Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Sangeet Sudhasindhu Ed. 2nd

2010/01/11

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
Arg
অর্থাৎ
বিবিধ বিষয়ক সঙ্গীত।
তদেব রম্যং রুচিরং নবং নব
তদেব শখন্মনসাে মহােৎসব।
তদেৰ শােকার্ণবশশাষণং নৃণাং
যদুত্তমশ্লোকশােহনুগীয়তে।
[ ভাগবত।]
দ্বিতীয় সংস্করণ।
কলিকাভা।
নং কলেজ স্কোয়ার ইণ্ডিয়ান মিরার ঘঞ্জে মুদ্রিত।

No text on this page.

ভূমিকা বঙ্গীয় সমাজে নীতি ও দেশহিতকর বিষয়ক বিশুদ্ধ সঙ্গীতের অভাব বিমােচনের জন্য এই “ সঙ্গীত সুধাসিন্ধু প্রকাশিত হইল। বর্তমান সময়ে যেমন অন্যান্য সকল বিষয়ে লােকের ৰুচির পরিবর্তন হইতেছে, সঙ্গীত সম্বন্ধে সেইরূপ বিশুদ্ধ রীতি অবলম্বিত হয় গ্রন্থকারের এই অভি- প্রায়। মনুষ্য মাত্রেই সঙ্গীতপ্রিয়, হৃদয়ের বিভিন্ন প্রকার ভাব সঙ্গীতের দ্বারা প্রকাশ করা ইহা স্বাভাবিক। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, ধসঙ্গীত , ব্যতীত উৎকৃষ্ট সঙ্গীত, প্রায় এ দেশে প্রচলিত নাই। এই কারণে যুবকেরা দুষ্পত্তি উত্তেজক এবং কুৰুচি প্রতিপােষক অপবিত্র এবং সময়ে সময়ে কুৎসিত সঙ্গীত সকল গান করিয়া আপ- নাদিগকে অভদ্ররূপে প্রকাশ করিয়া থাকেন । এমন কি, এই জন্য গুৰুজন এবং আত্মীয় পরি-

no
বারের সম্মুখে সঙ্গীত করা মহা লজ্জার বিষয়
হইয়া রহিয়াছে। ভদ্র স্ত্রীদিগের সঙ্গীতের
অধিকার নাই, কারণ মন্দ স্ত্রীলােকেরা মন্দ গান
করে; কিন্তু পুৰুষেরও যে মাতা পিতা ভাতা
ভগিনীর নিকট সঙ্গীত করিয়া পবিত্র নির্দোষ
আমােদ সম্ভোগ করিবেন সে পথও বন্ধ হইয়া
গিয়াছে। অপব্যবহার দোষে ভাল সামগ্রী
এইরূপে লােকের নিকট ঘৃণিত হয়। প্রেম অতি
পবিত্র বস্তু, কিন্তু প্রেম বিষয়ক সঙ্গীত যাহা এ
দেশে ভদ্রসমাজে সচরাচর গীত হইয়া থাকে
তাহা পিতা পুত্ৰ ভাতা ভগিনী স্বামী স্ত্রীর
সহিত একত্র বসিযা শুনিতে পারা যায় না।
ভরসা করি অচিরে সুসম্পন্ন নীতি পরায়ণ
উপযুক্ত ব্যক্তিদিগের দ্বারা এই অভাব পূর্ণ হইবে ।
আপাততঃ এই কয়েকটী সঙ্গীত প্রকাশিত হইল,
যদি ইহা দ্বারা নীতি বিষয়ে কিছু উপকার হয়
গ্রন্থকারের উৎসাহ বর্ধিত হইবে। ভারি অঙ্গের
ক

~~~~~~~~~ রাগ রাগিণী ইহাতে অধিক নাই, সাধারণে গাইতে পারিবেন এই জন্য সহজ এবং প্রচলিত সুরে হৃদয়ের কয়েকটা ভাব অভিব্যক্ত হইল। ধর্মপরায়ণ ব্যক্তিদিগের চিত্ত বিনােদনার্থ কতক- গুলি ধৰ্মসঙ্গীতও দেওয়া হইয়াছে। কোন কোন পুরাতন সঙ্গীতের অংশ এবং ভাব বিশেষ গ্রহণ করিয়া তাহাতে কিছু কিছু মূতন ভাৰ ও কথা সংযােগ করা গিয়াছে। রচনা ও সংগ্রহ এবং পুবতন সংশােধন প্রভৃতি উপায় দ্বারা সঙ্গীতসুধাসিন্ধুর কলেবর পূর্ণ করা গেল। স্বদেশহিতৈষী উদারহৃদয় সঙ্গীতজ্ঞ মহােদয় গণের আশীৰ্বাদ ও প্রসন্নত। পাইলে ভবিষ্যতে এইরূপ সঙ্গীত রচনা বিষয়ে গ্রন্থকার উং- সাহিত হবেন। কোন কোন্ ভাবের কত সঙ্গীত আছে তাহার স্বতন্ত্র সুচীপত্র দেওয়া হইল।

No text on this page.

সূচী পত্র। সংখ্যা অভয়বাণী অন্তিমকালের ৬৫১৪১৪৩১৪৪ ঈশ্বরের মহিমা ৫৯৬১/৬২/৬৬৭৩২৯৫১২২ ১২৫১৩৯ ঈশ্বরবন্দনা ৬৩৪১২১২১২২ তত্বোপদেশ ৪৪১১৪৪৪৮৫১৫২৬৭৭৮৩৮ ৬৮৭১০ ৫১০৬১০৭১১১১১৬ ১১৭১১৮১১৯১২৬ দেশহিতৈষণা -১৭ নীতি উপদেশ নগর সংকীৰ্ত্তন ৮৮ নামমালা ১৫০ প্রিয়বিরহ ২২৯৮১ প্রেমবিষয়ক ৩৪৫৭ পিতৃমাতৃ সম্বন্ধীয় ৩৪৬৮৯ প্রিয়সম্মিলন ••• - ০ ০ * * * ----- •• ন ০ + +AAAA 3 বিষয় সংখ্যা প্রার্থনা ও আত্মনিবেদন ৩৯ ৭২৭৪/৭৫৭৭ ৭৮৭৯/৮০৯৬১২৪ ১২৭-১৩৮১৪১ ১৪২১৪ ৫৪৯ বিধবার দুঃখ ১৮১৯২০ বৈরাগ্য বিষয়ক ৩৮৩৯৪৩৪৬৪৫৪৭৪৯৫০ ১০৮১৯১১•১১২-১১৫ বিবাহ সম্বন্ধীয় -৯৪১৫১ বৈষ্ণবদিগের গান ১৯০ ভক্তের মহিমা রাম বনবাস রাজভক্তি সংস্কৃত গান ১০ সুরাপান নিবারিণী ২১-২৭১০২ স্বভাব বর্ণন ১৪১৫১৬৪২৫৮৬০ ৯৭-১০১১০৪ হিন্দি গান ১৬১-১৭৫ বিশেষ সূচী পত্র। পৃষ্ঠা ১৭ ০ + তি অসার আমােদ লােভে । অসৎ সঙ্গে , অসার প্রেমেতে . অসার ভব সংসারে • অনিত্য সুখসাধনে 1 ২৪ ৮ । ৪৪ * অদ্ভুত প্রকাণ্ড ০ ৮৯ ৩ ৮১ ০ ১০ • * * অবিদ্যা ঘন আঁধারে বিদ্যা ঘনে আসার সংসারে অয়ী সুখময়ী আছি মোরা বড় সুখে আপন বলিয়ে কারে • আর ভাল লাগে না আহা কে দিবে • আর কি কারেও আর কেন মন আর কত কাল আমায় দেও হে নাথ * আমি কেমন করে ••• . ৮৯ ০ ০ ০ ১০৮ ১৩৪ ht • পৃষ্ঠা ১২৭ ৪' ২৫ *•• ৩৪ সঙ্গীত ও আমার মন কি ইয়ে জগ দরশন উঃ হে আনন্দ রবে • এমন প্রাণ সুহৃদ । এই বিষম সংসারের এখনও কি একবার ডাকরে এমন দয়াল নাম • এমন দিন • এ সকলি একবার দাড়িও ওহে চির পরাধীন • ও ভাই মজো না • ওরে মন পাখী ৬ ৬৭ । t ৮৪ bot ১০৭ ৫ । ৪০ " ০ ০ ৫০ * * * ওহে দয়াসিন্ধু ওহে জীবন বল্লভ ও মন কার সঙ্গে ওহে মঙ্গল বিধাতা ওগাে স্রোতঃস্বতী ও ৪ # ০ ০ ৭৬ F A ১০। ** - - - - পৃষ্ঠা ৮০ boty ১৬ ৮ ১৮ সঙ্গীত • এহে বিহঙ্গগণ ওরে রাম • ওরে ভ্রান্ত মম মন • ওহে দীনকাণ্ডারী * কর ধন্যবাদ ভারে * কর সার ব্রহ্মপদ কর আশীর্বাদ কি দেখিলাম রে । কি সুখে সংসারে কি আশায় মন কি বেশ ধরেছ কি বলে তার • কিবা শােভা মনােলােভ • কে আর তেমন করে • কে আছে এমন १२ ৪২ ••• ৭৬ ১৭ ২২ • কেনরে ভাই ১১১ • কেন হে এমন করে : কেমন করে • কে আমার কেনরে মন ••• । পৃষ্ঠা ১২০ ৮ 33ა pr। = ৩ + ৭২ ••• ১৩৭ সঙ্গীত । কোথা যারে কোথায় পাপীর বন্ধু • কোথায় রহিলে ক্যা শােচমে খ্যাপা তাের • গভীর বিষাদে গাও আজি • গা তােল গােসাঞী আমার • গেলে মালে * ঘন নিবিড় নবনীরদ চিরদিন আমার • জনক বিয়ােগ ঠাকুর তেঁই * ত মসে • ত্যজ জ্ঞান অভিমান তাই ভাবি হে তুমি বিপদভঞ্জন * তু মেরে প্রাণ ১৪০ ••• ১৪ ? ••• •• • • • ৪৮ ১২২ তু দয়াল ...

sex- 5AA pa ৭ । ---- পৃষ্ঠা ৫৪: ৫৫ ••• ১৯ ১৩২ • • • • ৭৯ A সঙ্গীত তুমি হে আমার তুমি দয়াময় তুমি জ্ঞান তুঝ, সে ৮ তােমরা দুভাই তােমার সঙ্গে বিবাদ করে • তােমার কি দোষ দিব তােমারে যে জন তােমরা কেন বৃথা তােমার কবে অবসর তােমার চরণ বিন। তােমা ৰিনা কে তােমা বিনা কি অার তােমারি কৃপায় * দয়াময় একবার * দর মা দে দয়াময় নাম ভুল না দিন যে ফুরাল দীননাথের চাইতে দীনবন্ধু তোমায় ১০৪ । । । ১৮ ১১৬ * এ ৬০ ) ১৪ .

দ পৃষ্ঠা ৭১ + ০ + . . . ৪ ৮ ৪৫ ০ সঙ্গীত দুঃসহ সন্তাপে * দুস্তর সংসারার্ণবে • দেও অভয়পদ * দেখ হে মানব * দেশের দুর্গতি চেয়ে দেখ * ধন্য হে গৌর * ধন্য বিধি * ধন্য প্রভু ধন্য ধন্য জগদীশ ৪ ধরি দুটী পায় নাথ তুমি সর্বস্ব না দেখে তোমারে * নাথ তুমি ব্ৰহ্ম । নাম তােমার • নামম নাথ কোহি নাম না লেয়েৎ ॥ নিঃস্বার্থ সরল প্রেম • নিমাই কোন্ প্রাণে ৭ পর দোষানুসন্ধান ৪৭. ৪৯ ১৭’ | ০ ০ ৪ ৪ ৫ . ১৭ ১০৩ ১১৪ । ** ২৪ ৪১ ••• A পৃষ্ঠা . ৭ ১১৭ ১০০ ১০১ ২৭: সঙ্গীত পরম বৈরাগী • পঙ্কজ দল গত পরমেশ্বর এক পবিত্র প্রেমবন্ধনে , * পিরে পিতা খোল দ্বার * পিতঃ ক্ষম । পিতা কও কথা * প্রিয় জন সমাগমে পুরবাসী রে ৭ প্রেম পরম ধর্ম ও প্রভু তােমার সঙ্গে *প্রভু দয়ার সাগর প্রথম নাম ও কার প্রভু তোমার প্রভুজী ফকিরী লওয়া ফকিরী নেওয়া যােঞী ফকিরী করিবি ৪৪ • " ০ ০ ০ ১১২ ১২৬ ৮৪ ১৩৭ ১২ . •• nodo गये। ৭৮ ১০ ১২৪ ১১৮ সঙ্গীত বরে বল্ * বড় আশার কথা। বসতু মম বরেথা কঁহ বঁকা মনকে # বিগত বিশেষং • বিলাপ ক্রন্দন ছাড়ি * বৃথা অভিমান * ব্ৰহ্ম সনাতনে | ভজরে ভজরে ভজরে সত্যং ভক্তি ভাবে ডালে • ভবে কত দিন মন কে বল গুৰু ময়ি দীনে মনের দুঃখ • মনে দুঃখে হৃদয় মানব তত্ত্ব • মা আমারে মিছে পরের ভাবনা ১৩৪ p ১২০ ১৪ পৃষ্ঠা ••• ••• ১২৮ ১২৪ ••• ১২ ••• সঙ্গীত * মুখে হরিনাম • মােকো কাহ + যদি চাও • যেও জানাে সত্যং শিব সপিলাম • সংসার সুখের লীলা । সংসার ভােগ বিলাসে এ সংসারের উজন • স্বাধীন হইবে যদি * সুখবসন্ত । সুরদলন • শােক সন্তপ্ত হরিনাম সার * হরিপদ কমল হরি নামের গুণ হবে এই ভিক্ষা দিতে • হরিনাম মাত্র হরে কোহি • হর সে লাগি ৪ . . ১১ ০ * * * ১০২ ১১৭ • • •

পৃষ্ঠা
•••
১৩৮
১৩,
০ ০ ০
•••
০ ০ ০
সঙ্গীত
হরিনামামৃত
হরি বলে ডাক
» হরি নামের নাই তুলনা
• হয়ে এক প্রাণ মন
+ হায় সােনার ভারত
• হায় বাল্যবিধবা
* হে প্রিয় মিত্র
* হে জগদীশ
হৃদয় কাঁদিতেছে
হৃদয় পিঞ্জরের
• ঘদয় বন্ধু বিহনে
•••
৭
০ ০ ০
৪৯
২
२२

সঙ্গীত সুধাসিন্ধ রাগিণী বসন্তবাহার।তাল তেতালা। দেশের দুর্গতি চেয়ে দেখ হে একবার। রােগ শােক দুঃখ ভাপে করে সবে হাহাকার। লক্ষ লক্ষ নর নারী, হয়ে পথের ভিখারী, অনাহারে দ্বারে দ্বারে করিছে ভ্রমণ; নিরাশ্রয় সখার বিষাদিত মন, ভাবনায় তাহাদের হই- কাছে অস্থি সার। জীর্ণ শীর্ণ অবয়ব, চির দুঃখিনী বিধবা, অবিরল অশ্রুজল করে বিসর্জন; বঞ্চিত সকল সুখে বন্দির মতন, কেহ নাই এ বিপদে করিতে তাদের উদ্ধার । ঘোর অজ্ঞানান্ধকারে, দুর্নীতি দূষিতাচারে, পশু প্রায় রহিয়াছে জনসাধারণ ; দাস েকাটায় তারা অমূল্য জীবন, পরাধীন চিরদিন বহে সক- লের ভার ।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
মুৰিদ্বান্ গুনবান্, কত ভারতসন্তান, অকালে
হারায় প্রাণ করি সুরাপান; অতি শােকাবহ
তাহাদের পরিণাম, ভাসিছে অনন্ত দুঃখে তাহা-
দের পরিবার।
ওহে ভদ্র সহৃদয়, করহে কিছু উপায়, সার্থক
হউক জন্ম পরের সেবায়; থেকো না নিদ্রিত আর
সুখের শয্যায়, ঈশ্বরের নামে কিছু কর জীবের
উপকার। ১।
রাগিণী আলেয়া।-তাল আড়াঠেকা।
ওহে চির পরাধীন দুর্বল বঙ্গসন্তান। গৃহ
বিবাদ অনলে পুড়িবে আর কত দিন ।
দেশের হিতসাধনে, জাতীয় সুখ বর্ধনে, এক
প্রাণ হয়ে সবে কর কর্তব্য পালন।
অনৈক্য ভ্রাতৃবিচ্ছেদে, হিংসা দ্বেষ বিসম্বাদে,
সমাজবন্ধন হল শিথিল প্রীতিবিহীন; বল বীৰ্য্য
= =
;

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
হারাইয়ে, আছি মােরা দুঃখী হয়ে, কাপুৰুষ বলে
লােকে করে কত অপমান।
চাহিয়ে ঈশ্বর পানে, চেষ্টা কর প্রাণপণে,
সত্যের বলতে হবে সব দুঃখ অবসান। ২।
রাগিণী মল্লার।-তাল আড়াঠেকা।
বিলাপ ক্রন্দন ছাড়ি কর হে কিছু এবার।
অসার বাক্য বিন্যাসে নাহি কিছু উপকার ।
যথাসাধ্য প্রাণপণে, জ্ঞান অর্থ পরিশ্রমে,
দেশের হিতসাধন কর যত দূর পার।
আলস্য স্বার্থপরতা, বৃথামােদ শিথিল,
কপট উৎসাহ কথা অবিলম্বে পরিহর ;
অপরের মুখ চেয়ে, থেক না নিশ্চিন্ত হয়ে,
দেখাও দৃষ্টান্ত আগে জীবনেতে আপনার। ৩।

সঙ্গীত সুধ।নিন্ধু।
- A AA= ,
এক
রাগিণী পরজ।“তাল একতালা।
উঠছে! আনন্দ রবে, বঙ্গবাসীগণ সবে,সত্যের
জয় অবশ্য হবে, কর কর্তব্য সাধন।
চল যাই চল নির্ভর অন্তরে, বীর বেশে সম্মুখ
সমরে, যা যদি প্রণি পর উপকারে, সার্থক
হইবে ভবন ।
জাতিভেদ ফুল অভিমানে, অমঙ্গলকর সমাজ
শাসনে, বিষময় ফল করিছে প্রসব কর তা
প্রতিবিধান; ভীৰু কাৰুষ হয়ে কত দিন,
থাকিবে বল হে পাপের অধীন, কর সংস্কার,
দেশ পরিবার, ধর অকপট আচরণ। ৪।
৭।
ক
রাগিণী বাগেশ্রী তাল আঠেকা।
স্বাধীন হবে যদি তবে সত্য পথে চল। স্বার্থ
সুখ পিরহরি চাত্র কর নির্মল।
কি হইবে বাহুবলে , সংগ্রামে বুদ্ধি কৌশলে,
পরপ্রেমী না হইলে সকলই জেন বিফল ।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। চির দাসত্ব বন্ধন, অন্যায় রাজশাসন, কে করিবে খণ্ডন, হইয়ে ভীৰ দুৰ্বল; পরদুঃখে কাদিলে, আত্মসুখ না ত্যজিলে, অসার উৎ- সাহে বৃথা বাক্যে নাহি কোন ফল । হও আগে জিতেন্দ্রিয়, অপমারে কর জয়, তা হলে পাবে নিশ্চয়, প্রকৃত স্বাধীন বল। ৫। রাগিণী লুন বিবিট-তালঠুংরি । হয়ে এক প্রাণ মন। = কর সবে বন্ধ, ভাবে মঙ্গল সাধন। স্বদেশের হিত তরে, উদার সরল অন্তরে, অপ্রেম বিরাগ দূরে করহ বর্জন। কলহ ভ্রাতৃবিচ্ছেদে, দ্বেষ হিংসা পরিবাদে, কতদিন ভারতবক্ষ হইবে দহন । ত্যজে গর্ব অভিমান, রাখ জাতীয় সম্মান, প্রমুক্ত হৃদয়ে কর প্রেম সম্মিলন। ৬।

সঙ্গীত সুপাসিন্ধু। } রাগিণী সুরট বাহার।তাল কাওয়ালী। তােমরা কেন বৃথা কর লােক ভয়। একবার বলহে জয় সত্যের জয় ; আশায় সাহসে বাঁধ যতনে হৃদয়, যা হবার তাই হবে, স্বর করি চল সবে, বিনাশ বিনাশ পাপাচার সমুদায়। কোন্ প্রাণে আছি ঘুমে অচেতন, নিঃসুখে হয়ে মগন; কাদিছে বিধবা কত, দিবা নিশি অবি- রত, শুনহে শুন যুবক সহৃদয়। ৭। রাগিণী সুরট মল্লার।--তাল কাওয়ালী। হায়! সােণার ভারত আজ প্রভাহীন দুঃখেতে মলিন, পরের অধীন, হয়ে বল বীৰ্য্য- হত চিরদাসত্বে কাটায় দিন। কোথা সে হিন্দুরাজত্ব, বিপুল আৰ্য মহত্ত্ব, স্বপন সমান হয়েছে বিলীন ; উপন্যাস প্রায়, এবে সমুদায়, আসিবে না কিরে আর ফিরে সে সুখের দিন।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু
কুনীতি দূষিতাচারে, বঁধিয়া দৃঢ় নিগড়ে,
রেখেছে সকলে জনমের মতন; কি ছিল তখন,
কি দেখি এখন, ভীৰু অলস নিস্তেজ সবে যেন
বিষাদে মলিন। ৮।
রাগিণী কাফি-তালঠুংরি।
হে প্রিয় মিত্র, বিধির আদেশ, কায় মন বচনে
পাল রে।
হিংসা দ্বেষ পরনিন্দা প্রবঞ্চনা যতনে পরিহার
কর রে ; সরল হৃদয়ে, প্রাণ মন দিয়ে, সমভাবে
সবে ভালবাস রে ।
আত্মসুখে দিবানিশি মত্ত হয়ে চিরকাল ভুলে
থেক নারে; অনাথ দীন জনে, অন্ন পান
দানে, কর উপকার সাধ্য অনুসারে।
ধৈৰ্য ক্ষমা শাস্তি বিদ্যা বিনয় প্রেমে সবে
বশীভূত কর রে; হয়ে জিতেন্দ্রিয়, ন্যায় সত্যপ্রিয়,
পরসেবায় সুখী হও রে।

সঙ্গীত সুপাসিন্ধু।
«««
ধন যৌবন জাতি কুল অভিমান, ত্যজি সাধু-
ভাব ধররে ; জানিই নিশ্চয়, সকলি হৰে লয়,
কেহ নাহি সঙ্গে যাবে রে ।
সুখ প্রলােভনে মুগ্ধ হয়ে কভু বিপথে গমন
করাে না রে ; ধর্মপরায়ণ, হয়ে চির দিন, পুণ্য
রাগিণী আলেয়া।--তাল আড়াঠেকা।
কর ধন্যবাদ ভারে প্রতি কৃতজ্ঞ হৃদয়ে।
যার গুণে হলাম সুখী জ্ঞানালােক নিরখিয়ে।
যিনি সৰ্ব্ব মূলাধার, পরম মঙ্গলকর, গাও
মহিমা তাঁহার সৰে কৃতাঞ্জলি হয়ে ।
সৰ্ব্বশাস্ত্রে যার গুণ, রহিয়াছে বর্ণন, করি
জ্ঞান উপার্জন থেক না তারে ভুলিয়ে ; বিদ্যা
বিনয় ভূষণে, দয়া ভক্তি পূণ্য প্রেমে, ভূষিত
হয়ে সকলে থাক তাহারই আশ্রয়ে। ১০।

সঙ্গীত পাসিন্ধু।
রাগিণী পরজ-তাল একতালা।
