! ইহার ভিতর কিছু অর্থকষ্ট আছে, যাউপ-মন্ত্রগুণ পেয়েছে না ক্রোণাৰক উদ্যম সুতে- তাই তার এত দর্প এত অহঙ্কার। ভাল ভালদেখা যাবে। যদি কভু পক্ষের মাঝে,
সে অব পিপুত্রে এই হাতে পাই,
কণহত সমুচিত সৎশিক্ষা ব্যালে,
কুরুশোচাৰ্য কাছে,
আয় বৃথা কষ্ট করি’ ৰাইতে হবে?
হযোন। বাক-বৃথা তর্কে নাহি প্রয়ােজন ।
নিমন্ত্রণ করেছি গ্রহণ,
অবশ্যই স্বয়ম্বরে যেতে হবে মােয়ে।
মহাদর্পে বাহুবলে স্বয়ম্বর হতে
কুললক্ষ্মী আনন,
এ কুলেৱ বৈবাহিক প্রধান নিয়ম ;
তারপর আমার এ দ্বিতীয়-বিবাহ।
মনে পড়ে অয়াল।
প্ৰাগদেশে প্রেয়সীর স্বয়ম্বৰ কথা
এও সেই মীনচক্ষু-কি ব্যাপায়।
জরাসন্ধ নির্বোধ পামর,
ভানুমতী-রূপ দেখে মােহান্ধ হইয়ে
সে সভায় হয়েছিল কিবা হাস্যাস্পদ ?
মহাকষ্টে.ধনুহলে ন দিল বলি,
নবােঢ়াৰ অৰ্দ্ধভাগ চেয়েছিল পাপী,
তেমনি উচিত শান্তি পাইল তােমার কাছে।
তাই বলি, সে কথা ত জানেন পদ?
তবে পুনঃ হে পণ কেন ?
দুঃশাসন। তাই আমিও বলি গাফা ?
জেনে শুনে পরে একি ব্যবহার।
অধুনা ভারতবর্ষে জানেৰ স্না,---
যেখানেই রবিশ,
নয়র দুৰ্য্যোধন সেখানেই বয়;
কারণ, ৰীরে কী বান্ধয় তােমায়।
{
দ্রৌপন্থীরাম fােগ) ২১৪৭ *. তবে তাও পুনঃ বলি, --এও তর বিবাহের মায়ায় সােজামুলী চুপি চুপি ভুতে পারে? মহারাজ দুৰ্য্যোধন-উদ্বাহ ব্যাপারে একটা বিরাট কাৎ হবেনা ভারতে ? ঘাের ঘনঘটা ছটা ঘনীভূত হবেনা চৌদিকে বার। শকুনি। তা বটে ত—তা বটে,ত। জন্মে যার জয় জয়কার। ভূমিকম্প-অলকম্প-পূৰ্যকল্প হল, আর হৃদকম্প। সেত ঘরে ঘরে! উঃ-কার জন্মে হয় হেন বাপু? বলি, বুঝিলে ত রাজসখা! বাবাজী আমার যবে গভেন জনম, ভূমিষ্ট মাত্রেই বর্জনাদে রাসত-চীৎকার করেছিল, রসভ-চীৎকার করেছিল। তা'তে, স্বর্গ মর্ত্য কেঁপে উঠেছিল। তার শুভ বিবাহেতে একটা প্রায় কাণ্ডাকাত না ঘটলে সে বিবাহ-বিবাহই নয়। দুৰ্য্যোধন। যা- যান বলি সখা! যদি কোনরূপে-ধর, দ্বৈষ-দুর্বিপাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় পঞ্চৰাণমাের হাতে, তবে তার প্রতীক্ষার ফি হবে পশ্চাতে ? কর্ণ। এই কথা ? এতে আকি জাল সখা যদি কোনরূপে অকস্মাৎ গক্ষ্যভ্রষ্ট হ হে তােমার, ।
মণ { n আমি আছি পশ্চাতে তফি::: !! - * অমনিকষি পণ সেই লাগলে '. মীনচক্ষুবিজলি’ স্নেগী তলে তুলে দিব মহা দুর্বোধনকরে। ভানুমতী-খয়র কথা ভুলে গেলে মিত্রবর? ভাল, এবারে যদি আমি পরমুখ ই। বীরকুল-শিরােমণি মাতুলের সনে আছে তবশত সহােদর, ভীষ্ম দ্রোণ কথা ছেড়ে দাও। এ বিপুল কুরুপক্ষে ভাই, যেইজন লক্ষ্যবিদ্ধ হবেন সক্ষম, তখনি তোমারি প্রাপ্য তাহা ; সুমির কবি আমি দ্রৌপদী তােমারি। শকুনি। না না না না অত দূর যেতে হবে কেন? শােন বলি, কারো কষ্ট করিতে হইবেন; আমি একা সেই মাছ ধরে প্যাট করে তার চোখ বিশে, বউমারে জয় করে দিব তােরই করে বাবা, দি তােরই করে। তুমি ৰাৰা, ৰয় হ'য়ে- বরের পােবা পরে, ভীষ্ম দ্ৰোণ প্রতি আত্মীয়বর্গ মাৰে, চুপ করে গভীর মুখেতে বসে থেকো, 'সব আমি করে কর্মে দেব। ই-আমার কৌশঙ্কা:তারা শুনো, ৫
}
দ্রৌপদীয়
[গ ভাগ )
২৯
তাই এই করিয়াছে ছার আড়ঘর ।
সে মাছ আমারি জালে আগে পড়ে যাবে,
সে কথা কথাই নয়া হেতে দাও।
এখন যে এক ই অন্যায় হতেছে ?
আমার বেহাই-বাড়ী,
তোমার শ্বশুর-বাড়ী হতে লােক এল,
তার সমাদর করা আগেত উচিত।
সকলে। হােঃ হােঃ হেঃ হেঃ-উচিতউচিত ।
কর্ণ। চল চল তাই করা যাক।
শকুনি। দুর্যোধন বাবা! তুমি কিছুই ভেষনা !
এমন ঘুরিয়ে জাল ফেলিব সেখানে,
বাড়ী ও সৰ প'ড়ে যাবে।
ঝাড়াই বাছাই করে তুমি নেবে দ্রৌপদীরে,
* আর আমি ? এত কষ্ট করিলাম বাবা,
তোমার শাশুড়ীটিকে দিও মােয় পাতে,
বড় উপাদেয় বাবা, বড় উপাদেয়।
( উচ্চহাস্য করিতে করিতে সকলের প্রস্থান)
ব্যৱধ্যায়।
দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক।
(রাজ-কক্ষ)
ভীষ্ম।
ভীষ্ম। দিনে দিনে দিন কেটে যায়-
নিলেপ বাসনা কাম শূন্থ অভিপ্রায়ে ।
কি মমতা মায়াময়
বিদ্বেষ কাঠিন্য পূর্ণ এ হার সংসারে।
আসে, ভাসে, খেলা করে, পুনঃ ডুবে যায়।
কতক্ষণ ভরে আশা? কতটুকু খেল।
এ খেলায় প্রেম-প্রীতি কোথা?
যাহে-এত ব্যথা এতই বেদনা,
বুকে করে তাই নিতে যাই?
আত্মত্যাগ বিত্যাগ করে
অন্তরের অন্তস্তরে লুকাইতে চাই।
ভাবি, যাবেনা-যাবার নয়।
এ কে একে জগতের সব চলে যাবে,
প্রণয়েতে হবে একাকার,-
কিন্তু আমি রব।
অক্ষয়-অবিনশ্বরপূর্ণ সত্য সম!
এ সংসারণস্থল অতীব ভীষণ !
কোট কোটী অক্ষোহিনী সেনানীর মাঝে
কণা হয়ে শস্থলে পোঙ্গাসে আছি।
সর্বহাই দেখিতেছি,
দলে দলে মৃত্যুতে মিছে আলিঙ্গন,
~~~~~~~~
দ্রৌপদীর রঙ্গ (১৯ভাগ)
চৌদিকে মৃত্যুর কালছায়া !
এত দেখে তবুও ত শিহয়ে না প্রাণ,
মনে স্থির ভাবি,
ওয়া সবে মৃত্যুর অধীন,
মরিতেই আসে রণস্থলে!
আমার পাশের সৈন্য হইল পতিত ;
কিন্তু মাের ওই এক কথা,
ও যাক, যেতেই এসেছিল।
আমি চিরদিন র’ব, মৃত্যু মাের নাই।
হরি হরি। কবে জ্ঞান হবে জ্ঞানময়?
( পরিক্রমণ)
হায় হায়,
অকালে পাণ্ডব-ববি গেল অস্তাচলে,
ভগবতী কুন্তী দেবী সনে।
উঃ কি বিশ্বাসঘাতকতা।
আহা, যুধিষ্ঠির ধর্ম মূর্তিমান,
অধৰ্ম্মের কুট-কুমন্ত্রণা
তুমি কি বুঝিবে বৎস, সরল অন্তরে।
অহো, আগে যদি জানিতাম আমি
বারণাবতের কথা-ঘাের মিথ্যময়
শকুনির ছলনায় ঢাকা,
তা হলে কি নিৰ্বিােেধ নির্দোষ পাণ্ডবে
মুক্তকণ্ঠে দিতাম বিদায় ?
কি হল—কি হল! হায় হায়।
জেনে শুনে গজমতিমালা
ফেলে দিনু চিতায় অনলে।
আতিহত্যা? নরহত্যা? নারীহত্যা-গানে-
জেনে শুনে কৈ সহায়তা ?
স্বয়ম্বরপাধ্যায়।
ধিক ধিক ধিরে আমায়।
জল জল মুকাপান।
সতাপিত এ পাপ ঝরে
নির্বাপিত হইওনা আর এ জীবনে।
দানব পিশাচ
ভীষ্ম যে মানুষ বলে দিবে পরিচয়।
হা পিতৃদেব !
অকৃতি এ দুরাত্মা সন্তানে
কেন দিলে ইচ্ছামৃত্যু বর ?
বিনা শয্যা মাঝেমৃত্যু ত হবে?
কোথা রণ-ফোথা শরশয্যা কোথা আমি।
বহুদিন বহুদিন-থাকিতে হইবে,
বহুজাল সহিতে হইবে।
(দ্রোণাচার্য্যের প্রবেশ )
দ্রোণাচাৰ্য্য। মঙ্গল হউক মহাত্মন।
ভীষ্ম। আহা, দেখ দ্রোণাচার্য।
সুকুমারমতি সয়ল বালকগুলি,
অহা যবে সুধামা হাসে
সুধামাখা আধ আধ ভাবে
আসিত আমার বুকে ধেয়ে,
কি বােলে তা জান ?
পিতা বদলে-মধুমাখা-বােল পি বদলে
আমার সংসার নাই-ফার পুত্র নাই,
জানিনা অপত্য-মেই
কিন্তু পােধন!. :
সে সময় সহ ধারায়
আদিপর] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর ৫১৯-তাগ) ২১৫৩ - প্রাণের পবিত্র পুত্রশ্নেই- উথলিত এ দগ্ধ অন্তরে! একে একে পাচটিরে বুকে তুলি সহস্র চুম্বনে- পরিতৃপ্ত হ'ত না হৃদয় ! যুধিষ্ঠিরে আগে যদি করিতাম কোলে, ভীমার্জুন অভিমানে সারা হয়ে যেত, ফুলে ফুলে করিত ক্রন্দন। অশ্বিনীকুমার চেয়ে রূপস নকুল সহদেব, দুই স্কন্ধে দু’জনে বসিয়া, নাচিয়া নাচিয়া-- করতালি দিয়া হাস্যের লহর তুলি গগণের পূর্ণচন্দ্র ধরিতে ধাইত ! আহা, আজ কত কথা উঠিতেছে মনে। আচাৰ্য হে! সে সুখের দিন- চলে গেছে জন্মের মতন! দ্রোণাচাৰ্য। ভবাদৃশ মহাজ্ঞানী জন কেন আজি চিন্তাক্লিষ্ট বিচঞ্চল মন ? ভাবিলে কি হবে আর? নিজ কর্ম ভুলে, -- অগাধ জলধী-তলে— আমরাই ফেলে দেছি অমূল্য যতনে এ অপেক্ষা আছে কিবা আর মনস্তাপ, প্রাণের অর্জুম সনে পাওসুগলে অন্তিমের চিতানলে দিয়াছি বিদায়, আমরা ত বসি দেব, 'সে রাজসভায় ? এখন আমি কি করি বল মহাত্ম।
২৪ স্বয়ম্বরপৰ্বাধ্যায়। [ মহাভারত । s দুর্যোধন তজালে জড়ায়েছে মােন, ভক্তি অর্থে কিনেছে আমায়, বলিদান সেছে প্রাণ মম আত্মপরে। আমি তার জীবনে মরণে অগ্রগামী দেহরক্ষী প্রায়। দুৰ্য্যোধন-অর্থে অন্নে প্রাচীন শরীর মুখে দুখে কোন মতে রক্ষা পায় প্রভু! ভীষ্মদেব। বল বল আমি কোথা যাব । পিতা-পুত্রে হ'তেছি পালিত এই কৃতজ্ঞতা-পাশ- আমি অমদা হয়ে কেমনে কি বলে দেব, ছিড়ি অবহেলে? ভীষ্ম। ওই ত বিশেষ কথা, ভাবিতে উচিত ছিল প্রতিজ্ঞা যখন। কি তপােধন। শক্তি নাই আর,- হৃদয়ের বল হারাইলে, ৰাহৰল চলে যায় মনুষ্যত্ব সনে। এখন সংবাদ কি? চিরতরে পাণ্ডবের তিরােধান হেতু, দুৰ্য্যোধন আদি শতভ্রাতা কর্ণ ও শকুনি সনে শান্ত হয়ে শান্তি ল'য়ে আছে ত সংসারে ? সমাতৃক পাণ্ডববরে গৃহ কৰি কণ্টক সমূলে দূর করি রাজ-রাজেশ্বর হয়ে বসি’ সিংহাসনে, সবিশেষ প্রীতিলাভ করেত বাছনি ? ।
আদিপর্ব । দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১৫৫ দ্রোণালৰ্য্য। নিরখিলে দুৰ্য্যোধন হর্ষোৎফুল্ল মুখ, অনুমান তাই বটে। ভীষ্ম। ভাল ভাল, তা হলেই হল। এখন এ কুরুকুল থাকিলে কুশলে, ভীমের যথেষ্ট সুখ তাই। ওকি! কে আসে অদুয়ে? কৃপাচাৰ্য্য? আসুন আসুন দ্বিজোত্তম। ( কৃপাচার্য্যের প্রবেশ) কি সংবাদ আচাৰ্য-প্রবর? কৃপাচার্য্য। যে কুলে গাঙ্গেয় মহামনা কুলরক্ষী, কুলােজ্জল-কুলের শেখর, সে কুলের কুশলতা বিধাতৃ-বিধান। বিশেষতঃ- দুর্যোধন-পালিত এ বিপুল সংসার- সদাই কল্যাণময়, ক্লেশ লেশ নাই! অধুনা হে কুরু-পিতামহ। আছে এক উত্তম সংবাদ ;- এইমাত্র শুনিলাম দুঃশাসন-মুখে, পাঞ্চালেশ দ্রোণ-সখা দ্রুপদ ভূপতি, যজ্ঞােঃবা দ্রৌপদী কন্যায় স্বয়ম্বরে পাত্রসাৎ করিয়া মনন, পেয়েছেন দূতবর দুর্যোধন কাছে আয়র-আমন্ত্রণ হেতু। ছলনার সেতু আহা মহাত্মা শকুনি, আনন্দেতে লুটপুটি খায় ভূমিতলে। হেতু তার কি জানেন দেব ? দুৰ্য্যোধন।
২১৫৬ স্বয়ম্বরপৰ্বাধ্যায়। [ মহাজারত- ( অকস্মাৎ দুৰ্য্যোধনাদির প্রবেশ । দুৰ্য্যোধন। পিতামহ ! পাদপদ্মে করি প্রণিপাত, ভীষ্ম। এস ভাই, আমার প্রাণের ইচ্ছা হউক পূরণ । দুৰ্য্যোধন। শুনেছেন আঁজিকার শুভ সমাচার ? ভীষ্ম। কোন্ বিষয়ক ? দুৰ্য্যোধন। দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর কথা ! পাঞ্চালেশ পেরেছেন আমন্ত্রণ লিপি আপনার সনে কুরুপক্ষ ধনুর্ধরগণে, উপস্থিত হইবারে স্বয়ম্বর স্থলে। v এই তার পণ; গগণ মাঝারে অবস্থিত সচ্ছিদ্র যন্ত্রের’পরি, নির্ধারিত শীন-আঁখি, পঞ্চবাণ করিয়া যােজন। যেই জন বিন্ধিৰারে হইবে সক্ষম, কৃষ্ণারত্ন পা'বে অবহেলে। স্বয়ম্বর উপযােগী সজ্জা আড়ম্বরে আমরাও হয়েছি সজ্জিত। জনক জননী পাদপদ্ম করিয়া বনা, এসেছি বিদায় লয়ে। অশ্বারােহী পদাতিক আদি বীরবৃন্দ বাহিনী আমার- সুসজ্জিত, উল্লাসে উন্মত্ত রাজপথে। অতএব আপনিও দ্রোণাচাৰ্য্য সনে সত্বর উঠুন রথে দেব!
আদিপর্ব.] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১৫৭ ভীষ্ম। এ প্রাচীন কালে, আর ভাই স্বায়ম্বয়-সাজ সাজিবারে প্রবৃত্তি বাসনা নাহি। ঈশ্বর-প্রসাদে ধুরন্ধর তুমি; শাস্ত্রবিৎ উপযুক্ত গুণাকর সজ্জন সমূহে সদা তুমি পরিবৃত ; সদলে গমন কর পাঞ্চালের স্বয়ধর স্থলে। আশীর্বাদ করি, সিদ্ধকাম হইবে তথায়। দুৰ্য্যোধন। সে কি কথা পিতামহ ? অহােয়হ শুভাকাঙ্খী আপনি আমার আপনার পৃষ্ঠপােষকতা মহামূল্য জ্ঞান করি আমি আজীবন। বিশেষত আপনি ত জানেন সর্বতােভাবে, স্বয়ম্বর সভাস্থল-অবশিষ্ট ফল চিরকাল রণস্থলে হয় পরিণত ? জিগীষু বিবদমান—দুপতি দ্রৌপদী-কাম- লক্ষ্যবিদ্ধে হইলে অক্ষম, শেষ ফল কি হয় অচিরে,- একবার স্থির চিত্তে করুন বিচার? সে সময় আপনার তথা উপস্থিতি কুরুপক্ষে-কিরূপ কল্যাণকর, মুখে আর কি জানাব কুলগুরু? কর্ণ। এ বিষয়ে আমি একমত মহারথ মহারাজ দুর্যোধন ময়ে। ।
২৫ স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত শকুনি। আমার অমত নাই। তবে কি জান বাবাজী। বেশী কিছু প্রয়ােজন নাই। ও হ’তে যে খুব বেশী কাজ পাওয়া যাবে, বিশেষতঃ স্বয়ম্বরে, তা বড় হয়না;মনে! মাছ ধরা কথা বৈত নয়, তা—তা-ধ'রে দেওয়া যাবে। তবে ওর সঙ্গে থাকা ভাল। সঙ্গে থাকা ভাল। ভীষ্ম। তা বটে ত--তা বটে ত। বুদ্ধিমান বীৰ্য্যবান শকুনি মাতুল যার, তার আর কি ভয় সংসারে। তবে আর কথা কি তােমার দুৰ্য্যোধন? মাতুল তােমার সঙ্গে সাথী। ভয় কি তােমার ইথে ? কারু আর নাহি প্রয়ােজন, ওঁর সঙ্গে তুমি একা যাও! তা হলেই রাজা যজ্ঞসেন, আরাধনা করি অর্ধ রাজত্বের সনে- তােমারেই রাজকন্যা করিবেন দান ! শকুনি। তা এখন—আপনার মুখে এ কথাটা শােতে ভাল বটে। কারণ, বয়স বেশী। আর-সহজ কথায় উপহাস ? -তা-আপনামি সাজে। কারণ বয়স বেশী ! তাতে পিতামহ।
আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্ময় (১ম ভাগ) ২১৫৯ তবেকি জানেন ? ঘরে বসে পৌত্রবধু নিয়ে খেলা করা এ বয়সে তাই ভাল সাজে। যুদ্ধ করে নাতিবধু আনা- বিশেষতঃ স্বয়ম্বর হতে, তা বড় ভীষ্মের হাতে হয়না সুবিধা। কাজ কি এমন গোলমালে? । হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ সত্য নাকি ? স্বয়ম্বরে ভীষ্মের এ প্রথম গমন:- হােঃ হােঃ হােঃ হােঃ সত্য না কি? ভাল-ভাল! এ কথা নূতন বটে পশিল এৰণে! দেখ বাপু, বল-নন্দন! আমার স্বভাব নয় আত্মশ্লাঘা করা, তবে নাকি বৃদ্ধ বলে কৈলে উপহাস, কাজেই বলিতে হল। দেখ বাপু, এই কুরুকুলে যতগুলি কুল রক্ষা করা হয়েছিল, সব(ই) এই ভীষ্ম হ'তে। ঘাের ঘনঘটা অপরূপ- কাশীরাজ স্বয়ম্বর-সভাস্থল হতে, অগণ্য রাজন্যবর্গ পূর্ণ বিদ্যমানে- আমি একা, এই বৃদ্ধ শান্তনুনন্দন, কেবল একটি ভাষে তিনটি করে এই দু'টি বাহুর সহায়ে- এনেছিনু এই কুলে কুললক্ষ্মী করি। তারপর কুন্তী মাত্ৰী রাজকন্যা দুটি আমিই আনিয়াছিনু- = স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত । স্বৰ্গগত প্রিয় বৎস পাণ্ডুর কারণে। অধিক কি বলিব শকুমি, আমি যার একমাত্র প্রাণের সন্তান, সেই মহাত্মা দেবেন্দ্রপূজ্য শান্তনু সম্রাট বুঝেছ ? আমার পিতা তিনি!. আমি পুত্র হয়ে তাহায্যে বিবাহ দিয়াছি। তবে তােমার ভগিনী-সুবলনন্দিনী রাজলক্ষ্মী গান্ধী মাতাৰে আমি বটে আনি নাই স্বয়ম্বর হ'তে ; তুমি পিতৃআজ্ঞা মতে আপনি আসিয়ে প্রাণাধিক ধৃতরাষ্ট্র করে করিয়াছ ভগ্নীদান। এ বিষয়ে আমা হতে কৃতিত্ব তােমায়, এ আমি স্বীকার করি। আর সেই হেতু আজ তুমি দুৰোধন-মাতুল হুইয়ে আমার প্রণম্য হ'য়ে অাহু। দুৰ্য্যোধন। আ-চুপ কর মামা ! অপরাধ করুন মার্জনা পিতাহ। আপনার বীরত্বের খ্যাতি নিরন্তর ভাতে 4 ভারতে। কৌশলী মাতুল মম জানেন সকলি। আপনারে উত্তেজিত করিতে কৌশলে, ব্যঙ্গ-ভাষ করিল প্রয়োগ। আপনি যুথায় মহাত্ম! তথায় কি ঘটে গেলযােগ ? আপনি সর্বতােভাবে 'আমার রক্ষক, পৃষ্ঠরে পােষক- }
~
min
আদিপ ]
দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ)
২১৬১
অদ্বিতীয় অতুলসহায়।
শ্রীচরণে ধরি,
ক্ষমা কর পদাশ্ৰিত মীন দুর্যোধনে।
শকুনি। (জনান্তিকে)
দেখ দেখ, ও বাবাজী দুঃশাসন।
দুৰ্য্যোধন-আচরণ দেখ একবার !
