Makardah Saraswat Library, Howrah

Ramer Sumati

Chattopadhyay, Saratchandra · 2009/08/27

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

রামের সুমতি
নাটক
রঙমহলে অভিনীত
প্রথম অভিনয় ৮ই আষাঢ়, ১৩৫১ (থযাত্রা)
বৃহস্পতিবার, সন্ধ্যা ৭টা ইং ২২শে জুন, ১৯৪৪
অপরাজেয় কথাশিল্পী
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের
সর্বজনপরিচিত গল্প তে
দেবনারায়ণ গুপ্ত
কর্তৃক নাটকাকারে রূপান্বিত
গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সল
২০১১, কলিই ফলিক

এক টাকা আট আনা All rights reserved to Mowan, G. D. Chatterjes & Sons

পূজনীয়
ঃ এযুকতময় ময়িক এৰি
৩
সীমুক্ত সত্যনারায়ণ ও
চরণে
তােমরা দু’জন নাটুকে লােক। তাই,
অপরাজেয় কথাশিল্পীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ওর
নাট্যরূপ, আমি সসখানে তােমাদের মতে
তুলে দিলাম। ইতি

পরিচয়
बनान
০ ০ ০
গ্রাম্য জমিদারী সেরের কর্মচারী
( মধ্যবিত্ত গৃহস্থ )
খালালের বৈমাত্র কনিষ্ঠ ভ্রাতা
ফলের পুত্র
রামলাল
গােবিন্দ
০ ০ ০
গ্রাম ডাক্তার
ডাক্তার নীলমণি হালদার
যদুমােল, ভূজোৰাগী, ভজহরি, রাখরি, হরিহর, কানু সতর,
পরাণের ছেলে, সুবল, বৈরাগ, জনৈক কৃষক ও
গ্রামবাসীগণ।
০০ ০
০ ০ ০
মলালের জী
নান, মাতা
সুনী
ঐ দাসী

ব্রামের সুমতি
প্রথম অঙ্ক
প্রথম স্থ
মলালের বাড়ী। দুই পাশে দুইখানি পাকা ইটের ঘর। ঘরের সামনে শত
বা। বারার উপর খড়ের ছাউনী। দুইটা ঘরের মাঝখানে এ।
উঠানের এক পাশে তুলসীস। ঘরের পিছনে ছেচা বাশের বেড়া দিয়া যায়
নির্দেশ করা আছে। বেড়ার পাশ দিয়া পল্লী-পথ চলিয়া গিয়াছে। পণের পরে
বনা পরী। তখন সবেমাত্র তের হইয়াছে। পাখীর কলাৰে পৰা ।
নেত্য-ৰি উঠানে ছড়া-গােবর দিল গেল। পত্র-পথ দিয়া জনৈক গৈ গীত
नारिया निकालना
বৈরাগীর গান
রাইস, মাইজগ, কী বলে।
কত নি বা ল মালিকের কোলে।
রানী এত গুল বলি ৰে তােমারে।
আর কি যে ৭ কালে ভয়ে।
সারী বলে ন ক গগনে এ ।
নৰ অলর তাকিয়ে ঢাক।
বলেন শামীময়া প
গাইলে না আগে আই ধরম সাখী।
পিতি করে চা গেল নিই।
এ কি হবে তিন বেই।

রামের সুমতি
প্রথম অঙ্ক
ঘরের মধ্য হইতে রামপাল প্রবেশ করিল। তাহার এক হাতে এ সমাও একটা
পাখীর খাচা। অপর হতে কতকগুলি কাঠি, গড়ি, কঞ্চি ও পা। উঠানের
এক পাশে হাতের জিনিষগুলি নামাইয়া ডাকিল
রাম। গােবিন্দ-খাচা ধরবি আয়
গােবিল প্রবেশ করিয়া রামপালের নিকট উপবেশন করিল ও খাঁচা
বােণায় সাহায্য করিতে লাগিল
ভােলা, ভোলা কোথায় গেলি রে ?
তোলার প্রবেশ ও রামপালের নিকট উপবেশন
ভােলা। এ খাঁচায় কি পুষবে দা-ঠাকুর?
আম। তার কি আর কিছু ঠিক আছে রে? খাঁচাটা তৈরী করে
রাখলাম। কাক চিল বাদে যা পাবে তাই ধরে পুষবো। পাখীটাণী
ওসব পুষতে আমার ভাল লাগে না, বুঝলি ভােলা? শুধু এই গােবিলটার
জয়ে। কদিন ধরে যা পেছনে লেগেছে, তাই এই খাঁচাটা তৈরী করে
রাখলাম। (গােবিন্দর প্রতি) কি গােবিন্দ, কি পাখী পুষবি ?
গােবিন্দ। খুব বড়! এত বড়।
হাতে দেখাইয়া পাখীর পরিমাপ করিতে প্রয়াস পাইল
রা। অত বড়! তবে তুই একটা শকুন পুষিষ,।
গােবিন্দ। ধ্যেৎ! শকুন বুঝি আবার পােষে ?
রাম। দেখছি তত ভােলা, দেখছিস তো, গােবিন্দর কি রকম বুদ্ধি!
শকুন যে পুষতে নেই, তা ও জানে।
ভােলা। জানবে না দা-ঠাকুর! জানবে না? আপনারই তো ভাইপােশ
রাম। বড় হলে, ওর ভারি বুদ্ধি হবে রে ভােলা—ভারি বৃষ্টি হবে।
গােবিন্দ। আচ্ছা কাকা। এই খাঁচার মধ্যে আমাদের কার্তিক-গণেশকে
রাখা যায় না?
*...

প্রথম দৃশ্য রামের সুমতি রাম। দূর গাধা! জল থেকে তুলে খাচায় রাখলে কার্তিক-গণেশ 'কখনও বাঁচে? মরে যাবে যে ! ভােলা। ওঃ! ওঃ ! সেদিন তােমার বড় পুকুরে দেখলাম, কার্তিক-গণেশ তােমার কি ওসারই হয়েছে দা-ঠাকুর। রাম। হবে না? ও দুটো মাছ খায় কত জানিস? তুই বঙ্গে বিশ্বাস করবি না ভােলা—ঠিক এক কাঠা চালের মুড়ি ঐ দুটো মাছে খায়। ভােলা। তা আর খাবে না দা-ঠাকুর। ঐ দুটো মাছের মুণ্ড ফেলি ভয় নাগে। যেমন তােমার কার্তিক, তেমন তােমার গণেশ। বলে আমায় দেথ-ও বলে আমায় দেখ। রাম। তাই তো বৌদি ঠাট্টা করে বলে, আমি মলে ঐ দুটো নিয়ে ব্রাহ্মণ ভােজন করা। ভোলা। তা মাঠা যা বলেছেন। ঐ দুটো মাছ দিয়েই একটা বড় যনি করা যায়। রাম। কি বল্লি ? কি বল্লি ? যক্তি করা যায় । . ভােলা। আজ্ঞে হ্যা দা-ঠাকুর। তােমার ঐ কার্তিক আর গণেশ ঐ দুটো মাছ দিয়েই একটা বড় যতি করা যায়। রাম। (রাগিয়া) হু, যতি করা যায়। বড় লােভ হয়েছে না? যতি করবার যেন ওদের রােজ দু’বে মুড়ি খাওয়াচ্ছি। আমাদের ভােলানাথ কার্তিক-গণেশের মুড়ে খাবেন বলে? ফের যদি কোনদিন তাের মুখে ওকথা শুনতে পাই তাে দেখতে পাবি। গড় করি দা-ঠাকুর, রাগ কর কেন? ও একটা কার কথা বলছিলাম। রাম। হু, কথার কথা। তাই বা বলবি কেন রে ? जनाराना এই লাে? শােন শােন- ৪ রামের সুমতি প্রথম অঞ্চ ভােলা। কি বল বল ? রাম। তুই এখন মাঠে যাবি তাে ? ভােলা। হ্যা দা-ঠাকুর। রাম। দেখ, আসবার সময় পশ্চিম পাড়ার বাগান থেকে দুটো পেয়ারা আনিস তো? বৌদি খাবে। ভােলা। আনবে দা-ঠাকুর- রাম। আচ্ছা যা, আর দ্যাখ, ওবেলা একটু সকাল সকাল আসি। ভােলা। আসব দা-ঠাকুর- ভোলার স্থান। অপর দিক দিয়া গামলালের প্রবেশ মি। ওসব কি আমার মাথা মুণ্ডু হচ্ছে? রাম। মাথা মুণ্ডু নয়—মাথা মুণ্ডু নয়। গােবিন্দর জন্যে একটা খাঁচা তৈরী কছি। ম। এ! ভারি কর্ম করছো? এদিকে যে বাড়ীতে একটা লােক কদিন ধরে মরুতে বসেছে—সে খেয়াল আছে কি? রাম। মতে বসেছে কে ? তুমি? কি হয়েছে তােমার ? গম। আমি মলে গিলবে কি? চোখ নেই—দেখতে পাওনা ? শ্যামলালের কথা শেষ হওয়ার পূর্বেই নারায়ণী বাঙায় আসিয়া বসিয়াছিলেন। রামলাল তাহা লক্ষ্য করে নাই। সহসা নারায়ণীকে লখি— রা। ও, তাই বল? (নারায়ণীর নিকট ছুটীয়া গিয়া কপালে হাত । দিয়া আর দেখিল) উ, তাই তাে ভয়ানক জর! আরে একেবারে গা পুড়ে যাচ্ছে যে! চল বৌদি চল—ঘরে গিয়ে শােবে চল। থাক, ঢের হয়েছে। তুমি যা করছে। তাই কর। আর যা করলে পেট ভরবে তাই কর। রাম। রাগ করছে কেন? কি করবাে বল ? এতবড় বাড়ী ছেলে তােমায় বলে দিতে হবে তুমি কি করবে। '।

প্রথম দৃশ্য
রামের সুমতি
আমি গায়ের রক্ত জল করে জমিদার-সরকারে কলম পিষে তােমায়
রােজগার করে এনে খাওয়াব—আর তুমি গণ্ডে পিণ্ডে গিলৰে
আর গুণ্ডামী করে বেড়াবে? বাড়ীতে যে একটা রােগী আজ কদিন
ধরে ছটফট কচ্ছে—তার সেবা যত্ন করা তাে দূরের কথা—কেমন
আছে এ কথাটাও একবার জিজ্ঞাসা কতে পার না?
রাম। না করিনি বৈকি? তুমি বৌদিকে জিজ্ঞেস করে দেখ না। হ্যা
বৌদি ! তােমায় আমি জিজ্ঞেস করিনি তুমি পেয়ারা খাবে কিনা?
রামলালের সরল প্রশ্নে নারায়ণী একটু হাসিলেন। এমন সময় নেত্য প্রবেশ করিল
নেত্য। ডাক্তারবাবু এলােনা বাবাঠাকুর?
ম। এলােনা? কেন?
নেত্য। তাকে আজ ভিগায়ে যেতে হবে। সেখানে নাকি চার টাকা
ভিজিট—তাই আসতে পারবেন না।
শ্যাম। আমিও না হয় চার টাকাই দোবাে। টাকা আগে, না প্রাণ
আগে? যা-তুই চামারটাকে ডেকে আগে।
নারায়ণী। ওগাে, কেন তুমি এত ব্যস্ত হচ্ছে ? ডাক্তার না হয় কালই
আসবে। একদিনে আর কি ক্ষতি হবে ?
রাম। না—নাতুই থাক্‌ নেত্য—আমিই যাচ্ছি
গােবিল। খাচা বুনবেনা কাকা?
রাম। বুনবাে-বুনবব-দাড়া আগে ডাক্তারটাকে ডেকে নিয়ে আসি।
খাগ এতে জয় যে মামলালের হাতে ছিল তাহা লইয়াই সে বেগে এন করিল
নারায়ণী। ওগাে রামকে মানা কর। রাম, ও রাম আমার মাথা খাস
যাসনে ; ছিঃ দাদা, লােকের সঙ্গে ঝগড়া করতে নেই। নেভ্য দেখ,
দেখ, ভােলাকে একবার পাঠিয়ে নে, তাকে ফিরিয়ে আনুক।
মাঃ—আর পানিনে-মরণটা হলেও বাচি।

রামের সুমতি প্রথম অঙ্ক শ্যাম। রামের জন্যে অত ভাবতে হবে না। এখুনি আসষে’খন। নারায়ণী। তুমি তাে বল্লে ভাবতে হবে না। কিন্তু একটা কাণ্ড বাধালে তখন কাছারী ঘর করতে হবে তাে? গম। তা তুমি আবার বাইরে উঠে এলে কেন ? ঘরে গিয়ে শােও গে যাও। নারায়ণী। শােৰ কি গাে ! যাহােক তােমাকে দুটো বেড়ে দিই। গম। তা সে তো আমিও নিতে পারতুম। তার জন্যে উঠে আসার দরকার কি ছিল? নারায়ণী। তা কি হয়? এখনাে যখন নড়েচড়ে বেড়াচ্ছি। আম। হ্যা ভালকথা। আমি তােমার মাকে আসতে খবর দিয়েছি গাে। নারায়ণী। হা, খবর দিয়েছো? আম। হঁা। তাদের ওখানে দেখবার শােনবার কেউ নেই, আর এখানে এলেও তােমার তো কষ্টের খানিকটা লাঘব হবে। নারায়ণী। তাতে হবে-কিন্তু আমি ভাবছি, মা যে রকম মুখরা শেষে রামের সঙ্গে যদি অবনিবনা হয় ? খাম। তিনি বুড়াে মানুষ-সংসারে থাকবেন পূজো আচ্ছা করবেন। তার সঙ্গে রেমাের অবনিবনার কি আছে ? নারায়ণী। রাম তাে আমাদের অবুঝ, আর মাও একটু অসহ মানুষ তাই- শ্যম। তাই বলে, তিনি বিধবা মানুষ, তুমি থাকতে একটা আইবুড়ো মেয়ে নিয়ে বিদেশে কষ্টভােগ করতেন, সেটাই কি ভাল হতো? লােকে বলতে কি ? না—না ও ঠিক আছে। দু’দিন থাকলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। রেমােটা গোঁয়ার বটে, কিন্তু ওর অন্তরটা খুব ভাল। ওর হয় ভেবনাঞ্চল-চল- -- দ্বিতীয় দৃশ্য নীলমণি ডাক্তারের ডাক্তারখানা। ডাক্তারখানার সম্মুখে অগ্রগL- খানার ঘরের মধ্যে একটি অন্ধভগ্ন টেবিল ও চেয়ার। পাতে ততােধিক হয় একটা আলমারীতে কয়েকটী শিশি বােতলে ঔষধ সাজান। তখন বেলা সাড়ে আট ঘটিকা বাজিয়া গিয়াছে। নীলমণি ডাক্তার ডাক্তারখানায় নাই। রােগী দেখিতে গিয়াছেন। কয়েকজন রােগী তাহার অপেক্ষায় বসিয়া আছে। এক পাশে ছােট একটা বেঞ্চিতে যদুমােড়ল ও ভজহরি মুদি বসিয়া কথাবার্তা কহিতেছে। অদূরে রাখহরি মাটীতে বসিয়া আছে। তাহার চোখে-মুখে গভীর উদ্বেগের ছায়া। রাখ। ডাক্তার যে আজকাল কি ছাই ঔষুধ দিচ্ছে তার ঠিক নেই। ছোঁড়াটার ক’দিনের মধ্যে জ্বর নরম পড়লাে না। ভজহরি। আরে শুধু ঔষুধেই যদি জ্বর সারতাে তাহলে আর না ছিল না। সেই সঙ্গে বিশ্বেসও থাকা চাই, বুঝলি ? যদু। বিশ্বেস আর অবিশ্বেস। গায়ে যখন উনি ছাড়া আর নেই। তখন মরি আর বাচি ওর দের ধরে পড়ে থাকতেই হবে। ভজহরি। সেবার সেই পশ্চিমপাড়ার অঘাের মালাের মেয়ের অসুখের সময় ও-পাড়ার কতজনা বল্লে-ছিনাতপুরের অনুকুল ডাক্তারকে নিয়ে আসবার জঙ্গি। অঘােরকে তার বেয়াই কত পেড়াপীড়ি করতে নাগলো। কিন্তু শেষে আমার কথা শুনে, অঘাের আর অনুকূল ডাক্তারকে ডাকিনি। আমাদের ধলা গাইটার পশ্চিমে সেবার আমাদের এই ডাক্তারবাবুই ভাল করে দিয়েলাে কিনা যদু। ধলা গাই-গরু! তাহরি। হা হা ; সে কথা তাে আর আমি ভূলিনি। তক্ষুনি গাইডারে আঘােরের উঠোনে টেনে নিয়ে গেলাম। সম্মাই দেখে তো অবাক! একবাক্যে সন্মাইরে বলতে হয়েলাে- ভাক্তার বটে! । যা হা, সে গল্প ও-পাড়ার টেকেরা আজও করে বটে।

রামের সুমতি প্রথম অক্ষ হরি। করবেনা। মানুষ তো মানুষ। গরু, ভেড়া, ছাগল সেরে যাচ্ছে আমাদের এই ডাক্তারবাবুর ওষধে। যদু। ও-পাড়ার নােকে আবার একথাও বলে, অঘােরের মেয়েটা এই নীলমণি ডাক্তারের চিকিচ্ছের দোষেই মরেলল। ভজহরি। জ্বরের ওপর পান্তা, বেগুন পােড়, মুড়ি, এসব খেলে মরবেন? যদু। তুই চুপ মাং ভজা, চুপ মা। তাের খােসমুদী কথা আর ভাল লাগে না। ডাক্তার বােধ হয় তাের দোকানের খদ্দের! তােরও বােধ হয় ডাক্তারকে বিচুটা দিতে হয় না? ভজহরি। বিচুদিই কি না দিই, তুই শুধিয়ে দেখি ছােটনােক কোথাকার। যদু। মুখ সামলে কথা বলৰি ভজা। পাচােনা গাঁয়ের নােক আমারে মাতি করে চলে, মুখে নাগাম দিয়ে কথা কইবি। ব্যগতভাবে নীলমণি ডাক্তারের এৰেশ। ডাক্তারখানায় গােল করিতে দেখিয়া তাহরি ও যদু মােড়লকে সজোরে তাড়া দিয়া কহিলেন- নীলমণি। আহ! বলি ডাক্তারখানায় সকালবেলায় এ সব সব আরম্ভ করলি কি তাের ? ভরি। দেখনা, তােমার ঘরে বসে আবার তােমারই নিলে কহে। নীলমণি। নিন্দে করছে? তা কি হলাে? আমার নিলে তাে সবাই তােরা করিস না ? নিলে কর আর যাই কর, আসতে তো আমার কাছেই হবে। গায়ে তাে আর ডাক্তার নেই। (জনৈক রােগীর প্রতি) এই যে পরাণের ছেলে এদিকে আয়। দেখি- পরাণের ছেলেকে পরীক্ষা করিয়া) ঐ যে ওষুধ দিয়েছি, ঐ ওষুধই খাবি। পঃ ছেলে। কি খাব ডাক্তারবাবু? নীলমণি। খাৰি আবার কি? এখনও এর রয়েছে। এই দুটো একননা মুভিটুজি না হয় । (পরাণের রেল স্থানােত) আর শােন-

দ্বিতীয় দৃশ্য
রামের সুমতি
তাের বাবাকে বলবি টাকাকড়ি অনেক বাকী পড়েছে। সেগুলো
পাঠিয়ে দিতে।
পঃ ছেলে। বলব।
নীলমণি। (অপর রােগীর প্রতি) তাের কি ?
সুবল। আজ্ঞে, ঐ যে সেদিন আমার সেই মেয়েকে দেখেছিলেন—
নীলমণি। হা হা-কি যেন তাের নাম ?
সুবল। আজ্ঞে সুবল।
নীলমণি। হা-হা-সবল। তা তাের মেয়ে কেমন আছে?
সুবল। সেই একই ভাব।
নীলমণি। কিছুই কমেনি ? জ্বর, কাশী, গা হাত পায়ের জ্বালা, সবই
এক রকম আছে ?
সুবল। আজ্ঞে হ্যা বাবু, আপনি একবার গিয়ে
নীলমণি। তা এ বেলায় তাে আর হবে না ও বেলায় যাব। ঔষুধ আছে ?
অবল। আছে।
নীলমণি। তা ঐটেই আপাততঃ খাইয়ে দিগে যা।
যে আছে।
নীলমণি। (অপর একজনের প্রতি) তাের কি?
ক্যাবল। আজ্ঞে, আমাদের বাড়ী একবার যেতি হবে।
নীলমণি। তােদর কোন্ বাড়ীটা।
ক্যাবলা। আছে পশ্চিমপাড়ায় বিনােদ বাগীর বাড়ী।
নীলমণি। ও! তুই বিনােদের ছেলে? তুই ছোড়া ঐ রামঠাকুরের
দলে থাকি না ?
ভজহরি। আতে হা ডাক্তারবাবু, ও রামঠাকুরের দলের পাণ্ডা।

রামের সুমতি প্রথম অঙ্ক নীলমণি। হু, তা বাড়ী গিয়ে দেখা চার টাকা লাগবে। চার টাকা টাকা এনেছিস? ক্যাবলা। না। গিয়ে দেখলিই দিয়ে দেব। নীলমণি। গিয়ে দেখার পর যে বলবি এই দু’টাকা দিলাম, আর বাকী থাকলাে-ওসব হবে না। অন্তত দুটো টাকা আগাম দিয়ে যেতে হবে। রাখহরি। আমাকে একটু সকাল-সকাল ছেড়ে দিন্ বাবু নীলমণি। দিই—দিই—বুঝলি? তাহলে তাের বাপকে গিয়ে ঐ কথাই বলগে, ফা। ক্যাবলার এখান নীলমণি। হ্যা, তারপর কাল তাের ছেলে কেমন ছিলরে রাখহরি ? রাখহরি। কাল চোপর রাত চোখের পাতা বেজেনি বাবু। যেমন জ্বর, তেমনি বমি, তেমনি গায়ের জ্বালা। একটু ভাল ঔষুধ দিন বাবু। নীলমণি। ওষুধ কি আর ভাল দিচ্ছিনারে ? কিন্তু ভােগ যে কদিন সে কদিন ভুগতেই হবে; তােরা মনে করিস তােরা গরীব মানুষ বলে হয়তো কমা ওষুধ দিই। কিন্তু এই নীমণি ডাক্তারের কাছে ও গরীব বড় লােক নেই। বুঝলি? রাখ। আয়ে হঁা, তাতো জানি। তবে কিনা ডাক্তারবাবু ছোঁড়াটা কদিন ধরে বিছানায় পড়ে ছটফট করছে। গঠের ধানগুলাে মাঠেই পড়ে রইল—ঘরে আনবার সময় বড়ই ক্ষতি হচ্ছে; তাই- নীলমণি। সেকি আর আমি বুঝতে পারছি না রাখহরি ? কিন্তু কি করি বল? এ তো আর তন্তর গন্তরের কাজ নয়, যে ঝাড়ফুক করে সেবা-মার সরে যাবে। এ হল সময় সাপেক্ষ রােগ। তা যাই হােক-একবার গিয়ে দেখে যা ভাল হয়, তাই করুন ডাক্তারবাবু।

দ্বিতীয় দৃশ্য রামের সুমতি ১১ নীলমণি। গিয়ে দেখা? ও বাবা! সেকি তুই পেরে উঠবিরে রাখরি ? আজকাল গাঁয়ের বাইরে গেলেই চার টাকা ভিজিট। সে কি তুই দিতে পারবি ? রাখ। একটু কমজম করে নেবেন বাবু। নীলমণি। এমন সময় ছিল রাখরি যে পয়সার জয়ে কাউকে বলিনি। দরকার হয়েছে একবারের জায়গায় দশবার গিয়েছি, রােগী দেখেছি। যে ইচ্ছে করে দিয়েছে নিয়েছি। যে দেয়নি—তার কাছে চাইওনি। কিন্তু এখন আর সে দিনকাল নেই। নইলে তুই কমজম কি বলছিস্ রাখহরিও টাকার কথা আমি মুখেই আনতাম না। তুই ইচ্ছে করে দিতিস্—নিতাম। না দিতি চাইতামও না। নীলমণি ডাক্তারের কথা শেষ হওয়ার পূর্বেই রামলাল ঘরে প্রবেশ করিয়াছিল। তাহার এক হাতে দা। কেমরের কাপড় বেশ শক্ত করিয়া বাঁধা। নীলমণি ডাক্তার মামলালের আগমন লক্ষ্য করেন নাই। নীলমণি ডাক্তারের কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রামলাল বলিল- রাম। না চাইতে না ! মুখে মিষ্টি কথার বহর কত! দেশ গুলােকে কাছে পাক দিয়ে টাকা আদায় করছেন, আর মুখে বলছেন-টাকা চাইতাম না—নিতাম না। একটা আস্ত চামার ? নীলমণি। কি যতবড় মুখ নয় তত বড় কথা! মুখ সামলে কথা কইৰি- রাম। তা কইব। কিন্তু তার আগে জানতে চাই, বৌদির অব সায়েনা কেন ? নীলমণি। তা আমি কি করব? ওষুধ তাে দিচ্ছি। রাম। ছাই দিচ্ছ। পঁচা ময়লার গুড়ােতে অসুখ ভাল হয় ? নীলমণি। পচা ময়দার ওঁড়ো? তবে নিতে আসিস কেনরে? তাের, দাদা পায়ে ধরে ডাকতে পাঠায় কেনরে? রাম। পায়ে ধরে ডাকতে পাঠায়। তুমি ছােটলােক, বামুনের মান-

