Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Chitrabidya

Ghatak,adishwar · 2010/04/5

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

চিত্রবিদ্যা।
শ্রীআদীশ্বর ঘটক প্রণীত।
কলিকাতা
ভবানীপুর ২১ কেদার বোসের লেনস্থিত
*ডায়না প্রিন্টিং ওয়ার্ক” হইতে সীতানাথ বটব্যাল কর্তৃক মুদ্রিত
এবং গ্রন্থকার কর্তৃক কালীঘাট খাও,সন ৪নং ভবন হইতে প্রকাশিত।
সন ১৩১৮ সাল।
মুল্য ৩৭

। এই পুস্তক ভারত গভর্ণমেন্টে রেজেষ্টারি করা হইয়াছে শুদ্ধিপত্র। পৃষ্ঠা পংক্তি গ্রাক গ্রাসের গ্রীক গ্রীসের গ্রীক গ্ৰাক লক্ষ্য ৯ ১ লক্ষ শিল্পী ১২ শিল্পী ১৪ যে ভারতীর শিল্পের ভারতীয় শিল্পের ১৮ ১৮ ২৪ করির। কল্পনা ২৭ করিয়া কঙ্গনা নিভুল দোষ নিভূল ৪০ দোষ 80 ১৯ ৪৬ কাগজ ৭৮ কাগজা অবিভূত বহিরে মনােযাগী ভয়তবর্ষের ১২ অভিভূত বাহিরে মনোযােগী ভারতবর্ষের ১১৪ ১২২ २२ কশলা ১২৪ ২ আদ্র ১৩১ ২৪ ১৪২ একবণীয় শিক্ষাথির or y আর্দ্র একবণীয় শিক্ষার্থির ১৪৩

No text on this page.

No text on this page.

t গারভাগ ম্যাডােনা (বাফেল ঐ চি ইতে)।

ভূমিকা। শিল্প বিদ্যালয় অথবা সহর হইতে যাহারা দুরে বাস করেন, তাঁহারা পুস্তক সাহায্যে চিত্রবিদ্যা শিক্ষা করিতে পারেন, এ প্রকার পুস্তক বাঙ্গলা ভাষায় নাই। গ্রন্থকার যে সময়ে চিত্রশিল্প শিক্ষা করেন, সেই সময়ে তাহার যে সকল বিষয় জানিবার আবশ্যক হইয়াছিল, এই পুস্তকে সেই সকল কথা বুঝাইবার চেষ্টা হইয়াছে। প্রায় ১৮ বৎসর পূর্বে এই পুস্তক খানি লিখিত হয়। সেই সময়ে ইহার উপক্রমণিকা অংশ যেমত লিখিত হইয়াছিল, এক্ষণে তাহার অতি সামান্যই পরিবর্তন হইয়াছে। যাহাকে পাশ্চাত্য শিল্প কহা যায়, তাহার উৎপত্তি গ্রীক দেশেই হয়। গ্রীক শিল্পকলার শ্রেষ্ঠত্ব সকলেই স্বীকার করেন। সেই গ্রীক পদ্ধতি মতই চিত্রবিদ্য। এক্ষণ কার সকল সভ্য সমাজে প্রচলিত। গ্রীক শিল্পকলার সংমিশ্রণে ভারতীয় শিল্পকলার লােপ হইয়া যাইবে, এ প্রকার ভয় করিয়া যাহারা দৃষ্টি- বিজ্ঞান বিবর্জিত, মানব দেহের সামঞ্জস্য বিবর্জিত, যাহা ইচ্ছা তাহা একটা শিল্প পদ্ধতির প্রচলন করিতে চেষ্টা করেন, তাহাদের সফলতা লাভ হইবে না, এই প্রকার ভবিষ্যত বাণী করিতে দিব্য জ্ঞানের আবশ্যক নাই। ভারতবর্ষে বহু পূৰ্ব্বকালে আর একবার গ্রীক শিল্পকলা মিশিয়াছিল। ভারতীয় শিল্পকলা কি সেই তুফানে ভাসিয়া গিয়াছিল ?—যদি সে সময়ে ভারতীয় শিল্প কলা আপন জাতি বঁাচাইতে পারিয়া থাকে,-গ্রীক শিল্পের সংমিশ্রণে উন্নত হইতে পারিয়া থাকে ; তাহা হইলে এ সময়ও ইউরােপীয় শিল্পের তুফানে ভারতীয় শিল্প ভাসিয়া যাইবে না। ইটালীয় চিত্রকর দিগের অনুকরণ করিতে গিয়া ফ্রান্স, জার্মেনি, ইংলণ্ড শিল্পোন্নতি কৰিলেও আপনাপন দেশের শিল্পকলার পৃথকত্ব অথবা জাতিগত বিশেষত্ব রাখিতে পারিয়াছেন; ভারতবাসী তা পারিবেন না কেন? স্বভাবের অনুকরণ করিতে পারিলেই চিত্রকর সকল প্রকার জাতীয়ত্ব দেখাইতে পারি- বেন। স্বরগ্রাম পরিত্যাগ করিয়া সঙ্গীত যেমন অসম্ভব, দৃষ্টি বিজ্ঞান এবং দেহ পরিমাণ পরিত্যাগ করিয়া চিত্ৰকাৰ্য তেমনি অসম্ভব নহে কি ? চিত্রবিদ্যার প্রাথমিক শিক্ষার উপযােগী প্রায় সকল কথাই এই পুস্তকে বলা হইয়াছে। এক বর্ণীয় চিত্র প্রণালী ইহাতে দেখান হইয়াছে। জলীয় বর্ণের চিত্র পদ্ধতি, এবং তৈল মিশ্রিত বর্ণের চিত্র পদ্ধতির আবশ্যক যন্ত্রাদির বর্ণনা করা হইয়াছে, এবং সংক্ষেপত নানা বর্ণের চিত্র পদ্ধতির বিবরণ দেওয়া হইয়াছে। অপেক্ষাকৃত কঠিন বিষয়ের অবতারণা এ পুস্তকে হইতে পারে না। তাহার স্থানাভাব। মানব দেহের পরিমাণ, তৈল মিশ্রিত বর্ণে প্রতিমূর্তি অঙ্কিত করণ, স্বভাব দৃশ্যের রচনা কৌশল, ঐতিহাসিক চিত্র পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয়ের পৃথক পৃথক অন্থ বিস্তারিত লিখিবার ইচ্ছা রহিল। এ প্রকার গ্রন্থ বাঙ্গালা ভাষায় এই প্রথম, সুতরাং এই পুস্তকে যে নানা প্রকার অভাব এবং ক্ৰটী লক্ষিত হইবে, তাহার সন্দেহ নাই। পরবর্তি মুদ্রাক্ষনে ঐ সকল দোষ সংশােধন হইবার আশা করা যায়। নিম্নলিখিত পুস্তকাদি হইতে স্থানে স্থানে সাহায্য প্রাপ্ত হইয়াছি। The art of Landscape painting by G. Barnard. Elements of perspective. Ruskin. Modes of Painting by J. S. Taylor. B. A. Field's chromatography. Winsor & Newton. উপক্রমণিকা অংশের কয়েকখানি চিত্র Historian's History নামক বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ হইতে সংগৃহীত। এই পুস্তকের উন্নতি কল্পে যদি কেহ কোন মতামত লিখিয়া পাঠান, তাহা সাদরে গৃহীত হইবে। কালীত্বট, গ্রন্থকার। }, কলিকাতা।

সূচীপত্র। উপক্রমণিকা।-চিত্রবিদ্যা কি ?—ইজিপ্ট, দেশের মন্দির মধ্যে পুরাতন চিত্র-প্রস্তর মূর্তি-আসিরিয়া-ব্যাবিলন—আলেকজাণ্ডার কর্তৃক ব্যাবিলন আক্রান্ত-রামিসিস নামক মিসর-সম্রাটের প্রতিমূৰ্ত্তি-এ বােট্টা নামক ফরাসী কর্তৃক ব্যাবিলােনিয়া প্রদেশের ভূমধ্যস্থ অট্টালিকা প্রভৃতির আবিষ্কার—এসিরিয়া দেশের প্রস্তর লিপি—গ্রীক শিল্পের উৎকর্ষ ইটালীয় শিল্প এবং শিল্পীগণফ্লেমিস চিত্রকর গণের নাম—ডছ চিত্রকর গণের নাম- জামা চিত্রকরগণ—স্পেনিস চিত্রকরগণ-ফ্রেঞ্চ চিত্রকরগণ-ইংরাজ চিত্র- করগণ-চিত্রের স্থায়িত্ব অনুসারে চিত্রকরের খ্যাতি-ইউরােপীয় চিত্রকর গণের মান সন্ত্রম-ভারতের চিত্রবিদ্যা--ভারতের প্রাচীনত্বভারতস্তুপ, রামেশ্বর, ইলােরা, এলিফ্যান্টা, কাশী, জগন্নাথ প্রভৃতির শিল্পীগণ কোন্ দেশের?-ইজিপ্ট অথবা ব্যাবিলন্ হইতে কি চিত্রবিদ্যা ভারতে আসিয়াছে ? মনুসংহিতা এবং শিল্পীদের অবস্থা-মনুসংহিতার প্রাচীনত্ব-গ্রীক শিল্পীকৃত মিনার্ভা দেবীর প্রস্তর মূর্তি--মনুসংহিতার সময়ে শিল্পীগণের সামাজিক হীনতা— মহাভারতীয় কথায় বিদেশীয় জনগণ কর্তৃক শিল্পকর্ম অনুষ্ঠিত হইবার প্রমাণ ইজিপ্ট, ভারত, এবং এসিরিয়া দেশত্ৰয়ের বহুপুরাতন সম্বন্ধ-জ্যোতিষিক প্রমাণ—ভারতের বহুপুরাতন চিত্র সকল নাই, এ কারণ ভারতে চিত্রবিদ্যার উন্নতি ছিল না, এ কথার অযৌক্তিকত্ব-গ্রীক দেব দেবী অথকা বীর পুরুষ দিগের চিত্রের অস্থিত্বাভাব—গ্রীক গ্রন্থকার দিগের লেখা দেখিয়া গ্রীক শিল্পের উৎকর্ষ প্রমাণিত হয়; তখন ভারতীয় কবি দিগের লেখা গ্রন্থাদি ভারতীয় চিত্রের উৎকর্ষের প্রমাণ বলিয়া গৃহিত হইবার আপত্তি কি?-নন্দবংশ, গুপ্তবংশ, এবং আদিত্য বংশীয় সম্রাট গণের সময়ে ভারতীয় শিল্পের উন্নত অবস্থা—কালিদাস কৃত ‘অভিজ্ঞান শকুন্তল’—দুষ্মন্ত কর্তৃক শকুন্তলার চিত্রিত প্রতিমূর্তি বর্ণনামালবিকাগ্নিমিত্রম-মালবিকার প্রতিমূর্তি কথার প্রসঙ্গে চিত্রশালা, চিত্রাচাৰ্য, এবং রাজগণ কর্তৃক চিত্রবিদ্যার অনুশীলনের প্রমাণ বিক্রমাদিত্যের কাল নির্ণয়-বরাহ মিহির কর্তৃক অয়নাংশ সুত্রের প্রমাণ ভারতীয় শিল্পের সংক্ষিপ্ত বিবরণ—বৌদ্ধ সম্রাট দিগের কারে ভারতীয় শিল্পের ja আংশিক অবনতি-ব্রাহ্মণিক কল্পচা--মুসলমান দিগের একেশ্বরবাদ এবং প্রতিমূর্তির প্রতি বিদ্বেষ—আকবর বাদশাহ কর্তৃক ভারতীয় শিল্পের আদর- দিল্লীপ্রদেশস্থ হস্তিদন্ত ফলকের উপর ক্ষুদ্র চিত্র। ১ম হইতে ২৭শ পত্ৰ পৰ্য্যন্ত। প্রথম অধ্যায়।—চিত্র সকলের দুই সাধারণ বিভাগ—অষ্ট বিশেষ বিভাগ-আদর্শমূলক স্বভাব দৃশ্যকল্পনা প্রসূত স্বভাব দৃশ্য-মানব দেহের আদর্শমূলক চিত্র।--চিত্রকর গণের রূপ দেখিবার ক্ষমতা ভিন্ন ভিন্ন নর নারীর রূপ গ্রহণ করিয়া মানব দেহের কাল্পনিক চিত্র করিবার কথা—চিত্রকার্যে ব্যবসায়ী আদর্শের আবশ্যকতা-প্রতিমূর্তি-ঐতিহাসিক চিত্র-সকল চিত্রকর চিত্রবিদ্যার সর্ব বিভাগে উৎকর্ষ লাভ করিতে পারেন নাই—স্বভাব দৃশ্যের রচনা প্রণালী সকল চিত্রকরের অবগত হইতে হয়--আমরা চক্ষুদ্বারা ভ্রান্তি দর্শন করি, তাহার দৃষ্টান্ত-দর্পণ এবং মানব চক্ষু-পাসপেকটিভ। ২৭ হইতে ৩৬ পৃষ্ঠা। দ্বিতীয় অধ্যায়।-ডুইং পেঙ্গী নানা প্রকার—ডুইং পেপার-ডুইং ব্ল–কম্পাস-বাে-পেত্নীল-পােট্রাটা--ইরেজার—টি-স্কয়ার। ৩৬ পৃষ্ঠা হইতে ৪২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। তৃতীয় অধ্যায়।-ডুইং পেসীল কাটিবার নিয়ম—পেনসীলের লেখার উপর ফিক্সেটিভ দেওয়ার কারণ—ফিক্সেটিভ দিবার পদ্ধতি-চিত্ৰকাৰ্য্যের কাগজের পরিমাণ—ডুইং পি-কাগজ ঘুরাইয়া চিত্র করিবার দোষ-চিত্রের কাগজখানি পরিষ্কৃত রাখিবার প্রয়ােজন ও উপায়। ৪২ পৃষ্ঠা হইতে ৪৭ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। চতুর্থ অধ্যায়।পার্শ্বরেখা কাহাকে বলে ?-সরল রেখা অঙ্কিত করিবার নিয়ম-বক্ররেখা অঙ্কিত করিবার নিয়ম–দ্বারের অাদর্শ-সিন্দুকের আদর্শ-টেবিলের আদর্শ-স্তম্ভের আদর্শ অট্টালিকার আংশিক দৃশ্য —টিন্ট, অঙ্কিত করিবার উপায়—ছােট ঘাট চাদনী—দেওয়ানিখাস নামক অট্টালিকার অংশিক দৃশ্য। ৪৮ পৃষ্ঠা হইতে ৫৮ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। পঞ্চম অধ্যায়।—বৃক্ষপত্র-কালিকা লতা-ন্যান্‌কিন ইঙ্ক-জলের বর্ণ রু-রাক-বৃক্ষপত্র লকুচ-ধুস্তর পত্ৰ-এর পত্র—অশ্বের চিত্র--হরিণের চিত্র --স্যার এডউইন ল্যাণ্ড সিয়ার কৃত কুকুরের এবং সিংহের চিত্র-চিত্র সকল বন্ধিত করিবার কৌশল। ৫৮ পৃষ্ঠা হইতে ৭০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। ষষ্ঠ অধ্যায়।—আৰ্য্য এবং ককেসিয়ান জাতিদ্বয়ের আকৃতি গত সাদৃশ্য—গ্রীক দেশীয় শিল্পে মনুষ্য দেহের পরিমাণ—মানব দেহের অষ্ট বিভাগ-মানব মুখের চারিভাগ—মানব দেহের অন্যান্য পরিমাণ স্ত্রীদেহের পরিমাণ-নরনারী দেহের পার্শ্ব দিকের পরিমাণ ককেসিয়ান, আৰ্য, কাফ্রি প্রভৃতির কপালের ও চিবুকাস্থির গঠনের ভিন্নত্ব, এবং তদনুসারে মনুষ্য মুখের সৌন্দৰ্য্য বিচার—আর্ট অথবা শিল্প কাহাকে বলে ?-আর্ট এবং উপহাসম্পদ বিকৃতি (caricature)-নখ লােম ধারণ ও কর্তনের পদ্ধতিতে মনুষ্য মুখের সৌন্দর্য্যের উন্নতি এবং অবনতির কথা—শিল্পের সীমা—মুখের সম্মুখ এবং পাশ্বের আদর্শ—আকর্ণ বিশ্রান্ত লােচনের কথা—নীল পদ্মের ন্যায় চক্ষু সুন্দর চক্ষু-গ্রীক আদর্শে মনুষ্য মুখ-কর্ণ ও নাসিকা-তিলফুল না—গরুড় চঞ্চ, নাসিকা—চক্ষু অঙ্কিত করিবার আদর্শচক্ষু ও ওষ্ঠপুটের ভাব দ্বারা মনের নানাবিধ ভাব প্রকাশ-হস্ত অঙ্কিত করিবার আদর্শ-স্ত্রী পুরুষ ভেদে হস্তের আকৃতির তারতম্য-শৈশব কাল হইতে বয়ােবৃদ্ধি অনুসারে হস্ত পদাদির আকৃতির পরিবর্তন-মনুষ্যাকৃতি যে বয়সের হইবে, হস্ত পদাদিও তদনুরূপ হওয়া আবশ্যক—কতিপয় রেখা দ্বারা নাবিকের মুক্তির চিত্রের আদর্শ নাবিকের চিত্রে ছায়ার সজ্জা করিবার উপায় বর্ণন-বালক ও হংসের আদর্শ শৈশব দেহের পরিমাণ—অপর একটি বালকের চিত্র—যাহা সুন্দর দেখায়, তাহার চিত্র করিয়া রাখিবার আবশ্যকতা—চিত্ৰমধ্যে কোন বস্তু সন্নিবেশিত করিবার প্রয়ােজন হইলে, ঐ প্রকার স্কেচ, হইতে তাহা করিবার সুবিধা। স্বভাব দর্শন দ্বারাই চিত্রকরের ক্ষমতা বৃদ্ধি। ৭• হইতে ৯৩ পৃষ্ঠা পৰ্যন্ত। সপ্তম অধ্যায়।-মনুষ্য চক্ষুদ্বারা দেখিবার নিয়মানুসারে চিত্র সকল অঙ্কিত হইবার আবশ্যক-পারসপেকটিভ নিয়মগুলি চিত্রবিদ্যার ব্যাকরণ স্বরূপ আমাদের চক্ষুর দৃশ্য গােলাকার, তাহার পরীক্ষা-“পয়েন্ট অক্ ভিউ”- “ সীমাবৃত্ত”—দৃষ্টিকে—স্বভাব দৃশ্যে আকাশচক্রবাল—দিগন্ত বৃত্ত-Hori zontal line-দৃষ্টিকেন্দ্রের বিশেষ বর্ণনা—ভিনিস নগরের দৃশ্য এবং উহ কি প্রকারে অঙ্কিত—সমান্তর দৃশ্য—সেন্টার-অভিস-ভ্যানিসিং পয়েন্টস-ঐ সকলের পুনরুক্তি—দৃশ্যের দূরত্ব—দৃশ্য ও চিত্রের পার্থক্য-চিত্র সম্পূর্ণ দৃশ্য হইতেও পারে, কিন্তু অনেক সময়ে দৃশ্যের অংশ মাত্রই চিত্রে অঙ্কিত করা হয়- = log এক টুকরা কচিখণ্ড দ্বারা দৃশ্যের অংশ চিত্রের পরিমাণ করণ—চক্রবাল অথবা দিগন্ত বৃত্তের পরিমাণ—কোন চিত্রে চক্রবালের পরিমাণ ৬০ অংশের অধিক না হইবার কারণ—প্রাকৃতিক ৩৬০ অংশের ষষ্ঠাংশের চিত্র করিলে চিত্র ভাল হয়। ৯৩ পৃষ্ঠা হইতে ১০৪ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। অষ্টম অধ্যায় ।সমান্তর দৃশ্য- ৫৪ পৃষ্ঠার চিত্র বিষয়ে বর্ণনা-৫৫ পৃষ্ঠার চিত্রের বর্ণনা-৯৪ পৃষ্ঠার চিত্রের বর্ণনা ও দৃশ্যের দূরত্ব অনুসারে চিত্রে অল্প অথবা অধিক বস্তুর সমাবেশ-৯৮ পৃষ্ঠার চিত্র-সকোণ দৃশ্য - সকোণ দৃশ্যের লক্ষণ -উদাহরণ—৫৭ পৃষ্ঠার চিত্র বর্ণনা ভাগবিন্দু ভাগবিন্দুর পরিমাণ—একটি বাক্সের সমান্তর এবং সকোণ চিত্র—দৃষ্টিবিজ্ঞান মতে গোলাকার বস্তুর চিত্র করিবার উপায় ।-লেরেন কৃত স্বভাব দৃশ্য ঐ দৃশ্যটির সম্যক বর্ণনা। ১০৪ পৃষ্ঠা হইতে ১১১ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। নবম অধ্যায়।—প্রধান বর্ণ কয়টি, এবং তাহাদের সম্বন্ধ।-সূর্যরশ্মির সপ্ত দৃশ্যমান্ বর্ণ-শ্বেতবর্ণে সপ্তবর্ণের একত্র সন্নিবেশ—ভিন্ন পদার্থের বিভিন্ন বর্ণ দেখায়, তাহার কারণ—জবপুষ্প ও লােহিত বর্ণ-কমলা নেবু ও অরেঞ্জ বর্ণ-কলকে ফুল ও পীতবর্ণ-নবহুৰ্ব। ও হরিৎ বর্ণ—অপরাজিতা পুষ্প ও নীলবণ-ভায়লেট বর্ণ-গ্রেবর্ণ-পঞ্চ প্রধান বর্ণ-লােহিত ও পীতবর্ণের মিশ্রণে অরেঞ্জ বর্ণ-পীত ও নীল বর্ণের মিশ্রণে হরিৎ বর্ণ—লােহিত এবং নীল বর্ণের মিশ্রণে ভায়লেট বর্ণ-ধূসর বর্ণবর্ণের বিশুদ্ধি ও স্বর-বিশুদ্ধির তুলনা-বর্ণ বীক্ষণ ও হারমােনিয়—শ্বেতবর্ণ-কৃষ্ণবর্ণ। ১১১ পৃষ্ঠা হইতে ১১৮ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। দশম অধ্যায় গ্রে অথবা মিশ্রবর্ণ-নিউট্রাল গ্রে—শ্বেত এবং কৃষ্ণ বর্ণের মিশ্রণে নিউট্রাল গ্রেবর্ণ-লােহিত, পীত, এবং নীল বর্ণের মিশ্রণেও নিউট্রাল গ্রে বর্ণের উৎপত্তি—দ্বিমি বর্ণ দ্বারাও গ্রে বর্ণের উৎপত্তি হইতে পারে, তাহার উপায়—লোহিত গ্রে--অরেঞ্জ গ্রে-পীত গ্রে-হরিৎ গ্রে- নীল গ্রে—ভায়লেট গ্ৰে-তিন প্রকার বর্ণের লিখিবার কালী লইয়া বর্ণের মিশ্রণ সকল দেখা উচিত-বর্ণজ্ঞান হইলে মূল্যবান্ বর্ণ সকল ব্যবহার করিবার ১১৮ পৃষ্ঠা হইতে ১২১ পৃষ্ঠা পৰ্যন্ত। একাদশ অধ্যায়।—নানাপ্রকার চিত্র পদ্ধতি-পেসীল ডুইং- ফুসেন অথবা কয়লা দ্বারা চিত্র—ক্রেয়ন দুইং-পে এবং কালী-জলের । বর্ণ-শ্বেতবর্ণ-কৃষ্ণবর্ণ-লােহিত বর্ণ—চীনা সিন্দুর-ম্যাডার কারমাই- ইণ্ডিয়া লেক-পীতবর্ণসুবর্ণ পত্র—তবকী হরিতাল—গয়োজ-পীউড়ী- নীলধােপছায়া নীল। ১২২ পৃষ্ঠা হইতে ১৩০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। দ্বাদশ অধ্যায়।—কে কলর্স-টিউব কলর--লিকুইড, কলর- জলীয় বর্ণের বাক্স–তুলিকা—উষ্ট্র লােমের তুলিকা—সে তুলিকা—হগ হেয়ার ব্ৰস-ব্যাজার হেয়ার ব্র-ওয়াস ব্রসেস-ভারনিস ব্রস। ফ্যান্ ব্ৰস-প্যালেট-প্যালেট-নাইফ-ইজেন—স্কেচিং ইজেস্কেচিং টেন্ট- তৈল চিত্রের উপযােগী রঙ্গের বাক্স। ১৩০ হইতে ১৪১ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। ত্রয়োদশ অধ্যায়।এক বর্ণের চিত্র—মােনােক্রোম—মিশ্রিত পরূপ বর্ণ-ধৌত চিত্র অথবা ওয়াস ডুইং-চিত্রের উপযােগী বর্ণ ও তুলিকা-আদরা-মনের সহিত যন্ত্রাদির ঐক্য সাধিত হইলে, আদর করিবার অনাবশ্যক।—চিত্রের প্রথমাবস্থা—চিত্রের দ্বিতীয় অবস্থা—বায়বীয় দৃষ্টিবিজ্ঞান- চিত্রের তৃতীয় অবস্থা। ১৪১ পৃষ্ঠা হইতে ১৪৯ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। চতুর্দশ অধ্যায়।-স্বচ্ছবর্ণ—অস্বচ্ছ বর্ণ-স্বচ্ছ এবং অস্বচ্ছ বর্ণ গুলির প্রয়ােগ করিয়া চিত্রে নানাপ্রকার সহকারী বর্ণের সজ্জা—টর্ণার নামক চিত্রকরের কথা-সহকারী বৰ্ণ সকলের বিশেষ বিবরণ—আদিবর্ণ—দ্বিমিশ্রবর্ণ-ত্রিমিশ্রবর্ণ -রসেট-অলিভ-সাইট্ণি—চিত্র করিবার কালে সহকারী বর্ণের সামঞ্জস্য বর্ণের হারমনি-সূৰ্যাস্তকালে আকাশের মেঘবর্ণ সবল দৃষ্টি করিয়া সহকারী বর্ণের জ্ঞান লাভ-স্বভাব দৃশ্যে বিশুদ্ধ শ্বেত ও কৃষ্ণ বর্ণের অল্পত্ব—স্বাভাবিক ছায়াতে সহকারী বর্ণের বিকাশ-বর্ণযুক্ত ফটোগ্রাফে বিশুদ্ধ কৃষ্ণ বর্ণের অভাব -জলীয় বর্ণের বিশুদ্ধি রাখা প্রয়ােজন। ১৪৯ পৃষ্ঠা হইতে ১৫৪ পৃষ্ঠা পর্যন্ত । পঞ্চদশ অধ্যায়।তৈল মিশ্রিত বর্ণের স্থায়িত্ব-মেহগনি কাষ্ঠ ফলকের চিত্র—আরটিষ্টস ক্যানভ্যাস—বর্ণের উপাদান-পূৰ্ব্বতন চিত্রকর- দিগের প্রস্তুত বর্ণ সকলের স্থায়িত্ব-তৈল চিত্রের উপযােগী স্থায়ী বর্ণের তালিকা কার্পেট চিত্র ও তৈল চিত্রের বর্ণবিন্যাসের তুলনাতৈলাক্ত বর্ণে চিত্র করিবার প্রণালী—চিত্রের প্রথমাবস্থা—দ্বিতীয় অবস্থা গ্লেজিং-পাতলা বর্ণের চিত্র এবং ঘন বর্ণের চিত্ৰগ্লেজ দিবার পদ্ধতি-সৰ্ব্ব বর্ণের গ্লেজ বর্ণনা মরিং—অস্বচ্ছ বর্ণের ব্যবহার—চিত্রের তৃতীয় অবস্থা—সহকারী বর্ণ—এম সংশােধন—টারপিণ-সনিং—ইপ্যাষ্টিং-ভার্ণিসিং। ১৫৪ হইতে ১৬২ পৃষ্ঠা।

No text on this page.

উপক্রমণিকা। আমরা 'চক্ষুর্ধারমন্ত পদার্থ দেখিতে পাই, এবং মনােমধ্যে আমরা যাহা কিছু অনুমান করিতে পারি, যে শিল্প বলে সেই সকল যথাযথ অঙ্কিত করিতে পারা যায়, তাহার নাম চিত্রবিদ্যা। বহু পুরাতন কাল হইতে মানবজাতি চিত্রবিদ্যার অনুশীলন করিয়া আসিতেছেন। --- - - | D ইজিপ্ট দেশের জেণ্ডেরার দেব-মন্দির। ডেভিড় রবার্টস্ আর, এ. কৃত চিত্র হইতে + চিত্রবিষ্ঠা। ইউরােপীয় প্রত্নতত্ত্ববিৎ পণ্ডিতদিগের মত এই যে, পাঁচ অথবা ছয় সহস্র বৎসর পূর্বে ইজিপ্ট দেশেই প্রথমতঃ চিত্রবিদ্যা মনুষ্য মধ্যে প্রচলিত হয় ; কেহ কেহ বলেন, সেই দেশের লিখিত ভাষার উপযােগী কোন অক্ষর ছিল না, নানাবিধ চিত্র দ্বারাই লােকে মনােভাব সকল ব্যক্ত করিত। ইজিপ্ট, দেশে যে সমস্ত সমাধি-মন্দির চিরস্থায়ী রূপে দেদীপ্যমান রহিয়াছে, তাহাতে নানাপ্রকার প্রস্তর মূৰ্ত্তি এবং চিত্র সকল সুসজ্জিত দেখা যায়। ঐ সকল প্রস্তর মূর্তি এবং চিত্ৰই ইজিপ্ট দেশের অক্ষয় ইতিহাসের স্বরূপ বিরাজিত রহিয়াছে। তাহা দেখিয়া আধুনিক প্রত্নতত্ত্ববিৎ পণ্ডিতেরা ফেরাে’ নামক রাজগণের শাসনপ্রণালী, উপাসনা, সমাজনীতি, বাণিজ্য, যুদ্ধাদি, এবং দেশের ঐতিহাসিক গভীর তত্ত্ব সকল সক্যকরূপে নির্ণয় করিতে সমর্থ হইতেছেন। যে জাতি ইজিপ্ট, দেশে নানাপ্রকার প্রস্তরময় কীর্তি রাখিয়া গিয়াছেন, এক্ষণে তঁাহাদের অস্তিত্ব নাই। বহুকাল হইল, সে জাতির লােপ হইয়াছে। ছয় সহস্র বৎসর পূর্বে আসিরিয়া-ব্যাবিলন্ ও বিশেষরূপ উন্নতি লাভ করিয়াছিল। কালের কুটিল চক্রে ব্যাবিলন্ ধ্বংস হইয়া ভূগর্ভে প্রােথিত হইয়াছে। প্রসিদ্ধ গ্রীকবীর এলো যে সময়ে ব্যাবিল আক্রমণ করেন, সেই সময় ব্যাবিলন প্রায় ধ্বংস হইয়া গিয়াছিল ;-খ্রীষ্ট পূর্ব ৫৩৮ অব্দে সাইরস নামক পারসীক রাজা ব্যাবিলন একেবারে পারস্য রাজ্যের অন্তর্গত করিয়াছিলেন। এলেঙ্গাও যে সময়ে ব্যাবিলনে আসেন, তখন উহা পারস্বরাজের সম্পত্তি। তখন ব্যাবিলনের সর্বপ্রকার ধনসম্পত্তি পারস্তরাজ্যে নীত, সে সময়ে আসিরিয়া ব্যাবিলনের সৌভাগ্য- লক্ষী প্রায় অদ্ভুত, অট্টালিকা এবং দেব মন্দিরাদি সংস্কারভাবে উপক্রমণিকা। পতনােন্মুখ। পরে ক্রমশঃ কাল সহকারে ব্যাবিলন্ এবং এসিরিয়া মৃত্তিকার অভ্যন্তরে লুকাইয়া দুই সহস্র বৎসর অতিবাহিত করিয়াছে। ; ইজিপ্ট দেশের দ্বিতীয় রামিসিস নামক সম্রাটের প্রস্তর মূর্তি। ছেভিড় রবার্ট কৃত চিত্র হইতে। বর্তমান কালে (উনবিংশ শতাব্দী) এ বােট্টা (M. Botta) নামক ফরাসী প্রত্নতত্ত্ববিৎ ব্যাবিলােনিয়া প্রদেশের কুইউজিক নামক হলে খনন করিছে করিতে প্রথমে একখানি পুরাতন খােদিত শ্বেত মৃত্তিকা নিৰ্মিত লিপি ফলক প্রাপ্ত হয়েন, এবং ক্রমশঃ তন্নিকটর্তি স্থান সমূহে অনুসন্ধান করিতে করিতে মৃত্তিকার অভ্যন্তরস্থ বৃহৎ অট্টালিকার ৪ চিত্রবিদ্যা। আবিষ্কার করেন। তিনি প্রথমতঃ বিস্ময়াপন্ন হইয়াছিলেন; এবং ঐ স্থানে যে সকল প্রস্তর নির্মিত প্রতিমূর্তি অথবা শ্বেত মৃত্তিকা নির্মিত চিত্রফলক পাওয়া যায়, তাহা কোন্ সুসভ্য জাতি কর্তৃক কোন্ কালো প্রস্তুত হইয়াছে, তাহা বুঝিতে পারেন নাই। পরে ক্রমশঃ লেয়ার্ড, নামক ইংরাজ বৈজ্ঞানিক ঐ সকল প্রতিমূর্তি এবং ফলাদি দৃষ্টে স্থির করিতে পারিলেন যে, ঐ সকল ভূমধ্যস্থ অট্টালিকা পুরাতন ব্যাবিলন এবং এসিরিয়া নামক রাজ্যের ধ্বংশাবশিষ্ট চিহ্ন। ক্রমশঃ ইউরােপ এবং এমেরিকার অনেক পণ্ডিতগণ ঐ স্থানে গিয়া আর ও লিপি এবং প্রস্তর নিৰ্ম্মিত মূর্তি ভূমধ্যস্থ অট্টালিকা প্রভৃতি হইতে বাহির করিয়াছেন। এসিরিয়া দেশের প্রস্তর লিপি। অসুর টিলাথ পিলার রখে আরােহণ করিয়া যাইতেছেন। লেয়ার্ড কৃত চিত্র হইতে। ঐ সকল লিপিফলক দৃষ্টি করিলে বুঝিতে পারা যায় যে, ইজিপ্টের ন্যায় ব্যাবিলন, নিনিভে, এবং এসিরিয়া প্রদেশের সুসভ্য জাতিরাও চিত্রবিদ্যা এবং ভাস্কর বিদ্যায় সমধিক উন্নতি করিতে পারিয়াছিল।

উপক্রমণিকা। { ইজিপ্ট এবং ব্যাবিলনের পরে গ্রীক জাতি সর্ববিধ শিল্প কলার জন্য জগতে অতি উচ্চ স্থান অধিকার করিয়াছেন। দুই সহস্র বৎসর পূর্বে গ্রীক শিল্পীদিগের কর্তৃক যে সকল প্রস্তর মুর্তি অথবা ধাতুময় প্রতিমূর্তি নিৰ্ম্মিত হইয়াছে, সৌন্দর্য্যে এবং শিল্প চাতুৰ্যে অদ্যাবধি তাহা পৃথিবীতে আদর্শ স্বরূপ হইয়া রহিয়াছে। গ্রীক দেশে ঐ সকল প্রতিমূৰ্ত্তি ভগ্নাবশিষ্ট হইয়া গড়াগড়ি যাইতেছে। বিদেশী বণিকগণ তাহা গ্রীকদিগের নিকট হইতে স্বল্পমূল্যে ক্রয় করিয়া আপনাপন দেশে অতি সযত্নে রক্ষা করিতেছেন। রােম রাজ্য হইতেই গ্রীসের পরাজয় ঘটে। রােমীয়েরা সেই সময়েই গ্রীস হইতে উৎকৃষ্ট প্রতিমূর্তি এবং চিত্র সকল লইয়া গিয়া- ছিলেন। গ্রীক রাজ্যের পতন হইয়া, ইটালি দেশে শিল্পের বহুল চর্চা হয়। ভাস্কর বিদ্যা এবং চিত্রবিদ্যায় নােম গ্রীসের অপেক্ষা প্রধান হইয়াছিল কি না, সে বিষয়ের কোন মীমাংসা জামা করিতে পারি নাই; তবে এই পর্যন্ত বলিতে পারা যায় যে, ইটালি গ্রীসের শিষ্যত্ব কখনই অস্বীকার করে নাই। ইটালি গ্রাসের নিকট হইতে শিল্পকলা শিক্ষা করিয়া, গ্রীসের উপযুক্ত শিষ্য হইয়াছিল। গ্রীক জাতির অধঃ- পতন হইলে পর যদি রােমীয়গণ শিল্পের চর্চা না করিতেন, তাহা হইলে বােধ হয় যে, চিত্রবিদ্যা পৃথিবীতে লুপ্ত হইত; একেবারে লুপ্ত না হইলেও উহার যে বিশেষ অবনতি হইত, তাহাতে সন্দেহ নাই। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, ইউরােপ প্রদেশে যখন ধৰ্ম্ম যুদ্ধ লইয়া সকল জাতি ব্যতিব্যস্ত, ইংরাজ, ফরাসী, জাৰ্ম্মাণ প্রভৃতি রাজাগণ যখন যেরূসালমে মুসলমানদিগের সহিত ভয়ঙ্কর যুদ্ধ লইয়া ব্যাপৃত যে সময়ে মুসলমানেরা একহস্তে তরবারি, এবং অপর হস্তে কোরাণ, লইয়া পৃথিবীর এক প্রান্ত হইতে অপর প্রান্ত পর্যন্ত মহম্মদীয় ধৰ্ম্ম প্রচার করিতে কৃত সংকল্প হইয়াছিলেন, সেই সময়ে ইটালি দেশে, চিত্রবিষ্ঠা। শিল্পদেবী আপন রূপের ছটায় সমস্ত ইউরােপ ভূমি আলােকিত করিয়া- ছিলেন। ইটালি দেশের চিত্রকরেরা অমর হইয়া গিয়াছেন। তঁাহারা চিত্ৰদ্বারা পাশ্চাত্য জগতে সভ্যতার সমধিক উন্নতি করিয়াছেন। ইটালির পরে, হলণ্ড, জার্মেণি, স্পেন, ফ্রান্স, এবং ইংলণ্ড রােমের নিকট হইতেই চিত্রবিদ্যা শিক্ষা করিয়াছেন। বর্তমান কালে ফ্রান্স দেশেই শিল্পকলার সমধিক উন্নতি হইয়াছে। নিম্নলিখিত চিত্রকরগণ ইটালি দেশে জন্মগ্রহণ করেন : -সিমাবু, গিত্তট্টো, অরক্যাগনা, ফ্রা-এঞ্জেলিকো, ম্যাসাসিও, ফুলিপ্পোলিপ্পি, গিওভ্যানি-বেলিনি, ম্যাটেনা, বটিসেলি, পেরুজিনাে, ফ্রান্‌সিয়া, কার- প্যাসিও, লিওনার্ডো-ডাভিন্সি, মাইকেল-এজিলল, জরজিওনি, টিসিয়ান, রাফেল, করেজিও, টিনটোরেটো, প্যালাে ভেরােনিজ ; এই বিংশতি ব্যক্তি ইটালীর বিখ্যাত চিত্রকর। ১২৪০ খ্রীঃ অব্দ হইতে ১৬০০ খ্রীঃ ব্দ মধ্যে ইহঁারা প্রাদুর্ভূত হইয়াছিলেন। ইহাদের প্রস্তুত চিত্র সকল অদ্যাবধি অপরিবর্তিত ভাবে রহিয়াছে। ভেরােনিজ ১৫৯৯ খ্রীঃ অব্দে প্রাণত্যাগ করেন। তিনিই ইটালি দৈশের শেষ চিত্রকর। তঁাহার পরে তিন শত বৎসর অতিবাহিত হইয়া গিয়াছে, কিন্তু উক্ত বিংশতি ব্যক্তির সহিত একাসনে বসিবার উপযুক্ত কোনও চিত্রকর ইটালী দেশে জন্মগ্রহণ করিলেন না, ইহাতে সহজেই মনে হয়, ইটালী দেশের চিত্র- বিদ্যা বুঝি লুপ্ত হইয়াছে। ফ্লেমিস্ চিত্রকর সুবিখ্যাত পাঁচজন মাত্র। জ্যা-ভ্যানি (১৩৭৬- ১৪৪০); কুইন্টি-ম্যাটসিজ (১৪৫৬-১৫৩০); রুবেন্স (১৫৭৬ ১৬৪০); ভ্যান্ডাই (১৬০০-১৬৪০); টেনিয়াস্ (১৬১০-১৬৯৪)। ডছ চিত্রকর সুবিখ্যাত তিনজন মাত্র। হালস্ (১৫৮৪-১৬৬৮); কিপ (১৬০৫-১৬৯০); রেমব্রান্ট (১৬০৬-১৬৬৯)।

উপক্রণিকা। জারমান চিত্রকর সুবিখ্যাত দুইজন মাত্র। এলব্রেট ডিউরার (১৪৭১১৫২৮); হবিন, (১৪৯৮-১৫৪২)। স্পেনিস্ চিত্রকর সুবিখ্যাত দুইজন মাত্র। ভ্যালকুই (১৫৯৯- ১৬৬০); মুরিলে (১৬১৮-১৬৮২)। ফ্রেঞ্চ চিত্রকর প্রধান তিনজন। নিকোলাস্ পুসিন্ (১৫৯৪-- ১৬৬৭); ক্লড়-লােরে (১৬০০-১৬৮১); গ্যাস্পা-পুসিন্ (১৬১৩ –১৬৭৭)। ইংরাজ চিত্ৰকৰ প্ৰধান ৭ জন। হোগার্থ (১৬৯৮-১৭৬৪); উইল- সন্ (১৭১৩–১৭১৮); রেলস্ (১৭২২-১৭৯১); গেস্বরে (১৭২৮ ১৭৮৯); টর্ণার (১৭৭৫-১৮৫০); কন্সটে (১৭৭৬–১৮৩৮); উইকি (১৭৮৫-১৮৪০)। উপরোক্ত তালিকা দৃষ্টে পাঠক অনুমান করিতে পারিবেন যে, অন্যান্য দেশের অপেক্ষা ইংলণ্ডের চিত্রকরগণ আধুনিক। চিত্রকর গণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নিকৃষ্ট বিবেচনা করিতে গেলে, কেবল যে চিত্র বিষয়েই নৈপুণ্য দেখিতে হয়, তাহা নহে। চিত্র খনির স্থায়িত্ব কত দিন, তাহাও দেখিতে হয়। সময়ের দ্বারাই এই পরীক্ষা হইয়া থাকে। দশ, অথবা বিংশতি বৎসর একখানি চিত্র থাকা, অথবা সেই প্রকার একখানি চিত্র অঙ্কিত করা, বিশেষ গুণপনার পরিচয় না হইলেও পারে; কিন্তু কোন প্রকার চিত্র পাঁচ শত, অথবা সাত শত বৎসর পর্যন্ত অপরিবর্তিত ভাবে থাকিবে, সকল বর্ণের উজ্জ্বলতা নূতনের মতই থাকিবে,-এই প্রকার চিত্র অঙ্কিত করাই কঠিন কৰ্ম্ম। আমরা উপরােক্ত তালিকায় যে সকল চিত্রকর দিগের নাম দিলাম, বিশেষতঃ ইটালি, হলগু, জার্মেণি, স্পেন্ এবং ফ্রান্সের চিত্রকর দিগের চিত্র সকলের স্থায়িত্ব ভাবিয়া দেখিলে, চমৎকৃত হইতে হয়। চিত্র সকল 'চিত্রবিষ্ঠা। স্থায়ী হইলেই চিত্রকরের প্রশংসা হইয়া থাকে। এই কারণেই তৈ চিত্র পুরাতন হইলেই তাহার মূল্য বৃদ্ধি হইয়া থাকে। ইউরােপ প্রদেশে চিত্রবিদ্যার যে প্রকারে বিস্তার হইয়াছে, আমরা সংক্ষেপতঃ তাহা বলিলাম। এই বিদ্যার ইউরােপে যে প্রকার অদির, আমরা এতদ্দেশে তাহার কিছুই অবগত নহি। একজন কৃতমান্ কবি, এবং একজন সুযোগ্য চিত্রকর, ইউরােপে উভয়েরি মান সম্রম তুল্য। কবি টেনিস এবং চিত্রকর লেট উভয়েই মৃত্যুর পূর্বে “লর্ড” উপাধি পাইয়াছেন। ভারতবর্ষের কোনও চিত্রকর এ পর্যন্ত রাজ প্রদত্ত সমানে ভূষিত হইতে পারেন নাই, ইংলণ্ডের অনেক চিত্রকর স্যার অথবা ব্যারনেটু হইয়াছেন। বোধ হয়, এ দেশে এখনাে বিশেষ যােগ্য চত্রকর কেহ হইতে পারেন নাই। তাহা হইলে, ইংরাজ রাজ এ দেশেও তঁাহার গৌরব করিতে উদাসীন হইতেন না। ইউরোপ প্রদেশে চিত্রবিদ্য। ইজিপ্ট দেশ হইতে ব্যাবিলন এবং গ্রীসদেশে, পরে তথা হইতে ইটালি, ফুান্স প্রভৃতি স্থানে যে ভাবে প্রচারিত হইয়াছে, অতি সংক্ষিপ্ত ভাবে তাহা আমরা লিখিয়াছি। উহা দ্বারা শিক্ষার্থির মনে চিত্রবিদ্যার ইতিহাস বিষয়ের কতক বােধ হইবে। এ স্থলে ঐ সকল কথার আর বিস্তৃতি না করিয়া, এক্ষণে দেখা যাউক, আমাদের ভারতবর্ষে চিত্রবিদ্যা কি প্রকার ছিল। অন্যান্য দেশের সহিত ভারতের তুলনা করিবার সময় একটা বড় অসুবিধা ঘটে। সে অসুবিধা কি? তাহা আমরা যেমন বুঝিয়াছি, পাঠকগণকে ঠিক সেই মতই বুঝাইব। প্রথম অসুবিধা সময় লইয়া। ভারতের সভ্যতা কত দিনের ? ইজিপ্ট, ব্যাবিলন অপেক্ষা ভারতের সভ্যতা কি বহু পুরাতন নহে ? ইউরােপের ঐতিহাসিক পণ্ডিতেরা প্রথমতঃ বাইবেল শাস্ত্রের মতেই উপক্রণিকা। জগতের সৃষ্টি কাল ছয় সহস্র বৎসর স্থির করিতে বাধ্য হয়েন; সুতরাং সেই সকল পণ্ডিত দিগকে যদি বলা যায় যে, ভারতের সভ্যতা লক্ষ্য বৎসর হইয়াছে, ভঁহারা উহা হাসিয়াই উড়াইয়া দিবেন। সেই জন্যই বােধ হয়, এতদ্দেশের ঐতিহাসিক লেখক মহােদয়গণও ইউরােপীয়দিগের পদানুসরণ পূর্বক ছয় সহস্র বৎসর পূর্বে ভারতে বেদাদি শাস্ত্রের প্রচার হইয়াছে, এই কথা বলেন। কিন্তু ভারতের সভ্যতা যে বহু পুরাতন, দশ সহস্র অথবা কুড়ি সহস্র বৎসর বলিলেও সেই অসীম কালের নির্ণয় হয় না ;—হিন্দু শাস্ত্রাদি, বিশেষতঃ জ্যোতিষ এবং পুরাণাদি শাস্ত্র মতে সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি প্রভৃতি যুগ সংখ্যা যে ভাবে বর্ণিত আছে, যদি তাহা গ্ৰাহ করা হয়, তাহা হইলে, ইজিপ্ট অথবা ব্যাবিলন্ কল্যকার বলিয়া বােধ হইবে। আজকাল অনেকেই শাস্ত্রে বিশ্বাস করিতে পারেন না। আমরাও কাহাকেও কিছু বিশ্বাস করিতে বলি না। যদি বল, ইউরােপীয় পণ্ডিতেরা বলিতেছেন, ছয় হাজার বৎসর পূর্বে ভারতে আর্য জাতির আসিয়াছেন ; অতএব তাহার বেশী পূর্বে যে বেদ রচিত হইয়াছে, তাহা হইতে পারে না। ও প্রকার সিদ্ধান্ত একদেশ দশী হইবে। মহাভারতীয় যুধিষ্ঠিরাদি ভ্রাতাগণের স্বর্গারােহণ হইতেই পাঁচ সহস্র বৎসরের অধিক হইয়াছে। তাহার কত পূর্বে অয্যোধ্যাপতি রামচন্দ্র প্রাদুর্ভূত হইয়াছেন ? রামচন্দ্রের কত পূর্বে মনু হন ? এই সকল কথার মীমাংসা আমরা করিব না। আমরা হিন্দু-শাস্ত্রাদি মান্য করি। আমরা মােটামুটি এই বিশ্বাস করি যে, ইজিপ্ট, ব্যাবিলন প্রভৃতি দেশের সভ্যতা অপেক্ষা ভারতীয় সভ্যতা বহু পুরাতন। অনেকের এই কথায় আপত্তি হইতে পারে, তাহা আমরা বুঝি। কিন্তু এই বিষয়ের সম্যক মীমাংসা যখন উপস্থিত হইবে না, তখন প্রসঙ্গই আমাদের ছাড়িয়া দিতে হয়। 1 চিত্রবিদ্যা। . ভারতীয় সভ্যতা কত দিনের ? সেই কথার মীমাংসা করিতেই যখন এত গােল, তখন ভারতীয় চিত্রবিদ্যার ইতিহাস ও গভীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন। কিন্তু ভারতবর্ষে বহু পুরাতন কাল হইতে চিত্রবিদ্যার বিশেষ উন্নতি ছিল, এ কথা অস্বীকার করিবার যাে নাই। ভারতে কোন বিদ্যার অভাব ছিল ? ভারতস্তুপ, রামেশ্বর, ইলােরা অথবা এলিফ্যান্টা; কাশী, জগন্নাথ প্রভৃতি স্থানে যে সকল প্রস্তর মূৰ্ত্তি গুলি রহিয়াছে, ঐ সকল মূর্তি দেখিলে, ভারতে চিত্রবিদ্যা ছিল কি না, সে সন্দেহ তাে মনেই আসে না। যাহারা দশ হাজার বৎসর পূর্বে রামেশ্বরের মন্দির প্রস্তুত করিয়াছেন, বদ্রিনারায়ণের পথে পর্বত গুহাতে, উড়িষ্যা প্রদেশের বৌদ্ধ মন্দিরাদির মধ্যে যে সকল শিল্পীগণ কাৰ্য্য করিয়াছেন, তাহারা শিল্পবিদ্যা কোথায় শিখিয়াছিলেন। ঐ সকল শিল্পী কোন্ দেশ বাসী ? তাহারা কি হিন্দু ? ইজিপ্ট অথবা ব্যাবিলন্ হইতে কি শিল্পকলা ভারতে আনিত ? অথবা যেমন ইজিপ্ট দেশের লােকেরা চিত্র ও ভাস্কর বিদ্যার অনুশীলন কম্লিা আপনারাই উন্নতি করিয়াছেন, সেই মত পূৰ্ব্বকালে শিল্পকলা ভারতেও সম্যকরূপ উন্নতি করিয়াছে?-আমরা এই শেষােক্ত মতেই পক্ষপাতী। এ প্রশ্নের মীমাংসা নিতান্ত সহজ নহে; আমাদের ধারণা এই যে, এদেশে চিত্রবিদ্যা বহু পুরাতন কাল হইতে বিশেষ উন্নত অবস্থায় ছিল। যে কারণে আমরা এই ধারণায় উপনীত হইয়াছি, তাহা পাঠকবর্গের গােচর না করিয়া থাকিতে পারিলাম না। যাহারা সংস্কৃত কাব্য শাস্ত্রাদি পাঠ করিয়াছেন, তাঁহারাও বলিবেন, ভারতে চিত্রবিদ্যার বহুল প্রচার ছিল। যাহারা সংস্কৃত গ্রন্থাদি না পড়িয়াছেন, তাঁহাদের জন্যই নিম্নলিখিত প্রমাণগুলি উদ্ধৃত করিলাম।

উপক্রমণিকা ।
আৰ্য শাস্ত্রগুলি পণ্ডিতেরা অষ্টাদশ ভাগে বিভক্ত করিয়াছেন—মনু
বলিয়াছেন, চতুর্দশ শাস্ত্র।
পুরাণন্যায় মীমাংশা ধর্মশাস্ত্রাঙ্গমিশ্রিত
সাঙ্গ বেদানি চত্বরঃ ধৰ্ম্মস্য চ চতুর্দশঃ।”
পুরাণ, ন্যায়, মীমাংসা, ধৰ্ম্মশাস্ত্র, ঋক, সাম, যজুঃ এবং অথর্ব
এই চারি বেদ, শিক্ষা, কল্প, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, ছন্দ, জ্যোতিষ, এই ছয়
বেদাঙ্গ মিলিয়া চতুর্দশ শাস্ত্র অর্থাৎ বিদ্যা স্থান। মনুসংহিতার মধ্যে
শিল্পী অথবা শিল্পকাৰ্য্য সম্বন্ধীয় কথা বড় বিরল। সপ্তম অধ্যায়ের
১৩৮ শ্লোকে,
কারুকান শিল্পিনশ্চৈব
শূদ্রাং শ্চাত্মােপজীবিন।
একৈকং কারয়েৎ কর্ম
মাসি মাসি মহীপতিঃ॥”
কারু কৰ্ম্মকারী, শিল্পকর, দাস দাসী অথবা যাহারা কেবল মাত্র
শারীরিক পরিশ্রম দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করে, রাজা তাহাদের দ্বারা
মাসিক একদিন করিয়া নিজকৰ্ম্ম করাইয়া লইবেন। দ্বিতীয়াধ্যায়ের
২৪০ শ্লোকে-
ৰিবিধানিচ শিল্পানি সমাজেয়ানি সতঃ
বিবিধ শিল্পকাৰ্য সকলের নিকট হইতে সকলে শিক্ষা করিতে পারে।
পুনশ্চ চতুর্থ অধ্যায়ে
রাজানং তেজ আদত্তে শূদ্ৰাং ব্রহ্মবর্ডস।
আয়ুঃ সুবর্ণকারাং যশশ্চৰ্মাবকৰ্ত্তিনঃ
কারুকান্নং প্রজাং হন্তি বলং নির্ণেজস্য চ।
গণাং গণিকামঞ্চ ললাক্যে পরিকৃতি।
১)

: চিত্রবিদ্যা। রাজার অন্ন খাইলে তেজঃ নষ্ট হয়, শূদ্ৰান্ন গ্রহণে ব্ৰহ্মতেজ থাকে ; সুবর্ণকারের অন্ন গ্রহণে আয়ুনাশ, চৰ্ম্মকারের অন্ন গ্রহণে খ্যাতি লােপ, শিল্পকারের অন্ন ভােজনে সন্তান, এবং রজকের অন্নে বল নষ্ট হয়। জন সমূহের অন্ন (হোটেল) এবং বেশ্যার অন্ন ভােজনে স্বর্গাক্তি লােক হইতে বঞ্চিত হয়। দশমাধ্যায়ে ১১৬ শ্লোকে। বিদ্যা শিল্পং ভৃতিঃ সেবা গােক্ষ্যংবিপনিঃকৃষিঃ। ধৃতির্ভৈক্ষ্যং কুসীদঞ্চ দশজীবন হেতবঃ ॥” বিদ্যা, শিল্প, সেবা, গােরক্ষা, ব্যবসা, অল্পেতুষ্টি, ভিক্ষা, এবং সুদের জন্য ধন প্রয়ােগ, এই দশটি লােকের জীবন হেতু। মনুসংহিতা বিশেষ পুরাতন গ্রন্থ। রামায়ণ এবং মহাভারতেরও পূর্বে মনুসংহিতা বিরচিত হইয়াছে, সন্দেহ নাই। রাজধৰ্ম্মে কথিত হইল, রাজা শিল্পীদের মাসে একদিন খাটাইয়া লইবেন। ইহার অর্থ কি ? মনু বলিতেছেন যে, শিল্পীদের কাজ করাইয়াই লইবেন। তাহাদের নিকট অর্ধ লইবেন না। ইহাতে বােধ হয় মনু রাজধৰ্ম্মে শিল্পীদের প্রতি কৃপা করিয়াছেন। মনুর মতে, ব্রাহ্মণ ও নীচ জাতির নিকট শিল্প শিক্ষা করিতে পারেন। শিল্পীর অন্ন খাইবে না। মনুসংহিতা যে কালে রচিত হইয়াছে, সেই সময়ে ভারতে শিল্প- বিদ্যার চর্চা আরম্ভ হইয়াছে মাত্র, ইহাই বােধ হয়। মনু অষ্টাদশ শাস্ত্রের উল্লেখ না করিয়া, চতুর্দশ শাস্ত্রের উল্লেখ করিয়াছেন। পরে আয়ুর্বেদ, ধনুর্বেদ, গন্ধর্ববেদ এবং অর্থশাস্ত্র রচিত হইয়াছে। রামায়ণ, মহাভারত পরে রচিত। গন্ধৰ্ব্ববেদ, এবং অর্থশাস্ত্রই আমাদের শিল্পশাস্ত্র। মনুসংহিতা দৃষ্টেবােধ হয় যে, মনু চিকিৎসা শাস্ত্র, সঙ্গীত } ২৮runt ‘মিনাভা” ভ্যাটিকান নামক শিপগরের বহু পুরাতন গীব প্রস্তর মূর্তি হইতে প্রস্তুত

No text on this page.

