Maju Public Library, Howrah

Maron-rahasya

Roy,nikhilnath · 2010/03/25

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

MA!!! PUB BHARP ## মরণ- হত্য Edi MAJU. HOWARH মরণ-হস্য। ।

No text on this page.

se
মৰণৰহস্য।
নিখিলনাথ রায় বি.এল।
প্রণীত।
কলিকাতা
১ নং কালি ট
ইন্টান্যাশনাল পলিশিং কোম্পানী হইতে
উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচাৰ্য কর্তৃক
প্রকাশিত।
১৯৭।
মূল্য • না মাত্র।
sle
3

এিা তােৰ বন্দ্যোপাধ্যায়।
মেটকাফ এ।
1 বললাম সেট কবিতা।
* •. . suits, ল ৯.৩০ + ০ + ----

.
গs -
উৎসর্গ।
মাহাবা মরণ রহস্য সমাকরূপে অবগত ইয়া,
লােকহিতে-মহিতে--দেশহি
আপনাদের
জীবন পরিচালিত করিতে ইচ্ছা করেন,
= + *** rm + ***শিশ ক' he * * * * * * * - r= ===y him দৰং ৰ
৪,২৭৭r=n+ val, ৮,

No text on this page.

রুটি
BE
ভুমিকা।
যৌবন ও বার্ধক্যের সন্ধিস্থলে উপস্থিত হইলে,
মনুষ্যমাত্রেরই মনে মরণের কথা উদিত হইয়া থাকে।
আমাদের ও সেই সন্ধিস্থল নিকট হইয়া আসিতেছে।
কাজেই মরণের কথা যে মধ্যে মধ্যে আমাদের মনে
উদিত হইবে, ইহা আশ্চর্যের বিষয় নহে। প্রকৃত
কথা, তাহাতেই মধ্যে মধ্যে চিত্ত আন্দোলিত হইতেছে,
বলিয়াই আমরা মরণ-রহস্যের আলােচনায় প্রবৃত্ত
হইয়াছি। আমাদের পুরুষ-পুরুষানুক্রমিক সংস্কার
ও শাস্ত্রবাক্যানুসারে আমরা তাহার সম্বন্ধে যাহা কিছু
জানিতে পারিয়াছি, এই ক্ষুদ্র পুস্তকে তাহাই দেখাইতে
চেষ্টা করিয়াছি। দার্শনিক যুক্তি বা তর্কের দ্বারা
আমরা মরণ-রহস্যকে জটিল করিয়া তুলিতে চেষ্টা
করি নাই। সহজ
কথায় কেবল সিদ্ধান্তগুলি
দেখাইবারই চেষ্টা করিয়াছি মাত্র।
তবে, সে গুলি
বুঝাইবার জন্য যে পরিমাণ যুক্তির প্রয়ােজন, তাহাই
অবলম্বন করিয়াছি।
মরণ-রহস্য সম্বন্ধে নানাদেশের
দার্শনিক পণ্ডিতেরা নানা ভাবে আলােচনা করিয়া-
E
BE

部
•
ছেন। আমরা কিন্তু আমাদের দেশের সংস্কার ও
শাস্ত্রের নির্দেশানুসারেই আপনাদিগকে চালিত করি-
মাছি। তাই এই ক্ষুদ্র পুস্তক হইতে সকলে
তাহারই একটি ক্ষীণ প্রতিধ্বনি শুনিতে পাইবেন।
আমরা আজ কাল মরণের ভয়ে কিছু অধিক পরিমাণে
অভিভূত হইয়া পড়িয়াছি; তজ্জন্য অনেক সময়ে
আপনাদের কর্তব্য পালন করিয়া উঠিতে পারিতেছি
। এই পুস্তকে মরণভয়কে উপেক্ষা করিয়া কর্তব্য
পালনের জন্য সকলকেই অনুরােধ করা হইয়াছে।
যদিও পরিণতবয়স্ক ব্যক্তিগণেরই ইহা পাঠ করিতে
ঔৎসুক্য জন্মিবে, তথাপি যাহাতে সকলেই ইহা
পড়িতে পারেন, সেইরূপ সহজ ভাবেই লিখিবার চেষ্টা
করা হইয়াছে। কেবল যে পরিণত বয়স্কগণেরই মনে
মরণের ভয় উদিত হয়, এমন নহে। মরণ কোন
সময়ে না কোন সময়ে সকলকেই ভয় দেখাইয়া থাকে ;
সুতরাং সকলেই ইহা পাঠ করিয়া, যাহাতে মরণের
ভয় উপেক্ষা করিতে পারেন, তাহারই জন্য বিশিষ্টপ
চেষ্টা করিয়াছি। আমরা সকলকেই ইহা একবার
পাঠ করিতে অনুরােধ করি। কিন্তু আমাদের
অনুরােধ রক্ষিত হইবে কি না, বলিতে পারি না।

##
—
কারণ, আজকাল আমাদের দেশে যেরূপ নানা
ভাবের স্রোত বহিতেছে, তাহাতে আমাদের অনুরোেধ
যে ভাসিয়া যাইবে, ইহাই মনে হইতেছে। যদি
বাস্তবিক তাহাই হয়, তাহা হইলে, ভর্তৃহরির সেই
অমর বাক্য স্মরণ করিয়া ক্ষান্ত রহিব।
“বােন্ধাররা মৎসরগ্রস্ত: প্রভবঃ স্ময়দূষিতাঃ।
অবােধােপহতাশ্চান্যে জীর্ণঙ্গে সুভাষিত।”
২রা আশ্বিন,
গ্রন্থকার ।
১৩১৭

No text on this page.

1920. HOWRAH.
বুদি
নৱণ-ৰহস্য।
তােমরা মরিতে ভয় পাও কেন? মরণের
কথা মনে হইলে, তােমাদের মনে আতঙ্ক
উপস্থিত হয়
কেন ? মৃত্যুর বিভীষিকায়
তােমরা মরণের পূর্বে মরিয়া যাও কেন?
আর তােমরাত মরিয়াই আছ, তবে আবার
বাঁচিবার সাধ কেন ? যাহাদের বাল্যে মৃত্যু,
যৌবনে মৃত্যু, বার্ধক্যে মৃত্যু, তাহাদের জীবন
কোথায় ? ভূমিষ্ঠ হইবামাত্র মৃত্যুর ছায়া
যাহাদিগকে ঘেরিয়া দাঁড়ায়, সূতিকাগৃহে যাহা-
দের ললাটে বিধাতা পুরুষ ‘অকা-মৃত্যু

টি
২
মরণ-রহস্য।
লিখিয়া রাখেন, যাহাদের পল্লীতে পল্লীতে
নগরে নগরে অনবরত মরণ-লীলা, তাহারা
আবার মরণকে ভয় করে, ইহা কি আশ্চর্যের
বিষয় নহে ? জন্মিবামাত্র যাহাদের দেহে
মরণের চিহ্ন প্রকাশ পায়, সমস্ত জীবন যাহারা
মরণের মধ্যে অবস্থিতি করে, মরণ যাহাদের
আমরণসঙ্গী, তাহারা মরিতে ভয় পায় কেন ?
তাই বলি, তােমরা মরিতে ভয় পাও কেন ?
দেখ মরণ জীবের ধৰ্ম্ম। “জাতস্য হি
ধ্রুবােমৃত্যু” একথা কি শুন নাই ? “জম্মিলে
মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে ?” একথা
কি মনে পড়ে না? যাহা জীবের ধৰ্ম্ম, তাহা
একদিন না একদিন প্রকাশ পাইবেই পাইবে;
তবে তােমরা তাহার জন্য এত ভীত হও
কেন ? অথবা তােমরা জীব নহ, শব। যদি
তােমরা প্রকৃত শবই হইয়া থাক, তবে ত
মরিয়াই আছ ; সুতরাং মরণের ভয় কেন?
জীবনের পূর্বে
যখন মরণ তােমাদিগকে

নঃ মরণ-রহস্য। - । আলিঙ্গন করিয়াছে, তখন তােমরা আবার তাহার জন্য ভয় পাও কেন ? জীবমাত্রেই মরণশীল। একদিন না একদিন সকলকেই মরিতে হইবে। কেহ আজ মরিবে, কাল মরিবে, কেহবা পরশ মরিবে। চির- দিন কেহই বাঁচিয়া থাকিবে না। বাঁচিবার ইচ্ছা জীব বা মানবমাত্রেরই হইয়া থাকে বটে, কিন্তু চিরদিন যে কেহই বাঁচিবে না, ইহাও তাহাদের স্মরণ রাখা উচিত। প্রত্যহ অসংখ্য জীব আমাদের চক্ষুর সমক্ষে মরণের পথে চলিয়া যাইতেছে, ইহা দেখিয়াও কি চিরদিন বাঁচিয়া থাকিবার জন্য লালায়িত হওয়া কৰ্ত্তব্য ? তাই বলি, যখন চিরদিন কেহই বাঁচিয়া থাকিবে না, একদিন না একদিন সকল কেই মরিতে হইবে, তখন মরিবার জন্য এত ভয় পাও কেন? বাস্তবিক তােমরা মরিতে ভয় পাইও না। মরণ স্বাভাবিক, বরং জীবনই অস্বাভাবিক E টি ৪ মরণ-রহস্য। বলিয়া বােধ হয়। জীবনের স্থিরতা সন্দেহময় ; কিন্তু মরণ নিশ্চয়ই যে এক সময়ে না এক সময়ে দেখা দিবে, তাহাতে অণুমাত্র সন্দেহ নাই। পদ্মপত্রের জলের ন্যায় জীবন সর্বদা টন্ টন্ করিতেছে। জল-বুদ্বুদ যেমন ক্ষণ- স্থায়ী, জীবের জীবন-বুদ্বুদও সেইরূপ। নিমিষে উঠিতেছে, আবার নিমিষে মিলাইতেছে। শিশুর হাসি, যুবার উদ্যম, বৃদ্ধের গাম্ভীৰ্য্য, এই আছে, এই নাই। আজ যাহাকে ও ও স্বচ্ছন্দ-চিত্ত দেখিতেছ, কাল হয়ত ৩২'. দেখিতে পাইবে না। কাল যে ব্যক্তি আশার মন্দিরে উজ্জ্বল বৰ্ত্তিকা জ্বালিয়া, নিজের অন্ত জগতের সহিত বহির্জগৎও আলােকময় করিতে- ছিল, অনুসন্ধান করিয়া দেখ, আজ হয়ত মরণের ঝটিকা তাহার সে বর্তিকা নিভাইয়া, তাহাকেও অন্য জগতে নিক্ষেপ করিয়াছে। মরণ আসিবেই আসিবে, জীবনও যাইবেই যাইবে, ইহাই জগতের নিয়ম। ------ এ নিয়ম মরণ-রহস্য। লঙ্ঘন করা, তােমার আমার কাহারও সাধ্যা- যত্ত নহে। নিয়মে জগৎ চলিতেছে, আমরাও নিয়মের অধীন। বিশ্বকৰ্ত্তা যে নিয়ম বাঁধিয়া দিয়াছেন, সে নিয়মে সকলকেই চলিতে হইবে। জীবন-মরণও সেই নিয়মে চলি- তবে ভাই, মরণের জন্য এত ভয় পাও কেন ? আমরাও বলিয়া আসিতেছি যে, মরণই জীবের ধর্ম এবং সকলকেই মরিতে হইবে। কিন্তু মরণ কি ? এবং মরেই বা কে ? ইহাও সঙ্গে সঙ্গে জানা উচিত। যিনি প্রকৃত মরণ- ব্যাপার বুঝিতে পারেন, তাঁহার আর কোন কালে মরণের ভয় থাকে না। তাই বলি, তােমরা কি একবার মরণ-রহস্যটি বুঝিতে চেষ্টা করিবে না? একদিন ভারতবর্ষে সকলেই এই মরণ-রহস্য বুঝিতে চেষ্টা করিতেন, তাই ভারতে মরণের ভয় ছিল না। প্রকৃত তত্ত্ব সকলে বুঝিতে সমর্থ হউন বা না হউন, মরণ-রহ। বুঝিবার জন্য অল্পবিস্তর চেষ্টা সকলেই করিতেন। তাই তঁাহারা মরণকে সেরূপ ভয় করিতেন না। তােমরা সে সব ভুলিয়া গিয়াছ, তাই সর্বদা মরণের ভয়ে তােমরা মরিয়া যাইতেছ। যদি প্রকৃত মরণ-রহস্য বুঝিতে পার, অন্ততঃ বুঝিবারও চেষ্টা কর, তাহা হইলে, তােমাদের এত ভয় থাকিবে না। তাই বলি, একবার মরণ-রহস্য বুঝিতে চেষ্টা কর, দেখিবে মরণের ভয় তােমাদের হৃদয় হইতে ধীরে ধীরে অন্তর্হিত হইবে । এক্ষণে মরণ-রহস্য কি বলিতেছি শুন, সঙ্গে সঙ্গে জীবন-রহস্যও বুঝিতে পারিবে। তােমরা পক্ষীর নীড় বাঁধা লক্ষ্য করিয়া থাকিবে। চঞ্চুপুটে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তৃণ সংগ্রহ করিয়া, কেমন তাহারা আপনাদের বাসােপ- যােগী বাসাটি নির্মাণ করে। কিছুকাল তাহার মধ্যে বাস করার পর সেটি জীর্ণ হইতে আরম্ভ হইলে, তাহাকে পরিত্যাগ করিয়া, অন্য স্থানে s ট 聯 মরণ-রহস্য। ৭ আবার বাসা বাঁধিতে প্রবৃত্ত হয়। সেইরূপ তুমি আমি এই সংসার-মহীরুহে আমাদের পূর্বজন্মার্জিত সংস্কার-চঞ্চু • দ্বারা জড়জগৎ হইতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা সংগ্রহ করিয়া, এই দেহ- রূপ নীড়টি বাঁধিয়া বসিয়া আছি। যখন এটি জীর্ণ হইতে আরম্ভ হইবে, তখন ইহাকে পরি- ত্যাগ করিয়া, আর একটি নীড় নির্মাণের চেষ্টা করিতে হইবে। এই জার্ণ নীড়টি পরিত্যাগ রূপ ব্যাপারের নামই মরণ, আর তাহাতে । অবস্থিতির নামই জীবন। এক্ষণে সংস্কার কাহাকে বলে শুন। আমরা জন্মজন্মান্তর ধরিয়া যাহা কিছু করি,সেই ক্রিয়া- গুলি শূন্যে বিলীন না হইয়া, আমাদের মধ্যে সূক্ষমাবস্থায় থাকে। তাহাদের সেই সূক্ষমাবস্থার নামই সংস্কার। সেগুলি সৰ্ব্বদা অনুভূত হয় “ইমমৌশৰসং ত্যক্ত। দেহং মন্দ করে। প্রষাতত বৈবুধং সদ্ম নীড়ােজ্জীন: খগাে যথা ।” যােগবশিষ্ট, স্থিতিক, ১মসর্গ)

