Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Chanda-bina
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
मन-दौ
No text on this page.
দু-বীণা
শাস্তি পাল
পা রি শিং হা উ স
র ৪ ন
২৫২ মােহনবাগান না, কলিকাতা
১৩৪
সুবলচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২৫২ মােহনবাগান নােম,
কলিকাতা
পৌষ, ১৩৪৩
মূল্য এক টাকা
भूजाका
শ্ৰীপ্রবােধ নান
শনিরঞ্জন প্রেস
২৫২ মােহনবাগান নাে,
কলিকাতা
“জননী, তােমারে স্মরিয়া আমার কাব্যের দীপশিখা
জ্বালাইয়া রাখি অবােধ অন্ধকারে,
দেখিতে না পাই, বুঝি অনুভবে, তুমি আছ কাছে কাছে,
নিজে এসে মাতা, লহ মাের দীপারতি।”
কলিকাতা,
৭ই পৌষ, ১৩৪৩
No text on this page.
সুচীপত্র
১
মাতন
আবিসিনিয়া
আবির্ভূত
উৎকণ্ঠা
পলাতকা
কাল-বােশেখী
মন-মাঝি
১৭
বরষায়
পল্লী-বর্ষা
ধানক্ষেত
সাত মাইল ১৯৩৬
১৫০ মিটারস
ধূলির শিশু
কৃষাণের ব্যথা
তুমি আর আমি
সুন্দর
অন্ধকার
৩৪
আবেদন
৪৩
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
দুটি হাত ধরি’
নিয়ে চল দুরে
অন্তহীন পথ বাহি অনন্তের পুরে
বাঁশী যেথা বাজে ক্ষণে ক্ষণে
অফুরন্ত উৎসব-লগনে ;
সপ্তর্ষিরা গাহে স্তবগান
মেঘমন্দ্র চপলার চকিত আধান।
সন্ধ্যারক্ত মেঘলােকে দিব্যাঙ্গনা যত,
তারার-দীপালি রচি’ ফিরে অবিরত
সন্ধ্যা-অভিসারে
তারি একধারে
ওরে কবি, ঝিকিমিকি আলাে-আঁধারে
লহ করি’ এতটুকু ঠাই।
যাদি পাই
মৃত্যুহীন জ্যোতির্ময় প্রাণ
গেয়ে যাব উচ্চকণ্ঠে চিরন্তনী গান।
সর্বযুগে জেগে রব আকাশের নীলিমার সাথে
নিখিলের নয়নের পাতে।
বিরহে মিলনে
প্রলয়ে সৃজনে
সুখে দুখে
অনন্তের বুকে
বল্লরীর মত ঘিরি’ তরু-সহকারে।
শুধাই তােমারে
ওগাে সুধাময়ী,
মৃত্যুরে হরিয়া মােরে করিবে কি জয়ী ?
No text on this page.
মাতন
( বােধন )
দুষ্ট ছেলে
দস্যি ছেলে
দেখ না চেয়ে
চক্ষু মেলে,
মা জননী দাড়িয়ে দোরে-
ডাকছে তােরে;
আয়রে আয়রে আয় সবাই।
তাকি তাকি ঘিনি তা
ঢাক ঢোল বাজে ঝাঁ।
বাজ বাজনা
-
সাজ সাজ না,
চণ্ডীতলায় ঢাক বাজে।
ভূত-প্রেত-তাল ওই সাজে।
ছন্দ - বীণা
গর্ত খুঁড়ে
মরছে ডুড়ে
সােলুই ফেঁসে
রুদ্র রােষে
ফোস ফোস ফোস
পালটা ঘুরে ;
দেখরে দেখরে দেখ ও ভাই।
গিনে নেজা গিনে ।
ঢাক ঢােল বাজে ঋ ।
বাজ বাজনা,
সাজ সাজ না,
চণ্ডীতলায় ঢােল বাজে।
দৈত্য দানব ওই সাজে।
( আরতি)
শম্ভু শম্ভু
শিব শিব শম্ভু !
বাজাও ঝঝির
কণ্ঠেতে
কস্তু।
শম্ভু শম্ভু
শিব শিব শম্ভু।
মা ত ন
বাজাও ঝাঁঝর
কণ্ঠেতে কস্তু।
হর হর হা।
তাকিত তাতা ।
বাজ বাজনা,
সাজ সাজ না,
চণ্ডীতলায় ঢাক বাজে।
ভূত-প্রেত-তাল ওই সাজে।
দশটি হাতে
বর্ষা মাতে,
খ কাতি
উঠছে ভাতি।
চক চক চক
সে সম্বাতে
লটর পটর লুট লুটায়।
ঘিনি তা তাক্ ঝ।
হা হা হা হি হি হি হা ॥
তা ঝ ঝ
উয়র গিজা,
ঘিনি তা তা
নাথুলা গিজা।
ই ন্দ - বীণা
চণ্ডীতলায় ঢােল বাজে।
দৈত্য দানব ওই সাজে।
(বলি)
সুপ্তি নিতে
মুক্তি দিতে
মুণ্ড কাটা
বুকের পাটা ।
ছর ছর ছর
রক্ত পি’তে
অর্থ চন্দ্র ধূম-আকাশ
খিটি তাক্ তাক্ ।
ঢাক ঢােল বাজে ঝ।
নিকি তা তা
খিটি তা তা
নাগলা গিজা
গ্যি ঝান্তা।
চণ্ডীতলায় ঢাক বাজে।
রুদ্র শূদ্র ওই সাজে।
(ধ্যান)
ভােলা দিগম্বর
ভূতনাথ মহেশ্বর।
৬
মা ত ন
বেদ আগম, পুরাণ সংহিতা
ত্রিবিধ স্বর গ্রাম
সৰ্ব্বহা হা।
খি খি খি ।
বাজ বাজনা,
সাজ সাজ না,
চণ্ডীতলায় ঢােল বাজে।
ভূত-প্রেত-তাল ওই সাজে।
অবতরি’ সুন্দরী
কালী দিগম্বরী
ভীমা-বেশী, মহেশ্বরী ;
জায়া-শিব, ত্রিলােক-সংস্থিতা,
দাত্রী পরিত্রাণ
মুণ্ডমালিনী মা।
খি খি খি ।
বাজ বাজনা,
সাজ সাজ না,
চণ্ডীতলায় ঢাক বাজে
আয়রে সবাই মার কাজে।
( মুক্তি)
জগৎ মাঝে
মায়ের কাজে
৭
ছন্দ - বীণা
