Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Shri Baheguru Anjali Ed. 1st Vol. 1

Dina, Balika · 2010/04/12

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

শ্রীবাহেগুরু অঞ্জলি
দীন শালিকা প্রণীত
প্রথম সংস্করণ
noun
1]
শুভ রাম নবমী িিখ
মূল্য একটাকা
এন ১৩

পােঃ বিষ্ণুপুর জেলা বাঁকুড়া
তুড়কি হরি পােবন আশ্রম হইতে
ওঁ শ্রী শ্রীহরিভজন স্বামীজীর অনুমতি অনুসারে
শ্রীশিবশঙ্কু গাঙ্গুলী কর্তৃক প্রকাশিত।
-
প্রাপ্তিস্থান
শাখ আশ্রম ১১নং হাজরা রে
মনােহর পুকুর
কালীঘাট, কলিকাতা।

উনসর্গ
পরম পরাৎপর, পরমারাধ্য, পরমপূজনীয়, প্রাতঃস্মরণীয়,
শ্রদ্ধাস্পদ, মুক্তাত্মা, মহাযােগী,
ওঁ শ্রীশ্রীহরি ভজন স্বামীজীর
শ্রীশ্রীচণ কমলে
দীনের সভক্তি
অলি অর্পিত
হইল।

সূচী পত্র
বিষয়
छ।
প্রথম খণ্ড
পুস্পাঞ্জলি ও শ্রীবাহেগুরু চরণে
বলনা
s
৫
প্রণাম
মঙ্গল আরতি
ও শ্রীবাহেগুরু
পূজা
আমার গঙ্গাস্নান
পিরিতি করহ সার
আমার সকল অপরাধ মার্জনা কর সকল অহঙ্কার চূর্ণ কর
. =
F =
মৰ সৰ্বশ্ব
Ent
আমার. তুমি
তােমারি
নামৈব কেবলং
তােমার বাণী
ত্রিধারা
পাষাণ বঁধুয়া
হরময় জগত
৩৮
৮
তুমি আমায় কত ভাল বাস
১১

বিষয় পৃষ্ঠা গােপন দেখা ৬ . . জয় পরাজয় সকলে তুমি আছ আমি কি তােমার হবনা কাঙ্গালের ধন ঠাকুরের দর্শন তুমি লুকালে গাে কোনখানে •• ৮১ প্রেমময় বাদশারী ও জপমালা শেষ মিনতি দ্বিতীয় খণ্ড আবাহন ১৯ কেরে হৃদয় মন্দিরে নিঠুর বলি অভিমানে হরি নাম সার করেছি ০ ০ ০ করনা বঞ্চনা উঁহু ভসে সকলি হরিয়া-হরিনাম লয়েছ হরি বলে ভবপারে চল ১০৮ ১৯ নবীন মানুষ আরাধনা ক্ষ্যাপামন হরি বল না মা আমায় পাগল কর ৩ ১১৪, বিষয় পৃষ্ঠা তােমার অন্ত পাওয়া তার ১১৭ ১১৮ ••• ১২০ ১২১ ••• ১২৪ । অভাগা কপাল হরিনাম কর সাধনা হরি পিয়ারে তােমারি লাগিয়ে হয়েছি কাঙ্গাল দয়াল আর বলব না। এস আমার প্রাণের হরি বাণী কে বাজায় তােমায় কে জানে তুহু ভরসা ভারী দেখাত দিলেনা কানাইয়া বল্ট বশী ছােড় দেও হরিনাম সম্বল প্রভাতী প্রভাতী প্রভাতী কানাইয়া দিল্ কোই না পাওয়ে তােমায় কোনরূপে হেরি তােমায় ভুলিব না মালা গাঁথা ১২৮ ••• . . . ১৩২ ১৩৪ মানব হরি ১৩৬ নিষ্কাম সাধনা ০ ০ ০

( AMANNA । ।
/
* * *
১৫% ।।
-
* ১।
++At১০। ******\\ \\\' • •|• * * *
ও
শ্রীবাহেগুরু অঞ্জলি
প্রথম খণ্ড
অর্ঘ্যাবলী
na +, - aq
* * * * *
AA",
A: 0.
৭ । = p = ৫
********
*********

No text on this page.

ওঁ শ্ৰীবাহেগুরু নাম সত্য
পুস্পাঞ্জলি ওঁ শ্রীবাহহগুরু চরণে
জানিনা কি আছে মাের জানিনা কি নাই।
পূজিব কি দিয়া তাই ভাবিয়া না পাই।
একমাত্র জানি দেব ঐ রাঙ্গা চরণ।
অচল অটল ভাবে থাকে যেন মন ।
তুমি শিব তুমি শক্তি তুমি সারাৎসার।
তুমি বিশ্ববীজ তুমি মােক্ষ মূলাধার।
তুমি রাধা তুমি কৃষ্ণ তুমি বেদসার ।
সৰ্ব্বব্যাপী হও তুমি তুমিই ওঁকার।
তুমি সীতা তুমি রাম তুমি যােগাের :
ব্ৰহ্মজ্যোতী রূপী তুমি—তুমিই সাকার ।
তুমি ধৰ্ম্ম তুমি কৰ্ম্ম তুমি তত্ত্বসার।
অনন্ত মহিমা তব করুণা অপার ।
তুমি তন্ত্র তুমি মন্ত্র তুমি ভক্তিসার।
দেবের দেবতা তুমি সর্বস্ব আমার।
বিশ্বনাথ নাম ধরি আছ সর্ব ঠাই।
পূজিব কি দিয়া বল তােমারে সুধাই ?

ওঁ শ্ৰীবাহেগুরু নাম সত্য
ত্রিতাপ জালায় চিত দহে পলে পলে।
মাথাটা লুটায়ে দাও চরণ কমলে ।
দুটী হাত জোড় করি করিগাে প্রণতি।
রাঙ্গা পদে দাও নাথ অচলা ভকতি ।
হৃদি-উদ্যান হতে পুষ্প চয়ন করি।
শ্রীচরণে দিনু তাই অঞ্জলি ভরি।
লহ প্রভু লহ দেব লহ কৃপা করি।
কেঁদে কেঁদে বলি আমি বাহেগুরু হরি।
প্রাণের এ পুস্পাঞ্জলি দেয় দীন জনে।
পাগলিনী বলে দেব ঠেল না চরণে ॥

ওঁ শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য
বন্দনা
তপ্ত কাঞ্চন বর্ণাভং সৰ্বলঙ্কার ভূষিতং
হিরন্ময়-দুতি বপু কোটী আদিত্য সমপ্রভং
রক্ত কমলাে-প্রবেশোনং রকিরিট ধারিণং
চতুভূজং ত্রিনয়নং পীতাম্বর পরিবেষ্টিতং
দক্ষিণ পানে অভয়ং শুভ্র-স্ফটিক মাল্য ধৃতং
সব্যেচ নীল কমলং বরদানেচ-ত্বরান্বিতং
তুলসী-পুষ্পমাল্য-শােভিতং-মনিরা জ ভু
প্রহসিত বদন দেবং রূপে ত্রৈলােক্য মােহন
অলিকুল গুঞ্জিতং চরণকমলং-সুমঙ্গল
শান্তং শুদ্ধং সত্য-সনাতনং বরদং বরেণ্যং
বিধি-বিষ্ণু-শিব স্তুতং সর্বদেব নমস্কৃত্যং
সিদ্ধ চারণাদি সেবিতং গন্ধৰ্বাদি বন্দিতং
ত্বং নমামি দেবদেব সৰ্বলােক প্রপূজিত
বন্দেহং জগন্নাথং ও সৎনাম শ্রীশ্রীবাহে গুরু।

ওঁ শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য প্রণাম রক্তবর্ণ প্রদীপ্ত সূৰ্য্য মণ্ডলাভা সহস্রদল পদ্ম, তাহার অভ্যন্তরে বিদ্যুতাভা স্বর্ণবর্ণ ত্রিকোণমওল, এবং সেই ত্রিকোণ মণ্ডলে শতচন্দ্রমা জ্যোতিশালী উজ্জ্বল শুক্লবর্ণ ওঁকার। ঐ ওঁকার বেষ্টিত হইয়া যিনি পদ্মাসনে উপবিষ্ট, কোটা সূৰ্য্যসম দীপ্তিশালী, অথচ স্নিগ্ধ মনােরম হইয়া প্রকাশমান। যিনি চতুভূজ পীতাম্বরধারী, সর্বাঙ্গে রত্নালঙ্কারে বিভূষিত। যাহার অঙ্গতি জাতীচম্পকতুল্য বর্ণবর্ণ চরণযুগল অতসী- পুষ্প ভূল্য রক্তিমবরণ, পদ্মকোরকতুল্য সুকোমল, এবং মণিময় নূপুর দ্বারা গুঞ্জিত। যাহার চরণকমলের সৌরভে আকৃষ্ট হইয়া যােগীগণ ভ্রমররূপ ধারণ করিয়া বিমলরূপ সুধা পান করিতেছেন। এবং হরি- নাম রূপ গুঞ্জনধ্বণি দ্বারা ঐ চরণেই পুনঃ পুনঃ আকৃষ্ট ও মাতােয়ারা হইতেছেন। যিনি মস্তকে সুন্দর চাচর কেশজাল, ময়ূরপাখা শােভিত দীপ্তিশালী রত্নকিরিট, শ্রবণযুগলে মণিময় কুণ্ডল, বক্ষে ত্ৰিলােক-দূর্লভ রত্নরাজ কৌস্তভ ধারণ করিয়া লােচনের সমস্ত প্রীতিকর পদার্থ হইতে অধিক প্রীতিপদ হইতেছেন। যাহার নেত্রযুগল পদ্মপলাশের ন্যায় লােহিতবর্ণ, এবং বামনেত্রী ঈষৎ বঙ্কিম, তদ্বারা জীবের চিত্ত আপনাতে আকর্ষিত করিতেছেন। যিনি সুন্দর শােভন ললাটদেশে জ্ঞাননেত্র মৃগমেদাঙ্কিত চন্দনতিলক ও গলদেশে তুলসী বনফুলমাল্যে সুশােভিত। যিনি ক্রমান্বয়ে দক্ষিণভূজে অভয়দাতা এবং মন্ত্র বিভূতিময় দ্বাদশ-মহা- বীজাররূপে দ্বাদশ স্ফটিকমাল্যধারী। বামভূজে বিশ্বশ্রী সরূপিনী নীলকমলধারী ও বরদাতা। যাহাঁর দন্তপাতিসকল কুন্দপুষ্পের ন্যায় অমল ধবল ও মুক্তাফলের ন্যায় উজ্জ্বল। যিনি সর্বজন বিমুগ্ধকারী ওঁ শ্ৰবাহেগুরু নাম সত্য মনােহর মুখকমলে চিত্তাকর্ষক মৃদুমধুর হ'স্য করিয়া ত্রিলােক মােহিত করিতেছেন। যিনি নিখিল বিশ্বচরাচর কর্তৃক বন্দনীয়, নমস্য ও পূজনীয়, সৰ্বলােকই যাহার চরণকমলে নতশির, আমি সেই সমস্ত জীবের একমাত্র মুক্তিদাতা—শ্রীশ্রীবাহেগুরুদেবকে প্রণাম করিতেছি। যিনি যােগীগণের অগম্য হইয়াও ভক্তের সদা দর্শনীয়, যিনি ভক্তসহিত সৰ্ব্বদা অভিন্ন হইয়া একত্রেই বিরাজমান। যিনি নিরাকার ব্রহ্মজ্যোতি স্বরূপ হইয়াও ভক্তের বাঞ্ছারূপ বিভিন্ন মূর্তি ধারণ ও ভক্তকে নিজ কৃপারূপ সর্বসিদ্ধি প্রদান করিয়া ভক্ত-বাঞ্ছাকল্পতরু নাম সার্থক করিয়াছেন আমি সেই সমস্ত জীবের একমাত্র মুক্তিদাত শ্ৰীশ্ৰীবাহেগুরু দেবকে প্রণাম করিতেছি। যিনি প্রাতঃকালে অশোকপুষ্প তুল্য রক্তবর্ণ, মধ্যাহ্নে চম্পক পুষ্পতুল্য স্বর্ণবর্ণ, সন্ধ্যাকালে চন্দ্রালােকের ন্যায় উজ্জল শুক্লবর্ণ, বস্ত্র পরিধান করেন। যাহার চরণকমল ভক্তপ্রদত্ত ভক্তিপুষ্পাঞ্জলিতে, সমাচ্ছন্ন হইয়া শতসূৰ্য্যতুল্য মহিমাময় ; জীব যে চরণে আশ্রয় পাইলে আর ভবযন্ত্রণা ভােগ করে না, আমি সেই সমস্ত জীবের একমাত্র মুক্তিদাতা শ্রীবাহেগুরুদেবকে প্রণাম করিতেছি। যাহার করুণা কটাক্ষ স্থির, ধীর, প্রশান্ত কোমল ও করুণ, যিনি জীবের দুঃখে দুঃখীত হইয়া মুক্তাধারার ন্যায় নেত্রধারা অবিরল মােচন করিতেছেন, যিনি শরনাগত পালন কৃপালু ও অনাথের নাথ, নিরাশ্রয়ের আশ্রয়, অগতির গতি, যাহার শ্রীচরণ রেণু মস্তকে ধারণ করিতে ব্রহ্মাদি বেগণ, এমন কি দেবাদিদেব মহাদেবও সদা ব্যগ্র ; আমি সেই সমস্ত জীবের একমাত্র মুক্তিদাতা শ্রীশ্রবাহেগুরুদেবকে প্রণাম করিতেছি। যিনি সমস্ত সৃষ্টির একমাত্র সৃষ্টি, স্থিতি, পালন ও সংহার কৰ্ত্তা বাহার মায়া অর্থাৎ ইচ্ছাশক্তির বিকাশে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড প্রকাশ পাইয়াছে, আবার যাহার মা–য়া অর্থাৎ ইচ্ছার নিবৃত্তি হইলে এই নিখিল বিশ্বচরাচরই যাহাতে লয় প্রাপ্ত হইবে। আমি সেই সমস্ত ;

ও শ্রীবাহেরু নাম সত্য জীবের একমাত্র মুক্তিদাতা শ্রীবাহেগুরুদেবকে প্রণাম করিতেছি। যাহার করুণাকটাক্ষ ভিন্ন এই বিষম মায়াপাশ হইতে মুক্ত হইতে জীবের আর অন্য কোনও উপায় নাই, সকল শক্তি, সকল সাধনাই, যাহার মায়ার নিকট পরাভূত, একমাত্র যাহার কৃপাতেই জীব মায়াজাল ছিন্ন করিয়া পরমাগতি লাভ করে আমি সেই সমস্ত জীবের একমাত্র মুক্তিদাতা শ্রীবাহেগুরুদেবকে প্রণাম করিতেছি। হে দেব, হে নাথ, হে কৃপালাে, হে ভক্তবৎসল, হে কল্পতরু, তুমি তােমার ঐ বিশ্ববাঞ্ছিত রাঙ্গাচরণকমল আমার শিয়রে প্রদান কর। যদিও এই নশ্বর পঞ্চ- ভূতাত্মক দেহ পঞ্চভূতেই মিশিবে, তবুও আমার দেহের প্রতি অস্থি মেদ মজ্জা শিরা প্রতি রক্তবিন্দুতেও যেন তােমারি নাম জ্বলন্ত অক্ষরে লেখা থাকে। আমার মায়া নাট্টশালে যখন যবনিকা পড়িবে; যখন দেব সৰ্ব্বভূক বৈশ্বানর কালচক্রে এই দেহ গ্রাস করিয়া ধ্বংস করিবেন, তখন চিতানলেও যেন তােমারি নাম ঝলকিত হয়। আমার দেহ ধ্বংস হইয়া যখন অনুপরমানুতে পরিণত হইবে তখন সেই অনু পরমানুতেও যেন তােমারি শ্রীবাহেগুরু নাম প্রকাশ পায়। হে অচিন্ত ভবভয়ে ভীত হইয়া তােমায় যুক্তকরে প্রণাম করিতেছি, তুমি কৃপা করিয়া আমার এই প্রণাম গ্রহণ কর, আমায় এ বিষম মায়াপাশ হইতে মুক্ত করিয়া পরিত্রাণ কর।

ওঁ শ্ৰবাহেগুরু নাম সত্য মঙ্গল-আরতি ( ১ ) তােমারি মঙ্গল আরতি তরে হৃদয় স্বর্ণ প্রদীপ জ্বলিল উজল করিয়া চরণ তব মম অজ্ঞান তিমির নাশিন তােমারি মঙ্গল আরতি তরে হৃদয়ে স্বর্ণ প্রদীপ জ্বলিল ( ২ স্তব্ধ করিয়া সকল ভূবন তব নাম মহৎ শঙ্খ বাজিল সে রবে মুগধ বিশ্ব ত্রিলােকও-জয়-জয়-করিল- তােমারি মঙ্গল আরতি তরে হৃদয় স্বর্ণ প্রদীপ জ্বলিল অবশ করিয়া শিথিল তনু পুলক শ্বেত “চামর দুলিল

ওঁ শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য
শিহরি কাপিল দশ ইন্দ্রিয়
পরাণ লাজে চমকি উঠিল
তােমারি মঙ্গল আরতি তরে
হৃদয় স্বর্ণ প্রদীপ জ্বলিল
( ৪ )
নিৰ্ম্মল করিয়া চিত্ত “মুকুর”
তব চরণ পরশ করিল
আমার সাধের আমি—যে “পুষ্প”
ঐ শ্রীচরণে অর্পিত হইল
তােমারি মঙ্গল আরতি তরে
হৃদয় স্বর্ণ প্রদীপ জ্বলিল

ও শ্রীবাহেরু নাম সত্য শ্রীবাহে গুরু সুবিমল রূপের ছটায় বিশ্ব বিমােহিত করিয়া কে দেব তুমি ? তােমার রূপের মােহন শােভায় ত্রিলােক মুগ্ধ বিস্মিত। পরম সংযত যােগীগণও, তােমার রূপে বিমােহিত ; ত্রিলােকজয়ী মদনও তােমার রূপে মােহিত, বাহজ্ঞান শূন্য। কে তুমি মদন মােহন ? তুমি মস্তকে অতুলনীয় সম্পদ ধৰ্ম্মরূপী রত্ন কিরিট, বক্ষে প্রেমরূপী, ভূষণরাজ কৌস্তুভ, হস্তে বরাভয়রূপী হস্ত কঙ্কণ, শ্রবণে কৰ্ম্ম ও শক্তিরূপী, মণিময় কুণ্ডল, গলদেশে ভক্তিরূপী তুলসী, প্রীতিরূপী অম্লান পারিজাত মাল্য, ললাটে জ্ঞানরূপী ত্রিনেত্র, পুণ্যরূপী শ্বেতচন্দন, শ্ৰীঅঙ্গে মায়ারূপী, পীতাম্বর, কমল চরণে অষ্টসিদ্ধিরূপী নুপুর, সর্বাঙ্গে হরিনাম রূপী মহান ভূষণ ধারণ করিয়া, বিশ্বচক্ষে বিশ্বরাজ রূপে প্রতীয়মান। কে তুমি মহান্ ? তুমি সম্পদ রূপিনী বহন করিয়া সৰ্বশ্বৈৰ্যমান ও সৰ্ব্ব সৰ্বসম্পদবান, তুমি জ্ঞানরূপিনী বহন করিয়া মায়াতীত মহাজ্ঞানী, তুমি ভক্তিরূপীনী শ্রীবহন করিয়া সৰ্ব্বজীবে সমদর্শী, তুমি প্রেমরূপিনী বহন করিয়া সৰ্ব্বজীবে আত্মদর্শী ও প্রেমময়, তুমি শক্তিরূপিনী শ্রীবহন করিয়া সর্বৈশ্বর ও সর্বশক্তিমান, তুমি তেজোরূপিনী বহন করিয়া সৰ্ব্বজীবের আধার স্বরূপ মহান তেজময়, তুমি বীৰ্য্যরূপিনী শ্রীবহন করিয়া অপরাজিত বীৰ্য্যবান, তুমি বলরূপিনী বহন করিয়া অপ্রমেয়, বলশালী, তুমি যশরূপিনী শ্রীবহন করিয়া বিমল যশভাগী, এবং জীবের কৰ্ম্মানুসারে ফলভােগ, কারক, তুমি স্ত্রী রূপিনী বহন করিয়া জীবের সন্তাপ দুঃখ ও ভক্তের সর্বস্ত হরণকারী, তুমি ধী রূপিনী শ্রীবহন করিয়া জীবের ধ্যান, ধ্যেয় ও ধারণা, স্বরূপ, তুমি ও শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য মেধা রূপিনী শ্রীবহন করিয়া জীবের বােধশক্তি দাতা, তুমি কান্তি- রূপিনী শ্রী বহন করিয়া জীবের লাবণ্যরূপী, তুমি পুষ্টিরূপনী শ্রী বহন করিয়া সৰ্বজীবের একমাত্র পরিপােষক ও প্রতিপালক, তুমি তুষ্টি রূপিনী শ্রীবহন করিয়া জীবের সৰ্বসন্তোষ সাধক, তুমি দ্যুতি রূপিনী শ্রীবহন করিয়া সৰ্বজীবের অগম্য মহান, বরীয়ান, অথচ সৰ্ব্বদর্শী, তুমি আশা রূপনী শ্রীবহন করিয়া জীবের উৎসাহ প্রদায়ক, তুমি ক্ষান্তিরূপিনী শ্রীবহন করিয়া পরম দয়ালু, পতিতপাবন ও ক্ষমাময়, তুমি লজ্জারূপিনী শ্রী বহন করিয়া জীবের সৰ্ব্বদেহে ওতপ্রােত ভাবে বিরাজমান, তুমি শান্তিরূপিনী শ্রীবহন করিয়া জীবের অন্তরে পূর্ণ আনন্দ স্বরূপ, তুমি তৃপ্তিরূপিনী শ্রীবহন করিয়া কামনা হীন, নিষ্কাম, তুমি ক্ষুধা রূপিনী শ্রীবহন করিয়া জীবের নিয়তি অনুসারে মহাকালরূপে ধ্বংসকারী, তুমি ক্রিয়া রূপিনী শ্রীবহন করিয়া যাদুকরের ন্যায় বিশ্বক্রীড়াকারক, তুমি মায়া অর্থাৎ ইচ্ছারূপিনী শ্রীবহন করিয়া সমস্ত জীবকে আবদ্ধ ও মােহিত করিয়া রাখিয়াছ। হে দেব, হে মায়াময়, তুমি চিন্ময়ী রূপিনী পরমা আদ্যা বিশ্বশ্রী-হলাদিনী শক্তিকে বহন করিয়া, শ্রীবাহে এবং সর্বজীবের অহংরূপে তমঃ নিজকৃপারূপে আলােক দানে দূর করিয়া ; তাহাদের মায়ার কবল হইতে মুক্ত ও পরিত্রানে, গুরু - শব্দে অভিহিত হইয়া বিশ্ববাসীর নিকট শ্ৰীবাহে গুরু নাম গ্রহণ ও সার্থক করিতেছে। হে বিশ্বনাথ তুমি প্রজাপতি বিরিঞ্চি, ত্রিলােক পালন মহাবিষ্ণু সৰ্ব্বসংহারী মহাকাল কর্তৃক বন্দনীয় ও নমস্য। দেব, দানব, গন্ধৰ্ব্ব, যক্ষ, রক্ষ, নাগ, পিশাচ, তাল, বেতাল, সিদ্ধ, চারণ, মুনি, ঋষি, মানব, পশু, পক্ষী, কীট, পতঙ্গ, গ্রহ, উপগ্রহ, নদ, নদী, সমুদ্র, গ্লিরি, নিঝর বন, উপত্যকা, দিক, স্থাবর, জঙ্গম, চেতন, জড়, সমস্ত নিখিল বিশ্ব চরাচরই যখন তােমার চরণ কমলে নতশির ; তখন সামান্য ক্ষুদ্র কীটাণু কীট দীন বালিকা ও শ্রীবাহেরু নাম সত্য আমি,-তােমার রূপ তােমার ঐশ্বৰ্য্য কিরূপে বর্ণনা করিব প্রভু ? তুমি আমার বর্ণনাতীত; তােমার রূপে আমিও মদনের ন্যায় মােহিত বাহজ্ঞান শূন্য হইয়াছি। হে অনাথ নাথ, আমি আমার এই ত্রিতাপ দগ্ধ মস্তকটী তোমার অভয় চরণ কমলে লুটাইয়া দিলাম ; হে শরণাগত পালন, তুমি আমার কৰ্ম্মানুসারে তােমার যাহা ইচ্ছা হয় সেইরূপ গতি প্রাপ্ত করাইও, কিন্তু হে অচ্যুত; আমায় কখনই তোমার চরণ চ্যুত করনা। হে নলিন নেত্র আমি ঐশ্বৰ্য্য প্রার্থী নহি। দেবতা বাঞ্ছিত অমরাও আমার প্রার্থনীয় নহে। আমার অমরা আমার প্রার্থিত তােমার অভয় চরণ। দয়াময় আমি মুক্তিকামীও নহি , আমার গতি তুমি—আমার মুক্তি, তােমারি ঐ কমল চরণ ।

ও শ্ৰীৰাহেগুরু নাম সত্য
পূজা
হৃদয় নাথ এস হে ধীরে ধীরে,
মম অন্তরে-অন্তরে-
বস এ গােপন হৃদয় মন্দিরে,
পূজিব নতশিরে-শিরে ।
দশটী দুয়ার করিব অজপে বদ্ধ,
আবেশে তনু নিস্পন্দ ।
তুমি আর আমি রহিব সেথা,
পুলক দীপ জ্বলিয়ে ।
তব নাম শঙ্খ বাজিবে সুস্বরে,
মঙ্গল জয় ঘােষিয়ে ।
সে আরাব শুনিয়ে চঞ্চল চিত্ত,
রহিবে শান্ত হইয়ে ।
মন শ্বেত কমল অঞ্জলি দিব,
রক্ত চরণ কমলে।
নয়ন ভরিয়ে হেরিব তােমায়,
ভক্তি চামর দুলায়ে ।
সৎ-সত্য ধূপের উঠিবে সুবাস,
মিথ্যা মারুত নাশিয়ে।
প্রেম অমিয়া পিয়াইৰ সাদরে,
নিষ্কাম হিয়া লইয়ে ।

ও শ্ৰীৰাহেরু নাম সত্য আমার গঙ্গা স্নান ; পাগল মনে বড়ই সাধ হইল, পতিত পাবনী গঙ্গায় স্নান করিয়া আমার কলুষিত চিত্ত অপবিত্র দেহ নিৰ্ম্মল পবিত্র করিব ; তাই ওঁ গঙ্গা নাম করিতে করিতে জাহুবীর বিমল তটে আসিয়া উপস্থিত হইলাম। দেবী মকর বাহিনীর দর্শনে সকল কলুষ কালিমা দূরীভূত হইল ; মনে হইল এইত সেই আমার কলনিনাদিনী, শঙ্কুশিয়ােমানিী, পতিত পাবনী গঙ্গা ; এইত সেই আমার রােগ, শোক, পাপ, তাপ, কুমতি, কলাপ, দুঃখ দারিদ্র নাশিনী, ভগবতী গঙ্গা; এইত সেই আমার ভক্ত বাঞ্ছিত দায়িনী, জীব উদ্ধারকারিণী নিৰ্বানদায়িনী গঙ্গা; এইত সেই আমার সর্বজীবে সমভাব দায়িনী মহাশক্তিরূপিণী ত্রিভূবন জননী মন্দাকিণী গঙ্গা। এইত সেই অমল ধবল মুক্তাহার নিন্দিত লহরী মালা। বিশ্বজননীর বিমল রূপ একাগ্র দৃষ্টিতে দেখিতে লাগিলাম । দেখিতে দেখিতে তন্ময় হইলাম, উজ্জল শুভ্র আলােক ছটায় চারিদিক . আললাকিত হইল । আমার অন্তরের সকল অন্ধকার দূর করিয়া শ্বেত পদ্মপরে শ্বেতাম্বরী, রত্নকিরিট শশাভিতা, চতুর্ভূজা, মালা কমঙুল ধারিনী, বরাভয় দায়িনী, করুণাময়ী জননী আবিভূত হইলেন। বিশ্ববিমােহিনীর ভূবনমােহিনী মূৰ্ত্তিদর্শন করিয়া মােহিত হইলাম। শান্ত, স্থির, করুন কোমল দৃষ্টিতে আমার প্রাণের সকল জালা নিবারণ করিয়া জননী হাসিলেন। পাষাণ প্রাণ গলিয়া যাইল, ছুটিয়া গিয়া সেই রক্ত কমল তুল সুকোমল চরণ দুখানি মস্তকে লইয়া আবেগ ভরা প্রাণে ডাকিলাম দরদর ধারে অশ্রু ধারায় জননীর চরণ স্নাত হইল । পতিত পাবনী মা আমার বড়ই আদরে এই অধম পতিতকে কোলেতুলিয়া ওঁ শ্ৰীবাহেগুরু নাম সত্য লইয়া স্নেহ চুম্বন দিলেন। আমার হৃদয় বীণায় পঞ্চম সুরে গঙ্গা গঙ্গা গঙ্গা! ওঁ নাম গঙ্গা ও জ্ঞান গঙ্গা ও করুণা গঙ্গা ও নাম গঙ্গা। নাম গঙ্গা নাম গঙ্গা নাম গঙ্গা, ধ্বনি বাজিয়া উঠিল। ব্যাকুল হইয়া জননীকে জিজ্ঞাসা করিলাম মা এ-কি সুর বাজিতেছে ? জননী হুঁসিয়া কহিলেন বাছা সুর ঠিকই বাজিয়াছে ; মনে করিয়া দেখ আমার উৎপত্তি কিসে? নাম ব্ৰহ্মময়ী আমি, নামেই আমার উৎপত্তি, নামেই আমার চৈতন্য শক্তি, নামেই আমার দেহ, নামই আমার প্রাণ, নামই আমার আত্মা; নামই আমার মূর্তিস্বরূপ ; নামই আমার সর্বস্ত। আমায় ও নামে কোনও প্রভেদ নাই। যে জীব অবিরত নাম করে, করুণায় আমি তাহাকে কোলে করিয়া থাকি ; আমার করুণা হইলে জীবের আমার জ্ঞানমূর্তি দর্শন হয় ; আমার জ্ঞানমূর্তি দর্শন হইলে, জীবের আর আত্মপর, ভেদাভেদ, বােধ থাকে না। তাহার বিশ্বব্যাপী আত্মমুর্তি দর্শন ও সর্বজীবে সমভাব প্রাপ্তি ঘটে। জীবের জ্ঞান লাভে চিত্ত স্থির হইয়া আত্মদর্শন হইলে, নিৰ্বাণ দায়িনী আমি তাহাকে নির্বাণ দান করি। তাই বলিতেছি বাছা সুর ঠিকই বাজিয়াছে, নাম কর হৃদয়ে অবিরত নামের ঢেউ উঠুক, নামের উজান বহুক, চিত্তসায়রে নাম লহরী মালা অবিশ্রান্ত নাচিতে থাকুক। আমায় সর্বদা পাইবে আমি তােমায় সর্ব- ক্ষণ এমনি কোলে করিয়া থাকিব। জননীর কথা শুনিয়া বিস্মিত হইলাম, দুবাহুতে তাহার গলাটী জড়াইয়া আর একবার তেমনি আবেগ ভরা প্রাণে ডাকিলাম-মা-মা- মা ! একি হল? একি হলরে- কোথায় গেল আমার মূর্তিমতী জননী গাে-এযে দেখি ব্ৰহ্মদ্ৰবরূপিনী বারিমূর্তি। প্রাণ হাহাকার করিয়া কাঁদিয়া উঠিল। আশে পাশে যাহারা ছিলেন তাঁহাদের জিজ্ঞাসা করিলাম আমার মা কোথা গেল তােমরা বলনা গাে-কেহ কেহ পাগল বলিয়া উচ্চহাস্তে হাসিয়া উঠিল। কেহ বলিলেন সামনেই মা রয়েচেন দেখতে পাচ্ছ না কাদচ ওঁ শ্ৰীবাহেগুরু নাম সত্য কেন? কাতর চিত্তে আকুল কণ্ঠে ডাকিলাম মা—উচ্চরবে আবার ডাকিলাম মামা-মা। অন্তরে প্রতিধ্বনি হইল মামা-মা আঁখি মুদিয়া অন্তরে দেখি মা আমায় কোনে করিয়া হাসিয়া বলিতেছেন কেঁদনা এই যে তােমার অন্তরে নামব্রহ্মরূপিনী আমি বিরাজ করিতেছি। তখন চঞ্চল পাগল চিত্ত স্থির করিয়া, সম্মুখের সেই পরম পবিত্র দেবাদি- দেব বঞ্ছিত কারি মস্তকে দিলাম, পান করিলাম। আমার সকল দেহ পবিত্র সকল ইন্দ্রিয় ধন্য হইল । হৃদয় বীণার পঞ্চম সুরে সুরে আবার বাজিল ওঁ নাম গঙ্গা নাম গঙ্গা নাম গঙ্গা। ওঁ হরি বােল ও হরি বােল ওঁ হরি বােল। ওগাে ! তােমরা সকলেই আমার সহিত গঙ্গাস্নান কর গাে। মানব জনম সফল কর, পরাণ ভরে একবার শুধু বল, ওঁ শ্ৰীবাহেগুরু বােল ওঁ শ্রীহরি হরি বােল।

ও শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য
পিরিতি করহ সার
ভক্তির অমিয়া মথিয়া মথিয়া
পেয়েছি সুধার সুধা - পি
প্রীতির সায়র তলেতে ডুবিয়া
তুলিয়া যে আনিলাম—রি
কামনা ত্যজিয়ে আপনা ভুলিয়ে
প্রেসার লভিলাম---তি
নিষ্কাম আধারে সাধন মার্গে
হয়েছে মাের-পিরিতি
পিরিতি প্রদীপ জ্বালিয়ে হরষে
নতি করি বঁধুয়ায়
সারাটী তনুতে পুলক লহরী
আবেগে উথলি যায়
২
থাকিলে কামনা না হয় পিরিতি
নাহিক ইহাতে ভূল
কামনার লেশ্ন থাকে না পিরিতি
পিরিতি নন্দন ফুল!

