Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Taj
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
তাজ
শ্রীপ্রমথনাথ রায়চৌধুরী
মূল্য দেড় টাকা
ওসস
ভরস
কালি
চাপাশি
১২৯৪
প্রিন্টার—শ্ৰীশরচ্চন্দ্র চক্রবর্তী
কালিকা প্রেস
২১ নং নন্দকুমার চৌধুরীর ২য় লেন, কলিকাতা
সাদর উৎসর্গ বঙ্গ-সাহিত্যের রসিক-লেখক, পুলিশকোর্টের স্বনামধন্য (শুধু যােগ্যতায় নয়, সততায়ও ) উকীল, সদাহাস্য- মুখ, উদার, সরল, আমার পরমােপকারী মিত্র শ্ৰীমুক্ত কেশবচন্দ্র গুপ্তকে শ্রদ্ধা ও প্রীতির নিদর্শন স্বরূপ উপহৃত হইল গুণানুক্ত গ্রন্থকার
No text on this page.
বিজ্ঞাপন বর্তমানে ছাপা, মলাট ও কাগজের দুৰ্ম্মল্যতা নিবন্ধন সৰ্বসাধারণ পাঠকের সুবিধার দিকে নজর রাখিয়াও ‘তাজের মূল্য দেড় টাকা করিতে হইল। তৎকালে আমার অপরিচিত কিন্তু ইংরাজী কাব্য-রচনা-কলার সহিত সুপরিচিত শ্রীযুক্ত ধীরেন্দ্রকুমার সেন এম, এ, মহাশয় স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া আমার কতিপয় কবিতার সহিত এই কাব্যের প্রথম কবিতা (‘ভারতবর্ষে প্রকাশিত) তাজেরও কবিতায় অনুবাদ করেন। ঐ সব অনুবাদ একটা ইংরাজী সংবাদপত্রে বাহির হয়। আমিও এখন সময় পাইয়া তাহার শােধ তুলিলাম ; স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া তাজের ইংরাজী অনুবাদটী উদ্ধত করিয়া অনুবাদকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও আত্মতৃপ্তি লাভ করিলাম। গ্রন্থকার THE TAJ. (FROM THE BENGALEE OF Mr. P. N. RAY CHOWDHURY ) By DHIREN K. SEN, M. A. Ah pure and white as maidens love the minarets high Oh stones hewn out of heart caress the sky; Is this the Taj ah, nay ; some yearning lover lone Has built a magic shrine of marble-stone, Oft carving out his bloody, burning heart And freezing tears and sighs with frenzied art : Love's emblem pure, love's deathless sign Oft in the cloister's silent sigh One hears a formless, longing cry- My Life! My Life ! Beloved mine !
A graceful widow blushes vain with fruitless fire : Art thou her face? Is this her bodied mad desire ? In tow'rs and minarets launt nymph and fairy In magic forms and raiments airy ; Within the mansions many a love-lorn bride Seeking their long-lost lover's hide, The love-forsaken cuckor lilts their lay; World's love-lost valentine Cries drunk with bitter nectar-wine- Ah, where's my Life ? my dearest, say.
8 Ah, let me see ; 0 Taj, ah, let me turn and gaze on thee, O mighty prince ! O monarch proud of memory ! Art thou a stone or tragic tale of tear and sigh ? Perhaps here burning Radha in her passion high Rememb'ring him of dusky grace and hue Into the murky stream her goldon body threw, And lo ! her lotus-heart turned into marble-shrine ; Ah, no ! perhaps some frenzied lover lone Here daily moans in silent tone- My Life! my Life! Beloved mine!
9
The moon light sends you nuptial robes of pearly dye
And sunshine burial balm, 0 sculptured sigh !
When nymph of morning starts her airy eight
Her smiles illume thy form in heavenly hight;
The golden orb she daily carves anew
And builds a shrine of gold with evening-hue
Where reigns Beloved crowned for aye.
Thirsting to kiss the magic gold
Cries the longing lover bold
Ah! where's my Life ? my dearest, say.
IO
Each marble breathes love's fragrance pure,
O dream in white I thou dost allure :
All men turn mad at sight of thee,
And love-less hearts begin to throb with glee :
Unlettered minds returned with all the fore
And hearts are purged that once were stained with gore.
How sweet, how plaintive is the call of valentine !
Is this a picture or a poet's paradise ?
A madness pure or hunger-cries ?--
My Life! My Life ! Beloved mine !
11 O Shrine of one ! all hearts adore and worship thee. O Taj! O banner of love's victory! Thus built the lover proud who knew no peer A magic shrine that's conquered time and tear : Ah, ruin may seize this beaut'ous tomb, The marble hall of bride may meet its doom,-- Heart's hunger brought to life his valentine, Yet croons a voice or form in heavy tone- It is the lone-lost lover lone- My Life! My Life! Beloved mine !
সূচী ১ ০ ও । ৩ ১২ E BD ১৪ যােগ না বিয়ােগ? হণ না পূরণ? লােকমতের দোলা নববর্ষ ভারতবর্ষে নববর্ষ ভারতবর্ষে দুর্গোৎসব অকালে দীপালী আমার প্রিয়া ১৮ ২৮ ২১ ৩২ হােমরুল ৩৪ পরদেশী বঁধু ... ••• ••• ••• ৪২ ০৪ ৪৪ ৪৭ এ । ১ ৫৪ বিদায়-আশীর্বাদ কবির উপহার স্বস্তিবাচন মধুমাসের মানসী ••• বাণী ••• মাতৃভাষার গ্রন্থকার বঙ্গভাষার লেখক ঋণ-শোেধ চিকিৎসকের প্রতি রােগিণী নারীর দাগাবাজী নারী ৫৭ ••• s E ৭৪ s ৭১ ... রঙ্গ মহল
No text on this page.
তাজ
,
হেহো, মেরা জান ! মেরা জান :
ভাজ
প্রথম প্রণয় সম শুভ্র শির অভে তুলি আজ?
মৰ্ম্মের মর্মর।—এই তাজ ?
, এ কোন বিরহী দেওয়ানা
রাখিবারে প্রেমের নিশানা
খুলে খুলে বুকের পাঁজর,
জমাইয়া অশ্রুর সাগর
মর্মরের ইন্দ্রজাল করেছে নির্মাণ ?
বার বার স্তব্ধতারে চিরে
দেহহীন লেহ কঁদে কি রে,-
হো হো, মেরা জান্, মেরা জান্।
২
রূপসী বিধবা যেন ব্যর্থ রূপে বৃথা পায় লাজ !
তুমি কি গো তারই ছবি, তাজ?
গম্বুজে গম্বুজে ছায়া-পরী
শুয়ে আছে মায়া-রূপ ধরি,
মহলে মহলে ঘুরি ঘুরি’
খোঁজে কারে বিরহিণী হুরী ?
বিপত্নীক পারাবত গায় তার গান।
নিখিলের প্রিয়াহীন প্রিয়
শ্বাসে-পিয়ে বিষাক্ত-অমিয়,
হো হাে, মেরা জান্, মেরা জা!
দেখি, দেখি, ফিরে ফিরে দেখি তোরে, তাজ ।
স্মৃতি-রাজ্যে রাজ অধিরাজ।
পাথর, না কাতর কাহিনী ?
হেথা বুঝি রাধা বিরহিনী
কালো বলে’ কালিন্দীর গায়
গৌর তনু মিশাইতে-হায়,
পাথার শুকায়ে হ’ল যাদুর পাষাণ।
না, এখানে উন্মাদ হাদ
করিতেছে মৌন-আর্তনাদ !
হাে হো, মেরা জান্, মেরা জান্।
তাজ
রৌদ্র মাথে শ্মশান বিভূতি, জ্যোৎস্না দেয় বাসরের সাজ,
হে শােকের চারু কারুকাজ।
পাষাণের যতুগৃহখানি
জ্বালাইয়া যায় উষারাণী,
ভাঙ্গি’ ভাঙ্গি’ সােণার সবিতা
সন্ধ্যা বর্ণে গড়ে স্বর্ণসীতা,
প্রিয়ার প্রতিভূ রাখে প্রণয়ের মান।
বুকে নিতে মায়ার সে হেম
বাহু পাতি ডাকে দীৰ্ণ প্রেম।
হাে হো, মেরা জান্, মেরা জান্!
অন্ধ-প্রীতি পদ্মগন্ধ প্রতি শিলা মাঝ
ধবলের স্বপ্ন তুমি, তাজ ।
অরসিকে করিছ রসিক,
অপ্রেমিকে করিছ প্রেমিক,
বৰ্ব্বর ফিরিছে হয়ে গুণ,
মুনি হয়ে ফিরে যায় খুনী,
কি মধুর কি বিধুর, বঁধুর আহ্বান!
ছবি, না, এ কবির নন্দন?
নেশা, না এ তৃষার ক্রন্দন ?-
হাে হো, মেরা জান্, মেরা জান্
তাজ
3
একেলার পূজা-মঠ সৰ্ব্বঘটে করিছে বিরাজ
প্রেমের বিজয়-ধ্বজা তাজ।
নিৰ্মাইল অপূৰ্ব প্ৰণয়ী
অভিজ্ঞান সৰ্বকালজয়ী ।
ধ্বংস হােক সুন্দর কবর,
চূৰ্ণ হােক মৰ্ম্মর-বাসর,
প্রিয়ারে জীয়াল তার হিয়ার বসান।
তবু কঁদে কায়া, না, ও ছায়া
বিশ্বময় হারাইয়া জায়া ?
হাে হো, মেরা জান্, মেরা জান্
कांडन
যােগ, না বিয়ােগ ?
( মহামতি গােখলের মৃত্যুতে )
ঘুম নয়, ঘুম নয়, হে ব্রাহ্মণ, এ যে জাগরণ!
খাম-শােভা তরে পত্র ঝরে, পুন শীত অবশেষে
তরুরে সাজাতে আসে বসন্তের অভিরাম বেশে।
মৃত্যুর কুঠার-স্পর্শে পল্লবিত অনন্ত জীবন।
তাজ
আছে রণক্ষেত্র নব মহাশূন্যে সদা ঘূর্ণ্যমান।
নিখিল-মুক্তির রথ চালায় সে অখিল-সারথী ;
তােমারে করিতে রথী সে আহবে, ওগো জনপতি,
চাহেন সে ভক্তবাঞ্ছা তুলিতে তােমারই জন্মস্থান ।
মঙ্গল, না অমঙ্গল তব ক্ষতি? নাহি যায় বুঝা,
আমরা ভুলের শিশু, স্কুল নিয়ে মােদের বিচার ;
এই যে ভারতব্যাপী কোটী কণ্ঠে এক হাহাকার,
মহা ভবিষ্যের বীজ রােপিছে না এই বীর-পূজা?