সাধে বলি,
ওই বুড়াে পাণ্ডব পাণ্ডব করে মরে।
পায়ে পড়ে, তবু বুড়ো চখে নাহি দেখে।
দুঃশাসন। ওই ত উহার দোষ।
ভীষ্ম। এস ভাই, বুকে এস,
বুকের তিন তুমি নয়নের তারা।
তুমি মাের রাজ-রাজেশ্বর,
আমি প্রতিপাল্য প্রজা তব,
আজ্ঞাকারী সদাই তােমার।
সুখে দুখে সম্পদে বিপদে,
একমাত্র অর্থভাগী আমিই তােমার,
তব কাৰ্য্যে প্রাণ বিকায়েছি।
শ্রীহরি স্মরণ করি,
চল সবে স্বয়ম্বরে যাই।
( সকলের প্রস্থান)
।
২৭১
স্বয়ম্বরপৰ্বাধ্যায়। [ মহাভারত তৃতীয় গর্ভা (নগর প্রান্ত -কুটার) কুন্তী ও কুম্ভিনসী। ৩ কুভিনসী। ওগাে বাছা, এমন ক'রে চুপ করে বসে থাকলে ক’দিন আর সংসার চালাবে? নিজে ত ভিক্ষায় যাওনা, তা না যাও নেই নেই,-অমন সােণাৱাদ পচ পাঁচটি ছেলে তােমার ; পাঁচমুঠো করে এক একজনে আনলে তােমার অন্ন খায় কে বাছা ? কুন্তী। কি ক’ব মা? ছেলেরা ত আমার বাধ্য নয় ? এক সঙ্গে কেউ ভিক্ষায় যেতে চায় না। বড় ছেলেটিকে জিজ্ঞাসা কল্লে বলে, “মা, হবিষা, এক বেলা আহার ; এক জনে এক গৃহস্থের ভিক্ষা আলেই আমাদের ক’জনের বেশ পেট ভরে যায়; দিন কেটে গেলেই হ’ল-সঞ্চয় কত্তে ত হবেনা?” কি করি বল বাছা, বড়টি যা পায়, তাই নিয়ে আসে। তবে মেজোছেলেটি কিছু আহারপ্রিয় ! ওকে অর্ধেক ভাগ দিয়ে, বাকী আমরা ক’জনে দু’মুটো গালে দিয়ে কোনরূপে দিন- পাত করি। কুম্ভিনসী। তা বেশ ত! মেজোছেলেটি যেমন আহারপ্রিয়, তেমনি ত বলবান। ও একাই মনে ক'ল্লে রাজ্যময় ঘুরে পাকার ভিক্ষা আতে পারে; তা ও ছেলেটি ত দেখছি ঘর থেকে নড়েনা, স্নারি দিন শুয়ে থাকে। রাগ করােনা বাছা, আমার আশ্রয়ে এসে পড়েছ, ভালবাসি বলেই বলছি, অমন যুবা বেটা- ছেলের এত আলিস্যি ভাল দেখায় না বাপু।
আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১৬৩ - ৮ কুন্তী। কি কব মা? গােড়ায় ত বলেছি, বাধ্য নয়। ওদের স্বভাবই ঐ রকম। ঘর থেকে নড়তে চায়না। কুম্ভিনসী। কষ্টও সেই জন্যে পাচ্ছে। এই যে রাজার মেয়ে স্বয়ম্বর হবেন, আজ ষােল দিন ধরে কি কাণ্ডই না নগরে হচ্ছে। আমােক রাখবার আর জায়গা নেই। একটি দিনের জন্যেও কি রাজ- বাড়ীতে যেতে নেই? তিনি কল্পতরু, তার অবারিত-দ্বার। ভিকিরী কাঙ্গাল আর দেশে নেই। দু’হাতে ব’য়ে আতে পাচ্ছেনা—এত জিনিষ পত্র! যে যা চাচ্চেতাই পাচ্ছে। তা হ’কনা, পাঁচ ভাই সেখানে গিয়ে যদি একবার হাত পাতে, তা হলে যে চিরজীবনে আর ভিক্ষা করে খেতে হয়না! এই যে যা হক আমাদের হাড়ীর ব্যবসাটি! এতকাল কষ্টে সৃষ্টে দুটো পেট চালিয়ে এলুম। এই দেখ ছন,-কোন ভাবনাই আর থাকবে না। আমার কর্তাটি মাটীর বাসন কোসন অমর যােগাচ্ছেন—তবু পেরে উঠছেন না, এক গুণের জায়গায় দশ গুণ দর বাড়াচ্ছেন ; কত রাস্তার ইতর লােককে ধরে কাজ হাসিল ক’চ্ছেন। তোমার ছেলেগুলি ঘরে বসে নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে থাকবে? বেশ ত! গতর আছে, স্বচ্ছন্দে কর্মশালায় গিয়ে মাটীর কাজ ক'লেও ত ভিক্ষা করে খেতে হয়না? কুন্তী। তাই ত বাছা,ভাল কথাই ত বছ বাছা। কিন্তু ছেলেরা আমার যেমন অবাধ্য, তেম্নি কুঁড়ে! আমার পাঁচটি পাঁচ রকমের, ওদের ঘুমই কাল হয়েছে,-খাটতে চায় না! বড়টি আমার বড় শান্ত, কথাও খুব শােনে; কিন্তু হলে কি হবে? রাত্তির দিন বাছা আমার পুজো আর পড়া নিয়েই থাকে। মেজোটি যেমন একগুয়েতেমনি মােটাবুদ্ধি ! ওকে কোথায় পাঠাতেই আমার ভয় করে। মিছি মিছি ঝগড়া করে আগে মেরে বসে! সেলোটি আমার না মানুষ—না পাগল। ও রাত দিন ঘরের কোণে বসে কি মাথামুণ্ডু ভাবে ঐ জানে, ।
'২১৬৪ - স্বয়ম্বরগর্বাধ্যায়। [ মহাভারত সাত চড়ে কথাটি নেই, তা ওপর লেখা পড়াও—কিছু শেখেনি; কি বলতে কি বলরে--বুঝতেই পাচ্ছ? কোলের হেলে দুই আচলে আঁচলেই ফেরে, ওদের কোথা পাঠাতেই আমার ভরসা হয় না! নিতান্ত শিশুবুদ্ধি, নগরের পথ ঘাট চেনে না—কোথায় হারিয়ে যাবে মা? আমার অদৃষ্ট যেমন, তেমনি ত হবে। তাই মা, এই কাছাকাছি কোন গৃহস্থের বাড়ী থেকে ঐ বড় ছেলেই বা দু'মুটো পায়, এনে দেয়। তাই পাসাক করে বাছাদের ধরে দিই। কুম্ভিনসী। তা হাগা, তােমাদের কোন দেশে ঘর? প্রতিদিনই জিজ্ঞাসা করি, উত্তর দাওনা—কেবল চোখে কাপড় দিয়ে কঁাদ। আজ তোমাকে বলতেই হবে বাছা! বলনা? দুঃখী কাঙ্গালী বলে কি পরিচয় দিতে নেই গা । কুন্তী। সে কথা আর কেন জিজ্ঞাসা কর না? পরিচয়ের কথা হত, অবিশ্যি বড় মুখ করে পরিচয় দিতেম ? আমি বড় দুঃখী, বড় কাঙ্গালী। কুঙিনসী। আহা, তা ত দেখতেই পাচ্ছি। তবু ত এক জায়গায় ঘর বেঁধে ছিলে, এক জায়গায় থেকে ত এই ক’টিকে মানুষ করেছ? কুন্তী। তা কি তুমি চিনবে মা? সে দেশের নাম বারণাবত! কুন্তিনসী। ওমা! বারণাৰতের কথা শুনিনি। সেই যেখানে পাণ্ডবরা বেড়াতে এসে পুড়ে মনে ত ? কুন্তী। 'হা মা হঁ্যা, এই পােড়পালীর ঘর সেইখানেই ছিল। তাদের বাড়ী এর দোর পােড়ীতেই ত আমারও কপাল পুড়ল? কুন্তিনসী। কেমন করে মা কেমন করে । কুন্তী। আর বাছা, কি বলব, তাদের বাড়ীর পেছনেই আমার ঘর ছিল। যে রাত্রে সেই রাজবাড়ীতে আগুন লাগে, সেই আগুনের হলকায় আমার কুঁড়ে ঘর বৈত নয়, দেখতে দেখতে জ্বলে গেল। তবে তারা সব পুড়ে মলেন, আমি কোন উপায়ে ছেলে ক’টিকে নিয়ে পথে বেরিয়ে পড়লেম ;
www minama mind ২১৬ আদিপর্ব । দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) * আইতেই প্রাণে প্রাণে বাঁচলেম বটে, কিন্তু পথের কাঙ্গাল হয়ে ঘুরতে ঘুরতে তােমার আশ্রয়ে এসে পড়লেম, দয়া ক'রে ঠাই দিয়েছ বাছা ! তোমার গুণ কি জন্মেও-জুলতে পাৰ মা? কুম্ভিনসী। তা হঁাগা, পাণ্ডবদের কি রাজমাতা কুন্তীকে দেখেছ? কুন্তী। ওমা, কুন্তীদেবীকে দেখেছি বৈ কি। আহ, অমন মানুষ কি হয়? এ হতভাগিনীকে বড় ভালবাসতেন। তবে রাজাদের ভাল করে দেখিনি। হ্যা, দেখ মা, তুমি যদি একটি কাজ কর, আজ রাজকন্যার স্বয়ম্বর। তােমার কর্তা যদি অনুগ্রহ করে আমার এ পাগল কটিকে সঙ্গে করে নিয়ে যান,তা হ'লে বাছাদের স্বয়ম্বর দেখা হবে, আর তার কৃপায় যথেষ্ট ভিক্ষাও মিলবে। মা, অনেক উপকার করেই, যদি এ উপকারটিও কর । কুস্তিনসী। ওমা, এ আবার কথাটি কি? তিনি ত আর একটু পরেই রাজবাড়ীতে যাবেন, তা বেশ ত সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন ? তবে ছেলেগুলিকে একটু শিখিয়ে পড়িয়ে নেওয়া ভাল, তা এখনি তাকে ডেকে আচি। ওমা, ভাল কথা মনে পড়েছে, এই ক'দিন এসেছ, গােলমালে তােমার নামটি জিজ্ঞাসা ক’তে ভুলে গেছি, তােমার কি বােলে ভাব বাছ? কুন্তী। আমার নাম ? আমার বাবার নাম কি মা? তবে লােকে আমাকে কষণের মা” বােলে ডাকে, আমার বড় ছেলে কুম্ভিনী। আচ্ছা, তুমি বস, আমি কাকে এখানেই ডেকে আছি। (কুম্ভিনসীর প্রস্থান) কুন্তী। (ধীরে) যুধিষ্ঠির! যুধিষ্ঠির। ( যুধিষ্ঠিরের প্রবেশ) যুধিষ্ঠির। মা ।
স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত } । বাবা, খুব সাবধান! যেমন তােমরা যে নামে যে চরিত্রে আছ, ঠিক যেন সেই ভাবই দেখা হয়। আজ দ্রৌপদীর স্বয়ম্বরের শেষদিন; কুম্ভকারের সঙ্গে পাঁচ ভায়ে মিলে আজই তথায় যাত্রা কর, অবশ্যই প্রচুর ভিক্ষা মিলবে। দুৰ্য্যোধনাদি কুর জল সকলেই তথায় উপস্থিত থাকবেন, ভীমার্জুনকে খুব সাবধান! এখন ঘরে যাও। কুম্ভার এখানে আসছেন, ডাকলেই আসবে, ঠিক ঠিক ভাব প্রকাশ কর। যুধিষ্ঠির। যথা আজ্ঞা মা জননি! ( যুধিষ্ঠিরের প্রস্থান এবং কুক্তিনসীর সহিত কুম্ভকারের প্রবেশ ) কুস্তিনসী। আহা, বেশ মানুষটি! এত কষ্টে পড়েছে, তবু-মুখখানিতে হাসি যেন ঢল ঢল কচ্ছে! ওগো, কঙ্কণের মা! এই কর্তা এসেছেন। অমন ক'রে ঘােষ্টা দিয়ে থাকলে এখন কাজ পাবেনা। বনা, তােমার কি কি বলবার আছে বলনা? কুন্তী। আমি আর কি জানি মা? দয়া করে আশ্রয় দিয়েছ, তাইতেই কৃতকৃতার্থ হয়ে আছি। কুস্তিগী। আহা না না, সে কথা জিজ্ঞাসা কচ্ছিনা। তােমার ছেলে- গুলিকে স্বয়ম্বর দেখাবার কথা বলছিলে না? তা, এই কর্তা এসেছেন, বনা? কুন্তী। বাবা, আমার ছেলেগুলি মানুষ নয়, ওদের সেই কোলাহলের মধ্যে পাঠাতে আমার ভরসা হয় না। তুমি যদি কৃপা করে রাজবাড়ীতে সঙ্গে করে নিয়ে যাও,-আর যদি কিছু পাইয়ে দাও, তা হলে এ কাঙ্গালিদের বিশেষ উপকার করা হয়। কুম্ভকার। তা বেশ ত, সঙ্গে করে নিয়ে যাব, তার আর কথাটা কি? তােমাদের এ সামান্য উপকারটি আর আমা হতে হবেনা? তাদের ডাক, বেশ করে শিখিয়ে পড়িয়ে নিয়ে যাব এখন। কুরী। চিয়জীবী হও বাবা, ধনে-পুত্রে লক্ষ্মীলাভ কর।'কঙ্কণ! করুণ! - p আদিপর্ব । দ্রৌপীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১৬৭ ভাইলিদের সঙ্গে করে নিয়ে এস ত "বাবা? কুম্ভকার মশাই ডাকছেন। (ছদ্মবেশী পঞ্চপাণ্ডবের প্রবেশ ) এই বাবা আমার পাগল হেলেগুলি। কুকার। তােমাদের নামগুলি কি ? করুণ। আজ্ঞে আমার নাম কঙ্কণাচাৰ্য, আমার পিতার নাম পাণ্ডুয়াম সার্বভৌম, পিতামহের নাম বিচিত্রাম বিদ্যালঙ্কার, প্রপিতা- মহের নাম শান্তরাম ন্যায়চঞ্চু, বৃদ্ধপ্রপিতামহের নাম- কুম্ভকার। না বাপু, আমি তােমার বংশাবলীর পরিচয় চাচ্ছিনা। তােমার আর তােমার এই ভাইগুলির নাম কি ? কণ। বিলক্ষণ মশাই! আগে বংশাবলীর পরিচয় দিয়ে তবে অন্য কথা, কেননা শাস্ত্রে বলছে- বিজ্ঞায় নামাপি যঃ পিতৃগাং ন বক্তি বিজ্ঞঃ খলু জীবলােকে। তস্তোদরাভ্যন্তরতম ভবেন্ন জীর্ণং পরিপাকদোষাৎ। অর্থাৎ যে বিজ্ঞ ব্যক্তি নিজ পূর্ব পুরুষগণের নাম জানিয়াও লােক সমাজে প্রকাশ না করেন, নামগুলি উদরাভ্যন্তরে থাকায় পরিপাক দোষ জন্মাইয়া ভুক্তান্ন জীর্ণ হইতে দেয় না, বস্তুতঃ- সে গ্রহিণী রােগে পঞ্চত্ব পায়—কিনা মরে যায়। কুতকার। রেখে দাও তােমার শাস্ত্র ! সােজানুজীৱনামের কথা হচ্ছে, এতে শাস্ত্র এসে পড়ে কেন? তােমার এই ভাইগুলির নাম কি ? করুণ। ও, আমার এই সহােদরগুলির পরিচয় জিজ্ঞাসা করছেন ? তা অধুনা আমার অনুজ সম্প্রদায় ভবৎসকাশে বিদ্যমান, পারস্পরিক ধারাবাহিক নামাবলী পরস্পরের মুখেই শ্রুত হউন, কেননা শ্রুতি বলছেন। বৃহদারণ্যার্জিকে পংক্তিটা একবার শুনুন - } hinmanninum স্বয়ষরপাধ্যায় । (মহাভারত ঘেষামাখ্যা হে ঃৈ ৰৈ মুখ ফিপ্যতে শায়ত্বে চ শ্রেভি মেম্। অর্থাৎ—নাম জিজ্ঞী মহাজাগণ স্ব স্ব মুখ হইতে নাম শ্ৰত হইবেন এবং বক্তগণও দ ধ মুখে স্ব স্ব নাম প্রকাশ করিবেন। কুম্ভকার । ও বাবা, এ যে অভি-বড়-পণ্ডিত দেখতে পাই। কথায় কথার শা! ও বাপু, তােমার নিজের মুখ থেকেই শুনি, তােমার নাম কি? লম্বােদর। এ-নাম? না-না-না-না-জা-জাম ? ভুলে গেগেছি। কুকার। এ্যা, নাম ভুলে গেছি কিহে? ও বাবা, এ আবার কি? এ্যা! এ যে বড়র চেয়ে পণ্ডিত দেখতে পাই। তােমার নাম কি? তােমাকে কি বােলে লােকে ভাকে লম্বোদর। ভে-ভে-ভেবে-ক-খলছি! কুম্ভকার। এ্যা, ভাই বল, তেৰেই বল। করুণ। আজ্ঞে, যে কোন বিষয় থােক, গবেষণা না করে, ভাবার্থ অথবা ফলিতাৰ্থ, কি যৌগিক—কি লৌকিক—কি। যােগরূঢ়, বিদ্বান্ সমাজ নির্ণয় কর। ব্যাকরণ-শাস্ত্রের অতিমাত্রই ব্যক্তিচার করা হয়। আপনি অধরােষ্ঠ উদ্দীপন করে কি • ভাছেন? আমার কথা বুঝতে পাচ্ছেন না? এ আপনি একটি প্রকাও গর্দক দেখছি,কেননা—উত্তরগীত বলছেন- যথা দনভয়বাহী, ভারত যেত নতু চন্দন। খব শাস্ত্রাণি বহুগীত, সায়ং মমিন রৎ বহেসঃ ॥ অর্থাৎ-বেরূপ চন্দনভারবাহী গর্দভ চলনের ভার মাত্র জানে-চন্দনের গন্ধমাত্রই জানেন; সেইরূপ বহু শাস্ত্রাধ্যয়ন করিয়াও শাস্ত্রের সা না করায় কেবলমাত্র পরিশ্রমই সার হয়। * আদিপর্ব ) দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১৬৯। দৌড়! কুম্ভকার। বটে? তা ত জাতেম না? বলি ওর নাম উনি নিজেই ভুলে গেছেন, তুমি বেদান্ত থেকে বলবে নাকি? আমি গৰ্দত হই আর যা হই। করুণ। আজ্ঞে,বেদান্ত থেকেও বলতে পারি-উপনিষদ্ থেকেও বলতে পারি। কিঞ্চিৎ গবেষণা করে দেখলেই, সংহিতা থেকেও বলা বড় বিচিত্র নয়। তবে বেদান্তই কি বলছেন শুনুন- নচিন্তয়িত্বা নাে বিদ্বান্, স্ফটিং কিঞ্চিৎ প্রকাশয়েৎ। শুভংলগ্নাদিকং বীক্ষ্য, স্বমন্তব্যং সমর্থয়েৎ। অর্থাৎ-বিদ্বান ব্যক্তি বিশেষরূপে চিন্তা না করিয়া কিছুই স্পষ্ট প্রকাশ করিবে না; পরে শুলগ্নাদি বিবেচনা করিয়া নিজের মন্তব্য প্রকাশ করিবেন। কুম্ভকার। আচ্ছা বাপু, এখন বসে বসে গবেষণা কয়। বলি হ্যাগাে- ব্রাহ্মণকন্যে, তোমার বড়ছেলেটির দেখছি ত বেজায় বিদ্যার এত শ্লোক জানে, রাজার সভায় গিয়ে দুটো বলে যে দুঃখ ঘুচে যায় । . করুণ। আজ্ঞে দুঃখ ঘুচে যায়, আবার দুঃখ এসেও গড়ে! যেমন, শাস্ত্র বলছেন-বিশেষ রূপ ক্ষণ পল দেখে দর্শন সাবক। অদ্য উত্তম তিথি, রাজদর্শন বিশেষ সিদ্ধি- ফলপ্রদ। এক্ষণে আমরা সকলেই মার্শন-ফলাফাৰী। রাজানং দৈবং বেশ্যাং, ক্ষেত্ৰং ক্ষেত্রবিপথ। শুভযােগে সমাগম্য, সম্ভাষষত যথাবিধি ॥ অর্থাৎ-রাজা, দেবতা, বেশ্যা, শ্রীক্ষেত্র এবং পুরুষােঙ্কমে যােগে উপস্থিত হইয়া যথাবিধি সম্ভাষণ করিবে। কুম্ভকার। আমিও কোন আফলাকাঙ্খী আছি? তবে নামগুলো জানতে পাল্লেম না; তােমাদের জিজ্ঞাসা কলে ত এখনি নাম কাটা- কাটি আরম্ভ কৰ্বে । তােমাদের গর্ভধারিণীর মুখেই না হয় শ্রুত হইনা ? কুন্তী। বাবা, আমার অদৃষ্ট দেখলে ত? এমন বিদ্বান পণ্ডিত হয়ে । ৬। A - ৬ । - । • • ২৭২
স্বয়ম্বরপাধ্যায়।
[ মহাভারত
বাবা, অামার কাজের ব্যয় হয়ে গেছেন! বড়টির নাম ত
শুনলেন। মেয়েটির নাম লম্বোদর, সেজোটির নাম কুণ্ডজঠর,
আর মেট ছেলে দুটির নাম অসিত আর দেব।
কা। গা বেশ বেশতোমর মাজসভায় যাবার মত এখন
এ হয়ে এস।
ল। অবশ্য অব। রাজদর্শনের জন্য উপযুক্ত বেশ ভূযা প্রায়
এটা ও কর্তব্যের ভিতর। কেননা শাস্ত্রে বলছে-
(পাণ্ডবগণের প্রস্থান)
। আর শাস্ত্রে কাজ নাই, অমনি অমনি এস। জন
আছে, পাণ্ডিত্যও আছে। তবে বেশী কথা ফয়ে ফেলে
ঐ দোষ। রাজসভায় বিশেষ সম্মান লাভের সম্ভাবনা, তবে
একবার চেষ্টা করে দেখি, যদি কিছু পাইয়ে দিতে পারি।
রাজধানীতে ত মহাসমারােহ,-তাই দেখাতে যেতেই
তােমার ছেলেগুলিকে ল'য়ে যাই।
কুন্তী। বাবা, তােমার গুণ আমি আজীবন ভুলতে পাব না। পাগল
টিকে হাতে হাতে সপে দিলেম; দেখে বাবা, আবার যেন
ফিরে পাই
কা। তা, ভয় নেই; তবে তােমায় লঘোলয়টি না কোন হাদমা
বাধিয়ে বসেন।
( সকলের প্রধান।
আদিপর্ব।
দ্রৌপদীয় স্বয়ম্বর (১ম ভাগ)
২১৬
চতুর্থ গর্ভা।
{ মাখানীয় সমারােহ দৃশ্য।
বৈতালিকগণের প্রবেশ। অদূরে ছদ্মবেশ পাণ্ডবগণের
সহিত কুম্ভকার। বৈতালিকগণের গীত।
হষীয়
-বাপ হাল।
জয় জয় দ্রুপ মহারাজ।
অনুপম কীতি-ভাতি-ভাতে রাজসমাজ।
দোদণ্ড প্রতাপে, ছত্রবতী কঁপে,
তাপে পলায় পাপ-অন্ধকার মা।
.'ছত্রপতি ভাে রাজাধিরাজ।
জয় জয় রাজকুমারি। জ্যোৎস্না রূপ তােমারি,
বলিহারী মনােহারী বাখানিতে নারি ;
* স্বয়ম্বর মহাসভা, রাজে হৃদয়-লোভ,
চলরে নগরবাসি! নিরখি সে শােভ,
উল্লাসে মাতি এস না করিয়ে কালব্যাজ।
ন জ মরার পরে জয়,
জয় জয় সুকুমারী দ্রৌপদীর জয়!
( প্রস্থান)
কুম্ভকার। করুণাচার্য্য মশাই! বৈতালিকগণ মহাজার জয়গান,
কুমারীর শুভগান গেয়ে রাজসভায় গেলেন, মশাই,কেমন গান
শুনলেন? কেমন লম্বোদর মশাই,-কেমন?
