Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Jigyasa-sangeet

Biswas ,umeshchandra · 2009/12/13

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

জিজ্ঞাসা-সঙ্গী সুলভঃ পুরুষরাজ সততং প্রিয়ভাষিণঃ। অপ্রিয়স্য পথ্য বক্তা শ্রোতা দুর্লভঃ॥” “যুক্তিযুক্তমুপাদেয়ং বচনং বালকাদপি। অতৃণমিব ত্যাজ্যমপুক্তং পদ্মজন্মker= মুর্শিদাবাদের অন্তর্গত বদলের প্রধান শিক্ষক উমেশচন্দ্র বিশ্বাস- এ । কলিকাতা, ১৯৫১ কর্ণওয়াল স্ট্রীটস্থ দেকীনন্দন প্রেসে প্রযুক্ত গণেশচন্দ্র ভট্টাচাৰ্যদ্বারা মুদ্রিত। মূল। • চারি।

No text on this page.

#
উৎসর্গ।
প্রিয় প্রাণকুমার ভায়া,
অপুত্রক মাতামহের ধনে দৌহিত্রই উত্তরাধিকারী।
আমি চিরদরিদ্র, আমার এমন কিছু ধনসম্পত্তি নাই,
উত্তরকালে তুমি যাহার উত্তরাধিকারী হইতে পার। তাই
মনের ক্ষোভ নিবারণ করিবার জন্য আমার বহুপরিশ্রমের
সঞ্চিতধন এই “জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত” তােমারই নামে উৎসর্গ
করিলাম।
তোমার মাতামহ।
টও
!

No text on this page.

নিবেন।
আমি চল্লিশ বৎসর যাবৎ শিক্ষকতাকার্যে ব্যাপৃত
আছি। অবকাশ সময়টী নানাবিধ গ্রন্থাদি পাঠ করিয়া
যাপন করিয়া থাকি। আমার বিদ্যাবুদ্ধির যতদূর সামর্থ্য,
তদনুসারে সন্দিগ্ধ স্থলগুলি বুঝিতে চেষ্টা এবং সুযােগমতে
কোন বিজ্ঞজনের নিকট জিজ্ঞাসা করি ।
• এই অবস্থায় গ্রন্থাবলীপাঠে আমার মনে যে সকল
প্রশ্ন উদিত
তাহাই,
চিরাভ্যন্ত কিঞ্চিৎ
সঙ্গীতালােচনার ফলে স্বাধীন চিন্তাপ্রসূত সঙ্গীতাকারে
রচনা এবং তাহার প্রমাণস্বরূপ কতিপয় টীকা লিপিবদ্ধ
করিয়াছি। অতঃপর সঙ্গীত
অতঃপর সঙ্গীত ও টীকাগুলি কতিপয় শিক্ষিত
ব্যক্তিকে দেখাইয়া তাহাদিগের আদেশ ও আগ্রহে এই
ক্ষুদ্র পুস্তকখানীকে “জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত” নাম দিয়া প্রকাশ
করিলাম।
হইয়াছে,

সঙ্গীতগুলির মধ্যে যাহা প্রতিপাদন করিয়াছি, টীকা
গুলিই তাহার প্রাণস্বরূপ। এজন্য পাঠকগণ সমীপে
প্রার্থনা যে, তাঁহারা টাকার প্রতি বিশেষ মনােযােগ
করেন। প্রত্যেক সঙ্গীতে ও টীকাতে (১) (২) { ৩)
ইত্যাদিরূপে অঙ্ক দেওয়া হইয়াছে সঙ্গীতের অঙ্কানু-
সারে তৎসদৃশ টাকার অঙ্ক দেখিয়া মিলাইয়া লইতে
হইবে।
এক্ষণে নিরপেক্ষ সুধীজনের নিকট নিবেদন এই
যে, তাঁহারা অপক্ষপাতহৃদয়ে পুস্তকখানির সমালােচনা
করিলে আমি পূর্ণমনােরথ হইব কিমধিকেনেতি।
ভাবদা। মুর্শিদাবাদ।
১৩১৯
৩০শে ভাদ্র।
বিনীত
শ্ৰউমেশচন্দ্র বিশ্বাস।
s

সংশােধন। বিশেষ কারণে এই পুস্তকে কয়টী বর্ণাশুদ্ধি হইয়া গিয়াছে। পাঠকগণ, সেই অশুদ্ধি কয়টী অগ্রে কাটিয়া লইবেন। পৃষ্ঠা পক্তি রপে রূপেত ৫ বৃহস্পতি ১৭ বৃহস্পতি যাহার মর্ভি মড়ি ১২ ভরদ্বাজ ২৪ ৫ উদরে ২৫ উপর ২৭ ১৯ २१ বৃষ্টি কুশমুল বুকৃষ্ট বৃদ্ধি কুশমুল রুৎকৃষ্ট ৪৩ | ০ ৪৬

No text on this page.

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
প্রথম সঙ্গীত।
ইমতিওট।
একি অসম্ভব কথা বেদ-পুরাণেতে শুনি।
ভাবি সদাই, তাই গাে সুধাই বল বল গাে মুনি।।
জননীজঠরে থেকে কথা কও, (১)
দশ হাজার বর্ষ তপে রও, (২)
বিরােধী ইন্দ্রসনে, সৃজিলে তারাগণে, (৩)
হ’লাে জন্মক্ষেত্র দ্রোণি (৪) হরিণী। (৫)

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
গণ্ড
যে সাগর-পান করিলে, (৬)
জগৎপতির বক্ষে পদ হানিলে, (৭)
ত্যজিয়ে গােলােকধাম, কাদিয়ে অবিরাম,
কমলা হলেন সাগরবাসিনী। (৮)
কু-আশায় কুয়াসা সৃষ্টি করিলে, (৯)
বিন্ধ্যাচলের দর্প হরিলে, (১০)
মৃত অসুর-দলে,
বাঁচালে মন্ত্রবলে, (১১)
মানবী হ’লাে শাপে পাষাণী। (১২)
ব্ৰহ্মশাপের ভয়ে হইয়ে ভীত,
স্বর্গে দেবকুল সদা কাঁপিত,
শাপ দিলে দ্বিজরাজে,(১৩) মৃত্যুপতি ধৰ্ম্মরাজে (১৪)
তাঁরা এলেন জন্ম নিতে এই অবনী।
তােমরা যদি এত শক্তি ধরিলে,
জঠর-জ্বালায় এ কি করিলে ?
খাইলে শ্বান-অন্ত্রে
প্রকাশ করিলে তাহা আপনি। (১৫)
রচিয়ে বেদমন্ত্রে,
* খান-অন্ত্র—কুকুরের নাড়ী।
( ২ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
দশরথের বাণে পুত্র মরিলে,
কেন জীবনদান নাহি করিলে ? (১৬)
পিতৃকেশ উর্বর ভূমি, দেবরাজস্থানে তুমি
চাহিলে কেন ব্ৰহ্মবাদিনী? (১৭)
এ আবার কি কথা ওগাে ! শুনাইলে,
প্রাণাধিক পুত্রে কেন বেচিলে ?
করিতে বলিদান, শুনে গাে কাদে পরাণ,
উদরান্ন-জন্য নয়নমণি! (১৮)
সত্যযুগে জন্ম হ’লল তােমাদের,
এ কথা কি সত্য বেদপুরাণের ?
অতিপ্রাকৃত
কৰ্ম্ম, বলায় কি আছে ধৰ্ম্ম,
আমরা মৰ্ম্ম তা কি না জানি।
অতি প্রাকৃত—অস্বাভাবিক
( ৩ )