E
মরণ-রহস্য।
বলিয়া, আবার তাহাদিগকে অদৃষ্ট বা অপূর্ব
বলে। এই অপূর্বের সহিত দেহেন্দ্রিয়ের
সম্বন্ধ ঘটিলে জীবন, আবার সে সম্বন্ধ ছিন্ন
হইলে মরণ। * সুতরাং তুমি আমি মরি
; তুমি আমি চিরকালই আছি ও থাকিব।
আমাদের অপূর্বের সহিত এক এক জন্মের
দেহেন্দ্রিয়ের যে মিলন হইয়াছিল, সেই অপূর্ব
মিলনটি ভাঙ্গিয়া যায়। মরিতে সেই দেহে-
ন্দ্রিয়ই মরে। কিন্তু মরিয়া তাহারা কোথায়
যায়? যাহা হইতে তাহাদের কণাংশ গৃহীত
হইয়াছিল, আবার তাহারা তাহাতেই মিলিয়া
যায়। সুতরাং বিচার করিয়া দেখিলে দেখিতে
পাইবে, সংসারে মিলন ও বিচ্ছেদ বা সংযােগ
ও বিয়ােগ ভিন্ন আর কিছুই নাই। যখন
আমাদের সহিত জড়জগতের মিলন হয়,
তখনই আমরা তাহার জীবন নামকরণ করিয়া
“অপূৰ্ব্বং দেহেন্দ্রিয়াদিসংঘাতবিশেষে
সংযােগশ্চ বিয়ােগ।”
BE

নঃ
মরণ-রহ।
* *
থাকি। আবার যখন তাহার সহিত আমাদের
বিচ্ছেদ ঘটে, তখনই আমরা তাহাকে মরণ
বলিয়া অভিহিত করি। সাধারণতঃ আমরা
যাহাকে মরণ বলি, তাহা জড়জগতের স্থূলাবস্থার
সহিত আমাদের
আমাদের বিচ্ছেদমাত্র ।
কিন্তু
জড়জগতের সহিত একেবারে সম্বন্ধ ঘুচাইতে
হইলে মহামরণের আবশ্যক। দার্শনিকের
তাহাকেই মােক্ষ বলিয়া থাকেন। যে মরণে
আমাদের সহিত জড়জগতের কোনই সম্বন্ধ
থাকে না, তাহাই মােক্ষ। মােক্ষের কথায়
আমাদের কাজ নাই, আমরা মরণের কথাতেই
মনােনিবেশ করিতেছি। কারণ, আমরা
তাহারই বিভীষিকায় সর্বদা মরিয়া যাইতেছি।
মরণ ও জীবনের কথা ত পূর্বে বলিয়াছি,
আবার বলি শুন। মরণ বিভীষিকার বস্তু
“ন পৃথ্যাদি মহাভূতগণা ন চ জগৎক্ৰমাঃ ।
মৃতানাং সন্তি তত্রাপি তথাপপ্যষাং জগদ্মা।”
(যযা, ৰা, মুমু ব্যবহারকণ য় স )
E

fE ১০ মরণ-রহস্য। নহে। জীবন ও মরণ অবস্থার পরিবর্তন মাত্র। এক অবস্থা হইতে আর এক অবস্থার পরিণতি ভিন্ন আর কিছুই নহে। এই অনন্ত পরি- বৰ্ত্তনের রাজ্যে জীবন ও মরণ এক একটি পরিবর্তনের অবস্থা মাত্র। সংসার পরিবর্তন- শীল ; সুতরাং সংসারের প্রতি বস্তু ও প্রতি ক্রিয়ার মধ্যে যে পরিবর্তনের স্রোত প্রবাহিত হইবে, তাহাতে কি সন্দেহ থাকিতে পারে ? অনন্ত বিশ্বের যেদিকে চাহিবে, সেই দিকেই দেখিবে পরিবর্তন। ভূমিতে বীজ পড়িল, বৃক্ষ হইল, বৃক্ষের ফুল হইল, আবার তাহা ফলে পরিণত হইল, সেই ফলমধ্যস্থ বীজ আবার ভূমিতে পড়িয়া বৃক্ষের আকার ধারণ করিল। মানুষ শিশু ছিল, যুবা হইল, আবার কিছুকাল পরে বৃদ্ধ হইয়া উঠিল। দিন আসিল, আবার রাত্রি হইল। গ্রীষ্ম গেল, বর্ষা আসিল, তাহার পর শরৎ, হেমন্ত দেখা দিল, ক্রমে শীত ও বসন্তের সঞ্চার হইল। B #E মরণঃরহস্য। সুতরাং সংসারের প্রত্যেক বস্তুতে ও ক্রিয়াতে পরিবর্তন ভিন্ন আর কি কিছু দেখিতে পাও? তুমি যখন সংসারের জীব, তখন তোমার জীব- বস্থার যে পরিবর্তন ঘটিবে, তাহা কি বুঝিতে পারিতেছ না ? তুমি যেমন শিশু ছিলে, যুবা হইয়াছ, আবার বৃদ্ধ হইবে। তেমনি আজ যে দেহ লইয়া তুমি সাজিয়া বেড়াইতেছ, এ দেহটির পরিবর্তন করিয়া, আবার তােমাকে আর একটি দেহের সাজ পরিতে হইবে । যে দেহকে এক্ষণে সৌন্দর্যের আধার বিবেচনা করিয়া, তুমি রূপােম্মদে মত্ত হইতেছ, দুদিন পরে তাহা জীর্ণ বাসের স্যায় হইয়া উঠিবে। তখন তােমাকে সেই জীর্ণবাস পরিত্যাগ করিয়া, আবার নববস্ত্র পরিধানের জন্য ব্যগ্র হইতে “দেহিনােহস্মিন্ যথা দেহে কৌমারং যৌবনং জরা। তথা দেহান্তর প্রাপ্তিধীরত্র ন মুহতি ॥” গতা। - BE মরণ-রহস্য। হইবে । তবে তুমি যে চিরদিনই আছ ও থাকিবে, ইহাই সর্বদা স্মরণ রাখিবে। সুতরাং তুমি'যখন আছ ও থাকিবে, তখন তােমার যে মরণ নাই, ইহা অবশ্য বুঝিতে পারিতেছ। তবে ভাই, মরণের জন্য এত ভয় পাও কেন? পক্ষীর ভগ্ন নীড়ের ন্যায়, ছিন্ন ভিন্ন জীর্ণ বস্ত্রের ন্যায়, একদিন তােমার এই দেহটির নাশ হইবে মাত্র, তােমার নাশ কখনও হইতে পারে না। তুমি কত বার আসিয়াছ, কত বার গিয়াছ, আবার আসিয়াছ, আবার যাইবে ও আসিবে। এই এই আসা যাওয়া তােমাকে বহুবার করিতে হইবে। তােমার জন্মমরণ আসা যাওয়া ভিন্ন আর কিছুই নহে। . “বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায় নবানি গৃতি নহেপরাণি। তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণ- ন্যানি সংযাতি নবানি দেহী ।* গীতা। #B

de
E
মরণ-রহস্য।
তুমি যদি এক স্থান হইতে অন্য স্থানে যাও,
তাহা হইলে কি তােমার নাশ হইল বলিতে
হইবে ? না তুমি তাহাই মনে করিয়া থাক ?
সেইরূপ যদি কিছু কাল তুমি এ জগৎ হইতে
অন্য জগতে চলিয়া যাও, তাহা হইলে, কে
বলিবে যে তােমার নাশ হইল ? বাস্তবিক
তােমার নাশ হয় না; মরণ তােমাকে নষ্ট
করিতে পারে না। মরণ তােমাকে কিছু
কালের জন্য এ জগৎ হইতে অন্য জগতে লইয়া
যায় মাত্র। সে জগৎও এইরূপ সুখদুঃখময়।
তথায় কিছুদিন অবস্থানের পর আবার তুমি
এখানে আসিবে। সে কথা পরে বলিব।
সুতরাং তুমি বুঝিতে পারিতেছ যে, তােমার
নাশ নাই, কাজেই তােমার মরণ নাই।
ভাই, মরণের জন্য এত ভয় পাও কেন? তুমি
যখন চিরদিনই থাকিবে, কিছুতেই যখন তােমার
বিনাশ নাই, তখন তােমার মরণের জন্য ভীত
হওয়া উচিত নহে। অস্ত্র তােমাকে কাটিতে

ঃ
১৪
মরণ-রহস্য।
পারে না, আগুন তােমাকে পােড়াইতে পারে
, জল তােমাকে পচাইতে পারে না, বায়ু
তােমাকে শুকাইতে পারে না, তবে তুমি ভাই,
মরিবে কি প্রকারে ? * অস্ত্র কাহাকে কাটিয়া
থাকে ? তােমাকে নহে, তােমার দেহকে।
আগুন কাহাকে পােড়াইয়া থাকে? তােমাকে
নহে, তােমার দেহকে। জল কাহাকে পচাইয়া
থাকে ? তােমাকে নহে, তােমার দেহকে।
বায়ু কাহাকে শুকাইয়া থাকে ?
থাকে ? তােমাকে
নহে তােমার দেহকে। মরিতে তােমার দেহটাই
মরে, তুমি অজর অমর হইয়া চিরদিনই
বিরাজ করিবে। তােমার একটি দেহ যাইবে,
* “নৈনং ছিদন্তি শাণি নৈনং দহতি পাবক।
ন চৈনং ক্লেদয়ন্ত্যাপাে ন শােয়তি মারুতঃ।
অচ্ছেদ্যেহুমদাহােহমক্লেগ্নোংশােয্য এব চ।
নিত্যঃ সর্বগতঃ স্থানুরচলােহরং সনাতন।
অব্যক্তোমচিত্যোৎমবিকাৰ্য্যেহয়মুচ্যতে।”
E

চি ঃ মরণ-রহস্য। আর একটি হইবে। আবার সেটি যাইবে, আর একটি হইবে। এইরূপ রঙ্গমঞ্চের নটের ন্যায় তােমাকে অনেকবার বেশ পরিবর্তন করিতে হইবে। কত বার তুমি কত সাজে আসিয়াছ, আবার নানা সাজে আসিবে। তবে ভাই, এই সামান্য বেশপরিবর্তনের জন্য এত চিন্তা—এত ভয় কেন ? নূতন নূতন পরিচ্ছদ পরিতে যেমন তােমার ইচ্ছা হয়, তেমনই নব কলেবরের জন্য তােমার কি সাধ হয় না ? ভাবিয়া দেখ ভাই, পুরাতন ছাড়িয়া যখন তােমাকে নূতন লইতেই হইবে, তখন সেই নূতনপ্রাপ্তির দিকে মন দিলে কি ভাল হয় না? তাহা হইলে দেখিবে, মরণের ভয় তােমাকে ছাড়িয়া দূরে পলায়ন করিয়াছে। আমরা ত অনেকবার বলিয়াছি যে, তােমার মরণ হয় না,-মরিতে তােমার দেহ- এক্ষণে তুমি কে, একবার বুঝিয়া দেখিতে চেষ্টা করা কি উচিত নহে? আমরা টাই মরে। E

