Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Madalasa

Sarkar,narendranath · 2010/03/26

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

জয়া বীকেশ লিপি
যথা নিয়ুতোশি
মদালসা
(পৌরাণিক দৃশ্যক)
(মিনার্ভা থিয়েটারে অভিনয়ার্ধে)
নরেন্দ্রনাথ সরকার প্রণীত
কলিকাত
সতীশ দত্ত কর্তৃক প্রকাশিত।
(১৩০৬ সাল ১লা বৈশাখ)
মূল্য ১, একটা মাত্র।

৪৫৪ বেণেটোলা লেন, সাথী প্রেসে, দেবেন্দ্রনাথ নন্দী দ্বারা মুদ্রিত পাল প্রেমাঞ্জলি। পরম পূজনীয় শ্ৰীযুক্ত বাবু অতুলচন্দ্র রায়চৌধুরী দাদা মহাশয় এচরণ কমলেষু। sa ৩৫০০৬৬ ০৩esses অতুল দা ! wee৩৩.৩৪ ১৬esses :: ... :::::::::::::৩৬৫৫%ece9c8 মানুষ অনেক রকমে পাগল হয়। পাগলামীরও কতকটা সীমা আছে। এই নশ্বর সংসারে আসিয়া ভুলে ডুবিয়া কত রকম পাগলামী করিয়াছি তাহাও প্রায় আপ- নার অবিদিত নাই। কিন্তু যে জিনিসের জন্য অশৈশব পাগল হইয়া ঘুরিয়া বেড়াইতেছি বিধি নিয়ে আজও তাহার সন্ধান পাইলাম না । মনে হয় সে স্বর্গীয় পবিত্র প্রণয় এ পৃথিবীতে সুল্লভ ও মরীচিকা মাত্র। পাগলের পাগলামী উত্তরােত্তর বৃদ্ধি হইতে দেখিয়া আমার লক্ষ্যভ্রষ্ট উচ্ছল জীবনে কতকটা শান্তি প্রদানের আশায় তুমি আমায় একাগ্রচিত্তে বাক্‌দেবীর পূজা করিতে উপদেশ দিয়াছিলে। নিজের শত সহস্র ক্ষতি স্বীকার করিয়াও আমার উচ্ছ ঙ্খল ব্যবহারে বিন্দুমাত্র অসন্তুষ্ট না হইয়া যেরূপ আনন্দে তুমি আমায় লেখনী ধরিতে শিক্ষা দিয়াছিলে এ দীনহীন অকৃতি অধম তােমার সে শিক্ষা ভুলে নাই ১৬.usselesed WoW HUWWtür Hiwite লবণগগগগগগগগগগগগগগগগগন ঃ We: ৩২.৩:৩৩ ••• •••••••••••••• কিন্তু পূর্ণ শুদ্ধ এখনও হয় নাই। সে এখনও বহুদূর। তবে ভালবাসায় প্রাণ উৎসর্গ করিয়া তোমার শিক্ষাগুণে ভালবাসার মৰ্ম্ম সাহা কিছু বুঝিয়াছি তাহারই ফল এই আমার অতৃপ্ত হৃদয়ের প্রথম উচ্ছাস “মদালসা।” তােমাকে বলা বাহুল্য উপবিলিখিত কারণ ব্যতীত সাহিত্য জগতে প্রতিষ্ঠা লাভ করিবার আশায় আমি এ পুস্তক লিখিতে বলি নাই; কারণ মহাকবি কালিদাস যথার্থই বলিয়াছেন— “মনঃ কবি যশঃপ্রার্থী গমিষ্যাপহাস্যতাম্ ।” কিন্তু ভাই তুমি প্রেমিক, প্রেমিকের নিকট প্রেমের আদর জানিয়াও এ দীনের উপর তােমার অকৃত্রিম স্নেহ- রাশি আছে বুঝিয়া ভরসা করিয়া মানস কাননেব প্রথম উন্মুক্ত কলিকা তােমার চরণে আনন্দের সহিত অঞ্জলি দিলাম। অনুগ্রহ পূর্বক কলিকার অভ্রাত-সৌরভ গ্রহণ করিলে এ দাস চরিতার্থ হইবে । wssasssssssssssssssssssssss৩৩৩৩৩৩৩৩৭, ৩:৩৩৭৩৩৩২ টাকী শ্ৰীপুৰ, দীনহীন তােমার স্নেহের ভাই সন ১৩০১ সাল, ১লা বৈশাখ। নরেন - - orer is a is itseips99999 •••••••••9..:9: 0tk

বিনীত নিবেদন
যেরূপ অল্প সময়ের মধ্যে ও ব্যস্ততাক্রমে এই পুস্তক
মুদ্রাঙ্কিত হইয়াছে তাহাতে স্থানে স্থানে অনেক মুদ্রাঙ্কন
প্রমাদ দৃষ্ট হইবেক। সুধিগণ অনুগ্রহ পূৰ্ব্বক ত্রুটি ক্ষমা
করিবেন।
সতীশচন্দ্র দত্ত
৩২ নং ঘােষের লেন
কলিকাতা,
১৩০ ৬, ১লা বৈশাখ।
প্রকাশক।

No text on this page.

নাটোলিখিত ব্যক্তিগণ । প | ০ ০ D ০০ ০ • • • .. . . ০ ০ . | ০ ০ ০ ০ ০ শত্রুজিৎ রপতি ঋতধ্বজ ঐ পুত্র ( রাজসখা যুবরাজের সখা। গালব জনৈকু মূহষি। তরু বিশ্ববসু নামে গন্ধৰ্ব্বরাজের কুলগুরু। মন্ত্রী রাজমন্ত্রী। সেনাপতি রাজ সেনাপতি । পাতালকেতু জনৈক দানব। তালকেতু ঐ অনুজ ভ্রাতা। কম্বল ও অশ্বতর নাগরাজ দ্বয়। সুশৰ্ম্মা ও দেবশর্মা অশ্বতর পুত্রদ্বয়। সভাসদগণ, ঋষিগণ, দানবগণ, ঋষি বালকগণ, প্রহরীগণ, সেনানায়ক, সেনাগণ ও বনবাসিদ্বয় ইত্যাদি। স্ত্রীগণ। রাণী রাজমহিষী। মদালসা গন্ধৰ্ব্বরাজ বিশ্ববসুর কন্যা ও (যুবরাজের ভাবী পত্নী)। কুণ্ডলা মদালসার ভগ্নী । সুরভী গােমাতা। মুঞ্জরী মদালসার সখি। পরিচারিকা, প্রতিবেশীগণ, ঋষি বালিকাগণ, ঋষি পত্নীগণ, সখীগণ ইত্যাদি। ০ ০ ০ ০ ০ ০ ৮০০

No text on this page.

ছিলেন মা
মদালসা।
প্রথম অঙ্ক
প্রথম গর্ভাঙ্ক
রাজসভা।
(রাজা, মন্ত্রী, রাজসখা, ঋষিবৃন্দ ও সভাসদগণ ইত্যাদি আসীন)
রাজ।। সমাগত ঋষিবৃন্দে করি নমস্কার,
ভিক্ষা মম এই,—জীবনে মরণে,
ধৰ্ম্মে যেন রহে মতি ;
হেরি সংসারের গতি,
আকুল অন্তর মম ;
দেহ দিব্যজ্ঞান, যাহে জ্ঞানচক্ষু
হয় প্রস্ফুটিত, দেহ বুঝাইয়া ধৰ্ম্মনীতি,
যাহে মম হৃদয়ের তাপদূর হয়।

মদালসা। [ প্রথম অঙ্ক জ-ঋষি। হে ধীমান্। ধৰ্ম্মে তব রবে মতি ; হের ধরার মাঝারে চলিছে অধৰ্ম্ম স্রোত—যাহে কৰ্ত্তব্য বর্জিত নরে! ‘অহং’—জ্ঞানে আপনা বিস্মৃত, জ্ঞানচক্ষু আবদ্ধ সবার ; অনুক্ষণ ধৰ্ম্মে করি হেলা, নরকের পথ করিছে প্রশস্ত সবে। রাজা। কহ ঋষি ! কেন হেন দশ মানবের ? কিবা হেতু ধর্মে বিবর্জিত ? জ-ঋষি। বুঝহ প্রমাণ, ‘অহং”-“আমি”,-আমার-আমার সব, এই জ্ঞানে আত্মহারা সবে, ভাবে মনে এসংসারে রব চিরদিন, সেই হেতু-কাম-ক্রোধ-লােভ- মােহ-মদ-মাৎসর্য্যে-সদা করে উপাসনা, খুলে যায় পাপের নয়ন। জ্ঞানালােকে হৃদয়ে না হয় তমােনাশ। কহ মুনি ! কেমনে মানবগণ পাবে পরিত্রাণ.? ( দূরে গালবকে দেখিয়া) হের সভাস্থ সকলে,-নাহি জানি কোন্ জন্ আসিছে সভায় ?

প্রথম গর্ভাঙ্ক ]
মদালসা।
দ্বি-ঋষি।
ভয়ে আচ্ছাদিত দেহ,
শিরে জটাভার, হেৰি উৎকণ্ঠিত প্রাণ মম।
হের মহারাজ!
যােগীবর গালব আগত,
( গালবের প্রবেশ )
রাজা। (উঠিয়া ) হে ঋষিরাজ ।
সুপ্রসন্ন অদৃষ্ট আমার, তেই
তব পদরজঃ পড়িল এ দীনের আলয়ে,
কৃপা করি কর দেব অসিন গ্রহণ।
গালব। স্বস্তি-স্বস্তি-স্বস্তি
হও চিরজীবী।
( আসন গ্রহণ )
রাজা। কহ দেব! কিবা কার্যে পবিত্ৰিলা
দরিদ্রের পুরী ?
আমি অতি দীন হীন, কি দিয়ে করিব পূজা
ও পদযুগল, দেহ তত্ত্বজ্ঞান, যাহে
মােহের বন্ধন যায় টুটে,
মায়াঘােরে এ সংসারে ফিরি নিরন্তর,
কন্তব্য কঠোর দণ্ড করিয়ে মন্তকে ;
কৃপা করি দীন জনে কর হে করুণা।
গালব। মহারাজ!
জেন স্থির ধর্মবিনা এ সংসারে
নাহিক উপায়, ধৰ্ম্মে যার আছে মতি
তার নাহি সংসারেতে ভয়।
ওনহে রাজন!
বড় আশে এসেছি তোমার পাশে,

মদালসা। [ প্রথম অঙ্ক মম তপ-যুপ- বৃথা হয়ে যায়, করহ উপায়, যাহে ঋষিগণে পায় পরিত্রাণ । দুরন্ত দানব এক আসি মম আশ্রম সমীপে, ধরি সিংহ- বাকরীর—আকার, করিতেছে তপ বিঘ্ন সবাকার ! শক্তি মম আছে হে রাজন নিপাতিতে দুরন্ত দানবে, কিন্তু তাহে মম সর্বনাশ হয় উপস্থিত । কষ্টার্জিত তপস্যার হবে তাহে ক্ষয়, তাই করি ভয়-দানব দুর্জয়ে ভষ্মীভূত করিবারে। কহি শুন অপূৰ্ব্ব কাহিনী—একদা দানবপীড়নে হয়ে শােকান্বিত, শূন্যপানে চেয়ে হৃদয়ের খেদে ত্যজি,দীর্ঘশ্বাস এক, আচম্বিতে কোথা হতে এল এক “হয়, সম্মুখে আমার পরক্ষণে হ’ল দৈববাণী—হের “হয়” দিলাম তােমায় স্বর্গ-মর্ত-পাতাল-- কিম্বা সলিল মাঝারে--যথা তথা : এই অশ্ব করিবে গমন, ভূমণ্ডলে নাহি হেন জন, নিবারিতে তুরঙ্গমে। যথা তথা গমন ইহার সেই হেতু “কুবলয়” নামে হইবে বিখ্যাত ভূবন ভিতরে ; শত্রুজিত রাজার কুমার, তধ্বজ নাম, শক্তিধর কুমার জিনিয়ে,

প্রথম গর্ভাঙ্ক ।
মদালসা ।
এই হয়” প্ৰদানিবে তারে ;
অশ্বারােহী হইয়ে কুমার
“কুবলাশ্ব” বলি পরিচিত হবে জনমাঝে ;
পরে শত্রু তব করিবে নিধন।”
যাও ত্বরা অশ্ব লয়ে রাজার সমীপে,
কহ গিয়ে বিবরণ সব, রাজা প্রেরিবে,
তনয়ে তবসনে, করিতে নিপাত,
দুরন্ত দানবে”। হে ধৰ্ম্ম-সেনাপতি
২াহ্মণের পুরাও কামনা।
রাজা। ঋষিরাজ । কি কারণে কিঙ্করে
এ কাতর মিনতি, এখনি পাঠাব
তনয়ে মম শত্রু তব করিতে নিপাত।
গালব । হে রাজধীরাজ ।
যদি কৃপা করে দানিলে অভয়,
প্রতিদান কি করিব, আবন্ধ রহিনু চির
কৃতজ্ঞতাপাশে,-করি আশীৰ্বাদ,
জীবনে না দুঃখ পাবে তুমি,
রহিবে অন্তরে তব শান্তি নিরন্তর।
রাজা। যাও মন্ত্রী, ঋষিরে সইয়ে, বিশ্রাম আগারে ;
যাই আমি
তনয়ের আড্ডা দিতে রণ যাত্রা হেতু ।
( রাজা ও তৎপশ্চাৎ ঋষিগণের প্রস্থান)
প্র-সভা। ওহে ঠাকুর ! তােমায় হয় তাে যেতে হবে ?
রা সখা। কোথায় ?

মদালনা।
[ প্রথম অঙ্ক
দ্বি-সভা। যুবরাজের সহিত যুদ্ধে যেতে হবে, প্রস্তুত হওগে।
রা-সখা। ও কি কথা বল! আমি যে ব্রাহ্মণীর নয়নের নিধি।
বানি আমায় না দেখতে পেলে অন্ধ হবে, আর তাে
আমার চৌদ্দ পুরুষের মধ্যে কেউ নাই। ঐ ব্রাহ্মণী টুকু
আর আমি।
প্রসভা। ভয় কি! যার কেউ নাই তাকে ঈশ্বর রক্ষা করবেন।
রা-সখা। দোহাই বাবা ! বানী মারা যাবে, আমি যেতে পাৰ্বোনা।
দ্বি-সভা। তবে তােমায় রাজা ভাল বাসবেন না।
রাসখা। কেন? কেন ? রাজা ভাল বাসবো কেন ? তিনি তাে
আর আমায় যেতে বলেন নি ?
দ্বি-সভা। তিনি বলেন বৈকি! একটু পরেই জাতে পাবে।
রা সখা। তােমাদের পায়ে পড়ি ঐ কথাটি বােলনা, তাহলেই আমি
মারা যাব। আর আমার বানীও ঘরশূন্য করে চলে যাগ !
দ্বি-সভা।তয় কি আমরা পাহারা দোবাে। আমরাও দু একবার দিনের
মধ্যে গিয়ে দেখে আসব।
রাখা। ই ই চাদ-মতলবটা কিছু বদ আছে দেখছি?
প্ৰ-সভা। ঠাকুর তাের সে ব্রাহ্মণীকে-কেউ নেবে না ভয় নাই।
উ: ভারি তে রূপ। তার আবার অতাে গুমর ।
তার কিরে ব্যাটা ? আমার পরিবার কাল আছে, আছে !
তাের কিরে ব্যাটা,--আমার কালই জগৎ আলো।
দ্বি-সভা। আরাে যদি একটু বয়স কম হতাে?
রা-সখা । তাে ব্যাটাদের কি বল দিকি। আমার কাল থাকে
কাল আছে! বুড়ি থাকে বুড়ি আছে, তাতে তােদের কি ?
তােদর কাছে তাে রূপ যৌবন ধার কো'ৰ্তে যায় নি।
'

দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক ]
মদালসা ।
প্র-সভা। ঠাকুর ! চটছো কেন ?
রাজসখা। আহা ধনরে ! কি কথাটী বােল্লে ! চটছে কেন ? তােমার
মাগ নিয়ে নাড়া চাড়া করি দেখি, তুমি কি দুধের বাটি
মুখে ধর?
প্ৰ-সভা। চল ঠাকুর বেলা হয়েছে বাড়ী যাওয়া যাক।
রা-সখা। হাঁ চল যাই, দেখ মাগ নিয়ে টানাটানি ক'রােনা? তাহলেই
আমি ক্ষেপে কামড়াব।
প্রভা। চল ঠাকুর যাই চল, বেলাও ঢের হয়ে গেছে ।
(চারণগণের মঙ্গলগীত)
জয় জয় জয় গাও মঙ্গলগীত
ভূবন
ভরি।
দয়ার সাগর হের ধরা পরে
যার গুণগ্রাম ব্যাপ্ত চরাচরে
সুজন পালন দুর্জন দমন জনত্ৰাণকারী।
দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক।
বিলাস কক্ষ।
( যুবরাজ ও সখা।)
রা-সখা । যুবরাজকে যেতে হচ্ছে যে!
যুব-রা। কোথায় ?
রা-সখা। কেন কিছু শােননন নি?
‘যুবরা। না।
-সথা। . তবে শুনুন্-রাজসভাতে একজন ঋষি এসেছেন, তার
প্রার্থনা এই—এক দৈত্য এসে-বনমধ্যস্থ বােগীগণকে

মদালসা। [ প্রথম অঙ্ক, নিত্যই বড় আলাতন কচ্ছে, এমন কি, সাধনার বিঘ্ন হচ্ছে, তাই তিনি দেবাদেশে আপনাকে নিতে এসেছেন, আপনি ভিন্ন সে দৈত্যকে কেহই বধ কর্তে পানে। সুব-রা। পিতৃ আজ্ঞা করিব পালন! রা-সখা। যুবরাজ, আমি কিন্তু যেতে পাচ্ছি না। যুব-রা। পশ্চাৎ করিব উপায়। রা-সখা । উপায়,—নিরুপায়,তবে আমি গরিব বাচ্ছা বলে, খালাষ। যুব-রা। কহ সখা, এ সংসারে সুখী কোন জন? রা-সখা। যুবরাজ, কথাটা জিজ্ঞাসা করবার অর্থ কি ? যুবরা। সখা তুমি মম, তাই জিজ্ঞাসি তােমায় এ সংসারে শান্তি কিসে? রা-সখা। ভাল করে উদর পরিপূর্ণ করা, আর গৃহিণীর হাসিমুখ দেখা। যুব-রা। হা, হা, হা, অন্তরের কথা তব করিয়াছ ব্যক্ত এইবার। রা-সখা। আচ্ছা তুমি তাে ব্যাটাছেলে, তােমার দেহে যৌবনের পূর্ণবিকাশ দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু আজও পর্যন্ত বিবাহ হয় নাই কেন ? যুব-। সখা ! স্বেচ্ছায় কে চায়-বিকাইতে হৃদয় আপন চিরদিন তরে । বিবাহ! নারী !--কিক প্রয়ােজন ? রা-সখা । প্রয়ােজন—বিলক্ষণ যতক্ষণ তার আস্বাদন বােঝা না যায়, ততক্ষণ কিঞ্চিৎ তুচ্ছ বোধ হয় বটে ঘুবরা। সখা গৃহিণী তােমার কেমন সেন ভাল ? রা-সখা । ভাল বাসাবাসির মানে বুঝিনা! দরকার অনুযায়ী কাজ গুলি হলেই আমি সন্তুষ্ট থাকি, তবে গৃহিণী আমার খুব ধীরা, স্থির, সবে এই বছর ষােল বয়েস। ? ।

দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক।
মদালসা।
যুব-রা। সেকি ? যৌবনে কি হয়নি বিবাহ তব ?
রা-স। আজ্ঞে তা হয়েছিল, কিন্তু,-আমার অদৃষ্ট ভাল, তাই
ত্বরায় আমায় ত্যাগ করে জন্মের মত চলে গিয়েছেন,
তৎপরে,আবার নবীন গিন্নির বয়ান দৃষ্টিগোচর হ'ল,
মনে কত আহলাদ হ’ল, আহা! এটিও যদি ত্বরায় বিদায়
হন, তাহলে আর একটির মুখ দেখতে পাই। বরাৎ!
যুব-রা। সখা অদ্ভুত লালসা তব !
রা-সখা । যে আজ্ঞে, তা হতে পারে, কিন্তু কি জানে, নারী
জাতিকে যিনিই বিশ্বাস করছেন,তিনিই মরেছেন ।
তার আর বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই, সেই জন্যেই ও যতদিন
নূতন থাকে তত দিনই ভাল, যত পুরােনাে হয় ততই তেতাে
হতে থাকে।
যুব-রা। কেমনে জানিলে সখা, অবিশ্বাসী নারী ?
রা-সখা। হায়! সে কথা আর কি বলব, প্রথমে আমার যে গিন্নি
হয়েছিল, তিনি যেন পটের ছবিখানি; কিন্তু বাবা ।
ঠাকরুণের গুণের কথা বলতে গেলে মহাশয়ের আক্কেল
দাত আদ বুরুল বেড়ে উঠবে। আমার দেহ ক্রমে শিথিল
হয়ে আসবে। যুবরাজ! যুবরাজ! মহারাজ আছেন
আমি সরলুম।
(মহারাজের প্রবেশ )
মহা-য়া। বৎস!
যেতে হবে শত্রু দমনের তরে-
সেই হেতু অসময় এসেছি হেথায়।

১০ মদালসা। [ প্রথম অঙ্ক আশ্রিতা মহর্ষিগণে দুরন্ত দানব এক তপে বিঘ্ন করে নিরন্তর, এসেছে সভায় মম যােগীবর এক, অগােচর নহেত ঘটনা তব ; শুনিয়াছি দৈববাণী অত্যাশ্চর্য অশ্বের কাহিনী। যাও পুত্র, দুরন্ত দানবগণে করিয়া নিধন বাড়াও বংশের মান, কয়রা মুখােজ্জল ; মম আশ্রিততরে রক্ষা করা কৰ্তব্য রাজার ; রাখ মান- ধর ধনুর্বাণ, লহ তীক্ষ্ণধার অসি, উঠ দেবদত্ত অবিরাম গতি, অশ্বোপরে- যাও বৎস; এস ত্বক সমর করিয়া জয়। যুব-রা। রাজন ! এ দেহ সৃজন, মাত্র তব আজ্ঞা পালনের হেতু ; তাতঃ! এখনি যাইব আমি দানব দলনে কৃপায় তােমার এসেছি এ ধরাধামে, তব কাৰ্য্যে দানিব জীবন, সন্তানের এ হ’তে সৌভাগ্য কিবা ? দেহ আজ্ঞা অস্ত্র শস্ত্ৰ প্ৰদানিতে মােরে, যাব আমি বিলম্বে কি ফল । রাজা। বৎস! মম ভাগ্য কহ নাহি যায় যাহে তােমা হেন সন্তানেরে ধরিয়াছি কোলে।

দ্বিতয় গর্ভাঙ্ক ]
মদালসা।
এস বিদায় লইতে তব জননী সদনে,
যাই আমি রাজ সভা মাঝে। ( প্রস্থান)
(রাণীর প্রবেশ)
যুব-রা। মাগাে! প্রণাম চরণে, দেহ পদধূলি
যাব রণ হেতু;-দেহ বিদায় আমায়
রণ জিনি পুন আসি হেরিব চরণ ;
ভাগ্য মম কহ নাহি যায়
আজি সুপ্রভাত মম, পিতৃ-কাৰ্য্য
করিব উদ্ধার ; দেহ বিদায় জননী।
রাণী। একান্ত কি যাবি ছেড়ে জননীরে তাের ?
যুব-রা। মাতঃ! রাজরাণী তুমি, প্রজা তব
করিছে লােদন, তাহে নাহি
ব্যথা লাগে হৃদয়ে তােমার ?
তারা কি সন্তান নহে তব ?
মম সম তারা সবাই
দেহ আজ্ঞা ত্বরা,
উৎকণ্ঠিত সবে
রাজসভা মাঝে যাব ত্বরা আমি,
বিলম্ব করােনা আর।
রাণী।
ওরে কেমনে বিদায় দিব তােরে,
ক্ষণেকের তরে না হেরিলে বয়ান তােমার
চারিদিক শূন্যময় হয় জ্ঞান,
বৎস! মাতার বেদনা কভু সন্তানে কি বুঝে ?

