Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Kiratarjun Part. 1

Das,nabinachandra · 2010/01/11

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

KIRATARJUN
OF
BHARAVI
IN BENGALI VERSE
PART 1.
BY
NOBIN CHANDRA PAs, Kavi-GUNAKAR M.A., B.L.,
OF THE PROVINCIAL SERVICE,
FORMERLY LAW-J.ECTURER OF THE CHITTAGONG COLLEGE,
AUTHOR OF "RAGHU-VAMSA" & "SISUPAL BADHA" IN
BENGALI, "ANCIENT GEOGRAPHY OF ASIA,"
"MIRACLES OF BUDDHA",
“soKA-GITI” &c.
19o6.
ভারবি কৃত
কিরাতাজুন।
বঙ্গানুবাদ। প্রথম ভাগ।
শ্ৰনবীনচন্দ্র দাস কবি-গুণাকর এম, এ, বি, এল,।
মূল্য ॥০ টাকা।

No text on this page.

শ্রদ্ধার উৎসর্গ । রবির কিরণ চন্দ্রে করে সমুজ্জল, সরােজিনী ফুল্ল চাৰু কিরণ-সুহাসে * ; কিরণ চন্দ্রের করে প্রজার মঙ্গল, উজলিলা নীলমণি-নির্মিত নিবাসে । চারু চন্দ্র-সমাদৃত, শশাভিত জ্যোৎস্নায় ; ! উজ্জল কিরণ চন্দ্র চৌষট্টি কলায় । * স্বাভাবিক মধুরতা বিশ্বাস অপার লাগিয়া রয়েছে যেন নয়নে তাহার, দর্শনেই সম্ভাষণ সূচিত যেমতি, প্রকাশে পবিত্র চিত্ত প্রশান্ত মুরতি” । ভারবি-কবিতাকুঞ্জে উৎসাহে তাহার পশিয়া গাঁথিনু মালা কুসুমের দলে, অর্পিং শ্রদ্ধার এই ক্ষুদ্র উপহার কৃতজ্ঞতা-বশে তাঁর শ্রীকরকমলে। চট্টগ্রাম। বিনয়াবনত Fairy Tank Lodge, 19th Sept. 1906, শ্রীনবীনচন্দ্র দাস। * সূর্যের কিরণ চন্দ্রমণ্ডলে পতিত হইলে কলাক্রমে চন্দ্রের প্রকাশ হয়। সরোজিনী- পদ্মপুষ্প, অন্য অর্থে শ্রদ্ধাস্পদ শ্রী যুক্ত কিরণচন্দ্র দে 1. c. S. মহোদয়ের লক্ষ্মীপ্রতিমা সহ- ধর্মিণী । রঘুবংশের তৃতীয় সর্গের ২২ শ্লোক দ্রষ্টব্য- দিনে দিনে মুত প্রতি রাজার যতন, পিতৃস্নেহে শিশুদেহ বাড়ে মনোহর, পশে যবে সৌর প্রভা অন্তরে আপন, কলাক্রমে বাড়ে যখ বাল শশধর।” রঘুঃ সঃ ২২ “সলিময়ে শশিনি রবের্দীধিতয়ে মুচ্ছিতামাে নৈশং পয়স্তি গণোনিহিত। ইব মন্দিরান্ত। বয়াহ সংহিতা। । এক অর্থে নীলমণিময় অর্থাৎ সুনীল আকাশ। অন্য অর্থে মাননীয় প্রযুক্ত নীলমণি রে মহাশয়ের বাটী। ? অন্য অর্থে মাননীয় প্রযুক্ত চারুচন্দ্র মিত্র মহাশয়ের জাদরে ব্যায়। মাঝ্যোং। কুমার দে এযুক্ত কিরণচন্দ্র দে মহোদয়ের জ্যেষ্ঠপুত্র। $ নৃতাগীতাদি চৌষট্টি কলাত্মক ললিত বিদ্যা। রঘুবংশের ৮ম সর্গ ৬৭ কেষ্টব্য। রবির ব্যাস-নার এই শ্লোক কিরণচন্দ্র দে মহােদয়ের গুণগ্রামের অনুরূপ বলা- “অনুতাকার হয়া বিবিক্তাং ৩ান্ত অন্তঃকরণ ব্যক্তি। মাধুৰ্য-বি-বিশেষ-তাজা কতোপসস্তায়ং ইফেক্ষিতেন।” কিত। 1.

মহাকবি ভারবির জীবনী । এই মহাকবি সুবিখ্যাত কিতাৰ্জনীয়’ নামক মহাকাব্যের রচয়িতা। ভারবির জীবনবৃত্তান্ত একান্ত অন্ধকারাচ্ছন্ন, তথাপি অনুসন্ধান দ্বারা নিম্ন- লিখিত বিবরণ অবগত হওয়া যায়। ভারবিকৃত ‘কিরাতাজ্জনীয়’ ও মাঘকৃত ‘শিশুপাল বধ’ আদ্যোপান্ত অভিনিবেশ সহকারে পাঠ করিলে জানা যায় প্রথমােক্ত কাব্যখানি শৈবগণের, দ্বিতীয় খানি বৈষ্ণবগণের প্রীতিসাধনের নিমিত্ত রচিত হইয়াছিল। কিরাতাৰ্জ্জুনীয়ে শৈবগণের উপাস্যদেব শিবের প্রাধান্ত ও শিশুপাল বধে বৈষ্ণবগণের উপাস্য দেব বিষ্ণু বা কৃষ্ণের মাহাত্ম্য কীর্তিত হইয়াছে। এক জন আৰ্য্যাবৰ্ত্তবাসী ও অপর ব্যক্তি দক্ষিণাপথের অধিবাণী। যখন আমরা কিরাতাৰ্জনীয় মহাকাব্যে হিমালয় প্রদেশ ও ইন্দ্রকীল পৰ্বত এবং কিরাতজাতির বর্ণনা পাঠ করি, তখন মনে হয় নিশ্চয়ই এই কবি হিমালয় সন্নিহিত কোন প্রদেশে বাস করিতেন। যিনি ভারবির হিমালয় পর্বতের বর্ণনা পাঠ করিয়া হিমালয় সন্নিহিত স্থানে গমন করিবেন তিনি উহার সত্যতা উপলব্ধি করিতে পারিবেন। অদ্যাপি সিকিমের উত্তরে ইকীল নামক একটী পৰ্বতাংশ বিদ্যমান আছে। এতদ্ভিন্ন হিমালয় পর্বতের উপত্যকা ও অধিত্যকাস্থ সকল স্থানেই কিরাত জাতির বাস আছে। এখন উহাদিগকে কিরাতী বলে। রাজকীয় বিজ্ঞাপনীতেও ঐ জাতি কিরাতি নামেই অভিহিত হইয়া থাকে। অতএব ইহা দ্বারা নিশ্চয় বােধ হয় ভারবি হিমালয় সন্নিহিত কোন জন পদে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। কেহ কেহ বলেন ভারবি ও মাণ সমসাময়িক কিন্তু উহা সত্য নহে। কারণ প্রথমতঃ একটী বচন প্রচলিত আছে বথা- ৫৫ রবে জা-রবির্ভাতি যাবৎ মাঘশ্য নােদয় উদিতে চ পুনর্মাঘে ভাবে ভা রবেরিব।** ইহা দ্বারা প্রমাণিত হইতেছে ভারবির পর মাঘের উদয় হইয়াছিল। প্রত্নতত্ত্ববিদগণ বিবিধ গবেষণা দ্বারা নির্ণয় করিয়াছেন ৮ম খৃষ্টাব্দের শেষ * “ভাবির প্রভা-রবি অাগে সু প্রখর মাঘোয়ে হল মৃদু যথা দিনকর ।” এই সংস্কৃত শ্লোকের শেষ ভাগ কাহারাে মতে এইরূপ—“উদিতে নৈষধে কাব্যে কম = চ তাৰি। ইহা সমীচীন নহে। = ভাগে অথবা নবম শতাব্দীর প্রারম্ভে মাঘ কবি জন্মগ্রহণ করেন, ভারবি তাহার পূৰ্ব্ববর্তী। এখানে এ কথা বলা অবশ্যক ভারবি মাঘের অব্যবহিত পূর্ববর্তী নহেন অনেক পূর্ববর্তী। কারণ ৫৫৬ শকাব্দে রাজা পুলি কেশরী কর্তৃক প্রদত্ত এক খানি তাম্রশাসনে কালিদাস ও ভাবির নাম দৃষ্ট হয়, নিমে শ্লোকটা উদ্ধৃত করা গেল। “যেনা যোজি নবেম্ম স্থিরমর্থবিধৌ বিবেকিনা জিনবেশ্ম। স বিজয়ং রবিকীর্তিঃ কবিতাশ্রিত কালিদাস ভারবিকীর্তিঃ ॥” এই প্রসিদ্ধ তাম্র শাসন দ্বারা নির্ণয় হইতেছে মহাকবি ভারবি অন্তত খৃষ্টের ষষ্ঠ শতাব্দীতে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। ভাবি ও মাঘের কবিতাগত অত্যন্ত সৌসাদৃশ্য দর্শনে নিশ্চয় বলা যাইতে পারে এক জন অপরের অনুকরণ করিয়াছেন। কিন্তু অভিনিবেশ সহকারে যিনি বিচার করিবেন তিনি নিশ্চয় বলিবেন মাঘ ভাবির কাব্যকেই আদর্শ করিয়া তাহার শিশুপাল বধ রচনা করিয়াছেন। যদিও ভারবি ও মাঘ উভ- য়েই প্রগাঢ় রাজনৈতিক ছিলেন তথাপি দার্শনিক জ্ঞান ভারবি অপেক্ষা মাঘের অধিক ছিল। তজ্জন্য আমরা ভাবির কাব্যে দার্শনিক কথা কদাচিৎ প্রাপ্ত হই। কিন্তু মাঘের শিশুপাল বধে সাংখ্য, উত্তরমীমাংস, বৌদ্ধ প্রভৃতি সকল দর্শনের কথাই পাঠ করিয়া থাকি। তবে ভারবির কবিত্ব কতকটা নৈসর্গিক, কিন্তু মাঘের কবিতা কঠোর পরিশ্রমের ফল। ভারবির কবিতা অধিক রমণীয় ও সহজবােধ্য। গবেষণা দ্বারা কালিদাস, মাঘ, বাণভট্ট, শ্রীহর্ষ প্রভৃতির জীবন-বৃত্তান্ত কথঞ্চিৎ প্রাপ্ত হও । যায়, ভারবির জীবনবৃত্ত সম্বন্ধে উহার অর্ধাংশ প্রাপ্ত হইলেও অনেক পরিমাণে তৃপ্তিলাভ হইত।” * নিম্ন শ্লোকে কালিদাস, আরবি ও মাঘের কাব্যের বিশিষ্ট গুণের উল্লেখ দৃষ্ট হয় যথা- “উপমায় কালিদাস নিরুপম ভবে, ভারবি তেমতি খ্যাত অর্থের গৌরবে; পদের লালিত্য হেতু নৈষধ মধুর, আছে এই গুণত্রয় মাঘেতে প্রচুর ॥ ॥” * পণ্ডিতপ্রবর শ্রীযুক্ত শিবনারায়ণ শিরোমণি কৃত “শব্দাথ মঞ্জরী” অভিধানের পরিশিষ্ট হইতে উদ্ধত ; মৎকৃত “শিশুপাল বধের” বঙ্গানুবাদ দ্বিতীয় ভা।ে মাঘের জীবনী স্য। ; শিপাল ৰধ (বঙ্গানুবাদ) প্রথম সর্গের উৎসর্গপত্রে ও পর পৃষ্ঠার মূল শ্লোক প্ৰষ্টব্য।

“এই অমর কবিবরের আবির্ভাবে ভারত ভূমির কোন্ স্থান যে অলঙ্কত হইয়াছিল, তাহার প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায় না। প্রবাদ, কবি ভারবি গুরুগৃহে থাকিয়া অধ্যয়ন কালে গুরুর হােমধেনু রক্ষার জন্য প্রতিদিন হিমা- লয়ের মনােরম সামু-কানদিতে পরিভ্রমণ করিতেন। হিমগিরির নিকুঞ্জ পুঞ্জ প্রভৃতিতে প্রকৃতির অনুপম সৌন্দৰ্যরাশিদর্শনে ক্রমে তাঁহার হৃদয়ক্ষেত্রে কবিত্ব বীজ অঙ্কুরিত হইতে লাগিল। তিনি ধীরে ধীরে কবিত্বের উচ্চাসনে সমাসীন হইলেন। একদিন ভারতীয় ইতিহাস আলােচনা করিতে করিতে দ্বৈতবন-নিবাসী যুধিষ্ঠিরাদি পঞ্চ পাণ্ডবের কীর্তিকাহিনী তাহার স্মৃতিপথে উদিত হইল। তখন হইতে তিনি প্রত্যহ গােরন্সাচ্ছলে নির্জন শৈল-কুঞ্জে আসিয়া উপবেশন করিতেন। তাঁহার অদূরে হােমধেনু স্বেচ্ছাচার ও স্বৈর- গমনাদি সুখানুভব করিত। আর এক দিকে তিনি হিমগিরির মঞ্জুল-তম নিকুঞ্জে বসিয়া এক এক খানি ভূর্জপত্র লইয়া তদুপরি ৩টী বা ততােধিক শ্লোক রচনা করিতেন। মহাকবি ভারবি এই রূপে প্রতিদিনের রচিত শ্লোক- গুলি একত্র সংগ্রহ পূৰ্ব্বক “কিরাতাক্ষ্মনীয় নাম দিয়া এই পরম উপাদেয় মহাকাব্য খানি প্রচার করেন। “মহাকবি ভাবি একজন অসাধারণ পণ্ডিত ছিলেন। তিনি যে কি পরিমাণ পাণ্ডিত্য ও কবিত্ব শক্তি লইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন, তাহা তাহার রচিত সরস মধুর কবিতাবলীর পদপরম্পরার প্রতি লক্ষ্য করিলে অনায়াসেই সহৃদয় মাত্রে হৃদয়ঙ্গম করিতে সমর্থ হইয়া থাকেন। তাঁহার রচনা মধ্যে প্রসাদগুণই সবিশেষ প্রাধান্যের সহিত সমাদৃত হইয়াছে। প্রায় অধিকাংশ কবিতাই পাঠ করিবা মাত্র সহৃদয় পাঠকের হৃদয়-কদর আনন্দরসে প্লাবিত ও শরীর পুলকে পূর্ণ হইয়া যায়। তাহার কবিতাগুলি কেবল যে প্রসাদপূর্ণ পদকদম্ব দ্বারাই পরিশােভিত তাহা নহে; অন্তর্নিহিত গভীর ভাবার্থ সমূহের অপূৰ্ব সমাবেশ চাতুৰ্যেও তাহার কৃতিত্ব অনন্ত-সাধারণতা লাভ করিয়াছে। মহাকবি ভারবির ললিত-মধুর রচনা অর্থ-গৌরবে যে প্রধান স্থান অধিকার করিয়াছে, তাহা কাব্যরস-রসিক কোবিদগণের ««উপমা কালিদাস ভারবেরর্থগৌরব। নৈষধে পদ-লালিত্যং মাঘে সন্তি আয়াে গুণাঃ ॥” * উপরে।• পৃষ্ঠায় ইহার বঙ্গানুবাদ স্রষ্টব্য।

এই বচনটি দ্বারাই সহজে প্রতিপন্ন হইতেছে। প্রসিদ্ধ টীকাকার মল্লিনাথও একটী শ্লোকে অন্তর-রস-পূর্ণ নারিকেল ফলের সহিত ভাবি কবির উক্তির তুলনা করিয়া রসিকদিগকে ইচ্ছামত ইহার সরস সারকথা আস্বাদন করিতে বলিয়া গিয়াছেন। টীকাকার কৃত শ্লোকটা এই- “নারিকেল-ফল-সম্মিতং বচো ভারবেঃ সপদি তদ্ধিভজ্যতে। স্বাদয় রসগর্ভনির্ভং সারমস্য রসিকা যথেঙ্গিত।” কবিবর ভারবি সম্ভবত খৃষ্টীয় ৪র্থ শতাব্দে বিদ্যমান ছিলেন। তাঁহার কবিত্ব-সৌরভ তৎপরবর্তী কালে চারিদিকে ব্যাপ্ত হইয়াছিল। তাই আমরা ৫৩৭ শকে উৎকীর্ণ ২য় পুলকেশীর শিলালিপিতে * একযােগে প্রসিদ্ধ কবি কালিদাসের সহিত তাহার সমাবেশ দেখিতে পাই।” । * এই শিলালিপির শ্লোক উপরে /• পৃষ্ঠায় উদ্ধৃত করা হইয়াছে । । বঙ্গের প্রসিদ্ধ পুরাতত্ত্ববিৎ পণ্ডিতবর যুক্ত নগেন্দ্রনাথ বসু সঙ্কলিত “বিশ্বকোষ” অভি ধান হইতে উদ্ধত।

শ্রীহরি: শরণ। শ্রীনবীনচন্দ্র দাস কবি-গুণাকরের উপাধি পত্র। শ্ৰীমন্নবীন কবয়ে কবিরাজ-কুলশিয়ে । উপাধিং প্রদদুধীরাস্তস্মৈ কবি-গুণাকরম্। বিবিধগুণসতি শ্ৰীযুক্ত নবীনচন্দ্র দাস গুপ্ত কবিত্ব প্রমুখাভিগুণাবলীভি- রাতুষ্টচিত্তা বয়ং কবিগুণাকবই ধিনা তমলষ্ণুৰ্ম্ম। আশাম্মহে চ ভগবন্তং নবীন- চন্দ্রোহয়ং পূর্ণচন্দ্রবৎ চিরং পরিবদ্ধমানঃ সৰ্বান্ আনন্দয়তু ইত্যলমতি প্রপঞ্চেন। বৈশাখস্ত তৃতীয় দিবসীয়া লিপিরিয়ং। শকাব্দাঃ ১৮২৮। কবিভূষণ ন্যায়রত্নাপাধিক মহামহােপাধ্যায় মহামহােপাধ্যায় শ্ৰীঅজি নাথ শর্মা। তর্কাঞ্চাননেপাধিক ন্যায়পঞ্চাননােপাধিক শিয়ােমণুপাধিক রাজকৃষ্ণ শৰ্ম্মা। শ্রীকৃষ্ণনাথ শৰ্মা শ্রীশিবনারায়ণ শৰ্মা। তর্করত্নোপাধিক, পূৰ্ব্বস্থলীনিবাসী। কাব্যতীর্থোপাধিক শ্রীহরিশ্চন্দ্র দেবশর্মা। স্মৃতিতীর্থোপাধিক অহিভূষণ শৰ্মা। তর্করত্নেপাধিক শ্ৰীশশিভূষণ শৰ্ম্মা। ভাগবত রত্নাপাধিক উমেশচন্দ্র শর্মা। শ্ৰীশশিভূষণ শৰ্ম্মা। স্মৃতিভূষণােপাধিক ভাগবতভূষণােপাধিক শ্রীনৃসিংহপ্রসাদ শর্মা। স্মৃতিতীর্থোপাধিক শ্ৰীপ্যারিলাল শৰ্ম্মা। এতে নবদ্বীপনিবাসিনঃ। শ্রীদুর্গামােহন শৰ্ম্মা। তর্করত্নোপাধিক স্মৃতিরঝােপাকি বিদ্যাভূষণােপাধিক সুরেন্দ্রনাথ শৰ্ম্মা। এশশিমােহন শর্মা। এগুরুচরণ দেবশর্মা। বিদ্যারত্নপাধিক বাচস্পত্যুপাধিক ঐশিতিকণ্ঠ শর্মা। শ্ৰীযদুনাথ শৰ্ম্মা। শাস্ত্রপাধিক শ্রীশরচ্চন্দ্ৰ আচাৰ্য। চূড়ামণপাধিক স্মৃতিভূষণােপাধিক শ্ৰীতারাপ্রসন্ন শর্মা। শ্রীকেদারনাথ শৰ্ম্মা। মহামহােপাধ্যায় সার্বভৌমােপাধিক ন্যায়রতােপাধিক বিদ্যাভূষণােপাধিক শ্ৰীযদুনাথ শৰ্মা। ঐ অবিনাশ চন্দ্ৰ শৰ্ম্মা। শ্রীসতীশচন্দ্ৰ আচাৰ্য এম,এ * The title Kavi-Gunakar (Poct the Meritorious) is conferred by the Eminent Pandits of Navadwip and Purva-sthali on Sri Nabin Chandra Das, M.A. & B.L., of the Bengal Provincial Service, formerly Law-Lecturer of the Chittagong College, Author of "Raghu Vamsa," " Sisupal Badha" and “ Kiratarjuniyam” in Bengali, of “ Akasakusuma” and “Soka Giti," and of " Ancient Geography of Asia," "Miracles of Buddha" and "Antiquity of the Ramayana in English নবীনচন্দ্র দাসের বঙ্গীয় গ্রন্থাবলী-রঘুবংশ, শিশুপাল বধ ও কিরাতা নীয়ের বঙ্গানুবাদ, আকাশ-কুসুম ও শােকগীতি; ইংরেজী গ্রন্থাবলীপুরাতন ভারতের ভূ বিবরণ, অদ্ভুত বু-চরিত ও রামায়ণের প্রাচীনত্ব বিষয়ক প্রবন্ধ। •• কিরাতার্জন। প্রথম সর্গ। কৌরবের রাজলক্ষ্মী প্রজার পালন জানিতে প্রেরিত হয়ে ব্রহ্মচারি বেশে ফিরিল সে বনচর ল’য়ে বিবরণ দ্বৈতবন মাঝে ধৰ্ম্ম-রাজের সকাশে ।।১ রাজারে 'প্রণমি চর নিথ অন্তরে কহিল কি রূপে রিপু শাসিছে মহীরে- ইচ্ছা নাহি করে কভু হিতৈষী যে জন বলিতে প্রভুরে প্রিয় অলীক বচন ।। ২ * মহাকবি ভারবি কৃত “ কিতাৰ্জনীয়” কাব্যের বঙ্গানুবাদ। এতৎসম্বন্ধে মনািথের উদ্ধত নিম্ন শ্লোক দ্রষ্টব্য- “নেতা মধ্যমপাণ্ডবাে ভগবতে নারায়ণস্যাংশঃ তস্যোৎকর্যকৃতেহনুবর্ণচরিতে। দিব্য: কিরাতঃ পুনঃ। শৃঙ্গারাঙ্গিসোহরমত্র বিজয়ী বীরপ্রধানে। রসঃ শৈলাদ্যানি চ বণিতানি বংশে। দিব্যালাভঃ ফলং ।” এই কাব্যের বিষয় লইয়া কবিবর মধুসূদন দত্ত লিখিয়াছেন- “ধর ধনুঃ সাবধানে, পার্থ মহারথী, সামা মেনে না মনে ধাইছে যে জন ক্রোধভরে তব পাৰে ; ওই পশুপতি, কিরাতের রূপে তোমা করিতে চলন হারি আসিছে ছদ্মী মৃগয়াজ-গতি, হঙ্কারি, হে মহাবাহু, দেহ তুমি বুশ, বীর-বীর্ষে আশালতা কর ফলবতী।” কবিতাবলি। । বনবাসী পাণ্ডবগণের দ্বৈতবনে অবস্থান কালে, দুর্যোধনের প্রজাপিলনাদি রাজফাৰ্য্য জানি বার জন্য এই বনচর প্রেরিত হইয়াছিল। দ্বৈতব-সরস্বতী নদী তীর শোক-মােহ-রহিত বল। + কপট-হিতৈষী ব্যক্তিরা অনেক সময়ে প্রভুর সন্তোনের জন্য আপাত-মনােম মিথ্যা কিরাতাম। শত্রুর নিপাতে রাজা উৎসুক অন্তর, একান্তে আদেশ র ল’য়ে বনচর কহিতে লাগিল সত্য উদার বচন, রাজ্যের প্রকৃত তত্ত্ব করি নিরূপণ—৩ “চর নৃপতির চক্ষু, তাই ভৃত্যগণ কাৰ্যে রত হয়ে নাহি বঞ্চিবে রাজায় ; ক্ষম, প্রভু, মম প্রিয় অপ্রিয় বচন, হিত মনােহর বাক্য দুর্লভ ধরায়! * ৪ বনচরের উক্তি। বাক্য বলিয়া থাকে। এই বনচর প্রকৃতবাদী। দুর্যোধনের সুশাসন বিষয়ক অপ্রিয় সত্য বাক্য বলিতে কিছু মাত্র কুণ্ঠিত হয় নাই। ৪র্থ শ্লোক ও তৎটীকা ব্য। মুল শোক-- “ন বিব্যপে তস্য মনাে, নহি প্রিয়ং। প্রবক্ত মিষ্টি মৃষ্য হিতৈষণঃ।” ২ মূল শ্লোক- *ক্রিয়া যুক্তৈপ চার-চক্ষুষঃ ন বঞ্চনীয়া প্রবে।হনুজীবিভি। অতােহসি ক্ষমসাধু সাধু বা হিতং মনােহারি চ দুলভং চঃ।" ৪ নৃপতিগণ চার-চক্ষুঃ অর্থাৎ চরের দ্বারা নিজের ও অপর রাজগণের কাৰ্যাকাৰ্য্য বিলো- কন করেন। যথা- “পাবঃ পশ্যন্তি গন্ধেন, বেদৈঃ পশ্যন্তি পণ্ডিত। চারৈঃ পশ্যন্তি রাজান, চক্ষুর্ভাং ইতরে জনা”। দুৰ্য্যোধনের সু-শাসন বিষয়ক অপ্রিয় সত্য বলিতে সে অণুমাত্র কুষ্ঠিত হয় নাই। মাথকাব্যে এইরূপ আছে- “ধন্য সে নৃপতি, বুদ্ধি শস্ত্র যার, সেনামন্ত্রী আদি অঙ্গ-ভূত তথা, অভেদ্য মন্ত্রণা কবচ যাহার, ১ম চক্ষু: যায়, দুত মুখে কথা।” মৎকৃত শিশুপাল বধের অনুবাদ, ২ সঃ ৮২। এই জন্য চর ও রাজকৰ্ম্মচারিগণ প্রভুকে সর্বদা অপ্রিয় হইলেও সত্য বাক্য বলিবে। কারণ মিথ্যা বলিলে তদ্বারা প্রভু প্রতারিত হন ও রাজ্যের অমঙ্গল ঘটে। বলা বাহুল্য অম্মদেশীয় সর্ব শ্রেণীর রাজকর্মচারিগণ রাজপুরুষদিগকে দেশের অবস্থা জানাদি বিষয়ে সর্বদা এই নীতি অনুযায়ী কাৰ্য করিলে অধিকতর সুশাসনের প্রত্যাশা করা যায়।

প্রথম সর্গ। T “কুসখা সে, প্রভুরে যে নাহি কহে হিত, কু-প্রভু না শুনে হিতজনের বচন ; রাজা ও অমাত্য যদি একত্বে মিলিত, বিরাজেন রাজলক্ষ্মী তথা অনুক্ষণ *। ৫ “লােকের অবােধ্য সদা নৃপতি-চরিত, আমরা পশুর সম জ্ঞান-বিবর্জিত ; শত্রুর নিগূঢ় তত্ত্ব নীতি ব্যবহার । যা কিছু জানি, সব প্রভাবে তােমার। ৬ “বনবাসী তুমি, রাজাসনে সুযােধন তােমা হতে পরাভব আশঙ্কিয়া মনে দূত-ক্রীড়া ছলে জিত ধরারে এখন । চাহেন আনিতে বশে নীতির বিধানে। দুৰ্য্যোধনের সু-শাসন। “তবু সে কুটিল-মতি জিনিতে তােমায় বাড়াইলা শুভ্র যশ গুণ-গরিমায়— বিরােধ মহৎ সহ উন্নতির পথে শ্রেয়তর, নীচ সহ সমাগম হতে ৪। ৮ * এই মহৎ নীতিবাক্যের সার্থকত। বর্তমান রুষ ও জাপানের রাজনৈতিক ব্যাপারে পরি- লক্ষিত হইবে। + নীতি বা বড় গুণ প্রয়ােগ যথা- “সন্ধিবিগ্রহ যাননি সংস্থাপ্যাসনমেব চ। দ্বৈধী ভাবশ্য বিজ্ঞেয়া যড় গুণ। নীতিবেদিন।” ! দুৰ্য্যোধন পট পাশা খেলার দ্বারা রাজ্য প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। মূল লোক এতদ্রুপ- “সমুন্নয়ন ভূতিং অনাৰ্য্য সঙ্গমাৎ। বরং বিরোশোহপি সমং মহতি। $ যুধিষ্ঠিরের রাজ্যপালন অপেক্ষা যাহাতে তাহার রাজত্ব অধিকতর যশঃ শালী ও প্রজার সুখ-সম্পদ বিধায়ক হয় দুর্যোধন তদ্বিষয়ে যত্নবান হইয়াছেন। মহৎ ব্যক্তির সহিত বিরোধ- পরায়ণ হওয়া উন্নতিকল্পে দুজনের সহিত মিলিয়া থাকা অপেক্ষা ভাল, কেননা মহৎ ব্যক্তির সহিত বিবাদ করিতে গেলে, অনেক গুণের আশ্রয় নিতে হয়, তাহা উন্নতি-বিধায়ক। নীচ জনের সহিক মিলনে নীচত। জল্পে।

৪ কিরাতাৰ্জ্জুন। “কাম ক্রোধ আদি রিপু দমি দুৰ্য্যোধন দুর্গম মনুর পথে করেন গমন , বিভাগিয়া দিবানিশি, আলস্য-রহিত, ব্যাপৃত উদ্যোগ-জালে নীতি-সমন্বিত। ৯ “ত্যজি গর্ব কুরুরাজ সরল অন্তরে দেখিছেন প্রিয়সখা প্রায় ভৃত্যগণে, মানিছেন ভাতা সম সুহৃদ নিকরে, আপন প্রভুর প্রায় দেখেন স্বজনে। ১০ “ধৰ্ম্ম অর্থ কাম রাজা সম ভক্তি যােগে সেবেন আসক্তি বিনা, ভাবি সুবিহিত ; ত্রিবর্গ বাড়িছে তাই গুণ-অনুরাগে পরস্পর সখাভাবে যেমতি মিলিত ।।১১ মনু-প্রদর্শিত আচার মার্গ অনুসরণ করিতেন। । ধৰ্ম্ম অর্থ ও কাম এই ত্রিবর্গ। প্রত্যেকটির সমভাবে সেবা করা বিধেয়, কোনটীর এতি বিশেষ আসক্ত হওয়া দোষজনক। যথা- “ধৰ্মার্থকামঃ সমমেৰ সেব্য। যাে হেকসক্তঃ স জনো জঘন্যঃ"। ধৰ্ম্ম অর্থ ও কাম যেন দুর্যোধনের গুণে অনুরক্ত হইয়া তাহাকে আশ্রয় করিয়াছে। নিয়শোক প্ৰষ্টব্য যথা- “জ্ঞানে মৌনী, দানে তিনি শ্লাঘা-বিরহিত এতীকার-ক্ষম হয়ে ছিল। ক্ষমা-পর-- এরূপে বিরােধী গুণ হইয়া মিলিত বিরাজিল রাজদেহে যেন সহােদর।” মৎকৃত রঘুবংশের অনুবাদ, ১ সঃ ২২। কালিদাস দিলীপের চরিত্রে ধস্মার্থকাম এই বিবর্গের সামঞ্জস্য বর্ণন করিয়াছেন, যথা- “প্রজাবৃদ্ধি হেতু শান্তি করিলা স্থাপন রাজদণ্ডে দুষ্টজনে দণ্ডিয়া রাজন; কুল-বৃদ্ধি তরে তার কষত্রগ্রহণ অর্থে কামে করিলেন ধর্মের সাধন।” রঘুবংশ, ১ সঃ ২৫ শ্লোক।