পড়ল সাড়া
জয় মা তারা
জয় মা তারা-
শ
নিকি তা তা
খিটি তা তা
উয়র গিজা
গ্যি ঝান্তা।
চণ্ডীতলায় ঢোল বাজে।
আর কি তােদের ঘুম সাজে।
আবিসিনিয়া
নমাে নমাে নমাে নমি আমি ভবানীরে,
ভক্তি-অশ্রু-নীরে ;
বন্দিয়া জননীরে,
চল একবার মরু-গিরি ঘেরা
কালাে ছেলে যেথা ফিরে।
ঘন কালো কাল-ছায়া-
অতি গাঢ় কালাে কষ্টিপাথর যেন
পড়িয়াছে সেই বহু পুরাতন পাথরের পাদপীঠে
নমাে নমাে নমাে আদ্যাশক্তি
মহাদেবী মহামায়া
স্বয়ম্ভু শিবজায়া,
আ বি সি নি য়া
=
ভীমা ভৈরবী তারা,
ছিন্নমস্তা ধূমাবতী সতী সাকারা ও নিরাকারা।
মাগাে। চেয়ে দেখ, তাের কালাে ছেলে হইয়াছে গৃহহারা,
হাত হতে রাজদণ্ড খসিয়া পড়ে,
বলীর অত্যাচারে
বিষে জরজর তনু-
ওঠে আর পড়ে, গড়াগড়ি যায় ধূলার ধরণী তলে ;-
সন্তানে লয়ে সাথে
ফিরে সে দেশান্তরে
দ্বার হতে দ্বারে ভিক্ষার ঝুলি হাতে,
ভিক্ষা নাহি সে পায়-
ভাগ্য-লক্ষ্মী মাথা খুড়ে মরে অশিবের দ্বারে দ্বারে।
ভুল করে দেবী করিয়াছে প্রণিপাত
অবােধ শিশুর মত
জুড়িয়া যুগল পাণি ;-
মহাকালী তুমি, তােমারে প্রণাম করি
নমামি শুভঙ্করী।
তুমি এস মাতা, আলুলিত কেশজাল,
মাভৈঃ মন্ত্রে অশিবেরে হান অসি
পর মা মুণ্ডমাল!
নমাে নমাে নমঃ ত্রিগুণধারিণী মাতা,
অভয়া ক্ষেমঙ্করী,
এই আরাধনে অপরাধ নাহি লহ।
-
২
শ্মশান ধিয়া ধিয়া ধিয়া তা থৈ থৈ নাচিছে দিগম্বর- হর হর শঙ্কর। শকুনি গৃধিনী কাক, হিংস্র বনের পশু, একটি টুকরা মাংসের তরে করিতেছে হানাহানি। স্তব্ধ এ চরাচর, বাতাসের বুকে নিঃশ্বাস নাহি বহে, মহাশ্মশানের করাল মূৰ্ত্তি ভীম সে ভয়ঙ্কর। ব বম বম্ হর হর শঙ্কর। ডিমিকি ডিমিকি দ্রিমি দ্রিমি দ্রিম্ ডম্বৰু-করতাল সংহার মহাকাল। তা তা থৈ নাচে মুর্দফরাস মুচি, মদে ঢুলু ঢুলু আঁখি অতি লােভী তারা, লােলুপ দৃষ্টি হানি’ কদৰ্য্যতার রূঢ় আবরণে ঘন ঘন মুখ ঢাকে, আর নিয়ে যায় পুরানাে বালিশ যত ছেড়া কথা, কাঠ, কয়লা ও ছাই পাঁশ, গুড়া গুড়া পাটকাঠি, মাটির কলসী দুটা; ডিমিকি ডিমিকি ঝন রণ রণ ডম্বৰু-করতাল, সংহার মহাকাল। -~-
আ বি ভূ তা
লক্ ল ল লেলিহান শিখা, চিতার আগুন জ্বলে,
দিগ-অম্বর-তলে।
কঁদে অভাগিনী মাতা-
মৃত শিশু কোলে লয়ে
ক্ষুধার জ্বালায় জঠর জ্বলিয়া যায়,
চক্ষে নাহিক ঘুম,
পরনের শাড়ী ছিড়ে কুটিকুটি হ’ল
জড়সড় লজ্জায় ;
দিন গণে আর শিরে হানে করাঘাত,
স্তন্যদুগ্ধ ক্ষরিয়া পড়িছে ভুয়ে।
দাউ দাউ দাউ চিতার আগুন জ্বলে,
ধূম্র গগন তলে।
সংসার টলমল।
শিয়রে শমন জাগিয়া বসিয়া আছে,
ভীম সে ভয়ঙ্কর।
হর হর হর শিব শিব শঙ্কর।
আবির্ভূত
কে তুমি রূপসী,
মানস দ্যুলােক হতে খসি’
আসিয়াছ ধরায় নামিয়া
কল্পলােক-স্বর্গ আঁধারিয়া।
অয়ি মাের সুদূরের প্রিয়া,
রহিয়া রহিয়া
১১
হল - বীণা
কেন তােল মর্মভেদী সুর
কষায় মধুর,
রূঢ় বাস্তবের ধরণীতে
প্রেমের সঙ্গীতে ।
অয়ি মাের বিরহবিধুরা,
মৌন শােকাতুরা,
ধরিত্রীর নিষ্ঠুর আঘাত,
রূঢ় ঝঞ্চাবাত
নারিবে সহিতে।
নারিবে বহিতে
মানবের পুঞ্জীভূত বিচ্ছেদের ভার
গাঢ় অন্ধকার ;
জ্যোতির কিরণে
উদ্ভাসিয়া বিকীরিয়া ললিত হিরণে
ওগাে লীলাময়ী,
রহস্যের মায়াজাল বহি’
উদয়-অচল শিরে
ধীরে ধীরে
বিথারিয়া দাও তারে আপনার হাতে।
আমার এ কল্পনার সাথে
উঠুক উদ্ভাসি’
ওই জ্যোতির্ময় রূপরাশি
সৌরলােকে,
ঝলকে ঝলকে
১২
উ : ক খ
যেথা ভব স্থান
তনুর বিদ্যুৎ রূপে রহে দীপ্যমান
অভ্রভেদী শৈলমালা শিরে।
বার বার ফিরে
দেখা দাও ঐশ্বৰ্য্য সম্পদে
কমল-আকীর্ণ ফুল্ল শ্যাম নীল হ্রদে
নিঃশব্দ চরণে
বিচিত্র বরণে।
উৎকণ্ঠা
একি পরিহাস–মিছা সম্ভাষ
ভরা-বর্ষণ গগনে ;
ওগাে ভরা-বর্ষণ গগনে ;
অরুণ-নয়ানে করুণ বয়ানে
-
ধেয়ানে কেন গাে মগনে ?
