Belgaria Sudha Smriti Pathagar
Dine Dakati Ed.3
Front matter
দিনে ডাকাতি
suকRিA.
CLUB
'}. .. .. ....
PTAN ria
প্রসির গো
শরচ্চন্দ্র সরকার-সঙ্কলিত।
তৃতীয় সংস্করণ।
কলিকাতা।
২২ নং বলরাম ঘােষের ধ্রুট
“বাণীপুস্তকালয়” হইতে
গ্রীকৃষ্ণ ভট্টাচাৰ্য কর্তৃক
প্রকাশিত।
এমু, ডি, প্রেসে
শ্রীগােপাল চন্দ্র সরকার দ্বারা মুদ্রিত
১২ নং গােপীকৃষ্ণ পালের লেন, কলিকাতা।
সন ১৩১৯ সাল।
*** **
উইল কাল ভল খুন ১ ) শরচ্চন্দ্র সরকার সঙ্কলিত। প্রসিদ্ধ “গােয়েন্দা-কাহিনী পৰ্যায়। সাবাস চুরি • যঘুভাকাত (সচিত্র) ১ • হরতনের নওলা শিবে-ডাকাত ly, সাফাই চুরি le গুমূখুন তীর্থে বিভ্রাট, / এ রমণী কে ? • আ. ওফৰী- 1. বিষম খুব ভীষণ নারীহত্যা • ভীষণ ভ্রাতৃহত্যা মৃত্যু-রঙ্গিনী ১, বাহাদুর চোর রমণী-হৃদয় রহস্য জাল জমিদার তুরে চতুরে চোর ও পুলিশ চোর চক্রবর্তী অদল-বদল বাণীপুস্তকালয়। শ্রীকৃষ্ণ ভট্টাচাৰ্য্য ২২ নং বলরাম থােষের স্ত্রীট, পােঃ বাগবাজার ; ফলিকা। |• ।
BRIPUR. CORONATE ৫WR দিনে-ডাকাrিain. CLUB o... ) Date TAIN. প্রথম পরিচ্ছেদ। গোয়াবাগানে হরিমােহন দত্ত নামে একজন ধনাঢ্য লােক বাস করিতেন। পুত্র কন্যায় ভঁহার প্রায় পাঁচ ছয়টী অপত্য জন্মগ্রহণ করিয়াছিল কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ একটা কন্যা ব্যতীত সকলেই অকালে কালগ্রাসে পতিত হয়। সুতরাং হরিমােহন ৰা, কন্যা মৃন্ময়ীর প্রতি সাতিশয় স্নেহশালী ছিলেন। এক- দণ্ডও তাহাকে চক্ষের অন্তরাল করিতেন না। কাল সহকারে মৃন্ময়ী বয়ঃপ্রাপ্ত হইল। তাহাকে পরের ঘরে পাঠাইয়া হরিমােহন বাবু ও আঁহার পত্নী কি প্রকারে জীবন ধারণ করিবেন তাহাই বিশেষ চিন্তার বিষয় হইয়া উঠিল। যখন মৃন্ময়ীর বয়ঃক্রম একাদশ বর্ষ উত্তীর্ণ প্রায় তখন একদিন হরিমােহন বাবুর পঙ্গী তাঁহাকে কহিলেন,-“আর কত দিন মেয়ের মায়ায় আবদ্ধ থাকিবে ? আর তােত বিবাহ না দিলে, ভাল দেখায় না, লােকে বলিবে কি?” “লােকে কি বলিবে, তাহা ভাবিবার সময় পাই কই?” *কেন কি এমন রাজকাৰ্য্য লইয়া তুমি এত ব্যস্ত যে, লােকে কি লিৰে না বলিৰে, তাহাও ভাবিবার সময় পাও না? “না, আমি সে কথা বলিতেছি না।কন্যার বিবাহের কথা হইলেই আমার দারুণ ভাবনা হয়—কথা আর বিয়ে
দিনে-ডাকাতি।
?
“কেন? তােমার আবার মেয়ের বিবাহ দিতে ভাবনা কি
তােমার তাে আর অর্থের অভাব নাই।”
“অর্থের ভাবনাই কি বড় হইল ? অন্য ভাবনা বুঝি থাকিতে
নাই?”
“কি এত ভাবনা, সেটা খুলিয়াই বল না কেন?
“একটা একটা করে আমাদের সকলগুলিই গিয়েছে।
‘মেনা * ছাড়া এ সংসারে আর আমাদের কে আছে বল দেখি?”
“ও—তাই! ওমা! তা বলে কি মেয়ের বিয়ে দিতে হবে
না। ও কি চিরকাল আইবুড়েই থাকিবে ?”
“যাক, সে কথা পরে বিবেচনা করা যাবে, এখন অন্য কথা
কও।”
১, “অন্য কথা আর কি কহিব ? ‘মেনা এই বার বৎসৰে
পড়বে—তার বাড়ন্ত গড়ণ, আর কি রাখা যায়? এতেই লােকে
যার কত কানাঘুষা করছে ?”
“লােকে তাে আর আমার ব্যথা বুঝে না। তারা তাে
জানে না, আমি কতগুলিকে খেয়ে, কত ঠাকুর দেবতার পূজা
দিয়ে তরে ঐ সবেধন নীলমণিটীকে বাঁচিয়ে রেখেছি। মা
আমার সতী লক্ষ্মী। এ লক্ষ্মীকে আমি কার ঘরে পাঠিয়ে
দেব বল ?”
তুমি যে মেয়ে মানুষের মত কথাবার্তা কহিতে আরম্ভ
করিলে? যে সকল কথা আমার মুখ দিয়ে বাহির হওয়া উচিত
ছিল তােমার মুখে সেই সকল কথা—
-
সৃঞ্জয়ীকে বিমােন বাবু এবং তাঁহার পরী *মেনা বুলিয়
দিনে-ডাকাতি
হরিমােহন বাবু একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলিলেন, দেখিয়া তাঁহার
পত্নী আর কিছু বলিলেন না, সেদিনকার মত কন্যার বিবাহের কথা
চাপিয়া গেলেন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ।
}
সে দিনকার মত কথাটা চাপা পড়িল বটে কিন্তু একেবারে
চাপা পড়িল না। দুই চারিদিন পর গৃহিণী পুনরায় সেই কথা
তুলিলেন, অনেকের দোহাই দিলেন, আত্মীয় স্বজন পাড়ার
লােকে অনেক নিন্দাবাদ করিতেছে সে কথাও বলিলেন।
এইরূপেও দুইচারি দিন কাটিয়া গেল, তথাপি হরিমােহন বাৰু
সম্মত হইলেন না। তাহার ইচ্ছা, একটা ঘর জামাই করিয়া
কন্যার বিবাহ দেন। কেননা মৃন্ময়ীকে পরের বাড়ী পাঠাইতে
তাহার মন সরে না।
যখন আত্মীয় স্বজনের মধ্যে জাতি যাইবে’ ‘জাতি যাইবে’
সকলের মুখে তিনি এই কথা শুনিতে লাগিলেন, তখন অগভা
তাঁহাকে সম্মত হইতে হইল। ঘর জামাই করিয়া রাখিবার
জন্য অনেক পাত্র অনুসন্ধান করিলেন কিন্তু তেমন সংশজাত
সদ্বিদ্বান্ সুপাত্র পাওয়া গেল না।
পাত্র দেখিতেও ছয়মাস কাটিল; তথাপি তাহার একদীও
পছন্দ হইল না দেখিয়া, গৃহিণী বড় বিরক্ত হইলেন। কিন্তু
কি করিবেন? উপায় থাকিলে, তিনি স্বয়ং তাহার প্রতিবিধান
ঝক্কিতেন। একদিন সময় বুঝিয়া, হরিমােহন বাবুর নিকট আবার
তিনি কন্যার বিবাহের কথা তুলিলেন। জিজ্ঞাসা
যান, তাঁদের মােহন বাবু পত্নীর মুখ বিনির্গত তিরস্কার সূচক কথার সঙ্গে। দিনে-ডাকাতি। “তুমি আমায় সত্যি করে বলতে পায়, তােমার মেয়ের বিবাহ দিবার ইচ্ছা আছে কি না? পাত্র দেখিয়া দেখিয়া অরুচি ধরাইয়া দিতেছ, তােমার এ পােড় পাত্র দেখা ব্ৰত ঘুচিবে কবে? তােমার সঙ্গে আর যারা পাত্র দেখিতে পছন্দ হয়, আর তােমাই বা হয় না কেন? তুমি চাও কি, ত্রিদশাধিপতি ইন্দ্র, দেবসেনাপতি কার্তিকেয়, না বসন্তু সখা কল- পকে জামাতা করিবে ? তােমার মনের কথাটা কি, আমায় ভাঙ্গিয়া বলিতে পার?” হরিমােহন বাবু, পত্নীর এইরূপ কথা, এরূপ বিরক্তিভাব, এরূপ অভিমানপুর্ণ বচন, এরূপ সগৰ্ব প্রশ্ন, এবং নাসিকায় হীরক খচিত সুবর্ণ নথের দোলনি, ইহার পূর্বে আর কখনও দেখেন নাই। কৈলাসেশ্বর, সতীকে দক্ষালয় যাইতে নিষেধ করাতে, সতীর দশমহাবিদ্যা সন্দর্শনে যতটা ভীত ও বিচলিত হইয়াছিলেন, হরি- ঙ্গে সেই বদন-কমলে ভিন্ন ভিন্ন ভাবের রেখাপাতে, একাধারে দশমহাবিদ্যা সন্দর্শন করিয়াও মহাদেবের গায় শঙ্কিত হয়েন নাই, ইহা সত্যের খাতিরে আমরা বলিতে বাধ্য। হরিমােহন বাবু গৃহিণীয় কিছু বেশ অনুরক্ত না? হরিমােহন বাবু পত্নীর কথাগুলি ভাল করিয়া নিলেন তারপর ধীরে ধীরে উত্তর করিলেন—“কন্যার বিবাহ দিতে এখন আমার ইচ্ছা হইয়াছে, পূর্বের ন্যায় আমার এখন আর ততটা আপত্য নাই, কিন্তু উপযুক্ত পাত্র পাওয়া যাইতেছে না বলিয়া কিছু বিলম্ব হইয়া পড়িতেছে। পথ মাই কজিবাই কল্পনা করিয়াছিলাম কিন্তু তেমন মনের মত সংশ দিনে-ডাকাতি। ৯ কত পাত্র মিলিল কই? এখন মায়া কাটাইয়া পরের ঘরে পাঠাইতেও স্বীকৃত হইয়াছি কিন্তু এই কলিকাতা সহরটার মধ্যে আমার মনের মত পাত্র পাওয়া গেলে তো? হয়তাে দু'একটা গরীব গৃহস্থের ঘরে মনের মতন ছেলে পাওয়া যায় কিন্তু আমাপেক্ষা হীনাবস্থার লােকের সহিত কুটুম্বিতা করিতে আমার প্রবৃত্তি হয় না।” “এখন তােমার মনের মত নিখুঁত পাত্রটা যদি দু'চার বৎসরের মধ্যে খুঁজে না পাওয়া যায়, তাহলে কি বুড়ো আইবুড়াে মেয়ে ঘরে বসিয়ে রাখবে?” এইরূপে অনেক বাদানুবাদের পর স্থির হইল যে, হরিমােহন বাবু গত ছয় মাসের মধ্যে যে কয়টা পাত্র দেখিয়াছেন, তাহ- দেরই মধ্যে বিশেষ বিবেচনা করিয়া একজনকে নির্বাচিত করি বেন এবং যত সত্বর সম্ভব কন্যার বিবাহ দিবেন। তৃতীয় পরিচ্ছেদ। অল্প দিনের মধ্যেই পাত্র স্থির হইল। হরিমােহন বাবু পাক দেখিয়া আসিলেন এবং তৎপর দিন বরপক্ষ হইতে মৃন্ময়ীকে পাকা দেখিতে আসিবে এ কথা গৃহিণীকে শুনাইলেন। গৃহিণীর আর আনন্দ ধরে না—তিনি কর্তার সম্মুখে অধিক ক্ষণ অপেক্ষা না করিয়াই একেবারে রন্ধনশায় উপস্থিত লেন। তথায় তিনি প্রায় পদার্পণ করিতেন না; কিন্তু আজ সহসা এলচিত্তে হাসি মুখে তাঁহাকে তথায় সমাগত দেখি অত্যন্ত গীগণ বিস্মিত হইলেন। তিনি যখন তাঁহাদের নিকট
দিনে-ডাকাতি।
মৃন্ময়ীর বিবাহের কথা আদ্যোপান্ত বলিলেন। মৃন্ময়ী তথায়
বসিয়াছিল, সে বিবাহের কথা শুনিয়া ছুটিয়া পলাইল।
যথা সময়ে বর পক্ষ হইতে পাঁচ ছয় জন ভদ্র লােকের
ভাগমন হইল, অন্তঃপুরে কন্যা সাজাইবার জন্য একটা মহা
গণ্ডগােল পড়িয়া গেল। হীরে জহরৎ, মণি মুক্তা ও স্বর্ণলঙ্কারে
মৃন্ময়ীর দেহু আপাদ মস্তক ভরিয়া গেল। মৃন্ময়ীর মাতা কহি-
লেন-“তােরা ঐ ক’খানা গয়নাতেই আমার মেয়ের গা ভরিয়ে
দিলি, আর সব হীরে জহরতের গয়না পরাবি কোথায় ?”