উপক্রমণিকা। শাস্ত্র, এবং শিল্প শাস্ত্রের প্রতি একটু ঘৃণা করিতেন। চিকিৎসকের অন্ন, নৰ্ত্তকের অন্ন, এবং শিল্পীর অন্ন খাইবে না। মনুর এই নিষেধ বিধি দেখিয়া বােধ হয় যে, বহু পূর্বকালে ভারতীয় আৰ্যেরা শিল্পশাস্ত্রের এবং শিল্পীগণের আদর করিতেন, কিন্তু যে সকল লােকে ঐ প্রকার শিল্পবৃত্তি অবলম্বন করিতেন, আৰ্যেরা তাহাদের সহিত অন্ন প্ৰদানাদি করিতেন না। মনু সংগীত বিদ্যার উপর ও খুব বিরক্ত ছিলেন। পরে দুষ্মন্তের পুত্র ভরত কিন্নর লোক হইতে সংগীত বিদ্যা শিক্ষা করিয়া গান্ধব বেদ প্রচার করিলেন। অন্যান্য মহাত্মা ঋষি আয়ুর্বেদ প্রচার করিলেন। বিশ্বামিত্র ঋষি ধনুর্বেদ প্রচার করেন। চতুঃষষ্টি কলা শাস্ত্র অন্যান্য ঋষিগণ কর্তৃক প্রচারিত হইলে, আৰ্য শাস্ত্র অষ্টাদশ ভাগে পুষ্টি প্রাপ্ত হইল। ভাস্কর বিদ্যা এবং চিত্রবিদ্যা অর্থশাস্ত্রের মধ্যে পৃরিগণিত হইল। আৰ্য শিল্পকলা এই সময়েই খুব উন্নত হইয়াছিল। আমরা ইতিপূর্বে যে সকল স্থানের উল্লেখ করিয়াছি, ঐ স্থানের সকল দেব মন্দিরাদি এবং প্রস্তরময় প্রতিমূৰ্ত্তি সকল সম্ভবতঃ এই সময়েই প্রস্তুত হইয়া থাকিবে। সম্ভবতঃ ইহার পরে মহাভারত রচিত হইয়াছে। মহাভারতেও চিত্রবিদ্যা সম্বন্ধীয় কথা বড়ই বিরল। সভাপর্ব মধ্যে দেখা যায় যে, ময় নামক দানব যুধিষ্ঠিরের সভা নির্মাণ করিয়াছিল। এই স্থলে লিখিত আছে, শ্ৰীকৃষ্ণ ময় দানবকে সম্বােধন করিয়া বলিতেছেন, হে শিল্প নিপুণ দানব, যদি তুমি আমার প্রিয় কৰ্ম্ম করিতে মানা করিয়া থাক, তবে যুধিষ্ঠিরের নিমিত্ত তােমার ইচ্ছানুরূপ একটি সভা নিৰ্মাণ করিয়া দাও।”—ময় দানব হৃষ্টান্তঃ- করণে সেই কথা স্বীকার করিয়া পাণ্ডবদিগের নিমিত্ত বিমানতুল্য সভF মণ্ডপের এক প্রতিমূর্তি নির্মাণ করিল,-সভাপ, প্রথমাধ্যায়।

১৪ চিত্রবিষ্ঠা। পূর্বকালে ইঞ্জিনিয়ারগণও এখনকার মত প্লান্ বা স্কেচ্ করিয়া কাৰ্য্য বিষয়ক এষ্টিমেট করিতেন, পূর্বোক্ত বর্ণনা দৃষ্টে তাহা বুঝিতে পারা যাইতেছে। কিন্তু সমগ্র মহাভারতের মধ্যে আর কোথাও চিত্রাদির উল্লেখ নাই; লৌহময় প্রতিমূর্তির উল্লেখ আছে।-ধৃতরাষ্ট্র ভীমের লৌহ নির্মিত প্রতিমূর্তি ভাঙ্গিয়া ফেলিয়াছিলেন। মনুসংহিতা এবং মহাভারত হইতে আমরা কি বুঝি ?—অবশ্য ইহা স্বীকার করিতেই হইবে যে, সেই প্রাচীন কালে ভাস্কর বিদ্যা অথবা চিত্রবিদ্যা আৰ্যদিগের অজ্ঞাত ছিল না।-মহাভারতে শিল্প বিষয়ক আখ্যান বড়ই বিরল থাকায় আমাদের মনে এই প্রকার বােধ হইয়াছে যে, মহাভারত রচনার সময় ভারতীয় আৰ্যেরা শিল্পের আদর করিতে শিখিয়াছিলেন, কিন্তু আপনারা ততদূর শিল্প নিপুণ হইতে পারেন নাই। বিদেশীয় লােকেরাই সেই সময় এতদ্দেশের শিল্পী ছিলেন। সেই দানব দৈত্য নামে বর্ণিত, সুসভ্য, শিল্প নিপুণ, বিড়ালাক্ষ জনগণ কোন্ দেশ বাসী? সকল দেশের ইতিহাসের যদ্যপি সামঞ্জস্য করিয়া লইতে হয়, তাহা হইলেও মহাভারত রচনার সময় অন্ততঃ পঁাচ সহস্র অথবা ছয় সহস্র বৎসর পূর্বে স্থির করিতে হয়। এই সময়ে ইজিপ্ট, অথবা আসিরিয়া, দুইটি দেশ প্রায় হিন্দুদিগের মতই উন্নত সভ্যতায় উপনীত হইয়াছিল। ভারতীয় আৰ্যেরা ব্ৰহ্মতত্ব বিষয়ে শ্রেষ্ঠ হইয়াছিলেন, আসিরিয়া বাসীরা জ্যোতিষ শাস্ত্রে, এবং ইজিপ্ট, দেশীয়ের স্থপতি বিদ্যা এবং চিত্রবিদ্যা অথবা ভাস্কর বিদ্যায় উৎকর্ষ লাভ করেন। ইজিপ্ট, ভারত, এবং আসিরিয়া দেশত্ৰয়ে কোনও না কোন প্রকার সম্বন্ধ ছিল, তাহা প্রত্মতত্ববিৎ পণ্ডিতগণ এক্ষণে প্রায় সকলেই স্বীকার করিতেছেন।

উপক্রমণিকা। ইজিপ্ট দেশে চিপস্ নামে যে পিরামিড় আছে, তাহার উপর খােদিত রাশিচক্র দেখিলেই হিন্দু এবং মিশর বাসীদের সম্পর্ক বুঝিতে পারা যায়। জ্যোতিষ শাস্ত্র আমাদের বেদ শাস্ত্রের একটি অঙ্গ। ঐ হিন্দু জ্যোতিষ শাস্ত্রে মেষ, বৃষ, ইত্যাদি রাশিচিহ্ন যে ভাবে বর্ণিত, মিশর দেশে যাহারা পিরামিড় নির্মাণ করিয়াছেন, সেই সকল শিল্পীগণ ভারতীয় রাশিচক্র কোথায় পাইলেন? এই প্রশ্নের মীমাংসা করিতে হইলে দুই প্রকার অনুমান করিতে হয়। প্রথম, হিন্দু এবং মিসর বাসীরা এক বংশ হইতে উংপন্ন, ভিন্ন দেশ বাসী হইলেও উভয় জাতি গত অনেক বিষয়ে সাদৃশ্য ছিল। দ্বিতীয়তঃ, যদি উভয় জাতির একবংশ হইতে উৎপত্তি না হইয়া থাকে, তাহা হইলে বাণিজ্য অথবা যুদ্ধ বিগ্রহাদি বশতঃ উভয় জাতির অনেকটা সংমিশ্রণ হইয়া শিল্পকলা উভয় দেশেই সমান ভাবেই উন্নত হইয়াছিল। উভয় জাতি পরস্পরের নিকট নানা বিদ্যার বিনিময় ও করিয়াছিলেন। আমরা মূল কথা ছাড়িয়া অনেক দূরে আসিয়া পড়িয়াছি। আমাদের কথা এই যে, মহাভারত রচনার সময় প্রস্তর অথবা ধাতু নির্মিত প্রতি- মূৰ্ত্তি, অথবা চিত্রপট, আৰ্যদিগের অজ্ঞাত ছিল না। দানব, দৈত্য, রাক্ষস প্রভৃতি বিদেশী লােকেরা উহা প্রস্তুত করিত, আৰ্যেরা তাহার আদর করিতেন, এবং ঐ সকল শিল্পীদের পুরস্কৃত করিয়া এই দেশে বাস করাইয়া ছিলেন। মহাভারত রচনার সময় হইতে অৰ্য্যেরা শিল্পের চর্চা করিয়া কতদূর উন্নতি করিয়াছিলেন, তাহা বুঝিতে হইলে, পরবর্তি সংস্কৃত গ্রন্থাদিতে পাওয়া যাইবে। এই স্থলে আর একটি কথার উল্লেখ করা উচিত। কেহ কেহ বলিয়া থাকেন যে, ভারতবর্ষে ভাস্কর বিদ্যার প্রস্তর খােদাই) কতদূর চিত্রবিদ্যা। চর্চা হয়, এবং ভারতীয়েরা ঐ বিষয়ে অনেকটা উৎকর্ষ লাভ ও করিয়াছিলেন বটে, কিন্তু চিত্র শিল্প ভারতে সমধিক উন্নত হয় নাই। তাহাদের এ প্রকার বলিবার হেতু এই যে, ভারতের কোনও স্থানে পুরাতন কোনও চিত্র পাওয়া যায় নাই। এ কথার উত্তরে আমরা এই বলিতে পারি ইজিপ্ট দেশে যে ছয় হাজার বৎসরের চিত্র দেদীপ্যমান রহিয়াছে, তাহার কারণ এই যে, ইজিপ্ট বাসীরা সমাধি মন্দির করিতেন, তাহার মধ্যে চিত্র করিয়া তাহা প্রস্তরাদি দ্বারা একেবারে বদ্ধ করিয়া রাখিয়াছিলেন। সেই সকল চিত্র অথবা সমাধি মন্দির আজকাল উদ্ঘাটিত হইতেছে। কিন্তু এ যাবৎকাল তাহাতে সূৰ্য্যরশ্মি অথবা বায়ু লাগে নাই। এ অবস্থায় ঐ সকল চিত্র এতকাল রহিয়াছে, তাহাতে বিশেষ বিচিত্র কি ? যে গ্রীক জাতি শিল্পশাস্ত্রে এত উন্নতি করিয়াছিলেন, সেই গ্রীস দেশে কি পুরাতন চিত্র এখন কিছু আছে ?—কিছুই নাই। দুই হাজার বংসর পূর্বে গ্রীসদেশে যে সকল চিত্র প্রস্তুত হইয়াছিল, কই তাহার একখানা আছে কি?—কিছুই নাই। তবে আমরা গ্রীক চিত্রের প্রশংসা করি কেন ? গ্রীক ঐতিহাসিক এবং অন্যান্য গ্রন্থ কর্তারা তাহাদের লিখিত পুস্তকাদিতে তাৎকালিক চিত্র এবং চিত্রকর দিগের কথা লিখিয়া গিয়াছেন; তাহাই প্রমাণ বলিয়া গণ্য করিয়া থাকি। সেই প্রকারে ভারতীর গ্রন্থকার দিগের বর্ণিত চিত্রাদির কথা যাহা আছে, তাহাই বা প্রমাণ বলিয়া গ্রহণ না করি কেন ? ছয় হাজার বংসর পূর্বে ভারতের শিল্প কি প্রকার ছিল তাহা আমরা সাধ্যমত বুঝাইয়াছি। এক্ষণে আমরা দেখিব এই যে, যে সময়ে ইউরােপে গ্রীকজাতি খুব উন্নত হইয়াছিলেন, ভারতে যে সময় নন্দবংশ, গুপ্তবংশ উপক্রমণিকা । অথবা আদিত্য বংশ রাজত্ব করিয়াছিলেন, সেই সময়ে ভারতে চিত্রবিদ্য। অথবা ভাস্কর বিদ্যার কি অবস্থা ছিল।—হণ্টার সাহেব স্বীকার করিয়াছেন যে, ভারতের স্থানে স্থানে বহু পুরাতন দুই একটা প্রস্তর মূর্তি দেখা যায়, সে গুলি নিঃসন্দেহই কোনও গ্রীক শিল্পী কর্তৃক প্রস্তুত হইয়াছে। সেই সকল মূর্তির মুখাবয়ব এবং অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গাদির গঠন প্রণালী দেখিলে তাহা হিন্দু কীৰ্ত্তি বলিয়া বোধ করিতে পারা যায় । বস্তুতঃ তাহা কোনও গ্রীক শিল্পী কর্তৃক প্রস্তুত বলিয়াই বােধ হয়। হণ্টার সাহেব ভারতীয় দেব-মূৰ্ত্তিতে উচ্চ শিল্পকলার চিহ্ন দেখিয়া স্থির করিয়াছেন যে, উহা কোন গ্ৰী শিল্পী কর্তৃক প্রস্তুত হইয়াছে। আমরা বলি, উহা না হইলেও পারে। গ্রীক বীর এলেকজাণ্ডর ভারতের উত্তর পশ্চিম প্রান্তে গ্রীক রাজ্য স্থাপন করিলে পর এলেজাণ্ডারের সেনাপতি সিলিউকস্ চন্দ্র গুপ্তের সহিত বৈবাহিক সম্বন্ধ করিয়াছিলেন। গ্রীক পণ্ডিত মেগাস্থানিস চন্দ্র গুপ্তের সভায় দূত স্বরূপ ছিলেন, গ্রীক এবং হিন্দু জাতির নানা কারণে বিশেষ ঘনিষ্টতা হইয়াছিল ; সেই সংমিশ্রণে ভারতের অনেক পরিবর্তন ঘটে। সেই সময়ে গ্রীক শিল্পীদিগের অর্থোপার্জন নিমিত্ত ভারতে অবস্থান, অসম্ভাবিত নহে। কিন্তু এ দেশেও সে সময়ে ভাস্কর এবং চিত্রকর ছিল। বর্তমান কালে কলিকাতায় অনেক চীনা ছুতার মিস্ত্রী বাস করিতেছে। উক্ত ছুতার মিস্ত্রীরা দুই টাকা রােজ বেতন পাইলে কাষ্ঠের সর্বপ্রকার কাৰ্য্য সুন্দর করিয়া দিতেছে। তাহা বলিয়া কি এক্ষণে এ দেশে ভাল বাঙ্গালী ছুতার নাই ?—ঐ চীনা ছুতার দের অপেক্ষা ভাল বাঙ্গালী 'ছুতারও আছে। সেইরূপ, চন্দ্রগুপ্ত অথবা অশােকের রাজত্ব কালে ভারতে গ্রীক ভাস্কর অঞ্চবা চিত্রকর ছিল, ইহাতে বােধ করি, আপত্তি করিয়ার কোনও হেতু নাই। ;

চিত্রবিদ্যা । ভারতে পুরাতন চিত্র না থাকিবার কারণ আছে। তাই এই বার অমিরা বলিতেছি। গ্রীকদিগের কৃত যে সকল চিত্রের কথা ইতিহাসে পাওয়া যায়, তাহার একখানিরও অস্তিত্ব নাই। ইটালি দেশের সিমাবু নামক চিত্রকর ১২৪০ হইতে ১৩০২ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। তাঁহার প্রস্তুত যে কয়খানি চিত্র ইউরােপে অদ্যাবধি বিদ্যমান আছে, তাহাই বর্তমান কালে সর্বাপেক্ষা পুরাতন চিত্র বলিয়া কথিত হয় । উহা ছয় শত বৎসরের কিছু অধিক হইয়াছে। এক ইজিপ্ট দেশের সমাধি-মন্দির ব্যতীত পৃথিবীর কোন স্থানেই দুই সহস্র বৎসরের চিত্র বিদ্যমান নাই, ভারতবর্ষেই থাকিবে, ইহা কি হইতে পারে ? গ্রীস দেশের পুরাতন গ্রন্থাদি দ্বারা গ্রীক শিল্লের উৎকর্ষ স্থির করা হয়, সেই মত, আমাদের সংস্কৃত গ্রন্থাদি দেখিলেই এ দেশীয় শিল্পের কথা স্থির করা যাইবে । রাজা বিক্রমাদিত্যের সভার উজ্জ্বল রত্ন মহাকবি কালিদাস-লিখিত অভিজ্ঞান শকুন্তল নামক নাটকের ষষ্ঠ অঙ্কে রাজা দুষ্মন্তের শকুন্তলা- বিরহ বর্ণন কালে মহাকবি শকুন্তলার একখানি প্রতিমূর্তির কথা বর্ণনা করিয়াছেন। প্রবিশ্য চিত্রফলক হস্তে চেটী। ভট্টা ইয়ং চিত্তগদা ভাট্টিনী। ইতি চিত্রফলকং দর্শয়তি।” রাজা শকুন্তলার বিরহে অনেক দুঃখ প্রকাশ করিয়া অবশেষে একজন চেটিকে শকুন্তলার প্রতিমূর্তি আনিতে বলিলেন। রাজা দুষ্মন্ত নিজেই সেই প্রতিমূর্তি খানা চিত্র করিতে ছিলেন। চেটী সেই ছবিখানি আনিয়া বলিল, “ রাজন্ চিত্রগতা এই রাজ্ঞী ” এই বলিয়া পরিচারিকা ছবি দেখাইল। রাজা। বিলােক্য। অহ রূপ আলেক্ষ্য গতায়া অপি প্রিয়ায়। রাজা ছবির দিকে চাহিয়া বলিলেন, আহা, ছবি মাত্র, কিন্তু প্রিয়ার উপক্রমণিকা। কি রূপ । তথাহি। দীর্ঘাপাঙ্গ বিসরি নেত্রযুগলং লীলাঞ্চিত জ্বলতং। দন্তান্তঃ পরিকীর্ণ হাস কিরণ জ্যোৎস্না বিলিপ্তাধরং। কর্কন্ধু দ্যুতি পাটলো রুচিরং তস্যাস্তদেতম্মুখং । চিত্ৰেপ্যালপতীব বিভ্রমলসং প্রােদ্ভিন্ন কান্তিদ্রব।” আকর্ণ বিশ্রান্ত নয়ন যুগল, হৃদয়ে বিলাস পূর্ণ, ঈষৎ হাস্য জনিত কিরণ মালায় অধর শোভিত, ওষ্ঠ কর্কন্ধু ফলের ন্যায় বর্ণে সুন্দর, মুখ মণ্ডলে ঘর্ম বিন্দু সকল প্রকাশিত হইয়াছে ; আমার মনে হইতেছে যেন আমার সহিত কথা কহিবার জন্য প্রিয়া ইচ্ছুক হইয়াছেন। এই স্থলে মিশ্রকেশী নাম্নী একটী অপ্সরা অলক্ষে রাজার এই সকল কথা শুনিতেছিল। কবি তাহার মুখে এই প্রকার উক্তি করাইয়াছেন। তহ্মো এসা রাএসিনাে বত্তি আলেহানি উনদাজানে। পিয় সহী মে অগ্গদো বটট দিত্তি। ” ওমা কি আশ্চয্য ! এই রাজষির বৰ্ত্তিকার লেখন প্রপালী অতি উৎকৃষ্ট। প্রিয় সখি শকুন্তলা যেন আমার সম্মুখেই রহিয়াছেন ! রাজ।। অস্যস্তুঙ্গমিবস্তনদ্বয়ং নিম্নেবনাভিঃ স্থিতা। দৃশ্যন্তে বিষমেন্নতাশ্চ বলয়য় ভিত্তৌ সমায়ামপি। অঙ্গে প্রতিভাতি মাদ্বমিদং স্নিগ্ধ প্রভাবাচ্চিরং। প্রেম্ মম্মুখমীষদীক্ষত ইব স্মেরচিবক্তীবমাম্ ॥ ইহার বক্ষস্থল অত্যন্ত উন্নত, এবং নাভি সুগভীর, চিত্রফলকের উপরিভাগ সমান হইলেও ঐ সকল উচ্চ নীচ ভাব বেশ দেখা যাইতেছে। তৈলাক্ত বর্ণের প্রভাবে অঙ্গ সকলের স্বাভাবিক কোমলতা সুন্দররূপে বুবা যাইতেছে ; ইনি যেন প্রেমবশে আমায় কিছু বলিবার জন্য ঈষৎ হাস্য মুখী হইয়া আমার দিকে দেখিতেছেন। এই প্রকারে কিছুকাল কথার পর রাজার মনে হইল যে, চিত্রের .

চিত্রবিষ্ঠা। }} পাশ্বভূমি (Back grounds) অঙ্কিত করা হয় নাই ; তখন পরি- চারিকাকে কহিলেন, “চতুরিকে, অর্ধলিখিত মেদ্বিনােদ স্থান মস্মাভিঃ, তদগচ্ছ বর্তিকান্তাবদানয়।”– চতুরিকে, আমি বিনােদ স্থানটী অৰ্দ্ধ চিত্রিত করিয়াছি ; তুমি যাও, তুলিকা প্রভৃতি সমস্ত আনয়ন কর। চতুরিকা প্রস্থান করিলে, রাজ বয়স্য মাধব্য জিজ্ঞাসা করিতেছেন, ভো কিং এথ অবরং আলিহিদং ? ওহে, ইহাতে আবার কি চিত্র করিবার আছে ? “ রাজা। সখে শ্ৰয়তা- কাৰ্যা সৈকত লীন হংস মিথুনা স্রোতােবহ মালিনী। পাদাস্তামভিতে নিষন্ন চমরা গৌরীগুরাে; পাবনাঃ । শাখা লম্বিত বল্কলস্য তরাে নিৰ্মাতুমিচ্ছাম্যধ। শৃঙ্গে কৃষ্ণ মৃগস্য বাম নয়নং কণ্ড য়মানা মৃগী। সখে শ্রবণ করুন—স্রোতস্বতী মালিনী নদী, এবং উহার বালুকা- ময় তীরে উপবিষ্ট হংস মিথুন সকল, চমরী মৃগ শােভিত পবিত্র হিমালয়ের পাদদেশস্থ পর্বত রাজি, বৃক্ষ শাখায় লম্বিত বল্কল, এবং ঐ বৃক্ষের মূলে কৃষ্ণসার মৃগীগণ মৃগগণের শৃঙ্গে আপনাদের বাম নয়ন কণ্ডয়ন করিতেছে, এই সকল দৃশ্য ঐ চিত্রে সন্নিবেশিত করিতে ইচ্ছা করিতেছি। কালিদাস চিত্রবিদ্যা সম্বন্ধীয় যে সকল কথার অবতারণা করিয়াছেন, যদ্যপি তাহার সময়ে এই দেশে চিত্র শিল্পের খুব উন্নতি না থাকিত, তাহা হইলে মহাকবি কখনই চিত্রফলক, বর্তিকা, তৈলের বর্ণ, প্রতি- মুক্তির সাদৃশ্য, পার্শ্বভূমি, এবং স্বভাব দৃশ্যের ঐ সকল কথা বলিতে পারিতেন না। মনুর কালে চিত্রবিদ্যা বিদেশী লােকের দ্বারা অনুষ্ঠিত হইলেও মহাভারতের সময়ে দানব' কৃত হইলেও, কালিদাসের সময়ে চিত্রবিদ্যা উপক্রমণিকা। ভারতের নর নারীগণের বিশেষ আদরের সামগ্রী হইয়াছিল, সন্দেহ নাই। রাজা রাণীরা ভাল ভাল শিল্পাচার্যের নিকট চিত্রবিদ্যা শিক্ষা করিতেন। চিত্রশালা ছিল, (Ait gallery) এবং ঐ সকল চিত্র- শালায় শিক্ষা দিবার জন্য আচাৰ্য (paofessor) থাকিতেন। তাহারও প্রমাণ আছে। মহাকবি কালিদাসের বর্ণনা অসামান্য, কিন্তু যদ্যপি সেই সময়ে রাজগণ কর্তৃক চিত্রবিদ্যার সমধিক চর্চা, এবং উহার বহুল প্রচার না থাকিত, অথবা তৈল মিশ্রিত বর্ণের চিত্র প্রণালী এতদ্দেশে অজ্ঞাত থাকিত, তাহা হইলে কালিদাস অভিজ্ঞান শকুন্তলে ঐ বিষয়ের অবতারণা করিতে পারিতেন না। কেবল অভিজ্ঞান শকুন্তলই বা কেন বলি ? অগ্নিমিত্র নামে এক রাজা মালবিকা নাম্নী এক রাজকন্যার প্রতি অনুরাগী হইয়াছিলেন।—াহার এই অনুরাগ মালবিকার চিত্রিত মূর্তি দেখিয়াই হইয়াছিল। মালবিকাগ্নিমিত্র” নামক নাটকে কালিদাস তাহ দুইজন চেটি অথবা পরিচারিকার মুখে নিম্নলিখিত ভাবে ব্যক্ত করিয়াছেন।—একজন কহিতেছে- “ সহি, ঈরিসেন বাবারেণ অসন্নহিদাবি স ভট্টিণা কহং দিট্টা ?” সখি, এই সকল প্রসঙ্গে মালবিকা তাে রাজার অদর্শনীয়া ছিলেন, তবে রাজা তাঁহাকে কি প্রকারে দেখিয়াছিলেন ? সে জনাে দেবীএ পাশ গদো চিত্তে দিট্টো।” তিনি রাণীর নিকটে গিয়া চিত্রে তাহাকে দেখিয়াছিলেন । “কহং বিঅ ? » কেমন করিয়া ? সুনাহি। চিত্তসলিং গদা দেবী জদা পচ্ছগগবন্নরাঅং চিত্তলেহং আআরিঅস্স পলোঅন্তী চিদি তহি অন্তরে ভট্টা উবট্রিদো।” চিত্রশালায় গিয়া রাজ্ঞী যখন চিত্রাচার্য্যের চিত্রলেখা দেখিতেছিলেন, চিত্রবিদ্যা। সেই সময় রাজা তথায় উপস্থিত হইয়া মালবিকার চিত্র দেখিয়াছিলেন। ইহার উপর আমাদের অার টিকা টিপ্পনী অনাবশ্যক। পাঠক এখন নিজেই বুঝিয়া দেখুন, সেই সময়ে ভারতবর্ষে চিত্রবিদ্যার কি প্রকার চর্চা চিল। রাজা রাণীরা কি প্রকারে সুশিক্ষিত হইয়াছিলেন। ঐ মৰ্ম্মে আরও অনেক প্রমাণ উদ্ধত করা যাইতে পারে। ভূতি প্রণীত উত্তর রাম চরিত নাটকে চিত্র লইয়া অনেক প্রসঙ্গ দেখিতে পাওয়া যায়। আধূনিক পাশ্চাত্য ঐতিহাসিক পণ্ডিতেরা বিক্রমাদিত্যের সময় নির্ণয় করিয়াছেন, খ্রীঃ পূ ৫৭ বংসর। তাহা হইলে এক্ষণে ১৯৬৮ বৎসর অতিবাহিত হইয়াছে। কন্তু এই বিষয়ে একটু মত ভেদও আছে। এই প্রকার মত ভেদ হইবার কারণ এই যে, ঐতিহাসিক পণ্ডিতেরা বলেন যে, বিক্রমাদিত্য নামা অনেকগুলি রাজ। উরিনীতে (Malwa) রাজত্ব করেন। শেষ বিক্রমাদিত্য খ্রীষ্টীয় ৫১০—৫৬০ অব্দে করুর নামক যুদ্ধক্ষেত্রে সিথিয়ান (Seythial) সৈন্যদল একেবারে ধ্বংস করিয়াছিলেন। এক্ষণে কথা হইতেছে, কোন্ বিক্রমাদিত্যের সময় কালিদাস ছিলেন ? এ সম্বন্ধে Historian's fHistory হইতে অমর। নিম্ন অংশ উদ্ধৃত করিলাম ;- The latest authorities are now agreed that the great and victorious king Vickramaditya, who, as Leſmann says, “ together with his battle of Korur bas hitherto wandered incessantly like a wavering and restless shadow from 57 B. C. to 560 A. D., may How be definitely assigned to a reign dating from 510 to 500 A. D., in which time at Korur, he annibilated উপক্রমণিকা। the Scythian army." Historian's History, Vol. II. Y. 501. মহারাজ বিক্রমাদিত্যের সময় নির্ধারিত করিবার জন্য পাশ্চাত্য পণ্ডিতেরা প্রথমতঃ বড় গােলে পড়িয়াছিলেন। আমরা এক্ষণে ইউ. রােপীয় পণ্ডিতদিগের মত ছাড়িয়া দিয়া অন্য উপায়ে বিক্রমাদিত্যের সময় নির্ণয় করিব। বিক্রমাদিত্যের সভার নবরত্বের মধ্যে কালিদাসের সমসাময়িক বরাহ মিহির নামে একজন প্রসিদ্ধ জ্যোতির্বিদ পণ্ডিত ছিলেন। তিনিই “সূৰ্য্য সিদ্ধান্ত” নামক প্রসিদ্ধ গ্রন্থের প্রণেতা। তঁাহার সময়েই ভারতে জ্যোতির্বিদ্যার শেষ আলোচনা হইয়াছে। বৃহৎ সংহিতা ও তাহার প্রণীত। বৃহং সংহিতা দৃষ্টে পাওয়া যায় যে, সেই সময়ে ভারতীয়েরা তাৎকালীন “অয়নাংশ ” (precession of Equinoxes) নির্ণয় করিতে পারিয়াছিলেন। বরাহাচাৰ্য্য অয়নাংশ নির্ধারিত করিবার যে নিয়ম দিয়াছেন, তাহাতে পাওয়া যায়, * শাকমেকাক্ষিবেদোনং অর্থাৎ শক হইতে (বেদ = ৪, অক্ষি = ৩, এক =১) ৪৩১ বাদ দিবার কথা বলিয়াছেন। শক হইতে ৪৩১ বাদ দিয়া পরে খণ্ডানুসারে অয়নাংশ স্থির করিবার হেতু এই যে, ঐ ৪৩১ শকে বরাচাৰ্য্য উজ্জয়িনী হইতে মান মন্দিরাদি দ্বারা গ্রহ নক্ষত্রাদির গতিবিধি পৰ্য- বেক্ষণ করির। অয়নাংশ নির্ণয় করিয়াছিলেন। ঐ সময়েই আমাদের ভারতীয় জ্যোতিষ শাস্ত্রের খণ্ডা এবং গণিতের শ্লোক সকল বিধিবদ্ধ হয়। তারপরে আর এদেশীয় জ্যোতির্বিদ পণ্ডিতেরা গ্রহ নক্ষত্রাদির গতিবিধি চক্ষু দ্বারা নির্ণয় করিবার আবশ্যক বােধ করেন নাই। ঐ সকল খণ্ডা অনুসারেই এক্ষণে এতদ্দেশে পঞ্জিকা প্রস্তুত হয়। আমরাও ৪৩১ শক বিক্রমাদিত্যের প্রাদুর্ভাব কাল স্থির করিতে - - চিত্রবিদ্যা । বাধ্য হইতেছি। বর্তমান শক ১৮৩২ - ৪৩১ -১৪১; ১৯১০ - ১৪ ০১ ৫০৯ বৎসর। এ বিচারে আমরা ৫০৯ খ্রীঃ অব্দ পাইলাম । হেবেরা বলিতেছেম, ৫১০ হইতে ৫৬০ খ্রীঅব্দ ; প্রভেদ বেশী নহে। বৰ্তমান কাল হইতে ১৪০০ বৎসর পূর্বে ভারতে চিত্রবিদ্যার যে অবস্থা, তাহা কালিদাসের লেখা হইতে বুঝিতে পারা যায়। উহা যে চিত্রবিদ্যার অত্যন্ত উন্নত অবস্থা, সে বিষয়ে সন্দেহ কি ? আমরা ইতিপূর্বে বলিয়াছি যে বহু পূর্বকালে ভারতে ভাস্কর বিদ্যা এবং চিত্রবিদ্যা ছিল ; মনুসংহিতা, এবং মহাভারত রচনার কালে বােধ হয় অৰ্যেরা ঐ প্রকার শিল্প কৰ্ম্মকে (হীন ব্যবসায়, নীচ জাতিরা উহা করুক) অপমান সূচক মনে করতেন। শিল্পকাৰ্য্যে এবং চিকিৎসা কাৰ্য্যে হিন্দুশাস্ত্র মতে অনেক অস্পৃশ্য বস্তুর ব্যবহার আছে। এইজন্যই সম্ভবতঃ পুরাকালে মনু ঐ সকল ব্যবসায়কে নীচ জাতীয় বলিয়াছেন। ৬ হাজার বৎসর পূর্বে ভারতবর্ষে চিত্রকর অথবা ভাস্করের কোনও অভাব ছিল না। তবে এই মাত্র বলিতে পারি যে, উচ্চ জাতীয় লােকেরা উহা করিতেন না। পরে গ্রীক জাতির সহিত সংমিশ্রণে ভারতীয়েরা বুঝিলেন যে, চিত্রবিদ্যা এবং সঙ্গীত বিদ্যা সকলেরি আলােচনা করিবার বিষয়। তারপর হইতে উচ্চ জাতিয়েরা ক্রমশঃ ঐ সকল শিল্পের চর্চা করিয়া- ছিলেন। ভারতে গ্রীক জাতির পদার্পণ হইয়া যে ভারতীয় শিল্পকলা একটু গ্রীক ভাবাপন্ন হইয়াছে, আমরা তাহার কোনও প্রমাণ এখনাে পাই নাই। ভারতীয় ভাস্কর বিদ্যা (Sculpture) পূর্বাপরই ভারতীয় ভাব রাখিয়া আসিয়াছে। এক্ষণে আমরা এই প্রবন্ধ সমাপ্ত করিবার পূর্বে একবার দেখি যে, গ্রীক আক্রমণের পূর্বে, অর্থাৎ বুদ্ধ প্রাদুর্ভাব সময়ে ভারতে ভাস্কর বিদ্যার কি অবস্থা ছিল। / উপক্রমণিকা। ২৫ এই বিষয় বিচার করিতে হইলে, প্রস্তয় নির্মিত মুর্তি ভিন্ন আয় কিছু পাওয়া যায় না। ২৫•• শত বৎসর পূর্বে বুদ্ধ প্রাদুর্ভূত হয়েন। নন্দ, মহানন্দ, ধনানন্দ, চন্দ্রগুপ্ত, বিশ্বসার অশোেক; এই কয়জনই প্রসিদ্ধ বৌদ্ধ সম্রাট ছিলেন। . ভারতের সর্বত্র যে সমস্ত বৌদ্ধ কীৰ্ত্তি রহিয়াছে, তাহা দেখিলে এই বােধ হয় যে, ভারতীয় শিল্পকলায় এই সময় কিঞ্চিৎ অবনতি হয়। প্রস্তর নির্মিত বিশাল মন্দিরাদি এই সময়ে নির্মিত হইয়াছে, কোৰ সন্দেহ নাই, কিন্তু এই সময় যে সকল প্রস্তর মূর্তি নিৰ্মিত হইয়াছে, সে সকলি প্রায় বুদ্ধদেবের জীবনী লইয়া হইয়াছে। ইটালিতে ও এক- দিন এ অবস্থা গিয়াছে। এক সময়ে ইটালিয় চিত্রকরেরা কেবল ভার্জিন মেরি ও শৈশব যিশু অঙ্কিত করিয়াছেন। কেন্ধ রাজগণের সময়ও পদ্মাসনে ‘স্থিত বুদ্ধ দেবেরই প্রতিমূর্তি সকল প্রস্তুত হইয়াছে। সকল গুলি এক ধরণের, তাহাতে নূতনত্ব বা কবিত্বের . কিছু পাওয়া यायबा , আৰ্যদিগের কমলায়ভলােচন, তিলফুল মাশা, শালপ্রাংশু দেহ, বিশাল কক্ষ ; ইত্যাদি জাৰ্য্য চিহ্ন বৌদ্ধ শিল্পে আমরা পাই না ;—বৌদ্ধ রাজগণের নির্মিত প্রস্তর মূর্তি সকলে সৌন্দৰ্য শােভ নাই; মুর্তি গুলির নাশিকা স্কুল, দেহ খর্বাকার, চক্ষু অয়ত, ওষ্ঠাধয় মােটা ও কদাকার, হস্ত পদাদি এবং অন্যান্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গাদির সামঞ্জস্য নাই। • কলিকাতার মিউজিয়মে “ব্ৰাহ্মনিক স্কলপুচা” বলিয়া যে সকল প্রস্তর মূর্তি রক্ষিত হইয়াছে, সে গুলি বহু পুরাতন। সে গুলি দেখিলে বিয়াপন্ন হইতে হয় ; অত্যন্ত কঠিন কালাে প্রস্তরে তা এত হইয়াছে, এবং তাহা প্রায় ৬০০০ বৎসরের বলিয়া লিখিয়া দেওয়া হইয়াছে। পাঠককে আমরা অনুরােধ করি, কলিকাতার মিউজিয়মের, ভ্ৰান্ধনিক স্কলপচার” গুলি একবার অবশ্যই দেখিবেন। তাহাতে ;

চিত্রবিদ্যা। যে কারুকাৰ্য্য আছে, সেই কারুকাৰ্য বৌদ্ধ শিল্পে নাই। সে গুলি যাহার প্রস্তুত করিয়াছেন, তাঁহারা কোন দেশের কারিকর ? তাহার কি ইজিপ্ট তুইতে অথবা আসিরিয়া হইতে আসিয়াছিলেন ?হায় ! এক্ষণে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে আমরা অক্ষম। উহা দেখিবার এবং ভাবিবার বিষয়। বলা বাহুল্য, এই সকল বহু পুরাতন হিন্দু কীর্তি গুলি এক দিকে, এবং প্রায় ৪০০০ সহস্র বৎসর পরবর্তি বৌদ্ধ কীর্তি গুলি এক দিকে রাখিয়া তুলনা করিলে, বৌদ্ধ শিল্প অকিঞ্চিৎকর বলিয়া বােধ হইবে। বিক্রমাদিত্যের পর ভারতের গগণে সন্ধ্যা হইয়াছে। ইহার কিছু পরেই মুসলমান দিগের আধিপত্য ভারতে সুবিস্তৃত হইয়া পড়িয়াছিল। মুসলমান দিগের একেশ্বর বাদ, এবং প্রতিমার প্রতি বিদ্বেষ, এই দুই মনােবৃত্তির কারণ মুসলমান অধিকারে ভারতীয় শিল্প একেবারে বিনষ্ট হইয়াছিল। বিশেষতঃ এইজন্যই বােধ হয় ভারতীয় চিত্রাদি রক্ষিত হয় নাই। প্রতিমূর্তি অধিকাংশই ভগ্ন হইয়াছিল। পুরাতন দেবতার মন্দিরাদি ভাঙ্গিয়া মুসলমানেরা মসজিন্ করিয়াছেন। উৎকৃষ্ট প্রস্তর মুর্তি সকল ভাঙ্গিয়া দিয়াছেন। সুতরাং এই সময়ে ভারতীয় শিল্পলতা যে শুকাইয়া মৃতবৎ হইবে, তাহার আর বিচিত্র কি ? মােগল সম্রাট দিগের মধ্যে আকবর হিন্দু শিল্পকলা আবার পুনর্জী- বিত করিবার চেষ্টা করিয়াছিলেন। আকবরের প্রতিমূর্তি আছে, এবং পরিবর্তি সম্রাট গণও চিত্রিত প্রতিমূর্তি রাখিয়া গিয়াছেন। মুসলমানেরা দেব দেবীর প্রতিমূর্তি দেখিলে নষ্ট করিতেন, কিন্তু তাঁহারা অন্য প্রকারে চিত্রকর দিগকে উৎসাহ দিয়াছেন। হস্তি দন্ত নির্মিত ফলকের ছােট ছােট প্রতিমূর্তির উপর মুসলমান সম্রাট দিগের কৃপা দৃষ্টি ছিল। ভারতের বিখ্যাত নর নারীগণের প্রতিমূর্তি ঐ প্রকার ছােট ছােট হস্তিদন্ত ফলকের উপর নির্মিত হইত, এবং দীল্লি প্রদেশে উপক্রমণিকা। ঐ সকল প্রতিমূর্তির মহৎ ব্যবসায় চলিত। বাদসাহেরা ভঁহাদের প্রণয়িণীগণের ঐ প্রকার প্রতিমূৰ্ত্তি করাইয়া রাখিতেন। হস্তিদন্তের এই ঘােট ঘােট চিত্র গুলির উপর বাদশাহ দিগের অনুগ্রহ থাকার জন্যই বােধ হয় যে, অদ্যাবধি ঐ শিল্প ভারতে লুপ্ত হয় নাই। উহার এখনাে খুবই আদর আছে। এমন কি বর্তমান কালে ফ্রান্স অথবঃ ইংলণ্ডেও দীল্লির তুল্য ছােট চিত্র (miniature painting) প্রস্তুত হয় না। ইউরােপের জাতিগণ এ দেশে আসিতে আরম্ভ হইয়া পুনরায় ভারতে চিত্রবিদ্যার অনুশীলন আরম্ভ হয়। ভারতীয় শিল্প গগণে আবার ঊষা কাল দেখা যাইতেছে। চিত্রবিদ্যা। প্রথম অধ্যায়। সাধারণতঃ চিত্র সকলের দুইটা প্রধান বিভাগ দৃষ্ট হয়। (১) আদর্শমূলক চিত্র। (২) কল্পনা প্রসূত চিত্র। কোনও বস্তু অথবা ব্যক্তি বিশেষকে আদর্শ করিয়া চিত্র প্রস্তুত করিলে, সেই চিত্রকে আদর্শমূলক চিত্র বলা যায়। কোনও প্রকার আদর্শ ব্যতিরেকে, কেবল কল্পনা শক্তিদ্বারা যে চিত্র হয়, তাহাকে কল্পনা প্রসূত চিত্র কহা যায়। বলা বাহুল্য, আদর্শমূলক চিত্র অপেক্ষা কল্পনা প্রসূত চিত্র অঙ্কিত করা অধিকতর কঠিন কৰ্ম্ম।

চিত্রবিদ্য।
চিত্র।
চিত্র সকলের পূর্বোক্ত দুই সাধারণ বিভাগ ব্যতিরেকে অপর
চারিটি বিশেষ বিভাগও দৃষ্ট হয় -
(১) স্বভাব দৃশ্য।
(২) মানব দেহের চিত্র।
(৩) প্রতিমূর্তি।
(৪) ঐতিহাসিক চিত্র।
শেষােক্ত এই চারি বিভাগ, পূর্বোক্ত দুই সাধারণ বিভাগে মিলিত
হইয়া, সর্ব সমেত অষ্ট জাতীয় চিত্র হইতে পারে।
অষ্ট প্রকার চিত্র।
(১) আদর্শ মূলক স্বভাব দৃশ্য।
(২) কল্পনা প্রসূত স্বভাব দৃশ্য।
(৩) মানব দেহের আদর্শ মূলক
(৪) মানব দেহের কল্পনা প্রসূত চিত্র।
(৫) আদর্শ মূলক প্রতিমূর্তি।
(৬) কল্পনা প্রসূত প্রতিমূর্তি।
(৭) আদর্শ মূলক ঐতিহাসিক চিত্র।
(৮) কল্পনা প্রসূত ঐতিহাসিক চিত্র।
একাণে একে একে এই সকল প্রকার চিত্রের বর্ণনা করা যাইতেছে।
আদর্শ মুলক স্বভাব দৃশ্য।-স্বভাবের এক অনির্বচনীয় শােভা
আছে। তুষারাবৃত দুর্ল পর্বত শ্রেণী, শ্যামল শষ্য ক্ষেত্র, সমৃদ্ধি
শালী নয়, অথবা প্রবল তরঙ্গ সঙ্কুল অপার জলরাশি ; বিচিত্র বর্ণ
পূর্ণ মেধমালা পরিশােভিত সান্ধ্য গগণের ছটা প্রভৃতি প্রাকৃতিক
সৌন্দর্য্যের চিত্র করিতে পারিলে, উহা বড়ই মনোহর হইয়া থাকে।
ইহা ছাড়া ঐ চিত্রে যে স্থানে যে প্রকার জীব থাকিলে, স্বভাবের শোভা
বৃফিয়, সেই সেই স্থানে চিত্রে পশু পলি দেখাইতে পারিলে, চিত্রের
|

প্রম অধ্যায়। ২১ সৌন্দৰ্য্য অধিকতর শােভ প্রাপ্ত হয়। এই প্রকার চিত্র দেখিলে, চিতি আদর্শ স্থানের ভ্রান্তি জ্ঞান হয়। সেই চিত্র দেখিয়া বালক বালিকারাও বুঝিতে পারে যে, অমুক ফায়গার ছবি দেখা যাইতেছে। এই প্রকার চিত্রকেই আদর্শমূলক স্বভাব দৃশ্য বলে। কল্পনা প্রসূত স্বভাব দৃশ্য কোনও স্থান বিশেষের স্বভাব দৃশ্যকে আদর্শ না করিয়া, কেবল কল্পনা দ্বারা মনে কোনও দৃশ্যের রচনা পূর্বক চিত্র করিতে পারিলে, সেই চিত্র কল্পনা প্রসূত স্বভাব দৃশ্য হইবে। মানব দেহের আদর্শ মূলক চিত্র।—স্বভাবের নানাবিধ শােভা একত্রে সন্নিবেশিত হইলে, স্বভাবের চিত্র হয়, সেইরূপ মনুষদেহের নানাবিধ সৌন্দৰ্য একত্রে দেখাইতে পারিলে, তাহাও সুদৃশ্য চিক্র হয়। নর নারীগণের বাল্য, কৌমার, কৈশাের, যৌবন, প্রৌঢ়, এবং বার্ধক্যা- বস্থায় বিভিন্ন প্রকার রূপ লাবণ্য হইয়া থাকে। ঐ সকল রূপ অনিত্য, সুতরাং তাহার স্মৃতি মাত্র আমাদের মনে থাকে। কিন্তু প্রণয়ী, অথবা ভক্ত জনের পক্ষে সেই স্মৃতি কত মধুর! যদি ঐ সকল অনিত্য রূপের চিত্র করিয়া রাখিতে পারা যায়, তাহা পরে দেখিলে, বড় আনন্দ হয়। ঐ প্রকার আনন্দ হওয়া, আমাদের মনের স্বভাব। এই পৰ্য্যন্ত যাহা বলিলাম, ইহা কেবল আত্মীয় দিগেরই পক্ষে উপযুক্ত। কিন্তু আমাদের আরও এক মনােবৃত্তি আছে। তাহাকে রূপের স্পৃহা কহে। অনেকেই হয়ত, এই কথায় বিরক্ত হইবেন, এবং রূপের কথার সঙ্গে সঙ্গে ভ্রমর গুঞ্জন, বসন্ত, এবং কোকিল স্বরের আশঙ্কা করিতে পারেন। কিন্তু রূপের স্পৃহা বলিলেই যে তাহার সঙ্গে কোন অসম্যক ভাব মনে আসিবে, এমন কোনও কথা নাই। পরযােষিত মাতৃবৎ *—এই মনােবৃত্তির পূর্ণভাব রাখিয়া, যিনি সুন্দরী স্ত্রীলােকের দিকে চাহিয়া দেখিতে পারেন, তিনিই রূপ দেখিতে শিখিয়াছেন, এবং সেই প্রকার জন গণেই রূপের ধারণা করিতে পারেন। কামুক পুরুষে স্ত্রী সৌন্দর্য্য চিত্রবিদ্যা। দেখিতে পায় না, সে আপন হৃদয়েই বিষ উৎপাদন করিয়া, আপনিই পুড়িয়া মরে। রূপের স্পৃহা বশতঃই রূপ দেখিতে ভাল লাগে। ময়ুর পাখীটি সুন্দর, দেখিতে বেশ, খােকা সুন্দর ছেলে, ও পাড়ার তমুক খুব সুন্দর—এই কয়টি কথার রূপ লইয়াই উৎপত্তি। আমাদের চক্ষু দ্বারা আমরা যে রূপ ভাল দেখি, তাহাকেই সুন্দর বলি। সুন্দর পুরুষ, সুন্দরী স্ত্রী, সুন্দর ছেলে, সুন্দরী মেয়ে, এ সকলি দেখিলে আনন্দ হয়। আনন্দ কেন হয় ? কারণ এই যে, উহা দ্বারা । আমাদের রূপের স্পৃহা তৃপ্ত হয়। জিহ্বাতে সন্দেশ খাইতে ভাল লাগে, চক্ষুতে রূপ ভাল লাগে, কর্ণে সুমধুর শব্দ ভাল লাগে—ইহার জন্য জিহ্বা, কর্ণ, অথবা চক্ষুর দোষ কি? উহা আমাদের স্বভাব। চিত্রকর মাত্রেরই রূপ দেখিয়া অনুকরণ করিতে হইয়াছে, এবং ভবিষ্যতেও হইবে। রূপ দেখিতে গিয়া যদি কামােন্মত্ত হইয়া পড়, তবে তােমার রূপ দেখার ক্ষমতা নাই, তুমি কখনই সৌন্দৰ্য কলার অনুভব করিতে পারিবে না। মনুষ্য দেহের ভাল চিত্রও করিতে পারিবে না। সেই কারণ নর নারী দেহের সুন্দর চিত্র করিবার পূর্বে উত্তমরূপে চিত্ত বশীভূত করা আবশ্যক। তুমি চিত্রশিল্পী, তুমি স্বভাব মধ্যে রূপের ভ্রমর। হিমালয় পর্বতের উপর তুষার শ্রেণী নীল আকাশে ঝক ঝক করিতেছে, তুমি তাহা দেখিয়া মুগ্ধ; সমুদ্রের জলের উপর উদীয়মান অথবা অস্ত- গমনােম্মুখ সূৰ্য্য অথবা অথবা চন্দ্রমার শােভা দেখিয়া তােমার হৃদয়ে পবিত্র আনন্দ হয়; ইহাতে কৈ, তােমার মনে ত কোনও কলুষিত ভাব আইসে না। সেই মত, পবিত্র মনে যখন নগ্ন। ষােড়শী সুন্দরীকে দেখিয়া তাহার রূপ তােমার চিত্রে আনিবে, তখনি তােমার রূপ দেখিবার যথার্থ ক্ষমতা হইবে। তখন আর দেবী অথবা কিন্নরীকে দেখিয়াও তােমার মােহ হইবে না।

