Bally Sadharan Granthagar

Saral Krishi-katha Ed. 9th

Majumder ,jiminiranjan · 2010/02/20

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

সৱল কষি-কথা
বাংলার শাকসজী, গাে-সেবা, বাংলার মাটি, তুলার
চাষ, কলার চাষ, ইক্ষু চাষ, ফসলের খাদ্য, মৎস্য
বিজ্ঞান, আলুর চাষ, কৃষি পঞ্জিকা
বহু প্রভৃতি কৃষিগ্রন্থ প্রণেতা।
ডাঃ যামিনীরঞ্জন মজুমদার,
প্রণীত
প্রাপ্তিস্থান
এম, এল, দে এণ্ড কোং,
দে এণ্ড কোং
৬৬৬৭ কলেজ স্ট্রীট,
২৫২৬ ক্যানিং ফ্র
কলিকাতা
সৰ্বস্বত্ব সংরক্ষিত ] [ মূল্য চারি আনা মাত্র

প্রকাশক
শ্ৰীনিতাই পদ বসু
হিন্দুস্থান এজেন্সী,
৯ নং ক্লাইভ রাে,
কলিকাতা।
১৩৩৩ ১ম সং-২০।
১৩৩৪ ২য় সং-২০ ০ ০
১৩৩৫ ৩য় সং:
১৩৩৬ ৪র্থ সং-
-৫ ০ ০ ০
১৩৩৭ ৫ম সং-৫০০০
১৩৩৮ ৬ষ্ঠ সং—৫০০০
১৩৩৯ ৭ম সং-১০ ০ ০
১৩৪০ ৮ম সং-১০০০
১৩৪১ ৯ম সং-১১০ ০
নবম সংস্করণ
Printed at Garob Ptg. Wks. 211 Mitra Lane, Cal.

সূচী ১। বাংলায় কৃষির উপযােগিতা ২। ভিন্ন ভিন্ন মৃত্তিকার উপযােগী ফসল ৩। বাংলার কয়েকটী ফসল এ । । • ৩০ ••• प ০ ০ ০ ০ ০ ০ } ৪। ধান্য ৪০০ ••• ৮ ০ ০ ৫। পাট ৬। ডাইল ০ ০ ০ ৭। 'আল ••• ••• ৮। চিনাবাদামের চাষ ••• ৩১ . . . ••• ৩৮ ••• ... • • • ৪২ ১০। তামাক ১১। এবােরুটের চাষ ••• ৪৮ - । • ০ ০ ০ . . . ••• সংক্ষেপে আয়কর কৃষি ১২। লতা কস্তুরী ১৩। ট্যাড়স ভিণ্ডি বা রামঝিঙ্গা ১৪। ঝাপি প্যাটারী বা ডাঙ্গা ভােঙ্গা ১৫। আকন্দ কলাগাছ ১৭। আনারস ১৮। কোঙ্গা ••• ১৯। এর ভেণ্ড বা রেড়ী ০ ০ ০ ৫০ . . . ••• ৩৮ 92 ০ ০ ০ ••• ••• ৭৭ . . . ৭৮ ০ ২০। সুরুটে ৮২ + + + • ৮২ ••• ২১। সজনা ২২। মানকচু ২৩। ওল ••• ••• ৮৪ ৮৪ ২৪। সােলা ৮৫ :: ৮৫ ০ ০ ০ ৮৭ • • • ২৫। বাবলা ২৬। পানি কচু বা সােলা কচু ২৭। বাবলাগাছ ২৮। কুলগাছ ২৯। ঘৃতকুমারী ••• ৩০। পান ও পান জাতিয় লতা ৩১। পিপুল ৩২। পাণিফল বা সিঙ্গাড়া ৩৩। বাঁশ ৩৪। কয়েকটী অনায়াস লভ্য আয়কর গাছ পালা ৩৫। উপসংহার ৮৭ ৮৮ ••• ••• ৮৮ ৫ । ... ৮৯ ১ •••

বাংলার কৃষির উপযােগিতা।
সুজলা সুফলা এই বাংলা দেশ আমাদের মাতৃভূমি। এই
দেশের অধিবাসীর মধ্যে শতকরা ৮০ জন লােক কৃষিকাৰ্য্য
করিয়া জীবিকা নিৰ্বাহ করে, এজন্য বাংলা দেশকে কৃষিপ্রধান
দেশ বলা হইয়া থাকে। সমগ্র বাংলা দেশে জমীর পরিমাণ
নেট ৬২৬৮৫ ০ ০ ০ ০ একর। তাহার মধ্যে ২৭৩১৩৫ ০ ০ ০ একর
জমীতে চাষ আবাদ হইয়া থাকে, ৫২৩৬৪০০০ একর জমীতে
নজঙ্গল আছে, ১৫১১৭১০০০ একর জমীতে রাস্তাঘাট আছে,
উহা ছাড়া এখনও এ দেশে আবাদ হইতে পারে অথচ
অনাবাদী ১৫১১৭৩০ ০ ০ একর জমী আছে। বাংলাদেশের
অধিকাংশ অঞ্চল নদীমাতৃক এজন্য ভারতের অন্যান্য প্রদেশ
অপেক্ষা অল্পায়াসে এখানে অধিক ফসল পাওয়া যায়।
আমাদের পূর্বপুরুষদিগের নিকট কৃষির যথেষ্ট আদরও সম্মান
ছিল তাহারা কৃষি কাৰ্য্যকে শ্রেষ্ঠ ও সম্মানজনক বৃত্তি বলিয়া
মনে করিতেন। কিন্তু বর্তমানকালে এদেশে শিক্ষিত সম্প্রদা-
য়ের মধ্যে অনেক কৃষি কাৰ্য্যকে হীন বৃত্তি বলিয়া মনে করিয়া
থাকেন। তাহাদের এই আদর্শ এই মনােবৃত্তি সমাজের অল্প
শিক্ষিত, অশিক্ষিত লােকদের মধ্যেও ক্রমশঃ অম্লাধিক
প্রবেশলাভ করিতেছে ; তাহার ফলে কৃষকের পুত্র সামান্য
কিছু লেখাপড়া শিখিলে আর তাহার পৈত্রিক কৃষিকাৰ্য্য
কবিত চাহে না বরং স্বল্প বেতনের একটী চাকরী পাইবার

२ সরল কৃষি কথা আশায় বৃথা লালায়িত হইয়া বেড়ায়—দেশে আজকাল এরূপ দৃষ্টান্তে অভাব নাই। ইহা দেশের পক্ষে পরম দুভাগ্যের বিষয় বলিয়াই আমার মনে হয়। কৃষিকাৰ্য্য, হীন বৃত্তি—যাহাদের এরূপ ধারণা আছে তাহাদের নিকট আমার বক্তব্য এই যে, যেসকল কার্যের দ্বারা ভগবানের সৃষ্টি রক্ষা হইতেছে যাহ না কৰিলে সংসার, সমাজ, সভ্যতা এক কথায় সব কিছুরই অস্তিত্ব পর্যন্ত লােপ হইতে পারে তাহাকে কি প্রকারে হীন বৃত্তি বলা যাইতে পারে ? বরং তাহাকে সর্বোচ্চ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ বৃত্তি বলাই সঙ্গত নহে কি ? প্রাচীনকালে কৃষিকে যে এদেশে শ্রেষ্ঠ ও সম্মানজনক বৃত্তি বলিয়া বিবেচনা করা হইত তাহার প্রমাণ বৈদিক যুগে বর্ণশ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণগণ স্বহস্তে হালচালনা করিয়া কৃষি কাৰ্য্য করিতেন প্রাচীন গ্রন্থাদিতে আমরা তাহার ভূরি ভূরি প্রমাণ পাই। এই কৃষি শাস্ত্র বেদ, উপনিষদের ন্যায় প্রাচীন ঋষিদের মস্তিষ্ক নিঃসৃত জ্ঞানরাশি। আমাদের পরাশর সংহিতা একখানি প্রাচনি কৃষিশাস্ত্র, কেদারকল্প, তরু চিকিৎসা প্রভৃতি কৃষিশাস্ত্র আয়ুৰ্ব্বেদের অন্তর্গত। প্রাচীন ঋষি বিশ্বামিত্র এক বৃক্ষলতার সঙ্গে অপর বৃক্ষলতার, একপ্রকার ফুল ফলের সহিত অন্য প্রকার ফুল ফলের, এক প্রকার জীবজন্তুর সহিত অন্য প্রকার জীব জন্তুর বর্ণ শঙ্কর উৎপাদন করাইয়া জগতে দ্বিতীয় শষ্ট নামে অভিহিত হইয়াছেন। ঋষি বাৎসায়ন তাহার কাম বিজ্ঞানে-কন্য।কাল অধ্যায়ে একখানি ছােট খাট

বাংলায় কৃষির উপযােগিতা
সবজী চাষের অবতারণা করিয়াছেন—এইরূপ বহু দৃষ্টান্ত
আছে।
কাৰ্য্যকারী দিক দিয়াও আমরা প্রাচীন ভারতে
বিরাটের উত্তর গো-গৃহে, নন্দের নবলক্ষ ধেনু, শ্রীকৃষ্ণের
গােচারণ, অর্জুনের খাণ্ডবদাহন, বলরামের নাম ইত্যাদিতে
কৃষিকার্যেরই অভিব্যক্তি দেখিতে পাই। কবি কৃত্তিবাসের
কৃপায় রাজর্যি জনক বাঙালীর নিকট সুপরিচিত। জনকের
কন্যা ছিলেন সীতা, সাতা ছিলেন অযােন সম্ভব ; আমরা
পুরাণে দেখিতে পাই—রাজা জনক স্বহস্তে হল কৰ্ষণ করিতে
করিতে কর্ষিত ক্ষেত্রের সীতার মধ্যে, কন্যা সীতাকে লাভ
করিয়াছিলেন। সীতা শব্দের অন্য অর্থ লক্ষ্মী।
জনক রাজর্ষি
তাই তিনি ভূমি কর্ষণ করিয়া—কৃষিকৰ্ম্ম করিয়া পুণ্যতম
লক্ষ্মীকে পাইয়াছিলেন সীতারূপে-কন্যারূপে।
কন্যারূপে। এই দৃষ্টান্তে
আমাদের দেশের প্রাচীন গ্রন্থ রামায়ণ প্রণেতা ঋষি
আমাদিগকে উপদেশ দিতেছেন যে, হে ভারত কৃৰিকৰ্ম্ম
কর, যুগে যুগে সীতা জন্মগ্রহণ করিয়া তােমাদের গৃহে গৃহে
ধনভাণ্ডার পূর্ণ করিয়া দিবে ।
এই সকল হইতে বুঝিতে পারা যায় যে, প্রাচীন যুগে
আমাদের দেশে কৃষির কিরূপ সমাদর ছি৷ তাহার পরবর্তী
কালেও যে ভারতে কৃষির আদর ও চর্চা ছিল খনার বচন
হইতেই আমরা তাহার প্রমাণ পাই। এই কৃষির সেবা করিয়া
ভারত অনতিকাল পূর্ব পর্যন্তও ধনধান্য সুখ সমৃদ্ধিতে
পরিপূর্ণ ছিল কিন্তু যে দিন হইতে আমরা এই কৃবিকে অবজ্ঞা

সরল কৃষি কথা
ও অনাদর করিতে আরম্ভ করিয়াছি সেই দিন হইতেই
আমাদের দুর্দশা আরম্ভ হইয়াছে।
ইউরােপ ও আমেরিকা প্রভৃতি দেশ প্রধানতঃ শিল্পপ্রধান
থাকিলেও বর্তমান
যুগে তথাকার অধিবাসীরা কৃষির
উপযােগিতা বুঝিতে পারিয়া নৃতন উন্নত প্রণালীর সময় ও শ্রম
লাঘবকারী কৃষি যন্ত্রাদি সাহায্যে, নূতন নূতন বৈজ্ঞানিক সার
প্রয়ােগে ও সাধারণের মধ্যে আধুনিক কালােপযােগী উন্নত
প্রণালীর কৃষি বিষয়ক জ্ঞান বিস্তার করাইয়া, কৃষি কৰ্ম্ম দ্বারা
ভথাকার কঙ্করবহুল ভূমিতে আমাদের দেশের চাইতে বহু গুণ
বেশী ফসল উৎপাদন করিয়া দিন দিন লক্ষ্মীলাভ করিতেছে
আর আমরা এমনই দুর্ভাগ্য যে, আমাদের দেশ চির কৃষি
প্রধান হওয়া সত্বেও সময়ােপযােগী কৃষি বিষয়ক জ্ঞান প্রচার
অভাবে ও কার্যকারী সকল বিষয়ে আমাদের নিশ্চেষ্টতার
জন্য আমরা দিন দিনই দরিদ্র হইয়া পরিতেছি।
তাই যে কৃষি ভারতের যুগযুগান্তরের সাধনার বস্তু ছিল
আমি এই ক্ষুদ্র পুস্তকের মধ্য দিয়া সেই কৃষি সম্বন্ধেই কিছু
বলিতে চাই। দেশে এখনও পতিত, জঙ্গল, জলা, অনাবাদী
জমী বিস্তর পড়িয়া আছে, সেই সকল জমী লইয়া যদি উদ্যোগী
যুবকগণ সঙ্ঘবদ্ধ হইয়া কো-অপারেটিভ প্রণালীতে আমার
পরামর্শানুযায়ী স্বহস্তে কৃষি কাৰ্য্য আরম্ভ করিতে পারেন
তাহা হইলে দেখিতে পাইবেন যে ইহা কিরূপ লাভজনক
কাৰ্য্য। ধান, পাট ব্যতীতও এমন কতকগুলি কৃষি আছে

ভিন্ন ভিন্ন মৃত্তিকার উপযােগী ফসল
" ** ** '."
যাহা অল্প মূল ধনে, অল্প জমীতে, অল্প লােকের দ্বারা সম্পন্ন
হইতে পারে ইংরাজীতে তাহাকে Intensive agriculture
বলা হয়, বাংলায় আমরা উহাকে সংক্ষেপে আয়কর কৃষি এই
আখ্যা দিতে পারি। এইরূপ কয়েকটী কৃষির ইঙ্গিতেও আমি
এই পুস্তক মধ্যে দিয়াছি।
ইহা ব্যতীত বাংলায় প্রতি পল্লীতে বনে জঙ্গলে এমন
কতকগুলি অনায়াসলভ্য গাছপালা জন্মায় যাহার সদ্ব্যবহার
করিলে আমরা অতি অল্পায়াসে প্রচুর লাভবান হইতে পারি,
তাহারও কিছু কিছু পরিচয় এই ক্ষুদ্র পুস্তকে দেওয়া গেল।
যদি এই ক্ষুদ্র পুস্তক দ্বারা কৃষির প্রতি বাংলার যুবকদের দৃষ্টি
কিঞ্চিত্রও আকৃষ্ট হয় তাহা হইলেই আমার শ্রম সার্থক
হইবে।
ভিন্ন ভিন্ন মুক্তিকার উপযােগী ফসল
১। প্রস্তম মৃত্তিকার উপযােগী
বই, জুয়া, ভুট্টা, গোলী, লাইও, মাড়য়া, কোদো, বাজরা
বাঁশ, কোঙ্গা, খাম-আলু, চুবড়ি-আলু, শঠী, রেড়ী, সিমুলআলু
তঁত, লঙ্কা, টেপারি, তামাক, রাঙ্গা ও সাদা আলু, শাকআলু
করােল, চিচিঙ্গা, কুরুকি, বটা, ঘােড়ামুগ, অড়হর, নীল
সজনা, অড়ইরিয়া সীম, পলাশ, আসন, মাখম সীম, সয়বীন
নামক জাপানী সীম, সােরগাঁজা, মােস্তাপাট, কর্পাস, সিমুল,
মেস্তা, ঢেড়স, কুসুম, ফাপর বা রাজগীর, ভেল, সাবুই ঘাস,

সরল কৃষি কথা
—আলু
ব,
হরিতকী, সিঙ্কোনা গাছ, চা, কফি, তেজপাতা, ডেঙ্গোশাক,
হিজলী বাদাম, কঁঠাল, ইত্যাদি।
২। বালুকাম জমীর উপযােগী—বাজরা
তিল, সােরাগোঁজা, কলাই, মগ, যব, যই, সর্ষপ, ধইঞ্চা,
চীনা বাদাম, ফাপর, শন, চীনা, ফুটী,তরমুজ, খরমুজ, পটোল,
শাক আলু, কুলথ-কলাই, নীল, মেস্তাপাট,কুসুম , ভাই,
পান ইত্যাদি।
৩। দোআঁশ জমীর উপযােগী।
তামাক, ধান, পাট, ইক্ষু, বিলাতী ও দেশী সবজী, ভুট্টা, গম,
তিসি, যই, ছােলা, মটর, মুসুরী, খেসারী, মুগ কলাই,
জুয়ার, কার্পাস, মেস্তা, হলুদ, আদা, আমাদা, এবােরুট,
চীনাবাদাম, ফুটী, তুত, সিমূল আলু, সাদা ও রাঙ্গাআলু,
ওল, কচু, মান, চুবড়ি ও খাম আলু ইত্যাদি।
৪। কমম মৃত্তিকার উপযােগী
আমন ধান, গম, পাট ইক্ষু,, অড়হর মাদুরকাঠি, তুত,
ছােলা, মটর, সীম, মুগ, তিসি, বাঁধাকপি, যই ইত্যাদি।
৪। সুতি শামুক, বা দুণে-পাথর
সঙ্কুল, মৃত্তিকার উপযােগী—ধান, অড়হর, গম
ছােলা, খেসারী, মসুরি, যব, আলু, শাক আলু, ভুট্টা, জুয়ার,
বাজরা, যই, লুসার্ণ, অড়হরিয়া সীম, কুলখ কলহ ইত্যাদি।
উদ্ভিজ্জ পদার্থ দলিত মৃত্তিকা
ৰা নােমাটি উপযােগী—-লাউ, কুমড়া

ভিন্ন ভিন্ন মৃকিকার উপযোগী ফসল। ঝিঙ্গ শশা তিসি, সর্ষপ, যই, য, গম, বেগুন, ঢেড়শ, ইত্যাদি ৭। সমুকুল হইতে৫৬• ক্রোশের মধ্যে জন্মাইবার উপযুক্ত ফসল।--ধনে মূলা, বাঁধাকপি, হিজলীবাদাম, খর্জুর, সুপারি, নারিকেল, ইক্ষু ধইঞ্চা, আলু, চীনাবাদাম, কার্প, কলা, লাউ, কুমড়া যব, ইত্যাদি। মৃত্তিকার অবস্থান ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণের উপরই শস্যোৎ- পাদন নির্ভর করে। নিম্নকর্দময় ভূমি আমনধানের উপযােগী কিন্তু মাদুরকাঠি বা তুত নিম্ন ভূমিতে লাগাইলে হইবে না। হিজলীবাদাম বা সমুদ্রের নিকটবর্তী প্রস্তরময় জমিতেই ভাল জন্মে ; সমুদ্র হইতে শতাধিক ক্রোশ অন্তরে ইহা ভাল জন্মে । তেজপাতার গাছ প্রস্তরময় ভূভাগে উত্তম জন্মাইতে পারা যায় বলিয়া যে মানভূম বা সিংভুমে ইহা ভাল জন্মিবে এরূপ কথা নাই কারণ যে স্থানে বৃষ্টিপাত পরিমাণে কম সে স্থানে এ গাছ ভাল জন্মে না। সুতরাং কেবল মৃত্তিকার উপাদান দেখিয়াই ফসল নির্বাচন করা চলিতে পারে না।

বাংলার কয়েকটি ফসল। ঘাস জাতীয়---ধান, গম, যব, যই, ভূট্টা, বাজরা, মারূয়া চীন, কাওন, শ্যামা, কুতকি, কোদো, আখ, বাঁশ ইত্যাদি। নানারকম ঘাস—দুৰ্ব্বা, গিনিঘাস, পারঘাস, লেবুঘাস, রােড়দ্বাস, হাতীঘাস, রিয়নঘাস. সুদানঘাস ইত্যাদি। সীম জাতীয়-মটর মুশুরী, মুগ, খেসারী, কলাই বুট ৰা ছােলা, অড়হর, শণ, ধইঞ্চা ইত্যাদি। শর্ষেজাতীয়-~-শরিষা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, ওলকপি, মূলা প্রভৃতি। সুত্ৰজাতীয় কার্পাস, সিমুল, মেস্তা পাট, অম্বরি লতা, কস্তুরী, ঢেড়স ইত্যাদি। উপারাক্ত ফসলের মধ্যে কতকগুলি আমাদের নিত্য ব্যব- হারিকগণ মধ্যে পরিণত করা যায় যথা- ১। খাদ্য শস্য-ধান, গম, যব, যই, ভুট্টা, জুয়ার ইত্যাদি ২। ডাইল শস্য-মূসুরী, খেসারী, মটর, ছােলা, অরহর, বৰ্কট, মুগ, মটর, কলাই প্রভৃতি। ৩। তৈল শস্য-শর্ষে, তিল, রাই, তিল, শোরগুজা, রেড়ি, চিনাবাদাম, ইত্যাদি। ৩ শস্য-পাট, শন, কার্পাস, মেস্তা, মুর্গা, শিমূল প্রভৃতি। ৪।