একজন প্রতিবাসিনী কহিল,-“এর উপর আর বেশ গয়না
পরাতে গেলে, মেয়ে একপাও চলিতে পারিবে না।”
মৃন্ময়ীর যত রকমের অলঙ্কার ছিল, তাহা সমস্ত তাহাকে
পয়াইতে পারা গেল না দেখিয়া, গৃহিণী কিছু দুঃখিত হইলেন;
ওদিকে বাহিরে বড় ডাকা-হকি পড়িয়া গেল, মৃন্ময়ীকে পাঠা-
ইয়া দিবার জন্য চাকরের উপর চাকর আসিতে লাগিল, কাজে
কাজেই আভরণ-বিভূষিত মৃন্ময়ী বাহিরে গেল।
বরকর্তা মৃন্ময়ীর হস্তে দশটী মােহর দিয়া পাকা দেখা কাৰ্য্য
সম্পন্ন করিলেন। ভীতা, সঙ্কুচিতা, মৃন্ময়ী তখন ধীর পাদ নিক্ষেপে
অন্তঃপুরে প্রবেশ করিল। হরিমােহন বাবু ভাবী কুটুথগণের
যথারীতি অভ্যর্থনা ও আহারাদির বন্দোবস্ত করিবার জন্য বন্ধু
স্ত হইলেন।
সেই সময় বাড়ীর ভিতরে একটা মহা গােযােগ হইল
সংবাদ পাইয়া হসিনােহন বাবু দৌড়াইয়। অন্তঃপুরে আসিলো,
নিলেন তাহার এক প্রতিবেসিনী মূৰ্ছাগত হইয়াছেন। তিনি
কহিলেন-“তােমরা এত গােল করিও না। বাহিরে যাহারা
আসিয়াছেন, তাহা হইলে তাহা আহারাদি না করিয়াই চলিয়া
দিনে-ডাকাতি।
ঘাইবেন, আমার এত আয়ােজন সমস্তই বিফল হইবে।
দেখিতেছি মুচ্ছগত বাই আছে ; ললাকের ভিড়ে গােলমালে
হঠাৎ সেই রােগে আক্রান্ত হইয়াছেন; মুখে হাতে জল দিলেই
এখনি সচেতন হইবেন।”
অন্যান্য প্রতিবেসিনী রমণীগণ তখন আর গােলমাল না করিয়া
সেই মুচ্ছগত রমণীর মুখে জলসিঞ্চন করিতে লাগিলেন।
জাভরণ-বিভূষিতা মৃন্ময়ী সেই গােলমালে পড়িয়া, সেই স্থলে
দাড়াইয়া গিয়াছিল। হরিমােহন বাৰু তাহাকে কহিলেন—“মা !
এক গা গয়না পরে তুমি আর দাড়িয়ে কেন? গয়না-টয়ন
সব উপরে তােমার ঘরে খুলে রেখে বাক্সবন্দী করে, ফিরে
এসে এখানে দাড়িও।”
মৃন্ময়ী পিতার কথা শুনিয়া তৎক্ষণাৎ একাকিনী উপরে
উঠিল। আর কেহ তাহার সঙ্গে গেল না। সকলেই সেই
মুজ্জাগতা রমণীকে ঘেরিয়া দণ্ডায়মান রহিল।
হরিমােহন বাবু বহিব্বাটীতে চলিয়া গিয়া আবার বরপক্ষীয়
ভদ্রলােকগণের আদর অভ্যর্থনা করিতে লাগিলেন। যেন কিছু
হয় নাই—যেন উদ্বেগের কোন কারণ নাই।
মৃন্ময়ী তাড়াতাড়ি নিজ কক্ষ-মধ্যে প্রবিষ্ট হইয়া দ্বারদেশে অর্গল
বন্ধ কুরিয়া, গায়ের কাপড় ও অলঙ্কার রাশি খুলিয়া ফেলিল, তাড়া-
তাড়ি তাহা একটা টিনের বাক্স-মধ্যে আবদ্ধ রাখিয়া, কানে
চাবি দিয়া নীচে নামিয়া আসিল। আসিয়া দেখে সেই মা-
গত। রমণীর চৈতন্য হইয়াছে, তিনি চকুরুন্মিলন করিয়াছেন
কিন্তু তখনও কথা কহিতে পারিতেছেন না। মৃত্নীর মা নাসি
কর নথ নাড়িতে নাড়িতে নানা প্রকার হুকুম চালাইতেছেন
ইহাকে একটা কাজের ফরমায়েস করিতেছেন, উহাকে এটা
দিনে-ডাকাতি। ক্ষমায়েস্ করিতেছেন; আসল কথা, সংজ্ঞাহীনা রমণীকে চক্ষু জন্মিলন কয়িতে দেখি। তবে তাঁহার মুখে কথা ফুটিয়াছে; এতক্ষণ বাকশক্তিহীন জড়পিণ্ডের ন্যায় তথায় দণ্ডায়মান ছিলেন এবং “দুর্গা” নাম জপ করিতেছিলেন। শুভকাৰ্য্যে এরূপ বিঃ সন্দর্শনে তিনি নানাপ্রকার আশঙ্কা করিতেছিলেন এবং বাক শক্তি রহিত হইয়া ছিলেন। মৃন্ময়ী এই সময়ে তথায় ফিরি আসিল। চতুর্থ পরিচ্ছেদ। ঘৰ-পক্ষীয় ভদ্রলােকগণের পান ভােজনাদি সমাপ্ত হইলে পর, হার বিদায় গ্রহণ করিলেন। হরিমােহন বাবুও অলপুরে সিলেন। অন্তঃপুরে আসিয়া, তিনি যাহা শুনিলেন, তাহাতে তাহার মন্তক ঘূর্ণায়মান হইল, তিনি অন্ধকার দেখিলেন। ব্যাপারটা কি, তাহা শ্রবণ করিবার জন্য, পাঠক মহাশয়ের বােধ হর বিশেষ আগ্রহ জন্মিতে পারে। সেই জন্য অন্য কথা না বলিয়া একেবারে প্রকৃত কথা বলাই ভাল। হরিমােহন বাবু শুনিলেন যে, তঁাহার কন্যা মৃন্ময়ীর সমস্ত অঝরে, (যাহার মূল্য প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা, যাহা মৃন্ময়ী তাড়াতাড়ি খুলিয়া সম্মুখস্থ একটা টিনের বাক্সের মধ্যে খিয়া, নিজ কক্ষে চাবি দিয়া নীচে নামিয়া গিয়াছিল) সেই টিনের বাটী, মায় সমস্ত অলঙ্কার সমেত অপহৃত হইয়াছে। ঘরের দরজা মৃমন্ত্রী যেমন আবদ্ধ করিয়া রাখিয়া গিয়াছিল, ঠিক সেইরূপই আবদ্ধ রহিয়াছে, অথচ বা সনৎ জলায় নাই।
দিনে-ডাকাতি। আশ্চর্য ব্যাপার।—দিনে ডাকাতি। হরিমােহন বাবু মাথায় হাত দিয়া বসিয়া পড়িলেন। গৃহিণী ও মৃন্ময়ী তাঁহার সম্মুখে দাড়াইয়া ক্রন্দন করিতে লাগিলেন। কিয়ৎক্ষণ পরে হরিমােহন বাবু প্রকৃতিস্থ হইলে, তিনি কহি- লেন, “থাকু তােমরা এখন কেহ কিছু গােলযােগ করিও না। আমি বাড়ীর দুই দরজা বন্ধ করিয়া দিবার হুকুম দিতেছি, কোন লােক আমার অনুমতি ভিন্ন বাহিরে যাইতে না পায়। তার পর যাহা করিবার তাহা আমি করিতেছি।” এই বলিয়া তিনি বাহিরে চলিয়া গেলেন। তাঁহার আদেশ মত বাড়ীর অন্তঃপুর ও বাহিরের দরজা বন্ধ হইয়া গেল। বাটাতে যাহারা ছিল তাহারা আর কেহ বাহির হইতে পাইল না। হরিমােহন বাবু, একজন বিশ্বস্ত কর্মচারীর হস্তে একখানি পত্র দিয়া কহিলেন, “তুমি একখানি সেকেণ্ড ক্লাস গাড়ীভাড়া করিয়া এখনি ডিটেটিভ (গােয়েন্দা) আফিসে যাও এবং সুপারিটেণ্ডেন্ট সাহেবকে আমার এই পত্রখানি দাও। পত্র পাঠ করিলেই তিনি তােমার সঙ্গে একজন সুদক্ষ গােয়েন্দা পাঠাইয়া দিবেন। তুমি সেই গােয়েন্দাকে লইয়া যত শীঘ্ৰ সম্ভব ফিরিয়া আসিৰে। কর্মচারি *যে আজ্ঞা বলিয়া চলিয়া গেল। হরিমােহন বাবু পুনরায় মন্তকে হাত দিয়া চিন্তা করিতে লাগিলেন। মৃন্ময়ীর গাত্রে যে সকল অলঙ্কার পয়ান হইয়াছিল, তাহা সমস্তই হার নহে। কতগুলি মৃন্ময়ী মাতাঠাকুরাণীর কতগুলি হয়, যাতে পিসতুতো ভীগণের এবং কতক- গুলি আমার আত্মীয় স্বজনের। গনমান হউন আর নিই ১৪ দিনে-ডাকাতি। * - হউন, এ অভ্যাসটা বাঙ্গালী রমণীর চিরাগত দোষ। মৃন্ময়ীর নিজেরেও প্রায় পঞ্চাশ ষাট হাজার টাকার অলঙ্কার ছিল, সুধু সেইগুলি পরিলেই যথেষ্ট হইত কিন্তু ঐ যে স্ত্রীলােকের কেমন একটা রােগ, মনে করে বেশী গহনা পরিলেই বুঝি বেশী সৌন্দৰ্য্য হইবে। তাই তাহার আত্মীয় স্বজনগণ যাহার যেখানি ভাল ও মূল্যবান অলঙ্কার সে সেইখানি নিজ অঙ্গ হইতে উন্মােচন করিয়া মৃন্ময়ীকে পরাইয়াছিল, আর মনে করিতে ছিল তাহার অলঙ্কার খানিই মৃন্ময়ীর গাত্রে সর্বাপেক্ষা মানাই- ছে। অলঙ্কার প্রিয়তা দোষ বাঙ্গালী রমণীয় যত অধিক এতটা আর কুপি দেখা যায় না। ; ক্রমে ক্রমে কানাঘুষা করিতে করিতে চুরির কথাটা এক- রকম প্রকাশ হইয়া পড়িল। যে সকল স্ত্রীলােকগণ নিজ অঙ্গের আভরণ উল্লেচন করিয়া মৃন্ময়ীকে পরাইয়াছিল, তাহারা একে বারে মাথায় হাত দিয়া বসিয়া পড়িল। কি করিয়া বাড়ী ফিরিয়া গহনা হারাণর কথা বলিবে, বলিলেও কত তিরস্কৃত হইবে, তখন তাহারা কেবল তাহাই ভাবিতে লাগিল। কাহা- ও স্বামী কিছু উদ্ধত প্রকৃতির, সে কেবল সেই ভীষণ মূর্তি বই ছায়া দেখিতে লাগিল। কাহারও. শকঠাকুরাণ বড় ফড়া হানি, সে কেবল গঞ্জনার কথাই চিন্তা করিতে লাগিল বাড়ীতে ফিল্পি গেলেই অবশ্য তিনি জিজ্ঞাসা করিবেন অমুক জিনিষটা কোথায় গেল। তখনি কি উত্তর দিবে ? কেমন করিয়া বলিবে যে, সে যাব কনিয়া অহা খেলাম। এ নানাপ্রকার চিন্তা করিতেগি। হৰিমােন বাৰু গীকে বলিয়া গিয়াছিলে একাণ না হয়, কেহ না নিতে পায়। * *
দিনে-ডাকাতি।
পেটে কথা থাকিবে না” ইহা সত্যবাদী যুধিষ্ঠিরের অভিসম্পাত
অন্যথা করে সাধ্য কার?
হরিমােহন বাবুর পত্নী প্রথমে একজন আত্মীয়কে চুপিচুপি কাণে
কাণে অলঙ্কার চুরির কথাটা বলিলেন এবং নিষেধ করিয়া দিলেন
যে যেন কথাটা প্রকাশ না করে। সে রমণীকে যদি প্রকাশ
করিতে নিষেধ করা না হইত, তাহা হইলে হয়তাে সে কথাটা
প্রকাশ না করিলেও করিতে পারিত; কিন্তু যেমন তাহাকে
নিষেধ করা হইল, অমনি যেন দিব্য দিয়া বলিয়া দেওয়া
হইল, কথাটা প্রকাশ করিতেই হইবে; অর্থাৎ প্রথমে সে
কাহাকেও কিছু বলিল না, কথাটা তাহার প্রাণ-সাগরে হাবু
তুবু খাইতে লাগিল-তারপর, সে ভাবিল, সে যাহাকে বলিৰে
সে কি আর প্রকাশ করিবে? সুতরাং তাহার অতি বিশ্বাসী
কোন আত্মীয়ার নিকট প্রথম অলঙ্কার অপহৃত হওনের কথাটা
প্রকাশ করিল এবং তাহাকে হাতে ধরিয়া নিষেধ করিয়া দিল
“দেখিস ভাই! এ কথা এখন কাউকে বলিসনি-বড় শক্ত
কথা? কেহ না আনিতে পারে? মেনার মা আমার হাতে,
ধরে বারণ করে দিয়েছে।”
এই গুপ্তকথা শুনিয়া পূর্বোক্ত সমীর যে দশা হইয়াছিল,
এ মণীরও সেই অবস্থা অটিল। কথাটা চাপিয়া মাখিতে
তাহারও কেশ বােধ হইতে লাগিল। কালে কালোমে
কাটা কমে ২ সকলের কানে কানেই ফিরিতে লাগিল
নওযেখাে ভাই! তােমায় আমি বলে তুমি এখন এ কথা
মছে একাণ কর না নিষেধ বাক্য নিকি
,
পঞ্চম পরিচ্ছেদ।
যখন বাড়ীর সকলেই প্রায় আনিতে পারি, সেই সময়
মৃন্ময়ী তাহার মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “কি হবে ?”