১২
রামের সুমতি
প্রথম অঙ্ক
মৰ্যাদা জাননা তাই অত বড় কথাটা বলে ফেল্লে? এদিকে ডাক্তার
নেই—তাই ডাকতে পাঠায়, থাকলে পাঠাতত না। দাদা কারাে
পায়ে ধরে না। আসবার সময় বৌদি মাথার দিব্যি দিয়েছে তাই,
নইলে তােমার পাতগুলাে ভেঙে দিয়ে ঘরে ফিরতাম। তা শােন, ভাল
ওষুধ নিয়ে এখুনি এসাে, দেরী করােনা। আজ যদি বৌদি আর না
ছাড়ে—তাহলে সামনে ঐ যে কলমের আমবাগান করেছ—এখনও
বেশী বড় হয়নি, এই দায়ের এক এক বায়েই কাত হবে। ওর একটাও
আজ রাতে আর থাকবে না। আর কাল এসে ঐ শিশিবােতলগুলাে
গুড়ো করে দিয়ে যাব-মনে রেখাে।
বেগে এখান
যদু। ডাক্তারবাবু, আর দেরী করাে না। ভাল ওষুধ যা মুকোনাে-
টুকননা আছে তাই নিয়ে যাও। ও রাম ঠাকুর! ওর যে কথা,
সেই কাজ। যা বলে গেছে-তাই করে তবে ছাড়বে।
নীলমণি। আমি ওকে পুলিশে দেব। আমি থানায় দারােগার কাছে
যাবাে। তােমরা সৰ সাক্ষী।
রাখ। ডাক্তারবাবু-
নীলমণি। আচ্ছা—আচ্ছ-তুই এখন যা—আমি বিকেলে যাব।
রাখবি এন
যদু সাক্ষী? সাক্ষী কে দেবে বাবু? আমার তো কুইনেন খেয়ে খেয়ে
সদাসর্বদা কান ভোর্ভে কতেছে। রামঠাকুর যে কি কয়ে গেল
তা বুঝতে পারলাম, কিন্তু শুনতে পেলাম না। নার দারােগা কি
করবে বাবু? ও দেবতাটা দেখতে পাগলা-ছাগলা বটে কিন্তু ওনার
বাগী ছেড়ার দলা বড় কম নয়। শেষে যদি ঘরে আগুন দিয়ে
পুড়িয়ে মারে।
নীলমণি। কি? পুড়িয়ে মারবে ? আমি এখুনি সায়ােগার কাছে যাব।
-

দ্বিতীয় দৃশ্য রামের সুমতি যদু। দাবােগা দেখতিও আসবে না। আর তোমায় এক আঁটা খড় দিয়েও উপকার কবে না? কি বল ভজহরি ? ভজহরি। হাতাতাে বটেই। যদু। ও সব আমরা পারবাে না। রাম ঠাকুরকে সম্মাই ডরায়। তার চেয়ে যা বলে গেছে—তাই করছে। যাক্‌-একবার আমার হাতটা দেখ দেখি আজ দুখানা রুটটুিটা খাব কিনা। হাত বাড়াইল নীলমণি। এঁসাক্ষী দেবার বেলায় নেইমার হাত দেখাবার বেলায় আছ? দূর হ এখান থেকে—দূর হ— আমি কারুর হাত দেখতে পারব না। মরে গেলেও কাউকে ঔষুধ দেবাে না। দেখি, তােদর কি গতি হয় ? ঔষধের ব্যাগ ও ছাতা লইয়া নীলমণি ডাক্তারের বেগে স্থান যদু। আমাদের গতি পরে কোরাে। আপাতত রামঠাকুরের বৌদিকে একশিশি ভাল ওষুধ দিয়ে নিজের গতি করে এসাে। যদি ডাক্তার বাবু থানায় যায়। নাঃ, ঠাকুরকে একবার খবরটা দিয়েই যাই। বুঝলে ভজহরি-নইলে হয় তত বা মনে করে থানায় যাবার মতলবটা আমরাই দিয়েছি। যা হােক বিবেটাক বেগুনের চারা লেগিয়েছি। বেশ ডাগর ডােগরটা হয়ে উঠেছে। হয় তােত আজ রেতেই উপড়ে রেখে যাবে। বাদগী হোড়গুলাে তাে রেতে মােয় না। ভহরি। হ্যা হ্যা, তাই চল মােড়ল—তাই চল-

তৃতীয় দৃষ্ণ
শ্যামলালের বাড়ী। এম দৃশ্যেরই অনুরূপ। বেলা তখন প্রায় শটা। ঘরের
দরজা বন্ধ। কাহাকেও না দেখিতে পাইয়া নেত্য-ঝি উঠানে আসিয়া ডাকিল।
নেত্য। মা ঠাকরুণ-মা ঠাকরুণ।
নারায়ণী ঘরের ভিতর হইতে বারাণ্ডায় আসিলেন
নারায়ণী। কে নেত্য? ভােলাকে নীলমণি ডাক্তারের ওখানে
পাঠিয়েদিলি ?
নেত্য। না মা ভােলা বাড়ীতে নেই, গরু চরাতে গেছে—
নারায়ণী। তবে তুই যা একবার নেত্য। ডাক্তারখানা থেকে রামকে ডেকে
নিয়ে আয়। জানিনে সেখানে গিয়ে আবার এতক্ষণ কি কাণ্ড বাধিয়েছে।
নেত্য। আচ্ছা মা আমি ডেকে আনছি।
ঘরের ভিতর হইতে লালের প্রবেশ
খাম।
নেত্যকে আবার নীলমণি ডাক্তারের ওখানে যেতে বল্লে কেন ?
নারায়ণী। কি করব।
কি করব। রাম যে এখনও ফিমূল না।
খাম। তা নেতাকে না পাঠালেই তাে হতাে, আমি:তত কাছারী যাবই
যাবার পথে তাকে না হয় ডেকে দিয়ে যেতাম।
নারায়ণী। তুমি আবার অতটা পথ ঘুরে যাবে ?
নেপথ্যেরামলাল। গােবিন! গােবিন্দ।
তাম। নাও আর ভাবতে হবে না ! ওই যে তােমার মণ এসে হাজির
হয়েছেন।
নাবেন এবং
কিরে•••ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলি?
রাম। হা। গােবি খাচা ধরবি আয়-
খান। তা ডাক্তার কি বলে ? এখুনি আসবে তো?

তৃতীয় দৃশ্য রামের সুমতি রাম। (পুনরায় খাঁচা প্রস্তুত করিতে করিতে) সে সব কিছু বল্লে না ? শ্যাম। তুই তাকে আসতে বলেছিস তো? রাম। , তা বলেছি বৈকি ? নারায়ণী। ডাক্তারের সঙ্গে ঝগড়া-ঝাটি করিস্ নি তত ভাই ? রাম। না, তা করিনি। তুমি মাথার দিব্যি দিলে, নইলে আজ ওর শিশি বােতলগুলাে গুড়ো করে দিয়ে আসতাম। তা বেশ করেছ। মাথার দিব্যিটা যে রক্ষে করেছ—এই যথেষ্ট। এখন দয়া করে একটু বাড়ীতে থাক। আমি একটু বাইরে যাচ্ছি। এর মধ্যে যদি ডাক্তার আসে, দেখিও-বুঝলে। রাম। আচ্ছা শ্যামলালের এহন নারায়ণী। রাম- রাম। কি বৌদি ? নারায়ণী। আমার কাছে আয়- রামলাল নারায়ণীর নিকট গেল নারায়ণী। আমার মা এ বাড়ীতে এসে থাকলে তুই রাগ করবি না তাে ভাই ? রাম। তােমার মা এসে থাকবে ? তা বেশ তো—বেশ তাে। আমি রাগ করতে যাব কেন? নারায়ণী। তুইও তাে এ বাড়ীর মালিক। তােকেও তো একবার জিজেস করা দরকার। রাম। আমি মালিক? কি যে বল বৌদি তার ঠিক নেই। শালিক দাদা আর তুমি। আমি আর গােবি, আমরা দু’জন খাই নাই আর ঘুরে বেড়াই।-তা যাক। গােবিলটা কোথায় গেল বল জিকি? চাটা আধখানা তৈরী হয়ে থাকলাে।

রামের সুমতি নারায়ণী। কাছেই কোথায় আছে। আসবেন। রাম। ধামরুকগে—ওরই খাচা তৈরি হবে না—আমার কি ? হরিহর আধপাগলা কামের লােক। গান গাহিয়া তিন করিয়া বেড়ায়। একপায়ে সাসাই ঝাজ, পরিয়া থাকে। নাচি নাচির গান গায়। 'লাল ইহাকে বড় ভালবাসে। সম্প্রতি সে আমলের কার্তিক-গণেশের নামে একটি গান বাঁধিয়াছে। নেপথ্যে হরিহর। দাঠাকুর কৈ গােদাঠাকুর। রাম। কে রে হরিহর ? হরিহরের প্রবেশ হরিহর। পেয়াম হই দাঠাকুর। (নারায়ণীকে দেখিয়া) মা-ঠান অমন করে বসে ৰে? অসুখ-বিসুখ নাকি? রাম। হারে হরিহর, আজ ক’দিন বৌদির বড় জয়। শার যে চামার ডাক্তারের হাতে গড়েছে, বুঝলি হরিহর-বৌদি এখন সেরে উঠলে বাঁচি। (নারায়ণীর নিকটে গিয়া) বৌদি, হরিহর কার্তিক-গণেশের নামে একটা গান বেঁধেছে। বেশ গান। আমি শুনেছি। তােমায় শােনাবার জন্যে, ওকে আসতে বলেছিলাম ; শুনবে বৌদি ? নারায়ণ। বেশতে! বেশতে! গাও হরিহর। হরি। তা আপনার যে অসুখ মাঠা- নারায়ণী। তা হােক। তুমি গাও- হরিহর নাচি নাচিয়া গান জুড়িয়া দিল কার্তিক আর গণেশ থাকে জলেতে তােরে, তােৰ তেহেনান জিতে। ভয়ে ভালি পাড়ি দিয়ে এরা দুলিয়ে আসে তির নিন। যে নিলে মিশে এতটা মন তাতে। ** তৃতীয় দৃশ্য রামের সুমতি ১৭ তাদের মুও দু'টো এতবড়- ভয়ে চুনােপুটি জড়সড় ! আর ভ্যাঙায় আছে দাদাঠাকুর- তাই কেউ কয়না কথা মেতে। রাম। (গীতান্তে ) পাড়া তােকে দুটো চাল এনে দি।" (দু’এল অগ্রসর হইয়া ফিরিল) দেখ হরিহর, আর একদিন এসে চাল নিয়ে যাস। আজ আর দিতে পারলাম না। বৌদির অসুখ কিনা ? নারায়ণী। তা হােক দোষ নেই। ও ঘর থেকে হরিহরকে দুগ চাল এনে দাও। রাম। -না-তা কি হয়? সেবার আমার অসুখের সময় তুমি ভিক্ষে দাও নি-বলে দোষ হয়। তুই আজ যা হরিহর-আর একদিন এসে নিয়ে যাস। হরিহর। আচ্ছা দাঠাকুর। আসি মাঠান, পেন্নাম হই-আর একদিন আসব। হরিহরে বাৰ নেপথ্যে কামলাল। রেমম, ডাক্তারবাবু আসছেন। রাম। ঐরে! দাদা বুঝি আবার ডাক্তারকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে এল! আমি একটু আড়ালে যাই বৌদি। ও চামারটা হয়তাে আমার নামে দাদার কাছে এতক্ষণ অনেক কথা লাগিয়েছে। রামলাল মা ঘরের মধ্যে বেশ করিল নীলমণি গায়ে মতি লাল এবেশ করলেন। নীলমণি ভাজারের মতে একটা ব্যাগ। গমনের শক্তি কথা কহিতে কষিতে তানে বেশ কবি নীলমণি তার ব্যাগটা কার নাইয়া রাখিলেন শ্যামলাল। আপনি কিছু মনে করবেন না,•••ওটা একটু গোয়ার কিনা।

১৮
রামের সুমতি
প্রথম অক্ষ
বৌমা ?
নীলমণি। আজ্ঞে হ্যা, তা তাে জানি। তবে কিনা অতগুলাে লােকের
সামনে থাকা
আমলাল। আমি ওকে শাসন করে দেবে।
নীলমণি। থাক, থাক, শাসনের দরকার নেই। ছেলেমানুষ, বয়সের সঙ্গে
সতেই সব ধরে যাবে। তবে কিনা ওর কথাবার্তা শুনলে বড় ভয়
হয়। তা যাক, (নারায়ণীর নিকট আসিয়া) হাতটা একবার দেখি
( হাত দেখিয়া) জ্বর এখনাে রয়েছে। আচ্ছা
আজ ওষুধটা বদলে দেব। সেই ওষুধটা আজ তিন বার
থাকেন, তার পর কাল কেমন থাকেন জানাবেন—এসে দেখে যাব।
কিন্তু বোমা, জ্বর সারা না সারা কি ডাক্তারের হাতে। তোমার
দেওরটা তাে আমাকে মাত্র দুটো দিনের সময় দিয়েছে—এর মধ্যে সারে
ভাল, না সারে তাে আমার ঘরে দোরে আগুন ধরিয়ে দেবে বলেছে।
নারায়ণী । ( লজ্জিত হইয়া) ওর ঐ রকম কথা। আপনি কিছু মনে
করবেন না।
নীলমণি।
লােকে বলে ওর একটা বাগী ছোড়ার দল আছে। তাদের
নাকি যে কথা সেই কাজ। তাই বড় ভয় হয় না। আমরা ওষুধ
দিতে পারি—কিন্তু প্রাণ তো দিতে পারি না মা।
নারায়ণী। ও একদিন জেলে যাবে তা জানি, কিন্তু সেই সঙ্গে আমাকেও
যেতে হয়।
সহসা ঘরের ভিতর হইতে রামপালের প্রবেশ
রাম। শুধু শুধু তােমাকেই বা জেলে যেতে হবে কেন?
গম। এই যে গাধা! আবার মুখ নেড়ে ঝগড়া করতে এসেছে। দুই
ডাক্তারবাবুর ঘরে দোরে আগুন ধরিয়ে দিবি বলেছি।
রাম। (নিকার)

তৃতীয় দৃশ্য রামের সুমতি ১৯ শ্যাম। কি চুপ করে রইলি যে? রাম। না, আমি ওকথা বলিনি। আমি তো শুধু আমবাগান কেটে দেবাে বলিছি। খাম। তবে কি ডাক্তারবাবু মিছে কথা বলছেন? রাম। হ্যা, উনি তাে তাই-- নারায়ণী। রাম চুপ কর বলছি- শ্যাম। ( লজ্জিত হইয়া) যাক কিছু মনে করবেন না ডাক্তার বাবু, এই নি আপনার ভিজিটটা- পকেট হইতে টাকা বাহির করিয়া শ্যামলাল নীলমণি ডাক্তারকে চারটা টাকা দিলেন। তাহা হইতে তিন টাকা শ্যামলালকে ফেরত দিয়া জিত, কাটি নীলমণি ডাক্তার কহিলেন- নীলমণি। সর্বনাশ! আমার ভিজিট তো এক টাকা, তার বেশী আমি কোনমতেই নিতে পারব না। ও অভ্যেস আমার নেই শ্যামবাবু। টাকা দুদিনের কিন্তু ধর্মটা চিরদিনের। রাম। এ! একেবারে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির এলেন আর কি। পর দিন দু টাকা নিয়ে গেছে—আজ আবার ধর্ম দেখাচ্ছে। খাম। বেরােবেয়রা হতভাগা-বেয়রা এখান থেকে রামলাল দুটি ঘরের মধ্যে এবেশ করিল নীলমণি। মুখফোড় বলে গালাগালি সহ করা যায় আমবাবু কি ব্যবসা নিয়ে বদনাম রটানাে সহ করা সম্ভব নয়। এখন থেকে সাবধান হলে জেল হাজত ওর অনিবার্য। চলুন ওষুধটা দিয়ে দি। আন- নীলমণি ও আমলালে এন নারায়ণী। রাম! রাম।

২•
রামের সুমতি
প্রথম অঙ্ক
রাম। কি বৌদি ?
নারায়ণী। লােকের সঙ্গে কেমন করে কথা কইতে হয় তা কি তুই কোন
কালেই শিখবি না?
রাম। তা ও ধর্ম দেখালে কেন ? রাখ বাঙ্গীর কাছে চার টাকা আদায়
কবে বলে ডাক্তারখানায় পেড়াপীড়ি করছিল—আর এখানে এসে
ধ দেখালে।
নারায়ণী। তাতে তাের কি? তুই কি আমাকে একদণ্ডও শান্তি
দিবি না রে?
নারায়ণী বিরক্তভাবে ঘরের মধ্যে চলিয়া গেলেন
রাম। বৌদি! বৌদি! যা বাবা! আমি ভালর জন্যে করতে গেলাম
হয়ে গেল উল্টো! বাঃ!
গােবিন্দ শুধুণীর হাত ধরিয়া টানিতে টানিতে প্রবেশ করিল। সুরধুনীর
বেশ-ভূষায় প্রায় মেয়ের ছাপ সুপৰিট। তার হাতে একটি
কাপড়ের পুটুলী। পশ্চাতে নেতা-ঝির সহিত দিগনী বেশ
নেতার হাতে একটী হােট প্যাটা
গােবিল। কাকা! কাকা! শীগগির এসাে। শীগগির এসাে-
রা। কিরে–কিরে ?
রামলাল খননকতাবে টিয়া যাইতে গিয়া প্রায় সুরধুনীর ঘাড়ের উপর
আসিয়া পড়িল। পরে নিজেকে সামলাইয়া-
ধুনীকে জিজ্ঞাসা করিল
তুই কে রে?
গােবিন্দ। মা, দেখ দেখকারা এসেছে।
নারায়ণী। কে! সুরী! আয়-জায়! মা কোথায় ?

তৃতীয় দৃশ্য SARASWAT LIPPARI রামের সুমতি সুরধনী। ঐ যে- নারায়ণী। এসাে মা, এসাে। নারায়ণী দিগম্বরীকে প্রণাম করিলেন ও সুরধুনীকে আদর করিয়া কাছে টানিয়া লইলেন। দিগম্বরী নারায়ণীর মুখের দিকে কিছুক্ষণ চাহিয়া থাকিয়া পরে কহিলেন দিগম্বরী। কিন্তু তাের এ কি চেহারা হয়েছে নারাণী? তাের দিকে যে আর তাকানাে যায় না। নেত্য। মার শরীরে কি আর কিছু আছে? আজ ক’দিন অর। তা ছাড়া সংসারের ছিষ্টি কাজ ঐ একজনার ওপর। শরীরের আর কি দােষ দিদিমা ? নারায়ণী। যা তত নেত্য, মার নিয়িমিষ দিকের বাসন-কোসনগুলাে ধুয়ে মেজে দিগে, আর নাইবার ব্যবস্থা—পূজোর গােছগাছ- দিগম্বরী। কেন এত ব্যস্ত হচ্ছিস মা ? নারায়ণ। এতখানি পথ গরুর গাড়ীতে এলে, কত কষ্ট হয়েছে। নেয়ে ধুয়ে পূজো-আচ্ছা করে যা হােক কিছু মুখে দিয়ে আগে সুস্থ হও। -না তুই যা নেত্য। নেত্য ন ( জনান্তিকে) রাম মাকে প্রণাম কর। রামলাল ইতস্তত করিতে করিতে দিগনীকে টিপ, করিয়া এম করিল রাম। এরা? বৌদি ? নারায়ণ। আমার মা আর বােন। ও, যাদের আসবার কথা ছিল ? তা বেশ। (ন্য প্রতি) তা তাের নামটা কি তা তো বলিদৈ নারায়ণ। ওর নাম মুরধুনী। fest; } ,'?

২২
রামের সুমতি
প্রথম অঙ্ক
রাম।
ও বাবা! মস্ত বড় নাম দেখছি যে !
নারায়ণী। (হাসিয়া) তা তাের নামটাই বা কি ছােট?
রাম। তা বটে! কিন্তু তােমরা তো রাম—রেমাে এই সব বলেই
ডাক কিনা?
নারায়ণী। তা বেশ তাে ! তুইও ওর নামটা না হয় ছােট করে নিয়ে
সুরে বলে ডাকবি।
রাম। হে-হে-সেই ভাল !
গােবিল। (সুরধুণীর প্রতি) মাসিমা, আমাদের কেমন কার্তিক-গণেশ
আছে—দেখবে মাসীমা ?
সুরধুনী। কার্তিক-গণেশ !
রাম। হা হা, কার্তিক-গণেশ, চ’ না পুকুর থেকে হাত মুখ ধুয়ে আসবি
আর অমনি দেখে আসবি-চ—চ।
রামলাল সুরধুনীর হাত ধরিয়া তাহাকে টানিয়া লইয়া গেল।
গােৰিলও তাহাদের অনুসরণ করিল
দিগম্বরী। কার্তিক-গণেশ আবার কি নারাণী?
নারায়ণী। ওর কথা আর বলল না মা। কোথা থেকে দুটো কচি পােন।
এনে পুকুরে ছেড়েছিল। সেই কচি পােনা দুটোকে মুড়ি খাইয়ে
খাইয়ে মস্ত বড় করে তুলেছে। আর তাদের আদর করে নাম রেখেছে
কার্তিক-গণেশ।
দিগম্বরী। একি! চারদিকে ছিষ্টি একাকার হয়ে রয়েছে। তুই দুদিন
পড়ে থাকলে সংসার বুঝি অচল হয়ে ওঠে।
নারায়ণী। তা একটু হয় বৈকি মা। সংসারে তো আর বিতীয়
লােক নেই।
দিগরী।
কেন? তাের দেওরটা বুঝি তেমন দেখাশুনা করে না?
বুঝিছি-হাজার হক সততা দের তাে ?

