Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Dukhani Ekanka Natika
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
-
No text on this page.
নিী এল্পনাটি কম্বল মুখােপাধ্য সমালােচনাই- বখা-সপ« মহাশয়সমg ১১.১.১০ হারজিৎ ভণীবিদ্যালয় हन ১৩৩৯
৫ নং নয়নাদ দত্ত স্ট্রীট হইতে
দ্বিজেন্দ্রলাল ভাদুড়ী কর্তৃক প্রকাশিত
মূল্য।• ছয় আনা মাত্র
প্রিন্টার :
শ্ৰীমণীন্দ্রনাথ ভাণ্ডারী
अडिन
১৫নং রায়বাগান স্ত্রট,
কলিকাতা
নিবেদন ছাত্রদের অভিনয়ােপযােগী ছােট নাটক সংখ্যায় খুব কম। তাছাড়া ঘােট গল্পের মত অল্প পরিসরের অথচ অভিনয়ােপযােগী একাঙ্ক নাটক রচনা করবার যুগ এসেছে। এই একাঙ্ক নাটকের জন্ত রুচি সৃষ্টি করতে হলে প্রথমে ছাত্রদের দিয়ে সূত্রপাত করা দরকার, কারণ তারাই অদূর ভবিষ্যতের যুবক এবং তাদের চাহিদার উপর এই একাঙ্ক নাটকের যােগান নির্ভর করবে। এই জন্যই জোর করে আমার বন্ধুবরের এই দুটি রচনা প্রকাশ করলুম। প্রথম নাটকটি আদি মেট্রোপলিটন বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ প্রিয় সুহৃদ ধীরেন্দ্রনাথ পালের উৎসাহে ছাত্রগণ কর্তৃক প্রথম অভিনীত। যথেষ্ট চেষ্টা সত্ত্বেও মুদ্রাকর প্রমাদ এড়ানাে যায়নি,-১১ পৃষ্ঠা ১ লাইনে একটা মারাত্মক ভুল রয়ে গেছে,-কে কেয়ার করে সুরেশ পরিবর্তে কে কেয়ার করে বিকাশ’ হবে। ইতি- বিলােল গাড়ী প্রথম অভিনয় :—১৩ই চৈত্রযুনিভারসিটি ইনষ্টিটুট হল . == সুবােধবাবু—ক্রমান্ সুধীর দাশগুপ্ত বিকাশ আরধন গঙ্গোপাধ্যায় মুরেশ সৌরেন্দ্রনাথ মিত্র নৃপেশ- সমরকুমার রুদ্র মহিম- যিজেনাথ সিংহ গগাকুল অরুণকুমার সেনগুপ্ত গােপেন শৈলেন্দ্রনাথ মল্লিক শিবু- ফণীভূষণ মণ্ডল বাদল- দেবব্রত সুর চৌধুরী বিভূতি শক্তিপদ দত্ত = নরে- = মাখনলাল গঙ্গোপাধ্যায় হার-জিৎ
পাত্রগণ
ভলান্টিয়ার কোরের মেম্বার
বিকাশ
(ম্যাটিকের ছাত্র)
নৃপেশ
(বিকাশের অনুগামী,
ক্লাশ এইট-এ পড়ে)
(নৃপেশের সহপাঠী)
মহিম
শিবু
গােপেন
গগাকুল
বিকাশের প্রতিস্পর্ধী
সুরেশ
(ম্যাটিকের ছাত্র, ধনী।
সুরেশের অনুগত
বাদল
বিভূতি
নরে
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবােধ বাবু
দৃশ্যঃ কলিকাতার কোন উচ্চ ইংরাজি বিদ্যালয়ের একটি ঘর।
সময়ঃ প্রাতে ৮ টা বাজতে প্রায় ১০ মিনিটে এই ঘটনার সূত্রপাত
এবং শেষ হতে লাগে আনুমানিক ৪৫ মিনিট।
হার-জি
[ কলিকাতার কোন উচ্চ ইংরাজী বিদ্যালয়ের একখানি ক্ষুদ্র ঘর। সামনে দরজা।
—ডানদিকে একটি দরজা এবং তার পাশেই দু'খানি ডবল বেঞ্চ। বাঁদিকে
জানালা এবং দু’খানি বেঞ্চ। দরজা দিয়ে ঢুকেই ডান দিকে Stand এর উপর Black
board, বাঁদিকে একটি আলমারী। আলমারীতে কতকগুলাে রূপার কাপ, ইউনি-
ফম ও কিছু বই। বর্ণিত ঘটনা সুরু হবার সময়, ঘরে দুটি ডবল বেঞ্চের উপর পরস্পর
মুখােমুখি করে বসে আছে নৃপেশ ক্লাস VIII এর ছাত্র আর তার সহপাঠী মহিম।
নৃপেশের মুখ প্রতিভায় উজ্জ্বল। বয়স তার প্রায় ১৪। মহিম কিছু ছােট হবে। তার
মুখাবয়বে কমনীয় সারল্য। এরা ইংরেজীতে যাদের Hero-worshipper বলে
তাদের পর্যায়ে পড়ে।
মহিম—ভাই, আমার খালি মনে হচ্ছে এবার ভীষণ কাণ্ড হবে।
বিকাশদা ভয়ানক গম্ভীর হয়ে গেছেন। সুরেশ যে রকম ভয়
দেখাচ্ছে •••••
নৃপেশ রেখে দে সুরেশদা’র কথা। সুরেশদা’ কি কবে শুনি? ভারী ত
ওর মুবােদ। গতবারে Sport এর মাঠেই তা দেখা গেছে।
ছেলের দল হৈ হৈ করে যখন Track এর মধ্যে এসে পড়ল,
ও কি কলে ? দিব্যি পলায়ন! অথচ ঐ দিকের চার্জে ত উনি
স্বয়ং ছিলেন। বিকাশদা’ গিয়ে আবার Track clear করেন।
মহিমকি জানি ভাই। এবারে যে রকম দল পাকিয়েছে তাতেই
আরও ভয়। আমায় ভাই, টেবু বলে আজকাল মােজ
২ হার-জিৎ , মােড়ের চায়ের দোকানে বসে ওরা মতলব ভাজে। কি যে করবে অনেক চেষ্টা করেও ধরূতে পারলুম্ না। নৃপেশ–বিকাশদা যতক্ষণ রয়েছেন আমি কিছু ভয় করি না। জানিস, সূঙ্কের মাষ্টার মশায় বলেন বিকাশদা’র মতন অমন ছেলে তিনি কখনও দেখে নি। সেদিন মাষ্টারদের ঘরে ওঁরা আলােচনা করছিলেন, আমি বেয়ারার টুলের ওপর বসে সব শুনলুম ; হেডমাষ্টার থেকে আরম্ভ করে সবাই ওর প্রশংসা করলেন। স্কুলের ভলান্টিয়ার দলের এত যে সুনাম সে ত বিকাশদা’র জন্যেই ? মহিম—সত্যি ভাই, বিকাশদার ভেতর যেন কি একটা আছে। আমার মনে হয় বিকাশদা পরে একজন খুব Genius হবেন। আমার কিন্তু ভাই ভারী আনন্দ হয় যখন আমরা সকলে ড্রিল করতে দাড়াই আর বিকাশদা আমাদের অর্ডার দেন। কেমন চমৎকার লাগে- নৃপেশ—আহা কি কথাই বল্লে ? চমৎকার কার না লাগে শুনি? মহিম-না, আমাদের সকলেরই ভাল লাগে। তাইত আমাদের corps এ কেমন যেন সব আপনার আপনার ভাব- নৃপেশ—মহিম, আমি সময়ে সময়ে মনে করি যদি একটা যুদ্ধ লাগে, আর আমরা বিকাশদাকে ক্যাপ্তেন করে যুদ্ধে যাই—একটা মস্ত Trench কেটে তার ভেতর আমরা সবাই থা—বিকাশদা আমাদের চালাবেন-কেমন চমৎকার জীবন! সেদিন যুদ্ধের সব ছবি দেখছিলুম আর ভাবছিলুম- মহিম-সত্যি ভাই, ভারী চমৎকার। আমরা জিৎবই— নৃপেশ—দূর পাগল, জেতাহারার কথা কে ভাবছে ?
হার-জিৎ মহিম—না, মানে যদি যুদ্ধ হয় তাই বছিলুম। আচ্ছা ভাই বিকাশদা’ কার কাছে পড়তে যান ? নৃপেশ-একজন কে আছেন, তাঁর নাম আমি জানিনা। বিকাশদা কে কিন্তু গুরুর মত ভক্তি করেন। তিনি প্রায়ই বলেন তার শিক্ষায় উনি মানুষ হয়েছেন। ইনি খুব ভাল লােক,—একেবারে সন্ন্যাসীর মতন। ইনি নাকি বলেন সংসারে যতদিন বড়লােক আর গরীবলােক থাকবে ততদিনই অশান্তি। আমি বিকাশদার মুখে শুনেছি। বিকাশদা বলেছেন আর একটু বড় হলেই তিনি আমাকে তার কাছে নিয়ে যাবেন। [ ডানদিকে দরজা দিয়ে শিবুকে আসতে দেখে ] মহিম-ওরে শিবুদা আছে। বােধ হয় কোন দরকার পড়েছে। [ শিবুর প্রবেশ : শিবু class IX এর ছাত্র । শিবু—এই নৃপেশ, Captain তোমায় duty দিয়েছেন এখন থেকে আটার মধ্যে স্বেচ্ছাবাহিনীর সকলকে খবর দিয়ে রাখা চাই। ৮টা ৫এ Pall-in হবে। মহিমবার সময় কোথা শিবুদা? এখনই ত আটটা বাজতে পাঁচ- নৃপেশতর্ক থাক্ মহিম। আমাদের না শপথ করা হয়েছে যে Captainএর আদেশ যাই হােক তাই পালন করতে হবে ? আমি চলুম শিবুদা'। [ নৃপেশের প্রস্থান । মহিম—শিবুদা, নৃপেশ বিকাশদা’কে দেবতার মতন ভক্তি করে। সে বলে সে প্রাণপণে বিকাশদা’র মত হতে চেষ্টা করবে। শিবু-বিকাশদাকে কেই না শ্রদ্ধা করে। আমাদের ত একসঙ্গে পড়েছিল তবু কোনাে দিন নিজেকে ওর সমান বলে মনে হয় নি।
৪
হার-জিৎ
নৃপেশের দাদাই কি ওকে কম সম্রম করত ? ইসকুলে যেদিন
নৃপেশ ভর্তি হল, সেই দিনই এসে বিকাশদাকে নমস্কার করে
গেল। আমরা ত আশ্চর্য হয়েছিলুম। পরে জানলুম, ওর
দাদার মুখ থেকে ও বিকাশদার নাড়ীনক্ষত্রের খবর জেনে
নিয়েছিল। ওরে! সুবােধ বাবু আসছেন
{ বিদ্যলয়ের প্রধানশিক্ষক সুবােধ বাবুর প্রবেশ
উভয়ে—প্রণাম সার।
সুবােধ বাবু—কৈ তােমাদের Captain কৈ এ? বাদল বলছিল
তােমাদের নাকি ভেতরে ভেতরে কি সব গোলমাল হচ্ছে ?
শিবুও কিছু নয় সার।
মহিমসুরেশ বলছে••••••
শিবুও সব বাজে কথা সার। আপনি আজ থাকবে ত?
সুবােধ বাবু—না রে আমি আজ থাকতে পারবনা। বিনােদবাবু ত
আবেন? বিকাশচন্দ্র আছে—তােদের আর ভাবনা কি?
কাজ আটকাবেনা ত ?
মহিম—( সগর্বে) বিকাশদা আমাদের চালালে আমাদের কোন কাজই
আটকাবে না সার।
সুবােধ বাবু—কিন্তু বিকাশকেই ত দেখছিনা? সে কোথায় ?
শিবু-তেতলায় কি সব হিসেব করচে। ডেকে দেব সার ?