মদ লিসা।
[ প্রথম অঙ্ক
থুব-রা। জননী! বৃথা কেন কর খেদ ?
পুত্র হয়ে কর্তব্য পালনে বিমুখ যে জন
নরত্বের পরিচয় কেমনে সে দিবে
পিতৃৰাক্য করিলে হেলন, নরকে নাহিক স্থান।
রাণী। বৎস যাও রণে, করিব না মানা আর,
ওমা গিরীশ-নন্দিনী! তব পদে সন্তানে দিনু গাে ডালি,
রক্ষা করাে কৃপা করি, রণে বনে অরি-কুল মাঝে।
( জনৈক পরিচারিকার প্রবেশ )
পরি-চা। যুবরাজ ! দাসীর প্রণাম গ্রহণ করুণ। মহারাজ আপনাকে
সত্বর রাজসভায় যেতে আদেশ করেছেন, সেই সংবাদ
লইয়া দ্বারদেশে দূত অপেক্ষা কচ্ছে।
বুব-রা। মাতা প্রণাম চরণে দেহ বিদায় তনয়ে তব ।
রাণী। এস বৎস করি রণ জয় ?
(স্বগত) ওগগা ভগবতী তনয়েরে সঁপে দিনু পদে।
ফিরে দিও অভাগীর নিধি।
তৃতীয় গর্ভাঙ্ক।
রাজসভা।
( রাজা, গাল, ঋষিগণ, সভাসদগণ, রাজসখা ও রণবেশে যুবরাজ )
রাজা। হে দেব।
সঁপিনু তােমার পদে কুমার আমার,
রক্ষা করে বিদ্যদূর করি,

তৃতীয় গর্ভাঙ্ক ।
মদালসা।
১৩
বংশে মম নাহি কেহ আর
রাখিবারে মম নাম। দেখাে যেন
ফিরে পাই কুমার আমার।
গাণব। হে নৃপতি মম বাক্য মিথ্যা কভু নয়,
দেবের প্রসাদে শত বিঘ্ন যাবে
দূর হয়ে, পুত্র তব জিনিবে সময় ।
তব ভাগ্য কহ নাহি যায়,
দেব-কাৰ্যে প্রেরিলে সন্তান
নাহি তব ভয়-দেবগণ হইবে সহায়,
কৃপায় তোমার ঋষিগণ পাবে পরিত্রাণ ।
রাজা। দূত !
যাও ত্বরা যুবরাজে কর আনয়ন।
দূত। যথা আজ্ঞা,
(প্রস্থান)
রাজা। কহ সেনাপতি সৈন্যগণ প্রস্তুত সকলে ?
সেনা। মহারাজ! সুসজ্জিত সৈন্য সমুদয় ।
রাজা। সেনাপতি সাবধানে রক্ষা করাে যুবরাজে ।
দেখ যেন কুমার আমার হয় না সহায় হীন।
সেনা! যতক্ষণ ধমনীতে বহিবে শােণিত,
তাবৎ না শত্রুগণ স্পর্শিবে কুমারে।
যুবরা। পিতা! দাও এবে বিদায় আমায়,
যাই আমি শত্রুনাশ হেতু।
রাজা। যাও পুত্র, এস ত্বরা রণ-জয় করি।
(মস্তক স্পর্শ ও মুখচুম্বন।)

১৪
মদালসা ।
[ প্রথম অঙ্ক
যুব-রা। হে তাপস! নমি তব ও পদযুগলে।
গালব। সুখী হও হে কুমার করি শত্রুনাশ
এবে আসি মহারাজ।
রাজা। যুবরাজ! ঋষিবৃন্দে কর নমস্কার,
যাহে তব শত্রু হবে ক্ষয়।
যুব-রা। গুরুজন পদে নমস্কার,
আশীষ সকলে, যাহে পিতৃসত্য
করিয়া পালন হাসিমুখে ফিরি ঘরে পুনঃ।
ঋষি-বৃ। করি আশীৰ্বাদ সবে মনােবাঞ্ছা পূর্ণ হ’ক তব।
(নেপথ্যে দুন্দুভিধ্বনি)
যুব-রা। শুনি দুন্দুভিধ্বনি, সৈন্যগণ প্রস্তুত সকলে,
বিদায় চরণে তাত।
রাজা।
এস বৎস!
হে শঙ্কর! রক্ষা করে দুলালে আমার ।
( রাজা, যুবরাজ ও ঋষিগণের প্রস্থান।)
প্রসভা।
ও ঠাকুর! তুমি সেজে গুজে নিয়েছ তত ?
রা-সখা । ও বাবা ! আবার সেই কথা, দোহাই বাবা তােমার পার
পড়ি দাদা, আমায় ছেড়ে দাও, আমি গরিব ব্রাহ্মণ আমার
ছেড়ে দাও, বাণের ঠঠনি, তরবারির ঝন্‌ ঝনানি, এসব
শুনা কি আমাদের কর্ম ? আমি হুতােশে মারা যাচ্ছি, আর
যেখানে গেলে আর রক্ষা নাই।
দ্বি b বেলি ঠাকুরগ! হিতরের কথাটা কি বলদিকি; যা বল্পে
তা কিন্তু ঠিক মনে লাগছে না। বাণীর জন্যে মনটা ধুকু
ধুকু ক’চ্ছে না ঠাকুর?

তৃতীয় গর্ভাঙ্ক ] মদালসা। ? রা-সখা। বলি মশাই তােমাদের পায়ে পৰ্য্যন্ত পড়লুম, এতেও ব্রাহ্ম- ণের ছেলেকে ছেড়ে দেবেনা? আর এক কথা জিজ্ঞাসা করি গরিবের আছে একটি মেটে কলসী-তাতে বাবা ঢিল মারা কেন ? যদি দৈবাৎ ভেঙ্গে যায় তাহলে এ ব্রাহ্মণের আর উপায় নাই। প্ৰ সভা। ঠাকুর ! তােমার কলসী তত কঁচা নয় যে ঢিল মালেই বিধে যাবে, তােমার ও কলসীর মাটি একদম্ পােড় ওর দিকে কেউ নজর দিচ্ছেনা। সে যাহা হাে’ক যুবরাজের সাথে যেতে হচ্ছে। রা-সখা। আহা হা-হা-হা-তােমরা যে বড়ই জ্বালাতন কল্পে, এ বামুনকে আর এখানে টিকতে দিচ্ছনা, আমি যুবরাজকে গিয়ে বলি, দেখি তিনি কি বলেন। প্র-সভা। না ঠাকুর ! না ঠাকুর ! অমন কাজ করােনা, তা হলে আমাদের এখান থেকে অন্ন মারা যাবে, ঠাকুর তুমি বড় রগুড়ে লােক তাই তােমার সঙ্গে একটু আমােদ করি ; ঠাকুর তবে চল যুবরাজ যুদ্ধে যাচ্ছেন দেখা যাক গিয়ে। রাসখা। সােজ কথা বল, দেখিগে চল। (প্রস্থান)

১৬
মদালসা।
[ প্রথম অঙ্ক
চতুর্থ গর্ভাঙ্ক।
দুর্গের সম্মুখ ।
। সৈন্যগণ ও সেনাপতি।)
সেনা-প। হে বীরবৃন্দ ।
আজিকার দিনে ভাগ্য মােসবার
হল সুপ্রসন্ন,-
যুবরাজ যাইবেন নিপাতিতে অরি,
প্রাণ উপেক্ষিয়া কর সবে রণ,
যাহে অরিকুল হয় পরাজয়।
সেনা-গ। জয় ! জয়। নৃপতির জয়, কিবা ভয়,
পরাজিব দুরন্ত দানবগণ,
বাহুবল দেখিবে মােদের,
জানিবে মনেতে স্থির,
হেন যােধগণ সনে যুদ্ধ কভু না হইল।
হের আসিতেছে যুবরাজ,
(বেগে যুবরাজের প্রবেশ সৈন্যগণের তরবারি উন্মােচন)
যুব-রা। গুন গুন ওহে যােদ্ধগণ,
আজি মহাকাৰ্য মমােপরে,
উৎসাহে মাতহ সবে ;
কর দুন্দুভি নিনাদ, চল চল শক্রর সমীপে
দেখাও অসির খেলা, মেঘে যেন বিজলি চমকে,
মার বাণ লােমে লােমে,
যেন কেহ নাহি পায় পরিত্রাণ ।

চতুর্থ গাঙ্ক)
মদালসা।
বীর রক্ত হৃদয়ে সবার কর উত্তেজিত ।
বাধ কটিতটে তীক্ষ্ণধার অলি,
ধর ধনু, লহ তৃণ পূর্ণ করি বাণে !
কেশরী বিক্রমে শত্রু কর আক্রম!
যুদ্ধ জিনি আসিব নিশ্চয় ;
ঋষিগণ সবে সন্তাপিত প্রাণ!
অত্যাচারে উৎপীড়িত সৰে ;
মহাশত্রু হইলে নিপাত
গাৰে সবে জয়গান ভুবন ভরিয়া।
সৈন্য-গ। জয় ! জয়! কুমারের জয় !
চল ত্বর অরিকুল করিব নিৰ্ম্মল।
যুব-রা। ক্ষত্রিয় সন্তান মােরা
ধনু অস্ত্র হৃদয়ের আভরণ;
কি ছার দানব দল, বিনাশিব মুহূর্তেকে।
সৈন্য-গ। জয় জয় নৃপতির জয়!
যুব-। চল তবে ভ্রাতাগণ বিলম্বে
কি ফল, রণ জয় হইবে নিশ্চয়,
আন দেবদত্ত হয়”-হইয়া সােয়ার
দেখাব অন্ত্রের খেলা আজি কার রণে।
সৈন্যগ। জয় জয় নৃপতির জয়।
বুবরা। সত্যে বদ্ধ হও সবে,
ভীরু সম না পালাবে শত্রুরে হেরিয়া!
দিওনা কলঙ্কভার বীর-কুলােপরে !
যদি রণে হয় পরাজয়

মদালসা।
( প্রথম আৰু
।
ফিরিব রাজ্য মুখে আর,
রণভূমে দিব আজি প্রাণ বিসর্জন !
( গালবের প্রবেশ)
গালব । চল বৎস! বিলম্ব কি হেতু ?
যুব-রা। হে আরাধ্য দেবতা!
হের সাজিয়াছি রণ সাজে,
বিলম্বেতে কিবা প্রয়ােজন ;
দেব কৃপায় তােমার
পিতৃ আজ্ঞা করিব পালন ;
দাও হৃদে বল,
যাহে দুর্দান্ত অরিরে তব করিব নিপাত।
যদি রণে হারাই জীবন,
পিতৃপদ এ জীবনে সেবিতে না পাব,
এ নয়ন মাতৃমুখ দরশনে হইবে বঞ্চিত
স্নেহভরা মাতার বচন শুনিতে পাবনা আর ।
ঋষিরাজফিরি যেন সমর জিনিয়া।
গানব।
হে কুমার! ত্যজ শঙ্কা--
বাঞ্ছা তব হবে পূর্ণ জানিও নিশ্চয় ;
চলহ সত্ত্বর বিলম্বে বিপদ বড়!
সকলে। জয় জয় নৃপতির জয়!
কি ভয়! কি ভয়! রণে-দুরন্ত
দানবে সবে করিব নির্মল।
( প্রস্থান)

দ্বিতীয়
অঙ্ক।
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
গালবাশ্রম।
( গালব ও যুবরাজ)
গাল। যুবরাজ এই আমার আশ্রম, রাজোচিত উপহার যােগ্য কোন
বস্তু এখানে নাই, তােমায় কি দিয়ে অভ্যর্থনা করব ?
যুবরা।
হে ঋষি! লজ্জা নাহি দেহ দাসে ?
আমি পুত্র তুল্য তব, আমা হেতু
বৃথা কেন হতেছ চঞ্চল !
এ আশ্রম গৃহ সম মম।
আহা! কি সুন্দর প্রকৃতির শােভা!
গালব। তােমায় দেখবার জন্য ঋষিবৃন্দের স্বশিষ্যে আসছেন।
( ঋষিগণের প্রবেশ)
যুবরা। প্রণিপাত করে দাস ঋষিবৃন্দপদে।
দেহ পদছায়া-
যাহে তােমা সবাকার বিঘ্ন দূর করিবারে পারি ।
ঋষি-বৃ। করি আশীর্বাদ সবে, হও তুমি শত্ৰুজয়ী
ধ্যানের সময় হলাে এবে, আসি মােরা সবে ।
পশ্চাতে করিব দেখা।
(ঋষিগণের প্রস্থান)

-
ক
মদালসা।
[ দ্বিতীয় জয়
গালবাজপুত্র!.ক্ষণেক বিশ্রাম কর, দুষ্ট দানব এখনই আসবে,
ঐ দেখ, কত বালক বালিকাগণ আছে। তুমি তাদের
সঙ্গে একটু সদালাপ কর, আমি সন্ধ্যাবন্দনাদি
শেষ করিম
( প্রস্থান)
( গান করিতে করিতে ঋষিবালক ও বালিকাগণের প্রবেশ ও গীত )
ঋ-কু-গ। মরি মরি কত ফুল ফুটেছে আজ কাননে।
ঋ-বা-গ। কেন হেরি হাসি রাশি ফুল রাণী আননে।
ঋ-কু-গ। বহিছে মলয় বায়,-মনসুখে পাখী গায়,
ঋ-বা-গ। আনন্দে বিভোর সবে, ঢলি ঢলি পড়ে গায়।
ঋ-কু-গ। তােল ফুল ডালি ভরে গাঁথ মালা থরে থরে ।
ঋ-বা-গ। উপহার দিব সবে যুবরাজ করে।
ঋ-কু-গ।
মােরা দিব ফুল মনােমত,
ঋ-বা-গ। মােরা দিব হার পারি যত,
সকলে। দেখি কারা হারে কারা জিনে আজিকার ফুলরণে ।
যুব-রা। আহা কারা এ বালক বালিকা! কি সুন্দর গান
গাইছে।
-ঋ-কু। আয় ভাই যুবরাজের কাছে যাই,
সকলে। চল যাই।
যুবরা। এস এস ভ্রাতা ভগ্নি সবে,
ঋষিকু। হ্যা রাজকুমার, তুমি আমাদের এখানে থাকবে?
যুব-য়া। থাকূব বই কি?
ঋষি-। মহারাজ! ফুল নেবে ?
।

প্রথম গর্ভাঙ্ক ]
মদালসা।
যুবরা। তােমরা আমায় ফুল দেবে ?
ঋষি বা ।
আমরা দেব,
-কুগ। আমরাও দেব!
যুব-রা। বিবাদ করােনা! আন ফুল সবে'
ন’ৰ ফুল সবার নিকট হতে।
সকলে। আচ্ছা আমরা ফুল তুলে আনি।
--
( প্রস্থান)
যুব-রা। উদ্যানে ফুল ফোটে, বনেও ফুল ফোটে, কোষ্টী সুন্দর ?
কোষ্টী প্রকৃতির লীলার অপূৰ্ব্বতার পরিচয় দিচ্ছে ? বাগা-
নের ফুল অপ্রাকৃতিক—আর বনের ফুল প্রাকৃতিক আরও
সুন্দর! এই জীবন্ত ফোটা ফুলগুলি বনের ভিতর হাসি
মুখে ছুটে বেড়াচ্ছে! যেন সরলতার অপূর্ব ছবি স্বভাবের
সনে খেলা কচ্ছে। জগদীশ ! তােমার লীলা-খেলা দেখলে
মন আর ঘরে থাকতে চায়না। এমন সুখের স্থান থাকতে
মানবগণ কেন সংসার জালে আবদ্ধ হয় ?
(ঋষি বালক ও বালিকাগণের পুনঃ প্রবেশ)
গীত।
ফুল হার ধর করে মােসবার উপহার ;
আদরে গলায় পর হেরি শােভা অনিবার।
এনেছি তুলিয়া ফুল,
হেরি প্রাণ হয় আকুল,
ফুলহারে প্রাণ হরে হৃদি হয় আকুল ;
চেয়ে আছে তব আশে হের ফুলকুল।

২২
মদালসা।
[ দ্বিতীয় ঃ
ঋ-বা-গণ। যুবরাজ! এই ফুল পর।
ঋ কু-গণ। আর আমাদের হার ধর,
যুব-রা। তােমরা পবেনা ?
জবা। তােমায় পরাই, দেখি কেমন দেখায়।
যুব-রা। আচ্ছা ভাই তােমরাও পর, আমিও পরি।
ঋ বা-গণ। দাড়াও তােমায় আগে পরিয়ে দি।
( হার গলায় দেওন )
ঋ-কু-গণ। আমরাও তােমাকে সাজিয়ে দি।
যুব-রা। এস তােমাদের সবাইকে আমি একে একে পরিয়ে দি।
ঋ-বা-গণ। চল্ ভাই! বাড়ীতে গিয়ে আমরা মাকে দেখাইগে, যে
রাজা আমাদের কেমন সাজিয়ে দিয়েছে।
জ -বা। হ্যা ভাই। এখন আমরা আসি, আবার আমরা
আসবে।
গীত।
সখা সাথি মিলি সবে সেজেছি কেমন রে ।
ফুলহারে সাজিয়ে দেছে যুবরাজ আদরে।
দেখাবাে মায়েরে মােরা,
ফুলহার চিত হারা,
চল চল চল সবে নেচে চলে যাই।
উল্লাসে উৎফুল্ল হয়ে কানন মাতাই রে।
( প্রস্থান)
যুবরা (স্বগত) আহা! কি সুন্দর বন শােভা।
বহিছে মলয়ানিল, সুখে পাখী গায়,

প্রথম গর্ভাঙ্ক ? মলালসা। শাখা পরে মনােসুখে ময়ুর ময়ূরী বসে আছে উজ্জলি কানন । জীবনে এমন শােভা হেরিনি কখন, হেথা নাহি সংসারের কোলাহল, প্রকৃতির মােহন-মূরতি, বিকাশিছে মনােহারী শােভা! কি যেন কি নব ভাবে, অন্তর আমার করিছে আকুল ! হেন নবভাৰ কথন না উদিয়াছে অন্তরে আমার, আশা মনে উদিছে সতত কি যেন কি পাইতে আমায়। হে ধাত! ধন্য তব কৰ্ম্মস্রোত ভr, নাহি জানি কার তরে প্রাণ বিচথ . ( গানবের প্রবেশ ) । গালৰ ! হে কুমার ! আসিয়াছে দুরন্ত দান- এস ত্বরা কর আক্রমণ। যুব-রা। কোথা সেই দুষ্ট দেহ দেখাইয়া । গানব। আছে অরি কুটীর পশ্চাতে, এস ত্বরা ! সুবৰা। চলুন সত্বর। ( তূণ হইতে ৰাণ উন্মােচন করিয়া বেগে প্রস্থান)

মদালসা।
[ দ্বিতীয় অফ
দ্বিতীয় গর্ভাব্দ ।
আশ্রমের অপর পার্শ্ব।
( ঋষিগণ, শিষ্যগণ ও শূকরবেশে দানব)
ঋষি-গণ। হায় হায়! কি উপায় হবে, শত্রু সম্মুখীন,কিন্তু রাজকুমার
কোথায় ?
জ-ঋষি। গুরুদেব যুবরাজকে নিয়ে আসছেন, ভয় নাই, এখনই
শত্রু নিপাত হবে।
( দানব, ঋষিগণকে আক্রমণ করিতে উদ্যত )
( পশ্চাৎভাগ হইতে বেগে রাজকুমার ও গালবের প্রবেশ)
গালব। হের বীরবর! এই সেই পাপিষ্ঠ দুর্জন
আসিয়াছে শূকরের বেশ ধরি,
মার বাণ বক্ষ মাঝে,
বধ ত্বরা পাপিষ্ঠ অরিরে।
যুব-রা। হের ঋষিবর! রিপু তব মুহূৰ্ত্তেকে,
করিব নিধন ।
আরে কৃতঘ্ন পামর যাও যমপূরে।
(বাণ নিক্ষেপ ও তৎপশ্চাৎ যুবরাজের গমন)।
গালব। এতদিনে দুরন্ত দানব হন্তে পাক পরিত্রাণ,
কিন্তু প্রাণে মম আতঙ্ক ভীষণ
একা গেল যুবরাজ শত্রুর সমীপে,
কি হয় না জানি, ভয়ে মম অন্তর আকুল।

দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক) মদালসা জ-ঋষি। গুরুদেব! ত্যজ, চিন্তা দেবের প্রসাদে - কুমার জিনিবে রণ না কর সংশয়। (জনৈক শিষ্যের প্রবেশ) গালব। কহ বৎস! কোথা যুবরাজ ? জ-শিষ্য। গিয়াছেন শত্রুর পশ্চাতে। গালব। কহ কি দেখিলে সমরের ভাব ? শিষ্য। হে দেব। কি কহিব যুদ্ধ বিবরণ, সিংহ যেমন আপন শিকার দেখলে দ্বিগুণ উৎসাহে তাকে আক্রমণ করে, সেইরূপ যুবরাজ শূকরাকার দৈত্যাধমকে আক্র- মণ কল্লেন, সেই সময়ে তাহার মূর্তি অতি ভীষণ হইল, বাণমুখে যেন কালানল জ্বলতে লাগল; যখন তীর ত্যাগ করলেন সে সময় বনমধ্যস্থ জীব জন্তু সকলেই যেন ভয়ে মৃত প্রায় হইল, সেই দানব প্রহারে জর্জরিত হয়ে নিবীড় অরণ্যমধ্যে প্রবেশ কল্লে, যুবরাজ পশ্চাৎ পশ্চাৎ বেগবান অশ্বকে চালনা কল্লেন, কিঞ্চিৎপরে উভয়েই অদৃশ্য হইলেন। গালব। ঋষিগণ। এস সবে, করি মােরা মঙ্গল সঙ্গীত, যাহে কুমার জিনিবে রণ। (ঋষিপত্নীগণের প্রবেশ) খ.প-গ। জয় জয় দুর্গতি নাশিনী, দীন দুঃখ হরিণী, তারিণী তারা। •

মদালসা।
[ দ্বিতীয় অঙ্ক
( ঋষিগণ ও ঋষিপত্নীগণের গীত )
ঋ-গণ।
জয় জয় শঙ্কর পরম ঈশ্বর
আশুতােষ হর দুর্গতি ।
ঋ-প-গণ।
জয় ভবেশ জায়া দেহ পদছায়া
তা’র মা ভগবতী।
-গণ। করুণা সাগর শশাঙ্ক শেখর
আশ্রিত চরণে দীনজন।
ঋ-প-গণ। ওমা পতিত পাবনী জয় মা হররাণী
অভয় দানি রাখহ জীবন।
ঋ-গণ। রক্ষ কৃপা করি, বিপদ সাগরে তরী
ওহে ভব জন ভয় হারী।
ঋ-প-গণ। মাগাে হর-ঘর-বাসিনী, শঙ্কট নাশিনী
কৃপা কর হে করুণা করি।
( উভয়ে ) জয় শঙ্কর শঙ্করী গাও নাম প্রাণ ভরি।
সব বিপ্ন দূরে যাবে জীবনের হবে গতি।

তৃতীয় গর্ভা ] মদালসা । ২৭ তৃতীয় গর্ভাঙ্ক। বনমধ্যে শিবির। (সেনাপতি ও সৈন্যগণ) সেনাপ। কহ সৈন্যগণ কি উপায় করি, যুবরাজ গিয়েছেন অরির পশ্চাতে, নিঃসহায় একেলা যুবক, যদি রণে ঘটে কোন অমঙ্গল তার, রাজপূরে কেমনে ফিরিব । মহারাজে কি কহিব, যুক্তি কিবা কহ হে সত্ত্বর ? জ সৈন্ত। দোষ কিবা মােসবার তাহে, লইলে তিনি সাথে কেমনে যাইব? আজ্ঞাবাহী দাস মােরা তার ; আজ্ঞায় তাহার দিতে পারি প্রাণ, কিন্তু অনুমতি বিনা কেমনে হইব সাথি। সেনা-প। হেন বাণী না কহিও পুনঃ কারাে সনে, হাসিবে সকলে শুনি তব কর্তব্য-কাহিনী । জ-সৈন্য। কেন, কিবা হেতু হাসিবে সকলে ? সেনা-প। আসিয়াছ যুবরাজ সহ, কহ কিবা জ-সৈন্য। যুদ্ধ হেতু এসেছি সকলে। সেনাপ। তবে কি হেতু রয়েছ হেথা ছাড়িয়া তাহারে, কহ কি দিবে উত্তর ? হেতু ?

