Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Sourav
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
সৌরভ
শ্রীপ্রমােদকান্ত বসু প্রণীত।
সুবলচন্দ্র মিত্র দ্বারা প্রকাশিত।
কলিকাতা
মূল্য ১, এক টাকা ।
১০৮ নং বারাণসী ঘােষের স্ট্রীট হইতে শ্রীনবীনচন্দ্র পাল দ্বারা মুদ্রিত সূচিপত্র বিষয়। পৃষ্ঠা। t = ৫ ত ৪ ১১ ১২ * ০ ০ ০ ০ ০ . ৩ ৫ এ ৮০ ১৪ আপনার প্রেমহাসি উদাসীর একি মায়া পাখি ও বালিকার কথোপকথন মরিলে আসিব ফিরে বালিকার কথা ফিরেতে আসিনা হায় বাথা প্রকৃতির ছলনায় বিবাহ বাঁধিব গাে চুল আমি কাদিলনা গিরিবালা কুমুদিনী ও কমলিনী শবর যুবতী কেন এ খেলা পুলিনে প্রিয়া হেরিল তুলিনু ফুল তবু •••• কি হলে তেমনি হয় হাসি কান্না বালিকা চাহিল ১৪ . । এ ৫ ১ . . . e ২৪ •• t ৫০ • বিষয়। পৃষ্ঠা। ঢোক গেল ০ ০ ০ ৪ ৫ ৬ ০ ০ ০ ৫০০ ০ ০ ০ ০ ০ ০ ••• ৪৪ ? কেমনে বলে কথা। তাপসীর অশ্রুজল ঘুমাইয়ে পড়েছি নিঝরে বকুলতলে তােরে ভালবাসিনা মাধুরীর সনে কিগাে মাধুরী মিলায় পথিক কেন বা ফুটি গান কোথা গেলে মন পাই সেই আমি সেই তুই প্রকৃতির ভালবাসা : ০৩০ ১ ০ ০ ৮ ০ ০ ০ ০ ০ ০ . ... ৪০০ ৩ কেন এ খনত ০৫০ ০ ০ ০ ০৪০ ৬৪ ৫০০ ০ ০ ••• ৫০ মৃণালিণী জানে কি আপনি মিলন পরমাত্মা ও জীবাত্মা ৮০ ১
সৌরভ।
আপনার প্রেমহাসি।
কে বলে প্রকৃতি হাসে,সি সুধা-কিরণে,
জোছনাউছল ফুল বিলুলিত পবনে ?
কেন বা তরুর অঙ্গে,
এলান লতিকা বৃঙ্গে,
মিশাইছে প্রাণ-হাসি নিঠুর ও জীবনে ;
কে দেয় লাে ভালবাসা লতিকার পরাণে ?
২
সৌরভ
?
কেন অই চন্দ্র তারা মধুময় গগনে,
নাচিতেছে পুন কেন নিঝরিণী জীবনে ?
অই যে ললিত শাখী,
কেমন গাহিলে পাখী,
তর তর নদীকুল বহে যায় উজানে;
কেন বলি কুল কুল গান গাহে সুতানে ?
কে বলে প্রকৃতি হাসে সুবিমল গগনে,
শারদী কৌমুদী উষা কমনীয় কিরণে?
প্রকৃতি সুষমা-বিধু,
হৃদয়(ই) তাে প্রেম শুধু,
হৃদয় জড়ায় কেগাে সুষমায় সুতানে ;
কে দিলরে এত হাসি প্রকৃতির পরাণে ?
প্রকৃতির রূপভরা হৃদিহীন জীবনে,
কেন এত ভালবাসা খেলিতেছে গােপনে ?
আপনা প্রেম-হাসি,
এত কিলাে ভালবাসি,
তাই কি দেখিতে চাই প্রকৃতির জীবনে,
দিয়ে এত হৃদিরাশি বুঝি ওগাে স্বপনে?
উদানীর একি মায়া ?
হেরি নাই এ জীবনে,
কখনাে মূরতি তার।
কোথায় পড়েনা মনে,
এত খুজি অনিবার।
আজিকার শুধু দেখা,
তবু কি যে মনে হয়।
কত যে দেখেছি তারে,
মােহের ছলনা নয়।
যে দেশে থাকে গাে সেই,
সে দেশের কিবা নাম।
জানিনি, শুনিনি কভু,
কোথায় তাহার, ধাম।
এত যে নূতন মাঝে,
কেন পুরাতন ছায়া।
ভক্তিতে পূরিল হৃদি,
৪
সৌরভ
উদাসী গােপনে ডাকি,
বলিল কোমল স্বরে।
সহসা কেন গাে বাছা,
বিচলিত আমা হেরে ?
মােহে তব স্মৃতি বাঁধা,
কেমনে জানিবে হায়!
বিগত জনমে দোহে ;-
বলি কোথা চলি যায়।
পাখি ও বালিকার কথােপকথন।
“দেওনা বালিকে একটু খুলে,
পিঁজর দুয়ার একটী বার।
সারা নিশিদিন এত গান গাহি,
তবু কত গান শুনিবি আর ?
জানিগাে বালিকে আমি যে তােমার
প্রেমের অতিথি ; এত ভালবাস।
কত না যতন করিছে নিয়ত,
ঘুঝিবা আমার মিটেছে আশ!
সৌরভ।
৫
জানিগাে বালিকে সাজাইয়ে দেও,
পিঁজর আমার কত বনফুলে .
তুই যে বালিকে ডাকিলে আমায়,
পিঁজর মাঝারে নাচি দুলে দুলে।
কভু বা ধবল কৌমুদীর রেখা,
প্রবেশে কেনগাে আমার পিজরে ?
বন্দিনী-হৃদয় কোথায় নাচিবে,
কেনগাে দুঃখিনী হা হুতাশ ছাড়ে।”
বলিল বালিকে “বুঝিগাে বিহগি,
কেন না ডুবিবে দুঃখের সােপানে।
হেরেছে বিম্বিত ললিত কৌমুদী
স্বচ্ছ সরােবরে কুসুমিত বনে।
নীলিম নবীন নীরদের মালা,
মলয় পবনে মৃদুলগামিনী।
পুলকহৃদয়ে তুমি গাে বিহগি,
হয়েছে নিয়ত তাদের সঙ্গিনী।
প্রফুল্ল-নলিনী-সুরভি-সলিল,
হরষে তুমিগগ করেছে পান।
মােহন ললিত অধীর পঞ্চমে,
শাখীতে বসিয়ে ধরেছে তান।
৬
সৌরভ।
নীলিম-গগন-জড়িত ভুবন,
ওলাে বিহঙ্গিনি পিজর তােমার।
এ পােড় পিজরে থাকিবি কেমনে,
তাই তাের হৃদি দুঃখ-পারাবার।”
“তুমি কি বলিছে ও প্রেম নলিন,
পড়েনা ও সব কিছুই মনে।”
বলিল বিহগী চমকি সহসা,
ঝঙ্কারি মধুর ব্যাকুল তানে
“তবে কিনা ওগাে সুহাসিনী বালা,
এ পােড়া মনেতে এই শুধু পড়ে।
‘ডালে বসে আছি চন্দ্রমা নিশীথে,
টুপ টাপ করি বন-ফুল ঝরে।
দেওনা বালিকে একটু খুলে,
পিঁজর দুয়ার একটী বার।
সারা নিশিদিন এত গান গাহি,
তবু কত গান শুনিবি আর ?”
মরিলে আসিব ফিরে -
বিন্দু না মা মরে গেছে,
তাতে মাগাে জান তুমি।
বা মা তৰে তুই,
করে গাে মরিবাে আমি ?