প্রথম অধ্যায়। আমরা আসল কথা বুঝাইবার জন্য অনেক অপ্রাসঙ্গিক কথা বলিয়াছি। বিকার শূন্য হৃদয়ে রূপ দেখিবার ক্ষমতা না হইলে, নর নারী দেহের চিত্র করিবার যােগ্যতা হয় না, ইহা বুঝাইতে ঐ সকল কথার অবতারণা করিতে হইয়াছে। রূপ দেখিবার ক্ষমতা হইলে, বুঝিতে পারা যায় যে, যতই সৌন্দৰ্য্য থাকুক, নিখুত রূপ কাহারও নাই। এক দেহে সকল শােভা পাওয়া যায় না বলিয়াই, চিত্রকরগণ দশের দেহ সৌন্দৰ্য্য লইয়া, একটি দেহের চিত্র করিয়া থাকেন। এ কথা উদাহরণ ব্যতিরেকে শিক্ষার্থির বােধ হইবে না, এ কারণ আমরা একটি সামান্য উদাহরণ দিলাম। শিক্ষার্থী নিম্নলিখিত বর্ণনামত চারিজন লােক মনে করুন। প্রথম লােক।—অত্যন্ত দীর্ঘাকার, এবং কৃশ অকৃতি। দ্বিতীয় লােক।—মধ্যমাকার, কিন্তু অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বলব্যঞ্জক এবং সুগঠন সম্পন্ন। তৃতীয় লােক।—খর্বাকৃতি, এই জন্য বাহুদ্বয়ের আজানুলম্বিত ভব। চতুর্থ লােক।—বিশেষ লক্ষণ—“কঁচা হলুদের মত” অথবা কঁাচা সােণার মত,” ইত্যাদি কথায় যে চম্পক নিন্দিত গৌর বর্ণকে বুঝায়, সেই প্রকার গৌরবর্ণ। পূর্বোক্ত এই চারি ব্যক্তিকে পৃথকভাবে দেখিলে, কেহই বিশেষ রূপবান্ বলিয়া প্রতিপন্ন হইতে পারে না, কিন্তু প্রথমােক্ত ব্যক্তির দৈর্ঘ্য, দ্বিতীয়ের অঙ্গ সৌষ্ঠব, তৃতীয়ের বাহুর দৈর্ঘ্য এবং চতুর্থের গৌর বর্ণের অনুকরণ করিয়া কোনও মনুষ্য মূর্তি প্রস্তুত করিলে, তাহা নিশ্চয়ই সুন্দর ও সুদৃশ্য হইবে, এবং এই প্রকার চিত্রকে আদর্শমূলক মানব দেহের চিত্র বলা যায়। ইউরােপ প্রদেশে অনেক রূপ যৌবন সম্পন্ন স্ত্রী পুরুষ চিত্রকর চিত্রবিদ্যা । t; দিগের নিকট আদর্শ স্বরূপ হইয়া, জীবিকা নির্বাহ করিয়া থাকে । আমাদের দেশে এ কথা বড়ই বিস্ময়কর হইতে পারে। ইউরােপে যাহারা ঐ প্রকারে জীবিকা নির্বাহ করে, তাহাদিগকে “ব্যবঘায়ী আদর্শ (Professional mode) নাম দেওয়া যায়। এই প্রকার আদর্শ অথবা মডেল’ ব্যতিরেকে কেবল কল্পনা হইতে মানব দেহের চিত্র অঙ্কিত করা, নিতান্ত কঠিন ব্যাপার। আঁহারা চিত্রবিদ্যার উচ্চ সীমা লাভ করিয়াছেন, তাঁহারা সকলেই এই প্রকার মডেল সাহায্যে চিত্রাদি অঙ্কিত করিতেন। বিন আদর্শে কোনও মনুষ্য মূত্তি অঙ্কিত করা হইলে, কল্পনা প্রসূত মানব দেহের চিত্র হইবে। ব্যানানুসারে দেবতার মুর্তি অঙ্কিত করাও কল্পনার কার্য্য। প্রতিমূত্তি।—ইহা অনেকেই দেখিয়াছেন; এই জাতীয় চিত্র অধিকাংশ স্থলেই আদর্শমূলক হইয়া থাকে। যে ব্যক্তির প্রতিমূর্তি প্রস্তুত করিতে হয়, তাহাকে সম্মুখে বসাইয়া চিত্র অঙ্কিত করাই সাধারণ নিয়ম। এই প্রকারে যে সকল প্রতিমূর্তি প্রস্তুত হয়, তাহাকে আদর্শ মুলক প্রতিমূর্তি বলা যায়। প্রতিমূর্তির মধ্যেও দৈবাৎ কোনও চিত্র স্মৃতি এবং কল্পনা হইতেও প্রস্তুত হইয়া থাকে। চিত্রকরের পরিচিত কোনও ব্যক্তি পরলােক গমন কক্সর পর যদি সেই মৃত ব্যক্তির প্রতিমূর্তি চিত্রকর মনে ভাবিয়া অঙ্কিত করিতে পারেন, তবেই তাহাকে কল্পনা প্রসূত প্রতিমূর্তি বলা যাইতে পারিবে। কালিদাস বর্ণিত রূজা দুষ্মন্ত কর্তৃক শকুন্তলার চিত্র কল্পনা-স্মৃতি প্রসূত। জীবন্ত ব্যক্তির চিত্রও এই প্রকার হইতে পারে। ইংলণ্ডের ভূতপূৰ্ব প্রধান মন্ত্রী গ্লাস্টোন মহােদয় যখন জীবিত ছিলেন, সেই সময়ে তাহার একখানি প্রতিমুর্তি ফ্রাঙ্ক, হল নামক চিত্রকর প্রথম অধ্যায়। কর্তৃক প্রস্তুত হইয়াছে। কথিত চিত্রকর সপ্তাহে এক দিবস মাত্র গ্লাডস্টোনকে হাওয়ার্ডে গির্জায় দেখিতে পাইতেন। গ্লাড়ষ্টোন প্রতি রবিবার প্রাতে উপাসনা করিবার নিমিত্ত গির্জায় যাইতেন, চিত্রকরও সেই সময়ে তাঁহার মুখাবয়ব দেখিয়া লইভেন। পরে নিজ গৃহে আসিয়া স্মৃতিশক্তি বলে চিত্র করিতেন। যাহার চিত্র এই ভাবে প্রস্তুত হইতেছিল, তিনি এই বিষয়ের কিছুই অবগত ছিলেন না। বৃদ্ধ মন্ত্রীবরের আরও অনেক প্রতিমূর্তি প্রস্তুত হইয়াছে, কিন্তু শিল্পবিং পণ্ডিতগণ এই প্রতিমূর্তি খানিকেই সর্বোৎকৃষ্ট বলিয়া প্রতিপন্ন করিয়া- ছেন। এই প্রকারে প্রতিমূর্তি প্রস্তুত করিতে পারিলে, তাহা কল্পনা- প্রসূত প্রতিমূৰ্ত্তি হইবে। ঐতিহাসিক চিত্র।—জগতে যে সমস্ত ঘটনা হইয়া গিয়াছে, যাহা হইতেছে, অথবা যাহা ভবিষ্যতে হইবে, তাহার চিত্র করিয়া দেখাইতে পারিলে, সেই চিত্রকে ঐতিহাসিক চিত্র বলা যায়। স্বভাব দৃশ্য, মানব দেহ, প্রতিমূৰ্ত্তি ইত্যাদি সকল প্রকার চিত্ৰই ঐতিহাসিক চিত্রে আবশ্যক হইতে পারে, এই কারণে, এই জাতীয় চিত্রের গৌৱৰ সৰ্বা- পেক্ষা অধিক। চিত্রবিদ্যায় বিশেষরূপ দক্ষতা না জন্মিলে, ঐতিহাসিক চিত্র অঙ্কিত করা যায় না -চিত্রকর গণও বহুদশী না হইলেও এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন না। ইহাতেও দুই বিভাগ দৃষ্ট হইয়া থাকে। উপস্থিত কোনও ঘটনা অবলম্বন পূর্বক যদি চিত্রের রচনা হয়, তবে তাহা অনেকটা আদর্শমূলক করিয়া লইতে পারা যায়, কিন্তু গত কোনও ঘটনা অবলম্বন করিয়া চিত্র করিতে হইলে, তাহা অধিকাংশ স্থলে কল্পনা প্রসূত হইৰে। ভবিষ্যৎ কোনও বিষয়ের চিত্র করিতে হইলে, কল্পনা ভিন্ন উপায় নাই। এই সকল বিষয় আরও বিশদ ভাবে স্থানান্তরে কথিত হইবে, সুতরাং এ স্থলে কেবল উল্লেখ মাত্র করিলাম।

ও8 চিত্রবিদ্যা। চিত্রবিদ্যার যে অষ্ট বিভাগ কথিত হইল, সেই সকল বিভাগ এক ব্যক্তির পক্ষে সম্যক রূপ আয়ত্ব করা বহুকাল সাপেক্ষ। পৃথিবীর সুবিখ্যাত চিত্রকরগণের জীবনী পাঠে অবগত হওয়া যায় যে, কোনও চিত্রকর, স্বভাব দৃশ্য, কেহ প্রতিমূৰ্ত্তি, কেহ বা ঐতিহাসিক চিত্রই উত্তমরূপ অঙ্কিত করিতেন। রাফেল নামক চিত্রকর প্রতিমূর্তি অঙ্কিত করিয়া অমর হইয়াছেন, কিন্তু তাহার প্রস্তুত কোনও স্বভাব দৃশ্যের কথা আমরা অবগত নহি। ক্লড়-লােরেন্ নামক চিত্রকর স্বভাব দৃশ্যের যে প্রকার চিত্র করিয়া গিয়াছেন, অদ্যাবধি সে বিষয়ে কেহই তাহার সমকক্ষ হইতে পারেন নাই। ক্লড ললারে দ্বারা প্রস্তুত কোনও প্রতিমুর্তির কথা আমরা জ্ঞাত নহি। আমরা চিত্রবিদ্যার যে সকল বিভাগের কথা বলিলম, উহার মধ্যে শিক্ষার্থীর যে বিষয়ে ইচ্ছা হইবে, তিনি প্রথম হইতেই সেই দিকেই অধিক ফ করিবেন। চিত্রবিদ্যার যে বিভাগেই প্রবৃত্তি হউক, চিত্রকর ও শিক্ষার্থী মাত্রেরই স্বভাব দৃশ্যের রচনা প্রণালী সম্যকরূপে অবগত হওয়া একান্ত কর্তব্য। আমরা চক্ষুদ্বারা যে সকল পদার্থ দেখিতে পাই, তাহার আকৃতি একটি বিশেষ প্রাকৃতিক নিয়মানুসারে আমাদের দর্শনেন্দ্রিয়ে পতিত হয়। আমরা শৈশব কাল হইতে সেই নিয়ম মত সকল পদার্থ দেখিয়া থাকি, এ কারণ তাহা আমাদের চিরাভ্যস্ত। পথে যাইতে যাইতে দেখিতে পাওয়া যায়, নিকটের লােক অপেক্ষা দূরস্থিত লোেকগুলির আকৃতি ছােট। পথের সমান মাপের ল্যাম্প পােষ্টগুলি দূর হইতে ক্রমশঃ ছােট দেখায়। পথের নিকটবর্তি অট্টালিকাদির সরল রেখা সকল (কার্নিস প্রভৃতির রেখা ) ক্রমশঃ দূরে গিয়া যেন নামিয়া পড়িয়াছে। কোনও রেলওয়ে লাইনের উপর হইতে দূরে দেখিলে বোধ হয় যেন রেলওয়ে লাইনগুলি একত্রিত প্রথম অধ্যায়। হইয়াছে। এই প্রকার আরও অনেক উদাহরণ দেওয়া যাইতে পারে। কিন্তু একটু চিন্তা করিলেই বুঝিতে পারা যায় যে, উহা অস্বাভাবিক। অর্থাৎ পথের লােঞ্জলি হােট দেখাইতেছে বটে, কিন্তু সেই লােকগুলি ৰাস্তবিক ক্ষুদ্রাকৃতি নহে। পথের ল্যাম্প পােষ্টগুলি ছােট দেখাইলেও উহা ছােট নহে। অট্টালিকার রেখা সকলও নামিয়া পড়ে নাই, রেলওয়ে লাইনগুলিও একত্রিত হয় নাই। ঐ সকল ভ্রান্তি দর্শন করা, আমাদের চক্ষুর স্বভাব। দূরের বস্তু প্রকৃত পক্ষে ছােট না হইলেও আমাদের চক্ষুর গুণে উহাকে ছােট দেখিতেই হইবে।-আমাদের চক্ষুঃ এই প্রকারে অনেক ভ্রান্তি, দর্শন করিয়া থাকে। পূর্বে বলিয়াছি, আমাদের দেখিবার একটি নিয়ম আছে। সেই নিয়ম আছে বলিয়াই আমরা দূর, নিকট, ইত্যাদি প্রভেদ বােধ করিতে সক্ষম হই। দূরস্থ এক ব্যক্তির আকৃতি ছােট দেখাইতেছে বলিয়াই আমরা দূরত্বের অনুভব করিতে পারি। নচেৎ চক্ষুর মধ্যে দূর নিকট সকলই এক প্রকার। দূরের বস্তুর আকৃতি চক্ষুর মধ্যে যে স্থানে প্রতিবিম্বিত হয়, নিকটস্থ পদার্থের আকৃতি ও চক্ষুর সেই স্থানেই দেখা গিয়া থাকে। কেবল আকৃতি গত পার্থক্য দ্বারাই সামীপ্য অথবা দূরত্ব অনুভব হয়। চক্ষুর যে স্থানে স্বাভাবিক পদার্থের আকৃতি প্রতিফলিত হয়, তাহাতে উচ্চ নীচ কিছুই নাই। চক্ষুর কথা বুঝিবার সুবিধা সকলের হইবে না, এ. কারণ আমরা চক্ষু ছাড়িয়া দর্পণের কথাও বলিতে পারি। দর্পণের উপর স্বভাব দৃশ্যের আকৃতি দেখিলে বুঝিতে পারা যাইবে যে, সমতল ভূমির উপর উচ্চ, নীচ, সামীপ্য, দূরত্ব প্রভৃতি কেমন দেখা যায়। আমাদের চক্ষুর অভ্যন্তরেও সকল পদার্থের আকৃতি ঐ ভাবেই পতিত হইয়া থাকে। একখানি আয়নার উপরে যে ভাবে ছবি পড়িয়াছে, সেই মত চিত্রবিদ্যা। আকৃতি গত সামঞ্জস্য রাখিয়া, কোনও সমতল ভূমির উপর ( যথা কাগজ, কাঠফলক, ক্যাম্বিস, ইত্যাদি) সেই সমস্ত পদার্থের আকৃতি ষ অঙ্কিত করা হয়, তাহাতে ও পূর্বোক্ত দূরত্ব সামীপ্যাদির ভাব রক্ষিত হইবে, এবং সেই চিত্র তত্তৎ বিষয়ের চিত্র বলিয়া গণ্য হইবে, সন্দেহ নাই। যে সকল নিয়মে আমাদের চক্ষু স্বাভাবিক পদার্থ সকলের রূপ গ্রহণ করিয়া থাকে, চিত্ৰকাৰ্যে সেই সকল নিয়মাবলী একান্ত প্রয়ােজনীয়। সেই নিয়ম গুলিকে ইংরাজি কথায় (Perspective) ‘পার পেকটিভ’ নাম দেওয়া হয়। ভাষার পক্ষে ব্যাকরণ শাস্ত্র যে প্রকার, চিত্রবিদ্যায় নিয়মগুলিও সেই প্রকার। এই জন্য চিত্রকর মাত্রেরই এই বিষয়ে মনােযােগী হওয়া একান্ত আবশ্যক। ঐ সকল নিয়ম শিক্ষা করিলে, স্বভাব দৃশ্য অঙ্কিত করিতে পারিবে। স্বভাব দৃশ্য কিছুদিন অঙ্কিত করিলেই, হস্তের জড়তা অনেকটা দূর হইবে, এবং শিক্ষার্থী চক্ষু দ্বারা যাহা দেখিবেন, ইচ্ছামাত্রেই সেই পদার্থের চিত্র অনায়াসে করিতে পারিবেন। পারস্ পেকটিভ দ্বিতীয় অধ্যায়। খড়ী, কয়লা, অথবা সীস ধাতু দ্বারা প্রথমতঃ চিত্ৰকাৰ্য্য অভ্যাস করিতে হয়। খড়ী এবং কয়লার ব্যবহার কিছু কঠিন, এ কারণ এক্ষণে সর্বত্রই লেড়-পেসীলের ব্যবহার প্রচলিত হইয়াছে। লেড পেসীল চিত্ৰকাৰ্যের উপযােগী হইলে, ডুইং পেসীল বলে। ডুইং পেসীল কতকগুলি কঠিন, এবং কতকগুলি কোমল শ্রেণীর হইয়া থাকে। কঠিন পেসীলগুলি এরূপভাবে প্রস্তুত হয়, যে উহা দ্বারা কিছু লিখিলে, কাগজের উপর সামান্য দাগ পড়ে। ইরেজার, রবার, দ্বিতীয় অধ্যায়। অথবা ব্রেড (পাউরুটির শাস) দ্বারা সেই দাগ ইচ্ছামত তুলিয়া ফেলিতে পারা যায়; এই শ্রেণীর পেীল গুলিকে ‘ফাম’ (Firm) অথবা হার্ড' (hard) নাম দেওয়া হয়। ইংরাজী F অথবা H অক্ষর উহার সাঙ্কেতিক রূপে ব্যবহৃত হইয়া থাকে। কোমল জাতীয় পেীল দ্বারা সহজেই কাগজের উপর বেশ ঘোর বর্ণের দাগ পড়ে, একটু চাপ দিয়া লিখিলে, খুব গভীর কৃষ্ণ বর্ণের রেখা ও ইহাদ্বারা অঙ্কিত করিতে পারা যায়। ইংরাজীতে এই জাতীয় পেসীল গুলিকে ‘সফট’ (Soft) নাম দেওয়া হয়, এবং ইংরাজী B অক্ষর উহার সাঙ্কেতিক রূপে ব্যবহৃত হইয়া থাকে। সর্বাপেক্ষা কঠিন পেীলের সাঙ্কেতিক নাম HHHH'। ইঞ্জিনিয়ার এবং উড এনগ্রেভার দিগের ইহা প্রয়ােজন। খুব সূক্ষম রেখা কাগজের উপর টানিবার আবশ্যক হইলে, এই পেসীল ব্যবহার করিবে। HHH |—পূর্বোক্ত পেসীল অপেক্ষা ইহা কিঞ্চিৎ কোমল, এই জন্য চারিটির পরিবর্তে তিনটি H অক্ষর ইহার সাঙ্কেতিক নাম। অট্টালিকাদির চিত্র করিবার পক্ষে ইহা উপযুক্ত। তা তন্তুর ন্যায় সূক্ষম রেখা এই পেসীল দ্বারা টানিতে পারা যায়। ইহাও ইঞ্জিনিয়ার দিগের ব্যবহারে লাগে। HH |—সাঙ্কেতিক নামের অক্ষরগুলিও যেমন একটী করিয়া কম করা হইয়াছে, পেসীল সেই মত একটু একটু কোমল ভাবাপন্ন করা হইয়াছে। “ডবল্ এইচ” জাতীয় পেীল দ্বারা চিত্রকরেরা ‘পার্শ্বরেখা’ অথবা আদর করিয়া থাকেন। ইহাও কঠিন শ্রেণীর পেশ্লীল, এ কারণ কাগজের উপর ইহার দাগ অতি সামান্যই পড়িয়া থাকে। H—এই পেসীল আরও একটু কোমল, এ কারণ ইহাদ্বারা ৩৮ চিত্রবিদ্যা। স্বল্প পরিমাণ স্কেচ করিতেও পারা যায়। এই পেীল দ্বারা স্কেচ করিয়া, পরে কোমল জাতীয় পেীল দ্বারা আবশ্যক মত স্থানে স্থানে ঘোর বর্ণের ছায়া অঙ্কিত করিতে হয়। HB-যখন চিত্রকর বুঝিতে পারিবেন যে, হস্তের জড়তা দূর হইয়াছে, অর্থাৎ যখন অঙ্কিত চিত্রাদির বড় একটা সংশােধন করিবার প্রয়ােজন থাকেনা, সেই সময়ে এই জাতীয় পেীল ব্যবহার করা উচিত। B—ইহা কোমল জাতীয় পেসী। সাধারণত: ছায়া অঙ্কিত করিবার জন্যই ইহার প্রয়োজন হয়। BB1-পূর্বোক্ত পেসীল অপেক্ষা কোমল। অধিকতর ছায়া যুক্ত স্থান অঙ্কিত করিবার জন্য ইহা উপযােগী। BBB—এই পেসী আরও কোমল। চিত্রের যে সকল স্থান বিশেষ ঘাের করিবার প্রয়ােজন হইবে, সেই হলে এই পেসীলের প্রয়ােজন হয়। BBBB ইহা সর্বাপেক্ষা কোমল, এবং ইহা ঘাের কৃষ্ণবর্ণের। ইহার দাগ কালী অথবা ভূষার ন্যায় বােধ হয়। ইহার দ্বারা উজ্জ্বল কৃষ্ণ বর্ণের ছায়া (Sloading) অঙ্কিত করিতে পারা যায়। আমরা যে কয় প্রকার ডুইং পেীলের উল্লেখ করিলাম, এই কয় জাতীয় পেসীল চিত্ৰকাৰ্যে ব্যবহৃত হয়। সাধারণতঃ যে সকল লেড, পেীল বাজারে কিনিতে পারা যায়, তাহাতে চিত্ৰকাৰ্য ভাল হয় না। ইংলণ্ডের উইন্সর-এবং-নিউটন, এ এবং সি হার্ডমাউথ, এ, ডলিউ ফেবার, এবং জাম্মেণির যোহন্ ফেবাক্ নামক ব্যবসায়িরা লেড, পেনসীল নির্মাতা বলিয়া সুবিখ্যাত। আমরা শিক্ষার কাল হইতেই উইনস এবং নিউটন্ নামক ব্যবসায়িদিগের প্রস্তুত সর্ব- প্রকার শিল্পকাৰ্য্যের উপযােগী পেসীল, তুলিকা, জলের ও তৈলের বর্ণ ইত্যাদি ব্যবহার করিতেছি, উহাদের প্রস্তুত সকল দ্রব্যই অতি দ্বিতীয় অধ্যায়। EXTRA উত্তম। এই পুস্তকে ইহঁাদের প্রস্তুত সকল দ্রব্যাদির চিত্র সন্নিবেশিত হইয়াছে উইল্স এবং নিউটন কৃত ডুইং পেন্সী নানা প্রকার আছে, “আর্টিষ্ট-কম্বারল্যাও- লেড়” নামক পেন্সীল অতি উচ্চ শ্রেণীর.। চিত্রে ঐ প্রকার এক ডজন পেনসী দেখান হইল। HHHH, HHH, HH, II, F, HB, B এবং JB; এই অষ্ট জাতীয় পেসী প্রত্যেকটির মূল্য ৬ পেনি = ছয় আনা। BBB পেনসী একটি ৯ অনা। BBBB জাতীয় কোমল পেনসীল একটির বিলাতী মূল্য ১ সিলিং = ১২ আনা। কলিকাতার থ্যাকার পিঙ্ক, নিউম্যান, কোং, নবীন চন্দ্র দত্ত কোং চিত্ৰকাৰ্যের উপযােগী সকল দ্রব্য বিক্রয় রাখেন । পেনসী কটিবার জন্য একখানি তীক্ষাধার বিশিষ্ট ছুরী রাখা প্রয়ােজন। এই চুরীকার ধার মােটা হইলে, ডুইং পেসীল কাটিবার অসুবিধা হয়। চিত্ৰকাৰ্য্যের উপযােগী কাগজ।যে সকল কাগজ সাধারণতঃ লিখিবার জন্য ব্যবহৃত হয়, তাহা চিত্রকর্যের উপযােগী নহে। চিত্র- কার্য্যের উপযোগী কাগজ মােটা এবং খস্ খসে হইলে ভাল হয়; কোনও কোন কাগজের CUMBERLAND LEAD WINSOR & NEW FON LTD LONDON! লা"লেড়। ARTIST'S CUMBER ৮ চিত্রবিদ্যা। উপরিভাগ ঈষৎ রঞ্জিত থাকে। ঐ প্রকার ঈষৎ রঞ্জিত কাগজে সময়ে সময়ে কার্যের সুবিধা হইলেও উহা নব্য শিক্ষার্থীর উপযােগী নহে। প্রথম শিক্ষার সময় যাহা অঙ্কিত করা হয়, তাহা প্রায়ই একেবারে মিভূল হয় না; রবার অথবা ব্রেড দ্বারা মুছিবার সময় কাগজ ঘর্ষণ হেতু ক্ষয় প্রাপ্ত হয়; ইহাতে রঞ্জিত বর্ণ উঠিয়া গিয়া স্থানে স্থানে বিবর্ণ হইলে, মন্দ দেখায়। বিশুদ্ধ শ্বেত বর্ণের কাগজ হইলে, এ প্রকার কোনও আশঙ্কা থাকে না। হােয়াটম্যান, কৃত ডুইং পেপার চিত্রকর্যের প্রধানতঃ উপযােগী। ঐ কাগজের মূল্য অধিক, এ কারণ প্রথমতঃ কার্টিজ পেপার ব্যবহার করিলেও হানি নাই। হোয়াটম্যান, কৃত কাগজ এবং ভাল কার্টিজ কাগজ একত্ব করিয়া পার্শ্বস্থিত চিত্রানুযায়ী নানা প্রকার জুইং ব্লক্ প্রস্তুত করা হয়। উহাতে অনেকগুলি কাগজ থ'কে। উপরের খানি অঙ্কিত হইলে তাহা তুলিয়া লওয়া যায়, এবং পুনর্বার অঙ্কিত করিবার জন্য একখানি সজ্জিত পাওয়া যায়। এই প্রকারে ৩০৩২ খানি চিত্র অঙ্কিত করা হইলে ব্লকের কাগজ ফুরাইয়া যায়। আমরা এই প্রকার ব্লক সুবিধা- জনক মনে করি। খালি কাগজ কিনিলে যে ব্যয় পড়ে, এই প্রকার ব্লক লইলে তদপেক্ষা কিঞ্চিদধিক খরচা হয়। ইহাতে ডুইং-পেপার ভাল থাকে। IMPROVEO SOLID SKETCH BOOK WINR & MEWTON LONDON *... স্কেচ ব্লক।

1. . . ."T".
দ্বিতীয় অধ্যায়।
punRena
চিত্ৰকাৰ্য্যে সর্বদাই নানা প্রকার পরিমান
লইবার আবশ্যক হয়। ঐ কার্যের জন্য
ডিভাইডার অথবা কম্পাস ব্যবহার করিতে
হয়। পার্শ্বস্থিত চিত্রে কম্পাসের আকৃতি
দেখান হইয়াছে ।
বাে-পেসীল।–এই যন্ত্র দেখিতে প্রায়
কম্পাসেরই মত, কেবল ইহার একটি বাহুতে
পেীল বসাইয়া লইতে হয়। বৃত্ত অঙ্কিত
করিবার জন্যই ইহার আবশ্যক হয়। পার্শ্ব
স্থিত চিত্রে একটি বাে-পেসী দেখান
হইয়াছে।
প্রােট্রাক্টার।—ডিগ্রী অথবা কোণ অঙ্কিত
করিবার জন্য নিম্নের চিত্রানুযায়ী একটি যন্ত্রের
অবশ্যক হয়। সম্পূর্ণ একটি বৃত্তের অভ্যন্তরে
৩৬০ ডিগ্রী আছে। অর্ধবৃত্তের মধ্যে দুইটি
সমকোণ অর্থাৎ ১৮০ ডিগ্রী অাছে। নিম্নস্থ
চিত্রে ঐ প্রকার দুই সমকোণ যুক্ত প্রােট্টা-
টার দেখান হইল।
:
৭০ •
৫০

চিত্রবিদ্যা। * E ইরেজার।--চিত্রে ইরেজারের আকৃতি দেওয়া হইল। পেন্, সীল অথবা কালীর দাগ উঠাইবার জন্য ইহার আব- শ্যক। এ, ডবলিউ ফেবার নির্মিত ইরেজারই উৎকৃষ্ট। টি-স্কয়া।—এই যন্ত্র এক প্রকার মাটাম। সমকোণ এবং রেখা অঙ্কিত করিবার জন্য ইহার ব্যবহার হয়। আমরা এই অধ্যায়ে যে সকল যন্ত্রাদির উল্লেখ করিলাম, ঐ সকল যন্ত্রাদি ক্রয় করিতে ১৫:৬ টাকার সাবশ্যক পারে। তৃতীয় অধ্যায় লেড-পেসীল কি প্রকারে কাটিয়া লইতে হয়, তাহা সকলেই দেখিয়াছেন, কিন্তু চিত্ৰকাৰ্য্যের উপযােগী: করিয়া পেসীল কাটিতে সকলে অবগত নহেন। পেন্সীলের অগ্রভাগ'যাহাতে বেশ সূক্ষম হয়। অথচ অল্প চাপে ভাঙ্গিয়া না যায়, এই ভাবেই লেড, পেীল কাল তৃতীয় অধ্যায়। আবশ্যক। একখানি তীক্ষ্ণধার বিশিষ্ট দুরী দ্বারা চিত্রানুযায়ী আকৃতি মত পেীল কাটিয়া লইবে। চিত্রের যে স্থানে যে প্রকার রেখা অঙ্কিত করিবার প্রয়ােজন হইবে, পেসীলের অগ্রভাগ সেইমত স্কুল অথবা সূক্ষম করিয়া লইতে হয় ; সীস ধাতু কাষ্ঠের অগ্রভাগে অধিক বাহির করিয়া লইলে, অঙ্কিত করিবার সময় উহা মুট মুট করিয়া ভাঙ্গিয়া যায়, এ কারণ লেড়, অধিক বাহির করা উচিত নহে। লেড-পেীল দ্বারা খুব সূক্ষম রেখা, অথবা প্রশস্থ ছায়া, এ উভয়ই উত্তমরূপ অঙ্কিত করা যায় ; এই নিমিত্তই চিত্ৰকাৰ্যে ইহার অধিক পরিমাণে ব্যবহার প্রচলিত হইয়াছে। চিত্র- কার্য্যের উপযােগী একটু কাগজ, এবং ডুইং পেসীল হইলেই সকল প্রকার চিত্ৰই করিতে পারা যায়। শিক্ষার্থী মাত্রেরই এরূপ দ্রব্যের ব্যবহার প্রণালী উত্তমরূপে অবগত হওয়া একান্ত আবশ্যক। রবার ইরেজার দ্বারা ঘর্ষণ করিলে, পেনসীলের দাগ উঠিয়া যায়। পাউরুটির খণ্ড দ্বারা ঘষিলেও পেনসলের দাগ মুছিয়া ফেলিতে পার। যায়। চিত্রের কোনও স্থানে দোষ হইলে, তাহা সহজেই তুলিয়া ফেলা যায়, ইহা একটা কম সুবিধার কথা নহে। লেড-পেনসীল দ্বারা চিত্র করিবার যে সকল সুবিধার কথা বলা হইল, অপর পক্ষে পেনসীলের যাহা দোয, তাহাও এই স্থলে উল্লেখ যােগ্য। কোনও বস্তুর দোষ গুণ উভয়ই অবগত হইলে, সেই দ্রব্যটির ব্যবহার সময়ে সাবধান হইতে পারা যায় ; দোষেরও সংশােধন করিবার উপায় কি, তাহাও কথিত হইতেছে। মসীবর্ণ; অথবা বাঙ্গালা কালীর লেখা যেমন স্থায়ী, পেনসীলের লেখা সেই প্রকার স্থায়ী হয় না। যে প্রকার সীস ধাতু দ্বারা আজ কাল পেনসীল প্রস্তুত হয়, তাহাকে ব্লক-লেড, অথবা গ্রাফাইট বলে।

৪৪ চিত্রবিদ্যা উহা প্রকারান্তর অঙ্গার। জল বায়ুর প্রভাবে উহার কোনও প্রকার পরিবর্তন হইবার সম্ভাবনা নাই। কিন্তু কাগজের উপর হইতে পে- সীলর লেখা উঠিয়া যাওয়ার কারণ এই যে, কাগজের উপর উহার ও ভা লাগিয়া থাকিবার কোন প্রকার আঠা নাই। কাষ্ঠের উপর হইতে খড়ীর দাগ মুছিবা মাত্রই যেমন উঠিয়া যায়, পেনসীলের দাগও সেই কারণে কাগজের উপর হইতে মুছিয়া কায়। কাষ্ঠের উপর খড়ীর গুড়া যে প্রকার অসংলগ্ন ভাবে অবস্থিতি করে, কাগজের উপরও পেনসীলের সূক্ষম পরমাণুপুঞ্জ সেই প্রকার অসংলগ্ন ভাবে অবস্থিতি করে; এমন কি, একখণ্ড বস্ত্রদ্বারা মুছিলেও পেনসীলের দাগ অনেকটা মুছিয়া কাগজ অপরিষ্কার হইয়া পড়ে। কিন্তু যদ্যপি কোনও কৌশলে পেনশীলের লেখার উপর কোনও প্রকার স্বচ্ছ এবং পরিষ্কার আঠা দেওয়া যায়, তাহা হইলে পেনসীলের লেখা কালীর মতই স্থায়ী হইতে পারে। পেনদীল দ্বারা কোনও চিত্র প্রস্তুত করিয়া তাহাতে আঠা দেওযু আবশ্যক। এই ক্রিয়াকে ফিক্সিং’ (Fixing) বলে। যে কাঠা দেওয়া হয়, তাহার নাম ‘ফিক্সেটিভ (Fixative)। ফিক্সেটিভ দেওয়ার নিয়ম। উৎকৃষ্ট অরবি গঁদ চূর্ণ ১ ভাগ, এবং বিশুদ্ধ জল ৫০ ভাগ একত্র করিয়া ভিজাইয়া রাখিবে। অধিক দিবস থাকিলে এই আঠা নষ্ট হইয়া যায়, এ কারণ ইহা ব্যবহার করিবার পূর্বেই প্রস্তুত করা উচিত। “গম্ এঁকেসিয়া পাউডার” নামে ঐ গঁদ সকল ডিস্পেনসারিতে পাওয়া যায়। জলে উহা ভিজিলে, বেশ পরিষ্কার আঠা হইবে। ঐ আঠা পেীল দ্বারা কৃত চিত্রের উপর অতি সূক্ষম বিন্দু ভাবে ফেলিতে হইবে। ভূলিকা দ্বারা ছবির উপর উহা মাখাইবার যো নাই। তাহা করিতে গেলে, পেনসীলের দাগ, মুছিয়া গিয়া ছবির শােভা একেবারে তৃতীয় অধ্যায়। বিনষ্ট হইবার সম্ভাবনা। একখানি পরিষ্কৃত থালা অথবা ডিসে করিয়া আবশ্যক মত আঠা ‘াকিয়া লইবে, এবং কাগজ খানির চিত্রের দিকটা ক্রমে ক্রমে আঠার উপর ভাসাইয়া লইলে, পাতলা আঠা কাগজে লাগিয়া যাইবে, এবং শুষ্ক হইলে, পেনসীলের লেখা সকলও কাগজে লাগিয়া যাইবে। তখন উহা কাপড়ে আর মুছিয়া যাইবে না। এই উপায়েও সময়ে সময়ে চিত্রের অনেকটা বিকৃতি হইবার সম্ভাবনা। নিম্নলিখিত প্রণালী মত “ফিক্সেটিভ” দিতে পারিলে ভাল হয়। একটী পেন্ট-স্ (Paint Brush) অথবা কুঁচির অগ্রভাগ ছুরিকার দ্বারা কাটিয়া সমান করিয়া লইবে। সাধারণতঃ ক্ষৌর ক্রিয়ার সাবান মাখাইবার জন্য যে প্রকার কুঁচি অথবা ব্ৰস্ ব্যবহৃত হয়, সেই প্রকার একটা পুরাতন ব্রম্ হইলেও চলে। কিছু পরিমাণ ফিক্সেটিভ একটী পাত্রে লইয়া ব্ৰস তাহাতে ভিজাইয়া নিড়াইয়া লইবে। পরে উপরােক্ত চিত্রানুযায়ী পেনসীলের লেখার উপর আঠা মাখান ব্ৰস একটী অঙ্গুলী দ্বারা ঝাড়িতে থাকিবে। এই প্রকার করিলে আঠার সূক্ষম সূক্ষম বিন্দু সকল ছবির উপরে পড়িবে। সমস্ত কাগজে এইভাবে আঠা দেওয়া হইলে, তাহা শুষ্ক করিতে দিবে। দুই চারি মিনিট রৌদ্রে রাখিলে, আঠা বেশ শুখাইয়া যাইবে। এই প্রকারে আরও দুইবার আঠা দিয়া শুখাইয়া লইলে চিত্রখানি উত্তমরূপ ফিক্স করা হইবে। এই কাৰ্য্যের আঠা জলের মত পাতলা, এবং নিৰ্ম্মল হওয়া আবশ্যক। এই প্রকারে আঠা দেওয়া হইলে, অত্যন্ত কোমল জাতীয় পেনসীলের দাগও কিছু মাত্রও বিকৃত হইবে না।

৪৬
চিত্রবিদ্যা।
এই প্রকারে ফিক্স করা পেনসীলের চিত্র শত বৎসর কাল থাকিতে
পারে।
চিত্ৰ কাৰ্য্যের কাগজের পরিমান।-কাগজের নানা প্রকার পরিমান
আছে। কাগজের যত দৈর্ঘ্য হইবে, প্রস্থে তাহার : অংশ হইলেই
তাহা দেখিতে সুদৃশ্য হয়। দৈর্ঘ্যে যে কাগজ খানি ২৪ ইঞ্চি, প্রস্থে
সেখানি ১৮ ইঞ্চি হইলেই ভাল হয়। সেই মত ১২x১৬, ১৬x২৩,
২৪ X ৩২ ইত্যাদি মাপে ছবি করিতে হয়।
কাগজের ব্যবসায়িরা কতকগুলি নির্দিষ্ট মাপে নানা প্রকার কাগজ
প্রস্তুত করিয়া থাকেন। শিক্ষার্থীর ঐ সকল মাপ অবগত হওয়ার
প্রয়োজন বলিয়া আমরা উহা লিখিলাম।
ডিমাই—ইহা সর্বাপেক্ষা ছােট কাগজ। এই কাগজ দৈর্ঘ্যে ১৮
ইঞ্চি, প্রস্থে ১৩ ইঞ্চি।
মিডিয়ম–দৈর্ঘ্যে ২২ ইঞ্চি, প্রস্থে ১৭ ইঞ্চি।
রয়াল।—দৈর্ঘ্য ২৪ ইঞ্চি, প্রস্থ ১৯ ইঞ্চি।
ড ক্রাউন।—দৈর্ঘ্য ৩০ ইঞ্চি, প্রস্থ ২০ ইঞ্চি।
স্কুল-অ আর্ট।—দৈর্ঘ্য
৩০ ইঞ্চি, প্রস্থ ২২ ইঞ্চি।
ড এলিফ্যান্ট।—দৈর্ঘ্য ৪০ ইঞ্চি, প্রস্থ ২৭ ইঞ্চি।
সাধারণতঃ এই কয় প্রকার মাপের কাগজ প্রস্তুত হয়। কাগজ
কিনিবার সময় ডিমাই, রয়াল, প্রভৃতি নাম বলিলেই বিক্রেতাগণ বুঝিতে
পারেন।
যদি পূর্ব বর্ণিত স্কেচ-ব্লক ব্যবহার করা হয়, তাহার উপর চিত্র
করিবার জন্য কাগজ আঁটা আছে, সুতরাং তাহার উপর চিত্র করিলেই
যদ্যপি ঐ প্রকার ব্লক না থাকে, ডুইং পেপার স্বতন্ত্র
ভাবে ক্রয় করা হয়, তাহা হইলে, তাহার উপর কোনও চিত্র করিবার
পূর্বে একখানি ডুইং বাের্ভের উপর ডুইং পিণ দ্বারা কাগজ খানি
হইল।

তৃতীয় অধ্যায়। আবদ্ধ করিয়া লইতে হয়। ডুইং পিণের আকৃতি চিত্রে দেখান হইল। একখণ্ড পাতলা তক্তা পরিষ্কার করিয়া লইলেই ডুইং বোর্ড হইবে। ঐ বোর্ডের উপর কাগজ খানি আঁটিয়া লইলেই চিত্র করিবার উপযুক্ত হইবে। কাগজ না ঘুরাইয়া চিত্র করিবার আবশ্যক।—চিত্ৰকাৰ্য্যে নানা প্রকার রেখা অঙ্কিত করিবার সময় কাগজ অথবা ডুইং বাের্ড ফিরাইয়া ঘুরাইয়া রেখা সকল টানিবার সুবিধা হইতে পারে, কিন্তু ঐ প্রকার অভ্যাস না করাই উচিত। চিত্রখানিকে একভাবে স্থির রাখিয়া, সমস্ত রেখা অঙ্কিত করিতে অভ্যাস করাই শ্রেষ্ঠ উপায়। বড় বড় চিত্র অঙ্কিত করিবার কালে ক্যাম্বিস অথবা পেনেল ঘুরাইতে পারা যায় না; প্রথম অভ্যাস কালে চিত্র সুরাইয়া অঙ্কিত করিলে, সেই অভ্যাস সহজে পরিত্যাগ করিতে পারা যায় না। চিত্র করিবার কাগজ খানি সর্বতােভাবে পরিষ্কৃত রাখার একান্ত প্রয়ােজন। মনুষ্য দেহ হইতে সর্বদা ঘৰ্ম্ম এবং তৈলাক্ত পদার্থ সকল চর্মের উপরিভাগে নির্গত হইতে থাকে। কোনও কোন ব্যক্তির হস্তও সর্বদা ঘৰ্মাবৃত হইতে থাকে। ঐ প্রকার ঘৰ্ম্মবৃত এবং মলিন হস্ত কাগজে লাগিলে, কাগজে নানা প্রকার মলিন চিহ্ন হইয়া চিত্রের শোভা একে- বারেই নষ্ট হয়। যদি চিত্র করিবার পূর্বে সে দ্বারা হস্ত উত্তমরূপে ধৌত করা হয়, তাহা হইলে কাগজ মলিন হইবে না। ইহাতেও যদি হস্তের ঘৰ্ম্ম দূরীভূত না হয়, তাহা হইলে, চিত্র করিবার কাগজের উপরে আর একখানি ব্লটিং পেপার রাখিয়া, তাহার উপর হস্ত রাখিবে। এইরূপ সাবধান হইলে, কাগজ পরিষ্কার রাখ বিশেষ কষ্টকর হইবে না। শ চতুর্থ অধ্যায়। . ( Jj প্রথম শিক্ষার উপযোগী আবশ্যক দ্রব্যাদি সংগ্রহ করা হইলে, কি প্রকারে ঐ সকল দ্রব্যাদির ব্যবহার করিতে হইবে, আমরা এইবার তাহার বর্ণনায় প্রবৃত্ত হইলাম। সর্ব প্রকার চিত্রেই প্রথমত; পার্শ্বরেখা অঙ্কিত করিতে হয় ; পার্শ্ব- রেখা কাহাকে বলে, তাহা এইস্থানে বুঝান অাবশ্যক। আমরা চক্ষুদ্বারা সাহা কিছু দেখিতে পাই, সেই সকল বস্তুর আকৃতির সীমা অাছে। উদাহরণ স্থলে মনে করা যাউক, একটি মন্দির। চিত্রেও ঐ প্রকার একটি মন্দির দেখান হইল। দূর হইতে দেখিলে, মন্দিরের পার্শ্বে আকাশ দেখিতে পাওয়া যায়। যে স্থলে মন্দিরের শেষ সীমা, এবং আকাশের আরম্ভ, তাহাই মন্দিরের পার্শ্ব রেখা বলিয়া গণ্য করা যায়। সকল দিকেই ঐ প্রকার পার্শ্ব রেখা দ্বারা মন্দিরের আকৃতি নিরূপিত হইবে। কোনও অট্টালিকা প্রস্তুত করিতে হইলে, প্রথমত, তাহার ভিত্তি খনন করিয়া অট্টালিকার ব্যাপ্তি স্থির করিতে হয়, চিত্র মাত্রেই সেই প্রকার পার্শ্ব রেখার দ্বারা চিত্রিত বস্তুর সীমা স্থির করিতে হয়।

চতুর্থ অধ্যায়। মনুষ্য দেহ, বৃক্ষ, পর্বত, স্বভাব দৃশ্য, অথবা যে কোনও পদার্থ হউক না কেন, সকলেরই এই প্রকার পার্শ্বরেখা আছে। বলা বাহুল্য, পার্শ্বরেখার দ্বারাই চিত্রিত নানা পদার্থের আকৃতি গত পার্থক্য বুঝিতে পারা যায়। এই পার্শ্বরেখার ইংরাজী নাম (Out line) আউট লাইন। পার্শ্বরেখার বহির্ভাগে যাহা অঙ্কিত হয়, তাহাকে পাশ্বভূমি (Back ground) অথবা ব্যাক গ্রাউণ্ড, বলে। পার্শ্বরেখা এবং পার্শ্বভূমির উত্তমরূপ বােধ হইলে, উহা শিক্ষার্থী অঙ্কিত করিতে পারিবেন। পার্শ্বরেখা অঙ্কিত করিবার সময় নানা প্রকার বক্ররেখা এবং স্থানে স্থানে সরল রেখাও অঙ্কিত করিবার প্রয়ােজন হয়। সরল রেখা অঙ্কিত করিবার নিয়ম। দুইটি বিন্দু অবলম্বন করিয়া সরল রেখা অঙ্কিত করা হয়। রুল, স্কেল, অথবা টি-স্কয়া সাহায্যে যে প্রকারে সরল রেখা অঙ্কিত করিতে হয়, পরিবর্তি চিত্রে তাহা প্রদর্শিত হইল। কিন্তু ঐ প্রকার যন্ত্র সাহায্যে সরল রেখা অঙ্কিত না করিয়া, কেবল স্বাধীন ভাবে রুল ইত্যাদি চিত্রবিষ্ঠা। ব্যতিরেকে যদি সরল রেখা অঙ্কিত করিবার চেষ্টা করেন, তাহা আপাততঃ অত্যন্ত কঠিন হইলেও শীঘ্রই উহা উত্তমরূপ আয়ত্ত হইবে। অট্টালিকা প্রভৃতি অঙ্কিত করিবার সময় রুল অথবা স্কে দ্বারা সরল রেখা অঙ্কিত করিবার আবশ্যক হয়। কিন্তু যদি তুলিকা দ্বারা চিত্র করিতে হয়, তখন কোনও প্রকার যন্ত্র ব্যবহার করিয়া রেখা অঙ্কিত করা চলে না, কারণ প্রথমতঃ স্কেল্ ও পেনসীলের দ্বারা রেখা অঙ্কিত করিয়া, পরে তুলিকা দ্বারা ধীরে ধীরে ঐ পেনসীলের রেখা অবলম্বন করিয়া রং দেওয়া যায়। বক্র রেখা অঙ্কিত করিবার নিয়ম। স্বভাবের নানা পদার্থে অসংখ্য বক্র রেখা দৃষ্ট হয়। ঐ সকল বক্ৰ রেখার আকৃতি গত এত পার্থক্য দেখা যায় যে, উহা কোনও প্রকার যন্ত্র সাহায্যে অঙ্কিত করা অসম্ভব। চক্ষুর দ্বারা উহা দেখিয়া ধীরে ধীরে উহার অনুকরণ করা ব্যতিরেকে আর অন্য কোনও উপায় নাই। . আমাদের নিত্য ব্যবহারােপযোগী তৈজস সকলে নানা প্রকার বক্র রেখার সন্নিবেশ দেখা যায়। গাড় অঙ্কিত করিতে হইলে, প্রায় সকল পার্শ্বেই বক্র রেখার আবশ্যক। ঐ সকল বক্র রেখা অঙ্কিত করিবার পূর্বে কতকগুলি বিন্দু দ্বারা উহার পথ করিয়া লইলে, অনেকটা সুবিধা হয়। অথবা কঠিন জাতীয় কোনও প্রকার পেনসীল দ্বারা সূক্ষম সূক্ষম ছােট ঘােট রেখা করিয়া পার্শ্ব রেখার আকৃতি স্থির করিয়া, পরে কোমল জাতীয় পেনসীল দ্বারা ঐ রেখা ফুটাইয়া লইতে পারিলে ও হয়। যে সকল রেখা অথবা

চতুর্থ অধ্যায়।
বিন্দু উঠাইয়া ফেলিবার আবশ্যক, তাহা রবার ইরেজার দ্বারা ঘর্ষণ
করিলেই উঠিয়া যাইবে ।
প্রখম শিক্ষার উপযােগী কয়েক প্রকার
সরল রেখা সম্বলিত আদর্শ আমরা চিত্র
করিয়া দিলাম। ঐ আদর্শ গুলি প্রথমতঃ
যন্ত্র সাহায্যে অঙ্কিত করিয়া, পরে পুনর্বার
ঐ গুলি বিনা যন্ত্রে অঙ্কিত করা উচিত।
প্রথম প্রথম চিত্রগুলি আদর্শের মত ঠিক না
হইলেও শিক্ষার্থী হতাশ হইবে না।
বার চেষ্টা করিয়াই হউক, আদর্শের মতই অঙ্কিত করা আবশ্যক।
যতক্ষণ পর্যন্ত আদর্শের সহিত কিছুমাত্র বিভিন্নতা থাকিবে, সেই পৰ্যন্ত
উহা বারম্বার অঙ্কিত করিতে হইবে।
একটী দ্বারের পার্শ্ব রেখার আদর্শ
দেওয়া হইল। উহার সকল রেখাই
যন্ত্র সাহায্যে অঙ্কিত করা যাইবে ।
উহার বহিস্থ রেখাগুলি অগ্রে অঙ্কিত
করিয়া, পরে অভ্যন্তরস্থ রেখা সকল
চিত্র করিবে। বলা বাহুল্য, এই
সকল রেখা স্বাধীনভাবে রুল ব্যতিরেকে
অঙ্কিত করিতে পারিলে, তবে পরবর্তি
আদর্শ অঙ্কিত করিবার চেষ্টা করিবে।
পর পৃষ্ঠার আদর্শে একটী লােহার সিন্দুকের পার্শ্বরেখা সকল
দেখান হইল। উহার দ্বার মুক্ত রহিয়াছে, সিন্দুকের অভ্যন্তরস্থ গঠনও
বুঝিতে পারা যাইতেছে। ঐ সকল রেখা যে স্থানে যে ভাবে রহিয়াছে,
কম্পাস, স্কেল, এবং টি-স্কয়ার সাহায্যে ঐ সকল রেখা আদর্শের মতই
।

