Udaynarayanpur Tarun Sangha, Howrah
Lenin
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
TAHUN SANGHA
লােশন
Registered Un MF Act.
XXI of 1860
snaryant
সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রাপ্তিস্থান
বর্মণ পাবলিশিং হাউস
প্রকাশক—আবদুল হালিম
গণ-শক্তি পাবলিশিং হাউস
(রুম নং ২৫) ৪১ নং জাকারিয়া স্ট্রীট, কলিকাতা
[ সকল জাতীয-পুস্তকের দোকানে প্রাপ্তব্য ]
প্রিন্টার—শ্রীজ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখােপাধ্যায়
কালিকা প্রিটিং ওয়ার্কস
৩০ নং হরিতকী বাগান লেন, কলিকাতা
ভূমিকা
এই যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মনীষী, সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হচ্ছেন
লেনিন। কি প্রণালী অবলম্বন করে ক্যাপিটালিজমকে
ধ্বংস করে কম্যুনিজমের প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে তার
গুরুতর সমস্যার সমাধান এই যুগে একমাত্র লেনিনই
করেছেন। আমাদের দেশে যেখানে গান্ধীবাদের ঢোল
শিক্ষিত সম্প্রদায়ের লােকেরা এখনাে সজোরে বাজিয়ে
চলেন, সেখানে লেনিনের মতবাদের প্রচার হওয়া বিশেষ
করে প্রয়ােজন হয়েছে বলে মনে করি।
প্রায় এক বৎসর আগে বাংলাদেশের কংগ্রেস-নীতির
সমর্থক “আত্মশক্তি” পত্রিকার সম্পাদককে বার্লিন থেকে
একটি লেখা পাঠিয়েছিলুম ছাপাবার জন্য। আমার
উদ্দেশ্য ছিলাে যে, গান্ধীভক্ত শালিষ্টদের সঙ্গে
ভারতবর্ষের স্বাধীনতা-আন্দোলনের যে সব সমস্যা আছে
সেগুলি সম্বন্ধে আলােচনার সূত্রপাত করা। আমার
লেখাটি “আত্মশক্তিতে ছাপা হয় নি। না ছাপানাের দুটি
কারণ থাকতে পারে। প্রথম কারণ হতে পারে এই যে,
আমার লেখাটি পুলিশের কৃপায় আত্মশক্তির সম্পাদকের
।
হাতে পৌছায় নি। দ্বিতীয় কারণ হতে পারে এই যে
আমার লিখিত প্রবন্ধটি কংগ্রেসের পলিটিকসের বিরােধী
হওযায় “আত্মশক্তির সম্পাদক মশায় প্রবন্ধটি তার
কাগজে ছাপান নি।
সেই প্রবন্ধে আমি আমাদেব দেশের শিক্ষিত
সম্প্রদায়ের লােকদের শুধু এইটুকুমাত্র জানাতে চেয়েছিলুম
যে, ইযােরােপে গান্ধীব অসামান্য প্রতিপত্তি সম্বন্ধে
কংগ্রেসী কাগজগুলাে যা লিখে থাকে তার প্রায়
অর্ধেকের উপব হচ্ছে বানানাে মিথ্যা। একথা ঠিক যে
ইযােববাপের বুর্জোয়াদেব মধ্যে গান্ধীর খাতির যথেষ্ট
কিন্তু তাও সব বুর্জোয়াদের মধ্যে নয়। বুর্জোয়াশ্রেণীর
লোেকদের মধ্যে যারা সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল তারাই
ইয়ােবােপে গান্ধী-ভক্ত বলে নিজেদের জাহিব কবে।
বিপ্লবী ইযােবােপ সম্পূর্ণভাবে গান্ধীবাদের বিরােধী।
আর আজকের দিনের ইযােরাপীয় চিন্তাধারা ও
ইয়ােরােপীয় জীবনের যাব। কিছুমাত্র খবর রাখে, তারাই
জানে যে ইয়ােরােপে বিপ্লব একেবারে আসন্ন। সারা
দুনিয়ায় এই বিপ্লবেব কাল শুরু হয়ে গেছে রুশীয় বিপ্লবের
সঙ্গে সঙ্গে। ভারতবর্ষে আমরা যদি গান্ধীবাদের আফিং
খেয়ে ঝিমুতে থাকি আর সেই ঝিমুনােটাকে যদি অত্যন্ত
আধ্যাত্মিক ভেবে আত্মপ্রসাদ লাভ করি, তাহলে সেটা
আমাদেব নিৰ্বদ্ধিতার পরিচায়ক ছাড়া আর কিছুই নয়।
সমস্ত পৃথিবীর বিপ্লব-আন্দোলন থেকে আপনাকে স্বতন্ত্র
বেখে ভারতবর্ষ ইম্পিবিয়ালিজমেব নাগপাশ ছিন্ন করতে
পাববে না।
আমরা ভারতবর্ষের লােক, আমাদের একটি বিশিষ্ট
“আধ্যাত্মিক” পলিটিক আবিষ্কার করতে হবে,—এই
শিশুসুলভ জাতীয় আত্মাভিমানকে দূবে ফেলে দিয়ে
যতদিন না আমরা বিশ্বেব মুক্তি-আন্দোলনের সঙ্গে
যােগ দিচ্ছি ততদিন আমরা যে তিমিবে সেই তিমিবেই
থাকবাে।
কাপ্রি,
সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৪ই জুন ১৯৩২।
*«
No text on this page.