বাংলার কয়েকটা ফুস
"
৫। জমীর নীচে উৎপন্ন ফসল--আলু, আদা, হলুদ,
শঠি, এরােরুট, নানারকম মেটে আলু, ওলকপি, মূলা, পিয়াজ,
রশুন, বীট, শালগম ইত্যাদি।
৬। দেশীয় শাক সবজী---কুমুড়া, বেগুন, লাউ, পটোল,
ঝিঙা, শশা, উচ্ছে, ঢেড়স, সীম, ডুমুর, কচু, ওল, চিচিঙ্গা
ইত্যাদি।
৭। বিদেশীয় সবজী—ফুল ও বাঁধাকপি,
ও বাঁধাকপি, বিলাতী
বেগুণ, বীট, বিন, গাজর, হাতিচাক, শালগম প্রভৃতি।
৮। মসলা জাতীয় শস্য-- শর্ষে, ধনে, লঙ্কা, জীরা,
মেথী, রাধুনী মৌরী, তেজপাতা, আদা, হলুদ, রশুন, পুদিনা,
শুলকা প্রভৃতি।
শাক জাতীয় শস্য---পালং, বেথা, হিংচা, ডেঙ্গা,
নটে, লালশাক, পুঁই ইত্যাদি ।
শর্করা জাতীয় শস্য—আখ, তাল, বীট, খেজুরগাছ
প্রভৃতি।
১১। ঔষধ ও মাদকজাতীয় গাছ-পান, তামাক, গাঁজা,
সিদ্ধি, আফিং, সিনকোনা, কোকো, কফি, চা ইত্যাদি।
পশু খাদ্য-ভূট্টা, যই, মটর, জোয়ার, খেসারী,
কালই, নানারকম ঘাস, লুসার্ণ, সয়বীন, চিনাবাদাম, বড়সীম,
নীম, বরবট প্রভৃতি।
রংয়ের গাছ-নীল, পলাশ, বাবলা, কুসুমফুল,
মেহেন্দি, নটকান, জাফরান, ইত্যাদি।

১০
সরল কৃষি কথা
১৪। ফল জাতীয়—আম, কঁাটাল, আনাস, কলা,
পেয়ারা, জাম, গােলাপজাম, লিচু, পেঁপে, জামরুল, আতা,
কমলালেবু, লেবু, সপেতা, তরমুজ, ফুটী, ক্ষীরা, বেদানা, লিচু,
আঙ্গুর, নারিকেল, বেল, কুল প্রভৃতি।
১৫। কাঠের গাছ— দেবদারু, মেহাগ্নি, খয়ের, সেগুন,
শাল, ইত্যাদি।

ধাগ্য।
বৈদিক যুগে কেবলমাত্র ভারতবর্ষ ভিন্ন পৃথিবীর অন্য
কোন দেশেই ধান্য পরিচিত ছিল না। ধান্য এই সমগ্র
পৃথিবীর প্রায় অর্ধাংশ লােকের প্রধান খাদ্য। আমাদের এই
জীবন-স্বরূপ ধান্যের আদি জন্মস্থান ভারতবর্ষ। খ্রীষ্টের জন্মের
প্রায় তিন সহস্র বৎসর পূর্বে
ভারতের পান্য সর্বপ্রথমে চীন
দেশেই নীত হইয়াছিল এবং সেই সময় হইতেই চীনে ধান্যের
চাষ আরম্ভ হইয়াছে। খ্রীষ্টের জন্মের ৮০০ বৎসর পূর্বে
তদানীন্তন চীন সম্রাট রিয়ান ধান্যোৎসব-প্রথা প্রবর্তণ করেন।
ঐ উৎসবে স্বয়ং সম্রা সর্বপ্রথম স্বহস্তে এক বিশিষ্ট প্রকার
ধতি বপন করেন। সেই হইতেই উক্ত প্রধানুযায়ী প্রতি
বৎসরই চীন-সম্রাট স্বহস্তে সাগ্রহে ধান্য-বীজ বপন করেন
এবং তৎপরেই কৃষকেরা স্ব স্ব ক্ষেত্রে ধান বপন করেন।
তৎকাল হইতেই চীনের প্রায় সর্বত্রই ধান্যের চাষ চলিতেছে।
ইহা হইতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে ৪৭২১ বৎসর পূর্বে
তঙুলই চীনবাসীদের প্রধান খাদ্য ছিল।
বাংলা দেশে প্রধান ফসলই ধান। ইহা অনুমান ৫০ ০ ০
রকম আছে। এই ৫ ০ ০ ০ রকম ধান্যকে ৫ ভাগ করা যাইতে
পারে যথা-(১) আমন (২) আউস (3) দিগে, (৪) বােরো
(৫) রায়দা। ইহাদের কোন সময় কোন ধান্য বপন করিতে

সবল কৃষি কথা
* *
হয় কতটুকু জল দিতে হয়, কতটুকু সার দিতে হয় তাহা নিমে
প্রদত্ত হইতেছে।
আমন ধান অনেক রকমের আছে, যথা—ইশহল,
নাগরা, দুধসর ইত্যাদি—ইহা ধানের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট। ইহা
অনেক রকমের আছে। দিনাজপুরে কাটারি ভােগ খুবই
উৎকৃষ্ট ধান। সবগুলি স্থানীয় জল বাতাসের সাহায্যে উৎপন্ন
হয়। কোন কোন স্থানে ইহা অন্য জমিতে প্রথমে বীজ বপন
করিয়া চারা তৈয়ারী করিয়া পরে রােপণ করিতে হয়।
আবার কোন কোন স্থানে জমিতে আবাদ করার পরে বীজ
বপন করিয়া দেওয়া হয়। এক কাঠা পমািণ জমিতে ৫৬ সের
বীজ বুনিলে যে চারা হইবে তাহাতে এক বিঘা রােপণ করা
যাইবে। একটা মাটির পাত্রে বীজগুলি ১০/১২ ঘণ্টা ভিজাইয়া
পরে সেগুলি তুলিয়া জল ঝাড়িয়া বাতাসে শুকাইয়া দরমা
ঢাকা দিয়া রাখিলে বীজ ফুটিয়া বাহির হইবে ।
বীজ কাদা মাটীতে বৈশাখ মাসে ছিটাইয়া দিবে। পারে
সেখান হইতে আষাঢ়, শ্রাবণ মাসে উঠাইয়া ভাল করিয়া
তৈয়ারী জমির মাটিতে রােপণ করিবে। অগ্রহায়ণ ও পোষ
মাসে এই ধান্য পাকিয়া থাকে। হেমন্ত ঋতুতে পাকে বলিয়া
উহাকে হৈমন্তিক ধান্য বলে
ছিটাইয়া বােনার জমি বৈশাখ মাসে বৃষ্টির পর ভাল
করিয়া তৈয়ারী করিয়া বিঘা প্রতি /১ সের বীজ বুনিতে হয়।
পরে নিড়াইয়া দিতে হয়। আমণ ধানের পক্ষে নাইট্রোজেন ও
এই ফুটন্ত

"L
ফরিক খুব উপকারী। গােবরের সারও অনেক জমিতে
দেওয়া যায়। বেশী নাইট্রোজেন দিলে গাছ খুব ঝাড়াল হয়
কিন্তু ধান কম হয়। নাট্রোজেনের সঙ্গে কিছু ফস্ফরিক এসিড
দিলে ধান বেশী হয়। প্রতি বিঘায় ৩০৪ ০ মণ গােবর সার
দিতে হয়। প্রতি বিঘায় ১০/ মণ ধান হইতে পারে।
আউশ ধান্য—কটকতারা, সূর্যমুখী, লুকি, গরকা, তুলসী-
মালা, বেণীভাঙ্গা ইত্যাদি অনেক রকম আছে-দোয়াশ বা
তার চেয়ে হালকা মাটীতে ইহা ভাল জন্মে। সাধারণতঃ বীজ
ছিটাইয়া বপন করা হয় কিন্তু আমন ধানের মত যদি ইহার
বীজ তলায় লাগাইয়া পরে রােপণ করা হয় তবে ফসল খুব
বেশী হয়। শীতের প্রথমেই গভীর করিয়া চাষ দিয়া চৈত্র কি
বৈশাখ মাসে বতর পাইলে বীজ ছিটাইয়া দিবে। বিঘা প্রতি
বার তের সের কিংবা হিসাব করিয়া বুনিতে পারিলে দশ
সের বুনিলেও ভাল ফসল হয়। আউশ ধানে বেশী সার
দেওয়া সঙ্গত নয় ।
বিঘা প্রতি দুই গাড়ী গােবর সার দিলেই যথেষ্ট।
গাছগুলি বিঘত আন্দাজ বড় হইলে হয় রেড়ীর খইলের গুড়া
একমণ কিংবা সালফেট অব এমােনিয়া দশ সেরের সঙ্গে
সুপার ফস্ফেট বার সের মিশাইয়া জমিতে ভাল করিয়া সমান
ভাবে ছিটাইয়া দিতে হয়। ঢাকার দিকে লাল মাটীতে
গােবর সারের সঙ্গে প্রতি বিঘায় এক মণ হাড়ের গুড়া
দেওয়ায় ভাল ফসল হইয়াছে।

১৪
সরল কৃষি কথা
সাধারণতঃ আউশ ধান ভাদ্র আশ্বিন মাসে পাকে। বেশ
পাকিবার পূর্বেই এই ধান কাটা উচিত নইলে পড়িয়া যাইবার
সম্ভাবনা আছে।
বােয়রা খুব জলা জায়গা ভিন্ন এ ধান হয় না। নদীর
কিনারা বিলের পাশে বা ভিজা চরে সাধারণতঃ এই ধান ভাল
হয়। জোয়ার ভাটার সাহায্যেই এই ধান আবাদ হয়। প্রথমে
যে স্থানে বর্ষার জল নামিয়া গিয়াছে সেই স্থানে কাদার উপর
গজান বীজ বুনিতে হয়। দুই কাঠা জমিতে পাঁচ সের বীজ
বুনিলে এক বিঘা জমির চারা যথেষ্ট হয়। বীজ তলায় মাঝে
মাঝে জল দিতে হয়। চারাগুলি পৌষ মাঘ মাসে দশ বার
ইঞ্চি লম্বা হইলে জমিতে রােপন করিতে হয়।
বােরা জমির
চাষের ও সারের কোন আবশ্যক হয় না। কাদার উপরেই
সাধারণতঃ চারাগুলি লাগান হয়। চৈত্র বৈশাখ মাসে ধান
কাটা হয়। প্রতি বিঘায় সাত আট মন ধান পাওয়া যায়।
রায়দা ধান-বােরো ধানেরই একটা অংশ। বােরো ধানের
বীজের সঙ্গে ইহাও অঙ্কুরিত করিয়া লাগান হয়। চৈত্র বৈশাখ
মাসে বােয়ােধান কাটা হইলে ইহা জমিতে থাকে, পরে আশ্বিন
কার্তিক মাসে ইহা কাটা হয়। ইহার গাছ খুব লম্বা হয়, এই
জন্যই বেশী জলেও ইহা জন্মিয়া থাকে। ইহা প্রতি বিঘায়
পাঁচ ছয় মণ উৎপন্ন হয়।
দিঘাইহাও চৈত্র মাসে জমিতে বীজ ছিটাইয়া বপন
করিতে হয়। জমিতে ভাল করিয়া চাষ মই দিয়া জো মত

ধান্ত
A"।
হয়।
ইহার বীজ ছিটাইাইতে হয়। পরে ইহা নিড়ানের আবশ্যক
সারের বিশেষ কোন প্রয়ােজন হয় না। তবে আমন
ধানের জমির মত ঐরূপে ইহাতে সার দেওয়া যাইতে পারে।
ইহা আশ্বিন কার্তিক মাসে কাটিতে হয়। প্রতি বিঘায় সাত
আট মণ ধান হয়।
ঢাকা, বরিশাল, চুচুড়া ও বাঁকুড়ায় অবস্থিত সরকারী
পরীক্ষাক্ষেত্রের গবেষণার ফলে নিম্নলিখিত কয়েক প্রকার ধান্য
আবিষ্কৃত হইয়াছে। ইহাদের প্রত্যেকেয় ফলন খুব বেশী
এবং ইহাদের চাষে কৃষকগণ অধিক লাভবান হইবে :-~--
(ক) শালিখা ।
ঢাকা নং ১--ইন্দ্রশাইল—মাঝারি রকমের রােয়া ধান,
সাধারণতঃ ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি পাকে। পূর্ব ও
উত্তরবঙ্গের যে সকল জমি উর্বর ও যাহাতে নভেম্বর পর্যন্ত
রস থাকে সেই জমির পক্ষেই ইহা বিশেষ উপযােগী। ইহা
ভাওয়ালের নিচু বাইদ জমিতেই উৎকৃষ্ট ফলে। উচ্চ জমি
অর্থাৎ যেখানে কাত্তিক শাইল জাতীয় ধান উৎপন্ন হয় কিম্বা
দোফসলি জমি ইহার আবাদের পক্ষে উপযােগী নয় ।
উপযুক্ত আবহাওয়ায় এই ধান শাইল ধান অপেক্ষা বিঘা
প্রতি ১/ মণ বেশী ফলে।
ঢাকা নং—দুধসর। অধিকাংশেই এই ধান উপরােক্ত
১নং থানের মত কেবলমাত্র ইহা ১নং ধান অপেক্ষা ৮/১০ দিন
পূৰ্বে পাকে। সুতরাং ইহ ১নং ধানের উপযােগী জমি হইতে

সরল কৃষি কথা অপেক্ষাকৃত উচু জমি ও হালকা জমিতে ভাল হয় এবং অধিক ফল। চাকা নং ১৫-ঝিঙ্গাশাইল । ইহা ১মং ও ২নং ধান অপেক্ষা মিহি; ইহার ডগায় সামান্য সোয়া আছে। একই রকম অবস্থায় ইহা ২নং ধানের সঙ্গে সঙ্গেই পাকে ও সমান ফল। ১নং ২নং ধান অপেক্ষা ইহার চাউল ভাল। ইহার খড় অতি নরম। কাজেই অতি সহজেই এই ধানের ঝড় শুইয়া পড়ে। ইহা এবং উপরােক্ত দুই রকম ধানই স্থানীয় পান অপেক্ষা সাধারণতঃ বিঘা প্রতি ১/ মণ বেশী ফলে। ঢাকা নং১৬-লাটিশাইল। ইহা এক প্রকার মােটা শাইল ধান। ২নং ধানের সঙ্গে ইহাও পাকে। ১নং, ২নং ও ৩নং ধানের উপযােগী জমিতে ইহার আবাদ চলে, কিন্তু ঐ সকল জমি অপেক্ষা কিঞ্চিদধিক উচু জমিতেই ইহার ফসল ভাল হয়, ইহার গাছ লম্বা হয় না। দোফসলি জমির জন্য ও মােটা অথচপ্রচুর ফসলেছুক ব্যক্তির জন্য এই ধান অনুমােদন করা যাইতে পারে। ঢাকা নং ২১–শঙ্কর জাতীয় শালি ধান্যের মধ্যে ইহা আগে পাকে ও ডি আই (৩৪) নামে পরিচিত। ইহা উৎ- কৃষ্টতর ধান্য, ও মাঝামাঝি জমিতে ভাল ফসল দেয়। চূড়া নং ২-নাগরা। ইহা পশ্চিমবঙ্গের নাংরা ধানেরই একটী নিৰ্বাচিত জাত। ১নং ধানের জমিই ইহার চাষের উপযোগী। ইহার ফলনও প্রচুর।

চুচুড়া নং ২-ভাসমানিক। ইহা পশ্চিমবঙ্গের একটী
নির্বাচিত জাত। পাঁচ বছরের গড়পড়তা ফলনে ইহা চুচুড়া
সরকারী ক্ষেত্রের অন্যান্য সকল ধানকেই পরাস্ত করিয়াছে।
সম্প্রতি ইহার সুখ্যাতি বাঙ্গালার সমস্ত জায়গায়ই শুনা
যাইতেছে। গুণ ও ফলন এই দুয়ের সমন্নয়ে ইহা আদর্শ ধান।
বাঁকুড়া নং ১-বাদকলমকাটী।•(৬৫) ইহা বাঁকুড়া জিলায়
কার্তিক শাইল শ্রেণীভুক্ত বাদকলমকাটি ধান্যেরই একটা
নিৰ্বাচিত জাত। ইহা অতীব উৎকৃষ্ট ধান্য ও আগে পাকে।
বাঁকুড়া ও বীরভূম অঞ্চলে উচু “বাদ ভূমিতে ইহার ফলন এত
বেশী যে তথায় ইহার সমকক্ষ অন্য কোন ধান্যই নাই।
(৯) বরিশাল নং ১-ংিড়িঘুষি (৫)। বরিশালের
চিংড়িঘূষি বালাম ধানের ইহা একটি উন্নত জাত। স্থানীয়
বালামের জমিই ইহার চাষের উপযােগী।
(১০) বরিশাল নং ২-ক্ষীরাজলি। বরিশালের ক্ষীরা-
জলি বালামেরই ইহা, একটি উন্নত জাত। বাখরগঞ্জে ইহার
চাষ ও ফলন ঠিক ৯নং ধানের অনুরূপ।
(খ) আমায়।
(১১) ঢাকা নং ২-কটকতারা। ইহা মাঝারিগােছের
মিহি ধান। স্নাধারণতঃ ইহা ৪মাসে পাকে। ইহা উচু জমীতে
ছিটকাইয়া বােনা হয়। ইহা উচু উর্বর জমিতে কোন রবি-
শস্যের সহিত পাল্টাপাল্টি ভাবে ভাল হয়। মধুপুর জঙ্গল

সরল কৃষি কথা অঞ্চলের উচু জমিতে ইহার ফলন ভাল হয়। ইহা দেরীতে পাকে বলিয়া দোফসলি ধান জমির উপযােগী নহে। তবে শী পাকে এমন কোন শাইল ধান ইহাতে লাগান যাইতে পারে। (১২) ঢাকা নং ৪-সুৰ্যমুখী। সকলাংশেই উহা কটক- তারার মত। (১৩) ঢাকা নং ৩ চারণক। উহা উঁচু ও হাল্কা জমির উপযােগী আশুধান। চারণক্‌ খুব চিক্কণ এবং কটকতারা ও সূৰ্যমুখী ধানের আগে পাকে। ফলন ও চাউলের চিকণতা হিসাবে উহা একটা উৎকৃষ্ট ধান। (১৪) ঢাকা নং ১৪—রিয়াল। ইহা এক প্রকার মােটা আধান্য। ১১নং ধানের মত ইহা আগে পাকে। ১১নং, ১২নং ধানের জমিও ইহার উপযােগী। উহার ফলন খুব বেশী এই কারণে চাষীরা নিজেদের ব্যবহারের জন্য ইহা খুব পছন্দ করিয়া থাকে। বঙ্গদেশের যে যে অঞ্চলে ইহা পরীক্ষিত হইয়াছে, সর্বত্রই ইহা অতি উৎকৃষ্ট ফলন দিয়াছে। (১৫) ঢাকা নং১৬-কুমারী। ইহা মাঝারিগােছের মিহি ১১নং, ১২নং ধানের জমিই ইহার উপযােগী। (১৬) ঢাকা নং ১৮—ইহা শঙ্কর জাতীয় আউস ধান ও পি এস্ (৮) নামে পরিচিত। ইহা আগে পাকে। উচু, উৰ্বর অথচ হাকা ও দোফসলি ধান জমির পক্ষে ইহা বিশেষ উপযােগী। ধান। ৭ धान ১১ (১৭) বাঁকুড়া নং ২-ঋজি (৩৪)। বাঁকুড়ার অবি- মিশ্র আশু-রােয়া ধান হইতে ইহা নিৰ্বাচিত হইয়াছে। ইহা মােটা ও প্রচুর পরিমাণে ফলে। উচু বােয়া ধানের জমিই ইহার আবাদের উপযােগী। (১৮) বাঁকুড়া নং ৪—ভূতমুড়ি (৩৬)। বাঁকুড়ার ভূত- মুড়ি আউস ধানের ইহা একটি উন্নত জাত। ইহা উঁচু জমির উপযােগী ধান। ইহার বিশেষত্ব এই যে, ইহা অনাবৃষ্টিও সহ করিতে পারে। খুব মােটা চাউল বলিয়া চাষী ও শ্রমজীবীরা ইহা খুব পছন্দ করিয়া থাকে। উপরােক্ত সকল জাতীয় ধানই ফলন ও গুণের জন্য চাষের উপযােগী। উপযুক্ত আবহাওয়ায় এই সকল ধানের ফসল চাষীদিগের ধান অপেক্ষা বেশী হইয়া থাকে। বীজ বিতরণ প্রণালী নানা কারণে বীজ বিতরণ কাৰ্য একটি সমস্যার কথা, যথা— (১) চাষীরা সাধারণতঃ তাহাদের নিজেদের প্রয়ােজনীয় বীজ নিজেরাই রাখে। প্রতি বৎসরই তাহাদিগকে বাহির হইতে বীজ আনিতে হয় না। অতএব পাটের ন্যায় বীজ আনিতে হয় না। অএব পাটের ন্যায় বীজ ধানের কোন নির্দিষ্ট চাহিদা নাই। (২) চাষীরা সাধারণতঃ গুণ অবস্থা নির্বিশেষে ২৩ রকম