সুবােধ বাবু—না থাক। তােরা তাহলে বােস্—এঁ, আমি একবার
ওদিকটা ঘুরে আসি।
[ সুবােধ বাবুর প্রস্থান।
শিবু-মহিম, তুই কি বােকা রে? আমাদের Corpsএর নিয়ম না যে
কোন প্রাইভেট খবরই অফিসারদের মত না নিয়ে কাউকে
জানানাে হবেনা।
হার-জিৎ
মহিম--কিন্তু উনি জিজ্ঞাসা করছিলেন•••
শিবু বেশ ত, তুই ত আর ঠিক্ করে কিছুই জানি না। যা ভাল
করে জানা নেই এমন খারাপ খবর বলাও অন্যায়, কারণ তাতে
অনর্থক ভয়ের সৃষ্টি করে। তুই বললেই পাতি, সার বিকাশদা
সব জানে আমরা জানিনা।
[ সুবোধ বাবুর সঙ্গে কথা বলতে বল্তে সুরেশ প্রবেশ করলে। সুরেশ অবস্থাপন্ন
ঘরের ছেলে ; প্রবেশিকা শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র ও বিকাশের প্রতিস্পঞ্জী কিন্তু প্রচণ্ড
দাম্ভিক; সুবােধ বাবুর পিছনে সে ঘরে প্রবেশ কলে ]
সুরেশ—এ কিন্তু সার অধ্যায়। চাদা দেয় সব ছেলে অথচ সেই টাকা
নিয়ে বিকাশ নিজের খুশীমত ব্যাভার করবে—এর প্রতীকার
হওয়া উচিত।
সুবােধবাবু—খুশীমত ব্যাভার মানে সুরেশ ?
সুরেশতা নয়ত কি সার? আমরা বলেছিলুম ঐ চঁদা দিয়ে এবার
বাইরে থেকে ভাল লােক আনিয়ে Social amusement
জমকালাে করে তােলা যাক্। মিটিংএ দাড়িয়ে বিকাশচন্দ্র
লম্বা লম্বা বক্তৃতা ঝাড়লে। আমরা সার অত বক্তৃতা দিতে
পারিনা। তার ওপর আমাদের ত আর Volunteer corps
নেই যে দলভারী করে মিটিংএ ভােট ভাঙ্গিয়ে নােব—
[ বাইরে bugle এর শব্দ হল ; মহিম ও শিবু সবেগে ঘর থেকে বাইরে গেল ।
ঐ ঐ সার ভড়ং। যত বাজে ভড়ং লাগিয়ে কাজ সার !
সুবােধ বাবু-Volunteer fall-in হচ্ছে বুঝি?
সুরেশ—আজ্ঞে হ্যা। Drill হবে। মাঠে দাড়িয়ে হাত পা ছুড়ে কি
বাহাদুরী সার? খালি দল পাকাবার সুবিধে হয়।
:
৬.
হার-জিৎ
ওপর আপনি বিকাশকে Captain করেছেন। গুমােরে ওর
মাটিতে আর পা পড়ে না।
সুবােধ বাবু—তা তুমিও Volunteer corps এর মেম্বার হলেই পারতে ?
সুরেশ-ওসব বাজে সার। আমি হইনি ভালই হয়েছে, তা না হলে ঐ
বিকাশের তঁবেদারী করতে হত ত?
সুবােধ বাবু—সুরেশ যতদুর দেখছি বিকাশের ওপর তােমার বেশ
আক্রোশ আছে।
সুরেশ—আক্রোশ নয় সার। আপনি বিকাশকে ভালবাসেন বলেই ও
কথা বলছেন। আমরা সাদাসিধে বুঝি। অত ঢং আমরা
ভালবাসিনা। যারা ঢং করে তাদের আমরা ঘেন্নাই করি।
সুবােধ বাবু—পরিতাপের বিষয় বটে, কারণ বিকাশ তােমায় ঘেন্না
করে না।
সুরেশ—বিকাশকে আপনারা চেনেন না সার, তাই ওকথা বলছেন।
প্রতিপদে ও আমাদের তুচ্ছ করে চলে যেন আমরা মানুষই
নই। আজকের Socialএর ব্যাপারে বেশ দেখা গেছে। ক্লাশ
এইট আর সেভেনে ওর চর আছে তাদের লাগিয়ে ও সব
ভােট নিজের দিকে করে নিয়েছে•••
সুবােধ বাবু—বটে! বটে! তা চরের সন্ধান তুমি পেলে কোথা থেকে ?
সুরেশ বিজ্ঞ ভাবে ) আমাদের সার সব খবরই রাখতে হয়।
সুবােধ বাবু—বেশ! বেশ ! তা চরটি কে ?
সুরেশ—ঐ নৃপেশ সার, আপনাদের বিকাশের ছােট edition।
সুবােধ বাবু—আহাহা তা নয়। বলি তােমাদের চরটি কে ?
সুরেশ—আমরা সার চরটর লাগাইনা
সুবােধ বাবু-তাহলে ওদের চরটিকে ধরলে কেমন করে ?
হার-জিৎ
৭
সুরেশ—( অপ্রতিভ ভাবে। আমরা সার—এমনি সার-নৃপেশ স্পষ্টই বলে
বেড়ায় কিনা—
সুবােধ বাবু—যদি স্পষ্টই বলে বেড়ায় তাহলে তাকে চর বলছ কেন?
সুরেশ— জেদের সহিত) বিকাশের দোষ ত আপনারা দেখবেন না। তাই
আমাদের ভুল ধরে আমাদের কথা গুলিয়ে মুখ বন্ধ করেন।
কিন্তু এবার সার আমরাও দেখে নােবে। নাকীসুরে কথা বলে
দল পাকিয়ে কি করূতে পারে দেতে চাই। বিকেলেই দেখা
যাবে বাছাধনের মুরােদ কত।
সুবােধ ভীষণ গম্ভীর ) তার মানে সুরেশ ?
সুরেশ নিরুত্তর)
[ নৃপেশের প্রবেশ ও সুবােধ বাবুকে প্রণাম করে নীরবে অবস্থান ]
সুবােধ বাবু—কি সুরেশ, আমার কথাটার উত্তর কি ? (অল্পক্ষণ নীরব
থেকে) বেশ বুঝেছি, দেবার মত সদুত্তর তােমার কিছু নেই
তবে এই কথাটা মনে রেখ—আজকের ব্যাপারটা ছেলেদের
function | মাষ্টার মশায়রা এতে কোনাে রকম interfere
করবেন না। আজ যদি কোনাে অন্যায় গােলমালের সৃষ্টি
হয় সেটা তােমাদের দুর্ণাম। আমি যতদূর অনুমান করছি
তুমি হয়ত আজ সভায় গােলমাল করবে, যদি কর সেটা তােমার
পক্ষে খারাপ হবে।
[ যাবার জন্য অগ্রসর হলেন
আমি চলে যাচ্ছি ; যাবার আগে এই কথাটা বলে যাই
তােমার ঈর্ষাটা যদি উগ্র হয়ে থাকে, বরং সরে’ থেকে।।
বিকাশকে বাধা দিওনা। তার Moral power তােমার
চেয়েও ঢের বেশী—সে তুমি ঘা না খেলে হয়ত বুঝবে না।
যাক, এবার সে যা করূছে করূতে দাও, পয়ে, অন্য কোন
function এর বরং ভার নিও।
;
৮
হার-জিৎ
[ চলে যেতে যেতে নৃপেশের দিকে ফিরে]
তারপর Private (নৃপেশ attentionএ দাড়ালাে ) I wish
your function a success. বিকাশকে বলল Forbearance
is the weapon of the mighty ; একদিন বিকাশ অামার
কাছে একটা মটো চেয়েছিল তখন এইটাই দিয়েছিলুম। এটা
যেন ভুল না হয়।
নৃপেশ একই ভঙ্গীতে দাঁড়িয়ে ) Captainকে জানাব সার।
সুবােধ বাবু—( প্রসন্ন কৌতুক হাস্তে ) Thank you। আমি চলুম—
[ সুবােধ বাবুর প্রস্থান ।
নৃপেশ—এই যে সুরেশদা
সুরেশ—Shut up !
নৃপেশ—ও বাবা! কি হল, ব্যাপার কি ?
[ গােকুল ও তার পশ্চাৎ গােপনের প্রবেশ
গােকুলব্যাপারং বেশ পাকায়িতং । কেবলং সংস্কৃতং সংস্কৃতং আহা
Chaste Bengali; কদাচিত জোরস্বরে ইংরাজী বুকিং।
গােপেন—আহা হা সুরেশ। হঠাৎ অমন ছোঁ মেরে চট কেন ?
বলি হাতেও কি বাধা? ঠোঁট ফেটেছে কি ?
সুরেশ-দেখ গােপেন, তােমাদের মত ক্লাশ সেভেন এইটএর চ্যাংড়া
ছেলেদের সঙ্গে ইয়ার্ক দেওয়া আমার অভ্যেস নেই। (নৃপেশের
দিকে) পড়েন ত ক্লাশ এইটে! ম্যাটিক ক্লাশের ছেলের কাঁধে
হাত দিয়ে ইয়াকী মারুতে আসা হয় !
গােকুল—vely bad ! Vely bad ! যত চ্যাংড়া ম্যাটিক ক্লাশস্য
ছেলেস্য স্কন্ধে হস্তং দিত্বা ইয়াকীং মারিতং ।
হা হতােষ্মি!
অলম্ অতি বিস্তারেন। (নৃপেশের দিকে ফিরে কোমরে হাত দিয়ে
অল্প কুঁজো হয়ে, নাকের নীচের দিকে চশমা টেনে ) ভাে চ্যাংড়া !
হার-জিৎ
তােমার নাসিকার নিম্নে কিছুর উদগম হইয়াছে কি? তােমার
দুগ্ধদস্তগুলি নিষ্পতিত হইয়াছে কি ? ঝটিতি উত্তর কর।
তচ্ছু বনে জলন্ত কর্ণকুণ্ডকে শীতল করি! Out with it!
নারায়ণং নারায়ণং! কেবলং সংস্কৃতং সংস্কৃতং,chaste Bengali
and English phrases !
সুরেশ-নৃপেশ, আমি তােমায় warn করছি। তুমি খবরদার আমার
সঙ্গে কথা বােলােনা। ইয়াকী মারতে হয় বিকাশের কাছে
গিয়ে মেরাে-
নৃপেশ—আপনি ভুলে যাচ্ছেন, ইয়াকী আমি দিইনি-
সুরেশ—আলবাৎ দিয়েছ—ldiot ।
গােকুলনঃ নঃ Idiot; অতি অপঘন্য চলচ্ছক্তিরহিত দুর্দান্ত
সম্বােধন
নৃপেশ—All right।
গােপেন—গােকুল, তুই থাম। সুরেশ, তুমি কি মনে করেছ ? কি জন্যে
তুমি নৃপেশকে Idiot বলবে ?
গােকুল—হেতু? তদ্ধেতু দর্শায়মান করাে। নচেৎ শিক্ষক সমীপেষু,
অবিমৃষভাবে প্রণাম পুরঃসর করুণনয়নে নিবেদনমিদং
করিষ্যামি-
সুরেশ-ওঃ আমার মাথা কাটা যাবে। কে কেয়ার করে ? Rascal
বিকাশের দালাল-একখানি চড়ে বছাধনকে টের পাইয়ে
দোবো-
[ চড় মালে ; নৃপেশ ঋজু হয়ে পঁড়িয়ে রইল ]
গোপেন-Take care সুরেশ-corpsএর কোন মেম্বারের গায়ে হাত
তুললে তােমায় দেখিয়ে দেওয়া হবে
সুরেশ-দেখিয়ে দেওয়া হবে! বাদসাহী হুকুম ! I challenge। কে
কি করতে পারে করুক।
হার-জিৎ গােপেন-যা করবার সুবােধবাবু করবেন- সুরেশ-ওঃ নালিশ! যাও খোকারা যাও মাষ্টার মশায়ের কাছে কাদগে যাও- গােপেন—বেরিয়ে যাও এখান থেকেইতর ! সুরেশ—আমি যাব না। Challenge ! কি করূতে পারিস কর- [ জামার আস্তিন গুটাতে সুরু করলে csttraGet out- নৃপেশ—গােপেনদা’ থাম। মাথা গরম কোরাে না। যদি লেগে থাকে আমার লেগেছে। তােমরা গােলমাল বাড়িয়ােনা। (মহিমের প্রবেশ ও বিস্মিততাবে অবস্থান ) সুরেশদা, আপনি এখান থেকে যাবেন কিনা বলুন ? সুরেশ-খােকা ! আমি একপাও নােড় বনা। এইটে শুনেছি তােমাদের Store-room হবে। এখান থেকে আমি একটি পাও সােরবনা। বুঝেছ খােকা ? [ ইতােমধ্যে বিকাশ দ্বারের নিকট এসে দাড়িয়েছে ] বিকাশ—আমি কিন্তু এখনও বুঝিনি সুরেশ ! তুমি নৃপেশকে যা বলছিলে তা হঠাৎ আমার কানে গেল । তােমার যা বলবার আছে আমাকে বল। আচ্ছা দাড়াও। Tention ( নৃপেশ, গােপেন প্রভৃতি attentionএ দাঁড়ালে) তােমরা তেতলার ঘরে একটু অপেক্ষা কর- গােপেন-একটা কথা captain- বিকাশ—কি ? বল- গােপেন—( সুরেশের দিকে চেয়ে ) এখানে একজন লােক থাকার দরকার-
হার-জিৎ
বিকাশ—কেন? সুরেশ, লােক থাকার দরকার হবে কি? কি দরকার?