প্রথম সঙ্গীতের টীকা।
(ক) বামদেব ঋষি-
(১) মাতৃগর্ভস্থ বামদেব ঋষি মনে মনে এইরূপ সঙ্কল্প করিতে-
ছেন যে, আমি মাতার যােনিদেশ হইতে উৎপন্ন হইব না।
মাতার পার্শ্বদেশ ভেদ করিয়া জন্মিব। তাঁহার মাতা ইহা
জানিতে পারিয়া ইন্দ্রের মাতার ও ইন্দ্রের স্ত্রীর স্তব করেন।
ইন্দ্ৰমাতা অদিতি ইন্দ্রের সহিত তথায় আসিলেন।
ইন্দ্র কহিতেছেন,
“অয়ং পন্থা অনুবিত্ত পুরাণাে
যত দেবা উদজায়ন্ত বিশ্বে।
অথশ্চিত জনীষীষ্ট প্রবৃদ্ধা
মা মাতরম্ অনুয়া পত্তবেকঃ ॥”
ঋগ্বেদসংহিতা ৪১৮১
অর্থাৎ,
ঋষিপ্রবর! এই পথ অনাদি এবং পূর্বাপর লব্ধ, সমস্ত
দেবগণ এই পথে উৎপন্ন হইয়াছেন। অতএব তুমি প্রবৃদ্ধ হইয়া
এই পথ দিয়া জাত হও, তােমার মাতার পতন সাধন করিও না।
( ৪ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
গর্ভস্থ বামদেব, কহিতেছেন,
“নাহমতাে নিরয়া দুর্গ হৈৎ
তিরশ্চতা পার্শ্বান্নির্গমানি।
বহুনি মে অকৃতা কানি
যুধ্যে দেন সংত্বেন পৃচ্ছৈ।”
ঋগ্বেদসংহিতা। ৪১৮২
অর্থাৎ,
আমি এই পথ দিয়া বহির্গত হইব না ইহা অতিদুর্গম,
আমি পার্শ্বভেদ করিয়া নির্গত হইব। আমাকে অন্যের অকৃত
অনেক কৰ্ম্ম করিতে হইবে। আমাকে একের সহিত যুদ্ধ
করিতে হইবে, একের সহিত বাদপ্রতিবাদ করিতে হইবে।
(খ) অষ্টাবক্র মুনি—
“তস্যা গর্ভঃ সমভবদগ্নিকল্পঃ সােহধীয়ানং পিতরং চাপুবাচ ।
সর্বাং রাত্ৰিমধ্যয়ং কয়রাষি নেদং পিতঃ সম্যগিবােপবৰ্ত্ততে।
বেদান্ সাঙ্গা সর্বশাস্ত্রৈরপেতানধীতবানশ্মি তব প্রসাদাৎ।
ইহৈব গর্ভে তেন পিতব্রবীমি ননদং তত্ত্বং সম্যগিবােপবর্ততে।
উপলব্ধঃ শিষ্যমধ্যে মহর্ষি দ তং কোপাদুদরস্থং শশাপ।
যস্মাৎ কুক্ষৌ বৰ্তমান ব্রবীষি তস্মাদ্যক্রো ভবিস্যষ্টকৃত্বঃ।
স বৈ তথা বক্র এবাভ্যজায়দষ্টাবক্রঃ প্রথিত বৈ মহর্ষিঃ।”
মহাভারত। বনপর্ব। ১৩২ অধ্যায়।
( ৫ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত। অর্থাৎ, একদা সুতার গর্ভস্থিত হুতাশন প্রভাবসম্পন্ন বালক মাতৃ- গর্ভ হইতে অধ্যয়নশীল স্বীয় পিতা কহােড়কে কহিলেন,-“হে তাত! আপনি সমস্ত রাত্রি অধ্যয়ন করেন, কিন্তু আপনার অধ্যয়ন সম্যক্ হয় না। আমি আপনার প্রসাদে এই গর্ভাবস্থাতেই সমুদায় সাঙ্গ বেদ অধ্যয়ন ও সমস্ত শাস্ত্র অধ্যয়ন করিয়াছি ; অত- এব আমি শ্রবণ করিতেছি, আপনার উত্তম রূপ হইতেছে না।” মহর্ষি কহােড় শিষ্যগণমধ্যে গর্ভস্থ বালককর্তৃক এইরূপে অবমানিত হইয়া রােষভরে তাহাকে শাপপ্রদান করিলেন ; “তুমি গর্ভে থাকিয়া আমার প্রতি এইরূপ অবমাননাবাক্য প্রয়ােগ করিয়াছ, অতএব তােমার কলেবর অষ্ট স্থানে বক্র হইবে।” কােেড়নন্দন পিতার শাপনুসারে বক্র হইয়াই জন্ম পরিগ্রহ করিলেন। এই নিমিত্ত তাহার নাম অষ্টাবক্র বলিয়া বিখ্যাত হয়। (গ) উতথ্য কুমার মুনি— “উবাচ মমতা তন্তু দেবরং বদং বরম্। অন্তত্নী ত্বহং ভ্ৰাত্রা জ্যেষ্ঠেরম্যতামিতি। অয়ঞ্চ মে মহাভাগ কুক্ষাবেব বৃহষ্পতে। তথ্যে বেদমত্রাপি ষড়ঙ্গং প্রত্যধীয়ত । ( ৬ ) জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত। অমােঘরেঞ্চাপি দ্বয়াের্নাস্ত্যত্র সম্ভব। তস্মাদেবং গতে ত্বদ্য উপারমিতুমর্হসি । এবমুক্তস্তদা সম্যক্ বৃহস্পতিরুদারধীঃ । কামাত্মানং তদাত্মানং ন শশাক নিয়চ্ছিতুম্ । স বভূব ততঃ কামী তয়া সাৰ্ধমকাময়া। উৎসৃজন্তু তং রেতঃ গর্ভধােহভ্যভাষত। ভােস্তাত মা গমঃ কামং দ্বয়াের্নাস্তীহ সম্ভব। অল্পবকাশশা ভগবন্ পূর্বঞ্চাহমিহাগতঃ ॥ অমােঘরেতাশ্চ ভবান্ ন পীড়াং কমতি। অবৈ তু তদ্বাক্যং গর্ভস্থস্য বৃহস্পতিঃ মহাভারতু। আদিপর্ব । ১০৪ অধ্যায়। মমতা দেবরকে সম্বােধন করিয়া কহিলেন,-“হে মহাভাগ আমি তােমার জ্যেষ্ঠের সহযােগে অন্তত্নী হইয়াছি, অতএব রমণেচ্ছা সংবরণ কর। আমার গর্ভস্থ উতথ্যকুমার কুক্ষিমধ্যেই ষড়ঙ্গ বেদ অধ্যয়ন করিয়াছেন। তুমিও অমােঘরেতাঃ, এক গর্ভে দুইজনের সম্ভব নিতান্ত অসম্ভব। সম্ভব নিতান্ত অসম্ভব। অতএব অদ্য এই দুর্ব্যবসায় (দুরভিসন্ধি) হইতে নিবৃত্ত হও।” বৃহষ্পতি মদন- বাণে নিতান্ত আহত ও সাতিশয় অধীর হইয়াছিলেন, সুতরাং ( ৭ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
স্বীয় চঞ্চলচিত্তকে কোন ক্রমেই স্থির করিতে না পারিয়া
মমতার অসম্মতি থাকিলেও তিনি বলপূর্বক তাহাতে আসক্ত
হইলেন। অনন্তর গর্ভস্থ ঋষি-কুমার বৃহস্পতিকে কামক্রীড়ায়
আসক্ত দেখিয়া কহিলেন, ভগবন্! মদনবেগ সংবরণ করুন।
অল্প পরিসর কুক্ষিতে উভয়ের অবস্থিতি অত্যন্ত অসম্ভব। আমি
পূর্বে এই গর্ভে জন্মগ্রহণ করিয়াছি। অতএব অমােঘ রেতঃ-
পাত দ্বারা আমাকে পীড়িত করা আপনার নিতান্ত অযােগ্য কৰ্ম্ম
হইতেছে সন্দেহ নাই।
(২) “স হি তেপে তপস্তীব্রং মাগুকর্ণিমহামুনিঃ।
দশবর্ষসহস্রাণি বায়ুভক্ষো জলাশয়ে।”
বাল্মীকি রামায়ণ। আরণ্যকাও ১১১২
অর্থাৎ,
সেই মহামুনি মাগুকর্ণি জলাশয়ে থাকিয়া বায়ুভক্ষণ-পূর্বক
দশহাজার বৎসর উগ্রতপস্যা করেন।
কিন্তু ঋগ্বেদ সংহিতায় ঋষিগণ একশত বর্ষ পরমায়ুর জন্য
ইন্দ্রাদি দেবতার নিকট প্রার্থনা করিতেছেন। যথা—
“অস্মে প্ৰয়ং ধি মঘবন্ন জীষিন্নিং
রায়াে বিশ্ববারস্য ভূবেঃ।
( ৮ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
অস্মে শতং শরদো জীবসে ধা
অশ্বে বীরাঙ্গ শ্বত ইংদ্র শিপ্রিন্।”
ঋগ্বেদসংহিতা। ৩৩৬১০
অর্থাৎ,
হে মঘব! হে ঋজীষী সােমবিশিষ্ট ইন্দ্র! তুমি সকলের
বরণীয়, প্রভূত ধন দান কর, আমাদের জীবনের জন্য শতবৎসর
প্রদান কর, হে সুন্দরহবিশিষ্ট ইন্দ্র ! আমাদের বহু বীরপুত্র
প্রদান কর।
ঋগ্বেদ সংহিতায় আরও অনেক স্থানে মনুষ্যের পরমায়ুর
পরিমাণ একশতবৎসর বলিয়া লিখিত হইয়াছে। বাহুল্যভয়ে
ঋক-উদ্ধত না করিয়া নিয়ে সেই সেই স্থানগুলি সংক্ষেপে নির্দিষ্ট
করিয়া দিলাম
ঋগ্বেদ-সংহিতা
১৫
এম মণ্ডল
৫৪ ফুট
৪
১৮
৭
৫
৭
১০১
৮৫
৩৯
১৬১
( ৯ )