প্রথম সর্গ । “শান্তির বিধান তার সরল সুন্দর, নহে দান-বিবর্জিত; আদর বিহনে নহে তাঁর বহুদান ; নাহি কোন জনে, গুণ-অনুরাগ বিনা অতি সমাদর ।১২ “বিনা ক্রোধ জিতেন্দ্রিয় বশী দুৰ্য্যোধন গুরু-উপদেশ মতে, বিনা ধন লােভে, রিপু কি পুত্রের পাপের শাসন করিতেন, নিজ ধর্ম গণি সমভাবে। ১৩ + “ভীত হইলেও যেন নির্ভয় অন্তর আত্মীয়-রক্ষকে সদা করেন নির্ভর ; ! কার্য সমাপনে রাজা ধন বিতরণে প্রকাশেন কৃতজ্ঞতা নিজ ভৃত্যগণে। ১৪ ৪ । * শাস্তির বিধান—সম-প্রয়োগ, মিষ্ট বাক্যাদি সরল উপায়ে কার্যসাধন নীতি। তাহাতে শুধু বাক্য নহে, দানও থাকা আবশ্যক, নীতি এইরূপ “লুগ্ধ অথেন গৃহায়াৎ, সাধুং অঞ্জলি-কৰ্ম্মণ।। মূখং ছন্দানুরোধেন, তত্ত্বার্থেন চ পণ্ডিতং।” দুর্যোধনেয় বহুদান ছিল, তাহা সৎক্রিয়া বা আদরের সহিত হইত। অনাদরে গান বিফল হয়। তিনি গুণীকেই সমধিক সৎক্রিয়া বা সাদ করিতেন। “গুণেধেবারো ভূরিদানঞ্চ । এই শ্লোকে “সাম দান ভেদ দণ্ড” এই নীতি চতুষ্টয়ের মধ্যে সাম ও দানের প্রয়ােগ উক্ত হইয়াছে। + তিনি ক্রোধ কিম্বা ধন লিঙ্গার বশীভূত হইয়া বিচার কার্য করিতেন না। তাহা নিজের ধর্ম মনে করিতেন ও পক্ষপাত-রহিত ছিলেন। গুরু অর্থাৎ প্রাড়বিক বা প্রধান বিচারপতির মত অনুসারে দণ্ড বিধান করিতেন। যথা নারদ-বচন- “ ধর্মশাস্ত্র পুরস্কৃত্য প্রাড বিবাক মতে স্থিত, সমাহিতমতি পত্যেৎ ব্যবহারা অনুক্ৰমাৎ কারণ থাকিলেও তিনি আত্মীয় রক্ষকের উপর নির্ভর করিয়া নিষ্ঠাতা দেখাইতেন। 3 ভূতগণকে প্রীতি বশতঃ ধনান করাতে তাহারা তৎপ্রতি অত্যন্ত অনুরক্ত ছিল কিরাতাজ্জন বিশেষ বিচারি রাজা পাত্রে সমুচিত নিয়ােজেন সাম আদি নীতি যুগপৎ, পরস্পর হয়ে তাহা স্পৰ্দাতে বর্ধিত প্রসবিছে স্থির ফল অর্থ ও সম্পৎ। ১৫ কত রাজা দেয় তরে গজ উপহার, সপ্তপর্ণ-বাসযুত গজ-মদ-ধার করিছে পঙ্কিল তাঁর সভার প্রাঙ্গন বহু রাজ-রথ-অশ্বে ব্যাপ্ত অনুক্ষণ। ১৬ । নদী-কুপ আদি শুভ সাধনে তাহার দেবেতে নির্ভর বিনা এবে কুরুদেশে কৃষক লভিছে শস্য সুখেতে অপার, বিনা কৃষি যেন শস্য বাড়ে অনায়াসে । ১৭ মহাযশা সুযােধন সদম শাসনে নিবারিলা উপদ্রব কুবের সমান ঃ প্রজার উন্নতি কল্পে ; দ্রবি তাঁর গুণে ধনরূপ পয়ঃ পৃথ্বী করেন প্রদান । ১৮ * সাম গান ভেদ ও দণ্ড এই চাৰি নীতির যথাসময়ে উচিত পাত্রে প্রয়োগ করাতে তাহার সমস্ত কাৰ্য্য সফল হইত। সপ্তপণ (হাতিম) গাছের পর হস্তীর অতি প্রিয় আহার। তাহার গন্ধ হবিগঞ্জ নিঃসৃত মদ খামার গন্ধের গায় তীব্র ও কটু। অনেক মদমত্ত হস্তীর মদধাৱা পতনে রাজ- সভায় জাজিনায় কাদা হইয়াছে। + দুৰ্য্যোধন কৃষিকাষ্যের উন্নতির জন্য খাল, ও কুপ ইত্যাদি খনন করিয়াছিলেন। মল্লি- নাথ এরূপ অর্থ করেন যথা—“এতেন অস্ত কুল্যাদি পূর্ত-প্রবর্তকত্বং উক্ত”। $ কুবের-ধনপতি। তাঁহার অলকা নগরীতে শাস্তিমুখ চির বিরাজমান। | পৃথীগো-রূপিণ। “পৃথুপদিষ্টাং দুদুহুর্ধরিত্রীং” কুমার-সম্ভব। রঘুবংশে এরূপ আছে- “গাে-রূপী ধরায়ে একা বনে যেমতি চাৰি পয়ােনিধি যার পয়োধর প্রায়।” সঃ ৩ কে।

প্রথম সর্গ। ৭ অতিমানী মহাবল ধনুর্ধরগণ সমরে লভিয়া যশ, ধনে পুরস্কৃত, স্বার্থবশে না মিলিয়া, এক প্রাণ মন নিজ প্রাণ সমর্পণে সাধে তার হিত। ১৯ “সাধু চর-মুখে অন্য রাজার ব্যাপার জানিছেন সদা-সিদ্ধ-কৰ্ম্ম কুরুবর ; বিধাতার বিধিপ্রায় উদ্যোগ তাঁহার, জানা যায় সুবিপুল ফলে হিতকর। ২০ “গুণযুত ধনু তার তুলিতে না হয়, দেখাতে না হয় কোপে কুটিল বদন ; গুণ-অনুরাগে তার নৃপতি নিচয় মাল্যরূপ আজ্ঞা শিরে করেন ধারণ ।। ২১ ‘যুবরাজ পদে রাজা সুদৃঢ়-শাসন বরি এবে দুঃশাসনে উদ্ধত যৌবনে, তুষিছেন হােম-দানে যজ্ঞে হুতাশন, + পুরােহিত-উপদেশে শ্রম-শূন্য মনে। ২২ * ফলোদয়ের পূর্বে কেহ তাহার কাৰ্যকলাপ বুঝিতে পারে না। বিধাতার বিখান তপ অবোধ্য। যুবংশে এরূপ আছে-- “ফলানুমেয়ঃ প্রান্ত সংস্থার প্রাক্তন। ইব।” ১ সঃ ২। ধাক্য বলেন- “মন্ত্রমূলং যতো রাজ্যং অতো মং সুরক্ষিত। কুৰ্যাৎ যথা তন্নবিদুঃ কৰ্ম্মণাং আফলোদয়াৎ”। * বৌদ্ধ মহাকবি ক্ষেমে বিরচিত অবদান কল্পলতায় এরূপ আছে- “উপায় স্যাং সুবর্ণ-কুমুয়ােজ্জ্বল। মালামিব মহীপালা মৌলিচক্ৰেযু চক্রিরে।” গবান কালতা ১ * । } তিনি যদি সম্পানে যত ।

৮ কিরাতাৰ্জ্জুন। “চিরস্থিল বসুন্ধরা সাগর অবধি যদিও শাসিলা রাজা একচ্ছত্র করি, তােমা হ’তে ভাবী ভয়ে ভীত নিরবধি শত্রুতা প্রবল সহ অতি ভয়ঙ্করী *! ২৩ “কথা প্রসঙ্গেও শুনি পৌরজন মুখে নাম তব, সুব্যথিত কুরুকুলমণি- স্মরি পার্থ-পরাক্রম নত মনদুখে, মন্ত্র-ধ্বনি শুনি যথা নত কাল ফণী। ২৪ “তব প্রতি চিরহিংসা-রত সুযােধনে কর, প্রভু, সুবিহিত আশু প্রতীকার ; আনিনু বারতা মাত্র তত্ত্ব-অন্বেষণে, কর্তব্য বিধানে নাহি ক্ষমতা আমার ।।” ২৫ লভি প্রতি পুরস্কার এ রূপ বচনে চলি গেল নিজধামে বনচর-পতি ; প্রবেশিয়া নরনাথ কৃষ্ণার ভবনে কহিলা অনুজগণে চরের ভারতী। ২৬ শুনি বিপক্ষের হেন সৌভাগ্য কাহিনী না পারি রেধিতে বৈর-জনিত বিকার, কহিলা কুপিত মনে ধ্রুপদ-নন্দিনী উত্তেজিতে ক্রোধ আর উদ্যম রাজার—২৭ মূল শ্লোকাংশ-“অহো দুরন্ত বলবদ্বিরােধিতা।” মা কাব্যে এরূপ আছে- “এক শত্রু কারাে থাকিলে প্রবল কোথা শাস্তি তার জগত মাঝারে ? একা রাই এসে চন্দ্রের মওল- দেবগণ তাহে কি করিতে পারে ?" মৎকৃত শিশুপাল বধের অনুবাদ, ২ সঃ ৩৫। + দুৰ্যোধনের প্রতি কি রূপ প্রতিবিধান করা উচিত তদ্বিষযে আমার বলিবার ক্ষমতা মাই।

প্রথম সর্গ। দ্রৌপদীর উক্তি। “ভবাদৃশ গুরুজনে নারীর বচন হতে পারে এ সময়ে তিরস্কার সম— ত্যজি লাজ মন মাঝে বেদনা বিষম চালিত করিছে মােরে বলিতে এখন * ২৮ “আখণ্ডল সম তেজে অখণ্ড ধরারে রক্ষিল। ভূপতিগণ বংশেতে তােমার চিরকাল ;নিজ করে ত্যজিলা তাহারে, যথা মদকল গজ ত্যজে রত্ন-হার ।। ২৯ “লভে সদা পরাভব সেই মূঢ়মতি ধরে যে সরলভাব কুটিলের প্রতি। নাশে তারে শঠগণ, প্রবেশি শরীরে নাশে যথা তীক্ষ্ণ শর বৰ্ম্ম-হীন বীরে ! ৩০। * Mr. R. C. Dult, C. I, E., thus concisely renders slokas 28 and 29 in his "Epics and Lays of Ancient India"-. Counsel to il sapient monarch Is rebuke from a woman weak, But ignoring wifely duty, Pardon, if any feelings speak ; Mighty warriors, thy forefathers, Held their rule o'er Kuru's land, But, as tuskers cast their garlands, Thou hast hurled it from thy hand !" The Penance of Arjun, p. 102. । মূল শ্লোক-- “অখণ্ডং অাপগুল-তুল্য-ধামভিঃ চিরং ধৃত। ভূপতিভিঃ স্ববংশজৈং। ত্বয়াত্ম-হস্তেন মহী মদচুতা মঙ্গজেন এগিবাপবজিহা।" ২৯ ! বীরের শরীর বৰ্ম্ম বা লোহময় কৰচে অাবৃত না কইলে, শত্রুর বাণে সহজে বিদ্ধ হয়। শঠ শত্রুর প্রতি কূট নীতির প্রয়োগ রাজাদিগের পক্ষে আত্মরক্ষাপযোগী বৰ্ম্ম স্বরূপ। পটার প্রতি সরল ব্যবহার নীতিবিরুদ্ধ, যথা—“অর্জবংহি কুটিলেষু ন নীতিঃ। Mr. R. C. Dutt thus renders stanzas 30 and 31- কিরাতাৰ্জ্জুন। “তােমা ভিন্ন সু-সহায় কুল-অভিমানী কোন্ রাজা পর-হস্তে করে বিসর্জন কুলাগতা রাজলক্ষ্মী মানস-মােহিনী, গুণ-অনুরাগ-রতা প্রেয়সী যেমন + ? ৩১ “আপনি চলিছ পথে মনস্বি-ঘৃণিত এ হেন দুর্দশা, দেব, ভাবি এবে মনে কেন না উঠিছ জ্বলি, ক্রোধে প্রজ্বলিত, জ্বলে যথা শুষ্ক শমী জ্বলন্ত আগুনে ? ৩২ “ Weak are they who with the wily Deal not with responsive wile, For like darts on mail-less warriors Artful foemen on them steal ; Weak art thou who hast forsaken Glory of thy ancient house, - More than life by warriors cherished, Dearer than their wedded spouse * St. 30 and 3l. R. C. Dutt's “Epics and Lays, Anc. India". --- * যুধিষ্ঠির কৃষ্ণ-ভামাজ্জনাদি সু সহায়-বিশিষ্ট। কমলক বলেন উদোগাং অনিবৃত্তস্থ অসহায়স্থ ধামঃ। ছায়েবানুগত তস্য নিতাং : সহচারিণী ।” t বুধিষ্ঠির কেবল রাজ্য নহে আপন স্ত্র। দ্রৌপদীকেও ত্যাগ করিয়াছিলেন। মূল শ্লোক- গুণাক্তা অনুরক্ত-সাধনঃ কুলভিমানী কুলজাং নরাধিপঃ। পরৈঃ ত্বঃ ক ইবাপহায়েৎ মনোরমং আত্মবধূমিৰ শ্রিয়ং”। ৩১ + শমীবৃক্ষের অভ্যন্তরে অগ্নি থাকা প্রবাদ ! তাহা অতি জ্বলনশীল। উক্তপ অগ্নির সহিত আন্তরিক ক্রোধের উপমা। " God-like man ! Now sadly treading Paths despised by proud and free, Doth not rising wrath consume thee As the flames consume the tree ?" 32 R, C, Dutt.

প্রথম সর্গ। “অব্যর্থ যাহার কোপ বিপদ বিনাশে, আপনি তাহার বশে আসে জীবগণ কোপ হীন সুহৃদেরে কে বা ভাল বাসে ? বিপুর ও কোপ-হীনে না করে গণন! ৩৩ “মহারথী ভীম এবে ধূলিতে ধূসর, হ’ত যাঁর দেহ রক্তচন্দনে চর্চিত, ভ্ৰমিছেন পদব্রজে পৰ্বত ভিতর ; মন তব, সত্যধন, নহে কি ব্যথিত ? ৩৪ “বাসব-প্রতিম যেই বীর ধনঞ্জয় জিনিয়া উত্তর কুৰু দিলা রত্নচয়, ৫। * ক্রোধের দ্বারা লোক বিপদ হইতে মুক্তিলাভ করিতে পারে, অর্থাৎ ক্রোধ লোককে নিগ্রহানুগ্ৰহ-সমথ করে। “Men spontaneous yield to heroes Who have will to face their foes, But fur faint, forgiving creatures Love nor friend nor foe-man knows." 33. R. C. Dutt. । সত্যধন- সত্য যাহার জীবনের ব্রত বা অপরিহার্য রত্ন । দ্রৌপদী বিদ্রুপ ভাবে "সত্যধন” বিশেষণ ব্যবহার করিয়াছেন। যুধিষ্ঠিরের পক্ষে সাই যেন রক্ষণীয়, ভ্রাতা ও স্ত্রী রক্ষণীয় নহে। Sandal-graced was royal Bhimu, Dust-besmeared he roams the hills. Scarce I know, O lover of the truth, If thy heart with pity thrills ; Conqueror of Northern K'ui'us Arjun scattered wealth and gold - How busily he seeks for thee Barks of trees in the wood ! And the twins, thy youngest brothers, Princes born and great and good - Mark them roaming in the jungle, Even like tuskers of the wood !" 34, 35 and 36. R. C. Ibutt. উত্তর কুরু-ইহা এসিয়া খণ্ডের সঝোত্তর দেশ, (বর্তমান মঙ্গোলিয়া ও সাইবিরিয়া)। "The Uttar Kurus, it should be remembered, may have been a real people, as they are mentioned in the Aitareya Brahmana VIII, 14...

X festutako i আহরেন এবে তিনি বল তােমার নহে কেন হৃদে তব:ক্রোধের সঞ্চার ? ৩৫ Wherefore the several nations who dwell in this Northern quarter, beyond the Himavat, the Uttar Kurus are consecrated to glorious dominions and people term them glorious." Muir's Sanskrit Text, Vol. I. Professor Lassen remarks: "At the furthest extremity of the earth appears Hari Varsha with the Northern Kurus. 'The Uttar Kurus were formerly quite independent of the mythical system of dvipus, though they were included in it, at an early date. That the conception of the Uttar Kurus is based upon on actual country and not on mere invention is proved (1) by the way iu which they are mentioned in the Vedus : (2) by the existence of Ultar Kuru in historical times as a real country and (3) by the way in which the legend makes mention of that region as the home of primitive customs. Ptolemy speaks of a mountain, a people and a city called Ottorokorra. It is a part of the country which he calls Sericu. According to Lassen's view the Utlar Kurus of Ptolemy must be sought for to the east of Kashgar." "Considering the description given in the Ramayana, the realm of Ultur Kurus (North Kurus) appears to be the indefinite Semi-mythic tract, which extends from the Kailasa range and the great desert of Mongoliir, on the east and south, to the Arctic Ocean on the North. It probably included the countries now known as Mongolia and Siberia." The Ramayana describes the great Desert ((now known as Gobi or Shamoo), to the north of the Dema-Sakhu Mountains north of the Himalayas :-- “ততো দেব-সখনাম পৰ্বতঃ পতগালয়। নানাপাক্ষি-সমাকীর্ণ। বিবিধড্রম-ভূষিতঃ। তমতিক্রম চাকাশং সব্বতঃ শতযোজন। অপৰ্বত-নদী-বৃক্ষং সৰ্ব্ব-সত্ত্ব-বিবর্জিত। তত্ত, শীমতিক্রম কান্তারং রোম হর্ষণং। কৈলাসং পাণ্ডুরং প্রাপ্য হৃষ্টা যয়ং ভবিষ্যৎ”। রাঃ, কিঞ্চি, কাঃ। Then is the trauncha range described as the son (extension) of the Mainak Range ( 9 y 73: 921a :), Beyond this are the tree-less Mánusa lake, and the Mainák range (son or extension of the Himalayas) with its plains, plateaus inhabited by Kinnaras, whose faces resemble those of horses (pte). The Sailoda rivers (stony or frozen streams) are then described, beyond which is the realm of Uttar k'uru- .

প্রথম সর্গ। ১৩ “এ দুই যমজে হেরি, কানন-শয্যায় * শয়নে যাদের অঙ্গ কঠিন এখন, শীর্ণ-কেশ গিরিজাত করি-যুগ প্রায়, কেন না ধৈরজ শান্তি ত্যজিছ, রাজন্ ? ৩৬ “বুঝিতে না পারি তব বুদ্ধির ব্যাপার চিত্ত-বৃত্তি মানুষের বিচিত্র নিশ্চয়। ভাবি যবে তব হেন বিপদ অপার বিষম ব্যথায় মম বিদরে হৃদয়। ৩৭ গ "Where the golden lands of lilies gleam, Resplendent on the silver stream! Still on your forward journey kecp And rest you on the Northern deep, There springing from billows high Mount Somez-Giri seeks the sky And lightens with perpetual glow The Sun-less reulm that lies below. Then turn, O Vanars, search no more Nor tempt the Sun-less boundless shore." Griffith. Kisk. 43 Ch. “মতিক্রম্য শৈলেন্দ্ৰং উত্তরঃ পয়সান্নিধি। তত্র সােমগিবির্নাম মধ্যে হেমমরে মহান্ । সতু দেশে। বি সূৰ্যোহপি তস্য ভাসা প্রকাশতে । সূৰ্য্য লতিবিজ্ঞেয়ঃ তপহেব বিবস্থা। স হি সোমগিরিনমি দোনামপি দুর্গমঃ। তমালোক ত ক্ষি প্ৰং উপাৰৰ্ত্তিতুং অহথ। এতাবৎ বারৈ শক গন্তং বানর-পুঙ্গবাঃ। অ-তার অমর্যাদং ন জানীমঃ তত: পরং” কিফি: ৩ সর্গ। In the above passage of Sugriva's address to the Vanar-chiefs, sent out in search of Sita, we have a glimpse of the Arctic regions with the Aurora Borealis (northern light), described by the words "fa 441:", ‘ভাস্করং”, “অমৰ্যাদং” and as lighted by the relection of the golden mountain, Soma-giri ( তস্য ভাসা প্রকাশতে)। Vide my "Ancient Geography of Asia". pp. 63 to 68. নকুল ও সহদেব। ৩৪ শ্লোকে টাক্য দ্রষ্টব্য । + “Scarce I guess thy feelings, monarch, Strange and divers are our hearts, গ ৮৪ কিরাতাজুন “মহামূল্য শয্যা হ'তে জাগিতে, রাজ, পূৰ্বে তুমি সুমঙ্গল সঙ্গীত শ্রবণে ; শিবার অশিব রবে ভাঙ্গিছে এখন নিদ্রা তব, তৃণময় ভূতল-শয়নে! * ৩৮ “দ্বিজ-ভুক্ত-অবশেষ অম্নে যে শরীর । হয়েছিল পূৰ্বে তব কতই রুচির, ফলমূলাহারে তাহা আজি ক্ষীণ অতি- হইয়াছে যশ তব মলিন তেমতি। ৩৯ “সদা রাজগণ-শির-কুসুম-কেশরে রঞ্জিত রতনপীঠে যে পদ তােমার, এবে তা রয়েছে বনে কুশের উপরে, মৃগ ও ব্রাহ্মণে লয় অগ্রভাগ যার । ৪০ But reflection on thy sorrow Cruel grief to me imparts ; Erst my lord from royal slumber Waked to hear the song of praise, Now out-stretched on jungle heather Hears the cry the jackals raise : Erst on food by Brahmans tasted Lived my king in kingly fame, Now he feeds on forest berries Pale and light-less --like his fame! 37, 38 and 39. R. C. Dutt. 'ফুল । “পুরাধিরূঢ় শয়ন, মহা-ধন বিষােধ্যমে যা হুতি-গীতি লৈ। অভ্র-ভাং অধিশষ্য স লী; হাসি নিদ্রাং অশিবৈঃ শিব-তৈ"। ৩৮ ৫ ব্রাহ্মণদিগের ভোজনান্তে আষা ৰাজগণ আহার করিতেন। বর্বকালে এই প্রথা ছিল। + কুশ তৃণ অতি পবিত্র। তাহার সুতীক্ষ্ণ অগ্রভাগ মুগের। ভক্ষণ করে, ও ব্রাহ্মণেরা পুজা হোমাদির জন্য আহরণ করে । Mr. R: C. Dutt renders- প্রথম সর্গ। ১৫ “আনিয়াছে রিপু তােমা এ রূপ দশায়- ভাবিলে সমূলে মম বিদরে. হৃদয় । বিপদ মানীর পক্ষে উৎসবের প্রায় নহে যদি শত্রু-হস্তে ধন-বীৰ্য-ক্ষয় | ৪১ “শান্ত ভাব ত্যজি অরি-বধের কারণ ধর পুনঃ তেজোগুণ, এ মম মিনতি দমি রিপু শমগুণে লভে মুনিগণ কামনা-বিহীন সিদ্ধি, না পারে নৃপতি ।। ৪২ “On thy feet, on jewels resting, Vassal kings their blossoms dropped. Now they rest o'er sharp kusur grass By the deer or hermit cropped ; “ Most I grieve, --insulting foemen Mock thy low dejected state, Heroes win a higher glory If they strive with adversc fate St. 40, 41. R. C. Dutt. * শকুত অপকর (বা মানহানি) ভিন্ন অন্য কোন কারণে যদ্যপি মানী ব্যক্তির বিপদ ঘটে, সেই বিপদ ( দৈব হেতু বশতঃ ) তাহার পক্ষে দুঃখের বিষয় নহে। মূল (ক- “দ্বিষন্নমিত্ত। যদয়ং দশা তত সমূলং উন্মলয়তীব মে মন। পরৈঃ অপাসিত বৰ্য্য সম্পদ পরাভবোপুৎসব এব মানিনা”। ৪১, । রিপু-শত্রু ও ইন্দ্রিয় । নিস্পৃহ মুনিরা শমগুণে (ক্রোধবর্জনে) ইন্দ্রিয় দমন করিয়া মুক্তি (কেবল লাভ করেন। রাজাদিগের শত্রু দমন করিতে হইলে, ক্রোধের আবশ্যক। কৈবল্যকাৰ্য্য বং রাজকাৰ্য্যং ন শাস্তিসাধ্য মলিনাথ । मनाक- “বিহায় শান্তি নৃপ ধাম তং পুনঃ প্রসাদ সন্ধেহি বধায় বিদ্বিষা। ব্রজন্তি শত্রন অবধূয় নিহা শমেন সিদ্ধি মুনরো, ন ভূতঃ * ৪২ ১৬ কিরাতাৰ্জ্জুন। “তােমা হেন মহাযশা তেজস্বি-বর এ রূপ বিপদ ঘাের সহি অকারণে রহে যদি শান্তভাবে সন্তোষ অন্তর হত হয় মনস্বিতা আশ্রয় বিহনে! ৪৩ “ত্যজি নিজ পরাক্রম চিরকাল তরে যদি মনে কর ক্ষমা সুখের সাধন, রাজ-শৌর্য-চিছু ধনু নিক্ষেপিয়া দূরে জটাধারী হয়ে বনে সেব হুতাশন ।। ৪৪ * মনস্বিতা ( উদারচিত্ততা বা মহত্ব) তেজস্বী ব্যক্তিকে আশ্রয় করে তেজস্বিতার অভাবে তাহ। আশ্রয়-বিহীন হইয়া নাশ প্রাপ্ত হয়। यून नाक- “পুঃসরা ধামবতা: যশোধনা সুদুঃসহং প্রাপ্য নিকারং ঈদৃশং। ভবাদৃশাশ্চেং অধিকুবতে রতি নিরাশ্রয় হন্ত হত। মনস্বিতা”। ৪৩ Conquer back thy glory, Vengeful schemes devise, Anchorites, not heroes, Meek forbearance prize ; For if kings and chieftains Bore their insults tame, Lost were worth of warriors Lost were monarch's fame ; Or if patient suffering Still for thee hath charms, Prate thy hymns like hermits, Leave these kingly arms !” St 43, 44. R. C. Dutt. । মূল শ্লোক- ‘অৎ ক্ষমামেব নিরস্ত বিক্রম। চিরায় পখেৰি মুখস্য সাধনং। বিহায় লক্ষ্মী-পতি-লক্ষ্ম কাৰ্ম্ম কং। জটাধর স জুহুখীই পাষক।”

প্রথম সর্গ। ১৭ “নিত্য অপকারী শক্ত, কেন তার প্রতি র’বে ক্ষান্ত বনবাস-কাল-প্রতীক্ষায়, পরম তেজস্বী তুমি ? বিজয়ী নৃপতি ছলেতে সাধেন সন্ধি ভঙ্গের উপায় । ৪৫ “দৈবকাল-ৱশে তেজ হারায়ে মলিন, বিপদ-সাগরে ঘাের ডুবি, প্রভা-হীন, রিপু-তমঃ নাশি, পুনঃ প্রাতঃসূৰ্য্য প্রায়, হও গাে উদিত, লক্ষ্মী ভজুক'তােমায় ।।” ৪৬ ইতি শ্রীভারবিকৃত কিরাতাৰ্জনীয় মহাকাব্যের বঙ্গানুবাদে প্রথম সর্গ। ভারবি-প্রতিভা-রবি আগে সুপ্রকাশ ছিল মাঘে মেঘাবৃত যথা দিনকর ; বঙ্গের সাহিত্যে সেই কবিত্ব-উচ্ছাস গাইলা নবীনচন্দ্ৰ কবি-গুণাকর। মুল শ্লোক-~- * এরূপ অপকারী শত্রুর জন্য ১৩ বৎসর বনবাসের প্রতিজ্ঞ। প্রতিপালনের অপেক্ষায় থাকা যুক্তিসঙ্গত নহে। • সময়-পরিরক্ষণং ক্ষমং তে। নিকৃতি-পরে পরে ভুরিধামঃ। অনিযু হি বিজার্থিনঃ ক্ষিতীশ। বিদধতি সােপধি সন্ধি-দূষণানি।” ৪৫ ছলক্রমে সন্ধিভঙ্গ বা যুদ্ধ করা কূটনীতি। আধুনিক দিগ্বিজয়ী জাতি ও রাজগণের মধ্যে এই নীতির চালনা বিরল নহে। দ্রৌপদী স্বজন-সুলভ ক্রোধের আবেগে এই নীতির উল্লেখ করিয়াছেন মাত্র। কুটনীতি সর্বথা বর্জনীয়। “শিশুপাল বধে” বলরামের উক্তি দ্রষ্টব্য- আক্রমিবে অরি বিপন্ন যখন প্রকৃত যে বল না মানে শৃঙ্খল, এ নীতি বীরের লজ্জার কারণ, তা হতে পৃক্ কুট নীতিবল, সৰল শত্রুতে পুরে তার আশ, একাধারে দোহে না রহে কখন পূর্ণশশি-গ্রাসে রাহর উল্লাস! ৬১ আলো ও আঁধারে হয় কি মিলন”? ৬২। সর্গ। + সূর্যের সহিত বিপন্ন যুধিষ্ঠিরের উপমা কল্পিত হইয়াছে। দৈব ও কাল বশে উভয়ে == কিরাতাৰ্জ্জুন। তেজ হারাইয়াছেন। রাজা বিপদে মগ্ন, সূৰ্য্য অন্তকালে সাগরে মগ্ন। প্রভা-তেজ ও প্রতাপ। নু অন্ধকার রাশি বিনাশ করিয়া প্রাতঃকালে উদিত হইয়া ঐ (অর্থ ও শােভা) ধারণ করেন। যুধিষ্ঠিরকে তপ শত্রু বিনাশ করিয়া রাজলক্ষ্মী (এ' গ্রহণ করিতে অনুরোধ করা হইতেছে। মুলাক- “বিধি-সময়-নিয়ােগ দীপ্তি-সংহার-জিহ্ম শিখ বং অশাধে মগ্নং আপৎপয়েছে। রিপু-তিমিরং উদস্যোদীয়মানং পিনাদৌ দিনকৃতং ই ল স্বা সমভেতু ভূঃ।” ৪৬ “But a higher duty Fits thy royal fame Break this plighted treaty, Treaty of our shame ; Monarchs bent on conquests Fasten on their foe Blame for breach of treaty, Blame for war and woe. Pale from loss of glory, Weak from loss of might, Rise like Sun in the morn- Quell this darksome night !" St. 45 and 46. R. C. Dutt's “Epics and Lays of Ancient p. 104. - India » মহামহোপাধ্যায় কোলাচল মল্লুিনাথ সূরি বিরচিত ঘণ্টাপথ নাম টীকাবলম্বনে, চন্দ্র শেখর-পৰা-ধৌত-চট্টলবাসা নবীনচন্দ্র দাস কবি গুণাকর কর্তৃক অনুবাদিত ।

দ্বিতীয় সর্গ। সারগর্ভ হেন রূপ বাক্য মনােহর শুনি প্রেয়সীর মুখে বীর বৃকোদর কহিতে লাগিলা তবে নৃপতির প্রতি । যুক্তিযুত তেজোময় উদার ভারতী-১ ভীমের উক্তি “জ্ঞানচক্ষে সৰ্বদিক দেখি স্নেহভরে কহিলা মানিনী যাহা মজি মনদুখে, শুনি তা বিস্ময় নহে কাহার অন্তরে ? কে কবে শুনেছে হেন বৃহস্পতি-মুখে *? ২ “সুগভীর নীতি শাস্ত্র সরােবর প্রায়, পশে লােক ঘাটৰূপ অধ্যয়ন-পথে, তাহে প্রবেশের হেতু সুগম উপায় করে যেই, হেন জন দুর্লভ জগতে ।। ৩ “মহাতেজ অল্প-মাত্র ঔষধের প্রায় বহুগুণ-যুত এই কৃষ্ণার বচন পরিণামে হিতকর, যদিও তাহায় প্রথমে ক্ষণিক দুখ পায় ক্ষীণ জন। ৪ * বৃহস্পতির মুখেও এইরূপ সারগর্ভ ও মনোহয় বাক্য শুনা যায় না। মুলাক- “বৎ অষােত বীক্ষা মাননী পরিত (সময়েন চৰ।। অপি বাগৰিণত দুর্বচং বচন ত বিদধীত ষিয়ঃ ॥” + দুবােধ নীতির সহিত প্ৰশেখ সরণীর তুলনা। ঘাটের দ্বারা সয়ের মধ্যে হয়ে করা যায়। নীতিশাস্ত্রের পক্ষে অধ্যয়ন ঘাট অরূপ। নীতিশাস্ত্র শোধের জয় সহজ উপায়- এৰৰ্ত্তক, ব্যক্তি ও বক্তার সংখ্যা অতি অল্প। তপ জন লোক সংবরে এটা তীর্থ নির্মাণ করিয়া দিতে সক্ষম। আট প্রস্তুত করিয়া দিলে বহুল । সরোবরে অবগাহাখি ক এবেশ করিতে পারে। * তেজোৰিশিষ্ট ঔষধের বটিকা সোনকালে কষ্টজনক হইলেও পরিণামে ক্ষীণ রোগীয় কিরাতৰ্জ্জুন। “গুণগ্রাহী তুমি, হেন রুচির বচন শ্রবণে হউক তব-চিত্ত পুলকিত ; সুবাক্যে সতত প্রীতি লভে বুধগণ, যদিও বালক কিম্বা রমণী ভাষিত। *, ৫ - ; “চারি বিদ্যা পারদর্শী তুমি, মহামতি; + মতি তব হিতাহিত জ্ঞানে সমুজ্জ্বল ধরিয়াছে কেন হেন বিপরীত গতি, করিণী যেমতি পঙ্কে পড়িয়া বিকল ? 1. ৬ । “করিয়াছে অরি তব এ দশা মলিন দেব-প্রশংসিত সেই পৌরুষ তােমার রুমে অবসাদ মাঝে হ’তেছে বিলীন এ হ’তে অধিক দুখ আছে কি বা আর ? ৭ “শর পতনােম্মুখী বৃদ্ধি অতিশয় উন্নতি-প্রত্যাশী হয়ে সহে সুধিজন ; সহা নাহি যায় কভু,বিপক্ষের ক্ষয় ধরে যাহে আশু ফল অশুভ-কারণ। ৮. “আশু যদি বিপক্ষের ঘটে বহু ক্ষয় কিম্বা নিজ অল্প ক্ষয় বিলম্বেতে হয়,, পক্ষে হিতসাধন করে। দ্রৌপদীর সতেজ স্বল্প বাক্য বিপন্ন পাণ্ডবগণের পক্ষে তাপ। “বল্প। চা মাত্রা বহুগো গুণশ্চ” এ বাক্য ঔষধে ও দ্রৌপদীর বচনে সার্থক হইয়াছে। * “বালাৎ অপি সুতাযহং গ্রাহং” ইহা নীতি। + চারি বিদ্যা যথা—“আম্বাক্ষি কী ত্রয়ী বার্তা দণ্ড-নাতিশ্চ শাশ্বতী। বিদ্যা হেতা: তন্তু লোক-সংস্থিতি-হেতবঃ।” কামক। * পঙ্কে মগ্ন। হাতণীয় স্থায় যুধিষ্ঠিরের মতি (বুদ্ধি । যেন বিকল ভাব ধারণ করিয়াছে। $ পুরুষকার ক্ৰমে অবসন্ন বা নষ্ট হইতেছে। || শত্রুর উদয় (সৌভাগ্য) চরমসীমা প্রাপ্ত হইয়া ফয়োন্মুখ হইলে, তাহা সহ বা অপেক্ষা করা যায়, কিন্তু শত্রুর ক্ষয় (অবনতি ): যদ্যপি অশুভ ফল-প্রবণ তাহাও উপেক্ষণীয় নহে। শক্রর উন্নতির প্রতিকার, ও অবনতির উপেক্ষা করিতে হইবে, এমন নহে। উন্নতি ও অবনতির বর্ধিষ্ণুতা বা ক্ষাের্থত্ব অনুসারে প্রতিকার বা উপেক্ষা করা কর্তব্য। • ?