স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত ? এখনি বুক লম্বােদর। কে-কে-কে-কেমন আর কি? অ-অ-অ-অমন ঢে-টে-টে টের যে-ও-ওনা আছে! কুম্ভকার। তা-তাতা বই কি? যাক,-ঐ ওদিকে এক কাণ্ড হচ্ছে, যুবা বৃদ্ধার কেমন রহস্যাভিনয় চলুন শােনা যাগে ! ..' • যুবা এবং বৃদ্ধার কলহাভিনয়। বৃদ্ধা। চেপে রাখ দন্ত কটা-ব্যাটা স্কন্ধকাটা ভূত। আমার সঙ্গে লাগলে দেব লেলিয়ে যমের দূত ! এখন সরে পড়-সরে পড়-সয়ে পড়, পাপ! যুবা। যা যা-ইউলে মাগীগতরখাগী লক্ষ্মীছাড়ী বুড়ী! উকপালী ফোগলাদতী শুকুলের ঝুড়ী। তুই শুয়ে পড়-শুয়ে পড়-শুয়ে পড়, কাপ। বৃদ্ধা। আছে মরু দেখবি তবে হাড়হাবতে! আমারে দিস্ গালী। উচিয়ে মত নাতি না মারে কোন্ শাণী! শীগগীয় সয়ে যা—সরে যারে যা হােথা ! যুবা। আহা কি বুকের ছদা ব্যাঙ্গের ছাতা পাখীর খাচা তাের, ওই উচিয়ে মাবি নাতি (মরে যাই) হয়েই আছি ভাের। স’রে অায়না দেখি—আয়না দেখি-হাতেই কাটি মাথা! বৃদ্ধা। তাের কি রূপের বাহার প্যাৎনা গয়া মুখের কিবা ছিরি। হাত মলী নলী পা সৰু সৰু করিস্ আবার জারী! আমার চেয়ে দ্যাখ,—চেয়ে দ্যাখ,-চেয়ে দ্যাথ, ছাঁদ! যুবা। ময়েই আছি। বুঝলে পাচী? বাঁচলে বাচি আমি, আমিই গয়ায় পিণ্ডি দেব ! কোন্ গাছে থাকবে তুমি? আমার চাদী—আমায় চাদী-আমার পুন্নিমের রাঙ্গা চাদ! বৃদ্ধা। ওরে ও হতচ্ছাড়া বদপােড়া গােবরঝােড়া বাঁদর। আমার সনে বাদ-কলহ ! প্রাণে নাই তাের ড ? টেটা বাজার কাছে—রাজার কাছে-রাজার কাছে পাবি। যুবা। সত্যি নাকি প্যাচানাকা মড়াখাকী মাগী । s আলিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বুর (১ম ভাগ) ২১৭৩ ভাবও তেমন রাজা কাছে তুই বলে দে আমায় কবি দাগী ? উঃ জোর কত- জোর কত—জোর কত তাে হাবি! বা। এই ঘাড়টা ধোরে যেমন করে হরিণ নে’যার বাম্ ! আয়না ব্যাটা পাড়া চাটা পাইনা যে তাে বাগ ! দস্যি ছোঁড়া–দস্যি ছোঁড়া–দস্যি ছেড়া -হাই ! ( হাই তােলন) যুবা। দেখলি দেখলি টেত পেলি বােনায়ের শালী বুড়ি। আমার সঙ্গে লাগলে অয়ি পড়বি মুখথুবুড়ি! চল, রাজসভাতেরাজসভাতে—রাজসভাতে যাই। উতরে। রাজার কাছে কলভিনয় রসাল করে শােনাই। দ্বৈত গীত। এ-মিত্র- কাহা। আমাদের রাগও যেমন তেমনি কথা কাটাকাটি, এই পড়ছি শুয়ে উঠেই আবার হুটোপাটি । এমন সুখের কালে সুখের খেলায়, প্রাণপণ, দে সুখের, মেলায় ; সুখে মালা গলায় নিতে কে আবি আয়, আমাদের সুখের নদী উত্থলে প্রাণে লহর উঠে তায়, আমরা হেসেই কুটি কুটি, আমরা আনন্দেতে আপনাপনি খাচ্ছি লুটোপুটি। ( উভয়ের নৃত্য করিতে করিতে প্রস্থান) ভূমে শুয়ে ==
h
২১৭৪
স্বয়ম্বরপাধ্যায়।
[ মহাভারত
করুণ। হাঃ হাঃ--অতি সুন্দর! অত্যতি সুন্দর!! অত্যতিততি
সু-উ-উ-র !!
কুতকার। হাঁ বুঝেছি! তি-তিতি সুন্দর! বাপরে! পণ্ডিতের বালাই
নিয়ে মরি। লম্বোদর মশাই। আপনার কি প্রকার সুন্দর।
লম্বােদর। মে-মে-মােটেই সু-সু-সুন্দর নয়-য়-য়।
কুফায়। বব-বটেই ত! কুণ্ডজঠঃ মােগই, দেখছেন ত? বাড়ীতে
গিয়ে সৰ বলতে •াবেন ত ?
কুণ্ডজঠর। কেন পাব্বোনা ? আম্মুও অমন পারি! এই এমনি কয়ে
য়ে চেয়েছে ত? । খুব পায় !
কুম্ভকার। -তা পায়ে বই কি। ভাল পাগলার দলে পড়া গেছে।
এই দেখ, চমৎকার ব্যাপার আছে। আশ্চৰ্য্য বারোধাভিনয়
দেখ—সঙ্গে সঙ্গে নটীর গান।
( মূক মিথুনের প্রবেশ ও বাক্রােধাভিনয় ; অপরদিকে
নটীগণের নৃত্যগীত)
ইনি •জ-কলা।
ঠাট-ঠমকে—থমকে থমকে রঙ্গে চললাে রঙ্গিনি।
হেলা দোলা-প্রাণ-বিভােলা দ্রুপদবালা-সঙ্গিনী।
হােই হই শুন উঠিছে য়ােল,
উম্মাদ-তান ছুটে কল্লোল,
ধেয়ে আয় ওলাে দলে দলে দলে ফুল্লকুসুম-জঙ্গিনি।
স্বয়ম্বরসভা, পরাণ-লােভা-
অতি বিচিত্র অনুপ’ শােভা,
তার মাঝে রাজে দ্রোপদী-আভা পতিব্যাকুলা ভঙ্গিনী;
দেখিব কুমারী কোন বীরের-হবেন অর্ধ-অঙ্গিনী।
( নৃত্য করিতে করিতে প্রস্থান)
আমি।
দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ)
২১৭৫
কুম্ভকার। বলি, এমন মজা আর সেই জঙ্গলদেশে দেখা আছে কি?
কি বল গো অসিত দেবল ঠাকুর রাে! তোমাদের কিরূপ
সমা:লাচনা ?
অসিত। হােই-দাদার বিবেচনা ।
দেবল। তােমার বিশেষ প্ররোচনায়
কুম্ভকার। আর করুণাচাৰ্য মােশাই! একটু গোরচনা টোচনা দিয়ে
একটা ক'রে ফেলুন রচনা !
ক। , সুচনা হলেও, উপস্থিত আলােচনা-তর্কে আমার
বিবেচনায় বাচ্য না হওয়াই সুবিবেচনা। কেননা, মহর্ষি
উশন বলছেন,
সত্যপবসরে রাজন! বক্তব্যার্থেংপি শােনে।
সংশ্রয়ে কাং বিশ্ব অন্যথা পরিভূয়তে।
অর্থাৎ রাজ! বলিবার যথাযােগ্য অবসর হইলেও বক্তব্য বিষয়
অদুষ্ট হইলেও বিদ্বান ব্যক্তি মুভাবাপন্ন হইবে—কিনা অধয়ে-
ঠের কাট খিল দিবেন- সােজ। কথা-বোবা হয়ে থাকবে।
অন্যথ। তিনি পরাভূত হইতে পারেন।
কুম্ভকার। দেখলে বাপু, তাল ফাক যায় না!-ঐ দেখ, আর এক
চমৎকার অভিনয় আসছে! রাজকুমারীর বয়ষয়ে কম
সম্প্রদায়ের কি আনন্দোৎসক চে দ্যা!
( কৃষকগণের প্রবেশ ও গীত)
মঙ্গলবিভাব —আড়াখো।
, ঝট করে আয় আয়,
লক্ষীমেয়ে সােণা ছড়িয়ে যায়,
কি গুণ মায়ের জানিনা রে।
পাচ্ছে তত (ও তাই) যে যত চায়।
হ্যা ক্ষ্যাত্তর’ ক্ষ্যাত্তর।
. ২১৭৬ স্বয়ম্বরপৰ্বাধ্যায়। [ মহাভারত * ক্ষেতের পানে দ্যান চেয়ে, শ্ৰীষ-ফসলে গেছে ছেয়ে, মা আমাদের লক্ষী মেয়ে, আদর করে গােলা ভরে দ্যায়। হুঁ ক্ষ্যাত্তর-চ' ক্ষ্যাত্তয়। মায়ের আমার স্বয়ম্বরে,, কি আনন্দ ঘরে ঘরে, কাঙ্গাল কে আর থাকবে পরে ? ঐ দ্যাখনা দলে দলে যায় ; ও তালুই, ঝট করে আয় আয় । হ্যা ম্যাচ ক্ষ্যাত্তর। (গীত গাহিতে গাহিতে এস্থান) (নেপথ্যে ঘাের কোলাহল ; ভেরীবাদকগণের সহিত নগরপালের প্রবেশ ; তৎপশ্চাৎ অগণ্য রাজ- মধ্যবর্তী দুৰ্য্যোধনাদি কুরুপক্ষীয়গণের প্রবেশ ও প্রস্থান) নগরপাল। সরে যাও সরে যাও পণ দাও সবে- রসনা নিবৃত্ত কর, ছাড় কোলাহল! আসিছেন ভুবন-সম্রাট রাজ-রাজের হুৰ্য্যোধন, মহামান্য ভীষ্ম দ্রোণ আদি ৰীরু সনে। সন্ত্রম প্রশান্ত 'প্রাণে অভ্যর্থনা করছে পাঞ্চাল-প্রজাগণ, সকলে। জয় জয় দুর্যোধন ভারত-সম্রাট,- । ++ আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১৭৭ জয় জয় মহারাজ দ্রুপদের নয়! জয় দেবী দ্রৌপদীর জয়। (নগরপাল ও ভেরীবাদকগণের প্রস্থান) কুম্ভকার। কঙ্কণাচাৰ্য মশাই! ভাইগুলিদের নিয়ে ঠিক এই স্থানে আমার জন্য কিঞ্চিৎকাল অপেক্ষা করুন। খুব সাবধানে থাকবেন। কোলাহলের মধ্যে মিশিয়ে পড়বেন না! কোন্ কোন্ রাজা এলেন, আমি সংবাদ নিয়ে আসি। ( প্রস্থান) ভীম। তা যা-যা যা-যাওনা পণ্ডিত। । একি দুর্দৈবহ ভগবন! | কেন অধােমুখে মৃতপ্রায় বজ্রাহত-প্রায় ? প্রস্ফুটিত পুণ্ডরীক-প্রফুল্লনয়নে- অশ্রুস্রোতঃ অকস্মাৎ কি হেতু প্লাবিত। নীল-নীলিমায় মা কেন আজি প্রশান্ত বদন। কেন—পথহারা “কাঙ্গালের রাজা যুধিষ্ঠির আচম্বিতে সর্পষ্ট রাজ-পথিমঝে, তা কি আমি বুঝি নাই মনে কর দাদা? ওই-এসেছে এসেছে-মহাবৈরি, ওই—এসেছে এসেছে কর্ণ শকুনির সনে, ওই—শতভ্রাতা একত্রে মিলেছে। আর আমি গণ্ডমূখ ভণ্ড মূক নহি, এখন পবনসুত কুকীর কুমার আমি সেই ভীমসেন যুধিষ্ঠির-দাস! ছেড়ে দাও—ছেড়ে দাও-দাদা! বড় শুভক্ষণে আজি পেয়েছি পামরে। २१७ [ মহাভারত ৫ :: স্বয়ম্বরপাধ্যায়। যুধিষ্ঠির। চুপ কর চুপ কর ভাই। একি সর্বনাশ! একেবারে উন্মত্ত হইলে ভীমসেন? রাখ ভাই আমার মিনতি। ক্রোধানল কর উপশম। তুমি বুদ্ধিমান, একবার স্থির মনে বােঝ প্রাণাধিক। উপস্থিত এ বলপ্রকাশ সমস্তই হবে নিরর্থক। ভীম। তবে ছেড়ে দেবেনা আমায় । তবে যাবে? নরকের কীট দুৰ্য্যোধন ভারত-সম্রাট হয়ে দর্প অহঙ্কারে তােমার সম্মুখ দিয়ে স্বয়ম্বরে যাবে। পদাশ্রিত অনুগত থাকিতে জীবিত-- তুমি-পথের ভিখারী হয়ে দীন দ্বিজবেশে সায় দিবে “দুৰ্য্যোধন-জয়” উচ্চারণে? এ অপেক্ষা মৃত্যু মাের শতগুণে ভাল। অৰ্জ্জুন। কেন আজি উদ্বেলিত চিত মহাবাহ। অহহরহ যা'রে ওহে দেখি নিশিদিন, যার মর্মান্তিক কলুষ-কুটীল-হায়- দ্বাদশ বৎসরাধি বাক্ষরে ছেয়ে আছে অন্তরে অন্তরে, মাত্র এক নিমেষ দর্শনে যে জন মনের বলে বলী-তার ভাবান্তর সাজে কি এখন এ সময়ে ? হে বীরশ্রেষ্ঠ লােকপাল। অধুনা ভূপাল পরিবৃত দুৰ্যোধনে যেতে দাও-যেমুন যেতেছে অহঙ্কারে। ।
আঙ্গিপর্ব ]
দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ)
২১৭৯
তারপর ফিরিবার কালে
দেখা যাবে-কোন্ মুখে
পলায় সদলে মহাপাপী ।
যুধিষ্ঠির। হাঁ ভাই, উত্তম কথা !
অর্জুনের মতে
মতিস্থির কর মতিমা।
কুম্ভকার উপস্থিত নাই,
চল মাের। এই বেলা করি পলায়ন!
( সকলের প্রস্থান)
।
-
স্বয়ম্বরপৰ্বাধ্যায়। [ মহাভারত তৃতীয় অঙ্ক। } প্রথম গভাঙ্ক। ( অস্বর-সভা) মনােহর বরবেশী ভূপালগণ বিচিত্র কারুকার্যখচিত শ্রেণী- বদ্ধ বিমান এবং রাসনে সমাসীন ; পৌরবৃন্দ এবং জান- পদগণ পরার্ধ মঞ্চোপরি উপবিষ্ট ; একপার্শ্বে মহামূল্য সিংহাসনে দ্রুপদরাজ পাত্রমিত্র প্রভৃতি সমভিব্যা- হারে উপবিষ্ট; তৎপার্শ্বে ধৃষ্টদ্যুম্ন; পুরদ্বার সম্মুখ- পথে অপূৰ্ব শয্যোপরি অর্ধপথান্তরালে কৃত- স্নানা মনােম বেশভূষা এবং বিচিত্র কাঞ্চনী- মালা পরিহিতা সখীগণ ও পুরমহিলাগণ পরিবৃতা দ্রৌপদী উপবিষ্টা। রাজ- পার্শ্ববর্তী স্থানে যথােপযুক্ত আসনে বেদব্যাস প্রভৃতি মহর্ষিগণ, অন্য দিকে নগণ্য ব্রাহ্মণ মণ্ডলী- স্থিত ছদ্মবেশী পাণ্ডবগণ আসীন। চতুর্দিকে বৈবাহিক বাদধ্বনি এবং কোলাহল—মধ্যস্থলে সুবৃহৎ ধনু এবং জলপাত্র ; শূন্তে সচ্ছিদ্র চক্র ঘূর্ণমান।
আদিপর্ব ]
দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ)
নট ও নটীগণের দ্বৈত গীত।
বৃন্দাবনী সারং
ফরদোন্ত ও খামসা।
মৃদঙ্গ ঘন ঘন ঘন ঘাের ঘােষরে,
করতালে দামিনী চকি চকি হাসরে।
বাহু তুলে উতরােলে, কল কল কল্লোলে,
জলধি-ধ্বনি জিনি’ একতানে গাওরে ;-
মলিনতামসী নাশি’, আনন্দ হৃদে আসি’
প্রফুল্ল হাসি রাশি উথলিয়ে ব’সরে,
বৈবাহিক-শুভ-গীতে মাতি এসরে।
জয় জয় দ্রুপদ, অতুলন-সম্পদ,
জয় দ্রৌপদীবালা স্ফুটিত কোকনদ ;-
চক্রবর্তী-ভূপ একত্রে সমাসীন—
সবাকার স্তুতিগীত গাওরে মধু-বীণ :-
ওই বসে দৌপদী, মধুময়ী সুধানদী।
লক্ষ্যবিদ্ধ করি’, কণ্ঠে রত্ন ধরি’
ভাগ্যবান্ কেবা হবে যদি এসরে,-
জয় জয় মহাগান অবিরাম ঘােষরে ।
(নেপথ্যে শ্রীকৃষ্ণের পাঞ্চজন্য-শঙ্খনাদ ;
অন্যান্য বাদ্যধ্বনি নীরব।
সভাপাল ছাড় পথ-ছাড় পথ !
সুবিপুল যদুকুল সনে
আসিছেন কৃষ্ণচন্দ্রদেব বলরাম।
প্রাণায়াম ভুবন-মােহন ছবি হেরি,
কররে সার্থক প্রাণ পাঞ্চালনিবাসী
স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত লকলে। জয় জয় রামকৃষ্ণ যদুকুলোজ্জল ! ( প্রদ্যুম্ন, শান্ত, সাত্যকি প্রভৃতি পরিবৃত হইয়া রামকৃষ্ণের প্রবেশ সকলে। জয় জয় গােবিন্দ অনাথবন্ধু-রাম। পদাদি, (সসম্রমে গাত্রোখান করিয়া) পাদপদ্মে সতক্তি প্রণতি যদুপতি। ( প্রণাম) পদ। না জানি রে কত ভাগ্যগুণে গৃহে বসি পাইলাম শ্রীমধুসূদনে। ধন্য আমিধন্য প্রাণ আমার। ধ মাের নয়র-সভা! ধন্যা কৃষ্ণা কুমারী আমার- ধন্য এই পাঞ্চাল প্রদেশ! এস এস প্রভু যারাম- গুণাম--দয়ার নিদান। মনস্কাম পূরাও এ অধীনজনার। এস এস রামকৃষ্ণ এস! বস বস হীরকখচিত রত্নানে। শক্তি নাই, দীন-অতি হীন আমি- কি দিয়ে তুষিব প্রভু ? করুণায় এসে যখন, অপম যুগ্মৰূপ করিয়া প্রকাশ, সভার তিমির নাশ কর পীতবাস। কর সবে জয় উচ্চারণ। জয় জয় রামকৃষ্ণ ভুবন-মােহন! " । h আদিপর্ব । দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১৮৩ ভাটগণের গীত। ভূপাল-পূরিঙ্গা——চৌতাল। শ্বেতকৃষ্ণে যুগল মাধুরী, হেররে প্রাণ নয়ন ভরি, নীলাকাশ যেন উজ্জ্বল করি, একাসনে রবিশশী হে। জয় রামকৃষ্ণ-রামকৃষ্ণরামকৃষ্ণ হরি হে ! জয় গিরিধারী মদনমােহন, জয় হলধারী রেবতীরমণ, জয় জয় রাম-জয় জয় শ্যাম- পূরাও দীনের মনের কাম হৃদয় আসনে আসি হে, জয় রামকৃষ্ণ-রামকৃষ্ণ রামকৃষ্ণ হরি হে। সয়াস। বলি ওহে শিশুপাল। এ রহস্য মল নয় ;-ভাল ভাল । একবার চক্ষে দেখ অচৰ্চনার ঘটা। রামকৃষ্ণ কৃতিগীত-ছটা- কর্ণে কি পশিছে এসে? দেখ-দেখ কপটের কপট আচার ? দস্তবজ। এত অত্যাচার- একি সহ্য হয় মগধাধিপতি ? উপক্ষিয়ে তোমারে, অগণ্য রাজমাঝে, শল্য রুক্সী শিশু পালে করি প্রত্যাখ্যান, এত অপমান- গােপালো করে পূজা ২১৮৪ স্বয়ম্বরপাধ্যায় [ মহাভা !, শিপল। (করতালি দিয়া উচ্চহাস্যে) আরে না না-যােঝনা—যােঝনা ! দ্রুপদ কি না জেনে না শুনে এক পাল গোয়ালারে করিছে অর্চনা ? প্রথমতঃ ধ না, কানাই শঙ্খবাল্যে বড়ই নিপুন,- তারপরে গােচারণে অতি দক্ষ লােক উপস্থিত কন্যার বিবাহ স্বয়য়ে উচ্চমূল্য-বাদক ত চাই? তাই এই কৃষ্ণ আরাধনা ! বিক। হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ-বটে বটে। শিশুপাল ! ঠিক কথা বলিয়াছ তুমি। শিশুপাল। এত গেল প্রথমের কথা; তারপর ধর দ্বিতীয় বলরাম হলধর, কিনা হলধরে ; তাহার ভাবার্থ এই, বলাম হল চালা কৃষিকর্মে আদি- আজি কালি বড়ই কাজের লােক। বুঝেছ? দ্রুপদজা ভাল চাষী চান, বলরামে তাই হাতে আনা, বুঝেছ কি? তারপর সাতগােষ্ঠী অগণিত এ যদুর দল বড় বড় 'কৃষকৰ্ম্মে লেগে বাৰে সৰ? আর হােঃ হােঃ হােঃ হােঃ-সেই কথা ? শ্যামসুন্দরের সেই বাঁশমীয় কথা ? মাঝে মাঝে অবসয় হলে, দ্রুপদের পুরনারী জন্যে, যুঝেছ কি? - আদিপর্ব.) দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১৮৫ . গােপাল আমার-নেচে নেচে নীলমণি হয়ে বাশরী বাজাবে--বাঁশী বাজাবে! ( জরাসন্ধ প্রভৃতির উচ্চহাস্য) ভীষ্ম। কে রে মুখ আত্মশ্লাঘী! মােহান্ধ হয়ে অগণ্য রজমাঝে—বিরাট সভায় • আমার কৃষ্ণের নিন্দা করে ? জরাসন্ধ। আমি আমি জরাসন্ধ ! আর এই মহাপরাক্রান্ত দন্তবক্র শিশুপাল আদি কৃষ্ণনিনা কথা নাহি হয়, কৃষ্ণের চরিত, দুৰ্বত্ত কৃষ্ণের আচরণ সাধুভাষে প্রকাশে সভায়। বলি হাঁ হে বুড়া ! তুমি না কুরুর পিতামহ—কুরুকুল-চূড়া? শুনেছিঃ জ্ঞানবান তুমি, তারি এই পরিচয় নাকি? দ্রুপদের কথা ছেড়ে দাও;- নিমন্ত্রিত অভ্যাগত জনে যেবা ইচ্ছা-যে ভাবে করুক আরাধনা। তুমি কি বােলে রাখালে পূজা কর ? তােমার কি লজ্জা নাই ? অথবা উন্মাদ তুমি? এই মহা পূজনীয় শিশুপাল, রুক্মীরাজ, দন্তবক্ৰ আদি মহা মহা মহীপালগণে উপেক্ষিয়ে গােপালের পায়েতে ললাটাও ? ছি ছি ছি ছি ! ধিক্ ধিক্ ! ক্ষত্রিয়ের হেন অনাচার ? ««« ২৭৪
স্বয়ম্বরপাধ্যায়।
[ মহাভারত
ভায়। বগু এত নাহি জানি,
এত বৃদ্ধ এত জ্ঞান নাহি মাের বটে।
যার যা ভাব উপাসনা
সেই তাই করে থাকে।
আমি গােপালে গোপাল ব'লে জামি;
আমার প্রাণের প্রাণ রাখাল-গােপালে,
আমার পালন-চার দিয়াছি বলিয়া,
গােপাল গােপাল বােলে গােপালের পায়ে
এ পাপ প্রাচীন তন্ন করেছি বিক্রয়।
জয় শ্যামকৃষ্ণ-জয় শ্যামকৃষ্ণ-জয় শ্যামকৃষ্ণ হরি !
জরাসন্ধ। কি আশ্চর্য্য!
পুনঃ তুমি কর নীচ-কায় উচ্চারণ?
ভীষ্ম। কৃষ্ণ যে আমার প্রাণ ভাই ?
তাই নয়, প্রাণের পালন মহাপ্রাণ।
কৃষ্ণ যে আমার নারায়ণ,
কৃষ্ণ যে আমার সনাতন,
কৃষ্ণনাম ভুলিলে যে প্রাণ ভুলে যাব।
( জরাসন্ধ ক্ৰোধান্ধ হওন)
কৃষ্ণনাম এত যদি অসহ্ তোমায়,
স্থান করি পরিহার ।
স্বয়ংর হময় কালে,
কেন ভাই? বিতণ্ডায় কিবা প্রয়ােজন?
যে কাব্যে এসে সবে, তাহে মন দাও।
ফঞ্চনিন্দা করি,
কোন্ কা ও কয় হয় ভাই ?
অথবা আমার সঙ্গ যদি ম ভাব,
.
আদিপর্ব ) দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১৮৭ । স্থান ত্যাগ করি অচিরায়, তােমাদের হউক মঙ্গল। ( দ্রোণাচাৰ্য প্রভৃতি নিমন্ত্রিত ব্রাহ্মণমণ্ডলীর মধ্যে উপবিষ্ট হওন) পদ। আজি মােৰ বহু পুণ্যফলে লক্ষ রাজা সমাসীন সরস্থলে, আমাপেক্ষা আর কেবা ভাগ্যবান আছে। তবে হে মহর্ষিগণ! ওহে ভগবান কৃষ্ণদ্বৈপায়ন। অনুমতি করুন এ দাসে, কৃষ্ণায়ে সভা করি। বেদব্যাস। শুভক্ষণ হয়েছে সমীপ; আর বৃথা বিলম্ব না করি, কন্যারে সভাস্থ কর রাজা যজ্ঞসেম। পদ। যাও বৎস ধৃষ্টদ্যুম্ন, অন্তঃপুর মাঝে। যথাবিধি সুসজ্জিত কষ্মা যাজ্ঞসেনী, সভামাঝে কম নয়ন, ভাগ্যের পরীক্ষা তার সব অতঃপর! (ধৃষ্টদ্যুম্নের প্রস্থান) দুঃশাসন। কেমন মাতুল। জয়লাভ হবে ত মােদের ? তােমা হতে হবে ত মৎস্যের চভেদ। শকুনি। এট। আর বেশী কথা ফিরে বাবা? চুপ ক'রে দ্যাখনা বসিয়ে । তবে কথা কি তা জান? ভেবেছিনু, জাল ফেলে মৎস্য ধরে দে, অতদূর যাবে না যদিও
২১৮
স্বয়ম্বরপৰ্বাধ্যায়।
[ মহাভারত
তা না হয়—ওই ত ধনুক ?