ত্যজ জ্ঞান অভিমান । ওহে যুবক ধীমান,
বিনীত গম্ভীর ভাবে কর সৰে প্ৰীতি দান।
অপার জ্ঞানসিন্ধু নাহি যার সীমা, এক বিন্দু
পেয়ে কেন হে গরিমা, অজ্ঞান অববাধে করনাক
সুপা, হও সুশীল দয়ৰম্ ।
ফলভরে নম্র তৰুশাখাগণ, মাটিতে মিশায়ে
থাকরে যেমন, বিদ্যাস ভরে অবনতশিরে তেমনি
থাকহে বিদ্বান্ ; সাধু ব্যবহার সুমিষ্ট বচনে, কর
বশীভূত অনভিজ্ঞ জনে, পেয়েছ যে পন, অমূল্য
রতন, বিতরিয়ে রাখ জ্ঞানের সম্মান। ১১।
এর
-
রাগিণী ভৈরবী।তাল আড়াঠেকা।
পর দোষানুসন্ধানে কেন হে কর ভ্রমণ।
বিবেক দর্পণে হের বারেক নিজ জীবন ।
অসার নীচ বাসনা, অমঙ্গল কুকম্প, যতনে
আদরে হৃদে করাে না কভু পােষণ ।

সঙ্গীত সু ধাসিন্ধু।
==
আত্মদোষ সংশােধনে, চেষ্টা কর প্রাণপণে,
তা হলে পরম সুখে থাকিবে হে চির দিন।
সমভাবে সকলেরে, দেখ সরল অন্তরে, প্রমুক্ত
হৃদয়ে সবে দাও প্ৰেম আলিঙ্গন। ১২।
===
রাগিণী ঝিঝিট।“তাল আড়াঠেকা।
আছি মােরা বড় সুখে ব্রিটিশ শাসনে।
রাজভক্তি হয় উদয় মহারাণীর গুণ স্মরণে।
ছিলাম ঘাের অন্ধকারে, বন্দী হয়ে দেশাচারে,
বহু দিন জ্ঞানালোক না হেরে নয়নে ; বিধাতার
কৃপাবলে, সুখী হইলাম সকলে, সার্থক হইল
জন্ম বিদ্যারস আস্বাদনে।
আমরা অক্ষম দীন, চিরদিন পরাধীন, কেমনে
কৃতজ্ঞ হব কিছুই জানিনে; ধন্য সেই পরমেশ্বরে
অনন্ত কৰুণাকরে, শুভ সংঘটন সব হয় যার
মঙ্গলবিধানে। ১৩।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। “ A- ^^১৭, ** * * * A , রাগিণ ভৈরবী।ভাল একতালা। কিবা শােভা মনােলােভা হেরি কুসুম কাননে। হাসিছে প্রফুল্ল কুলে যেন তৰু লতাগণে। মন্দ মন্দ সমীরণ, করে সুগন্ধ বহুন, আলাদিত হয় মন, যার সুমিষ্ট আম্রিাণে । বিচিত্র বিহঙ্গ সৰ, আনন্দে করিছে রব, সুখে বিহারছে উন্মত্ত হয়ে মধুপানে। ধন্য ধন্য ধন্য তিনি, করেছেন এ সব যিনি, না জানি কত সুন্দর দেখতে ভারে নয়নে। ১৪। রাগিণী ইম।“তাল কাওয়ালী। সুখ বসন্ত ঋতু আগমনে। E *** 2 স্যজিল প্রকৃতি সতী, বহুকপা বসুমতী,অভিনব বসন ভূষণে। তৰু লতা রসভরে, দোলে মলয় সমীরে, বনস্থলী নিনাদিত বিহা কণ্ঠস্বরে ; মুকুলিত বিকসিত, ফলফুলে সুশােভিত, নবীন শাখা পল্লবগণে।

সঙ্গীত সুপাসিন্ধু ।
মধুকর মধুলােভে, গুন্ গুন্ গুন্ রবে, কুসুম
কাননে ভ্রমে আমােদে মাতিয়ে সৰে; চারি
দিক্‌ সুখকর, নয়ন মনােহর, ধন্য বিধি কৰুণা-
নিধানে। । ১৫
রাগিণী খাম্বাজ-তাল ঠুংরী।
ঘন নিবিড় নব নীরদ জালে, টাকিল অনন্ত
নীল নভােমণ্ডল।
মৃদু মন্দ পবনে, চলে গগণে প্রাঙ্গনে, রবিকিরণে
ধরে কত বরণ উজ্জ্বল।
গরজে ভীম রবে, শুনে সচকিত সবে, বরষে
অবিরল কত নিরমল জল ।
তড়িত হার অঙ্গে, দুলিছে নানা রঙ্গে, গভীর
আধারে করে দশদিক্‌ আলো।
কিবা হরি বরণ, প্রান্তর উপবন, দেখে হরষিত
মন নয়ন যুগল।
ক

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
তটিনী নিঝর, নদী সরােবর, শুদ্র সুন্দর
সলিলে পূর্ণ হল ।
আনন্দে ভেকগণে, কেলি করে প্রতি মনে,
মেষ নিনাদ শ্রবণে নাচে শিখীকুল।
রাগিণী আলেয়।।-তাল ঠুংরি ।
গভীর বি, যিম এন দে, সোণার ভারত
আধার হইল।
আহার বিহনে, মরিছে পরাণে ; দরিদ্র
তানখ মানব সকল।
বিকট বদন, করিয়ে ব্যাদান ভীষণ অকাল,
নিকটে আইল ।
কাতর ক্ষুধায়, কঁদিছে তনয়, দেখিয়ে মায়ের
হৃদয় ফাটিল ।
ভাবনায় অবশ, দুঃখেতে নিরাশ, করিছে হাহ।
কার হয়ে আকুল।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
সঞ্চিত সম্বল, সকলি ফুল, নিবাতে দারুণ
জঠর নল।
বল হে কিরূপে, সুখেতে ঘুমাবে, দ্বারে যে
ভিখারী জীবন ত্যজিল ।
এ ঘোর বিপদে, কে পারে বাঁচাতে, দয়ালু
ঈশ্বর ভরসা কেবল। ১৭।
মধুকাণের সুর।তাল তেতালা।
-
মনের দুঃখ বন্ধ করে। অনাথ বিধবা বলে,
কে চাহিবে দয়া করে।
দুঃসহ জীবন ভার, বহিতে পারিনে আর,
এ বিষম অত্যাচার, কেন অবলার উপরে।
বিষাদে ভগ্ন হৃদয়, সব দেখি শূন্যময়, কঁদিব
আর কত হায়, শােকেতে প্রাণ বিদরে।
কে আছ লহ একবার, দুঃখিনীর সমাচার, বিপদে
কর উদ্ধার, বাঁচাও হে বাঁচাও প্রাণে। ১৮।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
মধুকাণের সুর মল্লার।-তাল কাওয়ালী ।
হায়! বাল্যবিধবা দুঃখিনী; হয়ে চির পরাধিনী,
কাঁদে শশাকে দিবস যামিনী।
মলিন মুখকমল, ঝরিছে নয়নে জল, রোদন
মাত্র সম্বল, বাণবিদ্ধ যেন কুরানী।
নাহি সুখ পান ভোজনে, বিচিত্র বসন ভূষণে,
পড়ে সদা ধরাসনে, যেন মেঘে ঢাকা সৌদামিনী।
যাতনায় শরীর শীর্ণ, কালিমা হয়েছে বর্ণ,
বিষাদে সদা বিষন্ন, যেন মাতঙ্গ দলিত নলিনী।
একা বসিয়ে বিরলে, আসিতেছে অশ্রু জলে,
কেহ নাই ভূমণ্ডলে, শুনিতে তার দুঃখের কাহিনী।
ওহে বঙ্গবাসী সবে, কত আর নিদ্রা যাবে,
অবলার শােক বিলাপে, পূর্ণ হল গগণ
মেদিনী। ১৯।
রাগিণী ঝিঝিট।-তাল মধ্যমান।
চির দিন আমার দুঃখেতে গেল। ক্রন্দনে দিন
যামিনী অতীত হল।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। ----- ৭, , ২৬ ** , AhA4 আশার দিক্ অন্ধকার, ভাবনায় যাতনায় সদা প্রাণ কাতর, জনম দুঃখিনী বলে কেহ ফিরে না চাহিল। (একবার ) ভয়ঙ্কর দেশাচারে, রেখেছে বাঁধিয়ে কঠিন নিগড়ে, হায়! বিধি বিনা দোষে কেন দুর্গতি বল। রাগিণী কুকব। তাল ঠুংরী। দুঃসহ সন্তাপে তাপিত হৃদয়, মনের বেদনা বলিব কাহায়। কালকুট সুর করিয়ে পান, পতি পুত্র মাের হারাল প্রাণ; আমি একাকিনী, হয়ে অনাথিনী, মরি যে এখন শোক জ্বালায়। এ হেন বাদ সাধিল কে হায়, বিষম গরল আনিয়ে হেথায় ; সনে প্রাণে বিনাশ করিল সৰ্ব্ব- নাশ, কি করি কি হবে না দেখি যে উপায়। ২১।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
রাগিণী খাম্বাজ।--তাল একতালা।
ধৰি দুটা পায়, ৰলি গাে তােমায়, ক্ষান্ত হও
পিতা ত্যজ সুরাপান।
দেখ গাে একবার, ডুবিল সংসার, আমাদের
প্রতি হয়ে কৃপাবা।
জীবিত থাকিতে তুমি গাে ধরায়, রহিব কি
মােরা হয়ে নিরাশ্রয়, চিরদুঃখী দীন হীন নিৰুপায়,
অনাথ দরিদ্র-বালক সমান।
তােমার অত্যাচারে জননী আমার, কঁাদেন
দিবানিশি করি হাহাকার, শশাকে ভয় দেহ অস্থি
চর্ম সার, দেখিলে সে দুঃখ বিদরে পাষাণ। ২২।
রাগিণী সিন্ধু ভৈরবী।তাল জৎ।
অসার আমােদ লোভে কেন কর পান।
হবে কুপ্রবৃত্তি বলবতী প্রকৃতি পশু সমান ।
শরীর হইবে শীর্ণ, বল বীৰ্য্য ত্তিহীন, পৰি
নামে মনস্তাপে দুঃখেতে ক্ষাটিবে প্রাণ।
H

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। বুদ্ধি বিবেচনা স্মৃতি, সদাচার ধর্মনীতি, হার- ইয়ে হবে শেষে পদে পদে অপমান। অনাহারে পরিবার, করিবেক হাহাকার, চিরদুঃখে তাহাদের হবে দিন অবসান । পান কর ধৰ্ম্মামৃত, সুখে থাকিবে সহত, পাইবে আনন্দ কত নিৰ্ম্মল শান্তি আরাম। তত্ত্বরস সুধা পিয়ে, থাক প্রেমে মত্ত হয়ে, ইহকাল পরকালে পাবে সুখ মােক্ষধাম। ২৩। A রাগিণী খাম্বাজ।--তাল ঢিমে তেতালা। মনটদুঃখে হৃদয় বিদরে। (হায় হায় রে) হইল সংসার ছারখার সুরাপান করে। জনক জননী মাের, হইয়ে শশাকে কাতর, ত্যজিলেন কলেবর অন্নবিনা অনাহারে। পতিব্রতা প্রাণপ্রিয়ে, অশেষ ক্লেশ সহিয়ে, অনাধিনী প্রায় এবে ভিক্ষা করে বারে দ্বারে।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
৪৯
জনম দুঃখী সন্তান, ক্ষুধায় মৃত সমান, তার
আর্তনাদ আর শুনিতে না পারিরে।
সঞ্চিত ধন সম্বল, যা ছিল সকল গেল, দুৰ্ম্মের
প্রতিফল হাতে হাতে পেলাম রে । ২৪।
রাগিণী সুরট মল্লার।তাল একতালা।
ও ভাই মজো না সুরাপানে।
বলি বিনয় করে, দুটী পায়ে ধরে, রাখ অনুরােধ
থাক সাবধানে।
কত গুণবান প্রিয়দরশন, ভারত মাতার হৃদয়-
ভূষা, যৌবন বয়সে, মজে সুরারসে, অকালে
মরিল প্রাণে।
ভাসায়ে সকলে দুঃখের পাথারে, চির শােকা-
নল জ্বালিয়ে অন্তরে, পিতা মাতার কোল গেল
শূন্য করে, বিষম শেল বুকে হেনে; দেখ দেখ
কত যুবা বলবা, মদে মত্ত হয়ে হারাইল জ্ঞান,

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
সাংঘাতিক রােগে সদা ম্রিয়মাণ, না পায় সুখ
জীবনে। ২৫।
এ এক
রাগিণী মল্লার।—তাল আড়াঠেকা।
মুরাদলন সংগ্রামে সাজ সবে বন্ধুগণ। কর
চুর্ণ মদপাত্র পাপ শুণ্ডিকাভবন।
প্রচণ্ড অসুর দল, প্রচারি শুরাগরল, মহাপাপে
ডুবাইল, ধর্মনীতি জ্ঞান ধন।
কাদিছে বিধবা কত, হইয়ে সর্বস্ব হত, শুনিলে
বিদরে প্রাণ ঝরে দুনয়ন ; ব্যভিচার কুদৃষ্টান্তে,
প্রবল কলঙ্ক স্রোতে, করিতেছে সর্বনাশ ঘাের
অনিষ্ট সাধন। ২৬।
রাগিণী আলেয়া।তাল একতালা।
অসৎ সঙ্গে সঙ্গে কেন সুরারসে মন মজিল।
জেনে বিষপান করে, পরিণামে এই ফল
ইল।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
এ
মরিলাম ধনে প্রাণে, পরের কুমন্ত্রণা শুনে,
বথা সুখ অন্বেষণে জীবন বিফলে চলে গেল ।
কালকূট ফণি মুখে, চুম্বিলাম মহাসুখে, এখন
মরি মনটদুঃখে, অনুতাপে হৃদয় আকুল। ১৭।
রাগিণী খাম্বাজ।“তাল মধ্যমান।
হৃদয় পিঞ্জরের পাখি কোন দেশে উড়ে গেল ।
তাহার বিরহ শােকে প্রাণ হয়েছে আকুল ।
উভয়ে উভয় পাশে, ছিলাম মনের উল্লাসে,
সমভাবে ভাবী হয়ে সুখে কাটাইতাম কাল ;
ভাঙ্গিল সুখের বাসা, ঘুচিল আশা ভরসা, কার
মুখ চেয়ে এখন জীবন ধরি বল।
প্রণয় প্রতিমা তার, জাগিছে হৃদে আমার,
ভাসিছে নয়নে সদা হইলে উজ্জল ; চির প্রেমের
বন্ধনে বাঁধা আছি তার সনে, হায়! বিধি হেন
জনে কোথায় লুকায়ে রাখিল।
ৰাখিব অঙ্কিত করে, হৃদয় পটে তাহারে,

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু ।
•
প্রেম আলিঙ্গন দানে করিব প্রাণ শীতল
পবিত্র প্রণয়ব্রত, রক্ষা করিব নিয়ত, স্মরি তার
গুণরাশি নিবারিব শােকানল। ২৮।
রাগিণী ঝিঝিট খাম্বাজ।—ল আদ্ধা।
কে আর তেমন করে, আমারে ভাল বাসিবে।
মধুর প্রণয় ভাষে তাপিত প্রাণ জুড়াবে।
মেহরঞ্জিত নয়নে, প্রীতি প্রফুলাননে, কুশল
বারতা মম বারে বারে জিজ্ঞাসিবে।
হেরিয়ে যাহার মুখ, ভুলিতাম সব দুঃখ, হায়
সে প্রেয়সী শােকে কেমনে প্রাণ বাঁচিবে ।
জাগিছে সে মুখশশী, হৃদিমাঝে দিবা নিশি,
এমন অমূল্য নিধি পুন কি বিধি মিলাবে। ২৯।
রাগিণী পাহাড়ী। -তাল কাওয়ালী ।
হৃদয়বন্ধু বিহনে সকলি আঁধার রে ।
লােকারণ্য মাঝে এক প্রাণ কেঁদে উঠেরে

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
আত্মীয় কুটুম্বগণে, চাহিনে আর চাহিনে,
কপট প্রণয়ে মন তৃপ্তি কি আর হয় রে।
স্বার্থের সম্বন্ধ যত, ভাই বন্ধু দারা সুত, কেহ
নয় আপনার সব মায়ার বিকার রে।
মনের মানুষ পেলে, রাখি তারে হৃদকমলে,
উভয়ে প্রেমেতে গলে, এক হয়ে যাই রে ।
সৰ্বস্ব সপিয়ে তারে, ভালবাসি প্রাণ ভরে,
ইহ পরলোকে তার সঙ্গে বাস করি রে। ৩০।
রাগিণী মূলতান।তাল আড়া।
আপন বলিয়ে কারে করিব হে আলিঙ্গন।
নাহি হল কারাে মনে প্রাণের চির বন্ধন।
সুহৃদ্ বান্ধব মিত্র, সম্পদের বরযাত্র, বিপদে
দুঃখ দুর্দিনে করে তারা পলায়ন।
৪১ সংসারের প্রণয়, বিনিময় ব্যবসায়, নাহি
তাহাতে হৃদৱ পলকে হয় বিলীন।
।।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
------
কোথা হে! কৰুণাসিন্ধু, অধম জনের বন্ধ,
হৃদয়ে রাখি তােমারে জুড়াব তাপিত প্রাণ। ৩১।
রাগিণী ঝিঝিট।—তাল আড়ঠেকা।
নিঃস্বার্থ সরল প্রেম সংসারে অতি বিরল।
অন্ধ অনুরাগে মিছে কেন আমার আমার বল।
সুখ সম্পদের কালে, ৰান্ধব অনেক মেলে,
কিন্তু বিপদে পড়িলে, তুমি কার কে তােমার
ভালবাসা দেখ যত, সব অবস্থা ঘটিত, নহে
হৃদয় প্রত বণিকবৃতি কেবল
বিশুদ্ধ প্রেম মিলন, পরম অমূল্য ধন, নিত্য
সুখ আস্বাদন ধৰ্ম সাধনের ফল।
রাগিণী ঝিঝিটা-তাল কাওয়ালী।
অসার প্রেমেতে ভুলে কেন হও বঞ্চিত।
বিপদ কালে দেখিবে কে তব সুহৃদ কত।

সঙ্গীত, সুধাসিন্ধু।
রূপ গুণ ধন যৌবনে, শ্রুতি মধুর বচনে,বিমাে-
হিত হয় যেই সে অতি অবােধ চিত।
অদ্য যে প্রেয়সী শশাকে, করঘাত হানে
বুকে, কল্য সে বিবাহ রে হইতেছে সুসজ্জিত।
নয়নান্তরাল হলে, কে কাকে আপনার বলে,
সরল হৃদয়ে ভাল বেসে হয় আনন্দিত।
প্রেমের আকর যিনি, তারে ভাল বাস তুমি,
পাইবে অক্ষয় শান্তি নিত্য সুখ অবিরত। ৩০।
রাগিণী বিঝিট খাম্বাজ।—তাল আড়া।
এমন প্রাণসুহৃদ কোথায় পাইব বল ।
দেখিলে নয়নে যারে হৃদয় হবে শীতল।
মুখে ফুঃখে সমভাগী, প্রেম দানে অনুরাগী,
জীবনের সহযােগী চির নিভরের মূল।
আমি হই তাহার, সেও হইবে আমার, উভয়ে
উভয় হৃদে রহিব অনন্ত কাল। ৪।
-+

২৬
সঙ্গীত সুপাসিন্ধু।
রাগিণী সুরট মল্লার।—তাল একতালা।
কে আছে এমন, মায়ের মতন, করিতে ষন,
এ সংসারে।
প্রসন্ন বদন, হইলে স্মরণ, ঝরে দুনয়ন প্রেমের
ভারে ।
কিবা সুকোমল মধুর বচন, মরি কি সুখের
স্নেহ আলিঙ্গন, সকল সম্ভাপ হয় নিবারণ, মা
বলে একবার ডাকিলে যাবে।
মেহের প্রতিমা যেন ধরাতলে, সুকুমার শিশু
লয়ে নিজ কোলে, কত সাবধানে স্তনদুগ্ধ দানে
পালন করেন তারে ; এত ভালবাসা ক্ষমা সহি-
ফুণ, ভূমণ্ডলে অর নাহি দেধি কোখা, প্রাণ
দিয়ে এত আদর মমতা চিরদিন বল কে করিতে
পারে।
ধন্য রে তাহারে করি নমস্কার, জননীর জননী
যিনি সবাকার, মাতার হৃদয়ে স্নেহ রস দিয়ে
রেখেছেন সৰে মােহিত করে। ৩৫।

সঙ্গীত সুপাসিন্ধু । ,, রাগিণী বেহাগ।-তাল আড়া। কোথায় রহিলে প্রিয় জননী আমার । তােম বিহনে সকল দেখিতেছি অন্ধকার। শােকে কাতর হৃদয়, দুঃখে প্রাণ ফেটে যায়, হইল শ্মশান প্রায় এ সুখের সংসার। কে আর আদর করে, মেহ গগদ স্বরে, ডেকে জিজ্ঞাসিবে মাের সব সমাচার; কার মুখ চেয়ে আর, বহিব দুঃখের ভার, আমার ভাবনা বল ভাবিবে কে আর। ৩৬। রাগিণী ঝিবিট।“তাল কাওয়ালী। প্রিয়জন সমাগমে আজি মন, আনন্দে পুল- কিত হইল। বহু দিন পরে, দেখিয়ে তােমারে, প্রীহি সরো- বর উখলিল; কর হে বিতরণ, প্রণমালিঙ্গন, নির্বাণ কর বিরহানল।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
AAAA
আশা ভয়ে মন, ছিল এত দিন, উচাটন সদা
চঞ্চল ; অদ্য শুভ দিনে, হেরি তােমা ধনে, সকল
ভাবনা দূরে গেল।
পুরবাসীগণ, আত্মীয় স্বজন, আহলাদ সাগরে
ভাসিল; পরিবার মাঝে, আনন্দ বিরাজে, প্রেম
শ্রোতঃ হৃদে বহিল ।
যার দয়াগুণে, বন্ধু দরশনে, বিচ্ছেদে মিলন
হইল ; কৃতজ্ঞ হৃদয়ে, হারে প্রণমিয়ে, সুখে
থাক সবে চিরকাল। ৩৭।
L
রাগিণী খাম্বাজ।—তাল মধ্যমান।
সংসারমুখের লীলা সাঙ্গ হইল। জনক জননী,