“পােড়ামুখি, ছাই ভস্ম,
কত কি বলি তুই।
ও কথা বলেনা বাছা,
কে তােকে ডাকিছে অই।”
দিদি না মা বলেছিল।
মরিলে আসিবে চলে।
দিদিওতে মরে গেল,
সব বুঝি গেল ভুলে
আমার দিদি গাে মা
কেমনে ভুলিল হায়।
এত স্নেহ ভালবাসা,
মরণ কি ভুলময়।
৮
সৌরভ
*
মরণের দেশে মাগাে,
কি আছে বনামােরে।
মরিলে সকলি যায়,
কেহতাে আসেনা ফিরে।
তােদের ও ভালবাসা,
ভুলিতে কি পারা যায়।
দিদিগাে মরণ-দেশে
কি করে দেখিবাে হায়।
তবে মা মরিলে আমি,
নিমিষে আসিবাে ফিরে।
দেখিবাে মরণ-দেশ, ।
কেঁদোনা আমার তরে।
যদি মা সরােজ এসে,
খোঁজে গাে আমার তরে,
ও পাড়া গেছেগাে বিনি
একথা বলাে মা তারে।
।
বালিকার কথা।
পুলক মধুর কৌমুদী যামিনী,
জোছনা-মাধুরী-জড়িত বালা ;.
জননীর পাশে দুয়ারে বসেছে,
গলেতে নাচিছে যুথিকা মালা।
মায়ের মু’পানে তাকায়ে বালিকা,
গাহিছে কত যে মধুর গান ;
শেফালিকা ফুল অদূরে ফুটিছে,
ঝঙ্কারি উঠিছে অলির তান।
জোছনার বুটি আঁধারে ফুটেছে,
দুয়ারের কোণে তমাল-তলে,
হরিণী পুলকে খেলিছে সেথায়,
কত শত খেলা এত যে ঢলে।
so
সৌরভ।
.
। *
.
সহসা বালিকা চমকি উঠিল, .
থেমে গেল তার এত যে গান।
মায়ের শ্রবণে তবুও বাজিছে,
বালার মধুর সঙ্গীত তান।
বলিল বালিকা দেখ মা চাহিয়ে,
ছুটিয়ে হরিণী করিছে খেলা।
যাই মা তবেগগা ধরিয়ে আনিগে,
কেনলাে খেলিবি রাত্রে বেলা।
বালিকা ডাকিল—অই যে হরিণী
আইল কেমন বালার পাশে !
কোমল করেতে পরশে বালিকা,
হরিণী বিমল সুখেতে ভাসে।
সহসা মায়েরে বলিল বালিকা,
ডাকিনু হরিণী আইল হেথা।
তবে কেন মাগাে এত ভালবাসি,
আমার সনেতে বলেনা কথা।
** :
***
।।।।।
ফিরেতাে আসিনা হায়।
inoon
শুকতারা ডুবে যায়-
জাগে উষা প্রভাবতী।
পূরবে রক্তিম ছায়া,
বিকাশে অরুণ ভাতি।
মধ্যাহ্নে তপন তাপ,
প্রখর উজল হায়।
সঁজেতে যে দিনমণি,
অস্তাচলে ডুবে যায়।
আবার তেমনি উষা,
তেমতি অরুণ-ভাতি।
তেমনি তপন-তাপ,
অস্তাচলে দিনপতি।
দিন আসে, যায় দিন,
ফিরি ফিরি আসে যায়।
আমি আসি, চলি যাই,
ফিরেতে আসিনা হায়।
ব্যথা।
বনে বনে ভ্রমি আর ফুল ভােলা হবে না ;
দিলে যে ফুলমালা সেতো কথা কবে না।
ফুলের যে আছে হৃদি,
আগেতাে জানিনা দিদি,
তাই আমি নিশিদিন এত ফুল তুলেছি ।
ফুলের পরাণে আমি এত ব্যথা দিয়েছি।
প্রকৃতির ছলনায়।
এই তত অরুণ ভাতি,
কমলিনী বিকসিত ;
বেলাভূমে চক্রবাক
প্রিয়া সনে যুগলিত।
সহসা নীরদমালা,
সমীরণ ধীরি বহে;
প্রদোষ কালিমা যেন
প্রকৃতির চারু গেহে।
সৌরভ।
সুমধুর কলধ্বনি,
নীড়ে পাখি উড়ে যায় ।
আবােকি থাকিবে সঁজ,
যামিনী আসেনা হায়!
তবে একি চক্রবাক,
কেন অই শিহরিল ;
পুলিনে প্রিয়ারে ছাড়ি,
কোথা যেন উড়ি গেল।
প্রকৃতির ছলনায়,
কঁপিল না কমলিনী ;
কোথায় সঁজের বেলা,
উদিল যে দিনমণি।
বিবাহ।
আপন ভুলিলে,
আমাতে মিলিলে ;
এ কেমন ময়ী .
তােমারই খেলা।
কর্তব্য জীবন,
অনন্ত মগন
সৌন্দর্য্য প্রেমের
পূত যাগ মেলা।
.
বাঁধিবদ পাে
চুল
আমি।
“যাই মাগাে তবে যাই
ও পাড়ায় যাই চলি,
কুমু দিদি বলেছে মা,
চুপি চুপি আয় বলি।”
সৌরভ।
১৫
“এমন সাজের বেলা
কোথা যেতে নেই বিনি,
কাল যেও গিরি সনে
ঘরে বসে বাঁধ বেণী।
অই যে মা কি ভেবে মনে
বসিল বালার পাশে,
বাঁধিতে লাগিল চুল,
গগনে চাঁদিমা হাসে।
ভুবনমােহিনী বালা,
রূপে বিশ্ব উজলিল ;
কেন খােবালার মাতা,
একি হায় শিহরিল!
হৃদয়ের কি যে ভাব,
বেঁধে রেখে নিমিষেতে,
এয়ােতি অমূল্য রত্ন
খুলিল যে কৌটা হতে।
যতনে সিন্দুর বিন্দু,
শিথিতে যে পরাইল,
অপূৰ্ব্ব মাধুরি এসে
বালিকায় জড়াইল।
সৌরভ।
হৃদয়ের স্তর হতে
মায়ের নয়ন-জল,
বালার কপােলে পড়ি,
বহে যায় অবিরল।
নিমিষে চমকি উঠি,
অই যে বালিকা হায়,
বাধােবাধ হলাে গলা,
কি যেন বলিতে চায়।
“শিথিতে সিন্দুর দিতে
কেন গাে মা কাঁদ তুমি,
আর না তােমারি কাছে
বাঁধিব গাে চুল আমি।”
কাদিলনা গিরিবালা ।
ধবল বরুণ গিরি
মেঘমালা সানুদেশে ;
কনক কিরণ-রাজি,
বায়ু সনে যায় ভেসে।
শিখরেতে আছে বসি
অপরূপা সৌদামিনী
পৰ্বত প্রতিভাময়ী
প্রিয়ম্বদা সুকেশিনী।
অদূরে গভর মাঝে
লুকাইল দিনমণি;
তবু কত গিরিরাজি
শােভে হেম সুবরণী।
প্রেমময়ী গিরিবালা
ভ্রমি নিঝরিণী কূলে
তুলিতেছে ফুলরাশি
হরিণীর সনে দুলে।
সৌরভ।
সহসা হরিণী একি
অতল সে ঝরণায় ;
ডুবিল শিখর ভেঙ্গে
শারদীয় জোছনায়।
তিমির-গগন হতে
পড়িল তারকা খসি ;
ভীষণ প্রপাতে হায়
হেরিল সে বালা বসি।
সৌন্দর্য্যে ভীষণ ছায়া
কাদিলনা গিরিবালা ;
আঁখি প্রান্তে অতবু
কপিল সে ফুলডালা।
কুমুদিনী ও কমলিনী।
আমি কুমুদিনী ফুল ফুটিলাে কেমন ?
