Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Jomer Darbar

Mandal,adharachandra · 2009/11/25

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

যমের দরবার
অধরচন্দ্র মণ্ডল, প্রণীত।
পড়লো সাড়া সুহর ঘােড়া
মূড়ায় খাড়ার ঘা!
ভবের হাট লুটিতে এলেম ছুটে
বেসাত হলাে না !
'MORTALITY !-Ilow (Treadful the name
sounds. Ihmakes the thought shudde
the blood crecp anal the soul chillst
Are l'ears its only relier ?"
কলিকাতা,
২ নেবুতল লেন, “ওলিম্পিয়ান যন্ত্রে
শ্রীহরিদাস দেব কর্তৃক
মুদ্রিত ও প্রকাশিত
মাধ, ১৩০৩।
"

No text on this page.

উৎসর্গ পত্র।
প্রজারঞ্জন ভূস্বামী-
শ্রীল: শ্ৰীযুক্ত বাবু কালিদাস বিশ্বাস,
জানবাজার
ধ্যম বাহাদুর !
জন্মে মণি খনির ভিতরে।
তুলি তারে মণিকার
গাথিয়া রতন-হার
উপহার দেয় রাজ-করে।
সােনাকুড়,
গ্রন্থকার শ্রী
বঙ্গাব্দ, ১৩০৩।

No text on this page.

যমের দরবার
পড়লাে সাড়া
সহর বেড়া
ছুটলাে ঘােড় তেগে।
টুটুলে রে বল সামাল সামাল
কোথায় যাবি ভেগে।
এবার, ভারি ভূরি জারি জুরি
এক হিড়িকে যাবে।
গুপ্ত দাদার
গরুর গুণব
কেউ ভবে না রবে।
ফোটালে দেয়ার পর সর সর
বড়ড নদীর বেগ।
আছে না কি
বিলাতি চেট
নামটা না কি প্লেগ।।
এই পেলে গো
কোথায় যাবি আর।

যমের দরবার।
গাইট কক
বৈদ্য আছে
কুঁচকি ফুল্লেই মুস্কিল ভারি
আসন নাইকো তার।
মােয়াপ্ত, ঝন্‌ঝন্ ।
অমন হয়ে থাকে।
তা নয় এবার তেনি হলে
অনি শিঙে ফেঁাকে।
‘বিউবনিক
বিকুটে নাম
কামে কম্প কায়।
বালাই, কোথায় ছিল
কে অনিল
এখন, ভারত করা দায়!!
ব্যাধ্বি হলেই
কথার কথা সেটা।
‘রত্ন’ খুড়াের
যত্ন মিছে
ভালে জলের ফোটা।
কিছুতেই কিছু হবে না গো
কিছুতেই কিছু না।
পড়েছ, মাজ দবিয়ার ( ঘুরণ পাকে
এবার, ভরাডুবি লা ॥
বলি, ওগাে সরকার
অকুল পাথার
হেলে পাই না পানি।
কৰ্ত্তা, ধােলা ঘােনায় জীর্ণ তরী
মিছে টানাটানি।

যযের দরবার।
পড়লাে সাড়া
সহর ঘােড়,
মড়ায় খাড়ার ঘা। •
ভবের হাট লুটিতে এলেম ছুটে
বেসাত হ'লোনা !!.
ব্রহ্মাণ্ডের প্রান্তভাগে অতি উচ্চস্থান।
বিশাল প্রদেশ্ন, যমপূরী তার নাম।
পরলােক-প্রাপ্ত লােক ইহলােক ছাড়ি।
কৰ্ম্ম অন্তে যায় সবে সে দেশে বাড়ি।
অথবা যে দেশ হতে ভূঞ্জিতে করম।
জীব মর্ত্যধামে আসে লভিতে জনম।
এই রবি এই শশী সুবিমল করে।
সে দেশ উজলে কি না কে বলিতে পারে ।
নরের নয়নে কভু দেখা নাহি যায়।
মানসে ধরিলে ধ্যান সূক্ষ্ম রেখা বয়।
কদাচিত ভাগ্য কল্পনার বলে।
উপনীত হয় কভু সেই নভস্থলে।
উচ্চে -উচ্চে আরও-উচ্চে, দূরে-দূরে-দৃরে।
ভ্রাম্যমান গ্রহগণ যুথা বেগে ঘূরে ।
অর্থ ব্যোমব্যোম-মহা-ব্যোম-চক্ৰমন্ত্র।
ক্ষিতি নাই-স্থিতি নাই—শুধু ভূবলয় ।

৪
যমের দরবার।
দূর হ'তে ধু-ধু ধুকার দেখা যায়।
বিশাল বেষ্টনেবৈতরণী বেগে ধায়।
কুজঝটিকাৱত চারি প্রকাণ্ড তােরণ ।
দৃঢ়রূপে অর্গলিত, নহে উটন।
মরি কি অপূর্ব দৃশ্য কুহেলি অন্তরে।
মুহুর্মুহু জ্যোতি যার ভাতিছে অম্বরে।
আঁধারে আলােক, এ কি পুলক হৃদয়!
কল্পনে! প্রবেশ’পূরে-দূরে আর নয়।
জ্যোতিৰ্ম্ময় সিংহাসন-রত্নবেদী’পরে।
আভা প্রভাহীন তবু অনল ঠিকরে।
এ আসনে বসি ধৰ্ম্ম ধৰ্ম্ম-অবতার।
জগতের পাপ পুণ্য করেন বিচার।
চারিজন শূরসিংহ শিরে সিংহাসন।
ম্রিয়মান শীর্ণকায় তার তিনজন।
তেজহীন নহে কিন্তু, ভস্মে বহ্নি মত।
যেন অভিমানে রূপ কালিমা অঙ্কিত।
অদূরেতে কালচক্র ঘুরিছে সম্বনে।
অবিরাম গতি আঁখি ধাঁধে আবর্তনে ।
যতদিন সৃষ্টি হইয়াছে চরাচর।
ততদিন ঘোরেচক্র একই প্রকার ।

যমের দরবার।
ধাতার কনিষ্ঠাঙ্গুলি-শক্তি সঞ্চালনে।
এইরূপে ঘােরে চক্র নিয়তি বিধানে।
চক্রের পরিধিপথে নহে পরশিত।
সময়ের পটাবলী মরি কি চিত্রিত।
শুনিলাম ভাগ্য নামে দেব চিত্রকরণ
অদৃশ্যে থাকিয়া পট লিখে নিরন্তর।
এই সুখ—এই দুঃখ রয়েছে লিখন।
অর্থলাভ-কলাভ, লাভ-নারীধন।
চোরদণ্ড-রাজদণ্ড-শঙ্কট বিষম।
অনাহার-অপমৃত্যু—বধ ও বন্ধন।
আরও কত শত চিত্র কে গণিতে পারে।
নানাবর্ণে নানাছন্দে লেখা পরে পরে।
জগত ব্ৰহ্মাণ্ড ধাতা লুকৌশল করি।
চক্রনেমি উপরেতে স্থাপিয়াছে ধরি।
চক্রের সহিত ঘুরি ব্রহ্মাণ্ড নিয়ত।
সময়ের পটে মুহুঃ হয় আলিঙ্গিত।
এই সুখ—এই লাভ করে আলিঙ্গন।
কখনও শিরেতে বয় লভ্য বৃত্নধন।
সুখ-সুখ-মহাসুখ সুখপথে হাঁটা।
আবার সুখের ঘরে পড়িলরে কাটা।
দুঃখ-দুঃখ-মহাদুঃখ সঙ্গে সঙ্গে ফেরে।
ভ্রান্ত জীব চেয়ে দেখ কালচক্র ঘুরে ।।

যমের দরবার
স্থিরদৃষ্টি শুরত্ৰয় কালচক্র পানে।
অনিমিখ আবর্তন নেহারে নয়নে।
অন্তরের গুঢ়ভাব না ফুরে কথায়।
একদৃষ্টে চেয়ে যেন কা’র প্রতীক্ষায়।
ধৰ্ম্মের আসনধারী বীর অন্যতম
যুবক যথেচ্ছাচার দান্তিক বিষম।
নিজ ইচ্ছামত ভার, করিছে বহন।
কভু ত্যাগ করে, কভু ধরিছে অসন ।
অতি কষ্টে ভারমাত্র ধরে শূরত্ৰয় ।
রতন আসন তাই ভূমে না পড়ায় ।
ক্রমে মৃত্যুপতি বার দিল সিংহাসনে।
হস্তেতে সংহার-দণ্ড ঘূর্ণিত লােচনে।
নহে শান্তমুর্তি আজি অশান্ত-হৃদয়।
করল কৃতান্তরূপ কঠোরতাময় ।
ব্রহ্মাণ্ডের হাইকোর্ট নাম প্রেতলােক।
চতুর্দশ চিফজজ হেথা বিচারক।
পালাক্রমে জষ্টিসেরা পান কার্যভার।
এক বর্তমানে অন্যে না পান আসর।
কায়স্থ কুলেতে জন্ম চিত্রগুপ্ত নামে।
পেশকার হেথা তিনি তার নিয়মে।
.