তৃতীয় দৃশ্য
রামের সুমতি
নারায়ণী । সতাতো সত্যি। কিন্তু শ্বাশুড়ী ওকে যেদিন আমার হাতে
তুলে দিয়ে গেলেন, সেদিন আমিও জানতে পারিনি যে ও আমার
আপন দেওর নয়। আর যিনি অন্তিমকালে ঐ
আর যিনি অন্তিমকালে ঐ আড়াই বছরের
শিশুটিকে আমার কোলে তুলে দিয়েছিলেন, তিনি কোনদিন আমাকে
জানতে দেননি যে তিনি আমার আপন শ্বাশুড়ি নন।
দিগম্বরী। পাক। আমি যখন এসেছি সংসারের ঝক্কি আর তােকে আমি
নিতে দেব না। কিন্তু উঠোনে কত দিন ঝাটা পড়েনি নারাণী?
দড়িদড়া, কঞ্চি ছিষ্টি একাকার! আমি বাপু নােংরা সহ্য করতে
পারিনে। ঝটা গাছটা কোথায় ?
নারায়ণী। থাক মা! এতখানি পথ আসায় কত কষ্ট হয়েছে। আগে
একটু জিরােও। নেয়ে-ধূয়ে পূজো-আচ্ছা করে মুখে আগে যাহােক
একটু কিছু দাও ! সংসারের কাজ তাে আছেই।
দিগম্বরী। তা হােক। পূজোর আগে তো নাইতেই হবে। দিই না
ঝাঁট দিয়ে, ওতে দোষ নেই।
দিগশ্বরী উঠানের একপাশ হইতে ঝাঁটাগাছটি লইয়া ঝাট দিতে আরম্ভ করিলেন।
সহসা রামলাল ছুটিয়া আসিয়া দিগম্বরীর হাত হইতে বটিাগাছটি কাড়িয়া
লইল। পশ্চাতে গােবিশ ও সুরধুনীর প্রবেশ
রাম। ওকি! ওকি! থাক থাক থাক ! এখনও গােবির খাচা
তৈরী হয়নি। কাটি, দড়ি, যন্ত্রপাতি সব ছড়ান রয়েছে। খাঁচাটা
তৈরী হয়ে যাক, পরে আমিই ঝট দেব—আমিই ঝটি দিয়ে
বোে-
দিগম্বরী কটমট করিয়া মামলালের দিকে চাহিয়া রহিলেন

চতুর্থ দৃশ্য অপরাহ। নীলমণি ডাক্তারের ডাক্তারখানা। ডায়খানার সামনে একটা বেধিতে হরি ও নাগমণি ডাক্তার বসিয়া আছেন। নীলমণি ডাক্তার একটা ছেলে হকোয় তামাক খাইতে ছিলেন ও তহমির সহিত কথা কহিতে ছিলেন। অজহরি। আজ্ঞে হা ডাক্তারবাবু, রামঠাকুরের বাগী ছেড়ার দলই পশ্চিম পাড়ার নােকের বাড়ী বাড়ী গিয়ে ভাংচি দিয়ে এসেছে। নীলমণি। তা কি আর আমি জানিনে। আমিও সেদিন সােজা পশ্চিম পাড়ার বারােয়ারীতলায় বড় গলায় বলে এলাম, আজ নতুন ধান ঘরে এসেছে, আর দুটো কাঁচা পয়সার মুখ দেখছি বলে, নগদ পয়সা দিয়ে রামঠাকুরের কথায় নাথপুরের অনুকুল ডাক্তারকে ডেকে আনছি। কিন্তু তােরাও মনে রাখি নতুন ধান, আর কঁচা পয়সা, এ দুটোর কোনটাই চিরদিন থাকবে না। আবার এই নীলমণি ডাক্তারের কাছেই তােদের আসতে হবে। মনে রাখি ভজহরি। বাঃ! বেশ বলেছ ডাক্তারবাবু! ইচ্ছে কচ্ছে শ্যামঠাকুরেও কথা টা একবার গুইনে দি। ওনারও পরিবারের মাঝে মাঝে নীলমণি। একটা আস্ত আকাট মুখ্য—বুঝলি ভজহরি, একটা মুখ। আর অন্সে বােধ হয় কি একটু পুণ্যি করেছিল, তাই এ জয়ে বামুনের ঘরে জয়। অহরি। ওর অদিয়ে ফাটক আছে ডাক্তারবাবু, তা তােমারে বলে দেলাম, তুমি দেখে নিও। (অদূরে শ্যামলালকে দেখিয়া) ডালয় বাবু, ঐ দেখামঠাকুর যাচ্ছে, বল ত একবার ডাকি। নীলমণি। তা ডাক না? আচ্ছা করে কথা শুনিয়ে দি। তহরি। (উতৈয়ে) ঠাকুরমশাই ঠাকুরমশাই-ডাক্তারবাবু

চতুর্থ দৃশ্য
রামের সুমতি
তােমায় ডাকতেছেন, একবার পায়ের ধূলাে দিয়ে যাও দেবতা-
একবার পায়ের ধুলাে দিয়ে যাও।
তালালের যে
শ্যাম। ডাক্তারবাবু যে হঠাৎ স্মরণ করলেন। ব্যাপার কি?
নীলমণি। স্মরণ আর কি! আপনি ব্রাহ্মণ দেবতা দয়া করে একটু
পায়ের ধূলাে দিয়ে যাবেন এই আর কি ! না ডাকলে তো আর
আসেন না।
বসিবার জন্য একটা চেয়ার আগাইয়া দিলেন। কিন্তু খামলাল বসিলেন না
শ্যাম। না আসিনে সত্যি; কিন্তু তা শুধু আপনার এখানেই নয়।
এ গাঁয়ের এক সরকারের কাছারী ছাড়া আর কারুর ওখানেই
যাই না।
নীলমণি। আর হ্যা, তাতে দেখতেই পাই। (শ্লেষ গসি হাসিয়া )
হাজার যােক মজার কথা তাে ?
খাম। লজ্জা? লজ্জা কিসের ডাক্তারবাবু?
নীলমণি। বৈমাত্র ভাই হলেও—লােকে তো বলে আপনার ভাই,
আপনার পরিচয়েই তো তার পরিচয়।
খাম। ও! রামের কথা বলছেন? না না, তার জন্যে আমার এতটুকু
লজ্জা-সঙ্কোচ নেই। একটু বেয়াড়া ডানপিটে এই যা-
নীলমণি। হােক বেয়াড়া ডানপিটে; তবু নানা লােকের নানা কথা
আপনাকেই শুনতে হয় তাে ?
খাম। নানা লােকের নানা কথা শুনতে হয় একথা ঠিকই ডাক্তারবাবু।
কিন্তু সংসারে সব মানুষ ও এক রকমের নয়। সুতরাং নানান
কথারও যে অভাব হবে না-তাতেই বা আচণ্য কি? কি যারা
সংসারে নিজেকে মানুষ বলে দাবী করে ডাক্তারবাবু, তার ঐ আমাকে
টাকেই বা ক্ষমা করতে পারে না কেন, আমি ত প তাই তাৰি।

। ' ২৬ রামের সুমতি প্রথম অঞ্চ নীলমণি । দেখুন গামবাবু,, ছেলেমানুষের ছেলেমানুষী সঙ্ক করা যায়, কিন্তু বদমায়েসী যে বরদাস্ত করা যায় না শ্যাম। ডাক্তারবাবু, রামকে আপনারা গরু গাধার সঙ্গে তুলনা করুন আমি সহ করতে পারব। কিন্তু বদমায়েসী বদনাম রটালে তা হয়তাে সহ্য করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। তা যাক-এখন অপরাহু বেলায় তেতেপুড়ে কাজ থেকে ফিছি—আপনার যদি কিছু অভিযােগ থাকে বলুন, তার প্রতীকার করবার চেষ্টা করব। নীলমণি। হ্যা সেই কথা ব বলেই তাে ডাকলাম। দেখুন, পশ্চিম পাড়ার লােকের বাড়ী বা :.য়ে আপনার ভাই ভাংচি দিয়ে এসেছে যে, যেন তারা কেউ এই মণি ডাক্তারকে না ডাকে- খাম। রাম ভাংচি দিয়েছে ? নীলমণি। হ্যা আপনার ভাই রাম । শুধু তাই নয়—নাথপুরের অনুকূল ডাক্তারকে সেখান থেকে ডেকে আনা হচ্ছে ; বারােয়ারীতলার চণ্ডী- মণ্ডপে অনুকূল ডাক্তাকে স্থান দেওয়া হয়েছে। একদিন অন্তর এক একজন গরুর গাড়ী পাঠিয়ে দেয়। অনুকুল ডাক্তার সেই দেড় ক্রোশ দূর থেকে সকালে আসে, আর রুগী দেখে সন্ধ্যায় ফিরে যায়। কিন্তু কেন? এত শত্রুতা কেন আমার সঙ্গে? বলতে পারেন? গাম। আপনি বিশ্বাস করুন ডাক্তারবাবু—এমনতর সুব্যবস্থা ত আমার ভায়ের দ্বারা সম্ভব নয়। যারা আপনার কাছ থেকে আঘাতের পর আঘাত পেয়েছে, এর মধ্যে তারা সবাই আছে। নীলমণি। কিন্তু আমি বলছি—আপনি যদি আপনার ভাইকে সাবধান করেন, তাহলে তার ব্যাবস্থা আমাকেই করতে হবে। অরি। হ্যা, তা ত করতেই হবে- যান। অন্তত এ ব্যাপারে তাকে শাসন করা আমার ধারায় সব হবে । কারণ এ গাঁয়ে ডাক্তার বস্তির একান্ত অভাব। এ গাঁয়ের সবাই ;

পঞ্চম দৃশ্য
রামের সুমতি
২৭
যে আছে-এই নীলমণি ডাক্তারের মুখ চেয়ে। কিন্তু নীলমণি ডাক্তার
যে সবে ধন নীলমণি -তাই তার নাবী দাওয়ারও শেষ নেই! ছি!
ছিঃ ! ডাক্তারবাবু এই অভিযােগ আবার আমার কাছে করছেন?
আমার ভাই সে তো গৰু ডাক্তারবাবু, সে তাে গরু—সেই গরুর
কাছে পরাজয় স্বীকার করলেন ? ছিঃ ছিঃ ছিঃ
ভজহরি।
দেখলে তাে আমি বল্লাম—ও ভেতরে ভেতরে সব আঙ্কারা
আছে।
নীলমণি। হ্যা, তাই ত দেখছি। আমি দুটো কথা শশানাব বলে
ডাকলাম, উন্টে আমাকেই দু’কথা শুনিয়ে দিয়ে গেল! আচ্ছা-
আমিও নীলমণি ডাক্তার।
==
পঞ্চম দৃ
অপরাহ। গামলালের বাড়ী। শ্যামলাল ব্যতভাবে বাড়ীর মধ্যে বেশ
করিলেন। তাঁহার চোখে-মুখে বিরক্তির ভাব প্রকাশ পাইতেছে।
উঠান হইতে চীৎকার করিয়া ডাকিলে
ম। রেমাে-রেমাে, রেমাে কোথায় গেলি-
F':;:-
ঘরের দরজা খুলিয়া নারায়ণীর প্রবেশ
D'WAT
Shp
নারায়ণী। কেন? রামকে ডাকছ কেন?
তাম। না আর সহ্ন হয় না, ক্রমেই অসহ্য হয়ে উঠলাে।
নারায়ণী। কি হল গো ! কি হলাে ?
খাম। আর কি হবে, আমার মাথা আর মুণ্ডু হয়েছে। নেমােটাকে
নিয়ে আর আমার সংসার করা চলবে না, তা তােমায় বলে দিলাম।
নারায়ণ। কেন? আবার কি হলাে তাই বল না ?

রামের সুমতি,
প্রথম অঞ্চ
আম। কি আর হবে! হতচ্ছাড়াটার জতে লােকের কাছে আর আমার
মুখ দেখাবার জো নেই,-কাজ থেকে তেতেপুড়ে বাড়ী ফিছি-
নীলমণি ডাক্তার তার ডাক্তারখানায় ডেকে নিয়ে গিয়ে, কতকগুলাে
যাচ্ছে তাই শুনিয়ে দিলে ।
নারায়ণী। নীলমণি ডাক্তার যে কেমন লােক, তা আর গাঁয়ের লােকের
জানতে বাকী নেই।
আম। সে ভাল হােক আর মন হােক, তাতে আমাদের কি এসে
যায়? কিন্তু ও হতভাগা তার ভাতের হাঁড়ীতে কাঠি দিতে
যায় কেন?
নারায়ণী। ভাতের হাঁড়ীতে কাঠি দিয়েছে।
শাম। নয় তাে কি ? পশ্চিম পাড়ার লােকের বাড়ী বাড়ী গিয়ে বলে
এসেছে—তারা যেন নীলমণি ডাক্তারকে কেউ আর না ডাকে।
সেখানে মােড়লী করে শ্রীনাথপুর থেকে অনুকুল ডাক্তারকে এনে
বসিয়েছে । আমার খেয়ে, আমারই বুকের ওপর বসে যে তিনি দাড়ী
ওপড়াবেন—তা আর হবে না—তাকে বলে দিও।
(রের ভিত চলিয়া গেলেন
বারি হইতে রামপালের বেশ
নারায়ণী। এই যে! তাের জয়ে লােকের কাছে মুখ দেখানাের যে
নেই। কতকগুলাে ছােটলােকের সঙ্গে মিশে, কেবল দল পাকিয়ে
নেচে নেচে বেড়াৰি। ৰেয়ো! দূর ই বাড়ী থেকে-
রাম। বারে! শুধু শুধু গালাগালি দিচ্ছ কেন?
নারায়ণ। শুধু শুধু গালাগালি দিচ্ছি, তুই
তুই নীলমণি ভাতারে
পেছনে লেগেছিল কেন ?
র। নীলমণি ভাতারের পেছনে লেগেছি।

পঞ্চম দৃশ্য রামের সুমতি নারায়ণী। লাগিসনি? কেন তুই ও-পাড়ার লােকদের বলে এসেছি যে তারা যেন কেউ নীলমণি ডাক্তারকে না ডাকে ? রাম। নীলমণি ডাক্তার ভাল চিকিচ্ছে করতে পারে না, তাই- নারায়ণী। ভাল পারুক, মদ পারুক, তাতে তাের কিরে মুখপােড়? তুই কেন শুধু শুধু তার কথায় থাকতে যাস্? রাম। ও কেন শুধু শুধু আমার কথায় কথা কইতে আসে ? নারায়ণী। তুই তার পেছনে লাগিস বলেই তাের কথায় থাকে। এত লােক রয়েছে, সে তাের কথাই বা বলে কেন? তাের জন্যে আজ ওকে পৰ্য্যন্ত কথা শুনতে হল? রাম। কি? দাদাকে কথা শুনতে হল? নারায়ণী। হল না? তাের জতে নীলমণি ডাক্তার আজ ওকে পৰ্য্যন্ত যাচ্ছে তাই শুনিয়ে দিয়েছে! বেরােদুর হ বাড়ী থেকে- নারায়ণীর ঘরের মধ্যে প্রবেশ রাম। বেশ চল্লাম—চল্লাম- রাগে গগস করিতে করিতে রামলানের প্রস্থান গােবিন্দর হাত ধরিয়া বাড়ীর ভিতর হইতে সুরধুনী প্রবেশ করিল। সুরধুনীর হাতে একখানি রামায়ণ। সুরধুনী। আয় গােবি- উভয়ে বারান্দার সিড়িতে উপবেশন করিল গগাবিন্দ। আজ কোনটায় পড়বে মাসীমা ? সুরধুনী। অকম্পনের যুদ্ধ। গােবি। অকম্পন কে মাসীমা ? সুরধুনী। সে রাক্ষস, মত ৰীয়! গােৰিন্দ। রাক্ষসী ও বাবা! হনুমান আছে তাে? সুরধুনী। যা আছে। , ।

রামের সুমতি
প্রথম অ .
গােবিন্দ। বেশ, তবে পড় শুনি?
সুরধুনী। (রামায়ণ পড়িতে লাগিল)
শরভল পলাইল পেয়ে অপমান।
রণেতে প্রবেশ করে বীর হনুমান।
হনুমান ৰলে বেটা পালাবি কোথায়।
একচড়ে যমালয়ে পাঠাব তােমায় ।
ব্যভাবে নেত্যর এবেশ
মা কোথায় গো সুরমাসী?
সুরধুনী। দিদি? দিদি ঘরের ভেতর আছে।
নেত্য। ওমা-মা ?
নারায়ণীর প্রবেশ
নারায়ণী। কেন রে নেত্য ?
নেত্য। ঐ দেখগে যাও—ছােটবাবু কি কাণ্ড কচ্ছে? ঐ পচা পুকুরের
জলে লােকে পা দেয় না! ছােটবাৰু সেখানে সু দিয়ে, সাঁতার
কেটে একেবারে হৈ হৈ করছে! কত করে বারণ করলাম—কিছুতেই
কথা কানে তুললে না।
নারায়ণী। ওর যা খুশী ও করুক গে—আমি আর পারি না
নেত্য। তুমি গিয়ে বললে—হয়তাে ভয়ে ভয়ে উঠে আসবে।
নারায়ণী। যে বাঁচবে না নেত্য, তাকে ডাক্তার বদ্যি ওষুধ দিয়ে বাঁচাতে
পারে না। ওর যদি ওতে মরণ থাকে তত মরুক—আমি আর পারি
; তুই যা
নারায়ণ গনের ভিতর প্রবেশ করিলেন। নেতা বাড়ীর ভিতর চলিয়া গেল।
গােবি। জান মাসীমা, কাকা আজ খুৰ বকুনি খাবে-
সুরধুনী। বেশ হবে।
গােলি। নাও তুমি পড়।

পঞ্চম দৃশ্য
রামের সুমতি
সুরধুনী। নেত্যটা এসে সব গুলিয়ে দিলে! কোথায় যেন পড়ছিলাম
গােবিন্দ ?
গগাবিন্দ। ঐ যে গাে-যমালয়ে পাঠাব তােমায়।
সুরধুনী। ও-হা-হ্যা।
পড়িতে উদ্যত এমন সময় শ্যামলালের প্রতিবেশী কালু সাতরা ব্যস্তভাবে
উঠানে প্রবেশ করিয়া গােবিন্দকে জিজ্ঞাসা করিল
কালু। মা-ঠাকরুণ কৈ গাে থােকাবাবু?
গােবিন্দ। মা ? মা ভেতরে আছে।
ঘরের ভিতর হইতে নারায়ণীর প্রবেশ
নারায়ণী। কে রে গােবিন ?
কালু। আমি মা—আমি ?
নারায়ণী। ও কালু? কি ব্যাপার কি ?
কালু। তুমি একবার দেখবে চল, মাছছাটবাবু আমাদের কি ক্ষতিটা
করেছে। আমাদের একটা তাজা শশা গাছ উপড়ে, শশাগুলাে ছিড়ে
নিয়ে একেবারে তছনচ, কাণ্ড করেছে মা—এমন করে ক্ষতি করলে
কেমন করে পারি। তুমি একবার দেখবে এস মা।
নারায়ণী। চলতে দেখে আসি—
কালু ও নারায়ণীয় স্থান
সুরধুনী। কোথায় যেন পড়ছিলাম গােবিন্দ?
ঐ যে গাে-তুমি বড় ভুলে যাও। সেই যে, যালয়ে
পাঠাব তােমায়।
সুরধুনী। হাহা।
পচা পুকুরে স্নান করিয়া ভিজা কাপড়ে মামলালের প্রবেশ
রাম। কি করছিস রে গােবিল ?

রামের সুমতি প্রথম আৰু গােবিল। মাসীর কাছে রামায়ণ শুনছি ? মাসী কেমন রামায়ণ পড়তে জানে, শুনবে কাকা? রাম। শুনগুনব। (সুরধুনীর প্রতি ) বেশতত পড়া শুনি? সুরধুনী। না আমি পড়ব না। রাম। পড়বি না কেন? রামায়ণ শুনতে আমি খুব ভালবাসি। সীতার বনবাস’, ‘গণের শক্তিশেল’, ‘রাবণবধ’ এ সব পালা যে আমরা ইস্কুলে যাত্রা করেছি। গােবিল। জান মাসীমা, কাকা একবার যাত্রায় হনুমান সেজেছিল । রাম। (গগাবিন্দকে শাসাইয়া) এই গােবিন্দ? খবরদার মার খাবি- গােবিন। হ্যা খাবে বৈকি? তুমি তাে হনুমান সেজেছিলে- রা। ফের, মারখাবি বলছি গােৰিল-(মারিতে উদ্যত ) সুরধুনী। (হাসিয়া) রাগ করছ কেন রামদা? হনুমানই যদি সেজে থাক—তাতে দোষ কি? হনুমান কি যে সে? মস্ত বীর। মন্ত বীর! তবে তার একটা ল্যাজ আছে এই মাম। এখলে! এ চুড়ী তত কম ডে'পাে নয় দেখছি- সুরধুনী। (রাগিয়া) শুধু শুধু গালাগাল দিচ্ছ কেন? রাম। বেশ করেছি। তুই আমার কথায় কথা কইতে আসিস কেন ? গােবিল। কাকা, তুমি আজ সারাদে শশা গাছ কেটে দিয়েছে, পচা পুকুরে নেয়েছো-মাকে গিয়ে বলে দেব, তুমি আবার মাসীমাকেও গালাগাল দিচ্ছ- রম। বাগে যা। এ! ভায়ী তো মাসী! খােকার মালী তার ঠিক নেই ? দুদিন এসে এলােরে ভারী ইয়ে হয়েছে- নেয় তিন হইতে খড়ের গা দিগনীর একে শিখরী। সে বাছা! দুদিনই আৰু আর দশদিনই আনু; লাতানােনাশী নয়। আর পােটর বােনশনে নেব। - পঞ্চম দৃ সুরধুনী বই বগলে লইয়া উঠিয়া বাড়া AKA;;;"" রামের সুমতি রাম। তােমরা তাে আচ্ছা লােক দেখছি। যেমন মা, তার তেমনি মেয়ে। আমি কি বলিছি নাকি পাতানাে মাসী? দিগম্বরী। কি যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা—যেমন মা তার তেমনি মেয়ে! কেন? মা কি করেছে রে ড্যাগরা, মা কি করেছে ? আচ্ছ, যাচ্ছি নারাণীর কাছে। বেগে এখান রাম। (সুরধুনীর প্রতি) আচ্ছা, তােরা কি বলতাে? তােদর কি চোখে চামড়া নেই ? দু’দিন যেতে না যেতেই ঝগড়াঝাটি আরম্ভ করে দিলি? সুরধুনী। তুমিও তো দুদিন যেতে না যেতে তুইতােকারী আরম্ভ করে দিলে? রাম। তাতে কি হয়েছে? তুইতেকারী করলামই বা। আমি তাে বয়সে বড়। সুরধুনী। বয়সে বড় বলে—যা তা বলবে, না? রাম। বারে! যা তা আবার কি বলিছি? রামায়ণ পড়ছিলি তাই শুনতে চাইলাম। একটু শােনালেই হতাে- সুরধুনী। আমি যদি তােমায় না শােনাই ? রাম। না শােনলি তো বয়েই গেল সুরধুনী। আয় গােবিল- রাম। না, গােবিল যাবে না সুরধুনী। যাবে না বৈ কি! আয় গােবিদ, রামায়ণ পড়িগে- গােবিন্দ সুরধুনীর অনুসরণ কয়িল নাম। গােৰিল! যদি অশথ গাছের ডাল নিতে চাস তত চটপট চলে যায় ASWAT LIARSAL e: E:3td: 1913 "z.poy ৩৪ রামের সুমতি প্রথম অঙ্ক গােলি আমলালের অনুসরণ করিল। রামলাল ও গােবি দু একপা অগ্রসর হইতেই-নারায়ণীর প্রবেশ নারায়ণী। এই যে বাদর! তুই পচা পুকুরে নাইলি কেন? রাম। তুমি তখন গালাগাল দিলে কেন? নারায়ণী। তুই অন্যায় করবি, আর আমি কিছু বলবাে না ? গগাবিন্দ। বেশ হয়েছে। বেশ হয়েছে! রাম। তবে রে- রামলাল গােবিন্দকে মারিতে উদ্যত হইল গগাবিন। না কাকা, আর বলব না কাকা! রাম। বলবি না তত? তবে যা-কাটারীখানা নিয়ে যা—আমি এখুনি একটা অশথ গাছের ডাল কেটে দিচ্ছি। বৌদি এসে গিয়েছে, আমি দুটী ভাত খেয়েই যাচ্ছি- গােবিন্দর স্থান নারায়ণী। ভাত দেবাে? ঝটা মেয়ে বিয়ে করে দেব। গণ্ডেপিণ্ডে গিলে কতকগুলাে ছোটলােকের সঙ্গে শুধু হৈ হৈ করে বেড়াবে ? হতচ্ছাড়া পাহী কোথাকার রাম। তাহলে আজ আর খেতে দেবে না ? নারায়ণী। খেতে দেবে? খেতে দেবব? তাের জন্যে লােকের কাছে আমার মুখ দেখানাের জো নেই! মুখ পুড়িয়ে দিচ্ছিস মুখপােড়া! সাঁতরাদের এক মাচা শশা কেটে দিয়ে এসেছি কেন ? রাম। বাঃ। শশাগাছ কেটে দিয়েছি। তারা আমাকে কাটতে দেখেছে। নারায়ণী। তারা দেখেনি—আমি দেখেছি। কেন কেটেছিস তাই আগে বল ? রাম। আমাকে ওই , সতিয়াদের বুড়ী মাগীটা খামকা অপমান ফলে কেন? "!”