অন্তরে অন্তরে এ যে প্রাণশক্তি কোলাহল করে,
এ কি দেশ-অনুরাগ, এ কি ত্যাগ জ্বলে বিশ্বনাথে ।
দশের কল্যাণ-যজ্ঞে স্বার্থ খায় চরু দশ হাতে,
মৰ্ম্মে মর্মে লজ্জা পেয়ে সে পাষাণ অশ্রু হয়ে ঝরে।
তাজ
এ ভূমির প্রতি অণুপরমাণু প্রেরণা, জীবনী।
ক্ষুদ্র তারে তুচ্ছ করে; অভিশপ্ত নয় ত এ মাটী,
এই ধূলা ধরে’ যদি থাকি মােরা প্রাণপণে খাঁটি,
মরু ফেটে উচ্ছ সিবে ভােগবতী--পতিত-পাবনী ।
এ জাতি সামান্য নয় ; কত সতী, সাধু, মহাজন ।
গাছ-পাথরের মুখে ভগবান্ কথা কন এসে,
সাধে রাজা রাজ্য ছাড়ি বনে যায় ভিখারীর বেশে ?
যুগে যুগে আসে ত্রাতা শবে দেয় মৃত-সঞ্জীবন ।
মহারাষ্ট্র-ব্রহ্মচারী, ব্যাপ্ত তুমি আত্মায় আত্মায়,
কাছে থাকি দূরে ছিলে, দূরে গিয়ে এলে বড় কাছে,
প্রতিভার প্রতিষ্ঠার এ সবারই মাত্রা, সীমা আছে,
চরিত্রের মন্ত্রবল জয় করে জগৎ হেলায়।
তাজ
হে মহাপুরুষ, তব ছাই না ত, ও যে অগ্নিকণা।
সেই উত্তরাধিকার দেশময় পড়েছে ছড়ায়ে,
একের শ্মশান-ভষ্মে কি অমৃত চলেছে গড়ায়ে,
লক্ষ লক্ষ-কোটি কোটি জীবনের হতেছে সূচনা।
অকালমৃত্যুর তব হয় ত বা ছিল প্রয়ােজন,
মরণ ও জীবনের এ সঙ্কটে-ঘাের সন্ধিস্থলে,
উদ্ধ হতে অন্ধকারে মুহুর্মুহু দিব্য দীপ জ্বলে,
দশের মঙ্গল-লক্ষ্যে তােমারই সে পথ প্রদর্শন।
ঢাল ঢাল বরাভয়, মুক্তি লাগি মুক্ত লােকবাসী।
ও পদাঙ্ক-পদধূলি শিরে শিরে নির্মাল্যের প্রায়,
তব অশরীরি বাণী গরজিছে কি যেন আশায়,
হবে ভারতের জয়, জয়ী হবে ভারতনিবাসী!
তাজ
হরণ, না পূরণ ?
( কৰিবর দ্বিজেন্দ্রলালের মৃত্যুতে)
দ্বিজেন্দ্র, এ ভােজবাজী, ক্ষণিকের প্রপঞ্চ প্রমাদ,
মৃত্যুর অঙ্গুলী-স্পর্শে ভেঙ্গে যায় তাসের প্রাসাদ,
ওগাে রঙ্গরাজ! এ যে মহা ব্যঙ্গ, ঘাের ফকিকার,
আলাে শুধু অন্ধকার, মায়া-নাট্য, ওগাে নাট্যকার।
ধোঁয়া-ধোঁয়া, আবছায়, যেন এটা বাস্পের ভুবন,
মুঠায় কি ধরা পড়ে দেবতার মানস-স্বপন?
কত দেশ, কত জাতি, কত যুগ প্রাণ দিল ডালি,
কালের গহ্বর তবু চিরদিন খালি-শুধু খালি !
কত গতকল্য দিল আজিকারে ছাড়ি যাত্রাপথ,
কত না আবর্তে ঘুরি চলে গেছে বিবর্তের রথ ।
তাজ
কত জোছনার শব বুকে লয়ে উঠিতেছে ভানু,
কত সৃষ্টি রেণু করি বিশ্ব গড়ে অণু-পরমাণু !
এই ছিল। এই নাই। কোথা গেল ? শূন্যে এ জিজ্ঞাসা,
এ পারের কাণ নাই, ও পারে নাই বুঝি ভাষা !
হে সর্বমঙ্গলা, পদে কঁাদে বিশ্ব-শিশু নিরাশ্রয়,
কর তারে চক্ষুষ্মণ নিরালয়ে খুজিতে আলয় !
বড় ভাগ্যে জন্ম নিলে, এই ভূমে ; কবির এ ঠাই,
বড় পুণ্যে ধন্য হয়ে, হলে তার ধূলাতেই ছাই !
ধূলি ত সামান্য নয়, এ ধূলি যে কালের পঞ্জর,
ধূলি মাতা, ধূলি ভ্রাতা, ধূলি ধৰ্ম্ম, ধূলিই ঈশ্বর।
খাটি চিনেছিলে, তাই গেয়েছিলে মাটীর মহিমা
প্রাণ ভরে পূজেছিলে বাঙ্গালীর মৃন্ময়ী প্রতিমা।
নাই থাক মাতা, পিতা, জাহা,–হেথা করিতে রােদন,
তব তরে ঘরে ঘরে কাদে আজ অগণ্য স্বজন।
এই ত মায়ের বর, এই ত মায়ের দুর্বা ধান,
এক জন চলে গেলে নিখিলের শূন্য হয় প্রাণ।
এ যে সত্য,নহে ফাকি, নহে মৃত্যু,—চির অমরতা।
ভাগ্যের ধিক্কার মাঝে করুণার স্নেহের বারতা।
যাও কবি, স্বপ্ন-লােকে, মনােগামী পুষ্পকের রথে,
সুরবালা সনে বাণী বর্ষিছেন লাজাঞ্জলি পথে।
ওই শােন, মেঘে মেঘে দ্রিম্ দ্রিম্ বাজিছে ষড়জ,
সপ্ত-সুর-সরােবরে দ ম ফুটিছে সরােজ।
মত্ত করী সম ভাই, পশ গিয়া কমল-কাননে,
মুক্তিস্নান কর নীরে, জ্ঞানাঞ্জন মাখ দু'নয়নে।
ধীরে হবে প্রতিভাত, কুয়াশায় ছিল যাহা ঢাকি,
ধরা দিবে মায়া-মৃগ জীবনে যা দিয়ে গেছে ফাঁকি।
দেখিবে নিকটে তব অভিনব মহানাট্যশালা,
মহাকাল অভিনেতা, বিশ্বেশ্বর রচিছেন পালা।
আবার আসিবে তুমি ;-যুগে যুগে জন্মে জন্মে যারে
মা বলেছ, তার কোল চির-স্নেহে টানিবে তােমারে ।
এ যে উৎসর্জন তরে সুধাকুণ্ডে আত্মবিসর্জন,
অসমাপ্ত আছে যাহা, হবে, বন্ধু, হবে তা পূরণ !
হারায় না কিছু বিশ্বে, প্রকৃতির গুছান স্বভাব,
দ্বিজেন্দ্র পূরাবে এসে দ্বিজেন্দ্রর অকাল অভাব।
তাজ
লােকমতের দোলা
উঠেছিলাম দেশের মাথায়
নিদাঘ-সূৰ্য্য যেমন জ্বলে,
হঠাৎ একদিন পড়লাম খসে
লােকমতের অস্তাচলে।
দেশের স্তুতির দকা হাওয়া
হঠাৎ কবে অবসান,
ক’টি ভক্তের করতালি
বঙ্গের যেন চোরা-বাণ ।
যে পথ দিয়ে গেলে আগে
ফাতত আকাশ ‘ধন্য’ রবে,
সে পথ দিয়ে যেতে শুনি,
দূয়ে দিচ্ছে শুধুই সবে।
তাজ
কোথায় গেল পুষ্পবৃষ্টি,
লশ্ব-প্রণাম পড়ে’ পায়ে?
দিচ্ছে ধূলাে চেলার দল
দিব্বি গুরুদেবের গায়ে।
কোথায় গাড়ী টানার হুজুগ,
অভ্রভেদী জয়-রব?
দেখলেই আমায় হরিবাে,
আমি ওদের শান-শব !
আমার তৈলচিত্র ঘিরে
সাজত আগে কুসুম-হার,
শােভে এখন জুতার মালা-
নূতন প্রেমের উপহার।
ষে সব জন-সমারোহ
মাৎ কম বাক্য-ছটায়,
তারাই আমার কুশপুত্তল
দগ্ধ কচ্চে মহা ঘটায়।
সাবাস্ রে তুই জন-মন,
এই আশীষ, এই অভিশাপ
কে জানে তোর ফুলের মালা
কখন হয় কালসাপ ।
তাজ
নববর্ষ
হৃষ্ট কুটের ডাকে,
চঞ্চল কাকের পাখে
এল এল ওই নববর্ষ,
ঊষার সােণার থালে গােলাপের ফিকে লালে
নবীনের নব পদ-স্পর্শ।
বেলা যুথিকার ঠোটে উৎসবের হাসি ফোটে,
মালঞ্চে ঝুলনা বাঁধে রঙ্গে,
আনন্দে নিদাঘ-বায়
মাধবী-মঙ্গল গায়,
ঢলে পড়ে কুসুমের অঙ্গে।
তাজ
১
আবার সরসী বুকে ঢেউ তুলি নাচে সুখে,
অঠাই মাঝারে দেয় ঝম্প,
নিদ্রা-বিজড়িত আঁখি চমকি উঠিছে পাখী ;
পাতায় পাতায় প্রাণ কম্প!
পাখীর গলায় বেণু,
শুনি’ ধায় মত্ত ধেনু,
ফেলিয়াছে ছিড়ি সব বন্ধ,
নব-পঞ্জিকার পাতে
প্রকৃতির নিজ হাতে
আবাহন-গীতি-অনুবন্ধ।
বঁধুর চুমােটি ঠোটে
বধূ শয্যা হ’তে ওঠে,
কেড়েছে কে আজি তার লজ্জা,
হেরে বাতায়ন-পথে
অতিথ, তােমায় রথে,
ভুলে গেছে সামালিতে সজ্জা।
পুত্রবতী ভাবে, ফিরে ফুলজ্জা হবে কি রে ?
সে দিনেরই মত কঁপে বক্ষ।
আগুনের মত গাল,
পরাণে দারা তাল,
ভিজে ওঠে সুখে আঁখি-পক্ষ।
তাজ
খােকা কেন অকারণে দৃঢ় করি’ আলিঙ্গনে
খুকীরে করিছে ব্যতিব্যস্ত ?
চপল দাদার হতে
যেন এ মধুর প্রাতে
প্রাণ মান করিয়াছে ন্যস্ত।
ওদিকে বুড়ার দল
করিতেছে কোলাহল,
প্রাণে প্রাণে রােমাঞ্চের চিহ্ন,
কোথা সে মােহিনী-মেশা
তৃষার কুহক-নেশা
স্বপনের জাল শত-ছিন্ন ।
স্বাগত,
সুদীর্ঘ বারটী মাস
সহিয়াছি উপবাস,
বড় আশ, পাব তব দর্শ,
মাধবীনাথ, সুপ্রভাত সুপ্রভাত।
এস হর্ষ, এস নববর্ষ।
পুরাতন, হও দূর,
হােক আজ চূ চুর
তব সনে বিদ্বেষের স্তম্ভ।
সংসারের খেলা-ঘরে
মিলেছিনু একত্তরে,
কবে হয়েছিল দল ভঙ্গ ?