যমের দরবার।
মাসের সংক্রান্তিদিনে জানি মাস শেষ।
মৃত্যুর রিপাের্ট গুপ্ত করিলেন পেশ ।
এ পিট ও পিট করি দেখি দণ্ডধর।
“মৃত্যুসংখ্যা কম কেন” কন অতঃপর ।
“ধাতার মনের কথা শুনেছ সেদিন।
ভারগ্রস্ত ধর তাই হবে প্রাণি-হীন।
আবার নূতন সৃষ্টি করিতে মনন।
আবার কারণে—বটপত্রেতে শয়ন।
বিসর্জিতে পুরাতন প্রলয়-সাগরে।
আছে ভার মন্ত্রীবর অামার উপরে।
যেই সব মৃত্যু-চর আছয়ে আমার ।
পলকে ব্রহ্মাণ্ড পারে করিতে সংহার ।
তবে মৃত্যুসংখ্যা হেন কেন বুধবর।
ডাক’ দেখি দূতপুঞ্জে কি দেয় উত্তর ।”
শুনি কৃতান্তের বাণী ব্যাজ নাহি সয়।
কায়স্থকুলের পিতা গুপ্ত মহাশয়।
লইলা বিশাল শিক্ষা করিলা ফুৎকার ।
যে যেখানে যমদূত পড়িল ঝঙ্কার।
মাত্ৰ ধরিয়াছে আত্মা এই মরে প্রাণী।
শুনিয়া শিঙ্গার ধ্বনি ছাড়িল অমনি ।
কেহ বৃষরূপে বুহু করিয়া সন্ধান।
আক্রমিছে কোন জীবে—এই যায় প্রাণ ।

}
যমের দরবার।
যেমন শ্রবণে পশে গুপ্তের আওয়াজ।
ফিরিল সহসা যেন বাণ-বিদ্ধ বাজ ।
এরূপে শীকার ছাড়ি যমদূতগণ।
কৃতান্ত-নগরে সবে ধায় অগণন ।
কেহ কাল কেহ কটা কেহ সাদা হাঁদা।
জটা-খােপা চাপগোপা উভঝুটি বাঁধা।
নাদা-ভুড়ি রা-নড়ী কড়িপানা দাত ।
দাপটে কপাটী লাগে ভেঙ্গে যায় আঁত।
ধাপে ধাপে বসু কাপে কর্ণে লাগে খিল।
শব গিলি মুখ মেলি হাসে খিল খিল ।
মাটিতে রেখেছে পা মাথায় আকাশ।
স্পর্শনে থাকুক কাজ দর্শনে তরাস ।
ছুটাছুটি হুটাহুটি চলে যমপুরে।
দিশাহারা আঁখিমরা ধুলার আঁধারে ॥
উভরােলে গণ্ডগােলে হুজুরে হাজির।
ধুৰ্ম্মের আসন ধারে নােয়াইল শির।
একে একে ব্যাখ্যা করে কৃতিত্ব আপন।
পাঠক শুনহ কিছু তার বিবরণ।
ভাঙ্গা দেহ ভাঙ্গা স্বর যক্ষ্মা নামে যমচর
ছাড়াইল “যষ্টি ভর করি।

যমের দরবার
৯
)
শীর্ণত কৰ্ম্মমান
দন্তে দন্তে ঠ ঠন্য
বলে-“প্রভু বড় খেদে মরি।
পুর্বে ছিল ব্ৰহ্মশাল আমাৱ ছিল প্রতাপ
শশাঙ্ক হইতে মম সুরু।
প্রাদুর্ভত এবে কলি
জাতিভেদ গেছে চলি
সব সম-কেবা শিষ্য গুরু।
মর্ত্যে এবে ব্ৰহ্ম নাই আছে শুধু ব্রাহ্ম-ভাই
শাপান্তকরিবে কেবা কারে ।
বাপান্তে অশান্তি নাই প্রাণান্তে ঘুচে বালাই
মানে পাপ-মনের বিকারে!!
যদি মম ভাগ্যবলে
উপযুক্ত পাত্র মিলে
দেব, তার সংখ্যা কম অতি ।
অামা দ্বারা
মৃত্যুপতি ন-পাট করিতে ক্ষিতি
পারিবে না-নাহিক শকতি
হাত দিয়া দুই গালে
বসে বৃদ্ধ সভাতলে
দাড়াইল চৰ নামজার।
নর-নাড়ী বেড়া কায় রক্ত-আঁখি খর চায়
পিত্ত শ্লেষ্মা সঙ্গে সহচর।
‘ধরা রসালে দিতে” বলে জ্বরা যােড়হাতে
“হে অন্তক আমার সৃজন।

যমের দরবার।
.
এতদিন প্রাণপণে
পালিয়াছি সযতনে
তব আজ না করি হেলন।
গুমান হয়েছে গুড়া
উচ্চমাথা ক্রমে মুড়া
এবে মম প্রভূত্ব বিলােপ ।
ইচ্ছা করে ছেড়ে যাই
চাকরীর মুখে ছাই
সদা বুকে কামানের তােপ।
সাধিতে তােমার কাজ কিনা কৈনু প্ৰেতরাজ
দেখ স্থিরে মনে বিচারিয়া
বঙ্গদেশ আজু কঁপে ম্যালেরিয়া মূর্তি দাপে
পশ্চিমেরা বােখার ভাবিয়া।
কিনা কাণ্ড সে দিনেতে করিলাম আসামেতে
আজু তারা নহে বিস্মরণ।
একছত্রা একাকার
তুলিলাম হাহাকার
‘কালা’ নামে সঘন কস্পন।
কারে নাহি করি শঙ্কা বাজা’য়ে সমর-ডঙ্কা
উড়াই বিজয় নিশান।
প্রত্যাগত কালে পথে ফলিকাতা নগরীতে
করিলাম সুদৃষ্টি প্রদান !!
কি কব দুঃখের কথা ব্যুহে অভিমনু যথা
ডাক্তারের বেড়িল আমায়।
যে যাহার প্রহরণ
প্রহাসিল অনুক্ষণ
অামার অমোঘ তেজ পায় ।
.

• যমের দরবার।
১১
চন্দ্র সূর্য সেনবংশ আমারে করিতে ধ্বংস
রাজ্য ত্যজি বদ্ধ পরিকর।
কিছুতেই নাহি পারি আমাৰু বিক্ৰমে হারি
‘পেটেন্ট’ ছাড়িল অতঃপর ।
দূর হ'তে সিন্ধুপারে মম পথ লক্ষ্য করে
‘হওয়ে’ ছাড়িল তীব্রগুলি।
কত পােড়ে আমি পাকা কত রাজ্য কৈনু ফাকা
তুচ্ছ ভয় আমি কভূ টলি ?
ক্রমে বেড়ে গেল নাম হাসিল করিনু কাম
পেটেন্টের হইল সহায়।
আমি মারি কেশ টেনে তারা মারে ধনেপ্রাণে
কলিকাতা হলাে যায় যায় ।
শেষে ভাগ্যে মফল
অমৃতেতে হলাহল
পরাজিত নিজ কর্মদোষে।
যত ছল পাতিলাম
সব তাতে হারিলাম
জগত পূরিল অপবশে।
কুলাপানা চক্র কা
কর
মুনিসিপাল নাম ধন্ধি
শুনিলাম তোমার ‘কজিন।
কলিকাতায় পাতি কল বসে আছে মহাবল
ধরে নর,জেলে যথা মীন ।
লাগিল এয়ার পিছু কিছুতে না হলে কিছু
অবশেষে পাতিল কৌশল।
০

যমের দরবার
ঝাটায় উড়ায় ধুল ভার হৈল পথ চলা
টুটিল জামার বুদ্ধি বল ।
সৃষ্টি সংহারিতে মন
যদি হে কর শমন
ঘরোয়া অনৈক্য ভাল নয়।
মিউনিসিপাল কর হাত এক চেলে হবে মাত,
ভুক্তভােগী বৃদ্ধ জ্বর কয় !
।
-
অধােমুখে বৈসে জরা
উঠিল কলেরা সেরা
ক্ষুদ্র আঁখি কোটরে ঢুকেছে।
দীর্ঘ দেহ যেন তাল কৃমি কীটভরা গাল
গাত্রগন্ধে মাছি ছছটে পিছে ।
রুক্ষ্ম জটা শিবেড়া
পিন্ধনে নেড়া ছেড়া
নিবেদন করে যােড়করে।
‘ষ্টি স্থিতি বিনাশন দেব মহিষ-বাহন
অবগত হউন কিঙ্করে ।
শেষ্টি হ'তে এ পর্যন্ত কত যে করেছ অন্তু
হে অন্তক অন্ত নাহি তার ।
সংসারে সকলি মানে দশে চিনে সবে জানে
কার না শােধেছি আমি ধার ৪
উজাড়িয়া জীবগণ
কতবার কৈ বন
কতবার আবার পত্তন।

যমের দরবার।
ধরা ল’য় ধুলাখেলা
সাধ্য কি যে মুখে বলা
কত কৈনু কে করে গণন।
যবে যেই কার্যভার অপ্লিয়াছ মম’পর
বিমুখ হইনি কোন কালে।
ভূতের কর্তব্যকার--
অরপিত কার্যোদ্ধার
সে কাৰ্য সেধেছি ভুবলে ।
পশার করেছে মাটি ‘হৈমবতী’ চিকিৎসাটি
আমায় করেছে হীনবল।
‘ক্যাম্ফারেতে’ দেশজরা থাকিতেও আমি ময়া
স্থানহীন কোথা পাতি কলা!
বিলাতের ‘হানিমান’ সেই এ হানিল মান
হানি-মান দুঃখ কারে কই।
সােহাগের নাম কাটি
একেবারে সব মাটি
মাটি ফাটে–পাতালে সে ধুই।
ভার আছে ধার নাই ভারের গৌরব ছাই!
ভার যথা-রাজার টাইটেল।
বিদ্যাশ ভট্টাচার্য আমি তথা হীনবী
দেখে শুনে গুড়,ম আক্কেল !!