২৮
মদালসা।
[ দ্বিতীয় অঙ্ক
জ-সৈন্য। উত্তর আমার—না লইলে সাথে
কেমনে হইব সাথি,
সেনা-প। কর্তব্য কাহার বেশী, তার কি তােমার ?
জ সৈন্য। রহিয়াছে অগণিত অনীকিনী।
তবে–কি কারণে দিতেছ লাঞ্ছনা একেলা আমায়।
সেনা-প। তােমা সম নহে কেহ বাক পটু,
কৈ দেখাইতে পারে অপর জনেক
তােমা সম অজ্ঞান অবোধ।
অ-সেনা। সেনাপতি! কেন কর বৃথা বাক্য ব্যয়,
চল দেখি কোথা যুবরাজ,
এই স্থানে নিস্তব্ধেতে রহিয়া কি ফল।
সেনা-প। চল যাই, দেখি, যদি তত্ত্ব কিছু পাই তার।
(দুইজন বনবাসীর প্রবেশ)
সেনা-প। তােমরা কোন্ দিক হতে আসছ?
প্রব-বা। আমরা এই দিক থেকে আসছি,
যাব নগরের মাঝে।
সেনা-প। এদিকে একটী রাজপুত্রকে যেতে দেখেছ ?
দ্বি-ব বা। দেখিছি, একটা দৈত্যকে তেড়ে যাচ্ছেন,
সেনাপ। আমাদের দেখিয়ে দিতে পার, কোন্ পথে তিনি
গিয়েছেন?
প্র-ব-বা। না, না, আমরা অনেক দূর যাব, মিছে দেরি কৰ্ত্তে
পাৰ্বন।
সেনা-প। আচ্ছা আমাদের দেখিয়ে দাও, তােমাদের কিছু অর্থ
দিতে প্রস্তুত আছি।

তৃতীয় গর্ভাঙ্ক
মদালসা।
২৯
প্র-ব-বা। টাকা দেবে? এস দেখিয়ে দি;
সেনা-প। দেখাও সত্বর
কহ কোন দিকে যুবরাজ গিয়েছেন চলে?
প্র-ব-বা। এই পথে গিয়েছেন,—দাও টাকা দাও।
সেনা-প। রহ স্থির দিব অর্থ,
কৈ কাহাকেও না দেখি হেথা !
প্র-ব-বা। সেকি তােমার জন্যে দাড়িয়ে আছে ! দাও আমার
দেরি হয়ে যাচ্ছে- দাও!
সেনা-প। নাহি কর জালাতন, দেহ দেখাইয়ে
কোথা যুবরাজ,-নহে নাহি দিব অর্থ।
বি-ব-বা। ওহে এই আমার সাথে এস আমি দেখিয়ে দেব, ওর
কি কাজ।
সেনাপ। চল দেখাও কোথায়?
দ্বি-ববা। আগে টাকা দাও।
সেনাপ। আরে নরাধম !
প্রবঞ্চনা করিছ কি আমাদের সনে ?
দ্বি-ব-বা। বাবা গরম হয়ােনা, তাহলে সব ফসকে যাবে।
সেনা-প করা দেখাইয়ে দেহ পথ,
নহে বধিব জীবন তাের।
দ্বি-ব বা। আর বধা বধিতে কাজ নাই, এস দেখুঁয়ে দি।
(কুপ সন্নিকটে গমন।
এই এরি মধ্যে তােমাদের রাজা গিয়েছেন, দাও টাকা দাও।
সেনাপ! আরে ধূর্ত, মিথ্যা কথা কহ মাের সনে,
কি উপায়ে প্রবেশিবে কুপের ভিতর!

১০
মদালসা ।
[ দ্বিতীয় অঙ্ক
ও ঠাকুর শােননা, এই দেখ ঘােড়ার খুরের দাগ,
টা দাও-সন্ধ্যা হয়ে এল।
সৈনা-প। সুত্য এইত অশ্বের পদ চিহ্ন।
দ্বি-ব-বা। এই দেখুন হেথায় শােণিতের চিহ্ন রয়েছে ।
সেনা-প। তাইত এখন কি করি, বােধ হয় দৈত্য তাঁকে এই
কুপের ভিতর নিয়ে গিয়েছেন।
প্র-ব-বা। দাও টাকা দাও, বেটাকে কাপড় কিনে দেব, বেটীকে
পুতুল কিনে দেব। দাও টাকা দাও।
সেনা-প। আরে ধূর্ত পালা হেথা থেকে,
নহে তাের বধিব জীবন---
( অসি উন্মােচন)
দ্বি-ব বা।
ওরে পালারে,-মাল্লেরে-- মাল্লেরে-পালা।
প্র-ব-বা। ইঃইঃ ---বেটা ফাকি দিলেরে ।
( উভয়ের পশ্চাৎ দেখিতে দেখিতে পলায়ন)
সেনা-প। উপায় না দেখি আর ।
সন্ধ্যা সমাগত প্রায়, চল যাই যােগীর
আশ্রমে, কহি তারে সবিস্তার,
দেখি তিনি কি দেন উত্তর :
( সকলের প্রস্থান)

চতুর্থ গর্ভাঙ্ক ]
মদালসা।
৩১
চতুর্থ গর্ভাঙ্ক।
৮
রাজসখ ও সেনাপতি।
রাজ-স। হায়! হায়! আমি কেন মত্তে এখানে এলুম, এতক্ষণ ব্রাহ্মণী
আমার কি কচ্ছে না জানি, কবে আর কি, সুন্দরী নারী
ঘরে রেখে এলাম, ফিরে গিয়ে যদি দেখতে পাই তা হলেই
বরাত জোর! বলি সেনাপতি মশাই! বাড়ী ফিরে
যাবেন তাে না এইখানেই পড়ে হা-হুতাশ ক’ত্তে থাক্‌বে?
সেনা-প। যুবরাজের সন্ধান না পেলে কেমন করে দেশে ফিরব?
রাজস। বাবা ! তা হলেই ত আমার দফা রফা, এক রাত, বাড়ী
ছাড়লে ব্রাহ্মণী আমার পাড়া তােপাড় আরম্ভ করে
দেয়। বাবা! রাজা রাজড়ার সঙ্গে যে শালা বন্ধুত্ব করে
সে শালা আদত শালা ! কি করি পথ তাে চিনি না উপায়
কি?
সেনা-প। ওহে ঠাকুর! কোন্ পথে গেলে তার সন্ধান পাব?
রাজ-স। দোহাই তােমারা আর পথের কথা তুলাে না, তা হলে
এইখানে গলায় দড়ী দেব ; হায় হায় আমি বন্ধুত্ব দেখাতে
বনে এলেম, ব্রাহ্মণী তুমি আমার আঁধার ঘরের মাণিক,
তুমি আঁধার ঘরেই থেকো, আলােতে গেলে আমি আর
প্রাণে বাঁচবাে না।
সেনাপ। কি বক্ছ ?

মদালসা।
[ দ্বিতীয় আৰু
রাজ স। বছি আমার মাথা আর মুণ্ডু,এত আর সানান
তলােয়ারের পিরীত নয়, এ একটু মােলায়েম রকমের,
তুমি কোখেকে বুঝবে বল, কেবল মানুষের মাথা
কেটে বেড়াও বৈত নয়, পিরীতের খোজ কোথেকে
রাখবে বল ?
সেনা-প। ঠাকুর আমারও পরিবার আছে, কিন্তু তােমার মত
অত উন্মাদ হইনি, আমরা কর্তব্য বুঝি, যার অন্নে প্রতি
পালিত, তার কাৰ্য্যে প্রাণ দেব।
রাজ-স। বেশ বাবা, তুমি খুব প্রভুভক্ত চাকর, বাবা আমি ত তা
নই, সুতরাং, ভক্তি অতটা গড়াইনি, সে যাহা হউক পথ
বলে দাও, বাড়ী যাই, তােমরা প্রাণ দিয়ে তােমাদের
মণিবের কল্যাণ কামনা কর।
সেনা-প। ঠাকুর তুমি তত বেশ লােক।
রাজ-স। লােক আমি খুব খাঁটি লাে তবে কিনা নিস্বার্থ প্রেমটুকু
শিখিনি, যদি আমার কিছু স্বার্থ থাকত তা হলে তােমার
মত প্রভুভক্ত হতুম। নিস্বার্থ ভক্তি দেখাতে গিয়ে বনে
পড়ে নির্বাণ মুক্তিলাভ না হয়। যাক বাবা আর কথায়
কাজ নাই, তুমি পথ দেখ, আমি মরি বাঁচি দেশে ফিরি
আর যদি এমন কাজ করি তত আমি বাপের কুপুত্র।
(গমন উদ্যত )
সেনাপ। ঠাকুর শোন না ?
রাজস। আর শােনা শুনিতে কাজ নেই।
( উভয়ের প্রস্থান)
.
}

তৃতীয় অঙ্ক
প্রথম গর্ভাঙ্ক
পাতালপুরী—মন্দির সংলগ্ন উদ্যান।
(মদালসা ও কুণ্ডলা ।)
মদা-ল। ভগিণি।
মাের তরে কেন দুঃখ পাও অকারণ?
মম ভাগ্যে সুখরবি না উদিবে আর,
আশা আর নাহিক আমার,
এ জীবনে হেরিব না আত্মীয় স্বজনে,
কেবা মােরে উদ্ধারিবে বল ?
আজি জীবনের শেষ দিন,
আসিবে দানব আজি সতীত্ব নাশিতে মাের।
* সই। জেন স্থির, পরাণ থাকিতে
পারিবে স্পর্শিতে হৃদয় মম।
সতী নারী আমি,
সখী, নহ তুমি ভগিনী কেবল,
তুমি শিক্ষাদাত্রী মম,
বিপদের একমাত্র সহচরী,

৩৪
মদালসা।
[ তৃতীয় অন্ত
দেহ সাজাইয়া চিতা, যাহে এ নশ্বর দেহ
করি বিসর্জন,-জুড়াই প্রাণের জালা !
কুণ্ডলা। প্রাণের সােদর! কি বলিব আর,
একমাত্র ভিক্ষা মম এই,
অগ্রে আমি বিসর্জী এ দেহ,
থাকিতে জীবন মম যাইতে দিব না তােরে
অনল মাঝারে,-সে দৃশ্য হৃদয় ভেদী
হেরিবারে নারি ।
হায়! এত ছিল অদৃষ্টে আমার
ভগবান! একবার ফিরে চাও,
দুঃখিনী তনয়ায় পড়েছে বিপদে,
রক্ষা কর কৃপা করি।
মা-ল। সখী কি ভাবিছ আর,
যাও ত্বয়া অনল করহ প্রজ্জ্বলিত।
সতী নারী,মৃত্যুতে করিয়া ডর,
বল সতীত্ব কি দিব বিসর্জন ? কখন না,
কখন না,ভেবেছ কি দিব বিসর্জন
সতীত্ব, সােণার নিধি অমূল্য রতন ?
আললা অগ্নি-নিবে যাক-হৃদয়ের তাপ !
( কুণ্ডলা কর্তৃক দূরে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত করণ।
সদা-ল। (স্বগতঃ ) কুণ্ডলা দিবে না মােরে, ত্যজিয়ে ত,
যাই ত্বরা অনল মাঝারে,
বিলম্বেতে ঘটিবে প্রমাদ ।
দিনমণি অস্তগত প্রায়,
।

প্রথম গর্ভাঙ্ক )
মদালসা।
আসিবে দানবাধম নিকটে সত্বর ।
মাগাে! জগৎজননী—ত্রিতাপ হারিণী,
কৃপা কি হ’লনা তারা তনয়ার প্রতি ?
ওমা আমি বড়ই দুঃখিনী
তাই হেন দশা !
কি হবে কঁদিয়ে আর ।
সন্তানের ব্যথা যদি মাতা না বুঝিল,
তবে অর, কার তরে রব ? ত্যজিব এ দেহ,
পিতা নাও তব কোলে তুলে।
( অগ্নিতে ঝম্প প্রদানে উদ্যত ও পশ্চাৎ হইতে সুরভা কর্তৃক অগ্নিহে
পতন রক্ষা )
সুরভী। বৎসে! সম্বর এ ঘৃণিত উদ্যম,
হের দেব মাতা সুরভী উদয় তব পাশে
রক্ষিতে তােমায়-জানি আমি সমুদয়
কি কারণে আত্মত্যাগ কর তুমি ?
হে কুমারি ! শুন মম বাণী,
যে দৈত্য হরেছে তােমা,—সে দুর্জয়,
জীবন হারেবে ত্বরা,—ভবধাম হতে
শুন যাহে তব অন্তরেতে হইবে প্রত্যয়,
দুরন্ত দানবে করিতে নিধন
আসিতেছে রাজার কুমার, দেবাজ্ঞায়
প্রেরিয়াছে রাজা তনয়ে তাহার ;
নরাধম মরিবার তরে করিতেছে উৎপীড়ন,
ঋষিবৃন্দে সদা, সেই হেতু মৃত্যু তার
ঘটিবে নিশ্চয়।

মদালসা।
[ তৃতীয় অঙ্ক
বধিবে দানবে যেই--স্বামী তব,
হইবে সে জন—যেন স্থির,
এ দুর্দিন পােহাবে সত্বর,--
সুখ রবি প্রকাশিবে অদৃষ্টে তােমার ।
মদা-ল। মাতঃ ! এ দাসীরে প্রাণ দিলে তুমি,
আমি কন্যা তব, যাহে এ যন্ত্রণা হতে,
ত্বরা পাই পরিত্রাণকর বিধান তাহার ;
থেকে থেকে মাতৃ-মুখ পড়ে মনে,
ভ্রাতা, ভগ্নী জনক, আমার,
আছে কি কল্যাণে সব ? আহা! কত দিন
হেরি নাই সে সবারে, তারা কি আছেন
বসি নিশ্চিন্ত হইয়া ?—অসম্ভব কথা !
কন্যা বিনা পিতা মাতা হেরে অন্ধকার।
সুরভী। মাতা বলি সম্ভাষিলে মােরে, এবে,
কন্যা তুমি মম, মাতার যে কাজ,
সাধিব তােমার লাগি,
যাই আমি নিজ স্থানে, সময়েতে
দেখা পাবে।
মদা-ল। মাতা! বাক্যে তব জীবন রহিল,
দেখ ভুলােনাক তনয়ারে তব ।
( প্রণাম করণ )
.
কুণ্ডলা। জননী! তােমার কৃপায় আজ আমরা দুটী প্রাণী
কালের কোল থেকে ফিরে এলুন। দেখ মা তােমার
আশ্বাস বাক্য যেন সত্যে পরিণত হয়। মাগাে আমাদের

দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক )
মদালস।
৩৭
ন্যায় অভাগিনীর বেঁচে থাকার কোন ফল ছিল না, কেবল
আপনার আশ্বাস বাক্যে জীবন রাখলুম। আমার প্রার্থনা
আর কিছুই নাই, এই মাত্র ভিক্ষা ' সখীকে আমার এ
যন্ত্রণা থেকে উদ্ধার কোর্তে পাল্লেই আমি আমার কাৰ্য্যে
প্রস্থান ক’ত্তে পারি।
সুরভী। মনােরথ, পূর্ণ হবে তােম। দোহাকার।
নাহি কর বৃথা চিন্তা,
আসি এবে আমি ।
(প্রস্থান )
মা-ল। চল সখী! বাই কক্ষ মাঝে,
লা। ভগ্নি-অগ্রসর হও তুমি
আছে কাৰ্য মম
আসি সমাপন করে।
( উভয়ের প্রস্থান)
দ্বিতীয় গর্ভা।
মদালসার কক্ষ।
মদালসা।
মদা-ল। (স্বগতঃ ) আশা তােরে নিবারিতে নারি,
দিয়েছিনু আশা বিসর্জন,
পুনঃ কুহকিনী ঘেরিয়াছে হৃদয় আমার ।
দেবীর বচনে মনাগুণে পুড়ি সদা,

মদালসা।
[ তৃতীয় অঙ্ক
।
ছিল না জঞ্জাল, এ ক্ষুদ্র প্রাণেতে,
এবে দেখি,-সব আসি ক্রমে ক্রমে,
আবরিছে জীবন আমার।
হৃদয়ে অভাব, নবীন স্বভাব,
দেহভার বাড়িছে ক্রমশঃ
পাইব কি হৃদয়ের আরাধ্য দেবতা?
সত্য কি হইবে বাণী,
কহিয়াছে মাতা যাহা,
কত সাধ হয় মনে,-হৃদি মম
লহরে লহরে নাচে,হায় !
এত আশা করি কি কারণ?
মম ভালে সুখ কোথা ?
মাগাে হরহৃদি বিলাসিনী!
তুমিও মা নারী,-নারীর বেদনা, তােমা বিনে,
কৈ বুঝিবে বল ? জননী দুয়ােনা কঠিন,
দিও না যন্ত্রণা,-এ ক্ষীণ অন্তরে
কত সহে বল ? যে 'আশায়
বেঁধেছি হৃদয়,-মিথ্যা যদি হয়
সে বাসনা,-হায়! এ নশ্বর দেহ
মিশে যাবে ধরণীর সনে ।
হের,-মম অদৃষ্ট লিখন ।
কোথা জন্মস্থান, কোথা পিতা মাতা-আত্মীয়
স্বজন—দূরে রাখি সে সারে,-
হেথা আমি !
দেখি এক দিন আয়।
৩
==

দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক ] মদালসা অবশেষ-জ্বলন্ত অনলে জীবনের যত তাপ হ'য়ে ভস্মীভূত যাবে আত্মা এ প্রপঞ্চ দেহাগার হতে। { কুণ্ডলার প্রবেশ, তৎপশ্চাৎ যুবরাজের প্রবেশ ও অন্তরালে অবস্থান কুণ্ডলা। সই বৃথা আর, কেন কর অশ্রু বিসর্জন ? ভেবনা সজনী সুদিন আসিছে তব, আর নাহি ভয় এত দিনে ঘুচে যাবে হৃদয়ের ব্যথা; অদৃষ্ট আকাশে তব- আঁধার না রবে আর,-উদিবে কুমুদ নাথ নবীন কিরণে-কেটে যাবে অমানিশা। ( দূরে রাজপুত্রকে দেখিয়া ) মহা-ল। মরি মরি কে এ নবীন নায়ক। ধরাতে কি এল রতিপতি ছলিতে আমায়, সই কেন প্রাণ বিচঞ্চল সই ! সই! সই! কি তােমারে কব, মম প্রাণে কিবা গায়। আশায় উন্মত্ত প্রাণ-আহা, এ রতন আমার কি হবে? সখি! অন্তর কঁপিছে মাের, বুঝি—সতীত্ব না হ’ল রক্ষা মম,হায় ! দেবীর বচন যায় মিথ্যা হয়ে, মাগাে এত ছিল অদৃষ্টে আমার ( পতন ও মূচ্ছ।) ( যুবরাজ স্থভাবে মদালসার নিকটে গমন) একি! কেন বালা মূচ্ছগত, মােরে হেরে ? নাহি ভয়-নহি দেব, দৈত্য দানা ! বুব-রা

মদালসা।
( তৃতীয় অঙ্ক
জন্ম মম ধরণীতে, মাত্র ক্ষুদ্র নর,
হে সুন্দরী! কৃপা করি
পরিচয় দানে তােষ,-এ অধীনে।
কুণ্ডলা। হে কুমার! আপনি আমায় ওরূপ ভাবে সম্বােধন করলে
দাসী কুষ্ঠিত হয় ; আমি সখীর দাসী মা, আপনার যদি
কিছু জাতে ইচ্ছা থাকে, আমায় জিজ্ঞাসা করুন, আমি
প্রফুল্লচিত্তে তাহার উত্তর দিয়া আপনার মনস্তুষ্টি করি ।
যুব-রা। কৃপা করি করুন জ্ঞাপন,
কার এই ললনা সুন্দরী!
পূর্ণিমার শশী জিনি সুন্দর আনন!
কিবা নিলােৎপল আঁখি
বিম্ব সম চারু ওষ্ঠাধর ।
ফণিজিনি পৃষ্ঠে দোলে বেণী,
বিশাল নিতম্ব শােভে ক্ষীণ কটিতলে!
অভূক্তা যৌবন চিহ,-ব্যাপ্ত সৰ্ব্ব দেহে,
যেন শরতের ভরা নদী।
হেরি রূপের।
মাধুরী
প্রাণে মম ধৈৰ্য নাহি মানে।
দাও পরিচয় সহেনা বিলম্ব আর ?
কুণ্ডলা। রাজপুত্র ! ইহার বিবরণ শ্রবণ করুন; সুরলােকে
বিশ্ববসু নামে গন্ধৰ্ব্ব-রাজ আছেন, এই আলােক সামান্য
সৌন্দৰ্য্যশালিনী রমণী—তারই কন্যা, ইহার নাম মদালসা !
আমি কুমারীর সখী! একদা আমরা রাজার অন্তপুরস্থ
উদ্যান মধ্যে বায়ু সেবন করিতেছিলাম, তৎকালে এই
পাতালবাসী পাতালকেতু নামে দুরন্ত দানব মায়াজালে।

দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক ] মদালসা। ৪১ আবব্ধ করিয়া ইহাকে হরণ করিয়া আনিয়াছে এবং অদ্য কুমারীকে সে বলপূর্বক পত্নিরূপে গ্রহণ করিবে স্থির করিয়াছে, সুন্দরী শােকে আচ্ছন্ন হইয়া দেহ বিসৰ্জ্জুন দিতে উদ্যত হইয়াছিলেন, গাে-মাতা সুরভী আসিয়া আত্মহত্যা হইতে উদ্ধার করেন, এবং তিনি এই কয়েকটা বাক্যে আমার সখীকে আশ্বাস প্রদান করেছিলেন যে “নরলােকে এই দুর্জয় দানবকে যিনি নিধন কৰ্বেন, সেই বীরই তােমর স্বামী হইবেন।” আমি ইহার সখী আমার নাম কুণ্ডলা, আমার পিতার নাম বিন্ধবান, বিধিবিড়ম্বনে স্বামীর অকাল মৃত্যু হয়, উপস্থিত আমার সখির প্রাণ আপনার পায় লুটিয়ে পড়েছে, তাই উনি ভাবছেন যে সতীত্ব রক্ষা হ’লােনা, মাতা সুরভীর বাক্য বিফল হয় এই সমস্ত ভেবে মূচ্ছাগত হইয়াছেন। এবং আমরা উভয়েই আশ্চর্যন্বিত হইয়াছি যে এই পাতালপুরে আপনি কে উপস্থিত হইয়াছেন ? আপনার পরিচয় জান্বার নিমিত্ত আমরা ব্যাকুল হয়েছি। যুব রা। শুনহে রূপসী। শত্রুজিত রাজার কুমার,-মম পরিচয়, ঋতধ্বজ নামে খ্যাত জন-মাঝে। পিতৃ আজ্ঞা করিতে পালন,-এসেছিনু ঋষির আশ্রমে, দুরন্ত দানব এক করিতে নিধন ; তীবাণ হারিয়া বক্ষেতে তাহার, উপস্থিত শত্রুর পশ্চাতে এসেছি হেথায় ; মােরে হেরে-বৃথা হৃদে নাহি তােল- শঙ্কার লহরী। কুণ্ডলা। সখী কেন ভাব অকারণ ? এসেছে নাগর তােরই আশে,

82
মদালসা ।
[ তৃতীয় অঙ্গ
বাঁধি প্রেমভােরে, রাখ যতন করিয়ে
হৃদয়েতে ধরে ; এ রতন
তােমারই কারণ ধাতার সৃজন ।
মদা-ল। সই বাড়াও না হৃদয়ের তাপ,
একে জ্বলে মরি, আত্মজন বিনা,
এত দিন পরে—যদি হেরিলাম
মনােমত ধনে, কিন্তু বিধি কি-
দিবে মিশাইয়া প্রাণে প্রাণে এ রতনে।
বৃথা আশা!—কি জানি কি তরঙ্গ,
প্রাণেতে আমার, পলে পলে বিচঞ্চল,
করিতেছে প্রাণ ; আশা পুনঃ-কেন
মজাও আমায় ! বেঁধে-ডুরি-তীক্ষছুরি,
মেরাে না বক্ষেতে।
কুণ্ডলা। যুবরাজ! কুমারীর কাহিনী সব শুনলেন।
আপনার ন্যায় ব্যক্তির কি করা কর্তব্য, তাহা বিবেচনা
করুন। সখি আমার বড়ই কাতর হচ্ছেন, আপনি
আশ্বাস না দিলে, এ দুঃখ অন্তর্হিত হবে না।
যুবরা। শুন সুলােচনা।
পিতৃদেব জীবিত আমার, তার আজ্ঞা বিনা,
কুমারীরে কেমনে বাঁধিব আমি বিবাহ বন্ধনে ?
এ রতন ধরিতে বক্ষেতে, কার নাহি হয় সাধ ?
কিন্তু যাহার কৃপায়—এসেছি এ ধরাপরে,
কেমনে লবি তারে ?

দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক ]
মদালসা।
৪৩
কুণ্ডলা। আচ্ছা যুবরাজ! যদি কোন উপায়ে আপনার পিতৃ
আজ্ঞা এনে দিতে পারি, তা হলে আপনি বিবাহ কর্তে
সম্মত আছেন ?
যুব-। পুনঃ কোন বাধা আছে এ জগতে
যাহে ? এ মিলনে বিচ্ছেদ ঘটাবে-
এ রতন অল্পায়াসে পায় কোন জন?
দেবাঙ্গনা নরলােকে কে কোথায় পায় ?
কহি সত্যকথা, পিতা যদি দেন অনুমতি,
এ বিবাহে নাহি অন্যমত মম।
কুণ্ডলা। আচ্ছা আপনি অপেক্ষা করুন ; আমি আমাদের
কুলগুরুকে স্মরণ কচ্ছি তঁাহার দ্বারাই এ কার্য সম্পন্ন
(ধ্যানস্থ হওন)
( তরুর প্রবেশ)
মঙ্গল। গুরুদেব! দুহিতা পরশে পদ,
কহ তাত, তনয়া বলে কি ছিল মনে?
বসে! আমায় আর অধিক বলতে হবে না, আমি
সমুদায়ই অবগত আছি,তুমি বিস্তর কষ্ট পেয়েছ, আর
চিন্তা করাে না। যে দুষ্ট হােমায় এরূপ কষ্ট দিয়েছে,
সে সম্প্রতি মৃত্যুমুখে পতিত, মাতা সুরভীর বাক্য কি
স্মরণ আছে ? এই সেই শত্রু দমনকারি রাজকুমার।
( যুবরাজের প্রতি) কুমার! তােমার যশােগান এক মুখে
বর্ণনা করা যায় না; তােমার কৃপায় আজ, ঋষিগণ
শহস্ত থেকে উদ্ধার হলো।

৪৪
মদালসা ।
( তৃতীয় অঙ্ক
যুব-রা। হে তাপস! কেবা আমি প্রশংসা পাইতে ?
মাত্র উপলক্ষ এ নশ্বর দেহ!-দেহ,
ধন্যবাদ—গাও যশোগান, “র” তরে
“যার” এই বিপুল ব্যাপিনী সৃষ্টি !
সৰ্ব্ব জীবে দয়া-ফেরে যত কায়া,-এ শাল
ভূবন ভিতরে,—আসি ধরাপরে, ক্ষণস্থা
নরদেহ ধরি, সেই প্রেমময়ে
ভুলে যায় যারা,-যশােগান,--কীর্তিস্তম্ভ
তাহাদেরই মানস রঞ্জন।
অনন্ত অনাদি সেই পুরুষ প্রধান।
কৃপায় তঁাহার—“তার” কাৰ্য্য করেছি উদ্ধার।
তরু। বৎস! ধন্য শিক্ষা তব
এরে করহ উপায়,-যাহে
কুমারীর ধৰ্ম্মরক্ষা হয়।
যুব রা ।
হে দেব।
পিতৃ আজ্ঞা বিনা, পরিণয়-
কেমনে করিব?
এ রতন পাইতে আমায়, আছে বিঘ্ন, '
কহিলাম সবিস্তার।
।
তম্ব। কহ হে কুমার !
পারি যদি তব পিতৃ মত আনিবারে ?
যুব-রা। হীন আমি, হবে কিহে এত দয়া .
এ দীনের প্রতি,-যদি আশা দিলে দাসে,
পুরাও বাসনা ত্বর; প্রাণ মম ক্ষণে ক্ষণে
.

দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক ] মদালসা । ৪৫ হতেছে চঞ্চল, পল যেন যুগ সম বয়, ঘূর্ণমান মস্তিষ্ক আমার—নৈরাশ্বের মেঘ আসি আবরিছে হৃদয় আমার তদুপরি হেরি পূর্ণশশী!-হৃদয় সাগরে আশার তরঙ্গ উঠিতেছে কত শত। তম্বৰু। বীরবর! হয়ােনা ব্যাকুল, বিবির এ যোগাযােগ, এ মিলনে বি কেবা করে ? আনিব ত্বরায় আমি, পিতৃ আজ্ঞা তব, অকারণ চিন্তা নাহি কর । যুব-রা। হে ধৰ্মাত্মন! নরদেহ ধারী, বিক্রিত রহিনু আমি—তব পদ প্রান্তে। তম্ব। যাই আমি কাৰ্যসিদ্ধি হেতু, ফিরিব ত্বরায় রাজপুরী হতে, করহ বিশ্রাম সবে । যুব-রা। দাস,—পদে করে নমস্কার! তম্ব। পূর্ণ হাে’ক বাসনা তােমার। মদা-ল। তনয়া প্রথমে পদে, তুম্বরু। সুখী হও বসে। মদা-ল। দাসীকে পদধূলি দিন, কর শান্তিলাভ। (তরুর প্রস্থান) কুণ্ডলা। যুবরাজ আপনি আমার সঙ্গে আসুন, বিশ্রাম করবেন চলুন। যুব-না। ফুটন্ত পদ্মিনী যবে, শুন সতী !

৪৬ মদালসা। ( তৃতীয় অঙ্ক সরােবর মাঝে, বসন্তের সুখদ হিল্লোলে, দোগে মৃদু মৃছ,“হেরি সে মাধুরী রাশি ঘঁসে চঁাদ সুনীল অম্বরে, কিন্তু যবে অস্তে যান নিশানাথ থাকে কি সে মধুর ভাব কমলিনী হৃদে । কুণ্ডলা। ওঃ! যুবরাজ আমার সখীকে দেখে অধীর হয়েছেন। মদা-ল। (চুপিচুপি) ছি সখী ছি! কুণ্ডলা। আর কাজ কি ? যুব-রা। হেরিলে সখীরে তব, কহ- কার নাহি হয় প্রাণ উচাটন ? কুণ্ডলা। আপনি আসুন না, ভয় কি-আপনার জিনিষ কেউ দখল কচ্ছেনা। যুব-রা। নিগুণ পুরুষ আমি। তাই হয় ভয়, পাছে কেহ হরে লয় ? মদা-ল। সখী কেন কর জ্বালাতন ? কুণ্ডলা। মনে কি ধরেছে রতন ? মদা-ল। সই তুমি বড় খল । কুণ্ডলা। কেন আর কর ছল। ( যুবরাজের প্রতি) হ্যা, হঁ্যা, কথায় কথায় ভুলে আছি, চলুন যুবরাজ আপনাকে নিয়ে যাই। যুব-রা। তবে চল। (এক দিক দিয়া কুণ্ডলা ও যুবরাজের প্রস্থান অপর দিক, মদালসার প্রস্থান।)

দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক ]
মদালসা ।
৪৭
ক্রোড় অঙ্ক।
স্বর্গ ।
মেঘরাশি ভেদ করিয়া দেববালাগণের নিম্নে পদ্মবন মধ্যে অবতরণ
ও গীত।)
দেব-বা-গণ। চল সবে মিলি উঠি তীরে ধরি,
যুগল রতন হেরি নয়নে।
মিলাব-নাগরী নাগর সনে,
এসেছি তাই এ প্রমােদ বনে ।
প্রেমিক প্রেমিকা হেরিবারে সাধ,
তাহে কোন জন সাধিবেরে বাদ
মিলনে মােহন মাধুরী রাশি
হেরিতে মােরা সদা ভালবাসি
এসেছি মিলাতে মিলাব দুজনে,
( যেন ) বাঁধা থাকে দোহে অনন্ত মিলনে।
-

৪৮ মদালসা। [ তৃতীয় অঙ্ক তৃতীয় গর্ভাঙ্ক। হিরন্ময় কক্ষ। { মদালসা, কুলা, সুরভী, যুবরাজ, ও তম্ব।) তরু । •হের নিদর্শন তব পিতার লেখনি। শুনি বিবরণ সব, হাস্য মুখে দিয়েছেন সম্মতি তােমায়। ‘সুকু। আপনি পত্র পাঠ করুন। ( পত্র দেওন ও পত্র পাঠ ।) তরু। বৎস! পরমপূজ্য গন্ধৰ্ব্ব রাজকুলগুরু মুখ নিঃসৃত বৃতান্ত শুনিয়া অতিশয় আনন্দ লাভ করিলাম। এ শুভকার্যে আমার সম্পূর্ণ মত আছে, এবং প্রফুল্ল অন্তরে আমি ও তােমার জননী মত দিলাম শুভকাৰ্য্য সম্পাদন করিয়া নব- বধুর সহিত গৃহে প্রত্যাগমন কর, আমরা ও অন্যান্য সকলে উদ্বিঘ্ন রহিলাম। কুণ্ডলা। সখি আমায় কি দেবে বল ? মদা-ল। সই সই সই আমায় ধর। সুরভী। ধরহে কুমার,- মাতৃপিতৃহীন অনাথ বালিকায়, রেখ সযতনে, দাসী বলে,- পদপ্রান্তে দিও স্থান। স্নেহলতা মম,-হের তব ভাগ্যলিপি, পরিপূর্ণ এত দিনে। --

তৃতীয় গভঙ্ক
মদালসা।
৪।
নারীর জীবনে, স্বামী বিনা নাহি অঙ্গ গতি,
রেখ মতি স্বামীর চরণে,
জীবনে মরণে,
পতিভক্তি শিখাও জগতে,
করি আশীৰ্বাদ, প্রেমের সংসারে
যাবে দিন সুখে বয়ে ।
কুণ্ডলা। মাতঃ! কৃপা তব সীমাহীত ;
কন্যা বলে রেখ মনে।
তম্ব। আশীষি হে দম্পতি যুগল।
প্রেমের মিলনে—বিশ্ব হের প্রেমময়,
পাপ, তাপ পরিপূর্ণ ধরার মাঝারে,
রই সদা মনসুখে, এবে কাৰ্য্য সাঙ্গ মম,
যাই আমি নিজ স্থানে।
( যুবরাজ ও মদালসা উভয়কে প্রণাম করণ )
যুবরাজ। ওহে ধৰ্মাত্মন্ ঋষিরাজ !
বাক্যহীন দাস, দীন প্রতি অপার করুণা তব।
(সুরভীর প্রতি) মাতঃ! প্রণাম চরণে।
সুরভী। সুখী হও বৎস!
মদা। পিতা তনয়ারে রেখ মনে।
সুরভী। আমিও চলিনু এবে।
( তম্বৰু ও সুরভীর প্রস্থান)
কুণ্ডলা। কুমার আমার সখীকে মনে ধরেছে তাে ?
যুব-রা। তােমার সখীকে জিজ্ঞাসা কর ;-

মদালসা।
[ তৃতীয় অঙ্ক
কুণ্ডলা। সখি ! চেয়ে দেখ, আমাদের বাল্যের সঙ্গিনী দেববালারা
হেথায় এসেছে।
(দেববালাগণের প্রবেশ )
মদা। ভাই! এতদিন পরে ভগ্নি বলে কি তােমাদের মনে
'.
পড়েছে ?
জ-দে-বা। সজনী তুমি তাে আমাদের ফাঁকি দিয়ে, নবনাগর
নিয়ে উল্লাসে বিভাের হয়েছ দেখছি।
কুণ্ডলা। দেবলােকে পিতা, মাতা, আত্মীয় স্বজন, সকলে কুশলে
আছেন তাে ?
জ-দে-বা । হ্যা সবাই কুশলে আছেন, আমরা এলুম সখির
নাগরকে দেখতে।
মদা। পিতা মাতা কি, এ সংবাদ অবগত হয়েছেন ?
জ-দে-বা। তারা পূর্বেই অবগত ছিলেন আমাদের তারাই
বল্লেন। তাতেই তাে এলুম্ সই, তােমরা একবার
যুগলরূপে দাঁড়াও আমরা দেখে চলে যাই।
গীত।
হৰ্ম্মস্থিত আলােক সকল প্রজ্জ্বলিত হওন।
( যুবরাজ ও মদালসার একত্রে রত্ন সিংহাসনােপরি মিলন।)
দেব-বা। (মরি) মধুর মিলন, মূরতি হেরি,
প্রাণেতে ছুটেছে প্রেমের লহরী ।
প্রেমের খেলা প্রেমের মেলা,
প্রেমের হাওয়াতে ঘুরি ফিরি।

চতুর্থ গর্ভা ]
মদালসা।
গগনে হাসিছে চঁাদ,-হেরিয়ে
হেরিয়ে যুগল চাদ
হাসির লহরী ছােটোদের কিরণ ফোটে
কিবা হাসা হাসি—প্রাণে মেশামিশি--
মরি আমােদে বিভাের প্রাণ,
পূরিল মােদের মনসাধ--- হেরিয়া প্রেমের মাধুরী।
চতুর্থ গর্ভা
দেবালয় সংলগ্ন উদ্যান।
( যুবরাজ, মদালসা ও কুণ্ডলা )
কুণ্ডলা। রাজকুমার ! আপনার সৌজন্যে আমি যে কতদূর পর্যন্ত
সুখী হইয়াছি, তাহা প্রকাশ করিবার ক্ষমতা নাই, তবে
এই পর্যন্ত বলতে পারি যে সখী আমার যেমন রূপ গুণ
বিশিষ্ট নারী, আপনি ও তার সমতুল্য, যেন মণি কাঞ্চনের
একত্রে সমাবেশ হইয়াছে । আপনাকে শিক্ষা দিবার
ক্ষমতা আমার নাই; যাহা কিছু বছি তাহা আমার
বাহুল্য মাত্র, এ সংসারে পত্নীই স্বামীর সুখ ও দুঃখের
সমভাগী। ধৰ্ম্ম, অর্থ, কাম, এই সমুদায় সাধন করা স্ত্রীর
সহায়তা ব্যতীত হয় না, আবার স্ত্রীলােকের ও স্বামী
ব্যতীত এ সকল কার্য সাধন হয় না। কারণ দাম্পত্যই
* সকল মােক্ষ কাৰ্য্যের আশ্রয় স্থল, সখী আমি আশীর্বাদ
করি ধৰ্ম্ম পথে থাকিয়া নিত্য নৈমিত্তিক কাৰ্য শেষ করিয়া

মদালসা।
[ তৃতীয় অঙ্ক
গুরুজনদিগকে সেবাশুশ্রুষায় পরিতুষ্ট করিয়া সুখে কালা-
তিপাত কর, এবং ক্রমে ক্রমে ধনে পুত্রে লক্ষ্মী শ্রীবৃদ্ধি
এখন আমি আমার উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য গন্তব্য
স্থানাভিমুখে গমন করি।
মদা। সই : ভগ্নীরে কি যাবে ফেলে?
হউক।
কুণ্ডলা। বােন্ আমায় আর আবদ্ধ ক’র না; আমার সংসারে থাক্‌-
বার সময় নাই; এখন যে ক’দিন বাঁচবাে তীর্থ পরিভ্রমণ
করিয়া ও ঈশ্বরের উপাসনায় সে ক'দিন কাটাব।
সখী মনােমত স্বামী পাওয়া স্ত্রীলােকের কম সৌভাগ্যের
কথা নয়, তাহা তুমি পাইয়াছ, যাও সতী প্রাণপতিকে
নিয়ে পুণ্যের সংসারে সুখে কালাতিপাত কর ।
(গীত )
কুণ্ডলা। বিধি মম বাম সই নইলে কেন পতি হীনা।
আমার আশা বাসা ফুরিয়ে গেছে,
যত্নে ধরি হৃদয় মাঝে তাইতে যাতনা।
হৃদি ভেদি তােরে সই—কেমনে বিদায় দিই
বুক
ফাটেততা মুখ
ফোটেনা নীরবে সই বেদনা।
পেয়েছ হৃদয় ধনে রাখিও সদা যতনে
স্বামীর হৃদয় কভু বেদনা সই দিওনা।
কুণ্ডলা। ভগিনি প্রাণসখী
কি আর বলিব আমি,
বাক্য নাহি সরে মুখে আর,

চতুর্থ গর্ভাঙ্ক ] মদালসা । দাও বিদায় আমায় ; যুবরাজ দিন মােরে আজ্ঞা চলে যাই কাৰ্য উদ্ধারের হেতু। যুবরা। হে ললনে ! তব ঋণ কি দিয়ে করিব শােধ, হৃদয় তােমার মহতের পরিচয় স্থল, হেন উচ্চমন দেখি নাই কভু। রে বিধি! কি দোষে এ ভাগ্যবতীর- এ হেন দুর্দশা। রেখ মনে ভ্রাতা ভগ্নী বলি। মদ-ল। সখি কেমনে রহিব আমি, তােমারে না হেরে ? কুণ্ডলা। আর কেন আবদ্ধিছ মােরে, যাই আমি প্রাণ মম হতেছে চঞ্চল। ( বিদায় গ্রহণ ও প্রস্থান) যুব-রা। আহা! সখি তব বড়ই দুঃখিনী। মদা-ল। নাথ! সঙ্গিনী মােরে বড় বাসিতেন ভাল, •যুব-রা। প্রাণপ্রিয়ে। হৃদয় রঞ্জিনী মম, চল এবে যাই রাজ্যমুখে, জনক-জননী মম ব্যাকুল অন্তর সবে। আছে পথ চেয়ে প্রতীক্ষায় মাের। মা-ল। প্রাণেশ্বর। দাসী তব, ছায়া অধিকারী মথা তুমি যাবে, যাব আমি পশ্চাৎ তাহার মদালসা। [ তৃতীয় অঙ্ক তব পদ সেবা হেতু-তােমা ছেড়ে রহিতে কি পারি ? বুব-রা। প্রাণেশ্বরী ! কিঙ্করে রাখিবে কি পদে ? ! মদা-ল। ও কি কথা বল প্রাণনাথ। আমি মাত্র দাসী তব--কহ নাথ। এ দাসীরে রাখিবে কি পদে ? যুব-রা। প্রাণময়ী! তুমি হৃদয়ের মণি, মণিহারা হয়ে ফণি কি পারে বাঁচিতে ? আশার উদ্যানে তুমি মম ফুটন্ত মল্লিকা, হৃদয় মন্দিরে—একমাত্র অধিষ্ঠাত্রী দেবী প্রণয়ের-সরােবর মাঝে তুমি মম নবীন নলিনী রূপে তব আত্মহারা আমি,-বাক্যে তব- মধু বরষিছে শ্রবণে আমার, হৃদিমাঝে তুমি-আঁথি প'রে ও মােহন রূপরাশি-বিশ্বময়, তােমা ভিন্ন কারে নাহি হেরি । মদা-ল। নাথ। দাসী প্রতি অপার করুণা তৰ। চল নাথ বিলম্বে ঘটিবে বিগ্ন। যুব-রা। প্রিয়ে ক্ষত্রিয় সন্তান আমি, বিপদেতে উল্লাস আমার। চল পিয়ে যাই রাজ্য মুখে। ( নেপথ্যে সাজ সাজ রব) ওকি।

পঞ্চম গর্ভাঙ্ক ]
মদালসা।
মদা-ল । নাথ । সৰ্ব্বনাশ আসিতেছে
দৈত্যগণ করিতে সমর।
যুব রা। প্রিয় নাহি ভয়।
ফুৎকারেতে উড়াইব দানবের দল
চল দেখি অগ্রসর হয়ে ।
( প্রস্থান)
পঞ্চম গর্ভাঙ্ক।
পাতাল পুরীর পথ ।
(রণ অবসানের দৃশ্য স্তুপাকার শবাবলী।
( জনৈক দানব ও তালকেতু)
তাল । ঈর্ষানলে দহে হৃদি ;-
জ্বলে মরি -জ্বলে মরি--জলে মরি,
প্রতিশােধ চাই প্রতিশোধ লইবারে চাই,
হায় কোথা ভ্রাতা মম!
আত্মগ্লানি অবিরত জ্বলিছে প্রাণেতে,
দানব বাঞ্ছিত নারী হরে লয় নরে।
জদান। দেখ কাজ নাই আর রাজপুত্র সনে,
বৃথা বিবাজেতে।

মদালসা।
[ তৃতীয় অঙ্ক
তাল। কহ সখা, কেমনে একথা,
প্রকাশিলে বদনে তােমার।
লজ্জা নাহি হ’ল তব।
জদান। হের। আত্মীয় স্বজন,
পড়িয়াছে রণে কত শত
হেরি আঁখি বারি নিবারিতে নারি,
দেবের কৃপায় জিনিয়াছে রণ;
নহে নরে কোথা দানবে জিনিতে পারে।
তাল। যদি মতি গতি তব হয়ে থাকে হীন।
যাও ত্বর সম্মুখ হইতে মাের।
আমি কভু না ছাড়িব ;
বধি দুষ্ট রাজপুত্রে, নিবাইব
হৃদয়ের যত তাপ ;
ভ্রাতা বিনা দশদিক হেরি অন্ধকার।
প্রতিহিংসা, প্রতিহিংসাতরে
আছি দেহ ধরে ?
আরে হেয় নরাধম বাদ মোর সনে।
দেখিব কেমন,-তুমি বীরবর,
কত শক্তি ধর হৃদি মাঝে ?
জদান।
চল সখা দেখি কোথা
পাপিষ্ঠ নারকী, ভ্রাতৃহন্তা মূঢ়
তব।
তাল।
চল-যতদিন নাপারি বধিতে দুষ্টে,
ততদিন এ জীবনে নাহি শান্তি আর ।

পঞ্চম গর্ভাঙ্ক ]
মদালসা।
-
চল যাই দেখি কোথা ভ্রাতৃঘাতি মম ;
আহা!-হের কতশত আত্মীয় স্বজন
পড়িয়াছে ধরাতলে,-
ও:- যন্ত্রণাযন্ত্রণা
হৃদিভেদি বাহিরায় প্রাণ।
জদান। কহ সখা ! কেমনে বধিবে তারে ?
তাল। ছলে-বলে-কিম্বা কৌশলের দ্বারা,
নাশিব ত্বরায় ; কতশত করেছি সমর,
যম জিনি দেখিয়াছি অরি
কিন্তু কাপে নাই একটি কেশ মশুকে আমার
এত ছার ক্ষুদ্র নর,উড়াইব তৃণের সমান,
চল ত্বর প্রতিহিংসা জলে হৃদে,
জ্বালা নিবাইতে নারি—ভাসিছে ভ্রাতার মুখ,
নয়নে আমার, অসহ্য এ মর্মভেদী আলা
হৃদি পুড়ে হ’ল ছারখার, হায় কোথা
মম প্রাণের দোসর! প্রতিশােধ চাই
প্রতিশােধ প্রতিশােধ-চল দ্রুত।
(উভয়ের প্রস্থান)
৮