ফেলে দাও সাজ ফুল-আভরণ,
কুণ্ডল-হার সিথি-কঙ্কণ—
ওগাে সৌরভহরা গৌরবভরা
এস নিকুঞ্জ-ভবনে।
—ভরা-বর্ষণ গগনে।
हम-दौ
২
এস গাে উতলা পরাণ-পুতলা
ওগাে মঞ্জু কুঞ্জ কুটিরে ;
ললিত ভঙ্গে ছলিত রঙ্গে
বলয় বাজুক উঠিরে।
ঘাের ঘনঘটা ঝরে জলধার
দুর্যোগ-ভরা কাজল-আষাঢ়
ওগাে খঞ্জন আঁখি অঞ্জন মাখি,
নাচিয়া উঠুক দুটি রে
মঞ্জু কুঞ্জ কুটিরে।
বিবশ বসন কার পরশন
স্বপন-দোলায় দুলিল,
ওগাে স্বপন-দোলায় দুলিল ;
অবশ আলসে রভস লালসে
কমল-কলিকা খুন্সিল।
দেয় আলিপনা জলধনু-আঁকা
প্রীতি-পরসাদ মধুরিমা মাখা
ওগাে মল্লীর
মধু
মধুর রাগিনী তুলিল ;
—স্বপন-দোলায় দুলিল।
পল্লীর বধু
১৪
मनाउका ৪ চল গাে সজনী পােহল রজনী, তরুণ তপন বিকাশে, ওগো তরুণ তপন বিকাশে ; বাতাস আকুল উদাস ব্যাকুল আকাশে অরুণ লিখা সে। বেতসের বনে মৃদু শিহরণ, কাননে কাননে পাখীর কুজন- ওগাে চঞ্চল কঁপি অঞ্চল ঝাঁপি বধুয়া তরাসে নিকাশে –তরুণ তপন বিকাশে। পলাতকা সবুজ ঘন গাছের শিরে দিনের আলাে নিবছে ধীরে সিদুর-গােলা মাখি, গাঁয়ের ঘরে ধোয়ার রাশি ছাউনী ফুড়ে উঠছে ভাসি কুলায়ে চলে পাখী। ২ চাহিমু আমি দূরের দিকে আকাশে রং ধ’রছে ফিকে যতই চলি কাছে ,
ছ ল - বীণা
দূর হতে সে দূরান্তরে
মেঘের কোলে ঢলিয়া পড়ে
প্রহর চলে পাছে।
গােষ্ঠ হতে ফিরিছে ধেনু
রাখাল ফুকে ভাবের বেণু
কুঁচের মালা বুকে।
ব্যাকুল বধূ ছুটিয়া আসে
নয়নে জল উথলি ভাসে
সরম-রাঙা মুখে।
৪
বুকের ক্ষুধা বাড়িয়া ওঠে
ফুলের কলি আপনি ফোটে
পাপড়ি দেয় মেলে,
বাতাস লেগে এলায়ে পড়ে
মাটির বুকে কেশর ঝরে—
তড়িৎ যায় খেলে।
নিমেষহত চকিত মনে
রহিনু পড়ে বিজন বনে
উদাস চোখে দেখি,
আঁচলখানি বুলায়ে কি এ
আলাের পিছে অাধার দিয়ে
চলিয়া গেলাে সে কি।
কাল-বােশখী
ও ভাই দাড়ি-
বেগােন বেয়ে নিয়ে চল
মেরে জোরে পাড়ি ।
আকাশ হ’ল কাজল-কালো
ওড়ার বনে চিকুর-আলাে
ওরে,
কানাল মাঝে পড়ে যাবি
চল তাড়াতাড়ি।
বাঁকের মুখে পাত্সী থুয়ে
চল, কাটাই রাতি চাটায় শুয়ে
ন’লে
যেতে হবে অতল তলে
ভিটে ঘর ছাড়ি।
কাল-বােশেখী ঝড়ো হাওয়া
উড়িয়ে দিল ছইয়ের ছাওয়া
ওই, ভেড়ীর ধারে ভিড়ােও ডিঙে
জোর লগি মারি।
মন-মাঝি
চল চল চল
মন-মাঝিরে
হাল ধরে চল।
১৭
হ দ - বীণা
আসুক আষাঢ়
আসুক শাঙন
এপার ওপার
ওরে
লাগুক ভাঙন
লক্ষ্যহারা হব না ভাই
উঠলে নায়ে জল ;
চল চল চল।
ভাসিয়ে দে নাও
বেগােন টানে
বাওড় জলে
ঝড় তুফানে-
আঁধার যতই ঘনিয়ে আসুক
হব না বিকল ;
চল চল চল।
বল মাঝি তুই
কোথায় যাবি
কোন্ ঘাটে তাের
নাও ভিড়াবি,
আসছে ছুটে ভরা জোয়ার
করছে ছলছল ;
চল চল চল।
১৮
বরষায়
একি উন্মাদ পারা
এসেছে বরষা, স্নিগ্ধ সরসা
আষাঢ়ের জলধারা।
ভয় নাই,
ভয় নাই।
আজ আকাশে লেগেছে দোলা,
শেষ করে ফেল যত কিছু কাজ
যেখানে যা আছে তােলা।
আঁধার ঘনায়ে আসে,
গরজে তটিনী, কানন-নটিনী
কল কল কল-ভাষে।
ভয় নাই,
ভয় নাই।
আজ সায়রে লেগেছে দোলা,
শেষ করে ফেল যত কিছু কাজ
যেখানে যা আছে তােলা।
ভয় নাই,
কাজল মেঘের ভেলা,
গুরু গুরু রব,
দেয়া-উৎসব
চল-চপলার খেলা ।
ভয় নাই।
নয়নে লেগেছে দোলা,
শেষ করে ফেল যত কিছু কাজ
যেখানে যা আছে তােল।
১৯
- - বী না
কেয়ার কুঞ্জতলে,-
দাদুরী ডাকিছে, ঝিল্লী কঁদিছে
জোনাকী-প্রদীপ জ্বলে।
ভয় নাই।
কাননে লেগেছে দোলা,
শেষ করে ফেল যত কিছু কাজ
যেখানে যা আছে তােলা।
ভয় নাই,
নীল অঞ্জন চোখে,
প্রান্তর পারে, আঙিনার ধারে
দাড়ায়ে রয়েছে ও কে।
ভয় নাই,
ভয় নাই।
আজ মরমে লেগেছে দোলা,
শেষ করে ফেল যত কিছু কাজ
যেখানে যা আছে তোলা।
একি বাদলের ধারা,
এসেছে বরষা,
স্নিগ্ধ সরসা
ব্যাকুল বিভাের পারা।
হবে জয়,
হবে জয়।
ওরে এ-পার, ও-পার দুলে,
শেষ করে ফেল যত কিছু কাজ
সকল বাঁধন খুলে।
২০
পল্লী-বর্ষা
আকাশ হয়েছে ঘােলা,-
আজিকে আষাঢ়ে প্রাণের দুয়ারে কে যেন দিতেছে দোলা
ঘন কালাে মেঘ চলিতে চাহে না—ছলছল জলধারা,