তবে যবে ধনুটোর গুণ দেওয়া যাবে
আমাকে বারেক ধরে বাবা!
বাণ ঠিক চলে যাবে, তাতে ভয় নাই,
ধনুটো কিঞ্চিৎ বড়—আর কিছু ভারি!
তােমরা ত বসে আছ? হাতাহাতি করে
হাতে মাের তুলে দিও বাবা,
তা হলেই
বস--
-নিঃসন্দেহ।
দ্রৌপদীরে আমরাই ঘরে নিয়ে যাব,
এটা তুমি ঠিক দিও মনে!
(সখীগণ পরিবৃতা দ্রৌপদীর হস্তধারণ করিয়া
ধৃষ্টদ্যুম্নের প্রবেশ ও অন্তঃপুরে শঙ্খধ্বনি)
গীত।
-যৎ।
৫
সিন্দুরকাফি-
মিশিতে মনের বেগে মহাসাগরের পানে,
চলেছে তটিনী রাণী তরল মৃদুল তানে।
হে দেব অনাথ-নাথ।
করগাে নয়নপাত,
যেন এ সুখের পথে বাধা নাহি পড়ে প্রাণে।
সরলা অমল নদী,
বিধি হে মিলাবে যদি,
দেখাে যেন রক্ষা পায় প্রবল তুফান টানে,
পড়িলে কুপথে, তব নাম যেন মন মানে।
আলিপর্ব ) দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১৮৯ । ; (সভাস্থগণের প্রতি প্রণাম করিয়া যথাস্থানে দ্রৌপদীর উপবেশন ; অলক্ষ্যে শ্রীকৃষ্ণের শঙ্খধ্বনি) বেদব্যাসাদি। এস মা এস মা এস, বীরনারী বীমাতা হয়ে, স্বচ্ছন্দে মনের সুখে বঞ্চ এ সংসার। সকলে। চমৎকার চমৎকার মােহিনী-মুরতি, অপরূপ অনিন্দ্য-প্রতিমা, বীরনারী আমারি হইবে প্রিয়তমা! ধৃষ্টদ্যুম। এস ভগ্নি! চতুর্দিকে কর নিরীক্ষণ। স্ব স্ব তেজ-ছটা উজলিয়ে, এসেছেন লক্ষ লক্ষ ভারত-ভূপতি। ওই দেখ ভারত-সম্রাট—সুবিরাট রাজ-রাজেশ্বর পরম সুন্দর দুর্যোধন দুঃশাসন, বিবিংশতি, বিকর্ণ, দুর্মুখ, অঙ্গরাজ, সুবলনন্দন, ভীষ্ম, দ্রোণ, কৃপাচার্য আদি কৌরব-বান্ধবগণ করিয়ে বেষ্টন, তােমা হেতু স্বয়ম্বরে শুভ সমাসীন। ওই দেখ মহাজ্ঞানবান্ অলৌকিক শক্তিধর,কৃষ্ণ-বলরাম, প্রদ্যুম্ন, সাত্যকি, শাম্ব, চারুদেষ্ণ, গদ, কৃতবর্মা, অৰ্জুর, উদ্ধব বীরেন্দ্র যাদববুল মহান মনে প্রেম চক্ষে তব প্রতি করে দৃষ্টিপাত ! দেখ দেখ অনুজা আমার। কান্তিমান শক্তির আধার 'স্বয়ম্বরপাধ্যায় । [ মহরত দুৰ্ব্বার অমতো মগধাধিপতি পুত্ৰসনে উপবিষ্ট জরাসন্ধ রাজা। আর যার নৃয়ন ইঙ্গিতে-- কম্পিত ত্রিপুর থরথরি, সেই ধনুর্দ্ধর শিশুপাল- অগণিত লােকপাল মাঝে আসীন সূর্যের প্রায় সৌরকর-বাসে ওই দেখ পত্তনাধিপতি মদ্ররাজ, তৎপুত্র শল্য সনে সুখে সমাসীন। দারুণ প্রতাপবান বীর রুস্নাঙ্গদ- মহারথ রুক্মরথ সনে, অবহেলে লক্ষ্য-বিন্ধিবারে তব প্রতি তার লক্ষাস্থির ওই দেখ মহাবীর ভূরি ভূরিশ্ৰবা, দৃঢ়ধন্বা বৃহদ্বল, সুদক্ষিণ, শল, মহাবল জয়দ্রথ সিন্ধুদেশের ! পুনঃ হের কোশলাধিপতি, পাঞ্চালের গৰ্ব বৃদ্ধি করি করেছেন এ সভায় শুভ পদার্পণ। আর কত পরিচয় করিব কীৰ্ত্তন? বহুবিধ ভূরি ভূরি জনপদেশ্বর, এসেছেন তব হেতু শুভ-স্বয়ম্বরে ! ন ভদ্রে কল্যাণ আমার! লক্ষ্য-বিদ্ধ করিবেন যেই মহাজন, তারি গলে বরমাল্য করিও প্রদান। সমাগত হে ভূপেন্দ্রগণ ! অবধান করুন এ গণীনের ভাষে ;- ৫য় এই ধনুর্বাণ, লক্ষ্য ন্যাকাশে, আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়শ্বর ( গ ) ২১৯১ ন যিনি ওই যন্ত্রছিদ্র করি অতিক্রম, পঞ্চশর করি নিক্ষেপণ বিন্ধিবেন মীনের নয়ন, আমার ভগিনী এই দ্রৌপদী কুমারী সেই কুলশীল রূপ-গুণ-যুত যত ধনুর্ধারী-গলে- পতিতাবে বরমাল্য করিৰেন দান, ইথে আর নাহিক সংশয়। সকলে। এখনি বিন্ধিব আমি মীমের নয়ন। দ্রৌপদীরে নিয়ে এস—দ্রৌপদীরে নিয়ে এস, দ্রৌপদী আমারি—ইথে নাহিক সংশয়। (কোলাহলের সহিত সকলের বিপৰ্য্যন্ত হওন) জরাসন্ধ। শুন সবে ক্ষত্রিয় প্রধান। বৃথা গণ্ডগোলে আর নাহি প্রয়ােজন। একটি ধনুক আর একটি দ্রৌপদী, লক্ষে হুলহুলি করি কি হইবে ফল ? অধুনা নিবৃত্ত হও-স্থির হও সবে। এই দেখ প্রবল বিক্রমে তুলি বিরাট ধনু! আরে, একি চমৎকার! গুণ দিতে নারি ? ওহাে, একি ভয়ঙ্কর! বাপ, ! ( ধনুকের ভরে উলটিয়া পতন) দুর্যোধন। কি হে জবাসন্ধ বীর। বারবার লজ্জা পা-নাহি জ্ঞান হয়। ভানুমতী স্বয়ম্বর কথা- মনে কি পড়েনা ৰীরব ? । - স্বয়ম্বরপৰ্বাধ্যায়। যার কাজ তাহারেই সাজে। আরে ! একি আশ্চর্য ব্যাপার। এত ভয়ঙ্কর গুরুভার ? ( জানু পাতিয়া হুল নােয়াইতে দূরে পতিত হওন) দুঃশাসন। মাতুল! মাতুল ! একি হল! মহাবীর দুর্যোধন ধনুকের ভরে পড়িল ঠিকরে ওই দূরে। একি বজ্জা! শকুনি। সদাই অস্থির ছেলে। দেখ দেখি, তাড়াতাড়ি উঠে এখন ও কাজ করে বাবা। আমরা রয়েছি তবে কি করিতে হেথা? দেখ দেখি, ধূলো মেখে লুটোপাটি খেলে। শুন হে সভাস্থগণ! দুর্যোধন বাবাজীর শিরঃপীড়া আছে, তাই-ডাই-মাথা ঘুরে পড়ে গেছে। নচেৎ ধনুর ভরে ? হেঃ হেঃ হেঃ হেঃ- ও কথা-কথাই নয় । বিরাট। বটে বটে-বুঝেছি বুঝেছি! তবে বাবাজীরে- কি করিতে নিয়ে এলে এই স্বয়ম্বরে। ঘরে ফিরে নিয়ে যাও- ঘয়ে ফিরে নিয়ে যাও। বাবাজীর শিরঃপীড়া চিকিৎসা করাও। এখন ওস্থান হ'তে-সয়ে পড় সরে পড়। এই দেখ চক্ষের নিমেষে ধনু তুলে গুণ টেনে লক্ষ্য-বিদ্ধ করি। ( বেগে গমন—ধনুক তুলিতে অক্ষম হন। । ।
its আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১৯৩ = মুশৰ্ম্মা। আরে বুড়া, কন্যা দেখে ক্ষেপে গেলে নাকি ? ছি ছি ছি ছি ! বুদ্ধ কালে সমাজ হাসাল? ধনুটারে তুলিবার হেন শক্তি নাই, কোন্ মুখে লক্ষ্য-বিন্ধ কথা তব বল? ওই হাতে, রাজত্ব শাসন কর ওই মুখে রাজভােগ খাও] ফীচক। (বেগে গাত্রোখানানন্তর) এত স্পর্ধা! আমার রাজারে কটুবাণী ? সর সয়-বাহুবল দর্পে বােঝা গেছে। যে কাজে বিরাটরাজা হলেন অক্ষম, কোন্ মুখে তুমি মূখ! হও আগুয়ান। এই দেখ—অনায়াসে লক্ষ্যভেদ করি', এখনি কৃষ্ণায় করি কীকের রাণী! (বেগে ধনু উত্তোলন, পায়ে চাপিয়া গুণ দিতে গিয়া দূরে মৃতপ্রায় হইয়া পতিত ) সুশৰ্ম্মা। কি হে বীরবর—বিরাট-শ্যালক। হাতে হাতে দৰ্পান্ধতা-ফল পেয়ে গেলে। ঘন ঘন ঘন ঘন নিশ্বাস কেনহে? দেখি দেখি, একবার বুকে হাত দিয়ে, প্রাণটা আছে ত বুকে। শিশুপাল। কি আশ্চর্য! একটা সামান্য শাসনে এত ভয় ধনুর্ধরগণে? নিগুণ-ধনুর ছি ছি এতই কি গুণ? কেহ তুলিতে অক্ষম-কেই জ্যা দিতে অক্ষম। এই দেখ শিশুপাল কত শক্তি ধরে। আজি মােৰ অপূৰ্ব প্রতাপ দেখে- শিহরিবে রাজন্য-সমাজ। in २१८
স্বয়ম্বরপৰ্বাধ্যায়।
[ মহাভারত
।
কীচক। শুধু শিহরিবে।
চমকিৰে-চক্ষুস্থির হইষে সকলে।
দেখনা, বিক্ৰম কত ?
(ধনু নােয়াইতে গিয়া ধনুহুল চিবুকে লাগিয়া
শিশুপাল রক্তাক্তমুখে পতিত হওন)
শৰ্ম্মা। আহা, গেল গাে-গেল গো শিশুপাল।
মুখে জল কাও-মুখে জল দাও |
বড় ছেড়ে প্রাণপাখী বুঝি
উড়ে গিয়ে ডালে বসে গো-
ওই উড়ে গিয়ে ডালে বসে!
( ভগদত্তের উত্থান)
কীচক। ও বাবা! আবার তুমি কেন ?
বসে পড়-বসে পড়! ও বুড়ো ও বুড়ো।
কে বাবা বুড়ােরে মেরে খুন-দায়ে পড়ে।
ওই দেখ, জামাতা তোমার দুৰ্য্যোধন
এখনাে অজ্ঞান-শিয়ােরােগ কিনা ?
এ বয়সে তােমার আবার একি রােগ ?
(ধনু উত্তোলন করিতে ভগদত্তের চীৎপাত হইয়া পতন )
দুঃশাসন। সখা-সখা! অঙ্গরাজ।
কীচকের টিটকারী সহিতে না পারি।
একবার ধনুর্বিদা-অমােঘ প্রভাব
দেখা—দেখা বর, হীনৰীৰ্যগণে।
কর্ণ। দুঃশাসন। আরো স্থির রহ.কিছুক্ষণ ।
৪ এখনাে বিশু ৰীয় বসি সভামাঝে,
দেখনা, কি করি শেৰে ।
(শল্যের উত্থান)
আদিপর্ব] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১৯৫ কীচক। হাতী ঘােড়া গেল তল, ভেড়া বলে কত জল! বলি ওগাে বৈমাত্রেয় কৌরব-মাতুল। তুমি আর আলিওনা বাবা! ওই দেখ, এক মামা প্রিয় ভাগিনার মাথা টিপে সেবা করে । তুমিও এ ধারে বসে যাও, উত্তম, সজিবে ভাল। এ পথে এসনা বাবা, বড় ব্যথা পাবে। শল্য। ব্যাঘ্র-বীৰ্য্য ধরি বাহুদ্বয়ে আরে মূঢ় হীনবল ভাব মদ্ররাজে? লজ্জা নাই—তাই হেন বাণী। (বেগে ধনু উত্তোলন এবং জ্যারােপণ করিয়া টঙ্কার দিতে উলটিয়া পতন ) সকলে। (উচ্চহাস্যে) বেশ বেশ! (এইরূপ ক্রমাগত রাজগণের একে একে উত্থান এবং অকৃতকার্য হওন) সুশৰ্মা। বলি গুন,পাঞ্চাল-কুমার। তোমার এ অজেয়-ধনুক। এত গুরুভার দিয়ে নিৰ্মাইতে হয়। কাজ নাই, লক্ষ্য-বিদ্ধ-পণ ছেড়ে দাও, এ বড় বিষম-কৰ্ম্ম বাপু। দ্রৌপদীরে সমাঝে করহ জিজ্ঞাসা, যার প্রতি আছে তার মন, বর বলি’ বরমাল্য দিগলে তুলে, গণ্ডগােল সব মিটে যাক! । গুন গুন ক্ষত্রিয় প্রধান রাজগণ! ~ - . ।
স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত ৫ শরাসনে করি জ্যারােপণ, যেই জন বিন্ধিবেন মৎস্যের নয়ন- যন্ত্রছি করি অতিক্রম, আমার ভগিনী এই কৃষ্ণা-সুকুমারী, তারি গলে বরমাল্য করিবেন দান। বলরাম। অধােমুখে কেন বসে ভাই? হে প্রাণ-কানাই। অক্ষম হইল দেখি রাজন্য-সমাজ, বড় লাঙ্গ উপজয় প্রাণে। ওই শুন হে দ্বারকাপতি । পুনঃ পুনঃ ধৃষ্টদ্যুম্ন করে আবাহন, তুমি কেন তাহে নাহি হও আগুয়ান ? অথবা আমারে ভাই, না কর ইঙ্গিত ? শ্রীকৃষ্ণ। নাহি কাজ সুপূজ্য অগ্রজ, আগুয়ানে ; যে কাজে অকৃতকাজ হ’ব জানি জ্ঞানে, তাহে স্থির নীরব উত্তম। অকারণে অপমান, কেন হ’ব বুদ্ধিমান। আমাদের সাধ্যাতীত ইহা সুনিশ্চিত। বলরাম। একি কথা কহ যদুপতি। আমাদের সাধ্যাতীত—লক্ষ্যের অতীত, এই অতি ছারলক্ষ্য? তবে তুমি কিসের বলের বল ভাই ? বলা’য়ের বাহুবল হয়ে তুমি- আচম্বিতে একি কথা শুনি তব মুখে ? অথবা পরীক্ষা কর লোকবল বুঝি ? এ ত্রিলােকে, লোকের জ্ঞানের প্রমাঝে {** ১, অহঙ্কার-দর্প-অন্ধকার মিশে যার, আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১৯৭ এইরূপ হীনবল হয় বটে সেই ; কিন্তু ভাই, আমারেও ফেলিলে কি সেই সম্প্রদায়ে? শ্রীকৃষ্ণ। জান কি ধনুর গুণ ওহে গুণবান? নিগুণ হরে ওই গুণহীন ধনু। কে আছে ভুবনে হেন সগুণ-পুরুষ- গুণ দিয়ে ধনুকেতে সায়ক-সংঘােজে ?-- বগম। অপমান করিবারে তবে কি পদ নিমন্ত্রিত করিয়াছে রাজন্যসজ ? তবে কি কৃষ্ণার স্বয়ম্বর উপহাসে হ'বে পরিণত। তবে কি দ্রৌপদী রবে আচিরকুমারী। শ্রীকৃষ্ণ। তাকি কভু সম্ভবে হে যাদব-প্রধান। কভু কি রহিতে পারে রাজার নন্দিনী একাকিনী আজীবন অনুঢ়া হইয়ে ? দ্রৌপদীর বর এই বসুন্ধরা মাঝে অবশ্যই আছে একজন। সেই মহা ধনুর্দ্ধর বীরবর বিনা কার সাধ্য লক্ষ্যভেদ করে ? স্বয়ং বাসব যদি হন অগ্রসর, ধনুঃশর সুনিশ্চয় হইবে নিশ্চল, আমাদের কথা ছেড়ে দাও। বলরাম। জানিনা, কি বল ভাই ? তুমি নরােত্তম, সৰ্বশ্রেষ্ঠ এ সংসায় মাঝে, তােমা হ'তে উচ্চগুণ ধরে হেন কেবা ? একি চমৎকার কথা। এই অনুপমা-অযােনী-সম্ভবা ২৯৯৮ স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত ; •• লক্ষ্মী-স্বরূপিণী বয়নারী হবে তার নারী, জানিনা হে এ সংসারে কেবা ভাগ্যধর। আমা হতে শক্তির আছে, সম্ভবে কি এ ভবের মাঝে ? শ্রীকৃষ্ণ। অগছে দাদা, আছে একজন। মনে পড়ে পাষত পাণ্ডবের কথা ? শোননি কি মাতা-প্রমুখাৎ বীর্যবান্ পাণ্ডবের সুচরিত গাথা। বলরাম। বিশেষ গুনেছি কোহিনী ; কিন্তু যদুমণি ! কৌরব-কৌশল জালে হ'য়ে নিপতিত, অকালে বারণাবতে গৃহদগ্ধ হয়ে পাণ্ডবত পরলােকে করেছে গমন ? এখন সে কথা কেন বৃথা আন্দোলন ? শ্রীকৃষ্ণ। বৃথা নয়, মিথ্যা নয়, শুন হলপাণি। অচিরে পাণ্ডব-রবি মধ্যাহ্ন-প্রদায় ভাতিবে এ স্বয়ম্বর-স্থলে ! শুন দাদা, মনোযােগ কর মাের ভাষে, মাের সনে লক্ষ্যস্থির কর। ওই যে ওদিকে, হের-- অগণ্য নগন্য-ভি-ব্রাহ্মণ সমাজে প্রাবৃটের মেঘাচ্ছন্ন মার্কণ্ডেয় প্রায় আত্মহারা উপবিষ্ট হ'য়ে লুক্কায়িত, উহারা পাণ্ডব বিনা আর কেহ নন !! কে বলে পাণ্ডব পরলােকে? মূর্খ লোকে করুক প্রত্যয়, তুমি আমি ভুলিব শঠের মিথ্যাভাষে? পাণ্ডব অবধ্য এ সংসারে। • - • } দল। দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২১৯৯ =" অচিরে দেখিবে মহাশয়। মহাবীর তৃতীয়পাণ্ডব ধনঞ্জয় অবহেলে লক্ষ্যভেদ করি, বিজয় নিশান তুলি দ্রৌপদীরে কঠে ধরি লয়ে চলে যাবে। বলরাম। বল কি রাখাল-রাজ। পাণ্ডব জীবিত। পিতৃস্ব কুন্তী দেবী আছেন জীবনে। এ কথা শুনিয়া পরম আনন্দ লাভ হইল আমার । কিন্তু কহ প্রিয়ম্বদ, কিরূপে পাইল রক্ষা পাণ্ডবনুমতি ? শ্রীকৃষ্ণ। সে কথা কহিব অন্যকালে । অধুনা অন্ধক, ভোজ, বৃষ্ণি, যদুকুল- ধুরন্ধর, যেখানে যেভাবে সমাসীন, লক্ষ্য-বিন্ধিবারে আগুসার হইওনা কেহ। চল দাদা, সিংহাসন ছাড়ি বসি গিয়ে সভাস্থলে বহুকের ভাগে, প্রাণ ভরি’ নিরখিব ছদ্মবেশ ছবি। ( সভাস্থলে উভয়ের উপবেশন ) ধৃষ্টদ্যুম। অবধান ক্ষত্রিয়-প্রধান রাজগণ ! লক্ষ্য-বিদ্ধ করি- লভ মাের কুমারী ভগিনী। দুঃশাসন। ওই বসে পিতামহ কুরুকুলপতি ; হে নরপতি-রাজচক্রবর্ত্তী দুৰ্য্যোধন। লক্ষ্য-বিন্ধিকারে কেন না আদেশ দান করেন উহারে ?
স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত শকুনি। কি জান বাবাজী। হাজার হউক উনি বুদ্ধিমান লােক, বয়সে আবার পিতামহ। ভাবেন, বুঝিলে বাবা ! এক মন হয়ে ভাবছেন, কত দুর কি হয় পশ্চাতে। (দুৰ্য্যোধনের ইঙ্গিতে ভীষ্মের গাত্রোত্থান; চতুর্দিকে “কে উঠিল—কে উঠিল । কলরব) কীচক। চুপ কর চুপ কর-স্থির হও সবে, উঠিলেন কুরুবৃদ্ধ কুরু-পিতামহ- দুর্বিষহ ধনুর্দ্ধর ভীম মহামতি। এইবার জয় জয়কার হাতছাড়া হ’লর দ্রোপদী। বিধি হে। তােমারি কাৰ্য্য সব। ভীষ্ম। শুন শুন রাজ-সমাজ ! কান গবে, আজীবন দারত্যাগী আমি, কঠোর কৌমার্যব্রত করি অনুষ্ঠান। লক্ষ্য-বিন্ধিবারে যদি হইহে সক্ষম, কন্যারত্ন করিব প্রদান আমায় শ্রীমান্ পৌত্র দুৰ্য্যোধন-কয়ে। কীচক। আগে ত বিন্ধুন লক্ষ্য, তারপর যারে ইচ্ছা করিবেন দান, বুক পেতে ল’বে সেই মহা ভাগ্যবান। ( ভীষ্মের ধনু উত্তোলন, জ্যারােপণ এবং পুনঃ পুনঃ টঙ্কার প্রদান ) শ্রীকৃষ্ণ। একি ভাই শিখণ্ডী-কুমার। তােমার ভগ্নীর স্বয়ম্বয় ;
আদিপর্ব। দ্রৌপদীর স্বৰ্মম্বর (১ম ভাগ) ২২০১৭ ২ এমন গােপনে থাকা তােমার কি সাজে? ভয় কি? সম্মুখে স’রে এস। ( সম্মুখভাগে শিখণ্ডীর উপবেশন) শকুনি। এই দেখ, হ’লন বাবাজী ব্যস্ত হয়ে পড় কেন এত ? দ্রৌপদী এলন। ঘরে? তা-তা- আমিই নে’ আসি—আর কেউ নিয়ে আসে। ( ভীষ্মদেব ধনুতে বাণ যােজনা করত পুনঃ পুনঃ অতি ঘাের বজ্রনাদে টঙ্কার দিয়া, জলপাত্র নিকটে আগমন পূৰ্ব্বক সহসা সম্মুখে শিখণ্ডীকে দেখিয়া ) ভীম। নারায়ণ-নারায়ণ ! ছি ছি! ঘােয় অমঙ্গল সম্মুখে আমার! (ধনুর্বাণ পরিত্যাগ ) শকুনি। কি হ'ল কি হ'ল ওকি ? ভীষ্মদেব ধনুঃশর করিলেন ত্যাগ ? ও শিখ তীরে দেখে! নপুংসক কিনা ? তাই ত্যজিলেন ধনু ভীষ্ম মহামনা। ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা আছে খ্যাত চরাচর। অমঙ্গল দেখিলে নাছাড়ে ধনুঃশর।” । বস্-ব—আর কি? দ্রৌপদী ঘরে গেল? দুঃশাসন। দেখ দেখি অন্যায় মাতুল ? অলক্ষণ হেনকালে কোথা থেকে এল? হয়েও হলনা মামা? যা থাকে কপালে! তুমি একবার চেষ্টা করে দেখ বীরবর। - ? २१७ স্বয়ম্বরপাধ্যায় । * [ মহাভারত ৫ ৫ কচফ। --তুমি জার বাকী থাক কেন? শকুনি। তা কি আর পারিনারে বাবা । তৰুে কথাটা কি জান? কাল সেই রাত্রিকালে, অথাৎ শয়নকালে, বাপয়ে আমার! গৃহের কবটে এই খিল দিতে গিয়ে হাতের খিলটে নড়ে গেছে । তা না হলে আমি আর পারিন বাবাজী ? কীচক। বেশ বেশ! এমনই বীর বটে তুমি! শকুনি। কেন হে কচক বীর? পরিহাস কেন? তুমিও রাজার মাই—আমিও ত তাই? তােমারও যেমন গতি, আমারও তেমতি ধৃষ্টদ্যুম। তাই ত। কি করি পিতৃদেব । ভীষ্মদেব(ও) হ'লেন বিমুখ । ক্ষত্রিয়-সমাজে আর'কেবা আছে বীর ? দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর তবে কি হবেনা। তবে কি নিস্ফল হল এত আয়ােজন। কপদ। তবে কি হইবে এ কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ? লক্ষ লক্ষ ভারত-ভূপেশ এ সভায় সমাৰিষ্ট মম ভাগ্যফলে। অবশিষ্ট মুগ্ধ 'লে, নীরব নিস্পন্দ হয়ে আছেন বসিয়ে আর কেহ উঠিতে না চান। বল ভগবান, অতঃপর কি করা উচিত কৃষ্ণদ্বৈপায়ন। ভয় নাই ভয় নাই গুন যজ্ঞসেন। অবশ্য পাবেন পতি কন্যা যাদেশী লক্ষ্য-বিদ্ধপণ বিনিময়ে। ।
আদিপর্ব।
দ্রৌপদীর স্বয়শ্বর ( গ )
শুন যুবরাজ।
ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য শুত্র নানা জাতি
সমবেত এ সভায় দেশ-কুপা-বলে।
সবাকারে কর আবাহন,
অবশ্যই কার্যোদ্ধার হবে।
ধৃষ্টদ্যুম্ন। ভে-ভো সভাস্থমগুলি।
অবধান কর মাের ভাষে ;-
দ্বিজ ক্ষত্রি বৈশ্য শূদ্র যেই জাতি হও,
যে বিন্ধিবে মৎস্য-চক্ষু ছিদ্র অতিক্রমি,
আমার ভগিনী এই কৃষ্ণা-সুকুমারী,
তখনি তাহারি গলৈ কৈবে মালদান।
( দ্রোণাচার্যের গাত্রোত্থান)
শকুনি। তবে না কি হবেনা বাবাজী
দ্রৌপদী না হাতছাড়া হয় ?