৪টি
মরণ-রহস্য।
৫
বলি, তাহা অবশ্যই উচিত। তােমার ‘তুমিত্ব’
বুঝিতে পারিলে তােমার আর মরণের ভয়
থাকিবে না। এক্ষণে তুমি কে তাহা
সংক্ষেপে বলিতেছি শুন। তুমি আত্মা নামে
একটি বস্তুর কথা হয়ত শুনিয়া থাকিবে।
সেই আত্মা কিরূপ জান ? তাহা অজর, অমর,
নির্বিকার ও সনাতন। তাহা জ্ঞানময় ও
চৈতন্যস্বরূপ। তুমি আমি সেই আত্মা ভিন্ন
আর কিছুই নহি। তুমি হয়ত যে করিতে
পার যে, তােমাকে আমাকে বুঝাতে, তােমার
আমার দেহটাই বুঝাইয়া থাকে। এরূপ
ধারণা যে কেবল তােমার আমার আছে, তাহা
নহে; সাধারণ মানুষমাত্রেরই এইরূপ ধারণা।
কিন্তু তুমি যে তােমার দেহ নহ, ইহা পূর্বে
অনেকবার বলা হইয়াছে এবং দেহ হইতে
তুমি যে পৃথক বস্তু, তাহাও স্মরণ রাখার জন্য
বারংবার বলিয়াছি। দেহকে আত্মজ্ঞান করা,
মানুষমাত্রেরই ধারণা হয় বটে, কিন্তু যাঁহাদের
##

টি
মরণ-রহস্য।
১৭
কিছুমাত্র অন্তর্দষ্টি আছে, তাহারা সামান্য
চিন্তার দ্বারা আপনাদিগকে দেহ হইতে পৃথক
মনে করিতে পারেন। তােমার আমার বিন্দু-
মাত্র অন্তর্দষ্টি না থাকিলেও যদি তুমি আমি
আপনাকে বুঝিতে চেষ্টা করি, তাহা হইলে,
দেহ হইতে তুমি আমি যে পৃথক, ইহার সামান্য
জ্ঞানও তােমার আমার মধ্যে একেবারে যে উদয়
হয় না এমন নহে। যদিও তােমার আমার সহিত
আমাদের দেহটির এরূপ ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ঘটি-
য়াছে, যে সেটি আমাদিগকে আত্মসাৎ করিয়া,
আপনাকে আমাদের নামে পরিচয় দিতেছে,
তথাপি আমরা যে তাহাকে আমাদের হইতে
পৃথক্ বলিয়া একেবারে বুঝিতে পারি না,
এরূপ নহে।
প্রথমতঃ ভাবিয়া দেখ, আমরা আমাদের
দেহ ও ইন্দ্রিয় • প্রভৃতিকে আমাদের দেহ ও
ইন্দ্রিয় প্রভৃতি বলিয়াই অভিহিত করিয়া
আমার শরীর, আমার হস্ত, আমার

#E
E
১৮
মরণ-রহস্য।
AA AA
পদ, তােমার চক্ষু, তােমার কর্ণ, তােমার মন,
ইহাইত আমাদের সাধারণ কথা। সুতরাং
আমার শরীর বা তােমার মন হইলে, শরীর
ও আমি যে পৃথক্ বস্তু, ইহাত অনায়াসে বুঝা
যায়। সেইরূপ মন ও তুমি যে পৃথক্‌, তাহাও
বুঝা যাইতেছে। এই সাধারণ কথা হইতে যদি
আমরা একটু সামান্য চিন্তা করিয়া দেখি, তাহা
হইলে, দেহ মন প্রভৃতি হইতে আমরা যে স্বতন্ত্র
বস্তু, তাহাও অনায়াসে বুঝিতে পারি। তােমার
আমার প্রকৃত অস্তিত্ব অনুভবে না আসিলেও,
তুমি আমি যে দেহ ও মন প্রভৃতি হইতে
স্বতন্ত্র, এরূপ একটু সামান্য জ্ঞানও আমাদের
মধ্যে প্রকাশ পায়। তুমি আমি কে? এই
বিষয় লইয়া জগতে বহুকাল হইতে বহুবিধ
তর্কবিতর্ক চলিয়া আসিতেছে। একেত
আমাদের দেহটি আমাদিগকে আত্মসাৎ করিয়া,
আপনাকে আমাদের নামে পরিচয় দিতেছে ;
তাহার উপর কোন কোন মতে তাহাই প্রকৃত
8E

মরণ-রহস্য। বলিয়া প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করায়, সাধারণ লােকে নিজের অস্তিত্ব সম্বন্ধে মহা গণ্ডগােলে পড়িয়া থাকে। আমাদের দেশেও এইরূপ মতের অভাব ছিল না। আমরা চার্বাক- প্রভৃতির মতের কথাই বলিতেছি। যাহারা দেহটাকে তুমি আমি বা আত্মা বলিয়া অভিহিত করিয়া থাকেন, তঁাহারা বলেন যে, তুমি আমি কি, একবার ভাবিয়া দেখা যাউক। একমাত্র চৈতন্য ব্যতীত তােমার আমার ত অন্য পরিচয় নাই ? সেই চৈতন্য এই দেহ হইতেই জন্মে। দেহটি কি, তাহা জানা আছে ত ? দেহ ভূতসমূহের সমষ্টি- ব্যতীত আর কিছুই নহে। ভূতগণ অচেতন হইলেও যখন তাহারা মিলিত হইয়া, দেহরূপে পরিণত হয়, তখনই তাহারা চৈতন্যরূপ একটি শক্তি উৎপন্ন করে। যেমন গুড়, তণ্ডুল প্রভৃতি পদার্থ প্রত্যেকে মাদক না হইলেও তাহারা মিলিত হইয়া, যখন সুরায় পরিণত হয়, তখন E

মরণ-রহস্য।
যেমন মাদকতা শক্তির আবির্ভাব হয়, সেইরূপ
ভূতসমূহের সংমিলনজাত দেহ হইতেই চৈতন্যের
উৎপত্তি হইয়া থাকে। আমি
স্কুল,
আমি কৃশ
ইত্যাদি লৌকিক ব্যবহারে দেহকেই আমি
বুঝাইয়া থাকে। আমার দেহ ইত্যাদি কথা
আরােপিত প্রয়ােগ মাত্র। সুতরাং ভস্মীভূত
দেহের যখন আর ফিরিয়া আসার সম্ভাবনা নাই,
তখন যতদিন বাঁচিয়া থাকিবে, ততদিন সুখেই
কাটাইয়া যাও।
“অত্র চত্বারি ভূতানি ভূমিবাৰ্য্যনলানিলা।
চতুর্ভঃ খলু ভূতেভ্যশ্চৈতন্যমুপজায়তে।
কিম্বাদিভ্য সমেতভ্যো দ্রবেভ্যো মশক্তিবৎ।
অহং স্কুল: কৃশােহশ্মীতি সামানাধিকরণ্যতা।
দেহঃ হৌল্যাদিােেগাচ্চ স এবাত্মা ন চাপর।
মম দেহােহয়মিত্যুক্তি সম্ভবেদৌপচারিকী।
যাবজ্জীবেৎ সুখং জীবেদৃণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ।
ভস্মীভূত দেহস্য পুনরাগমনং কুতঃ।”
চার্বাক।
চার্বাক দর্শনের মতে ভূমি, বারি, অনল, অনিল
এই চারিটি মাত্র ভূত।

রুটি
.
মরণ-রহস্য।
২১
?
এরূপ কথা তুমি আমি বিশ্বাস করিতে
পারি কি? তুমি আমি আমাদের এই নশ্বর
দেহটা হইতে পৃথক্‌ নহি, একথা নিমেষের জন্য
মনে করিতে পারি কি? আমরা পূৰ্বে বলিয়াছি,
যদি তুমি আমি একটু সামান্য মাত্রও চিন্তা
করিয়া দেখি, তাহা হইলে, অনায়াসে বুঝিতে
পারি যে, তুমি আমি এই সামান্য জড় দেহ হইতে
পৃথক। অনন্ত আকাশের ন্যায় যে চৈতন্য
এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের পরতে পরতে ব্যাপিয়া
রহিয়াছে, তুমি আমি সেই অখণ্ড চৈতন্যেরই
অংশ। তাহাই জ্ঞানরূপে সত্তারূপে চির
বিদ্যমান। তাই তুমি আমি চিরদিনই আছি,
এবং তােমার আমার সেই জ্ঞান চিরদিনই
রহিয়াছে। জড় জগতের বা জড় দেহের
সহিত সেই অখণ্ড চৈতন্যের বা তােমার আমার
কিছুমাত্র ঐক্য নাই। তােমাতে আমাতে
যে বিচিত্রতা আছে, জড় দেহে তাহা থাকা
সম্ভবপর নহে। তােমাতে আমাতে যে না-
ঃ

মরণ-রহস্য।
লােকের বিকাশ হইতেছে, জড়দেহে তাহা
কিরূপে ফুটিবে ? যাহারা বলে যে তুমি স্কুল,
আমি কৃশ ইত্যাদি প্রয়ােগে দেহকেই তুমি
আমি বুঝায় এবং আমার দেহ ইত্যাদি
কথা আরােপিত প্রয়ােগ মাত্র,
তাহারা কি
ভ্রান্ত নহে ? তুমি আমি বাস্তবিকই দেহ হইতে
পৃথক্ বলিয়াই এবং সেইরূপ জ্ঞান তােমার
আমার মধ্যে উদয় হয় বলিয়াই, তােমার দেহ,
আমার দেহ বলিয়া, আমরা প্রকাশ করিয়া
থাকি। ইহা কদাচ আরােপিত কথা নহে,
বরঞ্চ আমাদের দেহের সহিত আমাদের সম্বন্ধ
অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হইয়া পড়ায়, আমরা দেহটাকেই
তুমি আমি মনে করিয়া, আমি স্থূল, তুমি কৃশ
ইত্যাদি আরােপিত কথার প্রয়ােগ করিয়া
দেহের সহিত আমাদের ঘনিষ্ঠ
থাকি। *
• “দেহাদিব্যতিরিক্তেহসৌ বৈচিত্র্যাৎ ।
(সাংখ্য সূত্র, ৩ঠ অধ্যায়। সূত্র)
দেহাভােপক্ষে বাল্যযৌবনবাৰ্ধকদেহভেদাদনেকাত্ম
E

ঃ
মরণ-রহস্য।
=
সম্বন্ধ ঘটায় যত গােলযােগ বাধিয়াছে। সেই
জন্য বলিতেছি যে আপনাকে জানিতে চেষ্টা
প্রসঙ্গঃ। মৃতে দেহনাশাৎ কদাপি জন্মান্তরবৈচিত্রা
নুপপত্তিঃ। তিশ্চ‘অপাণিপাদো জবনাে গৃহীতা
পত্যচক্ষুঃ স শৃণোত্যকর্ণ। স বেত্তি সৰ্ব্বং ন হি
তমারগ্রং পুরুষং পুরাণম্ ॥”
হেত্বন্তরমাহ।
( অনিকটকৃত বৃত্তি)
ষষ্ঠীব্যপদেশাদপি।
( সাঃ, ধূ, ৬,,)
মম দেহ ইতি জ্ঞানমস্তি ভেদে চ ষষ্ঠী স্মৰ্যতে।
স্থূলােহহমিতি সামানাধিকরণ্যজ্ঞানমন্তীতিচেন্ন। দেহে
প্রকৃত্যুপভােগাৎ তন্নিমিত্তোহয়ং সৌণঃ প্রত্যয়।
শিলাপুত্রস্ত শরীরমিত্যভেদেহপি ষষ্ঠীতের্ন ভােদ
ইত্যাহ।
(বৃত্তি।
ন শিলাপুত্রবদ্ধৰ্মিগ্রাহকমানবাধা।
( সা. , , ,
ন। তত্র প্রত্যক্ষেণৈবাভেদপ্রতীতেঃ ষষ্ঠী বাধিতেতি
স গৌণঃ প্রয়ােগঃ। মুখ্যসম্ভবাৎ গৌণােহ, নাস্তীতি।”
(বত্তি)
BE
#