লেনিন
সূচনা
এই বর্তমান যুগ হচ্ছে কম্যুনিজমের যুগ অর্থাৎ কিনা
ক্যাপিটালিজমের ধ্বংস কবে শ্রেণীভেদলুপ্ত মানব-সমাজের
প্রতিষ্ঠা করবার যুগ। ক্যাপিটালিজমের ধ্বংসসাধন ও
শ্রেণীভেদলুপ্ত সমাজের প্রতিষ্ঠা করণ ব্যক্তি বিশেষের
খেয়ালপ্রসূত নােমাটিক মতবাদ নহে , এই মতবাদ হচ্ছে
মানব-সমাজেব ইতিহাসের বিভিন্ন অভিব্যক্তির বৈজ্ঞানিক
বিশ্লেষণ ও বিচাবের ফলস্বরূপ। এই বৈজ্ঞানিক মতবাদের
অষ্টা হচ্ছেন কাল মার্কস। কাল মার্ক ক্যাপিটালিষ্ট
সমাজের সমগ্ৰ কাঠামােটিকে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিশ্লেষণ
করে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, এই সমাজের কাঠামােটি
ক্যাপিটালি সমাজের উৎপাদিকা শক্তির সঙ্গে সমাজের
ক্যাপিটালিষ্ট উৎপাদন-প্রণালীর অবশ্যম্ভাবী মূলগত
বিরােধের ফলে ভেঙে যেতে বাধ্য। অবশ্য এই ভেঙে
যাওয়াটা আপনা আপনি ঘটে উঠবে না কিম্বা ভগবানের
বিপ্লব।
লেনিন
মজ্জি মত ঘটবে না। এই ভাঙ্গনের কাজ ক্যাপিটালিষ্ট
সমাজের একটি শ্রেণীকে সম্পূর্ণ চেতন হয়ে আপনার
ব্ৰত করতে হবে। সে শ্রেণী হচ্ছে শ্রমিকশ্রেণী যাবে
মার্ক “ক্যাপিটালিজমের কবর খননকাবী” বলে অভিহিত
কবেছেন। মাক্সের মতে যে উপায়ে এই শ্রমিকশ্রেণী
ক্যাপিটালিজমেব ধ্বংস সাধন করবে, সেই উপায় হচ্ছে
নান্য পন্থা বিদ্যতে অনায়। মার্কসের
জীবিত অবস্থায় ক্যাপিটালিজমের শেষ পবিণত অবস্থা
“ইম্পিরিযালিজমেব” সূত্রপাত ঘটে নি। তাই এই
ইম্পিরিযালিষ্ট যুগের নির্দেশ কবা ছাড়া, মার্কসের
পক্ষে ইম্পিবিযালিষ্ট যুগের প্রধান লক্ষণগুলি বিশ্লেষণ
কবে দেখান সম্ভব হয়নি। এ বিষযে মার্কসেব অসাধারণ
সংযম তাহার প্রত্যেক গ্রন্থে আমরা লক্ষ্য করি। তব
সমস্ত মতবাদ’ ঐতিহাসিক বাস্তবতার উপর প্রতিষ্ঠিত।
বিজ্ঞানের সঙ্গে খামখেয়াল মিশিয়ে তিনি মতবাদের সৃষ্টি
কবেন নি। এই অসাধাৰণ সংযম, সামাজিক মতবাদকে
বাস্তবতার সামাজিক জীবনের উপর প্রতিষ্ঠা করবার ও
তাকে বার বার এই বাস্তবতার দ্বারা যাচাই করে দেখবার
অনন্যসাধারণ শক্তি
পরবর্তী যুগে আমরা একমাত্র
লেনিনের মধ্যে দেখতে পাই। ঐতিহাসিক বস্তুবাদের
লেশন
অস্তিত্বের অভাবে মার্ক সেখানে থামতে বাধ্য হন
লেনিন ঠিক সেইখান থেকে শুরু করে পরবর্তী যুগে
ইম্পিরিযালিজমের সমস্ত লক্ষণের বিশ্লেষণ করে দেখিয়ে-
ছেন। মার্কস্ যখন ক্যাপিটালিষ্ট সমাজেব বিশ্লেষণ কবে
বিপ্লবে অনিবাৰ্যতা প্রমাণ কবেছিলেন তখন বিপ্লবেব
থিয়ােরেটিকাল যথার্থতা নিঃসন্দেহে প্রমাণ হলে ও বিপ্লবের
সমস্ত প্রণালীব বিচ।বেব উপায় ছিলো না। ক্যাপিটালিষ্ট
সমাজকে যে বিপ্লব ধ্বংস কবে সে বিপ্লব শুধু
ইম্পিবিযালিষ্ট যুগে অর্থাৎ কিনা ক্যাপিটালিজমের শেষ
পবিণতিব যুগে বাস্তব সমস্যা হয়ে ওঠে। সেই কারণে,
তার জীবিত অবস্থাইম্পিরিযালিজমের অস্তিত্বের অভাবে,
মার্কসেব পক্ষে সম্ভব হয়নি বিপ্লবের প্রণালী ও বিপ্লবের
পরবর্তী কালে প্রলেটারিযান ডিকটেটবসিপ সম্বন্ধে
বিস্তাবিতভাবে আলােচনা কবাব। প্যাবিস কনেব
অভিজ্ঞতা থেকে বিপ্লব প্রণালীব যতদূর শিক্ষালাভ করা
যায় মাস তাহা দেখাতে কসুর করেন নি , কিন্তু, সেই
অভিজ্ঞতার উপর প্রতিষ্ঠিত নয় এমন কোনো মতবাদ তিনি
প্রচার করেন নি। এই ক্ষেত্রেও লেনিন মার্কসের আরব্ধ
ব্রতকে সম্পন্ন করেছেন। লেনিনের জীবন আলােচনা
করবার সময় আমাদের এটা মনে রাখতে হবে যে,
লেনিন রাশিয়ার প্রােটোরিয়ান বিপ্লবেয় ও বিশ্বব্যাপী প্রােলেট- ভিয়ান বিপ্লবের নীতি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ও সংগঠনের ক্ষেত্রে লেনিন সম্পূর্ণভাবে মার্কসের বৈজ্ঞানিক মতবাদের উপর আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। লেনিনের জীবন আলােচনা করার মানে হচ্ছে, রাশিয়ার প্রােলেটারিযান বিপ্লব আন্দোলনের ইতিহাস ও বিপ্লবের পরবর্তীকালের ইতিহাসের আলােচনা করা। লেনিন ও রুশীয় বিপ্লব অভেদ্য যােগসুত্রে বদ্ধ। এদের পরবকে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন কৰা অসম্ভব। ১০