যে দিকেই হোক্,
শুন দুর্যোধন বাবা।
তােমারি কপালে লেগ যাবে।
ভীষ্মের ভীকুটা এত নয়,
গুণে গুণে পা বাড়িয়ে যান,
কখন কি হবে অমঙ্গল
খসে যাবে হাতের ধনুক হাত হতে ?
এবার দ্রোণের বল,
মনে ঠিক্ দিয়ে রেখে-কৃষ্ণা এল বলে।
কীচক। বৃদ্ধ হ'লে-শস্ত-হীন হলে
এতই কি কাণ্ডজ্ঞান-শুন্য হতে হয়।
বলি দ্রোণ মহাশ!
আয় কেন ? চুপচাপ বল ল চেলে,
२५68 স্বয়ম্বরপাধ্যায় [ মহাভারত এত ক্ষেপে যাওয়া এত লক্ষণ নয়। অমন সােশীর পদ্মটিরে ব্রাহ্মণ করিবে বাৰ, একি প্রাণে সয় ? দ্রোণাচাৰ্য। কন্যারত্নে কিছুমাত্র নাহি প্রয়ােজন, শুন সভা-সজ্জন! মহারাজ যজ্ঞসেন বাল্যবন্ধু মম, কৃষ্ণায় কন্যাত্ব ভাব সর্বদা আমার। আমা হতে যদি এবে লক্ষ্য-বিদ্ধ হয়, আমার প্রতিপালক রাজা দুৰ্যোধনে, কাধনে করিব অর্পণ। ইপে সবে অনুমতি করুন আমায়। সকলে। তথাস্তু-তথা- যাহা তব অভিরুচি। শ্রীকৃষ্ণ। (বিষ্ণু-ভাবাবেশে ) সৃষ্টির প্রারম্ভে কতু প্রলয় সম্ভবে ? বিধাতার নাট্য বিধান কার সাধ্য কেবা করে খান। ঘটনার এই ত অমােঘ-সূত্রপাত। দৃষ্টিপাত কর দিব্য-আঁখি, দেখ দেখ সুদূর ঘটনাচক্র ঘােরে। মেরুদণ্ড তুমি সীমন্তিনী। কাৰ্য্যক্ষেত্রে মহাবীজ-স্বরূপিণী হয়ে অন্তরাল শোভে কি তোমার প্রাণসখি ? প্রেমময়ী লক্ষ্মীঅংশীভূতা মহাদেৰি। আর কতক্ষণ র'বে আধারে একাকী ? শ্রীহীন-কাঙ্গালগণে গুলো বিভূতি। লক্ষ্মী হইরে প্রিয়তমে। কাবের বামে বসে বিশ্ব আলো কর । যাও যাও চক্র-সুদর্শন।
আলিপুর্ব ) দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২২৫ আবরণ আদৰ্শন কৰ মীন-আঁখি, প্রোণের দারুণ ব্যাণ কর পরাভব। দ্রোণাচাৰ্য। মহামতি ভীষ্মের প্রদত্ত ধনু, বাম করে তুলি ধনু করিনু নিগুণ। (জ্যারােপণ করত অতি ঘাের শব্দে টঙ্কার দিয়া হেঁটমুণ্ডে জলছায়া দর্শনে শরত্যাগ, চতুর্দিকে কোলাহল, বাদ্য ও শঙ্খধ্বনি ইত্যাদি) শকুনি। চলে গেছে—চলে গেছে যাণ চলে গেছে। কি ভয় কি ভয়—লক্ষ্য বিধেছে বিধেছে। জয় আচার্যের জয়-জয় কৌরবের জয়। চলে এস চলে এস-কোথা হে দ্রৌপদি। পাটরাণী হবে যদি, বাবাজীর গলে- মালা দাও-মালা দাও! শিশুপাল। অত কেন লম্ফ ঝম্ফ বাপু! কোথায় বিধেছে লক্ষ্য। এই ত পড়িল বা মহাচক্র ঠেকি? শকুনি। এ-এ-তাইত ! তাইত। ( অতিমাত্র লজ্জিত হইয়া দ্রোণাচার্যের সভাস্থলে পুনরাসীন ; সক্রোধে অশ্বত্থামার উত্থান) অশ্বত্থামা। দৈবাৎ- শকুনি। এইবার কি হয়-কে রাখে শিগুপাল? উঠিল বাপের বেটা, ৰীয় অশ্বত্থামা। কোনদিকে যাবে বাবা? যেইদিকে চাবে, বাবাজীর জয় জয়কার। দেখা যাক এবার কি হয় ! ০ .
স্বয়পাধ্যায়। { মহাভারত - { অখখামা"। দৈবাৎ পিতা বাণ হইল অক্ষম। কিন্তু মাের হাতে আর নাহি অব্যাহতি। মিল আঁখি জগতের লােক এখনি বিন্ধিয়া লক্ষ্য মৎস্যের নয়ন, দুৰ্য্যোধনে কন্যাধনে করিব অর্পণ। ( কথিত উপায়ে আকর্ণ পূরিয়া লক্ষ্যপ্ৰতি শরসন্ধান, ঘূর্ণমান চক্রুে ঠেকিয়া বাণ খান খান হইয়া ভূমিতলে পতন ) কীচক। দেখেছ, বীরের বেটা বীর ! হাজার হউক, পিতার সুপুত্র কিনা। দ্বিগুণ দেহের বল পেয়ে খান খান হয়ে গেল বাণ! কর্ণ। ( সক্রোধে) বার বার কীচকের মর্মভেদী বাণী আর নাহি সহ হয় প্রাণে। আরে আরে একি লজ্জাকর। দ্রোণাচাৰ্য আদি মহা মহা অগ্রগণ্য বীরেন্দ্রসমাজ আজ এ সামান্য লক্ষ্য-ভেদে এই অক্ষম? ছি ছি! ধিক্ ধিক্ প্রাণে! কিছু মাত্র লজ্জা নাই? এখনও বসে আছ এই সভাতলে । আরে রে নিদ্রজ্জগণ!মুনার জলে ঝাঁপ দিয়ে ডুবে মর গিয়ে, কোন্ মুখে লোকালয়ে পশিরে আবার? শকুনি। বলত বলত বাবা খুব হেঁকে বল! সব বাক-মরুক যমুনাজলে ডুধে, আদিল । দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (জাগ) ২২০৭ কেবল আমরা বেচে থাকি। বিধে ফেল বাবা, মাছটায়ে বিধে ফেল ৰাৰা। বউমারে দুর্যোধন বামে বইয়ে, ঘরে নিয়ে যাই বাবা গােল মিটে যা। ( দম্ভের সহিত লক্ষ্য বিদ্ধকরণেদ্যোগ; ধৃষ্টদ্যুম্নের কর্ণে দ্রৌপদীর কোন কথা প্রকাশ করণ ) বৃহন্ন। রহ রহ ক্ষান্ত হও দুৰ্য্যোধনলথা ! দ্রৌপদীর ইচ্ছা নাই সূতের নন্দনে বরণ করিতে পতি রূণে, অতএব ক্ষান্ত হও লক্ষ্য-বিন্ধিবারে। কর্ণ । জাতিভেদে-বর্ণভেদে হীন মনে যদি ভাব হেন, বীরত্ব পরীক্ষা করি, হেন স্বয়ম্বর আড়র আয়ােজনে ছিল কিবা প্রয়ােজন- অথবা শূদ্রের স্নায়? উচ্চবর্ণ উচ্চ অহঙ্কার পূর্ণরূপে চূর্ণীকৃত আজি এ সভায়। হীন জাতি সুত-সুত বােধে—তব ভগিনীর এই অবজ্ঞা যদি বীরত্বের প্রতি, তবে আমি সুত্রধরু হয়ে, জীবন-নাটকে নান্দী সূত্ৰধার প্রায় বৈবাহিক-যবনিকা করি উক্তোলন! অথবা কি সূত্র হতে আমি সুতনুত, জানেন সুত্রের সূত্র প্রভু দিবাকর । ধৃষ্টদ্যুম্ন ! শুন মােয় কথা ;
বয়ষয়পর্বাধ্যায়। ~~~~~~~ [ মহাভারত 1. তােমার সুন্দরী ভগিনীরে আমার তিলেক মাত্র নাহি প্রয়ােজন। হাস্যময়ী পতিপ্রাণা পত্নী আছে ঘরে, পদ্মাবতী নাম - কেনা জানে এই ধরাবাসে? কে ভাই উভয় মাঝে- উভয়সঙ্কটে পড়ে কপটে কাটাতে চায় কাল ? পূৰ্ব্ব পূৰ্ব দুৰ্য্যোধন-বান্ধবের মত আমারও ওই মত, দ্রৌপদীরে জয় করে দিব মিত্ৰ-কয়ে। শ্রীকৃষ্ণ। (বিষ্ণু-ভাষাবেশে ) দাম্ভিকের সুন্দর বিন্যাস । অন্যায় অথবা ন্যায় সত্য কোন্ দিক। সত্যে যদি ঘটে বিপর্যয়, সহস্র সত্যের চেয়ে এক মিথ্যা ভাল। যদি কভু সত্যের বিকাশে বিরাজে সমাজে কভু বিপ্লবের ছবি, মানুষ দানব হয়ে যায়, সে সত্য আঁধারাবাসে থাক্ লুইত। মরি মরি সত্য মিথ্যা একত্রে মিশ্রণ। এক চ'খে হাসি হাসে। অন্য চ'খে অশ্রুভাসে। রহে রহে সুদর্শন, আবরণ করে থাক মৎস্যের নয়ন! বৈকৰ্ত্তন-ব্যর্থ-বাণ কর অবহেলে! দুৰ্য্যোধন। লক্ষ্য-বিদ্ধ কর মহাবীর, আর হেন অপমান সহ নাহি হয়।
আদিপর্ব ) দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২২০৯ (জলছায়া দর্শনে কর্ণের আকর্ণ পূরিয়া শরত্যাগ এবং চক্রে ঠেকিয়া ভগ্ন বাণ সভাতলে পতন ) সুশৰ্ম্মা। তবে আর স্বয়ম্বরে বৃথা অধিষ্ঠান; স্বস্থানে প্রস্থান কর, উঠ রাজগণ ! শেষ আশাটুকু গেল বাতাসে মিশিয়ে ! মহারাজ। ভাগ্যে নাই জামাতা তােমার হয় ছাড় লক্ষ্য-বিদ্ধপণ, সােজামুজী কর স্বয়ম্বর, নয় ওই ধনুটোর লােহার গলায় মাল দান করুন পাঞ্চাল-বালা। ধৃষ্টদ্যুম। কি আশ্চর্য্য! নিৰ্ব্বীৰ্য্যা কি বীরভােগ্যা বীরপ্রসূ এই বসুন্ধরা ? দ্বিজ, ক্ষত্রি, বৈশ্য, শূদ্র আদি-আচণ্ডাল- যে যথায় বসে আছ এই সভাতলে, উঠ উঠ কর গাত্রোত্থান। থেকনা নীরব আর কেবা আছ বীর ! তীর বিদ্ধ করি লক্ষ্য লক্ষ-পূজ্য হয়ে, পাঞ্চালীরে পত্নী বলে করহ গ্রহণ। ( চতুর্দিকে কোলাহল, বাদ্য ও শঙ্খধ্বনি ;-শ্রীকৃষ্ণের ঘন ঘন পাঞ্চজন্য শঙ্খনাদ ) অর্জন। “উঠ—উঠ” কে আমায় বলে ? সুগম্ভীর শঙ্খনাদ মাঝে, মৃদুল-মূচ্ছনা-মধু শরীর তানে উৎসাহ বীরত্ব তেজ সােহাগ আদরে, কে আমার প্রাণে এসে উঠ—উঠ” বলে ? ন २११
,
স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত
আহা, কে তুমি? মােহন-মূৰ্ত্তি ধ'রে
প্রেমানলে নৃত্য কর অন্তরে আমার ?
মরি মরি! প্রাণ ভরে গেল।
হে আৰ্য! অগ্রজ পূজ্যপাদ !
আশীৰ্বাদ অনুমতি হয় যদি দাসে,
তবে কি করিব গাত্রোত্থান ?
যুধিষ্ঠির। কেমন, কি বল ভাই ভীম ?
এইত সম্মুখে--সুসময় শুভক্ষণ ।
ভীম। তার আর কথা আছে দাদা?
( যুধিষ্ঠিরের ইঙ্গিতে অর্জুনের গাত্রোত্থান)
১ম ব্রাহ্মণ। আরে আরে,-তুমি কোথা যাও ?
ব'সে যাও-ব’সে যাও!
এখনন বিস্তর বীর বসে আছে হেথা ।
এরি মধ্যে স্বয়ম্বর দেখা-শেষ নাকি?
২য় ব্রাহ্মণ। সত্যই কি রাজবালা র’বেন অনূঢ়া ?
আজ যাহা হয় শেষ হবে।
অবশ্য কেহ না কেহ লক্ষ্যভেদ করি
দ্রৌপদীরে নিয়ে চলে যাবে !
তারপরে দানারম্ভ হবে।
এখন এমধ্যে তুমি ঘরে যাও কি হে ?
অর্জুন। ওই শুনিছনা কাণে পাঞ্চাল-তনয়
সবাকারে করে আবাহন ?
লক্ষ্য-বিদ্ধ হেতু আমি করিহে গমন ।
আশীৰ্বাদ কর দ্বিজগণ।।
মনস্কাম পূর্ণ যেন হয় ।
৩য় ব্রাহ্মণ। ও বাবা। সাহস মন্দ নয়।
চেপে ব’স-চেপে ব’স কর কি বাতুল।
আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ ২২১১ । এখনি প্রতুল হবে, একথা এন’না মুখে আর! ৪র্থ ব্রাহ্মণ। এ-এ-বলে কি হে ? লক্ষ্য-বিন্ধিবারে চায় নাকি ? হ্যা হ্যা হ্যা হ্যা কোথাকার লোেক তুমি বাপু ? ১ম ব্রাহ্মণ। কি কথায় কি উত্তর কর ? আরে না না, কেহই বােঝনা, ভিক্ষুক নিরাশ হয়ে ঘরে ফিরে যায়। আরে, আর কিছুক্ষণ চেপে ব’স না হে! দেখনা কি হয় শেষে, মুক্তহস্ত কেহই হবেনা, হাতেতে কিছু না কিছু নিশ্চয় পাইবে। অর্জন। দান গ্রহণের মাের নাহি অভিলাষ, আমি যাই লক্ষ্য-বিদ্ধ হেতু। ১ম ব্রাহ্মণ। দান নিতে আসা নয়, তবে কি করিতে এসেছ হেথায় বাপু? তােমার ও ছিন্ন-কন্থখানি পাঞ্চালের অধীশ্বরে দিয়ে যাবে নাকি ? কোথাকার নির্বোধ ব্রাহ্মণ তুমি ! ৪র্থ ব্ৰাহ্মণ। আরে, তারপরে- ও কি বলে শুনিছনা দাদা? ও চায় বিন্ধিতে লক্ষ্য মৎস্যের নয়ন। কতরূপ রয়েছে পাগল-কেবা জানে ? অর্জুন। নহি আমি বাতুল উন্মাদ, বাদ বিসম্বাদ কেন কর দ্বিজগণ ? স্থির-চক্ষে কর নিরীক্ষণ, এখনি বিন্ধিয়া লক্ষ্য কন্যা জয় করি।
২২১২ স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত ১ম ব্রাহ্মণ। না বাপু, বিস্তর আমি দেখেছি পাগল, তােমার মতন কিন্তু নিলজ্জ উন্মাদ, আমার প্রথম দেখা এই। বলি হাঁ হে, খেয়েছ কি চক্ষু দুটো মাথা ? মহাবীর ধুরন্ধর দ্রোণের প্রমুখ ওই কৌরবমণ্ডলী, জরাসন্ধ শিশুপাল আদি লক্ষ লক্ষ রাজা যাহে হইল অক্ষম, তুমি ক্ষুদ্র, পথধূলি, পথের কাঙ্গাল, অতি দীন হীন হয়ে বিন্ধিবারে হও অগ্রসর ? এতেও বলিব আমি তুমি ঠিকে আছ ? ৪র্থ ব্ৰাহ্মণ। বলি, তোমার কি আর কেহ নাই ? এমন উন্মাদ জনে একা ছেড়ে দেয় ? ২য় ব্ৰহ্মণ। আহ, ওরে- বসাওনা টেনে জোর করে ! শেষে কি সকল দিক্ হারাইবে নাকি ? যুধিষ্ঠির। অপ্রসন্ন দ্বিজ প্রতি কেন দ্বিজগণ ? শক্তি অনুসারে সবে কাৰ্য্য করে থাকে, বাধা দানে তাহে কিবা ফল ? ১ম ব্রাহ্মণ। বলি,- তুমিও কি একদেশে বাস কর নাকি ? ভাগাভাগী করে আসিয়াছ ভিক্ষা লভিবারে ? এসব ব্যাপার কি হে? ধৃষ্টদ্যুম্ন। নর মাত্রে যে জাতিই হও, এস, যে আছ সভায়, ক ৫
আদিপর্ব )
দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ)
শাখাতে লক্ষ্যভেদ করি
লাভ কর পদ-দুহিতা।
(পুনঃ পুনঃ শঙ্খধ্বনি)
অর্জুন। অতি সুমধুর দূর-বাঁশরীর তানে,
ওই দাদা, ওই ওই ডাকে কে আমারে।
কে আমার প্রাণের মাঝারে এসে
বুক দিয়ে ঠেলে তুলে দেয়,
স্থির হয়ে নীরবে বসিতে
আমার যে শক্তি নাহি আর ?
ভীম। যে যা বলে বলুক, শুননা ধনঞ্জয় !
বীরবলে হও আগুয়ান,
আমি আছি পশ্চাতে তমার,
যাও-গিয়ে লক্ষ্যভেদ কর!
যুধিষ্ঠির জননীর পাদপদ্ম স্মরি,
যাও প্রাণাধিক।
অধিক কি কব ভাই,
ধর্মের প্রসাদে
অবশ্যই হবে তুমি সিদ্ধ মনােরথ ।
( অৰ্জ্জুনের পুনঃ গাত্রোত্থান)
১ম ব্রাহ্মণ। নাঃ, এক পাগল হতে
সর্বনাশ হয় বুঝি আজ!
কোথাকার আপদ জুটিলে তুমি বাপু?
বহু দুর হতে—বহু আশা করে
বিস্তর ভিক্ষুক দীন-বিস্তর ব্রাহ্মণ
আসিয়াছে কল্পতরু রাজার সভায়,
তুমি একা, সব দিকে মাথা খেয়ে দিলে?
অবশেষে তােমা হতে অপমান হয়ে,
-
২২১৪ স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত ম্লানমুখে মুক্তহস্তে ঘষে ফিরে যাবে ? যদি ভাল চাও- এখনেসভায় বসে পড়; নহে- ঘাড় ধরে দূর করে দিব হেথা হ'তে। ৫ম ব্রাহ্মণ। তুমিই বা কেন এত রাগারাগী কর ? পাগল ছাগল যাই হক, ইও- একা হাস্যাস্পদ হবে ! যান-যেখানে যায়! রাজার সম্মুখে পাবে কি নিস্তার আর ? শূলে কারাগারে যাক- অথবা যমের বাড়ী যাক— যাহা হয়—একটা ত’ হবে ? দেখইনা ব'সে ব'সে ! ধৃষ্টদ্যুম্ন। প্রতিহারী, ওদিকে কিসের গণ্ডগােল ? প্রতিহারী। য়ুবরাজ! করি নিবেদন এক অতি অবাধ্য ভিক্ষুক উন্মাদ কুৎসিৎ ব্রাহ্মণ অক্ষ্য-বিন্ধিবারে চায়। অন্য অন্য সজ্জন-ব্রাহ্মণ পুনঃ পুনঃ করে নিবারণ ; কিন্তু তবু নাহি মানা শুনে, যুবরাজ! দেখুন অদূরে ওই আসে। (ধীরে ধীরে অৰ্জ্জুনের লক্ষ্যস্থলে আগমন) সভাস্থ সকলে। (হোঃ হােঃ রবে উহাস্য) সুশৰ্ম্মা। কে হে তুমি? এ পথে কোথায় যাও বাপু? কোন্ দেশ সভ্যতা তােমার ?
আদিপর্ব )
দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ)
দেখিতেছি ভিক্ষুক ব্রাহ্মণ-বেশী তুমি ।
মহামান্য নিমন্ত্রিত রাজগণ কাছে-
এই কি সময় বাপু ভিক্ষা লইবার? :
অর্জুন। ভিক্ষা হেতু আগমন নহে মহাশয় !
আসিতেছি লক্ষ্য-বিন্ধিবারে।
সুশৰ্ম্মা। ও বাবা! কথার ছন্দ তেজ দম্ভ দেখ।
এ-এ-বল কি হে বাপু?
কিরূপ বাতুল তুমি ?
অবাক্-অবাক্ বাবা !
কীচক। কি কি কি কি-কি বলে ব্রাহ্মণ?
সুশৰ্ম্মা। আরে, লক্ষ্য-বিন্ধিবারে চায় ?
কীচক। বটে বটে! মস্ত বীর তবে ত’ ভিক্ষুক ।
'ও বাপু! ধনুকটারে দেখেছে ত’ চোখে ?
ওটা, ফলাহার-পাত্র কিম্বা দধিভাণ্ড নয়,
এ বড় বিষম ঠাই।
শল্য। বাক্যব্যয় কার সনে করহে তােমরা ?
ওটা নিতান্ত উন্মাদ !
কি আশ্চর্য্য!
এ দেশের ভিক্ষুকের এত স্পর্ধা তেজ।
এই সম্রান্ত-সমাজে
এখনো সাহস ভরে আছে দাড়াইয়ে ?
শকুনি। ঠিক ঠিক ঠিক্ মিলে গেছে।
বাহবা বাহবা-
ও বাজী দুঃশাসন!
এই এতক্ষণে তেড়ে রঙ্গ চড়ে গেল।
যে কৰ্ম্ম যেমন,
প্রতিফল তাহারি তেমন;
পদের তা না হলে মান বাড়ে কিসে?