E २४ মরণ-রহস্য। কর ; তাহা হইলে, দেহটাকেও বুঝিতে পারিবে। আপনাকে ও দেহকে বুঝিতে পারিলে, মরণের ভয় কোন দিন তােমাকে আমাকে অভিভূত করিতে পারিবে না। দেহ জড়, ভূতসমূহ হইতে যাহার উৎপত্তি, তাহা হইতে চৈতন্যের উদ্ভব, একথা কি বিশ্বাসযােগ্য হইতে পারে ? তাহা যদি হইত, তাহা হইলে, মৃত দেহে প্রাণচেষ্টা, চৈতন্য, স্মৃতি প্রভৃতির কোন চিহ্ন দেখা যায় না কেন ? জীবিতেরও যে দেহ, মৃতেরও সেই দেহ; কিন্তু জীবিতের যে সমস্ত লক্ষণ, মৃতদেহে তাহা দেখিতে পাও কি ? সেইরূপ প্রাণচেষ্টা, সেইরূপ চৈতন্য,সেইরূপ স্মৃতি, মৃত- দেহে কেহ কখন দেখিয়াছে কি ? তবে চৈতন্য দেহের ধর্ম কিরূপে বলিবে ? বাহ্যবস্তুসমূহ চৈতন্য বা জ্ঞান দ্বারা অনুভব করা যায়। সমস্ত বস্তু কোথা হইতে উৎপন্ন হয় ? তাহারা ভূতসমূহের সমষ্টি নহে কি? চৈতন্য ভূত- #ঃ BE

部
মরণ-রহস্য।
সমূহ হইতে উৎপন্ন হইলে, আবার সেই ভূত
সমূহকে কি প্রকারে অনুভব করাইবে ? অগ্নি
উষ্ণ বটে, কিন্তু সে কি আপনাকে দগ্ধ করিতে
পারে ? সেইরূপ ভূতসমূহ হইতে জাত চৈতন্য
কিরূপে ভূতসমূহকে প্রকাশ করিবে বা
অনুভব করাইবে ? নট যেরূপ শিক্ষিত হউক
কেন, সে কখনও আপনার স্কন্ধে আরাে-
হণ করিতে পারে না। সুতরাং চৈতন্য, অমু-
ভব বা উপলব্ধিকে ভূতসমূহ হইতে পৃথক
বলিতেই হইবে। আত্মা সেই উপলব্ধি
স্বরূপ এবং তুমি আমি সেই আত্মা ভিন্ন
আর কিছুই নহি। যে বস্তুটি একবার দেখিয়া-
ছিলাম, তাহা আবার দেখিলে, এইরূপ জ্ঞান
হইয়া থাকে যে, আমি উহা দেখিয়াছিলাম।
সুতরাং একই আমি সকল সময়েই বস্তুর
উপলব্ধি করিয়া থাকি এবং আত্মা বা আমিই
সেই উপলব্ধিস্বরূপ। সেই উপলব্ধি
“ব্যতিরেকস্তম্ভাবাভাবিহ্বায়তুপলব্ধিবৎ।
(বেদান্তদর্শন, আ অধ্যায় ৩র পাদ ৫৪ পুত্র।
BE
E

## মরণ-রহস্য। স্বরূপ আমিই চৈতন্যময় এবং সেই বিশ্বব্যাপী অখণ্ড চৈতন্যের অংশ। যেমন অসীম ন হেতদস্তি যদুক্তমব্যতিরেকে দেহাদাত্মন ইতি ব্যতিরেক এবাহ দেহাবিতুমহতি। তদ্ভাবাভাবি- ত্বং। যদি হি দেহভাবে ভাবাৎ দেহধৰ্ম্মমাত্মধৰ্ম্মাণাং মতে ততাে দেহভাবেপ্যভাবাদতদ্ধৰ্ম্মত্বমেষাং কিং ন মতে। দেহধৰ্মবৈলক্ষণ্যাৎ। যে হি দেহধৰ্ম্মা রূপায়ন্তে বাবদ্দেহং ভবন্তু প্রাণচেষ্টাদয়স্তু সত্যপি দেহে মৃতাবস্থায়াং ন ভবন্তি। দেহধর্মাশ্চ রূপাদয়ঃ পরৈরপুপলভ্যন্তে স্বাত্মধৰ্মাশ্চৈতন্যস্মৃত্যাদয়। অপি চ সতি তাবদ্দেহে জীবদবস্থায়ামেং ভাবঃ শক্যতে নিশ্চেতুং নত্বসত্যভাবঃ। পতিতেহপি কদাচিদস্মিন দেহে দেহান্তরসঞ্চারেণাত্মধৰ্ম্মা অনুবর্তের। সংশয়- মাত্রেণাপি পরপক্ষ প্রতিষিধ্যতে। কিনাত্মক পুনরিদং চৈতন্যং মন্ততে যস্য ভূতেভ্য উৎপত্তিমিচ্ছ- ভীতি পরঃ পৰ্যনুযােক্তব্যঃ। নহি ভূতচতুষ্টয়ব্যতি রেকেণ লােকায়তিকাঃ কিঞ্চিৎ তত্নং প্রতিযন্তি। যদ ভবনং ভূতভৌতিকানাং তচৈতন্যমিতি চেৎ। তত্তৰ্হি বিষয়াৎ তেষাং ন তদ্ধৰ্ম্মমবীত স্বাত্মনি BE E মরণ:রহস্য। २१ আকাশ ঘটমধ্যে প্রবেশ করিয়া, আপনাকে সীমাবদ্ধ করিয়া ফেলে, সেইরূপ সেই অখণ্ড চৈতন্য তােমার আমার জড়াংশে আবদ্ধ হইয়া, তােমাকে আমাকে তাহা হইতে পৃথক্ বলিয়া বােধ করাইতেছে। ফলতঃ তুমি আমি সেই অখণ্ড চৈতন্য হইতে অভেদ, কদাচ পৃথক নহি। সেই তুমি আমি কি নশ্বর জড়দেহে পরিণত হইতে পারি ? অনন্ত চৈতন্যে ক্রিয়াবিরােধাৎ। ন হগ্নিরুষ্ণঃ সন্ স্বাত্মানং দহতি। ন হি নটঃ শিক্ষিতঃ সন্ স্বস্কন্ধমধিরােক্ষ্যতি। ন হি ভূতভভৗতিকধৰ্ম্মেণ সতা চৈতন্যেন ভূতভৌতিকানি বিষয়ীক্রিয়ের। ন হি রূপাদিভিঃ স্বং রূপং পররূপং বা বিষয়ীক্ৰিয়তে বিষয়জিয়ন্তে তু বাহধ্যাত্মিকানি ভূতভৌতিকানি চৈতন্যে। যথৈবা ভূত-ভৌতিক-বিষয়ায়া উপলভেবােহভপগম্যতে এবং ব্যতিরেকোপ্যাস্তেভ্যাহত্যুপগন্তব্য। উপ- লব্ধিস্বরূপমেব চ নঃআত্মা ইত্যাত্মনাে দেহব্যতিরিক্তত্ব নিত্যত্বঞ্চোপলৰূেরৈকরূপ্যাৎ | ‘অহমিদমদ্রাক্ষ ইতি চাবস্থান্তরযােগেহপুপলবেন প্রত্যভিজ্ঞানাৎ মৃত্যা- sed অতণ্ট ২৮ মরণ-রহস্য। = = = = = 44 At যাহাদের সত্তা, তাহারা জড়ে পরিণত হইবে, এরূপ চিন্তা নিমেষের জন্যও মনে স্থান দিতে নাই। ফলতঃ তুমি আমি সামান্য জড়দেহ হইতে পারি না। তুমি আমি নির্বিকার, কিন্তু দেহ সৰ্ব্বদাই বিকারগ্রস্ত। তুমি আমি নিত্য ; কিন্তু দেহকে প্রতিনিয়ত অনিত্য দেখা ন পপত্তিশ্চ। যক্তং শরীরে ভাবাচ্ছরীধৰ্ম্ম উপ- লব্ধিরিতি তদর্ণিতেন প্রকারেণ প্রত্যুক্ত। অপি চ সৎসু প্ৰদীপাদিপকরণেষপলব্ধিভবত্যসৎসু ভবতি। ন চৈতাবতা প্রদীপাদিধর্ম এবােপলব্ধি ভবতি। এবঞ্চ সতি দেহভাবে উপলব্ধির্ভবত্যসতি চন ভবতীতি ন দেহধৰ্ম্মো ভবিতুমহতি। উপকরণ- ত্বমাত্রেণাপি:প্ৰদীপাদিবৎ দেহােপযােগােপপত্তেঃ। চাত্যন্তং দেহস্যোপলাবুপযােগগাদৃশ্যতে। নিশ্চেষ্টেহপি হস্মিন্ দেহে স্বপ্নে নানাবিধােপলদ্ধিদর্শনাৎ। তম্মাদ- নবদ্যং দেহব্যতিরিক্তস্যাত্মনােহস্তিত্ব।” শাভায্য। e de E মরণ-রহস্য। ২১ যাইতেছে। তুমি আমি জ্ঞানময়, দেহ মাংস- পিণ্ড ভিন্ন আর কিছুই নহে। তুমি আমি নিৰ্ম্মল, নিশ্চল, কিন্তু দেহ মলিনতার আধার- মাত্র ও নশ্বর। তুমি আমি দ্রষ্টা; কিন্তু দেহ আমাদের দৃশ্য। সুতরাং যে ভাবে বিচার কর না কেন, এই জড় মাংসপিণ্ড দেহটাকে কদাচ তুমি আমি বলা যাইতে পারে না। তুমি আমি তাহা হইতে স্বতন্ত্র বস্তু। সচ্চিদানন্দলক্ষণ যে তােমাতে আমাতে বিদ্য- মান, সেই তুমি আমি কিরূপে জড়দেহের সহিত এক হইতে পারি ? সুতরাং একথা কখনও মনে করিও না যে, তুমি আমি জড়- দেহের শক্তি মাত্র। তুমি আমি যে দেহ বা ইন্দ্রিয় নহি, ইহা বিচার করিয়া, তােমার আমার প্রকৃত তত্ত্ব কি তাহা উপলব্ধি করার জন্য সর্বদা চেষ্টা করা আবশ্যক। * তাহা “কোহহং কথমিদং জাতং কে বা কৰ্ত্তান্ত বিদ্যতে। উপাদানং কিমন্তীহ বিচারঃ সােয়মীদৃশঃ।” fe

BE
মরণ-রহস্য।
হইলে সামান্য মরণের ভয়ে আমরা নিমেষের
জন্যও ভীত হইব না ।
নাহং ভূতগণণা দেহাে নাহং চাক্ষগণস্তথা।
এতদ্বিলক্ষণঃ কশ্চিদ্বিচারঃ সােহমীদৃশঃ ।
অজ্ঞানপ্ৰভবং সৰ্ব্বং জ্ঞানেন প্রবিলীতে।
সংকল্লো বিবিধ: কৰ্ত্তা বিচারঃ সােয়মীদৃশঃ ।
এতয়াের্মপাদানমেকং সূক্ষ্মং সদব্যয়ম্।
যথৈব মৃদঘটাদীনাং বিচারঃ সােহয়মৗদৃশঃ ।
অহমেকোহপি সূক্ষ্মশ্চ জ্ঞাতা সাক্ষী সদব্যয়।
তদহং না সন্দেহাে বিচারঃ সােয়মীদৃশঃ।
আত্মা বিনিষ্কলে হেকো দেহহ বহুভিরাবৃতঃ।
তয়ােরৈক্যং প্রপশ্যন্তি কিমজ্ঞানমতঃ পরম্ ।
আত্মা নিয়ামকশ্চাত্তদেহ নিয়ম্যবাহক।
তয়ােরক্যং প্রপশ্যন্তি কিমজ্ঞানমতঃ পরম্ ।
আত্মা জ্ঞানময়ঃ পুণ্যো দেহাে মাংসমমােহশুচিঃ।
তয়ােরৈক্যং প্রপশ্যন্তি কিমজ্ঞানমতঃ পরম্।
আত্ম প্রকাশকঃ স্বচ্ছেদেহস্তামস উচ্যতে।
তয়ােরৈক্যং প্রপশ্যন্তি কিমজ্ঞানমতঃ পরম্ ॥
আত্মা নিত্যো হি সজ্রপাে দেহােহনিত্যোহসম্মঃ।
#