জন বান্ধব, একে একে সকলে ফেলিয়ে গেল।
যাদের উপরে ছিল মাের ভরসা, করিতাম কত
যে সুখের প্রত্যাশা; স্বপন সমান দেখিতেছি
এখন, কালের আঘাতে সৰ কোথা মিলালাে।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
২৯
কি করি কোথা যাই কেহ নাই সংসারে,
গভীর শােকেতে হৃদয় বিদরে; রহিলে কোথায়
এমন সময়ে, বিপদভঞ্জন দীন সম্বল। ৩৮।
রাগিণী ঝিঝিট খাম্বাজ।—তাল আদ্ধা।
সংসার ভােগবিলাসে প্রবােধ মানে না মন ।
সকলই হইল ক্রমে রসহীন পুরাতন ।
চঞ্চল ভ্রমর প্রায়, চিত্ত নানা দিকে খায়,
কোথাও না পায় শান্তি নিরন্তর উচাটন।
দেখিলাম বিধিমতে, সুখী হতে এ জগতে,
কিছুতেই মুখপিপাসা নাহি হল নিবারণ।
মায়ায় ভুলব না আর, ভেবেছি সার এবার,
ব্ৰহ্মপদে সপে প্রাণ করিব প্রেম সাধন। ৩।
বাউলে সুর।
সংসারের উজন স্রোতে যাও ৰেয়ে। ওরে ও
ভাই ও ভাই প্রেমরসিক নেয়ে।

সঙ্গীত সুসন্ধু।
চল কিনারা ঘেসে, হাল ধররে কমে, দেখ যেন
উলটো দিকে যায়নাক ভেসে; চালাও দিবা
নিশি জীবনভরী, ও ভাই থেক না অলস হয়ে।
তুলে প্রেমের বাদাম, বদনে বল হরি নাম,
আনন্দে ক্ষেপণী ফেলে চল অবিশ্রাম; যখন
ভক্তি জোয়ার আসবে বেগে, তখন সহজে যাবে
লরে।
শুন শুন ওরে মন, কুসঙ্গে করনা গমন,
ভরাডুবি করে তারা করবে পলায়ন; খেক সাধু
মহাজনের সঙ্গে অকপট হৃদয়ে। ৪০।
রামপ্রসাদী সুর।
(তােমার) কবে অবসর হবে, বল তবে,
যদি গত হয় জীবন এই ভাবে।
সময় নাই সময় নাই বলে, সমস্ত জীবন কা-
টালে, একবার ভাবুলে না দুদণ্ড বসে পরিণামে
কি হইবে।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
বাল্যকাল শিক্ষা পাঠে, সকল সময় গেল
কেটে, যৌবনে ধন উপার্জনে দিনের দিন ফুরায়ে
যাবে।
সম্পদের কোলাহলে, বাল্য যৌবন যাবে চলে,
শেষ বৃদ্ধকালে সংসারের কীট বিষয়ের দাস হয়ে
রবে।
দিনান্তে একবারও যদি পরমার্থ না চিন্তিবে,
তবে মনে ভেবে দেখরে ভাই মরিবার দিনে কি
করিবে।
সাধুকার্যের নাহি সময়, যখন কর তখনই
হয়, যদি চাহরে কল্যাণ যাহা উচিত তা শায়
করিবে। ৪১।
রাগিণী পিলু ভৈরবী।তাল জৎ।
দেখহে মানব দেখ কি সুখে বিহঙ্গাণ, আনন্দে
গগণ পথে করে সদা বিচরণ।
+:

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু
n
কল্য কি খাধে জানে না, বােনে না সঞ্চয় করে
, তথাপি তাদের রূপে মুগ্ধ হয় প্রাণ মন।
যথা ইচ্ছা যায় উড়ে, দেশ হতে দেশান্তরে,
জগৎপতির ভাণ্ডারে করে সুখে পান ভােজন।
বসি শাখা পরে, গাইছে মধুর সুরে,
অশন বসন তরে ভাবেনাক কোন দিন।
ধন্য হে আকাশের পাখি, তুমিইতাে পরম
সুখী, হেরিলে জুড়ায় আঁখি তােমার সুখের
জীবন। ৪২।
রাগিণী খাম্বাজ।তাল জৎ।
কি সুখে সংসারে ভুলে থাকব আর। সং-
সারের সুখ সম্পদ স্বপন সম অসার।
ইন্দ্রিয় ভােগ বিলাসে, বৃথা আমােদ উল্লাসে,
তৃপ্তি নাহি হয় মন কাদে প্রাণ অনিবার।
আমার হৃদয় ব্যাকুল যার তরে, বল কোথায়
গেলে পাব তারে, বিনে সেই প্রাণের ঈশ্বরে
দেছি সব অন্ধকার। .৪৩।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
.
রাগিণী পিলু ভৈরবী -তাল জৎ।
অসার ভব সংসারে আসিয়ে দুদিনের তরে,
সার সম্বল পুণ্য ধন লও হে সঞ্চয় করে।
ধন মান উপার্জনে, পরিবার প্রতিপানে,
মত্ত হয়ে দিবানিশি থেক না ভাই একেবারে ।
আত্মীয় পুত্র পরিবার, সকলই মায়ার ব্যাপার,
এদের ফাঁদে পড়ে দেখ যেন আসল কৰ্ম ভুল
না রে।
যে কয় দিন থাক এখানে, এই কথাটা রেখ
মনে, হরিনাম বিহনে শেষের দিনে কেহ সঙ্গে
যাবে না রে। ৪৪।
রামপ্রসাদী সুর। তাল একতালা।
কি আশায় মন আছ ভুলে। তােমার হবে
তৃষ্ণা নিবারণ বিষয় মরিচিকার জলে ।
কেট নহে কার সকল ফাকি দেখ একবার
মুদে আঁখি, এই ভবের মেলা মায়ার খেলা,
দেখতে দেখতে যাবে চলে।

o
সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
ষড়রিপুর সেবা করে সুখ পাবে না কোন
কালে, তবে মিছে কেন বিড়ম্বনা, দুধের তৃষ্ণা কি
ভাঙ্গে ঘােলে।
হরিনামামৃত সুধা পান করিলে যাবে ক্ষুধা,
প্রেমদাসে ভনে, নাম বিহনে, গতি নাই ভাই
অন্তিম কালে। ৪৫।
বাউলে সুর। তাল ঐ।
এই বিষম সংসারের গুৰু ভার। প্রভু বইতে
যে পারিনে আর।
খেটে মরি দিন রজনী, তবু কাজের শেষ
মরে না থাকে যেমন তেমনি; পড়ে অকূল
ভবসিন্ধু জলে, হল ওষ্ঠাগত প্রাণ আমার।
অসার ভবিষ্যতের ভাবনায়, গায়ের রক্ত
শুকিয়ে গেল শীর্ণ হল কায়; হায়! কার জন্যে
বা মরি ভেবে কেউত নহে আপনার।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
যাদের জন্যে দিলাম এ জীবন, পেলাম না।
এক দিনের তরে তাহাদেরও মন ; এখন দয়া করে
দীনবন্ধু বিপদে কর উদ্ধার। ৪৬।
ঐ সুর।
আর ভাল লাগে না সংসার। মুখে রক্ত উঠে,
খেটে খেটে অস্থি চর্ম হল সার।
পরের মন যােগাতে দিন গেল, আসল কৰ্ম্ম
পুণ্য ধৰ্ম কিছুই না হল ; ৰিনা সম্বলে কেমনে
বল হব ভবনদী পার।
মােহে অন্ধ হয়ে কত কাল, বহিব ভূতের
বােঝা পাপের জঞ্জাল ; মরি যাদের জন্যে এত
করে তারা কেউ নয় আপনার।
কোথা ওহে জীবনসহায়, চরম কালের বন্ধু
প্রভু দয়াময় ; আমি দেখলাম ভেবে, অসার
ভবে, তুমি বিনা সকল অসার। ৪৭।

৩ সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। রাগিণী খাম্বাজ।—ভাল কাওয়ালী। বৃথা অভিমান কেন কর আর, ওরে মন আমার । বিদ্যা ধন যৌবন সম সকলই অসার। এসে দুদিনের তরে, অনিত্য ভব সংসারে, করাে না কাহার প্রতি মন্দ আচরণ; হিংসা দ্বেষ পরনিন্দা অনিষ্ট সাধন; কায় মনােবাক্যে সদা কর কুশল বিস্তার। হয়ে রিপুর অধীন, স্বার্থপর দয়াহীন, দিও কাহারে প্রাণে মৰ্ম্ম বেদনা; এ দিন তােমার চির দিন রবে না ; উদার প্রেমিকহয়ে কর প্রেমেতে বিহার। ৪৮ রাগিণী সিন্ধু।“তাল মধ্যমান। অনিত্য সুখ সাধনে জীবন ফুরায়ে গেল । তথাপি হৃদয় মাের পরিতৃপ্ত না হইল । ধন মান বিদ্যা সম্পদে, পান ভােজন অ- মােদে, যে কিছু আনন্দ শান্তি অড়ত সম চঞ্চল ।

+
সঙ্গীত সুধাণিন্ধু।
A6
অদ্য যাহা শহণীয়, চরম পরম প্রিয়, কল্য
তাহা পুরাতন যেমন শুষ্ক কমল।
হায়! কোথা পাব এমন, নিত্যসুখ প্রবণ,
সুধাময় আস্বাদন নূতন অনন্ত কাল। ৪৯।
বাউলে সুর।
~ 9M
কেন রে ভাই কিশের এত অহঙ্কার ।
ঐ সুখের শরীর দুদিন পরে পুড়ে হইবে
ছার খার।
যখন যমে ধরবে তােকে, পড়িবি ঘোর বিপাকে,
সরষের ফুল দেখবি চোখে, পলকে হবে আঁধার ;
তখন হয়ে রবি হতভম্ব,লেগে যাবে ভ্যাবাচেকা,
শিঙ্গে হাঁতৰি শুয়ে আপু গুণবি বারে বার।
চাদ মুখ মলিন হবে, চক্ষে ছানি পড়িবে, দাত
গুল বেরিয়ে রবে, সরবি অন্তুতকার ; ও তাের
গায়ের গন্ধে ভূত পলাবে, দূর থেকে দেখবে সবে,
গােবর ছড়া দিয়ে বিদায় কৰিৰে প্ৰিয় পরিবার।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
খাট পালং কেড়ে নিয়ে, ছেড়া কপনি পরায়ে,
আত্মীয়গণে মিলে বলবে হরি দুই একবার ;
তারা প্রথম দুই চার দিন কঁদিবে, তার পরে
ভুলে যাবে, কে কোখা পড়ে রবে, তুমিই বা কার
কে তােমার।
হাত পা ঠাণ্ডা হবে, ভয়ে প্রাণ উড়ে যাবে,
পড়ে পড়ে খাবি খাবে, ক্রন্দন হইবে সার; যত
পাপের কথা পড়বে মনে, মােহ নিদ্রা যাবে
ভেঙ্গে, অনুতাপে প্রাণ ফাটিবে, করতে হবে
হাহাকার।
ধন মান বিদ্যা মদে, ভুলে আছ আদে,
ভেবেছ নিরাপদে কাটাইবে চিরকাল ; তাের
কোথায় রবে টাকার থলে, স্ত্রী পুত্র ছেলে পিলে,
দাঁড়িয়ে ভবনদীর কুলে দেখবে সকল নৈরাকার।
কার জন্যে মর খেটে, মুখেতে রক্ত উঠে, আন
পরের ধন লুঠে, ভাবনা একটা বার ; ও তাের
পাপের ভাগী কে হইবে, সুখের ভাগত সবাই

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
লবে, নিজে কেবল মরুবে ডুবে, খেটে ভূতের
ব্যগার। .
দীন প্রেমাসে বলে, থেক না মায়ায় ভুলে,
দেহাভিমান সকলে কর রে ভাই পরিহার ; ভজ
হরির চরণ পদ্ম, ছাড়ি বাদ বিসম্বাদ, মাটির
মানুষ হয়ে সদা কর জীবের উপকার। ৫।
ঐ সুর অন্য প্রকার
এখনও কি মিটে নাই তাের আশা, অার
সংসার সুখপিপাসা।
মহা পাপে ঘেরিল জীবন, পাপেতে প্রাচীন
হইলে পাপেতে মরণ; যদি এইরূপে কাগবে
কাল তবে কি হবে শেষের দশা।
খাতে সময় করে উপায়, নৈলে বিপদে
পড়িবে জানিহ নিশ্চয় ; বিশাল যমদণ্ডে এক দণ্ডে
ভেঙ্গে দেবে সুখের বাসা। ১।
-

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। বাউলে সুর। assung ওরে মনপাখী চাতুরী করবে বল কত আর। বিধাতার প্রেমের জালে পড়বে না কি এক- বার। সাবধানে ঘুরে ফিরে, থাক সদা বাহিরে, জাল কেটে পলাও উড়ে ফাকি দিয়ে বারেবার ; তােমায় এক দিন ফাদে পড়তে হবে, সব চালাকি ঘুচে যাবে, অন্ন জল বিনে যখন করবে দুঃখে হাহাকার। যে দিনে ব্যাধের বাণে, কাল ভুজঙ্গ দংশনে, জ্বলে মরিবে প্রাণে দেখবে চক্ষে অন্ধকার । তখন আপনা হতে পােষ মানিবে, তাড়াইলেও নাহি যাবে, পিঞ্জরে বসে হরি গুণ গাইবে নিরন্তর। ৫২। রাগিণী খাম্বাজ-তাল একতালা। ধন্য হে গৌর তােমারে। প্রেমিক সাধকের সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। শিরমণি; আহা! কি দেখালে, কি নাম শুনলে, দেখে শুনে দুনয়নে বারি ঝরে। আপনি মাতিয়ে মাতালে সকলে, হরিনাম রসে উন্মত্ত করিলে, হইলে বৈরাগী, (গার ছে তুমি) যােগী, সৰ্বত্যাগী, বিলাইলে ভক্তি বঙ্গ বামীর দ্বারে। মৰুভূমি হল প্রেম সরোবর, কঠোর হৃদয় ভক্তির আধার, শিখালে বিনয় (গোর হে তুমি) তাজে অহঙ্কার, প্রচারিয়ে প্রেম দেশ দেশান্তরে। ৩। ০ রাগিণী খট ভৈরবী।—তাল একতালা। নিমাই কোন্ প্রাণে আমায় ছেড়ে, হৰি সৰ্ব্ব- ত্যাগী, উদাসীন বৈরাগী, নিদারুণ কথা শুনে প্রাণ বিদরে। একে বিশ্বকাপের বিরহ অনলে, চির দিন আমার শােকে অঙ্গ জ্বলে, তোর মুখ চেয়ে

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
আছি ভূমণ্ডলে, তুই গেলে সন্ন্যাসে বা কোন
বন্ধু বিষ্ণুপ্রিয়া বল কোথা রবে, সােণর
সংসার মাের ছারখার হবে, অনাথিনী মায়ে,
পাথারে ভাসায়ে, যেও না রে বাপ বলি হাতে
ধরে। ৫৪।
ক
কীৰ্ত্তন ভাঙ্গা।-তাল একতালা।
কি দেখিলাম রে, কেশব ভারতীর কুটীরে,
অপরূপ জ্যোতিঃ, গৌরাঙ্গ মূরতি, দুনয়নে
প্রেম বহে শত ধরে।
গৌর মত মাতঙ্গের প্রায় প্রেমাবেশে নাচে
গায়, কভু লুঠায়ে ধরায় নয়নজলে ভাসে রে ;
কঁদে আর বলে হরি, স্বর্গ মর্ত্য ভেদ করি,
সিংহ রবে রে ; আবার দন্তে তৃণ লয়ে, তা-
ঞ্জলি হয়ে, যাচেন দাসমুক্তি দ্বারে দ্বারে।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। কিবা মুড়ায়ে চাঁচর কেশ, ধরেছেন যােগী বেশ, দেখে ভক্তিভাবাবেশ, প্রাণ কেঁদে উঠে রে; জীবের দুঃখে কাতর হয়ে, এলেন সৰ্ব্ব ত্যজিয়ে, প্রেম বিলাতে রে; প্রেমদাসের বাঞ্ছা মনে, চৈতন্য চরণে দাস হয়ে সঙ্গে বেড়াই রাগিণী গাঢ় ভৈরবী।-তাল আড়া। ওহে ভক্তরাজ যিশু মানবকুলপাবন। বিন- য়ের অবতার ধর্মবীর প্রধান। যুগান্তর ঘটাইলে, নরকে স্বর্ণ দেখালে, পাপ কলঙ্ক নাশিলে, করে পুণ্য বিতরণ। কুশে হারাইলে প্রাণ দিতে জীবে পরিত্রাণ তব প্রেমে পরাজিত হইল পাষণ্ডগণ। জীবন্ত বিশ্বাস বলে, মহাপাপী উষ্কারিলে, মরিয়ে জীবন দিলে, ধন্য হে তব জীবন।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। এমন প্রিয়দর্শন, সুন্দর মিষ্ট বচন, দেখে নাই নয়নে কেহ করে নাই কর্ণে শ্রবণ। দুর্লভ মানব তুমি, বিশ্বাসীর চূড়ামণি, তাই তােমারে জাস্তনরে বলে স্বয়ং ভগবান। রাগিণী ভৈরবী।—তাল আড়া। প্রেম পরম ধর্ম সার জেনে এ সংসারে। নিৰ্বিশেষে ভালবাস নরনারী সকলেরে। যিনি সৰ্ব্বসুখদাতা, বিশ্বপালক বিধাতা, প্রেম- ময় পিতা বলে আগে প্রীতি কর তারে । তাঁহার সন্তানগণে, ভ্রাতৃ স্নেহ সম্বােধনে, প্রেম আলিঙ্গন দিয়ে রাখ হৃদয় মাঝারে। ৫৭। রাগিণী সিন্ধু ভৈরবী।—তাল জৎ। অদ্ভুত প্রকাণ্ড কাণ্ড ব্ৰহ্মাণ্ড কি চমৎকার। অবাক হয়ে আছি দেখে বাক্য নাহি সরে আর।

সঙ্গী, ধাসিন্ধু।
4
মহা বেগে ঘূর্ণমান, শূন্যমাঝে লম্বমান, রবি
শশী গ্রই তার জ্যোতির্ময় কি বাহার।
পরস্পর আকর্ষণে, রাখিয়াছে যথা স্থানে,
কেহ কারে নাহি জানে, কিন্তু সখ্য ব্যবহার।
যাহার শক্তি প্রভাব, অছি সবে নিরালম্বে,
অনন্ত মহিমা তঁার, করি রে নমস্কার। ৫৮।
বাউলে সুর।
air mund
ধন্য বিধি যাই তােমায় বলিহারী। কত গুণ
ধর তুমি কিছুই বুঝিতে নারি।
দেখে তােমার চনা, মুখে কথা সরে না,
পরাভব মানে মহা করি কম্পন ; কত বিচিত্র
কৌশলে পূর্ণ সুন্দর কারকুরী।
জ্ঞানী পণ্ডিত বিদ্বান্, তারা না পেয়ে সন্ধান,
পঞ্চভুতের কাৰ্য দেখে হল হতজ্ঞান; করে
কুসিদ্ধান্ত, হরে ভ্রান্ত, 'আত্মতত্ত্ব পাশরি ।

৪
সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
কেহ বলে ভূতের সংযােগে, অন্ধশক্তি
প্রভাবে, আপনা হতে জড় জীব হয় এই ভাবে ;
কৰ্ত্তা বিনা কৰ্ম্ম হল, কি বুদ্ধি আহা মরি ।
তােমার কীর্তি সমুদায়, যেন ভােজবাজী প্রায়,
সহজে সামান্য জ্ঞানে বুঝা নহি যাঃ এক
মাটি হতে প্রকাশিলে কত রসের মাধুরী। ৫৯।
রাগিণী সিন্ধু ভৈরবী।—তাল জৎ।
মানবতত্ত্ব আদি অন্ত কেবা জানিতে পারে।
বুদ্ধির অগম্য ঢাকা দুই দিক্ ঘােরন্ধকারে।
বাহ শােভা দেখে সবে, মুগ্ধ হয়ে আছে
ভবে, এত ছায়া বাজির পুতুল কেবল ঘুরে
বেড়ায় কলের জোরে।
আসল মানুষ অন্তঃপুরে, কেহ দেখতে পায় না
তারে, দেহের মধ্যে থাকে তবু কোথায় কেহ
বুঝতে নারে।
বিধাতার বলে বলী, দেহযন্ত্রে করে কেলি

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
সময় হলে যন্ত্র ফেলে চলে যায় লােক লােকা-
তরে।
নাম তার আত্মারাম, অমর চেতনৰাম, করে
হরি নাম গান পিঞ্জরে বসে মধুর সুরে।
৩০।
রাগিণী সিন্ধু বাহার।—তাল কাওয়ালী।
ধন্য প্রভু মহিমা তােমার কি বলিব আর।
প্রকৃতিরে লয়ে কত ভাবে করিছ বিহার।
বসে তৰু লতা মূলে, বিচিত্র জ্ঞান কৌশলে,
বিকাশিছ সুগন্ধ কুসুম মনােহর, যার পরিমল
লােভে ভ্রমে মধুকর ; বিতরিছ জীবে কত ফল
শস্য উপহার।
সুন্দর বিহঙ্গগণ, করে মুখে বিচরণ, রমণীয়
উপৰন কানন ভিতর ; গায় কল কণ্ঠে তব গুণ
নিরন্তর ; তাদের গান শ্রবণে ঘুচে বৃদয়ের
ভার।
ওহে গুণের ঈশ্বর, সুনিপুণ কারীক, অতুল,

সঈী সুপাসিন্ধু।
NAAA
তোমার কীৰ্ত্তি বুঝে সাধ্য কার ; অপূর্ব রচনা
তব সুখের আধার; কি আর বলিব করি ও চরণে
নমস্কার। ৬১।
.