১৪
যমের দরবার।
।
সর্বাঙ্গে রুধিরধারা করেতে শাণিত হােৱা
গলে রজ্জ্বাবুকে চাপা বাঁশ।
লােল জিহ্বা বহির্গত যায় প্রাণ কণ্ঠাগত
দীর্ঘশ্বাসে বহিছে নিশ্বাস ।
মাথায় বিমের ডাল অন্ধ-আঁখি শুতি-কালা
মােহজালে আবরিত কায়।
আত্মহত্যা দূতরাজ
দাড়ায় সভার মাঝ
কাম ক্রোধ সঙ্গ রিপু ছয়।
বলে-“দেব মৃত্যুপতি নিবেদন সম্প্রতি
পৃথিবীতে দুর্গতি আমার।
যদি কেহ করে মন গলে রজু-~-উদ্বন্ধন
কড়িহীন দড়ি মেলা ভার !!
রাজার হুকুম কড়া
আফিঙ্গের দর চড়া
তাও প্রায় উঠে যায় দেশে।
অস্ত ত রাজার খাস। যদি রাখলবে ‘পাশ’
ঘাস কাটি আমি বেটা কিসে ?
হৃদয় সাহারা ভূমি কৰ্ম্মত্যাগ কৈ আমি
ধৰ্ম্মরাজ ধৰ্ম্মে ধৰ্ম্মে যাই।
যতদিন বেঁচে রব
আর না ওপথে যাব
অধীনতা মাঠের বালাই ।

যমের দরদার।
উঠে বলে 'পেঁচো চোরা আমি হই ছেলেধরা
ধরা ত্রস্ত আমার প্রতাপে।
না মানি রাজার দেই
অঙ্কুরে মুড়ায়ে লই
চোরা নামে চরাচর কাপে।
এবে আমি দর্পহার।
ছেলে-হীন বসুন্ধরা
যা গাছে জ্যেঠার বড় তারা।
আমার প্রভূত্বহীন
হইতেছে দিন দিন
হয়ে আছি জীয়ন্তেতে মরা।
ভারতে আছিল মান টুটিয়াছে সে সম্মান
সভ্য হইয়াছে হিন্দুগণ।
গৰ্ভবতী হলে দারা বিলাতে পাঠায় তারা
ছেলে চাই ‘বৃটিশ-বরণ।
আমি দেব হারি মানি পার হতে কালাপানি
সে দেশে আমারে নাহি মানে।
হারা চেয়ে চুপ ভাল জঞ্জাল মিটিয়া গেল
তাই বসে আছি মানে মানে।
লাজে অধােমুখ আর যত যমচর।
অনিচ্ছায় অগ্রগামী হলাে অতঃপর ।
প্রতিহত পৃথিবীতে ষেবা যেইরূপে ।
নিবেদন করে সবে শমন-সমীপে ।

যমের দরবার
০
শুনি মহাকাল মহাত্রস্থ গণি মনে।
মন্ত্রণা করেন স্ত্রী চিত্র গুপ্ত সনে।
“সংসার সংহার কাৰ্য্য এরূপে না হবে।
ধাতার বাসনা বুধ শীঘ্র না পূরিবে ।
হেন কার্য কর হে সৃষ্টি হয় লয়।
হেন ব্যাধি সৃজ’ যেই সৰ্ব্বত্রে বিজয়।
ডাক্তার হাকিমগণ নিশ্বাসে যাহার।
পলাইয়া যায় বড়ে—থা প্রতিকার।
বিশদ বিলাতি-বিদ্যা বিজ্ঞানাদি করি।
পরাহত হবে যার নামমাত্র স্মরি ।
তিলেকে ত্রিলােক-ভার করিতে হরণ
পারে যেই কর ত্বরা তাহারে স্মরণ ॥”
যম বাণী শুনি ‘গুপ্ত চিন্তি কতক্ষণ ।
ভব-ক্ষয় মহাব্যাধি কৈল উদ্ভাবন।
মানসে কল্পিত মাত্র নাহি সয় ব্যাজ ।
দৈব-শক্তিবলে সৃষ্ট হৈল ব্যাধিরাজ।
'আপনি শমন নাম কৈলা নিরূপণ।
‘প্লেগ’ নামে চরাচর ভুবন কম্পন ।
ধবল বরণ অঙ্গ ধবল নয়ন।
ধবল ভূষণে শ্বেত তনু আচ্ছাদন।
স্বহস্তে কৃতান্ত সাজাইলা ব্যাধিবরে।
সোলার মুকুট আনি পরাইল শিরে ।

যমের দরবার।
কষা-রূপে হাতে দিল। স্বীয় পাশদণ্ড।
পায়ে বুট’ তাহে দিল। প্রতাপ দোর্দণ্ড।
চীৎকার তরে দিল করাল গর্জন।
বজ্রমুষ্টি ‘ঘুসি’রূপে করিলা অর্পণ ॥
আর অর তেজ যত করি সমবায় ।
রােগরাজে অরপি যম মহাশয়।
অনুক্ষণ ধরণীর প্লীহা ফাটা’বারে ।
‘খেয়াল’ নামে নবভাব দিলা রোগবরে।
দম্ভ আর অহঙ্কার দুই সহােদর।
বহুদিন দরবারে ছিল উমেদার।
তাদিগে ডাকিয়া তবে বলিল। শমন।
যাও প্লগ অনুচর হও দুইজন।
দুর্ভিক্ষের পানে চাহি কন ধৰ্ম্মরায়।
বহুদিন দাও নাহি কাৰ্য্য পরিচয়।
প্রেরিতেছি প্লেগ আমি আজি মৰ্ত্তমাঝ !
সহায় হইয়া তার সিদ্ধ কর কাজ।
অগ্নির সনেতে যদি থাকেন পবন।
নিশ্চয় হইবে ধ্বংস গিরি মেরু বন।
ধ্বংস-ধ্বংস-মহাধ্বংস মম প্রয়ােজন।
দুর্ভিক্ষ প্লেগের সনে করহ গমন।
যদি বা প্লেগের কোপে কেই বেঁচে যায় ।
তব আলিঙ্গনে যেন কেহ নাহি রয়।

যমের দরবার।
প্লেগ দিবে মহচাষ তুমি মই দিবে ।
ধরণীর খড় কুটা তৃণ না রাখিবে ।
অমােধ বিক্রমে কর ধরা আক্রমণ।
ধবংস-5ংস-মহাবংস মম প্রয়ােজন।
বলিতে বলিতে স্থির কৃতান্ত আপনি।
মহাকাল মহামুৰ্তি প্ৰকাশ তখনি !
সৃষ্টি স্থিরদৃষ্টি স্থির, স্থির ভূতলোক।
বিশ্ব চরাচর স্থির নাহিক চমক।
অনুচরসহ প্লেগ ভূমি ধৰ্ম্মে-স্থিরে ।
মৰ্ত্ত মথিবার নামে হিরে-ধীরে ধীরে ।
সহসা সনল বৃষ্টি হৈল উল্কাগাভ।
রক্ত ঝরা সিক্তধরা, পড়িল নির্ঘাত ।
ধাতার অনুজ্ঞা জ্ঞাত হইলা শমন ।
ধবংসা-বংশধর ধ্বংস বিধি প্রয়ােজন ।
বন্দি দপ্তধর
সহ সহচর
প্লেগ ছাড়ে প্রেতদেশ।
নামিবার কালে নরক মহলে
প্রবেণি করিল বেশ।
রৌরবের যুদে
ভুবিয়া করিল স্নান।
পরম অফিলাদে

যমের দরবার।
কভু পড়ে উঠে
মড়ার মাথার
খুলির ভিতর
সব করিল পান।
ভগবগ, ফুটে
তপ্ত তৈল কুম্ভীপাকে। •
কৃমি কীট লৈয়া
অঞ্জলি পূরিয়া
ফেলে’ পুনঃ লয় ছেকে।
মনের হরমে
• গিলিল গরাসে
আকণ্ঠ পূরিল তায়।
বসা মজ্জা লৈয়া হাতেতে পিষিয়া
মাখিল আপন গায়!
টুকু ভাল্ক বল করিতে বিফল
বাড়াতে আপন মান।
শঙ্খিনী নারীর কেশ ছিন্ন করি
পুড়ায়ে লইল ঘ্রাণ ।
উপাড়িয়া বলে পুরীষেতে ফেলে
বিড়ালের চোরা-আঁখি
আঁধার ভেদিতে
কজল করিল
লইল নয়নে মাখি ।
ধায় প্লেগ রঙ্গে
সঙ্গীগণ সঙ্গে
বলে—জয় যমজয়

যমের দরবার
ত্রিলােক নাশিতে
চলহ ত্বরিতে
ভূভার করিতে ক্ষয়।”
নামে ধরি ধরি
ধর। লক্ষ্য করি
পথে ভেটে শনৈশ্চরে।
শুভদৃষ্টি তরে
বলে গ্রহবরে
অার কে বাঁচায় কারে।
অগ্রে শনৈশ্চর। দৃষ্টি দিশা খর
বৃষ্টিহীন বসুন্ধরা।
শহীন ক্ষেত্র
অন্নহীন সত্র
মানব জীয়ন্তে মরা
জুগী জোলা তাতি ছাড়ে স্ব স্ব বৃত্তি
ভাত হু’তে ‘মাকু খসে ।
‘চালন’ মন্তরে
উড়ায় অন্তরে
গ্রহপতি মৃদু হেসে।
সাগরে পড়িয়া ধায় পীন ‘মা’
লাগে যেয়ে ‘মাঞ্চেষ্টরে।
হায়াইল ‘খেয়া'
তন্তুবায়চয়
হায় চিরদিন তরে!!
কাড়াইতে ‘না’ পড়ে গেল ‘না’
‘পড়েন পত্তনে ছিড়ে।
‘বিলাতি ঢাকাই মজাদীর মাম
উঠিল ভারত জুড়ে !!

