Bally Sadharan Granthagar
Sati -satyam Kabya
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
সতি-সত্তম কাব্য।
১17 -
বীরেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়
NOT TO BE LENT OUT
• ?
রচিত ও প্রকাশিত।
কলিকাতা।
বহুবার স্ত্রী ২ নং ভবন “ওয়েলিংটন প্রেসে
শ্রী ব্রজনাথ দের দ্বারা মুদ্রিত হইল।
সন ১২৮৩ সাল।
No text on this page.
ভমিকা।
ভাগীরথীর তীরে কোন গ্রামে এক ব্রাহ্মণ-কন্যা,
যৌবনাবস্থায় পতি বিরহে নিতান্ত বিল হইয়া কি প্রকারে
তঁাহার সমাগম লাভ করিবেন, বিবিধ উপায় ও যত্ন করিয়াও
বাসনা সিদ্ধ করিতে না পারিয়া যে যে কাৰ্য্য করিয়াছিলেন,
আমি তদ্বিবরণ পদ্যে রচনা করিয়া “সতি-সত্তম কাব্য” নাম
দিয়া সাধারণ সমীপে প্রকাশ করিলাম। সুরসিক পাঠকবর্গ
ইহার ভাবার্থ প্রভৃতি পৰ্যালােচনা করিয়া যতই পাঠ
করিবেন, বােধ করি ততই ইহার সুমিষ্ট রসাস্বাদন করিবেন
কোন বিজ্ঞবর পণ্ডিতের দ্বারা সংশােধিত না হওয়াতে
কিয়ং পরিমাণে বর্ণাশুদ্ধি রহিল, তজ্জন্য পাঠকবর্গ ক্ষমা
করিবেন ইতি।
নিষ্ঠা।
২৪শে জ্যৈষ্ঠ ১২৮৩ সাল।
শ্ৰীবীরেশ্বর শর্মা।
No text on this page.
উপক্রমণিকা।
কে তুমি গোপনে রহ, মিত্রভাবে অহরহ,
দুঃসহ বিপদে কর ত্রাণ।
কোথায় বসতি কর, কি নাম কি রূপ ধর,
চরাচর না পায় সন্ধান।
অনাদি বেদের মর্ম, পুরাণে সাকার ধর্ম,
ইহ জন্ম এই সমস্কার ।
নানা শাস্ত্র উপদেশে, স্থির নাই ঈর্ষা ঘেষে,
উদ্দেশে তােমারে নমস্কার ।
কে বুঝে তােমার সৃষ্টি, কভু রৌদ কভু বৃষ্টি,
সম দৃষ্টি ত্রিজগত ময়।
ইচ্ছাতে সকল হয়, ইচ্ছাতে সকল লয়,
হয় নয় তুমি
ইচ্ছাময়।
সবাই ইচ্ছার দাস, বার তিথি বার মাস,
সুপ্রকাশ হয় সিতা সিত।
অাপনি থাকিয়া গুহ্য, আরে করেছ পূজ্য
চন্দ্র সূৰ্য্য স্বস্থানে উদিত।
ষড়ঋতু ষড় রীত, নিদাঘ তাপে পিত,
প্লাবিত বরষা বরষণে।
সতি-সত্তম কাব্য।
শির।
শরদ নীরদ হীন, কুমুদীর শুভ দিন,
নবীন শশাঙ্ক দরশনে ।
হিমের হিমানী যােগে, উরগ পড়িল রােগে,
ভক্ষ ভােগে নাহি
তুলে
শিশির শিশির বর্ষে, বিমর্ষ সদাই হর্ষে,
কেবা স্পর্শে সরােবর নীর ।
শীতের শিথিল বল, প্রকাশিল শতদল,
মহীতল সুখের আগার।
তরুর ঘুচিল উম্, ভুজঙ্গের ভাঙ্গে ঘুম,
হল
ধুম
বসন্ত রাজার ।
কোকিল কূজিছে কুঞ্জে, অলিকুল পুঞ্জে পুঞ্জে,
সুখে ভুঞ্জে কুসুম কাননে।
মলয়ার সমীরণ, রসায় ঋষির মন,
অন্য জন থাকিবে কেমনে ।
মদন মােহন শরে, লক্ষ্য করি চরাচরে,
অন্তরে হানিছে ফুলবান।
পশু পক্ষী আদি নর, দম্পতি পরস্পর,
জর জর বিরহীর প্রাণ।
মদন মদেতে মত্ত, অশ্রুতে ভাসিল মত,
উনমত্ত ভাব উপস্থিত।
মাধবমধুর মাসে, প্রমদা পতির আশে,
সখিপাশে হল উপনীত।
সতি-সত্তম কাব্য।
প্রথম সর্গ :
সুমতি নামেতে বৃদ্ধ। সখি এক জন।
জিজ্ঞাসিছে প্রমদার দুখের কারণ।
নিত্য নিত্য যাও এস মম নিকেতনে।
সতত সন্তোষ কর বিবিধ বচনে।
সতত প্রফুল্ল মুখ চন্দ্রিকার সম।
আজ কেন চন্দ্রাননে প্রকাশিছে তম ?
উজ্বল রূপের ছটা হয়েছে মলিন।
সবল দেহেতে অদ্য বল্ কেন হীন ?
কি ভাবে বিমল চিত্ত হয়েছে বিকল।
চঞ্চলা হরিণী সম সদাই চঞ্চল।
বিধুমুখে মৃদু হাস্য অপ্রকাশ্য কেন।
জ্ঞান হয় জ্ঞানে আজ হয়েছে অজ্ঞান।
স্বভাব সরল অতি খল মতি নয়।
কি ভাব অভাবে হেন ভাবের উদয় ?
নিয়ত আনন্দ চিত হৃদয়েতে ছিল।
এ হেন বিভব কেবা অভাব করিল।
সতিসত্তম কাব্য।
কি রঙ্গে
কুরঙ্গ
ঙ্গ নেত্রে ঝরিতেছে বারি ?
নারী হয়ে নারী ভাব বুঝিতে পারি ।
মূখ সম মন দুঃখ গােপনে কি ফল।
ভ্রান্তির হইবে শান্তি প্রকাশিয়ে বল ।
কি হয়েছে বল শুনি কেন কাদ আর।
প্রাণ যায় তবু করে দিব প্রতিকার।
এতেক সুমতি যদি জিজ্ঞাসা করিল।
মৃদুস্বরে চন্দ্রমুখী কহিতে লাগিল।
প্রিয় সখি নহে মাের রােদন লক্ষণ।
অকালে বরিষা এল একি অলক্ষণ ।
জীবন যৌবন লয়ে সদা মরি ত্রাসে।
ঘিরেছে বিচ্ছেদ মেঘ বদন আকাশে।
বিরহ বাদল এল বিনাশিতে সৃষ্টি ।
অবিরত নেত্র মেঘে টিপ টিপিনি বৃষ্টি ।
সে মেঘে তমিল ধরা ভয়াকুল প্রাণী।
ক্ষণেক নাহিক দেয় দুপুরে ছাড়ানি।
একা বাসে মরি ত্রাসে হুতাশের ঝড়ে।
অপবাদ মহানাদ বজ্রাঘাত পড়ে।
অসহ্য অশনি ধ্বনি চতুর্দিকে ধায়।
উপহাস ব্রহ্মশাপে পড়ে বা মাথায়।
রােদন ভেকের ডাকে ঘরে থাকা দায়।
মাঝে মাঝে কাষ্ট হাসি বিজলী খেলায়
সতি-সম কাব্য।
জল দেখে অঙ্গ জল ভয়ে মরি ছুটে।
থেকে থেকে গুরু বাক্য রামধনু উঠে।
বক্ষস্থলে নাহি স্থল বরিষার দায়।
বিপক্ষ চাতক পক্ষী ফটিক জল চায়।
মলয়া দোয়ালা যেন প্রলয় পবন।
ছিন্ন ভিন্ন করে দিল এ দেহ ভবন।
ধারা দেখে সারা হই উড়ে যায় প্রাণ।
অহর্নিশি উল্কাপাত মদনের বান।
কোকিল অখিল জুড়ে কুহুরব ছাড়ে।
সৃষ্টি ছাড়া শিলা বৃষ্টি অবলার ঘাড়ে।
দুঃসহ দুদিন দিনে দোসর কে আছে।
জুড়াতে তাপিত তন, এনু তাের কাছে।
বিপদে চিন্তায় কিম্বা শােকের সময়।
সে বিনে কে করে রক্ষা যে জনে প্রণয় ৷
বড় ভালবাসি বলে আসিয়াছি কাছে।
তােমা বিনে এ দুঃখ কে নিবারিতে আছে।
হাসিয়া সুমতি সখি তার প্রতি কয়।
মনেতে ভরসা ধর বরষা এ নয় ।
বিধাতা গড়েছে দেহ রম্য রাজধানী।
কাৰ্য্য গুণে রাজ্য করে রমণীর প্রাণী।
তরুণ যৌবন রাজ্য বিস্তারিত অতি ।
কামেরে করেছে বিধি সে রাজ্যে ভূপতি।
১০
সতিসত্তম কাব্য।
হৃদিপ সিংহাসন পাতা সেই ধামে।
রাজার মহিষী রতি বসেছেন বামে।
মনের মন্ত্রণা জন্য মন্ত্রি পদে ভার।
কু আশা অধৈৰ্য্য আসা সােটা বরদার।
সুবর্ণ লাবণ্য কোষে সম্পত্তি সম্পদ।
ঠাট, ঠম, রঙ্গ রস, যত সভাসদ।
বপু বেড়া ষড় রিপু কৰ্মচারী ভাবে ।
প্রকৃতি সৈরিন্ধী রূপে চামর দুলাবে।
মঙ্গল কলস কুচ বসাইল দ্বারে।
মাঝে মাঝে উচ্চ হাসি নকিব ফুকারে ৷
যৌব রাজ্যে কাম রাজা তিথি সুমঙ্গল।
বিচ্ছেদ পুরুত ঢালে অভিষেক জল ।
পাইয়া অানের জল অঙ্গ গেছে ভিজে।
এ রাজ্য অন্যের হল বুঝিছনা নিজে ৷
রাজ সিংহাসনাগত দেখে ভূপতিরে।
কলঙ্কের রাজছত্র ধরিয়াছে শিরে৷৷
সদপে কল্প হৃদে হল মহীপাল।
কেমনে বলিলে এরে বরিষার কাল ।
ধৈৰ্য্য হও বিনােদিনী যৌবন সময়।
প্রজাপতি কর দিলে ঘুচে যাবে ভয় ॥
সতি-সত্তম কাব্য।
১১
কাতরে কামিনী কয়, বলিলে বরষা নয়,
হৃদিভয় ঘুচালে আমার।
বিধির অনন্ত লীলে, কার বােঝা কারে দিলে,
প্রকাশিলে কাম অধিকার ৷
যৌবনে অনেক সাধ, সাধ নহে পরমাদ,
তিল আধ সুখী নহে মন।
শৈশবে নাহিক সতা, নিত্য সুখে অনুরতা,
তার কথা করি নিবেদন।
কঠোর জঠরানলে, কৰ্ম্মসূত্র ফলাফলে,
ভূমণ্ডলে অবতীর্ণ জীব।
মাংসপিণ্ড সম গাত্র, সুখ দুঃখ ক্ষুধা মাত্র,
দৃশ্য মাত্র নির্জীবে সজীব।
জননীর নীরধর, ' পাণে পুষ্টি কলেবর,
শশধর যেন বাড়ে কায়।
সমান বয়স্য নিয়ে, বাল্যলীলা ধূলা দিয়ে,
সুখে হিয়ে নিশ্চয় নাচায় ।
বালক বালিকা কাল, নাহি জ্ঞান কালাকাল,
পরকাল অপর আপন।
আত্ম স্বত্বে সদা ভ্রান্ত, নাহি জানে ভাৰ্যাকান্ত,
কে বসন্ত কেবা সে মদন ।
অনুঢ়, প্ররূঢ় হলে, ভর্তা বুঝে ভাৰ্যা বলে,
কান্ত বলে বুঝেন যুবতী।
সতি-সত্তম কাব্য।
পিতা মাতা অভিমতে, অধমা মিলান সতে,
পতিবতে নরাধম পতি।
এইত বলিনু স্থূল, ক্রমেতে ফুটিল ফুল,
অলিকল কোথা গেল উড়ে।
ঘাের উচ্চ ধরাধর, সতা সম পয়ােধর,
নিরন্তর আছে বুক জুড়ে।
বিষম পব্বত ভার, সহিতে পারিনে আর,
বিধাতার একি খেলা সই।
ধােরে গিরি গােবর্ধন, কৃষ্ণ রাখে বৃন্দাবন,
সে মতন গিরিধারী নই।
বিধাতার একি কৰ্ম্ম, কেন কৈল নারী জন্ম,
তার মর্ম চণ্ডাল সমান।
কিবাদ তাহার সঙ্গে, কামিনী কোমল অঙ্গে,
কি প্রসঙ্গে চাপলে পাষাণ।
মহা পৃথ্বী বসুন্ধরা, বাসুকির শিরে ধরা,
এ ধরা ধরিলে ভাঙ্গে ঘাড়।
উপায়েতে উপবাস, কাটা তরু তলে বাস,
বার মাস কে বহে পাহাড়।
Ers
••••••••
সতি-সম কাব্য।
১৩
হাসিয়ে সুমতি বলে নানা কথা ছাড়।
মনােহর পয়ােধর কে বলে পাহাড়।
ভীষণ ভুজঙ্গ থাকে পৰ্বত অঞ্চলে।
বাস করে সিদ্ধ ঋষি তপস্যার বলে।
কোথায় রতন মণি কোথায় আগুন ?
স্বভাবেতে পাষাণের শীতলত্ব গুণ ॥
পয়ােধর পয়ঃ পাণে রক্ষা হয় প্রাণী।
কেমনে এমন
কুচ
গিরি বলে মানি।
প্রমদা বলিছে দিদি মনোেযােগ কর।
ঘাের উচ্চ এই
কুচ
হৃদয় উপর ।
পড়িলে পাহাড় হতে অস্থি হয় গুড়া।
উর্ধেতে রয়েছে বোঁটা পৰ্বতের চুড়া।
গলায় লম্বিত হার হৃদে শােভা পায়।
অজগর সর্প সম কারে ধরে খায়।
তাপস শিখর বাসী যােগ ধৰ্ম্ম লয়ে।
এতে আছে ষড় রিপু সিদ্ধ ঋষি হয়ে।
অচল অঞ্চলে আছে নিবিড় কানন ।
দেহ রুহষ্ণুর দল ভয়ঙ্কর বন ৷
জলদ জালেতে নিত্য আবৃত ভূধর।
নীলাম্বর জলধর ঢাকে পয়ােধর।
সতত স্বভাব গুণে সুস্নিগ্ধ অচল।
কেনা জানে পয়ােধর পরশে শীতল।
১৪
সতি-সত্তম কাব্য।
ভূধর কম্পিত হয় ধাতুর উত্তাপে।
কর্পের মহা দর্পে হৃদ পদ্ম কাঁপে।
অচল পর্বত এটা নাড়িলে না নড়ে।
ভয়ে প্রাণ কম্পবান পাছে ঘাড়ে পড়ে।
পতির বিচ্ছেদ খেদে নেত্র ঝর ঝর।
বুক বয়ে পড়ে সেই পৰ্বত নিঝর।
জ্বলিছে বিরহনল নাথ অনুরাগে।
দাবালন সম সই মাঝে মাঝে লাগে ।
ধরাধর পয়ােধর কি রহিল বাকী।
বল গেল রসাতল সদা ঝরে আঁখি।
প্রাণ পতি করেছেন অগস্ত্য গমন।
কুচ বিন্ধ্য গিরি মাের হইল পতন।
বৃদ্ধা বলে পয়ােধর, তুমিবল ধরাধর,
কুচোপর কেন কর দ্বেষ।
নাহি জান মৰ্ম্ম তার, তাই কহ অবিচার,
সারােদ্ধার শুন সবিশেষ।
সুকঠিন ধরাধর, সুকোমল সুখকর,
পয়ােধর সুধার আধার।
স্তন হীন সুলাবণ্যা, সে নারী না হয় গণ্যা,
পূজ কন্যা অমৃত ভাণ্ডার।
সতি-সত্তম কাব্য।
গভ হলে রমণীর, বিধাতা যােগান ক্ষীর,
পয়ােধির কে দেখেছে হাড়।
যৌবনে কুচ-কমল, হৃদি মাঝে সুবিমল,
কোথা বল দুৰ্জ্জয় পাহাড় ?
এধন অনেকে হীন, স্থায়ী নয় চির দিন,
কালের অধীন হয় নারী।
পয়ােধর ধােরে মেয়ে, গৌরবিণী যারে পেয়ে,
গাছ চেয়ে ফল কোথা ভারি ।
পেয়েছ যৌবন ভার, গেলে পুন মেলা ভার,
বিধাতার অমৃতের কূপ।
এ রূপ লাবণ্য ডালি, পরিতাপে কর কালি,
এ প্রণালী ক্ষীপ্তের স্বরূপ।
থাকগে পতির আশে, বাস কর নিজ বাসে,
অনায়াসে পাবে মােক্ষ ফল।
কি বিষাদে বিষাদিনী, কেন হলে উন্মাদিনী,
উদাসিনী কে করেছে বল ?
কামিনী কহিছে সই, মন দুঃখ কারে কই,
আমি নই অন্য অভিলাষী।
চেপে রাখি সে বেদন, বাধনে দিয়ে বাঁধন,
মদন করিল বন বাসী।
ভয়ে মরি লােক লাজে, পােড়া ঋতু নানা সাজে,
হৃদি মাঝে জ্বালায় আগুন।
সতি-সক্ত কাব্য।
ধৰ্ম্মে দিলে জলাঞ্জলি, কর্ম দেখে প্রাণে জ্বলি,
শুন বলি ঋতুরাজ গুণ।
বসন্ত কুসুমাকার, সুখময় সবাকার,
শবাকার বিরহিণী হল।
কু-সম কুসুম বাসে, কেই আছে সহবাসে,
গৃহ বাসে কেহ কেহ মল ।
পিকের পঞ্চম সুর, কার কার সু-মধুর,
দপ চুর কোন কোন দলে।
ভ্রমরার গুণ গুণ, কার মি৪ শত গুণ,
দীপ্তাগুন কার পক্ষে জ্বলে।
মলয়ার যে জীবন, জুড়ায় কার জীবন,
নিজীবন হয়ে কেহ যান।
মদন কুসুম দণ্ডে, কেহ সুখী দণ্ডে দণ্ডে,
যম দণ্ডে কার বধে প্রাণ ।
আর দেখ শশধরে, হেরে কেহ সুখ ধরে,
বিষধরে কারে বা দংশায়।
চন্দনের সুশীতলে, কেহ স্নিগ্ধ ধরা তলে,
রসাতলে কেহ কেহ যায় ।
কার কার এ যৌবন,
শাম্য রূপ রম্য বন,
প্রিয় জন অলি যেন উড়ে।
আমি সখি সে বিহনে, নাহি বুঝি কি কারণে,
যৌবন যৌবনে মরি পুড়ে ।
সতি-সত্তম কাব্য।
১৭
এই মাত্র অনুরাগ, কিসে রবে নব রাগ,
বিরাগ নারীর পদে পদে।
দগ্ধ কল্পে প্রাণ পতি, সহ কারী রতি পতি,
পতি হয়ে সতী নারী বধে ॥
এইত তাহার দশা, ঘটালে নবম দশা,
দশ দশা অবলার প্রাণে।
সঙ্গোপনে সরােবরে, অন্ধ পুত্র সিন্ধু মরে,
নৃপ করে শব্দ ভেদী বানে ।
একে একে কব কটা, কি কাল লাবণ্য ছটা,
রিপু ছটা করিতেছে জোর।
পুড়ে পুড়ে গেল প্রাণ, পােড়াতে কে দিবে কান,
বিধান করিবে কেবা মাের।
একাল যৌবন রূপে, শত্রু ফিরে কত রূপে,
চুপে চুপে কত দিব বাধা।
কামিনী কামের কল, কাল পেয়ে করে বল,
দীপ্তানল বসনেতে বাঁধা।
এছার লাবণ্যছাদে, রক্ষা করি কত ফাঁদে,
পূর্ণ চাঁদে বামনের বাহু।
ঢেকে রাখি পয়ােধরে, ভয়ে মরি ধরে ধরে,
শশধরে পাছে ধরে রাহু!