চিত্রবিষ্ঠা ও
ঐ সকল
চিত্ৰকরিবে। যন্ত্রদ্বারা একবার অঙ্কিত করিয়া পরে স্বাধীনভাবে কেবল
ইস্তদ্বারা চিত্র করিবে। কোনও
রেখা ছােট বড়, অথবা বিভিন্ন
প্রকার হইলে, ইরেজার দ্বারা
দোষ সংশােধন
করিয়া পুনর্বার রেখা সকল
অঙ্কিত করিতে হইবে ।
পরবর্তি আদর্শে একটী ছােট
টেবিল দেওয়া হইল। ঐ
টেবিলের উপরিভাগ হইতে
অঙ্কিত করিতে আরম্ভ করিয়া, ক্রমশঃ চারিটি পায়া, এবং ঐ পায়া সংলগ্ন
।
চারিটি কাষ্ঠের আকৃতি অঙ্কিত করিতে হইবে। পায়া ঢারিটির মধ্যভাগে
সমান্তর (parallel) রেখা কল্পনা করিয়া পায়া চারিটি অঙ্কিত করিবার
সুবিধা হইবে।
পর পৃষ্ঠার আদর্শে একটী স্তম্ভ এবং উহার উপরস্থ আরকিটেভ,
ফিজ, এবং কর্ণিস; নিম্নভাগের প্লিন্থ, টরস্ * প্রভৃতি দেখান হইল।
* এই সকল কথার অর্থ পরিশিষ্টে দেখ।

চতুর্থ অধ্যায়। এই স্তম্ভটি যথাযথ অঙ্কিত করা, এবং উহার ভিন্ন ভিন্ন অংশের গঠন ও প রিমান সকল মনে করিয়া রাখা উচিত। অট্টালিকা অঙ্কিত করিবার কালে ঐ সকল গঠন চিত্রে দেখাইতে পারিলে, চিত্র ভাল হইবে। আমরা এই আদর্শে যে স্তম্ভের চিত্র দিলাম, ঐ প্রকার স্তম্ভ নির্মাণ প্রণালী গ্রীক জাতীয়েরা প্রথমে আরম্ভ করেন, এই জন্য উহা অদ্যাবধি যাবনিক (Ionic) বলিয়া প্রসিদ্ধ আছে। পর পৃষ্ঠার আদর্শ পূর্বাপেক্ষা একটু কঠিন, কারণ ইহাতে একটি বাড়ীর সম্মুখ ভাগ দেখন হইয়াছে । এই বাটীর নিম্নভাগে খিলান করা ফ্লোহ্ এব, সম্মুখে সিঁড়ী ও বারাণ্ডা আছে। চারিটি স্তম্ভের উপর আর- কিটেভ ও কাণিস দেখান হইয়াছে। বারাণ্ডার পরেই হল, তাহার তিনটি জানালা দেখা যাইতেছে। সম্মুখে রেলিং, ও দূরে একটা বৃক্ষের স্কেচ দেখান হইয়াছে। এই চিত্র সর্বতােভাবেই কালি এবং কলম দ্বারা অঙ্কিত। শিক্ষার্থীও এই চিত্রখানি কালি কলমে (pen and ink) অঙ্কিত করিবার চেষ্টা করিবেন। প্রথমে কঠিন জাতীয় পেঙ্গীল দ্বারা পার্শ্বরেখা সকল অঙ্কিত করিয়া, পরে কালী এবং কলম দিয়া উহার সমাপ্তি করা উচিত। পেসীল অথবা কালী কলম, এই দুই প্রকার চিত্র প্রণালীই অভ্যাস করা শিক্ষার্থির পক্ষে আবশ্যকীয়। কালী কলমে কোন চিত্র করিতে হইলে, কেবল নানা প্রকার রেখার দ্বারাই আবশ্যক মত ছায়া সকল অঙ্কিত করিতে হয়। পেনসীল একটু চাপিয়া লিখিলে, ঘাের

৫৪
চিত্রবিদ্যা।
বর্ণের ছায়া অঙ্কিত সহজেই হয় ; কালী কলম দ্বারা ঐ প্রকার ছায়া
এ =
অঙ্কিত করিতে হইলে, এক শ্রেণীর রেখার উপর
• অন্য এক বা ততােধিক রেখা শ্রেণী অঙ্কিত
করিতে হইবে
অনুসঙ্গী চিত্ৰদ্বারা শিক্ষার্থী উপরােক্ত কথা
বুঝিতে পারিবেন। ১ সংখ্যার উপর একশ্রেণী,
২ সংখ্যার উপর দুই শ্রেণী, ৩ সংখ্যার উপর
তিন, ৪ সংখ্যার উপর চারি, এবং ৫ সংখ্যার
উপর পঞ্চশ্রেণী রেখা অঙ্কিত করা হইয়াছে।
ইহা দ্বারা পঞ্চ প্রকার ছায়া বােধ হইতেছে।
ইহাকে টিন্ট, বলে। পেনসৗল দ্বারাও ঐ প্রকার রেখা সকল অঙ্কিত

চতুর্থ অধ্যায়। করিলেও নানা প্রকার টিন্ট, হইতে পারে। অনেক চিত্রকর তাহাও করিয়া থাকেন। কিন্তু কালী কলম দ্বারা চিত্র করিতে হইলে, ঐ প্রকার রেখা শ্রেণী উপর্যুপরি সজ্জিত করিয়াই আবশ্যক মত ছায়ার ঘাের করিতে হয়। পেসী চাপিয়া লিখিলে ঘাের বর্ণ, এবং অল্প চাপে লিখিলে, অপেক্ষাকৃত পাতলা বর্ণের টিন্ট, অথবা ছায়া অঙ্কিত হয়। কালী কলমের চিত্র সকল সহজেই ছাপিবার উপযুক্ত ব্লকে পরিণত করিতে পারা যায়। সুতরাং ঐ সকল চিত্র সংবাদ পত্র ও পুস্তকাদিতে ছাপাইবার উপযুক্ত হয়। উপরে যে চিত্র আদর্শ দেওয়া হইল, উহার চারিটি স্তম্ভের উপরি ভাগের অংশ প্রথমে প্রস্তুত করিয়া, পরে স্তম্ভ চারিটি এবং নিম্ন- ভাগ অঙ্কিত করিতে হইবে। যেখানে যে প্রকার পরিমাণ দেওয়া আছে, কম্পাস দ্বারা তাহা মাপিয়া প্রস্তুত করিবে। পার্শ্বরেখা সকল চিত্রবিদ্যা। সন্তোষ জনক অঙ্কিত হইলে পর ছায়া সকল আদর্শমত রেখা দ্বারা প্রস্তুত করা আবশ্যক। শিক্ষার্থী এই আদর্শমত চিত্রখানি প্রথমতঃ পেসী দ্বারা, এবং দ্বিতীয়বার একখানি কালী কলমে অঙ্কিত করিবেন আমি যে সময় সরল রেখা পূর্ণ এই সকল আদর্শ প্রস্তুত করিতেছিলাম, কেহ কেহ উহা দেখিয়া বলিয়াছিলেন যে, নব্য শিক্ষার্থির পক্ষে এই সকল আদর্শ কিছু কঠিন হইয়াছে। কিন্তু আমি নিজে তাহা মনে করি ; যখন কম্পাস অথবা রুল দ্বারা সহজেই ঐ সকল রেখা অঙ্কিত করা যাইতে পারে, এবং ভ্রম হইলেও ঐ সকল যন্ত্র সাহায্যে তাহা বুঝিতে পারা যাইবে, তখন নব্য শিক্ষার্থির পক্ষেও ঐ সকল আদর্শ কঠিন বলা যায় না। ধীরতার সহিত এই সকল চিত্র করিলে, আদর্শের মত না হইবার কারণ নাই। আরও একটা কথা এই স্থলে বলা প্রয়ােজনীয় মনে করি। এই পুস্তকে যে সকল আদর্শ শিক্ষার্থির অনুকরণ করিবার জন্য দেওয়া হইয়াছে, সে গুলি একটির পর একটি অঙ্কিত করা হইলে, শিক্ষাথির হস্তের জড়তা ক্রমশঃই দূর হইবে। প্রথম আদর্শ যদ্যপি ঠিক অঙ্কিত হয়, দ্বিতীয়টি হইবেই। দ্বিতীয় আদর্শ হইলে, তৃতীয় আদর্শ অঙ্কিত করিতে কোনও অসুবিধা হইবে না। এই প্রকারে ক্রমে ক্রমে শিক্ষার্থী যতই অগ্রসর হইবেন, ততই এই কাৰ্যে তিনি আনন্দও অনুভব করিবেন। যদি ভুল হয়, তাহা উঠাইয়া ফেলিয়া পুনর্বার অঙ্কিত করাই শ্রেয়। কতক মত, যেমন তেমন করিয়া এই সকল চিত্র করিলে, শিক্ষা হইবে না। যে প্রকারেই হউক, আদর্শের মত ঠিক হওয়াই চাই। সরল রেখা পূর্ণ দুইটি আদর্শ অঙ্কিত করিতে দৃষ্টি বিজ্ঞানের সরল নিয়ম গুলি জ্ঞাত হওয়া আবশ্যক। যিনি একান্তই এই দুইটি আদর্শ মত চিত্র করিতে উপস্থিত না পারিবেন, তিনি উপস্থিত উহা ৰাদ রাখিয়া, বক্ররেখা পূর্ণ আদর্শগুলি অঙ্কিত করিতে ও পারেন।

চতুর্থ অধ্যায়। পৌরসপেকটিভ বিষয়ে প্রায় সকল কথাই এই পুস্তকে বলা হইয়াছে, সেই সকল নিয়ম অভ্যাস করিয়া, পরে এই দুই অাদর্শ মত চিত্র করিলে, কঠিন বােধ হইবে না। নিম্নে যে অট্টালিকার কিয়দংশের চিত্র দেওয়া গেল, উহা naidit মােগল বাদশাহ সাজাহান কর্তৃক নির্মিত হয়। দেওয়ানি খাস নামে উহা প্রসিদ্ধ। প্রথমতঃ এই চিত্রের বহিঃস্থ চারিটি রেখা কম্পাস দ্বাৱা মাপিয়া অঙ্কিত করিবে। পরে চিত্রের মধ্যভাগে একটি রেখা অঙ্কিত করিয়া, গম্বুজ হইতে আরম্ভ করিয়া পার্শ্বরেখা সকল যথাস্থানে বসাইরে।

৫ চিত্রবিদ্যা। দুই পার্শ্বে চারিটি হিসাবে খিলান বিভাগ লইয়া, উপরের কার্নিস প্রভৃতি বসাইবে। অট্টালিকার অভ্যন্তরে ও বামপার্শ্বে ছায়া যে প্রকার আছে, তাহাও করিবে। এই নিয়ম মত প্রস্তুত করিলে, চিত্রখানি আদর্শ মতই হইবে। সরল রেখা পূর্ণ এই সকল আদর্শ মত চিত্রগুলি সমাপ্ত হইলে, পর অধ্যায়ের বক্ররেখা সম্বলিত আদর্শ সকল সহজেই অঙ্কিত করা যাইবে। পঞ্চম অধ্যায়। পূর্ব অধ্যায়ে যে সকল আদর্শ দেওয়া হইয়াছে, সেইগুলি যন্ত্র সাহায্যে অঙ্কিত হইতে পারে, কিন্তু এই অধ্যা- য়ের চিত্র সকল স্বাধীন- ভাবে অঙ্কিত করিতে হস্তের কতকটা অভ্যাস ও ধীরতার প্রয়ােজন। বৃক্ষ পত্র, জীবজন্তু, ইত্যাদি অঙ্কিত করিতে হইলে প্রথমতঃ তাহার পার্শ্বরেখার নিকটবর্তি স্থান দিয়া জ্যামিতির কোনও আকৃতি কল্পনা করিয়া লইতে হয়। চিত্রে কালিকা লতা নামক ঔষধির একটি পত্র দেখান হইল। ঐ পত্রটির পার্শ্বরেখা (out line) প্রায় সমস্তই বক্র রেখায় প্রস্তুত, কিন্তু উহাতে একটি সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ ক্ষেত্র কল্পনা করা যাইতে পারে। সাদা কাগজে প্রথমত, ঐ প্রকার একটী ত্রিভুজ ক্ষেত্র যন্ত্রদ্বাৰা (compass and rule) অঙ্কিত করিয়া ৩

পঞ্চম অধ্যায়।
লইয়া, ত্রিভুজের নিম্ন বাহুর মধ্যস্থল হইতে পত্রের মধ্য শিয়া এবং
তাহার চারিটি শাখা আদর্শ মত পেনসীল দ্বারা অঙ্কিত করিবে। মধ্য
শিরা এবং চারিটি শাখা অঙ্কিত করিয়া দেখিবে, আদর্শের সহিত তূলনা
করিলে কিছু বিভিন্ন দেখায় কি না। ভ্রম সকল এই সময়েই সংশোধন
করা উচিত। পত্রের পাঁচটি শিরা আদর্শ মত হইলে, ধীরে ধীরে
পার্শ্বরেখা অঙ্কিত করিবে। পার্শ্বরেখা ও যেখানে যেমন আছে, ঠিক
সেই মত কোন খানে সরু কোনও খানে মােটা করিবে। পেসী
দ্বারা চিত্র সমাপ্ত করিয়া, পেনসীলের উপর কালী, অথবা ফিক্সেটিভ
দিতে হইবে। কালী দিতে হইলে, নিম্নলিখিত কয় প্রকার কালী
ব্যবহার করিবে।
ন্যান্‌কি-ইঙ্ক।—এই জাতীয় কালী চীনদেশে
প্রস্তুত হয় ; বিলাতে ও ইহার অনুকরণ হইয়াছে বটে,
কিন্তু আমরা দেখিয়াছি, বিলাতী কালী চীন দেশীয় কালী
অপেক্ষা নিকৃষ্ট। এই কালীর গুণ এই যে, ইহার দ্বারা
খুব পাতলা বর্ণ করিলেও তাহা যেমত স্বচ্ছ ও পরিষ্কার
হয়, ঘন করিয়া তেমনি ঘাের কৃষ্ণবর্ণ অঙ্কিত করা যাইতে
পারে। অধিকন্তু গুণ এই যে, বহুকাল গত হইলেও
ট ইহার বর্ণের কোনও পরিবর্তন হয় না। আমরা দেখি-
য়াছি, শত বৎসরের পুরাতন চিত্রের কাগজ জীর্ণ হইয়া
গিয়াছে, কিন্তু তদুপরি এই চায়না কালীর চিত্র নূতনের
মতই গভীর কৃষ্ণবর্ণ রহিয়াছে। এই কালীর নাম
“ইণ্ডিয়া ইঙ্ক। ভারতবর্ষেই এই জাতীয় মসী বর্ণের
প্রথম আবিষ্কার হয়। এই দেশ হইতেই ইহা চীনদেশে
নীত হয়। চীন দেশীয়েরা ইহার প্রস্তুত করণ প্রণালী
অদ্যাবধি গােপন রাখিতে পারিয়াছে। ভারতবর্ষে এখন
ই

চিত্রবিষ্ট এই মসীবর্ণের প্রস্তুত প্রণালী এক প্রকার লুপ্ত হইয়া গিয়াছে। উইসর নিউটন্ নামক ব্যবসায়ীরা চীনদেশ হইতেই এই কালী কিনিয়া লইয়া, বিক্রয় করেন। বিলাত হইতেই পুনৰ্বার এ দেশে আমদানী হয়। সুতরাং উহার মূল্য যে অধিক হইবে, উহার বিচিত্র কি ? ছয় আনা, অথবা আট আনা মূল্যে যে সকল ইণ্ডিয়া ইঙ্ক, স্টেসনার দিগের নিকট পাওয়া যায়, তাহা অল্প দিনের মধ্যেই নষ্ট হইয়া যায়। ঐ সকল কালী চীনদেশীয় নহে। চীন দেশীয় জল কালীর একটা কেক ৩ টাকার পাওয়া যায়। আমরা ঐ প্রকার একটি কালীর কে প্রায় ২৫ বৎসর ব্যবহার করিয়াছিলাম। একটী চীনা মাটির পাত্রে জল দিয়া ঘর্ষণ করিলেই উৎকৃষ্ট কালী পাওয়া যায়। @ NEWRON RAFIONE PLACE উইন্সর এবং নিউটন্ উপরােক্ত চিত্রানুযায়ী দুই আকৃতির জলের বর্ণ প্রস্তুত করেন। “ব্লু-ব্লাক্‌” (Blue back) নামক জলের বর্ণের উপরােক্ত দুই প্রকার কে পাওয়া যায়, উহার বর্ণ প্রায় চায়না ইঙ্কের মতই উৎকৃষ্ট। উইন্সর এবং নিউটন্ তরল এক প্রকার মসী বর্ণ ছােট ছােট শিশি করিয়া বিক্রয় করেন, তাহাওঁ চিত্রকর দিগের ব্যবহার যােগ্য। শিক্ষার্থী পূর্বোক্ত কয় জাতীয় কালীই ব্যবহার করিতে পারিবেন। প্রথমতঃ পেনসীল দ্বারা চিত্র করিয়া, উল্লিখিত কোনও এক প্রকার কালী দ্বারা পেীলের দাগগুলি প্রতিষ্ঠিত করিয়া লইবে। পরে ইরেজার লইয়া ঘর্ষণ করিবে, এবং চিত্র হইতে মলিম দাগ অথবা পেসীলের অনাবশ্যক চিহু সকল পরিষ্কার করিয়া ফেলিবে। পর পৃষ্ঠায় লকুঁচ (তেলাকুচা পত্রের চিত্র দেওয়া হইল। এই

পঞ্চম অধ্যায়।
পত্রাভ্যন্তরে একটী গােলাকার চক্র সজ্জিত হইতে পারে। ঐ চক্র
বৃত্তের মধ্য বিন্দুর কিঞ্চিৎ
নিম্নে পত্রের শিরা পাঁচটির
উৎপত্তি হইয়াছে। শিরা
পাঁচটি অঙ্কিত হইলে, উহার
বৃন্ত অঙ্কিত করিবে, এবং
পাশ্বরেখা সজ্জিত করিয়া
পেসীলের কাৰ্য সমাপ্ত
করিবে। পরে কলম দ্বারা
পেনসীলের রেখা অবলম্বন
করিয়া কালী দিয়া চিত্র
সম্পূর্ণ করিবে।
নিম্নস্থ চিত্রে ধুস্তর পত্রের দুইটি বিভাগ দেখিতে পাওয়া যায়। উহার
বৃন্তের দিকে একটি সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ, এবং পত্রের অগ্রভাগে একটি
৫
সমবাহু ত্রিভুজ প্রথমে অঙ্কিত করিয়া লইয়া, পূর্ব বর্ণিত নিয়মানুসারে
প্রথমে শিরা প্রশিরা সকল অঙ্কিত করিয়া, পরে অবিকল ভাবে উহার
পাশ্ব রেখা সকল অঙ্কিত করিয়া কালী দ্বারা সমাপ্ত করিবে।

চিত্রবিদ্যা। নিম্নের আদর্শে এর পত্রের আকৃতি দেখান হইল। ঐ পত্রের অষ্ট ভাগ আছে, এবং উহাতে একটি সমবাহু ত্রিভুজ, ও একটী বৃত্ত কল্পনা করিয়া, বৃত্তের মধ্য বিন্দু হইতে অষ্টশিরা অঙ্কিত করতঃ অষ্টদলে .. ) শােভিত করিতে হইবে। দলের ধারগুলি করাতের আকৃতি। হইতে একটি পত্র তুলিয়া দেখিলেই ঐ সকল বেশ দেখিতে পাওয়া যায়। প্রথমতঃ পেনসীল দ্বারা আদ্রা করিয়া পরে কালী দিবে। আমরা এই পুস্তকে যে কয়টি পত্রের আকৃতি দিলাম, উহা ছাড়া স্বভাবজাত নানা বৃক্ষ পত্র এবং পুষ্প লইয়া শিক্ষার্থী অঙ্কিত করিবেন; প্রথমতঃ, পত্র পুষ্পের অভ্যন্তরেই হউক, অথবা বহির্দেশেই হউক, কি প্রকার ক্ষেত্র কল্পনা করিতে হইবে, তাহা শিক্ষার্থী নিজেই বুঝিয়া দেখিবেন। পরে পত্রের গঠনানুসারে উহার শিরা বিভাগ দেখিয়া, পাশ্বরেখা অঙ্কিত করিতে হইবে। চিত্রকর মাত্রের স্বভাবই প্রকৃত আদর্শ হওয়া উচিত। যতই হস্ত মনের বশীভূত হইবে, স্বাভাবিক নানা বস্তুর চিত্র ততই সহজে

পঞ্চম অধ্যায়।
করিতে পারা যাইবে।
নিয়ে যে আদর্শ দেওয়া গেল, ইহা একটু দূরে রাখিয়া দেখিলে,
শিক্ষার্থী বুঝিতে পারি-
বেন যে, পারসপেকটিভ
নিয়মানুসারেই
অশ্বটির চিত্র হইয়াছে।
অশ্বের মুখ হইতে গ্রীবা
দূরে দেখায়, এবং গ্রীবা
হইতে পুচ্ছ আরও দূরে
বােধ হয়। সম্মুখের
পদদ্বয় অপেক্ষা পশ্চাৎ
ভাগের পদ দুইটা ছােট
দেখাইতেছে বটে, কিন্তু
উহা দ্বারাই দূরত্বের
বােধ হইতেছে। উহাকে
চিত্রের গভীরতা কহে।
কত অল্প স্থানের মধ্যে
কত বড় আকারের অশ্ব
অঙ্কিত হইয়াছে, তাহা
বুঝিয়া দেখুন ।
অশ্বটির চারিপাশ্বে
যে সকল রেখা কল্পিত
হইয়াছে, প্রথমতঃ উইং
পেপারের উপর সূক্ষম
ভাবে ঐ সকল রেখা অঙ্কিত করিয়া যথাস্থানে অশ্বের মুখ অঙ্কিত কর।

চিত্ৰবিদ্যা' মুখের পর গ্রীবা ও পশ্চাৎভাগ, সর্বশেষে পদ চারিটি সংযুক্ত করিয়া চিত্র সমাপ্ত করিতে হইবে। পরে আবশ্যক মত কোমল পেসী দারা, অথবা পেন এবং কালীর টিন্ট দ্বারা ছায়া সকল যথাস্থানে সজ্জিত করিয়া দিবে। এই স্থলে শিক্ষার্থী মনে করিতে পারেন যে, যদি জীবন্ত ঘােড়। দেখিয়াচিত্র করিতে হয়, তাহা হইলে ঐ সকল কাল্পনিক রেখা কোথায় থাকিবে ? এই প্রশ্নের উত্তর দিবার জন্য এই স্থানে চিত্রকরদিগের দৃষ্টিশক্তি বিষয়ক অনেক কথার অবতারণা করিতে হয়। চিত্রকর দিগের স্বভাব দেখিবার শক্তি সাধারণ জনগণ হইতে বিভিন্ন। এ কথা বুঝিবার কোনও কষ্ট নাই। যেমন একজন মল- বিদ্যা বিশারদ ব্যক্তি একজন সাধারণ লােক হইতে অধিক বলের কাৰ্য অক্লেশে করিতে পারে, সেইমত, একজন সুযােগ্য চিত্রকর, সাধারণ ব্যক্তি অপেক্ষা ভাল দেখিতে পায়, অথবা বেশী দেখিতে পায় । ভ্যাস দ্বারাই দৈহিক বল বৃদ্ধি করে, চিত্রকর ও সেই প্রকারে স্বভাবের শােভা সকল ধৈৰ্য্য সহকারে পৰ্যালােচনা করিয়া, দৃষ্টি শক্তির মার্জনা করেন। চিত্রকর সেইজন্য স্বভাবের শোভা সকল যে প্রকার দেখিতে পান, এবং যত শীঘ্র তাহা বুঝিতে পারেন, চিত্র বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তি কোনও মতেই সে প্রকার অল্পকালে তত সূক্ষ দেখিতে পাননা। সূৰ্যাস্ত কালে আকাশে পীত বর্ণ প্রকাশিত হইলেই, তাহার সঙ্গে সঙ্গে সহকারী (complementary) পরূপ বর্ণের বিকাশ আছেই, এ কথা চিত্রকরই ঘুঝিতে পারেন। অপর এক ব্যক্তি-যাহার সহকারী বর্ণের বােধ নাই,—সে হয়ত সমস্ত আকাশ ময় খুঁজিয়াও পপ কর্ণ বুঝিতে পারিবে না। চক্ষুর এই প্রকার ক্ষমতা ক্রমশঃ অভ্যাস করিতে করিতেই আইসে। চক্ষুঃ যখন স্বভাব দেখিতে শিখে, তখন স্বভাবের শোভা সকল মন্ন পঞ্চম অধ্যায়। ছবির মতই দেখিতে পাওয়া যায় । সুধু তাহাই নহে; স্বভাবের শােভা সকল একবার ক্ষণকালের জন্য দেখিলেই, চিত্রকরেরা তাহা মনে করিয়াও রাখিতে পারেন; এবং মন হইতেই তাহা চিত্র করিতে পারেন। মনে কর, ঘোড়া একটি তােমার সম্মুখে ক্ষণকালের জন্য স্থির হইয়া দেখিল। তুমি সেই অল্পকাল মধ্যেই সেই ঘােড়ার চারিদিকে কতকগুলি রেখার কল্পনা করিয়া, ঘােড়ার আকৃতি তাহার মধ্যে বাঁধিয়া ফেলিলে। আরও পরিস্কার ভাবে বলতে গেলে, তুমি ঘােটকের মূর্তি মমােমধ্যে এক প্রকার চিত্র করিয়াই লইলে। তারপর, হাতে কলমে সেই মনের ছবিখানি পরিস্ফুট করিলে পরিস্ফুট করিলে। স্বভাবের চিত্র মাত্রই এই ভাবেই হয়। এইজন্যই আমরা গাছের পাতাটি অঙ্কিত করিবার সময়েই তাহাতে জ্যামিতির ক্ষেত্র সকল কল্পনা করিতে বলিয়াছি। কোনও কোনও চিত্রকর এই সকল কাল্পনিক রেখার বিরােধী। তাহারা বলেন যে, স্বভাবে যাহা নাই, আমরা তাহার কল্পনা করিয়া কাৰ্য্য বৃদ্ধি করি কেন ? ধর্ম বিষয়ে নানা মুনির নানা প্রকার মত আছে, কিন্তু “মহাজনে যেন গতঃ স পন্থাঃ” এ কথা সকলেই স্বীকার করেন, চিত্র বিষয়েও নানা মুনির নানা মত আছে-কিন্তু যাঁহারা জগৎ বিখ্যাত চিত্রকর, তাহার যে সকল উপায় অবলম্বন করিয়া চিত্র সকল প্রস্তুত করিয়া গিয়াছেন, সেই সকল উপায় মহাজনের প্রদর্শিত পন্থা বলিয়াই গ্রহণ করিতে হয়। ইটালির প্রসিদ্ধ চিত্রকর রাফে চিত্র করিবার পূর্বে ঐ সকল রেখা গ্রহণ করিতেন। আর রাফেলের কথায় বা প্রয়ােজন কি ? শিক্ষার্থী নিজেই ইহার পরীক্ষা করিতেও পারেন। আমাদের প্রদর্শিত রেখাগুলি একবার ছাড়িয়া দিয়া ঐ ঘােড়াটি অঙ্কিত করিয়া দেখিবেন। তাহা হইলেই সুবিধা এবং অঙ্গুবিধার উত্তম বােধ হইবে।

চিত্রবিদ্য। নিম্নের চিত্রখানি দ্বারাও ঐ সকল কথা বুঝিবার আরও সুবিধা A হইবে। হরিণ দৌড়িতেছে। দ্রুতগতি বশতঃ হরিণের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের যে প্রকার ভাব হয়, ক্ষণিক ফটোগ্রাফের * ন্যায় চিত্রকর আপন মানসপটে তাহার সজ্জা করিয়া লইয়াছেন, পরে ঐ সকল রেখার * Instanteneous Photography. গ্রন্থকার কৃত ফটোগ্রাফী শিক্ষা পুস্তকের দ্বিতীয় মৃংঙ্করণে ব্য।

পঞ্চম অধ্যায়। } } সাহায্যে গতিশীল মৃগের চিত্র করিয়াছেন। হরিণ যখন দৌড়াইতে থাকে, সেই সময় উহাকে দেখিলে, উহার পদবিক্ষেপে তিনটি বিভাগ ' লক্ষিত হয়। কখ, খগ, গছ, অক্ষর দ্বারা ঐ তিন ভাগ দেখান হইয়াছে। কত, খভ, গব, ছঠ, প্রভৃতি রেখাদ্বারা চিত্রের ব্যাপ্তি নির্দেশ হইয়াছে। কট রেখা, এবং ছধ রেখা যেখানে পরস্পর কৰ্ত্তন করিয়াছে, তাহাই হরিণের দেহের মধ্যস্থল (centre of Gravity) ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ চিহুযুক্ত বিন্দুগুলি হরিণের পার্শ্বরেখার উপরে ধরিয়া লইয়া শৃঙ্গদ্বয়, মুখ, এবং চারিটি পদের সীমা নির্দিষ্ট হইয়াছে। আর সকল পরিমাণ শিক্ষার্থী নিজেই দেখিয়া লইবেন। আর আর কাৰ্য সকলি পূর্বের মতই করিবেন। এ স্থলে সম্পূর্ণ রেখা না করিয়া, খণ্ড রেখা এবং বিন্দুদ্বারা ছায়া সকল অঙ্কিত করিয়া হরিণের লােমশ দেহের আভাস দেওয়া হইয়াছে। সমস্ত হরিণ অঙ্কিত করা হইলে, কথিত রেখা সকল উঠাইয়া ফেলিবে। ইহার পরে যে দুইটি চিত্র দেওয়া হইল, তাহাতে ঐ সকল পরিমাণ রেখা দেওয়া হইল না। শিক্ষার্থী নিজেই পছন্দমত উহার পরিমাণ রেখা সকল কল্পনা করিয়া লইবেন, এইজন্যই আমরা তাহা করিলাম না। পর পৃষ্ঠায় স্যার এডউইন ল্যাণ্ড সিয়ার কৃত চিত্রের ফটো অবলম্বনে একটি আদর্শ প্রস্তুত হইয়াছে। এই জাতীয় কুকুরেরা সর্বদা জলে সাঁতার দিতে ভালবাসে। অনেক সময়ে ইহারা বালক বালিকাদের প্রাণরক্ষা করিয়াছে। স্যার এডউইন পশু চিত্র উৎকৃষ্ট করিতে পারিতেন। তিনি পশু চিত্র করিয়াই জগতে সুখ্যাতি লাভ করিয়া- ছিলেন।, এই চিত্রের নীচে জলের তরঙ্গ দেখান আছে, এবং কুকুরের দেহ ও আর্দ্র দেখাইবার চেষ্টা হইয়াছে। আকাশে অল্প অল্প মেঘের সজ্জা, বহুদূরে বেলাভূমি, এবং চিত্রখানির বামপাশ্ব হইতে আলােকের সজ্জা প্রভৃতি অতি সুন্দর, অথচ স্বাভাবিক। শিক্ষার্থী এই চিত্রখানি চিত্রবিদ্যা। চারিগুণ বদ্ধিত করিয়া, পেসীল দ্বারা অঙ্কিত করিবেন। পরে ফিক্সেটিভ দিয়া সমাপ্ত করিবেন। পর পৃষ্ঠায় যে সিংহের আদর্শ দেওয়া হইল, তাহাও স্যার এডউইন কৃত চিত্র হইতে রেখার দ্বারা রচিত হইয়াছে। শিক্ষার্থী এই চিত্রখানি বৰ্দ্ধিত আকারে পেসী সেডিং দ্বারা প্রস্তুত করিবেন। চিত্র সকল বৰ্ধিত করিবার উপায় কি, তাহাও এই স্থানে লিখিত হইল। যে চিত্রটি বদ্ধিত করিবার প্রয়ােজন হইবে, তাহার মধ্যস্থল দিয়া দুইটি সূক্ষরেখা সমকোণে অঙ্কিত করিতে হইবে। সমকোণে রেখা অঙ্কিত করিবার পূর্বে চিত্রের চারিধারের চারিটি রেখা কম্পাস দ্বারা দুইভাগে বিভক্ত করিয়া, চারিটি মধ্যবিন্দু পাইবে। সিংহের চিত্রখানির চারিপার্শ্বে চারিটি রেখা আছে, ঐ চারিটি রেখার মধ্যবিন্দু চারিটি স্থির করিয়া, রুদ্বারা খুব সূক্ষভাবে দুইটি বেখা (cross lines) + অঙ্কিত কর। এইভাবে চিত্রখানিকে চারি- পঞ্চম হাধ্যায় ভাগে বিভক্ত করিয়া, মধ্যরেখা হইতে আরম্ভ করিয়া সিকি ইঞ্চি অন্তর এক একটি বিন্দু গ্রহণ কর। সিংহের মস্তকের উপরিভাগের রেখাটি । কথিত ভাবে বিভক্ত করিলে, ঠিক সতর ভাগ, এবং পার্শ্বের রেখা দুইটির প্রত্যেকটায় তের ভাগ পাওয়া যাইবে। ঐ সকল রেখা চিত্রের উপর অঙ্কিত করিলে, চিত্রখানিতে সিকি ইঞ্চি পরিমাণ কতকগুলি সমবাহু চতুভুজ ক্ষেত্র অঙ্কিত হইবে। ইহার নাম স্কেল। এক্ষণে আর একখানি বড় আকারের উইং পেপারের উপর দিকে সিংহের, মস্তকস্থ রেখার চতুগুণ একটি রেখা অঙ্কিত করিয়া, সেই রেখার মধ্যবিন্দু গ্রহণ কর, এবং পূর্বোক্ত ভাবে তাহাও ১৭শ ভাগে বিভক্ত কর। সেই মত পার্শ্বরেখা দুইটিও নিম্নস্থ রেখা চতুগুণ করিয়া পার্শ্বরেখা দুইটিতে ১৩শ ভাগ, উপরের ন্যায় নিম্নস্থ রেখাতে ১৭টি ভাগ ৭০ চিত্রবিদ্যা। করিয়া একইঞ্চি পরিমিত সমবাহু চতুভুজ ক্ষেত্র সকল অঙ্কিত কর। ইহা চতুগুণ বর্ধিত স্কেল হইবে । এক্ষণে ছােট স্কেখানিতে সিংহের ‘আউট লাইন যে ভাবে সজ্জিত দেখাইবে, বৰ্ধিত স্কেল্ মধ্যেও বড় বড় ঘরগুলির মধ্য দিয়া সিংহ অঙ্কিত করিলে, চতুগুণ বর্ধিত আকারে সিংহের আকৃতি পাওয়া যাইবে। এই প্রকারে যত বড় করিতে ইচ্ছা হইবে, ততই বন্ধিত আকারে সমবাহু চতুতুজ ক্ষেত্র সকল অঙ্কিত করিতে হয়। বৰ্ধিত স্কেল দ্বিগুণিত করিলে, তাহাকে “চারি-ডায়ামেটার” বর্ধন কহে। ত্রিগুণিত করিলে ৯ ডায়ামেটার, চারিগুণ করিলে ১৬ ডায়া- মেটার, এইরূপ সঙ্কেত বাক্যে বর্ধন নিরূপিত হয়। কোনও চিত্র ছােট আকারে করিতে হইলে, ঐ সকল চতুভুজ ক্ষেত্র ছােট আকারের করিতে হইবে। আজকাল দেখা যায়, চিত্রকর দিগকে ফটোগ্রাফ হইতে অনেক প্রতিমূর্তি প্রস্তুত করিতে হয়। স্থলে ফটোগ্রাফের উপর ঐ প্রকার স্কেল করিয়া, ক্যাভ্যাসের উপর বৰ্ধিত স্কে সাজাইয়া, বদ্ধিত আকারে প্রতিমূর্তি অঙ্কিত করা হয়। ষষ্ঠ অধ্যায়। হয় ; দেশ ভেদে মনুষ্য দেহের নানাপ্রকার অকৃতিগত বিভিন্নতা দৃষ্ট যে লােক প্রবাহ ভারতে আসিয়া আৰ্য নামে পরিচিত হইয়া- ছিলেন, তাহাদেরই অপর এক শাখা পশ্চিমাভিমুখে গমন করিয়া গ্রীস, রােম, জম্মেণি, এবং ইউরােপ খণ্ডের অন্যান্য দেশে বসতি করেন ; তাহাদের ককেসিয়ান’ জাতি নাম দেওয়া হয়। ইহা ঐতিহাসিক গভীর রহস্যের কথা। বড় বড় পণ্ডিতেরাও এই কথা স্বীকার করিতে বাধ্য হইয়াছেন । আৰ্য্য এবংককেসিয়ান জাতি এক বংশােৎপন্ন কি না, ষষ্ঠ অধ্যায়। তাহার বিচার এ ক্ষেত্রে অনাবশ্যক। দেশ ভেদে আর্য এবং ককে সিয়া জাতিদ্বয়ের ভাষা এবং সামাজিক রীতি নীতির বহুল পরিবর্তন হইয়াছে বটে, কিন্তু এই উভয় জাতির আকৃতিগত সাদৃশ্য অদ্যাবধি বিশেষরূপ দৃষ্ট হইতেছে। এই জাতিদ্বয়ের অঙ্গ সৌষ্ঠব এবং গঠন প্রণালী পৃথিবীস্থ অন্যান্য মানবজাতি অপেক্ষ। উৎকৃষ্ট। শিল্প বিষয়ে এক সময়ে গ্রীস দেশীয়েরা বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করিয়া ছিলেন, এ কারণ বহুপুরাতন গ্রীস দেশীয় প্রস্তরমূর্তি সকল অদ্যাবধি শিল্পকলার আদর্শস্বরূপ গণ্য হইয়া থাকে। ঐ সকল প্রস্তরমূৰ্ত্তি গুলিতে মানবদেহের যে সকল পরিমাণ দেখিতে পাওয়া যায়, শিল্পবিৎ পণ্ডিতগণ সেই সকল পরিমাণের অদ্যাবধি সমধিক আদর করিয়া থাকেন। এই পুস্তকে সেই সকল পরিমাণ মত মানবদেহের বিভাগ করা গেল । মানবদেহের মধ্যে মুখই সর্বপ্রধান। এই জন্যই বোধ হয় গ্রীক শিল্পীগণ মস্তকের আকৃতি লইয়াই মনুষ্য দেহের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের পরিমাণ করিয়াছেন। গ্রীক শিল্পীগণ মনুষ্য দেহেকে অষ্টভাগে বিভক্ত করিয়াছেন। পরবর্তি চারিখানি চিত্ৰদ্বারা ঐ অষ্ট বিভাগ দেখান হইয়াছে। মস্তকের উপর হইতে চিবুক পৰ্যন্ত ১ ভাগ। চিবুক হইতে বক্ষঃ ১ ভাগ। বক্ষঃ হইতে নাভি ১ ভাগ। নাভি হইতে গুহ্যদেশ ১ ভাগ। গুহদেশ হইতে উরু ১ ভাগ। উরু হইতে জামুর নিম্ন ১ ভাগ। জানু হইতে পদনধ্য ১ ভাগ। পদমধ্য হইতে পদতল ১ ভাগ। ০ ০ ০ ০ ০ ০ ৫ ০ একুনে ৮ ভাগ।

চিত্রবিদ্যা
!
মস্তকের সহিত তুলনা করিয়া
পূর্ণ যৌবম প্রাপ্ত মানবদেহের
অষ্ট বিভাগকে অষ্ট মস্তক
(cight heals) কহা যায়।
সমস্ত মানবদেহের যে অষ্ট,
ভাগ কথিত হইল, চিত্রে তাহা
দেখান হইয়াছে। ইহা ছাড়া
কেবল মুখের মধ্যেও প্রধানতঃ
চারিটি বিভাগ দৃষ্ট হয়; মস্তকের
উপরিভাগ হইতে ললাট (১)
ললাট হইতে ক্রয় (২) ভ্রদ্বয়
হইতে নাসিকার নিম্ন সীমা (৩)
নাসিকার নিম্ন হইতে চিবুক (৪';
এই চারিভাগ সাধারণ ; কর্ণদ্বয়
রেখা হইতে নাসিকার নিম্ন
\TY
পর্যন্ত থাকে।
দ্বয়ের উপর যে রেখায়
কল্পনা হয়, সেই স্থলেই মুখের
অধিক বিস্তৃতি দেখা যায়।
সুগঠিত মুখের দৈর্ঘ্যকে চারিভাগ
করিলে, প্রস্থে তাহার তিনভাগ মাত্র হয়।
নাসিকার নিম্ন হইছে চিবুক অবধি যে ভাগ কথিত হইল, তাহাকে
দুইভাগে বিভক্ত করিলে, অধরের নিম্নে আর একটি রেখা
পাওয়া যাইবে। নাসিকার নিম্ন হইতে ওষ্ঠ অবধি আর একভাগ
-
কথিত হয় ।

ষষ্ঠ অধ্যায়। ১৭৩ পুরুষের দেহের যে সকল পরিমাণ দেওয়া হইল, সকলের দেহে ঐ প্রকার পরিমাণ পাওয়া যায় না; যাঁহাদের আকৃতি খ, তাহাদের নাভি হইতে নিম্ন অঙ্গেরই খর্বাকৃতি দেখিতে পাওয়া যায়। পূর্বে বলিয়াছি, শিল্পীগণ মস্তকের দৈর্ঘ্যকেই পরিমাণ স্বরূপ গ্রহণ করিয়াছেন। সাধারণ কথায় আমরা হস্ত বা অঙ্গুলীদ্বারা পরিমাণ করি, শিল্পীগণ মনুষ্যদেহের পরিমাণ করিবার সময় মস্তকের মাপেই সকল পরিমাণ করিয়া থাকেন। এই হিসাবে গ্রীবা অর্ধ মস্তক (half head), স্কন্ধ হইতে অপর স্কন্ধ পর্যন্ত দুই মস্তকের কিছু কম, কটী এক মস্তক ; স্কন্ধৰয় এবং নাভি রেখা দ্বারা যুক্ত করিলে, একটা সমবাহু ত্রিভুজ ক্ষেত্র (equilateral triangle) হয় ; উরুদেশের উপরিভাগের প্রস্থ মস্তক ; জানুর উপরিভাগ প্রস্থে ২ মস্তক ; জানুর অধোভাগের প্রস্থ ; মস্তক; পদতলের উপরের প্রস্থ ; মস্তক। স্ত্রীলোকদিগের দেহেও ঐ প্রকার অষ্টভাগ দেখিতে পাওয়া যায়। কিন্তু পুরুষ অপেক্ষা স্ত্রী দেহ কিছু ছােট হয় ; এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গের গঠন পুরুষ'পেক্ষ, কোমল এবং লাবণ্য পূর্ণ হয়। স্ত্রী দেহের স্থানে স্থানে প্রস্থের বিভিন্নতা দৃষ্ট হয়। স্কন্ধদেশের প্রস্থ ১; মস্তক। কটিদেশের প্রস্থ ১২ মস্তক। উরুর উপরিভাগের প্রস্থ ১ মস্তক। প্রধান কয়টি ভাগের তারতম্যের উল্লেখ হইল, স্বভাব দেখিয়া অতি করিবার কালে শিক্ষার্থী নিজেও অবস্থা বিশেষে অর ও নানা প্রকার পরিমাণ করিয়া লইতে পারিবেন। পুস্তকে যে সকল পরিমাণ লিখিত হইল, নর নারীগণের দেহ সেইমত গঠিত হইলে, তাহা সৌন্দর্য্য কলা পরিশোভিত হইয়া থাকে; এবং ঐ প্রকার দেহধারী জনগণ সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ঐ সকল পরিমাণ নর নারী দেহের ৭৪ চিত্রবিদ্যা। আদর্শ স্বরূপ ধরা হইয়াছে, স্বাভাবিক অধিকাংশ দেহেই ঐ সকল পরিমাণের কিছু বিভিন্নতা দেখিতে পাওয়া যায় । স্ত্রী পুরুষের দেহের পার্শ্বদিক হইতে কথিত অষ্টভাগ যে ভাবে বুঝিতে হইবে, তাহা পর পৃষ্ঠার দুই পার্শ্বের দুইটি চিত্ৰদ্বারা দেখান হইয়াছে। সচরাচর তামরা পাই, পরবর্ত প্রকার নর নারী দেখিতে দুইটি চিত্রে সেই সকল পরিমাণ দেখান হইয়াছে। উই সম্পূর্ণ শিল্পকলা পর- শোভিত নহে। পুরুষ প্রদেশে আরও একটু বিস্তৃতি হইলে, ঐ চিত্র- খানি অার ও একটু ভাল হইত। সেইমত, স্ত্রী দেহটির নিতম্বদেশ আরও একটু মাংসল হইলে বোধ হয় আরও সুশ্রী দেখাইত। নর নারীদেহের যে সকল পরিমাণ এবং আদর্শ চারিটি যাহা দেওয়া হইল, ঐ আদর্শমত ছোট বড় নানা প্রকার চিত্র করিতে করিতে ঐ সকল পরিমাণ ক্রমশই শিক্ষার্থীর হৃদয়ঙ্গন হবে, এবং পরে যষ্ঠ অধ্যায় ৭৫ নিজেই শিক্ষার্থী নানা প্রকার মনুষ্যাকৃতি সহজেই অঙ্কিত করিতে পারিবেন। আমরা ইতিপূর্বে বলিয়াছি যে, দেশ- ভেদে মনুষ্য দেহে নানা প্রকার বিভিন্নতা দৃষ্ট হয়। এই বিভিন্ন ভাব প্রধানতঃ মুখের গঠনেই দেখিতে পাওয়া যায়। মুখের অস্থি সকলের গঠণানুসারেই ঐ সকল পার্থক্য হয় পরবর্তি চিত্রে ককে- সিয়ান জাতির মুখের গঠণ ১ সংখ্যক চিত্র- দ্বারা দেখান হইল। ঐ প্রকার গঠণের উপর পেশী, মেদ ও চৰ্ম্ম দ্বারা ৩ সংখ্যক চিত্রের ন্যায় মনুষ্য হইতে মুখ গঠিত পারে। ২ সংখ্যক নরকপালে মেদ প্রভৃতি সজ্জিত হইয়া ৪ সংখ্যক মুখাকৃতি গঠিত হয়। ৩ সংখ্যক চিত্র ককেসিয়ান এবং আৰ্য্য মুখের সদৃশ, ৪ সংখ্যক চিত্র নেগ্রো (কাফি) জাতির মুখের মত।১, ২ সংখ্যক কপাল দুইটি

চিত্রবি
দেখিলে, লালাটাস্থি, নাসিকা এবং দন্তপংক্তি সহিত দুই প্রকার কোণ
দেখা যায় ;
ককেসিয়ান জাতির
মুখে সমকোণ (right
anglu), এবং নেগ্রোজাতির
মুখে সমকোণ অপেক্ষা ছােট
কোণ (acute angle) পাওয়া
যায়। আবার
চীন, ব্ৰহ্ম,
জাপান, তিববৎ প্রভৃতি দেশের
নরনারী দিগের মুখে সমকোণ
অপেক্ষা ঈষৎ বড় কোণ প্রাপ্ত
যায়।
ইউরােপীয়
ককেসিয়ান জাতি অধিক
মাংসাহার করে বলিয়াই, উহাদের চিবুকাস্থি (থুতি) এসিয়া দেশের
লােক অপেক্ষা কিছু বড় আকারের দেখা যায়। এ দেশে সাহেব ও
বিবিদের মুখ দেখিলেই এই পার্থক্য বেশ বুঝা যায় ।
বহুকাল একসঙ্গে বাস করিলে, ক্রমশঃ একজাতি অপরের অনুকরণ
করিতে আরম্ভ করে। ক্ৰমশঃ আহার বিহার অনুকরণ করিতে করিতে
মনুষ্যের আকৃতিও পরিবর্তিত হয়। আধুনিক কালে বঙ্গদেশেও বঙ্গযুবক
চিবুকাস্থি বড় দেখাইবার জন্য ফেঞ্চ সেপে দাড়ী ছাটা আরম্ভ
করিয়াছেন। সাহেব দিগের মত অর্ধসিদ্ধ মাংসাহার করিলে, কিছুকাল
পরে বাঙ্গালীর চিবুকাস্থিও বন্ধিত, এবং দন্তপংক্তি অপেক্ষাকৃত বিশাল
হইবে, ইহা আমরা এক প্রকার নিশ্চয় করিয়াই বলিতে পারি ।
ঐ প্রকার পরিবর্তন প্রার্থনীয় কি না, তাহা আমরা আলােচনা
করিব না। কারণ মানুষে যাহা ভাল বলিয়া বিবেচনা করে, মানুষ
তাহা করিবেই। কিছু পূর্বেব সাহেবেরা গোঁফ কামাইয়া দাড়ি রাখিতেন।

ষষ্ঠ অধ্যায়। ৭৭ গ্রাস্টোন, ব্রাইট, প্রভৃতির ঐ প্রকার ফটো আমরা দেখিয়াছি। সেইমত, সমস্ত ঘাড়ের চুল ছোট ছােট করিয়া ব্ৰহ্মতালুর উপর লম্বা কেশ গুচ্ছ রাখার ফ্যাসন আজকাল সভ্য সমাজের অনুমােদিত। উহাদ্বারা নাকি মানুষকে বড় বুদ্ধিমান এবং কার্যতৎপর বোধ হয় (Smart looking) চিত্রকর মাত্রেরই দেখা উচিত, স্বভাবতঃ মানুষের রূপ কি প্রকার । স্ত্রীলােকের মস্তকের কেশরাশি শোভার বস্তু, ইহা স্বীকার করিতে বােধ হয় কাহারও আপত্তি নাই। আমাদের দেশে স্ত্রীলোকে বিধবা হইলে, কেশভার রাখেন না, কিন্তু তাহা বৈরাগ্যের পরিচয় হইলেও তাহাতে মুখশ্রী অনেক কমিয়া যায়। যাহার মুখের গঠন কদাকার, সে দাড়ী গোফ রাখিয়া, মুখের কথঞ্চিৎ শােভা বৃদ্ধি করে। সিংহের কেশর সমস্ত কাটিয়া দাও, তাহাকে বিশ্রী দেখাইবে। রূপবান্ লােকেও মস্তক মুণ্ডিত করিলে কিছুকালের জন্য শ্রীহীন হইয়া থাকেন। ময়ুরের পুচ্ছ সকল ছিন্ন হইলে, কুকুট অপেক্ষাও কদাকার দেখায়। এত কথা বলিয়া আমরা কি বুঝাইতেছি ? শিল্প অথবা আর্ট কাহাকে বলে, শিক্ষার্থীকে তাহাই বুঝাইবার চেষ্টা করিতেছি। বড় বড় চিন্তাশীল লােকে বলিয়াছেন, স্বভাবের উপর উন্নতি হইলেই আর্ট হইল । কিন্তু স্বভাব, অথবা প্রকৃতি যেখানে যাহা করিয়াছেন, তাহার উপর উন্নতি করিতে গিয়া মানুষে উপহাসের পাত্র হয়, ইহা আমরা নিত্যই অনুভব করিতেছি। আশীতি বৎসর বয়স্ক বৃদ্ধ কেশকল্প সহযোগে ভ্রমর কৃষ্ণবর্ণে কেশরঞ্জন করিয়া নবীন কিশােরী প্রণয়িণীর নিকট যুবা হইতে পারিয়াছেন কি ? সেইমত আমরা যখন দেখি, নবীন যুবা চশমা চোকে দিয়া, গোঁফ ফেলিয়া ব্যবসায় বিশেষে প্রবীনত্বের ভাণ করেন, তাহা দেখিয়া যুগপৎ দয়া এবং হাসি আসে। প্রবীনের * Art is nature modified.