রাগিণী খট ভৈরবী।—তাল একতালা।
তুমি বিপদভঞ্জন দয়াল হরি। অপার স্নেহ
ওগুণে, জগদ্বাসী। জনে, কতই ভালবাস আহা
মরি মরি ।
অপপ তব রচনা কৌশল, নানারসযুত অবনী-
মণ্ডল, 'মাদেরই জন্য করেছ কেবল, নিজে
সৰ্ব্বত্যাগী পর উপকারী।
সাধিতে জীবের অশেষ কল্যাণ, দিবানিশি
বস্ত নহিক বিশ্রাম, ভাবিলে তােমার দয়ার
বিধান, উঠে প্রেম ভাপ পাষাণ ভেদ করি।
বসিয়ে গােপনে একাকী বিলে, বিচিত্র জগৎ
সৃজন করিলে, গুৰু হয়ে জ্ঞান ধর্ম শিক্ষা দিলে,
ভর্ণবে নিজে হইলে কাণ্ডারী। ৬২।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
রাগিণী ঝিঝিট।-তাল কাওয়ালী।
হে জগদীশ, পরম দয়াল, প্রেমসিন্ধু গুণাকর ।
নিত্য বিভু হৃদাধার ।
পিতা মাতা সখ সুহৃদ বান্ধব, তুমি হে কৰুণা-
সাগর মঙ্গলময় প্রাণেশ্বর।
দয়াময় তুমি কৃপানিধান বিধাতা; ধন জীবন
সুখ শান্তি আনন্দ দাতা; প্রতিপালক প্রভু
বিপদ ভয় দুখহারী; অনাথ নাথ আশ্রয় পরম
উপকারী; ভবজলধির কাণ্ডারী। ৬৩।
রাগিণী বেহাগ।—তাল কাওয়ালী ।
ধন্য ধন্য জগদীশ দয়াময়, ধন্য প্রভু দয়াময় ।
কৃপাসিন্ধু দীনবন্ধু পরাৎপর, পরম মঙ্গলালয়।
অপূর্ব রচনা, নাহিক তুলনা, অনন্ত মহিমা
তােমার ; অশেষ কৌশলে, জগৎ সৃজিলে, সুন্দর
অতি চমৎকার।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু ।
মঙ্গল শাসনে, সুচাৰু নিয়মে, পালিছ বিশ্ব
সংসার; বিবিধ বিধানে, পরম যতনে, দিতেছ
সুৰ অনিবার।
করিতে পােষণ, জীবের জীবন, করেছ কত
আয়ােজন; সুরস অন্ন জল, প্রচুর শস্য ফল,
যাহার যত প্রয়ােজন।
বিদ্যালােক দিয়ে, আঁধার নাশিয়ে, বিতরিলে
তত্ত্বজ্ঞান; ধর্মামৃত দানে দীন হীন জনে, দেখলে
মুক্তি সােপান ।
হইয়ে প্রহরী, দিবা বিভাবরী, নিকটে আছ
পিতা তুমি ; কৃতজ্ঞ অন্তরে, আমরা তােমারে,
ভক্তিভরে প্রণমি। ৩৪।
রাগিণী বিভাস-তাল একতালা।
ওহে দয়া সিন্ধু, চরমকালের বন্ধু, দেখা দাও
একবার অন্তিম কালে। এ ঘোর শশানে, নাথ
তােম। বিনে, কে দিবে অভয় লয়ে নিজ কোলে।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
বিষম ব্যাধিতে হল দেহ ক্ষয়, যন্ত্রণায় কাতর
জীবন সংশয়, ভয়ে প্রাণ সঁপে, দহে মনস্তাপে,
(দেখা দাও হে) ডাকি কাতরে পড়ে ভব
নদীর কূলে।
করিয়াছি কত অপরাধ ঐ পদে, মত হয়ে
পাপ অহঙ্কার মদে, এখন আর উপায়, নাছি
দয়াময় (ক্ষমা কর হে) লয়ে যাও সঙ্গে হাতে
ধরে পরকালে। ৫।
রাগিণী মল্লার।“তাল আড়া।
অবিদ্যা ঘন আঁধারে তুমি হে সত্যের জ্যোতি।
সুগম্ভীরভাবে একা আনন্দে কর বসতি।
অন্তরীক্ষ নহে শূন্য, তােমার সত্তায় পূর্ণ, সগুণ
নিণ তুমি অনন্ত ৰহ্মাণ্ডপতি।
শান্তমূৰ্ত্তি চিদঘন, নিরাকার নিয়ঞ্জন, অন্তর
নাস্তিবে ওতপ্রােত ভাবে কর স্থিতি; প্রাণরূপে

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
T
বিদ্যমান, আছ সর্বত্র সমান, “আমি আছি
নিজমুখে বলিতেছ নিরবধি। ৬৬।
রাগিণী খাম্বাজ।“তাল ঠুংরি।
হরিপদ কমল পীযূষ রসে, মজরে পিপাসু
মন মধুকর।
বিষয়সুখ আশে, কেন রে মায়াবশে, ভব কণ্টক
বনে বৃথা ভ্রমণ কর।
মধু লােভে কত, প্রেমিক ভকত, বিহুরিছে ও
পদপঙ্কজ ভিতর; বিমােহিত হয়ে, আছে লুকা-
ইয়ে, সুধাপানে আনন্দিত অস্তর।
ও চরণ সরােজ, বিমল দল মাঝে, সাধু সঙ্গে
সদা সুখে বাস কর; নিশ্চিন্ত মনে, বসি পদ্মা-
সনে, পিয়রে মকরন্দ নিরন্তর। ৬৭।
রাগিণী আলেয়া।তাল কাওয়ালী।
ভক্তিভাবে ডাকুলে আমি রইতে পারি কৈ।
ওরে যে ডাকে আমারে আমি তারই হয়ে রই।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। যে জন বিশ্বাস করে, জীবন সঁপেছে মােরে, কে আছে তার এ সংসারে বল আমি বই। * আমি ভক্তের অধীন, আমায় জানে সবে চির দিন, ভক্তকে দেখিলৈ আমি আনন্দিত হই। দারা সুত ধন প্রাণ, ওরে যে করে আমায় অর্পণ, তাহার সকল ভার মাথায় করে বই। ভক্তিতে চৈতন্য মোরে, বেঁধে ছিল প্রেম- ডােরে, ভক্তির জোরে ধ্রুব প্রাদ হল শমন জয়ী। ৬৮। রাগিণী আলেয়া।—তাল একতালা। নাথ ! তুমি সর্বস্ব আমার। সর্ব আমার। প্রাণাধার, সারাৎসার, নাহি তােমা বিনে, কেহু ত্রিভুবনে, আপনার বলিবার । তুমি সুখ শান্তি সহায় সম্বল, দম্পদ ঐশ্বর্য জ্ঞান বুদ্ধি বল, তুমি বাসগৃহু আরামের স্কুল, আত্মীয় বন্ধু পরিবার। ৫ সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। তুমি ইহকাল তুমি পরিত্রাণ, তুমি পরকাল তুমি সুধাম, তুমি শাস্ত্র বিধি গুৰু কল্পতৰু, অনন্ত সুখের আধার। তুমি হে উপায় তুমি হে উদ্দেশ্য, তুমি অষ্টা পাতা তুমি_হে উপাস্য, দণ্ডদাতা পিতা, স্নেহ- ময়ী মাতা, ভবার্ণবে কর্ণধার। (তুমি) ৬৯। রাগিণী খাম্বাজ।“তাল ঢিমে তেতালা। তুমি হে আমার জীবন উপায়। (দয়াময়) তাই কাতর হৃদয়ে বার বার ডাকি তােমায়। হরে পাপী অপরাধী, তােমারই নিকটে কাদি, নাহি যে আর অন্য গতি যাইব বল কোথায়। চাহি ভূষিত নয়নে, তব প্রেমমুখ পানে, মধুর আশ্বাসবাণী শুনিবার আশায়। একাকী বসে বিরলে, মনের কথা তােমায় বলে, ‘চরণ ধরে কঁদিলে, সব দুঃখ দূরে যায়।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। রাগিণী আলেয়া।—তাল তেতালা । কোথায় পাপীর বন্ধু দয়াসিন্ধু পতিতপাবন। কর পবিত্র জীবমুক্ত আমার জীবন । তােমার নিয়ম ভঙ্গ করে, আমি পড়েছি পাপ- বিকারে, লােভে পাপ পাপেতে মরণ কে করে খন। উচিত দণ্ড বিধানে, এখন উদ্ধার এ গতিহীনে খুলে দেহ দয়া করে পাপের বন্ধন। ৭১। রাগিণী বিভাস।তাল একতালা। তুমি দয়াময় পতিতপাবন। ভক্তের জীবন ধন, ওহে হৃদয়বিহারী, অন্তর্যামি হরি, বাঞ্ছাকল্প- তৰু দারিদ্রভঞ্জন। হয়ে নিৰুপায় যে জন তােমারে, ডাকে প্রাণ- পণে ব্যাকুল অন্তরে, সাও পদাৰ অভয় তাহারে, (দয়াময় হে। তাহারে লও কোলে করে জননী যেমন ।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
যুগে যুগে বিধি করিয়ে প্রচার, ভক্তসঙ্গে
কত করিলে বিহার, তরাইলে কত পাপী দুরা-
চার (দয়াময় হে) তুমি কাহাকেও বঞ্চিত কর
নাই কখন। ৭২।
রাগিণী সিন্ধু।-তাল কাওয়ালী।
হরি নামের গুণ কত তা জানিনে। ভক্তগণ
জেনেছিল কিঞ্চিত ধ্যানে।
দেবঋষি নারদ মুনি, করিতেন সদা হরিধ্বনি,
বীণাযন্ত্রে মধুর তানে; শুকদেৰ জনকাদি, যুধি-
ঠির সত্যবাদী, জীবন্মুক্ত হয়ে ছিল এই নাম
সাধনে।
ধ্রুব প্রহলাদ নামের বলে, মােধ্যমে গেল
চলে, তার প্রমাণ আছে পুরাণে; ভক্তিভাবে
করে যে জন, এই হরির নাম সংকীর্তন, পায় সে
অন্তিমে স্থান হরির চরণে।

সঙ্গত সুপাসিন্ধু।
---।
নিতাই গৌর দ্বারে দ্বারে, হরি নাম ঘােষণা
করে, দিলেন ভক্তি অভক্ত জনে; জগাই মাধাই
ভাই দুই জনে, তরে গেল নামের গুণে, অমর
হইল হরি নামামৃত পানে। ৭৩।
-
বাউলে সুর-তাল একতালা।
প্রভু তােমার সঙ্গে মিল না হলে আর দিন
চলে না।
দুঃখ ঘুচুলনা, সুখ হল না, থাকিতে বিচ্ছেদ
কিছুই হবে না।
প্রবৃত্তি প্রতিকূল হয়ে, নানা মতে ভােগা
দিয়ে, কল্লে মােরে আত্মবঞ্চনা; তােমার বিধি
নিয়ম অখণ্ড, পাপেতে হয় পাপের দণ্ড, এ যে
বিষম যন্ত্রণা, ছাড়িলেও ছাড়ে না, এখন উপায়
কি করি তা বল না।
কুবুদ্ধির যন্ত্রণা শুনে, পড়ে পাপ প্রলােভনে,
মুখের অন্ন খেতে পেলাম না ; করে ঘরে ঘরে

সঙ্গীত সুধ সিন্ধু।
বিসম্বাদ, পিতা পুত্রে হল বিবাদ, সেই মহা
পাপের ফল, ভুগৰ কত কাল, যা হবার হয়েছে
আর হবে না। ৭১।
রাগিণী খাম্বাজ।তাল মধ্যমান।
তােমার সঙ্গে বিবাদ করে কত দিন আর
বাঁচিব বল। তুমি হে জীবনয়, এক মাত্র
করিলে পালন পরম যতনে, দেবের অধিকার
দিলে নিজগুণে ; না শুনে তােমার মঙ্গল বিধান,
এই হল শেষে তার প্রতিফল।
হইয়ে এখন অনন্য উপায়, লইলাম না
তােমার পদাশ্রয় ; রাখ হে আমারে আপনার
করে, অনুগত কৃতদাস চিরকাল। ৭৫।
কীৰ্ত্তন।
অসার সংসারে কেবল সার ব্ৰহ্ম ধন, তার
সঙ্গে দিবা নিশি থাক ওরে মন। (একা থেক

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
নারে ) (আর কিবা আছে রে, সে ধন বিনা)
মুখে বল তার কথা, তাঁরই কথা শােন, (আর
কি কাজ আছে রে, শ্রবণ কীৰ্ত্তন বিনা) তার প্রিয়
কাৰ্য্যে দেহ কর হে পতন । ( জনম সফল হবে রে)
ভক্তিযােগে মগ্ন হয়ে অন্তর বাহিরে, দেখ
সেই আনন্দময় প্রাণের ঈশ্বরে।
কিবা সুখময় তার সহবাস। প্রেম সমীরণ,
বহে অনুক্ষণ, পরশে মনে হয় উল্লাস। পবিত্র
হিল্লোলে, আনন্দ উথলে, হয় হৃদয় আকাশে,
এক নিমেষে চিদানন্দ স্বরূপ প্রকাশ।
ব্ৰহ্মরূপ সিন্ধু নীরে, থাকিয়ে মুন, পান কর
প্রেমামৃত সুখে সর্বক্ষণ। ৭৬।
রাগিণী বিভাস।--তাল একতালা।
দেখে তােমারে, বল কেমন করে, একাকী
সংসারে থাকূব দয়াময়। আত্মীয় স্বজন, দারা-
সুত ধন, চিরদিন সঙ্গের সঙ্গী কেহ নয়।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
মােহ অন্ধ হয়ে ছিলাম তােমায় ভুলে, অনিত্য
অসার বিষয় কোলাহলে, বুঝিলাম এখন, কেহ
নয় আপন, (দয়াময় হে) প্রভু তােমা বিনা
সব অন্ধকার ময়।
এমন হৃদয়বন্ধু জীবন সহায়, অকৃত্রিম সখা
পাইৰ কোথায়, প্রীতিসুধা দানে, বাঁচাইবে প্রাণে,
(তােমা বিনে হে) এস! হৃদয় মাঝে প্রেম কর
বিনিময় ।
৭৭।
রাগিণী আলেয়া।“তাল একতালা।
দিন যে কুরাল আমার ।
প্রতু দুঃখের কথা তােমায় বলিব কি আর।
দেখিলাম নানামত, এড়াতে পাপের হাত,
নিৰুপায় দুইয়ে নাথ, এখন ডাকি তােমায় বারে-
বার।
বড় ছিল মনে সাধ, হয়ে শুদ্ধ চিত, ভক্ত হয়ে
থাকব ঐ চরণে; আমার সে আশা পূর্ণ হল না,

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। (ওহে দীনবন্ধু ), আর বহিতে পারিনে হৃদ- রাগিণী খাম্বাজ।—তাল আড়াঠেকা। তােমার কি দোষ দিব সকলি নিজ দোষে বলিবার পথ রাখি নাই কিছু আর বলিতে তােমারে। কেমনে আর এ পাপ মুখে, ডাকূব তােমায় পিতা বলে, অবাধ্য সন্তানের প্রতি নাথ চাহিৰে কি ফিরে ; ইচ্ছা হয় কেদে গিয়ে, পড়ি আবার তােমার পায়ে, কিন্তু প্রাণ কাপে ভয়ে, পাপ- রাশি মনে করে। কত পবিত্র ভূষণে, বহুমূল্য নানারত্নে, সাজা- ইয়ে দিয়েছিলে যতন করে ; হয় কোথায় সে নির্মল মুখ, কোথায় সে পবিত্র ভাব, পাপাগুণে দগ্ধ করিয়াছি নিজ করে। ৭৯।

সঙ্গীত সুধা'সন্ধু।
* - * *
-এ
রাগিণী বেহাগ।—তাল আড়াঠেকা।
ওহে জীবনবল্লভ প্রাণের অবলম্বন। চরণ
পল্লব ছায়া কর মােরে বিতরণ।
বিষম সংসার তাপে ক্লান্ত মম হৃদয়, একবার
দয়া করে দেহ প্রেম আলিঙ্গন ।
রাখ সদা দিজ পাশে, তৰ সুখ সহবাসে,
একাকী এ ভবারণ্যে থাকিতে না চায় মন ; তুমি
হে হৃদয়বন্ধু দয়াময় গুণসিন্ধু, তােমা বিনা কে
করিবে মম দুঃখ নিবারণ। ৮০।
রাগিণী মুলতান।“তাল আড়াঠেকা।
শােক সন্তপ্ত হৃদয়ে কর শান্তি বরষণ। ওহে
শাস্তির আধার জীবের জীবন ধন ।
মায়াপাশে বন্ধ হয়ে ছিলাম তােমারে ভুলিয়ে,
সকলই অসার ভবে দেখিতেছি হে এখন।
আত্মীয় প্রিয় বান্ধব, মান সম্পদ বিভব, জানি-
লাম মিছে এ সৰ কেবল মায়ার ভ্রম

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
আপনার বলে যাহারে, রেখে ছিলাম যত্ন
করে, একাকী ফেলে আমারে করিল সে পলা-
মন ৮১।
রাগিণী সিন্ধু।—তাল একতালা।
পরম বৈরাগী সৰ্বত্যাগী তুমি হে ঈশ্বর।
তথাপি জীবের সেবায় ব্যস্ত আছ নিরন্তর।
পরের হিতসাধনে, মত্ত হয়ে রাত্রি দিনে, কতই
ভাব মনে মনে, কে বুঝিবে সাধ্য কার ।
বড় সাধ হয় মনে, প্রাণ সঁপে ও চরণে, থাকি
তব সন্নিধানে, হয়ে নিত্য অনুচর। ৮২।
বাউলের সুর। ১১ ~~
ও মন কার সঙ্গে কর তুমি প্রবঞ্চনা। চির
দিন সমান যাবে না, এক দিন মরিতে হবে কি
জান না।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। যিনি হে চরমগতি, অনন্ত ব্ৰহ্মাণ্ডপতি, তাঁর সঙ্গে বিবাদ করাে না; যে দিন দেহলীলা সাঙ্গ হবে, সকলে বিদায় দিবে, কোথায় রৰে বুদ্ধি বল, চাতুরী কৌশল, (তখন) নাহি অন্য গতি তিনি বিনা। পরের কথা শুনে কাণে, মত্ত হয়ে অভিমানে, পরিণাম চিন্তা করলে না; যবে কৃতান্ত ধরিবে কেশে, পড়িবে কালের গ্রাসে, তখন দিব্যজ্ঞান পাবে, দর্প চূর্ণ হবে, আমােদ পরিহাস আর চলবে না। যে জন কুটিলতা করে, ফাঁকি দিতে চায় রে, পড়ে সে চিড়ের বাইশ ফেরে; যিনি সর্বদশী অন্তর্যামী, তারে কি ঠকাবে তুমি, হায় ! অবােধ ভ্রান্ত নর, ইহাতে তােমার, হুবে কেবল আত্ম- বিড়ম্বনা। ৮৩।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। কীৰ্ত্তন। ঐই (১৯৯iv আহা কে দিবে এনে ও সেই হৃদয়নাথে, আমার যার লাগি প্রাণ কাঁদে, হায়! আমি কি লইয়ে খাব এ সংসারে, হারায়ে, জীবনসর্বস্ব ধনে। হায় কোথায় গেলে আমি রে পাব, দেখে তাপিত প্রাণ জুড়াইব। যদি একবার দেখতে পাই আঁরে, বলি মনের দুঃখ প্রকাশ করে । ৪। anch একবার ডারে দিন যায় বয়ে। ডাক রে দয়াল বলে হৃদয় ভরিয়ে। (এক- বার ডাক ডারে। ডাক উরে সবে মিলে ব্যাকুল হয়ে (এক- বার ডাক্তারে) নামের গুণে ভরে যাবে ভব পার হয়ে। (পতিতপাবন নামের গুণে রে)

ও
সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
কি করিলে ভবে আসি জনম লইয়ে। (কেবল
এলে আর গেলে রে)
শমন নিকটে তাের রয়েছে বসিয়ে, (চেয়ে
দেখ দেখ রে )
যখন কৃতান্ত লইয়ে যাবে কেশেতে ধরিয়ে ।
তখন কি হবে রে )
ভাই বন্ধু দারা মুত যাইবে ফেলিয়ে। (কেহ
সঙ্গে যাবে না রে) ৮৫।
রাগিণী পরজ বাহার।-তাল ঠুংরি।
হরি নাম সার কর রে । সার কর, সার কর,
হরি নামের মালা পর রে।
হরি নাম মহামন্ত্র সর্ব শাস্ত্রের ফল, উত্তমেরই
প্রাণ ধন রে, অধমের জঞ্জাল রে।
হরি নাম দয়াল নাম বড়ই মধুর, যেই জন হরি
ভজে সেই সে চতুর রে।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
হরি নাম বিনে রে ভাই সকলই অসার, ভাই
বন্ধু দারা সুত কেহ নয় কার রে।
জীবন যৌবন ধন স্বপন সমান, মরণ কালেতে
কেবল সার হরি নাম রে ।
নয়ন মুদিলে হবে সব অন্ধকার, হরি এক মাত্র
বন্ধু ভবকর্ণধার রে। ৮৬।
Euro w
এমন দয়াল নাম সুধারসে আমার মন কেন না
মজিল রে। আমার মন,মন কেন না মজিল রে।
আমি না জানি কোন অপরাধে না মজিল রে।
(সেই দেবতার বাঞ্ছিত ধনে)
আমি না জানি কোন্ মহাপাপে ন মজিল
রে। ( গতি কি হবে রে)
এমন জনম বিফলে গেল না মজিল রে। (কথন
কি হবে রে)। ৮৭
{v
Wd. a .