চতুর্থ অঙ্ক।
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
রাজ সভা।
(রাজা, মন্ত্রী, ঋষিগণ, সভাসদগণ ইত্যাদি।
রাজা। প্রাণমম হইতেছে উচাটন, কেন-কেন
কুমার আমার এখন এলোনা পুরে ।
(জনৈক দূতের প্রবেশ)
জদূত। মহারাজ ! আসিছেন যুবরাজ, সহ
সুন্দরী ললনা এক, হের উপস্থিত
সমাঝে।
এ-সভা।
আহা! মহারাজ, আপনার পুত্রবধুর রূপ দেখুন ধরায়
যেন একেবারে শত শত সূর্য উদিত হয়েছে।
(পত্নীসহ যুবরাজের প্রবেশ)

প্রথম গর্ভা ]
মদালসা ।
মুর-রা। পিতৃদেব! প্রণাম চরণে,
( সকলকে নমস্কার করণ )
রাজা। এস বৎস হও চিরজীবি ।
যুব-রা। নমস্কার গুরুজন পদে।
ঋ-গণ। সুখী হও করি আশীৰ্বাদ।
শুনহে কুমার !
মম পূর্ব পুরুষেরা কর্তব্যের পথে হ'য়ে অগ্রসর
সম্মানের উচ্চচূড়ে করি আরােহণ,
ত্যজেছেন ধরাধাম।
জনমাঝে সেই অক্ষয় কীর্তি,
রাখিয়াছি বর্তমান, প্রাণ দিয়ে আমি,
আজি তুমি কৰ্ম্মপথে হয়ে অগ্রসর
রাখিলে বংশের মান;
নাম মম করিলে উজ্জ্বল
ধন্য তুমি সন্তান আমার।
ঋষি। ধন্য বীরবর!
কৃপায় তোমার ঋষিগণে
শান্তি পাবে এবে,
দেব কাৰ্য্যে, বিঘ্ন না ঘটিবে,
প্রাণভরে জয় গান গাবে সবে,
তব কল্যাণ কামনা করি।
যুবরা।
পিতা
ক্ষণস্থায়ী দেহ লয়ে এসেছি ধরায়,

মদালসা।
( চতুর্থ অঙ্ক
এই আছে—এই নাই--বিধির কি খেলা!
যত দিন আছি দেহ ধরে
তব পদ সেবা ভিন্ন আছে কিবা গতি
?
রাজা।
বৎস! হ’য়ােনা চঞ্চল ;
শুন সার তত্ব,-এ ধৰ্ম্মে রাখি মতি
প্রাণ দিয়ে সর্বজনে করিবেক দয়া,
রােগ, শােক, তাপ, আসিবে না
নিকটে তােমার-সদাই প্রফুল-চিতে
থাকিবে সুখেতে—পুনঃ এক কাৰ্য ভার
অপি তােমা প্রতি, প্রতিদিন
প্রভাতিলে নিশি, নৈমিত্তিক কাৰ্য্য করি শেষ,
দেবদত্ত অশ্ব’পরে করি আরােহণ,
যাবে তুমি পৃথি পৰ্যটন হেতু,
অগণিত পাপযােনি, অবনীর তলে
করিছে ভ্ৰমণ। যাহে-
ঋষিগণে—দীনহীন জনে দুর্দন্তের
করে পীড়ন তদুপরি
রেখ দৃষ্টি তাণুক্ষণ।
সৰ্ব্বস্থানে করিয়া ভ্রমণ, এস ফিরে
মধ্যাহ্ না হইতে উদয়।
যুব-রা। তাত! দেহ কাৰ্য ভার,
কাৰ্য-কাৰ্য-কাৰ্য!
কাৰ্য্য বিনা এ সংসারে নাহি কিছু আর ।
কাৰ্যে অন্তরের কালি দূরে যায়,

প্রথম গর্ভাঙ্ক ]
মদালসা ।
কাৰ্য্যে-জ্ঞানের নয়ন পরিস্ফুট হয়,
কর্মময় মানব জীবনে, যেই করি হেলা
রহে সদা নিস্তব্ধ হইয়ে, দুঃগ তাৰু
মােণ, শােক অশান্তির যত চি
দৃষ্ট হয় হৃদয়ে তাহার ।
দাও পিতা পদধূলি,
আজ্ঞা তব করিব পালন,
শত বিগ্নে এ হৃদয়ে শঙ্কা না আসিবে।
জ-ঋষি। হে রাজন্ !
বাক্যতীত অদৃষ্ট তােমার, যাহে
এ হেন অমূল্য রত্ন পাইয়াছ কোলে,
সৰ্বগুণাকর, মূর্তিমান ধৰ্ম্ম যেন
বিরাজিত, সারতত্ত্বে শুদ্ধমতি,
জ্ঞানজ্যোতিঃ বিকাশিছে উজ্জ্বল কিরণে,
কত পুণ্য পূৰ্ব্বজন্মে করেছ সংগ্রহ,
পুরস্কার তার হের সম্মুখে সবার।
যে আনন্দ হৃদয়ে আমার,
শত মুখে বর্ণিতে না পারি তাহা।
হে সচ্চিদানন্দ! রূপ তব,
অচিন্ত্য অব্যক্ত রূপে,
ব্যক্ত ধরামাঝে ওহে বিশ্ব নিয়ন্তা।
তুমি দৃশ্য কি, অদৃশ্যরূপী, কে কহিতে পারে,
জয় জয় পুরুষ প্রধান।
জীবের জীবন দাতা, কৃপাদৃষ্টি রে’থ দীনােপরে

মদালসা।
[ চতুর্থ অধ
(যুবরাজের প্রতি)
যাও বৎস অন্তপুরে,
ব্যাকুল জননী তব,
হেরিবারে তােমা দেহে।
যুব-। পিতৃদেব ! আসি তবে।
(সপত্নী যুবরাজের প্রস্থান)
রাজ।। মন্ত্রী। কর অকাতরে ধন বিতরণ।
যাগ, যজ্ঞ আদি, মাঙ্গলিক কাৰ্য যত
স
সত্বরে আয়ােজন কর সব,
দাও আজ্ঞা সভাস্থ সকলে,
আজি সভাভঙ্গ হােক এবে।
সকলে।
চল সবে, আজি বড় আনন্দের দিন।
(রাজা ঋষিগণের প্রস্থান)
প্র-সভা-স। কি ঠাকুর! এত তরস্থ হয়ে যাচ্ছে। কোথায় ? বস,
দু একটা রসের কথা ঝাড়।
রা-সখা ।
, না, না, আমায় বাড়ীতে যেতে হবে, এখন বসতে
পারবােনা বিশেষ দরকার। সখা আমার
সখা আমার সপরিবারে
ঘরে ফিরেছেন, বাটীতে গিয়ে খবরটা দিতে হবে।
দ্বি-সভা-স। কি এত বেশী দরকার?
।
রা-লখা।
তা শুনে তােমার দরকার ?
সভা-স। বলি বলােনা কথাটা কি ?

প্রথম গর্ভা ]
মদালসা।
?
রা সখা। দেখ আমি বাড়ীতে ব্রাহ্মণীকে এ শুভ সংবাদ দিই গিয়ে।
বামণীর জন্য একটা নথ কিনে নিয়ে যেতে হবে, তা
নইলে, আর উপায় নাই, আমায় বাড়ীতে যেতে দেবে না।
এমন সুখের দিন আর হবে না !
প্রসভা-স। ও ঠাকুর! তুমি একেবারে মাগ মুখাে বটে
রা-সখা । যাও আর জ্বালায়ােনা, একটা পয়সা দেবার কেউনা,
দুকথা শােনাতে বেশ মজবুত। বলি তােমার কি পরি-
বার আছে ? বােধ হয় নাই, তা হলে তার মর্ম বুঝতে।
কথায় বলে “অসার খলু সংসার সার শ্বশুর ভবন!”
প্র-সভা-স। আচ্ছা তােমার কত টাকার দরকার বল ? আমি দেব
এখন, কিন্তু -
রা-সখা। বাবা জের টালে কেন, মতলব কি কিছু বদ আছে ?
প্র-সভা-স। না অমন কিছু নয় তবে—তবে--তবে
রা-সখা । এতত গতিক ভাল নয়। না বাবা তােমার পয়সায় আমার
দরকার নেই, যেতে দাও বাবা তুমি বড় ঘাগি।
দ্বি-সভা। ওহে দিচ্ছে নাওনা কেন ?
রা-সখা। থাম, থাম, তােমার পয়সা দিতে হবে না, আচ্ছা একটা
খােলা কথা বলদিকিন, আমার পরিবার তােমার আগের
সতিন নাকি ?
প্ৰ-সভা-স। ঠাকুর! তা যদি হয়, বড় ভাল হয়।
রা-সখা। আরে পাজি! যত বড় মুখ না তত বড় কথা বটে? তাের
মতন রূপবান দের পুরুষ দেখেছি, আমার বামণী তেমন
ধেতের না।

০১
মদালসা।
[ চতুর্থ অঙ্ক
!
!
প্র-সভা-স। কেন বল আর ! যদি হাতে দুবার থুতকুড়ি দিয়ে এটো
করে দিই তাহলে সতীত্বপানা ঘুচে যায়।
রা-সখা। বটে ! আমার পরিবারকে তুমি যেমন তেমন মনে
কর বুঝি বটে! বটে! বটে! এত বড় স্পর্ধা বটে! আমি
ব্রাহ্মণ তা জানিস, এখুনি ভষ্ম করে ফেলবাে তার ভয়
রাখি?
প্র-সভা-স। বল কি ? তুমি যে মদন ভষ্মের পালা আলে দেখছি।
রা-সখা । আচ্ছা দেখ, তাের কি করি ।
( কাছা আঁটিতে ২ বেগে প্রস্থান)
দ্বি-সভা। কেন বামুনকে খেপাও কেন বল দিকিন ?
প্র-সভা স। তুমিও যেমন, ওসব ঠাণ্ডা হয়ে যাবে এখন চল যাই
উৎসব দেখিগে।
দিসভা-স। চল যাই।
( উভয়ের প্রস্থান)

দ্বিতীয় গর্ভা ]
মদালসা ।
দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক।
(রাজবাটীর অন্তপুরস্থ কক্ষ।)
(রাণী ও প্রতিবেশীগণ।)
রাণী। হের ঐ আসিতেছে পুত্র,
পুত্রবধু মম মরি মরি কিরূপ মাধুরী,
মাগাে জগৎজননি! কৃপায় তােমার
দেবাঙ্গনা মিলিয়াছে গৃহেতে আমার।
(যুবরাজ ও মদালসার প্রবেশ)
যুকরা। মাগাে! দাও পদরজ মস্তকে আমার,
তব নাম রাখি হৃদয়ের মাঝে
জিনিয়াছি দুরন্ত সমর।
(উভয়ের প্রণাম করণ )
রাণী। পুত্র! তব গুণ কি কহিব আমি,
সন্তানের যেবা কাৰ্য-অাজি
সাধিয়াছ প্রাণ উপেক্ষিয়া।
জ-এ। ওলাে দেখ দেখ কি সুন্দর রূপ ; যেন ঘর আলাে করে
আছে। বেশ বউ হয়েছে, আমাদের যুবরাজও যেমন,
মেয়েটীও তার উপযুক্ত হয়েছে।
রাণী। বিশ্রাম করহ দোহে,
যাই আমি কাৰ্যান্তরে।
করি আশীৰ্বাদ সােণার সংসারে-
সুখে কর দিন অতিপাত।
-

মদালস।
[ চতুর্থ অধ
চল আমরাও যাই,
ও দিকে কাজ কৰ্ম্ম সব পড়ে আছে।
( তিবেশীগণের ও রাণীর প্রস্থান)
(সখীগণের প্রবেশ ও গীত।)
রতনে, রতন-মিলেছে কেমন দেখ চেয়ে ।
চঁাদের পাশে,-াদ মিলেছে,
ধরায় যুগল-চাদের খেলা।
আমােদে দেখলাে সবে,—আমােদ ভরা যুগল রতন ।
এ প্রেমের মিলন দেখলে পরে প্রেমে দিন যাবে বয়ে ।
মুঞ্জরী। রাজ কুমারী আমাদের যুবরাজকে পছন্দ হয়েছে তাে?
মদা। সখি! যদি মনােমত হয় তব,
লহ তুমি এ রতনে।
মুঞ্জরী।
মরমে মরমে,
সরমে সরমে,
চাপিয়া রাখি মনের কথা।
গােপনে গোপনে, হৃদয়েরই ধনে
রাখিব হৃদয়ে দিব না ব্যথা।
কেন কেন সই! গােপনে রাখিব ?
মুঞ্জরী। সখি তােমার মনােমত হয়েছে, তা বুঝতে পেরেছি।
যুব-রা। সংসার! মহিমা তােমার বুঝিতে না পারি,
কভু হাসাও,নাচাও,-কাদাও, মানবে,
অনিবাৰ্য লালাস্রোত তব, এই সুখ -
পুনঃ—দুঃখ-সুখ-দুঃখ ঘুমান

দ্বিতীয় গর্ভা ]
মদালসা।
৬৭
অবিরাম গতি, নরের অদৃষ্টাকাশে।
কেহ নারী লয়ে করে কেলি,
যৌবনে উন্মত্ত হয়ে,-কেহ,
সংসারের কোলাহল ত্যজি-
নির্জনে করিছে বাস, সদা আশা,
কেমনে পাইবে সুখ! আরে নর।
তুমি কেবা? নিরবধি পাইবারে সুখ !
কৰ্ম্মফল তব সুখ দুঃখ বিচারিবে সদা।
মদা। কহ নাথ ! বিশ্রাম কি হবে না ক্ষণেক ?
যুব রা। এস প্রিয়ে করিব বিশ্রাম।
( সখীগণের গীত।)
ধরলে হৃদয় মাঝে এ নব নাগর ।
রাখ সদা চোখে চোখে করিয়ে যতন,
প্রাণে প্রাণে মিশাইয়ে,
প্রেমভােরে বাঁধ হিয়ে,
দেখ যেন না পালায় ছিড়ে প্রেমভাের,
হ’য়ােনাক একেবারে আবেশে বিভাের ॥
যুবরা। আহা! অতি সুন্দর সঙ্গীত,
উন্মাদ করিছে প্রাণ।
মদা। সখীগণ গাও পুনঃ গীত।
(সখীগণের গীত।)
আজি সাজাব মনের মত করিয়ে যতন।
যেখানে যা সাজে সই দিব সেই রন ।

মদালসা।
[চতুর্থ অঙ্ক
বাঁধিব কবরী-ফুলকলি সারি সারি,
শিখাব যতন করি—নাগরের মন চুরি,
যুগল চাদে মিলাব আজি—যুগল মােরা বড় ভালবাসি,
বিরহ বেদনা ঘুচে যাবে,—হলে মধুর যুগল মিলন ॥
(জনৈক পরিচারিকার প্রবেশ )
পরি-চা। রাজকুমার, আপনার সখায় এসেছেন উদ্যান বাটীতে,
আপনার জন্য অপেক্ষা কচ্ছেন।
যুব রা। প্রিয়ে ! আসি আমি,
সথায় এসেছে আমার।
মদা।
এস ত্বরা বিলম্ব করােনা।
যুব রা। করিব যতম আমি—ফিরিতে সত্বর।
( যুবরাজের প্রস্থান)
মুঞ্জরী। কিলাে মান করে বসলি নাকি ?
ভয় নাই এখুনিই আসবে ফিরে।
মদা। না, না, না, এমন কিছুই নয়।
(সখীগণের
গীত।)
সখি-গ।
কেন ছল কর সখী, ছলনা ত সাজেনা ।
প্রেমে কারুর মানা মামো,
লাজ ভয় কিছুই রাখে না।
মন ছুটে যায় হাওয়ার মত,সাথে সাথে তার
যুগল থাকৃতে সদা করে:বাসনা।
৫

তৃতীয় গর্ভা ]
মদালসা।
মুঞ্জরী।
ওলো সই, মনের কথা মুখ বলে দেয়,
ঢাকবি কেমন করে ?
তোমার মন বেড়াচ্ছে হাওয়ার মতন,
নাগরের তরে।
মদ।
চল সবে যাই এবে উদ্যান মাঝারে।
(সখীগণের গীত।)
এলায়ে কবরী চল সহচরি কুসুম কাননে।
মাখিয়ে মলয়ে,
হেলিয়ে দুলিয়ে,
কুসুম চয়নে, আয়লাে চলিয়ে ।
পরাব চিকণ মালা,-
-গাঁথি নব প্রসূনে,
শােভা হেরি মনচোরা পড়ে রবে চরণে ॥
( প্রস্থান)
তৃতীয় গর্ভাঙ্ক।
উদ্যান।
( মুশৰ্মা, দেবশর্মা ও যুবরাজ।)
যুব-রা। দেখ, ভাই এ জগতে প্রাণের সার বস্তু পাওয়া বড়ই কঠিন,
তবে তােমরা দুজনে আমায় যেরূপ সৌহৃদ্যে আবদ্ধ
করেছ, তা বাস্তবিক পবিত্র ভালবাসা।
সুশৰ্ম্মা। সখে। আমরা দরিদ্র আপনাকে চাক্ষুস ভালবাসা দেখাতে
পারি না কিন্তু অন্তরের কথা সেই ঈশ্বর জানেন।

মদালসা। [ চতুর্থ অঙ্ক যুবরা। দেখ ভালবাসাটা চোখে দেখাবার জিনিস নয়, অন্তরের মধ্যে রাখবার ও বুঝবার ভি নিষ এ ভালবাসা বড় সহজ ব্যাপার নয়, কিম্বা মুখের কথাও নয়, ভালবাসলে এ বিশ্বসংসার প্রেমময় দেখায়। ভাল বাসলে মনে কোন বিকার থাকে না, প্রাণ অতিশয় কোমল হয়, কেবল উদাস --হুতাশ—দীর্ঘশ্বাস ও চখের জল । দেব-শ। আপনি আমাদের অত্যন্ত ভাল বাসেন, তা আমরা বুঝতে পারি, কিন্তু আমরা তার প্রতিদান কিছুই ক’ত্তে পাল্লেম না । যুব-। ভালবাসার প্রতিদিন নাই, তােমাদের হৃদয় ভালবাসাতে পরিপূর্ণ তা যখন পেয়েছি, তখন আর আমার কোন প্রত্যাশা নাই, তবে একটু কথা এই, বন্ধুর কাৰ্য্য কি ? যখন বিপদ উপস্থিত হয় সেই সময়ই বন্ধুর কার্যের পরীক্ষাস্থল। সুশৰ্ম্মা। আমাদের অন্তরের ভাব আপনাকে কি করে বােঝাব? যুব- রাতে লাদের অন্তর আর আমায় বুঝাতে হবে না, আমি সব বুঝতে পেরেছি। তােমাদের ভালবাসাময় হৃদয় যখন আমায় দান করেছ তখন মৌখিক বা, লৌকিক, বুঝতে চাই না । দেশ। ভাই! তােমার কথা শুতে বড় ভালবাসি, তুমি আমাদের বুঝিয়ে দাও যে ভালবাসা কি বস্তু । যুবরা।, ৩ন সখায় ! ভালবাসা এ জগতে অমূল্য রতন। কিছু !

তৃতীয় গর্ভাঙ্ক ]
মদালসা ।
এ রতনে হৃদিমাঝে ধরে যেই জন
নাহি তার আত্ম-অহঙ্কার -এ সংসার মাঝে,
হৃদি তার উল্লাসে বিভাের, সদা,-~-
নির্বিকার প্রাণ বিশ্বময়
হেরে প্রেমময়, প্রেমে খেলা,
প্রেমে হাসি, প্রেমে আঁথি ঋরে,
কাৰ্যতার প্রেম পরিচয়।
( জনৈক দূতের প্রবেশ ।)
প্রস্তুত সারথি,
অশ্ব লয়ে আছে অপেক্ষায়।
যুব রা ।
যাও তুমি যাইব সত্বর।
দূত। যথা আজ্ঞা।
( দূতের প্রস্থান )
বুব রা।
যুবরা।
এস এবে, সদ্বয় মম,
কলা পুনঃ হবে দেখা।
সুশৰ্ম্মা। রাখিবেন বন্ধু বলি মনে।
দেব-শ। আমাদের ভুলবেন না।
ও কি কথা বল প্রিয়জন?
কি দোষ করেছ মম পাশে -
যাহে,-অন্তরের অন্তস্থল হতে,
দূরে ফেলে দেব. তোষা দেহে;
এবে বিদায়, দেহ মােরে,
যাই আমি পানিতে পিতার আজ্ঞা।

१२ মদালসা। [ চতুর্থ অঙ্ক দেব-শ। আমরাও আসি। ( দেবশর্মা ও সুশৰ্ম্মার প্রস্থান ও অপর দিক দিয়া মদালসা ও সখি- গণের প্রবেশ।) যুব-রা! প্রিয়ে! হেথা কেন এসেছ চলিয়ে ? এত ব্যস্ত কি কারণ? মদ। হৃদয়ের অধিশ্বর! ক্ষণেক না হেরিলে তােমায়, হুতাশে পরাণ মম হয় অন্ধকার। কহ নাথ কেন হেন বাণী দাসী প্রতি। যুব-রা। প্রিয়ে! বৃথা কেন হও বিচঞ্চল, তুমি হৃদয়ের রাণী এ হৃদয় পরিপূর্ণ প্রেমেতে তােমার, কিন্তু বল প্রাণেশ্বরী। কৰ্তব্য কি দিব বিসর্জন ? মদ।। নাথ! জীবন সৰ্বস্ব। দুঃখিনীর হৃদয়ের রাজা তুমি কহ কাৰ্য্য তৰ কে রােধিতে পারে ? আমি মাত্র তব চরণের ধূলিকণা, কি শকতি মম রেধিতে তোমার গতি ? যুব রা। প্রণয় পুতলি। কেন কহ হেম বাণী? আজি একি কি ভাব তব ? দিয়েছি কি ও কোমল হৃদয়েতে বঁথা ? বন-বল-- বা-কেন- পদ্মনেত্রে জলকণা হেরি ? ও চা বদন প্রান্তে হেরিতাম সদা

তৃতীয় গর্ভা ]
মদালসা।
যে মধুর হাসি,
যে হাসিতে প্রাণ মম করিত উদাস,
সে হাসি লুকাল কোথা?
হয়েছে কি অভিমান ?
মদা। নাথ! রাখিবে কি দাসীর মিনতি এক?
যুব-রা। প্রাণের প্রতিমা।
কেন এই মর্মভেদী কাতর মিনতি ?
মদা। নাথ ! আজি কি জানি কি ভাবে-
ডুবিছে হৃদয় মম,
পূর্ণিমার উজ্জ্বল কিরণরাশি, যেন
নিবিড় তামসী আসি-করিছে আচ্ছন্ন,
বুঝিতে না পারি, কি বিপ্লব ঘটিবে-
অদৃষ্টে মম-নাথ-আজি,
যেতে নাহি দিব তােমা, -পৰ্যটন
হেতু।
যুব রা। কহ বীরাঙ্গনা
একি শুনি তব মুখে !
হৃদি তব স্বরগের ফুটন্ত কমল
দয়া মায়া পরিপূর্ণ। দীন প্রজাগণে
করিতে রক্ষণ নিবারিছ কেন মােরে ?
ঘটনার প্রবল তাড়নে—যবে এই সিংহাসন
হইবে আসন মম, হবে তুমি রাজ্যেশ্বরী !
কত দীন দুঃখী অনাথ আসিবে
তােমার পদে করিতে প্রার্থনা,
রক্ষা হেতু সে সবারে ; হেরি সে দীন
?
১০