এমন বিষম রাজ্যে, মারা যায় কুল ভাৰ্য্যা,
অপার্য্যে হয়েছে বস বাস।
st
সতিসত্তম কাব্য।
বিহনে সে প্রাণ পতি, দুঃখ জনে পশুপতি,
সতী পক্ষে সদাই হুতাশ ।
কুল বালা রেখে কুল, শত্রু হাসে কুল কুল,
অকুলে ডুবিল এই কুল।
মরি মরি লােক লাজে, প্রাণ যায় কাযে কাযে,
হৃদি মাঝে মাণ্ডব্যের শূল।
পড়ে পােড়া নিকেতনে, কত পােড়া উঠে মনে,
সঙ্গোপনে নানা উপসর্গ।
সতী রেখে গেল পতি, পতি হল রতি পতি,
নিবসতি ত্রিসঙ্কর সর্গ ।
ফুলেতে থাকিয়া বন্দী, ধরিয়া ধৰ্ম্মের ফন্দি,
অন্ধি সন্ধি নাহি পাই খুজে।
কুল বালা কুলে থাকি, কাটা কান চুলে ঢাকি,
আয়ত্ রাখি না জানি কি বুঝে।
আসিবেন বলে গত, আশায় থাকিব কত,
জ্ঞান হত দিনে অন্ধকার।
কতবা করিব সহ্য, কাল হল গৃহৈশ্বৰ্য্য,
সুখ শয্যা শর শয্যাকার।
বসন্ত দুরন্ত অরি, পােড়া রাজ্যে কবে মরি,
হরি হরি কিসে রবে
সসর্পেচ গৃহে বাস, প্রতিক্ষণে সর্বনাশ,
বার মাস এই হুল স্কুল ৷
কুল।
সতি-সম কাব্য।
এই কি ধর্মের ধারা, অবলারে মৰ্ম্মে সারা,
শত ধারা দুই চক্ষে বয়।
তরিতে নাহিক তরি, বিপাক বন্ধনে মরি,
সহচরি কার এত হয় ।
শুনিয়ে সুমতি কয় প্রকাশিয়ে রােষ।
কান্ত বিনে একান্ত কি বসন্তের দোষ ?
যখন ধরিত্রী বিধি করিল সৃজন।
সৃজিলেন মহা পৃথ্বী বসন্ত মদন ।
সুখ দুঃখ জড়ীভুত এই ভূমণ্ডল।
কি হেতু অমৃত সৃষ্টি কি হেতু গরল ?
পতির বিরহ তাপে খাতু খায় গালি।
মদন তােমার কাছে দোষী আজ কালি।
ষড় রিপু চক্র সম ভ্ৰমে ভূমণ্ডল।
মদন বিহীন ধরা হইত অচল।
যুবতী হইয়ে সতী পতি প্রতি রােষ।
অকারণে বিনােদিনী বসন্তেরে দোষ।
কারণ নাহিক জান অকারণ খেদ।
যে স্থানে প্রায় আছে সে স্থানে বিচ্ছেদ।
পদ্ম ভানু এক তনু লক্ষান্তরে থেকে।
নলিনী মলিনী কোথা মেঘাচ্ছন্ন দেখে
২.
সতি-সত্তম কাব্য।
পতির বিচ্ছেদ খেদ কেবা লয় মনে।
গর্ভবতী সীতা সতী বঞ্চিলেন বনে ।
পতি দুঃখে দুঃখ মতি সাধ্বী সতী হলে।
গান্ধারী মুদিল নেত্ৰ অন্ধ পতি বলে।
দময়ন্তী গুণাগুণ কি বলিব তােরে।
পুন পতি পেলে সতী স্বয়ম্বর করে।
আজন্ম বিরহ জ্বালা বালা রয় সয়ে।
মৃত পতি বাঞ্ছাকরে সহ মৃতা হয়ে।
সতেতে সতীত্ব ভাব ভেবে থাক ধনী।
অবনী মণ্ডলে হবে ধন্য ধন্য ধনী।
প্রমদা কহিছে সই, শুন সবিশেষ কই,
পতি বই কে আছে সংসারে।
পতিব্রত। ব্রত যার, সেই করে পতি সার,
পুণ্য তার কে কহিতে পারে।
কিন্তু পথ সরােবরে, পতিভাব দিবাকরে,
লক্ষান্তরে উভয়ের স্থান।
ত্যজিয়ে পতির আশ, পতঙ্গের সহবাস,
বার মাস মধুকরে দান।
সতীত্ব ধৰ্ম্মের শেষ, পুরন্দর ছদ্ম বেশ,
অবশেষে ঘটাইল পাপ।
.
সতি-সত্তম কাব্য।
২১
ধন্য পরকীয় রস, অহল্যা ইন্দ্রের বল,
অপযশ গৌতমের শাপ।
মৰ্ম্ম কুথা রমনীর, কে পারে করিতে স্থির,
পাঞ্চালীর পঞ্চজন পতি।
এমন না দেখি আর, পাঁচ জন পতি যার,
নাম তার ত্রিভুবনে সতী।
করিয়ে পতির আশ, গৃহ বাসে বার মাস,
করে বাস হেন মেয়ে কই।
বৃক্ষ বিনে বল্লীদল, অন্য দিকে চলাচল,
বল দেখি করে কিনা সই ?
করিতে সতের কৰ্ম্ম, বিরহে ভেদিল মৰ্ম্ম,
এর ধৰ্ম্ম কিসে রয় বল।
প্রাণ যায় পতি বিনে, আয়ুক্ষয় দিনে দিনে,
নাক জিনে উঠিয়াছে জল ।
কার প্রতি করি রােষ, সকল ভাগ্যের দোষ,
আপশোষ কত উঠে মনে।
দুৰ্য্যোধন দু৪ খল, রাজ্য নিল করে ছল,
মহাবল পাণ্ডু পুত্র বনে।
বনাদি অজ্ঞাত বাস, পুন রাজ্য করি অাশ,
শত্রু নাশ করিতে সাজিল।
উভয়ের সেনা দল, ভীম নাদে ভূমণ্ডল,
রসাতল করিতে লাগিল।
সতি-সম কাব্য।
শল্য রাজ ব্যবহার, অরি হল ভাগিনার,
স্বজনার মুখ নাহি চান।
তেমতি পতির সখ্য, আমাকে করিয়ে লক্ষ্য,
লক্ষ লক্ষ হানিছেন বান।
করিয়ে ধৰ্ম্মেরে রুদ্ধ, এবড় অন্যায় যুদ্ধ।
শুদ্ধ অামি কিসে স্থির হই।
শত্রু কুল যে প্রকার, যুদ্ধ জিতে সাধ্য কার,
হল ভার প্রাণ রাখা সই।
সুমতি কহিছে হাসি অবােধ ললনা।
ভারতের সমরের তুলনা তুলনা ।
পাণ্ডব কুরুর রণে কত রথ রথী।
তােমার বিরহ মাত্র এক প্রাণ পতি।
এরূপ সংগ্রাম হয় সকলের ঘরে।
পাইয়ে বিচ্ছেদ জ্বালা বালা কোথা মরে ?
কেবা হল দুৰ্য্যোধন কেবা যুধিষ্টির।
মৰ্ম্ম কথা মন ব্যাথা খুলে বল স্থির।
সে যুদ্ধেতে ভীষ্ম দ্রোণ কর্ণ মহাবল।
তাের পক্ষে কে বিপক্ষ ভেঙ্গে চুরে বল ?
কুরুর শকুনি মন্ত্রি করাইল রণ।
পাণ্ডবের হর্তা কর্তা প্রভু জনার্দন।
সতিসত্তম কাব্য।
ধার্ত রাষ্ট্র শত ভ্রাতা ধৰ্ম্ম পঞ্চ ভাই।
দেখাও ভারত যুদ্ধ চখে দেখে যাই।
কামিনী কহিছে সই কোন চিন্তা নাই।
প্রত্যঙ্গে দ্বিপক্ষ কুরু পাণ্ডব দেখাই।
ঋতুরাজ করি সাজ কুসুম আশন।
দম্ভেতে আসিছে যেন রাজা দুৰ্য্যোধন।
অগৌর চন্দন চুয়া কামোদ্রেক যত।
বসন্তের পক্ষ এরা ভাই উনশত।
রতি পতি সেনাপতি দ্রোণাচাৰ্য্য হয়ে।
যুদ্ধেতে আসিছে দুষ্ট সৈন্য দল লয়ে।
ভীষণ কৌরব সেনা সমরে অদ্ভূত।
আমার সহায় মাত্র পাণ্ডব অচ্যুত।
পঞ্চ ভূতে বিধি দেখ নিৰ্ম্মায়েছে দেহ।
পঞ্চ ভত পঞ্চ ভাই কি আছে সন্দেহ।
ক্ষিতি হয়ে ক্ষিতি পতি রাজা যুধিষ্টির।
অপের অপার দর্প বৃকোদর বীর।
তেজের বিষম তেজ যেন ধনঞ্জয়।
মরুদ্যোম মহাবীর মাদীর তনয় ।
সেনা রিপুকুল রণে পিতা সমতুল।
প্রাণ হচ্ছে সর্ব শ্রেষ্ট গােবিন্দ মাতুল।
কাদিলে কি হবে সই বাধিল সমর।
বাড়ি বেড়া শত্রুগণ রণ বাদ্যকর।
সতি-সত্তম কাব্য
সবাই সাজিল রণে কেহ স্থির নন।
কর্ম ক্ষেত্র হল মাের কুরুক্ষেত্র রণ।
এমুখে বিমুখ হব করেছিনু স্থির।
কুল ব্যুহ মধ্যে আমি অভিমন্যু বীর ।
পলাতে বিপক্ষ হতে শত্ৰু কানা কানি।
আগম বুঝিতে পারি নিগম না জানি।
ধাঁচি কি মরি সই তাহে নাহি খেদ।
কুচক্রীর চক্ৰ ৰূহ নাহি হল ভেদ।
সে পক্ষ বিপক্ষগণ নাহি দেয় ছেড়ে।
পতি সহ রতি পতি সপ্ত রথী বেড়ে৷
অমর নহিত সই সমরেতে মত।
নির্লজ্জা করিল সজ্জা যৌবনের রথ।
শল্য সম মল্ল বেশ নাহিরয় ঢাকা।
ধূলায় ধূসর অঙ্গ বীর মাটি মাখা ।
ভাগ্য মন্দ কবন্ধাদি চারি দিকে উঠে।
মন যেন রণ অশ্ব ঝড় বেগে ছুটে।
অবুজ কবচ অঙ্গে বসায়েছি জাকে।
পুরুষ বিপক্ষ বীর সমরে না থাকে।
কপের দপ হেতু প্রাণ হল রথী।
ধরিল প্রবােধ-বাড়ি অবােধ সারথি।
হাহাকার বীর ঘণ্টা ঘন ঘন নড়ে।
উড়িছে কলঙ্ক ধ্বজা কুহকের ঝড়ে ৷৷
সতি-সত্তম কাৰ্য।
জুডিলু কটাক্ষ অস্ত্র সংগ্রামের মাঝে।
ছিচ কান্না দিবা নিশি রণ বাদ্য বাজে।
টঙ্কারিনু ভুরু ধনু অশ্রু পূর্ণ তুনে।
ছিড়ে গেল আশা গুণ কপাল বিগুণে।
সপ্ত রথী সহ পতি বধিবারে যােগ।
সম্মুখ সংগ্রামে মৃত্যু শেষে মৃগ ভােগ ।
অন্যায় সমরে সই কে বাঁচিবে প্রাণে।
অবলার মন দুঃখ ভগবান জানে ।
হাসিয়ে সুমতি বলে, যদি তুমি পুণ্যবলে,
ভূমণ্ডলে অভিমন্যু বীর।
স্বধৰ্ম্ম সহায় যার, সমরে কি সঙ্কা তার,
নাশ ভার আজ পৃথিবীর ॥
সাজায়ে যৌবন রথ, পূর্ণকর মনােরথ,
প্রেম পথ তুচ্ছ কর মনে।
ধর ধনী বীর বেশ, রেখনা দয়ার লেশ,
প্রবেশ করগে আজ রণে।
ভারত গ্রন্থতে লেখা, আর্জনী সমরে একা,
অস্ত্র শেখা জনকের স্থানে।
অভিমন্যু মহামতি, সস্তাপিল সপ্ত রথী,
মৃত পতি সম যােদ্ধ। বানে।
২৬
সতি-সত্তম কাব্য।
হইয়ে সুভদ্রা সুত, সৰ্বগুণে গুণ যুত,
অদভুত শিখেছ সমর।
গগ মহা ঋষি শাপে, মৃত্যু হবে বীর দাপে,
পাপে মুক্ত হবে কলেবর।
তুমিললা গগন চঁাদ, ধরায় পেতেছ ফাঁদ,
পরিবাদ ঋষির বচন।
বিধি লিপি যেটা অঙ্ক, সরােবরে থাকে পঙ্ক,
সে কলঙ্ক কে করে যােচন।।
এ কীর্তি দেখাতে সর্বে, জনম ভদ্রার গর্ভে
আদি পর্বে এ বৃত্তান্ত জানে।
বলিলাম পুৰ্ব্ব কথা, সতে সতী হও তরা,
তব সতা কে আছে এখানে।
প্রমদা বলিছে দিদি ভারতে প্রমাণ।
আমাকে করিলে কিসে চাঁদের সমান ?
দ্বিলক্ষ যোজনে থাকে তিথিতে প্রকাশ।
কিরণ কীরনে করে তমরাশি নাশ।
চাঁদের নিম্মল করে উজ্জ্বল সৰ্বরী।
সুধা পানে তৃপ্ত সদা চকোর চকোরী।
জগত পুজিত চঁদ আকাশেতে রয।
তিথি গুণে পুর্ণ চঁাদ বৃদ্ধি আর ক্ষয়।
সতিসত্তম কাব্য।
রঙ্গ দেখে ব্যঙ্গ কর ভাবে যায় জানা।
আমাকে চাঁদের তুল্য জোনাকে জ্যোৎসনা।
ত্রিলোেক উজ্জ্বল করে চঁাদের কিরণে।
বসনে রমনী অঙ্গ ঢাকা সঙ্গোপনে।
রমনীতে নিশামণি তুল্য কর কাযে।
শামুক কোথায় সই শঙ্ক হয়ে বাজে ?
একরূপে সম ভাবে থাকয়ে রমনী।
দিবসে লাবণ্য হীন হন নিশামণি ।
গঙ্গাধর শশধর সদাধর শিরে।
তােমার কি দিব দোষ ধিক রমনীরে।
দোষী নারী শশী হয় শুনে হাসি পায়।
ভাল জ্বালা চিরকাল জ্বালালে কথায়।
সুমতি কহিছে সই যেগুণ তােমার।
চন্দ্রমা উপমা তুমি জগতে প্রচার ।
শশীর স্বরূপ রূপ তােমাতে লাে সাজে।
তাহার দৃষ্টান্ত সই দেখাইব কাযে৷
হয়ে শশী ওরূপসী কারে কর দোষী।
পুণ্য বলে বিনােদিনী তুমি পূর্ণ শশী।
অকুল সমুদ্র হতে উঠে শশ অঙ্ক।
যে কুলে তােমার জন্ম কেবা পায় অঙ্ক।
যদি বল সে শশাঙ্ক দ্বিলক্ষেতে শােভে।
ঘোর উচ্চ সতী অঙ্গ কার সাধ্য ছোঁবে ।
২৮
সতি-সম কাব্য।
সুধাকর কর করে তমরসি নাশ ।
ললনা লাবণ্য করে সবার উল্লাশ।
কৃষ্ট শুরু দুই পক্ষ চন্দ্র হতে লক্ষ্য।
প্রণয় বিচ্ছেদ তাের সিতা দিত পক্ষ।
তিথি ক্রমে সে চরে বৃদ্ধি আর ক্ষয়।
এ যৌবন ক্ষয় বৃদ্ধি সমভাব নয় ৷
যদি বল শশ অঙ্ক আছে শশ ধরে।
ধরেছ কুরঙ্গ নেত্র চন্দ্রান নােপরে।
ওরূপ লাবণ্য চঁাদ মনাকাসে উঠে।
হৃদয় কুমুদ বন আমােদেতে ফুটে।
যদি বল শশাঙ্ক নীরদ সহ থাকে।
নিলাম্বর নব মেঘ নারী অঙ্গ ঢাকে।
পূৰ্ব্বাপর দুই গিরি সে চন্দ্রের স্থল।
ধরিয়াছ পয়ােধর উদয়াস্তাচল।
ভাদ্র চতুর্থীর উঁদ নারী রজ হলে।
পুরুষে করেন। দৃষ্টি নষ্ট চন্দ্র বলে।
সে চন্দ্রমা তারা সহ গগণে উদয়।
মুখ চন্দ্রে নেত্র তারা শুক তারা হয়।
সে চাঁদে বিবাদী সই রাহু আর কেতু।
এ চাঁদেতে উপপতি
সে চাঁদে কলঙ্ক অঙ্ক জগতে প্রকাশ।
এফঁদে কলঙ্ক সই ধৰ্ম্ম হলে নাশ।
অনর্থের হেতু।
সতি-সম কাব্য।
ফুলের কামিনী তুমি রূপেতে রূপসী।
বিধির সৃজন নারী পূর্ণিমার শশী।
শিব শিবােপরে শশী সদা করে বাস।
সে চাঁদে মদন ভয় একি সর্বনাশ !
শঙ্কর সহায় তবে কি হেতু দুর্বল।
উত্তর সমর জয়ী লয়ে বৃহন্নলা ৷
নকুলে সাঁপিয়ে কুল কন্দর্পের ভয়।
আস্তিক প্রসঙ্গে কভু ভজঙ্গ কি রয় ?
চাদ সহ বাদ করে কে বাঁচিবে প্রাণে।
ভষ্মের সুখের শেষ কাম দেব জানে।
প্রবােধে ধরহ বােধ সুবােধতে চল।
পতি ভেবে থাক সতী ত্ৰিকুল উজ্জ্বল।
তােমাতে প্রত্যক্ষ সই চন্দ্রমার গুণ।
জ্বেলন। বিচ্ছেদ জ্বালা নিবাও আগুন।
কামিনী কহিছে সই, আমি যদি চাঁদ হই,
কেন রই পােড়া নিকেতনে।
চাদের নিৰ্ম্মল জ্যোতি, মান্য করে পশুপতি,
রতি পতি আসিত কেমনে ?
নানাগুণে শোভে চাঁদ, সবার দেখিতে সাধ,
পরিবাদ তবু তার সঙ্গে।
(৪)
সতি-সম কাব্য
নাহি মম সুধারস, কি গুণে করিব বস,
অপযশ কেন দাও অনে?
একামিনী কলেবরে, কটাক্ষে কলঙ্ক ধরে,
পােড় ঘরে ঘঁতে মাছি কাটে।
আশুতােষ পশুপতি, পতি রত হন সতী,
বসতি করিব কালিঘাটে।
সতী অঙ্গ হন কালী, দৈত্য মুণ্ডে মুণ্ড মালী,
করালী অদ্ভুত কলেবর।
কালীঘাট তুলা কাশী, শঙ্কর সতত বাসী,
ভস্মরাশি হবে পঞ্চশর।
তাই বলি প্রাণ সই, কালীর নিকটে রই,
ব্রহ্মময়ী বিরাজ পাষাণে।
পতি বিনে কুল বালা, সহ্যকরে কত জ্বালা,
গিরি বালা মৰ্ম্ম কথা জানে।
সেবিব কালীর পদ, ভক্তি ভাবে তদ গদ,
এ বিপদ কিন্তু সেথা নাই।
থাকিৰ কালীর মঠে, বেড়াব গঙ্গার তটে,
এ সঙ্কটে মিছে মারা যাই।
সুমতি কহিছে কেন নানা কথা আন।
মত্ত হয়ে মিছে তত্ত্ব কথা জান।
সতিসত্তৰ কাৰ্য।
মূলাধারে নিদ্রাগতা
আত্ম তত্ব শিখ গিয়ে তত্ত্ব তেওঁর কাছে।
দেবতা তেত্রিশ কোটি এই দেহে আছে।
মহা বিষ্ণ, সহশ্রারে ব্রহ্ম সনাতন।
ব্রহ্মা যে জঠরানল বেদের লিখন
কুম্ভ যােগে যােগাসিনী শম্ভু সীমন্তিনী।
কুল কুণ্ডলিনী।
আগম নিগম জান জান গিয়ে বেদে।
অথবা জানিতে পার ষড়চক্র ভেদে !