পঞ্চম দৃশ্য রামের সুমতি নারায়ণী। অপমানের কথা পরে হবে। তুই চুরি করেছিলি কেন, তাই আগে বল ? রাম। চুরি করেছিলুম? কথখনাে না। এতটুকু একটা শশা নিলে বুঝি চুরি করা হয় ? নারায়ণী। হ্যা বাঁদর-একশ’বার হয়? বুড়াে ধাড়ী ! কাকে চুরি করা বলে, ঐ কচি ছেলে গােবিন্দ সেও যে জানে। আর তুমি জাননা? দূর হ—মুখপােড়া? তােকে কিছু খেতে দেবাে না। রাম। দেবে না তাে? বেশ চল্লাম—চাইনে, চাইনে খেতে বেগে ন' নারায়ণী। সত্যি সত্যিই চলে গেল যে! নেত্য ও নেত্য- নেত্যর খবর নেতা। নেত্য। কি মা? নারায়ণী। ডাক নেত্য রামকে লক, ক্ষিদের ভাত চেয়ে চলে গেল- নেত্য। ক্ষিদে পেলে আপনিই ফিরে আসবে। অত বড় সােমখ ছেলে বাউণ্ডুলের মত ঘুরে বেড়াবে এও তাে ভাল কথা নয় মা? নারায়ণী। তােরা ওর বয়সটাই দেখি নেত্য। আর আর একটু বড় হলে, জ্ঞান বুদ্ধি হলে, ওর আপনিই লজ্জা হবে। এ বয়সেও যদি জ্ঞান বুদ্ধি না হয়, তবে আর কবে হবে মা? নারায়ণী। জ্ঞান-বুদ্ধি সকল মানুষের এক সময়ে হয় না নেত্য। কারাে বা দুবছর আগে, কারো বা দু’বছর পরে হয়। আর যােক ভাল না হােক ভাল, তােদরই বা এত দুর্ভাবনা কেন? নেত্য। ঐ তো—ঐ তােতােমার দোষ মা, পাড়ার লােকে বলে তােমার আদরেই ও- নারায়ণী। পাড়ার লােক আদরটাই দেখে, শাসনটা তাে দেখে। আমার হাতে ও যত মার খেয়েছে, আমার নিজের ছেলে গাে িযে রামের সুমতি প্রথম অঞ্চ তা খায়নি। কিন্তু তুই তাে পাড়ার লোেক নস। তুই তাে এখুনি দেখলি—যে খেতে না দিয়ে দূর করে তাড়িয়ে দিলাম। ঘরে বাইরে আমার আর এত গঞ্জনা সহ্য হয় না নেত্য। ( কঁদিয়া ফেলিলেন) নেত্য। ওকি মা! কাল কেন ? মন্দ কথাতো বলিনি। তাই একটু সাবধান করে দেওয়া। নারায়ণী। সকল মানুষকে ভগবান এক রকম গড়েন না। ও একটু বেয়াড় বলেই আমি যার তার কথা চুপ করে সহ করি। কিন্তু আদর দেবার খোটা লােকে দেয় কি বলে ? তারা কি চায়, আমি ওকে কেটে নদীর জলে ভাসিয়ে দিই। তাহলেই বােধ হয় তাদের মনস্কামনা পূর্ণ হয়। নেত্য। জানিনে বাপু কি ভাল কি মন । অপর দিক কি খামলালের এবেশ -- গম। রেমাে মুখ ভার করে চলে গেল যে? নারায়ণী। আমি তাকে খেতে না দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছি। বেশ করেছ, বেশ করেছ। খুব ভাল করেছ’ নারায়ণী । না খেয়ে বাসী-মুখে বাড়ী থেকে চলে গেল- খাম। যাকগে আপদ একেবারে যায় তাে বাচি। নারায়ণী। ছি ছি! কি যে বল তার ঠিক নেই। গম। বলি কি আর সাধে! ওর জয়ে এবার গ্রামের বাস তুলে দিতে হৰে দেখছি। প্রতিদিন ওর নামে একটা না একটা নালিশ লেগেই আছে! নারায়ণী। কেন ?—আবার কেউ বুঝি কিছু বলেছে? ৰ। ৰলেনি আবার? এইমাত্র সাতরারা বলে গে—তায়ে মাচায়

পঞ্চম দৃশ্য
রামের সুমতি
ওপরের শশা গাছটা কেটে দিয়েছে। শশাগুলো নিয়ে লােজনকে
বিলি করে দিয়েছে। গরীব লােকজনের এমন করে ক্ষতি করলে,
তারাই বা কেমন করে খাতির রেখে চলে বল ?
নারায়ণী। সাতরাহের আমায় নিয়ে গিয়ে দেখিয়েও হয়নি।আবার
তােমায়ও বলেছে ? কিন্তু ক্ষতি যাই হােক—সাতরার কথা
তােমায় একটু বাড়িয়ে বলেছে-
শ্যাম। বাড়িয়ে বলেছে? আচ্ছা, কেন তুমি ওর সব দোষ ঢুকে
যাও বলতাে?
নারায়ণী। তার দোষ আমি ঢাকৃছিনে—এই জন্যেই তাকে আজ খেতে
দিইনি—তাড়িয়ে দিয়েছি। শশা অবশ্য নিয়েছিলো। কিন্তু পাড়ায়
বিলি করবার মতন নয়। আমি নিজে দেখে এসেছি—খেয়ালের বশে
ছােট্ট একটা শশা ছিড়তে গিয়ে, একটু ডালও সেই সঙ্গে ছিড়ে
এসেছিল। তাকে গাছ উপড়ে দেওয়া বলে না। কিন্তু সাতরা
যা বলেছে, সেটা যেন একেবারে ডাকাতি! মানুষ আসল কথাটা
চেপে বানিয়ে বানিয়ে এত মিথ্যে কথা বলে কি করে ?
শ্যাম। তাহলে তুমি বলতে চাও—যে সাতরারা মিথ্যে কথা বলে লে?
নারায়ণী। একটা শশা নেওয়া ছাড়া—আর যা বলেছে সব মিথ্যে।
শ্যাম। আদর দাও নারায়ণী, দোষ নেই। কিন্তু অমন করে ওর
আর মাথা খেও না।
নারায়ণী। ও হতভাগা যে আমার মাথা খেয়েছে, তাই ওকে কোতেও
পারছি না—তুলতেও পারছি না। ওর মাথা যদি আমি খেতে
পারতাম, তাহলে লােকেরই বা এত কথা শুনবাে কেন?
কালিয়া ফেলিলেন

ষষ্ঠ দৃ
শ্যামলালের বাড়ীর খিড়কী। সম্মুখে পল্পী-পথ। পথের পাশেই শ্যামলালের
পুকুর। পুকুরের ধাধান ঘাট দেখা যাইতেছে। একটি অশ্বথ গাছের ডাল
লইয়া গােবিন্দ ও রামলাল প্রবেশ করিল
রাম। বুঝলি গােবিন্দ ? ডালটার এই দিকটা পুতে দিয়ে, বেশ করে
গােড়ায় জল দিবি।
গােবিল। আচ্ছ।
রাম। আর ভােলাকে বলে দিয়েছি, সে এখুনি গিয়ে গাছটার চারপাশে
বেশ শক্ত করে বেড়া দিয়ে দেবে।
গােবি। খুব ছাওয়া হবে তাে কাকা?
রাম। হ্যা, খুব ছাওয়া হবে। এবার আর বৌদির এ-ঘর ও-ঘর করতে
রােচ্ছরে একটুও কষ্ট হবে না। আমার ওপর বৌদি খুব খুসি হবে।
গবিন্দ। তাহলে খুব ভাল হবে।
রাম। যা আর দেরি করিসনে ! এখুনি পুতে দিগে-
গগাবিন্দ। তুমি এখন বাড়ী যাবে না ?
রাম। না।
গােৰিল। কেন?
রাম। বলছি যাব না-না?
গামলালের বাড়ীর খিড়কীর দরজা খুলিয়া সুরধুনীর প্রবেশ
গােবিন্দ। যাবে না?
রাম। না।
সুরধুনী। (হাসিয়া) ওর যে রাগ হয়েছে-
রাম। হা-হা-আমার রাগ হয়েছে। তুই যা
গােবি এন
রামলাল হাতে

बर्छ मण
রামের সুমতি
সুরধুনী। রামদা ! ও রামদা এনে যা
রাম। যা মুখপুড়ী, তােদর কারাে কথা শুনতে চাই না।
সুরধুনী। শােনই না একটা কথা বলি-
রাম। কি বলবি বল্-?
সুরধুনী। দিদি বুঝি তােমায় খেতে না দিয়ে তাড়িয়ে দিলে?
রাম। দিলে দিলে-তাতে তাের কি রে মুখপুড়ী ? আমলে! ভারি
তাে কথা! তাই আবার জিজ্ঞাসা করবার জন্যে রাস্তায় ছুটে
এসেছে? বেরাে—দূর দূর হ মুখপুড়ী-
সুরধুনী। তা না হয় যাচ্ছি। কিন্তু সারাদিন আজ ভাত বন্ধ
উপােস তাে ?
রাম। আমি উপােস করি না করি-খাই না খাই—সে আমি বুঝবে।
তাতে তাের কি রে মুখপুড়ী-
সুরধুনী। আমার আবার কি? আমি দিব্যি খাব দাৰ বেড়াব।
রাম। আমারাে ক্ষিদে পেলে খাব।
সুরধুনী। দিদি বলেছে—তােমায় আজ আর খেতে দেবে না।
রাম। নাঃ-দেবে না বৈ কি? খানিক পরেই ঘুরে আসছি—দেখি
দেয় কিনা?
সুরধুনী। আমি আড়াল থেকে শুনেছি- জামাইবাবুও বারণ করে
দিয়েছে।
রাম। এ্যা! দিলেই হল আর কি ? আমায় ভাত না দিলে ভাতের
হাড়ীতে ছাই দিয়ে দেব না ?
সুরধুনী। কেন শুধু শুধু গােলমাল কর বল দেখি?
বেশ করি—তাের কি? আমলে। ঐটুকু মেয়ে উনি এসেছেন
আমার সঙ্গে তর্ক করতে! বেরােদুর ই বলছি-
সুরধুনী। তা না হয় যাচ্ছি, কিন্তু সত্যিই বলদিকি, ক্ষিদে পেয়েছে কিনা ?
রাম।

৪৩ রামের সুমতি প্রথম অ রাম। না পাইনি। সুরধুনী। তাহলে এগুলাে ফিরিয়ে নিয়ে যাই- আঁচলের মুড়ি ও পাটালী গুড় দেখাইল রাম। মুড়ি! আর পাটালী গুড়! বাঃ বাঃ! বেশ করিছি, দে সুরধুনী। তবে যে বলছিলে ক্ষিদে নেই ? রামলাল সানন্দে মুড়ি খাইতে লাগিল রাম। হারে মুড়ি কি বৌদির কাছ থেকে চেয়ে আলি? সুরধুনী। না, তুমি চলে আসার পর, দিদি আর জামাইবাবু কথা কই- ছিলেন—সে ফঁাকে ভাড়ারে না ঢুকে, নিয়েই একেবারে দে ছুটু- রাম। বাঃ বাঃ! তাের খুব বুদ্ধি তাে? (সুরধুনীর পিঠ চাপড়াইয়া ) আর একখানা যদি চট করে যদি পাটালি গুড় আনতে পারি- তাহলে দেখনা আজ বৌদিকে কি রকম জব্দ করি। সন্ধ্যের আগে আর বাড়ী ঢুকব না। বৌদি একেবারে কেঁদে কেটে মরবে। সুরধুনী। আজ সবাই রেগে গেছে—তােমার জন্যে, আজ আর কেউ ভাববে না। রাম। না—ভাববে না বৈকি। দেখিস্ আর একটু পরেই বৌদি কান্নাকাটি আরম্ভ করবে। ভােলার প্রবেশ। তাহার কাঁধে দু’নি বশ, কিছু বাখারী, কিছু দড়ি ও হাতে একখানি পা কে রে ! ভােলা এসেছিস? নে দুটো মুড়ি খা— রামলাল ভােলাকে মুড়ি দিল তােলা। দেন দাঠাকুর রাম। তুই ততক্ষণ গাছটার চারপাশে বেশ শক্ত করে বেড়া দিগে আমি একটু পরে যাচ্ছি- খুৰী। তুমি তাহলে এখন বাড়ী যাবে না?

সপ্তম দৃশ্য
রামের সুমতি
৪১
রাম। না না, যাবনা তুই বেরাে-
সুরধুনী। হু, এখন পেট ভরেছে কিনা? দাড়াও না দেখাচ্ছি মজা।
দিদিকে গিয়ে বলে দিচ্ছি-তুমি মুড়ি খেয়েছ।
রাম। তমার গলা টিপে মেরে ফেলব রাক্ষুসী-
রামলাল সুরধুনীর গলা টিপিয়া দিতে গেল। ভয়ে সুরধুনীর প্রধান
ভােলা। নলেন গুড় আর আছে নাকি দাঠাকুর
রাম। হু, খুব লােভ দেখছি যে! একটু দিলাম কিনা! যা বাড়ীতে
গিয়ে বৌদির কাছ থেকে চেয়ে নিগে যা-
ভােলা। আজকাল মাঠানের কাছে চাইতে কেমন যেন সরম নাগে।
মাঠানের মা আমার মুখের দিকে যেন কেমনতর করে তাকায়।
দেখলি ভয় নাগে ।
রাম। দূর-দূর-ও ডাইনীকে আবার ভয় কিসের? বৌদির কাছে
চাইবি-চাইলেই দেবে। যা তাড়াতাড়ি যা, নইলে গরু ছাগলে
গাছটাকে মুড়িয়ে দেবে।
উভয়ের উত্তর দিকে স্থান
সপ্তম দৃ
গামলালের বাড়ী। গােবিল উঠানে অশ্বথগাছের ডাল পুতিয়া তাহার গােড়ায়
জল ঢালিবার জন্য এক বালতি জল লইয়া টানাটানি করিতেছিল। ঘরের ভিতর হইতে
দিগম্বরী তাহা লক্ষ্য করিয়া বাহির হইয়া আসিলেন এবং গােবিন্দকে বুঝাইতে লানি।
দিগম্বরী। ও গাছ বাড়ীতে পুততে নেই—ওতে ভূত থাকে।
গগাবিন্দ। কাকার গায়ে কি রকম জোর জান ? ভূতকে তাড়িয়ে দেবে।
দিগম্বরী। মানুষ কখন ভূতের সঙ্গে পারে?
গগাবিন্দ। না পারে না বৈকি! কাকার কাছে আমি কত ভূতের গল্প
শুনেছি গাে মশাই, কত ভূতের গল্প শুনেছি।

৪২ রামের সুমতি প্রথম অঞ্চ দিগম্বরী। লক্ষ্মী ছেলে! সােনা ছেলে, বাতিটা রেখে নাও তত ভাই। গগাবিন্দ। বারে গাছে জল দেব না? দিগম্বরী। ছি ভাই। উঠোনে কি জল ঢালে ? কাম হবে যে ? গােবিল। উঠোনে ঢালব কেন? আমি তাে গাছে জল দেব। দিগম্বরী। দুপুরবেলায় কি গাছে জল দেয় ? এখন যে মাের। সন্ধেবেলায় গাছে জল দিও। এখন বরং কার্তিক-গণেশকে দুটো মুড়ি খাইয়ে এস। লক্ষ্মী ছেলেসােনা ছেলে। গগাবিন্দ। বেশ! সেই ভাল। সন্ধ্যেবেলায় কিন্তু গাছে জল দেব। দিগম্বরী। দিও। গােবিন্দর স্থান ও দিগম্বরী ঘরের ভিতর এবেশ করিলেন বাঁশ, কাটায়ী ও দড়ি লইয়া ভােলার প্রবেশ। উঠানে প্রবেশ করিয়া তােল। সেগুলি নামাইয়া পরে খটাখট শব্দে বাশ কাটিতে আরম্ভ করিল। দিগম্বরী বেগে ঘর হইতে বাহির হইয়া আসিলেন হারেও ভ্যারা? উঠোনের মধ্যে যে বাঁশ কাটতে আরম্ভ কলি ? পায়ে চটা ফুটবে যে ! ভােলা। আমি বটি দিয়ে দেব গাে দিদিমা, আমি ঝট দিয়ে দেব। দিগম্বরী। তােকে ঝটিও দিতে হবে না, বাঁশও কাটতে হবে না। তুই উঠোনের বাইরে গিয়ে যা করবি-কর গে য— ভােলা। দা-ঠাকুরের গাছটায় বেড়া দিয়েই যাচ্ছি। অত খ্যাক খ্যাক দিগম্বরী। খ্যাক খ্যাক করি কেন ? আরে মলে। উঠোনের মধ্যে অশথ গাছ তার আবার বেড়? বেরো বলছি হতচ্ছাড়বেন- তােলা। -তােমার কথায় গেলাম আর কি? -ঠাকুর বলে গেল বেড়াদিতি। দিগরী। দাদা-ঠাকুবেলেগেলাে—আরআমিযে বারণ কৰি রেমুখপােড়।

সপ্তম দৃশ্য রামের সুমতি ৪৩ ভােলা। তােমার বারণ শােনে কেডা ! লা-ঠাকুর বলে গেল বেড়া দিতি আর তােমার কথা শুনে কি পিঠের চামড়া খােয়াব ? ঘরের ভিতর হইতে নারায়ণীর প্রবেশ দিগম্বরী। দেখ, নারাণী চেয়ে দেখ। তাের দেওরের কাণ্ডটা একবার দেখ,। উঠোনের মাঝে অশথ গাছ পুঁতে, বলে কিনা ছায়া হবে। আবার ওদিকে দেখ, হারামজাদা ভােলার কাণ্ড! আন্ত বাঁশ কাটতে আরম্ভ করেছে। বলে কিনা বেড়া দেওয়া হবে। নারায়ণী । (ভােলার প্রতি) যা বেড়া দিতে হবে না। ভােলা। আমায় যে দা-ঠাকুর বলে গেল মা-ঠা- নারায়ণী। বলুক, আমি বারণ কচ্ছি। ( ভােলা বাঁশ কাটিতে লাগিল) ফে বাঁশ কাটছিস? বারণ করলাম গ্রাহ নেই- ভােলা। কিন্তু আমায় যে দা-ঠাকুর গালাগাল কবে মা ঠান্? নারায়ণী। আমি তাকে বলে দেব তুই যা- বাঁশ কাটারী ইত্যাদি গােহাইয়া ভােলা। মাঠান -ঠাকুর বল্লে, আপনার কাছ থেকে একটু নলেন গুড়ের পাটালি চেয়ে খাতি। দা-ঠাকুর একটু খাতি দিয়েলে—বজ্ঞ ভাল নাগ লাে মা-ঠান্। নারায়ণী। দাদাঠাকুর নলেন গুড়ের পাটালি খেতে দিলে। ভােলা। আজ্ঞে হ্য। মাঠান। পথে দা-ঠাকুর নলেন গুড় আর মুড়ি খাতিছিল। আমায়ও একটু দিয়েলে কিনা? বডড ভাল নাগলাে মা-ঠান্। তাই দা-ঠাকুরের কাছে আর একটু চেয়েম-দা- ঠাকুরের কাছে আর ছেলন কিনা—তাই বল্লে, আপনার কাছে চেয়ে নিতি। নারায়ণ। ও আচ্ছা দাগ।সুরে- ক

৪৪
রামের সুমতি
প্রথম অঙ্ক
সুরধুনীর বেশ
ভােলাকে দুটো মুড়ি আর পাটালি গুড় এনে দেতাে•••
সুরধুনীর প্রস্থান
দিগম্বরী। আহাহা—আদর দেখে আর বাঁচিনে। তারি তে কাজ
করেছেন, তাই আবার মুড়ি গুড় দেওয়া হচ্ছে! কেন? লােকজনকে
এত আঙ্কারা দেওয়া কেন ?
নারায়ণী। একে কি আঙ্কারা দেওয়া বলে মা ? ক্ষিদের জিনিষ খেতে
চাইলে তাই
দিগম্বরী।
কেন? গাঁয়ে কি আর গরীব দুঃখী নেই ?
নারায়ণী। ওরাও যে সেই দলেরই মা !
একটা কাঠায় মুড়ি লইয়া সুরধুনীর প্রবেশ
সুরধুনী। পাটালি গুড় আর একটুও নেই দিদি।
নারায়ণী।
সে কি! অতখানি গুড় সবটাই খেয়ে গেছে? নাঃ ওর
জ্বালায় জ্বলে পুড়ে মলাম। তবে আর কি হবে, মুড়ি ক’টাই ওকে
টেনে দে।
ভােলা। তাই দাও দিদিঠান—তাই দাও। নেই তা কি হবে?
মুড়ি লইয়া ও বাঁশ কাটারী গুছাইয়া তােলার স্থান
নারায়ণী। সেথ, সুরে, ভাড়ারে তালা দিয়ে দিগে-
সুরধুনী। সেই ভাল। তাহলে রামদা আজ খুব জব্দ হবে।
নারায়ণী। হা-যা।
সুরধুনীয় স্থান নারায়ণীও যাইতেছিলে এমন সময় দিগম্বরী কহিলেন
দিগম্বরী। ঐখানেই তাহলে অশথ গাছ হবে।
নারায়ণী। বন্ত হচ্ছ কেন মা? এত বড় গাছ কখনও বাঁচে? ও
আপনিই শুকিয়ে যাবে।

সপ্তম দৃশ্য রামের সুমতি ৪৫ দিগম্বরী। শুকুবে না ছাই হবে। ভাল চা তাে উপড়ে ফেলে দে নারায়ণী। বাপরে! তাহলে আর কারো রক্ষে থাকবে না । দিগম্বরী। কেন? বাড়ী কি ওর এলার? যে মনে করলেই উঠোনের মাঝখানে একটা অশথ গাছ পুতে দেবে ? তােরা কি কেউ নস্ ? আমার গােবিন্দ কি কেউ নয় ? মাগাে মা ! অশথ গাছের ওপর রাজ্যের কাক, চিল, শকুন এসে বাসা করবে, হাড়-গােড় ফেলে ননাংরা করবে। আমি তাে নারাণী তাহলে আর এখানে থাকতে পারবােনা বাপু! ওকে তােদের এত ভয় কিসের জয়ে শুনি? আমার যদি বাড়ী হত নারাণী, তাহলে দেখতাম ও কত বড় বজ্জাত! একদিনে সােজা করে দিতাম। নারায়ণী। ওর এখনও ছেলেমানুষী বুদ্ধি যাইনি মা। নইলে কি নিজের উঠোনে কেউ অশথ গাছ পেতে? দুদিন থাক; তারপরে ও আপনিই ফেলে দেবে। দিগম্বরী। ফেলে দেবে ? ও কেন দেবে ? আমি নিজেই দেবাে। দিগম্বরী গাছটীকে ফেলিয়া দিতে উদ্যত হইলেন তাহাকে বাধা দিয়া নারায়ণী। না মা ও কাজ করােনা। ওকে চেন না, আমি ছাড়া ওর দাদাও ছুঁতে সাহস করবেন না, আজকের দিনটা থাক্। নারায়ণীর মান দিগম্বরী। থাকবে বৈকি ? এই দিলাম ফেলে-দেখি ও কি করতে পারে। গাছটীকে উপড়াইয়া একপাশে ফেলিয়া দিয়া কােন হরিহরের প্রবেশ হরিহর। -ঠাকুর কই গােদা-ঠাকুর- কানীর বেশ সুরধুনী। কে হরিহর ?

৪৬ রামের সুমতি প্রথম অঞ্চ হরিহর। হরিহর। হ্যা দিদিঠান। সুরধুনী। রামদা তত বাড়ীতে নেই— হরিহর। হাটে গিয়েছেন বুঝি দিদিঠান? সুরধুনী। জানি না কেন? কি দরকার? বড় দরকার দিদিঠান—বড় দরকার। বড় দরকার। আজ সকালে একটা নন্মী-নারাণের গান বেঁধেছি। দা-ঠাকুরকে না শুয়ে সে গানটা নােকের বাড়ী গাইতে পারছি না। ও-দা-ঠাকুর ভারী বুঝমান্ নােক গােভারী বুঝমা নােক। সুরধুনী। কেন? আমরা কি গান বুঝতে পারিনে ? হরিহর। (লজ্জিত হইয়া) তা পারবে না কেন দিদিঠান— পারবে না কেন? তবে কিনা দাঠাকুর গানের চরণ শুতি পেলেই, অমনি বলে দেবে, কোন্ পালার কি গানের মত। সুরধুনী। তা তােমার লক্ষ্মী-নারায়ণের গানটা গাওনা—নি। বুঝতে হয় নাই পারব—তাই বলে কি শুনতেও নেই ? হরিহর। তা থাকবে না কেন দিদিঠান? তবে কিনা সম্মাই তাে আর আমার গান পছন্দ করে না তাই সুরধুনী। আমি খুব পছন্দ করি হরিহর হরিহর। তুমি আর পছন্দ করুনা দিদিঠান? আচ্ছা, তবে গাই- গান নী আর নারায়ণের গুণের কথা কইতে নারি ; যেমন দেব, তেমনি দেবী হায় হায় ! সবাই বলে বলিলী ! নী থাকেন পাতা নিয়ে নারায়ণ তাৰেই দিনে কাজটি হাসিল করে যেন, হল হা! কি ঝাৰি।.