দ্বিতীয় সর্গ । ২১ সহেতাহা কৃতিগণ, তারি বিপরীত হলে, আশু প্রতিকার সাধন বিহিত *। ৯ “প্রবল প্রভুত্ব হায় বিপক্ষের করে নিরুৎসাহে সহে যেই ভীরু রাজগণ, তাদের সৌভাগ্য-লক্ষ্মী পলায় অচিরে, কুসঙ্গের অপবাদ ভয়েতে যেমন ।। ১০ “স্বাভাবিক শুভ তেজ হলেও মলিন, বৃদ্ধি হেতু সমুদ্যত যদ্যপি রাজ, পূজে তারে প্রজাগণ, দ্বিতীয়ার ক্ষীণ নবােদিত শশধরে প্রণমে যেমন । ১১ “পঞ্চ অঙ্গ-যুত কৰ্ম্ম নীতির নির্ণয়, ৪ সেই নীতি রাজ-কোষ-দণ্ডের কারণ ; $ * অর্থাৎ শত্রর অল্পক্ষয় ও নিজের বহুক্ষয় হইতে লাগিলে, শীঘ্র প্রতিকার করা অাবশ্যক। । মূল ধোক-“অনুপালয়তাং উদেষ্যত। প্রভুশক্তি দ্বিষত। অনীহয়। অপর্যাপ্তচিরাৎ মহীভুজা। জন-নির্বাদ-ভয়াদিব, শ্রিয়ঃ ।" ১০ এতদ্রুপ কাপুরুষ রাজগণকে লক্ষ্মী শীঘ্র ত্যাগ করেন, কুসঙ্গে আছেন বলিয়া যেন তহ্যর অপবাদ না হয়। কামৰক বলেন-“ভিঃ ষণ্ড ইৰ প্ৰভ অলসঃ পরিভূয়তে।” স্বাভাবিক মৃদু তেজ বিশিষ্ট নৃপতি উৎসাহ ও উদ্যোগবলে বর্ধিষ্যমাণ হইলে বর্ধনশীল চন্দ্রের ন্যায় লােকের পূজনীয় হইয়া থাকেন। কামশক বলেন—“য়িং হি সততোৎসাহী দুর্বলােহপি সমনুতে ।” $ কৰ্ম্মের পঞ্চ অঙ্গ সম্বন্ধে নীতিশাস্ত্রকার কামলক বলেন- “সহায় সাধনোপায়া বিভাগে। দেশকালয়ে। বিনিপতি-প্রতীকারঃ সিদ্ধিঃ পঞ্চাঙ্গ ইষ্যতে।” অর্থাৎ আরতোপায়, পুরুষত্ৰব্যস, দেশকাষ বিভাগ, বিপদপ্রতীকার, ও কার্যসিদ্ধি শ্মর এই পঞ্চাঙ্গ নীতিশাস্ত্রের দ্বারা নির্ণীত হয়। নিয়ে ১৩ শ্লোক স্রষ্টব্য। || রাজকোষ (অর্থ রাশি) ও দণ্ড (চতুর সেনাবল) নীতি অনুসারে প্রয়োগ করিলে ১৮ জয়লাভ হয়।

২২ কিরাতাৰ্জ্জুন। কাৰ্য্যের উৎসাহে চলে সে নীতি নিশ্চয়, যেমতি নিয়তি বশে চলে কৃষিগণ *। ১২ “চাহে যদি অভিমানী মনস্বী সুজন আরােহিতে উচ্চপদ হৃদয়-বাঞ্ছিত, প্রকৃত সহায় তার পৌরুষ আপন- পতনের ভয় যাহা করে তিরােহিত। + ১৩ “বিপদ বিক্রম-হীনে করে অভিভূত ; বিপয়ে উত্তর কাল ত্যজে নিরাশায়, সহে হেন কাপুরুষ লঘুতা নিয়ত, রাজশ্রীর পদ কেবা পায় লঘুতায়? ১৪ “কি ফল উদ্যোগ বিনা যাপিয়া সময় ? উদ্যোগ-অভাবে কভু না হয় উন্নতি সম্পদ সতত করে বিক্রম আশ্রয় কভু তা বিষাদ সহ না করে বসতি ৪। ১৫ * কাৰ্য-বিষয়ে উৎসাহের সহিত নিয়তি বা দৈবের উপমা। দৈব (বৃষ্টি ইত্যাদি) অনুসারে কৃষিকার্যাদি সফল হয়। উৎসাহ অনুসারে পরিচালিত নীতিতে শুভফল জন্মে। মন্ত্রের মূল উৎসাহ, প্রভুশক্তির মূলমন্ত্র (নীতি ), (মন্ত্রমূলং যতো রাজং)। সুতরাং উৎসাহ রাতেরও মূল কারণ। মূল মোক-অভিমানষতে। মননি প্রিয়মুচ্চৈঃ পদং জারুরুক্ষত। বিনিপতি-নিবৰ্ত্তন-ক্ষমং তমং আলস্বনং আত্মপৌরুষং” ১৩ * আত্মপৌরুষ বা আত্ম-নির্ভরতা অবলম্বনে কাৰ্য্য করিলে পতনের আশঙ্কাঅল্প। ইংয়া- U tai Self-help. "Heaven helps those who help themselves.” + বিক্রম-হীন ব্যক্তি সহজে বিপদগ্রস্ত হয়। বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তাহাকে লঘুতা আশ্রয় করে। লঘুতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির রাজেশ্নতি সম্ভব নহে। $ মুল লোক-তং প্রতিপক্ষং উন্নত অৰণ্য ব্যবসা- বতা। নিবসভি পরাক্রমার। ন বিষাদেন সমং সমৃদ্ধ। ১৭ দ্বিতীয় সর্গ। ২৩ ‘কাল অপেক্ষায় মােরা থাকিলে এখন ॥ বিষম কপটাচারী কর দুৰ্য্যোধন ভুঞ্জি এত দীর্ঘকাল রাজত্ব বৈভব সহজে ছাড়িবে তাহা, নহে ত সম্ভব। ১৬ “অথবা আপন রাজ্য যদি, নরপতি, শত্রুর অর্পণ মতে পাও পুনরায়, অনুজগণের তব ভুজের শকতি ব্যর্থ হবে, নহে যাহা অজ্ঞাত ধরায় ।। ১৭ “বিচরে কানন মাঝে মৃগেন্দ্র কেশরী আপন বিক্রমে বধি মদমত্ত করী স্বতেজে জগতে খর্ব করে তেজী জন, অন্য হ’তে নিজ বৃদ্ধি না করে গ্রহণ । ১৮ “কে না জানে অকাতরে ত্যজে মানী জন অক্ষয় যশের তরে নশ্বর জীবন ? $ যদিও সম্পদ চল চপলার প্রায় আ’সে কভু, মুখ্য জ্ঞান না করে তাহায়। ১৯ T সম্পদ বা লক্ষী) বিক্রমের বশবর্ত্তণ, ও কাপুরুষতা-পরিচায়ক বিষাদ বা নিরুৎ সাহকে ঘৃণা করে। পূর্বের ১০, ১১ প্লাকের টীকা দ্রষ্টব্য । * পাশ্চাত্য নীতি অনুসারে “Te be weak is miserable.” প্রথম সর্গের ৪৫ শ্লোকের টীকা দ্রষ্টব্য। + ক্ষাত্রগণের ভুবলে রাজ্যগ্রহণ শাস্ত্র সম্মত, যখ। ক্ষত্রিয় বিজিতব্যং” ইত্যাদি। * মুল শ্লোক-মদ-সিক্তমুখৈঃ মৃগাধিপঃ করিভিঃ বর্তয়তে স্বয়ং তৈঃ । সঘন খলু তেজসা জগৎ ন মহান ইচ্ছতি ভূতিং অন্ততঃ।” ১৮ ৪ রঘুবংশের চতুর্দশ সর্গে সীতা-নিৰ্ব্বাসন সম্বন্ধে নাম বলিয়াছিলেন-- “অন্য উপায়েতে নিন্দ। ঘুচিবার নয় বুঝি তিনি জায়া ত্যাগ করিলা নিশ্চয় ; কে না জানে তুচ্ছ দেহ যশের তুলবে? নহে টি, যশ-রক্ষা কল-বনে।” ১৪ সঃ ৩ ২৪ কিরাতাৰ্জ্জুন। “ভরাশি মাঝে লােকে করে পদাঘাত, জ্বলন্ত অনলে কিন্তু নাহি দেয় হাত ; অবমান-ভয়ে প্রাণ ত্যজে মানিগণ তথাপি আপন তেজ না করে বর্জন *। ২০ ‘রােষে সিংহ ধায় শুনি মেঘের গর্জন, ফলের প্রত্যাশা তাহে করে কি কখন? কে না জানে মহতের ইহাই প্রকৃতি - সহজে না সহে তারা পরের উন্নতি ।। ২১ “ভ্রমের তিমির, রাজা, ত্যজি এ সময় বিক্রমেতে নিজ মতি কর নিয়ােজিত ; তৰ অনুৎসাহ হেতু, জানিবে নিশ্চয়, শত্রুর বিপদ রাশি হয়েছে রােধিত। ২২ “বাসব-বিক্রম চারি অনুজে তােমার কে বােধিবে রণক্ষেত্রে শত্রুগণ মাঝে ? কে লঘে দিগন্তব্যাপী চারি পারাবার, অথবা ধাবিত চারি বিখ্যাত দিগজে ? + ২৩ মুল শ্লোক-- বলিতং ন হিরণ্য রেতসং চয়ং অতি ভস্মনাং জন। অভিভূতি-ভয়াৎ অসূ অতঃ সুখং উজ,ঝন্তি ন ধাম মানিনঃ।” ২০ + মূল শ্লোক-“কিমপেক্ষ ফলং পয়ােধয়ান ধ্বনঃ প্রার্থয়তে মৃগাধিপঃ । প্রকৃতি: খন্দু স মহীয়সঃ সহতে না-মুন্নতি যয়া।” ২১ + মূল শ্লোক--“দ্বিদাইব দিগ্বিভাবিতান চতুরস্তোয়নিধী ইয়ত। এসইতে রণে তৰমুজা ধিতাং কঃ শতমতেজসঃ”। ২৩ দ্বিতীয় সর্গ। २० ‘শত্রু-প্ৰজলিত ক্রোধ অন্তরে তােমার জ্বলিতেছে অহরহ; দহি অরিগণে শমিত হউক সেই জালা দুর্নিবার, শােকাকুলা-শনারী-অ-বরিষণে !” * ২৪ এ রূপ কহিলা ভীম পবন-নন্দন প্রকাশি মনের ক্ষোভ রােষেতে অধীর ; সানিতে ভঁরে, মত্ত মাতঙ্গে যেমন, কহিতে লাগিলা ধীরে রাজা যুধিষ্ঠির-২৫ যুধিষ্ঠিরের উক্তি। “মালিন্য-রহিত শুচি বচন মঙ্গল যা কহিলে শুনি মনে পাই পিরীতি ; দেখিতেছি মতি তব অতি সুবিমল বিম্বিত বিশদ বাক্যে দর্পণে যেমতি ।। ২৬ “সুবিশদ পদে তব বাক্য সুমধুর, অর্থের গৌরব তাহে রহেছে প্রচুর ; ভিন্ন অর্থে সুরচিত রুচির বচন, সামর্থ্য-রহিত তাহা নহে কদাচন । ২৭ “বিক্রম-নির্ভর যুক্তি সদা সুবিহিত, $ যুক্তিতে শাস্ত্রও কভু না হয় কুণ্ঠিত ; চারি ভ্রাতা (ভীম, অর্জুন, নকুল ও সহদেব) চতুঃ সমুদ্র ও দিহস্তি চতুন স্যায় শত্র অলক্ষনীয়। মুল মোক-জলতত্তৰ জাতবেদসঃ সততং বৈরি-কৃত চেতসি । বিধাতু শমং সিবেতর। রিপু নারী-নয়ন-সন্তুতিঃ।” ২০ “তোমার উদ্দীপিত ক্রোধাগ্নিতে শত্ৰ ৰা ভস্মীভূত হউক, তাহা হইলে তাহাদিগের ফি রমণীগণের নােদনের অশ্রুজলে সেই ক্রোধাগ্নি নির্বাপিত হইবে।” সরলার্থ। । নির্মল বাকীরূপ দর্পণে বক্তার মন যেন প্রতিবিম্বিত হইয়া থাকে। ! “ভারবেৱৰ্থগৌরবং প্রসিদ্ধ। জীবনী দ্রষ্টব্য। $ পূর্বের ১৩ নাক ও টীকা দ্রষ্টব্য s ২৬ কিরাতাৰ্জ্জুন। ক্ষাতেজে তেজী বিনা কাহার শকতি কহে হেন ক্ষাত্রোচিত সতেজ ভারতী? ২৮ “তথাপি সংশয় বশে তৃপ্ত নহে মন, ভাবি সদা করিবারে কর্তব্য-নির্ণয় ; * সন্ধি সমরাদি কাৰ্যে বিশেষ বিষয় আছে বহু, সহজে তা বুঝে কোন জন? ২৯ “না ভাবি সহসা কাৰ্য করা অনুচিত অবিবেক হয় সদা বিপদ-কারণ, + বিবেচনা করি কাৰ্য করে যে বিহিত গুণ-লােভে তারে লক্ষ্মী করেন বরণ ৪। ৩০ “কালে বিবেচনা-জল করিয়া সেন বপে যেই কাৰ্যরূপ বীজ এ জগতে, সদা কাল শুভ ফল লভে সেই জন লভে লােক শস্য রাশি যেমতি শরতে। ৩১ “দেহের ভুষণ শুদ্ধ আগম-শ্রবণ, শাস্ত্র-শ্রবণের ফল ক্রোধ-উপশম, ক্রোধ-উপশম শােভে থাকিলে বিক্রম, বিক্রমের ভূষা কাৰ্য্যে নীতির সাধন ॥। ৩২ * কর্তব্য-নির্ণয় সম্বন্ধে উপরে ১২শ্লাক দ্রষ্টব্য। । সন্ধি বিগ্রহাদি বিধেয় বা প্রধান কার্য। সহজে বোধগম্য হইলেও, তদঙ্গভূত বিশেষ কার্য্য সমূহ ( সহায় ও বলবৃদ্ধি ইত্যাদির উপায়) নির্ণয় করা সুকঠিন ও সময়সাপেক্ষ। অবিবেচনার সহিত কাৰ্য্য করিলে বিপদ ঘটে। $ রঘুবংশের ষষ্ঠ সর্গে ইন্দুমতী-স্বয়ম্বরে এরূপ আছে— “সখীর প্রলােভ-বাণী শুনি সুবনী অন্যত্র চলিলা ছাড়ি কলিজের পতি, গ্রহদোষে দোষী জনে ত্যজিয়া যেমতি চলেন সুভগা লক্ষ্মী গুণ-বিলাসিনী।” ৬ সঃ ৫৮। || শাশ্রবণ মানবদেহের ভূষণ স্বরূপ, ক্রোধ-শান্তি শাস্ত্রবণের ফল। বিক্রমশালী ব্যক্তির পক্ষে ক্রোধ-শান্তি সার্থক দৃষ্ট হয়, যেহেতু কাপুরুষের ক্রোধ বা অক্রোধ অকার্যকর নীতির বিধান মতে কাৰ্য করা বিক্রমের ভূষণ। নীতিবহিভূত কাৰ্যে বিক্রমশালী ব্যক্তিও পরাভব প্রাপ্ত হয়।

দ্বিতীয় সর্গ। ২৭ “মতি-ভেদ সংশয়ের তিমিরে আবৃত কাৰ্য অনুষ্ঠান যেন দুর্গম কানন, তাহে বিবেকীর তরে শাস্ত্র মুবিহিত করে দীপালােক প্রায় আলাে প্রদর্শন *। ৩৩ “যে পথে চলেন সাধু মহাগুণিগণ দিলে মন সেই পথে করিতে গমন, যদিও দৈবেতে কভু বিপদ ঘটায় বিনা দোষে, তাও হয় সম্পদের প্রায় ।। ৩৪ “রােধিয়া ক্রোধের বেগ বিজয়ী রাজন অক্ষত ভবিষ্য ফল গণিয়া নিশ্চিত লভিতে প্রভূত ফল, পৌরুষ আপন শুভ উপায়ের সহ করেন যােজিত । ৩৫ “প্রথমে বিবেক-বলে উন্নতি-প্ৰয়াসী বিনাশিবে বরাষ-জাত অজ্ঞান তিমিরে ; আগে না ভেদিয়া তেজে নৈশ তমােরাশি উঠেন কি দিবাকর উদয় ভূধরে ৪? ৩৬ * সংশয়-জনিত অন্ধকারে কাৰ্যানুষ্ঠান কর। দুরুহ ব্যাপার। শাস্ত্রের অালােকই তাহাতে দীপ স্বরূপ। । “মহাজনে। যেন গতঃ স পন্থা। তাহা অনুসরণ করিলেও যদি দৈবকৃত অর্থ পাত হয়, তাহা পুরুষের পক্ষে নিন্দার বিষয় নহে। কামক বলেন, "যৎ তু সম্যক উপাক্রান্ত কাৰ্যমেতি বিপর্যয়ম্ । পুমা তত্রাপালভ্যে। দৈষান্তরিত-পৌরুষঃ + ক্রোধের বশীভূত হইয়া কার্যা করলে ভবিষ্যফল সংশয়-নিবন্ধন অনিশ্চিত থাকে। পৌষ ও শুভ উপায়ের যোগে ফল সিদ্ধি নিশ্চিত। কামশক বলেন- “নিফলং কেশবহুলং সন্দিগ্ধ-ফলমেব চ। ন কৰ্ম্ম কুৰ্যাৎ মতিমান সদ। দৈবানুবন্ধি চ।” $ “শিশুপাল বধে” বলরাম এরূপ বলিয়াছেন- “সমুলে শত্তরে না করি সংহার লতে অভুদয় কবে মানী জন? বিনাশিয়া অাগে ঘোর অন্ধকার উদয় শিখরে উঠেন তপন ” ২ সঃ ৩৩

কিরাতান ।
“বলবান্ হয়ে যেই না করে বারণ
ক্রোধ-জাত তিমিরের ভীম আক্রমণ,
সকলা শকতি তার ক্রমে পায় লয়,
কৃষ্ণপক্ষে শশিকলা সদৃশ নিশ্চয় *। ৩৭
“সময়েতে সম-বৃত্তি যেই নরপতি
ধরে মৃদুভাব কিম্বা উগ্রতা আবার,
নিজ তেজে ধরা সেই করে অধিকার,
মৃদু উষ্ণ তেজোদালে তপন যেমতি ।। ৩৮
“সম্পদ-লক্ষ্মীর চির সুরক্ষা কোথায়,
কোথা দুষ্ট-রিপু-অশ্ব-বশীভূত জন !!
স-ছলা চপলা লক্ষ্মী শরদ প্রায়
রহে ইন্দ্রিয়-মত্ত লােকের সদন ৪। ৩৯
“ধীরতায় বারিধিরে করি পরাজয়
কেন এবে বাড়াইছ গৌরব তাহার ॥?
* ক্রোধন্ধকারে বলবান ব্যক্তির শক্তিও কৃষ্ণপক্ষের চন্দ্রকলার ন্যায় ক্রমে হ্রাস প্রাপ্ত
। সমবৃত্তি-বহার বৃত্তি সমভাবাপন্ন অর্থাৎ অতি মৃদুও নহে, অতি তীও নহে।
অজের রাজত্ব সম্বন্ধে রঘুবংশের অষ্টম সর্গে এরূপ আছে—
“অতি মৃদু অতি তীক্ষ নহেন নৃপতি,
মধুর মধ্যম ভাবে রঘুর নন্দন
শাসিলেন খাজগণে, ধীর সমীরণ
না উপাড়ি তরুজি নােয়ায় যেমতি।” ম সঃ ৯
-
“মৃদুশ্চেৎ অবমতে, তীক্ষাৎ উজিতে জন।
তীক্ষ্ণশ্চৈব মৃদুশ্চৈব জানাং স চ সম্মতঃ।”
সু ও মুসারে তা ও তীক্ষ্ণত। ধারণ করেন।
! হাল সমীকে বশে রাখা ইন্দ্রিয়াসক্ত ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নহে।
ও শরৎ কালের মেঘের ন্যায় লক্ষ্মী অস্থি ও চঞ্চল। ৪১ শ্লোক দ্রব্য।
|| পুবে তুমি সমুহ অপেক্ষাও অধিকতর ধীর ছিলে। এখন • ঞ্চলতা দেখাইয়া কেন
সমুঙ্গে উপপত্ন করিতেছ?

দ্বিতীয় সর্গ। কেন হয়ে রােষভরে অধীর হৃদয় অকালে মনের ক্ষোভ করিছ বিস্তার ? ৪০ “সৰ্ব্ব শাস্ত্র জানিয়াও অক্ষম যে জন দমিতে স্বদেহ-ভৰ মত্ত রিপুগণ, আপন চাপল্য দোষে সেইজনমায় লক্ষ্মীর চপলা বলি অখ্যাতি ধরায় *। ৪১ “সময় সহায় আদি সাধন লঙ্ঘনে সন্তাপি অন্তর দেহ ক্রোধ ভয়ঙ্কর সামান্য জনের মত তােমা হেন জনে নীতি পথ হতে নাহি করুক অন্তর !! ৪২ “ক্ষমাণ সম নাহি কার্যের সাধন, + ভবিষ্যের তরে তাহা সদা হিতকর, সতত অক্ষয় তাহা, বিপক্ষ-দমন, বহু কৰ্ম্মফল তাহে ফলে নিরন্তর। ৪৩ রঘুবংশে এরূপ আছে- “একচ্ছত্র শরথ রাজকুলেশ্বর অগ্নিতেজা সােমকান্তি; তবু নিরন্তর মহেন স্বকাষে রত, চিন্তি মনে সদা দোষের পরশে লােকে ত্যজেন ধনদ।।৪র্থ সঃ ১৫ “জন্মিল। তাহার বংশে প্রতীপ সুমতি ; অাশ্রয়ের দোষে লক্ষ্মী সহত চঞ্চল। এ কলঙ্ক কমলার খণ্ডিল। নৃপতি, ইহার সনে সদা ধন। অচলা।” ৬ষ্ঠ সঃ ৪১ । ক্রোধের বশীভূত হইয়া কাৰ্য্য করিলে উপযুক্ত সময় ও সহায় ইত্যাদি কাৰ্যসাধনে- পায় কাজে বিঘ্ন ঘটে । ক্রোধ, দেহ ও ইয়বর্গের সন্তাপজনক, ও নীতিমার্গ-রােধক। । ক্রোধ অপেক্ষা কমা দ্বারা অধিকতর কাৰ্যসিদ্ধি হয়। মূল ফোক-- উপকার কং অরতেভূশং প্রসব কৰ্ম্মফলস্য ভূরিণঃ। অনপারি নিবহণ বিষা ন তিতিক্ষা সমং অপ্তি সাধন। ৪৩ ইহা দ্রৌপদক্যের উত্তর। ১ম সর্গের ৪২, ৪৪ শ্লোক দ্রষ্টব্য।

কিরাতান
“মানিগণ-অগ্রগণ্য যদুবীরগণ
অকৃত্রিম প্রেমে বাঁধা ভক্তির ভাজন
আমাদেরে ত্যজি কভু প্রীতির প্রণতি
করিবে কাৰ্যকালে দুৰ্য্যোধন প্রতি। ৪৪
“তাদের সহজ মিত্র কৃত-বন্ধুগণ
কাৰ্যকালে প্রতিকূলে না যাবে নিশ্চয় ;
আত্ম জীবনের তরে সে সব রাজ,
সুঘােধন পক্ষ হয়ে যাপিছে সময়। ৪৫
“অতীত হইলে তার বিহিত সময়
নব পরাভব যবে পাবে যােবন,
ত্যজি তারে ফুল্ল হবে নৃপতি নিচয়,
সৌর করে ভিন্ন যথা কমলের বন *। ৪৬
“মদমত্ত-সুযােধন-করে রাজগণ
ভেদ-যােগ্য হবে সহি বহু অপমান ।
নাহি সহে অপমান সামান্য যে জন,
সহিবে কি রাজগণ তেজে সুমহান্ ?
“না করিয়া কোন কাৰ্য্য অভিমানী জন
লভে যদি সুসম্পদ, অহঙ্কার তার
বিনয়ে রােধিত-বেগ লেও কখন,
ঐশ্বৰ্যে প্রবল হয়ে উঠে পুনর্বার । ৪৮
* ত্রয়োদশ বৎসর অন্তে লাঞ্ছিত রাজগণ ভেদ-নীতি মুলে আমাদের সহিত যোগ দিয়া
সুখী হইবে। নিমীলিত পদ্মসমুহ সূর্যকিরণে প্রফুল্ল হয় । ১ম সঃ ৪৫ মোঃ দুষ্টব্য।
+ অপমানিত ব্যক্তিরা সহজে ভেদ-যোগ্য। পৃথক্ করা ভেদ-নীতির কাৰ্য্য ।
+ অকৃতি ব্যক্তি সৌভাগ্যক্রমে ঐশ্বৰ্য্য প্রাপ্ত হইলে, কার্যের সুবিধার জন্য সময়ে সময়ে
বিনয়ী হইতে পারে। কিন্তু পরিণামে ঐশ্বর্য তাহার অহঙ্কার ও বিকার বৃদ্ধি করে।

দ্বিতীয় সর্গ। ৩১ “মদ-গর্বে সমুদ্ধত নৃপতি নিকরে মূঢ়তা সতত ত্যাগ না করে নিশ্চয় ; অতি মূঢ় নীতি হ’তে রহে বহু দূরে, তজে নীতি-হীন জনে মানব নিচয়। ৪৯ “মহান হলেও রিপু, স্বজন নিচয় হয় যদি দ্বেষ রূপ পবনে আকুল, বাতাহত তরু প্রায় হয়ে ছিন্নমূল, সহিষ্ণু জনের করে মজিবে নিশ্চয় *। ৫০ “অন্তর-অমাত্য মাঝে ক্রোধ-সমুখিত স্বল্প বিবাদেও ঘটে প্রভুর পতন তরু শাখা-বিঘর্ষণে জাত হুতাশন দহে সৰ্ব্ব গিরি দেহ, হ'য়ে প্রজ্বলিত। ৫১ “বিনয়-বিহীন শত্রু লভিলে উন্নতি তুচ্ছ জ্ঞান করে তাহে প্রাজ্ঞ যেই জন ; স্বল্প ছিদ্রে ঘটে তার সহজে দুর্গতি, অবিনীত-সম্পদের অন্তিমে পতন ।। ৫২ * বায়ুতে ছিন্নমূল সুবৃৎ বৃক্ষের সহিত দ্বেষ-ভিন্ন স্বজনে পরিবৃত প্রবল শত্রুর উপমা। প্রথম সর্গের ৫ শ্লোক ও তৎটীকা দ্রষ্টব্য। নিম্ন শ্লোকে ইহা বিবৃত হইয়াছে। মূল প্লাক- *অপরাগসমৗরণেরিতঃ ক্রমশীর্ণকুল-মুল-সন্তাতঃ । সুকরস্তবৎ সহিষ্ণুন। রিপুরুন্ম লায়তুং মহান অপি।" ৫০ । ইহা তীম বাক্যের উত্তর। ৮ ও ৯ শ্লোক দ্রষ্টব্য। অবিনয়ী ব্যক্তির সম্পদ পরি- শামে বিপদের কারণ হয়।

8 কিরাতাৰ্জ্জুন। “অন্তরে বাহিরে নিজ পজন নিকর ধরে যদি ভেদ-ভাব দুবৃত্তিকারণ, হয় হেন নৃপতির রাজ্যের পতন যথা তীর নদীবেগে অন্তরে জর্জর *।” ৫৩ শত্রুর সম্পদে ক্ষুন্ন ভীমেরে রাজ বুঝাইতে ছিলা হেন নীতির শাসন ; হেন কালে নিজ মূর্ত মনােরথ প্রায় । পরাশর-লুত ব্যাস আসিলা তথায়। ৫৪ শান্ত দরশনে তার দুষ্ট জন্তুগণ বন মাঝে শান্তভাব করিল ধারণ ; দেহ তার পরিবৃত তেজে সমুজ্জ্বল পাপের দহন যাহা দর্শন-কোমল । ৫৫ তপের আধার ঋষি আপদ-বারণ আসিলা সহসা হেথা, বিস্ময়ে নৃপতি দেখিলা সম্মুখে তারে, সৌম্যদরশন, মুর্তিমান পুণ্যরাশি সদৃশ মূরতি ৪। ৫৬ * বহিঃশত্রু বশিষ্ট নৃপতির রাজ্যের সহিত অন্তর্ভেদ-জর্জর নদী-তীরের উপমা। মূল শ্লোক-“ঘুবৃত্তি হয়। ভিদাং গত বহিরন্ত নৃপ মণ্ডলং। অভিভূয় হরত্যনন্তর শিথিলং কুলং ইপগ রয়ঃ।” ৫০ । এই সময়ে ব্যাসের আগমন যেন যুধিষ্ঠিরের মূর্তিমতী মনোবাঞ্ছা-সিদ্ধি। ! ব্যাসের তেজে পাপ দগ্ধ হইয়া যায়, অথচ সেই তেজ অগ্নির ন্যায় দুর্দর্শনীয় নহে। $ ব্যাসের দর্শন-যুধিষ্ঠিরের সঞ্চিত পুণ্যরাশি সদৃশ। রঘুবংশে বাল্মীকি কর্তৃক আনীত। সীতাকে উহার তপসিদ্ধি রূপে বর্ণন করা হইয়াছে- ‘রামের প্রতিজ্ঞ। শুন তপোধন শিষ্য নিয়োজির। আনিলা সীতায় অাশ্রম হইতে, তপেতে আপন সমাপন্ন। নিজ তপসিদ্ধি পায়। ১৫ স৭৪