জিজ্ঞাসা সঙ্গীত। ঋষিদিগের সহস্রাধিক বৎসর পরমায়ুর পরিমাণ পৌরাণিক- দিগের কি গল্পকথা ? (৩) “সৃজন্ দক্ষিণমার্গস্থান সপ্তর্ষীনপরা পুনঃ। নক্ষত্রবংশমপরমসৃজৎ ক্রোধমূচ্ছিতঃ ॥” বাল্মীকিরামায়ণ। আদিকাণ্ড ।৬০৬১ অর্থাৎ, বিশ্বামিত্র ঋষি পরে ক্রোধ-মূচ্ছিত হইয়া এবং দ্বিতীয় সৃষ্টি করিতে উদ্যােগী হইয়া দক্ষিণদিক্‌ অবলম্বনপূর্বক মার্গস্থ অপর সপ্তর্ষিমণ্ডল ও অপর সপ্তবিংশতি নক্ষত্রমালা সৃষ্টি করিলেন। যিনি দ্বিতীয় সৃষ্টি করিতে উদ্যােগী হইয়। সপ্তর্ষিমণ্ডল ও সপ্তবিংশতি নক্ষত্র সৃষ্টি করিলেন, তিনি আবার জঠরজালায় কুকুরের মাংস খাইয়াছিলেন ;- “ক্ষুধাশ্চাত্তমভ্যাগাদ্বিশ্বামিত্রঃ শ্বজাঘনীম্। চণ্ডালহস্তাদাদায় ধৰ্ম্মাধর্মবিচক্ষণঃ ॥” মনুসংহিতা। ১•১০৮ অর্থাৎ, ধর্মাধর্মবিষয়ে বিচক্ষণ বিশ্বামিত্র ঋষি ক্ষুধায় কাতর হইয়া চণ্ডালের হস্ত হইতে কুকুরের জঘনের মাংস লইয়া ভােজন করিতে প্রবৃত্ত হন। ( ১০ ) জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত। (৪) হে মহারাজ! ভারতবর্ষের উত্তরসীমায় পৃথিবীর মান- দণ্ড স্বরূপ হিমালয়নামে পৰ্বত আছে, তথা হইতে ভগবতী ভাগীরথী নির্গত হইতেছেন। পূৰ্ব্বকালে সেই স্থানে দৃঢ়ব্রত মহর্ষি ভরদ্বাজ তপস্যা করিতেন। তিনি যজ্ঞদীক্ষিত হইয়া একদা মহর্ষিগণসমভিব্যাহারে গঙ্গায় প্রাতঃস্নান করিতে গিয়া- ছিলেন। সেই সময়ে অপরাগ্রগণ্যা ঘৃতাচী স্নান করিয়া তীরে উঠিতেছিল। দৈবাৎ বায়ুবেগে তাহার গাত্রস্থিত বসন উডড্ডীয়মান হইল। মহর্ষি সেই সুরূপা নবযৌবনমদদৃপ্তা অপ্সরাকে বিবসনা দেখিয়া কামশরে জর্জরিত হইলেন। দুর্জয় কুসুমশরের দুঃসহ প্রভাবে তপােধনের রেতঃ স্খলিত হইল। তিনি সেই রেতঃ একদ্রোণ অর্থাৎ কলসের মধ্যে রাখিলেন। কিয়দ্দিন পরে সেই বীৰ্য্য এক পুত্ররূপে পরিণত হইল। মহর্ষি ভরদ্বাজ দ্ৰোণমধ্যে জাত বলিয়া ঐ পুত্রের নাম দ্রোণ রাখিলেন। ১ মহাভারত। কালীসিংহের অনুবাদ। সম্ভবপর্ক। ১৩০ অধ্যায়। (৫) দেবকল্প স্থবিরাভিমত কাপতনয় বিভাণ্ডক ঋষি বাল্যাবস্থায় মহাহ্রদে কঠোর তপস্যা করিতে লাগিলেন। এই- রূপে বহুকাল অতীত হইলে একদা উর্বশীকে নয়ন-গােচর করিয়া তঁাহার রেতঃস্থলন হইবামাত্র সলিলে অবগাহন করিলেন ( ১১ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
সেই সময়ে এক মৃগী জলপান করিতে আসিয়াছিল, সে জলের
সহিত ঐ রেতঃ পান করিয়া গর্ভিণী হইল। সেই মৃগী একজন
দেবকন্যা ছিল; ভগবান্ ব্রহ্মা তাহাকে কহিলেন, তুমি মৃগী হইয়া
একটী তপস্বী পুত্র প্রসবানন্তর বিমুক্ত হইবে। বিধিবাক্যের
অমােঘত্ব ও ভবিতব্যতার অবশ্যম্ভাবিত্বনিবন্ধন মহাত্মা ঋষ্যশৃঙ্গ
সেই হরিণীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার
শিবরাদেশে
একটি শৃঙ্গ ছিল, এই নিমিত্ত তিনি “ঋষ্যশৃঙ্গ” বলিয়া বিখ্যাত
হইলেন।
মহাভারত। কালীসিংহের অনুবাদ। সম্ভবপর্ব। ১০৯ অধ্যায়।
(৬) “সমুদ্রং স সমাসাদ্য বারুণির্ভগবানৃষিঃ।
উবাচ সহি তান্ দেবানৃষীংশ্চৈব সমাগতা।
অহং লােকহিতার্থং বৈ পিৰামি বরুণালয়।
ভবদ্ভিদনুষ্ঠেয়ং তচ্ছীং সম্বিধীয়তা।
এবভুক্ত। বচনং মৈত্রাবরুণিরচ্যুত।
সমুদ্রমপিবৎ
সর্ববলােকস্য পশুতঃ।
পীয়মানং সমুদ্রং তং সেন্দ্রাশ্চৈব তদামরা।
বিস্ময়ং পরমং জম্মুঃ স্তুতিভিশ্চাপ্যপূজয়ন্।”
মহাভারত। তীর্থযাত্ৰাপৰ্ব। ১০৪ অধ্যায়।
( ১২ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত। অর্থাৎ ভগবান্ অগস্ত্য তখন সমাগত দেবগণ ও ঋষিদিগকে কহিলেন, আমি লােকহিতার্থে সাগর-বারি পান করিব, তােমরা সত্বরে আপনাদিগের কর্তব্যকর্মের অনুষ্ঠান কর। মহর্ষি এই কথা বলিয়া ক্রোধভরে সর্ববলােক-সমক্ষে পয়ােনিধির সমস্ত সলিল নিঃশেষিত করিলেন। তদ্দর্শনে ইন্দ্রপ্রমুখ অমরগণ যুগপৎ-হর্ষ- বিস্ময়ে সাতিশয় অভিভূত হইয়া অগস্ত্যের স্তব করিতে লাগিলেন। (৭) “শয়ানং শ্রিয় উৎসঙ্গে পদা বক্ষস্যতাড়য়ৎ। তত উত্থায় ভগবান সহ লক্ষন্যা সতাং গতিঃ ॥ স্বতল্লাদবহাথ ননাম শিরসা মুনিম্। আহ তে স্বাগতং ব্ৰহ্মন্ নিষীদাত্ৰাসনে ক্ষণম্। অজানতামিগতা বঃ ক্ষমথ নঃ প্রভাে॥” শ্রীমদ্ভাগবতম্।১০ম৮ি৯৮-৯ অর্থাৎ, জনার্দন লক্ষমীর সহিত পৰ্যঙ্কে শয়ান রহিয়াছেন, ভৃগুমুনি তথায় গিয়া তাহার বক্ষঃসুলে পদাঘাত করিলেন, অনন্তর সজ্জনায় ভগবান্ নারায়ণ লক্ষনীর সহিত শয্যা হইতে উথিত হইয়া সহসা গিয়া প্রণাম করিলেন এবং কহিলেন, হে ব্রাহ্মণ। হে প্রভাে! এই আসনে উপবেশন পূর্বক ক্ষণকাল বিশ্রাম করুন, ( ১৩ ) !