জন্ম
বড় ভাই
মধ্যবিত্ত পরিবারে লেনিনের জন্ম হয়। লেনিনের
আসল নাম ভাডিমির ইলিচ, উলিয়ানভ। নিকোলই
লেনিন নাম তিনি পরে গ্রহণ করেন।
১৮৭০ খৃষ্টাব্দে
১০ই এপ্রিল, রাশিয়ার ভােলা নদীব ধারে সিমবাস্ক
প্রদেশে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। লেনিনের পিতা
ছিলেন ডিষ্ট্রিকূটের স্কুল ইস্পেক্টর।
আলেকজান্দার উলিয়ানভ “নানােদনায় ভােলিয়া”
( জনগণের স্বাধীনতা) দলভুক্ত ছিলেন। জারকে হত্যা
করবার ষড়যন্ত্রের অপরাধে আলেকজান্দার উলিয়ানভ
১৮৮৭ সালে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত হন। লেনিনের বয়স
তখন সতেরাে বৎসর। লেনিনের বােন শ্রীমতী উলিয়ানভা
লেনিনের মৃত্যুর পর যে প্রবন্ধ লেখেন তা পড়লে
বােঝা যায় যে, ভাইয়ের প্রাণদণ্ড লেনিনকে কি মর্মান্তিক
ব্যথা দিয়েছিল। শ্ৰীমতী উলিয়ান এই প্রবন্ধে
নিম্নোক্তৃত কথাগুলি লিখেছেন :
১৮৮৭ সালের বসন্তকালে আমরা আমাদের বড়
ভাইয়ের প্রাণদণ্ডের খবর পাই। ভাজ্ঞিমির ইলিইচের
১১
লেনিন
(লেনিনেব ) সে মুখ কখনাে ভুলতে পারবাে না।
ভাডিমির ইলিচ আমাকে বললাে “না, না, এই পথে
আমরা সফল হবে না, এ ঠিক পথ নয়।” এই সময়
থেকেই লেনিন সেই পথেব জন্যে নিজেকে তৈবী করে
তুলতে লাগলেন, তার মতে একমাত্র যে পথ অনুসরণ
কবে তিনি জাবের স্বেচ্ছাচাবতন্ত্র ও ক্যাপিটালিজমের
নিষ্পেষণ থেকে রাশিয়াকে মুক্ত কবতে পাবেন।” সেই
একই সালে ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রদেব আন্দোলন যােগ
দেও্যাব অপবাধে লেনিনকে ইউনিভার্সিটি থেকে বহিষ্কৃত
করে দেয়। লেনিনের বয়স তখন মাত্র সতেরো।
বিপ্লব আন্দোলনে যােগ দেওয়াব পর বিপ্লবেব কাৰ্য্যে
তঁাব প্রথম হাতে খড়ি হয় লেনিনগ্রাডে (সেকালেব
পিটার্সবুর্গে )। এই শহরেই শ্রমিকদের মধ্যে তিনি
তার বিপ্লবমূলক কার্যের প্রথম সূত্রপাত করেন।
শহরেব সেই সব অংশে যেখানে শ্রমিকবা বাস করতো
লেনিন সেই সব অংশে ঘণ্টার পব ঘণ্টা কাটাতেন,
শ্রমিকদের মধ্যে থেকে উপযুক্ত লােক বেছে নিয়ে
ভবিষ্যতের দলের কর্মী তৈরী করে তােলবার জন্যে।
এই সময়ে রাশিয়ার প্রধান শহবগুলিতে বিশেষ
করে পিটার্সবুর্গে ও মস্কোতে অনেক ফ্যাক্টরীর পত্তন
লেনিন
হ্য। তার ফলে ফ্যাক্টরীতে নিযুক্ত শ্রমিকের সংখ্যা খুব
দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। লেনিন তঁার পলিটিকাল
জীবনের প্রারম্ভ থেকে তার সমস্ত শক্তি শ্রমিকদের মধ্যে
বিপ্লবমূলক মার্কসীয় মতবাদ প্রচারের কার্যে নিযােগ
কবেন। তাৰ এটা
তাব এটা বুঝতে বেশী দিন লাগেনি যে একমাত্র
শ্রমিকশ্রেণীই গ্রামে গ্রামে যে অসংখ্য কৃষক সম্প্রদায়
ছড়িয়ে আছে, সেই কৃষকদেব বিপ্লবেব কাৰ্যে টেনে নিতে
পাবে। শিক্ষিত সম্প্রদাযেব গুটিকযেক লােকদের কাজ নয়
কৃষকদেব বিপ্লবের মধ্যে টেনে নেওয়া। শ্রমিকেরা
শহরে, ফ্যাক্টবীতে, উৎপাদনের কাজে নিযুক্ত থাকলেও
গ্রামের সঙ্গে তাদের একটা সহজ যােগাযােগ আছে।
সেই কারণে একমাত্র শ্রমিকদেবই সম্ভব গ্রামে গ্রামে
কৃষকদের মধ্যে বিপ্লবের বার্তা প্রচার করা ও শ্রমিকেরা
বিপ্লব শুরু কবলে সেই বিপ্লবেব সাহায্যেব কাজে
কৃষকদের যােগ দেওয়ানাে।
শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনের দুঃখ কষ্টের আলােচনা
নিয়েই লেনিন প্রথম তঁাব লেখা শুরু করেন। শ্রমিকদের
দুর্দশাই শ্রমিকদের উপর কলের কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার,