স্বর্গ মর্ত্য রসাতল এ দেহের ঠাট।
জ্ঞান চক্ষে দেখে লও পাবে কালীঘাট।
হইবে অভীষ্ট সিদ্ধ শুন রসবতী।
মহাপীঠ পীঠস্থান তব কাছে সতী ।
একে একে বুঝে যাও মন করে স্থির।
ধরেছ অপূৰ্ব দেহ দেবীর মন্দির।
পতি ভেবে স্বর্ণ কান্তি হইয়াছে কালী।
মাের মনে জ্ঞানহয় কালীঘাটে কালী ।
চারি হস্ত বিনােদিনী করে দেখে বুঝ।
রতি সহ সতী তুমি নিজে চতুর্ভুজ।
অভিমানে নেত্ৰ বারি ঝরে বিনােদিনী।
আদি রসে আদি গঙ্গা দক্ষিণ বাহিনী।
সুললিত বিনােদিনী গলিত কুন্তলে।
বপু বেড়া ষড় রিপু মুণ্ড মালা গলে।
সতি-সত্তম কাব্য
ললনা নগন। হও সুবসন ছেড়ে।
ত্ৰিবলীর কর শ্রেণী কটিতট বেড়ে ।
ললাটে সিন্দুর বিন্দু দেখিতে সুন্দর।
শোভিতেছে অগ্নি নেত্র যেন বৈশ্বানর।
সুরঙ্গা পাণের পিকে শােভিত শরীর।
বসুধারা প্রায় বুকে পড়িছে রুধির ॥
সুচারু চিকুর ছটা বেনী জটা জুট।
কোটি চন্দ্র সম সজ্জা সুলজ্জা মকুট।
চন্দ্র জিনি চানন উদিত ত্ৰিকালে।
অর্ধ চন্দ্র সম উল্কি সুশােভিত ভালে।
বরা ভয়ে চারি কর পালন শাসনে।
কুমন্ত্রনা শিশু সম দুলিছে শ্রবণে ॥
তম রূপে বিনােদিনী তম কর লােপ।
বিবেক শাণিত খড়গ কারে মার কোপ।
বিশাল করাল মুখ দেখিতে অশিব।
দশনে রসনা রেখে বাড়ায়েছ জিব।
রূপ ছটা সম ছটা কিবা ছটা তাতে।
কেটেছ লজ্জার
মুণ্ড
কাটা মণ্ড হাতে।
নবীন নায়ক যত ভাবে পদানিত।
শবে শিবে সাজিয়াছ অতি বিপরীত ॥
আরক্ত করেছ পদ অলক্ত পরিয়ে।
ভক্তেতে পূজেছে যেন রক্ত জবা দিয়ে
সতি-সত্তম কাব্য।
যােড়শােপচারে নিত্য পূজা নাহিদ।
কৰ্ম্ম ভােগ মহা ভােগ খিচড়ী প্রসাদ।
সিদ্ধ পীঠ সিদ্ধেশ্বরী দেবী বিদ্যমান।
দিতেছ ধিক্কার বলী নিত্য বলী দান ॥
মহা কালী অঙ্গ কালী রম্য কালীঘাট।
গুরু উপদেশ গৃহে নিত্য চণ্ডীপাঠ ৷
চিন্তায় মাথার ঘাম পড়িতেছে পায়।
ভক্তি ভাবে ভক্ত জন চরণামত খায় ।
ত্ৰিকুল ত্রিপত্রে পূজা জনরব ফুল।
ব্যাকুল নকুলেশ্বর নাহি ছাড়ে কুল।
ছলা রূপ সােহাগিনী রক্ত জবা মালা।
দেবল ব্রাহ্মণ মন নিত্য ধরে ডালা।
কলিতে কামিনী কালী যে করে সাধন।
থাকেনা কালের ভয় কি ছার মদন ।
যতেক রমণী দেখ সব ভগবতী।
নারী অঙ্গে বিরাজিত আপনি পার্বতী ।।
যত্র জীব তত্র শিব বেদাগমে কয়।
পুরুষ প্রকৃত পদ শক্তি শিব ময় ॥
দেখালাম কালীঘাট দেখালাম কালী।
কালী
কুলে
দিওনাক কালী ॥
হাসিয়া প্রমদা তবে সুমতিরে কয়।
বলিলে যে সব কথা যুক্তি যুক্ত নয়।
হয়ে নিজ
সতি-সম কাক।
সতী আর ভগবর্তী বেদে যদি রব।
যতেক পুরুষ যদি সকলে ভৈরব।
বেদ বিধি ভেদ তবে কেবল কথায়।
অন্য উপাসনে কেন সতীত্বটি যায় ?
ভাল বুঝে সদা মজে পরকীয় রসে।
জগতে কলঙ্কী বলে নিন্দা করে দশে।
পতি আর উপপতি পুরাণে অভেদ।
অকারণ পতি জন্য কেন করি খেদ ।
ফন্দি করে ফুলে বন্দী এই বন্দীশালে ।
বিহঙ্গ পিঞ্জর যুক্ত মুক্ত কোন কালে ।
অসম্ভব অনুভব ভবের ভবন।
বাল বৃদ্ধ কারাবদ্ধ যাবত জীবন।
অসার সংসার এই মিছে মায়া জাল।
পেতে দহিল হিয়ে জীয়ে কতকাল।
অমুহতে বিম্ব উঠে পলকেতে লয়।
জীবন যৌবন রূপ চির দিন নয় ।
যৌবন জম্মের মত যাবে আজ কাল।
শােক সিন্ধু নিবারিতে আগে বাধি আল
নীতি শাস্ত্র বেদ বিধি কেহ কিছু নয়।
অকান্তে নিতান্ত মোর প্রেম করা শ্ৰয় !
ক্ষুধা নিদ্রা এই দুট এ দেহের ভােগ।
কাম আদি মহা সুখ তার সঙ্গে মােগ।
সতি-সম কাব্য।
৩
কামেতে নিষ্কাম হয়ে আছি নিকেতনে
দেখাও প্রেমের পথ সুপ্রসন্ন মনে।
সুমতি কহিছে সই, কথা রেখে কথা কই,
আমি নই পরকীয় রসে।
ব্যথা রেখে কথা মান, প্রেমে যাবে কুল মনি,
অপমান হবে অপযশে।
জানিতে পরম ব্রহ্ম, শঙ্করের যােগ ধর্ম,
আজন্ম শ্মশানে গিয়ে রয়।
চিতা ভস্ম মেখে গায়, সুধা ত্যজি বিষ খায়,
স্থির কায় ব্রহ্মানন্দ ময় ।
নারদ বশিষ্ঠ শুক, যে জ্ঞাননতে পরাঙ্খ খ,
সেই সুখ চাহ এক বারে।
যার দেহে পূর্ণ কাম, বিরাজিছে অবিরাম,
ব্ৰহ্ম নাম সম্ভবেনা তারে।
কালের মাহাত্ম গত, যাগ যজ্ঞ হল হত,
কত জনে কত শত মত।
সুখ দুঃখ দেহ ধারী, ব্রহ্ম জ্ঞানে মারামারি,
বলি হারি কি অপূৰ্ব পথ ৷৷
ব্ৰহ্ম উপাসনা মতে, যেওনাক সেই পথে,
কোন মতে না ঘুচিবে ঘাের।
সতি-সম কাক।
কৰ্ম্ম কাণ্ডে কর যােগ, শেষে হবে স্বর্গ ভােগ,
রঙ্গ রােগ ঘুচে যাবে তাের ।
গত হল
কাতরে কামিনী কয় ধরি তাের পায় ।
এ যন্ত্রনা ঘুচে যায় কি আছে উপায় ?
পূর্বের দুষ্কৃতি করে নিষ্কৃতি কে পায়।
কৰ্ম্ম সুত্র যােগাযােগে শ পায় পায়।
সুমতি কহিছে সই শুন তবে বলি।
তিন
যুগ
উপস্থিত কলি ৷
কাম আদি ষড় রিপু যাবে রসাতল।
ভব দুর্গে দুর্গা পূজা অশ্বমেধ ফল ॥
সেই তত্ত্বে পাবে ধনী ধৰ্ম্ম অর্থ কাম।
যাঁরে পূজে দশাননে জয়ী হল রাম ।
যােগ মায়া ভব জায়া যারে যােগীগণ।
অনশনে যােগাশনে চিন্তে অনুক্ষণ।
সেই মহামায়া তুমি মানবী ত নয়।
প্রত্যক্ষে দেখাব আর প্রতীক্ষা না সয় ।
পঞ্চ ভূত তৃণ কাষ্ট করি আয়ােজন।
বিধাতা কুমার কৈল কাঠাম সৃজন ৷
রূপের তুলনা দিতে না দেখি স্বরূপ।
যশে পূর্ণ দশ দিক দশভুজা রূপ ।
সিম কাব্য।
কর্ণের কুণ্ডল দুট কোটি চন্দ্র জ্যোতি।
দুই পাশে শোভা করে লক্ষী স্বরস্বতী।
করি শুও ভুজ দণ্ড ধরেছে বিশেষ
ভেবে দেখ বিনোদিনী কার্তিক গণেশ ।
কোটিতে কেশরী রূপ রাখিয়াছ বেঁধে।
নীলাম্বর মহিষাসুর ধরিয়াছ হেঁদে।
রাম রম্ভা সম উরু কলা বউ তাের।
বসনে রয়েছে ঢাকা যেন দাগী চোর।
বিচ্ছেদ বিষাক্ত অস্ত্র ধরিয়াছে ধনী।
শিরে শোভে বেশী তোর নাগ পাশ কণী।
সেরিব গেরিব তাের নানা জাতি
ফুল
মন হচ্ছে পুর্ণ ঘট সবাকার মূল ।
শুলজ্জা রচনা রচ ভাবে যায় জানা।
রাগ রঙ্গ ঠাঠ ঠম নৈবেদ্য কখানা ।
পয়ােধর দ্বিজবর পরম পণ্ডিত।
হৃদয় আসনে বসে কুল পুরােহিত।
ধিকার কামার ধনি দিয়া ধৰ্ম্ম লােপ।
জন্মাবধি করে বলি মৰ্ম্ম ভেদী কোপ।
আশা খৰ্পরেতে রাখ স্বধৰ্ম্ম কদলী।
কুপ্রবৃত্তি হবে তাের সন্ধি পূজার, বলি।
ধরিয়া বিবেক খড় কর বলিদান।
ঘুচিবে পশুত্ব ভাব স্বগে হবে স্থান।
৩৮
সতিসম কাকা।
মিষ্ট কথা মিষ্ট অন্ন করাও ভােজন।
নিত্য নিরঞ্জন ভেবে কর নিরঞ্জন।
আত্ম তত্ত্ব জেনে যেবা তত্ত্ব জ্ঞানে যায় ।
ধৰ্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ ঘরে বসে পায় ।
প্রতিমা পূজার দ্রব্য তোমাতে প্রকাশ।
জ্ঞান চক্ষে দেখা যাবে সমনের ত্রাস ।
বােধন করিয়ে ধনি বসই পূজায়।
লভ্য হবে দিব্য লােক ধৰ্ম্মের কৃপায় ।
হাসিয়ে প্রমদা কয়, ও পূজার ফলােদয়,
ধরাময় আছে সুপ্রচার।
সুরথেরে কে জানে, হা দেবী বিদ্যনানে,
বলিদানে রুদ্ধ স্বর্গ দ্বার।
পুণ্য কথা আর বলি, অতিদানে বদ্ধ বলি,
বিন্ধ্যাবলী করিল মেনি।
যধিষ্টির ধর্ম আশে, পাশা খেলে রাজ্য নাশে,
বনবাসে পাণ্ডুর নন।
আমি বলি চুপে চুপে, প্রেম করি কোন রূপে,
কাম কূপে পাইব নিস্তার ।
আজন্ম কুকর্মে মতি, কুন্তী পেলে স্বর্গ গতি,
অধগতি হইল সীতার ।
সতিত্তম কাব্য।
সতী ধৰ্ম্মে নাহি স্থির, পঞ্চপতি পাঞ্চালীর,
অবনীর অশেষ অসতী ।
ভার্চার সতীত্ব দূর, পাপে মুক্ত শঙ্খাসুর,
সাপূর হল নিবসতি।
প্রভাত পাঁচের নাম, নিলে সিদ্ধ মনস্কাম,
মােক্ষ ধাম দেন পঞ্চ না।
হেন কৰ্ম্মে পাপী নগ্ন, আমি মিলে হব ছয়,
মিছে ভয় মােরে দেখাওন।
যে নারী স্বতন্ত্র। নয়, ইচ্ছামত পতি লয়,
যমালয় অন্ধকারে আল।
কুলশীল লজ্জা খেয়ে, ধন্য হল হেন মেয়ে,
পতি চেয়ে উপপতি ভাল ।
বিশেষ ভেবেছি সই, প্রেম করে সিদ্ধ হই,
কেন রই পােড় নিকেতনে।
সতীত্বের ধর্ম ভাব, প্রাণ যায় এই লাভ,
কত ভাব উঠে পােড়া মনে।
ছাড়িয়া শঠতা ছল, কোথা প্রেম বল বল,
চল চল প্রেম রাজ্যে যাই।
কমে হল তনু কালী, নাহি মনে করতালি,
গালা গালি ঘরে পরে খাই ।
এ সতীত্ব সত্ৰ ধরে, কেন বুই জ্বরে মরে,
প্রেম করে জড়াইব প্রাণ।
সজিসাকাব্য
কুল শীল ঘুচাইব, রসিক পুরুষ নিব,
মানিব অলীক বিধান ।।
সদনে লােদনে বালা, সর্বদা মদন জ্বালা,
হৃদে জ্বালা বিরহ আগুন।
স্বভাবে চঞ্চলা হই, লোকে করে হই চই,
এই সই সতীত্বের গুণ।
সখি বলে বিনােদিনী, তুমি নব বিরহিণী,
একাকিনী হইবে বাহির।
মদন সদনে যাবি, কুল শীল সব খাবি,
ওলাে হাবী কি করেছ স্থির ।
সতেতে থাকহ সতী, সার কর প্রাণ পতি,
রতি পতি কোথায় বা আছে।
ন হরি শঙ্কর ব্রহ্ম, কে নাশে নারীর ধর্ম,
তার মর্ম সাবিত্রীর কাছে।
শুন বলি ওল ধনি, সর্তী হয় কাল ফণী,
পদ্মযােনি যারে করে ভয়।
কে বাঁচে সতীর দাপে, গান্ধারীর মনস্তাপে,
ভিশাপে যদুবংশ ক্ষয় ।
সে সব সৌরভ ছেড়ে, মদনের কথা পেড়ে,
বেড়া নেড়ে বুঝ কার মন।
পাতিয়ে কামের ফাদ, অন্য পতি মন সাধ,
পরিবাদ কেন আকিঞ্চন ?
সতি-সম কাব্য।
কামিনী কহিছে দিদি বেদের প্রমাণ।
সতী আর অসতীতে গুণেতে সমান ।
সতী ক্রোধ অনলেতে ব্রহ্ম আদি কাঁপে।
সীতার পরীক্ষা কিন্তু মন্দোদরী শাপে ।
সতী সনাতন ধর্ম যদি উচ্চ পদ।
পাঞ্চালীর শাপে কেন খটোৎকচ বধ ?
সতী আর স্বৈরিণীতে সম দুই পথে।
অবশ্য করিব প্রেম তােমার অমতে।।
সুমতি কহিছে তুমি করিয়াছ পণ।
কার সাধ্য অবাধ্যরে করে নিবারণ ।
অনুমতি করিলাম যাও সঙ্গোপনে।
কিন্তু মাের এই বাক্য সদা রেখ মনে।
যে রমণী গৃহ ত্যজি যায় দেশান্তর।
পবিত্র হইলে তৰু কলঙ্ক বিস্তর ।
মনে মনে এক যুক্তি করিলাম স্কুল।
কলঙ্ক মােচন হবে রক্ষা হবে কুল।
পতির উদ্দেশ ব্রত অতি সঙ্গোপনে।
প্রমদা পূজিবে শিব মম নিকেতনে ।।
প্রবােধিব পিতা মাতা প্রতি ঘরে ঘরে ।
বৎসর অবধি কেহ তত্ত্ব নাহি করে।
এই রূপে প্রতীতি করিব প্রতিবাসী।
বৎসর না হতে শেয দেথা দিও আসি ।।
82
সতি-সওম কাব্য।
যদ্যপি পড়িতে চাহ প্রেম তনুরাগে।
আমারে জানায়ে করে। যাহা মনে লাগে ।
ভীষণ কালের ভাব কেহ নহে সত।
সাবধানে যবে ধনি ভয়ঙ্কর পথ।
যদ্যপি দুর্গমে পড় দুর্গানাম লবে।
কুল শীল প্রাণ মান সব রক্ষা হবে।
নবীন। বিনয় করি হইল বিদায়।
চাতকী নিদাঘে যেন ঘন আশে ধায়।
ইতি সতি-সম কাব্য প্রথম সর্গ।
সতিসত্তম কাব্য ৪৩ দ্বিতীয় সর্গ চলিল ভামিনী, মরাল গামিনী, কোথায় তড়িত, কোথায় চকিত, কোথায় সন্ন্যাসী, কোথায় উদাসী, কখন যােগিনী, কভু উন্মাদিনী কোথায় যুবতী, মৃদু মন্দগতি, পুরুষ কুরীতে, সচঞ্চল চিতে, এইরূপ বেশে, মনের আবেশে, প্রেমের নাগরী, ভাবের ভাবিনী, বিকল ভাবে। চরণে জড়িত, চরণ দাবে। গায় ভস্ম রাশি, বিরাগাশ্রমে। ভুবন মােহিনী, শ্মশানে ভ্রমে । হয়ে মেনবতী, মলিন কায় । পলায় ত্বরিতে, নিভৃতে ধায় ॥ লমে নানা দেশে, তনু শিহরে । বুদ্ধের গরী, প্রবেশ করে || অতি মনােহর, করে বসতি। সম্মুখে নগরী, দেখিয়া নগর, বহুতর নর, সমি কাৰ। বলে কোথা যাই, এ বড় বালাই, লােক অগনন, হৃদে আচ্ছাদন, নিরস অধর, যেন শশধর, কহিছে কাতরে, কেহ পাছে হরে, রমণী অরাতি, রাখিব এ জাতি, মানব অধিক, না দেখি প্রেমিক, বিরহ বিদ্বেষে, প্রেমের উদ্দেশে,. চাতকী নীরদে, রাজ হংসী হদে, তেমনি অঙ্গনা, হেরে বারাঙ্গনা, স্বৈরিণী চাতর, জিজ্ঞাসে সত্বর, ডমিছ ধরণী, কাহার ঘরণী, কেহ হেথা নাই, কি হবে গতি। দেখিয়া তখন, করিল বাহু। কঁপে থর থর, হেবিল রাহু । এ হেন নগরে, প্রবল বলে। সিতেছে রাতি, কি রূপ ছলে। সবে বয়ােধিক, সুহৃদ জন। দ্বেষ ভাব দেশে, করি ভ্রমণ। কুমুদী শরদে, হরিষ চিত। নন্দে মগনা, অনঙ্গ রীত ॥ সবে পরস্পর, বিনয় মতে। সুবৰ্ণ বরণী, কুৎসিত পথে।
সতি-সত্তম কাব্য।
৫
ওরূপ বিমল,
হেরিয়া বিকল,
কিসের প্রয়াস,
এই গৃহ বাস
চঁদনিরমল,
হয়েছি মাের।
হেথা অভিলাষ,
পাপেতে পােরা
বিনয়ে রমণী কয়, শুন শুন পরিচয়,
সমুদয় আদি অন্ত মম।
দ্বিজের দুহিতা হই, নাই সুখ দুখ বই,
গৃহে রই কারা বদ্ধ সম।
পরিণয় পরে পতি, নাহি হল দম্পতি,
রতি পতি করে জ্বালাতন।
গৃহেতে নিগ্রহ যত, এক মুখে কব কত,
কথাগত করেছে জীবন |
অনঙ্গ তরঙ্গ ধর, পার হও নিরন্তর,
পতি কর না কর বাসনা।
পরপতি কর ভোগ, কত সুখ তাতে যােগ,
বিয়োগ যাতনা কি জাননা।
প্রেমের পণ্ডিত হও, প্রেম রসে মূখ নও,
সত্য কও নাহি ছাড়া ছাড়ি।
অামার আকাখা এই, প্রেম সূত্রে কোথা খেই,
কোথা সেই পিরীতের বাড়ি।
( ৬ )
৪)
সতি সওম কাব্য
এসেছি প্রণয় আশে, উপনীত তব বাসে,
মম ভামে হও অমুকুল।
পিরীতের কি আকার, সাকার কি নিরাকার,
সার সার সুক্ষ কিবা স্কুল ?