তাহার মাতা কোন কথা কহিলেন না। মৃন্ময়ী পুনরায়
জিজ্ঞাসা করিল-“হ্যা মা! পরের গহনাগুলির কি সব গুণাে-
গার দিতে হবে ?
মাতা। তা’দিতে হবে বৈ কিনা ! আমাদের বাড়ীতে চুরি
গেল, ভারাতে আর হারায় নাই।
মৃন্ময়ী। বাবা কি তাহলে বড় গরীব হয়ে যাবেন ?
মাতা। একেবারে গরীব হয়ে যদিও না যান, তথাপি
এতে যোঁকে বিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে তা আর কোন ভুল
নাই।
মৃন্ময়ী। তবে কি হবে ?
মাত। আমিও তত তাই বি--
এমন সময়ে দুইজন প্রতিবেসিনী ও দুই একজন আত্মীয়
তথায় উপস্থিত হইলেন। যারা অপরের মুখে গহনা
চুজি কথাটা শুনিয়াছিলেন তাহারা নিঃসঙ্কোচে মৃন্ময়ী মাতাকে
বিসা করিলেন, “ব্যাপার কি। যে সকল রমণীগণ নিজ
গালের বহুমূল্য অলঙ্কার খুলিয়া মুস্ময়ীকে পরাইয়াছিলেন, তাঁহার।
বনে চিন্তা নেত্রে স্বামীর মাতার প্রতি চাহিয়া কহি
কে, “তাইতো খী শি করে এক অতি
কার হার নিমাই থাকিন
ন এক রে বলিবেন,
=
Tv
প্রাণে আশার সঞ্চার হইল-যেন মৃতদেহে জীবন পাইল,
দিনে-ডাকাতি।
১৯
আর আমার কোন অপরাধ নেই। তবে আমি এই পর্যন্ত
বলতে পারি যে চোর ধরিবার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করা হবে।
তাতে যদি জিনিষ না পাওয়া যায়, তাহলে যার যে গহনা
খােয়া গিয়েছে, আমি আবার সেই জিনিষ তাকে কিনে দেবে।
সে বিষয়ে কোন চিন্তা নেই।
তখন যাহাদের বহুমূল্য অলঙ্কার অপহৃত হইয়াছিল, তাহাদের
হরিমােহন বাবু এই সময়ে অন্তঃপুরে একবার দেখা দিলে।
যে সকল রমণীগণ সেখানে ছিল, তাহারা অবগুণ্ঠন টানিয়া
দিয়া প্রস্থান করিল।
হরিমােহন বাবু তখন কথঞ্চিত রুষ্টভাবে কহিলেন,
তােমায় নিষেধ করিয়া গেলাম, তবুও তুমি আমার কথা শুনিলে
? কথাটা ইহারই মধ্যে বেশ গােল করিয়া তুলিয়াছ দেখি-
তেছি; কেন, আর একটু অপেক্ষা করিতে পারিলে না?
আমি কি করি, কেন তােমায় নিষেধ করিলাম, বাহিরে গিয়া
আমি কি করিতেছি, এ সকল কি তােমার দেখা উচিত ছিল
? তুমি এই রকম করিয়া যদি কথাটা গােলমাল করিয়া
ফেলিতে, তাহা হইলে, হয়তাে তাহা উদ্ধারের উপায় থাকি,
কিন্তু এখন যে কি হইবে তাহা কিছুই বুঝিতে পারিতেছি না।
তােমায় দোষেই আমার সর্বশান্ত হইতে হইল।”
গৃহিণী তখন আপনার অপরাধ বুঝিতে পারিলেন। আপ
নাকে তিরস্কারের পাত্রী বুঝি নতমুখে ধীরে ধীরে
কহিলেন, “আমার দোষ হইয়াছে তাহা আমি বুঝিতে পারি-
আছি। গাছ ইহাই আখে, এতটা গােণ হইয়া পড়িবে,
দিনে জাতি।
হরিমােহন বাবু কহিলেন, আমি যখন নিষেধ করি
গেলাম তখন তােমার বুঝা উচিত ছিল। তা সে যাহা হউক
যাহা হইয়া গিয়াছে, তাহায় তাে আর এখন কোন উপায় নাই।
এখন যা বলি তা খুন।
গৃহিণ ছল ছল নেত্রে, সভীত অরে, ধীরে ধীরে কহিলেন,
হরিমােহন বাবু কহিলেন,—“আত্মীয়-টুয় এ বাটীতে যে যে
আসিয়াছেন, তাঁহাদের সকলকে হয়ে লইয়া গিয়া বসাও।
ইতিমধ্যে পুলিশের লােক আসিয়া এই বাড়ী খান-তল্লাসী
করিবে। কিন্তু পুলিশের লােক যে আসিবে, এ কথা কাহা-
কে বলিও না। নিষেধ করিয়া গেলাম এবার আর আমার
নিষেধ অগ্রাহ্য করিও ।”
এই দলিয় হৰিমােন বাৰু চলিয়া গেলেন। গৃহিণী এবার
আর তাঁহার নিষেধ বাক্য ভুলিলেন না।
যষ্ঠ পরিচ্ছেদ।
ইয়িমােন বাৰু ৰে লােকটিকে গােয়েনা আফিলে পাইয়া
हिमन, पो मल किया पानिन । অভাব
लिनि गशव बिया मिलन
লে
বিমে-ডাকাতি।
দিয়াছেন।” এই বলিয়া সেই লােকটী তাহার মাকেট
হইতে একখানি পত্র বাহির করিয়া হরিমােহন বাবুর হয়ে
রিল।
অত্যন্ত ব্যগ্রভাবে তিনি পত্রের আবরণ উন্মোচন করিয়া পাঠ
করিতে লাগিলেন,
মহাশয়।
“আপনার পত্রে সমস্ত বিবরণ অবগত হইলাম। আপনি
বিশেষ চিন্তিত বা উদ্বিগ্ন হইবেন না। অল্পক্ষণ মধ্যেই একজন
'গােয়েন্দা আপনার সহিত সাক্ষাৎ করিবেন। তিনি যে সকল
কথা জিজ্ঞাসা করিবেন, তাহার উত্তর দিতে কোন প্রকার সঙ্কোচ
প্রকাশ করিবেন না। তিনি গােয়েন্দা গিরিতে একজন সুদক্ষ
ও তীক্ষ্ণবুদ্ধিশালী ব্যক্তি। আমি আশা করি, তাহার বুদ্ধিমত্তায়
অচিরে আপনি অপহৃত অলঙ্কারগুলি পুনঃ প্রাপ্ত হইবেন।”
পত্র পাঠ করিয়া হরিমােহন বাবু তাহার সেই বিশ্বস্ত লােক
টীকে বিদায় দিলেন। সে চলিয়া যাইবামাত্রই অপর একজন
অপরিচিত ব্যক্তি সেই গৃহ-মধ্যে প্রবিষ্ট হইলেন।
যথারীতি অভ্যর্থনা করিয়া আগন্তুক ভদ্রলােকটাকে উপযুক্ত
আসনে বসাইয়া, হরিমােহন বার জিজ্ঞাসা করিলেন—আপনি কি
গােয়েন্দা অফিস,হইতে আসিতেছেন ?”
আপনার নাম
খাই নয় কি? আপনি তাে আমার
২০
দিনে-ডাকাতি।
~
গােয়েন্দা” বলিয়া ডাকেন। ইহা বলিলেই আমার যথেষ্ট পয়ি-
চয় হইল।
হরিমােহন বাবু তখন অলঙ্কার অপহরণের কথা হরিদাস
গােয়েন্দাকে বলিলেন। তিনি সমস্ত কথা শুনিয়া জিজ্ঞাসা করি-
লেন-“আপনার এ বাটা খানি কতটা জমীর উপর নির্মিত ?”
হরিমােহন। জমি প্রায় চার বিঘা হইবে।
হরিদাস। " বাটীতে পুষ্করিণ আছে?
হরিমােহন। আছে।
হরিদাস। আপনাদের এ বাটীতে পরিবার কয়জন?
হরিমােহন। চাকর লােক জন বাদে নয় জন।
হরিদাস। চাকর লােক জন কত ?
হরিমােহন। সতের জন।
হরিমােহন। চলুন, বাড়ীর ভিতরে আমি আপনার যাইবার
অঙ্গ পূর্ব হইতেই বন্দোবস্ত করিয়া রাখিয়াছি।
হরিদাস। কি বলোবস্ত করিয়া রাখিয়াছেন।
হরিমােহন। আত্মীয় মূলন, যাঁহারা আমার কন্যার বিবা-
হেয় পাকা দেখা উপলক্ষে আসিয়াছিলেন, তাহাদের সকল
একটা ঘরে বসিয়া থাকিতে বলিয়াছি
হরিদাস। কি প্রকার ?
হরিমােহন বাৰু তখন তাহার বন্দোবস্তের কথা বলিলেন।
তাহা শুনি হরিদাস গোয়েন্দা কহিলেন—তাহা হইলে আৰু
বার কথাটা সকলেই জানিতে পারিয়াছেন?”
হরিয়ােছন। সকলেই জানিতে মিছেন-এ কথা
বলিতে পারি না। তবে অন্য এক ল
বটে।
দিনে-ডাকাতি।
.
',
হরিদাস। তিনি হয়ত অপরের নিকট বলিতে পারেন।
হরিমােহন। তাহা বােধ হয় বলিবেন না।
হরিদাস। না বলিলে, আপনি যে হিসাবে হুকুম জারি
চুরিয়াছেন, তাহাতে তাহাদের এরূপ অনুমান করাও বিচিত্র
হে।
হরিমােহন। এখন তাহা বুঝিতে পারিয়াছি।
হরিদাস। যদি বুঝিতে পারিয়া থাকেন, তাহা হইলে, এখন
ক করা স্থির করিয়াছেন।
হরিমােহন। আপনি যাহা করিতে বলিবেন, তাহাই করিব
হরিদাস। আপনার আত্মীয় কুটুগণকে এ প্রকারে আবদ্ধ
রিয়া রাখাটা আমার বিবেচনায় অত্যন্ত গর্হিত কাৰ্য্য হইয়াছে।
হরিমােহন। তবে কি করিব ?
হরিদাস। তাহারা যে যেখান হইতে আসিয়াছেন, তাহা
দর সেইখানে যাইবার জন্য খিড়কীর দ্বার খুলিয়া দিন।
হরিমােহন। আপনার খানা-তল্লাসী বা কাহাকেও কোন কথা
জজ্ঞাসা করিবার আবশ্যক নাই?