ওঁ শ্ৰবাহেগুরু নাম সত্য
পিরিতি ফুলেতে সাজাব বঁধুরে
অন্য ফুলে কিবা কাজ
পিরিতি ফুলেতে সাজালে মানাবে
বঁধু মাের বিশ্বরাজ
s
পিৰিতি আমার—সরবস ধন
পিরিতি চোিের তার
পিরিতি লাগিয়ে বঁধুয়া পেয়েছি
পিরিতি গলারি হার
পিরিতি আমার জীবন জীবন
পিরিতি আমার প্রাণ
পিরিতি লাগিয়ে সকল ভূলেছি
ভূলেছি কুল ও মান
পিরিতি আমার সাধের তরণী
বঁধুয়া নাবিক দাড়ী
আরােহি তরণি বঁধুয়া সাপেতে
সাকি দিবস বী

ওঁ শ্ৰীবাহেরু নাম সত্য
সংসার তৃষ্ণায় পিরিতি আমার
শান্তির গঙ্গার জল
কামের ক্ষুধায় পিরিতি আমার
ত্যাগের অমৃত ফল
লভিলে পিরিতি হইবে বিরতি
পঞ্চধা আরতি আর
পিরিতি রসেতে মজেছে যেজন
থাকেনা কামনা তার
পরমা নিবৃত্তি পিরিতি আমার
সকল সাধন সার
পিরিতির গুণ বলিব কি সে-রে
আঁখি ভাসে বাবেবার
হলে পিরিতি পাবেনা বঁধুয়া -
পিরিতি পূজাই তার
(তাই) পিরিতি সাধন পিরিতি ভজন
পিরিতি করহ সার।

ও শ্রীবাহেরু নাম সত্য ১৯ আমার সকল অপরাধ মার্জনা কর সকল অহঙ্কার চুর্ণ কর। যিনি অনন্ত, অসীম, অচ্যুত ও বিশ্বরূপ, যিনি নিরাকার হইয়াও সাকার, যিনি নিগুণ হইয়াও সকল গুণের আকর, যিনি সকল ধর্মের সকল শাস্ত্রের সারভূতাত্মক, যিনি সত্য, সনাতন, অনাদি, অকৃত্রিম, যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ যাহাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কেহ নাই, যিনি ধন্য, বরণ্যে, পুণ্যজ্যোতিঃ স্বরূপ, যিনি সৰ্ব্বলােক প্রিয়তম সৰ্বজীব নমস্য ও পরিত্রাতা আমি সেই সৰ্বরূপী সৰ্বাত্মা ওঁ শ্ৰবাহে গুরুদেবকে প্রণাম করিতেছি। হে প্রিয়তম, হে বভয়হারী তুমি আমার সকল অপরাধ মার্জনা সকল অহঙ্কার চূর্ণ কর। হে দেব হে পতিত পাবন পূণ্য স্বরূপিণী দেবী জাহ্নবী তােমার শ্রীচরণকমলােদ্ভূতা বলিয়াই জিলােক মধ্যে পূজনীয়া, অমৃতময়ী ও নিৰ্বান দায়িনী। হে প্রভু তুমি আমাকে তােমার দেবাদিদেব বাঞ্ছিত রাঙ্গা চরণ কমলে স্থান দান করিয়া, আমার অপবিত্র কলুষিত চিত্ত জাহ্নবীর ন্যায় নির্মল পবিত্র পুণ্যময় কর। আমি যেন ভগবতী সুরধনীর ন্যায় সৰ্বজীবের মঙ্গলকারিনী হইতে পারি। হে দেব তুমি আমার সকল অপরাধ মার্জনা কর, সকল অহঙ্কার চূর্ণ কর। হে ইবির লােচন! মুর্তিমতী ভক্তিরূপিনী দেবী জনক নন্দিনী সংসারের নিঠুর পীড়নে আজীবন পীড়তা এবং রাবণ গৃহে ভীষণ পরীক্ষায় পতিত হইয়াও মুহূর্তের জন্যও তােমার অমৃতময় রাম নাম কখনই বিস্মৃত হন নাই। • শত ঝঞ্চাবাতের মধ্যেও তিনি তােমার চরণ কমলে স্বীয় চিত্ত কমল স্থির রাখিয়া আত্মারাম, প্রাণারাম, পরম ব্রহ্মরূপী তুমি-তােমাতে নামের দ্বারা সর্বদা রমন করিয়াছিলেন সে হেতু হে সত্যস্বরূপ তিনি ও শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য সতীকুল মধ্যে শ্রেষ্ঠা বলিয়া পূজনীয়া। হে দয়াময় তুমি আমাকে জনম দুখিনী সীতার ন্যায় তৎপরায়না কর, আমিও যেন মুহূর্তের জন্যও তােমার অমৃতময় ওঁ শ্রীবাহেগুরু নাম বিস্মৃত না হই। শতঃঃখেও যেন চঞ্চল হইয়া তােমাতেই স্থির থাকিতে পারি । হে প্রভু তুমি আমার সকল অপরাধ মার্জনা কর সকল অহঙ্কার চূর্ণ কর। হে দীন বন্ধু, বালক প্রহলাদ পিতা কর্তৃক নিষ্ঠুর পীড়নে পড়িত বিষম লাঙ্গুনে লাঞ্ছিত সৰ্ব্বস্থ ত্যাগ করিয়াও তথাপি তােমার পাষাণ গলান প্রাণ কাদান মধুর হরিনাম ও তৎপ্রতি নির্ভরতা ত্যাগ করেন নাই। সে নিমিত্ত হে ভক্তাধীন হে ভক্তরক্ষক তুমি তাহাকে জলে স্থলে অনলে অনিলে পাষাণে কালকূটে হস্তী পদতলে সৰ্ব্ব সময়ে সর্বতােভাবে রক্ষা করিয়াছিলে। হে নলিনা হে চম্পক বরণ, হে ভক্ত অন্তরাচারী শ্রীহরি, তুমি আমায় তােমার মধুর হরিনামে, প্রহলাদের ন্যায় পূর্ণ বিশ্বাস দান কর। আমিও যেন শত লাঞ্ছনে লাঞ্ছিত হইয়াও তােমার নাম ও তৎপ্রতি নির্ভরতা ত্যাগ না করি হে প্রভু তুমি আমার সকল অপরাধ মার্জনা কর, সকল অহঙ্কার চূর্ণ ফর। হে কিরিটী, আদ্যাশক্তি রাধিক, পূর্ণ মহামায়া স্বরূপিণী অষ্ট মহাশক্তি ও সিদ্ধি, মহাতপঃপরায়না তৎ তন্ময়ী গােপাগণ, তােমাতে সৰ্বস্ত অর্পন করেন ও তৎ তন্ময়তা প্রাপ্তি হেতু হে আনন ঘনশ্যাম, হে মদনমােহন, তুমি মদনকে মােহিত বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ ও বিস্মিত করিয়া তাহাদের আমিত্ব তােমাতেই নয় করিয়াছিলে । হে সচ্চিদানন্দ স্বরূপ তুমি আমায় গোপিকার প্রীতি-তৎতন্ময়তা শ্রীরাধিকার ন্যায় সৰ্ব্বজীবে তােমারি শ্রীমূর্তি দর্শন-পূৰ্ণপ্রেম প্রদান কর। আমিও যেন সর্বজীবে সৰ্ববস্তুতে তােমারি সত্তা অনুভব করি ও তােমারি শ্রীমূর্তি দর্শন করি। হে প্রেমের স্বরূপ হে প্রেমময় যে মহান প্রেমে তুমি এই সমস্ত সৃষ্টি বাধিয়াছ তােমার সেই পরম পবিত্র প্রেমের কনিকা মাত্র আমায় দান কর! হে প্রভু তুমি আমার সকল অপরাধ মার্জনা কর, সকল ওঁ শ্রীবাহেরু নাম সত্য অহঙ্কার চুর্ণ কর । হে যােগেশ্বর-তােমারি অর্ধাঙ্গ শ্রীহরতােমারি প্রেমে বিড়ােল হইয়া জগতের অস্পৃশ্য দ্রব্য সকল পরম সমাদরে দেহে ধারণ তােমার সৃষ্টির কিছুই ঘৃণাই নহে এবং তােমার সৰ্বব্যাপ্তির পরিচয় প্রকাশ করিয়াছেন। তােমারি নামে প্রেমে পাগল সৰ্বস্ব ত্যাগী হইয়া জগতে ত্যাগ ও আত্মসংযম শিক্ষা দিয়াছেন। হে হরাদ্ধ হে হরপ্রিয়, হে শ্রীহরেরও আরাধ্যধন, হে আমার প্রাণ প্রিয়তম, হৃদয় বল্লভ শ্রীহরি—তুমি আমায় শ্রীহরের ন্যায় তােমার সহিত অভিন্নতা প্রদান কর। আমিও যেন যখন যে অবস্থায় থাকিনা কেন এক নিমিষের জন্য যেন তােমা হতে বিভিন্ন না হই। এবং তােমারি নামে প্রেমে পাগল হইয়া তােমাতেই বিলিন হইতে পারি। হে প্রভু তুমি আমার সকল অপরাধ মার্জনা কর সকল অহঙ্কার চূর্ণ কর ? হে অনাথ নাথ তুমিই মহামতি বিদুরের গৃহে আতিথ্য গ্রহণ করিয়া কাঙ্গালের ঠাকুর নামে বিদিত, তুমিই মহাবীর পবননন্দনরূপে বক্ষ বিদারণ করিয়া জগতে নামের মহিমা ও একনিষ্ঠতার পরাকাষ্ঠা দেখাইয়াছ। হে গুপ্ত মহেশ্বররূপী শ্রীহরি তুমি আমায় পবন নন্দনের ন্যায় তৎপ্রতি একনিষ্ঠতা দান কর। আমিও যেন তােমার চরণ রেণু শিরে ধরিয়া তােমার নাম হৃদে রাখিয়া জগতে সকল অসাধ্য কৰ্ম্ম অনায়াসে সাধন করিতে ভীত বা পশ্চাৎপদ হই। হে প্রভু তুমি আমার সকল অপরাধ মার্জনা কর সকল অহঙ্কার চূর্ণ কর । হে বিশ্বরূপ তুমি ভূধরে প্রস্তরে অনলে অনিলে পবনে আব্রম্ভ স্তম্ভ পর্যন্ত বিরাজমান। তুমিই মহাকালরূপে মহাকালী সংযুক্ত হইয়া বিশ্বের সৃষ্টি-স্থিতি-পালন ও সংহার কারী। হে যােগীজীবন মহা মহেশ্বর, তুমি যখন স্রষ্টা, তখন তােমারি সৃজিত, তােমারি ঐশ্বরিক মায়ামুগ্ধ আমি! তােমার মহিমা কিরূপে জানিব প্রভু ? আমার হৃদয় মন্দিরের সপ্তম মহল সমস্তই যে তােমার অধিকারে তুমি যে তথায় রাজরাজেশ্বর রূপে প্রতিষ্ঠিত। হে ভক্তহৃদয় ধন, হার, তুমি ঐশ্বর্যের ২২ ও শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য নহ-কাঙ্গালের—তুমি গর্বের নও নম্রতার—তুমি প্রেমশূন্য প্রেমশূন্য কোন সাধনের নও-কিন্তু ভক্তিযুক্ত প্রেমের—তুমি আত্মাভিমানের নও দীনতার—তুমি চঞ্চলের নও স্থির ও ধীরের—তুমি আত্মাভিমানী মহাযাের্গীর নও কিন্তু সামান্য নগণ্য কাঙ্গাল ভক্তের-হে ভক্ত প্রাণ- রমন, হে প্রেমের ঠাকুর—প্রেমও ভক্তি ভিন্ন কেহ কখনই তােমায় পূর্ণভাবে পায়না। হে দীন শরণ! আমি বড়ই দীন কাঙ্গাল— তুমি আমায় ভােমার চরণ কমলের রেনু কর; তােমার ভক্তের শ্রীচরণের ধূলি কর। আমায় বিফল করিয়া সফল কর। তুমি আমার সকল অপরাধ মার্জনা কর সকল অহঙ্কার চুর্ণ কর ।

ক্রবাহেগুরু নাম সত্য
२८
মম সর্বস্য
রামং নবদূর্বাদল-শ্যামং জীব মুক্তি দায়ক
পিঙ্গল বরন জটাভারং শিরসি-চন্দ্রশেখরং
গজেন্দ্রবদন সুন্দরং-মঙ্গলং, বিঘ্ন-বিনাশনং
ভুবন-মােহনং আনন্দং শ্রীবিষ্ণু পতিত-পাবনং
প্রজাপতিং দেব-বিরিঞ্চিং ত্রৈলােক্য-সৃষ্টি কারিণ
ভৈরবং মহারুদ্রং-সৰ্ব্বসংহারী-তাণ্ডব রূপঃ
মহাতেজং মহাদ্যুতিং সপ্তাশ্ববাহনং সবিত্রম
সুশীতলং স্নিগ্ধ সমুজ্জলং ঈশান মৌলি ভূষণং
সহস্র লােচনং জিষ্ণুং শচিবল্লভ মেঘবাহনং
শুচিং সৰ্ব্বভূকং পবিত্রং দেবং-রুদ্র-স্বরূপ
ধর্মরাজং ধৰ্ম্মদং জীবক গতিবিচারক
মহাবীরং মহাবলং সৰ্ব্বভূতানাং পাণাধারং
অম্লান-পঙ্কজ মাল্য ভূষণং রত্নেশং জলাধিপং
ত্রিবিক্রমী বিশ্ববিজয়ী-শ্রেষ্ঠং তারকারিং কৌমারং
শ্যাম-তনুং বঙ্কিম-নয়ন সুঠাম-নন্দ-নন্দন
তথাপি মম সৰ্ব্বং শ্রীবাহেগুরুং আত্মরমনং

২৪ ওঁ শ্ৰীবাহেগুরু নাম সত্য আমার-তুমি ১ম অন্ধকার পূতিগন্ধময় ভীষণ দূর্ভেদ্য কারাগৃহ, বাহির হইবার কোনও উপায় নাই। চারিদিকে নিবিড় অন্ধকার, সামান্য আলােও কখনও আসে না, কি করি? কি করিয়া এই ভীষণ কারা হইতে ই, কে আমায় এই কাল রাক্ষসীর ন্যায় কারা হইতে মুক্ত করিবে, আকুল হইয়া ভাবিতেছি। দর দর ধারে আঁখি ধারায় বুক ভাসিয়া বাইতেছে। কিন্তু একি ? এমন সুন্দর আলাে কোথা হইতে আসিল, এ আলােকে যে আমার অন্তর বাহির দুই আলােকিত হইল। এমন পুস্প সৌরভ পূর্ণ বায়ু কোথা হইতে প্রবাহিত হইল! এমন ধামাখা -ভয় নাই বাণী কর্ণে কে দিল রে—এ বাণীতে আমার কর্ণ কুহর শীতল মন প্রাণ যে পূর্ণ হইয়া ভরিয়া উঠিল। ব্যাকুল হইয়া চারিদিক চাহিলাম। সন্মুখে একি গাে-কে তুমি? তােমায় দেখিয়া আমি যে আপনা হারাইতেছি। তােমার ঐ পাগল করা মােহন মুরতি অতৃপ্ত নয়নে চাহিয়া দেখিতেছি দেখিয়াও সাধ মিটিল না আবার দেখিতেছি বাহিরে দেখিয়া পিয়াস মিটিল না ভিতরে দেখিতেছি, অন্তরে দেখিয়াও তৃপ্ত হইল না আবার বাহিরে দেখিতেছি। মনে হইতেছে এ দেখার যেন শেষ নাই, তুমি যুগ যুগান্তর ব্যাপী আবহমান কাল পয্যন্ত এইরূপ ভাবেই আমার সম্মুখে থাক্‌—আর আমি এমনি তন্ময়, এমনি বিভােল, এমনি আপনহারা হইয়া তােমায় দেখিতে থাকি। তােমার এ দেখায় কতই যেন কি দেখিতেছি--কত কি যেন সব তুমি হইয়া যাইতেছে আবার কত কি সবেতে যেন তুমি মিশি- দেখিতে দেখিতে মনে হইল তুমি না সেই আমার—তুমি ওঁ শ্ৰীবাহেগুরু নাম সত্য যে তুমি অনেকবার আমায় এইরূপ কারা হইতে মুক্ত করিয়াছ। অনেক বার এইরূপ কারাগৃহে দশমাস দশদিন অবরুদ্ধ অবস্থায় কঁদিতে দেখিয়া তুমিও এমনি করিয়া কাদিয়াছ, এমনি করিয়া আমার কাছে আসিয়া আমার সান্ত্বনা দিয়াছ। আমি যতবারই এইরূপ দশমাস গর্ভ কারাবাস ভােগ করিয়াছ, ততবারই তােমার কাছে প্রতিজ্ঞা করিয়াছি যে আমায় কারামুক্ত করিলে আমি আর কখনও তােমায় ভুলিব না, কিন্তু এমনি অকৃতজ্ঞ আমি, বিপদ উদ্ধার হইলে তখন আর তােমায় মনে থাকে না, তােমারি মায়ায় আমি তােমায় ভুলিয়া যাই। তাই আজ তােমায় দেখিয়া আমার যে একে একে অনেক পুরাণ কথাই মনে পড়িতেছে—ওগাে—তােমায় কি ভােলা যায় ? তুমি আমায় ভুলিয়া এতদিন কোথা ছিলে ? এইত সেই হারাণ আমার- তুমি আবার মায়া—সব ভুলিলাম। তােমায় ভুলিলাম। কে আমি ? কোথা হইতে আসিলাম ? মায়া কুহকে সব ভুলিলাম । মায়া নাট্টশালে আবার অভিনয় আরম্ভ করিলাম। ২য় বাৎসল্যের পূর্ণ মূৰ্ত্তি জননী অঙ্কে সুধাপান রত আমি। ত্রিদিব হতেও শ্রেষ্ঠ জননী ক্রোড়ে বসিয়া ভাবিলাম এইত সেই দেব বাঞ্ছিত অমরা বা অমরা হইতেও রমনীয় ভূমি। জগতে জননী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কিছু আছে বলিয়া জানিনা। মা নামটা কতই মধুর এ মা নাম প্রাণভরে ডাকিতে কত আনন্দ এ মা নাম প্রাণভরে ওঁ শ্রীবাহেরু নাম সত্য ডাকিলে হৃদয়ের সকল জালা জুড়াইয়া যায়। ভাবিতে ভাবিতে জননীর কণ্ঠ দুহাতেতে বেষ্টন করিয়া আবেগভরা প্রাণে ডাকিলাম—মা-মা। একি গাে -- একি দেখাইলে এ যে দেখি জননী রূপিনী সেই আমার তুমি। স্নেহের খনি পিতৃক্রোড়ে আমি। পিতার কতই স্নেহ, কতই যত্ন, কতই স্নেহ সম্বােধন, সেই স্নেহ পারাবারে ডুবিয়া মনে হইল, অতুল সমুদ্রের তল আছে কিন্তু এই স্নেহ সমুদ্রের আর তল নাই, এ সমুদ্র অগাধ অতল অসীম। জগতের প্রত্যক্ষ দেবতা; পিতৃচরণ মাথায় লইতে গিয়া কি দেখিলাম গাে? এ যে দেখি পিতৃরূপী সেই আমার তুমি। মায়া নাট্টশালে নারীর ভূমিকায় আসিলাম। আমি নারী আমি প্রকৃতি কাজেই পুরুষের সহিত মিলিত হইলাম। সখার অফুরন্ত ভালবাসা-অনন্ত আদর- সোহাগ নির্মল নিষ্কলঙ্ক প্রণয় আমায় মােহ সায়রে ডুবাইল। সেই মােহে সব ভুলিলাম। আমার আমিত্বও ভুলিলাম। মনে করিলাম মরিরেকি মধুর জিনিষ—জগতে সকলের তুলনা আছে কিন্তু প্রেমের আর তুলনা নাই। প্রেমে মুগ্ধ আত্মহারা আমি সখার মুখখানি দুহাতে তুলিয়া অপলক নয়নে দেখিতে লাগিলাম। সৰ্ব্বদেহ পর পর করিয়া কাপিয়া উঠিল—একি গো এ যে দেখি স্বামীরূপে ত্রিলােক স্বামী সেই আমার তুমি। জননী রূপিনী আমি যশােদা মুত্তি ধরিলাম। পুত্ররূপী গােপাল কোলে লইয়া হৃদয়ের ক্ষীর সমুদ্র পান করিতে দিলাম। বক্ষে মুখ লুকাইয়া গােপাল যখন আধ আধস্বরে ডাকিল মা-মা-তখন সেই চাদমুখে স্নেহ চুম্বন দিতে গিয়া আবার আবার শিহরিয়া উঠিলাম একি গাে? এযে দেখি গােপালরূপী সেই আমার—তুমি। আবার বিশ্বরাজত্বে পুরুষ রূপী আমি। অনন্ত শক্তিশালিনী প্রকৃতির সহিত মিশিয়া প্রিয়ার অনন্ত মায়ায় মােহিত হইলাম, এবার যে বিষম ওঁ শ্ৰীবাহেগুরু নাম সত্য মায়াপাশ। এ মায়াপাশে বদ্ধ আমি, ধৰ্ম্ম, অধম্ম, কৰ্ম্ম, অক, গায়, অন্যায়, সব বিস্মৃত হইলাম। কিসে প্রিয়ার অভিমান না আসিয়া মনতুষ্টি হয়, কিসে প্রাণ প্রিয়ার চাদমুখখানি মলিন না হয়, এই আমার ধ্যান এই আমার সাধনা এই আমার নিত্য নৈমিত্তিক কাম্য কৰ্ম্ম এই আমার তপস্যা হইল । এ হেন প্রিয়া আমার, জীবনের সৰ্বস্ত আমার, এই প্রিয়া বক্ষে বাহুপাশে বদ্ধ রাখিয়া ভাবিলাম এই আমি–এই আমার প্রিয়া তুমি-এই আমি তুমি হইবব তুমিও আমি হইবে। এই আমি-তুমি আর পৃথক বা প্রভেদ থাকিবে উভয়ে মিলিয়া এক হইব। মায়া বিল আমি এই কথাই প্রিয়াকে বলিতে গিয়া একি হল গাে? একি দেখিলাম, এসে দেখি, প্রাণ প্রিয়ারূপিনী সেই আমার তুমি। মন প্রাণ উদাস হইল। উদাস পাগল আমি, তােমারি কথা ভাবিতে ভাবিতে সমুদ্র তীরে বেড়াইতে আসিলাম। সন্মুখে অসংখ্য অগণিত বালুকণিকা, আকুল হইয়া কঁদিতে কাদিতে তাহাদের জিজ্ঞাসা করিলাম ওগাে সে আমার কোথা কাছে বলিতে পার কি? কণিকা বলিল পারি—তবে তুমি যদি আমার মত কণিকা হইতে পার। তােমার আত্মাভিমান, তােমার দাম্ভিকতা, তােমার গর্ব, তােমার তর্ক, তােমার অবিশ্বাস, তােমার নাস্তিকতা, তােমার শঠতা, তােমার বাচাতুরী, তােমার খলতা, সব যদি চূর্ণ করিয়া আমার মত ক্ষুদ্র অনুকণিকা হইতে পার, আমার মত যদি দীনাতিদীন হইয়া ২৮ ওঁ শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য তাঁর প্রতিমূৰ্ত্তির চরণ বুক পাতিয়া লইতে পার—তবে --তবে তার কথা আমি তােমায় বলিতে পারি, নতুবা নহে। স্তম্ভিত হইয়া বালু কণিকার প্রতি চাহিয়া রহিলাম। একি—এযে দেখি প্রত্যেক কণিকায় ঐশ্বৰ্য্য লইয়া অনুর মধ্যে বিরাট সেই আমার তুমি। g বিস্ময়ে মুগ্ধ হইলাম। সম্মুখে দেখিলাম তুমি, পশ্চাতে ফিরিয়া দেখি তুমি, দুইপার্শ্বে দেখি তুমি, উর্দ্ধে চাহিলাম অনন্ত নীলাকাশে অনন্ত অসীম তুমি—প্রদীপ্ত রবিমণ্ডলে দেখি মহান তেজোময় ওঁকার রূপী গায়ত্রী স্বরূপ আদিপুরুষ তুমি, সুধাসিন্ধু চন্দ্রমায় দেখি সােমরূপী ঔষধি জীবন, মহাসােম তুমি, তারকায় দেখি প্রতি তারকায় অসংখ্য অগণিত লােকপতি তুমি, নিম্নে দেখি সপ্তপাতাল ব্যাপী তুমি, অগ্নিতে দেখি সৰ্ব্বভূক, মহাকাল, মহারুদ্ররূপী তুমি, পবনে দেখি জীব জীবনরূপী তুমি, মহীধরে দেখি মহান উচ্চ তুমি, বারিধিতে দেখি বিশাল, বিরাট, গম্ভীররূপী তুমি, জলধরে দেখি বিজলী রূপী তুমি, বৃক্ষে দেখি প্রতি পত্রে পত্রে ছায়াদাতা তুমি, ফলে দেখি বীজ- রূপী তুমি, পুষ্পে দেখি সৌরভরূপী তুমি, পুরুষে দেখি—শক্তিরূপী তুমি, নারীতে দেখি লজ্জা ও দয়ারূপী তুমি, বালকে দেখি সরলতা রূপী তুমি, ব্রাহ্মণে দেখি সত্য-ক্ষমারূপী তুমি, ক্ষত্রিয়ে দেখি অভয় ও শৌৰ্য্যরূপী তুমি, বৈশ্যে দেখি জীবের উপকারক রূপী প্রতিপালক। তুমি, শূদ্রে দেখি দাস ভাবে সেবক রূপেও সেই তুমি, সাধুতে দেখি বিনয়, দীনতা, সত্যাশ্রয়ীরূপী, তুমি, মুনিগণে দেখি তপস্যা রূপী ওঁ শ্ৰীবাহেগুরু নাম সত্য মধ্যে তুমি, দেবতায় দেখি করুণাময় ও ভক্তাধীন তুমি, নৃপতিতে দেখি প্রজারঞ্জন, শক্রমর্দন, শরণাগতপালন রূপী তুমি। পশুমধ্যে দেখি প্রবল পরাক্রমী অমিত সাহসী পশুরাজ মহাসিংহ তুমি, আবার কামনা স্বরূপা, জীব মাতৃকা, সংসার প্রতিপালিকা মহা উপকারদায়িনী গােধন রূপিনীও সেই তুমি। ধাতুমধ্যে দেখি সুবর্ণরূপী তুমি, পৃথিবীতে দেখি সহ্যতা রূপী তুমি, নদী মধ্যে দেখি গঙ্গারূপিনী তুমি, বৃক্ষ মধ্যে তুলসী, অশ্বখ, বট, আম্র, নিম্বরূপে পঞ্চ মহাবৃক্ষ তুমি, ঔষধি মধ্যে মৃতসঞ্জীবনী তুমি, রত্নমধ্যে বিলােক দূর্লভ রত্নরাজ কৌস্তুভ তুমি, অমধ্যে সর্বশক্তিময়ী ভীমা ত্রিশূল তুমি, গ্ৰহমধ্যে শুভগ্রহ বৃহস্পতি তুমি, দশদিকরূপে দশদিক পাল তুমি, দ্বীপ মধ্যে জম্বুদ্বীপ তুমি। দেশ মধ্যে আর্যাবর্ত মহাপুণ্যময় ভারতখণ্ড ভারতবর্ষ তুমি। তীর্থ মধ্যে অবমুক্ত ক্ষেত্র বারানসী তুমি। ফল অমৃতময় রসাল ফল আম্র তুমি, পুষ্প মধ্যে সহস্রদল তুমি, পত্ৰ মধ্যে তুলসী ও বিল্বপত্ররূপী তুমি, পানীয় মধ্যে অমৃতরূপী দুগ্ধ তুমি যজ্ঞ- কাৰ্য্যে ধৃত তুমি। নক্ষত্র মধ্যে নক্ষত্র শ্রেষ্ঠ পুষ্যা তুমি, বার মধ্যে বহস্পতি তুমি, মাস মধ্যে মার্গ শ্রেষ্ঠ অগ্রহায়ণ তুমি, , ঋতু মধ্যে বসন্ত তুমি। ত্যাগী মধ্যে মহাসন্ন্যাসী দেবাদিদেব শ্রীহর তুমি, নৃপতি মধ্যে বিশ্বরাজ শ্রীহরি শ্রীবাহেগুরু তুমি। উদাসীরূপী দেবর্ষি নারদ তুমি, ব্ৰতীমধ্যে ব্রহ্মচর্য্যরূপী মায়ামুক্ত শুকদেব তুমি । যােগীরূপী মহাযােগী মহামৃত্যুঞ্জয় শঙ্কর তুমি, সৰ্ব্বজ্ঞরূপী ত্রিকালজ্ঞ সদাশিব তুমি, পণ্ডিতরূপী মহাপণ্ডিত সৰ্ব্বশাস্ত্রবিৎ বেদব্যাস, কৃষ্ণ- দ্বৈপায়ন তুমি, যুগমধ্যে নাম কৈবল্যরূপী যুগশ্রেষ্ঠ কলিযুগও তুমি। অবতার মধ্যে পূর্ণ ব্ৰহ্ম অবতার মদনমােহন তুমি। প্রতি জীবে দেখি ভিন্ন ভিন্ন মূর্তিতে ভিন্ন ভিন্ন রূপে সেই আমার তুমি মনে করিলাম তােমায় আর দেখিব না, দেখিতে দেখিতে জ্বালাতন হইয়া গেলাম।