অনুভাবে ভাবিনীর ভাবের উদ্দেশ।
বুঝিল গণিকা কথা না হইতে শেষ ।
ত্যজে ঘর নিরন্তর করিছ ভ্রমণ।
কি আশে এবাসে হল তব আগমন।
বিজ কন্যা মহামান্য মানব সমাজে।
হয়ে সত অসৎপথ তােমারে কি সাজে।
তব শাপে পরিতাপে কত জন যায়।
বেদ উক্তি করে ভক্তি পাদোদক খায়।
সাধু জন্মে অপকর্শে কেন হল মন।
কি দুখে অসুখে কুল দিবে বিসর্জন।
কি লাগি বিরাগী বল প্রাণে কিবা আছে।
মাধবী গৌরবী লতা কন্টকীর গাছে।
কি আশ্চৰ্য্য সে মাৎস্য সকল ভুলিলে।
কিবা দুঃখ বল সুক্ষা বুঝিব শুনিলে।
ছাড় ছল ভেঙ্গে বল দ্বিজের কুমারী।
উপদেশ দিব শেষ যত দূর পারি ।
সতি-সম কাব্য।
কি বিরহ কি নিগ্রহ যতেক যন্ত্রণা।
সেই ভাবে করা যাবে অশেষ মন্ত্রণা।
বল আগে কি বিরাগ হলে দেশান্তরী ।
কি উদ্দেশে দেশে দ্বেষ বুঝে কাষ করি।
প্রমদা বলিছে যদি হইলে সদয় ।
যে দুঃখে দুঃখিনী আমি শুন সমুদয় ।
বিধির নিৰ্বস্ক দিনে ফুলে বন্দী করে।
স্বামী সহ সহ বাস বাসরের ঘরে।
সেই মাত্র দেখা শুনা আমাতে তাহাতে।
কোথায় গেলেন পতি রজনি প্রভাতে।
তখন বালিকা কাল কিছুই না জানি।
যৌবনের প্রসবণ সদাকুল প্রাণী।
ঝর ঝর নেত্র বারি ঝরে অনিবার।
একুল হয়েছে মোর অকুল পাথার।
অবলা সরল। তাতে না জানি তার।
কর্ণ পেতে নাহি শুনে ঠিকে কর্ণ ধার ।।
হুতাশ বাতাস তায় ভয়ঙ্কর ঝড়।
সে নদী দেখিলে প্রাণ করে ধড় ফও।
নাই কেউ চোর ঢেউ সতত কুসঙ্গ।
কাষ্ট হাসি দিবা নিশি বিপুল তরঙ্গ।
এ তরী রাতে নারি কি গ্রহ বিগুণ।
সুগুণে নিগুণ আমি কে টানিবে গুন।
৪
সতি-সত্তম কাব্য
কেবা পারে যেতে পারে কেহ নহে রাজী।
আড়ি করে পাড়ী ফেলে পলায়েছে মাজি ।
শােক জলে বাহু বলে না হল উপায়।
তলে তলে প্রাণ তরী রসাতলে যায়।
অবশেষ সুখখাদেশ সব গেল ভেসে।
রান্না ঘরে কান্না মাের চোর বন্যা এসে।
বিষম বিচ্ছেদ নদী বাড়ে কি কমে।
আড়াআড়ি বাড়া বাড়ি পাড়ী নাহি জমে ॥
অনঙ্গ তরঙ্গ ভঙ্গি কালা পানী তায়।
ভীষণ গঞ্জন ধনি অশনির প্রায়।
পাক দেখে বাক হীন নিগুণ নাবিক।
পালে পালে পলায়েছে কি কব অধিক।
ভাবুক নাবিক যদি এক জন পাই।
তার জোরে পারাবার পার হয়ে যাই।
বিচ্ছেদ বিবাদী নদী নাহি করি ভয়।
প্রেমের সহায়ে সিন্ধু এক বিন্দু নয় ৷
মনে মনে সঙ্গোপনে করেছি মন্ত্রণা।
জলধির পার দেখে জুড়াব যন্ত্রণা।
সেই চিন্তা দিবা নিশি অন্তরে প্রবল।
বিলম্বে সম্ভব দিদি সদা অমঙ্গল।
আর কিছু নয় মনে এই বড় ভয়।
পূর্ণ তরী পাছে চরে বান চাল হয়।
•
সতি-
সম কাব্য।
=
এই লাে মনের জ্বালা অন্য কিছু নয়।
সিদ্ধ কর মন সাধ বিলম্ব না সয়।
সুমুখী গণিকা বলে অবোধ ললনা।
পতঙ্গ তরঙ্গ লঘে একি বিবেচনা !
প্রণয় দুর্গম সিন্ধু বিধিমতে জানি।
সে জল স্পর্শিলে শেষ প্রাণে টানাটানি ।
অবলা সরলা তুমি তরী তব ক্ষুদ্র।
দেবের অগম্য প্রেম অকূল সমুদ্র
গঞ্জনা লাঞ্ছনা ঝড় বহে নিরন্তর।
কলঙ্ক তরঙ্গ তাহে মহা ভয়ঙ্কর।
অস্থির সেকেন্দ্র পঞ্জা নীরে আছে স্থির।
আশা অতলস্পর্শ বড়ই গভীর ।
প্রাণান্ত করিলে তায় নাহি জমে পাড়ী।
তাতে তব সঙ্গে নাই মাজি কিম্বা দাঁড়ী।
পিরীতি বিষম বারি ভাবে যায় জানা।
সে জলে পাবেনা থাই তাই করি মানা।
পরকীয় রসে বশে সদা রেখ রিশ।
খেওনা প্রণয় লাড়
মিষ্ট মাখা বিষ।
প্রমদা বলিছে আর কি বলিব দিদি।
হেলায় হারাই সই এ যৌবন নিধি ॥
যুবতী পিরীতি বিনে সকল বিফল।
গগাবরে পতিত যেন সােয়াতির জল।
সতি-সম কাব্য
অসাধ্য রােগের কালে নিদানের কল।
বিকারে ব্যবস্থা সই আছে হলাহল।
কি রীতি পিরীতি বল কেন রাখ ঢেকে।
ছিড়েছে ভেড়ার দড়ি আলচাল দেখে।
সতীর দুর্গতি অতি প্রাণ পতি আশ ।
জানকীর মত সই নিত্য বনবাস।
পতি পতি করে মল যত সর্বনাশী।
পঞ্চপতি সত্তে কৃষ্ণা সুদেষ্টার দাসী ।
ফন্দি করে ফুলে বন্দী পতি নয় বস।
নামে গােপ কাৰ্জী পান বাক্যে গব্য রস।
চেষ্টা করে ভ্রষ্ট। নই স্পষ্ট ভাব প্রাণে।
মন প্রেম, চুম্ব লােহা স্বভাবেতে টানে।
তাই বলি প্রেম করে জুড়াইব প্রাণ।
আশার যৌবন মাের হল অবসান ।
নষ্ট ভয়ে কত কষ্টে রাখিয়াছি কুল।
সতী ভাগ্যে কিবা পতি দিয়েছে নকুল।
নেত্র জলে গাত্র ভাসে হৃদয় আকুল।
গােমুখী হইতে গঙ্গ এসে কুল কুল।
গণিকা গম্ভীর ভাবে প্রমদারে কয়।
বিকল গরল খাবে শুনে লাগে ভয়।
প্রণয় প্রায় নয় যত রাগ রঙ্গ।
ব্যক্ত আছে সে পিরীতি বিষাক্ত ভঙ্গ।
সিম কাব্য
ধরিতে ওঝার বাপ করে বাপ বাপ।
ছুওনা সে কাল ফণী আকামানে সাপ ।
প্রেম সর্পে আছেসই অজাতি মুজাতি।
সে সপেতে জ্বরাগ্রস্থ হয়েছে যযাতি।
অজিম্ম কাহার প্রেম কার সাধ্য নাড়ে।
সে পিরীতি বাস্তু সাপ ভিটে নাহি ছাড়ে।
যদি বল সে সপের অপূৰ্ব্ব বরণ।
নয়নে প্রণয় সদা প্রিয় দরশন।
বায়ু, আকর্ষণে সপ সর্বদা অস্থির।
প্রেম সপ প্রাণ বায়ু নাশে পৃথিবীর ।
প্রেম করে ব্রিজগতে কে আছে সরল।
তুজঙ্গের অপযশ জানা আছে খল ।
পিরীতি কুরীতি অতি সাপের তুলনা।
মাঝে মাঝে অভিমান নিত্য ধরে ফণা ।
সােজা পথ নাহি প্রেমে শুন রসবতী ।
দেখিয়াছি ভুজঙ্গের বঙ্কভাব গতি।
বাসকী ধরেণ ধরা সহস্র ফণায়।
ত্রিলোক একত্র করা প্রেমের মাথায় ?
দেখিয়াছি কত লোক হলা হলে মরে।
প্রাণ রক্ষা হেতু বিষ ভেষজের ঘরে।
মহৌষধি মনিমন্ত্রে না নাবে গরল।
অসারেতে জল সার নয়নের জল ।
সতি-সম কাব্য।
বুঝে প্রণয়ে মজে না হইয়ে দিক্ষা।
যারে পায় ধরে খায় অজগর ভিক্ষা ।
প্রণয় কুটিল অতি নহেক সরল।
যথায় অমৃত আছে তথায় গরল ৷৷
সুসঙ্গ ভুজঙ্গ ডোরে যারে লয়ে যায়।
মহা বিষ্ণু দেখে সেই অনন্ত শয্যায় ।
যদ্যপি ধরিবে সাপ শুন বিনােদিনী।
মুলাধার হতে তুল কুলকুণ্ডলিনী।
মহা মূল্য রত্ন মনি শিরে ধরে ফণী ।
সে সর্পের শির মনি দেব চিন্তামনি ।।
কু সঙ্গ ভুজঙ্গ
* যদি দংশে একবার।
বিচ্ছেদ বিষেতে দেহ হবে ছার ক্ষার।
প্রণয় ভুজঙ্গ দংশে পাবে পরিতাপ।
সৰ্পে মৃত্যু হলে বলে ছিল ব্রহ্মশাপ।
বুঝে প্রণয়ে মজ কেন নিজ দোষে ?
দুধ কলা দিয়ে কেবা কাল সাপ পােষে।
সাধ করে পরিতাপ কেন পাবে মনে।
সাধে কে উদ্যত হয় জীবন নিধনে।
সুখ দুঃখ দুই ভাগ বিধির সঞ্চার।
হও স্থির নেত্র নীর ফেল নাক আর ।
সতি-সম কাব্য।
বালা বলে একি রঙ্গ, মিছে কর মন ভঙ্গ,
ভুজঙ্গ সৃজিল জগদীশ ।
সর্পের প্রখর দন্তে, জীবের জীবন অন্তে,
মণি মন্ত্রে হয়ত নির্বিষ।
যদি থাকে পূর্ব পাপ, দংশিবে প্রণয় সাপ,
পরিতাপ কেবা বল করে।
বিধি যার ক্ষমে পাপ, সে কভু না পায় তাপ,
কত সাপ সাপুড়ের ঘরে।
লইতে অমূল্য মণি, ধরিব প্রণয় ফণী,
যদি ধনি সে দংশে আমায়।
বিষ বৈদ্য থাক সুখে, বাঁচাবে বিষম দুখে,
ঘ মুখে নাশিবে বিষ ঠায় ৷
ধরিতে প্রণয় নাগ, হইয়াছে অনুরাগ,
বিরাগ করাতে কিবা ফল।
জীব মাত্র অাত্ম স্বত্ত্বে, ঘুরিতেছে স্বর্গেমৰ্ত্তে,
প্রেম তত্বে কোথা যাই বল।
মনে এই অভিলাষ, এই গৃহে বার মাস,
করি বাস তােমাদের সনে।
প্রেমের আমােদ যত, ক্রমে হব অবগত,
আপাততঃ জুড়াব জীবনে।
সতি-সম কাব্য।
হাসিয়া সুমুখী বলে শুন গুণবতী।
পুণ্য দেহে কেবা করে হেথায় বসতি।
পাপ তাপ সদা হেথা যাতনা প্রচুর।
রম্য গৃহ নহে এটি সংযমনী পুর।
জন্মাইলে আছে মৃত্যু কালে হয় নাশ,
জীয়ন্তে কৃতান্ত বাসে কেবা করে বাস।
আত্মনাদ বিসম্বাদ দ্বন্দ এমন্দিরে।
চূর্ণ হবে পুণ্য দেহ ঘরে যাও ফিরে।
কাতরে কামিনী কয় শুনে লাগে ভয়।
কেমনে এমন গৃহ বল যমালয়।
শুনেছি যমের পুরী ঘাের অন্ধকার।
পাপী তাপী দণ্ডে সদা ভীষণ চিৎকার।
আশার করহ শান্তি ভ্রান্তি যাক দূর।
কিসে হল বেশ্যালয় সংযমী পুর।
কুলের কামিনী আমি কিছুই না জানি।
প্রত্যক্ষ দেখাও তবে যমালয় মানি।
সুমুখী বলিছে তবে শুন মন দিয়ে।
দেখাই যমের পুরী বিশেষ করিয়ে।
বসন্ত কৃতান্ত রাজ ধরে দণ্ড ছাতা।
চিত্র গুপ্ত কাম দেব নিত্য লিখে খাতা।
নিশ্বাস প্রশ্বাসে মারে মলয়া মারুত।
দয়। হীন বিনােদিনী শমনের দূত ॥
সতি-সত্তম কাব্য।
কোকিল ভ্রমর কাল পুরুষের মত।
ভয়ঙ্কর মূর্তি ধরি রয়েছে নিয়ত
বেশ্যার চাতুরী যত বুঝে সাধ্য কার।
এর চেয়ে কোথা পাবে ঘাের অন্ধকার।
পর পরিহাস দেহ করে বিদারণ।
করিতেছে যম কীট কঠিন দংশন।
দূতীর দুঃসহ বাক্য সহ্য করা দায়।
তপ্ত লৌহ শূল যেন হানিছে মাথায়।
বহিছে কলঙ্ক সােত ভাসিছে ভুবন।
বেগে যেন বৈতরণী করিছে গমন।
পাপ তাপ দণ্ড হেথা অশেষ বিপদ।
বেশ্যার গৌরব যত রৌরবের হ দ ।
দুদিন যে জন করে হেথা আগমন।
আত্ম হত্যা পাপ তারে করে আক্রমণ।
কাম ক্রোধ লােভ মােহ হয়ে যােগাযােগ।
শমনের অনুচর এই কয় রােগ !
মদ্য মাংস ভিন্ন নাই কদম আহার ।
এরাই
অদ্ভুত ভূত কিম্ভুত আকার ।
মােহন রূপেতে মন আক্রমণ করে।
ঘাড় ভেঙ্গে ছাড়ে শেষ নিজ বেশ ধরে ।
ভ্রান্তে যদি পুণ্যবন্ত কৰে আগমন।
যুধিষ্টির সম হয় নরক দর্শন।
সতি-সত্তম কাব্য।
এই সেই বিনােদিনী শমন ভবন।
মানে মানে প্রাণ লয়ে কর পলায়ন।
প্রণয় বিষম শঠ করনা বিশ্বাস।
মিষ্ট বাক্যে তুষ্ট করে শেষে করে নাশ ।
পায় পড়ে প্রেম আগে গাছেতে চড়ায় ।
দোহাই না মানে মই কেড়ে নিয়ে যায়।
ছদ্ম বেশে বসিয়াছে বসন্ত বারণ।
কাঞ্চন হরিণ হয়ে নাচিছে মদন ।
এই চিন্তা ভিন্ন মনে অন্য কিছুনয়।
ত্রেতা যুগ আজ বুঝি তােমা হতে হয়।
তাই বলি সে আশার কর অবসান।
নতুবা খলের ছলে খােয়াইবে প্রাণ।
এই রূপে পিরীতের কুরীতি সকল।
কহিল সুমুখী করি কথার কৌশল।
শুনিয়া প্রেমের ভাব প্রমদা তখন।
ভা:ছ মনে মনে এ আর কেমন।
কাটর ফের মাের দোষ দিব কার।
* 1 খনিতে হল ক্ষারের সঞ্চার।
। জানি না শুনি কভু না হেরি নয়নে।
ন্দন অভাব হল নন্দন কাননে।
অভাগীর ভাগ্যে আজ কি গ্রহ ঘটিল।
সিন্ধু মাঝে বিন্দু নীর অভাব হইল।
d
সতি-হুম কাব্য।
রে বিধাত কি লিখেছ কপালে আমার।
ছিন্ন হল আশা পাশ কান্না হল সার।
কি কুক্ষণে পদক্ষেপ করেছি ধরায় ।
চির দুঃখে গেল দিন হায় হায় হায় !
মিছে কেন প্রাণ পণে করিয়ে যতন ।
ভার দেহ ধরে আর করিব বহন।
জলে কিম্বা অনলেতে করিয়া প্রবেশ।
জন্ম মত করি পাপ জীবনের শেষ।
নতুবা গরল পানে প্রাণ বিনাশিব।
বিধির বিধান আজ সাধন করিব।
মনে মনে এই রূপ ভাবিয়ে তখন।
বিদায় লইয়ে করে বিষাদে গমন।
ইতি সতি-সত্তম কাব্য দ্বিতীয় সর্গ।
৫৮
সতি-সত্তম কাব্য।
তৃতীয় সর্গ।
-
বিদায় হইয়ে ধনী রাজ পথে যায়।
আশায় নিরাশ কিন্তু ফিরিতে না চায়।
মেনি ভাবে চলিলেন আচ্ছাদিয়ে অঙ্গ
মনে মনে উথলিছে প্রণয় তরঙ্গ।
কখন নগর পায় কখন কানন।
না মানে প্রচণ্ড তাপ ব্রহ্মাণ্ড দাহন।
এই রূপে ছাড়াইল দেশ বহুতর।
দেখিলেন বিন্ধ্য গিরি উন্নত শিখর
ভাবে মনে কোথা যাই এযে শিলাময় ।
প্রখর শিতল বায়ু নিরন্তর বয় ।।
বিজন কানন এক সম্মুখে দেখিল।
প্রবেশ করিতে তায় মানস করিল ।
বিপিন প্রবেশে ধনী, শুনে কত প্রতিধ্বনি,
কলধ্বনি
বায়ুর
র সঞ্চার।
পাতার উপরে পাত, প্রতিক্ষণ হয় পাত,
প্রতিঘাত ধ্বনি অনিবার।
সতি-
সম কাব্য।
সুচারু পাদপ যত, ফল ফুলে পরিণত,
অবনত পত্রে তরুবর।
কোথায় বিবিধ গাছে, সমাকীর্ণ পত্র আছে,
ঢাকিয়াছে দিবা কর কর ।
কোথায় অমৃত ফলে, রাশি করা ধরা তলে,
কুতূহলে পক্ষীগণ খায় ।
কোথায় বা বন-ঘােষে, মধুরবে বন ঘােষে,
সুসন্তোষে কত গীত গায় ।
কোথায় বিহঙ্গ দলে, কেহ শূন্যে কেহ তলে,
কল কলে করে কলরব।
কেহ বসে নীড়ােপরে, কেহ বা আধার তরে,
দিগন্তরে উড়ে যায় সব।
কোথায় বা চক্রবাক, কোথায় ডাকিছে ডাক,
ঝক ঝক বাবুয়ের দল।
শাখা শিরে শারী শুকে, মিলাইয়া মুখে মুখে,
সুখে গান গায় অনর্গল ।
কোথায় সরসী তীরে, নলিনী ভাসিছে নীরে,
সুখে ফিরে বক সনে বকী।
বক-চরে বক চরে, মীন আহারের তরে,
ঘরে ঘরে করে বকাবকি ।
কোথায় প্রফুল্ল ফুল, গন্ধে করে মনাকুল,
অলিকুল উড়ে থাকেথাক।
সতি-সত্তম কাব্য।
অসংখ্য মক্ষিকাগণ, মধু করি আহরণ,
গঠন করিছে মধু চাক ।
কোথায় নব-মুকুল, কোথায় বক-বকুল,
কোথা ফুল কাঞ্চন পলাশ।
কোথায় কুন্দ-মল্লিকে, জাতি জুতি সেফালিকে,
চতুর্দিকে মনােহর বাস।
কোথায় বিবিধ ফল, কোথায় নিৰ্ম্মল জল,
বল্লীদল কনকের দাম।
কোথায় সরসী তীর, সমীরণ বহে ধীর,
নিস্কামীর উপজয়ে কাম।
নিরখি নিবিড় বন, ফল পুষ্পে সুশােভন,
উপবন বিবিধ প্রকাব।
সতী যেন রতি সাজে, উপবিষ্ট বন মাঝে,
বিশ্ব রাজে করে নমস্কার ।
বলে ওহে সনাতন, প্রবেশিলে হেন বন,
নিবারণ হয় মন নিল।
তুমি যারে বইমুখ, তার কভু নাই সুখ,
মন দুখ সতই প্রবল।
চির দিন যার শরে, পুড়ে মরে ছিনু ঘরে,
অন্তরে না ছিল সুখ লেশ।
সেই পােড়া পঞ্চবান, বনে এসে নাশে প্রাণ।
পরিত্রাণ কর পরমেশ।
সতি-সম কাব্য।
এই রূপে ভাবে ধনী সজল লােচনে ৷
মানব দানব তুল্য এল এক বনে।
লৌহ বৰ্ম্মে দেহ ঢাকা দীর্ঘ কলেবর।
কক্ষ দেশে পক্ষী ফাঁদ হাতে ধনু শর।
চৌদিকে বাঁধিয়ে খোটা পাতিলেক জাল।
দয়ার নাহিক লেশ কালান্তক কাল ।
রাখিয়ে লােভানী দ্রব্য জাল গেল পেতে।
ত্বরিতে কিরাত গেল অন্ন জল খেতে।
কপােত কপােতী দুট ছিল এক ডালে।
পড়িল কপােত আশি নিষাদের জালে ।
ব্যাকুলিনী বিহঙ্গিনী ফিরে চারি ধারে।
চঞ্চ দিয়ে জাল গ্রন্থি ছিড়িতে না পারে।
উচ্চ রবে বিহঙ্গিনী কাদে উচ্চ ডালে।
কিরাত দেখিল পক্ষী পড়িয়াছে জালে।
ধরিয়া কপােত বরে দুই পক্ষ বাধে।
শুন্য পথে উড়ে উড়ে কপােতিনী কাঁদে।
অদ্ভুত দেখিয়ে ধনী জিজ্ঞাসিল তায়।
কিকারণ পক্ষী ধর নিবাস কোথায়।
বামার অমিয় বাক্য শুনিয়ে শৰণে ।
দৃষ্ট করে দু৪ খল করল নয়নে
ক্ষণেক হইয়ে স্তব্ধ ভাবিতেছে মনে।
কিন্নরী কি নিশাচরী এল আজ বনে।
সতি:সত্তম কাষ্য।
কিম্বা আশি বন দেবী হলেন উদয়
ছদ্ম বেশে বিদ্যাধরী ছলিবে নিশ্চয়।
জাতিতে নিষাদ আমি বিশারদ বাণে।
বিফল করিব আশা বিনাশিব প্রাণে।
জিজ্ঞাসিলে যদি কোন উত্তর না করে।
যে হক সে হক আজ বিধিব এ শরে।
এত ভাবি জিজ্ঞাসিল কিরাতের পতি।
এ অরণ্যে কার কন্যা কোথায় বসতি ?