নানা ছুতোয শ্রমিকদের মাইনে কেটে নেওয়া প্রভৃতি
শ্রমিক জীবনের প্রত্যেক খুঁটিনাটি নিয়ে লেনিন প্রবন্ধ
লেনিন লিখতে শুরু করেন। সহকর্মী শ্রমিকদের সাহায্যে গােপনে বে-আইনী ভাবে কাগজ ছাপিয়ে বিভিন্ন ফ্যাক্টরীতে শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ কবতে থাকেন। এর থেকে কেউ যেন এই ভ্রান্ত ধারণা না করে বসেন যে, লেনিন কেবলমাত্র শ্রমিক-জীবনেব এই দৈনন্দিন দুর্দশাব আলােচনা করে ক্ষান্ত ছিলেন। লেনিন তাঁর প্রবন্ধ গুলিতে বারখার করে শ্রমিকদের বুঝিয়ে দিতে চেষ্টা করলেন যে শ্রমিকদের এই ইকনমিক আন্দোলনের সঙ্গে পলিটিক্যাল আন্দোলনের কি অচ্ছেদ্য সম্বন্ধ। লেনিন শ্রমিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ কবে দেখালেন যে, যেই একটি কলে শ্রমিকেরা হরতাল কবে নিছক মাইনে বৃদ্ধি করবাব জন্যে কি ঐ ধরণের অন্য কোন কারণে, অমনি কলের মালিক পুলিশের সাহায্য নিয়ে শ্রমিকদের অকথ্য অত্যাচার করতে ক্রটি করে না। এর থেকেই ইকনমিক- সের সঙ্গে পলিটিক্সের অচ্ছেদ্য সম্বন্ধ প্রমাণ হচ্ছে । ক্যাপিটালিষ্ট গভমেন্ট হচ্ছে কলওয়ালাদের গভমেন্ট। ১৪ গ্রেপ্তার লেনিনগ্রাডের শ্রমিকদের মধ্যে এই বে-আইনী কাগজ প্রচার করবাব কালেই লেনিন প্রথম বারেব মত গ্রেপ্তাব হন। কাবাগার থেকে গােপনে গােপনে লেনিন তাব লেখা কারাগাবের বাইবে সহকৰ্মীদের পাঠাতে থাকেন। সাইবেরিয়ায় নির্বাসন কালে লেনিন “রাশিয়ায কাপিটালিজমেব সম্প্রসারণ” ও “রুশীয় সােশাল ডেমাে- ক্রাটদেব কর্তব্য” নামে ভাব দুটি সুপ্রসিদ্ধ বই লেখা শেষ করেন। “বাশিয়ায় কাপিটালিজমের সম্প্রসারণ” গ্রন্থে লেনিন অতি পরিষ্কার ভাবে বাশিয়ার ভদান্তীন ইকনমিক অবস্থা বিবৃত কবেন ও ভবিষ্যতে রাশিয়াব ইকনমিক জীবন কোন্ পথ ধরে চলবে তা অসাধারণ স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্দেশ করেন। নাৰােদনিকিরা (জন- গণেব স্বাধীনতা বাদীরা) বরাবর বলতেন যে রাশিয়াতে ক্যাপিটালিজম কখনাে প্রবেশ করতে পারে না, রাশিয়াতে ক্যাপিটালিজমের অস্তিত্বই নেই, কৃষকদের মধ্যে ইকনমিক পার্থক্য আদবেই নেই। লেনিন তার এই গ্রন্থে নারাদ- নিকিদের সমস্ত ভ্রান্তি নিঃসন্দেহভাবে প্রমাণ করে
লেনিন
দিলেন। ষ্টাটিসটিকসের সাহায্যে তিনি দেখালেন যে
রাশিযাতে ক্যাপিটালিষ্ট উৎপাদন প্রণালী কি পবিমাণে
ব্যাপ্ত হযেছে ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। লেনিন এই বইয়েতে
দেখালেন যে কৃষকদের মধ্যে ইকনমিক পার্থক্য নেই--
নারােদনিকিদেব এই মতবাদ কতদূব ভ্রান্ত। তিনি দেখা-
লেন যে গ্রামে ধনী কৃষক, মধ্যবিত্ত কৃষক ও গরীব
কৃষকদেব মধ্যে অতি সুনির্দিষ্ট ইকনমিক প্রভেদ আছ।
যে প্রভেদেব ফলে এই তিন দলব ম'ধ্য নিয়ত দ্বন্দ্ব
চলছে। তিনি আরাে দেখালেন যে বাশিষ ক্যাপি-
টালিজমেব প্রসাবের ফলে শ্রমিকশ্রেণীব সংখ্যা বৃদ্ধি
হবে যে শ্রমিকশ্রেণী বিপ্লবের কালে ভাব দলের সাহায্যে
কৃষকদেব বিপ্লবের সহযােগিতাৰ কাৰ্য্যে আকর্ষণ কববে।
“রুশীয় সােশল ডেমােক্রাটদেব কর্তব্য” নামক গ্রন্থে
লেনিন দেখালেন যে বুর্জোয়াদের শাসন থেকে জনগণকে
যে বিপ্লব মুক্তি দেবে সেই বিপ্লবের প্রধান শক্তি হচ্ছে
শ্রমিকশ্রেণী।
তিন বৎসব নির্বাসনে যাপনের পর লেনিন রাশিয়া
ত্যাগ কবে বিদেশে গেলেন। তার বিদেশ যাবার উদ্দেশ্য
হােল বাশির বাইরে থেকে বিপ্লবমূলক সংবাদপত্রের
সম্পাদন করা। এই উদ্দেশ্য সফল হােল। লেনিন,
১৬
লেনিন
প্লেখানভ, ও মাটিভের সাহায্যে রাশিয়ার বিপ্লবমূলক
শ্রমিক সংগঠনের মুখপত্র স্বরূপ ইসা (আগুনের
ফুলকি) নামে পত্রিকা বের করেন।
এই পত্রিকা
বাশিয়ার বিপ্লব-মূলক আন্দোলনের ইতিহাসে অমর হয়ে
থাকবে। বিপ্লব-মূলক মতবাদকে শ্রমিকদের মধ্যে