তাজ
সে কথায় কাজ নাই, ভাই চিরদিনই ভাই,
অনাদৃতে দাও পুন সঙ্গ।
আজি মার্জনার লাগি তােমাদের কৃপা মাগি
দুয়ারে দাঁড়ায়ে যােড়-হস্তে,
আর থাকিও না সরে’, কোল দাও প্রাণ ভরে,
পদধূলি দাও মাের মন্তে !
काऊ
ভারতবর্ষে নববর্ষ
হ ভারত, এল এ নববর্ষ
নিয়ে পুরাতন তব আদর্শ ;
কহে উইলসন শান্তিসভায়,—সব জাতি ভাই-ভাই।
কি গভীর ভাব, কি উদার ভাষা, বিরাট মনন, বিশাল পিপাসা,
এর পায়ে যদি দুরাশা বিকায়ে স্বার্থ হত রে ছাই ।
দেশ-হিত-ছলে পরস্ব হরণে, বলের উম্মায় দুৰ্বল পীড়নে,
বপ্ল-বিকারে মানুষ-শিকারে পারিত না যেতে কেহ।
-তাণ্ডৰ তবু কে বিনাশে, ভারত-ভারতী বিদেশে বিকাশে,
মানুষ ত নয় একেলার লাগি, হৃদয় সবার গেহ।
ধৰ্ম্মের গ্লানি হেরি’ সকাতরে নামিল ভারত জগত-সমরে,
মােহিয়া প্রতীচী দধিচীর তেজ শত শত প্রাণে জালি ।
‘হমাদ্রি হইতে কুমারী অবধি দেশ-দেশান্তরে গাহিল জলধি,
ভারত জিনিল স্বাধীনতা-রণ বুকের শােণিত ঢালি।
শান্তি-প্রভাতে ‘শক্তি-সভাতে' ঘোষিল গরবে নূতন বর্ষ,-
সকলের সাথে জয়-ফল নিতে আসিছে বিজয়ী ভারতবর্ষ ।
১৯
ক
সূরা-অংশ নিয়ে মাতাল অন্ধ বুনানী শক্তি বৃন্দে’ দ্বন্দ্ব !
সকলেই কয়,—মােরে দয়াময়, দাও জয়-পুরস্কার।
চুর্ণ ধৰ্ম্ম-মঠ, কীৰ্ত্তি-সৌধ যত কলা, কৃষি, শিল্প-বাণিজ্য ব্যাহত,
নরঘাতী যন্ত্রে শুধু রসায়ন বিজ্ঞানের আবিষ্কার।
স্বাধীনতা স্নান, সভ্যতা বিলীন, ব্যাধি-অনশনে নগর বিপিন,
মানব-দানব অট্ট হাসিয়া যুগের শ্মশানে নাচে ।
মানবী দানবী? একি বিভীষিকা! হেরি’ ইয়ােরােপে যায় আমেরিকা,
ভারতের ভাষে দুরাশের পাশে হত্যাকাণ্ডে ক্ষান্তি যাচে।
বলে,-এ ধরণী জননী সবার, বিশ্ব-মানব এক পরিবার,
দাস কেহ নাই, এসেছে সবাই সম-অধিকার নিয়ে।
হিমাদ্রি হইতে কুমারী অবধি দেশ-দেশান্তরে গাহিল জলধি,
ভারত জিনিল জগতের রণ দেহের অস্থি দিয়ে।
শান্তি-প্রভাতে শক্তি-সভাতে ঘােষিল গরবে নূতন বর্ষ,
সকলের সাথে জয়-ফল! নিতে আসিছে বিজয়ী ভারতবর্ষ ।
হেরি’ রক্ত-গঙ্গা কুরুক্ষেত্রে
কবি কৃষ্ণবর্ণ সজল নেড়ে
শান্তি-মন্ত্রে রণ-তন্ত্রের ভ্রান্তি করিল শেষ।
শ্বেত-জনপতি ঘেষে সেই ভাষে উদার শাস্তি জামা পাশে,
আদর্শের তরে শেষে অস্ত্র ধরে ব্যর্থ জানি’ উপদেশ ।
জলে স্থলে যুদ্ধ, কামানে কামানে, শূন্যে রণ ক্রুদ্ধ বিমানে বিমানে,
নিবারিতে বীর বিশ্ব-অরাতির জগত-জিগীষা ঘােরা
অসি কেড়ে নিতে অসি নিল করে, যাবৎ ক্ষান্তি না এল সমরে,
করুণার সিন্ধু, নিদানের বন্ধু এ কি সে পাগল গােরা ?
জয়ীর নিঠুর ধৰ্ম্ম উড়ায়ে, জিতের বিধুর মর্ম জুড়ায়ে
সফল করিল গীতার স্বপন, প্রতীচীর ঋষি কি এ?
হিমাদ্রি হইতে কুমারী অবধি দেশ-দেশান্তরে গাহিল জলধি,-
ভারত জিনিল স্বাধীনতা-ণ দেহের অস্থি দিয়ে।
শান্তি-প্রভাতে শক্তি-সভাতে’ ঘােষিল গরবে নুতন বর্ষ,
সকলের সাথে জয়-ফল নিতে আসিছে বিজয়ী ভারতবর্ষ !
তাজ
কৈশর,
এ যুগে একার তন্ত্র ভঙ্গ,
জয় তব জয়, হে জন-সঘ,
তুমিই সাধনা, তুমিই সাধক, ধরণীর কর্ণধার।
ভষ্ম নিপাতি’ ও পূত রুধির, জার, নীরে ও নাদির
বুদ্ধ, নানক, ঈশা, মহম্মদ তােমা সেবি’-অবতার ।
জন-নারায়ণে করিয়া সারথী ক্রমােন্নতি পথে শতাব্দীর গতি,
দেশের স্বামীত্ব কারও স্বার্থ-বিত্ত এ কালে কি হতে পারে ?
মাধব মাসের প্রথম দিবস
শুভ বরষের যাত্রা-কলস
অভয়ে বরিয়া বিজয়ে ভরিয়া সাজায় ভারত-দ্বারে ।
হে ভূস্বর্গ, ওগো দেবােপম জাতি, পাশব বলের দম্ভে আঘাতি
এ মহা প্রলয় দিতে তব জয়, তােমারেই মুক্তি খালি।
হিমাদ্রি হইতে কুমারী অবধি দেশ-দেশান্তরে গাহিল জলধি,-
ভারত জিনিল জগতের রণ বুকের শােণিত ঢালি।
শান্তি-প্রভাতে ‘শক্তি সভাতে ঘােষিল গরবে নূতন বর্ষ,
সকলের সাথে জয়-ফল নিতে আসিছে বিজয়ী ভারতবর্ষ ।
তাজ
ভারতবর্ষে দুর্গোৎসব
আসন তাহার শুধু কি বঙ্গ,
বিশ্ব বিকাশ যে পদ স্পর্শে ?
দুর্গোৎসবের নব তরঙ্গ
উছলিত সারা ভারতবর্ষে।
বাজান ঈশানী আহ্বান-শঙ্খ,
ঈশান শ্মশান জাগান নৃত্যে,
শত-সহস্র! ক্রমে অসংখ্য
জনতা জাতির মিলন-তীর্থে ।
এস গাে শক্তি, কর মা স্পর্শ,
উঠুক্ আবার ভারতবর্ষ ।
তা
২৩
আঁধারে ঘুরিছে জগৎ অন্ধ,
চৌদিকে শ্মশান, শবের গন্ধ ।
ছুটিছে উল্কা প্রলয়-দৃপ্ত,
বহিছে ঝটিকা প্রদক্ষিপ্ত ।
অশনি-মন্দ্র,
করকা-বৃষ্টি,
নিবিড় তিমিরে লুপ্ত সৃষ্টি
চমকে চকিতে চপলা-দীপ্তি
নিমেষের সে কি নেত্র তৃপ্তি ?
অনন্ত আলাে কি রাখে নি ছু
বিঘ্ন-তরণ চরণ-পদ্ম ?
***
এস গাে শক্তি, কর না, স্পর্শ,
জাও আবার ভারতবর্ষ ।
তাজ
২৪ জগতের হিতে ন্যায়ের জন্য বিদেশে মরিতে পাঠায় সৈন্য- তারা কি ক্ষুদ্র, তারা কি তুচ্ছ ছিল যারা কভু সবার উচ্চ? আজিও মুক্ত করিতে বিশ্ব আপনারে যারা করিল নিঃস্ব? অন্নপূর্ণা আপন অন্ন জগতে বিলায়ে মানিছে ধন্য। তারিণী বিশ্ব-রােগগ্রন্থে আত্মার স্বাস্থ্য দেয় শ্রীহস্তে। এস গাে শক্তি, কর মা, স্পর্শ, জাগুকৃ আবার ভারতবর্ষ। তাজ
২৫
ছিন্নমস্তা-পূজা নিষিদ্ধ!
যুনানী মজিল ভুলি সে শিক্ষা,
আমরা তাল-বেতাল-সিদ্ধ,
শক্তি-মন্ত্রে মােদের দীক্ষা ।
নেত্র উপাড়ি বীর আদর্শ
চাহিল যে দেশে পূজিতে শক্তি,
দেখায় আজও সে ভারতবর্য
আত্মারামের অভিব্যক্তি
!
এস গাে শক্তি, কর মা, স্পর্শ,
উই আবার ভারতবর্ষ ।
তাজ
২৬
হৃদয় শােধন বিনা যে সৈখ্য
সুযােগ প্রতীক্ষা লাগি তা শুদ্ধ।
পরস্ব-হরণ-পীড়ন লক্ষ্য,
অসূয়া-অসুর চাহিছে যুদ্ধ ।
সভ্যতা নামে।পাশব-স্ফুর্তি
নাশিতে ধর মা, করুণা-খগ,
পূজি সে অসুরনাশিনী মূর্তি
ভারত আনুক জগতে স্বর্গ।
এস গাে শক্তি, কর মা, স্পর্শ,
উক্ আবার ভারতবর্ষ।
তাজ
২৭
আবার ভেদিয়া মুনির জন্য।
বহু পতিত-পাবনী গঙ্গা,
গােরা, মহম্মদ, নানক, বুদ্ধ
আসুক জিনিতে জীবন-যুদ্ধ।
আক্বর, প্রতাপ নূতন ছন্দে
আসুক্ এ যুগে মিলন-দ্বন্দে ।
আসুক বান্দা বন্দী বক্ষে
‘
ফিসিয়ার’ আর্দ্র-চক্ষে ।
উঠু বাজায়ে বিজয়-তুষ
নবজীবনের নবীন সূর্য।
এস গো শক্তি, কর মা, স্পর্শ,
জাগুক আবার ভারতবর্ষ ।
তাজ
অকালে দীপালী
( বর্ধমান প্রাসাদস্থ ‘কৃষ্ণ-সাগরে’ উৎসব )
‘কৃষ্ণ সায়রের নীর উছলি উজলি
দীপালী ? না, বাণী-পদে হৃদি-রক্তাঞ্জলি ?