স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত • বুঝেছ ? সভার কোন বুদ্ধিমান রাজা, তােমাদের মুখোজ্জল দেখে, একটা পাগল ছেড়ে দে’ছে। ও বাবাজী দুৰ্য্যোধন! তুমিও এমনি তার প্রত্যুত্তর দাও। তােমার নিকৃষ্ট কোন অধম বাহকে, ওই পাগলের পাশে দাও ছেড়ে দাও! সেটাও অম্নি করে বলুক দাঁড়িয়ে, “আসিতেছি লক্ষ্য-বিন্ধিবারে।” হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ-বড় মজা হবে, আরাে খুব রঙ্গ বেঁধে যাবে। জনৈক ব্রাহ্মণ। উন্মাদে উন্মাদ ভাবে- বধিরে বধির ভাবে প্রকৃতি-নিয়ম। তা না হলে একি কথা কহ নৃপগণ ? মহা মহা ধনুর্দ্ধর বীরেন্দ্র-নিকর যে কাজে লজ্জিত পরাজিত, সে কাজে জনৈক হীন নগণ্য ভিক্ষুক উৎসাহে ধাবিত হয়, তাহে সবে কেন দাও নীচ-নিরুৎসাহ ? উচ্চতার চিহ্ন এত নয়, এই কিহে মইতের মহত্ব-বিকাশ ? বিশেষতঃ এই- পীনস্কন্ধ আজানুলম্বিত দীর্ঘবাহ- প্রশান্ত গম্ভীরাকৃতি গজে-বিক্রম অনুপম মহাধনুর্ধর-- মেঘাচ্ছন্ন মধ্যাহ্নের তপনের প্রায় জটাজুটধারী সুব্রাহ্মণে, উন্মাদ বাতুল বলে জ্ঞান কর সবে? g:
'আদিপর্ব । দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২২১৭ ছি ছি ছি ছি! হা ধিক্-হা ধিক-বীরগণ! লজ্জা নাই ? তাহে পুনঃ কর পরিহাস? আচণ্ডাল এ সভায় যেখানে যে আছে, সকলেই অধুনা সাদরে নিমন্ত্রিত যুবরাজ ধৃষ্টদ্যুম্ন কাছে! ‘ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র যেবা হক, যে বিন্ধিৰে মহালক্ষ্য এই, সেই হবে রাজকন্যা-পতি, এই যদি নৃপতির পণ, তবে আত্ম-অহঙ্কারে স্ফীত হয়ে ব্রাহ্মণেরে কেন উপহাস ? ও কৰ্ম্ম কি বাতুলের সাজে ? বীৰ্যবান ব্রাহ্মণের হেরি অধ্যবসা, স্পষ্টই হতেছে জ্ঞান, হইতেছে আশা, যারে সবে হীন দীন উন্মাদ ভাব, সেই নগণ্য ভিক্ষুক দ্বিজ লক্ষ্যভেদ করি লক্ষ লক্ষ রাজগণ মাঝে- রাজকন্য। দ্রৌপদীরে করিবে অর্জন। মহর্ষিগণ। সাধু-সাধু-সাধু! ব্রাহ্মণগণ। যাও যাও দ্বিজবর ! কর লক্ষ্যভেদ, তােমা হ'তে ব্রাহ্মণের বাড়কে সম্মান। ধৃষ্টদ্যুম। হে ব্রাহ্মণ ! হও তবে আগুয়ান । হের এই ধনুর্বাণ, আর জলাধার। উদ্ধেতে দ্বি-অর্ধক্রোশ দূরে অবস্থিত-- মধ্যছিদ্র মহাচক্র বেগে বিঘূর্ণিত ; তদুপরি দ্বি-অর্ধক্রোশের উচভাগে মৎস্য-চক্ষু হ'তেছে লক্ষিত, ২৮ স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত নেহার পতিত-ছায় জলাধার-জলে। শক্তি থাকে যদি, বিদ্ধ করি এই মীন-আঁখি, দ্রৌপদীর পত্নী বলে করই গ্রহণ। অর্জুন। অনুকূল হও প্রভু দেব-দিগম্বর । দেহ বল এ দাসের ক্ষুদ্র দেহমাঝে, ভক্তের সঙ্কটে রাখ সঙ্কট-নিবারি। লক্ষ্য-বিদ্ধ হয় যেন তব করুণায়। ০ ( এই বলিতে বলিতে তিনবার ধনুক প্রদক্ষিণ করিয়া কর্ণদত্ত গুণ খসাইয়া-অনায়াসে গুণ প্রদানান্তর ঘাের শব্দে অর্জনের পুনঃ পুনঃ টঙ্কার প্রদান। চতুর্দিকে বাদ্য ও শঙ্খধ্বনি; শ্রীকৃষ্ণের পুনঃ পুনঃ পাঞ্চজন্য শঙ্খনাদ ) - কি করি--কি করি। পূজ্যপাদ গুরুদেব- দ্রোণাচাৰ্য সভাতলে বসি ; গুরু-পাদপদ্ম দুইখানি- বাণযযগে না করিয়ে পূজা, কেমনে ধরিব ধনুর্বাণ । এত রীতি নয় ? শিক্ষাদান কালে আদেশিলা মম গুরুবর, রহিলে সম্মুখে আমি, বাণযােগে পাদপূজা না করি আমার ধনুর্বাণ ক’র’না ধারণ ? তা হইলে কোন কাৰ্য হবেনা- পূরণ।” *
আদিপর্ব ]
দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর {১ম গ)
এই অতি নিদারুণ অর্থকষ্ট-স্থলে,
কেমনে প্রকাশ করি ছদ্ম-পরিচয় ?
এদিকে অপূর্ণ হয় মম মনােরথ ।
উভয়-সঙ্কট মাের-কোন দিকে যাই?
হা গুরুদেব! ইষ্টদেব তুমি এ সংসারে !
মম শুভাশুভ ভার,
তব প্রতি সদাই অর্পিত।
এ কিঙ্কর পাদপদ্ম করিছে বন্দনা,
যেবা হয় তুমি করাে,--
কিছুই জানিনা আমি, তুমি ইচ্ছাময়।
( অলক্ষ্যে বাণযােগে দ্রোণাচার্যের
পাবন্দনা,--শিহরিয়া-
দ্রোণাচার্য্য। স্বগত) কে রে !
আমার যুগল পদে-
অপূৰ্ব শিক্ষার বলে করে বাণপূজা ?
এ পূজার অদ্ভুত পদ্ধতি
প্রাণ সম প্রিয়শিষ্য ধনঞ্জয় বিনা
ধরাধামে কেহ ত জানেনা ।
জয় জয় জনার্দন-জয় ভগন।
চিনেছি চিনেছি তােরে ওরে ছদ্মবেশি!
দ্রোণের প্রাণের প্রাণ ওরে প্রিয়তম।
অর্জুন কি তুই বাবা?
ও বাবা! জীবিত আছ তুমি ?
পুণ্যময়ী মা জননী কুন্তীদেবী সমে
আর ভ্রাতৃ চতুষ্টয় ল'য়ে-
সেই পাপ গৃহদাহ হতে
প্রাণে প্রাণে বেঁচে আছি বাপ?
=
স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত
প্রাণ ভরি’ করি আশীৰ্বাদ।
অনায়াসে লক্ষ্যভেদ করি
রাজ্যেরী করি দ্রৌপদীরে,
রাজ-রাজেশ্বর হও এ সংসার মাঝে!
দেখ দেখ কুরুপিতামহ।
একবার চেয়ে দেখ ওহে ভীষ্মদেব ।
এই স্বয়ম্বর-স্থলে অর্জ ন এসেছে।
ওই দেখ নীলকান্তি, নীলমণি জিনি'-
সেই বিশ্বআলােকয়ারূপ ভস্মে চাপা দিয়ে
দাড়িয়েছে ধনুর্বাণ ধরে!
ধনঞ্জয় সে রূপ লুকায়ে-
যােগী সেজে আমারে কি ভুলাইতে পারে ?
। আহা, কি বল হে আচাৰ্য-প্রবীণ !
বৃথা বিনয়-এবােধে
আর কি ভােলে হে এই সন্তপ্ত হৃদয় ?
ধরাধামে আছে ধনঞ্জয়,
এ কথা কি হয় হে প্রত্যয় ?
আর কি সে পাণ্ডবের চন্দ্রানন চুমি
প্রেমানন্দে ভাের রব আত্মহারা হয়ে ?
রাজলক্ষ্মী বধুমাতা কুন্তিভােজসুতা
এ সংসারে আছেন জীবিতা ?
দ্রোণাচার্য। শোক ত্যজ মহামতি।
আমি নিশ্চয় কহি, ওই সে অর্জুন।
আর মােয় নাহিক সস্তাপ।
দেখিবেন, অচিরে ফাঙ্কনী
এই মহালক্ষ্য বিদ্ধ করি
লভিবে দ্রুপদ-নলিনীরে।
ভীষ্ম। তব বাক্য হউক সফল মহাত্মন্ !
আদিপর্ব ) দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২২১
যদি এই জটাধারী ভিক্ষুক ব্রাহ্মণ
ছদ্মবেশী হয় ধনঞ্জয়--
তবে নিশ্চয়
অচিরে হইবে জয়বান,
ইথে আর নাহিক সংশয়।
ঘটনার চরম বিকাশ,
মিলনের অত্যস্তুত খেলা!
জয় সত্য-অবিনাশ জ্যোতি!
নিৰ্ম্মল পবিত্র ভাতি
প প মহা অন্ধকারে
চাপা দিয়ে রাখা যায় কভু।
অন্তর্ধান কর সুদর্শন !
পরিস্কার করি’ গম্যপথ
লক্ষ্য-বিদ্ধ দেখ দেখ লােকসাক্ষী হয়ে।
সুশৰ্মা। বলি ও ব্রাহ্মণ!
এতক্ষণে ভয় হ’ল নাকি ?
এখন দেখিলে বাপু! একি ছেলেখেলা ?
অর্জুন। জয় ধৰ্ম্ম ! জয় মা জননি।
(জলপাত্র-ছায়া দর্শনে হেঁটমুখে অতি ঘােরশব্দে তীরত্যাগ,
মৎস্য-চক্ষু বিদ্ধকরণ; চতুর্দিকে ঘাের কোলাহল
এবং পুরাভ্যন্তরে ঘন ঘন শঙ্খনাদ, আকাশ
হইতে অজস্র পুষ্পবৃষ্টি পতন, শ্রীকৃষ্ণের
ঘন ঘন পাঞ্চজন্য শঙ্খনাদ ইত্যাদি)
সকলে। বিধেছে বিধেছে লক্ষ্য বিধেছে বিঁধেছে।
জয় দ্বিরাজ। জয় হে পদয়া।
এস এস বা যাজ্ঞসেনি।
মালা দাও-মালা দাও-ভিখারীর গলে।
: ২২২২ স্বয়ম্বরপৰ্বাধ্যায় । [ মহাভারত ( ধীরে ধীরে দ্রৌপদীর আগমন এবং অর্জনের গলে মাল্য প্রদানােদ্যোগ; জরাসন্ধের ইঙ্গিতে নিরস্ত হওন।' - ব্রাহ্মণগণ। কি হ’ল কি হ’ল ওকি। कि হেতু নিরস্ত কন্যা মাল্য প্ৰদানিতে। জরাসন্ধ। রহ রহ দ্রুপদ-কুমারি ! অগ্রসর হইওনা আর। কোথায় বিঁধেছে লক্ষ্য—কি প্রমাণ তার? হীনবল নির্বোধ-ব্রাহ্মণ, সাধ্য কি দুর্গম-লক্ষ্যে করে লক্ষ্যস্থির? পুরুষত্ব বাহুবল কাছে মন্ত্র কি কুহক-বল তিষ্ঠে কতক্ষণ? পঞ্চক্রোশ মহাশূন্যে লক্ষ্য অবস্থিত, কেমনে নির্ণয় কর সে লক্ষ্য বিদেছে? কোথা মৎস্য কোথায় আমরা ;- কহ কহ বুদ্ধিমান নৃপতি-সমাজ । ইহারে কি লক্ষ্য-বিদ্ধ বলে ? সকলে। কথন না কখন না-হতেই পারেনা। ও কথা—কথাই নয় । লক্ষ্য-বিদ্ধ নয়, নয়, কখনই নয়। শকুনি। বলিলেই হ’ল কিনা-বড় সােজা কথা! বিরাট। কেন বৃথা কহ নৃপগণ ? প্রত্যক্ষ দেখিলে সবে, গম্ভীর গর্জনে উধাও ধাইল বাণ ছিদ্রপথযােগ ! এই দেখ স্পষ্ট ছায়া পড়িয়াছে জলে, এস কৃষ্ণা, মালা দাও ভিক্ষুকের গলে। শিশুপাল। সাৱধান-সাবধান! } আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২২২৩ একপদ আগুয়ান হইওনা' রমে। কি প্রমাণ, ওহে রুদ্ধ। লক্ষ্য যে'বিধেছে ? বিরাট। এই দেখ জলপাত্রে পূর্ণ প্রতিভাতে । দুর্যোধন। অসম্ভব-অসম্ভব কথা! কোথা ছায়া ? কিছুমাত্র নাহিক প্রমাণ। দূর করে দাও ভিক্ষুকেরে! এত স্পর্ধা! এখনাে দাঁড়িয়ে আছে হেথা ? ধৃষ্টদ্যুম্ন! ল’য়ে যাও তব ভগিনীরে যথাস্থানে, পুনঃ কর আবাহন! শিশুপাল। অথবা আবার যদি জ্যারােপণ করি বিন্ধিবারে পারে ও ভিক্ষুক, সত্য মিথ্যা তা হলে তখন বােঝা যাবে। জরাসন্ধ। অতি সার সদযুক্তি তব শিশুপাল ! আবার বিন্দুক দেখি—কত বড় বীর ? এখনি কুহকমন্ত্র সব বােঝা যাবে। অর্জুন। কেন বৃথা দ্বন্ধ কর ওহে সত্যসন্ধ নৃপতি-নিকর ? প্রত্যক্ষ প্রমাণ চিহ্নে কেন মিথ্যা ভাষ? মিথ্যার প্রশ্রয় কোথা-কোথা হয় জয়। একবিন্দু সত্যের স্ফুলিঙ্গমাত্রে যদি মিথ্যার পৰ্বত দিয়ে কর আবরণ, অচিরাৎ ভস্মসাৎ হয় সে পর্বত, আগ্নেয়গিরির মহা অগ্নদগম প্রায়। কিম্বা যদি মিথ্যার নিকৃষ্টবৃত্তি হয়ে মহাসত্যে কর হেন মীচ অনাদর, স্বার্থ হেতু ধৰ্ম্মে যদি কর পদাঘাত, এখনি সত্যের বল দেখ পুনঃ সবে! লক্ষবার জ্যারোপণ করি ~~~~~~ ২২৪ স্বয়ম্বরপাধ্যায়। ~~~~~~ [ মহাভারত 1 লক্ষবার বিন্ধিবারে পারি মীন-খি, বারেকের কথা কি বল ? কিন্তু তাহে নাহি প্রয়ােজন- পুনঃ পুনঃ লক্যের বিন্ধন ক্ষত্রিয়ের সত্যপণ নহে; অথবা তাতেই কেবা করিবে প্রত্যয় ? যতবার আমা হতে লক্ষ্য-বিদ্ধ হবে,, ততবার মিথ্যা বলে করিবে প্রচার ! দেখ দেখ ভূপতি সকল! অবহেলে মীনসহ মীনের নয়ন, কাটিয়া পাড়িব সভাতলে ;- স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করি’ সত্য মিথ্যা এখনি পাইবে সুপ্রমাণ। t (কথিত উপায়ে ঘাের গৰ্জ্জুনে শরত্যাগ, অবিলম্বে মৎস্য কাটিয়া ভূমিতলে নিপাতন; চতুর্দিকে ঘাের কোলাহল, বাদ্যধ্বনি, শঙ্খনাদ, : শূন্য হইতে ঘন ঘন পুষ্পবৃষ্টি) অন্যান্য সকলে। জয় জয় দিল। প্রমাণ প্রত্যঙ্গে পরিণত । এই দেখ—এই দেখ, বাণ-বিদ্ধ মীন-আঁখি ভূতলে পতিত। জরাসন্ধ। একি একি অত্যভুত অলৌকিকৰল। সত্য কি? অথবা স্বপ্ন দেখি! পথের ভিখারী হয়ে লকের বক্ষের রত্ন কাড়িল অনা’সে ? ওহে মহারাজ যুসেন।
আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) হ’ল ভাল-হ’ল ভাল- জামাতা হইল ভাল পথের কাঙ্গাল। কীচক। যা—সব ভেসে গেল! আর কি-নিরাশা। আর কোন বাধা নাই—এসলো সুন্দরি। বরমাল্য দাও তুলে ভিখারীর গলে! দ্রুপদ। কি হ’ল-কি হল! অবশেষে এই ছিল কৃষ্ণার কপালে, সামান্য দরিদ্র ভিক্ষু হইল জামাতা ? হা হতবিধে ! ধৃষ্টদ্যুম্ন। হ’ল হ’ল সব হ’ল ! স্বয়ম্বর ফুরাইল !! ভিক্ষুকের পত্নী হ'ল রাজার নন্দিনী। শিশুপল। আর বৃথা কাদিলে কি হবে ? ঠিক পেলে-কাৰ্যের মতন প্রতিফল! ওগো কন্যে ! আর কেন আছ দাড়াইয়ে ? এখন ত মাল দান কর ; তারপর ভিখারিণী সেজো- আর পথে পথে কেঁদো! দ্রৌপদী। ঈশ্বর ! সহায় হও! ( অৰ্জ্জুনের গলে মাল্য প্রদানােদ্যোগ, অর্জুন কর্তৃক ইঙ্গিতে নিবৃত্ত হওন) শকুনি। এই বাবা! পথে এসে চাঁদ! ও বাবাজীও বাবাজী। ব্র এক কাজ কর- এখনো উপায় আছে—পেলেও পেতেও পার। ব্রাহ্মণ করিল মানা-বরমালা দিতে। তার অর্থ বােঝনি কি বাবা ? সু ২৭৯
স্বয়ম্বরপাধ্যায়।
[ মহাভারত
ওটা পথের কাঙ্গাল,
রাজকন্যা নিয়ে ওর কোন কাজ হবে?
কিছু বেশী অর্থ পেলে,
এখনি বেচিতে পারে!
হেথায় অগণ্য রাজা রয়েছে বগিয়ে,
উহার মনের ভাব কেহই বােঝেনি।
তুমিই প্রথমে হাঁক কিছু বেশী পণে,
ঠি তালে লেগে যাবে বাবা!
দুৰ্য্যোধন। তুমিই যা হয় কর,
বিঘূর্ণিত মস্তক আমার!
শকুনি। ওরে শােন্ শশান্ দূত!
শীঘ্র এই কথাগুলি
চুপি চুপি ব্রাহ্মণের কর্ণে গিয়া বল!
(কাণে কাণে প্রকাশ)
বুঝিলি তবুঝিলি ত ?
দূত। সমস্ত বুঝেছি প্রভা।
( অৰ্জ্জুনের নিকটে দূতের আগমন)
অবধান ব্রাহ্মণ-কুমার।
চক্রবর্তী-সম্রাট ধনে দুৰ্য্যোধন
পাঠালেন তব কাছে অতি প্রয়ােজনে।
কায়মনে পাল তঁার অমুল্য আদেশ।
এই নব-জিতা কন্যা দ্রুপদ-বালারে
কি মূল্যে ছাড়িতে পা রাজ্যেশ্বর-পদে?
বুঝে দেখ, পরম সৌভাগ্য আজি তব।
যদি ইচ্ছা কর, তার সমাঝে
হতে পার প্রধান সুমান্য পারিষদ,
নানা ধন রত্ন সনে রাজ্য বহুতর,
আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২২২৭ । অথবা শতেক চাও সুবেশা সুন্দরী? কোন্ পণে যেচিতে পারহ দ্রৌপদীরে আরেরে নিকৃষ্ট অনুচর। কি কহিব, দুত তুই—অবধ্য আমার ! নহে এক পদাঘাতে এখনি চূর্ণিত হত ওই পাপমুখ ! যারে মূঢ়! বল, গিয়ে মহাপাপী নরকের কীট দুৰ্যোধনে, কোন মূল্য পেলে, মম পদে সে তার আপন পত্নী এনে দিতে পারে ? কি দিলে সে শঠ নরাধম, অমাত্য বান্ধব শত সহােদর সনে আমার কিঙ্কর হয়ে পদসেবা করে । ছলনায় রাজ্য লভি’ এত অহঙ্কার। দূর হ’রে পাপসঙ্গী পাপ-অনুচর! আরো তবে শুন শুন সভাস্থ-নিকর। এই জিনিলাম আমি দ্রুপদ-নন্দিনী বাহুবলে লক্ষ্য-বিদ্ধ করি’! যার যেবা আছে মনে সাধ’ বিধিমতে, চলিলাম নিজ স্থানে। ( দ্রৌপদীকে লইয়া সদম্ভে প্রস্থান) কর্ণ। কি কি—এত স্পর্ধা নীচ ভিক্ষুকের ? মহারাজ দুৰ্য্যোধনে হেন কটুবাণী ? চল সখা, চল চল কুরুবীরগণ! অত্যাচারী দুৰ্ব্ব ও ব্রাহ্মণে সমুচিত শাস্তি দিয়ে—কন্যা কাড়ি লই। শকুনি। এইবার এতক্ষণে গড়াল’ বাবাজী। { স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত কোন্দিকে যাবে বাবা? যেমন করেই হােক—পদ-তনয়া দ্রৌপী, যাবেই যাবে তােমারি ভবনে। কুরুপক্ষীয়গণ। জয় জয় মহারাজ দুৰ্য্যোধন-জয়! বধ' বধ’ দুৰ্ম্মতি ৰাহ্মণে! ( হুহুঙ্কার করিতে করিতে কুরুপক্ষীয়গণের সহিত কতিপয় রাজার প্রস্থান) জরাসন্ধ। বামনের হেন অহঙ্কার- সহ নাহি হয় আর । আরে ম! শশধরে ধরিতে কামনা ? এস বীরগণ। সদলে দ্রুপদপুরী করি আক্রমণ। এ সকলি দ্রুপদের দোষ! ভারতের রাজগণে মান হরিবারে, অবশ্যই পূৰ্বাবধি ছিল অভিপ্রায়। দু’দলে বিভক্ত হও হে বীরেন্দ্রদল । একদল পদে সবংশে বিনাশিয়ে, অন্যদল ব্রাহ্মণের সনে দ্রৌপদীরে খণ্ড খণ্ড করি’ রাজ্যদেশ করি’ ছারখার, ফিরে চল থধামে সকলে। এস এস মুহূৰ্ত্ত না করি অতিপাত, কোটী বজ্রাঘাত হানি দ্রৌপদীর বুকে ! অপমানে প্রাণহানি নীতিশাস্ত্রবাণী । বহুকষ্ঠে। বধ’ বধ’ দ্রুপদের আত্মীয় স্বজনে, অন্তঃপুর পােড়াও অনলে, ছারখার কর রাজপুরী। ?
আদিপর্ব ]
দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ)
ধৃষ্টদ্যুম। পিতা-পিতা-
সসৈন্য প্রস্তুত হন ত্বর,
শীঘ্র যান অন্তঃপুরে।
পুরীরক্ষা করুন সবলে,-
সর্বনাশ—সর্বনাশ হ’ল উপস্থিত।
দ্রুপদ। সাজ সাজ সৈন্যগণ-সাজ’ সেনাপতি।
অত্যাচারী দুৰ্বত্ত নৃপতি দস্যগণে-
সমুচিত শাস্তি দাও-রক্ষ’ রাজপুরী।
যুধিষ্ঠির। ভীম ! ভীম! শীঘ্র যাও,
দ্রুপদের কর সহায়তা প্রাণপণে।
মােরা যাই অজুনে রক্ষণে !
যাও-যাও-বিলম্ব না কর আর।
( মার মার শব্দে ভীমের উত্থান, রাজগণের সহিত ঘােরযুদ্ধ ;
চতুর্দিকে হাহাকার, আর্তনাদ, কোলাহল ;
রাজসভা ছিন্নভিন্ন হওন)
বলরাম। কহ কৃষ্ণ, কি হবে উপায় ?
কেমনে বা ধনঞ্জয় দ্রৌপদীর সনে-
রক্ষা পাবে এ ঘাের সমরে ?
লক্ষ রাজা একত্রে মিশিল,
একেশ্বর কেমনে যুঝিবে ধনঞ্জয়।
এদিকে যে দ্রুপদের মহা সর্বনাশ !
শ্রীকৃষ্ণ। কিছুমাত্র নাহি ভয়,
পাণ্ডবের অলৌকিক বল।
কার সাধ্য অৰ্জ্জুনেরে করে পরান্মুখ ?
