Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Jatiya-mangal

Hak,mohammad Mojammel · 2009/11/30

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

জাতীয়-মঙ্গল।
মহম্মদ মােজাম্মেল হক প্রণীত
মূল্য ছয় আনা।

প্রকাশক--
মহম্মদ আজিজুল হক।
৬১ ও ৬২ নং বহুবাজার ষ্ট্রীট, কলিকাতা ;
কুন্তলীন প্রেসে
শ্রীপূর্ণচন্দ্র দাস দ্বারা মুদ্রিত।

নিবেদন। “জাতীয়-মঙ্গল” প্রকাশিত হইল। ইহার “মঙ্গল- আহ্বান,” “নির্জীব বাঙ্গালী” এবং “ছুটগাে আজিকে তবে” এই তিনটি কবিতা যথাক্রমে “সােলতান” ও “ইস্লাম- প্রচারকে” ইতঃপূর্বে প্রকাশিত হইয়াছিল। বর্তমানে আবশ্যক বােধে উহা কিঞ্চিৎ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত করিয়া দিয়াছি। এই পুস্তক আমাদের সমাজের বিশুদ্ধ হিতকামনায় লিখিত হইয়াছে। ইহাতে কোন প্রকার সামাজিক দ্বন্দ্বের ভাব মনে রাখিয়া কিছু লিখি নাই। যাহারা প্রকৃত সমাজ- হিতকামী, তাহারা সমাজের বর্তমান অবস্থার প্রতি লক্ষ্য করিয়া, আশা করি, আমার প্রাণের বেদনা হৃদয়ঙ্গম করিতে পারিবেন। বিনীত নিবেদন ইতি। ভােলা, আশ্বিন, ১৩১৬ : মহম্মদ মােজাম্মেল হক।

No text on this page.

সূচী
বিষয়।
পৃষ্ঠা।
১
৭
১৭
২৩
| ০ ০
* *
উত্থান-গীতি
কি ফল লভিবে ঘুমি ?
চলরে তাের এখনি
মঙ্গল-আহ্বান
নির্জীব বাঙ্গালী
আজকে তােরা চল্ :
আয় রে তােরা আয়
জাতীয় সঙ্গীত
আর কবে তুমি উঠিবে ভাই?
আজকে তােদর চাই
বারেক আজি চরে
‘দাও’ বলে হাত পেতােনা
ছুটগো আজিকে তবে
৪৬
৪ ৫
। th
৭০
•••

No text on this page.

জাতীয়মা

No text on this page.

জাতীয়-মঙ্গল। উত্থান-গীতি। ওই শােন ওই সুর- ভরেছে বিশ্বপুর । দেশ মহাদেশ--আকুলি’ অশেষ, সহস্র জীবন,-সাগর সুদূর ! আয় ভাই আয় কে আছ কোথায়। সে সুর নিখিল প্লাবি’ চলি যায়, আমরা রহিব পড়ে’ কি ধরায়, এমন মরণাতুর ? -----

জাতীয়মঙ্গল
আয় না রে ভাই, আয় চলে আয়,
উত্থানের গীতি গাইয়া সবায়,
দেখুনা, দর্পে অই চলে যায়
ধরার সকল জাতি।
প্রাণে নিয়ে আশা-দেহে নিয়ে বল,
ছেড়ে হা-হুতাশ, মুছে’ অশ্রু-জল,
দেখু চেয়ে দে যত নর দল
ছুটেছে উৎসাহে মাতি।
যাদেরে কখনাে জানেনিক ধরা,
মৃত সম চির আছিল যাহারা,
দেখ চেয়ে দেখু
উঠে আজি তারা
সকলে সবেগে ধায়।
“দুৰ্বল” যাদের নামের ভূষণ
বলিয়া জানিত নিখিল ভুবন,
দেখু চেয়ে দে এ শুভ লগন
তারাও ছাড়েনি হায়।

জাতীয়মঙ্গল
এই কৰ্ম্ম-যুগে অলস রহিলে,
অন্ন, সমাদর ভাগ্যে নাহি মিলে,
শুধু মিলে ঘৃণা অনন্ত অখিলে,
এ তত্ত্ব বুঝে’ছে তারা,
বুঝিয়াছে আরাে, চিরদিন তরে
সবে অবহেলা-অপমান করে,
কাহারাে করুণা হয় না অন্তরে,
ঢালিলে নয়ন-ধারা !
তাই তারা দেহ্ অই দলে দলে
ছুটিয়া কেমন উল্লাসে সকলে
মিলিছে আসিয়া একছত্র তলে
বচিয়া থাকিতে ভবে,
যত দিন দেহে থাকিবে জীবন
বাঁচিতেই হবে, একথা কখন
তােদের মতন চির বিস্মরণ
হয়েছে তাহারা কবে?

জাতীয়মঙ্গল
তাই দেখ মিলে শিশু বৃদ্ধ দল,
জড়তার স্থানে নিয়ে নব বল,
দুৰ্বল সমাজ করিতে সবল
উৎসাহে ছুটেছে সবে,
কাহারাে চেষ্টা না হয় বিফল,
তাদেরাে প্রয়াস পাবে শুভফল,
দেখিবি দেখিৰি শী এ দল
গণ্য হইবে ভবে।
ততাদের জড়তা দেখে হাসি পায়,
এখনো যে ঘুম ভাঙ্গিলনা হায়,
এশুভ লগন হারালি হেলায়
বুঝিবা আপন দোষে।
জানিবি নিশ্চয়, হারালে সুযােগ
তােদের কপালে চির দুখ ভােগ
হইবে; তখন, মিছে হবে শােক—
মিছে কাদা নিজ রােষে
s

ও জাতীয়মঙ্গল শিক্ষা-আন্দোলন হইল যখন, তখনাে ছিলিরে নিদ্রা-মগন, তাহারি কুফল ভুগি এখন- দেখেও দেখি না রে, --- “কোথা রবি জ্বলে কেবা আঁখি মেলে” বলিয়া বিভাের—ঘুমে অঙ্গ ঢেলে, হারাইলি হায় সব অবহেলে, এখন,পরের দ্বারে। তােরা তত কখনাে নহ চির হীন, ততাদের গরবে ধরা একদিন গৌরব-দীপ্ত ছিল ;-এত দীন হইলি কেমনে ভাই? ভাবিয়া দেখিলে পাইবি দেখিতে, সে উৎসাহ-কণা নাহি ধমনীতে— সে আকাঙ্ক্ষা নাই দুর্দশা নাশিতে, এ দশা হয়েছে তাই।

জাতীয়মঙ্গল
হয়ে শ্রেষ্ঠ জাতি দীন হীন বেশে,
তৃণসম কোথা গিয়েছি ভেসে।
আর কতকাল কাটাবি রে হেসে
হইয়ে মৰ্যাদাহীন ?
আর ভাই আর বৃথা কালক্ষয়
করিবার আর নাহিরে সময় ;
অলসের আর জানিবি নিশ্চয়
ধরায় র’বে না চিন্।
তাই বলি নব তেজে পূরি’প্রাণ
আয় ছুটে আয়, আয় কোটি প্রাণ,
গাইয়া মঙ্গল উখানের গান,
জড়তা করিয়া দূর।
তাহলে দেখিবি কিছু দিনে আর
মঙ্গল-আলা জ্বলিবে আবার,
হাসা’য়ে তােমার পুণ্য-আগার,
বিভাতি’ বিশ্বপুর!