কাননকুমারী মাটির গন্ধে হইয়াছে ঘরছাড়া।
বাদল বাতাসে উতলা আকুল, বাহিরিয়া আঙিনায়,
পিপাসা-কাতর চাতকের মত জলদের পানে চায়।
কালিয়া মেঘের কোমল কাজল সজল বরণ দেখে,
বেড়ার গায়েতে খুঁটিয়া খুটিয়া নখের আঁচড় লেখে।
মুখের উপর উড়িয়া পড়িছে দীঘল আউল কেশ,
মনের আড়ালে নয়নের জলে ভিজায় বুকের বেশ।
ভি-দেশী তার বন্ধুর লাগি’ কাজল গলিয়া যায়,
বাদলের জলে ভিজিয়াছে মাটি—আলতা-রঙীন পায়।
উড়িছে গােলের ছৈ,
মাঠের কিনারে কানায় কানায় জল করে থৈ থৈ।
ক্ষেত-খােলা সব ভরিয়া গিয়াছে--সবুজে ঘােলাটে ছেয়ে,-
গাঁয়ের ওপারে অশথের শিরে বরষা নামিছে ধেয়ে।
দূরে গাছপালা ঝাপসা হয়েছে, ঝাপ্সা শ্যামল বাট,
বাঁশের কেরুলে ঝিঝির ঝাঁঝর, জনহীন পথঘাট।
বেতসের বনে বাঁশরী বাজিছে বাউল বিভােল বায়,
শুক্ননা পাতারা ভাসিয়া ভাসিয়া লুটায়ে পড়িছে পায়।
কৃষাণকুমার ছিপ লয়ে হাতে ঘুরিছে বিলের ধারে,
গুগলি টোপের জাওলা জাগায়ে নেউটিয়া তারে নাড়ে।
-
ছ ল - বীণা
চিড়ে ও চাউল কেঁচড়ে ভরিয়া বাটিয়া গুটিয়া খায়,
টোপের টানায় নয়ন নিমেষে ডাঙায় তুলিছে তায়।
কৃষাণকিশাের নাবাল জমিতে হাওড় হাবড় ঠেলে,
মাথায় পরিয়া তালের মাথাল বীজের ধান্য ফেলে।
কৃষাণ-কনেরা ঘুণী বসাইয়া ভাঙনের ধারে ধারে,
আওড় জলেতে দোয়াড় ফেলিয়া চিতল কাতল মারে।
এ-হেন বাদলে বিউনী বাতাস আছাড়ি’ বিলের পরে,
বিরহী বালার প্রথম চুমার সরস শবদ করে ।
গুরু গুরু ডাকে দেয়া,
শালুক ফুটেছে, শাপলা ফুটেছে, কাননে ফুটেছে কেয়া।
যুঁই চাপা বেল, কদম কেশর, কাঞ্চনলতা কত,
রজনীগন্ধা কাঠ-মল্লিকা
বকুল মালতী শত।
আজিকে আষাঢ়ে পথ ঘাট সব পিছল হয়েছে ভারি,
বকুল কুড়াতে কাননকুমারী শাখায় জড়াল শাড়ী।
পথের মায়ায় ঘুরিয়া ঘুরিয়া মাটিরে দলিয়া চলে,
শতেক কাজের মাঝারে থেকেও বুকের আগুন জ্বলে।
জানি না সে আগ, কেমনে নিভিবে, কখন গাথিবে মালা,
কোকিল কুহরে, যাও যাও ঘরে, বিরহী কাননবালা।
=
আশায় বাঁধিয়া বুক,
পথের কিনারে দাড়ায়ে ক্ষণেক ভাবিল কাহার মুখ!
সে-মুখ চঁাদের বিমল জোছনা যেমনি পড়িল মনে,
কানন ছাড়িয়া চকিতে চলিল মাটির ঘরের কোণে।
কত না ছলে কবরী বাঁধিল, বকুলের মালা তাতে,
সিথায় সিদুর আঁকিল যতনে, কাজল আঁখির পাতে ।
২২
ধা ন - ক্ষেত ভিন্-দেশী তার বন্ধুর লাগি’ সাজায়ে ফুলের ডালা, উছল নয়নে দাড়ায়ে রহিল কিশােরী কাননবালা। মাটির প্রদীপ জ্বলিল কতই তুলসী-মঞ্চ তলে, প্রণাম করিল আলায়ে বালায়ে আঁচল জড়ায়ে গলে। দু হাত জুড়িয়া কি কথা কহিল, কি গান গাহিল তারা, কি ভাষা তাহার, কি সুর কি ছাদ, কে জানে কেমন ধারা ধানক্ষেত শূন্য ধানের ক্ষেত- আজি বৈশাখে ধূ ধূ করে মাঠ নাহি কোন সঙ্কেত। তামাটে মেঘের ছায়া পড়িয়াছে, কাহারো নাহিক সাড়া, মাঠের মাঝারে গুমরি’ কঁদিছে শুনাে ধানের নাড়া। বাউরী বাতাস পক্ষ মেলিয়া উড়িতেছে সন্ স, মাথার উপরে ঝা ঝা করে রােদ, দাবানল হুতাশন। কেমনে যাইবে, ডােবা কুড়ে বিল, কাটিতে সে বােয়াে-ধান, কেমনে যাইবে আউশ বুনিতে কেবা করে সমাধান। কেমনে যাইবে ওঁচল পােড়াতে গায়ের চাষীরা জুটি, কেমনে যাইবে গাে’লের মাঝারে লইতে বলদ দুটি। হরিৎ ধানের ক্ষেত- আজিকে আষাঢ়ে পেয়েছ কি তুমি বরষার সঙ্কেত ? পূবালী মেঘের পরাগ মাখিয়া ঘােট ছােট ধানচারা, হলুদ রঙের শাড়ীখানি পরি’ গুণ্ঠন খুলে তারা।