পুলকিত বর্ধমান পূজিছে ভারতী,
ভাবে ঢুলু ঢুলু, করে মায়ের আরতি।
অজানা ধাত্রীর ক্রোড় হতে পলাইয়া
উলঙ্গ রূপের শিশু এল কি নাচিয়া ?
পুড়িছে আতজী !-শুনি, অলি গুঞ্জে,
বহ্নি-পুষ্পবৃষ্টি !–হেরি, কলি ফোটে কুঞ্জে।
কালাে জল আলো করে কল-হাস্য ছুটে,
রাশি রাশি রশ্মি-পুষ্প ফুটে, পুন টুটে।
সলিলে অনলে এ কি অপূর্ব মিতালী
বাণী-পূজা? না, এ দেখি অকালে দীপালী ?
এর মাঝে জ্বলিতেছে মাতায়ে হৃদয়
সহৃদয় ‘বিজয়ের’ হৃদয়-বিজয়।
!
ठीक
আমার প্রিয়া
রুক্ষ-মূৰ্ত্তি, শুষ্ক-বাণী, বেজায় বাড়ে চোখ-রাঙ্গানি
আদরে তা’য় ডাকি যখন প্রিয়ে।
ফাটে আমার কর্ণন্ধ, ভাবি, আমাৰ কপাল মন্দ,
পাগল ছাড়া করে কি কেউ বিয়ে ?
গৃহ-কর্মে ভারী ঘূৰ্ত্তি, প্রেমের চর্চায় অগ্নি-মৃত্তি,
চাচা-ছােলা সম্ভাষণ সব তার,
নাই রােমান্সের লেশও প্রাণে, প্রাণের ব্যবসা নাহি জানে,
রঙ্গ-রসের নাহি ধারে ধার ।
তাজ
শে পাশে দেখছি অহে, দাম্পত্য-প্রেম অহরহ,
ভাবি, বাহ, মিলেছে কি ঘুড়ি।
মি যেমন বেজায় গদ্য, তিনি তেমনি নেহাৎ গদ্য !
যৌবনেই আমরা বুড়া-বুড়ী।
ননি মেনে গেছে হার, রবি দ্বিজেন কোথায় আর ?
শিখলে না সে,‘বড়ই ভালবাসি।
সংসার ত নয়, বন্দীশালা। বললাম,-ও মন, কাশী পালা।
নাটক-নভেল কল্লেম ভস্মরাশি !
ত্রার দিনে পড়লেম রােগে সন্নিপাতের বিষম ভােগে,
শয্যাপাশে দেখতাম ব্যাকুল মেহে,
ষাদিনী একটি নারী
চোখে রুধি' অশ্রুবারি
সেবার হাত বুলায় আমার দেহে।
তাজ
হচ্ছে বনন, হচ্ছে ভেদ, সাফ করছে সেই ময়লা-ক্লেদ ।
খােসূবােতে তার হচ্চে যেন নাওয়া।
কই অরুণ ? এ করুণ ছবি । আহার নিদ্রা গেছে সবি,
কি আবেগে করছে আমায় হাওয়া।
বেশ-ভূষা তার গেছে কোথায়, সি দূরের টিপ শুধু সীগায়--
সেটী রােজ দেখি, বেড়েই যায়,
গতের লােহা, শাঁখা দুটি
শীর্ণ হাতে আছে ফুটি
অর্গল হয়ে যমের দরজায় ।
বমে প্রেমে দেখে লড়াই বুঝলেম সেদিন সতীর বড়াই,
ভাবলাম তারে দেবী রােগের ঘােরে,
বাব নিতে পায়ের ধূলি-- আমার হাত তার হাতে তুলি
দাসী আমি ।-বললে স্নেহে মােরে।
.
তাজ
হােমরুল
গিন্নি বল্লেন- ওগাে বুদ্ধির চেকি,
ছেলেটা যে আট বছরে পল,
ইস্কুলে দাও, সুরু কর শাসন,
আদর দিলেই বাপের কাজ হল ?
নাটক লিখছ আহার-নিদ্রা ভুলে,
লােকচরিত্রে দখল তােমার ছাই
ছেলে যদি মানুষ করতে হয়,
আদর শাসন দুই-ই সমান চাই।
যতই হাসি, গিন্নি ততই কষ্ট,
আমারও মেজাজ গেল একদিন বেঁকে,
বল্লেম, “থােকা, খুব হুসিয়ার কিন্তু,
শাসন সুরু হ’ল এবার থেকে।
শুনে’ দুষ্ট, একটু নষ্ট হেসে
বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে বলে,-ইস,
তােমায় দেখে ভারি আমার ভয়।
আড়ি ! আড়ি!—দেবও না আর কি।
মিষ্টি হাসি ভাসিয়ে নিলে পণ,
বুকের মাঝে রাখলেম ধৃষ্টে ধরে,
আবেগ ভরা চুমায় চুমায় তারে
দিলেম বেজায় ব্যতিব্যস্ত করে ।
প্রিয়া এসে ফেল্লেন মােদের ধরে,
বল্লেন, দস্যি, যাবি গুণ্ডার দলে ।
কোথায় তাের শেলেট, পেন্সিল, বই?
আমায় বল্লেন, শাসন একেই বলে ?
বল্লেম, ব্যস্ত কেন? সুদ-আসলে
‘বিশ্ববিদ্যা’ কবে ছেলে শাসন!
বেত্র দিয়ে ছাত্র গড়তে আগে,
হালের পাঠ্য ছেলে কছে পেষণ !
ফ ৰ্ত্তি করে ভর্তি হল যাদু
পেয়ে মােদের স্নেহের বিদ্যালয়,
নি সে পাঠ চুম্ব-আলিঙ্গনে,
দু’দিন, আহা, দু’দিন বইত নয়।
গ
তাজ
পরদেশী বঁধু
( আমার নবজাত প্রথম দৌহিত্র )
ওগাে পরদেশী বঁধু, এস এস, এস ঘরে মাের,
এস প্রাণ, এস মন-চোর।
এ কি স্বপ্ন ? এ কি ভােজবাজী ?
লহমার পরিচয়ে আজি,
পরাইলি কলঙ্কের ফাঁসি,
খল, তাের ছল-ভরা হাসি
কলিজাটি কখন উঘারি
মেরে গেল মােহন কাটারি।
এ কি জ্বালা, সৰ্বাঙ্গ জুড়ায়।
এ কি বিষ, অমৃত ছড়ায় !
ফাগুয়ায় লাল হয়ে ডাকে বুকে পীরিতি-ফোয়ারা,-
লুঠ লিয়া দিল, মেরি দিল কো পিয়ারা !
তা
হােরি, আজ হােরি! আয়, দুইজনে খেলি পিচকারী,
মেরি জান, কলিজা হামারি।
দিবানিশি হিয়া-মধু ঢালি
রাখিয়াছি রূপ শিখা জ্বালি,
স্বপনের মােহ বুকে ভরে
যৌবনটি রাখিয়াছি ধরে,
পরদেশী বঁধুয়া কখন
চাবে এসে জীবন-যৌবন।
আজ যেন আমার সকলি
মনে হয়, পূজার অঞ্জলি।
-
ফাগুয়ায় লাল হয়ে ডাকে বুকে পীরিতি-ফোয়ারা,
লুঠ লিয়া দি মেরি দিল কে। পিয়ারা।
তা
৩৬
আজি মাের মত্ত হিয়া সাজিয়াছে উন্মাদিনী রাই,
তুই যেন নিঠুর কানাই ।
ঘরে ঘরে হেরি বৃন্দাবন,
বাঁশী আজ বিহগ-কূজন ।
দিগন্তের স্বচ্ছ নীলিমায়
কালিন্দীর তরঙ্গ থেলায়।
শৈলশৃঙ্গ-চূড়া মনােলােভা!
শস্য হাস্যে পীতধড়া-শােভা ।
সখা বলি’ আলিঙ্গিতে ধাই—
সারা বিশ্ব আমারি কানাই ।
ফাগুয়ায় লাল হয়ে ডাকে বুকে পীরিতি-ফোয়ারা,-
লুঠ লিয়া দিল, মেরি দিল কো পিয়ারা।
কোথা হতে এলে বঁধু? সুধাইলে, মুখ পানে চাও,
আশা দিয়ে ভাষাটি লুকাও !
কোথা--কত দূরে সে বিদেশ ?
কোথায় আরম্ভ, কোথা শেষ?
বল, সে কি আলল, না আঁধার,
শ্মশান, না সূতিকা-আগার ?
কেন যাওয়া-আসা ফিরে ফিরে,
যে ঘােরায়, সেও ঘােরে কি রে ?
ও হাসিতে এ যে তরঙ্গিত।
জীবনের বিজয়-সঙ্গীত।
ফাগুয়ায় লাল হয়ে ডাকে বুকে পীরিতি ফোয়ারা,
লুঠ লিয়া দিল, মেরি দিল্ কো পিয়ার।
তাজ
এ
এ মােহিনী কোথা হতে শিখে এলে ও বিদেশী বঁধু ?
ঢেলে দিলে প্রাণে কোন্ মধু!
কোথা গেছি বৃথা অভিসারে ?
ধ্যানের দেবতা মাের দ্বারে।
পৌর্ণমাসী চন্দ্রাতপ ধরে,
মলয় চামর আজ করে,
মধুর মুরলী বাজায়,
মুঞ্জ কুঞ্জ বাসর সাজায়।
এস প্রাণে, পরাণের ধন,
লাজে সরে যাক ত্রিভুবন !
ফাগুয়ায় লাল হয়ে ডাকে বুকে পীরিতি-ফোয়ারা,-
লুঠ লিয়া দিল, মেরি দিল্ কো পিয়ারা।
তাজ
বিদায়-আশীৰ্বাদ
( আমার একমাত্র কন্যার বিবাহে)
খামা, থানা, সানাই থামা,-হাসি, না ও কাঁদন ?
পাঁচ প্রাণ কে ছাদা করে খুলছে এটী বাঁধন।
বুকের ভেতর ঝড় উঠেছে, আগুন জ্বলে মাথায়,
কলজে যেন উপড়ে আসে অজানা এক ব্যথায় ।
পাষাণ হ’তে চাই, যায় যে ফেটে গলে’ প্রাণ, ,
মন বেঁধে আজ গাইতে চাই, কেঁদে ওঠে গান ।
খুলে ফ্যাল্ তাের ফুলের সজ্জা, লজ্জা নাই কি রাতি?