কোন গােলমাল হলে সুরেশই ত আছে। তােমরা যাও—Go
upstairs !
[ সুরেশ ও বিকাশ ছাড়া সকলের প্রস্থান।
সুরেশ এইবার শুনতে পারি কি অত উত্তেজিত হয়ে কি
বছিলে?
সুরেশ—যাই হােক। তােমাকে আমি তা বলতে বাধ্য নই।
বিকাশ—তুমি বাধ্য এমন কথা ত আমি বলছি না; আমি বন্ধুভাবেই
তােমার কাছে জাতে চাইছি।
সুরেশ-তােমার বন্ধুত্বের জন্যে কে কেয়ার করে সুরেশ ? সেদিন
মিটিংএ দাড়িয়ে যখন আমার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বক্তৃতা
দিয়েছিলে কৈ তখন তােমার বন্ধুভাব কোথায় ছিল?
বিকাশ—মিটিংএ সকলেরই নিজের বিশ্বাসমত কথা বলা উচিত। সভ্যরা
যদি তােমার প্রস্তাব না নিয়ে আমার প্রস্তাব নিয়ে থাকে তাতে
তােমার রাগ করা উচিত নয়।
সুরেশউচিত অনুচিত যখন তােমার কাছে শিখতে যাব তখন উপদেশ
দিও,বুঝেছ ?
বিকাশ—আচ্ছা থাক্ সে কথা। সম্প্রতি একটা কানাঘুষাে শুনছি তুমি
নাকি মতলব করেছ আজ সামাজিক সম্মেলনের সব আয়ােজন
পণ্ড করে দেবে। কথাটা আমি বিশ্বাস করি না। কিন্তু যদি
সত্যি হয় সুরেশ তাহলে তার চেয়েও ক্ষোভের আর কি
হতে পারে ?
I বাদল, বিভূতি, নরেন্দ্র দু’দিকের দরজায় এসে দাড়ালো; এরা সুরেশের অনুগত ]
এই যে বাদল, বিভূতি, নরেন—তােমরাও এসেছ। ভালই,
১২ হার-জিৎ ভালই হয়েছে। কাল একজন আমায় খবর দিয়েছিল তােমাদের কে আজ সকালে আমার ঠ্যাং ভেঙ্গে দেবে,যাতে এখানের সব কাজ গণ্ডগােল হয়ে যায়। যতদূর দেখছি, আমায় সে মিথ্যেই একটা আতঙ্ক দেবার চেষ্টা করেছিল। নরেন্দ্র–থাক, থাক্ বিকাশ, বক্তৃতা থাক্। আমাদের সঙ্গে ভালমানুষটির মতন চল দিকিনি- বিকাশ— কিছুক্ষণ নীরবে অবস্থানের পর ) বেশ, তার আগে কতকগুলাে পাকা কথা হয়ে যাবার দরকার- [ মহিমের প্রবেশ }; মহিম—Captain, হারমােনিয়ম, সতরঞ্জি আর আলাে এসে পড়েছে। মুটের ভাড়া চাই—চার আনা। বিকাশ-Cash-boxএর চাবি নিয়ে যাও। হিসেব লিখে রাখুবে। যা যা খরচ লাগবে দিও-- [ মহিমের হাতে চাবি দিলে । বিকাশ মহিমের হাতে চাবি দিতেই বাদল মহিমের পথরােধ করে দাঁড়াল। বিভূতি এগিয়ে এসে বলে ] বিভূতি—চাবিটা আমায় দাও- মহিম(হাত মুঠো করে) কেন ? সুরেশ এগিয়ে এসে মহিমের হাত চেপে ধরে) গায়ে যথেষ্ট জোর নেই বলে। মহিম— চীৎকার করে )—কিছুতেই দেব না। সুরেশতাের ঘাড় দেবে [ দুজনে ধস্তাধস্তি ; ইতােমধ্যে দরজায় গােকুল, গােপেন ও নৃপেশকে দেখা গেল। সুরেশ মহিমকে ছেড়ে দিয়ে সরে দাড়াল। বিকাশ এতক্ষণ যেন নিশ্চিন্তভাবে দাঁড়িয়েছিল ] হার-জিৎ বিকাশ— গােপেন প্রভৃতির দিকে) তােমরা এখানে কেন ? নৃপেশ-ওপর থেকে গােলমাল শুনে ভাবলুম কোনাে দরকার পড়েছে। বিকাশ—তােমাদের দরকার হলে আমিই তােমাদের ডাকতুম; যখন ডাকিনি তােমাদের আসবার কোন দরকার ছিল না। ফিরে যাও- নৃপেশ—আমায় থাকতে দিন Captain। বিকাশ—Private ! obey the rule ( অনিচ্ছা সত্ত্বেও গােপেন, নৃপেশ গােকুলের প্রস্থান ) মহিম, ওপরে যাও (মহিম চাবি নিয়ে বিনা বাধায় বেরিয়ে গেল ) তােমরা সকলে বস, অনেক কথা আছে। ( সকলে দাঁড়িয়ে রইল । বিকাশ দু’পা পিছিয়ে গিয়ে প্রায় আদেশের সুরে বলে) তােমরা বস, সুরেশ বস--( সকলে যেন যন্ত্রচালিতের মতই বল) তােমরা যা করতে এসেছ তা আমি বুঝেছি। তােমরা আজ জোর করে সক উৎসব পণ্ড করে দিতে চাও,কেমন, তাই নয় কি বাদল ? বাদল-হ। একরকম তাই- বিকাশ—কিন্তু এতে তােমাদের লাভ কি ? ভেবে দেখেছ কি যে আজকের এই উৎসব যদি পণ্ড হয় আমাদের স্কুলের সমূহ দুর্ণাম হবে। এই কলকাতায় আরও দশটা স্কুল আছে... বিভূতি—ও সব কথা ভাববার আমাদের সময় নেই— বিকাশ-আচ্ছা--আমার কথা শেষ করতে দাও। তােমরা কি চাও ? তােমরা চাও কি আমি এ ব্যাপারের সমস্ত ভার ছেড়ে দিই ? ( সকলে নীরব) বেশ, আমি প্রস্তুত। তােমাদের নেতা সুরেশ এই ভার গ্রহণ করুক। আমি জানি সে যােগ্য। সে ভার নিলে আমি নিশ্চিন্ত হয়ে চলে যাব। কেমন সুরেশ, তুমি ভার নাও- ১৪ হার-জিৎ কি কিছু [ সুবােধবাবুর ব্যস্তভাবে প্রবেশ ; সকলে উঠে দাঁড়াল ও নীরবে নমস্কার করলে ] সুবােধবাবু—এই যে বিকাশ আমি ব্যস্ত হয়ে এসেছি। একজন ছেলে গিয়ে রাস্তায় আমায় বললে কি সব গােলমাল হয়েছে- [ সুরেশ, বাদল প্রভৃতি শঙ্কিত ভাবে বিকাশের দিকে তাকালে ] বিকাশ—কৈ সার, কিছুই ত হয়নি। সুরেশ, বাদল এরা সব কাজের ভার নিতে এসেছে, তাই এদের সঙ্গে বসে কাজের একটা প্রােগ্রাম তৈরী করছি- সুবােধবাবু—তবে যে আমি শুনলুমকে নৃপেশকে মেরেছে- বিকাশ—কৈ সার, আমি ত কিছু জানি না। নৃপেশ বলেছে ? সে কি নালিশ করেছে ? সুবােধবাবু-তার সঙ্গে ত আমার দেখাই হয়নি। বিকাশ— সুরেশ প্রভৃতির দিকে। তােমরা কেউ কিছু জান ? বাদল—কৈ আমরা ত কিছু জানি না•••••• বিকাশ—তা হলে সার, কিছুই হয়নি। সুবােধবাবু—তুমি একবার নৃপেশকে ডাকত। বিকাশ—সে এখন বড় ব্যস্ত আছে সার। আপনি আমায় বলুন না, যা দরকার আমিই করছি- সুবােধবাবু—আমি তার মুখে জানতে চাই তাকে কেউ মেরেছে কিনা ? বিকাশ—আমি তাকে ডেকে আনছি- [ বিকাশের প্রস্থান। সুবােধবাবু—সুরেশ, বিকাশের কথা শুনে আমি খুব আনন্দিত হয়েছি। তােমরা যে ঝগড়া ভুলে একসঙ্গে কাজে লেগেছ এর চেয়ে সুখের আর কিছুই নেই। কে প্রথম মিটমাট করলে? বিভূতি-মিটমাট আর কি সার ! আমাদের সকলেই আজ বিকাশকে তাই বলছিলুম-
হারজিৎ
সুবােধবাবু—খুব আনন্দের কথা। কিন্তু একটি নীচু ক্লাশের ছেলে হঠাৎ
গিয়ে আমাকে রাস্তায় ধরে বলে কে একজন নৃপেশকে
মেরেছে। সে কিন্তু কিছুতেই নাম বলতে পারলে না।
[ বিকাশ ও নৃপেশের প্রবেশ ]
এই যে নৃপেশ ! একটি ছেলে আমায় বললে কে নাকি তােকে
মেরেছে ?
নৃপেশ-কখন সার?
সুবােধবাবু-একটু আগে.••••••••
নৃপেশ--একটু আগে......ওঃ সার বুঝেছি। সুরেশদাতে আমাতো
সার সুরেশদা আমায় ধরূতে গিয়ে পালেনা—তাই আবার
সে ত খেলা সার ?
[ বাইরে গােকুলের গলা শােনা গেল।
গোকুল— নেপথ্যে)-ফুর্তিং কুরু ; পরীক্ষা সময়ে মা কুরু। তখন কেবল
সংস্কৃতং Chaste Bengali and [ বল্তেবতে ঘরে ঢুকেই
সুবােধবাবুকে দেখে হঠাৎ জিকেটে দাঁড়াল। গােপেন সঙ্গে ছিল, মহিমও
সঙ্গে এসেছিল |
সুবােধ বাবু-( সবিস্ময়ে ) ও কি রে গােকুল ও কি বছিলি?
গোকুল অত্যন্ত লজ্জায় ও কিছু নয় সার।
সুবোধ বাবু-না না। তুই কি যে বলতে বলতে ঢুকলি ?
গােপেনও সার, সংস্কৃতে আর বাংলায় ফেল হয়েছে বলে দিনরাত
কেবলং সংস্কৃতং, কেবলং সংস্কৃত করে।
সুবােধ বাবু—বটেরে গাধা! দাঁড়া পণ্ডিতমশায়কে বলে দিচ্ছি। যাক,
আমি নিশ্চিন্ত হয়ে চললুম। I am very glad. তােমাদের
গােলমাল হয়েছে শুনে আমি একটু দুশ্চিন্তায়
মধ্যে
হার-জিৎ
পড়েছিলুম। সুরেশ যে আপনি এসে মিটিয়েছে এতেই আমার
সবচেয়ে আনন্দ হচ্ছে। All right বিকাশ, আমি তােমায়
congratulate কছি। ভাল একজন Assistant•••
বিকাশ—Assistant নয় সার-Leader। আমাদের কথা হচ্ছিল
সুরেশ সব চার্জ নেবে-
[ গােপেন, গােকুল, নৃপেশ সকলেই বিস্মিত ভাবে বিকাশের দিকে চাইলে ]
সুবােধ বাবু-All right! As you may think fit•••তাহলে সুরেশ
হল নতুন Captain. But•••all right আমি চলুম। সুরেশ
I wish your leadership a grander success than
Bikash's bad been, চলুম
বিকাশ।
[ সুবােধ বাবুর প্রস্থান ; সকলের কিছুক্ষণ নীরবে অবস্থান।
বিকাশ—তাহলে সবই ঠিক হয়ে গেল। সুরেশ তুমি চার্জ নাও।
হিসাব পত্র টাকাকড়ি যা আছে সব আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি।
সুরেশ-না আমি চার্জ নােব না।
fagfo-Certainly not.