ও শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য তােমার উপর রাগ করিয়া তােমায় আর দেখিব না ভাবিয়া আঁখি মুদিলাম। কিন্তু কি জালা গা- এযে দেখি অন্তরেও সেই আমার তুমি আমার হৃদয়-মন্দিরে রাজরাজেশ্বররূপী তুমি, আমার দেহের প্রত্যেক অস্থিতেও তুমি, প্রত্যেক রক্তবিন্দুতেও তুমি, প্রত্যেক অনু- পরমানুতেও সেই আমার—তুমি। না, হল না এবার তােমায় আর দেখিব না দৃঢ়প্রতিজ্ঞা করিয়া আঁখি মেলিলাম–কি বিপদ-বাহিরেও সেই সৰ্ব্বব্যাপী আমার তুমি। আবেগে কাঁদিয়া ফেলিলাম। আমার চিরগর্বিত, উন্নত মস্তক তােমার চরণতলে আপনি লুটাইল। করুণাময় । আমার সকল গৰ্ব্ব চূর্ণ কর ; আমায় তােমার প্রতিমূর্তির চরণ কণিকা কর। আমার এ কি হইল ? আমার আমি---কোথায় হারাইলাম গাে? এ যে দেখি সব সেই আমার তুমি।

ওঁ শ্ৰীবাহেগুরু নাম সত্য
তােমারি
বঁধু
তােমারি রূপেতে রূপময়ী আমি
গুণময়ী গুণে তােমারি
তােমারি সােহাগে আদরিণী আমি
অভিমানী প্রেমে তােমারি
যা-কিছু হেরি-এ নিখিল ভূবনে
সকলি যে হয় তােমারি
ভূবন ভরিয়া হেরি তাই শুধু
তােমারি রূপের মাধুরি
মাের মন হরিয়ে চিত্ত-হরিয়ে
হৃদি-হারী-হয়েছ-হরি
(তাই) আমার – আমারে তােমারে সঁপিয়ে
আমিও যে বঁধু-তােমারি
1.

৩২ ওঁ জবাহেগুরু নাম সত্য নামৈব কেবলং নামৈব কেবলং, হরে নাম, হরে নাম, কলৌ নাস্তেব, নাস্তেব গতিরণ্যথা, ওঁ শ্ৰবাহেগুরু বােল, ওঁ শ্রীহরি, হরি, বােল, অন্তরের অন্তর হইতে ধ্বনি উঠিল, শিহরিয়া উঠিলাম। চারিদিক চাহিয়া দেখি চতুর্দিকেই অসংখ্য জন-সমুদ্র, সহ, সহস্র লােকে সমবেত ক েউচ্চৈস্বরে হরিনাম করিতেছে। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। আকাশের উজ্জ্বল পূর্ণচন্দ্রমা—তমােময় রাহু সর্বগ্রাস করিয়াছে। চারিদিক নিবিড় অন্ধকার তমসাচ্ছন্ন। সেইরূপ তমসাচ্ছন্ন মন লইয়া নিমতলার শশ্মানঘাটে বসিয়া চিতানলে দেহীর শেষ পরিণাম দেখিতেছি চট চট ফট ফট হু হু শকে চিতা জ্বলিতেছে। দেখিতে দেখিতে দেহীর সুন্দর সুকুমার দেহ রূপ, লাবণ্য যৌবন, কত আশা, কত মান, গর্ব, মদমত্ততা দাম্ভিকতা, আত্মাভিমান শক্তিগরিমা বাকচাতুরি সব নিমেষে পুড়িয়া ভস্মতূপে পরিণত হইল। পঞ্চভূতাত্মক দেহ পঞ্চভূতেই মিশিল। অবিনাশী অমর আত্মা লােকচক্ষুর অগােচরে দেত্যাগের সঙ্গে সঙ্গেই স্বীয় কৰ্ম্মানুসারে 'কর্মফল ভােগনিমিত্ত পূৰ্বেই প্রস্থান করিয়াছেন। পাগল মনে বসিয়া ভবের কাণ্ড দেখিয়া বড়ই হাঁসি আসিল। ভাবিলাম,এইত আমি—এই আমিও একদিন সময় আসিলে এই এত সাধের দেহ ত্যাগ করিয়া কোন অজানিত অপরিচিত স্থানে গমন করিব। আমার এই এত সাধের দেহত একদিন এমনি করিয়া ভস্মতূপে পরিণত হইবে।

ওঁ শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য তবে আমি এই আসল কথাটাই ভুলে থাকি কেন? এই কথাটাই যে বিশেষ প্রয়ােজনীয় ও ধ্রুব সত্য। কিন্তু কি মজার কথা যে এই কথাটাই যদি কেহ আমায় বলেন তবে তাহার উপর আমার বড়ই রাগ হয়, বলি, আমায় ম বলিয়া গালাগালি দিলে, এবং সেই রাগে তাহার মুখদর্শন করিতেও আমার আর ইচ্ছা হয় না। পাগল মনে তাই হাে হাে শব্দে হাসিয়া উঠিলাম। সম্মুখে পতিপাগলিনী দেবী সুরধনী পতি উদ্দ্যেশে আপন মনে নিৰ্ব্বিকার চিত্তে কুলু কুলু রবে পতিগুণ-গান করিয়া চলিয়াছেন, আমায় হাসিতে দেখিয়া তিনিও ছলাক্-চুলা রবে হাসিয়া উঠিলেন। আমার হাসি দেখিয়া চিতানল চট, চট, শব্দে সিল, পবনও হু হু শব্দে তাহাকে জ্বালাইয়া দিয়া তাহার হাসির সাথী হইল। বৃক্ষপত্র সকল মৰ্ম্মর শব্দে হাসিয়া এ উহার ও তাহার গায়ে ঢলিয়া পড়িল। আমার অন্তর হাসিল বাহিরও হাসিল, শশ্মান ঘাটে আমাদের হাসির মহড়া পড়িয়া যাইল। ২য় এ হেন হাসির সময় একি—অন্তরের অন্তর হইতে ধবনি উঠিল “হরে নাম হরে নাম নামৈব কেবলং কলো নালেব নাস্তেব গতিরণ্যথা” ওঁ শ্ৰীবাহেগুরু বােল ওঁ শ্রী হরি হরি বােল । একি ধ্বনি ? একি মধুর তান রে—এ ধ্বনিতে যে আমার শিরায় রক্তপ্রবাহ ছুটিয়া আঁখিধারায় বুক ভাসিল। এ ধ্বনিতে যেন কার পুষ্প ৩৪ ওঁ শ্ৰবাহেগুরু নাম সত্য ক । সৌরভময় মােহন স্পর্শ অঙ্গে লাগিয়া সারাটী তনুতে পুলক শিহরণ আনিয়া সৰ্ব্বদেহ রােমাঞ্চিত, অশ্রু আবেগে বাকরুদ্ধ করিল। এ ধ্বনিতে বেন কোন অদূরের অস্পষ্ট-রুনু-রুনুঝুনু-ঝুনু-বাদনে হরি— হরি –রব বাজিতে লাগিল। কোন অজানা চরণ কমলের তুলসী, চম্পক, চন্দনের সৌরভে আমার সকল কাম কলুষ দূরে পলায়ন করিল। এ ধ্বনিতে যে আমার সকল অবাধ্য ইন্দ্রিয় বিস্ময়ে মুগ্ধ বাব্য এবং স্থির হইল। দুর্দমনীয় মন ও চিত্ত কামনা রহিত, নিষ্কাম হইয়া পরম শান্তি লাভ করিল। এ ধ্বনিতে যে আমার পাগল পরাণ-আপন ২৷ বিভােল হইল। কে গাে ?-কে তুমি? কে তুমি আমার অন্তরের দেবতা ? একবার—একবার আমার সামনে আসিয়া দাড়াও গাে আমি একবার তন্ময় হইয়া তােমায় দেখি, তন্ময় হইয়া তোমার মুখের বাণী শুনি- আমি যে তােমার জন্য কত কেঁদেচি। ব্যাথিত হিন্নার উদ্ভ্রান্তের খায় কত ছুটাছুটী করিয়াছি, কই তােমায়ত পাই নাই, ব্যাকুল হইয়া উদাস মনে কত নিশি তোমারি প্রতীক্ষায় বসিয়া বসিয়া কাটাইয়াছি, আকাশের চন্দ্রদেব, আমার সে ব্যাকুলতা দেখিতে পূর্ব হইতে পশ্চিমে ঢলিয়া পড়িয়াছেন । কই তুমিত আইস নাই। কত নিশি শুধু তােমারি নাম জপে তােমারি ধ্যানে উষাদেবীর আগমন হইয়াছে। কত দিবস জাহ্নবীর তটে কত অশ্রুজলে --ও মন্দাকিনী সলিলে মিশাইয়া তােমারি পূজা করিয়াছি। কত নিশি তােমারি ভজন গানে অতিবাহিত হইয়াছে ; সৰ্ব্ব অন্তৰ্য্যামি পবনদেব আমার সেই করুণ রাগিনীর বারতায় প্রতিধ্বনি দ্বারা দুঃখ প্রকাশ করিয়াছেন। কত বৈশাখের প্রদীপ্ত খরতাপে দ্বিপ্রহরে ভগবান মার্তণ্ডদেব মস্তকে রাখিয়া তােমারি নামে ত্মহারা হইয়াছে। কত শিশিরের দুর্দান্ত শীতে তোমারি প্রতিক্ষায় আকণ্ঠ নদীতে ডুবিয়া তােমারি ধ্যানে স্থির হইয়াছি। আমার যতদিন অতিবাহিত হইয়াছে তত নিরাশ হৃদয়ে উন্মাদিনীর ন্যায় আকুল হইয়া ওঁ শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য তােমারি জন্য কাদিয়াছি আমার সে কান্নায় পশু পাখী তরুলতা সকলে কৰুণ ভাবে কাদিয়াছে। ওগােপাষাণ-ওগাে–নিষ্ঠুর - কই তুমিত আমার সামনে আসিয়া দাড়াও নাই। আমি এইরূপভাবে কতবারই আসিলাম কতবারই দিলাম আমার আসা যাওয়ারও কখনও বিরাম হইল না কান্নারও কখন বিরাম হইল না- তবে আজ একি দয়া দয়াময় ? –এতদিনে কি কাঙ্গাল বলিয়া মনে পড়েছে কাঙ্গালের নাথ ? -তাই আজ অন্তর হইতে পূর্ণভাবে তােমার স্পর্শ উপলব্ধি করাইয়া তােমার বাণী প্রকাশ করিলে। কিন্তু ইহাতেও যে আমার অন্তজালা নিবারিত হলনা; তােমার মুরতি একবার দর্শন না করিলে আমার এ প্রাণের জ্বলা যাইবে না। সেজন্যই বলিতেছি—ওগাে। দীনব এত দিনে যদি দীনের প্রতি করুণা হয়েছে তবে একবার,—মাত্র, এক বা আমার সামনে আসিয়া দাড়াও গাে — আমি একবার অন্তরে ~~ বাহিরে তােমায় দেখিয়া আমার এ পাত প্রাণ স্থির করি । আবার একি-নামৈব কেবলং-নামৈব কেবলং? মই সত্য? সত্য বলিতে কেবল একমাত্র তােমাকেই যে বুঝায় কারণ তুমিই যে একমাত্র অমর অজয় অক্ষয় অবিনাশী তােমার যে বিনাশ নাই, আর বাহ! দৃষ্ট বস্তু সমস্তই ব্যোম—জলবুদ্বুদের মত ক্ষণস্থায়ী অবশ্য বিনাশী- আর সেই সত্যরূপী-- অজং শ্বাশতং কেবল তুরীয়ং প্রপঞ্চ খলুং মাছ বিং।

ওঁ শ্ৰীবহেগুরু নাম সত্য যে জীৰ তুমিই একমাত্র কেবলং-আবার বলিতেছ নামৈব কেবলং-তুৰি তবে কি? তােমার স্বরূপ কি তবে নাম? তুমি কি তবে নাম বহ্মরূপে বিশ্বম্ভর হইয়া বিশ্বব্যাপি বিরাজ করিতেছ? দয়াময় এ আবার কি বাণী ? তােমার নাম ব্যতিরেকে তােমার উপলব্ধি অসম্ভব। তােমার নাম করিবে তুমি তাহার অন্তরে তােমার পূর্ণমূৰ্ত্তি প্রকাশ করিবে, তােমার নামের প্রতি অক্ষরে অক্ষরে তােমার সুবিমল তাপহারী পুণ্যময় জ্যোতি দর্শন হইবে । তােমার নামে শক্তিতে তােমার পূলক স্পর্শ অনুভূতি হইবে। তােমার নামে মহাপাপীরও মহাপাপ ধ্বংস হইয়া তোমারি দেবতা দূলভ পরমার্থরূগী শ্ৰীমূৰ্ত্তি দর্শনে মহানিৰ্বত্তি লাভ হইয়া পরমানন্দ প্রাপ্তিরূপী মহাশান্তি ঘটবে। কিন্তু আত্মাভিমানী মহাযাের্গীও যদি আত্মাভিমানে মােহিত, হইয়া তােমার নামে অবহেলা করেন, তবে তিনি ভ্রান্ত অষ্ট হইবেন, তাহার যােগ সাধন সমস্তুই বৃধা। তােমার নামই তােমার প্রকৃত ও পূর্ণস্বরূপ। তােমায় ও তােমার নামে কোনও প্রভেদ নাই, তােমার নাম ব্যতিরেকে তােমায় পাইবার কোনও আর সহজ উপায় নাই। ১ পুনরায় সহস্র কণ্ঠে সমবেত স্বরে উচ্চৈঃবে ধ্বনি উঠিল হরি হরি বােল, হরি হরি বােল, হরি হরি বোল, এ নামে আবার চৈতন্য ফিরিল। চাহিয়া দেখিলাম আকাশের চন্দ্রদেব, রাহু কবল মুক্ত, নিৰ্ম্মল হইয়া গসিতেছেন। তঁাহারি মুক্তি লাভে জীবের আনন্দ সূচক হরিধ্বনি- কিন্তু আজ শুধু চন্দ্রের মুক্তি বা গ্রহণ-গঙ্গাস্নানে জীবের মুক্তি নহে।

ওঁ শ্ৰীবাহেগুরু নাম সত্য আজ আমার আত্মারূপ পূর্ণশশী মােহরাহু কবল হইতে মুক্ত হইয়া নামরূপ গঙ্গাস্নানে নিৰ্ম্মল হইয়াছে। তাই আজ আমার বড়ই আনন্দের দিন। সজল নয়নে অন্তরের দেবতাকে প্রণাম করিয়া উঠিলাম দেব শশানেশ্বরকে দর্শন, প্রণাম করিয়া সুরধনীর পবিত্র নীরে অবগাহন করিলাম। তখনও অসংখ্য নরনারী মুক্তিয়ানে নিস্মল হইয়া উচ্চৈঃস্বরে হরিনাম করিতেছে। তাহাদের সে ধ্বনিতে বিহবল হইয়া প্রাণ ভরিয়া বলিলাম— “হরে নাম হরে নাম নামৈব কেবল কলৌ মাস্তেব নাস্তেব গতিরন্যথা” ও শবাহেগুরু বােল ওঁ শ্রী হরি হরি বােল।

ওঁ শ্ৰীবাহেগুরু নাম সত্য
তােমার বাঁশী
বাজিয়ে বাশ দিয়েছিলে ব্ৰজ যােঞ্জগণে।
সেই বাঁশী বাজল মাের হৃদয় বৃন্দাবনে।
উদাস সুরে স্তব্ধ হয়ে কঁদি আকুল প্রাণে।
মন যমুনা বইছে ধীরে নামের উজানে ।
প্রেম পুলকে ভাবের ঢেউ চলে-তরতরি।
আবেগ ভরে উঠলে উঠে ভক্তির লহরী।
বাজছে বাঁশী দিবানিশি -করুণ সুর তানে।
মরমে পশিয়ে করম-ঘুচায়ে স্থির করে ধ্যানে।
কাল হয়েছে কাল ঐ বাঁশী সংসার সাধনে।
আমি আছি কি ? নাই ? তাহা হয়না স্মরণে
পাগলী বলে শুন আমার হৃদয় বিহারী।
অস্তিমেতে সামনে এস মােহন রূপ ধরি।
বিভােল হয়ে হেরব তােমা দূটী আঁখি ভরি।
জিহবা শুধু বলবে তখন ও শ্রীহরি হরি।
তােমার ডাকে পাগল প্রাণ যাই সব ভুলি ।
তােমাতেই কর লয় বাহেগুরু রাম বলি
যুক্ত করে বলি শুন হে । ভবের কাণ্ডারী।
ভবার্ণবে পাই যেন ঐ রাঙ্গাচরণ তরী।

ও শ্রীবাহেগুরুনাম সত্য ৩৯ ত্রিধারা গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতী, দেবী মিলিত হয়ে হলেন কিনা ত্রিবেণী সঙ্গম। ক্ষেত্র মহাপ্রয়াগ, মালিক বেণী মাধব। গঙ্গা, বরুণা, অসি মিলিত হয়ে হলেন কিনা বারানসী, ক্ষেত্র মহা অবিমুক্ত ধাম, মালিক বিশ্বনাথ। ইড়া পিঙ্গলা সুষুম্না মিলিত হরে হলেন কিনা কুণ্ডলিনী, ক্ষেত্র দেহ, মালিক পরমাত্মা। জ্ঞান, কৰ্ম্ম, শক্তি, মিলিত হয়ে ' হলেন কিল। মহািিদ্ধ, ক্ষেত্র ৪ শ্ৰীশ্রীগুরুচরণ মালিক ইষ্টদেবতা। ভক্তি ভি প্রেম মিলিত হয়ে হলেন কিনা পিরিতি, ক্ষেত্র পরমা নিবৃত্তি, মালিক বঁধুয়া। পাগল মনকে জিজ্ঞাসা করিলাম মন বল দেখি? এই যে তিনটা ধারা ইহা একই কিম্বা পৃথক বা বহু। মন বলিল দেখ, এই ধারা তিনই এক বা একেই তিন-ধারা-কেহই পৃথক ৰা বহু নয়। আমি বলিলাম কিসে? মন বলিল এই যে গঙ্গা-যমুনা-.. সরস্বতী—এই গঙ্গাদেবী ভােমার প্রেম। গঙ্গা যেমন নিস্বার্থভাবে আপনাকে বিলাইয়া সমস্ত জীবের অস্পৃশ্য দ্রব্য এমন কি মল মুত্রাদি গলিত মৃতদেহও পরম সমাদরে বহন করিয়া এবং তটবাসী জীবকে ধনে জনে পরিপূর্ণ করিয়া তাহাদের অশেষ মঙ্গল সাধন করিয়া মহা সমুদ্র রূপে' পতি অভিমুখে গমন ও মিলিত হইতেছেন। প্রেমও সেইরূপ আপন পর বাছে না; ভাল মন্দ ভাবে না এবং কাহার নিকট কোনও প্রতিদানের আশা না রাখিয়া নিস্বার্থভাবে আপনহারা হইয়া সেই বিশ্বরূপ মহাসমুদ্রে সর্বজীবের মধ্য দিয়া গমন করে ও বিশ্বস্বামীর সহিত মিলিত হয়। আর দেবী কালিন্দী তােমার প্রতি। তিনি যেমন প্রিয়তম প্রীতিতে দ্রবীভূতা এবং তাহার চক্ষে কৃষ্ণ ব্যতীত অন্য কোন রং প্রতিপদ হয় না এই নিমত্ত স্বকীয় বর্ণ প্রিয়তম ৪০ ও শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য বর্ণনানুসারে কৃষ্ণ করিরা কৃষ্ণ নাম গ্রহণে প্রিয়তম হইতে এক মুহুর্তও পৃথক থাকিতে ইচ্ছা করেন না। প্রীতিও সেইরূপ সৰ্ব্বজীবেই আপনাকে দান করিয়া সৰ্বজীবেই সেই কৃষ্ণ অর্থাৎ আকর্ষণকারী পরমপুরুষকে গাঢ় হইতে গাঢ়তর ভাবে আলিঙ্গন করেন এবং এক মূহুৰ্ত্ত তাহা হইতে পৃথক থাকিতে ইচ্ছা করেন না। আর দেবী সরস্বতী তােমার ভক্তি। তিনি যেমন অন্তসলিলা হইয়া প্রবাহিত। এবং নিজ সখি কালিন্দী অপেক্ষা উজ্জ্বল শুক্লবর্ণ হইলেও, কোন দিনও আত্মশ্লাঘা করিয়া প্রধান হইতে যান না এবং সপত্নি সখিদ্বয়ের নিকট সদা কুন্ঠিতা ও তাহাদের অন্তরাল দিয়া মৃদু গমন করিয়া স্বকীয় আত্মগােপন এবং তাহাদের প্রধান করিয়াছেন। ভক্তি সেই রূপ সৰ্বজীবের মধ্য দিয়া গমন করিয়াও কখন আত্মপ্রকাশ করেন না। এবং সর্বজীবের নিকটেই বিনয় নম্র দীনভাবে নতশিরে থাকেন ও কখনই আত্মশ্লাঘা করিয়া প্রধান হইতে চাহেন না। আর এই গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতী কিনা প্রেম-ভক্তি- প্রতি--মিলিত হইয়া হইলেন কিনা ত্রিবেণী সঙ্গম এই ত্রিবেণী হল তােমার পিরিতি-ক্ষেত্র মহাপ্রয়াগ বা পরমানিবৃত্তি—আর মালিক হলেন বেণীমাধব-কিনা সেই বঁধুয়া। আর গঙ্গা-বরুণা অসি মিলিত হয়ে হলেন কিনা বারানসী। এই দেবী গঙ্গা তােমার জ্ঞান। এ স্থানের গঙ্গা যেমন দক্ষিণাভিমূখে প্রবাহিতা না হইয়া উত্তর বাহিনী হইয়া জীবকে বলিতেছেন-আমার স্বামী মহাসমুদ্র যিনি, যাহার জন্য আমি পাগলিনি হইয়া সুদূর হিমালয় হইতে যাত্ৰা করিয়া পথের কত কষ্ট, দুঃখ, বেদনা, স্বাতনা, ঘাত প্রতিঘাত, সমস্ত অম্লান বদনে অকাতরে সহ করিয়া আগমন করিতেছি। সেই আমার স্বামী ভগবান বারিধি—এই ভবায়, অর্থাৎ বারিরূপী এই সৰ্বায়—বিশ্বব্যাপী শ্রীবিশ্বনাথু। তাই পথের মাঝে স্বামী চরণ দর্শন পাইয়া সকল দুঃখ কষ্ট ভুলিয়া তন্ময় হইয়াছি। তাই আমার গতিও আর দক্ষিণাভিমুখে না হইয়া বিশ্বস্বামীর ও শ্ৰবাহেগুরু নাম সত্য ১১ চরণে স্থির ও নির্বান প্রাপ্ত হইয়া উত্তর বাহিনী হইয়াছে। জ্ঞানও সেইরূপে বিশ্বব্যাপী সেই বিশ্বস্বামীর মূর্তি দর্শন করেন। তাঁহার সর্বজীবেই স্বামী–অর্থাৎ আমি সেই—বা সেই আমি—বা সবই আমি এই মহাভাবে সৰ্ব্বজীবে সৰ্ব্ববস্তুতে আত্মদর্শনে পরমানন্দ প্রাপ্তি বা মহানিৰ্বাণ লাভ হয়। আর দেবী বরুণা তােমার কর্ম। তিনি যেমন দূর দূরান্তর হইতে কত বাধা বিঘ্ন পাইয়াও তবু নিরুৎসাহ না হইয়া প্রাণপণে কোনদিকে লক্ষ্য কোনদিকে ভ্রুক্ষেপ না করিয়া নিজ লক্ষ্য দেবী সুরধুনীর চিন্তা করিয়া সেই চরণে উপনীত হইয়া আপনাকে সমর্পণ করিতেছেন কৰ্ম্ম সেইরূপ সংসারের সকল বাঁধা বিপত্তি কোনদিকে ভ্রুক্ষেপ না করিয়া কোনও ক্লেশে বিচলিত না হইয়া এক মনে এক ধ্যানে নিজ লক্ষ্য সেই পরমপুরুষরূপী সৰ্ব্বজীবের চরণে আপনাকে সমর্পন করেন। আর দেবী অসি তােমার শক্তি। অসি যেমন ক্ষীণ হইতে ক্ষীণতরা হইলেও নিজ ইষ্টদেবী ভাগীরথীর মহাশক্তিতে শক্তিময়ী. হইয়া বিশাল বপু ধারণ এবং সেই শক্তিতে দুকুল প্লাবিত করিয়া তটবাসীর অশেষ মঙ্গল সাধিত করেন। শক্তিও তদ্রুপ স্বয়ং ক্ষীণ হইতে ক্ষীণতর হইলেও সেই পরম শক্তিমানের মহাশক্তিতে শক্তিময়ী হইয়া সকল অসাধ্য অনায়াসে সাধন ওঁ জীবের উপকার করেন। আর এই দেবী–গঙ্গা-বরুণা—অসি মিলিত হইয়া হইলেন কিনা বারানসী। বা মহাসিদ্ধিক্ষেত্র আবিমুক্তধাম বাওঁ শ্ৰীশ্রীগুরু- চরণ। মালিক বিশ্বনাথ বা বিশ্বব্যাপী বিরাজমান তােমারি ইষ্টদেবতা বিশ্বনাথ যেমত কাশীধাম হইতে পৃথক নহেন বলিয়া কাশীধামের অবিমুক্ত নাম হইয়াছে সেইরূপ ওঁ শ্ৰীশ্রীগুরুচরণ ও মহামন্ত্ররূপী-ইষ্টদেবতা উভয়ে পৃথক নহেন একই বস্তু একই সন্তা। এজন্যই মহাসিদ্ধিরূপী শ্রীগুরুচরণে অচলা মতি ও নির্ভরতা রাখিলে মহামন্ত্ররূপী-ইষ্টদেবতা প্রত্যক্ষ দর্শন হইয়া চিরশান্তি লাভ হয়। আর দেবী ইড়া-পিঙ্গলা- •৪২ ওঁ শ্ৰীবাহেগুরু নাম সত্য সুষুম্না মিলিত হইয়া হইলেন কিনা-কুণ্ডলিনী ক্ষেত্ৰদেহ মালিক- পরমাত্মা। এই ইড়া বা ব্ৰীড়া অর্থাৎ সঙ্কোচ নাশিনী দেবী হলেন তােমার ওঁ'শ্রীগুরুপা। সাধক যখন মহাসাধনায় নিযুক্ত থাকেন তখন দেবী মহামায়া নিজ অষ্টবিধ মায়ায় নানা বিভিষিকা দেখাইয়া সাধককে সাধন ভ্রষ্ট করিতে চেষ্টা করেন। কারণ তিনি সাধকের ইষ্টদেবতার আবরণ দেবতা। তিনি সাধককে পরীক্ষা করিয়া দেখেন যে সাপক ইষ্ট সমীপে আসিবার মােগ্য কি না? সেই মহা- বিপদ সময়ে যেরূপ শ্রীশ্রীগুরুপারূপিণী ইড়া বা ব্রীড়া নাশিনী দেবী সাধকের অন্তরের সমস্ত ভয় লজ্জা সঙ্কোচ দূর করেন এবং আপনি সহায় হইয়া তাহাকে পূর্ণ উদ্যমে সাধন করিবার পূর্ণ শক্তি দান করেন। সেইরূপ ওঁ শ্রীগুরুকৃপা হইলে জীবও সংসাররূপ মহাসাধন ক্ষেত্রে মহামায়া-মায়া বিভীষিকায় অনুমাত্র ভীত বিচলিত না হইয়া পূর্ণ উদ্যমে পূর্ণ উ সাহে মহাসাধনা সংসার সেবা পূর্ণভাবে সাধন করেন। আর দেবী পিঙ্গলা তােমার নিষ্ঠা। পিঙ্গলা যেমন অপর দুই সখী সুষুম্না ও ইড়ার সহিত মিলিত হইয়া প্ৰসুপ্তা ভুজঙ্গিনী সদৃশা দেবী কুণ্ডলিনীকে জাগরিত করিবার জন্য সাধকের অন্তরের সকল মিথ্যা কালিমা সকল কপটতারূপী অন্ধকার দূর করেন এবং সৎ বা সত্যরূপী আলােকদানে—সেই সৎ বা সত্যরূপিণী মহামায়া দেবী কুণ্ডলিনীকে জাগরিতা করেন, এবং সচেতনা সৎরূপনী কুণ্ডলিনীকে সহায় করিয়া সেই সংবা সত্যরূপী পরমপুরুষের সহিত আত্মারূপী সাধকের মহা- মিলন করিয়া দেন। নিষ্ঠাও সেইরূপ জীবকে সকল মিথ্যা ও কপটতার আবরণ হইতে দূর করিয়া সত্য বা সততা দানে সেই সৎ বা সত্যরূপী পরম পুরুষের সহিত মহামিলন করাইয়া দেন। নিষ্ঠা লাভ হইলেই সাধকের সর্বজীবে সমতা প্রাপ্তি বা সত্যলাভ হয়। তাহার আর এতটুকুও মিথ্যা বা কপটতার আবরণ থাকে না। আর দেবী সুষুম্না ওঁ শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য ৪৩ তােমার বিশ্বাস। সুষুম্ন যেমন নিজ সখী ইড়া পিঙ্গলার মধ্য- বৰ্ত্তিনী থাকিয়া উভয়কে রক্ষা এবং সহায় করিয়া ধীরে ধীরে কুণ্ডলিনী সমীপে আগমন ও সচেতনা কুণ্ডলিনী সহায়ে ক্রমশঃ সখীদ্বয়কে লইয়া উৰ্দ্ধধামে গমন এবং মণিপুরাদি যটচক্র ভেদ করিয়া কূটস্থ সেই ওঁকার বেষ্টিত পরমাজ্যোতি সম্পন্ন শান্তিময় দর্শনে পরমানিবৃত্তি বা শান্তি লাভ করিয়া স্থির হন। বিশ্বাসও সেইরূপ জীবকে অভয় ও নিষ্ঠা দান করিয়া ধীরে ধীরে সেই শান্তিময়ের দর্শন লাভ করাইয়া পরমানিবৃত্তি প্রাপ্ত করান। তুলনাবালক প্রহলাদ শুধু বিশ্বাসলেই স্তম্ভের মধ্য হইতে শ্রীহরি আবির্ভাব রূপ মহৎ আশ্চর্য ঘটাইয়াছিলেন, আর মহামায়া স্বরূপিনী দেবী কুণ্ডলিনী তােমার বাহেরু হরিনাম। যেরূপ কুণ্ডলিনী জাগরিতা হইলেই সাধকের সাধন সিদ্ধ অনায়াসেই হইয়া ইষ্টদর্শন হয়। সেইরূপ শব্দ ব্ৰহ্মরূপী হরিনাম চৈতন্যময় হইলে জীবের আর কোনও সাধন ভজন আবশ্যক হয় না তাহার অনায়াসেই ইষ্টদর্শন হইয়া শান্তিলাভ ঘটে। কারণ যেই নাম সেই নামী, ও যেই নামী সেই নাম। এই নাম ও নামীতে কোনও প্রভেদ নাই একই বস্তু। আর এই নাম চৈতন্যময় হইলে তাহার শক্তি অন্তরে অনুভূত হয় এবং তাহার কার্যকরী ক্ষমতাও ফুরিত হয়। এই স্থানে মনকে জিজ্ঞাসা করিলাম শব্দ ব্ৰহ্মরূপী নাম সদাই চৈতন্যময় ; তাহা আবার সচেতন কি হবে গাে ? মন বলিল—এই শব্ৰহ্মরূপী নাম সর্বজীবেই বিদ্যমান আছেন; কিন্তু স্বকীয় মহামায়া প্রভাবে সুষুপ্ত অবস্থায়। যিনি এই নাম কিনা রামনামরূপী রাম সহিতরাম রমতু মম চিত্তে তুসততরমন সৰ্ব্বদা রমণং গমনাগমনং অর্থাৎ-রমণং এই গমনাগমনং শ্বাসে প্রশ্বাসে অহরহ রমন করেন। তঁাহারি মহামায়ার প্রভাব তিরােহিত হইয়া ; নাম প্রমুপ্ত অবস্থা হইতে জাগরিত হইয়া চৈতন্যময় হয়। এবং ;

