Bally Sadharan Granthagar

Shaishab Kusum Ed. 1

Ghosh,sri Amritalal · 2009/10/30

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

শৈশব
কুসুম।
- r!" ০৮.
প্রথম ভাগ।
উৎসাহসম্পন্নমদীর্ঘসূত্রম
ক্রিয়াবিধিজ্ঞং ব্যসনেমূসক্তম্।
. শুরং কৃতজং দৃঢ়সৌহৃদঞ্চ
লক্ষ্মী স্বয়ং যাতি নিবাসহেততঃ )
হিতােপদেশঃ
সংস্করণ
প্রথম সংস্করণ।
জয়নগর, মতিলালপাড়া-পুস্তকালয় হইতে প্রকাশিত।
কলিকাতা।
ব্যবসায়ী যত্নে
@ অমৃতলাল ঘােৰু দ্বারা মুক্তি।
১৮৮৪ ।

No text on this page.

উৎসগ পত্র।
শ্রদ্ধাপদ
সুমুক্ত হরানন্দ ভট্টাচার্য।
দেব ।
সুশিক্ষার মিঠা জলে পরম যতনে
যে বীজ রোপিয়াছিলে অভাগার মনে ;
অমোঘ সে চাৰু বীজে যে তৰু সঞ্জাত,
অবে তাহা কুমিত হেরিয়া, হে ভাত !
হবে না কি তব মন হরষে মগন?
যদিও নহেক তাহা উদ্যান-শোভন
পােলাপ, মল্লিকা, জাতি, পলাশ, কাঞ্চন,
তথাপি ও স্বরােপিত ভাবিয়া রে
সদয় কটা কি গাে, ছিল আধ ভরে
পড়িবে না তদুপর ? পড়িবে নিশ্চয় ;
গুগ্রাহী সাধুচিত করুণা-নিলয়।
দু চাৰিটী ফুল তার ভুলিয়া যতনে

روفر )
*
সাজ তাহা সমাদরে চরণে তোমার
অরপি কৃতার্থ আহা, চিত অভাগার !
পুণ্যভূমি এ ভারতে কে কাছে পামর
পুজিতে দেবতা-পদ নহে অগ্রসর ?
ভারতে দেবতা মম তুমি মহাশয় !
কে না জানে শিক্ষাগুরু দেবতা নিশ্চয় ?
যে না জানে কৃতঘ্ন সে মুখ ধরাতলে ।
মনুষ্য তাহারে কোন বিবেচক বলে ?
সবিনয়ে নিবেদন করি আর বার
বড় আশে আসিয়াছি সমীপে তােমার
ঘৃণায় চরণে ঠেলি কুসুম নিকরে
দিও মদারুণঘাত অভাগা অন্তরে।
বিনয়াবনত

ভুমিকা।
হয়।
নারিকেল তরু যখন প্রথম ফল প্রসব করে তখন
তাহার ফল অতি ক্ষুদ্রাবয়ব হয়, ক্রমে বৎসরের পর
যতই বৎসর অতীত হইতে থাকে ততই তাহারও অক
বের পরিপুষ্টতা লক্ষিত হয় এবং কিয়ৎকালের মধ্যেই
উহা পুর্ণাবয়ব প্রাপ্ত হয়। এইরূপ সকল বিষয়েরই
উপক্রমণিকা অসম্পূর্ণকাল সহকারে সম্পূর্ণতা প্রাপ্ত
শৈশবকুসুম আমার লেখার উপক্রমণিকা
সুতরাং ইহাতেও যে সেইরূপ অসম্পূর্ণতা দৃষ্ট হইবে
তাহাতে আর বিচিত্র কি ? বর্ণগত, শব্দত, তাবগত,
এবং রসগত সকল প্রকার দোষই ইহাতে একাধারে
থাকা তাসম্ভব নহে।
এখানে জিজ্ঞাস্য এই যদি তাহাই হইল তবে এরূপ
ভ্ৰম-পরিপুর্ণ বিষয় সাধারণ সমীপে প্রকাশ করিয়া
হাস্যাস্পদ হইতে এত চেষ্টা কেন ? যাহা অমে পরি-
পুর্ণ তাহা কাহারও সমীপে আদরণীয় হয় না-কেহই
তাহা গ্রহণ করে না। এরূপ বিষয় সারণের সমীপে

(
[ ৩ ]
প্রকাশ, করিতে চেষ্টা করা বাতুলের কর্ম। কিন্তু
বিশেষ বিবেচনা করিয়া দেখিলে স্পষ্ট প্রতীতি হইবে
যে অসন্তুই সদ্বস্তুর পরিচায়কঃ-কৃষ্ণ জমী শ্বেত
বর্ণের বিন্দুর গৌরব বৃদ্ধি করে। যদি জগতের সকল
বস্তুই উৎকৃষ্ট হইত তাহা হইলে উৎকৃষ্টপষ্টের কি ইতর
বিশেষ থাকিত ? সকলেই অভেদে আমাদের মনে
একরূপ ভাবের প্রতি হইত-সচ্ছন্দের মােহিনী মুর্তি
কদাপি মনে অনুভব করিতে পরিতাম না।
। সুতরাং
সৰ্ব্বদা না হউক মধ্যে মধ্যে এক এক খানা এরূপ
পুস্তক প্রকাশিত হইলে তারা সমাজের আর কোন
উপকার হউক আর নাই হউক, কিন্তু উৎকৃষ্ট পুস্তক
সকলের রস উত্তেজিত ও তাহার প্রণয়ণ-কর্তাগণের
গৌরব বৃদ্ধি হয়। আমার এই পুস্তকে অন্তত এ
উপকারও সমাজ মধ্যে সাধিত হইবে।
সরােনভিজ্ঞ ব্যক্তি “সন্তরণ না শিখিলে জলে
নামিব না” বলিয়া প্রতিজ্ঞা করিলে সে যেমন কদাচিৎ
সন্তরণ শিক্ষা করিতে পারে না সেইরূপ একবারে
সম্পূর্ণতা লাভ না করিয়া সমাজে মুখ দেখাইব না এরূপ
প্রতিজ্ঞা করিলে তাহারও সম্পূর্ণতা লাভের সম্ভব
(".

[ ৩ ] শ কোথায় ? লােকে কথায় বলে “ নিজের চক্ষে টেকী পড়িলেও তাহা দেখিতে পায় না কিন্তু পরের চক্ষের কুটাও দেখিতে পায়। আপনার সকল দোষ সকলে দেখিতে পায় না। কখন কখন এমন হয় আমি যাহাকে গুণ বলিয়া জানি বাস্তবিক তা বিষম এম আবার কখন কখন এমন হয় আমি যাহাকে দোষ বলিয়া জানি তাহা দেখিয়াও দেখিতে পাই না। সমাজের সহস্র চক্ষুতে এবং তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাহা বাহির হইয়া পড়ে—পুলিষের চক্ষে চোর কতক্ষণ লুকাইয়া থাকিতে পারে ? দোষ ধরা পড়িলে তাহা সংশােধন করাও সহজ হইয়া পড়ে। অতএব উন্নতি লাভেচ্ছ জনগণের পক্ষে উপহাস্পদ হইবার ভয়ে সঙ্কুচিত হইয়া থাকা সম্পূর্ণ যুক্তি বিরূদ্ধ । যেমন স্বর্ণ যতবার অনলে দগ্ধ হয় ততই তাহার ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি হয় সেইরূপ সুলেখক, যথার্থবাদী, পক্ষ- পাতশূন্য সমালােচকগণের সমালােচনা রূপ অনলে ভাষারও শ্রীবৃদ্ধি সম্পাদিত হয় । তাহাদের সুদৃষ্টি- পাতে যে আমার বহুল উপকার সাধিত হইবে, ও চিন্তু মার্জিত হইবে তাহা কে না স্বীকার করিবে ? আবার [ • ] উপবােক্ত সমালােচকগণ যেমন সমাজের ভুষণ স্বরূপ আত্মাভিমানী, পক্ষপাতী, নীচান্তঃকরণ সমালােচক গণ যাহারা গ্রন্থকারদিগকে তাহাদের ক্রীড়ার সামগ্রী ও তাহাদের লেখাকে রহস্যের বিষয় মনে করিয়া তৎপ্রতি অযথা বব্যহার পুৰ্ব্বক তাহাদিগকে নিরুৎসাহ করিতে চেষ্টা করেন তাঁহারা : সেইরূপ সমাজের বিষম শত্রু। তাহাদের দ্বারা তিলমাত্র জগতের উপকার হয় না কিন্তু অপকার পদে পদে হয়। তাঁহাদিগকে আমি গরলাধার ফণি, সুন্দরবনের ব্যাঘ্র ও আমেরিকার জাগুয়ার অপেক্ষাও অধিক ভয় করি। তাহাদের নিকট সবিনয় নিবেদন এই যেন ‘তাহাৱা ক্ষুদ্র মশককে সংহার করিবার জন্য ভঁহাদের ভীষণ বজাস্ত্র নিক্ষেপ না করেন। শৈশব কুসুম প্রচারের আর ও এক উদ্দেশ্য আছে। যৎকালে আমি মীলপুর গবর্ণমেন্ট বক্ত- বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে শিক্ষা লাভ করি সেই সময় তদানীন্তন পুজ্যপাদ মুভিজ্ঞ প্রধান শিক্ষক পণ্ডিত মুক্ত হয়ানন্দ ভট্টাচাৰ্য মহাশয়ের উপমুক্ত পুত্র মান্য- ৰৰ শ্ৰীযুক্ত বাবু শিবনাথ শাস্ত্রী দৈবক্রমে এক দিন বিদ্যা-

• ]
লয় পরিদর্শন বা জনকের সহিত সাক্ষাৎ করিবার জন্য
তথায় উপস্থিত হইয়া ছিলেন তিনি স্বেচ্ছাক্রমে বা
অনুরুদ্ধ হইয়া দ্বিতীয় শ্রেণীর বালক দিগকে পরীক্ষার্থ
এক প্রবন্ধ লিখিতে দেন এবং বালকগণের উৎসাহ
বন্ধনের জন্য পরীক্ষোত্তীর্ণ সর্বপ্রথম বালককে এক
খানি স্বরচিত “ নিৰ্বাসিতের বিলাপ ” পুরস্কার দিবেন
অঙ্গীকার করেন। সুখ দুঃখের অংশভাগী, বাল্যক্ৰীড়ার
সহচর, বিপদের বন্ধু আমার প্রিয় সুহৃৎ শ্ৰীযুক্ত প্রিয়নাথ
চট্টোপাধ্যায় সেই বৎসর দ্বিতীয় শ্রেণীতে ছিলেন।
তিনি অঙ্কাদি নীরস শাস্ত্রে যদিও বিশেষ পারদশী
ছিলেন না, কিন্তু পদ্য রচনায় তৎসহচরদিগের অগ্রণী
ছিলেন। তিনিই উপরােক্ত পরীক্ষায় পারিতােষিকের,
যােগ্য হইয়াছিলেন।
যতক্ষণ স্কুলে ছিলাম ইহার বাম্পও জানিতে পারি
নাই। স্কুলের ছুটী হইলে পথে আসিতে আসিতে
প্রিয়নাথের মুখে সমুদায় বিবরণ শুনিলাম, শুনিয়া
মানব-স্বভাবসুলভ ঈর্ষা মনে উদয় হইল—শিবনাথ
বাবুর নিকট বারান্তরে পারিতােষিক স্বরূপ তদ্রচিত
‘নির্বাসিতের বিলাপ’লাভ করিবার ইচ্ছা বলবতী হইল।

। • ] প্রতিজ্ঞা করিলাম যে রূপে পারি প্রিয়নাথকে অতিক্রম করিতে-হা অপেক্ষাও ভাল পদ্য রচনা করিতে শিখিব। কিরূপে পদ্য লিখিতে পারা যায় দিবানিশি সেই চেষ্টা হইল—সেই চেষ্টায় মাথা ঘুরিয়া গেল। সাহিত্য শাস্ত্রের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি পড়িল। ক্রমে অক্ষর গণিয়া কষ্টেসৃষ্টে দুই এক কলম লিখিতেও শিখিলাম— কাব্যশস্ত্রের বর্ণপরিচয় হইল। কিন্তু শিবনাথ বাবু কোথায় ? তাহাকে আর দেখিতে পাইলম না ; আমার লেখা ও তাহাকে দেখান হইল না ; এবং লেখার দোষ গুণেরও কোন মীমাংসা হইল না। যদিও তাঁহাকে দেখিতে পাইলাম না বটে কিন্তু আশা ছাড়িতে পারি- লাম, না—কখন না কখন তাঁহাকে আমার লেখা দেখাইব এই সংস্কার অন্তরমধ্যে বদ্ধমূল হইল। সেই সংস্কারবশতঃ আজ আমার উদ্ধত মম আমাকে শৈশব- কুম মুদ্রিত করিতে উত্তেজিত করিয়াছে। পাঠকগণ আমার এই ঔদ্ধত্য—এই ধৃষ্টতা মাপ করিবেন । বিনয়াবনত ১৫ই নবেম্বর ১৮৮৪ খৃঃ অঃ। কলিকাতা। '}

দ্ধিপত্র।
তু
সভা
সিমে
সিন্দুরে
কান্তি
তোমাৰে ।
তােমা দেব!
পূরণ
-ফুল-ধন
পুরণ
কূলধন
কিহেতু
• দেবী,
কি হে
দেবি !
সরশী
সারা;
সায়াহ
Pযে রূপ
১
ফলেখি
ফলে না কি
সে ধার
কােলে

। • ] ১. তোমার। গাভী, তোমার-- शानिन হৃদয়ব্যথা । স্বদব্যাথা পুরি ২১ চুয়ে, পুরিন পুণিত চমে। চুরি পূরিল পূর্ণিত নভেশোভা ১৬ নখোশোভাে ১০ গগণ গগন ১১ ম . বন লতায় দ্বিজকুল সায়াঃ সরসি বনলতাম বিজকুল সায়াই সরসী ২ যেনয়ে সরনি জীবন যেন রে সরসী-লীন 9 পাশ গন উপর ময়া গগন } প্রিয়াণ সিন্ধু [ ১ ] পংক্তি ১২ ব্রাম্মণগণ ব্রাহ্মণগণ ২১ উজ্জল, রবিকরে সাপ ১২ ১১ রবিকর-সভাপ ফাঁদে २२ ৪ কুতুহলে কুতুহলে ২৪ ১৬ রহস রহস্য ৫ ৫ সিদূরে কর খান্ খান্ সারি চালা ৮ ৭ সিদুরে ধান্ খান্ আরিচাল যারে যাইটের কিরে যারে ১৮ যাদু টের ৪৩ ৪ঃ ৪৬ রণসাবে ভাকিল বনবাসি ডুবিব র রণ-পা তবে ঢাকিল বনবাসী ডুবিবার ৪৭ ৫২ ১১ যৱস্থতি সরস্বতী t; [_ السما ] ১ যারে যারে ৬৪ ০ } কুআশা ত ৭২ ত সন্তোষ প্রমােদন সচেষ-প্রমােদ-বন দুষিত দূষিত 'যথা ফেলে ১ সূচী পত্র। বিষয় e পত্রা। ৪ ( পিত্তল-নির্মিত নৃত্যগােপাল মুর্তি দর্শন করিয়া) সরােবর (মতিলালের দীঘি) কোকিল (ষন-পীড়িত বাঙ্গালী মুবক) পাপেয়া ত্রিবেণী বর্ণন ২৫ ০ ০ ০ ০ ০ ০ ৭৩ p । এ

শৈশব কুসুম।
প্রথম ভাগ
সংশয়।
সংসার বিপাকে পড়ে ন নন্দন!
নারি করিতে পুজা গােপাল তােমার,
ধ্ব বজাঙ্কিত, প্রিয়, সিয়ে মালিক,
প্ৰভায় প ম ন রন,
ভকত-স্বদমান, চরণ যুগল।
কচি কচি পা-দুখানি মরি কি
দুঃখের সময় যাহা করিলে দর্শন,
ফুলিয়া উঠয়ে চিৎ, জাকির খা

শৈশব কুসুম।
শশধর সমাগমে হয় প্রস্তুতি।
বিপদের কালে কি করিলে স্মরণ,
থাকে না বিপদ কারও, ভানুর উদয়ে
থাকে কি আঁধায় কোথা? পাপীর
পাপীর গণ,
যে পদ করিলে ধ্যান, নূতন জীবন,
নিরমল, সুপবিত্র, লভয়ে তৎক্ষণ।
দুরে যায় পাশ তাপ চিত মলিনতা।
সুবৰ্ণ বরণ কান্তি মূরতি তোমার
যখনি পড়য়ে মনে, অমনি তখন
অশুরের যত দুঃখ, পাপ অন্ধকার,
দূরে যায় অভাগার পাপ দেহ তৃজি।
তখনি বরগ-সুখ মরতে বসিয়া
ভুঞ্চিদেব ! কল্পনায় তব অনুগ্রহে।
কি রূপমাধুরি তব। দেব ঋষি গণ
সানন্দে করেন ধ্যান; ব্র-বধুগণ
যে রূপের পক্ষপাতী হইয়া নিয়ত,
সহেছে গঞ্জনা কত জন কাছে।
নাচিতে যখন তুমি বাল লীলাচ্ছলে
দিতে নরে উপদেশ, এরূপে জগৎ
নাচিতেছে বিরাতি, নিয়ত চল,
( চল ব্যে রজ পা অবােধ মানব ;)
তখন তােমার সেই মধুরু নর্তন

শৈশব কুনুম ।
হেরিয়া নয়নে হেন কে আছে জগতে
নাহি হয় বিমােহিত ? ভয়ে সবে ?
চৌদিকে গােপিনীগণ করতালি দিয়া,
নাচাই তােমাদেব ! পাগল সমান।
ভকতের অভিলাষ করিতে পুরণ,
ভকতৰৎসল শিশু! তুমিও নাচিত
বঙ্গরসে মজি হায়! মজাইয়া সৰে।
কভু নট সাজ দেব! কখন নাচাও
মায়ামুগ্ধ জীবগণে, ও নৃত্য আগারে।
কবে কোন বেশ ধর কে পারে বুঝিতে ?
কখন শ্যামল রূপ, কভু কৃষ্ণকায়,
সুবৰ্ণ বরণ কভু জগৎ তুলতে।
বুহুরূপী সম তুমি নব নব রূপ
ধরহ নিয়ত কেন ? লীলা খেলা ভরে ?
যখনি যে ইচ্ছা হয় তখনি তা কর।
ইচ্ছাময় বিভু তুমি কূল ধন।
কিন্তু নাথ! আছে মম একটি সংশয়-
দ্বাপরে অসিত মূর্তি বিদিত জগতে,
লিখেছেন দ্বৈপায়ণ ঋবি কূলধন
পুরাণে, ভারতে, বেদে, যেখানে সেখানে।
গৌর বরণ তব কিহেতুহইল ?
ভক অতি পুষ্প রেণুকা নিয়ে
.