• যমের দরবার।
০
নরের দুর্দশা
কামর কুমার
হইল ফাফর
‘হাপর’ না চলে তার।
তেলি ছাড়ে পেশা
তৈলহীন--অন্ধকার।
যাগ যজ্ঞহীন দিজ বিপ্রগণ
উবৃত্তি করে সার।
দিনরাতি খেটে অন্ন নাহি যােটে
কৃষিকুল হাহাকার।
কি করি কি করি ‘চাকুরী’ ‘চাকুরী
উ পায় ত নাহি অন্য।
যুগ বিপর্যয়
কালে সব হয়
গ্রহপতি তুমি ধন্য ।
নমি গ্ৰহপতি
দীনের দুর্গতি
কতদিনে নষ্ট হবে।
কষ্ট যদি হয়
ছাড়িতে আমায়
একাদশে থাক তবে।
নমস্তে তপন :
ছায়ার নন্দন
শ্রীবৎসলাইন শনি।
রাবণ-রজক
সৃষ্টি বিনাশক
পাবক সমান গণি।

যমের দরবার কল সাশ কালিয় বন্ধুণ বছিরন্তু কালিমাখা।। ডাগর উদর অবনত দেই চলন শ্রীপদে বাঁকা। রুতি আঁখি দু’টি স্বকাৰ্য্য সাধনে দেব, তব বলহীন। কপাট লাগা’য়ে মনের দুয়ারে বসে আছ নিশিদিন শমন-সোদর সংহার তৎপর দুর্ভিক্ষের অগ্রগামী। হােম পূজা যাগে কিসে অনুরাগ বুঝিতে নারিনু আমি । দৃষ্টিমাত্র তব সৃষ্টি উড়ে যায় সাক্ষী দেব গজানন। ইন্দ্রাদি দেবতা তােমারে ডরায় কি ছার সে নরগণ। কত শত শত অলকা ভাশুর নিশ্বাসে করেছ ছাই। কত সোমনাথ লুটিয়াছ দেব ভারতের কিছু নাই । কত রাজগণ হৃত সিংহাসন গলেতে দিছ ফাসি'।

যমের দরবরি।
নম গ্রহপতি
কত রত্ননিধি
শােষ’ নিরবধি
পড়ে শুধু জলরাশি।
যা আছে উড়াও উধাও-উধাও
কর তারে ফাকা-নাকা।
লম্বোদর শনি ‘সব লােট’ তুমি
শ্ৰীচরণযুগ বাঁকা।
গতির অগতি
ছামতি-নাহি চিনি।
নমস্তে তপন
'ছায়ার নন্দন
ঐবৎস-লাঞ্ছন শনি।
গর্দভ খচ্চরে
তব অনুরাগ
আর ভার৫ে : প্রতি ।
পূজা প্রকার
নি না তােমার
আমি দেব মতি ৪
মিনতি আমার চরণে তোমার
ছাড় মােরে মৃ: {ব।
দেহে প্রাণ ব্যয়
তা যায় যায়
মৃতপ্রাণে কিবা বল ।
জয় গ্রহপতি
তির অগতি
কত সতী পতিহারা।
কি ছার সে চিন্তা চিন্তিল ন; তােমা
চিনিল না তব ধান !!

২৪
যমের দরবার।
মকরাধিপতি
গতির গতি
পিসনে সদা ভেদ।
যায় বিষ্ণু বাকু হাে’ ছারখার
ছাড়না আপন জেদ ।
জলধি-তনয়া কিসে শ্রেষ্ঠ হবে
জলতলে বাসস্থান।
উচ্চে অব স্থিতি
তুমি গ্ৰহপতি
স্বর্গ মর্ত্য ব্যবধান !!
প্লেগ রােগ সনে যাও ধরাধামে
উজাড় কই দেশ।
চেয়ে দেখ পিছে দুর্ভিক্ষ আসিছে
শুভ সম্মিলন বেশ !!
ধায় প্লেগ রঙ্গে
সঙ্গীগণ সঙ্গে
বলে—“জয় যমজয়।
ধাও অগ্রভিতে
নাশহ ত্বরিতে
ভূভার করহ ক্ষয় ॥”
নামে প্লেগ রঙ্গে
সহচর সঙ্গে
সাগরে ঢালিল বিষ।
বাড়বাগ্নি যথা
জ্বলিল সাগর
ছড়াইল দশ দিশ।

.যমের দরবার। ২৫ অরন্ধে বাত প্রতিঘাতে বাড়িল বিষের ঢেউ। ভারত-বাসীর বাঁচিবে না বুঝি কেউ। জাহাজ পূরিয়া বিষের ‘পুরিয়া ভারতের প্রতিকুলে। যেই আসে সেই দলে মিশে যায় দাঁড়ায় গো প্রতিকুলে।। "কুল কুল করি ভারত আকুল অকুলে কোথায় কুল। একুল ওকুল কিছুই রবে না যমের না হবে ভুল !! প্লেগ মহামার কৈল আরন্তন দলবলে দড়বড়ে। ঘাের বাত্যা যথা দলে শালবন ভাঙ্গে গাছ মৃভুমড়ে। নিঠুর দুর্ভিক্ষ ছাইল মেদিনী বন্ধ হলাে মুষ্টি ভিক্ষা ধরমের মূল- দীন হীনে দয়া হিন্দুর পবিত্র শিক্ষা ! দত্ত অহঙ্কার করে ছারখার সাধ্য কার রোধ করে। "

২৪
যমের দরবার।
মকরাধিপতি
গতির গতি
পিসনে সদা ভেদ।
যায় বি যা’ হাে’ ছারখার
ছাড়না আপন জেদ।
জলধি-তনয়া কিসে শ্রেষ্ঠ হবে
জলতলে বাসস্থান।
উচ্চে তব স্থিতি
তুমি গ্ৰহপতি
স্বর্গ মর্ত্য ব্যবধান !!
প্লেগ রোগ সনে যাও ধরাধামে
উজাড় করহ দেশ।
চেয়ে দেখ পিছে দুর্ভিক্ষ আসিছে
শুভ সম্মিলন বেশ !!
ধায় প্লেগ রঙ্গে
সঙ্গীগণ সঙ্গে
বলে-“জয় যমজয়।
ধাও অগ্রভিতে
নাশহ ত্বয়িতে
ভূভার করহ ক্ষয়।”
নামে প্লেগ রঙ্গ
সহচর সঙ্গে
সাগরে ঢালিল বিষ।
বাড়বাগ্নি যথা
জলিল সাগর
ছড়াইল দশ দিশ।

যমের দরবার।
•২৫
কুল কুল করি
তরঙ্গে
গ্রহে তরঙ্গে যাত প্রতিঘাতে
বাড়িল বিষের টে।
ভারত-বাসীর
বাঁচিবে না বুঝি কেউ।
জাহাজ পূরিয়া বিষের পুরিয়া
ভারতের প্রতিকুলে।
যেই আসে সেই দলে মিশে যায়
দাঁড়ায় গো প্রতিকুলো!
ভারত আকুল
অকুলে কোথায় কুল।
একুল ওকুল কিছুই রবে না
যমের না হবে ভুল!
প্লেগ মহামার কৈল আরন্তন
দলবলে দড়বড়ে।
বার বাত্যা যথা দলে শালবন
ভাঙ্গে গাছ মডুমড়ে ।
নিঠুর দুর্ভিক্ষ ছাইল মেদিনী
বন্ধ হলো মুষ্টি ভিক্ষা।
ধরমের মূল
দীন হীনে দয়া
হিন্দুর পবিত্র শিক্ষা।
দত্ত অহঙ্কার
করে ছারখার
সাধ্য কার রােধ করে।

যমের দরবার।
সগােষ্ঠি বিনাশ হইবে নিয়ার
সন্ত্রনাশ যা’রে ধরে।
কাদে অভাগিনী
ভারত-জননী
শূন্য হৃদি অঙ্ক চাহি।
উঠে, হাহাকার
গগন ভেদিয়া
রব শুধু-পৱিত্ৰাহি।
শব সম শব
ভারতের প্রজা
পড়ে শেল হুলস্থুল।
কে বাঁচায় কারে কেবা চায় কারে
যমের না হবে ভুল !!
ধায় প্লেগ রঙ্গে কলিঙ্গে তৈলঙ্গে
সাঙ্গপাঙ্গে অঙ্গে বঙ্গে।
সুরঙ্গে মুভঙ্গে
পঙ্গপাল সম
হানা দিল চতুরঙ্গে।
ছাতঙ্কে মানব
গণিল হতাশ
নিশ্বাস প্রমাদ মাখা।
প্রমোদ কানন
ছিল যে ভুবন
প্লেগ-ভরে ফাকা-নাকা +
আকাশের পানে চায় ভীত প্রাণে
ভরসা আকাশবাণী।
আর কেন এবে
ভারতের তরে
দুরাশা-আকাশ-বাণী !!

০
যমের দরবার।
২৭
কে বাঁচায় কারে কেবা চায় কারে
কোথাও না পাবে কুল।
সৃষ্টি বিনাশিতে ধাতার আদেশ
০
যমের না হবে ভুল !!
দম্ভ আর অহঙ্কার
ব’ছেন প্লেগবরে।
‘মশায় থাকুন বােম্বে যুড়ে
আমরা আসি
ঘুরে।
বড়দিনে বড় মজা
কলিকাতা শহরে ।
ক্ষতি কি তায়—যাই না দেখে
আসি কাকের ঘরে।
বিশেষ এবার কগ্রেসের
বৈঠক সেথা হবে।
আমরা দু’ভাই না গেলে ও
অঙ্গহীন হবে।
আঁধার ঘরে গ্যাসের আলো
এমনটী আর নাই।
দন্ত আর অহঙ্কার
যমজ দু’টি, ভাই!