আলাে নাই আজ, নিবিয়ে দে না উৎসবের সব বাতি।
ওরা বল্ছে,-মিছে মায়া, সংসারের এ ধারা।
জানে না ত, নয়নধারা বিশ্ববিধি হারা ।
ভর দুনিয়া আমার চোখে ছায়ার মত লাগে,
শুধু আমার মেয়ের মূর্তি সারা বিশ্বে জাগে !
তাজ
চিরদিনই আমার,-হঠাৎ সে আর আমার নয় । তােমরা বলবে,-বিধির বিধান, সবাই এম্নি সয় । মালী বাড়ায় চারাটিরে বুকের রক্ত দিয়া, তারে কাড়তে এলে, বল, কি করে তার হিয়া ? জানি, জানি, বিরহের এই মধুর উৎসবে, বুকের আগুন চাপা দিয়ে মুখে হাসতে হবে । তুই কোথা যাস্ ? দাড়া, ও মা, এতই কি তাের ত্বরা ? যদিও আজ বুকের মাঝ তপ্ত বালির চর, সময় রে, তাের যাত্রা-তরী পড়বে না তা’য় ঠেকি, একটু তারে দেখি, শুধু একটুখানি দেখি । কখন দেখা ফুরিয়ে যাবে, ডাবে ওরা ‘আয়! না, না, ক্ষণ যে যাবে বয়ে, বিদায়, ও মা, বিদায় ! চোখের জলে ভাসছে—তবু পিতার আশীৰ্বাদ এ, ভগবানের কৃপা যে তা’য় টলে, গলে, বহে ! কি বলতে আজ কি যে বছি, মূল কথাটাই ভুল! চির-সধবা থেকে কর, ধন্য দুটি কুল। ধান-দুৰ্ব্বার সাথে মােদের এ সাধটিও জড়াই- নাম যেন তাের বড় গলায় নিতে পারি সবাই। তাজ
৪১
সুখ এটা ক্ষুদ্র তৃপ্তি,কৰ্তব্য এ জীবন!
সুধা বলে বিষ যেন করতে পারিস গ্রহণ।
এ সংসারই মােক্ষ-দ্বার, বৃথা স্বর্গ খুজা,
লােক-সেবাতেই লােকেশ্বরের হয় আদত পূজা।
বিবাহ নয় নাগপাশ, সে যে ত্যাগের বাঁধন,
দোসর ছাড়া হয় কি বিশ্বে কোন মহা সাধন?
কঁচের পুতুল দিয়ে তােরে ভুলাই নি ত আমি,
লােকের মত লােক সে,-ভাগ্যে পেলি এমন স্বামী
এ রতনের যতন যদি কতে পারিস, মেয়ে,
নূতন জীবন পাবি তুই মা, নূতন আলাে পেয়ে !
সে যে একটি খাটি মানুষ ! রঙ্গিন ফানুস না রে !
মাথায় উঠতে গিয়ে আশীষ নেয়ায় মাথা তারে।
দাড়াও, রসাে, ভেবে দেখি ! জিত, না আমার হার।
এক চোখের হাসি মুছছে আর এক চোখের ধার!
বুকের পাঁজর খছে, তবু জুড়িয়ে যাচ্ছে প্রাণ,
কোন্ দরদী স্নেহের সূতায় দিল নূতন টান !
ঘরের নিধি পরকে দিলেম অমনি কি রে, বেটী ?
পরের রতন আপন করে পূরালেম যে সেটী
তাজ
কবির উপহার
( আমার জামাতার ভ্রাতুস্পুত্রীর বিবাহে)
ও পিয়ারী কলি, তবে সত্যিই তােমার বিয়ে
বেচারা এই উমেদারকে ডাহা ফাঁকি দিয়ে?
‘পিনাল-কোড’কি নাগাল পেত? ‘সিভিল-ম্যারেজ, নয় ।
‘বেটার হাফটি’ ‘ন-কো-অপারেট’ করতেন, এই যা ভয়।
তার সঙ্গেও এটা রফা হত’ই অতঃপর
এ কি কাণ্ড!-জুটে গেল দিব্যি আর এক বর ?
নেহাৎ যখন আমার গুড়ে পড়েই গেছে বালি,
দিল্ ঢেলেছি,রসে টস টস্ তফিল কর খালি।
সম্বল বার, কুহক-সূতায় স্বপন-জাল বােনা,
অসীমের চূপ-রূপ-সায়রে অরূপের ঢেউ গােণা,
সুধার বানটী ডাকে নিথর নিশীথ-নীলাকাশে,
হাওয়ার সাথে কথা কয়-যে তারার সাথে হাসে,
আভের মাঝে বাসর রচে আকাশকুসুম দিয়ে,
মধুর জ্যোছনা-বধূর সাথে চঁাদের দেয় বিয়ে!
ওপর-নীচে বর-কনের-বরণ-উপহার,
গােলকধাঁধার শােলক গাথার তারই উপর ভার ।
তাজ
৪৩.
হাসতে হাসতে ফস করে কোন্ করুণ তারে আঘাত?
চিত্রে আলােক ফুটিয়ে যেন ছায়ার রেখা পাত!
কিরণ-কলম চির-মিলন-জেনে এইটী -খালি,
সৰ্ব্ব ঘটের ঘটক ঠাকুর-তাহারই এ ঘটকালী !
আমরা দেখাই পুতুল নাচ ; নাচাবার যে নাচায়,
আজ যা ঝরা, মরা-কাল সেই বাঁচায়, আবার কঁচায়।
সে মায়াবীর আশীষ, নিয়ে নামছে আঁধার হ’তে,
তােমার বাবার স্নেহের আলাে নূতন জীবন স্রোতে।
ভয় কি বালা, ভাসাও তরী, হােক আজানা নাবিক,
আড়কাঠী সে বড়ই খাঁটি, দেখিয়ে যাবে দিক্ ।
রূপসীদের অল্পেয়ে জাঁক--মাতাল-চোখের নেশা,
গুণবতীর জীবন-নদী অমর-ধারায় মেশা।
সেয়ানা-যিনি নাম রেখেছেন, তােনার কম সে দায় না ।
অন্নপ্রাশন দিনে নিলে বিয়ের আগাম বায়না ।
সে কথা আজ মনে করিয়ে তােমায় আবার বল,-
লক্ষ্মী পাকা গৃহলক্ষ্মী,নাম তাই কমলা।
তাজ
স্বস্তিবাচন
( মদীয় সুহৃদ কবি-দেবকুমারের কন্যার বিবাহে)
দেব-গৃহ আলোকরা, কবি-স্নেহ-গরবে গরবী,
কন্যা ছিলি, অকস্মাৎ, ওগো মায়া, কার জায়া হবি?
নাম তার ভােলানাথ ? নামে নামে কি মধু মিলন,
কি অজ্ঞাত আকর্ষণে কি সংযােগ এ মণিকাঞ্চন!
এ কি শুধু আকস্মিক? কারও অন্ধ নিৰ্ব্বন্ধ-খেয়াল ?
দৃষ্ট ও অদৃষ্ট মাঝে যত পুরু পাকনা দেয়াল,
মাঝে মাঝে জ্বলে উঠে রহস্যের নিবন্ধ, আঁধার,
অন্তরের কথা কয় থাকি থাকি অনন্ত-পাথার।
আজিকার প্রহেলিকা, তাই, কাল সুস্বচ্ছ সরল !
এ যুগের অমৃত যা, যুগান্তরে ছিল না গরল ?
তাজ
৪৫
জানি আর মানি, মা, এ ভােলানাথ নহে সে ভিখারী-
পরিধানে বাঘছাল, হাড়মাল, জটাজুটধারী।
ইনি সভ্যতার সৃষ্টি, নাগরিক, ধনীর দুলাল।
তাই বলে বলি না ক আছে তার ‘হাম্-বড়া’ চাল ?
শ্মশান যাহার রাজ তারই সাজ বৃষভ-বাহন।
শােভাযাত্রা না থাকুক, মােটারে ত হবে আগমন !
তুমিই কি ওগাে মায়া, সেই গৌরী গৈরিক-বসনা,
হর ধ্যানে-বর-প্যানে, তপ-কৃশা, ব্রত-অনশনা।
রক্তচেলী পরিধানে, তুমি দিব্য সুস্থ, সালঙ্কার,
উৎসবে উজ্জ্বল করি’ দাড়াইবে সভা-চমৎকারা ।
कांडन
৪৬
তবু মায়া, মনে রেখাে, জন্ম তব সেই—সেই দেশে,
মহামায়া জন্মেছিলা যার এক নিভৃত প্রদেশে,
হােক আজ প্রেতভূমি—এ দেশ যে সতীর শ্মশান ।
সীতা-সাবিত্রীর জাতি, ভুলো না, মা, আত্ম-অভিমান।
আদর্শ বিরাট?-ভীরু, তাই ভয় ? বিস্ময়, সংশয় ?
আকিঞ্চন থাকে যদি, নিঃসন্দেহ হবে তব জয়!
মানুষ বিধির সৃষ্টি, দেব-দেবী মানুষী রচনা,
উদ্ধে তোলে, নিম্নে ফেলে যার যার আপন কামনা।
সেবা হতে ব্ৰত নাই, নরে ভজি পায় নারায়ণে,
কবি আশীৰ্বাদ করে সিদ্ধি যেন হয় সে সাধনে।
মধুমাসের মানসী
?
মধুভরা মধুমাসের ওই আসে, ওই মানসী,
রূপনগরের রূপসী।
লাগিয়ে ফাগুন-আগুন চুপে গলিয়ে হিম-শিলার স্তুপে
এল কি বয়ে যৌবন লয়ে নবরসের সরসী
রূপ-সায়রে লহর তুলে
আসিল বুঝি মনের ভুলে
চটুল নৃত্যে মুনির চিত্তে প্রলয়-করা উৰ্বশী!
কবির হৃদি-পদ্ম ফেটে, ভাবের ঘরে সিধটী কেটে
আসিছে এ কি কমলবনের কমল-আঁখি যােড়শী ?
উদার ভাব, গভীর ভাষা, বহিছে বুকে যুগের আশা,
লাজ-অঞ্জলি বর্ষিত পথে, আহ্বান উঠে উচ্ছলি।
রূপনগরের রূপসী
মধুমাসের মানসী ।
তাজ
৪৮
পরশ করে হরষ ভরে-অমনি হাসে কুঞ্জ রে।
মৃত মঞ্জরী মুঞ্জরে !
নূপুর বাজে কমল বনে, ছাড়িয়া মধু বিভােল মনে
বিবশ অলি রভসে গলি তালে বেতালে গুঞ্জরে !
সাজিল রণে মীনকেতন,
বঁধুর মুখ-মধু মতন
মুহুর্মুহু কুহুর স্বরে শিহরে নীপপুঞ্জ রে!
পীরিতি ভুলে’ বিরতি নিয়ে রয়েছে কারা দুয়ার দিয়ে।
পাষাণ বাঁধ ভাঙ্গিল আজি পঞ্চশর তুঞ্জ রে !