কি ফল লভিবে ঘুমি’?
ঘুমন্ত জগৎ
অই দেখ ভাই,
আকাশ রঞ্জিয়া
উঠিছে তরুণ রবি,
চেতনা লভিয়া
ধরে’ছে নূতন ছবি !
সবার দুয়ার
খুলিয়া গিয়াছে,
শিশুরা ছাড়িছে কোল,
উষার পরশে
ধরে’ছে ‘মা-মা-মা’ বােল!
তােমার দুয়ার
রুদ্ধ কেবল
নিদ্রা-কাতর তুমি,
ছি! ছি! একি ভাই তােমার সাজে?
কি ফল লভিবে ঘুমি ?
বুকের খােকাও
৭

জাতীয়মঙ্গল
অই দেখ ভাই
সবার গাে-শাল
মুক্ত হয়েছে কবে,
হরষে মাতিয়া
তৃণ দূর্বাদল
খাইছে গােধন সবে।
তােমার গােধন
গােশালে কুদ্ধ,
তব আগমন মাগি
রহিছে দাড়ায়ে হতে বহুক্ষণ
মুক্ত হ’বার লাগি’!
লােকের নিকট
অলস বলিয়া
ত্যাখ্যা পাইবে তুমি,
ছি। ছি! একি ভাই তােমার সাজে,
কি ফল লভিবে ঘুমি’?
অই দেখ ভাই, তােমার পশী
ব্যস্ত হইয়া উঠি,
সবার আগে
ক্ষেত্রে গিয়াছে ছুটি।
বৃষভ লইয়া

জাতীয়মঙ্গল " তাহার ক্ষেতে পড়েছে লাঙ্গল- সজল নদীর তীরে, শুধু তব ক্ষেত চির তৃণময় রহিবে পড়িয়া কি রে ? উষার আলােকে উঠিবে হাসিয়া কর্ষিত তার ভূমি, ছি! ছি! একি ভাই, নিদ্রা-কাতর এখনাে রহিবে তুমি? অই দেখ ভাই, উষার আলােকে শিশুরা খেলিছে সুখে, তােমার শিশু কি এখনাে আঁধারে রহিবে শুষ্ক মুখে ? প্রভাত-সমীরে খেলিয়া সকলে শরীরে পাইবে বল, তােমার শিশু কি করিবে হা! হীনবল। রুদ্ধ রাখিয়া

জাতীয়মঙ্গল
কিছু দিনে, তারা
হইবে মানুষ,
হাসা’য়ে আপন ভূমি,
ছি! ছি! একি ভাই,
রুদ্ধ রাখিবে
তােমার শিশুটি তুমি?
অরুণ-কিরণে
অই দেখ ভাই,
ছাইয়া গিয়াছে ধরা,
এখনাে যে তুমি
নিদ্রা-অলস
জীয়ন্তে আছ মরা!
যত গৃহকোণ
কিরণে ভাসে
আঁধার তােমার গেহ,
সবার এখন
তােমারি অসার দেহ!
সবাই এখন
ফুল পরাণ,
নির্জীব শুধু তুমি !
ছ! একি ভাই তােমার সাজে,
কি ফল লভিবে ঘুমি ?
সতেজ শরীর
---
১০

জাতীয়মঙ্গল,
উষার বায়ু
।
অই দেখ ভাই, মুক্ত দুয়ার,
সবারি ; তােমার হায় !
পশে গৃহে
উষার বাতাস,
এখনাে যে তমসায় !
বাড়ায় আয়ু,
স্বাস্থ্যের মধু হাসি !
তােমার জীবন কাটিবে এমনি
মরণেরে ভালবাসি’?
এখনাে যে তব পড়িয়া রয়েছে।
উষর—বিশাল ভূমি,
ছি! ছি! একি ভাই, নিদ্রা-কাতর
এখনাে রহিবে তুমি ?
অই দেখ ভাই, সবার আঙ্গন
অমল-মার্জিত কবে,
নবীন তেজে
যে যার কাজে
চলিয়া গিয়াছে সবে।
১১

জাতীয়মঙ্গল
বিশ্বজগৎ
কৰ্ম্মের ভূমি--
পােহা’তে, হের, রাতি,
কৰ্ম্মের ওই
মহা কোলাহলে
উঠেছে বিশ্ব মাতি’!
যে যার কৰ্ম্ম
লইয়া শিরে
ব্যস্ত সবাই কাজে,
ছি! ছি! একি ভাই, এখনাে নিদ্রায়
রহিবে গে কোন্ লাজে?
অই দেখ ভাই, ভরি’ ভাড় ভাড়
নবনী, দুগ্ধ, ক্ষীরে
গােয়াল ছুটেছে
কৰ্ম্মস্থলে
বস্তু বাঁধিয়া শিরে।
করাত লইয়া
সূত্রধরেরা
করিছে কাপাত,
আগুন জ্বালায়ে হাপরে, কামার,
নেহায়ে দিয়েছে হাত;

জাতীয়মঙ্গল
কপাট তুলেছে
--
মুদী পশারীরা
আপন বিপণি-মাঝে,
ছি! ছি! একি ভাই,
এখনাে অলস
তােমার থাকা কি সাজে?
অই দেখ ভাই, বিদেশ হইতে
শত শত পােত আসি”
তােমার নদীতে নােঙ্গর ফেলিয়া
রয়েছে সকলে ভাসি,
তােমার ক্ষেতে যে ফলেছে ধান
বাঁচাতে তােমার প্রাণ,
নােঙ্গর তুলিছে-
পালেতে দিতেছে টান্।
তুমি যে হয়েছ ধনের কাঙ্গাল
জন্মি রতন-মাঝে ।
ছি! ছি! একি ভাই, দেখেও দেখ না--
বেঁচে আছ কোন কাজে?
তাহাই ভরিয়া,

জাতীয়মঙ্গল
অই দেখ ভাই, বিলাস-পণ্য
আনিয়া যে অগণন,
তােমার দুয়ারে সাজায় দোকান
জগতের যত জন ।
যে সব অতুল
প্রদানে তােমার ভূমি,
তাই দিয়ে কি না
যত্নে কিনিছ তুমি!
রত্ন মাণিক
মাটির পুতুল
অপরে হইল
কুবের-সমান
জন্মে’ও মরু মাঝে,
ছি! ছি!—আর, তুমি রহিলে মূখ
এমন ঘৃণিত লাজে।
অই দেখ ভাই,
তােমার বাজারে
তব দ্রব্য ঠেলে রেখে,
তােমারই ভাই পরের জিনিষ
কিনিছে আপনি দেখে।
১৪

জাতীয়মঙ্গল
তােমার পণ্য
বিক্রীত না হলে
উপােস থাকিতে হবে,
তাহা ত তােমার আপন ভ্রাতা
ভাবেনা কখনাে কবে!
না ফুটায়ে তার অন্ধ-আঁখি,
জ্ঞান-হৃদয় মাঝে,
ছি! ছি! একি ভাই, এখনাে অলস
রহিয়াছ কোন্ লাজে?
করিতে গৃহেরে
উঠ তবে ভাই, উঠগাে এখন
জড়তা কর গাে দূর,
বাঁধ গাে কটি
রতনে ভরপুর।
তােমার শিল্পে আছে যে শক্তি
জান না কি তুমি তাহা ?
তােমার ভূমি
রত্ন-প্রসবিনী
দেখেও দেখ না আহা!
১৫

জাতীয়মঙ্গল
আজি তবে ভাই, এই কর পণ
চুইয়া তােমার ভূমি,
স্বীয় সুমঙ্গল
জাতীয় মঙ্গলে
পরাণ সঁপিলে তুমি।

চলরে তােরা এখনি।
ওরে, 'ওরে ! তােরা আপন আলােকে
আলােকি’ নিখিল ধরণী,
চলরে, চরে, চরে সবে,
চলরে তােরা এখনি।
নিদ্রা যে আর নাহিক সাজে,
রহিস্ নে আর মিথ্যা কাজে,
নববৎসাহ নব আশায়
নাচুক তােদের ধমনী।
চলরে তােরা এখনি।
২
১৭

জাতীয় মঙ্গল মানুষ-সাজে সবাই সেজে, ছুট রে আজি নবীন তেজে, উল্লাসে তাজ উঠুক হেসে সকল ভুবন অবনী । চরে তােরা এখনি। দেহ্ চেয়ে অই ধরার পানে, মত্ত সবাই আশার গানে; তােরি শুধু নিরাশ প্রাণের উঠবে রে হা-হা ধ্বনি? চলরে তাের এখনি। সবাই সতেজ ফুল-পরাণ, সবাই গায় মঙ্গল-গান, তুই রে শুধু রইবি অলস- বইবি কি ভবের গ্লানি ? চলরে তােরা এখনি।

জাতীয় মঙ্গল- আয় সেজে আয় মানুষ-সাজে, আয় ছুটে আয় আপন কাজে, জাগাও পরাণ ভুবন-মাঝে- চালাও আশার তরণী । চরে তােরা এখনি । গাওরে অমিয় আশার গীতি ঘরে ঘরে যা’ উছলি’ প্রীতি, আনন্দময়--সন্ধ্যা সকাল --- হক তব দিন রজনী চরে তােরা এখনি পাঁচজন ঘরে আছ যারা ভাই, একটি তাদের আসিলে যে, তাই দেশের মাঝে দশের কাজে--- মানিব মাথার মণি। চলরে তাের এখনি।