যমের দরবার।
!
মিছামিছি দেশের পয়সা
বিদেশীরা খায়।
আমরা আছি কিসের তরে
প্রাণে একি সয় ।
কথার চোটে কলজে ফাটে
লেকচার দিতে জানি।
‘সেকেও’ দিতে সুর মিশাতে
কোটাতে হারি মানি।
বােৰে হ’তে ডেলিগেট
কে কে যাবে সেখা।
দলে মিশে থাকবো বসে
একদম্-কলকেতা ।
খুজবাে সুযােগ দেখবাে মজ।
কবুব হাসিল কাম।
প্লীহা ফাটা’ ‘ট্রামচাপাতে
বেরিয়ে যাবে নাম ।
রসার মাঠে রেসের বাজী
তাতেও লাভ আছে।
চড় চাপড় আর মুষ্টিযোগ
তা’ত মােদের কাছে।
শীকারছলে ‘কালা’ সাবাড়
সুযোগ বড় ভালাে।
:

যমের দরবার। e ওসব কাজে দায়ীত্ব কম পেরে উঠলেই হলো। পাখাটানা কুলিগুলাের জানের কদর ‘ফিগ। থাকূলেও যা-না থাকলে তা না থাকাটাই ঠিক। ‘মাইট ইজ রাইট’ হাে হাে ‘মাইট ইজ রাইট। মুল মন্ত্র জপে নে ভাই- ত’য়ের হ’-‘অলাইট’! ক্রমে জবর খবর আজব শহর কলিকাতায় পৌছিল। মটার মাথা খেয়েছি কর্তা এবার, জাষ্টা বুঝি গেল । হল্লায় হপ্তায় লাটের তক্তায় বার্তা আছে তারে। প্লেগের এবার আসর গুলজার ছাড়ছে না আর কারে। তাও বাচেনা একুয়া মরুছে সৰে। শতকে একটা

যমের দরবার
সাধের কলিকাতাতে পড়বে জেঁতে
উপায় কিবা হবে ।
এবার, দামপচা রদি রাবি
কিছু নাইকো বাছে।
বড় জবর সওদা কেয়সা ফায়দা
রপ্তানী নিয়েই আছে।
চালান-চালান
মহাচালান
দেখে কাজ কি মাল।
এবার, চুনোপুটি
কেউ রবে না
যমের, জগত-বেড় জাল।
মেষের পালে
বাদ পড়েছে
দেশের হবে কিবা।
দশের ভাবনা
কাজ কি ভেবে
আপনা সালাও বাবা !!
ভাবছ কি ভাই
করাল রাহু
আকাশ জোড়া হা।
এবার, ফাকের ঘরে বেঁচে যাবে
মনেও ভেব না।
যাগ যজ্ঞ
তন্ত্র মন্ত্রে
গ্রহ শান্তি হয়।
মনের বিকার
যা তা কর
‘ভৱী ভুলবার নয় !

• যমের দরবার। সকুল ভাবনা ফেলে রাখ না ভেবে কি হবে যাবার তরে ত’য়ের হ’না যখন যেতেই হবে। মােণর পুকুর • ঘাট বঁাধান দশে নেবে বেটে । বাড়ীর, জরির খােপা মনে হ'লে জ্ঞাপশেষে প্রাণ ফাটে। সাধের, বাগ বাগিচা বালাখানা সঙ্গে গেল না। আমার, বুক ফেটে যায় মনে হলে ও তার আলতাপরা পা । ঝুমুর ঝুমুর ‘মল ক’গাছি সদাই হৃদে বাজে। মিছরি দানা চুড়ী পরা হাতনাড়া ফি কাজে। অমন চালুমুখী পটোল-আঁখি নােলকটী তার নাকে। ফিরে যদি না যাই দেশে কে, দেখবে বল তাকে। বাসি, করা চটক চিবুক উলকি দেওয়া হয় ।

যমের দরবার। f পানভরা গাল মনে হলে প্রাণযে ছিড়ে যায়। পানের ব্যাগে রাঙ্গা ঠোটের মিঠে কড়া বুলি। যাই যদি সে যমের বাড়ী তাকি আমি ভুলি । কাজল পরা চোক দুটীতে কালা ভারা ঘুরে। যেন, কালাে সরে কালো কুমীর খেলছে যােহাগ ভরে। আ মরে যাই চিরুণী-দাতী কি খে চুনী তায়। আমায়, মাত করেছে দাতের তরে তামাক পােড়ার খায়। বারানসী বেলদার বডী সে দিন দি’ছি কিনে। আজু, হয়নি বাসি প’রেছিল পূজোর কটা দিনে। আবার, যাত্রাকালে সােহাগ ভরে বলেছিল “নাথ- বাটী আসবে যখন এনে আমার খেজুরছড়ি নথ !”

যমের দরবার। কোথায় সে নাথ নাকি সুরে কোথায় বা নথ পথে ব’তে হলো। ধনী, প্রাণটা ছেড়ে প্রাণনাথ তোর তাের যমের বাড়ী গেল। কেঁদে কেঁদে কে ভিজাবে মাটি। তাের, মনের দায়ে পিঠে অামার ফোটা ব্যাটার কাটি মনে হলে এ সব কথা প্রাণ কি যেতে চায়। কি কব প্রিয়ে পাষাণ দিয়ে যাচ্ছি বড় দায় !! অন্তিমকালে দেখতে বারেক, পােড় মনের বেগ। নিলে, নাড়ী ছিড়ে দেয় না ছেড়ে নাছোড়বান্দা প্লেগ ! জ্বর ভেব না নিদান সময় ওরে, হবাচন্দ্র গবা। দশের ভাবনা কাজ কি ভেবে অাপনা সালাও বাবা !! পাষাণ হৃদয় শমনরাজের ভিজিয়েছে কে কবে।

৩৪ । যমের দরবার যাবার তরে ত’য়ের হ’ যখত, যেতেই হবে। t ক্রমে জবর খবর আজব শহর কলিকাতায় পেীছিল। বম্বে এবার দছে ভারি প্লেগের ভরে গেল। হপ্তায় হপ্তায় লাটের তক্তায় খবর অসেছে তারে। শতকে একটা তাও বাঁচে না ফেলে বুঝি ফেরে। “ধৰ্ম্মতলায় কৰ্ম্ম চালায় তারা, ধৰ্ম্ম অবতার । আসল কাজে সবগুলিই বেকার ! কাঙ্গাল নরে ফেতে ফেরে পাতাই আছে কল। আদর করে নাম রেখেছে মুন্সি-পেটী পাল ॥” “কি বললে ভাই আবার বল হয়নি এস্তমাল। কেউ না খুজে

যমের দরবার।
নামটি কি ভাই আবার শুনি
‘ইদুর মারা কল’?”
“অ ম’লাে যা
বক্কচ
কি, বছিস্ রাজপথে।
ওরা, শুনে যদি
আমাদের কি
ঘাড় থাকবে মাথে !
আয় চলে যাই
ফাকে দাড়াই
বলব এখন তােরে।”
কবি বলে
ভয় কি বাবা
চলে যাও না জোরে ।
ক্রমে জবর খবর
জব সহর
কলিকাতায় পেীছিল।
সবে,মাথায় আকাশ ভাস্ছে হতাশ
কি হলে কি হলাে !!
ছুটলো ছুটে
মাথায়—খালি ঝুড়ি।
বাবু ভাবেন
সালে এবার
মাথায়—চেরা টেরি।
কেরাণীর দল
ছাড়লে আফিল
মাথায় রেখে কাজ।
নগদা মুটে

যমের দরবার। বড় সাহেব আঁটলেন,চাবি মায়—প’লাে বাজ । ফিলেন বাড়ী মাথায়শালের সরা। বড় লােকের ভাবনা কি ভাই উকিল বাবু মাথায়—গােবর ভরা ॥ বক্তা ভাবেন তক্তায় শুয়ে মাথায় কথা খালি। দেশহিতৈষী বাবু ভাবেন মাথায়-ভদ্রকালী । জমিদারের মুলি ভারি মাথায়লাটের টাকা। এডিটরের ক্রেডিট নষ্ট মাথায়—'কলম' ফাকা । বাড়ীর কর্তা ভাবছেন বসে মাথায় যেন ছাত। মিউনিসিপাল কৰ্ত্তা ভাবেন মাথায়—দিয়ে হাত । টেক্সর ভরে উদর ডাগর পালাবার--যাে নাই। উপায় কিছু মাথা মুণ্ড, ছাই !! পান না খুজে

যমের দরবার।
জুটলো ক্রমে হোমরা চোমুর
কমিশনারগণ।
প্লেগের সনে
লড়তে যাবেন
ডাক্তার ‘সিমৃসন।
হাততালি, আর খ্যাঙ্ক বুলি
উঠলো গণ্ডগােল!
হাটে মাঠে
পথে ঘাটে
পিটিয়ে দিলে ঢোল।
“বােম্বের কথা কেউ তুলনা
বােম্বাই-আম খেতে মানা
বােম্বাই-চাদর আর কিন না
মর’ মরূবে শীতে।
প্লেগ, দিয়ে বসেছে থানা
বোম্বেদেশে কেউ যেওনা
মারা পড়বে ষােল আনা
পথে যেতে যেতে ।
যদি কেউ যায়গো ভুলে
পুলিশ তারে দেবে জেলে
হয় ফাসি কি নয় শূলে
প্রণটি যাবে তার।
৪

যমের দরবার
বােম্বে মানুষ রাখতে মানা ,
এটি যেন থাকে জানা
লে পরে বড় ‘গোণা
পাবে নিস্তার ৪
রাখলে
বলে
কেউ বােম্বের কথা
তার সনে ক’ওনা কথা
বিকিয়ে যাবে ঝুলি কঁাথা
সার হয়ে গাছতলা।
গুড়ুম গুড়ুম ধাই ধাই
মনে রেখ সব ভাই
আমি এখন ঘরে যাই
হলাে খাবার বেলা।
সুসজ্জিত বিডন উদ্যান।
মনােহর তরুরাজী
কুসুম রতনে সাজি’
ব্যাকুলিত পুলকিত করে তােক প্রাণ।
শােভা মুর্তিমতী যেন ত্যজিয়া স্থান।

যমের দরবার।
৩১
আনলে বনদেব বহিছে মৃদুল।
পত পত পত ধ্বনি
উড়ায় পতাকা শ্রেণী
কাপায় কখন মৃদু মধু ফুলকুল।
রসভঙ্গ রসিকের-ভ্রমর ব্যাকুল।
ব্যাকুল রসিকবর বারেক উড়িয়া।
আর না বসিতে পায়
বাদী যে পবন হায়।
স্ত সদা ফুলরাণী স্থির নহে কায়া।
শশব্যস্ত রসরাজ লক্ষ্য না পাইয়া ।
অদূরে কেতকী হাসে দন্ত বিকশিয়া।
আপনার দেহ-রজে,
রঞ্জি দেছে অলি-রাজে
‘খুব হইয়াছে বলি ব্রুকুটি করিয়া ।
কবি হাসে পীরিতের লাঞ্ছনা হেরিয়া।
হাসুক কেতকী ধনী মিলিত অধরে।
ঊড়ক পতঙ্গ ঘুরে
কাপুক কুসুম ধীরে
ও রঙ্গ এখন থাকদেখা যাবে পরে।
যা দেখিতে আসিয়াছি দেখিগে ও ধারে !!

