Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Gayan-bed Ed.3
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
জ্ঞান-বেদ
চতুর্বেদের সংক্ষিপ্তসার।)
ঋক, যজুঃ, সাম, অথর্বচাৰি বেদের ব্যাখ্যা,
পৃথিবীর ইতিহাস প্রভৃতি গ্রন্থ প্রণেতা
পূজনীম শ্ৰীযুক্ত দুর্গাদাস লাহিড়ী মহাশয়
কর্তৃক সঙ্কলিত, ব্যাখ্যাত ও সজ্জীকৃত
অভিনব গ্রন্থ।
তৃতীয় খণ্ড।
পৌষ, ১৩২৩
প্রকাশক :
শ্ৰধীরেন্দ্রনাথ লাহিড়ী (শৰ্ম্মা)।
‘পৃথিবীর ইতিহাস কাৰ্যালয়, হাওড়া (কলিকাতা)।
আনবেদ—পাঁচ খণ্ডে সম্পূর্ণ। মূল্য ১২ বার টাকা। প্রতি খণ্ডের মুল্য ২০ আড়াই টাকা।
Pointed and Published by
DHIRENDRANATH LAHIRI.
at tbc
• Prithibir Itihasa' Printing Works,
65. Kalipiesad Banerji's Lane, Khirestala,
HOWRAH (Calcutta).
জ্ঞান-বেদ। প্রস্তাবনা মন্ত্রশক্তি পরীক্ষা করুন। সকল বেদ-মন্ত্রই মানুষের ইহলৌকিক ইষ্টসাধক ও পারলৌকিক মঙ্গলবিধায়ক। তাহারই কয়েকটী মন্ত্র এই খণ্ডে প্রকটিত হইল। শাস্ত্র বলেন,-এই সকল মন্ত্র বিধিপূৰ্ব্বক জপ করিলে অভীষ্টফল প্রাপ্ত হওয়া যায়। সকল মন্ত্রের ফলাফল পরীক্ষা করিবার সৌভাগ্য আমাদিগের নাই। যাহা একটু পরীক্ষা করিবার অবসর পাইয়াছি, তাহাতেই বিস্ময়াবিষ্ট হইয়াছি। অলৌকিক মন্ত্রশক্তি ! তাহার ফুল অসাধারণ! যদি কেহ অবসর পান, যদি কাহারও ভাগ্য সে অবসর তঁাহাকে প্রদান করে, তিনি মন্ত্রশক্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারেন। পরীক্ষার অন্তরায় দূর করিতে মশক্তির সহায়তা উন। তবে পরীক্ষার পক্ষে অন্তরায় আছে-অসংখ্য। পরীক্ষায় প্রথম অবশ্যক-চিত্তশুদ্ধি মনঃস্থৈর্য। অন্তঃশুচি বহিঃশুচি সম্পাদন-পূর্বক চিত্তশুদ্ধির ও মনশ্বৈর্য্যের প্রচেষ্টা আবশ্যক। এবম্প্রকারে ইষ্টলাতে ৪ জ্ঞানবে। সঙ্কল্পপূৰ্ব্বক মন্ত্র জপ করিলে, নিশ্চয়ই সুসিদ্ধি আসিবে। ইহাই শাস্ত্রের নির্দেশ। সংসারে নানা বিষয়ে নানা প্রকার পরীক্ষা চলিয়াছে। সুখৈশ্বৰ্য্য লাভের জন্য মানুষের পরীক্ষার অন্ত নাই। বিজ্ঞান-বলে দিন দিন যে অসাধ্যসাধন হইতেছে, প্রাণপত পরীক্ষাই তাহার মূলীভূত। তবে দুঃখের বিষয়, পরীক্ষা এখন একদিকেই কেন্দ্রীভূত হইয়া পড়িয়াছে। আধ্যাত্মিকতার পরীক্ষা ভুলিয়া গিয়, মানুষ এখন জড়-জগতের পরীক্ষাতেই আত্মোৎসর্গ করিয়াছে। দুইটী চক্ষুর একটী চক্ষু অন্ধ হইয়াছে ; একটী চক্ষুমাত্র কার্যকরী রহিয়াছে। প্ৰবাহিণীর দুইটা পথের একটী পথ অবরুদ্ধ ; অপর পথে ক্ষীণধার মাত্র প্রবাহিত। এই গ্রন্থ প্রকাশের উদ্দেশ্য -অন্ধনয়ন উন্মীলন করা,—অবরুদ্ধ নদীর পথ মুক্ত কর। আশা এই যে, মানুষ একবার আধ্যাত্মিক শক্তি সঞ্চয়ের জন্য অভিনব পরীক্ষায় প্রবৃত্ত হউক;-উপেক্ষিত পরিত্যক্ত পথ আর একবার অনুসরণ করিয়া দেখুক। সেই পথেই দেখিতে পাওয়া যাইবে— বুঝিতে পারা যাইবে—কি অমানুষিক শক্তি সে পথে ক্রিয়াশীল রহিয়াছে। কৰ্মবৈগুণ্যে মানুষের শক্তিক্ষয়ের এবং দুর্দশার অবধি নাই। চেষ্টার পর চেষ্টা করিয়া মানুষ সেই কৰ্ম্ম-বৈগুণ্য দূর করিবার জন্য প্রযত্নপর রহিয়াছে। কিন্তু কেবল কর্মের দ্বারাই যে কৰ্ম্ম-বৈগুণ্য দূর করিতে পারা যায়, তাহা বলিতে পারি না। তৎপক্ষে দৈবের সহায়তা বিশেষ আবশ্যক। মন্ত্রশক্তি সেই দৈবের সহায়তা আকর্ষণ করে। কৰ্ম্মের সহিত দৈবের সংযােগ ঘটিলেই সিদ্ধিলাভ হইয়া থাকে। বাদ-প্রতিবাদে নিসনে। এখানে প্রতিবাদের কথা উঠিতে পারে। কেননা, প্রাক্ত সিদ্ধান্তের বিপরীত ফলও কখনও কখনও প্রত্যক্ষভূত হয়। এমনও দেখা যায়, দুই ব্যক্তি একই প্রকার অধ্যবসায়ের সহিত একই প্রকার কর্মে নিযুক্ত হইয়াছে; কিন্তু তাহাদের মধ্যে একজন বিফলমনােরথ এবং অপর জন সফলকাম হইতে পারিয়াছে। অপিচ, এমনও দেখা যায়, এক ব্যক্তি দৈবের সহায়তা লাভের জন্য মন্ত্রশক্তির সহায়তা লইয়াও ফললাভ করে নেবেদ। নাই; কিন্তু অপর ব্যক্তি বিনা-মন্ত্র-সাহায্যে ফললাভ করিয়াছে। এবম্বিধ ফলপার্থক্যের কারণ কি? প্রশ্ন-বিষম সমস্যামূলক। এ প্রশ্নের সমাধান এ পর্যন্ত সম্যক্ সাধিত হইয়াছে বলিয়া জানিতে পারা যায় নাই। আমরাও এ প্রশ্নের যে প্রকার সমাধানের চেষ্টা পাইব, তাহাও যে সৰ্ববাদিসম্মত বা সকলের প্রীতিপ্রদ হইবে, তাহা মনে করিতে পারি না। তবে দৃষ্টিশক্তির তারতম্য অনুসারে একই বস্তু বিভিন্ন জনের নিকট বিভিন্নরূপ প্রতিভাত হয়, ইহাও ততা প্রত্যক্ষ করি ! অতএব, যে দৃষ্টিতে যে বিশ্বাস লইয়া যে পথে আমরা অগ্রসর হইয়াছি, যত দিন পর্যন্ত তাহা ভ্রান্ত বলিয়া প্রতিপন্ন না হইবে, পরন্তু অভ্রান্ত সত্য বলিয়া ধারণা থাকিবে, সেই পথই তত দিন পর্যন্ত শ্রেয়ঃসাধক বলিয়া তাহারই অনুসরণ করিব; পরন্তু সেই পথের বার্তাই ঘোষণা করিতে প্রযত্নপর রহিব। সাধারণতঃ যে সংশয়-প্রশ্ন উখিত হয়, দেখা যাউক, তাহার নিরসনের পক্ষে কি যুক্তি আছে ? এ পক্ষে প্রধান বক্তব্য এই যে,প্রাক্তন, কৰ্ম্মফল, অদৃষ্ট বা দৈবশক্তি – স্বীকার ভিন্ন উপায়ান্তর নাই। জন্মিয়াই কোটিপতি হইয়াছে ; অন্য জন জন্মমাত্র দারিদ্র্যের চরম সীমায় নিপতিত রহিয়াছে। এ বৈষম্যের সমাধানে, অদৃষ্ট বা পূর্বজন্মজ্জিত কৰ্ম্মফল স্বীকার ভিন্ন গত্যন্তর নাই। এইরূপ, একই পথে একই কর্মে প্রবৃত্ত হইয়া, একজন যে সাফল্য লাভ করে, আর একজন যে বিফল- মনােরথ হয়, তাহার কারণ নির্দেশে ‘অদৃষ্ট’ বা ‘প্রাক্তন অস্বীকার করা যায় না। এখানে পুনরায় প্রশ্ন উঠিতে পারে—যদি তাহাই হইল, প্রাক্তন, কৰ্ম্মফল বা দৈবশক্তিই যদি কর্মের নিয়ন্তা রহিল, তবে আর মন্ত্রশক্তির উদ্বোধনায় বা ভগবানের আরাধনায় কি ফল আছে ? তাহার উত্তর এই যে,-মন্ত্রশক্তিতে ভগবদারাধনায় প্রাক্তন কর্ম ক্ষয় করে, অভিনব কৰ্ম্মশক্তি জাগ্ৰৎ করিয়া দেয়। যাঁহারা পরীক্ষা করিয়া দেখিয়াছেন, তাহারা তাহা বুঝিতে পারিয়াছেন; যাহাদের সে সৌভাগ্য ঘটে নাই, ভাহারা অন্ধকারেই নিমজ্জমান রহিয়াছেন। এক জন জ্ঞানবেদ। এই খণ্ড প্রকাশের লক্ষ্য। প্রাক্তন, অদৃষ্ট বা কৰ্ম্মফল প্রভৃতির মীমাংসা—এ প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত নহে। যে প্রসঙ্গে এই ভূমিকার অবতারণা, এখানে তদ্বিষয়ক বক্তব্যই ব্যক্ত করিতেছি। জ্ঞানবেদের এই খণ্ডে যে সকল মন্ত্র প্রকটিত হইবে, সেই সকল মন্ত্র জপ করিবার বা প্রয়ােগ করিবার পূর্বে, বলিয়াছি তাে, অন্তঃশুচি ও বহিঃশুচি প্রথম প্রয়ােজন। সহসা অন্ত:শুচি ও বহিঃশুচি সম্ভবপর নহে। সুতরাং তৎপক্ষে প্রথমে কতিপয় অনুষ্ঠানের প্রয়ােজন। আমাদিগের নিত্যকর্মে এবং পূজা-পদ্ধতিতে যে সকল অনুষ্ঠান প্রথমে প্রয়ােজন হয়, মন্ত্র-জপের পূর্বে তাহা সমাধান করা আবশ্যক। আচমন, স্বস্তিবাচন, অসিনশুদ্ধি, ভূতশুদ্ধি, সঙ্কল্প প্রভৃতি কাৰ্যমন্ত্র-জপের পূর্বে প্রয়ােজন। এ সকল বিষয়ে যাহারা অভ্যস্ত নহেন, তাহারা সদ্গুরুর নিকট অথবা অন্য উপায়ে উপদেশ গ্রহণ করিবেন। কাম্য জাপ্যমন্ত্র প্রকটনের পূর্বে, আনুষ্ঠানিক কয়েকটা মন্ত্র ও তাহার ব্যাখ্যা আমরা প্রথমে প্রকটন করিতেছি। তাহার পর, কোন উদ্দেশ্য-সাধনে কোন মন্ত্র কিরূপভাবে জপ করিতে হইবে, তাহা নির্দেশ করিয়া দিব। তবে এখানে একটা কথা স্মরণ রাখা কৰ্ত্তব্য। স্বার্থ ও পরাৰ্থ বিষয়ে মন্ত্রজপে ফলপ্রাপ্তির তারতম্য ঘটিয়া থাকে। কেবলই নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কামনা না করিয়া, যদি অপরের ইষ্টসিদ্ধির কামনায় কেহ মন্ত্রজপে প্রবৃত্ত হন, তাহাতে যত সত্বর ফলপ্রাপ্তি ঘটে, স্বার্থ-বিষয়ে ফলপ্রাপ্তি তত সত্বর সম্ভব না হইতে পারে। যে শুভসঙ্কল্প প্রণােদিত হইয়া এই খণ্ড জ্ঞানবে প্রকটিত হইল, সেই সঙ্কল্প সিদ্ধ হউক,জাপ্য-মন্ত্র মানুষের হিতসাধন করুক। উপসংহারে ভগবানের নিকট ইহাই প্রার্থনা করি। ইতি—৯ই। জ্যৈষ্ঠ, ১৩৩৮ সাল। নিষেক শ্রীদুর্গাদাস লাহিড়ী (শৰ্ম্মা)। ‘গৃথিবীর ইতিহাস’ কাৰ্যালয়, হাওড়া, (কলিকাতা)।
জ্ঞান-বেদ আচমন-মন্ত্র ওঁ তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ । = দিবীব চক্ষুরাততম্। মন্ত্রোচ্চারণের লক্ষ্য। এই মন্ত্রী নিত্যসত্য-তত্ত্ব-খ্যাপক। জ্ঞানিগণ অবাধে ভগবানের সন্ধান প্রাপ্ত হন-ভঁহার স্বরূপ-তত্ত্ব জানিতে পারেন। তাহা জানিয়া, তাহারা সেই পথে অগ্রসর হইয়া থাকেন। তাহাদের গন্তব্য পথের বাধা তাহাদিগের জ্ঞানের দ্বারাই অপসৃত হয়। কিন্তু কর্মের প্রারম্ভে কৰ্ম্মিমাত্রই সে এই মন্ত্র উচ্চারণ করেন, তাহার লক্ষ্য—অভােদ্বোধন বা প্রার্থনামূলক বলিয়াই মনে হয়। আমাতে জ্ঞানের সঞ্চার হউক, আমার জ্ঞান-পথের বাধা দূরে সরিয়া যাউক, আমি যেন অবাধে ভগবদুদ্দেশ্যে অগ্রসর হইতে পারি, আচমনের মন্ত্রে বিষ্ণু-স্মরণে এই লক্ষ্যই প্রকটিত দেখা যায়। এই মন্ত্রের নিগুঢ় উদ্দেশ্য—জ্ঞানার্জন। জ্ঞানী হইয়া, সজ জ্ঞান লাভ করিয়া, মানুষ কর্মে প্রবৃত্ত হউক,—ইহাই এখানকার উপদেশ । অন্তরে যাহাতে জ্ঞানের আলোক বিকীর্ণ হয়, সেই প্রচেষ্টাই এই মন্ত্রের উদ্বোধন। বিদ্যমানেও অনেক সময় অবিদ্যমানতার সংশয় আসে। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে সূর্যরশ্মি পরিদৃষ্ট হয় না। নৈশ-গগনে সূর্যের জ্যোতিঃ দেখিতে পাওয়া যায় না। অথচ, সূৰ্য্যদেব চিরবিদ্যমান অাছেন। দৃষ্টি-প্রতিরোধক জ্ঞানবেদ। বস্তুই তাঁহার অবিদ্যমানতা সূচনা করে। এ যেমন প্রহেলিকা, এ যেমন ভ্রান্ত-দৃষ্টির প্রবর্তক, মানুষের সহিত ভগবানের সম্বন্ধ-সূত্রও সেইরূপ অবিচ্ছিন্ন থাকিয়াও বিচ্ছিন্ন হইয়া আছে। এ মন্ত্র সেই সম্বন্ধ-সূত্রের পরিচয়-জ্ঞাপক। মন্ত্র বলিতেছেন,—“তিনি সেই অবিচলিতভাবেই আছেন ; তােমার দৃষ্টিপথে বাধা আসিয়া উপস্থিত হওয়ায়, তুমিই কেবল তাহার সন্ধান পাইতেছ না। চেষ্টা কর—প্রযত্নপর হও;—কিসে সেই বাধা অপসৃত হয়। । মন্ত্রের অর্থ। মন্ত্রের যে অর্থ, যে ভাব সমীচীন হইতে পারে, মন্ত্রান্তর্গত পদাবলির অনুসরণে ও বিশ্লেষণে, আমাদিগের মর্মানুসারিণী ব্যাখ্যায় ও তাহার বঙ্গানুবাদে, নিম্নে তাহার আভাস প্রদান করা হইল। যথা- মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘দিৰি (আকাশে, নিরাবরণে, সূর্যালোকপ্রাপ্তে) ইব’ (যথা) চক্ষুঃ (নেত্রং) ‘আতং (সমন্তাৎ বিস্তৃতং, অবাধেন সর্বং পশ্যতি ইতি যাবৎ তথা), সূরয়ঃ (জ্ঞানিনঃ) তৎ (পরমৈৰ্য্যসম্পন্ন) ‘বিষ্ণোঃ (সৰ্বব্যাপস্য ভগবতঃ ) ‘পরমং ( শ্রেষ্ঠং) ‘পদং (প্রভাবং, স্বরূপং) সদা (সর্বষ্মিকালে) পশ্যন্তি” ( অবলােকয়ন্তি)। সূর্যালােকসাহায্যেন বাধাবিরহিতাকাশে চক্ষুৰ্যথা প্রকৃতিপুঞ্জং পরিলক্ষতি, জ্ঞানিনঃ তথৈব জ্ঞানপ্রভাবেন সৰ্বস্মিন কালে ভগবত্তত্ব জানন্তি। যেনাহং ভগবতঃ স্বরূপং জানামি, তদৃষ্টিং মে দেহি ইতি প্রার্থনা। বঙ্গানুবাদ। নিরাবরণ আকাশে সূর্যালােক-লাভে চক্ষু যেমন অবাধে সমস্ত দৃষ্টি করিতে সমর্থ হয়, জানিগণ সেইরূপ (পরাজ্ঞান-প্রভাবে ) পরমেশ্বর বিষ্ণুর পরমপদ (শ্ৰেষ্ঠস্বরূপতত্ত্ব) সদকাল প্রত্যক্ষ করিয়া থাকেন। (ভাব এই যে-সুৰ্যালােক-সাহায্যে বাধাবিরহিত আকাশে চক্ষু যেমন প্রকৃতিপুঞ্জকে লক্ষ্য করে, সেইরূপ জ্ঞানিগণ জ্ঞান-প্রভাবে সর্বদা ভগবত্তত্ব জানিতে সমর্থ হয়েন। প্রার্থনা-আমি যেন সেই দৃষ্টি লাভ করি।)। [ এই আচমন-মন্ত্র সম্বন্ধে ভিন্ন ভিন্ন মত পরিদৃষ্ট হয়। বিভিন্ন স্তরের মানুষ বিভিন্ন প্রকারে আচমন-মন্ত্র উচ্চারণ করিবে-নির্দেশ দেখিতে পাই। অণিচ, বৈদিক আচমন ভিন্ন, তান্ত্রিক আচমনেরও প্রাধান্য দেখিতে পাওয়া যায়। বেদব্যাখ্যায় আমরা বৈদিক মন্ত্রে । বিষয়ই প্রখ্যাপন করিতেছি।]
জ্ঞান-বেদ স্বস্তিবাচন-মন্ত্র। তিন-বেদীয় ব্রাহ্মণের পক্ষে তিন প্রকার স্বস্তিবাচন’ প্রচলিত আছে। সামবেদ-সংহিতা, যজুৰ্বেদ-সংহিতা ও ঋগ্বেদ-সংহিতা হইতে যথাক্রমে সামবেদীয়, যজুর্বেদীয় ও ঋগ্বেদীয় ব্রাহ্মণের উচ্চারণীয় স্বস্তিবাচন সঙ্কলিত হইয়াছে। এই স্বস্তিবাচনে যে যে মন্ত্র যে যে বেদীয় ব্রাহ্মণগণের জন্য নির্দিষ্ট হইয়া আছে, পর্যায়ক্রমে সেই সেই মন্ত্র উদ্ধত করা যাইতেছে। সামবেদীয় স্বস্তিবাচন। ১ ২ ৩ ২ ৩১২ ওঁ সােম, রাজানং বরুণমগ্রিমম্বারভামহে। আদিত্যং বিষ্ণু, সূৰ্য্যং ব্রহ্মাণং চ বৃহস্পতিং । মন্ত্রোচ্চারণের লক্ষ্য। ওঁ সোমং রাজানং ইত্যাদি বেদমন্ত্র উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে ওঁ স্বস্তি ওঁ স্বস্তি ওঁ স্বস্তি বাক্য উচ্চারণ করা হয়। তাহাতে মন্ত্রোচ্চারণের সঙ্গে ‘শুভ হউক, সু.হউক, মঙ্গল হউক'—ইত্যাদি ভাব প্রকাশ পায়। দেবগণকে আমরা যেন অহ্বান করি, আমরা যেন দেবগণের আশ্রয়- গ্রহণে সমর্থ হই, এ মন্ত্রে এবম্বিধ প্রার্থনার ভাব প্রকাশমান। দেবগণকে আহ্বান করা, দেবগণের নিকট প্রার্থনা করা বা দেবগণের আশ্রয় গ্রহণ করা—এ সকলের তাৎপৰ্যার্থ কি ? তাৎপৰ্যার্থ এই নয় কি—“আমরা নিবেদ। যেন তদ্ভাবে ভাবান্বিত হই—আমরা যেন তদূগুণে গুণান্বিত হই, আমরা যেন তদবস্থায় উপনীত হইতে পারি। এখানে এই মন্ত্রে সােম, বরুণ, অগ্নি, আদিত্য, বিষ্ণু, সূৰ্য্য, ব্ৰহ্মা, বৃহস্পতি প্রভৃতি দেবতাকে আহ্বান করা হইয়াছে। কে তাহারা, তাহাদের আশ্রয় গ্রহণ বা উপাসনাই বা কি,-এই তত্ত্ব উপলব্ধি করিয়া, তদনুসারে কাৰ্য্য করিতে পারিলে, আপনিই স্বস্তি অধিগত হয়। সােম, বরুণ, অগ্নি, বিষ্ণু প্রভৃতির আশ্রয় গ্রহণ করি’-মন্ত্রের এই যে প্রার্থনা, তাহাতে তাহাদের ন্যায় গুণসম্পন্ন শক্তিসম্পন্ন হইবার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পাইয়াছে। সেই আকাঙক্ষানুরূপ কার্যে প্রবৃত্ত অনিবাৰ্য ;-বেদমন্ত্র সেই উপদেশ খ্যাপন করিতেছেন। হইলেই মঙ্গল মন্ত্রের অর্থ। মন্ত্রের অন্তর্গত পদাবলির বিশ্লেষণে মন্ত্রে যে ভাৰ প্রাপ্ত হওয়া যায়, আমাদের কৃত মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যায় ও তাহার বঙ্গানুবাদে তাহা প্রত্যক্ষ করুন; যথা- মর্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। সোমং (সতস্বরূপং দেব, যা—শুদ্ধসদ্যোপেতং, সত্ব ভাবারং) বরুণ? (করুণাবক দেবং, যা-সেহকরুণাময়ং) অগ্নি (জানাধরং দেবং, যা-জ্ঞানস্বরূপং) আদিত্যং (অনন্তদেবং, যা-অনন্তসন্ধিনং অনন্তরূপং বা) “বিষ্ণুং' (বিশ্বব্যাপকং দেবং, যা-সৰ্বস্ত ধায়ক) সুৰ্যং’ ( প্রকাশরূপং দেবং, যদ্বাসপ্রকাশং) ৰহ্মাণং (সৃষ্টিকর্তারং, যদ্বাস- প্রবৰ্ধক) বৃহস্পতিং (প্রজ্ঞানপ্রদাতারং দেবং, যা-অশেষপ্রজ্ঞাসম্পন্নং) ‘রাজানং' (হুদি রাজমানং পরমাত্মন, ইত্যর্থ) অন্বারভামহে' (আয়াহে, আশ্রয়ামতে-বয়মিতি শেষ)। অস্মাক আত্মরক্ষণায় অশেষগুণাধারং ভগৰ সৰ্ব্বথা আয়েম ইতি ভাব। বঙ্গানুবাদ। সত্বস্বরূপ সােমদেবতাকে, করুণাবর্ষক বরুণদেবতাকে, জ্ঞানাধার অগ্নিদেবতাকে, অনন্ত- স্বরূপ আদিত্যদেবতাকে, বিশ্বব্যাপক বিষ্ণুদেবতাকে, প্রকাশরূপ সূৰ্য্যদেবতাকে, সৃষ্টিকর্তা ব্ৰহ্মাদেবতাকে, প্রজ্ঞানদাতা বৃহস্পতিদেবতাকে, হৃদয়ে রাজমান পরমাত্মাকে-আমরা আহ্বান করি অর্থাৎ তাহাদিগের আশ্রয় গ্রহণ করি। অথবা,-শুদ্ধসত্ত্বাপেত (সত্বভাবখান', মেং করুণাময়, জ্ঞানস্বরূপ, অনন্তসম্বন্ধীয় (অনন্তরূপ), সর্বব্যাপী (সর্বধারক, প্রকাশ, সত্ব- প্রবর্ধক এবং অশেষপ্রজ্ঞাসম্পন্ন, হৃদয়ে রাজমান পরমেশ্বরকে আমরা আহ্বান করি—আয় করি। (ভাব এই যে,আমাদিগের আত্মরক্ষার জন্য ভগবানের আশ্রয় গ্রহণ সর্বথা কর্তব্য)।
জ্ঞানবে। যজুর্বেদীয় স্বস্তিবাচন। (১) ওঁ স্বস্তি ন ইস্ত্রো বৃদ্ধশ্রবাঃ স্বস্তি নঃ পূষা বিশ্ববেদাঃ। স্বস্তি নস্তক্ষ্যে অরিষ্টনেমিঃ স্বস্তি নাে বৃহম্পতির্দধাতু। অরিষ্টনেমি (২) ওঁ গণানাং ত্বা গণপতি, হামহে। ও প্রিয়াণাং ত্বা প্রিয়পতি, হবামহে। প্রিয়পতি, ও নিধীনাং ত্বা নিধিপতি, হামহে বসো মম মদ্ব-সম্বন্ধে বক্তব্য। যজুর্বেদীয় এই স্বস্তিবাচন মন্ত্রদ্বয়ের—প্রথমটী ঋগ্বেদ-সংহিতার অন্তর্ভুক্ত (১অষ্টক-৬অধ্যায়-১৬বর্গ দ্রষ্টব্য) এবং দ্বিতীয়টী শুরু- যজুর্বেদ-সংহিতার যজ্ঞকাণ্ডে বিনিযুক্ত (২৩অধ্যায়-১৯কণ্ডিকা দ্রষ্টব্য)। কিন্তু এই দুই মন্ত্র এখানে যজুর্বেদীয় স্বস্তিবাচনে প্রযুক্ত হয়। এই দুই মন্ত্র উচ্চারণের পর, “ওঁ স্বস্তি ওঁ স্বস্তি ওঁ স্বস্তি” বাক্য উচ্চারণের বিধি আছে। ভাব এই যে, এই দুই মন্ত্র উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই সুখ, শান্তি ও মঙ্গল অধিগত হইবে। প্রথম মন্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন দেবতাকে সম্বোধন-পূৰ্ব্বক স্বস্তির কামনা করা হইয়াছে ; দ্বিতীয় মন্ত্রে সেই আশ্রয়স্থানভূত ভগবানকে আহ্বান করিয়া ঊহার করুণা প্রার্থনা করা হইয়াছে। প্রথম মন্ত্রের লক্ষ্য ব্যষ্টিভূত ভগবদ্বিভূতি-সমূহ; দ্বিতীয় মন্ত্রের লক্ষ্য-সেই সমষ্টিভূত ভগবদ্বিভুতির বা ভগবানের প্রতি।
১২ জুনবেদ। প্রথম মন্ত্রে প্রভূত-মঙ্গল-নিলয় ইন্দ্রদেবতাকে, সকল ধনের পোষণকারী পূষা-দেবতাকে, অনন্তজীবনবিশিষ্ট অরিষ্টনেমিকে এবং প্রজ্ঞানরূপ বৃহস্পতি-দেবতাকে আহ্বান করিয়া তাহাদের নিকট স্বস্তি কামনা করা হইয়াছে। দ্বিতীয় মন্ত্রে সেই সকল দেবতার অধিপতি, সকল সম্পদের অধিস্বামী, সকল প্রিয়বস্তুর আধার, সেই শ্রেষ্ঠ আশ্রয়স্থানপ্রদাতা ভগবানকে আহ্বান করিয়া তাহার নিকট মঙ্গল কামনা করা হইয়াছে। মন্ত্র-দুইটার অর্থ। মন্ত্রের কোন্ পদে কি অর্থ প্রাপ্ত হওয়া যায় এবং তদ্বারা কোন্ সামগ্রীকে লক্ষ্য করে, মৎকৃত মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যায় এবং তাহার বঙ্গানুবাদে তাহার পরিচয় প্রদান করিতেছি ;- প্রথম মন্ত্রের মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘বৃদ্ধশ্রবাঃ (প্রভূতঙ্গলনিলয়, প্রকৃষ্টধনেপেতঃ) ‘ইন্দ্রঃ ( ভগবান্ ইন্দ্রদেবঃ} ‘না’ ( অকং) স্বস্তি’ (সু অস্তি, সুখকরঃ মঙ্গলপ্রদঃ ভবতি ভবতু যা); ‘বিশ্ববেদাঃ (সৰ্ব্ব- জ্ঞানাগার, সৰ্ব্বধনাধিকারী) পৃষ’ (পােষক: দেবঃ) ‘ল’ ( অস্মাকং) স্বস্তি’ ( সুখকর মঙ্গলপ্রদ ভবতি ভবতু বা); ‘তাক্ষ' (সৎপথিগমনশীল জ্যোতির্ময় বা) অরিষ্টনেমিঃ ( অপ্রতিহতঃ অহিংসিতঃ অবিনাশী কালচক্র, যদ্বা—অবাধজীবনগতি, অনন্তজীবনবিশিষ্ট দেব ইত্যর্থ) ‘ন (অাক) স্বস্তি’ ( সুখকরঃ মঙ্গলপ্রদ ভবতি ভবতু বা); বৃহস্পতিঃ (শ্ৰেষ্ঠানাং পালয়িতা, প্রজ্ঞানরূপঃ দেবঃ) নঃ ( অম্মান) ‘দধাতু' (ধারয়তু, রক্ষ)। অয়ং ভাবঃ-সৰ্বাৰাং দেবতানাং রক্ষণং অন্ গােতু; জ্ঞানপ্রভাবেণ বয়ং তৎ রক্ষণং প্রাপুয়াম। ঐ মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যার বঙ্গানুবাদ। প্রভূমঙ্গলনিলয় (প্রকৃষ্টধনোপেত) ভগবান ইন্দ্রদেব আমাদিগের সুখকর মঙ্গলপ্রদ হয়েল (অথবাহউন); সর্বজ্ঞানধার ( সকল ধনের অধিকারী ) পােষক পূষাদেবতা আমা- দিগের মুখকর মঙ্গলপ্রদ হয়েন ( অথবা হউন); সৎপথে গমনশীল বা জ্যোতির্ময় অপ্রতিহত অহিংসিত অবিনাশী কালচক্র অথবা অবাধজীবনগতি অর্থাৎ অনন্তজীবনবিশিষ্ট অরিষ্টনেমি দেবতা আমাদিগের সুখকর মঙ্গলপ্রদ হয়েন (অথবা হউন); দেবগণের পালয়িতা জ্ঞানরূপ বৃহস্পতি-দেবতা আমাদিগকে ধারণ করু-রক্ষা করুন। (ভাব এই যে-সকল দেবতার রক্ষা আমাদিগকে প্রাপ্ত হউক; জ্ঞান-প্রভাবে আমরা যেন সেই রক্ষা প্রাপ্ত হই।)। দ্বিতীয় মন্ত্রের মর্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা ও বঙ্গানুবাদ। দ্বিতীয় মন্ত্রের অর্থাৎ ‘গণনাং বা গণপতিং প্রভৃতি মন্ত্রের ব্যাখ্যা এই জ্ঞানবেদেরই দ্বিতীয় খণ্ডে প্রকাশিত হইয়াছে। বাহুল্যভয়ে এস্থলে আর তাহা উদ্ধৃত হইল না।
জ্ঞানবেদ। ঋগ্বেদীয় স্বস্তিবাচন। ওঁ স্বস্তি নো মিমীতামশ্বিন। ভগঃ স্বস্তি দেবদিতিরনবণঃ । - স্বস্তি পূষা অসুরাে দধাতু নঃ স্বস্তি ঘাবাপৃথিবী সুচেতুন। ১। ওঁ স্বস্তয়ে বায়ুমুপবামহৈ সােমং স্বস্তি ভুবনস্য যস্পতিঃ। বৃহস্পতিং সৰ্ব্বগণং স্বস্তয়ে স্বস্তয় আদিত্যাসো ভবন্তু নঃ ॥২॥ ওঁ বিশ্বেদেবা নােহঅদ্যা স্বস্তয়ে বৈশ্বানরে বসুরগ্নিঃ স্বস্তয়ে। = দেবাহঅব ভবঃ স্বস্তয়ে স্বস্তি নাে রুদ্রঃ পাত্বংহসঃ । ৩। ওঁ স্বস্তি মিত্রাবরুণা স্বস্তি পথ্যে রেবতি। স্বস্তি ন ইন্দ্রশ্যাগ্নিশ্চ স্বস্তি নাে অদিতে কৃধি ॥৪॥ । ওঁ স্বস্তি পন্থমনুচরেম সূৰ্যাচন্দ্রমবিব। পুনর্দদতাতা জানতা সংগমেমহি। ৫। (ঋগ্বেদ, ৪ অষ্টক-৩য় অধ্যায়-৭ বর্গ) নিবেদ। মন্ত্র-পঞ্চকের লক্ষ্য। ঋগ্বেদীয়গণের মধ্যে উক্ত পাঁচটী মন্ত্রের সঙ্গে ‘ওঁ স্বস্তি ওঁ স্বস্তি ওঁ স্বস্তি’ বাক্য উচ্চারণ-পূর্বক স্বস্তিবাচন করার প্রথা আছে। মতান্তরে ঐ মন্ত্রের সঙ্গে আরও তিনটী মন্ত্র পঠিত হয়। কিন্তু সে তিনটা মন্ত্র ঋগ্বেদের মধ্যে পরিদৃষ্ট হয় না। সুতরাং তাহা আর আমরা উদ্ধৃত করিলাম না। সামবেদীয় ও যজুৰ্বেদীয়গণের স্বস্তিবাচন পাঠের যে লক্ষ্য, উপরি-উদ্ধৃত মন্ত্র-কয়েকটীরও লক্ষ্য তাহাই বলিয়া প্রতীত হয়। ঐ সকল মন্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন দেবতার নিকট স্বস্তি কামনা করা হইয়াছে। বলা হইয়াছে—“অন্তৰ্বাধি-বহিৰ্বাধি-নাশক অশ্বিদেবদ্বয় আমাদিগকে স্বস্তি প্রদান করুন। ঐশ্বর্যের আধার ভগদেবতা, অনন্তস্বরূপা অদিতি, পোষণ- কারী পূষা-দেবতা, শত্রুক্ষয়কারী অথবা বলপ্রাণদাতা ‘অসুর’-দেবতা # আমাদিগকে স্বস্তি দান করুন। অপিচ, দ্যাবাপৃথিবী, দ্যুলােক-ভূলোক, সৰ্ব্বলোকব্যাপী দেবগণ, প্রজ্ঞ'নের সহিত আমাদিগকে স্বস্তি দান করুন। এইরূপে, বায়ুদেবতাকে, সােমদেবতাকে, বৃহস্পতি-দেবতাকে, ইন্দ্র- দেবতাকে, অগ্নিদেবতাকে ও সকল দেবতাকে আহ্বান করিয়া স্বস্তি প্রার্থনা করা হইয়াছে। কর্মের প্রারম্ভে সকল দেবতাকে—সর্বদেবভাবকে হৃদয়ে অধিষ্ঠিত রাখিবার কামনা এখানে প্রকাশমান। তিন বেদীয় উপাসক- গণের স্বস্তিবাচনেই একই ভাব ব্যক্ত হইয়াছে। মন্ত্র-পঞ্চকের পদাবলির অনুসরণে নিম্নে তাহাদের মৰ্ম্মানুসারিণ- ব্যাখ্যা ও তাহার বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করিতেছি। তদ্বারা মন্ত্রোচ্চারণের উদ্দেশ্য স্বতঃই সাধারণের বােধগম্য হইবে। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘অখিনা’ (অন্তৰ্বাধি-বহির্বাধিনাশকৌ অখিদেবো) ন (অভ্যং) স্বস্তি’ ( অবিনাশ কোং) মিমীতাং (কুরুং); ভগঃ ( ঐশ্বৰ্য্যাধিপতিদেব) অভ্যং স্বস্তি কুরুং * ঋগ্বেদীয় এই স্বস্তিবাচনের প্রথম মন্ত্রে ‘অসুর’ পদ ‘দেবতা' অর্থে প্রযুক্ত হইয়াছে। সাণাচার্যের ভাষা ও নিরুক্তে অর’ পদে দেবতা অর্থও সুচিত হয়। আমরা ঋগ্বেদ- দুংহিতার ব্যাখ্যায়, ঋগ্বেদের কোন কোন স্কুলে 'অর পদ ‘দেবতা অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে, তা নির্দেশ করিয়াছি।
• জানবে। ১৫ ইতি শেষ। দেবী অদিতিঃ (অনন্তশক্তিময়ী ভগবতী) অনৰ্বণঃ (অপ্রতিহতং) বস্তি (সুমঙ্গলং) অভ্যং দদাতু ইতি শেষঃ পূষা (পােষক রক্ষক দেব) তথা অনুর ( শনিরসিতা প্রাণানাং প্রদাতা বা দেব:) কান্তি’ (ক্ষেমং) ধাতু (প্রচ্ছ); তথা ন্যাপৃথিবী’ (দ্যুলােকভূলােকসৰ্বলােকাধিষ্ঠাত্রী দেবতা) ন (অঅত্যং) সুচেতুন (শোভনেন প্রজ্ঞানেন সহ) স্বস্তি’ (সুমঙ্গলং) প্রচ্ছতু ইতি শেষ। প্রগনেন সহ দেবতানাং কৃপা অল্ম অবিচলিত ভবতু ইতি ভাবঃ ১। ‘অশুয়ে’ (ক্ষেমায়, অস্মাকং মঙ্গলার্থং) বায়ুং (বিশ্বব্যাপকং বায়ুদেবং) তথা সােমং (শুদ্ধসত্বস্বরূপং সদ্ভাবপ্রদাতারং বা সােমদেবং) উপবামহৈ” (মঃ); “যঃ (য দেবঃ) ‘ভুন’ (ইহলোক ) পতিঃ ( পালকঃ রক্ষকঃ বা) স দেবঃ স্বস্তি’ (সুমঙ্গলং) অভ্যং প্রচ্ছতু ইতি শেষ। স্বশুয়ে (ক্ষেমায়, অস্মাকং মঙ্গলার্থ) সৰ্ব্বগণং (সর্বদেবগণাে- পেতং) বৃহস্পতিং (বৃহত কৰ্ম্মণঃ মন্ত্র বা পালয়িতারং, জ্ঞানপ্রবর্ধক বৃহস্পতিদেবং ইত্যর্থঃ) স্তু ইতি শেষ। আদিত্যাসঃ ( অনন্তাঙ্গীভূতাঃ সর্বে দেবাঃ) ন (অস্মাকং) ‘স্বয়ে’ (ক্ষেমায়, মঙ্গলার্থং) ভবন্তু’ (অস্মিন্ কৰ্ম্মণি আগচ্ছন্তু ইত্যৰ্থঃ)। ২। ‘বিশ্বেদেব (সর্বে দেবা, নিখিলদেষভাৰঃ ইত্যৰ্থঃ) অদ্যা’ (অস্মিন্ কর্মণি ইতি যাবৎ) ন (অম্মাকং) স্বয়ে’ (ক্ষেমায়, মঙ্গলার্থ ভবন্তু ইতি শেষ ); 'বৈশ্বানর (সৃষ্টিপ্রাণভূত) বসু (সর্বেষাং আধারঃ আয়ঃ বা) ‘অগ্নিঃ (জ্ঞানদেবঃ) স্বয়ে (ক্ষেমায়, মঙ্গলায়) ভবতু ইতি শেষঃ ; ‘দেব (দীপ্তিদানাদিগুণসম্পন্ন) গম্ভব (দেবত্বপ্রাপ্তাঃ মানবাঃ) স্বয়ে’ (অস্মাকং মঙ্গলায়) অবস্তু (আবির্ভব ইত্যর্থঃ); ‘রুদ্র (দুঃখাৎ প্ৰাৰম্বিতা, দুঃখনাশকঃ রুদ্রদেবতা) ন (জন্মান্} ‘অং (পপি) ‘পাতু (পরিত্রায়তু) তথা অস্তি’ ( অস্মাকং মঙ্গলং) বিধায়তু ইতি শেষ ॥ ৩। ‘মিত্রাবরুণ। (হে মিত্রস্থানীয় তথা মেহকারুণ্যরূপ দেব।) স্বস্তি’ (অম্মাকং মঙ্গলং) বিধেহি ইতি শেষঃ ; ‘রেবতি (হে ধনাধিষ্ঠাধিষ্ঠাত্র দেবি।) “পথ্যে (অস্মিন্ কৰ্ম্মণি ) ‘স্বস্তি (ক্ষেমং, অস্মাকং মঙ্গলং) কৃধি ইতি শেষ; ইন্দ্রাগিচ’ (পরমৈশ্বৰ্য্যশালী ইজ্জদেবঃ তথা জ্ঞানস্বরূপঃ অগ্নিদেবঃ) নঃ (অভ্য) স্বস্তি’ (মঙ্গলং) প্রযচ্ছই ইতি শেষ। অদিতে’ (হে অনন্তস্বরূপ দেব।) 'নঃ (অস্মাকং) ‘স্বস্তি’ ক্ষেমং, মঙ্গল বা) কধি (কুরু) ইতি শেষ। ৪। ‘পুনতা (পুনঃপুনঃকৃতং কুকৰ্ম্মফলোৎপন্ন, কৰ্ম্মফলজং ইত্যর্থ) অম্লতা (পাপং) ‘জনতা (যুদ্ধমানেন-জ্ঞানগ্নিনা ভস্মীভূত কৃত্বা ইত্যর্থ) সুৰ্য্যাচমসো ইব’ (যথা নিরলমার্গে অবাধে আকাশে সূৰ্যাচন্দ্রো সঞ্চরতঃ তদ্বৎ) পন্থাং (পন্থান, কমার্গ ইত্যৰ্থঃ) অনুচরেম’ (অতিক্রম করবাণি), তথা ‘স্বস্তি (ক্ষেমং মঙ্গলং) সংগমেমহি ( সঙ্গে অধিগচ্ছামি, অধিগচ্ছামি, সৰ্ব্ব সর্ব প্রাপ্লেমি ইত্যর্থঃ)। অয়ং ভাব-কৰ্ম্মফলানিত পাপং নিরাকৃত্য অবাধে সৎপথি অগ্রসরপূর্বকং মঙ্গলং অধিক শরুম ইত্যেবং ১৬ নিবেদ। বঙ্গানুবাদ। অন্তৰ্বাধিবহিৰ্বাধিনাশক অখিদেবদ্বয় আমাদিগের অক্ষয় মঙ্গল বিধান করুন । ঐশ্বৰ্য্যাধিপতি ভগ-দেবতা আমাদিগের মঙ্গল বিধান করুন; অনন্তশক্তিময়ী ভগবতী অদিতি আমাদিগকে অপ্রতিহত সুমঙ্গল প্রদান করুন। পোষক ও রক্ষক পূষাদেবতা এবং শত্রুনাশক বা প্রাণপ্রদাতা ‘অনুর-দেবতা স্বস্তি প্রদান করুন। দ্যুলোক-ভূলােকসৰ্বলােকাধিষ্ঠাত্রী দ্যাবাপৃথিবী-দেবতা আমাদিগের শােভন প্রজ্ঞান বিধান করিয়া সুমঙ্গল প্রদান করুন। (ভাব এই যে,-প্ৰজ্ঞান-প্রভাবে দেবগণের কৃপা আমাদিগের মধ্যে অবিচলিত হউক)। ১। আমাদিগের মঙ্গলের জন্য বিশ্বব্যাপক বায়ু দেবতাকে এবং শুদ্ধসত্বস্বরূপ বা সদ্ভাবপ্রাত সােমদেবতাকে স্তুতি করিতেছি। যে দেবতা ইহলােকের পালক ও রক্ষক, সেই দেবতা আমাদিগকে সুমঙ্গল প্রদান করুন। আমাদিগের মঙ্গলের জন্য সকল দেবগণের সহিত, কর্মের বা মন্ত্রের পালক জ্ঞান-প্রবর্ধক সেই বৃহস্পতিদেবতাকে স্তুতি করিতেছি। অনন্তের অঙ্গীভূত সকল দেবতা আমাদিগের মঙ্গলের জন্য এই কর্মে আগমন করুন ॥ ২॥ সকল দেবতাগণ অর্থাৎ নিখিল-দেবভাবসমূহ এই কর্মে আমাদিগের মঙ্গলের নিমিত্তভূত হউন। সৃষ্টির প্রাণভূত, সকলের আধার বা আশ্রয় জ্ঞানদেবতা মঙ্গলের নিমিত্তভূত হউন। দীপ্তিদানাদিগুণ সম্পন্ন দেবত্ব প্রাপ্ত মানবগণ (ঋভুদেবগণ) আমাদিগের মঙ্গলের নিমিত্ত আবির্ভূত হউন। দুঃখনাশক রুদ্রদেবতা আমাদিগকে পাপ হইতে পরিত্রাণ করুন এবং আমাদিগের মঙ্গল বিধান করুন। ৩। হে মিত্রস্থানীয় ও মেহকারুণ্যরূপ মিত্রাবরুণ দেবতা। আপনারা আমাদিগের মঙ্গল বিধান করুন। হে ধনাধিষ্ঠাত্রী দেবী রেবতী। এই কৰ্ম্মে অমাদিগের মঙ্গল বিধান করুন। পরমৈশ্বৰ্য্যশালী ইন্দ্রদেব এবং জ্ঞানস্বরূপ অগ্নিদেব আমাদিগকে মঙ্গল প্রদান করুন। হে অনন্তস্বরূপ অদিতি দেবতা। আপনি আমাদিগের মঙ্গল বিধান করুন। ৪। পুনঃপুনঃকৃত কুকৰ্ম্মফলোৎপন্ন অর্থাৎ কৰ্ম্মফল পাপকে জ্ঞানাগ্নির দ্বারা ভস্মীভূত করিয়া, সূর্যের ও চন্দ্রের ন্যায় অর্থাৎ সূর্য ও চন্দ্র যেমন নিরবলম্ব মার্গে অবাধ অন্তরিক্ষে সঞ্চরণ করেন, সেইরূপ আমরাও যেন কৰ্ম্মমার্গ অতিক্রম করিতে পারি এবং মঙ্গলকে সর্বতোভাবে প্রাপ্ত হই। (ভাব এই যে,-কৰ্ম্মফলজনিত পাপকে দূর করিয়া অবাধে সৎপথে অগ্রসর হইয়া মঙ্গলকে আয়ত্ত করিতে যেন সমর্থ হই,—ইহাই আকাঙ্ক্ষা)। ৫। উপসংহারে বক্তব্য। ঋগ্বেদ সংহিতার পূর্বোক্ত পাচটী মন্ত্রের সহিত আর যে দুইটী মন্ত্র ঋগ্বেদীয় ব্রাহ্মণগণের স্বস্তিবাচনে উক্ত হইয়া থাকে, সেই মন্ত্র-দুইটাও নিম্নে উদ্ধৃত করিতেছি ; যথা- “ওঁ স্বস্ত্যয়নং ক্ষমষ্টিনেমিং মহদ্ভুতং বয়সং দেবতা। অসুমিসখং সমৎস্য বৃহদশে। নাবমিবা রুহেম। ওঁ অংহে। মুচমাঙ্গিরসং গয়ঞ্চ স্বস্ত্যাত্ৰেয়ং মনসা চ তক্ষ। প্রয়তপাণিঃ শরণং প্রপদ্য স্বস্তি সংবােধে ভয়ং নো অস্তু।”
নিবেদ। ঋগ্বেদীয় স্বস্তিবাচন (এই খণ্ডের ছােদশ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত মন্ত্রপঞ্চক) উচ্চারণের পর, পূর্বোক্ত মন্ত্রদ্বয় (ওঁ স্বস্ত্যয়নং ইত্যাদি মন্ত্র উচ্চারণ করার প্রথা আছে। পরিশেষে ও স্বস্তি ওঁ স্বস্তি ওঁ স্বস্তি প্রভৃতি উচ্চারণে স্বস্তিবাচল পরিসমাপ্ত হয়। এই স্বস্তিবাচনের সঙ্গে কতকগুলি প্রক্রিয়া আছে। প্রধানতঃ দেখা যায়, স্বস্তিবাচন মন্ত্র উচ্চারণের পূর্বে, ব্রাহ্মণগণ স্বস্তিবাচনের উদ্দেশ্য অর্থাৎ কি উদ্দেশ্যে বা কি লক্ষ্য করিয়া বস্তিবাচন উচ্চারিত হইবে, তাহ। উল্লেখপূর্বক বলিবেন,-“ওঁ কৰ্ত্তবােহস্মিন্ অমুক-কর্ষণি ওঁ পুণ্যাহং ভবন্তোধিক্রবস্তু।” তিন বার এইরূপ মন্ত্রোচ্চারণ করিয়া হস্তস্থিত আতপ ততুল তিন বার পরিত্যাগ করিবেন এবং তদন্তে ও পুণ্যাহং ও পুণ্যাহং ওঁ পুণ্যাহং ইত্যাদি বাক্য উচ্চারণ করিবেন। পুনরায় আরও তিন বার ও কর্তব্যে হস্মিন্ ইত্যাদি উচ্চারণ-পূৰ্বক ও স্বস্তি ওঁ স্বস্তি ওঁ স্বস্তি ইত্যাদি মন্ত্রে পুনরায় আতপ তণ্ডুল বিকীর্ণ করিতে হইবে। তার পর আরও তিন বার “ওঁ কর্তব্যেহস্মিন্ ইত্যাদি বাক্য উচ্চারণ পূর্বক ওঁ ঋদ্ধতাং ওঁ ঋদ্ধতাং ওঁ ঋদ্ধতাং মন্ত্রে পূর্ণরূপে আতপ তণ্ডুল নিক্ষেপ করিতে হইবে। সামবেদীয় এবং ঋগ্বেদীয় স্বস্তিবাচনের মধ্যে সােমং পদ পরিদৃষ্ট হয়। ঐ পদে ‘সােম দেবতার মধ্যে পরিগণিত। এখানে আর সােমরস মাদকদ্রব্য অর্থ কেহই গ্রহণ করেন নাই। এমন কি, ঋগ্বেদের স্বস্তিবাচন “দেম স্বস্তি ভুবন যম্পতি” – এই বাক্যাংশের অর্থে সায়ণচার্চের ভাষ্যে সােমকে ভুবনের বা বিশ্বের পতি বলিয়া নির্দেশ করা হইয়াছে। তাহার ব্যাখ্যার মর্ম,-“য সােমঃ ভুন বিশ্বস্য পতি পালক তং সােয়ং ভগব ইত্যাদি। আমরা পূর্বে এই জ্ঞানবেদে (দ্বিতীয় খণ্ডের ২৮ পৃষ্ঠা হইতে ৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত অংশে) ‘সােম সম্বন্ধে যে আলােচনা করিয়াছি, এই ঋগ্বেদীয় স্বস্তিবাচন-মন্ত্রের সায়দাচাৰ্য্যকৃত ভায়ে তাহারই পােষকতা পরিদৃষ্ট হইবে। এ বিষয়ে অধিক আলােচনা বাহুল্য মাত্র। এই স্বস্তিবাচন মন্ত্রে-যজুর্বেদের অন্তর্গত ‘গণানাং ত্বা গণপতিং প্রভৃতি মন্ত্রের যে অর্থ আমরা (জ্ঞানবেদ, দ্বিতীয়-খণ্ড, ১২৫-১৩০ পৃঃ) গ্ৰহণ করিয়াছি, তাহারই সার্থকতা প্রমাণ হয়। সুধীগণ লক্ষ্য করিবেন-এখানে আর বলো’ পদে ‘অখ’ অর্গ পরিগৃহীত হয় নাই অথবা অশকে সম্বােধন করিয়া রাজমহিষীর সন্তানোৎপাদনের চেষ্টা দেখা যায় না। এই সকল বিষয় বিবেচনা করিয়া কৰ্মী মার্থের অনুসরণে কর্মে প্রবৃত্ত হইবেন। জনবেদ। ৩য় খণ্ড-৩
জ্ঞান-বেদ।
সঙ্কল্প-সূক্ত।
শাস্ত্রে আছে—সঙ্কল্প ভিন্ন কানও কাৰ্য্য সুসিদ্ধ হয় না। কি জন্য
কি উদ্দেশ্যে কি কাৰ্য্য করিতেছি, তাহা সঙ্কল্প করিয়া অনুষ্ঠানপূর্বক
মন্ত্রোচ্চারণ আবশ্যক। সঙ্কল্পের পূর্বে তিন বেদীয় ব্রাহ্মণের পক্ষে যথা-
ক্রমে তিনটী মন্ত্র উচ্চারণের বিধি আছে।
সেই তিনটা
বেদমন্ত্র যথাপৰ্য্যায়
নিয়ে উদ্ধত করা গেল।
১। সামবেদীয় সঙ্কল্প-সূক্ত।
ও। দেবে। বাে ঐবিনােদাঃ পূর্ণাং বিৰষ্টাসিচম্
উদ্বা সিঞ্চধ্বমুপ বা পৃণধ্বমাদিদ্বো দেব ওহতে ।
এই সঙ্কল্প-সূক্ত উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে ও সক্সিতার্থ সিদ্ধি অর্থাৎ এই সঙ্কল্পিত
অভীষ্ট সিদ্ধ হউক বলা হয়।
এই সঙ্কল্প-মন্ত্র, ঋগ্বেদ সংহিতায় (৫অষ্টক—অধ্যায়-২২৪সুক্তে) এবং সমবেদ-সংহিতায়
(আগ্নেয় পর্বের প্রথম প্রপাঠকে, ষষ্ঠ খণ্ডে, প্রথম অধ্যায়ে, যষ্ঠ দশতিতে) পরিদৃষ্ট হয়।
মরে লক্ষ্য।
এই মন্ত্রের যে অর্থ প্রচলিত আছে, তাহা আমরা সমীচীন বলিয়া মনে
আমাদের মতে, এই মন্ত্র আত্মােদ্বোধক। এই মন্ত্রে চিত্তবৃত্তি
করি না।