হরিদাস। না।
হরিদাস গােয়েন্দার কথা শুনিয়া অগত্যা হরিমােহন বাবু তাহাই
চরিলেন। অনেকেই বাটা ফিরিয়া যাইবার জয় ব্যস্ত হইয়াছিলেন,
কেবলহরিমােহন বাবুর পত্নী তাহাদিগকে নানা কথা বলিয়া ভু
ইয়া রাখিয়াছিলেন; এখন কুৰ্ত্তার হুকুম পাইয়া অধিকাংশ রমণী-
কই বিদায় নিতেন।
সপ্তম পরিচ্ছেদ। যখন বাড়ী প্রায় খালি হইয়া আসিল, সেই সময় হরিমােহন বাবু হরিদাসকে লইয়া অন্তঃপুরে প্রবেশ করিলেন। যে ঘরে মৃন্ময়ী শয়ন করিত, প্রথমতঃ সেই ঘরে হরিদাস গােয়েন্দাকে লইয়া হৰি- মােহন বাবু উপস্থিত হইলেন। একটা গৰাক্ষ প্রদেশের নিকটবর্তী হইয়াহরিদাস জিজ্ঞাসা করিলেন—“এই যে পাশে পুক্ষণ দেখা যাইতেছে, উহা কি আপ আপনার এই বাটার সামিল। হরিমােহন। হ। হরিদাস। পুরুশীয় জলের অবস্থা কি প্রকার ? হরিমােহন। বড় ভাল নহে। হরিদাস। আবার সেই দিকে চক্ষু ফিরাইয়া জিজ্ঞাসা করি- লেন-পুরণীর চতুর্দিকে যে নানাপ্রকার গাছপালা দেখা যাই- তেছে, ওগুলিও আপনার সম্পত্তির মধ্যে পরিগণিত। হরিমােহন। পালা । হরিদাস। আপনার কথা যে টিনের বাধার মধ্যে সমস্ত অলঙ্কায় আনিকা মাখিয়াছিলেন, সেই বাক্সের মত আর অন্য কোন বা আপনার গাছ। হরিমােহন। আহ। হরিণ। তাে একবার যেতে পারেন? মিন। পারি হমিদাস। তবে যেখান। रविवारन। पान नरेश मानिस पनि ''E: ২, দিনে-ডাকাতি। হরিদাস। অন্য কাহাকেও হকুম করিবার আবশ্যক নাই- আপনি হয়ে তাহা লইয়া আন। হরিমােহন বাবু যে আজ বলিয়া দ্রুতপদে কক্ষ হইতে নিক্রান্ত হইলেন। হরিদাস এই অবসরে সেই গৃহচীর যেখানে যাহা কি ছিল, তাহা উত্তমরূপে দেখিয়া লইলেন। হরিমােহন বাবু টিনের বাক্সটা লইয়া আসিলে, হরিদাস গােয় কহিলেন-“আচ্ছা বাক্সটা এখন আপনি যথাস্থানে রাখিয়া আসিতে পারেন। হরিমােহন। আর কি করিতে হইবে, আজ করুন। হরিদাস। আপনার কা মৃন্ময়ীকে (যদি আপনার কোন আপত্তি না থাকে) একবার আমার নিকটে ডাকিয়া আনি বেন কি? হরিমােন। গােপনে ডাকিয়া আনিব ? হরিদাস।, মা, প্রকাশ্যেই সকলের সম্মুখে ডাকিয়া আনাই উত্তম পরামর্শের কাজ। হরিমােন বাৰু তাহাই করিলেন। মৃন্ময়ী আসিয়া হরিদাসের সম্মুখে দাড়াইল। হরিদাস জিজ্ঞাসা করিলেন—মা! তুমি গায়ে সৰ গহনা খুলে এই ঘরে একটা টিনের বাক্সের ভিতর রেখেছিলে, না? ছল ছল চলে, মৃন্ময়ী হরিদাসের মুখপানে চাহিয়া কহিল- হ হাস। তখন মনে কে ছিল। মৃন্ময়ী। কেন। হরিদাস। তুমি যখন উপরে উঠছিলে তখন তার কাহাকেও দেখিনি।
২৪
দিনে-ডাকাতি।
..
মৃগী। না।
হরিল। কেহ তােমার সঙ্গে উপরে উঠেন নাই।
মৃন্ময়ী। ।
হরিদাস। তুমি পশ্চাৎ ফিরিয়া দেখিয়াছিলে?
মৃত্মরী। হাঁ।
হরিদাস। অলঙ্কারগুলি তাড়াতাড়ি টিনের বঙ্গের ভিতর
রাখিয়া বাক্সের চাবি বন্ধ করিয়াছিলে?
মৃন্ময়ী। হ।
হরিদাস। ঠিক মনে আছে?
মৃন্ময়ী। আছে।
হরিদাস। তার পর আবার ধরে চাবি দিয়ে নীচে নেমে
গিয়েছিলে?
মৃন্ময়ী। ।
হরিদাস। চাবি দেওয়ার কথাটা ঠিক মনে আছে তো?
মৃন্ময়ী। আছে।
হয়িা। যাবার সময় চাৰি টেনে দেখেছিলে?
মৃন্ময়ী। হাঁ, দেখেছিলেন।
হরিদাস গােয়ন্দা তখন রিমােহন বাবুর দিকে গহিয়া কহি
নে-আপনার এটা অতি চমৎকার মেয়ে।
হরিনােনা, কেন?
হরিয়াল। এ কথা বলবার বিশেষ
কাছে।
মৃন্ময়ী অবাক হইয়া ইয়াবাের মুখপানে চাহিয়া
माशाखा रिला
ঝুলিশে
গােয়েন্দা পুলিশের
:
গালি দেয়। সে ভাবিয়াছিল, হয়তো
দিনে-ডাকাতি।
২৫
মৃন্ময়ীও তাহাকে প্রথমতঃ পুলিশের লােক” বলিয়া জানিতে
পারে নাই। কিন্তু হরিদাসের নানাপ্রকার প্রশ্নে সে শেষে
কতক অনুমান করিয়াছিল। বালিকা জানিত, পুলিশের
লােক ঘাের অত্যাচাৰী, গোর নির্ণয় ও নিষ্ঠুর প্রকৃতির
নােক। তাহারা আসিয়াই মার শাের আরম্ভ করে, স্কুলের
তাহাকেও পুলিশের শােকে আজ বড় মারধর করিবে।
ভাবিয়া ভাবিয়া তাহার মনে এই ধারণা হইয়াছিল যে, “পুলিশের
লােকে, যেমন নিষ্ঠুর প্রকৃতি বিশিষ্ট, যেমন ঘাের অত্যাচারী
তাহাদের চেহারাও বুঝি তাদৃশ বিষম । কিন্তু যখন সে দেখিল
যে, তাহাও ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রমাত্মক, তখন তাহার - কথা কহিতে
সাহস হইল। হরিদাস গোয়েন্দা তাহাকে যেরূপ সমেহ বচনে
কথাবার্তা জিজ্ঞাসা করিতেছিলেন, তাহাতে তাহার সে অন্ধ
বিশ্বাস একেবারে তিরােহিত হইল।
হরিদাস জিজ্ঞাসা করিলেন--“তুমি যখন ঘরে চাবি দিয়ে নেমে
গিয়েছিলে, তখন নীচে সেই মূর্ভাগত রমণীর অবস্থা কি ঘটিল
জানিবার , অতিশয় ব্যগ্র হইয়াছিলে, না।
মৃন্ময়ী। হা হা।
হমিদাস। মায়ের নালাগুলি, সেই দাড়িতে বন্ধ করিয়!
যাইবায় সম পাও নাই?
মৃন্ময়ী।
হরিদাস। জাপাশি এখন যেমন গো রহিয়াছে, তখনও
| ' ,
জানাখলেব মিয়া যাইবার আমার কোন
২৬
দিনে-ডাকাতি।
হরিদাস। কেন?
মৃন্ময়ী। জানালায় সব লােহার গবাদ দেওয়া আছে, ওখান
দিয়েছে আর চোর আসতে পারে না।
হরিদাস। তা হলে জানালা বন্ধ করিবার কথাটা তাের
তখন মনে উদয় হইয়াছিল ?
মৃন্ময়ী। না।
হরিদাস। তবে চোর আসিবার কথাটা মনে হইল কেমন
রিয়া?
মৃন্ময়ী। তাহাও কিছু মনে উদয় হয় নাই।
হরিদাস। তবে এখন তুমি এই সকল কথা বলিতেছ ?
মৃন্ময়ী। তা’ কেন। জানালায় লােহার গয়ালে দেওয়া না
থাকলে, যে সময় আমি ঘরে ও বাল্পে চাবি দিয়াছিলাম সেই সময়
জানালা বন্ধ করিবার কথাও নিশ্চয় মনে পড়িত। আমার রে
সন্ধে কোন কথাই মনে উদয় হয় নাই।
হরিদাস। তুমি এখন যাইতে পার।
মৃন্ময়ী হাঁফ, ছাড়িয়া খচিয়ার আশায় ত্বরিতপদে এস্থান
অষ্টম পরিচ্ছেদ।
যখন মৃন্ময়ী চলিয়া গেল, খন জরিমােন বাৰু হলিজাসে
দিকে ফিরিয়া কহিলেন—আপনার আর কিছু বিজ্ঞান
হরিদাস গােয়েন্দা সুহাসি হাসি কহিলেন-কে আপনি
বিরক্ত হইবে না
দিনে-ডাকাতি।
२१
হরিমােহন বাবু তাঁহার এই কথায় কথঞ্চিত লজ্জিত হইয়া
উত্তর করিলেন—“না-
মাতা’ কেন? আমি আর একটা কথা
জাবিতে ছিলাম।”
হরিদাস। কি কথা?
হরিমােহন। আমি ভাবিতেছিলাম -এই-যে-আপনি-
সহজে সকল কথা হরিমোহন বাবুর মুখ হইতে বাহির
হইতেছে না দেখিয়া, হরিদাস গােয়েন্দা কহিলেন-“আপনি
আমতা আমতা করিতেছেন কেন? আমার নিকট কোন কথা
লুকাইয়া আপনার লাভ নাই। বরং সকল কথা পরিষ্কার করিয়া
বলিলে আপনার পক্ষেই ভাল। কি বলিতে ইচ্ছা করিয়াছেন,
পচ্ছলে বলিয়া ফেলুন।
তখন হরিমােহন বাবু কহিলেন-“না এমন কিছু নয়।
তবে কি জানেন, আপনি এতক্ষণ আমার কন্যাকে যে সকল
কথা জিজ্ঞাসা করিতেছিলেন, তাহাতে আমার বােধ হইতেছিল,
আপনি বৃথা সময় নষ্ট করিতেছেন।
হরিদাস। কেন আমার কথাগুলি কি আপনার বাজে কথা
বলিয়া বােধ হইতেছিল?
রিমােহন বাবু নিরুত্তর হিলেন; কি উত্তর দিবেন কির
করিতে পারিলেন না।
হরিদাস গােয়েল হন বলিলেন, "এ ঘরে আমার
বি, কোন কাৰ নাই। আমি এখন বাহিরে যাইতে
হবিগােন। ন আ কোন দিকে যাইতে চাহেন বলুন।
মি। ঐ যে দানাদার বাহিরে একতলার ঘৰ মে
দিনে-ভাকাতি
হরিমােহন। ওটা আমার মা বাদীর 'গণ। উহার বাম
দিকে চারদিগের মহল এবং দক্ষিণ দিকে দাসীগণের মইল।
হরিদাস এক একটি মহলে কাটি করা হয় আছে ?
হরিমােহন। রান্না বাড়ীতে দুইটা বড় এবং দুইটা ছোট ঘর
গছে।
হরিদাস। দুইটি বড় ঘষে কি হয়?
হরিমােহন। একটি নিরামিষ ও অপরটি আমি পাকশালা।
দুই যরে দুইজন ব্রাহ্মণে বন্ধন করিয়া থাকে।
হরিদাস। ছােট দুইটি ঘরে কি হয় ?
হরিমোহন। দুটি ধরে উক্ত দুইজন ব্রাহ্মণ শয়ন করে।
হরিদাস। ব্রাহ্মণেরা কি বাড়ীর ভিতর আসিয়া ভাত দিয়া
{
হরিমােহন। পুরুষগণকে দিয়া যায় বটে, কিন্তু স্ত্রীলোকগণের
হরিদাস। আপনাদের আহাদ কোথায় হইয়া কে ?
হৰিমােহন। সকলেই একস্থানে আহার করেন না। পুরুষগণ
বাহির মহলে, এবং স্ত্রীগণ অন্তঃপুরে আহার করিয়া থাকেন।
হরিনা। বাহির মহলে যে স্থানে পুরুষগণ আৰু করিয়া
খানে আমি সেই স্থানটি একবার দেখিতে ইচ্ছা করি।
হৰিহেন বা যে আজ” বলিয়া হরিদাস গােয়েন্দাকে
লইয়া মুয়ীয় বইতে বাহির হইৰে ওৰ পাৰঞ্জী একটি চী
কি কহিবা মা করিবার, অরে উপস্থিত হইয়া কহি,
নবম পরিচ্ছেদ। হরিদাস গােয়েন্দা দেখিলেন যে তিনি নে নে উপস্থিত হইয়া হেন, তাহা ঠাকুর দালানের এক প্রান্তদেশ। ঠাকুর দালান ওলি সাধারণত উচ্চ হইয়া থাকে; এমন কি, কাহারও চক মিলান দ্বিতল কক্ষগুলির সহিত ঠাকুর দালান সমান উচ্চ করি, ছাদ মিলান হয়। হরিমােহন বাবুর ঠাকু দালানটিও উচ্চ- দ্বিতল খরগুলির সহিত সমান। বহিৰ্বাটাজ চলী ঘরগুলির ছাদের সহিত ঠাকুর দালানের ছাদ সমান করিয়া নির্মিত। ঠাকুর দালানের দুই পার্থে দুইটী দ্বিতলে হলঘর। সেই হলরের সম্মুখ দিয়া বহিৰান ও ভিতরবাটীতে গমনাগমনের পথ। দালানের দুই পায়েই এইরূপ ব্যবস্থা। মিস গােয়েন্দা, সেই হলঘরে প্রবেশ করিয়া দেখিলেন, তাহা পশ্চিম দিকে এক বার খােবা মহিয়াছে। তৎক্ষণাৎ তিন সেই ভর দিয়া বহির্গত হইয়া সখস্থিত খামাণ্ডায় দাড়াইলেন। দেখিলেন সেই টানা বাগাও, বরাবর সকাল হইতে ভিতরটা পর্যন্ত যে- . বােগ রহিয়াছে। তিনি সেই বার মি৷ কাৰ হইতে লাগিলেন। বা খানিকটা দুই একটি এক খে সহিত মিশিয়া গেল। হরিমােহন বাবু কহিলেন—এস কে মহল। নতনে গুলিতে আমার চাৰে বাৰেইহা তাহাই।” যার উপর। ...