ছড়িয়ে দিতে ইস্ক্রা যে কাজ করেছে তা অতুলনীয়।
প্রত্যেক শহরে যেখানে শ্রমিকশ্রেণীর অস্তিত্ব ছিলাে
সেখানে ইক্রাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকেরা সঙ্ঘ গড়ে
তুলতে লাগলাে। এই সগুলি “শ্রমিকশ্রেণীব মুক্তি
দাতৃ সংগ্রাম-সজ্জ” বলে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।
১৭
পাটি কংগ্রেস
১৮৯৮ সালে মিস্ক শহবে রাশিয়ার সােশাল
ডেমােক্র্যাটিক দলের পত্তন করা হয়। ১৯০৩ সালে
দলের দ্বিতীয় কনফারেন্সের অধিবেশন হয়। অধিবেশন
শুরু হয় ব্রুসেলসে, কিন্তু নানা কাবণে কনফারেন্স
অসমাপ্ত অবস্থায় থাকে। পরে লণ্ডনে কনফারেন্সের
অধিবেশন শেষ কৰা হয়। এই লণ্ডনেব কনফাবেলেই
মতের বিভিন্নতাব দরুণ রুশীয় সােশাল ডেমােক্রাটিক
দল “বলশেভিকৃ” ও “মেশেভিক” এই দুই দলে বিভক্ত
হয়ে যায়। মতের বিভিন্নতা যে বিষয় নিয়ে ঘটে
সেই বিষয়টি
হচ্ছে এই।
কনফারেন্সে
লেনিন প্রস্তাব আনেন যে, দলের প্রত্যেক সভ্যকে
আইন-বিরুদ্ধ গুপ্ত আন্দোলনের কাজ করতে হবে।
যারা এই আইন-বিরুদ্ধ কাজ করতে সম্মত নয় তার
লেনিনের মতে সােশাল ডেমোেক্রটিক দলের সভ্য
হবার অধিকারী নয়। অ্যাক্সেলরড প্রভৃতি একদল
সােল ডেমােক্রট যারা পরে মেশেভিক বলে খ্যাত
লেনিন হয়, তারা লেনিনের এই প্রস্তাবের ঘােরর বিরুদ্ধতা এদের মতে প্রফেসর, কলেজের ছাত্র, বিদ্যা- লযের শিক্ষক, আইন ব্যবসায়ী প্রভৃতি সকলকে সােশাল ডেমােক্রাটিক দলে প্রবেশ কববার সুযােগ দেওয়া উচিত। ঠিক এই মতবাদকে নাকচ করে দেবার জন্যেই লেনিন ভাব প্রস্তাব এনেছিলেন। বিপ্লবমূলক শ্রমিকসঙ্ঘকে এই সব সুবিধাবাদী শিক্ষিতদের সংস্পর্শ থেকে রক্ষা করাই ছিলাে লেনিনের উদ্দেশ্য। ১৯০৫ সালে বিপ্লবের আগে পর্যন্ত এই শিক্ষিত সম্প্রদাযের অনেকেই মার্কসের বই থেকে উদ্ধৃত কবে বুলি আওড়াতে এবং নিজেদের সােল ডেমােক্রাট বলে প্রচার করতে । আসলে কিন্তু এরা বুর্জোয়া শ্রেণীব উদারনৈতিক (liberal) দলের লােক ছাড়া আর কিছুই ছিলাে না। এরা নিজেদের গা বাঁচিয়ে যতদিন কথাব চাল দিয়ে চলতে ততদিন নিজেদের সােশাল ডেমােক্রাট বলে জাহির কবতে কসুর করতাে না, কিন্তু বে-আইনী গুপ্ত বিপ্লবমূলক অনুষ্ঠানে যােগ দিয়ে নিজেদের বিপদাপন্ন করবার মত মুবদ এদের কারাে ছিলাে না। এই বিপ্লবের বুলি আওড়াতে মজ- বুত অথচ আসল কাজের বেলা পশ্চাৎপদ এই ধাপ বাজ শিক্ষিত সম্প্রদায়ের লোেকদের অতি অনিষ্টকর
লেনিন
বুর্জোয়া প্রভাব থেকে শ্রমিক আন্দোলনকে বাঁচাতে
বদ্ধপরিকর ছিলেন লেনিন। যারা লেনিনের যুক্তির
যথার্থতাকে সমর্থন করে লেনিনেব দলে রইলেন
তারা “বলশেভিক” নামে খ্যাত হলেন, আর যারা
দলের মধ্যে হরেক রকমের লােকের আমদানী
করে শ্রমিকসঙ্ঘেব বিপ্লবমূসক উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করে
দেবার উদ্যোগ করলে তারা “মেসেভি” নামে খ্যাত
হােল। এই প্রথম দৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে এমন একটা
তুচ্ছ কারণ নিয়ে দলকে বিভক্ত করবার এমনই বা কি
প্রয়ােজন ছিলাে ? পরবর্তীকালে দলের ইতিহাস
লেনিনেব অসামান্য দূরদর্শিতার ভূরি ভূবি প্রমাণ দিয়েছে।
শুধু রুশীয় মেশেভিক্ দল নয়, অন্য দেশের সােল
ডেমােক্রাটিক দলগুলিও এই শিক্ষিত সম্প্রদায়ের লােকদের
দলের মধ্যে প্রবেশের পথ সহজ করে দিয়ে দলগুলিকে
ক্রমশঃই বুর্জোয়া ভাবাপন্ন করে তুলেছে। অবশ্য এই
সব দলগুলি যে কোন বিচার না করে শিক্ষিত সম্প্রদায়ের
সুবিধাবাদী লােকদের দলের মধ্যে প্রবেশ করতে দিয়েছে
তার কারণ অতি সুস্পষ্ট। তার কারণ হচ্ছে এই যে,
দলগুলির নেতৃত্ব ছিল যাদের হাতে তারা নিজেরাই ছিলাে
সুবিধাবাদী লােক। যতদিন বিপ্লবের সম্ভাবনা দূরে
লেনিন