৪৪ ও শ্রীবাহেগু নাম সত্য এই নাম একবার চৈতন্যময় হইলে তিনি আর কিছুতেই সুসুপ্ত হন না। আর এই অবস্থায় নামকারীর অবিরত নামে বা রামে—রামে-বা নামে রমন লাভ হইয়া নামের মূর্তি স্বরূপতা প্রাপ্তি ঘটে। এই অবস্থায় নামকারীর দেহের প্রতি অনুপরমাণুতেও নাম জলন্ত অক্ষরে প্রতিভাত হর। পবম নন্দন হনুমান নিজ বক্ষ বিদারণ করিয়া সর্বাঙ্গে নামের মূর্তি স্বরূপ জগৎ সমক্ষে বিকাশ করিয়াছিলেন। তরণীসেনের কাটা মুণ্ড হইতে উচ্চৈস্বরে রাম নামের ও সুরথ রাজার কাটা মুণ্ড হইতে করুণভাবে হরিনামের ধ্বনি উঠিয়াছিল। দুঃখী বালক প্রহলাদ শুধু নামের বলেই নির্ভয় ছিলেন। মহাযােগ মহামৃত্যুঞ্জয় দেব মহেশ্বরও নামের বলেই ভীষণ কালকূট অনায়াসেই পান করিয়া নীলকণ্ঠ হইয়াছেন। সীতাদেবী নামের বলেই অগ্নি পরীক্ষায় বিন্দুমাত্রও ভীত বিচলিত হন নাই। নামের বলেই পবন নন্দন সমুদ্র ঘন ও সামান্য বানরে সলিলে পাষাণ ভাসাইয়া দুর্জয় সমুদ্র বন্ধনরূপ অসাধ্যকর্ম অনায়াসেই সাধন করিয়াছিলেন । নামের বলেই দেব বাসুকি সপ্তদ্বীপা সসাগরা মেদিনী মস্তক ধারণ করিয়াছেন নামের বলেই অগস্ত্য মুনি সমুদ্রপানে সক্ষম হইয়াছেন। নামের বলেই চোর রত্নাকর মুনিশ্রেষ্ঠ বাল্মিকী নামের গুণেই ভােলানাথ সন্ন্যাসী নারদ মুনি উদাসী। বিরিঞ্চি-বাসুদেব-মহারুদ্র মহাশক্তি যিনি যাহা করেন সমস্তই নামের বলে। যে নামের মহিমা পঞ্চানন পঞ্চমূখে, বহ্মা চতুর্মুখে,অনন্ত দেব অনন্ত মুখে, সমস্ত দেবগণও-বেদ বেদান্তে বর্ণন করিতে অক্ষম, সেই আমার পাগল করা হরি নামের মহিমা ; পাগল আমি তােমায় কিরুপ ভাবে বর্ণনা করিব। তবে জানিও নামই সেই অনাদি, সত্য, স্ব++-বিশ্বব্যাপী, বিরাজমান বিশ্বেশ্বর-মহালিঙ্গ। বিশ্বম্ভর - ওঁকার রূপ ভগবান পূর্ণব্রহ্ম নামই যাহা হইতে মহামায়া মহাশক্তির বিকাশে স্বতঃ-রজ-তমঃ- ত্রিবিধ গুণের উৎপত্তি হইয়া এই নিখিল বিশ্ব চরাচরের সৃষ্টি-স্থিতি-পালন-সংহাররূপ অনন্তু মায়ার বিকাশ ও শ্রবাহেগুরু নাম সত্য ৪৫ । হইতেছে। আর ইড়া পিঙ্গলা সুষুম্না মিলিত হইয়া হইলেন কিনা কুণ্ডলিনী- অর্থাৎ নামের শক্তি। কাজেই এই কুণ্ডলিনী চৈতন্যময়ী হইলেই জীব অনায়াসেই সেই নাম ব্রহ্মরূপী বিশ্বম্ভরের পুণ্য জ্যোতিদর্শনে সক্ষম হন। আর ক্ষেত্ৰ তােমার দেহ- বা সাধনা -| যেমন দেহ ব্যতিরেকে কৰ্ম্ম হয় না সেইপই সাধনা বিনা যিনি যে করে কর্মী হউন না কেন কাহারও কখন ইষ্ট লাভ হয় না। আর মালিক পরমাত্মা—যা মায়ামুক্ত তােমারি আত্মারাম প্রাণারামরূপী সেই পরম পুরুষ। সেই-সৎ-চিৎ- আনন্দময় পুরুষ মায়ামুক্ত, তুমি মায়ামুক্ত। ইহার কৃপায় তােমার এই মায়ার যুক্ততা মায়ার বন্ধন মােচন হইলে, তখন তাঁহাতে তােমাতে মিলন হইবে। তখন তুমি সেই—বা সেই-তুমি—বা সব তুমি বা তুমিও সব তাহাতেই হইবে। আমিও তাই বলিতেছিলাম যে এই তিনটী ধারা একই। এবং তিনিই এক-একেই তিন। ও এই ত্রিধারা ত্রিবেণী সঙ্গম তোমার বাহেগুরু হরিনাম। এই ত্রিবেণী সঙ্গমরপী হরিনামে স্নান কর দেখিবে বঁধুয়ারূপী মাধব আপনি আসিবেন। এই সঙ্গমে স্নান করিয়া মাধব দর্শন হইলে তাহার আর মায়া বন্ধন থাকেনা। মনের কথা শুনিয়া ব্যাকুল হইলাম। মনকে বলিলাম ওগো আমার পাগল মন—আমার যে কোন সম্বল নাই গাে-তুমি আমায় প্রাণভরে এই ত্রিবেণী ত্রিধারা-সঙ্গমে স্নান করাও আমার সকল জ্বালা জুড়। আমার শ্রীমাধব দর্শন হক। মন বলিল হবে হবে-নাম কর, নাম কর, অবিরত কেঁদে কেঁদে নাম কর। নাম গঙ্গাস্নানে কলুষ কালিমা কাটিলে শ্ৰীমাধব দর্শন আপনি হবে। তিনি আসবেন এই ভাব, আর অহরহ প্রাণের কান্নায় মিশাইয়া নাম করিতে থাক দেখ নিঠুর বঁধুয়া আসেন কি না?

ওঁ শ্ৰবাহহগুরু নাম সত্য
পাষাণ বঁধুয়া
বঁধুরে চিত্ত হরিয়ে পিরিতি করিয়ে
উদাস করিলি মােরে
তাের পিরিতি লাগিয়ে ব্যথিত হৃদয়ে
কাদি অকুল অন্তরে
উঁহু সরম হরিলি করম ঘুচালি
সকল হরিলি মাের
তাই তুহরি ধেয়ানে জীবন কাটাব
আঁখিতে সজল গাে
মাের মরমে বেদনা হিয়ায় যাতনা
জালায় এচিত ভাের
তুহু নিঠুর কপট চতুর বধুয়া
পাষাণ-পরাণ তাের
মােরে কাদায়ে কাঁদয়ে অনলে পুড়ায়ে
কালি করিলি এ দেহ
তাের দয়াল নামেতে কালিমা লেপিব
ও নাম লবেনা কেহ।

ওঁ শ্ৰবাহেগুরু নাম সত্য ০ স্বপনদেশে সর্বনাশ দুল-দুল-হল, ফুর-ফুর-ফুর, টুলটুল-টুল। গা যেন শিউরে-শিউরে, চমকে-চমকে, উঠছে। মাতালের মত এদিকের পা ওদিকে, আর ওদিকের পা এদিকে, টলে টলে পড়ছে। মনে হচ্ছে যেন কোন স্বপন দেশের স্বপন রাজত্বে এসে পড়েচি। এরা যেন সব স্বপন দেশের লোক। স্বপনে খায়, স্বপনে ঘুমায়, স্বপনে জাগে, স্বপনে হাসে, স্বপনে কাদে, স্বপনে গাণ গায়, স্বপনে ছন্দে, ছন্দে, তালে, তালে, নৃতা করে। এদের যেন সবই স্বপনের। স্বপনের মত এরাও যে সুক্ষশরীরী ইচ্ছা মাত্রই এই আছে আর এই নাই। স্বপনের মত এরাও যথেচ্ছা মনগামী যাতায়াত করে। কিন্তু যাহা হক এর কি সুন্দর ? কি নিল পবিত্র, এদের গায়ে কি সুন্দর ফুলের গন্ধ । চোকের চাহনি কি করুণ, কোমল, অথচ মৰ্ম্মপর্শী। অধরের হাসিটী কি মধুর সরলতাময়, কি মনমােহন; এদের মুরতি গুলি যেন গােলাপ, চাপা ও দুধ দিয়ে গায়ের রং, আর নবনী দিয়ে গঠন তৈরি হয়েছে। এক একটা যেন বালকের হাতের খেলিবার সজীব মােমের পুতুলি। এদের চুলগুলি পর্যন্ত যেন সােণার সই জালের মত। সেগুলি হাওয়ায় কপালের এদিক ওদিক আসিয়া পড়ায় এদের কতই না ব্যস্ত করেছে, সে শােভাও দেখিতে কত সুন্দর। এদের সবই সুন্দর স্বপ দেশের লােক হলে কি এতই সুন্দর হয় গা ? এদের দেখে আমার বুকটা যে ভরিয়া গেল, সকল বেদনা যাতনা, জুড়াইল। আর একটু সামনে যাইলাম। একটা স্বপন দেশের লােক আসিয়া আমায় দেখি অবাক্ হইয়া জিজ্ঞাসা করিল তুমি কে? আহারে মরে ৰাই--বালাই নিয়ে মরি। কথা গুলি কি মধুর, কি মিষ্টি, যেন সুধা ৪৮ ও শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য তার। ঢালা-কথার স্বরেই আমার মকল ক্লেশের শান্তি হইল। আমি বলিলাম আমি কে ? আমি আমি। স্বপন দেশের লােক বলিল আমি কে? আমাদের এদেশেও কেউ আমি আসে না—আমাদের এদেশে আমি এসেছ কেন? আমি বলিলাম তােমাদের দেশে তবে কি আসে। সে বলিল অামাদের দেশে আমি কেহ নাই সব তুমি। আমাদের যিনি তুমি—তিনিই আমাদের সব--আর আমরা লকলেই কাজেই আমাদের এদেশে কেহ কখনও আমি আসে না যদি কখন কেহ আসে তবে তাহাকেও এখানে এলেই তুমি হতে হয়। অতএব তুমি যখন এসেছ কখন তোমার সব আমাদের তাঁহাকে দিয়া আমি হারাইয়া তুমি হও । কি সৰ্ব্বনাশ? এ বলে কি গাে? পন দেশের লােক বাহিরে এতই সুন্দর ভিতরে কিনা এতই গা ? এমনি করে কি এর লােকের মাথা খায়। আমার এই এত সাধের আমি --আহা-হা--এই আমিত্ব কিনা বিসর্জন দিয়ে কোথাকার কোন অজানা এদের কে তুমি আছে তাকে কিনা সব দিয়া তুমি হতে হবে? না বাপরে--- তা পারব না আমার এ সাধের আমি হারাতে পারব না। তার চেয়ে স্বপন দেশে থাকিবার দরকার নাই দেশে মানুষ দেশে ফিরে যাই। মনে স্থির চিন্তা করিয়া আস্তে আস্তে পিছন ফিরিলাম। কি বিপদ—স্বপন দেশের লােক আসিয়া হাত ধরিল -- আবার সেই চিন্তহারী মধুর হাসি আবার সেই সুধাচালা স্বরে বলিল -ও কি বন্ধু ! বলি পালাচ্ছ কেন? মনে করিলাম না হয়েছে এইবার আমার দফাটা খেলে। এরা সব রাক্ষসী, যাদুকরী, মায়াবিনী, ডাকিনী, শেষে ডাইনির হাতে পড়িয়া অপঘাতে প্রাণটা খােয়ালাম গা। কি ঝকমারী করেই এই অজানা দেশে, পা দিয়াছিলাম। আমার এত ৩াধের সংসার এত সাধের সব আর এই সব চেয়ে সাপের অামার • আয় হায়, সব গেল, চোকে ওঁ শ্ৰবাহেরু নাম সত্য এ । হাউ হাউ করিয়া ডুকরিয়া কাঁদিয়া উঠিলাম। স্বপন দেশের লােকতু দেখিয়া অবা। আমার কান্না দেখিয়া সেও সশ চোকে করুণ কাতর ভাবে বলিল বন্ধু কঁদছ কেন? ভাবিলাম তাইত এরা ডাইনি নিশ্চয় না হলে আমার কান্না দেখে কাৰে কেন? এরা এমি করে লােককে ভুলাইয়া তাহার মাথা খায়। যাহা হক আমি এদের মায়ায় ভুলিব না, আর এখানে ভাল মানষিতে হবে না, একটু চোক রাঙ্গানির দরকার। চক্ষু রক্তবর্ণ করিয়া আমার হাত হইতে তাহার হাতখানি সজোরে ফেলিয়া দিয়া বলিলাম-- বন্ধু, বন্ধু, করচ কেন বল দেখি? কে তােমাদের বন্ধু। আমি পথের পথিক, না হয় পথ চলিতে চলিতে তােমাদের দেশে এসেই পড়েছি। তাই বলিয়া অমি তােমাদের বন্ধু হইয়া যাইলাম নাকি? বন্ধু কাকে বলে জান? বিপদে, সম্পদে, মনে, প্রাণে, যে সদা সঙ্গী তাকে বলে বন্ধু। আর আমি কিনা দু এক মিনিট একটু দাঁড়িয়ে কথা কয়েছি ওমি তােমাদের বন্ধু হইয়া যাইলাম। তাই বন্ধু, বন্ধু; সৰু-সৰু খবরদারু-বন্ধু বলে ডেকে আমায় আর বিরক্ত জ্বালাতন করনা। স্বপন দেশের লােক এবার সত্য সত্যই কাঁদিয়া ফেলিল। ব্যাথিত করুন ভাবে সজল চোকে কহিল বন্ধু-ভুল বুঝেছ। তুমি যাহা বলিলে তাহা তােমাদের দেশে। কিন্তু আমাদের এদেশের নিয়ম হচ্ছে, ন আমরা যাহার সহিত তিনবার মাত্র বাক্যালাপ করি সেই আমাদের বন্ধু হয়; এবং আমরা তাহার সুখ দুঃখের সমভাগী হয়ে থাকি। আর তােমার সহিত এতক্ষণ আলাপ করিলাম, আর তুমি কিনা বন্ধু হৰে না। কি আশ্চর্যের বিষয় ? যা তুমি রাগ করনা, যদি কিছু দোষ করে থাকি, মা কর। আর তুমি অনেকক্ষণ এসেছ তােমার কিছু সে করা হয় নাই। তুমি এই আসনে বস। আমরা তােমার সেবা করি। স্বপন দেশের লোেক ভাল মকমলের আসন পাতিয়াহাত ধরিয়া আমায় ওঁ শ্ৰীবাহেগুরু নাম সত্য আদর করিয়া বসাইল। সােনার গাড়তে শীতল জল আনিয়া আমার পা ধােয়াইয়া নিজের আঁচল দিয়া মুছাইয়া দিল। আমায় একখানি চাঁদের আলাের মত পরিস্কার ধবধবে কাপড় পরাইয়া, কপালে অগুরু কস্তুরি মিশ্রিত শ্বেত চন্দন তিলক অলকা, গলায় তুলসী চাপার মালার হার দিয়া যথাসম্ভব সাজাইল। সােনার থালায় নানাবিধ ফল মিষ্টান্ন, ও সােনার ঘটীতে কপূর-সুবাসিত শীতল জল রাখিয়া খাইবার জন্য অনুরােধ করিল। আমি আহারে বসিলে শ্বেত চামর লইয়া বাতাস করিয়া শীঘ্রই আমার সকল পথশ্রম ক্লান্তি-অবসাদ দূর করিয়া ফেলিল। অনেক পথ চলিয়া আসিয়াছিলাম, বড়ই ক্ষুধা ও তৃষ্ণা পাইয়াছিল, কাজে কাজেই আহার গুলি শীঘ্র শীঘই শেষ করিলাম। ফলগুলি এক একটী যেন অমৃতের ন্যায়। আমার আহার শেষ হইলে সে আচমনের জন্য আমার হাতে জল দিয়া পুনরায় নিজের আঁচলখানি দিয়া আমার হাত মুছাইয়া দিল। আমার খাওয়া আচমন শেষ হইলে দোনার ডিবায় মহাসুরভিময় তাম্বুল দিয়া তাহার সেবার সম্পূর্ণতা শেষ ও সেই সঙ্গে সঙ্গেই আমায়ও বিভােল করিল। স্বপন দেশের লােকের সেবার বড়ই সন্তোষ, প্রীত ও মুগ্ধ হইলাম। গদগদ কণ্ঠে তাহার হাতখানি ধরিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম বন্ধু । আমি তােমার উপর এত রাগ করিতেছিলাম, আর তুমি কিনা আমার উপর কিছুমাত্র রাগ না করে, আমার কান্না দেখে কঁদছিলে কেন? সে বলিল আমি যে তােমায় বড় ভালবাসি। সেই জইত তােমায় কঁদতে দেখে থাকতে না পেরে আমিও কাঁদছি। কি আশ্চর্য্য—? তার কথা শুনিয়া আশ্চৰ্য্য হইলাম, বলে কি? আমি এত বিরক্ত এত রাগারাগি করিলাম, আর ও কিনা সেই জন্যই আমায় এত ভালবেসে ফেললে। না তাহলে এ ঠিকই বন্ধু। বিহ্বল হইয়া তাহাকে আলিঙ্গন বদ্ধ করিয়া প্রীতমনে জিজ্ঞাসা করিলাম বন্ধু ! তােমার নাম কি ভাই? সে বলিল আমার নাম মায়া। আমি বলিলাম আর ইহারা মায়া বলিল ইহারা—আমার ওঁ শ্ৰবাহেগুরু নাম সত্য এই ষােড়শ সহস্র সঙ্গিনী সকলে আমারি এ এক মুক্তির এক এক অংশ। আমি নিজেই এই ঘােড়শ সহস্র মূর্তি ধারণ করিয়া এক এক ভাবে তার সেবা করিয়াও পরিতৃপ্ত হইতে পারি না। আমার ঘােড়শ সহস্র মূর্তির মধ্যে একশত আটজন আমার পার্শ্বসহচরী ও তন্মধ্যে আটজন আমার প্রাণপ্রিয় সঙ্গিনী ও আমারি সমতূল। আমি এই অষ্টমূর্তি ধারণে আমাদের প্রভূর অষ্টমূৰ্ত্তির সেবা করিয়া থাকি। আমি যাহাকে ভালাসি তাহার মধ্যেও এই ষােড়শ সহস্র ভাবের বিকাশ হইয়া সেও এই ষােড়শ সহস্র ভাবে স্বতঃস্ফুর্ত হয়। তাহার চিত্তসায়রে এই ষােড়শ সহস্র ভাবের ঢেউ উঠিতে থাকে। কিন্তু তাহা বলিয়াই এই বােড়শ সহস্র মূর্তিতে যে আমার মূর্তির শেষ হইল এমত নহে। আমি অনন্তা, আমার মূৰ্ত্তিরও শেষ নাই, আমার রূপেরও তুলনা নাই। আমার প্রভু যখন যে মূর্তি ধারণ করেন, আমিও তৎক্ষণাৎ সেই মূর্তি ধারণে তাহারি সেবা করিয়া থাকি এবং ত্রিমূৰ্ত্তি ধারণে সৰ্ব্বদা তাহার সেবা পূজা ও নাম করি । এক নিমিষ আমি তাহা হইতে বিভিন্ন নহি। যে আমায় জানে সে তাকে জানে, আবার যে তাকে জানে সে আমাকেও জানে, আমরা উভয়ে পৃথক নহি একই। আমি বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করিলাম, ভাই বন্ধু ? তুমি কিরূপে তাহার ত্রিমূর্তিতে ত্রিভাবে সেবা কর। মায়া বলিলেন আমার প্রথম মুর্তি,” হার সহিত মধুর ভাবে লীলা করিয়া তাহার লীলা সেবা করে। সে মূৰ্ত্তি সর্বদা তাহার সহিত আলিঙ্গিত। সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সহিত সমস্ত অঙ্গ প্রভ,জও মনে মনে, প্রাণে প্রাণে সব মিশিয়া মধুর ভাবে অবস্থিত। এ মূৰ্ত্তি আমার যত মূৰ্ত্তি আছে সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ও গূঢ় লীলা রহস্যে আবরিত। এবং বিনা সাধনে কাহারও আমার এ মুক্তি চিন্তা করিবার বা মহিমা বুঝিবার সাধ্য নাই। আমি নিজে যাহার প্রতি তাহার কর্মফলে সুপ্রসন্ন হই, সেই তখন আমার এ মুক্তির লীলাতত্ব কিছু কিছু ধারণা ওঁ শ্ৰীবাহেরু না সত্য করিতে পারে। বাকী সাধনা ব্যতিত কেহই ইহা জানিতে পারে না। আমার দ্বিতীয় মুৰ্ত্তি” তাহার সহিত সংযুক্ত হইয়া বিশ্বের সৃষ্টি, স্থিতি, পালন, সংহাররূপ অসাধ্য কৰ্ম্ম অনায়াসেই সাধন করে, এবং অনন্ত মূর্তি ধাণে অনন্তারূপে এবং পূর্ণমূৰ্তিতে একাই বিশ্বব্যাপীয়া সেই বিশ্বনাথের সেবা করে। আমার এ মূৰ্ত্তি তাহার সঙ্গের সঙ্গিনী, কৰ্ম্মের ভাীি ও সেবার দাসী। আমার তৃতীয় মুক্তি” তাহার নামলীলা গানে উন্মাদিনী। তার মধুর নামের মােহন শক্তিতে আত্মহূরা। আমার এ মূর্তি বড়ই কমনীয়া, বিকচ কোমল বালিকা মূর্তি। নিস্পাপ নির্মল ফুলের মত পবিত্র, ফুলের মতই সুন্দর, ফুলের মতই পুণ্য সুরভিময়। আমার এই বালিকা মূর্তি অবিরাম তাহার নাম নীলা গান করে, কখন বিস্মৃত হয় না। কখনও ক্লান্ত বা বিরক্ত হয় না। আমি এ মূর্তিতে তার নাম গানে নিজে আপন ভোলা পাগল হই, ও বিশ্ববাসীকে তাহারি নামে, প্রেমে, পাগল আমি নাম গান করিয়া নাম ব্ৰহ্মরূপী তাহারি সেবা করিয়া থাকি। এই আমার ত্রিভাবে তাঁহার সেবা করা। মায়ার কথা শুনিয়া বিস্মিত হইলাম। প্রাণটা কেমন যেন আনচান করিতে লাগিল। মনে হইল যেন কি হারাইলাম। কি যেন অামার খােয়া গেল। মনে করিলাম না হয়েছে, এরা সব মায়াবী, এম্নি করে ছলে, বলে, কৌশলে, আমার সব চুরি করিতেছে। বিরক্ত হইয়া বলিলাম না ভাই, বন্ধু-তােমরা ভাই আমার ঠিক বন্ধু নও, তোমরা ভাই সকলেই চোর। এই সব পাঁচ রকম বলে আমার সব চুরি করিতেছ। সেজন্য কিছু মনে কর। যদিও তােমরা আমার খুব সেবা করে; তবুও এ চোরা ব্যাপারে আমি ভাই বন্ধুত্ব রাখি । বন্ধুরা সকলেই হতবুদ্ধি হইয়া উহার ও তাহার প্রতি পরম্পরে সজল নয়নে কাতর ভাবে চাহিতে লাগিলেন। মায়া বলিল সে কি- করি। ।