জ্ঞানবেদ। সমূহকে সম্বোধন করিয়া, জ্ঞানাগ্নিকে হৃদয়ে ধারণের কামনা করা হইয়াছে ; ভক্তি, জ্ঞান ও কর্মের সমবায়ে অভীষ্ট-সিদ্ধির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পাইয়াছে। মন্ত্ৰাৰ্থ-বিষয়ে নিম্নে আমাদিগের কৃত মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা ও তাহার বঙ্গানুবাদ প্রদান করা হইল। তাহাতে মন্ত্রের নিগুঢ় লক্ষ্য উপলব্ধ হইবে। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। হে মম চিত্তবৃত্তিনিবহাঃ! ‘ব (যুগ্বদীয় নিবাসস্থানভূত) পূর্ণাং (সদ্ভাবপূর্ণ) ‘আসিচং (ভক্তিরসেসিং প্রদেশ) বিণাদা (ধনপ্রদঃ) ‘দেব (দ্যোতমান জ্ঞানাগ্নি) বিষ্ণু (কাময়তা); তং দেবং উৎসিঞ্চধ্বং বা’ (ভক্তিরসেন সম্যক্ সিঞ্চধ্বং) ‘উপপূণং বা (সদ্ভাবেন সম্যক্ পুরয়ত); ‘আদি’ (অনন্তরমেব) দেবঃ (দ্যোতমান জ্ঞানাগ্নিঃ বঃ' (যুম্মন্) ওহুতে (মােক্ষং বা অভিলষিতং স্থানং প্রাপয়তি)। প্রার্থনায়া ভাব-অম্মাকং হৃদয়ঃ সদ্ভাবসমন্বিত ভক্তিতঃ ভবতু ; তেন বয়ং মােক্ষং অভীষ্টঞ্চ প্রাপ্ত। বঙ্গানুবাদ। হে আমার চিত্তবৃত্তিনিবহ। তোমাদের নিবাসস্থানভূত, সদ্ভাবপূর্ণ ও ভক্তিরসাপ্লুত (আমার) হৃৎপ্রদেশকে, ধনপদ দ্যোতমান জ্ঞানাগ্নি (জ্ঞানদেব) কামনা করুন ; তােমরা সেই জ্ঞানস্বরূপ দেবতাকে ভক্তিরসের দ্বারা সম্যকরূপে সিঞ্চন কর এবং সদ্ভাবের দ্বারা সম্যক রূপে পূর্ণ কর; অনন্তর (তাহা হইলে) এই দ্যোতমান জ্ঞানাগ্নি তােমাদিগকে অভিলষিত স্থান মােক্ষ প্রদান করিবেন। ( প্রার্থনার ভাব এই যে,আমাদিগের হৃদয় সদ্ভাব-সমন্বিত ভক্তিপ্তত হউক। তদ্বারাই আমরা আকাঙ্ক্ষিত সামগ্রী বা মােক্ষ প্রাপ্ত হইতে পারি। মার্থ-বিষয়ে বক্তব্য। এই মন্ত্রের যে অর্থ প্রচলিত আছে, তাহা আমরা অনুমোদন করি না। মন্ত্রী যে সঙ্কল্প- কাৰ্যে প্রযুক্ত, সে অর্থে তাহা আদৌ বােধগম্য হয় না। মন্ত্রের মধ্যে কোনও স্থানেই ‘ক’ এবং ‘সােমরস মাদকদ্রব্য-জ্ঞাপক’ কোনও পদই দৃষ্ট হয় না। অথচ, প্রচলিত মার্থে ঐ দুই বস্তুকে টানিয়া আনা হইয়াছে। একমাত্র পূর্ণাং এই শ্রীলিঙ্গের বিশেষণ পদ দৃষ্টে ‘ক’ পদ টানিয়া ভাষ্যে অধ্যাহৃত হইয়াছে। কৃ’ থাকিলেই হবনীয়ের প্রয়ােজন। তাই সােমরস হবনীয়ের অবতারণা করা হইয়াছে। অপিচ, ‘উদ্ব। সিঞ্চধবং উপ বা পূণধ্বং’ অংশের ভাষ্যকার অর্থ করিয়াছেন-'সােমরদের দ্বারা হােতার চমস পূর্ণ কর এবং অগ্নিকে সম্প্রদান কর। এইরূপে, ভাষ্যকারের মতে, এই সাম-মন্ত্রীর অর্থ হয়-যাজ্ঞিক পুরােহিতেরা যেন বলিতেছেন, -ধনসমূহের কর্তা অগ্নিদেব যুদীয় হবিঃপূর্ণ ও আসিক্ত ( ভিজা) কু কামনা করুন। অতএব সােমের দ্বারা পাত্র সিঞ্চন কর এবং পূর্ণ কর। (এখানে ‘বা-দ্বয়ের অর্থ সমুচ্চর ২• জ্ঞানবেদ। অর্থাৎ সােমত্মগের দ্বারা হোতার চমস পূর্ণ কর এবং অগ্নিতে সম্প্রদান কর)। অনন্তর অগ্নিদেব তােমাদের আহুতি পৌছাইয়া দিবেন। এই অর্থ এখন প্রচলিত। এ অর্থে সঙ্কল্প-সুক্তের সহিত এই মন্ত্র প্রযুক্ত হওয়ায় কি উদ্দেশ্য সাধিত হয়, সুখীগণ সহসাই তাহা উপলব্ধি করিতে পারিবেন। ২। যজুৰ্বেদীয় সঙ্কল্পসূক্ত। ও। যজ্জাগ্রততা দূর দৈতি দৈবং তদু সুপ্তস্য তথৈবৈতি। দুরংগমং জ্যোতিষাং জ্যোতিরেকং তন্মে মনঃ শিবসঙ্কল্পমস্তু। (যজুৰ্বেদ, ৩৪, ১ক) মন যদি মন্ত্রের লক্ষ্য। মনই সকল মঙ্গলের নিদানভূত। মন যদি সৎপথে প্রধাবিত থাকে, বিপথে বিভ্রান্ত না হয়, মন যদি সেই তাহার প্রতি একান্তে ন্যস্ত থাকে ; তাহা হইলে মানুষকে কোনই অশান্তি ভােগ করিতে হয় । মানুষের তাই প্রধান সঙ্কল্প হওয়া আবশ্যক-মন যাহাতে অবিচঞ্চল হইয়া ভগবৎ-কাৰ্য্যে বিনিযুক্ত থাকে,—সতের সহিত সম্মিলিত হইবার জন্য প্রত্নপর হয়। এই মন্ত্রে সঙ্কল্প-সূক্তে সেই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পাইয়াছে। কৰ্মকৰ্ম্ম সকলেরই মূলাধার—মন। অতএব, মনকে সৎপথে পরিচালিত করিবার জন্য সদা সঙ্কল্পবদ্ধ হও। আমাদের ব্যাখ্যা। মান্তৰ্গত পদাবলির অনুসরণে মন্ত্রের মর্মার্থ নিয়ে প্রকাশ করা যাইতেছে। আমাদের মর্মানুসারিণ-ব্যাখ্যায় ও বঙ্গানুবাদে তাহা অনুধাবন করুন। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘দৈবং (দেবসন্ধিন, বিজ্ঞানাত্মাসম্ভুতং ইত্যর্থঃ) বৎ’ (সকলসঙ্ককারণং মম মনঃ ইত্যর্থ) জাগ্রত (সর্বদ্রষ্টুঃ চৈতস্বরূপ ভগবতঃ ইতি যাবৎ ) ‘দুরং (অসন্নিকৃষ্ট, ভগবং পরিত্যক্ত ইত্যর্থঃ) 'উদৈতি (উন্মার্গ গচ্ছতি, বিপথি চলতি), তৎ' (তৎ মে মন) ‘সুপ্ত ই’ (নিদ্রিতস্য জাগরণবৎ, অচেতনে চেতনাসারৰৎ ইত্যর্থঃ) উ’ (সর্বতো- বেল)তি(৩াত, গবতি সংজ্ঞতু ইতি ভাঃ); ‘দুঃগং (৭ষ্টং বিপৎ বে। ২১ তৎ (তদ্বিধং) মে (মম) মনঃ (চিত্তবৃত্তি) জ্যোতিষাং (দেবানাং বিজ্ঞাতৃণাৎ মধ্যে) জ্যোতিরেং (দেবত্বপ্রাপ্তং, জ্যোতিষাং জ্যোতির্বিৎ ভূত্বা ইত্যর্থ) শিবসঙ্কল্পং মলাকাঙ্ক্ষিণং) বস্তু’ (ভবন্তু)। অয় ভাবউদ্ভ্রান্ত বিপথগামিনং মন বিপথঃ প্রত্যাবৃত্তং সন্তং তদুৎপত্তিস্থানে পরমাত্মনি সংলীয়; তেন সুমঙ্গলং সমধিগম্যতা। বঙ্গানুবাদ। দেবসম্বন্ধী অর্থাৎ বিজ্ঞানাত্ম-সম্ভত, সকল সঙ্কল্পের কারণ, আমার যে মন, সৰ্ব্বদ্রষ্টা চৈতন্যস্বরূপ ভগবানের দুৱে অর্থাৎ ভগবানকে পরিত্যাগ করিয়া, উন্মার্গে চলিয়াছে—বিপথে যাইতেছে। আমার সেই মন, অচেতনে চেতনাসঞ্চালবৎ-নিদ্রিতের জাগরণের ন্যায়, সর্বতো- ভাবে ভগবানে মিলিত হউক। পথভ্রষ্ট বিপথগামী সেই যে আমার মন, দেবগণের মধ্যে দেবত্বপ্রাপ্ত হইয়া-জ্যোতির মধ্যে জ্যোতির ন্যায় অবস্থিত থাকিয়া ‘শিবসঙ্কল্প অর্থাৎ মঙ্গলার্থ হউক। (ভাৰ এই যে—উদভ্রান্ত বিপথগামী মন বিপথ হইতে ফিরিয়া আসিয়া, তাহার উৎপত্তিস্থান পরমাত্মায় মিলিত হউক এবং তদ্বারা সুমঙ্গল অধিগত হউক)। ব্যাখ্যা-সম্বন্ধে বক্তব্য। মন্ত্রের যে অন্বয়ে যে অর্থ আমরা পরিগ্রহণ করিলাম, অন্যরূপ অন্বয়েও সে অর্থ সে আর গ্রহণ করা যায়। কিন্তু তাহার আর আবশ্যক নাই। মন্ত্রের যাহা মুখ্য লক্ষ্য, তৎপ্রতি দৃষ্টি রাখিলেই উদ্দেশ্য সিদ্ধ হইতে পারে। যাহা হইতে আমরা উৎপন্ন হইয়াছি, যে অমৃতের সন্তান আমরা, তাহার সহিত সম্মিলনের চেষ্টা করাই আমাদিগের শ্রেয়ঃসাধক। কিন্তু সে পথে অগ্রসর না হইয়া, সে পক্ষে চেষ্টা না করিয়া, আমরা ক্রমেই তঁহা হইতে দূরে চলিয়াছি। আমাদিগের মনই আমাদিগকে দূরে লইয়া চলিয়াছে। মনের অনুশাসনে পরিচালিত হইয়া, আমরা নিত্য নুতন পথে প্রধাবিত হইতেছি। এই সঙ্কল্প-মন্ত্র আমাদিগকে ভ্রান্তপথের বিষয় স্মরণ করাইয়া দিয়া অমৃতের সন্ধানে আমাদিগকে উদ্বুদ্ধ করিতেছে। আমাদিগের মনকে যদি সেই পথে পরিচালিত করিতে পারি, তাহা হইলেই আমাদিগের সঙ্কল্প-শিবসঙ্কল্প অর্থাৎ মঙ্গলপ্রদ হইবে। ৩। ঋগ্বেদীয় সঙ্কল্প-সূক্ত। । যা গুর্যা সিনীবালী যা রাকা যা সরস্বতী। ইন্দ্রাণীম উতয়ে বরুণানীং স্বস্তয়ে । (ঋগ্বেদ, ২অষ্টক-অধ্যায়—১৫বর্গ (২২ জ্ঞানবেদ। ঋগ্বেদীয় ব্রাহ্মণগণের পক্ষে উপরি-উদ্ধৃত ঋন্ত্রী সরসূক্তরূপে উচ্চারিত হইয়া থাকে। কিন্তু এই মন্ত্রের যে অর্থ প্রচলিত আছে এবং এই মন্ত্রান্তর্গত পদাবলির অনুসরণে সহসা যে অর্থ পরিগৃহীত হইতে পারে, তাহাতে সঙ্কল্পযুক্ত মধ্যে স্বস্তি-কামনায় এই মন্ত্রের প্রয়ােগ করুনা করা যায় না। মন্ত্রান্তর্গত পদাবলি বড়ই সমস্যাপূর্ণ। সুতরাং উহা হইতে যত প্রকার অর্থ আমনন করা হইয়াছে, তাহাতেও সমস্যার অন্ত নাই। কেহ কেহ গুঞ্জ, সিনীবালী, রাকা, সরস্বতী প্রভৃতি পদচতুষ্টয়ে চাৰিটী বিভিন্ন-নামধেয় নদী নির্দেশ করিয়াছেন। তাহাতে মন্ত্রের অর্থ দাঁড়ায় এই-সেই যে ভীষণ গুনদী, সেই যে ভীষণা সিনীবালী নদী, সেই যে ভীষণ রাকা নদী, আর সেই যে ভীষণ। সরস্বতী নদী, তাহা উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ইন্দ্রাণীকে ( ইন্দ্র পত্নীকে) এবং সেই নদী উত্তরণে বিপদ-পরম্পরা হইতে পরিত্রাণের জন্য বরুণানীকে (বরুণ- পত্নীকে) আহ্বান করিতেছি। এই অর্থ উপলক্ষে মধ্যএসিয়া হইতে আৰ্য্যগণের ভারত আগমনের যুক্তি প্রদর্শিত হইয়া থাকে। আর্যগণ যখন ঐ সকল নদী উত্তীর্ণ হইয়া ভারতবর্ষে আগমনের জন্য চেষ্টান্বিত হন, তখন উহাদের ভীষণতা দেখিয়া বিচঞ্চল হইয়া পড়েন। বিভীষিকা পাইয়া নদী উত্তরণের জন্য ইন্দ্রাণীকে আহ্বান করেন এবং স্বস্তি লাভের জঙ্ক বরুণানীর শরণাপন্ন হন। পূর্বোক্ত একার অর্থে এই এক প্রকারের ভাব মন্ত্র হতে গ্রহণ করা হয়। মন্ত্রের আর এক প্রকার অর্থ আমনন করা হয়—সেই যে ভীষণ। অমাবস্যার রাত্রি, আবার সেই যে ভীষণ। অন্ধকারময়ী রজনী; অপিচ, সেই যে আনন্দোৎফুল্লা পৌর্ণমাসী নিশি, আর সেই যে খেতশুভ্রা জোৎস্নাকলােজ্জা রজনী,-সকল অবস্থায় সকল সময়ে পরিত্রাণের এ ইন্দ্রাণীকে এবং শান্তির জয় বরুণানীকে আহ্বান করা হইয়াছে। এতদুভয় প্রকারের ব্যাখ্যাতেই ইন্দ্রাণী ও বরুণানী পদের যৌগিক অর্থের প্রতিই দৃষ্টি পড়ে। মন্ত্রের অন্তর্গত বিশেষ্য-বিশেষ। প্রা৩ পদই স্ত্রীলিঙ্গান্ত। ইন্দ্রণীং এবং বরুণানীং পদদ্বয় দৃহেন্দ্ৰনামধেয় এবং বরুণনামধেয় দেবতাবিশেষের বা ব্যক্তিবিশেষের পত্নীর প্রতি সহসা লক্ষ্য আসিয়া থাকে। আমরা কিন্তু সে পথে গমন করিয়া মন্ত্রের মুখ্য লক্ষ্য পরিহার করিতে প্রস্তুত নহি। পরন্তু যে মনীষা মহাত্মার প্রবর্তনায় এই মন্ত্র ঋগ্বেদীয় সঙ্কল-সুক্তের অন্তভুক্ত হইয়া আছে, তাঁহার শুভ উদ্দেশ্যের অনুসরণ করিলে মন্ত্রের ভাব অনায়াসে হৃদয়ঙ্গম হইতে পারে। এই মন্ত্রে জগন্মাতার বিশ্বমাতার-করুণা কামনা করা হইয়াছে। ইহসংসারে মাতৃস্নেহের তুলনা নাই। তাই নানা ভাবে নানা রূপে ভগবানকে আহ্বান করিতে করিতে, পরিশেষে মাতৃভাবে তাহাকে স্মরণ করা হইয়াছে। জননীর নিকট সন্তান যাহা প্রার্থনা করে, সহসাই তাহা প্রাপ্ত হয়। তাই এখানে তদ্রুপ মাতৃত্বের বিশেষণে তাহাকে আহ্বান করা হইয়াছে। বলা হইয়াছে—যিনি অমাবস্যা বা অজ্ঞানতা, আবার যিনি পৌৰ্ণমাসী বা পুর্ণজ্ঞানরূপিণী, সেই ধনাধিষ্ঠাত্রী কৰ্ম্মরূপিণী দেবীকে আমাদিগের মঙ্গলের জন্য এবং পাত্রণের ও আমরা আহ্বান করিতেছি।
জ্ঞানবেদ। জগন্মাতা জগজ্জননী কেমনভাবে বিশ্বের সহিত বিদ্যমান আছেন, এই মন্ত্রে তাহারই পরিচয় পাওয়া যায়। অন্ধকারও তিনি, আলােকরশ্মিও তিনি ; পৌর্ণমাসীও তিনি, আবার অমাবস্যা তিনি। জ্ঞানও তিনি, অজ্ঞানও তিনি। বিভিন্ন বিপরীত সকল ভাবের মধ্যেই তাহার প্রভাব ওতঃপ্রােতঃ বিদ্যমান। শ্রীশ্রীদেবীমাহাত্ম চণ্ডীতে যা দেবী সর্বভূতেষু ইত্যাদি শ্লোকে তঁাহার এই সর্বস্বরূপিণী মহিমার মাহাত্ম্যই পরিকীর্তিত রহিয়াছে। চেতনের মধ্যেও তিনি, অচেতনের মধ্যেও তিনি। নিদ্রাতেও তিনি, জাগরণেও তিনি, ক্ষুধাতেও তিনি, তৃপ্তিতেও তিনি। সেখানে সেই যে তাঁহাকে প্রণতি জানাইয়া বলা হইয়াছে। “যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।” এখানেও সেই আহ্বান। এখানেও প্রার্থনা, জানান হইয়াছে—“হে আনানরূপিণি জননি, এস মা! আমার এই সঙ্কল্পে সিদ্ধি প্রদান কর। কি প্রকারে ঐ ভাবের অর্থ মন্ত্রে পরিগ্রহণ করা যায়, আমাদিগের কৃত মৰ্ম্মানুসারিণ- ব্যাখ্যায় ও তাহার বঙ্গানুবাদে সে আভাস প্রাপ্ত হউন। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। যা (লােকপ্রসিদ্ধা) গুগ ( অমাবস্যা ), ‘যা (লােকপ্রসিদ্ধ।) “সিনীবালী (অজ্ঞানতা), যা’ (লােকপ্রসিদ্ধা) রাকা (পৌর্ণমাধী , যা’ (লােকপ্রসিদ্ধ।) সরস্বতী (প্রজ্ঞানপ্রদাজী), “উতয়ে (পরিত্রাণায় ) ‘স্বয়ে’ (সুমঙ্গলার্থং চ ), ইন্দ্রাণীং (ধনাধি: ষ্ঠাত্রীং) বরুণানীং (করুণাবর্ষণশীলাং) তাং জগন্মাতাং অহে’ (আহ্বায়ামি)। অয়ং জব-জ্ঞানজ্ঞানরূপিণী জগন্মাতাকে অম্মা পরিত্রায়তু সুমঙ্গলঞ্চ বিধায়তু। বঙ্গানুবাদ। যে লােকষিদ্ধ। অমাবস্যা, যে লোকপ্রসিদ্ধ। অজ্ঞানতা, যে লােকপ্রসিদ্ধ। পৌণমাসী, যে লােকপ্রসিদ্ধ। প্রজ্ঞানপ্ৰদাত্রী, পরিত্রাণের নিমিত্ত ও সুমঙ্গলের জন্য, সেই ধনাধিষ্ঠাত্রী করুণা- বর্ষণশীলা জগন্মাতাকে আহ্বান করিতেছি। (ভাব এই যে,-জ্ঞানাজ্ঞানরূপিণী জগন্মাতা আমাদিগকে পরিত্রাণ করুন এবং আমাদিগের সুমঙ্গল বিধান করুন)। মন্ত্ৰাৰ্থ-বিষয়ে বক্তব্য। এখানে বিভিন্ন দেবতাকেও আহ্বানের ভাব আসিতে পারে। আবার একই দেবতার —যিনি সকল ধনের অধীশ্বরী, আবার যিনি করুণার প্রবিণী, তাহারও আহ্বান সুচিত হইতে পারে। জ্ঞান অজ্ঞান সকলের যিনি মূলীভূত, যাহার ঐশ্বর্যেরও সীমা নাই, আবার করুণা-বর্ষণেরও সীমা নাই; অভীষ্ট সিদ্ধির সঙ্কল্পে তিনি সহায় হউন,-মাতৃরূপে মাতৃ ভাবে মাতৃত্বের মেহকরুণা বিতরণ করুন,-সঙ্কর-সুক্তের ইহাই লক্ষ্য।
জ্ঞান-বেদ। গায়ত্রী-মন্ত্র জপ। ০ যথানিয়মে গায়ত্রী-মন্ত্র-জপে সৰ্বাভীষ্ট সিদ্ধ হয়। দ্বিজাতির পক্ষে গায়ত্রী মন্ত্র-জপের ন্যায় শ্রেয়ঃসাধক আর দ্বিতীয় নাই। শাস্ত্র বলেন, কালপ্রভাবে বেদমন্ত্র-সমূহ দোষযুক্ত হয়। সেই কালদোষ নিবারণের জন্য, বেদমন্ত্র উচ্চারণের পূর্বে প্রথমে গায়ত্রীর অাশ্রয় গ্রহণ করা কর্তব্য। গায়ত্রী-জপে সকল কলুষ নিবৃত্ত হয়। তার পর উদ্দেশ্যানুরূপ মন্ত্র জপে অভীষ্ট ফল লাভ হইয়া থাকে। তবে, গায়ত্রী মন্ত্র জপ সম্বন্ধে কঠোর নিয়ম-সমূহ পরিদৃষ্ট হয়। প্রথমতঃ গায়ত্রী-মন্ত্রের সিদ্ধির জন্য ত্ৰিশ সহস্র বার গায়ত্রী-মন্ত্র জপের বিধি আছে। তার পর সমস্ত বেদম সিদ্ধির জন্য এক লক্ষ বার গায়ত্রী মন্ত্র জপ করিবার বিধি পরিদৃষ্ট হয়। এখনকার চঞ্চল-চিত্ত মানুষের পক্ষে এ প্রকার জপ-কাৰ্য কঠোরকৃচ্ছ সাধনা বলিয়া মনে হইতে পারে। কিন্তু কেহ কেহ কহেন,-এই জপের মূল লক্ষ্য-চিত্তস্থৈর্যসম্পাদন। ভগবানে চিস্তত্ত হইতে পারিলে সর্বসিদ্ধি অধিগত হয়। তখন, যে উদ্দেশ্যে যে বেদমন্ত্র উচ্চারিত হইবে, তাহাতে তদনুরূপ সুফলপ্রাপ্তি ঘটিবে। যে পদ্ধতিতে কর্মক্ষেত্রে অগ্রসর হইবার জন্য আমরা সকলকে উদ্বুদ্ধ করিতেছি, তাহা ঋষিগণেরই প্রদর্শিত পন্থা। যাঁহারা ঋষিবাক্যে বিশ্বাসবান এবং শাস্ত্রানুশাসন মান্য করিতে প্রস্তুত আছেন, তাঁহারা পৰ্য্যায়ক্রমে পরীক্ষা করিয়া দেখুন-কেমন বৈদ্যুতিক-ক্রিয়ায় অভীষ্ট-ফল অধিগত হয়।
জানবেদ। যে গায়ত্রী-মন্ত্র এমন সৰ্বাভীষ্ট-প্রদ, অমৃতত্ব-লাভের হেতুভূত, সেই গায়ত্ৰীমন্ত ও তাহার মর্ম নিম্নে প্রকাশ করিতেছি ; যথা- ওঁ। । ভূর্ভুবঃ স্বঃ। ওঁ। তৎসবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি। সবিতুর্ব ধিয়াে যাে নঃ প্রচোদয়াৎ। ওঁ । মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ঔ (বিষ্ণুশিবব্ৰহ্মাত্মক: প্রণঃ ৰীমন্ত্র, তাৎপৰ্যার্থঃ-হে ভগব। মঙ্গলমন্ত)। ‘ভূ ( ভূলোকস্থিতদেষভাবাঃ) ‘ভুবঃ (ভুবলোকস্থিতদেবভাবাঃ) স্বঃ (স্বলোকস্থিত- দেবভাবাঃ) মম হৃদয়ে অধিতিষ্ঠন্তু ইতি শেষ। ময়ি দেবত্বং শুদ্ধসত্ত্বং বা আবির্ভবতু ইতি ভাব। অথবা-বিলােকরূপে বিশ্বরূপে বিদ্যমান্ হে ভগব। মাং পরিত্রায়তু ৰা ইতি শেষ। ‘যঃ (জ্ঞানস্ত প্রেরক: যঃ সবিতৃদেবঃ) ‘নঃ ( অস্মাকং) ধিয় (বুদ্ধী, কৰ্ম্মাণি) প্রচোদয়াৎ ( প্রকর্ষেণ প্রেয়তি, সৎকর্মানুষ্ঠানায় নিয়ােজয়তি ইতি যাবৎ ), তস্য ‘দেবস্য (দ্যোমানাত্মক ) সবিতু(জ্ঞানপ্রেরক ব্ৰহ্মণঃ) বরেণ্যং (শ্রেষ্ঠং, সর্বৈঃ সংভজনীয়) ‘তৎ (প্রসিদ্ধং জগদ্ধাপ্যং) ভর্গঃ ( সর্বপাপানাং ভর্জনসমর্থং তেজোমণ্ডল, দুরিতনাশক জ্যোতিঃ) বয়ং ধীমহি (ধ্যায়ামঃ)। সর্বপাপানাং নাশক সদবুদ্ধিপ্ৰদাতা সৎকৰ্ম্মণ প্রবৃত্তিবৰ্ধকঃ যঃ পরব্রহ্মঃ তস্য পরমং তেজ সদ। বয়ং হৃদি প্রতিষ্ঠাপয়াম ইত্যেবং সঙ্কলফুলকোহয়ং মন্ত্রঃ। বঙ্গানুবাদ। বিষ্ণুশিৰব্ৰহ্মাত্মক প্রণব বীজমন্ত্র—ওঁ। তাৎপৰ্যার্থ-হে ভগব। মঙ্গল হউক। ভূলােক দেবভাৰসমুহ, ভুবলােক দেবভাবসমুহ, এবং স্বর্গস্থিত দেবভাবসমূহ আমার হৃদয়ে অধিষ্ঠিত হউন। অথবা, ত্রিলােকরূপে বিশ্বরূপে বিরাজমান হে ভগব। আমায় পরিত্রাণ করুন । যিনি ( জ্ঞানের উন্মেষকারী যে সবিতৃদেব) আমাদিগের বুদ্ধিকে সৎকর্মানুষ্ঠানে প্রকৃষ্টরূপে নিয়ােগ করেন, সেই দ্যোতমান জ্ঞানপ্রেরক সবিতৃদেবের (পরব্রহ্মের) শ্রেষ্ঠ সৰ্বপাপনাশক জ্যোতিকে আমরা ধ্যান করি। নবেদ। ৩য় খণ্ড-৪ জানবে। সকল পাপের নাশক সবুদ্ধির প্রদাতা সৎকর্মে প্রবৃত্তিবৰ্ধক যে পরব্রহ্ম, তঁাহার পরম তে যেন সর্বদা আমরা হৃদয়ে ধারণ করি। মন্তু এই সঙ্কর প্রকাশ করিতেছে। মন্ত্রের অর্থ-বিষয়ে আলােচনা। দ্বিজাতিগণের নিত্য-জাপ্য এই গায়ত্ৰীমন্ত যুগপৎ আত্মােদ্ধোধক ও পরহ্মের অনুধ্যান- মূলক। এই মন্ত্রে প্রথমে সমস্ত দেবভাবকে আহ্বান করা হইয়াছে। ইচ্ছা প্রকাশ পাইয়াছে,-কি স্বর্গে, কি অন্তরিক্ষে, কি পৃথিবীতে যত প্রকার দেবভাব আছে, সকলই যেন আম অধিকার করিতে পারি। সাধনার পথে যতই অগ্রসর হইব, ততই দেবভাবসমুহ আসিয়া হৃদয় অধিকার করিবে; ততই হৃদয়ে শুদ্ধসত্বভাব সঞ্জাত হইবে—ততই ভগবানের অনুকম্পা-লাভে সমর্থ হইব। এই ভাবে অনুপ্রাণিত হইয়া অর্চনাকারী প্রথমে বলিতেছেন, স্বর্গে, অন্তরিক্ষে বা পৃথিবীতে যত দেবভাব আছে, ভগবানের বিভূতি-স্বরূপ যত শুদ্ধসত্বভাব আছে, সমস্তই আমাতে অধিষ্ঠিত হউক। পরিশেষে পরব্রহ্মের দিব্যজ্যোতি হৃদয়ে ধারণ জন্য পরব্রহ্মে লীন হইবার অভিপ্রায়ে সঙ্কল্পবদ্ধ হইতেছেন; বলিতেছেন,-“তাহার জ্যোতি যেন আমাতে মিলিত হয়, আমি যেন তঁাহাতে বিলীন হইতে পারি। ও ভূভুবঃ স্ব’ মন্ত্রে অগ্ন্যাধ্যান-যাগে আর এক অর্থ পরিগৃহীত হইতে দেখি। সেখানে ‘ভুঃ ভুবঃ স্বঃ এই পদয়ে যথাক্রমে ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য অথবা আত্মা প্রজা (পুত্রপরিজনাদি ) ও পশুসমূহ অর্থ গ্রহণ করা হয়। সেখানে, অগ্ন্যাধ্যান-যাগের প্রার্থনা থাকে—ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য অথবা আত্ম প্রজা ও পশু-সমূহ সকলে আমার বশীভূত হউক অথবা সকলের মঙ্গল হউক। ঐ সকলকে বশীভূত করিতে হইলে, প্রকাশ এই যে, অগ্ন্যাধ্যান যাগ পূর্বক ঐ মন্ত্র জপ করিতে হইবে কিবা প্রাচ্যে, কিবা পাশ্চাত্যে, এই মন্ত্রের অর্থ-বিষয়ে, বহু পণ্ডিতের মস্তিষ্ক আলােড়িত হইয়াছে। যােগীর যাজ্ঞবল্ক্য গায়ত্রী-মন্ত্রের ব্যাখ্যা করিয়াছেন; তন্ত্রশাস্ত্রে গায়ত্রী-মন্ত্রের ব্যাখ্যা আছে; পুরাণ গায়ত্রী-মন্ত্রের ব্যাখ্যায় বিনিযুক্ত রহিয়াছেন; আর্ত ভট্টাচাৰ্য্য গায়ত্রীর ব্যাখ্যা করিয়া গিয়াছেন। সায়ণাচার্যের ব্যাখ্যা, মহীধরের ব্যাখ্যা—এ সকল ব্যাখ্যা তো আছেই। পরন্তু পাশ্চাত্যদেশের যে পণ্ডিত যখনই ভারতের শাস্ত্র-গ্রন্থের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়াছেন, এই মন্ত্রীর ব্যাখ্যার প্রতি তখনই তিনি প্রলুব্ধ হইয়াছেন। এই গায়ত্রী-মন্ত্র জগতের গৌরবের সামগ্রী। এই মন্ত্র মানুষকে দেবত্বের পথে অগ্রসর করে। সুতরাং এ মন্ত্রের মর্ম বিশেষভাবে অনুধাবন করা কর্তব্য বলিয়া মনে করি। তজ্জন্য আমরা এই গায়ত্রী-মন্ত্রের কয়েকটী প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যা এস্থলে উদ্ধত করিতেছি। প্রথম যােগী যাজ্ঞবক্যের ব্যাখ্যা;-“কর্মেন্দ্রিয়াণি পঞ্চৈব পঞ্চ বুদ্ধীন্দ্রিয়াণি চ। পথ পঞ্চেন্দ্রিয়াখা ভুনাঞ্চৈব পঞ্চক। মনে। বুদ্ধিস্তথাত্মা চ অব্যক্ত যদুত্তমম্। চতুর্বিংশ ত্যথৈতনি গায়ত্ৰা অক্ষরাণি তু। প্রণবং পুরুষং বিদ্ধি সর্পগং পঞ্চবিংশক।” ঐ ব্যাখ্যার মর্ম ;-'পঞ্চকর্মেন্দ্রিয়, পঞ্চজ্ঞানেন্দ্রিয়, পঞ্চইন্দ্রিয়ার্থ, পঞ্চমহাভূত, মন বুদ্ধি আত্মা আর অব্যক্ত—এই চতুর্বিংশতি গায়ত্রীর অক্ষর। পরম পুরুষ প্রণব লইয়া পঞ্চবিংশ।
জ্ঞানবে। २१ দ্বিতীয় তন্ত্রের ব্যাখ্যা। গায়ত্রী-তন্ত্রে আছে,-“অগ্নিবায়ুসূৰ্য্যবিত্রমবরুণ এব চ। বৃহস্পতিঃ পর্জন্ত ইন্দ্রো গন্ধর্ব এব চ। পূষা শিব ত্বষ্টা চ বাসব মরুথ। সােমাঙ্গিয়া বিখেদেব। অখিনী চ প্রজাপতিঃ। সর্বদেবশ্চ রুদ্র ব্রহ্মা বিষ্ণুস্তু দেবতাঃ। জপকালে চিন্তনীয়াস্তাসাং সাযুজ্যমায়াৎ” ঐ ব্যাখ্যার মর্ম,-“গায়ত্রীর ১ম অক্ষর অগ্নি দেবতা, ২য় অক্ষর বায়ুদেবতা, ৩য় সূর্যদেবতা, ৪র্থ বিদ্যুৎ দেবতা, ৫ম যম দেবতা, ৬ষ্ঠ বরুণ, ৭ম বৃহস্পতি, ৮ম পর্জ, ৯ম ইন্দ্র, ১ম গন্ধৰ্ব্ব, ১১শ পূষা, ১২শ মিত্রাবণ, ১৩শ ত্বষ্টা, ১৪শ বাসব, ১৫শ মত, ১৬ সােম, ১৭শ আঙ্গিস, ১৮শ বিশ্বদেব, ১৯শ অশ্বিনীকুমার, ২•শ প্রজাপতি, ২১শ সর্বদেবতা, ২২শ রুদ্র, ২৩ ব্ৰহ্মা, ২৪শ বিষ্ণু।” তৃতীয়-বিষ্ণু কর্তৃক গায়ত্ৰীয় গুণ-ব্যাখ্যা -“যস্তথাভূতভর্গোহমান প্রেয়তি স গজ্জ্যোতীরসামৃত ভূরাদিলােকয়াত্মক সকল-চরাচরস্বরূপ-ব্ৰহ্মাবিষ্ণুমহেশ্বর-সূৰ্য্যাদি-নানাদেব- তাময়-পরব্রহ্মস্বরূপে ভূরাদি-সপ্তলােকান্ প্রদীপবৎ প্রকাশ মদীয় জীবাত্মানং জ্যোতীরূপঃ সত্যাখ্যং সপ্তমং ব্রহ্মলােকং ব্ৰহ্মস্থানং নীত্ব। আত্মবে ব্ৰহ্মণি ব্ৰহ্মজ্যোতিষ সহৈকভাবং করােতীতি চিন্তয় জপং কুৰ্যাৎ চতুর্থ।তন্ত্রসম্মত অপর ব্যাখ্যা,-যম্মৎ স্থিতিলয়ােৎপত্তিযেন ত্রিভুবন ততং। সবিতুর্দৈবতস্যান্তৰ্য্যামি তদভমব্যয়ং। বরণীয়ং চিন্তয়ামঃ সৰ্বান্তৰ্য্যামিন বিভুং। যঃ প্রেরয়তি বুদ্ধিন্থে ধিয়ােহাকং শরীরিণাং। এবমর্থযুতং মন্ত্র এয়ং নিত্যং জপের। বিনা- নিরমায়াসৈঃ সর্বসিদ্ধীশ্বরে ভবেৎ। একমেবাদ্বিতীয় যৎ সর্বোপনিষদা মত। ময়েণ নিপন্নঃ তদক্ষরমগােচর।” পঞ্চম।-মহানিৰ্ব্বাণ-তন্ত্রের ব্যাখ্যা,-“ক্ষরাত্মকতারেণ ( ওকারেণ) পরেশ প্রতি পাদ্যতে। পাতা হর্তা চ সংস্রষ্টা যে দেবঃ প্রকৃতেঃ পর। অসৌ দেস্ত্রিলােকাত্মা ত্রিগুণঃ ব্যাপ্য তিষ্ঠতি। অতো বিশ্বময়ং ব্রহ্মবাচ্যং ব্যাহৃতিভিত্মিভিঃ। তারব্যাহৃতিবাচ্যে যঃ সাবিত্র। জ্ঞেয় এব সঃ। জগদ্ধপস্য সবিতু জগদ্ধপস্য সবিতুঃ সংশ্রদীপ্যতে বিভেঃ। অন্তৰ্গতং মহদ্বচ্চো বরণীয় মতাত্মতি। ধ্যায়েমঃ তৎপরং সত্যৰ সৰ্বব্যাপিসনাতনম্ । যো অর্গঃ সৰ্বসাক্ষাশে। মনােবুদ্দীক্রিয়ানি না। ধৰ্মার্থকামমােক্ষেষু প্রেরয়েঘিনিযােজয়েৎ ॥” ষষ্ঠ ভট্টাচাৰ্য্য রঘুনন্দনের ব্যাখা ( ব্যাখা, (সংক্ষেপে “দেবস্য সবিতুস্তৎভগরূপং অন্তৰ্যামিব্রহ্ম বরেণ্যং বরণীয়ং জন্মমৃত্যুভিরুভিঃ তদ্বিনাসায়ােপাসনীয়ং ধীমহি। পূর্বোক্তন সােহলীত্যনেন চিন্তয়ামঃ যে ভর্গঃ সৰ্বান্তৰ্যামীখনাে নােহম্মাকং শরীরিণাং ধিয়াে বুদ্ধী প্রচোদয়াৎ ধৰ্মার্থকামােক্ষে প্রেয়তি।” তাহার ব্যাখ্যা—আহ্নিক-তত্বে; যথা,-“গায়। অর্থাৎ যােগী যাজ্ঞবৰু। দেবস্য সৰি- তুর্বচ্চো ভগমন্তর্গত বিহুং। ব্ৰহ্মবাদিন এবাহুৰ্বৰেণ্যঞ্চাস্য ধীমহি। চিন্তয়ামে। বয়ং ভগং ধিয়ো যো নঃ প্রচোদয়াৎ। ধৰ্মার্থকামমােক্ষে বুদ্ধিবৃত্তীঃ পুনঃপুনঃ। বুদ্ধেশ্চোদল্পিত। মন্তু চিদাত্মা পুরুষো বিরাটু। বরেণ্যং বরণীয়ঞ্চ জন্মসংসারভীরুভিঃ। আদিত্যান্তৰ্গতং যচ্চ অর্গখ্যৎ তন্বমুভিঃ। জন্মমৃত্যুবিনাশায় দুঃখ তিস্য চ। ধ্যানেন পুরুষে যশ্চ দ্রষ্টব্যঃ সুৰ্য্যমণ্ডলে।
২৮ জ্ঞানবেদ। মন্ত্ৰাৰ্থনপিচৈবায়ং জ্ঞাপত্যেমেবহি। তেন গায়ত্ৰা অয়মঃ। দেবস্য সবিতুৰ্গশ্বৰূপান্তৰ্য্যামি- ব্ৰহ্ম বরেণ্যং বরণীয়ং জন্মমৃত্যুভীরুভিঃ তদ্বিনাশায় উপাসনীয়। ধীমহি গুনে সােমত্মীত্য- নেন চিয়াম, যে ভগঃ সৰ্বান্তৰ্য্যামীখকাে নােহাকং সর্বেষাং সংসারিণাং ধিয়ো বুদ্ধীঃ প্রচো- দয়াৎ ধৰ্মার্থকামমােক্ষে প্রেরয়তি। তথা চ ভগবদগীতায়াং। ঈশ্বরঃ সৰ্ব্বভূতানাং হৃদ্দেশেহৰ্জ্জুন তিতি। ভ্ৰাময় সৰ্ব্বভূতানি যারূঢ়ানি মায়য়া। ঈশ্বমােহন্তৰ্য্যামী হৃদ্দেশে অন্তঃকরণে ভ্ৰাময় তৎকৰ্ম্ম প্রেরন যন্ত্রারূঢ়ানি দারুযন্ত্রতুল্যশরীরূঢ়ানি ভূতানি প্রণিনো জীবানিতি যাবৎ মায়য়া অংটনঘটনপটীয়স। নিজশ্যা। তথাচাশ্বতরাণাং মন্ত্র। একে দেবঃ সৰ্ব্বভূতেষু গৃঢ়ঃ সর্বব্যাপী সৰ্ব্বভূতান্তরাত্মা। কর্মাধ্যক্ষঃ সৰ্ব্বভূতাধিবাসঃ সাক্ষাৎ চেতঃ কেবলে। নিশ্চ॥” সপ্তময়ণাচার্যের ভাষ্য ;- সবিতা সূৰ্য্য বিয়া কৰ্ম্মাণ প্রচোদয়াৎ প্রেরয়তি ত সবিতু প্রসবিতুর্দেশ দ্যোতমান সূর্যস্ত তৎসর্বৈদৃশ্যমানতয়া প্ৰসিদ্ধং বরেণ্যং সর্বৈ সংভনীয়ং ভগঃ পাপানাঃ তাপকং তেজোমণ্ডল ধীমহি ।” অষ্টম-মহীধরকৃত ব্যাখ্যা-বিশ্বামিত্রদৃষ্টা সাবিত্রী জপে বিনিয়ােগ। তদিতি যষ্ঠর্থে তস্য দেবস্য দ্যোতনাত্মক সবিতুঃ প্রেরকস্তান্তৰ্য্যামিণে। বিজ্ঞানানন্দস্বভাবস্য হিরণ্যগর্ভপাধ্য- বচ্ছিন্ন বা আদিত্যান্তরপুরুষস্ত বা ব্ৰহ্মণে। বরেণ্যং বরণীয়ং সর্বৈঃ প্রার্থনীয়ং ভর্গে। সর্ব- পাপানাং সৰ্ব্বসংসার চ ভর্জনসমর্থং তেজঃ সত্যজ্ঞানানন্দাদিবেদান্তপ্রতিপাদ্যং বয়ং ধীমহি ব্যায়াম। ছান্দসং সম্প্রসারণং। যা মণ্ডলং পুরুষে রশ্ময় ইতি ত্ৰয়ং ভগঃ শব্দবাচ্য। ভর্গো বীৰ্য্যং বা। বৰুণােদ্ভবা অভিষিষিচানাঙর্গোহপচক্রাম বীৰ্য্যং বৈ ভর্গ ইতি তেঃ ( ৫৪৫১)। তস্য কস্য। যঃ সবিতা নােহম্মাকং ধিঃ বুদ্ধী: কৰ্ম্মাণি বা প্রচোদয়াৎ প্রকর্ষেণ চোদয়তি প্রেরয়তি সৎকৰ্ম্মানুষ্ঠানায়। যা বাক্যভেদেন যােজন।। সবিতুর্দেবস্য তৎ বরেণ্য ভর্গো ব্যায়ামঃ। যশ্চ নো বুদ্ধী প্রেরয়তি তং চ ব্যায়ামঃ স সৰিতৈব। লিঙ্গব্যত্যয়েন বা যােজন। সবিতুর্দেবস্য তৎ ভর্গো ধীমহি যে। যৎ ভর্গো নো বুদ্ধী প্রেরয়তি। নবম-পাশ্চাত্য-পণ্ডিতগণের ব্যাখ্যা, (1) “Let us adore the supermacy of that divine sun, the godhead who illuminates all, who recreates all, from whom all proceed, to whom all must return, to whom we invoke to direct our understandings aright in our progress towards his holy seat."-Sir William Jones, ( 2 ) "Let us meditate on the adorable sight of the divine ruler Savitri ; may it guide our intellects."-Colebrooke. (3) "We meditate on that desirable light of the divine Savitri who influences our pious rites"—Wilson. (4). We contemplate the excellent splendour of the brilliant Sayitri that he may inspire our devotions.,'-697784281 আনবেদ। (5) "May we attain that excellent glory of Savitar the God: So may we stimulate our prayers.”—Griffith. দশ।দেশের অনুবাদকগণের ব্যাখ্যা, (৬) “আমরা সবিতৃ-দেবতার সেই বরণীয় তেজ ধ্যান করি, যাহার প্রভাবে আমরা স্বীয় স্বীয় কর্তব্যানুষ্ঠানে প্রবৃত হইতে সমর্থ হই।”—সত্যব্রত সামশ্রমী। (৭) “সবিহুদেশের বরণীয় তেজ আমরা ধ্যান করি, যিনি আমাদিগের বুদ্ধিবৃত্তি প্রেরণ করেন।-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। (৮) “যিনি আমাদিগের ধী-শক্তি প্রেরণ করেন, আমরা সেই সবিতা দেবের সেই বরণীয় তেজ ধ্যান করি।”—রমেশচন্দ্র দত্ত। (৯) “সবিতৃদেবের বরণীয় তেজ আমরা ধ্যান করি, যিনি আমাদিগের বুদ্ধিবৃত্তি প্রেরণ করেন।”-রমানাথ সরস্বতী। মনীষিগণ নানা প্রকারে গায়ত্রী-মন্ত্রের অর্থ উদ্ধার করিবার চেষ্টা পাইয়াছেন। সবিতা দেবতার স্বরূপ উপলব্ধি বিষয়ে প্রত্যেক ব্যাখ্যায় নানা প্রতিবাক্য প্রকাশিত হইয়াছে। কিন্তু যিনি জবানসােগােচর’, যিনি বাক্যের অতীত, মনের অগোচর, ভাষায় তাঁহার কি কোনও পরিচয় দেওয়া যায়? সুতরাং সবিতা দেবতা বলিতে, কাহার প্রতি লক্ষ্য আছে- তাহা বুঝাইতে গিয়া, সকল ব্যাখ্যাকারেরই গবেষণা পষুদস্ত হইয়াছে। যিনি নাম-রূপের অতীত, অথচ যাহার নাম-রূপে বিশ্ব ব্যাপিয়া আছে, সৰিতা দেবতা নামে এখানে তিনিই নির্দিষ্ট হইয়াছেন। তাহাকে পরব্রহ্মই বলুন, হিরণ্যগর্ভই বলুন, আর সবিতা দেবতাই বলুন-বিশ্বরূপে বিদ্যমান বিশ্বনাথই এখানকার লক্ষ্য। সবিতা-দেবতা পদে, কেহ বা সুৰ্য্যদেব অর্থ নির্দেশ করেন। তাঁহার জ্যোতি বলিতে, সূর্যের রশিমাত্র তাহাদিগের কল্পনায় আসে। ইহাতে সুৰ্যের জ্যোতিঃধারক এক ধৰ্ম-সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হইয়া গিয়াছে। যাহা হউক, সেই জ্যোতির মধ্য দিয়াই তাহারা যে পরম জ্যোতিঃ প্রাপ্ত হইবেন, রূপের অনুধ্যানেই যে রূপময়ের কৃপা প্রাপ্ত হইতে পারিবেন, তাহারই আশা করা যায়। সত্বভাব-সম্পন্ন হইয়া, সদবুদ্ধির পরিচালনায়, তাহার সন্ধানে ফিরিলে রূপের মধ্যেই অরূপের সাক্ষাৎকার মিলিবে। গায়ত্রী-মন্ত্র সেই সন্ধানে অগ্রসর হইবার জন্য তােমায় উদবুদ্ধ করিতেছে। গায়ত্রী-মস্ত্রের মুল লক্ষ্য। বিশ্বেশ্বর বিশ্বনাথ কেমন ভাবে বিশ্ব ব্যাপিয়া বিদ্যমান আছেন, গায়ত্রী-মন্ত্রের প্রথম অংশে—‘ভূর্ভুবঃ স্বঃ মতােহারই আভাস পাওয়া যায়। তিনি যে দূরে নাই—তিনি যে নিকটেই আছেন— মন্ত্র সেই সন্ধান প্রদান করিতেছে।
জ্ঞান-বেদ। ‘কস্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম। চিত্ত নিয়ত সংশয়াচ্ছন্ন। আমরা কাহার পূজা করিব? আমরা কোন্ দেবতার উপাসনা করিব ?—এ সংশয় মানুষের মনে চিরবিদ্যমান। তাই আজ আমরা যাঁহাকে দেবতা বলিয়া পূজা করিতেছি, কাল সে দেবতা আমাদের চক্ষে উপেক্ষিত হইতেছেন। সংসারে যে নানা ধর্ম ও নানা ধর্মসম্প্রদায়ের উদ্ভব দেখিতে পাই, তাহার একমাত্র কারণ—চিত্ত নিয়ত সন্দেহদোলায় দোদুল্যমান। এই মন্ত্র সেই সংশয় নিরসন করিতেছে। এই মন্ত্র জপ করিতে পারিলে, দেবতা সম্বন্ধে—ভগবান সম্বন্ধে সংশয়-সন্দেহ দূরীভূত হইবে। কোন্ দেবতার পূজা করিব—এই সংশয় যখন মনে উদয় হয়, আর সেই সংশয় নিরসনের জন্য যখন আকুল আগ্রহ আসে, তখনই সন্দেহ নিরসিত হইয়া যায়, তখনই সত্যের সন্ধান লাভ করিতে পারি। জপ কর—এই মন্ত্র ; অনুধ্যান কর—এই মন্ত্র ; সকল সংশয় দূরীভূত হইবে, স্বরূপের সন্ধান পাইবে। হিরণ্যগর্ভঃ সমবৰ্ততাগ্রে ভূতস্য জাতঃ পতিরেক আসীৎ। । স দাধার পৃথিবীং দ্যামুতেমাং কস্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম।১ আনবেদ। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। [ মন্ত্রোংয়ং পরবর্তিমাষ্টকস্ট আত্মানুসন্ধানমূলক। প্রশ্নোত্তরব্যানে সন্ধান অধিগম্যতে। প্রশ্ন—ক’ৈ (কীদৃশায়) দেবায়’ (দেবতায়ৈ) বিষা ( পূৰি ৰা) বিধেম(পরিচয়েম, অর্পণং বিধেয়ং ইতি ভাব)। উত্তরঃ।‘হিরণ্যগর্ভ (যঃ ব্রহ্মাণ্ডের পরমেশ্বরঃ) সমত’ (সমভাবেন চিনাবস্থিত), ‘ভূত’ (বিকারজাত ব্ৰহ্মাণ্ডাদেঃ সৰ্বস্ত জগত) অগ্রে (পরত) জাত (যঃ প্রকটিত প্ৰকাশঃ ভবতি ইত্যৰ্থঃ ), 'এক (যঃ অদ্বিতীয়) পতি’ (বিশ্বস্ত একমেব অধিশামী) আসীৎ (অতীতানগতবৰ্তমানকালয়ে উদ্ভাসিত প্রকাশশীল ৰা) ‘সঃ (পরমেশ্বরঃ) ইমাং' (পরিদৃশ্যমানং) পৃথিবীং (ভূমিং) দ্যাং’ (দ্যুলােকং) ‘দাধর (ধারয়তি); তং ভগবন্তং আরাধয় ইতি শেষঃ ॥১ বঙ্গানুবাদ। [ এই মন্ত্রী এবং ইহার পরবর্তী আটটা মন্ত্র আত্মানুসন্ধানমূলক। প্রশ্নোত্তছলে সেই সন্ধান অধিগত হয়।] প্রশ্ন।-কোন্ দেবতাকে হবি: অর্পণ করা বিধেয় ? উত্তৰ।যে ব্ৰহ্মাণ্ডভাদের পরমেশ্বর সমভাবে চিরকাল অবস্থিত, সকল বিশ্বের পূর্বে যিনি স্বপ্ৰকাশ, যিনি বিশ্বের একমাত্র অধিকামী, অতীতানগতবৰ্তমানকালয়ে যিনি উদ্ভাসিত বা স্বতঃপ্রকাশমান সেই পরমেশ্বর, যিনি এই পয়িমান পৃথিবীকে এবং দ্যুলােককে ধারণ করিয়া আছেন; তাঁহাকে আরাধনা কর। ১। ব্যাখ্যা-সম্বন্ধে বক্তব্য। বিশ্বনাথ বিশ্ব ব্যাপিয়া বিদ্যমান আছেন। সংসার তাহার অভিব্যক্তি। উপমার ভাষায় নানা প্রকারে তাহার বিদ্যমানতার বিষয় প্রখ্যাপিত দেখি। সুত্রে মণিগণ অথবা পুষ্পমাল্যে পুষ্পসম্ভার যেমন সজ্জিত থাকে, এক দৃষ্টিতে সেই ভাবে তঁাহাতে বিশ্ব বিকশিত রহিয়াছে। দৃষ্টান্তান্তরে, জল ও জলবুদবুদ, বারিধিবক্ষে বীচিমাল-বিশ্বনাথের সহিত বিশ্বের সম্বন্ধ খ্যাপন করিতেছে। আত্তহৃদয় যখন কোন দেবতার অনুসরণ করিব বা কোন দেবতার পূজা করিব বলিয়া ব্যাকুল হয়, তখন যদি তাহার সম্মুখস্থিত বিশ্বের প্রতি দৃষ্টি পড়ে, তাহা হইলেই সে তাহার অসন্ধ্যেয় সামগ্রীর সন্ধান প্রাপ্ত হয়। এ মন্ত্র মানুষকে সেই সন্ধান প্রদান করিতেছে। কোন্ দেবতার অনুসরণ করিবে। দেখ-সম্মুখেই তিনি বিশ্বমুর্তিতে বিদ্যমান রহিয়াছেন। তাহার শরণ লও; পরিত্রাণ পাইবে।
৩২
আনবেদ।
य
আত্মদা বলদা যস্য বিশ্ব
উপসিতে
প্রশিষং যস্য দেবাঃ
যস্য ছায়ামৃতং যস্য মৃত্যু
কস্মৈ দেবায়
হবিষা
বিধেম ॥ ২
মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা।
প্রশ্নঃ-কলৈ দেবায় হবিষ বিধেম।
উত্তরঃ- (ষ পরমাত্মা পরমেশ্বরঃ) আত্মা' (আত্মানং তা, যথাগ্নেঃ সাশা
বিস্ফুলিঙ্গাঃ জয়ন্তে তৎ) তথা বলা (বাস্য দাতা শােধষিতা যা ইত্যর্থঃ) বিশ্ব (বিশে
সৰ্বে প্রাণিন) যস্য (যস্ত ভগবতঃ পরমাত্মনঃ) এশিষং (শাসনুমাঞ্জং) উপিসতে
(প্রার্থয়ন্তে সেন্তে বা); তথা ‘দেবাঃ (দীপ্তিদানাদিগুণনিবহাঃ লােকাতীতাবস্থাগ্রপ্তার
ব) যস্য (যস্য ভগবত পরমাত্মনঃ) প্রশিষং (অনুশাসনং) উপিসতে ইতি শেষ।
‘অমৃতং (অমরত্বঃ) যস্য (যন্ত ভগবত) ছায়া (প্রতিবিস্বং) তথা ‘মৃত্যু (মরণং)
‘য (যস্য ভগবতঃ ) ছায়া (প্রাণাপহারী ছায়েব, যঃ হি উৎপত্তিনিলয়-জীবনমরণ
মূলীভূতঃ ইত্যর্থ); তং সর্বেশ্বরং আরাধয় ইতি ভাব। ২।
বঙ্গানুবাদ।
প্রশ্ন।-কোন্ দেবতাকে হবিঃ অৰ্পণ করিব ?