শৈশব কুসুম।
হয়েছে কি তব রূপ সুপ এমন?
হতে পারে; কিন্তু দেব মম মনে লয়
(সত্য মিথ্যা তুমি কান) ঐ যে ওখানে।
বসিয়া অমলকাভি, সরসুশােভিনী-
শয়ােহিনী-সমা রাধাবিনােদিনী,
প্রকৃতি রূপিণী দেবী, আঁরি রূপ জ্যোতি
মুরূপের প্রভা তব করেছে হরণ।
নতুবা এ ধরালে কে আছে এমন
প্রবলে তোমায়’ পরে ? সর্ব শক্তিমান,
জগৎ কারণ হরি ! করিতে হরণ,
পারে কি হে শশধর য় রবি তেজ ?
হীরক হীরক হৃদে করয়ে প্রবেশ
সে কাপের প্রতিবিম্ব তব কালরূপ
করিয়াছে অন্তরিত তড়িৎ যেমন
মেঘের ধসর মূর্তি করে আবরিত ;
অথবা সরলি জল অলিপ্ত বরণ
ধরে যথা সরােজিনী রূপ বিমােহিনী,
উদয় অচলে যবে ভান্তে দিবাকর ।

সরােবর।
বুক ফাটে সরােবর ! হেরিলে তােমারে।
তব শশাচনীয় দশা করি বিলােকন,
কে আছে ধরণী মাঝে পাষাণ হৃদয়
নাহি ফেলে অশ্রু জল? স্মরি পূর্বশর,
হে সরসি ভব! নাহি করয়ে বিলাপ ?
সায়াঃ সরােজ হেরি, প্রভাত কৌমুদী,
নিদাঘ বিশীর্ণ লতা, মহীরূহগণ,
কে না করে অনুতাপ অঞ ৰৱষণ ?
প্রবৃট বারিচয় বর্ষে অবিরল
নীররূপে অশ্রুকণা ভিক্বায়ে ধরণী ।
যেপ জনক কোন, স্নেহ পরায়ণ,
ধূলী ধূসরিত দেখি তনয়া বদন,
(ধূলায় কাদায় সদা বেড়ায় বালক)
করিয়া যতন বহু, কোলে বসাইয়া,
মুছাইয়া দেন তার দেহ মলিনতা।
কৌমুদী-শােভিত-শশবর-সমপ্রভা,
সদগুণশােভিত, সদা জয়শ্রীমতি,
পরাজ-কুলচন্দ্র জয় নারাণ
দেখিয়া মােদের পুর্ব পিতৃগণদুঃখ,
বিশুদ্ধ সলিল পানে বখিত নিয়ত,

৩
শৈশব কুম।
বিতরিতে শাকিল, কাতর হৃদয়,
(পরদুঃখে আধুচিত কাতর সতত)
কত যে প্রয়াশ করি বহু অর্থ ব্যয়,
তবে দেহ মলিনতা কম মােন
করাইল সরসি গাে ! হয় কি স্মরণ ?
মাহাত্ম স্বভাব দত্ত, ঐশিক রতন ।
নহেক উৎপত্তি স্থান মাহাত্ম্য ব্যঞ্জক
কঠিন পাষাণময় পর্বত উপরে,
ফলেনাকি সুরসাল রসনা রঞ্জন
কদলি, পনশ, বেল, রসাল মধুর?
প্রভৃতি বিটপীচয় ? ফলে স্কুলের
অখিল জগৎমুগ্ধ দেবাসুর নর?
নীচ বংশে পােদকুলে জনম তাহার।
অস্পৃশ্য তাহার জল ঘৃণিত সবার।
যে তাহার জাপান করে এক বার
সমাজে জাহারে নাহি করয়ে গ্রহণ;
কিন্তু দেখ প্রকারেতে কায়স্থ ব্রাহ্মণ
দেবতার সুখ সেব্য হল তার জল।
নিৰ্ম্মল সঙ্কল্প যার মনের ভিতরে,
কিছুতেই পিছ পা হয় না সে নি।
খেলিতে বাসনা খনি ৰাৰুে ৰালকের
ফাশ বরটিক হরীড়র পান।

শৈশব কুসুম ।
পাষাণ পীড়িত বক্ষ, কয়েলী সমান,
গুরুতর অপরাধে, আছিলে পরশি !
দুর্ভেদ্য শাল দাম, সুদীর্ঘ সাত,
আছিল তোমার বুকে। ছাগমেষ আছি
পুঙ্গব, বলদ, গাভী যাহার উপরে,
অনায়াসে বিচরণ কতি সতত,
নধর তৃণের আশে, ক্ষুধিত অন্তর ।
নিশ্বাস ফেলিতে পথ ছিলনা তােমার।
মৃত প্রায় হয়ে তবু পুষেছ তাদের।
মরণে জীবনে সদা হিত অভিলাষী
সাধুগণ জগতের। তাই কি সরসি !
এই ছও উপদেশ করিতে প্রদান ?
বটে বটে ছিল হেথা কায়স্থ, ব্রাহ্মণ,
সুজাত ধনাঢ্য বহু। মতিলালগণ,
যাহাদের বশ কপ শশধরকরে
দিগন্ত ব্যাপিত ছিল, প্রফুল্ল ধরণী।
ভ্রান্তি রাহুগ্রাসে হায় ! তখনও তাদের
অতুল ঐশ্বর্য রাজি করেনি গমন।
কাল স্রোত সমানী উপলে তখনও
হয় নাই প্ৰষৰণ নিরুদ্ধ দুয়ার।
ছিল বটে এ সময়
পারিলে পারি
বিনাশিতে দুঃখ হে পর পুরি !

শৈশব কুসুম।
কিন্তু বল কয় জন গাছে এ জগছে,
কাঁদে যাহাদের মন পর দুঃখ করে ?
দুঃখীর হৃদয় ব্যাথা কে বুঝিতে পারে
সদাশয় সাধু বিনা ? নিস্বার্থ নিয়ত ?
স্বার্থপর নয় জাতি অঙ্মুখে রত ।
দেখিয়া পরের দুঃখ ফিরি। না চায়।
অপিচ তাদের ইথে ছিলনা অলাভ ।
যে উদর করে সর্ব শরীর পােষণ
কোন জন সে উদরে শুকাইতে চায় ?
কোন জন সে উদর মলপুৰ্ণ করি,
শরীরসুস্থতা লাভে অভিলাষ করে ?
শােণিতে গরল মাখি কোন মূঢ় বল
ধরিতে বাসনা করে কুশলে জীবন ?
তৰ জল সর্ব জীব জীবন কারণ।
তব দুঃখ জীব দুঃখ করিতে মােচন,
জীবন মরণে তব জীবে মরে যায়,
দিলেন সরসি। তিনি করিতে উদ্ধার
মলময় পরাশি, দুর্গা পুরিত,
অকাতরে ধন রাশি। জন যেমন
আষাঢ়ে সলিল ধার কররে প্রদান
নিদাঘ বিফায় তরুলতা চয়ে,
কিন্তু নৱ নিৰ মোৰে মনরে পাপনি ;

শৈশব কুসুম।
আঘাতরে স্বীয় পদে পইন্তে কুঠার।
যার করে ধন রাশি করিল পণ,
সরসি গো! আনি অব হিশী, সুজন,
চুরী করি অর্ধরাশি সেই দুরাচার
পুরি ভাণ্ডার নিহ, অধম, পামর,
বকধৰ্মী, খলমতি, বিশায়াতক।
রক্ষক ভক্ষক হবে কে জানি হায় !
আপনার মত মােক দেখে সকলেরে ।
অসাধু অসাধু সম, সাধু সাধু যথা।
নতুবা কে বল কোথা জানিয়া নিয়া
ডাইনের করে করে সুত সমর্পণ ?
না হ’ল সরসি। তব মতে উদ্ধার।
যা হবার হ’ল তাহা। কে করিবে গান
বিধির বিধান যাহ, ধরণী মণ্ডলে ?
তথাপি তােমার সেই রূপ মনােহর,
পুর্ণিত বর বলে, হেরিলে নয়নে,
কার না শরীরে হ’ পুলক সফর ?
বরষার অবসানে বারিবিহীন
নিরমল নভেলােভে করি বিলোকন,
কার না আর হয় মনশে অনন?
চতুষ্কোণ সােবর। কেয়ারি করিয়া
চারিদিকে পাড় খাঁধা ; শেছে তদুপর

শৈশব কুম।
নধর ঘাসের চটি, জল সীমান্ত।
মধ্য ভাগে সুনির্মল সলিল নিচয়,
রাতি সুন্দর কাচফলক সমান।
যেন রে প্রকৃতি সতী বসিয়া বিরলে,
হেরিতে স্বকীয় শােভ সুচাৰু, সুন্দর,
গড়েছে আরসী খানি, মনের মতন,
সবুজ ফ্রেমের মাঝে স্থাপিয়া যতনে।
অসংখ্য তারকা-রাজি-খচিত-গগণ,
অমা রজনীর শােভা, শারদ চন্দ্রিমা,
চঞ্চল বারিদ খণ্ড, পবন চালিত,
তীর শােভা তক্ষরাজি, বন লভচয়,
প্রভা অরুণকাতি, মধ্যাহ্ন ভাস্কর,
বাতাশ্রয়ী দ্বিজকুল বিবিধ জাতীয়,
যথাকালে ইহাদের প্রতিবিম্ব চয়,
দিবলে, নশীথে কিম্বা লাটে, নিদাঘে,
শয়দে, হেমন্তে, শীতে অথবা বসন্তে
ফলিত তাহাতে, আহা কি মনােহর !
মৃদুল পবনে যবে তরঙ্গ উঠিত,
কপিত তাহার মাকে সে ছবি নিচর।
বােধ হত যেন তারা কী করিবারে
পশিষ্ট সলিল মাঝে। বাদাম প্রতি
রশাল, পনশ, বেল টিপী নিচর,

১১
লভিছে আরাম ড. 'কৃশক্তি হীন)
শৈশব কুসুম ।
নওশাখ ভরে গুলি কেমন।
সরসি ভয়ে সদা সায়া পবনে।
তাহাদের মাঝে মাঝে কলম নিচয়,
ঈষৎ অদৃশ্য ভাবে, পাতার ভিতরে,
(আধঘােমটায় ঢাকা কুল ললনার
বদনকমল যথা গবাক্ষের পথে)
বিরলে বদন প্রভা করিবিকাশিত,
চৌদিকে মধুর বাস করিত বিস্তার।
যেনরে রতনাবশী সুরভি মাখিয়া,
উচ্চ তরু শিরদেশ করিত আশ্রয়,
বিমােহিতে পাগণে ভাপিত পরাণ ।
সমীরণসহযােগপ্রত সুন্দর,
শনশন, রবে যেন করিত আহ্বান,
মিছরির পানা সম মধুর শীল,
করিতে পিপাসা শান্তি; অথবা তাহার
সাধুর জীবন সম পবিত্র জীবনে
স্নান করি জুড়াইতে তাপিত শরীর।
আহা সে বাদাম গুৰু! সরণি থােমার
আজীবন ব যেই; বিস্তীর্ণ, বিশাল
এক এক লাখ যার চার পােন

f
পরণিত মেঘ যেন গগণ জল,
রােধিবারে পথ পার ক জুলিয়া,
হনুমান পথাৰী মৈনাকের প্রায়
কি সাধ্য যাইৰে সেই তোমাকে লবিয়া?
ঘড়ি ছড়ি ফুল যার রঙ এভিমা,
ফুটিয়া বসন্ত কালে, তুহিনমণ্ডিত
হিমাচল-শির-শােভা কয়িত বিধান ,
দিগন্তবিক্ষিপ্ত বার মধুর সৌরছে-
প্রমত্ত ভ্রমর কুল, পবন ছাড়ি,
আসিত ঝঙ্কার করি, গধু সুগানে,
পাপাশয় দপ্রায়, সুঠতে বাসনা
পরিমল ধনতার। নিদাষে যখন
পাকি সুফল তার, মধুর, গুদ,
আসিত বাড়ল, নিশাচর পাখী ।
যখন গুপন দেব পশ্চিম চলে
বসিনে ধীরে ধীরে মিগণ
লােহিত জলদ জালে, সিন্দুর সমান,
তামসী, ধুসর কালে কালো কান,
আসিতেন খাথে সাক্ষ
প্রখর নিদাঘ তে লেখা শরী,
আসিত ৰাখণগণ শায়া অথম
সেবিতে, সে সে, দাম।

শৈশব কুসুম।
১৩',
০
০
নাবালক শিও আমি জনকের সনে
যেতাম পরমাননে করে ধরি তার
যে সময় সরসি গােয় তব তীর দেশে ;
ছেলে ভুলাবার ছলে যে তরু সতত
প্ৰদানিত ফল তার প্রসন্নহৃদয়-
জল স্থল বাঁধা ঘাটে ঢপ ঢাপ করি
পড়িত অমিয় ধারা বরষি শ্রবণে।
কভুবা বাদুড়গণ, কপট হৃদয়,
উপহাস করিবারে আমাদের সনে,
চিবায়ে ফেলিত চিব, জলে কভু স্থলে।
আমরা, বালক সূবে, ছুটাছুটী করি
যাইতাম কুড়াইতে বাদাম ভাবিয়া
কিন্তু যবে ফল লাভে হতাম বিফল,
'ক্রোধে গালাগালি কত দিতাম দিগে ।
কত যে করেছি ক্রীড়া যেই তরুতলে,
জনকের ক্রোড়সম সুখের আলম,
স্মরিলে সে সব কথা পরাণ এখন
ধড়ফড় করে কাটা ছাগলের মত।
যে তরুর প্রেমময় মুরতি সুন্দর
কলিত কেমন সর! তােমার হৃদয়ে,
কাচসম নিরমল, মণ, উজ্জল
সাধ্বী রমণীর চিত উজল যেমন।
;