সরল কৃষি কথা।
জাতের ধান বুনিয়া থাকে। অতএব অনেক জায়গা ব্যাপিয়া
কেবলমাত্র একই রকমের ধান বিতরণ করা সম্ভবপর নয়। ঐ
কারণেই বীজ ধান মিশ্রিত হইয়া যায় ও ক্রমশঃ নিকৃষ্ট হইয়া
পড়ে।
(৩) পাটের বীজ অপেক্ষা ধানের বীজ দরে সস্তা ও
আকারে বড় বলিয়া দূরদেশে সরবরাহ করার খরচ পােয়
। রেলভাড়া প্রভৃতি খরচ অনেক বেশী হইয়া পড়ে।
যদি গ্রাম্য কৃষি সমিতি, জিলা বাের্ড, কো-অপারেটিভ,
ব্যাঙ্ক বা স্থানীয় মাতব্বর চাষীদের দ্বারায় গ্রামের বীজ ক্ষেত্র
(Seed Centres) স্থাপিত হয় তাহা হইলেই এই সমস্যার
সমাধান সহজেই হইতে পারে। এই সকল বীজক্ষেত্র সরকারী
কষিক্ষেত্র হইতে বীজ লইবে এবং উহা হইতে বীজ উৎপন্ন
করিয়া পর বৎসর বুনিবার আগে পর্যন্ত গােলাজাত রাখিবে,
পরে প্রতিবেশীদিগের নিকট উহা বিক্রয় করিবে কিম্বা স্থানীয়
বীজের বদলে দিবে। যদি বদলে দিতেই হয় তাহা হইলে
আর গােলাজাত করিবার প্রয়ােজন হয় না, একেবারেই শস্য
কাটিবার পর ক্ষেত্র হইতেই বিতরণ করা যাইতে পারে।
এই ব্যবস্থানুযায়ী ১৯২৫ সাল হইতে কাৰ্য্য হইয়াছে এবং
১৯৩১-৩২ সালে এইরূপ বীজ ক্ষেত্রের সংখ্যা ২৪৫ উঠিয়াছে।
তাহার মধ্যে ১২৯টির প্রত্যেকটির আয়তন ৫ বিঘার বেশী এই
সকল বীজক্ষেত্র হইতে ১৯৩১-৩২ সনে মােট ১৩৮১৮/ মণ
আউস ওআমন বীজ ধান বিতরণ করা হইয়াছে।

"A T বীজ সংরক্ষণই চাষীদের পক্ষে প্রধান সমস্যা। যতটুকু বীজ স্থানীয় চাষীদের কেবলমাত্র বুনিবার জন্য প্রয়ােজন তত- টুকু পর বৎসর বুনিবার আগে পর্যন্ত গােলাজাত রাখিতে হইবে, নতুবা বীজ ধান অন্যভাবে খরচ হইবার সম্ভাবনা। কিন্তু সাধারণ চাষীরা ইহা করিতে পারে না। আশা করা যায়, সরকারী সমবায় বিভাগ (Co-operative Department) চাষীদের এ বিষয়ে সাহায্য করিতে পারিবে। দৃষ্টান্তস্বরূপ ২১ জায়গায় সমবায় বিভাগ স্থানীয় ব্যাঙ্কের সাহায্যে সরকারী বীজ তাহাদের মেম্বারদের মধ্যে বিতরণ ও পরে সমগ্র বীজ গােলাজাত করিবার ভার গ্রহণ করিয়াছে। সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কে সরকারী কৃষি-বিভাগ হইতে বীজ ক্রয় করিয়া এই সত্তে বিতরণ করে যে, প্রত্যেক গ্রাহক ফসল কাটিবার পর কম পরিমাণ ধান উপরন্তু আরও সিকি অংশ ফেরত দিবে। সমস্ত বীজ ব্যাঙ্ক মজুত করিয়া পুনরায় একই সৰ্তে পর বৎসর বিতরণ করে কিংবা বিক্রয় করে। এইরূপ ব্যবস্থানুযায়ী কাৰ্য্য ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জ এবং রাজশাহীর নওগাঁও এলাকায় আউস ধান ও বগুড়ায় আমন ধান লইয়া চলিতেছে। যতদূর সম্ভব সমবায় বিভাগের স্থানীয় কর্মচারিবৃন্দের সহ- যােগে বীজক্ষেত্র স্থাপিত হওয়া উচিত, কারণ তাহা হইলে তাহার বীজক্ষেত্র হইতে প্রাপ্ত বীজসমূহ পর বৎসর বুনাকাল পর্যন্ত যাহাতে গােলাজাত থাকে, তাহার সুবন্দোবস্ত নিকট- বর্তী ব্যাঙ্কসমূহের সাহায্যে করাইয়া দিতে পারিবেন।

২২ সরল কৃষি কথা উপরােক্ত বিভিন্ন জাতীয় ধান সম্বন্ধে কিম্বা সরবরাহের নিমিত্ত বীজ উৎপন্ন করা সম্বন্ধে যদি কেহ বিশেষ বিবরণ জানিতে চান, তাহা হইলে ঢাকায় বাঙ্গালার কৃষি-বিভাগের ডিরেক্টর বাহাদুরের নিকট কিংবা সরকারী কৃষিফারমে উদ্ভিদ- তত্ত্ববিদ্ মহাশয়ের নিকট আবেদন করুন।

পাট
বাংলাদেশে পাট একটা প্রধান সম্পদ। প্রায় পঁয়ষট্টি
কোটী টাকা বৈদেশিক অর্থ আমরা ইহার দ্বায়া প্রাপ্ত হই।
সাধারণত: ইহা দুই প্রকারের, গােলাজাতীয় তিতা আর
লম্বা জাতীয় মিঠা পাট। মিঠা পাটের চেয়ে তিতা পাটের তন্তু
ভাল। মিঠা পাট উচু ডাঙ্গা জমিতে আর তিতা পাট নিচু বা
জলা জমিতে হয়।
অনেক রকম বীজ পাওয়া যায়, কিন্তু কৃষিবিভাগের বীজই
সবচেয়ে ভাল, তিতার মধ্যে কাকিয়া বােম্বাই যাহা নিম্নজমিতে
বা জলাজমিতে হয়, মিঠার মধ্যে চুচুড়া সবুজ যাহা উচুজমিতে
হয় ইহাই সবচেয়ে ভাল। অন্যান্য পাটের চেয়ে ইহা প্রায় দুই
মণ বিঘাতে বেশী হয়। কাকিয়া বােম্বাই উজ্জ্বল সাদা। এতে
ডালপালা কম হয়, ঘােট থাকিতে কাটিলে ওজন কম হয়,কিন্তু
সেগুলি রেশমের মত কোমল হয়, বাংলাদেশের লক্ষাধিক বিঘা
ইহার চাষ হয়। বাংলাদেশের সমস্ত স্থানের চেয়ে সাধারণত
পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্রের পলি জমিতে ভাল পাট হয়।
মাটিতে পাট বেশী হইলেও তন্তু কম হয়। যখন বাড়ীতে
থাকে তখন যথেষ্ট জল ও উত্তাপের দরকার। গােড়াতে পাটে
বেশী বৃষ্টি পাইলে পাট খারাপ হয়।
কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে নীচু পাটের জমিতে চাষ দিতে
এটেল

২৪
সরল কৃষি কথা
হয়। খুব ভাল চাষ ও মই দিয়া জমি তৈরী করিতে হয়।
পাট সকল উঠিয়া গেলেই চাষ দিতে হয়। যে জমিতে প্রত্যেক
বৎসর পলি পড়ে না তাহাতে প্রতি বিঘায় ৩৪ গাড়ী গােবর
সার দিবে। যে সমস্ত আগাছা ও কচুরী ইত্যাদি যাহা জমিতে
থাকে তাহা পােড়াইয়া সেই ছাই জমিতে দিবে। কচুরী
পােড়াইয়া তাহার ছাই যথেষ্ট পরিমাণ দিতে পারিলে আরও
ভাল হয়। জমির অবস্থা বুঝিয়া মাঘ ফান হইতে বৈশাখ
পর্যন্ত বীজ বােনা হয়। প্রতি বিঘায় এক সের দেড় সের
বীজ বপন করিতে হয়। পাট বােনার পর বৃষ্টি হইয়া যদি
জমির মাটীতে সরালী পড়ে তবে তাহা ভাঙ্গিয়া দেওয়া
নিতান্ত প্রয়ােজন।
পাটের গাছগুলি বিঘত পরিমাণ বড় হইলেই ৪৷৫ ইঞ্চি
তফাৎ রাখিয়া আর উঠাইয়া ফেলিবে। আর যদি পাট বেশী
পালা হয় তবে ডালও বেশী হয়।
পাট বুনিবার চার পাঁচ মাস পরে পাট কাটিবার মত হয়।
শুকাইয়া যখন ফল বাঁধিতে আরম্ভ হয় তখন ইহা কাটার
উপযুক্ত সময়। দেরি করিয়া কাটিলে পাটের ওজন বেশী হয়
কিন্তু তাহা শক্ত আর খারাপ হয়।
পাট কাটিয়া ছােট আঁটী বাঁধিয়া ৩৪ দিন জমিতে রাখার
পর পাতা ঝরিলে জলে ভিজাইতে হয়। স্রোতের জলে না
ভিজাইয়া বদ্ধ জলেই ভিজান ভাল। উপরে কাদা, কলাগাছ
ইত্যাদির চাপ দিয়া অন্ততঃ ২ ফুট নীচে রাখিতে হয়। ইহা

পাট
২৫
বেশী পচাইলে খারাপ হয়। পচান শেষ হইলে আঁশ ছাড়া-
ইয়া পরিষ্কার জলে ধুইয়া শুকাইয়া লইতে হয়।
সাধারণতঃ প্রতি বিঘায় সাত আট মণ হয় কিন্তু ভাল বীজ
বুনিয়া ভাল ভাবে সার দিলে দশ বার মণও হয়।

ডাইল।
ডাইল শুটি জাতীয় (Leguminous ) ফসল সুতরাং
অন্যান্য শুটিজাতীয় ফসলের মত সূৰ্যকিরণ হইতে নাইট্রোজেন
নামক আহার সংগ্রহ করিয়া থাকে। ডাইলের চাষে সারের
বিশেষ কোন আবশ্যক হয় না। যে জমিতে ডাইলের চাষ
করা হয় সে জমিতে সামান্য চূণ ও নাইট্রোজেন প্রধান সার
থাকিলেই হইল, না থাকিলে সামান্য দেওয়া আবশ্যক।
ডাইলের মধ্যে মটর, ছােলা, মুগ, অড়হর, খেসারী, ও মুসুরী
মটর-কার্তিক মাসে ইহার বীজ বপন করিতে হয়। বিঘা
প্রতি ৭৮ সের বীজ লাগে। বীজ ছিটাইয়া ও লাইন করিয়া
জুলিতে লাগান হয়। ৪৷৫ ইঞ্চি অন্তর বীজ ও ৩ ফিট অন্তর
গাছের লাইন রাখা আবশ্যক। এটেল বা পলি মাটি ইহার
পক্ষে উপযুক্ত।
ছােলা-বীজ বপনের সময় কার্তিক মাস। বিঘা প্রতি
১২।১৩ সের বীজ লাগে, ফাল্গুন চৈত্র মাসে ফসল কাটা হইয়া
থাকে। বিঘা প্রতি ৩/৩ মণ ডাইল আর ৫৬/• সের বিচালী
পাওয়া যায়। সরল এটেল মাটি ইহার চাষের বিশেষ
উপযােগী।

ডাইল
२१
. ******* *
*** ***
মুগ—ইহা দুই প্রকারের কৃষ্ণমুগ ও সােণামুগ। কৃষ্ণমুগের
বীজ জ্যৈষ্ঠ আষাঢ় মাসে ও সােণামুগের বীজ আশ্বিন কার্তিক
মাসে বপন করিতে হয়। প্রতি বিঘায় /২ সের বীজ লাগে
এবং ৪৪০/০ মণ ডাইল পাওয়া যায়। কৃষ্ণমুগ আশ্বিন মাসে
ও সােণামুগ মাঘ ফাঙ্কনে কাটা হয়। ইহার পক্ষে দোয়াশ
মাটি উপযুক্ত।
অড়হর ইহার দুই জাতি আছে (১) জ্যৈষ্ঠ আষাঢ় মাসে
বপন করিয়া মাঘ ফাল্গুনে ফসল ভােলা হয় এবং (২) শ্রাবণ
ভাদ্র মাসে বপন করিয়া চৈত্র মাসে ভােলা হয়। বিঘা প্রতি
৩৪/০ মণ ডাল পাওয়া যায়। ইহার চাষের পক্ষে দোয়াশ
এটেল মাটিই উপযুক্ত।
অড়হরের চাষে জমি উর্বর হয়।
কাটা গাছগুলি জ্বালানির পক্ষে ভাল। কুমিল্লার অড়হরই
সর্বোৎকৃষ্ট।
ঘেঁসারী-আশ্বিন কার্তিক মাসে বিঘা প্রতি ৩ সের বীজ
ছিটাইয়া বপন করিতে হয়। বিঘা প্রতি ২/ মণ ডাল ও ৩/
বিচালী পাওয়া যায়।
মুসুরী-কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে বীজ ছিটাইয়া বপন করা
হয়। বিঘা প্রতি ২০ সের বীজ লাগে। ফাঙ্কন চৈত্র মাসে
ফসল পাকে। বিঘা প্রতি পাঁচ মণ ডাইল পাওয়া যায় বাংলায়
বরিশালের মুসুরী উৎকৃষ্ট।
মাত্র কয়েকটা প্রধান ডাইলের এখানে উল্লেখ করিলাম

২৮
সরল কৃষি কথা
'
এতদ্ভিন্ন আরও অনেক প্রকার ডাইল আছে—যথা কুলতি বা
কুলখ, বিরী কলাই, বরবটি, গাড়ী কলাই, সয়বিন, মাসকলাই
ইত্যাদি (“বাংলার ফসল” দ্রষ্টব্য)।

আলু।
আলু নানাবিধ-শকরকন্দ আলু, রাঙা আলু, শাক আলু,
মউ
আলু, চুপড়ী আলু, ইত্যাদি অনেক প্রকার আলু আছে,
তন্মধ্যে গােল আলু বা বিলাতি আলু সৰ্ব্বাপেক্ষা লাভজনক।
বঙ্গদেশে অতি অল্প স্থলেই আলুর আবাদ হইতেছে, তন্মধ্যে
গঙ্গার পশ্চিম পারেই অধিক।
কঠিন জমিতে আলুর
আবাদ হয় না এবং লৌহ বা
পাথরসংযুক্ত মৃত্তিকাও আলুর পক্ষে সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত। সূক্ষ্ম
বালুকাযুক্ত দোয়াশ আলগা মৃত্তিকা আলুর আবাদের পক্ষে
প্রশস্ত। জমি এরূপ হইবে যেন জল অধিক্ষণ দাড়াইতে না
পারে, জল থাকিলে আলু পচিয়া যায় কিন্তু তাই বলিয়া একে-
বারে ঢালু জমি ভাল নহে। জমির নিকট নদী, পুষ্করিণী, খাল,
ও বিল কিম্বা ইন্দারা থাকা আবশ্যক।
জমি হইতে ভাদুই ফসল উঠিয়া গেলে ঘন ঘন চাষ দেওয়া
কৰ্ত্তব্য। বর্ষা অন্তে, আশ্বিন মাসের শেষ সপ্তাহ হইতে
অগ্রহায়ণ মাসের শেষ পর্যন্ত আলু রােপণ করা যাইতে
পারে।
আলু রােপণের একমাস পূৰ্বে জমি চাষ করা উচিত।
আলুর জমি ধূলিবৎ চূর্ণ করিতে হইবে। মাঘ ফান মাসে
ফসল ভাল হয়। আলুর জমিতে নাইট্রোজেন, পটাস,

৩০
সরল কৃষি কথা
গ্রহণণাপযােগী ফসফরিক অ্যাসিড, অস্থিচূর্ণ, রেড়ীর খইল,
ছাই, গােবর সার এই সমস্ত সার দেওয়া যাইতে পারে।
এক বিঘা জমিতে আলু চাষেয় আয় ব্যয়।
জমির খাজনা ৩,
বীজ আলুর দাম ২১
চাষ দেওয়া ৮ বার ৪
সারে খরচ
মই দেওয়া চারবার ৪
মােট খরচ
জল সেচন ৮ বার ৪
হিঃ ২৪,
অন্যূন ৮০ মণ আলু হইলে ৩
টাকা, নিড়ান
২ বার ৫ টাকা, খরচাদি বাদ ১৭৫টাকা নগদ লাভ।
ইহাতে সংক্ষেপে কেবলমাত্র গােল আলুর সম্বন্ধে কিছু
বর্ণিত হইল, বেশী জানিতে ইচ্ছা করিলে মৎপ্রণীত ‘আলুর
চাষ’ পড়িলে অধিক জানিতে পারিবেন।

চিনাবাদামের চাষ। বাঙ্গলাদেশে চীনাবাদামের চাষ অল্পই হয়। অথচ অর্থ করী ফসল হিসাবে ইহা বেশ লাভজনক হইবার সম্ভাবনা। রবি ও খরিফ উভয় খন্দেই ইহার চাষ হইতে পারে। বাঙ্গলা- দেশে প্রতি বৎসর প্রায় দশ হাজার মণ চীনাবাদাম বাহির হইতে আমদানী হয়। বর্তমানে চীনাবাদামের ব্যবহার অত্যন্ত বাড়িয়া গিয়াছে এবং সকল স্থানেই উহা সহজেই বিক্রয় হয়। চীনাবাদাম হইতে তৈল বাহির করিবার প্রথা এখনও এদেশে প্রবর্তিত হয় নাই পৃথিবীর সকল স্থানেই খাইবার তৈল হিসাবে ইহার চাহিদা থাকায়, বর্তমান অর্থসঙ্কটের সময় অন্যান্য ফস- লের মূল্য পড়িয়া গেলেও, চীনাবাদামের মূল্য বিশেষভাবে হ্রাস হয় নাই। চীনাবাদামের ডগা, গো-খাদ্য হিসাবে খুবই ভাল। ইহা বড় অথবা বিল-ঘাস হইতেও অধিক পুষ্টিকর। বাদাম কাচা কিম্বা ভাজিয়া উভয় প্রকারেই খাওয়া যাইতে পারে। ইহার তৈল রান্নায়, সাবান প্রস্তুতের জন্য এবং মেসিনের তৈল হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ইহার খৈল অতি পুষ্টিকর এবং গরুকে খাওয়ান যাইতে পারে। শীম জাতীয় গাছের মধ্যে চীনাবাদামের গাছের ন্যায় অন্য কোন গাছ এত অধিক কাজে আসে বলিয়া এ পর্যন্ত জানা যায় নাই।

সরল কৃষি কথা
• -
পর।
চীনাবাদামের মূলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গুটি আছে। ইহার মধ্যে
একপ্রকার বীজাণু বাস করে। এই বীজাণু বায়ু হইতে গাছের
প্রধান খাদ্য সােরাজান সংগ্রহ করিয়া মাটীতে জমা করে এবং
তাহাতে জমি অত্যন্ত উর্বরা হয়।
বৎসরে ২ বার চাষ করা যায় বর্ষার পূর্বে এবং বর্ষার
পূর্ব বাংলার বাণী পড়া মাটীতে কার্তিক মাসে
জল শুকাইয়া গেলে ঘন ঘন ৩৪ বার চাষ দিয়া বিঘা,
প্রতি।/ অর্ধ মণ বীজ খােষা শুন্য বাদাম পীনি বা লাইন করিয়া
লাগাইতে হয় ১০০ দিন পরে উত্তোলন করা যায় ও পরে সেই
জমিতে ধান পাট বপন চলে। আর উচু জমিতে বৈশাখ জ্যৈষ্ঠে
এ প্রকারে লাগাইতে হয়। ইহার সার পচা গােবর ও চিনা
বাদামের খৈল অভাবে রেড়ীর খৈল। বিঘা প্রতি ১৭/ মণ
বাদাম হয় দাম অন্যূন ১ দশ টাকা হিসাবে হইলেও ১৭০
টাকা পাওয়া যায়, খরচ বেশী হয় না।
.
বিভিন্ন জাতীয় চীনাবাদাম -
সচরাচর নানাপ্রকার বিভিন্ন জাতীয় চীনাবাদাম দেখা
যায়। তাদের মধ্যে কতকগুলি অতি শীঘ্রই তৈয়ারী হয় এবং
কতক পাকিতে অতি দীর্ঘ সময় নেয়। কোন জাতীয় চিনা-
বাদামের বীজ অতিশয় ছােট এবং কোন জাতীয় চীনাবাদামের
বীজ বেশ বড়। বঙ্গীয় কৃষি বিভাগ রবিতে “আশুস্পেনিস”
চীনাবাদাম এবং এক প্রকার আশু চীনাবাদাম এবং খরিফে