উত্তর।যে পরমাত্মা পরমেশ্বর, ‘আত্মদ।” (আত্মদানকারী অর্থাৎ অগ্নির বিস্ফুলিঙ্গ
নির্গমনের ন্যায়, আত্মারূপে আত্মদান করেন) এবং “বলদা’ (যিনি বলসমূহের দাতা ও
শোষিত); বিশ্বের সকল প্রাণী যে পরমাত্মার অনুশাসন বা আদেশ মান্য করে, দীপ্তি
দানাদিগুণসমুহ অর্থাৎ লোেকাতীতাবস্থাপ্রাপ্তগণও যাহার অনুশাসন মান্য করেন; অমরত্ব
যহার ছায়া বা প্রতিৰি এবং মৃত্যুও যাহার ছায়া বা প্রতি বিশ্ব অর্থাৎ যিনি উৎপত্তিলিয়ে
ও জীবনমরণের মূলীভূত, সেই সৰ্বেশ্বরের আরাধনা কর। ২।
ব্যাখ্যা-সম্বন্ধে বক্তব্য।
আত্মারূপে যিনি আমাদিগের মধ্যে বিদ্যমান আছেন, যাঁহার শক্তিতে আমরা শক্তিমান
আছি, যাহার অনুশাসনে নিখিল সংসার পরিচালিত হইতেছে, ইহলােকে ও পরলোকে সর্বত্র
যাহার প্রভাব বিদ্যমান রহিয়াছে, অমরত্ব যাহার করায়ত্ত, আবার মৃত্যুরও যিনি হেতুভূত, মানুষ
তাহারই উদ্দেশ্যে অভিবাদন করু--পূজা প্রদান করুক, এ মন্ত্রের ইহাই উপদেশ ॥২॥
আনবেদ। যঃ প্রাণতাে নিমিষতে মহিত্বৈক ইদ্রাজা জগতত ভূব। য ঈশে অস্য দ্বিপদশ্চতুষ্পদ কস্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম । ৩। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। প্রশ্নঃ-কম’ দেবায় হৰিষা বিধেম? কং দেবং পূজয়াম ইত্যর্থ। উত্তরঃ-জগত' (জঙ্গমস্য, প্রাণিজাতঙ্গ) প্রাণতঃ (প্রাণসম্পন্নত্বাৎ ) “নিমিত (দর্শনজেঃ ইন্দ্রিয়সম্পন্নত্বাৎ ) য (যঃ পরমেশ্বরঃ) মহিত্বা (মাহাত্মেন) এক ইং {অদ্বিতীয় এব সন) “রাজা” (ঈশ্বরঃ) বভূব’ (ভবতি); ‘’ (পরিমানন্য) “পি (মাদে) চতুষ্পদঃ (পশ্বাদে) য (য পরমেশ্বর) ঈশ (অধিপতি ভবতি ইত্যর্থঃ); তং পরমেশ্বরং আরাধয় ইতি শেষ। ৩। বঙ্গানুবাদ। প্রশ্ন—কোন্ দেবতাকে হবিঃ অৰ্পণ করিব, অর্থাৎ কোন্ দেবতার পূজা করিব ? উত্তর প্রাণিসমূহের প্রাণ আছে বলিয়া এবং দর্শনেন্দ্রিয়াদি বিদ্যমান বলিয়া যে পরমেশ্বর আপন মহিমায় দ্বারা অদ্বিতীয় এবং সকলের ঈশ্বর ; অপিচ, পরিদৃশ্যমান বিশ্বের মনুষ্য-পথ্যাদির যিনি একমাত্র অধিপতি -সেই পরমেশ্বরের আরাধনা কর। ৩ ব্যাখ্যা-সম্বন্ধে বক্তব্য। যাহা হইতে প্রাণীর প্রাণ, যাহা হইতে জীবগণ চক্ষুদি-ইন্দ্রিয়সম্পন্ন এবং দ্বিপদ চতুষ্পদ সকলের যিনি পরিচালক ও পরিপালক, সে তো সেই তিনি;—তাহারই উদ্দেশ্যে পূজা বিহিত হউক। স্রষ্টার প্রতি, প্রতিপালকের প্রতি, রক্ষাকর্তার প্রতি, অভিবাদন করা কর্তব্য ; এবং তঁাহার শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক। মন্ত্রের ইহাই উপদেশ ও লক্ষ্য। ৩। যশ্যেমে হিমবন্তো মহিত্বা যস্য সমুদ্রং রসয়া সহাহুঃ। যস্যেমাঃ প্রদিশে। যস্য প্রদিশে যস্য বাহু বাহু কস্মৈ দেবায় হবিষ। বিধেম। ৪। জ্ঞানবে। ৩য় খ- ৩৪ জ্ঞানবেদ। মর্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। প্রশ্নঃ-কন্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম? কং দেবং পূজয়ামঃ ইত্য। উত্তরঃ-“ইমে’ ( দৃশ্যমানঃ) ‘হিমব (পৰ্বতাঃ) যস্য (ভগবতঃ) মহিবা (মহিমাপ্রকাশকা) তথা সয়া সহ’ (নদনদীভিঃ সহ, নদনদীসহযুতঃ ইত্যর্থঃ) সমুদ্র ( সমুদ্রঃ অর্ণবঃ বা) যস্য’ (ভগবত) অহিত্বা (মহিমাপ্রজাপক); ‘ইমা (দৃশমানং) প্রদিশঃ ( দিকসমূহ) যস্য (ভগবতঃ ) মহিত্বা মহিমাপ্রকাশক) আহঃ (কথয়তি লােকাঃ ইতি শেষঃ ), অপিচ ‘ইমে’ (সৰ্বে লােকা) ষষ্য” (ভগবত) বাহু (করতলগতা, ইঙ্গিতেন পরিচালিতা ইত্যর্থঃ), তং ভগবন্তং পূজয় ইতি শেষঃ ।। বঙ্গানুবাদ। প্রশ্ন।-কোন্ দেবতাকে হবিঃ অৰ্পণ করিব, অর্থাৎ কোন্ দেবতার পূজা কৰিব ? উত্তর—এই দৃশ্যমান পৰ্বতসমূহ যুহার মহিমা-প্রকাশক, নদনদীসমন্বিত তােয়নিধি যাহার মহিমা-বিজ্ঞাপক, আগ্নেয্যাদি এই দৃশ্যমান দিকসমূহ যাহার মহিমা প্রকাশ করিতেছে, এবং লােকসমূহ যাহার বাহুর দ্বারা পরিচালিত অর্থাৎ শাসনাধীন; সেই ভগবানকে পূজা কর। ৪ •• ব্যাখ্যা-সম্বন্ধে বক্তব্য। । কিবা পৰ্বতসমূহ, কিবা নদনদীসমন্বিত মহাসমুদ্র, কিবা দশ দিকে দৃশ্যমান পদার্থসকল- সকলই সেই ভগবানেরই মহিমা প্রকাশ করিতেছে; সকলেই তাঁহারই পরিচালনাধীন রহিয়াছে। এই বুঝিয়া, তঁাহার আরাধনা কর! ইহাই মন্ত্রের মর্মার্থ । ৪। যেন দৌরুগ্র পৃথিবী চ দৃঙ্গা যেন স্বঃ স্তভিতং যেন নাক। যাে অন্তরিক্ষে রজসস বিমানঃ কস্মৈ দেবায় হবিষ বিধেম ॥৫॥ মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। প্রশ্নঃ-কস্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম? কং দেবং পূজয়াম ইত্যর্থ। উত্তরঃ-যেন’ (ভগবতা) দ্যৌঃ (দুলােকং, অন্তরিক্ষং অবস্থিতং ইতি যাবৎ ) ‘চ’ (তথা) উগ্ৰা’ (বিচঞ্চলা ভীষণা) পৃথিবী’ (ভূমি) দৃহলা (স্থিরীকৃতা ), যেন’ (ভগবতা) স্বঃ (স্বলোকং) ভিতং (যথা অধো ন পততি তথা স্তব্ধং কৃত, উপৰ্যবস্থাপিত অনিবেদ। ৩৫ ইত্যর্থঃ), ‘যেন’ (ভগবতা) নাক (আদিত্যশ্চ অন্তরিক্ষে শুভিং ইতি শেষ, তথা ‘ঘ’ (ভগবান) অন্তরিক্ষে’ (শূন্যপ্রদেশে) রজঃ (উদক) বিমান (বিধাতা, স্থাপয়িতা ইত্যর্থঃ); তং ভগবন্তং আরাধয় ইতি শেষ। ৫। বঙ্গানুবাদ। প্রশ্ন।-কোন্ দেবতাকে হবিঃ প্রদান করিব, অথাৎ কোন দেবতার পূজা করিব? উত্তর।যে ভগবান কর্তৃক দ্যুলােক অবস্থিত এবং বিচঞ্চল ভীষণ এই পৃথিবী দৃঢ়ীকৃত হইয়াছে, যে ভগবানের দ্বারা সৌরলােক নিয়ে পতিত না হয়—এইরূপভাবে উপরে দৃঢ়রূপে স্থাপিত হইয়াছে, যে ভগবান্ কর্তৃক সূৰ্য্যদেব অরিক্ষে দৃঢ়রূপে আবদ্ধ, এবং যে ভগবান শুন্যপ্রদেশে উদকের স্থাপয়িতা ; সেই ভগবানকে আরাধনা কর। ৫। ব্যাখ্যা-সম্বন্ধে বক্তব্য। যে দিকে দৃষ্টিপাত করা যায়, সেই দিকেই তঁাহার মহিমা প্রকটিত। এই যে সূৰ্য্যচন্দ্র গ্রহনক্ষত্রাদি কক্ষভ্রষ্ট না হইয়া আপন পথে পরিচালিত হইতেছে, এই যে পৃথিবীতে ও অন্তরিক্ষে অচ্ছেদ্য সম্বন্ধ বিদ্যমান রহিয়াছে, কে তাহার নিয়ন্তা ? সেই নিয়ন্তার-সেই পরিচালকের অনুস্মরণ জন্য, তাহার মহীয়সী শক্তি অনুভব জন্ত, এই মন্ত্র মানুষকে উদবুদ্ধ করিতেছে। যং ক্রন্দসী অবস। তন্তভানে অভ্যক্ষেতং মনসা রেজমানে। যত্ৰাধি দূর উদিতে। বিভাতি কস্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম। ৬। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। প্রশ্নঃ-কস্মৈ দেবায় হবিষ বিধেম’? কং দেবং পূজয়াম ইত্যর্থ। উত্তরঃ-অবসা । রক্ষণেন হেতুনা-লােকস্থ রক্ষণার্থ) তন্তভানে’ (ভগবত। সৃষ্টে, লব্ধস্থৈৰ্যে সত্যেী ইতি ভাবঃ) ক্রন্দসী’ ( বাপৃথিব্যৌ ) ‘মনা” (বুদ্ধ্যা) রেজ- মানে (দীপ্যমানে, দ্যুলােকে ভূলােকে সর্বত্র জ্ঞান প্রকাশনে সতি) 'যং' (ভগবন্তং) অভ্যেক্ষেং (অভ্যপতাঃ); ‘যত্র ( যত্মাৎ ( যৎ আধারভূতাৎ ভগবতঃ) সূরা (সূৰ্য্য, পরমং জ্ঞানং) উদিতং (উদয়প্রাপ্তং, বিচ্ছুরিতং সৎ) “বিভাতি” (হৃদি প্রকাশতে); তং ভগবন্তং আরাধয় ইতি শেষ। ৬।
জ্ঞানবেদ। বঙ্গানুবাদ। প্রশ্ন -কোন দেবতাকে হবিঃ অৰ্পণ করিব, অথাৎ কোন্ দেবতার পূজা কৰিব ? উত্তর।লােকরক্ষণার্থ ভগবান্ কর্তৃক সৃষ্ট ও গন্ধস্থৈর্য হইয়া, দুলােক ভূলােক- দ্যাপৃথিবী, বুদ্ধির দ্বারা দীপ্যমান্ হইলে অর্থাৎ দ্যুলােক-ভূলােক সর্বত্র জ্ঞান প্রকাশ পাইলে, যে ভগবানকে প্রত্যক্ষ করিতে পারে, আর যে আধারভূত ভগবান হইতে পরম জ্ঞান বিচ্ছুরিত হইয়া হৃদয়ে প্রকাশিত হয়েন, সেই ভগবানকে আরাধনা কর। মন্ত্ৰাৰ্থ-বিষয়ে বক্তব্য। লােকসমূহের রক্ষার নিমিত্ত যিনি দ্যুলােককে ও ভুলােককে যথাস্থানে স্থাপিত রাখিয়া- ছেন, লােকের মধ্যে জ্ঞানের উন্মেষণ হইলে যাহার সন্ধান অধিগত হয়, দ্যুলােক ভুলােক এবং সৌরজগৎ পৰ্যন্ত যাহার নির্দেশে পরিচালিত হইতেছে, সংসার যখন তাহার মাহাত্ম্যের বিষয় বুঝিতে পারে, তখনই তাঁহার উদ্দেশ্যে প্রণত হয়-হবিঃ প্রদান করে। মন্ত্রের উপদেশ—তাহাকে চিনিবার জন্য, তাঁহার স্বরূপ অবগত হইবার জন্য, চেষ্টা কর; তাহা হইলে তাহারই উদ্দেশে পূজা প্রদান করিতে প্রবৃত্তি আসিবে। ৬। আপাে হ যদ্বহতাৰ্বিশ্বমায়ন গর্ভং দধানা জনয়ন্তীরগি। ততাে দেবানাং সমবর্ভতারেকঃ কস্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম॥৭॥ মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। প্রশ্নঃ।-'স্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম? কং দেবং পূজয়াম ইত্যর্থ। উত্তরঃযৎ' (প্রসিদ্ধং) “বৃহতীঃ (মহন্ত) আপঃ (সং) ই’ ( দৃশ্যমানং) ‘বিশ্বং (সর্বং জগৎ) আয় (বাপা) অগ্নিং ( জ্ঞানাগ্নি, জ্ঞানং) জনয়ন্তী (উৎপা- দয়, উৎপাদনপূর্বকং ইত্যৰ্থঃ) গর্ভং’ (তদাধরং) ‘ দনা (ধারয়তি); 'তত (তৎ এব) দেবানাং সর্বেষা প্রাণীনা) এক (অৰিতীয়) অঃ ( প্রাণভূত আত্মা) সমবৰ্তত’ (প্রকাশিতব্য); তং ভগবন্তং পূজয় ইতি শেষ। ৭। বঙ্গানুবাদ। প্রশ্ন।-কোন্ দেবতাকে হবিঃ প্ৰদান করিব, অথাৎ কোন্ দেবতার পূজা কৰিব ? উক্ত।ৰে প্রসিদ্ধ মহা সত্ব-সমুদ্র দৃশ্যমান বিশ্বকে (সকল জগৎকে) ব্যাপ্ত করিম জ্ঞনিবেদ। ৩৭ নাগ্নিকে উৎপাদন-পূৰ্বক, তাহার আধারকে ধারণ করিয়া আছেন, তাহা হইতেই দেবগণের ( প্রাণিগণের) প্রাণভূত অদ্বিতীয় আত্ম প্রকাশিত হয়েন; তাহাকে পূজা কর। ৭। মার্থ উপলক্ষে বক্তব্য। ব্যাখ্যাকারগণ প্রধানতঃ এখানে সৃষ্টির পূর্বাবস্থায় বিষয় পরিকল্পনা করিয়াছেন। সৃষ্টির পূর্বে বিশ্ব জলময় ছিল। সেই মহার্ণবে বীজরূপে ভগবান্ বিদ্যমান থাকিয়া সৃষ্টিকাৰ্য সমাধা করেন। প্রথমে প্রজাপতি-রূপে তিনি আপনি প্রকাশমান হন। তাহার পর বর- জামাদি প্রাণিগণের উৎপত্তি ঘটে। সৃষ্টিক্রম নির্ধারণ-বিষয়ে একবিধ দার্শনিক সম্প্রদায় এই মত পরিপােষণ করেন। অমতে অষ্টাই যে সৃষ্টিরূপে বিদ্যমান আছেন, সেই তত্ত্ব এখানে প্রকাশিত। আমরা বলি, এখানে আপ’ অর্থাৎ সত্বসমুদ্র হইতে-পরমাত্মা হইতে-জীবাত্মার প্রেরণার বিষয় পরিবর্ণিত রহিয়াছে। দেবতার মধ্যেও সত্ত্বের ক্রিয়া, প্রাণিজগতেও সত্বের ক্রিয়া। সেই সত্বে যিনি মুলাভূত, তাহাকেই পূজা কর,-মন্ত্র এই ভাবেই দ্যোতনা করিতেছে। যশ্চিদাপাে মহিনা পৰ্যপশ্যক্ষং দধান। জনয়ন্তীর্যজ্ঞ। যাে দেবেষধি দেব এক আসীৎ কস্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম ॥ ৮ | মর্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। প্রশ্নঃ-কন্মৈ দেবায় হবিষ। বিধেম’? কং দেবং পূজয়ামঃ ইত্যর্থ। উত্তরঃ-আপ (সত্বভাবাঃ) দক্ষং ( কর্মশক্তিং) ধান (ধারয়ন্তী, ধারণং কৃত্বা ইত্যর্থঃ) ‘ষজ্ঞং (সৎকৰ্ম্ম জনয়ন্তী (উৎপায়ন্তি ইতি ভাবঃ); ‘(যঃ জগদাত্মা ভগবান্) মহিনা (স্বমাহাত্মােন) চিৎ' (আপঃ, সত্ত্বভাবনিবহান ইত্যর্থ) পৰ্যপশুৎ (সর্বতােভাবেন আয়ত্তীকৃতবান); তথা ‘যঃ (পরমেশ্বরঃ) দেবেষু (দেবানাং মধ্যে ) ‘একঃ ( অদ্বিতীয় অধিদেবঃ (অধীশ্বরঃ) আসীৎ (ভবতি ); তং ভগবন্তং আরাধয় ইতি শেষ। সাধারঃ সত্বপ্রদাতারং ভগবৎ অনুস্মৰ্তব্যং ইতি ভাৰঃ ॥ ৮। বঙ্গানুবাদ। প্রশ্ন-কোন্ দেবতাকে হবিঃ প্রদান করিব, অর্থাৎ কোন্ দেবতার পূজা কৰিব ? ‘জাপ অর্থাৎ সত্বভাব-সমুহ, কর্মশক্তিকে ধারণ করিয়া, যজ্ঞ বা সৎ obi আনবেদ। কর্মকে উৎপাদন করিতেছেন; যে জগদাত্মা ভগবান আপনার মাহাত্মভাবে সেই ‘আপা অর্থাৎ সত্ত্বাবসমূহকে সর্বতােভাবে আয়ত্তীকৃত রাখিয়াছেন এবং যিনি দেব- গণের অদ্বিতীয় অধীখর হয়েন; সেই ভগবানকে অর্চনা কর। (ভাব এই যে, লাধার সত্বপ্রাতা ভগবানকে অনুস্মরণ কর) । ৮। মার্থ-বিষয়ে বক্তব্য। মানুষের মধ্যে যখন সত্ত্বভাবের উন্মেষ হয়, তখন তাহার প্রাণে কর্মশক্তি জাগিয়া উঠে, তখনই সৎকর্ম সম্পাদনে তাহার সামর্থ্য আসে ; তখনই ভগবানের সহিত তাহার সান্নিধ্য ঘটে। তিনি সত্ব-সমুদ্র। সন্ধের প্রবাহ হাতেই গিয়া সম্মিলিত হয়। দেবগণ তাঁহারই অংশভূত; অগ্নির বিস্ফুলিঙ্গের ন্যায়, দেবগণও তাহা হইতেই উৎপন্ন হইয়া থাকেন। এই বুঝিয়া, মানুষ তাহার শরণাপন্ন হয়,-সত্ত্বভাবাপন্ন হয়,-মন্ত্রের ইহাই উপদেশ ও লক্ষ্য। ৮। মা নাে হিংসীজ্জনিতা যঃ পৃথিব্যা যাে বা দিবং পৃথিব্যা যা বা দিবং সত্যধৰ্ম্মা জজান যক্ষাপশ্চন্দ্রা বৃহতীর্ক্সজান কস্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম । ৯। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। প্রশ্নঃ কস্মৈ দেবায় হবিষ বিধেম’? কং দেবং পূজয়াম ইত্যর্থ। উত্তরঃ।-যঃ (এগাত্মা ভগবা) ‘নঃ (অ) মা হিংসীৎ (কদাচ মা বাধতাং, সম্মাকং ইষ্ট বিনা কদাচ অনিষ্টং ন করােতি ইত্যর্থঃ), যঃ (যঃ ভগবান) পৃথিব্যা: (ভূমেঃ) জনিতা (জনপ্পিতা, শ্রষ্টা) বা (অথবা) যঃ' (জগদাত্মা ভগবান্ সত্যধৰ্মা (সত্যপালক, সতাং রক্ষকঃ সন) দিবং (লােকংসৰ্বান্ লােকান্ ইত্যৰ্থঃ) জান (জনয়ামাস, উৎপাদষতি ইতি ভাবঃ) ‘চ’ (এবং) 'যঃ (যশ্চ ভগবান্) বৃহতী (মহতী, মহান্তং ইতি যাবৎ ) চন্দ্রা' (জ্যোতির্ময়ী আনন্দদায়িনী, চিদানন্দবদ্ধকং ইত্যর্থ) আপঃ ( উদকানি, সৎ) জান’ (জনয়মাস, উৎপাদয়তি); তং ভগবন্তং আরাধয় ইতি শেষ ॥ বঙ্গানুবাদ। প্রশ্ন কোন দেবতাৰুে হবিঃ প্ৰদান করিব, অর্থাৎ কোন দেবতার পূজা করিব। উত্তর জগদা যে ভগবান আমাদিগকে কখনও হিংসা করেন না অর্থাৎ আমাদিগের অনিবেদ। ইষ্ট ভিন্ন কখনও অনিষ্ট করেন না, যে ভসবা পৃথিবীর জনয়িত। অর্থাৎ স্রষ্টা, অখবা যে জগদাত্মা ভগবান্ সত্যধৰ্ম্মা অর্থাৎ সত্যপালক বা সদ্ভাবাপন্নদিগের রক্ষক, ছালােকারি অর্থাৎ সকল লােকের উৎপাদক অথাৎ সৃষ্টিকর্তা, এবং যে ভগবান মহৎ আনন্দদাতা বা চিদানন বৰ্ধক সত্ৰ-সমুহকে উৎপাদন করিয়াছেন; সেই ভগবানকে আরাধনা কর। মন্ত্রের বিষয়ে বক্তব্য। এই মন্ত্রে ভগবানের স্বরূপ সম্বন্ধে উপদেশ আছে। যিনি ইষ্ট ভিন্ন কখনই অনিষ্ট করেন না, তাহাতেই ভগবদধিষ্ঠান আছে, বুঝিতে হইবে। এই বুঝিয়া, সেই চরিত্রের অনুসরণ করিবে। তিনি স্রষ্টা কেবল এই পৃথিবীর নহে—সর্বলােকের। তিনি সত্যধৰ্ম্মা অথাৎ সতের রক্ষক। তাহার এই বিশেষণে মানুষকে সৎ হইবার জন্যই উপদেশ দেওয়া হইয়াছে। যে সত্ত্বভাব চির-আনন্দদায়ক—চিদানন্দবর্ধক, তিনিই সেই সত্ত্বভাবের জনয়িত।। তাহার অনুসরণ করিলে, হৃদয়ে সত্বভাব পরিবর্ধিত হয়। এই মন্ত্রের ইহাই উদ্বোধন,—মানুষ। তােমার হৃদয় হইতে হিংসা-বৃত্তিকে দূরীভূত কর । মনে-প্রাণে সৎ হইবার জন্য সঙ্কল্পবদ্ধ হও; সৰকাৰ্য্যে ভগবানের অনুসরণ কর। তারা হৃদয়ে সত্ত্বভাব সাত হইবে;-সুখ-শান্তি লাভ করিবে।৯। মন্ত্রোচ্চারণে ইষ্টলাভ। বিধিপূর্বক পূর্বোক্ত নয়টী মন্ত্র জপ করিলে, পরমেশ্বরের সন্ধান পাওয়া যায়। তাঁহার সন্ধান প্রাপ্ত হইলে, তাহার প্রতি অনুরাগ-সম্পন্ন হইলে, সকল অভীষ্টই সিদ্ধ হয়। তখন আর অভাব-জ্ঞান থাকে না, তখন আর অভাব-পূরণের জন্য আকুলি-ব্যাকুলি আসে না।
জ্ঞান-বেদ। অর্থসম্পং-লাভের জাপ-মন্ত্র। সংসারে সাধারণ মানুষের প্রধান কাম্যবস্তু—অর্থসম্পং। মানুষ যে কিছু কৰ্ম্ম করে, তাহার অধিকাংশই অর্থ-সম্পৎ-লাভের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়। সে যে ভগবানের উপাসনা করে, সে যে দেবদ্বারে প্রার্থনা জানায়, তাহাতে অধিকাংশ স্থলেই অর্থসম্পং-প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা প্রকট দেখি। সৰ্বাভীষ্টসিদ্ধির কল্পতরু বেদ, মানুষের কোনও আকাঙ্ক্ষাই অপূর্ণ রাখেন নাই। যিনি যে আকাঙ্ক্ষার বশবর্তী হইয়া যে সামগ্রীর অনুসন্ধান করিবেন, বেদমন্ত্রের অনুধ্যানে সেই সামগ্রীই তাহার অধিগত হইবে। যাঁহারা একান্তে কেবলই অর্থসম্পদের অনুসরণ করিয়া ফিরিতেছেন, পুরুষকার তাহাদিগের সম্বন্ধে সহায়ক হইয়া আছে। কিন্তু যাঁহার সে পুরুষকার নাই, সে কর্মশক্তি নাই, বেদমন্ত্র উঁহাদিগকে সেই বস্তু প্রদান করিবার জন্য ভাণ্ডার উন্মুক্ত করিয়া রাখিয়াছেন। চতুর্বেদের বিভিন্ন স্থানে এমন সকল অভীষ্টফলপ্রদ মন্ত্র সন্নিবিষ্ট আছে, যাহা জপ করিলে, অলৌকিক শুভফল প্রাপ্ত হওয়া যাইবে। ঋষিগণ পরীক্ষা করিয়া দেখিয়াছেন,তােমরা যে ঐশ্বৰ্য্যই চাহিবে, মন্ত্রশক্তি তােমাদিগকে সেই সেই ঐশ্বৰ্য্যই প্রদান করিবে। মন্ত্র তােমা- দিগকে এমন কৰ্ম্মে লইয়া যাইবে,—যে কর্মের ফলে, তােমার সংসারে ধনৈশ্বৰ্য্য উথলিয়া উঠিবে।
আনবেদ। এ সম্বন্ধে অসংখ্য জাপ্য মন্ত্র আছে। তাহার মধ্য হইতে খাথেদ- সংহিতার একটী সূক্ত ( ৬ষ্ঠ মণ্ডল, ৫ম অনুবাক, ৫৩ম সূক্ত) নিম্নে প্রকটন করিতেছি। ঋষিগণ বলেন,–এই সূক্তটী (নয়টি মন্ত্র) প্রত্যহ দশ বার জপ করিলে, অর্থ বস্ত্রাদি এবং রাজ্য যশ ও কীৰ্ত্তি লাভ হয়। ৪। বয়ষু ত্বা পথপতে রথং বাজতয়ে । ধিয়ে পূষন্নযুজুহি ॥১॥ মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘পথতে (পথপ্রদর্শক) পূষ (হে পােষক প্রতিপালক দেব।) ‘বিয়ে’ (কর্মার্থ, অস্মাকং কর্মমার্গ প্রদর্শনায় ইত্যৰ্থঃ ) বাজশাভয়ে’ ( অনুস্য লাভায় চ) বয়ং’ (প্রার্থনা কারিণঃ বয়ং) উং’ ( আন্তরিকতয়া সহ) স্বা’ ( ত্বাং ) রথং ন’ (রথ পরিচালকমিব) ‘অযুহি’ ( অম্মদভিমুখং কুৰ্ম্ম, হৃদি প্রতিষ্ঠাপয়াম ইত্যথঃ)। দেবতা অম্মাকং কৰ্ম্মণঃ পরিচালয়িভা অনুস্য চ প্রদাতা ভবতু ইতি ভাবঃ ॥১॥ বঙ্গানুবাদ। হে পথপ্রদর্শক পােষক ও প্রতিপালক পুংদেবতা। আমাদিগের কর্ম পথ প্রদর্শন ও এবং অন্নলাভের নিমিত্ত, প্রার্থনাকারী আমরা, সৰ্বান্তঃকরণে রথের পরিচালক-রূপে আপনাকে আমাদের অভিমুখী করিতেছি অথাৎ হৃদয়ে প্রতিষ্ঠা করিতেছি। (ভাব এই যে,-দেবতা আমাদের কর্মের পরিচালক এবং অন্নের দাতা হউন।) ১। ওঁ। অভি নো নৰ্যং বরং প্রযতদক্ষিণ বামং গৃহপতিং নয় । ২। নিবেদ। ৩য় খণ্ড 82 নবেদ। মানুসারিণী ব্যাখ্যা। হে দেব। নৰ্যং (লােকহিতসাধক) বসু (ধনং) তথ্য বীং (বিশেষে দারি নাশকং সম্ভাৰপ্ৰাপকং সামথং ইত্যথঃ) তথা প্ৰষতদক্ষিণং (তদুপাদিত বিদ্ধ ধনং দত্ত ইতি যাবৎ) ন (অম্মান) অভি’ । সৰ্বতঃ) ‘মং (বননীয়ং, আদর্শ) ‘গৃহপতিং (গৃং) নয়’ (প্রাপঃ, কুরু ইত্যর্থ)। প্রার্থনায়া তাবাক কণা দারিদ্রদুঃখং নাশয়িত্ব পান্ লােকহিতব্রতা আদর্শগৃহস্থান্ কুরু। ২। বঙ্গানুবাদ। হে দেব। লােকহিতসাধক ধনকে, বিশেষভাবে দারিদ্র্যমাশক সন্তাব প্রাপক সামর্থ্যকে এবং তদুপার্জিত বিশুদ্ধ ধনকে প্রদান করিয়া, আমাদিগকে আদর্শ গৃহ করুন। ( প্রার্থনার ভাব এই যে,আমাদিগের কর্মের দ্বারা আমাদিগের দাবি-দুঃখ নাশ করিয়া আমাদিগকে লােকহিতব্ৰত আদর্শ গৃহ করুন)। ২। ওঁ। আদিসন্তং চিদাঘূণে পূষন্দানায় চোদয় পণেশ্চিম্বি দ্রা মনঃ ॥ ৩॥ মর্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা ‘আম্মুণে’ (জ্ঞানােন্মেষক হে পােষক পূষাদেব!) আদিৎসম্ভং চিৎ (দাতুনিচ্ছাপ পুরুষং, সৎকর্মবিমুখং কৃপণমপি ইত্যর্থঃ) দানায়’ (দার্থ, সৎকর্মসাধনায়) ‘চোদয় (প্রেয়, নিয়ােজয় ইত্যর্থঃ ); ‘পণেশ্চিৎ (লুব্ধস্যাপি) মন’ হৃদয়ং) আ (সর্বতােভাবেন) ‘বি’ (দানাং মৃদু কুরু)। লুব্ধক কৃপণ চ মনঃ পরহিতায় উদ্বোধয় ইতি ভাব। ৩। বঙ্গানুবাদ। হে জ্ঞােনন্ম পােষ পুষ-দেবতা। সৎকৰ্ম্মবিমুখ কৃপণকেও দানের জন্য- সৎকৰ্ম্মসাধনের জন্য, নিযুক্ত করুন ; লুব্ধক ব্যক্তির অন্তরকেও দানের জন্য যিন করুন। (ভাব এই যে,-লুব্ধক এবং কৃপণের মনকেও পরহিতের জন্য উদ্বোধিত করুন।)। ৩।
আনবেদ।
মার্থ-বিষয়ে মন্তব্য।
পূর্বোক্ত মন্ত্র, তিনটীর নিগূঢ় তাৎপৰ্য এই যে, আমি যেন কৃপণ না হই, আমি
যেন লােভী না হই; অথচ, আমার যেন অভাব না হয় এবং আমি যেন সর্বতাে-
তবে সৎকর্মপরায়ণ ও দানশীল হইতে পারি।
ওঁ। বি
পথাে বাজতয়ে চিনুহি
চিনুহি বি
বি মৃধাে জহি।
সাধন্তামুগ্ৰ নাে ধিয়ঃ ॥৪॥
মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা।
‘উগ্র (হে অশেষশক্তিসম্পন্ন দেব।) “পথ (অষ্মকং কৰ্ম্মমার্গ) যাজাতয়ে
( অলাভায়, সৎকর্মসাধনায়) বিচিনুহি’ (শােধিতা কুরু, যেন মার্গেণ গত্ব' পরমং ধনং
লভেমহি তন্মার্গং প্রদর্শয় ইত্যর্থ:); তথা হে দেব । মৃধা (বাধা-কৰ্ম্মবিতকা
শত্রু ইত্যর্থঃ) ‘বিজহি’ (বিনাশয়); তথা ‘না’ অস্মাকং) "ধয় (ধনবার্থ
জিয়ণানি কৰ্ম্মাণি) সাধস্তাং (সিদ্ধন্তু, সফলানি ভবস্তু হাত ভাব)। ৪।
বঙ্গানুবাদ।
হে অশেষশক্তিসম্পন্ন দেব। অন্নলাভের নিমিত্ত—সৎকৰ্ম্ম-সাধনের জন্য—আমাদিগের
কৰ্ম্মপথসমূহকে শশাধিত করুন অর্থাৎ যে পথে গমন করিয়া পরম ধন লাভ করিতে পারি,
সেইরূপ পথ প্রদর্শন করুন; অরি, কর্মবিধাতক শত্ৰুদিগকে বিনাশ করুন;
ধনলাভের নিমিত্ত আমাদিগের আর কসমূহ সিদ্ধ হউক—সফলতা প্রাপ্ত হউক।
ওঁ। পরি
তৃদ্ধি
পণীনামারয়া হৃদয়া কবে
পথেমস্মভ্যং রন্ধয় ॥ ৫॥
।
৪৪
জ্ঞানবেদ।
মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা
‘কবে’ (হে অশেষ প্রজ্ঞাসম্পন্ন দেব !) ‘পণী নাং (লুকানং) 'হৃদয়' ( কঠিন
হৃয়ানি) আয়া’ ( তীক্ষ্ণাস্ত্রেণ) পরিতৃন্ধি’ (পরিবিধ্য, হৃদগতং কাঠিন্টং অপনয় ইত্যৰ্থ );
‘খ’ ( অনন্তরং) ঈ (এনান লুকান্ চৌরা ইত্যর্থঃ) ‘অভ্যৎ (অম্মদং) রন্ধর
(বশীকুরু)। হৃদয়স্থং অসদ্ভাবং দুর্গীকৃত্বা সদ্ভাবং সমানয় ইতি ভাব। ৫।
বঙ্গানুবাদ।
৫ে অশেষপ্রজ্ঞাসম্পন্ন দেব। লুব্ধকগণের কঠিন হৃদয়-সমূহকে তীক্ষ্ণ অস্ত্রের দ্বারা বিদ্ধ
করিয়া হৃদয়ের কাঠিন্য দূর করুন ; অনন্তর সেই সকল লুব্ধক চৌকে আমাদিগের
মঙ্গলার্থ আমাদিগের বশীভূত করুন। • ভাৰ এই যে,-আমাদিগের হৃদয়ের অসম্ভবকে
দূর করিয়া সঙাব আনয়ন করুন।)। ৫
ওঁ। বি পূষন্নারয়া
তুদ পণেরিচ্ছ হৃদি
প্রিয়
অর্থেমন্মুভ্যং
মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা।
‘পুষন (হে পােষক দেব। আরয়া” ( সূক্ষ্মলৌহশলাকয়া, তীক্ষ্ণাস্ত্রেণ ইত্যর্থ) পণে
(সুব্ধক হৃদয় ‘বি তুদ। বিবিদ্ধ ); হৃদি’ (তেষাং হৃদয়ে ) 'প্রিয়ং’ (অভ্যং অনুকুলং
নং) ইচ্ছ’ (দাতব্যমিতি ইচ্ছা জনয়); অথ’ (অনন্তরং) অভ্যং ( অমাকং মঙ্গলায়)
‘ঈ (এনা লুব্ধকান চৌরান ইত্যর্থঃ) রন্ধয়ঃ (অস্মাকং বশীকুরু)। কুপ্রবৃত্তি
দূরীকৃত্বা সভিং হৃদি পােয় ইতি প্রার্থনায় ভাব। ৬।
বঙ্গানুবাদ।
হে পােক দেব। সুক্ষ্মলৌহশলাকার দ্বারা অর্থাৎ তীক্ষ্ণাস্ত্রের দ্বারা লুব্ধকগণের হৃদয়কে
বিদ্ধ করুন; তাহাদিগের হৃদয়ে আমাদিগের অনুকুল ধন প্রদানের ইচ্ছা উৎপাদন
করুন; অনন্তর আমাদিগের মঙ্গলের নিমিত্ত সেই সকল লুব্ধক চৌরকে বশীভূত করুন।
( প্রাথনার জৰ এই যে,-কুপ্রবৃত্তিকে দুর করিয়া হৃদয়ে সত্তির পােষণ করুন।)। ৬।
।
=
নিবেদ।
৪৫
T
ওঁ। আ রিখ কিকিরা কৃণু পণীনাং
পীনাং হৃদয়া কবে।
অথমম্মুভ্যং রন্ধয় । ৭।
মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা।
‘কবে’ ( অশেষপ্রজ্ঞানসম্পন্ন হে দেব ‘পণীনাং (লুব্ধকচৌদীনং) হৃদয়
(হৃদয়ানি) আ রিখ’ (আলিখ, বিদায় ), তথা ‘কিকিরা (প্রশিথিলনি, মৃদুনি চ
ইত্যর্থঃ ) ঃ (কুরু)। অথ’ ( অনন্তরং) অভ্যৎ' ( অম্মাকং মঙ্গলার্থং) ঈ ( এনা
লুব্ধকান্ চৌরা ইতাৰ্থঃ) রন্ধয় (বী কুরু) অয়ং ভাব-প্রজ্ঞানসাহায্যেন কং
অন্তরস্থিতং তথা পারিপার্শ্বিক অসদ্ভাবনিচয়ং বিনতু। ৭।
বঙ্গানুবাদ।
অশেষ জ্ঞানসম্পন্ন হে দেব। সুব্ধক চৌরদিগের হৃদয়কে বিদীর্ণ এবং শিখিল অর্থাৎ
মৃদু করুন। অনন্তর আমাদিগের মঙ্গলের জন্য সেই সকল লুব্ধক চৌরকে বশীভূত
করুন। ( ভাব এই যে,—প্রজ্ঞানের সাহায্যে আমাদিগের অন্তরস্থিত ও পারিপার্শিক
অদ্ভাবসমুহ বিনাশপ্রাপ্ত হউক।) । ৭।
ও। যা পূষ ব্ৰহ্মচোদনীমারাং বিভাণে।
তয়া সমস্যা
সমস্ত ময়মরিখ কিকিরা কৃ৮।
মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা।
‘ম্বণে’ (জ্ঞানেন্মেষক) পূষন (হে লােকানাং পােব দেব।) 'হ্মচোদনীং
(সংস্কায়সাধক, শোধকং) ‘যাং আরাং' ( যং তীক্ষা) বিভৰি (হন্তে ধারয়সি), ‘তয়া
(তেন অন্ত্রেণ) সমস্য’ (সৰ্বস্ত লুব্ধকজন) হৃদয়ং’ ( অন্তরং) আ রিখ’ (আলিখ, সংস্কৃত
কুরু) তথা ‘কিকিরা’ (কিকিরাণি, প্রশিথিলানি, মৃদুনি চ) কুরু ইতি শেষ। প্রাথ নায়াঃ
ভাৰঃ-জ্ঞানাঞ্জনশলায়। সংৰি হৃদয়ৎ ক্লেদং দুরীকুরু॥
৪৬ আনবেদ। বঙ্গানুবাদ। আনােয়েক হে লােকপােষক দেব। সংস্কার-সাধক যে তীক্ষা আপনি হতে ধারণ করিয়া আছেন, সেই অস্ত্রের দ্বারা সকল লুব্ধক জনের অন্তরকে সংস্কৃত করুন, এবং তাহাদের ময়কে দ্রব করুন। ( প্রাথনার ভাব এই যে,-জ্ঞানাঞ্জনশলাকার দ্বারা সংবিদ্ধ করিয়া হৃ হইতে ক্লেদরাশিকে দূর করুন।) অষ্ট। গােওপশাঘণে পণ্ডসাধনী তস্যাস্তে সুমমীমহে॥ ৯। মর্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘আহ্বাণে (হে জানেন্মেষক দেব !) তে (তব) যা’ (তীক্ষ্ণাগ্রবিশিষ্টা) অষ্টা ( ছুরিকা, শক্তীঃ ইত্যর্থ) গােপশা’ (গবাদে পশে উদ্ধারকর্তা, যদ্ধা-জ্ঞানপ্ৰদাতা) অতএব 'পণ্ডসাধনী (পশ্বাদেঃ প্রদানকারিণী, যদ্বা--পশুবৃত্তি: দুৰ্ব্ব, দ্ধ বা নাশকারিণী ভবতি) ‘তে (তদীয়া) ‘তস্যাঃ ( সম্বন্ধি) সুন্নং’ (শক্তিসমুদ্ভুতং সুখং) “ঈমহে ( প্রার্থয়ামহে)। ভগবতঃ কৃপয়া সৰ্বে অভাব দূরী ভবন্তু-ইত্যেবং আকাক্ষা ॥৯॥ v বঙ্গানুবাদ। হে জ্ঞানােন্মেষক দেব। আপনার তীব্র শক্তি জ্ঞানপ্রদাতা অতএব পশুবৃত্তির বা দুর্বুদ্ধির নাশকারিণী ; আপনার সম্বন্ধি সেই শক্তিসমুদ্ভূত সুখ আমরা প্রার্থনা করি। ( ভগবৎ- কৃপায় সকল অভাব দূর হউক-এই আকাঙ্ক।।।। ৯। ওঁ। উত নাে গােষণিং ধিয়মশ্বসাং বদ্ধসামুত নৃবৎ কৃণুহি বীতয়ে। ১০।
নিবেদ। মানুসারি-ব্যাখ্যা। ‘উত’ ( অপিচ) হে দেব। গােষণিং । গােধনদাত্রীং। অশ্বসাং (অখানাং দাত্রীং) ‘ বাসাং ( অন্নানাং দাত্রীং) উত’ অপিচ: নৃৎ’ (নৃবতীং, লােকবলমাত্ৰীং) বিয়ং’ (বুদ্ধি, কৰ্ম্ম বা নঃ ( অস্মাকং) বাতয়ে ভোগার্থ) রুহি (কুরু, প্রদ ইতি ভাবঃ)। তা কর্মশক্তি বুদ্ধি বা অক্ষ্মা সঞ্জাত ভবতু যয়া সৰ্বাভীষ্টসিদ্ধিঃ ভবতি-ইতি ভাব।১। বঙ্গানুবাদ। অপিচ, হে দেব। গােধনাত্রী, অশ্বদাত্রী, অন্নদাত্রী এবং লােকবলদাত্রী বুদ্ধি বা কম আমাদিগের ভােগর নিমিত্ত প্রদান করুন। ( ভাব এই যে,সেই কর্মশক্তি ৰা বুলি আমাদিগের মধ্যে সঞ্জাত হউক,-ষায় সর্বাঙ্গীষ্ট সিদ্ধ হয়।)। ১০। মন্ত্র-সখন্ধে বক্তব্য। অগ-লাভের জন্য, ঐশ্বৰ্য-লাভের জন্য, গবাশ্বাদি প্রাপ্তির জন্য, লােক- বল লাভের উদ্দেশ্যে, এমন কি রাজ্যাদি প্রাপ্তির কামনায়, এই মন্ত্র জপ করিবার বিধি আছে। প্রতিদিন দশ বার করিয়া এই সূক্তের পূর্বোক্ত দশটী মন্ত্র জপ করিলে অর্থ ও বস্ত্রাদি, রাজ্য কীর্তি ও যশ লাভ হয়। এ বিষয়ে ঋষি-বাক্য “বয়মু বা পথঃ সূক্তং দশবারং দিনে দিনে। জপেক্ষেদর্থবস্ত্রাদি রাজা কীর্নিয়শো ভবেৎ।” কেবল এই একটী সূক্তের এই দশটী মন্ত্র বলিয়া নহে; বেদের মধ্যে এমন সূক্ত—এমন মন্ত্র আরও অনেক আছে, যাহা জপ করিতে পারিলে নিশ্চয়ই ধনজন-ঐশ্বর্যের অধীশ্বর হইতে পারা যায়। ঋগ্বেদ-সংহিতার ৫ম অষ্টকের ৫ম অধ্যায়ের ২২ বর্গের (৭ম মণ্ডল, ৭৫ সূক্ত, ১-৮ খাক ) মন্ত্র- সমূহ প্রতিদিন প্রাতঃকালে জপ করিলে মানুষ ছয় মাসের মধ্যে স্বর্ণ বস্ত্র ও রত্ন লাভ করিতে সমর্থ হইবেন। সেই মন্ত্র জপের ফল সম্বন্ধে মহষি শোনকোক্ত ঋথিধানে এইরূপ উক্ত হইয়াছে ; যথা- “ব্যুষা আবদিবিজেতি প্রাতঃ সূক্তং জপেৎ সুধী। হিরণ্যবরত্নানি ষাসাতে নয়।” ঋখিনােক্ত ‘ব্যুষা আবে। ইত্যাদি আটটী জাপ্য মন্ত্র যথাক্রমে উদ্ধত করা যাইতেছে। তাহার ভাবার্থও সঙ্গে সঙ্গে প্রকটিত হইল। যথা- জ্ঞানবেদ। ব্যুষা আবাে দিবিজা খাতেনাবিষ্কৃথানা মহিমানমাগাৎ। = , অপ হস্তম আবরজুষ্টমঙ্গিরস্তম পথ্যা অজীগঃ ॥১॥ মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘দিবিজাঃ (গীয়া, সদ্ভাবপােষিকা, সদ্ভাবপ্রবর্ধনশীল।) উষা (জ্ঞানােন্বষিণী দেবী) ‘বি আব (ব্যাব, বিশেষেণ বিভাতু); ঋতেন’ (তেজসা, অশ্যা) মহিমানং (স্বমাহাত্মং) অবিষ্কৃথানা’ ( প্রকাশয়) আগৎ (আগচ্ছতু ইত্যর্থঃ ); তথা ‘হঃ (সম্ভাবনাশকং) অজুষ্টং ( অপ্রীতিকর ইতি ভাবঃ) তম (অজ্ঞানান্ধকারং) অপ আব’ ( অপসারয়তু); কিঞ্চ, ‘অঙ্গিরস্তমা (সুখেন গমনযােগ্যং) পখ্যাঃ ( পন্থানং) অজীগঃ ( প্রকাশ । ভাব-জানােন্মেষেণ সহ সন্মার্গ অধিগত ভবতু ইতি ভাবঃ ১। • • বঙ্গানুবাদ। সাবপােষিকা সম্ভাবপ্রবর্ধনশীল জানোন্বেষিণী দেবী বিশেষভাবে বিভাত হউন আপনার তেজ বা শক্তির দ্বারা স্বমাহাত্ম প্রকাশ করিয়া আগমন করুন ; তাহার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে সদ্ভাবণাশক অনিষ্টসাধক অন্ধকার অপসারিত হউক এবং সুখে গমনযোগ্য সুপথ প্রদর্শিত হউক। ( ভাব এই যে,-জ্ঞানােন্মেষের সঙ্গে সঙ্গে সন্মার্গ অধিগত হউক।)। ১। মহে নাে অদ্য সুবিতায় বােধষে মহে সেভিগায় প্রযন্ধি। চিত্রং রয়িং যশসং ধেহস্মে দেবি মৰ্তেযু মানুষি শ্ৰব্যম্ ॥২ মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। হে দেবী। অদ্য’ (সৰ্ব্বস্মিন্ দিনে, সৰ্ব্বদা ইত্যর্থঃ) ন (অন্যাক) মহে’ (মহতে, শ্রেষ্ঠায় ইতি ভবঃ) সুবিতায় সুখপ্রাপ্তয়ে, মুখগমনায় ইত্যর্থঃ) বােধি’ (হেতুভূত ভৰ আনবেদ। ৪৯ ইতি শেষঃ ); কিঞ্চ কে ‘উষঃ (হে জ্ঞানান্মেষিণি দেবি) অভ্যং মলে (যতে, শ্রেষ্ঠায়, সৌভাগ্যাদি ইত্যর্থঃ) প্রযন্ধি’ ( প্রযচ্ছ); কিঞ্চ চিত্ৰং ( আকাক্ষণীয়ং) যশসং (যশেযুক্তং) রয়িং’ (ধনং, ঐশ্বৰ্যং বা) অনু ‘ধেহি । নিধেহি, ছাপ, অশ্য প্রযচ্ছ ইত্যগঃ)। হে ‘মানুষি’ ( জনহিতসাধিকে) দেবি ( দ্যোতনাত্মিক) মতো (মানবে, মরণধর্যশীলেষু অসু ইতি ভাবঃ) শ্ৰবঃ (অভীষ্টানুরূপং ধনং) প্রযচ্ছ ইতি শেষ। জানােমেষণেন সহ ধনৈশ্বৰ্য্যৎ অধিগম্যতু ইতি ভাৰঃ ॥২॥ হে দেবি বঙ্গানুবাদ। আপনি সর্বসময়ে আমাদিগের শ্রেষ্ঠমুখপ্রাপ্তির বা সৎপথে গমনের হেতুকৃত হউন। হে জানেন্মােষিণি দেবি। আপনি আমাদিগকে সর্বশ্রেষ্ঠ সৌভাগ্যাদি প্রদান করুন এবং আকাঙ্ক্ষণীয় যশােযুক্ত ধনৈশ্বৰ্য্য আমাদিগের মধ্যে স্থাপন করুন (আমাদিগকে প্রদান করুন)। হে জনহিতসাধিকে দেবি। ময়ণধৰ্ম্মশীল আমাদিগকে অতীতানুরূপ ধন প্রদান করুন। (ভাব এই যে, জ্ঞানােদােষের সঙ্গে সঙ্গে ধনৈশ্বৰ্য্য অধিগত হউক।১।২। এতে তত্য ভানবাে দর্শতায়াশ্চিত্ৰা উষসো অমৃতাস আগুন। জনয়ন্তো দৈব্যানি ব্ৰতান্যাপৃন্তে অন্তরিক্ষা ব্যঃ। ৩। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘দর্শয়া (স্ব প্রকাশশীলায়া) উষস (জ্ঞানেন্মেষিণ্যঃ দেব্য) এতে’ (সর্বত্র- দৃশ্যমনঃ ) • ( প্রসিগ্ধা, লােকহিসাধি কাঃ ‘চিত্রা’ (বিশেষেণ প্রকাশশী) ‘অমুসঃ (অনশ্বরঃ) ভানব’ (শ্ম-প্রশব ই •থঃ)‘আ’ (প্রকৃষ্টরূপেণ-সৰ্ব্বতে- ভাবেন ইত্যর্থঃ) অগু ( আগচ্ছন্তু ); তথা দৈব্যানি’ (দেবানাং সম্বন্ধীনি, সৎসহযুতানি ইত্যর্থঃ) নি’ (কৰ্ম্মাণি) জয়ন্তঃ ( উৎপাদয়ন্তু ইতি ভাবঃ); তথা ‘অন্তরিক্ষা (লােকসমূস্য) আন্তঃ ( উৎকর্ষ সাধয়িত্ব ইত্যর্থঃ) ‘বি’ ( প্রকৃষ্টরূপেণ ) (স্বপ্রকাশশীল ভবন্তু ।। জ্ঞান শনা লােকা: বিশেষেণ উদ্ভাসিতাঃ সন্তু ইতি ভাব ॥ ৩॥ বঙ্গানুবাদ। স্বপ্ৰকাশশীল জ্ঞানেন্মষিণী দেবীর সর্বত্র পরিদৃশ্যমান সেই প্রসিদ্ধ লোকহিতসাধক ও বিশিষ্টরূপে প্রকাশশীল অবিনশ্বর রাশ বা প্রভাব সমুহ সর্বতােভাবে আগমন করুক; এবং আনবেদ। ৩য় খণ্ড জানব। দেৰসৱী অর্থাৎ সৎসহযুত কৰ্মসমূহ উৎপাদন করুক। আর, লােশমূয়ে উৎ সাধন করিয়া, সেই দেবী প্রকৃষ্টরূপে প্রকাশশীল হউন। (ৰ এই নেনখি যাকা লােকসমূহ বিশেষভাবে উদ্ভাসিত হউক।। এষা স্য। যুনা পরাকাৎ পথ- পর সঙ্গে জিগাতি। অভিপশ্যন্তি বয়ুনা জনানাং দিবাে দুহিতা ভুবনস্য পঙ্গী। ৪। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। এৰা গা (জানােন্মােষিণী সা. দেবী। পকাৎ (দূরন্থিতান তথা সমীপবর্তিনঃ ) ‘পঞ্চ ক্ষতী । সৰ্বান লােকান্ ‘যুজানা (সংযুক্তা কৃত্বা, আত্মনি বিনিৰিশ্যে ইতি ভাবঃ) ‘স (সর্বকালে, নিত্যাশ) পৱিজিগাতি (ইষ্ট গতি ইতি আৰ। মা দেবী ‘বি ( দ্যুলােক, ব্ৰহ্মাণ্ডণ্ডোর ইত্যর্থঃ) দুহিতা’ ( অঙ্গীভূতা) অপিচ ‘ভুবন (ভূতজাত) পত্নী’ । পালয়িত্রী) ভৰতি ইতি শেষ। সাদেশী নানাং (লােকানাঃ) বন্ধুনা ( প্রজ্ঞনানি) অতিপশ্যন্তি’ ( অবলােকয়তি-উৎকর্ষসাধনার্থং ইত্যর্থ)। কানাধি- কারিণঃ লােকাঃ সর্ব শ্রেয়াংসি অধিগচ্ছত্তি ইতি ভাব। বাদ। জানােন্মেবিণী সেই দেবী, দূরস্থিত এবং সমীপবর্তী সকল লােককে সংযুক্ত অর্থাৎ আপনাতে বিনিবিষ্ট করিয়া নিত্যকাল অশষ্ট দান করিয়া থাকেন। সেই দেবী দ্যুলােকে দুহিত। অর্থাৎ ব্রহ্মাণ্ডভাণ্ডাদ পরমেশ্বরের অঙ্গীভূত এবং ভূতগণের পাত্রী য়েন। সেই দেবী লােকসকলের প্রজ্ঞানসমূহের উৎকর্ষ সাধন করিয়া থাকেন। (ভাৰ এই যে-জানাধিকারী লােকসমূহ শ্রেয়সমূহের অধিকারী হয়।।। বাজিনীবতী সূৰ্য্যশ্য যােষ চিত্রামা রায় চিত্রাম। রায় ঈশে বসূনা। ঋষিষ্ট তা জয়ন্তী মঘােষ উচ্ছতি বহ্নিগৃণান। ৫।
আনবেদ। মর্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘জিনীৰতী । অন্নদাত্রী, এমদাত্রী-অষ্টপূরয়িত্রী ইথঃ) সুৰ্য (পরমাত্মনঃ ) ‘বাে’ ( অঙ্গীভূত) চিত্রাম।। বিচিত্ৰখনা। সা দেবী বনং। দেবমুখাদিসর্বাণা -লােকানাং) (নানাঃ) ঈশে ঈশানীয়, প্রদত্ৰী ইতি ভাঃ) ভবতি ইতি শে; যিষ্ঠুতা (সাধকৈ কৰ্ম্মভি বা অসুস্থতা, জয়ন্তী’ ( অজ্ঞানশিকা) যোনী (এইখনদাত্রী সা দেৰী) বহ্নিভিঃ (কৰ্ম্মবোঢ় ভি, কম্মি ) গৃণান’ (ভূয়ানা অসুস্থতা বা সতী) উচ্ছতি ( বিভনং করােতি, সুফলং দদাতি) ইতি শেষ। জ্ঞানসহ যুতেন কণা কী অভীষ্টফলং প্রাগ্নোতি ইতি ভাবঃ ॥৫॥ বঙ্গানুবাদ। অাত্রী জয়ত্রী (অতঃপূয়িত্রী, পরমাত্মার অঙ্গীভূতা, বিচিত্রনা সেই দেবী- মনুষ্যাদি সৰ্বায়সমূহের বা লােকসমূহের ধনের ঈশ্বস্থানীয় বা প্রাত্রী হয়েন। সাধক কীর অনুষ্ঠিত অজ্ঞাননাশিক অভীষ্টধনদাত্রী সেই দেবী কর্মবহনকর্তা কর্মিগণের দ্বারা মানা বা অনুসৃত হইয়া সুফল প্রদান করিয়া থাকেন। (ভাব এই যে-জনসহযুত কয়ে যারা কী অভীষ্টফল প্রাপ্ত হইয়া থাকেন)।। এতি দ্যুতানামরুষাসস অশ্বাশ্চিত্র। অদৃশ্ৰনুষসং বহুক্ত। যাতি শুভ্র। বিশ্বপিশা রথেন দধাতি থেন দধাতি রত্নং বিধতে বিধতে জনায়। ৬। মৰ্ম্মানুসাৰিণী-ব্যাখ্যা। ‘দ্যুতানাং (দ্যোতনাং, প্রকাশশীলাং ইত্যর্থঃ) উষসং (জ্ঞানে'ন্মেৰণীং দেবীং বৃতি ৰা)‘বহঃ (ধারয়, অনুসরন্ত) জনাঃ 'অরুষাসঃ (আরােচমন, দীপ্যমানাঃ) চিত্রা ( চায়নীয়া, অভিনঃ ইক্যর্থঃ) । (জা-রায়-কৰ্মসম্পাদনায় ইত্যর্থ) প্রতি আন (লগুন্তে, প্রাপ্তবস্তি); ৩। (দীপ্যমান, কঙ্করহিতা ইত্য) সা দেৰী 'বিনিশা (বহুরূপেণ রথেন-রূপেণ যানেন) যাতি” ( সর্বত্র গতি, বিভাতি ইত্য)। কি ‘বিতে অনায় (পরিচরতে অনায়—অনুসরণকারিণে লােকা ইত্যৰ্থঃ) ‘রং (মং নং) “তি বাতি প্রজ্জতি ইত্যর্থঃ)। যথাক্রমে পুর্ণনং লব্ধ লাে অভাটানুরূপং নং আধুতি ইতি গৰু ৬।
জ্ঞানবােদ। বঙ্গানুবাদ। দ্যোতমান প্রকাশশীল। জ্ঞানেন্মষিণী দেবীর বা বৃত্তির অনুসরণকারী ব্যক্তিগণ, দীপ্যমান অভিনব কৰ্ম্ম সম্পাদনের জন্য জ্ঞ নর'শ্ম প্রাপ্ত হয়েন। দীপ্যমান। কলঙ্কহিতা সেই দেবী বহুপ্রকারে কর্মরূপ রথে সর্বত্র বিস্তাত হয়েন। আরও, তিনি পরিচর্যাকার অর্থাৎ অনুসরণকারী জনকে রমণীয় ধনাদি প্রদান করেন। { ভাব এই যে-যথাক্রমে পুর্ণজ্ঞান প্রাপ্ত হইয়া মানুষ অভীষ্টানুরূপ রত্ন প্রাপ্ত হয়।) ।। সত্যা সতত্যভিৰ্ম্মহতী মহদ্ভির্দেবী দেবভিষজতা যজত্রৈঃ। রুহানি দদদুস্রিয়াণাং প্রতি গাব উষসং বাবশন্ত। ৭। মৰ্ম্মানুসারিণী ব্যাখ্যা । সত্যেভি ( সৎকৰ্ম্মতি, সদ্ভাবসম্পন্নত্বাৎ হত্যৰ্থঃ) সত্যা’ (সৎস্বরূপা দেবতা) অধিগতা ভবতি ইতি শেষ; 'মঃ ( হৃদ মহান ভাৰঃ জাগার ৩৪ ) মহ:) , পুয়া, লােকৈ আকাক্ষণীয়। ঐ: কীত্তি বা অধিগ৩া ভৰা ইতি শেষঃ ; দেবাে৬ঃ দেবত্বসম্পমৈঃ, হৃদি দেবতাৰ সজাত সন্) দেবী’ (দ্যোতনাদ'গুণাঃ) অধিগঃ ভবস্তি হতি শেষ ); যজলৈ (পূজাতি, দেবানুসরণেন ইত্যথঃ ‘বণ ৩ ( পূজারা শক্তি ইত্যৰ্থঃ) সঞ্জাত। তুতি হতি শেষ। তেন যা এবান্বধে সতী ‘লানি’ (স্থিরাণি তমাংসি, অজ্ঞানান্ধকারান ইত্যর্থ ‘রুজৎ (ভিত্তি, দূরাভবাত); তথা 'উয়াণাৎ ( জ্ঞানানং) দৎ (উৎপত্তি গুৰতি ইতি যাবৎ ); গাব (সহেপি তােেহবরুদ্ধা প্রাণিন ইত্যর্থঃ) উমসং (আনােন্মেষিণীং দেবীং বৃত্তিং ৰা) প্রতি অভিমুখে) বাবশস্ত’ । কাময়ন্তে, ধাবান্ত ইত্যর্থ)। অয়ং ভাবঃসত্যাৎ সত্য জ্ঞানাৎ নং সঞ্জয়তে ইতি বুদ্ধে উন্মেষণেন মানুঃ অনেমেৰিকা বৃত্তিং দেবীং বা অনুসরতি ॥ বঙ্গানুবাদ সৎকর্মের দ্বারা অর্থাৎ সদ্ভাবসম্পন্ন হইশে সৎস্বরূপা দেবতা অধিগত হয়েন ; হৃদয়ে মহান ভাব জাগরিত হইলে, সৰ্ব্বলােকের আকঙ্কণীয় ঐ বা কীর্তি আধগত হয়; দেবত্বসম্পন্ন অর্থাৎ ব্যয়ে বেজাৰ সঞ্জত হইলে, স্কো না দণসমুহ অধিগত হইয়া থাকে। দেব সরণের ॥ শেপুজার শক্তি সঞ্জত হয়। হাতে থাৎ এইরহলে, স্থির অজানা ।