কিম্বা তুমি দানবিনী কিম্বা মানবিনী।
কি জন্য অরণ্য মাঝে বসে একাকিনী |
কিরাতের কথা শুনি করিল উত্তর।
জাতিতে ব্রাহ্মণ কন্যা গঙ্গাতীরে ঘর ।
পতির বিচ্ছেদ খেদে প্রবেশিছি বনে।
দৈব যােগে দেখা হল আজ তব সনে ॥
কি জাতি কি নাম ধর কোন ব্যবসাই ।
কি কারণ পক্ষী ধর দেখে ভয় পাই।
হাসিয়া নিষাদ তবে ব্রাহ্মণীরে কয়।
কিরাতের এই ধৰ্ম্ম অপকর্ম নয়।
নর-কবুতর এই পড়িয়াছে জালে।
ওই দেখ কপতিনী কাঁদে তরু ডালে।
কামিনী কহিছে তারে কথায় কথায়।
পক্ষীর জীবন রক্ষা কর হে দয়ায় ।
সতি-সত্তম কাব্য
এই দেখ বহু মূল্য সুবর্ণের হার।
পরিশ্রম হেতু অজি লহ পুরস্কার ।
হাসিয়া নিষাদ হার গ্রহণ করিল।
ছড়িতে জোড়ের পার। অমনি উড়িল।
ভাবিনী ভাবিল মনে ভাবের উদ্দেশ।
পক্ষী ছলে বিধি মােরে দিল উপদেশ ।
কপােতীর পতি ভক্তি দেখি অতিশয় ।
ধিকরে মানব জাতি ওর মত নয়।
আবার কহিছে ব্যাধ শুন মাের বানি।
সকল জীবের মধ্যে নর শ্রেষ্ট প্রাণী।
দুর্লভ মানব জম্মু অবনিতে ধর।
অহিংসা পরম ধৰ্ম্ম জেনে হিংসা কর ।
ওই দেখ চন্দ্র সূৰ্য্য গগনে উদিত।
অকারণ প্রাণ বধ না হয় উচিত।
হাসিয়া কহিছে ব্যাধ কি কহিব আর ।
চির কাল জগতের এই ব্যবহার।
সিন্ধু সম নিজ দোষে অন্ধ হয়ে রয়।
পর দোষে খর দৃষ্টি ধরে সে সময় ।
শত নেত্র হয় যদি একত্রে মিলন।
শত কর্ণ হয় যদি করিতে শ্রবণ।
শত জিহ্বা হয় যদি প্রকাশিতে দোষ।
তথা অন্তৰে বুঝি না পায় সন্তোষ ।
সতি-সম কাব্য।
রাখিয়াছ নিজ দোষ করিয়ে গােপন।
পর দোষে হরষিত এ রীতি কেমন?
কামিনী কহিছে ব্যাধ একি অবিচার।
তস্করের সম মােরে কেন তিরস্কার।
অবলা সরলা আমি কুল বালা নারী।
কারে বলে ছল কভু বুঝিতে না পারি ।
বলহে নিষাদ
পতি কি দোষ আমার।
স্বীকার করিয়ে করি তার প্রতিকার।
হাসিয়া কহিছে ব্যাধ শুন সমাচার।
তােমার সমান ব্যাধ নাহি দেখি আর ।
দেবতা গন্ধর্ব দৈত্য কি নর কিন্নর।
কার সাধ্য তব শরে হয় অগ্রসর ।
জহরী জহর চিনে রতনে রতন।
ভুজঙ্গের হাঁচি বেদে চিনে বিলক্ষণ।
এক মুখে শত বার শত রূপ গাও।
চোর ঘরে চুরি তরে সিদ দিতে চাও?
আর কেন নিজ ভাব করিছ গােপন।
বুঝেছি বিশেষ রূপে তুমি যেই জন ।
কামিনী কহিছে ব্যাধ কি বলিব তােরে।
জাতিতে ব্রাহ্মণ কন্যা ব্যাধ বল মােরে ।
ধনু অস্ত্র ধরে ব্যাধ পশু পক্ষী মারে।
আমারে কিরাত বল কেমন বিচারে ?
সতি-সম কাব্য।
ব্যাধ বলে গুণবতী প্রত্যক্ষে দেখাই।
শর তুণ পশু পক্ষী আছে তব ঠাই ৷৷
লল্লাট উপরে ভুরু ধনুর আকার।
জুড়েছ কটাক্ষ বান বিষ মাখা ধার ।
পুরুষ বিহঙ্গ যত ভয়েতে অস্থির।
এক দৃষ্টে চেয়ে আছ কারে মার তীর।
অভিমান ভুণে আছে সুকৌশল ফল ।
পেতেছ ছলনা দড়ি মৃগ মারা কল৷
করীশুণ্ড ভুজ দণ্ড অপূৰ্ব পেয়েছ।
ওই দেখ মত্ত যূথ মাতঙ্গ ধরেছ ॥
তােমার অমত বাক্য করি অনুভব।
অধর পিঞ্জরে উঠে কোকিলের রব।
ক্ষীণ কটি পরিপাটী মধ্য দেশ মরি ।
পড়েছে লাবণ্য জালে বৃহকেশরী ।
কুহক সানলা লয়ে সর্বদা বেড়াও।
বেদে হয়ে বিনােদিনী পশু মেরে খাও!
নয়ন কুরঙ্গ দুট রয়েছে বন্ধন।
ছদ্ম বেশে বসে আছ ব্যাধের মতন।
ধৰ্ম্ম পথে কথা কও নাহি ধৰ্ম্ম লেশ।
নারী হয়ে ধরিয়াছ সিকারীর বেশ!
সতি:সত্তম কাব্য।
উচ্চ কথা নীচ মুখে, শুনে ধনী মহা সুখে,
মন দুখে ব্যাধ প্রতি কয়।
পুরুষ কিরাত রীতি, নাহি মানে ধৰ্ম্ম নীতি,
প্রকৃতি তেমন ভাব নয় ৷
কিরাত যেরূপ কলে, ধৃত করে পশু দলে,
কোন ছলে নাহি পরিত্রাণ ।
পুরুষের ব্যবহার, ব্যাধ সম ফাঁদ তার,
অবলার সদা বধে প্রাণ।
ব্যাধ বধে ধনু গুণে, লোকে তারে বলে খুনে,
সেই গুণে স্বামী গুণ বস্ত।
হইয়ে কিরাত পতি, প্রাণ বধে প্রাণ পতি,
যুবতী মজিল আদি অন্ত ।
প্রাণ দিনু প্রাণ নাথে, কে জানে সে অস্ত্র হাতে,
শরাঘাতে আজ প্রাণ যায়।
কাদিব কি জন্মাবধি, ইচ্ছা হয় প্রাণ বধি,
প্রেমৌষধি দেখাও আমায়।
বল দেখি প্রেম কোথা, তুমি বক্তা আমি শ্রোতা,
কোথ। পােত পিরীতের বন।
তাতে তুমি বনচর, তৃণ লতা সুগােচর,
চরাচর কি আছে গোপন ॥
পিরীতি নিবিড় বন, উদ্যান কি উপবন,
কি রতন সেই বনে আছে।
সতি-সৰ্তম কাৰ।
একা আমি কুল বালা, চিনি নাকো গাছ পালা,
কত জ্বালা কব কার কাছে।
অবলা সরলা আমি, বিনা দোষে বধে স্বামী,
অনুগামী হলেম তােমার ।
হয়ে সখা অনুকূল, দেখাও প্রেমের মূল,
প্রতিকূল হওন। এবার।
ৰাধ বলে চড় জাতি নাহি বুঝি ভাষা।
অকিঞ্চিত ঠাকুরাণী মাের কাছে আশা ।
লেখা পড়া নাহি জ্ঞান নিজে আমি চাষা।
জানিনা পিরীত তত্ব সত্য এক মাস।
মন দিয়া শুন কহি শুনেছি যেমন।
কিঞ্চিত বলিতে পারি তার বিবরণ।
বিধাতা করিল যবে মেদিনী সৃজন।
সৃজিলেন পারত্রিক ঐহিক কানন।
পর প্রেমের বনে কভু নাহি যাই।
তানা হলে বেদে হয়ে পশু মেরে খাই।
হিংসা দ্বেষ নাহি তথা অপূর্ব কানন ।
মহা ঋষি তীর্থ বাসী রূপ সনাতন ৷
পরশ করিযা মাত্র পাপ বিমোচন।
ধ্রুব পেলে সেই বনে পলাষ লোচন ৷৷
সতি সতম কাব্য
পর পরম বৃক্ষ অতি নিরমল।
ফলিয়াছে তার ডালে চতুর্বর্গ ফল ॥
সেই বনে প্রঙ্কাদের পূর্ণ মনস্কাম।
সেই বনে গুহকেরে কোল দেন রাম ।
অবল। সরলা তুমি বুদ্ধি অতি কম।
কে চিনে পরত্র বন বড়ই দুর্গম।
ঐহিক প্রণয় বনে গিয়েছিনু আগে।
এক্ষণে হয়েছি বুড়া শুনে ভয় লাগে ।
পিরীতি নিবিড় বনে পথ নাহি পাবে।
বিপক্ষ রাক্ষস গ্রাসে জীবন হারাবে ।
বসন্ত কিরাত পতি মদন চোয়াড়।
যারে পায় লয়ে যায় ভেঙ্গে দেয় ঘাড় ॥
হিংসক ভ্রমর পিক সমীরণ বনে।
সবাই নিযুক্ত তারা জীবন নিধনে।
পৃথিবী ব্যাপিল দেখ এ প্রণয় গাছে।
কুলটা বাদুড় তুল্য ডাল ধরে আছে।
প্রলােভ নামেতে তার বিষ মাখা ফল।
ভক্ষণে কলঙ্ক বাড়ে হত বুদ্ধি বল ।
চৌদিকে বেষ্টিত তার কুহকের গড়।
পশিলে রাক্ষস বাসে পরাবে নিগড় ।
দুর্গম গহন পথে সেঁকুলের কাটা।
বৃহস্পতি বুদ্ধি হলে তবু লাটা পাটা।
সতি-সত্তম কাব্য।
বনের কেয়ারি করে অপশ মালী।
যারে পায় তারে দেয় কলঙ্কের ডালি ।
লম্পট লেঠেরা বনে আছে ঠাই ঠাঁই।
পড়িলে তাদের হাতে আর রক্ষা নাই ।
প্রণয় কণ্টক বৃক্ষ সবে বলে চড়।
এ হেন সােনার অঙ্গে লেগে যাবে ছড়।
বুঝে চড়িতে চাও প্রণয়ের গাছে।
নাবিতে ব্যথিত তাের কেবা বল আছে।
সতী হয়ে পতি পূজে সেই জন ত্বরে।
গচ্ছ গচ্ছ বিনােদিনী
ফিরে যাও ঘরে ॥
ইতি সতিসত্তম কাব্য তৃতীয় সঙ্গ।
৯
সতি-সম্ভম কাব্য।
চতুর্থ সর্গ।
এই কথা ব্যাধ মুখে, শুনে ধনী মহা দুখে,
অসুখে ছাড়িল সেই বন।
অন্তরে জন্মিল ভয়, ধরা দেখে শুন্য ময়,
লােকালয় করে অন্বেষণ ।
উল্লাষ উদয় মনে, জাতি রক্ষা হল বনে ,
হীন জনে ফিরাইল মতি।
অমুকুল বিরূপাক্ষ, সজনীর সার বাক্য,
ধৰ্ম্ম সাক্ষ কপােত কপােতী।
ভ্ৰমিনু অনেক দেশ, সতীত্বের উপদেশ,
স্বদেশ যাইতে কহে সবে।
হীন বুদ্ধি নারী জন্ম, সতীত্ব পরম ধৰ্ম্ম,
অপকৰ্ম্ম কেন করি তবে।
সংসার অশার মায়া, জীবের ভৌতিক কায়া,
ছায়াবত সদা হয় নয়।
সতীত্ব পরম ধৰ্ম্ম, পতি পদে রাখি মৰ্ম্ম,
পুণ্য কৰ্ম্ম যত দূর হয় ৷
দেখে শুনে শিখিলাম, আর না করিব নাম,
তীর্থধাম করিব দর্শন।
সতি-সম কাব্য।
প্রায়শ্চিত্ত অনুসারে, মুক্ত হব পাপাচারে,
অনাহারে ত্যজিব জীবন।
মনে মনে সুপ্রসঙ্গ, খুঁজিতেছে সাধু সঙ্গ,
রঙ্গ ভঙ্গ দিয়ে বিসৰ্জ্জুন।
কলেবরে ভস্ম রাশি, মিলিল জটিল আসি
তপস্বি পিরীত পরায়ণ।।
যােগী বলে লো রূপসী, লোকারণ্য মাঝে পশি,
দোষী কিম্বা নির্দোষী শরীর।
রসহীনা রসবতী, আতঙ্কে মাতঙ্গ গতি,
ভ্রান্তমতি চক্ষে বহে নীর
এরূপ লাবণ্য ছটা, যদি শিরে ধর জটা,
বেণি কটা যদি মাখে ছাই।
কি ভাবে বিরস মন, বিগত বিধু-বদন,
বিড়ম্বন করনা দোহাই।
বিমল কমল জিনি, ভ্রমিতেছ একাকিনী,
সন্ন্যাসিনী যদি ধর বেগ।
করে কর অক্ষমালা, স্কন্ধে লও বাঘ ছালা,
সব জ্বালা ঘুচে যাবে শেষ।
লয়ে যাব তীর্থ বাসে, দেখাইব কীৰ্ত্তিবাসে,
উপবাসে স্তব আরম্ভিব।
কামাদি করিব পণ্ড, অবশেষ লব দণ্ড,
নিজ পিণ্ড মহা পন্থে দিব।
१२
সতি-সত্তম কাব্য।
যদি ইচ্ছ সুখভােগ, আমা হতে হবে যােগ,
সব রােগ ঘুচাইতে পারি।
ঐহিক পরম সুখে, সদা রব মুখে মখে,
মন দুখে কেন মর নারী।
সন্ন্যাসীর
মুখে
শুনি এ সকল বাক।
অধমুখে ভাবে ধনী হইয়ে অবাক।
জিতেন্দ্রিয় উদাসীর উদার আচার ।
সন্ন্যাসীর অন্বেষণ ভীষণ ব্যাপার ৷
সাধুর মধুর বাক্য সুবিনয় ভাষী।
মুনি কি রমণী চায় হয়ে তীর্থ বাসি?
কাতরে নবীনা বলে কি কায চাতরে।
নাগরের চিন্তা নহে চলেছি সাগরে।
সংক্ৰমে সঙ্গমে নাকি হয় মহা মেলা।
স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করি কপিলের খেলা।
জটিল ঋষির পথে কোটি দণ্ডবত।
আধা পথে বাধা দাও ছেড়ে দাও পথ ।
সত্য বাক্য মহা তীর্থ দরশনে মন।
তব সঙ্গে কিসে হবে প্রেম আলাপন?
এরূপ সন্ন্যাসী কত গৃহী গৃহে গিয়ে।
দপ করি সপ ধরে তুমড়ি বাজিয়ে।
সতিত্তম কাব্য।
অনুমান করি তুমি জেতে হবে বেদে।
মৰ্ত্ত লােকে অর্থ হর জটা ভার বেঁধে।
কাম ক্রোধ রিপু ছটা বাঁধিয়ে জটায়।
ইহ লােকে পরলােকে অনর্থ ঘটায়।
কামের কামুক হয়ে ভ্রমিছ নগরে।
না চাই আশ্রয় তব যাইতে সাগরে ।
যেখানে করেছে গঙ্গা সাগরে সঙ্গম।
মুক্ত হব নিমজ্জনে না হবে জনম।
সেথায় দেখিব কত নারীর সমাজ।
তােমার সহিত গেলে ঘটিবে কুকায ||
তব ম সন্ন্যাসিনী খেজগে গোঁসাই।
মত ছাড় পথ ছাড় সাগরেতে যাই।।
মহা রোষে ঋষি বলে ব্যঙ্গ কর কারে।
কাম ছাড়া কেবা আছে এতিন সংসারে।
কুচুনিতে সদা মৰ্ত্ত দেব ত্রিলােচন।
বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণের প্রেম আলাপন ।
কিহরি শঙ্কর ব্রহ্মা এই কাম দায়।
করেছে হেন কায দেখা নাহি যায় ।
উভয়ে সন্তোষ হলে নাহি ঘটে পাপ।
না দেখি কখন তায় ঘটে পরিতাপ ।
লওলাে পরম গতি মিলিয়ে উত্তমে।
ঘটিবে অশেষ পাপ সাগর সঙ্গমে।
৭৪
সতি-সত্তম কাব্য।
সে তীর্থেতে নাহি পুণ্য পাপের প্রভাব।
পবিত্র জাহ্নবি জলে শােউচ প্রশ্রাব।
কোথায় মিলিল গঙ্গা কোথায় সঙ্গম।
খেলা ছলে মেলা করে মনুষ্যের ভ্রম।
কোন বায়ু লােনা জল স্বৰ্বময় বালি।
সুবৰ্ণ বিবর্ণ হয় অঙ্গ হয় কালী ।
নাহি ঘর নাহি দ্বার নিবাস সেখানে।
মাঝে মাঝে ছিচকে চোর পুঁটলি ধরে টানে।
সে মেলার হর্তা কর্তা যতেক দুজ্জন।
ধন লােভে যায় নহে ধৰ্ম্ম পরায়ণ।
পুরুষ প্রকৃতি দেহে না থাকে সরম।
এইতলাে মহা তীর্থ সাগর সঙ্গম ||
অকুলেতে কুল বালা ত্যজিয়াছ ঘর।
সঙ্গে সঙ্গে পরিবাদ অগাধ সাগর ।
যে নিজে সাগর সে কি সাগরেতে যায় !