চিনাবাদামের চাষ
।
“বড় একোলা” এবং “ছােট জাপান” নামক চীনাবাদাম বপন
করিতে অনুমােদন করেন।
বিভিন্ন জাতীয় চীনাবাদামের বর্ণনা
১। “স্পেনি চীনাবাদাম”।—ইহা অতি আশু ফলপ্রদ
কিন্তু বাদাম অতি ছােট। এই চীনাবাদামের গাছ ঠিক সােজা-
ভাবে মাটীর উপর থাকে না। ইহা হাল্কা জমিতে চাষের
উপযুক্ত।
২। “ছােট জাপান”।—ইহা মাঝারি আকারের চীনা-
বাদাম, কিন্তু বাদাম ছােট এই চীনাবাদামের গাছ কতকটা
সােজাভাবে মাটীর উপর থাকে। ইহা সাধারণতঃ অস্ফীত
জমিতে ভাল হয়।
৩। “একোলা নং ১০”।এই জাতীয় চীনাবাদাম অত্যন্ত
দেরীতে পাকে, কিন্তু বাদাম খুব বড় হয়। ইহার চাষ সর্বত্রই
করা যাইতে পারে। বাঙ্গলা দেশের অনেক জমিই এই চীনা-
বাদাম চাষের উপযুক্ত এবং ইহার ফলনও অন্যান্য বাদামের
তুলনায় অত্যন্ত অধিক।
বাৎসরিক ২০ ইঞ্চি হইতে ১০০ ইঞ্চি পরিমিত বৃষ্টিপাতের
মধ্যে চীনাবাদামের চাষ করা চলে। বাঙ্গলাদেশে প্রত্যেক
জেলাতেই চীনাবাদাম চাষ করা যাইতে পারে।
চীনাবাদাম অধিক পরিমাণে বৃষ্টির জল সহ্য করিতে পারে
। সেইজন্য যে জমিতে চীনাবাদাম চাষ করা হয়, তাহা

সরল কৃষি কথা
শ, * * * * * * * * * * * * *
হইতে অতি সহজেই জল সরিয়া যাইতে পারে কিনা
সেই বিষয়ে বিশেষ সতর্ক দৃষ্টি রাখা আবশ্যক। নীচু এবং
শক্ত জমিতে চীনাবাদামের চাষ করা উচিত নহে। চট্টগ্রাম
পার্বত্য প্রদেশে পাহাড়ের গায়ে বালু জমিতে চীনাবাদামে
চাষ করিয়া অত্যন্ত ভাল ফলন পাওয়া গিয়াছে।
জমি তৈয়ারী এবং সার প্রয়ােগের উপকারিতা :-
ঝুর ঝুরে বেলে মাটীতেই চীনাবাদামের চাষ ভাল হয়।
কারণ ইহার সুটি মাটীর ভিতর প্রবেশ করিয়াই বাড়িতে
থাকে। সুতরাং মাটী যদি বেশ আগা না থাকে, তবে বাদা-
মের আকার অত্যন্ত ছােট হয় এবং ফলনও কমিয়া যায়। খুব
গভীর ভাবে চাষ করা সেইজন্য একান্ত দরকার ।
অথবা দোয়াশ মাটী চীনাবাদাম চাষের জন্য বাছিয়া লওয়া
উচিত। রবিখন্দের জন্য যে সকল জমিতে যথেষ্ট রস আছে
এবং খরিফ খন্দের জন্য যে সকল জমিতে জল আদৌ দাড়ায়
, সহজেই সরিয়া যায়, সেই সকল জমিই চীনাবাদাম চাষের
পক্ষে বিশেষ উপযােগী।
বেলে জমিতে সার দেওয়া প্রয়ােজন হইতে পারে। জমির
স্বাভাবিক, উর্বরতার উপর সার দেওয়া
নির্ভর করে।
সমস্ত জমির পক্ষেই গােবর উপকারী, কিন্তু পটাস ক্ষার যাহা
কাঠোর ছাইতে যথেষ্ট পরিমাণে থাকে, তাহা চীনাবাদামের
পক্ষে প্রকৃত প্রয়ােজনীয়। জ্বালানি কাঠ পােড়াইয়া কিম্বা
টাগই ( Water-hyacinth) পােড়াইয়া সেই ছাই প্রয়ােগ

চিনাবাদামের চাষ
করা যাইতে পারে। কেবল অশ্লযুক্ত জমিতে চূণ দেওয়া
দরকার হষ।
বপন প্রণালী :-
খরিফ খন্দের জন্য মে, জুন অথবা জুলাই মাসে যখনই
জমি প্রস্তুত হয় এবং বীজ অঙ্কুরিত হইবার মত জমিতে যথেষ্ট
রস থাকে, তখনই চীনাবাদাম লাগাইবার প্রকৃত সময়। রবি
খন্দে জমির প্রকৃতি বুঝিয়া ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ
পৰ্যন্ত বপন চলিতে পারে। কিন্তু এই খন্দে জমি প্রস্তুত
হইবামাত্র যত শীঘ্র পারা যায়, উচু জমিতে এবং চর জমিতে
চীনাবাদাম বপন করিয়া ফেলা উচিত।
চীনাবাদাম লাগাইবার পূর্বে খােসা ছাড়াইয়া নিতে
হইবে। ইহা নিজ হাতেই বেশ দক্ষতার সহিত করিতে পারা
যায়। নূতন খোসা ছাড়ান বীজ ব্যবহার করা উচিত, কারণ
ইহা সৰ্ব্বদাই ভাল ফল দেয়।
লতান গাছের বীজ দুই হইতে আড়াই ফুট অন্তর এবং
সােজা গাছের বীজ ১৮ ইঞ্চি হইতে ২০ ইঞ্চি অন্তর লাগাইতে
হইবে। প্রত্যেক লাইনের মাঝখানে প্রায় ১২ ইঞ্চি করিয়া
জায়গা রাখা দরকার। প্রথমে ৬ ইঞ্চি অন্তর বীজ পুতিয়া
পরে অঙ্কুর বাহির হইলে চারা তুলিয়া মাঝখানে ১২ ইঞ্চি কঁক
করিয়া দিলে ভাল হয়।
জমির প্রকৃতি বুঝিয়া বিভিন্ন প্রকার চীনাবাদামের বীজ
কম বেশী করিয়া বপন করা উচিৎ। আকার এবং প্রকার

সরল কৃষি কথা
ভেদে সাধারণতঃ প্রতি বিঘাতে সাত সের হইতে দশ সের
পৰ্যন্ত ছাড়ান বীজের প্রয়ােজন হইতে পারে।
যদি জমিতে যথেষ্ট রস থাকে, তাহা হইলে অতি শীঘ্রই
বীজ অঙ্কুরিত হয় এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই অঙ্কুর মাটির উপর
দেখা দেয়। ইহার পর চারাগুলি অতি সত্বর বাড়িতে থাকে।
অতএব অঙ্কুরিত হইবার দুই তিন সপ্তাহ পরেই একবার গােড়া
ভাল করিয়া খোঁচাইয়া দেওয়া দরকার। গাছগুলি বাড়ার
সঙ্গে সঙ্গে দুই তিনবার জমি ভাল করিয়া কোলাইয়া দিতে
হইবে। ইহা কোদালি কিংবা “প্লেনেট জুনিয়ায় হ্যাণ্ড হাে”
দ্বারা করা যাইতে পারে। যতদিন গাছ সকল বাড়িতে থাকিবে
ততদিন পর্যন্ত জমি পরিষ্কার এবং জমি আগা রাখিতে
হইবে।
বাদাম তুলিবার প্রণালী :-
কোন্ সময় বাদাম তুলিতে হইবে, ইহা ঠিকমত নির্ধারণ
কর। অতিশয় দরকার ; কারণ আশুজাত বাদাম সাড়ে তিন
মাস হইতে চারি মাসের মধ্যেই পাকিয়া যায়, যে বাদাম
বিলম্বে পাকে তাহা তুলিতে পাঁচ ছয় মাস অপেক্ষা করিতে হয়।
বাদাম যখন তুলিবার উপযুক্ত হয়, তখন গাছের পাতা সকল
হলদে হইয়া কোকড়াইতে আরম্ভ করে এবং খােসার
ভিতর শাসে পূর্ণ হয়, প্রতি একরে ১৮ হইতে ২০ মণ
বাদাম আশা করা যাইতে পারে। সর্বপ্রকার সুবিধাজনক
অবস্থায় পাওয়া গিয়াছে।
.
;

চিনাবাদামের চাষ
খুব শীঘ্র বাদাম তুলিলে ওজনে অত্যন্ত কম পাওয়া যায়।
সেই জন্য শীঘ্র বাদাম না তুলিয়া বিলম্ব করাই শ্রেয়।
চীনাবাদাম তুলিবার পর খােসাশুদ্ধ খুব ভাল করিয়া রৌদ্রে
শুকান দরকার। কারণ তাহা না হইলে বাদাম নষ্ট হইয়া
যায়।
উই এবং ইদুর এই ফসলের বিশেষভাবে ক্ষতি করে।
জলসেচন দ্বারা ইহাদের আক্রমণ কমান যাইতে পারে।
বিষাক্ত গ্যাস প্রয়ােগে উইকে নির্মুল করা যায় এবং বিষ
প্রয়ােগে ইদুর মারিয়া ফেলা যায়। কিন্তু এই সকল সচরাচর
ব্যবহার করিবার সুযােগ ঘটে না। যতদূর সম্ভব যে সকল
জমিতে উ ই কিংবা ইদুরের উপদ্রব নাই সেই সমস্ত জমিই
চীনাবাদাম চাষের জন্য বাছিয়া লওয়া উচিত।
চীনা বাদামের বীজ মধ্যপ্রদেশ কিংবা মাদ্রাজ হইতে
আনান যাইতে পারে। যদি ঠিক সময়ে খবর পাওয়া যায়
যেমন রবির জন্য আগষ্ট মাসে এবং খরিফের জন্য অক্টোবর
মাসে—তাহা হইলে বঙ্গীয় কৃষিবিভাগ উপযুক্ত বীজ সরবরাহ
করিয়া দিতে পারে। বীজের মূল্য বাজার দর অনুযায়ী প্রতি
মণ সচরাচর ৭০ আনা হইতে ১০ টাকার মধ্যে পড়িতে
পারে।

ইন্ধু।
ইক্ষু চাষের পক্ষে প্রচুর রৌদ্র তাপ এবং আর্দ্র বায়ু এই
দুইটী বিশেষ উপযােগী। বাংলাদেশে এই দুইটির অভাব নাই
সুতরাং বাংলায় ইক্ষুচাষ ভালই হইতে পারে । বর্তমানে
বাংলায় অনেক স্থানেই ইক্ষুচাষ হইয়া থাকে এবং ক্রমশাই
ইক্ষুচাষের পরিমাণ বৃদ্ধি হইতে দেখা যাইতেছে সুতরাং
ইক্ষুকেও এখন এদেশের একটী প্রধান ফসল বলা যাইতে
পারে। ইক্ষু হইতে আমাদের নিত্য ব্যবহাৰ্য্য গুর ও চিনি
প্রস্তুত হয়। স্বাদে, বর্ণে, গন্ধে, উপকারিতায় সর্ববিষয়েই
ইক্ষুগুড় ও ইক্ষুচিনি, অন্য সকল প্রকার গুড় ও চিনি হইতে
উৎকৃষ্ট। ইক্ষু বহু জাতিয় আছে তন্মধ্যে এদেশে সামশাড়া,
কাজলা, খাড়ি, পুড়ী, বােম্বাই, ট্যানা প্রভৃতি জাতীয় ইক্ষুর
আবাদ হইতে দেখা যায়। সামশাড়া, কাজল ও খাড়ি জাতীয়
ইক্ষুই বাংলা দেশে বেশী লাগান হয় এবং উহার আবাদও
এখানে বেশ ভাল হয়। ইহারা উচ্চ দোয়াশ জমীতেই ভাল
জন্মে, গাছ ৫৬ হাত লম্বা হয়, রসে মিষ্টতাও অন্যান্য ইক্ষু
হইতে অধিক থাকে।
সামশাড়া আঁখে বিঘা প্রতি ৬০ মণ
পৰ্যন্ত গুড় হইতেও দেখা গিয়াছে। কাজলা ও খাড়ি জাতীয়
আঁখে বিঘা প্রতি ১৫২০ মণ গুড় পাওয়া যায়।
আর বাংলার সরকারী কৃষি বিভাগের যে সি-ও ২১৩,

ইক্ষু
৩৯
*** A., , , , , ,
। '
বি-১৪৭ বি-২০৮ জাতীয় ইক্ষু আছে উহাও এদেশে বেশ ভাল
হয়। উহার মধ্যে সি-ও-২১৩ আখই সর্বোৎকৃষ্ট ; ইহা
মাঝারি সরু আঁখ, লালচে কটা রং, গুড় খুব উৎকৃষ্ট এবং
পরিমাণেও বেশী হয়। ইহার প্রধান গুণ, যেমন বেশী সবল
তেমনি ইহা হাজা শুখা খুব সহ্য করিতে পারে এজন্য ইহাকে
সকল দিক দিয়াই ভাল বলা চলে। কৃষি বিভাগে বি-১৪৭
আঁখও খুব ভাল আঁখ ইহা চিবাইয়া খাওয়া বা গুড় করা উভয়
দিকেই ভাল ; ইহা উত্তর বঙ্গে খুব ভাল জন্মে। ইহার
দোষের মধ্যে ইহাতে পােকা লাগে আর বেশী দিন চাষের
পর খারাপ হইয়া যায়। আর বি-২০৮ আঁখি ইহাও মন্দ নহে
ইহা খুব নরম এজন্য চিবাইয়া খাওয়ার উপযুক্ত আখ কিন্তু
বেশী নরম বলিয়া একটু বাতাসেই ভাঙ্গিয়া পড়ে এই ইহার
প্রধান দোষ, ইহার চাষ সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে খুব ভাল হয়।
ইক্ষু চাষ প্রাণালীঃ-জাতিভেদে ইক্ষু চাষ, সকল প্রকার
জমীর উপযােগী হইলেও উচ্চ অথচ সরস ও অত্যন্ত উর্বরা
দোআঁস জমীতেই ইক্ষু সর্বাপেক্ষা ভাল জন্মে।
এবং বালি শূন্য এটেল মাটীতে ভাল হয় না।
সৰ্ব্বদা সরস থাকা আবশ্যক, যেন কোন মতে শুষ্ক হইয়া
ফাটিয়া না যায়। ইক্ষুর জন্য নির্বাচিত জমি, বৈশাখ হইতে
আশ্বিন পর্যন্ত প্রতি মাসে একবার করিয়া চাষ দেওয়ার পরে,
জমীতে সার দিয়া অগ্রহায়ণের শেষ পর্যন্ত আরও ৪৫টা
গভীর চাষ দিয়া জমী সমতল ও ধূলিবৎ করিয়া ফেলিতে হয়।
শুষ্ক, কঠিন
ইক্ষুর জমি

৪০
সরল কৃষি কথা
ইক্ষুর জমীতে প্রচুর সার দিতে পারিলে ভাল হয় ; বিঘা
প্রতি ৬৭ মণ ছাই ও ৭০/৮০ মণ গােবর সার বা রেড়ী ও
সরিষার খৈল ২৫ মণ বা হাড়ের গুড়া ১০ মণ বা সােরা ৫৬
মণ ইহার যে কোন সার দিলেই চলিতে পারে উহাতে উৎকৃষ্ট
ফসল আশা করা যায়। ইক্ষুক্ষেত্রে সমুদয় সার এক সঙ্গে
দিতে হয় না; আশ্বিনের শেষে অর্ধেক পরিমাণ পরে ইক্ষু
রােপণের সময় হইতে বর্ষার পূর্ব পৰ্যন্ত ক্রমে বাকী অর্ধেক
সার দিয়া দিতে হয়। এ দেশের কোন কোন জেলায় বিনা
সারেও ইক্ষু চাষ হইয়া থাকে কিন্তু তাহাতে ফসল ভাল
হয় না।
মাঘ মাসের শেষাশেষি একটু গরম বােধ হইলেই ক্ষেত্রে
ইক্ষু রােপণ করিতে হয়। রােপণ কালে জমী শুষ্ক থাকিলে
আবশ্যক মত জল সেচনে উহা সরস করিয়া লওয়া কর্তব্য,
নচেৎ উহা লাগিয়া চারা নষ্ট হইবার সম্ভাবনা থাকে। কোদালী
দ্বারা লম্বালম্বী ভাবে দুই হাত অন্তর, মুটম হাত চওড়া ও ৮
ইঞ্চি গভীর নালা কাটিয়া উহার মাটি দুই পাশে উঠাইয়া
রাখিতে হয় পরে ঐ নালার মধ্যে উপরােক্ত সার বেশ করিয়া
মাটীর সহিত মিশাইয়া দিয়া সিকড় সমেত ফল বাহির হওয়া
ইক্ষুখণ্ড, ১৫ ইঞ্চি অন্তর বসাইয়া যে মাটী উভয় পার্শ্বে
উঠাইয়া
রাখা হইয়াছে তাহাই ৩৪ ইঞ্চি পুরু করিয়া চাপা
দিয়া অল্প দাবিয়া অবশিষ্ট মাটী উভয় মালার মধ্যস্থ ভূমি
ভাগে ছড়াইয়া দিতে হয়।

৪১
যে সকল জমি সর্বদা সরস ও শিথিল ভাবাপন্ন তাহাতে
চৈত্র ও বৈশাখ মাসে সামান্য জল দিতে হয়, অন্য সময় ঐরূপ
জমীতে জলের আবশ্যক হয় না কিন্তু যে সকল জমী সেরূপ
নহে তাহাতে ভাল সকল জল সেচনের বন্দোবস্ত করিতে হয়।
বারমাস কাল মধ্যে ইক্ষু পরিপক্ক হয়। যত দিন শীত থাকে
ততদিন পর্যন্ত উৎকৃষ্ট গুড় হয় এজন্য যত আগে ইক্ষু রােপণ
করিতে পারা যায় ততই ভাল হয়।
ইক্ষু রােপণের পূৰ্ব্বে আর একটি বিষয়ে বিশেষ লক্ষ্য
রাখিতে হয় ; বীজ ভাল না হইলে ফসল ভাল হয় না। সুতরাং
যাহাতে ভাল বীজ পাওয়া যায় সর্বাগ্রে তাহারই চেষ্টা করা
উচিত সরকারী কৃষি বিভাগে জানাইলে তাহা হইতে
উৎকৃষ্ট বীজ সরবরাহের ব্যবস্থা হইয়া থাকে।
ইক্ষু অত্যন্ত রােগপ্রবণ তদ্ব্যতীত ইক্ষুক্ষেত্রে উই ও অন্যান্য
কীটের উপদ্রবও যথেষ্ট ঘটিতে দেখা যায় এজন্য যদি ইক্ষু
রােপণের প্রক্কালেও ৪ সের লবণ আধপােয় হেনয়াে ( অল্প
মূল্যের হিং) ও ২৪ তােল সেকেঁ বিষ চূর্ণ আবশ্যক মত
জলে মিশাইয়া উহাতে ইক্ষুবীজ দণ্ড গুলি কিছুক্ষণ ডুবাইয়া
রাখিয়া রােপণ করা যায় তাহা হইলে অনেক সময় লােগ এবং
কীটাদির উপদ্রব নিবারণ হইয়া থাকে।

তামাক।
বাংলা দেশে প্রায় সত্তর লক্ষ বিঘা জমিতে তামাকের চাষ
হইয়া থাকে সুতরাং ইহাও এদেশের একটী প্রধান চাষ।
উত্তর বঙ্গে রংপুর প্রভৃতি অঞ্চলে তামাকের চাষ খুব বেশী
হইয়া থাকে এবং সেখানকার তামাকও বেশ ভাল হয়, কিন্তু
একটু চেষ্টা ও যত্ন করিলে বাংলার প্রায় সর্বত্রই ভাল
তামাকের চাষ করা যাইতে পারে। তামাকের চাষ যথেষ্ট
লাভজনক।
তামাক রােপণ প্রণালী ও সময়ঃ-
উচু বেলে দোআঁশ জমীই তামাক চাষের উপযুক্ত। বর্ষার
পরে জমীতে গােবর সার ও সবুজ সার (ধঞ্চে, শণ বরবটী
ইত্যাদি) ছড়াইয়া দিয়া পরে উত্তম রূপে চাষ দিয়া জমীর
মাটী ধূলিবৎ চূর্ণ করিয়া ফেলিতে হয়। তাহার পর কার্তিক
হইতে অগ্রহায়ণ মাস মধ্যে ঐ জমীতে দেড় হাত অন্তর
তামাকের চারা করিলেই হয়, উহার আর অপর কোন তদ্বির
করিতে হয় না।
মাঘ ফান মাসে ক্ষেত্র হইতে তামাক
কাটিয়া হালসী করিয়া রৌদ্রে কয়েকদিন শুকাইতে দিয়া
পাতাগুলি ভাল করিয়া শুকাইয়া গেলে তখন হালসী গুটাইয়া
চট দিয়া জড়াইয়া ঘরে রাখিতে হয়। একটা লম্বা দড়িতে