ছিলাে ততদিন এরা “বিপ্লবী” ছিলাে—বিপ্লবের সম্ভাবনা
যতই আসন্ন হয়ে এলাে তখন দেখা গেলাে পৃথিবীর সমস্ত
দেশের সােশাল ডেমােক্র্যাটিক নেতার দল আসলে
হচ্ছে বিপ্লবের ঘােরর শত্রু। এই নেতাবা হচ্ছে
আসলে বুর্জোয়া সম্প্রদায়ভুক্ত—উদাবনৈতিক দলভুক্ত
লােক। এদেব শ্রমিক আন্দোলনে প্রবেশের উদ্দেশ্যই
হচ্ছে শ্রমিক আন্দোলনে বুর্জোয়া মতবাদের ভেজাল
মিশিয়ে বিপ্লবকে প্রতিহত করা। পৃথিবীর সব দেশের
সােশাল ডেমােক্রাটিক দল যখন ১৯১৪ সালেব
ইম্পিরিযালিষ্ট যুদ্ধের সময় থেকে একেবারে পূরােপূরি
ভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করে, শ্রমিকদের স্বার্থ ইম্পিরিয়া-
লিষ্টদের পায়ে বিকিয়ে দিলাে তখন একমাত্র বলশেভিক
দল যে রুশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমিকশ্রেণীর স্বার্থ বজায়
রাখবার জন্যে সংগ্রাম করেছে-তার অন্যতম কারণ হচ্ছে
যে, এই দল লেনিনের মত নেতা পাবার সৌভাগ্যলাভ
করেছিল, যে নেতা বুর্জোয়া শিক্ষিত সম্প্রদায়ের সুবিধাবাদী
লােকদের শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে প্রবেশ করবার পথে,
বিপ্লবমূলক সংগঠনের অস্তিত্বের পক্ষে অবশ্যম্ভাবী
প্রয়ােজনীয় কঠোব পরীক্ষার ব্যবস্থা রেখেছিলেন।
লণ্ডনের কনফারেন্সে দল বিভক্ত হয়ে যাওয়ার ফলে
লেনিন
লেনিন ইসাব সঙ্গে কিছুকালের মত সমস্ত সম্পর্ক ত্যাগ
করতে বাধ্য হলেন। ইসার সম্পাদনেব ভার তখন
মেশেভিক মারটভ, ও প্লেখানভের হাতে রইলাে।
এই সময় লেনিন “পিবােদ” ( অগ্রসর) নাম দিয়ে এক
কাগজ বের করেন। এই সময়ই শ্রমিক আন্দোলনের
অবিসম্বাদী নেতা বলে লেনিনের খ্যাতি সমগ্র বাশিয়ায়
ব্যাপ্ত হয়েছিল। তাৰ ফলে রাশিয়ার সুদূবতম প্রান্ত
থেকে বিপ্লবীরা লেনিনের সঙ্গে দেখা কববার জন্যে প্রভূত
কষ্ট স্বীকার করে বিদেশে যেতেন।
১৯০৫ সালের বিপ্লব ১৯০৫ সালে বাশিয়ায় বিপ্লব আৰম্ভ হয়। বিপ্লবেব খবর লেনিনের কাছে পৌছাতেই তিনি অন্য সমস্ত কাজ ফেলে রাশিয়ায় ফিরে আসেন। পিটার্সবুর্গে (বর্তমানের লেনিনগ্রাডে) বিপ্লব আন্দোলন তখন তার সর্বোচ্চ সীমায় এসে পৌঁচেছে। শ্রমিকদের নির্বাচিত ডেপুটি এবি মধ্যে তাদের অধিবেশন শুরু করে দিয়েছিল। লেনিন পিটার্সবুর্গে পৌছে গােপনে বাস কবতে লাগলেন। খুবই কদাচিৎ তিনি প্রকাশ্যভাবে সভায বক্তৃতা দিতেন। অধিকাংশ সময় তিনি শ্রমিকদের নিৰ্বাচিত ডেপুটিদের অধিবেশনে কাটাতেন। শাসিত রাশিয়ায় এই সর্ব প্রথমবারের মত শ্রমিকেরা প্রকাশ্যভাবে তাদের দুর্দশার কথা নিয়ে আলােচনা কববার সুযােগ পেলাে। লেনিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে অত্যন্ত মনযােগের সঙ্গে প্রত্যেক শ্রমিকের বক্তব্য এই শ্ৰমিক-ডেপুটিদেব অধিবেশন খুবই অল্পকালস্থায়ী হয়েছিলো। জাবের গভর্ণমেন্ট সুযােগ বুঝে ডেপুটিদের গ্রেপ্তার করে এই অধিবেশনকে রদ কবে জাব- শুনতেন।
লেনিন দিলাে। এই বৎসরেই ডিসেম্বর মাসে মস্কোতে শ্রমিকেরা জারের শাসনের বিরুদ্ধে বিরাট বিপ্লব-আন্দোলন শুরু কবে দিলাে। বিরাট আকারে শ্রমিকদের বিপ্লব-আন্দোলন বাশিয়ায় এই সর্বপ্রথম। মস্কোর প্রেসনায়া ডিষ্ট্রিক্টের শ্রমিকেরা বিপ্লব শুরু করে দেবাব ঠিক আগে লেনিন পিটার্সবুর্গ থেকে মস্কোতে গােপনে আসেন। মস্কোর বিপ্লবের নেতৃত্ব সম্পূর্ণভাবে বলশেভিকদের হাতে ছিলাে। মস্কোর এই বিপ্লব-আন্দোলন পরাজিত হােল । শ্রমিকদেব রক্তস্রোত মস্কোর রাস্তায় অবিবামভাবে বইলাে। ভীষণ অত্যাচারের শুরু হােল। দলকে দল। শ্রমিক বিপ্লবীরা বাশিব সুদূর প্রান্তে সাইবেরিয়ায নির্বাসনে প্রেরিত হােল। মস্কোতে বিপ্লবের পরাজয়, পিটার্সবুর্গে শ্রমিক- ডেপুটিদের গ্রেপ্তার মেশেভিকদেব সুযােগ দিলাে বলশেভিকদের আক্রমণ করবার। মেশেভিক নেতা প্লেখানােভ, মস্কোর বিপ্লব পরাজিত হযেছে খবর পেয়ে বলশেভিকূদের গাল দিয়ে বল্লেন, “আমি তােমাদের আগেই সাবধান করে দিয়েছিলুম। অস্ত্র নিযে জারের গভর্ণমেন্টের সঙ্গে যুদ্ধ করা শ্রমিকদের পক্ষে অত্যন্ত ভুল হয়েছে।” মেশেভিকরা বলতে শুরু কলে যে ২০