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
নগর সঙ্কীর্তন।
১৭৯৭ শক।
কর সার ব্ৰহ্মপদ রে মন আমার, এই অসার
ভবে সে ধন বিনা সকলি যে অন্ধকার।
কি লােভে রয়েছ ভুলে হয়ে নিঃসম্বল, ভজ
প্রাণারাম সচ্চিদানলে হবে জীবন সফল ; লহ
পুণ্য সঞ্চয় করে, যে কয় দিন থাক সংসারে,
ডাক হারে ; সেই শেষের দিনে কি করিবে
ভেবে দেখ একবার।
তবে ছাড়রে বিষয় বাসনা। ও মন আর বিলম্ব
কর না রে । ( দিনত ফুরাইল ) হয়ে অনুরাগী
প্ৰেম বৈরাগী, কর প্রেম সাধনা। দীনহীন কাঙ্গা-
লের বেশে, চল যাই তার উদ্দেশে, কঁদি গিয়ে
চরণে লুটায়ে ; (ক্রন্দন বিনা আর যে গতি নাই
রে) বহিতে পারিনে আর, এ পাপজীবন ভার,
সে পদে সপি প্রাণ মন রে ; ব্যাকুল হৃদয়ে,
করিলে ক্রন্দন, দূরে যাইবে দুঃখ যন্ত্রণা।
---

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
প্রেম ভক্তি উপহারে, আশাপূর্ণ অন্তরে, করিব
তার সাধনা। প্রেমপুণ্য শান্তি সুধা, দিবেন তিনি
প্রাণ ভরে। সংসার বন্ধন হবে তাহে মােচন,
মিলে সাধুসঙ্গে দয়াময়ের করিব জয় ঘোষণা।
(প্রেমে মত্ত হয়ে) প্রেমযােগে যােগী হব,
আনন্দে মাতিব, (ভুলে থাকিব নারে, অসার
সংসারে) দেখে হৃদয় মাঝে স্বর্ণপাম পূরাইব
বাসনা। ৮।
রাগিণী ললিতা-তাল আড়াঠেক।।
জনক (জননী) বিয়ােগ শােকে দহিছে আমার
প্রাণ। কোথা হে পরম পিতা কর আসি শান্তি
দান।
যার মেহ বক্ষোপরে, পালন করিলে মােরে,
এ জগত সংসারে কে আছে তার সমান।
পারি নাই সাধ্য মতে, পিতৃ (মাতৃ) ঋণ শােধ
দিতে, সেবা ভক্তি কৃতজ্ঞতা কমিয়ে হারে

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। দান ; হইয়ে অবাধ্য কত, করিয়াছি অপরাধ, বুঝিয়ে করিয়াছি কত অপমান। ও হে পতিতপাবন, করি এই নিবেদন, পর- লােকে দিও ভঁরে তােমার চরণে স্থান; ইহ পরকালে তুমি, সকল জীবের স্বামী, পরলােক- গামী পিতায় (মাতায়) কর আশীৰ্বাদ দান। ৮৯। রাগিনী মল্লার।“তাল আড়া। পবিত্র প্রেম বন্ধনে বাঁধ হে আজি দুজনে। হৃদয়ে হৃদয়ে প্রাণে প্রাণে জীবনে। উভয়ের প্রেমনদী, বহে যেন নিরবধি, মুখেতে অনন্ত কাল তব প্রেমসিন্ধু পানে। তুমি সিদ্ধিদাতা পিতা, মঙ্গলময় বিধাতা, শুভকর্ম সম্পাদন কর আশীর্বাদ দানে; এই নব দম্পতিরে, রাখ দাস দাসী করে, চির জীবনের মত তােমার চরণে। ১০।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
৭
রাগিণী ঝিঝিট।—তাল মধ্যমান।
ওহে মঙ্গলবিধাতা কৰুণানিধান হে।
শুভকর্মে কর আজি আশীর্বাদ দান হে।
তব অখণ্ড নিয়মে, মিলিয়ে দাম্পত্য প্রেমে,
পরিণয়ে বদ্ধ হল তােমার সন্তান হে'।
চির সুখে সুখী করে, রেখ নব দম্পতিরে, দিয়ে
চির দিনের তরে চরণে স্থান হে। ৯১।
রাগিণী বেহাগ।—তাল আড়া।
দুস্তর সংসারাবে ভাসায়ে প্রেমের তরী, চলিল
দুজনে আজি শুভক্ষণে যাত্ৰা করি।
মুখাশা পবনবেগে, মিলে নব প্রেমযোগে,
প্রধাবিত অনুরাগে, কিবা শােভা মরি মরি।
অজ্ঞাত অপরিচিত, সুখ দুঃখে বিমিশ্রিত,
মনােরম্য গৃহধর্ম বিচিত্র কম্পন পুরী; বিষময়
এ সংসারে এই নব দম্পতিরে, রেখ নিরাপদে
পুণ্যপথে হে ভাণ্ডারী। ১২।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
রাগিণী জয়জয়ন্তী।—তাল ঝাঁপতাল।
গাও আজি বন্ধুগণে, পরম আনন্দ মনে,
সুধাময় ব্রহ্মনাম সকলে বদন ভরে।
যার গুণে সম্পাদন, হল শুভ সন্মিলন, সাজাও
তাঁহার পদ কৃতজ্ঞতা উপহারে।
নব দম্পতী হৃদয়ে, প্রেমালােক প্রকাশিয়ে,
আশীৰ্বাদ হস্ত তিনি রাখুন দোহার শিরে।
শুভ দৃষ্টিপাত করি, উভয়ের হাত ধরি, লয়ে
যান আপনার মুখময় সংসারে। ৯৩।
রাগিণী সুরট বাহার।—তাল কাওয়ালী।
কর আশীর্বাদ সবে প্রীত মনে। হে সুহৃদ
বন্ধুগণে, নব দম্পতিরে কর স্নেহেতে বরণ;
গাও হে মঙ্গলগীত, হয়ে প্রেমে পুলকিত, এ
শুভ বিবাহ অনুষ্ঠানে।
মিলে আনন্দে যত পুরকন্যাগণ, কর মঙ্গল
আচরণ; নৰ বর বধূ লয়ে, প্রফুল্লত হৃদয়ে,
কর মহােব উভয়ের সনে। ৯৪।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
- - - - -
রাগিণী সিন্ধু।—তাল মধ্যমান।
কেন হে এমন কয়ে চেয়ে আছ প্রেমনয়নে।
যেন আমা বই তােমার কেহ নাই আর ত্রিভু
বনে।
এইরূপে সবে তোমারে, আপন বলে মনে
করে, তুমিও তেমনি ভাবে ভালবাস প্রতি
জনে।
কীৰ্ত্তন।
সত্যং শিব সুন্দরং রূপ মনােহর, নিখি জুড়াব
আঁখি তৃষিত অন্তর। (সে দিন কবে বা
হবে হে)
হৃদয় আকাশে প্রেমচন্দ্রোদয় হবে, ভক্তি-
রসামৃত সিন্ধু উথলি উঠিবে হে।
দয়াল নাম বলিতে হবে পরাণ আকুল, অনু-
রাগে প্রেমাবেশে হইবে বিহবল।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
নয়নে নয়নে হবে শুভ সম্মিলন, অবাক হয়ে
দেখিব প্রসন্ন বদন হে।
অরূপ মাধুৰ্য রসে মন মজিৰে, মগ্ন হয়ে অনি-
মেষে চাহিয়ে রহিবে। (প্রেম মুখের পানে)
নয়নে বহিবে প্রেমধারা অবিরত, পুলকে সৰ্ব্ব
শরীর হবে রােমাঞ্চিত। (স দিন কবে বা হবে
হে, অধমের ভাগ্যে )
প্রেমরস পানে আর নামগুণ গানে, ভাসিব
প্রেমতরঙ্গে সদানন্দ মনে। (সাধু সঙ্গে মিলে)
সংসার বাসনা কবে হইবে বিনাশ, (চিরদিনের
তরে) সর্বস্ব সপিয়ে হব তব ক্রীত দাস হে।
মাটিতে মিশায়ে রব তৃণের সমান, ছাড়ি
অসার গৰ্ব মান অভিমান ।
বিষয় ত্যজিয়ে কবে হইব বৈরাগী, সেবিব ঐ
শ্রীচরণ হয়ে অনুরাগী।
ভক্তের চরণরেণু মস্তকে ধরিব, ভক্তাধীন
দীন হয়ে জীবন কাটাব হে।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
৭৫
সাধুসঙ্গে প্রেমানন্দে করিব কীৰ্ত্তন, সুধাময়
দয়াল নাম জগত পাবন হে।
সবে মিলে প্রেম সুধা পান করিব, সংসারের
শােক তাপ সব পাশরিব ।
ভক্ত সঙ্গে প্রেমধামে প্রেম আলাপনে, মাতিব
আনন্দ রসে নাম সঙ্কীর্তনে।
দীন প্রেমদাসে যাচে কাতর অন্তরে, এক বিন্দু
ভক্তিসুধা দাও দয়া করে হে। ৯৬।

সংগৃহীত
রাগিণী বেহাগ।-তাল আড়াঠেকা।
কি বেশ ধরেছ আজি শারদীয়া নিশিথিনী।
কৌমুদী বসনে পূর্ণ কলানাখ কিরিটিনী।
উজ্জ্বল তারকারাজি, কুণ্ডল শােভিছে কিবা,
ছায়াপথ সীমন্তেতে জনমনােমােহিনী।
প্রশান্ত প্রসন্নাননে, হাসায়ে জগতজনে, মাে-
হিত করেছ নাকি হৃদয়ানন্দদায়িনী ; কে তােমারে
এই সাজে সাজায়েছে বল সখি, (কোথায় জননী
তব সবার জননী যিনি) কাহার নন্দিনী তুমি
বল কে তব জননী। ৯৭।
kaw ৬৯
মধুকাণের সুর।
ওগাে স্রোতঃস্বতী সতী, পৰ্বত বিদীর্ণ করি,
চলেছ কার অন্বেষণে।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
কার প্রেমে হয়ে প্রমত্ত, আবৰ্ত্ত রূপেতে নিত্য,
ঘুরে ঘুরে কর মৃত্য, বল শুনি বরাননে।
মিলে অনিলের সঙ্গে, তঙ্গ রূপেতে রঙ্গে,
আনন্দে নাচিছ গঙ্গে কি ভাব উঠেছে মনে।
বিষ্ম বাধা ঠেলে ফেলে, যাইতেছ যার বলে,
বলিতে কি পার তার দেখা পাইব কেমনে। ১৮।
বল ওহে কবর, কে তােমায় সাজায়ে দিলে
শাখা পত্র পুস্প ফলে।
কাহার কৃপাতে তুমি, উদ্ভেদ করিয়া ভূমি,
উদ্ভিজ নামেতে খ্যাত হইয়াছ ভূমণ্ডলে।
বীজমধ্যে গুপ্ত ভাবে, ছিলে তুমি কার প্রভাবে,
তত ক্ষুদ্র হয়ে এত বড় হলে কার কৌশলে।
তৃপ্ত হয় সব জন্তুগণে, তব পত্ৰ ফলাশনে,
পথিকে হয় গতশ্রান্ত তব সুশীতল তলে। ৯৯।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
রাগিণী কালহাংড়া।—তাল একতালা।
ওহে বিহঙ্গগণ কার গুণ গাইতেছ। আনন্দে
মধুর রবে বল কারে ডাকিতেছ।
নাহি কর কৃষিকাৰ্য্য, না কর দাস্য বাণিজ্য,
নিত্য নিত্য কার দ্বারে সদাব্রত পাইতেছ।
সুচিত্রিত পক্ষ দিয়ে, কে দিয়েছে সাজাইয়ে,
কাহার প্রদত্ত বলে শূন্যপথে ধাইতেছ।
তােমাদের মধুর রবে, আনন্দে ভাসিছে সবে,
বল বল বল শুনি কি সুভাষা ভাবিতেছ। ১০০ ।
আউলে সুর।
বলরে বল ও তৰু বল্‌ রে। কে তােরে
সাজালে দিয়ে পত্র পুস্প ফরে।
ছিলি এক বালির মত, হলি তায় হন্ত শত,
কাণ্ড প্রকাণ্ড কত কার কত কৌশলরে ; ওরে
বলরে তৰু কার উদ্দেশে, গগণ ভেদ করে যাস,
উব্ধ দেশে, হলি সংসারে এসে, কার প্রেমে
অচলরে।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
এমন শীত উষ্ণ সয়ে, নিরন্তর খাড়া হয়ে, কি
ভাবিস নীরব হয়ে ভাব দেখে বিল রে ;
কেন তেজ্য করে ভােগ বাসনা, তৰু করিসূরে
কার উপাসনা, কি জন্য যােগী জনা সার করে
তাের তলরে।
অনিলের সঙ্গে মিলে, নিরন্তর হেলে দুলে,
কার গুঃ গারে জিলে, স্বরে হই শীতল রে ;
কেন দেখতে পাইরে প্রভাত হলে, ধরা ভেসে
যায় তাের নয়ন জলে, না জেনে লোকে বলে
শিশির পড়া জল রে। ১০১।
রাগিণী ললিত বিভাস।তাল এক তালা।
তােমারে যে জন, করেন গ্রহণ, তাহার কখন
ভাল নাহি হয় ।
তুমি সর্বনাশী, বঙ্গভূমে আসি, নাশ রাশি
রাশি মানব নিচয় ।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। যে দিকে যেখানে হেরি বঙ্গভূমে, সে দিকে পূর্ণিত তােমারই ধুমে; ধরি মায়া বেশ, নাশ বঙ্গদেশ তােমারই তরে হাহাকারময়। যকৃত প্লীহাদি শ্বাস কাশ যত, সাংঘাতিক রােগ আছে নানা মত; সেই সমুদয়, তােম হতে হয়, আহা কত তায়, মরে জীবচর । ওরে সুরা তাের হেরে অত্যাচার, বসে বঙ্গ- মাতা কাঁদে অনিবার; নীরবে নির্জনে, ব্যাকুলিত মনে, সে দুঃখ হেরিলে বিদরে হৃদয়। ১০২। কীৰ্ত্তন ভাঙ্গা সুর।তাল একতলা। ওরে রাম কেমনে দি বিদায় এ প্রাণে। এক- বার আয়রে কোলে, (সাধনের ধন আমার সর্বস্ব ধন) ও বাপ তাের শােকে তোর পিতা পড়ে ধরাসনে। কত যাগ যজ্ঞ করে, পেয়েছি বাপ তােরে, রাজা হবি বসবি সিংহাসনে, কে সাধিল বাদ,

সঙ্গীত সুদসিন্ধু।
হল হরিষে বিষাদ, বুঝি অন্ধমুনির সাপ ফলল।
এত দিনে।
তাের কুণ্ডল হার মণি, কৈরে রঘুমনি, নূপুর
দুখানি কৈ চরণে; ছিন্ন ভিন্ন বেশ, ছিন্ন ভিন্ন
চাচর কেশ, ও বাপ কেমনেতে যাবি সে কঠিন
কাননে।
তাের জটা বাখল হেরে, মন প্রাণ বিদরে,
এমন করে অঙ্গে দিলে কোন্ প্রাণে; তাের
বিদায় শুনে, আমার বক্ষে শেল হানে, ও বাপ
তুই কেন রে যাবি আমি যাই সে বনে ।
মায়ে দিয়ে মনস্তাপ, যেওনা রে বাপ, দিব জলে
ঋপ কাজকি এ প্রাণে ; তুই গুণের নিধি, বুঝি
বাম হল বিধি, হল সুদিনেতে কুদিন যদুদাসে
ভনে।
রাগিণী ললিতা-তাল আড়া।
অয়ী সুখময়ী উষে! কে তােমারে নিরমিল।
বালক সিন্দুর ফোটা কে তােমার শিরে দিল।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
হাসিতেছ মৃদু মৃদু, আনন্দে ভাসিছে সবে,
কে শিখাল এই হাসি কেবা সে যে হাসাইল।
ভুবন মােহিত করি, গাইছ বিপিনে কারে,
বল কে সে পুস্পাঞ্জলি অর্পণ করিছ ঘরে ; কমল
নয়ন মেলি, কার পানে চেয়ে আছ, কার তরে
ঝরিতেছে প্রেম অশ্রু নিরমল ।
এই ছিল জীবগণ, মৃতপ্রায় অচেতন, তব দরশন
মাত্র পাইল নবজীবন ; বারেক আমারে তুমি,
দেখাও যদি দেখি ভরে, হেন সঞ্জীবনী শক্তি
যে তােমারে প্রদীনিল। ১০৪।
বাউলের সুর।
পুরবাসী রে, তাের যাবি যদি অমৃত নিকে
তনে চলে আয়।
থাকুক যথা আছে ধন জন, আর সে ছার ধনে
কাজ নাই

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
তােদের মর্মব্যথা আর না রহিবে, রােগ
শােক তাপ দূরে গিয়ে প্রাণ শীতল হবে, একবার
দেখলে প্রভুর প্রেমমুখ সব দুঃখ দূরে যায়।
আর কত দিন সেই মায়েরে ভুলে, থাকৃবি
বিদেশেতে মিছে কাজে মায়ের কোল ছেড়ে,
(তােদর) কোলে নেবার তরে, সদাই সে যে,
ডেকে ডেকে ফিরে যায়। ১০৫।
সুর
ঐ ।
কে আমায় ডাক বিদেশী সাধু মধুর ভাষে,
যেতে স্বদেশে ।
আমার ধন মান পরিজন, কাজ নাই গৃহবাসে।
আমি অভাগা দীন পরাধীন, আছি রােগে
শােকে পাপে তাপে পিতা মাতাহীন ; কবে
যাবে জ্বালা প্রাণ জুড়াবে, হৃদে পেয়ে প্রাণেশে।
আর কত দিন এই আঁধারে পড়ে থাক

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
১৭ -
- AWALA *
বিদেশেতে একাকী সেই মায়ের কোল ছেড়ে ;
আর ফিরাব না পাষাণ মনে জননীরে নিরাশ্যে
এবার পাইলে সেই হারান রতন, রাখব মনের
সাধে হৃদে গেঁথে করিয়ে যতন, যাবে জন্মদুঃখির
সব জ্বালা প্রেমবারি পরশে। ১০৬।
কপ • '
রাগিণী ভৈরবী।-তাল ধিমে তেতালা।
এমন দিন না রবে তা জান।
এসেছিলে একেলা, একা যাইবে ।
চির দিন, রহিবে যে ধন, সেই ধনে রাখ
যতনে। ১০৭।
বাউলে সুর।
ফকিরী লওয়া বড়ই কঠিন।
ফকির পথের
তৃণ হতে দীন।
বেশেতে হয়না ফকিরী, বাক্যের ফকিরী কেবল
শঠের চাতুরী; ও মন ষড়রিপু দমন করে হতে
হয় রে দীনহীন ।
;

সঙ্গত সুধাসিন্ধু।
নিত্য সুখে সদাই তার আশ, কুঙ্কুরের
উচ্ছিষ্ট
সম বিষয় ভােগ বিলাস ; মন অন্ন বস্ত্রের অভাব
হলেও হয় না তার বদন মলিন।
মান অপমান হইবে সমান, মিষ্ট বাক্য পৰুষ
বচন হবে সমজ্ঞান ; ও মন বিনয় প্রণয় হৃদয়
ভূষণ, করে রাখতে হবে চির দিন।
সাধু হওয়া সামান্যত নয়, সৰ্ব্বত্যাগী বৈরাগী
বিনয়ী হতে হয়; ও মন পিতার ক্ষমা স্মরণ
করে হতে হয় প্রেমের অধীন।
সেই ফকিরী করিব গ্রহণ, সদানন্দে ভবের
মাঝে কাটাব জীবন; এখন ত্বরায় এনে দাও
দয়াময় সেই প্রার্থনীয় শুভ দিন। ১০৮।
) : بله
রামপ্রসাদী সুর।
আর কি কারেও ভয় করিব। আমি হইয়ে
বিশ্বাসী ভক্ত ঐ চরণ তলে পড়ে রব।
অবিশ্বাসীর যে যাতনা, প্রাণ থাকিতে ভুলিবনা,
এবার অভয় পদে প্রাণ সঁপে নির্ভয় হয়ে বেড়াব।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
বিড়ালের শাবকের মত কেবল মা বলে ডাকি ।
তুমি যে ভাবে যথায় রাখিবে সেই ভাবে তথায়
থাকিব।
নিজের উপর নির্ভর করে পড়েছিলাম বিষম
ফেরে, এখন তােমার সংসার তােমায় দিয়ে
গৃহস্থ বৈরাগী হব। ১০৯।
orthoguin
(৩)
সুর ঐ।
যদি চাও হে মুখ এ জগতে। হবে সংসারী
বৈরাগী হতে।
উদাসীন বৈরাগী হলে, কাটা পড়ে প্রেমের
পথে ; সুখসিন্ধু ছেড়ে যে জন যায় সে মরে দুঃখ