দ্বিতীয় সর্গ ।
শ্রেষ্ঠ উচ্চাসন হ’তে উঠিলা রাজ
কপিল আরক্ত অগ্ৰ বল্কল বসনে-
সুমেরুর শৃঙ্গ হ’তে যেমতি তপন
উদিলা বিস্তারি অংও কপিশ বরণে *। ৫৭
অস্থির অন্তরে তবে ধৰ্ম্মের নন্দন
দিয়া তারে ঋষি-যােগ্য পূজা সুবিহিত
করিলা আদেশ লভি আসন শশাভিত,
শােভে যথা ক্রোধ-শান্তি আগম-শ্রবণ ।। ৫৮
শােছিল। বিকীর্ণ-তেজা মুনি সন্নিধানে
নর-রাজ, ফুট ওষ্ঠ সুহাসি ছটায়,
বৃহস্পতি সম্মুখেতে স্ফুরিত কিরণে
শােভেন যেমতি শণী ষােড়শ কলায় !। ৫৯
ইতি ভারবি কৃত কিরাতাজ্জন মহাকাব্যের বঙ্গানুবাদে
ব্যাসাগমন নামে দ্বিতীয় সর্গ
;
ভারবিপ্রতিভা-রবি আগে প্রকাশ
ছিল মাঘে মেঘাবুত যথা দিনকর ;
বঙ্গের ভাষায় সেই কাব্যের আভাস
আনিলা নবীনচন্দ্ৰ কবি-গুণাকর।
* যুধিষ্ঠিরের পরিহিত অরক্ত বল, কলার্থের সহিত উদীয়মান সূর্যের প্রভাতকালীন
কিরণের উপমা। “শিশুপাল বধে এরূপ আছে--
“অস্তগামী ভানু সম মুনিবর ' উচ্চাসন হ'তে উঠিল। ত্বরিত,
না নামিতে ভূমে, আগে পীতাম্বর গিরি হতে যথা মেঘ তড়িৎ ! ১ সঃ ১২
। শান্তিই শাস্ত্র- শ্রবণের শোভা স্বরূপ। ৩২ শ্লোক অষ্টব্য। যুধিষ্ঠির ব্যাসের আদেশ মতে
বসিয়া আসন শোভিত করিলেন। “শিশুপাল বধ” নারদ সম্বন্ধে এরুপ অাছে
“মুনিবাক্যে যবে সুবর্ণ আসন সুমেরু শিখর হ’ল বিড়ম্বিত,
এহিল। খ্রীহরি জলদ বরণ, নীল জল ফলে যবে সুশােভিত।” ১নঃ ১৯
* “শিশুপাল বধে” কৃষ্ণ-নারদ মিলনে এরূপ বর্ণনা আছে-

৩৪ কিরাতাৰ্জ্জুন। “নীলমণি নিভ কৃষ্ণের সম্মুখে উচ্চাসনে বসি শুভ্র ঋষিবর বিজিলা, যেন শ্যাম সন্ধ্যামুখে উদয়শিখরে হিত শশধর। ১ সঃ ১৬ “চন্দ্রের খামিক জিনিয়া বরণ, পীতবাস যেন তরল কাঞ্চন, বিরাজিল। শ্যাম নীলধি প্রায় ব্যাপৃত যখন বাড়ব-শিখায়।” ২০ “কেশবের সেই থামদেহ-তেজে মিশিল ঋষির শুভ্রদেহ-ভাতি, পশিয়া কম্পিত তরুপত্ৰ মাঝে মিশে নিশাকালে জোছন। যেমতি।” ১ সঃ ২০ মহামহোপাধ্যায় কোলাচল মলিনাথ সুরি বিরচিত ঘন্টাপথ নাম টীক’বলম্বনে এচত্র- শেখ পদা-ধৌত-চট্টলবাসী শ্ৰীনবীনচন্দ্র দাস কবি-গুণাকর কর্তৃক অনুবাদিত।

কিরাতাৰ্জ্জুন তৃতীয় সর্গ। ব্যাসের বর্ণনা । শরতের শশি কর সম মনোহর উৰ্দ্ধ-প্রসারিত তেজে সমুন্নত-কায় শােভিলেন ব্যাস যেন খাম মেঘবর, শিরেতে পিঙ্গল জটা, চপলার প্রায় *। সৌম্যতার পূর্ণ শােভা দেহে বিরাজিত শরীর সৌছব তার মানব-অতীত, পবিচয়-অভাবে ও হেরিলে তাহারে জনমে মেহা ভাব অমনি অন্তরে ।। ২ স্বাভাবিক মধুরতা বিশ্বাস অপার লাগিয়া রয়েছে সদা নয়নে তাহার দর্শনেই সম্ভাষণ সূচিত যেমতি । প্রকাশে পবিত্র চিত প্রশান্ত মূরতি ৪। ৩ * “শিশুপাল বধে" নীরদ-বৰ্ণন দ্রষ্টব্য- “শারদ চন্দ্রমা সম কান্তি তঁার কমল-কেশর-পীত জটাভার, তুষারে মণ্ডত হিমগিরি প্রায় আবৃত পিঙ্গল ব্রততী-মালায়।” ১ সঃ । + তঁাহার প্রসন্নমূৰ্ত্তি দর্শনে অপরিচিত ব্যক্তির মনেও স্নেহ ভাব জন্মে। তাহার দর্শনেই যেন সম্ভাষণের কাৰ্য্য : রিত, অথাৎ লােকেরা আপ্যায়িত হইত। $ রঘুবংশে এই রূপ আছে- “আসিলা জানকী পরি রক্ত, নিজ পদ পানে দৃষ্টি নিরন্তর, সে শান্ত মুরতি করিল প্রকাশ পবিত্র চরিত, সরল অন্তর।” ১৫ সঃ ৭৭ কিরাতা। ধর্মের নিদান বেদ পাপবিনাশন । প্রকাশিলা ব্যাস ঋষি, সুখাসীন তারে হেরি নিবেদিতা রাজা ধর্মের নন্দন আগমন হেতু তাঁর জানিবার তরে *। ৪ যুধিষ্ঠিরের উক্তি। “শুভফলদায়ী তব দর্শন বাঞ্ছিত নির্মেঘ আকাশ হ'তে বারি-বর্ষ প্রায় লভিনু সংসা আজি, রজঃবিবর্জিত + ; বহুপুণ্য বিনা যাহা কেহ নাহি পায় ।। ৫ * “শিশুপাল বধে” নারদ সম্বন্ধে কৃষ্ণের উক্তি দ্রষ্টব্য- নিশ্চিত বিধাতা প্ৰজাহিত তরে সুপাত্র জানিয়া পিয়া তােমারে বিপুল সম্পদ--বেদের ভাণ্ডার দান বিতরণে ক্ষয় নাহি যার” ১ সঃ ২৮। Mr. R. C. Dutt C. I. E. thus renders the description of Vyasa in this and the 3 stanzas above : Beaming with a gentle lustre Soft as rays of autumn night, Graced with auburn locks that clustered Like a cloud of golden light,-- Glowing with a god-like mercy In his more than human face, Filling every living creature With responsive love and grace,'- Speaking by his look and gesture Peace that dwells in realms aloft, Waking trust and true affection By his glances sweet and soft,- Herald of the holy Vedas Vyasa to the monarch went, And the courteous king Yudhishthir Questioned thus the mighty Saint : Stanzas 1 10 4. Penance of Arjun. t এক অর্থে ধূলি, অন্য অর্থে রজোগুণ। ব্যাসের দর্শন রজোগুণ-রহিত, তপ বাষির্ষণ (বৃষ্টি) ধূলি-রহিত। । “শিশুপাল বখে এরুপ আছে- *ত্রিকালেই শুভ তব দরশন- পুর্ব পুণ্য ফলে লভে তাহা নরে;

তৃতীয় সর্গ। “হল সত্য ব্রাহ্মণের আশিষ সত্বর সফল হইল আজি যাগ অনুষ্ঠান, তব আগমন হেতু, জগত ভিতর লভিলাম আজি আমি বিপুল সম্মান। ৬ • *লােক-গুরু তুমি, দেব, ব্রহ্মার সমান বিতরে সম্পদ তব অমােঘ দর্শন, নাশে দুঃখ, করে সদা মঙ্গল সাধন, বাড়ায় সুযশ ; কিবা না করে প্রদান ? ৭ বর্তমানে তাহ। পাপ-বিনাশন, সাধে তা মঙ্গল ভবিষ্যের তরে।” ১ সঃ ২৬ Unattained by life-long merit Is such favour great and high, Like a holy life's fruition, Like the rain from cloudless sky! Hoiy rites have borne their harvest, Brahman's blessings brought their meed, For thy sight is highest honour, Truest blessing in my necd ! Vedic Bard ! Thy grace can conquer Ills with which this earth is rife, And thy love like love of Brahmu Sanctifies our mortal life ! Not the moon's benignant radiance Cheers my sad and lightloss eye, But my heart forgets ils sadness, Mighty Saint, since thou art nigh : Thy desires 1 snày not question, Peaceful souls have no desires, But a wish to hear thy utterance My enquiring heart inspires." Thus in graceful words the Monarch To the Bard of Vedas prayed, Anxious for the Monarch's glory He unto Yudhishthir said. Stanzas 5 to 10. l’enance o Arjun, ৩ কিরাতাৰ্জ্জুন । “চন্দ্রের অমৃতবর্ষী শীতল জ্যোৎস্নায় নহে তৃপ্ত আঁখি মম, নিরখি তােমায় লভিছে অসীম সুধ, চিত্তে বিক্ষোভিত জাতির বিয়ােগ দুঃখ যেন উচ্ছসিত *। ৮ “আগমন প্রয়ােজন জিজ্ঞাসি কেমনে, কি আছে যা দিতে পারি স্পৃহহীন জনে ? তবু শুনিবারে শুভ মুখের সুভাষ ইচ্ছা মম, তাই বাক্য বলিতে প্রয়াস ।। ৯ হেন রূপ চারুতর রুচির ভারতী ব্যাসেরে উদার মনে কহিলা নৃপতি, জয়-সিদ্ধি ভাবি তবে ব্যাস তপােধন রাজারে কহিলা হেন উদার বচন-১০ ব্যাসের উক্তি। “ইহ পর ললাকে মহা যশের গৌরব লভিতে বাসনা-পর যতেক মানব করে সম ব্যবহার বান্ধবে বিহিত +, তপস্বীর পক্ষে তাহা বিশেষ উচিত। ১১ ৫ * স্বজনের দর্শনে মনে।দুঃখ উচ্ছসিত হইয়া পড়ে। কুমার সন্তুব দ্রষ্টব্য যথা- “স্বজনস্ হি দুঃখমগ্রতে। বিবৃত্তদ্বারামবোপজাতে”। ৪ সঃ ২৬ শ্লোক। * শিশুপাল বধে” এরূপ আছে- “কলুষ-বিনাশী তব দরশন লভিয়া কৃতার্থ যদিও এ মন, তবু ইচ্ছা শুনি সুক। তোমার শ্রেয় বস্তু ভোগে তৃপ্তি হয় কার? ১ সঃ ২৯ “আগমন-হতু জিজ্ঞাস কেমনে? হা-হীন তুমি জানে সর্বজন ; দিয়াছ যে মান হেথ। আগমনে করিয়াছে তাহে সাহস বর্ধন। ১ সঃ , । বন্ধুগণের প্রতি সমান ব্যবহার করা মনুষ্য মাত্রের উচিত ।

তৃতীয় সর্গ । । ৩৯ “তথাপি তােমার পানে হৃদয় ধাবিত গুণের প্রবাহে তব হয়ে আবজিত ; যাহারা নিস্পৃহ সদা বাঞ্ছেন মুকুতি তাদেরও বিশেষ মেহ সাধুজন প্রতি । ১২ । “তােমরা কি নহ ধৃতরাষ্ট্রের তনয় ? গুণেও কি সুযােধনে কর নাই জয় ? ত্যজিলেন তােমাদেরে অকারণে হায়, বিষম বিষয় তৃষ। মােহ জনমায়! ১৩ “ He who strives for earthly glory Bears for all impartial love, He who strives for peace iind virtue Should with higher justice move ; Yet my partial heart, Yudhishthir, For thy virtues leans to thee, Virtue binds the lonesowe hermit From all carthly bondage free! Are ye not of royal lineage Like the youth who fills the throne, Hath his father lost his reason Thus to wrench from you your own? And will Fortune help a warrior Who on kurnu pl..ces trust, Doth not faith witli false aud faithless Lead to fainc and honour lost? When they left the righteous pathway, You remained in virtue strong, When they changed, still true and changeless, You forgave the proud men's wrong. And they sought to shame you vainly, Man of piety and love, Every trial, wrong and insult Higher virtue in you prove. Stantas 11 to 16. Penance of Arjun. * তােমরা ধৃতরাষ্ট্রের পুত্র স্থানীয় অথচ গুণবান্। উভয় কারণে তৎকর্তৃক ত্যজ্য নহ।

কিরাতাৰ্জ্জুন “ত্যজিবে না অর্থ-সিদ্ধি কভু কি তাহারে কর্ণ আদি প্রতি যাঁর মন্ত্রণে নির্ভর *?-- অসাধুর সঙ্গ হয় জয়-বিঘ্নকর, ঘটায় বিপদ জাল উন্মলন তরে। ১৪ “সৰ্বথা বিপথগামী রিপুর সভায় সুচির ধৰ্ম্মের ভার বহিলে নির্ভয় ; 1 শমগুণে পরপ্রেম দেখালে ধরায় বিপদেও অবিনাশী রম্য অতিশয়। ১৫ ; “শমগুণে পূর্ণ তুমি ; তব রিপুগণ কপটেতে অপকার করিয়া তােমার সাধিয়াছে মােহবশে অনিষ্ট আপন, সৌজন্য-প্ৰকাশে তব কৈল উপকার +। ১৬ “লভিতে হইবে তব বিক্রমে ধরারে, অস্ত্র আর বলবীর্যে বলী রিপুগণ , বলের উৎকর্ষ তরে করিবে যতন- বলাধিক-বশ সদা জয়শ্রী সমরে ৪। ১৭ * ধৃতরাষ্ট্র কর্ণ প্রভৃতি কুমন্ত্রীর পরামর্শে কাৰ্য্য করিয়া থাকেন। অতএব তঁাহার হানি- কাল দুরবর্তী নহে । + যুধিষ্ঠির শত্রুগণের সভায় দুঃশান কর্তৃক স্ত্রীগ্রহণ-চেষ্টা সত্যের অনুরােধে দীর্ঘ- কাল সহ করিয়াছিলেন। ধর্মের দুঃসহ হইলেও তাহা ত্যাগ করেন নাই। । শত্রুগণের এবধি অসৎকার্যে পাণ্ডবদিগের সৌজন্যের অধিকতর বিকাশ 1 মুল শ্লোক-“লভ্য। ধরিত্রী তব বিক্রমে জ্যায়াংশ্চ বীর্যাবলৈঃ বিপক্ষ। অতঃ প্রকায় বিধির্বিধেয় প্রক-হা হি রণে জয়-ঃ।" যুদ্ধে যাহার বলাধিক্য, তাহারই জয়লাভ হয়। এই জন্যে যুদ্ধের পূর্বে বিপক্ষের বল-নির্ধারণে নিজের অস্ত্র ও সেনা ইত্যাদি বল বৃদ্ধি করা আবশ্যক। এই শ্লোকে মহৰি ব্যাস জয়লাভের বীজমন্ত্রের উল্লেখ করিয়াছেন। ইহাই দ্রৌপদী ও ভীমের উক্তির প্রকৃত উত্তর।

তৃতীয় সর্গ।
“মাজবংশ ধবংস করি একবিংশ বার
নিজ শিষ্য ভীষ্ম-হস্তে লভি পরাভব
জানিলা সে বীরগুরু ভৃগুর কুমার
গুণের উৎকর্ষ সদা সুপাত্রে সম্ভব। + ১৮
“কতাও পরশিতে না পারি যাহারে
পরাভব পেয়ে যেন আছেন লজ্জিত, +
সেই ভীষ্ম ধনু যবে ধরেন সমরে
কার না হৃদয় হয় ভয়ে বিকম্পি? ১৯
“ববে বিশ্ব-দাহােম্মুখ কালাগ্নি সমান
রােষে প্রজ্বলিত দ্রোণ বর্ষিবেন বাণ
চঞ্চল শিখাগ্র-জি-বিচ্ছুরিত শিরে ৪,
তােমাদের মাঝে কে বা রােধিবে তাহারে ? ২
“কর্ণের কোপের মুখে কে বা ধৈৰ্য্য ধরে ?
শিখিলেন ধনুর্বেদ পূজি ভৃগুবরে ;
এই সুদুর দর্শিনী রাজনীতি মূলে আধুনিক ইংলও, জারমনি ও জাপান পৃথিবীতে
অাপন অাপন জাতীয় আধিপত্য স্থাপনে সক্ষম হইয়াছে।
দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু ও দেবগণের মধ্যে যুদ্ধের প্রাক্কালে এই নীতি অনুযায়ী কাৰ্য্য
হওয়া মাঘকৃত “শিশুপাল বধ কাব্যে উক্ত হইয়াছে যথা-
“নিরমিলা তার ভয়ে দেবদল
শোভা-রুপী পুরে পরিখা প্রাচীর ;
শাণি অস্ত্র, বাড়াইয়া সেনা-বল,
অভেদ্য কবচে ঢাকিলা শরীর।* ১ সঃ ১৫।
* পরশুরাম ২১ বার পৃথিবী নিক্ৰিয়া করিয়াছিলেন। তিনি অমর। ভীষ্ম তার
কাছে অস্ত্র শিক্ষা করিয়াছিলেন। কাশীরাজপুত্রী অম্বিকার স্বরে ভীষ্ম তাহাকে পরাজয়
করিয়া বিচিত্রবীর্যের সহিত অধিকার বিবাহ দিয়াছিলেন।
। সৎপাত্রেই গুরুর শিক্ষা অধিকতর উৎকর্ষ লাভ করে।
ভীষ্মের ইচ্ছা-মরণ, এইজন্য যম তাহার কাছে যেন পরাজিত হইয়া লজ্জিত ছিলেন।
৪ যুদ্ধে দ্রোণের মস্তকের শিখা কালাগ্নির জিহ্বা রূপে যেন ফুরিত হইতে থাকে।
|| কর্ণ অঙ্গদেশের রাজা। বর্তমান ভাগলপুর অঙ্গদেশের অন্তর্গত থাকা প্রকাশ ।-

fpatoto fa 169 putre 169 170 04 ভয় সহ কভু যাঁর নাহি পরিচয়। ২১ spfarretera atter to a frestarotast দুষ্কর শিবের তপঃ করিয়া সাধন সিদ্ধ কাম হয়ে তেজ দুর্লভ এ ভবে লভিয়া সে বীরগণে করিবে দলন, * ২২ (Vide my Anc. Geography of Asia pp.5 &6.) PO UT TËCT 017-499 for করিয়াছিলেন। * "Listen yet, by valour only You can win in battle's hour, For your foe is strong in combat, Boundless in his wealth of power. (st 17) Jamadagni's son who conquered Thrice seven times he kings of earth, Great though he-he owns with terror Bhishma's greater, mightier worth ; Death is powerless, Death s conquered, By that chief's resistless might, And the field of battle trembles, When he enters on the fight! Doughty Dronu in the battle Speeds bis darts in furious ire, Like a world-consuming furnace Shooting forth its tongues of fire ; Archer Karna learnt his lessons From great Jamadagni's son, And the King of Terrors trembles At his deeds of valour done ! These are chiefs, believe me, monarch, Whom in battle thou shalt face, Arm thyself by toil and penance, Seek celstial help and grace ; Let young Arjun seek the weapons Gods themselves by worship crave, This, Yudhisthir, is my message, Win the gift that speeds the brave" ] (st. 23) Stanzas 17-23 : R. C. Dutt's Penance of Arjun.

তৃতীয় সর্গ। “বীরত্বের মহােৎকর্ষ লাভের কারণ সেই তেজোময়ী বিদ্যা কাৰ্যসিদ্ধি পায় । সুপাত্রে অর্পিতে আজি আসি, রাজ, সুমহিম দেবগণ তুষ্ট হন যায়।”—২৩ এ রূপ কহিলা মুনি প্রসঙ্গ অন্তরে, বাজার আদেশ তপ সাধনের তরে, পাইয়া, ছাত্রের প্রায় বিনীত-হৃদয় আসিলা ব্যাসের পাশে ধীরে ধনঞ্জয়। ২৪ ইন্দ্র-অস্ত্র রূপ বিদ্যা স্ফুলিঙ্গ-উজ্জল প্রভাতের রবিচ্ছবি সম সুবিমল মুনি-মুখ হ’তে গেল পার্থ-মুখ মাঝে ফুরন্ত অরুণ-প্রভা যেমতি সরােজে ।। ২৫ * এই বিদ্য। সাক্ষাৎ কার্যসিদ্ধিকাপিণ। ব্যাস এই বিদ্যা অর্জনকে প্রদান করিলেন। । ব্যাস-প্রদত্ত ঐ অন্ত্রের সতেজ মন্ত্র অর্জুনের মুখে জ্বলন্ত অগ্নিকণার স্থায় প্রবেশ করিল। প্রভাতের আরক্ত সৰ্য্য-প্রভা যে রূপ পদ্মের মধ্যে প্রবেশ করে। “The gallant archer Arjun Stept forth reverent and slow, Bending at his elder's mandate Like a student bending low ; (st. 24) And the gift of Saintly Vyasa, - Mantra of the holy spell,- As the sun-light falls on lotus, On the valiant Arjun fell. And the mantra's holy radiance, Which the warrior proudly wore, Oped his inner eye of reason, Filled his heart with sacred lore ; And his form betokened glory, And his heart was fixed and strong, Vyasa spake of penance holy To the warrior brave and young."- Stanzas 24 to 27, Penance of Arjun, ত কিরাতা। তপের প্রভাবে তবে মহা তপােধন প্রদানিলা সদ্যঃ যােগ সুযােগ্য অর্জুনে ; চির উন্মীলিত যেন হইল নয়ন- সক্ষম হইলা পার্থ তত্ত্ব দরশনে ।। ২৬ বিপুল সৌভাগ্য লাভ হইবে তাহার সুচিল উৎসাহে যেন পার্থের আকার ; তপের নিয়মে মুনি নিয়ােজিতে তারে কহিতে লাগিলা এবে বিজয়ের তরে -২৭ “এই যােগে তেজঃ তব হয়েছে বর্ধিত, ব্যাসের উক্তি। দিবে আসিতে পরে স্থানেতে আপন ; ৪ জপ-উপবাস স্নান করি সুবিহিত ধরি অস্ত্র, মুনিবৃত্তি কর আচরণ। ২৮ * যেই যোগ বহুকালে সাধন করা যায়, তাহা মুনির প্রভাবে অর্জুন যেন সদ্যঃ লাভ করিলেন। * তত্ব-“মূল প্রকৃতিঃ মহান অহঙ্কারো মন, পঞ্চ তন্মাত্রাণি পঞ্চ বুদ্ধীন্দ্রিয়ানি পঞ্চ কৰ্ম্মেন্দ্রিয়ানি পঞ্চ মহাভূতানি” সাংথ্য মতে এই চতুবিংশতি তত্ত্ব। মূল প্রকৃতি—সকলের করণীভুত সাম্যাবস্থাপন্ন সত্বরজমোরূপ ত্রিগুণাত্মিক।। মহৎ-বুদ্ধি স্বরূপ। অহঙ্কার— (মহৎ হইতে উৎপন্ন, ইহা সাত্বিক, রাজসিক ও তামসিক) “আমি করিতেছি”, “আমার গৃহ” ইত্যাদি অভিমান। পঞ্চ তন্মাত্র --সূন্ন অমিশ্র পঞ্চভূত। + তথন উৎসাহ বশতঃ অর্জুন এই রূপ আকার ধারণ করলেন যে তাহাতে বোধ হইল তিনি অচিরে বিশেষ উৎকর্ষ লাভে সক্ষম হইবেন। অর্থাৎ মহাসৌভাগ্য সুচক আকার ধারণ করিলেন । $ অর্থাৎ নির্জন স্থানে তপস্যা করিবে। || "Strengthened by this mantra, Arjun, Yield thy warrior-pride to none, Girt in arms perform thy penance, Holy rites by hermits done ; (st. 281 And this laksha guide will lead thee To the lofty golden hill, There, perform thy sacred duty, Do the Thunder-wielder's will !" And her heart was wrung by anguish, Like a creeper rent aud broke, And her voice was choked by tear drops, তৃতীয় সর্গ। ৪৫ “ইন্ত্রের প্রসাদ হেতু তপস্যা দুষ্কর করিবে যেখানে তুমি ইন্দ্ৰকীল-শিরে, • সে গিরির অভ্রভেদী সুনীল শিখরে নিৰে তােমা ক্ষণ মাঝে এই যক্ষবর” +1-২৯ } . Speaking thus unto the warrior Vyasa vanished from his view, And obedient to his mandate Came the yaksha tried and true : Warrior Arjun, faithful yuksha, Found a true friend, each in each, For the pure are quick in trusting, And their love not far to reach." Sts 28-31. l'enance of Arjun, * ইন্দ্ৰকীল-হিমালয়ের শৃঙ্গ বিশেষ। ভাবির জীবনী দ্রষ্টব্য। + যক্ষবর-এক গুণবা যক্ষ ব্যাসের আদেশে হিমালয়ের পৰ্বত প্রদেশে অর্জনের পথ-প্রদ শক হইয়াছিলেন। যক্ষেরা পার্বত্য-জাতি বিশেষ। তিব্বত ও হিমালয়বাসীরা যক্ষ, গুহক, কিন্নর, গন্ধৰ্ব্ব ও কিরাত ইত্যাদি নামে অভিহিত হইত। প্রসিদ্ধ হিব্বত-পৰ্য্যটক মৎ- জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা রায় শ্রীযুক্ত শরচ্চন্দ্র দাস বাহাদুর সি, আই, ই, (C.1. E.) মহােদয় দুই বার হিমালয় অতিক্রম করিয়া তিব্বত ও লাসা নগরে গমন করিয়াছিলেন। তৎকালে তিত- জাতীয় সুযোগ্য লামা উগেন গিয়াসে। তাহার পথ প্রদর্শক ও সাহায্যকারী ছিলেন। এই শ্লোক পাঠে উক্ত ঘটনা স্মৃতিপথে উদয় হয়। The Hon'ble W., W. Rockhill, American Minister at the Court of Pekin in the Preface to his Edition of Surat Chindia Dus's “ Journey 10 Lhasa and Central Tibet" thus notices the Lama's work : “This introductory note would not be complete if further reference were not made to the Babu's faithful Companion and Assistant in his two Journeys to Tibet, Lama Ugyen-gratso. The Lama who is a Tibetan from Sikkim and connected with the reigning fainily of that State...... went to Tibet to bear tribute from his lamasery to the heads of the church, and brought back with him the passport which enabled Chirndru Das to make his two Journeys to Tibet, in both of which he accompanicd himn rendering him everywhere true and valuable service. "The discovery by Sarat Chandra in 1882 of the true dimensions and shape of Lake Palti seemed to Sir Alfred Croft so important that in June 1883, he despatched the Lama to cover the same ground again in order to verify and complete the survey made by the Babu. He also explored the Lhobrak (Manas valley). His services have been reward- কিরাতা। কহিয়া অৰ্জ্জুন বীরে এ রূপ বচন • তথা হতে গেলা চলি ব্যাস তপােধন ; সাক্ষাৎ আদেশ রূপে তখনি তাহার রাজ-রাজ-চর যক্ষ দিল দরশন *। ৩০ সহচর যক্ষ। প্রণমি অৰ্জ্জুনে, তার মধুর বচনে লভিল সখার প্রায় প্রীতি যক্ষবর, } ed by the Indian Government with the title of Rai Bahadur, a silver medal and a grant of money." Preface. pp. xi-xii. * রাজরাজচর-অর্থাৎ যক্ষ উপরের শ্লোক, ৪র্থ সর্গের শ্লোক, বাঙ্গাল। রঘুবংশের ১৫শ সর্গের ১৩ কে ও তৎটাকা দ্রষ্টব্য। রাজ শব্দের অর্থ যক্ষ, তাহাদের রাজা কুবের রাজ-রাজ। হিমালয়ের উত্তর পশ্চিমে কৈলাস পর্বতে তাহার রাজধানী অলকানগরী। হিমা- লয়ের প্রত্যন্ত-দেশবাসী অর্ধসত্য জাতিরা পার্বত্য রাজ (অর্থাৎ যক্ষ) জাতীয় বলিয়া অদ্যাপি “রাজবংশী” নামে পরিচিত হয়। “রাজা প্রভো নৃপে চন্দ্রে যক্ষে তিয়শয়োঃ ইতি বিষ্ণ। কুবেরের আদেশে নির্বাসিত কোন উচ্চ পদস্থ যক্ষ “মেঘদূতের” নায়ক- কশ্চিৎ কান্তা-বিরহ-গুক্ষণ। স্বাধিকার-প্রম শাপেনাস্তং গমিত-মহিমা বর্ষ-ভোগেন ভক্ত। যক্ষশ্চক্রে জনক-তনয়। স্নান পুণ্যেদিকে স্নিগ্ধচ্ছায়া-তরুষু বসতিং রামগিৰ্য্যাশ্রমেধু।” মেঘদুত ১ সঃ ১। “Where Rama-giri's shadowy woods extend, And those pure streams where Sita bathed, descend, Spoiled of his glories, severed from his wife, A banished yaksha passed his lonely life ; Doomed by Kuvera's anger to sustain Twelve tedious months of solitude and pain." Wilson. কালিদাস প্রাচীন গান্ধার (Candalaar) দেশের লােককে গন্ধ বলিয়া বর্ণন করিয়াছেন। রঘুবংশের ১৫সঃ ৮৮ শ্লোক অষ্টব্য। ভরত তাহাদের উপর আধিপত্য স্থাপন করেন, যথা- “সে দেশে ভরত অতুল সময়ে জিনিল। উদ্ধত গন্ধর্ব নিকরে ; অস্ত্র শস্ত্র এবে করি বিসর্জন বাদ্যযন্ত্র তারা করিল ধারণ।” ১৫ সঃ ৮ মনুসংহিতা অনুসারে যক্ষ ও গন্ধর্বদি পার্বত্য জাতির রজোগুণ-প্রধান যথা- “গন্ধর্ব গুহক। যক্ষা বিবুধ সুচরা যে। তথৈবাষ্পরসঃ সৰ্ব। রাজসত্তমা গতিঃ।” মনুঃ ১২। ০৭। রাগুণের আধিক্য বশত, বোধ হয়, যক্ষ প্রভৃতি জাতি রাজশব্দে অভিহিত।