E
মরণ-রহস্য।
৩১
এক্ষণে বুঝিতে পারিলে ত যে, তুমি আমি
জড়দেহ হইতে পৃথক। তাহা হইলে দেহের
তয়ােরৈক্যং প্রপশ্যন্তি কিমজ্ঞানমতঃ পরম্ ।
আত্মনযুৎ প্রকাশত্বং যৎ পদার্থবিভাসন।
নাগাদিদীপ্তিবদ্দীপ্তিভবত্যান্ধ্যং যতাে নিশি।
দেহহহহমিত্যয়ং মূঢ়ো মত্ব তিষ্ঠত্যহে জন।
মমায়মিত্যপি জ্ঞাত্ব ঘটদ্ৰষ্টেব সৰ্ব্বদা।
ব্ৰহ্মৈবাহং সমঃ শান্ত সচ্চিদানন্দলক্ষণ।
নাহং দেহে হসজ্রপাে জ্ঞানমিত্যুচ্যতে বুধৈঃ ।
নির্বিকাররা নিরাকারে নিরবদ্যোহহমব্যয়ঃ ।
নাহং দেহ হসজ্রপাে জ্ঞানমিত্যুচ্যতে বুধৈঃ
নিরাময়াে নিরাভাসে নির্বিকল্লোহহমাততঃ।
নাহং দেহে হ্যসদ্ধপাে জ্ঞানমিত্যুচ্যতে বুধৈঃ
নিগুলো নিস্ক্রিয়াে নিত্যো নিত্যমুক্তোহহমচ্যুতঃ।
নাহং দেহে হ্যােপাে জ্ঞানমিত্যুচ্যতে বুধৈঃ ।
নির্মলে নিশ্চলােহনন্তঃ শুদ্ধোহহমজরােহমরঃ।
নাহং দেহােসপাে জ্ঞানমিত্যুচ্যতে বুধৈ।
স্বদেহং শােভনং ত্যক্ত। পুরুষাখ্যঞ্চ সম্মত।
কিং মূখ শূন্যমাত্মানং দেহাতীতংকরােষি ভােঙ।
BE
#E

মরণ-রহস্য।
নাশ হইলে, তােমার আমার নাশ হইবে কেন ?
বাস্তবিক তােমার আমার নাশ হয় না। যাহা
স্বাত্মানং শৃণু মুখ ত্বং ত্যা যুক্ত্যা চ পূরুষ।
দেহাতীতং সদাকারং সুদুদশং ভবাদৃশাম্।
অহং শব্দেন বিখ্যাত এক এব স্থিত: পর।
স্থূলত্বান্নৈতাং প্রাপ্তঃ কথং স্যাদ্দেহক: পুমান্ ৷
অহং দ্রষ্টতয়া সিদ্ধো দেহে। দৃশ্যতয়া স্থিতঃ।
মমায়মিতি নির্দেশাৎ কথং স্যাদেহকঃ পুমান্ ।
অহং বিকারহীনস্থ দেহহ নিত্যং বিকারবান্।
ইতি প্রতীয়তে সাক্ষাৎ কথং স্যান্দেহকঃ পুমান্ ।
যস্মাৎ পরমিতি শ্ৰত্যা তথা পুরুষলক্ষণ।
বিনির্ণীতং বিশুনে কথং স্যান্দেহক: পুমান্ ।
সৰ্ব্বং পুরুষ এববতি সুক্তে পুরুষসংজ্ঞিতে।
অপুচ্যতে যতঃ ত্যা কথং স্যাদেহকঃ পুমান্ ।
অসঙ্গঃ পুরুষঃ প্রােক্তো বৃহদারণ্যকেইপিচ ।
অনন্তমলসংসৃষ্ট কথং স্যান্দেহক: পুমান।
তত্রৈব চ সমাখ্যাতঃ স্বয়ং জ্যোতিহি পূরুষঃ।
জড় পরপ্রকাশ্যোহয়ং কথং স্যালেহকঃ পুমান।
প্রােকোহপি কর্মকাণ্ডেন হত্মা দেহাখিলক্ষণ।
B

E মরণ-রহস্য। নির্বিকার ও সনাতন, তাহার নাশ কি কখনও হইতে পারে ? সুতরাং মরণ বলিলে, দেহ- টারই নাশ বুঝিতে হইবে । ঘটটি ভাঙ্গিয়া গেলে, যেমন ঘটমধ্যস্থ আকাশের কিছুই হয় , তেমনি আমাদের এই দেহটার নাশ হইলে, আমাদেরও কিছুই হয় না। আমাদের দেহ- টাই ঘটস্বরূপ, এবং তুমি এবং তুমি আমিই সেই ঘটমধ্যস্থ আকাশ। এই দেহরূপ ঘটের নাশই মরণ। তাই সাধক কবি রামপ্রসাদ নিত্যশ্চ তৎফলং ভুক্তে দেহপাতদনন্তরম্ । লিঙ্গং চানেকসংযুক্তং চলং দৃশ্যং বিকারি চ। অব্যাপকমসদ্ধপং তৎকথং স্যাৎ পুমানয়ম্। এবং দেহদ্বয়াদন্য আত্মা পুরুষ ঈশ্বরঃ। সৰ্বাঝা সৰ্বরূপশ্চ সৰ্বাতীতেহহমব্যয়ঃ । ইত্যাত্মদেহভাণেন প্রপঞ্চস্তৈব সত্য। যথােক্তা তর্কশাস্ত্ৰেণ ততঃ কিং পুরুষার্থতা। ইত্যাত্মদেহভেদেন দেহাত্মত্বং নিবারিতম্ । ইদানীং দেহভেদস্য হসং স্কুটমুচ্যতে।” অপক্ষোনুভূতি।

টি
ঃ
৩৪
মরণ-রহস্য।
বলিয়াছেন, “বেদের আভাস, তুই ঘটাকাশ,
ঘটের নাশকে মরণ বলে।” সুতরাং তুমি আমি
মরি না, সেই মলমূত্রশােণিতপরিপূর্ণ মাংস
পিণ্ডটাই মরিয়া যায়। তবে ভাই এই মাংস
পিণ্ডটার জন্য এত দুঃখ এত ভয় কেন ?
যেটার ধ্বংস অনিবাৰ্য, তাহার জন্য চিন্তা
করিয়া লাভ আছে কি ? আমরা ত পূর্বে
বলিয়াছি যে, তােমার এ দেহটার নাশ হইলে,
তুমি কিছুকাল পরে আবার আর একটি দেহ
পাইবে। পুরাতন পরিত্যাগ করিয়া, আবার
একটি নূতন পাইবে। সুতরাং ইহার প্রতি
মমতা রাখাটা কি ভাল? যেটা সর্বদা আমা-
দিগকে আত্মসাৎ করিতেছে, তার প্রতি এত
মমতা কেন ? দেহের প্রতি মমতাটা হ্রাস
কর, দেখিবে, মরণ তােমাকে ভয় দেখাইতে
পারিবে না। বাস্তবিক মরণ বিভীষিকার
বস্তু নহে। পণ্ডিতেরা বলিয়া থাকেন যে,
মৃত্যু বলিয়া এমন কিছু নাই যে, তাহার জন্য
8E

মরণ-রহস্য।
!
ভীত হইতে হইবে। সে ভীষণরূপ ধারণ
করিয়া, ব্যাঘ্রের স্যায় জীবজন্তু ভক্ষণ করে
মােহ বা মিথ্যাজ্ঞান এবং প্রমাদ বা
মিথ্যাজ্ঞানের কারণই মৃত্যু। *
সকল গুরুতর কথা আমরা সহজে বুঝিতে
সমর্থ হইব না। তথাপি মিথ্যাজ্ঞানে যে
আমাদের মরণের বিভীষিকা জম্মিতেছে, তাহা
+ “অমৃত্যুঃ কৰ্ম্মণা কেচিৎ মৃত্যুনাস্তীতি চাপরে।
শৃণু মে ধ্রুবতে রাজন্ যথৈতৎ মা বিশঙ্কিথাঃ ।
উভে সত্যে ক্ষত্রিয়া প্রবৃত্তে
মােহােমৃত্যু সম্মত যঃ কবীনাম্।
প্রমাদং বৈ মৃত্যুমহং ব্রবীমি
সদাহগ্রমাদমমৃতত্বং ব্রবীমি ।
প্রমাদাদবৈ অসুরাঃ পরাভব
অপ্রমাদাব্রহ্মভূতাঃ সুরাশ।
নৈব মৃত্যু বা ইবাত্তি জন্তু
নাপ্য রূপমুপলভ্যতে হি।”
সনীয়।
B

মরণ-রহস্য। আমরা বােধ হয় কিছু কিছু বুঝিতে পারি, এবং তাহা না পারিলেও ক্ষতি নাই। আমরা যে দেহ হইতে পৃথক্‌ এবং তাহার সহিত আমা- দের বিচ্ছেদই যে মরণ, আপাততঃ তাহা বুঝিলেই যথেষ্ট হইবে । আমরা যদি দেহ হইতে পৃথক্‌ হইলাম, এবং দেহের সহিত আমাদের বিচ্ছেদই মরণ, তাহা হইলে, এই দেহ পরিত্যাগের পর আমা- দের কি অবস্থা হয়, তাহাও একবার ভাবিয়া দেখা উচিত। যদিও আমরা পূর্বে বলিয়াছি, এ দেহ পরিত্যাগ করিলে, আমরা আবার আর একটি দেহ পাইব, তাহা হইলেও কিরূপে সে দেহের লাভ হইবে, তাহাও জানা আব- শ্যক। আমরা সংক্ষেপে সে কথাও বলি- তেছি। তাহা বুঝিতে পারিলে, মরণের ভয়টা আমাদিগকে একেবারে অভিভূত করিতে পারিবে না। এক্ষণে মরণের পর আমাদের কিরূপ অবস্থা হয়, বলি শুন।

BE E মরণ রহস্য। ৩৭ মায়ের বরপুত্র রামপ্রসাদ গাহিয়াছেন, “বল দেখি ভাই কি হয় ম'লে, এই বাদানুবাদ করে সকলে। কেউ বলে ভূত প্রেত হবি, কেউ বলে তুই স্বর্গে যাবি, কেউ বলে সালােক্য পাবি, কেউ বলে সাযুজ্য মেলে। বেদের আভাস তুই ঘটাকাশ, ঘটের নাশকে মরণ বলে, ওরে শূন্যেতে পাপ পুণ্য গণ্য, মান্য করে সব খােয়ালে। প্রসাদ বলে যা ছিলি ভাই, তাই হবিরে নিদানকালে, যেমন জলের বিশ্ব জলে উদয়, জল হয়ে সে মিশায় জলে।” এই গানটির উদ্দেশ্য বুঝিতে পারিয়াছ কি? যদি না বুঝিয়া থাক, তাহা হইলে বুঝাইfঃ ৩৮ মরণ-রহস্য। বার চেষ্টা করিতেছি শুন। সাধক কবির চিত্ত যখন মুক্তির পথে ধাবিত হইতেছিল, তখন তাহার নশ্বর কণ্ঠ এই অমর গীতের অবতারণা করিয়াছিল। তিনি মায়ের আব- দারে ছেলে ছিলেন, তাই মায়ের কোলে চির- বিশ্রাম লাভের জন্য লালায়িত হইয়াছিলেন। কাজেই এ সংসারে ফিরিয়া আসার কথাটা তখন তাহার মনে উঠে নাই। কিন্তু মরিলে যে ভূত প্রেত হয়, বা স্বর্গে যায়, ইহার মধ্যেই সে কথাটাও যে আছে, তাই আমরা বেশ বুঝিতে পারি। ভূত প্রেত চিরদিনই যে ভূত প্রেত থাকিবে এমন নহে, তাহাদের সে অবস্থা ঘুচিলে, আবার ক্রমে ক্রমে তাহারা আমাদের মধ্যেই আসিবে। স্বর্গে যাওয়ার পরও আবার আসিতে হয়, ইহাই সাধারণ মানুষের ধর্ম। তিনি সালােক্য, সাযুজ্য, এবং অবশেষে যে নিৰ্বাণ মুক্তির কথা বলিয়াছেন, তাহা উচ্চাধিকারীর কথা। তােমার আমার ক #E মরণ-রহস্য। পক্ষে তাহা খাটেনা। যাঁহারা মিথ্যাজ্ঞান দূরে পরিহার করিয়া, সত্যজ্ঞানে বিভাের হন, তাহাদেরই ক্রমে ক্রমে ঐ সমস্ত অবস্থা হয়। সাধারণ মানবে ভূত প্রেত হয় বটে, কিন্তু তাহা অপেক্ষা তাহাদের আরও কিছু ভাল অবস্থা হয়। আমরা পরে তাহা বলিতেছি। আমরা ইহলােক, পরলােক বা ইহকাল, পরকাল কথার প্রয়ােগ করিয়া থাকি। এই ইহলােক, পরলােক, ইহকাল, পরকাল কাহাকে বলে, অগ্রে তাহাই বলিতেছি শুন। আমাদের জীবিতাবস্থার নাম ইহলােক এবং মৃত্যুর পর যে অবস্থা হয় তাহাই পরলােক। যতদিন বাঁচিয়া থাকি, তাহা ইহকাল, তাহার পরে পরকাল। মৃত্যুর পরে আমরা পর- লােকে কিরূপে পরকাল কাটাই, সেই কথারই এক্ষণে আলােচনা করিতে হইবে। যখন মরণের সময় উপস্থিত হয়, তখন আমরা এ দেহ ছাড়িতে আরম্ভ করি। কিন্তু ৪ ৪ ০ মরণ-রহস্য। তৎপূর্বে আমরা আমাদের কর্মজাত সংস্কারা- মুযায়ী একটি ভাবনাময় বা বাসনাময় দেহ গড়িয়া লই। সে কিরূপ জান ? যেমন স্বপ্ন- কালে আমাদের একটি দেহ হয়, ইহাও সেই রূপ। আমরা তখন আমাদের এই দেহ ছাড়িয়া তাহাই অবলম্বন করি। জলৌকা বা জোঁক যেমন একটি তৃণ ছাড়িয়া আর একটি তৃণে আশ্রয় না লওয়া পর্যন্ত প্রথম তৃণটি পরিত্যাগ করে না, আমরাও সেইরূপ ঐ ভাবময় দেহে আশ্রয় না করা পর্যন্ত এ দেহ পরিত্যাগ করি না। * পরে সেই দেহ অবলম্বন করিয়া, সূক্ষম ইন্দ্রিয়াদির দ্বারা বিন্যস্ত একটি সূক্ষ শরীরের আবরণে আবৃত * “তথা তৃণজলায়ুকা তৃষ্ঠান্তং গত্বহমাক্রম- মাক্রম্য আত্মানমুপসংহতি। এবমেব অয়মাত্মা ইদং শরীরং নিহত্য অবিদ্যাং গময়িত্ব অমাক্রমমাক্র্য আত্মানমুপসংহতি।” E al মরণ-রহস্য। ৪১ থাকি। হইয়া এদেহ পরিত্যাগ করি। তখন অনন্ত আকাশ ও অসীম বায়ুমণ্ডল আমাদের আশ্রয় স্থান হয়। পরে আমাদের সংস্কার বা বাসনা যেদিকে লইয়া যায়, আমরা সেইদিকে যাইতে এদেহ ছাড়িয়া যখন আমরা আকাশে বা বায়ুস্তরে থাকি, তখনই আমরা ভূত প্রেত হই। এই ভূত প্রেতের অবস্থা কিছু কষ্ট- কর বটে। ভূত প্রেতের নামে আমাদের যে ঘৃণা আছে, সকল ভূত প্রেতই যে সেইরূপ হয়, তাহা নহে। তবে কোন কোন ভূত প্রেত আমাদিগকে যে বিভীষিকা দেখায়, সে কথা একেবারে মিথ্যা নহে। ভূত প্রেত হওয়ার পর আমাদের গতি কি হয় বলি- তেছি শুন। আমাদের মধ্যে যাঁহারা শুদ্ধাত্মা, তঁাহারা উদ্ধদিকে চলিয়া যান। তাহাদেরও দুই পথ আছে; যাঁহারা জ্ঞানী, তঁাহারা ক্রমাে- মতি পথে আরােহণ করিয়া, আর ফিরিয়া আসেন না। যাঁহারা কর্মী তাহারা ক্রমে #E