৭৮ চিত্রবিদ্যা। প্রবীনত্ব, এবং যৌবনেই কৃষ্ণ কেশগুচ্ছ শােভা পায়। স্বভাব অথবা Natul' বলিলে কি বুঝায়, তাহাই শিক্ষার্থীর প্রথমতঃ লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রথমে স্বাভাবিক শোভা দেখিতে শিখিলে, তবে তুমি তাহার উপর উন্নতি করিতে পারিবে। নচেঃ তুমি স্বভাবের ব্যতিক্রম করিয়া, কদাকার এক বস্তুর উৎপত্তি করিবে। তাহা আর্ট, নহে, তাহাকে উপহাস্যাস্পদ বিকৃতি + বলিতে হয়। স্বভাবের উপর কি করিলে উন্নতি হয়, কি করিলে কদাকার হয়, তাহার বুৎপত্তি হইতেও কিছু বিলম্ব হয়। ইহার উদাহরণ আমরা দিব। মানুষে যদি কিছুকাল নখ লোমাদি ধারণ করে, তাহা হইলে তাহার প্রকৃত মূর্তি প্রকাশ হয়। সেইরূপ হইলে মানুষকে ভাল দেখায় কি না ? এই বিষয়ে কোনও মতামত দিতে হইলে, অনেক সময় লােকাচারের দিকেই লক্ষ্য করিতে হয়। পূর্বকালের ঋষিরা লোকাচার মানিতেন না, যাহা মঙ্গল হেতুক, তঁাহারা তাহাই করিতেন। এই কারণেই তঁাহারা নখ লোম ধারণ করিতেন ; কোনও মতেই নখ কেশ কর্তন করিতেন না। নখ লােম ধারণে পুরুষের ধাতু পুষ্টি হইয়া দেহের বলধান হয়; শীতোষ্ণাদি সহজে, অবিভূত করিতে পারে না। প্রকৃত পক্ষে উহ। ব্রহ্মচর্যের সহায়। সুতরাং সুস্থ এবং সবল সন্তানােৎপত্তি ও উহার ভাবী ফল । ভারকেশ্বরের নখ লোম ধারণ করিয়া কত শত কঠিন ব্যাধি আরােগ্য হয়, তাহা কে না জানেন ? নানক সহ বলিয়াছেন, “পরমেশ্বর তােমাকে কেশ দিয়াছেন, তুমি তাহা কৰ্তন করিয়া মিথ্যাচারী হইওনা”--“অতঃ সত্যের অনুরোধেও কেশ ধারণ করিবে।” কিন্তু অপর পক্ষে কেশ ধারণে মানুষকে ‘জঙ্গলি’ অথবা ‘বুনো দেখায়। এই ‘জঙ্গলি’ ‘বুনাে’ ‘পাড়াগেয়ে’ শব্দটি এড়াইবার জন্যই + Caricature, ষষ্ঠ অধ্যায় নরসুন্দরের আবশ্যক হয়। এখন স্বভাবের কি পরিবর্তন করিলে, আর্ট, বলা যায়, এবং কি করিলেই বা Clicatute হইবে, তাহা তােমার রুচি এবং অনুভব শক্তি মতই তুমি বুঝিবে। যদি তােমার ভাবুকতা থাকে, তবেই তােমার ভাবে জুং ভুলিবে। নচেৎ তােমার আর্ট কেহ চাহিবে না। আমরা এই পুস্তকের প্রথমাধ্যায়ে দেখাইয়াছি, চারিনের দেহ সৌন্দৰ্য একত্র সন্নিবেশিত করিয়া সর্বাঙ্গ সুন্দর মূৰ্ত্তি হইতে পারে । বস্তুতঃ তাহাকেই আমরা অর্চ বলিব। তট বলিলাে তাহার একটা সীমা আছে। তাঠের সীমা অতিক্রম করলেই Caulicature হয়, এ কথা শিক্ষার্থীর সর্বদা মনে করা উচিত। উপরের আদর্শে মুখের সম্মুখ এবং পার্শ্বভাগের পরিমাণ দেখান গেল। সুন্দরী যুবতীর মুখের গঠন হংস ডিম্বাকৃতি। দুইটি চক্ষুর যে অন্তর, নাসিকার নীচেও প্রায় সেই পরিমাণ থাকে। ওষ্ঠদ্বয়ের বিস্তৃতি তদপেক্ষা কিঞ্চিৎ মাত্র অধিক। চক্ষুদ্বয় কত বড় হইবে, সেই বিষয়ে অনেক মতভেদ দৃষ্ট হয়। আমরা ‘আকর্ণ বিশ্রান্ত’ লােচনের কথা অনেক দিন হইতেই শুনিতেছি।

চিত্ৰবিদ্যা আশ্বিন মাসে এতদ্দেশে যে দুর্গাপ্রতিমা গঠিত হয়, তাহাতে দুর্গা, লক্ষী ও সরস্বতীর মুখে আকর্ণ বিশ্রান্ত লােচন করে। যদি উহাই সুন্দর চক্ষর উদাহরণ হয়, তবে শ্রীরাম মূৰ্ত্তির চক্ষুর হলে দুইটি নীলপদ্ম অঙ্কিত করিলেই সুন্দর হইতে পারে। কিন্তু আমরা সমস্ত জীবন খুঁজিয়া ‘অকর্ণ বিশ্রান্ত’ অথবা নীলপদ্মের ন্যায় চক্ষুঃ কখনই দেখিতে পাইলাম না। সুতরাং কবির কল্পনা অথবা অতিশয়ােক্তি বলিয়াই ঐ সকল কথা চিত্রকর দিগের অগ্রহ। সুন্দর চক্ষু বলিলে যাহা বুঝায়, তাহা এতদ্দেশের ঔপন্যাসিক-প্রধান বঙ্কিম চন্দ্র অল্প কথায় বুঝাইয়াছেন। “সূর্যমুখীর চক্ষু সুদীর্ঘ, অলক-স্পর্শী-জ্বযুগ-সমাশ্রিত, কমনীয়- বঙ্কিম-পল্লব-রেখার মধ্যস্থ, স্থূলকৃষ্ণতারামনাথ, মণ্ডলাংশের আকারে ঈষং স্ফীত, উজ্জ্বল অথচ মন্দ গতি বিশিষ্ট।” “তিলোত্তমার চক্ষু অতি শান্ত ; তাহাতে “বিদ্যুদ্দামঞ্জুরণচকিত” কটাক্ষ নিক্ষেপ হইত না। চক্ষু দুটি অতি প্রশস্ত, অতি সুঠাম, অতি শান্তজ্যোতিত। আর চক্ষুর বর্ণ, উষাকালে সূর্যোদয়ের কিঞ্চিৎপূর্বে চন্দ্রাস্তের সময়ে আকাশের যে কোমল নীলবর্ণ প্রকাশ পায়, সেইরূপ ; সেই প্রশস্থ পরিষ্কার চক্ষে যখন তিলােত্তমা দৃষ্টি করিতেন, তখন তাহাতে কিছুমাত্র কুটিলতা থাকিত না; তিলােত্তমা অপাঙ্গে অৰ্দ্ধদৃষ্টি করিতে জানিতেন না, দৃষ্টিতে কেবল স্পষ্টতা আর সরলতা; দৃষ্টির সরলতাও বটে, মনের সরলতাও বটে, তবে যদি তাহার পানে কেহ চাহিয়া দেখি, তবে তৎক্ষণাৎ কোমল পল্লব দুইখানি পড়িয়া যাইত।” বঙ্কিম চন্দ্র রূপ দেখিতে জানিতেন, তাই অমন করিয়া রূপের চিত্র করিয়াছেন। পার্শ্বমুখে চক্ষুর বিস্তার যতদূর হইতে পারে, তাহও দেখান হইল। পর পৃষ্ঠায় শিক্ষার্থীর অভ্যাস করিবার জন্য আরও দুইটি মুখ আমরা চিত্র করিয়া দিলাম। গ্রীক আদর্শে ঐ দুইটি মুখ প্রস্তুত করা

নষ্ঠ অধ্যায়।
৮১
ক
হইয়াছে, সুতরাং উহাতে সেই সকল ভাবই রক্ষিত হইয়াছে। এই
দুইটি মুখ নানা প্রকার বর্ধিত করিয়া অঙ্কিত
করিলে, মনুষ্য মুখ অঙ্কিত করা এক প্রকার
অভ্যাস হইতে পারিবে। ইহা ছাড়া বন্ধু বান্ধব,
বালক বালিকা, অথবা আত্মীয় স্বজনের মুখ
দেখিয়া ও অঙ্কিত করিবার চেষ্টাও করিবে। এই
প্রকার করিলে ক্রমশঃ স্বভাবের অনুকরণ করা
এক প্রকার অভ্যস্থ হইবে, এবং প্রতিমূর্তি অঙ্কিত
করিবারও ক্ষমতা জন্মিবে।
নিম্নের চিত্রখানি দ্বারা কর্ণ এবং নাসিকার
আদর্শ দেওয়া হইল। মধ্যস্থলে বাম কর্ণের সম্মুখ
দৃশ্য, বামদিকে দক্ষিণ কর্ণের পার্শ্ব, এবং দক্ষিণ
দিকে দক্ষিণ কর্ণের অপর পার্শ্ব দেখান হইয়াছে।
করে নিয়ে

চিত্রবিদ্যা | নাসিকার আকৃতি দেওয়া হইয়াছে। কর্ণের উপর, কর্ণ মধ্য, এবং কর্ণপালী; কর্ণের এই তিনটি বিভাগ দৃষ্ট হয়। নাসাপুটের পরিমাণ ইতিপূর্বেই কথিত হইয়াছে। চক্ষু দুইটির মধ্যে যেটুকু ব্যবধান থাকে, নাসাপুটের পরিমাণও প্রায় তাহার তুল্য। এই সকল আদর্শে স্বাভাবিক আকৃতি দেওয়া হইয়াছে। ' (12 সংস্কৃত শাস্ত্রাদিতে তিলফুল নাসা’ উদাহরণ প্রায়ই দেখা যায় । তিল ফুলের সঙ্গে মনুষ্যের নাসিকার বহুদূর সাদৃশ্য আছে, তাহা কবিগণই জানেন। আমরা একবার স্বহস্তে তিলের , চাল করিয়া বুঝিয়াছি, তিলফুলের সহিত মনুষ্য নাসিকার সদৃশ্য বিশেষ কিছু নাই। ‘চাঁদ মুখ বলিলে চক্রাকার ওখ অথবা সুন্দর মুখ বুঝায়। চক্রাকার মুখতে সুশ্রী নহে, তবে চাঁদমুখ অর্থে নম্রমুখ, শান্ত স্বভাব, শীলতাগুণ ষষ্ঠ অধ্যায়। ইত্যাদি বুঝিতে হইবে। সেই প্রকারে ‘তিলফুল নাসা বলিলে সুন্দর নাসিকা বুঝিতে হইবে। কি প্রকার হইলে নাসিকা সুন্দর হয় ? একজন চীনদেশীয় বলিবে, নাসিকা স্থূল হইলেই ভাল দেখায়। আমাদের দেশে “গরুড় চঞ্চর আকৃতি নাসিকা সুন্দর বলিয়া প্রসিদ্ধ আছে। গরুড় কি প্রকার তাহা আমরা দেখি নাই, তবে পক্ষীর চঞ্চ, প্রায়ই সূক্ষম অগ্রভাগে পরিণত হয়, একারণ “গরুড় চঞ্চ” নাসিকা শব্দের অভিপ্রায় নাসা সূক্ষম অথবা pointed হইলেই ভাল দেখায়, ইহাই আমাদের দেশের মত, ইহা স্বীকার করিতে হয়। সেই জন্যই এদেশে দেব দেবীর নাসিকা খুব সূক্ষকারে গঠিত হয়। কিন্তু উহ। নিতান্ত অস্বাভাবিক। আমরা উপরােক্ত চিত্রে যে কয়টি নাসিকা দেখাইলাম, ককেসিয়ান অথবা আৰ্যজাতির মধ্যে ঐ প্রকার নাসা দেখা যায়। নীচে হইতে দেখিলে, নাসারন্ধ, দেখিতে পাওয়া যায়, কিন্তু উপর হইতে দেখিলে নাসারন্ধ দেখিতে পাওয়া যায় না। নাসিকার গঠন সুদৃশ্য না হইলে মুখ ভাল দেখায় না, একটু খাদা, নাক হইলেও মুখের অনেক বিকৃতি দেখায়। এইজন্য নাসিকা কাহারও ভাল দেখিলেই, তাহার গঠন ভাল করিয়া লক্ষ্য করা উচিত। মুখের ভিন্ন ভিন্ন দিক হইতে নাসিকার আকৃতি, ওষ্ঠপুট, এবং যুগল হইতে নাসিকার পার্শ্বরেখা কি ভাবে উন্নত অথবা অবনত হইয়াছে, তাহা বিশেষরূপে লক্ষ্য করা উচিত। আমরা ইতিপূর্বে (৭৫ এবং ৭৬ পৃষ্ঠা) দেখাইয়াছি যে, ককেসিয়ান জাতির ললাট হইতে চিবুক পৰ্যন্ত রেখা টানিলে, নাসিকা কিছু উচ্চ দেখায়। এই কথা মনে রাখিয়া নাসিকা অঙ্কিত করিলে, সহজেই সুশ্ৰী মনুষ্য মুখ অঙ্কিত করা যাইবে। পর পৃষ্ঠার আদর্শে একাদশ প্রকার চক্ষু, এবং চারিপ্রকার ওষ্ঠ অঙ্কিত করা হইয়াছে।

চিত্রবিদ্যা । চক্ষুকে তিনভাগ করিলে, মধ্যভাগে তারকা, এবং দুই পাশ্বস্থ দুই ক) == অংশে অক্ষি গােলকের শ্বেতবর্ণ দেখা যায়। চক্ষু মনের দ্বার স্বরূপ, এইজন্য মনের পরিবর্তনের সঙ্গে চক্ষুর ও ভাবের পরিবর্তন হইয়া থাকে। শােক, আনন্দ, হাস্য, ক্রোধ, অহঙ্কার, গর্ব প্রভৃতি মানসিক চাঞ্চল্যের সঙ্গে সঙ্গে চক্ষুর ও ভাবের পরিবর্তন হয়, এ কারণ ঐ সকল পরিবর্তন চিত্রকরেরও জ্ঞাত হওয়া নিতান্ত আবশ্যক হয়। চক্ষুর সঙ্গে সঙ্গে মুখেরও পরিবর্তন হয়, কারণ মুখের সহিত চক্ষুর ভাবের সামঞ্জস্য ও ষষ্ঠ অধ্যায়। ৮৫ (অর্থাৎ এক প্রকার ভাৰ) থাকা উচিত। হাসিতে গেলেই অক্ষিপুট কুঞ্চিত হইয়া চক্ষু ছােট হয়, এ কথা বােধ হয় অনেকেই জানেন। শােকে অশ্রুজল পড়িলে ক্রমশঃ চক্ষু ঈষৎ স্ফীত হয়, এবং অরক্তিম বর্ণ দেখা যায়। ভয় পাইলে তারকার উপরেও অক্ষিগােলকের শ্বেতবর্ণ প্রকাশ হয়। নিদ্রা মােহ, অথবা মাদক দ্রব্য সেবনে চক্ষের ঢুলু ঢুলু ভাব দেখায়। ক্রোধ হইলে চক্ষু লালবর্ণ হয়, এবং যুগল কুঞ্চিত দেখায়; অহঙ্কার এবং গ প্রকাশের কালে দৃষ্টি অল্প কুঞ্চিত, ও চক্ষর কোণে রেখা সকল প্রকাশিত হয়। প্রেমপূর্ণ অপাঙ্গ দৃষ্টিতে অক্ষিকোণে তারকার গতি হয়। এতদ্ভিন্ন আরও অনেক কারণে চক্ষুর নানা প্রকার পরিবর্তন দেখিতে পাওয়া যায়, তাহা শিক্ষার্থির সর্বদা লক্ষ্য করা বিধেয়। পরবর্তি চিত্রে ওষ্ঠপুট দেখান হইয়াছে। চক্ষুর দ্বারা যে প্রকার মনােভাব সকল প্রকাশ হয়, ওষ্ঠেরও সেই প্রকার নানাবিধ পরিবর্তন হইয়া মনের অবস্থা সকল প্রকাশিত হয়। শৈশবকালে বালক বালিকাদের ওষ্ঠাধর প্রায় গােলাকার দেখায়। ক্রমশঃ বয়ােবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ওষ্ঠাধর ঈষৎ লম্বিত হইয়া যৌবনকালের মধ্যে পরিপুষ্ট হয়। বৃদ্ধ বয়সে দন্ত বিহীন হইলে ওষ্ঠাধর মুখ মধ্যে প্রবিষ্ট হইয়া কুঞ্চিত হয়, পুনর্বার গােলাকার হইতে দেখা যায়। হর্ষ, বিষাদ, ভয় প্রভৃতি মনােবৃত্তির হেতু চক্ষর ভাবের সহিত মুখের ঐক্য রাখিতেই হয়। হাস্য, আনন্দ, হর্ষ, সন্তোষ, প্রীতি ইত্যাদি সুখকর মনােবৃত্তিতে ওষ্ঠ প্রান্ত ঈষৎ উচ্চ হয়। উহার বিপরীত অর্থাৎ ক্রন্দন, দুঃখ, প্রভৃতি অসন্তোষ জনক মনােবৃত্তিতে ওষ্ঠাধর প্রান্ত অবনত হয়। ইহা ভিন্ন শারীরিক যাতনা কালে মুখ নানা প্রকার বিকৃতি ভাবের প্রকাশক হয়। চ, নাসিকা, এবং ওষ্ঠদ্বয়ের গঠনানুসারেই সৌন্দৰ্য্য নিরূপিত চিত্রবিদ্যা। হয়। সুতরাং মনুষ্য মুখের এই সকল অংশ দেখিয়া নানা প্রকার ~ ৫ (} ৫–১ চিত্র করিতে করিতে চিত্রকরের মনে ঐ সকল ভাবের স্মৃতি থাকিবে। পরে ইচ্ছামত ঐ সকল ভাবের অনুকরণ করিতে পারা যাইবে। পর পৃষ্ঠায় চিত্ৰদ্বারা কয়েক প্রকার হস্ত অঙ্কিত দেখান হইল। স্ত্রী পুরুষ ভেদে হস্ত দুই প্রকার হয়। স্ত্রীলোকের হস্ত সর্বাঙ্গে কোমল, এবং উহার গঠন প্রণালী পুরুষ অপেক্ষা বিভিন্ন। পুরুষের হস্ত অপেক্ষাকৃত কঠিন, এবং পেশী ও শিরা প্রকটিত। হস্ত মাংসল ও শিরা বিবর্জিত, নাতিদীর্ঘ, এবং নাতিহ্রস্ব আকারের হইলেই } ষষ্ঠ অধ্যায় -৮৭ Cয় কি শােভাম্বিত হয়। অঙ্গুলীর অগ্রভাগ ঈষং সূক্ষম, এবং মখশ্রেণী ছােট আকারের হইলে, সৌন্দর্য বলা যায়। সকল চিত্রকর হস্তের চিত্র ভাল করিতে পারেন নাই। ভ্যান্ডাই নামক ওলন্দাজ চিত্র- করই সর্বাপেক্ষা সুন্দর হস্ত অঙ্কিত করিয়াছেন। হস্ত পদ উত্তমরূপে অঙ্কিত করিতে পারিলে, চিত্রের শোভাবৃদ্ধি হয়। প্রথমতঃ হস্তদ্বয়ের গঠন প্রণালী উত্তমরূপে পৰ্যালােচনা করিয়া অঙ্গুষ্ঠ, তর্জনী মধ্যমা, অনামিকা এবং কনিষ্ঠা আঙ্গলীর পরিমাণ এবং আকৃতি উত্তণরূপে অনুকরণ করিতে পারিলেই হস্তের চিত্র ভাল হইবে। পরবর্তি চিত্রে কয়েকটি পদ অঙ্কিত করিয়া দেখান হইল। স্থানাভাব বশতঃ এই সকল চিত্র ছােট আকারের করিতে হইয়াছে। অনুকরণ করিবার সময় এই সকল চিত্র বদ্ধিত করে করা উচিত। ইস্ত অঙ্কিত করিবার বিষয়ে যাহা লিখিত হইয়াছে, পদ অঙ্কিত করিতেও সেই উপায় অবলম্বন করা আবশ্যক। শৈশবকালে হস্ত পদের অঙ্গলি ছােট ছােট থাকে, এবং সাধারণতঃ হস্ত পদ গোলাকার থাকে। পরে বয়ােবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হস্ত পদের আকৃতি পরিবর্তিত, এবং অঙ্গুলি সকল বর্ধিত হইয়া সবল হয়। মনুষ্যাকৃতি যেমন বয়সের অঙ্কিত করা হইবে, হস্ত পদও সেই চিত্রবিদ্যা। বয়ঃক্রমের পরিচায়ক হওয়া আবশ্যক। বৃদ্ধ বয়সে হস্তাঙ্গুলি শীর্ণ, এবং উপরিভাগে শিরা সকল প্রকাশিত, অথবা চৰ্ম্ম স্থানে স্থানে কুঞ্চিত হইয়া যায়। ঐ সকল পরিবর্তন ও লক্ষ্য করা উচিত। আমরা এই অধ্যায়ে মানৰ দেহের যে সকল E পরিমাণ দেখাই- লাম, ঐ সকল পরিমাণ শিক্ষার্থীর হৃদয়ঙ্গম হইলে, তিনি ইচ্ছামত মানব দেহের সব প্রকার চিত্র করিতে পারিবেন। কিন্তু মনুষ্য দেহ দেখিয়াও নানা প্রকায় চিত্র করিলে, তবেই কল্পনা- প্রসূত মানব দেহের চিত্র সকল করিতে পারা যায় । পরবর্তি চিত্রখানিতে একজন নাবিকের ক্লান্তিপূর্ণ মুর্তি দেখান হইয়াছে। বহুদূরে সমুদ্রমগ্ন তব পােতটির মাস্তুল দেখা যাইতেছে। কোন প্রকারে এই ব্যক্তি তীরে উঠিতে পারিয়া প্রাণরক্ষা করিয়াছে, এবং পরমেশ্বরকে ধন্যবাদ দিবার জন্য যােড়হস্তে উপবিষ্ট রহিয়াছে। সবল দেহে অত্যন্ত পরিশ্রম হইলে, একটা ভয়ানক ক্লান্তি আসে, চিত্রে সেই ভাব দেখাইবার চেষ্টা হইয়াছে। এই চিত্রে আলােক অথবা ছায়া দেখান হয় নাই, কেবল মাত্র রেখা দ্বারাই সকল বিষয়

ষষ্ঠ অধ্যায়।
পরিস্ফুট করিবার চেষ্টা
করা গিয়াছে। ইহা কল্পনা প্রসূত মানব
দেহের চিত্র। শিক্ষার্থী ইচ্ছা করিলে, এই ছবিখানি বৰ্দ্ধিত আকারে
প্রস্তুত করিয়া, উহাতে ছায়ার সজ্জা করিতে পারেন। কি ভাবে
উহাতে ছায়ার সন্নিবেশ করিতে হইবে, তাহার বর্ণনা করা গেল।
আমরা পার্শ্বরেখা অঙ্কিত করিয়া যাহা বুঝাইয়াছি, উহাতে ছায়া
অঙ্কিত করিলে, ঐ চিত্র অপেক্ষাকৃত পরিস্ফুট হইবে।
১২

চিত্রবিদ্যা। বদি আমরা ঐ চিত্ৰমধ্যে ছায়া সকল অঙ্কিত করিয়া দিতাম, শিক্ষার্থী তাহা দেখিয়া সহজেই তাহার অনুকরণ করিতে পারিতেন, কিন্তু কেবল ‘কপি (Copy) করিলে, চিত্র বিষয়ক জ্ঞান হয় না। কোন কারণে চিত্রের কোন স্থানে কি প্রকার ছায়ার আবশ্যক, তাহা বুঝিতে পারিলেই, তাহা অঙ্কিত করা সহজ হয়। শিক্ষার সময় হইতেই এই সকল বিষয় বােধগম্য হইলে, এবং স্বাধীনভাবে চেষ্টা করিতে পারিলেই ভাল হয়। চিত্রখানি দেখিয়া প্রথমতঃ পাশ্বভূমির অনুমান করিতে হইবে। মনুষ্য মূর্তিকেই সর্বাপেক্ষা উজ্জ্বল দেখাইতে হইবে, এইজন্য পার্শ্বভূমির (Backgrounds) সর্বত্রই কিছু পরিমান ছায়াযুক্ত হওয়া আবশ্যক। আকাশের বর্ণ নীল, সমুদ্রের জলও নীল, নাবিক যে সােপান শ্রেণীর নিম্নে উপবিষ্ট, তাহাও প্রস্তর নির্মিত, সুতরাং চিত্রের ঐ সকল স্থানেই HB পেনসীল দ্বারা ঈষৎ টিন্ট, অথবা ছায়া অঙ্কিত করিবে। এই প্রকার করিলেই মনুষ্যমূর্তি আরও পরিস্ফুট হইবে। আকাশ- মণ্ডলে টিন্ট দেওয়া হইলে, ইরেজার দ্বারা মুছিয়া, অল্প অল্প মেঘের সজ্জা দেখাইবার চেষ্টা করিবে। কিন্তু ঐ সকল মেঘ অধিক স্পষ্ট করিওনা, তাহাতে দূরত্ব দেখাইবার বিপ্ন হইবে। সমুদ্রের জলের উপর ঈষৎ তরঙ্গবিক্ষোভ আছে, তাহাও দেখাইবে। প্রস্তরময় সােপান শ্রেণীর উপর নাবিক উপবিষ্ট থাকায় উহার দেহের ছায়া দক্ষিণ দিকে দেখাও। বামপাশ্ব হইতে আলােক আসিয়া ঐ লােকের দেহে পড়িলে, উহার ছায়া প্রস্তর সােপানে পতিত হইবেই। সেই প্রকারে পদদ্বয়ের ছায়াও নিম্ন সােপানে দেখাইবে। পাশ্বভূমির ঐ সকল ছায়া অঙ্কিত হইলে, মনুষ্য দেহের ছায়া সকল নিম্নলিখিত ভাবে করিবে। মুখের দক্ষিণপাশে, অর্থাৎ ললাট, নাসিকা, এবং ওষ্ঠ ঈষৎ ছায়া-

ষষ্ঠ অধ্যায়।
।
৪)
heim
যুক্ত করিয়া মুখের গঠন সকল পরিস্ফুট করিবার চেষ্টা কর। কিন্তু
মুখের এই সকল ছায়া যতদূর সম্ভব পাতলা টিন্ট দ্বারা দেখাইবে।
হস্তদ্বয়ের দক্ষিণ পার্শ্বে, এবং বক্ষের উপর ভাগেও কণ্ঠ-ছায়া দেখাইয়া,
পদদ্বয়ের দক্ষিণ ভাগ ছায়াযুক্ত করিবে। এই প্রকার করিলে, ছবি-
খানির অনেক উন্নতি হইতে পারে। পদদ্বয়ের নিয়ে সম্মুখস্থ ভূমির
উপর তৃণ অথবা কঙ্কর দেখাইতে পারিলে ভাল হয়।
পার্শ্বস্থ চিত্রখানি গ্রীক দেশীয়
প্রস্তরমূৰ্ত্তি হইতে প্রস্তুত। বালকটি
হংস ধরিয়া লইয়া যাইবার চেষ্টা
করিতেছে, হংসও প্রাণপণে উহার
হস্ত হইতে পালাইবার
পালাইবার চেষ্টা
করিতেছে।
শিক্ষার্থী দেখিবেন যে, পূর্ণ বয়স্ক
ব্যক্তির আকৃতি যে প্রকার অষ্ট
মস্তক পরিমাণে গঠিত হয়, বালকের
আকৃতিতে সেই প্রকার ছয় মস্তকের
পরিমাণ আছে। পূর্ণবয়স্কের গুহ
দেশেই দেহের মধ্যস্থল, কিন্তু শৈশব
কালে নাভিই দেহের মধ্যস্থল থাকে। ক্রমশঃ বয়ােবৃদ্ধির সঙ্গে দেহের
মধ্যভাগ নামিয়া সমস্ত দেহের অষ্ট মস্তক পরিমাণ হয়। এই বিষয়
মনে রাখিয়া বালক বালিকাদের মুর্তি অঙ্কিত করিলে, ভ্রম হইবে না।
পরবর্তি চিত্রে একটি ছােট ছেলের মুক্তি দেওয়া হইল।
রেখা দ্বারাই এই চিত্র অঙ্কিত করা হইল। শিক্ষার্থীও এই চিত্র
রেখাদ্বারা আদর্শমত চিত্র করিবেন। ঐ সকল রেখা অঞ্চিত করিতে
পারিলে উহার উপর ছায়া অথবা টিন্ট সহজেই দেওয়া যাইবে।

চিত্রবি মস্তকের কেশ হইতে পদতল পৰ্য্যন্ত এই চিত্র কোমলতার ভাব রাখিবার চেষ্টা করা হইয়াছে। চক্ষু এবং মুখে অল্প হাসির ভাব দেখান হইয়াছে। মুখের ঠিক ঐ ভাবটুকু রাখিবার চেষ্টা করিতে হইবে। । আমরা এই অধ্যায়ে মানব দেহের চিত্র বিষ- যুক প্রায় সকল কৃথা বলিয়াছি, এক্ষণে এই অধ্যায় সমাপ্ত করিবার পূর্বে শিক্ষার্থীকে দুই একটি কথা বলিব। দেশ এবং রুচিভেদে সৌন্দৰ্য কলা বিভিন্ন হইলেও, যাহা চক্ষে ভাল দেখায়, তাহাকে সুন্দর বলিতেই হয়। শিক্ষার্থ জগতে যাহা সুন্দর বলিয়া মনে করিবেন, সেই বস্তুর চিত্র করিবার চেষ্টা করিবেন। আর সেই চিত্রখানি বতুপূর্বক রাখিয়া দিবেন। পরে যখন তিনি প্রকৃত প্রস্তাবে ভাল চিত্রকর হইতে পারিবেন, সেই সময়ে ঐ সকল চিত্র অনেক উপকারে আসতে পারে। আমরা যে ভাবে জীবন অতিবাহিত করিয়া থাকি, তাহাতে আমরা এই জীবনেই যে কত স্থান, কত লোক দেখি, তাহার মধ্যে উৎকৃষ্ট প্রাকৃতিক দৃশ্য, সুশ্রী নর নারী, জীবজন্তু, অথবা নানাবিধ কারুকার্য শােভিত কত প্রকার দ্রব্য দেখিতে ষষ্ঠ অধ্যায়। পাই। সকল বস্তু মনে করিয়া রাখা নিতান্ত অসম্ভব। যদ্যপি ঐ সকল দ্রব্যের কোনও রকম একটা চিত্র অথবা স্কেচ করিয়া রাখিতে পারা যায়, তাহা হইলে সেই সকল শােভা মনে করিয়া রাখিবার জন্য ক্লেশ পাইতে হয় না। কোনও চিত্ৰমধ্যে ঐ সকল বস্তু সন্নিবিষ্ট করিতেও সুবিধা হয়। এই প্রকারেই স্বভাবের শােভা সকল দেখিতে হয়, এবং ইহাকেই (Nature study) স্বভাব-দর্শন কহে। যে চিত্রকর এই ভাবে স্বভাব-দর্শন করিতে পারিবেন, তিনি অচিরেই একজন সুযােগ চিত্রকর হইতে পারিবেন, ইহাতে সংশয় নাই। সপ্তম অধ্যায়। আমাদের চক্ষুদ্বয় কতকগুলি বিশেষ নিয়মানুসারে যাবতীয় পদার্থ দেখিয়া থাকে। সেই নিয়ম মতই আমরা নানাবিধ পদার্থের দূরত্ব এবং সামীপ্য হৃদয়ঙ্গম করিতে সমর্থ হই। চিত্রকরেরা বহু পূর্বকাল হইতেই ঐ সকল নিয়ম অবগত হইয়াছেন—একারণ তাঁহাদের প্রস্তুত চিত্রগুলি ঐ সকল নিয়ম মত রচিত হইয়াছে। শিল্প বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তির পক্ষে ঐ সকল নিয়মগুলি আপাততঃ কিঞ্চিং কঠিন বােধ হইতে পারে, একারণ আমরা এই বিষয়টি কিছু বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করিলাম। শিক্ষার্থী এই বিষয়টি সর্বতােভাকে আয়ত্ব করিবার চেষ্টা করিবেন। ভাষার পক্ষে ব্যাকরণ যে প্রকার, চিত্ৰকাৰ্য্যের পক্ষে দৃষ্টি বিজ্ঞানও সেই প্রকার। আমাদের অক্ষি তারকা গােলাকার বলিয়া, আমরা সকল পদার্থের আকৃতি একটি বৃত্তের অভ্যন্তরে দেখিতে পাই। একথা বুঝিবার পক্ষে কোনও বাধা নাই। গােলাকার বস্তু দ্বারা দেখিলে, দৃশ্য মাত্রেই একটি চক্র মধ্যে দেখিতে হইবেই। কিন্তু আমরা স্বভাবতঃ এই ৯৪ চিত্রবিদ্যা কথা বুঝিতে পারিনা। একটু পরীক্ষা করিলেই অনায়াসে ইহা বুঝিতে পারা যায়। সে পরীক্ষা এই-- - www. Jumluleshooting কোনও গৃহ দেওয়াল হইতে ১০ ফুট দূরে উপবিষ্ট হইয়া, স্থির ভাবে সেই দেওয়ালের দিকে দৃষ্টি কর। যদি ঠিক সমান দৃষ্টি করা হয়, তাহা হইলে দেওয়ালের একটি স্থানে তােমার দৃষ্টি পতিত হইবে। যেস্থানে এই সরল দৃষ্টি পতিত হয়, তাহাই দুই চক্ষুর কেন্দ্র স্বরূপ কথিত হইয়া থাকে। ঠিক কোন স্থানে এই দৃষ্টি পতিত হয়, তাহা একটু চেষ্টা করিলেই বুঝিতে পারা যাইবে। যেস্থানে তোমার দৃষ্টি কেন্দ্র বুঝিবে, খড়ী অথবা অন্য কোনও পদার্থ দ্বারা তাহা চিহ্নিত করিয়া লও। পরে সেই ভাবে পুনর্বার স্থির হইয়া উপবিষ্ট হও, এবং চিন্তু সপ্তম অধ্যায়। । স্থানে পূর্ববৎ দৃষ্টি স্থির রাখিয়া, উহার চতুষ্পর্শ্বে দেখিবার চেষ্টা কর। এই প্রকার করিলে, চিহ্নিত স্থানের চতুর্দিকে কিছু দূর মাত্রই স্পষ্ট দেখিতে পাওয়া যায়। তাহার অধিক দেখিতে চেষ্টা করিলে তােমাকে মুখ ফিরাইয়া দেখিতে হইবে। একটি বিন্দুর উপর দৃষ্টি স্থির রাখিয়া আমরা যতটুকু দেখিতে পাই, তাহাই একটি দৃশ্য বলিয়া গণ্য হইয়া থাকে। কথিত পরীক্ষা পুস্তকের লিখিত মত করিতে পারিলে, এই দৃশ্য যে গােলাকার, তাহা বেশ বুঝা যাইবে। পূর্ব চিত্রে একটী গৃহের মধ্যে উপবিষ্ট এক ব্যক্তি দেওয়ালের দিকে দৃষ্টি করিয়া, দৃষ্টি কেন্দ্রের চারিদিকে যতদূর দেখিতে পাইতেছে, তাহা একটী চক্ররেখা দ্বারা দেখান হইয়াছে। আমরা যে দৃশ্যই দেখি, সকল সময়েই আমাদের এই প্রকার গোলাকার দৃশ্য দৈখিতে হয়। প্রত্যেক দৃশ্যের মধ্যস্থলে চক্ষুদ্বয়ের কেন্দ্র পতিত হইয়া থাকে। পূর্ব পরীক্ষায় আমরা দেওয়ালের কথা বলিয়াছি। ঐ পরীক্ষা যদ্যপি কোনও অনাবৃত স্থানে অথবা স্বভাব দৃশ্যের প্রতি করা হয়, তাহা হইলেও ঐ প্রকার একটি দৃষ্টি কেন্দ্র অনুমিত হইবে, এবং কেন্দ্রের চারিদিকে কিছু দূর মাত্র স্পষ্ট দেখা যাইবে। যে পৰ্য্যন্ত বেশ স্পষ্ট দেখা যায়, তাহাই একটি দৃশ্যের পরিমাণ হইয়া থাকে। দৃষ্টি কেন্দ্রকে ইংরাজি ভাষায় “পয়েন্ট-অ ভিউ” (Point of view) বলে; যে বৃত্তের দ্বারা দৃশ্যটি সীমাবদ্ধ হয়, তাহাকে ‘সীমাবৃত্ত (vanishing circle) বলা যায়। এ পর্যন্ত আমরা দৃষ্টি বিজ্ঞানের দুইটি বিষয় অবগত হইলাম। ১। দৃষ্টি কেন্দ্র (Point of view)। ২। সীমাবৃত্ত (Vanishing circle)। স্বভাব দৃশ্যে দৃষ্টি কেন্দ্র অবগত হইবার নিয়ম।—কোনও স্বভাব চিত্রবিদ্যা '। দৃশ্য দেখিয়া অঙ্কিত করিবার কালে প্রথমতঃ দৃষ্টি কেন্দ্র স্থির করিতে হয়। ইহা স্থির করিতে না পারিলে, কোনও দৃশ্য সুচারু রূপ অঙ্কিত হইবে না; একারণ শিক্ষার্থীর এ বিষয়ে বিশেষ মনোযােগী হওয়া কর্তব্য। স্বভাব দৃশ্য মাত্রেই আকাশ একটি প্রধান অঙ্গ।-ইহার তাৎপর্য এই যে, আমরা যে প্রকার দৃশ্যই দেখি, তাহাতে কিছু পরিমাণ আকাশ আমাদিগকে দেখিতেই হইবে। শুধু তাহাই নহে, দৃষ্টি কেন্দ্র নির্ণয় করিবার পক্ষে আকাশই প্রধান সহায় হয়। এই বিষয় ক্রমশঃ বুঝান যাইতেছে। অনাবৃত অথচ বহুদূর বিস্তৃত স্থান হইতে দেখা যায় যে, দূরে আকাশ এবং পৃথিবী একত্র সংযােজিত হইয়াছে। ইহা সকলেই দেখিয়াছেন, কিন্তু কয় জন এই অদ্ভুত ভ্রান্তির কারণ অনুসন্ধান করিয়া থাকেন? যাহারা এই প্রকার দেখিয়াছেন বলিয়া বােধ করেন না, কোনও উচ্চ অট্টালিকার ছাদের উপর হইতে, অথবা সুবিস্তৃত কোনও ময়দান হইতে, কিম্বা জলরাশির উপর হইতে তাহারা নিশ্চয়ই দেখিতে দূরে গিয়া আকাশ এবং পৃথিবী যেন সংযুক্ত হইয়াছে। বহু দূর বিস্তৃত জলরাশির উপর হইতে এই দৃশ্য বড় মনোহর দেখায়। আকাশ এবং পৃথিবীর সংযােগ স্থলে একটি সরল রেখা (Straight line) দেখিতে পাওয়া যায়। এই রেখাকে চত্রু বাল, অথবা দিগন্ত বৃত্ত বলা যায় (Horizontal line)। উচ্চ স্থান হইতে দেখিলে, এই দিগন্ত বৃত্ত উচ্চে দেখায়, এবং নিয় স্থান হইতে দেখিলে, এই রেখা অপেক্ষাকৃত নিয়ে দেখিতে পাওয়া এমন কি, এক স্থানে বসিয়া মস্তক ঈষত্ৰ উন্নত অথবা অবনত করিলেও দিগন্ত বৃত্তের উন্নত এবং অবনত ভাব কেশ বুঝিতে পারা যায়। এই রেখার উপরেই দৃষ্টি কেন্দ্র পতিত হইয়া থাকে। পাইবেন যে, কিছু সপ্তম অধ্যায়। নিয়ে আমরা যে চিত্র দিলাম, উহা দ্বারা দিগন্ত বৃত্ত বুঝিবার সুবিধা হইবে। ক খ নামক রেখা ঐ দৃশ্যের চক্রবাল অথবা (Harizontal linc) দিগন্ত বৃত্ত। বহুদূরে আকাশ এবং জলের সংযোগস্থলেই এই রেখা দৃষ্ট হয়। ঐ রেখার উপরে একটা পর্বত দেখা ইতেছে। বাম পার্শ্বে একটা বৃক্ষ ঋকায় ঐ রেখা কিছু ঢাকা পড়িয়াছে মাত্র। কোনও স্বভাব দৃশ্য অঙ্কিত করিবার পূর্বে এই দিগন্তবৃন্তু উত্তম- রূপে বােধগম্য হওয়া উচিত। নিকটে বৃক্ষাদি অথবা অন্য কোনও প্রতিবন্ধক থাকিলে, এই রেখা স্থির করিবার পক্ষে নব্য শিক্ষার্থীর কিছু সংশয় হইতে পারে, এইজন্য দিগন্তবৃত্ত বুঝিবার সময়ে প্রথমতঃ খােল পরিষ্কার স্থানে গিয়া উহা দেখিতে হইবে। দৃষ্টিকেন্দ্র।—(Point of view) কোনও দৃশ্যের সংযােগ রেখা স্থির হইলে, দৃষ্টিকেন্দ্র স্থির করিতে হইবে। পূর্বেই কথিত হইয়াছে যে, দৃষ্টিকেন্দ্র এই দিগন্তবৃত্তের উপরই পতিত হইয়া থাকে।—অঙ্ক শাস্ত্রবিৎ পণ্ডিতেরা বলেন যে, অসংখ্য বিন্দু সমসূত্রপাতে সজ্জিত হইলেই তাহা রেখা হয় ;—দৃষ্টিকেন্দ্র সেই রেখার অসংখ্য বিন্দুর মধ্যে একটি বিন্দু। দিগন্ত বৃত্তের কোন স্থানে সেই বিন্দুটি ? কি প্রকারে তাহা নিরূপিত হইবে ?

চিত্রবিদ্যা
স্বভাব দৃশ্যের যে সকল রেখা নিকট হইতে দূরে যায়, সেই
রেখাগুলি প্রায়ই দৃষ্টিকেন্দ্রে গিয়া শেষ হইয়া থাকে।
পার্শ্বস্থ চিত্রে এই কথা
বুঝাইবার সুবিধা হইবে।
উহা ভিনিস নগরের একটি
চিত্র।
কখ রেখা এই দৃশ্যের
চক্রবাল। ঐ রেখার প্রায়
মধ্যস্থলেই দৃষ্টিকেন্দ্র পতিত
স্ম হইয়াছে। নদীর দুই পার্শ্বস্থ
অট্টালিকার সকল রেখা ঐ
দৃষ্টিকেন্দ্র হইতেই অঙ্কিত
হইয়াছে। স্বভাব দৃশ্যের
ঐ প্রকার দুই চারিটি রেখা মিলাইয়া দেখিলেই দৃষ্টিকেন্দ্র ধরিতে
পারা যায়।
এই দৃশ্যে জলের সহিত আকাশের সংযােগ রেখা দেখিতে পাওয়া
যাইতেছে না, কিন্তু দৃষ্টিকেন্দ্র সহজেই বুঝিতে পারা যায়। দৃষ্টিকেন্দ্র
যখন দিগন্তবৃত্তের উপরই পড়িবে, সুতরাং দৃষ্টিকেন্দ্র স্থির করিয়া
পরে Horizontal line অঙ্কিত করিলেও কোনও ক্ষতি নাই।
যে চিত্রের মধ্যে সকল রেখা দৃষ্টিকেন্দ্র হইতেই অঙ্কিত হয়, তাহা
সমান্তর দশের উদাহরণ। দুই পার্শ্বের অট্টালিকা এই দৃশ্যে সমান্তর
(Parallel), এবং এই জন্যই এই প্রকার দৃশ্যকে “প্যারালেল পারস্-
পেকটিভ” বলা হয়।
দৃষ্টি-বিজ্ঞানের এই দুইটি বিষয় শিক্ষার্থীর উত্তমরূপ জ্ঞান হইলে,
অপরাপর কথা বুঝিবার সুবিধা হয়।

সপ্তম অধ্যায় পূর্বে বলিয়াছি, আমাদের চক্ষু যে প্রকার দৃশ্যই দেখিবে, সৈ সকলি একটা গােলাকার চক্ৰমধ্যে দেখিতেই হইবে। ঐ চক্রের মধ্য- বিন্দুকেই “পয়েন্ট-অব-ভিউ” (Point of veiw) অথবা দৃষ্টিকেন্দ্র বলে। উহার অপর একটি নামও আছে। কোন কোনও চিত্রকর উহাকে “সেন্টার-অব-ভিস” (contre of vision) ও বলিয়া থাকেন। ‘দৃষ্টিকেন্দ্র, অথবা ‘দৃশ্যের মধ্য এই দুইটি নামে দৃশ্যের মধ্য বিন্দুকেই বুঝায়। নিম্নের চিত্রে দৃশ্যের স্বরূপ একটি বৃত্ত দেওয়া হইয়াছে, ক বিন্দু ঐ দৃশ্যের পয়েন্ট-অব- ভিউ। চ ক ট রেখা উহার চক্রবাল (Horizontal line)। চ, ট, বিন্দুদ্বয়কে ই ‘সীমা-বিন্দু' বলে। সীমা বিন্দুদ্বয়ের ব্যবহার পরে লিখিত হইয়াছে ; এ স্থলে কেবল ইহা বুঝিতে হইবে যে, দৃশ্য পরিধির যে দুইটি বিন্দু চক্রবালের সীমা, “তাহাকেই চিত্রকরগণ সীমাবিন্দু বলিয়া থাকেন। ইংরাজিতে উহাকে “ভ্যানিসিং পয়েন্টস” (Vanishing points.) নাম দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী যে পৰ্যন্ত বুঝিয়াছেন, তাহার সংক্ষেপ পুনরুক্তি এই স্থলে করিলাম। আমাদের চক্ষুদ্বয় গােলাকার, স্বভাবের যতটুকু আমরা এককালে দেখি, তাহা আমরা • একটি চক্ৰমধ্যে দেখি; ঐ চক্রের মধ্যবিন্দুকে পয়েন্ট-অব-ভিউ’ অথবা দৃষ্টিকেন্দ্র বলে ; যে রেখা আকাশ এবং চিত্রবিষ্ঠা। পৃথিবীর সংযােগ স্থলে দেখায়; তাহাকে চক্রবাল অথবা ‘হােরাইজন্টাল লাইন’ বলে, ঐ রেখা সীমাবৃত্ত অথবা দৃশ্য পরিধির ব্যাস (Diameter)। চক্ৰবাল, দিগন্তবৃত্ত, অথবা হােরাইজন্ট্যাল্ লাইন একই বস্তু। দৃশ্য পরিধির যে দুইটি বিন্দুর সহিত চক্রবালের সংযােগ হয়, সেই দুইটি বিন্দুকে সীমাবিন্দ, অথবা ভ্যানিসিং পয়েন্টস্' বলে। শিক্ষার্থীর এই কয়েকটি বিষয়ের উত্তমরূপ ব্যুৎপত্তি হইলেই পরবর্তি কথা সকল বুঝিবার সুবিধা হয়। দৃশ্য পরিধির দুইপার্শ্বে দুইটি সীমাবিন্দু কথিত হইল, সেইমত উহার উৰ্দ্ধ এবং অধােদেশে আরও দুইটি বিন্দুর কল্পনা করিতে হয়। উপরােক্ত চিত্রে খ ঐ প্রকার একটি বিন্দু। ঐ বিন্দুকে দৃশ্যের দূরত্ব বলা হয় (Distance of Visual plane)। এই কথা আমরা আরও বিশদভাবে বুঝাইব। দৃষ্টিকেন্দ্রের দিকে চাহিয়া, নিম্নভূমির যে পর্যন্ত বেশ স্পষ্ট দেখা যায়, তাহাই দৃশ্য পরিধির নিম্নসীমা সন্দেহ নাই, সুতরাং তাহাই শ্যের দূরত্ব বলিতেই হইবে। তুমি চক্ষুতে স্বভাবের যে ছবিটি দেখিতেছ, তাহা তােমার পর্দদ্বয়ের কিছু দূরে পরিষ্কার দেখা যায়। যতদূরে এই দৃশ্য পরিষ্কার দেখায়, তাহাকেই দৃশ্যের দূরত্ব বলে। বলা বাহুল্য, উহা দর্শকের পদদ্বয় হইতে দশ হস্ত অথবা বিংশ হস্ত দূরে, অথবা তাহার মধ্যবর্তি হইতে পারে। দৃষ্টিকেন্দ্র হইতে উহার যে পরিমাণ, দৃষ্টিকেন্দ্র হইতে সীমা বিন্দদ্বয়েরও সেই পরিমাণ অবশ্যই হইবে। দৃষ্টি-কেন্দ্র (১), সীমা-বিন্দদ্বয় (২,৩) এবং দৃশ্যের দূরত্ব (৪) এই চারিটি বিন্দু স্থির করিতে পারিলেই, স্বভাবের সকল বস্তু অর্কিত করা যাইবে। দৃশ্য ও চিত্রের পার্থক্য।—শিক্ষার্থী অবশ্যই বুঝিয়াছেন যে, আমরা একটি বিন্দুতে দৃষ্টি স্থির রাখিয়া, একেবারে স্বভাবের যতটুকু সপ্তম অধ্যায়। ১১, অংশ দেখিতে পাই, তাহাকেই একটি দৃশ্য বলা যায় ; যদি এই সম্পূর্ণ দৃশ্যটির চিত্র করিতে হয়, তাহা হইলে, সেই চিত্রখানিও গােলাকার হইবে। শুধু তাহাই নহে, সেই চিত্রের ঠিক মধ্যস্থলেই দৃষ্টি-কেন্দ্র থাকিবে, এবং চিত্রের বৃত্তাকার সীমার উপরেই সীমান্ত-বিন্দুদ্বয়, এবং দৃশ্যের দূরত্ববিন্দুও থাকিবেই। এ স্থলে দৃশ্য এবং চিত্র একই হইবে। কিন্তু প্রধান প্রধান চিত্রকরের সম্পূর্ণ দৃশ্যের চিত্র প্রস্তুত করেন । দৃশ্যের যে অংশটুকু দেখিতে সুন্দর, যাহাতে স্বভাবের শােভ অধিক পরিমাণে দেখিতে পাওয়া যায়, সেইটুকু অংশই চিত্রমধ্যে সন্নিবেশিত করিয়া, চিত্র প্রস্তুত হয়। এই কথা বুঝিতে গেলে, নিম্ন লিখিত পরীক্ষা করিতে হইবে। এই পরীক্ষা করিতে একখণ্ড পরিষ্কার কাচের আবশ্যক। এই কাচখানি মধ্যমাকার, অর্থাৎ ১২ ইঞ্চি x১৬ ইঞ্চি মাপের লইবে। ছবির উপর যে প্রকার কাচ দেওয়া থাকে, ঐ প্রকার একখণ্ড কাচ হইলেই চলে। ঐ প্রকার একখণ্ড কাচ লইয়া অনাবৃত স্থানে কোন একটি দৃশ্য মনােনীত করিয়া, প্রথমতঃ সেই দৃশ্যের দৃষ্টিকেন্দ্র, চক্রবাল, সীমান্ত বিন্দুদ্বয়, এবং দৃশ্যের দূরত্ব উত্তমরূপে স্থির করিবে। বারম্বার ঐ সকল বিন্দ, পরীক্ষা করিয়া দেখিবে, যেন কোনও প্রকার ভ্রান্তি না হয়। ঐ কয়েকটি বিন্দু স্থির হইলেই সেই দৃশ্যটির পরিমাণ তােমার মনাে- মধ্যে এক প্রকার স্থির হইয়া বসিবে। যদ্যপি কোনও বিন্দু, মনে করিয়া রাখিবার ক্লেশ হয়, দৃষ্টিকেন্দ্র দেখিলেই তাহা আবার মনে 'ও, আসিবে। এক্ষণে সেই কাচখণ্ড লইয়া তােমার চক্ষুর কিছুদূরে ধরিয়া দেখ, কাচের মধ্য দিয়া সমস্ত দৃশ্যটি দেখিতে পাও কি না ? কাচের মধ্য দিয়া দেখিবার কালেও তােমার দৃষ্টিকেন্দ্রের দিকেই দেখা কর্তব্য।