কৌমুদী অমিয় যবে এ হৃদে মগন।
প্রেমময় কমলিনী,
প্রাণপ্রিয় দিনমণি ;
তবু ভালবাসে সখি ভ্রমর-গুঞ্জন,
আমি জানিনাকো বিনে চন্দ্রমা কিরণ
শবর যুবতী।
জনপদ ছাড়ি
সুদূর উত্তরে,
নিবিড় গহন
কানন মাঝারে,
সরসীর কূলে
শঘর বসতি,
কুটীর বীথিকা, শােভিছে হায়।
অদূরে নীলিম
নীরদ জড়িত,
ধূসর বরণ
শৈল শৃঙ্গরাজি,
বিহঙ্গ নিচয়
সারা নিশি দিন,
ললিত মধুর,
গাহিছে তার।
২০
সৌরভ।
সারি সারি শােভ
বনস্পতিরাজি,
প্রসূনে উছল
কত তরুবর,
বিদুল লতিকা
কোথা বা দুলিছে,
আকুল করি।
দ্বিরেফ ঝঙ্কার,
সুখদ বসন্তে
সুধীরে বহিছে,
দিবস যামিনী
মলয় পবন,
উৎপল, কলার
নীল কমলিনী,
শুভ্র সরােমাঝে, ফুটেছে মরি।
এ হেন নিজনে
কানন মাঝারে,
প্রকৃতির যত
অপূৰ্ব্ব মাধুরী,
কেনগাে এমন
সৌরভ।
একীভূত হয়ে,
লুকানাে রয়েছে, বিচিত্র শােভা।
অরুণ উদয়ে
শবর যুবক,
মৃগ আহরণে
ফিরিতেছে বনে,
নিয়ে ধনু অসি
বিচিত্র বসন,
প্রভাতী কিরণে, উজলে আভা।
সহসা অধীর
শবর যুবক,
নিশিত সায়কে
বিধিল হরিণ,
যাতনা মরমে
বিলাপি হরিণ,
বুঝিবা ত্যজিল,
কুটীর প্রাঙ্গণে
শবর যুবক,
পরাণ খানি।
২২
সৌরভ
যুবতী সমীপে
নিমিষেতে এসে,
বলিল যুবক
এনেছি হরিণ,
যুবতী:চমকি, বলিল জানি।
পাশ গাঁথা ছাড়ি
যুবতী রহিল,
অনিমিষে চাহি
যুবকের পানে,
শিহরি উঠিল
হেরিয়ে হরিণ;
ত্যজিছে পরাণ, কাতরে হায় !
কত নিশিদিন
ক
আনিত যুবক,
.
সায়কে বিঁধিয়ে
কত যে হরিণ,
.
আজিকে যুবতী
বিচলিত কেন,
ভাবিয়ে যুবক,
বিমূঢ় প্রায়।
সৌরভ।
২৩
নয়ন-জল।
সহসা যুবক
বিচলিত প্রাণে,
বলিল সুহাসি
হয়েছে কি তাের ?
কি বলিবে.হায়
দরদর করি,
বহিছে কেবলি,
আকুল পরাণে
যুবতী বলিল,
সাপটি যুবার
দুখানি চরণ,
দাসীর মিনতি
রাখ প্রিয়তম,
আর না বধিও,
হরিণ দল !
কেন এ খেলা ।
চাহিবে না তবু সলাজ বদনে,
আড়ালে থাকি কেনগাে দেখিবে।
সাধিলে একটী বলিবেনা কথা,
আড়িপেতে সব কেন লাে শুনিবে।
এত যে ছলনা লুকান ভাব,
কেহ দেখিছেনা তবুও করিবে।
কখনাে শেখেনি, বােঝেনা আপনি
কেন এ খেলা কেমন খেলিবে।
.
৪ ।
পুলিনে প্রিয়া হেরিল।
দুলিছে নীল বনরাজি
অমিয় বহে অনিল ;
জোছনাবিধূত যামিনী
ঝরে নীহার সলিল।
কুলুকুলুবাহিনী কুলে
কুহকী কেলি মধুর ;
তরণী ছুটিছে পুলকে
উজানে ছায়া সুদূর।
কুহকী ছুটি ডুবি ডুবি
তরণী পাশে আইল ;
প্রবাসী চমকি পলক
পুলিনে প্রিয়া হেরিল।
নিঝুমে পাপিয়া গাহিল
উথলে জল অতলে ;
কোথায় যুবক সুচারু
কুহকী প্রেম-কবলে
তুলিনু ফুল তবু।
ট
শুনিনা কারাে কথা
ফিরিনা চাহি কভু ।
থাকিলাে এলাে চুলে
তুলিনু ফুল তবু।
জানিনা কথা বলা
নীরবে থাকি শুধু ;
নিজনে নদী কূলে
নীলিমে হাসে বিধু।.
কে শুধু বলে আমা
তুই যে পাগলিনী;
জান কি তুমি সখি
বলি তবে আমি।
বুঝিনা ভালবাসা
বলেগাে ভালবাসি ;
তাহার কথা শুনি
কেন যে এত হাসি।
বিলাপে কত ব্যথা
কেমনে বল্ সখি!
অই যে ফুল ঝরে
দুজনা আয় দেখি।
কি হলে তেমনি হয়।
স্বামীর চরণ ধরি
অব্যক্ত জড়িত স্বরে ;
বলিছে নবােঢ়া বন্ধু
কত যে সাহস ভরে।
অার কত চেপে রাখে
কেমনে বালিকা সয়,
অই যে বলিল বালা
কি হলে তেমনি হয়।
হৃদি হতে অশ্রুরাশি
দুনয়নে বহে যায় ;
কেমনে থাকিবে বালা
ফুকারি কাদিল হায়।
হাসি কান্না।
দুমাসের কচি শিশু,
হাসিছে সুধার হাসি।
অমিয় বদন ভরা,
মায়ের কোলেতে বসি।
কেন এত হাসিভরা,
ঘুমন্ত মুখানি তার।
এত ক্ষুদ্র প্রাণ তবু,
এত হাসি কেন আর।
মায়ের পরাণখানি
হেরিছে সুধার হাসি।
মিটেনা হেরিতে আঁখি
বিমল সুখেতে ভাসি।
সহসা হাসি এত,
কোথায় লুকালাে হয়।
সৌরভ।
।
4
কেমন কাঁদিল শিশু,
কাদাতাে থামেনা তায়।
নিমিষে শিশুর মাতা,
কাতরে সােহাগ ভরে।
কেঁদোনা আমার খােকা,
বলিল কাতর স্বরে।
কেহ কিছু বলেনি তাে,
বুঝনা কাহার কথা।
তবু কেন কচি প্রাণে
লাগিল এ হেন ব্যথা।
ফুকারি কাঁদিল শিশু,
মানেনা প্রবােধ হায়।
সহসা শিশুর মাতা
কি যেন বলিতে চায়।
কেমন শিশুর মাতা
একেতাে নবীনা বন্ধু।
এসােগােদিদিমা বলে
অই যে ডাকিছে,শুধু।
নিমিষে দিদিমা ছুটি,
আইল শিশুর পাশে।
সৌরভ।
হৈরিল কাঁদিছে শিশু,
নিমিষে সুহাসি হাসে।
চমকি বলিছে বালা,
বনা দিদিমা মাের।
ঘুম ঘােরে হাসে কাঁদে,
হয়েছিল কিগাে ওর।
দেবতার, খেলা সব,
হরষে দিদিমা বলে।
দেবতা হাসলে হাসে,
কাদালে কাঁদিয়ে ফেলে।
সহসা বালিকা বলে,
দিদিমা চলিয়া যায়।
আমাদের হাসি কান্না,
তবে ওর নহে হায়।
দাড়ানা দিদিমা তবে
খােক নিয়ে যানা তুই।
আমাদের হাসি কান্না
দেবতা শেখা অই।
৫
6
০
বালিকা চাহিল।
সুনীল আকাশে
সুধীর প্রদোষে
বিমল জ্যোতি।
নয়নে পড়িল
বালিকা চাহিল
ফুটিল আরাে যে, তারকা ভাতি।
একটী তারকা,
}
কত যে নিমিষে
তারকা হরষে
ফুটিল নীলিমে,
চাহনি শােভা।
নয়ন ভাঙ্গিল,
আর না পারিল,
গুণিতে তারকা, বালিকা বিদ্য।
কেবলি তারকা,
অনন্ত তারকা,
অনন্তের ভাব, ফুটায়ে দিল।
বিভল পদ্মাণে
মধুর সুতান
কি যেন আবার, জাগাতে ছিল।
চোক গেল।
কে আমা বলিল অই
ডালের আড়ালে বসি,
চোক গেল বিধুমুখী
শ্রবণ মরমে পশি।
ওদিগে তাে লতাপাতা
কোথা কিছু তথা নাই,
বিনীওতে চেয়ে আছে
আমি শুধু একা নই!