|
লেনিন
শ্রমিকদের শ্ৰেণী-সংঘাতের সমস্ত প্রণালী পরিবর্তিত
করবাব একান্ত প্রয়ােজন আছে। এদের মতে, যে
প্রণালীতে শ্রমিকেরা এতদিন শ্রেণী-সংঘাত চালিয়ে
এসেছে তা সম্পূর্ণ ভুল প্রণালী। শ্রমিকেরা অত্যধিক
দাবী করে শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতিসম্পন্ন বুর্জোয়াদের
একটি অংশের সহানুভূতি হারিয়েছে। শ্রমিকদের জানা
উচিত ছিল যে, এত বেশী দাবী কবলে তারা পরাজিত
হবেই।
১৯০৫ সালের রাশিয়ার প্রথম বিপ্লবের পরাজয়ের
পবে মেশেভিকরা শ্রমিক-আন্দোলনের উপবি উক্ত
বিপ্লবের সম্পূর্ণ পরিপন্থী সমালােচনা শুরু করলাে।
মেনশেভিকদেব এই সুবিধাবাদী মতবাদের তীব্র
সমালােচনা করলেন লেনিন। মেশেভিকদের তীব্র
বিদ্রুপ করে লেনিন বল্লেন যে যদি শ্রমিক শ্রেণী বিপ্লবে
পরাজিত না হয়ে জয়ী হােত, তা হলে মেশেভিক্রা
নিশ্চয়ই অন্য সুরে গাইতো আর শ্রমিক শ্রেণীব এই শত্রুতা
করতো না। বুর্জোয়াশ্রেণীর যে সব লােকদের সহানুভুতি
হারাবাব অপবাধে মেশেভিকরা শ্রমিকদের অভিযুক্ত
কবছে সেই লােকেরা মস্কোতে, পিটার্সবুর্গে বিপ্লব
পরাজিত হবার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বােল বদলিয়েছে।
লেনিন
তারা বলতে শুরু করেছে যে শ্রমিক-আন্দোলনের উদ্দেশ্য
সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হয়েছে, এখন এই বুর্জোয়া
ভদ্রলােকেরা Constitutional Monarchyর জন্যে
আন্দোলন করাই সব চেয়ে শ্রেয় বলে সাব্যস্থ কবেছে।
লেনিনের মতে এই বিপ্লবের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
অসামান্য। এই বিপ্লবেব গুরুত্ব ১৮৭১ সালের প্যারিস
কমুনের” চেযে কোন অংশে নূন নয। বাশির
ইতিহাসে এই প্রথম শ্রমিকেবা প্রবল পরাক্রান্ত
জারের শাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। তারা পরাজিত
হযেছে বটে, কিন্তু, এই পবাজ বহু জযের চেয়ে বেশী
মূল্যবান। শ্রমিকশ্রেণীর , এই সঙ্গীন সময়ে একমাত্র
লেনিন রাশিয়ার সমস্ত শ্রমিকদেব আশ্বাস দিয়ে বল্লেন
যে এই পরাজয় শুধু সামযিক । সে দিনেব বেশী বিলম্ব
নেই যে দিন শ্রমিকশ্রেণী নব বলে বলীয়ান হয়ে
তাব শত্রুকে পরাজিত করে মুক্তি পাবে। একমাত্র
লেনিনের বাণীই সেই দুর্দশার দিনে শ্রমিকদেব বল
দিয়েছিল।
বিপ্লব পরাজিত হবার পর শ্রমিক-আন্দোলন গুপ্তভাবে
কাজ চালাতে লাগলাে। লেনিন কিছুকাল পিটার্সবুর্গে
লুকিয়ে রইলেন কিন্তু পিটার্সবুর্গে লেনিনের থাকা নিরাপদ
লেনিন ন্য মনে করে দলের কাৰ্যনিৰ্বাহক কমিটি ১৯০৬ সালে লেনিনকে রাশিয়া ছেড়ে ফিলাণ্ডে যেতে বাধ্য করলাে। পিটার্সবুর্গ থেকে মাত্র পঞ্চাশ কিলােমিটার দূরে ফিলাণ্ডের কুত্তালা নামক ষ্টেশনের ধারে ছােট্ট একটি সহরে লেনিন বাসা নিলেন। পিটার্সবুর্গের শ্রমিকের দলে দলে কুকালাতে গিয়ে লেনিনের সঙ্গে দেখা করতে ও তার নির্দেশমত পিটার্সবুর্গেব শ্রমিক-আন্দোলনের কাজ চালাতো। এক কথায় বলা যেতে পারে যে কুওকালা ও পরে টেরিযােকর একটি ছােট্ট বাড়ী থেকে সমগ্র বাশিব শ্রমিক-আন্দোলন নিয়ন্ত্রিত হােত। ১৯০৬ ও ১৯০৭ সালে বলশেভিকদের ও মেশেভিক- দের মধ্যে যে কারণে মতদ্বৈধ হয়েছিল তা হচ্ছে এই , মেশেভিকরা এই সময়ে এই মত প্রকাশ করলাে যে শ্রমিকশ্রেণী পরাজিত হয়েছে ও সেই পরাজয়ের ফলে শ্রমিক-আন্দোলনের সমস্ত উদ্দেশ্য নষ্ট হযেছে। বিপ্লবের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্ভাবনা আর বিন্দুমাত্র নেই। মেশেভিকদের মতে শ্রমিকশ্রেণীর একমাত্র কাজ হচ্ছে যেমন অন্য দেশে আছে তেমনি একটি আইন-সম্মত সােশাল ডেমােক্রাটিক দল স্থাপন করা। এর উত্তরে বলশেভিকরা বল্লেন যে সত্য বটে শ্রমিক আন্দোলন ২৭