তামাক
৪
তামাকের ডাটাগুলি শ্রেণীবদ্ধ ভাবে বাঁধিয়া রাখাকেই হালসী
বাঁধা বলে।
গরু ছাগলে জমিতে গিয়া তামাকের চারা মাড়াইয়া নষ্ট
করিতে পারে, এজন্য জমীর চারিধারে অস্থায়ী বেড়ার ব্যবস্থা
করা উচিত।
প্রকার ভেদ-বাংলাদেশে দুইটি বিভিন্ন জাতের তামাক
আবাদ হইয়া থাকে। যথা—(১) দেশী (N. Tabacum )
এবং (২) মতিহারী ( N. Rustica)। দেশী তামাকের চাষ
রংপুর এবং জলপাইগুড়ি জেলায় খুব বেশী। উহার মধ্যে (১)
ভেঙ্গী, (২) নাওখােল, (৩) গােরা এবং (৪) বাসদহ এই চারি
প্রকার তামাকই সমধিক প্রসিদ্ধ। ভেঙ্গী ও নাওখােলের
নিৰ্বাচিত বিশুদ্ধ বীজ রংপুর সরকারী তামাক ক্ষেত্রে পাওয়া
উৎকৃষ্ট ভেঙ্গীর পাতা লম্বায় ২০” ও প্রস্থে ১৮” হইবে এবং
নাওখােল লম্বায় ৩৬ ও প্রস্থে ১৮” হয়।
মতিহারীর আর এক নাম বিলাইতি। রংপুর তামাক
ক্ষেত্রে যে জাতি নির্বাচিত হইয়াছে উহার পাতা ১৮”x১৮”
পৰ্যন্ত বড় হয়। অন্যান্য জাতির পাতা ছােট এবং ফলনও
অনেক রকম। বিগত কয়েক বৎসরে মতিহারীর চাষ খুব
বাড়িয়াছে ; ঢাকা, মৈমনসিংহ, ফরিদপুর, পাবনা বহরমপুর
প্রভৃতি স্থানে পরীক্ষা দ্বারা জানা গিয়াছে যে বাংলার সকল
জেলায়ই ইহার চাষ হইতে পারে। ইহার পাতা খুব মােটা,
এজন্য হুক্কার তামাকের পক্ষে উপযােগী।

৪৪
সরল কৃষি কথা
—তামাকের চাষ যে কোন মাটীতে চলে, তবে যে
জমিতে বালির ভাগ বেশী এবং জল আদৌ দাঁড়ায় না উহাই
প্রশস্ত। নিকৃষ্ট বেলে মাটীতে উত্তমরূপে সার প্রয়ােগ করিয়া
বেশ ভাল তামাক উৎপাদন করা যায় । এটেল মাটীতে
তামাকের আবাদ ভাল হয় না।
হাপাের—উচ্চ জমিতে চারিদিকে নালা কাটিয়া ৪ ফুট
চওড়া পাটি তৈয়ারী করিয়া বীজ বুনা কৰ্ত্তব্য। আগষ্ট মাস
থেকে জমি তৈরী শুরু করা হয় এবং মাটীর “যাে” ঠিক রাখি-
বার জন্য অনেকবার চাষ দিতে হয়। বিঘা প্রতি ৩০/০—৩৫/•
মণ গােবর সার দেওয়া উচিৎ। এক তােলা বীজে ১ বিঘা
জমি রােপণ করা চলে।
মাটি এমন ভাবে তৈয়ারী করিতে হয় যেন উহার মাঝখান
উচু ও দুধার গড়ান থাকে, নতুবা বৃষ্টির জল শীঘ্র নামিয়া
যাইতে পারে না। বেশী বৃষ্টির সময় বাঁশের খুটী পুতিয়া
একটী ছল্পর তুলিয়া দেওয়া আবশ্যক অতি বৃষ্টিতে চারা-
গুলি মরিয়া যায় এবং পুনরায় বীজ বুনিতে হয়, উহাতে ফসল
দেরীতে হইবে এবং ফলনও কমিয়া যাইবে।
সার-অধিক সার না দিলে তামাক ভাল জন্মে না।
জমির প্রকার ভেদে বিঘা প্রতি ৫৫/৩ মণ থেকে ১০০/০ মণ
পচা গােবর সার দেওয়া দরকার। বাংলায় সবুত্ব সারের তত
বেশী চলন নাই। রংপুরে সংবৎসরে ভাল তামাকের জমিতে
অন্য কোন ফসলের আবাদ করা হয় না; এই সব জমি পতিত
••

তামাক ৪৫ রাখিয়া সবুজ সারের চাষ করিলে অধিকতর ফলন হইতে পারে। অন্য কোন প্রকার কৃত্রিম সার দিতে ইচ্ছা হইলে জেলার কৃষি কর্মচারীর পরামর্শ গ্রহণ করা উচিৎ। ভাওয়াল এবং বরেন্দের মাটীতে চূণের সার না দিলে তামাক ভাল আবাদ-ভাদ্র মাস হইতে •চাষ আরম্ভ করিতে হয়। এজন্য ১৪১১৫ বার চাষ ও মৈ দিয়া জমি একেবারে ধূলীস্যাৎ করিতে হয় ও আগাছা নষ্ট করিতে হয়। আশ্বিন ও কাত্তিক মাসে চারা রােপণ করিতে হয়। নীচু জমিতে অগ্রহায়ণ মাসেও মতিহারী তামাক রােপণ করা যাইতে পারে। সারি করিয়া চারা লাগান উচিৎ। ৩ ফুট অন্তর সারি করিয়া এক এক সারিতে ২-৩ ফুট অন্তর চারা রােপণ করিতে হয়। সন্ধ্যার পুর্বেই চারা লাগাইবার প্রশস্ত সময়। মাটীতে রস না থাকিলে রােপণের পরে ২৩ দিন জল দেওয়া আবশ্যক। ৯১০ দিনে চারাগুলি মাটীতে বসিয়া যাইবে, তখন থেকেই নিড়ানীর কাজ সূরু হয়। লম্বালম্বী এবং এড়ােএড়ি হাত লাঙ্গল দিয়া চাষ করিতে হয়। ক্ষেত সব সময় পরিষ্কার আব- শ্যক। জমির অবস্থা ভেদে তিনবার নিড়ান দরকার। আসল মাথা ভাঙ্গা।—একটা গাছে ৯১১০ টার অধিক পাতা রাখিবে না। সব নীচের ৩৪টী পা ফেলিয়া দিতে হয় এবং ফুলের কলি হইবার পূর্বেই গাছের মাথা ভাঙ্গিয়া ৪১ সরল কৃষি কথা দিতে হয়। ইহাতে বাকী পাতাগুলি মােটা ও বড় হইয়া থাকে। গাছের ডাল বাহির হইলে তাহাও ভাঙ্গিয়া দিলে নিকৃষ্ট পাতাগুলি একটু পুষ্ট হইলে ভাঙ্গিয়া সেগুলি ঘরের কানাচে চালের নীচে রৌদ্র না লাগে এমন জায়গায় ঝুলাইয়া শুকাইবে, ইহাকে বিশপাত বলে। জল সেচন—সাধারণতঃ আসল মাথা ভাঙ্গার পূৰ্ব্বে জল সেচনে আবশ্যক হয় না। তারপর ২৩ টা সেচ লাগে। মাটী বেশী বেলে হইলে সেচ বেশী লাগে। নীচু জমিতে আদৌ সেচ আবশ্যক করে না। গাছের শত্রু।—গাছের গােড়ায় মাটীর মধ্যে এক প্রকার কীড়া লুকাইয়া থাকে তাহারা অত্যন্ত অনিষ্ট করে। ইহা দিগকে খুজিয়া বাহির করিয়া ফেলা উচিত। এক রকম পর- গাছ। তামাক ক্ষেতে জন্মে ; উহার নাম ভুলকি (Orobanche) ইহা অত্যন্ত অনিষ্ট করে ; ইহাদিগকে সমূলে উৎপাদন করিয়া পােড়াইয়া ফেলা উচিৎ। পাতা শুকাইবার নিয়ম ।—(দেশী তামাক)--মাঘ ফাল্গুন মাসে নীচের পাতাগুলি পুরট হইয়া সরু করে। তখন এইগুলি মােটা এবং আটাযুক্ত হয় এবং উহাদের উপরে তামাটে রংএর দাগ ফুটতে থাকে। পুরট পাতাগুলি বাছিয়া গাছ থেকে একখানা বাঁকাছুরি দিয়া কাটিয়া লইবে। চাষী এই সময় প্রত্যহ সকালে ক্ষেত্রের মধ্যে যাইয়া এইরূপ পাতা সংগ্রহ করে ও ঘরে নিয়া আইসে; পরে চারিটা করিয়া

তামাক
৪৭
-
পাতার বোঁটা একসঙ্গে বাধিয়া মাচানে ঝুলাইয়া দেয়। পাতা
গুলি যখন প্রায় শুকাইয়া যায় তখন ঘরের ভিতর নিয়া সেই
গুলিকে দেওয়ালের গায়ে কিংবা মাচানে ঝুলাইয়া রাখে।
এইরূপে দুই মাস শুকাইলে পাতা বিক্রয়ের উপযােগী হয়।
মতিহারী মাক—মতিহারী তামাকের ব্যবস্থা একটু
অন্যরূপ। কাটার পরে পাতাগুলি দিনভাের মাঠে ফেলিয়া
শুকাইতে হয়। সন্ধ্যায় সেগুলিকে ঘরে আনা হয় এবং পর
দিন সকালে দেশী তামাকের মত ৪টি পাতার ঝুকি বাঁধা হয়
এবং এইগুলি একটী মইএর উপর ৬৷৷ ৯৷ পুরু করে এমন ভাবে
সাজান হইয়া থাকে যে পাতার ডাটাগুলি সমস্তই বাহিরে
থাকে। এই মইটা প্রত্যহ সকালে রৌদ্রে দেওয়া হয় এবং
সন্ধ্যায় ঘরে তােলা হয়। ৮১০ দিন পর পুনৰ্ব্বার সাজাইয়া
দিতে হয় যেন পা চাপা লাগিয়া না পচে।
নিকৃষ্ট জাতের মতিহারী তামাকের গাছ খুব ঘন করিয়া
ক্ষেতে রােপন করা হয়।

এবােরুটের চাষ।
এবােকট পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই পরিচিত। রুটের
পালােই এরারুট নামে অভিহিত। এই দ্রব্য দেখেন নাই বা
আহার করেন নাই এরূপ মনুষ্য অতি বিরল। পীড়িতদের ইহা
পথ্য। দুগ্ধের অভাবে শিশুর ইহা খাদ্য। এতদ্ব্যতীত অনেকে
ইহার পুডিং আহার করিয়া থাকেন। ইহা দ্বারা উত্তম পিষ্টক
প্রস্তুত করা যায়। অধুনা অনেক গােয়ালা ক্ষীর প্রস্তুত করিতে
ইহা ভ্যাজাল দিয়া সহজে দুগ্ধকে গাঢ় করিয়া থাকে। গরীব
লােকে দুগ্ধের সহিত মিশ্রিত করিয়া শিশুদিগকে আহার
করায়। ইহার বিশেষ কোন স্বাদ নাই। ভালরূপে সিদ্ধ ।
করিয়া পাক করিলে ভাতের মাড়ের ন্যায় দেখায়। ইহা শ্বেত
সার খাদ্য, সুতরাং বলকারক পোেষক। সহজে পরিপাক হয়।
পাকাশায়িক গােলযােগ বিশেষতঃ কলেরা, আমাশয় রােগে
ইহা উত্তম পথ্যরুপে ব্যবস্থা করা যাইতে পারে।
রসায়নিক পরীক্ষাদ্বারা বিশুদ্ধ এবােরুটের মধ্যে শরীর
পােষনােপযােগী যথেষ্ট পদার্থ বর্তমান থাকার প্রমাণ পাওয়া
গিয়াছে।
ইহাতে ছানা জাতীয় উপাদান শতকরা ৮, মাখন জাতীয়
উপাদান ৩৬। চিনি জাতীয় উপাদান ৭৫'৩৬, লবন জাতীয়
উৎপাদন ১:৩২ এবং জল ১৫৪ বর্তমান আছে।

এবােরুটের চাষ
৪১৯
***
এক্ষণে
বিশুদ্ধ এবােরুট উত্তম শ্বেতবর্ণ ও মসৃণ। বিশুদ্ধ এয়ােট
মধ্যে জলীয় প্রভৃতি অংশ শতকরা ১৮, মাংসপেশী নিৰ্মাপক
৪ সন্তাপক ৭৭ এবং অপরাংশ ১ বৰ্তমান থাকার প্রমাণ
পাওয়া যায়।
“এরাে” নামক বৃক্ষের মূল হইতে এবােরুট পালাে প্রস্তুত
হইয়া থাকে। ইহা আর্দক ও হরিদ্রা জাতীয় বৃক্ষের ন্যায়
এবং ইহার শস্য তদনুরূপ মূল হইতে পাওয়া যায়
আমেরিকার যুক্তরাজ্যের দ্বীপ সমূহে বিশেষতঃ বারমুডা
দ্বীপে ইহা বহুল পরিমাণে স্বভাবতঃ জন্মিয়া থাকে।
ঐ সকল স্থানে ইহার চাষ ও পালাে প্রস্তুতের কারখানা
স্থাপিত হইয়াছে। মালাবার ও ত্রিবাঙ্কুরে ইহা যথেষ্ট পরি-
মাণে জন্মিয়া থাকে। এবং তথায় ইহার পালাে প্রস্তুত হইয়া
সকলদেশে প্রেরিত হয়। বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি
স্থানেও এবােরুটের চাষ আরম্ভ হইয়াছে।
ইহার গাছগুলি দেখিতে বনআদা বৃক্ষের ন্যায়, পাতাগুলি
তাহা অপেক্ষা কিছু বড়। সারযুক্ত রসাল মাটিতে জন্মিলে
গাছগুলি প্রায় বন আদা গাছের ন্যায় বড় হয়। নতুবা প্রায়
আদার গাছের ন্যায় হইয়া থাকে। আদা ও হলুদের ন্যায়
ইহা নয় দশ মাসে জন্মিয়া থাকে এবং ইহার মূল বর্ধিত ও পুষ্ট
হইলেই বৃক্ষ শুষ্ক হইয়া যায়। ইহার মুলগুলি শ্বেতবর্ণ।
বৃক্ষেরদিকে যে স্থানে সংলগ্ন থাকে সে দিকে মােটা ক্রমে
নিম্নদিকে সরু হইয়াছে। বড় মূলগুলি প্রায় অর্ধহস্ত পরিমিত
৪

সরল কৃষি কথা
* * * *
* **
লম্বা হইয়া থাকে। প্রায় ২৩ ইঞ্চি মােটা হয়। ইহার
গাত্রগুলি গােল গােল রেখার দ্বারা চিহ্রিত। মূলের উপর
একপ্রকার পাতলা ছাল থাকে সেগুলি পরিষ্কার করিয়া ধুইয়া
উঠাইয়া ফেলিলে দেখিতে অতি সুন্দর দেখায়। এক একটা
বৃক্ষের ছােট বড় প্রায় ৮১০টা
মূল পাওয়া যায়। নিতান্ত
ক্ষুদ্রগুলি রােপণ করার জন্য রাখিয়া বৃহৎগুলির পালাে বাহির
করিতে হয়। এই বৃক্ষের কোন কোনটিতে ছােট ঘােট হলুদ
আভাযুক্ত ফুল ও পিপুলের ন্যায় সরু ও লম্বা একপ্রকার ফল
জন্মিয়া থাকে কিন্তু সমস্ত বৃক্ষে এইরূপ ফুল বা ফল হয় না।
বাঙ্গলাদেশে অনেকে উহা সখ করিয়া ২৪টী বৃক্ষ রােপণ
করিয়া থাকেন। উহা একস্থানে একবার রােপণ করিলে
সহজে নষ্ট হয় না ও বার বার বেশী পরিমাণে জন্মিয়া থাকে।
কিন্তু জমি সরস না থাকিলে মরিয়া যায়। লেখক প্রায় ২০
বৎসর হইল ইহার আবাদ করিয়া বিশেষ ফল লাভ
করিয়াছেন। প্রত্যেক বৎসরেই ইহার চাষ বেশী করিয়া,
ইহা হইতে পাগো বাহির করিয়া বাজারে বিক্রয় করিয়া
থাকেন।
রােপণ প্রণালী-
বৈশাখ মাসে আদা ও হলুদের ন্যায় উহার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র
মূল রােপণ করিতে হয়। যে সকল জমি ঠাণ্ডা সেঁতসেতে
ও সারযুক্ত সেইরূপ
জমিতেই উহা ভাল জন্মিয়া থাকে।
ছায়াযুক্ত স্থানে রােপণ করিলে বৃক্ষগুলি ও মূল বড় ও

এয়ােরুটের চাষ
পুষ্ট হয় না সুতরাং ফল কম হয়। বহু কালের বন জঙ্গল
মারিয়া ইহার চাষ করিলে বহুল পরিমাণে জন্মিয়া থাকে।
জমি উত্তমরূপে লাঙ্গল দিয়া বা কোদালি করিয়া মাটি
ভালরূপে আগা ও ছাইয়ের সার দেওয়া ভাল। উদ্ভিদ সার
বা বৃক্ষ পত্রাদি পচিয়া যে সার হয় এবােরুটের পক্ষে সেই
সারই উৎকৃষ্ট বৈশাখ মাসে ইহার মুল হলুদের ন্যায় সারি
করিয়া রােপণ করতঃ, মাটি দ্বারা ঢাকিয়া দিতে হয়।
প্রত্যেক মুলে ৪ চারি আঙ্গুল হইতে অর্ধহস্ত পরিমিত ফঁাকে
রােপণ করা কর্তব্য। রােপণের পর গাছগুলি মাটি হইতে
বাহির হইয়া গেলে ঘাস পরিষ্কার করতঃ জমি উত্তমরূপে
কোদালি করিয়া মাটি আগা ও গাছের গােড়ায় হলুদ,
আদার ন্যায় পিলি করিয়া দিলে এক একটী বৃক্ষে যথেষ্ট জল
জন্মিয়া থাকে। নতুবা মাটী শক্ত থাকিলে মূল ছােট হয়
অথবা সরু হইয়া অধিক মাটীর নীচে চলিয়া যায় এৰং
উঠাইবার সময় সহজে উঠান যায়না ও তাহাতে শস্যও কম
পাওয়া যায়।
গাছগুলি বড় হইলে পড়িয়া যাইতে পারে। গাছ পড়িয়া
গেলে মূল ভাল হইতে পারে না। গাছগুলি খাড়া রাখিবার
জন্য গােড়ায় বেশী মাটী দেওয়া কর্তব্য। একই জমিতে,
প্রত্যেক বৎসর রােপণ না করিয়া প্রত্যেক বৎসরেই ভিন্ন ভিন্ন
জমিতে রােপণ করিলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
পৌষ মাসের শেষে বা মাঘ মাসের প্রথমে যখন গাছগুলি

সরল কৃষি কথা
* * * *
এক
পাকিয়া যায় তখন গাছগুলি কাটিয়া ফেলিয়া মূলগুলি মাটি
হইতে কোদালি দ্বারা উঠাইতে হয়। উঠাইতে বেশী বিলম্ব
হইলে, অনেক মূল পচিয়া যায়। বড় মূলগুলি কার্যের জন্য
রাখিয়া ঘােটগুলি বীজের জন্য ছায়াযুক্ত শীতল স্থানে ঢাকা
দিয়া রাখা কর্তব্য।
ইহা একটা লাভজনক কৃষি কাৰ্য্যের অন্তঃভূক্ত, এক বিঘা
জমিতে ইহার আবাদ করিতে নিম্ন লিখিত রূপ ব্যয় ও
আয় হইতে পারে।
ব্যয় :-
একবিঘা জমির খাজনা
লাঙ্গল, জঙ্গল সাফাই ইত্যাদি খরচ
বিছন, রােপণ, সারিবান্ধা ও মাটি
আলগা করা ইত্যাদি খরচ
মূলগুলি উঠাইবার খরচ
পালাে প্রস্তুতের খরচ
টাকা
আয় :-
এক বিঘা জমিতে যে মূল জন্মে
তাহা হইতে ৪-৫ মণ পালো
জম্মিতে পারে মূল্য কম পক্ষে প্রতি মণ
১।
৪s
মােট ২১
ধরিলেও ৪০
২০ টাকা লাভ

এরােটের চাষ
কোন কোন বৎসরে ১৫১৬ টাকা দরেও এবােৰুট বিক্রয়
হইয়া থাকে।
ইহার আবাদ করিয়া রুটগুলি আমাদের নিকট বিক্রয়
করিলে আমরা ক্রয় করিয়া লইতে পারি। অথবা কেহ মূল
হইতে পালাে করিতে ইচ্ছা করিলে আমরা তাহার প্রক্রিয়া
শিখাইয়া দিতে পারি এবং পালােগুলিও আমরা ক্রয় করিয়া
লইতে পারি।
ইহা বিক্রয় জন্য বেগ পাইতে হয় না।
সকল সহরেই
উচ্চ মূল্যে বিক্রয় হইয়া থাকে এবং ইহাই কৌটায় করিয়া
রােগীর উত্তম পথ্যরূপে বিক্রয় হয়। আমরা বৈজ্ঞানিক
প্রণালীতে ইহার পালাে প্রস্তুত করিয়া থাকি। যিনি এই
এবােরুটের চাষ ও ইহা দেশে প্রচার জন্য আমাদের সাহায্য
করিবেন তাহাকে সাহায্য ও ধন্যবাদ প্রদান করিব।