১৪
শৈশব কুসুম।
জীবন তােমার করি যে তরু আশ্রয়
আছিল শীতল সদা বরফ সমান
নিদাঘের খর করে হতনা পিত।
পরন্তু হিমানী কালে, যবে দিবাকর
করিতেন গতি আহা। উত্তর অয়ন,
করিত না যেই তরু স্নানার্থীগণেরে
সুখদ রবির করে বঞ্চিত কথন।
আজি সে তরুর দশা, তােমার সমান,
স্মরিলে বিদীর্ণ হয় অভাগা হৃদয়
বিদরে পাষাণ যথা অনল মিলনে।
ভীম প্রভঞ্জন বলে সে রু এখন ,
হইয়াছে স্কন্ধ সার ;
শমন পীড়িত
শত পুত্রে পুত্রবান, নিঃসন্তান যথা।
সুবিশাল শাখা-পুঞ্জ কালের দশনে
হইয়াছে চূর্ণীকৃত রেণুর সমান
অনলের সেবা করি লভেছে বিরাম ;
দিবা অবসানে যুথা মহা ঋষিগণ
হুতাশনে করি সুখে আছি প্রদান
লভিতেন সুবিশ্রাম, অথবা যেমতি
বীরগণ মহাত্মবে, বা অনলে,
লভয়ে বিরাম আহ চিরদিন তরে।
বার সেই বটত ৰ তীরদেশে।

শৈশব কুসুম। দিত যে অতুল শােভা, নয়নরঞ্জন, সােম ও সমাগত অতিথি সকলে, পালিত যে নিরবধি আশ্রয় প্রদানে আতিথেয় গৃহী সম ; ফলিত যখন সুবসন্ত কালে, কিবা শশাভিত সুন্দর, প্রবালের বৃক্ষ সম, অহাে চমৎকার ! নধর পল্লব যার হেমন্তনিদাঘে। হতনা নীরস কভু ; তৰ বারি পানে সরস হৃদয়ে সদা যাপিত সময় ; বরফ আলয়ে কোথা নিদাঘ যাতনা ? মরে কি অমৃত পানে মরতনু কভু ? শর সন রবিকরেসত্তাপ নাশিতে অভেদ্য অয়সময় বৰ্ম্ম রূপধরি, ছায়া দানে পাতা যার করিত শীতল দরাগত নিরাশ্রয় কাতর পথিকে। গভীর নিশিতে যবে নীরব অবনী সরসি লাে ! তব বক্ষে জলচরগণ আনন্দে করিত ক্রীড়া, গুপ, গাপ করে। অামিও তাদের মত কত দিন হায় , –জননীর কোলে শিশু খেলায় যেমন- সহচরগণ সনে, স্নানের সময়, সুখের শৈশব কাল করেছি যাপন।

শৈশব কুম।
.
;
অঙ্গলি প্রয়ােগ করি শ্রবণ যুগলে
ডুব দিয়া থাকিতাম সলিল ভিতর ;
কি আনন্দ হত, যবে প্রাবৃট সময়,
কম, কম, রবে সাহা, জলধরগণ
মুষলের ধারে জল করিত বর্ষণ ।
বাসনা হইত মনে ডুবিয়া থাকিব
যতক্ষণ এই ভাবে হবে বৃষ্টিপাত।
কিন্তু হায়! কতক্ষণ না হ’তে অতীভ
হাপাইয়া উঠিতাম ভাসিয়া উপরে
মনের বাসনা হত মনেতেই লয়।
কোথায় সে শােভ আজি সরসি তােমার।
যখন ব্রাহ্মণগণ স্বধর্ম নিরত
কালাচাঁদ, গােপীনাথ ঋষির সমান,
সরল, পবিত্র চিত, সাধু, সদাশয়,
যােগে যাগে রমন, সন্ধ্যাপরায়ণ
তােমার পবিত্র জলে বসে সারি সারি,
নাহিক সমাপিয়া, করিত তপণ
পিতৃগণ পূতআত্মা তুষিতে যতনে ;
যখন ধবলকেশা সই ঠাকুরাণী,
( সই সই বলি মােরা ডাকিতাম তাকে )
জগতের হিত তরে সদা ফুলমন,
করিতেন গাধরে, তােমার আমিরে,

শৈশব কুসুম।
১৭
পূজা সদা গালবাদ্য, কুসুম চন্দনে,
ধূপ
দীপে, গন্ধমােদে মায়ে জগৎ ;
যখন, যামিনী যােগে, রজনীরঞ্জন
আলােকিয়া দশ দিক, তােমার হৃদয়ে
শােভিতেন শত খণ্ডে তরঙ্গ মাঝারে
যেন রতনের হার উরসে তোমার
শােভিত নয়ন মন করি পুলকিত।
সাধুগণ সমানীত শত শতদল
ভাসিত, সরসি! তব সুনীল সলিলে
ভাসে যথা তারাচয় শারদ গগনে।
কি শােভা ধরিত যবে দশহরা দিনে
ছায়াপথ সম, আহা! সরসি তােমার,
পরশিত ফুল মালা, পূরব-পশ্চিম ;
অথবা যখন, ভূতচত্তৰ্দশী দিনে,
ভাসাইত দীপমালা কুলবালাগণ,
কচুর পাতায় করি তােমার হৃদয়ে।
সে সুখের দিন হায়! এখন তােমার,
অনন্ত সময় গর্ভে হয়েছে মগন,
মানবের মন সম দুরাশা সাগরে।
হায় হায় ওরে বিধি পাষাণ হৃদয়।
পরের সৌভাগ্য কিরে দেখিতে সক্ষম?
পূর্ণ শশধরে বল রাহুর আহার

শৈশব কুসুম। কি করে করিলে তুমি ! সুখের সদন এই সরােবরে বল কি করে মজালে। মজিয়াছে সরােবর মজেছে সকল তীরবাসী ছিল যারা। রম্য উপবন- অশ্বথ, বাদাম, বট তরু অগণন, করীযূথ-বিদলিত-বনশ্রী সমান, ছিন্ন ভিন্ন হইয়াছে পবন তাড়নে ; আমরাও মজিয়াছি তােমার বিহনে স্তনদুগ্ধ দানে মাতা তনয়ে যেমন- পুষেছিলে এতদিন জীবন প্রদানে । কালের কুটিল চক্রে, শৈবাল মিলনে, এখন তােমার বারি, বিষ বারি সম, জীবনান্তকর গুণ করেছে ধারণ। মজেছে মানবচয়, পালিত তােমার, অকাল মরণে, আহা! করিলে স্মরণ দু:খে বুক ফেটে যায় নাযায় বর্ণন ; হারায়েছি কত রত্ন, কোহিনুর সম সরসি ! তােমার তীরে কি বলিব হায় ! যে সকল সঙ্গী সনে সরসি সুন্দরি ! নিৰ্ম্মল সলিলে তব দিতাম সাতার ; (রাজহংসগণ যথা মানস সরসে করে কেলি মনসুখে) প্রফুল্ল হৃদয়ে

শৈশব কুসুম।
১৯
মধুর স্বরে
;
করিতাম জলকেলি যাহাদের সনে ;
যে সব রমণীগণ বসনে ঝাপিয়া,
মেঘাবৃত পূর্ণিমার শশধরসম,
যৌবন ফুটিত মুখ, সহজ সুন্দর,
“কলসী করিয়া কক্ষে বক্র কলেবর,”
আসিত সঙ্গিনী সনে প্রফুল্ল অন্তরে
কহিতে মনের কথা সমীপে তােমার
বিরলে
সহাস আননে,
করিত কতই খেলা ; শােভিত কেমন
ভ্রমর গুঞ্জিত ফুল সরােজিনী সম
বিমল তােমার জলে ! এবে সে সকল
পাওকি দেখিতে আর ? সে সৌন্দৰ্য্যচয়
বিলীন কালের গর্ভে ; কলের পীড়নে
ঘরে ঘরে উঠিয়াছে শােকের ক্রন্দন।
দুরন্ত নিদাঘ কালে তপন কিরণে,
নিঃশেষিত প্রায় হয় সলিল যখন,
শৈবাল পচিয়া উঠে, শ্মশান সমান
কুবাস যাহার ছুটি মলয় পবনে
নগরের দ্বারে দ্বারে উপনীত হয়
তােমার দুঃখের কথা করিতে জ্ঞাপন,
বার্তাবহ দুত সম শন্ শন্ স্বনে।
কহিত অস্ফুটে যেন ঃ-“নাগরিকগণ !

२०
শৈশব কুসুম।
••
ভ্রমে অন্ধ হয়ে বল কতদিন আর
সহিবে, সহাবে তারে এ যমযাতনা ?
হরি রােগ-শােক-তাপ-সংসারতনা,
এত দিন তােমাদের করিল পালন
যে সর সলিলদানে, সুধার সমান ;
কর কর কর শীল্প তাহার মােচন ।
কলহ করিতে পার কোমর বাঁধিয়া,
ধনমদে মত্ত হয়ে উম্মত্তের প্রায়,
আত্মীয় স্বজন সনে, পালনীয় যারা
রাড়ে, ভাড়ে, গাঁজাগুলিচণ্ডসুরাপানে,
রাশি রাশি অর্থ ব্যয় করিয়া সতত
যাইতেছে যমালয়ে, তাও প্রাণে সয়।
রাশি রাশি অর্থব্যয় পারহ করিতে
আদালতে অকাতরে ; কিন্তু কপর্দক
সাধারণ হিত তরে করিতে প্রদান
কেন বল কর নাহি হয় অগ্রসর ?”
হায় হায় কোথা এবে সরল, সুন্দর,
সরােবর, তব সেই পূৰ্ব্ব সুতগণ ?
স্বহস্তে কোদালী ধরি যাহারা তােমার
জীবনের পবিত্রতা অনেক যতনে
রক্ষা করেছিল বাঁধি বাঁধ উচ্চতর ।
চল্লিশে প্রলয় ঝড়ে ধরণী যখন

শৈশব কুসুম।
২১
;
গিয়াছিল রসাতলে ঐভ্রষ্ট হইয়া
ক্ষেপিয়া উঠিয়াছিল লবণ সলিল :
খানা, ডােবা, মাঠ, ঘাঠ, তড়াগ, সলিল
হয়েছিল লবণাক্ত, অসাধু মিলনে
সাধুর হৃদয় যথা হয় কলুষিত।
কোথায় সরসি তব সে,সুখ এখন।
কোথা তব মহাভাগ সেই সুতগণ,
ঋষি সম সত্যব্রত, সাধু সদাশয় ;
অদ্ভুত ধরমালােকে যাদের হৃদয়
উদ্ভাসিত ছিল সদা; প্রফুল্ল অন্তর,
দরিদ্রের পিতা মাতা, দয়ার সাগর,
ক্ষমাশীল, ধৈৰ্যশীল ধরণী সমান,
নাছিল কুণ্ঠিতপ্রাণ দেশহিতে কভু।
কোথা তব তীরগত রম্য উপবন।
হেরিয়া যাহার শােভা জুড়াত জীবন ;
কামিনী কুসুম তরু,
রজত সমান বিভা অতি মনােহর,
ছেলে বেলা সাজি ভরে, দেব আরাধনে,
আনন্দে যেতাম যেথা কুসুম চয়নে ;
যেখানে ভ্রমর কুল গুণ গুণ স্বরে
ঢালিত অমৃত ধারা করণ কুহরে ;
এক দিন যেই খানে, ভ্রমর দংশনে,
করবী সুন্দর

२१
শৈশব কুসুম।
{
কত যে কেঁদেছি তাহা আছে কি মরণে?
কোথা সেই দিন! যবে জেলিয়া সকল
ধরিত, সরসি তব আলােড়িয়া জল,
জীবন পরাণ কত মীন অগণন,
করাবারে কাজ কর্মে ৰাহ্মণ ভােজন।
কাদিতে সরসি ভােমা দেখেছি বিরলে ;
কলুষিত হতে জল সে নােদন ছলে।
কত লােক জড় হতে সর তব তীরে !
দাড়াইত চারিদিকে সবে তােমা ঘিরে।
ধাধিত তুমুল রণ জলের ভিতর :
কাদে পড়ি মীনচয়, কাতর অন্তরে,
হুড়মুড় করে বেগে লাফায়ে পড়িত ;
খণ্ড খণ্ড করে জাল ছিড়িয়া ফেলিত।
এত বড় মাছ আর সুস্বাদ অমন !
দেখেছি খেয়েছি বহু নহেক তেমন।
কোথা তব সেই দিন। যবে দ্বিজগণ
সন্ধ্যাকালে মৃতুবায়, করিত সেবন ;
পুরাতন বঁধা ঘাটে বসিয়া সকলে,
সারিত সায়াহকৃত মহা কুতুহলে ;
মধ্যাহ তপন সম, তেজস্বী শরীর
উজলিত তব ঘাট, সর তব তীর?
এবে সে সকল হয়, স্বপন সমান।

শৈশব কুসুম।
হয়েছে গৌরবসূৰ্য্য এবে অন্তর্ধান ।
ঘেরিয়াছে চারিদিকে নিবিড় কানন :
চিতাগাছ লতাচয় জন্মেছে এখন।
সেই বাধা ঘাটে এবে, বুক ফেটে যায়,
মৰ্ত্তিমান লম্পট ফেরে পায় পায় ।
নাহি সেই চারিতীর সরল তেমন
নরহৃদি কুটীলতা করেছে ধারণ।
বাদামের তলগত গিরিশ মন্দির,
পতিত বাদাম ডালে, হইয়াছে স্থির।
যার ছায়াশ্রমে সেই কাটাইত কাল
ঘটাইলতারই ডাল তাহারে জঞ্জাল ;
উপস্থিত যবে হয় বিপদ সময়
হিতকারী জনও হয় ভীতির আলয়।
নাহি সে গলার ঘর যেখানে সকলে
করিতেন বাস আসি গঙ্গাযাত্রা হলে।
কালের জঠরে সব হয়েছে চূণিত,
এবে তব তীরে গেলে চিত হয় ভীত।
পড়েছ এবারে দেবি। বিষম বিপদে।
তােমার মালিক যারা যক্ষের সম্পদে
হইয়াছে মালিকান; নাহিক উপায়
কড়াকড়ি দিতে গেলে প্রাণ বাহিরায়
তাহাতে অনেক দামি সে হেতু তােমার
••

শৈশব কুসুম।
হবে না সরসি কভু সহজে উদ্ধার।
কোথা হে অনাথ বন্ধু, পতিত পাবন !
হবে নাকি বল নাথ সরসী মােচন ?
যে করিল এতদিন, স্বকীয় জীবনে,
পালন, সরল চিতে, তব সুতগণে ;
দারুণ পিপাসানলে, জীবজন্তুগণে
বাঁচালে যে এত দিন, স্বজীবন পণে ;
এই কি তাহার ফল হ’ল দয়াময় ?
সুকার্যে করিল যেই জীবন সংশয়
দারুণ কুস্তিকাজালে ঢাকিয়া বদন,
কেন ভার পবিত্র করিছ হরণ?
কর কর কর নাথ তারে পরিত্রাণ।
মাহাত্ম্য সংগীত তব, পূরিয়া সুতান,
গাইল যে এতদিন কোকিল বনে,
কেন জারে নাহি চাও করুণা নয়নে ?
অথবা রহস তব বুঝিব কেমনে
মঙ্গল নিদান কর আছে যাহা মনে।
৫

কোকিল।
g
,
ধীরে ধীরে মলিন কান
প্রেমলী যামিনী পক্ষে ব্যক্তি বিদায়
শশধর, পাব ধৰিৱহোত্তর ;
সিহরিল কক্ষ, ঋৱিল নিজ
শত শত অবিন্দু ভূখী দেশে,
আয়ত গােব্ৰজে বনে বিটপী পায়।
নলিনী কছুর পায়ে নিশির সূলিলে
ফলিতেছে এভিৰি হে অমর
।
শনিবার দুলিয়ে হয়ে
ফাপিয়ে মনে
শত বিভিন্ন হয়।
বিয়ে।

শৈশব কুম।
প্রাজাতিক সমীরণ উচ্ছাসের ছলে
খসিছে নিয়ত যেন কাদায়।
উদিল তপন দেব পূরব গগনে :
সিঁদুরে লােহিত ছটা ছাইল অধর ;
মেঘময় গিরিশিরে প্রতিভা তাহার
শােভিল সুন্দর মনমােহন কারণ ;
উষার কিরীট শোভা য়তনষ্টল
অর্পিল স্বকীয়তে দিনণি করে ।
উষামুখী সরােজিনী:বিকশিল পরে ;
হাসি রাশি য়েন আহা উহলি পড়িছে
হেরিয়া গগনগ্রাড়েী প্রাণনাথে
উড়িল অমরকুল.অমর পথে ;
সারানিশি জাগরণে: কার পণ
নলিনী নয়ন ভরা আমার ভরে
ঠিকরে পঞ্জিকা যেন বন বন স্বরে ;
অথবা পরাণ তার শরীরয়িং
দেহ ভেদি বর্ণহিম করিল গমন।
করিবারেসস্তা শনাথ ভার।
হরিছে মন্থরগতি চরম
পরিমল ধন ভরমিরাত মনে।
প্রমত্ত মরাল নিশা বসানে
পা সারি লললতা কলি কার ?