আনবেদ। কার-সমুহ দূরীভূত হয়, জ্ঞানের উৎপত্তি ঘটে এ সর্ববিধ তমােবরুদ্ধ প্রাণিগণ জ্ঞানন্মােষিণী দেবীর বা বৃত্তর প্রতি প্রধাবিত হয় অর্থাৎ সেই বৃত্তিকে কামনা করে। (ভাব এই যে-সত্য হইতে সত্য, এবং জ্ঞান হ'তে জ্ঞান সঞ্জাত হয়—অন্তরে এইরূপ বুদ্ধির উন্মেষণ হইলে, মানুষ তখন জ্ঞানােন্মেষিকা দেবীকে বা বৃত্তকে অনুসরণ করে)। নূ নাে গােমদ্বীরবদ্ধেহি রত্নমুঘাে অশ্বাবৎ পুরুভােজে। পুরুভােজো অম্মে না নাে বহিঃ পুরুষতা নিদে ক্যুয়ং পাত স্বস্তিভিঃ সদা নঃ। । মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘উফ (হে জ্ঞানোমেষিণি দেবি!) নঃ ( অভ্যৎ ) নূ ( ক্ষিপ্রং) গােবৎ (বহুভি গোভিঃ যুক্তং, যা-অশেষপ্রজ্ঞানসম্পন্নং) বীরবৎ’ (বারৈঃ পুত্রেঃ উপেত, যথা—শ্রেষ্ঠ কৰ্ম্মসামর্থং ইত্যর্থ) অশ্ববৎ’ ( বহুভিঃ অখৈঃ উপেত, যদ্বাজ্ঞানকিরণৈঃ সৰ্ব্বদৃষ্টিসম্পন্ন। “রত্নং ( রমণী ধনং, যা-পরমার্থং) তথ। পুরুভোজঃ বহু অন্ন, যা-আত্মরক্ষণােপিয়ং) ‘জন্ম’ । অাসু) ‘ধোহ’ (নিধেই, প্রদদ ইত্যর্থঃ ।। নঃ ( অস্মাকং) বহিঃ ( যজ্ঞ, নিত্যকর্ম ) পুরুষত’ (পুরুষসমূহেযু, জ্ঞানিষু হত্যথঃ) নিদে’ । নিন্দায়ৈঃ) মা ক? ( মা কাষী, নিন্দনীয় কয় মা কাম ইত্যথঃ ।। বিভিন্নমাগানুসারণায় বিভিন্ন প্রার্থনা অত্র বিদ্যতে । যঃ ধনজনৈখ কামতি যঃ চ পরমার্থং কাঙ্ক্ষত, তয়ােঃ আকাঙ্ক্ষাম- রূপা প্রার্থনা মন্ত্রার্থে প্রকটিতা ইতি ভাবঃ ॥৮॥ বঙ্গানুবাদ। হে জ্ঞানােমেষিণ দেবি। আমাদিগের সত্বর বহুগােযুক্ত বহুবীরপুত্রবিশিষ্ট এবং বহু অ-সমৰিত রমণীয় ধন এবং বহু অনু আমাদিগকে প্রদান করুন। অথবা, হে দেবি। আমাদিগকে শীঘ্র অশেষ-প্রজ্ঞাসম্পন্ন শ্রেষ্ঠ সামথ্যধুত শ্রেষ্ঠ কসামথ্যযুত সব্বদৃষ্টিসমান্বত পরমার্থ এবং আত্মরক্ষার উপায় প্রদান করুন। আমাদিগের যজ্ঞ বা নিত্যকর্ম, পুরুষসমূহের মধ্যে (জ্ঞানি- গণের মধ্যে ) যেন নিন্দনীয় না হয়; অথাৎ, যাহা নিন্দনীয় কাৰ্য, তাহা যেন আমরা না করি। । বিভিন্ন-মার্গানুসারীর বিভিন্ন প্রকারের প্রার্থনা এখানে বিদ্যমান আছে। ভাৰ এই যে,-যিনি ধনজন-ঐশ্বর্যের কামনা করেন এবং যিনি পরমার্থের আকাক্ষা করেন, তাঁহাদের উভয়েরই আকাক্ষানুরূপ প্রার্থনা মাথে প্রকটিত হইয়াছে।) । ৮।
আনবেদ। মার্থ-বিষয়ে বক্তব্য। উষা-দেবতার আরাধনামূলক পূর্বোক্ত আটটা মন্ত্র, রাত্রিতে বা প্রভাতে চিপূৰ্ব্বক কৃতাঞ্জলি সহকারে উচ্চারণ করিলে, স্বর্ণাদি বহু ধন, গো, অধ, ধন-ধান্য এবং স্ত্রীপুত্ৰাদি ও বাসগৃহ লাভ হয়। পক্ষান্তরে এই মন্ত্র- জপে পরম-জ্ঞানের উদয়ে পরমার্থ অধিগত হইয়া থাকে। মতান্তরে এখানে আরও অনেকগুলি মন্ত্রজপের বিধি আছে। তদনুসারে ঋখেদ-সংহিতার পঞ্চম অধ্যায়ের ২২ বর্গ হইতে ২৭ বর্গ পৰ্যন্ত অর্থাৎ ৭ম মণ্ডলের ৭৫ম সূক্ত হইতে ৮ম সূক্ত পর্যন্ত ছয়টী সূক্ত সম্পূর্ণ জপ করা আবশ্যক। এ সম্বন্ধে সায়ণাচাৰ্য্যকৃত ঋথিধানের উপদেশ নিয়ে উত হইল; যথা- 'রাতা অপরকালে য উপায় প্রযতঃ শুচিঃ। ঝাষা ইত্যুপতিষ্ঠেৎ ষড়তি সুক্তৈ কৃতাঞ্জলি। প্রাপ্তয়াৎ স হিরণ্যানি নানারূপং ধনং বহু । গাবােখা পুরুষান ধান্য খ্রিয়ে বাসাংস্যাবি।” ধনরত্ন-ঐশ্বৰ্য্য-প্রাপ্তিমূলক এইরূপ আরও বহু মন্ত্র চতুর্বেদের অনিবিষ্ট আছে। বাহুল্য-ভয়ে ঐ সকল মন্ত্র এখানে উদ্ধত করিলাম না। যাঁহারা আগ্রহান্বিত হইবেন, তাহারা অনুসন্ধান করিয়া লইবেন। গেদ-সংহিতার নবম মণ্ডলের প্রথম সুক্তের প্রথম হইতে দশম ঋক (ষষ্ঠ অষ্টক, সপ্তম অধ্যায়, ষােড়শ বর্গ) অর্থাৎ ‘বাদিষ্টয়া প্রভৃতি দশটী ক চৈত্রমাসে বিষ্ণুগন্নিধানে এপ করিলে মহৎ ঐশৰ্য-সম্পৎ লাভ হয়। দশম মণ্ডলের চতুস্ত্রিংশ সূক্তের খােদশ ঋক (সপ্তম শক, পঞ্চম অধ্যায়, অষ্টম বর্গ) অর্থাৎ অক্ষৈা প্রভৃতি মন্ত্র প্রতিদিন এক শত বার জপ কগিলে, দিব্যবস্তু দিবাভােগ্য এবং বহু দ্রব্য লাভ হয়। দ্বিতীয় মণ্ডলের একবিংশ সুক্তের ষষ্ঠ ক (দ্বিতীয় অষ্টক, ষষ্ঠ অধ্যায়, সাতাইশ বর্গ ) অর্থাৎ ‘ইন্দ্র শ্রেষ্ঠানি ইত্যাদি মন্ত্র তিন বৎসর পর্যন্ত ব্ৰতী হইয়া প্রত্যহ এক শত বার জপ করিলে, সত্য সত্য সহ প্রকার ধনরত্যাদি লা হয়। দ্বিতীয় মণ্ডলের বাবিংশ সুক্তের পঞ্চম খক অর্থাৎ ‘যহেন গাঙ ইত্যাদি মাটী এলে ৰা বিমুলে প্রতি দিন দশ বার জপ করিলে বহু দ্রব্য লাভ হয়। ইত্যাদি জ্ঞান-বেদ। ত্রিতাপ নাশ-মূলক মন্ত্র সংসার ত্রিবিধ তাপে পরিতপ্ত। আধ্যাত্মিক, আধিভৌতিক ও অধিদৈবিক -এই ত্রিবিধ সন্তাপ মানুষকে মুহমান করিয়া রাখিয়াছে। এই ত্রিবিধ সন্তাপ বা দুঃখ হইতে মুক্ত হইতে পারিলেই মানুষের আর কোনও অশান্তি থাকে না। আধ্যাত্মিক, আধিদৈবিক ও আধিভৌতিক-সকল প্রকার সন্তাপ বা দুঃখ এই ত্রিবিধ সন্তাপের বা দুঃখেরই অন্তর্নিবিষ্ট। ঐ সকল দুঃখ কি প্রকার, প্রথমে তাহা একটু বুঝাইবার চেষ্টা পাইতেছি। শাস্ত্রমতে, আধ্যাত্মিক দুঃখ দুই প্রকার—শারীরিক ও মানসিক। বাত-পিত্ত-শ্লেষ্মাদি পীড়াজনিত যে দুঃখ, তাহা শারীরিক দুঃখ ; আর, কাম-ক্রোধ-লােভ-মােহ-মদ-মাৎসর্য্য ঈর্ষা-ভয়-শােক ইত্যাদি জনিত যে দুঃখ, তাহাই মানসিক দুঃখ। দেবতা হইতে অর্থাৎ বাত বৃষ্টি ও বজ্ৰপাতাদির দ্বারা যে দুঃখের উৎপত্তি, তাহা আধিদৈবিক দুঃখ। মনুষ্য, পশু, পক্ষী, সরীসৃপ, বৃক্ষ প্রভৃতি হইতে যে দুঃখের উৎপতি, তাহাই আধিভৌতিক দুঃখ।
আনবেদ।
মন্ত্রষ্টা ঋষিগণ বলেন,—নিম্নোদ্ধত বেদমন্ত্রট (ঋগ্বেদ সংহিত ; ম
অষ্টক ৬ষ্ঠ অধ্যায় ১৬ বর্গ ; ১০ম মণ্ডল, ১১৪ সূক্ত, ২য় খাক) যথাবিধি
জপ করিতে পারিলে ঐ ত্রিবিধ দুঃখের বা সন্তাপের কবল হইতে
পরিত্রাণ পাওয়া যায়। সেই মন্ত্রী এই
ওঁ। ব্রিজে
দেষ্ট্রীয় নিঋতীরুপাসতে দীর্ঘশ্রুতে
বি
হি জানন্তি
বহয়।
।
তাসাং নিচিকুঃ কবয়াে নিদানং পরে
ক
যা গুহ্যে ব্রতে।
মৰ্ম্মানুসারিণী ব্যাখ্যা।
‘নিঋত (সংসারী মানবঃ) ত্রঃ (সৃষ্টি-তি-সংহারকারং, যাত্রিতাপনাশক
দেবং ইত্যর্থ) দোয়’ ( পূজা প্রদানেন ‘উপসিতে (উপাসনাং কুব্বতে, যদ্বা—অনুসরণ
করাে ইত্যর্থঃ)। দীর্ঘতঃ ( সৰ্ব্বদ্রষ্টাঃ) বয়ঃ (সংসার বােঢ়া, লােকব্রায়াঃ
দেবার ইত্যর্থ:) হি’ (নিশ্চিত) ‘বিজানন্তি’ (তৎকৰ্ম্ম গৃহান্ত তৎকৰ্ম্মফলং প্রতি
‘কবয়ঃ' ( ক্রান্তদর্শি, সর্বজ্ঞ : দেবাঃ। পরে' ( উৎকৃষ্টযু) ও হয়’
(গােপ্তব্যে) ব্ৰযু (যমান মাদষু কৰ্ম্মম) যাঃ' (মনুযাণাং বৃত্তঃ সান্ত), সাং
(তৎসম্বন্ধে ) নিদান (মূলকারণঃ) নিকু (নন্ত । গুটেদেং অনুভূত্ব দেবার
তৎকৰ্ম্মফলং যথালিযত প্ৰষচ্ছান্ত ইতি ভাব ।
ইত্যর্থঃ)।
বঙ্গানুবাদ।
সংসারী মানুষ সৃষ্টি স্থিতি-সংহারকর্তা অথবা ত্রিতাপনাশক দেবতাকে পূজা প্রদানের
দ্বারা উপাসনা বা অনুসরণ করুক; সৰ্ব্বদ্রষ্টা লােকাত দেবগণ উৎকৃষ্ট গুহ যম-নিয়মাদি
কর্মসমূহে মানুষের যে প্রবৃত্ত থাকে, তাহার মূল কারণ জানিতে পারেন। (ভাব এই যে,
গূঢ় উদ্দেশ্য বুঝিয়া দেব। যথাপিষিত কৰ্ম্মফল প্রদান করিয়া থাকেন ।
নিবেদ। মন্ত্রের অর্থ-বিষয়ে বক্তব্য। যদি ত্ৰিতাপ হইতে নিষ্কৃতি পাইতে চাও, দেবতার উপাসনা কর । দেবভাবে হৃদয় পরিপূর্ণ রাখ, দেবগুণে গুণান্বিত হও। যে কাৰ্যই করিবে, ভগবানের তাহা অবিদিত থাকে না। আড়ম্বরে প্রয়োজন নাই; গুপ্তভাবে যম-নিয়মাদি কর্মে প্রবৃত্ত হও। পবসেবা প্রভৃতি ব্ৰতে আত্ম- নিয়ােগ কর। যত গুপ্তভাবেই অনুষ্ঠিত হউক না কেন, সৎকৰ্ম্ম- মাত্রই ভগবানের নিকট পৌঁছিয়া থাকে ; ভগবান সৎকর্মের ফল নিশ্চয়ই প্রদান করেন। ত্রিতাপ-নাশক এই মন্ত্রে লক্ষ্য এই যে, মানুষ এই মন্ত্র জপের সঙ্গে সঙ্গে সৎকর্মপরায়ণ ও দেবভাবসম্পন্ন হউক। ত্রিবিধ দুঃখের কোনও দুঃখই তাহাকে আর আক্রমণ করিতে পারিবে না। মন্ত্র-জপের সঙ্গে সঙ্গে, জ্ঞানােন্মেষ হউক,সৎকর্মে আসক্তি আসুক,-লোকহিতব্রতে জীবন উৎসৃষ্ট হউক। তাহাতেই ত্ৰিতাপ-নাশ হইবে। সাস্থ্যশাস্ত্রের অভিমত এই যে, জ্ঞানই ত্ৰিতাপ-নাশক। পরম জ্ঞানের উদয় হইলেই সকল দুঃখ নাশ প্রাপ্ত হয়। বেদ-সেই জ্ঞানের ভাণ্ডার। বেদ-মন্ত্রের অনুধ্যানে জ্ঞানের উন্মেষ হয়। জ্ঞানােন্মেষেই সকল দুঃখ দূরীভূত হইয়া থাকে। চতুর্বেদের পঠন-পাঠন জ্ঞানােন্মেষের মূলীভূত। অন্ততঃ চারি বেদের চারিটি মন্ত্রও যাঁহারা শ্রদ্ধা-সহকারে নিত্য জপ করেন, তাহার শনৈঃ শনৈঃ জ্ঞানের অধিকারী হইয়া থাকেন। যাহা কিছু না পারিবেন, প্রতি দিন চারি বেদের চারিটি মন্ত্র জপ করিয়া দখিবেন, জ্ঞানােন্মেষের সঙ্গে সঙ্গে তাহাদিগের ত্রিতাপের অবসান হইতে থাকিবে। গায়ত্রী-মন্ত্র জপ, পুরুষ-সূক্ত জপ, চারি বেদের প্রথম চার মন্ত্র জপ,- ত্রিতাপ-নাশ-মূলক। ধর্মবিশ্বাসী জন, ধর্মবিশ্বাসের সহিত কৰ্ম্মানুষ্ঠানে প্রবৃত্ত হউন। শুভফল স্বতঃই অধিগত হইবে। 1 জনবেদ। ৩য় খণ-৮ জ্ঞান-বেদ। ঋণমুক্তির মন্ত্র। ঋণের যন্ত্রণা—বিষম যন্ত্রণা। ইহসংসারে যত প্রকার যন্ত্রণা-ভােগ নির্দিষ্ট আছে, ঋণের যন্ত্রণা তাহার মধ্যে প্রধানতম। সেই যন্ত্রণা হইতে মুক্তি-লাভের জন্য মানুষের ব্যাকুলতার অবধি নাই। চতুর্বেদের মধ্যে কতকগুলি মন্ত্র আছে, যাহা যথানিয়মে জপ করিলে, শাস্ত্র বলেন, নিঃসংশয়ে ঋণমুক্তি ঘটে। তাহারই একটা মন্ত্র (ঋগ্বেদ- সংহিতা, ৮ম মণ্ডল, ৩০শ সূক্ত, ৪র্থ ঋক্ ; ৬ষ্ঠ অষ্টক, ২য় অধ্যায়, ৩৭শ বর্গ) নিম্নে উদ্ধত করিতেছি ; যথা,- ওঁ। যে দেবাস ইহ স্থান বিশ্বে বৈশ্বানরা উত। অভ্যং শৰ্ম্ম সপ্রথথ। গবেহশ্বায় যত । মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘বৈশ্বানরা (কৰ্ম্মনেতার, সৎকর্মণি নিয়ােজিতাঃ) ষে’ (প্ৰসিদ্ধাঃ) ‘বিয়ে (সর্ধে) দেবাসঃ (দেবভাব, দীপ্তিদানাদিগুণনিবহঃ) ই (ইহজগতি) স্থান ( বিদ্যন্তে ), ‘উত’ { যা কৰ্ম্মণি নিয়ােজয়ন্তি); 'তে’ (দেব, দেবভাবসমূহঃ বা) অভ্যং ( প্রার্থনাকারিভ্যঃ) সপ্রথঃ (অভীষ্টানুরূপং) গবে অখায়’ (গবাখাদিসহযুত, ধনজন- বিশিষ্ট ইত্যর্থ, যা—জ্ঞানকিরণসমন্বিতং) “শৰ্ম” (মুখ) 'যত (প্রভু)।
জ্ঞানববদ। বানুবাদ। সৎকর্মে নিয়ােগকর্তা যে সকল প্রসিদ্ধ দেবভাব বা সদগণনিবহ ইহজগতে বিদ্যমান আছে অথবা কর্মে নিয়ােজিত করে; সেই সকল দেবগণ বা দেবভাবসমূহ প্রার্থনাকারী আলাদিগের অতীষ্টানুরূপ নানবিশিষ্ট অথবা জ্ঞানকিরণ-সমন্বিত সুখ আমাদিগকে প্রদান করুন। মঞ্জ-বিষয়ে বক্তব্য। দেৰভাবসমূহ বা সগুণাবলি অভীষ্টানুরূপ সুখ প্রদান করে। দেবগণ বা সাবসমূহ মনুষগণকে যে কর্মে নিয়ােগ করে, তদ্বারা সুখৈশ্বৰ্য্য আপনিই অধিগত হয়। মানুষ সদ্ভাৰ- সমন্বিত হইয়া সৎকর্মের অনুষ্ঠানে প্রবৃত্ত হউক, তাহার সকল অসুখ-সকল যন্ত্রণা দুনীভুত হউক,-মন্ত্র-জপের ইহাই লক্ষ্য। মন্ত্রজপেয় সঙ্গে সঙ্গেই মনকে সেই ভাবে ভাবান্বিত এবং কর্মকে সেই পথে পরিচালিত করিতে হইবে। এইরূপ করিতে পারিলেই ঋণমুক্তি হইবে। ইহাই শাস্ত্রের নির্দেশ। ঋষিগণ বলিয়াছেন-যে দেবাসঃ মন্ত্রী (ঋগ্বেদ-সংহিতা, ষষ্ঠ অষ্টক, দ্বিতীয় অধ্যায়, ৩৭ বর্গের অন্ত ভুক্ত) প্রত্যহ ২৮ বার বা ৮ বার করিয়া ছয় মাস জপ করিলে নিঃসংশয়ে ঋণমুক্তি ঘটে। ঋণমুক্তির অন্যান্য মন্ত্র। খাঁহারা শাস্ত্রে বিশ্বাসবান, তাঁহারা এই সকল মন্ত্র পরীক্ষা করিয়া সুফল প্রাপ্ত হইবেন। ঋণমুক্তি-সম্বন্ধে এবং অর্থাদি লাভ সম্বন্ধে ঋষিগণের পরীক্ষিত আরও বহু মন্ত্র চতুর্বেদের মধ্যে দৃষ্ট হয়। ‘ক’ ইত্যাদি মন্ত্র (ঋগ্বেদ-সংহিতা, ১ম অষ্টক, ২য় অধ্যায়, ১৩শ বর্গ) জপপূৰ্ব্বক প্রিয়ঙ্গু ও মধুর দ্বারা সহ- বার হােম করিলে, ঋণনাশ ও মঙ্গল হয়। মন্ত্রী উদ্ধৃত হইল ; যথা, কস্য নুন কতমস্যামৃতানাং মনামহে চারু দেবস্য নাম। কো নাে মহা অদিতয়ে পুনর্দাৎ পিতরং চ দৃশেয়ং মাতরং চ।
জ্ঞানবেদ। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘অমৃতানাং এ দেবানাং, মরণরহিতানাং ‘ক’ (কিংবিধস্ত) কতম (শ্রেষ্ঠস্থ ) ‘দেবস্য (দ্যোতমানস্য) চারু (অসাধারণ, যথার্থং) নাম (স্বরূপং) মনামহে' (হৃদি ধারয়াম, মনসি অনুধ্যায়েম); ‘ক’ (দেবঃ) ‘না’ ( অম্মান) পুনঃ (পুনরপি) মহা {মতে, মহিমান্বিতায়) অদিতয়ে’ ( সীমাংহিতায়, অনন্তায়) দাৎ’ (অশ্ৰয়ং দদ্যাৎ ) ‘চ’ (তথা ) ‘পিতরং মাতরং চ’ (পিতৃমাতৃস্বরূপং পরমেশ্বরং } দৃশেয়ং’ (পয়েং)। বঙ্গানুবাদ অবিনশ্বর শ্রেষ্ঠ কোন দেবতার যথার্থ-স্বরূপ হৃদয়ে ধারণ অনুধ্যান) করিব? কোন দেবতা আমাদিগকে পুনরায় সেই মহিমান্বিত অনন্তে আশ্রয় দিবেন, এবং (কোন্ দেবতার অনুগ্রহে) পিতৃমাতৃস্বরূপ সেই পরমেশ্বরকে দর্শন করিব (প্রাপ্ত হইব)? মন্ত্র সম্বন্ধে বৰ্ত্তব্য। এই মন্ত্রের ব্যাখ্যাসি--নিগূঢ় তাৎপৰ্যাদি-পূর্বেই । এই জ্ঞানবেদের দ্বিতীয় খণ্ড, ১১৩ হইতে ১২০ পৃষ্ঠায়) প্রকাশ করিয়াছি। এখানে সে আলােচনা বাহুল্যমাত্র। বন্ধন-গ্রস্ত হলে, মানুষ বন্ধন-মােচনের আকাঙ্ক্ষা করে। যদি পিতামাতা বিদ্যমান থাকেন এবং তাহাদের সন্ধান পাওয়া যায়, বন্ধনদশাপন্ন সন্তান তাহাদিগের সহায়তা ষা। করে। পৃথিবীর পিতামাতা সামান্য বন্ধন হইতে সন্তানকে মুক্ত করিবার চেষ্টা পাইতে পারেন; কিন্তু যিনি পিতার পিতা-পরমপিতা, তাহার অনুকম্পা লাভ হইলে সকল প্রকার বন্ধন হইতেই মুক্তিলাভ করিতে পারা যায়। ঋষিগণ বলিয়াছেন,-পূর্বোক্ত মন্ত্রোচ্চারণে ঋণের বন্ধন হইতে মুক্তি লাভ হয়। আমরা বলি,কেবল ঋণের বন্ধন নহে, এই মন্ত্রের অনুধ্যানে পরমপিতার গেহাকর্ষণে সর্ববিধ বন্ধন মােচন হইতে পারে—সর্ববিধ মুক্তি অধিগত হয়। ঋণমুক্তি সম্বন্ধে আরও কতগুলি জাপা-মন্ত্রের সন্ধান ঋখিধানে প্রাপ্ত হওয়া যায়। মহর্ষি শোক বলিয়া গিয়াছেন,‘ককারাদি হকারান্ত যে সকল ঋক আছে, সেই সকল ঋক এিশ সহস্র বার জপ করিলে ঋণমুক্ত হওয়া যায়। গ.সংহিতা দেখিয়া সেই সকল মন্ত্র সন্ধান করিয়া লইতে পারেন।
জ্ঞানবেদ। সকাৰ্যে সিদ্ধিমূলক মন্ত্র বিধিপূৰ্ব্বক মন্ত্র জপ করিলে, সৰ্ব্বকার্যে সিদ্ধি লাভ হয়। চতুর্বেদের মধ্যে এরূপ মন্ত্র অনেক তাছে। ঋগ্বেদ-সংহিতার প্রথম মণ্ডলের চতুর্থ অনুবাকের দ্বাদশ সূক্ত জপ করিলে, ঋষিগণ বলেন, সৰ্ব্বাভীষ্ট সিদ্ধ ঐ সূক্তে বারটি মন্ত্র আছে। সেই মন্ত্র-কয়েকটি ওঁ। অগ্নিং দূত বৃণমহে হােতরং বিশ্ববেদসং। অন্য যজ্ঞস্য ক্রতুং | ১। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘অশ্য (অম্মাকং অনুষ্ঠায়মান) যজ্ঞস্য (যাগাদি সৎকর্মণঃ) সুকুতু (সুসম্পাদকং) ‘হােতারং (দেবানাং দেবানাং বা আহ্বানকর্তারং) বিশ্ববেদসং (সর্বধনােপেত, সৰ্বতত্ত্বজ্ঞং) দূতং (বার্তাবহ, সত্ব প্রাপকং) ‘অগ্নিং' ( অগ্নিদেবং, জ্ঞানদেবং ‘বণীমহে {সংভজাম-বরামহে) বয়মিতি শেষ। সঙ্কক্সমুলকোহয়ং মন্ত্রঃ। সৎকর্মসাধকং সর্বতজ্ঞ জ্ঞানদেবং বয়ং সম্যক্ পূজয়াম-বয়ং জ্ঞানানুসারিণঃ তমঃ ইতি ভাবঃ ॥১॥ বঙ্গানুবাদ। আমাদিগের অনুষ্ঠিত যাগাদি সৎকর্মের সম্পাদক, সকল দেবগণের অথবা বেজাৰ- সমুহের আহ্বানা, সকলনোপেত অথৰ সৰ্ব্বত, বার্তাবহ অর্থাৎ সপৰু দুরু
আনবেদ।
অগ্নিদেবকে (জ্ঞানদেবকে। এই যজ্ঞে আমরা সমগ রূপে ভজনা করিতেছি। (
লঙ্কমূলক। সৎকর্মসাধক সৰ্বতত্ত্বজ্ঞ জ্ঞানদেবতাকে আমরা সর্বথা পূজা করিতেছি
আমরা নানানুসারী হইতেছি—ইহাই ভাবার্থ ।)১॥
অগ্নিমগিং
হবীমতিঃ
সদা
হবন্ত বিশপতিং।
হব্যবাহং পুরুপ্রিয়ং ॥২॥
।
মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা।
‘বিশপতিং (সর্বেষাং লােকানাং পালক, জগতং অধিপতিং ধারক বা, যা
বিশ্বপালমিতি ভাবঃ) হ্যবাহং (হবিৰ্ব্বহনকর্তারং, শুদ্ধসত্ত্ববাহ কং-অর্চনাকারিণী
হৃদি, ভগবৎসমীপে বেতি ভাবঃ) পুরুপ্রিয়ং (বহুনাং প্রীত্যাস্পদং, লােকানাং প্রিয়াধকং)
‘অগ্নিময়িং (প্রকারভেদেন বহুরূপরিণং জ্ঞানদেবং) হবীমতিঃ (আহ্বানকরণৈর্মন্ত্রৈ,
শুদ্ধসত্বভাবৈঃ) ‘সন। (নিরন্তরমেব) ‘হবন্ত’ (হবন্তি, আয়ন্তি, প্রাবন্তীতি 'ভাবঃ)
সৎকর্মানুষ্ঠাতার ইতি শেষ। সর্বলােকপালক সৰ্বজনশ্রেয়সাধক জ্ঞানদেব লােকানাং
সৎকণা সহ হৃদি প্রকাশিতঃ ভবতি ইতি ভাব। ২।
বঙ্গানুবাদ
মনােপালক, শুদ্ধসত্ত্ব প্রদায়ক, লােকসমুহের প্রিম্নসাধক, বহুরূপে প্রকাশমান
জ্ঞানদেবতাকে সৎকৰ্ম্মানুষ্ঠাতৃগণ শুদ্ধসত্বের প্রভাবেই নিরন্তর প্রাপ্ত হইয়া থাকেন। (ভাৰ
এই বেশৰ্ব্বলোকপালক, সকলের শ্রেয়ঃসাধক জ্ঞানদেবতা মনুষগণের সৎকর্মের দ্বারাই
হৃদয়ের মধ্যে প্রকাশিত হয়েন। ২।
অয়ে দেব। ইহাবহ
জাননা
বৃক্তবহিষে
অসি হােতা ন ঈড্যঃ ॥ ৩॥
নিবেদ।
মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা।
অগ্নে’ (হে জ্ঞানদেব) ত্বং অজ্ঞানঃ (কর্মণ। জ্ঞানেন বা উৎপন্নঃ ভবসি ইজি
শেষ); হে দেব। বৃক্তবহিষে’ (বৃক্তেন ছিন্নেন বহিষ। কুশেন যুক্তায় হৃদয়া, নিপুতি
নির্যাতিতানাং বিচ্ছিন্নীকৃতানাং বা অস্মাকং ইতি ভবঃ) ইহু’ (অস্মিন্ কণি, হৃদি বেতি
ভাবঃ) দেবান (দীপ্তিদানাদিযুক্তা সৰ্বান দেবভাবান বা) আবহ’ (আনয়; ত্ব
হি ‘নঃ (অং) ঈড্য (স্তুত্য) ‘হোতা’ (যত অম্মৎপক্ষে দেবানাং আহ্বান
কৰ্ত্তা, হৃদি দেবানাং নয়নকর্তা) অসি (ভসি)। অম্মাকং ইষ্টসিদ্ধিনিমিত
জ্ঞানদেবং আহ্বাতব্য-জ্ঞানার্জনং চ কর্তব্যং ইতি ভাবঃ ॥ ৩॥
বঙ্গানুবাদ।
হে জ্ঞানদেব। কর্মের দ্বারা বা জ্ঞানের দ্বারা আপনি উৎপন্ন হন; হে দেব। রিপুগণ
কর্তৃক নির্যাতিত বিচ্ছিন্নীকৃত আমাদের এই কর্মে (অথবা হৃদয়ে) আপনি দেবভাবসমুহকে
আনয়ন করুন। আপনিই আমাদিগের পূজ্য ; যেহেতু আপনি হৃদয়ে দেবভাবের আনয়নকর্তা
(ভাব এই যে,আমাদিগের ইষ্টসিদ্ধির নিমিত্ত জ্ঞানদেবতাকে আহ্বান
করা অর্থাৎ জ্ঞানার্জন করা কর্তব্য।)। ৩।
।
দূতং
উশতে
বিবােধয়
যদয়ে যাসি
দেবৈরাসৎসি
বহিষি। ৪।
মর্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা।
অগ্নে’ (হে জ্ঞানদেব) “যৎ (যম্মাৎ ) ত্বং ‘দূত্যং (দৌত্যকর্ম, হৃদি দেবভাবপ্রাপকং)
‘যাসি’ ( স্বীকয়ােষি, ভবসতি ভাবঃ) অতঃ “উশতঃ (হবিঃকাময়মান সত্ত্বপ্রবন্ধকান বা
দেবান দেবভাবান ইত্যর্থঃ) ‘বিবােধয় (জাগরয়, অস্মিন্ কৰ্ম্মণি প্রাপয় ইতি ভাবঃ);
অপিচ, বর্হিবি (আস্তীর্ণকুশাসনে, অম্মি কৰ্ম্মাণ, রিপুভিৰ্বিচ্ছিন্নীতে হৃদয়ে ইতি
ভাক) তৈঃ ‘দেবৈঃ । তৈৰ্দেবগণৈঃ দেবভাবৈ বা সহ) আসৎসি (আসী,
আগত্যোপবিশ)। হে দেব। ত্বং দৌত্যকর্মগ্ৰহণান্তরং সৰ্বান্ দেবা উদ্বোধ্য তৈঃ
সহ কর্মণি হৃদি বা আগত্য চ অকং ইষ্ট সাধঃ ইতি ভাবঃ ॥৪॥
১৬৪ আনবেদ। হে জ্ঞানদেব। যেহেতু আপনি দৌত্যকৰ্ম্ম স্বীকার করেন অর্থাৎ হৃদয়ে দেবভাবের প্রদানকারী হয়েন, অতএব সত্বপ্রবর্ধক দেবগণকে বা দেবভাবসমুহকে আমাদিগের কর্মে বা হৃদয়ে জাগাইয়া দিউন ; আর, রিপুগণ কর্তৃক লাঞ্ছিত এই হৃদয়ে দেবগণের বা দেবভাব- সমূহের সহিত আসিয়া অবস্থিত করুন। (ভাব এই যে,-হে জ্ঞানদেব। আপনি দৌত্য- কর্মগ্ৰহণান্তর সকল দেবভাবকে উদ্বুদ্ধ করিয়া তাহাদিগের সহিত আমাদিগের এই কৰ্ম্ম মধ্যে আগমন পূর্বক আমাদিগের ইষ্টসিদ্ধি করুন।) ৪ ঘৃতাহবন দীদিবঃ দীদিবঃ প্রতি ঋ রিষতত দহ অগ্নে ত্বং রক্ষনিঃ ॥ ৫॥ মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘ঘৃতাহৰন’ (তেনায়মান, ভক্তিরসামৃতেন আহ্মান) ‘দীদিব (দীপ্যমান, প্রকাশমা) ‘আ’ (হে জ্ঞানদেব) ত্বং ক্ষস্বিন’ ( রাক্ষসযুক্তা, রাক্ষসবলেন বলিনঃ, পাপকায়িণঃ ইত্যর্থ) প্রতি (অম্মাকং প্রতিকূল) বিতং’ ( হিংসকান্ শক্ৰ-কামক্রোধানিতি ভাবঃ) দহ স্ম’ (নিতরাং ভস্মীকুরু)। অত্র শক্রবধার্থং প্রার্থনা বৰ্ততে ইতি ভাবঃ ॥ ৫। বঙ্গানুবাদ। হবিঃদ্ধারা (ভক্তি-সহযােগে) আয়মান দীপ্তিশালি অথবা প্রকাশমান হে জ্ঞানদেব। রাগ-বলে বলী অথবা পাপকারী আমাদিগের প্রতিকুল হিংস্র শত্রুগণকে ( রাক্ষসগণকে) আপনি নিঃশেষে ভস্মীভূত করুন। (এখানে শত্ৰু-বধের প্রার্থনা প্রকাশ পাইয়াছে)। ৫। অগ্নিনায়িসমিথ্যতে কবিগৃহপাতমুখ হব্যবাড়, জুস্থঃ ॥ ৬ জ্ঞানবেদ। মর্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। কবিঃ (মেধাবী, কর্মকুশল) গৃহপতি (লােকানাং রক্ষক: পালক বা ‘যুৰা নিত্যতরুণ, চিরন্তনঃ) হ্যবাট (হবিৰ্বহনকারী, সত্ত্বপ্রাপক, ভগবৎসমীপে কৰ্মৰাহক ইতি ভাবঃ) জুহাঃ (প্রদীপ্তবদন, মুখেন প্রকাশরূপেণ বা সত্য জ্যোতিসম্পন্ন) অগ্নি (জ্ঞানদেব, জ্ঞানাগ্নিঃ) অগ্নিনা (জ্ঞানেন) সমিধতে (সম্যগ, দীপ্যতে, পরিবৃদ্ধিৰ্জায়তে)। অয়ং ভাব-আলােক-সাহায্যেন যথা আলোক বিভাতি জ্ঞান সাহায্যেন তদ্বৎ জ্ঞানং বর্ধতে ; জ্ঞানাৎ জ্ঞানং বিভাতি ইত্যর্থ। বঙ্গানুবাদ। মেধাবী, কর্মকুশল, লােকসমূহের পালক বা রক্ষক, নিত্যতরুণ চিরনূতন, সত্বপ্রাপক- ভগবৎসমীপে কৰ্ম্মবাহক, প্রকাশরূপে সত্য-জ্যোতিসম্পন্ন, জ্ঞানাপ্তি (জ্ঞানদেব), জ্ঞানের দ্বারাই সম্যক্ দীপ্যমান্ বা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েন। ( ভাব এই যে,-আলােক-সাহায্যে যেমন আলােক প্রকাশ পায়, জ্ঞানই সেইরূপ জ্ঞানের প্রকাশক হয়ে জ্ঞান হইতেই জ্ঞান বিভাসিত হয়।)। ৬। কবিমগ্নিমুপস্তুহি সত্যধৰ্ম্মাণমধ্বরে দেবমমীবাতন। ৭। মর্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। হে মম মনঃ! অবরে’ (হিংসারহিতে যজ্ঞে, সৎকর্মণি ত্বং তং কবিং ( কর্মকুশন, মেধাবিনং) সত্যধর্মাণং (সত্যাশ্রয়ভূত, সত্যস্বরূপং) অমীবচাতনং (শণাং নাশক, অসত্যবাৰকং) দেবং (দীপ্তিদানাদিগুণযুক্তং) অগিং’ (জ্ঞানদেবং, জ্ঞানং) উপস্তুহি (সামীপ্যং প্রাপয়, আরাধয়)। অত্র প্রার্থনাকারী জ্ঞানসঞ্চয়ায় উদবুদ্ধে। ভবতি ॥ ৭। বঙ্গানুবাদ। হে আমার মন। হিংসাহিত যজ্ঞে অর্থাৎ সৎকর্মে তুমি সেই কৰ্ম্মকুশল মেধাবী, সত্যা- শ্রয়ভুত সত্যস্বরূপ, শত্রুগণের নাশক অসত্য-নিবারক, দীপ্তিদানাদিগুণযুক্ত জ্ঞানদেবতাকে সমীপে প্রাপ্ত হও—আরাধনা কর। এখানে প্রার্থনাকরী জ্ঞান-সঞ্চয়ের নিমিত্ত উদ্বুদ্ধ হইতেছেন)। তবেদ। ৩য় খণ্ড জ্ঞানবেদ যমিগ্নে গ্রামরে হবিম্পতিত হবিষ্পতিতং দেব সপৰ্যতি। তস্য স্ম সু প্রাবিতা ভব৷ ৮ | মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। দেব (দীপ্তিদানাদিগুণযুক্ত) অগ্নে (হে জ্ঞানদেব।) যঃ হবিষ্পতিঃ (যঃ হবিৰ্দান- কারী, ভগবদুদ্দেশ্যে সৎকৰ্ম্মানুষ্ঠাতা ‘দুত।' (বার্তাবহ, ভগবতি মিলনসাধকং ত্বাং ( জ্ঞানদেবং) সৰ্যতি’ ( পরিচরভি, সে-তে) ত্বং 'স্য (কৰ্ম্মকারিণঃ) প্রবিত’ { প্রকৃষ্টরূপেণ রক্ষকঃ । ভব স্ম’ ( ভবসি)। অয়ং ভাবঃ-জ্ঞানস্থ আরাধনয়া অনুসরণেন বা নরঃ সৎকৰ্ম্মপরঃ সন শ্রেয়াংসি সভতে । ৮। বঙ্গানুবাদ। দীপ্তিদানাদিগুণযুক্ত হৈ জ্ঞানদেব । ভগবদুদ্দেশে সৎকৰ্ম্মানুষ্ঠাতা : হবির্দানকারী) যে জন ভগবানের মিলনসাধক সেই আপনাকে (জ্ঞানদেবতাকে ) সেবা করেন, আপনি সেই সুকৰ্ম্মকারীর প্রকৃষ্ট রক্ষক হয়েন। {ভাব এই যে.-জ্ঞানের আরাধনায় এবং অনুসরণে সৎকর্মপর হইয়া মানুষ শ্রেয়ঃ-সকল লাভ করে।)। ৮। (যে অগ্নিং দেবীতয়ে হবিগ্ন। আবিবসতি। তস্যৈ পাবক মৃড়য়। .। মৰ্ম্মানুসাঙ্কিা-ব্যাখ্যা । যঃ হবিশ্মান (যঃ হৰিৰ্দানকারী যাজ্ঞি১১. যঃ সৎকৰ্ম্মকারী ইত্যর্থঃ) দেববীতয়ে ( দেবানাং পানাং প্রীত্যর্থং বা, দেবােদ্ধশে নিতে, দেবভাৰপরিবুদ্ধিকর ইতি ভাবঃ) ‘অগ্নি ২ নদেবং) তাপবাসা (সমক পৰিচতি, অনুসরতি), পাবক’ ( পবি - কারক, জগৎপাবন) :: (হে জ্ঞানদে) ওং তস্মৈ ( যাজ্ঞিকায়, সুকর্মকারণে ) মৃড়য়’ (খ, আনং + F1 - 1 : সদানও কন্তে-ইত্যৰ্থঃ ॥ ৯।
জ্ঞানবেদ।
বঙ্গানুবাদ।
সৎকর্মকারী যে জন দেবভাবের পরিবৃদ্ধিকর জ্ঞানদেবতাকে অনুসরণ করেন, জগৎপাবন
হে জ্ঞানদেব, আপনি সেই সুকৰ্ম্মকারীকে সুখী করেন -- আনন্দ দেন। (ভাব এই যে,
জ্ঞানানুসারী জনগণ সদানন্দ লাভ করিয়া থাকেন)। ৯।
म
নঃ
পাক দীদিবােহয়ে দেব। ইহাবহ।
উপযজ্ঞং হবিস্ট
নঃ 1 ) ।
মৰ্ম্মানুসারিণী-যাৎ্যা।
‘পাবক’ (পবিত্ৰকারি, পাপনাশক) ‘দীদিব (দীপ্যমান, স্বপ্রকাশ) অগ্নে’ (হে
জ্ঞানদেব।) সঃ (পূৰ্বোত্ত-রূপগুণত্বং নঃ ( অস্মাকং) ইহ’ (যজ্ঞভূমৌ, হৃদ্দেশে,
কৰ্ম্মণি বা ইত্যৰ্থঃ) ‘দেব (দীপ্তিদানদিগুণযুক্ত সৰ্বান্ দেবভাবান) আবহু
( আনয়); তত ‘না’ ( অস্মাকং যজ্ঞং (যাগাদি সৎকৰ্ম্ম ) হবিঃ চ ( আহুতি প্রদত্ত
দ্রব্যসম্ভারং চ) আবহ’ (দেক প্রাপয়)। অস্মাকং সৰ্বাণি কৰ্ম্মাণি সকলন হবীংfষ
চ সত্বসমখিতানি দেবত্বমণ্ডি =ানি চ ভবন্তু হাত ভাবঃ । ১০।
বঙ্গানুবাদ।
পবিত্রকারী (পাপনাশক) দীপ্যমা (স্ব প্রকাশ ) হে জ্ঞানদেব । পূর্পোক্তগুণযুক্ত
সেই আপনি আমাদিগের এই যজ্ঞক্ষেত্রে ( ধদ্দেশে বা কর্মে ) দীপ্তিদানাদি গুণযুক্ত সকল
দেবভাবকে আনয়ন করুন ; এবং আমাদিগের যাগাদি সৎকৰ্ম্মকে এবং আহুতি প্রদত্ত
দ্রব্যজাতকে দেবগণকে প্রাপ্ত করুন । ( ভাব এই যে,—'আমাদিগের সকল কর্ম সকল
উপহার সত্ত্বসমন্বিত এবং দেবত্বমণ্ডিত হউক।)। ১০।
স নঃ স্তবান আ
ভর
গায়ত্ৰেণ নবীয়সা।
রয়িং বীরবর্তীমিষং। ১১।
مان জ্ঞানবেদ। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। হে জ্ঞানদেব। সঃ (পূর্বোক্তগুণপেতত্ব) ‘নবীয়’ ( চিরনূতনেন) গায়ণে (গায়ত্ৰীচ্ছন্দোযুক্তেন স্তবেন, বেদমন্ত্রেণ) 'বান' (শু,মানঃ সন্, আরাধিতঃ সন্) ‘না’ (অভ্যং) ‘রয়িং (পরমার্থরূপ পারলৌকিকং ধনং) বীরবতীং ইং (বীৰ্যশালীপুত্র- পৌত্রাদিযুতং অন্নং, ইহলৌকিক ঐশ্বৰ্য্যমিতি ভাবঃ) আভর’ ( প্রাপয়, দেহাতি ভাবঃ)। অত্র প্রার্থনাকারী ইহলৌকিকং পারলৌকিকং চ উভয়বিধং ধনং যচতে-ইতি ভাবঃ ॥১১। বঙ্গানুবাদ। হে জ্ঞানদেব । পূর্বোক্তগুণেপেত সেই আপনি চিরনুতন বেদমন্ত্রে দ্বারা স্তুত (আরাধিত) হইয়া, আমাদিগকে পরমার্থ-রূপ পারলৌকিক ধন এবং বীৰ্য্যশালিপুত্র পৌত্রাদিযুত ইহলৌকিক ধন প্রদান করুন। ( এখানে প্রার্থনাকারী ইহলৌকিক ও পারলৌকিক উভয়বিধ ধন যজ্ঞা করিতেছেন—ইহাই ভাবার্থ।)। ১১ অয়ে শুক্রেণ শােষি। বিশ্বাভির্দেবহুতিভিঃ । . . ইমং স্তোমং জুষ নঃ ॥ ১২। মর্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘অয়ে’ (হে জ্ঞানদেব।) ত্বং শুক্রেণ’ (শুভ্রেণ, নির্মলেন) শােচিষা ( বিভূতা-অম্মা উদ্বোধ্য ইতি ভবঃ) ন (অস্মাকং) ‘বিশ্বাভিঃ ( সৰ্বাভিঃ) দেবহূতিভিঃ (সর্বৈৰ্দেবতাহানসাধনস্তোত্রৈশ সন্তুষ্ট সন, দেবভবপরিবৃদ্ধিসাধকৈ কৰ্ম্মভিঃ সহ মিলি ইতি ভাবঃ) ইমং (এতৎ ) ‘তোমং (স্তোত্রং, পূজা) জুষ’ (সেব, গৃহাণ)। হে দেব। স্বদীয়া বিশুদ্ধয়া বিভূতা অস্মন্ আরাধনাপরায়ণান্ কৃত্বা ইমং কোমং গৃহাণ ॥১২। বঙ্গানুবাদ। হে জ্ঞানদেব। আপনার সুবিমল জ্যোতির অর্থাৎ বিভূতির দ্বারা আমাদিগকে উদ্বুদ্ধ করিয়া, আমাদিগের সর্বপ্রকার দেবভাব-পরিবৃদ্ধি-সাধক কৰ্ম্মের সহিত মিলিত হইয়া, এই তােৰ ৰা পূজা গ্রহণ করুন। (ভাব এই যে, হে দেব। আপনার বিশুদ্ধ বিভূতির গ আমাদিগকে আপনার আরাধনাপরাণ করিয়া আমাদিগের পূজা গ্রহণ করুন। ১২।
জ্ঞানবেদ। ৬৯ মূ-সন্ধে ব্য। সর্বকার্যে সিদ্ধি প্রাপ্তির জন্য যে সকল মন্ত্র জপ করিবার বিধি আছে, তাহার বারােটী মন্ত্র (অগ্নিং দুত ইত্যাদি মন্ত্র) ভাবার্থ সহ প্রদত্ত হইল। কেহ কেহ কহেন,-ঐ বারােটা মন্ত্র শিব-সন্নিধানে প্রত্যহ তিন বার করিয়া তিন বৎসর জপ করিলে, সর্বকার্যে সিদ্ধিলাভ হয়। কিন্তু মহর্ষি শৌনকের মত এই যে, কেবলমাত্র ঐ বারোটী মন্ত্র নহে, দ্বাদশ সুক্তের ঐ প্রথম মঞ্জ হইতে আরম্ভ করিয়া, উনবিংশ সুক্তের শেষ মন্ত্ৰ পৰ্যন্ত জপ করিতে হইবে। তদনুসারে দ্বাদশ সুক্তের বারােটা মন্ত্র, এয়ােদশ সুক্তের বারােটী মন্ত্র, চতুর্দশ সুক্তের বারােটী মঞ্জ, পঞ্চদশ সুক্তের বারােটা ম, যােড়শ সূক্তের নয়টী মধু, সপ্তদশ সুক্তের নয়টী মন্ত্র, অষ্টাদশ সুক্তের নয়টী মন্ত্র এবং উনবিংশ সুক্তের নয়টী মন্ত্র মােট একাশীটি মন্ত্র জপ করিতে হইবে। ইষ্টসিদ্ধি লাভ বিষয়ে এইরূপ আরও অনেকগুলি জাপ্য মন্ত্র আছে। আবশ্যক হইলে, অনুসন্ধান পূর্বক তাহা জপ করা যাইতে পারে । মানুষের আকাঙ্ক্ষার অন্ত নাই। সুতরাং অভীষ্ট-লাত সম্বন্ধেও দেশ-কাল-পাত্রভেদে নানারূপ আকাঙ্ক্ষা দেখিতে পাওয়া যায়। কিন্তু বিশেষ বিশেষ উদ্দেশ্যে বিশেষ বিশেষ মজপের বিধি নির্দিষ্ট আছে। সাধারণভাবে অভীষ্ট লাভ বিষয়ে কতকগুলি মন্ত্রের উল্লেখ দেখা যায়। যথাপ্রসঙ্গে তাহার কতকগুলি মন্ত্রের পরিচয় দেওয়া যাবে। সৰ্ব্বাভীষ্ট-লাভ বিষয়ে আরও কতকগুলি মন্ত্রের উল্লেখ দেখা যায়, এ সম্বন্ধে পর পর কতকগুলি মুক্ত জপের বিধি দেখিতে পাওয়া যায়। সেই সকল সুক্তের অন্তর্গত মন্ত্র-সমুহ এবং তাহাদিগের ভাবাথ আমাদিগের প্রকাশিত ঋগ্বেদ-সংহিতায় পরিদৃষ্ট হইবে। লিখিত আছে,-সুরূপমুতয়ে’ প্রভৃতি মন্ত্র হইতে আরম্ভ করিয়া পর পর আটটা সুক্তের মন্ত্র প্রত্যহ পাঁচ বার করিয়া বিষ্ণু সন্নিধানে জপ করলে সৰ্বাভাষ্ট সিদ্ধ হয়। কিন্তু এ বড় কঠিন ব্যাপার। পূর্বোক্ত আটটা সূক্তে (ঋগ্বেদ-সংহিতা, প্রথম মণ্ডলের প্রথম অধ্যায়ের চতুর্থ সুক্ত হইতে একাদশ সুক্ত পর্যন্ত আটটা সুক্তে) মােট আশটা মন্ত্র আছে। সেই আশীটী মন্ত্র প্রত্যহ পাঁচ বার করিয়া বিষ্ণুসন্নিধানে জপ করিতে হইবে। এইরূপ কাপের ফলে অভীষ্ট পূরণ হইয়া থাকে।
জ্ঞান-বেদ। ক নীরােগ শরীরের জন্য জাপ্য-মন্ত্র। যে কোনও দৈব-কাৰ্য্যেই প্রবৃত্ত হওয়া যাউক না কেন, নীরোগ শরীর ও স্বাস্থ্য-সম্পন্নতা সর্বথা আকাঙ্ক্ষণীয়। শরীর নীরােগ না হইলে, ব্যাধি-বিপত্তিতে দেহ জৰ্জরীভুত কার্ণিলে, কোনও ইষ্টকাৰ্যেই অনুরক্তি বা দৃঢ়তা আসে না। সে জন্য দৈবকার্যের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য রক্ষা করা নিতান্ত প্রয়ােজন। মিতাচার মিতাহার প্রভৃতি স্বাস্থ্যরক্ষার পক্ষে যে অত্যাবশ্যক, তাহ। পালন তো করতেই হইবে; সেই সঙ্গে সঙ্গে বিধিপূৰ্ব্বক মন্ত্র জপ করিলে সহসা সুফল লাভ হইবে । নিরোগিতা ও স্বাস্থ্যলাভ সম্বন্ধে বহু জাপ্য বেদম আছে। শাস্ত্রে আছে,“করবী পুষ্পের দ্বারা গায়ত্রী- মন্ত্রোচ্চারণে এক সহস্র হােম করিবে। তাহাতে ব্যাধিনাশ হয় এবং মৃত্যুকাল পর্যন্ত শরীর সুস্থ থাকে। ঋগ্বেদ-সংহিতার, প্রথম মণ্ডলের ত্রিশ সূক্তের প্রথম ঋকূটী (১ম অষ্টক, ১ম অধ্যায়, ৫ম বর্গ )—‘অধিন যজ্বরী’ ইত্যাদি মন্ত্র জপ করিলে ব্যাধিনাশ হয়। নীরােগ হইয়া বধি-নশ পূর্ধক, অক্ষত শরীরে ভগবানের আশীষ লাভ করিবার প্রয়াসী হলে, অক্ষাভ্যাং তে’ ইত্যাদি মন্ত্রবিশিষ্ট সূদী (১০ জ্ঞানবেদ। ৭১ মণ্ডল, ১৬৪ম সূক্ত, ১-৬ ঋ—৮ম অষ্টক, ৮ম অধ্যায়, ২১ বর্গ) বিধিপূর্বক জপ করার প্রয়োজন। ঐ সূক্তের ছয়টা পাক্ ও তাহার মর্মার্থ নিয়ে প্রকাশ করা যাইতেছে ; যথা- ওঁ। অক্ষীভ্যাং তে নাসিকাভ্যাং কর্ণাভ্যাং ছুবুকাদধি। - যক্ষাং শীর্ষণ্যং মস্তিষ্কাজিহ্বায় বিবৃহামি বিবৃহামি তে ॥১॥ . ওঁ। গ্রীবাভ্যস্ত উষ্ণিহাভ্যঃ কীকসাভো অনূক্যাৎ। যক্ষমং দোষণ্য১মংসভ্যাং বাহুভ্যং বিবৃহামি তে । ২। ওঁ। আগ্নে ভ্যস্তে গুদাভ্যো বনিষ্ঠা দয়াদধি। যক্ষমং মতাভ্যাং যঃ প্লাশিভ্যো বিবৃহামি তে ॥ ৩ ও। উরুভ্যাং তে অষ্ঠীবদ্যাং পাঝি'ভ্যাং এপদাভ্যাম। যক্ষাং শ্রোণিভ্যং ভাসদাপ্তংসসসা বিবৃহামি তে । ৪। | করণাল্লোমভ্যস্তে ওঁ। মেহননিং নখেভ্যঃ। কক্ষং সর্বত্মদাত্মনস্তমিদং বিবৃহামি তে ॥ ৫।
জ্ঞানবেদ। ওঁ। অঙ্গাঙ্গালোন্নোলােন্নো জাতং পর্বণি পৰ্বণি । যক্ষা সর্বাত্মনস্তমিদং বিবৃহামি তে ॥৬॥ মন্ত্র সম্বন্ধে বক্তব্য। মন্ত-কয়েকটীর মর্মানুসারিণী-ব্যাখ্যার ও বঙ্গানুবাদের কোনই আবশ্যক নাই। মন্ত্রের ভাবা, মন্ত্র পাঠ মাত্র অধিগত হয়। শরীর ব্যাধিমন্দির। অট্টালিকার প্রতি ইষ্টককে ঝড়ঝক্কাবাত প্রভৃতি বিবিধ নৈসর্গিক উপদ্ৰৰ সহ্য করিতে হয়। এই দেহ অট্টালিকার প্রতি অঙ্গকে ব্যাধি-বিপত্তিতে বিপর্যস্ত অট্টালিক রক্ষা করিবার জন্য, যেমন তাহার বাত্যাভিহত অংশের সংস্কার- সাধন আবশ্যক হয়; সেইরূপ নিত্যক্ষয়শীল দেহ অট্টালিকারও প্রতি অঙ্গকে রক্ষা করিবার আবশ্যক আছে। দেহ অট্টালিকার এই সংস্কার-সাধন ব্যাপারে দ্বিবিধ উপায় পরিগ্রহণ আবশ্যক। নিজের দেহ রক্ষার জন্য নিজেকে চেষ্টা করিতে হইবে; সঙ্গে সঙ্গে দেহ রক্ষার সম্বন্ধে ভগবানের অনুকম্পা প্রার্থনা করিতে হইবে। একদিকে ঔষধ-পথ্যাদির ব্যবস্থা, অন্যদিকে দৈব-কর্মের অনুষ্ঠান-দেহরক্ষা-সম্বন্ধে আবহমান কাল এইরূপ পদ্ধতিই চলিয়া আসিতেছে। এই মন্ত্র সম্বন্ধে সেই দ্বিবিধ প্রক্রিয়ার আভাস প্রাপ্ত হই। একপক্ষে এই মন্ত্র-ছয়টীতে আত্মরক্ষার জন্য উদ্বোধন প্রকাশ পাইয়াছে ; পক্ষান্তরে ভগবানের নিকট অনুগ্রহ কামনা করা হইয়াছে। মন্ত্রকয়টী যুগপৎ আত্মােদ্বোধক ও ভগবৎপ্রার্থনামূলক। মন্ত্র-কয়টীর ক্রিয়াপদ-বিবৃহামি’—উত্তম পুরুষের একবচনে প্রযুক্ত। তাহাতে এক পক্ষে ভাব আসে-আমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হইতে আমি যেন ব্যাধিকে পৃথক করিতে পারি দূর করিতে সমর্থ হই। এই উত্তম পুরুষের একবচনের ক্রিয়াপদে ভাব আসে-আমার শরীরকে নীরােগ রাখা, সে তো আমারই আয়ত্তাধীন। প্রকৃতই তাই। ঔষধ-পথ্যাদির ব্যবস্থায় নীরোগ ও সুস্থ থাকাসে যেমন আমার নিজের আয়ত্তাধীন ; তৎপক্ষে ভগবানের নিকট প্রার্থনা-জ্ঞাপন-সেও আমার নিজের আয়ত্তাধীন। আমার অবহেলার আমার দেহ আপনিই অকালে বিনষ্ট হইতে পারে। আবার আমার প্রচেষ্টার ফলে, আমি নীরােগ দীর্ঘায়ু হইতেও পারি। একপক্ষে এ মন্ত্র সেই আত্মনির্ভরতার কথা স্মরণ করাইতেছে। মন্ত্র বলিতেছে-শরীরকে নীরােগ সুস্থ রাখিবার জন্য যথাবিধি ঔষধ-পথ্যাদিরও ব্যবস্থা কর এবং ভগবানের ছাৰেও প্রার্থনা জানাও। • জ্ঞানবেদ। ৭৩ পুরুষকার ও দৈব—এতদুভয়ের অচ্ছেদ্য সম্বন্ধ। 'দৈব ভিন্ন পুরুষকার সঙবে না; আবার পুরুষকার ভিন্ন দৈৰ সঞ্জাও হয় না। * দৈবের সহায়তায় পুরুষকাকে উদবুদ্ধ করতেছে। ; পূর্বেই বলিয়াছি—শরীর ব্যাধি-মন্দির। উহার প্রতি অঙ্গ, প্রতি প্রত্যঙ্গ লােগনিবাস। ব্যাধি-চক্ষুদ্বয়ে, ব্যাধি-নাসিকায়, ব্যাধি-কর্ণয়ে, ব্যাধিওঠমূলে, ব্যাধি–শিয়ােদেশে, ব্যাধিমস্তিষ্কে, ব্যাধি-জিহয়। প্রথম মন্ত্রের সঙ্ক—আমি ঐ সকল অঙ্গ হইতে ব্যাধিকে দুরীভূত করিতেছি। কোন্ অঙ্গ ব্যাধির নিবাস-স্থান নহে? উৰ্দ্ধত স্নায়ু-সমূহে, গ্রীবার মধ্যে, গলগত ধনী সমূহে, অস্থিমধ্যে, অস্থিসন্ধিসমূহে, হন্তের উৰ্দ্ধ (অংশ) এবং অপােভাগে (বাহুতে) রােগ বিরাজ করিতেছে। দ্বিতীয় মন্ত্রের উদ্বোধন-ঐ সকল রােগকে নিবৃত্ত করিতে হইবে। অন্নপানীয়ের আধারভূত অন্ত্রসমূহ হইতে, স্নায়ুসমূহ হইতে, যে নাভীসমূহের মধ্য দিয় সমান বায়ুর দ্বারা অন্নরস ধাতুতে পরিণত হয় সেই নাড়ীসমূহ হইতে, স্থবিরা ইতে, পুণ্ডরিক হইতে, শল্পীরের উভয় পার্শ্বে বর্তমান আম্রফলাকৃতি বৃক্ক হইতে, হৃদয় সমীপে বিদ্যমান যকৃৎ হইতে, ক্লোম-প্লীহাদি মাংস মধ্য হইতে, নােগকে অপসারণ করিবার জন্য চেষ্টান্বিত হইতেছি--ইহাই তৃতীয় মন্ত্রের সঙ্কল্প। উরুদ্বয় হইতে, জানুদ্বয় হইতে, পদদ্বয়ের উৰ্দ্ধাংশ ও নিম্নাংশ হইতে, জানু হইতে, কটি প্রদেশ হইতে এবং পায়ু হইতে নােগসমূহকে দূর করিতেছি—ইহাই চতুর্থ মন্ত্রের সঙ্কল্প। লিঙ্গ হইতে, শিশ্ন হইতে, লােম হইতে, নখ হইতে রােগােৎপত্তি ঘটে। সেই সকল স্থানের সর্ববিধ রােগকে দূর করিতেছি,-পঞ্চম মন্ত্রের ইহাই উদ্বোধন। সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হইতে, সকল লােমকূপ হইতে, সকল অবয়বের সকল সন্ধিস্থান হইতে উৎপন্ন রােগ-সমুহকে দূর করিতেছি,-ষষ্ঠ মন্ত্রের ইহাই সঙ্কল্প। ফলতঃ, দেহের সকল অঙ্গ ব্যাধিশূন্য এবং কর্মঠ থাকুক, মন্ত্র-ছয়টীর প্রার্থনায় তৎসঙ্কল্প প্রকাশ পাইয়াছে। রােগী স্বয়ং যদি এই সকল মন্ত্র জপ করিতে অসমর্থ হয়, তাহা হইলে তাহার পিতৃদেব, গুরুদেব অথবা পুরােহিত এই সকল মন্ত্র জপ করিবেন। মন্ত্র-জপের সময় তাঁহারা ব্যাধিগ্রস্ত অঙ্গে হস্তসঞ্চালন পূর্বক মন্ত্রদ্বার রােগাপসাৰণ করিতেছি,এই ভাবে অনুপ্রাণিত থাকিবেন। প্রত্নতাত্ত্বিকগণ এই মন্ত্র কয়েকটীর মধ্যে শারীরবিজ্ঞানে ঋষিগণের অভিজ্ঞতার পরিচয় প্রাপ্ত হইবেন। জ্ঞানবেদের পঞ্চম খণ্ডে তদ্বিষয়ের বিশদ আলোচনা ও অন্যান্য পরিচয় প্রদত্ত হইবে। জ্ঞানবে। ৩৪ খ.