যমের দরবার।
মনােহর চাপ দূর-প্রসারিত।
যেন, আকাশের তলে
দ্বিতীয় আকাশ ঝুলে
তার তলে হররুঙ্গা কুসুম ফুটিত।
‘আকশ-কুসুম নহে—অসার কল্পিত ।
:,
ভাঙ্গা বেড়া হায় এবে ভারত-উদ্যান।
তথাপি যে কটি ফুল
(চোরের হয়েছে ভুল)
রক্ষা করিতেছে গুণে-ভারত সম্মান।
সৌরভ দিগন্ত-ব্যাপী—গৌরবে অজ্ঞান।
আজি সম্মিলিত সবে বিডন উদ্যানে।
ঘুচাইতে ধরাভার
মুছাইতে অশ্রুধার
অভাগিনী ভারতের, মগ্ন সবে ধ্যানে।
চক্ষু মুদি নহে কিন্তু—চসমা নয়নে।
f;
.
চব চুষা লেহ পেয় খাদ্য ভারে ভার।
কাঙ্গালীরা নাহি পাবে
বাঙ্গালী-বীরেরা খাবে
আর খাবে ডেলিগেট-ভারতের ফার।
উপবাসে পুজা নয়--ষোড়শােপচার !!

যমের দরবার।
৪১
হােতা গুরু পুরােহিত ব্ৰতী শ্রুতিধর।
এপিট ওপিট করি
সব সম যারে হেরি
যােগ্য কেবা এ যজ্ঞেতে চিনে লওয়া ভার।
হাবড় সব ভাই-হায়রে ‘গুজার’!
কোথা মন্ত্র উচ্চারণ—কোথা বা অঞ্জলি।
জলাঞ্জলি দিয়া কুলে
কি কাজ অঞ্জলি ফুলে
এ পূজা-পদ্ধতি এই-এ যে কাল কলি।
ঘৃণা লজ্জা জাতি মান এ যজ্ঞের বলি ।
মুচি শুচী ভেদ নাই চণ্ডাল ব্রাহ্মণ।
মাতৃ নামে অশ্রুধার
গলাবাজী আছে যার
এস ত্বরা কর এসে আসন গ্রহণ।
উড়িয়া আসামী নাগা পারসী যবন।
কাবুল ফিরিঙ্গি মগ চায়না তার।
একাসনে বসে খাবে
কুচির বিকার যাবে
প্রেমথ রাভ হবে সংসারের সার।
প্রেম লাভে পরমার্থ ভারত উদ্ধার ও

৪২
যমের দরবার।
দেশেতে দুর্ভিক্ষ এবে মহার্ঘ তণ্ডুল।
কাজ নাই আলো-চেলে’
‘চাপকলা কালাে-তিলে’
নৈবেদ্যের খুটিনাটি-পূরাতন ‘রুল।
| যেতে দাও, ও সকল বিধাতার ভুল।
.
সভ্য হও, এবে ছাড় পুরাতন প্রথা।
নূতনে মজাও মন
পাইবে রতন ধন
কাজ শিখে কাজ কিবা শিখ’ শুধু-কথা !
ব্যাখ্যা কর’ হের ওই বাঙ্গালীর মাথা।
কত গুণবন্ত হায় বাঙ্গালী এখন।
বাঙ্গালী বক্তৃঙ্গ করে
বিলাতেও যেতে পারে
খেতে পারে একাসনে-ইংরাজ যেমন ।
কেন না করিবে হায় কংগ্রেস এমন।
বেঁচে থাক’ কিছুদিন—বেশীদিন নয়।
দেখিবে দু’দিন পরে
সব জাতি গেছে হেরে’
বাবুদের বাহাদুরী ঘােষে ধরাময়।"
সমস্ত জগত গাবেবাবুদের জয়!!

যমের দরবার। কাজ নাই বেঁচে থেকে এ ভাঙ্গা আসরে। আগে হ’তে গেয়ে যাই ‘জয় জয় বাবু ভাই- খেওয়াল ছওয়ালে মত্ত আর অহঙ্কারে। জয় জয় বাবু ভাই কনৃগ্রেস করে।” অপরূপ মাতৃপূজা নেহার’ নয়নে। অন্নাভাবে দেশ জুরে পুত্র মরেপিতা হেরে মাতার মুখের গ্রাস খাইছে সন্তানে। চমৎকার মাতৃপূজা-মাতৃশ্রাদ্ধ দিনে ! আতঙ্কে সাহেব বলে মেম-পদতলে। “প্রাণেশ্বরী ক্ষেমঙ্করী চল যাই চলে। আর এ ভারতে থাকা যুক্তি না যুয়ায়। দেশে ফিরি ভিক্ষা করি খাওয়াব তােমায়। আমার ‘সুইট-মেরি’ চল মাের সনে। একা ফেলি তােমা—একা যাই বা কেমনে । চেহারা দোহারা ঢং শাল-তাল সম। মুখে আইস-গন্ধ কিবা নিরুপম।

৪৪
যমের দরবার।
।
চব্বিশ ঘণ্টাই চলে ‘চেরি খোসবয়।
দিলে মুখে মুখ দেওয়া হয় দায়।
দেহ-হ রম্য সদা পাউডার' লেপনে।
স্বার্থক আমার অর্থ—স্বার্থক অর্জনে ।
এমন বিড়াল-আঁখি কোথা পাব হায়!
কি কটা রূপের ছটা মন মুগ্ধ যায় !
কলহংস জিনি ধনীর প্যাক্ প্যাক্ ধ্বনি।
দিবারাতি দ্বন্দ্ববতী হাতে সম্মার্জনী।
হেন মণি ফেলে যেতে ভারত-প্রান্তরে।
যুক্তি নয়, চুক্তি আছে, পড়ি পাছে ফেরে।
অহর্নিশি অন্তরাত্মা শুখায় হতাশে।
কি জানি কখন যমদূতে ধরে এসে।
প্রাণ যদি থাকে পুনঃ জুটিবে সম্বল।
হীন প্রাণে বেঁচে থাকা কি ফল—কি ফল !!
পাশের বাটীতে শুন বাজিতেছে ‘নেল।
ভেঙ্গেছে কপাল কার ‘গুড়ুম আক্কেল'।
‘মাই ডিয়ার’ ‘ডিলে’ আৰু উচিত না হয়।
‘মেহেষ্ট’ ‘মেকৃ-হে ‘প্লিজ’ ‘টাই’ যে যায় ।
আছে যত ‘হাউসে সামগ্রী সম্ভার।
কর প্রিয়ে কর ত্বরা বন্দেজ তাহার।
পঞ্চপদ রম্যােট সন্তাপহারিণী ।
কাকোচ মধুরনাদে মৃদু-নিনাদিনী।

যমের দরবার।
৪৫.
দাওবৃদ্ধ দ্বারবানে—আছে বহুদিন।
সুখে শুয়ে তবু নাম করিবে দু'দিন।
‘কারলিং-পুসী দু’টী যতনের ধন।
মেথর-বাবুকে দাও করি বিতরণ
ঘেউ ঘেউ মেউ ঘেউ
সুমধুর স্বর ।
শুনিতে না পাব হায় এ জনমে আর!
কাচের বাসনগুলি চীনের পুতুল।
দেখ যেন একটীও নাহিহয় ভুল ।
বেতের বাসকেট আর চামড়ায় ব্যাগ।
টিপয় টপট আর টীন-বাটি মগ।
খুটি নাটি আর দ্রব্য আছে যত হলে।
প্রের’ প্রিয়ে প্রাণাধিকে ‘মেকেঞ্জিলায়ালে।
এডভান্স অফকোস তারা কিছু দেবে।
জাহাজের ভাড়া তবু তাতে সে হবে।
ওই শুন পূনঃ বাজে ও বাড়ীতে ‘নেল।
উঠ প্রিয়ে কর ত্বর হব ট্রেন ফেল ।
বলিতে বলিতে পতি ব্যস্ত অতিশয় ।
আট এটে কোট সেটে ছড়ি হাতে লয় ।
বেতের কেঁচেতে ধনী বনাচ্ছাদনে।
চায়ের তােয়াজে মগ্ন ঔষিক শয়নে।
শুনিয়া পতির বাণি হারায় ‘টেম্পার।
বলে, ঘৃতাহুত যেন জ্বলন্ত অঙ্গার।