জাতীয়মঙ্গল
বৃথা কাজে শুধু যাপিলে সময়,
এ সমাজ আর জাগিবার নয় ;
শিখ রে শিল্প উৎসাহে সবে
যত পুরুষ রমণী।
চরে তােরা এখনি।
বিদ্যার বিমল আলােক দিয়া
আলােকিত কর ললনার হিয়া,
যেন হতে পারে অচিরে সবাই
প্রকৃত মানব-জননী।
চরে তােরা এখনি।
শিশু-হৃদে মাতা উপদেশ ছলে,
যে উৎসাহ-বীজ বপে কুতূহলে,
তাহার সুফল ফলে চির দিন
এ নহে স্বপন-কাহিনী।
চলরে তােরা এখনি।
২০

জাতীয়মঙ্গল
শিক্ষিত জননী বিনে কভু আর,
শিশুর সুশিক্ষা হবেনা ক সার,
স্ত্রী-সুশিক্ষার বিহিত বিধান
কররে সমাজ আপনি।
চলরে তােরা এখনি।
গিয়ে মাঠে মাঠে কৃষক-দুয়ারে,
উখানের গান গেয়ে সমস্বরে,
জাগারে তাদের অবশ পরাণ----
নাচারে তাদের ধমনী।
চলরে তােরা এখনি।
জাগিলে বিরাট কৃষক-মণ্ডলী,
দেখিবি তখন ছুটিবে বিজলী
এ চির-রুগ্ন-সমাজ-দেহে,
আবার ফুটিবে লাবণী ।
চলরে তােরা এখনি।

জাতীয়মঙ্গল
একেলা জাগিলে ফল নাহি হবে,
জাগা’তে হইবে শিশু বৃদ্ধ সবে,
সকলের মাঝে রয়েছে মোদের
আশার রত্ন-খনি।
চরে তােরা এখনি।
দেখিবি তাহলে অচিরে তখন,
হাসিবে আবার মােসেম-ভবন,
পুনঃ মােস্লেম-পূত-গৌরবে
পূরিবে সকল ধরণী।
চরে তােরা এখনি ।
বুঝে’ শক্তি নিজ-নিজ মুহা বল,
কর আপনারে জগতে সফল,
আজি হতে হও জগতে গণ্য---
স্মরিয়ে আল্লা গণি।
চলরে তােরা এখনি।
২২
২

মঙ্গল-আহ্বান।
অই শুন বাজিতেছে মঙ্গল-বাঁশরী,
আসিয়াছে তব ভ্রাতৃগণ
মঙ্গল-আহ্বান-গীতি শােনা’তে তােমারে,
করিতে তােমারে সচেতন।
বহু দিন জড়বৎ ছিলে যে নিদ্রায়,
নিদ্রা তব আর নাহি সাজে,
অলস বলিয়া তােমা নিন্দিবে জগৎ
মগন রহিলে বৃথা কাজে!

জাতীয়মঙ্গল
তােমাকে নিদ্রিত দেখি’ সমস্ত জগৎ
ওই শােন করি’ উপহাস
আপন আপন কৰ্ম্ম গুছাইছে সবে,
তােমার শুধুই—উপবাস !
আরাে ঘুমে থাকিবার আছে কি সময় ?
অলসের কোথা ভবে স্থান,
অতীত গৌরব স্মরি’ মনে মনে বড় হওয়া,-
সে কেবল বৃথা অভিমান।
“বাদশাহের জাতি মােরা—বিশ্বজয়ী কভু
ছিনু মােরা এ বিশ্ব ধরায় ;
মােদের হুঙ্কার-রবে কাঁপিত মেদিনী
সন্ত্রাসিত করিত সবায় !
বিশ্ব জুড়ে’ মােসুেমের রাজ্য ছিল কত
তা’রাইত শাসিত ধরায়।”
বলিয়া গরবে স্ফিতি-মূখতা কেবল,
দীনতা তাে ঘুচিবে না তায় !
২৪

জাতীয়মঙ্গল “জ্ঞানের-মন্দিরে মাের করি’ বিচরণ— আহরিয়া জ্ঞানের ভাণ্ডার, বিতরিয়া তাহা কত বর্বর জাতিরে, চিত্তশুদ্ধি করেছিনু তার; মােস্লেম-সভ্যতা-ফল বিজ্ঞান, দর্শন করেছিল স্তম্ভিত ধরায়!” বলিয়া গরবে কিছু নাহি ফলােদয়, এ মুর্থতা ঘুচিবে না তায়! -এ- “চারু শিল্পে মােসুেমের সমকক্ষ কেহ নাহি ছিল এ বিশ্ব মাঝারে, “আলহাম্বু, তাজ’ আর ‘ওমর-মসজিদ নিদর্শন আছে বিশ্বাগারে ! কত শত নিদর্শন কে করে গণন-- আরো আছে বিশাল ধরায়”- বলিয়া গরবে কিছু নাহি ফলােদয়, শিল্পকলা ফিরিবে না তায়।

জাতীয়মঙ্গল
“মােসেম-বাণিজ্য-তরী সিন্ধু-বক্ষ চিরি
ঘুরিত বিশ্বের চারিধার,
অজ্ঞাত, অশ্রুত কত রাজ্য, জনপদ
সেই সঙ্গে হয় আবিষ্কার।
ধনরত্নে পূর্ণ ছিল মােসম-ভাণ্ডার--
ধনী তারা ছিল এ ধরায়”
বলিয়া গরবে কিছু নাহি ফলােদয়,
এ দৈন্য তাে ঘুচিবে না তায়!
স্বীয় ভুজবলে
“মােয়েম, বীরত্বে মহা,
করেছিল এ বিশ্ব বিজয়,
সে বীরত্বে অগণিত রাজার মুকুট
পদে তা’র বিলুষ্ঠিত হয়।
তাহাদের ভীম তেজ-অতুল বিক্রমে
সশঙ্কিত থাকিত সবায়।”
বলিয়া গরবে কিছু নাহি ফলােদয়,
এ ভীরুতা ঘুচিবে না তায়!

জাতীয়মঙ্গল
“নেতৃ-আবাহন শুনি’ বিক্ষিপ্ত সকলে
আসিয়া হইত একত্রিত,
আবার আদেশ শুনি’ যে যাহার কাজে
হর্ষ ভরে হ’ত প্রধাবিত ;
কেবল একতা-বলে করেছিল তারা
পরাজয় রাজ্য সমুদায়”
বলিয়া গরবে কিছু নাহি ফলােদয়,
এ বিবাদ ঘুচিবে না তায়!
“ধনী ছিনু, জ্ঞানী ছিনু, পুনঃ উদ্ধারিব
বিলুপ্ত মােদের জ্ঞান, ধন”
বলিয়া ছুটগাে যদি এ নব প্রভাতে
করিয়া ভীষ্মের মত পণ,-
একেলা ছুটিলে কিছু ফল নাহি হবে-
ছুটিতে হইবে কোটি প্রাণ,
নিশ্চয় জানিও তবে ভাগ্য-লক্ষ্মী আসি’
করিবেন শিরে অধিষ্ঠান।
২৭

জাতীয় মঙ্গল
উদ্ধারিতে শিল্পকলা, বিলুপ্ত বিভব,
ভীরুতা ঘুচাতে চিরতরে
চাহ যদি, চুট আজি এ শুভ লগনে,
সকলে মিলিয়া হভরে।
দীনতা ঘুচাতে যদি চাহ আর বার,
হীনতা ঘুচাতে চির তরে,
এস ভাই মােসুেমের অযুত সন্তান,
ছুটে’ আজি এস হর্যভরে।
সমাজ-শরীরে যত কলঙ্কের রেখা
আছে, তাহা মুছিয়া যতনে,
কলঙ্ক-বিহীন করি’ সমাজ-গঠন
কর আজি এ শুভ লগনে।
অপবিত্র যাহা কিছু যত্নে করি’ দূর,
পবিত্রতা আনহ তথায়,
মনে রেখাে, কপটতা আশ্রয় করিয়া
কোন জাতি উঠেনি ধরায়।
৬