জ্ঞান-বেদ আয়ুদ্ধির জন্য জাপ্য-মন্ত্র। --- যেমন নীরােগ শরীর আবশ্যক, তেমনি আয়ুৰ্বদ্ধির পক্ষেও প্রযত্ন প্রয়ােজন। অল্পায়ু না হয়, অকালমৃত্যু না ঘটে, সৎকার্যে চিত্ত বিনিবিষ্ট থাকে,—এ পক্ষে চতুর্বেদের বিভিন্ন স্থানে উপদেশ আছে। পূৰ্বে গায়ত্রী-মন্ত্র জপের বিষয় উল্লেখ করিয়াছি; এখানে অপর একটী মন্ত্রের বিষয় উল্লেখ করিতেছি। মহষি শৌনক বলেন,-‘ত্রিৰ্দেবঃ ইত্যাদি মন্ত্রটা (খাগ্বেদ-সংহিতা, পঞ্চম অষ্টক, ৬ষ্ঠ অধ্যায়, ২৫ বর্গ ; ৭ম মণ্ডলের ১০ সূক্তের ৩য় ঋক) যথারীতি দশ সহস্র বার বিষ্ণু-মন্দিরে জপ করিলে, আয়ুঃ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। মন্ত্রী নিম্নে প্রকটিত হইতেছে; যথা- ত্ৰিৰ্দেবঃ পৃথিবীমেষ এতাং বিচক্ৰমে শতর্ডসং মহিত্বা। প্র: বিষ্ণুরস্তু তবসস্তবীয়ান্বেষং হস্ত স্থবির নাম। বিষ্ণুরম্ভ হস্য অবিরত বিষ্ণুদেবতার স্মরণ-পূৰ্ব্বক বিষ্ণু-মন্দিরে বসিয়া এই মন্ত্র জপ করিতে হয়। মন্ত্রের মএই যে, বিশ্বব্যাপক সেই যে দেবতা ত্রিলােক ব্যাপিয়া আপনার জ্যোতি-বিস্তারে সংসারকে উজ্জীবিত রাখিয়াছেন, তিনি আপন মহত্বের দ্বারা বৃদ্ধকে বাসম্পন্ন করুন এবং স্থবিরকে রূপগুণে সৌন্দর্য্য বিশিষ্ট করুন। মানুষ যেন তঁাহার কৰ্ম্মে কৰ্ম্মাৰিত হইয়া, তার সেবায় সেবাপর থাকিয়া, আপনার আয়ু বৃদ্ধি করিতে পারে, শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে এবং নবীন জীবন প্রাপ্ত হয়। .
জ্ঞানবেদ পুত্র-কন্যা-লাভের জাপ্য-মন্ত্র। কোনও মানুষ পুত্র চায়, কোনও মানুষ কন্যা চায়; কিন্তু পায় না। বেদমন্ত্রের অনুধ্যানে অভীষ্টানুরূপ পুত্র-কন্যা লাভ হইতে পারে। এ সম্বন্ধে আমরা ক্রমান্বয়ে চতুৰ্বিধ জাপ্য মন্ত্র উদ্ধৃত করিতেছি। উহার এক এক প্রকার মন্ত্র-জপের এক এক প্রকার ফল নির্দিষ্ট আছে। পুত্রের অভাবে অনেক বিত্তসম্পত্তিশালী ব্যক্তির—রাজা জমিদারের সংসারে হাহাকার উঠে। পক্ষান্তরে আবার বহু পুত্রকন্যার জন্য দরিদ্র গৃহস্থ বিপন্ন হইয়া পড়ে। মানুষের এই ক্ষোভ বিদূরণের জন্য শাস্ত্রে নানা উপদেশ আছে। চতুর্বেদের আলােচনায় দেখিতে পাই, বেদমন্ত্র জপ করিলে অভীষ্টানুরূপ পুত্র বা কন্যা লাভ হইতে পারে। এ সম্বন্ধে আমরা পর পর কয়েকটী মন্ত্র উদ্ধৃত করিতেছি। ১। পুত্রলাভের জন্য জাপ-মন্ত্র। ঋগ্বেদ-সংহিতার পঞ্চম অষ্টকে তৃতীয় অধ্যায়ে ত্রিংশ বর্গের অন্তভুক্ত নিম্নোঞ্ছত মন্ত্রী জপ করিলে বেগণ বহু-কীর্তি-সম্পন্ন পুত্র প্রদান করেন। সেই মন্ত্রী এই ওঁ। যে দেবানাং যজ্ঞিয় যজ্ঞিয়ানাং মনােৰ্যজত্রা অমৃতা ঋতজ্ঞা। - তে নাে রাসন্তামুরুগায়মগ যুয়ং পাত স্বস্তিভিঃ সদা নঃ।
৭৬ আনবেদ। ময়ের প্রার্থনার মৰ্ম্ম এই যে, যজনীয় দেবগণের মধ্যে সেই যে সৃষ্টিকর্তা প্রজাপতি দেবতা নার সময় সত্যক্ত সেই যে সকল দেবগণ, অদ্য আমাদিগকে বহুকীর্তিসম্পন্ন পুত্র প্রদান করুন। ২। মৃতবৎসার বা বন্ধ্যার পুত্র-লাভের জন্য জাপ-মন্ত্র। মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষির উক্তি এই যে,-যজ্ঞং দেবানাং সূক্তটী (ঋগ্বেদ- সংহিতা, প্রথম অষ্টক,সপ্তম অধ্যায়, পঞ্চবিংশ বর্গ ; ১ম মণ্ডল, ১৬ অনুবাক, ১০৭ সূক্ত, ১-৩ ঋক) ত্ৰিশ সহস্র বার বিষ্ণু-মন্দিরে জপ করিলে, মৃতপুত্রার ও বন্ধ্যা রমণীর সুপুত্র লাভ হয়। ঐ সূক্তের তিনটী মন্ত্র জপ করিবার বিধি আছে। মন্ত্র তিনটী এই ওঁ। যজ্ঞাে দেবানাং প্রত্যেতি শুয়মাদিত্যাসো ভবতা মৃলয়ন্তঃ। আ বােহৰ্বাচী সুমতিৰ্ববৃত্যাংহােশ্চিন্তা বােধ বরিবােবিত্তরাস। উপ নাে দেবা অবসা গমন্তুঙ্গিরসাং সামভিঃ স্তয়মান। ইন্দ্র ইন্দ্রিয়ৈৰ্ম্মরুতে মরুদ্ভিরাদিত্যেনো অদিতি শৰ্ম সংসৎ। অদিতি: C ভয় হন্তৰণস্তমিস্তদৰ্য্যম। তৎ সবিতা চ নো ধাৎ। তন্ন ইস্তদরুণস্তদগ্নিস্তদৰ্যমা তৎ সবিতা চ নাে বাৎ। তন্নো মিত্রো বরুণো মামহন্তামদিতিঃ সিন্ধুঃ পৃথিবী উত চৌঃ। মন্ত্র-সম্বন্ধে বক্তব্য। সাধারণভাবে এই মত্ৰয়েল মৰ্ম্মার্থে পুত্রলাভের প্রার্থনা পরিদৃষ্ট হয় না। তিনটা মন্ত্রেই বিল সুখের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পাইতেছে। প্রথম পত্রে ভগবানের প্রীতির জন্য আপনাদিগের কে নিয়ােগ করিবার, দেবভাৰসমূহের অধিকারী হইয়া সুখী হইবার
নবদ।
এবং দেবজের উপজনসমর্থ সুমতি লাভ করিবার প্রার্থনা আছে। দ্বিতীয় মলের প্রার্থনায়
প্রকাশ-হৃদয়ে দেবভাব ক্রিয়াশীল হউক, কর্মসমূহের দ্বারা দেবগণ হৃদয়ে অধিষ্ঠিত হউন
এবং তাহার ফলে মঙ্গল অধিগত হউক। তৃতীয় মন্ত্রে বিভিন্ন দেবতার নিকট করুণা প্রার্থনা
করিয়া দেবগণকে বা দেবভাবসমূহকে আত্মরক্ষার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হইয়াছে।
এ পক্ষে এই তিনটী মন্ত্রে, কেবল পুত্র-লাভেরই বা আশা কেন, সকল আশাই পূর্ণ
হইতে পারে। যে সুখের কামনা করিয়া যে অশান্তি দূর করিবার উদ্দেশ্যেই মন্ত্র জপ করা
হউক, তাহাতেই সাফল্য আসিবে আশা করা যায়। তবে ঋষিগণের উক্তি এই যে, এই
তিনটী মন্ত্র জপ করিলে, মৃতবৎসার ও বন্ধ্যানীর সুপুত্র লাভ হয়।
৩। বহুকন্যা-লাভের পর সুপুত্ৰ-লাভের জাপ্য মন্ত্র।
যাঁহারা পুনঃপুনঃ কন্যালাভ করিয়া, পুত্ৰ-লাভের আশায় হতাশ হন,
বংশ পােপ হইল বলিয়া দুঃখে ম্রিয়মাণ রহেন, তাহাদিগের জন্য ‘আ
মনীষাং ইত্যাদি মন্ত্রযুক্ত বর্গটা (ঋগ্বেদ-সংহিতা, প্রথম অষ্টক, সপ্তম
অধ্যায়, একত্রিংশ বর্গ ; ১ম মণ্ডল, ১৬ অনুবাক, ১১• সূক্ত, ৬-৯ ঋক)
ত্রিশ সহস্র বার বিষ্ণুমন্দিরে জপ করিবার বিধি আছে। ঐ বর্গে চারিটী
মন্ত্র আছে। সেই মঞ্জ-চতুষ্টয় নিম্নে উদ্ধৃত হইল,
৫। অ মনীষামন্তরিক্ষস্য
নৃভ্যঃ চেব ঘৃতং জুহবাম বিয়না।
তরণিত্ব। যে পিতুরস্ক
সশ্চির ঋভবাে বাজমহন্দিবাে রজঃ ॥ ১।
।
ঋভুর্ণ ইন্দ্ৰঃ শবসা নবীয়াভুৰ্ব্বাজেভিৰ্বমুভির্বসুর্দদি।
•*
যুম্মাকং দেবা অবসাহনি প্রিয়েভি তিষ্ঠেম পূৎসুতীরন্বতাং॥২
নিশ্চৰ্ম্মণঃ ঋভবে গামপিংশত সম্বৎসেনাসৃজতা মাতরং পুন।
নিশ্চয়
সৌধন্বনাসঃ স্বপস্তয়া নুরো জিব্রী যুনা পিতরাকৃণােতন ॥৩॥
৭ নিবেদ বাজেভিনে। বাজতাববিড়ঢ়ভূম। ইন্দ্র চিত্রমাদাষ রায় তমো মিত্রো বরুণো মামহামদিতিঃ সিন্ধুঃ পৃথিবী উত জ্যোঃ সন্ধে বক্তব্য। এই মন্ত্র-চতুষ্টয় ঋভুদেবতার সম্বোধনে বিনিযুক্ত। মানুষ হইয়াও যাহারা দেৰত্ব প্রাপ্ত, তাঁহারাই ভুদেবতা। প্রথম মন্ত্রের মর্ম এই যে, আমরা যেন ঋভুদেবগণের অনুসারী হইতে পারি। দ্বিতীয় মন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা-আমাদিগের মধ্যে দেবভাব আবির্ভূত হইয়া আমাদিগের রিপুগণকে বিমর্দিত করুক। তৃতীয় মন্ত্র বলা হইয়াছে,ঋভুগণের অনুসরণে জ্ঞানেন্মেষ হয় ; ঋভুগণের আদর্শে সৎকৰ্ম্মকারিণী প্রবৃত্তি উৎপন্ন হইয়া থাকে। সৎকর্ম- সাধন-প্রবৃত্তি সংসার-সংস্পর্শে জৰ্জরীভূত হৃদয়কে অভিনব শক্তি প্রদান করে। চতুর্থ মজে ইন্দ্র প্রভৃতি দেবগণকে আহ্বান করিয়া প্রার্থনা জানান হইয়াছে-‘আদর্শ মনুষগণের মধ্যে আবির্ভূত হইয়া দেবতা আমাদিগকে পরম ধন প্রদান করুন। এই সকল বিষয় অনুধাবন করিয়া, পুত্ৰার্থীর, ঋভুদেবগণের ন্যায় পুত্র পাইবার কামনা প্রকাশ পাইয়াছে। এই সকল মন্ত্রের মর্মানুসারিণী ব্যাখ্যা ও বঙ্গানুবাদ প্রভৃতি বিস্তৃত আলােচনা, আমাদিগের ব্যাখ্যাত ও সম্পাদিত ঋগ্বেদ-সংহিতাতে প্রকাশিত আছে। বাহুল্য ভয়ে এস্থলে তাহা পুনরুদ্ধত হইল না। অনুসন্ধিৎসুগণ তহা পাঠ করিয়া দেখিতে পারেন। ৪। কন্যা-লাভের জাপ্য-মন্ত্র। কেহ কেহ কন্যা-লাভের জন্যই অতিমাত্র ব্যাকুল। তাহারা যদি ‘প্রাতরয়িং’ প্রভৃতি সূক্তটা (ঋগ্বেদ-সংহিতা, সপ্তম মণ্ডল, ৪১ সূক্ত, ১-৭ম ঋক; পঞ্চম অষ্টক, চতুর্থ অধ্যায়, অষ্টম বর্গ) শিবালয়ে অথবা জলে লক্ষবার জপ করিতে পারেন, অথবা লাজাহুতির (খৈ দ্বারা আহুতি ) দ্বারা এক শত বার হােম করিতে পারেন, তাঁহারা অভীষ্টানুরূপ কন্যালাভে সমর্থ হন। কন্যার্থীর জাপ্য সেই মন্ত্র-কয়টা নিম্নে প্রকটিত হইল ; যথা- ওঁ। প্রাতরয়িং প্রাতরিন্দ্রং হবামহে প্রাতৰ্মিত্রাবরুণ। প্রাতরখিনা। প্রাতর্ভগং পূষণং ব্রহ্মগস্পতিং প্রতি সােমমুত রুং হুবেম। ১.
নিবে। এতর্জিতং ভগমুগ্ৰং হুবেম বয়ং পুত্ৰমদিতেৰ্যো বিধা। আশ্চিদ্যং মন্যমানস্তুবশ্চিদ্ৰাজা চিদ্যং ভগং ভক্ষী ত্যাহ॥২॥ ভগ প্রণেতর্ভগ সত্যরাখাে ভগেমাং ধিয়মুদ দদ। ভগ প্রণে জনয় গোভিরশ্বৈৰ্ভগ প্র নৃভিবন্ত স্যাম। ৩ উতেদানাং ভগবন্তঃ সামমাত প্রপিত্ব উত মধ্যে অহ্নাম উতােদিত মঘবনৎ সূৰ্য্যশ্য বয়ং দেবানাং সুমতো স্যাম ॥ ৪। ਛੋਟses ভগ এব ভগব। অস্ত দেবান্তে ন বয়ং ভগবন্তঃ আম। ত্বং ত্বা ভগ সর্ব ইজ্জোহধীতি স নাে ভগ পুরএ ভবেহ। ৫। সমদ্মরায়েষসস নমন্ত দধিক্রাবেব শুয়ে পর্দায় অর্বাচীনং ববিদং ভগং নাে রথমিবাখ। বাজিন আ বহ।।
আনবেদ। অশ্বাবতীগোমতীন উষাসে বীরবতীঃ সমুন্তু ভদ্রাঃ। বৃতং দুহানা বিশ্বতঃ প্রপী বুয়ং বিশ্বতঃ পীত ব্যয়ং পাত স্বস্তিভিঃ সদা ন। ৭। মঞ্জ-পকে বব্য। এই সাতটী মন্ত্রে নজনৈৰ্য্য প্রভৃতি পাইবার কামনা আছে। মহর্ষি শৌনক বলিয়াছেন,এই সাতটী মন্ত্র জপ করিলে কন্যা লাভ হয়। তাহার উক্তি- “প্রাতরগিং জপেৎ সূক্ত জলে লক্ষং শিবালয়ে। কর্থ লভতে কন্যা শাজাহুত। শত হুনেৎ।” কিন্তু অপর কোনও কোনও ঋষির অভিমত এই যে,-পূর্বোক্ত সাতটী মন্ত্র প্রাতঃকালে প্রতিদিন জপ করিলে নানাবিধ রােগ হইতে মুক্তি লাভ করিতে পারা যায়। এ বিষয়ে মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষির উক্তি- “নিবেকামে মােগার্তো ভগযুক্তং পেৎ সদা। নিবেশং বিশতি ক্ষিপ্রং রােগৈশ্চ পরিমুচ্যতে” এই মুক্তটী ভগ-দেবতার উদ্দেশে বিনিযুক্ত। এই সুক্ত জপ করিলে ব্যাধি বিনাশ অবশ্যম্ভাবী। পক্ষান্তরে কলাভও ঘাটিয়া থাকে। মন্ত্রসপ্তকের ভাবার্থ। এখন মন্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন দেবতাকে আহ্বান মাত্র আছে। অগ্নি, ইন্দ্র, মিত্রাবরুণ, অশ্বিদ্বয়, গদেবতা, পুষা, ব্রহ্মা, সােম এবং ক্ষুদ্র প্রভৃতি দেবতাকে আহ্বান পূর্বক আহুতি দান করা হয়। দ্বিতীয় মন্ত্রেও বিভিন্ন দেবতার আহ্বানের সঙ্গে সঙ্গে দরিদ্র ভাতা সম্ভজনীয় ধন- সামর্থ্য প্রার্থনা করছেন। তৃতীয় মন্ত্রে ভগদেবতাকে সম্বোধন-পূৰ্ব্বক ধন-জন-ঐশ্বৰ্য-পুত্রাদির কামনা করা হইয়াছে। চতুর্থ মন্ত্রে ত্ৰিকালিক প্রার্থনায় সুমতি কামনা করা হইয়াছে। পঞ্চম মন্ত্রে ভগদেবতাকে এবং সকল দেবতাকে আহ্বান পূধ্ব ও প্রাথনাকারীর যজ্ঞে বা কয়ে আহ্বান করা হইয়াছে। যষ্ঠ ও সপ্তম মদয়ে সকল দেবতাকে আহ্বান পূর্বক স্বস্তি অর্থাৎ সুমঙ্গল প্রার্থনা করা হইয়াছে।
জ্ঞান-বেদ। দীর্ঘায়ু-লাভের জাপা-মন্ত্র দীর্ঘায়ু লাভের জন্য কাহার না আকাঙ্ক্ষা ? ‘দীর্ঘায়ু লাভ করি, শরীর নীরোগ থাকুক, অর্থ-সম্পদের অধিকারী হই’-এ আকাঙ্ক্ষা মানুষ-মাত্রেই হৃদয়ে পােষণ করে। কিন্তু কলির জীব বিশ্বাস করিতে পারিবে না ! মন্ত্রজপে যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়, বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানালোকৌদ্ভাসিত চিত্ত, সহসা তাহা বিশ্বাস করিতে পারে কি ? পারিবে না তো নিশ্চয়ই! তবে মরণের ক্রোড়ে যাহারা নিত্য শায়িত আছে, তাহাদের পক্ষে পরীক্ষা করিয়া দেখিতে হানি কি ? বেদ বলিতেছেন, ঋষিগণও পরীক্ষা করিয়া দেখিয়াছেন,—মস্তু-জপে দীর্ঘায়ু লাভ হয়, শত বর্ষ পরমায়ু প্রাপ্ত হওয়া যায়। বেদে যদি বিশ্বাস থাকে, শাস্ত্রবাক্যে যদি অনাস্থা না থাকে, একবার পরীক্ষা করিয়াই দেখ কেন ? শাস্ত্রে অবিশ্বাসী জনকে পরীক্ষা করিতে বলিতেছি না; কিন্তু যাহারা শাস্ত্রে বিশ্বাসবান, তঁাহারা পরীক্ষা করিয়া দেখুন ;-যদি সুফল প্রাপ্ত হন, তারস্বরে তাহা ঘোষণা করিবেন। নবদ। ৩য় খ-১১ ৮২ আনবেদ। শারীর-বিজ্ঞান--যত উন্নত-পরিপুষ্টই হউক-এখনও পূর্ণতা লাভ করে নাই। এখনও পরীক্ষার অবস্থাই চলিয়াছে। কেননা, আজ যাহা মুফলপ্রদ বলিয়া মনে হইতেছে, কাল তাহা পরিবর্তিত হইতে চলিয়াছে। নূতনের পর নুতন পরীক্ষা-প্রণালী উদ্ভাবিত হইতে দেখিতেছি। এরূপ অবস্থায় মন্ত্র-শক্তির শুভফল-লাভ-বিষয়ে পরীক্ষাই বা চলুক কেন ? অনেক বিজ্ঞানবিৎ চিকিৎসককেও দেখিয়াছি ;—যখন ঔষধদিতে কোনও ফল পাইলেন না, তখন তাঁহারা ভগবানের নাম স্মরণ করিবার উপদেশ দিয়াছেন এবং নূতন ঔষধ প্রদানের সময় নিজেও ভগবানের নাম উচ্চারণ করিয়াছেন। কোন্ কোন্ বেদ-মন্ত্র জপে দীর্ঘায়ু লাভ হয়, ঋষিগণের নির্দেশ অনুসারে, নিয়ে তাহার কয়েকটী মন্ত্র প্রকটন করিতেছি ; যথা- ওঁ। মুঞ্চামি ত্ব। হবিষ জীবনায় কমজ্ঞাতযাদুত রাজক্ষমাৎ। মুঞ্চায় গ্রাহির্জিাহ যদি বৈতদেনং তস্যা ইন্দ্রাগ্নী প্র মুমুমেন।। যদি ক্ষিতায়ুর্যদি বা পেতে যদি মৃত্যোরন্তিকং নীত এব তমা হরামি নিখ তেরুপস্থাপার্ষমেনং শতশারদায় ॥ ২॥ সহস্রাক্ষেণ শতশারদেন শতায়ুষ হবিষাহামেন। শতায়ু শতং যথেষং শরদো নয়াতীন্দ্রো বিশ্বস্ত দূরিতস্য পার। ৩ জ্ঞানবে। শতং জীব শরদে। বর্ধমানঃ শতং হেমন্তাঞ্ছতমু বসন্তা। শতমিাগী সবিতা বৃহস্পতিঃ শতায়ুষ হবিষেমং পুনঃ ॥ ৪। আহার্যং ত্বাবিং ত্ববিদং ত্ব৷ পুনরাগাঃ পুননব। সর্বাঙ্গ সৰ্বং চক্ষুঃ সৰ্বমায়ুশ্চ তেহবিদম্ ॥ ৫॥ (৮ অষ্টক, ৮ অধ্যায়, ১৯ বর্গ ; ১০ম-১২-১৬১)। অস্ত্র সম্বন্ধে বক্তব্য। দীর্ঘায়ু লাভের জন্য জাপ্য এই যে মস্ত্র,এতদ্বারা রাজযক্ষ্মাদি দুরারােগ্য ব্যাধি পর্যন্ত নিবারিত হয়। এই সুক্ত জপপূর্বক ইন্দ্রদেবতার উদ্দেশে অগ্নিতে আহুতি প্রদান করিতে হইবে। মহর্ষি শোন বলিয়াছেন,-শ্রদ্ধাযুক্ত হইয়া প্রতিদিন তিন বার শিবালয়ে এই মন্ত্র জপ করিলে মানুষ শত বৎসর আয়ু লাভ করে। কিন্তু শাস্ত্রে, সুত্রগ্রন্থে, উল্লেখ আছে-এই সুক্ত জপে ব্যাধি-বিমুক্তি ও দীর্ঘায়ু লাভ ঘটে। ম-পঞ্চকের মর্মার্থ । মন্ত্র পঞ্চক-আত্মাদ্বোধক। আমি আমার ব্যাধিকে দুর করিতেছি। আমি আমার আয়ুকে বৃদ্ধি করিবার জন্য উদ্বুদ্ধ হইয়াছি’—ইত্যাদি সঙ্কল্প সহ অগিতে আহুতি-প্রদান এই মন্ত্রের কর্ম বলিয়া জানা যায়। প্রম মন্ত্রে নিত্যক্ষয়প্রাপ্ত আপনাকে (নিজেকে) সম্বােধন করিয়া বলা হইয়াছে—এই হবির দ্বারা বা যজ্ঞসাধনভূত হােমের দ্বারা, নিত্যক্ষয়কারী অজ্ঞাত রােগকে আমি দেহ হইতে বিমুক্ত করিভেছি। উদ্দেশ্য—আমার আয়ুৰ্বদ্ধি। মন্ত্রে ‘অজ্ঞাত-যক্ষ্মাৎ পদ রহিয়াছে। তাহার মর্ম এই যে,-যে ক্ষয়কারী ব্যাধি নিত্য নিত্য আমাদের জীবনকে ক্ষয় করিতেছে। মত্রে ‘জীবনায়’ পদ আছে; তাহার ভাব-জীবন-রক্ষার জন্য, আয়ুৰ্বদ্ধির জন্য। ময়ে "বিষা পদ আছে; তাহার অর্থহবিঃপ্রদান-পূৰ্ব্বক। ভাব এই যে, হৃদয়ে সভাৰ সঞ্চয়ের রা। তবেই মন্ত্রের প্রথম অংশের ‘মুঞ্চামি হইতে ‘অজ্ঞাত যক্ষাৎ পর্যন্ত সংশের ভাব হয় এই যে-দিন দিন আপনা আপনিই কালবশে আমার যে আয়ুক্ষয় হইতেছে; দেখেদ্দেশ্যে হবিপ্রদান দ্বারা অথবা হৃদয়ে সত্বভাবের উন্মেষণ দ্বারা আমি সেই ক্ষয়কে নিবারণ করতো। সঙ্গে প্রথম পাদে লাল গাছে—উত রাযৎ। উহার মর্ম এই যে, ক্ষয়রােগ জানা যদি ৪ জ্ঞানবেদ আমি আক্রান্ত হইয়া থাকি, এই উপায়ে তাহা হইতেও আমি মুক্তি লাভ কৰিব। মন্ত্রের দ্বিতীয় পদের প্রার্থনা—এবম্বিধ ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ইন্দ্রাদি দেবতা ব্যাধিমুক্ত করুন; তাঁহার পূজা গ্রহণ করুন। দ্বিতীয় মন্ত্রে বলা হইয়াছে-যদি রােগগ্রস্ত ব্যক্তি ক্ষীণায়ু হয় অথবা ইহলােক হইতে লােকান্তরে প্রয়াণের মুমুষু অবস্থায় পতিত হয়, অথবা যদি মৃত্যুর নিকটে উপনীত , এবধি সেই পুরুষকে, আয়ুক্ষয়কারী পাপদেবতার কবল হইতে ফিরাইয়া আনিয়া এক শত বৎসর জীবিত রাখিবার উপযােগী শক্তিসম্পন্ন করি। মৃত্যুর কবল হইতে ফিরাইয়া আনিয়া মানুষকে দীর্ঘায়ু করিবার সঙ্কল এই মন্ত্রে প্রকাশ পাইয়াছে। তৃতীয় মন্ত্রের মর্ম এই যে,সহ-অক্ষিবিশিষ্ট অর্থাৎ সৰ্বতঃ দৃষ্টিসম্পন্ন, শতবর্ষ জীবন- প্রদাত। সেই ভগবান ইলে, তঁাহার সৎকর্মের সামর্থ্যের দ্বারা পােষণ করিয়া এই রােগগ্রস্ত ব্যক্তিকে শত বর্ষ আয়ুঃ প্রদান করুন। শতবর্ষ আয়লাভ করিয়া, এই রােগগ্রস্ত ব্যক্তি যেন সকল দুঃখ হইতে পরিত্রাণ পায় । চতুর্থ মন্ত্রের মর্ম এই যে,-“ইন্দ্রাগ্নিদেবের কৃপায় শত শরত, শত হেমন্ত, শত বসন্ত এই রােগগ্রস্ত ব্যক্তির উপভােগে আনুক অর্থাৎ সুখপ্রদ হউক, ইহার হবির দ্বারা অর্থাৎ সৎকর্মের কারা সবিতা ও বৃহস্পতি দেবতা ইহাকে শত আয়ু প্রদান করুন। পঞ্চম মন্ত্রের সঙ্কল্প এই যে,-“হে ব্যাধিগ্রস্ত। তােমাকে মৃত্যু-কাশ হইতে ফিরাইয়া আনিতেছি। তুমি অভিনব জীবন লাভ কর, তােমার সকল অঙ্গ, সকল চক্ষু, সকল আয়ু পূর্ণভাবে বিরাজ করুক। ভাব এই যে,-আমি মন্ত্রের দ্বারা তােমাকে আয়ুষ্মা ও সৰ্বেন্দ্রিয়সম্পন্ন এবং নীরােগ করিতেছি। নীরােগিতা ও দীর্ঘায়ুলাভ জ ঐ পাঁচটা মন্ত্র জপের বিধি আছে। যিনি স্বয়ং ঐ মন্ত্র- পঞ্চক জপ করিতে না পারিবেন, তঁহার পিতৃদেব, গুরুদেব অথবা পুরােহিত ঐ মন্ত্রের দ্বারা আহুতি-দান পূর্বক তাহার ব্যাধিগ্রস্ত দেহে হস্ত সঞ্চালন করিয়া ঐ মন্ত্র উচ্চারণ করিবেন। মন্ত্ৰান্তৰ্গত ‘মুঞ্চামি’ পদের সার্থকতা সেই দৃষ্টিতেই প্রতিপন্ন হয়। মন্ত্রে রােগগ্রস্তকে অভয় প্রদানপূর্বক যেন বলা হইতেছে,-তােমার রােগসমুহকে শরীর হইতে অপহৃত করিতেছি, তুমি নীরােগ হইলে, দীর্ঘায়ু লাভ করিলে। এবাধ ভাবে পিতৃদেব গুরুদেব প্রভৃতি কর্তৃক যখন মন্ত্র উচ্চারিত হইবে, সেই সময়, স্বয়ং মন্ত্র-জপে অসমর্থ হইলে রােগীকে মনে মনে ইষ্টনাম বা ভগবানের নাম জপ করিতে হইবে। এ প্রসঙ্গে ইহাও সকলেরই জানিয়া মাখা কর্তব্য যে, কাহারও শুভ-সাধনের উদ্দেশ্যে দ্বিজাতিগণ কর্তৃক যখন বেদমন্ত্র উচ্চারিত হইবে, সেই সময় যাহার শুভকামনায় মন্ত্র উচ্চারিত হইতেছে, তাহাকে ইষ্টমন্ত্র বা হরিনাম জপ করিতে হইবে। কেবল পুরােহিতের বা অন্যের উপর কর্মের ভার অর্পণ করিয়া, নিজে কৰ্ম্মান্তরে ব্যাপৃত থাকিলে মন্ত্রের উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয় । মন্ত্র-জপের সময় চিত্তকে গবানের প্রতি ন্যস্ত রাখিতে হয়।
জ্ঞান-বেদ পূরুষ-সূক্ত সর্বদেবার্চনার ফলপ্রাপ্তি-মূলক জপি-মন্ত্র পুরুষ-সূক্ত মানুষের প্রধান জাপা-মন্ত্র। শুরুষ-সূক্ত জপ করিলে সকল দেবতার অর্চনার ফললাভ হয়। পুরুষ-সূক্ত জপের দ্বারা যে জন নারায়ণে পুষ্প জল প্রদান করেন, তৎকর্তৃক বিশ্বরূপ ভগবান্ অচ্চিত হন। পুরুষ- সূক্ত জপের ফল সম্বন্ধে শাস্ত্রে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নরূপ উক্তি আছে। পুরুষ-সূক্তের তাৎপর্য্য। পুরুষ-সূক্তে ভগবানের অভিব্যক্তির চিত্র প্রকটিত। তিনি কিরূপে কি ভাবে প্রকাশমান অাছেন, বিশ্বনাথ বিশ্বব্যাপিয়া কিরূপভাবে বিদ্যমান রহিয়াছেন, তাহার বিরাট বিশাল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উৎপত্তি- স্থিতি-নিলয় কেমনভাবে সংসাধিত হইতেছে, পুরুষ-সূক্তের মন্ত্র-সমুহে তাহারই আভাস পাওয়া যায়। বিভিন্ন দৃষ্টিতে, দৃষ্টিশক্তির তারতম্যানুসারে, বিভিন্ন জন তাহাতে বিভিন্ন প্রকার সামগ্রীর সমাবেশ দেখিতে পাইতেছেন। অন্ধের হস্তিন ৮৬ আনবেদ। দর্শন’স্যায়ের যে প্রবাদ-বাক্য আছে, পুরুষ-সূক্তের মন্ত্রের আলােচনায়, মানুষের দৃষ্টিশক্তি সেইরূপ সীমাবদ্ধ হইয়া পড়ে। হস্তী দেখিতে গিয়া, অন্ধ তাহার পদস্পর্শ করিয়াছিল। সে বুঝিয়াছিল—হস্তী স্তম্ভের ন্যায়। আর একজন হস্তীর কর্ণ স্পর্শ করিয়া আসিয়াছিল। সে বুঝিয়াছিল,—হস্তী সূর্পের (কুলার) ন্যায়। এক এক অঙ্গ দেখিয়া হস্তি-সম্বন্ধে এক এক জন এক এক রূপ কল্পনা মনােমধ্যে পোষণ করিয়াছিল। তাহার কেহই বুঝিতে পারে নাই—বিরাট যে হস্তী, ঐ হস্তপদাদি তাহার এক এক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মাত্র। পুরুষ-সূক্তের মন্ত্র সম্বন্ধেও আমাদিগের অন্ধ নয়ন আমাদিগকে সেই সন্দেহদোলায় দোদুল্যমান করে। মন্ত্রে (পুরুষ সূক্তের ষষ্ঠ মন্ত্রে) আছে, “যৎ পুরুষেণ হবিষা দেবা যজ্ঞমতন্বত।” উহার সাধারণ অর্থ এই হয় যে,-যে পুরুষ প্রদত হবির দ্বারা দেবগণ যজ্ঞ করিয়াছিলেন। তাহার পরই আছে—“বসন্তে। অস্যাসীদাজ্যং গ্রীষ্ম ইঃ শরদ্ধবিঃ।” শব্দাথের অনুসরণে উহার ভাব হয় এই যে, সেই যজ্ঞ হইতে বসন্ত গ্রীষ্ম শরৎ অজ্য ইধু এবং হবিঃ উৎপন্ন হইয়াছিল। এখানে শব্দার্থের অনুসরণে মুল-তত্ত্ব কিছুই অনুধাবন করা যায় না। সুতরাং যিনি যেরূপ দৃষ্টিসম্পন্ন, তিনি ঐ অংশে সেইরূপ অর্থ ই অনুধাবন করিয়া গিয়াছেন। পুরুষ-সূক্তের সপ্তম মন্ত্র, “তং যজ্ঞং বহিষি প্রেক্ষন পুরুষঃ জাতমগ্ৰতঃ। তে দেৰা অজন্ত সাধ্যা ঋষয়শ্চ যে। মন্ত্রের অর্থ দাঁড়াইয়াছে-‘সেই প্রথমজাত পুরুষকে পশুস্বরূপ বহ্নিতে আহুতি দেওয়া হইয়াছিল। তঁাহা হইতে দেবগণ এবং সাধ্য ও ঋষিগণ উৎপন্ন হন। অষ্টম, নবম ও দশম মন্ত্রে প্রকাশ আছে—সেই যজ্ঞ হইতে সৰ্বহুত অগ্নি উৎপন্ন হন; তাহা হইতে ঋক সাম যজুঃ উৎপন্ন হয়, এবং তাহা হইতে অন্ধ গাে প্রভৃতি উৎপন্ন হয়। এইরূপ সমস্যামূলক উক্তি প্রতুি মন্ত্রেই পরিদৃষ্ট হয়।
: আনবে। ৬৭ একাদশ, দ্বাদশ, ব্রয়ােদশ, চতুর্দশ প্রভৃতি মন্ত্রে সেই পুরুষের ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গের বিষয় পরিকল্পিত। তাঁহার মুখ, বাহু, উরু, পদ কি প্রকার—একাদশ ও দ্বাদশ মন্ত্রে তাহার পরিকল্পনা দেখি। ত্রয়ােদশ ও চতুর্দশ মন্ত্রে চন্দ্র, সূৰ্য্য, অগ্নি, বায়ু, অন্তরিক্ষ, দ্যুলােক, ভূলােক, দিক্সমূহ তাহাতে কি ভাবে অবস্থিত, সেই পরিচয় কল্পিত হইয়াছে। পঞ্চদশ ও ষােড়শ মন্ত্রে তাহারই কৰ্ম্ম তাহারই দ্বারা কি ভাবে সম্পন্ন হইয়াছে, সেই ভাব প্রকাশ পাইয়াছে। এই সকল মন্ত্রে অর্থান্তরে সেই পুরুষকে যজ্ঞের বলি প্রদানের প্রসঙ্গ উঠিয়াছে, অর্থান্তরে সৌরজগতের উৎপত্তির কথা বিবৃত হইয়াছে। এ প্রসঙ্গে তাহার তন্ন তন্ন আলােচনার কোনও আবশ্যক দেখি না। এই পুরুষ-সূক্তের মন্ত্র বিষম সমস্যাপূর্ণ। ইহাতে রূপকে সৃষ্টিতত্ত্ব পরি- বর্ণিত। সেই রূপক ভাঙ্গিয়া বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যাখ্যাকার বিভিন্ন রূপে মন্ত্রের অর্থ উদঘাটন করিয়া গিয়াছেন। আমরা পুনঃপুনঃ বলিয়া আসিয়াছি, ‘বেদ দর্পণ-স্বরূপ। সুতরাং বিভিন্ন দৃষ্টিতে বিভিন্নরূপ অর্থ নির্দিষ্ট হইতেছে। যাজ্ঞিক এক প্রকার অর্থ মন্ত্রের মধ্যে দেখিতে পাইয়াছেন; দার্শনিক আর এক প্রকারের অর্থ উহার মধ্য হইতে পরিগ্রহণ করিয়াছেন; বৈজ্ঞানিকের দৃষ্টিতে মন্ত্রের অর্থ রূপান্তরে প্রকটিত হইয়াছে ; জ্যোতিষীর দৃষ্টিতে মন্ত্রে সৌরজগতের সৃষ্টি-রহস্যে জ্যোতিষ তত্ত্ব উহার মধ্যে প্রতিভাত রহিয়াছে। যাহা হউক, পুরুষ-সূক্তের এই সকল মন্ত্রে সৃষ্টি-রহস্য এবং স্রষ্টার অভিব্যক্তির পরিচয় প্রাপ্ত হওয়া যায়। সৃষ্টি এবং স্রষ্টা সম্বন্ধে সংসারে নানা মত প্রচলিত আছে। সৃষ্টির বা স্রষ্টার অনন্তত্ব মানুষের ধ্যান-ধারণায় আয়ত্ত হয় না। সুতরাং উহার মধ্যে রূপ গুণ বিশেষণ এবং কাল বিভাগের ব্যবধান আবশ্যক হয়। স্রষ্টাকে যে নানা রূপ-গুণে বিভূষিত করা হয়, সে তাহার অনন্তত্ব ধারণায় অ'সে না বলিয়া। অব্দ বর্ষ ঋতু মাস দিবা রাত্রি দণ্ড মুহুর্ত প্রভৃতির ব্যবধানে কালকে যে খণ্ডিত করা হয়, সেও তাহার অনন্তত্ব ধারণায় আসে না বলিয়া। সৃষ্টিক্রম সম্বন্ধেও ঐ ভাব মনে করিতে হইবে। সৃষ্টির আদি কোথায়- নির্ণয় করতে না পারিয়া, মানুষ তাহার একটা কাল নির্দেশের চেষ্ট পায়।
৮ জ্ঞানবেদ। সৃষ্টি কিরূপে সাধিত হইতেছে, তাহা স্থির করিতে না পারিয়া, মানুষের সীমাবিশিষ্ট জ্ঞান, সৃষ্টি-ক্ৰমের একটা কল্পনায় প্রবৃত্ত হয়। সৃষ্টি-ক্রিয়া নিত্য চলিয়াছে। সেই ক্রিয়া দর্শন করিয়া, আমরা আদি-ক্রিয়া নির্দেশ করি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আদি-ক্রিয়া নির্ণীত হয় না। বীজ অাগে কি বৃক্ষ আগে’-এ যেমন চিরপ্রহেলিকাময়, সৃষ্টি-রহস্যও সেইরূপ গভীর সমস্যার বিষয়ীভূত। তাই কেহ কহেন,সৃষ্টির পূর্বে বিশ্ব জলময় ছিল ; তাহাতে সৃষ্টি বীজরূপে অবস্থিত থাকিয়া ক্রমে বিকাশপ্রাপ্ত হয়। কেহ কেহ আবার অন্যরূপ মত প্রকাশ করেন। নীহারিকা-বাদ, ক্রমবিকাশ-বাদ প্রভৃতি কত বৈজ্ঞানিক তত্ত্বই এ সম্বন্ধে আবিষ্কৃত হইয়াছে! বাহুল্যভয়ে এখানে সে সকল প্রসঙ্গের অবতারণা করিব না। মৎ প্রণীত “পৃথিবীর ইতিহাস” গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ডে এ বিষয়ের বিস্তৃত আলােচনা দেখিতে পাইবেন। এখানে এই পুরুষ-সূক্তে অর্থান্তরে সেই সকল প্রকার মতেরই আভাস প্রাপ্ত হইবেন। যে গবেষণার ফলে সৃষ্টি-সম্বন্ধে যে তত্ত্বই আবিষ্কৃত হউক কেন, পুরুষ-সূক্তের মন্ত্রার্থে সেই তত্ত্বই আমনন করা যাইতে পারে। বক্ষ্যমাণ প্রসঙ্গে আমরা স্থূলভাবে পুরুষ-সূক্তের একটা মর্মার্থ প্রকাশ করিবার প্রয়াস পাইয়াছি মাত্র। পুরুষ-সূক্ত-জপে, ভগবানের অনুধ্যানে, তিনি কি ভাবে বিশ্বে বিদ্যমান আছেন, কেমনভাবে তঁাহার সৃষ্টি-ক্রিয়া সমাহিত হইতেছে, এবম্বিধ তাহার মহিমার বিষয় মনে জাগ্ৰৎ হইবে। সেই অনুভাবনা লইয়া, পুরুষ-সূক্ত জপ করিলেই অভীষ্ট সিদ্ধ হইবে, সন্দেহ নাই। চারি বেদেই পুরুষসূক্ত আছে। তবে বিভিন্ন বেদে পুরুষ-সূক্তের বিভিন্ন প্রকার পাঠ পরিদৃষ্ট হয়। সামবেদ-সংহিতার অন্তর্গত পুরুষ-সূক্তের পাঁচটা মন্ত্রের বিষয়, এই ‘নিবেদেরই প্রথম খণ্ড (২.ম পৃষ্ঠা হইতে ১৪ম পৃষ্ঠা) আলােচিত হইয়াছে। এখানে প্রথমে খাথেদ-সংহিতার অন্তর্গত পুরুষসূক্তের মন্ত্রগুলি যথাপৰ্য্যায় উদ্ধত করিতেছি। ভাবার্থ উপ- লব্ধি করিয়া ভক্তি-সহকারে ঐ সূক্ত জপ করুন ; যে ৩ কাঙক্ষায় প্রণােদিত হইয়া মন্ত্র-জপে ও হইবেন ভগবদনুগ্রহে সে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হইবে।
জ্ঞানবে। T ৪। সহস্ৰশীর্ষা পুরুষঃ সহস্রাক্ষঃ সহস্রপা। স ভূমি বিশ্বততা বিশ্বততা বৃত্বাত্যতিষ্ঠদ্দশাঙ্গুল। ১। পুরুষ এবেদং সর্বং যদ্ভুত য ভব্যম। উমৃতত্বশােনাে যদম্নেনাতিনােহতি । ২। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘সহস্ৰশীর্ষ (অনন্তশিরভিযুক্ত, অনন্তশক্তিশালী) সহস্রাক্ষ (অনন্তচক্ষুসমন্বিত অনন্তজ্ঞানসম্পন্ন, সৰ্বজ্ঞঃ ইত্যর্থঃ) সহস্রপাৎ ( সর্বত্রবিদ্যমান, সর্বব্যাপকঃ) ‘স পুরুষ (স ভগবান্ ‘ভূমিং (ব্রহ্মাণ্ডং) বিশ্ব (সৰ্ব্বতােভাবেন) আ ( সমতাৎ, সৰ্ব্বদি) “বৃত্ব (পরিবেষ্ট্য) দশাঙ্গুলং ( অতিক্ষুদ্রং হৃদ্দেশং, যা-ব্ৰহ্মাণ্ডাৎ অতীতস্থানং ইত্যর্থ) অত্যতিষ্ঠৎ (অতিক্রম্য বৰ্ত্ততে)। নিত্যসত্যপ্রখ্যাপক অয়ং মন্ত্র। সৰ্ব্ব বিখঃ ভগবত একাংশে অবস্থিত ; স সর্বশক্তিমান্ সৰ্ব্বজ্ঞঃ ইতি ভাবঃ ১। বঙ্গানুবাদ। অনন্তমন্তকবিশিষ্ট অর্থাৎ অনন্তশক্তিশালী, অনন্তচক্ষুবিশিষ্ট অর্থাৎ অনন্তজ্ঞানসম্পন্ন (সৰ্ব্বজ্ঞ ), সর্বত্র বিদ্যমান অর্থাৎ সৰ্বব্যাপক, সেই পুরুষ বা ভগবা, ব্রহ্মাণ্ডকে সর্বতােভাবে সকল দিক হইতে বেষ্টন করিয়া অতিক্ষুদ্র হৃদ্দেশে অথবা ব্রহ্মাণ্ডের অতীত স্থান অতিক্রম করিয়া বিদ্যমান আছেন। { এই মন্ত্রী নিত্যসত্যতত্ত্ব প্রখ্যাপক। ভাৰ এই যে-সকল বিশ্ব ভগবানের একাংশে অবস্থিত। তিনি সর্বশক্তিমান্ এবং সর্বজ্ঞ )। ১। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘পুরুষঃ ( ভগবান্) এব’ (হি) ‘যৎ ভুতং (উৎপন্নং জগৎ )‘চ’ (তথা) যৎ ভৰং ( ভবিষ্যজগৎ, অনুৎপন্ন, ভগবতি বৰ্তমানং, কাৰণাবস্থায় লীন ইত্যর্থ) ইদং সর্বং (বক্ষ্যমাণ বিশ্বং) ভবতি, ব্যাপ্য তিষ্ঠতি বা ইতি শেষ ; উত’ ( অপিচ) বৎ (যাৎ ) অনে’ ( শক্ত্যা, শক্ত্যা ইত্যর্থঃ) অতিরােহতি (অতিক্ৰামতি,বিখং ইতি যাবৎ) মাৎ স এব ‘অমৃতত্ব’ (অমৃতস্য ) ঈশান ( অধীশ্বর, প্রদাতা ইত্যর্থঃ) ভবতি ইতি শেষ। অতীতানগতবৰ্তমানঃ সৃষ্টিপ্রবাহ ভগবত অংশ তথা তস্মিন্ বিমানঃ ভবতি ইতি ভাবঃ।। জ্ঞানবেদ। ৩য় খণ্ড-১২ জ্ঞানবেদ। I মহিমাতাে জ্যায়াশ্চ পুরুষ। এবানস্য পাদোহস্য বিশ্বা ভূতানি ত্রিপাদস্যামৃতং দিবি । ৩ বঙ্গানুবাদ। পুরুষ বা ভগবানই উৎপন্ন জগৎ এবং অনুৎপন্ন বা ভবিষ্ণু (কারণাবস্থায় লীন অথবা তাহাতে বর্তমান) জগৎ-এই বক্ষ্যমাণ বিশ্ব হয়েন অর্থাৎ ব্যাপিয়া আছেন। অপিচ, যেহেতু স্বশক্তির দ্বারা বিশ্বকে অতিক্রম করেন, সেই কারণেই তিনি অমৃত-প্ৰদাতা বা অমৃতের অধীশ্বর হয়েন। (ভাব এই যে,—অতীত, অনাগত ও বর্তমান সৃষ্টিপ্রবাহ ভগবানেরই অংশ। তঁহাতেই সকল বিদ্যমান আছে)। ২। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘এতাবান’ (ইমানি ভূতভবিষ্যৎবর্তমানরূপেণ স্থিতানি জগৎসৃষ্টিরূপকৰ্ম্মাণি) ‘অশ্য (ভগবত) মহিমা ( সামানি, মহিমবিশেষানি ইতি যাবৎ ) ভবতি ইতি শেষ; ‘চ’ (দু) পুরুষঃ ( ভগবান) অতঃ ( অস্তাঃ মহিমায়াঃ অপি) 'জায়ান (অতিশয়েন অধিক, মহত্ত) ভবতি ইতি শেষঃ ; ‘বিশ্ব (সৰ্বাণি, নিখিলানি) ‘ভূতানি’ (উৎপানি বনি) অন্য’ ( ভগবত, তত ইত্যঃ) পাদঃ (পদাশ্রিতানি, শাসনাধীনং ইত্যর্থ) তিষ্টতে ইতি শেষ; তথা অস্য (ভগবতঃ, তস্য) ত্রিপাৎ’ (ত্রিগুণসাম্যৎ, গুণাতীতং) অমৃতং (অমৃতত্বং) দিবি (দ্যোতনাত্মকে প্রকাশে স্বরূপে, স্বর্গে ইতি ভাষা) তিষ্ঠতি ইতি শেষ; গুণসামং এব ভগবতা সহ সম্মিলনং অমৃতত্বং বা ইতি ভাৰ। নিত্যসত্য- অমৃতপ্রাপক ভগবান্ অসীমশক্তিসম্পন্নঃ ভবতি মহিমায়াঃ একাংশং এব বিশ্বরূপেণ প্রাদুর্ভবতি ইতি ভাব। ৩। প্রখ্যাপকঃ অয়ং • ; বঙ্গানুবাদ। ভূত-ভবিষ্যৎ-বর্তমান-রূপে বিদ্যমান এই জগৎষ্টি রূপ কৰ্মসমূহ সেই ভগবানের মহিমা বিশেষ; কিন্তু ভগবান্ এই মহিমা হইতেও মহত্তর ; অপিচ, যিনি আপনার শক্তির দ্বারা বিশ্বকে অতিক্রম করেন, সেই ভগবানই অমৃতের অধীশ্বর বা অমৃতদাতা। সেই ভগবানের বিভীত অমৃতত্ব দ্যোতনাত্মক স্বপ্রকাশে-তাহার স্বরূপে বিদ্যমান আছে। অর্থাৎ ত্রিগুণসম্যই ভগবানের সহিত সম্মিলন বা অমৃতত্ব (মন্ত্রী নিত্যসত্যপ্রখ্যাপক। ভাব এই যে,-অমৃত- প্রাপক ভগবান অসীমশক্তিসম্পন্ন; তাঁহার মহিমার একাংশ-বিশ্বরূপে প্রাদুর্ভূত।)। ৩। ~ নিবেদ। ত্রিপাদুদ্ধ উদৈৎ পুরুষঃ পাদোইস্তেহাভবৎ পুনঃ। ততাে বিহুঙ, ব্যক্ৰমৎসশনশনে অভি। ৪। তস্মাদিরাডজায়ত বিরাজো অধি পুরুষঃ। । স জাত অত্যরিচ্যত পশ্চাদ্ভুমিমথাে পুরঃ ॥ ৫॥ মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘পুরুষ (ভগবান্ ত্ৰিপাৎ উদ্ধঃ (ত্রি গুণং অতিক্রম, ত্রিগুণাতীত সন্) উদৈৎ (তিতি, বৰ্ততে); পুনঃ ( অপিচ) অশ্য’ (তস্য ভগবত) পাদঃ (অংশ, প্রভাবঃ) ‘ই’ (জগতি, ত্রিগুণাত্মকে জগতি ইত্যর্থ) অভবৎ (বৰ্ত্ততে); 'ততঃ ( ভস্মাৎ ) ‘সাশনানশনে ( অশনেন তথা অনশনেন সহ, ভােনাদিব্যাপারযুতং বিজুতং বা, সচেতনং তথা অচেতনং, সৰ্ব্বং সৃষ্টবস্তুং ইত্যর্থঃ) “বিধ(সৰ্ব্বং বিশ্বং) অভি’ (অভিলক্ষ্য, অধিকৃত্য) ব্যক্ৰাম (ব্যাগ্নেতি, ব্যাপ্য তিষ্ঠতি)। নিত্যসত্যপ্রখ্যাপকঃ অয়ং মন্ত্র। ভগবৎসত্ত্বা বিশ্বে অনুষ্যত। ভবতি, অপিচ ভগবান্ বিশ্বং অতিক্রম্য অপি ৰওঁতে ইতি ভাবঃ। ৪। বঙ্গানুবাদ। ভগবান্ ত্রিগুণাতীত হইয়া বর্তমান আছেন; অপিচ, তাহার অংশ বা প্রভাব ত্রিগুণাত্মক জগতে বর্তমান আছে; তাহা হইতে চেতন অচেতন সকল সৃষ্ট বস্তু সকল বিশ্ব ব্যাপিয়া ( অধিকার করিয়া) অবস্থিত আছে। (মন্ত্রী নিত্যসত্যপ্রখ্যাপক। ভাব এই যে,-ভগবৎস বিয়ে অনুত আছে; অপিচ, ভগবান্ বিশ্বকে অতিক্রম করিয়াও বর্তমান আছেন।)। ৪। ; মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘স্মাৎ (আদিপুরুষাৎ) “বিয়াটু (পরমজ্যোতির্ময়ঃ ব্ৰহ্মাণ্ডদেহঃ) অজায়ত’ (উৎপন্ন অভবৎ); ‘বিরাজঃ অধি’ (বিড়দেহস্যোপরি, ব্ৰহ্মাণ্ডদেহে) পুরুষ (আত্মা) উৎপন্নঃ ভবতি ইতি শেষ; পরমাত্মা বিশ্বাত্মরূপেণ ব্ৰহ্মাণ্ডদেহে প্রবিশাত ইত্যৰ্থঃ ; ‘স জাত (এবষ্কৃত ল বিরাট পুরুষঃ এব) অত্যরিচ্যত’ (অতিরিক্ত ভবতি, দেবতিৰ্য্যঙ মনুষ্যদিকে ভবতি ইত্য); পশ্চাৎ (ততঃ ) ভূমিং (পৃথিবীং) সৃজতি ইতি যাবৎ। অথ’ (অন্তর) ‘পুর (জীবানাং আশ্রয়স্থানংদেহং) সৃতি ইতি শেষ। অস্মিন্ মন্ত্রে সৃষ্টিকম বিবৃতঃ। ভগবতঃ হি সর্বং অগৎ উৎপন্নং ইতি ভাব। ৫।