দিনে-ডাকাতি। . বার জন্য স্বতন্ত্র পথ আছে। দাসীগণের মহল হইতে অন্তঃপুরে যাতায়াতের কোন উপায় নাই—অন্তঃপুরে তাহাদের প্রবেশ করি- বার হুকুম নাই। তাহারা এই দিক দিয়া বহিৰাটীতে যাতায়াতকরে। এই বলিয়া হরিমােহন বাবু হরিদাস গােয়েলাকে নিমতলের দিকে একটা দ্বার নির্দেশ করিয়া দেখাইলেন । হরিদাস। দাস দাসীগণের ও রান্নাবাড়ীর এই তিন মহলে কোন যাে: ষােগ আছে ? হরিমােহন না। তবে এই তিনটী মহলের বহির্দেশ দিয়া, অর্থাৎ পুকরিণীর দিকে, সকলেরই এক একটা দরজা আছে। দাসীশ্বর ও অন্য মহলের ব্যবধানে পুরণার দিকে লম্বা টানা পাচিল দেওয়া থাকাতে, আত্মীয় পরিজন সকলেই অন্তঃপুর হইতে সেই মহল দিয়া গুষ্করিণীতে যাতায়াত করিয়া থাকেন। এই কারণে দী:ণের মহণের সহিত রান্নাবাড়ী ও দাসগণের মহলের সহিত, কোন যোগাযােগ নাই। তবে রান্নাবাড়ী ও দাস- গণের মহলের এতদুভয়েরই পুরীর দিকে এক একটা দরজা থাকাতে একপ্রকার যােগাযােগ আছে লা যাইতে পারে অর্থাৎ দাসগণের মহল হইতে পুষ্করিণীয় দিকের দরজা দিয়া বাহির হই রান্না বাড়ীতে প্রবেশ করা যায় এবং রান্নাবাড়ী হইতে দগণের মহলেও আসা যায়। আমার চাকরগণ সকলেই ঠিক বেলা একটার সময় রান্নাঙ্গীর দালানে পাত পাতিয়া বলে, আর ব্রাহ্মণগণ তাহাদিগকে অনুষ্যঞ্জন, পরিবেশন করেন। গায়ায় র্যা ব্যতীত সগণের সহিত কান্না বগণের সহিত কাঙ্গাবায় আর কোন সম্পর্ক নাই। সীগণ অন্তঃপুরে আহার করে পাহাং জা দের সহিত ব্রাহ্মণগণের এক রাহ্মণগণের এবং কাল হলো গতি নে সম্পর্ক নাই।
দিনে-ডাকাতি। ৩১ হরিদাস। এই তিনটা মহলের ছাদে উঠিবার কি সিড়ী ঐ একটা মাত্র ? হরিমােহন। হাঁ। দাসদাসীগণের মহল হইতে ছাদে উঠি- বার সিড়ী নাই। কেবল পাকশালায় মহল হইতে ছাদে উঠা যায়। ঐ সিড়ীদিয়া উঠিয়াই ব্রাহ্মণগণ বহির্বাটীতে যে হলঘর, দেখিয়া আসিয়াছেন, সেই ঘরে আহায্য বস্তু লইয়া গিয়া পরি- বেন করে। দশম পরিচ্ছেদ। হরিদাস গােয়েন্দা এইরূপ কথা কহিতে কহিতে ব্রাহ্মণগণের (অর্থাৎ পাকশালার মহলে ছাদে আসিয়া দাড়াইলেন। এদিক ওদিক চারিদিক দেখিয়া হরিদাস জিজ্ঞাসা করিলেন-“এই দক্ষিণ দিকে আপনার অন্তঃপুরের মহল, কেমন ?” হরিদাস। আজ্ঞ, ঘ। হরিদাস। এইটা মৃন্ময়ীর ঘর, না ? এই ঘরেই আমরা এই- মাত্র প্রবেশ করিয়াছিলাম, কেমন ? হরিমােহন। অজ্ঞা ।। হরিদাস। চলুন, আমার কাৰ্য শেষ হইয়াছে, আর আমার কিছু দেখিবার আর নাই। তখন তাহা উতরে বহির্বাটীর ঘরে সানিয়া বসিলেন। হৰিােহন বাৰু জিজ্ঞাসা করিলেন- লেন-আপনি কিন্তু স্থির করিতে পারিয়াছেন কি? লি। আমায় আশি পালা গাইতে পারে।
দিনে-ডাকাতি।
হরিমােহন বাবু অত্যন্ত বিশিত হইয়া কহিলেন-“মি কিছু
বুঝিতে পারিলাম না। আমার বােৰ হইতেছিল, আপনি এত
বৃথা কাৰ্য্যে কালাতিপাত করিতেছেন।”
হরিদাষ গােয়েন্দা দু হাসি হাসিয়া কহিলেন-“গােয়েন্দা
বৃথা কাব্যে সময় নষ্ট করে না, একথা আপনার মনে থাকা উচিত।
সামান্য এক কোটা রক্তের চিহ্ন দেখিয়া আমরা খুনী আসামী খরিয়া
থাকি; সামান্য একগাহ চুল দেখিয়া আমরা ডাকাতির সন্ধান
করিতে পারি ; কত সায় বিষয় হইতে আমরা আমাদের কাৰ্য্যের
সুত্র বাহির করিয়া লই।
হায়দাস আরও কি কথা বলিতেছিলেন কিন্তু হরিমােহন বাৰু
অধিকতর ব্যগ্রভাবে জিজ্ঞাসা করিলেন-আমায় বাটীতে এদিক
ওদিক ঘুরিয়া ফিরিয়া আপনি এমন কি সূত্র পাইলেন, যাহাতে
আপনি এতদুর ভরসা করিতেছেন?”
হৰিাস। সে কথা আমি এখন আপনাকে কিছু বলিতে
পারিতেছি না।
হরিমােহন। তবে আপনি এখন কি করি?
হরিদাস। কি করি, গও আপনাকে আমি এখন কি
এই বলিয়া হরিয়াস,হমিনােহন বাবুর নিকট হইতে বিদায়
হরিবহন হরিদাস গােয় গতি দেখি
এই সিদ্ধান্ত নিতে মিলে মামি গেলে
সুখ্যাতি, তিনি সৰপৰ বেমাৰ গিয়ে
দিনে-ডাকাতি।
ছিলেন যে হরিদাস গোয়েন্দা আসিবা মাত্রই অলঙ্কার রাশি
বাহির করিতে পারিবেন; কিন্তু তিনি যখন বালতে উগস্থিত
আত্মীয় স্ব নগণকে বিদায় দিতে বলিলেন এবং বাটির কোন
ঘায় খানা-তল্লাশী না করিয়া চলিয়া গেলেন, তখন হরিমোহন
বাবুর হরিদাসের কার্যকলাপের উপর বিশেষ সন্দেই হইল।
হরিমােহন বাবু তাবিতে লাগিলেন, এ অবস্থায় আর কোন
গােয়েন্দা নিযুক্ত করা উচিত কি না? অনেক ভাবিয়া চিন্তিয়া
তিনি স্থির করিলেন, যখন ক জনের উপর নির্ভর করিয়াছেন
তখন অন্য লােককে সে কার্যের ভার নিলে কার্যহানি হই
বার সম্ভাবনা ; বিশেষত তাহাতে হরিদাস পােকালা বিরক্ত
ইয়া র কার্য পরিত্যাগ করিলেও করিতে পারেন সুতরাং
বিশেষ বিবেচনা করিয়া হরিমােহন বাবু আর অন্য কোন বন্দোবস্ত
করিতে সাহস কলিন না।
একাদশ পরিচ্ছেদ।
ফরিদাস আপনার বাসায় ফিরিয়া আসিলেন। যতক্ষণ পর্যন্ত
সন্ধ্যা না হইল, ততক্ষণ অয় নানা প্রকার কাৰ্য শেষ করিতে
কিই তিনি প্রবেশ পরিধান কৱিকা আয়
হরিমােহন বাবুর বাণীতে শক্তি হলেন। 'ৰায় আর তিনি
হরিমােহন সাবু, সমিত মাসিতে আসেন ন ই সুতরাং
বীয়তি এনেছিলেন বাটা সমস্যা থারে
একটি
ন
बहान बागमन
দিনে-ডাকাতি। করিয়াছেন, তাহা জানিবার জন্য পাঠকগণের কৌতুহল জন্মিতে পারে। অতএব ছদ্মবেশের বর্ণনাটি এই স্থলে প্রকাশ করা উপ- যুক্ত বলিয়া বিৰেচনা করি। কিন্তু সে কথা বর্ণনা করিবার জন্য বিশেষ কোন ভূমিকা করিবার আবশ্যক নাই হরিদাস অতি দরিদ্রের বেশে, ছিন্ন ভিন্ন ও শতগ্রন্থি বিশিষ্ট মলিন বসনে, নিজদেহ আবরিত করিয়া, মুনীর দোকানে উপস্থিত। মুদী তাহাকে দেখিয়া প্রথমে মনে করিল একজন ভিক্ষুক ভিক্ষা লইতে আসিয়াছে। কিন্তু ভিক্ষুকের প্রাতেই ভিক্ষাৰ্থ আগমন করে, সন্ধ্যার সময় তাহারা তাে আসে না। সুতরাং মুদীর প্রথম সিদ্ধান্ত মনে মনেই মিলাইয়া গেল। হরিদাস সাহসপুর্বক মুদীর দােকানে প্রবেশ করিলেন। মুদী জিজ্ঞাসা করিল-“তুমি কি চাও গাে, হরিদাস পুরো মেদিনীপুর জেলার লােকের কথা ও গল্প অল্প- কণ করিয়া উত্তর দিলেন-“আমি এইখানে আমার একজন চেনা লােককে খুজছি।” মুদী। যাকে খুঁজছে তার নাম কি? হরিদাস কিয়ৎক্ষণ মাথা চুলকায়, তা আমতা করিতে করিতে উত্তর দিলেন—“তাইতোনামটা আমার ঠিক মনে সহে না সুদী বলিল-”তুতি নেয়াকা! নামটাও মনে নাই? আমরা কি হাত গুণে কােন লােক কোথায় থাকে বলে দে না কি। হলি, হার পরিচিত ব্যকি কিৎখ থরিয়া চি নিতে গিনে। এতে এক জিনি যাহা চিন্তা করিতেছিল শামুক
দিনে-ডাকাতি।
এইরূপ কাকাল, চিন্তার পর, হরিদাস কহিলেন-“না
নামটা আমার এখন কিছুতেই মনে আসিতেছে না।
এখন এইখানে একটু বসি-বড় ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এই
পয়সা নাও, আমায় দু’পয়সার জলপান দাও। জলপান খেতে
খেতে যদি নামটা মনে পড়ে, তােনাদের বলবো এখন। আর
যদি একান্তই মনে না পড়ে, তা হলে যেমুখে এসে ছিলে,
সেই মুখেই ফিরে যাব।”
মুদী ছদ্মবেশী হরিদাস গােয়েন্দার হস্তে দু’পয়সার জলপান
দিয়া কহিল “আচ্ছা সেই ভাল। তুমি ঐখানটায় গিয়ে বসে
এরপন খাওগে।
খাওয়া হলে তােমায় জল দেবে এখন।
আর ইতি মধ্যে রাস্তার দিকে ঠিক চেয়ে থেকো, যদি তােদর
আলাপী লােক যায়, তাহলে তাকে ডাকতে পারবে এখন।
তাছাড়া এখানেও অনেক লােকের যাতায়াত আছে, তাদের
দিকেও নজর রেখো, যদি তার ভিতর তােমার চেনা লােক
কেও বেড়িয়ে পড়ে।
হমিলস এ সকল কার কোন উত্তর দিলেন না। তিনি
মূদীর কথায় কেবল দুইচারি বার খাড় নাড়িয়া, জলপান খাইতে
আর রিলেন।
এমন সময়ে মুদীর দােকানে একজন ব্রাহ্মণ কি দ্রব্য ক্রয়
করিতে আসিল। জমিদা আলয়নে তাহার প্রতি চাহিয়া
মহিল।
সুদী ভিসা লিল- হে দুলাখ। তোমার বাবু
বিনিৰে ছিলি?
ভূতাব এ কিওমিক চাহি কর করিল-“কৈ, কিনা,
খে বুিতে পারি ।
৩৬
দিনে-ডাকাতি।
মুদী। তােমার বাৰু কি কছেন?
ভূতনাথ। কি আর করবেন-শুনছি গোয়েন্দা লাগিয়েছেন।
হরিদাস বুঝিলেন, সে লােকটী হরিমােন বাবুর নিয়োজিত
ব্রাহ্মণ। সুতরাং তাহার কথাবার্তায় তাহার কৌতুহল জন্মিল।
কিন্তু পাছে হার অন্তরের ব কেই জানিতে পারে, এইজন্য
সে দিকে স্পষ্টতঃ কিছুমাত্র লক্ষ্য না করিয়া, ঘাড় হেঁট করিয়া
জলপানে রত রহিলেন। তাহার সাজ গােঙ্গ, চাল চলন, আকার
প্রকার সন্দর্শনে কাহারও সন্দেহ ফরিবার কিছুই ছিল না ; কেহ
সনেহও করিল না।
মুদী কহিল—“গােয়েল লাগিয়ে আর কি হবে? আমি
নিশ্চয় বলতে পারি, নাড়ী ললাকে বারাই একাজ হয়েছে।”
ভূখ। বলতাে ভাই। নইলে কি, ঘরের ভিতর থেকে,
অমন দামী জিনিষগুলাে আমামে উড়ে গেল নাকি?