৪৬
যমের দরবার
“ড্যা দি ডেভিল দাউ ল্যাম্ব লাইক'কাউয়ার্ড।
‘এওয়ার নিগার ফুল’ টু-হাস-হার্ড।
জান না কি সুখে আছি ভারত ভিতরে।
অভাব কাহাকে বলে জানি না অন্তরে।
বিলাসিতা জন্মভূমি সত্য সে লণ্ডন।
লীলাস্থান কিন্তু তার ভারত-প্রাঙ্গন।
জগতের প্রতিস্থান কর অন্বেষণ।
বৃটিশের অর্থভার কে করে বহন ?
কেহ নয়—কেহ নয়-কেহ নয় র্জার।
সহিতে ভারত শক্ত বৃটন আব্দার।
যেই দিন যােষে তুলে ফেলিয়াছি পা।
অভাব যে কি জিনিস ভুলে গেছি তা।
কে পুছিত বল তােমা ইংলণ্ডে থাকিলে।
হেথা এলে মােটা হলে সার্ভিস জোটালে।
লণ্ডনেতে কি লাঞ্ছনা দেখ চাদ স্মরি।
পুরিতে উদর পােড়া কত কাণ্ড করি ।
শুষ্কমুখে সারাদিন পিটিতে হামার।
তাতেও দু'বেলা ভাত মেলা হতাে ভার।
যত যেই দাতা তথা আছে সব জানা।
সাধে কি ভারত ছেড়ে যেতে করি মানা।
দ্বারে দ্বারে খৈটে হাড় করিয়াছি কালি ।
হােটেলের-মেড’ নাম ঘুচায়েছে কালি ।

যমের দরবার।
৪৭
কোথা ছিলে তুমি নাথ কোথা ছিনু আমি।
ভারতে আসিবে তাই—তুমি মম স্বামী।
কেমন মাণিক জোড় কত হায় ফে।
লভেছি সুনাম ‘বড় সাহেবের মে।
পায়ে ধরা ভুলে গেছি—এবে মম পায়।
কেরাণীর দল কত গড়াগড়ি খায় !!
আমি তুষ্ট হলে তারা চাদ হাতে পাবে।
চাকরী জুটিবে হায় নাক-ফোড়া রবে।
‘হুজুর’ ‘সেলাম’ বাণি ধ্বনি অনুক্ষণ।
এ বিভব ফেলে গেলে পাবে কি এমন ?
যুনানি-রমণী ধরে উন্নত-হৃদয়।
ভাবরাশি পুঞ্জীকৃত এমৃবিশন’ময় ।
‘কিমি-কুইক’ চেরি, ফ্রেণ্ডসিপ ফ্রেস্।
কে দিবে ভারত ছেড়ে গেলে অন্য দেশ ।
তুমি যাও–যাও একা, আমি-ত যাব না।
জীবনে সাগর পার আরত হব না !!
ভারত-সিদ্ধির-ঝুলি যা চাই তা দেয়।
ভারত--মায়ের মত, না খেয়ে খাওয়ায়।
ভারত-অচল বজ্র-বাটুলের প্রায়।
ভারত-সহস্র ঘায়ে চর্ণ নাহি হয়।
ভারত-বৃটন কাছে রেহিনী-খাতক।
ভারত-সোধিতে ঋণ নহে পলাতক।

৪৮
যমের দরবার।
ভারত-গােলডেন-গুজ’ নানারত্ন ধরে।
ভারত–ডিক্রীর প্রজা মরে, তবু ধারে ।
ভারত-ওপেন্ড-ষ্টোর’ ইংরাজের দায়।
ভারত-সে বৃষকেতু মরিয়া খাওয়ায়।
এমন ‘ভারত ছাড়া ভারত ভারত ।
নিমকহারাম তুমি ছড়িবে ভারত ?
যাও তুমি যাও একা--আমি যাব না।
জনমে সাগর পার হব না—হব না ।
দেশে যাও ভষ্ম খাও-পােড়ামুখো পিগ, !
‘লভার’ পাইব ঢের-ধিক্ তােমা ধিক্ ।
ডাইভােস অব কোস”, বলিয়া ত্বরিত ।
কোচ ছেড়ে উঠে বিবি জলন্ত-তড়িত।
দেখে শুনে মিষ্টারের আকাট গৌরাঙ্গ।
দর দর চোখে ধারা টেস-তরঙ্গ ।
ধরে সভ্যতা ধন্য-স্বাধীনতা-সার।
ধন্য ঘরকন্না বাছা ইংরাজ তােমার !
এক সুখে অন্যে সুখী প্রেমের নিয়ম।
তোমার এ ‘লভ বুঝি ?--তাই এ বিষম !
এই যদি লভ' তব-লাভ এতে কি!
‘চিনির বলদ তুমি—ছিঃ তােমা ছিঃ !!
ভাবিলে কি হবে কর কর্তব্য যা হয় ?
কৰ্ম্মপ্রিয় চিরকাল জানিয়ে তােমায়।
* * *

• যমের দরবার।
•৪৯
প্রাণ? প্রেম সম্মুখেতে প্রিয় দ্রব্য দু'টি।
একদিক রক্ষা কর-মনে ধরে যেটি
প্রাণ চাও সরে পড় বিলম্ব সবে না।
একা যেতে হবে দেব-দেৰীত যাবে না।
প্রেমধন চাও যদি সংসারের স্বার।
পতৃঙ্গের মত ধাওহও অগ্রসর !
।
ভয়ানক সাের গােল চায়না বাজারে।
সপ, ছাড়ি চীনে সব কাদিছে দুয়ারে।
কিচিং মিচিং চিং হচিউ কং।
কাচু ফান্চু চুচু চানাচুর হং।
ইত্যাদি ভাষিছে ভয়ে করিয়া সুস্বর।
শুনহ পাঠক কিছু অনুবাদ ভার।
‘আচিনের বুট পায় কেহ নাহি দিবে।
মােলাম পেনেলা আর কেহ না পরিবে।
আমাদের ‘হাই’ বড় খাই নাহি মিটে।
করেছে মিটিং সব বাঙ্গালীরা জুটে।
তারা, চট্টো পরে ভট্ট হবে কাজ কি হান্টিং পরি।
নইলে নয় ত চট্টোপাধ্যায় খুলেছে ‘ফ্যাক্টরি।
ফেরিওয়ালার চানাচুর ভেরি গ্লাডে খাবে।
জুতাে কেন থাকু, চিনেবাজারে না যাবে।

যমের দরবার।
আরশােলা ব্যাঙ নেংটি ইদুর আমাদের ভক্ষণ।
আর শুনেছি ‘ডিসিন’ দাদা তাও নাকি বারণ ।
চায়না থেকে বােম্বে পাের্ট এসেছে জাহাজ।
তাতে একটি বহুকেলে ছিলেন ইদুবরাজ।
‘
ইরাজের এ জাহাজে অনেক দিনে বাস।
বেয়ারিং পােষ্টে যাতায়াত হচ্ছে বারমাস। ..
ভাড়া ভুততা হয় না দিতে ‘ফ্রি’ভে আনাগােনা।
মনের সাথে নিজুেন দেখে ময়াক্কা মদিনা।
বয়স দোষে বৃদ্ধাবস্থা চলচ্ছক্তিহীন।
বেঁচে আছেন কোন গতিকে মুষিক প্রবীণ !
কোকালেতে চায়নায় নাকি প্লেগ হয়েছিল।
সে কালেতে মুযামশায় শৈশব আছিল।
প্লেগের কারণ নির্ধারিতে পড়ে গেল ধুম।
কুত্তার দলে মুষিকবরে ঝরিলে জুলুম।
রীতিমত বসে তুলে জবানবন্দী হলাে।
হংকং প্লেগে ইরাজ সে দেশেতে ছিল।
সেই সে প্লেগের বীজ মূষার দেহেতে।
এখন, কাল পেয়ে কালকূট তুলে মুষিক ভারতে।
তাইতে, এই প্লেগের প্রকোপ আর কিছুতে নয়।
ডাক্তার হেকিম কবিরাজে করলে ‘সাটিফয়।
ভদ্দণ্ডেই ইন্দুর ভায়। গেলেন ‘গিলিটন।
চীনে ম্যানের বন্ধ হলাে ইদ্র ভক্ষণ ।

যমের দরবার।
আরশােল সব বিষে জরা খাওয়া হবে না।
ব্যাঙ বেঙাচী নেষ্টি জিনিস খেতে দেবে না।
যা আমরা খেতে চাব রাজার বারণ তাই।
‘কচকচিতে কাজ কি মাের দেশে চলে যাই।
খাবার জিনিস নাই বাংলাতে ছিল কিঞ্চিৎ টাকা
ব্যাভার দোষে ব্যবস। মাটি-সাধে কি কথা বাঁকা ?
শুনাে গাছে কাজ কি ব’সে কালি চলে যাব।
যা করেছি দেশে নিয়ে ভিক্ষে মেগে খাব ।
কবি বলে এমন সুদিন—সে দিন হবে কবে।
তোমরা, দশজনে গা তুল্লেই আবার
সােণার বাংলা হবে ।
বিষম সংহার, মুর্তি ধর প্লেগবর।
প্রকাশ’ প্রকাশ’ নিজ বিক্রম অপার।
হয় হােক্ হাহাকার
যা রাজ্য ছারখার
না থাৰু প্ৰশংসাবাদ বিক্রমে তােমার।
স্বকাৰ্য্য সাধন শীঘ্র কর প্লেগবর ।
কান্দুক জননী মৃতপুত্র করি কোলে।
ভাসুক পভির শোকে সতী আঁখিজলে

৫২.
যমের দরবার।
বন্ধ কর শ্রুতি দু’টি
ঘুচাও আঁখির দিঠি
মনের কপাটে খিল দাও যমচর।
বিষম সংহার মুর্তি ধর প্লেগবর ।
উঠুক না গণ্ডগােল ভারতে প্রলয়।
করুক সহস্র চেষ্টা তাড়াতে তোমায় ॥
দৈববলে বলীয়ান
কে হইবে আগুয়ান
পরাজিত হবে সবে বিক্রমে তোমার।
ভীষণ সংহার মুর্তি ধর প্লেগবর !!
দুরক্ষর যমবাণী করহ স্মরণ।
অবগত হইয়াছ ধাতার মনন।
অধােমুখে যুগত্ৰয়
স্বচক্ষে দেখেছ হায় !
বিপৰ্যয় হবে সৃষ্টি জেন ইহা সার।
ভীষণ সংহার মুর্তি ধর প্লেগবর !!
চারি-ভীতে ভারতের কর আক্রমণ।
দেখ কোথা ফাক আছে কর অন্বেষণ ।
সীমান্তে, নদীর পথে
তুঙ্গ শৈল শিখরেতে