ছন্দ - বীণা কৃষাণ কাতর মুঠেরে মলিয়া মাথার ঘাম সে ফেলে, কটিতে কষিয়া কাছলা কাপড় কেবলি লাঙল ঠেলে। কেহ দেখি সেথা পাখনা দিতেছে মাটিরে সমান করি, কেহ বা সেথায় অাঁচড়া বুলায় গরুর লাঙল ধরি, কেহ দেখি ব’সে জটলা পাকায়, বেওনা ভাঙিয়া ফুকে, কেহ বা বসিয়া হাতের ফোকরে তামাকু টানিছে সুখে, কেহ দেখি সেথা হেঁওত রুইছে ক্ষেত হতে ক্ষেতে তুলি’, কেহ বা সেথায় বহিয়া আনিছে ধানের আঁকুরগুলি। সবুজ ধানের ক্ষেত- আজিকে আশিনে পাতা দোলাইয়া কারে কর সঙ্কেত ? যে দিকে তাকাই লুটায়ে পড়িছে সবুজে গিয়েছে ভরে, বকের বালিকা শেফালি ছড়ায়ে মালিকা গাঁথিয়া ওড়ে। ঝিল্লীরা মিলি’ বন্দনা গায় সবুজ ঘােটা পরি’, সারসী রূপসী চামর দোলায় জলের আঙিনা ভরি। শাপলা মেয়েরা বরণের লাগি’ নয়ানজুলির জলে কলমী-লতারে জড়াইয়া ধরি’ উঠিতে চাহিছে থলে। আউরী বাতাস দোল দিয়ে যায় সকাল সাঁঝের নায়, কল্যাণ-ভরা কাজল নয়ান সুদূর হইতে চায়। সােনার ধানের ক্ষেত- আজিকে আগণে মাথা নােয়াইয়া, কিবা তব সঙ্কেত । মাঠে মাঠে আহা সােনা ফলিয়াছে, কঁকণের রিনিঠিনি, কৃষাণকুমারী অলক দুলায়ে বাজাইছে শিঞ্জিনী। কেহ দেখি সেথা খড় লয়ে কঁাখে, কুড়াইছে ঝরা-ধান, কেহ বা সেথায় সবার আড়ালে গুণাইয়া গাহে গান । ২৪
সা ত মা ই ল ১১ ৩ ৬
কেহ দেখি, সেথা বলয় বাঁধিয়া পাড়িছে ধানের গাদি,
কেহ বা সেথায় মুখােমুখি বসে থুইতেছে বীড় বাঁধি’!
কেহ দেখি শিরে তড়পা লইয়া হাঁটিতেছে পায় পায়,
কেহ বা সেথায় দাড়ায়ে বাঁধালে আধেক আদুল গায়।
এই ধানক্ষেত, এইখানে আসি’ কৃষাণকুমারী যত
মনের হরষে পাপড়ি খুলিছে কমল-কলির মত।
এই ধানক্ষেত এইখানে এলে জুড়ায় তনু ও প্রাণ,
উততলী বাতাস লুকাইয়া ভাঙে বিরহী বধুর মান।
এই ধানক্ষেত এইখানে এলে সব কথা ভুলে যায়,
রাখাল কিশাের বাঁশরী হারায়ে বাউলের মত চায়।
সাত মাইল ১৯৩৬
-রেডি
আয় ভাই মদনা
ফোটকে পান্না
লীলা রাণী
চণ্ডে খান্না,
ওই শােন হুইসিল
বাজছে লঞ্চে,
সার সার দাড়া
দাড়া মঞ্চে।
সাত মাইল পাল্লা
বালির ঘাট
সাত জন সংখ্যায়
নিচ্ছে ষ্টার্ট ।
২৫
৪
ছদ - বী শা যাত্র- . সাত জন সাঁতরে, সাত জন মাল্লা, সাত জন রক্ষী দেয় দূর পাল্লা। দর্শকমাত্রেই করে হাল্লা, হিন্দু বলে—জয় মা কালী, মুসলিম বলে—আল্লা আল্লা। সাত মাইল পাল্লা বালির ঘাট সাত জন সাঁতরে নিচ্ছে ষ্টার্ট। শঙ্খ তিন-পেঁড়ে পাল্সী এক-পেঁড়ে ডিঙ্গে পট পট ল্যাজ নাড়ে রঙ-করা ফিঙ্গে। = মাঝি মাল্লা ষ্টার্টার পঁড়ি- চৌদিকে হৈ হৈ রৈ রৈ ভারি ; ভাটির টানে ভাসিয়ে না’ মারে চুমকুড়ি, গোঁফে তা। - ২৬ সা ত মা ই ল ১৯ ৩ ৬ সাত মাইল পাল্লা বালির ঘাট সাত জন মাল্লা নিচ্ছে ষ্টার্ট । —চলতি সাত সায়রে সঁতার কাটি আমরা সাত জন সাত মাইলে জিতব বলে প্রাণ করেছি পণ— মােরা প্রাণ করেছি পণ। সাতার-পােকা মাথায় নিয়ে ষ্টার্টের মুখে ভড়কে গিয়ে মারছি পাড়ি উজান দিয়ে সাত সমিতির জন- মােরা সাত সমিতির ধন। মার পাড়ি ভাই, মার পাড়ি মার পাড়ি ভাই, মার পাড়ি মুখ ডুবিয়ে হাত চুবিয়ে গড়গড়িয়ে তরতরিয়ে ২৭ ছন্দ - বীণা গাও হিলিয়ে পাও মিলিয়ে এক দুই আর তিন চারি সালে চলিস ভাই- হা হা সামলে চলিস ভাই। মাঝগাড়ে দেখ হাঙর-কুমীর মারছে কত ঘাই। হাে হাে সালে চলিস ভাই। —মধ্য পথে- ঝঙ্কা ঝড় জল গঙ্গা টলমল মুখর চঞ্চল তুফান ঢেউ ;- বিদ্যুৎ চমকায় সাতরে শঙ্কায় সাতটি সংখ্যায় আর নেই কেউ সাত জন সাঁতরে সাতটি জাত রে সবাই হাতড়ে মরছে ভাই। ২৮ সা ত মা ই ল ১৯৩৬ দর্শক বর্বর করছে হড়বড় দাড়িয়ে পর পর তুলছে হাই। ঘূর্ণি- মাঝ গঙ্গায় সাঁতার কাটি জল ঘুলিয়ে উজিয়ে ভাটি সুস্থ মােরা, স্বাস্থ্য খাঁটি অসুখ মােটে নাই, হা হা অসুখ মােটে নাই। পান-কৌটির মত মােরা ডুব গালিয়া যাই। হাে হাে লিভার পিলে নাই। কাজের মধ্যে সাঁতার কাটি ডুগডুগি বাজাই। -শেষ- মা পাড়ি মায়ূ পাড়ি মা পাড়ি ফোটকে, ওই দেখ মদনা এগােয় ছােটুকে।
ছ - বী বা
মা পাড়ি
মা পাড়ি
মা পাড়ি চণ্ডে,
পয়লাই আসবি
দু এক দণ্ডে।
এক দুই তিন চার
—কল আর ট্রাজান,
নিশ্বাস প্রশ্বাস
চাই বল—চাই জান।
ভাটির টানে ভাসিয়ে গা-
হাতের স্ট্রোকে যা ভাই যা।
এক দুই তিন চার
—ক্ৰল আর ট্রাজান,
ডাইভিং, প্লাজিং ;-
চাই বল—চাই জান।
ভাটির টানে ভাসিয়ে গা-
পায়ের ষ্ট্রোকে যা ভাই যা।
সাত মাইল সাঙ্গ
বেনিয়াটোলা,
গঙ্গার জল আজ
বড়ই ঘােলা
-
৩.