জাতীয়মঙ্গল
নিজেদের মধ্যে যত অপ্রিয় বিবাদ
মিটাইয়া এ শুভ প্রভাতে,
এক লক্ষ্যে রাখি’ প্রাণ, হও অগ্রসর
সকলে ধরিয়া হাতে হাতে ;
অর্ধচন্দ্র-বিখচিত এক ধ্বজাতলে
হয়ে আজি সবে একত্রিত,
স্বজাতি ও স্বদেশের মঙ্গলবিধানে
প্রাণ মন কর নিয়ােজিত।
“মােস্লেম-জাতীয়-ব্যাঙ্ক” করহ স্থাপিত
ঘুচাইতে এ চির দীনতা,
গ্রামে গ্রামে স্থাপি’ উচ্চ বিদ্যার আগার
দুর কর এ চির মূখ।
“বয়তুলমালের”* কর তহবিল স্থাপন
গ্রামে গ্রামে প্রতি ঘরে ঘরে,
ঘুচাইতে চির দৈন্ত-চির হতমান,
আজি এই মঙ্গল-বাসরে!
* অনাথের প্রতিপালন, লােকশিক্ষা প্রভৃতির জন্য সাধারণের ধনাগার।
২৯

জাতীয়মঙ্গল
“এ উত্থান-যুগে উচ্চ-শিক্ষা ব্যতিরেকে
কোন কাজ হয় না সাধিত,”
বুঝিতে এ মন্ত্র আজি সকলে তােমরা
এক প্রাণে হও চেষ্টান্বিত।
“রাজনীতি, অর্থনীতি, কৃষি, শিল্পকলা,
বিজ্ঞান, বাণিজ্য-শিক্ষা-তরে”
দেশে দেশে ছেলেদের দলে দলে দলে
পাঠাইয়া দাও হর্যভরে !
জাতীয় শিক্ষার করি’ সমিতি স্থাপন
প্রতি বর্যে প্রত্যেক নগরে,
নিজেদের সন্তানের সুশিক্ষার ভার
তুলে’ লও আপনার করে ;
যে ভাবে সুশিক্ষাদান করিলে তাদের
হইবেক অভীষ্ট সাধন,
সেই শিক্ষাদান-হেতু হও চেষ্টান্বিত,
উপায় করহ উদ্ভাবন ।
০

জাতীয়মঙ্গল
তাহলে দেখিবে ভাই, অচিরে তােমার
অভীষ্ট হইবে সংসাধন,
মানুষ হইবে তুমি,মুগ্ধ হবে দেখি’
জগতের নরনারীগণ।
কর্মে নিয়ােজিত হয়ে এক মন প্রাণে
যদি কর কঠোর সাধনা,
তবে বল কেন ভাই পূরিবে না তব
হৃদয়ের এ চির বাসনা ?
পূর্ণিয়া জেলাতে যেই শিক্ষার সমিতি
কিছু দিনে হইবে মিলিত,
কৰ্ম্মোৎসাহ নিয়ে প্রাণে দলে দলে সবে
সেই দিকে হও প্রধাবিত ;
একত্রিত হয়ে সবে দেখাও জগতে
মােেেমর যুক্ত শক্তি-বল,
নির্জীব মােসুেমে যে গাে হলে একত্রিত
পদভরে কাঁপে ধরাতল
৩১

জাতীয়মঙ্গল
সকলে মিলিয়া সেথা উন্নত শিক্ষার
কর গিয়ে উপায় বিধান,
যাহাতে বাঙ্গালা জুড়ি’ মােসেম-সন্তানে
করিবারে পার উহা দান।
যাহাতে নির্জীব প্রাণ হয় সঞ্জীবিত
বঙ্গের মােসুেম সবাকার,
চির অলসতা ছাড়ি’ যেন গাে তাহারা
আঁখি মেলি’ উঠে আর বার।

নির্জীব বাঙ্গালী। নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি আয়। মায়ের আদুরে ছেলে, একবিন্দু ব্যথা পেলে, ননীর পুতুল সম ছুতে’ গলে যায় ! নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি আয়। মুখে বুলি সৰ্ব্বদাই, “লেখাপড়া সে ত ছাই- ইংরেজী পড়িলে শেষে স্বর্গ পাওয়া দায়!” নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি আয়। দশ বর্ষ যায় চলে, তবুও দুধের ছেলে। কি জানি আলােক দেখে পাছে ভয় পায় নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি আয়। বাঙ্গালার মুসলমান।

জাতীয়মঙ্গল
বার বর্ষ ব’স হলে,
গিয়ে গ্রাম্য পাঠশালে—
‘বানান শিখিতে দু’টি বর্ষ চলে যায়।
নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি আয়।
“বর্ণশিক্ষা” হলে শেষ,
কেহ ছাড়ি’ নিজ দেশ,
উচ্চশিক্ষা অভিলাষে অন্য দেশে যায়।
নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি আয় ।
কেহ “শিশুশিক্ষা” পড়ে
মােব’ তালাস করে
পড়িতে পারসী ভাষা—“বোস্তা” “গােলেস্তায়
নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি আয়।
মােক্তবের শিক্ষা হলে,
কেহ হুল্লীবায় চলে
সাজিতে “মৌলবী গুরু”পড়ি’ মাদ্রাসায়।
নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি আয়।
৩৪"

জাতীয়মঙ্গল শেষে করে’ “উলা” পাশ, গলে পরে’ দৈন্যাস “মোল্লা-দোপেয়াজী”* সেজে’ ভিক্ষা মেগে’ খায় । নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি আয়। ইংরেজী শিক্ষার তরে, কেহ যায় দেশান্তরে, দু’দিন ‘এ’‘বি’—‘সি’ পড়ে’ বাড়ী ফিরে পায় ! নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি আয়। সৰ্ব্ব বিদ্যা হলে শিক্ষা, কারাে ভাগ্যে জুটে ভিক্ষা, কেহ নিরুপায় হয়ে চুরি করে খায়। নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি আয়। •• সমাজহিত-উদাসীন, কৰ্ম্ম-কুষ্ঠ, শ্রমকাতর ও ভিক্ষোপজীবি সবীগণকে লক্ষ্য করিয়াই লিখিত; ইহাদের দ্বারা সমাজের অশেষবিধ দল সাধিত হইয়া থাকে। পক্ষান্তরে, সমাজহিত-পরায়ণ, আত্ম- শীল ও আত্ম-মৰ্য্যাদাজ্ঞানসম্পন্ন মৌলবী সাহেবগণ আমাদিগের { শ্রদ্ধা ও ভক্তির পাত্র। ৩৫

জাতীয়মঙ্গল
একান্ত না পেলে ভাত,
মাথে পড়ে বজ্রাঘাত,
তখন ডাকাতি করে বেড়ি পরে পায়।
নির্জীৰ বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি আয়।
ব্যবসায় বলিহারি,
কেহ করে “চৌকিদারী”-
অতি ভাগ্য যার সেই “দফাদারী” পায় ।
নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি আয়।
কেহ রুটী বেচে ঘুরি’,
কেহ করে “মুটেগিরি”,
কেহবা “খালাসী” হয়ে “জঘ” পরে গায়।
নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি আয়।
লম্বা চৌড়া তেরি কেটে,
বাবু পেড়ে ধুতি এঁটে,
কেহবা “কোচম্যান” হয়ে তুরঙ্গ হাঁকায় ।
নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি আয়।

জাতীয় মঙ্গল
সাহেবের খানা বেঁধে,
মাথাতে পাগড়ী বেঁধে,
কেহবা “আদালী” হয়ে পিছু পিছু ধায় !
নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি আয়।
কেহ আদালতে গিয়ে,
“চাপরাশটি” এঁটে দিয়ে,
সগর্বে হকিয়া বলে—“উয়ে হাজির হায় !”
নির্জীব বাঙ্গাণী তােরা কে দেখিবি আয়।
কেহ “এপ্রেন্টিসী” নিয়ে,
পর-পদানত হয়ে,
ভাগ্যক্রমে মাঝে মাঝে লাথি গুতো খায় !
নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি আয়।
জমিদার-ছেলে যত,
বিলাস, ব্যসনে রত,
ছড়ি, ঘড়ি, চশমা নাকে দিব্য শােভা পায়
নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি আয়।
৩৭

জাতীয়মঙ্গল
পরহিতে প্রাণ দিয়া,
কেহ মরে চেঁচাইয়া,
কেহ ধৰ্ম্ম-বক্তা হয়ে বক্তৃতা ফাটায়।
নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি তায়।
{
“আঞ্জুমনে ইসলামিয়া,
“আঞ্জমনে খয়রাতিয়া,”
টাইটেলে ভূষিত সভা যথায় তথায়।
নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি আয়।
“উদ্দীপনা”, “উদ্দীপন,”
“জাগাে এবে”, “আবাহন,”
কতই কবিতা কত নব্য কবি গায় ।
নির্জীব বাঙ্গালী তােরা কে দেখিবি তায়।