৭৪
মদালসা।
[ চতুর্থ অঞ্চ
প্রজাগণে, কেমনে নীরব রবে ?
কোমল-কমল জিনি অন্তর তােমার,
সহিবে কি তত ব্যথা ?
তাই বলি কৰ্ত্তব্যেতে কেন দাও বাধা।
দা। প্রভু!
তব বাক্যে প্রাণ মম নাহি হয় স্থির ;
অন্ধকার-অন্ধকার হেরি চারিদিক।
যেন অশরীরী ছায়া ভ্রমে নিরন্তর ;
মাত্র ছায়া, নাহি হেরি কা ।।
পুনঃ হেরি ভয়ঙ্কর দানবের দল!
আসিতেছে বধিতে তােমায়।
নাথ ! নাথ ! যেতে আমি না দিব তােমা,
আজি রাজপুরী হতে।
যুবরা। প্রিয়ে হের মেলিয়ে নয়ন,
যেন স্বপনের অধিকার হেথা,
এসেছি স্বপনে,—যাইব স্বপনে,
খেলা ধূলা স্বপনের অঙ্গ আভরণ !
হের, এই বিশ্বময় কত নর দুল্লভ,
মানব জন্ম করিয়ে ধারণ,
নােহ ঘোরে, কাৰ্য ভুলে যায়,
সদা স্বাথে করে আকিঞ্চন
নাহি অন্যমন—ভাবেনাক
ক্ষণেক মনেতে-ক্ষণস্থায়ী
লীলা খেলা ভবে।
• •

তৃতীয় গর্ভাঙ্ক
মদালস।
ধৰ্ম্মে নাহি ভরে, মজে ব্যাভিচারে,
সদা করে কাম উপাসনা,
জীবনের প্রিয় সহচরী ভাৰ্য্যা গুণবতী।
তাহে ফেলি দূরে, মজে সদা অন্য নারী পরে,
কাচে ধরে যতন করি হৃদয়ের মাঝে,
ত্যজি দুভ কাঞ্চন,-অভিমান
সবার হৃদয়ে-হায়! জ্ঞান চক্ষুহীন ।
মনে নাহি ভাবে তিল, একদিন
যেতে হবে এই সব ছাড়ি-তাই বলি
কর্তব্য পালনে যেন তিলক
হই পরাজুখ
সতি! তুমি মম জীবনের সহচরী,
কহ কিবা অভিমত তব ?
প্রভু তুমি স্বামী-দেবতা আমার,
তােমা বিনে এ অধিনী কিছু নাহি জানে,
নাথ আর নাহি বারণ করিবে দাসী
কিন্তু প্রাণ মম কোন মতে ধৈৰ্য্য
না মানিছে; ভয়ঙ্করী ছায়া আসি,
ঘেরিয়াছে হৃদয় আমার !
সদা যেন-কে মােরে ডাকিছে।
কি বলিব আর, এস নাথ,
কাৰ্য্য সমাধান করি ; মাগাে :
তনয়াকে কৃপা করে—দিয়োনাক ব্যথা,
অনেক সয়েছি, আর নাহি সহে
হৃদে দারুণ বেদনা।
নদী।

মদালসা।
( চতুর্থ অঙ্ক
যুব-রা। প্রাণেশ্বরি।
মনে নাহি আন বৃথা চিন্তার লহরী,
সূৰ্য্যদেব কিরণ না বিস্তারিতে,
আসিব ফিরিয়ে পুনঃ।
নদা। চল সখী সবে মােরা,
করি গিয়ে দেবীর অর্চনা,
দুর
করি ।
প্রাণেশ্বরে রক্ষিবেন দেবমণ্ডল।
যুবরা। আসি প্রিয় ।
( সকলের প্রস্থান)
যাহে বিঘ্ন
চতুর্থ গর্ভাঙ্ক।
বন।
(পাতাল কেতু।)
পা-কেতু। হায় ! না দেখি উপায় আর,
প্রতিশােধ কেমনে লইব ?
কি করি, কি করি, প্রাণ মম,
দুঃখেতে ব্যাকুল -ঈর্ষা—ঈর্ষা,
ঈর্ষায় দহিছে দেহ,
সুযােগ কি পাইব না কভূ ?
যাহে দুষ্টে করিয়ে নিধন,
জুড়াই প্রাণের জ্বালা,

চতুর্থ গর্ভা ] মদালসা সহ ৩-৪'; ৭। দেবগণে কেমনে হইল সদয় কোথা ভাই আমি অতি হীন তব কাৰ্য্যে প্রাণ মম না পারি দিতে ওকে!কে আসে মানবাকার ! হা! হা! হা! এত দিনে পূর্ণ মনস্কাম আরে পাপাশয়। দেখি আজি কেমনে নিস্তার পাও। ( দৃশ্য পরিবর্তন – যমুনা তীরস্থ আশ্রম ও পাতাল কেতুর ঋষিবেশ ধারণ।) ( যুবরাজ মায়া আশ্রমের নিকট গমন।) বুব-রা। প্রণিপাত করে দাস ও পদযুগলে। ছদ্ম-তাল। চিরজীবি হও। রাজপুত্র অনেক দিন থেকে আমার একটি বাসনা আছে, তাহা কিছুতেই খুলবতী হয় নাই। বােধ করি অদ্য আমার সে আশা পূর্ণ হইতে পারে যদি তুমি কৃপা কর । যুবরা। আপনার কি কাৰ্য্য আমার দ্বারায় যদি সম্পন্ন হতে পারে তাহা প্রকাশ করুন আমি সক্ষম হলে তাহা তৎক্ষণাৎ করিব। ছদ্ম-তাল। দেখ আমি একটি যজ্ঞের অনুষ্ঠান করবো, কিন্তু ব্রাহ্মণ- দিগকে দক্ষিণ দানের ক্ষমতা আমার নাই তুমি দয়া করিয়া তােমার কণ্ঠের মণি রত্নময় হার আমাকে প্রদান কর তাহা হইলে আমার দক্ষিণা দানের কাৰ্য্য উহার দ্বারায়

৭৮
মদালসা।
[ চতুর্থ অঙ্ক
সম্পন্ন করি
এবং আর একটি মিনতি এই-যে, আমি
জলপতি বরুণের উপাসনার নিমিত্ত এই যমুনার সলিল
মধ্যে গমন করিব, যতক্ষণ আমি ফিরিয়া না আসি তাবৎ
এই আশ্রম যদি রক্ষণাবেক্ষণ কর তাহা হইলে আমার
মনােভীষ্ট পূর্ণ হয়।
যুব-রা।
হে মুনে!
লহ এই রত্নহার মম, পুরাও বাসনা তব ।
যাও তুমি সলিল মাঝারে
রব হেথা রক্ষক হইয়ে তব,
যাবত না ফিরে এস তুমি
প্রফুল অন্তরে কাৰ্যে হও অগ্রসর।
ছদ্ম তাল । ধন্য তুমি !
দেবকার্যে মতি আছে যার,
এ সংসার সুখময় তার।
এবে যাই আমি,
আসিব ত্বরায় পুনঃ সম্মুখে তােমার ।
(যমুনায় অবতরণ ও সলিল মধ্যে অদৃশ্য হওন।)
যু-রা। কেন আজি অতৃপ্ত অন্তর মম !
প্রকৃতির মানস মােহন শােভা,
অন্তর শােহিত করে,-
কেন তার পরিবর্তে অশান্তির ছায়া ?
যেন শূন্যময় হৃদয় আমার,
কি জানি কি আছে ললাট লিখনে,-মম ;
কত কথা পড়ে মনে আজি,

চতুর্থ গর্ভাগ )
মদালসা ।
বৃথা চিন্তা করি কি কারণ?
অনিবাৰ্য ঘটনার স্রোত
ঘটিবে নিশ্চয় যাহা আছে মম ভালে।
(ইতস্ততঃ বিচরণ ও আশ্রম সংলগ্ন লতা হইতে পুষ্পচয়নে উদ্যত ও
মায়া আশ্রম পরিবর্তন।
একি! কোথা সে আশ্রম!
কোন জন করে হেন ছল?
আছে কি প্রচ্ছন্ন বৈরী লুকায়ে কোথাও ?
বুঝিতে না পারি কিছু
দানবীয় মায়াজাল বেড়িল কি মােরে !
প্রাণ মম হতেছে চঞ্চল,
হে দেবমণ্ডল। কৃপা করি উদ্ধার
এ দাসে-শঙ্কায় আকুল অন্তর মম,
একি! প্রাণ মম কঁপে থর থরি,
আজি ফুরাবে কি জীবনের খেলা।
( গালবের প্রবেশ )
যুবরা।
নমস্কার করে দাস ও পদযুগলে,
কহ দেব কিবা কার্যে কোথায় গমন ?
গালব। বৎস হেথা কেন ?
যুব-রা। ছিনু আমি রক্ষক হইয়া এক মুনির আশ্রমে,
কি ও করম্পৰ্শ মা এ, সে আশ্রম
মিশে গেল ধরণীর সনে, গেছে ঋষি
এই যমুনার সলিল মাঝারে।

মদালসা।
[ চতুর্থ অঙ্ক
গালব। হে কুমার !
পালাও সত্বর, যে দুষ্ট দানবে পূর্বে
করেছ নিধন, ভ্রাতা তার
রয়েছে জীবিত ; ছলে তােমা
বধিবার তরে, করিয়াছে এ কৌশল!
যাও ত্বরা ত্যজি এই মায়ার অাশ্রম।
যুব-বা। কৃপা করি রক্ষা মােরে করিলেন আজি,
যাই আমি রাজ্যমুখে।
গানব। এস’ তুমি, যাই আমি আশ্রম সমীপে।
( গালবের স্থান)
যুব-রা। শত্রু হেরে পালাতে শেখিনি কভু।
ভয়-ভয়—হা! হা! হাসি পায় শুনে কথা,
ভয়-এ হৃদয়ে কোথা স্থান পাবে ?
এই ভবে আসিয়াছি যবে,
একদিন নিশ্চয় মরণ,
তবে ভয় কারে ?
দেখি কোথা পাপাত্মা দানব।
( প্রস্থান)

পঞ্চম পর্ভা।
মদালসা।
পঞ্চম গর্তা।
রাজা।
মন্ত্রী।
রাজবাটীর কক্ষ।
(রাজা, মন্ত্রী, সভাসদগণ, ঋষিগণ প্রভৃতি।)
কহ মন্ত্রী সংবাদ কি পাইয়াছ কিছু?
হের মহারাজ! আগত জনেক দূত।
( দূতের প্রবেশ)
( দূতের প্রতি) কি সংবাদ আনিয়াছ কহ ত্বরা,
দূত। মহারাজ! খুজিলাম সৰ্ব্বস্থানে, কিন্তু
কোনমতে না পাই সন্ধান তাঁহার।
জিজ্ঞাসি বনবাসী ঋষিগণে
যারে আমি পাইনু সম্মুখে,
কেহ নাহি কহে কোন কথা,
পঞ্চশত আসােয়র ঘুরিছে চৌদিকে,
সতর্কেতে সবে করিছে সন্ধান,
এখনও ফেরে নাই কেহ।
( দ্বিতীয় দূতের প্রবেশ)
ফি-দূত। মহারাজ ! জনেক যােগী আপনার নিকট সাক্ষাৎ প্রার্থনা
কছেন।
রাজা। সম্মানের সহিত নিয়ে এস,-মন্ত্রী আজ আমায় যেন কি,
একটা মহাবিপদ ঘটবে বলে বােধ হচ্ছে।
মন্ত্রী। কি বিপদ মহারাজ! আপনার বিপদ ঘটবে? তা হলে এ
সংসারে নির্বিবাদী কে?

মদালসা।
[ চতুর্থ অফ
রাজা। মতিমান জেন স্থির
মানবের অদৃষ্টপটে, সুখ দুঃখ
পরে-পরে কমিছে ভ্রমণ,
চিরদিন কিছু নাহি রয়,
কালস্রোত চলেছে প্রবল বেগে
অরােধক, গতি তার ।
(ঋষিকে লইয়া জনৈক দূতের প্রবেশ)
( নমস্কার পূর্বক) কহ দেব?
কি কারণে এসেছ হেথায় ?
হঋষি। মহারাজ! কি কহিব দুঃখের বারতা
কহিতে সে কথা বক্ষফাটি
বাহিরায় প্রাণ।
রাজা। কহ সত্বরে, ঘটেছে কি,
অমঙ্গল কিছু মম ?
হয়-খাষি। হে নৃপতি।
পুত্র তব দানব সময়ে,
পড়িয়াছে ধরাতলে।
রাজা। আঁ একি কহ প্রভু! পুত্র নাই! পুত্র নাই! আহা কি
হল! কি হল? হায় হায় কুমার নাই কুমার নাই।
মন্ত্রী। মহারাজ! স্থির হল, ঘটনা সব গুনুন এখুনিই অধীর
হবেন না।
!
রাজা। কুমার! কুমার কোথায়! কুমার বাপধন-সন্তান আমার।
বৃদ্ধ পিতাকে কি দোষে ত্যাগ কল্পে ? হা ঈশ্বর!.

পঞ্চম গর্ভা ]
মদালসা।
চিরদিন ধৰ্ম্মপথে থেকে শেষে বৃদ্ধের মস্তকে বজ্রাঘাত
কল্লে হায়! হায়!
(বেগে রাণী ও মদালসার প্রবেশ)
রাণী। প্রাণেশ্বর কোথায় নন্দন মম?
রাজা। রাণী! পাখী উড়ে গেছে ভাঙ্গিয়ে পিঞ্জর।
রাণী। প্রাণেশ্বর! কি কহিলে ?
( মূচ্ছ। ও পতন )
মা। মাগাে! এই ছিল অদৃষ্টেতে মম।
( মুচ্ছ ও পতন )
রাজা। অহো! কি হয়ে গেল, কি হয়ে গেল,
পুরী অন্ধকার। শ্মশান-শ্মশান
বুক ভেঙ্গে গেল! কে এল,
কোথায় গেল, কুমার কোথায় ?
মন্ত্রী। মহারাজ ! ক্ষান্ত হন, দেখুন রাণীমাতা মূচ্ছাগত, বধুমাত
শােকে উন্মাদ প্রায়, আপনি অধীর হলে, এদের কি
করে শান্ত করব?
রাজা। কহ পরিচারিকাগণে, লয়ে যেতে দোহে অন্তপুরে।
(পরিচারিকার প্রবেশ)
আহা! বস আমি নিজের মুখ উজ্জ্বলের হেতু তােমায়
শমনের করাল কবলে অর্পণ করিলাম কুমার ঋতধ্বজ
কোথায় ? একবার দেখা দিয়ে যাও, বাপরে! আজ
রাজপুর হাহাকারে পরিপূর্ণ, দুলাল কুমার আমার নয়নের
আনল পুতলি,কি দেখেতে আমাদের ছেড়ে গেলে!

মাল। [ চতুর্থ আয় রাণী। মহারাজ। সসাগরা ধরণীর অধীশ্বর তুমি, এনে দাও দুলালে আমার মহারা। রাণী ! সে রতন নাহি এ ধরণী’পরে । ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে আর নাহি পাবে দেখা । রাণী। হা-পুত্র- ( মূচ্ছ।) মদা। কি হবে মা? দুঃখিনীর কেহ নাহি আর। (রাণী ও মদালসাকে লইয়া পরিচারিকার প্রস্থান) জ-ঋষি। হে মহামতি। কার তরে কর এত করুণ জলন? সংসারেতে কেবা কার ? ভাৰ মনে মুদিলে নয়ন, অন্ধকার বিনা আর কিছু নয়নে না হেরে তবে কার তরে শােক কর ? কেবা মাতা-কেবা পিতা-কে বা প্রাণের প্রেয়সী মাত্র মায়ার বন্ধন, যত দিন রহে জীব ভাবে কার্য কারণের সূত্রে আবদ্ধ সবাই-যবে শেষ হয় এ ভবের লীলা, কেটে যায়, মােহ ঘাের, নাহি থাকে সম্বন্ধ ৰন্ধন ; ইর পত্নী, পুত্রবধূ তব, পড়িয়া ধরণী তলে, * তুমি না বােঝালে বল কেমনে নারীর বুক বাঁধিবারে পারে?

পঞ্চম গর্ভা ]
মদালসা।
রাঙ্গা। হে ঋষি! গৃহীর ব্যথা তুমি কি বুঝিবে বল?
জ-ঋষি। রাজন! শান্ত কর মন
শুন সার তত্ত্ব কহি সবিস্তার
আসিয়ে ধরণীতলে,
কত তপস্যার ফলে,
হেরে নর সন্তানের মুখ,
কত যত্নে, কত দুঃখে, সন্তানেরে
করিল পালন, যবে পুত্র হইল
বয়স প্রাপ্ত, নিয়তির ফেরে
চলে গেল, ফাকি দিয়ে,
তবে কিবা হেতু, সেই ক্ষণস্থায়ী,
জীবপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন।
রাজা। ঋষি ! আমায় ক্ষমা করুণ, আপনার কথা এখন আমি
বুঝতে পাচ্ছিনা! কালে-কালাে—চারিদিক কালো,
দুলাল বাপরে কোথায় তুমি একবার এস তােমায় দেখি,
প্রাণটা কিছুতেই স্থির হচ্ছে না, কুমার নাই-অসম্ভব!
কে বল্লে; মিথ্যা-মিথ্যা, কৈ প্ৰমাণ দাও, নতুবা তােমায়
আবদ্ধ কবাে।
মুয়া-। . মহারাজ! নহি মিথ্যাবাদি আমি,
হের এই তব পুত্রের কণ্ঠের ভূষণ
লহ নিৰ্শন-এবে আসি আমি প্রভু।
(ঋষির প্রস্থান)
রাজা। একি! একি সেই হার ! একি আমার সন্তানের
গলার হার? আর অবিশ্বাস কি ? অহাে এই পুণ্যের
••

মালা।
[ চতুর্থ অ
সংসারে এত দুঃখ, এত অশান্তি। তবে শান্তি কোথায় ?
হার! তােমাতে আর আমার প্রয়ােজন নাই, যাও তুমি
দৃষ্টির বাহিরে যাও। রত্ন! যেথায় তােমা অপেক্ষা উজ্জল
রত্ব চলে গিয়েছে সেথায় যাও।
মী। মহারাজ! ক্ষান্ত হন বৃথা শশাকে ফল কি ?
জা। চল-চলচল-যুদ্ধে চল। দেখব কোন নরাধম আমার
সেই বুকের ধনকে বধ করেছে, তার কত ৰল বুঝবো
চাল-চল !!
মী। মহারাজ! ধীরে যান
(ত্বরিতে প্রস্থান, পশ্চাৎ সকলের প্রস্থান ও রাজসখার প্রবেশ)
রাখা। সংসারে যত বিপদ শুধু এই স্ত্রীলোেক নিয়ে। আহা! সােনার
রাজ সংসার ছারখার হয়ে গেল এখন আর দিনকতক
রাজবাটিতে আসব না, যদি ভগবান দিন দেন, তাহলে
আবার আসব। হে শঙ্কর! এমন কাজও কঙ্গে।
আর তােমারি বা দোষ কি দিই, তুমি নিজেই নারী নিয়ে
কতকীৰ্ত্তি দেখালে, সতী দেহ স্কন্ধে করে কত স্থানে
ঘুরলে, শেষে গােপিনী রঞ্জন সুদর্শনে কেটে খান খান
কলেন। কথায় বলে, বড় গাছে, যত ঝড় সয়! তা সক
বাবা, আমরা গরিব! আমাদের উপর যেন ঝড়, বাতাস
বয়! যাই গুটা গুটী বাড়িতে যাই, ভেবে কি করব?
ভাবনার শেষ নাই। নারী চরিত্রবােঝা ভার।
(প্রান )

যই গর্ভা
মদালসা ।
যষ্ঠ গর্ভাব্দ ।
রাজবাটীর নিকটস্থ কানন ।
( মদালসা, মুঞ্জরী ও সখীগণ।)
মা। প্রাণেশ্বর কোথা তুমি?
একবার দেখা দাও, অভাগীর প্রাণ যায়।
নাথ! তুমি নহেত নিদয়, তবে
কেন দাও প্রাণেতে বোনা ?
আরে বিধি! কোন দোষে,
কেড়ে নিলি মম হৃদয়ের ধনে?
কোথা যাব? কোথা গেলে নাথে পাৰ
অরাজি দেখেছ কি নাথেরে আমার ।
বল বল কোথা মম প্রণের ?
এই দেখ আমি তার দাসী,
পদসেবা হেতু যাব তাঁর কাছে,
দেহ দেখাইয়ে পথ, হায় কি দোষ।
করেছি পদে, তাই প্রভু ছেড়ে গেলে?
মুরী। সখি। সুস্থ হও কি করবে বল? বিধাতার লিপি কে খণ্ডন
কর্তে পারে?
(গীত।)
মা। সই অন্তিমে অন্তরে সাধ রহিল বাকি।
অসার সংসারে আর কি সুখেতে থাকি।
*

মদালসা।
[ চতুর্থ অঙ্ক
সুখ স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে,
মােহ ঘাের কেটে গেছে,
প্রাণনাথ বিনে আর রহিতে না পারি
পুরিল না মনসাধ প্রাণেশ দিয়েছে ফাকি ।
( সখীগণের গীত।)
সখি-গ। কেমনে প্রাণ সই, বিদায় দিব তােমারে।
ও মােহন ছবি আঁকা মােদের যে অন্তরে।
দিবনা ত্যজিতে প্রাণ,
থাকিতে মােদের প্রাণ,
তােমায় ছেড়ে শূন্য পুরে কি নিয়ে রব আর,
যেওনা চরণে ঠেলে, দিওনা যাতনা ভারে।
মা। সখি ! আর আমার সময় নাই, নাথ আমায় ডাকছেন,
বিলম্বে তিনি ব্যাকুল হবেন, আমায় বিদায় দাও, আর
থাকতে পরি না। নাথ! তােমার মনে এই ছিল! দাও
চিতা প্রজ্জ্বলিত করে দাও; আর বিলম্ব করাে না।
মুঞ্জরী।
সই নিতান্ত কি আমাদের ছেড়ে চলে যাবে, সই সই তােমার
বিহনে আমরা এ সংসারে কি নিয়ে থাকব।
মা। আর কেন আমায়, মায়ায় জড়িত কর, দাও বিদায় দাও,
নাথ ! দেখ, এই আমার সাধের বাসর, এই আমার বেশ
ভূষা। যাও চিতা প্রজ্জ্বলিত কর।
মুঞ্জরী। মা তারা। এই ছিল তাের মনে
সখী তােমা বিনা যে রাজপুরী অন্ধকার হবে।
( সখী কর্তৃক চিতা প্রজ্জলিত করণ।

যষ্ঠ গর্ভা। মদালসা । মদা। প্রাণনাথ ! মনের সাধ মনেই রহিল, কত আশা মনে তার কিছুই পূর্ণ হ’ল না, হা অদৃষ্ট! পূর্বজন্মে কত পাপই করেছিলুম, তাই কিশােরে পতিধনে বঞ্চিত হ'লেম। নাথ। আমার যে এখনও কোন সাধ মেটেনি তােমার রূপ দেবার জন্য যে চক্ষু একদৃষ্টে তােমার পানে চেয়ে থাত ?—তার সাধ অপূর্ণ রয়েছে। এই পঞ্চ ভৌতিক দেহ যাহার দ্বারা তােমায় সেবায় পরিতুষ্ট করতুম,—তার যে বিন্দুমাত্র সাধ মেটেনি! যে প্রাণ, সর্বদা তােমার প্রাণে মিশিয়ে থাত,—সে এখন একাকী পড়ে অন্তরে মহা হাহাকার ক’চ্ছে ! নাথ ! তুমি আমায় ফাকি দিয়ে চলে গেছে। আমিও তােমার কাছে এখুনি যাব, ওই চিতা ! বলছে। সই। তােমরা আমায় ক্ষমা করো, পূজনীয় শ্বশুর, শ- মাতা ও গুরুজনদিগকে আমার অপরাধ নিতে বারণ করাে, আমি অতি হতভাগিনী তাদের চরণ সেবা ক’রুতে পাল্পম , তাদের জানিও যে জন্মের মত বিদায় কালে এ দাসী তাদের পদে কাটী কোটী নমস্কার করেছে। মাগাে হররাণী। দুঃখিনী কন্যাকে কোলে লও, বৈশ্বানর প্রণাম চরণে। ( চিতারােহণ) গুঞ্জরী। আহা! রাজলক্ষ্মী চলে গেল, পুরী শূন্য হ’লল। (রাণীর প্রবেশ) রাণী কোথা বধুমাতা মম?