১৫০০ মিটাস
আজকে কি বার ?
বেপতিবার,
ফিফটিন হান্ড্রেড মিটার শেষ ?
তাই বুঝি আজ পুকুরপাড়ে
হাজার লােকের সমাবেশ।
–
ঢং ঢং ঢং ঘন্টা বাজে,
কষ্টুম পরে সাঁতরে সাজে
কলার-ডেকো, ডেকেই সারা।
মঞ্চের উপর পঁড়িয়ে কারা ?
জাজেস যারা ?
কপিটিটাস রেডি,
কপিটিটাস রেডি।
—হাড্রেড মিটাস
ফ্রি-ষ্টাইল,
–
ফিফটি মিটান্স লেডি ;-
কপিটিটাস রেডি,
কমপিটিটাস রেডি।
আজকে কিন্তু ফ্যাইনাল নয়
কমপিট করবে পাঁচ আর ছয়।
আগে ফিফটিন হান্ড্রেড শেষ,
পরে হাড্রেড মিটাস রেস।
ছন্দ - বীণা লেডিজ সাঁতার ছেড়েই দাও, আইটেম্ মধ্যে ওইটি ফাও। সংখ্যা কত ? সংখ্যা পাঁচ। সংখ্যা কত ? সংখ্যা ছয়। সংখ্যা কত ? সংখ্যা সাত। সংখ্যা কত ? সংখ্যা আট। চারটি সংখ্যা নাইকো শঙ্কা বাজাও ডঙ্কা লও গো ষ্টার্ট । সাতার তত্ত্ব বিষম শক্ত যতেক ভক্ত জমায় হাট। পাঁচ-ছয়-সাত-আট পাঁচ-ছয়-সাত-আট ওই দেখ—ক্ষেত্তর নিচ্ছে ফলস ষ্টার্ট- চার জন সংখ্যায় পর পর দাড়িয়ে ২
১৫ • • মি টা স
এ ওর মুখ চায়
স্টার্টার ভাড়িয়ে।
‘আর ইউ রেডি
অন ইওর মার্ক ?
—যেমনি বলবে
অমনি জার্ক।
বলছি আমি—ঝাপিয়ে পড়
জাকের সঙ্গে পাড়ি ধর।
সংখ্যা চোদ্দ
মস্ত মদ,
কলার ডেকে
ডেকেই হদ্দ।
যদ্য ফিটিন
কাটছে চিটিন।
টোয়েটি কিন্তু অ্যাবসেন্ট স্যার ।
ষ্টার্টে নাইকো দুই তিন চার।
সাতার-তত্ত্ব চমৎকার।
বলছি শেখ বারম্বার।
আজকে মদনা
কাটবে সিক্স-বিটুস ;
মাইলের এই শেষ
ফাইনাল,
নাই হিটুস।
ছ ন - বী শা
ডাইভিং, প্লাজিং, গার্লস রেস্
রবিবারেই ফাইনাল শেষ।
সাবাস মদনা, সাবাস ভাই,
সব্বার আগেই আসা চাই।
ধূলির শিশু
==
রে ধূলির শিশু, কোথা যাস ম্লান বেশে
কাল-মহা-তীর্থ পথে তরীখানি বেয়ে,
দাবদগ্ধ জীবনের শেষ গান গেয়ে
এই রঙ্গমঞ্চ ছাড়ি’ অভিনয় শেষে ?
ওরে হতগৰ্ব্ব
মূক
কিশাের-কলিকা,
তাের হৃদয়ের সব রঙ্গ-হাস্য দিয়া
পারিলি না বাঁধিতে এ নিখিলের হিয়া,
গাঁথি চুপে আঁখি পরে অশ্রুর-মালিকা?
জন্ম-মৃত্যু পারাবার—বালুকার বেলা
নিরন্তর তরঙ্গের নিষ্ঠুর আঘাত,
মূচ্ছনায় মূচ্ছাতুর—ভাঙা-গড়া খেলা।
মানবের অহঙ্কার দন্ত ঘৃণা হেলা
অস্থিস্তুপে ভস্মরূপে হয় ধুলিসাৎ
লভে নব জাগরণ বিদায়ের বেলা।
-
কৃষাণের ব্যথা
ও মাের কৃষাণী-
কেমন কইরা রুখবাে আজি
দুইটি চক্ষের পানি ?