.
আজকে তােরা চল।
ওরে যুবকদল,,
আজুকে তােরা চল্ !
তােরাই দেশের রল ভরসা-
তােরাই আশার স্থল !
আজকে তােরা চল্।
-
বুড়ো যারা থাকুক বসে,
যা’পুক না কাল হায়-আপসােষে !
তােরা যদি নিজে চলিস্,
বুকে পাবি বল।
আজকে তােরা চল্।
৩৯

জাতীয়মঙ্গল
সমাজ তােদের বড়ই যে দীন,
বসন তাহার জীর্ণ মলিন,
পরা’তে তায় রত্ন-ভূষা
আয় রে বেঁধে দল।
আজকে তােরা চল ।
তােদের শিরায় তপ্ত শােণিত
নিত্য যে রে হয় প্রবাহিত,
তােদের পানে চেয়ে সমাজ
ফেছে আঁখি-জল ।
আজকে তােরা চল।
জন্ম তােদের যেই সমাজে,
খাটতে আজি তাহার কাজে
ন্যায়-ধৰ্ম্মের বিধান মতে
বাধ্য কিনা বল ?
আজকে তােরা চল।
৪০

জাতীয়মঙ্গল
অপর-পানে চাহিস্ যদি,
কবে তােদের কোমল হৃদি,
রতন-মাণিক-বিমণ্ডিত
দেখবি সকল দল !
আজকে তােরা চল্।
সমাজের এ দৈন্য দেখে,
অঙ্গ তাহার শূন্য রেখে,
কোন্ পরাণে পবি আজি
ভূষণ চারু বল ?
আজকে তােরা চল্।
নিমকহারাম হনে রে ভাই,
মানুষ হলে প্রাণ থাকা চাই,
লবণ-জ্ঞান যার শূন্য সে ত
যায়রে রসাতল।
আজকে তাের চল।
৪১

জাতীয়মঙ্গল
-
জগৎ তারে অধম বলে
সদাই যে রে পায়ে দলে,-
কোথাও যে তার নাই তিষ্ঠিবার
তিলার্ধ টুক স্থল !
আজকে তােবা চ।
খাটি যদি আজ সকলে,
তবেই দৈন্য যাবে চলে,
মলিন মুখে বিমল হাসি
খেলে অবিরল।
আজকে তােবা চল।
আসবে যারা সঙ্গে চলে,
রাখবি তাদের আপন বলে,
এমনি করে সমাজসেবা
কবি কিনা বল ?
আজকে তাের চল।
৪২

জাতীয়মঙ্গল
মূখ অলস যারা আছে,
ফেলে যানে তাদের পাছে,
তাদের নিয়ে সমাজ-দেহের
বাড়বে অযুত বল!
আজকে তাের চল্।
চতে যারা নাহি চাবে,
সদাই তাদের কাছে যাবে,
একান্ত না চলে, তাদের
হাত ধরে নে’ চল্।
চবি কিনা বল ?
মিথ্যাকথা, প্রবঞ্চনা
করূতে সবায় করবি মানা,
সমাজ-দেহের এ দুই ক্ষতে
ফলে বিষম ফল।
আজকে তােরা চল।

জাতীয়মঙ্গল
যারা অলস থাকে পড়ে,
সদাই যাবি তাদের ঘরে,
জাগরণের গান শুনায়ে
প্রাণে দিবি বল।
আজকে তােরা চল্।
শিশু, বালক দেখবি যারে,
তারেই দিবি শিক্ষাগারে,
এনি করে সমাজ-তরুর
মূলে দিবি জল।
আজকে তােরা চল্।
ততাদের দলের যদি কেহ
ভালবাসে কেবল গেই,
ঘরের বাহির কতে তাকে
বাঁধবি সবাই দল।
আজকে তােরা চল।
৪৪

জাতীয়মঙ্গল
নেহাৎ যে না শুবে কথা,
তার সঙ্গে না কইবি কথা,
একলা রেখে তাহার সাজা
কবি কিনা বল ?
আজকে তােরা চল।
সমাজের যে করবে ক্ষতি,
হাে’ সে বড় পণ্ডিত অতি,
অমনি তারে ধরুবি এমন—
পায় যেন তার ফল।
আজকে তােরা চল্।
এ সব যদি কত্তে পারি,
স্বরগ হ’তে বিভুর আশীষ
ততাদের শিরে মধুব-ধারা
পড়বে অবিরল।
আজকে তােরা চল্।
৪৫

আয় রে তােরা আয়।
আয় রে তাের আয়।
আর কি রে ভাই নিদ্রা সাজে, সবাই চলে যায় ।
আয় রে তােরা আয়।
সবাই দে রে এগিয়ে গেছে,
সবাই যাচ্চে নেচে নেচে,
দীন যে, সেও নিদ্রা ছেড়ে তাদের পিছু ধায় ;
নবােৎসাহ নিয়ে প্রাণে,
মাতিয়ে আজি আশার গানে,
ছুটছে সবাই তুর্ণবেগে জ্ঞানের পিপাসায়!
আয় রে তােরা আয়।
২৬

জাতীয়মঙ্গল
সবারি ঘুম গেছে টুটি’
অন্ধ নয়ন উঠছে ফুটি,
সবার দ্বারে প্রভাত-তপন উকি মেরে’ চায়।
যত দেশের তনয়গণ,
সকলে করেছে পণ,
দেশের দুঃখ মুছবে তারা নবীন সাধনায়।
আয় রে তােরা আয়।
জগতে পড়েছে সাড়া,
সবাই উঠিছে তারা,
তাদের প্রাণে আশার কিরণ স্রোতে ব’য়ে যায়।
শুনিয়ে আহ্বান-গান,
জাগিয়াছে কোটি প্রাণ,
জাতীয় দুর্গতি যে গাে দছে তারা পায়।
আয় রে তােরা আয়।
৪৭

জাতীয়মঙ্গণ
যত যত প্রতিবাসী
নবীন প্রাণে উঠে’ হাসি’
দুৰ্বল দরিদ্র নাম ঘুচাইতে ধায় ;
তাদের একাগ্রতা দেখে,
জগৎবাসী হাস্যমুখে,
ধান-দূর্বা দিয়ে তাদের বরণ কত্তে চায়।
আয় রে তােরা আয়।
তােদের শুধু কপাল পােড়া,
দেখেও দেখিনে তােরা,
জাতীয় তরণী খানি ডুবু ডুবু হায়!
এভাবে থাকিলে সবে,
দেবি রে ভাই শীঘ্র তবে
তােদের নাম ধরা হ’তে মুছবে ঢেউয়ের ঘায় ।
আয় রে তােরা আয়।
৪৮

জাতীয়মঙ্গল
জগতে উত্থান-গীতি
শুছি না যে হচ্ছে নিতি ?
আর ত রে ভাই অলস থাকা শােভা নাহি পায় ;
এখনাে জড়তা নিয়ে,
আলস্যেতে ডুবে গিয়ে
রহিলে পড়িয়া, এমি হাসবে সবে হায়!
আয় রে তােরা আয়।
পণ করিলে সবাই মিলে,
ইস্লামে রক্ষিবে বলে,
বিলুপ্ত গৌরব যে রে পুনঃ পাওয়া যায় ;
আয় রে তবে সবে ভাই,
ডুবে আর কাজ নাই,
উন্নতির পথ খুঁজি সকালে সন্ধ্যায়,
আয় রে তােরা আয়।
৪
৪৯

জাতীয়মঙ্গল
আমরা জাগিলে সবে,
আর কে রে আছে ভবে
মােদের উন্নতি বল রােধে ক্ষমতায় ?
বুঝিয়া নিজের শক্তি,
প্রাণে নিয়ে দেশভক্তি,
আয় না রে ভাই নবীন তেজে ছুটি পুনরায় ।
আয় রে তােরা আয়।

জাতীয় সঙ্গীত।
কিত দিনে তােমার আঁখি খুলিবে ভাই জানি না রে,
সবাই জাগ্রত ভবে বারেক তাও চাওনা ফিরে।
জাতীয়-মঙ্গল তরে,
ব্যগ্র সবাই ধরা’পরে,
তুমি হয়ে জীয়ন্তে মরা মগ্ন আছ ঘুমের ঘােরে।
ছিলে আগে শ্রেষ্ঠ জাতি,
ধরা জোড়া ছিল খ্যাতি,
এখন কাঙ্গালী সেজে’ ভিক্ষা চাহ পরের দ্বারে।
মাথা ছিল সু-উন্নত,
ধন ধান্য করগত,
এখন সে শির পরের পায়ে লুটাও তুমি দিন দু’পরে।