১২ চিত্রবিদ্যা। দৃশ্যের মধ্যে এই পরীক্ষা করিলেই দেখিবে যে, সম্পূর্ণ দৃশ্যটি ঐ কাচের মধ্যে দেখা যায় না। দৃশ্যের কিয়দংশ মাত্রই কাচ মধ্যে দেখায়। যেটুকু অংশ ঐ কাচ মধ্যে দেখিতে পাইবে, সেই অংশই সেই কাচের উপর অঙ্কিত করা যাইতে পারে। দৃশ্যের সেইটুকু একটি চিত্র হইবে। দৃশ্যটির অপরাপর অংশে ঐ কচিখণ্ড ধরিয়া দেখিলে, ঐ কাচের মধ্য দিয়া দৃশ্যের বিভিন্ন অংশ দেখা যাইবে। সুতরাং দৃষ্টিকেন্দ্র কাচের ঠিক মধ্যস্থলেও থাকিতে পারে। ঐ দৃশ্যমধ্যে ঐ কাচখানি লম্বা দিকে অথবা আড়, দিকে ধরিয়া নানাপ্রকার চিত্রসজ্জা হইতে পারে। এই প্রকার করিয়া শিক্ষার্থী সহজেই বুঝিতে পারিবেন যে, কোনও চিত্রসজ্জা মনােহর, এবং কোনও সজ্জা তাদৃশ সুন্দর না হইতেও পারে। স্বভাবের যেটুকু ভাল দেখায়, তাহারি চিত্র করিলে তবে সুন্দর ও শােভান্বিত হয়। এই জন্যই চিত্র বলিলে সম্পূর্ণ দৃশ্যটীর কতক অংশমাত্রই বুঝায়। দৃষ্টিকেন্দ্র চিত্রমধ্যে কোন স্থানে থাকিলে ভাল দেখায়, তাহা অনেকটা চিত্রকরের মার্জিত রুচি, এবং শিল্পকলাভিজ্ঞতার উপরই নির্ভর করে। তােমার রুচি যতই মার্জিত হইবে, তুমি ততই সুন্দর ভাবে তােমার চিত্রাদিতে দৃষ্টিকেন্দ্র অথবা চক্রবালের সন্নিবেশ করিতে পারিবে। একটি দৃশ্য অবলম্বন করিয়া নানাপ্রকার চিত্র হইলেও প্রকৃতপক্ষে দৃষ্টিকেন্দ্র, চক্রবাল, সীমান্তবিন্দু, দৃশ্যের দূরত্ব প্রভৃতির সম্বন্ধ অপরি- বৰ্ত্তনীয় থাকিবে। চিত্র একখানিতে দৃশ্যের সম্পূর্ণ অংশ রাখিয়া অঙ্কিত করিলে, চিত্র গােলাকার হইবে, চিত্রের ঠিক মধ্যে দৃষ্টি- কেন্দ্র থাকিবে, এবং সীমা-বিন্দুদ্বয় ও দৃশ্যের দূরত্ব সূচক বিন্দ চিত্রের চক্রাকার সীমার উপরই থাকিবে। ঐ প্রকার চিত্র যে দৃষ্টি বিজ্ঞান মতে ভুল হইবে, তাহা বলা যায় না; বরং নব্য শিক্ষার কালে, ঐ

সপ্তম অধ্যায়।
প্রকার সম্পূর্ণ দৃশ্যের চিত্ৰই করা উচিত। সম্প, দৃশ্যটি যে
চিত্রে কি প্রকার হইবে, তাহার প্রথমতঃ বােধ হওয়া চাই। তাহার
পর শিক্ষার্থী দৃষ্টি বিজ্ঞানের সকল কথার সামঞ্জস্য রাখিয়া, দৃশ্যের
আংশিক চিত্র সকল করিতে পারিবেন। দৃশ্য এবং চিত্র, সকল
সময়ে যে এক হয় না, তাই আমরা এস্থলে বুঝাইয়া দিলাম।
আমরা ইতিপূর্বে দিগন্তবৃত্ত নামে যে রেখার কথা বলিয়াছি, তাহা
আমাদের দেহ বেষ্টন করিয়া চারিদিকেই রহিয়াছে ; সুতরাং ঐ
রেখাও চক্রাকার। ঐ রেখার পরিমাণ চারিদিকে ৩৬০ ডিগ্রী।
মনুষ্যের দুই চক্ষু যে ভাবে গঠিত এবং সজ্জিত আছে, তাহাতে আমরা
একেবারে স্বভাবের ৬০ ডিগ্রীর অধিক দেখিতে পাই না। সেইজন্যই
চিত্রকরের স্বভাবের কোনও দৃশ্য ৬০° ডিগ্রীর অধিক দেখা না ।
দৃষ্টিবিজ্ঞান মতেও কোনও চিত্রের হোরাইজ ৬০° ডিগ্রীর অধিক
করা উচিত নহে।
পার্শ্বে যে চিত্র দেওয়া
হইল, তাহাতে ছঘ রেখা
হোরাইজ, গ দৃষ্টিকেন্দ্র, গ।
দৃশ্যের দূরত্ব ; এবং ক বিন্দ,
দর্শকের চক্ষু।
ক হইতে খ বিন্দু পৰ্য্যন্ত
যে দূরত্ব তাহাকে চিত্রের
দূরত্ব .
কহে। ক বিন্দুর নিকট ঘকছ
নামক যে কোণ দেখা যায়,
উহার পরিমাণ ঠিক ৬০।
ছঘ রেখার উপর যে ত্রিভুজ
ক্ষেত্র দেখা যায় উহার তিনটি বাহু পরস্পর সমান।
গ
য'

চিত্রবিদ্যা। একেবারে আমরা প্রাকৃতিক দৃশ্যের ষষ্ঠাংশের একাংশ মাত্র দেখিতে পাই, এই কথা মনে রাখিয়া শিক্ষার্থী স্বভাবদৃশ্য অঙ্কিত করিবেন। অইম অধ্যায়। G স্বভাবশ্য অঙ্কিত করিতে প্রথমতঃ যে সকল পরিমাণ স্থির করিতে হইবে, তাহা আমরা পূর্ব অধ্যায়ে বুঝাইয়াছি। এক্ষণে কি প্রকারে সমান্তর ও সকোণ দৃশ্যগুলি অঙ্কিত করিতে হইবে, তাহা বুঝাইব। সমান্তর দৃশ্য (Paralell perspective)-যে দৃশ্যের সকল রেখা দৃষ্টিকেন্দ্র (point of view) হইতে অঙ্কিত করিতে হয়, সেই দৃশ্যকে সমান্তর দৃশ্য কহা যায়। এই পুস্তকের ৫৪ পৃষ্ঠা, ৫৫ পৃষ্ঠা, ৯৪ পৃষ্ঠা, এবং ৯৮ পৃষ্ঠায় যে কয়টি চিত্র দেওয়া হইয়াছে, সকল গুলিই সমান্তর দৃশ্যের উদাহরণ। শিক্ষার্থীকে অামরা একে একে ঐ কয়টি চিত্ৰই বুঝাইয়া দিব। ৫৪ পৃষ্ঠায় যে বাড়ীটি দেখান হইয়াছে, প্রথমত, উহার হােরাই- জন্টাল লাইন্ স্থির করিতে হইবে। চিত্র দেখিয়া তাহার ঐ রেখা স্থির করিতে যে, উপায় অবলম্বন করিতে হয়, স্বভাব দৃশ্যের হাৈরাইজ (চক্রবাল) ও সেই প্রকারে স্থির করিতে হইবে। ঐ অট্টালিকার কার্ণিসের কোনও একটি রেখা, এবং সিড়ীর সন্নি- কট কোনও রেখা দক্ষিণভাগে বর্ধিত করিলে, চিত্রের সীমার কিছুদূরে, দুইটি রেখা মিশিয়া একটি বিন্দু পাওয়া যাইবে। ঐ বিন্দুই উক্ত চিত্রের দৃষ্টিকেন্দ্র। সিঁড়ীর উপরে যে রেলিং দেখা যাইতেছে, ঐ রেলিংএর উপরস্থ রেখাও বর্ধিত করিলে, পূর্ব কথিত বিন্দুতে আসিয়া মিশিবে। সুতরাং রেলিং এর উপরস্থ রেখাই উক্ত দৃশ্যের হােরাই- জন্টা লাইন।

অষ্টম অধ্যায়। ১ শিক্ষার্থী বুঝিতে পারিবেন যে, দৃষ্টিকেন্দ্র এই চিত্রের বাহিরে পড়িয়াছে, সুতরাং ঐ চিত্রখানি সম্পূর্ণ দৃশ্যের অংশ মাত্র। দর্শকের বামদিকে ঐ অট্টালিকা অবস্থিত, এবং উহা সমান্তর দৃশ্যের উদাহরণ। ৫৫ পৃষ্ঠায় চারিকোণে চারিটি স্তম্ভযুক্ত যে ছোট ঘাটের উঁদনী দেখান হইয়াছে, উহাও সমান্তর দৃশ্যের উদাহরণ। স্তম্ভের উপরি- ভাগের দুইটি রেখা এবং নিম্নের দুইটি রেখা বর্ধিত করিলে, ঐ চিত্রের মধ্যস্থলেই ঐ চারিটি রেখার মিশ্রণে একটি বিন্দু পাওয়া যাইবে; ঐ বিন্দই ঐ দৃশ্যের দৃষ্টিকেন্দ্র। দৃষ্টিকেন্দ্রের সন্নিকট কিছু দূর মাত্র এই চিত্রে দেখান হইয়াছে, সুতরাং ঐ চিত্রেও সম্পূর্ণ দৃশ্য দেখা হয় নাই। ৯৪ পৃষ্ঠায় যে চিত্র দেওয়া হইয়াছে, ঐ খানি ভাল করিয়া বুঝিয়া দেখা উচিত। গৃহের মধ্যে বসিয়া একজন দেওয়ালের দিকে দৃষ্টি করিতেছে। ঐ ব্যক্তির চক্ষু যে পর্যন্ত দেখিতে পাইতেছে, তাহা একটি বৃত্তদ্বারা দেখান হইয়াছে। ঐ চক্ররেখার বহির্ভাগে যে সকল বস্তু রহিয়াছে, তাহা ঐ ব্যক্তি দেখিতে পাইতেছে না। এস্থলে শিক্ষার্থী মনে করিতে পারেন যে, ঐ চিত্রখানিতে দৃশ্যের অতিরিক্ত বস্তু সকল কি প্রকারে অঙ্কিত হইল ? ঐ চিত্রের মধ্যে যে ব্যক্তি বসিয়া দেওয়ালের দিকে দেখিতেছে; উহার হৃদয়ের সমসূত্রপাতে ঐ দৃশ্যের দৃষ্টিকেন্দ্র রহিয়াছে। গৃহের মেঝের উপরের দুইটি রেখা বর্ধিত করিয়া যুক্ত করিলেই দৃষ্টিকেন্দ্র পাওয়া যাইবে। কিন্তু এস্থলে বুঝিতে হইবে যে, দর্শক এ ক্ষেত্রে দুইজন। একজন ঐ চিত্র মধ্যে সন্নিবিষ্ট। ঐ ব্যক্তি যে পরিমাণ দেখিতেছে, চিত্রের অভ্যন্তরস্থ চক্ৰদ্বারা তাহা দেখান হইয়াছে। ঐ দৃশ্য আরও একজনে দেখিতেছে। সেই দর্শক পুস্তকের পাঠক। পুস্তকস্থিত চিত্ৰ খানি তুমি দেখিতেছ, সুতরাং তুমি ঐ ব্যক্তিকে b 1 চিত্রবিদ্যা। দেখিতেছ, এবং ঐ ব্যক্তি যাহা দেখিতেছে, তুমি তাহাও দেখিতেছ ; তুমি ঐ ব্যক্তির অনেক পশ্চাতে রহিয়াছ, এজন্য তুমি ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা বেশী দেখিতে পাইতেছ। ঐ ব্যক্তির দৃশ্যের দূরত্ব অপেক্ষা তোমার দৃশ্যের দূরত্বের পরিমাণ অধিক, সুতরাং তােমার দৃশ্যের পরিমাণও চিত্ৰস্থিত ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক। দৃষ্টিকেন্দ্র দুইজনের এক বটে, কিন্তু দৃশ্যের দূরত্ব বিভিন্ন হওয়ায় দুইজনের দৃশ্যের পরিমাণের তার- তম্য হইবে। দৃশ্যের দূরত্ব যতই অধিক হইবে, দৃশ্য মধ্যে ততই অধিক দ্রব্য সন্নিবেশিত করিবার আবশ্যক হয়। মনুষ্য চক্ষুর দ্বারা ৬০° অংশের অধিক দেখা যায় না--ইহা প্রাকৃতিক নিয়ম বটে, কিন্তু দৃশ্যের দূরত্ব লইয়া, ঐ দৃশ্যের অন্তর্গত দ্রব্যাদির সমাবেশ কখন বেশী কখনও কম কি জন্য হইবে ? এই কথা বুঝিবার জন্য তুমি একটি গৃহমধ্যে উপবিষ্ট হইয়া, কোনও দেওয়ালের উপর দৃষ্টিকেন্দ্র স্থির করিয়া লও। ঐ স্থান হইতে প্রথমতঃ দৃশ্যের সীমাবৃত্ত স্থির করিয়া খড়ী দ্বারা স্থূলতঃ ঐ বৃত্ত চিহ্নিত করিবে। পরে তােমার আসন অথবা চৌকী দেওয়াল হইতে অপেক্ষা কৃত দূরে লইয়া, পুনর্বার সেই দৃষ্টিকেন্দ্রের দিকে দেখ। এইবার সহজেই বুঝিতে পারিবে যে, পূর্বাপেক্ষা তােমার সীমাবৃত্তের অনেক বিস্তৃতি হইয়াছে। দৃশ্যের দূরত্ব বৃদ্ধি করিলে, দৃশ্য মধ্যে অধিক বস্তুর সন্নিবেশ করিতে পারা যায় । ৯৮ পৃষ্ঠার চিত্রও সমান্তর দৃশ্যের উদাহরণ, ঐ চিত্রখানি ইতিপূর্বে বর্ণনা করা হইয়াছে, সুতরাং তাহার উল্লেখ মাত্র করিলাম। সকোণ দৃশ্য অঙ্কিত করিবার নিয়ম।—সমান্তর দৃশ্য দৃষ্টিকেন্দ্র হইতে অঙ্কিত করিতে হয়, ইহা কয়েকটি উদাহরণ দ্বারা আমরা যুকাইয়াহি। সকোণ দৃশ্য (Angular perspective) অঙ্কিত

অষ্টম অধ্যায়।
করিতে সীমাবিন্দ দুইটিরই প্রয়ােজন হয়।
নিম্নস্থ চিত্রে একটি অট্টালিকা দেখান হইল। উহা সকোণ দৃশ্যের
উদাহরণ। খ ক গ রেখা
এই চিত্রের চক্রবাল
.
(Horizon)। ক বিন্দ,
ইহার দৃষ্টিকেন্দ্র (loint
of view)। দৃষ্টিকেন্দ্র
হইতে এই অট্টালিকার
কোনও রেখা অঙ্কিত
হয় নাই, গ এবং খ
নামক সীমা বিনুদয়
হইতে অট্টালিকার দুই
পার্শ্বস্থ রেখা সকল টানা হইয়াছে। এই পুস্তকের (৫৭) পৃষ্ঠায় দিল্লী
প্রদেশস্থ দেওয়ানি খাস নামক অট্টালিকার যে চিত্র দেওয়া হইয়াছে,
উহাও ঐ প্রকার সকোণ দৃশ্যের উদাহরণ। দুই পার্শ্বস্থ দুটি
রেখা বর্ধিত করিলেই দুইপার্শ্বের সীমাবিন্দ দুইটি পাওয়া যাইবে, সেই
বিন্দ হইতেই সকল রেখা এবং পরিমাণ সকল পাওয়া যাইবে
সমান্তর এবং সকোণ দৃশ্যের যাহা আবশ্যক, আমরা ইতিপূর্বে
তাহা বলিয়াছি। এক্ষণে আর একটি বিন্দুর কথা বলিব। উহাকে
“ভাগ-বি,” বলে। উহার কি প্রয়োজন, তাহা প্রথমতঃ বুঝা যাউক।
সমান আকারের কতকগুলি স্তম্ভ যদ্যপি সমান্তর দৃশ্য মধ্যে অঙ্কিত
করিবার আবশ্যক হয়, ঐ স্তম্ভগুলির আকৃতি দূর বশতঃ ক্রমশই ঘােট
দেখায়। লম্বাদিকেও যে পরিমাণে ছােট দেখায়, আড় দিকেও সেই
প্রকার উহার প্রস্থ ক্রমশঃ কম দেখাইবে। লম্বদিকে উহা ক্রমশঃ
যে প্রকার ছোট দেখাইবে, দৃষ্টিকেন্দ্র হইতে রেখা টানিলেই সেই সকল

প
পরিমাণ পাওয়া যায় বটে, কিন্তু প্রস্থের মাপে ঐ স্তম্ভগুলি কি প্রকার
ছােট হইবে, তাহা স্থির করিবার জন্য নিম্নলিখিত উপায় অবলম্বন
করিবে।
নিম্নস্থ চিত্রে পাঁচটি স্তম্ভ আশ্রয় করিয়া চারিটি খিলান দেখান
হইয়াছে। ঐ খিলান
গুলি উচ্চে ক্ৰমশঃ কত
ছােট আকারের হইবে,
ক ফ রেখাদ্বারা তাহ৷
স্থির হইয়াছে। ক বিন্দ
দৃষ্টিকেন্দ্র। ক খ রেখা
উহার চক্রবাল।
একটি সীমাবিন্দু। কগ
রেখা স্তম্ভগুলির নিম্ন
সীমা।
এক্ষণে গ বিন্দু হইতে ক খ রেখার সমকোণে ৯০°) গ ভ রেখা
অঙ্কিত কর।
গ বিন্দ, হইতে ক খ রেখার সমান্তর আর একটি রেখা
নিম্নে অঙ্কিত করিয়া, ভ বিল, হইতে প্রথম স্তম্ভের কোণে ভ ১ রেখা
অঙ্কিত কর।
গ ১ পরিমাণে নিম্ন রেখাকে ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮,
ভাগে বিভক্ত করিয়া ভ নামক বিন্দু হইতে ক গ রেখাকে কৰ্ত্তন করিয়া
অপর সাতটি রেখা অঙ্কিত কর। ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮ রেখাগুলি
ক গ রেখাকে যে যে বিন্দুতে কৰ্ত্তন করিয়াছে, সেই সমস্ত বিন্দু
অবলম্বন করিয়া স্তম্ভ পঁাচটি এবং খিলান ৪টি অঙ্কিত করিবে। চিত্রে
এই সকল বিষয় স্পষ্ট দেখান হইয়াছে। ভ বিটি আরও একটু
উপরে লইলেও চলিতে পারে ।
পরবর্তি চিত্রে একটি বাক্সের দুই প্রকার দৃশ্য অঙ্কিত করিয়া দেখান

অষ্টমধ্যায়। ১*১ = = ফ বিযুক্ত হইল। উপরে সমান্তর, এবং নীচের দৃশ্য সকোণ। উপরের দৃশ্যে ক বিন্দু, হইতেই বাক্স- টির উভয় পার্শ্ব অঙ্কিত করা হইয়াছে। নীচের দৃশ্যে বাক্সটি দুই পার্শ্বস্থ সীমাবিন্দ হইতেই অঙ্কিত করা হইয়াছে। রেখাগুলি, শিক্ষার্থীর সুবিধার জন্য দেওয়া হইয়াছে। কোনও গােলাকার বস্তু দৃশ্যে দেখাইবার প্রয়ােজন হইলে, প্রথমতঃ বৃত্তের অভ্যন্তরে, এবং বহিরে কতকগুলি রেখা অঙ্কিত করিয়া, বৃত্তের মধ্যে এবং বাহিরে দুইটি সম চতুভুজ ক্ষেত্র অঙ্কিত করিতে হয়। পার্শ্বস্থ চিত্রে উহা দেখান পরে ঐ বৃত্তটির বিভিন্নভাব দৃষ্টি- বিজ্ঞান মতে অঙ্কিত করিয়া নিম্নস্থ চিত্রে দেখান হইয়াছে। । হইল। পরবর্তি দৃশ্যটিও সমান্তর দৃশ্যের উদাহরণ । ক্লউ-লোরেন্ নামক চিত্রবিদ্য। ফেঞ্চ চিত্রকরের কৃত একখানি স্বভাব দৃশ্য হইতে এই চিত্রখানি প্রস্তুত ঐrn করা হইয়াছে। প্রথমতঃ এই চিত্রের হােরাইজট্যাল্ লাইন, এবং দৃষ্টিকেন্দ্র স্থির করিতে হইবে। চিত্রে অতি স্পষ্টভাবেই জল এবং আকাশের সংযোগ ৰেখার কিয়দংশ দেখা যাইতেছে, সুতরাং ঐ রেখা উক্ত চিত্রের চবাল। চিত্রের প্রায় মধ্যস্থলে জলের উপরে যে দুর্গ দেখা যাইতেছে, ঐ দুর্গের নিকটে একখানি ছোট আকারের অর্ণব- পােত দেখা যায় ; ঐ অর্ণব পােতের অতি সন্নিকটে এই চিত্রের দৃষ্টি- কেন্দ্র (point of vicw)। দুই পার্শ্বস্থ অট্টালিকার সকল রেখাই ঐ দৃষ্টিকেন্দ্র হইতে অঙ্কিত হইয়াছে। শিক্ষার্থী বৰ্দ্ধিত আকারে এই দৃশ্যটির অনুকরণ করিবেন। ইহা ছাড়া, স্বভাব দেখিয়াও নানাপ্রকার দৃশ্য অঙ্কিত করিতেও হইবে ; আমরা দৃষ্টি বিজ্ঞানের যে সকল সরল নিয়মগুলি দিলাম, ঐ নিয়মমত চিত্র অঙ্কিত করিতে পারিলে, তাহা দেখিতে ভাল হইবে, •• অষ্টম অধ্যায়। ১১১ এবং ক্রমশঃ স্বভাব দেখিয়া অনুকরণ করা, শিক্ষার্থীর সইজ বােধ হইবে। নবম অধ্যায়। । আমরা ইতিপূর্বে যে সকল কথা বুঝাইয়াছি, তাহাদ্বারা শিক্ষার্থী স্বভাবের অনুকরণ করিতে পারিবেন, আমরা এইরূপ আশা করি । ইতিপূর্বে আমরা বর্ণ বিষয়ক প্রায় কোনও কথাই বলি নাই ; বর্ণ লইয়াই চিত্রবিদ্যা প্রকৃত প্রস্তাবে শিক্ষা করিতে হয়, সুতরাং এক্ষণে আমরা সর্বাপেক্ষ। এই কঠিন বিষয়টি বুঝাইতে প্রবৃত্ত হইলাম। প্রধান বর্ণ কয়টি, এবং তাহাদের পরস্পর সম্বন্ধ। সূর্যরশ্মি সকল প্রকার বর্ণের আধার। দীপালোকেও সর্ব প্রকার বর্ণ দৃষ্ট হয়। সূৰ্য্য, অগ্নি, বিদ্যুৎ অথবা অন্য কোন দীপ্তিমান পদার্থ হইতেও সর্বপ্রকার বর্ণ প্রকাশিত হইয়া থাকে। বৈজ্ঞানিক পণ্ডিতেরা সূৰ্য্যরশ্মিকে বর্ণবীক্ষণ (Spectroscope) যন্ত্রদার সপ্তবিধ ভাগে বিভক্ত করিয়াছেন। সূর্যরশ্মি এইরূপে বিভক্ত হওয়ায়, সপ্ত- বিধ বর্ণ দৃষ্টিগোচর হয়। সেই সপ্তবিধ বর্ণের নাম,-- (১) লােহিত (Red)। (২) পীতাভ লােহিত (orange)। (৩) পীত (yellow)। (৪) হরিৎ (green)। • (৫) নীল (Blue)। (৬) লােহিতাভ-নীল (purple)। (৭) ধূসর (ultia violet) । উপরােক্ত সপ্তবিধ বর্ণের অলােক একত্র করিয়া যন্ত্রদ্বারা কোনও চিত্ৰাধত। . স্থানে পাতিত করিলে, বিশুদ্ধ শ্বেত বর্ণের আলোক হইয়া থাকে । এই জন্যই বৈজ্ঞানিক পণ্ডিতেরা বলেন যে, শ্বেতবর্ণ ও উক্ত সপ্তবিধ বর্ণের একত্র সন্নিবেশ মাত্র। উক্ত সপ্তবিধ বর্ণের একান্ত তাভাব হইলেই কৃষ্ণবর্ণ প্রকাশিত হয়। শ্বেতবর্ণ সপ্তবর্ণের একত্র সন্নিবেশ, এবং কৃষ্ণবর্ণ যদ্যপি সবর্ণের একান্ত অভাব হয়; আমরা স্বাভাবিক নানা পদার্থে যে নানাবিধ বর্ণ দেখিতে পাই, তাহার কারণ কি? উদাহরণ স্থলে মনে করা যাউক, একটি জবাপুষ্প। বৈজ্ঞানিক পণ্ডিতদিগের মতে জপুষ্পের এমন একটা গুণ আছে যে, উহাতে সূৰ্য্যরশ্মি পতিত হইলে, লােহিত বর্ণ ব্যতিরেকে অপর ছয়টি বর্ণ পুষ্পের অভ্যন্তরে প্রবিষ্ট হয়। লােহিত বর্ণ পুষ্পাভ্যন্তরে প্রবিষ্ট হইতে না পারিয়া, পুরে উপরিভাগ হইতে প্রতিফলিত হয়, এবং আমাদের চমধ্যে লােহিত বর্ণের বােধ জন্মায়। জবা পুষ্পের মধ্যে লােহিত বর্ণ কি নিমিত্ত প্রবিষ্ট হয় না, বৈজ্ঞানিকেরা -হাহ তাদ্যাবধি অবগত নহেন। কমলা নেবু পীতাভ লােহিত বর্ণের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। উহার উপরিভাগে পীতাভ-লোহিত বর্ণ প্রকাশিত থাকে, এবং লােহিত প্রভৃতি অবশিষ্ট সকল বর্ণ উহার আভ্যন্তরে প্রবিষ্ট হয়।—এই দুইটি উদাহরণ দিয়া আমরা সূৰ্য্যরশ্মির দুইটি বর্ণ শিক্ষার্থীকে বুঝাইলাম, কিন্তু অন্যান্য বর্ণেরও যে উদাহরণ দেওয়া হইল, তাহাদ্বারা এই বুঝিতে হইবে যে, নানাবিধ দ্রব্যে সূৰ্য্যরশ্মি বিভিন্ন ভাবে প্রতিফলিত হইয়া স্বাভাবিক নানা পদার্থের অসংখ্য বর্ণের.বিকাশ হয়। ককে ফুলের বিশুদ্ধ পীত বণ। নূতন দুর্ব। বিশুদ্ধ হরিৎ বর্ণের উদাহরণ। অপরাজিতা পুষ্প বিশুদ্ধ নীল বর্ণের উদাহরণ। বর্ষাকালের নির্মল আকাশেও কোন কোন দিবস বিশুদ্ধ নীলবর্ণ দেখিতে পাওয়া যায় ।

নবম অধ্যায়। ; আমরা যে বর্ণের নাম লােহিতাভ-নীল লিখিলাম, ইংরাজী ভাষায় তাহাকেই ‘ভায়লেট’ বর্ণ বলে। কয়েক প্রকার বন ফুলে ঐ প্রকার বিশুদ্ধ ভায়লেট বা দেখা যায়, কিন্তু শিক্ষার্থীকে আমরা ঐ সকল পুষ্পের নাম দিতে পারিলাম না। সচরাচর কথায় ঐ বর্ণকে ‘বেগুনে রং' বলে বটে, কিন্তু বেগুনে বা বিশুদ্ধ ভায়লেট নহে। আজকাল বাজারে যে ভায়লেট মেজেন্ট। কিনিতে পাওয়া যায়, তাহা একটু জলে দ্রব করিয়া, শিক্ষার্থী বিশুদ্ধ ভায়লেট বর্ণ বুঝিতে পারিবেন। জবাপুষ্প, কমলালেবু, কলকে ফুল, নূতন দূর্বা, অপরাজিতা ফুল, ভায়লেট মেজেন্টা; এই সকল দ্রব্যের উল্লেখ করিয়া আমরা শিক্ষার্থীকে বিশুদ্ধ বর্ণ কয়টা বুঝাইবার চেষ্টা করিতেছি মাত্র, কিন্তু চিত্ৰকাৰ্য্যে ঐ সকল দ্রব্যের প্রয়ােজন হয় না। চিত্র করিবার সময় যে সকল দ্রব্য হইতে ঐ সকল বিশুদ্ধ বর্ন পাওয়া যাইবে, তাহা যথা স্থানে বর্ণিত হইবে। উপরে ছয়টি বর্ণের যে উদাহরণ দিলাম, ঐ সকল দ্রব্য বারম্বার দৃষ্টি করিয়া বিশুদ্ধ বর্ণ, গুলি মনে করিয়া রাখিতে হইবে। ভায়লেট বর্ণের সহিত কিছু পরিমাণ লােহিত বা মিশ্রিত হইলে মিশ্র বর্ণ টীকে ধূসর অথবা ‘গ্রে’ বলিতে পারা যায়। বেগুনিয়া বর্ণের সহিত এই বর্ণের সাদৃশ্য আছে। বৈজ্ঞানিক পণ্ডিতগণ উক্ত সপ্তবিধ বর্ণকে প্রধান বলিয়া থাকেন বটে, কিন্তু চিত্রকরগণ ঐ মত গ্রাহ্য করেন না; চিত্রকরেরা সাধারণতঃ পাঁচটি বর্ণকেই প্রধান বলিয়া স্বীকার করেন। সেই পাঁচটি বর্ণ এই ;- শ্বেত, কৃষ্ণ, লােহিত, পীত, নীল। উক্ত পাঁচটি বর্ণ হইতেই স্বভাবের যাবতীয় বর্ণের অনুকরণ করা ১১৪ চিত্রবিদ্যা। যাইতে পারে, এই জন্যই চিত্রকরগণ বৈজ্ঞানিক সপ্ত বর্ণের প্রাধান্য স্বীকার করিতে চাহেন না। চিত্রকরদিগের এ প্রকার ভিন্ন মত হইবার কারণ আরও আছে। শ্বেত এবং কৃষ্ণ বর্ণের কথা আমরা এক্ষণে কিছু বলিব না, পরে অবশ্যক মত ঐ দুই বর্ণের সকল কথা বুঝাইব। লােহিত, পীত, এবং নীল বর্ণঞ্জয়ের মিশ্রণে বৈজ্ঞানিক অপর চারিটি বর্ণ। (পীতাভ-লােহিত, হরিৎ, লােহিতাভ-নীল, এবং ধূসর) যে প্রকারে প্রস্তুত করিতে পারা যায়, তাহা বর্ণিত হইল। বলা বাহুল্য, এই বিষয়ে চিত্রশিল্পী মাত্রেরি বিশেষ মনোেযাগী হওয়া একান্ত কর্তব্য। পীতাভ-লােহিত আথবা অরেঞ্জ বর্ণ।~~~~ বিশুদ্ধ পীতবর্ণ, এবং বিশুদ্ধ লােহিত বর্ণের মিশ্রণে অরেঞ্জ বা প্রস্তুত হইয়া থাকে ; দুইটি বর্ণের সমান ভাগ মিশ্রণে অরেঞ্জ হওয়া উচিত, কিন্তু যে সকল পদার্থ চিত্ৰকাৰ্যে ব্যবহৃত হয়, সেই সকল বর্ণের শক্তি এক প্রকার নহে। এই জন্যই অরেঞ্জ বর্ণ প্রস্তুত করিবার সময় পীত এবং লােহিত বর্ণের ঠিক সমান ভাগ মিশ্রিত করিলেই যে বিশুদ্ধ অরেঞ্জ বর্ণ হইবে, তাহা নহে। যদি লােহিত বর্ণের উগ্রতা অধিক হয়, তাহা হইলে অরেঞ্জ প্রস্তুত করিবার সময়ে লােহিত বর্ন*অপেক্ষা অধিক পরিমাণে পীত বর্ণের মিশ্রণে বিশুদ্ধ অরেঞ্জ প্রস্তুত হইবে। সেইমত, যদ্যপি পীতবর্ণের উগ্রতা লােহিতবর্ণ অপেক্ষা অধিক হয়, তাহা হইলে পীতবর্ণের অপেক্ষা অধিক পরিমাণে লােহিত বর্ন মিশ্রিত করিলে বিশুদ্ধ অরেঞ্জ হইবে। কমলা নেবুর বর্ণকে আদর্শ করিয়া আবশ্যক মত লোহিত এবং পীতবর্ণ মিশ্রিত করিলে, বিশুদ্ধ অরেঞ্জ হইবে; কোন বর্ণের কত পরিমাণ আবশ্যক, শিক্ষার্থী নিজেই তাহা স্থির করিবেন। এই অরেঞ্জ বর্ণের মিশ্রণে দুইটি বর্ণের পরিমাণ বিষয়ে যাহা কথিত হইল, অন্যান্য t নবম অধ্যায়। ১১৫ বর্ণের মিশ্রণে ও শিক্ষার্থীর সেই প্রকার বিচারের আবশ্যক হইবে। হরিং অথবা সবুজ বর্ণ।—পীত এবং নীল বর্ণের মিশ্রণে সবুজ বর্ণের উৎপত্তি হইয়া থাকে। নব-দুর্বাদলের যে সবুজ বর্ণ, পীত এবং নীল বর্ণের মিশ্রণে ঠিক সেই প্রকার সবুজ বা হয় না। পরস্পর মিশ্রণ হেতু কোন প্রকার রাসায়নিক ক্রিয়ার জন্যই হউক, অথবা অন্য কোনও অজ্ঞাত কারণ বশতঃ হউক, পীত এবং নীল বর্ণের মিশ্রণে যে সবুজ বর্ণ হয়, তাহা নব-দুর্বাদলের বর্গের মত সুন্দর অথচ কোমল সবুজ বর্ণ হয় না। মিশ্রণে সবুজ বর্ণ হইলেও তাহা একটু মলিন হয়। চিত্ৰকাৰ্যে কোন্ বর্ণের ব্যবহার করিলে, বিশুদ্ধ হরিৎ বর্ণ পাওয়া যায়, তাহা যথাস্থানে বিবৃত হইবে। লোহিতাভ নীল অথবা ভায়লেট বর্ণ।—লােহিত এবং নীল এই দুই বর্ণের মিশ্রণে ভায়লেট, বর্ণ প্রস্তুত হয়। এই মিশ্রণের পূর্বে দেখা উচিত, নীল এবং লােহিত বর্ণদ্বয় বিশুদ্ধ কি না। যদি উভয় বর্ণের কোনটীর সহিত অন্য বর্ণের সামান্য আভা থাকে, তাহা হইলে মিশ্রিত ভায়লেট, বা সুন্দর হইবে না। অরেঞ্জ বা প্রস্তুত করিবার সময় পরিমাণ বিষয়ে যাহা কথিত হইল, এস্থলেও সেই সমস্ত নিয়ম মন করিয়া বা প্রস্তুত করিতে হইবে। ধূসর বর্ম (Ultra Violet)—ভায়লেট, বর্ণেললাহিত বর্ণের আধিক্য হইলেই তাহা সূৰ্য্য রশ্মির ধূসর বর্ণের তুল্য হইবে। উপরােক্ত যে কয়টি মিশ্রিত বর্ণের উল্লেখ করা হইল, তাহা লােহিত, পীত এবং নীল বর্ণ হইতেই প্রস্তুত করিতে পারা যায় বলিয়া চিত্রকরগণ শেষােক্ত তিনটী বর্ণকেই প্রধান বলিয়া থাকেন। পূর্বোক্ত পঞ্চ বর্ণ, এবং মিশ্রিত চারি বর্ণ লইয়া এক্ষণে নয়টি বর্ণ হইল। চিত্রকরেরা ঐ নটী ৰা হইতে অসংখ্য মিশ্র বর্ণের উৎপত্তি করিতে পারেন। বর্ণের বিশুদ্ধি।--চিত্রবিদ্যার অনেক কথা বুঝাইসার জন্য আমরা চিত্রবিদ্যা স্থানে স্থানে সঙ্গীতবিদ্যার তুলনা করিয়াছি; প্রকৃত পক্ষে সঙ্গীতবিদ্যার সপ্তম্বর, এবং চিত্রবিদ্যার সপ্ত বর্ণ, এই দুই বিষয়ে অনেক সৌসাদৃশ্য আছে। সপ্ত স্বরের যে প্রকার বিশুদ্ধি আছে, সপ্ত বর্ণেরও সেই প্রকার বিশুদ্ধি আছে। ষড়জ, ঋষভ, গান্ধার, মধ্যম, পঞ্চম, ধৈবত, নিষাদ এই সপ্তম্বরের সমাবেশ মনুষ্য কণ্ঠে আছে, কিন্তু উহা মাজ্জিত ও সাধনা করিলে পরে কণ্ঠস্বর সকলের বিশুদ্ধি জন্মে; নচেৎ সা, রি, গা, মা ইত্যাদি স্বর উচ্চারণ করিতে গেলে, নানাবিধ বিকৃত স্বরােৎপত্তি হইয়া, কর্ণে বিকৃত ভাবের একটা মিশ্র শব্দের বােধ হয়। হারমাে- নিয়ম্ নামক বাদ্য যন্ত্রের সহিত কণ্ঠ মিলাইয়া স্বর সাধনা করিলে, সেই কণ্ঠ হইতেই বিশুদ্ধ স্বর সকল নির্গত হয়। এইরূপ কিছু দিন সাধনা করিতে করিতে হারমােনিয়ম ব্যতিরেকেও কণ্ঠ হইতে বিশুদ্ধ স্বর সপ্তক উখিত হয়। ইহাকেই সঙ্গীত বিদ্যার স্বর জ্ঞান অথবা স্বর সাধনা বলে। যেমন করিয়াই হউক, বিশুদ্ধ স্বরগুলির বােধ না হইলে, সঙ্গীতের কিছুই বুঝিতে পারা যায় না। চিত্রবিদ্যার বর্ণ জ্ঞানও ঠিক ঐ প্রকা। স্বাভাবিক নানা মিশ্র বর্ণের মধ্যে বাছিয়া বাছিয়া বিশুদ্ধ বগুলি চিনিতে হইবে। সেই বিশুদ্ধ বর্ণগুলি সর্বদা ভাবিতে ভাবিতে ক্রমশঃ চিত্রকরের মনােমধ্যে সেই গুলি সর্বদা জাগরূক থাকিরে। সঙ্গীত বিদ্যায় হারমােনিয়ম্ যন্ত্র যেমন বিশুদ্ধ স্বরের আদর্শ, চিত্রবিদ্যার পক্ষে বর্ণবীক্ষণ (Spectroscope) নামক যন্ত্রও সেই প্রকারে বিশুদ্ধ বর্ণের আদর্শ। অবশ্য আমরা এমন বলিতেছি না, যে, বর্ণের বিশুদ্ধি বুঝিতে বহুমূল্য স্পেকু- উসকোপ না হইলেই নহে। সামান্য একখণ্ড ঝড়ের কাচ হইলেও বিশুদ্ধ বর্ণগুলি দেখা যায়। আমরা জপুষ্প, কমলানেবু, কলকে- ফুল, অপরাজিতা, নবদুর্বা, ভায়লেট, মেজেন্টা প্রভৃতির উল্লেখ করিয়াছি, ঐ সকল দ্রব্যগুলিও চিত্রকরের উৎকৃষ্ট আদর্শ হইতে নবম তাধ্যায়। পারে। স্বাভাবিক পুষ্পদি, অথবা আকাশমণ্ডলের নানাবিধ মেঘবর্ণ দেখিলেও বিশুদ্ধ বাগুলির বােধ হইতে পারে। সঙ্গীত বিদ্যার স্বরজ্ঞান, এবং চিত্রবিদ্যার বর্ণজ্ঞান প্রায় এক প্রকার। বিশুদ্ধ নয়টি বর্ণের বােধ অগ্রে হওয়া আবশ্যক। পরে স্বাভাবিক নানা পদার্থের বর্ণ বুঝিতে পারা যায়। স্বাভাবিক বর্ণটি বিশুদ্ধ, কিম্বা মিশ, তাহাও বুঝিতে হইবে। যদি মিশ্র বর্ণবােধ হয়, তবে কোন্ বিশুদ্ধ বর্ণে উহার উৎপত্তি, তাহা স্থির করিতে হইবে। চিত্রকর মাত্রেরই এই সকল মানসিক বিচার দ্বারা বর্ণ সকল স্থির করিতে হইবে। শিক্ষার্থী যতই এই বিষয়ে চিন্তা করিবেন, তিনি ততই বুঝিতে পারিবেন যে, বৎ নানা পদার্থে মিশ্ৰবৰ্ণ সকলেরই আধিক্য দেখা যায়। বিশুৎ। বণগুলি স্বাভাবিক নানা পদার্থে অতি অল্পই দেখা যায়। সেই জন্য চিত্ৰকাৰ্যেও মিশ্রবর্ণেরই ব্যবহার অধিক আবশ্যক হইবে। ইতিপূর্বে আমরা শ্বেত এবং কৃষ্ণবর্ণের কথা সংক্ষেপে উল্লেখ করিয়াছি, এক্ষণে ঐ দুইটি বর্ণের কথা সবিস্তারে বলিব। প্রকৃত শ্বেত বর্ণ অথবা প্রকৃত কৃষ্ণ বর্ণ স্বভাব খুঁজিয়া অতি অল্পই দেখিতে পাওয়া যায়, সেই জন্য প্রধান চিত্রকরেরা তাহাদের চিত্র মধ্যে বিশুদ্ধভাবে ঐ দুইটি বর্ণ দেখান নাই। এবং অনেকে বলেন যে, বিশুদ্ধ শ্বেত বর্ণ অথবা বিশুদ্ধ কৃষ্ণ বর্ণ চিত্র মধ্যে সন্নিবিষ্ট করা, ভ্রমের কাৰ্য্য। ঐ দুইটি বর্ণ বিশুদ্ধভাবে চিত্র মধ্যে সন্নিবিষ্ট না হইলেও মিশ্র বর্ণ সকল প্রস্তুত করিতে উহাদের সর্বদা প্রয়ােজন হয়। একারণ এক্ষণে দেখিতে হইবে যে, বিশুদ্ধ শ্বেত বর্ণ কি প্রকার। খড়ী, চুণ, কার্পাস, অস্থি, মুক্তা, হীরক ইত্যাদিতে বিশুদ্ধ শ্বেত বর্ণ দেখিতে পাওয়া যায়। বহু পূর্ববকাল হইতেই খড়ী এবং চূণ চিত্র ১১৮ চিত্রবিদ্যা। কাৰ্যে শ্বেত বর্ণের জন্য ব্যবহৃত হইতেছে। কিন্তু তৈল মিশ্রিত বনে ঐ দুইটি বস্তুর তাদৃশ উপযােগীত্ব নাই বলিয়া আধুনিক কালে দস্তা ও সীস ভষ্মই শ্বেত বর্গস্থলে ব্যবহৃত হইতেছে। কোন কোন চিত্রকর সীস ও দস্তাভষ্ম মিশ্রিত করিয়া শ্বেত বা প্রস্তুত করেন। শ্বেত বর্ণ যতই বিশুদ্ধ হইবে, উহার দ্বারা প্রস্তুত মিশ্রবা সকলও ততই উজ্জ্বল ও সুন্দর হয়। সর্ব বর্ণের একান্ত অভাব হইলেই কৃষ্ণ বা প্রকাশ হয়। সাধা- মসী, অথবা ভূষা কৃষ্ণ বর্ণের উদাহরণ। কৃষ্ণ বর্ণ যতই গভীর হইবে, উহাকে ততই বিশুদ্ধ বলা যায়। হস্তি দন্ত পােড়াইলে এক প্রকার অঙ্গার হয়, তাহার বা সাধারণ ভূষা হইতেও বিশুদ্ধ কৃষ্ণ বর্ণ। একারণ “নয়া-ডাইভয়ার” নাম দিয়া ফরাসীরা উহা প্রথমে চিত্র কাৰ্যে ব্যবহার করেন। এতদ্দেশে উহা ইংরাজী (Ivory Black) নামে প্রচলিত হইয়াছে। আমরা এই পুস্তকে দীপ-কজ্জ্বল, এবং আইভরি ব্লাক এই দুই পদার্থই চিত্ৰ কাৰ্যে ব্যবহার করিতে বলিয়াছি। গ্রে (Grcy) অথবা মিশ্রবর্ণ। পূর্বে কথিত হইয়াছে যে, স্বভাবে যে সকল বর্ণ দেখিতে পাওয়া যায়, তাহার অধিকাংশই মিশ্রব। মিশ্ৰবৰ্ণকে চিত্রশিল্পীগণ গ্রে (Grey) নাম দিয়াছেন। প্রকৃত প্রস্তাবে গ্রেবর্ণ অসংখ্য। গ্রেবর্ণ অসংখ্য হইলেও উহার অষ্ট শ্রেণী কথিত হয়। আমরা এই অধ্যায়ে অষ্ট প্রকার গ্রে বর্ণের বিশদ বর্ণনা করিলাম। (১) নিউটাল গ্রো-বিশুদ্ধ শ্বেত বর্ণ এবং বিশুদ্ধ কৃষ্ণ বর্ণ দশম অধ্যায়। সমান ভাগে মিলিত হইলে যে মাঝামাঝি একটা বর্ণের উৎপত্তি হয়, তাহাকেই নিউটাল গ্রে নাম দেওয়া যায়। এই বর্ণে লােহিত, পীত, অথবা নীল বর্ণের কিঞ্চিন্মাত্রও বিকাশ থাকে না, এই জন্য ইহাকে নিউটাল (Neutral) নাম দেওয়া হইয়াছে। এই প্রকার গ্রে বা অন্য ভাবেও প্রস্তুত করিতে পারা যায় । লােহিত, পীত, এবং নীল বর্ণ সমান ভাবে মিশ্রিত হইলেও গ্রে বর্ণের উৎপত্তি হয়। এই গ্রে বর্ণে তিনটি বর্ণের তীব্রতা সমতুল্য হইলে ইহাও নিউট-গ্রে বা হইবে। কেবল শ্বেত ও কৃষ্ণ বণ মিশ্রিত করিয়া যে গ্ৰে বৰ্ম হয় ; পীত, লােহিত, এবং নীল বর্ণের মিশ্রণেও সেই প্রকার গ্রে বর্ণ হইবে, ইহা বর্ণ বিজ্ঞানের একটি স্কুল কথা। চিত্রকরেরা দুই উপায়েই গ্রে বর্ণের বিকাশ করিতে পারেন। ইচ্ছা হইলে, গ্রে বা প্রস্তুত করিয়া তুলিকা দ্বারা কাগজ অথবা ক্যান- ভাসে লাগান যাইতে পারে। অথবা ক্যাম্পাসে যদি কোন দ্বিমিশ্র বা ( Secondary colors যথা অরেঞ্জ, হরিং, ভায়লেট, ধূসর) পূর্বে দেওয়া থাকে, তাহার উপরে তৃতীয় বর্ণটি আবশ্যক মত তীব্র ভাবে প্রয়ােগ করিলেই দ্বিমিশ্র বর্ণ গ্রে বণে পরিণত হয়। এই নিয়ম মত অরেঞ্জ বর্ণকে গ্রে করিতে নীল বর্ণের আবশ্যক হয়। সবুজ বর্ণকে গ্রে করিতে হইলে, লাল বর্ণ, এবং ভায়লেট, বর্ণকে গ্রে করিতে পীত বর্ণের প্রয়ােজন হইবে। এ পর্যন্ত যাহা কথিত হইল, এ সকল কথাই নিউটাল গ্রে বিষয়ক। ইহা ছাড়া প্রত্যেক বর্ণের গ্রে বর্ণ হইতে পারে। লােহিত-গ্রে।জবা ফুলের যে প্রকার লােহিত বর্ণ, উহাকেই বিশুদ্ধ লােহিত বা বলে; সিন্দুরও বিশুদ্ধ লােহিত বর্ণ। ঐ দুই প্রকার বর্ম ছাড়া আরও নানা প্রকার লােহিত বর্ণ স্বভাবে দেখা যায়।

১২০ চিত্রবিদ্যা। সেই সকল বর্ণকেই লােহিত-গ্রে বলা যায়।মঞ্জিষ্ঠা, লাক্ষা, ইষ্টক চূণ, গৈরিক, হিঙ্গল, মেটে সিন্দুর (red lead) প্রভৃতি অনেক প্রকার লাল বর্ণ আছে। ঐ সকল বর্ণকে বিশুদ্ধ লােহিত বণ' বলিতে পারা যায় না। ঐ সকল বর্ণের সহিত অন্য কোন বর্ণের আভা আছে, এই জন্যই ঐ গুলিকে লোহিত গ্ৰে বলিতে পারা যায়। লােহিত-গ্রে প্রস্তুত করিতে হইলে, হরিৎ বর্ণের সহিত কিছু অধিক পরিমাণে লাল বণ মিশাইলেই (অর্থাৎ নিউটাল গ্রে বর্ণের সীমা অতিক্রম করি- লেই,) তাহা লােহিত-গ্রে হইবে। এই বর্ণের সহিত শ্বেত অথবা কৃষ্ণ বর্ণ আবশ্যক মত মিশাইয়া নানা প্রকার গ্রে বণ (red greys) করিতে পারা যায়। গোলাপ ফুলের যে লাল বর্ণ, তাহাকে গােলাপী বর্ণ বলে। ঐ বর্ণের ইংরাজি নাম (Bose red) বােজ রেড়। ঐ বর্ণ দেখিতে সুন্দর বটে, কিন্তু উহাও এক প্রকার লােহিত-গ্ৰে বৰ্ণ। গােলাপী বর্ণে ঈষৎ নীল বর্ণের ও পীত বর্ণের আভা স্পষ্ট লক্ষিত হয়। অরেঞ্জ-গ্রে -অরেঞ্জ বর্ণের সহিত অল্প পরিমাণে নীল বর্ণ। মিশ্রিত হইলেই তাহা অরেঞ্জ-গ্ৰে বৰ্ণ হইবে। উহার সহিত ভে বর্ণ মিশাইলে ঐ বা পাতলা হয়, এবং কৃষ্ণবণ সহযোগে উমলিন ভাব ধারণ করে। । পীত-খে।-পীত বর্ণের সহিত তাল্প পরিমাণে লােহিতাভ-নীল বর্ণ মিশ্রিত হইলেই তাহা পীত-গ্ৰে বৰ্ণ হইবে। উহার সহিত শ্বেত বণ মিশ্রিত করিলে পীত-প্রে বর্ণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি হয়, কৃষ্ণ বর্ণের মিশ্রণে উহার মলিনত্ব হয়। হরিৎ-গ্রে।-সবুজ বর্ণের সহিত কিঞ্চিৎ পরিমাণে লােহিত বর্ণ মিলিত হইলে, তাহা হরিৎ-গ্রে বা হইবে।, শ্বেত বর্ণ উহাতে মিশাইলে উহার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি, এবং কৃষ্ণ বর্ণ মিশ্রিত করিলে দশম অধ্যায়। উচ্ছলতার হ্রাস হয়। নীল গ্নে -নীল বর্ণের সহিত অল্প পরিমাণে অরেঞ্জ বর্ণ মিশিলে তাহাকে নীল-গ্ৰে বৰ্ণ কহা যায়। আবশ্যক মত উহার সহিত শ্বেত অথবা কৃষ্ণ বর্ণ মিশাইয়া উহাকে নানাপ্রকার করিতে পারা যায়। ভায়লেট-গ্রে।—ভায়লেট বর্ণে কিছু পরিমাণ পীত বর্ণ মিশিলে তাহাকে ভায়লেট-গ্রে বলা যায়। সূৰ্যাস্তকালে পশ্চিমাকাশে কোনও কোনও দিন এই ভায়লেট-গ্রে বর্ণের অপূর্ব শােভা দৃষ্টিগোচর হয়। চিত্রকর মাত্রেরি ঐ সকল প্রাকৃতিক বর্ণ দেখিয়া মনে করিয়া রাখা উচিত। প্রধান সকল বর্ণের কথা লিখিত হইল। এই অধ্যায় পাঠ করিবার সময় শিক্ষার্থী বর্ণের মিশ্রণগুলি পরীক্ষা দ্বারা বুঝিয়া লইবেন। পরীক্ষা করিবার সময় জলীয় বর্ণ সকল মিশ্রিত করিয়া দেখিলে হানি নাই। ০ নীল এবং লালবর্ণের লিখিবার কালী আজকাল প্রায় সর্বত্রই পাওয়া যায় ; পীতবর্ণের কালী পাওয়া যায় না বটে, কিন্তু কিছু পরিমাণ বাটা হরিদ্রা জলে দ্রব করিয়া একখণ্ড ব্লটীং পেপারে উঁকিয়া লইলে, বিশুদ্ধ এবং স্বচ্ছ পীত বর্ণের জল হইবে।এই তিন বর্ণের জল দ্বারা শিক্ষার্থী পূর্বোক্ত সর্বপ্রকার বর্ণ মিশ্রিত করিয়া দেখিবেন। আমরা যে তিন বর জল হইতে নানাপ্রকার বর্ণের মিশ্র করিতে বলিলাম, উহা দ্বারা চিত্র ক্য হইবে না। তিন প্রকার বর্ণের মিশ্রণে যে নানা প্রকার মিশ্রবর্ণের উৎপত্তি হয়, কেবল তাহাই বােধ হইবে বলিয়াই আমরা ঐ সকল সামান্য রং লইয়া দেখিতে বলিলাম। কোনও প্রকারে বর্ণজ্ঞান হওয়াই আবশ্যক। যাহা অনায়াস লভ্য, তাহা দ্বারা বর্ণজ্ঞান হইলে, মূল্যবান বর্ণ সকল ব্যবহার করা উচিত।

চিত্রবিদ্যা। একাদশ অধ্যায়। আজকাল নানা প্রকারে চিত্র অঙ্কিত হইয়া থাকে। আমরা সংক্ষেপে সেই সকল প্রণালীর বর্ণনা করিব। শিক্ষার্থীর এই সকল উপায় জানা থাকিলে, সময়ে সময়ে বিশেষ সাহায্য হইতে পারে। কত সামান্য দ্রব্যাদি লইয়া চিত্ৰকাৰ্য্য হয়, এই অধ্যায় পাঠে শিক্ষার্থির তাহা হৃদয়ঙ্গম হইবে। এই অধ্যায় সঙ্কলন করিবার কালে জে, স্কট টেলার বি, এ, মহােদয়ের মােড অব পেন্টিং * নামক গ্রন্থ হইতে বিশেষ সাহায্য প্রাপ্ত হইয়াছি। পেনসাল ডইং। চিত্রবিদ্যা শিক্ষা করিতে হইলে, আজকাল সকলেই লেড-পেনসীল দ্বারা চিত্ৰকাৰ্য অভ্যাস করিয়া থাকেন। ইহা দ্বারা স্বভাবের বর্ণের অনুকরণ করিতে পারা যায় না বটে, কিন্তু আলােক এবং ছায়ার অতি সুন্দর সজ্জা করিতে পারা যায়। এই পুস্তকের প্রথমেই পেত্নীল ৬ইং শিক্ষা দেওয়া হইয়াছে, সেইগুলি দৃষ্টি করিলেই শিক্ষার্থী এ বিষয়ে সকল বুঝিতে পারিবেন। সিল্ভা পন্ট। লেড-পেত্নীল প্রস্তুত হইবার পূর্বে চিত্রকরেরা রৌপ্য নির্মিত কাটা দ্বারা এক প্রকার চিত্র করিতেন। কাষ্ঠের উপর চূণ দ্বারা জমি করিয়া, পরে রৌপ্য নির্মিত কাঁটা দিয়া লিখিলে, চূণের উপর রৌপ্যের দাগ প্রায় পেসীলের মতই পড়ে, একারণ পূর্বকালের চিত্রকরেরা ছােট ছােট স্কেচ, ( Sketch) ইত্যাদি এই উপায়েই প্রস্তুত করিতেন। ভারতবর্যের উত্তর পশ্চিম প্রদেশে কাষ্ঠখণ্ডের উপর খড়ি মাখাইয়া, পরে কাটা বার আঁচড়াইয়া যে একপ্রকার লিখন প্রণালী প্রচলিত অছে, বােধ হয় তাহা ‘সিভা-পএণ্ট’ ডইং প্রণালীর বিকৃতি মাত্র।

একাদশ অধ্যায়। অদ্যাবধি ইউরোপের কোন কোন ও চিত্রকর সিভারূপ এন্ট, ড্রইং ভাল বাসেন। ফুসে অথবা কয়লা দ্বারা চিত্র। তৈল মিশ্রিত বর্ণে কোনও চিত্র করিবার পূর্বে ইংলণ্ডের চিত্র- করেরা কয়লা দ্বারা পার্শ্বরেখার অদ্রিা করিয়া লয়েন। অা করিবার পক্ষে কয়লা বিশেষ উপযােগী, কারণ ইহা সহজেই মুছিয়া ফেলিতে পারা যায়। ফরাসী দেশীয় চিত্রকরেরা কয়লা দ্বারা একপ্রকার চিত্র করেন, তাহার প্রশংসাও সকলের মুখে শুনিতে পাওয়া যায়। তাহারা তিন প্রকার কাষ্ঠের কয়লা গ্রহণ করিয়া অঙ্কিত করেন, এবং চিত্রের আলােক যুক্ত স্থানগুলি ব্রেড, (Broad) দ্বারা মুছিয়া লয়েন। কলিকাতার রঙ্গের দোকানেও ‘ফেঞ্চ চারকোল' নামে এক প্রকার কয়লা পাওয়া যায় । বৃহৎ আকারের যে সকল চিত্র অল্প খরচায় করিবার আবশ্যক হয়, তাহাতে কয়লা ব্যবহার করিলে কোনও হানি নাই। কিন্তু কয়লা এবং ব্রেড দ্বারা কোনও চিত্র অঙ্কিত করা হইলে, ‘ফিক্সেটিভ দিয়া লইতে হয়। নচেৎ ঈষৎ ঘর্ষণ মাত্রেই উহা মুছিয়া যাইতে পারে। ক্রেয় ড্রইং। ক্রেয়ন একপ্রকার রঙ্গিল পেনসীল। লাল এবং "নীল পেনসীল অনেকেই দেখিয়াছেন, ক্রেয়ন গুলি সেই শ্রেণীর। সকল প্রকার বর্ণেরই ক্রেয়ন পাওয়া যায়। ঐ প্রকার রঙ্গিল ক্রেয়ন দ্বারা কোনও চিত্র অঙ্কিত করিলে একেবারেই রঙ্গিল চিত্র হইতে পারে। স্বভাব দৃশ্যের ছােট ঘােট স্কেচ করিবার পক্ষে ক্রেয়ন উপযােগী। পেন্ এবং কালী । ইতিপূর্বে আমরা যে কয় প্রকার চিত্র প্রণালীর বর্ণনা করিলাম, কালী এবং কলম দ্বারা চিত্র করিবার প্রণালী তাহা হইতে সম্পূর্ণ পৃথক, .