সংক্ষেপে আয়কর কৃষি।
;
ধান, পাট ইত্যাদি বিস্তৃত আকারের কৃষি ছাড়াও আমা-
দের এমন কতকগুলি কৃষি আছে যাহা অল্প মূলধনে, অল্প
জমীতে, অল্প শ্রমে সম্পন্ন হইতে পারে অথচ সে সকল ধান,
পাটের চাষ হইতে অনেক বেশী লাভজনক; কিন্তু আমাদের
ধ্যে অনেকেরই তাহা জানা না থাকায় সে সকলের চাষ বা
তাহা হইতে অর্থোপার্জন করিতে আমাদের দেশে কাহাকেও
বড় দেখা যায় না। এখানে এইরূপ কতকগুলি সংক্ষেপ
অথচ আয়কর কৃষির পরিচয় প্রদত্ত হইল।

লতাকস্তুরী
পনর লক্ষ একর জমিতে পাট বেশী চাষ করায়, আবশ্যক
অপেক্ষা পাট বেশী হওয়ায়, চাহিদা বসিয়াছে, ফলে পাটের
দাম ৩৪ টাকা মণ হইয়াছে। জমির খাজনা ও কৃষকের
এমের দাম পােষাইতেছে না। কংগ্রেস পাট চাষ বারণ
করিতেছে, সরকার এরােপ্লান সাহায্যে পাট চাষ কমাইবার
নােটীশ বিতরণ করিতেছেন। কৃষকেরা মনে করিতেছে
পাটের পরিবর্তে আমরা ঐ জমিতে কি চাৰ করি ? আমার
মতে ১৫ লক্ষ একর জমিতে ইক্ষু চাষ করিলে ভাল হয়।
যাহারা বলেন “আমাদের জমিতে ইক্ষু চাষ হয় না, পাট চাষ
করিতে হইবে” তাহাদিগের কিছু জমিতে আমি লতাকস্তুরী
চাষ করিতে বলিতেছি।
লতাকস্তুরীও পাট জাতীয় গাছ। তবে ইহার বীজগুলি
মৃগনাভির তুল্য গন্ধপ্রদ। ইহার ইংরাজী নাম Vegetable
Musk. পাট যে প্রণালীতে আবাদ করিতে হয়, ইহার চাষও
তদ্রুপ। কিন্তু পাট অপেক্ষা ইহার আঁশ অধিক সাদা চিক্কণ
এবং কোমল। ইহার ফন চুচুড়া গ্রিণ পাটের সমতুল্য অথচ
দাম বেশী।
গাছের চেহারা বা পরিচয়
এই গাছগুলি অনেকাংশে ঢেড়শ গাছেরই অনুরূপ।

সরল কৃষি কথা সাধারণতঃ ৬৭ হাত উচু হয়। ইহার পাতা তিন অংশে বিভক্ত, দেশী ডুমুরের পাতার ন্যায় খসখসে। বীজ বপনের ২৫ মাস পরে ফুল ধরে, ফুলগুলি প্রথমতঃ পিঙ্গল বর্ণ থাকে, পরে রৌদ্রে শুকাইয়া লাল হয়। ফল ঢেড়শের ন্যায় আকৃতিবিশিষ্ট কিন্তু ক্ষুদ্র ফলগুলি বড় বড় কামরাঙ্গার ন্যায় পাঁচ অংশে বিভক্ত, প্রত্যেক অংশে ৮১০টী বীজ থাকে, বীজগুলির বর্ণ শ্বেতাভ কাল আকৃতি, আংশিক কুচের ন্যায় কিছু ক্ষুদ্র। হস্তে মর্দন করিলে মৃগনাভি কস্তুরীর গন্ধ পাওয়া যায়। জমি নির্বাচন উচু জমি যেখানে জল না উঠে এবং বৃষ্টি হইলে জল জমিয়া না থাকে। দোআঁশ জমি উৎকৃষ্ট চুচুড়া গ্রিণ পাট বা আউশ ধান্য যে সকল জমিতে হয়। সময় নির্বাচন- বৈশাখ বা জ্যৈষ্ঠ মাসে বৈশাখের বৃষ্টির পর জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত বােনা চলে। একবার বপন করিলে ৩ বৎসর ফল ও পাট পাওয়া যায়। বিঘা প্রতি /২ সের বীজ লাগে। জমির পাট পাটের জমির মত চাষ করিতে বিঘাপ্রতি একগাড়ী গগাবর সার ও ১ মণ হাড়ের গুঁড়া দিলে তিন বৎসর চলিবে। আষাঢ় শ্রাবণে গাছ ছাঁটিয়া দিলে কর্তিত স্থান হইতে ৭৮টী বা ততােধিক ডাল বাহির হইয়া ঝাড় বাঁধিয়া উঠে। হয়, লতাকস্তুরী সূত্র বা পাট প্রস্তুত করণ- গাছগুলি হইতে প্রতি বৎসর আযাট বা শ্রাবণে ডাল ছাটিয়া পাটের ন্যায় জলে পচাইতে হয়, এবং পাটের ন্যায় ধুইয়া রৌদ্রে শুকাইতে হয়, পাট হইতে ইহার আঁশ দৃঢ়, উজ্জ্বল, মসৃণ। বক্কল নূতন হইলে, সূত্র কোমল ও সূক্ষ্ম হয়। কিন্তু ফল পাকিবার পর গাছ কাটিলে তাহার আঁশ, দৃঢ় ও কর্কশ হয়, ইহার দ্বারা দড়ি প্রস্তুত করা যায়। উৎকৃষ্ট সূত্র পাইতে হইলে প্রতি বৎসরই পাটের ন্যায় চাষ করিতে হয়, বিঘা প্রতি ছয় মণ পাট পাওয়া যায়। দাম সাধারণ পাট অপেক্ষা বেশী। বিক্রয় করিতে হইলে, বর্ষার পূর্বে বপন করিলে ভাদ্র মাসে ফুল হয়, আশ্বিন কার্তিকে ফল হয়, পৌষ মাসে ফলগুলি শুকাইয়া যায়। এই সময়ে বীজ সংগ্রহ করিতে হয়। প্রতি গাছে প্রায় অর্ধ সের বীজ পাওয়া যায়। ইহার বীজ নানাবিধ ঔষধে, সুগন্ধি তৈলে সাবানে এবং তামাকের মসলায় ব্যবহৃত হয়। সাধারণতঃ ২৫১ মণ দরে বীজ বিক্রয় হয়। কখনাে ১০ হইতে ২১ টাকা সেরও বীজ বিক্রয় হয়। একবিঘা জমিতে ৫/ মণ বীজ হয়। বীজের গুণ ও ব্যবহার (ক) ফরাসী দেশে পমেট প্রভৃতি প্রস্তুত করিবার উপকরণ। (খ). আমাদের দেশে কবিরাজেরা সুগন্ধি হইতে ৩১ টাকা

সরল কৃষি কথা
তৈল প্ৰস্তুত করিতে ব্যবহার করিয়া থাকেন। (গ) ইক্ষুর
জ্বাল দিয়া গুড় প্রস্তুত করিবার সময় দুর্গন্ধ মিশ্রিত জলের
পরিবর্তে লতা কস্তুরীর অপরিপক্ক ফলের রস পুটদিলে
গুড় অতিশয় পরিষ্কার হয়। গুড়ের গাদ কাটিবার জন্য
হাড়ের কয়লার পরিবর্তে উক্ত রস প্রয়ােগ করিলে পরিষ্কার
দানাদার চিনি পাওয়া যায়। সুতরাং ইহার চাষ পাট
অপেক্ষা বিশেষ লাভ জনক।

ঢাড়শ ভিণ্ডি বা রামঝিঙ্গা। বপনের সময় ও প্রণালী—বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রথম বৃষ্টিতে উচ্চ নির্জলা ডাঙ্গাগুলি হল দ্বারা কর্ষণ করিয়া প্রতি বিঘায় আড়াই সের ঢড়শের বীজ বপন করিতে হয়। সার- যে জমিতে ঢড়শের চাষ করিতে হইবে, তাহাও সার দিয়া সতেজ করা প্রয়ােজন। সার না দিয়াও ঢড়শের চাষ চলিতে পারে, কিন্তু সার দিলে বহু গুণ অধিক ঈঙ্গিত বস্তু পাওয়া যায়। ইহার প্রধান সার—হাড়ের গুড়া, প্রতি বিঘায় ২/ দুই মণ করিয়া লাগে। উপদেশ আমাদের বাংলাদেশে মশলাদি সংযােগে ঢড়শের অতি উপাদেয় আহাৰ্য্য প্রস্তুত হয়—সত্য, কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য অন্যরূপ। অল্পমূল্যে ঢাড়শ বিক্রয় না করিয়া—যাহাতে ঐ ঢড়শের চারা হইতে আরও মূল্য পাইতে পারি— তাহার চেষ্টা করিতে হইবে। তাই আমার উপদেশ চারাগুলির শিরে শিরে যখন সুন্দর ফুলগুলি ফুটিয়া উঠিবে, তখনই যদি সেগুলি গাছ হইতে তুলিয়া দেওয়া যায়, তাহা হইলে ঐ গাছগুলি হইতে সুন্দর সুদৃঢ় উজ্জ্বল পাট প্রস্তুত হয়।

সৰল কৃষি কথা
* -
. * - -
ক
পাট প্রস্তুত করণের প্রণালী-
ভাদ্র আশ্বিন মাসে ঢড়শ গাছগুলি কাটিয়া গ্রামের
বাহিরে অব্যবহৃত পুষ্করিণীতে ১০/১২ দিন ফেলিয়া রাখিতে
হয়। ঐ ১০/১২ দিন পরে দেখা যাইবে--আমাদের দেশীয়
অতি পরিচিত পাটের মত উহার ত্বক ছাড়িয়া যাইতেছে।
ধােপার কাপড় কাচার মত সেগুলি জলে কাচিয়া লইয়া
সূত্রগুলি বাহির করিয়া রৌদ্রে শুকাইয়া লইতে হয় ।
উহাই ঢড়শের পাট।
প্রয়ােজনীয়তা
কৃষিজীবির কৃমিই জীবিকা অর্জনের প্রধান উপায় ।
ঢড়শের চাষ বেশ লাভজনক কৃষি। ১/ মণ ট্যাড়শের
পাট বিক্রয় করিলে ৪০, চল্লিশ টাকা পাওয়া যায়। যদি
এক বিঘা ঢড়শের চাষ করা যায় তাহা হইলে ১০/ দশ মণ
পাট প্রস্তুত হইতে পারে। আর ঐ ১০ মণ পাট বিক্রয়
দ্বারা অন্ততঃ ৪০০ টাকা লাভ করিতে পারা যায়।
রহস্যোদঘাটন
যে কাশী সিল্কের প্রশংসা আমরা মুখে মুখে শুনিয়া
থাকি, যাহার জন্য বাজারে বাজারে দর যাচাই করিয়া
ঘুরিতে হয়, সেই নয়নমুগ্ধকর কাশী সিল্ক (Benares
Silk) এই ট্যাড়শের পাট হইতে প্রস্তুত। ' একটু চেষ্টা
করিলে কাশী সিল্ক প্রস্তুত করিয়া আমরা বৎসরে বৎসরে
হাজার টাকা পাইতে পারি।

ঢাড়শ ভিণ্ডি রা রামঝিঙ্গা
A ©©
আশ্বাস
অনেকেই হয়তাে ভাবিবেন ১০) ২০ মণ পাট প্রস্তুত
করিয়া যদি বিক্রয় না হয়, অর্থ উপার্জন না করিতে পারি,
তবে এত পরিশ্রম, এত কষ্ট স্বীকার বিফল হইবে।
বাস্তবিক—কথাটি খাঁটি সত্য। তবে তাহাদের ভীত হইবার
কারণ নাই। আমাদের ভারতে এমন কি বিদেশেও
অনেক লােক আছেন—যাঁহারা ঢড়সের পাট ক্রয় করিতে
উদগ্রীব।

ঝাপি প্যাটারী বা ডাঙ্গা-ডেঙ্গো
আমাদের বাংলা দেশে প্যাটারী বা ডাঙ্গা-ডেঙ্গো রাস্তা
ঘাটে দেখিতে পাই। কিন্তু
ইহার দ্বারা যে আমরা লাভবান
হইতে পারি--তাহা কেহ কল্পনা করিতে পারে না। কখনও
হয়তাে পূজা-পার্বণের সময় প্যাটারীর আবশ্যক হয়। কিন্তু
কে জানিত প্যাটারী আমাদের জীবিকা-উপার্জনের অন্যতম
উপায়। এই প্যাটারী হইতেও পাট প্রস্তুত হইতে পারে।
বপন সময় ও বপন প্রণালী-
ঢড়শের যেরূপ জমি তৈয়ার করিতে হয়, ইহার জন্যও
সেইরূপ কৰিত জমির প্রয়ােজন। এক বিঘা জমিতে মাত্র।
/৫ পাঁচ সের প্যাটারীর বীজ বপন করিতে হয়।
পাট প্রস্তুত করণের প্রণালী
ঢড়শের পাট প্রস্তুত করিবার যেরূপ প্রণালী পূৰ্ব্বে
লিখিত হইয়াছে—প্যাটারীর পাট প্রস্তুত করিতেও ঐ
প্রণালীই প্রযােজ্য। ইহাকেও ভাদ্র আশ্বিন মাংসে কাটিয়া
লইতে হয়।
উপার্জন
এক বিঘা জমিতে প্যাটারীর আবাদ করিলে ন্যাপক্ষে
২০০, দুই শত টাকা অর্জন করিতে পারা যায়।

সরল কৃষি কথা
আবার পূজার বাজার করিতে গিয়া নব বধুর জন্য রঙ্গীন
সাড়ী কিনিবার সময় যে “স্টাদের আলাে” সাড়ীই ক্রয়
করিতে ইচ্ছা হয়, যাহাকে দেখিলে নাড়িলে মনে হয়--উহা
আলপাকা ভিন্ন আর কিছু নয়, সেই “চাদের আলাে” সাড়ীই
ঐ প্যাটারীর পাট হইতে প্রস্তুত। এক্ষণে দেখা যাইতেছে
যে, প্যাটারীর চাষে আমরা বহু অর্থের অধিকারী হইতে
পারি। ঝাপি-প্যাটারীর পাট হইতে ইমিটেসন সিল্ক, বা
সিল্ক আলপাকা হয়।
নুতন কথা-
দেশে দিন দিন চাতালের অর্থাৎ চাখােরের দল
বাড়িয়া উঠতেছে, আর চা পান করিতে হইলে চা-চিনির
সহিত দুগ্ধ সংযুক্ত থাকা চাইই। আবার বাজারে
যাহারা বাস করেন—এবং চা না হইলে যাহাদের চলেনা,
দুগ্ধাভাবে তাহাদের বড় কষ্ট পাইতে হয়। তাই দেখা যায়
কোথায় Condensed milk বিক্রয় হইতেছে, আবার
কোথায় Milk dust চা-তাল ক্রয় করিতেছেন। সকলে
জানা কর্তব্য যে, এই Milk dust প্যাটারীর সাহায্যে প্রস্তুত
করিতে হয়।
Milk dust প্রস্তুতকরণ
মাটীর পাত্রে কিংবা ‘এলােমিনিয়, কড়াই আগুণের
উপর চড়াইয়া তাহাতে দুগ্ধ ঢালিয়া দিতে হইবে।

৪
সরল কৃষি কথা
* ০ ০ . .
********
দিকে জ্বাল দিতে হইবে, অন্য দিকে প্যাটারীর শিকড়
ভাগ দ্বারা ঘুটিলে ক্রমে ক্রমে ঘন হইতে ঘনতম হইয়া
পরিশেষে dust হইয়া যায়, উহাকে Milk dust বলে।
Air Tight অর্থাৎ বায়ু প্রবেশ করিতে না পারে---
এইরূপ টানের মধ্যে রাখিয়া ইহা বাজারে বিক্রয় করা
চলে, এবং সঙ্গে সঙ্গে চা-খোরের জীবনের বিশিষ্ট অভাব
পূরণ করে।

আকন্দ। আকন্দ সৰ্বসাধারণের সুপরিচিত। ইহার পাতার উপ- কারিতা আমরা বুঝি তখন, যখন জল লাগিয়া দাতের গােড়া ক কন্ করে কিংবা জ্বরে চক্ষু মুখ ফুলিয়া যায়, অথবা কোন উৎকট ব্যাধির সময় ডাক্তার বাবুদের নির্দেশ অনুসারে আকন্দের পাতার সেক দরকার হয় ; আর ইহার আটার মৰ্যাদা বুঝি তখন, যখন মাথার কালাে কুঞ্চিত কেশগুলির মাঝে মাঝে টাক পরিয়া মরুভূমি হইয়া উঠে। কিন্তু ইহা যে আরও কত উপকারী, কত লাভজনক তাহা পরে জানা যাইবে। বপন প্রণালী বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসে আকন্দের বীজ ছড়াইয়া কিংবা আকন্দের বীজ হইতে চারা চারা প্রস্তুত করিয়া লইয়া এক হাত অন্তর একটি করিয়া আকন্দের চারা পুঁতিয়া এক জমিতে এক বৎসর অকলের চাষ করিলে ১০ বৎসর আর ইহার চাষ করিতে হয় না। কাটিলেই ইহা পুনরায় নূতন পত্র লইয়া গজাইয়া উঠে। আকন্দের আঠা- আকন্দের আঠায় যে কখনও অর্থ উপার্জন করিতে পারা যায়, ইহা কেহ ধারণা করিতেই পারে না। অথচ দিতে হয়। - সরল কৃষি কথা ইহা অলীক নহে। যে গাটাপার্চার বােম, ফাউন্টে পেনের (Fountain Pen) খােল ইত্যাদি অনেক ব্যবহাৰ্য বিলাসসামগ্রী বিক্রীত হইতে সেই গাট্টাপাচ্চাই (Dichopsis Gall) আকন্দের আঠা হইতে প্রস্তুত। পাট্টাপার্চা প্রস্তুত করণ- এক সের আকন্দের, আঠা সংগ্রহ করিয়া দুই সের ফুটন্ত জলে ফেলিয়া দিতে হয়। সেই দুই সের জল অগ্নি ও তাপ সাহায্যে বাম্পাকারে নিঃশেষ হইলে দেখা যাইবে, পাত্রটাতে রবারের মত কি একটী বস্তু পড়িয়া আছে। উহা গাট্টাপাৰ্চ্চা ব্যতীত আর কিছুই নহে। ইহা বিক্রয় দ্বারা অনেক লােক জীবিকা উপার্জন করিতে সমর্থ হইবে। আকন্দের পাট ঢড়স ও প্যাটারীর মত এই আকন্দ হইতেও পাট প্রস্তুত করিতে পারা যায়। তবে প্রভেদ এই যে, উক্ত দ্বিবিধ পাটকে রৌদ্রে শুকাইয়া লইতে হয়, কিন্তু ইহাকে রৌদ্রে শুষ্ক না করিয়া ছায়ায় শুষ্ক করিয়া লইতে হয়। শুষ্ক করিবার কালে যদি পাটগুলির নীচে গন্ধকের ধূম দেওয়া যায়, তাহা হইলে উহা বেশ উজ্জ্বল ও চকচকে হইবে। আকন্দের পাট—অত্যন্ত ভারসহিষ্ণু। শুনিলে চমৎকৃত হইতে হয় যে, ১ ইঞ্চি পরিমিত সূক্ষ্ম আকন্দের পাটে ৬০ মণ ভার অবাধে তুলিতে পারা যায়।

আকন্দ ৬৭ করে, লাভ- আকন্দের পাট হইতে বিবিধ জিনিষ প্রস্তুত করিয়া বিদেশে রপ্তানী করিয়া যাহারা লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন তাহারা শুধুই সন্ধান করিয়া বেড়ায় কোথায় আকন্দের পাট পাওয়া যায় ও কাহার আকন্দের চাষ করে। ১/ মণ আকন্দের পাটের মূল্য ৪০, চল্লিশ টাকা হইতে ১০০ টাকা পর্যন্ত দেখা গিয়াছে। শ্বেত আকন্দের মূল মদনান মােদকের প্রধান উপাদান। চারি পাঁচ বৎসর পর শ্বেত আকন্দের গাছগুলি কাটিয়া ফেলিয়া যে মূল পাওয়া যায় তাহার মূল্য আছে। একটী শ্বেতআকন্দের মুল বিক্রয় করিয়া • আনা পর্যন্ত পাওয়া যায়।