গঙ্গা জলে গঙ্গা পূজা গৌরব কোথায় ?
ভাবিয়ে নবীন বলে, সন্ন্যাসী মজায় ছলে,
ধৰ্ম্ম বলে করিয়াছি ভর।
শিরেতে ধরিয়ে জটা, আশ্চৰ্য্য কথার ছটা,
যটা পারি করিব উত্তর।
সতি-সম কাব্য।
সন্ন্যাসী এ কোন বিধি, মােরে বল জলনিধি,
বারিনিধি নারীর আকার।
সমুদ্র অগাধ বারি, আমি হই ক্ষুদ্র নারী,
বলি হারি তােমার বিচার।
ধরা মধ্যে মহা সিন্ধু, তার নাহি এক বিন্দু,
লক্ষী ইন্দু যাহাতে উদ্ভব।
দেবাশুরে মহা কাণ্ড, দ্বন্দে যায় এব্ৰহ্মাণ্ড,
সুধাভাণ্ড হরিল কেশব ।
বিধি কৈল রত্নাকরে, রত্নমণি হৃদে ধরে,
কলেবরে ব্যাপিল অখিল।
কুকৰ্ম্মেতে দিবা নিশি, কি পুণ্য তাহাতে মিশি,
দেব ঋষি কোথায় কপিল ।
কোথায় সাগর সঙ্গ, এ তােমার কোন রঙ্গ,
ভঙ্গ দাও তীর্থ দরশন।
যে কাযে অধৰ্ম্ম হয়, সে কায যােগীর নয়,
অনুনয় শুন তপােধন।
যােগী বলে বাক্য ছলে আর কাষ নাই।
সম্মুখেতে অষুনিধি প্রত্যক্ষে দেখাই।
ধরেছ অর্ণব তুল্য নব কলেবর।
নানা রত্নে বিভূষিতা যেন রত্নাকর ।
সতি-সত্তম কাব্য।
রাগ রঙ্গ কুতরঙ্গ অতি বাড়া বাড়ি।
দেবের অগম্য পথ পয়ােধির পাড়ী।
শিখিয়াছ বিনােদিনী নানা রূপ খেলা।
অহর্নিশি লােক যাত্রা সাগরের মেলা।
ছিনালী হিংস্র জন্তু বন্য পশুগণ।
সুন্দর যৌবন যেন সুন্দরের বন।
ভয়ঙ্কর জলচর প্রমােদের হর্ষ।
লাবণ্য অগাধ নীর অতলস্পর্শ।
চাতুরী ঘুর্ণিত বারি ঘােরে মহাবলে।
রয়েছে মৈনাক বাম কুচ ডুবে জলে ।
দক্ষিণে শুমেরু গিরি উন্নত শিখর।
বাসনা বাসুকি ভরে মথিল সাগর।
নিবৃত্তি প্রভৃতি দেহে রিপু ছয় জন।
সুরাসুরে করিয়াছে সমুদ্র মন্থন ৷
ধরেছ কুরঙ্গ নেত্র দেখনা বুঝিয়ে।
উঠিয়াছে চন্দ্রানন মৃগ চিহ্ন নিয়ে ।
যদি বল সিন্ধু হতে উঠে বংশ দও।
তাহতে তােমার
ভুরু
গাণ্ডিব কোদণ্ড ।
বাহু দণ্ড যেন শুণ্ড করি কর ভাতি।
ওই দেখ বিনােদিনী ঐরাবত হাতি।
সুমিষ্ট তােমার বাক্য জুড়ায় ব্রহ্মাণ্ড।
সিন্ধু হতে উঠিয়াছে অমৃতের ভাণ্ড।
সতি-সম কাব্য।
৭।
বিশ্বজয়ী বিশ্বশ্রবা অশ্ববর পতি।
ধরেছ চঞ্চল মন চপলার গতি।
চলা সলিল মগ্না ঋিষির বচনে।
উঠেছে প্রকৃতি লক্ষ্মী শাপ বিমােচনে।
সৌরভ গৌরব তব করিয়াছি আঁচ।
পরিমাণে স্থির হল পারিজাত গাছ।
কটাক্ষ বিষম লক্ষ মহৌষধি বােঝ।
আলিঙ্গন ধরি ভুজঙ্গের ওঝা।
দুই নেত্রে শত ধরা পড়ে এঁকে বেঁকে।
গঙ্গা যেন আসিতেছে হরিদ্বার থেকে।
অকুলেতে কুল বালা সঙ্গে নেই কেউ।
নাগরের সঙ্গে খাও সাগরের ঢেউ ।
কামিনী কামের কোষ প্রেমিকা বিষম
সঙ্গম তােমার সহ সাগর সঙ্গম ।
সখ্য ভাবে লক্ষ্য করে দেখ দিব্য আনে।
মদন কপিল হয়ে বসিয়াছে ধ্যানে।
অঙ্গে রঙ্গে গঙ্গ। যার তরঙ্গে সঙ্গম।
সে কি যায় পুনরায় করে পরিশ্রম।
নবীনা ভাবিছে মনে, বিপদ ঘটে বনে,
তপােধনে না হয় প্রত্যয়।
সতি-সত্তম কাব্য ।
হয়ত নাশিবে প্রাণ, নহে লবে কুলমান,
অনুমান এই মনে হয়।
নতুবা বিজন বনে, ভ্রমিতেছে কি কারণে,
সঙ্গেশনে একাকী বিরলে।
দুজ্জ ন যদ্যপি হয়, নির্দয় কখন নয়,
অনুনয় করিলে দুলে ।
দু৪ খল দস্থপতি, নষ্ট চিত্ত মূঢ় মতি,
সুরপতি যম হুতাশন।
সবাই বিনয়ে হর্ষ, তাই করি পরামর্শ,
বিমর্ষ না হব কদাচন।
নারী বলে তপােধন, কেন আর অকারণ,
অশােভন কহ মিছে আর।
যোগ নিদ্রা উপলক্ষে, পদ্মাক্ষ যাহার বক্ষে,
তার পক্ষে নারী কোন ছার ॥
যে ধরে উদরে খনি, আশ্চৰ্য বৈদূৰ্য্য মণি,
রমণী কি সেই গুণ ধরে ।
একি তব অনুমান, রত্নাকরে অপমান,
বুদ্ধিমান হয়ে কেবা করে ।
শুন ওহে ধৰ্ম্মময়, সে সিন্ধু, যে জলময়,
নারী নয় তাহার আকৃতি।
পরশে তাহার অংশ, উদ্ধারে সগর বংশ,
পাপ ধংশ মোক্ষ পদে স্থিতি ||
সতিপন কাব্য।
৭৯,
মনে ছিল অভিলাষ, সিন্ধু তটে করে বাস,
পীত বাস করিব সাধন।
চরমে পরম গতি, যাইব অমরাবতি,
পতি পদ করিয়ে স্মরণ।
যদ্যপি অন্যথা কর, অন্যত্র অনুজ্ঞা কর,
পুস্কর করিতে দরশন।
বেদ সুক্তে আছে উক্তি, সার করি সেই মুক্তি,
মুক্তি হবে ভবের বন্ধন।
হাসি কয় ঋষিবর, দেখি বারে সরােবর,
অন্তর হয়েছে সচঞ্চল।
সুধার আধার যারে, আজকে বলিতে পারে,
কাল তারে গণিবে গরল।
জেনে নিগুঢ় তত্ব, নিমজ্জনে উনমত্ত,
এ বালত্ব কোথায় শিখিলে।
শুন শুন গুণবতী, কি কহিব সে ভারতি,
সচি পতি দধীচি নাশিলে।
যে তীর্থেতে ব্ৰহ্ম বধ, সে তীর্থ পাপের হদ,
মােক্ষ পদ সে কি দিতে পারে।
ধরিয়াছ কলেবর, মানার সরােবর,
পুস্কর পরাস্ত মানে যা ।
আর কেন চিন্তা কর, এই দেখ সরােবর,
খেলে নর যেন জলচর।
সতি-
সম কাব্য।
প্রণয় উদ্যান ঠাঠ, সুলাবণ্য রম্য ঘাট,
মহা ঠাঠ চৌদিকে বঞ্চর ॥
ছলনা শৈবাল ভাসে, দুৰ্বাদল চতুস্পর্শে,
অপ্রকাশে আছে সুখ জল।
কুহুক পিছল তায়, আনাড়ী আছাড় খায়,
লতায় লতায় কত দল ।
শৈশব সলিল জিনি, বামে কুচ কুমুদিনী,
কমলিনী ফুটেছে দক্ষিণে।
তাহে কর মধুকর, মধু পিয়ে নিরন্তর,
অবসর নাহি রাত্র দিনে ।
আশা বায়ু ধীরে চলি, নাচায় কমল কলি,
ত্রিবলি হিল্লোল লাগি তায়।
আমােদের নীরােপরে, প্রাণ মীন সুখে চরে,
নষ্ট করে বিচ্ছেদ পানায় ।
সমভাব দীর্ঘ আড়, চারিদিকে লজ্জা পাড়,
ভাঙ্গে ঘাড় দেখিলে সে ঠাঠ।
যে জন নহিক জানে, উনমও হয় স্নানে,
মধ্য স্থানে কলঙ্ক রৈকাট।
সুখ হ্রদ নিরমল, বিমল হৃদি কমল,
পরিমল বাতে আন্দোলন।
অবুঝ অম্বুজ অরি, কিবা দিবা বিভাবরি,
রিপু করী করিছে দলন৷
সতি-সত্তম কাব্য।
তিন গুণে যে শরীর, সে যায় পুস্কর নীর,
রমণীর একি ভান্ত মন।
মহা তীর্থ দেহ যােগে, বাঞ্ছা কর সুখ ভােগে,
কৰ্ম্ম ভােগে কেন আকিঞ্চন।
কিবা লাভ সে পুস্করে, মহা তীর্থ কলেবরে,
নারী ধরে সুখময় হ্রদ।
যে জন তােমারে পর্শে, মহা পুণ্য তারে অশে,
হর্ষে ভােগে স্বর্গের সম্পদ।
প্রমদা বলিছে আমি যাইব পুস্কর।
তুমি বল নারী অঙ্গ পুণ্য সরােবর।
তপস্বী সহস্র ষষ্টি নৈমিষ কাননে।
বারি হীন পাপ নারী কিসে লোেক গণে॥
যদ্যপি প র হয় পাপের আকর।
বিশ্বের ঈশ্বর হর নাম বিশ্বেশ্বর।
পুণ্য রাশী হন কাশি বারানসী ধাম।
যে খানে বিলান শিব তার ব্রহ্ম নাম ।
বিশেষ মণিকর্ণিকা জাহ্নবীর নীর।
নিমজ্জনে মহা পুণ্য যুড়াবে শরীর।
কথায় কি কায বল যেতে চাই কাশি।
অন্নপুর্ণা গুণে জীব নহে উপবাসী।
সতিসত্তম কাব্য।
চরমে পরম গতি প্রাপ্ত হয় জীব।
যেবা মরে শিববরে
সেই হয় শিব ।
এহেন পরম তীর্থে বাধা যদি দাও।
নিবেদন তপােধন নিজ কাযে যাও।
সন্ন্যাসী কহিছে হাসি, কোন কাযে যাবে কাশি,
কাশি বাসী বড়ই পাষও।
নাহি তথা পাপ বাকী, ধর্ম কৰ্ম্ম সব ফাকি,
জাননা কি পুণ্য হবে পণ্ড।
বিপ্র মাত্র ভেক ধারা, শদ্রানী ব্রাহ্মণ নারী,
কুমারী গণিকা গর্ভ কন্যা।
বিধবা সধবা হয়ে, এয়ো করে তারে লয়ে,
সেথা রয়ে কিসে হবে ধন্যা ।
কাশি ধামে দিবা রাতি, মাতালের মাতা মাতি,
কুল জাতি থাকে কি এ রীতে।
পেলে পদ্ম বিকশিত, মধুকর হরষিত,
বিপরিত ঘটাইবে হিতে।
জানি কেমন ভ্রান্তি, অন্তরে না পেয়ে শান্তি,
স্বর্ণ কান্তি করিছ শ্রী হীন।
কাশি হয়ে কাশি যায়, দেখে শুনে হাসি পায়,
ক্ষুধায় কমলা হল ক্ষীণ।
সতিসম কাব্য
যুবতী কহিছে যােগী একি সর্বনাশ।
ব্যঙ্গ করে অঙ্গনার ভেঙ্গে দাও আশ ।
অবল। সরলা আমি সদা থাকি কুলে।
মহা তীর্থ কাশি ধাম শিবের ত্রিশূলে।
দেব সঙ্গ তীর্থ বাসে শিব লিঙ্গ ঠাঠ।
পূণ্য ক্ষেত্রে জাবীর কর্ণিকার ঘাট।
তেজঃপুঞ্জ সন্ন্যাসী গোসাই ব্রহ্মচারী।
বাস করে কাশী ধামে আমি হই নারী।
পতিব্রতা পুণ্য মাত্র পতি প্রতি মন।
বল কাশি শুনে হাসি পায় তপােধন।।
ঋষি বলে তুমি কাশি রূপেতে রূপসী।
তুমিললা ভবের নিত্য তীর্থ বারাণসী।
দেবের নির্মিত দেহ পুণ্যের শরীর।
নিজীবে সজীব কাম শিবের মন্দির।
বরাঙ্গনা তুমি সত্য তীর্থ বারাণসী।
বামাক্ষ বরুণ তাের দক্ষিণেতে অসি ।।
যত্ন করে রত্ন হার করেছ ধারণা।
অর্ধচন্দ্র ভাবে গঙ্গ। করিছে গমন !
শঙ্কর ত্রিশূলে কাশি বুঝে দেখ স্থূল।
রয়েছে ত্ৰিকুল তাের শিবের ত্রিশূল।
পঞ্চ ক্রোশী পুণ্য ক্ষেত্র প্রদক্ষিণে যাবে।
পঞ্চ ভতে পঞ্চ ক্রোশ পরিসর পাবে।
छूटन
-
সতি-সম কাব্য।
জগতের যত রূপ করেছ একত্র।
রসিকের সুখ ভােগ উপভােগ ছত্র ৷
নিজে ভ্রম অকুলেতে দ্বিজের অঙ্গজা।
কলঙ্ক রয়েছে উচ্চ মাধবের ধজা।
নিদয় হৃদয় তত সদয়ে আটক।
গতায়াতে মহা কষ্ট চৌদিকে ফটক।
বক্ষ নিম্নে পড়িয়াছে ত্রিবলীর ঠাঠ।
ধাপে ধাপে শিড়ি যেন কর্ণিকার ঘাট।
করী শুও
ভুজ দণ্ড বুঝহ নিগুঢ়।
ঢও গণ পতি যেন বাড়ায়েছে শুড়।
সুগভির নাভি তব চেয়ে দেখ প্রিয়ে।
শিব যেন পলাইছে জ্ঞান বাপি দিয়ে।
বিস্তৃত নিতম্ব যেন জাহ্নবীর পাড়।
হুঙ্কারিছে ষড়রিপু শঙ্করের যাড।
রাগ রঙ্গ শিব লিঙ্গ সংখ্যা নাহি হয়।
অশিব নাহিক তাের সব শিবময়।
ধরেছ দক্ষিণে কুচ বড়ই সজীব।
ওই দেখ বানলিঙ্গ ঘাড় বাঁকা শিব ।
পিনােন্নত,বাম ভাগে শােভে পয়ােধর।
তিল তিল নিত্য বাড়ে তিল ভাণ্ডেশ্বর।
মণ্ডল আকারে মন ব্রহ্মাণ্ড ভ্ৰমিছে।
ভৈরবের জাতা যেন সর্বদা ঘুরিছে ৷
সতিত্তম কাব্য।
স্বধৰ্ম্ম করিলে রক্ষা অন্তে মোক্ষ ধাম।
নীতিপূর্ণ গুরু বাক্য তারক ব্রহ্ম নাম ।
বসন্ত সামন্ত গণ স্থানে স্থানে কুণ্ড।
মদন ভীষণাকারে ভমে যেন গুণ্ড।
ধৈর্য শান্তি যােগী রিমি ফিরে দেব সেবি।
বসিয়াছে রতি যেন অন্নপূর্ণা দেবী।
তোমার সঙ্গেতে যেবা করে সহবাস।
তৃপ্ত হয় আলিঙ্গনে নহে উপবাস |
কাশির প্রকাশ পুণ্য তােমাতে উদয়।
কাশি হয়ে কাশি যাবে যুক্তি যুক্ত নয়।
কন্যা বলে পায় হাসি, কমাতে দেখাও কাশি,
পুণ্য রাশি কাশিতে উদ্ভব।
কৰ্ম্ম নাশা পাপ বারি, সমতুল্য হয় নারী,
বলি হরি এতুলনা তব ।
ভাগ্য দোষে মম পতি, নিদয় দাসীর প্রতি,
পশুপতি যদি দেন ত্রাণ।
সেই ইচ্ছা মনে মনে, ধ্যানে বসি যােগাসনে,
অনশনে ত্যজিব এ প্রাণ ।
সেদিন আসিবে যবে, ইন্দ্রিয় অবশ হবে,
বিভবে না বরে অভিলাষ।
১১
সতি-সম কাব্য।
পতি চিন্তা উপলক্ষে, ধ্যান যােগে জ্ঞান চক্ষে,
প্রত্যক্ষে হেরিব কৃন্তি বাস।
যদি ওহে তপােধন, তীর্থ কর নিবারণ,
নিরূপণ করহে সুমতি।
বলহে উপায় তার, অবনিতে অবলার,
প্রমদার নাম থাকে সতী ।
ঋষি বলে পতিরতা, সে নয় সামান্য কথা,
যথা তথা শুনি এই রব।
অনঙ্গ রঙ্গেতে মতি, সঙ্গোপনে উপপতি,
সতী হয় বাহিরেতে সব ||
যুবতীর কদাচার, শুদ্ধ করে সাধ্য কার,
অন্ধকার দিনেতে দেখায়।
কুহক ছলেতে চলে, অনল জ্বালায় জলে,
করতলে চপলা নাচায় ||
সূচে কাটে রবি কর, শরে বিঁধে শশধর,
ধারাধর ফুয়েতে উড়ায়।
চুলে শিলা ভেদ করে, শূল কাটে ফুল শরে,
সরোবরে পাষাণ ভাসায় ॥
সুচতুর গুণ ময়, ষড় রিপু করে জয়,
যদি হয় পণ্ডিত সুজন।
মৌখিক মধুর স্বরে, মত্ত হয়ে প্রাণে মরে,
ব্যাধ করে কুরঙ্গ যেমন ৷৷
সহি-সত্তমকাব্য ।
কি কব নারীর রীত, সদাচারে বিপরীত,
অবিদিত কি আছে ভবনে।
নিঃসন্দেহ সেই সতী, হবে তুমি হে যুবতী,
রবর্তী কেন আর বনে।
এই রূপে ঋষিবর, বাক্য ছলে করে ভর,
নিরন্তর করিছে ছলন।
দৈবযােগে গহনেতে, দুর্যোগের গজ্জনেতে,
ভয়েতে উভয়ে অচেতন
আগত প্রদোষ কাল, বিস্তারিল তম জাল,
করাল অরণ্যে দুইজন।
প্রবল অনিল ঘায়, খদ্যোত বিদ্যুত প্রায়,
মৃত্তিকায় হতেছে পতন।
ভীষণ মূরতী ভবে, ভীরুচিত গৃহে সবে,
ঝিল্লি রবে পূরিল ধরনী।
সম জ্ঞান শূন্য ধরা, নয়নে না যায় ধরা,
বসুন্ধরা তিমির বরণী ।
নিনাদ ছাড়িছে ঘন, অশনি পড়িছে ঘন,
শন শন হয় উল্কা পাত।
কার লাগে উরু আঁতে, কেহ কাপে দাঁতে দাঁতে,
যেন বাতে কদলির পাত ।
প্রকাণ্ড পাদপ যত, প্রচণ্ড পবনে হত,
শাখানত পল্লব সহিত।
১.