সপ্তম দৃশ্য রামের সুমতি ৪৭ একটি বাহন দু’টা জনার, গুণের কথা কইব কি আর তাদের ঝগড়া যত, তাবও তত- তা হাে-রাণটা ভাল বলতে পারি। সুরধুনী। (গীতান্তে) এস হরিহর ! ভাড়ারের চাবি খুলে, দুটো চাল বার করে দিই- হরিহর। তা থাকনা দিদিঠান। আর একদিন এসে না হয় নিয়ে যাব। সুরধুনী। না-না তাকি হয় -তুমি আমার সঙ্গে এস— উভয়ের স্থান নেত্য প্রবেশ সহসা গাছটার প্রতি নজর পড়িতেই নেত্য। যা সর্বনাশ! একি! গাছটা কে উপড়ে ফেলে দিলে? নিশ্চয় দিদিমার কাজ। যাই, মাকে গিয়ে খবরটা দিয়ে রাখিগে- নইলে গােবিন্দর গাছ দেখতে না পেলে-ছােটবাবু এসে আবার একটা তছনছ কাণ্ড বাধাবে- নেত্য ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিল। অপর দিক দিয়া নামের একেশ রাম। ব্যাপার কি! কারো সাড়াশব্দ নেই ! গােবিন্দটাকেও ত’ দেখতে পাচ্ছিনা—সব গেল কোথায় ? ( উচ্চৈস্বরে) নেত্য ও-নেত ; আমায় খেতে নে; বড় ক্ষিদে পেয়েছে- নেতঃ এবে নেত্য। হােটবাবু! আজ আর হাঙ্গামা করােনা। বাবু রেগে আছে, মা উপােস করে গােবিন্দকে নিয়ে শুয়ে আছে। গােলমাল শুনে যদি উঠে আসে, তাহলে তােমার কপালে দুঃখ আছে তা বলে দিচ্ছি- এমন চুপি চুপি খুনীর বেশ সুরধুনী। রামদা! তােমার ক্ষিদে পেয়েছে? খাবে রামা?

৪৮
রামের সুমতি
প্রথম দৃশ্য
রাম। বেলা তিনটে বেজে গেল এখন জিজ্ঞেস কচ্ছে খাৰে রামদা ! ও
নেত্য পােড়রমুখী মরবে—মরবে—মরবে—
সুরধুনী। চুপ! গােলমাল করনা। ঘরে ভাত ঢাকা আছে।
খুলেদি চুপি চুপি খেয়ে চলে যাও
রাম। কেন? আমি চোর নাকি ?
সুরধুনী। (হাসি) হঁা চোরই তাে-
নাম। কি? আমি চোর ?
সুরধুনী। চেঁচামেচি করনা। শােন, দিদি ভাত বেড়ে ঘরে তালা
দিয়ে রেখে গেছে। জামাইবাবু তােমায় আজ খেতে দিতে বারণ
করেছেন। চুপি চুপি ঘর খুলে দি—খেয়ে পালাও। বলব, বেড়ালে
খেয়ে গেছে।
রাম। (ক্ষণকাল চিন্তা করিয়া) তাই দে-ঘর খুলে দে-
সুরধুনী। এস আমার সঙ্গে।
উমের এহন
ডিগরীর প্রবেশ
দিগম্বরী। ও সুরােসুয়ো-ওরে ও মুখ পুড়ী-
নেপথ্যে সুরধুনী। যাই মা
দিগম্বরী। বলি কোন্ চুলােয় আছ ? সবাই মিলে এমন করে জালালে
তাে আর পারিনে বাপু!
সুরধুনীর বেশ
• বলি কোন চুলােয় ছিলে?
খুনী। হরিহর এসেছিল কি না, তাই তাকে দুটো চাল দিতে
গিয়েছিলাম।
গিরী। চাল দিতে গিয়েছিলে? বলি তােমার অত গিন্নিপনা করবার
দরকার কি?

সপ্তম দৃশ্য
রামের সুমতি
সুরধুনী। দুপুর বেলায় লােকটা ভিক্ষে চাইতে এল, শুধু হাতে ফিরিয়ে
দেবােব
দিগম্বরী। হ্যা দিবি। তােদর থাকতাে দিতি। পরের জিনিষ হাতে
করে দিতে লজ্জা করে না ঝাটা-খাগী ? কার জিমিষ তুই হাতে
করে দিল।
সুরধুনী। দিদিতে বলেন দিতে তাই
দিগম্বরী। আহা! দিদি আর তােমার বলবেন না কেন ? এই বলবেন
দাও—তারপর ববেন ভাড়ারে চাবি দিতে। তখন-তখন কি হবে ?
নারায়ণীর প্রবেশ এবং যেখানে গাছ পোতা ছিল সেদিকে লক্ষ্য করিয়া
নারায়ণী। একি! রামের গাছ কি হল মা?
দিগম্বরী। একটা গাছ পোঁতা নিয়ে আর অত আদিখ্যেতা করিসনি
নারাণী ।
নারায়ণী। আদিখ্যেতার কথা নয় মা—আমি শুধু অশান্তির কথাই
ভাবছি।
সহসা রামলালের বেশ
রাম। উঃ আঃ! জলে মলাম বৌদি—এলে মলাম।
নারায়ণী। কি হল রে? কি হল ?
রাম। তরকারীতে ভয়ানক ঝাল দিয়েছে—মুখ জলে গেল। বৌদি,
মুখ জ্বলে গেল !
নারায়ণী। তােকে যে আজ খেতে দেব না বলে দূর করে দিলাম ; তুই
খেতে এলি কেন রে হতভাগা ?
রাম। আর খাবনা বৌদি-ওর রান্না আর কখনও খাব না-
নারায়ণী। মা বারবার করে বলি, তরকারীতে অত ঝাল দিওনা।-অত
ঝাল খাওয়া এ বাড়ীতে কারাে অভ্যেস নেই।
৪

* ৫০
রামের সুমতি
প্রথম অক
দিগম্বরী। ঝাল আবার কোথায় ? দুটো লঙ্কা শুধু গুলে দিয়েছি, এতেই
এত কাণ্ড!
রাম। দুটো লঙ্কা ? কখনও নয়—মিত্যু কোথাকার—উঃ! জ্বলে
মলাম! জলে মলাম! যা তাে-সুরাে একটু গুড় এনে দেতাে।
সুরধুনী গমনােঙ্কত
দিগম্বরী আবার কার হঁাড়ীতে হাত বাড়াতে যাচ্ছি ?
সুরধুনী ফিরিল
রাম। আচ্ছা ওকে যেতে হবে না—আমিই যাচ্ছি। উঃ জলে মলামও
ডাইনী বুড়ীর মায়া আর কখনও খানা-
বেগে এখান
দিগম্বরী। (সহসা কাদিয়া) ভাইরে কোথায় আছি-একবার ডেকে নে।'
আর সহ্য হয় না। আমি ডাইনী ! আমাকে দূর করে দিতে বলে।
আমি এমন মেয়ে জামাইয়ের ভাত খেতে এসেছি ?
চেয়ে ভিক্ষে করে খাওয়াও যে শত গুণে ভাল ছিল। সুরে, আয়
মা যাই-এ বাড়ীতে আর আমরা এলস্পর্শ করব না-
=
সুরধুনীর হাত ধরিয়া গমনােগত
নারায়ণী। মা যদি অন্যায় কিছু বলে থাকি, তো ক্ষমা কর মা।
দিগম্বরী। না আর আটকাসনি নারাণী—যেতে দে। আমরা অনাহারে
গাছতলায় মরবে সেও ভাল—তবু তােদের ভাত আর খাবােনা।
নারায়ণী। কার ওপর রাগ করে যাচ্ছ না? আমরা কি অপরাধ করেছি ?
দিগম্বরী। আমি কচি খুকী নই নারাণী? সব বুঝি। তাের ইসারা আর
আস্কার না থাকলে কি ওর অত সাহস হয়। আমি ডাইনী,,
আমাকে দুর করে দিতে বলে। কশ তাই যাচ্ছি। আমরা তােদর
আপদ-বালাই গলগ্রহ—প ছাড়, বাছি-পথ ছাড়-

সপ্তম দৃশ্য
রামের সুমতি
নারায়ণী। মা আজকের মতন মাপ কর মা। আচ্ছা উনি আসুন, তারপর
যা ইচ্ছে হয় করে।
দিগম্বরীকে বায়াণ্ডায় বসাইয়া
যাত সুরাে, পাখা আর জল নিয়ে আয় ত—
সুরধুনী ঘরের ভিতর হইতে পাখা ও জল লইয়া আসিল। নারায়ণী দিগম্বরীর
চোখে মুখে জল দিয়া পাখার বাতাস করিতে লাগিলেন।
শ্যামলাশের আবেশ
খাম। একি! কি হলাে ?
নারায়ণী। কিছু হয়নি। তেতে পুড়ে এলে, যাও-যাওঁ, জামা কাপড়
ছাড়গে যাও।
দিগম্বরী। ( কঁদিয়া) আমি ডাইনী ! তাই তােমার ভাই আমাকে
তাড়িয়ে দিতে হুকুম দিয়েছে। তাই দাও বাবা, আমাদের তাড়িয়েই
দাও—তিনকূলে আর কেউ নেই, তাই তােমার আশ্রয়ে এসেছিলাম।
শ্যাম। (নারায়ণীর প্রতি) মার খাওয়া হয়েছে ?
নারায়ণী। না।
শ্যাম। আপনি কিছু মনে করবেন না। আমি ওর ব্যবস্থা কচ্ছি।
যান-আমি বলছি যান—যাহােক দুটো মুখে দিনগে নইলে আমার
গােবিন্দর অকল্যাণ হবে।
দিগম্বরী। ওই ছেলেটার জন্যেই ত’ আয়ে জড়িয়ে পড়েছি বাবা। তাই
ঝাটা লাথি খেয়েও
শ্যাম। আমি ওর হয়ে ক্ষমা চাইছি মা। যাহােক দুটো মুখে দিন
গে—আমি এর একটা বিহিত করবেই
নারায়ণী। যাও মা-তুমি না খেলে, তােমার জামাইও দাতে কুটো
কাটবেন না। সুরে, মাকে নিয়ে যা ভাই, আমি যাচ্ছি।
খুনী দিগরীর এন :

রামের সুমতি প্রথম অৰু = মি। দেখ আর আমার সহ হয় না। রেশমাকে নিয়ে আর আমার বাস করা চলে না। নারায়ণী। কি যে বল ? খাম। ঠিকই বলছি। ক্রমেই অসহ্য হয়ে উঠছে। তােমার মা আমাকে আজ চার পাচ দিন ধরে ক্রমাগত বলছেন—রাম ওঁকে কারণে- অকারণে যখন তখন অপমান করে। আমি পাঁচজন ভদ্রলােক ডেকে, বিষয়-আশয় সমস্ত ভাগ করে, ওকে আলাদা করে দেবে। নারায়ণী। রামকে আলাদা করে দেবে। ওর এখনও ছেলেমানুষী যায়নি। ও বিষয়-আশয় নিয়ে কি করবে শুনি? তাম। বিষয়-আশয় নিয়ে কি করবে সে ওই জানে। নারায়ণী। ও জানে না, আমি জানি। কিন্তু মা বুঝি তােমাকে ক্রমাগত ঐ কথাই বলে বেড়াচ্ছেন। শ্যাম। ( লজ্জিত হইয়া) না উনি কিছু বলেন নি-লােকেরও তো চোখ আছে গাে! তুমি কি মনে কর আমি কিছুই দেখতে পাইনে, না শুনতে পাইনে- নারায়ণী। না, আমি তা মনে করি না। করি না। কিন্তু ওর কে আছে ? কাকে নিয়ে ও পৃথক হবে ? মা আছে, না বােন আছে-না একটা মাসী পিসী আছে ? কে ওকে দুটো রেধে খাওয়াবে? সে সব আমি জানিনা। ও যেমন করে পারে চালাক, ওর ভার আর আমি নিতে পারব না। নারায়ণী। দেখ তের বছর বয়সে মেয়েরা যখন পুতুল খেলে বেড়ায়, তখন মা আমার মাথায় সমস্ত সংসারটা চাপিয়ে দিয়ে স্বচ্ছন্দে স্বর্গে চলে গেছেন। তিনি দেখছেন, এ ভার আমি বইতে পেরেছি কি না। রেখেছি, বেড়েছি, ছেলে মানুষ করেছি, লােক লৌকিকতা, কুটুম্ব- সংসার-সমস্ত একটা মাথায় বয়ে আয় আধবুড়ো মাগী হয়েছি। এখন সপ্তম দৃশ্য রামের সুমতি আমার ঘর-কন্যার মধ্যে যদি হাত দিতে আস ,আমি তােমাকে সত্যি বলছি-নদীতে ডুবে মরব। তখন রামকে আলাদা করে দিও যেমন ইচ্ছে সংসার কর—আমি বলতেও যাব না-দেখতেও যাব না। কঁদিয়া ফেলিলেন শ্যাম। ( বিরক্তভাবে) তােমাদের যা খুসি কর। কিন্তু আমায় যেন আর কথা শুনতে না হয়। রামের বেশ রাম। খেতে দাও বৌদি, খেতে দাও- নারায়ণী। ( নিরুত্তর)। রাম। বা রে! আমার বুঝি ক্ষিদে পায়না? নারায়ণী। আমাকে বিরক্ত করিসনে রাম- রাম। না করবে না বৈকি! তুমি আমাকে খেতে দাও নারায়ণী। আমি পাব না ! নেত্য আছে, তাকে বলগে যা- রাম। কেন ? নেত্যকে বলতে যাব কেন ? তােমাকেই খেতে দিতে হবে। নারায়ণী। আমি পারব না। রাম। কি ? পারবে না? চলুম—আমি চাইনে—চাইনে খেতে- গমনেত নারায়ণী। তাের হাত থেকে যে কতদিনে নিষ্কৃতি পাব আমি কেবল তাই ভাবি। এত লােকের মরণ হয়, আমার মরণ হয় না? কারিয়া ফেলিলেন রাম। ওকি বৌদি কেঁদে ফেলে যে! :( নারায়ণীর নিকট বসিয়া) আমি আর রাগ কবনা বৌদি—সত্যি বলছি—আমার ক্ষিদে পায় নি।

৫৪
রামের সুমতি
প্রথম অঞ্চ
নারায়ণী। আমিও সত্যি বলছি রাম, আমার আর এৰুদণ্ডও বাঁচতে
ইচ্ছে নেই—
রাম। কি যে বল বৌদি, তার ঠিক নেই। দাড়াও—আগে দাত পতুক,
চুল পাকুক, তবে তাে?
নারায়ণী। চুল না পাকতেই আমি একদিন নদীর জলে ডুবে মরব।
নাইতে যাব, আর ফিরে আসব না।
রাম। কেন? কি করেছি বৌদি ? আর কিছু করব না বৌদি
নারায়ণী। না, করবি না। আমার মাকে তুই দেখতে পারিস না, দিনরাত
ঝগড়া করি। সেদিন তুই টের পাবি-যেদিন আর ফিরব না।
রাম। কিন্তু ও আমাকে অমন করে বলে কেন?
নারায়ণী। বললেনই বা। উনি আমার মা, তােরও তত গুরুজন।
আমাকে যেমন তুই ভালবাসি—ওঁকেও তেমনি ভালবাবি।
রাম। হা বাসবে? ও ডাইনীর আমি গলা টিপে দেবাে-
নারায়ণী। চুপ কয় হতচ্ছাড়া-চুপ কর। উনি আমার মা যে !
রাম। তােমার মা তা আমার কি ? আমাদের বাড়ীতে এসে, আবার
আমাকেই জ করবার চেষ্টা
নারায়ণী। রাম তাের আর এখানে থেকে কাজ নেই ভাই ; তুই
আলা কোথাও থাকছে-
রাম। বেশ তো! বেশ তত! তুমি আমি গােবিন্দ আর ভােলা। সেই
ভাল, চল বৌদি আমরা আলাদা থাকিগে। তা কখন যাবে বৌদি ?
নারায়ণ। আমরা কেউ তাের সঙ্গে থাকব না। তোকে এক
থাকতে হবে।
রাম। না তা আমি থাকতে পারব না।
নারায়ণী। বেশ, তাহলে তুই এখানে থাক। আমার যেদিকে দু’চোখ
যায় আমি চলে যাব।

সপ্তম দৃশ্য রামের সুমতি রাম। তাহলে আমিও তােমার সঙ্গে সঙ্গে যাব। নারায়ণী। তুই কি টের পাবি আমি কখন যাব? আমি লুকিয়ে চুপি চুপি চলে যাব। রাম। আর গােবিন্দ ? গােবিল কোথায় থাকবে? নারায়ণী। সে তাের কাছে থাকবে। তুই তাকে মানুষ কবি। রাম। আমি মানুষ কব ? ও বাবা! ওসব আমি পারব না ! । নারায়ণী। কেন পারবি না? তাের ঘাড়ে সব চাপিয়ে দিয়ে, যেদিকে দু’চোখ যায় চলে যাব রাম। আচ্ছা, আর যদি তােমার মাকে কিছু না বলি? নারায়ণী। তাহলে যাব না। তােকেও আর গােবিন্দকে মানুষ করতে হবে না। রাম। বেশ! সেই ভাল। আজ থেকে তুমি খে, আমি আর কথাটি কইব না। চা খেতে দেবে চল নারায়ণী। চ, ভাত খাবি চ- নারাণীর সহিত রামলাল গমনােত-সহসা গাইটীর প্রতি নজর পড়িতেই রাম। একি বৌ!ি গাছটা কে ফেলে দিয়েছে ? নারায়ণী। আমি ফেলে দিয়েছি। রাম। তুমি গাছ ফেলে দিয়েছ? নারায়ণী। হ্যা। রাম। কখনাে না- নারায়ণী। আমি বলছি, আমি ফেলে দিয়েছি—আর তুই বলবি না? আমার গাছ তুমি ফেলে দিয়েছ ? এ কথনই হতে পারে না। এ ঐ ডাইনীবুড়ীর কাজ- = রাম।

রামের সুমতি প্রথম অঙ্ক নারায়ণী। ফের তুই আমার মাকে যা তা বলছিস্? এই না বলি আর কিছু বলবি না রাম। তা ও আমার গাছ ফেলে দিলে কেন ? নারায়ণী। বলছি না—মা ফেলে দেনি আমিই ফেলে দিয়েছি। রাম। কেন ফেলে দিয়েছ ? নারায়ণী। বেশ করেছি ফেলে দিয়েছি। রাম। কি? বেশ করেছ? তােমার গাছ ? নারায়ণী। উঠোনের মাঝে ছাইভস্ম গাছ এনে পুতবি, আর কাক শকুনে এসে বাসা বাঁধবে। রাম। কি? অশথ গাছ, ছাই গাছ ? বেশ তাে ছায়া হতাে— নারায়ণী। ছায়া তো হতাে, কিন্তু বাড়ীর মধ্যে অশথ গাছ পুতলে কি হয় জানি। রাম। কি হয়? নারায়ণী। বাড়ীর বড় বৌ মরে যায়— রাম। (আশ্চৰ্য্য হইয়া) মরে যায়। সে আবার কি! নারায়ণী। যারে হঁ্যা, মঙ্গলবারে অশথ গাছ পুতলে, বাড়ীর বড় বৌমরে যায়। পাজীতে লেখা আছে, দেখগে যা মুখপােড়া- রাম। কিন্তু ফেলে দিলে আর দোষ নেই তত বৌদি ? রায়ণ। না। উপড়ান গাছটাকে লইয়া রামলাল বাড়ীর বাহিরে ফেলিয়া দিল রাম। দূৰ তাের অশথ গাছ—তা বেশ করেছ! বেশ কয়েছ। এস এখন খেতে দেবে এস-

JBRARY
SARASWAT
দ্বিতীয় অষ্ট
« ... -
প্রথম দৃ
খালালের বাড়ী। আজ উঠানের মাঝে একটি দোয়া টাঙান হইয়াছে। একটি
ঘরের বারান্দায় বাৎসরিক শ্রাদ্ধের আয়ােজন ও গােছগাছ লইয়া নারায়ণী ব্যস্ত।
তাহার মাতামহ অর্থাৎ গিয়ীর পিতৃদেবের বাৎসরিক শ্রদ্ধ। ব্যস্ততাৰে, রামপাল
প্রবেশ করিয়া নারায়ণকে জিজ্ঞাসা করিল।
রাম। বৌদি? গােবিটা কোথায় বলতাে?
নারায়ণী। গােবিন্দ ? অনেকক্ষণ তাকে তত দেখিনি।
সে কি করেছে জান ?
নারায়ণী। কি করেছে ?
কোথা থেকে দুটো ঘুমুর এনে ভােলাকে দিয়ে বলেছে, এই দুটো
কার্তিক-গণেশের গলায় পরিয়ে দে। সাঁতরারা ঐ বাছুরটার গলায়
ঘুমুর বেঁধে দিয়েছে কিনা? তাই দেখে ওরও খেয়াল হয়েছে কার্তিক
-গণেশের গলায় ঘুমুর বাধবে। আচ্ছা, বলতাে বৌদি, মাছের গলায়
ঘুমুর বঁধলে সে কি জলের মধ্যে বাজে? একি বাছুর যে ভাঙ্গায়
লাফাবে আর ঝুমুর ঝুমুর করে বাজবে?
নারায়ণী। (হাসিয়া) তােরই তো ভাই পাে তার আর কত বুদ্ধি হবে বল?
রাম।
বৌদি, আমি কিন্তু গােবিন্দটার মত অত বােকা ছিলাম না।
নারায়ণী। ছিলিনে আবার। তাের ছিল আরো ছিরিছাড়া বায়না।
দুটো বেলা আমি নিজে হাতে ভাত না খাইয়ে দিলে খেতি না। আর
এই নিয়ে নিত্যি বায়না লেগেই থাকতাে। এই জয়ে একদিন রাতে
আমার কাছে কি মারই না খেয়েছিলি? মনে আছে?
রাম। মনে নেই আবার । বােধহয় পিঠে এখনও সে মায়ের দাগও আছে

৫৮ রামের সুমতি দ্বিতীয় অঙ্ক সে কথা মনে করলেও ভয় লাগে ! কিন্তু তােমারও কেমন হয়েছিল ? আমায় না মেরে ধরে, শেষে নিজেই ঠ্যাং ছড়িয়ে কাঁদতে বলে- নারায়ণী। যা যা বকি নে- রাম। এখন নিজের কথা বলেছি কিনা? অমনি বকিনে—কিন্তু গােবিন্দটা কোথায় গেল বল দিকি ? মহা মুস্কিলে ফেল্লে তাে ! নারায়ণী। দেখগে হয়তাে সে এতক্ষণ ভােলার বাড়ীতে গিয়েছে। রাম। সেই জন্যে তাে আরাে ভয় করছে গাে! ভােলার তাে কোন জ্ঞানবুদ্ধি নেই। গােবিটার কথায় হয়তাে সে জলে নামবে। কিন্তু আমি ঠিক বলছি বৌদি, ভােলা যদি গােবির কথায় জলে নেমে ঘুমুর পরাতে যায় ; তাহলে কর্তিক-গণেশের ঝাপটায় ভােলা আজ মরে যাবে। জলের মধ্যে মাছের গায়ে যে কি রকম জোর ভােলাটা তাে তা জানে না। ভােলা আজ মরে যাবে। নেত্য। ছােটবাবু তুমি একবার শিগগীর পুকুরপাড়ে যাও। দেখ গে খােবাৰু কি কাণ্ড করছে ! রাম। ভােলাকে ডেকে এনেছে বুঝি ? নেত্য। হা গাে। ভােলাকে ডেকে এনে বলে, তুই জলে নেমে কার্তিক গণেশের গলায় ঘুমুর পরিয়ে দে; চিহু হয়ে থাকবে, তাহলে আর কেউ ধরতে পারবেনা আর আমি ততক্ষণ মুড়ি দিয়ে ওদের ডাকি রাম। দেখলে তাে বৌদি, দেখলে তো? তা ভােলা জলে নেমেছে তত ? ভোলা কিছুতেই জলে নামতে চাইছে না। বলছে ওরা ঝাপটা দিলে লাগবে। রাম। শুধু লাগবে? ক্ষয়ে যাবে যে ! ও দুটো কি আর মাছ আছে? খেয়ে খেয়ে কুমীর হয়ে গেছে! দেখতা বৌদি, এখন কি করি? নত্য।