ভীমার্জুন নিমেষে লক্ষেরে বিনাশিবে।
এস দাদা, অলক্ষ্যে নেহারি মহারণ।
( প্রস্থান)
২২৩০ স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাস্থরত দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক ( অন্তঃপুরের সম্মুখ) বেগে দ্রুপদ, সেনাপতি ও সৈন্যগণের প্রবেশ। প। হা বীরেন্দ্র সত্যজিৎ! সর্বনাশ হ’ল উপস্থিত। কে জানিত প্রলয় ঘটিবে- দ্রৌপদীর শুভ স্বয়ম্বরে। কি হবে-কি হবে—দ্রৌপদী আমার কেমনে বাঁচিবে প্রাণে। ওরে, ভিখারীর গলে পড়িল প্রাণের যাজ্ঞসেনী। কি হ’লরে-কি হ'বে উপায় ! ওই দেখ সেনাপতি! আসে শিশুপাল- জরাসন্ধ আদি মূখ নৃপতির পাল ! সাবধান! অন্তঃপুর কর রক্ষা সবে! ( জরাসন্ধ প্রভৃতি অগন্য রাজার প্রবেশ) জরাসন্ধ। আক্রম’ হে শিশুপাল! সসৈন্য পদে। দুরাত্মারে সবংশেতে করিয়ে নিধন, রাজরাণী আর আর পুরনারীগণ কেশপাশে করিয়ে বন্ধন, চল সবে লয়ে যাই নিজ নিজ ধামে। চাহিনারে দ্রৌপদীরে—চাহি তার জননীরে। কাৰ্যের মতন তারে দেহ প্রতিফল!
~~~~ আদিপর্ব । দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২২৩১ সত্যজিৎ। এত স্পর্ধা! নীচ মুখে হেন উচ্চভাষ! যে মুখেতে হেন রাণী কৈলি উচ্চারণ- শতবার সেই মুখে করি পদাঘাত। আরে মূখগণ ! এই কিরে ক্ষাত্ৰধৰ্ম্ম-বীরত্ব-বিধান। সভামাঝে হয়ে অপমান, এসেছিস্ বীরত্ব দেখাতে কুলাঙ্গনা ললনা-সমাজে? শিশু পাল। চুপ, করু-পাপ-সহচর! নীতিজ্ঞান হবেনা শেখাতে মাে’সবারে ; যেমন রাজার তার তেমনি সচিব! কেন বৃথা কালব্যাজ কর বীরগণ। একেবারে জ্বলন্ত উলুকা সম বেগে চল পড়ি পাপিঠের সৈন্যদল মাঝে । (ঘাের হুহুঙ্কারে সৈন্যগণের উপরে পতন; উভয়পক্ষে ঘােরতর যুদ্ধ ;—অবশেষে অত্যন্ত আহত হইয়া) সত্যজিৎ। প্রাণ যায় মহারাজ! আর রক্ষা নাই ! গেল গেল সব ছারেখারে। ( আহত হইয়া প্রস্থান ও সৈন্যগণ রণে ভঙ্গ দেওন) জরাসন্ধ। এইবার কি হয় -কে রাখেরে দ্রুপদ? ( উভয়ের যুদ্ধ ও দ্রুপদ পরাস্থ হওন) কেমন, হ’ল ত পূর্ণ স্বয়ম্বর-সাধ ? এখনাে হয়েছে কিরে! হস্তপদ-বন্ধন দশায়- থাক এই স্থানে বসে। অচিরে দেখিবি মহাপাপী।
২২৩২
স্বয়ম্বরগৰ্বাধ্যায়।
[ মহাভারত
তাের রাণী, আর আর পুরনারীগণে
কেশে ধরি করিয়ে প্রহার,
তাের মুখ উজ্জ্বল করিয়ে
তােরই সম্মুখ দিয়ে বেধে লয়ে যাব।
(প্রজ্জ্বলিত মশাল হস্তে সুশৰ্মার প্রবেশ)
সুশৰ্মা। ওদিকে শুনেছ কিছু জরাসন্ধ বীর!
উঠিতেছে অনিবার হাহাকার ধ্বনি ।
দ্রুপদের প্রজাদের প্রতি ঘরে ঘরে।
নগর সম্পূর্ণরূপে হয়েছে লুষ্ঠিত।
লক্ষ্য-বিদ্ধকারী সেই দুৰ্বত্ত ব্রাহ্মণ,
এতক্ষণে বােধ হয় হয়েছে পতিত
মহাবীর কর্ণের সমরে।
এই যে দ্রুপদরাজে করেছ বন্ধন।
তবে আর কি হেতু বিলম্ব কর ?
অন্তঃপুরে পশি
নারীগণে চল বেধে আনি।
তারপর দ্রুপদের সমস্ত প্রাসাদ
অগ্নি দানে করি ভস্মীভূত,
ধৃষ্টদ্যুম্নে দ্রৌপদী শিখণ্ডীসনে
পদেরে পোড়াব অনলে !
সকলে। চল চল, অন্তঃপুর করি আক্রমণ।
(বেগে অন্তঃপুর মধ্যে রাজগণের প্রবেশ; নেপথ্যে
বামাকণ্ঠে ঘােরতর হাহাকার ; দ্রুপদ
অস্থির হইয়া)
দ্রুপদ। কি হল—কি হ’ল ওরে ।
হরিষেতে হলাহল সমুৎপন্ন হ'ল?
দ্রৌপদীর স্বয়ম্বরে এই লাভ হল?
আদিপর্ব । দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২২৩৩
হা হরি ! বিপদহারী শ্রীমধুসূদন!
রক্ষা কর-রক্ষা কর দীন-দ্রুপদেরে,-
সবংশে নির্বংশ হই আজ ।
( প্রকাণ্ড বৃক্ষ স্কন্ধে করিয়া অতি ভীমমুর্তি বেগে
ভীমসেনের প্রবেশ )
ভীম। কোথা হতে উঠে আৰ্তনাদ ?
একি। মহাত্মা দ্রুপদজা বন্ধন দশায় ?
হেথা কি দর দল করেছে প্রবেশ ।
দ্রুপদ। কে তুমি হে বীরেন্দ্র-পুরুষ!
রক্ষা কর আহত দ্রুপদে।
জরাসন্ধ, শিশুপাল, দন্তবক্তৃ আদি
বহু বহু মহাবীর একত্রে মিশিয়া
এ অবস্থা করেছে আমার ;
সেনাপতি সত্যজিৎ বিকলাঙ্গ হয়ে
অগণিত সৈন্যসনে ভঙ্গ দে’ছে রণে।
আমি মরি তাহে ক্ষতি নাই;
বৰ্বর দর দল--
অন্তঃপুরে করেছে প্রবেশ!
ওই শুন ঘন ঘাের ওঠে হাহাকার!
সাধ্য থাকে যদি,
বামাগণে করিয়ে উদ্ধার
সতীধৰ্ম্ম রক্ষা কর দেব!
( ইত্যবসরে দ্রুপদকে মুক্ত করিয়া)
ভীম। ভয় নাই—ভয় নাই—উঠ মহারাজ।
বীরবলে এস পশি অন্তঃপুর মাঝে ।
ব্রাহ্মণের হের ব্রহ্মবল!
নেহার এ নিষ্পত্র প্রকাণ্ড তরুবর,
২৮০
२२७8 স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত শমনের মৃত্যুদণ্ড প্রায় দেখাইবে অচিরে যমের মৃত্যুদ্বার ! কি ভয়? ধর্মের জয় হেরিবে অচিরে! ( বেগে অন্তঃপুর মধ্যে উভয়ের প্রবেশ নেপথ্যে ভীম। (বজ্রকণ্ঠে ) আরে নরকের কীট মহাপাপিগণ। ক্ষত্রিয়ের রাজধৰ্ম্ম ইহা ? অন্তঃপুর-আবদ্ধা-মহিলাকুল মাঝে এসেছি বীরত্ব দেখাতে কোন মুখে ? আরে পশু ! আরে চোর! আরেরে লম্পট। সতীধৰ্ম্মে কর হস্তক্ষেপ। দূর হ'রে দুরাত্মারা। আজি দুর্দম শমন- মূর্তিমান ত’ সবার কাছে । ( দন্তবক্র প্রভৃতির অন্তঃপুর হইতে বেগে বহিরাগমন ; মহামার করিতে করিতে ভীমের পশ্চাদ্ধাবন) শিশুপাল। পলাও পলাও সবে! কালমূর্তি ধরে - আসিয়াছে আপনি শমন ; রক্ষা নাই আর, ছারখার করিল পলকে। ভীম। কর্মের উচিত প্রতিফল-- লভ ওরে দুরাশয়দল ! তােদের পাপের ভারে ধরসতী সদাই পীড়ি। আরে পাপ! সবারে সমূলে ধ্বংস করি ধরার বিষম ব্যথা ঘােচাব অচিয়ে ! সকলে। আমি নই—আমি নই—ছেড়ে দাও মোরে, ~~~~ আদিপর্ব ) দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) স ২২৩৫ প্রাণ ল’য়ে ঘরে ফিরে যাই এ পথে কখন আসিব না, দোহাই ধর-বাপ? ( ভীমের প্রচণ্ড আঘাতে সকলের হাহাকার করিতে করিতে প্রস্থান। নেপথ্য হইতে আতঙ্ক মিশ্রিত বামাকণ্ঠে পুনঃ পুনঃ ঘাের আৰ্তনাদ ইত্যাদি) ভীম। পুনঃ কেন বামাকণ্ঠে উঠে আৰ্তনাদ ? ওরে ওরে ওকি সর্বনাশ। অকস্মাৎ বদগ্ধপ্রায়- কেন জলে দ্রুপদের বিস্তৃত প্রাসাদ। হায় হায়, প্রাণাধিকা তনয়ার শুভ স্বয়ম্বরে, পাইল দ্রুপদরাজ শেষে এই ফল? অবশেষে গৃহদগ্ধ হয়ে আহাহা! সপরিবারে পুড়িবে দ্রুপদ! এখন একাকী আমি কোন্ দি রাখি? অর্জুন কেমনে আছে? তার কিবা হ'ল ? কে দেয় আমারে এনে প্রকৃত সংবাদ ? যা থাকে কপালে- পুনঃ পশি অন্তঃপুর-স্থলে! মহারাজ! মহারাজ । হও সাবধান। রক্ষ প্রাণ-সমস্ত সংসার। ( জ্বলন্ত অনল মধ্যে প্রবেশশাদ্যম) ওহহ, মনে পড়ে জতুগৃহদাহ! এই জ্বলজ্বলন মাঝে ২২৩৬ স্বয়ম্বরপৰ্বাধ্যায়। [ মহাভারত . হুতাশন রূপ ধরে, বুক দিয়ে চার ভা’য়ে আর জননীরে, রক্ষেছিনু পিতৃদেব পবন সহায়ে ! আজি পুনঃ অগ্নির বিপদে যক্ষ রক্ষ’ কোথা মা জননি আজি দ্রুপদ-নন্দিনী সনে প্রাণের অর্জুনে যেন নিয়ে যেতে পারি তােমার চরণ পাশে। জয় ধর্ম—জয় মা জননী ( প্রস্থান, ক্ষণপরে অনল ভেদ করিয়া ভীম ও দ্রুপদ সুশৰ্ম্মার হস্তাকর্ষণ করিতে করিতে পুনঃ প্রবেশ) ভীম। আরে পাপী, তাের এই কাজ? চুপি চুপি চুরী করি’ অন্তঃপুরে পশি’ নিজ হাতে অগ্নি দিলি সজ্জিত প্রাসাদে ? ধিক্ তাের জীবনে-জনমে! এবারো আমার হাতে রক্ষা পেয়ে গেলি । বধিলে-তোর মতন নরকের কীটে, হস্ত মােন হ'বে কলঙ্কিত। এই নে’--উচিত মত শাস্তি পেয়ে যা’! (এক পদাঘাত ; রক্ত-মন করিতে করিতে গড়াইতে গড়াইতে সুশৰ্মার রক্তাক্তদেহে প্রস্থান) বিলম্ব না কর মহারাজ । শীঘ্র যাও-অন্তঃপুর রক্ষা কর আগে! দ্রুপদ। কে তুমি হে ছদ্মবেশী! পরিচয় দেহ এ বিপন্ন জনে, এত দয়া দয়াময় অধীনের প্রতি ?
আদিপর্ব । দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২২৩৭ কি দিয়ে পূজিব পা দুখানি ? ভীম। সে কথা এখন নৃয়, দিন পাই যদি, অবশ্যই পেতে পার সভ্য পরিচয়। • • এখন যে প্রাসাদ অনলে ভস্ম হয় ; যাওাও-যেরূপেতে পার, নিবাও জ্বলন্ত অগ্নি-রক্ষ রাজপুরী। (দ্রুপদের প্রস্থান; বেগে নকুলের প্রবেশ ) নকুল। দাদা, দাদা, শীঘ্র এস, বীর অর্জনের আজি বিষম বিপদ! কৌরবীয় বীরবৃন্দ সবে সমবেতে বহ্নিবৃষ্টি করে বাণমুখে ! একা তিনি, তাহে পুনঃ পশ্চাতে দ্রৌপদী। ঘোরতর বিভীষণ রােষে- উন্মতের প্রায় যেন সৃষ্টি নাশিবারে, সব্যসাচী দুই করে বাণ বরিষয়, তথাপি না টলে বৈরীচয়। লক্ষবীর একত্রে মিশেছে, এস দাদা, শীঘ্র এস অর্জুন-সহায়ে! ভীম। বটে বটে—অর্জুনের এহেন শঙ্কট। চলরে নকুল শীঘ্র চল । পূজ্যপাদ যুধিষ্ঠিরে আর সহদেবে লয়ে অন্তরালে থাক্ লুকাইয়ে ; দেখ আজ মুঢ়গণে কি দুর্দশা করি। লক্ষ মাথা এককালে ঠোকাঠুকি করি চূর্ণ করে ফেলে দিব যমুনার জলে! মা মা ভীরু ফেরুপালে। (বেগে প্রস্থান) ।
২২৮ স্বয়ম্বরপাধ্যায়। { মহাভারত তৃতীয় গর্ভা। (রণস্থলের এক পাশ্ব) তরুতলে ভয়-ব্যাকুলা দ্রৌপদী। দ্রৌপদী। অন্ধকার-ঘাের অন্ধকার বাণে বাণে আচ্ছন্ন চৌদিক। একি বিপরীত, মধ্যাহ্নে স্তীমিত দিনদেব । ওহাে, ঘাের বাণের গর্জন। শ্রবণ বধির হল— কোথা যাই—কোথা রক্ষা পাই। কই প্রভু, কোথা তুমি গেলে আর যে তােমারে আমি দেখিতে না পাই? রাচ্ছন্ন অন্ধকার মাঝে- তুমি যে অদৃশ্য হলে। পুনঃ একি লক্ষ বজ্রাঘাত। একবার বিদ্যুতের ক্ষণপ্রভা মত পলকে ঝলসি’ দিক্দেশ- একি এ এদীপ্ত বাণ অমােঘ সন্ধান! ধন্য পতি! ধন্য শিক্ষা তব! যেন কি কুহকবলে--মহা মন্ত্রবলে- কোটী খণ্ডে কাটিলে-অনন্ত শরজাল! প্রভু-প্রভু! আর ভয় নাই, দিব্যচক্ষে দেখিতেছি দিব্যকান্তি তব। সুনিবিড় জটাজাল জ্বলে জ্বল জ্বল, শৌর্য বীৰ্য্য জ্বলন্ত-অনলে আদিপর্ব। দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম লগ ) ২২৩৯ । ওই যে জ্বলিছে সৰ্ব্বদেহ! অবিরাম ক্ষিপ্রহন্তে বাণের গর্জনে, নবঘনাবৃত গিরিপৃষ্ঠদেশে, দোদুল্য সর্পের মত ওই যে প্রভুর পৃষ্ঠভাগে দোলে শুভ্র যজ্ঞ-উপবীত । ধন্য ধন্য অস্ত্রশিক্ষাঁধন্য বীরপতি। ওকি ওকি সমুদ্রকল্লোল ! অগণিত বীরেন্দ্র নৃপতি ধনুর্ধর পুনঃ যে ধাইল হুহুঙ্কারি। কি করি—কি করি। এবার কেমনে আত্মরক্ষা করিবেন পতি ওহহা-ওহো-চক্ষে আর দেখিতে না পারি । কোটী কোটী-কোটী কোটী-উল্কাসম শর আমারে বিধবা করিবারে আকাশ ছাইয়া আসে মম স্বামী পানে, এবার নিশ্চয় রক্ষা নাই। যাইরে আমিও যাই—পাশেতে দাঁড়াই, বুক পেতে বজ্র লই, যা যা পাপদেহ ভন্ম হয়ে যাক! প্রভু-প্রভু! দাড়াও-দাড়াও। দুইজনে একসঙ্গে পুতি শরানলে ! ( প্রস্থান ও বেগে ধৃষ্টদ্যুম্নের প্রবেশ) ধৃষ্টদ্যুম। ভয় নাই—ভয় নাই—শুনহ ভগিনি। অলক্ষ্যে তােমারে রক্ষা করিতেছি আমি। মহাবীর লক্ষ্য-বিদ্ধকারী দ্বিজবর, উড়াইবে শরজাল চক্ষের পলকে।
২২৪০ স্বয়ম্বরপৰ্বাধ্যায়। [ মহাভারত ইন্দ্র চন্দ্র কুবের বরুণ হুতাশন- অথবা স্বয়ং শূলধারী ত্রিলোচন।। কে তুমি হে অবতীর্ণ ছদ্মরূপ ধরি? মরি মরি! এ হেন বীরত্ব অলৌকিক নরলোকে কে দেখেছে কবে? একেশ্বর যুঝিতেছে লক্ষ ভূপসনে, লক্ষরাজা জ্বর জ্বর মহা অস্ত্রাঘাতে! ওহাে! ওকে ওকে? মদোন্মত্ত মাত্তঙ্গের প্রায় নলবন পদাঘাতে দলনের ন্যায় ধ্বংস বিপর্যস্ত করে লক্ষমাজ-প্রাণ? ওরে—ওরে, ভয়ঙ্কর কি ঘাের মূরতি । নিষ্পত্র প্রকাণ্ড শালতরু- মহাবেগে চতুর্দিকে করিছে ঘূর্ণন, ক্ষুদ্র শশকের প্রায় হীনবীৰ্য্যগণ দলে দলে হ’তেছে পতিত। অহাে ! কিবা হুঙ্কার নির্ঘোষ, লক্ষ লক্ষ যেন বজ্রাঘাত! কেবা এল রুবেশে সাক্ষাৎ শমন ? কার পক্ষ হ'য়ে ওকে এল ছদ্মবেশী । নেপথ্যে অর্জুন। ভয় নাই—ভয় নাই—পদ-ঝীয়ারি। স্থির হয়ে বামপাশে লইসে আশ্রয়। দেখ আজি দুর্বিনীত দুষ্ট দস্যুদলে, কি দুর্দশা করি অবহেলে! (কেশিনীর প্রবেশ) কেশিনী। সর্বনাশ হ'ল—সর্বনাশ হ’ল যুবরাজ! অন্তঃপুর গেল ছারেখারে।
আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২২৪১ 6 রাণীমা আর আর পুরনারীগণে পেয়েছেন প্রাণ বটে অতীব সূঙ্কটে ; : কিন্তু হায় যুবরাজ ! আর বুঝি রক্ষা নাহি হয়, দুষ্টরাজগণে প্রাসাদে আগুণ দে’ছে। মহারাজা বড়ই অস্থির, কি হবে-কি হবে যুবরাজ? ধৃষ্টদ্যুম্ন। যাই হ’-যা হবার হবে। পিতারে বলহ গিয়ে, কোনমতে রাজপুরী রক্ষা করিবারে। দ্রৌপদীরে কেমনে ত্যজিয়ে যাব ? সাধ্যমত আমি তারে রক্ষা করিতেছি, ওই দেখ সভয়ে কাঁপিছে যাজ্ঞসেনী। লক্ষ্য-বিদ্ধকারী সমরে দুর্জয় দ্বিজবর, ওই দেখ দ্রৌপদীরে স্থাপি’ বামদেশে- পশুপতি সম মহাবীৰ্য করিয়ে প্রকাশ, লক্ষরাজে বিধ্বস্ত করিছে একেশ্বর। ভয় নাই—ভয় নাই-কহ মহারালে, দ্রৌপদী ও ধৃষ্টদ্যুম্ন এখনো জীবিত! পুরীরক্ষা করুন সৰ্ব্বতােভাবে আগে। কেশিনী। রক্ষা কর কোথা মহেশ্বর। একি সর্বনাশ হ'কৃষ্ণা-স্বয়ম্বরে ? (কেশিনীর প্রস্থান ও কীচকের প্রবেশ ) কীচক। আরে আরে ধৃষ্টদ্যুম্ন দ্রুপদ-সন্তান। এই স্থানে পলাইয়ে রক্ষা কর প্রাণ। ২৮১ ২২৪২ স্বয়ম্বরপৰ্বাব্যায়। [ মহাভারত ০ আয় নরাধম ! অপমান শোধ ই তাের প্রাণ, বধি ( উভয়ের ঘোর যুদ্ধ ; অবশেষে কীচকের গদাঘাতে বিকলাঙ্গ হইয়া কাতরে) ধৃষ্টদ্যুম। প্রাণ যায়—প্রাণ যায়—কোথা রক্ষা পাই? যাই যাই ব্রাহ্মণের লই কৃপাশ্রয়। কীচক। কোথা যাবি শমনে এড়ায়ে ! (প্রস্থান; হাহাকার করিতে করিতে সুশৰ্মা প্রভৃতি কতিপয় রাজার প্রবেশ সুশৰ্মা। ও বাবা-ও বাবা-কোথা যাব। ওদিকে জ্বলন্ত বাণ— এদিকে প্রকাণ্ড গাছ! ওরে! ধুলাে উড়ে গেল রে-ধূলাে উড়ে গেল । চুল ধরে—আর গাছ তুলে মায়ে! ওরে বাবা ! একি মহামার! গন্ধৰ্ব্ব ছুটিয়ে দিলে রে- গন্ধৰ্ব ছুটিয়ে দিলে। ও বাবা! আবার এমু হেথা? কুম্ভকার চাকার মতন বন্ বন্ করে ঘুরে মরি! ওয়াক-ওয়াক!~~ ( রক্ত বমন) ও বাবারে! যত রক্ত ছিল মুখ দিয়ে সব উঠে গেল। এইবার-ওয়াক ওয়াক- = আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) २२४७ প্রাণটাও বমী করে ফেলি। যাক—যাক—বমনেই যা! গাছ খেয়ে মরা চেয়ে আপনই যাক। নেপথ্য ভীম। মামার! চূর্ণ কর-হাড় চূর্ণ কর। পিষে ফেল! দে’ উড়ায়ে তুলার মতন। সুশৰ্ম্মা। ও বাবা। আবার সেই গাছ। আবার যে এদিকেই আসে। ওদিকে বাণের টা- এদিকে গাছের আড়া! স্বয়ম্বরে সেজেগুজে বিবাহ করিতে এসে, অবশেষে এই হ’ল বাবা। বিঘােরে প্রাণটা গেল । ত (মহামার করিতে করিতে ভীমের প্রবেশ) ভীম। মা মার-ক ছারখার। হুম্ হুম-হুম হুম্ ছাড়রে বিকট হুহুঙ্কার। উনপঞ্চাশ মূরতি ধরে- সন্ স স সন হােই-হােই প্রলয়ের গভীর নিনাদে । উড়ারে তুলার মত যে যেখানে আছে। দে দে দে দে-নরকের শত দ্বার খুলে ! হৈ হৈ হৈ হৈ- গুম গুম হুম হুম -
২২৪৪
স্বয়ম্বরপাধ্যায়।
[ মহাভারত
সে হকারদে হুঙ্কার!
মা-মাক ছারখার।
(মহামার করিতে করিতে রাজগণকে তাড়না করণ ও
সকলের প্রস্থান; শ্রীকৃষ্ণ এবং
বলরামের প্রবেশ)
বলরাম। দেখ কৃষ্ণ, প্রলয় ঘটিল স্বয়ম্বরে।
পূৰ্বেইত বলেছিনু ভাই,
আজিকার বয়ম্বরে
পাণ্ডবের বড়ই বিপদ ?
এই দেখ লক্ষ একত্র হইয়া
মহাবেগে ভীমার্জনে কৈল আক্রমণ।
জরাসন্ধ রাজগণসনে করিছে মন্ত্রণা,-
যে কোন উপায়ে পারে মারিয়া অর্জনে,
মহারাজ দুৰ্য্যোধন-করে
দ্রৌপদীরে করিবে অর্পণ।
ওই দেখ অঙ্গরাজ দুর্যোধন-সখা
পুনঃ আসি বেলি অর্জুনে!
এই মহাসমরের মহাসিন্ধু মাঝে
কেমনে পাইবে কুল দরিদ্র পাণ্ডব ?
হা যাদব ! কি উপায় বল?
শ্রীকৃষ্ণ। পাণ্ডবের সদুপায় নাহি স্থির করি,
আমি কি সুস্থির হতে পারি পূজ্যপাদ ?