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
আপনি যে আসিয়াছেন, তাহা আমি কিছুই জানিতে পারি নাই,
অতএব তদ্বিষয়ে আমাকে ক্ষমা করিবেন।
(৮) “অবধান কর দেব পার্বতীর কান্ত।
কহিব ক্ষীরােদসিন্ধু মন্থনবৃত্তান্ত ॥
পারিজাত মাল্য দুর্বাসার গলে ছিল।
সেহে সেই মাল্য মুনি ইন্দ্রগলে দিল।
গজরাজ আরােহণে ছিল পুরন্দর।
সেই মাল্য দিল তার দন্তের উপর।
সহজে মাতঙ্গ অনুক্ষণ মদে মত্ত।
পশুমতি নাহি জানে মাল্য মুনিদত্ত ।
শুণ্ডে জড়াইয়া ফেলাইল ভূমিতলে।
দেখিয়া দুর্বাসা ক্রোধে অগ্নিবৎ জ্বলে।
অহঙ্কারে ইন্দ্র মােরে অবজ্ঞা করিল।
মাের দত্ত পুষ্পরাজ ছিড়িয়া ফেলিল।
সম্পদে হইয়ে মত্ত তুচ্ছ করে মােরে।
দিল শাপ লক্ষনীহত হবে পুরন্দরে।
ব্ৰহ্মশাপে লােকমাল প্রবেশিল জলে।
লক্ষী বিনা কষ্ট হৈল ত্রৈলােক্যমণ্ডলে।”
কাশীদাসের মহাভারত। আদিপর্ব ।
( ১৪ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
এই বিষয়টি বিষ্ণুপুরাণের প্রথমাংশে বর্ণিত হইয়াছে, যে
দুর্বাসা ঋষি ভ্রমণ করিতে করিতে কোন অপ্সরার হস্তে এক
ছড়া সন্তানকপুষ্পের মালা দেখিয়া তাহার নিকট ভিক্ষা
করিয়া লইলেন। ঐ মালা ঐরাবতমস্তকে রক্ষা করিলেন।
ঐরাবত তাহা ভূতলে ফেলিয়া দেয়। তজ্জন্য দুর্বাসা ঋষি
কুপিত হইয়া দেবরাজকে শাপ দেন। ইন্দ্র সেই শাপে লক্ষমীভ্রষ্ট
হন। লক্ষী নারায়ণকে ত্যাগ করিয়া জলধির অতল জলে গিয়া
বাস করেন।
আমরা শ্রীমদ্ভাগবতে দেখিতে পাই যে, তপঃপ্রভাবসম্পন্ন
মহাতেজা মহর্ষি দুর্বাসা অম্বরীষ রাজাকে বিনাশ করিতে গিয়া
ঘাের বিপদাপন্ন হইয়াছিলেন। এবং যিনি দেবরাজ ইন্দ্রকে
শাপ দিয়া লক্ষীকে সাগরতলে বাস করাইলেন, তিনিই আবার
অম্বরীষের চরণধারণ পূর্বক জীবনরক্ষা করিলেন।
“এবং ভগবতাদিষ্টো দুর্বাসাশ্চক্ৰতাপিতঃ ।
অম্বরীষমুপাৰ্বত্য তৎপাদৌ দুঃখিতােহগ্রহী।
তস্য সােদ্যমমাৰীক্ষ্য পাদস্পর্শবিলজ্জিত।
অস্তাবীদ্ধরেরং কৃপয়া পীড়িত ভৃশং।”
শ্রীমদ্ভাগবতম্।৯৫১২
( ১৫ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত। অর্থাৎ, দুর্বাসা ঋষি এইরূপে চক্র-তাপিত হইয়া ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদেশক্রমে অম্বরীষের নিকট গমনপূর্বক দুঃখিতহৃদয়ে তাহার চরণধারণ করিলেন। ব্রাহ্মণে পাদস্পর্শ করাতে রাজর্ষি অম্বরীষ সাতিশয় লজ্জিত হইলেন এবং তাহার কাতরতা দর্শনে অতীব পীড়িত হইয়া ভগব- চ্চক্রের স্তব আরম্ভ করিলেন। (৯) একদা পরাশর ঋষি তীর্থপৰ্যটনক্রমে যমুনায় উপস্থিত হইয়া অলৌকিক রূপলাবণ্যবতী মুনি-জন-মনােহারিণী সুচারু- হাসিনী দাসনন্দিনীকে দেখিবামাত্র মদনবেদনায় অতিমাত্র ব্যাকুল হইয়া কহিলেন, হে কল্যাণি ! তুমি আমার মনােভিলাষ পূর্ণ কর। সে কহিল ভগবন্! ঐ দেখুন নদীর উভয়পারে পার হইবার নিমিত্ত ঋষিগণ উপস্থিত আছেন; এ অবসরে কিরূপে আপনার মনােরথ সিদ্ধ হইবে। তাহার এই কথাগুলি শুনিয়া ঋষিবর পরাশর কুজ্বটিকা সৃষ্টিকরিয়া তৎপ্রদেশকে তমােময় করিলেন। ঋষি-সৃষ্ট কুঙ্কটিকাদর্শনে কন্যা লজ্জিত ও বিস্ময় বিশিষ্ট হইয়া কহিল, ভগবন্! আমি পিতার অধীন, অদ্যাবধি আমার বিবাহ হয় নাই, আপনার সহযােগে আমার কুমারীভাব ( ১৬ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
দূষিত হইবে। কন্যাভাব দূষিত হইলে কিরূপে গৃহে প্রবেশ
করিব এবং কিপ্রকারেই বা লােক-সমাজে জীবনধারণ করিব।
হে ভগবন! এই সমস্ত আদ্যোপান্ত অনুধাবন করিয়া যাহা
উচিত হয় বিধান করুন । পরাশর শুনিয়া প্রীতমনে কন্যাকে
কহিলেন হে ভীরু! আমার অভিলাষ পূর্ণ করিলে তােমার
কন্যাভাব দূষিত হইবে না। আমি তােমার প্রতি প্রসন্ন
হইয়াছি।
মহাভারত।
কালীসিংহের অনুবাদ।
আদিপর্ব ৬৩ অধ্যায়।
(১০)
“তখন সকল লােক একত্র হইয়া।
অগস্ত্যমুনির পদে নিবেদিল গিয়া ।
বিন্ধ্যগিরি চন্দ্রসূৰ্য-পথ রুদ্ধ করে।
তােমা বিনা কে তারে এ সঙ্কট-সাগরে ।
রক্ষা কর মুনিবর হয় সর্বনাশ।
শুনিয়া অগস্ত্য মুনি দিলেন আশ্বাস ।
( ১৭
১৭ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
বিন্ধ্যগিরি-সমীপে চলিল তপােন।
মুনি দেখি প্রণাম করিল সর্বজন।
হেট মাথা করি বিন্ধ্যগিরি প্রণমিল।
ঈষৎ হাসিয়া মুনি আশীর্বাদ দিল ।
দক্ষিণ হইতে আমি যাবৎ না ফিরি।
এই ভাবে থাক তুমি ওহে বিন্ধ্যগিরি।
এত বলি মুনিবর করিল গমন।
পুনঃ সে উত্তরে না আসিল কদাচন।
তার আজ্ঞা লঘিয়া না উঠে বিন্ধ্যাচল।
রক্ষিলেন সৃষ্টি মুনি করিয়া কৌশল।
কৃত্তিবাসের রামায়ণ।
(১১) পূর্বে এই চরাচর বিশ্বরাজ্য-লাভার্থে দেবতা ও
অসুরদিগের পরস্পর তুমুল সংগ্রাম হইয়াছিল। তৎকালে
দেবতারা জিগীষাপরবশ হইয়া বৃহস্পতিকে যজ্ঞানুষ্ঠান-কাৰ্য্যে
পুরােহিতরূপে বরণ করিয়াছিলেন। অসুরগণ শুক্রাচাৰ্য্যকে
তৎকর্মে ব্ৰতী করিয়াছিলেন। এরূপ কর্মে দীক্ষিত হইয়াছেন
( ১৮ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
বলিয়া বৃহস্পতি ও শুক্রাচাৰ্য ইহারা প্রতিনিয়ত প্রতিস্পর্ধা
করিতে লাগিলেন। ঐ যুদ্ধে দেবগণ যে সকল অসুরসংহার
করিতেন, শুক্র মৃতসঞ্জীবনী বিদ্যাবলে তাহাদিগকে পুনজ্জীবিত
করিতেন, সেই সকল পুনর্জীবিত অসুরেরা উথিত হইয়া দেবতা-
দিগের সহিত সংগ্রাম করিত। কিন্তু অসুরেরা যে সকল
দেবতার প্রাণনাশ করিত, সুরাচাৰ্য্য বৃহস্পতি আর তাহাদিগকে
পুনর্জীবিত করিতে পারিতেন না।
মহাভারত।
কালীসিংহের অনুবাদ ৭৬ অধ্যায়।
দেবতাদিগের একটি নাম অমর। অমর অর্থাৎ যাহরা মরে
কিন্তু অসুর-যুদ্ধে দেবতারা মরিলেন। এ আবার কোন
ན། |
দেবতারা ?
*।
( ১৯ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
(১২) “তথা দৃষ্টা চ বৈ শত্ৰুং ভাৰ্য্যামপিচ শপ্তবান্।
ইহ বর্ষসহস্রাণি বহুনি নিবসিষতি ।
বাতভক্ষা নিরাহারা তপ্যন্তী ভস্মশায়িনী।
অদৃশ্যা সৰ্বভূতানামাশ্রয়েস্মিন্ বসিসি।
যদৈতচ্চ বনং ঘােরং রামাে দশরথাত্মজঃ।
আগমিষ্যতি দুর্ধর্ষস্তদা পূতা ভবিষ্যসি
বাল্মীকি-রামায়ণম্।
আদিকাণ্ড ৪৮ সর্গ। ২৯-৩১
অহল্যাকে শাপ দিলেন ক্রোধে মুনিবর
কাননেতে তাের তনু হউক প্রস্তর ।
অহল্যা চরণে ধরি কহিলা তখন।
কত কালে হবে মাের শাপৰিমােচন।
তাহল্যাকে কাতরা দেখিয়া তপােধন।
কহিলেন মম শাপ না হয় খণ্ডন।
জম্মিবেন যবে রাম দশরথঘরে।
বিশ্বামিত্র লয়ে যাবে যজ্ঞ দেখিবারে।
( ২০ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
তােমার মাথায় পদ দিবেন যখন।
তখনি হইবে মুক্ত না কর ক্রন্দন ।
কৃত্তিবাসের রামায়ণ।
আদিকাণ্ড।
(১৩) রােহিণীসহিত চন্দ্ৰ ক্ৰীড়ায় আছিল।
হেন কালে গর্গমুনি সেই খানে গেল ।
মদনে মােহিত চন্দ্র অন্যমন ছিল।
গর্গমুনি দেখি চন্দ্র পূজা না করিল।
ক্রোধে এই শাপ দিল গর্গ মুনিবর।
মনুষ্যলােকেতে গিয়া জন্মহ সত্বর।
শুনিয়া মুনির শাপ রজনীর পতি।
অশেষবিশেষে করে মুনিবরে স্তুতি।
অজ্ঞানে ছিলাম আমি শুন মুনিবর।
যাইতে মনুষ্যলােকে বড় লাগে ডর ॥
( ২১ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
কত দিনে
কৃপায় শাপান্ত মুনি আজ্ঞা কর মোরে।
মুক্ত
হয়ে আসি এথাকারে ।
তুষ্ট হয়ে বলে তবে গর্গ মুনিবর ।
তােমার শাােন্ত এই শুন শশধর ।
অর্জুনের পুত্র হবে সুভদ্রা-উদরে।
করিয়ে বীরের কাৰ্য্য পড়িয়ে সমরে।
সম্মুখসংগ্রামে পড়ি ত্যজিয়ে জীবন।
ঘােড়শবৎসর-তান্তে পুনরাগমন।”
কাশীরামদাসের মহাভারত।
দ্রোণপর্ব।
*
(১৪) “ধৰ্ম্মরাজ কহিলেন তপােধন! আপনি পতঙ্গের
পুচ্ছদেশে তৃণ প্রবিষ্ট করিয়াছিলেন, সেই দুষ্কর্মের প্রতিফল
প্রাপ্ত হইয়াছেন। অনীমাব্য' কহিলেন ধৰ্ম্মরাজ! তুমি
আমার লঘুপাপে গুরুদণ্ড বিধান করিয়াছ, এই নিমিত্ত তােমাকে
মনুষ্য হইয়া শূদ্রযােনি প্রাপ্ত হইতে হইবে। # # # ধৰ্ম্মরাজ
( ২২ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত। স্বীয় অপরাধে মহাত্মা অনীমাব্যকর্তৃক অভিশপ্ত হইয়া বিদুর রূপে শূদ্র-যােনিতে (দাসীগর্ভে) জন্মগ্রহণ করিলেন।” মহাভারত। কালীসিংহের অনুবাদ। আদিপর্ব ১০৮ অধ্যায়। ** (১৫) বামদেব ঋষি মাতৃগর্ভে বাসকালে একদিন সুর- পতি ইন্দ্রকে বলিয়াছিলেন—“আমি মাতার যােনিদেশ দিয়া উৎপন্ন হইব না, মাতার পার্শ্বভেদ করিয়া জন্মিব।” এতাদৃশ প্রভাবসম্পন্ন ঋষিবর আবার বলিতেছেন- “অবৰ্তা শুনঃ আন্ত্রাণি পেচে ন দেবেষু বিবিদে মর্ডিাের।” ঋগ্বেদসংহিতা ৪১৮১৩ অর্থাৎ, আমি জীবনােপায়-অভাবে কুকুরের অন্ত্র পাক করিয়া খাইয়াছি। দেবতার আরাধনা করিয়া পারি নাই। ধনলাভ করিতে ( ২৩ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
আবার যে মহাতপা ভরদ্বাজ ঋষির অমােঘবীৰ্যে কলসী-
মধ্যে দ্রোণাচার্য্যের সম্ভব হইয়াছিল, তিনিই জঠরজ্বালায় কাতর
হইয়া
বৃধুসূত্রধরের
নিকট গােভিক্ষা লইয়া জীবনরক্ষা
করিয়াছিলেন ;-
“ভরদ্বাজ ক্ষুধাস্তু সপুত্রো বিজনে বনে।
বীর্গাঃ প্রতিজগ্রাহ বৃধােস্তক্ষে মহাতপাঃ ॥”
মনুসংহিতা।১০/১৭
অর্থাৎ
মহাতপা সপুত্র ভরদ্বাজ মুনি ক্ষুধার্ত হইয়া বিজনবনে বৃধু-
নামা সূত্রধরের নিকট হইতে বহুসঙ্খ্যক গােগ্ৰহণ করেন।
(১৬)
h
তস্য ত্বাতন্যমানস্য তং বাণমহমুরম্।
স মামুঘীক্ষ্য সন্ত্ৰস্তো জহে প্রাণাংশুপােধন।
( ২৪ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত। জলাৰ্জগাত্ৰস্তু বিলপ্য কৃচ্ছ। মৰ্ম্মব্ৰণং সস্ততমুচ্ছসন্তম্। ততঃ সরাং তমহং শয়ানং সমীক্ষ্য ভদ্রে সুভূশং বিষ। বাল্মীকিরামায়ণম্। অযােধ্যাকাণ্ড ।৬৩৫৩-৫৪ অর্থাৎ দশরথ বলিলেন—আমি তঁাহার বক্ষঃস্থল হইতে শল্যমােচন করিলাম। পরে তিনি আমার দিকে দৃষ্টিপাতপূর্বক ত্ৰাসাম্বিত হইয়া প্রাণত্যাগ করিলেন। ভদ্রে। সেই জলার্জগাত্ৰ মৰ্ম্ম- বিদ্ধ ভাপসকুমার অতিকষ্টে বিলাপ করিয়া অনবরত দীর্ঘনিশ্বাস পরিত্যাগ করিতে করিতে সরনদীর তীরে প্রাণত্যাগ করিলেন, ইহা দেখিয়া আমি অতিশয় বিষন্ন হইলাম। (১৭) “ইমানি ত্রীণি বিষ্টপা তানি ইন্দ্র বি রােহয়। শিরঃ ততস্য উর্বরাং আত্ ইদং মে উপ উদরে।” ঋগ্বেদসংহিতা ৮৯১৫ ( ২৫ ) জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত। অর্থাৎ, হে ইন্দ্র ! আমার পিতার মস্তক ও ক্ষেত্র এবং আমার উদরসমীপস্থ প্রদেশ, এই তিনটি স্থান আছে, ইহাদিগকে উৎ- পাদনশীল কর। অর্থাৎ আমার পিতার মাথায় চুল ও উষর- ক্ষেত্রকে শস্যোৎপাদনশক্তি এবং আমার গােপনস্থান লােম- শূন্য হইয়াছে তথায় লােম দাও । যাঁহাদের শাপভয়ে ইন্দ্রাদি দেবতারা কম্পিতকলেবর, আঁহারা তপঃপ্রভাবে গ্রহনক্ষত্রের সৃষ্টি করিতে পারেন, তাহাদের আবার এরূপ প্রার্থনা কেন ? (১৮) অজীগঃ সুতং হপ্তমুপাসপ বুভুক্ষিতঃ। নচালিপ্যত পাপেন ক্ষুৎপ্রতীকারমাচরন্ । মনুসংহিতা।১০১০৫ অর্থাৎ- বুভুক্ষিত ঋষি অজীগ নিজ তনয়ের প্রাণসংহারে সমুদ্যত হইয়াছিলেন, তথাপি ‘ক্ষুৎপ্রতীকার ইহার উদ্দেশ্য বলিয়া তিনি কোনও পাপে লিপ্ত হন নাই। ( ২৬ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
এ
ঋগ্বেদসংহিতার প্রথম মণ্ডলে ২৪ সূক্ত হইতে ৩৩ সূক্ত
পৰ্য্যন্ত শুনঃশেফের রচিত বলিয়া প্রসিদ্ধ। ঐতরেয় ব্রাহ্মণের
সপ্তম কঞ্চিকায়, ভাগবতের নমস্কন্ধে সপ্তম অধ্যায়ে, বাল্মীকি
রামায়ণের আদিকাণ্ডে ৬১ সর্গে, এবং বিষ্ণুপুরাণেশুনঃশেফের
বিষয় লিখিত আছে। ঐতরেয়
ঐতরেয় ব্রাহ্মণে, মনুসংহিতায় জয়
ভাগবতে শুনঃশেফ অজীগর্ত ঋষির মধ্যম পুত্র বলিয়া বর্ণিত
আছে। রাজা হরিশ্চন্দ্র বরুণদেবের উদ্দেশে স্বীয় পুত্র
রােহিতকে বলি দিবার জন্য প্রস্তাব করেন। পুত্র অসম্মত
হইয়া চলিয়া যান। বরুণদেব অসন্তুষ্ট হইলে রাজার উপর
বৃষ্টি হয়। পুত্র রােহিত তাহা শুনিয়া অজীগর্তের নিকট শুনঃ-
শেফকে ক্রয় করিয়াও পিতাকে দিয়া প্রণাম করেন। রাজা
নরমেধদ্বারা বরুণদেবকে তুষ্ট করেন। কিন্তু শুনঃশেফ
বিশ্বামিত্রের পরামর্শে দেবতাদিগের স্তুতি করিয়া মুক্তিলাভ
করেন। রামায়ণের শুনঃশেফ ভৃগুনন্দন ঋচীকের মধ্যম
পুত্র। রাজর্ষি অম্বরীষ এক যজ্ঞ করেন। সেই যজ্ঞের পশু
ইন্দ্রদেব হরণ করিয়া লইয়া যান। রাজা অম্বরীষ পুরােহিতের
আদেশে ঋচীকপুত্র শুনঃশেফকে নরমেধ জন্য ক্রয় করিয়া
আনেন। শুনঃশেফ রক্তাম্বর পরিধান করিয়া পশুস্বরূপে
( ২৭ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
যূপকাষ্ঠে আবদ্ধ হইয়া বিশ্বামিত্রের পমর্শে আগ্নেয় মন্ত্রে অগ্নিকে
স্তব করিলে ইন্দ্র ও বিষ্ণু সেই স্তবে তুষ্ট হইয়া তাহাকে দীর্ঘায়ুঃ
প্রদান করেন। রাজাও তাহাদের প্রসাদে সেই যজ্ঞের বহুগুণ
ফল লাভ করেন।
( ২৮ )