আবার গাহিল ডালে
শিহরে কেনগাে প্রাণ,
বুঝিল বা বিনােদিনী
হায় একি জ্বালাতন।
চোক গেল পাখী তুই
বলিস না আর কভু ;
বেশী তত আসিনা হেথা
দুদণ্ডের তরে তবু।
শুনিলিনা মোর কথা
আবার বলিলি তাই ;
বিনীও তাে আছে হেথা
কেমনে বা চলে যাই।
৫
কেমনে বলে কথা।
বিমল রূপরাশি
বুঝি ও কমল কলি।
আকুল মােহন ভুরু,
শােভিছে যেন অলি।
নিবিড় কেশদাম,
দুলিছে নিতম্ব দেশে ;
শৈবল নলিনে বেঁধে,
কঁপিছে স্রোতে ভেসে।
কেমন উষাবালা
কোমল সৌরভ ভরে,
লুকানাে বনদেবী
খুজিছে নেচে থরে।
যখন উষাময়ী,
সােহাগে পরশে বালা,
চয়কি কেবলি চাঁহে,
দোলে সে ফুলমালা।
কেমনে বলে কথা
নীল আঁখি শুধু টানা;
কমলিনী চেয়ে থাকে
কথা বলা জানে না।
০ ০ ০
তাপসীর অশ্রুজল।
;
সমুজ্জল নীলাকাশ,
অর্ধশুষ্ক সরােবর ;
ফুটিছে কার কত
কুমুদিনী মনােহর।
ভাঙ্গা ভাঙ্গা মেঘস্তর,
জিনিয়ে ধবল ইন্দু;
গরজি লুকায়ে যায়,
বরষেণা জলবিন্দু।
পঞ্চমে কোকিল-গীতি,
পাপিয়ার সপ্ততান ;
সুখদ শারদী কালে,
হায় একি অবসান।
মলয় পবন সনে
সুশীতল হিম বায় ;
সৌরভ।
কভু বা বহিছে বেগে
কভু ধীরে বহি যায়।
দূরস্থিত বংশীধ্বনি,
ফুল্ল শেফালিকা-বাস ;
আকুল করেগাে প্রাণ,
মেটেনা হৃদয়-আশ।
বিজন কানন মাঝে
শুভ্র সরসীর কূলে,
বিমল কুটীরখানি,
অশােক তরুর মূলে।
নাহি সেথা জনপ্রাণী,
কেবলি হরিণ দল ;
কুটির প্রাঙ্গনে এসে
খেলিতেছে অবিরল।
কুটিরে থাকে তাে এক
সুললাম তপস্বিনী ;
বাকলে আবৃত তনু ,
জটাভার-সুশােভিনী।
প্রভাতে মৃণালখণ্ড,
ফল-মূল-আহরণ,
সৌরভ।
করিছে তাপসী-বালা
সুহাসি পুলক মন।
কেমন তাপসী বালা
ডাকিয়ে হরিণী দলে ;
খাইছে মৃণাল খণ্ড
হরিণীর সনে মিলে।
সঁজেতে হরিণী দল,
কাননে চলিয়া যায় ;
সরসীর উপকূলে
শিলাখণ্ড শােভে হায়।
বাসনা-কামনা-হীন
অই যে তাপসীবালা ;
শিলার উপরি বসি,
জপিছে রুদ্রাক্ষমালা।
সুধাময় শরতের
শুভ্র হাসি সুবিমল
তাপসী-নয়ন-প্রান্তে
কেন তবে অশ্রুজল ?
{
।
ঘুমাইয়ে পড়েছি।
নীরব কুটীরখানি
শান্ত তটিনীর কূলে ;
সুচারু তরণী বাঁধা
ঘাটেতে বিটপি-মূলে।
দুয়ারে কদম্ব গাছে
ফুটিয়াছে কত ফুল ;
এযে শুধু বনভূমি
ঝঙ্কারিল অলিকুল।
ধবল বরণ নিশি
দুয়ারে চাদের ছায়া ;
তরুতলে পড়ে আছে
বিমল যুবতী কায়া।
সৌরভ।
ও পাড়ে ডাকিছে যুবা
ভয়েতে জড়িত স্বরে ;
কে দেবেগাে তারে সাড়া ?
যুবতী যে ঘুমঘােরে।
আয়না তরণী নিয়ে
ওগো হেমি ওগাে লতা
নিরাশে ব্যাকুল যুবা
কত যে বলিল কথা।
তটিনীত ক্ষুদ্র তবু
স্রোত তীব্র বহে যায় ;
সলিল মাঝারে ভাসে
সেই ক্লান্ত যুবা হায়।
যুবার ধিলাপ-ধ্বনি
বাজিল ঘুমন্ত প্রাণে ;
হেরিল যে কুস্বপন
গাহে পাখী ক্ষীণ আনে।
কাঁদিয়ে যুবতী জাগে
বাড়িল আরাে যে ভয় ;
সৌরভ
৩৯
হেরিয়ে কুটীর গেহ
কেবলি জোছনাময়।
ছুটিল যুবতী ক্ষীণ
আধােভাঙ্গা ঘুমঘােরে ;
এলান লতিকা সম
রজত তটিনী-তীরে।
তরুণীর প্রান্তে বসি
ভাসাইয়ে দিল তরি ;
হেরিল অদূরে কি যে
ভেসে যায় স্রোতে মরি।
অই যে তরণী মাঝে
উঠিয়ে যুবক ধীরি ;
বলিছে আয়না লতে
•কোথা ছিলি হাতে ধরি।
যুবার চরণ ধরি
কাতরে যুবতী বলে;
ঘুমাইয়ে পড়েছি
অই কদম্বেরি তলে।
নিঝরে বকুল তলে।
মরুময়—শৈলদেশ,
খরস্রোতা—নিঝরিণী,
স্ফটিকসনিভ বারি
মেঘকোলে সৌদামিনী।
দিন-কর প্রতিভাত,
বিচিত্র প্রস্তর পরি;
শােভিতেছে রামধনু,
নিঝর সৈকতে মরি।
সুদূরেতে শৈলদেশে,
নীলিম তমাল তরু
কেবলি একটী হায়,
সীমাচক্র সব মরু।
তাপিত সে শৈলভূমি
নিদাঘ তপন তাপে,
সৌরভ।
৪১
কাতরে শাখীতে বসি,
তৃষিতা চাতকী কঁপে।
সমতল নিম্নদেশে
নিঝর বেঁকেছে যথা;
তৃষিত হরিণ-শিশু
•জলতরে এলাে তথা।
চাতকী তমালে যথা
বসিয়ে ডাকিছে হায় ;
নীরদ বরষে তথা
শৈলদেশ ভেসে যায়।
ঝরিল না নিম্নদেশে
একবিন্দু মেঘবারি ;
পিপাসিত মৃগশিশু
নিঝর কূলেতে মরি।
জানেনা তাে মৃগশিশু
প্লাবন যে শৈলদেশে;
হরষে পিয়িছে বারি
নিঝর কূলেতে এসে।
শৈলদেশ প্লাবনেতে
ডুবিল যে নিঝরিণী ;
৪২
সৌরভ
ডুবিয়ে নিঝর কূল
বহে যায় উন্মাদিনী।
হরষে হরিণ শিশু
তবু পান করে বারি ;
নিমিষে প্লাবনে ভেসে ,
অবিশ্রান্ত যায় মরি।
বহুদূর ভেসে ভেসে
ক্লান্ত অবসন্ন কায়;
মুদিত নয়ন হলাে।
বুঝি একি ডুবি যায়!