সত্য বটে লক্ষের তাড়না
একের অসহ অতি ;
কিন্তু ওহে রেবতীর পতি!
মহাখী অর্জনে কি ভাব একজন।
আদিপর্ব ) দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২২৪৫ । সে কথায় নাহি প্রয়ােজন। পৃথিবীর বীরত্ব মন্থিয়া সৃজিত হয়েছে 'ভীমার্জুন। কার সাধ্য ইহাদের পারে টলাইতে। তার সাক্ষ্য প্রত্যক্ষ প্রমাণ হেয় দাদা। সেই—এক স্থলে-মহাবীৰ্যবলে ধনঞ্জয় আছে দাইয়া সুকোমল। দ্রৌপদীরে লয়ে বামভাগে। অর্জুনের অলৌকিক বীরত্ব নিরখ, কার সাধ্য ধনঞ্জয়ে সমরে বিমুখে ? পুনঃ দেখ দূরে, অতি ভীম ভীমসেন মহা বলবান- মহামার করে রণস্থলে! বলরাম। যা বলিলে, তাইত রে ভাই? একি এ প্রচণ্ড বল। ব্যোমস্পর্শি প্রকাও পাপ অবলীলাক্রমে- চতুর্দিকে করিছে ঘূর্ণন। বাতাসে সহস্ররাজা পড়ে ভূমিতলে! ওই দেখ, বারেকের প্রচণ্ড আঘাতে, অতি ভীরু ফেরুপাল গম, দলে দলে পালাবার পথ নাহি পায়। পুনঃ ওকি অলৌকিক অদ্ভুত ব্যাপার। সুনীল বিমল নভস্থল অকস্মাৎ বিদ্বেগে কেন ঝলসিল। ওঃ-বুঝেছি-বুঝেছি বস্ত্রধর। দেব। পুত্রের সাহায্য হেতু অলক্ষ্যে আসিয়ে মহা মহা শরপূর্ণ অক্ষয় তুনীয়-
min
[ মহাভারত
২২৪৬
স্বয়ম্বরপাধ্যায়।
বৈজয়ন্তী-বিজয়-অম্লান-মালা
পুত্রগলে দিলে পরাইয়ে ?
তবে মার রক্ষা নাই ভীরুরাজগণে।
একা ফানীরে রক্ষা নাই,
তাহে.পুনঃ সহায় দুৰ্জয় ভীমসেন,
তদুপরি মিশিল দেবেন্দ্র মহাতেজ।
এইবার দুৰ্য্যোধন আদি
মহা মহা ধনুর্দ্ধর কুরুবীরগণে
সদলে মানিবে পরাজয়।
শ্ৰীকৃষ্ণ। জয় জয় ধনঞ্জয় জয় ভীমসেন!
এস দাদা, অন্তরালে থাকি,
নিরখি ভীষণ মহারণ,
ভীমার্জুন সময়ে দুর্জয় !
জয় জয় পাওসুত বীরেন্দ্র পাণ্ডব।
=
আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২২৪৭ চতুর্থ গর্ভাঙ্ক। . ( রণস্থল) বৈজয়ন্তীমালাধারী অৰ্জ্জুন ও তৎ বমিভাগে ভয়- ব্যাকুলা দ্রৌপদী; কর্ণ প্রভৃতি অগণ্য রাজার সহিত অতি ঘাের যুদ্ধ। অর্জন। আরে মূঢ়! বারবার মানি পরাজয় কি সাহসে আসিলি আবার দুরাশয় ? এই বলে এত অহঙ্কার ? ওরে দুরাচার! এই দ্যাখ, ইন্দ্রঅস্ত্র মূর্তিমান কাল! জ্বলিছে আমার শরমুখে। দেখি তােরে, এবার কে রক্ষা করে পাপী! (ঘঘারতর যুদ্ধ ; কর্ণ পরাস্থ হইয়া ) কর্ণ। একি একি একি শিক্ষা চমৎকার। মুৰ্ত্তিমান ব্ৰহ্ম-তেজাকার দ্বিজরাজ! চতুর্দিকে সংবর্তক কাল অগ্নি জ্বলে! জলে-এলে প্রাণ, আমার! লক্ষ লক্ষ কোটী কোটী সর্পের আকার শর ক্ষুরধার গর্জি হুহুঙ্কার- ছেয়ে গেল দিত্মণ্ডল। এসেছ কি আখণ্ডল ছদ্মবেশ ধরে ? কিম্বা বিরূপাক্ষ ব্যোমচূড় পিনাকী স্বয়ং ভিখারী কাঙ্গালবেশে এসেছ ছলিতে। কে তুমি কহ হে ছদ্মবেশি!
২২৪৮ স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত নরলোকে কেবা আছে হেন । সম্মুখ-সময়ে কর্ণৰীরে করে পরাভব ? কৃপ, দ্রোণ, দেব- আর সেই স্বৰ্গগত তৃতীয়পাণ্ডব মহাবীর ধনঞ্জয় বিনা কার সাধ্য কৰ্ণরণে হয় আগুয়ান। সত্যভাষে কহ সত্যশীল হে ব্ৰাহ্মণ। হেরিয়ে অন্ত-জ্যোতিঃ- অমােঘ প্রতাপ তব, জ্ঞান হয় মম, ধনুঝে মূর্তিমান হয়ে এসেছ এ ঘাের রণস্থলে। অর্জন। এমনিই ভ্রান্ত বটে তুমি! শৌর্যবীৰ্য বােঝা গেছে তব অঙ্গরাজ! এখন কোথায় সেই বান্ধব তােমার কপটের চূড়ামণি রাজা দুৰ্য্যোধন? যদি এত ভয় বীর হস্তিনায় যাও-বসে রাজভোেগ খাও- সাজিৰে তােমার ভাল! ( সসৈন্ত বেগে দুৰ্য্যোধন অর্জনকে আক্রমণ করিয়া) দুৰ্য্যোধন। কি কি—এত স্পর্ধা দুৰ্ম্মতি দ্বিজের, আমারে এমন কটুবাণী ? যে যেখানে আছ হেথা, এককালে পাপিষ্ঠেৰে কৰি আক্ৰমণ, কৃষ্ণা সনে বেঁধে আন মম পদযুগে, সমুচিত প্রতিফল দেহ ভিক্ষুকেরে! ( পুনরায় ঘােরতর যুদ্ধ )
আদিপর্ব ] দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ). ২২৪৯ {
নেপথ্যে বহুক। পালাও-পালাও সবে।
সাক্ষাৎ এসেছে কাল ভীম দণ্ডপাণি
বৃক্ষরূপ মহাদণ্ড ধ'রে।
(চীৎকার করিতে করিতে কীচক, জরাসন্ধ,
শিশুপাল প্রভৃতির প্রবেশ )
।
কীচক। ও বাবারে! গেছি গেছি মাথা ফেটে গেল।
হুম হুম করে ধরে
আর দমাদম বৃক্ষ দিয়ে মারে।
কোথা যাব—ওরে কোথা যাব।
যেদিকেই চাই—সেই গাছ,
আরএদিকেতে-
সেই ব্যাটা প্রচণ্ড ভিক্ষুক।
একবার পথ পেলে বাঁচি।
এক লম্ফে সটান্ রথেতে গিয়ে উঠি।
ঘাট বাবা-কোটী কোট ঘাট।
দূর তাে স্বয়ম্বর।
দ্রৌপদী মাথায় থাক বাবা।
চাও যদি-ঘর থেকে এনে
হাজার হাজার বাণী দেব।
দোহাই তােমার
একবার পথ ছেড়ে দাও।
প্রাণ পেলে
বাপের নাম রেখে বাচি।
('মুশৰ্মার প্রবেশ) । . F
}
মুশৰ্মা। কি বল কীচীর ওয়াকওয়া।
আর কি-জুড়িয়ে যাই। 11.11.1i..
২২৫০ স্বয়ম্বরপাধ্যায়। [ মহাভারত আমার আত্মীয় আর কেউ নাই হেথা, কে কোথায় সব পালিয়েছে। গৃহে গিয়ে বলল ভাই, ওয়াক-ওয়াক। কীচক। তুমিও ওয়াক—আমিও অবাক দাদা। কোথা দিয়ে পলায়ন করি বল দেখি? আমার ত আর শক্তি নাই—যুদ্ধ করি। ওই রে-ও বাবা! সেই হুমমা | হু হু করে ওই আসে। (বেগে ভীমের প্রবেশ ) ভীম। হােই-হেই-হােই—হােই-- হুম্ হুম-হুম্ হু- ছাড় রে বিকট হুহুঙ্কার। ধরু-ধরুক মহামার! (রাজগণে প্রবলবেগে আক্রমণ ও সকলের রণে ভঙ্গ দেওন, ভীমের মা মার শব্দে পশ্চাদ্ধাবন; অৰ্জ্জুন ও ব্রাহ্মণগণের প্রবেশ) ১ম ব্রাহ্মণ। ধন্য ধন্য লক্ষ্য-বিদ্ধকারী দ্বিজবর। হেন বীর তুমি, লক্ষজে এফের করিলে তাড়না? বর্ণনা না যায় তব বীরত্ব-মহিমা। আর হেথা অবস্থানে নাহি প্রয়ােজন, কন্যা লয়ে নিজধামে করহ গমন। কিন্তু মনে রেখে দ্বিজোত্তম। আমরা তােমার সঙ্গ না ছাড়িব কভু, যথা যাবে ছায়া সম রব পাছে পাছে। অর্জুন। কোথা যাবে আমায় সহিত দ্বিজগণ। আমি দীন মিত্র ব্রাহ্মণ ; nomina আপিৰ্ব । দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২২৫১ , ? কোথা গৃহ-কোথা স্থান মম। কি সাধ্য আমার তােমাদের করিহে সাদর আবাহন। ২য় ব্রাহ্মণ। আর কি লুকাতে পার বীর ? তুমি যদি দীন, তবে ধরাধামে মহৎ কে আছে ? আর কি ছলনা সাজে দেব । অবশ্য তুমিতে ছদ্মবেশী । হেন অতুলন বীরত্ব প্রকাশ এ সংসারে কে করেছে কবে? যাই বল, যেরূপেই বােঝও মােদেয়, কিছুতেই প্রত্যয় না মানিবে হৃদয়। অর্জন। (স্বগত) এ বড় বিষম গােযােগ। আপনারে কেমনে লুকাই ? বিষম কুপিত হয়ে দেব যুধিষ্ঠির তিরস্কার করিবেন মােরে! বৃথা বাক্যে নাহি প্রয়ােজন, শরে শরে দিল করি আচ্ছাদন, মধ্য-অবকাশে প্রচ্ছন্ন করিয়ে দ্রৌপদীরে, সত্বর এস্থান হ'তে করি পলায়ন। (তথাকরণ ও দ্রৌপদীকে লইয়া সত্বর অন্তর্ধান ) ১ম ৰাহ্মণ। একি একি কোথা গেল বীর আশ্চৰ্য্য আশ্চৰ্য্য বীৰ্য্য অতি অলৌকিক। শরজালে অন্ধকার করি দশদিশ, কোথা দিয়ে কৈল অন্তর্ধান? একি এ? কৃষ্ণাও নাই ?
२२१२
{ " স্বয়ম্বরপাধ্যায়।
}
[ মহাভারত
ta
।
F
নিশ্চয় ব্রাহ্মণ স্বর্গের
ছদ্মবেশ ধরে
ছলনায় দ্রৌপদীরে হ'রে লয়ে গেল।
চল চল, কোন্ পথে গেল সে ব্রাহ্মণ?
এস সবে করি অন্বেষণ।
( সকলের প্রস্থান)
পঞ্চম গর্ভাঙ্ক।
(রণস্থলের এক পার্শ্ব)
তরুতলে যুধিষ্ঠির, নকুল ও সহদেব।
যুধিষ্ঠির। হা নকুল!
অকূল সমর-সিন্ধুমাঝে,
সমাকুল ভীমার্জুনে রাখি অসহায়
কেন ফিরে এলি মোর কাছে।
ওরে সেথা কর্ণ আছে কৌরবের সনে।
ভীষ্ম, দ্রোণ, কৃপাচাৰ্য আছে।
কেমনে বাচিবে প্রাণে প্রাণের ফানী ?
তাহে পুনঃ বামভাগে দ্রুপদ-নন্দিনী।
একা একা ধনঞ্জয়!
লক্ষরাজা বেড়েছে তাহায়।
যারে ভাই! যারে সহদেব।
একবার দেখে আয়,
ভীমার্জন কতদুরে আসে।
আদিপর্ব ) দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) সহদেব। ভেবনা বিষাদ পূজ্যপাদ । কার সাধ্য আটে মহাবীর ভীমার্জুনে। যেন মহামদে মত্ত হয়ে মাতঙ্গ দুর্জয়। দলিতেছে অতি ভীরু লক্ষ ফেরুপালে! হুহুঙ্কারে-বৃক্ষের বাতাসে - অতি ত্রাসে শত শত মানা পড়িছে কে কার পরে। নকুল। হরি হরি ! আর ভয় নাই, কাণ্ডারী দেছেন কুল বিপদ সাগরে। জয়লক্ষ্মী যত্নে বক্ষে ধরি, ওই যে আসেন ভীমার্জুন। হে আৰ্য! কুচিন্তা করি ত্যাগ, ওই যে,নেহার পথভাগ করিয়ে উজ্জ্বল, আসিছেন পার্থবীর দ্রৌপদীরে লয়ে। দেখ দাদা, ভীমের প্রচণ্ড রুদ্ৰবেশ। শান্ত হতে বহু চেষ্টা করিছেন বীর, কিন্তু নিশ্বাস-প্রাবল্য হেতু বক্ষের কবাট কীত, যেন তরঙ্গিত। সঙ্গে কারা ? অগণ্য ব্রাহ্মণ। ভীমার্জন সঙ্গ নিতে কয়েন নিষেধ, কিন্তু তবু না মানে বারণ দ্বিজগণ। তাইত। কি হবে দাদা? যুধিষ্ঠির। বিগণে আশু প্রত্যাখ্যান অবশ্য উচিত সৰ্বরূপে। নচেৎ এ ছদ্মবেশ- কেমনে লুকাবে ধনঞ্জয় । বিপদের উত্তাল তরঙ্গ সহ করি- রে নকুল।কেমনে পাইব কুল বল?
২২৫৪ [ মহাভারত স্বয়ম্বরপাধ্যায়। আরক্ষা পাই। পরম হিতৈষী ধৌম্য পাণ্ডৰ-ভরসা ওই ফেবােঝন দ্বিগণে; তবে আর ভয় নাই। ধৌম্যের অকাট্য যুক্তিবলে, অবশ্য নির্ভয় হ’ব আজি। এস সবে অন্তরালে থাকি দৃষ্টি রাখি—বিপন্ন অর্জন ভীমসেনে। ( অন্তরালে গমন; দ্রৌপদী ও ব্রাহ্মণগণের সমভিব্যা- হারে ভীমার্জুনের প্রবেশ) ৫ । ১ম ব্রাহ্মণ। কেন হেন অপ্রিয়-বচন কহ দ্বিজ বীরমণি ? বিক্ষোভিত জন্য-সমাজ দলে দলে ভ্রমে বনপথে! তােমরা দুজন মাত্র ; নিশাকালে নিদ্রিত হইলে, জয় দত্য বৰ্বরের দল- আক্রমণ করে যদি পুন, কেমনে রক্ষিবে দেহে ধ্রুপদ-নন্দিনী। যদবধি এ অনল নাহি হয় নির্বাপিত, রবি তােমারে প্রাণপণে। ইথে কেন অমন কর নর। অর্জন। ধন্যবাদ! কৃতার্থ এ দাস, অপর সহানুভূতি শিয়ােধাৰ মৰ! আজি সবে নিজ স্থানে করহ গমন, কালি পুনঃ প্রচলণ কবি দর্শন, আদিপর্ব ) দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২২৫৫ ", । আশীৰ্বাদ ল’ব শিয়ােপয়ি। আজ মােরে করুন মার্জনা দ্বিজগণ। • হাঁ হাঁ, সেই ভাল কথা! কালি পুনঃ আসা যাবে—দেখা শুনা হবে। ভয় কি? কিসের ভয়? আমরা নিশ্চিন্তে ঘুমাইব। মার খেয়ে যে যার ঘরেতে চলে গেছে, কে আর আসিবে নিশীযােগে ? আর যদি কেউ আসে ? জানিও সকলে বিধিমতে- আমাদের অরণ্যেতে বাস, বড় বড় প্রকাণ্ড গাছের গুড়ি আছে। কিছু নয়, ভয় ভাব কেন ? হা-হা-সেই ভাল কথা। আমরা বড়ই ক্লান্ত ক্ষুধিত পিপাসু। ধৌম্য। হে মহাত্মাগণ ! শুনুন আমার সুবচন ;- আর বৃথাঅগ্রসরে নাহি প্রয়ােজন। ইহাদের বােঝনা কি কিবা মনােভাব? সাধারণ ভেবনা দুজনে। কি জাতি, কি নাম ধরে-কোথায় বসতি করে, ছদ্মবেশী-দেব কি মানব- গন্ধর্ব কি প্রচণ্ড দানব, এ সব না জেনে শুনে কি ৰ'লে হতেছ আগুয়ান। এই মহাবীর ছদ্মবেশীদ্বয় যে অতুল প্রকাশিল অলৌকিক ৰা, নরলোকে দেখেছ কি কভু ? -
২২৫৬
স্বয়ম্বরপাধ্যায়।
[ মহাভারত
ইহাদের ভৌতিক বীরত্ব নিরখিয়ে
আমার নিশ্চয় বিশ্বাস,
ইহলােকবাসী কভু নয়।
তাই বলি, আর নাহি অগ্রসর হয়ে,
স্ব স্ব গৃহে এস সবে করি পলায়ন!
পর-চৰ্চ্চা করি পরিহার,
এস সবে নিজ নিজ চৰ্চ্চা স্থির রাখি
১ম ব্রাহ্মণ। ঠিক্ কথা মহাশয়।
ও বাবারে! ব্ৰহ্মদৈত্য এরা সুনিশ্চয়।
পলও-পলাও সবে।
নহে এখনি বিঘোরে প্রাণ যাবে।
ও বাবরে গাছ নেড়ে-
এখনি আসিবে তেড়ে!
( ব্রাহ্মণগণের প্রস্থান)
ধৌম্য। আর বৃথা কালক্ষেপ নাহি করি পথে,
নিজ পথে করহ প্রয়াণ,
সঙ্গীর প্রমাণ পাবে কিছুদূর আগে।
কার্যকালে পুনঃ দেখা দিব।
(একদিক দিয়া ধেম্যের প্রস্থান এবং অপর দিকে
অর্জুন ও দ্রৌপদীর প্রস্থান।
নেপথ্যে ঘাের বামাকণ্ঠের হাহাকার ; ক্রন্দন ব্যাকুল
রাণ ও পুরনারীগণের সহিত দ্রুপদ, মন্ত্রী
প্রভৃতি এবং ধৃষ্টদ্যুম্নের অতি ব্যস্ততা
সহকারে প্রবেশ)
রা। যায়—ওইঘায়
ভাঙ্গা বুক থেকে ওই প্রাণ ছেড়ে যায়।
T
আদিপর্ব । দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২২৫৭ বুকপোরা ধন-আমার সােণার মেয়ে সজল-নয়নে চেয়ে চেয়ে ওই যায়—ওই চলে যায়। একবার অন’- একবার মুখখানি দেখি, একবার বুক দিয়ে ঢাকি, একবার জন্মশােধ মত চাদমুখে চুম’ খেয়ে দি’ চিরবিদায় ! দ্রুপদ। হায় হায়, ছারখার করি রাজ্যপুরী, রাজলক্ষ্মী প্রাণের অধিক যাজ্ঞসেনী ওরে, কোন্ কাঙ্গালের সনে চলে গেল। : যারে যারে ধৃষ্টদ্যুম ! এখনো নয়ন-পথ করে নাই অতিক্রম। অলক্ষিতে গােপনে গােপনে যারে যা-সন্ধান নে রে! কৃষ্ণারে আমার দুরন্ত ভিক্ষুক দ্বিজ কোন্দেশে নিয়ে চলে গেল। রাণী। ধৃষ্টদ্যুম! চল, চল, শীঘ্র চলে চল- আমারেও সঙ্গে নিয়ে চল, আমি না থাকিলে, কেঁদে কেঁদে সারা হয়ে যাবে ! সে যেখানে—আমিও সেখানে, মান প্রাণ ধন সব দ্রৌপদী আমার । মায়ে পােয়ে চল, ছুটে যাই। দ্রুপদ। তুমি কোথা যাবে মহারাণি? কোন্ দেশে ভিক্ষুক কৃষ্ণারে লয়ে যাবে, তুমি কোথা পথে পথে পাগলিনী হয়ে ২৮৩ ২২৫৮ স্বয়ম্বরপৰ্বাব্যায়। [ মহাভারত করিবে ভ্রমণ রাজরাণি ? ধৃষ্টদ্যুম্নণ আর বৃথা বিলম্ব করােনা! যাও যাও—ত্বরা হও অগ্রসর, পশ্চাতে প্রেরণ করি দেহরক্ষী অনুচরগণে! ( ধৃষ্টদ্যুম্নের প্রস্থান) এস এস, মহারাণি, বনপথ হতে, চল চল পুরনারীগণ! কেঁদোনা-ফেল চক্ষু-জল। ধৃষ্টদ্যুম্ন এখনি সংবাদ এনে দিবে । তারপর বিধিমতে ঐশ্বৰ্য্য ভূষণ দিয়ে ভূষিব দরিদ্র দ্বিজবরে ! জামাতা কাঙ্গাল হ’ল হল, তাহে চিন্তার বিষয় কিবা বল ? অর্ধরাজ্য দিয়ে কৃষ্ণারে করিব রাজ্যেশ্বরী। কেঁদনা মহিষ, আর,- চল চল গৃহমাঝে চল, এখনি পাইবে সুসংবাদ ! প্রকাশ্য এ বনপথ হতে চল সবে রাজপুরে যাই। রাণ। শূন্য ঘর, ছারখার সংসার আমার, প্রাণের প্রতিমাটিরে বিসর্জন দিয়ে কোন্ মুখে সে শ্মশানে বল ফিরে যাব ? ওরে কৃষ্ণা ! এই তাের কপালেতে ছিল, ৪ আদিপর্ব । দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ) ২২৫৯ । পথের ভিক্ষুক এসে কেড়ে নিলে তােরে ? ওরে, রাজকন্যা হয়ে—অট্টালিকা হতে কোন্ ভাঙ্গা কুটীরেতে গেলি ? ওহহ হহ, আমার বাছা কোথা গেল ? চল চল, আমারে তথায় ল'য়ে চল। সে রত্ন ভাসিয়ে দিয়ে আর কোথা যাব গাে বলনা? ঘরে আর যাবনা-যাবনা, মহারাজ! দুটি পায়ে ধরি, আমারে সেখানে নিয়ে চল! মান প্রাণ সব যা—সব ভেসে যাক- একবার তার সেই শুখান’ উপােসী মুখখানি চখে দেখে, একবার ধরে ভাঙ্গা বুকে অকাতরে প্রাণ দিব তাহার সম্মুখে! মন্ত্রী। হায় মা, অস্থির হয়ে আর কি হবে ? ওমা মহারাণি ! দিওনা অন্তরে স্থান কুচিন্তার রাশি ! কোন ভয় নাই, দেখো মা, সকল ভাল হবে। লক্ষ্য-বিদ্ধকারী সেই মহাত্মা ব্রাহ্মণে- সামান্য মা ভেবনা কখন, অবশ্যই তিনি কোন রাজেন্দ্র পুরুষ ছদ্মবেশী ; আর সেই সহকারী তাহারি আত্মীয়। হেন শক্তি সম্ভবে কি সামান্য ভিক্ষুর ? ওমা, স্থির হও; লক্ষ লক্ষ ছিল তথা ভিখারী ব্রাহ্মণ,
২২৬০
স্বয়ম্বরপৰ্বাধ্যায়।
[ মহাভারত।
লক্ষ্যভেদে হয়েছিল কেবা আগুয়ান ?
একবার ভাবনা মা,
পথের কাঙ্গাল কভু লক্ষ লক্ষ রাজে
একেশ্বর পারে পরাজিতে ?
শ্রীদুর্গা স্মরণ করি চল মা প্রাসাদে,
সব দিকে হইবে মঙ্গল !
যুবরাজ গিয়াছেন একাকী তথায় ;
উপযুক্ত দেহরক্ষী অনুচরগণে
এখনি পাঠাতে হবে;
কালক্ষেপ নাহিক বিধেয়।
দ্রুপদ। চল, আর ভাবিলে কি হবে ?
সকলে। ওমা দুর্গে! রক্ষা কর এ বিপদ হতে ।
শ্রীমহাভারতনাট্য-কাব্যে আদিপৰ্বাত্তৰ্গত স্বয়ম্বরপাধ্যায়ে
“দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর (১ম ভাগ)” সমাপ্ত।
.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.