পিপাসাতে।
অর্থনাশ বা স্বজন বিয়ােগ এরূপ কোন
ঘটনাতে; যারা হয়েছে শ্মশান বৈরাগী সুখ নাই
তাদের অন্তরেতে।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
৮৭
বিরক্ত বৈরাগী হলে, পাবে না সুখ কোন
স্থলে, সুখের সাগর ছেড়ে সুখের আশায় যেও
মৰুভূমিতে।
* মর্কট বৈরাগ্য ” তুমি করােনা মন লোক
দেখাতে ; ওরে “স্বার্থনাশস্তু বৈরাগ্যং ব্ৰাক্ষৈরেবং
প্ৰকীৰ্ত্ততে।” ১১ ।
5. Y (6
s{
৬. • ।
বাউলে সুর।
কেন রে মন অকারণ। কি হবে কি খাবে বলে
ভেবে মর অনুক্ষণ।
গশয্যা তেজে ধরায় ভূমিষ্ঠ হলে যখন,
ভাব কার কৃপাতে মাতৃস্তনে দুগ্ধ পেয়েছ তখন।
তদবধি যখন যাহা হইতেছে প্রয়োজন, ভাৰ
কে তােমায় তা মুক্তহস্তে করিছেন পরিবেশন ।
জগৎপতির অক্ষয় ভাণ্ডার খােলা আছে
সর্বক্ষণ, তাতে অভুক্ত থাকে না কেই কল্পে
আতিথ্য গ্রহণ। ১১১
Incan

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
রাগিণী লুমঝিঝিট। তাল আড়া।
এ সকলি কিছু দিন, কেবল মায়ারি অধীন।
জীবন যৌবন দম্ভম, সকলি মায়ারি ভ্রম,
প্রফুল্ল কমল সম নিশিতে মলিন। ১১২।
(
রাগিণী খাম্বাজ।—তাল আড়াঠেকা।
ওরে ভ্রান্ত মম মন। এ দেহের ঐ পরিণাম
কর দরশন।
সুবর্ণে মণ্ডিত করি, সুচিত্র যে দেহপুরী, সদা
সুদর্পণে হেরি ভাবিত সে চির ধন; যতনে রাখিত
যারে, সুবর্ণ পৰ্যাঙ্কোপরে, কাষ্ঠ সহ দগ্ধ করে
ঐ দেখ হুতাশন।
এখন কোথা প্রিয় পরিবার, কোথ দম্ভ
অহঙ্কার, সুসজ্জিত গৃহ দ্বার কোথা রহিল এখন।
নিশ্চয় এইরূপে কবে, তােমাকেও যাইতে হবে,
অতএব নমুভাবে কর নিজ আয়ােজন; এই যে
পার্থিব দেহ, সঙ্গে নাহি যায় কেহ, অতএব
অহরহ কর ধর্মধন উপার্জন। ১৩।
3. 13

সঙ্গীত সুপাসিন্ধু।
e এ ।
রাগিণী মল্লার।—তাল আড়াঠেকা।
অবিদ্যা ঘনে করিল নিবিড় অন্ধকার।
অহমেতি মমেতি নাদে গর্জয়ে বারম্বার।
ধনাশা বায়ু প্রচণ্ড, বহে প্রতিক্ষণ দণ্ড, শশকা
করকা বর্ষে মােহ বারিধার।
পড়িয়ে দুর্যোগে হরি, অন্ধ পথ কিছু না হৈরি
দেখি কদাচিত চিত তড়িৎ সঞ্চার ; দুঃখশনিতে
মূচ্ছিত, কভু ভ্রমে মুদান্বিত, এ যাতনা অকিঞ্চনে
হরি না দিও আর।
১১৪।
বাউলে সুর।
আর কেন মন দেরি কর। সংসার আসক্তি
ছেড়ে বৈরাগ্য সাধন কর ।
পড়ে সংসারনলে, রাত্রি দিন মর জ্বলে, কত
সুখ বৃক্ষতলে, গিয়ে একবার দেখ; তথায়
নীরবে সৰ তলতা, শিখাইছে সহিষ্ণুতা, ফল
ফুল ছায়াদানে তুষিতেছে নিরন্তর।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
---
যাদের আপনার বলে, রয়েছ মায়ায় ভুলে,
এক দিন তাদের সঙ্গে হবে ছাড়াছাড়ি; যিনি
চিরকালের সহায়, মন ভাল বাতে শেখরে ভয়,
প্রেমিক বৈরাগী হয়ে মিছে মায়া পরিহর।
যা হবার হয়ে গেছে, কেন আর ভাবনা মিছে,
ভাবলে পর গত সময় ফিরে আসবে না;
এখন ত্যজে বিলাস ভােগ বাসনা, মন কর কর
যোগ সাধনা, ভক্তদের সঙ্গে চল হয়ে তাঁদের
অনুচর। ১১৫।
রাগিণী নারায়ণী।—তাল জৎ।
ভজরে ভজরে ভবনে। ভজরে বিশ্বজন
বনে।
জগতরঞ্জন ভকতচিত্ত বিনােদনে, মােদনে,
পালনে, তারণে, প্রণতজন সৌভাগ্যজননে।
শুদ্ধসত্ব জ্যোতির্ময় জ্ঞানে, মুক্তিদাতা জগত
প্রাণে; অন্তরযামী নিত্য পুরাণে, শ্বাশ্বতঃ বিভু

সঙ্গীত সুপাসিন্ধু। কৃপানিধানে; পূর্ণব্রহ্ম সনাতনে, সমস্ত পাতক- নাশনে, সর্বলোকায় প্রভৰে, সত্যাত্মনে, প্রেমাত্মনে। ১১৬। rim,w.sketc ৭.১ কীর্তন। দয়াময় নাম ভুল না রে মন। এ নাম চির- দিনের শান্তি ধন। নামের কত মহিমা, আর কেহ জানে না, মহা- পাপীর পরিত্রাণে কিছু যায় জানা; পাপীর নয়ন ভাসে আশার জলে করিলে নাম উচ্চারণ । পাপীর হৃদয়ের ভার, কিছু থাকেনাক আর, ভক্তিভাবে গলায় দিলে দয়াল নামের হার; পাপী আনন্দেতে উদ্ধ, মুখে, করে এ নাম আস্বাদন। নামের কত কৰুণ, কারেও মুণা করে না, পাপী সাধুর ভেদাভেদ এ নাম জানে না; সদা স্নেহভরে সমভাবে, করে সবে আলিঙ্গন। ১১৭।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
রাগিণী সুরট মল্লারাল একতালা।
মন কে বল গুৰু সংসারে।
বিনা জ্ঞানময়, পিতা দয়াময়, যিনি অন্তৰ্য্যাগী
সকল জেনে উপদেশ দেন অন্তরে।
বেদ তন্ত্র পুরাণ পড়ে বহুতর, জ্ঞানবলে মন
কর অহঙ্কার, প্রলােভন এলে জ্ঞানবল লয়ে কি
হবে তখন ৰল ; পাপকূপে পড়ি কর হায় হায়,
কে তারিবে তােমায় দেখি নিৰুপায়, কত গুণী
জ্ঞানী হয়ে অভিমানী ডুবিল পাপসাগরে।
গুৰু বলে তাঁর লও রে শরণ, অহঙ্কার ছাড়ি
হও অকিঞ্চন, পিতার চরণে থাকরে পড়িয়ে
শুনিবে মধুর বাণী; বিপদ সম্পদে পাৰে উপদেশ,
থাকিবে মনে সংশয়ের লেশ, মধুর বচনে হৃদয়
জুড়াবে যাবে ভবার্ণব পারে ।
উপদেশ তিনি দেন নিরন্তর, তাহা না পালিয়ে
বধির অন্তর, পাপে তাপে ডুবে কর হাহাকার
ওরে ভ্রান্ত মম মন ; তাহার আদেশ মন্তকে

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। ধরিয়ে কর হে পালন জীবন সপিয়ে, গুৰুমন্ত্র তার, শুন নিরন্তর, না রবে পাপ আঁধারে। ১১৮। {শ, Woh আউলে সুর। কোথা যারে ভাই তার অন্বেষণে বস্ দেখি আমায়। যে জন ডাকৃতে জানে, কাতর প্রাণে, ঘরে বসে সে যে পায় । গলায় আছে গলার হার, কোথা মাস তাঁর তরে আর, ভাব বুঝে ওঠা ভার; দেখরে প্রেম- নয়নে, হৃদয়ধনে হৃদয় মাঝে পাৰি ভঁয়। ১১৯। খ. } ?? রাগ ভৈরে।।-তাল ঠুরি। গা তেলাে পুরবাসী, রজনী পােহাইল, দয়াময় নাম কর গান। কর হে ভজন, করহে সাধন, করহে চিত্ত সমাধান।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু ।
অলস ত্যজিয়ে, হৃদয় ভরিয়ে, দয়াময় নামরস
কর পানি।
ভজহে দয়াময়, পূজহে দয়াময়, দয়াময় রূপ
কর ধ্যান।
শয়নে দয়াময়, স্বপনে দরাময়, দয়াময় নাম
বল অবিরাম।
অনলে অনিলে, অচলে সলিলে, দেখরে দয়াময়
বিরাজমান।
নগরে প্রান্তরে, অন্তরে বাহিরে, দেখহে দয়াময়
বিরাজমান।
ভূতলে গগণে, অৰুণ কিরণে, দেখহে দয়াময়
বিরাজমান।
তরুলতা নীরবে, পশুপক্ষি মানবে, গাইছে
সকলে দয়াময় নাম। ১২০।
(huwe
৮
কীৰ্ত্তন।
ব্ৰহ্ম সনাতনে আনন্দ অন্তরে ডাক।

সঙ্গীত সুপাসিন্ধু।
সবে মিলে খুলে দাও হৃদয় দুয়ার; মানব
জনম সফল কর স্মরণে পিতার।
মৃত্য কর প্রেমানন্দে হইয়ে মন ; দয়াল বল
দেহে প্রাণ আছে যতক্ষণ ।
ছিন্ন হবে হৃদয় গ্রন্থি স্মরণে উহার ; নব
জীবন পাবে ভবে হইবে উদ্ধার।
ত্যজি মােহ কোলাহল কর নাম সার ; স্মর
নাম জপ নাম কর গলার হার ।
দয়াময় দয়াময় বল অনিবার; বল দীনবন্ধু
দীননাথ কর হে উদ্ধার।
ব্ৰহ্মানন্দে মগ্ন হয়ে কর তাঁর ধ্যান; নাম
গান নামানন্দর কর পান।
ব্ৰহ্মযােগে যােগী হয়ে জাগ দিবানিশি ; জেগে
অনিমেষে দেখ প্রভুর মােহন মূরতি।
প্রাণনাথের শ্রীচরণে পড় সবে ভাই; ঐ চরণ
বিনা এ সংসারে আর গতি নাই ।
প্রণমিয়ে প্রাণেশ্বরে ধন্য হওরে মন ; ভক্তিভরে

সঙ্গীত সুপাসিন্ধু।
(দেখ যেন ভুলনা রে) (ওরে প্রণমিয়ে অবােধ
মন রে ) ( জেগে যেন ঘুমাইও না রে) অভয়
পদ কর আলিঙ্গন। ১২১।
Xalah
2. Jaw ah
রাগিণী হাম্বির।তাল আড়াঠেকা।
তুমি জ্ঞান নিকেতন, সর্বশক্তি গুণাকর, অচিন্ত্য
রচনা এই নিখিল জগতাধার ।
কি আকাশে কি ভূতলে, কি সাগরে কি অচলে,
চরাচর এক শৃঙ্খলে ধরেছ হে সৰ্বাধার।
ঘূর্ণিত তারকাগণ, মধ্যেতে স্থির তপন, ভীম
আকর্ষণ সূত্রে নিবন্ধ সকল ; অদ্ভুত কৌশল
ক্রমে, জমিছে যথা নিয়মে, ভূকম্প ঝটিকা বজে,
তিলেক নাই ব্যভিচায়।
অসীম শক্তি কৌশলে, বায়ু অগ্নি ক্ষিতি জলে,
পরস্পর মনােহর, সংযােগ বিধান ; সচল অচলে
জড়িত, জড় চৈতন্যে মিলিত, জীবনে নাশের
বীজ, নাশে জীবন সঞ্চার।

সঙ্গীত সুপাসিন্ধু।
•
দশদি জল স্থল, অসীম নভােমণ্ডল, সূক্ষম
হল প্রাণিপুঞ্জে পরিপূর্ণ সব ; প্রত্যেকের
জননী হয়ে, বসে আছ কোলে লয়ে, যার যেই
প্রয়ােজন, যােগাইছ অনিবার।
কালের প্রবাহ কিবা, ক্রমাগত রাত্রি দিবা,
খাতু শ্রেণী পুনঃ পুনঃ করে গতায়াত; এই ভাবে
অনন্তকাল, এই সংসার বিশাল, হতেছে অতি-
বাহিত, ইচ্ছায় নাথ তােমার ॥ ১২২ ।
রাগিণী জয়জয়ন্তী।তাল চোতাল।
নাথ! তুমি ব্ৰহ্ম, তুমি বিষ্ণু, তুমি ঈশ, তুমি
মহেশ; তুমি আদি, তুমি অন্ত, তুমি অনাদি,
তুমি অশেষ।
জল স্কুল মৰুত ব্যোম, পশু মনুষ্য দেবলােক,
তুমি সবার সুজনকার স্বাধার ত্রিভুবনেশ।
তুমি এক তুমি পুরাণ, তুমি অনন্ত সুখসােপান,
তুমি জ্ঞান তুমি প্রাণ তুমি মােক্ষধাম।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু ।
পূর্ণ হলে মনস্কাম, লয়ে আজি তব নাম, তব
পায়ে শত বার, করি প্রণাম করি প্রণাম। ১২৩।
(a.w.txt
৪৯
কীৰ্ত্তন ভাঙ্গা।—তাল একতালা।
পিতা কও কথা, তােমার কথা শুনে স্থাপিত
প্রাণ করি শীতল ।
ঐ শ্রীমুখের বাণী শুনিবার তরে, তােমার
চরণে আমি লইয়াছি শরণ।
এই সংসার মাঝারে পথ হারা হয়ে, কাঁদিতেছি
পিতা একা নিরাশ্রায়ে; বল বল পিতা কোন্
পথে গেলে, তােমার চরণ তলে আশ্রয় পাইব।
বিজ্ঞান দর্শনে শাস্ত্র আলাপনে, তৃষিত হৃদয়
তৃপ্তি নাহি মানে; তাই বলি ও গাে পিতা,
ঘুচাও মনের ব্যথা, সদা গুৰু হয়ে শিক্ষা দাও
হে অন্তরে ১২৪।
gw in

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
M
কীৰ্ত্তন।
প্রভু দয়ার সাগর ।
দয়ার সাগর প্রভু, প্রেমের সাগর ।
একবার দাড়াও আমার বক্ষস্থলে, আমার
সকল পাপ যা চলে।
যদি চন্দ্র সূৰ্য্য যায় চলে, তবু তােমার দয়া
নাহি টলে। ১২৫।
রাগিণী জয় জয়ন্তী তাল চৌতাল।
প্রথম নাম ওঁকার, ভুবনরাজ দেব দেব, জ্ঞান
যােগে ভাব হে তিনি তােমার সঙ্গে।
ভুবনময় যে বিরাজে, ভকত হৃদয় তাঁর
সাখ, প্রাণ প্রাণ হৃদয়নাথ ভুলনা রে ভঁরে।
রাগ সঙ্গীত মানে, মিলিয়ে অনন্ত ধ্যানে,
তার গুণ একতানে, গায় ত্রিভুবনে; ভয় কি
অভয় দানে, তােষেন জাত জনে, ডাক হে
আনময়ে, তিনি তােমার সঙ্গে ১২৬।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু ।
কির্তন।
পিতা খােল দ্বার, এসে দেখ হে দয়ার নিধি,
অপরাধী সন্তানে।
আমি সেই তোমার পাষণ্ড সন্তান, করে,
অপমান, দধিয়াছি বারে বারে পিতা তােমার
প্রাণ ; আমার কোথাও কি আছে সুখ, সিং-
সার হয়েছে বিমুখ, তােমার প্রসন্ন মুখ তােল
পিতা ছেরি একবার নয়নে।
আমার অস্থি চর্ম হয়েছে গাে সার, দেখতেছি
আঁধার, অনাহারে পিপাসার প্রাণ কচ্ছে হাহা-
কার ; পিতা সদাব্রত তােমার দ্বারে, কখন
কেউ না যায় ফিরে, আমি পুত্র হয়ে অনাহারে
হারাব কি জীবনে।
তুমি নিজে প্রাণ দিয়েছ আমার, কি বলব
আর, তাই ভেবে তােমার কাছে এলাম গো
আবার ; আমার অপরাধ সব যাও গাে ভুলে,
দয়া কর সন্তান বলে, আজ সাধ পূরে একবার
পিতা লুটাই তােমার চরণে। ১২৭।
}

সঙ্গত সুধাসিন্ধু। রাগিণী মূলতান।-তাল একতালা। হৃদয় কাঁদিতেছে তাই। এই বিপদ সময়ে তােমারে না পাই। একে পাপনলে অন্তর শুকায়, অন্য বিড়ম্বনা কেন অার তায়, আমি স্বতঃ পরতঃ পড়েছি ঘাের দায়, আমার আর কেহ নাই হে। ওহে শৈশব না যেতে, কলঙ্কের হাতে, সপে- ছিলাম আমি দেহ মন প্রাণ ; আমার যত দুর- চার, যত দুঃখ ভার, তব চক্ষে বিদ্যমান হে; দুজ্জন সন্তানে, অসহায় জেনে, আনিলে এখানে নিজ দয়াগুণে ; আমি নিজ অহঙ্কারে, এত দিন পরে, যেন তােমায় না হারাই হে। ১২৮। রাগিণী বেহাগ।-তাল আড়াঠেকা। পিতঃ ক্ষম অপরাধ, অবােধ সন্তান আমি। শুনে তােমার কথা, করেছি কুকর্ম কত, হেলায় সুপথ ছেড়ে হয়েছি কুপথগামী।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
স্বাধীনতা মহারত্ন, মেহে মােরে দিয়ে তুমি,
পাঠালে ভবের হাটে সুধা কিনিতে; হায় আমি
কি করিলাম, বলিতে বিদরে হিয়ে, কিনিলাম
সে মহা রঙ্গে, পাপ তাপ দুঃখরাশি। ১২৯।
৬৯ এ
রাগিণী ছায়ানট।তাল আড়া।
সঁপিলাম নাথ, প্রাণ মন আজ তােমার মঙ্গল
চরণে।
জেনেছি জেনেছি নাথ মঙ্গলদাতা, পিতা পাতা,
সুখদাতা, নাহি আর তােমা বিনে।
ধর হে ধর হে নাথ, এই অধম সন্তানে, লও
হে অভয়দাতা তব শান্তি নিকেতনে। ১৩০।
tv,
রাগিণী বেহাগ।“তাল আড়াঠেকা।
হবে এই ভিক্ষা দিতে।
যায় যেন প্রাণ তােমায় দেখিতে দেখিতে।
যদি রুপা কোরে দীনে, দিলে স্থান ও চরণে,
ছাড়িব না ও চরণ, এ প্রাণ থাকিতে।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
১০৩
তােমার প্রেমের দ্বারে, যেই যায় নাহি ফেরে,
দিও প্রভু তব গৃহে দাসত্ব করিতে। ১৩১।
রাগিণী ভৈরবী।—তাল তিওট।
দেও অভর পদ এ বিপদ কালে হে।
পাপানলে পড়ে প্রাণ যায় হে, দিয়ে দরশন
বাঁচাও বিপন্ন জনে।
ঘাের বিষয়ের বনে, অন্ধ হয়েছি নয়নে, সময়
পেয়ে শত্রুগণে, বুঝি বধে জীবনে।
ঘাের বিপদ সময়, ডাকি তােমায় দয়াময়,
দেও কাতরে আশ্রয়, এই মিনতি চরণে | ১৩২।
কীর্তন।
নাম তােমার দয়াল প্রভু, আমি শুনেছি হে।
আমি তাই শুনে এসেছি হে নিতে পদায়।
ভিক্ষুক ঘারে, তৃষ্ণায় মরে, দেখ দয়াময় ;
এবার শান্তিবারি দিতে হবে, ছাড়বনা তােমায়।

১ • ৪ সঙ্গতি সুধাসিন্ধু। Ars * - **** ৪.৬ %% কত যে পাপ করিয়াছি ঢাকব কি তােমায়, সে সব অন্তর্যামী পিতা তুমি জান্ছ সমুদায়। তােমা বিনা আমার প্রভু কেহ নাই আর, কে করে 'মােচন, এ পাপীর নাথ, মস্তকের ১৩৩। ১ বাউলে সুর। দীননাথের চাইতে হবে। এ কাঙ্গালের দিন কি এমনি যাবে। যদি পাষাণে বীজ না হল অঙ্কুর, তবে জগ- জ্জনে বল্‌বে কেন হে কাঙ্গালের ঠাকুর; যদি ব্ৰহ্ম- ডাঙ্গায় না দাঁড়াল জল, তবে নাম দয়াময় বলবে কে হে ভকত বৎসল ; তােমায় মনে হলে, পাষাণ গলে, (ও রূপ) মনাদি ইন্দ্রিয় সবে । ১৩৪। ও ৯ রাগিণী ভৈরবী।তাল আঁড়া। তােমার চরণ বিনা গতি নাহি এ সংসারে। প্রবল সংসারাঘাত সহিব কাহার বলে।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