বাদল—আমরা ত আর সুবােধ বাবুর প্রিয়পাত্র নই ?
নরেন্দ্র—তােমার মতলব কি আর আমরা বুঝি না বিকাশ? এখন শেষ
মুহূর্তে কাজের চার্জ ছেড়ে দিয়ে আমাদের হাতে ভার দিলে
আমরা অপদস্থ হব, আর সবাই বলবে বিকাশ চার্জে নেই
বলেই এরকম হয়েছে। এইটি করাতে চাও। কেমন তাই
নয় কি ?
বিকাশ—নরেন তােমার হিসাবটা খুব কুটবুদ্ধির পরিচয় দিচ্ছে। কিন্তু
তােমাকে আশ্বাস দিচ্ছি, ওরকম কোন মতলবই আমার নেই।
বর-জিৎ
বাদল-তবে তােমার মতলব কি সেইটেই স্পষ্ট করে বল।
নৃপেশ—বিকাশদা! এদের সঙ্গে...
বিকাশ-চুপ কর নৃপেশ। বাদল, মতলব আমার কিছুই নেই ভাই।
সুরেশ—(অবজ্ঞার স্বরে বাদলের প্রতি বিশ্বাস হয় না বাদল।
বিকাশ-বিশ্বাস হয় না সুরেশ ? তুমি কি মনে কর তােমাদের অপদস্থ
করায় আমার সুখ ? কিসের লাভ ? একবার ভেবে দেখ
দেখি, আজকের সমস্ত আয়ােজন পণ্ড হলে কত ক্ষতি? এষে
ছেলেদের দুর্ণাম, আমাদের সকলের দুর্ণাম। তুমি কি ছেলেদের
মধ্যে নও? বাইরের অনেক স্কুলের শিক্ষক আর ছাত্রদের
নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। তারা এসে দেখবেন সমস্ত বিশৃঙ্খল
কাণ্ড। অগৌরব কি একা তােমারই হবে, আমার হবেনা?
তাদের কাছে কে সুরেশ কে বিকাশ ! সবাই ত তাদের
কাছে সমান।
[ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তােমরা চুপ করে আছ। আমার মনে আশা হচ্ছে
তােমরা আমার কথার যুক্তি বুঝেছ। আর একটা কথা বলি
সুরেশ। তুমি কি ভাব এই দলের পাণ্ডাগিরি করি আমি
সুনামের জন্যে? প্রতি মুহূর্তে আমায় কত সাবধানে চলতে হয়।
প্রতিমুহূর্তে আমায় ভাবতে হয়, যারা আমায় তাদের নেতা
করেছে তাদের বিশ্বাসের যােগ্য আমি কি করে হব। কতদিন
আমি বসে বসে ভাবি আমাদের এই অনুষ্ঠানকে আমরা কি
করে ভাল করে তুলব। পড়ার ক্ষতি হয় বলে দাদ। তিরস্কার
করেন, নিজেও বুঝি এতে আমার নিজের লাভ কিছুই নেই।
তবুও আমি ভাবি এমনি করেই আমাদের এক হতে হবে,
এমনি করেই সজত্ব গড়ে তুলতে হবে। স্কুলের সঙ্গে আমাদের
১৮ হার-জিৎ কটা দিনেরই বা সম্পর্ক। কিন্তু এখন থেকে যদি এমনি আমরা দশজনে মিলে একটা কাজ চালাতে শিখি, পরে যখন এর চেয়ে বড় কর্মক্ষেত্রে পড়ব তখন বােধ হয় আরও ভাল করে কাজ চালাতে পারব। হয়ত এই Volunteer দলের চেয়ে বড় দল গঠন করবার ডাক পড়তে পারে। সুরেশ—কিন্তু এ ত ছেলে খেলা! তুমি জেগে স্বপন দেখছ। বিকাশ-জেগে স্বপন দেখছি? বােধ হয় তাই। কিন্তু সুরেশ, অণ্ঠ অনেক স্বপনের চেয়ে আমার এ স্বপন সুখের। তুমি জিনিষ টাকে ছােট করে দেখছ; কিন্তু আমার বােধ হয় একটা দুর্বলতা আছে, আমি কোন জিনিষকেই ছােট করে দেখতে পারি না। ছােট? হ্যা এখন ত ছােটই আছে; কিন্তু তুমিও ত ছােট আছ। একদিন ত বড় হবেই। ছােটই ত বড় হয়, ঘােটই ত বাড়ে ; যে বড় সে ত বেশী বাড়েনা যাক, এসব হল আমার কথা। আমি এগুলাে কাউকেই বলি না। কি জানি যদি ভুল বুঝে থাকি। আজও বলতু। তবে বাদলের একটা কথায় বড় চমকে উঠে ছিলুম। জিজ্ঞাসা করছিল আমার মতলব কি? বাদল, মতলব আমার কিছু নেই ভাই। একমাত্র মতলব যদি থাকে, সে হচ্ছে আজ- কের এ কদৰ্য্য ঝগড়ার শাস্তি করা। গােপেন-সুরেশ, এর পরেও কি শান্ত হবে না? ঝগড়ার কোন কারণই নেই অথচ ঝগড়া থাকবে। বিভূতি—এখন আর হয়না। বড় দেরি হয়ে গেছে। গােকুলদেরী মানে? বিকাশ কোন ভাল কাজ দেরি হয়ে গেছে বলে মুলতুবী রাখা ত বুদ্ধির কাজ নয় বিভূতি। সুরেশ, এ তিনদিন ধরে প্রতিমুহূর্তে হার-জিৎ ১৯ বিরােধের আশঙ্কা করে যে সময় কেটেছে—সে সময় কি সুখে কেটেছে? সুরেশ তুমি কি সত্যিই captainship ছেড়ে দেবে? বিকাশ—নিশ্চয়, তুমি যদি ভার নাও। এখনও সময় আছে। বিভূতি বছিল দেরি হয়ে গেছে, কিন্তু... বিভূতি-না দেরি মানে••• বিকাশ—কিন্তু কেন হবে না? মনের দিক থেকে যদি তােমাদের কোন দ্বিধা থাকে বাইরের কোন বাধাই ত মান্বার দরকার হবে না। নরেন্দ্র-তবে আসল কথাই বলি। তুমি যে খাবারের দোকানে কাল খাবারের অর্ডার দিয়েছিলে সেখান থেকে আর খাবার পাওয়া যাবেনা,আমরা এই রকম বন্দোবস্ত করেছি। বাদল-মােট কথা সে খাবার স্কুলের নাম করে দোকান থেকে আমরা টাকা দিয়ে নিয়ে গেছি-- গোপেন--কি ভয়ানক! এ যে পাষণ্ডের কাজ! বিকাশ—কেন উত্তেজিত হচ্ছ গােপেন? সুরেশ এই কি সত্যি? সুরেশ—সত্যি বিকাশ-আর? আর কি করেছ ? সুরেশ—আরও অনেক কিছু করেছি বিকাশ, যা শুনলে—তুমি... বিকাশ-বল, বল—কি ভাবছ? শুলে আমি ভয় পাব? ভুল বুঝেছ। ভয় আমি পাব না, তুমি বল- সুরেশ-ভয়ের কথা আমি বলিনি-আমি এমনিই কাণ্ড করেছি যা শুনলে তুমি ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেবে বিকাশ—মুখ ফিরিয়ে নেব ঘৃণায়। মহাভুল তােমার, তুমি বল- সুরেশতােমার দাদা যার আফিসে চাকরী করেন, তিনি আমাদের কাছে
২০
হার-জিৎ
নানা ঋণে ঋণী। তাকে দিয়ে তােমার দাদাকে Notice
দিইয়েছি
[ সুরেশ মুখ নত কলে]
গােপেন-Devil ! সয়তান।
Eco-Get out-get out from here.
মহিম—এদের সঙ্গে মিটমাট—Never বিকাশদা।
বিকাশ—আস্তে।...সুরেশ, মুখ তােল, আমি ঘৃণায় মুখ ফেরাচ্ছিনা দেখ—
না মুখ তােল-একবার তােমার সঙ্গে আমার শেষ পরীক্ষা
হয়ে যাক্। সুরেশ মুখ তােল—তােমার ভয় কি ? তােমার
অজস্র অর্থ, আমি ত পথের ভিক্ষুক। যে দাদার তুমি সর্বনাশ
করেছ,তার সামান্য আয়ের ওপর নির্ভর করেই আমাদের সংসার
চলে—তােমার শক্তির কাছে আমি কি! (অল্পক্ষণ নীরবে থেকে)
কৈ? তুমি মাথা তুললেন ? তবে কি তােমার লজ্জা
হয়েছে ? লজ্জা হয়েছে ? (বাদল প্রভৃতির প্রতি) তােমাদেরও
কি তাই।
নৃপেশ—চলে এস বিকাশদা—চলে এস... :
গােপেন—এদের সঙ্গে তােমার কথা বলতে প্রবৃত্তি হচ্ছে বিকাশ ?
বিকাশ—কাদের ছেড়ে যাব ? কাদের সঙ্গে কথা কইবনা ? নৃপেশ,
তােমার motto কি মুখের কথা ? তােমরা নিজেদের হারিয়ে
ফেচ।
সুরেশ, ঠিক এই জন্যেই আমি বলছিলুম-তােমার মত
যারা ধনী তাদেরই নেতা হওয়া সাজে। দৈন্তের কোন গৌরব
নেই। যে গরীব সে শুধু স্বপ্নই দেখে। তুমি ঠিক বলেছিলে
সুরেশ, আমি জেগে স্বপন্ দেখছিলুম।••••••কিন্তু কি মধুর
স্বপ! আমি যে স্বপন দেখি তাতে দারিদ্রের কোন সমস্যা
হার-জিৎ
২১
নেই। আমার কল্পনার ভবিষ্যৎ জগতে, সহরের শানবাধান
রাস্তায় যে হতভাগারা শীতে কাঠ হয়ে পড়ে থাকে তাদের
বিভীষিকা নেই। একমাত্র উপার্জনক্ষম পুত্র হারিয়ে বিধবা মা
কঠিন শীতে গঙ্গাস্নান করে একখানি মাত্র ভিজে কাপড় গায়ে
জড়িয়ে খােলার ঘরে ফিরে আসেনা; শুশ্রুষা আর ওষুধের
অভাবে মুমূর্ষ ছেলের বিছানার পাশে বসে জননী আপনার
জন্মকে ধিক্কার দেয়না। দরিদ্রের কি ব্যথা তুমি কি বােঝ
সুরেশ ! আমার অসহায় দাদার তুমি সর্বনাশ করেছ
[ সুরেশ সঙ্কুচিত হল ।
না, আমি তােমায় অভিশাপ দিচ্ছিনা। এ তােমাদের খেলার
মতন। তােমর খেয়ালে মুহূর্তের বোকে অবহেলায় কুঞ্চিত
কর—দরিদ্রের সুখের সংসারে তার কালাে ছায়া পড়ে ; তুমি
কি করে তা বুঝবে বল..••••••••••ওঃ
[ বিকাশ দু’হাতে মুখ ঢেকে দাড়াল ; তার সর্বাঙ্গ তখন কঠিন ]
বাদল-( ধীরে নিকটে গিয়ে) বিকাশ...বিকাশ !
বিকাশ—(মুখ তুলে ; উদাসভাবে) কি ? বল।
বাদল-বিকাশ, কি বলব তােমায় ? আমার অপরাধের ক্ষমা চাওয়াও
আজ বিদ্রুপের মত শশানাবে। তুমি কি বিশ্বাস করতে
পাবে আমাকে?
নরেন্দ্র—আমায় ক্ষমা কর বিকাশ
বিভূতি—আমরা জান্তুম না বিকাশ এমন হয়েছে-
নৃপেশ অগ্রসর হয়ে হাত ধরে,) বিকাশদা !