৯২ নেবেদ। যৎ পুরুষেণ হবিষ। দেবা যজ্ঞমতন্বত। বসন্তে অস্যাসীদাজ্যং গ্রীষ্ম ই শরদ্ধবিঃ ॥ ৬ বঙ্গানুবাদ। সেই আদিপুরুষ হইতে পরমজ্যোতির্ময় ব্রহ্মাণ্ডদেহ উৎপন্ন হয়। সেই ব্ৰহ্মাণ্ডদেহে আত্মা উৎপন্ন হয়েন, অর্থাৎ পরমাত্মা বিশ্বাত্মরূপে ব্ৰহ্মাণ্ডদেহে প্রবেশ করেন। তথাভুত সেই বিরাট পুরুষই—দেব-তির্যক মনুষ্যাদি লােক-সকল হয়েন। তার পর, তিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেন। অনন্তু জীগণের আশ্রয়স্থান দেহ সৃজন করেন। (এই মন্ত্রে সৃষ্টিক্রম বর্ণিত হইয়াছে। ভাৰ এই যে-ভগবান্ হইতেই সমস্ত জগৎ উৎপন্ন হইয়াছে) । ৫। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। যৎ (যৎ কারণাৎ—যদিচ্ছাশক্ত। বিরাডায়ত ইত্যর্থঃ) পুরুষেণ’ (ভগবত, তদিচ্ছাশক্ত্যা ইতি ভাবঃ) হবিষা’ (পূজয়া) দেবাঃ ( ভগবদগীভূতা গুণনিহা, ভগবতঃ বিভূত ইত্যৰ্থঃ) যজ্ঞং (সৃষ্টিপ্রবাহমুলং সৎকৰ্ম্ম ‘অতন্বত’ (আরব); অস্য (কর্মণঃ ফলস্বরূপ) বসন্ত (বসন্ত ঋতু) তথা ‘আজং (তৎকালসুলভং হবি) ‘আসীৎ (অভবৎ ); পুনঃ ‘গ্ৰীষ্মঃ (গ্রীষ্ম ঋতু) তথা ‘ই’ (তৎকালসুলভং ইন্ধনং) ‘আসীৎ (উৎপন্নং অভবৎ); তথা 'শরৎ (শরৎ ঋতু) তথা ‘হবিঃ (তৎকালােচিত হবনীয়, ফলশস্যদিকং) আসীৎ (উৎপন্নং অভবৎ) ইতি শেষ। অয় ভাব-সত্ব- ভাবানুপ্রাণিত কৰ্ম্মফলস্য প্রভাবেণ অভীষ্টানুরূপঃ ঋতবঃ তথা আবশ্যকানুরূপাণি ৰস্ত নি সায়ন্ত। ভগবদিচ্ছয়া ইসংসারে যঃ কৰ্ম্মপ্রবাহ প্রবহমান তেন স্তরগত সৃষ্টিকাৰ্যঃ সমাহিতঃ ভবতি ইতি তাৎপৰ্যার্থ। ৬। • বঙ্গানুবাদ। যে কারণে অর্থাৎ যে ইচ্ছাশক্তির দ্বারা বিরাট, উৎপন্ন হইয়াছিলেন, ভগবানের সেই ইচ্ছা- শক্তির দ্বারা, দেবগণ ( ভগবানের অঙ্গীভূত গুণনিবহ) সৃষ্টিপ্রবাহমূল সৎকর্ম আরম্ভ করেন। সেই কর্মের ফলস্বরূপ বসন্ত ঋতু এবং তৎকালােচিত হৰি উৎপন্ন হইয়াছিল; এবং গ্রীষ্ম- ঋতু ও তৎকালােচিত ইন্ধনাদি উৎপন্ন হইয়াছিল; এবং শরৎ ঋতু ও তৎকালােচিত হবনীয় ফলশস্যাদি উৎপন্ন হইয়াছিল। (ভাব এই যে-সবের প্রভাবে অভীষ্টানুরূপ ঋতুসমূহ এবং আৰকানুরূপ বস্তুসমূহ উৎপন্ন হইয়াছিল ; অর্থাৎ, ভগবানের ইচ্ছানুসারে সংসারে যে প্রবাহ প্রবাহিত, তারাই গুরগত সৃষ্টিকার্য সমাহিত হইতেছে)। ৬।
জ্ঞানবে। ৯৩ তং যজ্ঞং বহিষি প্রৌক্ষন পুরুষং জাতমগ্ৰতঃ। তেন দেব অজন্ত সাধ্যা ঋষয়শ্চ যে। ৭। মর্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। অগ্ৰতঃ জাতং । পূৰ্বং) যজ্ঞ' ( যজ্ঞসাধনভূতং) তং ( সর্বব্যাপিনং) পুরুষ ( বিশ্বরূপেণ বিরাজমানং বিশ্বেশ্বরং ) বর্হিষি (মানসে যজ্ঞে) দেবাঃ ‘প্রৌক্ষন’ (পােক্ষিতবস্ত, পুনঃপুনঃ উৎসর্গীকৃতবস্ত); ‘তেন’ (পুরুষাঙ্গীভূতেন দ্রব্যেণ) দেবাঃ (দেববিভূতঃ ) ‘অজন্ত (পুনরপি পূজায় প্রবৃত্তাঃ সন্তি); ‘চ’ (তথা) যে’ (ওসিদ্ধাঃ) সাধ্যায় (সৃষ্টিসাধনযােগ্যাঃ সাধবঃ) ঋষঙ্গঃ ( মন্ত্রদ্রষ্টার সন্তি) তে’ (সর্বেহপি) অজন্ত ভগবৎ- পূজায়াং ব্যাপৃতাঃ অভব ইতি শেষ। কৰ্ম্মপ্রবাহ নিতরাং প্রবন্তি; তেনৈব সৃষ্টি জায়তে, কণা সহ সৃষ্টেঃ সম্বন্ধং অভিন্নং ইতি ভাব। অথবা, ‘জাগ্রত জাতং ( আদৌ উৎপন্নং) যজ্ঞং (যজ্ঞরূপং কৰ্ম্মরূপং বা) তং (সৰ্বব্যাপিনং) ‘পুরুষং (আদিদেব) বহিষি (যজ্ঞকর্মণি। প্রৌক্ষন (স্বমেব আত্মানং উৎসর্গী- কতবান ইতি ভাব)। ‘তেন (তেন কৰ্ম্মণা, যজ্ঞেন ) 'বাে (দেবগণা ভগবতিয় ইত্যৰ্থঃ) ‘অজন্ত’ ( উৎপাদিতন্ত); ‘চ’ (তথ) যে’ (সর্বে) ‘সাধ্যাঃ (সাধাঃ) ঋষয়’ ( মদ্রষ্টার ঋষঙ্গ) উৎপন্না বহু ইতি শেষ। অনেন মন্ত্রেণ সৃষ্টিং প্রদর্শিতং। আদৌ পরমপুরুষ তদনন্তর তস্য মানসকল্পনা সহ পৰ্যায়েণ দেবাঃ তথা সাধ্যাঃ ঋষয়শ্চ জায়ন্তে ইতি ভাব।।। বঙ্গানুবাদ। পূৰ্বজ যজ্ঞসাধনভূত সেই সৰ্বব্যাপী বিশ্বরূপে বিরাজমান বিশ্বেরকে মানস-যজ্ঞে দেবগণ পুনঃপুনঃ উৎসর্গীকৃত করিয়াছিলেন। সেই পুরুষের অঙ্গীভূত দ্রব্যের দ্বারা দেবগণ (দেববিভূতিসমূহ) পুনরপি দেবপূজায় প্রবৃত্ত হন; এবং যে প্রসিদ্ধ সৃষ্টি-সাধনােগ্য ঋষিগণ আছেন, তাহারা সকলেই পূজায় প্রবৃত্ত হয়েন। ( ভাব এই যে,-কৰ্ম্ম-প্রবাহ নিয়ত প্রবাহিত হইতেছে। তারাই সৃষ্টি কাৰ্য্য সাধিত হইতেছে। কর্মের সহিত সৃষ্টির অভিন্ন সম্বন্ধ) অথবা, আদিতে উৎপন্ন যজ্ঞ ব কশ্মরূপ সেই সর্বব্যাপী আদিদেবতা, আপনিই আপনাকে মুলকর্মে উৎসর্গীকৃত করেন। সেই কর্মের বা অঙ্কের ছায়া দেযগণ উৎপন্ন হন। তার পর ১৪ আনবে। তস্মাদষজ্ঞাৎ সর্বহুতঃ সম্ভ,তং পৃষধাজ্য। পশূনর্তাশ্চক্রে বায়ব্যানারণ্যান গ্রাম্যাশ্চ যে ॥ ৮ | সাধক এবং মদ্রষ্টা ঋষিগণের উৎপত্তি ঘটে। (এই মন্ত্রে দ্বারা সৃষ্টিক্রম প্রদর্শিত হইয়াছে। তাৰ এই যে,-আদিতে পরমপুরুষ প্রকাশ হন; তঁাহার পর তাঁহার মানসকল্পনার দ্বারা পৰ্যায়ক্রমে দেবগণ, সাধ্যগণ ও ঋষিগণের উৎপত্তি ঘটে )। ৭ ॥ মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘সর্বহুতঃ (সর্বৈঃ সৎকৰ্ম্মতি পূজিতঃ ভগবান্) তস্মাৎ (সৃষ্টিকারণাৎ) যজৎ কর্মণঃ ইত্যর্থঃ) পৃষাজ্যং (সর্বেষাং ভােগ্যজাত দ্রব্যং ইত্যর্থঃ) সম্ভুতং (উৎপন্নং কতবান ইত্যর্থ); অতঃপরং তান’ ( সর্বান) বায়ব্যাং’ (খেচরা) আরণ্যান্ ( অরণ্যচারিণঃ) পশন (প্রাণিঃ) চক্রে (উৎপাদিত); তথা যে চ (সর্বে) গ্রাম (মনুষ্যালয় প্রাণিনঃ) সঞ্জয়ন্তে ইতি শেষ। অয়ং ভাব-কণা ভগবদগীভূতাঃ সৃষ্টবস্তুনিবহা তথা সৰ্বে প্রাণিন উৎপাদিতব ইত্যর্থঃ ॥ ৮ ॥ বঙ্গানুবাদ। সকল সৎকর্মের দ্বারা সম্পূজিত ভগবান, সৃষ্টিকারণভূত যজ্ঞ বা কৰ্ম্ম হইতে সকলভােগ্য- জাত দ্রকে উৎপন্ন করেন; তদনকার সর্ববিধ খেচর ও অরণ্যচারী প্রাণিগণের সৃষ্টি কয়েন; এবং মাদি সকল গ্রাম-প্রাণী উৎপাদিত হয়। (ভাব এই (ভাব এই যে, কর্মের দ্বারা ভগবানের অঙ্গীভূত সৃষ্টবস্তুসমূহের এবং সকল প্রাণীর উৎপত্তি ঘটিয়াছিল)।৮।। * ভাবান্তরে উপলব্ধ হয়,-এই মন্ত্রে সৌরজগতের উৎপত্তির বিষয় উক্ত হইয়াছে। সপ্তর্ষিমণ্ডল ও সূর্যের সমাবেশে সৌরজগৎ যে ভাবে গঠিত হয়, এখানে তাহাই ব্যক্ত আছে। । এই মন্ত্রে নীহারিকা-বাদের ভাব পরিগ্রহণ করা যায়। প্রথমে সৌরমণ্ডল সৃষ্ট হওয়ায় যথাপৰ্য্যায় ভূচর খেচর প্রভৃতি প্রাণীর এবং উদ্ভিদাদির উত্তৰ ইয়াছিল, ময়ে অর্থায়নে এখি তাৰ প্রাপ্ত হওয়া যায়।
আনবেদ। ১৫ তস্মাদ্যজ্ঞাৎ সর্বহুত ঋচঃ সামানি যজ্ঞিরে। ছন্দাংসি জজ্ঞিরে তস্মাদ্যজুস্তম্মাদজায়ত ॥৯॥ তস্মাদখা অজয়ন্ত যে কে চোভয়াদত। T গাবাে হ জজ্ঞিরে তস্মাত্তম্মাজ্জাতা অজাবয়ং | ১০। মর্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘সর্বহতা (সর্বৈঃ সৎকর্মভিঃ পূজিতস্য ভগবত) তাৎ’ (সৃষ্টিকারণাৎ) যজ্ঞ (কর্মণঃ ইত্যর্থঃ) চ (ঋঅস্ত্রী, যা-কবিতাঃ) তথা সামানি (সামানি, যা গানসমূহঃ) জিরে’ (অভব); তস্মাৎ (যৎ, কৰ্ম্মণঃ) হাংসি (গায়ালি ছনোনিবহাঃ) জিরে’ ( অভ); তাৎ' (যজ্ঞাৎ, কৰ্ম্মণঃ ইত্যর্থঃ) যজুঃ (যন্ত্রাঃ যুদ্ধা-গনি ইতি যাবৎ) অায়ত’ (সঞ্জয়ন্তে ইত্যর্থঃ)। ৯। বঙ্গানুবাদ। সকল সৎকর্মের দ্বারা সম্পূজিত ভগবান্ হইতে অর্থাৎ তাহার সৃষ্টিকারণভূত যক ৰা কৰ্ম্ম হইতে, ঋত্মসমূহ অথবা কবিতা এবং সামমন্ত্ৰসমূহ অর্থাৎ গানসমূহ উদ্ভূত হইয়াছিল; সেই যজ্ঞ-কৰ্ম্ম হইতেই গায়ত্রাদি ছন্দের উদ্ভব ঘটে; আবার সেই যজ্ঞ-কৰ্ম্ম হইতে যন্ত্র অর্থাৎ গদ্যসমূহ সঞ্জাত হয়। ৯। • মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। তৎ (যজ্ঞাৎ, কৰ্ম্মণঃ ইত্যর্থঃ) ‘অশ্ব (অখসমুহ, চতুষ্পদঃ প্রাণিন, যা নরখঃ ইত্যর্থঃ) অজায় (উৎপন্নাঃ বৰু); ‘চ’ (তথা)যে কে’ (তদতিরিক্তাঃ) ‘উভয়াত (উন্নততরগতা তথা নিয়ন্তরগতা প্রাণিন, যদ্ধা-জ্ঞানাজানং ইত্য) যায় ইতি শেষ। ‘তথ্যাৎ (যজ্ঞাৎ, কৰ্ম্মণ ইত্যর্থঃ) গাব গবাদ, জ্ঞান- এই মন্ত্রের অর্থে ‘ছন্দসমূহ বলিতে গ্রহনক্ষত্রাদি, ‘খ’ বলিতে ভূলোক, ‘যজু বলতে অন্তরিক্ষ-লােক এবং সাম’ বলিতে সূৰ্য্যলােক অর্থ—একজন ব্যাখ্যাত নির্দেশ করিয়া গিয়াছেন ৯s আনবেদ। | । পুরুষং ব্যদধুঃ কতিধা কতিধা ব্যকল্পয়ন্। মুখং কিমস্য কৌ বাহু কা উরূ পাদ। উচ্যেতে।১১ বিরানি) জ্ঞিরে (অব); ‘হ’ (তথা) তস্মাৎ (যৎ, কৰ্ম্মণ ইত্যর্থ) অজাবয়ঃ (ছাগজে পশব তথা অবয়ববিশিষ্টাঃ অন্তে প্রাণিন, যা—গভজ তথা প্রকৃতিজ জন্তুনিচয় ইত্যর্থঃ) জা' (সঞ্জাতা, অভব ইত্যর্থঃ।)। ১০। বঙ্গানুবাদ। সেই যজ্ঞ বা কৰ্ম্ম হইতে অশ্ব অর্থাৎ চতুষ্পদ প্রাণিসমূহ অথবা জ্ঞানরশ্মি উৎপন্ন অপিচ, অতিরিক্ত উন্নততরগত এবং নিম্নস্তরগত প্রাণিগণের অথবা জ্ঞানজ্ঞানের উদ্ভব ঘটে। আবার সেই যজ্ঞ বা কৰ্ম্ম হইতে গবাদি বা জ্ঞানকিরণসমূহ উৎপন্ন হয় এবং সেই কৰ্ম্ম হইতেই ছাগাদি পশু ও অবয়ববিশিষ্ট অন্যান্য প্রাণী অথবা গর্ভজ ও প্রকৃতি জন্তুমূহের উৎপত্তি ঘটে । ১০। * মৰ্ম্মানুসারিণী:ব্যাখ্যা। বৎ' (যদা’ ) পুরুষং (পুরুষ বিরাট্রপং) বধু (কল্পিতবন্ত) তা কতিধা (কিংবিধা, কিপ্রকারেণ অবস্থিত সঃ পুরুষঃ ইতি) ব্যকল্পয়ন (তবে কল্পিতবন্ত); অঙ্গ (পুরুষ) মুখং (মস্তকং) কিং (কিপ্রকারং) তথা ‘বাহু ( বাহুদ্বয়ং) কা’ (কিপ্রকারং) তথা ‘উরূ (উরুদ্বয়ং) পদে চরণদ্বয়ং) কৌ’ (কিপ্রকারং) ইতি উচ্যেতে” ( কথ্যতে। বিরাটপুরুষস্ত কল্পনা সহ কল্পনয়া সই ওস্ত মুখবাহুপদাদিঅঙ্গ- প্রত্যঙ্গ নির্দিষ্ট অভূৎ ইতি ভাবঃ ॥ ১১। বঙ্গানুবাদ। যখন বিরাট পুরুষকে কল্পনা করা হইল, তখন তিনি কি প্রকারে অবস্থিত ছিলেন, তাহাও কল্পিত হইয়াছিল। সেই পুরুষের মুখ বা মস্তক কি প্রকার, বাহুদ্বয় কি প্রকার, তাহার উরুদ্বয় এবং চণয় কি প্রকার, তাহাও কথিত হইয়াছিল। (ভাৰ এই যে, বিরাট পুরুষের কল্পনার সঙ্গে সঙ্গে তাঁহার মুখবাহুপদাদি-অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও নির্দিষ্ট হইয়াছিল। ১১। • কেহ কেহ এই মন্তর 'অশ' পদে এনক্ষএ পরিপূর্ণ জগৎ, উভয়াদত পদে উত্তরমেরু দক্ষিণমেরু, ‘গাব পদে দিকসমুহ, অজাব পদে গৃহগণ প্রভৃতি অর্থ কল্পনা করিয়াছেন।
আনবেদ। ৯। | ব্রাহ্মণোহস মুখমাসীদ্বাহু রাজন্যঃ কৃতঃ। উরূ তদস্য যশ্যৈ প্যাং শূদ্রো অজায়তঃ ॥ ১২। । চন্দ্ৰমা মনসাে জাতশ্চক্ষোঃ সূৰ্যো অজায়ত। । মুখাদিক্রশ্চাগ্নিশ্চ প্রাণাঘায়ুরজায়ত । ১৩। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘ৰাহ্মণঃ (ব্ৰহ্মতত্ত্বজ্ঞ ব্রাহ্মণবাতিবিশিষ্টঃ জনঃ বা) অন্য” (পুরুষ) মুখ (মস্তক স্বরূপঃ) আসীৎ ( বিদ্যতে-কল্পিতঃ অভবৎ ইত্যর্থঃ ); ‘রাজন্যঃ (ক্ষত্রিয়ত্বজাতিবিশিষ্ট লােক) ‘বাহুত বাহুত্বেন নিম্পাদিত, বাহরূপেণ পরিকল্পিত অভবৎ); অন্য (পুরুষ) “যৎ উরূ (যঃ উরুদ্বয়ঃ। তৎ’ (সঃ) বৈশ্যা’ (বৈশ্যাতিসম্পন্ন লােক ) কল্পিত অবৎ ইতি শেষ; তথা অশ্য’ (পুরুষ) প্যাং' ( পাদভ্যাং) শূদ্র (শূদ্রত্ব জাতিসম্পন্ন লােকঃ) অজাত (তঃ, অতবৎ ইত্যর্থঃ)। মনুজানাং জাতিবিভাগঃ অশ্য বিটুপুরুষ অঙ্গাদিরূপেণ পরিকল্পিত অবৎ ইতি ভাবঃ ॥১২ বঙ্গানুবাদ। ব্রাহ্মণ অর্থাৎ ব্ৰহ্মত বা ব্রাহ্মণত্বজাতিবিশিষ্ট ব্যক্তি, সেই বিরাট পুরুষের মুখ ৰা মস্তকস্বরূপ কল্পিত হইয়াছিল ; অর্থাৎ, তাঁহার মুখ হইতে উৎপন্ন। এজন্য অর্থাৎ ক্ষত্রিয়- জাতিবিশিষ্ট ব্যক্তি, সেই বিরাট পুরুষের বাহুরূপে পরিকল্পিত হয়; অর্থাৎ, তঁাহার বাহ হইতে ক্ষত্রিয়ের উৎপত্তি। সেই পুরুষের যে উরুদ্বয়, তাহাতে বৈশ্বত্বাতিসম্পন্ন লোেক পরিকল্পিত হইয়াছিল অর্থাৎ তাহার উরুদ্বয় হইতে বৈশ্যের উৎপত্তি। আর, সেই পুরুষের পদ হইতে ক্ষুদ্র অর্থাৎ শূদ্রত্বসম্পন্ন ব্যক্তি উৎপন্ন হয়। (ভাব এই যে,মনুষ্যগণের জাতি-বিভাগ সেই বিরাট পুরুষের অঙ্গাদি-রূপে পরিকল্পিত হইয়াছিল)। ১২। । মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘অশ্য’ (তস্য বিরাটুপুরুষ) মনসঃ ( মনসঃ সকাশাৎ) চন্দ্রমা' (দেব) জাতঃ ( উৎপন্ন অভবৎ); ‘চক্ষোঃ (চক্ষুষঃ সকাশাৎ ) সূৰ্য্য (সুৰ্য্যদেব) অজাত (উৎপন্ন জ্ঞানবে। ৩য় খণ্ড-১৩ জ্ঞানবেদ। | 1 নাভ্যা আসীদন্তরিক্ষং শীষ্ণে। দ্যৌ সমবৰ্তত প্যাং ভূমিৰ্দিশ শ্রোত্ৰাথা লােক্টা অকল্পয়ন্ । ১৪। বভূব); ‘চ’ ( অপিচ) তস্য পুরুষ মুখাৎ { মুখমণ্ডলৎ)ঃ (ঐশ্বৰ্য্যাধিপতিঃ ইন্দ্রদেব) ‘চ’ (তথা ) ‘অগ্নিঃ (জ্ঞানাধিপতিঃ অগ্নিদেবঃ) তখ। প্রাণাৎ (তস্য চৈতন্যসকাশাৎ ইত্যর্থঃ) বায়ু (জীবানাং জীবনস্বরূপঃ প্ৰাণবায়ু ইত্যর্থঃ) অবৎ ( উৎপন্নঃ বহুব)। একৈকঃ দেবঃ তস্য পুরুষশ্য একৈক অঙ্গরূপেণ পরিকল্পিত অভূৎ। ১৩। বঙ্গানুবাদ। সেই বিরাট পুরুষের মন হইতে চন্দ্রদেব উৎপন্ন হন; তাহার চক্ষু হইতে সূৰ্য্যদেবের উৎপত্তি টে। আর, সেই পুরুষের মুখমণ্ডল হইতে ঐশ্বৰ্য্যাধিপতি ইন্দ্রদেব এবং জ্ঞানাধিপতি অগ্নিদেব সঞ্জাত হন। আর, তঁাহার প্রাণ বা চৈতন্য সকাশ হইতে জীবের জীবনস্বরূপ প্ৰাণবায়ু উৎপন্ন হয়। (ভাৰ এই যে,এক এক দেবতা তাহার এক এক অঙ্গরূপে পরিকল্পিত হইয়াছিলেন।) ॥১৩। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। উৎপন্না তস্ক বিরাটুপুরুষস্য ‘ভ্যাঃ নাভিপ্রদেশ) অন্তরিক্ষং (অন্তরিক্ষাদিলোক ) আসীৎ ( অভবৎ ); ‘শীষ্ণেঃ ( শিরসঃ) ছৌঃ (দ্যুলােক, দ্যুলােকাধিবাসিনঃ ৰা) সমবৰ্তত ( অভব) অশ্য বিরাটুপুরুষস্ত ‘পদ্ভ্যাং’ (পাদাভ্যাং) ভূমি (ভূলোকঃ) উৎপন্নঃ বভূব ইতি শেষ; তথা শ্ৰোত্ৰাৎ ( শ্রবণেন্দ্রিয়াৎ) দিশ’ (দিক- সমুহঃ) ‘তথা (এবং) ‘লােকান্ (লােকসমূহঃ) অকল্পয়ন (পরিকল্পিতাঃ অভব)। বিরাটপুরুষস্ত নাভিরূপেণ অন্তরিক্ষং শীর্ষরূপেণ দুলােক পাদরূপেণ ভুমিং শ্রোত্ৰৰূপেণ দিশঃ এবং লােকাঃ পরিকল্পিতাঃ বভূবু ইতি ভাবঃ। ১৪ | বঙ্গানুবাদ সেই বিরাট পুরুষের নাভিপ্রদেশ হইতে অন্তরিক্ষাদি লােকের উৎপত্তি হয়। হায় মন্তক হইতে দুলােক বা লােকের অধিবাসিগণের উৎপত্তি ঘটে। আর, সেই জ্ঞানবেদ। సన সপ্তাশ্যাস পরিধয়স্ত্রিঃ সপ্ত সমিধ কৃতাঃ। দেব যদ্যজ্ঞং তন্বনা অবঃ পুরুষং পশুম। ১৫। পদদ্বয় হইতে ভুলোক উৎপন্ন হইয়াছিল। তাহার শ্রবণেন্দ্রিয় হইতে দিকসমূহ এবং লােকসমূহ কল্পিত হইয়াছিল। (ভাব এই যে,—সেই বিরাট পুরুষের নাভিরূপে অন্তরিক্ষ, শীর্ষরূপে দ্যুলােক, পদদ্বয়রূপে ভূমি এবং শ্রোত্ররূপে দিকসমূহ ও লােকসকল পরিকল্পিত হয়।) ১৪। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘অশ্য' (পুরুষ প্রভাবাঃ ইত্যর্থঃ) সপ্ত” (সূৰ্য্যাদেঃ সপ্তলােকানাং) পরিধয় (সীমানিৰ্দেশকাঃ সন্ত, যা-তান, লোকান আত্মনঃ অন্তভুকান্ কৃত্বা ইত্যর্থ) ‘আসন (বিদ্যন্তে); অপিচ, “ত্রি সপ্তঃ (ত্রিকালং, সপ্তলােক চ) সমিতা ( আত্মনঃ পূজোপকরণং অঙ্গীভূতং বা কৃত্বা ইত্যর্থ) সঃ পুরুষ বিদ্যুতে ইতি শেষ; ‘যৎ (যৎ, তৎ অনুধ্যাত্ব ইত্যর্থ: ) যজ্ঞং’ (সৎকর্ম) তন্বনাঃ (কুর্বাণা) ‘দেবাঃ (দেবগণ, তস্য পুরুষ বিভুতঃ ইত্যর্থ) পুরুষং পণ্ড (অন্তষ্টারং তং ভগবন্তং) অবন’ (হদি বস্তি, যাতস্মিন পুরুষে সংলীয়ন্তে ইত্যর্থঃ )। অয়ং ভাব-পরমপুরুষ প্রভাব পূজাইতাং চ অনুধ্যাত্বা সত্তভাবাপন্নাঃ জনা ভগবত অনুসারিণঃ অনুগামিনঃ চ ভবন্তি ইতি মর্মার্থ। ১৫। বানুবাদ। সেই পুরুষের প্রভাব-সমূহ সূৰ্য্যাদি সপ্তলােকের সীমা-নির্দেশক হই। অর্থাৎ সেই লােকসমূহকে আপনার অন্তর্ভুক্ত করিয়া বিদ্যমান আছে। অপিচ, ত্রিকালকে ও সগুলােকে আপনার পূজোপকরণ বা অঙ্গীভূত করিয়া, সেই পুরুষ বিদ্যমান আছেন। তাহা অনুধাবন করিয়া, সৎকর্মকারী দেবগণ অর্থাৎ সেই পুরুষের বিভূতিসমূহ, অন্তষ্টা ভগবানকে হৃদয়ে বাঁধিয়া রাখেন অথবা সেই পুরুষে সম্যকরূপে লীন হয়েন। (ভাব এই যে-পরমপুরুষের প্রভাবের ও পূজাৰ্হতার বিষয় অনুধ্যান করিয়া, সাবাপন্ন জনগণ ভগবানের অনুসারী ও অনুগামী হয়েন)। ১৫।
জ্ঞানবেদ। যজ্ঞেন যজ্ঞমযজন্ত দেবস্তানি ধৰ্ম্মাণি প্রথমান্যাস। তে হ নাকং মহিমানঃ সচন্ত যত্ৰ পূৰ্বে সাধ্যাঃ সন্তি দেবাঃ ॥ ১৬ } মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘দেবা (দেবগণ, ভগবদ্বিভূতয়ঃ) যনে’ (সৎকৰ্ম্মণ। যজ্ঞং (সৎকৰ্ম্ম-সৃষ্টি- প্রবাহরূপং ইতি যাবৎ, যদ্ধা-সৃষ্টিরূপেণ বিদ্যমানং বিরাটপুরুষং) অজন্ত’ (পূজয়ন্ত, তস্য ইচ্ছায়া অনুসরণ কুন্তি ইত্যর্থঃ); তৎকৰ্ম্মণঃ ‘তানি’ ( প্রসিদ্ধানি) প্রথমানি (মুখ্যভূতানি) ধৰ্ম্মাণি (জগজপবিকারাণাং ধারকানি ইমানি বিশ্বানি ইত্যৰ্থঃ) আসন (ব, উৎপাদিতবন্ত ); কৰ্ম্মণা কৰ্ম্মফলরূপা সৃষ্টি প্রবাহ সংসাধিতা ভবন্তু ইত্যর্থ ‘ঘ’ ( যস্মিন কণি) পূৰ্বে (নিত্যকালং) সাধ্যা’ (সাধাঃ, সাধনপরায়ণাঃ) দেবার ( ভগবতিয়ঃ) সন্তি’ (বিদ্যন্তে ), তস্মিন কৰ্ম্মণি মহিমান (মহাত্মনঃ, সভাবান্বিতাঃ) তে (দেবাঃ, ভগবদ্বিভূতরঃ ইত্যর্থঃ) ‘সচন্ত’ (সেবন্তে, বিলীয়ন্তে ইত্যর্থঃ )। যম্মাৎ দেবা সবাঃ বা সঞ্জাতাঃ বভূঃ, তস্মিন্ সম্মিলনায় এব তেষাং প্রচেষ্টা বিদ্যতে ইতি ভাবঃ ॥ ১৬ | • বঙ্গানুবাদ। দেবগণ অর্থাৎ ভগবদ্বিভূতিসমূহ, সৎকর্মের দ্বারা সৃষ্টিপ্রবাহরূপ সৎকর্মকে অথবা সৃষ্টিরূপে বিরাজমান বিটু পুরুষকে পুজা করিয়াছিলেন, অর্থাৎ অনুসরণ করেন। সেই কৰ্ম্ম হইতে প্রসিদ্ধ মুখ্যভূত জগজলবিকারসমূহের ধারক এই বিশ্ব উৎপন্ন হইয়াছিল ; অর্থাৎ, কর্মের দ্বারাই কৰ্ম্মফলরূপ সৃষ্টি প্রবাহ সংসাধিত হইয়াছিল। যে কর্মে নিত্যকাল সাধনপরায়ণ দেবগণ বা ভগবদ্বিভূতিসমূহ বিদ্যমান থাকেন, সেই কর্মে সভাবান্বিত দেবগণ বা ভগবদ্বিভূতি- সমূহ নিত্য বিলয়প্রাপ্ত হয়েন। ( ডাব এই যে,যাহা হইতে দেবগণ বা সত্বাবসমূহ উৎপন্ন হন, তাহাতে সন্মিলনের জন্যই তাঁহাদের প্রচেষ্টা থাকে।)। ১৬। এই পুরুষ-সুক্ত সম্বন্ধে বক্তব্য। সৃষ্টি-ক্রিয়া যেমন প্রহেলিকাময়, মন্ত্ৰাৰ্থও সেইরূপ প্রহেলিকায় পরিপূর্ণ। কত দিক হইতে কত ভাবে মন্ত্ৰার্থ নিষ্কর্ষ হইতে পারে, তাহা প্রদর্শন কবির ক্ষেত্র ইহা নহে। এখানে বক্তব্য এই যে,ভাবার্থ মাত্র অনুসরণ করিয়া শ্রদ্ধাবান্ ব্যক্তি মন্ত্রজপে প্রবৃত্ত হইবেন। সেই ভাবার্থ উপলব্ধির পক্ষে স্কুলভাবে মন্ত্রের একটী অর্থ প্রকাশের চেষ্টা করিলাম।
জ্ঞনবেদ। যজুৰ্বেদীয় পুরুষ-সূক্ত। ঋগ্বেদীয় পুরুষ-সুক্তের পূর্বোক্ত যােলটী মন্ত্রের (এই খণ্ড জ্ঞানবেদের ৮৯ম পৃষ্ঠা হইতে ১••ম পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য) সঙ্গে সঙ্গে যজুর্বেদীয় পুরুষ-সুক্তে (যজুৰ্বেদ-সংহিতা, ৩১শ অধ্যায়, ২২শ কণ্ডিকা) অতিরিক্ত আরও ছয়টী মন্ত্র পঠিত হয়। সেই ছয়টী মন্ত্র পর পর প্রকাশিত হইল, । অভ্যঃ সংভৃতঃ পৃথিব্যৈ রসাচ্চ বিশ্বকৰ্ম্মণঃ সমবৰ্ততাগ্রে। তস্য ত্বষ্টা বিদধজপমেতি তন্মর্ভস্য দেবত্বমাজানমগ্রে । ১৭। তখ বেদাহমেতং পুরুষং মহামাদিত্যবর্ণং তমসঃ পরস্তাৎ। তমেব বিদিত্বাতি মৃত্যুমেতি নন্যঃ পন্থা বিদ্যতেহয়নায়। ১৮। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘অভ্যঃ (কারণবারিণঃ) সতঃ (উৎপন্নায়ৈ) পৃথিবৈ' (ভূমেঃ, জগক্সিখিত্তায়, লােষ্ট্যর্থং ) বিশ্বকৰ্ম্মণঃ (সৃষ্টিকর্তৃঃ) রসাৎ’ ( অমৃতাৎ, মনস, যদ্ধা-তদীয় মননক্রমেণ ইতি ভাবঃ) অগ্রে’ ( আদৌ ) ‘চ’ (সৃষ্টিপ্রক্রিয়া ইতি ভাবঃ) সমবত’ (আরবান); ‘তস্য’ (বিশ্বকৰ্ম্মণঃ মনসা উৎপন্ন। ত্বষ্টা (ত্রাণকর্তা, নির্মাতা বা) রূপং (কাৰ্যসাধনােপ- যােগিনী মূর্তি) “বিদধাৎ (প্রাপ্ত); 'তৎ' (তৎ স দৃষ্টা) ‘ম’ ( মরণশীল প্রাণিনঃ) আজান (জন্মঃ) অগ্রে’ (প্রাক্) দেবত্বং (দেবগুণং) এতি’ (গচ্ছতি, প্রাপ্নোতি ইত্যর্থ)। অয়ং ভাবঃ-সৃষ্টিসাধনার্থং প্রাগেব ত্বষ্ট দেবঃ সম্বভুব। ১৭। বঙ্গানুবাদ। কারণবারি হইতে উৎপন্ন ভূমির বা জগতের নিমিত্ত অর্থাৎ লােকষ্টির জন্য বিখ্যার মানসরূপ অমৃত হইতে অর্থাৎ তাহার মননক্রমে, প্রথমে সৃষ্টি-প্রক্রিয়া আরম্ভ হয়। সেই বিশ্বকৰ্মার মানস হইতে উৎপন্ন ত্ৰাণকৰ্ত্তা বিশ্বনির্মাতা ত্বষ্টা, কাৰ্যসাধনােপযােগী মূর্তি প্রাপ্ত হন; এবং সেই সৃষ্ট। মরণশীল প্রাণিগণের জন্মের পূর্বেই দেবত্ব প্রাপ্ত হন। (ভাব এ যে-সৃষ্টিকার্যের জন্য প্রথমে ত্বষ্টা-দেবতার উৎপত্তি হইয়াছিল।)। ১৭। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘অহং (আত্মজ্ঞানসম্পন্নঃ জনঃ) এতং’ (সৃষ্টে কারণভূত) মহান্ত (মহিমান্বিত, সর্বৈঃ বরণীয়ং ইত্যর্থঃ) পুরুষং (পরমেশ্বরং ) বেগ’ (জানাতি ); আদিত্যবর্ণ (পাশ ১০২ জ্ঞানবে। প্রজাপতিরতি গর্ভে অন্তরজায়মাননা বহুধা বিজায়তে। স্য যােনিং পরিপশ্যন্তি ধীরাস্তস্মিন হ তস্তুভুবনানি বিশ্বা। ১৯। জ্যোতির্ময় জ্ঞানাগার) তমসঃ (অজ্ঞানান্ধকারস্য, অবিদ্যাদেঃ) পরস্তাৎ (অতীতঃ ) ভবতি ইতি শেষ। ভাব-জানিন ত পশ্যন্তি ন চ জ্ঞানহীনা। তমেব (একমেব ত্ব) বিবি (জ্ঞাত্ব) অতিমৃত্যু এতি’ মৃত্যুং অতিক্ৰামতি, পরং ব্রহ্মাণং প্রাগ্নোতি); 'আয়নায় (মোক্ষার্থ, মুক্তিলাভায়—এতদ্ব্যতীতং ইত্যর্থ) অন্যঃ (স্বতন্ত্র) পন্থ (মার্গঃ ) ন বিদ্যতে' (দ্বিতীয়ঃ ন অতি)। ব্ৰহ্মজ্ঞানং বিনা কদাচ মুক্তি ন অধিগম্যতে—ইতি ভাব ॥ ১৮। বঙ্গানুবাদ। আত্মজ্ঞানসম্পন্ন জন, সৃষ্টির কারণভূত সকলের বরণীয় (মহিমান্বিত) পরমেশ্বরকে পানিতে পারেন। পরমজ্যোতির্ময় জ্ঞানা ধার, অজ্ঞানন্ধকারের বা অবিদ্যার অতীত হয়েন; (ভাবার্থ-জানিগণ তাহাকে দেখিতে পান। কিন্তু জ্ঞানহীনেরা তাহাতে সমর্থ হয় না)। একমাত্র তাহাকেই অবগত হইয়া জ্ঞানিগণ মৃত্যুকে অতিক্রম করেন, অর্থাৎ পরব্রহ্ম প্রাপ্ত হন। মুক্তিলাভের নিমিত্ত এতদতিরিক্ত অন্য পন্থা আর দ্বিতীয় কিছুই নাই। (জব এই যে-ব্রহ্মজ্ঞান ভিন্ন কখনই মুক্তি অধিগত হয় না।)। ১৮ | মর্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘প্রজাপতি (সৰ্বাত্মা ভগবা) অ' ( আত্মস্থ ইত্যর্থ) অজামানঃ (অনুৎপমানঃ নিত্য ) ‘গর্ভে (গর্ভমধ্যে) চরতি ( বিশতি, পরিভ্ৰামতি ); অপিচ, বহুধা (বহুরূপেণ, প্রপঞ্চরূপেণ ইত্যর্থ) বিজায়তে ( উৎপঙ্কতে); ‘বীরা (ব্রহ্মবিদাঃ) তঙ্গ (প্রজাপতেঃ ) 'যযানিং (স্থান, স্বরূপং ইত্যর্থ) পরিপশ্যতি (আনন্তি); “বিখানি (সৰ্বাণি ভুনানি ভূতজাতানি এব) তস্মিন হ’ ( তম্মিন্নেৰ কারণাত্মনি ব্রহ্মণি) - তিনি ভবন্তি ইতি শেষ)। সর্বঃ এব ভগবতঃ আত্মভুতঃ ইতি ভাবঃ । ১৯। বহুবাদ। সৰ্বাত্মা ভগবান্ প্রজাপতি আত্ম এবং অনুৎপমান অর্থাৎ নিত্য হইয়াও, গর্ভ-মধ্যে পরিভ্রমণ করেন, এবং বহুরূপে অর্থাৎ প্রপঞ্চরূপে উৎপন্ন হন। ব্রহ্মবিদগণ সেই ভগবানের রূপ নিতে পারেন। বিগভুবন অর্থাৎ ভূতজাত সকলই সেই কারণাত্মা বক্ষে অবস্থিত আছে। (ভাব এই যে-সকলই ভগবানের আত্মভুত)। ১৯।
নবেদ। যাে দেবেনভ্যা আতপতি যাে দেবানাং পুরােহিত। পূৰ্ব্বো যাে দেবেভত্যা জাতো নমাে রুচায় ব্রাহ্ময়ে। ২। রুচং ব্রাহ্মং জনয়ন্তো দেবা অগ্রে তদব। . যস্তুৈবং ব্রাহ্মণণা বিদ্যাস্ত দেবা অসম্বশে। ২১। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘যঃ প্রজাপতি ভগবান) দেবেভ্য' (দেবানাং দেবানাং বা মধ্যে ইত্যর্থ। ‘আতপতি (ছােততে, ষাদে দ্যোতয়তি প্রকাশয়তি ইত্যর্থ), অপিচ ‘যঃ (ভগবা) ‘দেবানাং (দেবত্বসম্পন্নানাং) পুরােহিতঃ (সর্বকাৰ্য্যেষু পুরতঃ বর্তমান, নায়ক ইত্যর্থ), তথা ‘যঃ (ভগবা) দেবেভ্যঃ (দেবতানাং মধ্যে, দীপ্তিদানাদিগুণেষু বা প্রথমপ্রকাশমানঃ ভবতি), রুচায় (দীপ্যমানায়) ব্রাহ্ময়ে, (ব্রহ্মাবয়বভূতায়) তস্মৈ’ (ভগবতে) নমঃ (নমন্ধু, সর্বতােভাবেন তং অনুসরণং কুরু ইত্যর্থ ২০। বঙ্গানুবাদ। যে প্রজাপতি ভগবান্ দেবগণের বা দেবভাবসমূহের মধ্যে দীপ্তিমান হয়ে অথবা দেব- গণকে প্রকাশিত করেন; অপিচ, যে ভগবান দেবগণের (দেবত্বসম্পন্নগণের) সকল কাৰ্য্যের পুরােভাগে বর্তমান অর্থাৎ নায়ক হয়েন ; আর, যে ভগবান্ দেবগণের মধ্যে (দীপ্তিদানাদি গুণ-সমূহের মধ্যে প্রথম প্রকাশমান আছেন; দীপ্যমান ব্ৰহ্মাবয়বভূত সেই ভগবানকে নমস্কার কর অর্থাৎ তাঁহার অনুসরণ কর। ২। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘চং (জ্যোতির্ময়, দীপ্যমানং) ব্রাহ্মং (ব্ৰহ্মাবয়বভূত, ব্ৰহ্মণঃ উৎপন্নং জগৎ ইত্যর্থঃ) তৎ’ ( ইতি বাক্যং) জনয়ন্তঃ (উৎপাদয়, সৃষ্টিকারণভূতাঃ ইভ্যর্থঃ) দেবাঃ (দেবগণ, ভগবদ্বিভূত। অগ্রে’ (নিত্যকাল) অ ( উচু); ভগবদনুস্ত জ্ঞানং সৃষ্টিতত্ত্ব বিজ্ঞাপয়তি ইতি ভাব। হে ভগব। যঃ ব্রাহ্মণ (যঃ ব্ৰহ্মবিৎ) ‘া’ ( বাং) এবং ১৪ আনবেদ। শ্রীশ্চ তে লক্ষী পত্নারহােরাত্রে পার্শ্বে নক্ষত্রাণি রূপমশ্বিনৌ ব্যাত = ইষ্ণমিষাণামু ম ইষণ সৰ্বলােকং ম ইষাণ ২২। ( এবারং, স্বরূপে ইত্যর্থ) ‘বিদ্যাৎ (জানীয়াৎ ) ‘দেবা' (দেবগণা, ভগবতিয়ঃ ইত্যর্থ) ত (ব্রাহ্মণ) বশে আস (বশীভূতাঃ ভবন্তি)। সৎকৰ্ম্মাদিনা সহ বিৎ জগৎপূঃ ভবতি মোক্ষং চ প্রাপ্নোতি ইতি ভাব। ২১। বঙ্গানুবাদ। জ্যোতির্ময় দীপ্যমান্ ব্ৰহ্মাবয়বভূত ব্ৰহ্ম হইতে জগতের উৎপত্তি-এই বাক্য, সৃষ্টি কারণভূত দেবগণ অর্থাৎ দেববিভূতি-সমূহ নিত্যকাল ব্যক্ত করেন। (ভাব এই যে, ভগবদস্ত জ্ঞানই সৃষ্টিতত্ত্ব বিজ্ঞাপিত করে)। হে ভগব। যে ব্ৰহ্মবিৎ আপনাকে এবার অর্থাৎ স্বরূপে অবগত হয়েন, দেবগণ বা দেববিভূতিসমূহ তঁাহার বশীভূত হন। (ভাব এই ৰে, সৎকর্মাদির দ্বারাই ব্ৰহ্মবিৎ জগৎপুজ হয়েন এবং মােক্ষ লাভ করেন)। ২১। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। হে ভগবন। শ্রীশ্চ লক্ষ্মী’ ( সম্পৎ-সৌন্দৰ্য-রূপিণ্যেী বে) তে (তব) পদে (অীভূতে জায়ে) বিগ্নেতে ইতি যাবৎ। ‘চ’ (তথা) আহােরাত্রে’ (দিবানিশে) পাশে (পার্শ্বস্থানীয়ে স্থঃ) ভবতঃ উভে পার্শ্বে বিদ্যেতে ইতি ভাব; নক্ষত্রাণি (গগনগাঃ তারাঃ) তব রূপং (মহিমা-প্রকাশিকা) ভবন্তি ইতি শেষঃ। অপিচ ‘অশ্বিনৌ’ (দ্যাপৃথিবৌ, দ্যুলােকভূলােকে) তব ব্যাং ( মুখস্থানীয়ে) বিদ্যেতে ইত্যর্থ। হে ভগব। ত্বং ইষ্ণন (ত্বা ইচ্ছ, ত্বাং প্রাপ্ত মিচ্ছতঃ ইত্যৰ্থঃ) ‘ম’ (মম) অমুং (পরলােকেইপি) “ইষাণ’ (ঈশ্বর, পালকঃ ভব ইতি শেষ)। হে ‘ইষাণ’ (হে পরমৈশ্বৰ্যসম্পন্ন। ‘ম’ (মম) অবলােকং ( সর্বাবস্থায় ইতি ভাষ) ইষাণ’ (পালকঃ) অব ইতাৰ্থঃ ॥২২। বঙ্গানুবাদ। হে ভগব। সম্পৎ এবং সৌন্দৰ্য্য আপনার অঙ্গীভূত আছে; এবং দিবানিশি আপনার পার্শ্বস্থানীয় হয় অর্থাৎ আপনার উভয় পার্শ্বে বিদ্যমান। গগনচারী নক্ষত্ৰ-সমুহ আপনার রূপ বা মহিপ্রকাশক। আরও, দ্যাবাপৃথিবী দুলােকভূলােক আপনার মুখস্থানীয়। হে গবন। আপনি আপনার প্রাপ্তকামী আমার পরলােকের ঈশ্বর বা পালক হউন। হে পরমৈৰ্যসম্পন্ন। আপনি আমার সর্বাবস্থায় পালক ও রক্ষক হউন । ২২।
১০৫ নবেদ। অথৰ্ব্ববেদীয় পুরুষ-সূক্ত। অথর্ববেদ-সংহিতার উনবিংশ কাণ্ডের ষষ্ঠ সূক্তে একটা পুরুষ-সূক্ত আছে। সেই পুরুষ-সূক্তটী ঋগ্বেদীয় পুরুষ-সূক্তের সহিত সাদৃশ্যসম্পন্ন। ঋগ্বেদীয় পুরুষ-সূক্তের ষােলটী মন্ত্রের ন্যায় উহাতেও যােলটী মন্ত্র আছে। উভয়ত্র পাঠ প্রায় অভিন্ন। মধ্যে মধ্যে সামান্য পাঠ-ব্যত্যয় দৃষ্ট হয়। যেমন ঋগ্বেদীয় পুরুষ-সূক্তের প্রথম মন্ত্রের ‘সহস্ৰশীর্ষা স্থলে অথর্ববেদে ‘সহস্রবাহুঃ পাঠ দৃষ্ট হয় । ইত্যাদি। কিন্তু অথৰ্ব্ববেদীয় পুরুষ-সূক্ত বলিয়া আরও তেত্রিশট মন্ত্র প্রচলিত আছে। ঋগ্বেদীয়, সামবেদীয় ও যজুৰ্বেদীয় পুরুষ-সূক্ত হইতে অথৰ্ব্ববেদীয় সেই পুরুষ-সূত সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। উহার প্রথম কয়েকটা মন্ত্রে সেই পুরুষ- সূক্তে মানুষরূপে কল্পনা করা হইয়াছে। তাহার পদতল হইতে আরম্ভ করিয়া অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরিচয় সেখানে পরিদৃষ্ট হয়। সেই পরিচয়ে ভগবানের মহিমার কথা স্মরণ করাইয়া দেয়। মন্ত্রের প্রথমেই আছে,-কে পাষ্ণী আভৃত পুরুষস্য ? অথাৎ, কে সেই পুরুষের বা মানুষের ‘পাষ্ণী’ (গােড়ালির নিম্নভাগ) সৃষ্টি করিয়া- ছিলেন ? এই একটা প্রশ্নেই ভগবানের মহিমার প্রতি দৃষ্টি পড়ে। পদতলের পাষ্ণি একজনের নয়, অসংখ্য মনুষ্যের। কেবল মনুষেরই বা বলি কেন, অনন্ত কোটী প্রাণীর মধ্যে তিনি ন্যস্ত রাখিয়াছেন। তাহার এ মহিমার কি তুলনা আছে ? এইরূপ, মন্ত্রের প্রথম চরণে আছে,-“কেন মাংসং সম্ভতং কেন গুলফৌ।” এমন মহিমান্বিত সে কে তিনি, যিনি পুরুষের বা প্রাণীর দেহে মাংসের ও গুল্ফদ্বয়ের সমাবেশ করিয়াছেন। এইরূপ, প্রতি মন্ত্রের প্রতি উক্তিতেই সেই তাহারই প্রতি দৃষ্টি আসে—যিনি স্রষ্টা, যিনি প্রতি অঙ্গ- প্রত্যঙ্গের নির্মাতা,—জগতের প্রত্যেক বস্তু যাঁহার ইচ্ছায় সঞ্জাত হইয়াছে। এই ভাব মনে পোষণ করার সঙ্গে সঙ্গে তাহার অনুস্মরণ করা আবশ্যক। মন্ত্রার্থে এই তত্ত্ব অধিগত হয়। আমরা প্রথমে সেই তেত্রিশটী মন্ত্র ও তাহার ভাবার্থ প্রকাশ করিতেছি। পরিশেষে প্রথমোক্ত পুরুষ-পূক্তও যাহা ঋখেদাদির সহিত সাদৃশ্য-সম্পন্ন, তাহাও প্রকটন করিব। নিবেদ ৩খণ্ড ১৪
১০৬
জানবে।
।
কেন পাঞ্চী আভৃতে পুরুষ কেন মাংসং সম্ভতং কেন গুলফে।
কেনাঙ্গুলীঃ পপশনীঃ কেন খানি কেনােচ্ছুদ্ধে মধ্যতঃ ক প্রতিষ্ঠা ॥১॥
কস্মার
গুলফাবধরাবকৃথষ্ঠীবন্তাবুত্তরে
পুরুষ।
s
জজ্জে নিঋত্য ন্যদধুঃ ক স্বিজ্ঞানুনো সন্ধী ক উ তচ্চিকেত। ২।
চতুষ্টয়ং যুজ্যতে সংহিতান্তং জানুভ্যামুগ্ধং শিথিরং কবন্ধ।
শ্রোণী যদুরূ ক উ তজ্জজান যাভ্যাং কুসিন্ধং সুদৃঢ়ং বভূব। ৩।
কাহার দ্বারা সেই পুরুষের পার্ষীয় (গোড়ালিয় নিম্নাংশ) বিস্তৃত হইয়াছে। কাহার
দ্বারা মাংস এবং কাহার দ্বারা গুলফয় (গােড়ালি) যথা-বিন্যস্ত আছে। কাহার দ্বারা অঙ্গুলী
সমূহ, কাহার দ্বারা ‘পেশনী (মাংস ও মাংসপিণ্ডপেশীসমূহ), কাহার দ্বারা খানি
(লটাস্থি) নিৰ্ম্মিত হইয়াছে? কেই বা উচ্ছ-দ্বয়কে (গলদেশের পার্শয়কে)
‘মধ্যত’ (মশুকের এবং দেহের মধ্যস্থলে অবশ্য কানুরূপ) প্রতিষ্ঠিত রাখিয়াছেন ?
পুরুষের পদতলের গুলফয়, তাহার অধরয়, তাহার পায়ের উপরিভাগস্থ আনুসংলগ্ন
অস্থিসমুহ কোথা হইতে উৎপন্ন হইল? জঘদ্বয়কে ( গুলফ হইতে আনু পর্যন্ত অংশ)
কে সঞ্চরণশীল করিয়া নিৰ্মাণ করিল? কেই বা জানুদ্বয়ের সন্ধিয়কে সঞ্চলন-উপযােগ
করিয়া নিৰ্মাণ করিল কেই বা তাহা অবগত আছেন। ২।
জানুসহ সংগ্রথিত অস্থিসমুহের চতুর্বিধ গ্রন্থি বা বন্ধন এবং জামুয়ের উপরিভাগস্থিত
উদরকে কে যােজনা করিয়াছে। শ্রোণি ( কটিদেশ) ও উরুদ্বয়কে কে যথাবিন্যস্ত
রাখিয়াছে- যাহার দ্বারা কুসিন্ধ ( ধড়, দেহ) দৃঢ়রূপে বিধৃত হইয়া আছে ॥ ৩॥
জ্ঞানবেদ। ১৯৭ কতি দেবার কতমে ত আসন য উরাে গ্রাবাশ্চিকুঃ পুরুষ। = কতি স্তনে ব্যদধুঃ কঃ কফোডো কতি স্কন্ধান কতি পৃষ্টিরচিম্ব। ৪। কে। অন্য বাহু সমভরদ বীৰ্যং করবাদিতি। অংসৌ কো অস্য তদ দেবঃ কুসিন্ধে অধ্যা দুধে। ৫। কঃ সপ্ত খানি বি তত শীর্ষণ কর্ণাবিমৌ নাসিকে চক্ষণী মুখ। যেষাং পুরুত্ৰা বিজয়স্য মহ্মনি চতুষ্পাদো দ্বিপাদো যন্তি যাম । ৬। কিরূপে কত দেবগণ ঐ পুরুষের গ্রীবা (গলদেশ) এবং ‘উঃ (বক্ষস্থল) সংগ্রথিত করিয়াছেন? কে তাহার স্তনদ্বয় ন্যস্ত রাখিয়াছেন ? কে তাহার কফোড’ (কনুইন্বয়) নির্মাণ করিয়াছেন। কেই বা তাহার পঞ্জরাস্থিসমুহ ও স্কনদেশ সংযােজিত করিয়াছেন ? ৪। কে তার বাহুদ্বয়কে বিন্যস্ত করিয়াছেন, এবং তাহাদিগকে মনুষত্ব প্রদর্শনের বিষয় বলিয়া দিয়াছেন? কে তিনি, কোন দেবতা তিনি—যিনি অংসায়কে (দুই স্কন্ধের অঙ্গুলি- পরিমিত স্নায়বিশিষ্ট স্থান) কুসিন্ধের (জীবদেহের কাণ্ড বা বড়) উপর স্থাপন করিয়াছেন ? মন্তকের সপ্ত অস্থিকে কে বিন্যস্ত রাখিয়াছেন? কর্ণদ্বয়, নাসিকায়, চক্ষু এবং মুখমণ্ডল প্রভৃতিই বা কে নির্মাণ করিয়াছেন? কাহার অসাধারণ শক্তিতে বিপদ এবং চতুষ্পদ প্রাণিগণের চলচ্ছক্তি বিহিত হইয়াছে ? ৬।
sobi
জ্ঞানবেদ।
হম্বােহি জিহবামদাৎ
পুরূচীমধা
মহীমধি শিশ্ৰায় বাচম্।
স আবরীবর্তি ভুবনেশ্বরপাে বসনঃ ক উ তচ্চিকেত। ৭
মস্তিষ্কমস্য যতমম ললাটং ককাটিকাং
প্রথমাে যঃ কপাল
চিত্বা চিত্য হন্যেঃ পুরুষশ্য দিবং রুনােহ কতমঃ স দেবঃ ॥ ৮
*
প্রিয়াপ্রিয়াণি বহুলা
স্বপ্নং সম্বাধতঃ ।
আনন্দানুগো নন্দাংশ্চ কম্মা বহতি পুরুষঃ ॥ ৯।
কে তিনি—যিনি হনুদ্বয়ের { চোয়ালের) মধ্যভাগে সম্প্রসারণ-সঙ্কোচনশীল জিহ্বাকে
স্থাপন করিয়া তাহাতে বাকথন-শক্তি প্রদান করিয়াছেন ? কে তিনি, যিনি আদ্রতায়
সিক্ত রাখিয়া (জীবদেহে রক্ত সঞ্চারণ করিয়া) জীবিত প্রাণীর মধ্যে ইতস্তত বিচরণ
করিতেছেন? কে তাহার এ মাহাত্ম্য অনুভব করিয়াছে ?।।
কে তিনি, যিনি সর্বপ্রথম মস্তক ও মস্তিষ্ক গঠন করিলেন? লালাট ও ললাটস্থিত,
‘ককটিকা (মস্তকের পশ্চাদ্ভাগের অস্থি) এবং কপাল প্রভৃতিই বা প্রথমে কে বিন্যস্ত
করেন। পুরুষের হনুদ্বয়কে রক্ষা করিবার উপায় যিনি করিয়াছিলেন, সে সেই দেবতা
যিনি নিত্যকার অর্থে অধিষ্ঠিত রহিয়াছেন।
।
সেই পুরুষ কোথা হইতে প্রিয় ও অপ্রিয় বস্তু সকল আনয়ন করিলেন? বিভিন্ন
প্রকারের বস্তু, নিদ্রা ভয় ক্লান্তি ভোগ এবং আনন্দ কোথা হইতে আসিল ?