শৈশব কুম ২ পবনে নিভরিখের কোলাহলে কপায়ে নলিনীশ হল সহিত, ঝপ ঝপ কপ ফরেসলীললিলে পড়িল হরষ ভক্ত, পুঠিয় রে হৃদয়ের ধন ম কোমল। ডাকাত পড়িল কেন নদেয় ধরে। প্রভাতে ঘড়িয়াল হক হক শিবা শিবা-অরিচয় কে কানন শ্রমে বাজাইল ঘাের ঘষে স্বভাবের ঘড়ি । খল মন- মগণ পখিকে গরিবে জ্বালাইয়া,নিশি দংশন কালার ক্ষণেক নিরস্ত ছিল ; আবার এখন কসে জমাইয়া সুর বন, বন, স্বরে প্রভাতিক সুখ নিদ্রা ভাজিল তাদেয় । দধিমুখ প্রিয়ামে-গায়ক মুগ- ডুমুরের ডালে সিদিয়া নয়ন ডাকিছে পরমেরে বন্যভান তের ; সতত সংযত না ঋষি দীর সরল, পবিতা পাখীরূপ ধরি বেদ পাঠে ব্যোম কেন কারিছে । অদূরে বিট রুট হীরাগুয়ে (কলম্বনা ভঙ্গিমঞ্জরিমনি) ২১ শৈশব কুম। বসন্তের প্রিয় সখা কোকিল সুন্দর গাইল মধুর কণ্ঠে সুমধুর গান। ভূমণ্ডল সুখে গল্প প্রকৃতি অস্থির আকাশ অবনী জল নিল সকল। কেবল অভাগা চিত-চির-কলুষতা নাহি ঘুচে কোন মতে–পরাণ নিয়ত অলিতেছে দিবারাতি—বাড়ৰ অনল জলে যথা নীল অম্ব, সাগর হৃদয়ে। যবনের অত্যাচার করিয়া স্মরণ তিল আধ হৃদয়েতে বন্তি নাহি পাই- শয়নে, স্বপনে, পানে, ভােজন সমম, যখন তখন দেখি মানস নয়নে, উএতর ভীম মূর্তি করিয়া ধারণ, আসিতে আসিছে যেন ব্যাদিয়া বদন। ভেবে ভেবে অনুক্ষণ পড়িল কল নয়নের কোণে, অঙ্গ বিবর্ণ হইল। কিবা জ্বালা, কেন জ্বলে, কিসের ভাবনা, কেন মনে স্বস্তি নাই, কহিব কেমনে? কৰ বা কাহারে কৈব করিবে শ্রবণ এসব অপূর্ব দৃশ্য মুখে মার আমি কিনা টিমগ্ন । 'অকৃত নয় ! এসব অপূর্ব সুচনা খাবার

শৈশব কুম.।
দুষিতে তােমারে, শান্তি করিতে বিস্তার
মঙ্গল সাম্রায্যে তাঁর, কয়েক হারে
মানসে করিতে চিন্তা ভার বােধ হয়?
বৃথা চিন্তা করি কেন দেহ কর ক্ষয়?
আবার কোকিল ওই ডাকিয়া উঠিল।
সুমধুর পর রাশি ছড়ায়ে গগনে
কিছুক্ষণ পরে পুনঃ নীরব হইল।
কেন রে কোকিল তুই আবার ভাকিলি ?
এইত নীরবে ছিলি নিবিড় পাতায়
আবরিয়া নিজ দেহ অসিত বরণ;
খুলিয়া হৃদয় দ্বার সরলহৃদয়।
কি তাের মনের ভাব বল ত্বরা করি?
পাখী তুই অামী বােধ হয় মনে
হৃদয়ের ব্যথা মম বুঝিতে পারিয়া,
তাই বুঝি সুমধুর স্বর বরষিলে,
শীতলিতে অভাগার, আপিত পরাণ।
গাও পিক, তবে গাও পুনর্বার
মিলাইয়া সুর ধার কারণে।
জুড়াক জীৱন জুড়াক, আমার
মহুক অন্তর প্রেমের পরশে,

• কাল বর্ণ কি করে চিক চিকু?
এস এস পিক বাহিরেতে এস,
লজা কি তােমায় বসহে শাখায়,
কালতে তােমার কেমন সুবেশ।
কালর সমান্য কে করে ধরায় ?
কাল কেশ দেশ কামিনীর বেশ ;
ফুল সাজে সাজি তায় স্বরথ
ভাগ্যবলে পায় কাহার পরেশ
জগতের মান্য অষিত নয়ন।
কাল মেঘ বিন সাজেনা চপলা,
কাণ উপলতে বিগ্রহ নিৰ্মাণ,
কালাপেড়ে ধুতি চটকে উজলা ;
কালই দেখ না সবার প্রধান।
বুঝেছি কোকি বুঝেছি তোমায়
যে দুঃখে সারি নে নেই;
তােমার বাসায়
স্বাধীন দশায় না হে হে।

তাদের কাছে নেই।
তাই লুকাইয়া পলৰ মান্নার
আছ নিরিবিলি রিকো,
স্বভাব ছাড়িতে কে কোথা পায়ে
বসহে কোকিল বাহিরে আলিয়া
বাঙ্গালীরা নয় তােমার মৃঙ্কন ;
লজ্জা ক্রোধ যদি হারা সহিয়া
রহিল, তােমার কি লজ এমন।
এক বঙ্গে পিক করহে বসতি
তাই কি ভােমার লজ্জার কারণ }
নিবিড় পরবে সাবধানে অতি
তাই বার মাস ভাব অকণ?
স্বাধীন খেচর বি যে তুমি
যেই রাজা যােক তোমার কি কয়?
সমান দখলে থাকিৰে ভূমি
তুমি কেন মর করে রায় ।
তিল না যদি তার মন
দিননকের তরে শত হােন,
তাহলে কি অফ স্বনে
কেড়ে নিত ৰ আহি

* শৈশব কুম।
শুনেছি কোকিল অভাগী ভারত
সর্বগুণে ছিল সবার প্রধান
বিলাত সাদি করি দেশ আছে যত
* পদতলে এর পাইতনা স্থান।
এখন সে বল এবে সে ভারত
কি দশা পেয়েছে দেখনারে পিক।
তুমি আছহ ধরণী যাবৎ
ধিক বাঙ্গালীরে ধিক, শত ধিক।
অতি ক্ষুদ্র মা, অতি ক্ষুদ্র মাছি,
ভীষণ বারণে ব্যাকুলিত করে ;
কুড়ী কোটী নর ভারতে বাঁচি
অর্পিল জীবন বিপক্ষের করে!!!
কি হবে জীবনে কিকাজ সংসারে ?
সাঙ্গ ভাই সবে হও আগুসার,
উদ্ধার স্বতেজে ভারত মাতারে,
দিকে বিলম্বে কাজ নাই আর।
বাধ সবে কসে কঙ্গর বন্ধন,
আজই ঊরিবােহ আবার,
দেখিব সেরা বিশ্ব কেমন,
উলিব মুখ সাইবার।

শৈশব কুসুম ।
'৩৩
সামান্য বন্দুক সামান্য কামান,
তুচ্ছ করি ভাব আপনার প্রাণ,
বিপক্ষের শির খান খান,
যারে মােদের চির অপমান।
দ্বিতীয় স্ত।
পিপীড়া যখন সারি দিয়া যায়,
দেখি মনে হয় ভয়ের সঞ্চার
এক পাশে রাখি সকলে পলায়,
সারিচালা দিতে সাহস না হয় ।
যদি কেহ কভু না দেখি নয়নে,
অন্যমনে করে চরণে দান,
দংশন দালায় মীণ জীবীগণে
অস্থিরে ভাহারে, করে জালাতন :
ক্ষেপিয়া উঠিয়া যারে কাছে পায়,
আশে পাশে কি সমীপে তাদের
প্রাণপণ করি তাহলে দয়,
বিষের আলায় পান, বাহুটের।
সাবাসি গাদের সাহল বিক্রম,
সিংহ ব্যাৱ নয়ে যায় অলাভন।
৫. }

.
কুম।
নাহি অস্ত্র পর্গ নিগুম,
তথাপি তাদের প্রজ্ঞাপ এমন!
নাহিক বন্দুক, কামান ভীষণ,
তরবারি, তীর অশনি সমান,
ঈশ দত্ত শুধু সুতীশন,
একতা বিষম অস্ত্র শরন;
এই বলে শুধু যে কাৰ্য ভাহার।
সাধয়ে নিয়ত, মানব কখন
পারে কি পাখিতে? দুরে থাক পা
ভাবিলে বােধ হয় সীক স্বপন।
নিরস্ত্র করিছে, নিৰীৰ্য করিছে,
তবুও কাহার নাহি হয় ক্লান।
ধরে ধরে জাতি সবার খাইছে
তথাপি কাহারও কাদে না পরাণ ।
কটাবা ধবন আছে বাঙ্গালায়,
ভয়ে জড় সড় কিসের কারণ
বুঝিস, যদি রে পাসসহায়,
যুদ্ধ দুয়ে যাক, করিয়াল,
পলাবে কোনাে পাবে ফিয়া
দুর্থ গিরিশিল্পোলানোয়

শৈশবকুম।
রাজ সিংহাসন সুখ মেলিয়া,
পলাবে নবাব প্রাণপয়োভরে।
দাবানল যবে উঠয়েলিয়া,
ভীমরবে করে দহন কানন,
কোন মূঢ় বল সাহসে পশিয়া
ফুৎকারে নিবাতে করয়ে যান
যদিও প্রবেশ সমর মলে
পতঙ্গের প্রায় না বুঝি বিশেষ,
• ডুবাইব সরে দীর জলে,
যবনের নাম করিব নিঃশেষ;
কিম্বা যদি হয় বিিধর কৌশলে
পরাজয়, তাহে ভয়কি বিশেষ?
হয় নখরক্ষণীল শলে
ত্যজিব জীবন উদ্ধারিতে দেশ।
তা বলে কি এই ক্ষণ বাঙলা
সহিতে হইবে ? জীবিত শরীরে
নরক যাতনা সহ অহনা,
হহারে ধরা ফেলনারেছিয়ে।
কুরুক্ষেত্রে ভাল করে
যথা বীরগণ তামিম

করেছে শয়ন নির্ভীক অরে--
মাতৃ ক্রোড়ে সবে করিব শয়ৰ।...
গাইবে সুষশ মানৰ নিৰুরে,
থাকিবে অক্ষয় কীর্তি সমুচয়,
দুরন্তু ভীষণ কালের ঠরে
যাবৎ জগৎ হবেনাবিলয়।
;
বিক্ৰমে শূকর সিংহকে পায়
আছয়ে বিখ্যাত প্রবাদ বিশেষে
ব্যাৰ জড় সড়, ভয়েতে পলায়,
নমস্কার করি তাহারে উদ্দেশে।
;
বিক্রম আশ্রয় কর ভাতৃগণ !
বিক্রমেতে সদা সর্বত্র বিজয়
বিক্রম বিহীনে পমধ্যে, গণ ;
বিক্রমে করহ শক্ত পরাজয়।
বাধ সবে কবে কুটীর বন্ধন,
আজই উদ্ধারির ভারত আর।
দেখিব সেরাজ বিপক্ষকেমন।
উলিব মুখ আজই বাঙ্গালার।
কিভয় হৃদয়ে কি হয় আর
রাখিব সুষশ ভারত মান

হয় যােক বরণকারও
অস্থিলে মরণ নাহি য় য়'
কি হবে জীবনে কি কাজ সংসারে ?
সাজ ভাই সবে হও আগুসার ;
উদ্ধারিব আজি ভারত মাতারে,
লকে বিলম্বে কাজ নাই আর ।
সামান্য ৰক সামান্য কামান
তুচ্ছ করি ভাব আপনার প্রাণ,
বিপক্ষের শির কুর খান খান
যা রে মােদের চির অপমান।
লও রে বিদায় নিমের মত
উরি আজ ভারত আর ;
ভ্য সুখস্যে আছে যত,
শােধ শোধ মন খার।
উঠ বঙ্গবাসী দেশ কি রে শার
এই বেলা দেখ আপনার।
আর কতদিন এম,
করিবি রে সহ বিপন
সে দেখি রে র ,

।
কি দশা করেছে গত দুরাচার
বঙ্গের সাধের স্বাধীনতান,
সবার সাক্ষাতে করিছে হরণ ।
বেঁচে থেকে তাের এতে কুমার
নারিলি কৱিতে তাহার উদ্ধার
কি কাজ তােদের এছার জীবনে?
সাজ, দেখি সবে এক সাথে রণে ;
কে পারে তােদর করিবারে হয় ?
কার সাধ্য করে এত ভ্রাতৃয় ?
এত দিন তােরা ভেবেছিলি মনে,
মার কোলে আছি সুখের শয়নে ;
মাতা যে তােদের, কমে দিন, দিন,
কৃষ্ণশশী সম হতেছেন ক্ষীণ।
জেনেও এসব না দেখিস, চকে,
শুধু ঘুমাইয়া থাকিবি রে বক্ষে
কাল সপে মারে করিছে দংশন,
দেখে দয়া নাই,. কঠিন জীবন।
হতেছেন মাতা ক্রমে বিবরণ,
দেখ, দেখি চেয়ে মেলিয়া নমুন,
স্বভাব সুন্দরী মােদের ননী,
এ ভারত ছিল শিরােমণি।
এখন কি আর 'হেরেও

শৈশব কুম।
ছিল বাহা জগজনমনোযােগ
বু দুরাচার যবন দুর্বার,
করিতেছে রুমে সব ছার, খার।
মঠ, দেবালয়, মন্দির সকল,
ভাঙ্গিয়া চুরিয়া দিছে রসাতল ;
আৰ্য ঋষিগণ কীর্তি স্তম্ভবত,
-বেদ, রামায়ণ, পুরাণ, ভারত,
স্থানে স্থানে করি পর্বত আকার,
পােড়াইয়া ছাই কছে অনিবার,
দেউলাদি সৰ করি এক এক
করিছে বিপু স্বচক্ষেতে দেখ;
বিষেশ মন্দির জগৎপূজন
মসজিদের মূর্তি করেছে ধারণ ;
ধর্ম, ধর্মশাস্ত্র, কীৰ্ত্তি সুবিদিও,
ক্রমে ক্রমে সব করিছে বিকৃত ;
এইরূপে গত হলে কিছুদিন
রবেন ভারতে হিন্দুকীর্তি চিন।
রক্ত মাংস আছে দেয় শরীরে,
এত সহ্য হয় তাহলে কিরে?
উঠ বঙ্গবাসী, দেখ কি রে পার,
এই বেলা সবে হলরি
আর কত দিনাজিম

করিবি রে সহ্যপিপলস
রে বঙ্গ সন্তান দেখ, এক
তােদেরি শণিকেই গেল
তােদেরি বুকেতে, বলি আপা,
তােদেরি অনিষ্টকর খালি
তােদেরি বুদ্ধিতে পেয়ি আয়,
ততদিগে যা হবে এই মর্শে।
চরণে কন্টক ৰিলি ফারু
কাটা দিয়া যথা ফয়ে টক,
তােদেরি সাহায্যে জােকেরিনি,
করিছে দেখিয়া হোল, ঈক্ষণ
তিল আধ নাই কাউকে অক্ষত
গড়েছে হৃদয় বড় বিধাতা
তােদেরি মতন আম কিন্তু
জন্মিবে না আর ।
এমন নিজে,
নিৰ একা,
হয় না হবে না যে,
অরণ্যের এক অনুষ
দেখ, দেখি চেয়ে পান কর
গােলামী করিতে জোই যে,
নাহি জাওে কিন্তু ও
তােদেরি, তাক জোগরিক

আর তাের কি ন লক্ষ লক্ষ
সুখের সামগ্রী কর্কেহিষ, ম,
খেয়ে সুখ নাই, পিপাসা ৰালাই,
শয্যাসনে কভু পরিচয় ই
পাছে তাহাদের দুৰিৰে মৰ
কিছু ত্রুটি হয়, সদা উচাটন। .
কেন এত চিন্তা মশাই মশাই?
: চুরি করে তার খেয়েছ কি ভাই?
আর কত দিন করিয়া এমন
করিবি রে সহ্য না যায় সহন।
উঠ বঙ্গবাসী দেখ কি রে আর
এই বেলা সবে হ আসর।
চতুর্থ।
এখনও কই কারো হয়
হলােনা ব্যথিত করে গল?
নাহি কি মানব জাতির
মরেছে কি সব সুর করে।
মা মরে নাই, কলাই,
রিবে বা কেন? কেন