সুদী। আর এতাে বড় আশ্চর্যের কথা! ঘরের ভিতর
জিনিষ রেখে ধুয়ে চাবি দিয়ে চলে গেল, তার ভিতর থেকে
কেমন করে চুরি কলে ভাই? এরকম ত কখন শুনি নি।
ভূতনাথ ধু কি তাই? আবার গহনাগুলো নাতি বাবু
মেয়ে একটা বাগের ভিতর পচাবি দিয়ে, নীচে নেমে গিয়ে
ছিলেন। একেবারে সে ৰাজকে ৰা শুদ্ধ ৰোপাট। যেন
তােবাজীর পেল।
মুনী। চোখের বাহাদুরি আছে বটে! একবাড়ী লোক
গি গিস করছে, তার ভিতর থেকে তালাক দিয়া
গান বার বার বি ল
এ গণি
দিনে-ডাকাতি।
ত
ভূতনাথ। আর আমার কলে কি হবে দাদা! আমার।
তা লেগে গেছে; এখন যেন সব অসম্ভব সম্ভব বলে বােধ হচ্ছে।
সুদী। আচ্ছ, নাতােমার কারুর উপর সন্দেহ
ভূতনাথ। সন্দেহ আর কার উপর করব বল? বাবু,
বাড়ীর ভিতর তাে কোন পুরুষ কতে পার নাকায় যাবার
কুমও নাই? সব কড়াকড়ি বন্দোবস্ত। এর ভিতর থেকে
কোন পুরুষ চোর গিয়ে যে এ কা কবে তাতে আমার
বিশ্বাসই হয় না। তবে যদি-
এই কথা বলিয়া ভূতনাথ একটু থামিয়া গেল। তারপর
একবার চারিদিকে চাহিয়া দেখিল, কেহ তাহার কথায় কর্ণপাত
করিতেছে কি না। হরিদাস গােয়েন্দা যেমন জলপান করিতে
ছিলেন, সেই
সেই ভাবেই নতমুখে আহার করিতে লাগিলেন।
তাঁহাকে সন্দেহ করিবার যদি কোন কারণ থাকত, তাহ
হইলেও বা একটা কথা ছিল, কিন্তু তাহার ছদ্মবেশ কেহই
অনুমান করিতে পারে নাই বলিয়া, মুদী ও ভূতনাথের কথাবার্থ
সেই পুৰৰ চলিতে লাগিল।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ।
চতনা খন চারিদিক রূপে নিরীক্ষণ করিয়া
পাশি যে, সেই সকল কথা শুনিবার অন্য কেহই কৌতূহল
মুখের দিকে চাহিয়া নাই, ওন
লিতে গিলকি খান ভা! বন্ধ ঘরের
ক. তুমি বিনে না করে কি ?
দিনেডাকাতি।
জন্তে, সাবধান হয়ে কথা কইতে হয়; কি জানি যদি কেউ
শুনেই ফেলে
বাধা দিয়া মুনী কহিল-এ !
গুলেতো বড় বয়েই
গেল। এত টাকার গয়না চুরি গেছে, দেশ ৩ রা মনে
গেল—যার তার মুখে ঐ কথা শুনা যাচ্ছে, আর আমরা
সেই কথা কইলেই বুঝি যত দোষ? আমরা তাে আর চুরি
করিনি’--তার টা কি ?
ভূতনাথ। তােমার আর ভয় কি? তুমিতো আর কাম
চাকর নও! ভয় যা কিছু আমাদেরই
মূদী। কেন? তােমাদেরই বা ভয় কিসের ? দোষ থাকলে
লে ভয় করবে, শুধু শুধু ভয় করবে কেন?
ভূতনাথ। ভয় নেই। তুমি কি বুঝৰে যল?' বাবুদের তো
আর গুণে ঘাট নেই—বল্লেই হ’ল অমুক চুরি করেছে-
সুদী। এটা তাই তােমার অন্যায় কথা। সকল বিষয়েরই
একটা সম্ভব অসম্ভব আছে তো? অনি যাহােক একটা বললেই
তো আর হবে না
এই প্রায় কথা হইতেছে, এমন সময়ে একজন দাসী
তথায় আসিল। তাহাকে দেখিয়া মুদী সহসা চুপ করিল; রাক্ষণ
যে দ্রব্য ক্রয় করিতে আসিয়াছিল, তাহা লইয়া চলিয়া গেল। মু
শিা করিল-“কি গো মঙ্গলা। গরু-টয়না গুলাের কিন্তু
সান না?
সী। কৈ আৰ হ’ল বল সে কি আর মাকে নিয়েছে।
সন্ধান হবে।
বাসিয়া
sa
দিনে-ডাকাতি।
৩৯
দাসী। কি জানি বাছা! বাক্সে চাবি দেওয়া—ঘরে চাবি
দেওয়া--গয়নাগুলো কি আর মন্তরে উড়ে গেল? ভূতে নিয়েছে।
ভূতে নিয়েছে! এ কি মানুষের কর্ম ৰাছা ?
এইরূপ কথা বলিয়া, মঙ্গলা মুণীকে দুই তিনটা ভৌতিক
গল্প শুনাইল। মুদী খাসীর কথা শুনিয়া অস্থির হইল। যখন
মঙ্গলা দেখিল, তাহার মূল্যবান কথাগুলির কোন সুফল দর্ণিল
, তখন সে বিরক্ত হইয়া চলিয়া গেল। মুদীর তখনও
হাসি থামিল না।
অনেকক্ষণ পরে হাসির বেগ একটু কমিয়া আসিলে পর মুদী
হরিদাস গােয়ন্দার দিকে ফিরিয়া জিজ্ঞাসা করিল-“কি হে
তােমার জলপান খাওয়া হল?
হরিদাস তখন খাড় গুণিয়া বলিলেন-“ ভাই! এইবার
একটু জল দিতে বল। অনেকটা পথ ঘুরে ঘুরে বড় ক্লান্ত হয়ে
পড়েছিলেন, তাই জিরিয়ে জিরি, দুটা চাটি করে জলপানগুলি
খাচ্ছিলে-
হফিলাসের এই প্রকার কথা শুনিয়া মুদীর প্রাণে একটু
দয়ায় সায় হইল। সে বলি-
সে বলিল-“আহা! টে! বটে! ও
তুমি না হয় আর একটু বিশ্রাম কর। আমাদের এ দােকান
রাত্তির দুপুর ; পৰ্যন্ত খােলা থাকে। তুমি স্বচ্ছন্দে উতৰ
বলে জিরােতে পার। আর এর মধ্যে যদি তােমার সেই চেনা
লােকটাকে দেখতে পাও, তাহলে ভালই হবে। আমার বােৰ
হয় তুমি ভুল করেছ। হয়তো এ পাড়ায় ভােলা চেনা লােৰু
কেউ নেই। নইলে আমার দোকানে কত লোক আসা যায়।
ফ-এই তােমার সামনেই কত লোক এল গো-
লোক পাড়ায় ২ : হলে এতক্ষণ নি,
•
দিনে-ডাকাতি।
তার নাম কি তােমার এখনও মনে হল না?
যদি নাম বলতে পাতে তাহলে আমি তাের এখনি তার
সান বলে দিতে পারতো। তােমাদের দেশের লােকের মধ্যে
আমি এখানকার প্রায় সকলকেই চিনি। তাদের গােটাকতক
নাম করব? তাহলে যদি তােমার মনে হয়
হরিদাস মুদীয় কথায় বাধা দিয়া কহিলেন-“না থাক,
তা আর কার নেই। আর খানিকটা দূর গেলেই আবার
মার
আর এক ন আলাপী লোকের সঙ্গে দেখা হবে। আমি
তার বাসায় কাজ রাত্তিরে কৰে। সেই আমার সব ঠিকঠাক
বলে দিতে পারবে।
এই কথা কহিতে কহিতে রাস্তায় একজন লােককে চলিয়া
যাইতে দেখি, তিনি সহ উঠিয়া দাড়াইলেন।
মুণী তাহাকে সহ এইরূপ ভাবে উঠয়া দাড়াইতে দেখি
ঞিাসা কমিকি। তুমি জল খেলে না? অনি অমনি
চলে যাবে।
হরিদাস গােয়েন্দা তখন একেবারে দোকানে। সেই বাহিরে
আসিয়া দাড়াইয়াছে। সুন্দর কথায় একটা উত্তর না দিলে,
পাছে তাহার মনে কোন প্রকার সন্দেহ হয়, এই জয় তিনি
দিলেন -থাক, আমায় কত তেষ্টা পায় নি-আমি চল্লেখ
কাল বােধ হয় আবার তােমাদের এ দিকে আড় ৰে-
-
এই বিমা, তিনি এন করিলেন। তখন বিগিতের রায়
ফোকান আর একটা লােকের পাখি বিকি।
যে লােকটার দিকে চাষির এই ক্ষম। তিনি
দিনে-ডাকাতি। ৪১ সে হরিদাসের জন্য এক ঘটি জল লইয়া আসিয়া দাঁড়াইয়াছিল। সেও তাহার এই অলৌকিক ব্যবহারে আশ্চৰ্য্যান্বিত হইয়া উত্তর করিল-“আমিও তাই ভাবছি, লােকটা পাগল না কি ?? এই সময়ে দোকানের আর একজন লােক বলিল-“ওহে দেখ, এ দিক চেয়ে দেখ, লােকটা যে দু’পয়সার জলপান কিনেছিল, তার কিছুই পায়নি। সবই প্রায় এইখানে ছড়িয়ে ফেলে গিয়েছে।” তখন দোকানে আর যে যে ছিল, সকলেই উঠিয়া সেই খানে দেখিতে আসিল। দেখিল, সত্য সত্যই লােকটা জল- পান খাইবার ভাণ করিয়া বসিয়াছিল মাত্র, কিন্তু তাহার কিছুমাত্র আহার করে নাই। লােক দেখাইৰার মত দুই এক 'ৰার গালে তুলিয়াছিল মাত্র কিন্তু অধিকাংশই পার্শ্বদেশে ফেলিয়া দিয়াছে। তখনই সেই সকল লােকগুলির মধ্যে বয়ােজ্যেষ্ঠ, সে বলিল-এ লোকটা নিশ্চয়ই গােয়র চর। ও এখানে কাউকে খুজতে আসেনি। ন্যাকামি করে বসেছি, আয় কে কি বলে তাই শুনছিল, 'এ আমি নিশ্চয় বলতে আর একজন বলিল-“ঠিক বলেছ ভাই। আমারও তাই বােধ হচ্ছে। গােয়েন্দর চর না হলে কি এমন সা এতলে শােকে চক্ষে খুলে দিয়ে যেতে পারে ? একজন বলি—“আচ্ছ। ও যদি গােয়েন্দাই হৰে অকালে অননে সেজে আসবে কেন? তা না এলে শোফে টের পাবে। নে রে যে সব বলাল হয়ে যাবে। গােয়েন্দা কুত্র ।
দেখিয়া, আমি তত গতিঙ্কি দোকান হই ৪২ দিনে-ডাকাতি। “আচ্ছা ভাই। অমন মেদিনীপুরের লােকের মত কথা কইলে কেমন করে ?” *.গোয়েন্দারা সর পায়ে।” ‘বাহাদুরি আছে, বলতে হবে!” মুদীর দোকানের লােকগুলিতে। এইরূপে ছদ্মবেশী হরিদাসের কথা লইয়া আন্দোলন করিতে থাকুক, ইতিমধ্যে হরিদাস কাহার সন্ধানে কোথায় গেলেন, কৌতুহলাক্রান্ত পাঠকগণের সন্তোষার্থে তাহা বিকৃত করা উচিত। কিন্তু সে কথা, তিনি নিজে যেরুপ বর্ণনা করিয়াছিলেন, সেইরূপ ভাবে লিখিত হই- লেই পাঠকগণের পক্ষে, অধিকতর তৃপিজনক হইবে, এই বিবেচনায়, পর পরিচ্ছেদে জৰিকল তাহার মুখের কথাই উদ্ধত হইল। ত্রয়ােদশ পরিচ্ছেদ। (হরিদাসের কথা।) মুদী দোকান বইতে সহসা শিক্ষা হইবার আমার বিশেষ কোন কারণ ছি কেন, কিসের এ, কাহাকে ৰা, ‘তাহা এ খুলে বলিলে অ-ইহার সাধনা। সুতরাং সে বিষয়ে এখন যিয় ছিলাম। পাঠকগণ পাঠকগণ তা করে নিতে পারিবেন। কােন এক লােকৰে, সুৰীয় ঘােফানের সন্ধু
দিনে-ডাকাতি।
৪৩
হইয়া পড়িয়াছিলাম। তাহার পিছনে পিছনে আমাকে অনেক
দুর যাইতে হইয়াছিল। সিমলা, কারিপাড়া, চো বাগান
হইয়া সে লােকটী ক্রমাগতই অগ্রসর হইতে লাগিল। আমিও
তাহাকে সহজে ছাড়িলাম না। ঠিক তাহার পশ্চাতে অথচ
একটু দূরে ছিলাম। সে মাঝে মাঝে পিছন ফিরিয়া দেখিতে
লাগিল কিন্তু আমি যে তাহার পিছু লইয়াছি, তাহা বােধ হয় অসু-
ভব করিতে পারিল না।
“তখন রাত্রি প্রায় নয়টা বাঙ্গিয়া গিয়াছে, রাস্তায় বহু
সংখ্যক লােকের যাতায়াত, প্রায় কমিয়া আসিয়াছে। তাে-
পিও অতি সাবধানে অতি সন্তর্পণে আমি সেই লোকার
পিছু পিছু খাইতে লাগিলান। চোরবাগানের মােড় ছাড়াইয়া
সে বাশতলার গলির ভিতর প্রবেশ করিল। সঙ্গে সঙ্গে আমিও
কিয়দুর অগ্রসর হাই দেখিলাৰ, রাস্তায় একজন লােকে
সহিত সাক্ষাৎ হওয়াতে, পথিমধ্যে সেই লােকটা rণ্ডায়মান
ইয়া, তাহার সহিত কথাবার্তা, কহিতে লাগিল। আমি ভাবি-
সে অবস্থায় আমিও দায়মান হই, তাহা হইলে
আমার কার্যকলাপের উপর যে সন্দেহ করিতে পারে। অন্তত
বুঝিতে পারে যে, আমি তাহার পিছু লইয়াছি। কাজে কাজেই
আর কোন উপায়ান্তর না দেখিয়া, আমিও অগ্রসর হইনা।
যাবার সময় নিম, সে বলিতেছে পাগল আর কি ?