ঘরটি গেলে, জোয়াল গেলাে,
ভরতি গােলার ধান,
গরু বাছুর বলদ গেলাে,
লাঙ্গল দুইখান।
-কি হবে মাের জানি।
আহা
মহাজনের অত্যাচারে
ছাওয়াল ঘরে রইতে নারে,
তারে বিনা অপরাধে মারে
কইরা টানাটানি।
সােনার কাঠি রূপার কাঠি
বাসন কোসন ঈসা খাঁটি
লগদী নফর নিল বাটি
থুইয়া খােমাখানি।
খাজুর পাতার টোকা লয়ে,
ছেড়া কান্থার বােঝা বয়ে
বুকের জ্বালা সয়ে সয়ে
ডুকরে
উঠি রাণী ।
তুমি আর আমি
তুমি সখি ওই পারে, আমি হেথা একা,
তােমার আমার মাঝে চির-ব্যবধান
তুমি কঁাদ, আমি কঁদি, অশ্রু-পারাবার
নাহি জানি কোথা আদি, কোথা তার শেষ
ওঠে আর পড়ে ঢেউ, যুগ যুগ ধরি’
দিগন্তে লুটিয়া মরে বালু বেল-তটে।
সৃজনের আদি হতে সহস্র লীলায়
দেখা দিলে বারম্বার বিচিত্র বরণে,
সায়াহ্ন সন্ধ্যায় কত রঙ-ধরা মেঘে,
রাত্রির তমসা-মগ্ন শান্ত অবসরে,
দিবসের জ্বালাময় দৃপ্ত কোলাহলে
অবসন্ন সৌন্দর্য্যের নীরব উচ্ছ্বাসে।
তােমারে পারি নি কভু করিবারে জয়,
নারিনু বাঁধিতে তােরে ছন্দের নিগড়ে ;
ধবল তুষারাকীর্ণ উচ্চ শৈলচূড়ে
তরঙ্গিত সমুদ্রের জল-কলােচ্ছাসে,
বজ্রের দিগন্তপ্লাবী গুরু মন্দ্র মাঝে
দক্ষিণ সমীর-স্পর্শ দেবদারু শিরে।
তুমি সখি, রহস্যের গুণ্ঠননমিতা,
দুঃখ শােক আনন্দের চির-সহচরী ;
৬
তােমারে ঘিরিয়া ছুটে রবি শশী তারা
গ্রহ উপগ্ৰহ কত অনন্ত আকাশে,
তৃণাকীর্ণ ছায়াময়ী সরস্বতী-কূলে
শত শিষ্যপরিবৃত গৌতমের মত।
নাহি জানি কার শাপে প্রেমের গৌরবে
বাঁধিলে আমারে সখি, বিরহবন্ধনে ;-
বিচিত্ররূপিণী অয়ি, জীবনসঙ্গিনী,
অন্তরে পেয়েছি তব গৃঢ় পরিচয় ;
তােমারে বেসেছি ভাল প্রথম উষায়
আজো তােরে ভালবাসি বিষন্ন-সন্ধ্যায়।
সুন্দর
পরম-সুন্দর তুমি প্রেমের মূরতি,
কম্পিত পল্লব-ঢাকা লাবণ্য-মুকুল,
উতল সমীরস্পর্শে মুঞ্জরিয়া উঠি
মধুর সৌরভ-ভার দিগন্তে ছড়ায়ে
জ্বলিয়া বাসনা-বহ্নি, লুষ্টিয়া হৃদয়
মুহূর্তে মিলায়ে যাও কোথায় কে জানে।
জানি সখি, দিবাশেষে ধূসর সন্ধ্যায়
ছল ছল জলধ্বনি, বিহঙ্গ-কুজন,
পাষাণ-সােপান 'পরে রণিত মঞ্জীর,
ব্যাকুল মিনতি-ভরা কঙ্কণ-গীতিকা,
ই ন্দ - বীণা
-
শ্যামল অঞ্চল-লীন গােধূলি-আলােক
তারাও মিলায়ে যায় সায়াহ্ন-অন্তরে।
জানি সখি, নিশা-নভে বিষন্ন তারকা,
শিশির-পাণ্ডুর বাঁকা দ্বিতীয়ার চঁাদ,
কুষ্ঠিত মাধবীলতা দেউল-প্রাঙ্গণে,
তরঙ্গচুম্বিত কালাে তমসার নীর,
কালের প্রবাহে পড়ি’ অনাগতে খুঁজি
তারাও মিলিয়া যায় রহস্যতিমিরে।
জানি সখি, এক দিন নীলাভ আকাশে
মেঘের অঞ্চলতলে লভিয়া আসন,
বন্ধুর পিচ্ছিল পথে দু বাহু পসারি’
অলক্ত-লাঞ্ছিত পায়ে সুমুখে আসিয়া
আমারে টানিয়া লবে নয়ননিমিষে,
উন্মাদ কল্পনা-ঘেরা ঊষার আলােকে।
জানি সখি, জানি আমি কালের মহিমা,
একটি ইঙ্গিতে যায় লুটিয়া টুটিয়া,
কবরী খসিয়া পড়ে, উদ্ভিন্ন যৌবন,
দশন মুক্তার পাঁতি, তনুদেহখানি
শাশ্বত সত্যের কাছে মাগে পরাজয়।
—সেই তত সুন্দর সখি, বিকাশ বিলয়।
সুন্দর তােমার প্রেম অতল গভীর,
উপলমুখর গতি মঞ্জীর-নিকণ,
অন্ধ কা র
সুন্দর তােমার তনু প্রসন্ন সতত
মধুপ-গুঞ্জন গানে চঞ্চল অধীর,
সুন্দর তােমার মূর্তি ধ্যানের অতীত,
বিশ্বের হৃদয়মাঝে বিস্ময় পরম।
অন্ধকার
অন্ধকার। অন্ধকার।
অবশেষে নেমে আসে ঘাের অন্ধকার
মেলি’ জটাভার
নিঃশব্দ চরণে,
তিমির বরণে
দুর্গম কুটিল পথে নির্জন দেউলে ;
মহাতীর্থ লাগি’ যেথা এক দিন গিয়াছিনু ভুলে
==
দেখেছিনু বাতায়ন পরে
সন্ধ্যাদীপ করে
ছল ছল দুটি কালাে আঁখি ;
ক’য়েছিনু ডাকি’
হে বন্ধু আমার, চেয়ে দেখ দূর দিগন্তের তলে,
আষাঢ়ের অপরাহু-বেলা যায় চলে ;
ম্লান সান্ধ্যকরচ্ছায়া খণ্ড মেঘ হতে
ঢলে পড়ে দুই মধ্যপথে।
ছন্দ - বীণা
উড়ে যায় বলাকার দল
মুখর চঞ্চল।
মুক্ত শির 'পরে
সায়াহ্নের মন্দ বায়ুভরে
কঁপে থরথরে--
নারিকেল পত্রগুচ্ছগুলি।
ম
বক্ষ উঠে দুলি’
চঞ্চলিয়া
উদ্বেলিয়া
ঝরে অশ্রু-মন্দাকিনী দু কপােল বাহি’।
মনে পড়ে সেই দিন উঠেছিলে কি সঙ্গীত গাহি’
কহি’ দম্ভভরে
স্পর্শ-ব্যগ্র সুকোমল দুটি কর ধরে,
ভয় নাই-ভয় নাই, হে পান্থ নবীন
কেন এ সংগ্রাম তব দীর্ঘ রাত্রি দিন।
মনে পড়ে
সেই দিন কৌতূহল ভরে
অকস্মাৎ দীপ নিভাইয়া
অয়ি মাের প্রিয়তম প্রিয়া,