মালসা। [ চতুর্থ এক যুঞ্জরী। মাগাে। রাজরাণী চলে গেছে, ভবধাম ছাড়ি। হের ঐ প্রজ্জ্বলিত চিত।। রাণী। ওমা কোথা গেলে জননীরে ছাড়ি? ( পতন ও মূচ্ছ, সখীগণ কর্তৃক শুশ্রুষা করণ) মুরী। মাতা স্থির হন, আপনি অস্থির হলে, আমরা কোথায় যাব? ওমা আমাদের যে কেউ নেই মা । রাণী। কোথায় কোথায় দুঃখিনীর পুত্র, পুত্রবধূ, দেরে এনে দেবে যুগল রতনে। (রাজা মন্ত্রীর প্রবেশ) রাণী। (উঠিয়া ) প্রাণনাথ । সব ফুরিয়ে গেছে সব ফুরিয়ে গেছে, পুত্ৰ নাই পুত্রবধূ রাজলক্ষ্মী নাই! ঐ দেখ ভষ্মরাশি পড়ে আছে, তােমার পুত্রবধূর ভরাশি ! রাজা। যা লক্ষ্মী ছেড়ে গেল? রাণী। হ্যা মহারাজ! লক্ষ্মী ছেড়ে গেছে, সব গেছে, শশ্মান- রাজা। অহহ! বুক ফেটে গেল,বুক ফেটে গেল,কোথায় গেল? চারিদিক কালাে, চারিদিক কালাে, আঁধার-অাঁধারের ভিতর ও কি! ও কে! কুমার ? ও কি ! নরকায় কেন? একি! কোথায় আমি! সৰ্ব্ব আমি! সর্ব শরীর কাঁপছে, পৃথিবী কাপছে,-পাহাড় কাপছে। মন্ত্রী ! একি! উন্মত্ত হলেন নাকি? রাণী। মহারাজ! তুমি রাজা, হা-হা রাজ রাজেশ্বর! অধিকার

যত গর্ভাঙ্ক ]
দালসা।
শশান ভূমি প্রজাবৰ্গ, তােমার যত অশরিরী, ভূত, প্রেত
না, দৈত্য।
(জনৈক খযির প্রবেশ)
বি। মহীপতি : হও শান্ত ;
বালকের মত হমােনা অধীর ;
কেন কর খেদ, ভাগ্য তব কহ নাহি যায়
ব্রাহ্মণের কাৰ্যে পুত্র তব দিল প্রাণ
সেই হেতু গােলকে পুলক ভরে
গিয়েছে চলিয়ে পতিপ্রাণা,পুত্রবধূ তব,
পতি তরে, অকালে ত্যজিল প্রাণ,
ক্ষণস্থায়ী মানব জীবনে কীর্তি ভিন্ন
কিবা আছে আর ? কর মতি স্থির।
( যুবরাজের প্রবেশ)
বুব-রা। পিতা প্রণাম চরণে,
একি! না কেন পড়িয়া ধরণীতলে।
একি ভাব সবাকার! কানন মাঝারে
কেন সবে; মাতা-মাতা-মাতা-
রাণ। এ কে! বাপরে কোথা ছিলি,
মারে ছাড়িয়া ?
যুকরা। কই পিতা? একি অভিনয় আজি ।
রাজা। একি! আমি তাে কিছুই বুঝতে পাচ্ছিনা।
বুব-রা। কহ মন্ত্রী। কিবা কায্যে,
রাজরাণ কাননে এসেছে চলি?

মদালসা। [ চতুর্থ অল্প মন্ত্রী। যুবরাজ ঘটনা কি বলব! আমি কিছুই বুঝতে পাচ্ছিনি, একি কোন দেব দেবীর দেবীর ছলনা! যুবরাজ! একজন : ঋষি আসিয়া রাজ সমীপে সংবাদ দিলেন যে, যুবরাজ দৈত্য- গণের সহিত যুদ্ধে প্রাণ হারাইয়াছেন, এবং আপনার কণ্ঠহার তার নিদর্শন স্বরূপ রাজকরে প্রদান করিলেন, তৎপরে এই ঘটনা। যুবরা । সত্য এ ঘটনা, ছলিয়াছে দানব আমায়। পিতা চলুন প্রাসাদে, কি বিষাদে পড়িয়ে হেথায়, এইত এসেছি ফিরে । রাণী। ওরে কি কহিব তোরে আর । কি লয়ে ফিরিব ঘরে, বধূমাতা ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে। যুবরা। কে! মদালসা ! রাণী। শুনি তব মৃত্যুর বারতা, জলন্ত অনল মাঝে, ত্যজিয়াছে প্রাণ। মুব-রা। ( স্বগতঃ ) কি! প্রিয়ে নাই। ( প্রকাশ্যে ) যাও মাতা অন্তঃপুরে, রাণী । মা জগৎ জননী। কোন মহাপাপে হেন শাস্তি, দিলে মাে সবারে । (রাজা, মন্ত্রী ও রাণীর প্রস্থান) .

ষষ্ঠ গর্ভা ] মদালসা। ১৩ যুব-রা। (স্বগতঃ ) প্রাণেশ্বরী । ছেড়ে গেছে এ দাসেরে ? কহ কোন দোষে ত্যজিলে আমায় ? প্রিয়ে। অভাগা যে, তােম। বিনে অন্ধকার হেরে ত্রিসংসার ; আঁধারে আমায় ফেলে কোথায় পালালে? হৃদয়ের আলাে কোথা তুমি? একবার দেখা দাও, প্রাণ রাখ অভাগার ; সােহাগেতে বলেছিলে, “নাথ তােমা বই আমি আর কার ? রাখ কথা দেহ দেখা একবার, যায় প্রাণ তােমা বিনে। আহা পতিপ্রাণা সতী মম “মিথ্যা মৃত্যু বাণী” শুনি, ত্যজিয়াছে ধরাধাম। আমি অভাজন এখনও রয়েছি বেঁচে! ভগবান! কোন দোষে করিলে দুর্গতি ? দিলে যদি অমূল্য রতন, তবে কেন নিলে কেড়ে সাধ না পূরিতে ? ( দূরে মুঞ্জরীকে দেখিয়া ) মুঞ্জরী মুঞ্জরী কোথা মম প্রাণেশ্বরী ? মুঞ্জরী। হায় কি বলিব। বুক ফাটি বাহিরায় প্রাণ- কহিতে সে নিদারুণ বাণী !

g
মদালসা ।
[ চতুর্থ জয়
যুব না। মুরী বল কোথা সখী তৰ?
মুরী। কুমার।
ফাঁকি দিয়ে গেছে চলি সখী।
যুব-র। সত্য সে যে দেবের বাঞ্ছিত রত্ন।
তুচ্ছ নর সনে-কেমনে রহিবে ?
আমি নরাধম কত ব্যথা দিয়েছি তাহারে,
হে বিধাত! লিপী তব অপূৰ্ব্ব,-অখণ্ড,
কি খেলা খেলিছ সদা মানবেরে লয়ে,
স্বর্গে
তুলে দাও,
পুনঃ একেবারে বুক ভেঙ্গে দাও,
একি লীলা তব ?
নির্দোষীরে করিয়া ব্যথিত।
পাও কি বা ফল ? স্বধর্ম তােমার এই ?
অথবা পরের ব্যথা বুঝিতে জাননা?
হৃদয় তােমার কঠিনতাময়,
কহ বিধি! একি তব সদাশয়তা ?
জাননা-বােঝনা কি বেদনা।
পাওনি এ মন ব্যথা হয়ে তােমার!
ওহহ প্রাণেশ্বরী! কোথা তুমি
মুরী। যুবরাজ! এই লও কণ্ঠহার তব,
দিয়েছেন সখী মােরে।
যুবরা। একি! এযে আমার হার।
মুরী। এই হার বুকে রেখে ত্যজেছেন দেহ।

যষ্ঠ গর্ভা ]
মদালসা।
যুৰ না। হার! দূর হও !
যাও তুমি অনন্ত সলিল মাঝে ,
এই হার অনিষ্টের মূল মম,
প্রাণেশ্বরী- জীবন সঙ্গিনী কোথা যাৰ ?
কোথা গেলে তােমা পাব !
যদি দেখা নাহি দাও, বল শূন্য হতে,
কোথা গেলে তােমা পাব !
হৃদয় রঞ্জিনী! কেন মােরে ফাঁকি দিলে।
(দেবশর্মা ও সুশৰ্মার প্রবেশ
দেবশর্মা। সখা! সখা ! একি লীলা তব আজি ?
যুব-রা। কেও! প্রাণেশ্বরী ফিরে এলে ?
সুশা। সখা ! হের মেশিয়ে নয়ন,
এসেছি আমরা তব পাশে।
যুবরা। আর কেন ? আর কেন ?
হেরিতে এসেছ সখার বয়ান ।
সখা তােমাদের নহি আর,
হের? আমি পত্নীঘাতী মূঢ়।
হা-হা-হা! সতী নারী বধিয়াছি,
নিজ বুদ্ধি দোষে।
দেশৰ্ম্মা। সখা! তুমি একটু স্থির হয়ে আমাদের কথা শােন ।
তােমার দুঃখের কাহিনী শুনে, তােমার কাছে এসেছি,
সখা অধীর হওয়া কি ?

মদালসা।
[ চতুর্থ জয়
যুব-রা। কি শুন্ ? কি শুনব?
সখা ! দেখেছ কি কোথা পত্নীঘাতী
পাপিষ্ঠ দুৰ্জ্জন ?
দেবশর্মা। মতিমান্ !
প্রপঞ্চ সংসার মাঝে কেহ কারু নয়,
মাত্র মায়ার ছায়া পড়ে হৃদি মাঝে
ভাব মনে, যারে তুমি প্রাণ দিয়ে,
বেসেছিলে ভাল,-করিতেছ তুমি এত দুঃখ,
কৈ এবেত সে না দেয় উত্তর !
দৃষ্টি ধায় যত দূর—সবই মিথ্যা,
তবে কেন হও বিচঞ্চল ?
অলীক এসব,—যত বাড়াও লালসা
আবদ্ধিবে ততােধিক মায়ার বন্ধনে ?
যুবরা। কোন মতে মন নাহি বুঝে,
চলেছে প্রবল স্রোত জীবন প্রবাহে,
নাহি হবে স্থির।
আর না রহিব ঘরে,
যাব চলে যথা দৃষ্টি যায় মম।
দেবশর্মা। সখা ! হয়ােনা অধীর
সৃষ্টি রক্ষা হেতু-মায়ার সৃজন;
প্রেমের বন্ধনে, রহে ভবে জীব সমুদয়,
সেই মমতা বন্ধন হতে,
যেই জন আপনারে রাখে দুরে,
আত্মা তার পরিপূর্ণ তন্ময় ভাবেতে।

ষষ্ঠ গর্ভাঙ্ক ]
মদালসা ।
১৭
বুব-রা।
কেন বৃথা কর আকিঞ্চন,
না পারিবে কোন মতে বুঝাতে আমায়,
সখা ত্যজ সঙ্গ, কেন আর রহ
মাের সনে—যাব ঘাের বনে
আত্মার বিকার উদিত সম্মুখে মম!
আর নাহি সংসারেতে রব,
যে দেবীর উপাসক আমি,
হৃদয় মন্দির হতে,—গিয়েছে সে দেবী।
এবে তার ধ্যানে ফিরি বনে বনে,
কাটাইব নিশিদিন।
দেবশর্মা। সখা! অনুরােধ মম, রং গৃহে,-
দিন ত্রয় আর,
তার পর যেও চলে যথা ইচ্ছা তব।
যুবরা।
রব হেথা কার তরে আর ।
শূন্যাকার চারিদিক,
স্থির না রহিতে পারি,
সখা তুমি মম,রব হেথা,
তব অনুরােধ রক্ষা হেতু
তিন দিন আর ।
দেবশর্মা। এবে আসি মােরা।
( উভয়ের স্থান )
যুব-রা। কি আশ্চর্য! একি ভাব সংসারের,
বুঝিতে না পারি কিছু!

১৮
মদালস।।
[ চতুর্থ অঙ্ক
যদি মায়ার বন্ধন, সৃষ্টি স্থিতি হেতু,
তবে কেন হয় লয় ?
এইত ফুরাল মম সংসারের খেলা,
ক্ষণস্থায়ী সব, এই আছে এই নাই
হেন স্থানে বিশ্বাস কোথায় ?
মিথ্যা সব, আমি মিথ্যা -তুমি মিথ্যা,
মিথ্যা ধরাময়,
মিথ্যারে করিয়ে সাথী ফিরে নরগণ
কভু হয় ধনপতি, কভু পথের ভিখারী,
হাসি কান্না-সহচর দোহ,
সার হীন কার্যে নিরন্তর
ফেরায় মানবগণে!
ফুরায়েছে - ফুরায়েছে কায্য মম,
চলচল পাপস্থান ত্যজি,
দেখি কোথা সত্য অধিকার ।
ছি ছি এই স্থান মানবের--
শান্তি নিকেতন।
( প্রস্থান)

প : ;
= =
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
পাতাল-নাগরাজ গৃহ।
।
( অশ্বতর,
দেবশর্মা, সুশৰ্ম্মা)
অখ-ত। কহ বৎস! একি ভাব তােমা দোহাকার,
কেন নীরব ভাবেতে রয়েছ বসিয়া ?
দেবশর্মা। পিতা কি কহিব দুঃখের বারতা,
যেই রাজ পুত্ৰসনে, হয়েছিল সখ্যতা বন্ধন,
পত্নী তার—শুনি স্বামীর মিথ্যা মৃত্যু বাণী,
ত্যজিয়াছে তনু অগ্নি মাঝে,
পূর্বাপর জান সমুদায়, অধিক কি
কহিব তােমায়, সর্বজ্ঞ সংসারে তুমি ;
তাত,নাহিক উপায় কোন ? যাহে
পুনার কুমারের হেরি হাসি মুখ,
বড় ভাল বাসিতেন মােরে,
তার প্রতিদান-পারিব কি দেখাইতে পিতা ?
কহ দেব-- জীবিত কি হইবে কুমারী পুনঃ ?

মদালসা
[ পঞ্চম অঙ্ক
অখ-ত।
ন বসদয় ।
দেবের প্রসাদে অমঙ্গল হয় দূর,
কিন্তু মৃত ব্যক্তি জীব নাহি পায় ।
সুশৰ্ম্মা। তাত যদি তুমি কর কৃপা,
বাসনা মােদের পূরিতে নহেক বড় কথা,
আহা! রাজপুত্র বড় দুঃখী ।
হেরি তার করুণ রােদন
মােরা দেহে না পারিনু রহিত তথায়,
পুণ্যাত্মার এ হেন দুর্গতি কেন ?
লৈয় বিনা নাহি হয় উন্নতি সাধন
সৃষ্টি-স্থিতি-লয় বিনা
সংসার না হয় রক্ষা
অল বিধির লিপি,
'কে তাহা করিবে রােধ,
কৰ্ম্মফল যার যেইমত,
সুখ দুঃখ সেইমত তার,
ছিল লেখা অদৃষ্টেতে এ দারুণ শােক,
ফলিয়াছে সময়েতে।
কৃপাময়! তব কৃপা ভিন্ন আর
নাহিক উপায়, দেহ পদরেণু,
যাহে দুস্তর এ সংসার সাগর
নির্বিঘ্নেতে পার হয়ে যাই,
ধর্মপথে অবিরত মতি যেন নয়।

প্রথম গর্ভা ]
মদালসা
১০১
অধত। কহ বৎস!
রাজপুত্র পেয়েছে কি দারুণ শােক ?
যাহে তােমা দেহে ব্যথিত অন্তর ।
দেবশৰ্ম্ম। পিতা কি কহিব সে শােক কাহিনী।
বর্ণনায় শেষ নাহি হয়,
পত্নীবিনা ধরাশূন্য তাঁর
উন্মত্তের প্রায় চা:দিকে ছুটিয়া বেড়ান
বােধ হয় জীবন তর—বহু দিন অ3,
রবে ধরায়।
অশ্ব-ত। পুত্র । হয়ােনা অধীর,
রেখ মতি শঙ্করের পদে
কৃপায় তাহার মনে আশা পূর্ণ হবে।
যাব আমি হিমালয় তলে,
শঙ্করের উপাসনা হেতু।
দেবশর্মা। পিতা কি কহিব কত যে আনন্দ মনে,
পিতা, পিতা, জীবিত কি,
হবে পুন রাজার নন্দিনী ?
অশ্বত। তােমাদের পিতৃব্য এবং আমি এখুনিই হিমালয়ের পদ প্রান্তে
ধ্যানে মগ্ন হব, সেই যােগেশ্বরকে তপে তুষ্ট কর্তে পাল্লে
তােমাদের মনােভীষ্ট পূর্ণ হবে, সন্দেহ নাই, এখন দেখি
সেই পরমারাধ্য শ্মশান বিহারী ভােলানাথ কি করেন,
তােমরা স্থির হও, কিছুকাল অপেক্ষা কর, সত্বরই জানতে
পারবে।
( প্রস্থান)

মদালসা।
[ পঞ্চম অঙ্ক
সুশৰ্মা। কহ ভ্রাতা,যাবে কি হে
রাজ পুত্র সনে দেখা করিবারে ?
দেবশর্মা। ভাই।
পিতৃদেব গিয়াছেন— সহিত পিতৃব্য,
দেবাদেব শঙ্করের উপাসনা হেতু
যদি পূর্ণ হয় মনােরথ,
হাসি মুখে যাব ভাই কুমার সদনে,
নহে আর নাহি যাব,
হেরিতে সে মলিন বয়ান।
সুশৰ্ম্মা। আহা! বাসনা কি পূরিবে মােদের ?
দেবশর্মা। এস ভাই! দুই জনে সেই উমাপতিকে একমনে ডাকি
নিশ্চয় য়াময় আমাদের বাসনা পূর্ণ করবেন ।
উভয়ের প্রস্থান)
দ্বিতীয় গাঙ্ক।
হিমালয় পর্বত।
(নিম্নে—অশ্বতর ও কম্বল)
কহ ভ্রাতা শঙ্কর কি দেখা দিবেন না ? দয়াধার কি দীন
জনে দয়া করবেন না ?
কম্বল। ভাই একমনে তার ধ্যান কর, নিশ্চয় তিনি সদয় হবেন।
অশ্বত। তবে এস ভাই আমরা দুইজনে তাকে প্রাণভরে ডাকি।

দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক ] মদালসা। . ( অশ্বতর ও কম্বলের গীত) শিব শঙ্কর শশাঙ্ক শেখর পশুপতি পরমেশ। নিত্য নিরঞ্জন-বিভু বিশ্ব নিকেতন, ক্রোধ কাম হীন- -নিৰ্বিশেষ সনাতন, তংহি অনাদি অনন্ত কুষ্টিস্থিতি, লয়—প্রলয়কারী, জয় পূর্ণ পরাৎপর-পাৰ্বতীপতি—পঞ্চানন দেবেশ। ( সহসা পৰ্বত বিদীর্ণ হওন ও হরপার্বতীর প্রকাশ) অশ্ব-ত। আহা! মরি মরি কিবা অপরূপ রূপ! ভাই, হের মেলিয়ে নয়ন, সম্মুখে মােদের পরম ঈশ্বর—উদিত যুগলরূপে, ভক্তমন হরা, সাধকের সর্বস্ব ধন, কৃপায় দেছেন দেখা, ত্রিলােকের জনক জননী-হের ঐ, শিখর পরে, মা, মা বলি ডাক ভাই, দেখি মা আমার কেমনে রহিবে স্থির। ( অশ্বতর ও কম্বলের গীত) মা, অপার মহিমা তােমার কে বুঝিতে পাবে? ওমা জগৎ জননী ত্রিতাপ হারিণী কুপাকর দীন পরে । মানব মনের ব্যথা, জানতাে জানতাে মাতা, তবে কেন কৃপাময়ী রয়েছ নীরবে মাগাে, ডাকিছে ব্যথিত নরে একবার ঢাহ ফিরে।

মদালসা।
[ পঞ্চম অঙ্ক
(হরপার্বতীর নিয়ে অবতরণ )
কেরে ভক্ত করিছ রােদন ?
অশ্ব ও কম্বল। পশুপতি দীন জনে কর হে করুণ।
। পদতলে পতন )
উঠ বৎস ?
মন আশা পূর্ণ হবে তােমা দোহাকার,
শুন যেবা কহি আমি,
মানবের শিক্ষা হেতু ঘটাই বিপ্লব,
হের ধরা পরিপূর্ণ পাপে,
কেহ নাহি দেব দেবী মানে
অনাচারে পরিপূর্ণ সবে,
ভাবেনাক ক্ষণেকের তরে,
এই যে বিলাস বাসনহে চিরস্থায়ী,
অন্ধদৃষ্টি পতঙ্গের প্রায়
পড়িছে স্বেচ্ছায়-অনন্ত অনল মাঝে,
ধৰ্ম্ম কৰ্ম্ম নাহি আর,
রিপুগণ সবে বিস্তারিয়া আপন প্রভাব,
অধিকারী সমভাবে সৰ্ব্বপরে,
হেরি ধরার ভাব, প্রাণ মম সদা বিচঞ্চল ;
মানবের কর্মক্ষেত্রে, ৪টি পথ অতীব প্রশস্ত
একটি সরল, একটি কন্টকময়,
।
সরল পথেতে হলে ধাবমান
অসার লালসা লিঙ্গা হয় বলবান,

দ্বিতীয় গর্ভা ]
মদালসা।
পরিণাম তার নরকের প্রবল যন্ত্রণা,
কন্টকীয় যেই পথ, প্রথমেতে অতি দুঃখ তার,
কিন্তু পুরস্কার তার অতি চমৎকার,
সেই শেষ দিনে হাসিমুখে চলে যায়,
সর্গধামে চিবানন্দময়
সেই গােলক বিহারী, কোল দেন তারে,
কি আর কহিব আমি
যাও বৎস কর গিয়ে মম যজ্ঞ অনুষ্ঠান,
সেই হ’তে মৃত বালা হইবে জীবিত ;
জেন স্থির-যেই জন ধৰ্ম্ম অনুগামী,
তার নাহি শােক তাপ,
তবে সংসারের শিক্ষা হেতু এই লীলা মম,
কুমার ঋতধ্বজ অতীব সুধীর,
পিতৃভক্তি অপার তাহার,
ধৰ্ম্মে শুদ্ধাত্মা -সদা কর্তব্য পালনে,
অটল-অচল, ভক্তি ডােরে বাঁধিছে মােরে,
তাই, তার তরে মৃত সঞ্জিবনী উপায়
কহিনু তােমারে, যাও কর গিয়ে
যজ্ঞ আয়ােজন।
অশ্ব-ও। তাত লীলাময় তুমি,
তব লীলা কে পারে বুঝিতে,
মিনতি চরণে—যেন অন্তিমে
চরণপ্রান্তে পাই মােরা স্থান।
শঙ্কর। • তথাস্তু।
( হরপার্বতীর অন্তর্ধান )

মদালস।
[ পঞ্চম অঙ্ক
অশ্বত ।
আজ জীবন সার্থক হ’লআহা ধন্য তুমি যুবরাজ তোমার
কৃপায় হর গৌরীর দর্শন পেলুম।
(দেবশর্মা 'ও সুশৰ্মার প্রবেশ)
দেবশর্মা। পিতা বাসনা কি পূরেছে মােদের,
দিগম্বর দিয়েছেন দেখা ?
যাও বৎস লয়ে এস যুবরাজে,
কৃপায় তাহার-বাসনা পূরিবে তব।
দেবশর্মা ও সুশৰ্ম্মা। পিতা পদরেণু মস্তকে করুন দান।
কম্বল।
তােমরা রাজপুরে সবাইকে আমাদের নাম করে নিমন্ত্রণ
কবে, মহারাজকে বলবে যে, আমাদের আলয়ে একটি
যজ্ঞের অনুষ্ঠান হচ্ছে সেইজন্য পিতা ও পিতৃব্যের অনুরােধ
এই যে আপনাদের নিয়ে যেতে হবে, কিছুতে ছাড়বে না।
যথা আজ্ঞা,
যাই মােরা রাজপুরী অভিমুখে।
কম্বল। চলুন মােরাও যাই,
করি গিয়ে যজ্ঞ আয়ােজন।