কলাগাছ।
কলাগাছ জন্মাইবার প্রণালী-
আট হাত অন্তর ২ হাত গর্ত করিয়া গর্তগুলি সােরা,
ধানের আগড়া পুড়াইয়া তাহার ভষ্ম ও পঙ্ক-মাটীতে তাহা
ভত্তি করিয়া এক এক বৎসর কাল জলে পচিতে দিতে
হইবে। ইহাতেও একটা উদ্দেশ্য নিহিত আছে। আমরা
জানি—কলাগাছ বেশী লম্বা হইলেও বিপদের সম্ভাবনা।
ঝড় তাহাদের প্রধান শত্রু। তাই যদি কলার চারাগুলি
সেই দুই হাত পরিমিত গর্তের মধ্যে পুতিয়া দেওয়া যায়—
গাছগুলি বড় হইতে তিন হাত সাড়ে তিন হাতের বেশী
হইবে না, সুতরাং ঝড়ে পড়িবার সম্ভাবনাও রহিবে না, অথচ
গাছগুলি সতেজ সুন্দর হইয়া জন্মিবে।
কলার পাতা
খনা তঁাহার বচনে বলিয়াছেন,
“যদি না কাটি কলার পাত
তাতেই কাপড় তাতেই ভাত।”
ইহা কতদূর সত্য—আপনারা আমার কলার চাষ পাঠেই
জানিতে পারিবেন।
কাশীপুর বরাহনগরে একপ্রকার যন্ত্র বিক্রয় হইতেছে
তাহার মূল্য মাত্র ২৫ পঁচিশ টাকা। সেই যন্ত্রের সাহায্যে
কলার পাতা হইতে সূত্র প্রাপ্ত হওয়া যায়।

কলাগাছ A সূত্র প্রস্তুত করণ। কলার পেটো অংশটী বাদ দিয়া কলার পাতাটী কাটিয়া তাহা থেতাে করিয়া ২৪ দিন গোবর জলে ফেলিয়া রাখিতে হয়। দুই চারিদিন পরে যখন সেগুলি পচিয়া যায়, তাহা হইতে পাটের মত সূত্র বহির্গত হয়। আকন্দের পাটের মত পরে উহাকে ছায়ায় শুষ্ক করিয়া লইতে হয়। চরকা বা টেকোর সাহায্যে ঐ কলার পাট হইতে সুন্দর সুন্দর সূক্ষ্ম সূত্র প্রস্তুত করিতে পারা যায়। সেই সূত্র হইতে বস্ত্র বয়ন করিয়া লইলে মাঞ্চেষ্টারের মুখ পানে চাহিয়া বসিয়া থাকিতে হয় না। প্রাচীন যুগের ইতিহাসে যে কাষায়-বসন-পরিহিত ব্রহ্মচারী বা ব্রাহ্মণ পণ্ডিতের বিবরণ শ্রবণ করি, সেই কাষায় বসন বা ক্ষৌম বাস এই কলার সূত্র হইতে নির্মিত। ঐ বসন শুদ্ধ ও পবিত্র। ফল- কাচা কলা, পাকা কলা বাজারে বিক্রয় করুিলেও বাজার দর অনুসারে আশানুরূপ মূল্য পাওয়া যায়। এক বিঘার কলাবাগান থাকিলে প্রায় ৩০০ কঁদি কলা পাওয়া যায়, আর ৩০০ কঁদি কলা বিক্রয় করিলে যে কত লাভবান হওয়া যাইবে, তাহা কল্পনা করিলেও পুলকে মন নৃত্য করিয়া উঠিবে। Galyanit ( Benana Food )- কলা হইতে এক প্রকার খাদ্য হ য়

৭০
সরল কৃষি কথা
তাহাই কলার আটা বা Banana Food বলিয়া বাজারে
বিক্রীত হয়।
বেনানা ফুড বা কলার আটা প্রস্তুত করণের প্রণালী
কলাগুলি পক্ক হইবার অব্যবহিত পূর্বে কাদি হইতে
ফলগুলি ছাড়াইয়া তাহাদের খােসাগুলি ফেলিয়া দিতে হয়।
পরে ছুরি বা অন্য কোনও অস্ত্র দ্বারা “চাকা চাকা” করিয়া
কাটিয়া দিয়া রৌদ্রে শুষ্ক করিয়া লইতে হইবে, শুষ্ক হইয়া
গেলে ঢেকিতে কুটিয়া বা জাঁতায় পিষিয়া যে আটা প্রস্তুত
হয়, তাহাই কলার আটা বা Banana Food। ইহা
বিক্রয় করিলে কলা বিক্রয়
অপেক্ষা অধিক মূল্য
পাওয়া যায়।
কলার মধু
অতি উপাদেয় এবং উপকারী খাদ্য। কলার মধু প্রস্তুত
করণের প্রণালী-
সক কলাগুলি খােসা ছাড়াইয়া একসঙ্গে মাখিয়া লইতে
হয়। /১ এক সের পরিমিত কলায় অর্ধ ছটাক সিলেট
চূণ
মিশ্রিত করিতে হইবে। পরে ময়রাদের রসগােল্লা প্রভৃতি
মিষ্টান্ন প্রস্তুত করিবার জন্য ছানার জল নিংড়াইবার যে
প্রণালী—অর্থাৎ একটী গাছা বা কাপড়ে খুব শক্ত করিয়া
বাঁধিয়া উচ্চ স্থানে টাঙ্গাইয়া রাখিলে কিছুক্ষণ পরে দেখা যায়
যে, একটু একটু করিয়া রসগােল্লার রসের মত রস পড়িতেছে।
বাস্তবিক উহা রসগােল্লা রসের মত মিষ্ট—অথচ তাহা অপেক্ষা

কলাগাছ
৭১
বেশী
মূল্যবান্। বিক্রয় করিলে যে মূল্য পাওয়া যায়,
তাহার অষ্টগুণ মূল্য এই কলার মধু বিক্রয়ে পাওয়া যাইবে।
কলার পেটো পুড়াইয়া ক্ষার প্রস্তুত করিতে পারা যায়।
এখন আমরা সােডা, সাবান দিয়া কাপড়াদি পরিষ্কার করিয়া
থাকি। কিন্তু পূৰ্ব্বে কলার ক্ষার দিয়া ঐ সব কাৰ্য্য সাধিত
হইত।

আনারস। সংক্ষিপ্ত দ্রব্যগুণ আনারস-সারস, রেচক এবং শ্লেমা ও কৃমিনাশক। ইহার কচি পত্রের রস মুখব্রণ নাশক। ইতিবৃত্ত আনারস দক্ষিণ আমেরিকার ফল, ইহা পুর্তগীজগণ কর্তৃক ভারতবর্ষে আনীত হয়। দক্ষিণ আমেরিকার আদিম নিবাসীগণ আনারসকে ‘আনানস” বলে ; আমরা আনারস নাম দিয়াছি। ভারতবর্ষের মধ্যে প্রথমে মাদ্রাজে আনারসের চাষ আরম্ভ হয়। তথা হইতে চট্টগ্রাম, সিলেট ও আসাম প্রদেশে চাষ হয়। সিঙ্গাপুরের কুইন্ নামক আনারস বঙ্গদেশে ভাল জন্মে। জমি-নিৰ্বাচন- উচু দোয়াস জমি যথায় জল না উঠে ও জল না দাড়ায়। অনেক আম, কাঁঠাল, শুপারী, নারিকেল বাগানের ছায়ায় আনারস রােপণ করিয়া থাকেন। ঐরূপ ছায়াযুক্ত স্থানের আনারস উৎকৃষ্ট নহে, অধিকন্তু ছােট হয়, মুখ কুট কুট করে ও মিষ্টতা কম থাকে। মুক্ত বায়ু ও সূর্যের কিরণের আনারস উৎকৃষ্ট হয়।

আনারস ৭৩ রােপন প্রণালী ও সময় চৈত্র ও বৈশাখে জমি উত্তম রূপে চাষ দিয়া প্রত্যেক ২হাত অন্তর একটি করিয়া গর্ত করিয়া ঐ গর্তের ভিতর হাড়ের গুড়া ও চূণ এবং সােরা ও পচা পাকামাটি সমভাগে মিশ্রিত করিয়া গর্তটি প্রায় বুজাইয়া রাখিতে হইবে। পরে আষাঢ় মাসে ঐ গর্তে একটী করিয়া, চারা একটু বাঁকা করিয়া পুতিবে, এক বিঘা জমিতে ১৬০০ শত চারা রােপণ করিবে। চারাগুলি বেশ লাগিয়া গেলে প্রতি দুই মাস অন্তর গােড়া পরিষ্কার করতঃ মাটি দিবে। আনারসের গােড়ার চারা রােপণ করা উচিত ; মাথার চারা ভাল হয় না। সার- চূণ দিলে মিষ্ট হয়, হাড়ের গুড়া দিলে আনারস বড় হয়, বোদামটি দিলে পাতা বড় হয়। আমি এই কারণে মিশ্র সার ব্যবহারের পক্ষপাতী। চতুর্থ বৎসরে ক্ষেতে বিঘা প্রতি ৩০ মণ গােবর দিতে হইবে। বুননা অনারসকে মিষ্ট করা ভারতে আনারস অনেক জন্মে। কিন্তু অনেক আনারসই বুননা, খাইলে মুখ কুট কুট করে এবং খাইতে সুমিষ্টও নহে। ভাল আনারসের চাষ করিবার চেষ্টা এদেশে এদেশে নাই। এই বুনােজাতীয় আনারসগুলির চারা, উচু জমিতে, যেখানে জল না উঠে ও জল না দাড়ায় এবং কোনরূপ ছায়া না থাকে, মুক্ত বায়ু :

৭৪
সরল কৃষি-কথা
ও রৌদ্রযুক্ত স্থানে উত্তমরূপ চাষ করিয়া ২ হাত অন্তর এক
একটী এক বিঘত গভীর গর্ত করিয়া প্রতি গর্তে এক মুঠা
হাড়ের গুড়া, একমুঠা চূণ, একমুঠা সােরা, বোঁদামাটির সহিত
মিশ্রিত করিয়া দিয়া চারা বসাইলে এই গাছের ফল ওজনে
ভারী এবং মিষ্ট আস্বাদ বিশিষ্ট হইবে। আমেরিকাতে বুনো
আনারস মােথা ফেলিয়া টুকরা করিয়া কাটিয়া, সেইগুলি
কিয়ৎ পরিমাণে শুকাইয়া লইতে হয়, পরে চিনি মাখাইয়া
আবার শুকাইয়া লইতে হয়, ইহাতে প্রায় শতকরা ১৩ ভাগ
চিনি আনারসগুলির গায় লাগিয়া যায়। আনারসের টুকরা-
গুলি অল্প অল্প সরস থাকিবে অথচ এমন শুনা হইবে যে
টুকরাগুলি কেহ কাহার গায়ে না লাগে। এরূপ প্রস্তুত
টুকরাগুলি বায়ুশূন্য কাচের বা টিনের জারে বন্ধ করিয়া
রাখিলে সহজে খারাপ হয় না। এইরূপ আনারসই স্বাদ ও
গন্ধে ভাল টাকা আনারসেরই মত। ইহা খাইতে সুমিষ্ট ও
অধিকতৃর মুখ রােচক। আমেরিকানগণ আনারস খােলা
বাতাসে ও রৌদ্রে শুকান ভাল বিবেচনা করেন না। তাহারা
ষ্টীম সাহায্যে শুকাইয়া লয়। যখন টুকরাগুলি শতকরা
অবস্থানুযায়ী ৬৫ হইতে ৭৫ ভাগ শুকাইয়া ওজন কম হইল,
তখন ঠিক তৈয়ারী হইল বলিয়া মনে করে, তৎপর তাহাতে
চিনি মাখায়। চিনি মাখিবার কালে যে তরল রস বাহির
হয় তাহা অতি উপাদেয়, ঐ রস বাজারে বিক্রয় হয়, অনেকে
আনারসের রসই ব্যবহারে ইচ্ছুক।

আনারস ৭৫ আনারস রক্ষার উপায় আনারস শীঘ্র পচিয়া যায় না। এজন্য দূর এজন্য দূর পশ্চিম দেশে এমন কি বিলাত পৰ্যন্ত ইহার রপ্তানী করিতে পারা যায়। ফিলিপাই, জামেকা, কিউবা, হিব্রাইডিস প্রভৃতি সহস্র মাইল দূরবর্তী প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ হইতে লক্ষ লক্ষ টাকা আনারস প্রকৃষ্ট উপায়ে রক্ষিত হইয়া বিলাতে প্রেরিত হইয়া থাকে। শতভাগ শীতল জলে তিনভাগ কমাসিয়াল ফরম্যালী ( Com- . mercral Formalion ) মিশ্রিত করতঃ তন্মধ্যে কোন পরিপক্ক ফল ১০ মিনিট কাল ডুবাইয়া রাখা যায়, তাহা হইলে ফল এক হইতে তিন মাস পৰ্যন্ত অবিকৃত অবস্থায় থাকে। আম্র, কদলী লেবু, আনারস প্রভৃতি ফল, এই উপায়ে বহু দূরে প্রেরিত হইতে পারে। উদ্ভিদজাত সূত্রের মধ্যে আনারসের অপেক্ষা উৎকৃষ্ট ও দৃঢ়তম সূত্র অতি অল্পই দৃষ্ট হয়। ইহা বেসেনের ন্যায় কোমল শুভ্র ও সুচিক্কণ এবং ক্ষৌম সূতার (Flax) উৎকৃষ্ট অনুকল্প। ফিলিপাইন দ্বীপের প্রসিদ্ধ আনারসী বস্ত্র ( Pineaplce Cloth) ও পিনা নামক সূক্ষ্ম বস্ত্র, ইহার রেশমবৎ সূক্ষ্ম তন্তু হইতে প্রস্তুত হইয়া থাকে। এতদ্ব্যতীত টোয়াইন ডাের, ফিতা ও নানাবিধ সূক্ষ্ম বস্ত্র শিল্পের জন্যও ইহার প্রচুর ব্যবহার হয়। জাপান্ জার্মানীতে ইহার পত্র

সরল কষি-কথা
হইতে পাéমেন্টের ন্যায় উৎকৃষ্ট কাগজ প্রস্তুত হয়।
আনারসের সূতা সর্বাপেক্ষা অধিক জল সহনশীল অর্থাৎ
সহজে জলে পচিয়া নষ্ট হয় না।
কঁচা পত্রের উপরকার মাংসল অংশ ভােলা অস্ত্র দ্বারা
চাচিয়া ফেলিলে সূত্র বাহির হয়, অথবা আখভাঙ্গা কলের
সাহায্যে পিষিয়া বা পাতাগুলি থেতাে করিয়া গােবর জলে
৪৫ দিন পচাইয়া রাখিলে সুন্দর সূত্র বাহির হয়। কিন্তু
সূতাগুলি ছায়ায় শুকনা করা উচিত ও রাত্রে শিশিরে রাখিলে
খুব মজবুত হয়। এই সূত্রের ব্যবহার করিলে আমরা
আনারস চাষে প্রচুর লাভ করিতে পারি।
আনারসের মােরব্বা
আনারসের চাকতি করিয়া ভিনিগারএ (Vinegar )
ভিজাইয়া রাখিলে সুমিষ্ট মােরব্বা প্রস্তুত হয়। মােরব্বা
বিক্রয় করিয়াও এক বিঘার প্রায় তিন শত টাকা লাভ
হইতে পারে।
আনারসের রস
আনারসের রসে Spirit of Alcohol দিয়া রাখিলে উহা
বিক্রয় দ্বারা ৪০০ চারি শত টাকা উপার্জন হইতে পারে।
পাই এপেল (Pine Apple Syrup) রসায়নের সাহায্যে
ঐ এক বিঘার আনারস হইতে পাইনএপেল সিরাপ প্রস্তুত
করিলে ১০০০ এক হাজার টাকা করতল গত হইতে পারে।
=

কোঙ্গা ( Aloe ) আনার, ডাকাতে, করতে মুৰ্ব্বা ইত্যাদি নাম। সূত্র প্রস্তুত প্রণালী- হস্তে তৈল লইয়া আনারসের সূত্র নির্মাণ প্রণালী সাহায্যে কোঙ্গার সূত্র প্রস্তুত করিতে হয়। কোঙ্গার-সূত্র- প্রস্তুত আসনের মূল্য ২১ দুই টাকা হইতে ২০ দুই টাকা চারি আনা পর্যন্ত। সতর্কতা হস্তে তৈল না লাগাইয়া কোঙ্গার সূত্র প্রস্তুত করিতে যাইলে হস্তে ক্ষত হইয়া যাইবার সম্ভাবনা, তাই পূৰ্ব্ব হইতে সতর্ক করিয়া দিলাম।

এরও ভেরও বা রেড়ী
বপন সময়-
বর্ষার পূর্বে কিংবা বর্ষার পরে। উচ্চ ডাঙ্গা জমিতে
চাষ দিয়া প্রতি বিঘার /৫ সের বীজ ছড়াইয়া দিতে হয়।
কিছুদিন পরে সেই বীজের অঙ্কুরােদগম হয়, এবং সেই অঙ্কুর
হইতে এর বৃক্ষ জন্মে।
নন্দন কাননের যেমন কল্পতরু, স্বর্গের যেমন কামধেনু
যাহা চাওয়া যায় তাহাই পাওয়া যায়, সেইরূপ এর বৃক্ষ
হইতে কত মূল্যবান্ বস্তু পাইতে পারি তাহা এই সামান্য
প্রবন্ধে বর্ণনা করা অসম্ভব।
রেড়ীর বীজ
শুদ্ধ রেড়ীর বীজ বিক্রয় করিলেই এক বিঘার চাষে
৫০ পঞ্চাশ টাকা অর্জিত হয়।
রেড়ীর তৈল—
পূর্বে যে রেড়ীর তৈল আমাদের গৃহে গৃহে সাঝের
প্রদীপ জ্বালাইয়া দিত, সেই রেড়ীর তৈলই এই এর বীজ
হইতে প্রস্তুত হয়।
এরণ্ডের ফলগুলি যখন পাকিতে দেখা যাইবে, তখন তাহা
তুলিয়া আনিয়া একটা পাত্রের মধ্যে মুখটী আবদ্ধ করিয়া
রাখিতে হইবে; ২১ দিন মধ্যে যখন সমস্ত বীজগুলি ফাটিয়া
পড়িবে, তখন তাহাদিগকে রৌদ্রে শুষ্ক করিয়া লইতে হয়।

এরও ভেরণ্ড বা রেড়ী ঐ যে সেই শুষ্ক বীজগুলির উপরস্থ খােসাটী ছাড়িয়া গেলে দেখা যাইবে, যে উহার মধ্য হইতে দুইটী দল বহির্গত হইয়াছে তখন উহাদিগকে ঢেকিতে কুটিয়া লইতে হয়। তৎপরে ফুটন্ত জলে ফেলিয়া দিয়া জ্বাল দিতে Boiling Point বা সিদ্ধ চাউলের মত ফুটন্ত অবস্থায় উপস্থিত হইলে নামাইয়া নাড়া দিতে হয়। নাড়া দিতে দিতে দেখা যায়, উপরে তৈলাংশ ভাসিতেছে, সেই তৈলাংশটুকু ছাঁকিয়া লইতে হইবে। এই- রূপে জল দিয়া, জ্বাল দিয়া নামাইয়া নাড়া দিয়া তৈল বাহির করিতে করিতে যখন দেখা যাইবে আর তৈলাংশ বহির্গত হইতেছে না তখনই তাহা হইতে বিরত হইবে। তৈলটুকু বাহির হইল উহারই নাম রেড়ীর তৈল। আর ষে অংশটি পড়িয়া রহিল উহা রেড়ীর খৈল । কৈশ বর্ধক তৈল (Hair oil) গৃহের কর্তাকে নানা ঝঞ্ঝাট ভােগ করিতে হয়। কোন মেয়ের কেশ উঠিয়া যাইতেছে, কেশ বাড়িতেছে তখনই তাঁহাকে বাজারে ছুটিতে হয় Bathgate কোম্পানীর কেশ তৈল (Hair Oil ) ক্রয় করিবার জন্য। কিন্তু আমরা অজ্ঞ মূখ, তাই বুঝি না এই হেয়ার অয়েল (Hair Oil) এর স্থান কোথায়! বাস্তবিক আমরা নিজের দেশের জিনিষকে কৰ্য্যে লাগাইতে জানি না বা পারি না। ইহা অপেক্ষা দুঃখের কথা আর কি হইতে পারে ? এই যে কেশ-তৈল, উহা ঐ রেড়ীর তৈল হইতে প্রস্তুত হয়।

সরল কৃষি কথা ; কাচা দুগ্ধ ও বাই কাৰ্ব্ব-নেড অফ, সােডা দ্বারা রেড়ীর তৈলকে ( Refine) বা পরিষ্কার করিয়া দিলে রেড়ীর তৈলকে কেশ-তৈল বা Hair Oil এ পরিণত করা যায়। তাহা হইলে আমার বিশ্বাস কেশ-তৈল বিক্রয় করিলেও অর্থ উপার্জন হইবে; অথচ গৃহপ্রস্তুত তৈল মাথায় মাখিলে দ্বিগুণ কেশ বর্ধিত হইয়া যাইবে, গৃহের কর্তাকে বাজারে ঘুরিয়া বেড়াইতে হইবে না। একটু রসায়নিক প্রক্রিয়া দ্বারা চেষ্টা করিলে, আমরা রেড়ীর তৈল হইতে ক্যাষ্টার অয়েল (Castor Oil) পৰ্যন্ত প্রস্তুত করিতে পারি। এক বিঘায় যে রেড়ী বীজ হয় তাহাতে রেড়ীর তৈল তৈয়ারী করিয়া (Castor Oil) ক্যাষ্টার অয়েল প্রস্তুত করিলে অন্তত: ৩০০ টাকা উপার্জন করিতে পারা যায়। এণ্ডিসুত্র- আসামে এক প্রকার পােকা পাওয়া যায়, সেগুলি ভেরেণ্ডার পাতায় ধরাইয়া পাতায় ধরাইয়া দিলে তাহারা ঐ পাতায় গুটী প্রস্তুত করিতে থাকে সেই গুটী হইতেই এণ্ডিসূত্র বহির্গত হয়। গুটী বিক্রয় করিলেও অর্থ-সমাগমের সম্ভাবনা, সূত্র বিক্রয় করিলে ত কথাই নাই। আবার যদি সেই সূত্র হইতে বস্ত্রাদি বয়ন করা যায়, তাহা হইলে অনেক অর্থ আমাদের ভাণ্ডারে সঞ্চিত হয়। ইহার সূতা তৈয়ার জন্য শিল্পিবিভাগ রিলিং মেশিন প্রস্তুত করিয়াছেন।