এলান বকুল ডাল।
নিঝরে পড়েছে যথা ;
পরিশ্রান্ত মৃগশিশু
স্রোতেতে বাঁধিল তথা
একাকী সুচারু বালা ও
প্রদোষে সে তরুতলে ;
গাঁথিছে বকুলমালা
চাহি সদা কুতূহলে।
সহসা চকিত আঁখি
পড়িল বকুল ডালে।
সৌরভ।
৪৩
D
হৈরিল হরিণ-শিশু,
কঁপিতেছে স্রোতজালে
ছুটিল নিমিষে বালা
এলান ডালের পরি ;
ধরিল দে মৃগশিশু
যতমে রাখিল মরি।
মুছাইয়ে মৃগশিশু
আপন আঁচল ভরে ;
যতনে রাখিল কোলে
তবুও কাঁপিছে থরে।
মালা গাঁথা হলােনা গাে
কেমন বলিয়ে বালা ;
ছুটিল আপন গেহে,
রলাে পড়ি ফুলডালা।
এনেছি গাে দিদি বলে
বিমল বালিকা হায় ;
দিদির কোলেতে দিয়ে
কোথা ছুটে চলি যায়।
নিমিষে আনিল বালা
সুমধুর ফল কত ;
৪৪
সৌরভ
হরিণ খাইল সুখে
হাসে বালা অবিরত।
ছায়া সম মৃগশিশু
থাকিত বালিকা সনে ;
খেলিত কত যে খেলা
সুখেতে আপন মনে।
তবে,কেন মৃগশিশু
নিঝরে বকুল-তলে ও
আসিলে বালিকাসনে
ঝরিত নয়ন জলে ?
তােরে ভালবাসিনা।
}
কেন মােরে প্রাণ দিয়ে,
পাষাণে বাঁধিয়ে হিয়ে,
গােপনে বলিলি ডাকি,
ভতরে ভালবাসিনা।
সৌরভ।
৪৫
বুঝি ও যমুনা কূল
কেমন সে দুটী ফুল
সজের উজান স্রোতে
কোথা যায় জানিনা।
বিমল কোমুদী নিশি,
কুহুতান দশ দিশি,
তবুও বলিলি আমা;
তােরে ভালবাসিনা।
এলাে সে বকুলতলে,
দুটী ফুল কুতূহলে,
তেমনি রয়েছে বাঁধা
দেখে কি দেখিনি।
সেই আমি সেই তুমি,
অমিয়া সে কনভূমি,
প্রতিধ্বনি গাহিল যে,
তােরে ভালবাসিনা।
দুটী ফুল শিহরিল,
যমুনা যে উথলিল,
তরঙ্গে দুলিয়ে বাঁধে,
কঁপে ভালবাসিনা।
৪৬
সৌরভ।
কূলেতে কমল রাখি,
কেমনে বলনা সখি ।
তাই যাচি নিশিদিন,
ভাল কি বাসিবিনা।
ছিড়িবি সে দোহা ফুল,
গাহিল পাপিয়াকুল,
নিয়ে যা সে আধাে মালা,
কোথা অই জানিনা।
ধবল জোছনা রাতি,
বকুলে কোকিল গীতি,
নিয়ে যা সুষমা ছবি,
কিছু আর চাহিনা।
নিয়ে যা নীলিম আঁখি,
উড়ে গেল বন পাখী,
কি যেন শুনিনু অই,
তােরে ভালবাসিনা।
শুধু সে বকুলতলে,
যমুনার কলকলে,
তবুও বলিলি আমা,
তােরে ভালবাসিনা।
মাধরীর সনে কিগাে মাধুরী মিলায় ?
ললিত পঞ্চমে কেন বাজিল কাকলী;
নীলিমে মিলায় যবে চন্দ্র তারাবলি।
উদিলে যে দিনমণি,
কেন হাসে কমলিনী,
বিমল সরসী জলে খেলিল মরালী ;
কেন বা বিনােদ চারু গুঞ্জরিল অলি।
কেন বা বকুল-কুঞ্জে পিক কুহরিল।
সুধাময় শশধর অমিয় হাসিল।
প্রেমসুধা-ভিখারিণী,
উড়িল যে চকোরিণী,
প্রেমময় কুমুদিনী নয়ন মেলিল
উপবন কুসুমিত সুবাস ছাড়িল।
উছলিত কল্লোলিনী ধীরে বহে যায় ।
লাজবতী কুলবালা কেন ফিরি চায়।
কেন সব কুলবালা,
গাঁখে সুচিকন মালা,
উড়িলে নীরদমালা চাতকিনী ধায় ;
মাধুরীর সনে কিগো মাধুরী মিলায়।
পথিক।
গ্রাম্যপথ ছাড়ি অই,
সুদূরে প্রান্তর হায় ;
শ্যামল শষ্পেতে পূর্ণ
শো শো রবে বহে বায়।
বিশাল প্রান্তর মাঝে,
দু একটী তরুবর ;
দুপুরে তপন তাপ,
সীমাচক্র নীলাম্বর।
সুশীতল তরুছায়া,
মনােরম পাখি গায় ;
ছুটিছে ধেনুর পাল,
রাখাল পুলক তায়।
আলি পথে সারি সারি
যেতেছে পথিক কত;
শ্রান্তিদূর করিবারে,
তরুতলে উপনীত।
সৌরভ।
৪৯
তরুতলে কেহ বসি,
কেহ পড়ে নিদ্রা যায়।
কেহবা গাহিছে গান,
অপরে শুনিছে তায়।
সহসা একুটী বৃদ্ধ,
আইল তরুর তলে।
শ্রান্তি দূর করি বৃদ্ধ,
বলে কথা কুতূহলে।
শুন হে পথিকবৃন্দ,
অকারণ নিশিদিন।
কেন এত ভ্রমি পথ,
কেন মােরা দীন হীন।
পূরেনা বাসনা তবু,
কেন এত দুঃখ পাই।
কেনইবা আসি মােরা,
কোথায় বা চলে যাই।
দুঃখের সােপান ‘আমি’,
নাহি কোথা বৃদ্ধবর,
চকিত পথিক দল।
৪
কেনবা ফুটি।
কেন বা ফুটি-
সৌরভে লুটি লুটি
আকুল জোছনা
বিভলে প্রাণখানা এত যে হাসি ?
কেন বা ফুটি
পরি হরিত বুটি
কোকিল কুহরে
নাচেলাে হৃদি থরে শিহরে ভাসি?
কেন বা ফুটি
গুঞ্জরে অলি জুটি
{
উতল মলয়
পরশ প্রাণময়
কেমন দুলি
সৌরভ।
• কেন বা ফুটি
বালিকা আসে ছুটি
লাজে হৃদি ছায়
সুষমা ছুঁতে চায়
ঝরি যে ভুলি ?
থাকিব কলি
ফুটিলে যাব চলি
জানিতে আপনি
কেন যে হৃদিখানি ফুটিতে চায় ?
‘সােহাগে ভাসি
মরণেও হাসি
তাই চিরদিনে
অফুট এ জীবনে, থাকিব হায়।
গান।
গান এত গাহিলাম,
থেমে বুঝি গেল তান।
নিরবিল প্রতিধ্বনি,
অস্ফুট বাজিছে প্রাণ।
সৌরভ।
শ্রবণ মরম ও য়ে
অবশে বিভাের হায়।
প্রাণমাঝে গীতধ্বনি,
কোথায় মিলায়ে যায়।
সে কম সঙ্গীতু ছায়া,
হৃদয়ে গ্রথিত' রহে।
নাহি আর আকুলতা,
নিরন্তর কাল বহে।
রহস্যের কোন্ পুরে
সোয়া হারায় স্থিতি।
কত কাল অবসান,
প্রকৃতিমাঝারে গীতি।
প্রকৃতি হৃদয়ে বাঁধে,
বুঝিবা সঙ্গীত মােহে।
তাইত সৃজন শুধু,
মিলনে বিভাের দেহে।
প্রকৃতি হৃদয় ও যে,
কেবলি অনন্তময়।
মিলাইছে দেহে যেবা,
কেমনে সে অন্তু হয়।
সৌরভ।
অনন্তের মাঝে শুধু,
কেবলি অন্তের মেলা।
সে অন্ত, অনন্তকণা,
এ নহে কল্পনা খেলা।
সে অন্ত বিলয়ে তবে,
অনন্ত হইবে ক্ষীণ।
পাখী ধ্বনি, মাের গান,
অন্ত তবু অন্তহীন।
হৃদয় প্রকৃতি কাঁপে,
সঙ্গীতের কিবা মােহে ?