বলিবে, সহিব কোমশাই ?
“ষনের চারুচরণহার”।
ধিরে তােদর ধিক শতবার।
কি সুখের তরে রেখেছিস প্রাণ?
রমণীঅঞ্চল করি পরিহার
ভারে বারেক ভারতেব ত্রাণ।
নর-কুল-গ্লানি আৰ্যকুলাঙ্গার
কাপুরুষ জাতি নাহিক এমন।
পড়ে মারি খাবে ভেড়ার আকার
তবু উঠিবে না লতে সে রতন ;
যে রতন পূর্বে আৰ্য শিরােদেশে
শাভিত সহস্র রবির কিরণে ;
যে রত্ন লভিতে রক্ত হ্রদে ভেসে
প্রাণ দিত তারা অকুণ্ঠিত মনে ;
বীর প্রস্থ এই বিখ্যাত’ভারত
যে রতনাভায় দীপ্ত ধরাতলে ।
করীকুন্ডভেদী কেশরীর্ষেমত
লভে গজমুক্ত হয় কুহলে
আৰ্য্যসুতগশগুলি
ভীষণ সরে খেলাভি

পরিত গলায় ইলি
তেজে সুরাসুর নয়ন ধাবিয়া।
যে রত্ন পরণে পরশ মতন,
মানবের মনে সুবর্ণ ধ্বলিত
তন্ত্র মন্ত্র, বেদ, বড় দরশন,
পুরাণ, ভারত, জগতে বিদিত,
কাব্য সুধারস, নাটিকা নাটক,
ব্যাকরণ, ন্যায়, স্মৃতি, রামায়ণ ।
অদ্যাপি জগৎ করে ঝক্ মক,
প্ৰভায় যাহার, নাহিক দুলন ।
গাথা মনােহর মােহিয়া শ্রবণ,
যে রতন স্পর্শে মৃতসঞ্জীবনী,
ফুলায়ে তুলিত মৃতের জীবন
চরণে দলিত যেমন রে কণি।
সেই রক্তে জন্ম সে ক্ষেতে সে,
পবিত্র সলিলা সেইত ভারতে,
কিন্তু নহে পূর্ণ সে,ভেজ সাহসে,
সে একতা যাহা বিখ্যাত গতে।
তােদের অলীৰৰ , , ,
সেরূপ প্রশস্ত গাছে কি না,

চাপিয়া চাপিয়া খান
করিছে সঙ্কোচ হায় বিমান
নাহি যদি হয় কে সকল
দুঃখিনী ভারতে করিতে টাকার,
নাহি যদি করে এখামােচন
কি ফল রে পিক কৰি হ্ৰাৱ ?
একাকী করিয়া রণক্লাবে
সুধীর ইংরাজে করি মুহায় ও
দলিয়া জরাঙ্গি ভীষণ আহবে
উজলিব বঙ্গ স্বাধীন প্রভায় ।
সমদুঃখভােগী না হলে কখন
নাহি বুঝে কেহ ৰােনা হঃখীয় ;
নহে বহু দিন দেবেন
দাসত্ব যতনে হয়েছে সরি।
রােমান সান ডে পদান
নাছিল তাহারা নানান
কত উপরে উপম ফজ
সহেহে তাহাৱা ক শক দিন।
বীরপুত্র ীল গঙ্গে
বন-শাসনকালে

শৈশব কুন।
ভপ্রায়, পুয়ে
তাদেরি সাহায্য করে।
যবনেরা কি কঠিন হৃদয়
জানে রে তাহারা, অন্ধ ধূপাগারে
পেয়েছে তাহারা তার পরিচয় ;
অধিক জানাতে হবে না:তােমারে।
প্রতিশােধ ভরে হয় তাদের
বিধূমিত সদা কোপহুতাশনে,
জ্বলিবে বঙ্গেতে যুদ্ধানল ফের
মিলে যদি দেশী সাহাব্য পবনে।
যাওরে কোকিল ও দুত হয়ে
যাও কলিকাতা ইংরাণিবিরে,
বলগে তাদের সুমধুর করে,
বলগে বিনয়ে ক্লাইৰ ধীরে।
বিনয় বচনে সাধুর হৃদয়
গরিবে কোকিল গলিৰে নিশ্চিত,
তাহাতে আবার যশ, ধন, দয়-
সােণর সােহাগা হবে রে মির্পিত।
গাে মা ভাল কি কি গ
আমাদের
লক্ষন

শৈশবকুম।
তােমার তনয় বলিয়া আবার
তােমার কোলেতেইৰ পৰে।
এইরূপে মুবা বিষাদিত মনে
তরু তলে বসি কোকিলের সনে
কহিল কতেক কহ নাহি যায়
নীরবিলা আহা! করি হায় হায়
কোকিল।
উত্তরা।
প্রথম স্তর।
মধ্যম বসন্তকাল নিমেষ ভিতবে
ছেদ না করিতে হায় অন্ধকার পাশ
অকস্মাৎ মহা মেঘে ডাকিল গগন ;
দ্বিগুণ আঁধারে বিশ্ব ঢাকিল আবার।
বিষাদে পুৰৰ আশাঝাপিল বদন
যেন রে বারিধারে ; দিগনাগণ
জড়াইল স্থিরভাৰে আল আর
প্রকৃতির সান্মিবেশবর্তনে।

বুঝি এল ভাবি সভ্যন্তরে।
অথবা জীবের আখ চখের উপর
হেরিতে অধীর দেব, সদয় হৃদয়,
গিয়াছেন বিশ্ব ছাড়ি মনের দুঃখেতে।
ঘন ঘাের প্রভজন মড় মড় মড়ে
পশিল কানন মাকে সিংহনাদ করে ।
যেন দস্যুদলপতি অতর্কিত ভাবে,
ধনদের গৃহে আসি পশিল সদলে ।
চমকিল বন বাসিপশু পাখীগণ।
দুঃখীর চালের গুড় গাছের পাব
উড়িল সবার আগে, নড়িল পশ্চাৎ
অষ্টচালা ধনদের দোলার মতন।
চড়ই বাবুই আদি নিরাশ ভাবিয়া
উড়িলা আবাস ছাড়ি, আছাড় খাইয়া
পড়িল গাছের গায়, প্রাসাদ দেয়ালে ।
যেন এই ছলে সতী প্রকৃতি সুন্দরী
প্রকাশিছে মনােভাব লােক শিক্ষাতরে
সামান্য দুর্বল ক্ষুদ্র জীবের পরশ
বিপদে সবার আগে হয় শর
কাপাত কপােতী কি বলব

শৈশবকুম ।
;
লং টারিকারে ভিন্ন হইয়া .
ঘােষেদের গোত্র নীর হই, এ
বুঝি তারা নগরে করি তে
• ভাবিতে উপায়, নিজ প্রায় বাচাইতে
অলীক আমােদ ত্যজি; বিপদের কালে
যেই কাটে কাল দাকােতে মভিন্ন।
অথবা মানৱ জীপ্তি কুরি নিরীক্ষণ
অবাক্ হইল তার ; “দুটাছুটি করি ।
মিছাকাজে অনর্থক কাটিছে সময় ।
ধীর মনে নাহি ভরে রে উপায়”।
প্রভাতিক শুখ ঘন্টা জব থােঙ্গ
ওনা নাহি যায় আর বানু শানে ;
দামামানি স্থানে তা মান্না
পারে কি প্রবল হতে, ভাতে মণ।
দুর্বল সভষ্ট ছায় কলেয় দাস।
আহারের আশা করি বসেছি জ্ঞ
মীনশি ধরিয়ে সােরর কূলে" '
উড়ির কাকু কমেছে।
নিয়ত শঠের খারি;
পদধ্বনি শুনে জায়েন্স
কি আশ্চর্য হতে হলো?

শৈশব কুসুম ।
পরস্পর অদর্শনে কাল মিশকালে,
মনেতে মিন আশা, সরসর,
এসেছিল তটিনীর মাঝামাঝি প্রায়,
হেন কালে নিরদয় দুরন্ত পবন
উড়াইল আশা তার কামার সহিত।
ঘাের রসে ধন টা গলি পবন।
সে রবের মাঝে হায়, বিষাদিত মন
পশিল ধুক কর্ণে, সুস্পষ্ট, গভীর,
(গ-যুথ ধ্বনি মাঝে হেৰৰ যথা)
অকস্মাৎ দৈৰ বাগী, বজ্রেনির্ঘোষে
কহিল ভারত আহা নিয়তি ৰচন।
কি কহিলি মু লজ্জা নাহি হয় ?
এই মুখে বল ভারততনয়
ধিরে পামর। আৰ্যকুলাঙ্গার,
পরবলে সাধ আমার উদ্ধার ?
কে ভােরে শিখালে ভীরু হীন মুক্তি ?
কেবা তােরে দিল এহেন যুকছি।
কেন তাের হলাে বুদ্ধি ৰিপৰ্যঙ্গ
বরে যুবক করে আমার
বিপদে পড়িলে বুদ্ধি পে হয়,
হাই রে জাের করে নি।

শৈশব কুসুম।
হয় না হৰে উৰ জামান,
সহিব যবন যাতনা পার,
পরিব খল ভূষণের মত,
‘না হােস, যদি রে তেপদানত।
পির হইতে গান পিরেতে
ইচ্ছা কি রে যাবে সুখের আশাতে
জান না কেমন ইংরাচরিত
যাবে হিত আশে হবে বিপরীত।
বণিকের জাতি, ৰিম চতুর,
জানিবে যখন ভেঙ্গে দেবেভুর ।
তােদের শিরেতে ভার গপাইয়া
দেখিবে কৌতুক, অন্তুরে বসিয়া।
বুকে বসে যবে উপাড়িৰে দাড়ী,
আলায় কঁদিবে হাত পা বাড়ি ।
ঘুষির আঘাতে জীবন ফুরাবে,
পিলে ফেটে ম বলিবে সৰে ।
দিবে কত নাম রায়বাহাদুর ;
ভারত নক্ষত্ব হবে রে চুর
রজকের গাধা সিংহের শাসনে
করিবে রা;বিধানিক মনে
বেড়াবে ঘুরিয়া সিংহের কুমার
উদরা তরে কৱি হয়}

শৈশব কুনুন।
শাধিনী উচ্ছিষ্ট করে অম
করিবে অবস্থা, জানিব খন।
লবে রত্নধন কাড়িয়া সফ,
করের জ্বালায় হবি মেখে,
নিন্দুড়িয়া মধু করিবে রে পাম
সিটের শুধু করিবেক মা।
এখন দেখিছ সরল, যেমন
আছিল আমার পূর্ব নুতগণ ;
তা নয়, সরল বাঁশ যে প্রকার
উচ্চ, দীর্ঘতর, অঙ্কর সার।
জিলিপির বেড় হৃদয়ে ওয়ে ;
কত ফের জানে পাইৰি নে টের
পড়িবি যখন উহাদের হাতে
ওৎ বুঝে তােরে ফেলিকে কাজে।
চাহিছ সাহায্য, হব না ৰি;
বরং ইহাতে ভাবিবে , খে।
সূচের মতন সম্ভরে পশিয়া
বাহিরিবে ভীম মুরতি বলি ।
ফ্যাল ফ্যাল কল চাহিয়া ,
নীরবে রবে না বলে পরিবে।
স্বপ্নে দেখেছি, গিরীশ দী।
কোথা সে অভাগী পাঙ্গা কালারী

৫২
শৈশব কুসুম
আমার মতন সেও রে এখন
সহিছে নিয়ত যবন যাতন।
দেখেছিস, স্বপ্নে কল্পনা তাহার
খুলিয়াছে ভাবী সুখচয় দ্বার ;
হবে সে স্বাধীন, রবে না অধীন ;
আমি চিরদিন রব পরাধীন।
মম ভাগ্যাকাশে তপনতনয়
হয়েছে উদিত ডুবিবার নয়।
করিস না ইংরাজে কদাচ হায়,
বির বিপদ ঘটিবে রে ভায়।
ঙিীয় স্তর।
অর্থ সুসঙ্গত, বিচার সম্মত?
ভবিষ্যৎ গর্ভে নিহিত আপাত,
নি ভারতের সে ঘাের বচন
উঠিল যুবক চমকি তখন ;
চমকে যেমতি অশনি পতনে
ভূচর খেচর উভচরগণ।
করি আন্দোলন ভাবী, বর্মন,
নিরবিল আহা লভিয়া মােন।
কহিলা ভারত পুনঃ বনে
সষােধি খুবকে, সজল নয়নে--

শৈশৰকুম।
তেলে যদি নে নি কখৰ
করি, আমার উতে ঘন ;
একা তব সাধ্য নহে প্রিয়
হয়েছে সকলে ভেড়ায়া ধম।
ক্ষোভে রােৰে ৰা ফজিলত
ধিক বাঙ্গালীর এ পােড়া জীবন।
একতা বিহীন বাঙ্গালী সমা
যাও রসাতলে, জীবনে কি কাজ?
মলপূর্ণ দেহে কি ফল গায়ি
শূন্যভরে চল মত্ত গরিমায় ?
ীবনের সুখ স্বাধীনতা যন
হারায়ে, ধরিছ কি হে জীবন?
কাচ বিনিময়ে কান শইলে।
সােপার ভাৰত ষনে শপিলে
হায় ভীমান, বীর দুৰ্যোন,
মহারথ ভীষ্ম, পবন দান
হায় বাসুদেব, সব
কোশলেশ রাম, সুম।
বীরথের গুণে শেষ পেরে;
অখিল ভুবনে পূজিত হবেই।
যশের পতাকা গগন
আজি উড়িয়ে দেন।

শৈশৰ কুম। যে ভারত ছিল এহেন রতনে ভূষিত নিয়ত-বীর ভূবণে- স্বাধীনতা ছিল যাদের জীবন, রণস্থল ছিল সুখের শয়ন; উঠ দেখসিয়া সে ভারত, বিহীন রতন বিহীন সে সাজ। ক্ষত্রিয় কলঙ্ক ক্ষীণ, ইহাতে করিছেন ; সিংহের ঔরসে ভেড়ার নম- হইয়াছে এর ভেড়াখো মধম । যুদ্ধ দুরে থাক, শুনিমের গায়ে আসে জ্বর, কাপে থরথর ; আজ্ঞা, হ মশাই, বেঙ্গা, বলিতে শিখেছে দাসত্ব ফরন বিতে। হায় পৃথুরায় দিক গৌরব। ভারতের লক্ষ্মী, ভারত বিভৰ, ভারতজীবন স্বাৰীৰতধন, নারিলে রাখিতেৰি প্রাণপণ ; কি করিবে তুমি বিধাতা বিমুখ? ভারতের ভাগ্যে লাহি আর সুধ। তা নাহলে কেন একবন ছিড়িবে সহসা কারও

শৈশব কুসুম।
.
পৃধু জয়াদে বিরােধ বাধিল
তাইত যবন ভারতে পশিল ।
স্মরিলে এসব ক্ষোভ ওণনে
দহয়ে অন্তুর না যায় সহনে।
তৃণগুচ্ছ মেলি মত্ত কেশরীরে
বাঁধি শশয় করয়ে অচিরে ;
হয়েছি নির্বী তায় কিবা ক্ষতি
যদ্যপি থাকিত একতায় মতি ?
তা হলে কি কভু যবন যাতনা
সহিতে হইত মরম-বেদনা ?
ভারত সন্তান জাগিবে না আর
কারে মিছে আমি বলি বারম্বার?
নির্ধাপিত প্রায় সাহস অনল
পারি যদি কভু করিতে উজল,
লভিয়া জনম এভারতে হায়।
আহুতি অর্পিব যবন সবায়,
যদি বিধি দেন সে দিন কখন
সাধে ঘুচাই মনের বেদন ।
স্বাধীন প্রভায় ভারত, আকাশ
উলিব পুনঃ মিটাইৰ আশ ।
হে বিধাতা তুমি কি হেতু বল না
দিতেছ ভারতে এহেন আচ্ছন ?
১

শৈশব কম।
কি দোষে ভারত ৰেী ও ক্ষণে
বল কৃপাময় শুনি হে বলে।
পাপ উপজিলে প্রতি ব্যয়
নাহি কিহে বল করুন। আর ।
তৃতীয়।
ভী নরপতি বদর ঈম।
তােমা চেয়ে বল কে আছে যার?
নদীয়া ঈশ্বর লক্ষণ নৃপতি।
তব দোষে আজ বরে এ গচ্চি।
বতের উন্নতি সুখৈশ্চর্য মৃত
ভৰ করে ছিল গতি নিয়ত
বল নৃপ বল সে পঙি ধন
কার করে তুমি করিলে জপ ?
গহন কাননে, তরুর টেরে,
রাখি ছানাগুলি নির্ভয় শয়ে,
ৰায় ছিল যথার উথ ;
চরে ধুটে পুনঃ আলম বাশার।
ভব করে শপি বন, কাক,
ছিল হে নিশ্চিত
নিয়;
শাৰক যেমতিন