ভেরেণ্ড এণ্ড বা রেড়ী
৮১
রেড়ীর খইল
পূৰ্বেই রেড়ীর খইল কিরূপে হয় জানাইয়াছি। এখন
উহার উপকারিতা সকলের জানা কর্তব্য। অপরাপর
খইলের মত রেড়ীর খইলও সারের কার্য্য করে, তবে
সর্বাপেক্ষ। ইহা বেশী কাৰ্য্যকারী। যে স্থানে বিঘায় ৫০/
মণ আলু হয় সে স্থানে যদি রেড়ীর খইল দেওয়া যায় যাহা
ন্যূনপক্ষে ১০০/ মণ আলু উৎপন্ন হইবে। ইক্ষুক্ষেত্রের ইহা
প্রধান সার। রেড়ীর খইল দিয়া জমি চাষ করিয়া বেলজিয়াম
আজ সমৃদ্ধশালী, অথচ যে দেশে প্রচুর এর উৎপন্ন হয় সে
দেশে লােকেরা রেড়ীর খইল ব্যবহারের প্রণালী অবগত
থাকায় আলুর চাষে লাভবান হয় না, ইক্ষুর চাষে
ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মসল্লা-
বাংলার পলি পড়া মাটিতে জল শুকাইয়া গেলে
কার্তিক মাসে ঘন ঘন চাষ দিয়া বিঘা প্রতি ১/ মণ রেড়ীর
খৈল সার দিয়া জিরা, মৌরী, যােয়ান, ইসবগুল, তােকমারী
ও মেথী, বপন করিলে বেশ উত্তমরূপ জন্মে। ১৩৪০ সনের
মাদারীপুর প্রদর্শনীতে জিকির আলির উৎপন্ন জিরা তাহার
প্রকৃষ্ট প্রমাণ। আমি স্বচক্ষে তাহার জমীতে ভাল জিরা
দেখিয়াছি ;সে প্রথমে পুরস্কার পাইয়াছে।
৬

সুরুটে। ইহা এক জাতীয় সরিষা। আমরা তাহার বীজ সরিষার মত দেখিয়াছি কিন্তু ভাবি নাই যে, উহা হইতে তৈল প্রস্তুত হয়। উহার তৈল ব্যবহারােপযােগী না হইলেও কৃষ্ণ বা শ্বেত সরিষার সঙ্গে ভেজাল চলে। কৃষ্ণ বা শ্বেত সরিষার সঙ্গে মিশ্রিত করিলে তৈলের খুব ঝাঁজ হয়। ঐ যে বাজারে দেখা যায়, তৈলটী তেমন পরিষ্কার নয়, অথচ বেশ তীব্র ঝাঁজ আছে উহার কারণ যে উহাতে সুরুটের তৈল মিশ্রিত হইয়াছে। সুরুটের খইলেও উৰ্ব্বরতা সম্পাদন করে। সজনা। লাগাইবার সময় ও প্রণালী বর্ষার পূর্বে সজনার ডাল- গুলি পুতিয়া দিলে, উহা হইতেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখা প্রশাখা বহির্গত হয়; এবং ২১ বৎসরের মধ্যেই বেশ বড় সজনার বৃক্ষে পরিণত হইয়া যায়। উপকারিতা সজনার ফুল, সজনার পাতা সজনার খাড়া সবই আমাদের রসনাকে তৃপ্ত করে। তাই দেখা যায় বাজারের সময়ে লােকে সখ করিয়া ক্রয় করিতেছে, ফুল পাতা ও খাড় এ

মানকচু
উহা একটী অর্থাগমের সুগম পন্থা। তদ্ব্যতীত যদি সজনার
খাড়াগুলি পাকিতে দেওয়া যায়, তাহা হইলে সেই পক্ক সজনা
খাড়াগুলির বীজ হইতে মূল্যবান Sweet oil অর্থাৎ ঘড়ি মেরামত
করিবার জন্য যে তৈল ব্যবহার হয়—সেই তৈলপ্রস্তুত হয়।
পক্ক খাড়াগুলির মধ্য হইতে বীজগুলি বাহির করিয়া
রৌদ্রে শুষ্ক করিয়া লইতে হয়।
পরে কলুর ঘানিতে পিষিলে
সরিষার তৈলের মত বাহির হয়। ঐ তৈলই Sweet oil,
আর উহার খইলও সাররূপে গ্রহণ করা যাইতে পারে।
মানকচু।
জন্মাইবার প্রণালী-৯ নয় ইঞ্চি পরিমিত ব্যাসের গৰ্ত্ত করিয়া
প্রতি দুই হাত অন্তর মানকচু মাথার পাতাগুলি কাটিয়া ফেলিয়া
দিয়া লাগাইতে হয়। গর্তগুলির মধ্যে ছাই ও রেডীর খইল
সমান ভাগে সার দিতে হয়, আর মাঝে ছাই দিতে হয়। ছাই
ইহার একমাত্র সার। মানকচু নীরস রৌদ্রযুক্ত জমিতেই
ভাল ও পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপন্ন হয়। ১ বিঘায় মানকচু চাষ
করিলে ৪০০ চারিশত টাকা লাভের সম্ভাবনা। ২ হাত
অন্তর কচু লাগাইলে ৪০ টী করিয়া গাছ প্রতি লাইনে হইবে ও
৪০ লাইনে ৪০X৪০ = ১৬০০ শত মানকচু পাওয়া যাইবে।

ওল।
জন্মাইবার প্রণালী—শুষ্ক ভূমিই ইহার উপযুক্ত। ক্ষেত্র—
১ বিঘত গভীর ২ হাত অন্তর গর্তে পচা খড় বা পচা পাতাও
তৎসঙ্গে রেড়ীর খইল দিয়া ওলের মুখী (বীজ) গুলি বসাইয়া
মাটী দিয়। ভরাট করিতে হয়। ১ বৎসর পরে দেখা যাইবে—
উহারা (২ সের (২০ সের পর্যন্ত বর্ধিত হইয়াছে। ইহারও
প্রত্যেকটীর মূল্য দুই আনার কম নহে।
সােলা।
বপন প্রণালী—গ্রীষ্মকাল বা তৎপূৰ্ব্বে পুষ্করিণীর যে অংশ
শুষ্ক হইয়া যায়—সে অংশে সােলার বীজ ছড়াইয়া দিলে-
সােলার উৎপত্তি হয়।
প্রয়ােজনীয়–সােলার কর্ক ( ছিপি) নৈমিত্তিক
ব্যবহাৰ্যের মধ্যে। আবার সেই সােলার হাট (টুপি)
প্রভৃতিও প্রস্তুত হয়। অতএব দেখা যাইতেছে যে সােলার
দাবীও আছে, সােলাতেও অর্থের আশা করা যায়।

পানিকচু বা সােলাকচু।
জন্মাইবার প্রণালী-পুষ্করিণীর জল শুষ্ক হইবার কালীন
ঘােলা করিয়া দিয়া জল কর্দমাক্ত করিয়া দিতে হয়। সেই
কর্দমাক্ত জলের মধ্যে পানিকচুর চারাগুলি বসাইয়া দিতে হয়।
জল বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কচুর পাতাও উপরে উঠিতে থাকিবে।
যদি কোনক্রমে জলপাতার উপরেই উঠিয়া যায়, শীঘ্র পাতাগুলি
বাড়িয়া উঠিবার সম্ভাবনা নাই, তখন তাহাদিগকে মাটি হইতে
তুলিয়া দিতে হইবে। শ্রীভগবানের এমনি সৃষ্টি-কৌশল যে,
তাহাতে উহার বৃদ্ধির বিন্দুমাত্র ক্ষতি হইবে না। পানিকচু
জলের মধ্যে ভাসিয়া ভাসিয়া বৰ্দ্ধিত হইবে।
আশা-উহা বিক্রয় করিলেও অর্থ-চিন্তা হইতে কতকটা
অব্যাহতি পাওয়া যায়।
বাবলা।
ইহা একটী অনায়াস-লভ্য কৃষি। আমাদের দেশে যথায়-
তথায় ইহা জন্মাইতে দেখা যায়। ইহাও আমাদের বিশেষ
উপকারী।
বাবলার কঁচা ফল—ইহা দুগ্ধবতী গাভীর উপাদেয়
খাদ্য। যে সব গাভীর দুগ্ধ শুষ্ক হইয়া যায়, তাহাদিগকে
বাবলার কাচা ফল খাওয়াইলে যথেষ্ট দুগ্ধ দান করিবে।

৮৬
সরল কৃষি কথা
AWAM^^^^^^
বাবলার পাকা ফল-হরিতকী, আমলকী ও বহেড়ার
সহিত বাবলার ফল এক সপ্তাহকাল তাম্রপাত্রে ভিজাইয়া
রাখিতে হয়। ১ সপ্তাহ পরে অগ্নি সংযােগে ফুটাইয়া হীরাকস
মিশাইলেই সুন্দর কালী প্রস্তুত হয়। নিজেদের লিখিবার
কালীত ক্রয় করিতে হইল না, উপরন্তু বাজারে বিক্রয়
করিলে অর্থ উপার্জন হইছে পারে।
বাবলার আঠা–বাবলার আঠা হইতে গঁদ প্রস্তুত হয়।
বাবলার চাষ করিয়া প্রতি বৎসর বাবলার আঠাও বিক্রয়
করা যাইতে পারে ।
বাবলার ছালচামড়া কষ (Tan) করিতে হইলে
বাবলার ছাল বিশেষ দরকারী। বৃক্ষগুলি না মারিয়া প্রতি
বৎসর বাবলার ছাল রপ্তানী করিয়া প্রভূত অর্থ লাভ করা
যায়। ইহার মণ ৫। ৭ টাকার কম নহে।
কুল গাছ।
লা’ হইতে লাক্ষার সৃষ্টি। এই লাক্ষা আমাদের দেশে এখন
খুব প্রচলিত হইয়া গিয়াছে। লাক্ষার দরও খুব বেশী । আমি
স্বয়ং অনেক লােককে গালা বিক্রয় করিয়া বড় লােক হইতে
দেখিয়াছি। কিন্তু সেই লাক্ষাই আজ লা’ হইতে প্রস্তুত, আবার
এই লা’ কুল প্রভৃতির বৃক্ষেই জন্মগ্রহণ করে।

পান ও পানজাতীয় লতা
৮৭.
4.AAAAA
লা’ জন্মাইবার প্রণালী-কুল-পাকিলে গাছের পুরাতন
শাখা-প্রশাখাগুলি কাটিয়া ফেলিতে হয়। নূতন পত্র বাহির
হইলে শাখায়-শাখায় লাক্ষার বীজ ধরাইয়া দিতে হয়।
২১
বৎসরের মধ্যে সুন্দর লাক্ষা প্রস্তুত হইয়া যায়।
পার্থক্য—কুসুম গাছের লাক্ষার সর্বোৎকৃষ্ট। কুলের
লাক্ষা তাহারও নিম্নে। কিন্তু ইহারা একই প্রকার কৃষি ।
অনায়াসলভ্য -অথচ বহু লাভজনক।
ঘৃতকুমারী।
পুনর্ণব (পুরুতে) বাকস অনন্তমূল, শতমূল ইহারাও
আমাদের দেশের অনায়াসলভ্য কৃষি। ইহারা কবিরাজদের
বিশেষ দরকারী, এবং এই ব্যাধি প্রপীড়িত দেশবাসীরও মহান্
উপকার সাধন করে।
ঘৃতকুমারীর ১/• এক মণের দাম দশ টাকা।
পান ও পানজাতীয় লতা।
যে সব জমিতে জল দাড়ায় না সেই সব উন্নত জমিতে
দো-আঁশলা বা এটেল মাটীতে বিঘা প্রতি ২০/• বিশ মণ
খইল ও ৫/৩ মণ বিরি কলাই সিদ্ধ করিয়া মিশাইতে হয়।

'৮৮
সরল কৃষি কথা
ইহার চারিদিক ঘিরিয়া দিতে হয়, যাহাতে কোনরূপ রৌদ্রের
কিরণ সম্পূর্ণ প্রবেশ না করে। ইহা পরিশ্রম সাপেক্ষ হইলেও
লাভজনক। (মৎপ্রণীত বেনেতিবাগ দ্রষ্টব্য)। পান চাষের
বাৎসরিক আয় ৫০০
হইতে ৭০০১
টাকা।
পিপুল।
জন্মাইবার প্রণালী—পানের ক্ষেতের মত পিপুলের ক্ষেতও
প্রস্তুত করিতে হয়। বৈশাখ মাসে ৪ হাত অন্তর ধঞ্চে ও
জয়ন্তি ফুলের গাছ লাগাইয়া পিপুলের চাষ করিতে হয়।
এক বৎসর একবার পিপুলের ‘ববােজ’ করিলে ১০ বৎসর
লতা না বলাইয়া পিপুলের চাষ চলিতে পারে।
এক বৎসরে চাষের আয় ১০০০ এক হাজার টাকা
(মপ্রণীত বেনেতিবাগ দ্রষ্টব্য)।
পানিফল।
সলিলে ইহার জন্ম। পানিফল বাজারে বিক্রয় হয়,
আবার পানিফল হইতে আটা প্রস্তুত হয়।
আটা প্রস্তুত করণের প্রণালী পানিফল সিদ্ধ করিয়া
শুকাইয়া যায় পিষিলে আটা পাওয়া যায়।
====

বাঁশ। গৃহস্থের বাঁশে বেশ দু’পয়সা লাভ হয়, পালি, দোয়াশ ও দুধে এটেল মাটিতে বাঁশ উত্তম জন্মে। বৈশাখ হইতে শ্রাবণ মাসের মধ্যে ১৪১৫ হাত অন্তর বাঁশ লাগাইতে হয়। প্রতি বৎসর ফান চৈত্র মাসে বাঁশঝাড়ের গােড়ায় আগুন লাগাইয়া শুকনা পাতা ইত্যাদি পােড়াইয়া দেওয়া ও পাক মাটি দেওয়া কয়েকটী অনায়াস লভ্য আয়কর গাছপালা। বাংলায় প্রায় প্রতি পল্লীতে, রাস্তার ধারে, গৃহস্থের বাড়ীর আশে পাশে, বনে জঙ্গলে এমন কতকগুলি গাছ পালা আপনা হইতেই জন্মে যাহার সদ্ব্যবহার করিলে অর্থাৎ সময় মত সংগ্রহ করিয়া বিক্রয়ের ব্যবস্থা করিলে আমরা বেশ লাভবান হইতে পারি। কলিকাতার প্রসিদ্ধ বেঙ্গল কেমিক্যাল ফার্মাসিউটি- ক্যাল ওয়ার্কস, বটকৃষ্ট পাল কোং, ডাক্তার বসুর ল্যাবরেটরী প্রভৃতি আরও দেশীয় ঔষধ প্রস্তুতের কারখানা সমুহ, তরল সার, নির্যাস ও বটিকা ইত্যাদি প্রস্তুতের জন্য এ সকল বৃক্ষের লতা গুল্ম, ত্বক পত্র ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে লইয়া থাকেন। সুতরাং উহা সংগ্রহ করিয়া উপরােক্ত ব্যবসায়ীদিগকে নিয়মিত

সরল কৃষি কথা
in
৩।
ভাবে সরবরাহ করিতে পারিলে প্রায় বিনা মূলধনেই অর্থো-
পার্জন করা যায়। নিম্নে ঐরূপ কতকগুলি প্রয়ােজনীয় গাছ
পালার তালিকা দেওয়া হইল।
১। ঘৃতকুমারী (ইহা কবিরাজেরা লইয়া থাকেন)।
২। শতমূলী।
শ্বেত আকন্দমুল
৪। ভূমিকুণ্ড।
৫। অর্জুনছাল ( হৃদরােগ নিবারক)।
৬। কালমেঘ (জ্বর ও বিরেচক।
৭। ছাতিম ছাল ( জ্বর )।
৮। অশােক ছাল (প্রদর নিবারক ।
৯। অশ্বগন্ধা ( স্নায়বিক দোৰ্বল্য নিবারক)।
১০। অনন্ত মূল (রক্তপরিষ্কারক ও বলবৰ্ধক)।
১১। ওলট কম্বল (কষ্টরজঃ প্রতিষেধক)।
১২। পুনর্ণবা বা শ্বেতগাধমণি শাক (মূত্রকারক, শােথ
নিবারক)।
১৩। বাসক ছাল ( সর্দি, কাশি নিবারক )।
গুলঞ্চ লতা ( অরণ্ণ )।
১৫। কন্টিকারী (জর )।
১৬। ক্ষেতপাপড়া (অর)।
১৭। নিমছাল ( জরম্ন ও রক্ত পরিষ্কারক )।
১৮। কুরচি বা কুটচ ছাল (রক্তামাশয় ও প্রতিষেধক)।
১৪।

উপসংহার।
আমার এই ‘সরল কৃষি-কথার মধ্যে শুধু দেখাইলাম,
কি করিয়া অর্থাগম হয়, কোন্ উপায়ে অর্থ উপার্জন হয়।
ইহার জন্য হয়তাে অনেকে আমার প্রতি বিরক্ত হইবেন;
কেহবা হয়তাে ভাবিবেন—কি অর্থগৃধু, মানুষটা। নিজেও
পাপ-পথে যাইতেছে ; আবার অপরকেও টানিয়া লইতেছে।
বাস্তবিক—যে দেশে শঙ্করাচাৰ্য জন্মগ্রহণ করিয়া পীর-কণ্ঠে
গাহিতে পারেন।
“অর্থমনর্থং ভাবয় নিত্যম্।
নাস্তি ততঃ সুখ লেশ সত্যম্ ।
পুত্ৰাদপি ধনভাজাং ভিতীঃ।
সৰ্ব্বতৈষা কথিত নীতিঃ॥”
যে দেশে সিদ্ধার্থ রাজার আলয়ে জন্মগ্রহণ করিয়া বিষয়কে
বিষবৎ পরিত্যাগ করিয়া সন্ন্যাস ব্ৰত অবলম্বন করিলেন,
আবার দেশে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেব জন্মপরিগ্রহ করিয়া, কাঞ্চনকে
লােষ্ট্রবৎ তুচ্ছ বলিয়া প্রচার করিলেন-সেই দেশের মানব
হইয়া সেই দেশের মানবকে এরূপ অর্থনীতি শিক্ষা দিয়া
লােকের নিকট আমি হেয় হইনা কেন? সেই অর্থনীতি শিক্ষা
না দিয়া যে আমি তিষ্ঠিতে পারিতেছি না। দেশের চতুর্দিকে,
. হাহাকার পরিয়া গিয়াছে। বিজ্ঞান শিল্প প্রভৃতি চর্চা করিয়া
অন্যান্য দেশ সমৃদ্ধ হইয়া উঠিল—আর আমরা সাহিত্য ও

সরল কৃষি-কথা দর্শন লইয়া পড়িয়া রহিলাম, অন্নাভাবেই মরিয়া গেলাম। দেশের অন্ন বস্ত্রাভাব যাহাতে দূর হয়—তাহার জন্য আমাদের সাধনা করিতে হইবে। তাই আমরা দেশবাসীকে বারম্বার বলিতেছি—হে দেশবাসী ভাইগণ, আমার দোষ দাও, ক্ষতি নাই, তবু আমার কথাগুলি শ্রবণ কর। কৃষিকে জীবনের ব্রত কর ; দেখিবে অচিরাৎ তােমাদের বুকের ক্রন্দন মুখের হাসিতে পরিণত হইয়া গিয়াছে ; গৃহে-গৃহে অন্নপূর্ণা আসিয়া অল্প বিলাইতেছেন। পেটে অন্ন থাকিলে ত দর্শন চিন্তা করিতে পারিবে ? প্রাণপণে নূতন উদ্যমে লাগিতে হইবে। প্রতিজ্ঞা করিতে হইবেলাঙ্গলই আমার বল, কৃষিই আমার উপাস্য, দেশের শস্যই আমার ইজ্জৎ-সম্মান—প্রাণ । ; সমাই- .

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Saral Krishi-katha Ed. 9th

Author
Majumder ,jiminiranjan
Title
Saral Krishi-katha Ed. 9th
File name
Saral Krishi-katha Ed. 9th
Text
OCR done
Citation
1934
Published
2010/02/20
Publisher
Nitai Pad, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
106
Library
Bally Sadharan Granthagar
Classification
Agriculture
Keywords
Banglar Phasal
DLI number
511363
Barcode
4990010018518.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
F4KjoUReZrv
Download PDF

Saral Krishi-katha Ed. 9th