তৃতীয় সর্গ। ৪৭ স্পৃহা ও বিশ্বাসে তার পুরিল অন্তর- বিশ্বাস জনমে আশু সুজন মিলনে । ৩১ পুনঃ উদয়ের তরে গমনে রবির উজ্জল সুমেরু-কুঞ্জে প্রবেশে তিমির তেমতি উন্নতি কল্পে পার্থের গমনে ধীরে আক্রমিল শােক তেজী ভ্রাতৃগণে ।। ৩২ সবিশেষ আলােচিত কাৰ্য্যে হিতকর ভ্রাতৃপ্রেমে উপজিল যে দুঃখ দুর্ভর a * যক্ষ অর্জুনকে প্রণাম করিলেন ও তাহার প্রিয়বাক্য শ্রবণে তাহাকে সুহৃদ মনে করিলেন। শ্লোকাংশ—“বিশ্বাসয়তা সতাং হি যোগঃ”। সাধুগণের মিলনেই পরস্পরের মধ্যে বিশ্বাস জন্মিয়া থাকে। + পুনৰ্ব্বার সতেজে উদয় হইবেন বলিয়া সূর্য অস্তগমন করিলে, উজ্জ্বল মুমেরুকুঞ্জে ক্রমশঃ অন্ধকার প্রবেশ করে। উৎকর্ষ লাভের জন্য অর্জনের দু-গমন হেতু তেজসমন্বিত যুধিষ্ঠিরাদি অতৃগণের মধ্যে দুঃখ অতি ক্লেশের সহিত প্রবেশ করিল। "As a darkness fills Sumeru When the god of day departs, Parting from the warrior Arjun Filled with grief his brothers' hearts; (st. 32) But dispelled by sense of duty,-- Though so bitter was their lot, Sorsow in the royal broihers Yielded to a higher thought ; Hope and trust in Arjun's prowess, Hatred of the common foe, confidence in brighter future, Quelled the sense of present woe. Shadows leave the hours of daylight, Seck the stillness of the night Sorrows left the war-like brothers, Filled Draupadi in their might; And as snow-flakes fill the lotus Rising tear-drops filled her eye, But to weep werc inauspicious, Though her bosom heaved a sigh." Sts. 32... 36. Penance of Arjun, , কিরাতৰ্জ্জুন। সমভাবে চারি ভাই করিলা বহন, লঘু জ্ঞান হ’ল তাহা বিভাগ কারণ। ৩৩ নিজ ধৈৰ্য, ব্যাসবাক্যে অটল বিশ্বাস, শত্ৰু-প্রজ্বলিত আর রােষের উচ্ছাস, অর্জুনের পরাক্রম—এ সব কারণে পাইল স্থান দুঃখ তাঁহাদের মনে। ৩৪ ত্যজি তাই মহাতেজা চারি সহােদরে কৃষ্ণারে ব্যাপিল দুঃখ একাধার প্রায় ; দ্রৌপদীর দুঃখ। ছাড়ি যথা দিনে চারি উজ্জ্বল প্রহরে ঢাকে তমঃ কৃষ্ণপক্ষে একাই নিশায় ।। ৩৫ যদিও আকুলা পার্থ-দর্শন-ইচ্ছায়, তবু কৃষ্ণা অশ্রুপাতে ভাবি অমঙ্গল, নেত্র না মুদিলা, যাহে অঞ অবিরল । ছল ছল, ইন্দীবরে হিমবিন্দু প্রায়। ৩৬ অকৃত্রিম প্রেমরসে সরস বিমল প্রেয়সীর দরশন পার্থ মহাবলী আগ্রহে গ্ৰহিলা যেন পথের সম্বল, প্রদানিয়া সুপ্রসন্ন মানস অঞ্জলি ৪। ৩৭ * বিশেষ বিবেচনার পর উৎকর্ষ লাভের জন্য অর্জুনের প্রবায় গমন স্থিরীকৃত হইয়াছিল বলিয়া তজ্জনিত দুঃখ চারি ভাতার পক্ষে ক্লেশকর হয় নাই। তাহাদের মধ্যে বিভক্ত হওয়াতে যেন সেই দুঃখ লঘু জ্ঞান হইয়াছিল। + দিবাভাগের সৌর তেজঃসমন্বিত চারি প্রহরের সহিত তেজস্বী চারি ভ্রাতার উপম।। তমেরাশি ঐ চারি প্রহরকে আক্রমণে অক্ষম হইয়া কৃষ্ণা ( অর্থাৎ কৃষ্ণপক্ষের) রাত্রিকেই আবৃত করে। অর্জুনের বিয়ােগদুঃখ ভাবনায় কৃষ্ণা ( দ্রৌপদী) একাই অধীর হইলেন। * যাত্রাকালে অশ্রুবর্ষণ নিষিদ্ধ। তথাপি কৃষ্ণা চক্ষু মুদ্রিত করিতে পারিলেন না। ৪ প্রবাস গমন সময়ে রমণী-প্রদত্ত আহার্য দ্রব্যাদি লইয়া যাওয়া শুত। “রাপিত পাথেয়ং পথি ফেমায় ভবতি ইতি জাগমঃ” মল্লিনাথ। অর্জন মন ভরিয়া যেন ফ্রৌপদীর দর্শন রূপ পাথেয় গ্রহণ করিলেন। অথাৎ অত্যন্ত আগ্রহের সহিত কৃষ্ণাকে দেখিতে লাগিলেন। “Look of tenderness and sadness Did her woman's glances send, As a dear and sad memento To a loved and parting friend ; (st. 37) ক ১৯ তৃতীয় সর্গ। ব-গজ বিক্ষোভিতা গ্রীষ্ম-নদী প্রায় ॥ ধৈৰ্য্য অংশে সমাকুলা ক্ষত্ৰ-রাজরাণী কহিতে লাগিলা ক্লেশে মনের ব্যথায় বাষ্প রােধক্ষীণ কণ্ঠে গদ গদ বাণী-৩৮ “শত্রুর কপট-পঙ্কে মগন গৌরব দ্রৌপদীর উক্তি। সম্পদের প্রায় তুমি উদ্ধারিবে গুণে ; যে অবধি দুঃখ-হর তপঃসিদ্ধি তব নহে পুর্ণ, এ বিরহ না ভাবিও মনে। ৩৯ “লভিরে যশঃ, কি সুখের লিগায় কিম্বা লােকাতীত কাৰ্য্য করিতে সাধন বিশেষ প্রয়াস যার নিরুদ্বেগ মন, যায় তার কোলে সিদ্ধি অনুরা প্রায় ৫। ৪০ * বিধাতা সৃজিলা ক্ষত্রে লােক-রক্ষা তরে, লুপ্ত সেই ক্ষাত্র তেজঃ শত্রু লাঞ্ছনায় ; And her heart was wrung by anguish, Like a creeper rent aud broke, And her volce was choked by tear drops, Sad ber accents as she spoke " Sole restorer of our glory, Now, alas, in darkness lost, Let thy manly heart and purpose By no saddening thought be crost : For in quest of fame and glory, And of deeds which records fill, Fortune ever leans to heroes Labouring with a dauntless will !" Sts. 37 to 40, Penance of Arjun. * বহুতি বিলোড়নে উছু ভাবাপন্ন। গ্রীষ্মকালের স্বল্প-লা নদীর সহিত ধৈৰ্য্যভ্রংশ বিক্ষোভিতা মানিনী জৌপদীর উপমা লতি মনােহর। । তোমাদের গৌরব শক্ত কপট ব্যবহার রুপ কমে মগ্ন । সম্পদ লক্ষ্মীর ন্যায় সেই গৌরব তুমি নিজ গুণে উদ্ধার করিবে। । যশ ও মুখের লিগায় যিনি এইরূপ উদ্যোগশীল, যশঃখাদির মসি(স্ত্রী) যা করি, তাহার বশবানী হয়।

কিরাতাৰ্জ্জুন। জয়-শীল তেজস্বীর জীবনের প্রায় চির প্রিয় অভিমান হত শক্তকরে *!৪১, “আগুজন মুখে গ্লানি করিয়া শ্রবণ সংশয়ে দুখেতে লাজে নত রাজগণ ; বসুধা-ব্যাপিত যশঃ চন্দ্রাতপ প্রায় অরিকৃত পরাভবে সঙ্কুচিত হায় !! ৪২ “পূৰ্বের বিক্রম কাৰ্য তাহে লুপ্ত প্রায় , সুখ্যাতি ও সেইরূপে অস্তিত্ব-বিহীন ; তেমতি ঘটিল ক্ষয় ভবিষ্য আশায় দিনান্তে সূর্যের তেজ হয় যথা ক্ষীণ। ৪৩ “হেন পরাভব রিপু দিয়াছে তােমায় পারি স্মরিতে তাহা, সহিব কেমনে? * শক্ত তোমাদের ক্ষাত্র তেজ ও অভিমান হরণ করিয়াছে। + দুঃশাসনাদিকৃত অপমানে তােমার দিগন্ত ব্যাপী যশঃ বিলুপ্ত হইয়াছে। নিম্নে ০৭ শ্লোক ও তৎ টাকা ভ্রষ্টব্য। * তাহে-অর্থাৎ শক্ত পাবে। “Kings in glory rule the wide earth, Conquering foemen in the strife, We have lost that kingly glory Dear to warrior as his life, Till the chiefs of distant regions Doubting heard our tale of shame, Stainng all our former valour And our world-embracing fame! Tale of shame which dims our future, Hides each deed of valour done, - As the shadow of the evening Hides the gliminers of the sun, Tale of wrong and bitter insult Rankling like a cruel smart, And the thought of pain will freshen When, O Arjun, thou shalt part !” Sts. 41-44, l'enance of Arjun তৃতীয় সর্গ। সেই ক্ষত আৰ্ত্ত হয়ে নূতনের প্রায় ব্যথিবে হৃদয় শুষ্ক তােমারি বিহনে। ৪৪ “দন্তভঙ্গে বিকলাঙ্গ মাতঙ্গ যেমন অভিমান-নাশে তৰ বিরূপ মূরতি শত্রুর প্রতাপে তেজ হারায়ে আপন, শরতের মেঘাবৃত প্রভাত যেমতি *। ৪৫ “বীরত্ব-অভাবে অস্ত্র রয়েছে লজ্জায়, । সেই অস্ত্র জালে শােভা নাহি তব আর যশং-ক্ষয়ে, ক্ষীণ-পয় পয়ােধির প্রায়, + রূপান্তর যেন হায় হয়েছে তােমার ! ৪৬ “এই যে কবরী শিরে আছে ভাগ্য বলে, আকর্ষিত দুঃশাসন অনাথার প্রায় ১ ১৮ শরৎকালের প্রভাত মেঘাবৃত হইলে তাহা রাত্রিকাল হইতে অভিন্ন দৃষ্ট হয়, অর্থাৎ বিশেষ অন্ধকার হয়। কিন্তু মধ্যাহ্ন মেঘাচ্ছন্ন হইলে সেইরূপ অন্ধকার হয় না। + অথাৎ অকর্মণ্য তাবে রহিয়াছে। জলক্ষয়ে সমুদ্রের ন্যায় যশয়ে তোমার রূপান্তর ঘটিয়াছে । ও পূর্বের ১৫ ও ৪২ শ্লোক স্রষ্টব্য। * Like a wounded forest-monarch Changed thou art, thy glory faded, Void of pride and poinp and prowess Like the day by darkness shaded ; And the arms that once bedecked thee Long unused have lost their gleam, Form of pride hath changed and withered, Like the summer's dwindled stream ! By these tresses, young Duhstīsun Dragged me to the council hall, Still unbraided, powerless Arjun, They remind thee of thy fall ! What is K'shatra,--true born warrior, - If he fails to help and save, What is Kārmuk--bow of battle, If its fails the true and brave ? " Sts. 45-48. Penance of Arjun.

কিরাতান। পরাভবি তেজোবল তব সভাতলে, সেই ধনঞ্জয় তুমি এখন কি হয় ?। ৪৭ “সেই ত ক্ষত্রিয় যেই সাধুত্রণে রত, * রণ কৰ্ম্মে সদা কম সেই ত কাৰ্ম্মক ; + নিজ অর্থ মত কাৰ্য্যে হইলে বিমুখ হবে এই উক্ত পদ মূলে কলুষিত +। ৪৮ * ক্ষত্রিয়-মূল ঋথে যাহারা ক্ষ হইতে রণ করিতে সক্ষম, ক্ষত্রিয়কুল। + কাক-মূল অর্থে যাহা কৰ্ম্ম প্রভাব দেখাইতে পারে, ধনু। ৫ শত্রু জয় করিয়া নিজ গৌরব রক্ষা করিতে না পারিলে তােমায় ক্ষত্রিয় ও ধনুর্বিদ্যা বৃথা। রঘুবংশে এইরুপ আছে- “ক্ষত হতে ত্রাণ করে, ইহার কারণ মহান ক্ষত্রিয় নাম খ্যাত বিভুবনে ; ইহার অন্য কাজ করে যেই জন ধিক্ তার রাজভোগে কলঙ্কী জীবনে २७मः ! যৌপদীয় শোকৰণ সম্বন্ধে মহাভারত ভ্রষ্টব্য। যথা- “ধার কৃষ্ণা গুণবতী, কাহর হইয়া অতি গান্ধারীর লইতে শরণ। দুঃশাসন ক্রোধ ভরে, গর্জিয়া খাইছে রড়ে পাঞ্চালীর পাড় সেই ক্ষণ। সুদীৰ্য চিকুর ভার, সুনীল কুঞ্চিতকার, তাহে গিয়া সত্বর ধরিল। রাজয় ও শেষে, পাঞ্চালীর যেই কেশে সিক্ত কৈল মন্ত্রপূত জল । পাণ্ডবের বীৰ্য্যরবি, দুঃশাসন পলাতৰি সেই কে ধরে করি বল। অসাখাই নাথবতী যদিও দ্রৌপদী সতী, তথাপি দুদ্ধি প্রশাসন। তঁার দীর্ঘ কে ধরি, বলে আকর্ষণ করি নতা পাশ করে গনন।

তৃতীয় সর্গ। সত্তা মাৰ অৰশেষ দৈবে দুর্নিবার— নিষ্প্রভ হইয়া এৰে তৰ গুণ চর সমদুঃখে ধরি যেন সাদৃশ্য আমার গণিছে, অর্জুন, তব ভবিষ্য উদয় ।। ৪৯ কম্পমান কদলীরে, বলে ইলাইয়া শিয়ে, বায়, যথা করে আকর্ষণ। তথা নৃপনলিনীরে, দীর্ঘকেশী দ্রৌপদীরে টানিতে লাগিল দুঃশাসন।” মঃ ভাঃ, সাপ, পুতি পর্বাধ্যায়, ৬৫ অঃ। রাজকৃষ্ণ রায়। এই অমানুষিক দুর্ব্যবহার কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ও ভারতে ক্ষত্রিয়বংশ ধ্বংসের মূল কারণ। তাহা কেবল ভীম কর্তৃক দুঃশাসনের রক্তপানে পর্যবসিত হয় নাই। এই ঘটনা মুল ভট নারায়ণের “বেণীসংহার” নাটক লিখিত। * যাহার কেবল অস্তিত্ব মাত্র অাছে তদ্রুপ, অর্থাৎ গুণ-গৌরব-রহিত। “ Vain thy virtues, mute thy glory, And inglorious is thy might, Or partaking of our sorrow Do they imitate our plight ? “But they rashly tempt thee, Arjun, Lion's wrath the hunters shun- Duty for thy worth elects thee As the day elects the Sun ! For a hero's deed of valour Fills the glorious rolls of fame, And a hero's name is foremost When they count each warlike name; "Be a hero in thy striving, And if sometimes in thee rise Thoughts of sadness and of sorrow, Indra helps the brave and wise !" Sts. 49-52. Penance of Arjun. * তোমার গুণাবলি আমার স্যায় মলিন ভাব ধারণ করিয়াছে। বাসােপটি পা বাৱা সেই গুণাবলি উৎকর্ষ লাভের প্রত্যাশা করে। তদ্রুপ আমিও তোমার ভবিষ্য উন্নতির পেক্ষা করিতেছি ৫৪ কিরাতাৰ্জ্জুন। “আক্ষেপ দিয়াছে ভ্রমে রিপুরা তােমায় * কেশরীর কেশ যেন ছিড়িল বারণ। কাৰ্য-সিদ্ধি চাহে তােমা গুণে যােগ্যতায় তেজেতে রবিরে ভজে দিন-শ্রী যেমন ।। ৫০ “সৰ্ব্বলােকাতীত অতি যােগ্যতা আপন কাৰ্যেতে সার্থক করে যেই মহাজন সভায় পুরুষ-সংখ্যা-গণনা সময় অদ্বিতীয় বলি তার হয় পরিচয়। ৫১ “প্রিয়জন তরে, পার্থ, অকারণে হায় যে দুঃখ ভাবিয়া তব আকুল পরাণ, সে সব অশুভ ক্লেশ বাসব-কৃপায় জয়ার্থ যাত্রায় তব হবে অবসান। ৫২ “বহু দিন নিরুদ্বেগে সে বিজন বনে থাকি একা না পড়িবে প্রমাদে কখন, স্নেহ-দ্বেষ পরিপূর্ণ যাহাদের মনে করে তারা সাধুরেও বিপদে মগন ।” ৫৩ “মহর্ষির বাক্য আগু করিয়া পালন মনােরথ আমাদের কর গাে পূরণ ; কাৰ্যসিদ্ধি করি হেথা ফিরিবে যখন, ইচ্ছা মম, দিব বক্ষে গাঢ় আলিঙ্গন ৪।” ৫৪ * মে-অজ্ঞানতা বশতঃ, ১৬ কে দ্রষ্টব্য। + তুম তেজস্বী বলয় কার্যসিদ্ধি বা জয়- তােমার অধীন হইবে। তেজঃসমন্বিত সূৰ্য্যকে দিনলী ত্যাগ করে না। । যদিও সে বন প্রদেশে বিঘ্নের সম্ভাবনা নাই, তথাপি সদা সতর্ক থাকা কর্তব্য, কারণ রাগ-দ্বেষ-বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সাধদিগেরও অনিষ্ট করিতে পারে। $ মূল শ্লোক—তাও কুন্ বচনং মহর্ষে মনোরথা নঃ সফলীকুরুখ । প্রত্যাগতং ত্বাহস্মি কৃতাৰ মেৰ নােপপীড়ং পরিকাম।"

তৃতীয় সর্গ। দ্রৌপদীর হেন রূপ বচন শ্রবণে নব ভাবে পরাভব উথলিল মনে, জলিয়া উঠিলা পার্থ দেব দিবাপতি উত্তর গমনে তেজ ধরেন যেমতি * | ৫৫ সমন্ত্র দিলেন অস্ত্র ধৌম্য পুরােহিত ; লভি তাহা সৌম্য পার্থ হইলা ভীষণ সম্মুখে পাইলা যেন রিপু উপনীত +, হিংসা কার্যে শান্ত মন্ত্র ভীষণ যেমন +। ৫৬ লইলা কাৰ্ম্ম ক খ্যাত ভীষণ টঙ্কার, • হে ব্যর্থ অরি প্রতি আকর্ষণ যার ; “ Free from every secret evil Do thy penance lone and long, Guard thee from each lurking danger, Secret foe who smites the strong ; “Duty calls thee! Part we, Arjun, Do the saint's behest in peace, And our dearest hopes fulfilling Seek once niore our dear embrace ! Thus spake Drupud's daughter Rowsing Arjun's wrath, He was like the red sun In the northern path ; And his mighty weapons Manfully he wore, Like a spell terrific Form of terror bore 1 Sts. 53-56. Penance of Arjun. * গ্রীষ্মকালে সূৰ্য্য উত্তরগামী হইয়া প্রখর হা ধারণ করেন। । অর্জন স্বভাবতঃ শান্তমূৰ্ত্তি। সম অস্ত্র লাভ করিয়া ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করিলেন। সম্মুথ শত্রুকে দেখিলেই বীরের তেজঃ যেন এলত হইয়া উঠে। * মন্ত্র স্বভাবতঃ শান্তিকার্যে প্রযুক্ত হইয়া থাকে। কিন্তু মন্ত্র প্রতিহিংসা কৰ্য্যে প্রযুক্ত হলে অতি ভয়ানক ভাব ধারণ করে।

৫৬ কিরার্জুন। শাণিত নিঞ্জিংশ অসি সহ মহা তুণ বিপক্ষে গলক্ষিত লইলা অৰ্জ্জুন * ৫৭ বজ্রের প্রহার-ছিদ্র খাণ্ডব দাহনে যশঃ-প্রায় দেহ-তেজে ঢাকি বীরবর । ধরিলা কবচ চারু খচিত রতনে, জল নক্ষত্রে চিত্র যেমতি অম্বর। ৫৮ যক্ষ-প্রদর্শিত পথে নির্বাধ গমনে চলিলেন হিমাচলে পার্থ বীরবর দ্বৈতবনে ক্ষণ তারে সজল নয়নে নিরখিলা শশাকাকুল তাপস নিকর। ৫৯ বাজিল দুন্দুভি দিব্য দিগঙ্গনা-করে, সুর-পুষ্প-পাত-লক্ষ্মী শােভিল গগন • । * ত্রিংশৎ অর্থাৎ ৩০ অঙ্গুলি পরিমাণ খড়গ। তুণ পৃষ্ঠদেশে থাকে, অতএব সম্মুখস্থ শর অদর্শনীয়। অর্জুনের যুদ্ধে পুষ্ঠভঙ্গ ছিল না। । খাব বন দাহন কালে ইন্দ্রের বজ্রাঘাতে অর্জুনের রত্নখচিত বৰ্ম্মে (সাজোয়া) বই- তৰ হিজ হইয়াছিল। অর্জনের উজ্জ্বল অঙ্গ জ্যোতিঃ নির্গত হয়। সেই ছিদ্র সমূহ যেন আবৃত করিয়াছে। উজ্জ্বল রত্নের দ্বারা খচিত বৰ্ম্ম নক্ষত্ররাজি-বিয়াজিত আকাশের শোভা ধারণ করিল। “Bow the dread of foemen, Arrows keen and dread, And the well-filled quiver, And the shining blade, (st. 57) And the gem-wrought armour, Like the star-wrought sky, On his deep-scarred person Donned the warrior high ! Guided by the Yuksha To the hills he went, Hermits filled with sorrow Pious wishes sent ; And the sky breathed music, Flowers fell from above, And the Ocean's breakers Clasped the Earth in love !" (st. 60) Sts. 57--60. Penance of Arjun.

৫৭,
তৃতীয় সর্গ। :
শুভ বার্তা কহি সিন্ধু প্রফুল্ল মহীরে
দিলা যেন তীর-উর্মি-ভুজে আলিঙ্গন *। ৬০
ইতি ভারবি কৃত কিতাৰ্জ্জুন কাব্যের বঙ্গানুবাদে তৃতীয় সর্গ।
ভারবির প্রভা-বি আগে সুপ্রকাশ
ছিল মাঘে মেঘাবৃত যথা দিনকর,
বঙ্গের ভাষায় সেই কাব্যের বিকাশ
করিলা নবীনচন্দ্ৰ কবি-গুণাকর।
অর্জনের উৎকর্যলাভাথ গমন জগতের পক্ষে শুভজনক ব্যাপার। পারিজাত পুষ্পবৃষ্টি
লক্ষ্মী (শোভা) আকাশে দৃষ্ট হইল। সমুদ্র এই মঙ্গল ঘটনা আপন পত্নী-রূপিণী পৃথিবীকে
জানাইয়া যেন তাহাকে মনের উল্লাসে তীরসমীপন্থ তরঙ্গরূপ বা প্রসারণে আলিঙ্গন
করিলেন। “শিশুপাল বধে” এইরূপ আছে—
লদল-শায়ী, প্রলয়-বান্ধব,
তীরে সমাগত হেৰি নাৰায়ণে
অসরি মুখে উঠিলা অর্ণব
উত্তাল কল্লোল-বাহ উত্তোলনে।” ৩য় সং ৭৮ কে।
মহামহোপাধ্যায় কোলাচল মল্লিনাথ লুরি বিরহ ঘণ্টাপথ নাম ঢাকাবলম্বনে -
শেখর-পদা-ধৌত-চট্টগ্রবাসী নবীনচন্দ্র দাস কবি-গুণাকর কর্তৃক অনুবাদিত।
বিশেষ অষ্টব্য।
দ্বিতীয় সর্গের শেষ গোক ভাবির রচনা-পদ্ধতি অনুসারে নিম্নরূপে শােভা অর্থে “লী”
পদ সমন্বিত করা হইয়াছে-
শােভিলা বিকীর্ণ-তেজা মুনি সন্নিধানে
নররাজ, স্ফুট ওষ্ঠ সুহাসি ছটায়,
গুরুর সম্মুখে যথা স্ফুরিত কিরণে
শােভে শশী লক্ষ্মীযুত ষােড়শ কলায় ৫৯।

কিরাতান। নর্গ। সর্বজনপ্রিয় পার্থ গিয়া ন মায়ে দেখিলা সুপৰু শখে বিদা ধণী,. যেমতি প্রেয়সী পূর্ণ যৌবনের সাজে কটি-তটে কলহংস মেখলার ধ্বনি ।১ হরষে হেরিলা বীর গ্রামের সীমায় অবনত শালি ধান্যে পূর্ণ বনস্থলী ; নাহি পঙ্ক; শােভে সরে পঙ্কজ আবলী- এ সব শরত-শােভা উপহার প্রায় ।।২ # শরৎ বর্ণনা। * শরৎকালে পৰু শস্য শােভিত ভুমির সহিত পুর্ণ যৌবনা গোষণা প্রেয়সীর উপমা এতি মনােহর। শস্য ক্ষেত্রের কলহংস মালায় সহিত প্রেয়সীর কটির চন্দ্রহারের তুলনা। তাই গমন কালে বনিত হয়। জন মাঝে-জন পরে, অন্য অর্থ (প্রেয়সী সম্বনে) সীজন সমীপে। মূল গেৰু- ততঃ স কুজৎফলহংস-মেলাং -পাক-শাহিত-পাতাশা। উপাসসগোপনং জনপ্রিয় প্রিয়াং ইসমিত-যৌবং ভূবং ১ মধুবংশে এইরুপ আছে- বিচ কমলে শশাঙে গৃহের সরসী, করবে ভাসে মনে হংস আল- যেন মুহাসিনী আহা পদ্মী রূপসী কাটে বাজে ৰায় শিখিল মেখলা। সঃ । * এ সময়ে শালি (শাইল) বা কলম বা ফলগুয়ে নশির হইয়াছে। অর্জুন খায় পয় ইত্যাদি শরৎকালের প্রদত্ত উপহার স্বরুপ দেখিলেন। রঘুবংশে এইরূপ অাছে- বিয়াজিল টি শান্তি নিখিল রায় দেখি হয়ৰিত ধু। সি শরৎ বিজীর এ সৰ হৰিতে হয় কমল সনে, হাসিল গs" এ স । । म চতুর্থ সর্গ। হেলিপপ আঁখি যেন শনােবর দেখে সৰুৰীৰ খেলা, বিয়ে মগন ; খিয়ায় বিলাস দৃষ্টি নােতা মনােহর হরিয়া মােহিল পুটী কিরীটীর মন । ৩ কলমের চারু নােভা কমলের সনে হেরি জলে, হরষিত পার্থ বীর- সুদুল্লভ অনুরূপ বস্তুর মিলনে জনমে অপূৰ্ব শােভা, সদা প্রীতিকর । ৪ সরােবরে পাঠানের উচ্চ বিলােড়নে ভাসমান পদ্ম-রেণু করে বিতাড়িত, ফেনরাশি সহ তাহে জল দমশনে মূল কমলের শ্রম হ’ল বিদূরিত । * ঋলে প্রােঙ্গ (গ) মাছের বিচরণ বর্ণিত হইয়াছে। তাহাতে প্রেয়সীর চল নে শোভা অর্জনের মনে পড়িয়াছে। + কলম (শালি খাদ্য ও কাল (গল্প) উভয়ে সৌন্দর্য্য অসুখগ, উভয়ে এল মধ্যে জন্মিয়া শোভা পাইতেছে। যােগ্য বস্তুর এইরুপ একত্র অবস্থান-জনিত উৎ-শোভা অতি দুর্লভ। মূল লােক- “তুতো পখন কলম সোহধিক সবানিয়ে খামিলি রমণীয়। সুদুলতে লাহতি কোংভিনন্দিতু প্রকলীঃ অনুর-সঙ্গমে। এ সঃ । শালি (শাইল) থান্ত বঙ্গদেশে প্রচুর পরিমাণ জন্মে। রঘুবংশের সর্গের ৩৭ কে এব্য বলা -পাগল্প-প্রণতাঃ কলমা ইৰ তে মধু। কল সংবামঃ উৎখাত-প্রতিরােপিতঃ । “উলিয়া শালি য়ােপিলে যায় মেয়ে বশ, পরাজিত নাগণ প্রণমি অযু পদে, প্রসাদে হয় পুনঃ পেয়ে রাজ্য, ভরে নিল। হন।” সঃ ৩৭। * সরোবরে পক্ষে কোন গাশি পতিত হইয়া থাঢ় রুপে আচ্ছাদিত কমায় ভাল - কিরাতাজুন। শরতে সরিৎকুল ক্ষীণবেগে যায়, তরঙ্গের রেখান্বিত সৈকত নিচয় শােভে খেত ক্ষৌম প্রায় তটিনীর গায়, নিরখি অর্জুন বীর প্রফুল্ল হৃদয়। ৬ রক্ষিতেছে শালি ধান্য কৃষক-ললনা, পরিয়া বন্ধুক, সূক্ষ্ম কেশরে শশাভিত, চারু ভুরু মাঝে, যেন করিছে তুল । তা সহ অধর-শােভা অলক্তে রঞ্জিত ।।৭ •• বলের মত দেখা যাইতেছে, ঐ সমস্ত পদ্ম -পদ্মের ম জন্মায়। কিন্তু পাঠন (বােয়াল) মৎসের বিলোড়নে ভাসমান কেশর রাশি তাড়িত হইয়া জল দৃষ্ট হওয়াতে ঐ ভ্রম দূর হয়। * ধবল বালুকাময় সৈকত ভূমি ( তীরবর্তী চর) নদীর ক্ষীণ দেহে খেত ক্ষৌম অর্থাৎ রেশমী বস্ত্রের হার শতা পাইতেছে। মূল শ্লোক- “কৃতে মিরেখং শিথিলত্বময়তা শনৈঃ শনৈঃ শান্ত রয়েণ বাণি।। নিরীক্ষা নেমে স সমুদ্র-ঘােষিতং তরঙ্গিতং ক্ষৌম-বিপা-সৈকত।” খুবংশে এইরূপ আছে- শমতে সরিৎ কুল হৈল সুতর পঙ্কহীন পথ ঘাট চলিতে মুগম- এ রূপে কি সাধ যাত্রা উৎসাহ প্রথম বিজয়ার্থে ঘুরে গেরিলা ঋতুবর?” ৪ সঃ ২৪। পুনশ্চ-“প্রবাৰে কৃশা এবে কোশল-নন্দিনী, শয্যায় শােতেন পাশে শয়ান কুমার, শরতে ক্ষীণাঙ্গী যথা সুর-তরঙ্গিনী পূজা-পয় উপহার পুলিনে যাহার।” রঘুঃ ১• সঃ ৬৯। + কৃষক-বালিকারা সূক্ষ্ম কেশর-বিশিষ্ট রক্তবর্ণ বাধুলি ফুলে তাহাদেয় কপাল ভূষিত করিয়াছে। তাহাদের অধরােষ্ঠ অস্তি। দ্বারা রঞ্জিত। রঘুবংশে এইরূপ আছে- “রক্ষিতে হরিৎ শস্য কৃষক-অঙ্গনা, ই-তলে বসি তারা গাইছে মুম্বনে ই-পরাজয় আদি রঘু বীরপন- বেশ শঙিলা রঘু শৈশবে যৌবনে।”, স২ * ।

চতুর্থ সর্গ।
৬
শল্পের কেশর বাল-অরুণ-লাহিত
নিক্ষেপিছে মুহুর্মুহু পীন পয়ােধরে,
ঘৰ্ম্মের পুলকে রেণু হয়ে প্রসারিত
বাড়ায় স্বভাব-শােভা তাদের শরীরে *৮
কপােল লাগিয়া দোলে কর্ণ-উতপল
আকর্ণ নয়ন প্রভা পড়ে তদুপরে,
হেরি ক্ষেত্রে হেন শালি গােপিকার দল
কৃতার্থ গণিলা পার্থ শরৎ ঋতুরে ।। ৯
শেষ রাত্রে গাভীকুল ছাড়ি গােচারণ
যাইছে বৎসের তরে উৎসুক অন্তরে
অক্ষম ধাইতে বেগে, পয়ঃধারা ঝরে,
কৌতুকে দেখেন তাহা ইন্দ্রের নন্দন। ১০
গােষ্ঠ বর্ণন।
দেখিলা-শরতে এক সবল শরীর
বৃষভ অপর বৃষে করি পরাজিত,
ভাঙ্গিছে নদীর তীর গজিছে গভীর,
যেন দর্প মূর্তিমান জয়-শ্রী-শােভিত ।।১১
শরতে তটিনী-তীর ছাড়ি মগতি
চলিছে গাভীর দল, তুষারধবল,
।
* তাহাদের অঙ্গে পদ্ম-রেণু সমূহ ঘৰ্ম্ম জলে বিস্তৃতি প্রাপ্ত হইয়া শোভাবৃদ্ধি করিতেছে।
। এবষ্ণুতা শালি ধান্য ৰক্ষণে নিযুক্ত। কৃষক-মণীরা শরৎ ঋতুর শােভা স্বরূপ। তাহা
দের কর্ণে দোদুল্যমান পদ্মরূপ দুষ। আয়ত চক্ষুর প্রায় শোভিত।
+ মধুবংশে এইরূপ আছে-
“ধুর বিক্রম হেরি যেন খেলা ছলে
বিশাল ককুদ-শালী মত্ত বৃদলে
ভাঙ্গিছে নদীর তীর শৃঙ্গের প্রহারে,
অপার উৎসাহ যেন শমিতে না পারে।”