চিত্রবিষ্ট। এই জন্য এই বিষয়টি আমরা অপেক্ষাকৃত বিশদভাবে লিখিলাম। লেড, পেসীল, কশলা, খড়ী, ক্রেয়ন প্রভৃতির দ্বারা যে প্রকারে টি, অঙ্কিত হয়, কলমের দ্বারা সে প্রকার টিন্ট হয় না কেবল কতকগুলি রেখা অঙ্কিত করিয়া কলম দ্বারা টিন্ট, করিতে হয়। কলমের রেখাগুলি ঘন (নিকটবর্তি ) করিলে ছায়া, এবং দূরবর্তি করিয়া পাতলা টিন্ট, অথবা আলােক দেখান হয়। নানাপ্রকার রেখাদ্বারা যে সকল চিত্র অঙ্কিত করা হয়, তাহা ফটোগ্রাফীর সাহায্যে খােদাই করিয়া হরপের সহিত পুস্তকাদিতে ছাপাইবার উপযােগী হইয়া থাকে। খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন, পুস্তক প্রভৃতির চিত্র করিবার প্রয়ােজন হইলে, কালি এবং কলমের উইং সর্বদাই প্রয়ােজন হয়। এই পুস্তকের অনেক চিত্র পে-এ-ইঙ্ক, উইং হইতেই প্রস্তুত হইয়াছে। আমরা যদ্যপি কালি কলমের চিত্র পদ্ধতি অভ্যাস না করিতাম, তাহা হইলে বোধ হয় যে, আমরা এই পুস্তক প্রচার করিতে পারিতাম না। শিক্ষার্থী পরে যতই উচ্চদরের চিত্রকর হউন, কালি- কলমের চিত্র কর অভ্যাস থাকিলে, এই পদ্ধতি তঁাহার চিরকাল উপকারে আসিবে। এক টুকরা কাগজ, কালি এবং কলম হইতোই ইচ্ছামত সর্বপ্রকার চিত্র করিতে পারা যায়। জলের বর্ণদ্বারা চিত্র। ইজিপ্ট দেশের যে সমস্ত বহু পুরাতন চিত্র অদ্যাবধি দেখিতে পাওয়া যায়, তাহার বা সকল জল মিশ্রিত করিয়া প্রস্তুত হয়। আমাদের এতদ্দেশেও বহুপূর্বকাল হইতে জলের রং প্রচলিত আছে। কোনও বর্ণকে চিৰকাৰ্য্যের উপনােগী করিতে হইলে, প্রথমে তাহ উত্তমরূপে পিশিতে হয়। যখন উত্তমরূপ গুঁড়া হইবে, তখন একাদশ অধ্যায় । ১২৫ উহার সহিত কিছু পরিমাণ আরবিদ (Gum Accacia) মিউসিলেজ * মিশাইয়া পুনর্বার মাড়িতে হয়। এই প্রকারে উহা একটি ছােট পাথরের বাটীতে রাখিয়া দিলে শুকাইয়া যাইবে । পরে যখন চিত্র: কার্য্যের জন্য ঐ বর্ণের প্রয়ােজন হইবে, একটু জল সেই বাটীতে দিয়া, তর্জনী আঙ্গ, লি দ্বারা ঘর্ষণ করিলেই চিত্র করিবার উপযােগী রং পাওয়া যাইবে। দেশী রং নিজে প্রস্তুত করিয়া যাহাদের চিত্র করিবার ইচ্ছা হইবে, তাহাদের জন্য নিলিখিত কয়েক প্রকার রঙ্গের নাম দেওয়া হইল। সাধারণ গন্ধবণিকের দোকানেও এই সকল রং পাওয়া যায়। শ্বেতবর্ণ। সবেদা (Lead white)।‘সফেদা অথবা ‘সবেদা' নামে এই বর্ণ বিক্রয় হয়। ইহা সীস ধাতু হইতে উৎপন্ন হয়। ইহা বিশুদ্ধ হইলেই ইহার বিমল শ্বেতবর্ণ হয়। খড়ী, মাটি, চূণ ইত্যাদি মিশ্রিত হইলেই, ইহার বর্ণের মলিনত্ব হয়। একারণ ইহা খুব বিশুদ্ধ দেখিয়া লইতে হইবে।-একটা ছােট প্রস্তরের বাটিতে কিছু পরিমাণ এই বর্ণ লইয়া, তাহা ভিজিয়া কাদার মত দুয়, এই পরিমাণ মত মিউসিলেজ দিয়া উত্তমরূপে পিশিতে থাক। আঠার সহিত রং উত্তমরূপ মিশ্রিত হইলে, বাটী সমেত শুখাইতে দাও। উত্তমরূপ শুষ্ক হইলে, ইহা চিত্ৰকাৰ্য্যের উপযোগী হইবে। কৃষ্ণবর্ণ। ভূষা (Iamp Black)।-বাজারে আজকাল ভাল মসীবর্ণ পাওয়া যায় না। মসীবর্ণ প্রস্তুত করিতে হইলে, একখানি নূতন সরা তৈল- প্রদীপের উপর রাখিয়া উত্তমরূপে কজ্জ্বল পাত করিবে। দুই চারি ঘণ্টা এই ভাবে সরা রাখিলে, যথেষ্ট পরিমাণে উৎকৃষ্ট ভূষা পাওয়া * পরিস্কার বাবলার আঠা ভিজাইলেও এই প্রকার মিউসিলেজ হয়।

১২৬ চিত্ৰবিদ্যা। । যাইবে। এই ভূষা পূর্ববং মিউসিলেজ দ্বারা মাড়িয়া অপর একটি প্রস্তরের বাটিতে রাখিবে। ইহাও উত্তমরূপে শুষ্ক হইলে, চিত্ৰকাৰ্য্যের উপযুক্ত হয়। লােহিত বর্ণ। জবা কুসুমের যে প্রকার লোহিত বর্ণ, তাহা প্রস্তুত করিতে হইলে উৎকৃষ্ট চীনা সিন্দুর ক্রয় করিয়া লইবে। বিশুদ্ধ চীনা সিন্দুর আজ কাল বড়ই দুষ্প্রাপ্য। যাহা সচরাচর সিন্দুর বলিয়া বিক্রয় হয়, তাহা প্রায়ই কৃত্রিম নানা পদার্থে পূ।। প্রকৃত চীনা সিন্দুর এক মােড়ক ॥• মূল্য। ইহাও পূর্ববৎ মিউসিলেজ দ্বারা পিষিয়া শুষ্ক করিয়া লইবে। এই রঙ্গের ইংরাজি নাম Chinese Veruillon. এই রং বহুকাল থাকিলেও নষ্ট হয় না। এরূপ সুন্দর অথচ স্থায়ী লোহিত বা আর নাই। ইজিপ্ট দেশে ছয় সহস্র বৎসর পূর্বের যে সকল চিত্র রহিয়াছে, রাসায়নিক পণ্ডিত স্যার হফ্রি ডেভি (Sir Humfry Davy) স্থির করিয়া বলিয়াছেন যে, তাহার লালবর্ণ সকল চীনা সিন্দরে প্রস্তুত হইয়াছিল। সেই পূর্বকালেও এই বর্ন চীনদেশ হইতে পৃথিবীর সর্বত্র নীত হইত। জবা ফুলের বর্গ সিন্দর হইতে প্রস্তুত হয়, কিন্তু গোলাপ ফুলের যে লাল বর্ণ, 'তাহা এখন আর আমাদের দেশে পাওয়া যায় না। পূর্বকালে গন্ধবণিকেরা তাহা প্রস্তুত করিত, কিন্তু এখন সে বর্ণের নাম পৰ্য্যন্তও বােধ হয়, আমাদের দেশ ইইতে লােপ পাইতে বসিয়াছে। পূর্ববকালে এতদ্দেশে মঞ্জিষ্ঠা বৃক্ষের চাস হইত, উহা প্রধানতঃ রং করিবার জন্যই ব্যবহৃত হইত। মঞ্জিষ্ঠার মূল পুরাতন হইলে উহা হইতে সুন্দর গােলাপী বর্ণ প্রস্তুত হয়। ঐ রং প্রস্তুত করিবার জন্য এতদ্দেশে সহস্র সহস্র লোকের অন্ন সংস্থান হইত। এক্ষণে ‘সাল’ (Turkey Red) নামে যে পাকা লাল বর্ণের বস্ত্র এবং সূতা একাদশ অধ্যায়। এ দেশে আনীত হয়, অত্যন্ত দুঃখের সহিত লিখিতে হইতেছে যে, ঐ বর্ণ এই দেশের লােকেরাই আবিষ্কার কবিলেও উহা কাল চক্রে এ দেশ হইতে বহু দূর দেশে গিয়াছে। ওলন্দাজ (Hollanders) এবং ফরাসী জাতিরা ঐ বর্ণ এ দেশীয় লােকদিগের নিকট শিক্ষা করিয়া ছিলেন । এক্ষণে সমগ্র ভারতবর্ষ খুঁজিয়া বেড়াও, কুত্রাপি মঞ্জিষ্ঠার চাস অথবা সালু রং করিবার একটি কারখানা দেখিতে পাইবে না। ফরাসী এবং ওলন্দাজ জাতিরা এক্ষণে মঞ্জিষ্ঠার চাস করেন, এবং সর্বত্র সাল বস্ত্র এবং লাল বর্ণের সূতা বিক্রয় করিয়া কোটি কোটি টাকা লাভ করিতেছেন। আমরা আজ চিত্র কাৰ্য্যের জন্য একটু মঞ্জিষ্ঠা রং আমাদের বাজারে ক্রয় করিতে পাই না। ঐ রং এক্ষণে বিদেশী নামে ভূষিত; সুতরাং উহাকে সহজে চিনিবারও. যো নাই। হলগু এবং ফন্সি হইতে ঐ রং ইংলণ্ডে নীত হইয়া “ম্যাডার কারমাইন” নামে বিক্রয় হইতেছে। ইংলণ্ডের সুবিখ্যাত বৰ্ণ বিক্রেতা মেঃ উইনস এবং নিউটন উহা চিত্রকর দিগের উপযােগী করিয়া বিক্রয় করেন। গুড়া ভাবেও উহা কিনিতে পাওয়া যায়, অথবা ‘কে’ অথবা ‘মএষ্ট, কলর’ ভাবেও উহা বিক্রয় হয়। উহা এতদ্দেশে আনীত হইয়া, ইংরাজ বণিকের দোকানে বিক্রয় হই- তেছে, উহার দাম যে অধিক হইবে, তাহাতে আর সন্দেহ কি ?- এ দেশের মঞ্জিষ্ঠা, এ দেশে নাই। হলণ্ড হইতে ইংলণ্ডে যায়, ইংলণ্ড হইতে চিত্রকর দিগের জন্য বহুমূল্যে এ দেশে আনীত হয়। উহার নাম Maddor carminc. মঞ্জিষ্ঠ। হইতে ঐ বর্ণ কি প্রকারে প্রস্তুত করিতে হয়, এই পুস্তকে তাহার বর্ণনা করা অসম্ভব। এই বর্ন বিলাতী ক্রয় করা ভিন্ন এখন উপায় নাই। অপর একটি গােলাপীবর্ণ এতদ্দেশে অনেক পরিমাণে প্রস্তুত হইত, যে ভাবে এখন fo@11 কিন্তু এক্ষণে তাহাও লুপ্ত প্রায়। লাক্ষা হইতে এই বনের উৎপত্তি হইয়া থাকে। এতদ্দেশের স্ত্রীলোকেরা পদ প্রান্তে অলক্তক রাগে রঞ্জিত কবেন।কিন্তু অতা পরা যায় যায় হইয়া উঠিয়াছে। এ দেশে এখন আতা অপেক্ষা মেজেন্টা বা ই তার পরিবর্তে ব্যবহার হইতেছে। এ দেশে লাক্ষা বার কাদির নাই, কিন্তু এই ব ইউরােপে অতি সযত্নে নীত হইয়া, চিত্রকর দিগের কর্তৃক সমাদৃত হইতেছে । ভিনিস নগরের চিত্রকরগণ ভারতবর্ষের এই লাক্ষা বর্ণের বড়ই আদর করিতেন। তঁাহার যে সকল চিত্রে এই লাক্ষা বর্ণের ব্যবহার করিয়াছিলেন, তাহা অদ্যাবধি অপরিবর্তিত ভাবে রহিয়াছে বলিয়াই ইউরােপে লাক্ষা বর্ণের এত আদর। ঐ বর্ণের বিলাতী নাম, ইণ্ডিয়া লেক (Indian Lake)। শিক্ষার্থী জলের বা স্বরূপ আলতা ব্যবহার করিতে পারেন। আস্ত শুষ্ক রাখিতে হইবে। চিত্র করিবার সময় উহা আবশ্যক মত জলে গুলিয়া লইতে হইবে। অতার জল রাখিয়া দিলে পচিয়া যায় । আহা কিনিবার সময় প্রকৃত লাক্ষার অলক্তক কি না, তাহা দেখিয়া লইতে হইবে। মেজেন্টার আল্‌তাও বাজারে বিক্রয় হয়। পীতবর্ণ। চিত্ৰকাৰ্য্যের উপযুক্ত বিশুদ্ধ এবং স্থায়ী পীতবর্ণ অধিক নাই। পুর্বকালের চিত্রকরগণ স্থায়ী পীতবর্ণ পাইতেন না বলিয়া, সুবর্ণের পত্র ব্যবহার করিতেন। পীতবর জন্য কোনও চিত্রকর তবকী হরিতালও প্রয়ােগ করিতেন। রােমীয় সম্রাটেরা হরিতাল ধাতুর আমদানি ও বিক্রয় শাসন বিভাগ হইতে করিতেন। এ জন্য উহাকে “রাজপীতবর্ণ” (Kings yellow) নাম দেওয়া হয়। হরিতাল স্থায়ী পীতবর্ণ বটে, কিন্তু তবকী হরিতল রীতিমত ও ড়া করিতে অত্যন্ত পরিশ্রম হইয়া থাকে। পাথুরিয়া হরিতল সহজেই গুড়া হয়। হরিতাল উত্তমরূপে t একাদশ অধ্যায়। ১২৯ গুড়া হইলে, গঁদের আঠা দিয়া পূর্ববং বর্ণ প্রস্তুত করিতে হইবে। এই বর্ণ যে বহুকাল স্থায়ী, তাহাতে সন্দেহ নাই। ইহা অত্যন্ত বিষ, এ কারণ ইহার ব্যবহার কালে সাবধান হইতে হইবে। গ্যান্বেজ (Gamboge)।-সিংহল দ্বীপে এবং শ্যামরাজ্যে গােকাথু নামক বৃক্ষের নিৰ্য্যাস হইতে এই বর্ণের উৎপত্তি হয়। এ দেশে উহা কিনিতে পাওয়া যায়। ইহার বেশ স্বচ্ছ পীতবর্ণ। ইহা গুড়া করিয়া পূবং রং প্রস্তুত করিবে। পীউড়ী (Indian yellow)।বহুকাল হইতে এতদ্দেশে এই বর্ণের প্রচলন আছে। উষ্ট্রের মূত্র হইতে ইহা প্রস্তুত হয়। ইহা বিশুদ্ধ পীতবর্ণ, ইহার জলের বর্ণ অতি সুন্দর, এবং দীর্ঘকাল স্থায়ী। এই বর্ণের মূল্য কম বলিয়া, এতদ্দেশের পটুয়াগণ দেব দেবীর মূর্তি সকল এই বর্ণে রঞ্জিত করিয়া থাকে। কিন্তু আমরা মনে করি, এ প্রকার অপবিত্র পদার্থ হইতে যে বর্ণ প্রস্তুত হয়, দেব দেবীর মূর্তি তাহাতে রং করা উচিত নহে। ইহার পরিবর্তে হরিতাল ব্যবহার করা উচিত। পীউড়ী সহজেই ঔড়া করা যায় ; গদ দিয়া মাড়িতে কোন কষ্ট হয় না। এ দেশীয় চিত্রকরের হরিতাল ফেলিয়া এই বর্ণের ব্যবহার করিয়া থাকেন। ইহারও প্রস্তুত করণ প্রণালী পূর্ববৎ। নীলবর্ণ (Indigo)।এ দেশের ইহাই একমাত্র নীলবর্ণ। নীল- বৃক্ষ হইতেই এই বর্ণের উৎপত্তি হইয়া থাকে। ইউরােপীয় চিত্রকরেরা এই বর্ণকে স্থায়ী বলেন না।এতদ্দেশের চিত্রকরেরা ইহা ব্যবহার করিতেন। ইহা কঠিন আকারে কিনিতে পাওয়া যায়, এ কারণ গদ মিশ্রিত করিবার পূর্বে ইহা উত্তমরূপে গুঁড়া করিয়া লইতে হয়। ধােপছায়া নীল (Pussian Blue)-১৭১০ খ্রীঃঅব্দে ডিব্যাক (Diesbach) নামক একজন জাৰ্মাণ ‘রংওয়ালা ইহার আবিষ্কার এ কারণ ১৭ চিত্রবিষ্ঠা। করেন। লৌহ ধাতু হইতে এই নীলবর্ণ প্রস্তুত হয়; নীল বৃক্ষজাত বর্ণ অপেক্ষা ইহার বর্ণের প্রবলতা হয়, এবং এই বর্ণ দীর্ঘকাল স্থায়ী। এই বর্ণের আবিষ্কার হইয়া এতদ্দেশের নীলের চাস ক্রমশঃ কমিয়া যাইতেছে। ইহারও প্রস্তুত করণ প্রণালী পূৰ্ব্ববৎ। আমরা যে কয়টি জলের বর্ণ প্রস্তুত করিবার নিয়ম লিখিলাম, ঐ উপায়ে বর্ণগুলি প্রস্তুত করিলে, অতি সামান্য ব্যয়ে চিত্ৰকাৰ্য্যের একপ্রস্থ সজ্জা হইবে। ঐ সকল বর্ণের বিলাতী নাম এবং অন্যান্য চিত্র সজ্জার ও বিবরণ পর অধ্যায়ে দেওয়া হইল। দ্বাদশ অধ্যায়। ইংলণ্ড দেশে মেঃ উইন্সর এবং নিউটন চিত্ৰকাৰ্য্যের আবশ্যক সর্বপ্রকার দ্রব্য প্রস্তুত করিয়া বিক্রয় করেন। এই কাৰ্য্যে উহাদের পৃথিবী ব্যাপিয়া সুখ্যাতি হইয়াছে। তাহারা যে কয় প্রকারে রং প্রস্তুত করেন, তাহা দেখান হইল। কে কলর্স (cake colors) —সর্বপ্রকার বর্ণ আঠা দিয়া মাড়া হইলে, তাহা ছােট ছােট ইষ্টকাকৃতি করিয়া ছাঁচে ঢালা হয়। এই পুস্তকের পঞ্চম অধ্যায়ে দুইপ্রকার কেৰু কলর্স চিত্রধারা দেখান হইয়াছে। কোন পোরসেন পাত্রে একটু জল দিয়া ধর্ষণ করিলেই ঐ সকল কে হইতে রং প্রস্তুত হয়। আমরা ইতিপূর্বে যে কয়েকটি রং প্রস্তুত করিবার নিয়ম দিয়াছি, সেই কয়েকটি রঙ্গের বড় কেক ক্রয় করিতে নিম্নলিখিত মুল্য পড়ে। সিলিং। পেনি। Fake white (সুবেদা) Ivory Black (11)

দ্বাদশ অধ্যায়
: :
vermillon (সিন্দুর)
Madder Carmine (মঞ্জিষ্ঠা)
Crimson Lake (আলতা)
King's yellow (হরিতাল)
Gamboge (গ্যামােজ)
Indian yellow (পীউড়ী)
Indigo (নীলবড়ী)
Prussian Blue (ধােপছায়া নীল)
•••
।
২
সিলিং ১৩ ৬ পেল।
বিলাতী ১ সিলিং মূল্যের দ্ৰব্য কলিকাতায় ॥• হইতে ৬০ আনা
মূল্যে পাওয়া যায়।
নিম্নের চিত্রে টিউব কলর (Tube color) দেখান হইল। জলের
এবং তৈল মিশ্রিত আর্জ বর্ণ সকল রাঙ্গ নির্মিত ঐ প্রকার শিশিতে
করিয়া বিক্রয় হয়। ঐ প্রকার টিউব কলর গুলির উপরে ইজ্জ দেওয়া •
ছিপি থাকে, একারণ উহার মধ্যস্থিত তৈল ও জল মিশ্রিত বর্ণগুলি
শুরু হইতে পারে না। চিত্র করিবার সময় টিপিয়া আবশ্যক মৃত বর্ণ
বাহির করিয়া লইতে হয়। ইহার মূল্য প্রায় কেক কলর গুলির
মতন।
ইহা ছাড়া শিশিতে করিয়া জলের ব সকল আত্র অবস্থায় পাওয়া
যায়। তরল কারমাইন বর্ণের ঐ প্রকার একটি শিশি পরপৃষ্ঠার

চিত্রবিদ্যা। পার্শ্বস্থ চিত্রে দেখান হইল। কি প্রকার রং ক্রয় করা উচিত, সে বিষয়ে বিবেচনা করিয়া আমরা যে প্রকার বুঝিয়াছি, শিক্ষার্থিকে তাহাই লিখিলাম। জলের বর্ণ সকল কে আকারে লইলেই তাহা অধিক দিন স্থায়ী হয়। তৈলের বর্ণ সকল টিউব সমেত ক্রয় করাই উচিত। যদি বিশেষ কোন চিত্ৰকাৰ্য্যে জলীয় বর্গের অধিক প্রয়ােজন হয়, সেই বর্ণ তরল (Liquid ) CARMINE আকারে লইলে কাৰ্য্যের সুবিধা হইতে পারে। জলের এবং তৈলের বর্ণ সকল রাখিবার জন্য নানাপ্রকার বাক্স পাওয়া যায়। পরবর্তি কয়েকটি চিত্রে ঐ প্রকার বর্ণের বাক্স দেখান হইয়াছে। নিয়ে প্রথমতঃ যে বাক্সটি দেখান হইল, উহাতে চতুর্বিংশতি কেক-বর্ণ থাকে। তাহা ছাড়া জলের বাটি, পাের- সেন ফলক, কয়েক প্রকার তুলিকা, তরল কয়েকটি বর্ণ, এবং চিত্ৰকাৰ্য্যের আবশ্যক . অন্যান্য PEEPORED BY WINSOR n, NE WRON - pantone place. p 6 WINSOR NEWTON **, "f;"':; • (... উহাতে দ্রব্যও সজ্জিত থাকে। ঐ প্রকার একটি বাক্স লইলে জলীয় বর্ণের চিত্র করিবার উপযােগী সকল দ্রব্যই উহাতে পাওয়া যাইবে। ঐ প্রকার একটি রঙ্গের বাক্সের মূল্য প্রায় ৫০ পঞ্চাশ টাকা।

দ্বাদশ অধ্যায়। তুলিকা। চিত্ৰকাৰ্য্যের উপযােগী তুলিকা নানাপ্রকার। তুলিকা এ দেশে প্রস্তুত হয় না। বিলাতী যে কয় প্রকার তলিকা চিত্ৰকাৰ্যে ব্যবহৃত হয়, তাহা আমরা নিম্নলিখিত ছয়টি শ্রেণী বিভাগে বর্ণনা করিলাম। ১। উষ্ট্র লােমের তুলিকা (Camel hair Brushes)। ২। সে লােমের তুলিকা (Sable Brushes)। ৩। শূকরের লােমের তুলিকা (Hog hair Brushes)। ৪। ব্যাজার লােমের তুলিকা (Badgor hair Softener)। ৫। ধৌত চিত্রের তুলিকা (Wash Brushes)। ৬। ভারনিস্ করিবার তুলিকা (Varnish Brushes)। উষ্ট্র লােমের তুলিকা।—উষ্ট্র লােমের তুলিকাগুলি জলের বর্ণের উপযােগী। এই তুলিকাগুলি হংস, সােয়ান, প্রভৃতি পক্ষীর পালকের মূলে (Quill) প্রস্তুত হয়। এই তুলিকাগুলির মূল্য সর্বাপেক্ষা কম। সেব ব্ৰস্-এই জাতীয় তুলিকার মূল্য সর্বাপেক্ষা অধিক। ইহার এক গুণ এই যে, ইহাদ্বারা সকল প্রকার চিত্রকাৰ্য্য হয়। জলের রং অথবা তৈল মিশ্রিতরং যাহাই হউক, এই তুলিকা দ্বারা উভয় বিধ বর্ণেরই চিত্র হইতে পারে। সােপ দ্বারা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করিয়া রাখিলে, এই জাতীয় তালিকা অনেক দিন থাকে। পরপৃষ্ঠার চিত্রে নয় নম্বর হইতে শূন্য নম্বর পর্যন্ত দশ আকারের সেবে লােমের তালিকা দেখান হইল। উহার ললামগুলি ব্রাউন বর্ণের, এবং উহার ফেরুল (বন্ধনী) গুলি নিকেল দ্বারা প্রস্তুত হওয়ায় ঐ তুলিকাগুলি দেখিতেও সুন্দর। উহার ফেরুলগুলিও দুই প্রকারে নির্মিত হয়। কতক গােলাকার, এবং কতক ফেরুল চেপ্টা আকারের হয়। জলীয় বর্ণের জন্য গােলাকার এবং তৈলের চিত্রবিদ্যা। বর্ণে চেপ্টা আকারের তালিকা উপযােগী। SQ MIRISOR & NEWTON LO A WINSUP S NEWTON LE os WWSOP 2 NEWTON L' in Weise B NEWTO)L- VINSIF. NEVTOSED 1,1};s : 8 TCA ! ! s। 21. :- 3 । 4}} 1 ৩ সেব ব্ৰস গুলির মূল্য ;, ১ নম্বর, ১ সিলিং; ৩ নং ১ সিলিং ৬ পেনি; ৫ নং ২ সিলিং ৩ পেনি ; ৭ নং ৩ সিলিং ৩ পেনি ; ৯ নং ৪ সিলিং পেনিস শূকরের ললামের লিকা।—এই জাতীয় তলিকাগুলি সাধারণতঃ তৈলের বর্ণে চিত্র করিবার জন্যই আবশ্যক হয়। তৈল মিশ্রিত বর্ণ সকল অধিক পরিমাণে ব্যবহার করিতে হয় বলিয়া, তুলিকা গুলি একটু শক্ত এবং স্প্রিংএর মত স্থিতিস্থাপক গুণ সম্পন্ন হওয়ার আবশ্যক ৫ হয়। { পরপৃষ্ঠার যে চিত্র দেওয়া হইল, তাহাতে ৩৮ নম্বর পর্যন্ত ৯ প্রকার আকারের তুলিকা দেখান হইল। ঐ সকল তুলিকাও গােল- দ্বাদশ অধ্যায়। কার এবং চেপ্টা আকারের প্রস্তুত হয়। আমরা মনে করি, চেপ্টা ="g OwiSEVTDELLE 5 h IN SOR\ NEM TIN, LO JOR NEWTON MwiNEXNEYTON.2017 NEWTON 1? NEWTON LEE WEKTUNL আকারের তুলিকাই তৈল চিত্রের অধিক উপযােগী। জলের বর্ণে থিয়েটারের দৃশ্যপট ইত্যাদি অঙ্কিত করিতেও হগৃহেয়ার ব্ৰস্ উপযােগী। সুসূক্ষ কার্যের জন্যই সেবল ব্ৰস্ ব্যবহার করা উচিত। উপরের চিত্রে একপ্রকার তুলিকা দেখান হইল, ঐ গুলিকে ফ্যান- চিত্রবিষ্ঠা। ব্ৰস বলে। কেশভার, ঘাস, প্রভৃতি অঙ্কিত করিতে এই জাতীয় তুলিকার প্রয়ােজন হয়। তৈল চিত্রের উপর পাতলা স্বচ্ছ কোন বর্ণ প্রয়ােগ করিতেও ইহার প্রয়ােজন হয়। ইহার আরও ব্যবহার আছে, যথাস্থানে তাহা বিবৃত হইবে। T NOLMEN 1.11111111111110 ব্যাজার (Badger) নামক জন্তুর লোমে এই জাতীয় তলিকা প্রস্তুত হয়। তৈল চিত্রের বর্ণ সকল মিলাইয়া চিত্রের ভূমি সমান এবং সুদৃশ্য করিবার জন্য এই প্রকার তলিকার আবশ্যক। জলীয় বর্ণের চিত্ৰকাৰ্যে এই জাতীয় তালিকার অবশ্যক হয় না। উপরস্থ চিত্রে অপর এক প্রকার তুলিকা দেখান হইল। উহাকে ভারনিস্-ব্ৰস বলে। তৈল চিত্রের উপর ভারনিস দিবার জন্য এই তুলিকা ব্যবহার করিতে হয়। অল্প সময়ের মধ্যে অধিক স্থানে কোনও বর্ণ (যাহা শীঘ্র শুকাইয়া যায়) প্রয়ােগ করিতে হইলেও এই প্রকার তলিকা ব্যবহার করিবে। আমরা যে ছয় জাতীয় তলিকা দেখাইলাম, উহা দ্বারা সর্ব প্রকার দ্বাদশ অধ্যায়। চিত্ৰকাৰ্যই হইতে পারে। আরও কতিপয় তুলিকা ভিন্ন আকৃতিতে গঠিত হয়, আবশ্যক মত সেই সকল তুলিকারও ব্যবহার প্রদর্শিত হইবে। ঐ সকল তুলিকা চিত্ৰকাৰ্য্যের অব্যবহিত পরেই সাবান দ্বারা ধৌত করিয়া রাখিতে হয়। তৈলের বর্ণ তুলিকায় লাগিয়া থাকিলে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাহা শুকাইয়া যায়, এবং পরে তাহা সাবান দ্বারা পরিষ্কার করিতে পারা যায় না। তারপিন, অথবা কেরাে- সিন তৈল দ্বারা তৈলের বর্ণ দ্রব হইয়া উঠিতে পারে, কিন্তু ঐ প্রকার করিলে সেব-গুলি একেবারে খারাপ হইয়া যায়। এইজন্যই চিত্রকর মাত্রেই চিত্ৰকাৰ্য্যের অব্যবহিত পরেই তুলিকাগুলি সােপ এবং ঈষদুষ্ণ জলদ্বারা উত্তমরূপ পরিষ্কৃত করিয়া রাখেন। প্রতিদিন চিত্ৰকাৰ্য্যের পর তুলিকাগুলি ধৌত করা উচিত। প্যালেট, (চিত্রফলক)।-বর্ণ গুলি মিশাইয়া স্বভাবের মিশ্র বর্ণ সকল বখাযথ অনুকরণ করিয়া চিত্রে লাগাইতে হয় ;-এই সকল বর্ণ চিত্র করিবার পূর্বে একখানি চিত্রফলকের উপর সজ্জিত করিয়া লইতে হয়। ঐ চিত্রফলক গুলিকে প্যালেট বলে। উহার এক- প্রান্তে অঙ্গুষ্ঠ প্রবিষ্ট করিয়া, বামহন্তে ধরিয়া চিত্র করিতে সুবিধা হয়। পাতলা মেহগনি কাষ্ঠ, অথবা পােরশ্রেন দ্বারা প্যালেট, প্রস্তুত হয়। তৈলের বর্ণের পক্ষে কাষ্ঠের প্যালেট, এবং জলের বর্ণের পক্ষে পােরশ্লেন প্যালেট, উপযােগী। নিম্নের চিত্রে তিন প্রকার আকৃতির INSOR & IRONION প্যালেট, দেখান হইল। চিত্রে কাষ্ঠের প্যালেট দেখান হইয়াছে, ১৮ চিত্রবিদ্যা। পােরন নির্মিত প্যালেট ও ঐ সকল আকৃতির হইতে পারে। চিত্রফলকের ছুরীকা (Palette knife)।-বর্ণ সকল মিশ্রিত করিবার কারণ একখানি খুব পাতলা চুরীকার প্রয়ােজন হয়। উহা হস্তিদন্ত অথবা ইস্পাতের নির্মিত হয়। ইস্পাতের ছুরী জলের বর্ণের উপযােগী নহে; জলের বর্ণের পক্ষে হস্তিদন্ত নির্মিত প্যালেট-নাইফ একখানি ক্রয় করা আবশ্যক। মূল্য ৯ পেনি হইতে ২ সিলিং ৬ পেনি পৰ্য্যন্ত। 5 54 WWCOR NEWTONS --- বড় আকারের চিত্র সকল অঙ্কিত করিতে হইলে, চিত্রখানি সুবিধা- মত রাখিয়া চিত্র করিতে হয়। গৃহমধ্যে যে স্থানে আলােকের সুবিধা থাকে, ঠিক সেই স্থানে ছবিখানি রাখিয়া চিত্র করিবার প্রয়ােজন হয়। চিত্র রাখিবার জন্য ‘ইজেল নামক যন্ত্রের আবশ্যক হয়। ইজে নানাপ্রকারের আছে। পর পৃষ্ঠার চিত্রে আমরা উইনসর এবং নিউটন কৃত গ্যা ইজে দেখাইলাম।. ঐ প্রকার ইতেলের উপর ক্যানভ্যাস অথবা পেনেল রাখিয়া চেয়ারে বসিয়া কাৰ্য্য করিতে পারা যায়। আবশ্যক মত ছবিখানি উন্নত অথবা অবনত করিয়া ও অঙ্কিত করিতে পারা যাইবে। বৃহদাকারের ছবির জন্যই

দ্বাদশ অধ্যায়।
ঐ প্রকার ব্ল্যাক ইজেলের প্রয়ােজন। স্বভাব দৃশ্যের স্কেচ, করিকার
জন্য নিম্নের চিত্রানুযায়ী ‘স্কেচিং-ইজেল
ব্যবহার করিবে। বসিবার জন্য ছােট
একটি ফুল ও এই প্রকার ইজেলের
সহিত যুক্ত থাকে। কাৰ্য শেষ হইলে,
উহা মুড়িয়া স্থানান্তরে লওয়া ঝায়।
স্বভাব দৃশ্য অঙ্কিত করিবার সময়
একটা বৃহৎ আকারের ছাতা অথবা একটি
ছােট তাম্বুর আবশ্যক হয়। অনেকে
হয়ত মনে করিতে পারেন, স্বভাব দৃশ্য
অঙ্কিত করিবার সময় কোনও বৃক্ষতলের
ছায়ায় বসিয়া চিত্ৰকাৰ্য্য হইতে পারে, তবে
তাম্বুর কি প্রয়ােজন ? যে স্থানে স্বভাব
দৃশ্য মনােনীত করা হইবে, ঠিক যে সেই স্থানেই উপযুক্ত বৃক্ষছায়া
।।।।।
পাওয়া যাইবে, তাহার কিছু নিশ্চয়ত্ব নাই। আমরা নানাদেশ
ভ্রমণ কালে দেখিয়াছি, অনেক মনােহর স্বভাব দৃশ্য অঙ্কিত করিবার
ইচ্ছা স্বত্বেও এই প্রকার একটী তাম্বু অথবা ছাতার অভাবে আমরা
সেই চিত্র করিতে পারি নাই। এইজন্যই শিক্ষার্থীকে আমরা

১৪০ চিত্রবিদ্যা। নিম্নের চিত্রানুযায়ী একটি টেস্ট কিনিতে বলি। ঐ টেন্ট, অল্প WINSOR & NEWTON সময়ের মধ্যেই বসাইতে এবং খুলিয়া লইতে পারা যায়। রৌদ্রে বসিয়া চিত্ৰকাৰ্য্য হইতে পারে না; বিশেষতঃ আমাদের দেশে বারমাসই রৌদ্র একপ্রকার অসহ। তাহা ছাড়া বর্ষাকালে সর্বদাই বৃষ্টি হয়; মাথার উপর যাহা হউক, একটা আচ্ছাদন থাকিলে, সচ্ছন্দে বসিয়া কাৰ্য্য হইতে পারে। তৈলের বর্ণে চিত্র করিবার উপযােগী রং, তুলি, তৈল, ভারনি ইত্যাদি দ্রব্য সজ্জিত নানাপ্রকার বা ফ্লু পাওয়া যায়। ঐ প্রকার একটি বাক্স লইলে, কার্য্যের সুবিধা হয়। পার্শ্বস্থ চিত্রে ঐ প্রকার ঘােট আকারের একটি বাক্স দেখান হইয়াছে। স্বভাব দৃশ্যের চিত্র অথবা স্কেচ, করিবার পক্ষে ঐ প্রকার একটি ছােট বাক্স হই- লেই চলে। যে সকল বর্ণ অথবা তুলিকার প্রয়ােজন হইবে, সে গুলি ঐ প্রকার একটি বাক্সে করিয়া লইবার সুবিধা।

দ্বাদশ অধ্যায়।
১৪১
নিম্নস্থ চিত্রে অপর একপ্রকার বড় আকারের বাক্স দেখান হইয়াছে।
HT}}[1HT
উহাকে ষ্টুডিও বাক্স বলা হয়, উহার মধ্যে তৈল চিত্রের উপযােগী
প্রায় সকল দ্রব্যের সমাবেশ আছে। উইনস এবং নিউটন নামক
ব্যবসায়িরা উহা বিক্রয় করেন। শিক্ষার্থী যখন তৈল চিত্র করিতে
পারিবেন, সেই সময় এই প্রকার একটি বাক্স দেখিয়া লইবেন। পরে
আবশ্যক মত উহার দ্রব্যাদি কিনিতেও পাওয়া যাইবে।
ত্রয়ােদশ অধ্যায়।
এক বর্ণের চিত্র (Monochromo)।এক্ষণে আমরা তুলিকার
চিত্র পদ্ধতি বুঝাইব। প্রথমতঃ জলের বর্ণের চিত্র বিষয়ক সকল কথা

১৪২ চিত্রবিদ্যা। বুঝাইয়া, পরে তৈল চিত্র পদ্ধতির বর্ণনা করিব। একটি বর্ণের দ্বারা যে চিত্র করা হয়, আহাকে একবণীয়, অথবা ‘মােনােক্রাম’ নাম দেওয়া হয়। চায়না ইক, সেপিয়া, -ব্ল্যাক প্রভৃতি বর্ণের দ্বারা ঐ প্রকার চিত্র হইতে পারে। কোনও চিত্রকর ক্রিম লেক, আইভরি ব্লাক, ভ্যান্ডাই ব্রাউন; উপরােক্ত তিনবৰ্ণ মিশাইয়া ফটোগ্রাফের ন্যায় একপ্রকার পপল কর্ণ প্রস্তুত করেন; পরে সেই মিশ্রবর্ণটি আবশ্যক মত ঘন অথবা পাতলা করিয়া, তুলিকার দ্বারা চিত্রের উপরে লাগাইয়া থাকেন। এই প্রকারে যে চিত্র প্রস্তুত হয়, তাকে ধেতি-চিত্র’ অথবা ওয়া উইং বলা হয়। এই প্রকার উইং হাফটোন্ এনগ্রেভিং সহকারে পুস্তকাদিতে ছাপাইবার উপযােগী হয়। প্রথমতঃ একখানি ড ইং পেপার মনােনীত করিয়া ও ইং বাের্ডের উপর পিন্‌দ্বারা আবদ্ধ করিয়া লও। পরে ব্লু ব্ল্যাক নামক জলের বর্ণ অল্প জলে ঘষিয়া পাতলা একটু রং করিয়া লও। ছােট একটি পাের- প্লেন বাটিতে ঐ পাতলা রং ঢালিয়া লইবে, এবং চিত্র করিবার পূর্বে উহা স্থির রাখিয়া, পরিষ্কার করিবে। কোনও প্রকারে রং নাড়িবে না। নঃ সেবলু ব্ৰস্, অথবা কেমেল হেয়ার স্ জলে ধুইয়া ঝাড়িয়া দেখিবে, অগ্রভাগ বেশ সূক্ষমাকারে পরিণত হয় কি না। ঐ প্রকার হইলে বুঝিবে যে, তুলিকা কাৰ্য্যের উপযােগী। যে কোনও চিত্র প্রস্তুত করিবার আবশ্যক হইবে, প্রথমতঃ 'কঠিন জাতীয় কোনও পেসীল দ্বারা খুব সূক্ষম কতকগুলি রেখায় চিত্রখানির মধ্যস্থ সব বস্তুর ‘আদর করিয়া লইবে। বহুদশী চিত্রকর দিগের পক্ষে এই প্রকার পেনসীল আব্দুয়া করিবার আবশ্যক হয় না; মনের সহিত চক্ষু, হন্ত, এবং যন্ত্রের ঐক্যতা সাধিত হইলে, কোনও প্রকার আদ্রা, অথবা আউট-লাইন ব্যতিরেকেও সাদা কাগজের উপর একে- ৪ ;

No text on this page.

* *
.
।
”
৯)
.
* * *
•
চির প্রথম অবস্থা।

ত্রয়োদশ অধ্যায়। বারেই তুলিকা দ্বারা চিত্র আরম্ভ করিতে পারা যায়। আমরা ইতি- পূর্বে আমরা করিতে বলিয়াছি, সে নূতন শিক্ষার্থির জন্য। চিত্রের প্রথমাবস্থা। চিত্রের মধ্যে যে সকল স্থানে সর্বাপেক্ষা অধিক আলােক দেখাই- বার প্রয়ােজন, সেই সেই স্থলে সাদা কাগজ দেখাইতে হইবেই। প্রথমতঃ বিশেষ মনোেযােগ সহকারে সেই সকল অংশ বাদ রাখিয়া, হােরাইজনের উপৱস্থ আকাশ অংশ টুকুতে একটা খুব পাতলা টিন্ট, দিতে হইবে। তুলিকা রঙ্গের উপরিভাগে ডুবাইতে হইবে। তুলিকা রঙ্গে ডুবাইবে, এবং উহা সমস্ত ভিজিলে, উহার অগ্রভাগ মােটা হইবে, ঐ প্রকার রংপূর্ণ তুলিকা দ্বারা কাগজের আকাশ অংশে একটা টিস্ট, দিয়া লইবে। কাগজের একপার্শ্ব হইতে রং মাখাইতে আরম্ভ করিয়া অপর দিকে আনিয়া সমাপ্ত করিবে। কোন স্থানে রং জমিয়া থাকিলে, টিন্ট সমান হইবে না, এজন্য তুলিকার দ্বারা অধিক রং আবার তুলিয়া লইতে হইবে। অপর একটি সেবল ভুল ভিজাইয়া ঝাড়িয়া লইবে, ঐ প্রকার ঝড় তুলিকাটি অধিক বর্ণের নিকট ঠেকাইলেই কাগজের উপর হইতে রং শুষিয়া লইবে; কোনও চিত্রকর ব্লটিং পেপার দ্বই এই কাৰ্য্য করেন। আমরা নিজে ঐ প্রকারে রং দ্বিতীয় তালিকায় উঠাইবার আবশ্যক বােধ করি না। যেখানে যে টুকু রঙ্গের আবশ্যক, সেই পরিমাণেই কাগজের উপর লাগাইয়া যাওয়াই সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট উপায়। রং অধিক পরিমাণে প্রয়ােগ করি কেন ? আকাশে এই প্রকারে টিন্ট, দিবার সময় বৃক্ষাদির উপরেও টিন্ট, যদি দেওয়া হয়, তাহাতে কোনও ক্ষতি হয় না; কারণ স্বভাব দৃশ্যে সকল বস্তুই প্রায়ই আকাশ অপেক্ষা ঘাের বর্ণের অঙ্কিত করিবার ১৪৪ চিত্রবিদ্যা। প্রয়ােজন, আকাশের টিন্ট, শুকাইয়া গেলে, ঐ, টিন্টের উপর বৃক্ষ পল্লবাদি অঙ্কিত করিলে, সাবের অনুকরণ করিবার সুবিধা হয়। আকাশের টিন্ট দেওয়া হইলে, বহুদূরের যে সকল বস্তু চিত্রে অঙ্কিত হইবে, সেই গুলিতে অপেক্ষাকৃত ঈষং ঘরবর্ণ লাগাইতে হইবে। যে বর্ন টুকু বাটীতে রহিয়াছে, তাহার জল বায়ুস্পর্শে ক্রমশঃ বাম্পাকারে বায়ুর সহিত মিশিতে থাকে, এবং বর্ন টির জল কমিয়া ঈষং ঘন হইয়া ঘোর হয় ; এজন্য অনেক সময় দেখা যায় যে, আপনা হইতেই বর্ন টী ঘন হইয়া, চিত্রের উপযােগী হইয়াছে। একটি পাতলা টিন্ট, অপরটি তদপেক্ষা ঈষৎ ঘাের বর্ণের টিন্ট, এই দুই প্রকার টিল্ট দ্বারা যে ভাবে চিত্র প্রথমে করিতে হইবে, তাহা পরবর্তি চিত্রে দেখান হইল। দুইটি বালিকা একটী জলস্রোত পার হইতেছে, এবং উহাদের অগ্রে একটা কুকুর যাইতেছে। উহার সহিত প্রাকৃতিক দৃশ্য ও অল্প পরিমাণ দেখান হইতেছে। বড় বালিকাটির মস্তকের নিকট দিয়া এই দৃশ্যের চক্রবাল (Horizon) দেখা যাইতেছে। দুই শ্রেণী বৃক্ষের মধ্যদিয়া গ্রাম্য পথ দেখা যাইতেছে, বামদিকে বহুদূরে আরও বৃক্ষাদি এবং মাঠ দেখা যাইতেছে। দুইবার দুইপ্রকার টিন্ট দ্বারা এই চিত্রখানি অঙ্কিত করিয়া শুখাইতে দিবে। ইহাই চিত্রের প্রথম অবস্থা, এবং ইহাকেই বর্ণের স্কেচ (color sketch) বলে। নূতন শিক্ষার্থিকে প্রথম হইতেই সাবধান করিয়া দিতেছি যে, এই দুই টিন্ট দিবার সময় তুলিকা রঙ্গে পূর্ণ করিয়া লইবে, এবং তুলিকার অগ্রভাগ মােটা করিয়া অঙ্কিত করিবে। যদি এই সময়ে খুব সূক্ষভাবে চিত্র করিতে চেষ্টা করেন, তাহাতে চিত্রখানি পরে খারাপ হইবার সম্ভাবনা। বিশেষতঃ এই প্রকার মােটা করিয়া অঙ্কিত করাকেই ব্রড,টচ, (Broad touches) বলে। এই পদ্ধতিতে চিত্রমাত্রেই অঙ্কিত করিতে হইবে। এক্ষণে উহা ভাল দেখাইতেছে না,

No text on this page.