E
tb
82
মরণ-রহস্য।
উর্ধদিকে আরােহণ করিয়া, আবার অবরােহণ
করিতে আরম্ভ করেন, পরিশেষে আবার আমা-
দের মধ্যেই আসিয়া পড়েন। আর যাহারা
ঘােরর মলিন, তাহারা নানা প্রকার ক্ষুদ্র
প্রাণী হইয়া জন্মগ্রহণ করে। কিছুকাল পরে,
আবার মরে, আবার জন্মে, এইরূপে ক্রমাগত
জম্মমরণের অধীন হয়। এক্ষণে বল দেখি,
তুমি আমি মরিলে কোন্ পথে যাইব ?
তােমার আমার কোন্ পথ হইবে, আইস,
একবার ভাবিয়া দেখি।
অবশ্য তুমি আমি এসংসারে আসিয়া যদি
পাপকর্মে রত হইয়া থাকি, এবং তােমার
আমার স্বচ্ছ ভাবকে মলিন করিয়া, অজ্ঞান
ও পাপের গাঢ় অন্ধকারমধ্যে আপনাদিগকে
ডুবাইয়া থাকি, তাহা হইলে, আমরা মৃত্যুর
পর নরক-যন্ত্রণা ভােগ করিয়া, সামান্য কীট
পতঙ্গে যে পরিণত হইব, ইহা আশ্চর্যের বিষয়
নহে। নরকের যেরূপ চিত্রের কথা আমরা
4

মরণ-রহস্য।
৪৩
শুনিয়া থাকি, তাহাতে আমাদের মনে যে
বিভীষিকার উদয় হইবে, তাহাতে সন্দেহ নাই।
সেই ভিন্ন ভিন্ন নরকে বিন্দুমাত্র আনন্দের
চিহ্ন নাই।
কেবল ঘাের অন্ধকার ও ভাষণ
যন্ত্রণা । * এই যন্ত্রণা ভােগ করিতে
করিতে আবার কীট পতঙ্গ হইয়া জন্মিব,
ইহা ভাবিতে গেলে, শরীর শিহরিয়া উঠে।
ঈশ্বর করুন, আমরা যেন সে পথের পথিক
হই; অন্ততঃ আমরা তাহা হইতে ঢাহি
। কারণ, আমরা আমাদিগকে এত কলু
ষিত মনে করি না। এই ভীষণ গতি অপেক্ষা
আমাদের পথ যে উৎকৃষ্ট এরূপ আশা আমরা
করিতে পারি এবং আমাদের সে বিষয়ে
একটু সাহসও থাকা চাই। সেইরূপ সাহস
‘আনন্দা নাম তে লােক অন্ধেন তমসা” বৃতাঃ।
শাস্ত্রে নানাবিধ নরকের বর্ণনা দেখা যায়, যাহারা
ভিন্ন ভিন্ন পাপ করে, তাহারা ভিন্ন ভিন্ন নরক ভােগ
করিয়া থাকে।
ঃ

৪৪
মরণ-রহস্য।
থাকিলে অবশ্য আমরা যে আমাদের পথ
বাছিয়া লইব, তাহাতে সন্দেহ নাই। এক্ষণে
বল দেখি আমরা কোন্ পথে যাইব ?
যে জঘন্য পথের কথা পূর্বে বলিয়াছি,
তাহা তােমার আমার পক্ষে নহে। ইহা একরূপ
স্বীকার করিয়া লওয়া যাউক। এক্ষণে আরও
দুইটি পথ আছে, তাহার মধ্যে কোটি তােমার
আমার ন্যায় ব্যক্তির অবলম্বনীয়, তাহাই
ভাবিয়া দেখিতে হইবে। শাস্ত্রে দেবযান ও
পিতৃযান নামে দুইটি পথের কথা আছে।
যাঁহারা শুদ্ধাত্মা হইয়া, বিদ্যা বা জ্ঞান অবলম্বনে
ব্রহ্মচৈতন্য উপলব্ধি করিতে যত্নবান্ হন,
তাঁহারাই দেবযানপথে ক্রমে ক্রমে উর্দ্ধে গমন
করিয়া, নিৰ্বাণ মুক্তি লাভ করেন। তাহারা
আর ফিরিয়া আসেন না। তবে এ পথেরও
কোন কোন পথিক ফিরিয়া আসিয়াছেন,
এরূপও শুনা গিয়াছে। আর যাঁহারা কৰ্ম্ম
আশ্রয় করিয়া যাগ, যজ্ঞ ও দানাদি ক্রিয়ার

E
মরণ-রহস্য।
৪৫
দ্বারা চিত্তশুদ্ধি ও জগতের অশেষপ্রকার
কল্যাণ সাধন করিয়াছেন, তাঁহার পিতৃযানের
পথিক। তাহারা চন্দ্রলােলাকে গমন ও নানা-
বিধ স্বর্গ ভােগ করেন।
পরে হথা হইতে
আবার এসংসারে ফিরিয়া আসিয়া, কৰ্ম্মস্রোতে
আপনাদিগকে ভাসাইয়া দেন। এখন বল
দেখি, তুমি আমি ইহার কোন্ পথে যাইব ?
তুমি আমি যে দেবযান পথে যাইব, তাহার
আশা করিতে পারি না। তবে পিতৃযানের
আশাটা একেবারে ছাড়িতে পারি না। তাই
মনে হয়, তুমি আমি পিতৃযানেরই পথিক।
অন্ততঃ তােমার আমার তাহাই আশা করিতে
হয়। আমরা যাগ যজ্ঞ না করিলেও কৰ্ম্মই
যে আমাদের অবলম্বনীয়, একথা বলা যাইতে
পারে।
যদি আমরা
পিতৃযানেরই পথিক হই,
তাহা হইলে, আমাদের পথটি কিরূপ তাহা
একটু বিশদ ভাবে শুনিলে কি ভাল হয় না ?
.
#E

পুষ্টি
৪৬
মরণ-রহস্য।
তবে ভাই শুন, আমাদের সেই আকাঙিক্ষত
পথটি কিরূপ। যাঁহারা পিতৃযানের পথিক,
তাহারা মরণের পর পিতৃলােকাদি ভ্রমণ করিয়া,
অবশেষে চন্দ্রলােকে উপনীত হন এবং তথায়
দেবতাদিগের সহচর হইয়া, নানাপ্রকার স্বর্গ
ভােগ করেন।
যে সুখে দুঃখ মিশ্রিত নাই
পরেও যাহা দুঃখ দ্বারা অভিভূত হয় না এবং
ইচ্ছামাত্রেই যাহা উপস্থিত হয়, দার্শনিকেরা
সেই সুখকেই স্বর্গ বলিয়া থাকেন। * এই
স্বর্গসুখ ভােগ হইলে, তঁাহারা আপন আপন
কৰ্ম্মানুযায়ী আবার পৃথিবীতে অবতরণ করিতে
আরম্ভ করেন। মরণের পর ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায়
ভিন্ন ভিন্ন ভােগদেহ ধারণ করিতে হয়।
স্বর্গ ভােগের জন্য চন্দ্রলােকে তাহাদের যে
একটি জলময় দেহ হইয়া থাকে, তাহা গলিয়া
ক্রমে আকাশের ন্যায় সূক্ষা ও লঘু হইয়া যায়।
• “যন্ন দুঃখেন সংভিন্নং ন চ গ্ৰস্তমনন্তরম্।
অভিলাষােপনীতঞ্চ তৎসুখং ঃ পদাস্পদ।”
Be

# 6E মরণ-রহস্য। ৫৭ তৎপরে তাহা বায়ুর দ্বারা চালিত হইয়া, ধূমাদির সহিত মিশ্রিত হয়, তাহার পর আবার তাহা মেঘমধ্যে প্রবিষ্ট হইয়া, তাহার বষণের সহিত ধান্যাদি শস্যের মধ্যে অবস্থিতি করে। পরে ঐ সমস্ত শস্যের সহিত অন্নরূপে ভক্ষিত হইয়া স্ত্রীগর্ভে প্রবেশ করে এবং পুনর্বার সংসারে অবতীর্ণ হয়। তাহাদের মধ্যে যাহারা পূর্ব জন্মে পুণ্যকাৰ্য করিয়াছিলেন, তাহারা সদ্বংশে জন্মিয়া থাকেন এবং যাহারা হীন- কৰ্ম্ম করিয়াছিল, তাহারা নীচ বংশে এমন কি শূকর, কুকুর হইয়াও জন্ম গ্রহণ করে। # “তদ্য ইথং বিদুঃ যে চেমেহরণ্যে শ্রদ্ধা তপ ইত্যুপাসতে তেহর্দিষমভিসম্ভব্যৰ্চিযােহর আপূৰ্য- মাণপক্ষমাপূৰ্যমাণপক্ষাদা ষড়দঙঙেতি यांमार স্তন্। মাসেভ্য সম্বৎসরং সম্বৎসরাদাদিত্যমাদিত্যাচ- মসং চন্দ্রমসসা বিদ্যুতং তৎপুরুষোহমানবঃ স এনাং ব্রহ্ম গময়ত্যেষ দেবযানঃ পৰা ইতি ।

৪৮
মরণ-রহস্য।
অতএব আমরা যদি পিতৃযানেরই পথিক হই,
তাহা হইলে, আমাদিগকে যে আবার জন্মিতে
অথ য ইমে গ্রাম ইষ্টাপূৰ্ত্তে দত্তমিত্যুপাসতে তে
ধূমমভিসম্ভবন্তি ধূমাদ্রাত্রিং রাত্রেরপরপক্ষমপরপক্ষা-
দন্ ষড়দক্ষিণৈতি মাসাংস্তান্নৈতে সম্বৎসরমভি,
প্রাপ্ত বন্তি ।
মাসেভ্যঃ পিতৃলােকং পিতৃলোেকাদাকাশমাকাশা-
চন্দ্রমসমেষ সােমাে রাজা তদ্দেবানামঃং তং দেবা
ভয়ন্তি।
তস্মিন্যবৎসম্পাতমুষিত্বাথৈতমানং পুনর্নিবৰ্ত্তন্তে
যথেতমাকাশমাকাদ্বায়ুং বায়ুভূত্বা ধূমাে ভবতি ধূমাে
ভূত্বভ্রং ভবতি ॥
অংভূত্বা মেঘঘ ভবতি মেঘােতৃত্ব প্ৰবৰ্ষতি ত
ইহ ব্রীহিযবা ওষধি বনস্পতয়ন্তিলমাইতি জায়ন্তেহতে
বৈ খলু দুনিপতরং যাে যাে হনুমত্তি যাে রেতঃ
সিঞ্চতি তদ্ভুয় এব ভবতি ।
তদয় ইহ রমণীয়চরণা অভ্যাশে হ যত্তে রমণীয়াং
যােনিমাপদ্যের ব্রাহ্মণযােনিং বা ক্ষত্রিয়যােনিং বা
বৈশ্যযযানিং বাথ য ইহ কপূয়চরণা অভ্যাশে হ যত্তে