কি
তাহা ঠিক অনুমান করা গেল না। আমি বৰ তাহাদিগকে
আড়াইর খানিকটা চলিয়া গিয়াছি, তখন তাহা ছাড়া
যক্তি হইল। আমি যাহা পিছু লইয়াছিলাম, যে শ
বেশ কলিম শােকন, আমি যেখানে
*এ কথা শুনিয়া, তাহাদিগে কি কথা হইতেছিল
৪৭ দিনে-ডাকাতি। গড়াইয়াছিলাম সেই দিকে আসিতে লাগিল। তাহাকে দেখিয় আমি নিকটস্থ একটা অন্ধকার গলির মধ্যে প্রবি হইলাম। সে লােকর গলি পার হইয়া চলিয়া গেলে পর, আমি ই- বেশ পরিবর্তনের চেষ্টা করিলাম। ৫ে শতগ্রন্থি মলিন বসন পরিধান করিয়া ছিলাম, তাহার অভ্যরে মালকো মারা ভাল কাপড় পরা ছিল। সেই কাপড়ের ভিতর এক লােগ হা তালতলার চটাও ছিল। কোমরে চাদর জড়াইয়া রাখিয়া ছিলাম। একটা পাতলা (সুই) কাপড়ের জামাও সেই চাদরের সহিত ভঙ্গ কথা ছিল। গােয়েন্দাগিরি করিতে গেলে, কখন কি সবক , তাতে বলা যায় না, সুতরাং পূর্ব হইতেই এই একার আয়ােজন করিয়া, আমায় বাটা ইতে বহির্গত হইতে হইয়াছিল। “দুই চারি মুহূর্তের মধ্যে, মেদিনীপুরের চাষা জংলী, এ হন ফিট বাবুতে পরিণত হইল। আর তখন আমাকে চিনি ৰার উপায় নাই। এমন কি যে মুদীর দোকানে বসিয়া কি ক্ষণ পূর্ব এলন লইয়া আহা করিতেছিলাম, সেও আমায় খিলে আর চিনিতে পারি কি না সন্দেহ। মুখে হাতে, পায়ে একটু বিলাতী মং মাখানও ছিল, তাহাও সেই হিয় ৰি ৰসনে মুছিলাম। দুই হাত দি, মাথার চুলে চিশ সে ফাৰ্য্য সারির লইলাম। আমি যে কে দায়মান ছিলাম, তাই একজন গােটা ঋী পৰিছি। সে গলির দিকে একটা বানশাৰ খিলানের ভিতর সেই শথিপূর্ণ ছিল ভিন্ন কুনগুলি রাখি, আমি পুলা মহিলা। ...
দিনে-ডাকাতি। ৪ সমৰ লাগিল, এত কার্ধে তাহার শতাংশের একাংশ সময় লাগে নাই।” ; চতুর্দশ পরিচ্ছেদ। দুই চারি মুহূর্তের পরেই আমি সেই স্থান হইতে বহির্গত হইয়া (আমি যাহার পিছু লইয়াছিলাম সে যে গলিতে প্রবেশ করিয়াছিল) সেই গলিতে প্রবেশ করিলাম। কাহাকেও দেখিতে পাইলাম না । “গলিটার মধ্যে, স্থানে স্থানে দু'একটা তেলের আলো অলিতেছিল; সেই আলােকে যতদুর সম্ভৰ দেখিলাম কি কাহাকেও পাইলাম না। একটা বাড়ীর বহির্দেশের কক্ষে মিটি সিটি প্রদীপ আসিতেছিল, আর সেই আলাের সম্মুখে বসি এই জন লোক কথা কহিতেছিল। আমি তদর্শনে গবান ফাক দিয়া যেমন দেখিতে যাইব, অমনি পাক্ষিক হইতে সহসা একজন আমার মুখ টিপিয়া ধরিল; আর এক জন একখানা চাদরে আমার মুখ চোখ বাধিয়া ফেলিল। শি প্রাণপণে চেষ্টা করিয়া তাহাদের হাত ছাড়াইতে পারিনা । বােধ হইল, দুইজনে আমার হস্ত আর দুইজনে পা রয়াছে। উপায়ান্তর না দেখিয়া আমি নিও হইলাৰ তাঁহারা আমার বুয়ে শুয়ে (ছেলেবেলায় দুই ছাত্রকে গুহ- শমের পাঠশালার বেল চ্যাংদোলা করিয়া লইয়া যায়, সেই লইয় চলিল। আমার নিশ্বাস-প্রশ্বাস প্রায় বন্ধ হয় কম হইছিল, অথচ আমি কিছু দিতে পামিতেছিলাম না। এর পানি দেখিয়া তাহাদের মধ্যে একজনের বােধ হয়,
৪৬
দিনে-ডাকাতি।
হইল, সে আমার মুখের বাঁধন টানিয়া একটু আগ্ধ করিয়া
দেওয়াতে, নিশ্বাস ছাড়িয়া বাচিলাম। অনেক বিপদে পড়ি-
আছি কিন্তু এরুপ অসহায় অবস্থা কখনও ঘটে নাই। তাহারা
আদায় বহন করিয়া সেই অন্ধকার গলির ভিতর কিয়ৎদূরে
ইয়া গিয়া, একটা বাচীর ভিতর প্রবেশ করিল। একজন বলিল,
“ওরে, আমার
আমার সেই বড় ভুজিয়ালী (হােয়) থানা নিয়ে
আয়তাে। আজ এ বেটার পেট হাসিয়ে দেব।”
এই কথা শুনিবামাত্রই আমি শিহরিয়া উঠিলাম। কিন্তু বিপদে
ধৈৰ্য্য ধারণ করা আমার অভাব, সহরাং অধীর না হইয়া
স্থিরভাবে বহিলাম। মুটের মালের বস্তা নামাইতে হইলে,
যেন পাস্ করে ফেলিয়া দেয়, তাহারাও সেই একাৰ
আমার দেহটাকে মমতা শক্ত হইয়া ধপাস করিয়া একটা ঘরের
মেজের উপর ফেলিয়া দিল। আমার শরীরে তাহাতে দা
আঘাত লাগিল বটে, কি অতি কষ্টে তাহা সহ কালাম।
তা আমায় স্থিরভাবে পড়িতে যেখিয়া বিস্মিত হইল।
একন বলি--- কিরে । ব্যাটা যে নড়ন চড়ন মুহিত।
একা পেলে না কি?
আয় এক উত্তর করিল-“তা হতে পারে, দুই নে করে
বেধেছিলি, হয়তো দম আটকে নয়ে গিয়েছে।”
এ অবস্থায় এ সুযােগ মন্দ নয়। কিন্তু
করিলাম-“যদি হৈারা আমার মৃত্যু হইয়াছে কি না দেখিতে
তাহা হইলে এমন স্থাৰে নিদ-এল বি বাকি
হায় মৃত বলিয়াই স্থির করিবে।"
তাহাদের মধ্যে দুই একর আমায় দেখিতে
খি কাটপনা পরি মহিলা। একজন
আমি জানিলাম, এ
দিনে-ডাকাতি। ৪৭ সবাই জালিয়া আমার মুখের কাছে ধরিল, আর একজন বুকে নাকে হাত দিয়া দেখিল। সকলেই তখন সিদ্ধান্ত করিল, আমার মৃত্যু হইয়াছে। যাহাকে ছােয় নিতে বলা হইয়াছিল, সে সেই সময় আসিয়া “হছিল। একজন বলিল-“আর ছােয়ার দরকার নেই। অমনি অনি ব্যাটা কৃষ্ণ পেয়েছে। এখন এর একটা উপায় কি করা যায় বল দেখি?” সে লােকটা প্রথমে তাহাদিগের কথায় বিশ্বাস করিল না সে একটী দিয়াশলাইয়ের কাটী আলিয়া আমার সর্বাঙ্গ নিরী- # করিল। তাহার দেখা শেষ হইলে দলের একজন জিজ্ঞাসা করিল- দেখা সাক্ষাৎ জ্যান্ত মানুষটাকে খুন করে ফেলা গেল- এখন উপায়? “আচ্ছা নােকটা কে বল দেখি? ও এক বেটা গােয়েন্দা না হয়ে আর যায় না! বাটা বছিল না, যে একটা গােয়েন্দা তার পিছু নিয়েছে।” “তা” ও যদি অ লােক হয়। আহা! তা হলে একটা নির্দোষী মানুষকে খুন করে ফেলা হয়েছে।” আহা ! তোমার আর অত সময় কাজ নেই।” “না, তা খছি না। তবে কি জান, ও যদি সেই গােয়েলা না “তাহলে-তালে—তাহলে আমার হবে টা কি? এমন করে উকি কি গাছি কেন? ওর চোখেই Et এই বেছে নিয়ে পেটটা খসিয়ে দেবে বলে ?
৪
দিনে-ডাকাতি।
“আর বলেইবা। কতুম কিনা, তা তুই কি করে জানলি?”
“না তা তাের সে গুণে ঘাট নাই। পেট হাসির নাড়ী
তুড়ী বার করে দিতে তুমি খুব মজবুত। এই কদিনের ভিতর
প্রায় পাঁচ হট পাচার করলে।
“সে কথ যাগএখন কি করা যায় বল?”
“বরাবর ফয়ে আছ তাই করবে। ওর এর বিকাশ
করছ কি?
একবার ব্যাটাকে জিজ্ঞেস করলে হয় না?
“সে তো এসেই বলেছে একজন লােক তার পিছু নিয়েছে।
“তবু একবার তাকে ডেকেই দেখ না? অন্ততঃ এই লােকটাই
তার পিছু নিয়েছিল কি না, আনা যাবে এখন।”
তাহারা ভিন্ন ভিন্ন আনে এইরূপ তির তির কথা কহিতে
লাগিল। আমি তাহাকে চিনি না, তরাং কাহাই না।
দিতে পারিলাম না।
আমার যে হইল তাহারা ৩। লােকের নিকট আ
লইয়, তা হয় ত কাজ করে। তাহাতে প্রাণের মা
য় রাখে । আমি কি করিয় এইরূপ শা-মম হীন
এমপিশাচগণের ও ইতোর পাই, তাহার কোন উপায়
কি করিতে পারিলাম না। যালয় বিল বুঝি ধৈাৰণ
করিম রহিলাম; কিন্তু এতে বক্ষ হইতে লাগিল। কি
শনি যদি এই অসহায় অবস্থায় এক হােমশাই দে।
অনেক তর্ক-বিতর্কে পয় হায় “কেই ডাকা
সামিল। আমি কােন লিৰি, সেই রকমই
नाव। कवन बीमार्मिक मान
মূলাটারে অফিতেখ।
আরও চাৰি পাচন না"
দশম পরিচ্ছেদ।
আমি জানিতাম, আৰি যাহার পিছু লইয়াছিলাম সে যদি
সেই “না” হয়, তাহা হইলে কখনই আমায় চিনিতে পালিৰে
কারণ সে আমায় যে ভাবে ও যে একার শতগ্রন্থি
বিশিষ্ট মলিন বসন পরিত দেখিয়াছিল এখন সে সমস্তই বিলুপ্ত
হইয়াছে। তাহার চিহ্নমাত্রও নাই। সুতরাং তাহার পক্ষে
আমায় চিনিয়া লওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব।
যাহা হউক, সে ত আমায় চিনিতে পারিবে না কিন্তু এই
সকল নরপিশাচগণের হস্ত হইতে কি প্রকারে উদ্ধার প্রাপ্ত
হই তাহাই আমার তখন বিশেষ চিন্তার কারণ হইল।
প্রত্যুৎপন্নমতি, সাহস, অধ্যবসায় ও ধৈৰ্যশক্তি আমার যথেষ্ট
ছিল, কিন্তু এতগুলি লােকে হস্ত হইতে পলায়ন করাও বড়
সহজ কথা নয়। অতএব কি করি, তাহাই ভাবিতে লাগিল।
ইতি মধ্যে একটা লােক, একটা প্রদীপ লইয়া আসিল এবং
বেথ হইল অহা সরে সঙ্গে আর একটা লোক প্রবেশ করিল।
একজন বিজ্ঞাসা করিলকৈ খি? আমি দেখিলেই
লিতে পারিব।”
এই কথা বলিয়া সে আমার নিকটবর্তী হইল। সঙ্গে সঙ্গে
। যে বলিল-না, এ কখনই নয়।
এ তাে কাকে খুন করেছিল। এ.একজন অপর লােক। আহা,
একে কেন মালি-
* সােলার প্রায় কাখে কান্না হতে হবে না। যা
হলো, এতো আ কোন উপায় নাই। তার পরে
ফি খাবো”.