দ্বিতীয় সঙ্গীত
C
*
সুরট—একতালা ।
বেদে স্ত্রী-শূদ্রের নাই অধিকার। (১)
সৰ্ব্বপূজ্য বেদ, করে নাই অভেদ,
সংহিতা পুরাণ করেছে প্রচার
উর্বশী যমী লােমশা অপালা,
বিশ্ববরা নারী বেদমন্ত্র রচিলা, (২)
কবষ (৩) কুক্ষীবান্ (৪), দাসীর সন্তান,
বেদমন্ত্র বচি করিলা বিস্তার।
জানশ্রুতিরাজে জানি শূদ্ৰজাতি,
দিলেন শিক্ষা রৈ বেদের ভারতী, (৫)
বেদকর্তা যিনি, তাঁর মুখের এ বাণী,
জাতিনিৰ্বিশেষে কর বেদপ্রচার। (৬)
( ২৯ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
বিশ্বামিত্র ঋষি ক্ষত্ৰকুলোদ্ভব,
গায়ত্রী গাথা যাহার গৌরব,
সবিতার স্তুতি, কবিতা ভারতী,
গায়ত্রী যা দ্বিজের কণ্ঠের হার। (৭)
=jyE
( ৩০ )

দ্বিতীয় সঙ্গীতের টীকা ন (১) “স্ত্রী-শূদ্র-দ্বিজবন্ধুনাং ত্রয়ী ন শ্রুতিগােচরা । কৰ্ম্মশ্রেয়সি মূঢ়ানাং শ্রেয় এবং ভবেদিহ। ইতি ভারতমাখ্যানং কৃপয়া মুনিনা কৃতং॥” ভাগবত ১। ৪। ২৫। ২ (২) ঋগ্বেদের প্রথম মণ্ডলের ১২৬ সূক্ত লােমশানাম্নী ব্ৰহ্মবাদিনী, পঞ্চম মণ্ডলের ২৮ সূক্ত বিশ্বরানাম্নী ব্ৰহ্মবাদিনী, অষ্টম মণ্ডলের ৯১ সূক্ত অত্রিকন্যা অপালানাম্নী ব্ৰহ্মবাদিনী, দশম মণ্ডলের ১০ম সূক্ত যমী এবং ৯৫ সূক্ত উর্বশীনাম্নী অপ্স- রার রচিত। * (৩) কব-ঐতরেয় ব্রাহ্মণে (২। ১৯) ও কৌষিকী ব্রাহ্মণে ইহার প্রসঙ্গ আছে। লিখিত আছে যে একবার সর- ( ৩১ ) জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত। স্বতীতীরে যজ্ঞস্থলে তিনি উপস্থিত ছিলেন,ঋষিগণ তাহাকে দাসীপুত্র বলিয়া অবজ্ঞা প্রকাশপূর্বক বলেন- “দাস্যা বৈ ত্বং পুত্রোহসি ন বয়ং ত্বয়া সহ ভক্ষয়িষ্যামঃ।” কৌষিতকী ব্রাহ্মণ। ১১ অর্থাৎ, তুমি দাসীপুত্র, আমরা তােমার সহিত ভােজন করিব না। এই কষঋষি ঋগ্বেদসংহিতার দশম মণ্ডলের ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ও ৩৪, সূক্তের মন্ত্রগুলি রচনা করেন। তদীয় পুত্র তুর পরীক্ষিৎ-তনয় ” মহারাজ জনমেজয়ের রাজ্যাভিষেক ক্রিয়া সম্পাদন করিয়া দেন। 42 (৪) কুক্ষীবানের বিষয় মহাভারতে, মৎস্যপুরাণে ও বায়ুপুরাণে লিখিত আছে, কলিঙ্গরাজ সন্তানকামনায় তাঁহার রাজ্ঞীকে দীর্ঘতমা মুনির সহিত সহবাস করিতে আদেশ করিয়া- ছিলেন। রাজ্ঞী স্বয়ং না যাইয়া দাসী উশিজকে পাঠাইয়া দিলেন। মুনি উশিজের গর্ভে কুক্ষীবান্ নামে সন্তান উৎপন্ন ( ৩২ ) জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত। করিলেন। কুক্ষীবান্ কালে প্রসিদ্ধ ঋবি হইলেন। ঋগ্বেদের প্রথম মণ্ডলে ১১৬ সূক্ত হইতে ১২১ সূক্ত পর্যন্ত তার রচিত বলিয়া প্রসিদ্ধ। (৫) ছালাগোপনিষদে চতুর্থ প্রপকের অন্তর্গত জান- শ্রুতি আখ্যাকায় লিখিত আছে,-রৈঋষি জনিত রাজাকে শূত্র জানিরাও বার বার তাঁকে শূদ্র শব্দে সখ. ন ক রয়। পশ্চাৎ বেদব-কাদ্বারা সংবর্গব৷ শিক্ষা দেন। “স তস্মৈ হোবা-বারুব। সংবর্গ।” ইত্যাদি। তিনি (অর্থাৎ মেক) তাঁকে তংকে (অর্থাৎ শূঐকুলােব জানশ্রুতিকে) বলিলেন বায়ুই সংবর্গ। = (৬) “যথেমাং বাচং কল্যাণী মা বনানী জনেভে।- ব্রহ্মরাজণ্ঠাভ্য। সূত্রায় চার্য। চ স্বীয় চারণায়।” যজুর্বেদ ২৬ অধ্যার ২য় মন্ত্র। ( ৩৩ ) ৩ জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত। অর্থাৎ বেধকর্তা শিষদিগের হৃদয়ে রচনা ও বেদবিহিত জ্ঞান নিহিত করিয়া শিদিগকে কহিলেন, হে শিষ্যগণ! আমি যেমন এই চতুর্বর্গ-প্রদায়িনী বেলক্ষণা বাণী সকলমনুষ্যকে উপদেশ দিলাম, তােনরাও তদ্রুপ ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য শূদ্র দাস দাসী এবং অতিশূদ্র চণ্ডালপ্রভৃতিকে উপদেশ দিবে। (৭) “তৎ সবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি, ধিয়াে য়াে নঃ প্রচোদয়াৎ।” ঋগ্বেদসংহিতা ৩। ৬২।১০ সায়নাচাৰ্য সবিতৃশব্দের পরমেশ্বর ও সূর্যা দুই প্রকার অর্থ করিয়াছেন। সায়নসম্মত ব্যাখ্যা, “যঃ সবিতা সূৰ্য্যঃ ধিয়ঃ কৰ্ম্মাণি প্রচোদয়াৎ প্রেরয়তি তস্য সবিতুঃ প্রসবিতুর্দেবস্য ছােতমাস্য সূৰ্য্যস্ত তৎ সর্বৈদৃশ্যমান- তা প্রসিদ্ধং বরেণ্যং সর্বৈব সংভজনীয়ং ভগঃ পাপানাং তাপক তেজোমণ্ডলং ধীমহি”। ( ৩৪ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
আমরা সবিতৃদৈবের সেই বরণীয় তেজ ধ্যান করি, যাহার
প্রভাবে আমরা স্বীয় স্বীয় কর্তব্যানুষ্ঠানে প্রবৃত্ত হইতে সমর্থ হই।
(সত্যব্রত সামশ্রমী )
সবিতৃদেবের বরণীয় তেজকে আমরা ধ্যান করি, যিনি আমা-
দিগের বুদ্ধিবৃত্তিকে প্রেরণ করেন।
(বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।)
যিনি আমাদের ধীশক্তি প্রেরণ করেন, আমরা সবিতৃ-
দেবের সেই বরণীয় তেজকে ধ্যান করি।
(রমেশচন্দ্র দত্ত।)
=
( ৩ )