। খসিছে টতে খেত দুকুল যেমতি, উপজিয়া অর্জুনের মনে কুতুহল। ১২ দেখিলা বের কাছে যত গােপগণে। য়েছে তারা পশুদের সহােদর প্রায়, গৃহ-প্রেমে হয় তারা প্রেমিক কাননে নিজ সরল যেন পশুরে শিখায় । '১৩ গােপ-রমণী। গগাপিনীৰ মুখ, চুল কুণ্ডল-প্রভায় রঞ্জিত অরুণ রাগে কমলের প্রায়, উড়িছে অলক শিরে যেমতি প্রমর, মুহহাসে পরকাশ শন কেশর। ১৫ মন্থনের বন্দু চারু ভুজ বিক্ষেপণে টানিছে গােপিনী, খাস মােধেতে, তাহার * উপরে ৩ কে অষ্টব্য। নদীর তটদেশে বহুদুর ব্যাপ্ত বেতবর্ণ গভীর পাল যেন খেত রেশমী বস্ত্রের ব্যয় দেখা যাইতেছে। ঐ গাভী সমূহ তট হইতে চলিয়া যাওয়াতে উক্তরূপ থেক যন্ত্র যেন মীর কটা হইতে খসিয়া পড়িতেছে। মূল ক—“বিমুচমালৈপি ত মরং গাং হিমানীবিশদৈঃ কাষকৈ। সমদীনাং পুলিনৈঃ কুতূহলং গল দুকুলৈ লৈ ইবাদধে। ১২ কালিদাস সেনা শ্ৰেণীকে জল প্রবাহরূপ বর্ণন করিয়াছেন যথা- “চলিক পশ্চিমে সেনা ছাড়ি সহগিরি সমু-প্রবাহ প্রায় ; যেই পারাবার পয়গামের শরে গিয়াছিল সরি, সেনা-মোতে সহ সনে মিলিল আবার।” রঘু ও স৩। * গােপগণের সয়লগ বের গরু সকলে অনুকরণ করিয়াছে। গােপে প্রায়ই শােনার হে বশে বাস করে। * চল এ কুণ্ডলের একার সহিত এভাতের সুকিয়নের উপমা; গােপঞ্জীগণের মুখ যেন পরে স্থা, কৃষ্ণবর্ণ চূর্ণ কেশ যেন অমর, সমুহ পংক্তি বেন পথের মধ্যস্থিত নেও খে। মৃদু হাসিতে তাহাদের শন শােঙ্গা যুগান্ত।

চ কাপছে অধর যৈন পল্লব লতার ; নড়িছে ঘন ধন পাখ-বিবর্তনে । ১৫ মন রে বেগে গােঠের প্রাঙ্গণে কপিছে কলশী, মৃদু মৃদঙ্গের ধ্বনি । উঠিতেছে মুহুংমুহ, প্রেমানন্দ মনে মেঘের গর্জন মে নাচিছে শিখিনী। ১৬ দেখিলা অৰ্জুন হেন গােপিনীর দল, মন্থনে পীবর স্তন ঈষৎ কম্পিত এম ভরে সুমলিন নয়ন কমল, নৃত্যে রত বারবধূ সম বিরাজিত । ১৭ } নাহি পথে বক্রভাব এবে বর্যা-শেষে, যান পার্থ ; বৃষে শস্য খাইছে দু পাশে, ঘন পঙ্কে সীমন্তিত চক্রের রেখায় সতত সঞ্চারে পথ পৃথক দেখায়। ৪ ১৮ * গোপ-রমণীদিগের নবনীত (ননী) প্রস্তুত করণ সময়ের অবস্থা বর্ণিত হয়েছে। মন্থনের শ্রমে তাহাদের অধরােষ্ঠ লতার পল্লবের ন্যায় ঈষৎ কম্পিত হইতেছে। মখনের সময়ে দুফের কুম্ভ হইতে মৃদঙ্গের স্থায় ধ্বনি হইয়া থাকে মূল গেৰু- *ব্ৰজাজিরেথষুদ-না-শঙ্কিনী শিখণ্ডিং উন্ময়ৎ যােষিতঃ। মুহঃ প্রশ্নে মথাং বিবর্তনে নং কুমেন।” ১০ । নাচের সময়ে কীদিগের চক্ষু মে মলি দৃষ্ট হয়। $ বর্ষাকালে কাদা ও কালের অন্য পথ খাট বক্রতা ধারণ করে। এখন (অর্থাৎ শয়ও কালে) পথ ঘাট সুগম। ( প্রোকের চাকা অব্য)। গাড়ী চায় রে ও পথে সীমন্তোয় সৃষ্ট হইতেছে। নিত্য চলাচলে প্রশস্ত পথ সমূহ পার্শ্ববর্তী ক্ষেত্রাদি হইতে, পথকু ভাষায়। ফুল গােক “পপতি পলাং অহঙ্গা ৰিক্ষিতা বুযােগান্তি-শস্থ-সম্পদ, খাসীমতি সামান্য } , কিয়তান। # আশ্রম-মণ্ডপ সম কুসুম-সুহাসে গ্রামে গৃহলকুঞ্জ দেখিলাহরুষে, সুবৃত্তি পুরুষগণ বেষ্টিয়াছে তায়, একাগ্র যাহারা কর্ম বেশ বানায় । ১৯ শরতের শােভা হেরি এ রূপ ভারতী অপৃষ্ট কহিল যক্ষ অর্জুনের প্রতি । হেরিতে সে রূপ যিনি লােলুপ অন্তর, ভাবুক নীরব কবে পেলে অবসর ?—২০ “শুভ নিয়তির ফল-পরিণতি প্রায় । নির্মেঘ শরৎ ঋতু, সুনির্মল-জল, যকৃত বর্ণনা। কৃষি আদি ফলদান করিয়া ধরায়, হে পার্থ, জয়শ্রী তব করুক উজ্জ্বল ৪। ২১ “পরিপাকে রম্য হয় শস্য এ সময় ; না স্থিরতরা নদী; মহী পঙ্ক-বিরহিত } * অর্জুন দেখিলেন, ধার্মিক লোকেরা পুষ্প-শােভিত লতা কুঞ্জ রূপ গৃহে বাস করিতেছে, তাহারা কাৰ্য্য বাসনা ও বেশ ভুযাদি বিষয়ে একাগ্রচিত্ত, অর্থাৎ সরলভাবাপন্ন। + বিনা জিজ্ঞাসা কাহাকেও কিছু বলা যুক্তিসঙ্গত নহে। “পৃষ্ট কস্যচিৎ ক্ৰয়াৎ”। কিন্তু বলিবার উপযুক্ত সময় উপস্থিত হইলে সুবুদ্ধি ব্যক্তির নীরব থাকা শােভা পায় না। মূল গোক--“ততঃ স সম্পে ক্ষ্য শরণয়িং শয়গুণালোকন-লােল-চক্ষুষং। উবাচ যক্ষ মনােদিতােহপি গং ন হীঙ্গিতজ্ঞেহিষময়েইবনীদতি ২০ + শরৎ ঋতু পৃথিবীর তাবহ দৈবের পরিণাম অর্থাৎ ফলদানে সময়। ৪ উপরে ৬ শ্লোকের লকা ষ্টব্য। । এই কালে খাদ্য পরিপৰু ইয়া মনোহর দেখা যায়। ১ম ও ২য় # এইব। মূল লোক-পৈতি শস্যং পরিণাম-রম্যতাঃ নদীনোত্যং অপরুতাং মহী। বৈগুণৈঃ সম্প্রতি সংস্তফ-স্থির হিয়ােহিতং প্রেম নাগম-এ । ২৪।''২৫ গেৰু ষ্টব্য।

চতুর্থ সর্গ।
বরষ-লক্ষ্মীর প্রেম স্থি-পরিচয়
নৰ নৰ গুণে এৰে হ’ল তিরােহিত। ২২
আকাশে বলাকা আর দেখা নাহি যায়,
কিষা ইন্দ্রধনুষুত ঘন জলধর ;
তবু নভঃ শােভে নিজ রূপে মনােহর
কি কাজ স্বভাব-রমে বাহিক শােভায় ।। ২৩
“বর্ষার কদম্ব-বায়ু-পতির বিহনে
মলিনা কৃষাঙ্গী এবে দিগহনাগণ; !
চপলার হেম হার উজলি গগনে
নাহি শােভে পয়ােধরে পাণ্ডুর বরণ ১। ২৪
“ময়ূরের কেকা রব এবে মদ-ক্ষয়ে
চাহে শুনিতে কেহ; সুখে শােকগণ
* বর্ষার শোঙ্গাদি-মুলক প্রেম দীর্ঘ পরিচয় (acquaintance) বশতঃ স্থিরতর হইলেও
শরতের নব নব গুণের প্রকাশে তাহা লােকের কাছে নিরর্থক বােধ হইতে লাগিল।
প্রেম (ভালবাসা) গুণের বশ, পরিচয়ের বশ নহে।
। মূল জোক-পন্তি নাম্মি বিশদ পতত্রিণে।
ধতেচাপা ন পয়োদ-পংয়।
তথাপি পুষ্ণাতি নভঃ শ্রিং পয়ং
ন রম্য আহার্য অপেক্ষতে গুণম”। ২৩
যাহা অভাব-সুন্দর তাহাতে সাহাৰ্য্য (আনােপ্যমাণ) ৰা আহিক গুণ বা গোতালি
অনাবশ্যক। শরৎ কালের আকাশ স্বভাবতই মনােহর, বর্ষার শাে-বিধায়ক শ্রেণী
ইন্দ্রধনু ইত্যাদির অভাবে শারদীয় রাকাশের কোন ক্ষতি কৃতি হয় নাই।
। বর্ষার বায়ুতে কথফুল প্রস্ফুটিত হয়। এবষ্ণুত বায়ু রূপ পতির অভাবে দিগনার
শরৎ কালে বেন বিরহিণীয় স্থান।।
৪ পয়োধর-এক অর্থে মেঘ, অ অখে দিগনাদিগের গুন। শরতের মেখ পা
(শ্বেত) বর্ণ ও বিদ্যুতের শোভা-রহিত। বিরহিণীৰ পয়ােধর পাণ্ড । হেম-হয়-
বর্জিত। শরৎ কালো মেঘ ও বিয়-স্নানা রমণীর পয়োধর পার না খেতৰ খাৰণ কৰে।
বিহিণীয় লক্ষ—“প্রােৰিতে মলিনাকশা” ইত্যাদি। সঙ্গে অব্যৈ ।
}

৬৬ কিভা। উম্মদ মাদানি করিছে এব— • গুণেই উপজে প্রীতি, নহে পরিচয়ে *। ২৫ “ধরিয়া পিঙ্গলবণ পরিপক ফলে নমিছে বিশাল শালি ধারাশি ক্ষেত্ৰ-জলে বিকশিত নীল উতপলে, বিকীর্ণ সৌরভ যেন লভিতে প্রয়াসী । ২৬ “শােভে জল, দ্রবীভূত ইমু প্রায় বিমিতি-মৃণালের হরিত বরণে, রঞ্জিত-আরক্ত পদ্ম পত্রের আভা, পিঙ্গল-কলম-ধান্ত-শিখার ক্ষুরণে। ২৭ “ট কুসুমের হাসি বন-জি-মুখে, নীল ঝিণ্টী ফুল যেন বিমল নয়ন, শ্বেত সপ্তপর্ণ-রজঃ ধরিতেছে বুকে বায়ু-বিচালিত সুক্ষ্ম উড়নী যেমন ৪। ২৮ মূল- প্রিয়ভেংধিকৃত। ন সংস্তবঃ।” উপরে ২৩ মােক এইব। “গুণঃ পুজা-নং নচ লিঙ্গং ন যয়।” কু সম্ভব। * পীবী পৰু শালি খান্য ফল ভয়ে নত হইয়াছে। তাহা যেন পয়ে বিকাশ সুগ জানিতে পাঝিয়া ঐ সুগন্ধ লাভের প্রত্যাশায় নিকটে এটি নীল পদ্মকে প্রণাম করিতেছে, কবির উৎকে। + মৃণালেয় হরিৎ বর্ণ, পয় পত্রের আরক্ত আতা ও পৰু শালি ধারে পত বর্ণ জলে পতিত হওয়াতে মাঠের জলরাশি মিত্রবর্ণ ধারণ করিয়াই, ও দ্রবীভূত ইনুর শােখা প্রাপ্ত হইয়াছে। ইহা অতি মনােহর চিত্র। মূল শ্লোক- মৃণালিনীং অনুমঞ্জিং খি। বিভিন্ন অঙ্গেজ-পলাশ-লােভয়া। পয়ঃ রৎ শালি-শিখা-পিণজিং হং থং ইবাহিৰিবি। ২০ $ বন-জির মুখে বিকশিত পুপ সি রুপ; নীল বর্ণ ঝাল ফুল যেন তাহার চক্ষু পর্ব বা ভিম গায়ের এত খেতৰ কেয়াশি উলী রূপে বনৱালি বা আবৃত কমি বায়ু বিকশিত হওয়াতে, ঘনজি যেন ঐ বের হয় উনী কে চাপিয়া এতে।

৬৭
চতুর্থ পর্গ।
“নপথ নৰে দীপ্ত বিদ্যুৎ-অনলে,
নিয়ে গুপন-তাপ খেভ মেঘ জলে,
ৰিৱল সলিল কণা ধরিয়া অন্তরে
শােতে নতঃ কমলের মুক্তি সমীরে *। ২৯
“হেন জল, বনরাজি, আকাশ উদ্দেশে
থাইছে মরাল-মাল ; তাদে, সুনে
পরস্পর মিলি যেন বিমল আকাশে
আলাপিছে মেঘমুক্ত দিগঙ্গনাগণে ।। ৩০
গাে-চারণ হতে গাভী যায় গােষ্ঠ পানে
ছাড়ি পাল, বৎস হেতু উৎসুক অন্তরে
লইয়া সুখাদ্য যেন পীন পয়ােধরে
অবিরল উ পয়ঃ ঝরিছে পালানে। ৩১
“গােষ্ঠের সমীপে বলি বৎসগণ সনে
ধরিল বিপুল শােভা সেই ধেনুগণে,
১৭
*, শরৎ কালে আকাশে বিদ্যুৎ বৃষ্টি হয় না। তখন মেঘ সমূহ খেত বর্ণ ধারণ করে ও
ছায়া দান করে। তাহাতে জলকণা অতি বিরল। সেই সময়ে পদ্ম প্ৰটিত হইয়া বায়ু
সুরভিত করে।
+ caীকে বর্ণিত জল, ২৮ শ্লোকে বর্ণিত নিয়াজি ও ২৯ গোকে বর্ণিত, আকাশ
উদ্দেশ করিয়া হংস শ্রেণ করবে, সব্ব দিকে ধাবিত হওয়াতে বোধ হইতেছে যেন শরৎ
কালের মেষ-মুক্ত যিক ( ১ সকল হংস-কুয়িত হলে অবরােধ-মুক্ত (অর্থাৎ সহ স্বাধীনতা
এও) ফুল-নারীর সায় স্পরের সহিত আলাপে প্রবৃত্ত। মুল গো-
"ভানাং পলি খাবাং ,
তৈঃ অমীখং খিতাঃ পত্রি
পুকুতে বারি-রোগ নির্গত
পরপরালাপং ইৰামলাশি,
মাতা এস.হইতে আসিলে যেইরুণ সন্তানের জন্য সুখাদ্য এব্য পানি থাকেন,
তপতীৰ বাৰে পালান এন্ড কন করিয়া যাইতেছে।

কিরান। যেমতি মন্ত্রের সহ শােভেন আহুতি জগৎ-পাবনী তারা, জগৎ-প্রতি, t। ৩২ “জিনিয়া ময়ুর কণ্ঠ মধুর সঙ্গীত শুনি গােপিনীর মুখে মুখে পুলকিত, যায় খাইতে শস্ত হরিণী নিকর বিষম ক্ষুধার বেগ বােধি অকাতর । ৩৩ “কলম নমিছে তারে দেহাগ্ৰ-শিখায় তথাপি নলিনী রােষে না করে আদর, সলিলে শুকায় যেন মদন জালায়- ধরিল পাণ্ডুর বর্ণ কলম নিকর । ৩৪ “হরিয়া সরােজ-রেণু জলকণাময় বহে বায়ু আকর্ষিয়া ভ্রমর নিচয়, অলিগণ কোথা যাবে ভাবিয়া না পায় ধৃতি-ভয়ে বিকম্পিত দুশ্চরিত প্রায় 4। ৩৫ - আহুতি বা হোমের সহিত মন্ত্রের যে রূপ শােভা, গাভীর সহিত বাছুরের সেইরূপ শোভা কল্পিত হইয়াছে। । আজাদি হবির হেও গাভী জগতের জননী স্বরূপ, ও জগতে মুখ্য শোধনী। “অগ্নৌ দাছতি সম্যক্ আদিত্যং উপতিষ্ঠতে। আদিত্যাং জায়তে বৃষ্টি, বৃষ্টে রং, ততঃ প্রজা।” মধু। রঘু বংশের ১সঃ শ্লোক দ্রষ্টব্য যথা- অনাবৃষ্টি হেতু যবে শুকাইয়া যায় মানব জীবিকা শস্য, অনলে তােমার প্রদত্ত হোমের মণি বরিষায় প্রায় এমবিয়া রক্ষা করে নিখিল সংসার।” রঘুঃ সঃ ৬ ৬ গতের আসক্তিতে ক্ষুধাও গণনীয় নহে। $ কলম ( শালি) খায় নতশির হইয়া যেন জল মধ্যে নলিনীৰ প্ৰেমণী হইয়াছে কিন্তু নলিনী তৎপ্রতি মনােযোগ না করায়, কলম বা জলের সঙ্গে সঙ্গে শুরু ভাব ধারণ করিতেছে। এই সময়ে ক্ষত্রে জল শুকাইতে থাকে ও ধান্তের শুষ্ক অবস্থা দৃষ্ট হয়। ৷ ৰায় পদ্ম-রেণু লইয়া প্রবাহিত হইতেছে, মধুলোভী অমর সকল তৎকর্তৃক আকৃষ্ট ওহে কোন দিকে গাইৰে স্থির করিতে পারিতেছে না। ধরা পড়িবার ভয়ে চৌদির এ অবস্থা ঘটে। h

চতুর্থ সর্গ।
“প্রবাললােহিত মুখে শুক পক্ষিগণ
পিঙ্গল কলম-শিখা করিয়া ধারণ
বিক শিরীষ পুষ্প সম দরশন
ধরে ইন্দ্রধনু-শােভ বিচিত্র বরণ *।” ৩৬
এ রূপ কহিল যক্ষ, তখনি
হিমালয়। দেখা গেল হিমাদ্রির ধবল শিখর,
আবরিয়া রবিচ্ছবি সুনীল অম্বরে
যেন বিগলিত-জল শুভ্র জলধর। ৩৭
হেরে পার্থ উন্ধে হিম-ধবল শিখর,
সুবিশাল বনরাজি-খাম পাদ দেশে-
যেন হলধর-লক্ষ্মী শ্বেত কলেবর
মদরাগ-হীন, অধঃ ঢাকা নীল বাসে ।। ৩৮
ইতি শ্রীমহাকবি আরবি কৃত কিরাতাৰ্জ্জুন কাব্যের
বঙ্গানুবাদে চতুর্থ সর্গ।
ভারবির প্রভা-রবি আগে সুপ্রকাশ
ছিল মাঘে মেঘাবৃত যথা দিনকর ;
বঙ্গের ভাষায় সেই কাব্যের বিকাশ
করিলা নবীনচন্দ্ৰ কৰি গুণাকর।
এ প্রকারে নানা বর্ণে উপলক্ষিত শুক (টিয়া) পাখী সমূহ ই ধনুর রূপ ধারণ
করিয়াছে।
+ হিমালয়ের উর্দ ভাগ তুষারে ধবল, অধ্যে ভাগ বনমালি দ্বারা শ্যাম বর্ণ।
বলরাময় উর্দু দেহ স্বাভাবিক শুভ্র বর্ণে মনােহর দৃষ্ট হয়, অধাে দেহে নীল যন্ত্রে শােভিত।
মাছের নয় বর্ণনায় এইরূপ আছে-
কৃষ্ণাজিনে ঢাকা সেই খেত কায়
আঁটা কটিতটে পীত মুঞ্জ দাম,
যেন নীল বাসে সিত বলরাম
বাধা অন্তরীয় স্বর্ণ মেখলায়। শিশুপাল , সঃ
মহামহােপাধ্যায় কোলাচল মল্লিশাখ বিবিরচিত ঘণ্টাপখ টাকালখনে এলচন্দ্রশেখর
পাখ-গৌত-চটল-বাসী নবীনচন্দ্র পাস কৰি শক কর্তৃক অনুবাদিত।

কিরাতাৰ্জ্জুন পঞ্চম পর্গ। সুমেরু জিনিতে কি লঙ্ঘিতে অম্বর, দিগন্ত দেখিতে কিম্বা উৎসুক অন্তর, উঠিয়াছে সমুন্নত হিমগিরি-শির-- চলিলা সে হিমলে পার্থ মহাবীর *। ১ মুল ভোক-অথ জাগ্ন সু মেরু-মহীত ভসয়া দু দিগন্ত দিদৃক্ষয়। অভিষৌ স হিমাচলং উচ্ছি তং সমুদিতং নু বিলমিতু নভঃ।” ১ কুমার সবে হিমালয় বর্ণনায় আরম্ভ দ্রষ্টব্য যথা- অন্তরস্তা দিশি দেবতাত্মা হিমালয়ো নাম নগাধিরাজ। পূর্বাপমৌ তােয়নিধী বগাহ তিঃ পৃখিবা ইৰ মানদণ্ডঃ।” ১ সঃ ১ মাযের রৈবতক পর্বত বর্ণনার আরম্ভ এইরূপ “দেখিলা কেশব এবে রৈবতক গিরি, নীলমণি গাঁথা দেহে গৈরিক মাধুরী, উঠিয়াছে উর্ধদিকে রতন-আভায় ভেদি ভূমি ভুজজের খাস-ধূম প্রায়। শিশু বধ, ৪ সঃ ১ কৰিবর মধুদন দত্তের ধবলগিরি বর্ণনায় এরূপ অাছে- “বল নামেতে গিরি হিমাচল-শিরে অজভী দে-আত্মা ভীষণ দর্শন, সতত ধবলাকৃতি অচল অটল যেন উর্দ-বাহ সা গু বেশধারী নিময় তপঃ সাগরে ব্যোমকেশ শুলী।” তিলোত্তমা সম্ভব। পবির তায়াকুমার কবিরত্ন এইরূপ লিখিয়াছেন- “উদীয়মানারুণ-গ-রক্ত কর্ণ-গৌকাে ধবলাচহেয়। বিখরী-ব্রহ্মময়ী জনঃ ভাতি লৎ স্বর্ণমঞ্জীৰ মুর্তি। হিমালয় শৰ পম সর্গ। এক দিকে দীপ্ত গিরি ভানুর ভায়, * অন্য দিকে নৈশ-তম-সমাবৃত-কায় শিবের সম্মুখ যথা সুহাসে উজ্জ্বল, পৃষ্ঠদেশ গঞ্জ-চৰ্ম্ম-ধারণে আমল। ২ ।। ভূচর খেচর দেব এ গিরি-শিখরে করে বাস, না হইয়া দৃষ্ট পরম্পর— জগতের প্রতিকৃতি রূপ এ ভূধরে-- নিজ শক্তি প্রকাশিতে সৃজিলা শঙ্কর। ৩ * পুৰ্যোদয়ে হিমালয়ের এক দিকে অালে। অন্য দিকে অন্ধকার হয়। তক্রপ শিষের সম্মুখ দিক হাসিতে উল; পশ্চাৎ দিক কাল গজ ফর্মে আবৃত। মাঘের বৈবতক বনে এইরূপ আছে- “ঘন গজ চর্মে দেহ আবরি শঙ্কর বসেন তুষার-শীত হিমাত্রি-শিখরে ; শীত-উষ্ণকেশ নাহি পান গির সৰ্ব্বঋতু-সমাদৃত এই গিরিবরে। “মধ্যভাগে নববনরাজি-শ্যাম-রেখা ধৰি গিরি, স্ফটিকের সামুতে ধবল, শােভিলা যেমতি শিব খেত শুয়ে মাখা, বাধা যার কটি-তটে কাল ফদিল।” শিশু বধ, ৪র্থ সঃ ৩৪,৬৫। । হিমালয় এত বিস্তীর্ণ পর্বত-শ্রেণ যে দেবতা, মনুষ্য পশু পক্ষী ইত্যাদি সকলেই তথায় বাস করে, অথচ কে কোথায় থাকে কেই তাহা নির্দেশ করিতে পারে না। মাঘের শিশুপাল বধ এইরুপ আছে- “শােভিছে ঘরকা ভুধর নিয়ে, জলনিধি-জলে বেষ্টিত মুরতি ; বিনা থেকে বিধি গড়িলা তাহারে- যেন পৃথিবীর চারু প্রতিকৃতি।* সঃ ৩৪ কুমার সভা অষ্টৰ যথা- যজ্ঞৰােনিং অবেক্ষ্য বয় ‘সায় খরিত্রীরক্ষম। প্রজাপতি কল্পিতভাগ শৈলাশিপত্যং খং অতিও।' ১ম স ১৭ ৭ । কিরাতাৰ্জ্জুন। উঠিয়াছে শৃঙ্গ-রাজি ফুণী-ধবল * সানুদেশে স্বর্ণরেখা দেখিতে উজ্জ্বল, বিড়ম্বিছে শরতের শুভ্র মেঘ রাশি চপলার রেখা-যুত আকাশ পরশি ।। ৪ শােভে ভূমি মণি-তেজ-বসনে উজ্জল, সুর-বধূ লতা-কুঞ্জ ভুঞ্জিছে হেথায়, পুর-দ্বার সম শােভে শিলা-মধ্যস্থল ৪ পুষ্পবন শােভে তথা নগরের প্রায়। বারি-বরষণে মেঘ শ্বেত-কলেবর, নাহিক বিদ্যুৎ কিম্বা গর্জন তাহায় বিপুল-নিতম্ব-লম্বী হেন জলধর উঠিছে এ গিরি-দেহে নব পক্ষ প্রায় $। ৬ 8:२४ * * সর্পরাজ অনন্তের ন্যায় শ্বেতবর্ণ। * হিমালয়ের ঊর্ধ্ব শৃঙ্গ সমুহের সহিত শ্বেত মেঘের তুলনা। অধিত্যকাতি সোণার রেখা মেঘের বিদ্যুৎ রেখা সদৃশ। “শিশুপাল বধে” রৈবতক বর্ণনা দ্রষ্টব্য, যথা- “কোথাও সুবর্ণেপম বিজলী চমকে গিরি দেই ঢাকে মেঘ তুষিয়া চাতকে ; কোথাও সুবর্ণভূমে রবির কিরণ ঝলি করে দিবা-মুখ কপিণ বরণ।' মণি হইতে উথিত তেজে। রাশি সুক্ষ্ম বস্ত্র প্রায় পার্বত্যভূমি আবৃত করিয়াছে। $ নগরের বহিষ দুই পার্শ্বে উচ্চ স্তম্ভ বা মৃত্তিকা শুপে শােভিত থাকে। পার্বত্য পা দুই শিলার মধ্যস্থিত। | ইন্দ্রের বজ্রাঘাতে পুর্বকালে পর্বতের পক্ষচ্ছেদ হওয়া পৌষণিক প্রবাদ। শরৎকালে পয়ােমুক্ত শুভ্র মেঘরাশি হিমালয়ের শিখরদেশে উখিত হওয়াতে নবোপন্ন খেতৰ পক্ষের ফায় দৃষ্ট হইতেছে। এ সময়ে মেয়ে বিদ্যুৎ বা গর্জন থাকে না, এ জন্য তাহাতে পক্ষের ভ্রম হওয়া সব। রঘু বংশের ১৩শঃ । শ্লোক ও তৎটীকা দ্রষ্টব্য। মাঘের শিৎপাত বধে এইরূপ আছে “কোথাও সলিল-শুন্য শুভ্র মেঘ দল শােভে গিরি-দেহে ধৌত উত্তরীয় প্রায় ; যেন অর্ধ শিব-দেহ ভম্মেতে ধবল, জন্য অর্থ উমা-অঙ্গ-যোগে শােভা পায়।” । সও পঞ্চম সর্গ। ৭৩ গান পানে অনুকূল সুবিমল জলে * চলে দ্রুত স্রোতঃকুল শােভিত কমলে ; গুহা-শায়ী কুঞ্জরের দন্তের প্রহারে শােভন সােপান রাজি বিরাজিছে তীরে ।। কোথাও বিকচ নব জবা ফুল প্রথম সুললাহিত পদ্মরাগ মণির প্রভায় সানুর কনক ভিত্তি আৰক্ত-বরণ, পড়িয়াছে যেন তাহে সন্ধ্যার কিরণ ।। ৮ বিপুল কদম্ব ফুলে নিতম্ব শশাভিত, শ্যামল তমালদলে আকুল শিখর, আসারে তুষার-দ্রব ঝরিছে সুশীত, নিকুঞ্জে বিচরে মত্ত সুচারু কুঞ্জর ৪। ৯ . ** * শিশুপাল বধে গিরি-নদীর বর্ণনা দ্রষ্টব্য যথা- “গিরি নদী ভােগ নাহি করে কোন জন- হেন নি। সেনাগণ করিল মোচন, পানে গানে, স্রোতঃ জলে বসন ক্ষালনে, তুলি বিকসিত পদ্ম মৃণাল ভুঞ্জনে। সঃ ২৮ বহে মৃদু জল-রবে শৈল-স্রোতস্বতী, নারীণ-নাভি-সরে পড়ি বেগহীন, জঘন-সেতুতে ঠেকি নিবারিত-গতি, পীন গুন-তট বহি সলিলে বিলীন।” ৫ সঃ । বক্রীড়া-রক্ত হস্তীর দন্তের আঘাতে স্রোতস্বতীর তীর ভূমিতে যেন সোপান শ্রেণী (সিড়ি) রচিত হইয়াছে। ! স্বর্ণময় অধিত্যক দেশ পদ্মরাগ মণির তেজে যেন সান্ধ্য আকাশের ন্যায় অরক্ত বর্ণ ধারণ করিয়াছে। $ শিশুপাল বধের রৈবতক বর্ণনা দ্রষ্টব্য যথা- গাইছে বিহগ চ লম-যুত সরে কদম্ব-সৌরভযুহ পৰ্বত মাঝারে, বেগে উড়াইয়া মেঘে বহিছে পবন মূহুমুহু কঁপাইয়া কঙ্গলে বন।” সঃ ৩৬ ১০ ৭ কিরাতান। এ পর্বতে নাহি শৈল রতন-রহিত, নাহি গুহা, নহে যাহা নিকুঞ্জে রঞ্জিত, পুলিনে নলিনী বিনা নাহি স্রোতস্বতী, পুষ্প বিনা নাহি কোন পাপের পাঁতি *। ১০ অপর-বিহারে নদী মৃদু বিলােড়িত, নিবিড় নিতম্বে মঞ্জু মেখলা শিঞ্জিত ; লতা ও বকুলে হেথা জড়ায়ে আদরে ব্যাপিছে এ গিরি-অঙ্গ ভুজঙ্গ নিকরে । ১১ নানার-তেজোযুত তুষারধবল শিখরে ধরেন গিরি স্থির মেঘদল- পয়গামুক্ত শ্বেত, ইন্দ্রধনু-বিরাজিত, গর্জনে শৃঙ্গের ভ্রম করে বিদুরিত ৪। ১২ * হিমালয়ের সমস্ত শৈলে কোন না কোন রত্ন আছে, গুহা সমুহ কুঞ্জবনে আবৃত; তথায় এমন কোন স্রোতস্বতী নাই, যাহাতে পদ্ম (মুখস্বরূপ) ও তট ( জঘন) নাই, এমন কোন বৃক্ষ নাই যাহাতে ফুল ফুটে না। । নদী-বিহার কালে অপরাদিগের কটির মেখলা (চন্দ্রহার) ধ্বনিত হয়। উপরের । মোক ও তৎটীকা দ্রষ্টব্য। । এই পর্বতে লতা ও বকুল বৃক্ষ সর্পের প্রিয়। $ এই পর্বতের শৃঙ্গরাজি নানা বর্ণের প্রস্তরবিশিষ্ট হওয়াতে তৎ প্রয়ায় চিত্রিত, ও তুষায়ে বল বর্ণ। ইন্দ্রধনু-সুরঞ্জিত শরৎকালের শ্বেত মেঘ সমুহ শৃঙ্গে লাগিয়া ক্ষণকালের অঙ্ক স্থিরভাব ধারণ করিলে, তাহা শৃঙ্গ হতে অভেদ দৃষ্ট হয়; কিন্তু উক্তরূপ মেঘে গর্জন হইলে, তাহা শৃঙ্গ নহে বলিয়া না যায়। মাঘের রৈবতক বর্ণনে এইরুপ আছে - “অজস্র সহস্ৰ মেঘ ভীষণ মুরতি তুঙ্গ শিলাতট হ'তে উঠিছে সঘন, রোধিবার পুনঃ যেন তপনের গতি বাড়াইছে উর্ধে শির বিন্ধের মতন। ১ সঃ ২ অসংখ্য রতন রাজি নব প্রভাজালে সুষণের সানু দেশে করে ঝলমল ; ব্যাপ্ত মনােহর দেহ শ্যামল উপলে, প্রতি লতিকচয়ে শঙে অদিল।” ৩