৪ শ্ৰবাহেগুরু নাম সতা -মিত লই? আমরা চোর? আমরা তােমায় কি চুরি করিয়াছি ভাই? আমি বলিলাম তােমরা পূর্বেই ত যাহা বলেছিলে আমার মনে হইতেছে তােমরা যেন আমাকেই চুরি করিতেছ। কি সৰ্ব্বনাশ, বন্ধু করে, বন্ধুর সর্বনাশ করলে আর কি করবে? চুরি উহারা করে নাই বন্ধু চুরি আমিই করিয়াছি আমিই চোর। একি! স্তম্ভিত হইলাম। পুণ্য বিভূতিময় জ্যোতিঃতে ও পুষ্প সৌরভে দিক পরিপূর্ণ হইল। এ কি গাে-তুমি? আমার সেই তুমি? তুমি এখানে কেন? আমি তােমারি অন্বেষণে উদভ্রান্তের মত বাহির হইয়া এই বিজন দেশে বন্ধুদের মধ্যে আসিয়া পড়িয়াছি, তােমার জন্যই ত আমার এই দশা, এই পাগল অবস্থা। আর তুমি ? দেখি বেশ আনন্দেই রহিয়াছ, কই আমায় দেখিয়া তােমার প্রাণে কিছুমাত্র লাগিল না, পাষাণ প্রাণ কিনা—পাষাণে আঘাত লাগে না। তা সে যাহা হক তুমিই চোর? আর তুমি শুধু চোর নহ চোর চুড়ামণি। তুমি এমনি সিদ দিয়া চুরি কর যে পুলিসের বাবাও সন্ধান পায় না বা চোর ধরিতে পারে না। যাক তুমিত চোর বুঝিলাম ; কিন্তু তুমি আজ আমার বন্ধুদের স্বপক্ষে ওকালতি করিতে এসেছ কেন? আমাদের বন্ধুতে বন্ধুতে ঝগড়া হক, বা মিলন হক, সে আমাদের হবে, তাতে তােমার কি? চোর বলিল বন্ধু, আমি যখন নিজেকে চোর বলিয়া স্বীকার করিতেছি তখন আর বিবাদে দরকার কি? আমায় কি শান্তি তােমার দিতে ইচ্ছা হও দাও আমি তাহাই আদরে লইব। শান্তি-তােমায় আমি শাস্তি দিব। আমার কি তুমি কিছু আলাদা রেখেছ যে তাই নিয়ে তােমায় শান্তি দিব। এইবার আমায় কৃপা কর। কাঙ্গাল, পাগল, আমি! মহান্ রাজরাজেশ্বর তুমি-আমি করজোড়ে তােমার নিকট করুণা ভিক্ষা চাহিতেছি। দানী তুমি, দুখিনী বালিকাকে ভিক্ষা দান কর। আর তােমায় শান্তি ।

ওঁ শ্ৰবাহেগুরু নাম সত্য দিব। তােমার শাস্তি তােমার ঐ চরণ কমল সদাই হৃদে ধরিয়া রাখিব। এক মূহুৰ্ত্ত তুমি আমাকে তােমার চরণ ছাড়া করিতে পারিবে না। কেমন রাজি আছ কি? এই সময় বন্ধু মায়াদেবী বলিলেন ভাই বন্ধু ! শাস্তি ঠিকই হইয়াছে। এক মুহূর্তও ঐ চরণ ছেড়না। আমিও আমার সঙ্গিনীগণ সদাই ঐ চরণ প্রয়াসী আমি তােমায় বড় ভালবাসি, তাই বন্ধুর হিতার্থে বলিলাম, সব ভুলিও কিন্তু ঐ চরণ বেন কখনও ভুলিও না। নবীন আগঙক সজল নয়নে আমার হাতখানি ধরিলেন। আমার সমস্ত দেহ, মন, প্রাণ, ইলিয়, বােধশক্তি চৈতন্য যেখানে যাহা ছিল সমস্তই লােপ পাইল। থর থর করিয়া কঁপিয়া সেই বিশ্ববাঞ্ছিত রাঙ্গাচরণ কমলে পড়িয়া যাইলাম । আমার সব গেল। আমার সর্বস্ব নাশ হইল, আমার সর্বস্ব আমাকে এইবার হারাইলাম। মায়াদেবী আমার মাথাটী কোলে করিয়া বসিলেন। সমস্ত বন্ধুগণ আমাদের ঘিরিয়া দাঁড়াইয়া তাহাদের সুধা- মাখা কঠে, প্রাণ গলান মন মাতান, স্বরে বলিলেন ও শ্ৰীবাহে গুরু বােল, ওঁ শ্রীহরি হরি বােল অন্তরীক্ষ হইতে পুষ্পবৃষ্টি হইতে লাগিল। হরি নামে শঙ্খ, হরিনামে মঙ্গল বাদ্য বাজিতে লাগিল। মনে হইল যেন কত অসংখ্য, অগণিত, জীব, কত নানা দেহের দেহী, সব এই স্থানে আসিয়া উপনীত হইলেন। সকলের হাতেই মাল্য চন্দন, সকলের মুখেই হরিধ্বনি। বিশ্বময় কি যেন উৎসৰ কি যেন আনন্দের সাড়া পড়িল। দেব পবনও সেই পুণ্য- সুরভি ও আনন্দ মাখা মধুর বাহে গুরু নাম ও হরিনাম দিগ- দিগন্তে বিলাইলেন। হরিনামে সারাটা জগৎ ভরিয়া গেল। বিশ্ব ব্যাপিয়া গম্ভীর রবে শব্দ উঠিল ওঁ শ্রীবাহে গুরু বােল। ওঁ শ্রীহরি হরি বােল। কি মধুর, কি চিত্তহারী, কি সুধা চলা, আমার এই সর্বহারীবাহেরু নাম-হরি নাম রে-এ নামে ওঁ বাহেগুরু নাম সত্য যে আমার সকল পাপ, তাপ, জুড়াইয়া যায়! ওরে,-জগতে সকলের তুলনা আছে, কিন্তু আমার—বাহেগুরু নাম হরিনামের যে আর তুলনা নাই। এ নাম শুনিলেই যে আমার চোকে আপনি জল আসে। হৰি নামে আমার চৈতন্যশক্তি ফিরিয়া আসিল। চাহিয়া দেখি চোর সজল নয়নে কত না কাতর, ব্যাথিত দৃষ্টিতে, আমারি প্রতি চাহিয়া দাঁড়াইয়া রহিয়াছেন। হরিনামের সুরের রেশ তখন বেশ আমার চারিপাশে যেন ঘুরিতেছে। প্রিয়তম- চরণে স্থির দৃষ্টি রাখিয়া সকল সুরে সুর মিলাইয়া প্রাণ ভরিয়া বলিলাম বাহেগুরু বােল, হরি হরি বােল। গেলরে—সব গে—আমি গেল,-মায়াদেবী গেল, বন্ধুগণ গেল, বিশ্ব বাসীগণ গেল, সব গেল। রহিল শুধু সেই চোর। সেই চোরে সব মিশিল, চোরও সবেতে মিশিলেন। আবার দেখিতে দেখিতে চোরের আকৃতি, গেল। রহিল শুধু জ্বলন্ত অগ্নি নম রক্তবর্ণ ওঁকার এবং তাহারি অভ্যন্তরে পূর্ণচন্দ্রমা ন্যায় দীপ্তিশালী উজ্জল শুক্লবর্ণ আমার পাগল করা

ও প্রবাহে নাৰ সত্য
হরিময় জগত দেখি
(আমি) হরিময় জগত দেখি
প্রাতে প্রকাশে তপ্ত কাঞ্চন তপ
তাহে হেরি আমার হবি বরন
জানুরে নিরখি নলিনী হাসিলে
কমলে হেরি শ্রীহরি কমল আঁখি
হরিময় জগত দেখি।
অশােকের হেরি হিঙ্গুল বরণ
মনে পড়ে শ্রীহরি রাতুল চরণ
হে স্বর্ণ চাপার রং যে মিশেছে
তাই পারে আমি এত ভালবাসি
হরিময় জগত দেখি
আকাশে ইন্দ্রধনু বিচিত্র শােভন
তাহে হেরি হরি কিরিট ভূষণ
জলদের বুকে চপলার চমকে
পণে জাগে হ িমধুর হাসি
হরিম কত দেরি

ও প্রবাহেগুরু নাম সত্য
বারিধির বিশাল মহান আকৃতি
তাহে হেরি হরি প্রশান্ত মুরতি
বারিধির বারির সীমাও যে আছে
অসী, বারি হরি করুণা রাশি
হরিময় জগত দেখি।
বিপিনে বিহগের কাকলী কুজন
তাহে শুনি হরি নূপুর ভাষন
নুপুরের বােল হরি, হরি ধনি
(আমার) মরমে পরশে আঁখি নীরে ভাসি
হরিময় জগত দেখি
অন্তরে-বাহিরে সাকারে-নিরাকারে
সকলে হেরি হরি রূপের মাধুরি
ওঁ শ্রীহরি পাশরি নিমিষ থাকি না
তাই হৃদ মাঝারে সতত রাখি
হরিময় জগত দেখি।

ওঁ শ্ৰবাহেগুরু নাম সত্য ধূপ মুহূর্তে মুহূর্তে আপনা বিলাইয়া পরপ্রীতিতে পরসেবাতে আত্মদান করিয়া কে গো তুমি? শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিরব নিস্তদ্ধ ভাবে, কে তুমি-মহা মহান নির্বাক শ্রেষ্ঠ মৌনযােগী ? আপনাকে অনলে পুড়াইয়া শেষ নিশ্বাসটী পৰ্যন্ত পরতৃপ্তিতে দান করিতেছ? তােমার এ ত্যাগ তােমার এ মহত্ত্ব কেবল ঐ তােমাতেই দেখিতে পাই। এমন করিয়া মৌনব্রতে শেষ সময় পর্যন্ত স্বকীয় সৌরভে দশদিক আমােদিত করিয়া দশদিকবাসীকে পুণ্যভাবের ভাবুক করাইয়া অনলে আত্মাহুতি কেবল ঐ একমাত্র ধূপ তুমিই দাও। তুমি কাহার প্রতিক্ষার অপেক্ষা কর না। কোন স্বার্থ কামনা তােমার নাই, কাহার ভয়ে ওীত হইয়া স্বকীয় কর্তব্য কৰ্ম্ম হইতে বিরত হও না। হে কৰ্ম্মযােগী! তােমার সাধনাই হইতেছে জগতকে ত্যাগী, সত্যাশ্রয়ী, নিষ্কাম ও নিঃস্বার্থবান হইতে শিক্ষাদান। হে মহাসাধক! তুমি জান যে সৰ্বরূপী সর্বেশ্বরের সেবা কিরূপভাবে করিতে হয়! তুমি জান, কিরূপে আত্মাভিমান দম্ভ মদগৰ্ব সব অনলে পুড়াইয়া আত্মবিসর্জন দিতে হয়। তুমি নিজে মহাসৌরভময়, মহাপুণ্যবান্, কিন্তু কত দীনাতিদীন ভাবে আত্ম উৎসর্গ করিতেছ। কোনও অহং-ভমঃ আসিবার নিমিত্তই, তুমি কঠোর মৌনব্রত লইয়া কৰ্তব্য কৰ্ম্ম অচল, অটল ও দৃঢ়ভাবে সম্পন্ন কর। হে নীরব কর্মী! ইহা তােমায় সুমহান কৰ্মেই প্রকাশ। হে মহাতাপস। তুমি স্বয়ং অকাতরে অযাচিত ভাবে আপনাকে কর্ম’ অনলে পুড়াইয়া সেই বিশ্বরূপ বিশ্বনাথ ও প্রবাহেগুরু শ্রীহরির তৃপ্তিসাধনরূপ মহা তপস্যা কর। • নিমিত্তই হে পবিত্রবান! তুমি সৰ্ব্বলােকের নিকট এত সম্মানীয় এত ঐতিপ্রদ। -হে মঙ্গলময় ধূপ ! তুমি যে কোন মাঙ্গলীক কর্মেই থাক তাহা @বাহেগুরু নাম সত্য বড়ই আনন্দ পুণ্যময় হয়। এবং তুমি না থাকিলে কোন কৰ্ম্মই যেন পাণহীন দেহ-ও শিবহীন যজ্ঞের ন্যায় সুসম্পন্ন হয় না। হে মহাবীর। আমি তােমার বীরত্বে মুগ্ধ হইয়া তােমার সহিত সখ্য স্থাপন করিতেছি ; তুমি আমার এই সখ্যতা, বীরের কর্তব্য বলিয়া গ্রহণ কর। এবং প্রতিদান স্বরূপ আমায় তােমার মত নিরব নিস্তদ্ধভাবে আত্মবিসর্জন ও স্বার্থত্যাগ করিতে শিক্ষাদান কর। হে আদর্শ শ্রেষ্ঠ ! তুমি এত মহাসংযমী বলিয়াই ত তােমায় এত ভক্তি করি, ভালবাসি। হে বন্ধো। এবার আবার যখন তােমার উপাদান হইবে, তখন আমিও তােমার সহিত মিশ্রিত হইয়া তােমার সৌরভ আর পুণ্যময় ও বৃদ্ধি করিয়া তােমার সহিত তােমারি মত মহাব্ৰত ধারণ করিয়া শেষ নিশ্বাসটা পৰ্য্যন্ত কর্ম অনলে আত্মদান করিয়া সৰ্বজীব সেবারূপ সর্বেশ্বরের আর্চনায় নিযুক্ত থাকিব। হে মহা উদার! হে মহাপ্রাণ! হে বন্ধু! আমার প্রণাম ও হৃদ্যতা গ্রহণ কর কিন্তু দেখিও আমায় যেন ভুলিও না।

ও প্রবাহেরুনাম সত্য সন্ধান কিসের তরে ঘুরিস এত ওরে আমার মন কার বা তুমি ? কেবা তােমার ? কিসের প্রয়োজন? কিসের এত হাঁকাহাঁকি-কিসের এতই লাফ- দেখার মত দেখরে চেয়ে দুনিয়াটাই ফাক। কিসের এত ছুটাছুটি—কিসের এতই কাজ- কিসের তরে অধীর হয়ে পরছ নানান সাজ? কিসের লাগিরে অন্ধ হয়ে—ধৰ্ম্মে আঘাত করি-- ভাই হয়ে ভাইয়ের বুকে—দাও বিষম ছুরি। অর্থ। তােমার এতই বড়?-এই জেনেছ সার। তাই-পরামার্থ ভুলে গিয়ে করছ হাহাকার। ৰে আনন্দ পাবার লাগিরে-ঘুরছ ত্রিভুবন। হৃদয় মাঝে দেখরে সেই সৎ চিদানন্দ-ধন। পাগলী বলে-শশা আমার ক্ষেপা পাগল মন- অহঙ্কারের হননা ঠাকুর-ভক্তের জীবন। আমি ও আমারে--তারে সুপিয়ে হও যুদি তৰি আপনি আসিয়ে দেবেন ধরা-বাহেরু হরি।

ও প্রবাহেরুনাম সত্য তুমি আমায় কত ভালবাস ; দেয়; প্রাণের স্পর্শ প্রাণের নীরব ভাষা প্রাণের বােধগম্য। প্রাণের পুলক প্রাণে প্রাণেই হয়, ইহা বাহিরে প্রকাশ করা কিরূপে সম্ভব। আমার প্রাণের দেবতা! আমি কিরূপে তােমার ভালবাসা বৰ্ণন করিব; ইহা যে আমার বর্ণনাতীত। আমার সে ভাব নাই সে ভাষাও আমি জানি না। ইহার কল্পনাতেও আমার এ পােড়া চোখে আপনি জল আসে। তুমি যে আমার সারাটী তনুতেই বেষ্ঠিত, তাহা আমার প্রাণ বুঝিতে পারে; তােমার স্পর্শ আমার প্রতি অঙ্গেই পূলক শিহরণ আনিয়া সর্বদেহে রােমাঞ্চ আঁখিধারায় বক্ষ প্লাবিত, পুলকাননে বাকরুদ্ধ হত্ব। আমি যখন অনাথ, অক্ষম, দুৰ্বল, শিশু ছিলাম, তখন তুমি যদি জননীর হৃদয়ে তােমার স্নেহ কণিকা দান না করিতে—তবে কিরূপে আমার জীবন রক্ষা হইত? তােমারি স্নেহধারা মাতৃ হৃদয়ে শতধারায় বহিয়া আমার আজ পর্যন্ত প্লাবিত করিতেছে। প্রিয়তম-এমে তােমারি বাৎসল্যরূপী ভালবাসা। তুমিই বিবেকরূপে শিক্ষা দিয়াছ মায়াময় জগৎ মিথ্যা-তুমিই একমাত্র সত্য অব্যয় অবিনাশী; তত্ৰাচ তুৰি সৰ্বজীবে সৰ্ববস্তুতে পূর্ণ ভাবেই বিরাজমান। তুমি ক্ষুধাতুরকে নিজের মুখের অন্ন দিবার জন্য মনে মনে বলিয়া দিয়াছি। তুমিই ভয়ার্তকে অভয় দিতে বিপদগ্রস্থকে বিপদ হতে রক্ষা করিবার জন্য তােমারি শরণাগত হইয়া কানিতে শিখাইয়াছ। তুমি আমায় সংসার সমুস্ত্রের শত তরঙ্গ শত তুফান-মায়া প্রান্তরের শত ঝটিকা শত মরিচিকা হতে রক্ষা করিয়াছ। মায়া নানীলে ভূমিকা আরম্ভ করা হইতে আজ পর্যন্ত তুমি জননী, সখা, গুরু, এবং শিক্ষকের ন্যায় আমায় সর্বদা ও শ্রীবাহেগুরুনাম সত্য উৎসাহিত-পরিচালিত-প্রবােধিত-শাসিত ও রক্ষা করিয়াছ। আমি যখনি যে কোনও বিপদে পড়িয়া তােমায় স্মরণ করিয়াছি তুমি তৎক্ষণাৎ অন্তরে সাড়া দিয়া আমায় অভয় দিয়াছ। ওগো আমার অন্তরের অন্তর্যামী অন্তরের দেবতা তােমার সহিত তান্তরে কথা কহিয়া কত সুখ, কত শান্তি, কত তৃপ্তি যিনি তােব সহিত অন্তরে অন্তরে-কথা কহিতে জানেন তিনিই এ মর্ম উপলব্ধি করিতে পারেন। আমি যখনি ধংসের পথে ছুটিয়াছি, তুমি তখনি ভীষণ ভ্রুকুটি শাসনে শাসিত দ্বারা; আমায় নিবারণ করেছ। আমি যতবারই তােমার কোন নিবারণ না শুনিয়া পাগলের মত যথেচ্ছা ছুটেছি ; ; তুমি ততবারই কিছুমাত বিরক্ত না হয়ে আমার হাত ধরে কতনা আদরে নিজের কাছে টানিয়া এনেছ। আমি যখন যে কোন দুঃখে অভিভূত হয়ে কঁদি ; তখন তুমিও আমার দুঃখে দুঃখিত হইয়া দিতে থাক; আমার আঁখিধারার সহিত তােমারও নেত্রধারা মুক্তাফল শিশির বিন্দুর ন্যায় অবিরত ঝরিতে থাকে। তুমি তখন দয়ার্ড বিগলিত চিত্তে—কতই স্নেহ যত্নে আমার অশ্রজল-করকমল দ্বারা মােচন কর। আমার হৃদয়ে কত শান্তি প্রাণে কত সান্ত্বনা দাও। আমি তখন তােমারি করুণায় আমার সকল দুঃখ বেদনা ভুলে যাই। রােগ শষ্যায় পডিয়া থাকিলে মনে হয় তুমি যেন আমার মাথার শিয়রে বসিয়া আমার সকল বেদনা যাতনা নিজ করুণ দৃষ্টিতে হরণ করিতেছ। আমার সারা অঙ্গে তােমারি অভয় হস্ত স্পর্শ দিয়া আমার রােগ যন্ত্রণা দূর করিতেছ। আমার প্রাণ সখা! কেহত তােমার মত আমায় এত ভালবাসে না। হাসিমুখে আমার শত অপরাধ শত ক্ৰটী সহ করে না। সংসারের সকলের সঙ্গেই ত দেখি দেনা পাওনার সম্বন্ধ। সামান্য অপরাধে সামান্য ভূলেও দেখি সকলেই বিরক্ত ও রাগান্বিত হয়। কেহত কই তােমার মত আমার শয়নে-স্বপনে-জাগরণে—বিচরণে- মনে-প্রাণে সদা সঙ্গে সঙ্গে থাকে না। আমি এমনি করিয়া বতৰা ।

ওঁ শ্ৰীবাহেগুরুনাম সত্য আসিলাম, তুমি ততবারই আমার সঙ্গে সঙ্গেই আসিয়াছ। আবার আমি যতবার যাইলাম তুমিও ততবারই সঙ্গে সঙ্গেই গিয়াছ কই একবারও আমার উপর রাগ কিম্বা বিরক্তি প্রকাশে আমায় ত্যাগ করিয়া সঙ্গ ছাড়া হও নাই। ওগাে আমার সঙ্গের চিরসঙ্গী—আমার সাথের-চিরসাথী। কে আমায় এমন করিয়া তােমার মত ভালবাসিতে পারে? তােমার ভালবাসা অফুরন্ত ইহা ফুরাইবার নয় ; তােমার ভালবাসা নিষ্কামও নিৰ্ম্মল ফুলের মত পবিত্র অথচ প্রাণঢালা। তােমার ভালবাসায় জীব পুণ্য পবিত্র হৃদয় হয় এবং তাহার প্রাণে ত্রিদিব দুর্লভ প্রেমের সঞ্চারে কাম, কামনা ত্যাগ হইয়া পরম আনন্দ পরম শান্তি লাভ হয়। সর্ব বস্তু বা সর্ব বিষয়ের তুলনা আছে কিন্তু হে আমার অতুলনীয় দেবতা। তােমার ভালবাসার তুলনা নাই ইহা অমর জাতেও অতুলনীয় ~। ইহা প্রাণে প্রাণে হয়, তােমার ভালবাসার পুলক--আনন্দ-কেবল তুমি জান আর যে তােমায় ভালবাসে সেই জানে। তােমার ভালবাসা—তােমার কৃপা ব্যাতিরেকে বিনা সাধনে কাহারও লাভ হয় না। আমার আরাধ্য দেবতা। আমার আরাধ্য দেবতা! আমি তাই বলিতেছিলাম গো! আমি কেমন করিয়া বলিব যে-তুমি আমায় কত ভালবাস।

ও প্রবাহেরুনা সত্য
গোপন দেখা
রূপ লাগি তাের আঁখি ঝুরে বঁধু-
গুণেতে পরাণ গে,
হেরিলে সে রূপ পিয়াস মিটেনা
ব্যাকুল চিত চকোর
ঐ রূপ হেরিলে আপনা পারে
তুলনা পাগল ভােলা
( তাের ) রূপের লাগিয়ে পাগল হইয়ে
পরেছে হাড়ের মালা
হৃদয়ে ধরিয়ে রাখিতে তঁহারে
সদাই হয় বাসনা
যুগ ও যুগান্তে জনমে মে
দাসী হব এ কামনা
হার করিয়া তােরে বক্ষে ধরিব
চন্দন রূপেতে ভাবে
( তােরে ) তাম্বুল করিয়া অধরে রাখিব
কাজল-চোকেরি-কোলে।
সিন্দুর করিয়া তু হারে বঁধুয়া
রাখিব মাের মাথা
( তােরে) ভূষণ করিয়া পরিব অঙ্গেতে
যদি গঙ্গ জ্বালা যায়

ওঁ শ্ৰীবাহেগুরু নাম সত্য
বিনাইয়া মাথার চিকনি বেণী
তু হারে করিব ফুল
( আমার সারাটী তনুতে পরশ তুহার—
মিশে সুধা-সমতুল
- বঁধুরে) কেহ না জানিবে কেহ না দেখিবে
ততরে-রাখি হিয়া-তলে
সমাহিত-চিত্তে গােপনে দেখিব
অন্তরের-অন্তরালে

ও শ্রীবাহে গুরু নাম সত্য ওকি ?--ও থামলে কেন ঠাকুর ?—থামলে চলবে না-এ যে সাধন-সমরাঙ্গন---এখানে আমার কি প্রয়ােজন আছে ? যুদ্ধ কর, যুদ্ধ কব, মহান রাজরাজেশ্বর তুমি-অনেক অস্ত্র-শস্ত্র সৈন্য-সামন্ত তােমার আছে, মহা যােদ্ধা তুমি যুদ্ধের কায়দাও জান ভাল, সেইজন্যইত, সসৈন্যে, সবাহনে, সঅস্ত্রে, সপারিষদে, যুদ্ধ করিতে এসেছ। বিশ্বরাজ তুমি, বিশ্বের সমস্ত শক্তি রাজভক্তি দেখাবার জন্য দশ দিপালরূপে দশমহান শক্তিধারী হয়ে এসেছ। আর স্তাবক, বন্দীগণ, চারণ, পদাতি, হাতী, ঘােড়া, লােক, লস্কর, রথ, বাদ্য, বাজনা, বাপরে বাপ-গুণে আর • দেখে শেষ করতে পারি না; সব সঙ্গে এসেছে। তা ঠাকুর ? এত ঘটা ক. 'এসেছ কেন? অনাথ দীন দুঃখি বধ করিতে অনাথনাথ-দীনবন্ধুর এত আড়ম্ব—এত জাকজমক কেন? কাঙ্গালকে নিধন করতে কাঙ্গালের ঠাকুরের এত সাজসজ্জা কেন? তুমি একা এলে ত বেশ হত। —তুমি কত বড় রাজা, তাহাই দেখাইবার জন্যই কি এই এত-আয়ােজন প্র : তা বেশ ত। তবে থামলে কেন ? একদিকে বিশ্বের সমস্ত শক্তি তােমার চরণে উপনীত হইয়া তােমার, আর অন্যদিকে কাঙ্গালের সমস্ত শক্তি কাঙ্গালের সর্বস্ব হরিনাম আমার। তবে হেমনা যুদ্ধ কর, যুদ্ধ কর। উঃ একি? কি ও? কি ভীষণ শব্দ হল, সহসা—একি ? এ কি জ্যোতি--এ জ্যোতিতে যে চোখে ধাধা লেগে গেল, মনে হচ্ছে যেন ও শ্রীবাহেরু নাম সত্য শত সূৰ্য্যের একসঙ্গে উদয়ে সমস্ত জগৎ লােহিতাভ হয়ে উঠেছে। কি ও? ও কি ? ভীষণ কুটীধারী—মহাতেজোময় অর্ধসিংহ অর্ধ মনুষ্যরূপী জ্যোতীৰ্ম্ময় মূর্তি। কি ভীষণ দুর্নিরিক্ষ বদন মণ্ডল, মনে হচ্ছে যেন অনন্ত কোটী ব্রহ্মাণ্ড ঐ বদন-গহ্বরে। কি চন্দ্ৰ দূৰ্য্য অগ্নিময় ত্রিনেত্র, মস্তকে মহানাগ বাসুকির জলন্ত ফনাম কি ভীষণ জটাজাল, বক্ষে জ্বলন্ত পাবক সম দীপ্তিশালী কি তেজোময় ব্ৰহ্মণ্যতেজ, ব্ৰহ্মণ্যশক্তি-- উপবীত; কি শক্তিময় সহস্রবাহ, সহস্র বাহুতে সহস্র অস্ত্ররূপে সহস্র শক্তির বিকাশ। নররূপী কমলচরণে তুলসী চন্দনের কি মহাসৌরভ, চম্পকদামের কি মহাবেষ্টন। কি উজ্জল শুক্লবর্ণ, কি সুন্দর স্বর্ণভিসিদ্ধ পীতাম্বরধারী হইয়া কঠোরেও কি কোমল মধুব ভাব। সমস্ত ত্রিরন্ধে ভিন্ন ভিন্ন মূর্তিতে ভিন্ন ভিন্ন তাে ও জগৎ বিরাজশান হইয়া কি আশ্চর্য্য , দৃশ্য। কিন্তু কি ভীষণ সিংহনাদ ; সর্বোপরি প্রলয় কালীন মহাসমুদ্রের ন্যায় কি ভীষণ গর্জন-উঃ উঃ কি শব্দ ; কি ভীষণ অট্টহাস্য, গেল, গেল, সব গেল, ব্রহ্মাণ্ড কটাহ বুঝিবা বিদির্ণ হল। এক সঙ্গে ত পায়, শত উল্কাপাত হল। কালাগ্নির মত মহাতেজখালী মহারবির আবির্ভাবে গগনের রবি ম্লান হইয়া ভয়ে কঁপিতে লাগিল। সমস্ত গ্রহচিয় অন্তরীক্ষ হতে ছিড়িয়া পড়িবার উপক্রম হইল। পশুপক্ষী তরু লতাদি হইতে দেবতা মনুষ্য মুনি ঋষি পৰ্যন্ত যাবতীয় চরাচর বার্সীগণ ত্রিলােক রক্ষার জন্য মহাভীত ও এ্যস্ত হইয়া উঠিলো। বিশ্বশুরের আবির্ভাবে ত্রিলোেক টলমল করিতে লাগিল মহাজ্যোতীতে ১৭ জলে পুড়ে বা গেল—গেলরে সব গেল, - চতুর্দিক হইতে রব উঠিনা স্তব কর, স্তব কর। সকলেই মহাভীত হইয়া কাতর চিত্তে যুক্ত করে স্তব করিতেছেন ও আমায় স্তব করিতে বলিতেছেন। স্তব করিব? স্তব আমি জানি না। আমার স্তব তমার সবই বে ঐ হরিনাম। ঐ হরিনাম ছাড়া আমার ত আর কিছু নাই। কিন্তু তােমরা ভয় করনা ওঁ শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য ভয় করনা, আজ আমি এ সাধন-সমরে তােমাদের সকলের চরণ রেণু শিরে ধারণ করিয়া শুধু ঐ হরিনামের বলেই শ্রীহরির সমস্ত শক্তি সমস্ত তেজ হরণ করিব। তােমরা ভয় করনা স্থির হও। উঃ জ্বলন্ত অগ্নিসম কি ভীষণ তেজ আমার উপর পতিত হয়ে, সমস্ত অঙ্গ ঝিম ঝিম করে শরীর অবশ হয়ে আসছে সমস্ত ইন্দ্রিয় শিথিল হয়ে মােহ মূচ্ছ। উপস্থিত হচ্ছে। কে গাে? কে তুমি? আমার সমস্ত শক্তি হরণ করে নিচ্ছ?- কে তুমি? এস, এস, সামনে এস অত দূরে কেন ? কাছে এস, সমস্ত বিশ্ব সন্তাপিত করে আজ এই নৃসিংহ মূর্তিতে আবির্ভূত হয়েছ কেন প্রভু? আমায় সংহার করিবার জন্য কি ? যদি তাহাই হয় তবে এই বুক পাতিয়া দিতেছি ; তােমার সহস্র হস্তের যে শক্তি দিয়া আমায় বধ করিতে ইচ্ছা হয় তাহাই কর। তোমার চরণে চিত্ত স্থির করিয়া আমার যদি তােমার হাতে এ জীবন যায় সেও খুব ভালই হবে। আমার উত্তম গতি কি না তােমাতেই লয় হইবে, কারণ তুমি যে-ইতারিগতি দায়ক। কিন্তু তােমার যে অনাথনাথ নামে কলঙ্ক হবে। না--তা হবে -প্রাণ থাকিতে তােমর নামে কলঙ্ক কিছুতেই হতে দিব না। আজ আমি এ-সাধন সমরে তােমার নামের বলেই তােমার সমস্ত শক্তি সমস্ত তেজ হরণ করিব, নাম ব্রহ্মরূপী তুমি-তােমার নামের শক্তিতেই-আজ তােমায় আমি পরাজিত করিব। বিশ্ববাসী দেখিবে হরিবড়–কি হরিনাম--বড়। পাক-থাক্‌ যােগীমুনির, সাধনার ধন, ভােলানাপের প্রাণরষণ হরিপাক ঐ ভাবেই থাক্ ; আমি একবার ও শ্রবাহেগুরু নাম সত্য ভাল করে ঐ কোমলে কঠোর মূর্তিখানি প্রাণভরে দর্শন করি। কি ভয় দেখাও-ঠাকুর? তােমার নাম যদি শিরে ধার, তােমার চরণ যদি হৃদে রাখি, তােমার কোনও মূৰ্ত্তিকেই ভয় করিনা,-ঠাকুর, আমি প্রস্তুহকি দিয়া আমায় নিধন করিবে কর। আবারএকি-? এ আবার কি ? কোথায় গেল আমার কোমলে কঠোর ঠাকুর রে। এ কি মধুর ধ্বনি ? কি মিষ্ট কি মধুমাখা কি সুধা ঢালা ধ্বনিরে—প্রাণ যে ভরে গেল এ মােহন তান-এ পাগল করা সুর লহরী—যেন নিকট হতেই আসচে ; ঐ যে সুরের মর্মস্পর্শী অন্তর্ভেদী তান কাছেই আসচে-ঐ যে কে গায়বহেগুরু রাম- বাহেগুরু রাম- রাম রাম হরে হরে। কে গায়? এমন সুধামাখা কণ্ঠে প্রাণ সুশীতল করে এ নাম কে গাইল রে ? কে গেয়ে চলে গেল ? কই কেউ নাই, তবে একি স্বপ্ন? না, না, স্বপ্ন কেন হবে-এ যে জ্বলন্ত সত্য প্রমাণ স্বরূপ তরুলতা সকলও যে এ নামের ধ্বনিতে নতশির হয়ে শিশির বিন্দুরূপী অশ্রুবর্ষণ করছে। তবে কই সে কোথা গেল—আমিত কই দেখতে পাচ্ছি না। ওগাে-কে-গাে? কে তুমি আমায় পাগল করে চলে গেলে-তােমার গান যে আমার মরম ভেদ করে হৃদয়ের সপ্তম পর্দায় আঘাতে সুরের ঝঙ্কার তুলেছে, এ যে আপনি বাজছে, কিছুতেই থামছে না। ঐ যে আবার—আবার সেই মােহন সুরে আবার ঐ গান বাহে গুরু রাম, বাহে গুরু রাম- ওগাে এস-এস-আমার পাগল করা রাম-রূপী নাম—নামরূপী রাম এসকাছে এস, আমায় পাগল করে আর চলে যেও না।