৮৮
সতি-সম কাব্য।
ব্যাকুল বিহঙ্গ কুল, আশ্রয় করিছে মূল,
হুল স্থূল কাল উপস্থিত।
খল জন্তু অগণন, করিতেছে বিচরণ,
দ্বিচরণ বনজ মানব।
মহাদীর্ঘ কলেবর, ছাড়িছে গম্ভীর স্বর,
নিশাচর কোথা বা দানব।
কোথায় ভল্লক ডাকে, শার্দুল মদ্দল হাঁকে,
ঝাকে ঝাকে পলায় গােপাল ।
লক্ষে ঝম্পে বন চরে, কে কারে আহারে ধরে,
দ্বন্দ্ব করে কুকুর শৃগাল।
হারাইয়ে শিরােমণি, গহরে গজ্জিছে ফণী,
মহাধ্বনি নহে সাধারণ।
হরি ওষ্ঠ সম বিন্ধু, রসনে শােণিত বিষ,
করিকুম্ভ করে বিদারণ ॥
কোথায় মহিষ গণ, রােষ ভরে করে রণ,
অনুক্ষণ করে হুটা পার্টি
কেহবা পলায় দূরে, কেহ কাদে নাদ সুরে,
কেহ খুরে ভিতেছে মাটি ।
হুতাশে হরিণ দল, প্রাণ ভয়ে সচঞ্চল,
অমঙ্গল দেখিয়। পলায়।
শুকর করভ খর, শক্রতাতে পরস্পর,
কলেবর রুধিরে ভিজায় ॥
সতি-সত্তম কাব্য।
উৰ্দ্ধশ্বাসে অশ্ব দল, বিশ্ব করে রসাতল,
স্বেদ জল শরীরে ঝরিছে।
শরদ নীরদ স্বনে, দ্বিরদ নিনাদে বনে,
রদনে ধরণি বিদরিছে।
কোথায় দানব দৈত্য, নাচে ভূত ব্ৰহ্ম দৈত্য,
স্বর্গ মর্ত্য করে রসাতল।
পিশাচ পেরেত দলে, মৃত মুণ্ড করতলে,
মূত্র মলে করিছে বাদল।
কি কহিব সে অদ্ভুত, সবাই স্বস্থান চ্যুত,
রবিসুত বনে মূর্তিমান।
চিৎকারে চমকে জ্ঞান, ভাঙ্গিছে রিষির ধ্যান,
বন যেন দুজয় মশান।
ক্রমেতে শিথিল হল বনের উৎপাত।
তরুণ অরুণ এল যামিনী প্রভাত।
কতক্ষণে উভয়ে হইল সচেতন।
জিজ্ঞাসিছে বিজ্ঞ বর ব্রহ্মজ্ঞ নন্দন।
বল দেখি হে সুমুখী সুধাই তােমায়।
বিপদে বাঁচাতে প্রাণ পেলে কি উপায় ।
পুরুষ শঙ্কিত হয় মানে পরাজয়।
রমণী রজনি যােগে নিভয় হৃদয়।
৯০
সতি-সম কাব্য।
গণ।
4
যখন প্রবল বেগে ঝড় আরম্ভিল।
সৃষ্টি হারা বৃষ্টি ধারা পড়িতে লাগিল।
দুরন্ত কৃতান্ত সম বন্য জন্তু,
ভীষণ অশনি স্বনে করিল গঞ্জন।
না জানি সজনী আর রজনির দায়।
কি হইল কি ঘটিল ছিনু বা কোথায়।
চতুর্দিকে বৃক্ষলতা বন্য পশু গণ ।
প্রলয় কালেতে যেন হয়েছে পতন ||
এ হেন বিপদ কালে নির্ভয় মনেতে।
কিরূপে বঞ্চিলে বল বিজন বনেতে ।
রমণী বলিছে বটে আছি প্রাণ পণে।
যতেক তােমাতে ভর এত নহে বনে।
জাগ্রত কি অজাগ্ৰত কি চুক তুলে।
নষ্ট হবে নারী ধৰ্ম্ম পর দেহ চুলে।
ধার্মিকের ধৰ্ম্ম রক্ষা আছে সৰু ঠাই।
তাহার দৃষ্টান্ত এক তোমারে দেখাই।
দময়ন্তী বনে ফেলে পলাইল নল।
অর্ধ বস্ত্র পরিধান ক্ষ ধায় দুর্বল।
অরণ্যেতে সীতা কত দুর্গতি পাইল।
জয়দ্রথ দ্রৌপদীরে যখন হরিল।
বেহুল। বেনের বউ মৃত পতি লয়ে।
ভাসিল সাগর বক্ষে কত দুঃখ সয়ে ৷
সতি সত্তম কাৰ্য্য।
৯১
কত কষ্টে এরা সব পেয়েছিল পতি।
তাদের সমান নয় আমার দুর্গতি।
রাখিতে সতীত্ব ধৰ্ম্ম করিয়াছি পণ।
মানি ভীষণ জন্তু, ভয়ঙ্কর বন ॥
রিযি বলে ধন্য তৰ পতি প্রতি মন।
তোমার পুণেতে আজ বাঁচিল
ভুবন
পরীক্ষার ছলে আমি বলেছি কুকথা।
বুঝিলাম তুমি সতী সাধী পতিব্রতা।
যােগ বলে জগদীশ করেছি সাধন।
পেয়েছি তপস্যা বলে দূর দরশন।
নখর দপনে হেরি নিখিল ভুবন।
করতলে ত্রিকাল করেছি সংযমন ।
দণ্ডেতে ব্রহ্মাণ্ড অামি করি বিচরণ।
অন্তরীক্ষ ভ্রমণে না অক্ষম কখন।
নিশ্বাসে নিঃশেষ করি বিশ্ব কত বার।
চুম্বিতে অম্বুধি নহে বিলম্ব আমার।
শমন দমন করি দনুজ দলন।
প্রাণ ভয়ে ভীত হয়ে পলায় পবন।
ইন্দ্র চন্দ্র কুবের বরুণ হুতাশন।
বিপক্ষ হইলে রক্ষা না পায় কখন।
কি আর বলিব বল বিশেয তােমায়।
ভব মানে পরাভব যোগের প্রভায় ।
১২
সতি-সম কাব্য।
এ হেন সহ রূপ দুরূহ ব্যাপার।
ত্রিভবনে হেন নাই অসাধ্য আমার ।
অবশ্য দেখাব মম তপস্যার বল।
মিলাইয়া তব আশা অনুরূপ ফল ।
ভাবনা করনা আর কামনা পুরিবে।
আমার আশিসে সব সুফল ফলিবে।
তােমার অদৃষ্ঠে হবে যথেষ্ট সুফল।
লভ্য হবে দিব্য পুত্র চাদ নিরমল ।
অচিরে পাইবে পতি প্রত্যক্ষ প্রমাণ।
সৌরভে পুরিবে ভব সাবিত্রী সমান।
অবিলম্বে নিতম্বিনী যাহ নিকেতন।
প্রবাসে প্রয়াস আর নাহি প্রয়ােজন।
প্রমদা বলিছে যদি ওহে যােগীবর ।
কৃপা করি কর দয়া দাসীর উপর ।
সত্ব গুণে তত্ব জ্ঞান বর্তেছে যাহায় ।
সে না পরে ত্রিসংসারে কি আছে কোথায়।
অগাধ জলধি বিধি করাইল পার।
তােমা সম ধর্মময়ে করে কর্ণধার ॥
না চাই কাঞ্চন মণি মণ্ডিত ভবন।
চাই অপত্য সুখ আত্মীয় স্বজন ॥
বিভব অভাবে কভু অভিভূত নয়।
অভিনব অভিলাষে ভাবনা না হয়।
সরি সম কাব্য।
ধন ধান্য ধেনু জন্য বিষন্ন না হই।
ইষ্ট দেবে তুষ্ট নই স্পষ্ট কথা কই ।
এই ভিক্ষা দিয়ে রক্ষা কর যোগী বর।
পতির চরণ পুজা করি নিরন্তর ।
যে পদ বিপদে সদা দিবে পরিত্রাণ ।
পুত্র শােক যে পদ করিবে অবসান ।
যে পদ দর্শনে দেহ পাপ মুক্ত হয়।
যে পদ পশনে যায় শমনের ভয়।।
যে পদ তরণী ভব সিন্ধু করে পার।
চতুর্বর্গ যে পদে উদিত অনিবার।
এ হেন পরম পদ কপালে জামার ।
কবে হবে বল যোগী বিশেষ তাহার ।
এতেক মিনতি যদি যুবতী করিল।
সহাস্য আস্যেতে রিষি কহিতে লাগিল।
অার কেন চিন্তায় অন্তর কর ক্ষীণ।
অার কেন স্বর্ণ বর্ণ করিছ মলিন ।
অার কেন নেত্র নীরে বয়ান ভাসাও।
অরি কেন বিরহ অনলে ঝাঁপ দাও ।
অার কেন হৃদয়ে উদয় কর খেদ।
আর কেন শোকশরে মর্ম কর ভেদ।
দুদিন অপেক্ষা করে রক্ষা কর প্রাণ।
উপেক্ষা করনা পাবে মােক্ষের নিদান ।
১২
১৪
সতি সৰ্তম কাব্য।
দেখি
কুশলে আছেন তব আশার সম্বল।
সতীর পতির কোথা আছে অমঙ্গল।
যে জন সতীর পতি সেই পুণ্যবান।
ভুবনে
সুখী তাহার সমান্।
প্রচণ্ড মার্তণ্ড তাপে দগ্ধ কলেবর।
শীতের সুতীক্ষ্ণ শরে অঙ্গ জর জর ।
জারা পুত্র লয়ে জীর্ন পত্রের কুটিরে।
নিরাপার। নীর ধারা ধরে হদি শিরে ।
পর উপাসনে যদি যায় চিরদিন।
উপার্জনে যদি হয় উপায় বিহীন ।
উদর অন্ত্রের জন্য উদাসীন হয়ে।
মুষ্টি ভিক্ষা করে হরে কৃষ্ণ নাম লয়ে।
উপবাসে কারাবাস যদি হয় তার।
তথাচি উল্লাষে প্রাণ নাচে অনিবার।
পতিব্রতা রমণীর পতির তান্তর ।
এহতে শতেক দুঃখে হয়না কাতর।
কি করে ধনেতে তার মানে কিবা করে ।
উলাস হিল্লোল খেলে হৃদয় সাগরে।
দিনান্তে শকান্ন পায় দীরার সহিত।
অনন্ত সন্তোষে তার অন্তর মােহিত।
কিন্তু যদি কুলটার পতি রাজা হয়।
পরাক্রমে শকুল মানে পরাজয় ॥
সতি:ত্তম কাব্য।
সুন্দা মন্দির হয় কানে রচিত।
সুশন সিংহাসন রত্নেতে খচিত।
নত শিরে নরপতি যদি শত শত।
জোড় করে কর দেয় হয়ে পদানত ।
যদি হয় সুরপতি সম ভাগ্যবান।
তথচ হৃদয় তার সদা ম্রিয়মাণ।
বিষম বিষাদে প্রাণ সদাই মলিন।
চিন্তানলে অন্তর জঞ্জুর চির দিন।
কখন প্রখর শিখ। হৃদয়ে প্রবল।
ধিকি ধিকি কভু জ্বলে যেন তুষানল ৷
স্বধৰ্ম্ম শৃঙ্খল নারী নখরেতে চিরে ।
ব্যভিচার বিষ দন্তে দংশিলে পতিরে ॥
শত বিষধর যদি একত্রে দংশায়।
হার মানে তার জাল। তার তুলনায়
মন্ত্রোসধে ভয় হয় ভুজঙ্গ গরল।
কার সাধ্য এর বিষ করিতে শীতল।।
তবে যদি রবিভুত হন কৃপাবান।
কুলটার কালকূট তবেই নিব্বা।
দুদিনের যৌবনের রঞ্জনের তরে।
কেন হানে বিষ বা পতির অন্তরে ।
তাই বলি কেন আর করিয়ে যতন।
কলঙ্ক পঙ্কিল হ্রদে হইবে মগন।
সতি-সত্তম কাব্য।
তাই বলি যাও ধনি যাও নিকেতন।
সতীর সমান সেব পতির চরণ।
সেই চরণেতে প্রাণ কর সমর্পণ।
ঘুচিবে অজ্ঞান ঘের ভবের বন্ধন।
যাও নিকেতন পাবে আশার রতন।
প্রত্যক্ষ করিও মম প্রতিজ্ঞা বচন।
যুবতী কহিছে দেব তােমার দোহাই।
আসিয়াছি কোন পথে কিছু জানি নাই
অজ্ঞান পবন ভরে ধূলিকণা মন ।
জানি এসেছে কোথা উড়িয়ে তখন
অনুগ্রহ করে যদি সে পথ দেখাও।
জন্মমত দুখিনীর জীবন বাঁচাও।
রমণীর বাক্যে রিযি সন্মত হইল।
দেখাইতে পথ তার তথ্রোতে চলিল |
ইতি সতি-সম কাব্য চতুর্থ সর্গ।
সতি-সমকাব্য।
৯।
পঞ্চম সর্গ ।
চলিলেন ঋষিবর, হয়ে তার অগ্রসর,
অতঃপর পিছে ধনি ধায়।
উল্লাষ উদয় মনে, চলিল ঋষির সনে,
ছায়া সনে কায়া যেন যায়।
ছাড়াইতে বহুদেশ, দিবস হইল শেষ,
নিজবেশ ধরে শশধর।
যােগী বলে এই গ্রাম, তােমার জনম ধাম,
বিরাম করগে অতঃপর ।
কর শেকি সম্বরণ, আসিবে অাশার ধন,
বিমোচন হবে দু:খ ভার ।
আজ হতে তিন দিন, পরে পাবে শুভদিন,
এহ খান ঘুচিবে তােমার।
পতিব্রতা হয়ে সতী, হে কর নিবসতি,
ধৰ্ম্মমতি রাখিবে গোঁসাই।
তুষিতে তােমার মন, ছাড়িয়াছি তপােবন,
বিজন গহনে তবে যাই!
আনন্দে নয়ন ঝরে, ধরিয়া রিষির করে,
সকাতরে করিল বিদায়।
সতি-সন্তম কাব্য।
একবার আগে যায়, আর বার পিছে ধায়,
মৃতপ্রায় আবার লজ্জায়।
সাত পাঁচ ভাবি মনে, শত ধারা দুনয়নে,
সখির ভবনে উপনীত।
কিবা সুখ এর চেয়ে, সহচরী এল ধেয়ে,
মনি পেয়ে ফণী পুলকিত ৷৷
উভয়ে উভয়ে ধরি আলিঙ্গন করে।
প্রেমানন্দে অশ্রনীর ঝর ঝর ঝরে ।
ব্যস্ত হয়ে স্বহস্তেতে আনি স্নিগ্ধ জল ।
আপনি ধােয়ার সখি চরণ যুগল।
দিব্য শুভ্র বস্ত্র এক আনি দিল তায়।
সুখাদ্য মিষ্টান্ন ভােগ যতনে যােগায়।
অলসে আবশ তাঙ্গ ঘুমে অচেতন।
লক্ষণ ভোজনে যেন নিদা আকর্ষণ ॥
উভয়ে শুইল গিয়ে বিশ্রামের ঘরে।
সুখ নিদ্রা অবশান দ্বিতীয় প্রহরে ।
হাসিয়া সুমতি কয় অমিয় বচন।
কি দেখিলে কি শুনিলে ছিলে বা কেমন ?