সে কম্পন দোহা মাঝে,
জাগ্ৰত সদাই রহে।
সঙ্গীত অমর তবে,
অন্ত তার নাহি পাই।
'যে গান গেয়েছি আমি
তাহার মরণ নাই।
কোথা গেলে মন পাই।
মনে তাে পড়ে না তার
মােহন মূরতিখানি।
হাসে চাঁদ, ফোটে ফুল
তবু তারে নাহি জানি।
এত তারে ভালবেসে
ভুলিলাম কিনা হায়!
এই কি গাে ভালবাসা?
অলিকুল চলে যায়।
বকুলের তলে যাই ।
যদি জাগে তার কথা।
তা হলে এ অভাগীর
ঘুচিবে যে প্রাণ-ব্যথা।
মােহে বাঁধে, জাগে স্মৃতি,
অতীত জীবন গাঁথা।
সৌরভ।
বাঁধিল, জাগিল প্রাণে
তেমনি তাহার কথা।
দিয়েছি তাহারে মন,
আমার তােত কিছু নাই।
কেমনে বা মনে করি
কোথা গেলে মন পাই।
সেই আমি সেই তুই।
মিটে না পিয়াস তবু
তাপিত কি দিনমণি ?
এতাে কি নয়নে তাই
চেয়ে দেখাে কমলিনী।
চুম্বিছাে সহস্র করে
নলিনীজড়িত সুধা
অনন্ত বারিধিরাশি
মিটিল কি তব ক্ষুধা।
কোমল নিঠুর প্রেমে
নলিনী কপিল কত।
সৌরভ।
১০০
শুকাইল নিমিষেতে
নিঝর তড়াগ যত।
বায়ুভরে মেঘরাজি
নীলিমে উড়িছে ভেসে।
শূন্যপথে ভ্রমি এত
জমিল পাহাড়দেশে।
প্রকৃতি ধবলমাখা
শিশির বালিকা যত।
পাহাড়ের দেশে তারা
বসতি করিছে কত।
সহসা একিলাে হায়
কেমন ধ্বনিল বাণী।
আমরা পাহাড়ী মেয়ে
মেঘ লাে নাবাতে জানি।
বহিল নিমিষমাঝে ।
হিমময় সমীরণ !
পরশিল মেঘমালা
ডবিল যে নবঘন।
বরষিল নিমিষেতে
মেঘমালা কত বারি।
সৌরভ
০
ভাসাইল অবিরল
কত যে শিখর গিরি।
ডুবিল মেঘের জলে
বারিহীন সরােবর।
আবার তড়াগ নদী
নিঝরিণী মনােহর।
সহসা হাসিল মরি
বিষাদিণী কমলিনী।
তেমতি খেলিল রবি
শিহরিল ফুলরাণী।
প্রকৃতির যত কিছু
ফিরি পুন আসি যায়।
নূতন নাহিক আর
কেবলি পুরাণময়।
মনে কি পড়ে না তবে
সেই আমি সেই তুই ?
বিগত জনমে যর্থা
কি হলে তেমনি হই।
প্রকৃতির ভালবাসা।
বরিষার কালে হায়,
ভরা নদী টল মল।
কতু যে আবিলপূর্ণ
বহে স্রোত অবিরূল।
ঘাটেতে তরণী এক
ধাঁধা বটবৃক্ষমূলে,
বালক বালিকা দেহে,
আইল সে তরু-মূলে।
তরণীমাঝারে দোহে,
বসিয়ে পুলক প্রাণ।
ভাসাইয়ে দিল তরী।
গাহে বালা কত গান।
প্রখর সে স্রোতজালে,
ছুটিল তরণী হায়।
সেই ভরা নদী মাঝে,
সুধীরে বহিছে বায়।
সৌরভ।
•করিয়ে বিকৃত রব,
জলচর পাখি কুল।
নীলিমে উড়িয়ে যায়,
সুষমার নাহি তুল।
পশ্চিম-গগন-কোণে,
কাল মেঘ সমুদিল।
ভীষণ বহিল ঝড় •
তয়ে বালা শিহরিল।
নিমিষে প্রবল ঝড়ে
বালক বালিকা দোহে,
তরী সনে ডুবে গেল,
ফিরিল না আর গেহে।
নাহি আর ঝড় বৃষ্টি,
মধুর প্রদোষ কাল।
প্রকৃতি সুহাসিময়
ভরা নদী স্রোতজাল।
কোথা অই সুপ্রতিম
‘বালক বালিকাদোহে।
প্রকৃতি কি ভালবেসে
রেখেছে লুকানাে গেহৈ ?
রহস্য।
কৰ্ম্ম, জ্ঞান, অহঙ্কার,
জীবাত্মার যত খেলা।
মহাস্থান কালার্ণবে,
সকলি মায়ার ভেলা।
মায়া কি কল্পনা ধু,
রহস্যের লীলা স্থান।
মায়া ওযে জীবাত্মায়,
পরমাত্মা ভেদ জ্ঞান।
কোথা হতে ? কেন মায়া ?
জিজ্ঞাসে জীবাত্মা হায়।
ডুবে যায় মায়া ভেলা,
“সেই আঁমি” ঝটিকায় ।
নিগুণ, নিৰ্বাণ পূর্ণ
জীবাত্মার সম্মিলন।
পরমাত্মা জ্যোতির্ময়ে,
নির্বিকার কাল স্থান।
কেন এ অনন্ত ।
ফুলের সৌরভ
মলয় পবনে,
আকুল অনন্ত
কেন পরশনে ?
পাখির কূজন
বিরল বিপিনে,
অনন্ত সুতান
কেন এ শ্রবণে?
কেন এ নয়নে,
ললিত জোছনা,
অনন্ত সাগর
বিভলে আপনা?
কেন এ মুহূর্ত
অনন্তে বিলয় ?
অনন্তের ঢেউ।
কেন বহে যায় ?
সৌরভ।
হৃদয়মন্দিরে
কল্পনার খেলা,
কেন এ অনন্ত
বাসনার মেলা।
এই ত হৃদয়
এ ক্ষুদ্র নয়ন।
এই তত পরশ
এ ক্ষুদ্র শ্রবণ !
এই তাে জোছনা
পাখীর কূজন,
কালের তরঙ্গ
নীলিম গগন!
তবে কেন হায়
এ বিশ্ব প্রকৃতি,
এ হৃদি, নয়নে
অনন্ত মূরতি।
এ আত্মা অনন্ত
প্রকৃতি হৃদয়।
অন্তেও অনন্ত
সুমাধুরিময়।
সৌরভ।
আপন অস্তিত্ব
জানিবার তরে,
সৃজন-কৌশল
ব্যাপ্ত চরাচরে।
কৌতুক অনন্ত
অনন্ত জানিছে,
আপন জ্ঞানেতে,
আপনি ভাসিছে।
সৃষ্টি।
আদি, অন্তহীন মহাভীম কাল
ব্যাপিত অসীম মহাস্থান সনে;
মিলন বিকারে, আদি অন্ত যুত
কাল বেলাভূমি, সসীম বেষ্টনে।
ইচ্ছা-পরমাত্মা মিলন বিকারে
আপনি বাসনা পুরােহিত বেশে,
সম্মিলিত করে স্থান কাল সনে,
বিশ্ব চরাচর রহস্যেতে ভাসে।
৬৪
সৌরভ
কেমনে সৃজন মিলনে এহেন
থাকে সম্মিলিত এ ভীম বন্ধনে ;
অনন্ত শকতি নিয়ত বাঁধিছে
মহাস্থান কাল বাসনার সনে।
মহাস্থান, কাল, বাসনা, শকতি,
মিল বিকারে এ সৃজন খেলা ;
হৃদয়, প্রকৃতি, প্রেম ও সৌন্দৰ্য্য
সকলি মিলন বিকারের মেন
মরণ।
রূপান্তর নাহি যার
অব্যয় জীবাত্মা হায়।
সে কেন ভাবিছে মনে
নিশীথ স্বপন প্রায়।
জীবনে একিগাে খেলা
কেন গাে মরিতে চায় ?