শৈশব কুসুম।
দাবানল অলি উঠয়ে যখন
ছারখার করে তরুলতাগণ ;
বল হে ভূপতি বল হে আমায়
তরু কি তাদের ফেলিয়া পলায়?
সাধ্য যতক্ষণ করে প্রাণপণ,
বাঁচাতে তাদের আশ্রিত জীবন ;.
পুড়ে ছাই হয় তথাপি ত্যজিয়া
নাহিক পলায় পরাণ লাগিয়া ।
বিশ্বাসঘাতক তুমি নরবর!
নিহত কছে বিশ্বাস সবার ;
নির্বিবাদে তুমি যবনের করে
সপিলে বঙ্গেরে বল কার তরে?
ছিল নাকি ধন তব কোষ বয়ে,
সামন্ত প্রচুর, অটল সমরে ?
রণদক্ষ ধীর, বীর অগণন,
ঢালী, তিরন্দাজ, যুদ্ধে বিচক্ষণ?
সাহস বিক্রমে বলে সান
ছিল কিহে
নূন বল মতিমান?
ধু ত দেবে বাসীগণ
হারাল সাধের স্বাধীনতা ধন ;
এরূপে ভাদিগে মাধ করিয়া
প্রাণ ভয়ে যদি যাবে পলাইয়া

শৈশৰ কুনুন।
জনিত তাহারা, তা হলে বির
ঢুকিত বঙ্গেতে যবন-কুফার
বঙ্গের শরীরে তখলাে তুল
আৰ্যতে নাহি ছিল ল ;
জানিতে পারিলে তােমার ঐ নীত
কদাচ কি তারা মাি খাকিত ?
ভীষণ হুঙ্কারে, বীল্প গপ করে,
হড়াইত তেজ বঙ্গের ঘরে
তী অসি করে যশােণিত
প্রবাহিত হােত গঙ্গায় ক্ষিতে।
শিমুলের তুলা বমের তরে
উড়ে যায় যথা দেশ দেশান্তরে ;
বঙ্গবীরগণ নিশ্বালে উড়ি
যে'ত তারা সিন্ধু নদী ভঙ্গি।
সে সকল এবে স্বপন সন;
নাহি কাজ কিছু করিল গণ ;
রিলে কেৰল কোয়েল
সে বীর, শৌর্য, কমছুল
বর্ণিলে সকলে কহিবে ;
অসম্ভব বলি হাদিগে
বাছুলের মত কবে না ।

শৈশব কুসুম।
যে পরাণ ভরে বা নরের।
পলাতে উৎকলে হইয়া কাতর ।
আজো কি হে তাহা আছে ধরাতলে
মিশায়েছে কবে কালের কলে।
তৰ মাংস-শিরা-কে-মজিল
রেণু সনে কবে মিশায়েছে কাল।
ছিলে কি হে সূখী ক্ষণেকের তরে
পন্নে দগধ পুরিয়া উদরে ?
হ প্রাণ ভয়ে বল কি কারণ
রাখিলে অকীর্তি অখিল ভুবন ?
বঙ্গ ভাগ্য দোষে দুষ্ট সরস্বতি
দিলেন নরেন্দ্র তােমা হেন মতি ;
তা না হলে রণে ভীরুর কথায়,
লালি দিয়া দেশের মায়াম,
কোন বীর বল, থাকিতে জীবন,
পর করে করে স্বদেশ অপৰ?
স্বামী পতিব্রতা রমণীপরাণ
কোন নরে করে শটে প্রধান।
অথবা তােমার কি দোষ নৃপতি।
কাল ৰুৰে সৰ, কালের গতি
সুখ মতে , হাতে ,
মুখ অঙ্কে পুনঃ উপরে দুঃখ।

শৈশব কুম।
খিলিজি নায়কর বন
অনামে লভিল শূন্য সিংহাসন ;
রণে কেহ নাহি হলাে পলর ;
বুঠিল অবাধে সমস্ত নগর।
সে দিন হইতে দিনেকের তরে
নাহি দেখি সুখ থালালীর ঘরে ;
নিত্য হাহাকার, করুণ রােদন,
শুনে নে হলো বধির শ্রবণ।
চতুর্থ ভর।
বঙ্গ রাজলী বল মা কি হেতু
ভাজিলে সহসা বসুখসেতু।
পড়িয়া অকূলে, দেখ গাে মা চেয়ে,
অভাগিনী বঙ্গ মারে পাইয়ে,
লক্ষীছাড়া বড় এখন হননি।
হাহাকার করে দিবস রজনী ।
কেহ না সাদরে করে পণ;
করিছে যবনপথে দন
জননী বিমুখ মনি কার,
কে আদরে কারে, রণী ক্লার।
“খালােকে কর গান,
পাহাড়িয়া গল্প, ধীর গল্প ।

শৈশব কুসুম।
!
বরঞ্চ অকৃতি অধম সন্তানে
কৃপাধিক হয় মায়ের পাশে;
একি রীতি তব পঙ্কজ বাসিনী
হেতু বল মা এ রঙ্গে রঙ্গিণী ?
কি মজা দেখিছ-বালিকার প্রায়
ছটফটে প্রাণী তুমি হাসভায়।
এই কি মা তব জননীর কাজ?
মনে তিল আধ নাহি ভাব লাজ ?
মােরা কি মা তাের সপত্নীতনয় ?
সে কারণে দেখে দয়া নাহি হয় ?
কোথা না কমলা ইন্দিরা সুন্দরী
বরদা, সুদা, সর্ব ভারী।
যে তােমার মা গো কররে গর্জন
নাহি লভে পুনঃ এ ভব যাতনা ;
তুমি যারে দয়া কর মা কমলা
মনে তার কভু নাহি থাকে মলা।
নিয়ত সন্তুষ্ট তাহার অন্তর ;
পুণ্যবান সেই বড় ভাগ্য খর।
সার্থক জনম তার ধরাতলে ;
ধন্য, মান্য, গণ, মানব
লক্ষ্মীবান তারে করে,
সুখৈ সেই ধরে চলে।

ইহময়ী তুমি সুচ আননী। তব প্রিয়পাত্র দেবের অগ্রণী তব কৃপা বলে দেবতা নিক পেয়েছে প্রভুত্ব বিলােক উপর। ভকত বৎসলা তুমি নারায়ণী? ভক্ত ভরে ভাব দিবস রজনী বা কল্পতরু জগৎ বিখ্যাত, -যে যা বার করে পুরাও সতত- করিতে কৃতার্থ জলের ঈশ্বরে জনমিলে তাঁর কন্যারূপ ধরে ; যুগ যুগান্তর করি তথা বাস পূরাইলে ভর যত কিছু আশ; তােমা গর্ভে ধরি অন সাগর ধরিলেন নাম খ্যাত রাকর। দুর্বাসার শাপে ত্যজি ত্রিভুবন ছিলে যবে মা গাে সাগর সদন, কি দুর্দশা বল না হলে জখতে। লিখিত আছমে পুরাণ ভারতে। কত তপ করি সাগর মবিয়া, দেবের সমান কত রাখি, তােমা পেয়ে শেষেধাচালে সকল যলোক ভূলােক ।

শৈশব কুসুম । শস্যে হ'লাে শাস মেঘে হ'লে গল ; ধন রঙ্গে পূর্ণ হলাে ভূমণ্ডল ; হাঙ্গর, মকর, তিমি, অজগর, তিমিঙ্গিল, মীন আদি জলচষ বচিল সকল, দেহে পেলে বল। বারি বর্ষণে পুরিল সকল দীঘি, সরােবর, তড়াগ, সাগর ; তটিনীর গতি হইল প্রখর ; বহু ক্ষীরবতী হ’লাে গাভীগণ ;- হইল ধরার অরিমােচন। শুন বঙ্গবাণী ধর য়ে বচন- কায়মনেকর তার আরাধন। এক চন্দন ঘসি প্রাণপণে, সাহস কুসুমে মিশায়ে যতনে, বঙ্গর জলক্ষ্মী চরণ যুগলে সমর্পণ কর মহা কুতুহলে; ধীরতা মন্ত্রেতে কর সাল প; বহু বর্ষ ধরি কর ঘাের কাপ ; বলির কারণ রিপু হয় জন করই অপণ আজ মন । দেখে ইথে যেন কষ্ট নাহি হয়; হইবেক আশা নিয়ে।

শৈশব কুসুম। যত কাল নাহি হবে যােগ সিরি এরূপে অর্চনা কর নিরবধি। করি অনশন, পবন ভক্ষণ, সাংসারিক সুখে দিয়া বিসর্জন, ধ্যান ধারণাদি স্তব ইষ্ট মন্ত্রে, —বিহিত যেমন আছে বেদ তন্ত্রে তােষ বিধিমতে জলধি কন্যারে ; ফলিবে সুফল কহিনু তােমারে। দেবতার মন করুণ অকর ; হবে না বিফল, বুঝে কাজ কর। নাহি মা ভকতি ; না জানি অঙ্গন। দুঃখী বাঙ্গালীর কি আছে এমন, যা দিয়া তুষিব অন্তর তােমার ? কৃপা কর যদি পাই গাে নিস্তার। ধরম বিদ্বেষী, পাতকী যবন গগা ব্রাহ্মণ হিংসা করে অনুক্ষণ পারি দেখিতে চখের উপর ; কত ব্যথা পাই বর্ণনা দুস্কর। হিংসা দেবে লি বঙ্গের সন্তানে বিনা অপরাধে বধিছে পাশে। কাতরে তােমার এই ভিক্ষা চাই- একতা, বিক্রম, শো, “নাই

শৈশব কুসুম ।
দাও মা সবায় একতায় মতি।
তা হলে নিশ্চয় ঘুচিৰে দুর্গতি ;
জুটিবে বিক্রম, বাড়িবেক বল ;
তেজ হীন হবে ষবন সকল।
দুই তর্ক যদি এক স্থানে হয়
একের বৃদ্ধিতে অপরের ক্ষয় :
অষবন দেশ হবে অচিরাৎ;
হবে বঙ্গে পুনঃ সুখের প্রভাত।
. ঘুচে যাবে চির দুঃখের শ্বাস,
বিতরিবে বায়ু, মধুর বাস,
ভ্রমর ভরী পূরিবে তান,
গাইবে কোকিল মধুর গান,
বংশবনে হবে বেণুর রব,
আনন্দে ভাসিবে বাঙ্গালী সব !
ডাক রে কোকিল ডাক, এইবার ;
মরে যাই লয় বালাই তােমার।
দেখিলে বৃঙ্গের সজল নয়ন
থাকে না কোকিল। জীবনে জীবন ;
এ পরাণ আর কাজ কি কোকিল
যদি নাহি হ'লে উপকার ছিল?

শৈশব কুম।
গুণিীর গর্ভ, হৃদি বিদায়ণ,
জীয়ৰু মনবে জলে নিমগন,
পারি সহিতে, হেরিতে নয়নে ;
( দিব আজি প্ৰাণ জাহবী জীবনে।
কি ফল রে বল সংখ্যা বাড়াইয়ে ?
কিবা সুখ বল কলঙ্কে ডুবিয়ে ?
ডাক রে কোকিল, ডাক আরবার,
শুনে যাই তাের স্বর চমৎকার ;
মরণের কালে শ্রীনাথ বলিয়ে
ডাক, একবার কণ্ঠ কঁপাইয়ে।
রাখ, ভাই পিক! আর এক কথা,
ঘােষ এই গথা বলে যথা তথা
নগরে, কাননে, যেথা যারে পাবে
তাহারি সমীপে এই গীত গাবে।
এত বলি যুবা ছাড়িয়া নিশ্বাস,
খেদে কত মত কৈল হাহুত শ।

। পাপেয়া। বসিয়া বিটপী বটে, কে তুই বিহগবর, সুপ্ত এবে ধরাতল, চোশ হইলে দূরে, ঘাের নিশাকালে, মরি। লাগালি আমায় ? পবন সুস্থিরতর, তাও শুনা যায়। শাভির কোমল ক্রোড়ে, লভিছে বিরাম সুখ, এহেন সময় তুই, চোক গেল বুলি ধরে, করিয়া শয়ন নর, শষ্যার উপর ; কেন বল, অকস্মা, ব্যথিলি অন্তর ? দগধ উদর জালা, গিয়াছিলি বুকি তুই, লােভের কুহকে পড়ে, পরিণাম এক বার, করিবারে নিবারণ, মরীচ কাননে ? খাইতে উদর ভরে, ভাবিয়া মনে? লাগিয়া তাহার ঝল, জলিছে নয়ন আহা। হয়েছ কি? তাই গানাইতে সবাকারে, কি ঔষধ চাই? কাদিতে উচ্চস্বরে, নিৰারিতে কাতার, শৈশব কুসুম অথবা শুইয়াছিলি, চোকে ফুটিয়াছে কিছু, তাই পাখি উভরায়, অবােধ শিশুর মত, সুখের আবাদে তাের; পা আর্তনে ? করিলি রােদন হয়। সজল নয়নে ? কি জন্য তুই রে পাখী, করিলি রােদন আজি, কেমনে কহিব ডাহা, পাখী দুই আমি নর, ঢোক গেল বুলি ধরে, এহেন সময় কি তাের মনের ভাব ? কঠিন হৃদয়। কিন্তু তোের রব শুনে, উঠিল দুঃখের উৎস, পাখিরে ও তাের রবে, উথলিল শােক সিন্ধু, গলিল পাষাণ আজ ; পরশি গগন। চিত না ধৈরজ ধরে, জোয়ারে যেমন। বিধাতা দিয়াছে কি রে, ভারতের যেথা সেথা, ভারতবাসীর মন, দেখে দেখে চোক গেল, ওই রব ঘরে ঘরে, করিতে ঘােষণা ? পরুষ আচারে রত- 'দেখিতে পারনা ? ভারতের পাখী তুই, বিজনে নিশিথে তাই, উচ্চ ডালে বলি, পূরিয়া মেদিনী ভৰ, —ভারতের দুঃখে দুখী, স্কুল অভাবে, লিতেছ ধিক কার শত, গীর ও রবে ।

শৈশব কুসুম। সকলে নিত্ৰিত এবে। কিন্তু পাখী কে শুনিবে ? রমণী অঞ্চল ধরি, মােহাঙ্ক সত্তর হায় ! যেখানে বিনাশ বহি, বালকের মত সেই দিকে সদা ধায়, অলিছে সতত ; দেয়ালি পার্বণে, যবে, শত শত দীপালােকে, বিকশিত হয়, আহা! ক্রীড়ার পুত্তলী সম, বাঙ্গালার ঘরে ঘরে নিশার বদন -অলপ পরাণ যার- শত যেমন। তেয়াগিয়া সুপার, লৌকিক সুখেতে চায়, ছেদিয়া বিটপী বরে, সলিল ঢালিয়া শিরে, প্রাকৃতিক সংস্কার দুষিবারে মন ; জীয়াইতে আশা করে, অবােধ মতন। * সুখ আশে অনুক্ষণ, যাহাতে বিনাশ নিত্য, সাবাসি সাবাসি নর। সাবাসি বিধাতা তােরে, চিত তার উচাটন সেই সুখ চায়। সাবাসি রে নিরন্তর। কি বলিব হায়! বিজনে কুয়াশাময়, গভীর নিশীথ কালে, ভূতরূপী আলেয়ার, সে পথে গমন করি, নিভৃত প্রান্তরে যুথা, পান্থ পথ হারা, আলাে করি দরশন, বে যায় মারা শৈশব কুসুম । সেরাপ খনৰ মন, পড়িয়েভবে মাঠে, কুমাশা আলেয়া ভাতি, হারায় সুখের প্রাণ, মায়া কুয়াশার ঘোরে পথ ভুলে গিয়ে নিরখি নয়নে আহা ! ক্ষাকরে পড়িয়ে। রিপুচয় সেবা করে, শুধা বিনিময়ে তাহে, চরণ শিকলে বধি, বশে রাখা ভার, হায়, লভিতে অক্করে সুখ। উপজে গরল। ষে মঙ কারণে তবু কাটিলে শিকল, ন সাধ্য কার ধরে তারে ? উদ্যান আলয় রাজি, অবশেষে নিরজনে, শান্তি লাভ করে সুখে, • নগর উজাড় করে ; করে ছার খার ; পশি গহন কাননে, আবাসে তাহার স্বত মত্ত মন করী, করিতে ছেদন, সেরূপ বারেক যদি, বিবেক বন পারে, ছারখার করি সুখ- শান্তি লাভ করে পশি, সন্তোষ প্রমােদ বন, ক. ভবন। শুচি, পুরি সরবড়া, রমণি অঞ্চল হার, গুৰি চাহ এ সকল, • ভারতের কিবা মুখ, মধুর কেন ? কোথায় যাইবে বল, করিতে মােন?