জাতীয়মঙ্গল অভ্রভেদী ছিল ভবন, রত্নমণিময় অতুলন, পর্ণকুটীর নাইকো এখন মাথা রাখতে বাদল ঝড়ে! সৰ্বশ্রেষ্ঠ ছিলে জ্ঞানে, ধরার সবাই তাহা জানে, এখন সেজে বদ্ধ বােকা দেখাও তাহা যারে তারে। সুপ্রশস্ত ছিল হৃদি প্রেম দয়ার সে বারিধি, এখন, ভাইয়ের বুকে ছুরি মার তুচ্ছ একহাত ভূমির তরে মায়ের পেটের আপন ভাই, জগতে যার তুলনা নাই, সেই, ভাইয়ের সঙ্গে বিবাদ করে টাকা ছাড়াও সাগর-

আর কবে তুমি উঠিবে ভাই?
আর কবে তুমি উঠিবে ভাই?
সকলি উঠেছে, সকলি জেগেছে,
জাগিতে কি তব বাসনা নাই ?
আর কবে তুমি উঠিবে ভাই?
দিকে দিকে শুন গভীর স্বননে
উন্নতির ভেরি বাজিছে সঘনে,
সকলি উঠেছে এ শুভ লগনে
কেহই যে আর ঘুমিয়ে নাই!
আর কবে তুমি উঠিবে ভাই?
যাহারা জগতে ছিল চির দীন,
নিতান্ত নবীন অথবা প্রাচীন,
আর কেহ দেখ নহে আর হীন
নব যুগ ভবে এসেছে ভাই।
জাগিতে কি তব বাসনা নাই?
৫ত

জাতীয়মঙ্গল
সুদূর সমুদ্র নদ নদী তীরে,
কিম্বা দ্বীপে দ্বীপে সাগর গভীরে,
কৰ্ম্ম নিয়ে সবে উঠিতেছে ধীরে
উন্নতির পথে দেখিতে পাই।
আর কবে তুমি উঠিবে ভাই?
সভ্য অসভ্য সকলের দেশে,
সবে নব তেজে-সবে নব বেশে;
মােহ মদিরার প্রমত্ত আবেশে
নিদ্রালস আর কেহই নাই
আর কবে তুমি উঠিবে ভাই?
যারা ছিল মগ্ন সুঘাের নিদ্রায়,
তারাও রে আজি আঁখি মেলি’ চায়,
আপন জাতির হিত-কামনায়
সকলেরি গীতি শুনিতে পাই।
আর কবে তুমি উঠিবে ভাই?
৫৪

জাতীয়মঙ্গল
অসভ্য বর্বর চির মুখ জাতি,
তারাও উঠেছে নবােৎসাহে মাতি,
কিরূপে লভিবে উন্নতির-ভাতি
সকলে যতনে খুঁজিছে তাই।
আর কবে তুমি উঠিবে ভাই?
fj
তব প্রতিবেশী(হিন্দুভ্রিাতৃগণ
12
তাদেরাে পরাণে আশার কিরণ
বিদ্যুতের বেগে খেলি’ছে যখন,
তখনাে কি ঘুমে রহিবে ভাই।
জাগিতে কি তব বাসনা নাই?
নবােৎসাহে তারা মেতেছে সকলি,
মান্দ্রাজী, মারাঠী, দ্রাবিড়ী, সিংহলী,
বাঙ্গালী, পাঞ্জাবী নববলে বলী
হইছে যে তাহা দেখিতে পাই
আর কবে তুমি উঠিবে ভাই?
৫৫

জাতীয়মঙ্গল
“আজি হতে মােরা মানুষ হইব,
দীনতা, ভীরুতা সব ঘুচাইব,
জগত-মাঝারে কীরিতি রাখিব”
বলিয়া তাহারা ছুটিছে ভাই,
জাগিতে কি তব বাসনা নাই?
বিশ্ব জুড়ে’ আজি তাদের সম্মান,
পশ্চিমে মার্কিণ পূরবে জাপান,
সর্বত্র তাদের মহিমার গান
গীত হ'তে আজি শুনিতে পাই।
আর কবে তুমি উঠিবে ভাই?
এ উত্থান-যুগে যবে সৰ্ব দেশে,
সকলি সাজিছে নব নব বেশে,
সকলি সাজিয়া কি এক আবেশে
উন্নতি-সােপানে ছুটিছে ধাই’-
৫৬

জাতীয়মঙ্গল
তুমি যদি শুধু রহ গাে নিদ্রায়,
নিখিল জগৎ হাসিবে তােমায়,
চির অপবাদ রহিবে ধরায়,
একবারাে কি হে ভেবে’ছ তাই?
আর কবে তুমি উঠিবে ভাই!
এ শুভ লগন গেলে একবার,
বিশ্ব বিনিময়ে পাইবে না আর,
চির অপমান তখন তােমার
হইবে সম্বল জানিও ভাই।
জাগিতে কি তব বাসনা নাই?
শার্পলের ঘরে জনম লভিয়া,
শৃগাল অধম রহিবে পড়িয়া।
তব দশা দেখে ফেটে যায় হিয়া,
কারে বা কহিয়ে সান্ত্বনা পাই
আর কবে তুমি উঠিবে ভাই?

জাতীয়মঙ্গল
আর কেন তবে উঠ এই বার
আলস্য জড়তা করি’ পরিহার,
বারেক জগতে মহিমা তােমার
দেখাও আবার আজিকে ভাই।
জাগিতে কি তব বাসনা নাই?
৫৮

আজকে তােদের চাই
ওরে শিশু আমার ভাই,
আজকে তােদের চাই।
নিজের মঙ্গল বুঝতে যেন
দেখতে তােদের পাই।
আকে তােদের চাই।
তােদের মা--তােদের জননী
বড়ই পুল-পাগলিনী,
সে স্নেহ--সে ভালবাসায়
পড়ুক আজি ছাই!
আজকে তােদের চাই।

জাতীয়মঙ্গল
তােরা ঘরের বাহির হলে,
ততাদের মা যে ভূমিতলে
আছাড় পড়ে তােদের তরে
ফুপিয়ে কঁদে ভাই।
আজকে তােদের চাই।
ঘরে থাকবি মায়ের কাছে,
বাহির হলে বিঘ্ন আছে।
তােদের মা’র এ ভুল ধারণা
ভাঙ্গতে হবে ভাই!
আজকে তােদের চাই
হাঁটলে আছাড় খেতেই হবে,
বিঘ্ন বিনা ইষ্ট কবে
কোথায় কে যে লভিয়াছে
মােদের জানা নাই।
আজুকে তােদের চাই।

জাতীয়মঙ্গল
মায়ের কাছে থেকে থেকে,
একই জিনিষ দেখে দেখে,
নিস্তেজ হৃদয় তােদের
হচ্ছে যে রে ভাই।
আকে তােদের চাই।
শুধু বসে থাকলে ঘরে,
মায়ের কোলেই থাকূলে পড়ে,
নিজের পায়ে দাঁড়াইতে
শিখবি কবে ভাই।
আজকে তােদের চাই।
কাজের বাহির রাখুলে অঙ্গ,
হবে তােদের স্বাস্থ্যভঙ্গ,
তখন যে রে সােনার শরীর
হবে তােদের ছাই!
আজকে তােদের চাই।
৬১

জাতীয়মঙ্গল
মায়ের আদর রা রে ফেলে,
দু’দিন সােহাগ রাখরে ঠেলে,
মাকে ডেকে বল্‌রে তােরা-
“খেলতে মােরা যাই---
আজকে তােদের চাই।
“চাইনে আদর—চাইনে স্নেহ,
চাইনে যে আর কোমল দেহ,
অঙ্গে মেখে ধূলােমাটি
সবল হতে চাই”
আজকে তােদের চাই।
লাফিয়ে চবিহাসবি সুখে,
কবি না আর কোন দুখে,
দুঃখ বিপদ উড়িয়ে দিতে
দেখতে যেন পাই।
আজকে তােদর চাই।
৬২