মরণ দুয়ারে এলে
শিহরে পরাণ তায়।
সৌরভ।
কেবলি জীবন সাধে
মেটেনা প্রাণের আশ,
তাইতাে মরণ যাচি
ভয়ে ভাঙ্গে দেহপাশ।
নূতন যে ভয়মাখা
তবু.প্রাণে যাচি তাই ;-
অই তাে মরণ সুধু
পুরাতন ছেড়ে যাই।
মৃণালিনী।
বিধবা হয়েছি বলে
মা আমার একি হায়!
অভাগীর পানে চে’তে
আঁখিজলে ভেসে যায়।
জান নাকি পােড়ামুখী
পিতার আদুরি মেয়ে,
মনে আছে এক দিন
স্মরিলে শিহরে হিয়ে।
সৌরভ
দিদি আমি দুজনায়
এক ছড়া ফুল-মালা
গাঁথিলাম, ফুরাইল
আমার সে ফুলডালা।
দিদি আমা বলে কিনা
আরাে ফুল নিয়ে আয়,
গেপ্পে মালা দিব তােরে
এ মালা আমার হাস।
অমনি দিদির সনে .
বাধাইনু রাগ পেয়ে,
বিষম ঝগড়া গােল।
আমি যে কুঁদুলি মেয়ে।
মা আমার ছুটে এসে
বকিলেন আমা হায়,
দিদি যে করিল দোষ
মা কি তা দেখিতে পায়।
ফুকারি কাঁদি আমি
আরাে কত অভিমানে,
সে কান্না শুনিয়ে পিতা
আইল ব্যাকুল প্রাণে।
t
সৌরভ।
৬৭
যতনে সাপুটি পিতা
লইল আমায় কোলে,
মুছাইয়ে দিল আঁখি
সােহাগে কত কি বলে।
অমনি দিদির মাগাে
কহিল, পিতারে ধরি,
সােহাগ যে ভেঙ্গে পড়ে
মেয়ের আদরে মরি।
তােমার আদর পেয়ে
পােড়ামুখী মৃণালিনী,
কা’কেও মানেনা কভু
কেন এত গরবিণী।
হাসিয়ে কহিল পিতা
মায়ের নয়নে চেয়ে,
তৈমার ও নীল আঁখি
পেয়েছে আদুরি মেয়ে।
তাই তাে আর আমি
করি ওকে দিবানিশি,
মায়ের অধরপ্রান্তে
ফুটিল সলাজ হাসি।
সৌরভ।
1,
পিতার সে কোল হতে
মা কিনা আমায় কেড়ে,
লইয়ে আপন বুকে
চুমিল সােহাগ ভরে ।
গিয়েছে সে দিন চলি
ফিরে না আসিবে আর,
আমার পরাণে একি
শূন্যময় হাহাকার।
এখন যে পিতা মম
হেরিবে কেমনে আর ?
অভাগী বিধবা বালা
আদুরি দুহিতা তাঁর।
কোথা সে গরব গেল
আদুরির অভিমান,
আমার সে' গগছে বলে
এত আমি মিয়মাণ।
শৈশবেতে, এত সুখ
পেয়েছি বলিয়া তায়,
তাই কি কপালে মাের
এত দুঃখ ছিল হায়।
সৌরভ।
মরমের অশ্রু দিয়ে
হয়েছে হৃদয় যার,
সে পােড়া পরাণে হায়
দুঃখ কি করিবে আর।
.ভালবাসে তবু এত
ভ্রাতৃবধু, ননদিনী, '.
থাকে সদা সশঙ্কিত
বিধবা কি অভাগিনী।
কোথা সে সাহস গেল
আদুরির সহচর,
এখন বিধবা প্রাণে
সদা ভয়, সদা ডর।
মরমে মরিয়া আছি
সদা আমি হেঁটমুখে,
তুমিও, প্রাণের দেব
আছ বুঝি মহা দুঃখে!
হলে এ অভাগিনী
ডুবিত কি এত দুঃখে ?
এ দুঃখ অমৃত তবু
যদি না থাকো সুখে।
সৌরভ।
।
একটু হাসিলে কভু
কাদিলে দুঃখিনী হায়,
অমনি পাড়ার মেয়ে
কত কি না বলে যায়।
প্রতিবাসী এয়ােবধূ
বিধবা বলিয়ে আমা,
সদা করে হেয় জ্ঞান
সহিছে অভাগী বাম।
হৃদয়ের ভাবস্রোত
এত যে কঠোরে বাঁধি,
নীরবে উছলি প্রাণে
বহে তবু নিরবধি।
স্বর্গ হতে তুমি দেব
চেয়ে দেখ দয়া করি,
তােমার চরণদাসী,
কত দুঃখ সহে মরি।
সুধাহাসি ভাই বােন্
কেন আরাে স্নেহ করে,
সে স্নেহে বিধবা প্রাণ
উছলিত দুঃখভরে।
সৌরভ।
৭১
.
সাধের সে ভাই ফোটা
কিংবা কোন এয়ােকাজে, •
বিধবার যেতে মানা
অভাগীর প্রাণে বাজে !
যেদিনভাঙ্গিল শাঁকা
মুছিল এয়ােতি বিন্দু
সে দিন এ অভাগীর
শুকায়েছে সুখ-সিন্ধু
এখন হৃদয় মম
মরু মাঝে কালানল,
কাঁদিতে পারি না আমি
শুল্ক আঁখি নাহি জল।
জ্বলিছে হৃদয় তবু
ভস্মীভূত নাহি হবে,
তাহলে এ অভাগীর
কেমনে এ দুঃখ রবে ?
অসহ এ দুঃখরাশি
তবুও সহিবে বালা,
বিধবা সকলি সহে
শীষ মােন।
সৌরভ।
তাহারি প্রেমের ছবি
এহৃদি করে যাহা,
লুকাইত ছিল হায়
কেন যে জাগিল তাহা।
সে ছায়া সম্বল, শুধু
অভাগীর রত্নরাশি,
এত কিভােমার প্রিয়
ছিনু আমি, তব দামী!