আনবেদ। আৰ্ত্তিরবর্তিনিঋতিঃ কুততা ও পুরুষেমতি। রাদ্ধিঃ সমৃদ্ধিরবৃদ্ধিৰ্ম্মতিরুদিতয়ঃ কুতঃ ॥১॥ কো অস্মিন্নাপো ব্যদধা বিষবৃতঃ পুরূবৃতঃ সিন্ধুসৃত্যায় জাতাঃ। তীব্র অরুণা লােহিনীস্তাম্ৰধূম্র উধ্ব। অবাচীঃ পুরুষে তিরস্টাঃ ।১১। কো অস্মিন রূপমধা কো মহ্মানং চ নাম । अश्विन . গাতুং কো অস্মিন্ কঃ কেতুং কশ্চরিত্রাণি পুরুষে। ১২। কোথা হইতে সেই পুরুষের অভাব, অমঙ্গল, যন্ত্রণা ও দারিদ্র্য আসিল? কোথা হইতে সাফল্য, সমৃদ্ধি, ধনাঢ্যতা, চিন্তা এবং বাকশক্তি আসিল ॥১॥ কে তাহার মধ্যে বার প্রবাহ প্রবাহিত রাখিলেন—যাহা বিভিন্ন দিকে বিভিন্ন ভাবে প্রবাহিত হইয়া নদনদীর সৃষ্টি করিল? দ্রুতগমনশীল, রক্তবর্ণ, তাম্ৰৰণ, নীললােহিত সেই বন্যাপ্রবাহকে কে সেই পুরুষেয় অভ্যন্তরে তির্যকভাবে উধঃ সঞ্চালন করিল? ১১। কে তাহাকে দৃশ্যমান রূপ প্রদান করিল। কে তাহার আকৃতি দিল? কে তাহার আয়তন ও নাম প্ৰদান কৰিল? কে তাহাকে গতিশীল করিল? কেই বা তাহাকে সংজ গান করিল ? কে তাহাতে গতিশক্তিবিশিষ্ট পদ সংযােজিত করিল। ১২
১১
নবেদ।
।
কো অস্মিন প্রাণমবয়ৎ" কো অপিনং ব্যানমু
সমানমস্মিন কো দেবধি শিশ্রায় পুরুষে। ১৩।
কে অস্মিন্ যমদধাদেকো দেবােধি পুরুষে।
কো অম্মিৎসত্যং কোমৃতং কুততা মৃত্যুঃ কুততমৃতম্ ॥ ১৪
কো অস্মৈ বাসঃ পৰ্য্যদধাৎ কো অস্থায়ুরকল্পয়ৎ।
T
বলং কো অস্মৈ প্রাচ্ছৎ কো অস্যাকল্পয়জ্জব । ১৫।
ৰুে তাহায় অভ্যন্তরে জীবনীশক্তিবিশিষ্ট প্রণবায়ুর সঞ্চার করিয়া দিল; কেই বা তাহার
মধ্যে অপান (অথােগামী) এবং ব্যান (উগামী) বায়ুর সমাবেশ করিল। সেই
পুরুষকে কোন্ দেবতা ‘সমান বায়ুর দ্বারা সজীবিত করিলেন? ১৩।
কোন অখিদেবতা সেই পুরুষে যজ্ঞ বিন্যস্ত করিয়াছিলেন? কে তাঁহাকে সত্য
ও অনৃত শিক্ষা দিয়াছিলেন। মৃত্যু ও অমৃত (অমরত্ব) কোথা হইতে আসিল? ১৪।
কোঁয় বাস বিন্যস্ত করিয়াছিল। কাহার ঘনাই বা তাহার 'আয়ু (জীবিতকাল)
পরিকল্পিত হইয়াছিল। কে তাহাকে বল অর্থাৎ বাক্য প্রদান করিয়াছিলেন। কার
নাই । তিনি জব অর্থাৎ দ্রুত চলচ্ছক্তিসম্পন্ন হন।১৫।
জানবে। ১১১ কেনাপাে অন্বতনুত কেনাহরকরােদ, রুচে। উষসং কেনাদ্বৈদ্ধ কেন সায়ম্ভবং দদে। ১৬। কো অস্মিন রেতো ন্যদধাৎ তন্তুরা তায়তামিতি। মেধাং কো অস্মিন্নধ্যৌহৎ কো বাণং কে। নৃততা দধৌ। ১৭। কেনেমাং ভূমিমৌর্ণোৎ কেন পৰ্যভবদ দিব। মিমেণে পৰ্যৰ কেনাতি মহা পৰ্বতা কেন কৰ্ম্মাণি পুরুষঃ ॥ ১৮ ॥ কাহার দ্বারা অলরাশি বিস্তৃত হইয়াছে? কে তিনি, যিনি এই উজ্জ্বল আলােকপূর্ণ দিবসকে সৃষ্টি করিয়াছেন। কাহার দ্বারা উষা প্রকাশনা হন; আর কাহার বলা সায়ংকাল বা সন্ধ্যা সমাগত হয়েন।১৬ কে তাহাতে য়েত বা বীজ স্থাপন করিয়াছেন। কাহার দ্বারা জীবনের পুত্র গ্রথিত হইয়াছে? কে তাহাতে সেবা প্রদান করিয়াছেন। আর, কে তাঁহাকে বর এবং কে তাঁহাকে অসঞ্চালন-সামর্থ্য প্রদান করিয়াছেন ॥ ১৭। কাহার দ্বারা এই পৃথিবী সজ্জীকৃত হইয়াছে। কে স্বৰ্গকে সৃষ্টি করিয়াছেন ? শক্তিতে পুরুষ পৰ্বতাদি এবং সৃষ্টবস্তুসমূহ অতিক্রম করিয়া অবস্থিত আছেন। ১৮।
নবেদ। কেন পজ্জন্যমধেতি কেন সোমং বিচক্ষণম্। ਜੇ ਓਬਾਅਦ কেন যজ্ঞং চ শ্রদ্ধাং চ কেনাস্মিন নিহিতং মনঃ ॥ ১৯ কেন শ্রোত্রিয়মাপ্পেতি কেনেমং পরমে কেনেমমগিং পুরুষঃ কেন সম্বৎসরং মমে । ২০। ব্ৰহ্ম শ্ৰোত্ৰিয়মাগ্নেতি ব্রহ্মেমং পরমেণ্ঠিন ব্রহ্মেমমগিং পুরুষো ব্ৰহ্ম সম্বৎসরং মমে। ২১। কাহার দ্বারা পর্জন্ত সৃষ্ট হয় ? কাহার দ্বারাই বা ‘বিচক্ষণ’ সােম আবির্ভূত হন? কাহার যারা বয় ও শ্রদ্ধা সাত হয়? কেনই বা মন তাহাতে নিহিত হইয়াছে।১৯ কাহার দ্বারা শোব্রিয়ের অর্থাৎ জ্ঞানী ব্যক্তির সৃষ্টি হয় ? পরমেষ্টির অর্থাৎ ভগবানের প্রতিই বা কে তাহাকে আকর্ষণ করে। পুরুষ অগ্নিকে বা জ্ঞানদেবতাকে কাহার খান। প্রাপ্ত হয় । সৎসরকেই বা কে পরিমিত করে ? ২। একমাত্র ব্রহ্মই শ্রোত্রিয় বা জাণিগণকে প্রাপ্ত হন; ব্ৰহ্মই সেই পরমেঠি বা পরম বে। ব্ৰহ্ম হইতেই পুরুষ অগ্নিকে বা জ্ঞানদেবতাকে প্রাপ্ত হয় ; সংবৎসর কাল- বিগ ব্ৰহ্ম কর্তৃই সমাহিত হয়। ২।
জ্ঞানববদ।
১১৩
কেন দেব অনু ক্ষিতি কেন দৈবজনীর্বিশঃ।
কেনেদমন্যন্নক্ষত্ৰং কেন সৎ ক্ষত্ৰমুচ্যতে । ২২।
ব্ৰহ্ম দেব অনু
ক্ষিতি ব্রহ্ম
দৈবজনীৰ্বিশঃ।
ব্রহ্মেদমন্তন্নক্ষত্রং ব্রহ্ম
সৎ ক্ষত্ৰমুচ্যতে । ২৩।
কেনেয়ং ভূমিৰ্ব্বিহিত
ভূমিৰ্ব্বিহিতা কেন দৌরুত্তরা হিত।
কেনেদমুগ্ধং তির্যক চান্তরিক্ষং ব্যচে। হিত। ২৪
কাহার শক্তিবলে দেবগণ দেবলােকে মধ্যে বাস করিতে সমর্থ হন; কে ‘দৈবজনী ৰা
দেবগণকে সৃষ্টি করেন ? কাহাকেই বা অ-ক্ষত্র, আর কাহাকেই বা ক্ষত্র বলে ;
(অর্থাৎ কাহার প্রভাবেই বা অসৎ অ-ক্ষত্র বা বলহীন এবং কাহার প্রভাবেই বা
সৎ ‘ক্ষত্র অর্থাৎ শক্তি বলিয়া উক্ত হয়)। ২২।
ব্ৰহ্মই দেবগণের মধ্যে তাহাকে স্থাপন করেন। ব্ৰহ্মকর্তৃকই ‘দৈবজনী’র বা দেবগণের সৃষ্টি
হয়। ব্রহ্মের প্রভাবেই অসৎ ‘অক্ষত্র বা বলহীন এবং সৎ ‘ক্ষত্র অর্থাৎ শক্তিসম্পন্ন হন। ২৩।
কাহার দ্বারা এই বিশ্ব প্রতিষ্ঠিত এবং কাহার দ্বারাই বা দুলােক উন্নতদেশে অবস্থিত ?
কে অক্ষিকে উদ্ধে প্রতিষ্ঠিত করিয়া চতুর্দিকে বিশ্বোপরি বিস্তৃত রাখিয়াছেন ? ২৪
জানবেদ। ৩য় খণ্ড-১৫
১১৪
জানবে।
ব্ৰহ্মণ ভূমিব্বিহিত ব্ৰহ্ম দৌরুত্তরা হিতা।
ব্রহ্মেদমুগ্ধং তির্যক চান্তরিক্ষং ব্যচো হিত। ২৫।
•
মূৰ্ধানমস্ত সংসীব্যাথা হৃদয়ং
মস্তিষ্কাদূৰ্দ্ধঃ রৈয়ৎ
পবমানেধি শীর্ষতঃ। ২৬।
ਬਾਬੇਥਾਮ:
।
শিরে দেবকোশঃ সমুজিতঃ।
তদূ বা অথর্বণঃ
সমুজিতঃ
.
তৎ প্রাণাে অভি ক্ষতি শিরে অনুমথাে মনঃ। ২৭।
উদ্ধো নু সৃষ্টাস্তিৰ্য্যঙ, নু সৃষ্টতঃ সৰ্বা দিশঃ পুরুষ অ বভূবণ।
পুরঃ যে ব্ৰহ্মণে। বেদ যস্যাঃ পুরুষ উচ্যতে । ২৮
সেই ব্রহ্মের দ্বারাই এই পৃথিবী প্রতিষ্ঠিত ; ব্রহ্মই হ্রলােককে যথাস্থানে বিষ্ণু
রাখিয়াছেন। ব্রহ্মই অন্তৰিক্ষকে উদ্ধে প্রতিষ্ঠিত করিয়া বিশ্বেপনি বিস্তৃত রাখিয়াছেন। ২৫।
অথৰ্ব্ব তাহার মস্তক ও হৃদয়কে সংযােজিত করিয়া যথাবিত্যন্ত করিয়াছিলেন; এবং
পবমান তাহার মস্তক হইতে মস্তিষ্কের উর্দদেশে প্রেরিত হইয়াছিলেন। ২৬।
তাহাই প্রকৃতপক্ষে অথৰ্ব্বণের শিরোদেশ। তাহাকেই দৃঢ়সম্বদ্ধ দেবকোশ বলে। প্রাণ,
অয় এবং মন (প্রাণবায়ু, অপানবায়ু এবং সমনবায়ু) যথাক্রমে তাহাকে রক্ষা করে। ২৭।
সৃষ্টির উদ্ধে, সৃষ্টির সমান্তরালে, এবং সৃষ্টির সকল দিকে পুরুষ বিদ্যমান আছেন।
ব্ৰহ্মার যাহা পুর বা স্থান-যিনি তাহা অবগত আছেন, পুরুষ বলিয়াছেন,তিনিই তাহাকে
জানিতে পারেন। (অর্থাৎ, ব্রহ্মার পুর বা স্থান এবং পুরুষ অভিন্ন—ইহাই তাৎপৰ্য্যা)। ২৮।
আনবেদ।
যাে বৈ তাং ব্ৰহ্মণ বেদাতেনাবৃতাং পরম।
তস্মৈ ব্ৰহ্ম চ ব্রাহ্মাশ্চ চক্ষুঃ প্রাণং
প্রজাং দদুঃ ॥২৯।
ন বৈ তং চক্ষুজ্জহাতি ন প্রাণে জরসঃ পুর।
রং যে ব্ৰহ্মণাে বেদ যস্যাঃ পুরুষ উচ্যতে । ৩০।
অষ্টাচক্র নবদ্বারা দেবানাং পুরয়ােধ্য।
তস্যাং হিরণ্যয়ঃ কোশঃ স্বর্গো
জ্যোতিষাবৃতঃ ॥ ৩১।
তস্মিন
হিরণ্যয়ে কোশে রে ত্রিপ্রতিষ্ঠিত।
তস্মিন যদ যক্ষমাত্মম্বৎ তদ বৈ ব্ৰহ্মবিদো বিদুঃ || ৩২।
যিনি অমৃতত্বে আবৃত ব্রহ্মের পুরকে বা স্বানকে অবগত আছেন, ব্ৰহ্ম এবং ৰাহ্ম
তাঁহাকেই চক্ষু, প্রাণ এবং প্রজা প্রদান করেন। ২৯।
পুরুষ বলিয়াছেন—যিনি ব্রহ্মের পুর বা স্থান অবগত আছেন, বার্ধক্যের পূর্বে অর্থাৎ
অকালে তঁাহার দৃষ্টিহানি হয় না এবং প্রাণহানি ঘটে না। ৩০।
বেগণের সেই পুর দুর্ভেদ্য ও অজেয়, অষ্টচক্র-সমন্নিত ও নবদ্বারবিশিষ্ট। তাহার মধ্যে
উলালােন্বত রূপ হিরন্ময় কোশ বিদ্যমান আছে। ৩১।
তিনটায় বিশিষ্ট এবং ত্রিবিধ রক্ষণীর দ্বারা বিশ্বত সেই হিরন্ময় কোশে কোন প্রাণময়
সামগ্রী (বগ) অবস্থিত, ব্রহ্মবিদেরই তাহা অবগত আছেন। ৩২।
১১৬ জ্ঞানবেদ। প্ৰভ্ৰাজমানাং হরিণীং যশসা সংপরীক্বতাম্। । পুরং হিরণ্যয়ীং ব্রহ্মা বিবেশপরাজিতাম্।। ৩৩ সুর্যের ক্ষায় দীপ্যমান, দিব্যজ্যোতিসম্পন্ন, মুহামহিমন্বিত, দুর্জেয় সেই হিরন্ময় পুরে সেই অপরাজিত ব্ৰহ্ম প্রবেশ করিয়া আছেন। ৩৩। অথৰ্ব্ববেদীয় দ্বিতীয় পুরুষ-সূক্ত। অথৰ্ব্ববেদীয় দ্বিতীয় পুরুষ-সুক্তের বিষয় (উনবিংশ কাণ্ডের ষষ্ঠ সুক্তের পুরুষ সুক্তের বিষয়) পূৰ্বে (১৫ পৃষ্ঠায়) উল্লেখ করা হইয়াছে। এখানে সেই পুরুষ-সূক্ত প্রকটিত হইল; যথা- * | ওঁ। সহবাহুঃ পুরুষঃ সহস্রাক্ষঃ সহস্রপাৎ। স ভূমিং বিশ্বতো বৃত্বাত্যতিষ্ঠদ দশাঙ্গুলম্ ॥১॥ ত্রিভিঃ পদ্ভিৰ্দ্যামারােহৎ পাদস্যেহাভবৎ পুনঃ। তথা ব্যক্ৰামদ বিম্বশনানশনে বিম্বশনানশনে অনু॥ ২॥ তাবন্তে অস্ত মহিমনস্ততো জ্যায়াংশ্চ পুরুষ। পদোস্ত বিশ্ব ভূতানি ত্রিপাদস্তামৃতং দিবি । ৩।
নিবেদ।
পুরুষঃ এবেদং সর্বং যদূ ভূতং যচ্চ ভাব্য।
উমৃতত্বশ্বেরে যদনােভবৎ সহ । ৪।
যৎ পুরুষং ব্যদধু
কতিধা
ব্যকল্পয়ন।
মুখং কিমস্য কিং বাহু কিমূরূ পাদা উচ্যেতে।৫
1
ব্রাহ্মণোহ মুখমাসীদবাহু রাজন্যোহভবৎ।
মধ্যং তদস্য য বৈশ্যঃ পদ্ভ্যাং শূদ্রো অজায়ত। ৬ ॥
চন্দ্ৰমা মনসাে জাতশ্চক্ষোঃ সূৰ্যো অজয়ত।
মুখাদিসুশ্চাগ্নি প্রাণাৎ বায়ুরজায়ত ॥৭॥
'।
নাভ্যা আসীদন্তরিক্ষং শীষ্ণে। দ্যৌঃ সমবৰ্তত।
প্যাং ভূমিদ্দিশঃ শ্রোত্ৰাৎ তথা লােক। অকল্পয়ন্॥ ৮
বিরডিগ্রে সমভবৎ বিরাজো অধি পুরুষ।
স জাতে অত্যরিচ্যতে পশ্চাদ ভুমিমথে পুরঃ ॥৯॥
১১ আনবেদ। যৎ পুরুষেণ হবিষা দেবা যজ্ঞমতত। বসন্তে অস্যাসীদাজ্যং গ্রন্সি ইন্মঃ শরদ্ধবিঃ ॥১॥ তং যজ্ঞ প্রাবৃষ প্রেক্ষন পুরুষং জাতমগ্ৰতঃ। তেন দেবা অজন্ত সাধ্যা বসবশ্চ যে ১১। তদখা অজায়ন্ত যে চ কে চোভয়াদত। গাবে হ জভিতরে তম্মাৎ তম্মাজ্জাত অজ্যাবয়ঃ। ১২। তস্মাৎ যজ্ঞৎ সর্বহুত ঋচঃ সামানি জজ্ঞিরে। ছন্দে। হ জজ্ঞিরে তস্মাদ যজুস্তম্মাদজায়ত ॥১৩। । তস্মাদ যজ্ঞাৎ সর্বহুতঃ সম্ভতং পৃষদাজ্য। পস্তাংশ্চক্রে বায়ব্যানারণ্যা গ্রাম্যাশ্চ যে। ১৪। সপ্তাস্যাসন পরিধয়ঞ্জিঃ সপ্ত সমিধঃ কৃতা। দে য যজ্ঞং তানা অবধুন পুরুষং পশু। ১৫। অবন আনবেদ। মূর্গো দেবস্য বৃহত বৃহতত অংশবঃ সপ্ত সপ্ততঃ। রাজ্ঞঃ সােমস্যাজায়ন্ত জাতস্য পুরুষাদধি ॥ ১৬। অথৰ্ব্ববেদীয় পুরুষ-সূক্ত সম্বন্ধে বক্তব্য। অথর্ববেদীয় দ্বিতীয় পুরুষ-সূক্তটা, যাহা অব্যবহিত পূৰ্বেই প্রদত্ত হইল, খগ্নেণীয় পুরুষ সুক্তের সহিত প্রায় সর্বাংশেই অভিন্ন। উহার স্থানে স্থানে কি পাঠান্তর আছে, বিবিধ পুরুমুক্ত মিলাইয়া দেখিলেই তাহা বােধগম্য হইবে। মন্ত্রের ক্রম-পৰ্য্যায়েও কিছু কিছু ব্যতিক্রম আছে। ঋগ্বেদের পুরুষ-সুক্তে যে মন্ত্রী দ্বিতীয়, অথর্ববেদের পুরুষ-সুক্তে তা চতুর্থ স্থান অধিকার করিয়াছে। আরও, ঋগ্বেদের “ত্রিপাদূদ্ধং উদৈৎ” পাঠ স্থলে অথৰ্ব্ববেদে ত্রিতি পঙিমারােহৎ” পাঠ পরিদৃষ্ট হয়। এইরূপ আর আর যে পাঠান্তর ও কমান্ত আছে, সহজ-দৃষ্টিতেই তাহা লক্ষিত হইবে অথৰ্ব্ববেদীয় পুরুষ-সুক্তের স্বতন্ত্র অর্থ প্রকাশের আবশ্যক নাই। ঋগ্বেদীয় পুরুষক্তের যে অর্থ প্রকাশিত হইয়াছে, তাহার অনুসরণ করিলেই অর্থাৎ সে অর্থ সে ভাব বােধগম্য হইলেই অথর্ববেদের পুরুষসুক্তের অর্থ উপলব্ধ হইবে। উপসংহার। সামবেদীয় ব্রাহ্মণগণ, পুরুষ-সূক্তের যে পাঁচটী মন্ত্র জপ করিবেন, ‘জ্ঞানবেদের প্রথম খণ্ডে (১২৯ম হইতে ১৪ম পৃষ্ঠায়) প্রকাশিত হইয়াছে। ঋগ্বেদীয় ব্রাহ্মণগণের জাপ্য যােলটী মন্ত্র পূর্বেই (৯ম হইতে ১০০ পৃষ্ঠায়) প্রকাশিত আছে—দেখিতে পাইবেন। উভয়বিধ মন্ত্রে যে সামান্য পার্থক্য আছে—লক্ষ্য করিবেন। যজুর্বেদীয় ব্রাহ্মণগণের পক্ষে ঋগ্বেদীয় ব্রাহ্মণগণের জাপ্য যােলটী মন্ত্রের সঙ্গে অতিরিক্ত আরও পাঁচটা মন্ত্র জপের বিধি আছে। সে পাঁচটী মন্ত্র (১১ হইতে ১০৪ পৃষ্ঠায়) প্রকটিত হইল। অথৰ্ব্ববেদ-সংহিতার পুরুষ-সূক্তের বিষয় (১০৫ হইতে ১১৯ পৃষ্ঠায়) পরিদৃষ্ট হইবে । ।
জ্ঞান-বেদ। যাত্রাকালে জাপ্য-মন্ত্র। কোনও কাৰ্যে কোনও শুভসঙ্কল্পে যাত্ৰা করিবার পূর্বে ‘সম্পূষয়- ঘনস্তির’ ইত্যাদি মন্ত্র-বিশিষ্ট সূক্তটী (ঋগ্বেদ-সংহিতা, প্রথম অষ্টক, তৃতীয় অধ্যায়, চতুর্বিংশ বর্গ, ১ ১০ ধাক্ ) জপ করিবার বিধি আছে। ঐ সূক্ত জপ করিয়া যাত্রা করিলে, যাত্রাকারী নিরাপদে গৃহে ফিরিয়া আসিবেন এবং তাহার সর্বকাৰ্যে সিদ্ধিলাভ হইবে। সম্পূষন্নধ্বস্তির ব্যংহে বিমুচো নপাৎ সক্ষ। দেব প্রণপুরঃ ॥ ১। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা , ‘প (হে জগৎপােষক দেব!) অধ্বনঃ (মার্গাৎ, ইহলােকাৎ) সং-তির’ ( অম্মান অভীষ্টনং সম্যক প্রাপয়, পরিত্রাণং কুরু); ‘অংহঃ (বিঘ্নকারকং পাথুন) বিতির (বিনাশয়); ‘বিমুচঃ ( মুক্তিপণাবলম্বিনঃ জনস্য, বিমুক্ত ) ‘নপাৎ’ ( রক্ষক, শুদ্ধসত্বরূপ) ‘দেব’ (হে দ্যোতমান্ পূষন্) ‘ণঃ ( না, অস্মাকং) ‘পুরঃ ( পুরতঃ ) ‘প্র-সক্ষ। (প্রসক্ত। ভব, অধিষ্ঠিতু ইতি যাবৎ )। কৰ্ম্মমার্গে বিচরণশী অহং যথা মুক্তিং প্রাপ্নোমি, হে দেব, তদনুগ্ৰহ কুক, ময়া সহ সম্বন্ধযুতঃ ভব-ইত্যের প্রার্থনা ॥১॥ বঙ্গানুবাদ। হে জগৎপালক পূষাদেব। এই গতগতির হইতে (ইহলোক হইতে) আমাদিগকে অভীষ্টস্থানে লইয়া যাউন ! পরিণ করুন।।। অভীষ্টস্থান-গমনে। বিকারক পাপকে বিনাশ করুন। মুক্তিপথালী জনের রক্ষক ( অথবা, বিমুক্তের শুদ্ধত্বস্বরূপ) হে দেব।
আনবেদ। যাে নঃ পূষমঘঘ বৃকে। দুঃশেব আদি দেশতি। অগ অপ স্ম তং পথাে জহি। ২। = অপ ত্যং পরিপন্থিনং মুষীবাণং হুরশ্চিতং। দূরমধি তেরজ। ৩। আমাদিগের প্রতি আপনি প্রসক্ত হউন; অর্থাৎ, আমাদিগের মধ্যে আপনার অতিষ্ঠান হউক। ( ভাব এই যে,-কৰ্ম্মমার্গে বিচরণশীল আমি যাহাতে মুক্তিলাভ করিতে পারি, হে দেব। আমাকে সেইরপ অনুগ্রহ করুন, আমার সহিত সম্বন্ধযুক্ত হউন) ॥১॥ মৰ্ম্মানুসারিণী:ব্যাখ্যা। ‘পূষন (হে জগৎপােষক দেব।) অঘঃ ( আহন্তা, অস্মাকং হননকারী) বৃক ( অম্মদীয় ধনস্য অপহর্তা , ‘দুঃশবঃ' (দুঃসেব্য, মৎসরযু :) য’ (শ) আদি দেশতি ( অম্মান কুমার্গগমনে আজ্ঞাপয়তি, অসন্মার্গগামিন: করোতি) তং (তাদৃশং শত্ৰুং) পথ (মার্গাৎ, অস্মাৎসকশাৎ) অপজহি অ (অবশ্যং পাকুরু, বিদুরয়)। হে দেব। যা শক্ত অম্মা বিপথগামিনঃ করােতি, তং অপসারয় ইতি ভাঃ ॥ ২ বঙ্গানুবাদ। হে জগৎপোষক দেব | আমাদিগের হননকারী, আমাদিগের ধনাপহারী, আমাদিগের দুঃসেব্য (মৎসরযুক্ত) যে শত্রু আf 'গকে বুমার্গগামী করে, তাদৃশ শত্রুকে আমাদিগের নিকট হইতে আপনি বিদূরিত করুন। (ভাব এই যে,-হে দেব। যে শক্ত আমাদিগকে বিপথগামী করে, তাহাকে অপসারিত করুন)।২ মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘পরিপনিং (সন্মার্গশ্য প্রতিবন্ধক) মুষিবাণং ‘মুষিবাণং (স্কররূপং, সদ্ভাবাপহায়ক) ‘হুরশ্চতং (কোট্যিানাং সঞ্চারকং, কুমতি প্রদং) ত্যং (পূৰ্ব কথিতং শত্ৰুং) ⇒তে? (মার্গাৎ, অস্মাৎসক (শাৎ) দূরং । দূরদেশ) অধি’ (প্রতি। অপ-অজ’ ( অপগম, বিতাড়য়)। হে দেব। কৃপন্ন ত্বং ৩ অদ্ভাবপরিবৃদ্ধিকারব। সন্মার্গপ্রতিরােধক তং শক্রং অপজহি -- ইত্যেব্য প্রার্থনা ইতি ভাবঃ ॥ ৩॥ নবে। ৩য় খণ্ড-১৬ জ্ঞানববদ। ত্বং তস্য দ্বয়াবিনােইঘশংসস্ত কস্যচিৎ। পদাতি ১৬ অর্থ। আ তত্তে দ মমঃ পূষােত পুষদ্যোবে বৃণীমছে। যেন পিতুনচোদয়ঃ ॥ ৫। বঙ্গানুবাদ। সৎপথ-গমনে প্রতিবন্ধক, সদ্ভাবাপহাক, কুমতিপ্রদ, পূৰ্ব্বকথিত সেই শত্রুকে আমাদিগের নিকট হইতে (হে দেব। আপনি) দূরে বিতাড়িত করুন। (প্রার্থনার ভাব এই যে- হে দেব। অসম্ভাষ-পরিবৃদ্ধিকারক সন্মার্গপ্রতিরােধক সেই শত্রুকে বিনাশ করুন)। ৩। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। হে পুষ। ‘বং তস্য (পূর্বকথিত) দয়াবিন (প্রত্যক্ষাপ্রত্যাহারক। ‘অঘশংসস্য (অনিষ্টসাধক তস্করস্ত। তপুংসি’ (পরসন্তাপকং দেহং) পদা’ (ভবদীয়েন পাদেন ) অভি ( আক্রম, বিদলিতং কৃত্বা ইতি যাবৎ) “তিষ্ঠ’ (অবস্থানং কুরু)। যে দেব। ত্বং তং শত্ৰুং পদদলিতং কুরু-ইত্যেবং প্রার্থনা ॥৪॥ বঙ্গানুবাদ। হে পূষাদেব। আপনি সেই প্রত্যক্ষ-প্রত্যক্ষের অপহারক, অনিষ্টসাধক তরুনের পরসস্তাপকারী থেকে আপনার পদের দ্বারা আক্রমণ করিয়া (বিদলিত করিয়া) অবস্থান করুন। (ভাব এই যে,-হে দেব। আপনি সেই শত্রুকে পদদলিত করুন) মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘মম (জ্ঞানবন্) ‘দল’ (পাপনাশক, শসংহারকারি) পূষন (জগৎরক্ষক দেৰ।) যন’ (রক্ষণে, প্রকারেণ) পিত্ন (পূর্বপুরুষা) অচেংদয়ঃ(রক্ষিতবান অসি, পাপাৎ পরিত্রাণং কৃতবান্) তৎ' ( দৃশং) তে’ (তব) অব’ (রক্ষণং) আ ( সর্বতােভাবেন) বুণীমহে’ (প্রার্থয়ামহে)। হে দেব। ত্বয়া অস্মাকং পিতৃপুরুষান রক্ষিতবান; অতঃ করুণয় ত্বং অম্মান রক্ষ ইত্যেবং প্রার্থনা। ৫। বঙ্গানুবাদ। জনবান, পাপনাশক (শসংহারকারী ), জগৎক্ষক হে দেব। যে প্রকারে আপনি আমাদিগের পিতৃপুরুষগণকে রক্ষা করিয়া আসিয়াছেন (পাপ হইতে পরিত্রাণ করিয়াছেন ,
জ্ঞানবােদ।
১২৩
অধা নাে বিশ্বসৌভগ হিরণ্যবাশীমত্তম।
ধনানি সুষণা কৃধি॥ ৬
অতি নঃ সশ্চত নয় সুগা নঃ সুপথা কৃৎ।
পূষমিহ তুং বিদঃ ॥৭॥
আপনার তদ্রুপ রক্ষা আমরা সর্বতোভাবে প্রার্থনা করিতেছি। ( প্রার্থনার ভাব
এই যে-হে দেব। আমাদিগের পিতৃপুরুষগণ আপনার দ্বারাই রক্ষিত হইয়াছেন।
সুতরাং আপনি আমাদিগকেও সেইরূপে রক্ষা করুন)। ৫।
মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা।
“বিশ্বসৌভগ’ (সকলসৌভাগ্যযুক্ত) ‘হিরণ্যবাশীমত্তম' (সুবর্ণভজ্ঞানকিরণসম্পন্ন, মঙ্গল
এধীৰিশিষ্ট) হে দেব, অধা (অমাকং প্রার্থনাশ্রবণানন্তরৎ ) ন (অন্যাক) ধনানি
(পরমার্থরূপাশি ঐশ্বৰ্য্যাণি) সুষণা ( সুষণানি, সুলভানি) কৃষি (কুরু)।
অয়ং ভাব—সর্বৈশ্বৰ্যশালি মঙ্গলপ্রদ হে দেব ! অস্মাকং পরমং মঙ্গলং সাধয় পরমার্থ-
রূপং ধনং চ অভ্যং প্রযচ্ছ-ইত্যেবং প্রার্থনা ৬।
বঙ্গানুবাদ।
সকল-ঐশষ্য-বিশিষ্ট, মঙ্গলপ্রদ-খীসম্পন্ন হে দেব। আমাদিগের প্রার্থনা শ্রবণানন্ত,
আপনি আমাদিগের (পক্ষে) পরমার্থ-ধন সুপ্রাপ্য করিয়া দিন। ( প্রার্থনার
তাৰ এই যে,-বৈশালী মঙ্গলপ্রদ হে দেব। আমাদিগের পর মঙ্গল সাধন করুন
এবং আমাদিগকে পরমার্থরূপ ধন প্রদান করুন)। ৬।
মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা।
পূষ (হে জগৎপােষক দেব।) সশ্চত’ (সৎপথিগমনায় সম্মাকং প্রতিবন্ধকা
শক্র ইত্যর্থঃ) ন (সম্মান) অতি’ ( অতিক্রম্য) নয়’ (অত্র প্রাপয়); ‘ন
(অ) সুগা’ (সুষ্ঠুগং শক্যেন সহ) সুপথ (সৎপথি গন্ত ন) ক (কুরু); ‘ই’
(সৎপস্থানং প্রাপ্ত্যর্থ) তুং (প্রজ্ঞানং) বিদঃ (লয়, প্রায় )। হে দেব। অম্মান
শসৎ বিচ্ছিন্ন কুরু, সৎপস্থানং চ প্রায় ইত্যেবং প্রার্থনাইতি ভাৰঃ ॥৭॥
২৪ আনবেদ। | অভি সূযবসং নয় ন নবজ্বালাে অধ্বনে। পূমিহ তুং বিদঃ ॥ ৮ | শর্থি পৃদ্ধি প্র যংসি চ শিশীহি প্রাদরং। পূষনিহ তুং বিদঃ। ৯। বঙ্গানুবাদ। গৎপোষ হে দেব। আমাদিগের সৎপথ-গমনে বাধাপ্রদানকারী ক্রদিগকে, আমাদিগকে অতিক্রম করিয়া অন্যত্র স্থাপন করুন (অর্থাৎ, আমাদিগের সহিত তাহাদিগের যেন কোনও সম্বন্ধ না থাকে); আমাদিগকে সুষ্ঠুভাবে গমনশীল শক্তির সহিত সুপথগামী করুন; এবং সৎপথপ্রাপ্তিবিষয়ে আমাদিগকে প্রজ্ঞানসম্পন্ন করুন। ( প্রার্থনার ভাব এই বেহে দেব। আমাদিগকে শক্রসম্বন্ধ হইতে বিচ্ছিন্ন করুন এবং সৎপথে স্থাপন করুন)। ৭। মর্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘পুষন (হে জগৎপােষক দেব।) অন্ ‘সুবসং (শােভনতৃণোষধিযুত, শান্তিপ্রদং স্থানং) অভি নয় { অভিতঃ প্রাপ); অধ্বনে’ ( মাগায়, অস্মাকং গন্তব্যে পথি ) 'নবজারঃ ( নূতনসন্তাপঃ) ন (ন ভবতু); ‘ই’ (সৎপস্থানং প্রাপ্ত্যর্থং) ক্রতু (প্রজ্ঞানং) বিদ (ল)। হে দেব। অষ্মন্ শান্তিং দেহি। ইত্যেবং প্রার্থনা-ইতি ভাব। ৮। বঙ্গানুবাদ। হে জগৎপোষক দেব। আমাদিগকে শাস্তি প্রদ স্থান অভিমুখে লইয়া যাউন; আমাদিগের গন্তব্যপথে নূতন সন্তাপ যেন না আসে ; সৎপথ-প্রাপ্তি-বিষয়ে আমাদিগকে প্রকৃষ্টজ্ঞান প্রদান করুন। (প্রার্থনার ভাব এই যে,-হে দেব। আমাদিগকে শান্তি প্রদান করুন। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘পূষন (হে জগৎপােষক দেব!) ত্বং শগ্নি’ ( অম্মান অনুগৃহীতু শক্ত ভব), পূর্তি ( অস্মাকং কামনাং পরিপুর), ‘খ’ ( ধনং-পরমার্থরূপং) প্রযংসি’ ( প্রযচ্ছ), শিশীহ (সৎকর্মানায় সম্মান তেজস্বিনঃ কুরু), ‘সি’ ( অস্মাকং হৃদয়ং ভক্তিরসেন সৰেন জ্ঞানবেদ। ন পূষনং মেথামসি সূক্তৈরভি গৃণমসি বসূনি দমীমহে ॥১॥ বা পূরয়); “ইহ’ (পূর্বোক্তবিষয়ে) তুং (প্রজ্ঞানং) বিদঃ ( প্রযচ্ছ)। হে দেব। অন্ ভক্তিযুতা সভাবসম্পন্নান কুরু, পরমং ধনং চ প্রযচ্ছ। ইতি ভাব।৯। বঙ্গানুবাদ। হে জগৎপােষক দেব! আপনি আমাদিগকে অনুগ্ৰহ করিতে সমর্থ হউন, আমাদিগের কামনা পূরণ করুন, পরমার্থরূপ ধন আমাদিগকে প্রদান করুন, সৎকৰ্ম্মসাধনে আমাদিগকে তেজস্বী করুন এবং আমাদিগের হৃদয় ভক্তিরসে (সত্বভাবে পরিপুর্ণ করুন। আর, সকল বিষয়ে আমাদিগকে প্রকৃষ্ট জ্ঞান প্রদান করুন। (ভাব এই যে,-ভক্তিযুত এবং সম্ভাবসম্পন্ন করিয়া আমাদিগকে পরমধন প্রদান করুন)। ৯। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘পূষনং (তং জগৎপােষকং দেবং) ‘ন মেথামসি’ (কদাচিদপি বয়ং ন তু নিন্দামঃ}; পরন্তু সুক্তৈ (বেদমন্ত্রৈ) অভিগৃণীম স’ ( সদৈব গৃণীম, স্তুম); ‘দং’ (নিপুণামুপয়ি- তারং পূষণং প্রতি) বান’ ( ধনানি-ধৰ্ম্মর্থকামমোক্ষরূপাণি ) ‘ঈমহে’ ( যাচামহে)। বয়ং সদৈব জগৎপােষকং তং দেবং প্রতি ভক্তিপরায়ণাঃ ভবামঃ । শত্রুনাশায় তং দেবং আরাধয়াম। স দেবঃ চতুৰ্বর্গধনং দদাতি ইতি ভাবঃ ॥ ১• বঙ্গানুবাদ। সেই জগৎপােষক পূষা-দেবতাকে আমরা (যেন) কদাচ নিন্দা না করি ; পরন্তু বেদমন্ত্রে ( যেন ) সৰ্ব্বদাই তাহার স্তব করি ; বিপুশত্রুগণের ক্ষয়কারী সেই পূষা-দেবতার নিকট আমরা চতুৰ্বর্গ ধন যাচঞা করি। (ভাব এই যে,-আমরা সদকাল যেন জগৎ পােষক সেই দেবতার প্রতি ভক্তিপরায়ণ হই এবং শনাশের নিমিত্ত সেই দেবতাকে আরাধনা করি। সেই দেবতাই চতুর্বর্গ-ধন প্রদান করেন)।
জ্ঞান-বেদ। -=-= শত্রনাশে বিয়-বিনাশের মন্ত্র। বিপ্ন পদে পদে। শত্ৰু মানুষকে চারিদিকে ঘেরিয়া আছে। সুতরাং যাহাতে বিন্ন বিদূরিত হয়, শত্রুর উপদ্রব দূরে যায়, এরূপ মন্ত্র মানুষ স্বতঃই জপ করিতে চায়। তাহারই কয়েকটী মন্ত্র নিম্নে উদ্ধৃত করা হইল; যথা- । অয়ং দেবায় জন্মনে স্তোমে বিপ্রেভিরাসয়া। অকারি রত্নতমঃ ।। মানুসারিণী ব্যাখ্যা। ‘রঙ্গতম (অতিশয়েন ধন প্রদঃ সৰ্বতঃ ইষ্টসাধক) অয়ং (বক্ষ্যমাণঃ) তােম (পােত্রবিশেষ, বেদমন্ত্রঃ ইতি ভাবঃ) জন্মনে’ (জামানায়, মনুষজম্মবারিণে, নররূপায় ইত্যর্থঃ) দেবায় (দেবপ্রত্যর্থং, দেবতায়া প্রতিকামনায়ৈবিপ্রেভি (মেধাবিতি শনিভিঃ) আসমা (মুখেন, সদৈব ইতি ভাবঃ) ‘অকারি’ (নিপাদিত, উচ্চারিত ভৰতি ইতি শেষ)। মঙ্গোপি কৰ্ম্মপ্লাবেন দেবত্বালাভায় সমর্থঃ ভবতি; যে দেবত্ব আপ্তাঃ তা উদ্দিশ্য তােমিদ বিপ্ৰা উচ্চাৰ্যন্তে ইতি ভাবঃ ॥১। বঙ্গানুবাদ। সর্বতােভাবে ইষ্টসাধক বক্ষ্যমাণ এই বেদম মনুষ্যজন্মধারী অর্থাৎ নররূপী দেবতার ঐতিকামনায় মেধাবী জানিগণ কর্তৃক মুখে মুখে (অর্থাৎ সদাকাল উচ্চারিত হয়। (ভাব এই যেমনুষ্যত প্রভাবে দেবত্বলাভে সমর্থ হয়; যাহারা দেবত্ব প্রাপ্ত হইয়াছেন, গলিগের উদ্দেশ্যে বিগণ এই স্তোত্র উচ্চারণ করেন।)।১।
। জ্ঞানবেদ। | য ইন্দ্ৰয় বচোযুজা ততক্ষুৰ্ম্মনসা হরী। শম, শমীভিজ্ঞমাশত।। তক্ষসত্যাভ্যাং পৱিত্মানং সুখং রথং। তক্ষন্ধেং সবদুবাং । ৩। = মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘বে (নম্নরূপিণ দেবাঃ) “ইন্দ্রায়’ (ইনিমিত্তায়, ভগবৎপ্রাপ্তিকামনায়ৈ, ভগবহি- প্রার্থং) বচোযুজা (বাঝাত্রেণ যুজমানো, মন্ত্ৰকৰ্মসহযুতে ‘হরী (নভক্তিরূপে ৰাহকৌ) মনসা (ননমাত্রেণ, শতেহনুগ্রহেণ ইত্যর্থঃ) ততক্ষুঃ (সম্পাদিত, অনাক হৃদ্দেশে প্রতিষ্ঠাপয়ন্তি ইত্যর্থঃ ); তে নরদেবাঃ ‘শমিতি (অস্মাকং কর্মভিঃ সহ) যজ্ঞং ( যজ্ঞক্ষেত্ৰং, অম্মদীয়ং হৃদয়ং ইত্যর্থঃ) আশত’ (অণু ধ্ব, ব্যাপ্য তিষ্ঠ ইত্যর্থ)। অয়ং তাব-নরূপিণ দেবানাং অনুগ্রহে অস্মাকং হৃদেশ এনভক্তিযুতং ভবতু; অন্য কৰ্ম্মতি সহ তে দেবাঃ অম্মদীয়ং হৃদয়ং অধিকুৰ্বন্তু ইত্যর্থঃ।। বঙ্গানুবাদ। নৱৰূপী যে দেবগণ ভগবৎ-প্রাপ্তি-কামনায় (ইসামীপ্য লাভের জন্য) মকসহযুত নভক্তিরূপ বাহকদ্বয়কে আমাদিগের হৃদ্দেশে প্রতিষ্ঠিত করেন, সেই নরদেবগণ আমাদিগের কর্মসমূহের সহিত যজ্ঞক্ষেত্ৰকে অর্থাৎ আমাদিগের হৃদয়কে ব্যাপিয়া অবস্থিতি করুন। (ভাব এই যে, নররূপী দেবগণের অনুগ্রহে আমাদিগের হৃদয় জ্ঞানভক্তিমূত হউক; আমাদিগের কর্মসমূহের সহিত সেই দেবগণ আমাদিগের হৃদয়কে অধিকার করুন)। ২। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। তে দেঃ নাসত্যাভ্যাং (অশ্বিনীকুমারদেবাভ্যাং-তদ্দেবসকাশপণার্থ, অত্যাধি বহ্যিাধি-নাশায় ইতি ভাবঃ) পরিনিং (সৰ্বতঃগমনশীলং, সকলদেবভাৰপ্ৰাণক ইত্যর্থ) সুখং (সুখকরং) রথং ( সুখকরং) রথং’ (সৎকৰ্ম্মরূপং যানং) তক্ষন (নির্মিতবন্ত, প্রদর্শিতবন্ত), তথা সবখাং (ক্ষীরামৃতস্য দেখুী, অমৃতনিলিনীঃ) থেং নবেদ। । যুবানা পিতরা পুনঃ সত্যমন্ত্ৰা ঋজয়ব ঋভবে বিষ্টত। ৪। (গাং, ধর্মপাং জ্ঞানরশ্মিং ইত্যৰ্থঃ) তক্ষন (প্রদর্শিতবস্ত, প্রদর্শয়ন্তি ইতি ভাবঃ)। নররূপি তে দেবার মনুষ্যা ভগবৎসামীপ্যং সংবাহয়ন্তি; তে এষ আদর্শরূপঃ সন্তঃ ধর্মস্য স্বরূপং প্রদর্শান্তি-ইতি ভাব ৩। বঙ্গানুবাদ। সেই দেবগণ, অন্তৰ্বাধি-বহির্বাধি-নাশের নিমিত্ত সর্বত্রগমনশীল অর্থাৎ সকল দেবভাব- প্রাপক, মুখকর সৎকৰ্ম্ম রূপ যানকে নিৰ্ম্মা করিয়াছেন—দেখাইয়া গিয়াছেন, এবং অমৃতনিন্দিনী ধৰ্ম্মরূপ জ্ঞানরশ্মিকে প্রদর্শন করিয়াছেন। ( ভাব এই যে,-নারূপী সেই দেবগণ মনুষ্যদিগকে ভগবৎসমীপে সংবাহন করিয়া লইয়া যান; তাহারাই আদর্শ পরূপ হইয়া, ধর্মের স্বরূপ প্রদর্শন করেন।)। ৩। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘সত্যমাঃ ( অবিথমন্ত্ৰসামর্থোপেতাঃ, সত্যপরায়ণা, সত্যমস্ত্ররূপঃ) ঋজয়ব ( অকপটা, সাধুচরিত্রা, সৎস্বরূপত্বপ্রাপ্তং) পুনঃ (তথা) “বিষ্টী’ (ব্যাপ্তিযুক্তা, সর্বত্র বিদ্যমান। ঋভব (ঋভুনামকাঃ দেবাঃ, নরদেবাঃ ইত্যৰ্থঃ) যুবানা (যুনঃ, সংসারমােহ- পনিমজ্জিতা প্রমত্তা জনা) পিতরা’ (পিতন, পিতৃলােকগমনযােগ্যা, প্রজ্ঞাসম্পন্নান ইত্যর্থ) অক্ৰত (কতবস্ত, কুৰ্বন্তি ইত্যর্থ )। নরদেবাঃ ঋভবঃ সর্বত্র বিদ্যমানহাৎ কীয়ার্থেন মােহান্ধজনা উদ্ধারায়তুং সমর্থাঃ ভবন্তি--ইতি ভাব। ৪। বঙ্গানুবাদ। সত্যপরায়ণ অকপট সাধুচরিত এবং সর্বত্র বিদ্যমান ঋভুদেবগ অর্থাৎ নরদেবতারা সংসারমােহপরুনিমজ্জিত প্রমত্তজনগণকে পিতৃলোক গমনযােগ্য অর্থাৎ প্রজ্ঞাসম্পন্ন করিয়া থাকেন। (ভাৰ এই যে,-নরদেব ঋভুগণ সর্বত্র বিদ্যমানত্ব-হেতু আপনাদিগের আদর্শের দ্বারা মােহান্ধজনগণকে উদ্ধার কধিতে সমর্থ হয়েন।)। ৪।
আনবেদ। ১২ সং বাে মাসে অগ্মততণে চ মরুত্বতা। আদিত্যেভিশ্চ রাজভিঃ ॥ ৫॥ ত্যং চমসং • নবং ত্বষ্টৰ্দেবস্য নিষ্কৃতং। অকৰ্ত্ত চতুরঃ পুনঃ ॥৬॥ মৰ্ম্মানুসারিণী:ব্যাখ্যা। হণে’ (ভগবতা ইন্দ্রদেবেন, শক্তে ঐশ্বৰ্য্যস্ত চ অধিপতিনা) চ (তথা) অরুত্ব ( মরুডি যুক্ত, বিবেকরূপে দেবৈঃ) ‘চ’ (তথা, স্থূলত ইত্যৰ্থ ) রাজভিঃ (দীপ্যমানে, স্বপ্ৰকাশৈঃ) আদিত্যেভি (অনন্তস্যাঙ্গীভূতৈঃ, সর্বৈ দেবৈঃ-সহ মিলিতা ইত্য) হে নরদেবা ঋভবঃ। ‘বঃ (যুগ্ন) ‘মদাসঃ (দাঃ, আনন্দপ্রদাঃ সােমা, অম্মাকং ভক্তিমুধাঃ, কৰ্ম্মাণি ইত্যর্থ) সং অগাত’ ( সমগ্নত, সঙ্গতা বা সৰ্ব্বতােভাবেন প্রাপ্ত ভবস্তু)। সৰ্বে দেবাঃ যথৈব পূজাহ। অম্মকমনুস্মরণীয়ঃ ভবন্তি, নরদেবাঃ ঋবেশি তথৈব অকং পূজাধিকারিণঃ অনুস্মরণীয়। চ ভবস্তু-ইতি ভাবঃ ৫। বঙ্গানুবাদ ভগবান ইন্দ্রদেবের (শক্তির ও ঐশ্বর্যের অধিপতির) এবং মরুদেবগণের (বিবেকরূপী দেবগণের) এবং (সুলতঃ) দীপ্যমান স্বপ্ৰকাশ অনন্তের অঙ্গীভূত অর্থাৎ সকল দেবগণের সহিত মিলিত, হে নরদেব ভুগণ, আপনাদিগকে আমাদিগের ভক্তিসুধা অথবা কৰ্মসকল প্রাপ্ত হউক। ভাব এই যে,-সকল দেবগণ যেমন আমাদিগের অনুস্মরণীয় হয়েন, নরদেব ঋভুগণও সেইরূপ আমাদিগের পূজ্য ও অনুস্মরণীয় হউন।)। ৫ মর্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। উত’ (যতঃ তে নরদেবাঃ) তৃষ্টুৰ্দেবস্ত’ (বষ্টদেবসন্ধিন, আণকৰ্ত্ত সংসারবন্ধন- কে দেবস্ত ) ত্যং (ত, প্রখ্যাতং) নব' ( অনিবং, সৎসহযুত) “নিং মবেদ। ৩ খণ্ড-১৭ নবেদ। রানি ধন ত্রির সাপ্তানি সুষতে একমেকং সুশস্তিভিঃ। ৭। (পরিত্রাণােপাষমূলকং) চমসং (যজ্ঞকর্মাহং-ভগবতি কর্মসম্প্রদানরূপং ইতি যাবৎ) ‘পুনঃ চ’ (পুনরপি, তথা) চতুর ( ধৰ্মার্থকামমােক্ষচতুৰ্বৰ্গলপ্রদান পথঃ ইত্যর্থ) ‘অকৰ্ত্ত (কৃতবস্ত, প্রকাশিতবস্ত, প্রদর্শয়ন্তি ইত্য); অতঃ তে অনুব্যাঃ পূজা বা ইতি পূৰ্বসম্বন্ধ। যানি কৰ্ম্মাণি ধৰ্মার্থকামমােক্ষচতুৰ্বৰ্গফলপ্ৰদানি ভবন্তি, নৱদেবাঃ খ ইহজগতি তেষাং কৰ্ম্মাণাং স্বরূপং তত্বং প্রকাশমন্তি-ইতি ভাব। ৬। বঙ্গানুবাদ। যেহেতু সেই নরদেবগণ, ত্বষ্টদেবতার সম্বন্ধীয় (অর্থাৎ সংসারবন্ধনছেক ত্রাণকারী দেবতার সম্বন্ধীয়) সেই প্রখ্যাত, অভিনব, পরিত্রাণোপায়মূলক ভগবানে কর্মসম্প্রদান-রূপ অকৰ্ম্মাজকে এবং ধৰ্মার্থকামমোক্ষ চতুৰ্বৰ্গফলপ্রদ পথসমূহকে প্রকাশিত করিয়াছেন— প্রদর্শিত করেন; অতএব, তাহারা অর্থাৎ সেই নরদেবগণ অনুস্মরণীয় ও পুণ্য হয়েন। ( ভাব এই যে,-যে সকল কর্ম ধৰ্মার্থকামমােক্ষচতুৰ্বৰ্গফলপ্রদ হয়, সেই নরদেবগণ ইহজগতে সেই কৰ্মসমূহের স্বরূপ-তত্ত্ব প্রকাশিত করেন।)। ৬। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘তে (নরদেবাঃ ঋভবঃ) ‘না’ ( অভ্যং, অম্মদথং) ‘অঙ্গানি (রমণীয়ানি ধনানি) ধন’ (ধারয়ন্তি, দদতি ইত্যর্থঃ); ‘সুন্বতে’ (সৎকর্মপরায়ণায় সাধকায়, তস্মৈ প্রদানায় ইত্যর্থ) ‘ত্রির সাপ্তানি’ (ত্রিলােকব্যাপীনি সপ্তলােকোপারীণি রত্নানি দদতি ইতি শেষ; সুশস্তিভিঃ (শোভনস্তুতিমন্ত্রৈ, সৎকর্মসাধনৈঃ ইতি ভাবঃ) একমেকং। ক্ৰমেণ, এক এক কৃত্বা, কৰ্ম্মানুসারেণ ইতি ভাবঃ) রানি বিতরন্তি ইতি শেষ। অয়ং ভাবতে নরদেবাঃ পরমং ধনং বিতরন্তি; কৰ্ম্মানুসারেণ তদ্ধনং অধিগম্যতে ॥৭॥ বঙ্গানুবাদ। সেই নরদেব ঋণ অাদিগের জন্য রমণীয় ধনসমূহ ধারণ করিয়া আছেন; সৎকর্ম পরায়ণ সাধককে তাহারা বিকালব্যাপী সপ্তলােকের হিতসাধক ধনসমূহ প্রদান করেন।
জ্ঞানবেদ। ১৩১ অধারয়ন্ত বয়ােহভজন্ত সুকৃতয়া ভাগ দেবেষ্ণু যজ্ঞিয়ং ॥ ৮। শােহনশুতিমন্ত্রের দ্বারা অর্থাৎ সৎকর্মসাধনের দ্বারা কৰ্ম্মানুসারে এক এক করিয়া সেই ধন তাহার বিতরণ করিয়া থাকেন। (ভাব এই যে,-নরদেবগণ সংসারে পরমধন বিতরণ করিতেছেন; কৰ্ম্মানুসারে সেই ধন অধিগত হয়।) । ৭। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। হয় (বােঢ়ার, যাগাদিসৎকর্মসম্পাদয়িতাঃ ঋভবঃ ইত্যর্থঃ) সুত্যয় (শােন- কর্মণ, সৎকর্মপ্রভাবেন) অধারয়ন্ত’ ( অমৃতত্বলাভামরবৎ প্রাণান্ ধারিতবঃ) দেবেয় ( দেবতানাং মধ্যে—প্রতিষ্ঠিতাঃ সন্তঃ ইতি যাবৎ ) 'যজ্ঞিয়ং’ (যজ্ঞাহং যজ্ঞসন্ধিনং) ভাগং (অংশং) অভজ (সেবিতবস্ত, লভন্তে ইত্যর্থঃ)। অয়ং ভাব-সৎকর্মপ্রভাবেন মর্ত্যাঃ অপি দেৰত্বপ্রাপ্তাঃ সন্তঃ অমৃতস্য অধিকারিণঃ ভবন্তি ইত্যর্থঃ ॥৮॥ বঙ্গানুবাদ। যাগাদি সৎকর্মসম্পাদনকারী ঋভুদেবগণ সুকৃতির দ্বারা (সৎকৰ্ম্ম-প্রভাবে ) অমৃতত্বলাতে অমরবৎ প্রাণধারণ করিয়া, দেবতাদিগের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হইয়া যজ্ঞভাগ প্রাপ্ত হয়েন। (ভাৰ এই যে-সৎকর্মপ্রভাবে মানুষও দেবত্বপ্রাপ্ত হইয়া অমৃতের অধিকারী হয়)। মন্ত্র-কয়েকটী সম্বন্ধে বক্তব্য। এই মন্ত্র কয়েকটা প্রশেদ-সংহিতার প্রথম অষ্টকের দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রথহ ও দ্বিতীয় বর্গের (প্রথম মণ্ডল, বিংশ সুক্তের) অন্তভুক্ত। এই মন্ত্র-সমূহের মুখ্য উদ্দেশ্য,মনুষ্যত্ব-লাভ। মানুষই কৰ্ম্মপ্রভাবে দেবত্বের অধিকারী হয়-এই তত্বই এখানে বিবৃত। তারাই বিনাশ হয়।
জ্ঞান-বেদ। সু-বৃষ্টির জন্য জাপ্য-মন্ত্র। সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষিকার্যের হানি হয়—শস্যাদি উৎপত্তির পক্ষে বিঘ্ন ঘটে। কারীরী-যাগে বৃষ্টি হয়। সে যজ্ঞ বিশেষ আয়াসসাধ্য। কিন্তু এ সম্বন্ধে কয়েকটী জাপ্য-মন্ত্র আছে। কি ভাবে ঐ কয়েকটা মন্ত্র জপ করিতে হইবে, অথৰ্ব্ববেদ- সংহিতার চতুর্থ কাণ্ডে তৃতীয় অনুবাকের পঞ্চদশ সূক্তে তাহার বিবরণ পরিদৃষ্ট হইবে। যথানিয়মে ঐ সূক্তের সােলটী মন্ত্র জপ করিলে সু-বৃষ্টি হইবে; ফলে বসুন্ধরা শস্য-সমন্বিত হইবেন। অথৰ্ব্ববেদোক্ত সেই জাপ্য মন্ত্র কয়েকটা নিম্নে উদ্ধৃত করা হইল; যথা- সমুৎপন্তু প্রদিশাে নভস্বতীঃ সমভ্রাণি বাতজতানি যন্তু। মহঋষভস্য নদততা নভস্বলতা বা আপঃ পৃথিবীং তৰ্পয়ন্তু। ১। আচ্যাদি দিকসমূহে সঞ্চিত বাষ্পসমূহ বায়ু কর্তৃক সঞ্চালিত হইয়া উকপূর্ণ মেঘে পরিণত হউক। ঋষভের ন্যায় ভীষণ গর্জন পূৰ্ব্বক বায়ু-বিচালিত মেঘ-সম্বন্ধী জলরাশি পৃথিবীকে হও করিত্রী ওষধিতে পরিপূর্ণ হউন। ১ ॥
২ জ্ঞানবেদ। সমীক্ষয়ন্তু তবিষাঃ সুদানবেহিপাং রস। ওষধীতিঃ সচন্তাম্। বর্ষস্য সৰ্গা মহয়ন্তু ভূমিং পৃথগজায়ন্তামােষধয়ে বিশ্বরূপাঃ ॥২॥ p সমীক্ষয়ধ গায়তাে নংসপাং বেগাসঃ পৃথগুদবিজন্তাম্। বর্ষস্য সৰ্গা মহয়ন্ত ভূমিং পৃথগ জায়ন্তা বীরুদ্ধে বিশ্বরূপাঃ ॥ ৩। গণদ্যোপ গায়ন্তু মারুতঃ পজ্জন্য ঘােষিণঃ পৃথক সর্গা বৰ্ষস্য বৰ্ষত বস্তু পৃথিবীমনু ॥ ৪। শােভনানযুক্ত (প্রকৃষ্টদাতা) মরুদেবগণ বৃষ্টিবর্ষণ দ্বারা আমাদিগকে অনুগৃহীত করুন। বৃষ্টির জলে রস-সঞ্চারের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীতে ওষধিসমূহের বীজানুর উদগত হউক। বর্ষার ধারা-বিভূষিত ধরিত্রীতে নানাবিধ ওষধি উৎপাদিত হউক ॥২॥ আমাদিগের কর্তৃক স্তুত হইয়া, হে দেবগণ। আপনারা যেমসমূহকে বেগযুক্ত জল প্রবাহে পরিণত করিয়া পরিচালন করুন। বর্ষা-ধারা-বিভূষিত ধরিত্রীতে নানাবিধ বীক্ষণ অর্থাৎ ওষধি বনস্পতি প্রভৃতি উৎপাদিত হউক। ৩। হে পর্জন্তদেব। সাঙ্গোপাল সহ গর্জন বা আনন্দধ্বনি পূর্বক সৃষ্টির কারণভূত বা বিধবায় পৃথিবীকে আর্জীভূত করুন। তারা বসুন্ধরা ফলশস্যে পরিপূর্ণ হউক।
১৩৪ আনবেদ। উদীরয়ত মরুতঃ সমুদ্রতত্বেষাে অর্কে নভ উৎ পাতয়াথ। ক মহঋষভস্য নদততা নভম্বততা বা আপঃ পৃথিবীং তৰ্পয়ন্তু ॥ ৫ অভি ক্ৰ স্তনয়ার্দয়ােদধিং ভূমিং পজ্জন্য পয়সা সমজ্জি। | ত্বয়া সৃষ্টং বহুলমৈতু বৰ্ষমাষারৈষী কৃশগুরেত্বস্ত। ৬। সং বােবস্তু সুদানব উৎস অজগরা উত। মরুদ্ভিঃ প্রচ্যুত মেঘা বর্ষন্তু পৃথিবীমনু। ৭। সমুদ্র হইতে বৃষ্টির জল উদ্ধদেশে প্রেরিত হউক। তাহাতে নতঃপ্রদেশে দীপ্তিমান উদক-সঞ্চার হইয়া পৃথিবীতে তাহা বর্ষিত হউক। ঋষভের ন্যায় ভীষণ গর্জনপূর্বক বায়ু- বিচালিত মেধ-সম্বন্ধী জলরাশি পৃথিবীকে স্নিগ্ধ করুক—ধরিত্রী ওষধিতে পরিপূর্ণ হউক। ৫। যে পদেব। (আপনার আগমনের বার্তা) মেঘগর্জনে বিঘােষিত হউক। আপনি সমুদ্রকে উকদানে বিক্ষোভিত করুন। মধুর বৃষ্টি প্রদানে ভূমিকে অভিসিঞ্চিত করুন। আপনার সৃষ্ট বর্ষণসমর্থ মেধসমূহ আগমন করুক। আবারৈয়ী অর্থাৎ সুৰ্য্য এবং কৃপণ্ড অর্থাৎ রশ্মিসমূহ মেঘাচ্ছন্ন হইয়া অদৃশ্য হইয়া পড়ুক।। হে মানবগণ। শােভনদানশীল দেবগণ, তােমাদিগকে (সংসারের সকল প্রাণীকে) বৃষ্টির দ্বারা শান্তিদান করুন। বৃষ্টির বারিবর্ষণে স্কুল বালিপ্রবাহ উৎপাদিত হউক। মদেৰগণ কর্তৃক সঞ্চালিত জলপূর্ণ মেঘসমুহ পৃথিবীতে বর্ষিত হউক। ৭।
জ্ঞানববদ। আশামাশা বি দ্যোততাং বাতা বান্ত দিশােদিশ। মরুদ্ভিঃ প্রচ্যুত মেঘা সং যন্তু পৃথিবীমনু ॥ ৮। পৃথিৰীমন্ত।। আপাে বিদ্যুদভ্রং বর্ষং সং বােব সুদানব উৎস অজগরা উত। গরুত্তিঃ প্রচ্যুত মেঘা প্রাবন্তু পৃথিবীমনু। ৯ | অপামগ্নিস্তনুভিঃ সংবিদানাে য ওষধীনামধিপা বভূব T স নাে বর্ষং বনুতাং জাতবেদাঃ প্রাণং প্রজাভ্যো অমৃতং দিবম্পরি ॥১॥ দিকে দিকে দীপ্যমান বিদ্যুৎ স্ফুরিত হউক। দিকে দিকে মেষের উৎপাদনকারী বায়ু প্রবাহ প্রবাহিত হউক। মরুদ্দেবগণ কর্তৃক সঞ্চালিত মেঘসমূহ পৃথিবীতে বর্ষিত হউক। হে শশাভনদানশীল দেবগণ। আপনাদের সম্বন্ধি অবাদি পদার্থ অর্থাৎ মেঘস্থ জলরাশি, বিদ্যুৎ, উদকপূর্ণ মেঘ, বৃষ্টির জল এবং অজগরসমানাকৃতি বারিবাহ, জগৎকে পরিতৃপ্ত করুক। মরুদেবগণ কর্তৃক প্রেরিত মেঘসমূহ পৃথিবীকে প্লাবিত করুক। ৯। মেঘরূপ দেহে বিদ্যমান বিদ্যুতাগ্নি-সমূহের, ওষধিসমূহের অর্থাৎ উৎপংশুমানদিগের মূল- তত্ব জাবেদা, দ্যুলােক হইতে আমাদিগের পক্ষে জীবনপ্রদ ও অমৃতদাতা হউন।১০ আনবেদ। - T প্রজাপতিঃ সলিলাদা সমুদ্ৰাদাপ ঈরয়ম দধিমর্দয়াতি এ প্যায় বৃষ্ণো অশ্বস্য রেতােহর্বোঙেতেন স্তনয়িত্ব নেহি। ১৯। অপাে নিষিঞ্চসুরঃ পিতা নঃ শ্বসন্তু গর্গর অপাং বরুণাব নীচীরপঃ সৃজ বদন্তু পৃশ্নিবাহবাে মণ্ডকা হরিণানু। ১২। সংবৎসরং শশয়ান ব্রাহ্মণ ব্রতচারিণঃ। বাচং পজ্জন্যজিন্বিতাং প্র মণ্ড কা অবাদিষুঃ ॥ ১৩। প্রজাগণের পালক বৃষ্টিপ্রদ সম্বৎসরাত্মক প্রজাপতি সুৰ্য্যদেব ব্যাপনশীল সমুদ্র হইতে উদকসমূহকে বৃষ্টির জন্য প্রেরণ করিয়া রশ্মিসমূহের দ্বারা পীড়ন করুন। অশ্বের ন্যায় গতি-. বিশিষ্ট ব্যাপনশীল মেঘের বৃৎপাদনভূত বীৰ্য প্ৰবৰ্দ্ধিত করুন এবং সেই প্রবৃদ্ধৰীৰ্য মেঘের সহিত, হে পৰ্জ্জদেব, আপনি আমাদিগের অভিমুখে আগমন করুন । ১৯। ‘অনুর (মেঘসমূহের প্রেরক অথবা বৃষ্টিজলের দ্বারা প্রাণপ্রদ,জলের উৎপাদক সূৰ্য) বৃষ্ট দক বর্ষণ করুন। তাহাতে উদকসমূহের ঘর্ঘঃধ্বনিযুক্ত প্রবাহসমূহ উচ্ছসিত হউক। হে বরুণ- দেৰ। আপনিও ভূমিতে সঞ্চরণশীল জলকে মেঘ হইতে নিম্মুক্ত করুন। তাহাতে শ্বেতবাহ- যুক্ত ভেকসমূহ বৃষ্টির জলে নবজীবন লাভ করিয়া, নিস্তীর্ণ ভূমিতে শব্দ করিতে থাকুক। ১২। ব্রতচারী ব্রাহ্মণের ন্যায় সম্বৎসরকাল বাতাতপশুষ্ক ভেকগণ, সম্বৎসরান্তে বৃষ্টির জলে লব্ধ লং হইয়া, পৰ্জ্জতের ঐতিকর শব্দ করিতে আরম্ভ করুক। আর, তাহাদের সেই প্রতি কর হর্ষধ্বনি শ্রবণ করিয়া পৰ্জ্জুদেব তুষ্টিলাভ করুন। ১০।