.
শুরু
.
'।
:
।
{চত্রের দ্বিতীয় অবস্থা।

No text on this page.

No text on this page.

এয়োদশ অধ্যায় । কিন্তু ঐ চিত্রখানি সমাপ্ত হইলেই উহা ভাল দেখাইবে, সন্দেহ নাই। চিত্রের দ্বিতীয় অবস্থা। প্রথমাবস্থায় চিত্রখানির যে ভাব দেখা যাইতেছে, উহার দ্বারা স্বভাবের কোনও বস্তুরই সম্যক্ বােধ হইতেছে না। সকলি এক প্রকার অস্পষ্ট দেখা যাইতেছে। স্বভাবে যে সকল গভীর ছায়া দেখা যায়, ঐ সকল ছায়া স্বভাবের মতই ঘাের করিতে পারিলে, চিত্রিত সকল বস্তু অপেক্ষাকৃত সুস্পষ্ট দেখাইবে। ইহাকে চিত্রের বৈপরীত্য (contrast) বলা যায়। বিপরীত ভাব অর্থ কি? যে স্থানে অধিক আলােক পূর্ণ কোনও বস্তু চিত্রে দেখাইবার প্রয়ােজন, সেই আলােকের নিকটেই ঘোর ছায়া দেখাইতে হইবে। আলােক এবং ছায়ার বৈপরীত্য থাকিলেই চিত্রিত বস্তু সকল ফুটিয়া উঠে। এই চিত্রে দুইটি বালিকা এবং কুকুরটি সর্বাপেক্ষা উজ্জ্বল ( আলোক পূর্ণ। দেখাইবার আবশ্যক। এ প্রকার করিতে হইলে, নীচের জল, এবং সভাৰ দৃশ্যের অধিকাংশ ছায়াযুক্ত করিবার প্রয়োজন। জলের উপরিভাগে যে সকল ছোট ছােট তরঙ্গ দেখা যায়, তরঙ্গের উপরে বালিকা দুইটি এবং কুকুরের প্রতিবিম্ব দেখাইতে হইবে। প্রতিবিম্বের সহিত তরঙ্গপূর্ণ স্রোতের জল স্বভবে যে প্রকার দেখায়, এস্থলে সেই প্রকার দেখান উচিত। স্থির জলের প্রতিবিম্ব প্রায় স্বভাবের মতই উজ্জ্বল এবং পরিষ্কার দেখায়। স্রোত, অথবা প্রবল বাত্যায় জলের উপর ছােট ছােট তরঙ্গ সঞ্চারিত হইলে, জলের উপরিভাগের প্রতিবিম্ব অস্পষ্ট হইয়া যায়। এই কথা মনে রাখিয়া, এই চিত্রে প্রতিবিম্ব দেখাইতে হইবে। এই চিত্রে জলের আকৃতি হইতে এই কয়েকটি বিষয় বুঝাইতে হইবে। (১) জলের স্রোত আছে, কিন্তু তাহার বেগ মধ্যম।

চিত্রবিদ্যা । (২) জলের স্রোত চিত্রের বামপার্শ্ব হইতে দক্ষিণ দিকে বহিয়া যাইতেছে। (৩) মৃদু মৃদু ভাবে বিপরীত বায়ু বহিতেছে, অর্থাৎ চিত্রের দক্ষিণ দিক হইতে বামদিকে বায়ু প্রবহমান থাকায়, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তরঙ্গ মালায় স্রোত শােভান্বিত হইয়াছে। জলের স্রোত, উহার নির্দিষ্ট গতি, এবং প্রবহমান বায়ুর অবস্থা চিত্রে দেখাইতে পারা যায়, এবং ঐ তিনটি বিষয় দেখাইতে পারিলেই চিত্ৰমধ্যে জলের ভ্রান্তিজ্ঞান (illusion) হইবে। চিত্রের প্রথম অবস্থায় যে প্রকার দুইটি টিন্ট লইয়া চিত্র করিতে বলিয়াছি, এক্ষণে ২য় বর্ণের ন্যায় ঘাের টিন্ট, একটী, এবং তদপেক্ষা ঘাের বর্ণের অপর একটা টিন্ট, লইতে হইবে। আমরা এখন হইতে নম্বর দ্বারা টিন্টের উল্লেখ করিব। প্রথমাবস্থায় চিত্রের টিন্ট, নম্বর (১), (২)। দ্বিতীয় অবস্থায় প্রথমতঃ ২ নম্বর টিন্ট, লইয়া কুকুরের বামপার্শ্ব হইতে আরম্ভ করিয়া জলের নিম্নভাগটা ছায়াযুক্ত কর। এই সময়ে বালিকা দুইটী এবং কুকুরের প্রতিবিম্বের আকৃতির উপযুক্ত স্থান বাদ রাখিতে হইবে। কুকুর এবং বালিকা দুইটির মধ্যে ছায়া দেখাইতে হইবে, এবং এই সময়েই জলের উপর প্রতিবিম্ব গুলি ঈষৎ ‘পাতলা রং দিবে। জলের উপরে যে প্রস্তর ও মৃত্তিকাময় একটী সােপান দেখা যায়, উহার উপর টিণ্ট নম্বর (৩) লাগাইয়া দ্বিতীয় চিত্রানুযায়ী ঘাের বর্ণের করিতে হইবে; এই চিত্রে বালিকা দুইটির মুখের চারিদিকেই ঘাের বর্ণের ছায়া করিবার আবশ্যক। বালিকা দুইটির চারিদিকেই ঘাের বর্ণের ছায়া করিতে পারিলেই উহাদের অকৃতি অধিকতর স্পষ্ট হইবে। কিন্তু ঐ প্রকার করিলে শিক্ষার্থী বুঝিতে পারিবেন যে, চিত্রখানির অন্যান্য অংশেও ঐ প্রকার ঘোর বর্ণের ছায়ার অাবশ্যক হইবে। জলের উপরস্থ প্রতিবিম্ব বাদ ত্রয়োদশ অধ্যায়। ১৪। রাখিয়া অন্যান্য স্থানে বর্ণের ঘোর করিতে হইবে। বৃক্ষ শ্রেণীর মধ্যেও ঘাের বর্ণের ছায়া করিয়া, অপেক্ষাকৃত এক ছােট আকারের তুলিকা দ্বারা ছােট ঘােট বৃক্ষ পত্রগুলি দেখাইতে হইবে। বৃক্ষ পত্রাদি স্বভাবে যেমত দেখায়, চিত্রেও সেই প্রকার দেখাইতে চেষ্টা করিবে। এক একটী পত্র সূক্ষমভাবে অঙ্কিত করিবার কোনও প্রয়ােজন নাই। কতকগুলি পত্র একত্রিত হইয়া একটী গুচ্ছ হয়, সমস্ত বৃক্ষময় ঐ প্রকার বৃক্ষ পত্রের গুচ্ছ (Foliage) সকল দেখাইতে পারিলেই বৃক্ষের চিত্র ভাল হয়। দূরে যে সকল বৃক্ষ থাকে, তাহাদের পত্রগুচ্ছ সকল পাতলা বর্ণে অঙ্কিত করিবে। যতই নিকট দেখাইবার প্রয়ােজন, পত্রগুচ্ছ সকল ততই ঘোর বর্ণের করিতে হয়। ইতিপূর্বে আমরা দৃষ্টিবিজ্ঞানের আবশ্যক প্রায় সকল কথা লিখি- য়াছি ; ঐ স্থলে একটা বিষয় বুঝানাে হয় নাই। তাহা এই স্থলে বলিবার সুবিধা। কোনও স্বভাব দৃশ্য ভাল করিয়া দেখিলে, বুঝিতে পারা যায় যে, বহুদূরের বস্তু মাত্রেই পাতলা গ্রে বর্ণের দেখায়। তিন চারি ক্রোশ দূরে যে সকল বৃক্ষাদি দেখা যায়, তাহা প্রায় আকাশের মতই নীল বর্ণের দেখায়। এই প্রকার দেখাইবার কারণ কি? ৩ দূরের বস্তুর সহিত আকাশের নীলবর্ণ মিশ্রিত হইয়া ও প্রকার থে বর্ণ দৃষ্টিগােচর হয়। বহুদূরে কোনও বস্তু দেখিবার সময় আমরা সেই বস্তু এবং চক্ষুর মধ্যবর্তি আকাশ টুকুও দেখিযই। যেমন সমুদ্রের জল কাচের গেলাসে রাখিলে কোনও বর্ণ দেখা যায় না, কিন্তু গভীর সমুদ্রের জলের বর্ণ ঘাের নীল দেখায় ; সেইমত আমরা সাধা- রণতঃ বায়ুর কোন বর্ণদেখিতে পাই না, কিন্তু বায়ুর স্তর বহু বিত হইলে, তাহাতেও আকাশের নীলবর্ণ দেখা যায়।

১০৮ চিত্রবিদ্যা। বৈজ্ঞানিক পণ্ডিতেরা বলেন যে, বায়ু-সমুদ্রের সহিত সদা সর্বদা কতক পরিমাণ জলীয় বাষ্প থাকায় ঐ প্রকার ঈষৎ নীল বর্ণ দেখা যায়। এই জন্যই বহু দূরস্থিত কোনও দ্রব্য দেখিবার সময় তাহা অাকাশের নীলবর্ণে রঞ্জিত দেখায়। দৃষ্টি বিজ্ঞানেও ঐ নিমিত্ত (aerial perspective) বায়বীয় দৃষ্টি বিজ্ঞান নামক একটি স্বতন্ত্র বিভাগ কথিত হয়। স্বভাব দৃশ্যের কোনও প্রকার চিত্রে দূর দেখাইবার প্রয়ােজন হইলেই দূরের বস্তু আকাশ বর্ণে রঞ্জিত করিতে হয়। যদি একটি বর্ণ দ্বারা চিত্র করিবার অবশ্যক হয়, তাহা হইলে দূরের বস্তু সকল পাতলা টিন্টে অঙ্কিত করিতে হয়। উদাহরণ স্থলে, এই চিত্রখানির বাম পার্শ্বস্থ মাঠের পারে পাতলা বর্ণের একটা বৃক্ষ শ্রেণী দেখা যাইতেছে। বৃক্ষের পত্র পুঞ্জ সকলও ঐ প্রকার পাতলা বদ্বারা দূরস্থিত দেখান হইয়াছে। অপেক্ষাকৃত ছােট একটি সে ব্ৰস দ্বারা বালিকা দুইটি এবং কুকুরের আকৃতি মধ্যে সেখানে যে প্রকার ছায়া করিবার প্রয়ােজন, তাহা সজ্জিত করিবে। চিত্রের তৃতীয় অবস্থা। এই চিত্রের তৃত্বীয় অবস্থায় কি করিতে হইবে, তাহা শিক্ষার্থীর প্রথমতঃ জ্ঞাত হওয়া আবশ্যক। চিত্রের দ্বিতীয় অবস্থায় যতদূর অঙ্কিত হইয়াছে, তাহার উপর আর কি করিতে হইবে ? বালিকা দুইটির মুখের আকৃতি আরও স্পষ্টতর দেখাইতে হইবে। যতদূর হইয়াছে, তাহার উপর কি করিলে মুখ আরও পরিষ্কার হইবে । চক্ষু, মুখ, এবং কর্ন প্রান্তে আরও একটু ছায়া করিতে হইবে। অক্ষি তারকাদ্বয় ঘোর কৃষ্ণবর্ণের করিলেই মুখের ঐ বৃদ্ধি হয়। আমাদের দেশে চিত্রকরের ইহাকে “চক্ষুদান” নামে অভিহিত করে। খুব সূক্ষম সে ব্ৰস দ্বারা, অতি ধীরে ধীরে, এই কাৰ্য্য করিবে। ছোট,

No text on this page.

No text on this page.

চিত্রের তৃতীয় ব্যবস্থা

No text on this page.

ত্রয়ােদশ অধ্যায়। বালিকার মুখের পার্শ্বভাব দেখান হইয়াছে, একারণ উহার অক্ষিতারকা দেখা যাইতেছে না, তথাপি জ্বর নিয়ে একটু ছায়া দেখাইবায় আবশ্যক। তৃতীয় চিত্রখানি দেখিয়া শিক্ষার্থী বুঝিতে পারিবেন যে, এই চিত্রের সকল কাৰ্যই সূক্ষম তুলিকা এবং ঘাের কৃষ্ণবর্ণ দ্বারা হইয়াছে। ছােট বালিকার মুখের নিকটে ঘাের ছায়াটি অতি সাবধানে চিত্র করিবে। হস্তের নীচে, বস্ত্রাদির ভাজে, যে সকল ছায়া আছে সেইগুলি যথাযথ অঙ্কিত হইলেই বালিকা মূর্তি দুইটি অপেক্ষাকৃত পরিস্ফুট হইবে। পূর্বোক্ত নিয়ম মত বালিকা দুইটির চিত্র সম্পূর্ণ হইলে, কুকুরটিও ঐ প্রকারে ঘাের কৃষ্ণবর্ণ দ্বারা সমাপ্ত করিবে। পরে তৃতীয় চিত্রখানি দেখিয়া আর আর কাৰ্য্য (যাহা আবশ্যক) ঘাের কৃষ্ণবর্ণ দ্বারা সমাপ্ত করিতে হইবে। একবর্ণীয় (Monoclhrome) চিত্র সকল পূর্বোক্ত নিয়ম মত সমাপ্ত করিতে হয়। চতুদশ অধ্যায়। জলীয় মিশ্রবর্ণে চিত্র করিবার কয়েক প্রকার পদ্ধতি আছে। আমরা এই পুস্তকে যে নিয়ম লিখিলাম, সেই মত কাৰ্য্য অভ্যাস করিতে পারিলে, শিক্ষার্থীর পরে অনেক সুবিধা হইবে। প্রথমতঃ দেখা যাউক, ঐ সকল পদ্ধতির পার্থক্য কি? কর্ণসকল সাধারণতঃ দুই জাতীয় দেখিতে পাওয়া যায়। কতকগুলি বর্ণ স্বচ্ছ (transparent), এবং কতকগুলি অস্বচ্ছ (opaque)। মনে কর, কোনও চিত্রের মধ্যে কতক অংশে লােহিত বর্ণ দেওয়া চিত্রবিষ্ঠা।. হইয়াছে। ঐ লােহিত বর্গের উপর যদ্যপি স্বচ্ছ পীতবর্ণ দেওয়া হয়, তাহা হইলে নিম্নস্থ লােহিত বর্ণ ও পরবর্তি পীতবর্ণ উভয়ের আভা একত্র হইয়া অরেঞ্জ বর্ণ দেখা যাইবে। কিন্তু সেই লােহিত বর্ণের উপর কোনও অস্বচ্ছ পীতবর্ণ প্রয়ােগ করিলে, লােহিত বা চাপা পড়িবে, এবং উপরস্থ পীতবর্ণই প্রকাশিত হইবে। জলীয় বর্নে চিত্র করিবার পক্ষে স্বচ্ছ বর্ণগুলি বিশেষ উপযােগী। এক বর্ণে চিত্র করিবার যে পদ্ধতি এই পুস্তকে দেওয়া হইয়াছে, সেই পদ্ধতি মত এক বর্ণের উপর অপর একটি বর্ণ তুলিকা দ্বারা প্রয়োগ করিয়া সপ্তপ্রকার বর্ণ অথবা গ্ৰে বৰ্ণ সকল করিতে পারিলেই নানা বযুক্ত চিত্র করিতে পারা যাইবে। কিন্তু নানাবর্ণে চিত্র করিবার পূর্বে সহকারী বর্ণের জ্ঞান হওয়া প্রয়ােজন। সহকারী বর্ণ কি ? একথা বুঝাইবার পূর্বে আমরা সুবিখ্যাত চিত্রকর টর্ণারের একটি গল্প বলিব। কোন সময়ে তিনি রয়াল- একাডেমি নামক চিত্রশালায় কোন কার্যে ব্যাপৃত ছিলেন। সেই সময়ে সেই স্থানে অপর একজন চিত্রকর একখানি চিত্র অঙ্কিত করিতে ছিলেন। তিনি চিত্রে উজ্জ্বল লােহিত বর্ণ, দেখাইবার চেষ্টা করিয়া, বারম্বার বিফল মনােরথ হয়েন, ক্রমে ক্রমে সমস্ত লাল বর্ণ চিত্রে লাগাইলেন, কিন্তু চিত্রের উপর সকল লােহিত বর্ণই মলিন দেখাইতে লাগিল। কোন বর্ণই সবিশেষ উজ্জ্বলতা প্রাপ্ত হইল না। টর্ণার দূর হইতে তাহা দেখিয়া, হাসিতে হাসিতে সেই চিত্রকরের নিকট আসিয়া তাহার চিত্রফলক (প্যালেট,) হইতে তুলিকা দ্বারা একটু সাধারণ লােহিত বর্ণ লইয়া সেই চিত্রের মধ্যস্থ একটী সবুজ পত্রপুঞ্জের উপর লাগাইয়া দিলেন। ইহাতে সেই চিত্রকর প্রথমতঃ বিরক্ত হইয়াছিলেন, কিন্তু সবুজ বৃক্ষ পত্রের উপর সেই লােহিত বর্ণের উজ্জ্বল আভা দেখিয়া, মহানুভর টর্ণাকে অনুযােগ করা দূরে চতুর্দশ অধ্যায়। থাক, তিনি অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা জানাইতে বাধ্য হইলেন। পাঠক পাঠিকারা ইহাতে বুঝিলেন কি ? লােহিত বর্গের সহকারী সবুজ বর্ন। অর্থাৎ চিত্রস্থ কোনও সবুজ বর্ণের নিকটে লােহিত বা থাকিলেই উভয় বা ই অধিকতর শোভান্বিত হইবে। এইজন্য লােহিত এবং হরিৎ বর্ণদ্বয় পরস্পরের সহকারী। সহকারী বর্ণকে ইংরাজীতে ( Complementary colors) কমপ্লিমেন্টারি বর্ণ বলে। এই প্রকারে পীত : লােহিত বর্ণের সহকারী সবুজব। অরেঞ্জ নীলবর্ণ। পরপল বর্ণ। সবুজ লােহিত বর্ণ। নীল অরেঞ্জ বর্ণ। পরপল পীতবর্ণ। শ্বেতবর্ণের কৃষ্ণবর্ণ। নিউটাল গ্রে বর্ণ। নিউটাল গ্রে বর্ণের কৃষ্ণ অথবা শ্বেতবর্ণ। কৃষ্ণ বর্ণের তে অথবা নিউটাল গ্ৰে বৰ্ম । নীল, পীত এবং লােহিত এই তিনটিকে আদি বা বলে। * সবুজ পরূপ, এবং অরেঞ্জ বর্ণকে দ্বিমিশ্র বর্ণ বলে। + দ্বিমিশ্র বর্ণগুলিকে মিশ্রিত করিয়া আবার ত্রিমিশ্র ** বর্ণ সকল হয়। প্রধানতঃ তাহা তিনটি। পরপল এবং অরেঞ্জ মিশ্রিত করিয়া রসেট (Russet) ; পরপল এবং সবুজ অলিভ, (Olive); অরেঞ্জ এবং সবুজ সাইটিন (citrine) ; আমরা ইতিপূর্বে যে নানাপ্রকার গ্রে বর্ণের কথা লিখিয়াছি, উপরােক্ত ত্রিমিশ্র, বর্ণ তিনটিকেও গ্রে শ্রেণীভুক্ত করিতে পারা যায়, 3) ১) * Primary colors. Secondary colors. ** Tertiary colors, চিত্রবিদ্যা। সন্দেহ নাই ; তথাপি অনেক চিত্রকর ত্রিমিশ্র বর্ণগুলি ঐ তিন শ্রেণী- ভুক্ত করিয়াছেন, একারণ ঐ তিনটি নামেরও পৃথক উল্লেখ করা হইল। জলের বর্ণ ই হউক, অথবা তৈল মিশ্রিত বর্ণ ই হউক, যে জাতীয় বর্ণেই চিত্র করা হইবে, কোথায় কোন বর্ণ প্রয়ােগ করিয়া কি ফল হয়, তাহা সম্পূর্ণরূপ বুঝিতে পারিলে, তবেই সকল বর্ণের শােভা বৃদ্ধি করিতে পারা যায়। এক বর্ণের উপর অপর একটি বর্ণ প্রয়ােগ করিবার পূর্বে বুঝিয়া (১) দুই বর্ণের মিশ্র অভা একত্রে কোন বর্ণ প্রকাশ করিবে ? (২) যে বর্ণ প্রকাশিত হইবে, তাহার সহিত চিত্রস্থিত অন্যান্য বর্ণের সহকারী সম্বন্ধ আছে কি না? (৩) যদি সহকারী সম্বন্ধ না থাকে, তবে কথিত বর্ণদ্বারা চিত্ৰস্থিত কোনও আবশ্যক বর্ণের বিকৃতি হইতে পারে কি না? ঐ তিনটি বিষয় বিচার করিয়া চিত্রস্থিত বর্ণ সকল সাজাইতে পারিলে, বর্ণ সকলের সামঞ্জস্য (Color-halmony) হইবে, আর চিত্রখানি ও নয়ন তৃপ্তিকর হইতে পারিবেক। যেমন সঙ্গীতের (Harmony) হারমনি আছে, বর্ণেরও সেই প্রকার হারমনি আছে। চিত্রমধ্যস্থ বা সকলও বিধিপূর্বক সজ্জিত করিয়া বর্ণের হারমনি হয়। সূৰ্যাস্তকালে যে দিবস আকাশে পীতবর্ণের আধিক্য দৃষ্ট হয়, সেই সময় পীত বর্ণের সহকারী পরপল বর্নও দেখিতে পাওয়া যায়। মেঘের যে যে স্থানে ছায়া দেখিতে পাইবে, প্রায় সকল ছায়াতেই পীতবর্ণের সহকারী পরপল বা ই দেখিতে পাইবে। মেঘের ছায়া মাত্রেই পরপ বর্ণ দেখা যায়, তাহার কারণ, আর কিছুই নহে। সহকারী বর্ণ প্রাকৃতিক নিয়মেই প্রকাশিত হয়, আমাদের চক্ষু তাহার চতুর্দশ অধ্যায়। ১৫৩ রূপ গ্রহণ করে মাত্র। এই প্রকার পীতবর্ণ যতক্ষণ পশ্চিমাকাশে প্রবল থাকিবে, ততক্ষণ আকাশের চারিদিকেই সহকারী পরপল বর্ণের ছায়া সকল দেখিতে পাওয়া যায়; কিন্তু যেই গােধূলি সময়ে আকাশে রক্তিবর্ণের বিকাশ হয়, অমনি সঙ্গে সঙ্গে সেই সমস্ত ছায়ার বা পরিবর্তিত হইয়া হরিদর্ন ধারণ করে। যেন কোন দেবরূপী চিত্রকর দিব্য তুলিকা লইয়া দৈবশক্তি দ্বারা আকাশস্থ সকল পরপল বর্ণ সরাইয়া লইয়া লােহিত বর্ণের সহকারী হরিৎ বর্ণে রঞ্জিত করিয়া দিলেন ! তুমি চিত্রকর, তুমি যদি লােহিত বর্ণের আকাশে পরপল বর্ণের ছায়া অঙ্কিত কর, তাহা নিতান্ত অস্বাভাবিক হইবে। চিত্রবিদ্যার নব্য শিক্ষার্থীগণ কৃষ্ণবর্ণের ছায়া অঙ্কিত করিয়া চিত্রিত সকল বস্তু পরিস্ফুট করিতে চেষ্টা করেন। কিন্তু স্বভাব দৃশ্য সকল উত্তমরূপ পৰ্যালােচনা করিয়া দেখিলেই বুঝিতে পারা যায় যে, স্বভাবে বিশুদ্ধ কৃষ্ণবর্ণ অথবা বিশুদ্ধ শ্বেতবর্ণ অল্পই দেখা যায়। নব্য শিক্ষার্থী যাহাকে কৃষ্ণবর্ণ মনে করিতেছেন, সহকারী বর্ণের হিসাব মত তাহাতে কোন বর্ণের বিকাশ হইতে পারে, তাহা মনে করিবামাত্র চক্ষুর ভ্রান্তি বােধ দূর হইয়া যায়, এবং পূর্বে যে বর্ণকে কৃষ্ণবর্ণ বলিয়া বােধ হইতেছিল, তাহাকেই সহকারী বঃ বলিয়া বুঝিতে পারিবেন। আলােক পূর্ণ স্থানে যে বর্ণ সজ্জিত করিবে, তন্নিকটবর্তি ছায়াযুক্ত স্থানে সেই বর্ণের সহকারী আভা দেখাইতে পারিলেই বর্ণের সামঞ্জস্য হইবে, এবং চিত্রখানিও চক্ষু তৃপ্তিকর হইতে পারিবে। অনেক চিত্রকর আছেন, কৃষ্ণবর্ণ আদৌ ব্যবহার করেন না। আধুনিক কালে বর্ণযুক্ত যে সকল ফটোগ্রাফ * প্রস্তুত হইতেছে, তাহাতেও বিশুদ্ধ কৃষ্ণ বর্ণের ব্যবহার নাই। আমরাও মনে করি, • * Tri-color process.

চবিদ্যা ' অবস্থা বিশেষে কৃষ্ণবর্ণ আদৌ ব্যবহার না করিয়াও সুন্দর চিত্র করা যায়। কিন্তু ঐ প্রকার করিতে হইলে বর্ণের হারমনি সম্পূর্ণ বজায় রাখিতে হইবে। নচেৎ চিত্র সকল ভাল দেখাইবে না। জলের বর্ণে চিত্র করিবার সময় বর্ণ সকলের বিশুদ্ধ রক্ষা করা একান্ত কর্তব্য। একটা বর্ণের তুলিকা উত্তমরূপে ধৌত করিয়া অন্য বর্ণ প্রয়ােগ করিবে। যদি দৈবাৎ ভ্রমবশতঃ কোনও বর্ণের বিকৃতি হইয়া যায়, তাহা প্যোলেট হইতে ধৌত করিয়া বিশুদ্ধ বর্ণ দ্বারাই চিত্র কা কর্তব্য। পঞ্চদশ অধ্যায়। তৈল মিশ্রিত বর্ণের চিত্রপ্রণালী এই পুস্তকে সম্যক প্রকার বর্ণনা করিতে গেলে গ্রন্থ কলেবর বহু বিস্তৃতির প্রয়ােজন। পৃথক পুস্তকে তৈল চিত্র প্রণালীর বর্ণনা করিবার ইচ্ছা আছে। এই পুস্তকে তৈল চিত্র প্রণালী অতি সংক্ষিপ্তভাবে লিখিত হইল। জলীয় বর্ণ অপেক্ষা তৈল মিশ্রিত বর্ণ অধিক কাল স্থায়ী। তাহার কাঙ্গণ এই যে,তৈল মিশ্রিত বর্ণের প্রধান উপাদান কোনও প্রকায় সুজন মিশ্রিত ভারূনিস। ঐ ভারনিস সহযােগে বর্ণ শুষ্ক হইলে, তাহা কঠিন হইয়া যায়, জলে ধুইলেও তাহার কিছুমাত্র বিকৃতি হয় না। জলীয় বৰ্ণ সকল যেমন সহজেই কাল প্রভাবে বিবর্ণ হইবার সম্ভাবনা, তৈল মিশ্রিত বর্ষ সেরূপ পরিবর্তিত হইবার কোনও আশঙ্কা নাই। পূর্বকালে চিত্রকরেরা পাতলা পাতলা মেহগনি কাষ্ঠ ফলকের উপর তৈল মিশ্রিত বর্ণ দ্বারা চিত্র করিতেন। বর্তমান কালেও ঐ প্রকার মেহগনি ফলক চিত্র করিবার উপযােগী করিয়া বিক্রয় হইয়া পঞ্চদশ অধ্যায়। থাকে। কিন্তু উহার মূল্য অধিক, একারণ তৎপরিবর্তে শণ (flax) দ্বারা প্রস্তুত ক্যাভাসের ব্যবহার সভ্য জগতের সর্বত্রই প্রচলিত হইয়াছে। ক্যানভ্যাসের উপর তৈল মিশ্রিত শ্বেত মৃত্তিকা দ্বারা প্রথমত একটা জমি’ (ground or priming) করিয়া, তাহা একটি কাষ্ঠ নির্মিত ফুেমের উপর আঁটিয়া লইতে হয়। এই প্রকার ফেমে অটিা ক্যানভাস চিত্রোপযােগী নানা আকারের কিনিতে পাওয়া যায়। উহাকে আরটিষ্ট ক্যাভ্যাস বলে। ঐ প্রকার একখানি ক্যানভ্যাস পূর্ববর্ণিত ইজেসের উপর বসাইয়া, কোনও একটি জলীয় ও বর্ণদ্বারা প্রথমতঃ ক্যানভ্যাসের উপর স্কেচ করিয়া লইবে। এই স্কেচ উত্তমরূপে শুষ্ক হইলে তাহার উপর তৈল মিশ্রিত বর্ণ সকল লাগাইতে হয়। বর্ণ নিৰ্মাতাগণ নানাপ্রকার দ্রব্য হইতে বর্ন সকল প্রস্তুত করিয়া থাকেন। কতকগুলি বর্ণ ধাতু হইতে, কতকগুলি, প্রস্তাদি হইতে, কতকগুলি বর্ণ মৃত্তিকা হইতে, কতকগুলি বৃক্ষাদি হইতে, এবং কতকগুলি বর্ণ নানাপ্রকার জীবদেহের উপাদান হইতে প্রাপ্ত হওয়া যায়। অধিকন্তু আজকাল আবার নানাপ্রকার রাসায়নিক কৌশলেও বিবিধ বর্ণের উৎপত্তি হইতেছে। সকল বর্ণের স্থায়িত্ব সমান নহে। পুরাতন চিত্রকরেরা যে সকল বর্ণ লইয়া চিত্র করিয়াছেন, আধূনিক কালে, সেই সকল চিত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরীক্ষা করিয়া স্থির হইয়াছে যে, ইটালীয় চিত্রকরেরা তাঁহাদের সময়ে চিত্র করিবার কারণ অধিক বর্ম পাইতেন না। কিন্তু তাহারা সেই অল্প সংখ্যক বর্ণ কয়টি লইয়া আপনারাই তৈল দ্বারা মাড়িয়া রং করিতেন। এখনকার মত টিউব- কল তখন হয় নাই—তথাপি তাহারা কি ক্ষমতা বলে চিরস্থায়ী চিত্র সকল করিতে পারিয়াছেন, তাহা ভাবিলে চমৎকৃত হইতে হয়। যাহা * জলীয় বর্ণ ক্যানভাসে লাগাইবার জন্য সাবান মিশ্রিত করিতে হয়।

চিত্রবিদ্যা।
হউক, এ অধ্যায়ে ঐ সকল প্রসঙ্গের বিস্তারিত আলোচনা করিবার
স্থানাভাব বলিয়াই আমরা তৈল চিত্র প্রণালীর নিতান্ত প্রয়ােজনীয়
কথাগুলি লিখিব।
তৈল চিত্রে নিম্নলিখিত বর্ণগুলি ব্যবহার করিতে পারা যায়।
লােহিত বর্ণ।
ভার্মিলন, কাৰ্মাইন, রােজ ম্যাডার, লাইট রেড়, ইণ্ডিয়ান রেড় ;
কোবাল্ট
।
ক্যাড়মিয় অরেঞ্জ, অরেঞ্জ ভার্মিলন ;
পীতবর্ণ ।
অরিওলীন, ক্যাডমিয় ইওলো, ইওলো ওকার, নেপলস্ ইওলাে,
র-সায়ানা; নিতান্ত আবশ্যক হইলে, অল্প পরিমাণে, ক্রোম্ ইওলো।
নীলবর্ণ।
অলটামেরিন, ফ্রেঞ্চ ফ্লু
সিয়া ,
সবুজ বর্ণ --পূর্বোক্ত কোনও প্রকার নীল ও পীতবর্ণ মিশ্রিত
করিলে নানাবিধ সবুজ বর্ণ হইতে পারে, তাহা ছাড়া ভিরিডিয়ান,
এমারাল্ড গ্রিণ, এবং টেরিভার্ট ও ব্যবহার করিতে হয়।
পরপল বর্ণ।
কারমাইন এবং অলটামেরি, কারমাইন এবং প্রুসিয়ান ব্লু অথবা
ভার্মিলন এবং নানাপ্রকার ব্লু মিশাইয়া কয়েক প্রকার পরপল বর্ণ করা
যায়। প্রথমতঃ নীলবর্ণে চিত্র করিয়া তাহা শুষ্ক হইয়া গেলে, তাহার
উপর রােজম্যাডার অথবা কারমাইন প্রয়ােগ করিলেও অতি সুন্দর
পরপল বর্ণ হইতে পারে। আজকাল রসায়ন শাস্ত্র বলে ও কতকগুলি
পরপল বর্ণ প্রস্তুত হইতেছে। ঐ সকল বর্ণ সাবধানে ব্যবহার করা
উচিত।' ঐ সকল রাসায়নিক বর্ণ কতদিন স্থায়ী হইবে, তাহা এখন
বলা যায় না।

পঞ্চদশ অধ্যায়। ১}} ব্রাউন বর্ণ। ভ্যান্ডাই ব্রাউন, র-অম্বার, বরন্ট, অমবার, শ্বেতবর্ণ। ফ্লেক্ হােয়াট, জিঙ্ক হােয়াইট। কৃষ্ণবর্ণ। আইভরি ব্লকি, ল্যাম্প-ব্লাক, ব্ল-ব্লাক। উপরে যে সকল বর্ণের নাম দেওয়া হইল, ঐ সকল বর্ণে চিত্র করিলে তাহা বহুকাল স্থায়ী হইবে। ক্যানভ্যাসের উপর জলীয় বর্ণের স্কেচ শুখাইয়া গেলে, তাহার উপর তৈল মিশ্রিত বা সকল লাগাইতে হইবে। জলীয় বর্ণ সকল যে প্রকার পাতলা করিয়া লাগাইতে হয়, তৈল চিত্রের বর্ণ সকল সে প্রকার পাতলা করিতে হয় না। টিউবের মধ্য হইতে যে প্রকার কাদার মত বা সকল পাওয়া যায়, ঐ অবস্থায় উহা প্যালেট-নাইফ, দ্বারা মিশাইয়া বিভিন্ন প্রকার টিন্ট করিয়া রাখিতে শিক্ষার্থীর মধ্যে অনেকেই কার্পেট দেখিয়াছেন। পাঠিকাদের মধ্যে অনেকেই হয়ত নানা বর্ণের পশম লইয়া কার্পেটের উপর সূচীদ্বারা কপি দেখিয়া কার্পেট-চিত্র করিয়া থাকেন। তৈল চিত্র প্রণালীর বর্ণগুলি অনেকটা সেই ধরণেই ক্যানভ্যাসের উপর লাগান হয়। চিত্রের যে স্থানে যে বর্ণাটি লাগাইবার ইচ্ছা করিবেন, তাহা প্যালেটের উপরই প্রস্তুত করিতে হইবে। প্যালেটের উপর সেই কর্ণ আবশ্যক মত মিশাইয়া হগুহেয়ার ব্ৰস দ্বারা ক্রমে ক্রমে ক্যানভাসে লাগাইয়া যাইবে। জলের বর্ণনা শুখাইলে পাশাপাশি দুই প্রকার বর্ণ দেওয়া যায় না, ও প্রকার করিলে দুইটি বর্ণ মিশিয়া ছবি নষ্ট হইতে পারে ; তৈল ১৫৮ চিত্রবিদ্যা। মিশ্রিত বর্ণ কাদার মত ব্যবহার হয় বলিয়া, শুষ্ক না হইলেও এক বর্ণের পার্শ্বে অপর বর্ণ সচ্ছন্দে দেওয়া যায়। এই প্রকারে ছবিতে যেখানে যে প্রকার ছায়া অথবা আলোকের প্রয়োজন, সেই সকল বর্ণ একদিনেই ক্যানভাসে লাগাইয়া, তাহা শুষ্ক করিতে হয়। রাখিয়া দিলে ২৪ ঘণ্টা মধ্যেই তৈলের বর্ণ শুষ্ক হইতে পারে। প্রথম দিন যে চিত্র হইল, তাহাকে প্রথমাবস্থা (First painting) বলে। এই ফাষ্ট-পেটিং শুষ্ক হইলে, তাহার উপর আবার চিত্র করিয়া যাহা করিতে হইবে, নিম্নে তাহা লিখিত হইল। চিত্রের দ্বিতীয় অবস্থা। (Second Painting ). গ্লেজিং (Glazing) -‘গ্লেজ’ শব্দের অর্থ পাতলা তৈলাক্ত বর্ণ। আজকাল অনেক চিত্রকর বলেন যে, পাতলা বর্ণ তৈল-চিত্রে না দেওয়াই ভাল। তঁাহারা বলেন যে, মােটা করিয়া কোন বর্ণ তৈলচিত্রে প্রয়ােগ করিলে, তাহা অনেক কাল পর্যন্ত সমান ভাবে থাকিতে পারে ; কিন্তু পাতলা বর্ণ অল্পকাল পরেই পরিবর্তিত হইয়া চিত্রখানির বিকৃতি হওয়া সম্ভব। যাহারা এই প্রকার পালা বর্ণ তৈল চিত্রে প্রয়ােগ করিতে চাহে না, তাহারা আরও বলেন যে, তৈল-চিত্র এক দিনেই সমাপ্ত করা উচিত। অর্থাৎ ক্যানভাসের যতটুকু অংশ (এক ইঞ্চি হউক, অথবা সমস্ত চিত্রখানি হউক,) একেবারেই মােটা বর্ণে অঙ্কিত করিতে পারা যায়, তাহাই করা উচিত। এই প্রকারে চিত্র করিতে পারিলে, তাহা বহুকালেও পরিবর্তিত না হইবার সম্ভাবনা। এই যুক্তির সমর্থনে তাহারা কতকগুলি আধূনিক চিত্রকরের চিত্রগুলির স্থায়িত্ব উদাহরণ স্বরূপ উল্লেখ করেন। অপর পক্ষে ইটালীয় প্রধান চিত্রকর গণের চিত্রগুলি দেখিলে বােধ হয় যে, তাহা একদিনে অথবা আংশিক ভাবে একেবারে সমাপ্ত পঞ্চদশ অধ্যায়। নহে। প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থা ক্রমে তাহাতে অনেক দিন ধরিয়া কাৰ্য্য হইয়াছে। তাহাতে আবশ্যক মত ঘন অথবা পাতলা বা উভয়ই প্রয়ােগ করিয়া, স্বভাবের শােভা সকল তামুকরণ করা হইয়াছে। ঐ সকল চিত্রের স্থায়িত্ব কম বলা যায় না। এই প্রকারে তৈল-চিত্র শিল্পে দুই প্রকার পদ্ধতি কথিত হয়। আবার, যে সকল চিত্রকর পাতলা বর্ণে চিত্র করিতে চাহেন না, ভঁহাদের প্রতি ব্যঙ্গচ্ছলে কেহ কেহ তাহাদের “মিড় এবং পারসীক” অর্থাৎ সাধারণ হইতে ভিন্ন বলিয়া থাকেন। যাহা হউক, এই পুস্তকে আমরা ইটালীয় পদ্ধতি মতই চিত্র প্রণালীর বর্ণনা করিলাম। ইটালীয় পদ্ধতি ক্রমে আমরা পূর্বাপরই চিত্র সকল অঙ্কিত করিয়া আসিতেছি। স্বচ্ছ বর্ণগুলিই গ্লেজ, দিবার জন্য ব্যবহার করিতে হয়। চিত্রের প্রথমাবস্থায় যে সকল ছায়া অঙ্কিত করা হইয়াছে, সেই ছায়া গুলি যদ্যপি গভীর করিতে হয়, তবে তাহার উপরই গ্লেজ দিতে হয়। আবশ্যক মত রং প্যালেটের উপর লইয়া তাহাতে অল্প পরিমাণ বিশুদ্ধ মসিনার তৈল * যােগ করিয়া প্যালেট নাইফ দ্বারা মিশ ইয়া পাতলা করিয়া লও। যে যে স্থানে এই প্রকার গ্লেজ দিবার প্রয়ােজন হইবে, পূর্বে তাহার উপর ভিজা স্পঞ্জ, অথবা ভিজা বস্ত্র দ্বারা মুছিয়া লইতে হয়। এই প্রকারে জল না দেওয়া হইলে পূর্ব দিবসীয় চিত্রে গ্লেজ ভালরূপ লাগে না; ছাড়া ছাড়া হয়। ছায়াযুক্ত স্থান গুলি অপেক্ষাকৃত গভীরতর করিতে হইলে গ্লেজ, দেওয়ার আবশ্যক হয়। লালবর্ণের উপর গ্লেজ দিবার আবশ্যক হইলে, কারমাইন, রােজ- ম্যাডার, অথবা ল্যাক-লেক্ বর্ণের সহিত আবশ্যক মত (ছায়া করিবার, জন্য) র-সায়ানা, বরন্ট, সায়ানা, অথবা ভ্যানডাইক ব্রাউন মিশাইবে ; স পােস্তদানার তৈল, মসিনার তৈল, এবং টারপিনু তৈল চিত্রকাশ্যে ব্যবহৃত হয়।

চিত্রবিদ্যা ? এবং তৈলদ্বারা পাতলা করিয়া হগ হেয়ার বস দ্বারা চিত্রে প্রয়োগ করিবে। গ্লেজিং বর্ণ সকল এরূপ ভাবে প্রয়ােগ করিতে হয় যে, ক্যানভাসের উপর হইতে ঝরিয়া না পড়ে। আলােকিত অংশেও গ্লেজবৰ্ণ না লাগে। পীতবর্ণের উপর গ্লেজ দিবার প্রয়ােজন হইলে, র-সায়ানা অরিও- লীন, অথবা ভ্যান্ডাই ব্রাউন ; নীলবর্ণের উপর গ্লেজ দিতে হইলে অলটামেরিন, ফেঞ্চ ব্ল, অথবা প্রসিয়ান রুর সহিত অল্প পরিমাণ -ব্লাক বর্ণ মিশাইলে প্লেজিং কাষের উপযােগী সুন্দর স্বচ্ছ বর্ণ হইতে পারে । সবুজ বর্ণের উপর গ্লেজ দিবার আবশ্যক হইলে, আইভরি ব্লক বর্ণের সহিত অলট্রামেরিন, র-অমবার মিশাইয়া গ্লেজ হইবে। পরপল্ বর্ণের উপর গ্লেজ, দিবার প্রয়ােজন হইলে, অলটামেরিন ক্রিস লেক এবং আইভরি ব্লাক মিশাইয়া গ্লেজ বা হইবে। স্কমব্লিং (Soumbling) ছায়া সকল গভীরতর করিবার জন্য গ্লেজ বর্ণ প্রয়ােগ করিতে হয়, আলোকিত অংশ পরিস্ফুট করিবার জন্য ঠিক উহার বিপরীত পন্থা অবলম্লন করিতে হইবে। কোনও প্রকার অস্বচ্ছ বর্ণ অল্প পরিমাণে আলােকিত অংশের উপর প্রয়ােগ করিলেসেই অংশের আলোেক আরও উজ্জ্বলতা প্রাপ্ত হয় ; ইহাকেই (Scumbling) কব্লিং বলে। এই কার্য্যের উপযােগী বর্ণ প্রস্তুত করিতে ফুে-হোয়াইট নামক শ্বেতবর্ণের সহিত অন্যান্য বর্ণ সকল মিশাইতে হয়। গ্লেজিং দিবার বর্ণ সকলে ফুেক-হােয়াইট, বর্ণ কোন মতেই মিশাইবে না; কারণ উক্ত বর্ণ মিশাইলে, সকল বর্ণেরই স্বচ্ছত্ব একেবারে নষ্ট হয়। স্বচ্ছ বর্ণগুলি গ্লেজিং কাৰ্যে প্রয়ােগ করিবে, এবং অস্বচ্ছ বদ্বারা : মল্লিং করিতে হইবে। এই প্রকারে চিত্রের সমাপ্তি করিতে পারিলেই ;

পঞ্চদশ অধ্যায়। চিত্রের দ্বিতীয় অবস্থা ও শেষ হইবে। এই second painting দ্বারাই চিত্র একপ্রকার ফিনিস হইবে। তৃতীয় অবস্থা। (Third painting). চিত্রের দ্বিতীয় অবস্থা সমাপ্ত করিয়া তাহা উত্তমরূপে শুষ্ক করিয়া লইতে হয়। গ্লেজ দেওয়া চিত্র শুখাইতে একটু বিলম্ব হয়; বিশেষতঃ অধিকাংশ লােহিত এবং পীতবর্ণ গুলি শুষ্ক হইতে তিন চারিদিন লাগে। যে পৰ্যন্ত ছবিখানি উত্তমরূপ শুষ্ক না হয়, তাবৎকাল উহার উপর কোনও কাৰ্য্য করিবে না। চিত্র শুষ্ক হইলে তাহার উপর Third painting আরম্ভ করিতে হইবে, তাহা আমরা নিম্নলিখিত ভাবে শ্রেণী বিভাগ করিলাম। (১) সহকারী বৰ্ণ সকল যথাস্থানে সজ্জিত হইয়াছে কি না, তাই এই সময়ে বিচার করিয়া দেখিবে। যেখানে সহকারী বর্ণের অভাব, সেই সেই স্থলে গ্লেজিং অথবা স্কমব্লিং দ্বারা পাতলা করিয়া সহকারী বর্ণের প্রয়ােগ করিবে। (২) চিত্রের ভ্রম সংশােধন কিছু করিবার আবশ্যক হইলে, প্রথমতঃ তুলিকা দ্বারা অল্প পরিমাণ বিশুদ্ধ টারপিন তৈল ভ্রমপূর্ণ স্থানে মাখাইবে। টারপিণ মাখাইবার কিছু পরেই চূরীক দ্বারা চঁচিলেই ক্যানভ্যাস হইতে বর্ণ উঠিয়া যাইবে। পরে সেই স্থলে আবার আবশ্যক মত চিত্র করিতে পারিবে। (৩) চিত্রের মধ্যে নানা পদার্থের যে সকল পার্শ্বরেখা থাকিবে, তাহা তৃতীয় অবস্থায় আবশ্যক মত পার্শ্বস্থিত বর্ণের সহিত মিলাইয়া দিতে হইবে। চিত্রস্থিত রেখা সকল পরিস্ফুট থাকিলে তাহা ভাল দেখায় না। ইহাকে ইংরাজীতে সনিং (Softning) বলে। (4) ইমপ্যাষ্টিং (Impasting)-ইমপ্যাষ্ট, অর্থে উচ্চবর্ণ। ২১ চিত্রবিষ্ঠা। উৎকৃষ্ট তৈল চিত্রগুলি নিকট হইতে ভাল দেখায় না। কিন্তু দূরে হইতে দেখিলে, তাহা চমৎকার দেখায়। সাধারণ চিত্র সকল হইতে লৈ চিত্রের পার্থক্য এই যে, তৈল চিত্রের বর্ণ গুলি স্থানে স্থানে ক্যানভাসের উপর উচা করিয়া দেওয়া হয়। যে স্থানে তীব্র আলােক দেখাইবার প্রয়ােজন, প্রায় সেই স্থলেই রং উচা করিয়া লাগান হয়। ইহাকেই ইমপ্যাষ্টিং বলে। উপরের বর্ণিত চারিটি উপায়ে চিত্রের তৃতীয়াবস্থা সমাপ্ত হইবে। ভার্ণিসিং। (Varnishing) তৈল-চিত্র সমাপ্ত হইলে, তাহার উপর একটা ভাবুণি দেওয়া আবশ্যক। পিচা-কোপাল-ভারণিস, অথবা পিচামাষ্টিক-ভার- ণি এই কাৰ্যে ব্যবহার করিতে হইবে। ভারণি করিবার পূর্বে চিত্রখানি আর্দ্র স্পঞ্জ দ্বারা উত্তমরূপে মুছিয়া ফেলিবে। পরে উহা তাল্প সময় রোদ্রে রাখিৰে । যে সময়ে চিত্রখানি ঈষৎ উত্তপ্ত হইবে, সেই সময়ে ভারণিস ব্রস দ্বারা ছবির উপর হইতে সমান ভাবে ভারণি মাখাইবে। ভারণিস দিবার পূর্বে রং সকল উত্তমরূপ শুষ্ক হওয়া প্রয়ােজন। কঁাচা বর্ণের উপর ভারণিস্ দিলে চিত্রখানি খারাপ হইবার সন্তান। সম্পূর্ণ।

বিজ্ঞাপন। আমিরা সর্বপ্রকার চিত্র প্রস্তুত করিয়া থাকি। যাহার যে প্রকার চিত্র আবশ্যক হইবে, আমরা অতি অল্প সময়ের মধ্যে তাহা প্রস্তুত করিয়া দিতে পারি। " 3 প্রতিমূর্তি।—তৈল বর্ণের প্রতিমূৰ্ত্তি ২৪ x২০ ইঞ্চি ৬০ টাকা। ৩৬x২৮ ইঞ্চি ১২০ টাকা। হাফ লেন্থ অর্থাৎ ৪০ x ৫২ ইঞ্চি ১৫০ টাকা। পুরা মাপের অর্থাৎ পুর চেহারা ৩০০ হইতে ৫০০ পর্যন্ত। ফটো-এলার্জমেন্ট।-এক বর্ণীয় ২৫ x ৩০ ইঞ্চি মূল্য ৩৫ টাকা। পুস্তকের ছবি।—যাহার কোনও প্রকার ফটো-এনগ্রেভিং,-লাইন এনগ্রেভিং, হাফটো ব্লক ইত্যাদির প্রয়ােজন হইবে, অথবা কোনও প্রকার আদর্শমূলক অথবা কল্পনাপ্রসূত চিত্রাদির প্রয়োজন হইবে, তিনি নিম্ন ঠিকানায় পত্র লিখিবেন, আমরা প্রতি উত্তরে মূল্যাদির বিবরণ পাঠাইব। আবশ্যকমত লিখিত, বর্ণনা হইতেও আমরা চিত্র করিয়া দিতে পারি । “ফটোগ্রাফী শিক্ষা”।-শ্রীআদীশ্বর ঘটক প্রণীত্ব। দ্বিতীয় পরি- বৰ্দ্ধিত সংস্করণ, প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড একত্রে বিলাতী বাবা ও স্বর্ণাক্ষরে ভূষিত । বাঙ্গালা ভাষায় ফটোগ্রাফী শিখিবার এমন পুস্তক আর নাই! মূল্য ২০ টাকা। “চিত্রবিদ্যা”।-বাঙ্গালা ভাষায় এই প্রথম এবং একমাত্র গ্রন্থ। অনেক চিত্র এবং পাঁচখানি হাফটোন চিত্র দ্বারা শোভিত। মূল্য ৩৭ টাকা। বিলাতী বঁধা ও স্বর্ণাক্ষরে ভূষিত। ঐ দুইখানি পুস্তক কলিকাতার সকল প্রধান পুস্তকালয়ে পাওয়া যায়। ইহা ছাড়া পর পৃষ্ঠায় লিখিত ঠিকানায় প্রাপ্ত।

পুস্তক পাইবার ঠিকানা।
ফটোগ্রাফিক ষ্টোর ২৫ নং সােয়ালাে লেন।
নবীন চন্দ্র দত্ত কোম্পানি, ধর্মতলা, কলিকাতা।
গ্রন্থকারের ঠিকানা, ৪ নং কালিঘাট তৃতীয় লেন ।
শ্রীগুরূদাস চট্টোপাধ্যায় ২০১ নং কর্ণওয়ালিস্ স্ত্রী।
শম্ভু চন্দ্র আঢ্য এবং কোং ওয়েলিংটন ষ্ট্রীট,।
অগ্রিম মূল্য না পাঠাইলে, ডাকে পুস্তক প্রেরিত হয় না।
এ, ঘটক এণ্ড, সনস্।
কালিঘাট, কলিকাতা।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Chitrabidya

Author
Ghatak,adishwar
Title
Chitrabidya
File name
Chitrabidya
Text
OCR done
Citation
1911
Published
2010/04/5
Publisher
N.a
Language
Sanskrit
Pages
196
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Drawing
Keywords
Chitrabidya
DLI number
511001
Barcode
4990010018190.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
D8TSjbpgcIk
Download PDF

Chitrabidya