পঞ্চম সর্গ।
৭৫
বিচ-কমল-রুচি মনঃ সরােবর
সদা চি, কল হংসে চারু শশাভা পায় ;
কলহ উমার সহ না সহি শঙ্কর
বিরাগে প্রমথ সহ রহেন হেথায় । ১৩
ওষধি-লতার জ্যোতি জলে গিরি-ভালে
উজলি বিমান সহ গ্রহ তারা দলে,
নভে মুখে সেই জ্যোতি হেরি নিশাকালে
স্মরিছে ত্রিপুর-দাহ প্রমথ সকলে ।। ১৪
বহেন জাবী উচ্চ শিলার উপরে ;
কোথাও সলিল রাশি ঠেকিয়া শিলায়
ঘুরিছে নিক্ষেপি ফেনা শীকর-নিকরে
শােভে তাহা উর্ধে শ্বেত চামরের প্রায় ৫। ১৫
* যদি পার্বতীর সহিত কোন সময়ে শিবের বিবাদ ঘটে, তিনি অনুচরগণ সহ এই
পর্বতে আসিয়া শান্তি লাভ করেন। কবির উৎপ্রেক্ষা।
+ শিব পূর্বকালে ত্রিপুর ধ্বংস করিয়া তাহা দাহ করিয়াছিলেন বলিয়া তাহার নাম
ত্রিপুরারি। রাত্রে ওষধিলতা সমুহ অলিতে থাকে। তটে উক্ত ঘটনা শিবারদিগের
মনে পড়িতেছে। নীচে ২৪ শ্লোক দ্রষ্টব্য। কুমার সম্ভবের ১ সর্গে এরূপ আছে যথা-
'বনেচরণাং বনিহা-সখানাং
দরী-গৃহহাৎসঙ্গ-নিষক্তভাস।
উৰন্ত যত্রৌষধয়ো জাং
অতৈল-পুরাঃ রহ-প্রদীপ। ১০
রঘুবংশে এইরুপ আছে-
শাল গজ, গলার শৃঙ্খলে
ওষধি লতার জ্যোতি করে ঝলমল,
অতৈল প্রদীপ রূপে সে লতিকা বলে
বিনানলে করি রঘু-শিবির উজ্জ্বল।” ৪ সঃ ৫
* গঙ্গার জলরাশি প্রন্তরের প্রতিরোধে ঘূর্ণায়মান হইয়া ফেনপুঞ্জে খেত বর্ণ ধারণ করিয়া
উৎক্ষিপ্ত হওয়াতে বেৰ উৰ্ধদিকে সঞ্চালিত এই চমরের গর দৃষ্ট হইছে। মনে

কিরাতাৰ্জ্জুন। হিমাদ্রি দর্শনে পার্থ বিস্মিত অন্তর বাসনা বুঝিয়া তার কুবের-কিঙ্কর আদরে কহিলা যক্ষ মধুর বচনে, যথ কালে শােভে বাক্য জিজ্ঞাসা বিহনে ১৬ যক্ষ কর্তৃক অভ্রভেদী হিম-শুভ্র সহস্র শিখরে হিমালয়-বর্ণন। বিভাগি সহস্র ভাগে বিশাল আকাশ । শােভিছেন হিমবান্, হেরিলে তাহারে আপনি লােকের হয় পাপের বিনাশ”। ১৭ “দুর্গম এ গিরি-মধ্য পরম গহন সতত আগমে কিছু হয়েছে বর্ণিত, পরম পুরুষ প্রায় দিগন্ত ব্যাপিত, কে জানে এ গিরিবরে বিন। পদ্মাসন” ? । ১৮ শিশুপাল বধের ৩য় সঃ ৩ শ্লোক দ্রষ্টব্য যথা- “ব্যজিছে শোভিয়া উভ পাশে তার মৃণাল ধবল যুগল চামর- আকাশ-গঙ্গার যেন দুই ধার বহিল অপু শােভিয়া সাগর।' ৩ * শ্রোতার মন বুঝিয়া বাক্য বলিলে তাহা প্রীতিকর হইয়া থাকে। জিজ্ঞাসা করা হয় নাই বলিয়া তাহা দোষের বিষয় নহে। পূর্বের ৪র্থ সঃ ১• শ্লোক দ্রষ্টব্য। * মাঘের রৈবতক-বর্ণনে এ রূপ আছে— “সহস্র শিখরে গিরি ব্যাপিলা আকাশ, সহস্র চরণে পুনঃ ঘেরিলা ধরায়, রবি শশী যেন আঁখি রূপে পরকাশ শােভিল। সহস্র-শির বিধাতার প্রায়। শিশু বধ ৪ সঃ ৪ । হিমালয়ের অন্তর্বর্তী অসংখ্য গিরিগুহা প্রভৃতি লােকের অগম্য। তদ্বিষয় কথঞ্চিৎ পুরাণাদিতে বর্ণিত হইয়াছে। দিগন্তব্যাপী এই গিরিরাজ সৰ্বব্যাপী বিষ্ণুর ন্যায় কেবল ব্ৰহ্মা কর্তৃক জ্ঞাতব্য। কুমারসম্ভবে সপ্তর্ষিগণ হিমালয়কে এইরূপে সম্ভাষণ করেন— ‘ানে ত্বং স্থাবরাত্মানং বিষ্ণুমাহস্তথা হি তে । চরাচরণাং ভূতানাং কুক্ষিরাধার গত ৬৭ পঞ্চম সর্গ। ৭৭ “বিকচ কমল চারু সরােবর-জলে, শােভে হেথা লতা-গৃহ চারু পত্ৰ ফুলে, যথায় আকুল হয় প্রেমে বামাদল পতির পাশেও মান যাদের অটল * | ১৯" “সুনীতি সুভগ জন লভে ধন জাল, সদা বাহে ধনদের পরম পীরিতি, ধন-পূৰ্ণ হেন গিরি ধৰি বসুমতী শােভেন বিভবে জিনি ত্রিদিব পাতাল।। ২০ = = = = = = = = " গাং অধস্যৎ কথং নাগো মৃণাল মৃদুভিঃ ফণৈঃ। আ-রসাতল-মুলাৎ ত্বং অবালশিষ্যথা নচেৎ।” ৬ সঃ ৪৮ সমুদ্র সম্বন্ধে কালিদাস এরূপ বর্ণনা করিয়াছেন - “শান্ত ক্ষুব্ধ তরঙ্গিত অসীম সাগর বিরাজিছে মহিমায় ব্যাপি দিগন্তর, স রজঃ তমঃ গুণে কেশব যেমতি, বণিবে স্বরূপ তার কাহার শকতি ?” রঘুঃ ১৩ সঃ ৫ * মগের বৈশ ক-বর্ণনে এরূপ অাছে - “অতি সুমধ্যম। যেই রমণী নিকরে প্রেমথ পতির প্রতি করে অইলা, সে সব মানিনী অসি এ গিরি-শিখরে ত্যঙ্গে রোষ প্রেমবশ হইয়া উহল।।” শিশু বধ ৪ স: ৪৫ । নীতিপর ও ভাগ্যবান ব্যক্তিরা এই পর্ব ধন প্রাপ্ত হয়। এই সমস্ত ধনের দ্বারা ধনপতি কুবেরের প্রতি সম্পাদিত হয়। এরূপ ধন-শিষ্ট প ত পৃথিবী ধারণ করিয়াছেন বলিয়া স্বর্গ ও পাতাল হইতে অধিক ধন গৌরবশালিনী। কালিদাস হিমালয়ের এরূপ বর্ণন করিয়াছেন--- “অনন্তরঙ্গ-প্রভব যস্য হিমং ন সৌভাগ্য-বিলোপি জাত। একোহি দোষে গুণ-নিপতে নিমতীন্দো: কিরণে ধিব। কু: সঃ ১ সঃ ৩ মাঘের রৈবতক বর্ণনা দ্রষ্টব্য যথা- “ধনী বণিকের সম সে গিরি হইতে লভে লোক নিরন্তর অমিত রতন, ৭৮ কিরাতাৰ্জ্জুন। পার্বতীর পিতা এই হিমগিরির নহে যার সমতুল এ তিন ভুবন, * নিবসেন হেথা শিব যােগেতে মগন, অসীম মহিমা যার লােকে অগােচর। ২১ “নিৰ্ম্মল পরম পদ পাইবার তরে জন্ম-জরা-হীন, ছেদি ভবের বন্ধন, লতে লােকে তত্ত্বজ্ঞান এই গিরিবরে, আগম হইতে যথা, তমঃ-বিনাশন।। ২২ “অপ্সরা-বিহার-শয্যা কুসুমে রচিত শােভে হেথা, পদচিহু অলক্তে অঙ্কিত, সংগ্রহি বৃহৎ প্রস্থে, অমূল্য জগতে ; সানুদেশে ঝলে তথা মণি অগণন।” শিশু বধ। সঃ ৯১ * শিবের পূর্বপত্নী সতী হিমালয়ের কন্যা রূপে জন্মগ্রহণ করিয়া পার্বতী ও উম। নামে প্রসিদ্ধ।। কুমার সম্ভব অষ্টব্য যথা- “অথবমানেন পিতুঃ ওযুক্ত। দক্ষ কচ্ছ। ভব-পূর্ব-পত্নী। সতী সতী যোগ-বিহঃ-দেহ। তাং জন্মনে শৈল-বধূং প্রপেদে।” ১ সঃ ২১ “তাং পার্বতীত্যাভিনেন নান্না বন্ধুপ্রিয়া বন্ধুজনে। জুহাব। উমেতি মাত্রা তপসো নিষিদ্ধ। পশ্চাৎ উমাখ্যাং সুমুখী জগাম”। ১ সঃ ২৬ + হিমালয় কেবল ভোগ-ভূমি নাই কিন্তু তত্ত্বজ্ঞ নোৎপাদক স্থান। শাস্ত্র হইতে যে রূপ তজ্ঞান লাভ হয়, তদ্রুপ শুদ্ধচিত। ব্যক্তিগণ এই পৰ্বতে বাস করিয়া মুক্তিলাভ করেন। মাঘের রৈবতক বর্ণনে এরূপ আছে— লভি হেথা মৈত্রী অদি চিত্তের শোধন, তাজিয়া অবি। আদি ক্লেশ যোগিগণ লভিয়া স-বীজ যোগ, বানে মুকতি না ভাবিয়া ভিন্ন জনে পুরুষ- প্রকৃতি।* শিশু যখ: । মঃ ৫

পম সর্গ।
৭১
বিকীর্ণ কেশের ফুল, অঙ্গ-ভঙ্গিমায়
লাঞ্ছিত, বিলাস-কেলি প্রকাশিছে তায় *। ২৩
জগৎ-পূজিত এই শীত হিমাচলে
জ্বলন্ত ওষধি লতা নিরন্তর জ্বলে,
নীতিমান হলে নৃপ সম্পদের রাশি
বাড়ে যথা, ক্ষেত্র-গুণে মহিমা প্রকাশি ।। ২৪
“এ পৰ্বতে ফুল ভরে নত তদল ;
ডাকিছে কুররী উড়ি; জলেতে কমল ;
পাদপে ব্যাপিত নদী ভূষিত উশীরে,
করীর শরীর তাপ নিবারিছে নীরে।। ২৫
“কপােল-ঘর্ষণে সুর-গজ-মদধার
লাগিছে তরুর স্কন্ধে, চারু গন্ধ তার
অলিপুঞ্জে মােহি, গঞ্জে আমের মুকুল,
অকালে কোকিল কুলে করিয়া আকুল ৪। ২৬
* এই পৰ্বতে অপ্সরাগণের বিহার চিহ্ন দেখা যায়—কোথাও অতির লাল পদচিহ্ন,
কোথাও মাথার ফুল পড়িয়া রহিয়াছে, ও পুষ্প রচিত শষ্যায় অঙ্গ-বিমদ বা চাপের চিহ্ন
+ রাজা নীতি সম্পন্ন হইলে যে রূপ সম্পৎ রাশি বৃদ্ধি হইতে থাকে তদ্রুপ হিমালয়ের
ক্ষেত্ৰ-গুণে জ্যোতির্লতা সমূহ তথায় অবিশ্রান্ত জলিতে থাকে। সকল পর্বতে জ্যোতির্পতা
জন্মে না ও সকল রাজার রাজ্যে প্রজার সুখ সমৃদ্ধি হয় না। এই সমস্ত ক্ষেত্র বা গুণের
মাহাত্ম্য পরিচায়ক।
মাজা খায়বা হইলে রাজ্যে সুখ সম্পৎ বৃদ্ধি হয়। রঘুবংশ অষ্টব্য যথা-
“ন্যায়বাহ'লে ৰাজা, বাঞ্ছা মত ধন
এজানেন কামরূপ। বনুধা আপনি।* স ৩০
। শৈল-স্রোতস্বতী বা নদীর দুই ধার ঘন বৃক্ষশ্রেণী ও উশীর তৃণ বা বেণ। গাছে আবৃত ।
এবস্তুত নদীজলে মজ্জনে হন্তীর দেহ-তাপ দূর হয়।
$ হিমালয়ে বৃক্ষের স্বদেশে মদমত্ত সুর-ইন্তী কপােল ঘর্ষণ করায়, তাহাতে মদ খামার
সৌরভ লাগিয়াছে। তাহা অমুকুল অপেক্ষা অধিক সুগন্ধবিশিষ্ট, তাহাতে ভ্রময় সমূহ
আকৃষ্ট হইয়াছে ও বসন্ত ভিন্ন অপর ঋছুতে ও কোকিল আনন্দে উৎফুল্প হইয়াছে-

কিরাতাৰ্জ্জুন
“বসুধা ত্যজিয়া সুধা আছে এ ভূধরে,
বাকি বানে যাহা বসি রসাতলে * ;
অপ্সরা বিচরে নিত্য এ চারু অচলে,
বহে তথা শ্রোতঃকুল কুল কুল স্বরে। ২৭
“জ্যোতির্পতা দীপ, চারু লতার কুটীর,
সুর-পাদপের নব পল্লব শয়ন,
কেলি-কল-শ্ৰম-হর কমল-সমীর,
এ সবে ত্রিদিবে ভুলে দেবাঙ্গনাগণ ।। ২৮
“ভবেশে লভিতে যবে উমা চাননা,
জল-জন্তু-বিলােড়নে বিললাল-নয়না,
করিলা তপস্যা জলে, স্বিন্নাঙ্গুলি করে
ধরিলা করা তার প্রভু এ ভূধরে । ২৯
সচরাচর বসন্তে আম্রমুকুলের সৌরভ লাভে কোকিল ডাকিয়া থাকে। নীচে ৪৭ প্লাক দ্রষ্টব্য।
কুমার-সস্তবে এরূপ আছে যথা--
“কপোল-কওঃ করিভিণিনেতু
বিঘা উতানাং সরল-ড্রমাণ।
যত্র তক্ষীরতয়া প্রসূত
সানি গন্ধঃ সুরভিঃ করোতি।” ১ সঃ ১
* সুধা বা অমৃত পাতালতি নাগরাজের অতি বাঞ্ছনীয়। কারণ বিন তা পুত্ৰ পক্ষিরাজ
গরুড় করে সন্তান নাগজাতির জন্য চন্দ্রলোক হইতে অমৃত আনয়ন করিলেও তাহা
দেবতারা গোপনে স্থানান্তরিত করেন। কবি বলিতেছেন, অমৃত নাগলােকে অপ্রাপ্য,
মর্ত্যলােকে অপ্রাপ্য হইলেও তাহা হিমালয়ে প্রাপ্ত হওয়া যায়, কারণ হিমালয় দেবতা ও
অপরদিগের বিহার ভূমি রূপে বর্ণিত। নীচে ৩০ শ্লোক দ্রষ্টব্য।
+ জ্যোতির্লতা সম্বন্ধে ২৪ শ্লোক, লতা-কুটীর ও পদ্মের বায়ু সম্বন্ধে :১৯ শ্লোক, ও পুষ্পশয্যা
সম্বন্ধে ২৩ কে দ্রষ্টব্য। হিমালয়ে বিলাসের এই সমস্ত উৎকৃষ্ট উপকরণ থাকাতে তাহা
দেবগণের বিহারযোগ্য। উপরে ১৪ কে ও তৎ টীকা দ্রষ্টব্য ।
পুরাকালে শিবকে স্বামী পাইবার জন্য পার্বতী, হিমালয়ে তুষার-দ্রব জমধ্যে মগ্ন
হইয়া তপস্যা করিয়াছিলেন। তখন জলজন্তুর বিলোড়নে তাঁহার চক্ষু সময়ে সময়ে চঞ্চল

পঞ্চম সর্গ। হইত, কিন্তু পােজ হইত না। এইরূপ তপস্থায় প্রীতিলত করিয়া শিব সাতিক ভাব বশত বেগাক্ত করে পার্বতীর কমল ধারণ করিয়াছিলেন। কুমার, ৫ম সর্গ অষ্টব্য যথা-- “নিনায় সাত্যহিমোংকিরানিলা সহ যাত্রীবাসতৎপর। পরস্পরাক্রন্দিনি চক্রবাকয়ে পুরােবিযুক্তে মিথুনে কৃপাবতী। ২৬ মুখেন সা পদ্মসুগন্ধিন। নিশি প্রবেপমানাধৰপত্ৰশােভিনা। তুষাবৃষ্টিক্ষত-পদ্মসম্পদাং সরোজসন্ধানমিষারোপা। ২৭ স্বয়ং বিশীর্ণক্রমপর্ণবৃত্তিতা, পর। হি কাষ্ঠ। তপসন্তয়া পুনঃ। তাপ্যপাকীর্ণমতঃ প্রিয়ম্বদা বস্ত্যপর্ণেতি তাং পুরাবি। ২৮ নিবাৰ্য্যতাং আলি কিমপায়ং বটু: পুনবিষ্ণুঃ * রিকােত্তর। ন কেবং যে মহতোপভাষতে শূণােতি তস্মাদপি যঃ পাপভাক । ৩ ইতো গম্যিামথবেতিবাদিনী চচাপ বাল। স্তন-ভিন্ন-বস্কয়।। রূপমান্থায় চ তাং কৃতস্মিত, সমাললম্বে বৃষকেতন। ৪ তং বীক্ষা বেপথুমতী সরসঙ্গটি নিক্ষেপণায় পদমুগ্ধতং উহন্তী। মার্গাচল-ব্যতিকরাকুলিতেব সিন্ধু শৈলাধিরাজ-তনয়া নবযৌ ন তছে।।। ৮ অদ্য প্রভৃত্যবনতাজি তবন্তি দাস ক্রীতপােভিরিতিবাদিনি চন্দ্রমৌলো। অহ্নায় সা নিয়মঞ্জং ক্লমমুৎপসর্জ ক্লেশ: ফলেন হি পুনর্নবহাং বিধতে”। ৮৬ ১১ ৮২, feattern Mr. R. C. Dutt, C.I.E. thus renders these exquisite lines into English " After rains the winter Saw the tire-less maid In the ice-bound water Where the Chukwas played ; And her lips were parted, Fragrant was her face, Like a water-lotus Soft and sweet her grace ! Fruit and leaf are food For hermits sterner still ; Even fruit she tasted not Nor touched a leaf for meal. By long endurance proved Tender though her frame “Aparna" yclept was she-- Maid of unlenfy fame. Let not this youth ope his lips To tell me such tale of shame Not alone the man who slanders, He who listens shares the blame : Turned away the damsel From the stranger guest, - Through the bursting wild bark Heaved her angry breast ! Smiling he embraced her, All disguise removed Uma gazed in wonder “Twas Siva she loved ! Like a trembling lotus Shook her tender frame, O'er her brow and bosom Quick the red blood came, Still with foot uplifted, Stayed not, could not go, Like a rock-bound torrent, Stopped its onward flow !

পঞ্চম সর্গ । “পাতাল অবধি জল করি বিলােড়িত সুধা হেতু দেবাসুরে মথিলে সাগর, অনন্ত-মন্থন রজ্জ-বেষ্টনে অঙ্কিত যেন সে মর উর্ধে ভেদিছে অম্বর! * ৩০ Maiden', so spoke Siva, "Take this hand of mine, Won by love and penance, Hence forth I an thine" With a fresher beauty Heavenly I'ma shone, For toil successful Revives the soul anon. Bridal of Uma." Ch. III, St. ix. * পুরাকালে দেবার মিলিত হইয়া মন্দর পর্বতের দ্বারা সর্পরাজ অনন্তকে মন্থন-রজু কৰিয়া সমুদ্র মন্থন করাতে পাতাল পর্যন্ত জলরাশি বিলােড়িত হইয়াছিল। ঐ সময়ে অনন্ত বা বাসুকির বেষ্টনে মন্দরের দেহে খাজ পড়িয়াছিল। এবষ্কৃত মন্দর পর্বত যেন এখন উদ্ধদিকে উখিত হইয়া আকাশ ভেদ করিয়াছে । দেবাসুর মিলিত হইয়া সমুদ্রমন্থনে লক্ষ্মী (ঐশ্বৰ্য), কৌস্তুভ মণি, ঐরাবত হস্তী, উচ্চেঃশ্রব। অখ, সুর, অমৃত ও পারিজাত পূষ্প ইত্যাদি উৎকৃষ্ট বস্তু লাভ করিয়াছিলেন। সমুদ্র মন্থন রূপ সুমহৎ ব্যাপার সৃষ্টিমধ্যে জনসাধারণের জাতীয় ঐক্য, উদ্যম ও তৎফলের পরি চায়ক রূপক স্বরূপ। ঐশ্বৰ্য্য বা অমৃত বন্টনের সময়ে লােভের উদ্রেক হইয়া সুর ও অসুরের মধ্যে ঘোরতর বিবাদ জন্মে ও যুদ্ধের সূত্রপাত হয়, যে যুদ্ধে এখনও ধরাপৃষ্ঠ রক্তে প্লাবিত হইতেছে। এতদ্বারা অনুমিত হয় যে পুরাতন কালে আর্যজাতিরা ঐকমত্য বলে তৎকালের জ্ঞাত জগৎ জয় করিয়া সর্বপ্রকার ধন, ঐশ্বর্য ইত্যাদি প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। তৎসম্বন্ধে যখন তাহাদের পরস্পরের মধ্যে বিবাদ উপস্থিত হয় তখন তাহারা পৃথক্‌ হইয়া পড়িলেন। এক দল সিন্ধুনদের পশ্চিমে বিস্তৃত হইয়া পড়িলেন। তাহারা “অসুর” নামে অভিহিত, প্রাচীন ইরাণীয় জাতীর প্রধান উপাস্য দেবতা অসুর বা অহুয়া মজদ, পুরাতন আসিরিয়া (Assyria) অনুস্থানের নামান্তর মাত্র। অন্যদল সিন্ধুনদের পুর্বদিকে আর্যাবর্তে বাস করিতে লাগিলেন। তাহাদিগের উপাস্য দেবত। সমুহ “র” নামে প্রসিদ্ধ। বলা বাহুল্য যে প্রসিদ্ধ ইংরেজ ও জর্মান প্রভৃতি ইউরোপীয় জাতি একতা ও বুদ্ধির বলে বর্তমান সময়ে প্রকৃতপক্ষে সমুদ্রমন্থনে সক্ষম হইয়াছেন ও নাগলোক পর্যন্ত সমস্ত পৃথিবী জয় করিয়া অপার ঐশ্বৰ্য্য লাভ করিয়াছেন। পাতাল (antipodes) আধুনিক আমেরিকা (Americt)। বিষ্ণুর ৫ম অবতার বামন কর্তৃক দৈত্যরাজ বলি তথায় নির্বাসিত হইয়াছিলেন। vide note p. 84- ৮৪ কিয়াচ্ছন। “স্ফটিক-রজত-ভিত্তি মৱাল-ধৰল * ইন্দ্রনীলমণি যােগে অধিক উজ্জ্বল, বিস্তারিত ছায়া তার ভানুর প্রভায় মধ্যাত্নেও জোছনার ভ্রম জনমায়। Professor Max Muller in his Introduction to the Science of Religion observes : "In their languages, as well as in their religions, traces may possibly still be found, of pre-historic migrations of men from the Primitive Asintic to the American Continent either across the stepping stones of the Aleutic bridge in the North, or lourer South by drifting with favorable winds from island to island, till the hardy canoe was lunded or wrecked on the American Coast never to return to the Asiatic home, from which it had started." "Anantı (the Infinite) is the great Serpent God who is said to hold the universe on his hoods and was the symbol of the sky or infinite space, studded with the starry and planetary systems. Allusion has probably been made to the region of the serpents, of whom the Dragon is symbolic of Chini, and the largest species, known as the Bout, abound in the tropical parts of Ameriur, believed to be the land of the Antipodes or Nuga-lokır, the country of serpents. Serpent-worship was known in Ancient America as in India. Mr. Squier in his “Serpent Symbols observes that the idea existed in Americ. The great centnry of the Asteis was encircled by a serpent umsping its tail, and the great Calendar stone is intwined by Serpents bearing human heads in their distended jaws. The principal god of the Acters was Tonac-atle-coatlı which means the Serpent-sun. The Merican quet-sal coatle was represented in the form of a serpent. Vide my Anc. Geo. Asia, pp. 55 to 69. * স্ফটিক ও মতের ভিত্তি বা সানুদেশ খেত রাজ ইংশের তার ধবল। তাহতে ইন্দ্রনীল মণি থাকাতে ধবলত্ব আরো উজ্জ্বল হইয়াছে। এরুপ ভিত্তির খেতন্নিগ্ধ ছায়া সূর্যের কিরণে বিস্তৃতি লাভ করিয়া মধ্যাহ্নেও তােমার প্রশ্ন জমাইতেছে। মাঘের রৈবত বর্ণনায় এরূপ আছে- “সমুখে রজত সামু-স্বচ্ছ দরপণ, পড়ি তাহে মােহর ভার কিরণ কাঞ্চন-গুহাতে মুহঃ হইয়া বিম্বিত হত-ৰাষা তরুণীরে কষিছে লজ্জিত।” ঃ সঃ ০৭ পঞ্চম সর্গ। ক “এ গিরিতে বহে চির ধীর সমীরণ, তাহে বিকশিত হয়ে কমলের দল করিছে বিলাস-নৃত্য সলিলে বিমল তরঙ্গিত, অঙ্গনার হৃভঙ্গে যেমন। * ৩২ “ফণী-মুক্ত করে শিব বিবাহ সময়ে ধরিলা চকিত-নেত্রা পার্বতীর কর, যবন্ধুর স’য়ে যবে ভুগের ভায়ে কপিল সে ভুজলতা, এ গিরি উপর ।। ৩৩ “স্ফটিকের জ্যোতিরাশি উঠিছে অম্বরে, তা সহ সূর্যের তেজ মিশি এ শিখরে ব্যাপিয়াছে দশ দিশ অসীম প্রভায় করিয়াছে অতিক্রম সহস্র সংখ্যায় । ৩৪ === * বায়ু ভরে জমধ্যে কমলের নৃত্য বা কম্পনে জলরাশি যেন রমণীর রূঙ্গের গায় ঈষৎ হরলিয কুটিল ভাব ধারণ করছে। রঘুবংশে এরূপ আছে- বিহরিছে জলে এল। নিকরে, শোভিছে আবত্ত নাভির অদূরে, ভঙ্গ মিলিত তরঙ্গ-রেখায়, . চক্রবাক-যুগ যুগ প্রায়। ১৬ স: ৬ । শিবের হস্তে সই বিৰাই কালীন হত্ৰ স্বৰূপ শোভা পাইয়াছিল। ঐ সর্প-দর্শনে পার্বতীর হন্তু ভয়ে কাপিতেছিল। সর্প শিবের হাত হইতে অপমূহ হইলে পর শিব পার্বতীর হন্ত ধরিয়াছিলেন। তখন পার্বতীর হন্তে বিবাহের মঙ্গল-সুচক যা রাদি ছিল। “স্যাঃ কংশৈল-গুরূপ নীত জগ্ৰাহ তাম্ৰাঙ্গুলিং অষ্টমূর্তিঃ । উম। তনো গুঢ়-তনে। অরস্ত তচ্ছঙ্কিন: পূমির প্ররোইম, কুঃ সঃ ও সঃ ৭৬ । সূর্যের রশ্মি সহস্ৰসংখক প্রসিদ্ধ। এই পর্বতে টিক রাশিৰ প্ৰভা সূর্যের তেজে মিশিয়া ঐ তোেরাশিকে অসংখ্য গুণ বৃদ্ধি করিয়াছে। তাহাতে সহ-শি অসংখ্য-রশ্মি হইয়াছেন।

কিরাতাজ্জন।
“যে কৈলাসে যক্ষরাজ তুষিতে শঙ্কর
নিৰ্মলা অলকা পুরী উচ্চ পুরদ্বার, *
পরিভ্রমি নিরন্তর উপান্তে তাহার
অকালেও অস্তগামী যেন দিবাকর। ৩৫
“কৈলাসের সানুদেশে বিপুল শিখরে
নানা রতনের জ্যোতি পড়ি নিরন্তর
দেখা যায় ভিত্তি প্রায় দৃঢ় মনােহর,
সেই ভ্রম নাশে বায়ু বহি বেগ ভরে ।। ৩৬
“মনােহর নব জ্যোতি সদা দূর্বা দলে ।
শােভে হেথা, বিরাজিছে সদা এ অঞ্চলে
শ্যামল কমল বন, জীর্ণ নাহি হয়
খচিত বিচিত্র ফুলে তরু-পত্ৰচয়। ৩৭
“ঝলে মরকত মণি দিবাকর-করে
গিরিপ্রান্তে, শুক সম হরিত বরণ,
তৃণ-ভ্রমে তাহে মুখ দিয়া ক্ষণ তরে
ত্যজিছে চকিত-নেত্রা মুগ-বধুগণ ৪। ৩,
* সুৰ্য্য অত্যুচ্চ কৈলাস পর্বতের প্রান্তদেশে বিচরণ করতে, সততই যেন অন্তগামী দৃষ্ট
হইয়া থাকেন। সূৰ্য কৈলাস পর্বতের ঊদ্ধে উঠিতে অক্ষম। কুমার-সম্ভবে হিমালয় সম্বন্ধে
এরূপ আছে---
সপ্তর্ষি-হস্তাবচিতাবশেষ।
শ্যৰো বিবস্বান পরিবর্তমান।
পদ্মানি যা-সরোরুহানি
প্রবােধয়ত্যুদ্ধ-মুখৈয়ুখৈঃ।” ১ সঃ ১৬
। কৈলাস পর্বতের সানুদেশে নানা রঙ্গের ঘন জ্যোতিঃ রাশি পতিত হইয়া ভিত্তিয় ন্যায়
দৃঢ় দেখা যায়। কিন্তু তথা বায় প্রবাহিত হওয়াতে ভিত্তির ভ্রম দুর হয়, কারণ প্রকৃত ভিত্তি
দেওয়াল) হইলে তথায় বায় প্রবেশ করিতে পারি না। ভম সম্বন্ধে ও সর্গের ৫ কে ভ্রষ্টব্য
এই পর্বতে দুবা দল নবীনত্ব ত্যাগ করে না, অর্থাৎ সর্বদ। সদ্যঃ ও নবজাত
দৃষ্ট হয়।
$ সুকিরণে উদ্ভাসিত মরকত মণির হরিৎ বর্ণ তেজে আচ্ছন্ন হইয়া এই পতের