শৈশব কুম। রাজপথ ভিখারিণী, করিয়া নােদন, তাহা, সদপে চলিয়া যায়, ফিরিয়া নয়ন কোণে, পূরয়ে গগন যদি, কে করে এবং মূৰ্ত্তিম গরিমায়, করে দর্শন। '- হাৱায়ে ললাট মণি ভিখারিণী এবে হায়, সৌভাগ্যের সিংহাসনে, অছিল আনতশির, —চির স্বাধীনতা যন- ভারত জননী ; হেরিয়া সমধিঢ়, অখিল অবনী। দরিদ্র হইমু হায়, • বলিয়া রােদন করি, কিন্তু কিসে দুঃখ যায়, কেন যে দরিদ্র হই, অস্থির করের দাম, ভিজায়ে বসন; ভাবিনা উপায় তার ; খুজিনা কারণ। সুধা সম গাভী দুধে, অন্তর অসুখী হয়, প্রান্তরে রন ঘাস, বারেক জানিতে কি, পাইয়া রওন বাস, ভােজন সময় ; ভােন করয়ে গাভী, ভিখারিণী সুত এবে, কেমনে মনের সুখ, ভারতে শনির দশা, আমরা সকলে, হায়, পাইৰ কোথায়। আমরা তনয় তার, দেব কি এড়ায়? Rহমান দেবালয়ে,

শৈশব কুসুম।
ভারতের সংস্কার,
করিবারে বড় কার ?
কেবল বিবাহ বনি,
বিরে শ্রবণ।
ভূষিত হতেছে সা, ভারত গেণিত শ্রোত,
প্রতি দণ্ডে পলে তাহা, কে করে দর্শন?
সমাজ গরম লতি,
ভারতের নিক্তি নিতি,
করিছে ধারণ।
সাগরের লােনা এল,
কলুষিত করে যথা,
তটিনী জীবন
কিম্বা বিচিকা যথা,
স্থল জল শূন্য দেশ,
সেরূপ বিদেশী রীতি,
ধরি অভিনব বেশ,
পণিয়া নগর মাঝে
করে কলুষিত ;
ভারত বাসীর মন,
করিছে বিকৃত ।

ত্রিবেণীবর্ণন।
উপক্রমণিকা।
ধরায় অক্ষয় কী লতিতে বাসন,
সহৃদয়, পুচেতা মানব যেমন,
. সস্তাপিত পথিকের ক্লেশ গুরুভার
লাঘবিতে, মহাতকরয়ে রােপণ,
পথপর্শে মরুভুমে, হায়াইল ইন,
সুবিস্তীর্ণ, সীমান্য ; ফিরলে নয়ন
মুখে ধূল উড়ে ভয়ে নীরস পরাণ
আহত তিন্ত্রীর মত কাপে ঘন ঘন ;
ভ্রমণের কথা দুরে স্মরণে পিপাসা ;
ধেয়ানে পাগল প্রাণ উড়িয়া পলায়
ভূতময় দেহ ত্যজি, এ পাপ সংসার,
লভিতে আরাম বুঝি কে জানে কোথায় ?
পাপরূপ ববিকর-অসহ্যসত্তাপে
ভব-ভীম মরুভূমে তাপিত-হৃদয়
জীবকুল-চিরতাপ করিতে হরণ
জিলা ত্রিবেণী পুরী বিধি দয়াময়।

৩৪
শৈশব কুসুম।
যেকালে সগরকুল-ললাট-ভূষণ
ভগীয়থ মহাতেজা, করিতে উদ্ধার,
-সাক্ষাৎ সহনেত্র-জীবন্তপ্রতিম!
যােগ-মগ্ন, শান্তচিত, তপস্যা-আধার,
মহামুনি কপিলের শাপে ভস্মীভূত
মদগর্বে অভিভূত পূর্ব পিতৃগণে,
করিল সয়াস বহু, বহু আরাধনা,
নগরাজ সুতা গঙ্গা আনিতে ভুবনে,
কহিলেন পিতামহে বিষ্ণপাদোঃবাঃ-
“কিরূপে অবনীতলে করিব গমন। ০
বড় দুরাচার দেব!
পাঠায়ে না ধরলে ধরি গো চরণ।
ধরণীতনয় ;
আলুথালু বেশভূষা, মলিন বদনা,
সে দিন ধরণী আসি দেবেন্দ্র সভায়,
অশ্রুজলে বাড়াইয়া মন্দাকিনী-জল,
করিলা রোদন কত কহ নাহি যায় !
হিরণ্যকশিপু নামে তনয় ভাহার,
যার ভয়ে ভীচিত আপনি বাসব,
কত যে করিয়াছিল যাতনা প্রদান
কি আর কহিব আমি। এনেছেন সৰু'।

শৈশব কুসুম ।
৭৫
সহজে তরল আমি কি কথা আমার,
রােদনে তাহার হায়, গলয়ে পাষাণ !
দেবশত্রু বিমর্দন শ্রীমধুসূদন
বধিলেন তারে ধরা পেলে তাই ত্রাণ ।
দশমাস দশ দিন ধরিয়া জঠরে
জননী যাহার করে নিধনের আশ,
সেই সব পাপাচার শার্দুল সঙ্কুল
পিতামহ চাহ মেরে দিতে বনবাস !
পবিত্র জীবন মম পপি সহবাসে
অচিরে কলুষ ভাব করিবে ধারণ ;
নিরমল শ্বেতশােভা মসী সহবাসে
রাখিতে পারে কি কেহ জলের বরণ !
সে সময় পদ্মযােনি অভাগীর দশা
কিরূপে নয়নে বল করিবে দর্শন ?
কি পাপে অভাগী পাপী, কহ দয়াময় ।
হেন দণ্ড মেরে দেব । সাজে কি কখন ?
কহিয়াছিলেন ব্রহ্মা সম্ভাষি দেৰীরে।
“পূর্বে করিয়াছি স্থির উপায় তাহার
তা না হলে কেন তােমা পাঠাব সেখানে;
কে দেয় বানর করে মুক্তার হার ?

শৈশব কুসুম।
সুজি আহার আমি স্পাহারী কখ
জি না নগেন্দ্রতে ! জান ত সকল
তবে কেন এ বিলাপ শ-সােহাগিমী ?
ক্ষয়িবে কলুষ তব খাও ধরাতলে।
পারাবারে ভগবতি ! শুধু কি নিলে
কুম্ভীর মকর আদি হিংস্র নিকর ?
অমূল্য বুকুত ফল গরভে যাহার, ..
গােপনে নিবসে শত উক্তি জলচর।
সেরূপ সুধীর, সাধু, মহাতেজস্মান,
(রবিকরে তারায় নিস্তেজ যেমন,
যাদের পবিত্র ভেজে প্রভাহীন হায়!
অক্ষুন্ন সুতেশালী সুরারীগণ)
নিবসে ধরণীতলে গােপনে ৰিজনে ;
খনির উদরে যথা স্বতন নিচয় ।
ইন্দ্র আদি দেবগণ যেই সহবামে
লভিয়া মানৰ গৰু সদা ধন্য হয় ?
ভস্মাৱত বহি সম, ধরম তৎপর,
সেই সব সাধুগণ সত্যপরায়ণ,
ভৰাত পাশ কাজি প্রক্ষালন হলে,
তৰ নীরে স্নান হেতু আমিশেল ;

৭৭ , শৈশব কুসুম। ঐ যে ত্রিবেণী পুরী কৰিছ দর্শন ভগবতি শৈলসুতে! সমুখে তােমার ধরণীর ভালে যাহা দীপিছে নিয়ত ফণি শিরমণি সম, লােভর আধার- ঐ স্থানে তব সনে হইবে মিলন। সােহাগার সহযােগে কাঞ্চন যেমন পরিহরি কলুষতা কুসঙ্গ-সঞ্জাত ধরয়ে বিমল মূর্তি উজ্জ্বল বরণ ; ত্রিবেণীর সম্মিলনে সেরূপ তাদের স্বল্প পাপ অচিরাৎ হইবেক ক্ষয় , মেঘমুক্ত প্রভাকর প্রতিভা যেমন হইবে তাদের তে, ভীষণ দুর্জয় । স্ফটিকের সহবাসী সলিল সমান, কলুষিত বারি তব পাপীর পরশে, ধরিবে নির্মল ভাব, পাপ বিনাশন ; পরূপে পাপচয় রবে তলদেশে। ত্রিবেণী চরণ সেবা কর বিধিমতে । তাহা হলে স্বর্গসুখে হবে না বঞ্চিত, জগতের পাপ নাশে হইবে সক্ষম ; পরহিত কর্মে সুখ পাবে অতুলিত।

শৈশব কুসুম ।
-
রবিকরে দীপ্তিমান সশাঙ্ক মুভগে!
রজনীর মােরাক্তি করে না কি দূর ?
অপিচ কৌমুদীবনে, সর সুশােভিনী,
লভিয়া, লভয়ে চিতে আনন্দ প্রচুর।
'বর্ণনা
।
বৈজয়ন্ত সম শোভা করিত প্রদান
এককালে সেই পুরী বিশাই নির্মিত ;
শত শত দেবালয়, তুঙ্গ শৃঙ্গধর ,
উচ্চতায় হিমাচলে বিজপ করিত।
কে বলে অগস্ত্যভয়ে বিন্ধ্য মহাগিরি
অবনত শিরে কাল করিছে যাপন ?
ত্রিবেণীর মন্দিরের শৃঙ্গের উচ্চতা
হেরি মন দুখে তার আনত বদন।
স্বজাতির পরাভব করিয়া দর্শন
কোন কাপুরুষ জাতি, বাঙ্গালী ব্যতীত,
ভুলিয়া বদন সুখে, প্রফুল্ল হৃদয়,
বালকের মত করে সময় অতীত?

৭৯. শৈশব কুসুম । নীচের প্রভাব হায়, হইলে প্রবল স্বভাবত: নতশির মহাত্মা নিচয় তাই গিরি রিলেতে আছয়ে বিজনে, অভিমানে মৌনব্রত করিয়া আশ্রয় । মন্দিরের সুধা-ধবলিত অধােদেশে শতেক শশাঙ্ক শােভা,সমা রজনীতে, বিতরিয়া খর প্রভা উজলিত•দেশ ; তম শব্দ উদাসীন পুণ্য, নগরীতে। কিবা কাৰু কাৰ্যশালী, কাঞ্চনে ভূষিত ! পূরে ছিল শূন্য দেশ অপূর্ব শােভায়। গগনের পরিমাণ হ্রাসিবারে যেন অথবা ভুবন স্বর্গ যােগ বাসনায় । রবিকর সমাবেশে সে সুরম্য স্থানে, রজত মৃণাল দণ্ডে সুবর্ণ কমলে, নন্দন কানন-শোভ-সরােজ-বাসিনী উপেক্ষি ত্রিদিব যেন বসিত কমলা ! d, চারিদিকে রম বন-ক সুম কানন- ভূলোক দ্যুলোকে যার প্রতিযােগী নাই ; মধ্যভাগে দেবতাত্মা মনির সকল জীবন্ত জীবের এশাভা ধয়িত সদাই।

শৈশব কুসুম।
হুত হােমনলােঃ ভ গন্ধ মনােহর,
সরস, পুষ্পবাসে দুইয়ে মিশ্রিত,
(গঙ্গা যথ। ভানুতা স্বরসতী সনে)
পবিত্রিয়া সৰ্ব্বভূত হইত বাহিত।
শ ঘন্টা ঘটা রবে, মধুর নিম্বন,
নৌবত নাগরা আদি মৃঙ্গের রৰ
ধ্বনিত হইত সদা ভূলােকে দ্যুলোকে ;
রজনী দিবস ছিল সম মহােৎসব।
কঞ্জবনে পাখীগণ মধুর সুতানে,
পারি, শুক নানাবিধ, পাপেয়া, চন্দন,
গাইত প্রভাত সন্ধ্যা মােহিয়া ভুবন ;
ত্রিদিব-কিন্নরী-গীত কোথায় তুলনা !
বিপণি বাজার কত গণ নাহি যায়,
ধরণীর দ্রব্য যাহে না ছিল অভাব ;
বল মহিষ উই গাভী শত শত
রাজ পপে গােষ্ট ভূমে করিত আরাব।
পুরী মধ্যে পুতিগন্ধ নহে অনুভব ;
প্রস্রাব পরীব ত্যাগ করে না কি লােকে।
অথবা দেশের স্বাক্সা পুরবাসী গণ
আধারের সত্বা কোথা বিৱ লোকে ?

শৈশব কুসুম ।
৮১
ভবের বন্ধমে মুক্ত আচগুলি সবে ;
অচণ্ডাৰ
শ্রাদ্ধ শাস্তি ক্রিয়া কাণ্ডে তথাপি তৎপর।
সতত সাধুর জন্ম লােক শিক্ষা ভরে,
যাহাতে সুপথে নর হয় অগ্রসর।
নগরের অতি দূরে বিস্তীর্ণ শ্মশান,
প্রেতময় পুরী যেন শমল নগরে।
ভীষণ কন্টকময় বন্য তরু-লতা-
ঘনসন্নিবেশ হেতু আঁধার দুপরে--
ধূরা আনত মুখ, আকন্দ সুন্দর,
আরণ্য কলম্বী লতা, ভাটের কানন,
রশাল অষঙ্গ জাভ, খজুর, পনস,
পুরীষ বাবলা তরু, তাল গণন,
আঠাল হিজল তরু, মনসা কন্টক,
বিস্তীর্ণ তিন্তিড়ী তৰু ভূতের আবাস,
বইচি, সেঁকুল কাটা কুসুম যাহার
দেখিতে শিরীণ সম, বিহীন সুবাস।
শৃগাল তরঙ্কু আদি বন্য জীৰচয়
গভীর রবেতে সদা করিত চীৎকার,
দিবস রজনী সন্ধ্যা যখন তখন
গতি বিষয় সমন জাকার।

৮৪ শৈশব কুসুম। শকনি, হুতােম পেঁচা ছাতারে, বয়স, পেচক আধার প্রিয়, বাজ নানারূপ, স্বচ্ছনে যাপিত কাল তরুর কোটরে ; সুবৰ্ণ প্রাসাদে যথা চক্রবর্তী ভূপ। দামে আটা সরােবর। চৌদিকে যাহার শােভিত ধবলাকার শবাস্থি সকল:- সদস্ত মস্তক, মেরু, ছিন্ন নাড়ী ভুজী ; শােভে যথা তরুতলে কুসুম সকল । জীবনের অবসানে পরাণ যখন ত্যজি এই ভূতময় নশ্বর শরীর কোথায় গমন করে কে বলিতে পারে ? তখন অস্থির দেহ ধরে ভাব স্থির। সায়াহ সমােজ সম ফুরতি বিহীন, ভাহাদের মৃত দেই, আত্মীয় স্বজনে করিবারে সুপবিত্র–করিতে দাহন- সুগন্ধ ইন্ধন জাত পবিত্র পাবনে, লয়ে যায় সেই দেশে। ভীষণ সে স্থান- জীবনের পরিণাম যেই দেশে হায় ! রেণুরূপে ধলি সাথে হইয়া মিশ্রিত কে বলিবে পরিণামে যাইবে কোথায়? -

শৈশব কুসুম।
৮৩
যে দেহের পরিণাম এইরূপে হায়,
দেখিতেছে নরগণ হয় পরিণত,
তার করে করে তারা কতই যতন,
কত অত্যাচার হয়, করয়ে সতত !
উম্মিলি জ্ঞানের চক্ষু বারেক যদ্যপি
নমদে মত্ত নর করিত দর্শন,
তা হলে ধরণী স্বর্গ ভেদ কি থাকি?
অপূর্ণ মানব চিত্ত বিধির সৃজন!
পাদদেশে ভাগীরথী, প্রসন্ন সলিল,
কল কল রবে যার জুড়ায় শ্রবণ,
প্রবাহিত নিরন্তর দক্ষিণ সাগরে ;
করিতে 'তাহারে বুঝি প্রিয় সম্ভাষণ।
নারীর চরিত্র হায়, নরে কি বুঝিবে ?
আপনি স্বয়ম্ভু ভ্রান্ত কুকে যাহার ;
ধরণী পাবন ছলে সাগরে সঙ্গত
ভুলায়ে সরল প্রাণ শিবে শিবাধার।
জননী বলিয়া করি নাম উচ্চারণ,
আজীবন সেবা করি মরয়ে মানব,
তারে কি না স্বপতিত্বে করয়ে বরণ
অবাক নারীর পদে কোটা নমস্কার।