কৃপা করি কৃপাময়, হে মহাপাপীর আশ্রয়,
চরণ কর রক্ষণ, মম হৃদয় কুটীরে।
পরীক্ষাতে জানিয়াছি, নিজের মনের বল,
নির্ভর করেছি তােমার চরণোপরে। ১৩৫।
রাগিণী বিভাস -তাল আড়াঠেকা।
তোমা বিনা কে বুঝিবে মনােবেদনা।
কারে কব কে আছে আর সংসার মাঝে।
উৎকণ্ঠিত ভয়াকুল, অনুক্ষণ আছে হৃদয়
সন্তানে কৰুণা করি কর কর অভয় দান। ১৩৬।
রাগিণী বিভাস।—তাল একতালা
তাই ভাবি হে মনে, কেন অকারণে পাণী
জনের প্রতি এত কৰুণা ।
তােমার কৃপায় ধরি হে জীবন, তবু তােমায়
করি অবমাননা।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু ।
তােমারি অন্নেতে শরীর পােষণ, তােমারি
জলেতে তৃষ্ণা নিবারণ, তবু তােমার দয়া না
করি স্মরণ, এত পাপী জনেও ঘৃণা কর না।
এতই যদি দয়া কর অকারণ, নিজ গুণে একবার
দেও দরশন, আর যেন তােমায় না হই বিস্মরণ,
এই ভিক্ষা দিয়ে পূরাও বাসনা। ১৩৭।
বাউলে সুর।
ওহে দীনকাণ্ডারী চাও একবার দীনে।
যাদের সঙ্গে এসেছিলাম হে, সবাই গেল
ফেলে; কেউ নিলে না হে সঙ্গে করে এই
দীনহীনে।
দাড়ায়ে রয়েছি কুলে হে, পারে যাৰ বােলে ;
আর কে করিবে, পার, তােমাবিনা এ সম্বল
বিহীনে। ১৩৮।
৫

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। সুর ঐ। কি বলে তার দিৰ পরিচয়। তিনি দয়ার চন্দ্র প্রেমজলধি, দেখলে নয়ন শীতল হয়। কোটি মূৰ্য্য এক করিলে তুলনা তার নাহি হয়, তিনি অনন্ত আকাশে পূর্ণ আশ্চৰ্য্য আলােক- ময়। ১৯। এ ৬ ৭৯ কীৰ্ত্তন। একবার দাড়িও এসে, ওহে ভবের নাবিক দীননাথ, ভবের কূলে সেই দিন হলে। চরণতরী দিও মােরে দেখে অসহায়, পাপীর তােমা বই কে আছে আর অকূলে । চক্ষু হবে অন্ধ, কণ্ঠ হবে বন্ধ, তখন দয়াল নাম পারব না নিতে ; মৃত্যু যন্ত্রণায় ভুলে যাব তােমায় দিও সেই সময় স্থান ও চরণ- তলে । ১৪।

সঙ্গীত সুপাসিন্ধু।
আর কত কাল, পিতা বল গো কাঙ্গালের
পানে, পাপী বলে ফিরে তুমি চাবে না।
পিতা পাপী দ্বারে, ডাকে কাতরে, একবার
দেখ চেয়ে, দয়া করে চরণতলে রাখ আমারে ;
নাথ দুরস্ত রিপুগণে, বধে গাে তােমার সন্তানে,
তােমার কৃপা বিনে, হে দয়াময় পাপীর প্রাণ
আর বাঁচে না।
পিতা বল সে দিন হইবে কখন, পেয়ে ও চরণ,
জুড়াইব অনেক দিনের জ্বলন্ত জীবন ; পড়ে
রইলাম গাে তােমার দ্বারে, সময় হলে চেও ফিরে,
আমি জেনেছি ঐ চরণ বিনা মনের আগুণ
নিবে না। ১৪১।
রাগিণী লুম ঝি ঝিট। তাল আদ্ধা।
তােমা বিনে কি আর সুখ আছে মম এ জগতে।
তুমি ধ্যান, তুমি জ্ঞান, তুমি মাত্র আরাধিতে।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
১০৯
পদ নাহি বাঞ্ছা করে অন্য স্থানে যাইতে,
কর নাহি করে স্পৃহা তব দ্রব্য ব্যতীতে।
কর্ণ নাহি বাঞ্ছা করে অন্য কথা শুনিতে,
রসনা বাসনা করে তব গুণ গাইতে।
হৃদয় চাহে তােমারে প্রেম আলিঙ্গন দিতে,
নন চাহে সৰ্ব্বদা যথা তথা দেখিতে । ১৪২।
We
কীৰ্ত্তন ভাঙ্গা সুর।-তাল একতালা।
দয়াময়, একবার এ সময়ে, দাড়াও হে দেখি
আমার ভবের খেলা হলো, সকলি ফুরাল,
এখন স্থান দাও প্রভু তব চরণে।
দেখে পাপের তরঙ্গ, বাড়িছে আতঙ্গ, তাই
ভয় পেয়ে প্রভু ডাকি সঘনে ;
আমায় দাও হে চরণতরী, ও তৰকাণ্ডারী,
নতুবা হে ডুবি এ পাপ তুফানে। ১৪৩।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
ঐ।
দীনবন্ধু, তােমায় সেই দিনে হে দেখ কেমন
বন্ধু তুমি।
কে পার কবে হে আমারে, শমনের দ্বারে,
যে দিন গিয়ে বন্ধন পড়বে হে আমি।
ওহে তুমি বন্ধু বট, আমি কিন্তু শঠ, শঠের
প্রেমে বুঝি হবে না প্রেমী ; তুমি নির্বিকার
নিৰ্ম্মল নিত্য বস্তু কিন্তু ও দীননাথ ; তােমার
শঠ সরল সমান হে অন্তর্যামী।
ওহে তুমি প্রাণ-বল্লভ, হও দীনবান্ধব, হতে
হবে সে দিন অগ্রগামী ; একবার সেই দ্বারে হে,
যদি না দাঁড়াবে (ওহে শমন-দমন) তবে কি হবে
উপায় হে হৃদয়-স্বামী। ১৪৪।
রাগিণী বিভাস।—তাল জৎ।
বড় আশার কথা শুনেছি নাথ কি দিব আজ

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
১১
তােমারে । সকল আশা পূর্ণ হবে স্বর্গে যাৰ
সশরীরে।
শুনেছি সব ভক্ত জনে, গােপনে নির্জন
সাধনে, হৃদে পেয়ে তােমা ধনে ডােবেন আনন্দ
সাগরে ; তেমনি প্রেমে মত্ত হয়ে, তােমার সব
দুঃখিনী মেয়ে, কবে তােমায় হৃদে পেয়ে স্বর্গ
পাবে এ সংসারে। ১৪৫।
রাগিণী বসন্তবাহার।—তাল ধিমেতেতালা।
কেমন করে তােমায় ছেড়ে থাকি আমি বল।
তােমা হেন সখা কে আর কে আর আছে
বল বল।
বহু দিন ভগ্ন ঘরে, বাস করেছি অনাহারে,
কৃপা করে যদি দেখা দিলে দয়াময়, চরণধরে
সকাতরে বলি হে তােমায়, এবার যেন জন্মের
মত নিবারি হে চক্ষের জল।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
কত দিন কত ক্ষণে, ভাবিয়াছি সংগোপনে,
শুভক্ষণে দরশনে জুড়াব জীবন ; অকিঞ্চনে কত
দয়া দেখিব কেমন; পূরাইলে সকল আশা
প্ৰদানিলে কত ফল।
উৎসবেতে পাপী সনে বসিলে হে একাসনে,
দেখাইলে কত ব্যাপার নয়নে নয়নে প্রান্তে
সে সব যেন কভু ভুলিনে, এবার যেন নব বর্ষে
সকল আশা হয় সফল। ১৪৬।
.১, ৪৯
কির্তন।
প্রভু তােমার বিচারে যা হয়, এবার আমায়
তাই কর। আমি সকল ছেড়ে সার করেছি
তোমার চরণ আশ্রয়।
প্রভু তােমার নামের গুণে বােবায় নাকি কথা
কয় ; আবার পঙ্গুতে লঙ্ঘায় গিরি অন্ধ চক্ষে
দেখতে পায়।' ১৪৭।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু ।
বাউলে সুর।
আমায় দে হে নাথ তােমার ঐ চরণ।
পারি না যে এ পাপ জীবন করিতে বহন।
প্রেমামৃত হাতে লয়ে, হৃদয়দ্বারে দাড়ায়ে,
ডেকেছ প্রতি সময়ে, করি নাই শ্রবণ (ও গাে
পিতা)।
চরণতলে পড়ে থাকি, পদধূলি গায়ে মাখি,
পাপ তাপ দূরে রাখি, জুড়াই গাে জীবন । ( ও
গাে পিতা)। ১৪৮।
মধুকাণের সুর।তাল কাওয়ালী
মা আমারে কর কোলে ; কত দিন আর কেঁদে
কেদে, ভাসিব নয়নের জলে।
সয়েছি বাতনা যত, বলে তা জানাব কত,
জীবনে মৃতের মত, পড়ে আছি ধরাতলে ।
এস এস একবার, কৰুণাময়ী মা আমার, ঘুচাও
আলি হৃদয়ের ভার, দেখা দিয়ে হৃদকমলে।১৪৯।

১১৪
সঙ্গীত সুধাসিন্ধু
ঈশ্বরের এক শত আট নাম।
বল বল বলআনন্দ সবে।
জয় অকিঞ্চননাথ, অমৃত অক্ষয় ;
অন্তর্যামী, অন্তরাত্মা, অনন্ত, অভয়।
জয় অগতির গতি, অখিলকারণ ;
অরূপ, অনাথবন্ধু, অধম কারণ।
জয় কৰুণানিধান, কাঙ্গালশরণ;
কৃপাসিন্ধু, কল্পতৰু, কলুষনাশন।
জয় গতিনাথ, গুণনিধি, জ্ঞানময় ;
চির সখা, চিন্তামণি, চিদানন্দময়।
জয় জগত আধার, জীবের জীবন ;
জগন্নাথ, জ্যোতির্ময় জগতপালন।
জয় দয়ার ঠাকুর, দারিদ্র্যভঞ্জন ;
দীনবন্ধু, দয়াসিছু, দুল্লভ রতন।
জয় দরিদ্রপালক, দেব, দয়াময় ;
জয় ধৰ্ম্মরাজ, নিত্য, নিখিল আয়।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
জয় নিত্যানন্দ, নিৰুপম, নিরঞ্জন ;
নিষ্কলঙ্ক, নির্বিকার, নয়ন অঞ্জন।
জয় পিতা, পাতা, প্রভু পতিতপাখন ।
পরব্রহ্ম, পরাৎপর, পাষগুদলন।
জয় পূর্ণ, পরিত্রাতা, পুণ্যের আলয়;
প্রাণধন, পুরাণ, পবিত্র প্রেমময়।
জয় পরম ঈশ্বর, প্রসন্ন বদন ;
পরমাত্মা, প্রজাপতি, প্রীতি প্রবণ।
জয় ৰহ্ম, বিশ্বপতি, বিপদবারণ ;
বিজয়, বিধা, বিভু, বিঘ্নবিনাশন।
জয় ভকত বৎসল, ভুবনমােহন;
ভবকাণ্ডারী, ভূমা, ভবভয়হরণ।
জয় মহিমার্ণব, মৃত্যুঞ্জয় মহান্ ;
মুক্তিদাতা, মোক্ষধাম, মঙ্গলনিধান।
জয় যােগেশ্বর, শুদ্ধ, শান্তির আকর ;
নিবাস, স্বর্গরাজ,
• স্বয়, সুন্দর।
জয় প্রকাশ, সৰু, সারাৎসার ;
সর্বব্যাপী, সৰ্বসাক্ষী, সৰ্বমূলাধার।

১১
সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
জয় সর্বোত্তম, সৰ্বারাধ্য, সুখময় ;
সুধাসিন্ধু, সিদ্ধিদাতা, ভ্রষ্টা, স্নেহময়।
জয় সর্বশক্তিমান, সত্য, সনাতন ;
জয় জয় হৃদমেশ, হৃদয়রঞ্জন। ১৫০।
রাগিণী জয়জয়ন্তী।—তালআড়াঠেকা।
তোমারি কৃপায় পিতা তব পুত্র কন্যা আজি,
মিলিত হইল নাথ শুভ বিবাহবন্ধনে।
এই দম্পতী হৃদয়ে, চিরপ্রেম প্রকাশিয়ে, মঙ্গল
বিধান কর, মেহ আশীর্বাদ দানে।
তােমার ধর্ম পালনে, নবদম্পতীর মনে, উৎসাহ
স্থাপন কর স্বর্গীয় বল বিধানে। ১৫১।
Raugy?
$১৭ ..
সংস্কৃত সঙ্গীত।
রাগিণী লুম ঝিঝিট।—তাল মধ্যমান।
ভজরে সত্যং, জ্ঞানমনং, আনন্দরূপ মমতং;
শান্তং শিবমদ্বিতীয়ং, শুদ্ধমপাপবিদ্ধং।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। ১১৭ ইহ সপ্তসাগরনীরে, কুৰু রে অবগাহনং, প্রাণ মন হৃদয় জীবনং, ভবিতা পুণ্যভবনং। ইহু সপ্তকুম-সপ্তমালায়াঃ, কুৰু রে কণ্ঠে ধারণ, প্রাণনােহৃদয়জীবনং, ভবিতা পুণ্য- ভবনং (-২ রাগিণী ঝিঝিট।তাল মধ্যমান। পিব রে হরিনামামৃতরসং, রসমেবহি সুরসং। রসনে ! রসসদনে, কুৰু রে ক্ষণমলসং। কথমিক্ষুং পরিবাঞ্ছসি, চুতম্বা পনসং, দধিদুগ্ধ যুতন্তদেব ত্যজ রে খলু বিরসং। ১৫৩। (8. রাগিণী ঐ।তাল একতালা। হরিনামমাত্ৰকেবলং। তনুতে কলো সকলং ফলং। দানেন কিং, ধ্যানেন কিং, যােগেন কিং তন্নিষ্ফলং।

১১t সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। নামি সুখম্ভবতি, প্রীতিং সঞ্চতি, অধমজন- তারণং হরের্নামৈব কেবলং। ১৫৪। ) রাগিণী ইমন্ কল্যাণ।—তাল কাওয়ালী। বিগতবিশেষং, জনিশেষং, সচ্চিসুখ পরিপূর্ণ। আকৃতিবীতং, ত্রিগুণাতীতং, স্মর পরমেশং তৃর্ণং । গচ্ছদপাদং, বিগতবিদং, পশ্যতি নে- বিহীনং; শৃণুদকর্ণং, বিরহিত বর্ণ, গৃহত্তমপীনং। বেদৈীতং প্রত্যগভীতং, পরাৎপরং চৈতন্যং; অজরমশােকং, জগদালােকং, সৰ্কস্যৈকশরণ্যং। ব্যাপ্যাশেষৎ, স্থিতমবিশেষং নিগুণমপরিচ্ছিন্নং; বিতত বিকাশং জগদাবসং, সর্বোপাধি বিভিন্নং। ১৫৫ সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। } রাগিণী ঝিঝিট।তাল একতালা। পদলগতজলবি, চঞ্চলমিই জীবনং। স্থা- স্যতি নহি, যাস্যতি কিল, কুরু হরিপদচিন্তন। কুসুমােপমমিহ সীদতি, তব সুন্দরঘৌৰনং, গৰ্বজহি খৰ্ব্বং কুৰু, সৰ্বংহি ভববন্ধনং। স্বপ্নেপম ধনজনগেহ, দারাদিকবান্ধবৎ, সঙ্গং ত্যজ রে ভজ রে, ভজ হরিণবল্লভং। পরিহর রে পাপজনক, ভােগ থােগাম্পং, যােগং কুৰু যােগেন হি, প্রাপ্যসি চির- সম্পদং। ১৫৬। রাগিণী ঐ।--তাল মধ্যমান। বসতু মম মানসে তব চরণ। হতু তাপমলং বিতরতু পরে ত্বয়ি ভজনং। ভবতু নিমিত্তাহে তব গুণকথনে, বিশতু হৃদয়ে পুনঃ বিগুণিমননে, দিশতু মম মানসে দীনশরণ! তৰ পথােৰদিনৰনুসরণং।

১২• সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। অপনয়তু পাপচয়ং কুমতিমভিমানং। রতু তদত্ৰ সদা কলুষকুলমখনং। ১৫৭। রাগিণী ঐ।তাল ঐ। নাথ! কোহি তব তত্ত্ব বিশেষং । হৃদি নিদধাতি জহাতিচ খেদমশেষং। বিনা কৃপাকণয়া, রতি ন হৃদয়ে, তত্ত্ব বিদোৎপি ভজনরসলেশং। বিতর কৰুণা মহাে ময়ি অতিদীনে, ভজন পুজ- নাদিকশষণবিহীনে, পারয় ভব জলধোঁ, বারয় মম মনসঃ, সংস্কৃতিবিষয়বিনিবেশং। ১৫৮। রাগিণী মূলতান। তাল আড়াঠেকা। ময়ি দীনে কুৰু কৰুণালেশং । বিবুধবভাবিতচরণসৱােৰুহ, হর মম ক্লেশ- মশেষং।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
5
হৃদয়নন্দন! মম যাচিতমেবং, বারয় কুমতি
কলুবপ্রতিযানং, দীনজনস্য মম বহু দিনসঞ্চিত
সুবিদিতদুরিতবিনাশং। ১৫৯।
রাগিণী ঐ।—তাল ঐ।
হরে কহি তব বেদ মহিমানং।
বিবুঘােহপি'সুবিধুরো ন জানাতি তত্ত্বসন্ধানং।
তাবিদোৎপি বহুতৰ্কবচনাদনুমানং গায়তি
ঋষিগণােপি বীণয় গুণগানং।
নয়সীহ বহুতত্ত্ববিদং, বারয়সি প্রণতস্য
বিষয়রসপিনং।
মুহতি করোতি কুমতিরহহ অভিমান, নহি
নহি মুঞ্চ মামবিবেকশনশয়ানং। ১৬০।
হিন্দি সঙ্গীত।
রাগিণী
লুম খাম্বাজ।-তাল ঠুংরি ।
ক্যা শােচ মে হে কলে সওদা, জগদো দিকি
হায় বাজরিয়া ।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু। য আওয়ে রবিসুত পাখড় লে চলে গা, ভুল পড়ে সবু নাগরিয়া। পানি ঘটা ঘটা পড় রসরি টুটি, এক চঞ্চল নারী ভরে খাগরিয়া। গুণ গুণ সর পর উতার গেই, হাম নির- গুণ ভই বাঁরিয়া। ১৬১। রাগিণীআলেয়া।-তাল জৎ। তু মেরে প্রাণ আধার। (প্রভুজী) নমস্কার দণ্ডবৎ ৰন্দন অনেকবার জো বার। (প্রভুজী। উঠত বৈঠত শােয়ত জাগত, এ মন তুঝেহি চিতারে; যাে তুম কর, সােহি ফল, হামারে, তুসি আগে সার। (প্রভুজী) তু মেরে ওঠ বল বুদ্ধি ধন তুমহি, তু মেরে পরৰার; সুখ দুখ সব মন কি বরেখা, পেক নানক গুৰু চরণার। (প্রভুজী) ১৬২।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
রাগিণী জয়জয়ন্তী।—তাল জৎ।
দরদা দে ধড়ে দরবার। তুঝ বিন মুরতে
কৌ লে হামারা, দরশন দিজে খােলে কেওয়াড়া।
তুম ধন ধনী, উদারা ত্যাগী, শ্রবণেন শুনিয়াত,
সুযশ তােমারি; মাঙ্গ কিছছে আওরে, রঙ্গ
সব দেখ, তুহি মেরে নিস্তারা।
জয়দেব নামা, বিপ্র সুদামা, তেন্‌কো রুপা
ভাই হ্যায় অপায়া ; কহেত কবীর তু সমরখ
দাতা, চার পদারুখ দেত অনিবার। ১৬৩।
রাগিণী লুম খাম্বাজ।“তাল জৎ।
ঠাকুর তেঁই শরণাই আয়া। উতারা গেয়া
মেরে মর্কি সংশয়, ঘ তেরে দরশন পায়।
অনাবােল মেরে বেরথা জানি, আপনা
নাম জপায়া ; দুখ নাটে মুখ সহজে গমায়া,
আনন্দে আনন্দ গুণ গায়া।

১৪
সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
বাহু পাখড়ত কাঢ় লিনে আপনা গৃহ, অন্ধ
কৃপেতে মায়া; কহে নানক গুলাে বন্ধন কাটে,
বিছর আন মিলায়া। ১৬৪।
রাগিণী জয়জয়ন্তী।—তাল ঐ।
সেঁও জানাে তেঁও তার স্বামী। মায় কুটিল
খল কপট কামী।
জপ তপঃ নেম শুচ সংযম, এন বিধ নেহি
ছুটে কার স্বামী; গরদে ঘাের তু অন্ধ সে
কাঢ়ো, নানক নজর নেহার স্বামী। ১৬৫।
রাগিণী মুলতান।তাল আড়াঠেকা।