পঞ্চম সর্গ। ৮৭ “ওই যে প্রফুল্ল স্থল-কমল-কানন, তথা হ’তে রেণু রাশি উড়ায়ে পবন ঘুরাইছে চারি দিকে মণ্ডলের প্রায়, সুবর্ণ-ছত্রের শােভা ধরিয়াছে তায় *। ৩৯ “উমা ও শিবের সন্ধ্যা-প্রদক্ষিণ কালে । যে অসম পদচিহ্ন জাহ্নবীর কূলে পড়িয়াছে, বাম পদ অলক্ত রেখায়, সে যুগল দেহ-যােগ প্রকাশে উষায়। ৪০ “এ পৰ্বতে রজতের উচ্চ ভিত্তি তেজে দিবাকর তেজোরাশি হইয়া বদ্ধিত কাঁপে মুহু সুচপল তরুশাখ মাঝে দর্পণ-বিম্বের প্রায় হইয়া স্ফুরিত। # ৪১ প্রান্ত যেন নব তৃণে আবৃত দৃষ্ট হয়। তৃণ ভ্রমে হরিণীর। তাহাতে মুখ দিয়া মুখ উঠাইয়া নিতেছে। গৃহদ্বারে বিকীর্ণ মরকতের তেজে গােবরের লেপন ভ্রম হওয়া মাছে বর্ণিত আছে— “দেহলী ফলক মরকতময় ছড়ায় দুয়ারে হরিত কিরণ ; অলিন্দে গৃহের নব বধূ চয় তাই নাহি করে গােময় লেপন।” শিশুঃ বধ, ৩ সঃ ৪৮ স্থলপদ্মের ঘন স্বর্ণবর্ণ রেণুরাশি বায় কর্তৃক মণ্ডলাকারে চালিত হওয়াতে সোনার ছাত্রের শোভা ধারণ করিয়াছে । + সন্ধ্যাকালে উমা ও শিব একত্রে সায়ংকৃত্য হেতু গঙ্গাতীর প্রদক্ষিণ করিলে তাহাদের অসমান (অর্থাৎ উমার ছোট ও শিবের বড়) পদচিহ্ন ভূমিতে পড়িয়া থাকে। তম্মধ্যে বামদিকস্থিত পার্বতীর পদচিহ্ন অলতার বর্ণ বিশিষ্ট। এইরূপ পদচিহ্ন প্রাতঃকালে দৃষ্ট হইলে বুঝা যায় যে উমা ও মহেশ্বর সাংকাৰ্যাদি নিয়ম সময়েও বিনহাসহন হেতু যুক্ত দেহ হইয়া থাকেন। রৌপ্যময় শৃঙ্গদেশের তেজে সূর্যের কিরণ যেন বর্ধিত হইয়া বায়বিকম্পিত শাখার মধ্য দিয়া দর্পণের পতিবিম্ব প্রায় স্ফরিত হইতেছে। উপরে ৩১ ও ৩৪ শোকের টাকা ও রৈবতক বর্ণনার নিম্ন শ্লোক প্ৰষ্টব্য যথা- মরকতময় ভূমে ভানুর কিরণ তরুপল্লবের ছিদ্রে হইয়া পতিত ধরে অবনত শিখি-কণ্ঠের বরণ, অতি সূক্ষ্ম তেজোজালে হইয়া স্মৃতি। ৪ সঃ ৫৬ bb কিরাতাজুন। “বিচরে শিবের বৃষ এ গিরির ভালে শুভ্র তেজে সমুজ্জ্বল বৃহৎ শরীর, মণ্ডল-আকার তার বপ্র-ক্রীড়াকালে উপজে শশীর ভ্রম মনে রমণীর *। ৪২ “শরতের খণ্ড-মেঘে লঘু ক্ষীণ-পয় ছিন্নকায় ইন্দ্রধনু হইলে উদয় নানা রতনের জ্যোতি উঠি গিরি-শিরে কোন মতে সে ধনুর দেহ পূর্ণ করে ।। ৪৩ “শশিকলা ভবেশের ললাটে হেথায় সতত অমৃত রাশি বরষি বিমল মাগের কৃষ নারদ মিলনে এরূপ বর্ণনা আছে-- কেশবের সেই শ্যাম দেহ-তেজে মিশি ঋষির শুভ্র দেহ ভাতি, পশি বিকশিত তরু-পত্র মাঝে মিশে নিশাকালে জোছনা যেমতি।” ১ সং ২১ * শিবের বৃষ যখন মস্ত ক নত ফরিয়া বক্ৰীড়ায় অর্থাৎ শৃঙ্গের দ্বারা গিরিশৃঙ্গ-বিদায়ণে প্রবৃত্ত হয়, তখন তাহার শুভ্র শরীর বৰ্ত্ত লবৎ গোলাকার ধারণ করে। তাই গিরি-বিহারিণী রমণীগণের চক্ষে শুভ্র তেজোবিশিষ্ট চন্দ্র-মণ্ডলের ভ্ৰম জন্মাইয়া থাকে। । শরৎ কালের মেঘ লঘু ও খণ্ড খণ্ড হইয়া আকাশে প্রকাশ হয়। ঐ খণ্ডীভূত মেখে ইন্দ্রধনু উদয় হইলে, তাহাও ছিন্নকায় বা খণ্ড খণ্ড দৃষ্ট হইয়া থাকে। পবত হইতে নানা রঙ্গের জ্যোতিরাশি আকাশে উখিত হইয়া সেই খণ্ড ইন্দ্রধনুর ফাক সকল কোন প্রকারে পূর্ণ করি। দেয়। কবির উৎপ্রেক্ষা। এরূপ সূক্ষ্মদর্শিত-সূচক অতি মনোহর স্বভাব-চিত্র অন্য কোন কাব্যে, আছে কি না সন্দেহ। অনুবাদক খও মেঘে এরূপ খণ্ড-ইন্দ্রধনু শরৎকালে প্রতক্ষ করিয়াছেন। রৈবতক বর্ণনায় নিম্নশ্লোক দ্রষ্টব্য- “বিমল রতন হতে উঠি প্রভারাশি, বিচিত্র বরণ চারু, পরস্পরে মিশি বিচিল উদ্ধে চিত্র, আধার-রহিত, গগনে খেচরগণ করিয়া বিতি।”শিশু বধ । স ৫৩ পঞ্চম সর্গ। خط ধৌত করি তরুলতা-পল্লব জ্যোৎস্নায় অসিত পক্ষেও করে বনান্ত উল *। ৪৪ "হিরন্ময় প্রভারাশি উত্তরীয় প্রায় বিস্তারিয়া বনে বনে যেই গিরিবর শােভিছেন বহুতর কাঞ্চন-গুহায়, । তৰ পিতা বাসবের প্রিয় এ ভূধর ।। ৪৫ “লতার বেষ্টন ঘন হেথা বায়ু ভরে হইলে শিথিল, দ্বিগুণিত রবি-করে স্বর্ণময় তট হ'তে উঠে প্রভারাশি, মুহুর্মুহু বিড়ম্বিয়া বিদ্যুতের হাসি । ৪৬ “এ পৰ্বতে ঐরাবত-কপােল-ঘর্ষণে কঁপিলে চন্দন-তরু, ধায় ফণিগণ ; * শিবের ললাটস্থিত চন্দ্রের কিরণে কৃষ্ণপক্ষেও এ পর্বতে জ্যোৎস্না হইয়া থাকে। রঘুবংশে এরূপ আছে-- “মহাকাল নাম পামে ছেন শঙ্কর। জ্বলে যার ভালে শশী, শীতল কিয়ণে উজলি অদূরে পুরী, তাই নৃপবর অসিত পক্ষেও জ্যোৎস্না ভুঞ্জে নারী সনে। ৬ সঃ ৩৪ + হিমালয়ের অসংখ্য স্বর্ণ শিলা-বিশিষ্ট গুহাতে যে সমস্ত বনরাজি আছে, হাতে স্বর্ণের প্রভারাশি পতিত হইয়া স্বর্ণময় উত্তরীয় অর্থাৎ উড়নীর শোভা সম্পাদন করিয়াছে। ও নীচের মোক দ্রষ্টব্য। মাঘের রৈবতক বর্ণনায় এরূপ অাছে “নৰ তেজে দীপ্যমান এ চারু অচলে শোভিছে সুবর্ণ-ভূমি শ্যাম দূর্বাদলে চারি দিকে, গিরিবর শেছে মোহন নব পীতবসে, কৃষ্ণ, তোমারি মতন। ৪ সঃ ১১ হিমালয়ের এই শৃঙ্গদেশ অর্জুনের জনক ইন্দ্রের প্রিয় বলিয়া তাহার নাম ইকীল। ভারবির জীবনী দ্রষ্টব্য। $ পরস্পর বন সংলগ্ন লতা সমূহ বায়ু কর্তৃক শিথিল বা বিশ্নিষ্ট হইলে পর স্বর্ণময় সা- দেশ হইতে সোনার জ্যোতিঃ রাশি সূর্যকিরণে উদ্ভাসিত হইয়া মুহমত উদ্ধে উথিত হইতেছে ও বিদ্যুতের চমকের ন্যায় দেখাইতেছে। ১২ কিরাতাৰ্জ্জুন। সুর-গজ-মদে সিক্ত হেরি সে চন্দনে রহে দূরে ক্ষণ অন্য প্রমত্ত বারণ *। ৪৭ “মেঘ-সা ইন্দ্রনীল-তেজে এ ভুধরে বিমিশ্রিত রবিকর ( তিমিরে যেমতি) পারে করিতে দীপ্ত গভীর গরে--- অন্ধকারে হত যেন তপনের ভাতি ।। ৪৮ । * সর্প চন্দন বৃক্ষ আশ্রয় করিয়া থাকে। ঐরাবতের গণ্ড-কয়ণে ঐ বৃক্ষ কম্পিত হইলে সর্প সমুহ ভয়ে তথা হইতে নামিয়া পলায়ন করে। ঐরাবতের গণ্ডবাহী মদ-ধারে চন্দন বৃক্ষ সিক্ত হইয়া যায়, এই হেতু অন্যান্ত মত্ত হস্তী সহসা ভয় বা রোষ বশতঃই হউক তাহার নিকটে যায় না। উপরে ২৬ শ্লোক দ্রষ্টব্য। মাঘের রৈবতক বর্ণনায় এরূপ আছে- “তাড়াইয়া বিষধর নাগে নরগণ ব্যাধিছে চন্দন বৃক্ষে মত্ত করিদল, বিশাল-মস্তক, নীল-উৎপল বরণ, ঋরে উষ্ণ বারি বিন্দু উত্তাপে প্রবল। ৪৫ মদগন্ধে দ্বিরদের কপাল-ঘর্ষণে তরুর বিশাল দেহ চারুগন্ধময়, শোভে তাহে অলি পংক্তি সুনীল বরণ, যেন ভুল নীলমণি-খচিত বলয়। শিশুঃ বধ, ৫ সঃ ৪৬ পুনশ্চ “নষাদী নিতেছে বৃক্ষে বধিতে কুঞ্জর যতনে, না রহি তথা ভাঙ্গিছে বারণ অত-গজ মদগন্ধ পেয়ে তরুবরে-- শক্রর গন্ধও নাহি সহে মানী জন। । এই পর্বতের গুহা-দেশে মেঘবৎ ঘন ইন্দ্রনীল মণি সমূহের নীল জ্যোতিঃরাশি বিকীর্ণ হইয়া গাঢ় অন্ধকার উৎপন্ন করে, তাহাতে সূর্যের কিরণ পতিত হইয়া যেন ডুবিয়া যায়, অর্থাৎ সূর্যকিরণেও গুহার অন্ধকার দূরীভূত হয় না। উপরে ৪৬ মোক প্ৰষ্টব্য। ইহার বিপরীত সৌন্দৰ্য্য মাঘের রৈবতক-শিথর বর্ণনায় দৃষ্ট হয় যথা- “রৈবতক শিরে রবি-কর-পরশনে উগরে অনল-তেজ সূয্যকান্তমণি ; সব-ভেদী সৌর তেজ পণি সে যতনে প্রকাশে অধিক গুণ পাত্র-গুণ গণি।” শিশু বধ, ও সঃ ১৬ ४२ পঞ্চম সর্গ। ৯১ “শান্ত মনে তুমি, পার্থ, ব্যাসের আদেশে ধরি অস্ত্র অপ্রমাদে এ বিজন দেশে কর গাে তপস্যা, হিতকাৰ্যেও ধরায় বিনা বিঘ্ন শ্রেয়লাভ দেখা নাহি যায়। ৪৯ “না যাউক রিপু-অশ্ব কুপথে তোমার ; ! সন্তাপে দিবেন শিব উৎসাহ মঙ্গল ; লােকপাল তেজঃ বল বাড়ায়ে অপার শুভ অনুষ্ঠান তব করুন সফল।” ৫০ কহিয়া এ রূপ হিত বাক্য মনােরম । গেলা চলি নিজ ধামে প্রিয় বক্ষবর ; কি যেন ভাবিলা পার্থ উৎসুক অন্তর, সুজন-বিয়ােগে দুখ জনমে বিষম। ৫১ আপন পপৗরুষ প্রায় মনের বাঞ্ছিত সর্বথা অতুল-সার সে মহা শিখরে লক্ষ্মীর সুপ্রিয় পার্থ হ’ল অধিষ্ঠিত, বহু কাৰ্য-সিদ্ধি যাহে ফলিবে সত্বরে ৪। ৫ মধুবংশে এরূপ আছে--“বিশাল চলন তরু সর্পের বেষ্টনে পড়িয়াছে খাজ দেহে, তাহে করিল বাধিয়াছে কণ্ঠ-লগ্ন কাঠার বন্ধনে, অবহেলে ভাঙ্গে তারা পদের শৃঙ্খল।” ৪ সঃ ৪৮ * ক্ষাত্রধর্মানুসারে আত্মরক্ষণার্থে শস্ত্র ধারণ প্রয়ােজন। ৩য় সর্গে ৫৩ শ্লোকে দ্রৌপদীর উক্তি ও ২৮ শ্লোকে ব্যাসের উক্তি হ্রষ্টব্য। রিপু-কাম ক্রোধাদি রূপ তেজস্বী অশ্ব দমিত হইলে সুপথে গমন করে। ও সর্গের ৩৯ শ্লোক দ্রষ্টব্য। + যক্ষের উক্তি ও উপদেশ হিতকর ও মনোমুগ্ধকারী। প্রথম সর্গেয় ৪ স্লোক দ্রষ্টব্য। $ ইন্দ্র কীল পর্বতে উপস্থিত হওয়া অৰ্জ্জুনের মনের অঙ্গীষ্ট বিষয়। সেই পৰ্বত প্রাপ্তি তঁাহার পৌরুষ প্রাপ্তির সদৃশ। অর্থাৎ তথায় যাইতে না পারিলে তাহার অপৌরুষ। সেই পর্বত অতুল-সার-বশিষ্ট। তথায় তপস্যা করিলে অর্জুনের অর্পিত সমস্ত কাৰ্য্য সিদ্ধ হইবে। হিমালয়ের সারবত্তা সম্বন্ধে ঘুবংশ দ্রষ্টব্য যথা- - কিতান। ইতি মহাকবি শ্রীভারৰি কৃত কিতাৰ্জ্জুন * কাব্যের বঙ্গানুবাদে হিমবর্ণন নামে পঞ্চম সর্গ। ; ভারবির প্রভা-রবি আগে প্রকাশ ছিল মাঘে মেঘাবৃত যথা দিনকর । । বঙ্গের ভাষায় সেই কাব্যের উচ্ছাস গাইলা নবীনচন্দ্ৰ কবি-গুণাকর। , “পরম্পরেণ বিজ্ঞান্তে পায়ন-পাণিযু। জ্ঞা হিমবতঃ সারাে রাজ্ঞ সায়রা হিমদ্রিণা।” অর্থ-~~-বহু যত্ন উপহার দিয়া নিজ করে পাৰ্বতীয় বীরগণ তুষিল রঘুরে- হিমাছি-ঐশ্বৰ্য্য তাহে জানিল। নৃপতি, রঘুর বিক্রন গিরি জানিলা তেমতি।” ৪ সঃ ৭৯ *ftats—"The kirutas (probably the kirrhadır of Arrian) were savage tribes living in woods and mountains, specially in the castern Himalayan tracts and the hilly regions known in modern times as Burmah anı! Siam". Vide Anc. Geo. Asia, pp. 55 and 61. * মাথে-মাঘ মাসে সূর্যের কিরণ মৃদু হয়, অন্য অর্থে—মাঘ কবির উদয়ে ভাবিয় কাব্য-শঃ প্রভা হ্রাস হয় এবং যথা- “ভাৱবো-বির্ভাতি যাবৎ মাঘ নােদয়। উদিতে চ পুনর্মাঘে ভারবো রবেরি”। অর্থ—ভাবির প্রভা-রবি আগে সুপ্রখর, মাখােৰয়ে হ’ল মৃদু যথা দিনকর। মৎকৃত শিশুপাল বধের বঙ্গানুবাদ ২য় ভাগে মাঘের জীবনী ভ্রষ্টব্য। মহামহােপাধ্যায় কোলাচল-মপ্লিনাখ রিবিরচিত ঘণ্টাপথ টীকাবলম্বনে চন্দ্রশেখর- পদা- গৌত-চট্টল বাসী নবীনচন্দ্র দাস কবি-গুণাকর কর্তৃক অনুবাদিত। মসংশােখন-২য় পৃষ্ঠার ১৪ পংক্তি, টীকাতে “পণ্ডিতঃ” স্কুলে পণ্ডিত"; ৫৬ পৃষ্ঠায় টকাতে পু" স্থলে “পৃষ্ঠ হইবে।

REMARKS OF EMINENT PERSONS On "Sisupal Badha in Bengali Verse" and Suka Giti". * Sir Gooroo Dass Banerjee M.A., D. L. Kl. has been pleased to observe : "They both appear to be excellent. Your translation of Sisupala Badha and of Gray's Elegy will be regarded as valuable contributions to Bengali literature." 6th December 1904. The Honerable Justice Sarada Charan Mitra M.A., B.L, writes : “I have read your "Sisupal Badha" with greal pleasure. It fully bears out your poetical reputation." IIth December 1904. Mr. R. C. Dutt, C. I. E. Amatya of Baroda State, observes : Of the first work (Sisupal Badha, Cantos I 10 V) I need only say that like your "Raghu Vamsa" it stands apart from the generality of metrical translations from Sanskrit. Your translation is simple and melodious, and will, I hope, be acceptable to the Bengali reader....... .. Those who seck to know some thing of the "Raghu Vamsam" and the "Sisupal Badham" through Bengali translations can not go to a better an abler and * a more faithful inter preler than yourself." March 18, 1906. The Hon'ble Dr. Rash Behary Ghose, Member of the Viceroy's Council has been pleased to write : “I have to thank you for the presentation copies of your books. I can only repcat what I said in 1892 that you have rendered permanent service to the cause of Bengali literature and trust that you will never forsake the Muses for mere worldly prizes, which I am sure, you rate at their true value," The 12th January 1907, "This is a translation into good readable Bengali verse of the Ist two Cantos of the famous Sanskrit work, Magha's "Sisupal Badha" so much admired by the students of Sanskrit literature. Magha belonged to an age when the decline of Sanskrit poetry had already commenced-when a cold and clear-cut artificial spirit from which the vital spark had fled and a laboured ornate style had supplanted that genial sympathy for nature in all her forms and the sweet graceful and animated style which characterised the age of Kalidasa. Considering the nature of the task, which the author had taken upon himself and the difficulties that lie in the way of a verse- * By Nobin Chandra Las. Soka-giti includes Gray's Elegy and Cowper's "On the Receipt of my Mother's Picture” in Bengali verse.

[ ২ ] translator, we can fairly say that the production is a creditable one and that it speaks volumes in favour of the author's erudition, rich vocabulary and nice perception of artistic beauty in thought and language. The book will, no doubt, give a very good idea of Magha's poem to those to whom the original is a sealed book.” National Magazine, February 1904. “নবীনচন্দ্র বাবুর নাম সাহিত্য সেবকদিগের নিকট নূতন নহে। “রঘুবংশে” তিনি যে পাণ্ডিত্য প্রকাশ করিয়াছেন তাহার জন্য অক্ষয় নাম অর্জন করিয়াছেন। তঁাহার রঘুবংশের অনুবাদ যেমন সুন্দর হইয়াছিল, শিশুপাল বধের অনুবাদ যে তাহা অপেক্ষা উৎকর্ষে নূন হইয়াছে, তাহা নহে; বরঞ্চ স্থানে স্থানে আরও ভাল হইয়াছে। রঘুবংশ অপেক্ষা শিশুপাল বধ অতি কঠিন কাব্য ; এই মহাকাব্য যে বঙ্গভাষায় এমন প্রাঞ্জল অথচ সুললিত ভাবে অনূদিত হইবে, তাহা কয় জন ব্যক্তি ভাবিয়াছিলেন ? অনুবাদে মূলগ্রন্থের ভাব সুন্দররূপে রক্ষিত হইয়াছে এবং ছন্দঃ ও মিষ্ট হইয়াছে। এই পুস্তকে নবীন বাৰু কবিত্ব শক্তির যথেষ্ট পরিচয় দিয়াছেন। সংস্কৃতাভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ যে অনুবাদ পাঠ করিয়া মহাকবি “মাঘের” মহাকাব্যের স্বাদ আস্বাদন করিতে পারিবেন, তাহাতে আর সন্দেহ নাই। নবীনচন্দ্রের পাণ্ডিত্যে বঙ্গভাষা পুষ্ট হইয়াছে, তাহার জন্য তিনি সকলের ধন্যবাদ -পাত্র।” সাহিত্য-সংহিতা, মাঘ, ১৩১০ সাল। “মাঘকৃত শিশুপাল বধ, বঙ্গানুবাদ ; প্রথম ভাগ। নবীচন্দ্র দাস এমএ, বিএল, কর্তৃক প্রণীত মূল্য। আন”। এদেশে, পূৰ্ব্বকালে, বড় পণ্ডিতেরাই সাধারণতঃ বড় কবি বলিয়াই পরিচিত হইতেন। ইহার নিদর্শন স্বয়ং শঙ্করাচাৰ্য্য। শঙ্করাচার্যের মত বড় পণ্ডিত ভারতবর্ষে আর জন্মিবে কি না তাহা বলা যায় ; আর তিনি যেমন সরল, মধুর, শিশুবােধ্য ও সুখ-সুকুমার কবিতা লিখিয়া গিয়াছেন, তেমন কবিতাও আর কেহ লিখিবে, এমন আশা করা যায় না। কিন্তু দেশের দুর্ভাগ্যবশতঃ এখন পণ্ডিত বলিলে বুঝায় এক শ্রেণীর লােককে, আর কবি বলিলে বুঝায় আর এক শ্রেণীর লােককে। যেন পণ্ডিতের পক্ষে কবি-সমুচিত সরস-মধুর শব্দবিন্যাস-শিক্ষা সময়ের অপব্যয়, এবং কবি সম্প্রদায়ের পক্ষে ব্যাকরণ ও শব্দ বিজ্ঞানে সামান্য ব্যুৎপত্তি লাভও অপরাধজনক। তবে ইহার দুই চারিটী বর্জিত স্থল না আছে এমন নহে। বাবু নবীনচন্দ্র দাস একটি প্রসিদ্ধ বর্জিত দৃষ্টান্ত। তিনি এক-আধারে সুপণ্ডিত ও ;

[ ৩ ] সুকবি। তাঁহার অনূদিত রঘুবংশ পাঠ করিয়া লােকে শতমুখে প্রশংসা করিয়াছে ; তাহার শিশুপাল বধের অনুবাদ পাঠ করিয়াও লােকে তাঁহাকে মুক্তকণ্ঠে ধন্যবাদ দিবে। এ অনুবাদ অবশ্যই রঘুবংশের অনুবাদ অপেক্ষা একটু বেশী কঠিন, কিন্তু এ দোষ নবীন বাবুর নহে। রঘুবংশের মূল রচনা যেমন, স্বচ্ছ-তােয়া সরযুর মৃদুবাহি স্রোতের মত, মৃদু মৃদু বহিয়া গিয়াছে, নবীন বাবুর অনুবাদও সেইরূপ অনারতগতি আমােদলীলাবতী তরঙ্গমালার মত প্রবাহিত হইয়াছে। শিশু- পাল বধের অনুবাদে সে সুখ-সচ্ছলতার প্রত্যাশা করা যায় না। তথাপি, সে অংশে যাহা ফলিয়াছে, তাহা আশাতীত। যদি গ্রন্থকার সমগ্র শিশুপাল বধ অনুবাদ করিয়া শেষ ও প্রকাশ করিতে পারেন, তবে তাহা বাঙ্গালা সাহিত্যে তাহার একটী উজ্জ্বল ও অক্ষয় কীর্তিস্তম্ভ স্বরূপ চিরকাল বিরাজমান রহিবে।” “বান্ধব”। শ্রাবণ ও ভাদ্র ১৩১১ বাং। “শােক-গীতি। Inclualing Gray's Blogy in Bengali. নবীন চন্দ্র দাস প্রণীত” এই পুস্তকে ‘মা’র ছবি–“শ্মশান দর্শন’ ও ‘পিতৃবিয়ােগ প্রভৃতি চারি পাচটি শােক-উদ্দীপক কবিতা আছে; এবং প্রত্যেক কবিতাই নয়না-লিখিত গাথার মত হৃদয়স্পর্শী হইয়াছে। প্রথম কবিতা মহাকবি (Cowper) 910 "On the Receipt of my Mother's lucture" অবলম্বনে, এবং দ্বিতীয় কবিতা প্রসিদ্ধ কবি গ্রে (Gray) প্রণীত Elery অনুসরণে বিরচিত। আমরা দ্বিতীয় কবিতার দুইটি শ্লোক এখানে উদ্ধৃত করিলাম। মহাকবি গ্রের মূল রচনা পড়িবার সময় হৃদয় যেমন শিহরিয়া উঠে, সৌভাগ্যবান্ দাস মহাশয়ের অনুবাদ পাঠের সময়েও হৃদয় সেইরূপ শিহরে কি না, কাব্যপ্রিয় পাঠক নিজে তাহার বিচার করুন। “দিবসের অবসান ঘােষিছে আরতি, হম্বা রবে ধীরে গাভী ফিরিছে প্রান্তরে, কৃষক আবাস মুখে যায় শ্রান্ত গতি, সমর্পিয়া এ জগত মােরে ও আঁধারে।” ১ “প্রকৃতির স্নান দৃশ্য পাইতেছে লয়, রয়েছে সমীর শান্ত সুগভীর ভাবে, কেবল ঘুরিছে উড়ি বেগে ঝিল্লীচয়, বিরামিছে দূর গােষ্ঠ কিঙ্কিণীর রবে।” ২ rt ৪ } বাৰু নবীন চন্দ্র দাস যে প্রণালীতে কালিদাস, মাঘ, কুপার ও গ্রে প্রভৃতি কবির মধুর গম্ভীর কবিতানিচয় বাঙ্গালায় অনুবাদ করিয়া বঙ্গীয় সাহিত্যের সম্পদ বৃদ্ধি করিতেছেন, অন্যান্য ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তিরা সেই প্রণালীতে শেক্ষ- পীরের নাটকনিচয় ও মিল্টনের স্বর্গভ্রংশ প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ বাঙ্গালায় অনুবাদ করিলে, বাঙ্গালা ভাষার কতই যে উন্নতি হইতে পারে, তাহা কল্পনা করা যায় । নবীন বাবুর উদ্যম আশাও অক্লান্ত যত্ন, যশঃপ্রতিষ্ঠা-লিস্তু নব্য কবি- দিগের দ্বারা শ্রদ্ধার সহিত অনুকৃত হইয়া শ্রেষ্ঠতর ফলে পরিণত হউক।” “বান্ধব”। রায় শ্ৰীযুক্ত কালীপ্রসন্ন ঘােষ বাহাদুর সম্পাদিত। Babu Chandra Sekhar Kar, author of "Anath Balak" writes : "You have translated the most difficult slokas of the highest works in Sanskrit literature in the best way possible, keeping the meaning of the text intact and choosing the sweetest words for the rendering. You have expressed the deepest thoughts in the shortest space possible and almost without exception in the same number of lines as there are in the original. Considering the dilliculty of metrical rendering, the ease and grace of your style cannot be too highly admired." 22nd April 1906. Mr. M. N. Dutt, M.A, M. R. A. S., Editor of "The Oriental writes : "Many thanks for your kind letter and the first instalment of excellent metrical translation of Sisupal Badha. You are a born poet and have done the most satisfactory justice to the original author. Ywur translation has been very sweet." 26 Nov. 1903. Mahainahopadhyay Krishna Nath Nyay Panchanan of Purvosthali wrilcs : অশেষ-গুণাষ্পদে- পূৰ্ব্বপ্রদত্ত শিশুপাল বধের বঙ্গানুবাদ এবং সম্প্রতি প্রেরিত রঘুবংশের বঙ্গানুবাদ দর্শন করিয়া একান্ত প্রীতিলাভ করিয়াছি। মূলর্থের সহিত বৈষম্য ঘটনা না হয় এতৎসম্বন্ধে বঙ্গানুবাদে বিশেষ যত্ন করা হইয়াছে, অথচ কবিত্বে ভঙ্গ হয় নাই ইহা সাতিশয় প্রশংসার হেতু। শ্রীকৃষ্ণনাথ শৰ্ম্মণঃ। পূৰ্ব্বস্থলী। ১৮ই আশ্বিন, ১৮২৮ শকাব্দাঃ । PRINTED AT TJIE COTTON PRESS, 57, ITARRISON ROAD-CALCUTTA.

No text on this page.

ORKS BY NOBIN CHANDRA DAS, KAVI-GUNAKAR 1. Raghu Vamsa in Bengali, Complete. Rs. 2 OO (Second Edition, Thoroughly Revised with Copiows Notes.t; . Do. (Cantos 13 to 15) Reign of Rama und Exile of Sita. (Text book for the F.A. Course and he Training Schools in Bengal, Vide Calcutta Gazettes of 16th July and 24th Septr. 1902.) 0 12 8. Sisupa'1 Badha of Ma'gha. In Bengali verse. Parts I. & II. Cantos I to 5 with notes. ০ ০ 4. Kira'ta rjun of Bha ravi In Bengali. Part I. (Cantos I to 5). ৪ 5. Aka'sha Kusum (A Bengali Poem) 4 6. Soka Giti (containing metrical translations of Gray's Elegy and Cowper's "Q, the Receipt of my Mother's Picture", &c.) ০ 4 ০ ENGLISH WORKS BY THE SAME AUTHOR. 1. Ancient Geography of Asia, with a Map. I 2. Miracles of Buddha (In verse.) 3. A Noteon the Antiquity of Ramayana o 4 0 ০ ০ 0 12 ০ ০ ০ নবীনচন্দ্র দাস কবি-গুণাকরের বঙ্গীয় গ্রন্থাবলী । ১।, রঘুবংশ (বঙ্গানুবাদ) দ্বিতীয় সংস্করণ, সম্পূর্ণ ও সংশোধিত ২২ ১৩, ১৪ ও ১৫ সৰ্গ (রামের রাজত্ব, সীতার বনবাস ও পাতাল প্রবেশ) এফ, এ, পরীক্ষার ও নৰ্ম্মল বিদ্যা শব্দের নির্দিষ্ট পাঠ্য ) ঐ ( সরল সঙ্কলন) মধ্য ছাত্রবৃত্তির উপযােগী শিশুপাল বধ (মাঘের বঙ্গানুবাদ) ১ম, ও ২য় ভাগ, (প্রথম ৫ সর্গ ) । কিরাতৰ্জ্জুন (ভাবির বঙ্গানুবাদ) ১ম ভাগ (প্রথম সর্গ । আকাশ কুসুম কাব্য । শােকগীতি (গ্রে’র ইলিজির অনুবাদ সমন্বিত । TO BE HAD OP SRIMATI SATI GUPTA', Fairy Tank Lodge, Chittagong, Sanskrit Press Depository, 80, Cornwallis Street and Mossrs. S. K. Lahiri & Co., 54, College Street, CALCUTTA. • * র

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Kiratarjun Part. 1

Author
Das,nabinachandra
Title
Bharabi Krita
File name
Kiratarjun Part. 1
Text
OCR done
Citation
1906
Published
2010/01/11
Publisher
N.a.
Language
Sanskrit
Pages
112
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Verse
Keywords
Das,Nabinachandra
DLI number
511166
Barcode
4990010018338.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
Esoq3wpIeyD
Download PDF

Kiratarjun Part. 1