অবিরত মন ভ্রমে করিলে ভ্রমণ।
নগর নিঝর নদী নিবিড় কানন।
সতি-সম কাব্য।
প্রেমামােদে মুগ্ধ
হয়ে দেশে করি দ্বেষ।
কোথায় প্রায় পেলে কহ সবিশেষ।
কোন দুষ্ট মিষ্ট ভাষে ভুলাইয়ে মন।
নারীর অমূল্য মণি করিল হরণ
দেহ সরােবরে তাের ধর্ম সরোজিনী।
পুণ্য বাসে প্রফুল্লিত করিত মেদিনী।
কুল পত্রে স্বচ্ছ বারি আচ্ছাদিত ছিল।
বিচ্ছেদ বাতাস লাগি প্রকাশ হইল ।।
অজ্ঞান বারনে অার কে করে বারণ।
লাভে হতে লয় হল কুবলয় ধন।
কিম্বা কোন মহামতি হয়ে কৃপাবান।
বাঁচাইল দাবানল কুরঞ্জির প্রাণ।
কু আশা ঘুর্ণিত বায়ু প্রবাহিত হয়ে।
ডুবাইতে ছিল তরি অকুলেতে লয়ে।
এর মধ্যে কোন গ্রহ অনুগ্রহ করি।
সুবাতাসে তীরে তানি বাঁচাইল তরী।
অথবা আপন জ্ঞান সারথি হইল।
দেহ রথ মন তাশ্ব সুপথে আনিল ।
জ্ঞান হয় পূৰ্ব্ব কথা পড়িয়াছে মনে।
আসিয়াছ অধিনীর কলঙ্ক মােচনে।
বল দেখি কি ঘটিল ললাটে তােমার।
ব্যস্ত আছে মন প্রাণ শুনাও বিস্তার
সfত সম কাব্য।
প্রমদা কহিছে সই, শুন সত্য কথা কই,
আমি নই সেই মতে আর।
উপহাসি উদেশ, মিনু অনেক দেশ,
অবশেষ সেই ব্যক্তি সার।
সতীত্ব পরম ধৰ্ম্ম, রমণীর সার কর্না,
আজন্ম যা বুঝালে আমায়।
সত্য ধৰ্ম্ম কিসে রবে, রিপু পরাভব হবে,
কবে যাবে যাতনার দায় |
মদনে করিতে জয়, মনেতে জন্মিল ভয়,
রিপুক্ষয় করিতে কঠিন।
পরশু রামের শিষ্য, জিতেন্দ্রিয় হল ভীষ্ম,
বিশ্ব মাঝে হইনু প্রবীণ ।।
বিনা রণে রিতু পতি, প্রতিরোধ করে গতি,
ছম মতি লয়ে সৈন্য দল ।
কৰ্ম্ম ভুমে ধৰ্ম্ম রণ, শেষে হল নিরূপণ,
আয়ােজন হইল সকল ।
রিতুরাজ সহ রণ, পাঠাইব কোন জন,
নিরূপণ করিতে না পারি ।
সমক্ষ বিপক্ষ মাঝে, হারিলে মরি লাজে,
কোন কাযে তুল্য হবে নারী।
বিবেক ধিকার দম, ধৈর্য্য ত্যাদি বীর মম,
যম সম নিবৃত্তি সুমতি।
সতি:সত্তম কাব্য ।
অমরে সময়ে মারে, কি শঙ্কা তাদের মারে,
আমারে কৃপায় দিল গতি।
মম পক্ষ বীর যত, বিপক্ষে করিতে হত,
বিরত । হল এক বার ।
মেরে মেরে রিপু চয়, করে ফেলে নয় ছয়,
অনি ভয় কি রহিল আর ।।
ফুল বানে অনিবার, মার বলে মর মার,
ধৈৰ্য্য তার কেটে দিল গুণ।
আশ। গেল বসন্তে , কামদেবে পড়ে ফের,
কপের শূন্য হল তু॥
মন ভাবে সমীর, শন সহ করে রণ,
তনু ক্ষণ প্ৰহারিতে ব্যস্ত।
অস্ত্র শস্ত্র যত বর্ষে, অঙ্গেতে নাহিক পর্শে,
সবির্ষে হইল নিরস্ত ।
তার পর পিকবর, পঞ্চমে ছাড়িল শর,
নিরন্তর হানে কুহ বাণ।
শান্তি যুদ্ধে বিন্ধে তীর, নিপাত ইন্দ্রিয় বীর,
বধির হয়েছে দুই কাণ।
কি কব অলির গুণ, ধনুকে চড়ায়ে গুণ,
গুন গু: বান বরষিল।
প্রবােধ বিধুর করে, হৃদি পদ্ম বদ্ধ করে,
নিরাশ অন্তরে পলাইল
সতি-সত্তম কাব্য।
রণে এল পরিমল, সাজাইয়ে দল বল,
অনর্গল বহিতে লাগিল।
নিবৃত্তি অব্যর্থ শরে, ঘাণেন্দ্রিয় রােধ করে,
শক্রকরে কি ত্রাস রহিল ৷
চন্দনের গন্ধ শর, বিন্দুভাবে নিরন্তর,
কলেবর শিক্ত করে দিল।
বিবেকের পঙ্ক বাণ, হুঙ্কারে বঁাচালে প্রাণ,
অপমান পেয়ে পলাইল ॥
সমরে নাবিল চঁাদ, দম সহ করি বাদ,
পরিবাদ বাণ বরিষয়।
অশ্রু পূর্ণ দুই অক্ষ, চঁাদেরে কে করে লক্ষ্য,
সম পক্ষ হয়ে গেল জয় ।
বিজয় পতাকা নিয়ে, পুলকে পুতিনু গিয়ে,
সুখে হিয়ে ভাসিতে লাগিল।
রক্ষা হল জাতি কুল, পাইলাম ধৰ্ম্ম
মূল,
শকুল নির্মূল হইল ।
এইরূপে রিপু সব, সমরে হইল সব,
সুরব ব্যাপিল ত্রিভুবনে।
হৃদি রত্ন সিংহাসনে, বিবেক সুমতি সনে,
শুভক্ষণে বসিল দুজনে।
প্রথমেতে সহচরী, তব সঙ্গ পরিহরি,
মকরী সম হল বেশ।
সতিসত্তম কাব্য।
কামের কামনা মনে, দেখা পেয়ে বেশ্যাগণে,
সঙ্গোপনে পাই উপদেশ।
তব বাক্য ছিল লক্ষ্য, ব্যাধ হল সেই পক্ষ,
মােক্ষ পথে ফিরাইল মতি।
কুকর্মে হইল দ্বেষ, দৈবের ঘটনা শেষ,
উপদেশ কপােত কপোতী।।
হৃদয়ে করিনু সার, কুকায়ে যাবনা আর,
ব্যবহার তীর্থ দরশন।
পাইমু ভীষণ বন, সন্ন্যাসী ছলিল মন,
অকিঞ্চন দিনু বিসর্জন।
জটিল পরম সত, দেখাইল দেশ পথ,
মনােরথ না করিল চুরি।
পরিশ্রম পুরস্কারে, লােকাচার ব্যবহারে,
দিনু তারে হাতের অঙ্গরী।
এইরূপ দুঃখ ভোগে, এলেম যামিনী যােগে,
তব যােগে জুড়াইল প্রাণ।
অজ্ঞানে করিনু কৰ্ম্ম, ভাগ্যেতে রহিল ধৰ্ম্ম,
মৰ্ম্ম কথা করহ বিধান।
সুমতি কহিছে শুন কথা চমৎকার।
বিপরীত ঘটে ছিল ঘরেতে তোমার ॥
১০৪
সতি সৰ্তম কাব্য।
এসেছিল পতি তব আমার নিকটে।
ভুলাইনু বিধিমতে কথার কপটে।
শূন্য গৃহ দেখে তার সন্দেহ হইল।
কত ভাবে কত কথা কহিতে লাগিল ৷
যেরূপ কৌশল বাক্যে ভুলায়েছি তায়।
এক মখে পরিচয় কত কহা যায় ।
তথাচ সংক্ষেপে কিছু শুন বিবরণ।
সে রহস্যে হাস্য কে করে সম্বরণ।
কাল্পনিক অস্ত্র ক্রোধে শীলতার সহ।
বলিলাম আর কেন এত তনুগ্রহ।
আর কেন গোড়া কেটে শিরে ঢাল জল।
গৃহ দাহ করে অগ্নি নির্বাণে কি ফল ।
বিপদে পলাও দূরে সম্পদে সদাই।
কাৰ্য্য শেষে প্রাখৰ্য্য দেখাতে এলে ভাই।
নির্বাণ প্রদীপে তৈল প্রদান করিলে।
গতায়, হইলে ভাই ঔষধ আনিলে।
ললনা লতার মত ঘুরিয়ে বেড়ায়।
জান নাকি যারে পায় তারেই জড়ায়।
বিবাহ করেছ এই দ্বাদশ বৎসর।
দেখিতে দিনের জন্য নাই অবসর ।
ছি ছি ছি তোমার সম অরসিক জন।
না দেখি ভুবনে কভু না করি শ্রবণ ।
সতি-সত্তমকাব্য।
দেখিতে তােমারে তার বড় আশা ছিল।
কিন্তু মনসা মনে বিলীন হইল ।
ওহে সখ। এত দিন দেখা যদি দিতে।
তবে কি এ সর্বনাশ আসিয়া দেখিতে ।
চমকি বলিল চাহি মাের মুখ পানে।
তবে কি প্রমদা মাের বেচে নাই প্রাণে
বহিল সঘনে শ্বাস ঝরিল নয়ন ।
রােদন করিল ঢাকি বসনে বদন ।
দেখিলাম শােকানল জ্বলিল যখন।
আকুল হইল মনে তােমার কারণ।
মনে মনে বলিলাম ফেলিয়াছি দায়।
গেথেছি বড়িশে মাছ তার কোথা যায় ।
হেট মুণ্ডে চারি দণ্ড কঁদিল যখন।
নারিনু থাকিতে আর পরের মতন।
মহামায়া মনে আসি হইল উদয়।
আত্মীয়ের দুখে কার কাদেনা হৃদয়।
ব্যস্ত হয়ে বলিলাম হস্ত ধরি তার।
আর না ভাবিও সখা কাদিওনা আর।
পাইবে প্রাণের পত্নী স্থির কর মন।
চিন্তানলে দেহ প্রাণ করনা দাহন ।।
প্রাণে প্রাণে বেঁচে আছে অন্য কিছুনয়।
ঘটেছে ললাটে যাহা শুন পরিচয়।
সতিসত্তম কাব্য।
তােমার বিরহে প্রাণ ব্যাকুল হইল।
গৃহেতে নিগ্রহ আর সহিতে নারিল।
তাই সখা করিবারে তব অন্বেষন।
গিয়েছে তােমার তত্ত্বে না শুনে বারণ
যদ্যপি না পায় সখা তব দরশন।
গৃহে আসি পাপ দেহ দিবে বিসজ্জন।
কুলটা রমণী তব সে জন তনয়।
পতিতা সতীদের মরণে কি ভয়!
যদিও যৌবনে সখা তব দরশন।
পাইল প্রাণপণে করিয়া যতন।
তথাচ দিনের জন্য মন মধ্যে তার।
পর দরশনে প্রাণে হয়নি বিকার।
তাই বলি ওহে সখা তােমার মতন।
পতি প্রাণ নারী আর পায় কোন জন।
এ কথা গোপনে রেখ করনা প্রচার।
আমার কি শঙ্কা বল কলঙ্ক তােমার ॥
বিষাদে নিশ্বাস ছাড়ি জিজ্ঞাসা করিল।
তােমার গঠন ঠাম চিহ্ন যত ছিল।
চিত্র পট আনি তারে দিলাম যখন।
অবাক হইল রূপ করি দরশন।
স্থির নেত্রে তব চিত্র দেখিতে দেখিতে।
কাঁদিয়া উঠিল আর না পারি রাখিতে।
সতি-সম কাব্য।
১০৭
কত যে প্রবােধ দিয়ে বুঝাইনু তায়।
প্রকাশি কহিব কত নিশি শেষ প্রায় ॥
প্রতিজ্ঞা করিয়ে গেছে শুন প্রাণ সই।
নিশ্চয় আসিবে ফিরে দিন কত বই।
ঘুচিবে এ ঘাের জ্বালা আর চিন্তা নাই।
ভাসিব সুখের নীরে দেখিবে সবাই।
ভাগ্যে ধনি ফিরিয়াছ গৃহে পুনরায় ।
তা না হলে বল দেখি ঘটিত কি দায়।
গ্রহ দু৪ে অদৃষ্টেতে কষ্ট হয়ে ছিল।
আজ হতে পাপ দায় বিদায় হইল ।
রাশি রাশি বিল্ল পত্ৰ শিব স্তুপাকার।
রাখিয়াছি ঘুচাইতে কলঙ্ক তােমার।
চিন্তাগেল দূর হল কুকামনা নাশ।
এখন উচিত হয় হইতে প্রকাশ।
যামিনী হইলে গত হইলে প্রভাত।
পিতা মাতা পদে গিয়ে কর প্রতি।
ব্যগ্র আছে উভয়েতে শীঘ যাও ঘরে।
ক্ষিণ আছে বিলক্ষণ সাক্ষাতের তরে ।
প্রতিবাসী শত্রু মিত্রে কথার কৌশলে ।
ব্রত শেষ হল বলি জানাও সকলে।
প্রমদা বলিছে দিদি কি বলিব আর ।
তােমার কৃপায় হল উপায় আমার ।
সতি-সম কাব্য।
তােমার জন্যেতে রক্ষা হল জাতি কুল।
সুখ্যাতিতে পূর্ণ দেশ উপদেশ মূল।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিব কি প্রকারে।
চির দিন চরণেতে ঋণী উপকারে ।।
কথায় কথায় হল নিশি অবসান।
সুমতির সনে সর্তী চলে নিজ স্থান ॥
গাজ গতি সম সতী পথে চলে যায়।
কেহ আশীর্বাদ কেহ প্রণাম জানায়।
গুনবর্তী নতি করে পিতা মাতা পায়।
বিপ্র দিল পদ ধূলি কন্যার মাথায়।
আস্তে ব্যস্তে দ্বিজ পত্নী কন্যা কোলে নিল
সেহ সিন্ধু নীরে যেন মৈনাক ডবিল ।
ব্রাহ্মণ কহিছে বাছ; কি বলিব আর।
কন্যা হয়ে মুখােজ্জল করিলে আমার
ত্ৰিকুল করিলে ধন্য কন্যা গুণবতী।
আশীর্বাদ করি মোরা হও পুত্রবতী।
এইরূপে যত সব আত্মীয় স্বজন।
সুখ্যাতি করিল কত না যায় কথন।
ধন্য ধন্য ধন্য বই অন্য কিছু নয়।
বলিতে বলিতে গেল যে যার আলয় ।
কন্যা লয়ে করে বাস ব্রাহ্মণী ব্রাহ্মণ।
জামাতার হেতু কিন্তু চিন্তান্বিত মন ।
ইতি সতি-সত্তম কাব্য পঞ্চম সর্গ।
সহিংসতম কাব্য।
ষষ্ঠ সর্গ।
আনন্দে মগন। সতী, গৃহে করে নিবসতি,
প্রাণ পতি আশার আশায়।
পতি আশে বিনােদিনী, হইলেন পাগলিনী,
চাতকিণী নীরদ ধিয়ার।
চিন্তায় মগন। সতী, দেখহ দৈবের গতি,
এ পতি তিন দিন পরে ।
কি সুভাগ্য কানিীর, জনকের জননীর,
স্নেহনার নয়নেতে ঝরে ।
জামাতার অাগমন, সুখেতে সবার মন,
আয়োজন বিধিমতে করে ।
নানা দ্রব্য উপভােণ, প্রাণ পণ করে যােগ,
জলযােগ পাত্রে নাহি ধরে!
কেহ বলে সতী হয়ে, এতদিন ছিল সয়ে,
ব্রত লয়ে হইল সফল।
কেহ বলে বেল পাতে, পূজে ছিল বিশ্বনাথে,
হাতে হাতে ফলে গেল ফল ।
এইরপ নানা স্থলে, ধন্য ধন্য সবে বলে,
অস্তাচলে রবির গমন।
১১০
সতিসত্তম কাব্য।
নিশি সহ নিশাপতি, আইলেন দ্রুতগতি,
সতী পতি করিতে মিলন ॥
উভয়ে আনন্দ ভরে, সুইল পাঙ্গোপরে,
নাহি ধরে অনঙ্গের রাগ।
মনের বাসনা যত, এক দিনে পূরে কত,
নিশাগত দেখে পূৰ্বভাগ।
মনে হল প্রমদার, সখী মম মূলাধার,
সে আমার আমি যে তাহার ।
তা হতে সৰ্বত্ৰ জয়, তা হতে এ ধৰ্ম্ম রয়,
উচিৎ হয় দিতে সমাচার।
এতবলি গুণবতী, চলিলেন দ্রুতগতি,
প্রণতি করিতে সখী পদে।
কতক্ষণে উতরিল, পতির বারতা দিল,
উভয়ে ভাসিল সুখ হ্রদে।
সুমতী বলিছে সই, শুন এক কথা কই,
আমি বই কে শিখাবে আর।
দেখাইয়ে নানা রস, পতিরে করিবে বশ,
মহাযশ পাইবে আবার।
যে যাহারে ভাল বাসে, তুষ্ট করে মিষ্ট ভাষে,
প্রেম পাশে যে বেঁধেচে যায়।
তার জন্যে তার মন, স্থির থাকে কত ক্ষণ,
অনুক্ষন দেখিবারে চায় ।
সতি-সত্তম কাব্য।
ভকি মায়া অয়ােজনে, আপনার প্রয়োজনে,
প্রিয় জনে ভুলাও ত্বরায়।
মধু বিনে শুধুফুল, কবে বল অলিকুল,
অনুকূল হয়ে থাকে তায়।
যেরূপে যুবতীগণ, ভুলায় পতির মন,
বিবরণ যত ছিল তার।
কহিতে কহিতে কথা, উপনীত আসি তথা,
ছিল যথা দ্বিজের কুমার।
সুমতী অইল দেখি দ্বিজের কুমার।
ব্যস্ত হয়ে আগে গিয়ে করে নমস্কার ।
হাসিয়ে সুমতী কয় মধুর বচন।
কোথা ছিলে এতদিন আছবা কেমন।
বিশ্বপতি বলে শুন সত্য কথা কই।
প্রাণে প্রাণে বেঁচে আছি এই মাত্র সই।
কিন্তু, এক সন্দেহ হয়েছে বড় মনে।
হয়েছি বিস্ময়াতি অদ্ভুত স্বপনে ৷৷
সুমতী কহিছে বল কি স্বপ্ন তোমার।
শুনিতে কৌতুক বড় হতেছে আমার ।
বিশ্বপতি বলে স্বপ্ন এই রমণীর।
চরিত্র ভাবিয়ে মনে হয়েছি অস্থির।
গতি-সম কাকা ।
একাকিনী দেশান্তরে করিছে ভ্রমণ।
পথেতে মিলিল এক সন্ন্যাসী সুজন।
মস্তকেতে জটাভার গায় ভষ্মরাশি।
নিবারিল তীর্থ যাত্রা নাগরাদি কাশি।
নানা ছলে ছলনা করিল তপােধন।
নায়িল ভুলাতে কিন্তু রমণীর মন।
একদিন মহারণ্যে অন্ধকার নিশি।
প্রেম ভাবে কত কথা বলেছিল ঋষি।
তাহাতে উত্তর ইনি করিলেন কটু।
মৰ্ম্ম বুঝে ধৰ্ম্ম পথ ধরিলেন বটু
রলে সন্ন্যাসী এরে দেখাই'ল দেশ।
নিদা ভঙ্গ হল বলি না জানিনু শেষ ।
হাসিয়া সুমতী কয়, এস্বপন মিথ্যা নয়,
ইথে ভয় নাহি হয় মনে।
স্বধর্মে ভ্ৰমিল একা, কি কব দুখের লেখা,
সত্য দেখা সন্ন্যাসীর সনে ।।
তােমার স্বপন কথা, জ্ঞান হয় ছিলে তথা,
রিষি যথা হইল উদয়।
নৈলে যােগী সমান্ত, কি যোগে শুনেছ কান্তু,
আদ্যোপান্ত কথা
সমুদয়
সতি সত্ৰম কাব্য।
কে জানে সে কি সন্ন্যাসী, তােমারে বলিল আসি,
তীর্থ বাদী তার হেন কায।
স্বধৰ্ম্মেতে ছিল মতি, একা নারী কুলবতী,
অব্যাহতি অরণ্যের মাঝ
এহেন পরম ভাৰ্যা, গিয়ে ছিল নিজ কাৰ্য্যে,
কোন রাজ্যে না ঘটিল দোষ।
পর নর হয়ে জ্ঞান, যাহার চরিত্র হেন,
তবে কেন কর আপশোষ।
পুরুষ পরশ মনি, পাইয়াছে যে রমণী,
ধন্য ধনী অবনীর মাঝে।
পতি যদি করে হেল, রাখালেতে মারে ডেল,
তার বেলকেহ নাহি সাজে।
পরম সুহৃদ জায়া, এক আত্ম। তিন্ন কায়া,
মহামায়া বিধির মন্ত্রণা।
যদি মিলে সতে সত, পূর্ণ হয় মনােরথ,
অন্য মত ঘটিলে যন্ত্রণা।
পিতা মাতা যদি হয়,
শ্রেষ্ঠ
নয়,
হিমায় সুতা দেখ সতী।
পতি নিন্দা শুনে কাণ, প্রাণ দিল যজ্ঞ হানে,
সেই জানে কিবা ধন পতি।
প্রকৃতি পুরুষ ভজে, পুরুষ নারীতে মজে,
কে সহজে করেছে মিলন।
পতি হতে
১১৪
সতি-সমকাব্য
প্রায়ের ভাল বাবা, নিত্য হবে যায়। আসা,
মিষ্ট ভাষা কবে অনুক্ষণ।
প্রেমিক প্রায় কোষে, এক জন শতে পােযে,
পতি দোষে হয় বিপরীত।
দুষ্ট পতি রুষ্ট ভাষে, রমণী তেমনি বাসে,
অন্য আশে পায় তার চিত।
তার মন জানি আমি, ছেড়ে দাও পাগলামি,
আন্তর্যামী জানেন সকল ।
মুখে দুট কথা কর, তাই বলে রসময়,
কভ নয় অন্তরে গরল ।
क
য়।
সুমতির বাক্য শুনি বিশ্বপতি কয়।
ইহার চরিত্র আমি জানি সমুদয়
একা নারী গিয়ে ছিল মম অন্বেষণে।
সন্দেহ হইল কথা শুনিয়ে শ্রবণে ॥
সন্ন্যাসীর বেশ ধরি ভমিলাম একা।
দৈব যােগে পথ মধ্যে পাইলাম দেখা'।
চিত্রপটে দেখাইলে যেরূপ গঠন।
দৃষ্টি মাত্র চিনিলাম এই সেই জন।
করিলাম ছল কত না ফিরিল মতি।
জানিলাম ভাৰ্য্যা মম অতি গুণবতী।
সতি নতুন কাব্য।
সন্ন্যাসীর দোষ নয় আমার চাতুরি ।
এই দেখ জটাভার এই সে তরী।
অবাক হইয়ে দোহে এক দৃষ্টে ঢায় ।
মনে মনে ভাবে বুঝি ঘটে বা কি দায়।
প্রমদা বলিছে নাথ তুমি সে সন্ন্যাসী।
জানিলে তােমার সহ হই তীর্থ বাসী।
কেন পরিচয় নাথ না দিলে সেখানে।
এত ভয় দেখাইলে ভীষণ কাননে।
মনে বুঝে দেখ নাথ কেমন সে দিন।
বুঝিনু পুরুষ জাতি বড়ই কঠিন।
সহায় সতীত্ব ধৰ্ম্ম তব পদে আশ।
ভাগ্য গুণে নাহি হল জীবন বিনাশ ।
বিশ্বপতি বলে প্রিয়ে কি কথা বলিলে।
কেমনে চিনিবে মােরে পরিচয় দিলে ।
এক দিন দেখা মাত্র বিবাহ সময়।
সেই হেতু তােমারে না দিনু পরিচয়।
আমার দোষেতে ধনি ঘটিয়াছে দোষ।
ত্যজ প্রিয়ে অভিমান পরিহর রোষ
ভাগ্যধর করে ঘর সতী নারী লয়ে।
চরমেতে মুক্তি দেয় সহমৃতা হয়ে ।
না হব চক্ষের আড় ধৰ্ম্মের দোহাই।
বচন মরণাবধি ছাড়া ছাড়ি নাই।
সতিসম কাব্য।
দোহার বাক্যেতে দোহে হরিশ অন্তর।
আনন্দে সুমতি তবে গেল নিজ ঘর।
পতি লয়ে সতী করে অশেষ সম্মান।
যশে পূর্ণ দশ দিক সাবিৰ্মী সমান ।
পতির চরণ হৃদে পূজে হাসুক্ষণ।
লক্ষী যেন বক্ষে রাখি পূজে নারায়ণ ।।
মুখে মুখে সদা রয় না হয় অন্তর।
বনস্পতি ব্ৰতী মেন পরস্পর
সংসারের সার বস্তু বংশধর হাসি।
পূর্ণ শশি আসি যেন নাশে মোরাশি।
এই রূপে কিছু কাল সুখে কাল হরে।
সন্তোষের তন্ত মাই বুঝি ,ন্তরে।
কাল পেয়ে কালাকাল হল উস্থিত ।
স্ব চলি গেল ৷ তা পতির সহিত ॥
সম্পূর্ণ।
--
Printed by Brojo Nauty at the
Wellington" Press No. 27,
Bow-Bizar Street,
Calculla.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.