বরথে কঁহ কৌনসি মন কি। লােভ গ্রাস
দর্শহু দিশ ধাবত, আশা লাগে ধন কি।
সুখকা হেতু বহুত দুখ পাওয়েত, সেবা করত
জনক জনকী; দ্বারে দ্বারে ছহানু জ্যামা ফেরত,
নহি শুধু হরি ভজন, কি।

সঙ্গত সুধাসিন্ধু।
মানুষ জনম অকারণ খােওয়াত, লাজ না
লাগে লোক হাসন কি ; নানক হর গুণ কেউ
নেহি গাও রে, কুমতি বিনাশ মন কি।
রাগিণী ঝিঝিট।তাল একতালা।
তু দয়াল দীন হো তু দানী হো ভিখারী।
হে প্রসিদ্ধ পাতকী তু, পাপপুঞ্জহারী।
তু ব্ৰহ্ম হে জীব,
ঠাকুর হে চেরাে, তাত
মাত গুৰু সখা তু সববিধ হিত মেরো।
নাথ তু অনাথ কো, অনখ কোন মাে সস,
মাে সমান আৰ্ত্ত নেহি, আৰ্ত্তিহর তুসাে
তুহে মােহে নেত অনেক, মানিয়ে যাে ভায়ে;
যাে তাে তুলসী কৃপালু, চরণ শরণ পাওয়ে। ১৬৭।
রাগিণী দেশ।—তাল কাওয়ালী।
পরমেশ্বর এক তুহি ভজরে প্রাণ। আরে,
কাহাভি নেহি উয়াকে কই সমান।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
খেত না পীত না রক্ত না কারা, সকল ষ্টরচ
সাে প্রভু হামারা, এক ব্ৰহ্মকো দে রাখ
ধ্যান। ১৬৮
রাগিণী খম্বাজ।—তাল ঠুংরি।
প্রভুজী আয় সাে নাম তােমারাে। পতিত
পবিত্র লিয়ে কর আপনার, সকল করত নমস্-
কার। জাত বরণ কো পুছে নেহি, যাচত চরণার
বার। সাধুসঙ্গ নানক বুধ পাই, হরিকীৰ্ত্তন জীয়া-
ধার। ১৬৯।
রাগিণী কালহ্যাংড়া।—তাল ঠুংরি।
হরি সে লাগি রহ রে ভাই। তেরা নত
বনত ৰনি যাই। আরে তেরা বিগাড়ি বাত
বনি বাই।
অল্প তারে, বা তারে, তারে সুজন কসাই ;
গা পড়ায়কে গণিকা তারে, তারে,মিনা বাই।

সঙ্গীত সুধাসিধু।
দৌলৎ দুনিয়া, মাল খাজানা, বণিয়া বয়ে
চরাই; এক বাৎকে টা লাগে, খোজ খবর
নেহি পাই।
অ্যায়সি ভক্তি কর ঘট ভিতর, ছােড় কপট
চতুরাই ; সেবা বন্দি আওর অধীনৃতা, সহজে,
মিলি গােসাজ্ঞী। ১৭।
রাগিণী ঐ।—তাল কাওয়ালী।
ইরে জগ দরশন কি মেলা হয়। যােত
আয়ও ইহা কুচ, দেখ ফের, হাঁস্ জোর বােল
বাতালে, পর এৎনা কহনা মন মেরা, যা করণ
হে সােজদী কর, টুক দেরি নেহি ইয়ে দম্
কি, আউর জাদা নেহি মজিলা।
দি ভয় দেখ সঙ্কোচ মতি, ইয়ে মুরং মে ক্যা
সুরৎ হ্যায়, এ বুদো জে দরিয়া কি, উহাই
কি উহা মিল, যাওয়েগী; ন টা যায়,

১৮
সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
ন বখেড়া হ্যায়,
ন ঝগড়া হ্যায়, ন ঝামেলা
কোই বাপ, বনা কোই বেটা, সেই চাচা
ভাতিজা কলাওয়েহেঁ; কোই মিঞা আপনেকে।
জানে, কোই দা আপনেকে। মানে, কোই পীর
মুরিদ কলাওয়ে হেঁ, কোই গুৰু কোই চেলা
ধন্য উয়াে কারীগরকো, যেনে আপনা হাসে
সব বয়া। ১৭১।
রাগিণী পাহাড়ী।তাল আদ্ধা।
মােকো কাহা ছুঁড়াে বন্দে মায়তাে তেরে পা
মাে। ন হেঁয়ে মাে ঋগুড়ি বিগড়ি, ন ময়
ছুরি গড়াস্ মম, ন হোয়ে মােখাল রােমমে,
ন হাডডি ন মাস মাে।
নদেবল মােন মজিদ মােন কাশী কৈলাস, মম,
ন হােয়ে ময় আউধ দ্বারকা, মেরা ভেট
বিশ্বাস মাে ।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
ন হেঁয়ে যে ক্রিয়া করম মম, ন যােগ বৈরাগ
সমাস মাে, খােজেগা তাে আ মেলেঙ্গা,
পল জয়কে তুলাস মশা।
সহয়সে বাহার ডেয়া হামারি কুঠিয়া মেরি
মৌয়াল মাে, কহত কবীর শুন ভাই সাধু (শান্ত)
সব সন্তান কি সাখমাে। ১৭২।
রাগিণ পাহাড়ী-তাল আদ্ধা।
দুসে হামৃনে দেলকো লাগায়া যাে কুচ
হায় সাে তুহি হয়। এক তুঝকো আপনা
পায়য়া, যােক হ্যায় সস তুহি হ্যায়।
সবুকি আঁকা আর দে কি কি তাে, কোন
দেল, যায় যে যে নেছি তু, হরিয়ে দেল,
নে তুহি সমায়া, যাে কুছ যায় সে তুহি
যায়।
কায়সা মােলায়ে কায়সা ইন, কায়সা

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
;
হিন্দু কায়সা মোসলমান; যেয়সা চাহা তুনে
বানায়, যাে কুচ হয় সাে তুহি হ্যায়।
কাবা মে ক্যা আওর দয়ের মে ক্যা, তেরে পর
স্তে যায়গী সব য; আগে তেরে শের সভােনে
বেকায়া, যাে কুচ হ্যায় সে। তুহি হায় ।
আর্শ সে লে ফস জমী তক্‌, আওর জমীসে
আর্শ বরিত, যাহা মায় দেখা তুহি নজর আয়য়া
যাে কুছ হ্যায় সাে তুহি হ্যায়।
শােচা সমঝ দেখা ভাল, তু যে না কৈ
চোড় নিকাল, আবু ইয়ে সমঝ, মে জফর কি
আরয়া, যাে কুচ হায় সাে তুহি হ্যায়। ১৭৩।
}
রাগিণী সুরট মল্লার। তাল জৎ
নাম না লেয়েৎ গোয়ায়, (হরিকে) ক্যা
শােচ বারম্বার।
দরশন কর না চাহিয়ে, তত দরপণ মাজত
রহিয়ে; য দরপণ লাগে কাই, তাে দরশন
কঁহাতে পাই।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
পার উতারা না চাহিয়ে, তাে খেটে সে মেল,
বহিয়ে ; ঘৰ, উতরি পাতরি খেয়া পারা, তাে
কঁহা হা কাহা জগৎ সংসার।
দেখ কবীর জীকে করণী, ওয়াকে অন্তর বিকা
তরণী ; কা তরণীকা ফান্দা ছুটে, তো রহস
রহস যম্ লুটো। ১৭৪।
রাগিণী কালহ্যাংড়া। তাল ঠুংরি ।
তন্ মন্ সে যাে ঈশ্বরকে জানে, মুমে প্রেমকে
বাণী, কহে কবীরা শুন্ ভাই সাধু ওহি সাচ্চা
জ্ঞানী।
মাকা ফেরাকে জনম গোয়াই না গেরা
মকা ফের, হাতকে মানুকা ডারকে আব, মকা
মাকা ফের।
মালা ফেরাকে হরকে পাঁওয়ে, মায় ফেরা-
ওরে ঝাড়, জেরা পাথল পূজকে হরকো পায়ে
হাম্ পূজে পাহাড়। ১৭৫।

১৩
সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
বৈষ্ণবদিগের গান।
তােময়াদু ভাই পরম দয়াল হে গার, গৌর
নিতাই। তােমরা জীবের দশা, দশা মলিন দেখে,
নাকি নাম এনেছ গােলক থেকে।
তােমরা যারে তারে নাকি দাও কোল, কোল
দিয়ে বল হরিবােল।
আমরা গিয়েছিলাম অনেক ঠাই, কিন্তু এমন
দয়াল দেখি নাই ।
গৌর আর্মিত ভজনে খাট, তুমি দয়াল
বট। ১৭।
ফকিরী করবি পারবি রে মন। ছেড়ে সৰ
খুটি নাটি ময়লা মাটি খাটি হবি রূপ চাদি যেমন।
ফকিরী নয় সামান্য, হতে হয় দীন দৈন্য, আদর্শ
চৈতন্য কর রে দর্শন; পার যদি তেমনি করে,
ডুবিতে প্রেমসাগরে, পাবে অমূল্য নিধি,
পরমতত্ব মুক্তিধন। ১৭৭।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
১
মিছে পরের ভাবনা ভেবে আমার পরাণ
গেল। কিছু হলনা রে, ভবে আসা যাওয়া কেবল
সারস্থল।
মৃতকুম্ভ লয়ে শিরে, যায় কত আশা করে,
মুরগী বেচে বরী কি রে ; বরির বালবেচে
কিৰ খােৰু, দুধ বেচে তায় কৱৰ জোক, লেড়কা
ডাকবে খানা খেতে, নেহি খাঙ্গা ৰাতে, মাথা
নাড়তে কলসি ভেঙ্গে গেল।
পিতা পুত্র উভয়ে মরে, পিতা ব্যস্ত পুত্রের
তরে, ঔষধ আনতে পথেতে মরে ও যার রােগ
হইলে দেখায় বৈদ্য, নিবারিতে দেয় ঔষধ, (ও
সেই কবিরাজ) আপনি চিন্তার জ্বরে মরে, চিকিৎসা
করে, ভেবে ভেবে তনু জরা হল। ১৭৮।
হরিনামের নাই তুলনা সদাই হরিবােল।
নামে অজামিল বৈকণ্ঠে গেল রে, তারে বস
দূতে ধুতে পেলে না।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
যদি বিষয়েতে সুখ পেত রে, তবে লালজী
( লালা বাবু) ফকীর হত না। ১৭৯।
আমি কেমন করে করি বল সত্যের সাধনা।
আমায় সতত চঞ্চল করে রিপু ছয় জনা।
সত্যেতে উৎপত্তি ধৰ্ম, রাজা যুধিষ্ঠির তার
জানে মন্ম, আমার হল বৃথা জন্ম জানতে
পালাম না।
ছয় রিপুতে ঝগড়া করে, আমার সত্যনাম না
দেয় সাধিতে, জ্বালিরে মারে দিনে রাতে মতে
চলে না।
পঞ্চভূতে করে ঝগড়া দিলে ছারে খারে
সােণার আড়া, মানব দেহের মালিক মাকড়
তাও চিলাম না। ১৮০।
ভবে কত দিন আমায় ঘুরাবে। সারা হলাম
ভেবে; আমি দিবা নিশি ডাকি, শুনেও শুন না
কি, এ অধমে ফাকি দিলে কি যশ হবে ।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
an
AMA
কোরে থাকি যদি অপরাধ ঐ পদে, শরণ নিলে
মাপ হয় না কি বিপদে, এক বার দয়া করে
এস আমার হৃদে, ( দয়াময় হে হরি তব দয়া
বিনে কে তােমায় পাৰে।
ভক্ত আদি কিম্বা অভক্ত সকল, তােমায়
যদি ভােলে তুমি কি তায় ভােলল, তার নাম
হরি পথের সম্বল, দয়াময় হে) হরি তুমি
কৃপায় বলেন সবে । ১৮১।
মুখে হরিনাম ব্ৰহ্মনাম বল রে আমার মন।
হল দিন আখিরি অল্প দেরি, নিকটে কাল
এল শমন।
হরিনাম সুধাসিন্ধু, পান কর তার এক বিন্দু
নাম পরম বন্ধু ; খেলে নামের সুধা, ভাংবে
ক্ষুধা, পাপ তাপ হবে রে তাের সব বিমােচন।
নাম রসেতে ডুবে থাক, দীনবন্ধু বলে ডাক,
চেয়ে কি দেখ : ডুকূলে নাম সাগরে, নামের
নীরে, ও তুই পাবিরে অমূল্য রতন ১৮২।

১।
সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
আমার মন কি যেতে চাও সুধা খেতে আনন্দ
পুরে। তথায় রাগের মানুষ চলে নির্বিকারে।
তথা নাই হিংসা নিন্দে, জরা মৃত্যু প্রভাত
সন্ধে, রত্ন ছটায় দীপ্তমান করে; তথায় নাহি
চ দিবাক, ব্রহ্মা বিষ্ণর অগােচর, ভয় পবন
যেতে পারে, তুই যুবি কি কোরে, সাহসে কি
টেকি গিলতে পারে ।
আনন্দময় বাজার খানি, সদা উঠছে প্রেমে
ধনি, বাৰুদে আগুণে এক ঘরে ; তথায় কামী
লােভী যেতে বারণ, শুদ্ধ হয় যার রাগের কারণ,
লয়ে রূপের প্রদীপ হাতে, যেতে হবে পথে,
সন্দতম কেবল দুর কোরে।
গােসাঞী বৈষ্ণব চাদের বাণী, শুদ্ধ হয় স্বার
ভক্তি খানি, মনে করলে সে যেতে পারে;
ও চাকুরে ব্যামা গাছে বসে, ডুমুর গেল কোন
সাহসে, তাের কি যাবার এমনি ধারা, শােন রে
চাকুরে পিপড়ের পাখা উঠে আবার তরে। ১৮।

সঙ্গত সুধাসিন্ধু।
১৭
গোসা আমার না করে তাইত হবে, কি
করবে ভেবে।
আকাশেতে পাখি উড়ে, উড়িতে না পারে
বেগে; ও তার যত শক্তি তত উড়ে, আবার
পুনঃ এসে ভৰে পড়ে।
দরিদ্র যায় লঙ্কাপার, তবু না ঘােচে মনের ভার,
সে যে দৌড়ে বেগে ; ও সে স্বর্ণ বােলে হরিদ্রের
উড়াে, বাঁধে মনের অনুরাগে ৷ ১৮৪।
ফকিরী নেওয়া গােসাঞী কেমনে পারি।
( তাই বল গােসাজ্ঞী) আপন মনের অনুরাগে
নেয় ফকিরী গােসাঞা ।
ফকিরী নেওয়া অতিশয় কঠিন, সে দিন ধরুতে
গেলে হতে হয় যে দীনের অধীন; আপনার
মান অপমান তেজে, হতে হয় নাছের ভিখারী
(গোসী)।
গােসাঞী আমার শ্রীরূপ সনাতন, ফকিরী
নিয়ে ছিল তার ভাই দুই জন ; তারা বাসার

১৩৮
সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
উজিরী ছেড়ে, ছেড়া কাঁথা কয়রায়া ধারী।
(গােসাী )
গােসাঞী বৈষ্ণব বাউলে বলে, পরসুখে সুখী
হলে অঙ্কুর জন্মে অন্তরে; আপনার মান
অপমান ত্যেজে, ছতে হয় নাছের ভিখারী
(গােসাী)। ১৮৫ |
হরিনামামৃত রসে ডুবে থাক রে মন রসনা।
ধ্রুব প্রহলাদ ডুবে ছিল, ডুবে তারা রত্ন পেল,
হরি তাদের কোলে নিল ঘুচিল ভব যন্ত্রণা ।
জগাই মাধাই পাপী ছিল, হরিনামে তরে
গেল, হরি তাদের কোলে নিল, (হরি কোলে
নিতে) ঘুচিল পাপ যন্ত্রণা ॥ ১৮৬।
হরি বলে ডাক রসনা ক্ষতি হবে না। কুবাসনা
কুমন্ত্রণা ক্রমে ক্রমে ছাড় না।
দীক্ষা গুৰুর পদে রাখ গম, শিক্ষা কর যথা
আছে ভাগবতগণ, ওরে প্রেমসুধা পান করিলে
শমন ভয় আর রবে না।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
.
হরিভক্ত সঙ্গে কর তত্ত্ব আলাপন, ক্রমে ক্রমে
হবে তােমার প্রেমের উদ্দীপন ; আবার ভাের
কপিনের তত্ত্ব জেনে কর সত্যের সাধনা।
হরিনাম গানে যে দিন হইবি পাগল, দেহ
ছেড়ে ভজনবাদী পলাবে সকল ; শান্ত দাস্য ।
সাধন কোরে হরিপদে ম না ।
অধীন দীন দাসের ভাবনা, তন্ত্র মন্ত্র নাহি
জানি ভজন সাধনা; আবার গােসাঞী বলে?
অনুরাগী বিনেত কেউ পারবে না। ১৮৭।
মধুকাণের সুর।
বাকা মনুকে করতে নারলাম্ সােজা।
বয়ে বেড়াও ভূতের বােঝ, হিসাব দিতে দেখবি
এক দিন মজা।
বলে ছিল সাধু জন, ভক্তির লেশ তাের নাই
এক কণা, গুৰুবাক্য ঐক্য হয় না, ভজন সাধন
করলি বাশের গোজা।

১৪ ০
সঙ্গীত সুধাসিন্ধু।
, দেহের রিপু যােল জমা, মন তাের কথা শুনে
না, লুঠলে রে তাের মহলখানা, হল তারা তােদের
দেশের রাজা।
বুল হারায়ে খবরদারি, বাইরে কর ফা
জারি, বেদরে বেরাল ব্যাপারী, পাচা হয়ে বাঞ্ছা
সােপার খাচা। ১৮৮।
গেলে মালে দিন কাটালি। ও তুই এসে
ভবে, মায়ার্ণবে, চির দিনের ধন খােয়ালি।
ধনের মধ্যে যােল আনা, হেঁগাে কত হল
পওনা দেনা, ঠিক রাখনা; একবার হিসাব করে
দেরে ক্ষ্যাপা মুলে হাৰাৎ হয়ে গেলি।
এলি রে ব্যাপারের আশে, ও তাের পূর্ব ধন
সব নিলে লুঠে, ফড়ে জুটে; আবার ছয় জনায়
খােলযােগ করে কেউত হরির নাম নিলে না ;
ও তাের বেচা কেনা, উট দেনা, দেনার জ্বালায়
প্রাণ বাঁচেনা, এবার ভবে লাভ হলনা। ১৯।

সঙ্গীত সুধাসিন্ধু
১৪১
হায়) এমন
খেলা। এমন
মার অন্তপুরী
রে অনু রতন ;
কখন আসূবে শমন, কবে বন্ধন, দেখলি না
তুই কোরে হেলা।
ওরে একটা শাক সাগর সেচা ধন, সেই
মাণিক তোর ঘরে হতে যায় রে অকারণ, ক্ষ্যাপা
যায় রে অকাণ; তাের ঘরের শূলে, লাভে মূলে,
লুঠলে রে তোর ভেঙ্গে তাল ।
দেহের মালিক যখন যাবে মন, ঘেন্না করে কেউ
ছােবে না বলি তােরে শােন, ক্ষ্যাপা বলি তােরে
শােন; যখন ধরবে শমন, করবে বন্ধন ঘটবে রে
তাের বিষম জ্বালা।
ওরে দাসে বলে শােনরে মন ভােলা, দয়াল
হরির চরণ তলে বাধগে ভেলা, ক্ষ্যাপা বাঁধ রে

582
5ীত সুধাসিন্ধু।
ভেলা; আবার সায়করে তাঁর শ্রীচরণ, নাম কর
রে জপমালা।
সমাপ্ত
Printed and Published by MONEY MOHUN RUKHIT, at the
INDIAN MIRZUR I'RES,, 6, College Square,, Calcutta.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Sangeet Sudhasindhu Ed. 2nd

Author
Not Available
Title
Sangeet Sudhasindhu Ed. 2nd
File name
Sangeet Sudhasindhu Ed. 2nd
Text
OCR done
Citation
1799
Published
2010/01/11
Publisher
N.a
Language
Sanskrit
Pages
166
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Lyrics
Keywords
Sangeet
DLI number
511356
Barcode
4990010018512.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
BpmTDbXUgMf
Download PDF

Sangeet Sudhasindhu Ed. 2nd