তৃতীয় সঙ্গীত।
**
মুলতান—এক তালা।
এত ঘৃণা অবিচার।
তারা ছিলেন ব্রহ্মজ্ঞানী (১) জ্ঞানে আসে কার ?।
যদি ফল খায়
দ্বিজ তরু’পরে,
চণ্ডাল সে মূল
পরশন করে,
প্রায়শ্চিত্ত-বিধান, সবসনে স্নান,
র’বে নিশি অনাহার। (২)
দ্বিজে পরশনে,
হরিবে জীবনে, (৩)
শূদ্রনাম হবে নিন্দিত ; (৪)
গব্যরস-পানে, শাস্ত্রের বিধানে,
শূদ্রজন হ’লাে বঞ্চিত ; (৫)
স্ব-ধনেতে শূদ্রের নাহি অধিকার,

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
ইচ্ছা হলে দ্বিজ
মণ্ডুক মার্জার,
হ’রে ল’বে তার, (৬)
বধে—সে প্রকার
শূদ্রবধ-ব্ৰতাচার। (৭)
সৰ্ব্ব পাপ করে,
দ্বিজ যাবে তরে,
বিধান করিলে শাস্ত্রে তার ; (৮
দ্বিজনামধারী,
পরমদেবতা তবু সবার ; (৯)
মূর্খ পাপাচারী,
এত অত্যাচারের শাস্ত্রে আছে কথা,
শূদ্রতপস্বীর কাটাইলে মাথা, (১০)
নাসাকর্ণ-ছেদ, শলাকার ভেদ,
দ্বিজেতর জাতির নাহি নিস্তার। (১১)
( ৩৭ )

তৃতীয় সঙ্গীতের টীকা। (১) “যন্ত সর্বাণি ভূতানি আত্মথ্যেবানুপতি। সর্বভূতেষু চাত্মানং ততাে ন বিজুগুপ্সতে। ঈশােপনিষদ। ৬ শ্রুতি। অর্থাৎ, যিনি সমস্ত বস্তুকে পরমাত্মার মধ্যে অবস্থিত দেখেন, এবং পরমাত্মাকে সকল বস্তুতে বর্তমান দেখেন, তিনি আর কোনও বস্তুকে ঘৃণা করেন না। “বিদ্যাবিনয়সম্পন্নে ব্রাহ্মণে গবি হস্তিনি। শুনি চৈব শপাকে চ পণ্ডিতাঃ সমদর্শিনঃ ॥” গীতা ৫/১৮ অর্থাৎ, বিদ্যা-বিনয়-সম্পন্ন ব্রাহ্মণ এবং গাে, হস্তী, কুকুর ও চণ্ডাল- প্রভৃতি সমস্ত প্রাণীতে তত্ত্বজ্ঞানীদের সমান দৃষ্টি। ( ৩৮ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
(২) “ব্রাহ্মণো বৃক্ষমারূঢ়শ্চণ্ডালে৷ মূলসংস্পৃশঃ।
ফলাত্তি স্থিতং তত্র প্রায়শ্চিত্তং কথং ভবেৎ?
ব্রাহ্মণা সমনুজ্ঞাপ্য সবাঃ স্নানমাচরেৎ।
নক্তভােজী ভবেদ্বিপ্ৰাে ঘৃতং প্রাশ্য বিশুষ্যতি ।”
অত্রিসংহিতা ১৭৪-১৭৫
অর্থাৎ,
ব্রাহ্মণ বৃক্ষে
উঠিয়া ফল
খাইতেছেন, এমন সময়ে যদি চণ্ডাল
সেই বৃক্ষের মূল স্পর্শ করিয়া থাকে, তাহা হইলে ঐ ব্রাহ্মণের
কিরূপ প্রায়শ্চিত্ত হইবে ? ব্রাহ্মণদিগের অনুমতি ক্রমে ঐ
ব্রাহ্মণ, সবস্ত্র হইয়া (বস্ত্রান্তর গ্রহণ না করিয়া) স্নান এবং
ঘৃত ভােজনপূর্বক একদিন নব্রত (রাত্রিভােজন) করিলে
শুদ্ধ হইবে।
•j*
(৩) “কামকারেণ চাস্পৃশ্যে
বধ্যস্ত্রৈবণিকং স্পশ।”
বিষ্ণুসংহিতা ৫১০৩।
( ৩৯ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
অর্থাৎ,
অস্পৃশ্য
শ্য জাতি জ্ঞানতঃ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় বা বৈশ্যকে স্পর্শ
করিলে তাহাকে বধ করিতে হইবে ।
(৪) “জুগুতিঃ শূদ্রস্য।”
বিষ্ণুসংহিতা ২৭৯।
অর্থাৎ-শূদ্রের নাম ঘৃণিত হইবে।
•*
স
(৫) “নােচ্ছিষ্টহবিষী
বিষ্ণুসংহিতা ৭৯৪৯।
* এবং যে কোন
অর্থাৎ,দাস ব্যতীত শূদ্রকে
শূদ্রকে হবিঃ প্রদান করিবে না।
( ৪ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
(৬) “বিশ্রং ব্রাহ্মণ শূদ্রা দ্রব্যোপাদানমাচরেৎ।
নহি তস্যাস্তি কিঞ্চিৎ স্বং ভর্তৃহাৰ্য্যধনাে হি সঃ।”
মনুসংহিতা ৮৪১৭ ।
অর্থাৎ,
ব্রাহ্মণ বিশ্রচিত্তে मान
শূদ্রের ধন আত্মসাৎ করিতে
পারেন ; যেহেতু শূদ্রের নিজস্ব কিছুই নহে, উহার সমুদায় ধন
ভর্তৃহাৰ্য্য।
(৭) “মাচ্চারনকুলৌ হত্বা চাষং মণ্ড কমেবচ।
স্বাধােক কাকাংশ্চ প্রত্যাব্রতং চরেৎ ॥”
মনুসংহিতা ১১১৩২।
অর্থাৎ,
৬৯.৩ঃ বড়াল, নকুল, চাৰপক্ষ, ভেক, কুকুর, গোধা,
. * ইলের একটিকে বধ করল শূদ্ৰহত্যার সমান প্রায়শ্চিত্ত
করবে।
( ৪১ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
(৮) “ন জাতু ব্রাহ্মণং হন্যাৎ সর্বপাপেধপি স্থিত।
বাঞ্ছাদেনং বহিষ্ণুৰ্য্যাৎ সমগ্রধনমক্ষতম্ ।”
মনুসংহিতা ৮৩৮০।
অর্থাৎ,--
সর্বপাপের পাপী হইলেও কদাচ ব্রাক্ষণকে বধ করবে না,
পরন্তু সমস্ত ধনের সহিত ততশরীরে উহাকে রাজ। হইতে
নির্বাসন করিয়া দিবে।
(৯) “অবিদ্বাংশ্চৈব বিধাংশ্চ ব্রাহ্মণাে দৈবতং মহৎ।
প্রণীতশ্চাপ্রণীতশ্চ যথাগ্নিৰৈ বতং মহৎ ॥
শ্মশানেপি তেজস্বী পাবকো নৈব দুষ্যতি ।
হৃয়মানশ্চ যজ্ঞেষু ভূয় এবাভিবর্ধতে।
এবং যদ্যপ্যনিষ্টেষু বৰ্তন্তে সর্বকৰ্ম্ম।
সর্বথা ব্রাহ্মণাঃ পূজ্যাঃ পরমং দৈবতং হি তৎ।”
মনুসংহিতা ৯৩১৭-৩১৯।
অর্থাৎ,
ব্রাহ্মণ সংস্কৃত হউক অসংস্কৃত হউক; অগ্নি যেমন মহতী
দেবতা, তদ্রুপ অবিদ্বানই হউক আর বিদ্বান্‌ই হউক, ব্রাহ্মণ
( ৪২ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
দেবতাস্বরূপ। মহাতেজ। অগ্নি যেমন শশানে থাকিয়াও অপবিত্র
হয় না বরং যজ্ঞকাৰ্যে হৃয়মান হইয়া বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইয়া থাকে,
ভদ্রুপ =াহ্মণেরা যদি নিন্দিতকাৰ্যে প্রবৃত্ত থাকেন, তথাপি
তঁাহারা ফলের পূজ্য, যেহেতু ব্রাহ্মণ পরমদেবতাস্বরূপ।
আবার একটি সংস্কৃত বচন আছে—
“অনাচারে দ্বিজঃ পূজ্যো নচ শূদ্রো জিতেন্দ্রিয়ঃ।
ভক্ষ্যভক্ষকা গাবঃ শূকরঃ কুশমূলভুক্।”
অর্থাৎ,
দ্বিজ অনাচারী হইলেও, পূজ্য, শূদ্র জিতেন্দ্রিয় হইলেও
পূজনীয় নহে; যেমন বিষ্ঠাভােজী গােরুও পবিত্র, কিন্তু পবিত্র
কুশমুলভােজক শূকর অপূজ্য ও ঘৃণাই।
(১০) “শূদ্রযােন্যাঃ প্রজাতােহস্মি তপ উগ্রং সমাস্থিত।
দেবত্বং প্রার্থয়ে রাম সশরীরে। মহাযশঃ।
ন মিথ্যাহং বদে রাম দেবলােকজিগীষয়া ।
শূদ্রং মাং বিদ্ধি কাকুৎস্থ শম্বুকং নাম নামতঃ।
( ৪৩ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত
ভাষতস্তস্য শূদ্রস্য খড়গং সুরুচিরপ্ৰভম্।
নিষ্কাশ্য কোশামিলং শিরশ্চিচ্ছেদ রাঘবঃ”।
বাল্মীকি রামায়ণম্।
উত্তরকাণ্ড ৮৯। ২৪
অর্থাৎ
মহাযশস্বিন রাম! আমি শূদ্র জাতিতে জন্মিয়াছি। কঠোর
তপস্যদ্বারা দেবলােক জয় করিবার ইচ্ছা এবং সশরীরে দেবতা
হইবার বাসনা করি। হে কাকুৎস্থ রাম! আমি আপনার
নিকটে মিথ্যা কথা বলিতেছি না। আমার নাম শম্বুক, আমি
শূদ্র
এই কথা শেষ হইতে না হইতেই
রঘুনন্দন
রাম কোষ হইতে উজ্জ্বল বিমল খড়গ বাহির করিয়া তাহার মস্তক
কাটিয়া ফেলিলেন
।
সেই শঙ্কুকের
(১১) “ব্রাহ্মণা বাধমানস্তু কামাদবর-বর্ণজম।
হ্যাচ্চ তৈধােপায়ৈরুদ্ধেজনকরৈপঃ ॥”
মনুসংহিতা ৯। ২৪৮
( ৪৪ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
অর্থাৎ,
শূদ্ৰবৰ্ণ যদি কামতঃ ব্রাহ্মণকে শারীরিক বা মানসিক পীড়া
দেয়, তবে রাজা নাসিকা কর্ণ ছেদাদি বিবিধ উদ্বেগজনক বধােপায়-
দ্বারা তাহাকে বধ করিবেন।
“একজাতিৰ্বিজাতীংস্তু বাচা দারুণয়া ক্ষিপ।
জিহ্বায়াঃ প্রাপ্লয়াচ্ছেদং জঘন্যপ্রবাে হি সঃ।”
মনুসংহিতা ৮। ২৭০
অর্থাৎ,
একজাতি অর্থাৎ শূদ্ৰজাতি যদি দ্বিজাতিদিগের প্রতি
কঠিন বাক্য প্রয়ােগ করে, তবে ঐ শূদ্র জিহ্বচ্ছেদরূপ দণ্ড প্রাপ্ত
হইবে; কারণ জঘন্যস্থান হইতে তাহার জন্ম হইয়াছে।
“নামজাতিগ্রহন্বেষামভিদ্রোহেণ কুৰ্বতঃ।
নিক্ষেপপ্যায়ােময়ঃ শঙ্কুজ্বলন্নাস্তে দশাঙ্গুলঃ” ।
মনুসংহিতা ৮। ২৭১
অর্থাৎ,
শূদ্র যদি নাম ও জাতি তুলিয়া দ্বিজাতির উপর আক্রোশ
করে, তবে একগাছা জ্বলন্ত দশাঙ্গুল লৌহময় শঙ্কু উহার মুখে
নিক্ষেপ করা কর্তব্য।
( ৪৫ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
“ধর্মোপদেশং দর্পেণ বিপ্রাণামস্য কুতঃ।
তপ্তমাসেচয়েৎ তৈলং বক্তে শ্রোত্রে চ পার্থিব”।
মনুসংহিতা ৮। ২৭২
অর্থাৎ,
দর্পিতভাবে শূদ্র যদি ব্রাহ্মণকে ধর্মোপদেশ করে, তবে
রাজা উহার মুখে ও কর্ণে তপ্ত তৈল নিক্ষেপ করাইবেন।
“সহাসনভিপ্রেপকৎকৃষ্টস্যাপকৃষ্টজঃ।
কট্যাং কৃতাঙ্কো নির্বাস্যঃ স্ফিচং বাস্তাবকয়েৎ”।
মনুসংহিতা ৮২৮১
তার্থাৎ,
শূদ্র যদি ব্রাহ্মণের সহিত একাসনে উপবেশন ইচ্ছা করে,
তবে রাজা উহার কটিদেশ লৌহময় তপ্তশলাকায় অঙ্কিত করিয়া
দেশ হইতে নির্বাসিত করিবেন; অথবা যেন না মরে এইরূপে
তাহার পাছা কাটিয়া দিবেন। “যেন না মরে এইরূপে পাছা
কাটিয়া দিবেন” মনুমহাশয়ের টীকাকার ককভট্টের এটি কি
দয়াপ্রকাশক বাক্য ?
( ৪৬ )