৭০ ওঁ শ্ৰবাহেগুরু নাম সত্য ঐ যে আসছে,অন্তরে বাহিরে-নামের মূর্তিতেই আসছে, কিন্তু এবার ত একার কণ্ঠে নাম নয়, এ যে অসংখ্য কণ্ঠের সুর আসছে। অসংখ্য কণ্ঠে কণ্ঠ মিলাইয়া সমস্বরে, জগৎ মাতাইয়া, নানা বাদ্যযন্ত্রের আলাপে মােহন রাগিণীতে আলাপ রাখিয়া বিড়ােল আত্মহারা—পাগল পারা-সমুদ্র বন্ধুদের মত অগণিত ভক্তসঙ্গে যে নাচিতে নাচিতে ঢলিয়া চলিয়া অঙ্গ এলাইয়া, মােহন হরিনাম বিলাইয়া ঐ যে কিশাের রূপে মােহন তনু-কিশাের মােন সে আমার আসচে। ঐ যে নিকট হতে নিকটতর হয়ে আসচে ; আমার দেহযন্ত্রী নিচল, নিথর, শীতল, অবশ হয়ে গেল যে। ওগো-এস-এস * কোথা গেল তোমার ভীষণ নৃসিংহ মূৰ্ত্তি ; কোথা গেল তােমার যুদ্ধ সাজ? এ- আবার কি লীলা লীলাময়? এসএস--কাছেই--এস-অত দূরে কেন? অত দূরে থাকে কি ? একি? এ যে দেখি শুধুই নাম—শুধুই বাহেগুরু নামে জ্যোতির্ময় দেহ, না-না—এ যে দেখি নীলা- বিগ্রহরূপী দেহধারী -না-তাহাও ত নয় এ যে-দেখি অসংখ্য ভক্তের অসখ্য ইষ্টরূপে কেবল অসংখ্য নাম-না, না, এ যে আমারি সর্বস্ব গােন একি হল ? তাহাও ত নয়—এ যে হরিনাম দেখি-সুন্দর মােহনরূপে কালাে করে আমার প্রেমের ঠাকুর হৃদয় মােহনরে। ওকি-? অমন করে চেয়ে চেয়ে হাঁসচ কেন গাে ? হেসনা, হেসনা-তােমারি জয় আমার পরাজয় হয়েছে। তুমি যে বিনা যুদ্ধেই আমার সবই দখল করেছ সখা। আমি যে স্বয়ং অযাচিতভাবে তােমার কাছে পরাজয় স্বীকার করিতেছি। আবহমানকাল পর্যন্ত, তােমার জয় হউক প্রভু আমি যুগে যুগে তােমারি নামে আত্মহারা ;-তােমারি প্রেমে বন্দিনী ;- জনমে জনমে তােমারি রাঙ্গাচরণে—পরাজিতা দাসী।

৪ শ্ৰবাহেগুরু নাম সত্য
৭১
সকলে তুমি আছ
সকলে তুমি আছ—আছে সব তােমায়
মায়ামুগ্ধ অন্ধ আঁখি দেখিতে না পায়।
আছ-অসীম আকাশে ভানুর ছটায়,
আছ-অনন্ত অসংখ্য নভাে-তারকায়,
আছ-হিমাংশু সুধায় জলদেরি গায়,
আছ-বিটপি শাখায় পুষ্প কোমলায়,
তােমারি রূপের বিভূতি বিকাশ হয়।
আছ-অনল-উজ্জলে পবন হিল্লোলে,
আছ-হিমাদ্রি অচলে বারিধি কল্লোলে,
আছ-ভূধরে-প্রস্তরে পৰ্বত করে,
আছ—বিহগ সুরের লহরে লহরে,
তারা) তােমা প্রেমে মাতিয়া তােমা মহিমা গায়।
আছ-কঠিন পাষাণে দীপ্ত হুতাশনে,
আছ—নিবিড় কাননে প্রান্তর বিজনে,
আছ-গ্রহরূপেতে তুমি ব্যোম-গগনে,
আছ-বিজলী-রূপেতে জলদ-সদনে,
উজ্জ্বল রূপ হােমার ক্ষণিকে মিলায়।
আছ ক্ষত্রিয় শৌৰ্যতে মহান বীৰ্য্যতে,
আছ শূদ্রের সেবাতে ব্রাহ্মণ ধৈৰ্যতে।

ওঁ শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য
আছ নারীর দয়ায় সাধুর ক্ষমায়,
আছ শিশুর হাসিতে শুদ্ধ সরলায়-
পবিত্র তােমার মূরতি প্রকাশ পায়।
আছ ভক্তের সাধনে ইষ্ট আরাধনে,
আছ প্রণয় মােহনে অতি সঙ্গোপনে,
আছ জননী বক্ষেতে সুষমা সিঞ্চনে,
আছ কালের করাল ভৈরব বদনে,
সৰ্বরূপে তনু তব মায়াতে লুকায়।

ওঁ শ্ৰীবাহেগুরু নাম সত্য ০৩ আমি কি তােমার হবনা ? ও ঠাকুর ! ৩ ঠাকুর ! অত তাড়াতাড়ি কোথা যাচ্ছ? এত ব্যস্ত এত ব্যাকুল এত আগ্রহ সহকারে যাওয়াটা কোথা হচ্ছে ? আহা একটু দাড়াও না গা। আমায় না হয় খুব চুপি চুপি আস্তে আস্তে বলেই যান, যে কোথায় যাচ্ছ? এত লাজ কিসের? এ্যাকি বলিলে—কি বলিলে ভাল করে বল ; শুনতে যে পাইলাম না, একি - কি—তােমার কাজ আছে, দাঁড়াবার সময় নাই। কি আশ্চর্য্য- অবাক করলে যাক, তুমি ? তােমার আবার কাজ আছে ? আমি তােমার দুটী কাজ ছাড়া আর কিছু কাজ আছে বলে মনেই করতে পারি না। প্রথম—যে তােমায় সব ছেড়ে ভালবাসবে তার সর্বস্ব হরণ করা - দ্বিতীয় তাকে সারাজীবনের মতন কঁাদান। দেখ মনে করে, নয় কি? ঠাকুর। তােমার জন্য ভােলানাথ সর্বত্যাগী, যােগী, ভিখারী, তার অপরাধ, তিনি তােমাময় প্রাণ -তােমাছাড়া আর কিছু জানেন না। তুমি তার সাধনের ধন, জীবনের জীবন, তুমি তার সর্বস্ব। সেই জন্যই তুমি তাকে পাগল করেছ। সারাজীবন কঁদাইয়াও নিস্তার দাও নাই শেষে কিনা শ্মশানে, শ্মশানে তােমারি বিরহে পাগল শঙ্করকে পঞ্চভূত ত্মিক দেহের শেষ পরিণাম কিনা ছাই--তাই বিভূতি অর্থাৎ—ঐশ্বৰ্য্য বলে গায়ে মাখাইলে। তােমারি সৃষ্টির কিছুই তুমি ছাড়া নহে বলিয়াই কি নামে-প্রেমে পাগল—ভােলাকে অহরহ ঐ ছাই-ঐশৰ্য্য বলেই মাখাচ্ছ, পৰ্বত নন্দিনী রাজদুলালি গৌরিকেও কিনা বালিকা বয়সে ৪ ওঁ শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য যােগিনী সাজাইয়া পাগলার সঙ্গে পাগলী করেছ। পাষাণ তুমি শহরের আর বাকী কি রাখলে ? আবার দেখ, ঐ নারদমুনি বেচারিকে চিরকালটাই আইবুড় কার্তিক করে রেখে দিলে। তা তাকে না দিলে বিয়ে করতে ; আর না দিলে কত সাধের সংসারের-সংসারী হতে, সে বেচারী ঐ তােমারি নামের মােহে সব ভূলে ঐ তােমারি নামই সার সম্বল করেছে। আবার দেখ, ঐ কচি-কচি—দু-দুট ছেলের মাথা তুমি এমনি খারাপ করে দিলে, যে তাদের একজন সৰ্বস্ব ত্যাগ ও শত তাড়না সহ্ন করেও তবু তােমার নাম ত্যাগ করলে না, আর একজন জীবনের সম্বল দুখিনী জনীকেও ত্যাগ করে বনে বনে পাগলের মত “ওগাে তুমি কি আমার সেই” বলে সামনে যাকে পেলে তাকেই একে ধরে আলিঙ্গন করলে, তা, বাঘ, ভালুক, সাপ, গাছ, পাথর, বাহাই হক। ঠাকুর। বালক দুটীর সেই কালের কথা ভাবিতে গেলে চোক ফেটে জল আসে-তুমিত-সেই ঠাকুর তােমার গুণের কথা আমি আর কি বলিব তােমায় ভালবেসে দুঃখিনী-বৃষভানু নন্দিনী ও সরল গােপবালাগণের কি চরম দুর্গতি করেছিল প্রভূ! তাদের স্বামী পুত্র সংবার পরিজন, ধৰ্ম্ম অধর্ম, ন্যায় অন্যায়, কৰ্তব্য অৰ্ত্তব্য, কৰ্ম্ম অকৰ্ম্ম, ইহকাল-পরকাল যেখানে যা ছিল, সব ভূলাইলে, তাদের পরনের কাপড় ‘খানি পৰ্যন্ত ত্যাগে লজ্জা ও তােমার সহিত অভিন্নতা অভিন্নতা ঘুচিয়ে, আমিত্ব পৰ্যন্ত লােপ করিলে। তার পরে সেই তৎতন্ময়ী সরলা বালিকা- দের বুকে রথের চাকা চালাইয়া দিয়া তােমার অপর ভক্তের কর্মভােগের জন্য কর্তব্য পালন করিতে নির্মম, নিষ্ঠুর, পাষাণের মত চলিয়া গেলে, তাহাদের তখনকার বুকফাটা আকুল কান্নায়, সমস্ত জগৎ কেঁদেছিল, কিন্তু তুমি? তুমিত বেশ স্থিরভাবেই ছিলে-তুমিত সেই ঠাকুর। আবার বুক চিরে প্রাণ ঢেলে, আপন হারা হয়ে ; যিনি তােমায় পালন করলেন, সেই গোপরাণি দেবী যশােমতীর, তুমি কি দূর্দশাই না করে- ;

ওঁ শ্ৰবাহেগুরু নাম সত্য ছিলে। নিজে রাজা হয়ে, রাজসভায় বসে যজ্ঞ করছিলে, আর তােমার দ্বারীর দ্বারা, সেই পাগল দুঃখিনীকে কতইনা অপমান করাইয়া ছিলে, তুমিত সেই ঠাকুর ? তােমায় ভালবেসেছিল বলে দেবী জনকনন্দিনীকে সারাজীবন কাঁদিয়েছ; তােমায় ভালবেসেছিল বলে দেবী বিষ্ণুপ্রিয়াকে সমস্ত জনম কঠোর সাধন করিয়েছ। তােমায় ভালবেসে নদের গােরা পাগল হল, সারা নদীয়ায় তােমার নামের তােমারি প্রেমের উজান বহালে, তােমার নামে প্রেমের বাণে কত জীব ভেসে গেল। গাছে পাতায়, আকাশে, পবনে নামে প্রেমে সুধা ঝরল, কত পাষণ্ড উদ্ধার হল, কত পতিত দেবতা, হল, সারা নদীয়া সে ভাবে টলমল করে- ছিল। তােমার প্রেমে অধীর হয়ে গােরা মাটীতে পড়ে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদত, সে কান্নায় দেহের সমস্ত বন্ধন খুলে যেত প্রতি রােমকূপে রক্তদেগাম হয়ে মূচ্ছ। হত। তুমি তার আর কি বাকী রেখেছিলে ঠাকুর ! তােমায় ভালবেসে রাজার দুঙ্গুিতা, রাজপুত্রবধু স্বয়ং রাজরাণী মীরাদেবী সমস্ত রাজশ্বৈৰ্য্য, সুখ, সম্মান সব ত্যাগ করে আপন ভােলা হয়ে বৃন্দাবনের পথে পথে ভিখারিণীর বেশে তােমারি নামে সারা বৃন্দাবন মাতাইয়া ছিলেন, পশু পাখীরা শুদ্ধ তাঁহার সহিত নামে কঁদিত। তুমি তার আর কি বাকী রেখেছিলে ঠাকুর ! তােমায় ভালবেসে শাক্যসিংহ - মহানিৰ্বানী বুদ্ধ। শুকদেব উদাসী যােগী। মুনিগণ, তুলসীদাস, কবীর, নানক, শ্রীগৌর নিতাই, রূপ সনাতন দাস, অদ্বৈত-প্রভু দাদু, তৈলঙ্গ স্বামী, বামাক্ষেপা, রাম- কৃষ্ণদেব, বিবেকানন্দ, মহামতি গান্ধি, দেশমাতার আদর্শ সুপুত্র চিত্ত- রঞ্জন, সকলেই শুধু তােমারি এক এক ভাবের প্রেমে মহাযােগী ও সৰ্ব্বত্যাগী সন্ন্যাসী। ঠাকুর সেইজন্যই বলিতেছি যে তােমার গুণের কথা অনন্ত দেব অনন্ত মুখে বলে শেষ করতে পারেন না সেই সৰ্বগুণময় অথচ নিগুণ তুমি! তােমার গুণের কথা উদাস ওঁ শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য পাগল আমি আর কি বলিব। তবে বছিলাম যে কার আবার দাড়িয়ে কপাল পুড়ল গাকে আবার সাধ করে কান্নাব্ৰত বরণ করে নিলে, যে এত সাধের এত গুণের ঠাকুর তুমি! আর তােমায় কিনা ভালবেসে ফেললে, আর সেই জন্যই তুমি কিনা একেবারে ব্যস্ত স্যমস্তু হয়ে ছুটে যাচ্ছ ? আহা সে বেচারী কি জানে না গা যে তােমায় ভালবাসতে হলে জনম ভাের কাঁদতে হবে, অনেক চোকের জল চাই। তবে তােমার একটা গুণ আছে সেটা না বলিলে তােমার কাছে অপরাধী হতে হয় । কেহ যদি তােমার জন্য কাঁদবার মত কাঁদতে পারে তবে তুমি তার শত দোষ ক্ষমা করে তাকে তােমার কর, আর এই একবার তােমার হতে পারলেই সব জঞ্জাল মিটে যায়, তার আর সাধন ভজনের দরকার হয় না, সর্বসিদ্ধি অযাচিত ভাবে তাহার নিকট আপনি আসে। যা আমার অতশত ভাবিবার প্রয়ােজন নাই, তুমি যখন আমার এত কাছ দিয়া যাচ্ছ তখন তুমি আমার। কারণ জানইত যার হাওয়া যখন যার গায়ে লাগে সে তখন তার । কাজে কাজেই তােমায় বলতেও হবে আর আমার কথা শুনে হবে যেতে পাবে। তা কাজ তােমার যতই থা। আহা-ধূলাল্প বসনা এখানেও আসন নাই—তা নাই থাক আমার আঁচল খানি পাতিয়া দিতেছি। কাঙ্গাল আমি স্বর্ণ সিংহাসন কোথা পাব, তুমি এতেই বস। তুমি এতেই বস । চরণের নূপুর যে খুলে পড়ে যাচ্ছে, চরণে যেন শ্রান্তি দরুণ রক্তাভা ফুটে বেরুচ্ছে, ক্লান্তি দরুণ অবসাদে সমস্ত অঙ্গে স্বেদ মন্দাকিনী ধারা পড়ছে। হাতের বালা, কানের কুণ্ডল, গলার কৌস্তুভ হার, মাথার মুকুট, সব যেন খুলে পড়ে যাচ্ছে তােমারি গলার তুলসী মালা তােমায় প্রেমে আত্মহারা দেখে স্বপত্নী ভয়ে যেন তােমার বুক হতে নেমে আসছে। সৰ্ব দেহই যে তােমার বড় শ্রান্ত দেখছি আহা- বস, বস। রক্ত কমল , ওঁ শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য ৭৭ ৬ তােমার মলিন মুখ, অঙ্গের স্বেদনীর, আগে মুছাইয়া দি আমার কাপড়ের অবশিষ্ট দিয়া তােমায় বাতাস করি, তুমি একটু সুস্থ হও। গাছের ফল পাড়িয়া দিতেছি তুমি খাও। পাতা গাঁথিয়া নদী হতে জল আনিয়া রাখিয়াছি তুমি পান কর। তােমার শিথিল অলঙ্কার যথাস্থানে পরাইয়া দিতেছি তুমি স্থির হও। ঠাকুর নদী হতে জল আনিবার সময় রক্তকমল তুলিয়া আনিয়াছিলাম তােমার রক্ত চরণ কমলে রক্ত কমল ও তারি সঙ্গে আমার হৃদয় কমল অঞ্জলি দিয়া তােমায় একটু সেবা করি। তুমি বিশ্রাম কর সুস্থ হও তবে আমি বলিব যে তােমায় বলিবার আমার কি কথা আছে। ঠাকুর- তুমি যে সৰ্বজীবেই বর্তমান, সকল সত্তাতেই যে তােমার সত্তা আছে-কই এ বিশ্বাস আমার এখনও হয় নাই প্রভু! আমি যে এখনও সম্পূর্ণ হিংসার বশবর্তিনী। সকলের মুক্তি যে তােমারি মূর্তি কই এভাবেত, জীবের সেবা নিতে পারি না। আমার যে এখনও ভেদবুদ্ধি আছে—এখনও যে কেহ কোন অপকার করিলে বা ত্রুটী হইলে তুমিই করিতেছ, ভাবিয়া সহ করিতে পারি না। রাগ তৎক্ষনাৎ প্রকাশ পায় এবং সেই হিংসায় তাহাকে প্রতিশােধ দিতে ইচ্ছা হয়। দয়াময় তখন, আমার, তুমি সেই-বা সেই-তুমি সেই—আমি,-বা আমিও সেই,তুমি-আমি, বা আমিও-তুমি একথা সৰ্ব্বনাশকারী ক্রোধের সময় ভূলি কেন? করুণাময় তােমার রাতুল চরণে আশ্রয় পাইয়াও, আমি মহাশত্রু ক্রোধের বশীভুত হই ও শ্রবাহেঁগুরু নাম সত্য কেন? যে তােমার চরণ প্রকৃত হৃদয়ে লইবে, তাহাকেত অন্ত কেহ বাধ্য বা বশ করিতে পারে না। তবে—তবে—আমি অপরকে বশীভূত না করিয়া নিজেই তাহার বাধ্য হই কেন? সত্য করিয়া বল দেব! তবে কি আমার-হরি নাম করা ভণ্ডামি—? ধৰ্ম্মের ভাণ–? যতক্ষন আমার হিংসা নামের আগুণে পুড়ে ছাই না হবে, যতক্ষণ মহাশত্রু ক্রোধ আমার ছায়া মাত্র স্পর্শ করিবে ততক্ষণ আমি পরপৰ্শ দোষে পতিত হইব। ততক্ষন তােমায় ত সম্পূন্নআত্মদান করা হলনা প্রভৃ! ইন্দ্রিয় নিগ্রহেরিপুদমনে-যতদিন পর্যন্ত তুমিই সব—আমার এইভাব না অসিবে মহা সৰ্ব্বনাশী অহং না ঘুচিবে- দয়াময় ততদিন পর্যন্ত আমি তােমার রাতুল চরণে অপরাধিনী, মিথ্যা—-আঅপ্রবঞ্চিত, ধর্মের নামে সেচ্ছাচারিনী, রিপুবর্ণভূ, ক্রোধ কবলিতা, ও তােমায় বিস্মৃত হইয়া ; পরশ দোষে-ব্যাভিচারিনী। আমার হরিনাম করা সবই মিথ্যা। ওকি-ও-কি গাে? কাঁদচ - কেন ঠাকুর?-কেঁদনা-কেঁদনা তােমার চোকের জল তােমার কান্না আমার সে সহ্য হয়না গাে ! যে তুমি সকলকে কাদাও সেই তুমি আজ এই অভাগিনী পাগলীর কান্না-দেখে কাঁদচ কেন প্রভূ ? কেঁদনা-কেঁদনা : আমার মরমে আর ব্যাথা দিও না। দয়াময় এত দয়াল তুমি? সৰ্ব্বভূতের ঈশ্বর-হরি—আমার বলিবার ভুল হয়েছে। তুমি নিষ্ঠুর নও, দয়াল। তুমি চতুর নও সরল, তুমি পাষাণ নও কোমল। মায়ামুগ্ধ-মিথ্যা আত্মাভিমানে অভিমানী, আমি তােমায় জানিতে বা বুঝিতে পারি না-- তুমি বল -কতদিনে তুমিই সব—এই জ্ঞান, এই সার সত্যকথাটী, আমি অহরহ মনে রাখিয়া সৰ্ব্বজীবেই তােমার দর্শনে, প্রাণপণ করিয়া নিজকে ভুলিয়া-সৰ্বসেবায় আপনাকে দান করিব। আমার স্বার্থ, আমার কামনা,কতদিনে ঘুচে যাবে। কৰ্ম্মফলের আশা কতদিনে মিটে বাবে। পরম শত্রুকে তুমি ভাবিয়া, তাহার ওঁ শ্রীবাহেরুনাম সত্য মঙ্গল করিব, সম্পূর্ণ রূপে ইন্দ্রিয় নিহে, রিপু দমনে-সৰ্ব্বজীবের জননী হইয়া পূর্ণভাবেই তােমায় অত্মদান করিব। তােমার নাম আগুনে আমায় পুড়াইয়া খাঁটী সােনা কর ; একটুও খাদ ; একটু কৃত্রিমতা রেখ না বল ঠাকুর-কাঙ্গালের ধন হরিবল তােমার চরণ আশ্রিতা—বালিকা-আমি, বল প্রভৃ-একবার মাত্র বল, তুমিত সবই আমার ; কিন্তু আমি কি তােমাৱা হব না।

ওঁ শ্ৰবাহেগুরুষ সত্য
কাঙ্গালের ধন
আমি সাগর ঘেঁচিয়া মানিক পেয়েছি,
যতনে তুলিয়া পরেছি গলে।
ভুবনে অতুল ভূবন মােহন রূপ,
লুকায়ে রেখেছি হৃদয় তলে।
কতই যে আপনার সে প্রিয় আমার,
দুখ-দরদী- ব্যাথাব্যাথী সে।
ওগো ! মরমের—বাণী শতেক কহিনী,
অন্তরে প্রকাশি স্বয়ং শুনে যে ।
(তাই) মাের হিয়ার মাঝারে নিভৃত করে,
পূজিয়া তারে অতি সঙ্গোপনে।
আর সকল সপিয়া তােমারি বলিয়া,
পরাণ লুটা ঐ শ্রীচরণে।

ও শ্রবাহেগুৰু নাম সত্য ৮১ ঠাকুরের দর্শন ভাদ্রের ভরা গঙ্গা; কানায় কানায় বারিরাশি ছাপাইয়া দুকুল ডুবাইয়াছে। গঙ্গারি কখন ঘুরিয়া ঘুরিয়া ঘুর্ণিপাক খাইয়া, কখন তুলারাশির ন্যায় সফেন আছড়াইয়া পড়িয়া, কখনও সর্পের ন্যায় বত্র গতিতে আঁকিয়া বাঁকিয়া চলিয়াছে; আবার কখনও বিষম ঢেউ উঠিয়া তীরন্থে আঘাত লাগিয়া ছলা—ছপাৎ রবে ভীষণ গর্জন করিতেছে। জননী এখন দুষ্টা বালিকার ন্যায় বড়ই চপলা-চঞ্চলা, বিন্দুমাত্র স্থির বা শান্ত হইতে পারিতেছেন না। পবনদেবও সােদর সাথীরূপে চপলা বালিকাকে আর চঞ্চলা করিয়া তুলিয়াছেন। সহােদরের হু-হু-শে। শোঁ-গোঁ-গোঁ খেলার শব্দে ও ভগ্নির তারি সঙ্গে তালে তাল দিয়া নাচিয়া নাচিয়া কল-কল রবে গীত ও নৃত্যে আমার মত কত পাগল দেখিয়া শুনিয়া অবাক। তাহার উপর আবার জ্ঞাতি সহােদর ইন্দ্রদেব আসিয়া মুষলধারে চট্‌ চট্ টপ, টপ, ফট ফট শব্দে শিলা এবং বারি- বর্ষণ করিয়া খেলিতে লাগিয়া গেলেন, ছিল দুইজন, হইল তিনজন আর দেখে কে? ভারি মজাই লাগিয়া যাইল। দুষ্ট, তিন ছেলে মেয়ের খেলার দাপটে যে যেখানে ছিল সব ভয়ে পালাইল। কাশীধামের সমস্ত ঘাটগুলি যেন জনমানব শূন্য। কেবল এত দূর্যোগেও মশান ঘাট ও মণি কণিকায় সধূম চিতা জ্বলিয়া উঠিতেছে, আবার তৎক্ষণাৎ দূর্যোগের ঠেলায় নিবিয়া যাইয়া দাহকারীদের দুর্গতির একশেষ করিতেছে। ঘাটের মাঝি মাল্লারা দূর্যোগে—বজরার ভিতর দরজা- জানালা-বন্ধ করিয়া কেহ বা নিদ্রা দেবীর সাধনা করিতেছেন, ।

৮২ ওঁ শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য - কেহ বা এই দ্বিপ্রহরে—বিহানত-য়াল-বলিয়া বিহানের - ভাং-ভুরা-শিল পাতিয়া মশলা সংযােগে পিশিতে আরম্ভ করিয়া দিয়াছেন। আবার কেহ বা ঢােলকরূপী বাদ্য 'লইয়া রাসভনিন্দিত কঠে-হামারা ফুলমনি-ননদী-বলিয়া-বধূর ননদীনী-সােহাগের গাঁথাবলী বর্ণনা করিতেছেন। সব দেবালয় গুলির ভােগ আরতি শেষ হইয়া নিস্তব্ধ হইয়াছে। কাশীর কপিপ্রবর মহাশয়েরা এ সময় বড়ই সঙ্কট, দেখিয়া অশখ গাছে সকলেই অতি আত্মীয়তায় ভদ্রভাবে কাছাকাছি হইয়া বসিয়া ভিজিতেছেন; কেহ-- কেহ—পেটের জ্বালা, বড় জ্বালার, সহ্য করিতে না পারিয়া-ভদ্রতা লম্বনে কচি-কচি অশত্থ পাতা ছিড়িয়া জঠরে দিয়া—পেটের আলা নিবারন করিতেছেন। দু একটী জমিদার তুল্য মেজাজী গজেন্দ্রগামী- ধৰ্ম্মের সামন্ত, নন্দীকেশ্বর মহাশয়, যদি বা ঘাটের দিকে আসিতেছেন- তা সে কতক্ষণের জন্য—একমুহূৰ্ত থাকিতে না পারিয়া পুচ্ছ তুলিয়া পালাইতে পথ পাইতেছেন না। পাগল আমি ঘুরিয়া—ঘুরিয়া সব দেখিলাম প্রাণের জ্বালা যায়-কই ? পাগল প্রাণ কি চায় ? প্রাণকে জিজ্ঞাসা করিলাম কি চাও গােE? প্রাণ বলিল কিচাই ? যদি দিতে পার তবেই তােমায় বলি, নতুবা চুপ করে থাকাই ভাল । আমি বলিলাম, যে আমার সাধ্যমত যদি কিছু হয় তবে নিশ্চয় দিব—তবে কি চাও—একবার বলইনাগাে-বলতে আর কি দোষ আছে। বল, বল লক্ষ্মীটী, আমি শুনি। প্রাণ বলিল—আমি চাই—সেই-তাকে একবার দেখতে কেমন? দেখাতে পারবে। কি ?-ভাবিলাম তাইত! এত এমন কিছু অন্যায় বলেনি, ভেতরটা জ্বলে যাচ্ছে, কাজে কাজেই একটীবার দেখতে চায়। কিন্তু তাকে পাই কোথা । সে কোথা আছে—কোথা গেলে তাকে পাৰ-কে আমায় তাকে দেখাতে পারবে-কার কাছে যাব কঁদিতে কাঁদিতে মনকে ;