যমের বার।
৫৩
উপকুলে প্রতিকুলে কে আছে কোথায়।
সাদরে আঘানি হারে করতে সহায় ॥
টারকী পাঠান যথা মােগল দুর্জয়।
লণ্ডভণ্ড করি কৈল ভারত বিজয়।
মন্দির ভাণ্ডার খনি
• রজত প্রবল মণি
লুটে নিল, না রাখিল একটি রতন।
দেখ কোখা স্থাছে ফাক কর অন্বেষণ ও
যুক্তবর্ণ ইতিহাস শমন-সদনে
ভারতের পুরাবৃত্ত -দেখেছ নয়নে।
বহুদিন গত হলো
সে শােণিত না মুছিল
রক্ত সিক্ত প্রতি পত্র রয়েছে তেমন।
এ ভারতে মহামারী নহে ত নূতন ।
কত ভীষ্ম গত, কত মহাগুরু দ্রোণ।
কত শত কর্ণ শেষ কত দুর্যোধন
অভিমন্যু শঙ্খ গত
অসংখ্য, সে কব কত
যুধিষ্ঠির ভীমার্জুন কতই পতন।
এ ভারত মহামারী নহে ত নূতন !!

যমের দরবার।
উত্থান পতন জল-বুদুদের প্রায়।
সংসার-অর্ণব নিত্য মহা-খেলাময়।
ভারতের ভাগ্যে বিধি
লিখেছেন অন্য বিধি
উখানের নাম নাই সতত পতন।
কুরুক্ষেত্র মহাচিত্র করহ স্মরণ।
কি কুক্ষণে মহামানী মহান্ গৌরবে।
মহাপুণে বদ্ধ হলে জিনিবে পাণ্ডবে ।
পূর্ণ না হইল পণ
হত আশা হুত মান
আত্মীয় বান্ধব হত-ধরিত্রী-ভূষণ।
কুরুক্ষেত্ৰ-মহাক্ষতি না হুলাে পূরণ !
হ’লাে না পুরণ আর হবে না পূরণ।
রে বাতুল ! মনে স্থান দিও না এমন।
অতল সিন্ধুর জলে
যে রতন চুত-হেলে
উদ্ধারিবে সে রতন! বৃথা আকিঞ্চন।
কুরুক্ষেত্ৰ-মহাক্ষতি না হবে পূরণ
ভূভার হরণ ছল-ছল বিধাতার!
অবশিষ্ট যদুবংশে যাহা ছিল সার :

যমের দরবার।
৫ ৫
ঋষির শাপান্তছলে
আত্ম আত্ম কোলাহলে
প্রভাসের কুলে লীলা কৈল সংবরুণ।
এ ভারতে মহামারী নহে ত নূতন।
শাণিত কুঠারধারী করে জয়পাশ।
ভৃগুরাম রাম রাম-ক্ষত্রিয়ের ব্রাস।
পিতৃবাক্য রক্ষিবারে
নহে দুই একবারে
একাধিক বিংশ বার ক্ষত্রিয় নিন।
এ ভারতে মহামারী নহে নূতন।
যে ভারতে পিতামাতা নিৰ্ম্মম হৃদয়।
‘যুদ্ধে যাও’ বলি দেয় সন্তানে বিদায়।
দয়াহীন কি রাক্ষসী
করেতে প্ৰদানি অসি
করে সতী যুদ্ধে গতি পতির বরণ
সে ভারতে মহামারী নহে নূতন।
যুদ্ধে মরি স্বর্গলাভ-বেদবাণী যার।
পর উপকার হয় পরমার্থ সার।
দয়া-ধরমের মুল
যে দেশেতে জানে স্কুল

যমের দরবার।
দুস্কৃতি দলন সদা শাস্ত্রের বচন।
সে দেশেতে
মহামারী নহে নূতন।
শ্রেষ্ঠ গুরু অভ্যাগত অতিথি রতন
যে দেশের নীতিবাণী ব্যক্ত ত্রিভুবন।
খেয়ে খাওয়াবে পরে
ভূক্ত ধৃত ঋণ করে
দীন হীনে বিধি যথা সদা বিতরণ।
সে দেশেতে মহামারী নহেত নূন।
প্রতিজ্ঞা-লঙ্ঘনে হয় নিয়ে গমন।
যে দেশের উপদেষ্টা ভাষে অনুক্ষণ।
রক্ষিতে আপন কথা
কাটে পিতা পুত্ৰমাথা
কুলক্ষয় হোক—হোক প্রতিজ্ঞা পালন।
সে দেশেতে মহামারী নহেত নূতন ॥
.
কি ক্ষতি করিছ প্লেগ ভারতে আসিয়া।
ভাবি যবে, গলে যায় এ পাষাণ হিয়া।
পাণিপথ থানেশ্বরে
মনে হলে অশ্রু ঝরে
স্মরণে আপাদমুণ্ড কণ্টকিত হয়।
সে ক্ষতির তুলনায় কিছুই নয় ।

যমের দরবার।
• ৫৭
দুরন্তু হলদীঘাট অরাবলীপাশ।
করিয়াছে ভারতের যেই সর্বনাশ।
সৌরকেতু গর্বভরে
উড়িত জাকাশ যুড়ে
রােধিত খেচরপথ সুদূর গগণে।
‘বীর ভােগ্যা বসুন্ধরা” লিখিত যতনে।
হিন্দুর প্রতাপ হত প্রতাপের সনে।
অসংখ্য ক্ষক্রিয়গ্রাম হত যেই রণে।
ধাইত কৃপাণকরে
ত্রাসিত, মেদিনী ভরে
অবীরা হইল ধরা হলদীঘাটে হায়।
সে ক্ষতির তুলনায় কিছুই নয় !!
কুলবধূরূপে মুগ্ধ মুখ আলাদিন।
আক্রমিল দলবলে চিতোর যে দিন।
রাজা, যে প্রজার পিতা
কুল মান ভয় ত্রাতা
ভুলিল ভুলিল সেই পাষণ্ড যবন।
মােহে মৃত্ব করিল সে চিতােরাক্রমণ।
সতীর পবিত্র আত্মা কে স্পর্শিতে পারে।
চিতানলে তনু রাখি গেল স্বর্গপুরে।

যমের দরবার
নারীহত্যা বীরনাশ
ব্ৰহ্মহত্যা ৰ্ব্বনাশ
অপােগণ্ড শিশুহত্যা হলাে অগণন।
এ ভারতে মহামারী নহে নূতন।
নহে বহুদিন গত---চক্ষের উপরে।
দিল্লীশ্বর আকবর আক্রমি চিতােরে।
জয়মল্লে জম্মু করি
জয়মাল্য শিবে পরি’
অসংখ্য ক্ষত্রিয় হত্যা ব্যাপিল ভূবন।
এ ভারতে মহামারী নহেত নূতন।
.
যে দেশের রাজা লুব্ধ শাৰ্দলের প্রায়।
প্রজার শােণিত পানে মুহুর্মুহু চায়।
ভূলে যায় রাজনীতি
রাজ্যরক্ষা প্রজাপ্রীতি
পালনের নাম নাই—কেবল শাসন।
সে দেশেতে মহামারী নিত্য সংঘটন !! ,
কি ক্ষতি করিছ প্লেগ ভারতে আসিয়া!
ভাবি যবে গলে যায় পাষাণ এ হিয়া।
দিয়া কত রত্ননিধি
স্বহস্তে গড়িল বিধি

যমের দরবার।
৫৯,
ভাত মন্দির সৌধ-উজ্জল বিমল।
কালে কালে কালগ্রাসে পতিত সকল ।
ধ্বংস অবশেষ মাত্র যা কিছু অছিল।
কালরূপ ঘুর্ণ-বাত্যা ও উজাড়িল ।
মধু দীনবন্ধু গত
সােণার বঙ্কিম হত
ভূদেব ঈশ্বরহীন রাজকৃষ্ণ কই।
হায় এই ভারড়ের কিছুই নাই ।
সুখ-স্বপ্নশেষ, হায় কাল-পারাবারে।
ডুবিয়াছে একে একে জতীত আঁধারে ।
শুন্যহৃদি অমুখে
কি ফল চাহিয়া দেখে,
ফিরাও নয়ন ভাই হের’ ভবিষ্যত।
মহাকাল মহানৃত্য-শেষ আছে কত।
কি দেখিলা অরক্ষিস ঈরাণবরােধে।
প্রাণহীন ধরাধাম---ভাষিলে বিষাদে।
আজি ভারতের প্রতি
চাও যদি গ্রীসপতি
দেখিবে সকল পুড়ে হয়ে গেছে ছাই।
বলিবে খ্রিষদে খেদে-কিছুই ত নাই।

যমের দরবার
.
কিছুই ত নাই প্লেগ তবে কেন আর।
প্রকাশ’ বিমনিজ, কর মহামার।
যে কাৰ্যেতে ধরা আসা
পূর্ণ কর সে পিপাসা
সব গত—তুমি আমি থেকে কি ফল ।
এস প্লেগ এস রা—ঘুচুক জঞ্জাল!
সমাপ্ত

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Jomer Darbar

Author
Mandal,adharachandra
Title
Jomer Darbar
File name
Jomer Darbar
Text
OCR done
Citation
1896
Published
2009/11/25
Publisher
Haridas Deb,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
76
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Mandal,Adharachandra
DLI number
512749
Barcode
4990010019793.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
F6kEncmz45s
Download PDF

Jomer Darbar