বিকাশ— ক্ষীণহাসি হেসে) নরেন...বাদল...বিভূতি, তােমরা
২২ হার-জিৎ নেই। চাইছ•••আমার কল্পনার জগতে অপরাধ নেই, ক্ষমার ছলনাও আমি বুঝেছি, আমি অভিভূত হয়ে পড়েছিলুম, তােমরা আমার ব্যথায় ব্যথা হয়ে উঠেছ। আমি নিজেকে সালাতে পারিনি—এখনও আমার অনেক শেখা বাকী আছে তাই অমন পাগলের মত বলুম। আমি তােমাদের কি ক্ষমা করব ভাই! আমার কল্পনার জগতে একটা মস্ত বিপ্লব হয়ে গেল । তােমরা আমার কাছে এসেছ। পরমানন্দ। ক্ষমার কথা তুলে এমন মিলনকে কে ফাকি করে দেবে ? বাদল—তুমি মহৎ বিকাশ । বিকাশ—তুমি ভুল করছ বাদল। আমি অতি সাধারণ ছেলে। কিন্তু একি! এখনও যে সামনে অনেক কাজ বাকী:নৃপেশ নৃপেশবলুন বিকাশদা— বিকাশ-সুরেশ, একি তুমি মুখ নীচু করে দাঁড়িয়ে আছ ? আমার কথা শুনে কি তােমার আঘাত লেগেছে ? ওকি—তােমার চোখে জল ? তুমি কাঁদছ গােপেন—বিকাশ, অন্যদিকে মন দেবার সময় হয়েছে- নৃপেশ—বিকাশদা, কাজ বাকী আছে— বাদল-বিকাশ আমাকে যদি কাজের ভার দেবার যােগ্য মনে কর আমাকে একটা কাজের ভার দিও। - বিকাশ—সুরেশ,- সুরেশ-আমায় ছেড়ে দাও বিকাশ। বিকাশ—আমি ত তােমার ধরে নেই সুরেশ–বিকাশ ক্ষমা করাে! আমায় ক্ষমা করাে । আমায় যেতে ভাই !
হারজিৎ, দাও। আর কখনও আমি তােমার সামনে আসবােনা—তুমি আমায় ক্ষমা করাে! বিকাশ( সুরেশের দুই কাঁধে হাত দিয়ে) আমি তােমায় ক্ষমা করেছি ভাই সুরেশ ! কিন্তু তুমি আমার সামনে আসবেনা কেন ? সুরেশ—আমি আস্বাে না! আসতে পারব না ! বিকাশ আমার সব গােলমাল হয়ে গেছে, আমার আর মুখ আর নেই। বিকাশ—সুরেশ, তােমার দুঃখ হয়েছে। কিন্তু দুঃখ কিসের? আমার ক্ষতি হয়েছে বলে দুঃখ ? পাগল ! তুমি বড় ছেলেমানুষ সুরেশ। দুঃখ কি ? মনে কর কোন রােগে দাদা যদি পঙ্গু হয়ে যেতেন—কি করতুম ? তুমি যা করেছ তা অন্ধভাগ্যের আঘাত বলেই মনে করনা কেন। কৈ, আমি ত ক্ষোভ করছিনা ? সুরেশ-(রুদ্ধস্বরে) তুমি ক্ষোভ করুছনা—তুমি অন্য ধাতুতে তৈরী... বিকাশ—আবার ভুল করছ সুরেশ। আমরা সব এক ধাতুতেই তৈরী। আমায় যেমন দুঃখ দিয়েছিলে এখন ত সেই দুঃখই তুমি পেলে। চল তুমি আমাদের নতুন লীডার, নতুন করে কাজ শুরু কর যাক- সুরেশ রুদ্ধস্বরে) আমি আর leader হতে চাইনা বিকাশ বিকাশ—কিন্তু আমি তােমায় লীডাররূপে চাই। তুমি কি এ প্রার্থনা রাখবেনা? আমরা সবাই তােমাকে চাই...কেমন—তাই নয় ? গােপেন-( দৃঢ়ভাবে ) না । নৃপেশ -কখনই না। বাদলনা আর নয়... বিকাশ( বিস্মিত) তােম চাওনা?...কিন্তু আমি চাই। আমি প্রাণপণে { ২৪ হার-জিৎ হিমক্ষমা করবেন বিকাশদা,-এ ব্যাপারে আপনার ইচ্ছা হলেও আমরা সে ইচ্ছা রাখতে পাবনা। বিকাশ—অর্থাৎ বিকাশদার ক্ষতি হয়েছে বলে একটা অনুষ্ঠান যদি নষ্ট হয়-হােক। তােমরা কি মনে করেছ নৃপেশ আমার শেষ হয়ে গেছে ? আমি ভেঙ্গে পড়েছি—আমার আর আদেশ করবার, আদেশ পালন করবার, আর পালন করাবার শক্তি নষ্ট হয়েছে? -আমার একটা স্বপ্ন যদি ভেঙ্গে থাকে আর একটা স্বপ্ন দেখবার শক্তি কি আমার লুপ্ত হয়েছে ? নৃপেশ কখনও লুপ্ত হয়নি বিকাশদা—এ আমরা জানি। মহিম কখনও লুপ্ত হবেনা বিকাশদা তাও আমরা শপথ করে বলতে পারি। বিকাশ—তােমাদের বিশ্বাস, তােমাদের ইচ্ছা, তােমাদের নিষ্ঠা বার বার ব্যর্থ হলেও নূতন নূতন নেতার সৃষ্টি করবে। তাদের কাছে বিকাশ তুচ্ছ। আজ আমি এখনও তােমাদের সম্মতিক্রমে তােমাদের Captain | নৃপেশ—একশােবার বিকাশ—তােমাদের Captain হিসাবে আমি আদেশ কছি—ষে সুরেশকে সুরেশ—আমায় একটা কথা বলতে দাও বিকাশ বিকাশ—বেশ বল। সুরেশ—আমার মনে আজ সব ওলােটপালােট হয়ে গেছে। তােমরা আমায় ক্ষমা কোরাে। নৃপেশ, বিশেষ করে আমি তােমার কাছে ক্ষমা চাইছি—আজ তােমায় আমি নিজে অতি মুড়ের মত চড় মেরেছিলুম-
হার-জিৎ
২৫
নৃপেশ—আপনার সে অপরাধের বিচার আমি করব না-
সুরেশ—দ্বিতীয় কথা,বিকাশ আমাকে শীডার হতে বলছে। তােমরা
আমায় ক্ষমা কর। বিকাশ যদি অনুমতি দেয় আমি তার সামান্য
সহচর হিসেবে থাকতে পারি-
বিকাশ-উত্তম। সুরেশ আমি ভাবছি—থা সানে এখন অনেক কাজ
পড়ে আছে। তােমাদের মুখের ভাব দেখে মনে হচ্ছে
তােমরা এখনও সুরেশের ওপর রাগ করে আছ।
গােপেন-রাগের কথা নয় বিকাশ;
; প্রবৃত্তির কথা।
নৃপেশ—আপনি কি আমাদের ছেড়ে যেতে চান বিকাশদা ?
বিকাশ—ছেড়ে যেতে চাই! নৃপেশ•••
আজ একটা কথা তােমাদের বল আমার যিনি গুরু
তিনি আমায় এই ব্রতে দীক্ষা দিয়েছেন-যে যদি কোন দিন
কোন দলের নেতৃত্ব করবার জন্যে তােমর ডাক পড়ে আর
সকলকে রেহাই দিও কিন্তু নিজেকে রেহাই দিওনা।
সেদিন তার এ কথা বুঝিনি কিন্তু আজ বুঝছি। আজকের এই
মুহূর্তে আমার সমস্ত মনটা বিমুখ হয়ে বসেছে। যুদ্ধ ক্ষেত্রের
সৈন্যেরা মাঝে মাঝে যেমন যুদ্ধ ক্ষেত্র ছেড়ে পালাতে চায় বলে
পড়া যায়—সেই রকম। সমস্ত মনটা যেন বিশ্রামের জন্যে,
শান্তির জন্যে ক্ষুধার্ত হয়ে উঠেছে। মন আজ সত্যিই রেহাই
চাইছে—কিন্তু আমার ব্রত তােমাদের আশীর্বাদে যেন সফল হয় !
আজ আমি মনকে রেহাই দেব না। একটু আগে লােভ হয়েছিল
সুরেশকে লীডার করে দিয়ে, আমি সরে দূরে চলে যাব
কিন্তু তা হবার নয়। এই আমার নিয়তি, এই আমার কর্তব্য
[ অল্পক্ষণ নীরবে অবস্থান।
তােমরা আমায় ভালবাস,তােমরা আমায় উচুতে বসিয়ে
হার-জিৎ রেখে যে আনন্দ পাও জানি না তার কতটা যােগ্য আমি। আজ সেই কথা স্মরণ কর। মনে কর আজ আমাদের সমস্ত দলের একটা ভীষণ পরীক্ষার দিন। এদিনে তােমরা কি আমার আদেশ পালন করবেনা ?••• ওটা আমার প্রশ্ন নয়। আমি জানি তােমরা আমার আদেশ পালন কৰে। আজ সেই গভীর বিশ্বাসে—যাদের আমি সেবক সেই বাহিনীর যারা প্রধান তাদের কাছে আমার আদেশ রইল, সুরেশকে, বাদলকে, নরেন ও বিভূতিকে আমাদের দলভুক্ত করা হােক- গােপেন-এ আদেশ পালিত হবে। মহিম-আপনার আদেশ শিরােধার্য্য বিকাশদা। নৃপেশ—আপনার আদেশই আমরা মেনে নিলুম। যবনিকা
No text on this page.
No text on this page.
ভাবী বিদ্যালয় ।
পাত্রগণ
ভাবী বিদ্যালয়ের ছাত্র
৪ঘ (নাম বজ্ৰপাণি)
৪৩ঘ (নাম বিরূপাক্ষ )
১৭
ঘােষণানাথ
বীণকণ্ঠ
খাম্বাজ কুমার
ঝ-শিক্ষক (নাম সন্তোষ বাবু)
হরিচরণ (বৃদ্ধ ব্যক্তি )
কালীপদ (যুবক )
ভাবী বিদ্যালয়ের শিক্ষক
বিদ্যাসাগরী আমলের লােক
বিদ্যালয়ের দারােয়ান, বিজ্ঞাপন-বাহক ও ছাত্রগণ
দৃশ্যঃ বর্তমান কাল থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেকার একটি
বিদ্যালয়ের পাঠনা-কক্ষ।
সময়ঃ ঘটনার সূত্রপাত এক অপরাহে-দু’টো বাজতে কিছু
দেরি আছে এমন সময়ে এবং তার সমাপ্তি বেলা
আড়াইটের কিছু পরেই।
ভাবী- বিলম্ব [ একখানি ঘর। পিছনদিকে বা কোণে একটা দরজা। ডানদিকের দুই কোণে দুইটা দরজা। বাঁদিকে একটা মাত্র দরজা। ঘরের মধ্যে দশখানি চেয়ার। একখানি ডবল বেঞ্চ। একটী হারমােনিয়ম। একটা stand। দেওয়ালে নানাপ্রকার ছবি ও ইস্তাহার বাদিকের দরজা দিয়ে এই ঘরে প্রবেশ করলে হরিচরণ। বয়স প্রায় গায়ে সাদা চাদর, পায়ে চটি । সামান্য দাড়ী আছে। তার পশ্চাতে এল কালীপদ বয়স প্রায় ৩৫। কালাে, স্থূলকায় উচ্চকণ্ঠ। ] হরিচরণ—হরিপদ বল্লে এই বাড়ীটায় একটী স্কুল হয়েছে। এ ঘরটীত মাষ্টার মশায়দের বলে মনে হচ্ছে। এতগুলি চেয়ার—মাঝখানে একটী ডবল বেঞ্চিঘরের দেওয়ালে কি সব মটো টাঙানাে রয়েছে। (মনােযােগ দিয়ে ইস্তাহারগুলি দেখে) —কি ? ও বাবা এর মানে কি? ওহে কালীপদ- কালীপদ-আজ্ঞে হরিচরণ—বলি তােমার ভুল হয়নি ত ? কালীপদ-আজ্ঞে না, আমি ঠিক খবর নিয়েছি, এইটাই ত স্কুল- বাড়ী। হরিচরণ—কিন্তু দেওয়ালে ও সব কি সর্বনেশে কথা লেখাপড়, পড়- “শিক্ষকগণ স্মরণ রাখবেন ছাত্রদের তোষবিধান করাই তাদের কর্তব্য
৩৪
ভাবী-বিদ্যালয়
আবার তার পাশেই দেখনা—
“মনে রাখবেন যাদের পড়াচ্ছেন তারাই আপনার
ইহকালের ভরসা তারাই আপনার আশ্রয় ; তারা
যদি রােষবশে বিনাদোষে আপনাকে যন্ত্রণা দেয়,
তার জন্য ক্ষোভ করবেন না।”
একি কালীপদ, তুমি কি এই বুড়ােকে শেষে পাগলা
গারদে এনে হাজির করলে?