তারকা-খচা জ্যোস্না-বাসে সাজি কি সুর-সুষমা আসে,
মানস ছানি’ এনেছে বাণী, প্রসাদ তার ভুঞ্জ রে !
রূপনগরের রূপসী
মধুমাসের
মানসী!
তজি
দেখা প্রথম কোন্ বসন্তে?—তুমি কিশাের-বয়সী ।
উঠিছ আধ-বিকশি’!
সেদিন ভরা-অনুরাগে,
শিথিল-ধরা মাতাল ফাগে,
রঙিয়ে দিলাম আবির-রাগে তােমারে আমি, শ্রেয়সী।
নববধূর
রক্তচেলী ঘােষ্টাখানি ভক্ত ফেলি
দেখিয়াছিল রঙ্গিন চোখে লজ্জা-রাঙ্গা প্রেয়সী।
আজ সেজেছ ফাগুন-রাণী, কেড়েছ সারা পরাণখানি,
সরমহারা মরম-বাণী আগুন যায় বরষি।
ভারতী নেমে তােমার ঘরে
তােমারে প্রেমে আরতি করে,
তােমার বীণা করিছে সােণা কমল-করে পরশি’!
রূপনগরের রূপসী
মধুমাসের মানসী।
তাজ
৫।
এস গাে এস, বঁধুয়া এস, মধুমাসের মুরলী,
কলহংস-কাকলি।
সুর তাে নয়, প্রণয়-সুরা!—দানিয়া হৃদি-শােণিত পূরা
বাঁচায় প্রিয়ে, নাচায় দিয়ে পরাণে প্রাণ-অঞ্জলী।
তােনারই যাদুবিদ্যালয়ে লয়লা-মজনু কি পাঠ লয়ে
ভুলিল ভীতি, ভাঙ্গিল নীতি, পরিল প্রীতি-শিকলি।
শিখালে তুমিই বালক-সুরে হানিতে হিয়া কুসুম-শরে,
নারীর চোখে রাখিলে চেকে সজল জ্বালা-বিজলী ।
বাজ’ গাে, বাজ’ আকুল স্বনে, রাজ’ গাে হৃদি-বৃন্দাবনে,
উঠিবে রস-সাগর-সুধা ভুবন ভরি’ উচ্ছলি’!
রূপনগরের রূপসী
মধুমাসের মানসী।
তাজ
বাণী
সপ্ত-রসের মানস হতে প্রথম জন-প্রাতে,
উঠলে রাগের পরাগ অঙ্গে, নূতন আলাের সাথে ।
সেই সঙ্গীতের পাছে পাছে গ্রহ-উপগ্রহ নাচে,
কুহু রবে ফুলের মত ফুটছে তারারাজি,
তুমি সুর-সভার বীণা, সুরে উঠলে বাজি।
তাজ
উষার সাথে নামূলে কবে করতে সাগর-স্নান,
সিন্ধু উঠল কল্লোলিয়া, শুনে’ তােমার গান !
উজান বইল নদীর জল,
পাষাণ হ’ল সুকোমল,
প্রকৃতিরে বিকাশিলে কোটী কোটী চিতে,
রূপের কাজল মাখাইলে আঁখিতে আঁখিতে ।
চলে এলে মৃদু পায়ে মাটীর জগত-পানে,
বিকশিয়া ভাষার নেশা মূকের প্রাণে প্রাণে !
কনক-আঁচল পড়ে লুটে, কিরণ-কমল পায়ে ফুটে,
মেঘের বরণ কেশের রশি আছে পিঠে শুয়ে,
শ্যামল হয়ে গেল ধূলা রাতুল চরণ ছুঁয়ে!
তাজ
গাছে গাছে হরিৎ-শােভার জোয়ার এল ডেকে,
শিশুর কণ্ঠে আধ-ভাষার ঘটা সেদিন থেকে।
পাখীর গলায় বাজে বাঁশী, ফুলের অঙ্গে অঙ্গে হাসি,
কামের ভস্মে প্রেমের মণি করে ঝমক,
নারীর বক্ষ হতে গড়ায় দেবের পাদোদক।
জন্ম-মরণ দুটি পায়ের মায়া-নূপুর দুটি
সপ্ত ভুবন হ’তে আলে সাতটী সুর লুঠি’!
বক্ষ হ’ল সাধন-স্বর্গ,
জীবন হ’ল সেবার অর্ঘ্য,
মায়ের মতন জন্মভূমিগেল সেদিন বুঝা,
তুমিই প্রথম আলে বিশ্বে বিশ্বনাথের পূজা !
তাজ
৪
মাতৃভাষার গ্রন্থকার
ছাপাও ছাপাও, গ্রন্থ ছাপাও, অমর হবে এই ত সুখ,
কেতাব কাটে না হয় কীটে, ভুলে যাও এ গদ্যটুক!
দিশী ভাষা পড়ক চাষা, অন্দরেই তার বাসা ঠিক,
কেন না, ‘কোল’ কর্তার ভােগে, গিন্নীর ভাগে ‘গাদাই’ অধিক।
আফিস করুতে
मंत्र
দুপুরে বাবুরা যান জন্মাবধি,
বিরহিনীর দিবানিদ্রার দিশী-পুথিই মহৌষধি ।
পয়সা খেলে মার জুয়ায়, বিলাস-পূজায় পরিপাটী,
কেতাব কিতে কড়ির অভাব, হা রে আমার পােড়-মাটী!
তাজ
ব্যবহারজীব-কানুনে তাঁর দিশী-ভাষা পড়াই শাস্তি,
চিকিৎসকের পােকাশাস্ত্রে এ ভাষার জীবাণু নাস্তি!
সওদাগরী আঙ্গুলাে দেথুতেই কেতাব-কীটের বাসা,
কড়া-ক্রান্তির বেণিয়া-হিসাব, খাপ খায় কি সােণার ভাষা ?
চণ্ডী-দেউল গেছে ভেঙ্গে, বৈঠকখানায় বাংলা’-ভীতি,
কথক ঠাকুর কেরাণী আজ, হাফ-আখড়াই অতীত-স্মৃতি।
ঠাণ্ডা মুলুক রটায় যখন গ্রীষ্মপ্রধান ভাষার জাক,
নাবালকরা বাজান তখন ধার-করা সেই জয়ঢাক ।
৫৬
‘গাঁয়ে মানে না মােড়ল’ যাঁরা, ‘বাংলা তাদের চোখের বালি,
হাততালীর স্রোত বহায় নাকি অন্য ভাষার চাতুরালী !
চালাও কলম, চালাও জোরে, ছবি উঠবে ছাপার বুকে,
পেশাদারী সমজদার-দল ‘সাধু’ বলবেন ছাতি ঠুকে!
ছাপাখানার দেনার দায়ে মাথা বিক্রী, অস্থিসার,
ইনিই হচ্ছেন মরা-দেশের মাতৃভাষার গ্রন্থকার ।
তাজ
বঙ্গভাষার লেখক
সৌখিন বাংলার রঙ্গিন লেখক,
ও সহুরে পল্লী-মিত্র,
হায়-হাহাকার চাপা দিয়ে
অছি পল্লীর সরস চিত্র ?
তাজ
৫৮
দুর্ভিক্ষ আর রােগে সারা
দেশের—দেখাও হৃষ্ট মূর্তি,
গিল্টি-করা তােমার ভাষা
আর্টের মিষ্ট বিষের ঘূৰ্ত্তি !
তুমি যখন কৃষক-বধূর
গােলাপ সম বল গণ্ড,
পিলে-অগ্রমাসের রােগী
অভিশাপ কি দেয় না ভণ্ড ?
পল্লী-উৎসব লিখছাে ক'ষে,
পাড়ায় পাড়ায় দেখছে হাস্য,
রঙ্গ, না এ ব্যঙ্গ-চিত্র ?
নত হয় না লাজে আস্ত ?
দেখুছ গােধন নিধন চোখে,
ধানের গােলায় শনির দৃষ্টি,
তবু করূবে দগ্ধ মাঠে
স্বপ্ন দিয়েই স্বর্ণ-বৃষ্টি ?
ধৰ্ম্ম ফাকি, কৰ্ম্ম মেকি,
নকল চা, নকল খাদ্য,
কলের আ-হাওয়াতে বাস,
জীবন দেখা তােমার সাধ্য ?
দীনের তপ্ত অ—তােমার
রসাল রূপক—চুনি-পান্না!
ভাষার স্রোতে ভাসাতে চাও
আধি-ব্যাধি-ক্ষুধার কান্না!
ধনীর চিত্রে রঙের ফলাও,
তুলছে স্বর্গে দু’চার যক্ষে।
দীন বাড়ে যে দিনের দিন,
কে দাড়ায় আজ তাদের পক্ষে ?
ভু-সমস্যা দেখতে দেখতে
গ্রাস করেছে দেশটী শুদ্ধ,
রাখছে পিছে, ঠেলছে নীচে
এই শতাব্দীর জীবন যুদ্ধ !
সত্য যদি অসুন্দর,
চুলােয় যাক্ সে ন্যায়ের যুক্তি।
উধাও কবি-কল্পনাতেই
আসবে জীবন, আবে মুক্তি।
দেশের দশের লিখতে কথা
পল্লী-মৰ্ম্মে চাই যে দৃষ্টি,
দীন-নারায়ণ উপবাসী ।
তুমি কছ কাব্য সৃষ্টি ?
ঋণ শােধ
ও মহাজন, গাঁয়ের গোঁসাই,
দেখ এসে গােয়ালঘরে,
ফাসী লটকে খালাস খাতক
তােমায় তাড়ায় দেনার ভরে।
ভিটে ছাড়া কবুবে পণ,
দুনিয়া ছেড়ে গেল চলে!
ডাকাত, খুনী, এই বিধবার
রইল কি, তা দেবে বলে ?
ফকিরের শেষ-পুঁজি নিয়ে
শােধ গেল না তােমার ধার,
ঢােল বাজিয়ে করুলেই জারী
ঘর নিলেমের ইস্তাহার।
১১
কাচ্চা-বাচ্ছা নিয়ে পাগল
মাথা খুঁড়লে তােমার পায়,
বিছের প্রাণেও যেটুক, দয়া
নাই তা মহাজনের খাতায় ?
সুদের সুদ-ছানা-পােনা
পলে পলে বাড়ল তাহা,
তােমার ফাঁদে পড়েছে যে
ঠাই-জলেও সে ডােবে ডাহা !
তােমার সােণার বাটী-থালায়
ছানা-মাখন পড়ুক খাসা,
দুধের বাছাগুলি আমার
মরু !-ওরা হেলে-চাষা !
নাই ক ভাত, নাই ক কাপড়,
গরীবের নাই শুধু মরণ,
মাটী দি তা’য় কেমন করে
যে গেছে প্রাণ করে হরণ ?
তাজ
কি বলি ?—মাপ ?—এ জন্মে নয়,
টাকা সাধছি?—হাজার লাখী
চোখে জল ?—ও সাপের কান্না!
তফাৎ যা রে নরঘাতী।
হ মাটী, পাষাণীর বেটী,
সােণা না ? তাের বুকে ছাই!