প্রথম দৃশ্য
রামের সুমতি
নেত্য। সুরমাসীও খােকা বাবুকে কত বােঝাচ্ছে—কিন্তু সে শুনছে না ?
নারায়ণী । দেখ, রাম, তুই এক কাজ কর। গােবিন্দ যখন আব্দার
ধরেছে-তখন ও সহজে ছাড়বেনা। তুই বাগিয়ে বলগে যা—যদি
কত্তিক গণেশের কাকোর ভেতর ঘুমুর ঢােকে, তাহলে কার্তিক-গণেশ
আর বাচবেনা।
রাম। ঠিকই তাে, সেও ত একটা কথা বটে। আচ্ছা আমি যাই।
ব্যভাবে এস্থান
নারায়ণী । তুইও যা নেত্য। আমার নাম করে গােবিন্দটাকে ভুলিয়ে
ভালিয়ে পাঠিয়ে দে। নইলে ও যখন বায়না ধরেছে, তখন ওকে ঠাণ্ডা
করা শক্ত।
নেত্য। আচ্ছা আমি যাচ্ছি মা।
গমােত
নারায়ণী। আর দেখ, ভূততাকে অমনি একবার ডেকে দিয়ে যাস্ততা।
ববি, সে যেন জালটা নিয়ে আসে।
নেত্য। আচ্ছা মা।
বাড়ীর ভিতর হইতে জামা গায়ে দিতে দিতে শ্যামলালের প্রবেশ
নারায়ণী। কিছু মুখে না দিয়ে বেরুচ্ছো যে?
শ্যাম। এখুনি ফিরে আসব গাে, এখুনি ফিরে আসব। আজকে তােমার
দাদামশায়ের বাৎসরিক কাজ,হাজরহােক তিনি স্বর্গগত বুড়ো মানুষ
বেশী বেলায় পুরুত এলে পিণ্ডিটা গিলতে দেরী হবে—পিত্তি পড়বে যে!
নারায়ণী। (হাসিয়া) যাও কোনা। এই সাতসকালে বে-কখন
ফিরবে তার ঠিক নেই। যা হােক কিছু মুখে দিয়ে যাও
শ্যাম। না না, আমি এখুনি ফিরে আসবােপুরুতকে একটু সকাল সকাল

রামের সুমতি দ্বিতীয় অঙ্ক আসতে বলে এখুনি ফিরে আসছি। তা এদিকের গােছগাছ, ঠিক হয়েছে তাে? নারায়ণী। হ্যা। শ্যাম। আর ব্রাহ্মণ ভােজনের মাছের কি ব্যবস্থা করলে ? নারায়ণী। নেত্যকে পাঠিয়েছি ভূততাকে ডেকে আনবার জন্যে তাম। বেশ করেছ, বেশ করেছ। গমনােত নারায়ণী। ওখান থেকে, অমনি কাছারী চলে যেওনা যেন। যাহােক কিছু খেয়ে তারপর যেও খাম। আচ্ছ গাে আচ্ছা, তাই হবে। पान অপর দিক দিয়া ভূতােৰাগীর প্রবেশ আমায় ডেকেছেন মাঠা। নারায়ণী। হ্যা, এখুনি আমাদের ঐ ঘােট পুকুরটা থেকে দুটো আড়াই সের ওজনের মাছ ধরে দিতে হবে। পারবি তো? তা আর কেন পারব না মাঠান। নারায়ণী । বেশ, তাহলে ঘােট পুকুরটায় জাল ফেলগে যা- ভূতো। ছােট পুকুরটা বড় নােরা মা । দামে ভাতি। তা এই বাড়ীর কাছের বড় পুকুরটায় জাল ফেললে হয় না? নারায়ণী। নারে না! অমন কাজ করি নে। তাের দাঠাকুর রাগ করবে। ছােট পুকুরটা থেকে যাহােক দুটো মাছ ধরে কি। ভূতত। আচ্ছা তাই দেব না। নারায়ণ স্থান। ভূতো গমনােত সহলা শিল্পী পিইন হইতে ডাকিলেন- দিগম্বরী। এই ভূততা শােন- ভূতাে। আমারে ডালে বুড়ােমা?

প্রথম দৃশ্য রামের সুমতি ৬১ দিগম্বরী। হ্যা। হা। দেখ, বড় পুকুরটাতেই জাল ফেলি ভূততা। কিন্তু মাঠান যে মানা করে গেল বুড়ােমা ! দিগম্বরী। তা করুক। আমি বলছি তুই বড় পুকুরেই জাল ফেলি। ভূতত। দাঠাকুর যদি দেখতি পায় ? দিগম্বরী। তাের তাের দাদাঠাকুর দেখতে পাবেনা। দেখতে পাবেনা। (আঁচল হইতে একটা সিকি বাহির করিয়া) আর শােন, এই সিকিটা আমি তােকে দিচ্ছি, তাের ছেলে মেয়েকে খাবার কিনে দি। ঐপুকুরের ঘাটে যে দুটো বড় মাছ ঘুরে বেড়ায়, তারই একটা কিন্তু তােক তুলে দিতে হবে ! কি পারবি তাে ? ভূতত। তা আর কেন পারব না। আচ্ছা তাই হবে। তুমি আমার ছেলে মেয়েদের খাবার কিনে দিতে পয়সা দিলে, আর তােমার কথা শােৰ তাহলে আসি বুড়ােমা। পেন্নাম। না? দিগম্বরী। সুরে-ও, সুরে- । নারাণীর প্রবেশ সুরে কোথায় গেলরে নারাণী ? নারায়ণী। বড় পুকুরে। দিগম্বরী। বড় পুকুরে কেন ? একবার তাে নেয়ে এসেছে। সেখানে আবার কি ? নারায়ণী। তােমার নাতি বায়না ধরেছে মা! বলে, কার্তিক-গণেশের গলায় ঘুমুর পরাবে। তাই তাকে বােঝাচ্ছে। দিগম্বরী। সে কি লো? মাছের গলায় ঘুমুর পরাবে কি বল ? নারায়ণী। ওর কথা আর বলােনা মা। যেমন ও তেমনিওঁর কাকা। দিগম্বরী। তা যা বলেছিস। ওই ছোঁড়াটাইতো ওর মাথাটা খেলে! নারায়ণী। না মা, রাম ওকে সত্যিই ভালবাসে।

রামের সুমতি দ্বিতীয় অঙ্ক দিগম্বরী। ভালবাসে তা জানি। কিন্তু ওতাে ভালবাসা নয়, ওযে আস্কারা দেওয়া। যত বড় হবে, তত বেয়াড়া হয়ে যাবে যে ! নারায়ণী। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সবই শুধরে যাবে না। দিগম্বরী। না না, ও ভাল কথা নয়। শেষে আমার গােবিদ যে তাের দেওরের মত হবে, সে আমি কখনই সহ্য করতে পাবে না। ভদ্রলােকের ছেলে, লেখাপড়া শিখবে, মানুষ হবে। নারায়ণী। লেখা পড়া শিখলেই কি সকলে মানুষ হয় মা? লেখা পড়া শিখেও যারা অমানুষ হয়েছে, তারা আমার নামের মতন হয়নি সত্যি, —কিন্তু তাদের কাছে আমার রাম পাক সােনা। এতে তামার খাদ নেই-তাইতো ভাবি, গােবিন্দও যদি ওর আওতায় অমানুষ হয়, তত হােক্‌-কিন্তু ও যেন খাঁটী থাকে। দিগম্বরী। তাের সবই উল্টো! ভদ্রলােকের ছেলে লেখা পড়া শিখবে, মানুষ হবে, এইতাে আমরা জানি। তা নয়, বাউণ্ডুলের মত ঘুরে বেড়াবে, পাঁচ জনে পাঁচ কথা বলবে, সেইটাই কি ভাল? ঝাটা মারি অমন মানুষ হওয়ার মাথায়। নারায়ণী। সংসারে কি ভাল কি মন্দ জানিনে মা। কিন্তু সত্যিকারের ভালবাসা যেখানে গিয়ে পড়ে—মনে হয়, সেখানকার সব কিছুই ভাল। তার মধ্যে বুঝি কিছুই মন্দ নেই! তাই ভাবি, আমার গােবিন্দ যে গাছটাকে সত্যি ভালবেসে আঁকড়ে ধরেছে—তা যদি শিমুলগাছও হয় হােক! কাঁটা বেঁধে বিধুক তবু আমি তার বিশ্বাসে যেন আঘাত না দিই- - দিগরী। তাহলে ঐ বিশ্বাস নিয়েই থাকু। ছেলে বেয়াড়া হােক। দেওরের নামে যেমন পাঁচ জমে পাঁচ কথা বলে যাচ্ছে তেমনি ছেলের নামেও বলক। নিনে বাবু

kib
AH-1380659
দ্বিতীয় দৃশ্য
অপরাহ্ন। শ্যামলালের বাড়ীর খিড়কী। খিড়কীর সম্মুখের পল্লীপথ
ধরিয়া জনৈক কৃষক গান গাহিতেছিল
গীত
**..?
GRASWAT
মানিনী মান ভাঙগাে
একুল-ওকুল মায়ে
শ্যাম আছে দাড়ায়ে
করেই মূলে গােন
মান ভাঙগাে।
ও তার মানের বাণী
বাজে নাক আর
কলঙ্কিনী রাধে তুই
করলাে অভিসার
বাণী বাজে নাকো আর
মাথা খাস মানের বালাই ছাড়লো
গান ভাঙলাে-
গীতাতে কৃষকের স্থান
অপরদিক দিয়া সুরধুনী ও রামলাবের এবেশ উভয়ের কেঁচড়ে পেয়ারা।
পেয়ারা লইয়া উভয়ে কাড়াকাড়ি করিতেছিল
রাম। এই নে—আর চাসনে কিন্তু
সুরধুনী। না, আর চাইব না। দেখি, তুমি.কতগুলো রেখেছ?
রাম। কেন আবার দেখবি কেন? অতগুলাে দিলুম তাতে হলােনা।
সুরধুনী। বড় বড় গুলাে নিজে না নিয়ে, ছােট ছোট গুলাে আমায় দিল।
রাম। এই দেখনা কোথায় বড়?
কোচড় খােইল সংস অধুনী একটি পেয়ারা তুলিয়া লইয়া
সুরধুনী। এই তত—এই তাে !

৬৪ রামের সুমতি দ্বিতীয় অঙ্ক কাম। ওটা নিসা বলছি সুরী! সুরধুনী। না, আমি নেব। তােমার তাে আরাে কত বড় বড় পেয়ারা রয়েছে- তাতে তাের কি? আমি যদি না দি। দে বছি- সুরধুনীর হাত হইতে পেয়ারাটী কাড়িয়া লইল সুরধুনী। দাওতাে আর কি করব? আমি কি ওটা নিজে খাব বলে চেয়েছিলুম? রাম। না নিজে খাবি না বৈকি ? সুরধুনী। সত্যি বলছি রামদা, আমি ওটা গােবিন্দর জন্য চাইছিলুম- রাম। ও গােবিন্দর জন্যে চাইছিলি? আচ্ছ। তবে নে-নে- পেয়াকাটা ফিরাইয়া দিল ভোলার বেশ রাম। ভােলা। দাঠাকুর এ দুপুর রােদে দাড়িয়ে কি হচ্ছে ? রাম। এই সুরীর জন্যে দুটো পেয়ারা পেড়ে দিলাম কিনা! সুরধুনী। মিথু! আমার জন্যে ? না ভােলা, রামদা পেয়ারা পাড়ছিল —আমি এলুম, তাই মােটে দুটো দিলে? আর তােমায় বলছে যে আমার জন্যে পেয়ারা পাড়ছিল। বুঝলে, আমার সব মিথ্যে কথা। দাও দাঠাকুর দাও। দিদিঠাকরুণরে আর দুটো দাও- , আমি আর ওকে দেবব না। নে, তুই একটা পেয়ারা খা- গোলাকে একটী পেয়ারা দিল ভােলা। তা দ্যাও! নাও—দিদিঠাকরুণ তুমি খাও- ভােলা পোরাটা লইয়া সুরধুনীকে দিয়া দিল রাম। দুই ওকে দিলি কেন? ভােলা। তাতে কি হলাে? এবার মিটে গেল। যাও—দিদিঠাকরুণ পালাও-পালাও- পেয়ারা লইয়া সুরধুনীয় স্থান রামের সুমতি আমি ওটা দেবনা তোকিছুতেই দেৰ না- দুটি মামলালে স্থাৰ সংসা পুকুরে জাল ফেলা শইল ভােলা। ডােরে ! পুকুরে জাল ফেলে কে? নেপথ্যে ভূতত। সে খবরে তাের কাজ করে? ভোলার দুটি এন ও কাল পরেই জলের মাছসহ ভূতোকে ধরিয়া ভােলায় বেশ এই ভূতাে-মাছটা জলে ছেড়ে দে বছি—শিগগীর ছেড়ে দে ! ভূতত। হে, তােমার কথায় আমি ছেড়ে দেলাম আর কি! ভােলা। কি ছেড়ে দিবিনে? ভূতে। মাছটা ছেড়ে দেব ত--মুন খাওয়াৰে কিসি? কেন পুকুরে কি আর মাছ নেই ? ভূতত। মাঠাকরুণ এই মাছটারে ধরতে বলেছে। ভােলা। কি? মাঠাকরুণ দাদাঠাকুরের গণেশকে ধরতে বলেছে। তুই চ—আগে দা-ঠাকুরের কাছে চ- ভূতত। ছেড়ে দে বলছি-ছেড়ে দে ভােলা। তােমারে ছেড়ে দেব মুন্দি? গড়া আগে ঠাকুর আক। তারপর তাের মজা দেখাচ্ছি। ভূতত। আমি কি চুরি কমেছি। জাল মিলাইয়া লইবার চেষ্টা করি ভােলা। চুপ মেরে থাক। আবার জোর দেখাচ্ছে। ভূতত। কি—মাৰি নাকি? ভােলা। তবে রে মুনি- মানিতে উত ভূতত। গায়ে হাত দিলে আন রেখে যেতে হবে বলে দিচ্ছি। = রামের সুমতি দ্বিতীয় অল্প ভােলা। আবার চোখ রাঙাচ্ছে! দাড়, আগে দাঠাকুর আসুক। তারপর তােরে একে কিলি নেব। ঘুসি পাকাইল ভূতত। কি মারবি ? তবে রে মুন্দি? ভােলা। গায়ে হাত তুলিসনে খবরদার ছি! ভূত। তুই আমার জাল ছেড়ে দেশ ভােলা। জাল ছেড়ে দেব ? তুই আমার ঠাকুরের গণেশরে ধরলি কেন তাই আগে বল ? ভূতো। মাঠাকরুণ বলেলল—তাই ধরেছি- ভােলা। মাঠাকরুণ বলেছে—মিথক কোথাকার! ভূতত। জাল ছেড়ে দিয়ে কথা কইবি ভােলা ভােলা। জাল ছেড়ে দেব—চ আগে দা’ঠাকুরের কাছে চ। তারপর তাের মজা দেখাচ্ছি- ভূতত। দা-ঠাকুরের কাছে যাবে? কেন? আমি কি চুরি করিছি নাকি ? ভােলা। ঘঁা মিছিস। কেন গণেশরে ধরেছিস? ভূতত। বেশ করেছি ধরিছি। ছেড়ে দে বলছি—ছেড়ে দেশ ভােলা। তুই আগে দা-ঠাকুরের কাছে যাবি, তবে ছাড়ব- ভূতত। কি হাড়বিনি? । মেলা জোর ফলানে ভূততা-ভাল হবে বলে দিচ্ছি- ভূতাে। তবেরে সুমুন্দি তােলাকে ফেলিয়া দিয়া জাল ছিনাইয়া লইয়াঙ্গুতায় স্থান ভােলা। আচ্ছা আমিও দেখাচ্ছি—দা-ঠাকুরদা-ঠাকুর-শীগগির এসে -শগগির এসো তৃতীয় দৃশ্য রামের সুমতি রামলানের বেশ রাম। কার সঙ্গে ঝগড়া করছিলি রে ভােলা? ভােলা। এয়ােচ ? এয়ােচ ঠাকুর? ভূতে তােমার সর্বনাশ করেছে। রাম। কি রে! কি করেছে ? ভােলা। বামুন খাওয়ানাের জন্যে তােমার গণেশকে ধরেছে! রাম। সে কি! আমার গণেশকে ধরেছে। ভােলা। হা লাদাঠাকুর ! রাম। চ’তােচতত আমি দেখি । উভয়ের ছুটিয়া এহান তৃতীয় দৃ শ্যামলালের বাড়ী। দ্বিতীয় আয়ের প্রথম দৃশ্যেরই অনুরূপ। বিগৰী পিতৃ শ্রাদ্ধের উদ্যেগ আমােজন লইয়া ব্যস্ত। জলে করিয়া একটি বৃহৎ মাছ লইয়া ভূতত হাঁপাইতে হঁপাইতে বেশ করিল। উঠানের মাবে, চালোয়ার নীচে সে মাহীকে নামাইল ভূতাে। এই নাও বুড়ী মা, তুমি যে মাছটারে ধরতে বলেছিলে, সেইটেই এনেছি সহ অপরদিক দিয়া নেত্যর প্রবেশ। মাছটি তাল করিয়া দেখিয়া- নেত্য। হারে ভূতত, একে ঘাটে ধরিসনিতাে? এ হােটবাবুর কার্তিক গণেশের একটা নয় তাে? ভূতত। হ্যাগাে-এ ঘেটো রুই—বড় জবর রুই। নেত্য। ( ভাল করিয়া দেখিয়া) এ তাে কার্তিক-গণেশের একটা বলেই মনে হচ্ছে! আচ্ছা দিদিমা, পাড়ার লােক জানে, হােটবাবুর কার্তিক- গণেশের কথা। তুমি কি বলে, এ মাছ ধরালে! ধরি যা হােক রামের সুমতি দ্বিতীয় অঙ্ক মায়ার শরীর! বলি, দুটো তিনটে পুকুরে কি আর মাছ ছিল না? দশটা নােক খাবে, তা এত বড় মাছেই বা কি হবে শুনি? লুকিয়ে ফেলুকিয়ে ফেল হােটবাবু কোথায় গেছে, এসে দেখতে পেলে, আর রক্ষে রাখবে না। দিগরী। জানিনে বাপু অতশত। একটা মাছ ধরেছে-তা সাতটি মিলে করছে দেখনা? লুকিয়ে তত ফেলব, তা বলি বামুন খাবে না? নেভ্য। তােমার বামুন খাবে তত দুটো আড়াইটের সময়, ঢের সময় আছে। ছোটবাবু এসে দেখতে পেলে, একটা হৈ হৈ কাণ্ড বাধাবে। টিয়া গেলা ও রামপালের প্রবেশ ভােলা। ঐ দেখ—ঐ দেখ—দা-ঠাকুর তােমাদের উঠোনে তােমার গণেশ। রামলাল ছুটিয়া আসি শাহর উপর আছড়াইয়া পড়িল! পরে ধীরে ধীরে উঠিয়া রাম। হারে ভূতাে তুই ভেবেছিস্ কি? ভূতত। আমার কোন দোষ নেই -ঠাকুর, বুড়ীমা আমারে ধরতে বলে তাই রাম। বুড়ী ধরতে বলেছে? বুড়ীর পুকুর, না মাছ? তুই জানিসনে যে ও-গাছ আমার? ভােলা। জানে না আবার ? গাঁ ও সম্মাই জানে, আর ও মুমুন্দি গনে না ? ভূতাে। ঠাকুর! তােমার এই ছিচরণ ধরে বলছি, নাম নিচি। কিন্তু কোটে তােমার কেমতিক আর কোটে গণেশ তা জানি নে। রাম। তুই কেন ও পুকুরের মাছ থলি? অন্য পুকুরে গেলি না কেন? ভূতো। বুধীমা ওই পুকুরের মাছই ধরতে বললেন। (টাক হইতে निकि বাহির করিয়া) এই দে, বুধীমা আমারে একটা সিকি . শিস দিলেন-

তৃতীয় দৃশ্য
রামের সুমতি
ভােলা। সিকি দিলে। দেখি সিকি-
ভূতােৰ হাত হইতে সিকি কাড়িয়া লইয়া তােলার বেগে এখান
ভূতত। দা-ঠাকুর ভােলা আমার সিকি নিয়ে পালালাে? এই ভােলা-
ছুটিয়া এস্থান
রাম। এই ভােলা ভূততাকে ধরু-ছাড়বি না
साशन
দিগম্বরী। (সহসা উচ্চৈস্বরে) ওরে কি শওর আমার!
কবে মরকে রে! কবে হাড়ে বাতাস লাগবে! বাসি মুখে এখনও আল
দিইনি ঠাকুর ! যদি সত্যি হও—যেন তে-রাত্তির না পােয়
তে-রাত্তির না পােয়ায়-
ঘরের ভিতর হইতে বেগে নারায়ণীর প্রবেশ
নারায়ণী। মা-মামা-
চেঁচামেচি শুনি গামলানের প্রবেশ
শ্যাম। কি? ব্যাপার কি ?
দিগম্বরী। আমার ঘাট হয়েছে বাবা, কিন্তু কেমন করে জানৰ বল যে,
পুকুর থেকে বামুন ভােজনের জতে একটা মাছ ধরালে মহাভারত
অশুদ্ধ হয়ে যাবে।
এম। কি হয়েছে রে নেত্য ?
নেত্য। ( মাছটি দেখাইয়া) এটা হােটৰাবুর গণেশ।
তাম। এটা মোের কার্তিক-গণেশের একটা নাকি?
নেত্য।
দিগনী। এমন কাণ্ড হবে আনলে, ৰামুন খাওয়ানাের কথা মুখেও
আনতাম না বাবা, ও নিজে কেনই হকুম দিয়ে ধরালে, আর এখন
হ্যা।

৭০
রামের সুমতি
দ্বিতীয় অঙ্ক
কেনইবা এমন ধারা করছে, তা জানিনে। আমাদের না হয় আর
কোথাও পাঠিয়ে দাও বাবা। এখানে আর একদণ্ডও থাকতে ভরসা
হয় না। (কাদিয়া) এমন করে কপালই যদি আশর
পুড়বে
ত অমন ভাই-ই বা মরবে কেন? বাবা আমরা নিতান্ত নিরুপায়—তাই
হাত জোড় করে বছিযেমন করে হােক আমাদের একটা উপায়
করে দাও
শ্যাম। উপায় ! হা উপায় একটা কতেই হবে—উপায় একটা
কতেই হবে।
বিরক্তভাবে কামলাল ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিলেন ও অন্য ঘরে দিগম্বরীর প্রস্থান
শধুনীর বেশ
সুরধুনী। দিদি, গােবিন্দ পুকুরে গিয়ে ঝাপাই ঝুড়ছে। কত ডাকা-
ডাকি করলাম, কিছুতেই উঠলো না। বল্লে, গণেশটাকে দেখতে
পাচ্ছিনা, বােধ হয় পাঁকের মধ্যে কোথাও লুকিয়ে আছে-
নারায়ণী। যা হয় করুক, আমি আর পারি না
নেত্য। চল সুরাে মাসী, আমি ভুলিয়ে গােবিন্দকে তুলে আছি-
=
উভয়ের প্রধান
রায়ের প্রবেশ
রাম। বৌদি তাহলে তুমি এর বিহিত করবে না?
নারায়ণী। বিহিত আবার কি করব? আমিই ধরিয়েছি-
রাম। কি, তুমি হুকুম দিয়ে গণেশকে ধরিয়েছ ?
নারায়ণী। বেশ করেছি! ধরিয়েছি।
রাম। কি বেশ করেছ?
নারায়ণ। মাছ কি তাের একার?
র। হ্যা। কার্তিক-গণেশ আমারই তো। আমি তো খাইয়ে খাইয়ে,
ওদের এত বড় করেছি।