দিনে-ডাকাতি।
আমি বুঝিলাম, সে লােকটা তাহাদের কথিত সেই “বা-
নাই বটে। আমাকে সে চিনিতে পারিল, না সুতরাং বিনা
বাক্য-ব্যয়ে ফিরিয়া গেল।
মুদী দােকানে হরিমােহন বাবুর পাচক ব্রাক্ষ্ম যেরূপভাবে
অলঙ্কার অপহরণের কথা কহিতেছিল, তাহাতে তাহার উপর
আমার সন্দেহ হয়। সে সন্দেহের কারণ যে কেবল তাহার
কথাবার্তা শুনিয়াই জন্মিয়াছিল, তাহা নহে।
তাহার উপর
সন্দেহ হইবার অন্য কারণও ছিল। হরিমােহন বাবুর বাটীতে
আমি এমন কোন সূত্র পাইয়াছিলাম যাহাতে আমার পাচক
ব্রাহ্মণগণের উপর সন্দেহ হইতে পারে। সে সুত্রটা কি, তাহ
এখন বলিব না। তবে এ কথা বলাতে আপাতত বোধ হয়
এই অত্যাশ্চর্য্য অলঙ্কার অপহরণের বৃত্তান্তের গয়াংশের কোন
বল ভক্ত হইবে না যে, আমি সেই সুবলেই প্রথম হইতেই
কি প্রথায় এবং কাহার দ্বারা বহুমূল্য অলঙ্কার রাশি অপহৃত
হইয়াছিল, তাহা সিদ্ধান্ত করিয়া লইয়াছিলাম।
পাচক ব্রাহ্মণ মুীর দোকানে কথা কহিতে কহিতে মঙ্গল।
মাসীকে দেখিয়া সরিয়া যায়। কিয়ৎক্ষণ পরেই তাহাকে তাহার
অবস্থাপযােগ ফিটফাটু বাবু সাজিয়া সুতিপদে মুনীর দোকানের
মখ দিয়া চলিয়া যাইতে দেখিয়া, আমি তাহার অনুগামী হই।
তারপর সে যে ঘটনা ঘটিয়াছে, তাহা পাঠকগণ সমস্তই জানেন। এই
বামনাই” সেই ৰাহ্মণ।
বাসনা চলিয়া গেল, এখাগ, শামা বিহিত করিতে
নসিল।
একজন লিল-“পাস মাতায় কে ।
দিনে-ডাকাতি। আর একজন উত্তর করিল—*সুবিধার কথা নয়! এ ইংরে- “তা বয়েই গেল? কে খুন করেছে তা কে জানে?” কাজ কি বাবা, অত গােলমালে। সাদা সিদের কাজ রক্ষা “না-খবরদার! রক্তারক্তিতে কাজ নেই। যখন এ কাজে গােয়েন্দা লেগেছে, তখন এর চিতুমাত্র রাখা হবে না। কি খানি, কিসে কি হয়।” তার পর তাহারা চুপি চুপি কি পরামর্শ করিল, আমি ভাল শুনিতে পাইলাম না। তবে যে দু একটা কথা আমার কাণে গিয়াছিল, তাহাতেই বুঝিলাম, তাহারা আমায় সেই বাটীর ভিতর- কায় পাকুয়া ফেলিয়া দিবে। একজন বলিল-“তবে এখন এই রকমই থাক। রাত্রি একটার সময় সে কাজ হবে এখন। এখন ওখানে “মনটা কি রকম ভাগ বাটরা করেছে দেখা যাক, চল।' তেমন পয়সা না পাওয়া যায়, তাহলে তাকেও সকলেই তাতে নষ্ট হইল এবং একে একে সেই কক্ষ হইতে নিক্রান্ত হইয়া চলিয়া গেল। তাহারা চলি গেল, আমিও বাহির হইলাম। আমি দেখিলাম, তাহারা খানিকটা দূর গিয়া একটা বাড়ীর মধ্যে প্রবেশ করিল। আমি আর সে বানর দিকে না গিয়া সেই গলির ভিন্ন দিক দিয়া বড় রাস্তায় বাহির হইলাম। খেই একজন টোয় পাহারাওয়ালা দণ্ডায়মান ছিল, তাহাকে জানি একটু আড়ালে লইয়া গিয়া সমস্ত কথা সংক্ষেপে বলি- না এবং আপচির এন করিলাম। সে য ব ল
দিনে-র্জাতি।
চাৰিট সেলাম বাজাইয়া হুকুম প্রার্থনা করিল। আমি তাহাকে
আকমত উপদেশ প্রদানপূর্বক ত্বরিতপদে অপ কান্তায় গিয়া
ঘুরিয়া যে স্কুলে আমার ছিন্ন ভিন্ন মলিন বসন সুকান ছিল,
দেইখানে ফিরিয়া আসিলাম। তথা দুইটা হােট পিস্তল
লুকাইয়া রাখিয়াছিলাম। বিশেষ কোন আবশ্যক হইবে না
গৰিয়া লইয়া যাই নাই। এখন তার প্রয়ােজন হওয়াতে
দুই হস্তে দুইটী গ্রহণ করিয়া পাহারাওয়ালাগণের আগমন
প্রতীক্ষায় অন্ধকারে লুক্কায়িতভাবে দাঁড়াইয়া রহিলাম।
পনের বা কুড়ি মিনিটের মধ্যেই ছদ্মবেশী পাহারাওয়ালাগণ
একে অন্ধভাবে, রাস্তায় সাধারণ লােকের মত চলিয়া যাইতে
লাগিল। আমি তাহাদিগের একজনকে দেখিবামাত্রই বুঝিতে
পারিয়াছিলাম যে, দলবল সমেত তাহারা উপস্থিত হইয়াছে।
আর অপেক্ষা করিবার কোন আবশ্যক দেখিলাম না বলি, পিস্তল
ইস চারে চাইয়া কোমরে রাখিলাম। তার পরেই গুপ্ত স্থান
ইতে বহির্গত হয়, সেই গলিতে প্রবেশ করিলাম।
দেখিলাম, যেরূপ উপদেশ দিয়াছিলাম, পাহারাওয়ালাগণ ঠিক
ইজপ কা কখতেছে। আমাকে প্রলতে প্রবেশ করিতে
সেক্সি কে কিছু বলি না কিন্তু আমার সম্মুখ দিয়া আর একজন
পলি হইতে বহির্গত হইবামাত্রই একজন হয়ৰেী পাহারা
পিছু লইল।
ত্রে আগে মারিয়া, লেবানরের
ৰে এৰেশ নিতে ছিলো যাতে এক
দিনে-ভাকাতি।
তাহারা সকলেই আমার দিকে চাহিল। দুই একজন অলঙ্কারগুলি
সরাইয়া ফেলিবার উপক্রম করিল। আমি তদর্শনে কঠোর স্বরে
কহিলাম-“খবরদার! একখানি গয়নাতেও হাত দিও না।
আমাকে একক দেখিয়া দুই চারি জন লাঠি সোটা ও ছােয়
চুরি লইয়া ভীষণ মূর্তিতে উঠিয়া ভাইবার চেষ্টা করিবামাত্র, আমি
কটিদেশ হইতে দুই হন্তে দুইটা পিস্তল বাহির করিয়া ফাঁকা আও
আজ করিলাম। যে যে উঠিবার চেষ্টা করিতেছিল, মৃত্যু-ভয়ে ভীত
হইয়া তাহারা বসিয়া পড়িল।
একজন জিজ্ঞাসা করিল-“কে তুই ?”
আমি উত্তর করিলাম—“তােমার বড় কুটুম্ব, তােমায় অপ্যায়িত
করতে আর ভাই ফোঁটা নিণ করতে এসেছি।”
ইতিমধ্যে ইনেস্পেক্টায় সাহেব দল বল সমেত উপস্থিত হইলেন।
আমি পুনরায় পিস্তল উঠাইয়া বলিলায়—“খবরদার! যে একটু
নংবে-চড়বে, এখনি তার প্রাণ যাবে।” পিস্তলের গাওয়া।
শুনিয়া আর পুলিশের দলবল দেখি সকলেই হতভম্ভ হই।
,
এর
আমার ইতি , দুই দুই জন পাহারাওয়ালা, এক এক
লোেকর উপর লাফাইয়া পড়িল। অতি সহজেই সেরে যে কয়
অন বলিয়াছিল, তাহা হইল। বােৰ হয়, তাহায় দুই এ
সু বিবার সময় পাইলে, এত সহজে ধরা দিত না।
পুলিশে হইতে রক্ষাৰ্থ একবার আপণে চেষ্টায়
এখন আর হাতে হাতকড়ি পড়ি
চোখ নিয়েই শাক আজকে আল
৫৪
দিনে ডাকাতি।
কার সাহেবের রুলের ওতে বড় মিষ্ট লাগাতে, কঁদ কাঁদ স্বরে
কহিল-“না।”
অলঙ্কারগুলি বাক্সবন্দী করিয়া চাৰি দিয়া আমি তাহা নিজ
হতে লইলাম। বদিগণকে চালান দিবার ও অন্য কার্যের
ভার ইম্পেটার মহাশয়ের উপর দিয়া আমি গলির মােড়ে
আসিয়া একখানি গাড়ী ভাড়া করিয়া একেবারে হরিমােহন
কবুর বাটতে উপস্থিত হইলাম। অলঙ্কারগুলি পাইয়া হরি-
মােহন বাবু যৎপরােনান্তি আলাদিত হইলেন এবং সমস্ত গহনা
আহাতে আছে কি না জানিবার অফ বাক্সসমেত বাড়ীর ভিতর
নই৷ গেলেন।
অল্পক্ষণ পয়েই ফিরিয়া আসিল বললেন, সমস্ত গহনাই পাওয়া
গিয়াছে, কিছুই খোয়া যায় নাই।
তখন আমি তাঁহাকে সমস্ত ঘটনা বলিলাম। তিনি তাহা
শ্রষণে কখনও পুলকিত, কখনও বিস্মিত এবং কখনও বা শিহরিত
হইতে লাগিলেন। শেষে বলিলেন-“সার্থক আপনাদের বুদ্ধিবল!
শালা একটা বাশ দেখিয়া আপনি এই সমস্ত পূর্ব হইতেই অনুমান
হরিমােহন বাবুর বাটীর অবস্থা ও মৃন্ময়ীর ঘর দেখিয়া এবং
সক বৃত্তান্ত শুনিয়া, কেমন করিয়া অলঙ্কার চুরি হইল, তাহা
মান করা বড়ই দুঃসাধ্য। আমি প্রথমে মনে করিয়াছিলাম যে
সফর অলঙ্কার রিমোহন বাবু, কোন আত্মীয় স্ত্রীলােক কিম্বা
কালীগণের মধ্যেই কেহ অপহরণ করিয়াছে। কিন্তু মৃন্ময়ীর ঘরের
ৰাতৰ মান হইয়া যান আহিরিমােহন
বুকে পুনিমখ জিজ্ঞাসা করিতেছিলাম, সেই সময়েই
দিনে-ডাকাতি।
আমি দেখিতে পাই, মৃন্ময়ীর ঘরের পাশে একটা একতলা
ছাদের উপর একটা সরু বাঁশ পড়িয়াছে। তখনই আমার
মনে ইহা উদয় হয় যে সেই বাঁশটা জানালার গরাদের ভিতর
গলাইয়া, কক্ষভ্যন্তরস্থ বাক্সের কড়ায় পরাইয়া দিয়া, তাহা
উঠাইয়া জানালার বার অবধি আনা যায় কিনা এবং তারপর
সেই. বাক্স কাত করিয়া জানালার ভিতর হইতে বাহির করিয়া
লওয়া সম্ভব কি না। বাক্সটির খাড়াই (উচ্চতা কতটুকু তাহা
জানিবার জন্য হরিমােহন বাবুর নিকট হইতে সেইরূপ আর
একটা বাক্স দেখিতে চাই এবং সেই বাক্স দেখিয়াই আমি
বুঝিতে পারি যে উহা অনায়াসে জানালার গরাদের ভিতৰ
হইতে গলাইয়া লওয়া যাইতে পারে। তারপর হরিমােহন
বাবুর সঙ্গে পাকশালার ছাদে গিয়া আমি যখন দেখিলাম যে,
সে ছাদে আর জন-প্রাণরও আসিবার সম্ভাবনা নাই, তখন
স্থিরসিদ্ধান্ত করি যে, পাচক ব্রাহ্মণ ছাড়া আর কেহই তাহা অপু
হরণ করে নাই। তারপর যাহা যাহা ঘটিয়াছে তাহা পাঠক
অবগত আছেন।
এইরূপ একী: সামান্য সূত্র হইতে আমি এই অত্যাশ্চর্য
অলঙ্কার অপহরণ বৃত্তান্তের ও দিনে-ডাকাতির সমাধা করি।
ERI PONESARONA
ATION
NMO
:
CRTAIN.