ক
মরণ-রহ।
৪৯
= = =
হইবে, তদ্বিষয়ে সন্দেহ নাই। তােমরা হয়ত
মনে করিতে পার যে, আমাদের আবার জন্ম
কপূয়াং যােনিমাপদ্যের যােনিং বা শূকরযােনিং বা
চণ্ডালযােনিং বা।
অথৈতয়ােঃ পথােন কতরেণ চ ন তানীমানি
ক্ষুদ্ৰাণ্যসকৃদাবীনি ভূতানি ভবন্তি জায়স্থ মিয়ত্বে
ত্যেতত্ত্বতীয়ং স্থানং তেনাসৌ লােকোন সম্পূৰ্যতে
তস্মাগুপেত তদেষঃ শ্লোক:
হলোগ্যাপনিং
বৃহদারণ্যকেও দেবযান এবং পিতৃযান পথের কথা
আছে।
গীতায় ঐ দুই পথ এইরূপ ভাবে উল্লিখিত
হইয়াছে।
“অগ্নির্জোতিরহঃ শুক্ল যাস উত্তরায়ণ।
তত্র প্রত্যতা গচ্ছন্তি ব্ৰহ্ম ব্ৰহ্মবিদো জনাঃ।
ধূমােরাত্রিস্তথা কৃষ্ণঃ ষাসা দক্ষিণায়ন।
তত্র চামসং জ্যোতিৰ্যোগী প্রাপ্য নিবৰ্ত্ততে ।
শুক্লকৃষ্ণে গতী হেতে জগতঃ শাশ্বতে মতে।
এক যাত্যনাবৃত্তিয়াবৰ্ত্ততে পুনঃ।”
অষ্টম অধ্যায়।
3.

iB মরণ-রহস্য। AAA A Ah- হইবে, এ কেমন কথা? কিন্তু তাহা অবিশ্বাস করার কোন কারণ নাই। জীবের আদি নাই, যোগবাশিষ্ঠে চন্দ্রের হিমকণার সহিত শস্যমধ্যে পতিত জীবাত্মার প্রবেশ দেখা যায়। “তত্রাবিবিশতুশ্চাং তে চিত্তে রশ্মিজালক। প্রালেয়মুপেত্যা শালিতামথ জম্মতুঃ। শালীংস্তান্ ভুক্তবান্ পঞ্চান্ দশার্ণেযু দ্বিজোত্তম। স শুক্রঃ শুক্রতামেত্য তদ্ভাৰ্যাতনয়োহভবৎ ॥” (স্থিতি প্রকরণ ৮ম অধ্যায়) যােগবাশিষ্ঠের উৎপত্তিপ্রকরণে মৃত্যু, তাহার পর কিরূপ অবস্থা হয়, এবং পরেই বা কিরূপে জন্ম হয়, তাহা বিশদভাবে বিবৃত আছে। আমরা এস্থলে তাহা উদ্ধৃত করিতেছি। “নাড়ী প্রবাহে বিধুরে যদা বাতবিসংস্থিতি। জঃ প্রাণপাতি হি তদা শাম্যতীবাহস্য চেতনা। শুদ্ধং হি চেতনং নিত্যং নােদেতি ন চ শামতি। স্থাবরে জঙ্গমে ব্যামি শেলেহগৌ পবনে স্থিত। কেবলং বাতসংবােধাৎ যা স্পন্দঃ প্রশামতি। মৃত ইত্যুচ্যতে দেহ স্তদাসৌ জড়নামক।

#E
মরণ-রহস্য।
৫১
-
অন্ত নাই, কেবল একবার মাত্র তাহার
উৎপত্তি, ইহা কখনও যুক্তি দ্বারা সিদ্ধ হয় না।
সংসারে কারণ ব্যতীত কখনও কাৰ্য্যের উৎপত্তি
তস্মিন্ দেহে শবৗভূতে বাতে চানিল তাং গতে।
চেতনং বাসনযুক্তং স্বায়তত্ত্বেবতিতে ।
ততোহস প্রেশনে প্রোচ্যতে ব্যবহারিভিঃ ।
চেতনা বাসনামিং আমােদানিলবস্থিত।
ইদং দৃশ্যং পরিত্যজ্য যদান্তে দর্শনান্তরে।
স স্বপ্ন ইব সংকল্প ইব নানাকৃতিস্তদা ।
তস্মিন্নেব প্রদেশেহঃ পূৰ্ববং স্মৃতিমান্ ভবেৎ।
তদৈব মৃতিচ্ছান্তে পশ্যত্যন্যশরীরকম্।
ভবন্তি ষড়ি ধাঃ প্রেতাস্তেষাং ভেদমিমং শৃণু।
সামান্য পাপিনাে মধ্যপাপিনঃ স্থূলপাপিনঃ |
সামান্যধৰ্ম্ম মধ্যধৰ্ম্মা চ তথাচোত্তমধৰ্ম্মবান্।
এতেষাং কস্যচিদ্ভেদো ধৌ ত্ৰয়ােপথ কস্যচিৎ ।
কশ্চিন্মহাপাতক বান্ বৎসরং মৃতিমূচ্ছন।
বিমূঢ়াংনুভবতন্তঃ পাষাণহৃদয়ােপম।
ততঃ কালেন সমুদ্ধো বাসনাঠবােদিতম।
অনুভূয় চিরং কালং নারকং দুঃখমক্ষয়ম্।
e

BE
মরণ-রহস্য।
হইতে দেখা যায় না। আমাদের এই জন্ম যদি
একটি কাৰ্য্য হয়, তাহা হইলে অবশ্য তাহার
কারণ ছিল অনুমান করিতে হইবে। আমা-
ভুক্ত। যােনিশতাচ্চৈদুঃখাদ্ধােন্তরং গত:।
কদাচিচ্ছমময়াতি সংসারস্বপ্নসম্রমে।
কেচি মৃতিমােহান্তে জড়দুঃখশতাকুলাম্।
ক্ষণাৎ বৃক্ষাদিতামেব হৃৎস্থামমুভবন্তি তে ।
সবাসনানুরূপাণি দুঃখানি নরকে পুনঃ।
অনুভূয়াথ যােনীষু জায়ন্তে ভূতলে চিরাৎ ।
অথ মধ্যমপাপাে য মৃতিমােহদনন্তরম্।
স শিলাজঠরং জাড্যং কঞ্চিৎ কালং প্রপশ্যতি ।
ততঃ প্রবুদ্ধকালেন কেনচিদ্বা তদৈব বা।
তিৰ্য্যগাদিক্রমৈভুক্ত। যােনী: সংসারমেষ্যতি ।
মৃত এবানুভবতি কশ্চিৎ সামান্য পাতকী।
বাসনানুসারেণ দেহং সম্পন্নমতম্ ।
সস্বপ্ন ইব সংকল্প ইৰ চেততি তাদৃশম্।
তস্মিয়েব ক্ষণে তপ্ত স্মৃতিরিথমুদেতি চ।
যে তুত্তমমহাপুণ্যা মৃতিমােহদনন্তর।
স্বর্গবিদ্যাধরপুরং ত্যা অনুভবন্তি তে।

##
#E
মরণ রহস্য।
দের পূর্ব জন্ম অথবা পূর্বজন্মার্জিত কৰ্ম্ম বা
সংস্কারই যে তাহার কারণ, ইহা বিচার করিয়া
দেখিলে, বেশ বুঝা যায়। শিশু ভূমিষ্ঠ হইবা-
ততােহন্যকস্মসদৃশং ভুক্ত,হিন্যত্র ফলং নিজম্।
জায়তে মানুষে লােকে সশ্রীকে সনাম্পদে।
যে মধ্যমধম্মাপাে মৃতিমােহাদর।
তে ব্যোমবায়ুবলিতাঃ প্রয়ান্তোষধিপল্লবম্।
তত্র চারুফলং ভুক্ত প্রবিশ হৃদয়ং নৃণা।
রেতসামধিষ্ঠিন্তে গর্ভে জাতিক্রমােচিতে।
স্ববাসনানুসারেণ প্রেতা এতাং ব্যবস্থিতি।
মুচ্ছান্তেইনুভবন্ত্যন্ত ক্ৰমেণবাইক্ৰমেণ চ।
আদৌ মৃত বয়মিতি বুধ্যন্তে তদনুক্ৰমাৎ।
বন্ধুপিণ্ডাদিদানেন প্রােৎপন্না ইতি বেদিন
ততাে যমভটা এতে কালপাশাধিতা ইতি।
নীয়মান প্রয়াস্তেভিঃ ক্ৰমাৎ যমপুর প্রতি।
উদ্যানানি বিমানানি শােভনানি পুনঃ পুনঃ।
স্বকৰ্মভিরুপাত্তানি দিব্যানীত্যেৰ পুণ্যবান্।
হিমানীকণ্টকশপত্ৰবনানি চ।
স্বকৰ্ম্ম-দুস্থতােবানি সম্প্রপ্তানীতি পাপবান্।

৪টি
৫৪
মরণ-রহস্য।
মাত্র স্তন্যপানে প্রবৃত্ত হইল, এই কার্য্যেরই
বা কারণ কি? ইহাও তাহার পূর্বজন্মের
সংস্কার ।
এজন্মে আমরা কেহ মরি নাই,
ইয়ং মে সৌম্যসম্পাতা সরণি: শীতশালা।
স্নিগ্ধচ্ছায়া সবাপীকা পুরঃসংস্থেতি মধ্যম।
অয়ং প্রাপ্তো যমপুরমহমেষ স ভুতগ।
অয়ং কৰ্ম্ম-বিচাৱােহ কৃত ইতানুভূতিমা।
ইতি প্রত্যেকমভ্যেতি পৃথুঃ সংসারখণ্ডক।
যথা সংস্থিতনিঃশেষ-পদার্থাচার-ভাসুরঃ।
ইতােহমেহমাদিষ্ট স্বকৰ্ম্মফলভােজনে।
গচ্ছম্যা শুভং স্বর্গমিতে নরকমেব বা।
আঃ স্বর্গোহয়ং ময়া ভুক্তো রুক্তাহয়ং নরকোহথবা।
ইমাস্তা যােনয়াে ভুক্তা জায়েয়ং সংস্কৃতৌ পুনঃ ॥
অয়ং শালিরহং জাতঃ ক্ৰমাৎ ফলমহং স্থিত।
ইত্যুদকপ্রবােধেন বুধ্যমাননা ভবিষ্যতি ।
সংসুপ্তকরণত্বেং বীজতং যাত্যসৌ নরে।
তী ॥
গর্ভো ভবতি মাতরি।
স গর্ভো জায়তে লােকে পূৰ্ব্বকৰ্ম্মানুসারত।
ভবব্যা ভবত্যভবব্যা বা বালকো ললিতাকৃতিঃ

মরণ-রহস্য।
অথচ আমাদের মরিতে ভয় হয় কেন ?
ইহারই বা কারণ কি ? নিশ্চয়ই তাহা পূর্ব
জন্মের সংস্কার। সুতরাং বিচার করিয়া
দেখিলে বেশ বুঝা যায়, আমাদের এই জন্ম
শেষ নহে; আমাদের পূর্বেও জন্ম ছিল,আবার
পরেও হইবে। সুতরাং আমাদিগকে আবার
আসিতে হইলে ও যাইতে হইবে। এরূপ
আসা যাওয়া, আমাদিগকে অনেকবার করতে
হইবে। সেই জন্য বলিতে হয়, মরণের পর
আমরা হয় অনন্ত স্বর্গ বা অনন্ত নরক ভােগ
করিব, ইহা যুক্তি দ্বারা সিদ্ধ হয় না। আমাদের
ততােনুভবতাভং যৌবনং মদনােন্মুখ।
ততে জরাং পদ্মমুখে হিমাশনিমিব চ্যুতম্ ॥
ততােহপি ব্যাধিমরণং পুনমরণমূচ্ছনা।
পুনঃস্বপ্নবদায়াতং পিণ্ডৈদেহপরিগ্রহ।
যাম্যং যাতি পুনলোকং পুনরেব ক্রমাক্রম।
ভূয়োয়ােহদুভবতি নানাযােন্বন্তরােদরে।”
( উৎপত্তি প্রকরণ ৫৫ সৰ্গ ।)