জাতীয়মঙ্গল
লাফিয়ে চবি যথা তথা,
আছাড় খাবি সুখের কথা,
ভয় হীনতা, বীৰ্য্য, সাহস
তােদের কাছে চাই।
আয় ছুটে আয় ভাই।
খেবি যখন দলে দলে,
‘ক’–‘খ’ শিখবি কুতূহলে,
অলস খেলার—অলস কাজের
সময় যে আর নাই ।
আজ কে তােদের চাই।
মূলে চাহি ধৰ্ম্ম-শিক্ষা,
তা’তেই আগে নিবি দীক্ষা,
এক খােদা তাের সৃষ্টিকর্তা-
শরিক তাহার নাই।
আজকে তােদের চাই।
* শরিক—অংশী।

জাতীয়মঙ্গল
তার প্রেরিত মােদের নবি,
হৃদে আঁকৃবি তাঁহার ছবি,
অমন দয়ার শরীর যে রে,
হয়নি কারাে ভাই ।
আজকে তােদের চাই।
‘ইমা তােদর চাহি যে ঠিক,
ইমান হীন যে মরার অধিক,
‘পঞ্চ-নমাজ’--‘ত্রিশ রােজা
পাবি সবি ভাই।
আজ কে তােদের চাই।
[ হলে ধৰ্ম্ম-বলে,
দেখবি তখন ধরাতলে,
অসাধ্য সাধন যত
হেলায় হবে ভাই ।
আজকে তােদের চাই।
* ইসলামধৰ্ম্ম-প্ৰবৰ্ত্তক মহাপুরুষ হজরত মহম্মদ (দঃ)।
৬৪

জাতীয়মঙ্গল
ধর্মহীনে সদাই ধিক্‌ ।
যতই না সে ডিগ্রী নিক্ ;
“লেজওয়ালা সিপাই” মােরা
দেখতে নাহি চাই।
তােরা, ধার্মিক হবি ভাই।
ধৰ্ম্ম তােদের জীবন হবে,
রক্ত মাংসে জড়িয়ে রবে,
ধর্মহীনের উদ্ধার হা।
হয় কি কভু ভাই ?
আজকে তােদের চাই।
মানুষ যখন হতেই হবে,
ধৰ্ম্ম আগে শিখরে তবে,
ধৰ্ম্মের শুধু মুখােশ পড়লে
কাজ হবে না ভাই।
আজকে তােদের চাই।
৬৫

জাতীয়মঙ্গল
আর দিব না থাক্‌তে অলস,
শরীর ত’তে হবে অবশ,
হর্ষভরে উঠ অনলস,
এইটি তােদের চাই।
আয় ছুটে আয় ভাই।
আপন কাজে-জাতির কাজে
খাটতে হবে সমাজ-মাঝে,
জাতি যে তাের ধরার ধূলায়
লুটিয়ে আছে ভাই।
আজুকে তােদের চাই।
শিক্ষাহীনের বল্ কি হবে ?
কি নিয়ে সে খাবে ভবে ?
শিক্ষালাভে পরাণ পণে
করে যতন তাই।
আজকে তােদের চাই।

জাতীয়মঙ্গল
আজকে তােরা সবাই মিলে,
শিক্ষাগারে দীক্ষা নিলে,
বেশী দিন আর তােদের দৈন্য
থাকবে না কো ভাই।
আজকে তােদের চাই।
তােরা তােদের ভাইকে নিয়ে,
শিক্ষাগারে ছুটুবি ধেয়ে
পাড়াপশী ভ্রাতা দেরে
ডেকে নিবি ভাই।
আজকে তােদের চাই।
শিল্পকলা শিখুবি বলে,
কেহ যাবি বিদেশ চলে
কুড়িয়ে আতে রত্ন-মাণিক
যা তাের দেশে নাই।
আজকে তােদের চাই।
৬৭

জাতীয়মঙ্গল
বিদেশ যাবি বললে পরে,
মা যদি রে কেঁদে ধরে,
মাকে তােদর বুঝিয়ে রেখে
আয় ছুটে আয় ভাই!
আজকে তােদের চাই।
উচ্চ আশা করবি সবে,
ফলুক বা না ফলুক ভবে,
আশার সঙ্গে কাজ করে যা
ফল দিয়ে কাজ নাই।
আজকে তােদের চাই।
নাইবা ফলুক ভয় কি তাতে?
কাজ করা যে নিজের হাতে;
আজ না ফলুক, কাল ফলিবে,
সন্দেহ তা’র নাই।
আজকে তােদর চাই

জাতীয়মঙ্গল
আয় ছুটে আয় আয়রে সবে,
মানুষ তােদের হতেই হবে।
এম্‌নি করে থাবি পড়ে
হ’য়ে হত ছাই।
ছি! ছি! ছি! তােদের চিতে
লজ্জা কি রে নাই ?
আয় ছুটে আয় ভাই।
সবাই পাবে বিপুল মান,
সবাই পাবে ভবে স্থান,
সে গৌরবসে আদর
তােদের পাওয়া চাই।
আয় ছুটে আয় ভাই।
তেম্নি করে’ হবি মানুষ,
হনে শুধু ফকির ফানুষ,
জ্ঞানে, ধৰ্ম্মে, ধনে, ধান্যে--
মানুষ হবি ভাই।
আজকে তােদের চাই।

বারেক আজি চলরে।
কান্নাকাটা ছেড়ে দিয়ে
বারেক আজি চলরে,
একই মন্ত্রে হৃদয় বেঁধে
একই কথা বলরে ।
মায়া যদি বাড়ায় কেহ,
জানিস্ সে সব মিছা স্নেহ,
তাের কাজ তুই যাবি করে
তবেই পাবি ফরে।

জাতীয়মঙ্গল
নিজেকে হীন ভালে পরে,
হীন-ই হতে হয়রে,
কৰ্ম্ম-মাঝে বাহির হলে
কৰ্ম্মবীর তায় কয়রে !
তবে কেন ঘরের কোণে
থাবি বসে’ সংগােপনে ?
কাজের আলােয় বাহির হলে
টুটে যাবে ভয়রে !
দেলে অসীম উদার আকাশ
বুকে পাবি বরে,
ঘরের কোণে বসে বসে
যানে রসাতলরে ।
হায় কি হবে বলে বলে
ভাসিস্ যদি নয়ন-জলে,
যুগের পরে যুগ গেলেও
নাহি হবে ফরে।
৭১

জাতীয়মঙ্গল
ঊষার আলাে দেবি বলে
আঁখি দু’টি খােরে,
আরাম-শয়ান ছেড়ে এখন
ননীর অঙ্গ তােলরে !
বহুকাল ত কুড়ের মত,
হয়ে আছিস্ শয্যাগত,
একটু শুধু কুড়েমি তাের
বারেক আজি ভােলরে!
আপন চিনে চলরে এবার
সামনে হেঁটে ভাইরে।
শুধুই কেন পিছন হটা
দেখতে তােদের পাইরে।
আজ হ’তে ভাই করে এ পণ,
হবে না আর পিছে কখন,
কাঁদবে না আর দুঃখ পেলে,
লজ্জা তােদের নাইরে ?
૧૨

জাতীয়মঙ্গল,
করে শপথ ধরবি সে পথ
যে পথ ধরে হায়রে,
নিখিল জগত মানুষ হয়ে
সুখের গান গায়রে ।
আপন কাজে বারেক আজি,
আয়রে:নবীন বেশে সাজি’,
জগৎ যেন আবার তােরে
আদর করে চায়রে!
এ ধরা যেকৰ্ম্ম-ভূমি-
কর্মীর হেথা স্থানরে,
অলস যারা তাদের হেথা
শুধুই অপমান রে !
তােদের দেশে সবই ঢালা,
ধন, খাদ্য, জ্ঞানের আলা,
অলস থেকেই উপবাসে
ক্লিষ্ট তােদর প্রাণরে।
৭৩

জাতীয়মঙ্গল
কৰ্ম্ম-ভূমে কৰ্ম্ম-খেলা
বারেক আজি খেরে,
সােনার তনুর আরাম-লালস
দূরে ছুড়ে ফেরে!
সত্য পথটি নে রে খুঁজে,
আপনাকে নে রে বুঝে,
আর থাকিসনে অবুঝ হয়ে
আজকে আঁখি মেরে !
৭৪