আনবেদ। T উপপ্রবদ মণ্ড কি বৰ্ষমা বদ তাদুরি । মধ্যে হ্রদস্য প্লবস্ব বিগ্রহ বিগৃহ চতুরঃ পদঃ ॥ ১৪। খখাই থৈমখাই মধ্যে তদুরি। বর্ষং বনুধ্বং পিতরাে মরুতাং মন মন ইচ্ছতঃ ১৫। মহান্ত কোশমুদচাভি ষিঞ্চ সবিদ্যুতং ভবতু বাতু বাত। তন্বতং যজ্ঞং বহুধা বিষ্টা অনন্দিনীরোষধয়ােঃ ভবন্তু ॥১৬ । মণ্ডুকি হর্ষ প্রাপ্ত হইয়া আনন্দধ্বনি করুক। তাদুরি বৃষ্টিকে আহ্বান করুক অর্থাৎ তাহাদের যেরূপ শব্দ শুনিলে বৃষ্টি হয়, সেইরূপভাবে তাহার বর্ষণ ধ্বনি করুক। বৃষ্টির জলের দ্বারা হ্রদ পূর্ণ হইলে, সেই হ্রদের মধ্যে আপনাদের চাৰিটী পদ প্লবের ন্যায় প্রসারিত করিয়া তাহারা যথেচ্ছভাবে আনন্দে বিচরণ করুক। ১৪। মধ্যে বর্তমান খখাই, খৈমখাই ও ভাদুরি প্রভৃতি বিভিন্ন জাতীয় ভেকগণ আনন্দধ্বনি করিয়া বৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা করুক; বৃষ্টিকামনাকারী সেই মণ্ডুকগণ বৃষ্টি আনয়ন করুক। ১৫। পর্জদেব মেঘরূপ কোশ বা আবরণ উন্মোচন করিয়া, বর্ষার জল বর্ষণে ভূমিকে অভিষিঞ্চিত করুন। অন্তরিক্ষ বিদ্যুৎপূর্ণ হউক; বৃষ্টির অনুকূল বায়ু প্রবাহিত হউক, বৃষ্টির দ্বারা বহুপ্রকারে প্রেরিত উদকাশি যজ্ঞাদি ক্রিয়ার অনুকুল হউক ; ওষধি অর্থাৎ ব্রীহিযবাদি এবং অরণ্যজাত তরুগুলাদি আনন্দদায়ক বৃষ্টির জলে অভিষিক্ত হইয়া হযুক্ত হউক। ১৬। নিবেদ। ৩য় খণ্ড ১৮ জ্ঞানকে। বিবিধ কাৰ্য্যে জাপা-ময়। মানুষের অভাব অভিযােগ অশান্তির অন্ত নাই। কি অভাব, কি অভিযােগ, কি অশান্তি—চিন্তা করিতে গেলে—তাহার সংখ্যা নির্দেশ করা যায় না। সকল প্রকার অভাব অভিযােগ অশান্তির কবল হইতে মুক্তি লাভ করিবার উপায় বেদ নির্ধারণ করিয়াছেন বটে; কিন্তু সে বড় বিষম কঠোর কৃচ্ছসাধ্য ব্যাপার! মানুষের প্রচেষ্টা সে পথে অগ্রসর হইতে পারে না। সুতরাং অল্প অল্প করিয়া এক একটী করিয়া অভাব- বিদূরণের জন্যই তাহার প্রধানতঃ প্রযত্নপর হয়। ভাবিয়া দেখিতে গেলে, অভিযােগের বিষয় অনন্ত হইয়া পড়ে। সুতরাং তাহার মধ্যে যে অভি যােগটী প্রথম দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তাহা দূরীকরণ জন্যই মানুষ প্রথম প্রযত্নপৰ হয়। অশান্তির জ্বালামাল। চারিদিক বেষ্টন করিয়া আছে। তাহারই যে কোনও একটী জ্বালা নির্বাণ করিবার জন্য মানুষ আকুলি- ব্যাকুলি করিয়া ছুটে। এই প্রসঙ্গে আমরা মানুষের কয়েক প্রকার অভাব অভিযোেগ অশান্তি দূরীকরণের পন্থা নির্দেশ করিবার চেষ্টা পাইতেছি। অসংখ্য অন অভাব অভিযােগ অশান্তির মধ্যে পড়িয়া মানুষ তাহার মধ্যকার দুই একটার প্রতিকার পক্ষে চেষ্টা পাইতে পারে। সেই চেষ্টাই মানুষ প্রথমে করিয়া দেখুক। তাহাতে সফলকাম হইলে, ক্রমশঃ সকল অশান্তির মূল-কারণ দূরীকরণের পথ দৃষ্টির সম্মুখে প্রতিভা হইবে।
নিবেদ।
শাস্ত্রে বিশ্বাস উৎপাদনের যন্ত্র।
মন্ত্র জপের পূর্বে শাস্ত্র-বাক্যে বিশ্বাস উৎপাদন আবশ্যক। শাস্ত্রে বিশ্বাস নাই, সদাই
সংশয়চিত্ত,এ অবস্থায় মন্ত্র-প নিরর্থক হয়। তাই কোনও মন্ত্র-জপের পূর্বে শাস্ত্রবাক্যে
বিশ্বাস স্থাপনের জন্য চেষ্টা করা আবশ্যক। মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষিগণের মত এই যে-নিয়ােত মন্ত্রী
(খে, ৪র্থ অষ্টক, ৭ম অধ্যায়, ১৩শ বর্গ ) জপ করিলে শাস্ত্রবাক্যে বিশ্বাস জন্মে।
ওঁ। অহেলমান উপযাহি যজ্ঞং তুভ্যং পবন্ত ইন্দবঃ সুতাস।
গাবাে ন বজিহ্বমােকো অচ্ছোগহি প্রথমাে যজ্ঞিয়ানা।
হৃদরে সত্বভাব-সঞ্চয় পূৰ্ব্বক অসৎপ্রতিবন্ধক বজ্রধারী দেবতাকে আহ্বান করা হইয়াছে।
অন্তৰ নিৰ্ম্মল হউক, হৃদয়ে দেবতার অধিষ্ঠান হউক,-মন্ত্রের ইহাই কামনা।
এই মন্ত্রী প্রতিদিন এক শত বার জপ করিতে হইবে। তাহা হইলে, শাস্ত্রের প্রতি
সর্বপ্রকার সংশয় নাশ হইয়া, শাস্ত্র-বিষয়ে যথার্থ বুদ্ধি আসিবে।
পতিগৃহে প্রতিবর্ধনের মন্ত্র।
নিয়ে চাৰিটী মন্ত্র প্রকটিত হইল। এই মন্ত্র-কয়েকটী (অৰ্থৰ্ব্ববেদ-সংহিতা, ১ম কাণ্ড,
৩ অনুবাক,৩য় সূক্ত,১-৪ মন্ত্র) স্ত্রী বা পুরুষের দুর্ভাগ্য নিবারণের জন্য বিহিত। যে
স্ত্রী কখনও পতির গৃহে আশ্রয় পান না, যে স্ত্রীর প্রতি তঁাহার পতি বিরূপ ও বিরক্ত, এই
মান্তৰ্গত ক্রিয়ার ফলে সেই স্ত্রী পতির সুনয়নে পতিত হইবেন এবং পতিগৃহে আশ্রয়
পাইবেন। অপিচ, এই মন্ত্রের প্রভাবে পুরুষেরও সৌভাগ্যোদয় হইবে।
ওঁ। ভগমস্যা বচ্চ আদিষধি বৃক্ষাদিব অজং
মহাবুঃ ইৰ পৰ্বত জ্যোক পিতৃস্তাং ॥১॥
জ্ঞানববদ। | এষা তে রাজ কন্যা বধুনি ধূয়তাং যম। সা মাতুব্বধ্যতাং গৃহেথাে ভ্রাতুরথে পিতুঃ ॥ ২॥ এষা তে কুলপা রাজন তামু তে পরি দদ্মসি। জ্যোক পিতৃম্বাসা অ শীষ্ণঃ সমেপ্যাৎ ॥ ৩॥ অসিতস্য তে ব্ৰহ্মণ কশ্যপস্য গয়স্য চ। অন্তঃকোশমিব জাময়ােপি নহ্যামি তে ভগং। ৪। সুপ্রসবের মন্ত্র। নিম্নোঞ্ছত ছয়টা মন্ত্র (অথৰ্ব্ববেদ-সংহিতা, ১ম কাণ্ড, ২য় অবাক, ৫ম সূক্ত, ১৬ মন্ত্র) সুপ্ৰসৰ কাৰ্য্যে ব্যবহৃত হয়। গর্ভিণী গর্ভযন্ত্রণায় দারুণ কষ্ট পাইতেছেন, সেই সময় যথাবিধি দেবপূজনানন্তর এই সুক্তের মন্ত্র-কয়টা উচ্চারণ-পূর্বক শান্তিজল প্রক্ষেপ করিতে হইবে। গর্ভিণীর মস্তক শীতোষ্ণ শান্তিকালে সিক্ত করিয়া মন্ত্রোচ্চারণ করিলে তৎক্ষণাৎ সুপ্রসব হয়। ওঁ। বষট তে পূষনুস্মিৎসূতাবামা হােত কৃণােতু বেধাঃ। সিতাং নার্যত প্রজাতা বি পৰ্বাণি জিহতাং সূতবা উ॥ ১ চতস্রোঃ দিবঃ প্রদিশশ্চতস্রো ভূম্য। উত। দেবা গর্ভং সমরয়ন তং বুথুবস্তু সূতবে। ২।
জ্ঞানবেদ।
১৪)
সূষা ব্যুর্ণোতু বি যােনিং হাপয়ামসি।
শ্ৰথয়া সূষণে ত্বমেব ত্বং বিফলে সৃজ। ৩।
বস্কলে
নৈব মাংসে ন পিবসি নৈব মজ্ঞস্বাহতং।
অবেহু
অবেতু পৃশ্নি শেবলং শুনে জরাযুভবেহব জরায়ু পতাং | ৪ |
বি তে ভিনদ্মি মেহনং যযানিং বি গবীনিকে।
বি মাতরং চ পুত্ৰং চ বিকুমারং জরায়ুনাব জরায়ু পদ্যতাং । ৫।
যথা বাতো যথা মনে যথা পতন্তি পক্ষিণঃ।
এবা ত্বং দশমস্তে সাকং জরায়ুনা পতাব জরায়ু পঙ্কতাঃ ॥ ৬।
গবাদির ব্যাধি-বিনাশ মন্ত্র।
গবাদি পশু নানারূপ পীড়ায় আক্রান্ত হয়। তাহাদের পীড়ায় বা কষ্টের বিষ তাহারা
মানুষের নিকট প্রকাশ করিতে পারে না। যদিও নানা কালে নানারূপ পশু-চিকিৎসালয়
প্রতিষ্ঠিত হইবার বিবরণ প্রাপ্ত হওয়া যায়, কিন্তু বাকশক্তিহীন পশুর চিকিৎসা বড়ই কঠিন।
অথর্ববেদে পখাদির চিকিৎসা-বিষয়ে নানাবিধ মন্ত্র ও প্রক্রিয়ার পরিচয় পাওয়া।
যায়। তাহারই মধ্য হইতে প্রথম কাণ্ডের প্রথম অনুবাকের অন্তভুক্ত চতুর্থ সুক্তের
চারিটা ম পর পৃষ্ঠায় উদ্ধত করা যাইতেছে।
১২ জ্ঞানবে। অষয়য় যন্ত্যধ্বর্জিাময়য় অধরীয়তা। মধুনা পয়ঃ ॥ ১ উপ সূৰ্য্যে যাভিৰা | সূৰ্য্য সহ তা নাে হিম্বত্ববরং ॥২॥ অপাে দেবীরুপ বয়ে যত্র গাবঃ পিবন্তি নঃ 'T সিন্ধুভ্যঃ কত্বং হবিঃ ॥ ৩॥ অপাস্তরতম, অপমৃ১স্তরতম, ভেষজং। অপামুত প্রশস্তিতিরা ভবথ বাজিনন গাবাে ভবথ বাজিনীঃ ৪। অায়ে যুক্তি প্রভৃতি উক্ত চাৰিটী মন্ত্র উচ্চারণ-পূর্বক লবণ-মিশ্রিত এল আখৰা কেবল মাত্র ল গােলাতিকে পান করাইতে হইবে; তাহাতে তাহাদের সর্বধি ব্যাবিনাশ পুষ্টি সংসাধিত হইয়া থাকে। গােজাতির রােগ উপশমন ও পুষ্টি-প্রসাধন পক্ষে পূর্পোত কয়েকটী অশেষ কলােপধায়ক বলিয়া উল্লিখিত হয়।
জ্ঞানবেদ। সর্বশান্তি-কামনায় জাপ্যমন্ত্র। নিয়োদ্ধত মন্ত্রটা জপের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রের মর্মার্থ অবগত হইয়া চিত্ত- বৃতিকে তদনুসারী করিতে পারিলে, মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষিগণ বলিয়াছেন,এই এক মন্ত্র-পেই সর্বপ্রকার শান্তি প্রাপ্ত হওয়া যায়। মন্ত্রটা এই, ওঁ। ভদ্রং কর্ণেভিঃ শৃণুয়াম দেবা ভদ্রং পশ্যেমাক্ষভিজা। পমােক্ষভিজত্রা। স্থিরৈরঙ্গৈস্তুষ্টংসস্তভিৰ্বশেম দেবহিতং যদায়ুঃ ॥ rংসস্তমুভিধ্যশেম (ঋগ্বেদ-সংহিত, প্রথম অষ্টক, ষষ্ঠ অধ্যায়, ঘােড়শ বর্গ ;১৩, ১৪ অনুবা, ৮৯ )। মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা। ‘দেব (দীপ্তিদানাদিগুণণপেতাঃ সর্বে দেবা, হে দেবভাবা ইত্য) যুৎ-প্রসাৎ কর্ণেভিঃ ( অমীয়ৈ শ্রোত্রৈঃ) ভদ্রং (ভজনীয় কল্যাণৰচনং, গবন্মহিমানং, গবৎকং ইত্যর্থ) শৃণুয়াম (শ্রোতুং সমর্থাঃ স্যাম); দেবভারপ্রভাবেন অন্যাকং শ্রোঃ সদৈৰ ১৪৪ নবেদ। ভগবৎফথামৃতপ্রবণপর ভবতু-ইতি আকাঙ্ক্ষা; যজত্রা (হে জনীয়া, আকাঙ্কণীয়া অনুমণী বা দেবাঃ দেবভাষাঃ বা) যুগ্নৎপ্রসাদাৎ ‘অক্ষতি (আত্মীয়ৈঃ চক্ষুতিঃ) দ্রং (সুশােভনং—ভগবদ্ধপং) পমে’ ( সমর্থাঃ স্যাৰ); দেবত্বভাবেন আম্মাকং চক্ষু সদৈব শােনগৰ ৰ্ত্তিৰ্শনসমর্থ ভবতু ইতি আকাঙ্ক্ষা। অপিচ, হে দেবাঃ। যুৎ প্রসাদাৎ ‘স্থিরৈঃ ( অচঞ্চলৈঃ, ভগবৎপরায়ণ ইত্যর্থ) অজৈঃ (হস্তপদাদিভিঃ বহিবষৈ স্কুলহৈঃ ইত্যর্থ) তথা অনূতিঃ (শরীরৈঃ-অন্তহাদিসমন্বিত, আভ্যন্তরদেহৈঃ, সুহ্ম- শরীরৈঃ ইত্যর্থঃ যুক্তাঃ সন্তঃ বয়ং তুঃবাংলঃ (ভগবন্তং গুবন্ত, দেবভাষা অনুসরন্তঃ) ‘দেবহিতং (দেবকাষে রত, ভগবতি উৎসৃষ্টকর্ম ইত্যর্থ) ‘যৎ (শ্রেষ্ঠ অভিলষিতং) ‘আয় (জীবনং) ব্যশেম” (প্রাগুয়াম)। প্রার্থনায়াঃ ভাৰঃ-হে দেবাঃ। যুকম- কম্পয়া অম্মক জীবনং ভগবৎপরায়ণং ভগবদুদ্দেশ্যে বিহিতকর্মপরং ভবতু ইতি আকাঙ্ক্ষা। বঙ্গানুবাদ। দীপ্তিদানালি-গুণবিশিষ্ট সকল দেবগণ অর্থাৎ হে দেবভাবসমূহ। আপনাদিগের প্রসাদে আমাদিগের কর্ণ-সমূহের দ্বারা আমরা যেন ভজনীয় কল্যাণবন অর্থাৎ ভগবমহিমা ভগবৎকথা শ্রবণ করিতে সমর্থ হই; (আকাঙ্ক্ষা এই যে - দেবভাবপ্রভাবে আমাদের শ্রোত্র সদাকান যেন ভগবৎকথামৃত শ্রবণপরায়ণ হয়); যজনীয় আকাঙ্ক্ষণীয় অনুসরণীয় হে দেবগণ বা সেতাবসমূহ। আপনাদিগের প্রসাদে আমাদিগের চক্ষু-সমুহের দ্বারা আমরা যেন সুশােভন ভগবানের রূপ দেখিতে সমর্থ হই; (আকাঙ্ক্ষা এই যে,-দেবত্ব-প্রভাবে আমাদিগের চকু সদাকান শোভন ভগব ব্রিদর্শনে সমর্থ হউক)। আর, হে দেবগণ। আপনাদিগের প্রসাদে আমাদিগের অচঞ্চল অর্থাৎ ভগবৎপরায়ণ হস্তপাদি বহিরবয়ব-সমূহের দ্বারা (স্কুল- দেহের দ্বারা) এবং অন্তরাদি-সমন্বিত আভ্যন্তরীণ শরীরের দ্বারা (সুহ্মদেহের দ্বারা) যুক্ত হইয়া, আমরা ভগবানের স্তুতি করিতে করিতে অর্থাৎ দেবভাব-সমূহের অনুসরণ করিতে করিতে, দেবকর্মে রত অর্থাৎ ভগবানে উৎসৃষ্টকৰ্ম্ম শ্রেষ্ঠ অভিলষিত আয়ু যেন প্রাপ্ত হই; (প্রার্থনার ভাব এই যে,-হে দেবগণ। আপনাদিগের অনুকম্পায় আমাদিগের জীবন ভগবৎপায়ণ ভগবদুদ্দেশ্যে বিহিতকর্মপর হউক—এই আকাঙ্ক্ষা)। যেন তারই কথা শুনি, যেন তারই রূপ দেখি, যেন তাঁরই কাৰ্য্যে দেহ-মন সমর্পণ করিতে পারি,—আমাদিগের মধ্যে দেব- ভাবের বিকাশ হইয়া আমাদিগের সেইরূপ জীবন প্রস্ফুট হউক। ইহাই প্রার্থনার নিগুঢ় তাৎপৰ্যার্থ।
পূজনীয় শ্ৰীযুক্ত দুর্গাদাস লাহিড়ী শৰ্ম্মা মহাশয়ের সম্পাদিত ও ব্যাখ্যাত ঋক, যজুঃ, সাম ও অথৰ্ব্ব- চারি বেদই সম্পূর্ণ প্রাশিত হইয়াছে। সুন্দর সুদৃশ্য বাঁধাই করা ৩৯ খণ্ডে বা ‘ভলুমে’ সম্পূর্ণ এই বিরাট গ্রন্থের মূল্য মায় ডেলিভারি’ খরচা৬৪৩ টাকা। কিন্তু এক সঙ্গে এত টাকা দিয়া “চতুর্বেদ” সংগ্রহ করা অনেকের পক্ষেই সম্ভবপর হইবে না; - তাই - সকলের সকল সামর্থ্যের উপযােগী করিয়া বেদ সরবরাহের নিম্নরূপ ব্যবস্থা করিলাম। পর পৃষ্ঠা দেখুন।]
( ২ )
প্রথম প্রস্তাব
“ঋগ্বেদ-সংহিতা” সম্বন্ধে।
সমগ্র ‘ঋগ্বেদ-সংহিতা সুন্দররূপে বাইণ্ডিং করা ১৬ খণ্ডে (ভলুমে) সম্পূর্ণ।
এই ১৬ খণ্ডের মুল্য-ডেলিভারি খরচ সমেত—২৬৮, দুই শত আটষটি টাকা।
কিন্তু এই ২৬৮ টাকা চারি বৎসরে দিতে পারিবেন।
পুক-গ্রহণকালে মাত্র ২০ কুড়ি টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ৫ টাকা হিসাবে অথবা বৎসরে
*)
টাকা হিসাবে প্রদান করিয়া গ্রাহকগণ চারি বৎসরে মুল্য পরিশােধ করিবেন।
অর্থাৎ,
প্রথমে মাত্র ২০ টাকা প্রদান করিলে ২৬৮ টাকা মূল্যের
সুন্দর বাইন্ডিং করা ১৬ খণ্ডে সম্পূর্ণ ‘ঋগ্বেদ-সংহিতা
ঘরে বসিয়াই প্রাপ্ত হইবেন।
পরে ক্রমে ক্রমে বাকি টাকা পরিশােধ করিবেন।
কিন্তু এই ১৫
দ্বিতীয় প্রস্তাব
“যজুৰ্বেদ-সংহিতা” সম্বন্ধে।
শুরু ও কৃষ্ণ -উভয় মিলিয়া, যজুর্বেদ সংহিতা সুন্দর বাইণ্ডিং করা নয় ‘ভলুমে’ ৰা
খণ্ডে সম্পূর্ণ। এই নয় ‘ভলুম’ যজুর্বেদ-সংহিতার মূল্য-ডেলিভারি
খরচ সমেত-১৫৩, এক শত তিপ্পান্ন টাকা।
টাকা ২৩ বৎসরে দিতে পারিবেন।
পুস্তক-গ্রহণকালে মাত্র ১০২ দশ টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ৫ পাঁচ টাকা হিসাবে ।
টাকা হিসাবে প্রদান করিয়া গ্রাহকগণ মূল্য পরিশােধ করিবেন।
অর্থাৎ,
প্রথমে মাত্র ১০ টাকা প্রদান করিলেই সুন্দর বাইণ্ডিং
করা ১ খণ্ডে ( লুমে) সম্পূর্ণ যজুর্বেদ-সংহিতা
ঘরে বসিয়া প্রাপ্ত হইবেন।
পরে ক্রমে ক্রমে বাকি টাকা পরিশােধ করবেন।
বৎসরে ৬১
( ৩ ) তৃতীয় প্রস্তাব সামবেদ-সংহিতা” সম্বন্ধে । সমগ্র সমবেদ-সংহিতা সুন্দর বাইণ্ডিং করা ৯ খণ্ডে (অনুমে) সম্পূর্ণ। এই নয় খণ্ড সামবেদ-সংহিতা মূল্য ডেলিভারি খরচা সমেত ১৩৭ এক শত সাঁইত্রিশ টাকা। কিন্তু এই ১৩৭ টাক। দুই বৎসর তিন মাসে পরিশোধ করিতে পারিবেন। পুস্তক-গ্রহণকালে মাত্র ১৩ দশ টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ৫ পাঁচ টাকা হিসাবে অথবা বৎসরে ৬০ টাকা হিসাবে প্রদান করিয়া গ্রাহকগণ মূল্য পরিশােধ করিবেন। অর্থাৎ, প্রথমে মাত্র ১০ দশ টাকা প্রদান করিলেই সুন্দর বাইন্ডিং করা ৯ খণ্ডে (ভলুমে) সম্পূর্ণ “সামবেদ-সংহিতা” ঘরে বসিয়া প্রাপ্ত হইবেন। পরে ক্রমে ক্রমে বাকি টাকা পরিশােধ কধিবেন। চতুর্থ প্রস্তাব অথর্ববেদ-সংহিতা” সম্বন্ধে। সমগ্র অথর্ববেদ-সংহিতা” সুন্দর বাইণ্ডিং করা ৫ পাঁচ খণ্ডে ( তলুমে) সম্পূর্ণ। এই পাঁচ খণ্ড অথৰ্ব্ববেদের মূল্য-ডেলিভারি খরচ সমেত-৮৫, পঁচাশ টাকা। কিন্তু এই ৮৫ পঁচাশী টাকা দেড় বৎসরে দিতে পারিবেন পুস্তক গ্রহণকালে মাত্র ১৭ দশ টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ৫ পাঁচ টাকা হিসাবে অথবা বৎসরে ৬০ টাকা হিসাবে প্রদান করিয়া গ্রাহকগণ মূল্য পরিশােধ করিবেন। অর্থাৎ, প্রথমে মাত্র ১০ দশ টাকা প্রদান করিলেই সুন্দর বাইন্ডিং করা পাঁচ খণ্ডে (ভলুমে) সম্পূর্ণ “অথর্ববেদ- সংহিতা” ঘরে বসিয়া প্রাপ্ত হইবেন। পরে ক্রমে ক্রমে বাকি টাকা পরিশোধ করিবেন।
( 8 )
পঞ্চম প্রস্তাব
ঋক, যজু, সাম ও অথর্বচারি বেদ
এক সঙ্গে লওয়ার
ইচ্ছা হইলে,
অর্থাৎ, সুন্দর বাইণ্ডিং করা ৩৯ উনচল্লিশ ‘ভলুমে’ সম্পূর্ণ যে চতুর্বেদের মূল্য-মায়
ডেলিভারি খরচ-৬৪৩ ছয় শত তেতাল্লিশ টাকা
তাহ। এখনই লওয়ার ইচ্ছা করিলে,
ঐ ৬৪৩ টাকা পাঁচ বৎসরে দিতে পারিবেন।
নিয়ম করা গেল এই যে,
এক সঙ্গে চারি বেদ গ্রহুণেচ্ছুগণ পুস্তক গ্রহণকালে ৫০ পঞ্চাশ টাকা এবং পরে
প্রতি মাসে ১ দশ টাকা হিসাবে অথবা বৎসরে ১২০
টাকা
হিসাবে প্রদান করিয়া মূল্য পরিশোধ করিবেন।
অর্থাৎ,
প্রথমে মাত্র ৫০ পঞ্চাশ টাকা প্রদান করিলেই সুন্দর
বাইণ্ডিং করা সুদৃশ্য ৩৯ ঊনচল্লিশ খণ্ডে সম্পূর্ণ ৬৪৩
টাকা মূল্যের ‘চতুর্বেদ ঘরে বসিয়া প্রাপ্ত হইবেন।
পরে ক্রমে ক্রমে বাকি টাকা পরিশােধ করিবেন।
[ দ্রষ্টব্য :-কোন বেদ কিরূপ ব্যাখ্যাদির সহিত প্রকাশিত হইয়াছে,
পরবর্তী পৃষ্ঠায় তাহার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেখুন।]
শ্ৰীধীরেন্দ্রনাথ লাহিড়ী শৰ্মা, চতুর্বেদের প্রকাশক।
পৃথিবীর ইতিহাস কাৰ্যালয়, হাওড়া (কলিকাতা)।
৩০১৩
প্রকাশক-ঐধীরেন্দ্রনাথ লাহিড়ী শশ্ম - সামবেদ-সংহিতা। (সমগ্র “সামবেদ-সংহিতা”—সুন্দর বাইণ্ডিং ৯ নয় ‘ভলুমে’ সম্পূর্ণ।) (১) আগ্নেয় ও ঐন্দ্র পর্ব-সুন্দর বাইন্ডিং করা দুই ‘ভলুমে সম্পূর্ণ। উহাতে মূল, স্বরচিহ্ন, গে-গান, সায়ণ-ভাষ, পূজনীয় শ্ৰীযুক্ত দুর্গাদাস লাহিড়ী শৰ্মা মহাশয়ের কৃত বিস্তৃত মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা ও বঙ্গানুবাদ-সমালােচনা ও বিশদার্থ, সংস্কৃত ও বঙ্গভাষায় প্রদত্ত হইয়াছে। মূল্য-প্রতি ভলুম ১৬, যােল টাকা হিসাবে—দুই ভলুম ৩২, বত্রিশ টাকা। (২) পবমানাদি পর্ব—মাত্র মূল ও সায়ণ-ভাষ্য সংবলিত-এক খণ্ড—মূল্য ৮ আট টাকা। (৩) পৰমান-প, অণ্যক-পৰ্ব ইত্যাদি—মূল, স্বরচিহ্ন, পদ-পাঠ, গেয়-গান ও সায়ণ-ভাষ্য, পূজনীয় শ্ৰীযুক্ত দুর্গাদাস লাহিড়ী মহাশয়ের কৃত মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা, বঙ্গানুবাদ ও বিশদার্থ প্রভৃতি সমেত। মু{--চতুর্থ হইতে নবম-৬ খণ্ডের মূল্য ৮৮ অষ্ট-আশ টাকা। সমর্থ ‘সামবেদ-সংহিতার ৯ নয় খণ্ডের মূল্য ১২৮ টাকা। ডেলিভারি খরচ ৯ এক শত সাইত্রিশ টাকা। টাকা মােট ১৩৭, ঋগ্বেদ-সংহিতা। [ আট অষ্টক—সুন্দররূপে বাইণ্ডিং করা ১৬ সােল ‘ভলুমে’ সম্পূর্ণ।] (১) প্রথম অষ্টক। আট অধ্যায়। সুন্দর বাইণ্ডিং করা আট ভলুমে সম্পূর্ণ। উহাতে মুর, স্বরচিহ্ন, পদপাঠ, সায়ণ-ভাষ্য, পূজনীয় শ্ৰীযুক্ত দুর্গাদাস লাহিড়ী মহাশয়ের কৃত মর্মানুসারিণী- ব্যাখ্যা ও বঙ্গানুবাদ—সমালােচনা ও বিশদার্থসংস্কৃত ও বঙ্গভাষায় প্রদত্ত হইয়াছে। মুল্য-প্রথম অধ্যায় এক ভলুম ২০ কুড়ি টাকা। দ্বিতীয় হইতে অষ্টম পর্যন্ত সাত অধ্যায়-সাত ভলুম। উহার প্রতি ভলুম ১৬ ষােল টাকা হিসাবে সাত ভলুমের মূল্য ১১২, এক শত বার টাকা। (২) দ্বিতীয় হইতে অষ্টম পর্যন্ত সাত অষ্টক সুন্দর বাইণ্ডিং করা সাত ‘ভলুমে’ সম্পূর্ণ। স্বরচিহ্ন, পদপাঠ ও সায়ণ-ভাষ্য আছে। মুল্য-প্রতি তলুম’ ১৬, যােল টাকা হিসাবে সাত ভলুম ১১২২ এক শত বার টাকা। (৩) পরিশিষ্ট-১ খণ্ড-৮ আট টাকা। এইরূপে সুন্দর বাইণ্ডিং করা যােল ‘ভলুমে’ সম্পূর্ণ সমগ্র ‘ঋগ্বেদ-সংহিতার মূল্য ২৫২, দুই শত বায়ান্ন টাকা। ডেলিভারি খরচ ১৬ টাকা। মােট মূল্য ২৬৮ টাকা। Sri Dhirendranath Lahiri Sarma, Publisher. উহাতে মুল, “পৃথিবীর ইতিহাস” কাৰ্যালয়, হওড়া। যজুৰ্বেদ-সংহিতা। [ (১) শুক্লযজুর্বেদ—সুন্দর বাইণ্ডিং করা দুই ‘ভলুমে’ সম্পূর্ণ । ] (১) প্রথম হইতে পঞ্চম অধ্যায়। এক ভলুম। মূল, স্বরচিহ্ন, মহীধরের ভাষ্য, মৰ্ম্মানুসারিণী- ব্যাখ্যা ও বঙ্গানুবাদ-পূজনীয় শ্ৰীযুক্ত দুর্গাদাস লাহিড়ী মহাশয় কৃত বিস্তৃত ব্যাখ্যা ও বিশদার্থ-সংস্কৃতে ও বঙ্গভাষায়। মূল্য—১৬, টাকা। (২) অধ্যায়-যষ্ঠ হইতে চত্বারিংশৎ। মূল, স্বরচিহ্ন, ও মহীধরের ভাষ্য। এক গুলুম। মূল্য-১৬, যােল টাকা। [ (২) কৃষ্ণ-যজুৰ্বেদ—সুন্দর বাইন্ডিং করা সাত ‘ভলুমে’ সম্পূর্ণ।] (১) উহার প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডে মূল, পদ-পাঠ, স্বরচিহ্ন, সায়ণ-ভাষ্য, পূজনীয় শ্রীযুক্ত দুর্গাদাস লাহিড়ী মহাশয়ের কৃত মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা ও বঙ্গানুবাদ-সমালােচনা ও বিশদার্থ-সংস্কৃত ও বঙ্গভাষায় আছে। মূল্য-প্রথম ও দ্বিতীয় দুই খণ্ডের ১৬, হিসাবে ७२५ বত্রিশ টাকা। (২) তৃতীয় হইতে সপ্তম পৰ্য্যন্ত পাঁচ খণ্ডে মূল, পদ-পাঠ, স্বরচিহ্ন ও সায়ণ-ভাষ আছে। মূল্য—প্রতি খণ্ড ১৬, যােল টাকা হিসাবে পাঁচ খণ্ড ৮০, আশী টাকা “শুক্লযজুৰ্বেদ-সংহিতা” ও “কৃষ্ণ-যজুৰ্বেদ-সংহিতা”—এই উভয় বেদের ৯ নয় খণ্ডের মুল্য মায় ডেলিভারি খরচা ১৫৩, এক শত তিপ্পান্ন টাকা। অথৰ্ব্ববেদ-সংহিতা। (সুন্দর বাইণ্ডিং করা পাঁচ ‘ভলুমে’ সম্পূর্ণ।) (১) এম কাণ্ড। এক ‘ভলুম। মূল, স্বরচিহ্ন, পদ-পাঠ, সায়ণ-ভাষ্য, মৰ্ম্মানুসারিণী-ব্যাখ্যা ও বঙ্গানুবাদ-পূজনীয় শ্ৰীযুক্ত দুর্গাদাস লাহিড়ী মহাশয় কত বিস্তৃত ব্যাখ্যা ও বিশদার্থ-সংস্কৃতে ও বঙ্গভাষায়। মূল্য ১৩ যােল টাকা। (২) দ্বিতীয় হইতে বিংশ কাও। চারি ‘ভলুম। মূল, স্বরচিহ্ন, পদ-পাঠ ও সায়ণ- সমেত। মূল্য—দ্বিতীয় হইতে পঞ্চম পর্যন্ত চারি ভলুম ১৬ নােম টাকা হিসাবে ৬৪, চৌষটি টাকা এইরূপে সম্পূর্ণ সমগ্র অথৰ্ব্ববেদ-সংহিতার মূল্য ৮• আশী টাকা। ডেলিভারি খরচ ৫; পাঁচ টাকা লাগবে। মােট ৮৫, পচাশী টাকা। সমগ্ৰ চারি বেদের সম্পূর্ণ ৩৯ ভলুমের মূল্য মায় ডেলিভারী খরচ। মােট ৬৪৩, ছয় শত তেতাল্লিশ টাকা। The 'Prithibir Itihasa' Office, Howrah (Calcutta), প্রকাশক-ধীরেন্দ্রনাথ লাহিড়ী শর্মা। পূজনীয় শ্ৰীযুক্ত দুর্গাদাস লাহিড়ী শৰ্মা মহাশয়ের প্রণীত সেই অমূল্য অপূর্ব গ্রন্থ পৃথিবীর ইতিহাস। প্রতি স্কুলে, প্রতি লাইব্রেরীতে এই পৃথিবীর ইতিহাস’ রক্ষিত হওয়া আবশ্যক। পণ্ডিতগণ একবাক্যে বলেন, “যে লাইব্রেরীতে এই পৃথিবীর ইতিহাস' নাই, সে লাইব্রেরী অসম্পূর্ণ।” “PRITHIBIR ITIHASA' BY PU'NDIT DURGADAS LAHIRI. . It is a unique publication never before attempted in any of the Indian languages. The Calcutta University has purchased a few sets of the “ PRITHIBIR ITIHASA” for the use of the University. 3. The Hon'ble the Director of Public Instruction, Bengal and Behar, has recommended the “Prithibir Itihasa as Prize and Library books for all grades of Schools. 4.' The Political Agent of Angul and Orissa Feudatory States has also recommended the 'Prithibir Itihasa' as Prize and Library Books for all grades of schcols. 5. High othcials, educationists and leading members of the society are unanimous in their opinion as to the importance and usefulness of the publication. 6. In the first Eight volumes of the “ Prithibir Itihasa" you will find the true and elaborate History of Ancient India. Each volume is replete with historical and antiquarian researches, full of interest. Each volume is complete in itself. Each volume is separate. PRICE of Each volume is Rs. 10/- Rupees Ten only. Delivery charge for each volume is Re. 1/- one extra. Price for Eight Volumes (Ancient India) inclu ling delivery charges is Rs. 88/- Rupees Eighty-eight only. Sri Dhirendranath Lahiri Sarma, Publisher.
“পৃথিবীর ইতিহাস কার্যালয়, হও । পূজনীয় শ্রীযুক্ত দুর্গাদাস লাহিড়ী শৰ্মা মহাশয়ের প্রণীত পৃথিবীর o ইতিহাস “পৃথিবীর ইতিহাস সম্বন্ধে জ্ঞাতব্য। ১। পূজনীয় শ্ৰীযুক্ত দুর্গাদাস লাহিড়ী সুচীপত্র ও নির্ঘণ্ট (index) আছে মহাশয়ের প্রণীত “পৃথিবীর ইতিহাস” আট সুতরাং স্বতন্ত্রভাবেই প্রতি খণ্ডের উপযােগিতা খণ্ড প্রকাশিত হইয়াছে। অনুভূত হইবে। ২। ঐ আট খণ্ড “পৃথিবীর ইতিহাসে ৭। প্রতি খণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসের প্রাচীন ভারতবর্ষের বিবিধ জ্ঞাতব্য-তত্ত্ব বিবৃত মূল্য ০২ দশ টাকা; প্রতি খণ্ডের ডাক আছে ; সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর বহু প্রাচীন মাশুলাদি ব্যর এক টাকা। যাহার যে খণ্ড জনপদের নিগুঢ় তত্ব সন্নিবিষ্ট রহিয়াছে। ইচ্ছা, তিনি সেই খণ্ডই ক্রয় করিতে পারেন। ৩। কত অর্থব্যয়ে, কিরূপ অমানুষিক উক্ত আট খণ্ডের মূল্য মায় ডাক-ব্যয় ৮৮, পরিশ্রমে, এক এক খণ্ড পৃথিবীর ইতিহাস” অষ্ট-আশী টাকা। মুদ্রিত ও প্রকাশিত হইয়াছে—চক্ষে না দেখিলে ৮। প্রতি লাইব্রেরীতেই এই পৃথিবীর কেহই তাহা বুঝিতে পারিবেন না। ইতিহাস” রক্ষা করা কর্তব্য। পণ্ডিতগণ প্রতি খণ্ড “পৃথিবীর ইতিহাসকে” সকলেই একবাক্যে বলিয়াছেন—“যে নাই এক এক খানি সম্পূর্ণ গ্রন্থ বলা যাইতে পারে। ব্রেরীতে এই পৃথিবীর ইতিহাস’ নাই, সে যে কোনও এক খণ্ড এই “পৃথিবীর ইতিহাস” লাইব্রেরী অসম্পূর্ণ : ঘরে থাকিলে, বহু জ্ঞাতব্য তত্ত্ব অবগত ৯। যেখানে যে বিদ্যালয় আছে, সকল হওয়া যায়। বিদ্যালয়ে এই “পৃথিবীর ইতিহাস” গৃহীত ও ৫। প্রতি খণ্ড “পৃথিবীর ইতিহাস” রক্ষিত হওয়া কর্তব্য। শিক্ষাবিভাগের ডাই- স্বতন্ত্রভাবে সুন্দর কাপড়ে সুন্দররূপে বাইণ্ডিং রেক্টর ময়ােদয় এবং কলিকাতার বিশ্ববিদ্যালয় করা। দৃশ্যতঃ প্রতি খণ্ডই এক একখানি এই “পৃথিবীর ইতিহাসকে বিদ্যালয়সমূহে স্বতন্ত্র গ্রন্থ মধ্যে পরিগণিত। রক্ষিত হইবার উপযােগী গ্রন্থ বলিয়া নির্দেশ ৬। পৃথিবীর ইতিহাসের প্রতি খণ্ডেই করিয়াছেন। The 'Prithibir Itihasa' Office, Howrah, ৪।
ॐ अथर्व- B- ऋक, यजुः, साम, चारों वेदोंका विदः विदा पक संस्करण-संस्कृत, हिन्दी, वगला चारों भाषाओंमें प्रकाशित करनेका आयोजन हुआ है। यह संस्करणका प्रथम प्रन्थ देखिये। अगरेजी और चतुर्वेदः पूजनीय-पण्डित-श्रीयुक्त-दुर्गादास-लाहिड़ी-शर्मणा व्याख्यातः सम्पादितश्च । यह विज्ञापन पढ़िये-एक खण्ड अन्य भो देखिये। देखनेसे मालम हो जायेगा कि यह प्रन्थ कैसा अमूल्यरत्न है। वेदो श्रीधीरेन्द्रनाथ लाहिड़ी शर्मा, चतुर्वेद-प्रकाशक, 'पृथिवीर इतिहास' कार्यालय, हवड़ा (कलकत्ता)। विदः The Prithibir Itihasa ' Printing Works, Howrah. Circular No.3 15-5-31 বিঙ্গাপন নং ৩
বেদ
ঋক্, যজুঃ, সাম, অথর্বচারি বেদ বঙ্গাক্ষরে
সম্পূর্ণ প্রকাশিত হইয়াছে।
এই সংস্করণ সুন্দর বাধাই ৩৯ উনচল্লিশ ‘ভলুমে’ সম্পূর্ণ।
মূল্যাদির বিষয় পত্র লিখিয়া অবগত হউন।
mmmmmmxmashinimun .
FOUR VE AS
In Bengali characters, complete in beautifully bound
thirty-nine (39) volumes.
Price List and particulars on application.
चतुर्वेद
बंगला अक्षरमें ऋक यजुः साम अथर्व-यह चारों वेद सुवृहत्
३६ ऊनचल्लिश भौलममें ( खण्डमें) समाप्त हुए हैं।
इस संस्करणमें संस्कृत और वंगला भाषाओंमें वेदमन्त्रका
विशदार्थ तथा व्याख्या दी गई है।
चिट्टि लिखनेसे मूल्यतालिका और विवरण भी मिल जायेगा
श्रोधोरेन्द्रनाथ लाहिड़ी शर्मा
चतु-द-प्रकाशक ।
'पृथिवीर इतिहास' कार्यालय, हवड़ा (कलकत्ता)।
SRI DHIRENDRANATH LAHIRI SARMA,
Publisher, Four Vedas.'
The 'Prithibir Itihasa' Office, Howrah (Calcutta).
[३] चितुर्वेदका विज्ञापन | चतुर्वेदः पूजनोय-पण्डित-श्रीयुक्त-दुर्गादास-लाहिड़ी-शर्मणा ध्याख्यातः सम्पादितश्च । १. वेद-सुख और शान्तिके भण्डार हैं। परमपूज्य वेदोंमें अमूल्यरत्न भरे हैं। ये सुख और शान्तिके भण्डार हैं। इनमे परमतत्त्व-प्रदर्शक और आत्मोत्कर्षसाधक वस्तु विद्यमान है। इनके द्वारा मनुष्योंके लौकिक तथा पारलौकिक मङ्गल हो सकते हैं। tकन्तु कालके प्रभावसे वदमन्त्रांका निगूढ अथ-ज्ञान और प्रत्यक्ष फल प्राप्त करनेका सुयोग कदाचित ही कभी मिलता है। पाश्चात्य विकृत द्वाष्टमे वेद-मन्त्राका वड़ी दुद्देशा हुइ है। कथंको प्रहालका मनुष्याका विभ्रान्त कर रहा है। वेद- मन्त्रोंके निगूढ तत्त्वको प्राप्तिमे अनेक पक्षासे अनकानेक विन्न उपस्थित हो रहे हैं। यही कारण है कि, संसारमे अशान्तिको सामा नहीं है। वड़ा आनन्दको वात है कि, पूज्य पाण्डत श्रोयुक्त दुर्गादास लाहिड़ो शर्माने 'चतुर्वेद' ध्याख्यामें उन्हों निगूढ तत्त्वोंको प्रकट कर दिया है। उनका व्याख्यासे वोध हो जायगा कि, वेदमन्त्रां कसे उच्च आध्यात्मिक भाषांस परिपूर्ण एवं आत्मात्कर्ष-साधक हैं, और उन्हें कैसा सुख एवं शान्ति विराजमान हैं। . २। हिन्दो-भाषामे सार्वजनिक संस्करण। पूजनीय पण्डित श्रीयुक्त दुगादास लाहिड़ा शम्मान व्याख्यात और सम्पादित बङ्गलामें प्रकाशित चारों वेदोक संस्करणका देख कर और उनका व्याख्या प्रभृतिको आलाचना कर भारतवर्षके विभिन्न प्रदशोक विद्वान व्यक्ति इस संस्करणकी अशेष प्रशंसा कर रहे है। उनका विशेष आग्रह यह है, कि ऐसा प्रयत्न हा कि सभा प्रदेशांक ज्ञानपिपासु उक्त व्याख्याका रसास्वादन करनेमे समय हा सक । उक्त विद्वानोक अतिशयाग्रहक फलस्वरूप इस आकांक्षासे मैं चारो भाषाम वदाका एक साव्वजनिक संस्करण प्रकाशित करनमें प्रवृत्त हुआ हूं, किं इसके द्वारा भारतक सभी प्रदशोंके लाग वद-व्याख्याका मर्म समझकर तृप्त हो सके। यहा संस्करण- का एक खण्ड प्रन्थ प्रकाशित हुआ है। परपृष्ठाम यही खण्डका विवरण पाढये [ ४ ] [चतुर्वदका विज्ञापन । शुक्लयजु संहिता। इस खण्डमें शुक्ल यजुर्वेद ( वाजसनेयो सहिताका समस्त प्रथम अध्याय प्रकाशित हुआ है। देवनागरी अक्षरों में मूल मन्त्र हैं, उच्चारणके स्वरचिह्न हैं, विविध पाठान्तर हैं, उवटाचार्य्य और महोधराचार्यके भाष्य हैं, पूजनीय पण्डित श्रीयुक्त दुर्गादास लाहिड़ी शर्मा लिखित मर्मानुसारिणी व्याख्या एवं मर्थिकी विशदः विस्तृत आलोचना है। हिन्दी, बङ्गला • और अगरेजीमें उक्त व्याख्या एवं मर्मार्थकी विस्तृत आलोचना दी गई है। अगरेजी और बङ्गला अंशोंको छोड़कर इस वेद (संस्करण) के अन्य सभी अंश देवनागरी अक्षरों में प्रकाशित हुए हैं। इस खण्डकी व्याख्यासे शुक्ल-यजुर्वेदके क्रिया-कर्मको. विशेष विशेष पद्धतिका भी ज्ञान हो जायेगा मूल्य-पचा। शुक्ल यजुर्वेदके प्रकाशित खण्डको देखनेसे ही पता चल जायेगा, कि कैसे अमानु- षिक परिश्रम और कितने व्ययसे चारो वेद प्रकाशित हो रहे हैं और जनसाधरणके उपयोगी बनानेके लिये कैसी चेष्टा की जा रही है। उक्त वातोंपर दृष्टि देनेसे मालूम होगा, कि शुक्लयजुर्वेदसंहिताके इस खण्डका अत्यल्प मूल्य रखा गया है। सुन्दर कागज, सुन्दर छपाई और सुन्दर जिल्द बंधवाकर यजुर्वेद- संहिताके इस खण्डका मूल्य केवल ७) सात रुपये रखा गया है। सात रुपयेमें यह खण्ड घर बैठे मिल जायेगा.। विशेष द्रष्टव्य। यजुर्वेद-संहिताके इस खण्डको ले कर जो देवनागरी अक्षरोंमें प्रकाशित चारो वेदोंके ग्राहक होंगे, उन्हें ग्रन्थ समाप्त न होने तक प्रत्येक खण्डके लिये केवल सात सात रुपये ही देना पड़ेगा। हां, स्मरण रखनेको बात यह है कि, परवत्ती खण्डके प्रकाशित होते ही पूर्ववत्ती खण्डका मूल्य १७) दश रुपये कर दिया जायेगा। श्रोधोरेन्द्रनाथ लाहिडीशा, चतुर्वेद-प्रकाशक। "पृथिवीर इतिहास" कार्यालय, हवड़ा, (कलकत्ता) BO THE VED The Vedas in Four Languages. Explained and Edited BY PUJANIYA PUNDIT DURGADAS LAHIRI SARMA. Opinions of the Press. > The “ Amrita Bazar Patrika writes: A Great Revelation. Pundit Durgadas Lahiri's New Enterprise. The “ Vedas”-the fountain-head of religion, the storehouse of human knowledge, the glory of Indian culturehave been brought under a degraded condition by the commentaries current, most of which are the outcome of antagonistic schools of thought. The commentators by their incoherent views helped the westernised scholars to ridiculously call the “Vedas,” which the Hindus adore with devoted zeal," the cultivators' songs"-the indistinct and inarticulate utterings of uncivilized people. It is a matter of great satisfaction to note that Pundit Durgadas Lahiri in his expositions of the Vedic hymns has completely turned the tide. From his explanations it will be evident how highly spiritual the Vedic hymns are and what lofty sentiments do they convey and how self-elevatin s are the hymns of the Vedas." Pandit Durgadag (6) Lahiri's attempt in this direction may be called the first of its kind and his annotations and explanations of the Vedic hymns in reference to their spiritual and esoteric significance may be called a revealation in the realın of Vedic literature. The volume of the “Vedas" (first volume of Sukla Yajurveda-Samhita) lying before us for review, is unique in its nature as it will appeal to all and will be elligible to all belonging to all sects and nations. The edition is being printed in four languages, namely Hindi, Sanskrit, English and Bengali and in Devnagari, English and Bengalee characters. This new edition of the “ Vedas та у be called an International editiun and is being explained and aunotated on the line in wuich it has been done in bis Bengali edition which is now complete in 39 big volumes. The plan of this All-India-edition of the “ Vedas under review is briefly this :-In Devanagari characters (1) Original text of the hymns, (2) the signs of gamut for pronounciation ; (3) different readings of the hymns ; (4) Original Vasyas or comentaries by Ubat and Mahidhar; (5) Marmanus-rini byakshya and elaborate explanations by Pundit Durgadas Lahiri ; (6) reproduction of those annotations and explanations in Sanskrit, Hindi, Bengali and English languages. These are the special features of this edition. Pandit Durgadas Lahiri is doing yeoman's service to the country by his untiring attempts for the spiritual and cultural improvements of his countrymen. For this be deserves much credit and the whole country will be grateful to him for the service he is rendering to it. Considering the risk, the onerousness of the enterprise, the usefulness of the publication and the national importance of the work, we wish our countrymen to stand by Pandit Durgadas Labiri and to exert their whole energy to make the enterprise a complete success. The book under review may be had of Babu Dhirendra Nath Lahiri, “ Prithibir Itihasa" Uffice, rowrah (Calcutta). The price including all charges is Rs. 7 rupees seven only.
(7) The Liberty writes :- The Vedas All-India Edition of the VEDAS" by Pundit Durgadas Lahiri ; a short Review. When Pundit Durgadas .Lahiri's edition of the Vedas in Bengali characters was in progress, the late Hon'ble Justice Sir Ashutosh Mukerji in his presidential address at the meeting of the Veda-Sava remarked,- “I wish to express my appreciation of the national importance of the work in which my venerable friend, Pundit Durgadas Lahiri, is engaged. I deliberately use the expression national importance'; because we cannot become an Indian nation unless we revive and disseminate the higher type of Indian culture. The work in which my venerable friend Pundit Durgadas Lahiri is engaged is of national importance and it is the duty of each one of us to stand by him and to help him in his noble work.” The four Vedas in Bengali characters is now complete in thirty-nine big volumes. It has been a great asset to the nation. The learned Pandit, after finishing the onerous task of annotating the hymns of the Vedas in Sanskrit and in Bengalı, has now taken upon himself the task of publishing an All-India edition of the Vedas. The first volume of Sukla - Yajurveda-Samhita, which we have received from its publisher, Babu Dhirendranath Lahiri, for review is the sample volume of this All- India edition of the Vedas. The suktas have been ex. plained in Hindi, English, Sanskrit and Bengali by Pundit Durgadas Lahiri and the volume is printed in Devanagri, English and Bengali characters. The volume under review is an excellent epitome of high ancient Indian culture and civilization of which every Indian ought to be proud. Pandit Durgadas Lahiri, has (8) ; infused in his annotations and explanations of the Vedio hymns new thoughts and ideas never before imagined by previous commentators. How highly sublime the Vedic bymns are and what lofty sentiments do they convey, will be fully evident from the learned interpretations given to them by the Pandit. The Vedas are the fountain head of the Hindu religion and the store-house of human knowledge. They are also the glory of Indian culture and civilisation and the source of all peace and happiness. The Shastras enjoin that in the Vedas lies the Sargapabaigą, i.e., the final union with God. It is, therefore, desirable that every one should remember the famous saying of the Vedas : “Be ye all one and identical in your words and actions ; be ye all ins. pired by and aim at one and the same object in view." In the volume under review the arrangement of the subjects leaves nothing to be desired. The original texts of the hymns come first. Then come one after another the signs of gamut for pronunciation, different readings of the hymns, original Vasyas or commentaries by Ubat and Mohidhara, Marmanusarini. Bakhya or paraphrase and elaborate explanations by the venerable Pundit Durgadas Lahiri and reproductions of those paraphrases and explanations in Sanskrit, Ilindi, Bengali and English languages. Except the English and Bengali sections all other sections are in Devanagri characters. The publication is of immense importance and deserves encouragement from all quarters. We cannot resist the temptation of repeating the word of the late Sir Ashutosh and say that “the work in which Pundit Durgadas Lahiri is now engaged is of national inportance and it is the duty of every one of us to stand by him." for the success of the publication. The get up of the book is good. It can be had of its publisher, Babu Dhirendranath Lahiri, the PRITHIBIR ITIHASA Office, Howrah, at Rs. 7 (rupees seven only).
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.