চতুর্থ সঙ্গীত
ইমতিওট।
ঋষি গাে তাদের পূজা পাবে
তােমরা কোন গুণে ?
যা’রা হ’লল ভাগ্যহীন চিরদিন
তােমাদের বিধানে। (১)
ল’ভিলে যে জ্ঞান কঠোর সাধনে,
শূদ্ৰ হ’লাে না অধিকারী সে ধনে,
অধিক কি ক’ব কথা,
শুনলে সেই বেদের গাথা,
দ্রব সীস ঢেলে দিতে গাে তাদের কাণে। (২)
জ্ঞান ধৰ্ম্ম আর ব্রত উপদেশ, (৩)
শূদ্রে দিবে না দিলে এ আদেশ,
( ৪৭ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
র’বে চিরদিন হইয়ে দাস,
উচ্ছিষ্ট করবে গরাস,
র’বে জীর্ণ মলিন বাস পরিধানে। (৪)
অশেষ দুর্গতি তাদের করিলে,
তপস্যায় তত্ত্ব-জ্ঞান এই কি লভিলে,
তারা না হয় ছিল অজ্ঞান,
করলে কৈ শিক্ষার বিধান,
বলে “সৰ্ব্বং খদিং ব্রহ্ম” কোন জ্ঞানে?। (৫)

চতুর্থ সঙ্গীতের টীকা।
(১)
“শূদ্ৰস্তু কারয়েন্দাস্যং ক্রীতমক্রীতমেব বা।
দাস্যায়ৈব হি সৃষ্টোসৌ ব্রাহ্মণস্য স্বয়ম্ভবা ॥ ৪১৩
ন স্বামিনা নিসৃষ্টোহপি শূদ্রো দাস্যাদ্বিমুচ্যতে।
নিসর্গজং হি তৎ তস্য কস্তৎ তদপােহতি।”
মনুসংহিতা। ৮৪১৩-৪১৪
অর্থাৎ,
ক্রীত হউক বা অক্রীত হউক, শূদ্রদ্বারা তিনি দাস্য কৰ্ম্ম
করাইয়া লইবেন। যেহেতু বিধাতা দাস্যকৰ্ম্ম নির্ধাহার্থে উহাকে
সৃষ্টি করিয়াছেন। শূদ্র স্বামিকৰ্তৃক বিমুক্ত হইলেও দাসত্ব
হইতে বিমুক্ত হয় না, দাসত্ব কৰ্ম্ম তাহার স্বাভাবিক। অতএব
কে তাহাকে উহা হইতে বিমুক্ত করতে পারে ?
( ৪৯ )
3

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
(২) “বেদমুপন্বতস্ত্ৰপুজতুভ্যাং শ্রোত্রপ্রতিপূরণ-মুদাহরণে
জিহ্বাচ্ছেদে ধারণে শরীরভেদঃ।”
গৌতমসংহিতা ১২ অধ্যায়।
অর্থাৎ,
শূদ্র যদি বেদ শ্রবণ করে তাহা হইলে রাজা সীস এবং জতু
গলাইয়া তাহার কর্ণ-রন্ধে, ঢালিয়া বুঝাইয়া দিবেন। বেদমন্ত্র
উচ্চারণ করিলে তাহার জিহ্বা ছেদন করিবেন। এবং বেদমন্ত্র
ধারণ করিলে যে অঙ্গে ধারণ করিবে সেই অঙ্গ ভেদ করিবেন।
(৩) “ন শূদ্রায় মতিং দদ্যাগ্নেচ্ছিষ্টং ন হবিকৃতম্।
ন চাস্যোপদিশেদ্ধম্মং ন চা ব্ৰতমাদিশেৎ।”
মনুসংহিতা।৪৮০
অর্থাৎ,
শূদ্রকে লৌকিক বিষয়ে উপদেশ দিবে না,—দাসভিন্ন উচ্ছিষ্ট
দিবে না, হুতশেষ দিবে না, কোন ধর্ম উপদেশ প্রদান করিবে না,
কিম্বা কোনরূপ ব্ৰত করিতে আদেশ দিবে না।
( ৫০,

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
“যাে হস্ত ধৰ্ম্মমাচষ্টে যশ্চৈবাদিশতি ব্ৰতম্।
'সােহসংবৃতং নাম তমঃ সহ তেনৈব মজ্জতি।”
মনুসংহিতা।৪৮১
অর্থাৎ,
যে ব্রাহ্মণ শূদ্রকে ধর্মোপদেশ প্রদান করিবেন, তিনি সে
শূদ্রের সহিত অসংবৃতনামক নরকে নিমগ্ন হইবেন।
**=
৪
(৪) “ধারণং জীর্ণবস্ত্রস্ত বিপ্রস্যোচ্ছিষ্টভােজনং।”
হারীতসংহিতা ২১৩
অর্থাৎ
শূদ্র জীর্ণবস্ত্র পরিধান ও বিপ্রের উচ্ছিষ্ট ভােজন করিবে।
*
(৫) “সর্ববং খদিং ব্রহ্ম।” এইটি বেদের মহাবাক্য।
হার অর্থ “সমস্তই ব্ৰহ্ম।”
( ৫১

পঞ্চম সঙ্গীত।
ভরদ্বাজ উবাচকো ব্রাহ্মণঃ। অর্থাৎ ব্রাহ্মণ কে ?
ব্ৰহ্মেবাচ—ব্ৰহ্মবিৎ সব ব্রাহ্মণঃ । অর্থাৎ যিনি ব্রহ্মকে জানেন।
নিরালথােপনিষদ।
পরােজ—কাওয়ালী।
কি-ব্রাহ্মণ কারণ জাতিজনক হবে ?
ব্ৰহ্মা ত কারণ নহে ব্ৰহ্মায় উদ্ভব সবে। (১)
“ব্রাহ্মণােহস্ত মুখমাসী” (২)
অপৌরুষেয় বেদভাষিত,
ব্ৰহ্ম-পদাঙ্গুষ্ঠ-জনিত,
দক্ষ ত ব্রাহ্মণ্য লভে। (৩)
( ২ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
জপিয়ে গায়ত্রী মাতা,
ব্রাহ্মণ্য ল’ভেছে কোথা ? (৪)
যজ্ঞসূত্রে অযােগ্যতা (৫)
কভু কি নাশবে ?
ধৰ্ম্ম ব্ৰহ্ম বেদবেদ্য, (৬)
যে জনার তপঃসাধ্য,
সেই ত জগত-আরাধ্য,
ব্রাহ্মণ হারে কবে ।
( ৩ )