তৃতীয় দৃশ্য = রামের সুমতি ৭১ নারায়ণী। তােকেও ত’ খাইয়ে আমি এত বড় করেছি। তাের কার্তিক- গণেশের ওপর কি আমার এতটুকু অধিকার নেই রে? আমার দাদা- মশায়ের বাৎসরিক শ্রদ্ধ। পাঁচজন বামুন খাবে তাই- রাম। কিন্তু আমরা তাে পুকুর ছিল, আমরা তো মাছ ছিল ও দুটোর ওপরই বা ওর বাবার এত লােভ পড়ল কেন? নারায়ণী। আমার মায়ের বাবা তুলিনে রাম- রাম। বেশ করব, ওর বাপ তুলবে। ও আমার গণেশকে ধরালে কেন? বলল ধরালে কেন ? নারায়ণী। মা ধরাননি, আমি ধরিয়েছি। রাম। তুমি ধরিয়েছ, কথখনাে নয়—এ ঐ ডাইনী বুড়ির কাজ। ও মরে আর জন্সে মেছো পেত্নী হবে- সা ঝড়ের কার দিগরীর প্রবেশ দিগম্বরী। হারামজাদা ! যত বড় মুখ নয়, তত বড় কথা! আমাকে বলে কিনা মেছে পেত্নী হবে? তাের মা পেত্নী হয়ে আছে কিনা ? রাম। দেখ, দেখ বৌদি, আমার মাকে পেত্নী বছে নারায়ণী। মা ; আমার শ্বশুড়ী স্বর্গে গেছেন, তাকে ধরে টানাটানি করছ কেন মা? দিগম্বরী। আহা! আর ও যে আমায় ; তা শুনতে পেলিনে তাে ? নারায়ণী। জানইতাে ওর কথাই ঐ রকম। তুমি যদি একটু চুপ করে দিগম্বরী। কেন? তাের বাড়ীতে এসেছি বলে ঝাটা লাথি যা মারবে তাই সহ করতে হবে ? নারায়ণী। তােমাদের যা খুসি কর মা—আমি আর তােমাদের সঙ্গে পারি না। . বিরক্ত স্থান

রামের সুমতি
দ্বিতীয় অঃ
দিগম্বরী। তা পারবি কেন? ও যে:দেওর। আপনার জন। বলি,
অপমান করানাের তে এ বাড়ীতে আমাদের আনার দরকার কি
ছিল? আমরা না হয় খেতে পেয়ে মরে যেতুম। তাই বলে, বাপ মা
খেগগা হাড় হাতে যখন তখন অপমান কবে?
রাম। খবরদার ৰছি, বাপ মা খেগাে বলােনা—
দিগম্বরী। কেশ করব বলবাে। তুই আমার বাপ তুললি কেনরে ভ্যাক ?
রাম। বেশ করেছি বাপ তুলেছি। তাের বাবা আমার মাছ খেলে
কেন? বল?
দিগম্বরী। ফে বাপ, দুলছিস?
রাম। হ্যা, তুলবােইতাে। কেন তুই আমার ‘গণেশকে বলি-
নেপথ্যে নারায়ণী। রাম! রাম!
দিগরী। কি? বাপ, তুবিদাড়া দেখাচ্ছিঝেটিয়ে বিষ ঝেড়ে
দিই।—যেমন কুকুর তেমনি মুগুর হওয়া চাইতো
নার নীচে একগা।
টা পড়িয়াহিল সিগীর তাহা লইয়া রামলালকে
নিতে উত হইলেন
রাম।
তবে রে ভাইনী ।
রামলাল সিগনীকে লক্ষ্য করিয়া পোয়াছুড়িল। এমন সময় নারায়ণ রামকে
বা দিবার জন্য ঘরের ভিতর হইতে ছুটিয়া বাহিরে আসিতেছিলেন। পেয়ারাটা
দিগনীর লাগি নারায়ণীর কপালে গিয়া লাগিল। নারায়ণী-উঃ! শলে কপালে
যত দিয়া বসিয়া পড়িলেন। রামলালয় ছুটিয়া পালাইল।
দিগম্বরী। ওরে কে কোথায় আছিস শীগগির আয়, মামা আমার
নামাণকে মেরে ফেলেছে রে-মেরে ফেলেছে
লাল, খুন নেভ, ৰাৰে ৰেণ
গম। কি ? কি হল?

তৃতীয় দৃশ্য
রামের সুমতি
দিগরী। তােমার ভাই আমার নারাণীকে মেরে ফেলেছে বাবা, মেয়ে
ফেলেছে-
যা তাে নেত্য, চটু করে জল আর কড়া নিয়ে আয় তাে।
একখানা-পাখ-পাখা-
=
নেত্য ও সুরধুনী যথাক্রমে জল ও পাখা আনিল। নেত্য ক্ষতস্থানে জলপটা বাখিয়া দিল !
আজ তােমাকে দিব্যি দিচ্ছি—যদি তুমি ওকে ডেকে খেতে দাও, যদি
কোনদিন তুমি ওর সঙ্গে কথা কও—কি ওর কথায় থাক, সেদিনই
যেন তুমি আমার মাথা খাও
নারায়ণী। চুপ কর গাে চুপ কর! ওকি দিব্যি দিলে।
শ্যাম। আমার এতবড় দিব্যি যদি তুমি না মান, সেই দিনই তােমাকে
যেন আমার মরা মুখ দেখতে হয়-
নারায়ণী। ওপাে-মাগাে।

তৃতীয় অঙ্ক প্রথম দৃশ্য ভূত। অপরাহ্ন। ভজহরির দোকান। দোকানের সামনে জিনিষপত্র কিছুই সাজান- গােহন নাই। কেবলমাত্র দোকান ঘরের দরজাটি খােল আছে। দোকানে মুদিখানা, মণিহারী সব রকম জিনিষই কিছু কিছু পাওয়া যায়। ভজহরি দোকানের সামনে একটি টুলে বসিয়া তামাক খাইতেছিল। এমন সময় তো প্রবেশ করিল দু পয়সার বিড়ি দাওতো- ভজহরি। দিই। (বিড়ি গুণিতে গুণিতে) কিরে ভূততা ওদিকের খবর কি? কার কথা জিজ্ঞেস্ কচ্ছ? ভজহরি। ঐ যে রে-শ্যামঠাকুরের বাড়ীর ? ও। শােননি? শ্যামঠাকুরের বৌ-টারে না মেরে, রামঠাকুর গা ছেড়ে পেলিয়েছে- ভজহরি। হ্যা তাতো শুনেছি। আবার শুনছি নাকি বাড়ীর উঠোনে বেড়া পড়েছে? রামঠাকুররে পেমৃথক করে দিয়েছে- ভূতো। হা গাে! তাই তাে দেখে এলাম। শােনলাম, শ্যামঠাকুরের বৌ আমাদের মাঠা-খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়ে দিনরাত কান্নাকাটি ভূতো। হরি দোকানের সামনে দিয়া পহৰি যাইতেছিল। হরি তাহাকে কিল--- ভজহরি। এই যে ! এই যে! এস রাখ ভাই! এস রাখ ভাই! এস। বস, বস।

প্রথম দৃশ্য রামের সুমতি ! রাখরি। না, আর এখন বসব না। একবার বাড়ীর দিকি বাই। বৌ-টা তাে চোপর রাতদিন কাকাটি কছে। ভজহরি। আহা! তা আর কবে না? অত বড় সােমখ ছেলে ! এই বয়সে কোথায় তুমি একটু বিছরেম করবে, তা নয়—আবার সব সংসারের ভারটাই তােমার ঘাড়ে এসে পড়ল। রাখহরি। অদেষ্ট! অদেষ্ট। নইলে অতবড় জোয়ান ছেলেটা ধড় ফড়িয়ে যাবে কেন বল ? ভজহরি । আহা! বড়ই কষ্টের কথা। কি কবা কপালের দুঃখু যা নেখা আছে, সেত আর কেউ নেবে না, তাই তাে সেদিন যদু মােড়লরে বল্লাম, শুধু শুধু ডাক্তারের দােষ দিলি কি হবে? অষ্টে, এই নে ভূতো তাের বিড়ি--এই নাও, রাখ ভাই- তামাক খাও- অতেষ্ট। === ভূতােকে বিড়ি দিয়া হক। হইতে রাখহরির হাতে কলিকাটি তুলিয়া দিল। ভূতো। হ্যাগা, বলি ক'টা বিড়ি দিলে? ভজহরি। কেন ছটা ? ভূতো। দুপয়সায় ছটা বিড়ি? এ! ভজহরি। হারে, দর চড়ে গিয়েছে। এখনও তবু পাওয়া যাচ্ছে এরপর পয়সা দিয়েও পাবিনে। যা দিয়েছি, নিয়ে যা তাের এস্থান রাখহরি। (কলিকাটি রাখিয়া) শুনেছ ভজভাই, খামঠাকুর নাকি তার ভাইকে আলাদা করে দিয়েছে। আহা ছেলেমানুষ! কথা শুনে বড়ই কষ্ট হােল-

রামের সুমতি
তৃতীয় অঙ্ক
ভজহরি। ছেলেমানুষ বলে আর কত সয় বলল? একেবারে তেতো
গিয়েলে-বুঝলে,
নইলে শ্যামঠাকুর নােক খারাপ
নয়-
-
রাখহরি। তা হােক। কিন্তু এ কাজটা ভাল হয়নি। ছেলেমানুষ, আহা!
কিন্তু রামঠাকুরের প্রাণটা ভাল গাে-প্রাণটা ভাল-গরীব দুঃখীর
ওপর ভারী দয়া-
একটা বােতল হাতে লইয়া কালার প্রবেশ
ক্যাবলা। দু পয়সার তেল দাও ত ?
ভজহরি। দু পয়সার কেরাসিন তেল! সেদিন আর নেই রে ক্যাবলা
সেদিন আর নেই।
ক্যাবলা। সে কি গাে ! দুদিন আগেও ত নিয়ে গেলাম।
ভজহরি। তেল কি আর পাওয়া যাচ্ছে ? এখন এক পাইন্ট—দশ আনা।
ক্যাবলা। . তা যাহােক এখন দু’চার পয়সার দাও ত? অন্ধকারে ত
আর পূজোর জায়গা সাজান-গােছান যাবে না। তেল ত চাই।
আজ বাদেই কালই যে বঙ্গোলী পুজো-
ভরি। তােদের পুজো হবে?
ক্যাবলা। হবে না? নিশ্চয়ই হবে।
ভরি। তা তােদর পাঠাকুর ত দেশছাড়া-
ক্যাল। দা-ঠাকুর ঠিক এসে যাবে।
জরি। (শ্লেষ হাসিয়া) এসে যাবে কি? ওদিকে যে শ্যামঠাকুর
তারে তে করে দিয়েছে। এসে খাবে কি ?
ক্যাবলা। দিয়েছে—দিয়েছে—তাতে তােমাদের কি ? তেল দেবে
কিনা বল ?
অহরি। না না, ও দু পয়সার তেলবে না-

প্রথম দৃশ্য
রামের সুমতি
৭
ক্যাবলা। বেশ, তবে এক পাইণ্টই দাও—এই নাও, তােমার দশ আনা।
টাক হইতে পয়সা বাহির করিতে উদ্যত হই
ভজহরি। শুধু শুধু তেল পুইড়ে আর কাগজের ছিলি-নিশানা তৈরী
করতে হবে না? গুলি ত তােদের দা-ঠাকুর নেই-নমাে নমে
করে পুজো সারগে যা ক্যাবলা-নমাে নমাে করে পূজো সারগে যা-
ক্যাবলা। তােমরা ত তাই চাও কিনা? গেরাম-ঘরে একটা ভাল
কাজ হচ্ছে দেখে, তােমাদের একেবারে বুক পুড়ে যাচ্ছে।—দা-ঠাকুর
নেই গুনে, ভারী ফুৰ্ত্তি হয়েছে সব, কেমন ? তেল না হয় তুমি না
বিক্রি কব-গাঁয়ে কি আর দোকান নেই? চল্লাম।
বােত লইয়া গান
অপরদিক দিয়া নীলমণি ডাক্তারের ব্যস্তভাবে প্রবেশ।
হায় হাতে ব্যাগ, বগলে কাতা।
ভজহরি। (দোকান হইতে বাহির হইয়া) এই যে ডাক্তারবাবু, পেয়াম।
নীলমণি। কিরে ভজ, খবর সব ভাল ত?
ভজহরি।
আজ্ঞে হ্যা বাবু, আপনার আশীর্বাদে-
নীলমণি। তারপরে ওদিকে সব শুনেছি ত?
ভজহরি। রামঠাকুরের কথা বলছেন তো ?
নীলমণি। (হাসিয়া ১ হা হা, কেমন? বলেছিলাম কিনা? এমন
যে হবে এ জানাই ছিল। ( সহসা রাখহরিকে দেখিয়া) ওখানে
বসে কে? রাখ না ?
অহরি। আর হ্যা বাবু।
নীলমণি। কিরে রাখ? তােদর ঠাকুর যে গ্রামছাড়া!
রাখরি। সে ত ভালকথা আক্তারবাবু! ঘরে-দোয়ে বান দেবার
ভাবনা থেকে আপনি নিশ্চিন্দি হলেন।
নীলমণি। দেখছিস ত ভজ দেখছিল ত? সেদিন অত বড় ছেলেটা

৭৮ রামের সুমতি তৃতীয় অঙ্ক ম’ল-তবু এখনাে তেজ যায়নি! বিষ দাত ঠিক আছে। ঠে দিয়ে আবার বলে কিনা আপনি নিশ্চিন্দি হলেন। ঘােটলােক কোথাকার- রাখহরি। ডাক্তারবাবু! মড়ার উপরি আর খাঁড়ার কা দিও না। বুকির মধ্যি জ্বলুনি এখনো যায়নি। আমার তালের চারার মত ছেলেটা যে কেন মল-সে আর গায়ের লােকের জাতি বাকী নেই ? তা নিয়ে আর কথা বাইড়ো না।-যেখানে যাচ্ছে যাও- নীলমণি। কি যত বড় মুখ নয়, তত বড় কথা ! মুখে লাগাম দিয়ে কথা কইবি- রাখহরি। নাগামই দিয়েলাম। কিন্তু কি কব, গাভােয়ানের মারের চোটে নাগাম খুলতে হ’ল। তােমারে শুধু একটা কথা বলে যাই নীলমণি ডাক্তার, আমার একটা ছেলে তােমার জন্য মরেছে, যদি সব কটা যায়—তবু তােমারে আর ডাকব না। গামঠাকুর যাই ভালমানুষ নােক—তাই আবার তােমারে ডেকেছে। আর সেই সত্যিই তােমার বুকের ছাতি দশহাত হয়েছে—তা জানি। কিন্তু দাঠাকুর আর যাই হােক গরীবের মা-বাপ, সে দেবতা! তােমার মত চামার লয় । তুমি ডাক্তারি কর না-নােকের মুখে নাগাম দিয়ে তুমি কর গাভােয়ানী। তুমি গাড়ােয়ান--তুমি গাড়ােয়ান- যেগে মন নীলমণি। কি আমি গাড়ােয়ান! ছােটলােকের এতবড় আম্পর্ধা! আমি ওর নামে নালিশ করব। আমি ওকে জেলে পাঠাব—তুই সাক্ষী-ভ, তুই আমার সাক্ষী বেগে এ * সাধারণ লালয়ে অভিনয়কালীন এই দৃশ্যটি পরিত্যক্ত হয়।

দ্বিতীয় দৃশ্য শ্যামলালের বাড়ী। তিনদিনের পরের ঘটনা। বাড়ীর মাঝে ছেচা বাঁশের বেড় দিয়া বাড়ীটিকে দুইভাগ করা হইয়াছে। তখন সবেমাত্র সন্ধ্যা হইয়াছে। শুধুনী তুলসীতলায় সাদীপ দেখাইয়া শঙ্খধ্বনি করিল ও পরে তুলসী-মঞ্চে প্রণাম করিয়া উঠিয়া দাঁড়াইল। সেই সন্ধ্যার অন্ধকারে মামলাল চুপি চুপি আসিয়া পথের ধারে বেড়ার পাশ দিয়া উকি দিল। বেড়ার অপর পারে লােকটীকে চিনিতে না পারিয়া সুরধুনী কহিল- সুরধুনী। কে ? রাম। আমি রে আমি । সুরধুনী। কে ? রামদা? রাম। হা-কিন্তু এ সব ব্যাপার কি? সুরধুনী। তুমি পরশু চলে যাওয়ার পর, পাড়ার পাঁচজনকে ডেকে জামাইবাবু তােমাকে আলাদা করে দিয়েছেন। ঐ দিকটা তােমার- অঙ্গুলি সঙ্কেতে ঘর দেখাইয়া দিল রাম। বেশ। কিন্তু বৌদি কোথায় ? সুরধুনী। দিদি ও ঘরে শুয়ে। তুমি যেন ওদিকে যেওনা। জামাইবাবু আছেন। জামাইবাবু বলেছেন, এদিকে এলে তােমার পা ভেঙ্গে দেবেন। তুমি চুপি চুপি তােমার ঘরে চলে যাও—আর দেরী '। রাম। তা না হয় যাচ্ছি। কি অন্যায় বল দেখি? শুধু শুধু আলাদা করে দিলে? এখন কি খাই, কি করি বল দেখি? সুরধুনী। কেন? তুমি রেখে খেতে পারবে না? রাম। দূষ-দূষ—সব আমার দ্বারা হবে না। মরুক গে-না হয় নাই রামের সুমতি তৃতীয় অঙ্ক খাব। কিন্তু আলাদা করে দেবার আগে, আমায় একবার বলা উচিত ছিল তাে? আচ্ছা, আলাদা করে দেওয়ায় বৌদি মত দিলে? সুরধুনী। দিদি হানা কিছুই বললেন না। রাম। (হাসি) আমি জানি কিনা, বৌদি আলাদা করে দিতে পারে কখনও- সুরধুনী। কিন্তু কেন তুমি শুধু শুধু আমার মার সঙ্গে ঝগড়া করলে বল দিকি ? রাম। তাের মা যখন তখন আমায় গালাগাল মন্দ করে কেন ? সুরধুনী। মা বুড়ো হয়েছেন, তিনি একটু খিটখিটে, কিন্তু তুমি তাে তার কথা কানে না তুললেই পার। রাম। মনে ত করি, কিন্তু তাের না যে কানের মধ্যে কথা গুলাে একেবারে জে দেয়। সেদিন যদি তাের মা আমার গণেশকে না ধরাতো- তা হলে তো আমি কিছুই বলতুম না। সুরধুনী। মা না হয় ভুল করে মাছটাকে ধরিয়েছিলেন। তুমিও তাে মার বাপ তুলে রাম। তাের মা ইচ্ছে করে আমায় গণেশকে ধরিয়েছে- সুরধুনী। মা না হয় অন্যায় করেছেন স্বীকার করলাম । তাে বাপ তােলা উচিত হয় নি। রাম। দেখ, সুরে, তােকে আমার ভাল লাগে কি তাের মার জয়ে মাঝে মাঝে তাের ওপরও রাগ হয়। আচ্ছা, তুই, বৌদি, তােদর দুবােনের এত দয়া মায়া আর তাের মা-টা অমনধারা কেন বল দিকিনি। আমি সত্যি বলছি না দেখে নিও মনে নিশ্চয়ই পেঙ্গী হবে। খুনী। ছিঃ রামদা! ও কথা কি তে আছে। হাজার হােৰু উৰি

দ্বিতীয় দৃশ্য
রামের সুমতি
রাম। তা বটে! তাের আর বৌদির সামনে পেত্নী বলাটা ঠিক হয় না।
তােরে যখন না, তােদর তাে কথাটা গায়ে লাগতেই পারে। দেখ,
তােরা আসবার আগে, আমরা ভালই ছিলাম। ঝগড়া-ঝাটি অব
ছিল বটে কিন্তু এত ঘোরপ্যাচ ছিল না।
সুরধুনী। ( লজ্জিত হইয়া) তা সত্যি। আমরা এসেই তােমাদের যত
অশান্তি।
রাম। না না, তাের জন্যে নয়—তাের জঙ্গে নয়—তুই খুব ভাল মেয়ে।
তাের মা-টা যদি না আসত তাহলে ভাল হত। আচ্ছা তাের মাকে
অন্য কোথাও পাঠিয়ে দেনা কেন?
সুরধুনী। কোথায় পাঠাব রামদা সে উপায় যে নেই !
রাম। কেন ? বৌদি ছাড়া কি তােদর আর কেউ নেই ?
সুরধুনী। না।
রাম।
তবে আর কি হবে? যাই-আলাদাই থাকি গে, (দু’ একপদ
অগ্রসর হইয়া ফিরিল) আচ্ছা তুই একটু লুকিয়ে-টুকিয়ে গিয়ে আমায়
দুটো দুটো বেঁধে দিয়ে আসতে পারি?
সুরধুনী। মা, দিদি, কি নেত্য, এরা যদি কেউ দেখে ফেলে?
রাম। তবে থাক। তবে কাজ নেই।
সুরধুনী। তুমি একটু চেষ্টা করে, তাহলেই পারবে। আমি বরং, সুবিধে
বুঝে নুনটা মাটা দিয়ে আসব।
জিশী এবেশ
দিগরী। ওখানে কার সঙ্গে কথা কইছি রে সুর?
সুরধুনী। (সুর বদলাইয়া) তুমি এদিকে কেন? তােমার ঐ দিকটা-
দিগম্বরী। নারাণীর দেওর বুঝি ?
সুরধুনী। যা মা।

রামের সুমতি তৃতীয় অঙ্ক দিগম্বরী। ও আবার এদিকে কেন? ওকে বলে দেনা জোর জামাইবাবু কি বলেছে- সুরধুনী। জামাইবাবু বলেছে,তুমি এদিকে এলে তােমার ঠ্যাং খোড়া করে দেবে। আর কি বলেছে মা? দিগম্বরী। মাথার দিব্যির কথাটা বল না ন্যাকা মেয়ে সুরধুনী। জামাইবাবু দিদিকে দিব্যি দিয়েছেন, তােমাকে খেতেও দেবে না আর তােমার সঙ্গে কথা বলবে না। বেগে নারায়ণৰ একে নারায়ণী। আচ্ছা, হয়েছে—হয়েছে, 'তুই চুপ, কম- রামলাল নারায়ণীকে দেখিয়া সাগ্রহে ডাকিল রাম। বৌদি। বৌদি। নারায়ণী। হ্যা। কিন্তু আর এদিকে নয়—ওদিকে নারায়ণী অঙ্গুলী নির্দেশে রামপালের অংশ দেখাইয়া দিয়া ঘরের মধ্যে চলিয়া গেলেন। রামলাল মাথা নীচু করিয়া ধীরে ধীরে নিজের অংশে আসিয়া উপস্থিত হইল। রামলালের গৃহে অংশ—ভােলা ঘরের তির হইতে বাহির হইয়া ভোলা। এ ক’দিন কোথায় গিয়েছিলে গাে দাঠাকুর! 'তােমার ছিষ্টি সংসার এগলে বসে রয়েছি। রাম। কে তােকে আগলাতে বলেছে ? সব ফেলে দে—দূর করে দে ৰাৱাৰ বাসন-কোলক কেলি ভােলা। রাগ কর কেন দা-ঠাকুরা কর কেন? বাসন-কোসন কি অমন করে ফেলে দেয়? রাধব বাড়বা কিসি? রাম। সব দুর করে দে-আমি রাধতেও চাই না খেতেও চাই না।

দ্বিতীয় দৃশ্য
রামের সুমতি
কেন? দিব্যি করে উনােন পেতে দিয়েছি, চাল ডাল ধুয়ে রেখে
দিয়েছি ? ভাতে ভাত চইড়ে দাও
রাম। উনােন পেতে রেখেছিস তত আমার মাথা কিনে রেখেছি আর
কি? কেন? অমনি দুটো চড়িয়ে দিতে পারি নি ?
ভােলা। আমি চইড়ি দিলি কি তুমি খেতে পার দাঠাকুর ?
রাম। কেন খেতে পারব না, খুব পারব। তাের হাতের রান্নই
আমি খাব।
ভােলা। তা হয় না দাঠাকুর? মাথা খাও—কথা শােন, ভাত দুটো
চইড়ে দাও। ফুটুলি পরে নেইম নিও। তােমায় আতি দেখে
উনুনে আগুন দিয়ে দিইছি, চাল ডাল সব ধুয়ে হাঁড়িতে জল দিয়ে
রেখেছি। যাও কথা শােন, ঘরে গিয়ে চেপিয়ে দাওগে-
রামলাল ঘরের ভিতর গিয়া কিছুক্ষণ পরেই আবার ফিরিয়া আসিল
রাম। বুঝলি ভােলা, তুই আমার চাকর। আজ থেকে
আজ থেকে তুই আর ও
বাড়ী যাবিনে-
ভেলা। দাঠাকুর। আমি তােমার কাছেই থাকব
রাম। আর বুঝলি ভােলাও বাড়ীর কেউ যদি এদিকে আসে, তার
পা ভেঙ্গে দিবি
নেত্য আমলালের ঘর হইতে বাহির হইল। তাহাকে দেখিয়া
নেত্য আনুক না একবার এদিকে
নেত্য হাসিতে হাসিতে বাড়ীর ভিতর চলিয়া গেল
চাল কটা চেপিয়ে দিয়েই তাে দাঠাকুর?
রাম। । আমি ওর দিব্যি মানিনে। ও! ভারীততা দিব্যি ।
ও কে? যে ও দিব্যি দেয়? কি বলিস্ ভােলা?