কালীপদ—আজ্ঞে না। আমি ত ভাল করেই খবর নিয়েছি।
পাড়ার সবাই বললেন, এইটাই ত স্কুল।
[ দুজন কিশােরের প্রবেশ
বিরূপাক্ষ—আপনারা কাকে খু জচেন?
হরিচরণ—আমরা হেডমাষ্টারকে চাই ; তুমি কি এখানকার ছাত্র ?
বিরূপাক্ষ—দেখুন আমাদের এখানে কোন ছাত্রকেই তুমি বলে কথা
বলবার রীতি নেই। এটা বােধ হয় জানেন না
ব্ৰজপাণিসম্ভব জানেন না। দেখে মনে হয় উনি বিদ্যাসাগরী
হরিচরণ—কথাটা বুঝলাম না বাবা?
বিরূপাক্ষ—(উত্তেজিত ভাবে) বাবা কি মশায় ?
জপাণি—বাবা বলছেন কাকে? কি অসভ্য !
হরিচরণ-ওঃ বাবা কি সর্বনাশ!
বিরূপাক্ষ—কি সর্বনাশ ? ফের বাবা।
কালীপদ-ওরে বাবা এ কি ব্যাপার!
ব্ৰজপাণি—এও বলে যে। এদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। তবে
আমার মনে হচ্ছে লােকটা পাড়াগেঁয়ে। আমরা স্কুল কলেজে
যে সব পরিবর্তন ঘটিয়েছি তা জানে না
ভাবী-বিদ্যালয় ও মশায়, আপনার কি কাণ্ডজ্ঞান নেই? আমাদের বেপরােয়া ‘বাবা’, ‘বাবা’ বলছেন। আপনার পিতাঠাকুর তা শুনলে গর্বে কি তার বুকখানা দশ হাত হয়ে যাবে ? হরিচরণ—কেন অপরাধ কি করলুম তা’ত বুঝতে পাচ্ছি না। বিরূপাক্ষ—কথাটা আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি। আপনাকে যদি ও ছেলে” বলে কি আপনার কেমন লাগে ? হরিচরণ—কিন্তু ছেলে বলেই বা ডাকবে কেন ? বজ্ৰপাণি—কিন্তু আপনিই বা আমাদের বাবা বলেন কি সম্পর্কে ? হরিচরণ—কালীপদ! বলি তুমি ঠিক খবর নিয়েছ ত? সন্তোষ বাবু এইখানেই কাজ করেন ? কালীপদ—এদেরই জিজ্ঞাসা করা যাক্ না। কিন্তু এদের কি বলে ডাকা যায় ? বিরূপাক্ষ—কেন আপনার কি জানা নেই আমি ৪৩ঘ? হরিচরণ-(বিস্মিত) ৪৩ঘ ? বজ্ৰপাণি---আজ্ঞে । আর বােধ হয় জানেন না আমি ৪৯ঘ। হরিচরণ-না জানতুম না। তবে এখন উপলব্ধি করছি। বজ্ৰপাণি——মশায়কে দেখে মনে হয় এক শতাব্দী আগেকার বিদ্যা- সাগরী আমলের লােক। আমাদের এই সহরের প্রত্যেক ছাত্রের একটী করে বিশিষ্ট নম্বর আছে। সেই নম্বর অনুসারে আমাদের ডাকা হয়। কালীপদ—বেশ! ৪৩ঘ মশাই। এখানে সন্তোষ বাবু নামে কোন শিক্ষক পড়ান কি? বিরূপাক্ষ-বুঝেছি আপনি আমাদের ঝ শিক্ষকের কথা বলছেন- হরিচরণ—কার কথা?
ভাবী-বিদ্যালয় বজ্ৰপাণি‘ঝ শিক্ষক । আপনারা যে নামটী বল্লেন ওটী তার পােষাকী নাম বটে। হরিচরণ—ঝ শিক্ষক কি? তিনি ত ইংরাজী পড়াতেন? বিরূপাক্ষ---ইংরাজী তিনি এখনও পড়েন হরিচরণ—পড়েন বলছি না। পড়ান কি না তাই জানতে চাই- বজ্ৰপাণি—আরে মশাই, আমাদের স্কুল আগেকার মত অকেজো নয়। আমাদের এখানকার নিয়ম শিক্ষকেরা পড়ে যাবেন। হরিচরণ—আর ছাত্রেরা? বিরূপাক্ষ—তারা শুবে। যদি খুসি হয় প্রশ্ন করতে পারে । বিষয়ে পড়া হচ্ছে সে বিষয়ে শিক্ষকের জ্ঞান গভীর কি না জানবার জন্যে। কালীপদ—ছেলেরা তা হলে এখানে পড়ে না ? বজ্ৰপাণি—আজ্ঞে না। আপনাদের কালে আপনারা ডবল বেঞ্চিতে বসে, শিক্ষকদের নির্যাতন চুপ করে সহ্য করতেন। চেয়ারে বসে তারা ধরাকে সরজ্ঞান কত। এক একজন নির্মম অত্যাচারী, ছাত্রঘাতী নররাক্ষস হয়ে উঠত। সে সব আমরা আমূল সংস্কার করেছি। এখন জ্ঞানের যুগ। যাদের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য শিক্ষকেরা আছেন তাদের গরু- বাছুরের মত দেখলে আর চলবে না। এখন তাই এই ডবল বেঞ্চে শিক্ষককে বসূতে হয়—আর আমরা ছাত্রেরা বসি চেয়ারে। কালীপদ—ওঃ বাবা ! না থুড়ি ! তা যাই হােক—আপনাদের ‘ঝ শিক্ষক মানে যদি সন্তোষ বাবু হয় ত তিনি কখন আসবেন?
ভাবী-বিদ্যালয় ৩৭ বিরূপাক্ষ‘ঝ’ শিক্ষক মানে সন্তোষ বাবু নয়। আমাদের যেমন সংখ্যানুক্রমিক পরিচয় আছে শিক্ষকদের তেমনি বর্ণানু- ক্রমিক পরিচয় আছে। তার বর্ণ হচ্ছে ‘ঝ। হরিচরণ—চমৎকার! তা তিনি কখন আসবেন ? বজ্ৰপাণি—তিনি এলেন বলে। এতক্ষণ বােধ হয় বিজ্ঞাপন তৈরী হয়েছে। কালীপদ—কিসের বিজ্ঞাপন আবার? বিরূপাক্ষ—আজকের পাঠ্যের। আপনারা দেখছি আমাদের Psychological system of educationএর কিছুই জানেন না হরিচরণ—তাইত জিজ্ঞাসা কচ্ছি। বজ্ৰপাণি—কি করে আর জাবেন বলুন । আপনাদের কালের বিবরণ ত আমরা পড়েছি। সেকালের শিক্ষা পদ্ধতির বর্ণনা পড়লে আমাদের গা ঘিদ্ধি করে। শিক্ষকমশাই ঘরে ঢুকতেন, চেয়ারে বসতেন, আর নিজের খুসী ও রুটিন মতন পড়িয়ে যেতেন। ছেলেদের তা ভাল লাগুক আর নাই লাগুক। ছাত্রদের মনে একটা জলন্ত কৌতু- হল জাগিয়ে তােলবার কোনও চেষ্টাই করতে না। এখন আর সে হবার জোটি নেই। কালীপদ-তাহলে এখন কি হয় ? বিরূপাক্ষ—এখন শিক্ষককে মাথা ঘামিয়ে নানা কৌশল বার করতে হয় যাতে ছাত্রের মনে একটা আগ্রহ ও কৌতূহল জাগতে পারে- হরিচরণ—সেটী এখন কি প্রকারে হয় ? বজ্ৰপানি-আরে মশায় , একটু ভেবে দেখলেই ত উপায়টা ধরা
ভাবী-বিদ্যালয়
পড়ে। আপনাদের সংবাদপত্রও ত শিক্ষার একটী উপায়।
সেটীকে মনােজ্ঞ করা যায় কি করে ?
হরিচরণ—ভাল ভাল চিত্তাকর্ষক প্রবন্ধ দিয়ে
বিরূপাক্ষ-চিত্তাকর্ষক প্রবন্ধ যে আছে তা লােকে জাবে কি করে ?
কালীপদ-কেন পড়ে।
বজ্ৰপাণি—সেকেলে লােক কিনা কিছুতেই মাথায় ঢােকে না যে লােকের
পড়ার অভিরুচি অমনিই হয় না।
বিরূপাক্ষ—বিজ্ঞাপনের জোরে মশায়, বিজ্ঞাপনের জোরে ; এই সােজা
কথাটা মাথায় আসে না।
হরিচরণ—তা বটে! কিন্তু স্কুলে আবার বিজ্ঞাপন কি ?
বজ্ৰপাণি—আরে মশায় যাকে নিয়ে কারবার তাকেই ত বিজ্ঞাপনের
চটকে মুগ্ধ করতে হয়। ইস্কুলে কত uninteresting বিষয়
ছেলেদের শুনতে হয়। শিক্ষকের এখন কাজ হচ্ছে শােনাবার
আগেই বিষয়টির মনােজ্ঞ বিবরণ ছেলেদের কাছে পাঠিয়ে
দেওয়া। ছেলেরা যদি তা পড়ে কৌতূহলী হয়ে ওঠে তাহলেই
শিক্ষকদের লাভ। কারণ সেদিন ক্লাস হয় আর তারা কিছু
অর্থলাভ করেন। ছেলেরা যদি পড়বার আগ্রহ বােধ না
করে—সেদিন পড়ানাে হয় না। শিক্ষকেরও কোন লাভ
হয় না। Pure business basis ! একেবারে scientific !
শিক্ষকদের আর কিছু না করে মাইনে পাবার যাে নেই।
বিরূপাক্ষ—এই যে সন্তোষবাবুর বিজ্ঞাপন আছে—
[ একটী লােক মস্ত বড় একটি পােষ্টার নিয়ে হাজির হােল। পােষ্টার
উপর বড় বড় অক্ষরে নিম্নমুদ্রিত ইস্তাহার লেখা। বজপাণি ‘পড়ন’ পড়ুন
বলে উচ্চৈস্বরে আবেগের সহিত পড়তে শুরু করলে ]
ভাবী-বিদ্যালয় বজপাণি-- Help! Murder !! Wholesale massacre !!! Big sentence dismembered !!!! Cut into Parts !!!!! সম্প্রতি সংবাদ পাওয়া গেছে মহামতি নেফিল্ড (পাণিনির বংশধর না হয়েও ইনি ব্যাকরণ ব্যবসায়ী) সেন্টেন্সগুলিকে খণ্ড বিখণ্ড করছেন। এই নৃশংস Ficha ata f763659 analysis of sentence ! হায় পবিত্র আৰ্যভূমিতে একি বর্বরতার আমদানী। Nesfield সাহেবের কি পদ্ধতি সে বিষয়ে আজ ‘ঝ শিক্ষক আলােচনা করবেন। সকলে আসুন এই ভীষণ নৃশংস ব্যাপার স্বচক্ষে দর্শন করুন। বিরূপাক্ষ—দেখছেন ? শিক্ষক কিরকম ভাবে কৌতূহল উদ্দীপ্ত করবার চেষ্টা করূছেন ? হরিচরণ দেখছি বটে। (বজ্রপাণির প্রতি)—৪৯ বায়ু নাকি নাম আপনার ? বজ্ৰপাণি (৪৯ ঘ)—মশায় কি পরিহাস করূছেন ? হরিচরণ-না না পরিতাপ করছি—আপনাদের কালে জন্মাইনি বলে। [ নেপথ্যে থেকে গান গাইতে গাইতে একটা বালকের প্রবেশ বীণকণ্ঠ- আমরা হলুম ভবিষ্যতের বংশধর সেকালের সব গুরুমশাই এক একটীতত ছিলেন কশাই—
৪০
ভাবী-বিদ্যালয়
বিপদ ছিল ক্লাসে বসা কাপত বুক থর থর।
আমরা সেই ভবিষ্যতের বংশধর।
Teacherগুলাে ছিল Butcher
বেত্রই যমাবর
পৃষ্ঠদেশে জ্ঞান বিলােতেন মুষ্টি দিয়ে কর্ণপর
বিপদ ছিল ক্লাসে বসা কাঁপত বুক থর থর।
আমরা সেই ভবিষ্যতের বংশধর।
Taskএর ঠেলায় হাঁকডাকে
পড়ত মনে বাপ মাকে
দিয়ে পড়ত অশ্রু সুস্থ দেহে আসত জ্বর।
বিপদ ছিল ক্লাসে বসা কঁপত বুক থর থর ।
আমরা হলুম ভবিষ্যতের বংশধর।
হরিচরণ বটে। বটে। তা এখন কি দাড়িয়েছে ?