শৈশব কুসুম। গগনে একটী রবি, এক নিশাকর, জগতের চারিদিকে করিছে শ্ৰমণ; শত সূৰ্য্য শত চন্দ্র প্রতি তরঙ্গেতে করিত তাহার জলে সদা বিচরণ। ভবরূপ পারাবারে নাম সম কার- ভাসিত তরণি চয় দিক নিশিতে গােলোকে বিরজা যথা উতরি জাহ্নবী গােলােক সমান পুরী ত্রিবেণী পশিতে। পূতচেতা, তীর্থগামী, মানব সকলে- পবিত্র সঙ্গমে যারা পূত নিরন্তর। নিশান নম্বনানন্দ, মৃদুল পবনে, পত পত শব্দে কিবা উড়িত সুন্দর। - ত্রিবেণীর অধিষ্ঠাত্রী দেবীর অঞ্চল —অমূল্য হীরক মণি মুকুতা খচিত- উড়িছে ভাবিয়া মনে দেখা নিয়ে ধরি নরদেহ যেন চাহিয়া থাকিত। রূপসীর উরশােভা মালের আকার, শােভিত কুসুম দাম বিবিধ বরণ আহসী, অপরাজিতা, পদ্ম শতদল, গােলাপ, সুগন্ধ বেল, পলাশ,রঙ্গন।

শৈশব কুসুম।
৮৪
শোভিত মরাল দল তা সবার মাঝে,
বিজ ধবল রূপ, সুষশ সমান ;
মুক্তা-মালায় যেন বিশুদ্ধ, উজ্জ্বল,
শোভিত রতনাবলী মহা তেজস্থান।
সমুখে সুন্দর ঘাট বিশাই রচিত,
শতেক সােপানে যাহা সুগম সবার ;
স্বরগের সিড়ি যেন জীব প্রাণ ভরে
সুবিধি বিধির বিধি অহো চমৎকার !
সায়াহ মধ্যাহ্ন প্রাতে যেখানে নিয়ত
গৃহী, বানপ্রস্থ, যােগী, সন্ন্যাসী, বৈরাগী,
স্বদেশী, বিদেশী, তীর্থ ফল অভিলাষী,
রমণী পুরুষ, সবে শুভফল ভাগী,
স্নান করি ইষ্ট দেবে করিত পূজন
সরল প্রফুল্লচিতে, রাগ দ্বেষ হীন ;
নামিত উঠিত কেহ কেহ বাঞ্চলে
অসিক্ত করিত গাত্র, সদ্য পাপ ক্ষীণ।
পীনােত পয়ােরা যুবতীরে। হৃদে
কাম কুটিলতা সেথা পায় কি দুয়ার ;
আপনি স্মরারী যথা সদা বর্তমান ?
মুণ্ডিত শ্রীফল গুলে যায় কত বার ?

শৈশব কুম।
প্রহরীর রবে যথা তঞ্চর দুগ্মতি,
উচ্চ স্তবপাঠে কায়রা, গগন পরশি,
সঙ্ক চিত চিত সদা পাপ দুরাচার
পলাইত দুরে যেন ভয়ে মুখমণী।
,
ভিক্ষুকের বেশে যেন দেবতা নিচয়,
সাধুর সরল দান করিয়া গ্রহণ,
দাতা প্রতিগ্রহীতারে করিতে পবিত্র,
বসিয়া থাকিত তথা পাতিয়া বসন ।
কোথায় বা কৃতকৰ্ম্মা মানব নিচয়,
কল, মূল, মিষ্ট দ্রব্য, আতপ তলে,
করিত তৰ্পণ শ্রাদ্ধ পিতৃগণেদেশে,
তিল কুশা যব আদি সু-অগস্তি ফুলে।
চতুর বাসগণ থাকিয়া থাকিয়া
চকিতে শ্রাদ্ধের ঐব্য করিত হরণ ;
শশব্যস্ত পুরােহিত তাদের জ্বালায়
করিত অপূর্ণ মন্ত্র পুনঃ উচ্চারণ ।

উপসংহার
কোথ। সেই শােভা আজ অমর দুল ভ ।
কোথ। সেই সৌধরাজি, মানব-বিভব ।
কোথা সেই পুণ্যবান ধার্মিকের দল।
কোথা সেই বেদধ্বনি শাস্ত্র-কোলাহল !
কোথা সে নন্দন-শোভ। কুসুম-কানন,
দ্বিজকুল-কলরব কোকিল-কুজন !
পশিয়াছ পাপ-স্রোত তীর্থের মাঝার ;
করিয়াছে স্বর্গভূমি নরক আকার।
শঠত কুটিল চক্ষু, লোভ ভয়ঙ্কর,
দুর্নিবার লম্পটতা সুরা-অনুচর,
দিবা নিশি দলে বলে করিছে ভ্রমণ ;
অশান্তি আপদ সদা জুটেছে এখন ।
তাই বুঝি ভাগীরথি ! ভাবি অনুদিন
হইয়াছ শীর্ণ দেহ বন মলিন।
গিয়াছে ভগিনী দুটী ছাড়িয়া তোমায়,
রেখামাত্র পড়ে আছ ধরণীর গায়।
কিছু দিন পরে বুঝি থাকিবে না আর।
কি দশা হইবে'হায়, মানৰ সৰাৰ !

শৈশব কুম।
কালের হৃদয় বিধি পাষাণে গড়েছে ;
তাই আজ ত্রিবেণীর এ দশা হয়েছে।
বিধাতা রে বল মােরে হয়ে অনুকূল,
সম্পদ সদ। কি তোর নয়মের শূল?
চিরদিন কারো কভু সম নাহি যায়
বুঝিয়া করিবে লোক মনে যা যয়ায়।
বন্ধুর পত্র
প্রিয়তম । অনুমান দ্বিতীয় প্রহর
শারদীয় খরতর,
প্রচণ্ড মার্তণ্ড-কর,
আবরিয়া ক্ষণে ক্ষণে বারিদ নিকর,
ঘন ঘন হুহুঙ্কার, দিইতেছে বারম্বার,
নিবারিতে সুভীষণ রবির কিরণ ;
বঙ্গের অমূল্য ধন,
রক্ষিতে ধানের বন,
শীতল ছায়ায় রঞ্জি সুশ্যাম বরণ।
অনাহারে শঙ্খচিল, ভমিয়া সরসী বিল,
ক্ষুধায় কাতর প্রাণ করিছে যােদন;
হুতাশে ৩কায়প্রাণ,-কে করিবে অনুদান
ভাবিয়া অনাথনাথে করিছে অরুণ ।

শৈশব কুসুম। অমল দক্ষিণানিল, চুম্বিয়া সাগর নীল, কৌমুদী কমলবন ফুলের বাগান, ছুষিছে জগৎ প্রাণ, সুসৌরভ করি দান ; সুবাসিত পরিমলে প্রিয় হিন্দুস্থান । বায়ু, যেন এই ছলে, নখর মানব দলে -সুধাময় নীতিগর্ভ সাধু উপদেশ- কহিছে অস্ফুট স্বরে, প্রান্তর, নগর, চরে, অখিল মদ লালয় ঈশ্বর আদেশ। সরল সাধুর সনে, যার চিত সযতনে, ডুবদেয় নীতিগত জ্ঞানের সাগরে, এইরূপে তার যশ, পুরাইয়া দিগ, দশ, লয়ে বাই শত সভ্য দেশদেশান্তরে। নাহি রােদ নাহি বৃষ্টি, নীরব জগৎ সৃষ্টি, শান্তির প্রভুত্ব নিত্য করিছে প্রচার। সুচারু বাঁশের ঝাড়ে, শ্যামল পল্লব আড়ে, নীরবে বিহগ কুল করিছে বিহার। কেবল গাছের ডালে, ঘুঘু বসি পালে পালে, প্রিয়ার অধর চুম্বি শীতল ছায়ায় জাহ্নবী-জীবন-সম, সুনির্মল মনােরম, প্রণয়-সাগর-নীরে, প্রফুল্লিত কায়, নাশিতে রবির তাপ, নিয়ত দিতেছে ঝাপ, দাম্পত্য সুখের ঢেউ বিস্তানি গগনে ;

শৈশব কুসুম।
t
পবনে নিভর করি, ঘুঘু শৰে কৰ্ণ ভরি,
মােহিছে জগৎ প্রাণ ঈশগুণ গানে।
তাহার বিষম স্বরে, প্রাণ উড়, উড়, করে,
বিরহিণী রমণীর অস্থির অন্তর ;
পতির মােহন রূপ, স্মরিয়া রসের কূপ,
তিতিল নয়ন জলেষুগ্ম পরােধর।
বিষাদ নিবিড় মেঘে, আচ্ছাদিল ভীম বের্গে,
ছুটিল অনল শিখ। নাসার নিশ্বাসে ;
ফুল অরবিন্দ সম, মনােহর সুবঙ্কিম,
ভাসিল যুগল আঁখি বিচ্ছেদ-সরসে।
অনুচ্চ অস্ফুট স্বরে, ছারিয়া রব করে,
পিপীড়া-পতঙ্গ-কীট করিছে ভক্ষণ ;
শীতল গাছের ডালে, গৃহীর ঘরের চালে,
করিছে সানন্দ চিতে মধ্যাহ্ন যাপন।
বিদারি শ্রবণতল, বায়ু-ব্যোম-ভূমণ্ডল,
দয়েল দিতেছে শিশ অতি চমৎকার।
সর্বত্যাগী যােগীবর, চিত যার স্বতন্তর,
তার হয় হৃদয়েতে সুখের বিকার।
ভ্রমর তুলিছে সুর, সুখে ধরা ভরপুর,
যেন রে অমর পুরী নেমেছে ভূতলে।
মানাহার সমাপিয়ে, সুখদ শয়নে শুয়ে,
ভাবিতেছি স্বভাবের শােভা কুতূহলে ;

শৈশব কুসুম।
আলা কি যন্ত্রণা কিছু, নাহি ছিল মাের পিছু,
হেন বুঝি সুখময় শৈশব সময়,
হরিতে হৃদয়-ভার,-যৌবনের অধিকার
পুনঃ আসি হৃদাকাশে হইল উদয়।
কিন্তু যা হয়েছে গত, সে কি হয় প্রত্যাগত ?
এ কথন একবার ভুলেও ভেবনা ।
তবে যে দেখিছ ভ্রাতঃ, সুখময় আপাততঃ,
সে কেবল আগন্তুক প্রলয় সূচনা।
যৌবনে নরের মন,
সচঞ্চল সর্বক্ষণ,
চিন্তার সাগর মাঝে ভাসিছে নিয়ত ;
উঠিলে স্মৃতির ঝড়, তনু করে ধড়ফড়,
বির তরঙ্গাঘাতে হইয় আহত।
অসার খলু সংসার, বােধ হয় ধমাকার ;
বিষাদ-আবৰ্ত-স্বদে হইয়া নিহিত,
বন্ধুরমোহন রূপ, বনিতা রসের কূপ,
ক্রমে ক্রমে চিত্ত-পটে দেখি সমুদিত।
জননীর প্রিয় ভাষ, সন্তানের সুধা হল,
জনকের নীতিগর্ভ মধুর বচন,
সুখময় নেই-ভরা, সহােদর সহোদরা,
মনে পড়ে, মাতৃদেশ, প্রিয় পরিজন।
স্মরিয়া তোমার স্বর, চানন মনােহর,
বিরহ-ব্যাধের শরে হইয়া ব্যক্তি,

শৈশব
কুসুম ।
মনােময় মৃগ বরে,
সদা ছটফট করে,
বিষাদ বাঙরা মাঝে হইয়া জড়িত।
মনে করি পাখী হই, এখনি উড়িয়া যাই,
মনােসাধে হেরি গিয়া আন-কানন ;
কিম্বা মেলি বায়ু সনে,
সুখময় নিকেতনে,
তােমার সুখের ড্রাগ করিতে গ্রহণ।
পান করি সুশীতল, মঙ্গল ডাবের জল,
মিটাইব জীবনের বিরহ-পিপাসা ;
ব গুণগান করি, হৃদয়ে আনন্দ ভরি,
পূরাইব রসনার অন্তরের আশা।
কিন্তু মনে দেখ ভাবি, ভূত-বর্তমান-ভাবী,
ধরাতলে ধনের প্রভূত্ব সৰ্ব্ব ঠাই ?
ধন ধান্য যতদিন,
শিবতুল্য তত দিন,
আমির ওমরা তারে ভেটয়ে সদাই।
ষে গরিব ধনহীন, চিরদিন পরাধীন,
উরজ অাত্মজো তারে করে হেয় জ্ঞান ;
সাধিতে পরের মন, 'সদ, চিত্ত উচাটন,
কোথায় কাহারো কাছে নাহিক সম্মান।
পেটের ভাতের তরে, কত না যে সহ্য করে,
লাঞ্ছনা গঞ্জনা তার অঙ্গের ভূষণ ;
নয়নের উষ্ণ নীরে, হৃদয় প্লাবিত করে,
সত্তর-মননে সদা দল করে মন।
sm -..
~~-

শৈশব কুসুম
নিৰ্ম্মল
ভীষণ সুন্দর বন,
সুখময় নিকেতন
শার্ল ল কেশরী সাধে ভােজন তাহার,
যুদ্ধভূমি মরুল, উত্তঙ্গ-সাগর-জল,
করিতে পারে না তার হৃদয় বিকার।
সুদী পার্বত্য দভে , মেদিনী-সাগর-গছে
বিহরে নিয়ত সুখে নির্ভয় হৃদয় ;
রণের শঙ্কা নাই, যথায় তথায় ঠাই,
প্রবাসে স্ববাস তার বিচ্ছেদে প্রণয়।
জলনিধি, যে পােড় বিধির বিধি
জীবনে লবণ সৃজি, হৃদয়ে অনল,
উগারিয়াদাবানল, পোড়ায় কানন তল,
সৃজিল,প্রণয়ামৃতে সেই ত গরল।
হায় ! প্রিয় কব কারে, দুখের নয়নাসায়ে,
প্লাবিত করছে ধরা রজনী বাসর
কিছুই সঙ্গতি নাই, সময় শকতি ভাই,
গিয়া হেরি সুখে তব মুখ-সুধাকর।
অতএব করে ধরি, যতনে মিনতি করি,
চিয়া আলস্য ঘুমে মানস তোমার,
লেখনীর নায়ে চড়ি, সুসংবাদ-দাড় ধরি,
কর মােরে চিন্তারূপ সাগরের পার।
দুলে আছ অনায়াসে, যেন কভু মাের পাশে,
নাহিক তােমার কিছু সম্বন্ধ সুবাদ;

}
* *
শৈশব কুসুম!
2
কৃপণতা পরিহরি, অভাগারে রুপ করি,
সুখী কর দিয়া ভব শুভ সুসংবাদ।
অন্তর সরল যার,
হয় বিকার তরে,
বিতরিতে বহুমূল্য রত্ন, অলঙ্কার ;
গৃহলক্ষ্মী লােকে দিয়া, পাষাণে বান্ধিয় হিয়া
, জলধি ! অদ্ভুত কীৰ্ত্তি করেছ প্রচার।
পার্থিব নশ্বর ধন, বিতরিলে অনুক্ষণ
বটে বটে হয় শীঘ তাহাব ব্যত্যয় ;
ধর্ম জ্ঞান বিদ্যা ব্যয, করিলে না হয় ক্ষয়
যতই করিবে দান বাড়িবে নিশ্চয়।
বিশ্বপতি সুরেশ্বর,
কত যে বিস্ময়কর
জেছেন শত বস্তু, কে বলিতে পারে ?
জলধি মাঝারে বাস,
পুরুভুজে পরকাশ
প্রত্যক্ষ প্রমাণ তার, খ্যাত এ সংসারে।
দিও দিও সমাচার, কমিবে না সুখ ভার,
ইথে তব হইয়াছে সংশয় বিষম ;
যে যাহার ভাগীদার, তা হতে বঞ্চিলে তার
কুচিন্তা-অনলে মাত্র পােড়ায় মরম।
সমাপ্ত।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Shaishab Kusum Ed. 1

Author
Ghosh,sri Amritalal
Title
Shaishab Kusum Ed. 1
File name
Shaishab Kusum Ed. 1
Text
OCR done
Citation
1884
Published
2009/10/30
Publisher
Sri Amritalal Ghosh, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
117
Library
Bally Sadharan Granthagar
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Sarobar
DLI number
513251
Barcode
4990010020247.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
D7KzHCgw9hZ
Download PDF

Shaishab Kusum Ed. 1