৪
রামের সুমতি
তৃতীয় অঙ্ক
লাে। ঠিকই তো।
রাম। ও কি আমার আপনার দাদা! ও কেউ নয়—ওর কথা আমি
মানিনে।-আমি কি বৌদিকে মেয়েছি ? আমি তাে ডাইনীবুড়ীকে
মাতে গিয়েছিলাম, হঠাৎ বৌদির কপালে লেগে গেল। কিন্তু ওরা
দিব্যি দিতে আসে কেন?
ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিল
শ্যামলালের গৃহের অংশ। ইতিমধ্যে নেত আসিয়া কাচা কাপড়গুলি উঠানে
কেঁচাইতেছিল। রামপালের কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে
দিগম্বরী ঝড়ের ন্যায় বেশ করিলেন
==
দিগম্বরী। শুনছিস তত নেত্য ? শুনছি তাে? একে কি গায়ে পড়ে
ঝগড়া করা বলেনা ?
'নেত্য। চুপ কর দিদিমা, চুপ কর। এই রাত্তির বেলায় আর এ নিয়ে
কথা কাটাকাটি করােনা।
দিগনী। আহ! বাহার কি বুদ্ধি! বুঝলি নেত্য, একটা-
পেতলের হাড়ীতে প্রায় এক কাঠা চাল গলায় গলায় তুলে দিয়ে, রান্না
চড়িয়েছে। তাতে জল দিয়েছে-এক ফোটা ! খাবে তত একজন,
রায় চড়িয়েছে—দশজনের। তাই বা সেদ্ধ হবে কি করে? ঐ হাঁড়িতে
কি অত চাল ধরে? না ঐটুকু জলের কম? ভাত রাঁধবাে তে এমন
জ দেব যে আর দেখতে হবে না? চোখ বুজে সেদ্ধ হবে। কৈ
রাঁধুক দেখি আমার সঙ্গে?
ইতিমধ্যে শুধুৰী আসিয়া বেড়ার ফাক দিয়া উকি দিতে ছিল
**
নেত্য। দিদিমার এক কথা! ও কি কোনদিন একটা কল গড়িয়ে
খেয়েছে যে রাধৰে?

দ্বিতীয় দৃশ্য
রামের সুমতি
ঘরের ভিতর হইতে নারায়ণীর প্রবেশ
নারায়ণী। সুরাে খাবি আয়-রাত হয়েছে।
সুরধুনী। ও দিদি দেখবে এস, রামদা মাগাে ! একেবারে কঁচা ভাতগুলো
নামিয়ে, থালায় ঢালাে।
নারায়ণী। ঢলুক। তুই আয়-
দিগম্বরী। জামাইয়ের খাওয়া হয়েছে ?
নারায়ণী। হয়েছে। রাত অনেক হয়েছে মা, তুমিও একটু কিছু মুখে দাওগে-
দিগম্বরী। তুই আগে দুটো খেয়ে নে—
নারায়ণী। আমার ক্ষিদে নেই মা, খাব না।
দিগম্বরী। যা পারি দুটো খেয়ে নে নারাণী। ও তাড়সে অরের মত
হয়েছে, ওতে খাওয়া চলে।
নারায়ণী। না মা, তােমরা খাওগে--
দিগম্বরী। ভাত না খা দুখানা রুটি করে দি না হয় ?
নারায়ণী। না কিছু নয়, আয় সুরাে
সুরধুনীকে লইয়া নারায়ণীর এন
দিগম্বরী।
ও আবার কি কথা ! ক’দিন থেকে উপােষ করে রয়েছি,
আজ দুটো না খেলে হবে কেন ?
নেত্য। তুমি মিথ্যে বকে ময়ুছে দিদিমা। ঐখানে দাড়িয়ে সারারাত
চেঁচালেও মাকে খাওয়াতে পারবে না।
কাপড় লইয়া নেত্যর এমন
দিগম্বরী। জানিনে বাপু। নাগলে টাগলে একটু জরভাব হয়, তাই বলে
কি মানুষ উপােষ করে থাকে? আমরা তাে পারি না।

রামের সুমতি তৃতীয় অঙ্ক রামলালের গৃহের অংশ। রামলাল ঘরের ভিতর হইতে বাহির হইল রাম। কি বলিস্ ভােলা, আমার কি ক্ষতি হল? এই তো দিব্যি রেধে বেড়ে রাখলুম, এখনই গিয়ে খাব। কিন্তু আমায় কি করবে বলে, যারা আমায় আলাদা করে দিয়েছে—তারা যদি কেউ আমার দিকে আসে, তাহলে তাদের পা ভেঙ্গে দিবি ভােলা। সবই ত একরকম গােছগাছ, হয়েছে দা-ঠাকুর কিন্তু আমাদের একটা শিল নােড়া চাই যে- রাম। হাঁ, তাতে চাই। ( উচ্চৈস্বরে)—আমার শিল নােড় কৈ? আমি বাটনা বাবাে কিসে? শ্যামলালের গৃহের অংশ। নেত্যর সহিত নারাণীর প্রবেশ। নেতার হাতে একটি লণ্ঠন নারায়ণী। চেঁচামেচি কতে বারণ করে দে নেত্য, চাল, ডাল, বাসন- কোসন সংসারের যাবতীয় জিনিস গুছিয়ে দিয়েছি। শিল নােড় দুটো না থাকায় দিতে পারিনি। শিল নােড় কাল কিনে পাঠিয়ে দেবাে। নেত্য। (বেড়ার নিকট আসিয়া) মা বলছেন, শিল নােড়। কাল কিনে পাঠিয়ে দেবেন। রামলালের গৃহের অংশ রাম। ভােলা বলে দে-আমি কেনা শিলনােড়া নেব না।কাল দেবে? আজ আমি বাটনা বাবদ কিসে? ঐ ডাইনীবুড়ীর কথায় যায় আমায় আলাদা করে দিয়েছে তাদের দেওয়া জিনিষ আমি নিইনে- শ্যামলালের গৃহের অংশ। ঝড়ের ন্যায় দিগনীর বেশ দিগম্বরী। শুনলি ত নারাণী, গুলি? একি পায়ে পা তুলে ঝগড়া করা নয়?

দ্বিতীয় দৃশ্য রামের সুমতি ৮৭ নারায়ণী। (কাদিয়া) আর শুনতে পাচ্ছিনে মা—আর শুনতে পাচ্ছিনে। ও আজ তিনদিন পরে বাড়ী এসেছে—ওর যা খুশী করুক—তােমরা লাের বন্ধ করে দিয়ে ঘরে এস। নারায়ণ কাঁদিতে কাঁদিতে ঘরের ভিতর প্রবেশ করিলেন। দিগনীও চলিয়া গেলেন। নেত্য গঠনটি কমাইয়া দিয়া শ্যামলালের বারাণ্ডায় শয়ন করিল রামলালের গৃহের অংশ রাম। বুঝলি ভােলা, একটা বেড়াল মারতে গিয়ে এই রকম একটা পেয়ারা ছুড়ে ছিলাম। (পেয়ারা দেখাইয়া) ফস্কে গিয়ে বৌদির কপালে লাগলাে—আমি তাে ইচ্ছে করে মারিনি ? আচ্ছা, ভােলা পেয়ারাটা তাের কপালে ঠুকে দি-দেখ, তো কি রকম হয়- ভােলা। সেকি! দা-ঠাকুর নাগবে যে ! রাম। আচ্ছা থাক। আমি নিজেই দেখছি। (পেয়ারাটি বার বার নিজের কপালে ঠুকিতে লাগিল ) দেখ ভােলা, তুই একবার বৌদির কাছে যেতে পারি ? তেনারা হয়তাে এতক্ষণ সব শুয়ে পড়েছে দা-লাকুর ! রাম। আচ্ছা, তাহলে না হয় কাল সকালে যাস। গিয়ে বৌদিকে বলবি, -ঠাকুর আর এখানে থাকবে না। তাকে যদি দুটো টাকা দাও তত সে চলে যাবে। ভােলা। সেকি! কোথায় যাবে দা-ঠাকুর? রাম। তারকেশ্বরে। মামার বাড়ীতে। আমার এখান থেকেই যাওয়াই ভাল রে ভােলা, চলে যাওয়াই ভাল- ভােলা। তুমি কি সেখানে একা চলে যেতে পাবা দা-ঠাকুর? s

৮৮
রামের সুমতি
তৃতীয় অঙ্ক
রাম। পারবে, খুব পারবাে। তুই কাল বৌদির কাছ থেকে দুটো
টাকা চেয়ে এনে দিতে পারবি তো?
ভােলা। তা মাঠানের কাছে চাইলি হয়তাে টাকা পাওয়া যাবে। কিন্তু
তুমি শুধু শুধু চলে যাবা—আমি কেবল তাই ভাবছি-
রাম।
—আমার চলে যাওয়াই ভাল। খেয়ে-দেয়ে কাপড়-চোপড়টা
গুছিয়ে রাখিগে-তুই সকালবেলা বৌদির কাছ থেকে টাকাটা
চেয়ে এনে দিবি-বুঝলি?
ভােলা।' আচ্ছা দা-ঠাকুর তুমি যাও। শশাওগে—আমিও ততক্ষণ এই
থানটায় একটু গা গড়িয়ে নিই।
ৰামলা ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিল। ভােলা বাৱাতায় গামছা বিছাইয়া
শয়ন করিল। ধীরে ধীরে রজনী গভীর হইতে লাগিল
শ্যামলালের গৃহের অংশ। সুরধুনী চুপি চুপি প্রবেশ করিয়া দেখিল, নেত্য
ঘুমাইতেছে। সে ধীরে ধীরে বেড়ার ধারে গিয়া ডাকিল
সুরধুনী। ভােলাও ভােলা-
ভােলা। (ধমড়, করিয়া উঠিয়া) কে গাে?
সুরধুনী। চেঁচাসনে—চুপ ক—আমি।
তােলা। ও! তাই বল? সুরাে দিদি?
সুরধুনী। রাম-দা কোথায় ?
ভােলা। দা-ঠাকুর ঘুমুতে গেছে।
সুরধুনী। (কোচড়ের ভিতর হইতে কয়েকটি আম ও লিচু বাহির করিয়া)
দেখবাগান থেকে আম আর লিচু এসেছিল, তারই গােটাকতক
এনেছি—রেখে দে, কালকে রামকে দিল।
ভােলা বেড়ার অপর পায়ে হাত বাড়াইয়া সুরধুনীর নিকট
হইতে আম ও লিচু লাল

দ্বিতীয় দৃশ্য
রামের সুমতি
ভােলা। তা তুমি দিতে এয়েছ নিচ্ছি। কিন্তু কাল আর দা-ঠাকুর
এখানে থাকবে না।
সুরধুনী। সে কি! কোথায় যাবে ?
ভােলা। বাবার থানে। তেনার মামার বাড়ীতি-
সুরধুনী। রামদা বল্লে, চলে যাবে।
ভােলা। হ্যা। কত মানা করলাম-তা বল্লে, আমার এখানে না
থাকাই ভাল।
ঘরের দরজা খুলিয়া ধীরে ধীরে নারায়ণীর প্রবেশ
নারায়ণী। নেত্য-ও নেত্য!
ঘুম হইতে নেত্য ধরমড়, করিয়া উঠিয়া বসিল। নেত্যকে ডাকিতে দেখিয়া
সুরধুনী উঠানের মাঝে ভয়ে জড়সড় হইয়া দাড়াইয়া রহিল।
নেত্য। কে মা? এত রেতে যে? তুমি কি ঘুমুওনি?
নারায়ণী। না মা। রাম যে আজ তিনদিন বাড়ীছাড়া, আমি কি যুমুতে
পারি রে !
কাদিয়া ফেলিলেন
নেত্য। তা কি আর বুঝিনে মা? আজ তিনদিন কুটোটা পর্যন্ত মুখে
কাটনি।
নারায়ণী। রাম কি শুয়েছে ?
নেত্য। ছােটবাবুর তো অনেকক্ষণ সাড়া পাইনি মা।
নারায়ণী। দেখে আয়না মা, সে ঘরে আছে কিনা। আমি ততক্ষণ
এখানে একটু বসি।
নেত্য লণ্ঠনটা বাড়াইয়া লইয়া দু'এক পা অগ্রসর হইয়াই
ভয়ে চিৎকার করিয়া উঠল

রামের সুমতি
তৃতীয় অঙ্ক
নেত্য। কে গাে! (পরে সুরধুনীকে দেখিয়া) একি! সুরােমাসী!
এত রেতে এখানে দাড়িয়ে যে !
সুরধুনী। তাের পায়ে পড়ি নেত্য, কাউকে বলিসনে।
নেত্য। সে কি! রাত দুপুরে উঠোনের মাঝে একা দাড়িয়ে।
নারায়ণী। কার সঙ্গে কথা কইছি নেত্য ?
নেত্য। সুয়ােমাসির সঙ্গে
নারায়ণী। সে কি! সুরে। এখানে এত রাত্রে
সুরধুনী ছুটিয়া আসিয়া নারায়ণীর পায়ের কাছে বসিল
সুরধুনী। মাকে বলােনা দিদি।
তােমার দুটা পায়ে পড়ি।
নেত্য চলিয়া গেল
নারায়ণী। আমি জানিরে মুখপুড়ী—আমি জানি।
মার জন্যে শুধু
উঠোনের মাঝে বেড়া পড়েনি, আমাদের মনের মাঝেও বেড়া
দিচ্ছে।
সুরধুনী। রামদা কাল চলে যাবে দিদি
নারায়ণী। সে কি ?
সে কি? রাম চলে যাবে! কোথায় ?
সুরধুনী। তারকেশ্বরে। তার মামার বাড়ী
নারায়ণী। নেত্য, নেত্য ওখানে কি ভােলা আছে ?
রামলালের গৃহের অংশ
নেত্য। হ্যা মা, ভােলা ওখানে ঘুমুচ্ছে।
মিলানের গৃহের অংশ
নারায়ণী ।
ওকে ভাক্ততা নেত্য ?

দ্বিতীয় দৃশ্য রামের সুমতি রামলালের গৃহের অংশ নেত্য। ভােলা—ও ভােলাভােলা কি ঘুমুলি ? লাে। কেডা গাে ! উঠিয়া বসিল নেত্য। আমি নেত্য, মা-ঠাকরুণ তােক ডাকছে- ভােলা। মা-ঠান! তা এত রেতে যে? রামলাল ঘরের ভিতর হইতে বাহির হইল রাম। কার সঙ্গে কথা কইছি রে ভােলা? ভােলা। নেত্য। রাম। ভােলা বলে দে—আমার এদিকে যেন ওরা না আসে খালালের গৃহের অংশ নারায়ণী। বেশ, তাের ওদিকে কেউ যাবেনা! কিন্তু তুই কোথায় যাবি? মামলালের গৃহের অংশ রাম। তারকেশ্বরে- খামালের গৃহের অংশ নারায়ণী। ভােলা ভাঙবেড় ভাঙ—আমি ওদিকে যাব- মামলালের গৃহের অংশ রাম। তুমি আসবে বৌদি ? শ্যামলালের গৃহের অংশ নারায়ণী। হা রে হা-নইলে তুই যে চলে যাবি- রামপালের গহের অংশ আমি জানি গাে বৌদি, আমি জানি? তুমি কি আমাকে

রামের সুমতি
তৃতীয় অঙ্ক
আলাদা করে দিতে পার ? কখনাে পার না—এ বেড়া ত তুমি
দাওনি বৌদি-এ বেড়া দিয়েছে আমার দাদা-এ বেড়া আমি ভাঙতে
পারব বেদি—এ বেড়া আমি ভাঙতে পারবাে-
রামলাল বেড়া ভাঙ্গিয়া ছুটিয়া গিয়া নারায়ণীর বুকের মাঝে ঝাপাইয়া পড়িল
নারায়ণী। ওরে তােদের সংসারে তের বছর বয়সে এসে, তােকে যে
এতটুকু থেকে এত বড় করে তুলেছি, সেকি দূরে ঠেলে দেবার জন্যে
রে-সেকি
দূরে
ঠেলে দেবার জন্যে !
দিগম্বরী ঘরের ভিতর হইতে বাহিরে আসিয়া চোখ কপালে তুলিয়া
দিগম্বরী। তাই ত বলি, এত গণ্ডগােল কিসের! জামাই যে এতবড়
দিব্যিটা দিলে, সেটা ভেসে গেল বুঝি ?
নারায়ণী। ভেসে যাবে কেন মা? তার কথা ত আমি অমান্য করিনি।
তিনদিন খাইনি-খেতেও দিইনি।
দিগম্বরী। এই বুঝি, অমান্য করিনি ? যে দিব্যি দিয়েছে, তার
হুকুমটাও বুঝি একবার নিতে হবে না?
নারায়ণী। আমার হুকুম নেওয়া হয়েছে মা?
দিগম্বরী। আমি কচি খুকি নই নারাণী, হুকুম নিলি, আর আমি জানতে
পারলাম না-
নারায়ণী। তুমি কি করে জানবে না, কার কাছে কখন হুকুম নিয়েছি
মা! যার মুখ আছে, সেই দিব্যি দিতে পারে, কিন্তু—যাকে বুকে করে
এতটুকু থেকে এতবড় করতে হয়, সেই জানে হুকুম কোথা দিয়ে কেমন
করে আসে!
সাধারণ রঙ্গালয়ে তারকা চিহ্নিত অংশ পর্যন্ত অভিনীত হয়।
.

দ্বিতীয় দৃশ্য রামের সুমতি দিগম্বরী। বেশ। তবে দেওরকে নিয়েই সংসার কম্। এ বাড়ীতে আর আমি থাকতে পারব না—তা আজ তােক স্পষ্ট জানিয়ে দিলাম। নারায়ণী। আমিও এই কথাটাই তােমাকে মুখ ফুটে বলতে পারছিলাম মা, সত্যিই তােমার আর এখানে থাকা হবে না। মানুষ হােক আর অমানুষ হােক-শান্তি আমি কাউকে দিতে দেব না-ও আমার চোখে চোখে থাক্। আজ তুমি থাক, কিন্তু কাল চলে যেও। তমার খচর পত্র আমি মাসে মাসে পাঠিয়ে দেব রাম। না না। সেকি কথা বৌদি! ওঁরা কুটুমের মেয়ে! ওরা চলে যাবেন কি! না না ওঁরা থাকুন—তুমি দেখাে বৌদি-আমি আর কথাটা কইব না—আমার সুমতি হয়েছে—ওঁরা থাকুন-আমরা এক সঙ্গেই থাকুব—আমরা এক সঙ্গেই থাকব নেত্য। (হাসিয়া) তা ত’ থাকবেই-সুয়ােমাসি তােমায় মুকিরে মুকিয়ে খাওয়ায় সুর। না দিদি, নেত্যর সব মিথ্যে কথা রাম। না বৌদি, নেত্য ঠিক বলেছে—ঠিক বলেছো, ও আমায় খাওয়ায় নারায়ণী। (হাসিয়া) আমি জানিরে—আমি জানি। (দিগম্বরীর প্রতি) কি মা, যদি জামাই পছন্দ হয়তাে বল তাহলে দিগম্বরী। কি যে বলিস নারাণী, তার ঠিক নেই—এমন ছেলে আর পছন্দ হবে না—আমার চিরদিনই পছন—আমার যেমন আমলাল, তেমন রামলাল- নারায়ণীর ইঙ্গিতে রামলাল এখমে দিগী ও পরে নারায়ণীর পায়ের ধূলা লইল

SARAWAT .IBRARY
WAKARDAM-OW RAH
১৪
রামের সুমতি
তৃতীয় অধ
গােলমাল শুনিয়া শ্যামলালও ঘরের ভিতর হইতে বাহির হইন
শ্যামলাল। কি আবার খাল কেটে কুমীর আলে—
নারায়ণী। না গাে না—আমি সাগর সেচে মাণিক এনেছি।
যবনিকা
t 2 ৭১৪
#
প্রকাশক ও মুদ্রাক-গােবিন্দপদ ভট্টাচাৰ্য, ভারতবর্ষ প্রিন্টিং ওয়ার্কস
২০১১, কর্ণওয়ালিস্ট, কলিকাতা

প্রথম অভিনয় রজনীর সংগঠনকারিগণ ০ ০ ০ O * * * ৮ ০ ০ স ০ ০ ০ A কাহিনী অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নাট্যরূপ শ্রীদেবনারায়ণ গুপ্ত প্রযােজক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পরিচালক সতু সেন নাট্যনিয়ন্ত্রক সন্তোষ সিংহ সুরশিল্পী তারা ভট্টাচাৰ্য্য মঞ্চশিলী বৈদ্যনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কালীপদ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মণিমােহন চট্টোপাধ্যায় ব্যবস্থাপক বিনয়ভূষণ চট্টোপাধ্যায় প্রচার সচিব ইন্দুমাধব ভট্টাচাৰ্য্য হারমােনিয়ম ও সঙ্গীত শিক্ষক হরিদাস চট্টোপাধ্যায় ক্ল্যারিওনেট তিনকড়ি মাস চেলাে ক্ষীরােদ গাঙ্গুলী তবলা পূর্ণ দাস বেহালা কালীপদ সরকার পিয়াননা সুধীর দাস ট্রাম্পেট অভয় দাস করতাল কানাই দাস আলােক নিয়ন্ত্রক খগেন্দ্র দে, শঙ্কর ভট্টাচাৰ্য, মন্মথ ঘােষ, শৈলেন গুই, ক্ষুদিরাম দাস রূপ সজ্জাকর নৃপেন রায়, নিরঞ্জন ঘােষ, সুবােধ মুখখাঃ, কালী দাস, সত্যেন সৰ্বাধিকারী কেশব ঘােৰ মঞ্চ সজার কাখী সােম, ভুবন মাস, ভূষণ সামন্ত, গৌরী কুর্শী, অমূল্য দাস, কানাই দাস, বাদল, গােপাল দাস স ০ ০ ০ দ্রব্য নিয়ন্ত্রক পাত্র-পাত্রীগণ :: আমলাল রামলাল ডাঃ নীলমণি হালদার গগাবিন্দ ভােলা রাখহরি •• ০ ০ ০ ভূতে যদু মােড়ল "ভজহরি হরিহর কাল সাতরা জহর গাঙ্গুলী শ্ৰমান্ বুদ্ধদেব মিত্র শ্ৰীসন্তোষ সিংহ মান্ সনৎ মুখােপাধ্যায় তুলসী চক্রবর্তী শ্রীসন্তোষ দাস বিজয়কার্তিক দাস আও বােস শ্রীজীবন চট্টোপাধ্যায় শ্রীহরিধন মুখােপাধ্যায় ঐকমল দত্ত শ্রীরামকৃষ্ণ সরকার লমী বন্দ্যোপাধ্যায় তুলসী পাল সত্যেন সৰ্বাধিকারী বিশ্বনাথ সােম ৫ । পরাণের ছেলে ক্যাবল ০ ০ ০ নৈক রােগী বৈরাগী ও কৃষক নারায়ণ ০ মতী মুহাসিনী এমতী বেরাণী মতী রমা ব্যানার্জী মতী রাধারাণী সুরধুনী নেতলী

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Ramer Sumati

Author
Chattopadhyay, Saratchandra
Title
Ramer Sumati
File name
Ramer Sumati
Text
OCR done
Citation
1944
Published
2009/08/27
Publisher
Gurudaschatterjee And Sons,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
108
Library
Makardah Saraswat Library, Howrah
Classification
Drama. Plays.
Keywords
Drama- Ramer Sumati
DLI number
513147
Barcode
4990010020152.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
Bqe2gIhVkpZ
Download PDF

Ramer Sumati