বিরূপাক্ষ—হায়! সেকালের ভূত কিছুই জানে না।
বীণকণ্ঠ—এখন স্বাজ, সাবেক কাল সব রদ হয়েছে ভাই
চলবে না আর জারি জুরী
মাষ্টারদের আর গাজুয়ারী
চোখ রাঙিয়ে কবে শাসন এমন গুরু নাই।
এখন স্বরাজ, সাবেক কাল সব রদ হয়েছে ভাই।
এখন ছাত্রেরা সব চক্ষু রাঙায়, শিক্ষকেরা কাঁপে
Task দেয় সব ছেলের দলে
শিক্ষকেরা লিখেই চলে
অশ্রু গড়ায় চোয়াল বয়ে—“Do or die
এখন স্বরাজ, সাবেক কাল সব রদ হয়েছে ভাই।
*.
ভাবী-বিদ্যালয় ৪১ [ হরিচরণের একপাশে বিরূপাক্ষ আর পাশে বজ্ৰপাণি দুই দিক দিয়ে ঝাকানি দিয়ে । বজ্ৰপাণি—কেমন বুঝলেন মশাই ? হরিচরণ—বিলক্ষণ। আপনাদের উভয়ের ঠেলায় হাড়ে হাড়ে বুঝতে সুরু করেছি। [ অকস্মাৎ ঘরে চার পাচটী ছেলের আবির্ভাব। বজ্ৰপাণি— হরিচরণকে ছেড়ে দিয়ে) বসুন বসুন এখুনি ক্লাস শুরু হবে। সবাই এসে পড়েছে। আহা আহা এই চেয়ারেই বসুন না। { হরিচরণ ও কালীপদ ও অপরাপর সকলের চেয়ারে উপবেশন অকস্মাৎ নেপথ্যে থেকে করুণ বিলাপের শুরু] আহা! আহা! আহা! অহো ! অহে।। হরিচরণ—( ব্যস্তভাবে উঠে দাড়িয়ে ব্যাকুলস্বরে) কি হােলাে ! কি হােলো ! বজ্ৰপাণি—আরে বসুন না মশাই। এই ত পড়া শুরু হল। কালীপদ—পড়া শুরু হল ? ও বাবা! না না না না থুড়ি । ৫ { [ মাথায় করাঘাত ও বিলাপ করতে করতে সন্তোষ বাবুর প্রবেশ ] সন্তোষবাবু—হায়! হায়! সরল বাক্যগুলির কি দুর্ভাগ্য! উঃ! উঃ । এক নৃশংস ইংরাজী ব্যাকরণ-বিভীষিকা—সরল, অকপট বাক্যগুলিকে খণ্ড বিখণ্ড করেছেন ডবল বেঞ্চিতে কাতরভাবে বসে কাপড়ের খুট দিয়ে চোখ মুছতে লাগলেন ] বজ্ৰপাণি—(হরিচরণের প্রতি) কি মশায় কি রকম লাগছে ? হরিচরণ—বেশ । সন্তোষ বাবু-হে সংখ্যাগণ- কালীপদ-হে কী গণ ? বিরূপাক্ষ—আরে বনুন না মশায়। আমাদের এক একটী সংখ্যা আছে ভুলে যাচ্ছেন কেন। হরিচরণ-বস কালীপদ বস।
৪২ ভাবী-বিদ্যালয় সন্তোষ বাবু—সেদিন এক দুর্ঘটনা শুনে অবধি আতঙ্কে একেবারে অসাড় হয়ে যাচ্ছি। সেদিন শুনলুম লেক সাহেব খবর দিয়েছেন একটী Straitght line fell perpendicularly on another unhappy straight line lying peacefully on the ground between A and B. The result was that the unhappy straight line was cut in two. Oh! When I think of it! I cannot think of it | নীরবে শােকার্তভাবে অবস্থান। বিরূপাক্ষ(হরিচরণের প্রতি) কি মশায় কি রকম exciting দেখেছেন। আপনাদের সময়ে এমন ছিল? হরিচরণ-রাম বল- বজ্ৰপাণি—Horrible ! রাম। সেই ভদ্রলােক যিনি পঞ্চবটী বনে জয়দ্রথের সঙ্গে পাশাখেলে দ্বাদশ বৎসর আত্মহত্যা করে- ছিলেন। তাঁর নাম—ছি ছি ছি ! ছি ছি !—সেই নাম ! এই বাড়ীতে। কালীপদ-ওঃ বাবা ! না না না থুড়ি। সন্তোষবাবু—এই ব্যাকরণ-গণ্ডারের বিশেষ পরিচয়ের দরকার নেই। আপাততঃ তার কুকীর্তির বিবরণ আমি দেব । ইনি বলেন প্রত্যেক Sentenceএর কতকগুলি অবয়ব আছে। chefa at Subject! Adjunct to subject! Predi cate ও Adjunct to Predicate : এগুলি আপনাদের মনে রাখতে হবে। (বক্তৃতার ভঙ্গীতে ঘুসি পাকিয়ে ) subject কাকে বলে ? subject হচ্ছে তাই যা object নয় project নয়, inject নয়, interject নয়, তাই subject খালি sub and ject 1998 subject a subject
ভাবী-বিদ্যালয়
৪৩
হরিচরণ— উঠে দাঁড়িয়ে) কি সর্বনাশ ?
বজ্ৰপাণি—আরে বসুন না মশায়। এত অল্পেই excited হচ্ছেন কেন ?
[ হরিচরণকে জোর করে বসিয়ে দিল ।
সন্তোষবাবু—এই subject হচ্ছেন কর্তা। ইনিই করেন। ইনিই বাক্যের
নায়ক, ইনি সার্বভৌম, ইনিই হচ্ছেন—l the centre of the
circle ইনিই হচ্ছেন—ইনিই—
বিরূপাক্ষ—বেশ বেশ আমরা বুঝেছি।
সন্তোষবাবু (কৃতজ্ঞভাবে) আমি অনুগৃহীত হলুম। এবার দ্বিতীয়
অবয়বের কথা, Adjunct-Adjunct to Subject !
জনৈকছাত্র—(দাড়িয়ে উঠে ছাত্রদের প্রতি) ঝ শিক্ষক বল্লেন Adjunct। কথাটি
অত্যন্ত শ্রুতিকটু। যেন নীরব হুহুঙ্কারের মতন। আমি
প্রস্তাব করছি কথাটি বদলে দেওয়া হােক।
দ্বিতীয় ছাত্র—আমার পূর্ববর্তী বক্তা ঠিকই বলেছেন। কথাটী শ্রুতিকটু।
তবে তার উপমার একটু ভুল আছে। Adjunct কথাটা শুনে
আমার মনে হােল যে লক্ষ ছারপােকার গর্জন আমার কর্ণ
পটাহকে ভেদ করলে।
কালীপদ—(পশ্চাৎ দিকের চেয়ার থেকে) মাগো--
বিরূপাক্ষ-১১বৃ ও ১৭গা যা বল্লেন তা অতিশয় নিদারুণ সত্য। ঝ’
শিক্ষককে আমরা আদেশ জানাচ্ছি ঐ অশ্রাব্য কটু কথাটী
যেন আর দ্বিতীয়বার ' বলে আমাদের সুললিত কর্ণকুহরকে
উত্তেজিত না করেন।
সন্তোবাবুE১১ বৃ••
হরিচরণ—-
সন্তোষবাবু—এবং ১৭ গা...
কালীপদ-ধা-
৪৪
ভাবী-বিদ্যালয়
সন্তোষ বাবু—যা বল্লেন তা সত্য। একথাটী যখন আমি প্রথম শুনি
তখন তিনবার বমি করেছিলুম। তিনবার শয্যাগ্রহণ
করেছিলুম। কিন্তু কালক্রমে সবই সহ্ন হয়ে যায়! ইংরাজী
ব্যাকরণ-ষণ্ডের তাড়নায় পিতৃনাম স্মরণে আসেনা-জীবন
বর্তমানেও মৃতবৎ বােধ হয়। শুদ্ধ আপনাদের মঙ্গলের
জন্যই
১৭গা—আমি ঘােরতম আপত্তি করছি। ঝ শিক্ষক আমাদের মঙ্গলের
জন্য কি অধিকারে ব্যস্ত হয়েছেন? এ তার অনধিকার।
তার এই ধৃষ্টতার জন্যে সমুচিত শিক্ষা হওয়া উচিত। আজ ছুটির
ঘণ্টার পর তাকে আধঘণ্টা confined থাকতে হবে।
কালীপদ-ওঃ-না না থুড়ি।
সন্তোষ বাবু— কাতর ভাবে ) হে সংখ্যাগণ আপনারা আমায় মার্জনা
করবেন। আপনাদের মঙ্গলচিন্তারূপ দুরভিপ্রায় আমার
ছিল না। ওটা আমার রসনাস্থলন হেতু ধৃষ্ট শুনিয়েছে।
[ একটি কিশাের একখানি খাতা হাতে ঘরে প্রবেশ করলে। তার আগমনে
ঝ শিক্ষক উঠে দাঁড়ালেন। এই কিশােরের নাম ঘােষণানাথ। ঝ শিক্ষককে
ইঙ্গিতে বসতে বলে হাতের পাতা থেকে ইনি এক ইস্তাহার পড়তে শুরু
করলেন ]
ঘােষণানাথ-এত দ্বারা শিক্ষকগণকে জ্ঞাত করা যাইতেছে যে আগামী
কল্য বিদ্যালয় বন্ধ থাকিবে। অদ্য বৈকালে মাঠে ফুটবল
প্রতিযােগিতা শুরু হইবে। ছাত্রগণ যেন সৰ্ব্ব-কর্থে যােগদান
করেন এই প্রার্থনা জানানাে হইতেছে।
আমি
ঝ শিক্ষক— ঘোষণানাথের প্রতি আমার একটা নিবেদন আছে।
confined আছি সেইজন্যে খেলতে পারব না।
ভাবী-বিদ্যালয়
৪৫
১৭গা-আচ্ছ। আজ স্কুলের সুনামের জন্য আপনাকে ক্ষমা করা গেল।
১১বৃ—আর ব্যায়াম ব্যতিরেকে আমাদের স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
অতএব আপনাকে মাপ করা গেল।
বজ্ৰপাণিনিশ্চয়ই। ঝ শিক্ষক না খেলে left lineটাই মাটি হয়ে
যাবে। আর তার উপর দুজন অতিথি আছেন। আশা করি
তারা খেলায় যােগদান করবেন আমাদের সঙ্গে।
১৭ গা— হরিচরণের প্রতি কি মশায় ! খেলায় যােগ দিচ্ছেন ত?
হরিচরণ—আমি বুড়ো হয়েছি; একটু জোরে হাঁটলে দম ছুটে যায় ; আর
তার উপর কোনদিন খেলিনি। তবে কালীপদ ভাল গুলি
ডাং খেতে পারত, শক্তও আছে। ওকে নিয়ে আমায়
রেহাই দিন।
১১ বৃবুড়ো হয়েছেন, তাতে কি হয়েছে ? আপনার যােগদান করতে
দোষ কি?
হরিচরণ—বলে আমি কোন কালেই পা ছোঁয়াই নি ; আমি আবার
খেলব কি করে?
১৭ গা—ওহে ১১ বৃ! আমি বুঝেছি ; ইনি বােধ হয় সব গােলমাল করে
ফেলেছেন । ওদের কালে যারা বল নিয়ে মাঠে নেমে শিয়াল
কুকুরের ঝগড়া লাগিয়ে দিত তাদের বলত খেলােয়াড়। উনি
বােধ হয় ভাবছেন আমরা ওঁকে সেই রকম মাঠে নেমে খেলতে
বলছি। ( হরিচরণের প্রতি) আপনার সেরকম করে মাঠে
খেলবার দরকার নেই মশায়। আপনি শুধু আমাদের সঙ্গে
গ্যালারীতে বসে উত্তেজনার charge গ্রহণ করবেন।
কালীপদ—কি? কি ? কি ? কি গ্রহণ করব ?
৪৯ ঘ (বজ্ৰপাণি)—উত্তেজনা সেবন করবেন।
হরিচরণ—সে আবার কি?