ঢেকেছিলে অসত অঞ্চলের প্রান্ত দিয়ে মােরে।
তার পরে
ঝিল্লীমন্দ্র রজনীর গাঢ় অন্ধকারে
প্রেমের ঝঙ্কারে
গলাইলে তনু-মন-প্রাণ
শুনাইলে নব নব গান।
অন্ধক
তার পরে
তন্দ্রালস ভরে
সেই অন্ধকারে
চকিত ঝঙ্কারে
লাবণ্যের দৃপ্ত জ্যোতি হতে
শ্যাম-শপ পথে
হেরিলাম শুভ্র বক্ষ তব,
অভিনব
কটিদেশ, সুনন্দিত উরু,
নিত্যদ্বন্দ্বরতা দুটি অতনুর ভুরু ;
পাশবদ্ধ নয়ন-চকোর
বিঘল ৰিভাের।
মনে পড়ে তুলেছিলে শতলক্ষ সুর
সুতীব্র মধুর,
কপােত-কূজন-কণ্ঠ-আনন্দের ধ্বনি।
উঠি’ রননি
লেপি’ দিয়া সৰ্ব্ব অঙ্গ মাের
আঁখি-প্রান্তে ঢেলে দিলে গাঢ় ঘুমঘাের,
হল একাকার
অন্ধকার
অন্ধকার।
বক্ষে গুরুভার
স্বপনে শুনিনু দুরে মুহুর্মুহু ডাকি
উড়ে যায় নিশাচর পাখী,
৪১
- বী
তিমির গহ্বয়ে
অস্তাচল শিখরের 'পরে
জনশূন্য পাষাণের ঘরে।
প্রেতলােক যেথা করে বাস,
যাহাদের উত্তপ্ত নিশ্বাস
জন্ম লভি’ বাস্পরূপে
চুপে চুপে
উড়ে উড়ে
ঘুরে ঘুরে
তুলি’ মেঘভার
সমগ্র বিশ্বের বুকে ঢালে অন্ধকার
পশি’ প্রিয়াহীন ঘরে,
শিশুহারা মাতৃবক্ষ পরে,
যুগ যুগ ধরে।
•
ভারানত, শুনি শতবার
সঙ্গীত তােমার,
ওই তব মৌন-অভিসার
অয়ি অন্ধকার।
৪২
আবেদন
ন
দীপখানি নিভাইয়া
অজানার মত কোথা চলে গেলে পরিচয় নাহি দিয়া।
কে গাে নিদারুণ, নিরমম অতি, বঞ্চিত মােরে করি’
বৃন্ত-বিহীন করিলে কুসুমে পেলব পাপড়ি ধরি।
দেউলের দ্বারে আথারে পাথারে কেন নাহি দিলে ঠাঁই,
সােনার প্রতিমা বােধনের আগে চলে গেল বুঝি তাই।
জানিতাম যদি এত ব্যথা তার বেজে উঠে পায়ে পায়ে
রাখিতাম ধরি’ পূজা-আরতির ধূপ-ধোঁয়া আবছায়ে।
সুন্দর নিরুপম,
অপরাধ যত চরণে তােমার-ক্ষম তুমি মােরে ক্ষম।
জীবন-প্রদীপ নিভিয়া আসিছে, আরতি হয়েছে শেষ,
তব তীর্থের নন্দিত পথে চলেছি নিরুদ্দেশ।
চলিতেছি পথ একা-
বিপুল বিষাদ বিজন বেলায় দাও দাও মােরে দেখা।
আর কতকাল এমন করিয়া নিশীথ-নয়নজলে
ব্যাকুল বাসনা লুকাইয়া রাখি ম্লান মাের হাসিতলে ?
আর কতকাল প্রাণ-পারাবার মন্থন করি তারে
তােমার মনের সব কথা সয়ে কেঁদে ফিরি দ্বারে দ্বারে।
আর কত কাল রবে দূরে দূরে-কথা কও, কথা কও,
পাষাণীর মত থাকিও না আর, প্রাণময়ী তুমি হও।
কোথায় করুণাময়ী,
দূর হতে শােন সকরুণ অতি গাহিতেছি তব ত্রয়ী।
সন্ধ্যা নামিছে ধীরে-
পবিত্র কর, নির্মল কর, তব তীর্থের নীরে।
৪
No text on this page.
পথচারী’ ও ‘ছায়া’ সম্বন্ধে অভিমত নবীন কবি ছলে দক্ষতা দেখাইয়াছেন এবং বিষয়বস্তুতে বহ বৈচিত্র্য আছে।•••পল্লী কবিতাগুলি সত্য সত্যই চমৎকার, পল্লীর প্রতি একটি অনির্বচনীয় মধুর প্রতি লেখকের অনেকগুলি কবিতাকে রসসিঞ্চিত করিয়াছে। লেখকের দেখিবার চোখ আছে, অন্তরে দরদ আছে•••••• (প্রবাসী) ••••••পল্লী কবিতায় কবির প্রকৃতি বােঝা যায়, কিন্তু আকৃতি বােঝা যায় ।•••কবিতাগুলি পড়িয়া বর্তমান কবির কবি-প্রকৃতি ছাড়াও তাহার শক্তির আকৃতি সম্বন্ধে খানিকটা ধারণা করিতে পারিলাম।•••কবিতাগুলি কবির মনঃকর্ষের পরিচায়ক।••••.. (শনিবারের চিঠি) .••••কবির নবতর শক্তির পরিচয় আমাদিগকে কেবল মুগ্ধ নয় বিস্মিত করিয়াছে। ইনি কবি—জাত কবি-পল্লী কবি বলিলে ইহার পরিচয় সঙ্কীর্ণ করা হয়, এই কথা বলিতে পারিয়া এবার আনন্দ লাভ করিতেছি।•••••• ( বিচিত্রা ) •••••কবিতাগুলি বেশ মিষ্টি এবং সহজ রসের-নরম আ হৃদয়ের এইগুলি পরিচায়ক। নদীমাতৃক বাংলা ইতিপূর্বেই তাঁহাকে সাঁতারু হিসাবে আকর্ষণ করিয়াছে, তাহার রচিত কবিতাবলীর মধ্যেও সেই স্বচ্ছ নদীরূপ ফুটিয়া উঠিয়াছে। ছন্দের বৈচিত্র্যও কবিতাগুলির মধ্যে কম নহে এবং এই দিক দিয়াও কবি শক্তির পরিচয় দিয়াছেন। ( আনন্দ বাজার) ......In these days of pseudo-mystic poems, when every sallow lad aspires to Maeterlinckian height, it is refreshing to go through poems which you can understand...' .... The young poet possesses poetio vision, power of versification and rich imagery to a degree....' (Amrita Bazar Patrika) ।
কবির লেখা অন্য বই- ছায়া (কাব্য) পথচারী (কাব্য) সন্তরণ-পরিচয় সন্তরণ-বিজ্ঞান (যন্ত্রস্থ )
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.