‘দাও” বলে হাত পেতোনা।
কর্মের যুগে তুমিই একা
প্রেম-গীতি আর গেয়ােনা,
অমন করে পরের দ্বারে
‘দাও’ বলে হাত পেতােনা!
বহুদিন ত এমনি করে
মান সম্রম রেখে ওরে,
পরের দ্বারে গিয়ে গিয়ে
পাচ্ছ কত লাঞ্ছনা!
‘দাও বলে হাত পেতােনা।
মরূবে মর ক্ষুধার জ্বালায়,
একটি প্রাণও কাঁদবে না তায়!
অলস বাঁচা বেঁচে থাকায়
লাভ হবে কি বল না ?
‘দাও বলে হাত পেতােনা।
৭৫

জাতীয়মঙ্গল
মৰূবে তুমি দুঃখ কি তায়,
দুঃখ কেবল হস্তপাতায়,
অমন করে নিজের গৌরব
ধ্বংস তুমি করােনা।
‘দাও’ বলে হাত পেছােনা।
জন্ম তােমার
উচ্চ ঘরে,
কেবল আপন দোষের তরে
ভবের মাঝে তুচ্ছ হয়ে
স’চ্ছ কত গঞ্জনা।
‘দাও বলে হাত পেতােনা।
একদিন তব অতুল তেজে
দীপ্ত ছিল ধরা এ যে,
সকল বিশ্ব সন্ধ্যা সকাল
কতাে তােমায় বন্দনা।
‘দাও’ বলে হাত পেতােনা।
৭৬

তীয়মঙ্গল
বিশ্বে ছিলে শিক্ষাদাতা,
সবাই তখন রাতে মাথা
হর্ষে তােমার চরণ-তলে,
কত তােমার অর্চনা
‘দাও’ বলে হাত পেতােনা।
জ্ঞান-বিজ্ঞান, কাব্য, নীতি,
খগােল, ভূগােল, ত্রিকোণমিতি,
জ্যোতিষ, দর্শন—ভবের সার
সবি তােমার রচনা।
‘দাও’ বলে হাত পেতােনা।
তােমার বিশাল পণ্য-তরী
ঘুরতে সাগর বক্ষোপরি,
তােমার সাথে বাণিজ্যেতে
কা’র হত আর তুলনা ?
‘দাও’ বলে হাত পেতােনা।
৭৭

জাতীয়মঙ্গল
নিত্য নব দেশের ভূমি
হাতত তােমার চরণ-চুমি!
ধরণীময় অতুল নাম
নিত্য হ’ত ঘােষণা!
দাও' বলে হাত পেতােনা
রত্ন-মাণিক তুলবে বলে
ডুবতে জানতে সাগর-জলে,
সাগর, গিরি, আকাশভরে
ছিল তােমার সাধনা।
দাও’ বলে হাত পেতােনা
চারু শিল্পে তােমার মত
বিশ্বের কোন শিল্পী, অত
সফল হতে জগত-মাঝে
স্বপ্নেও করতাে কল্পনা ?
‘দাও বলে হাত পেতােনা
৮

জাতীয়মঙ্গল বিশ্বপৃষ্ঠে আজো কত নিদর্শন তার আছে শত- ‘জুম্মা-মজিদ’, ‘আহাম্বা’, ‘তাজ, কে করে তার গণনা ? দাও বলে হাত পেতােনা। জন্ম লভে’ অমন কুলে, গিয়েছ আজ সকল ভুলে’! গর্ভে নিতে তােমায় ধরা হয় না কেন দু’খানা ? ‘দাও’ বলে হাত পেতােনা। বেঁচে তােমার ফকি আছে ? মানুষ যারা মরে বাঁচে, তােমার মত ‘কাঠের পুতুল আর আছে ভাই ক’জনা ? ‘দাও’ বলে হাত পেতােনা ৭১

জাতীয়মঙ্গল
আজ হ’তে ভাই কর এ পণ,
মরাে যেন দশের মতন
অধম লােকের মরায় যে হায়
হয় না কারাে বেদনা।
‘দাও' বলে হাত পেতােনা।
নিজের পায়ে দাড়াও নিজে,
রােদে পুড়ে, জলে ভিজে,
আপন আহার আপনি খোঁজ,
পরের দ্বারে যেয়ােনা।
‘দাও বলে হাত পেতােনা।

উঠগাে আজিকে তবে।
উঠগে উঠগাে, ছুটগাে ছুটগাে,
নিদ্রা ত্যজগাে আজি,
আর ত ঘুমের নাহি যে সময়
উঠেছে বংশী বাজি’!
ওগাে, উঠেছে বংশী বাজি’!
সুপ্ত যাহারা, উঠিয়া চকিতে,
অই দেখ যায় ত্বরিত গতিতে,
তবে তুমি আর কেনরে মিছার
ঘুমেতে রহিবে মজি’?
ওগাে, ঘুমেতে রহিবে মজি’ ?
৮১

জাতীয়মঙ্গল
খােলগাে নয়ন, দেখগাে দেখগাে,
সকলে উঠিয়া ধায়,
তুমি কি একেল নিদ্রা-মগন
এখনাে রহিবে হায় ।
ওগাে, এখনাে রহিবে হায়!
*,
সবারি পরাণ আশার আলােকে
নাচিছে দেখগাে কি মহাপুলকে!
নিস্তেজ তুমি—অসার তুমি
কেবলি রহিবে হায়!
ওগাে, কেবলি রহিবে হায় !
শুনগাে আজিকে নিখিল জগতে
হইছে মঙ্গল-গান,
দিকে দিকে তাই বিশ্ব জুড়িয়া
নাচিছে সবার প্রাণ।
ওগাে, নাচিছে সবার প্রাণ।
৮২

জাতীয়মঙ্গল
সাগরে, প্রান্তরে, শেখরে, কান্তারে,
সবারি বীণা যে নিয়ত ঝঙ্কারে।
তােমার বীণার তন্ত্রী-সকলে
উঠিবে না কিগাে গান ?
ওগাে, উঠিবে না কিগাে গান ?
কেন গাে, কেন গাে, তুমিই একেলা
দুর্বল হয়ে রবে?
কেন গাে জগতে অলস বলিয়া
আখ্যা তােমার হবে ?
ওগাে, আখ্যা তােমার হবে ?
ছুটিলে আজিকে নবীন কিরণে,
গণ্য হইবে নিখিল ভুবনে,
তব মহিমার পুণ্য-কাহিনী
সবাই তখন কবে !
ওগাে, সবাই তখন ক’বে।
৩

জাতীয়মঙ্গল
তবে কেন আর, তবে কেন আর
সুপ্ত রহিবে তুমি,
যদি, সকল জাতি কৰ্ম্মে লেগেছে
ব্যাপিয়া সকল ভূমি ?
ওগাে, ব্যাপিয়া সকল ভূমি ?
আছিল একদা বিশাল ভুবন
তােমারি লােকে আলা অতুলন!
ছিলে, সকল জ্ঞানে,—সকল পুণ্যে
বিশ্ব-প্রদীপ তুমি !
ওগাে, বিশ্ব-প্রদীপ তুমি ।
এস তবে ভাই, এসগাে এসগাে,
চুটগাে আজিকে তবে,
দেখিবে তখন মধুর পবন
তােমারাে কুটীরে ব’বে।
ওগাে, তােমাররা কুটীরে ব’বে।
৮৪

জাতীয়মঙ্গল- দীনতা তােমার র’বে না তখন, তুমিও ধরার হবে একজন, ত্রিদিব-আলােকে কুটীর তােমার দীপ্ত তখন হবে! ওগাে, দীপ্ত তখন হবে ? সমাপ্ত ৮৫

No text on this page.

বিজ্ঞাপন।
গ্রন্থকার প্রণীত
উত্থান-সঙ্গীত
অভিনব বেশে সজ্জিত হইয়া বাহির হইবে। সমাজের
নির্দোষ হিতকথায় ইহার প্রতি পৃষ্ঠা পূর্ণ থাকিবে। এ
সম্বন্ধে আমরা পূর্বে বাক্যব্যয় করিতে চাহি না। পুস্তক
প্রকাশিত হইলেই যথাসময়ে আমাদের বাক্যের যথার্থতা
হৃদয়ঙ্গম করিতে পারিবেন।
প্রকাশক।

-

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Jatiya-mangal

Author
Hak,mohammad Mojammel
Title
Jatiya-mangal
File name
Jatiya-mangal
Text
OCR done
Citation
1909
Published
2009/11/30
Publisher
Mohammad Ajijal Hak,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
104
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Hak,Mohammad Mojammel
DLI number
512723
Barcode
4990010019770.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
C5yuKp89qMb
Download PDF

Jatiya-mangal