একদিন প্রিয়তম
বলেছিলে দুঃখিনীরে,
সে মধু যামিনী শেষে
বসি.দেহে নদী তীরে
মােহন বাঁশরী সম
তাহার:সে স্বর হায়,
অভাগী হারাণ প্রাণ
সে রবে কুড়ায়ে পায়।
বলিল আমায় প্রভু,
মেঘে শশী ঢাকে, যবে,
“পিতার আদুরে তুই,
‘স্বামীর কি বল, তবে
৫
সৌরভ।
কি বলিবে মৃণালিনী
ভাসিল নয়ন-জলে,
নিঝুম মধুর নিশি
বহে নদী কল কলে।
সহসা এ গরবিণী
ধরিল কোমল করে,,
স্বামীর চরণ যুগ :
কঁপি বালা থর থরে ।
কহিল নিমিষে বালা
আধধা আধাে ভাঙ্গা রবে,
আশীৰ্বাদ কর তুমি
স্বরগে দেবতা সবে।
গরবে কহিল বালা
অধরে ফুটিল হাসি,
' জন্মে: জন্মে প্রিয়তম
হই যেন তােমা দাসী।
অমনি পুলকে স্বামী
পরশিয়ে প্রাণ মের
কহিল আকুল রবে,
“মানিনি আমিও'তাের।
৭৪
সৌরভ।
:
এজনমে প্রাণপ্রিয়ে
এত তােমা ভালবাসি,
বিগত জনমে বুঝি
অতৃপ্ত সে প্রেমরাশি।”
মধু নিশি আসে যায়
এখনাে সে নদী বহে
যে ঘবে সে গেল চলি
পােড়া প্রাণ কেন রহে।
হৃদয়ে অনল সম
তাহারি সে ভালবাসা,
জ্বলিব পুড়িব তাতে
মরিতে নাহিক আশা।
হৃদয়ে পূজিছে দেব
তােমারি বিধবা নারী,
কি আছে এ অভাগীর
লও পূজা দয়া করি।
সকলি দিয়েছি তােমা
এটি প্রভু নাহি পাবে,
দগ্ধ ভস্ম পােড়া প্রাণ
'অভাগীর শুধু রবে।
সৌরভ।
৭৫
-
বিধবা কেমনে আর
চাহিবে হৃদয় ছায়া;
শ্রদ্ধা ভক্তি স্নেহ প্রীতি
স্বজনের প্রতি মায়া।
সকলি তেমনি আছে
আমার সে প্রাণ নাই,
তাই তাে এ ধরামাঝে
কিছু না দেখিতে পাই।
সকলি যে আমা তরে
বিধবা বলিয়ে দুঃখী,
তাই আরাে প্রাণ কাঁদে
অভাগিনী ম্লানমুখী।
জানেনা হৃদয় মম
আমার যে পরিজন,
তবে কি হইত বৃথা
বিষাদিত অনুক্ষণ।
আমার সে চিরসাথী
দুঃখিনীরে ভালবেসে,
ছাড়িয়ে আপন দেহ
মিশেছে আমাতে এসে।
সৌরভ
সে কথা জাগিলে হৃদে
পােড়া বুক ফেটে যায়,
কেন আমি আছি হেথা
তােমা ছাড়ি অসহায়।
তােমার চরণতলে
ত্যজিয়ে অভাগী কায়া,
মিলিবে তোমারি সনে
হয়ে তােমা হৃদি-ছায়া।
সে সাধ ভাঙ্গিয়ে মোর
মিশেছে শ্মশান-বেলা,
এ দুঃখ জীবন সাথী
অদৃষ্টের মায়া-ভেলা।
মরিলে নাহিক আছে
এ দুঃখে নিস্তার কভু,
মরণে বিধবা বালা-
নহে ভীত প্রাণে তবু।
অনন্ত তাহারি প্রেম
কূল আমি নাহি পাই,
দুঃখিনীর হৃদি শুধু
'প্রেমহীন ভস্ম ছাই।
সৌরভ।
৭৭
এ দাসীরে দিলে প্রেম
তাই প্রভু দয়া করি,
সে প্রেমে জানিছে তােমা
তােমারি বিধবা নারী।
অভাগীর প্রাণনাথ
আমার হৃদয়ে বসি,,
কহিল যে মধু রবে
অধরে সে সুধাহাসি।
“আমি যে তােমার সনে
যুগলিত প্ৰেম-বাঁধে,
অনন্ত কালের তরে
অতৃপ্ত প্রাণের সাধে।”
অমনি দুঃখিনী বালা
প্রাণমাঝে তারে পেয়ে,
জানা’ল হৃদয়ব্যথা
অভাগী আদুরে মেয়ে।
প্রাণমাঝে এসে দেব
হৃদয়ে করেছে বায়া,
.কে বলে বিধবা আমি
শূন্যপ্রাণ নাহি আশা।
৭৮
সৌরভ।
পৃথিবীর সুখরাশি
কিছুতে কামনা নাই,
মরণে ব্যাকুল নহি
হৃদে সদা তারে পাই।
জীবনের কর্মফল
কবে যে পড়িবে খুসি,
সেই পুণ্য দিন যাচি
সংসার তরুতে বসি।
পরিপূর্ণ হৃদি মাের
পূর্ণ প্রেম ভালবাসা,
হৃদয় মাঝারে স্বামী
অভাগীর পূর্ণ আশা।
হৃদয়ে তাহাকে পেয়ে
হেরি আমি বিশ্বময়,
ও জড় প্রকৃতি মাঝে
তাহারি মাধুরীচয়।
আর কি থাকিবে সুখ
অভাগীর ধরাতলে,
নীরবে ভাসিল বামা
কেন তপ্ত আঁখিজলে ?
জানে কি আপনি?
সকলি প্রকৃতি উন্মুক্ত তােমার,
যদিগগা হৃদয় জানিতে চায় ।
কত যে তােমার নিতি অভিনব,
রহস্য মিলন মাধুরী হায়।
না চাহিতে তুমি উদাস হৃদয়ে,
মাধুরী অপারে মােহিত কর।
কেমনে থাকিবে না জেনে তােমায়,
প্রকৃতি তুমিগগা হৃদয় হর।
একিগগা হৃদয় তুমিতাে জাননা,
আপনারে হায় প্রকৃতি সনে।
জানিতে প্রকৃতি,সেইটুকু জান,
আপনারে নিতি পুলক মনে।
মিলন।
কল্লোলিনী সম্মিলন জলধির সনে,
তুট যুগ সীমাচ ধূসর নীলিম।
তটিনীর শুভ্রবারি নীল পারাবারে,
সুদূরে মিলন রেখা কালিম বঙ্কিম।
মিলনের রেখা প্রান্ত দিগন্ত প্রসিত,
পূরব পশ্চিম দিশি অনন্ত যােজনে।
সীমাচক্র গোলাকার, অনন্তে অসীম,
নীলাকাশ সম্মিলিত জলধির সনে।
নিস্তব্ধ প্রদোষ কালে হেন সম্মিলনে,
ডুবে যায় দিনমণি উদিল যে শশী,
মিলনের বেলাভূমে সলিল মাঝারে,
দোহাকার কর জাল দেহেতে পরশি।
রক্তিম বরণে রবি ডুবিল অতলে,
সুনীল নভসে শশী উজলে মােহন।
জ্যোতি পুঞ্জ তার রাজি শােভিল নীলিমে,
দূরময় নীহারিকা ঘেরিল গগন ।
অনন্ত প্রশান্ত মাঝে হেন সন্ধ্যাকালে,
পুরুষ বলিছে অয়ি সুচারু প্রকৃতি।
মিলনে অস্তিত্ব কভু হয় না বিলীন,
মিলনে সৃজন শুধু অনন্ত মুরতি।
'।
•
পরমাত্মা ও জীবাত্মা ।
পূর্ণ পরমাত্মা হায়, ত্রিগুণ কৰ্ম্মের ডােরে ;
জীবাত্মায় পরিণত, রহস্যের মায়া ঘােরে ।
কর্মের কারণ তত্ত্ব, জ্ঞানের অতীত হায় ;
জ্ঞানেতে প্রত্যয় ;-ভক্তি, সীমা তার নাহি পায়।
কৰ্ম্ম-তত্ত্বে প্রবাহেনা, প্রেমের মধুর স্রোত ;-
ভাষাহীন ভাব শুধু;স্থিতি যার ওতপ্রােত।
অনন্ত প্রকৃতি মরি, বিকার শকতি ভৰে ;
অন্তময় কারণেতে, ঘুরিতেছে ফিরে ফিরে।
স্থান কাল পরমাণু, প্রকৃতির উপাদান ;
বাঁধিয়ে সে জীবাত্মায়, রচিল এ দেহ প্রাণ।
প্রকৃতির পরশনে, জীবাত্মা হারায় জ্ঞান ;
অজ্ঞান মানবশিশু, কৌতুক মগন প্রাণ।
প্রকৃতি যে ভালবেসে, খুলে দেয় আপনার ;
মােহবাঁধা জীবাত্মায়, কারণের পারাবার ।
সৌরভ।
জীবাত্মার মহাযন্ত্র, মন আদি যত্ন হায় ;
লভিল প্রকৃতি-জ্ঞান;—পরশে জীবাত্মায়।
মন আদি লভে জ্ঞান, মিলন বৈষম্যময় ;
কেবলি অপূর্ণ ওযে ;-গুণের বিকারচয়।
অপূর্ণ সে জ্ঞান যােগে, আবার জীবাত্মা কত ;
দেহ ছাড়ি ভিন্ন দেহে, জন্ম লভে অবিরত।
মনের অপূর্ণ জ্ঞান, সুপ্ত সেই জীবাত্মায় ;
জাগাইলে পূর্ণ জ্ঞান, প্রকৃতিবিহীন হায়।
অমনি প্রকৃতি বাঁধ, সকলি খুলিয়ে যায় ;
মন আদি যন্ত্র যত,
সকলি বিনাশ পায়।
তবু কৰ্ম্ম থাকে পুন, জ্ঞানময় জীবাত্মায় ;
আত্ম জ্ঞানে কৰ্ম্ম বাধ, জীবাত্মার ভেঙ্গে যায়।
তুরীয় অনন্ত জ্ঞান, পরশিলে জীবাত্মায় ;
আবার জীবাত্মা সেই, পরমাত্মা জ্যোতির্ময় ।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.