তােরে ধরে এ দশা তার
দরদে আর কাজ কি মাই ?
গরীবের কি মা-বাপ আছে ?
ক্ষ্যাপার মত শূন্যে কাদা,
ধৰ্ম্ম মহাজনের দোরে
দিয়েছে তার বিবেক বাঁধা।
জলজ্যান্ত তাজা জোয়ান
ঝুলছে, হাে হাে, গলায় দড়ি
ও মহাজন, এখনও কি
শােধ যায় নি তােমার কড়ি?
তাজ
চিকিৎসকের প্রতি রােগিণী
মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ ডাক্তার,
মহাব্যাধি আমি যেন!
ঘায়ের গন্ধে আছে ন্যাকার ?
এ ক্ষত ত তুমি চেন!
তাজ
হৃদ্-পরীক্ষার যন্ত্র হেলায়
লাগিয়েই যে নিলে তুলে ?
জীবনের এক জ্যোৎস্না রাতে
সেই পরখ !-কি গেছ ভুলে ?
জানি, তাহা জানি, বঁধু,
এ ক্ষয় আর সাবার নয়,
এ নালী-ঘা পচে গলে
ছড়িয়ে গেছে জীবনময়।
কিন্তু ডাক্তার, এর দাওয়াই ত
ছিল একদিন তােমার কাছে !
মরণ-দ্বারে দাড়িয়ে এখন
সে কথায় আর ফল কি আছে ?
তুমি বসে’ সুখের টাটে,
যক্ষ্মা-বাসে আমি পড়ি,
আজও কিগাে রােগীরে দাও
তবক-মােড়া বিষের বড়ি ?
মনে পড়ে? তখন তুমি
কলেজ থেকে সবে-বাহির,
পরের জন্য ভারী দরদ,
লােকে বলত,—দয়ার শরীর।
তাজ
মক্স কচ্ছ ষ্টেথিসকোপে,
নাড়ি টেপার হাতে খড়ি,
বাড়ী বাড়ী নূতন দাওয়াই
পরখ কচ্ছ কেতাব পড়ি।
যখন তখন রােগী ফেলে
মােদের গৃহে হ'তে হাজির,
অ্যানাটমির ছবি এঁকে
করূতে নিজের বিদ্যে জাহির।
হঠাৎ পিতা পড়লেন রােগে,
তুমি তােমার ব্যবসা ছাড়ি-
সারিয়ে ছাড়লে না সেই
গলির ক্ষুদ্র পচা বাড়ী।
তুমি দিতে রঙ্গিন মিশ্চার,
আমি দিতাম সেবা, পথ্য,
দু’য়ের মাঝে কি যােগ,-জানে
তােমার ‘সাইকলজি’-তথ্য!
সদা-শিবের মত পিতা,
তুমি গৃহ-চিকিৎসক,
প্রায়ই তােমার নিমন্ত্রণ,
কাটা-চামচের ঠক্ঠক্ !
তুমি তার ব্যবসার মন্ত্রী,
চা-পেয়ালার নিত্য-ইয়ার,
বাবার মুখে জপের মন্ত্র
ডাক্তার লোেক কি চমৎকার !
কাল-রােগে পড়লাম আমি,
তােমায় আমায় সে এক দেখা,
পড়লাম সেদিন তােমার ভালে
পলকে মাের ললাট-লেখা ।
ষ্টেথিসকোপ-দূতের মুখে
নিলে প্রাণের পরিচয়,
অন্তর-টিপনি তােমার যে সে!
নাড়ী টেপা অভিনয়।
আমরা ব্রহ্ম, আমার আবার
চির-কুমারী-পণ কড়া,
পুরুষ জানি বিভীষিকা।
সয়তানের খে—প্রেমে পড়া!
যারা যত বেশী সাবধান,
পড়ে আছাড় তারাই আগে,
জড়িয়ে পড়ে তারাই বেশী
ফাদের ভয়ে যারা ভাগে !
তাজ
}
এনগেজমেন্ট, আংটী-বদল,
আর যা সব-পাকাপাকী;
তখন ত জানিনা বঁধু,
প্রাণ-বদলই শুধু বাকী!
হঠাৎ একদিন—চিরতরে
হলে তুমি অন্তর্ধান,
শুনলেম, কে এক লক্ষপতি
কচ্ছেন তােমায় গৌরীদান!
আমিও দাগাবাজী খেলে’
কেন একটি নূতন প্রাণে
কলেম না জয় হাসি মুখে
বাসি-ফুলের মাল্যদানে?
শুবে, কেন? নারীর প্রেম
সে নয় পেশা, দোকানদারী
কলজে উপড়ে দেয় সে পরে,
প্রেমের নামে মরে নারী
চাইছ অবাক আমার পানে,
বুঝেও যেন নাহি বােব ।
এই মুখে কি সেইদিনকার
একটি মুখের আদল খোজ ?
=
দৃষ্টির দোষ নয় গাে নয়
এ সব নারীর ভাগ্যে করে,
সছ কেন? নাই কি প্রাণে
একটু দয়াও আমার তরে?
এই দেহের এ দশা দেখে
করূবেই ত আজ তুমি ঘৃণা,
এমন দিনও ছিল বঁধু,
কাত না দিন আমা বিনা !
ও কি, চোখে রুমাল কেন?
মায়াকান্না ! জানি, জানি।
ভেবেছ, আর চোখের জলে
ভুলবে গবে এ পাষাণী
কি দাগা, কি বজ্রাঘাত,
প্রাণ ত কবেই গেছে চলে,
দেহ শুধু ছিল খাড়া
শেষ-দেখাটী দেবে বলে ?
অনেক দূর যেতে হবে,
মিছে কেন মায়া বাড়াও ?
অরূপ-আলাে যাবে নিবে,
রূপার হাটে যাও, ফিরে যাও!
তাজ
নারীর দাগাবাজী
যৌবনে পা দিতে দিতেই
কাব্যি-রােগে ধৰূলে মােরে,
পাকা-গিন্নি মা অমনি
বধু আন্লেন বাছাই করে।
তাজ
আমি মত্ত কাব্য নিয়ে, তিনি পড়েন উপন্যাস জীবনটারে ভাতেম তখন আরব-রাতের ইতিহাস। । মুখােমুখি দুটি প্রাণী যেন একটি দ্বন্দ-সমাস। দুটি প্রাণের একটি তান- যেন যমক, অনুপ্রাস! ভর-দুনিয়া শুধুই মােদের। অংশীদারের কোথায় স্থান? হঠাৎ একটা ক্ষুদে বীরের প্রেমের রাজ্যে অভিযান। আমি ক্রমেই হঠছি পাছে, প্রিয়ার যতন নূতনে আজ ! বুঝলেম, প্রণয় ধোকার টাটী, নারীজাতটাই দাগাবাজ
মুখে মধু, অন্তরে বিষ,
নারীর প্রেম মিছরীর ছুরী!
পড়ে না সে নিজে ফাঁদে,
পরের মনই করে চুরি!
স্বপন ভেঙ্গে গেল যখন,
হয়ে গেছে অনেক দেরী,
ভাঙ্গা মনের বেড়া দিয়ে
দৈন্ত নিলে কবে ঘেরি।
তাসের ঘরের মত হঠাৎ
চৌমহলা গেল উড়ে,
তিনটী প্রাণী করুলেম সার
ছিন্ন-বাস, ভগ্ন-কুঁড়ে!
ছেলের খাঁটী-দুধ যােগাচ্ছি
গায়ের রক্ত করে জল,
বাছার হাড়ে মাস লাগে না,
হতভাগ্যের এম্নি বল!
তাজ
৭২
বদ্যি দেখাই, তিনি বলেন,
স্বভাবতই ধাতু ক্ষীণ !
পুরুত ঠাকুর স্বস্তয়নে
বাড়িয়ে খালি দিলেন ঋণ !
ধরে ফেললাম প্রিয়ার কীর্তি,
কি ভয়ানক সে কারূসাজী !
নারী ছাড়া জানে না কেউ
পয়লা নম্বর দাগাবাজী!
সুধাই,—দুধে কুলােয় ত গাে°?
‘হ’ বলেন বেশ পরিপাটী ?
আজ বুঝলেম, ছেলেকেও জল
আমার দুধটি রাখতে খাঁটী !
ধরা পড়ে’ অপরাধী
পালিয়ে যাবে যখন লাজে,
হাত দুখানি ধরে তাহার
ভরে রাখলে বুকের মাঝে।
তাজ
দুখ না সুখ ? কি মহা ভাব ?
প্রাণের মাঝে কি এ প্রলয় ?
সারা দেহ রােমাঞ্চিত,
চোখে শুধুই ধারা বয়!
নারীর প্রাণ এমন বড়!
মিষ্টি আহা এতখানি,
দৈন্য তার পুণ্য, যার
ভাঙ্গা-কুঁড়েয় এ রাজরাণী।
বল্লেম,-নারী, তােরাই স্বর্গ,
মুক্তি—তােদের বাহুর ফাসী!
জন্ম জন্ম দুনিয়া ভুলে
তােরেই যেন ভালবাসি।
নারী
সাজান তাের গৃহস্থালী,
গুছান’ তাের ঘর,
তারই মাঝে ঘুরূছে মােদের
বিশ্ব-চরাচর।
৭৫
ঘুরূছে গ্রহ-উপগ্রহ
যেমন সৰ্বকাল,
হয় না কভু লক্ষ্যহারা
কাটে না তার তাল।
গড়া তােমার মায়া-যন্ত্র
সেই ধাতুতেই বুঝি ?
নাশ ছাে রিষ্টি, রাখছে সৃষ্টি
প্রলয় সনে যুঝি।
আমাখা চরণ যেন
রক্ত পড়ে ফেটে,
দেখে, আর দেখে আঁখির
তৃষ্ণা নাহি মেটে।
এলিয়ে ফেলি আমরা সব
তােমরা গুছাও খালি,
সুখ-সাধের চারা বাঁচাও
হিয়ার সুধা ঢালি:।
তাজ
৭৬
পরের সুখে বাজাও শাখ,
দুখে ঝরে আঁখি,
পরের যত আপদ-বালাই
সেধে আন ডাকি।
মূঢ়মতি তােমার প্রতি
করূছে অত্যাচার,
পশুরে ঠিক মানুষ করে
শােধ তুলবে তার ।
লাল টুক টুক্ অধরপুটে
ডাকে হাসির বান,
সী থায় সিদুর, হাতে শাখা,
মুখে গুয়া-পান।
আবার দেখি, শুভ্র-বেশা
গৃহ-সন্ন্যাসিনী,
জগৎ জিছে পরের তরে,
ত্যাগের তপস্বিনী।
তাজ
৭৭
তােমার সাথে দিবানিশি
হচ্ছে লেনা-দেনা,
হায় নারী, আজও তােমায়
নাহি হ’ল চেনা!