ওঁ শ্রীবাহেশুরু নাম সত্য , বলিলাম -ওগাে! সে আমার কোথা আছে বলনা গাে ? সে যে বলেছিল, যে শীঘ্রই সে সময় হলেই এসে দেখা দেবে- কোথা সে? এতদিন যে হয়ে গেল এখনা এলনা, কি সে আর আসবে না? আমায় কি সে ঐ বলে ভুলিয়ে ফাকি দিয়া লুকিয়েছে, ওগগা মন, বলগাে কোথা কার কাছে যাই! কার । কাছে গেলে তাকে একবার দেখতে পাব, আমার প্রাণের জ্বালা যাবে। মন অনেকক্ষণ চুপ করে শুনে, পরে ধীরে ধীরে বিজ্ঞের চালে উত্তর দিলেন। মন বলিল—তাকে দেখবে? তাকে দেখলে তবে তােমার প্রাণের জ্বালা যাবে। তার জন্য অত কান্না কেন? তিনি ত তােমার সামনেই, ঐ দাড়িয়ে রয়েছেন দেখতে পাচ্ছ না। মনকে বলিলাম কইগাে ? কোথায় তিনি কই আমিত দেখতে পাচ্ছি না ? মন বলিল, সামনের জিনিষ তুমিও দেখতে পাও, তবে চোকে মিথ্যার আবরণ দিয়া, চোক বাঁধিয়া রাখিলে কি করে দেখিতে পাবে। কানামাছি খেলার সময় চোর কি বুড়ি-দেখতে পায় ? তার মাথায় যতই টোকা মার, আর পিঠে যতই ঠেলা দাও, সে অবিরত কানামাছির ভোঁ ভোঁ শব্দ লক্ষ্য করেই বুড়ি ছুইতে যায়। কিন্তু ফল হয় কি? হয়। হুমড়ি খেয়ে পড়ে মরে ; না হয় বুড়ির বদলে খেলার সার্থীদের বুড়ি বলে ছুয়ে সকলের কাছে হাস্যাস্পদ হয়। তুমিও ত ঠিক তাই করছ, চোকে মিথ্যার আবরণ দিয়া চোক বেশ শক্ত করেই বেঁধেছ ; আর বিবেক রূপী, ভেদভে। সাথীর তাড়নায় বুড়িরূপী সেই তাকেই চুইতে যাইয়া, সংসাররূপী কামনা বাসনায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে মরে; কাঁদতে আরম্ভ করেছ। তাই বলছি যে চোকের ঐ মিথ্যার বাঁধন জোর করে একবার খুলে ফেল না! বাধন খুলিলেই সামুনেই সত্যরূপী সেই বুড়িকে দেখতে পাবে; ও একবার সেই বুড়িকে ছুঁলেই মিথ্যার চার থাকিবে না, আর কামনা বাসনারূপ, সংসার সাথীদের মার বা ভাড়না ও শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য। হ্ করিতে হইবে না। সেই সত্য স্বরূপকে দেখিতে হইলে নিজেকে সত্য হতে হয় ; এতটুকু মিথ্যার আবরণ থাকিতে কেহই তাহার দর্শন পায় না। তবে আয় একটা খুব সহজ উপায় আছে-তুমি যদি তার জন্য প্রাণভরে কঁদিতে পার। তবে একটা কথা আছে-দেখ এই কান্নাটা দেখিৰে কোথা হতে আসছে—যদি দেখ এমনি কঁদিয়া চোখের জলে বুক ভাসিল। তবে জানিও,-যে না হলনা, এ কান্নাও ঠিক হল না, যে দিন, দেখবে, যে বুকের ভিতর পাক দিয়া পরাণ নিঙাড়ি নিঙাড়ি কান্না উঠিয়া বুক, গসিল। সেই দিন জানিবে যে কিছু হল। তারপর যেদিন দেখবে, যে তার নামে আঁখি আপনি ঝুরে—সেই দিন জানিবে-যে হ্যা এইবার ঠিক হয়েছে। অন্তরে এই কান্না রাখ। আর নিজেকে পূর্ণ সত্য কর। কায়, মন, বাক্য, তিন এক করে, সেই বিশ্ববাঞ্ছিতচরণে অৰ্পণ করিয়া দেখ, সেই সত্যরূপের চাক্ষুষ দর্শন পাও কিনা? প্রথম তােমার বাক্য। তােমার যে জিহ্বা দিনে, অন্ততঃ এতশতী মিথ্যা না বলিয়া স্থিরহয় না, পাঁচবারও পরচর্চা, পরনিন্দা, না করিয়া শান্তি পায় না,-একবারও আপন আত্মগরিমা, আত্মাভিমান, দম্ভ অপরের কাছে প্রকাশ না করিয়া থাকিতে পারে না। সেই জিহা সংযত কর। প্রাতে নিয়ম কর, বাচাল জি যদি অবাধ্য হয়, তবে লৌহ শলাকা পুড়াইয়া ঘেঁকা দিয়া শাস্তি দিব। যাত্রে নিদ্রা যাইবার পূর্বে চিন্তা করিয়া দেখ জিহ্বা তােমার কতদূর বাধ্য। এই অসংযমী, চপল জিহ্বাকে-বলপূর্বক বশ কর, বাধ্য কর, দেখিবে বাক্য আপনি সংষত ও সত্য হবে। দ্বিতীয় তােমার মন, যে মন তােমার সদা কলুষিত, বিষয় বিষে জর্জরিত; যে মন তােমার সকলের সর্বনাশ সাধনে সদা তৎপর, ৰে মন তােমার ধন, মান, যশ প্রাধান্য, ও রূপের, জ® সদা লালায়িত, মিথ্যা মায়াগর্বে গর্বিত ও মদমত্ত, সেই চপলা হতেও চঞ্চল মন, কতটুকু সময় তােমার ঠাকুরের চরণ কমলে--স্থিৱ হয় ? মনকে স্থির শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য করিতে হইলে, সেই চরণ কমল সদাই চিন্তা করিতে হয়। সংসারের কর্ম কর-সকল কর্তব্য পালন কর, কিন্তু সেই কর্মগুলি তাহার এবং সকল কর্মই তঁাহার জন্য করিতেছ এই ভাবিয়া কৰ্ম্মফল তাহাতেই অর্পণ কর। নিজে কৰ্ত্তা হইয়া বড় সাজ কেন? দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে লইবার দরকার কি? ভৃত্য যেমন প্রভুর হুকুম পালন করে তাতে তার নিজের দায়িত্ব কি আছে-তুমিও সেই মহাপ্রভুর হুকুম পালন রূপী সংসার সেবা কর তাতে ক্ষতি নাই কিন্তু সাবধান তােমার সাধের সেই চরণ যেন ভুলনা। সদা সৎ বা সত্যরূপী চরণে মনকে স্থির ও অন্তসমাধি প্রাপ্ত করাইতে পারিলেই, চিত্ত সংষম হইয়া মন আপনি সত্য নিশ্চয় হবে। বাকী তােমার কায় পূর্ণভাবে ব্রহ্মচর্য পালন দ্বারা, নিজেকে ফুলের মত পবিত্র নির্মল কর। বিনা ব্রহ্মচর্য পালনে অবশ্য বিনাশী, শত ভােগের আকর, অপবিত্র, এই জড়দেহ পবিত্র হয় না। সেই প্রাণারাম— শ্রীবাহেগুৰু শ্রীরামের সহিত, রমণ করিতে হইলে-কামেরর ইন্ধন বাড়াইলে চলিবে না। রামরূপী—নাম ও নামরূপী- রাম সহিত রমণ কামে নয় -প্রেমে। কামনায় প্রবৃত্তিতে নয়—কামনা রহিতে। আর সেই কামনা ত্যাগ করিতে হইলে প্রথমেই আত্মশুদ্ধির জন্য ব্রহ্মচর্য পালন বিশেষ প্রয়ােজনীয়। ব্রহ্মচর্য পূর্ণ তপস্যা, ব্রহ্মচর্য শ্রেষ্ঠ সাধনা ব্রহ্মচর্য ভগবৎ চরণে আসিবার তােরণ দ্বার। বিনা ব্রহ্মচর্য পালনে, যে কৰ্ম্ম দ্বাদশ বৎসরেও পূর্ণ হইতে কষ্টসাধ্য হয়। ব্রহ্মচর্য পালন দ্বারা সেই কর্মই একবৎসর মধ্যেই পূর্ণ হয়। ব্রহ্মচর্য পালনে চিত্তবৃত্তি নিৰ্ম্মল, মেধা ও ধীশক্তি স্থির, হৃদয় পবিত্র-চক্ষুর -ও শরীরের স্বাস্থ্য অটুট থাকে; লাবণ্য, এবং কান্তি, বৃদ্ধি হয়। কি সাধু জীবন-কি গার্হস্ত জীবন-কি ছাত্র জীবন যিনি যে করে কী হউন না কেন,-নাি ব্ৰহ্মচর্য্যে কাহার কোনও কৰ্ম্মই সহজ JU ও শ্রীবাহহগুরু নাম সত্য সিদ্ধ হয় না এই সময় আমার উপর মনের উপর বড়ই রাগ হইল। বলিলাম,—আহা-হা-কি মজার কথাই বললেগাে ! সকলেই যদি তােমার ঐ ব্রহ্মচর্য পালন করে কিনা সত্যপীর - সাজেন, তবে এই সৃষ্টি থাকবে কি করে ? ব্রহ্মচর্যই যদি ভগবৎ চরণে আসিবার একমাত্র তােরণ হয়,তবে এই যে এত বড় সৃষ্টি চলছে, এই যে এত বড় সংসারের ভালবাসা, ভক্তি ; যত্ন, মেহ, মায়া, দয়া, প্রতি, সরলতা, পবিত্রতা ইত্যাদিতে এত বড় কারখানা চলছে, এগুলি কি সব ঝুট আর তােমার ব্রহ্মচর্যই কিনা এতই সচ্চিা—? আর সংসারী জীব সকল বিনা ব্রহ্মচর্য পালন দরুণ ভগবৎকৃপা পাবে না- কেমন? মন বলিল - ওগাে! তা নয়—তা নয়,—কথাটাই আগে শুন তবে। বলি রাগ করে—অত চট্টছ কেন ? সংসারী জীব ভগবৎকৃপা পাবে না, বা ঐ চরণে আসিবার উপায় নাই; এমন কথা-পাগল হলেও আমি এমন পাগল কথা—তােমায় বলিতে পারি না ভক্তকে ঐভগবান সর্বস্ব দান করেন। সংসারী জীব যদি ভক্ত হন, তবে কি তিনি ভগবৎকৃপা হতে বঞ্চিত হবেন না তা হতে পারে না সংসারী জীব যদি কর্মী হন, তবে কি সর্বকৰ্ম্ম নিয়ন্তা শ্রীভগবৎ বিচারে-অবিচার পাবেন? না তাহাও নয়। অনিমাদি অষ্টসিদ্ধি সম্পন্নযড়শ্বৈৰ্যশালী- সৰ্ববিভূতিবান, মহামহান-শ্রীভগবান, জীবকে কৰ্ম্মানুসারে সকল বই দান করেন। তাই, বিদ্যা, মান, যশ, রূপ, লাবণ্য, সকল প্রকার কাম্য ভােগ্য বস্তু, দেবতার বাঞ্ছিত অমরাপুরীর অধীশ্বর ইন্দ্রত্ব ; অনিমাদি অষ্টসিদ্ধি,এমন কি আপন স্বরূপত্ব স্বরূপ সিদ্ধিও, তিনি ভক্তকে কর্মীকে,তাহাদের ভক্তি ও কৰ্ম্মানুসারে দান করেন, কিন্তু আপনাকে কাহাকেও দেন । এই ভগবানকে যিনি চাহিবেন, তিনি এ সমস্ত কিছুই চাহিবেন না। তিনি সর্বকামনা শূন্য হইয়া-যুগে যুগে -জনমে জনমে,ঐ শ্রীভগবানকেই চাহিবেন প্রেমভাবে বিনা প্রেমে ও শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য ৮৭ ; কখনও হরি পাওয়া যায় না। আর প্রেম কখনও কাম থাকিতে আসে না। কাজেই প্রেম লাভ করিতে হইলে বিনা ব্রহ্মচর্য পালনে চিত্তবৃত্তি কখনই ফুলের মত পবিত্ৰ-নিৰ্ম্মল ও কোমল হয় না। আর এই প্রেম লাভ হইলেই তাহার সর্বকামনা সমাধি লাভ করে। বিন্দুমাত্র কাম- কামনা বা কোন বিষয়ের প্রবৃত্তি থাকিতে কেহই সেই প্রেমময়ের সহিত, প্রেম করিতে সক্ষম হন না। কাজেই সংসারী জীব সবই পাইবেন কিন্তু বিনা ব্রহ্মচর্য পালন জন্য আবার মায়ায় বদ্ধ হইবেন। কিন্তু তিনি যদি সংসারের মধ্যে থাকিয়াও ব্রহ্মচর্য পালন দ্বারা ইষ্ট আরাধন, ও স্বকীয় সাধন করেন, তবে তিনি, এবং তিনি কেন, যে কেহই ব্রহ্মচর্য পালন দ্বারা নিজ দেহ, সেই প্রেমময়কে দান করিবেন; সেই পরম কারুণিক, প্রেমধারারূপী শ্রীভগবান, তাহাকে আলিঙ্গন করিয়া পরম- নিবৃত্তিরূপী-আপনাকে দান করিয়া মায়ামুক্ত করিবেন। তাহার আসা মাওয়ার ছুটী। তবে সেও আসিবে, যখন তার সর্বস্বধন-শ্রীভগবান লীলা করিতে অবতীর্ণ হইবেন, তখন সেও-যুগে-যুগে,-জনমে জনমে,—তাহারি সেবার জন্য সঙ্গে সঙ্গেই আসিবেন। তাই বলিতেছি যে অত রাগ করনা,- রাগ করনা,-কর্মী হও – ভক্ত হও-সবই পাবে। কিন্তু বিনা ব্রহ্মচর্য পালনে প্রকৃত সত্যরূপী শ্রীভগবান পূর্ণভাবে পাবে না। এজন্যই বলিতেছিলাম যে ব্রহ্মচর্য শ্রেষ্ঠ সাধনা, ব্রহ্মচর্য পূর্ণ তপস্যা, জীব ব্রহ্মচর্য পালনরূপী মহাতপস্যা করিলে অনয়াসেই মায়ামুক্ত হইয়া নিষ্কাম সাধনায় শান্তি লাভ করিবেন। আর এই কায়, মন, বাক্য, তিনটী বস্তু এক করিয়া যেদিন তুমি সেই চরণে আত্মসমর্পণ করিবে, সেই দিনই তুমি সত্য হবে তুমি সত্য হলেই তােমার আঁখির মিথ্যা আবরণ মুক্ত হইয়া, অন্তরে বাহিরে সেই সুবিমল রূপ দর্শন হইবে। তাই বলিতেছি সত্য হও,-সৎ রূপী নাম জপে মিথ্যা কপটতা দূর কর, নিশ্চয় সেই সত্যস্বরূপের দর্শন পাবে। মিথ্যা থাকিতে-কিছুতেই দর্শন পাবে না ও শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য কাদিয়া মাথা খুড়িলেও নহে, মনের কথা শুনিয়া আমার পাগল প্রাণ আরও ব্যাকুল হইল। কোথা-প্রাণের দেবতা—তুমি কি দেখা দিবে না দীনবন্ধু, দিনে, দিনে, যে অনেক দিন হইয়া যাইল, কতদিনে কাঙ্গালকে দেখা দিবে—জগতের নাথ হয়ে কাঙ্গালের প্রতি আর এত নিষ্ঠুর হও না,আর যে কঁদিতে পারি না প্রভু হয় পরিত্রাণ কর, নতুবা তােমার নামে-পাগল কর আমি এ অন্তজালা হইতে নিস্তার পাই। এমন করে উদাস মনে পাগল করে, আর কতদিন রাখিবে নাথ আর কঁদিতে যে শক্তি নাই প্রভূ-শুনতে কি পাওনা। কতদিনে তুমি আসবে—কতদিনে তােমায় দেখে আমার সর্ব কামনা রহিত আমার এ তনু তােমাতেই লয় কতদিনে। আমার এ প্রাণের জ্বালা যাবে, আমার এ বুক- ফাটা অন্তর নিবারণ পাগল বলিল-দ-কাদ- আরকঁদ, প্রাণভরে—জীবনভাের কাঁদ—খুব কঁদ। কাঁদিতে কঁদিতে চোকের জলে সকল কলুষ কালিমা মলিনতা ধৌত হউক। কঁদিতে ফাদিতে জন্ম-জন্মান্তরের সকল কর্মরাশি-চোখের জলে ভেসে চলে যাক। সকল মায়াবন্ধন ডুরি খুলে যাক্। কঁদিতেদিতে সেই সদা আকাঙ্খিত চরণ দুখানির অভিষেক কর—আর কাতর করুণক শরনাপন্ন হইয়া বল-দুং গতি পরমেশ্ব প্রাহি মাং মধুসূদনঃ। হবে। মন

ও প্রবাহেগুরু নাম সত্য
তুমি সুকালে গাে কোনখানে?
১
দেখা দিয়ে দয়াল হরি
তুমি লুকালে গাে -কোনখানে
মাের আঁখিধারা -বেয়ে-পড়ে
( সখা) এতই ছল তােমার মনে
তুমি লুকালে গাে-কোনখানে?
কাছেতে থাকিয়ে মায়া দাও
কঁাদায়ে মােরে দূরে—লুকাও
(এম) কেমন ধারার ভালবাসা
বুঝিতে নারি-সরল প্রাণে
তুমি লুকালে গাে কোনখানে?
মৌন ভাষায় চকিতে এস
সুধার রাশি হাঁসাটী হাঁস
শূন্য পরাণ উদাস করে
বাঁশী বাজাও কোন বিপিনে
তুমি লুকালে গাে কোনখানে?

ও প্রবাহে নাৰ সত্য
(আমি) সইবনা আর লুকোচুরি
ভাঙ্গব তােমার জারিজুরি
একবার দেখা পেলে পরে
বাঁধব রাতুল চরণে
তুমি লুকালে গাে কোনখানে?

ওঁ শ্ৰবাহেরু নাম সত্য অরে অন্তরে পয়েন-অন্তরধন। অত-তরে--অরে কেন? কাছে এস,অক্ত-অন্তরেথাকে কি? তুমি যে অন্তরের। অন্তরে অন্তসমাধি প্রাপ্ত হয়ে, অন্তর মাঝে তােমায় পুজা করি এস। আব্রম্ভ শুভ পৰ্যন্ত তুমি আছ,-কাজেই তােমার অন্ত নাই, এই অন্ত রহিত তুমি, কিন্তু আমার অন্তরে সদাই আছ। চৈতন্য শক্তি, চিৎরূপে,—বিবেক বেশী সৎরূপে, এবং ইচ্ছা মায়া আনন্দ রূপে সচ্চিদানন্দ, তুমি আমার অন্তরে-তােমারি অনুভূতির বিকাশ কর। ক্রিয়াশক্তি, স্পন্দন, বাক্য, ফুরণ, ইন্দ্রিয়াদির অনুভব সমস্তই, তুমি অন্তর হইতে সমাধান কর। সত্ব, রজঃ তমঃময়, অথচ ত্রিগুণাতীত—নিগুন তুমি, আমার অন্তরে ত্রিণে থাকিয়া, আমায়—এিভাবে-কাৰ্য করাইয়া যাদুকরের ন্যায় ভেল্কিবাজী করিতেছ সর্বশক্তিমান তুমি আমার অন্তরে তােমার অনন্ত শক্তির বিকাশ করিতেছ। তােমার শক্তিতেই তােমারি ইরূপিনী -আমির উৎপত্তি হইয়া, অহংজ্ঞানে বদ্ধ, মােহিত হইয়া,-অন্তরে আত্মারাম তুমি,তােমাকেই অন্তর হইতেও অন্তরে রাখিয়া, ভুলিয়া যাইয়া, ত্রাহি ত্রাহি-রবে আর-অবরে খুজিতে আরম্ভ করিতেছি। তুমি আমার . অন্তর মন্দিরে পূর্ণ প্রতিষ্ঠিত হইয়া দিবানিশি রহিয়াছ, তথাপি আমি মায়া আবরণে আঁখি বন্ধ করিয়া তােমার জন্যই দিবানিশি অক্তর কান্না আরম্ভ করিয়াছি। আমার অন্তরচারী—অন্তরবিহারী সখদুমিত আমার অন্তরে, তােমার বিহারের পূর্ণলীলাভূমি পূণ্য নিকেতন করিয়াছ। কিন্তু আমি—সমস্ত ত্ৰিভূবন ঘুরিয়াও, তােমার ওঁ এবাহেগুরু নাম সত্য নানারূপেনালীলা-দর্শনেও কোথাও তৃপ্তি না পাইয়া, আবার অন্তরে অন্তরস্থ-তােমার লীলাদর্শনে, অন্তঃতৃপ্তিতে-স্থির হইয়া থাকি। আমার অন্তরের একমাত্র দেবতা! তােমার ইচ্ছারূপিনী আমি আমাকে নিবৃত্তি কর। আমার-যথেচ্ছাগামী সেচ্ছাচারী মনকে, অন্তরে অন্তরগামী তুমি—তােমাতেই সংযুক্ত কর। সাধনার আরাধিত-ধন! অন্তরে থাক। কিন্তু মায়ায় ভুলাইয়া আমায় অন্তরে অন্তরে-করিতেছ কেন ? এ যে বড় দূরত্ব-বড়--ব্যবধান এ মায়া ব্যবধান মায়া-দুরত্ব দুর কর—আমি তন্ময় হইয়া তােমাকেই সৰ্বমুর্তিতে, অন্তর দেবতারূপে দর্শন করি। আমার চিত্তবৃত্তি সকল অন্তরস্থ তােমাতেই নিয়ােতি কর। হে দেব-তুমি অন্তরে অন্তরে থাকিলেও, যদি কেহ তােমায় ডাকার মত ডাকে, কাদার মত কাঁদে, তুমি তৎক্ষণাৎ তাহার অন্তরে পূর্ণ প্রকাশ হইয়া অভয় দাও। তােমার লীলা তােমার দান সমস্তই অন্তরের অন্তরে, অতি গােপনভাবে। হে নাথ! আমিই যখন তােমার অন্তরের তখন এত অন্তরে অন্তরে কেন প্রভু। আমার অন্ধ আঁখির আবরণ দূর কর। আমি অন্তরে তােমার পূর্ব- সৎ”—মূর্তির দর্শনে, মায়া মিথ্যা কবল হইতে পরিত্রাণে,-তােমার নিকটস্থ হইয়া এ মায়া ব্যবধান দূর করি। বড় জ্বালা প্রভু! এ জালা সেই জানে যে তােমার অন্তরস্থ। ওগাে। নিকট বন্ধু। আর কেন? সদয় হও। এবার সৎ বা সত্যক্ষণী তােমারি সহায়ে ; আমায় অন্তসমাধি প্রাপ্ত করাইয়া নিকটস্থ কর। আর অন্তরে অন্তরে দুরে-দূরে থাকিও না।

ওঁ শ্রীবাহেরু নাম সুতা
কীৰ্ত্তন
প্রেমময় হে
করুণা করিয়া প্রেমভিক্ষা দিয়া,
চিরসাথী কর মােরে।
তুমি প্রেমের মহাজন প্রেমিক সুজন,
প্রেমের মহাদানী হে।
তুমি প্রেমের রাখাল প্রেমের কাঙ্গাল,
প্রেমের মহারাজন হে।
তুমি প্রেমের সায়র প্রেমের নাবিক,
প্রেমের মহান তরী হে।
তুমি প্রেমের যােদ্ধা প্রেমের সৈন্য,
প্রেমের মহান রথী হে।
তুমি প্রেমের ভূপ প্রেমের স্বরূপ,
প্রেমের মহামুরতি হে।
তুমি প্রেমের আরতি প্রেমের বিরতি,
প্রেমের মহান রতি হে।
তুমি প্রেমের আকৃতি প্রেমেতে প্রকৃতি,
প্রেমেই তােমার লীলা হে।

১৪
ও এবাহেগুরু নাম সত্য
তুমি প্রেমের ছাত্র প্রেমের পণ্ডিত,
প্রেমের মহান জ্ঞানী হে।
তুমি প্রেমের আকর রত্নগুণাকর,
প্রেমের মহান খনি হে।
তুমি প্রেমের ভিখারী প্রেমেই সাকারী,
প্রেমেই বাধা চিরদিন হে,।
তুমি প্রেমের বিজয়ী প্রেমেই পরাজয়ী,
প্রেমেই ভক্ত চরণধারী হে,।
আমি কোন প্রেমেতে বাঁধব তােমায়,
ভূবন বাঁধা তােমার প্রেমে হে।

ও প্রবাহেগুৰুনাম সত্য
বাদশারী—ওঁ শ্ৰীজপমালা
১। ও এবাহেগুরু হরিনাম সত্য।
২। ত্রিদিব দুর্লভ বাহেগুরু হরিনাম।
৩। মর জগতে অমর বাহহগুরু হরিনাম।
৪। সাধনার মহাসিদ্ধি বাহেগুরুহরিনাম।
জলন্ত পাবক সম দীপ্তিশালী বাহেগুরু হরিনাম।
প্রাণ কাদান মন মাতান, পাষাণ গলান বাহেরু
হরিনাম।
৭। সংসার মরুতে বাহেগুরুহরিনাম অমৃত বারি।
ও শ্রীবাহেগুরুহরিনাম সজীব মহামন্ত্র জীবের
অন্তরে অনুভূতির পূর্ণ বিকাশ করে।
ও শ্রীবাহেগুক হরিনাম মহাপাপ সর্বজীবে
ছায়াদাতা।
ও শ্রীবাহেরুহরিনাম মহাশক্তিময়
শান্তির আধার।
সৎ চিৎ আনন্দ একই ব্ৰহ্ম চিৎ চি চেতন একই চৈতন্য
বাহেগুরু হরিনাম চৈতন্যরূপী
সচ্চিদানন্দময় পরম ব্ৰহ্ম।
১২। প্রপঞ্চ পঞ্চশায়কে বাহেরু হরিনাম শ্রেষ্ঠ।
১১।

ওঁ শ্রীবাহে নাম সত্য
শেষ মিনতি
শুন ওগগা ত্রিলােকবাসী বলি যুকরে,
পায়ে ধরে কেঁদে কেঁদে বিনয় সকাতরে।
যাত্রার শেষ অঙ্কে পাগলীর নাটলে,
সমস্বরে বাহেগুরু রাম, বােল সকলে।
নাম সুধা কর্ণমূলে দিওগাে ! সবে ঢালি,
আঁখি তারা-নিভবে তখন ও হরি-বলি।
হরিনামে খুলবে বাঁধন মায়া আবরি,
শমন যাবে দূরে সরি আসবে মুরারি।
হরি নাম সার করেছি হরি নাম স্মরি,
মায়াভূমি ত্যজি যাব বলি জয় শ্রীহরি
প্রথম খণ্ড সমাপ্ত
শান্তি

৩
শ্রীবাহেগুরু অঞ্জলি
দ্বিতীয় খণ্ড
কীৰ্ত্তন লহনী

No text on this page.