পঞ্চম সঙ্গীতের টীকা। (১) “ন জাত্যা ব্রাহ্মণশ্চাত্র ক্ষত্রিয়াে বৈশ্য এব ন ন শূদ্রো নচ বৈ স্নেচ্ছাে ভেদিতা গুণকৰ্ম্মভিঃ । ব্ৰহ্মণস্তু সমুৎপন্নাঃ সর্বে তে কিং ন ব্রাহ্মণাঃ। ন বর্ণেনচ জনকাব্ৰহ্মতেজঃ প্রপদ্যতে। শুনীতি।১৩৮-৩৯ অর্থাৎ, এই জগতীতলে জাতিদ্বারা ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য এবং শূদ্র স্লেচ্ছ ইত্যাদি রূপ নির্দেশ হইতে পারে না; যেহেতু ব্রাহ্মণ- প্রভৃতি মানবগণ সকলেই ব্ৰহ্ম হইতে উৎপন্ন, তাহা হইলে সকলকেই ব্রাহ্মণ হইতে হয়। বাস্তবিক মনুষ্যগণ স্বীয় স্বীয় কর্মের দ্বারাই বিভিন্ন ভাবাপন্ন হইয়া থাকে, বর্ণদ্বারা অথবা জনকের দ্বারা কেহই ব্ৰহ্মতেজঃ লাভ করিতে পারে না। ( ৫৪ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
(২) “ব্রাহ্মণােৎস্য মুখমাসীদ্বাহু রাজন্যঃ কৃতঃ।
উরূ তদস্য যদ্বৈঃ প্যাং শূদ্রো অজায়ত।”
ঋগ্বেদসংহিতা।১০৯০১২
অর্থাৎ,
পুরুষের মুখ ব্রাহ্মণ হইল, দুই বাহু রাজন্য হইল, যাহা
ছিল তাহা বৈশ্য হইল, দুই চরণ হইতে শূদ্র হইল।
তৈত্তিরীয় সংহিতায়
মুখ
হইতে শুধু ব্রাহ্মণের উৎপত্তি নহে
আরও অনেকের উৎপত্তির কথা আছে-
“প্রজাপতিরকাময়ত প্ৰজায়েয়েতি স মুখস্ত্রিবৃতং নিরমিমীত
তমগ্নিদেবতানবসৃত গায়ত্রীচ্ছন্দো রথন্তরং সাম ব্রাহ্মণাে
মনুষ্যাণামজঃ পশুনাং তস্মাত্তে মুখ্যো মুখতাে হস্জ্যতাে রসঃ।
ইত্যাদি।
তৈত্তিরীয়সংহিতা।
৭৪-১
অর্থাৎ,
প্রজাপতি ইচ্ছা করিলেন “আমি জন্মিব” তিনি মুখ হইতে
ত্রিবৃৎ নিৰ্মাণ করিলেন। তৎপরে অগ্নিদেবতা, গায়ত্রীচ্ছন্দ,
( ৫৫ ) ,

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
রথন্তর সাম, মনুষ্যদিগের মধ্যে ব্রাহ্মণ এবং পশুদিগের মধ্যে
অজ ( ছাগ) মুখ হইতে উৎপন্ন হইল।
(৩) “দক্ষ প্রজাপতি ব্রহ্মার পদাঙ্গুষ্ঠ হইতে জন্মগ্রহণ
করিয়া কিরূপে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ জাতি হইয়াছিলেন ?”
হিন্দুশাস্ত্র।
“শরীনথ বক্ষ্যামি মাতৃহীনা প্রজাপতেঃ।
অঙ্গুষ্ঠাদ্দক্ষিণাক্ষঃ প্রজাপতিরজায়ত।
মৎস্যপুরাণ ৩৯
(৪) “বেদমাতৃজপেনৈব ব্রাহ্মণাে নহি শৈলজে।
ব্ৰহ্মজ্ঞানং যদা দেবি ! তদা ব্রাহ্মণ উচ্যতে।”
নীলতন্ত্র।
নবত্রিংশ পটল।

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
অর্থাৎ,
হে পার্বতি। কেবলমাত্র সন্ধ্যাগায়ত্রী—জপের দ্বারাই
যে প্রকৃত ব্রাহ্মণ্যলাভ হয় তাহা নহে, যখন মনুষ্য ব্ৰহ্মজ্ঞান
প্রাপ্ত হয় তখনই তাহাকে ব্রাহ্মণ বলা যায়।
“ইষ্টীশ্চ বিবিধাঃ প্রাপ্য ক্ৰংশ্চৈবাপ্তদক্ষিণা।
প্রাপপাতি নৈব ব্রাহ্মণ্যমবিধানাৎ কথঞ্চন।”
মহাভারত। মােক্ষাধ্যায়।
৭৭২-৪
অর্থাৎ,
ঋক, যজুঃ এবং সামাদি বেদাধ্যয়ন, গুরুশুশ্রুষা ও ব্রহ্মচর্যের
অনুষ্ঠান করিলেই যে ব্রাহ্মণ বলিয়া পরিগণিত হইতে পারা
যায়, তাহা নহে। ২
ব্রাহ্মণ্যলাভের প্রকৃত পথ পরিত্যাগ করিয়া ভূরিদক্ষিণ
যজ্ঞের অনুষ্ঠান করিলে ব্রাহ্মণ্যলাভ হয় না। ৪
( ৫৭ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
(৫)
ব্ৰহ্মতত্ত্বং ন জানাতি
ব্ৰহ্মসূত্রেণ
গর্বিত।
তেনৈব স চ পাপেন বিপ্র পশুরুদাহৃতঃ ।
অত্রিসংহিতা। ৩৭২
অর্থাৎ, যে ব্রাহ্মণ বেদ ও পরমাত্মার তত্ত্ব কিছুই
জানে না, অথচ কেবল যজ্ঞােপবীতের বলে অতিশয় গর্ব প্রকাশ
করেন, এই পাপে সেই ব্রাহ্মণ পশু বলিয়া খ্যাত হন।
•*
(৬) “ধৰ্ম্মব্ৰহ্মণী বেদৈকবেদ্যে।”
বেদের প্রতিপাদ্য বিষয় ধৰ্ম্ম আর ব্রহ্ম। যিনি তপস্যাদ্বারা
সেই ব্ৰহ্মকে প্রাপ্ত হন তিনিই ব্রাহ্মণ,জগজ্জনের আরাধনীয়।
দেখ—
“বেশ্যাগৰ্ভসমুৎপন্নো বশিষ্ঠ মহামুনি।
দাসীগৰ্ভসমুৎপন্নে নারদশ্চ মহামুনিঃ ।
কৈবীগর্ভ উৎপন্নে ব্যাসশ্চৈব মহামুনিঃ।
ক্ষত্রিয়াগৰ্ভ উৎপন্নে বিশ্বামিত্রো মহামুনিঃ ॥
মৃগীগর্ভসমুৎপন্ন ঋষ্যশৃঙ্গো মহামুনিঃ।
কুত্তাচ্চৈব সমুৎপন্নো অগস্ত্যশ্চ মহামুনি ।
( ৫৮ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
শূদ্ৰীগৰ্ভসমুৎপন্নঃ কুশিকশ্চ মহামুনি।
তপসা ব্রাহ্মণাে ভূয়াৎ তম্মাজ্জাতি কারণম্।”
কিং তপঃ?
“ব্ৰহ্ম সত্যং জগম্মিথ্যেতি অপরােক্ষজ্ঞানাৎ অখিলব্ৰহ্মা-
দ্যৈশ্বশান্তিসঙ্কল্পবীজসন্ন্যাসন্তপঃ।”
নিরালথােপনিষদ।
“ব্ৰহ্মই সত্য জগৎ মিথ্যা” এইরূপ অপরােক্ষ জ্ঞানদ্বারা
ব্ৰহ্মাদি নিখিল ঐশ্বৰ্যনিবৃত্তিরূপ মানসপূর্বক যে সন্ন্যাস, তাহাই
তপঃ।
( ৫৯ )

উপসংহার-সঙ্গীত
ভৈরবী—একতালা।
বৈষম্যে কি সুখ, বাড়বে কি দুঃখ,
দেখ দেখ, একবার ভাবিয়ে মনে
ভাষা পরিচ্ছদ ধন স্ত্রী বৈষম্য,
বর্ণ-দেশভেদে জাতীয় বৈষম্য,
এ রম্য ভারতে নাহি তাই সাম্য,
কাম্যফল নাহি দানে।
বিদ্বেষে দেশের জ্বলিছে অন্তর,
জনে জনে দেখ আছে মতান্তর,
এ সকল ল’য়ে চলিবে কি ঘর ?
পর পর সদা দেখ রে নয়নে।
( ৬০ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
নিরন্তর অন্তরে (যদি) শান্তিসুখ চাও
ভ্ৰাতৃভাবে (সবে) প্ৰেমালিঙ্গন দাও
নয়ন-আসার * যতনে মুছাও,
যাও যাও দীনের কুটীর-ভবনে।
# আসার—বৃষ্টিধারা।
(৬১)

রাজপ্রশস্তি-সঙ্গীত।
( বিগত দিল্লীর রাজ্যাভিষেক উপলক্ষে রচিত)
ভৈরবী—একতালা।
জয় জয় রবে, গাও আজি সবে,
সম্রাট পঞ্চম জর্জের বিজয়।
যার প্রচণ্ডপ্রতাপে, হিমাচল কঁাপে,
ভয়ে রবি রাজ্যে অস্ত নাহি হয়।
বৈষম্য-পীড়িত আজি এ ভারতে,
সাম্যের পতাকা উড়ে পথে পথে,
নাহি বিড়ম্বনা বাসনা পূরাতে,
সুবাতাস সদা বয়।
জাতি-নির্বিশেষে সুশিক্ষাবিধান,
জাতিনিৰ্বিশেষে করেন দণ্ডদান,
জাতিনিৰ্বিশেষে রাজপদে স্থান,
( পালেন) সুতসম প্রজাচয়।
( ৬২০ )

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
ধৰ্ম্মনীতি-পূৰ্ণ এ রাজ্যশাসনে,
ভারতের দুঃখনিশা-অবসানে,
এ রাজকল্যাণ মাগ ঈশস্থানে,
ভারতনিবাসিচয়।
==
গ্রন্থ সমাপ্ত।
১y}
(
৬৩)

জিজ্ঞাসা-সঙ্গীত।
শান্তিপায়।
প্ৰবৰ্ততাং প্রকৃতিহিতায় পার্থিবঃ
সরস্বতী শ্রুতিমহতী ন হীয়তাং।
জনেষু চ দ্বিজজনতাত্মদৃষ্টিং
করােত্বলং ভুবনপতিং তদর্থয়ে।
আমি বিশ্বপতির নিকট ইহাই প্রার্থনা করি যে, রাজা
প্রজাগণের হিতার্থে প্রবৃত্ত হউন, বেদোজ্জ্বল বা শ্রুতিমধুর
সরস্বতী পরিত্যক্তা না হউন, এবং বিশেষতঃ ব্রাহ্মণগণ সর্বজনকে
নিজ জন বলিয়া ব্যবহার করুন।
ඉක්ම
( ৬৪ )

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Jigyasa-sangeet

Author
Biswas ,umeshchandra
Title
Jigyasa-sangeet
File name
Jigyasa-sangeet
Text
OCR done
Citation
1912
Published
2009/12/13
Publisher
N.a
Language
Sanskrit
Pages
84
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Fiction
Keywords
Biswas ,Umeshchandra
DLI number
512745
Barcode
4990010019790.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
F9t0QPdLick
Download PDF

Jigyasa-sangeet