GE মরণ-রহস্য। কৰ্ম্ম যখন পৃথক পৃথক, তখন ৩াহার ফল- স্বরূপ কেবল একমাত্র অনন্ত স্বর্গ বা অনন্ত নরক ভােগ করার সম্ভাবনা দেখা যায় না। কৰ্ম্মানুসারে জীবকে ভিন্ন ভিন্ন স্বর্গ বা ভিন্ন ভিন্ন নরক ভােগ করিয়া, আবার জন্মিতে হইবে ও আবার মরিতে হইবে। এই শ্ম মরণ তােমার আমার ন্যায় জীবেরই ধৰ্ম্ম। তবে যাহারা দেবযান পথে অনন্ত উন্নতির দিকে ধাবিত হইয়া থাকেন, তাহাদের কথা আমরা যখন পিতৃযানের পথিক, তখন ভাই মনে রাখিও, মরণের পর আমা- দিগকে আবার এখানে আসিতে হইবে। তাহাই যদি হইল, তবে আর মরিতে ভয় পাও কেন ? সুতরাং মরিতে যে ভয় পাওয়া উচিত নহে, তাহা এক্ষণে বুঝিতে পারিলে ত? জন্ম মরণ যখন সাধারণ জীবেরই পথ এবং তুমি আমি যখন সেই পথেরই পথিক, তখন d

মরণ-রহস্য।
আর তাহার জন্য ভয়ই বা কেন, চিন্তাই
বা কেন ? আমরা মরিব নিশ্চয়ই এবং
আবার জন্মিব নিশ্চয়ই। “জাত হি ধ্রুবে।
মৃত্যু ধ্রুবং জন্ম মৃতস্য চ।” তাহাই যদি হয়,
তাহা হইলে সাহসে নির্ভর করিয়া, আমাদের
কৰ্তব্যের পথে অগ্রসর হওয়া কি উচিত নহে?
জীবন ক্ষণস্থায়ী বটে, কিন্তু তাহার সদ্ব্যবহার
করিলে, লােকের নিকট তাহা চিরস্থায়ী হইয়া
থাকিতে পারে। মরণের ভয় দূরে পরিহার করিয়া
যদি আমরা আমাদের এই ক্ষুদ্র জীবনটুকু
লােকহিতে, সমাজহিতে ও দেশহিতে চালিত
করিতে পারি, তাহা হইলে, আমরা মরিয়াও
অমর হইয়া থাকিব। আমাদিগকে যখন
মরিতে হইবে, এবং আবার জন্মিতে হইবে,
তখন আমাদের সেই পথে কাঁটা না ছড়াইয়া,
ফুল ছড়ান কি উচিত নহে? মরণের পর
যখন আবার জন্ম লইতেই হইবে, তখন সেই
জন্মের জন্য এখন হইতে আয়ােজন করাই
##

৫৮ মরণ-রহস্য। কৰ্ত্তব্য। পিতৃযানই যদি আমাদের গন্তব্য পথ হয়, তাহা হইলে, সে পথে যাইবার সঞ্চয় পূর্ব হইতেই করিতে হয়। তাই বলিতেছি, লােকহিতে, সমাজহিতে ও দেশ- হিতের জন্য আইস ; আমরা আমাদের • এই ক্ষুদ্র জীবনটুকু উৎসর্গ করি। দেখ, আমাদের মধ্যে কত লােক রােগে, শশাকে, অনাহারে মৃতপ্রায় হইয়া আছে, যদি আমরা তাহাদের সেবা করিতে পারি, চক্ষের জল মুছাইতে পারি ও তাহাদিগকে এক মুষ্টি অন্ন দিতে পারি, তাহা হইলে, আমরা আমাদের পথের কিছু সঞ্চয় করিয়া লইতে পারিব। সেইরূপ আমাদের সমাজের কল্যাণে, যদি আমরা অগ্রসর হই, তাহা হইলে, আমাদের সঞ্চয় আরও বাড়িয়া যাইবে। কন্যাপণে, কুশিক্ষায় ও কুসংস্কারে আমাদের সমাজ অধঃ- পাতে যাইতে বসিয়াছে, যদি আমরা তাহার কিছুমাত্র প্রতিকার করিতে পারি, তাহা #E

#
মরণ-রহস্য।
হইলে, অনেক পরিমাণে তাহার কল্যাণ
সাধিত হইবে। দেশের যে কত অভাব রহি-
য়াছে, তাহার ইয়ত্তা নাই। কোন স্থানে জলকষ্ট
কোন স্থানে অন্নকষ্ট, কোনস্থানে দারিদ্রের
তাড়না, আমরা প্রতিনিয়ত দেখিতে পাইতেছি।
সেই সেই স্থানে বাপী, কূপাদির প্রতিষ্ঠা এবং
দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্র্য নিবারণের উপায় যদি
কিছু করিতে পারি, তাহা হইলে, আমরা
অনেক সঞ্চয় করিয়া, নির্ভয়ে আমাদের গন্তব্য
পথে অগ্রসর হইতে পারিব ।
দেশের এই
ঘােতর দুর্দিনে, তাহার কল্যাণের জন্য এবং
আমাদের ভবিষ্যৎ কল্যাণের জন্য আইস,
আমরা আমাদের ক্ষুদ্র জীবনতরীখানিকে
কৰ্ম্মস্রোতে ভাসাইয়া দেই। যাহাকে পারিব,
তাহাকেই তরীতে উঠাইয়া লইব। আইস
ভাই, আমরা মরণের ভয়কে দূরে পরিহার
করি এবং এ জন্মে জীবনের সার্থকতা করিয়া
লােকহিত, সমাজহিত,
দেশহিত
যাই।
SHE

মরণ-রহস্য।
- -
এই ব্রত গ্রহণ করিয়া, যদি আমরা তাহা
শেষ করিতে না পারি, তাহাতেই বা ক্ষতি
কি? আমরা যখন আবার আসিব, তখন
এক জন্মে যাহা শেষ করিতে না পারিব,
পরজন্মে তাহার জন্য আবার চেষ্টা করিব,
সে জন্মে না পারি, তাহার পরেও ছাড়িব না।
যতদিন কর্মক্ষেত্রে আসিতে হইবে, ততদিনই
তাহার জন্য চেষ্টা করিতে থাকিব। দিন,
মাস, বৎসরের ন্যায় জন্মজন্মান্তরকে মনে
করিয়া, আমরা কৰ্ম্মেরই সেবা করিব এবং
এই কৰ্ম্মভূমি ভারতবর্ষেই বারবার আসিতে
থাকিব। ভারতবর্ষেই আসিব কেন,
বলিতেছি শুন?
লােকহিতে, সমাজহিতে,
সমাজহিতে, দেশহিতেই
যদি আমাদের জীবন-তরণীকে কৰ্ম্মস্রোতে
ভাসাইতে হয়, তাহা হইলে, সম্পূর্ণ মানুষ
হইয়াই জন্মিতে হইবে। সেই সম্পূর্ণ
মানুষ ভারতবর্ষেই জন্মিয়া থাকে এবং ইহাই

E
মরণ-রহস্য।
কৰ্ম্মভূমি বলিয়া চিরপ্রসিদ্ধ। তদ্ভিন্ন স্বর্গের
ছায়া ভারত ভিন্ন আর কোথায় আছে?
পারিজাত, মন্দাকিনীর তুলনা ভারত ভিন্ন
আর কোথায়ও দেখিতে পাও কি ? তাই
বলি, এমন পৰ্বত, এমন সমুদ্র, এমন নদী
ছাড়িয়া অন্য দেশে যাইব কেন ? যেখানে
ভারে ভারে শস্য, বৃক্ষে বৃক্ষে ফল, লতায়
লতায় ফুল, তাহা ছাড়িয়া মরুভূমি আশ্রয়
করিতে যাইব কেন ? দেবতারা যাহার
মহিমা গান করিয়া থাকেন, সেই জ্ঞান ও
কৰ্ম্মের লীলাক্ষেত্র,স্বর্গাপবর্গের নিদান ছাড়িয়া,
আমরা কি আর কোথায়ও জন্মিতে পারি ?
জাহ্নবী যমুনার পীযুষপানে যাহারা মর হইয়াও
অমর, তুষারধবল হিমালয়ের ক্রোড়দেশে
যাহারা লালিত, নীলসমুদ্রের তরঙ্গচুম্বনে
যাহারা শিহরিত, বল দেখি ভাই, তাহাদের
আর কোন্ দেশে জন্মিতে সাধ হয় ? সেইজন্য
বলিতেছি, আমরা যখন ফিরিয়া আসিব, তখন
BE

টি dE মরণ-রহস্য। আবার এই ভারতবর্ষেই আসিব। আমাদের যদি সেই আকাঙক্ষা থাকে, সেই আগ্রহ থাকে, তাহা হইলে, নিশ্চয়ই আমরা আবার আমাদের পিতৃপিতামহদিগের লীলাভূমি এই ভারত- বর্ষেই জন্মগ্রহণ করিব। আর যদি চন্দ্রলােক- চ্যুত হইয়া, আমরা শসস্তবকেই প্রবেশ করি, তাহা হইলে, যাহার মাঠে মাঠে সােনার বরণ ধান আলাে করিয়া থাকে, যাহার ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে আরও কত শস্য শ্যামলতার ঢেউ খেলায়, যাহার ফলফুলে দেবতারাও মােহিত, সেই ‘সুজলা সুফলা শস্যশ্যামলা বঙ্গভূমিতেই ত আমরা আসিব। কত বঙ্গগৃহলক্ষী আবার আমাদিগকে কোলে লইয়া বসিবেন, আমরা আবার গঙ্গার তটে তটে খেলিয়া বেড়াইব, এবং আবার কৰ্ম্মস্রোতে ভাসিতে আরম্ভ করিব। এখন বল দেখি ভাই, মরিতে ভয় হয় ? আনন্দ হয় ? মরণ আমাদের উন্নতির দ্বার The 部 মরণ-রহস্য। হও। কর্তব্য খুলিয়া দেয় ? না রােধ করিয়া বসে ? একবার মনে কর দেখি, মরণ যখন আমাদের জন্ম জন্মান্তরের পথ খুলিয়া দেয়, তখন তাহাকে ভয় করিব কেন ? যে মরণের পর আমরা আবার আমাদের ভারতমাতার, বঙ্গমাতার ক্রোড়ে জন্মগ্রহণ করিব, সে মরণের প্রতি বিদ্বেষ করি কেন ? তাই বলি, মরণের ভয় করিও না। পরজন্মের মনােহর চিত্র মনে অকিয়া এ জন্মেয় কর্তব্যপালনে অগ্রসর শেষ করিতে না পারিলে, আবার আসিয়া, তাহা শেষ করিতে চেষ্টা করিব এই আশায় চিত্তকে উৎফুল্ল করিয়া আবার ভারতজননী, বঙ্গজননীর ক্রোড় অধিকার করিয়া বসিব। আবার জাহ্নবী- যমুনার পীযূষপানে বিভাের হইব। আবার লােকহিতে, সমাজহিতে, দেশহিতে জীবন- তরী ভাসাইয়া দিব, এই কথা মনে করিতে করিতে মরণকে আলিঙ্গন করিবার জন্য BE তুল।

013-IC
MAJU, HOWRAP
৪টি
B
৬৪
মরণ-রহস্য।
প্রস্তুত হও; দেখিবে মরণের ভয় কোথায়
চলিয়া গিয়াছে। জন্মজন্মান্তরের মনােহর
চিত্র যাহাদের হৃদয়পটে অঙ্কিত হয়, তাহারা
কি মরণকে ভয় করিতে পারে ? আর
তাহাদের নিকট মরণের পর কিছুই নাই, বা
থাকিলেও তাহারা আর আসিবে না একথা
ভাল লাগে কি ? আশা, আকাঙক্ষা মানুষের
চিরসহচরী, সেই আশা আকাঙ্ক্ষায় নির্ভর
করিয়া পরজন্মের চিত্র মনে আঁকিয়া লও।
'তাহা হইলে, আর মুরণের ভয়ে অভিভূত
হইতে হইবে না।
১৫ll,
ইatd 10%
e
E

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Maron-rahasya

Author
Roy,nikhilnath
Title
Maron-rahasya
File name
Maron-rahasya
Text
OCR done
Citation
1910
Published
2010/03/25
Publisher
International Publishing Co.,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
84
Library
Maju Public Library, Howrah
Classification
Philosophy
Keywords
Roy,Nikhilnath
DLI number
511214
Barcode
4990010018382.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
DAjqWCiE4xV
Download PDF

Maron-rahasya