ওঁ জবাহেরু অঞ্জলি
আবাহন
সুর কীর্তন
রূপে আলাে করে খুন,
ভূবন মােহন কে এলরে।
চম্পক বরণ নলিন নয়ন,
কমল চরণে তুলসীদল রাজেরে।
ঐ চরণ সুধা পান করিয়ে,
ভােলা পাগল হয়েছেরে!
রাজীব লােচন সুধাংশু বদন,
শরে কিরিট ভূষণরে।
মুখ শশাভিত চাচর কেশজালে,
কিবা মন মুগধ শােভারে।
যেন বলদ হৃদে ধরেছে,
শরদিন্দুর পূর্ণ চাদেরে।
কটিতে-কিকিনি করে কিনি-কিনিধ্বনি,
যেন কারে বা ডাকেরে।

ও বাহে নাম সত্য
পাগল করা রূপ তাহার,
পরাণ ভুলাণ আঁখিরে।
পীতবাসে তনুখানিজড়িত যেন চম্পক জানে,
কান দাম আবয়ি মিশেছে রে।
কিবা মৃগ চন্দন তিলক ভালে,
শ্রবণে মণি কুগুল দোলে।
গলে বনফুলে তুলসী দলে,
মালা রচিয়া কে দিল রে।
কিবা সে রূপের উজল শােভা,
ত্রিলােক মােহন-মনলাের।
হেরিয়ে সেরূপে চিত্ত-বাসনা বিরূপ,
সকাম-নিষ্কাম-হয়েছেন।

ও হেগুৰুনাম সত্য ১) কেরেদয় মন্দিরে কেরে হৃদয় মন্দিরে-কেরে আমার হৃদয় মন্দিরে আলাে করে দশদিশি কেরে হৃদয় পরে - কি তার মােহন মুরতি শােভা যােগীজন মনলােভ- তাই মধুকর হয়ে তারা চরণ-সরােজে গুরে কেরে হৃদয় মন্দিরে, কিবা বদন সুন্দর জিনি শশধর কোটী চাদের উদয় রে,, (তাই) কলঙ্কি চাঁদ কেঁদে মরে (ঐ) পূর্ণ চাদের পায়ে ধরে, কেরে হৃদয় মন্দিরে, কিবা অলকা তিলকা ভালে গলে বনমালা ঢালে কিবা এবণে কুণ্ডল করে ঝলমল রকিরুি, শিরে. কেরে হৃদয় নিয়ে ওঁ শ্ৰবাহেরু নাম সত্য কি চম্পকরণ অঙ্গ গতি দশন মুকুতা পাতি কিবা অমিয়া জিনিয়া হাঁসি সুধা ক্ষরে অধরে- কেরে হৃদয়মন্দিরে কিবা বঙ্কিম নলিন নয়ন টানে টেনেছে মােরে প্রাণে প্রাণে, সকলি হরিয়া করেছে কাঙ্গল : এমনি দয়াল রে, কেরে হৃদয় মন্দিরে, যে হেরেছে সে মােহন রূপে সেই ভুলেছে নিজ স্বরূপ তাই মদন মােহিত হল- হেরে ঐ মদন মুরারে

ওঁ শ্ৰবাহেগুরু নাম সত্য
১০
সুির বলি অভিমানে-
এত নিঠুর হরি কে আছে আর তােমা বিনে
কাদান স্বভাব তােমার গেলনাত জীবনে
কঁদিয়েছিলে মা যশােদায় কঁদিয়েছিলে গােপবালায়
কঁদিয়েছিলে শ্রীরাধিকায় বৃন্দাবনের বনে বনে
কঁদিয়েছিলে বৃন্দায় কঁদিয়েছিলে শ্ৰদাম সখায়,
কেঁদেছিল ধ্রুব প্রহ্লাদ হরিবােলে আকুল প্রাণে।
কেঁদেছিল রাণী মীরা, কেঁদেছিল নদের গােরা
তারা কেঁদে কেঁদে পাগল হল, হরি হরি নামের গুণে
কঁদেন দেখ নারদমুনি বীণা করে হরি-হরি-ধ্বনি
হরিনামে বিভােল ভােলা-কঁদেন বসে শশ্মানে
যে ডাকে তােমায় হরি বলে ভাসাও তারে চোখের-জলে
সারাজীবন কাদলে পরে বাজে তবে তােমার প্রাণে
কেঁদে কেঁদে জনম গেল বলি শুন হে দয়াল
স্থান দাও চরণে মােরে নিঠুর বলি অভিমানে।

ও প্রবাহে নাৰ সত্য,
হৰিনাম সার করেছি
জয় হরি হরি হরি নাম বল বদনে
হরি নামে নদীর উজান ফিরে শুষ্ক তরু মুখরে
হরি নামে পাষাণ গলে মৃত বাঁচে প্রাণে
হরি নাম বল কানে
কাজ কি তাের ভজন পূজনকাজ কি সাধনে?
কাজ কি তাের বেদ বেদান্তে কাজ কি তাের জ্ঞানে
হরি নাম বল যনে
কাজ কি তাের যােগযাগে কাজ কি তাের ধ্যানে
কাজ কি তাের উপনিষদ কাজ কি দর্শনে
হরি নাম যা বনে
কাজ কি তাের পাতলে-কাজ কি তাের সনে
কাজ কি তাের ক্ষতি স্মৃতি কাজ কি বিজ্ঞানে
হরি নাম বল বনে
কাজ কি তাের ন্যায়নীতি-কাজ কি তাের-মান
কাজ কি তাের-অহমিকায়-কাজ কি-শাসনে
হরি নাম ৰা ৰনে

ও এবাহেরুনাম সত্য
কাজ কি তাের—ব্ৰত জপে কাজ কি তাের দানে
সকল সারের সার হরিনাম লও প্রতিক্ষণে
হরি নাম বল দিনে
হরিনামের কি মহিমা বল কেবা জানে
জানেন শুধু পাগল ভােলা তাই কাঁদেন শশ্মানে
হরি নাম বল বদনে
হরিনাম শিরেধরি’ হরিনামের ভূষণ পরি’
(আমি) সার করেছি সার হরিনাম—ভয় করিনা শমনে
হরি নাম ৰল ৰদনে

ও অবাহেরুনাম সত্য
কৱনা বা
হরি হে-
(আমি) অকৃতি অধম বলে করনা বঞ্চনা
অনন্ত অসীম তুমি
মায়মুগ্ধ জীব আমি
কেমন করে জানব তােমায়
তুমিই তােমার তুলনা
আছি ভবের কারাগারে
ছয় প্রহরী তাড়ন করে
মায়ার শিকল গলায় পরে
( আমি পাই কত যাতনা
দয়াময় দয়া কর নাইক
আমার সাধনা-
তােমার রাঙ্গা চরণ বিনে
আরত কিছু জানিনা
(আর) তােমার মায়ায় ভুলিয়ে আমায়
চরণে ঠেলনা-ঠেলনা
প্রভু করনা বঞ্চনা

ও এবাহেগুরু নাম সত্য তুহু ভরসা পিল্লার ময়কো তুহু ভরসা হামার দিলমে-ছুঁড়কে ময়লা নেহি হায় খােলসা হারি-চরণ-হামারি-শরণ মেরি সবকে। উঁহ-আশা- - জগর উঁহু-হামারা তুহু বনয়ারী- উঁহ হে মুরারি তুহু-খালিয়া উঁহু-ব্ৰজরা - উঁহু নারায়ণ তুহু - মধুসূদন হামারি --শরণ- চরণ-তুহারা- এবাহেও নাম সত্য সকলি হরিয়া হরিনাম লয়ে - त्रि সকুন্তি হরিয়া লইয়ে মাের হরি নামটা লয়েছ- বঙ্কিম নয়নে চোকেরি টানে ও পরাণ কঁাদাতে শিখেছ পাগল করা মধুর হাসি কাসীর রাশে বেঁধেছ ভূবন ভুলান মােহন মুরতি হিয়ায় হিয়ায় এঁকেছ- (ক) সাধন-ধন-কমল-চরণ হৃদয় মাঝে রেখেছ- (শামার সারাটা তনুতে জলন্তু আঁকরে হরি হরি নাম লিখেছ

এবাহে নাম সত্য
হৰি বতল ভবপারে চল
হরি বল, হরি বােলে-
ভবপারে চ
হরি-চরণ কর তরী
হলি হবেন ৩ারী
ভক্তির পাল গেল তাতে,
প্রেমের হালটী ধর
বিশ্বাস বা ছুটবে তরী
নাম কর সখ
শশীল ঢেউ কেটে যাবে
পাবে মােফল
মায়ার তুফান যতই উঠুক
হও নির্ভর---
হরি হরি হরি তানে-
উজান-বেয়ে চল

লবাহেরু নাম সত্য
নবীন-মানুষ
এসেছে নবীন মানুষ
তাের দেখবি যদি আয়
নিগুণ ঐ পরম পুরুষ
শ্বত রজঃ তম ময়-
তার মায়া ঢাকা সকল অঙ্গে
জ্যোতি খেলে নানারঙ্গে
লাল নীল সবুজ সাদা
কত রংয়ের বিকাশ হয়
চোকে বেঁধে মায়ার ফুলি
কেন আছ আপন ভুলি
ভাল করে দেখবে চেয়ে
গােলকের চঁাদ নেমেছে ধরায়
(ও) সে মনের কথা জানতে পারে
লুকান কিছু যায়না তারে
(ওগাে) মায়ার সাথে সদাই মাতে
তারে চেনা
মু

ও প্রবাহেগুরু নাম সত্য
১১১
.
তারে দেখার মত দেখলে পরে
কাম যায় দূরে সরে
আমার ঐ চরণে রতি থাকে
শুধু কাম যে পালায়-
।
ও) সে মুখে বলে বাহে গুরু-
স্বয়ং ভক্ত কল্পতরু
আমি চরণ পেয়েও চিনতে নারি-
তাই কেঁদে মরি হায়
তােরা দেখবি যদি আয়

ওবাহে না সত্য
আরাধনা
নয়ন জলে মালাটী গাঁথিয়ে
সাজাইৰ হরি তােমায়
সােনার কমল নাই যে আমার
মন-কমল দিব রাঙ্গা পায়
প্রেম-ভক্তি দুটী ফুলে
পূজিব চরণ কুতূহলে-
অনুরাগের চন্দন লইয়ে-
মাখাইব সকল গায়
হৃদয় মন্দিরে পাতিয়া আসন
বসাইৰ সাদরে করিয়ে যতন
পুলক সমর আবেগে দুলায়ে
পরাণ ভরে হেরব তােমায়
মুখে বলিব হরি হরি
পড়বে ঋরে প্রেমবারি
আমার -. আমি তােমার হবে
জুড়াইৰ মায়ারি জালায়

ও প্রবাহেগুরু নাম সত্য
১১৩
ক্ষ্যাপামন হরি বলনা
ওরে আমার পাগল মন
একবার হরি বলনা
পরাণ ভরে হরিনাম বলনা
একবার হরি বলনা
আশীলক্ষ জনম ঘুরে
সাধের মানব জনম পেয়েছরে
এমন সােনার জনম-ওরে ও মন
(তুমি) মাটীর দরে বেচোনা
হরি নামে আছে কত মাধুরি
পান কররে পরাণ ভরি
হরি নাম সুধা পান করিলে
ভবের ক্ষুধা রবে না
তােরে ক্ষ্যাপা বলবে বলুক লােকে
তাতে তুমি ভয় করনা
শুধু নামের গুণে তরে যাবে
ঘুচে যাবে আনাগােনা

ও শ্রীবাহহগুরু নাম সত্য
মা-আমায় পাগল কর
পাগল করে দেমা আমায়
আমার পাগল হতে বড় সাধ হয়েচে
কে জানে মা পাগলের তত্ত্ব
পাগল জানে শুধু ঐ পাগলা তত্ত্ব
হরি নামে পাগল উদাসী
আমি পাগল বড় ভালবাসি
পাগল হলেই পাগল পাব
ত্রিতাপ জ্বালা মা-জুড়িয়ে যাব
ও সে নিজের ভাবে নিজেই পাগল ।
স্বত্ত: রজ তম ময়
মা-পাগল না হলে পাগলত কেউ পায় না
ভবের আনাগোনা তার ঘুচেনা ঘুচেনা
পাগল পেতে হলে যেতে হবে সকল ভুলে-
সচ্চিদানন্দময় পাগল পেলে
মাগাে দুঃখ আর রবেনা রবেনা
তাই বলি ও ইচ্ছাময়ী
এবার পাগল মােরে করনা

ও বাহে নাম সত্য
তােমার অন্ত পাওয়া ভার
ঠাকুর
তােমার অন্ত পাওয়া ভার
তুমি কারেও হাঁসাও-কারে দাও
কারেও ভাসাও আর
তােমার অন্ত পাওয়া ভান্
গুণের তুমি গুণমণি-
আমি বলব কিবা আর
তােমার অন্ত পাওয়া ভার।
রূপের তােমার নাই উপমা
তুমি সকল রূপের সার
তােমার অন্ত পাওয়া ভান্
আবার প্রেমের দায়ে গােপী-চরণ
ধরলে বারে-বার
তােমার অন্ত পাওয়া ভার
তাই হরি হয়ে বল হরি-
একি লীলা-বুঝতে নারি আর
তােমার অন্ত পাওয়া গৰ

১১
ও শ্রবাহেগুর নাম সত্য
অভাগা কপাল
বঁধুরে
পিরিতি তুহারি কিসে আর
আমি রাখি ব
তাের পিরিতি লাগিয়ে-হয়েছে আমার
আঁখি ধারার সম্বল
পাইব বলিয়ে পরম বিরতি
তাইতে করিলাম পিরিতি আর
একুল ওকুল দুকুল হারালাম
শুধুই লভিলাম গঞ্জনা সার
হল সাধের সংসার সাধন
পাল পাণ চিত্ত-বিকার
তাের পিরিতি তােরে জনম কঁদিমু-
অভাগা কাঙ্গাল কপাল আমার

ও এবাহেরু নাম.সত্য
হরি নাম কর সাধনা
তােমরা হরিবােল, হরিবােল, হরিবােল বলনা
হরি নামে জ্বালা যাবে-যাবে সকল বেদনা
প্রাণের আগুণ নিভে যাবে-মিটে যাবে কামনা
হরি নামে সবই পাবে—ঘুচে যাবে আনাগােনা
নাম ব্ৰহ্ম নাম সত্য নামই কর সাধনা
একবার হরিবােল বলনা
হরি বলে হরি বলে হরি বলে
হৃদয় বীণে বাজরে বাজরে বাজ
হরি নামে হরি নামে হরি নামে
উজান বয়ে যাগরে—যাগরে যাগ
হরি রূপে হরি রূপে হরি রূপে
নয়নভরে থারে-থাকয়ে থাক
হরি গানে-হরি তানে : হরি ধ্যানে-
ঘুচে যাবে রাশি রাশি পাপ

ও প্রবাহেরু নাম সত্য
হরি পিয়ারে
ভরসা ম্যায় হরি পিয়ান্ে
হরি ম্যায় সাধনা
পিয়ারে পিয়ারী হরি
ম্যায় দিলম্ েআস্তানা
হরি যিশকে শিরমে তাজ,
হরি যিশকে দেহেমে সাজ,
হরি যিশূকে পিয়াৰুে রহেছে
কোন কাসে আউর ভজনা
কিতাব কি কোন্ কাম হ্যায়
কোন কামসে বাত বলেন।
কোন কাসে সম্পদ দারী
হরিযশকো ভূষণ
ম্যায় বিচমে হরি দেখনে ভারী
কতে হেঁ খবরদারী
( আউর) হরি নামসে সরম নেহিনি
সুরাতি দুমু নয়

ও শ্রীরাহেরু নাম সত্য তােমারি লাগিয়ে হয়েছি কাঙ্গা তােমারি লাগিয়ে ভুলেছি সকল বরিয়া নিয়াছি যতেক দুখ, তােমারি লাগিয়ে এত আঁখিজল- তােমারি লাগিয়ে বেঁধেছি বুৰু তােমারি নাম হরি হর শ্যাম সে নামে মাের বাসনা বিরূপ তােমারি চরণ হৃদে অনুক্ষণ- হিয়ার মাঝে তুমি হে ভুপ, তােমারি চরণে আমারে সপেছি করুণা দানে হওনা বিমুখ তামারি লাগিয়ে হয়েছি কাঙ্গাল বারেক তুলিয়ে চাহগাে মুখ

ওঁ শ্রীবাহেগুরু নাম সত্য
দয়াল আর বলব না
নিঠুর হরি বলব তােমায়
দয়াল ত আর বলব না
কেঁদে কেঁদে মরি আমি
তােমার প্রাণে কি বাজে না
দিনে দিনে দিন যে গেল
দীন বন্ধু দেখা দিলে না
কাঙ্গাল বলে এতই হেলা
কাঙ্গালের ঠাকুর হলে না
হিয়ার আগুণ জ্বলে যত
আঁখি ঝুরে অবিরত
প্রাণ সখা দাও হে দেখা
আর আমারে কাদাও না

ও শ্রীবাহেরু নাম সত্য
১৪১
এস আমার প্রান্ত্রে হরি
এস আমার প্রাণের হরি
রাঙ্গা পায়ে নুপুর পরি
রুনু ঝুনু ঝুনু বাজবে নুপুর
উঠবে প্রেমের লহরী
হরি বােলে নাচব মােরা
করে দিয়ে করতালি
(মােরা) হরি হরি হরি বলে
পূজবাে তােমায় বনমালী
হরি নামে বইবে উজান্
হরি নামে ধরবাে তান্
(মােদর হৃদয় কুসুম সতনে
চরণে দিব অঞ্জলি
নেচে নেচে এস তুমি
নয়ন ভরে হেরুবাে আৰি
- মােহনরূপে প্রাণ জুড়াবে
পড়বে ঝরে আঁখিবারি
আকাশ বাতাস ছেয়ে যাবে
হরি নাম গাইৰ সবে
সামার মাঝে অসীম হয়ে
বাজবে সুর হরি হরি

ওঁ শ্রীবাহগুরু নাম সত্য
বাণী কে বাজায়?
পরাণ, কঁাদায়ে বাঁশী কে বাজায় ?
বাঁশীর সুরে উদাস করে
সকল করম ভুলায়ে দেয়
বাঁশীত বাজেনা বনে
বাঁশী বাজে প্রাণে প্রাণে
প্রাণের ভাষা প্রাণই বুঝে
প্রাণে প্রাণে কথা হয়
প্রাণের আগুন জ্বলে যত্ন
বাঁশী বাজে অবিরত
তার নীরব-ভাষায় গােপন ব্যাথা
ঐ বাঁশীর সুরেই প্রকাশ পায়
(তাই)
কি সুরে বাজে কি সুরে বাজে
হরি হে-তােমার মােহন বাণী
সে সুর গিয়া যে পাগল প্রাণে
করেছে মােরে উদাসী
সে সুরের লাগিয়ে সকল ভূলিয়ে
আঁখি ঝরে দিবানিশি

ও ক্রহের নাম সত্য তোমায় কে জানে? - - কেমন তুমি—তােমায় কে জানে ? জানে শুধু সে তােমারে- যারে টান প্রাণে-প্রাণে (তুমি) টানার মত টান যারে - ঘরে সে রইতে নারে সকল ভুলে আসে ছুটে ভুলে যায় কুল-মানে তােমার টান এমি ধারা- বিভােল করে পাগল পারা সে যে আছে কি নাই আর- তাও ভূলে মনে জ্ঞানে- তােমায় হরি জেনেছে যে সারা জনম কেঁদেছে সে- কান্নাব্রত সার করে তাই- উদাস হয় জীবনে- তােমায় ভক্ত পায় বঁধুরূপে (আর) যােগী পায় হৃদয়কোলে

ও এবাহেগুরু নাম সত্য
তুহু ভরসা ভারী
পিয়ারে
তুহু মেরি ভরসা ভারী
খবর লেতে হে
হর ঘড়ি ঘড়ি ঘড়ি
হারি সুতিয়া-হামারা দিনে
চমকে চম-দারী
তু হারি—পিয়ারে
নিদ না আরে
( মেরি ) ঝুরাতি নয়না বারি

ও শ্রবাহে নাম সত্য
দেখাত দিলেন
হরি কোথা আছ তুমি জানিনা
কেঁদে কেঁদে মরি আমি, তােমার প্রাণে কি বাজেনা
অনাথ কাঙ্গাল আমি
দয়ার আধার তুমি
কেন তবে পাষাণ এত
দেখা দিয়ে বলনা
করজোড়ি করি নতি
(আমায় দেখা দাও বিশ্বপতি
প্রাণের জ্বালা ঘুচাও মাের—
(হরি) নামে কলঙ্ক দিও না
হরি
দেখাত দিলেনা সদয় হলে না গেলনা প্রাণের বেদনা
কে তােমায় দয়াল বলে বুঝিতে পারি না
তােমারি বিরহের আগুন কে নিভাবে বলনা
কাতর-প্রাণে ডাকি তােমায় একবার দেখা দাও
সখা করনা ছলনা ।

এবাহে ম সত্য
কানাইয়া বশী
যমুনা কিনারে বন্দী বাজাত, কানাইয়া
মৃদুলি, মৃদুলি, বহাতি বাওয়া
আও মেরি রাধা পিয়ারিয়া
আওত ললিতা আওত বুন্দা
আওত বিশাখা আওত চন্দ্র
আও~ মেরি - সকো পিয়ারী
বােলাহি তােরি বঁধুয়া
বাজাওত করতাল নাচাওত ব্রজলাল
ওহি গীতােয়ামে জগত বিভােলা
দোলত দোস্ত দিলমে দোত
মেরি রাজ দুলালি নন্দ কিশােরা

ও প্রবাহের নাম সত্য
বশী ছােড় দেও
গােড়ে তােরি লাগি কানাইয়া
ছােড়দে বনশী ছােড়দে বনশী
ক্যায়সে রহেঙ্গে মেরি সরমিয়া—
তুহু বশী ফুকারে ফুকারে
বােলাহি মেরে
ননদিয়া ডরুকে মারে
নেহি আঁতে হ
(মেরি) দিলমে নিক না আওয়ে
আঁখিয়ামে বহাতি লহুয়া

ওঁ শ্ৰবাহেরু নাম সত্য
হরিনাম সম্বল
হরি বােলহরি বােলহরি বােল বােল
হরিনাম বিনে আমার কিছু নাই সম্বল
সুধামাখা হরিনাম বরে জীব অবিরাম
বিষয়ে মজনা নাম ভুলনা
সাধিয়ে পরনা মায়ারি শিকল
দুরন্ত ঐ কৃতান্ত নিকটে নিতান্ত
ভুলেছ তাহারে-আছ মারার ঘােরে
অমৃত বলিয়ে পান করিছ গরল।
(ওরে) স্বরূপহার জীব শুধু হরিবােল
হরি বােল বােল হরি বােল হরি নামটী বড় ভালবাসি
হরি নামে আমার হৃদয় বীনে বাজছে দেখ দিবানিশি
হরিনামে পাগল ভােলা সকল ত্যজে সন্ন্যাসী
হরিনামে নারদ মুনি হয়ে আছেন উদাসী
হরিনামের সুধা পিয়ে মাতাল দৈখ, বিশ্ববাসী
হরি বােলে কাদলে পরে
ঘুচে
আমার তমােরাশি

ক্রবাহেগুরু নাম সত্য
হরি হরি-দুখহারী
হরি যােগেশ্বর, জ্যোর্মিয়,
যােগীজন-হৃদয় বিহারী।
সচ্চিদানন্দ ব্ৰহ্ম-সনাতন,
সত্য-স্বরূপ পাপ-নিবারী।
শান্তি আলয় মহিমা ধার,
পতিত পাবন ভবভয়-হারী।
কামদহন কলুষ নাশন,
কলঙ্কভঞ্জন-মদন মুরাল্পী।
বিশ্বরূপ বিশ্ববন্দন দেব,
বিশ্বব্যাপী ওঁকার সর্বাধারী।
দীনবন্ধু করুণাময়,
অনাথ নাথ রানারি।
ভক্ত প্রাণ রমন চিতরঞ্জন,
সর্বদায়ক—অন্তরারী।

ও এবাহেরু নাম সত
প্রভাতী
নিশি পােহাইল উষা আসিল,
মন পাখী ডাকলে,
পঞ্চম সুরে বাহেগুরু-বােলরে।
আর কত দিন মায়া নীড়ে,
ভবভালে-ঘুমাইবে রে।
ও ভাের ঘুম না ভাঙ্গিতে,
আঁখি না মিলিতে,
আধুবৃক্ষ করে ছেদন রে,
শমন কাঠুরে।
মােহাের ঘুম ছাড়িয়ে ভাই,
জাগিয়ে হরিনাম গাওরে।

ও এবাহেরু নাম সত্য
প্রভাতী
বাহেরু বাহেগুরু বাহেগুরু বােলে
জাগরে জাগরে জাগরে,
সুধামাখা হরি-হরি হরি হরি বদলে।
তােমার পাপনিশা পােহায়েছে,
নাম রবি উদিয়াছে।
দেখনা-দেখনা আঁখি দুটী মেলে।
জাগরে জাগরে জাগৰে,
আর কত সুখে নিদ্রা যাও হে,
মায়া বিছানা কেলে।
মােহের ঘুম কি আর,
ভালবে না হে,
দেখ শমন দাঁড়ায়ে শিয়রে,
জাগরে জাগরে জাগরে,
বাহেগুরু বাহেথুরু বাহেগুরু বােলে।

ও প্রবাহে নাম সত্য
কানাইয়া দিল কোই না পারে।
ঝটাতি কিশােরী তু আওয়া,
অপরা বঁধুয়া গলে মে,
তুহারি বিনােদিয়া কালা
হারি ভাল মে নেহি পিয়ারে,
আশরা নেহিনেহি কুছ ভালা।
চুপ রহ নেহি রােত্তালী পিয়ারী,
কানাইয়া ঐ সাহু ধরম বালে,
( আউর) ঐ সাহু করম আলা।
হারি কানাইয়া দিল,
কোই নেহি পারে।
তুই ক্যায়সে জানেঙ্গি বালা,
রাতিয়া দিনামে হারি,
আঁখিয়া বহাতি,
হামারি এহি বড়ি জ্বালা।

ওঁ শ্ৰবাহেগুরু নাম সত্য
তােমায় কোনরূপে হেরিব।
আমায় বল, বল,
আমি কোনরূপে হেরব তােমায় হরি
সকলে তােমায় হেরি যেরূপে নেহারি,
গােলকেতে তুমি বিষ্ণু গােলক বিহারী,
হরিরূপে হর তুমি বাহেগুরু মানব সাকারী।
ব্ৰহ্মারূপে তুমি হও নিখিল সৃজনকারী,
রুদ্ররূপে তুমিই আবার ত্রিলােক সংহারী।
বিষ্ণুরূপে তুমি দেব মুকুন্দ-মুরারি,
রামরূপে তুমি আবার ধনুর্বাণ ধারী।
পতিত পাবন তুমি পাষাণ উদ্ধার
ভক্ত সীতায় উদ্ধারী হলে রাবণ সংহারী।
কৃষ্ণরূপে তুমি বাঁকা মােহন বংশীধারী,
গােকুলের গােপী কাদাও বাজিয়ে বাঁশরী ।
অনাথ নাথ তুমি দীনবন্ধু শ্রীহরি,
আবার শ্যামারূপে তম নাশ হয়ে দিগম্বরী।
তুমি পুরুষ, কি প্রকৃতি, স্বরূপ হও হে,
এ লীলা আমি বুঝিতে যে না পারি।
তুমিই জান স্বরূপ রূপ তােমারি,
কিরূপ সেরূপ, ওহে বিশ্বরূপ ধারী।
ভূধরে, প্রস্তরে, অনলে, অনিলে,
ওঁ কার রূপেতে তুমি আছ হে ওঁকারী।
(এবার) বঁধুরূপে আমায় হৃদয়ে বস শ্রীপতি,
ভক্ত হৃদয় রাসমঞ্চ বিহারী।

১
ও শ্রীবাহেরু নাম সত্য
তােমায় ভুলিব না।
আমি তােমার রাঙ্গাচরণ দুটী,
ছাড়ব না।
বলে বলবে লােকে মন্দ কারু কথা,
নব না ।
কত লােকে কত বলে কত ছলে,
ও.কৌশলে,
কত দেয়গাে প্রাণে দাগা মরমে মরেও,
দেয়গাে
কাদব না।
দুঃখের বােঝা আসবে যত হাসি মুখে,
বইব তত।
বুক ফাটিলে পরাণ গেলেও তবু তােমায়,
ভুলব না।

ওঁ শ্রীরাহেরু নাম সত্য
মালা গাথা
হরি হে,
আমার সাধের মালাটী গেঁথেছি,
তােমার রাঙ্গাচরণ বাঁধব বলে,
মালাটা আমার গেঁথেছি।
ভক্তি, প্রীতি, প্রেম দিয়ে,
মন-মালা গেঁথেছি,
তােমার রাতুল চরণ বাঁধব বলে,
মালাটী আমার গেঁথেছি।
লেকের জলে জনম তাের,
মরম-মালা গেঁথেছি,
তােমার যুগল চরণ বাঁধব বলে,
মালাটী আমার গেথেছি।
হৃদয় সূত্র দিয়ে সখা,
নামের মালা গেঁথেছি,
তােমার চরণ কমল বাঁধব বলে,
মালাটী আমার গেথেছি।
আমার অহং মালা ঐ চরণ তলে,
আমার আমি তরে গেছি।

ও শ্ৰবাহেগুরু নাম সত্য
মানব শ্রীহরি।
কলিযুগেতে জীব তারিতে,
আসিল ঐ শ্রীহরি
গােলক ত্যাজিয়ে আপনা বিলায়ে,
এসেছে গােলক বিহারী।
মায়ার মানব সাজিয়ে হরষে,
মানবের বেশ মানব সকাশে,
মানব আকৃতি মানব প্রকৃতি,
তনুতে মায়ার আবরি,
মানব রীতি মানব নীতি,
মানব লীলা মানব গীতি,
মানবের দেশে মানব পরশে,
স্বরূপ লুকায়ে মানব শ্রীহরি।
তাই ধরা দেয় দেয় দেয়,
(কারেও) ওগাে ধরা নাহি দেয়
ধরিয়া রাখিতে পারে সে তারে,
যেবা বলে হরি হর হরি।
ওঁ শ্ৰবাহেগুৰু নামা ধরি,
হরি হয়ে বলে
গরে পড়ে প্রেমবারি,
আমরি শরিরে মরি।
বলে হরি,

ও বাহে নাম সত্য
জীবের দুঃখেতে হইয়ে কাতর,
এসেছেন তাই দেৰ বির।
চরণ ছেড়না মায়ায় মজনা,
হেলায় হারানা হরিহর
রূপধারী।

নিষ্কাম সাধনা।
ভালবাসিবে মােরে তাইত ভালবাসিনা,
আমার হৃদয়ে শুধু তােমাময় ভাবনা।
তােমারেই ভালবেসে ঘুচে যায় যাতনা,
তােমারেই ভালবেসে মিটে যায় কামনা।
প্রেমের অমিয়া নীরে শান্তির লহরী তালে,
সুধা নিঝরিণীর ঝ ঝরে ঝরণা।
নাম-অমৃত পানে-মৃত্যুঞ্জয়ী শক্তিবলে,
তােমারি মূর্তিরূপী সৎ চিদানন্দ ধারণা।
নন্দন সুষমা তায়—পুষ্প সুরভি বায়,
কামের পঙ্কিলরাশি—পরশ যে করেনা।
সত্যের পবিত্রধারে সাধনের শিয়রে,
দেবতা দুর্লভ “ধন” ভালবাসা স্থাপনা।
কত পুণ্য দীপ্তিতে কত জ্যোতির রাশিতে,
কতই গৌরব ঝলকে—উজলিয়া জ্বলে।
জ্বলন্ত আঁকে লেখা ত্যাগ শ্রেষ্ঠ সংযমনা,
তােমারে ভালবাসা মাের নিষ্কাম সাধনা।
দ্বিতীয় খণ্ড সমাপ্ত।
ওঁ শাস্তি

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Shri Baheguru Anjali Ed. 1st Vol. 1

Author
Dina, Balika
Title
Shri Baheguru Anjali Ed. 1st Vol. 1
File name
Shri Baheguru Anjali Ed. 1st Vol. 1
Text
OCR done
Citation
1933
Published
2010/04/12
Publisher
Sri Shibshambhu Ganguli, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
152
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Sandhan
DLI number
511398
Barcode
4990010018548.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
E09htU7gqoZ
Download PDF

Shri Baheguru Anjali Ed. 1st Vol. 1