তৃতীয় গর্ভাঙ্ক ]
সদা'।
তৃতীয় গর্ভাঙ্ক।
রাজবাটিস্থ উদ্যান।
যুব-রা।
(যুবরাজ )
প্রাণপিয়ে ?
আছ কি লুকায়ে ঐ কুঞ্জবন পাশে?
দেহ না উত্তর ?
ওহহ! সে যে গিয়েছে ছাড়িয়ে মাের,
বৃথা কারে করি অন্বেষণ,
সমীরণ । পাও যদি দেখা প্রেয়সীর,
বলাে তারে—তার তরে কাঁদিতেছি আমি,
তরুরাজি কৃপা করি দেখ তুলি শির,
কোথা মম জীবনের সহচরী,
হায়। আর কি পাইব তারে ?
আহা কি মধুব মলয় হিলােল
পরশনে সংজ্ঞাহীন হয় তনু।
( বৃক্ষতলে উপবেশন ও নিদ্রিত হওন)
(মায়া কানন প্রকাশ)
( মায়া সহচরীগণের প্রবেশ ও
গীত )
এসহে বঁধু হৃদয় মাঝে বিজনে কেন বসিয়ে ।
রসিক নাগর ধরহে গলা,

মদালসা।
[ পঞ্চম অফ
জুড়াক মোদের বিরহ জ্বালা,
হেরিয়ে তােমা ব্যাকুল প্রাণ অমূল্য নিধি এসহে হৃদয়ে
চলহে ত্বরায়---বিলাস বাসরে,
হৃদি সিংহাসনে বসাব আদবে,
বিচ্ছেদ ব্যথায় এসেছি হেথায় তােমা ধনে যাব লইয়ে ।
জ সহচরী। ছি ছি যবা একি ভাব ?
হৃদয়ে তােমার কিসের অভাব ?
মলিন বয়ানে ধরণী’পরে,
কিবা দুঃখে হায় পড়িয়ে,
এসহে এসহে মােদের সনে,
নিয়ে যাই তােমা প্রেম কাননে,
তব চিত চকোর-হইবে বিভাের,
সুখে রবে সদা প্রেম আলাপনে।
যু-রা। কেরে পিশাচিনী নারী,
যাও তুমি দৃষ্টির বাহিরে,
নহে জীবন না রবে তব।
( দৃশ্য পরিবর্তন মায়া সহচরিগণের অদৃশ্য হওন)
একি! হেথায় নারীর কণ্ঠস্বর কোখেকে শুনলুম আমি
কোথায়, আমি কি স্বপ্ন দেছি! না, না, আমার মন
তার তরে পাগল হয়েছে, সে দেবী ' তার তরে কে না
পাগল হয়, কি করি কোথায় যাব, আমার কি স্থান নাই ?
কে আমায় বলে দেবে কৈ কাহাকেও তাে দেখছিনি ?
প্রাণ কেমন কচ্ছে কে বলতে পারে ? কি মজার সংসার,
হেথায় কি হচ্ছে বলতে পার! দুই দিন পূর্বে আমি কি

তৃতীয় গর্ভাঙ্ক )
মদালসা।
ছিলেম, সংসারের সুখের সমুদ্রে তরঙ্গে প্রাণ দুলছিল,
কিন্তু এ আবার কি । আজ আমি জ্যায়ে মরা পথের
কাঙ্গাল, কিম্বা কিছুই নই, আমাতে আমি নাই,
আমার কি হয়ে গেল ? কেন এমন হলাে ? কোথায়
যাব ? নয়ন চল যতদূর পার চল, দেখ এ পৃথিবীর
কোথায়, আরও দেব, সততার অধিকার,
শান্তির আনন্দদায়িনী শােভা, ও ধর্মের বিগল জ্যোতি,
অপন কিরণ বিস্তার পূর্বক পৃথি কে শান্তিময়ী মূর্তি-
ধারণ করাইয়াছে, চল মন সেথায় যাই ।
( পতন ও মূচ্ছ।)
( দেবশর্মা ও সুশৰ্মার প্রবেশ)
দেবশর্মা। সখা, সখা ---একি সংজ্ঞাহীন।
মুশৰ্ম্মা ! সখা, সখা যুবরাজ?
যুব রা। কেরে দেরে ফিরে অভাগার হৃদয়ের ধনে,
(নয়ন মেলিয়া) সখা জান কি উপায় কিছু
যাহে,--ফিরে পাই, মম প্রাণপ্রিয়া ।
দেবশর্মা। যুবরাজ মৃত ব্যক্তিকে ফিরে কি পাওয়া যায়,
কখন কি শুনেছ কোথাও?
যুৰ-রা। তবে কিবা হেতু এসেছ হেথায় ?
হেরি তােমা দেহে, বাড়ে জ্বালা,
জাগে মনে পূৰ্ব্ব স্মৃতি,
ধূ ধূ করে জ্বলে উঠে চিতানল হৃদয়ে আমার,
t

মদালসা। [ পঞ্চম অঙ্ক । সে অনল নিবাইতে নাহিক শকতি, আহা কোথা তুমি হৃদর রঞ্জিনী ! ১ দেবশর্মা। সখা আমাদের একটি মিনতি রাখুবে ? যুব-রা। কর্তব্য পালন হেতু হারানু সে ধনে, পুন: কিবা হেতু কৰ্ত্তব্যেতে হইব বিমুখ ? দেবশর্মা। যুবরাজ। পিতৃদেব একটি যজ্ঞের অনুষ্ঠান ক'ৰ্বেন সে নিমিত্ত মহারাজ ও আপনাকে নিমন্ত্রণ করে নিয়ে যাবার জন্যে আমাদের প্রেরণ করেছেন মহারাজকে নিবেদন করিয়াছি, তিনি স্বীকৃত হয়েছেন, কেবল আপনার সম্মতি হলেই আমাদের আশা পূর্ণ হয়। যুবরা। সখা! জনমাঝে দেখাইতে মুখ,—ইচ্ছা নাহি আর, কিন্তু পিতৃ আজ্ঞা কেমনে করিব হেলা, যাব আমি না রহিব অধিক সময় এইমাত্র অনুরােধ মম। দেবশর্মা। সখা যাহা গিয়েছে সে আর ফিরিবে না, তবে আর বৃথা শােকে শরীরকে কষ্ট দিয়ে ফল কি ? f যুব-রা। সখা আছে সব—কিন্তু পুনঃ নাহিক কিছুই , সেই নিশি প্রভাতিছে, সূৰ্য্যদেব- নবীন কিরণে উদিয়া অম্বরে, জাগায়ে জগৎজনে-বিস্তারিছে আপন প্রভাব, পুনঃ মাতাইয়া পশ্চিম গগন, যান চলে অস্তাচলে,

তৃতীয় গর্ভাঙ্ক ]
মদালসা।
কৃতি সুন্দরী পরি নেসিক বসন,
সাথে লয়ে অগণিত তারারাজি --সহ
নিশানাথ --সুনীল গন মাঝে দিতেছেন দেখা,
নিম্নে তরঙ্গিনী-হৃদে বরি প্রতিবিম্বর,
হেলিতে ভূলিতে চলিয়াছে দূর দেশে,
ফল ফুলে পূণিত কাননে-ভাসিয়া চন্দ্রিমালােকে
বিজন পঞ্চম সুরে ডাকিছে পাপিয়া,
হেরি এই সব প্রকৃতির শােভা,
প্রাণ মম হৃদি ভেদি বাহিরিতে চায়,
সখা সেই একদিন আর আজ এই একদিন।
দেবশর্মা। সখা কি করবে বল, ঈশ্বরের উপর কথা কইবার ক্ষমতা
কি কারুর আছে।
যুব-রা। শুখায়েছে নয়নের ধারা, কিন্তু
প্রাণের ভিতর জ্বলিছে দারুণ অনল,
যেন শূন্যতার ভীষণ ছায়া --অন্তরে সদাই,
হু হু হু হু-ধূ ধূ ধূ ধূ মহা শূন্য শুধু নিস্তব্ধতা,
নিরাশার নীরস ভাব, পরিপূর্ণ হৃদি,
ছিল এ হৃদয়ে যাই, এবে শূন্য,--হাহারবে,-
উদাস করিছে প্রাণ,-নাহি লক্ষ স্থল,
মন, প্রাণ চলে গেছে কোথা,
যেন হৃৎপিণ্ড দীর্ঘশ্বাসে আকুল হইছে,
ভেঙ্গে গেছে নয়নের বাঁধ,
অবিরল বহে জল,
হায় জাগরণে হেরি তারে—
}

মদালসা।
[ পঞ্চম অঙ্ক
নিদ্রায় স্বপনে উঠে, নয়নের কোণে,
সদাই হেরিতেছি সেই ছবি,
বিভীষিকা--বিভীষিকা, মাত্র, বিভীষিকা।
দুরন্ত অনল হৃদয়ের মাঝে,
থেকে থেকে উঠিছে গর্জিয়া
কার সাধ্য নিবাইতে সে অনল।
দেবশর্মা। সখা এস তবে,
বিলম্বে পিতৃদেব ভাবিত হচ্ছেন।
যুব-রা। মহারাজ কখন যাবেন তা কিছু বলেছেন?
দেবশর্মা তিনি ক্ষণেক পরে যাবেন আপনাকে নিয়ে যেতে বল্লেন।
যুব-রা। তবে চল যাই,
আহা কোথা তুমি প্রফুল্ল নলিনী ?
( সকলের প্রস্থান)
চতুর্থ গর্ভা।
নাগরাজ গৃহ-যশেম দৃশ্য।
( অশ্বতর, মদালসা ও নাগরাজ পত্নীগণ)
মদ। একি হেথা কেন আমি! কোথা রাজপুরী
এ কোথা-এ সব কে ?
অশ্বত। বৎসে! চঞ্চল হ'য়ােনা বােধ হয় পূৰ্ব্ব কথা কিছুই তােমার
মনে নাই, তােমার পূর্ব বিবরণ শ্রবণ কর, তুমি শত্রুজিৎ
রাজার পুত্রবধূ। তুমি তােমার স্বামীর মিথ্যা মৃত্যুবাণ

চতুর্থ গর্ভাঙ্ক ] মদালসা । শ্রবণ করিয়: অনল মাঝে দেহ ত্যাগ করিয়াছিলে। যুব- রাজ তােমার জন্যে উন্মাদ প্রায় হ'য়ে বেড়াচ্ছেন, আমার পুৱদ্বয়ের সহিত তােমার স্বামীর অতিশয় সখ্যতা ছিল, তাহারা কুমারের দুঃখ দেখে আমার কাছে ব্যথিত অন্তরে প্রকাশ করে যে, কোন উপায়ে যুবরাজকে পুনৰ্ব্বার তাহার পত্নীকে মিলাইয়া দিতে হইবে। তাহাদের অনেক বুঝা- ইলাম কিন্তু কোন মতে তাহারা বুঝলে না শেষ তারাও অন্ন জল ত্যাগ করে বসে রইল, আমি অবশেষে হিমালয় তলে বিশ্বনাথ বিশ্বেশ্বরের উপাসনা আরম্ভ ক'ল্লেম তৎপরে শঙ্কর সদয় হয়ে আমায় বর প্রদান কল্লেন সে, এক টি যজ্ঞ অনুষ্ঠান কর সেই হইতে মৃত বালা পুন- জন্ম লাভ ক’রূবে, তাঁর আজ্ঞায় সেই যজ্ঞ শেষ হইতে তুমি পুনর্জন্ম লাভ করিয়াছ, পুত্রদ্বয় গিয়েছে রাজপুরে তাদের সকলকে নিয়ে অস্তি, তুমি অন্তরালে গিয়ে অবস্থান কর, অধীর হ'য়ােনা সময়ে সবই পাবে । মদ। হে শঙ্কর ! হে জগৎপিতা। দাসী প্রতি এত কৃপা। পিতা ভাগ্য মম বড়ই মলিন, নহে - বাল্য হ'তে এত দুঃখ কেন বা পাইব ? হে দেব ! তুমি দুঃখিনীর পিতা সম, কৃপায় তােমার --আসি পুনঃ ধরণীর তলে, দেখ যেন ভুলােনাক-স্থান দিতে চরণ সরােজে । অশ্ব-ত। যাও বৎসে অন্তঃপুরে করগে বিশ্রাম, শীঘ্র তর স্বামী সনে হইবে মিলন। - মদালসা। [ পঞ্চম অঙ্ক (বালিকাগণের প্রতি) যারে তােরা সাথে নিয়ে সবে । মদ। আজ্ঞা তব শিরােধার্য মম। যাই আমি অন্তঃপুরে, এস হে ভগিনীগণ। ( অশ্বতর ব্যতীত সকলের প্রস্থান) ( যুবরাজ ও শৰ্মার প্রবেশ) অশ্বত। এস বৎস রাজ্যের সব মঙ্গল তাে ? যুব-রা। নমস্কার রাজীব চরণে, কহ দেব- কি কহিব আর, অন্তর্যামী তুমি, অজ্ঞাত নহত মম দুঃখের কাহিনী। অশ্ব-ত। সুশৰ্মা মহারাজ কৈ ? তিনি কি আসবেন না? সুশৰ্মা। পিতা তিনি আমাদের বিদায় দিয়ে বল্লেন, তাের অগ্র- সর হও আমি পশ্চাৎ যাত্রা ক'ব । অশ্ব-ত। কুমার করহ বিশ্রাম বৃথা খেদে ফল কিবা ? চিরস্থায়ী আছে কিবা ভবে? তুমি ধাম্মিক সুজন, চিত্ত স্থির করহ আপন-যেই জন মনের দাস, তার কিবা মাহাত্ম্য সংসারে ! আত্মা যার আজ্ঞাকারী, ষড়রিপু দমনে সক্ষম, ধন্য সেই জনমাঝে। ৫ যু-রা। হে দেব ! বুঝি সব কিন্তু চিত্ত স্থির করিতে না পারি,

চতুর্থ গর্ভা ]
মদালসা ।
হৃদয়ের অন্তস্থল হতে—সেই ছবি-
কেমনে মুছিয়া ফেলি, রয়েছে অঙ্কিত
যাহা উজ্জল বিভায়, পলে--পলে
পদ্ম আঁখি পড়ে মনে, হৃদি যেন
চূর্ণ হয়ে যায়-বিধি বিড়ম্বনে
ইচ্ছা হয় ত্যজিতে জীবন।
অশ্বত।
শুনহ কুমার!
যত দিন লিপিপূর্ণ না হবে তার,
তত দিন কার সাধ্য ত্যজে ধরাধাম।
যুব-রা। বুঝিয়াছি এ ধরায় যন্ত্রনাই সার,
ধর্মের নাহিক পুরস্কার
অশ্বত।
-রাজ পুত্র !
হেন বাণী নাহি কহ আর, হের ওই
ধৰ্ম্মের জ্যোতি ঐ পুরস্কার তব
(শূন্যে মদালসার ছায়া মূর্তির আবির্ভাব)
যুব রা। ওকে? ওকে প্রিয়ে–ঙিয়ে এসেছ কি ?
কৃপা করি দেখা দিতে পুনঃ এস হৃদে,
হৃদয়ের ধন।
(আলিঙ্গন করিতে উদ্যত )
অশ্বত। হে যুবক! ছায়া মাত্র উহা, নরের অস্পর্শ,
কেমনে ছুইবে তুমি?
যুব-রা। ছায়া-কোথা কায়া ?

মদালসা।
[ পঞ্চম অঙ্ক
পিয়ে পুনঃ প্রবঞ্চনা কর দাসে ?
প্রাণেশ্বরি-অভাগার অমূল্য রতন !
(পতন ও মূচ্ছ।)
দেবশর্মা। পিতা পিতা।
( সুশ্রষা করণ )
অখ-ত। সন্তান না হও চঞ্চল
দুলভ যে বস্তু—যদি তাহা
অল্পায়াসে মিলে,
নাহি থাকে কদর তাহার।
দেবশর্মা। পিতা কেমনে চেতনা করি ?
অশ্বত। হের প্রেমের প্রভাব, আপনি চেতনা পাবে।
(জনৈক দূতের প্রবেশ )
দূত। হে দেব ! মহারাজ এসেছেন.পূরে।
অশ্ব ত। রহ বৎস হেথা, নাহি ভয় কিছু,
যাই আমি মহারাজে অভ্যর্থনা হেতু।
( অশ্বতরের প্রস্থান)
দেবশর্মা। কহ ভাই কেমনে চেতনা হবে ?
সুশৰ্ম্মা। রহ স্থির পিতৃ আজ্ঞা করােনা লঙ্ঘন।
(নেপথ্যে সঙ্গীত)
“শুনহে ধীর হয়ােনা অধীরপাইবে তােমার হৃদয় ধনে
জুড়াবে জ্বালা, পাইবে ‘বালা’-রায় মিলিবে অপূর্ব মিলনে”

চতুর্থ গর্ভাঙ্ক ]
মাদাসা।
১১৭
যুব রা ।
কোথা হতে আসে এই সঙ্গীত লহরী ?
পরিচিত স্বর যেন,
প্রিয়ে কেন কর ছল মম সনে ?
আর ছলে কিবা প্রয়ােজন,
প্রাণধন দেহ দেখা, নহে রবে না জীবন,
প্রিয় হয়েছ কি এতই কঠিন
যাহে দিতেছ হৃদয়ে এ দারুণ ব্যথা ?
( পতন ও মুচ্ছ।)
?
( নেপথ্যে সঙ্গীত )
“সাধিলে থাকেনা নারীর মান,
বুঝেছি বুঝেছি তােমার প্রাণ,
যুব-রা। দেবাঙ্গনা করেছি কি কখন তােমারে হেলা ?
তাই সঙ্গীতের ছলে কহ হেন বাণী,
আরে মন কার তরে হয়েছ উন্মাদ ?
সেত চাহেনা আমায়,
তবে আর এ নশ্বর দেহে কিবা কাজ।
ওহে অন্তর্যামী দেবতা মণ্ডল।
কৃপা করি দেহ মুক্তি মাের
এ পৃথিবী হতে,
আর নাহি রহিব হেথায়,
ছি ছি এই কি ধর্মের ফল!
দিব এই তুচ্ছ প্রাণ নিজ হস্তে বিসর্জন।
( মদালসার বেশ

১১৮
মদালসা।
[ পঞ্চম অঙ্ক
?
প্রিয়ে। শিক্ষাদাত্রী তুমি মম -- মহা শিক্ষাস্থলে !
কৃপা করি দাও স্থান চরণেতে তব ;
আর প্রিয়ে হ’য়ােনা নিদয়।
মদ। কহ নাথ আর কিহে দিবে ফাঁকি
( রাজা, রাণী ও অন্যান্য সকনের প্রবেশ)
অশ্বত। মহারাজ! পূৰ্ব্ব বৃত্তান্ত সমুদায়ই, আপনাকে বিদায় কহি-
য়াছি, উপস্থিত এই আপনার পুত্র পুত্রবধূ।
যুব-রা। পিতা দাও পদধূলি অবােধ সন্তানে তব।
মদা। জননী কর আশীৰ্ব্বদ।
( উভয়ে প্রণাম করণ )
রাজা। হে নাগেশ্বর। কৃপায় তােমার,
শূন্য পুরী মম—হ'ল পুনঃ আলােকিত ;
অন্তরের কৃতজ্ঞতা কেমনে জানাব ?
রেখ পদে শেষের সে দিনে,
যেন অন্তিম সময়ে,
তােমা সবাকার নাম লয়ে যেতে পারি
ভবধাম ছাড়ি। দেহ সখা আলিঙ্গন।
মহারাজ! কত যে আনন্দ হৃদে,
কি কহিব তােমা,
এবে চল-রাজা বিশ্রামের হেতু।
রাজা। চল সখা সুন্দর এ পুরী,
করিয়ে দর্শন চরিতার্থ হব আমি।
( রাজা রাণী, অশ্বতর ও অন্যান্য সকলের প্রস্থান)

চতুর্থ গর্ভাঙ্ক ] মদালসা। রাজ-স। বলি যুবরাজ ! এখন কি বুঝতে পেরেছেন যে স্ত্রীর কি মৰ্ম্ম ? আমরা অনেক ঠেকে শিখেছি। সখা তব বাক্য সত্যে পরিণত, এবে বুঝিয়াছি নারীরা মাহাত্ম্য। রাজ-স। তাই বলে একেবারে জ্ঞানশূন্য হবেন না, নারী চরিত্র স্বয়ং ভগবান্ বুঝতে পারেন নাই । যুবরা, সখা প্রিয়া মম সতী শিয়ােমণি। রাজ-স। এখন সুখে স্বচ্ছন্দে সংসার যাত্রা নির্বাহ করুন দরিদ্র ব্রাহ্মণকে মনে রাথুবেন, গরিব আর কি বলবে, আমি আপ- নার সখার যােগ্য নয়, যাদের দ্বারায় “হারা রতন" ফিরিয়ে পেলেন, তঁাদের আমি শত সহস্র ধন্যবাদ দিলাম, ও জন্ম- স্তরে তঁাদের মতন উচ্চ অন্তঃকরণ নিয়ে যেন জন্মগ্রহণ কর্তে পারি এই প্রার্থনা। দেবশর্মা। সখা ! সখা ! সখা বলি কর সম্ভাষণ। যুব-রা। হে সখা! মহিমা তােমার কহিব কেমনে, বন্ধুত্যের অপার দৃষ্টান্ত দেখাইলে আজি, তােমা দোহে, সখা পায় তােমার - পাইয়াছি হায়ানিধি পুনঃ। দেবশর্মা। সখা যেন স্থির এ সংসারে ধর্মের প্রভাব চিরদিন রহে সমভাবে, রেখেছিলে ধৰ্ম্মে মতি স্থির, হের প্রতিদান তার পাইলে কেমন। যুব রা। প্রিয়ে সখা তব দেহে। মদ। নাথ ! তােমার অধীন আমি।

ক্রোS অঙ্ক।
( উজ্জ্বল রত্নরাজি খচিত চাতপ নিম্নে লতা কুঞ্জ হইতে
দেববালাগণের আবির্ভাব)
( যুবরাজ ও মদালসার যুগল মিলন)
(দেববালাগণের গীত)
দেব-বা। দেখে যাও প্রাণভরে আজ প্রেমের মাধুরী
প্রণয়ের বিমল ছবি ( এতে) নাই ছল চাতুরী
দেখলে কেমন প্রেমের খেলা,
( সদা) রে’খ মনে ঘুচবে জ্বালা,
প্রণয়েরি হারে—নিজ মন-চোরারে-বেঁধে রেখ সযতনে।
( যার). প্রেমিক হৃদয়—প্রেমে সুখী হও—প্রণয়েরি ধনে
প্রেম বিতরী ৬,

বিশেষ দ্রষ্টব্য।
দুইটি পান পুস্তকের যথাস্থানে দিতে ভুল হইয়াছে। সে নিমিত্ত
এখানে সন্নিবেশিত করিয়া দেওয়া হইল।
(১)
২ পৃষ্ঠা-চতুর্থ অঙ্ক-তৃতীয় গর্ভাঙ্ক।
( সখীগণের গীত গাইতে গাইতে প্রবেশ ।)
অলি তােরে করি মানা, কমল বুকে আর ব’সনা।
লুটে মধু চতুর বঁধু,--
চকিতে উড়ে যেওনা।
সাধে বাদ সেধনা ক --- প্রাণে ব্যথা দিওনা,
জাননাক প্রেমের রীতি মিছে ছল ক’রনা ।
(২)
পৃষ্ঠা-চতুর্থ অঙ্ক-তৃতীয় গর্ভাঙ্ক।
( সখীগণের গাইতে গাইতে প্রস্থান)
ভেবনাক কুমুদিনী আবার আসিবে ভ্রমর।
পুনঃ একাসনে,-
মিশাইয়ে প্রাণে প্রাণে
ঢালিবে বচন সুধা, তব মনচোর,
সুখের আবেশে সখি হইবি বিভোর
*.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Madalasa

Author
Sarkar,narendranath
Title
Madalasa
File name
Madalasa
Text
OCR done
Citation
1899
Published
2010/03/26
Publisher
Satishchandra Dutta, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
138
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Drama
Keywords
Rani
DLI number
511188
Barcode
4990010018358.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
DtJ9mZSbYCz
Download PDF

Madalasa