জন্ম পেলাম তােমার কাছে
মানুষ তােমার গৃহে,
জীবনীটি দিয়ে আলে
জীবন আমার দেহে !
নিলাম তােমার স্বাস্থ্য, রূপ
চুমুক দিয়ে স্তনে,
তােমার ছাচে ভেঙ্গে গড় লে
আমার কাচা মনে।
যৌবন আমার পাগল হ’ল
তােমার প্রেমে পড়ে,
নিতে গিয়ে-দিলেই বেশী
বন্দী মনােচোরে!
৭৮
প্রৌঢ়ে গভীর!—পঞ্চশরের
রূপের তনুটীরে
পুড়িয়ে প্রেমে, টানাে তােমার
প্রাণের সুগভীরে।
জরায় ফুলসজ্জা নব
তুমিই প্রাণে আন,
যত পাকো, ততই মিঠে,
কি মােহিনীই জান!
কুল-মান-ধন বাঁধা আমার
ও দাসখতের দায়,
তােমার ধন্ধে অন্ধ-জীবন
কেটে যাচ্ছে নেশায়।
তােমায় দেখেই আছি জিয়ে,
নরূবাে তােমায় স্মরি,
তােমার কথা লিখতে কবির
চোখ যে এল ভরি।
তাজ
রঙ্গ মহাল
প্রণয়ের ধ্বংস-শেষ, রূপের সমাধি অভিরাম।
এই প্রেম?
এই পরিণাম ?
ফুরাতে বসন্তের মেলা
ভেঙ্গে গেল কবে ফুল-খেলা ?
কোন্ মর্মদাহী মনস্তাপে,
কোন বিরাগীর অভিশাপে
ভশ্ন আজ তব পঞ্চশর,
ভগ্ন তব কোয়েলার স্বর ?
শূন্য,
মৌন
মহলে মহলে
গম্বুজের ফাটলে ফাটলে
সাহারার হাহা সম তৃষা শুধু উঠিছে উধাও,
মেরি জান্, আও, অও, কলিজামে আও!
তাজ
শিলা-সৌধে ছল্ ছল্ লীলাময় মর্মর মূরতি !
এই প্রেম ? হায় কি নিয়তি।
সে স্বর্ণ-শতাব্দী বুঝি আজি
মায়াবীর মায়া-ছায়াবাজী ?
অতীতের নেপথ্য হইতে
দেখা দেয় ঝিলিকে চকিতে
কত রূপ যৌবন-ইতিহাস,
কত সুধা, গরল-উচ্ছ্বাস,
কত ভান, মান-অভিমান
কত দান, কত প্রত্যাখ্যান।
সাহারার হাহা সম আজ আহা, উঠিছে উধাও,-
মেরি জান, 'আও আও, কলিজামে আও!
প্রেমিকার পাগল পরাণ নেমে আসে নিশীথে নিরালা,
এই প্রেম ?
এত তার জ্বালা ?
কি জ্যোৎস্নার, কিবা অন্ধকারে
বুক কাপে মায়া-অভিসারে
কবরের আবরণ খুলি’
বিস্মৃতির যবনিকা তুলি
কক্ষে কক্ষে এ শ্মশান-পুরে
ছায়া-মূৰ্ত্তি সারা রাত্রি ঘূরে !
হাসে, কাঁদে কি যেন কুহকে !
চলে যায় দিনের আলােকে।
সাহারার হাহা সম বুক চিরে উঠিছে উধাও,-
মেরি জান্, আও আও, কলিজামে আও!
তাজ
চ
કર
কাণে আসে পদ-শব্দ, প্রাণে বাজে কাদের ঘুঙ্গুর !
এই প্রেম ? এমন ভঙ্গুর ?
ফিরােজা রঙের পেশােয়াজ,
পাদুকায় চুমকীর কাজ,
বেণী বাঁধা জরির ফিতায়,
হরিণাখি শােভিত সুৰ্ম্মায়,
ভুরু ভু হেনার আতর,
ঝু ঝু ফোয়ারার স্বর,
এস্রাজের সাথে গলা সাধে,
প্রেম-গীত মধু-বাজে বাধে !
সাহারার হাহা সম কেঁদে কেঁদে উঠিছে উধাও,-
মেরি জান্, আও আও, কলিজামে আও!
হাজ
৩
কে তােমরা শায়িত কবরে ? ঘুমাও, ঘুমাও সারা বেলা !
হা রে প্রেম, এই তাের খেলা ?
প্রিয়-বাহু উপাধান করি
ঘুমাতি না তাের, নারী-পরী ?
অর্ধ-রাতে জাগি প্রিয়তম
চিবুকটি ধরি’ ক্ষিপ্ত সম
‘
দিজা বলি’ না আদরে
প্রেম-চিহ্ন আঁকিত অধরে ?
সে চুম্বন, সরস অধর
হয়ে আছে কাতর পাথর !
সাহারার হাহা সম শিলা ফাটি উঠিছে উধাও,-
মেরি জান্, আও আও, কলিজামে আও!
তাজ
৮৪
=
কে সে জান্? কাহার কলিজা ? কেমন সে দেওয়ানা পীরিতি ?
হায় প্রেম, এই তাের রীতি?
বুক-ফাটা পাষাণের মুখে
শ্মশানের ক্ষুব্ধ বায়ু-বুকে
পান্থ কিন্তু শােনে অন্য ভাষা,-
অমর! অমর। ভালবাসা !
নিশ্চল সমাধি শুনে’ নড়ে,
কবরে কবরে সাড়া পড়ে,
মরি নাই, মরি নাই, প্রিয়,
প্রেম, সে যে ধরার অমিয় ।
-
সাহারার হাহা সম প্রত্যুত্তর উঠিছে উধাও,
মেরি জান, আও আও, কলিজামে আও!
রজমহল
মরি নাই, মরি নাই, প্রিয়,
প্রেম সে যে ধরার অমিয় ।
No text on this page.
যাহার প্রতিভাশালিনী লেখনীপ্রসূত নাট্য সাহিত্যে বঙ্গ-রঙ্গমঞ্চে
নুতন যুগ আনয়ন করিয়াছে, সেই
সুপ্রসিদ্ধ কবি-নাট্যকার
শ্রীযুক্ত প্রমথনাথ রায়চৌধুরী প্রণীত
চিত্তোম্মাদী ঐতিহাসিক পঞ্চাঙ্ক নাটক
চিতােৱেম্বার
{ দ্বিতীয় সংস্করণ বাহির হইয়াছে।
( মিনার্ভা থিয়েটারে অভিনীত )
মূল্য , এক টাকা
ঐতিহাসিক পঞ্চাঙ্ক নাটক
ভাগ্যচক্র
( দ্বিতীয় সংস্করণ বাহির হইয়াছে ।
( মিনার্ভা থিয়েটারে অভিনীত )
* আমূল সংশােধিত। একপ্রকার নুতন গ্রন্থ বলিলেই হয়)
মূল্য এক টাকা
সম্পূর্ণ মূতন ছাঁচের সামাজিক নাটক
জয়-পরাজয়
(মনােমােহন থিয়েটারে অভিনীত )
মূল্য ১ এক টাকা
তিনখানি নাটকই পুরু অ্যান্টিকে ছাপা।
সুদৃশ্য গােলাপী রঙের মলাট।
মনােমুগ্ধকর সামাজিক প্রহসন
আধুনিক সমাজ-রহস্য ! হাস্যের প্রবণ
অথচ কোন সমাজ বা ব্যক্তিবিশেষকে
লক্ষ্য করা হয় নাই।
আক্কেল-সেলামী
( দ্বিতীয় সংস্করণ বাহির হইয়াছে।
( মিনার্ভা থিয়েটারে অভিনীত )
সুদৃশ্য রঙ্গিন অ্যান্টিকে ছাপা। গােলাপী রঙের সুন্দর মলাট।
মূল্য । আট আনা
কাব্যগ্রন্থাবলী
সুহৎ তিন খণ্ডে প্রকাশিত
শ্ৰীযুক্ত জলধর সেন সম্পাদিত । জলধরবাবু ‘সম্পাদকের
নিবেদনে’ কবি ও কবির কবিতার প্রতি তাহার সশ্রদ্ধ অভিনন্দন
অতি সুন্দররূপে লিপিবদ্ধ করিয়াছেন।
প্রথম খণ্ড।—১। পদ্মা, ২। যমুনা, ৩। গীতি,
৪। গীতিকা, ৫। দীপ্তি, ৬। দীপালী, ৭। আরতি ।
দ্বিতীয় খণ্ড।। গৌরাঙ্গ, ২। গল্প, ৩। গাথা,
৪। আখ্যায়িকা, ৫। চিত্র ও চরিত্র।
তৃতীয় খণ্ড-১। কবিতা, ২। পাথের, ৩। পাষাণ,
৪। পাথার, ৫। গৈরিক, ৬। গান।
সাধারণ সংস্করণ—প্ৰতিখণ্ডের মূল্য ১ এক টাকা। বিশেষ
সংস্করণ-দামী পুরু অ্যান্টিকে ছাপা, উৎকৃষ্ট দুই রঙের কাপড়ে
বাঁধা সুদৃশ্য মলাট, প্ৰতিখণ্ডের মূল্য ১০ টাকা
(নিম্নলিখিত কাব্যগুলি ও গানের বহি
পৃথক পাওয়া যায়)
গান-(তৃতীয় সংস্করণ বাহির হইয়াছে) (স্বরলিপি-
সম্বলিত) সুদৃশ্য রঙ্গিন অ্যান্টিকে ছাপা। গােলাপী রঙের মলাট
মূল্য ৬০ আনা
(১) চিত্র ও চরিত্র নানাদেশের বিচিত্র ঘটনা ও
চরিত্র-চিত্র)
(২) আখ্যায়িকা- চারিটি চমৎকার গল্প )
(৩) পাষাণ- হিমালয়ের সহস্র রূপের অনুপম ছবি।
কবি যথার্থই ধবলে ডুবিয়াছেন।
(৪) পাথেয়— আধ্যাত্মিক নূতন ধরণের কবিতাবলী)
কাপড়ে বাঁধাই। প্রত্যেকের মূল্য।• ছয় আনা
(৫) গৌরাঙ্গ অভিনব মহাকাব্য। গৌরাঙ্গের তুলনা
শুধু গৌরাঙ্গ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আই-এর পাঠ্য হইয়াছিল।
কাপড়ের মলাট ; মূল্য ১ এক টাকা
(৬) গৈরিক- গিরি-সম্বন্ধীয় ও ভ্রমণের কবিতা-চিত্র।
যেন আখরের ছবি !)
(৭) পাখার-সিন্ধু-সম্বন্ধীয় অদ্বিতীয় কাব্য } পড়িতে
পড়িতে সিন্ধু-কল্লোল কাণে আসিবে। সাগরের অনন্ত রূপ প্রাণে
ফুটিবে। পুরু আন্টিকে ছাপা।
রঙিন সিল্ক কাপড়ে বাঁধাই। প্রত্যেকের মূল্য ৭০ বার আন
প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স
২০১, কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.