;
৪৬ ভাবী-বিদ্যালয় ৪৩ঘ (বিরূপাক্ষ)-Hopeless ! এরা তেলচিটে তেলচিটে প্রাচীন কাল। আমাদের বৈজ্ঞানিক সংস্কারগুলাের সম্বন্ধে এর একেবারেই অনভিজ্ঞ। ৪৯ ঘ-দেখুন বহু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় স্থির হয়ে গ্যাছে যে ফুটবল মাঠে যারা খেলে তাদের চেয়েও যারা খেলা দেখে তারাই বেশ উপকার ভােগ করে। ভােগ করে। বিকেলে খানিকটা খােলা জায়গায় দাঁড়িয়ে চীৎকার করূতে পারূলে ফুসফুস দুটো সতেজ হয়ে উঠে। আর তার উপর ‘ঐ গােল ‘ঐ গােল ‘ঐ গােল, ‘হা... ...ইষ, ‘গেল গেল, ‘stop, stop,'—এই সব চীৎকার আর উত্তেজনার মঙ্গল- প্রভাব স্বাস্থের উপর খুব বেশী । তাই এখন দর্শকরাই বেশী দরকারী। খেলােয়াড়ের দল,—একটা পেশাদার দল হলেই হল। দেখবেন সময়টা কেটে যাবে—এই, এই—এই ১১ বৃ—খাঁড়ার তলায় পাঁঠার মতন। কেমন তাহলে আসছেন ত ? চীৎকার করতে আর পাবেন না? কালীপদ-কেন পারবনা? চেঁচাব আ—[ চেঁচাতে সুরু করলে ] ৪৯ ঘ—আরে থামুন এখন নয় । ১১ বৃ—বাঃ রবটী বেশ বার করেছেন ত ? আমার ক্লাসে এবার একটিও জোর গলা নেই; ইনি থাকলে আমরা নিশ্চয় জিতে যাব। হরিচরণ—তাহলে আপনারা সবাই উত্তেজনা সেবন করূবেন? নিজেরা উত্তেজনার সৃষ্টি করবেন না? ১৭ গ—সেটা ত ভাড়া করা লােক দিয়েই হতে পারে। আপনাদের কালে স্কুলের ছেলেরা খেলত, মষ্টারমশায়রা চেয়ারে বসে লেমনেড় খেতেন আর মন্তব্য প্রকাশ করতেন। আর একালে মাষ্টার • ভাবী-বিদ্যালয় ৪৭ মশায়রা খেলেন আমরা গ্যালারীতে বসে যা খুশী তাই করি।—চা খাই—ঝিমােই—ইচ্ছে করলে মরেও যেতে পারি—কেউ বাধা দেবার নেই। শুধু গ্যালারীতে বসে উত্তেজিত হই। কত সুবিধে বলুন ত ? হাত ভাঙ্গে না, পা মচকায় না, চামড়া ছড়ে না—অথচ খেলার আসল যে জিনিষ সেই উত্তেজনাটি ছাকা পাই। বুঝলেন- হরিচরণ—প্রায়। বজ্ৰপাণি—তাহলে আপনি যােগ দিচ্ছেন ত ? হরিচরণ—তা বােধ হয় পারব। [ ঘোষণানাথের পুনঃ প্রবেশ ও ইস্তাহার পাঠ ] ঘােষণানাথ–এতদ্বারা ছাত্ৰসাধারণকে জ্ঞাত করা যাইতেছে যে গ শিক্ষক দারুণ অবাধ্যতা করার দরুণ তাহাকে সব ছাত্র সমক্ষে দশহাত হামাগুড়ি দিয়া চলিতে হইবে। উক্ত শিক্ষক ক্লাসে Improper ও Vulgar Fraction কষিতে সুরু করেন। ২? তঁাহাকে জিজ্ঞাসা করে Vulgar ও Improper এর মানে কি ? তিনি প্রথমে ঐগুলি গণিতের সংজ্ঞা বলিয়া উড়াইয়া দিতে চেষ্টা করেন। তখন কোন বিচক্ষণ ছাত্র একটী অভিধান খুলিয়া দেখাইয়া দেয় উহার অর্থ “অন্যায় ও ইতর”, এবং বলেন যাহা Improper ও Vulgar তাহা ক্লাসে পড়া অতি গর্হিত কাণ্ড। গ শিক্ষক ইহার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করিয়া বলেন যে তিনি তাহা পড়িতে
৪৮
ভাবী-বিদ্যালয়
an0
বাধ্য কারণ পুস্তকে তাহা আছে।
এই ধৃষ্টতার
জন্য তাহাকে শাস্তি দেওয়া হইয়াছে ও Director
of Public Confusionকে এবং পুথিসংহারক
সমিতিকে জানান হইয়াছে।
জনরব কয়েকজম শিক্ষক আছেন যারা
malous verbs, নিপাতনে সিদ্ধ প্রভৃতি জঘন্য নীতি
বৰ্হিভূত জিনিস পড়েন। হাদের সতর্ক করা
যাইতেছে যেন এ পথ পরিহার করেন। হামাগুড়ির
সময়-২২৫ মিনিট হইতে ২৩০ মিনিট।
[ ঘােষণা নাথের প্রস্থান ]
বজ্ৰপাণি—চলুন সবাই হামাগুড়িটা দেখে আসা যাক। সময় হয়ে
এসেছে।
[ সকলের বাহিরে গমন; কিছুক্ষণ পরেই কালীপদকে ঘরে পুনঃ প্রবেশ
করতে দেখা গেল। তার তখন কেঁচার জায়গায় কাছা, জামার বুকটিী
পিঠের দিকে ও পিঠটী বুকের দিকে। মাটিতে জুতাে খুলে রেখে তার
উপর মাথা রেখে ক্রমাগতই উল্টো হয়ে চলার চেষ্টা করছিল। সামান্যক্ষণ
পরেই হরিচরণের প্রবেশ। ]
হরিচরণ—ও কি ? কালীপদ ও কি করছ ?
কালীপদ-পূৰ্ব্ববৎ কসরত করতে করতে কি করছি? আপনাকেও করতে
হবে।
হরিচরণ—পাগল হলে না কি হে?
কালীপদ-আবার না কি হে ? বলি মশায় সব (দাঁড়িয়ে উঠে) উল্টে
গেছে।
হরিচরণও কি কাছা, কেঁচা এ সব কি করেছ?
ভাবী-বিদ্যালয় 89 কালীপদ সময় থাকতে আপনি এ রকম করুন তা না হলে গ শিক্ষকের মত-ওরে বাবা না থুড়ি- [ খাৰা কুমারের একে] খাম্বাজ কুমার—এখন স্বরাজ, পাঠ্য কেতাব পড়ে পাঁঠা সবে এখন রাজ, জাঢ্য ছেড়ে অন্য কে হবে? দেবানুরের মত যখন পুথি কেতাব কত মথন পিতামহের কালেরে রে ভাই-সুখ কি ছিল ভবে ? এখন হয়না পড়তে হয়না লিখতে আছি মহােৎসবে। কি মশাই? কালীপদ-কিছু না। কিছু না। এই এমনি। আপনার গান শুনছিলুম। ভারি মিষ্টি। মশায়ের নাম ? খাজকুমার-সুর করে) আমার নাম খাৰাজকুমার। গান করি। আমি পাখী হব-পাখী হয়ে গান গাৰ। ভগবান কবে আমি পাখী হব (বলতে বলতে প্রস্থান)। কালীপদ- হরিচরণের প্রতি ) চলুন পালাই। এখানে আর কিছুক্ষণ থাকলে মাথার ঘি সব পায়ে নেবে যাবে। চুল বেরুবে পায়ে, নখ বেরুবে মাথায়। হরিচরণ-ঠিক বলেছ। আমার কি রকম সব গােলমাল হয়ে যাচ্ছে। আমি শুধু চল- ( উভয়ের প্রস্থান। [১৮, ১১ ৩থ প্রভৃতির ব্যস্তভাবে প্রবেশ ৪৯ ঘ—কই হে কোথায়? দুটী তেলচিটে প্রাচীন কাল ১৭ গা-বােধ হয় পালিয়েছে। ১১ বৃ-পালাবেন কোথায় ? দয়ান ত ছাড়বে না। ৪ ভাবী-বিদ্যালয় ৪৩ বু—নিশ্চয়ই, এদের হঠাৎ দেখলে নতুন শিক্ষক বলে মনে করবে। গায়ে যে রকম মাষ্টার মাষ্টার গন্ধ। Allowed শ্লিপ না পেলে ত ছাড়বে না। [ অরওরানের সহিত হরিচরণ ও কালীপদর পুনঃ প্রবেশ ] ফরওয়ান-৪৯ বাবু এই দুই আদমীকা আলােয়াড় শ্লিপ নেই হ্যায়। ফিন, যানে মাতা। ১১ বৃকালীপদর প্রতি) কি মশায়, পালাবার চেষ্টা করছিলেন ? ১৭ গা— হরিচরণের প্রতি) খুব মশায়, স্কুল পালাচ্ছিলেন ? সেদিন ‘ঞ শিক্ষক স্কুল পালাচ্ছিলেন বলে তাকে আধঘণ্টা মাঠে চিৎ হয়ে পড়ে থাকতে হয়েছিল প্রায় ৩০০ ছাত্রের সামনে। হরিচরণ—কিন্তু আমরা ত শিক্ষক নই। ৪৩ ঘ-কিন্তু আপনাদের স্বভাব দেখে মনে হয় আপনারা একেবারে জাত শিক্ষক। ১১ বৃ— হরিচরণের দিকে চেয়ে ) নিশ্চয়! চেহারা দেখলে মনে হয় জলজ্যান্ত উপক্রমণিকা ব্যাকরণ ১৭ গা-কালীপঙ্গর দিকে ইঙ্গিত করে) আর এটি যেন জলজ্যান্ত Interjection, হরিচরণ— কাতরভাবে ) দয়া করে আমাকে ছেড়ে দিন। কালীপদ—আমাকেও ছেড়ে দিন ১১ বৃহা গলার স্বর কি? যেন ডজন তিনেক ভ্রাতৃশােক উথলে - উঠেছে। ৪৯.ঘ বাকী সকলের প্রতি ) হে সংখ্যাগণ! কি করা যায় ? ৪৩ ঘ—আমার মতে (হরিচরণকে দেখিয়ে) এই ব্যক্তিকে আমাদের সং শিক্ষকরূপে নিযুক্ত করা হােক।
ভাবী-বিদ্যালয় ১৭ গা—কিন্তু উনি কি সংস্কৃত পড়তে পাবেন- ৪৯ ঘ-পরীক্ষা করে দেখা যাক না—আর এই রকম করেই ত আমরা তিনজন শিক্ষক নিযুক্ত করেছি। তাদের কাজ শিখিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরাও কিছু দিন প্ৰােবেশনে থেকে শিখে নিন। ১৭ গা—আর এই Interjectionটিকে? ১১ বৃ—(কালীপদকে নির্দেশ করে। একে শুধু খেলার মাঠে চীৎকার করবার জন্যে রাখা হােক। এর গলাখানি মন্দ নয়। এর ‘গােল’ ‘গােল চীৎকার শুনলে বিপক্ষে খেলা ছেড়ে দিয়ে সন্ন্যাসী হয়ে যাবে। [ একটি আট নয় বৎসরের ছাত্রের প্রবেশ। ছাত্র-(আধ আধ সুরে) ৪৯ ঘ’দা। আমরা শুনলুম দুটো মাষ্টার নাকি ধরা পড়েছে। দেখাওনা, তারা কই ? ৪৯ ধ—আরে আয় আয়। এই দেখ দেখি (শঙ্কিত ও বিস্মিত হরিচরণ ও কালীপদকে নির্দেশ করে) এই—দুটি কেমন পছন্দ হয়? তােদর মত হলেই এদের নিযুক্ত করা হবে। ছাত্র-(নিকটে গিয়ে বহুক্ষণ সযত্নে নিরীক্ষণ করে) মন্দ নয়। এদের রাখা যেতে পারে। ৪৯ ঘবেশ, তাহলে আপনারা আজ থেকে নিযুক্ত হলেন। ছাত্র- সমিতি থেকে আপনাদের নিয়োেগ পত্র কাল দেওয়া হবে। আপনারা এখানে চাকরি করতে বাধ্য রইলেন। হরিচরণ-(সভয়ে) অ কালীপদ এরা বলে কি? কালীপদ—ওরে বাবা না না খুড়ি। এরা যা বলেন তাই এ-এ-এ করতে করতে বিহুলের মত বসে পড়ল। যবনিকা ক
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.