নেনিন
অতি সঙ্গীন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু বিপ্লব আদবেই
শেষ হয়ে যায়নি-শুধু কিছুকালের মত স্থগিত হয়েছে।
এই সময়ে কর্তব্য হচ্ছে দলকে আরও সুদৃঢ়ভাবে গঠিত
করা ও সেই সব শ্রমিকদের বাছাই কবে নিয়ে তৈবী করে
তােলা—যারা অবশ্যম্ভাবী দ্বিতীয় বিপ্লবের নেতৃত্ব করতে
পারবে।
বলশেভিকেরা এই মত
তানুযায়ী কাজ শুরু
করে দিলেন আর মেশেভিকেরা হতাশভাবে বিলাপ
শুরু করে দিলো ও তার সঙ্গে বুর্জোয়াশ্রেণীর স্বার্থের
অনুকুল পথে শ্রমিক-আন্দোলনকে চালাতে চেষ্টা করতে
লাগলো।
ফিনলাণ্ডে বাস আর নিরাপদ নয় জেনে বলশেভিকদল
লেনিনকে বিদেশে পাঠিয়ে দিলো। বিদেশে গিয়ে
লেনিন “প্রােলিটাবিয়ার” ( সর্বহারা) নামে কাগজ বেব
কবলেন। এই কাগজ লেনিন কর্তৃক সম্পাদিত সেই প্রথম
যুগের ইসার (মারটভ, ও প্লেখানােভেব ইসার
নয় ) ধারা বজায় রাখলাে।
১৯০৮ সাল থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত রুগীয় শ্রমিক
আন্দোলনের সব চেয়ে দুঃসময় গেছে। জাবে মন্ত্রী
ষ্টালিপিন শ্রমিক-আন্দোলনকে নির্মল করবার জন্যে
২৮
লেনিন
কোন পন্থা বাদ দেয়নি। এই পিশাচের আদেশে শত
শত বিপ্লবী শ্রমিক এই দুই বৎসরে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত
হয়েছে। কাবাগারগুলি পূর্ণ হয়ে উঠলাে কিন্তু এবারে
যারা কারাগাব পূর্ণ করলে তারা শিক্ষিত সম্প্রদায়ের
লােক নয়, তারা সবাই শ্রমিক ও কৃষক। বলশেভিকদল
এই অতি সঙ্গীন সময়ে গুপ্তভাবে সমস্ত ফ্যাক্টরীতে তার
মতবাদ প্রচার করতে লাগলো। অনেক বলশেভিক ধরা
পড়লাে, নির্বাসিত হলাে , কিন্তু দলের কাজ আগেকার
মতই চলতে লাগলো। শিক্ষিত সম্প্রদায়ের সেই সব
লােকেরা—যারা আগে শ্রমিক-আন্দোলনের সহায়তা
করতাে—তারা বিপদ দেখে শ্রমিক-আন্দোলনের সঙ্গে
সমস্ত সম্বন্ধ ত্যাগ করে কাব্য ও যৌন-সম্বন্ধে লিখিত বই
নিযে মশগুল হােল। ছাত্রের দল শ্রমিক-আন্দোলনের
সােজাসুজি বিপক্ষতাচরণ শুরু করলাে। সংবাদপত্রগুলি
শ্রমিক-আন্দোলনকে আক্রমণ করাই তাদের প্রধান কাজ
বলে সাব্যস্থ করলে।
এই ভীষণ প্রতিক্রিয়ার কালে লেনিন বিপ্লবমূলক
মার্কসীয় মতবাদকে অক্ষুন্ন রাখার জন্য মেশেভিকদের
সঙ্গে অবিশ্রান্ত যুদ্ধ করেন। মেশেভিকেরা মার্কসের
মতবাদের বিপ্লবমূলক অংশ ছেটে ফেলে দিয়ে তাকে
লেনিন
সমস্ত
বুর্জোয়াদের সন্তুষ্ট করতে পারে এমন “ভদ্র”বেশে সাজিয়ে
বাজারে বের করবার চেষ্টা করলাে। মার্কসের বিপ্লবমূলক
মতবাদকে তারা তাদের মনের মত করে সাজিয়ে গুজিয়ে
তাকে পালামেণ্টাবী আন্দোলনের মতবাদ বলে প্রতিপন্ন
করবার চেষ্টা করলাে। এই প্রতিক্রিয়ার বৎসরে চাবিধার
থেকে শত্রুরা মার্কসীয় মতবাদের বিপ্লবমূলক অংশ বাদ
দিয়ে তাকে বিকৃত করে দেখাবার চেষ্টা কবেছিল।
একমাত্র লেনিন অশান্তভাবে লেখনী চালিয়ে শত্রুদের
সমস্ত ধাপ পাবাজী ধরিয়ে দিয়ে তাদেব
অভিসন্ধি ব্যর্থ করে দিলেন। শুধু লেখনী চালিয়েই
লেনিন অান্ত ছিলেন না।
দলকে সুদৃঢ়ভাবে সংগঠিত
করে তোলবার কাজে লেনিন আত্মনিযােগ করেছিলেন।
এই মহা-বিপ্লবী দলের সংগঠনের কাজকে কখনাে তুচ্ছ
বলে মনে করেন নি। দলেব মতবাদকে পুষ্ট করার ক্ষেত্রে
তার দান যেমন অমূল্য, দলকে সংগঠত করবার কাৰ্য্যে
লেনিন যে অংশ গ্রহণ করেছেন তাও তেমনি অতুলনীয়।
১৯১১ সালে শ্রমিক-আন্দোলন যে পুনরায় সঞ্জীবিত
হয়ে উঠেছে তার লক্ষণ দেখা গেলো। লেনা সহরে
জারের সৈন্যদের দ্বারা শ্রমিকদের হত্যা, পিটার্সবুর্গ ও
মস্কোয় শ্রমিকদের বিশেষ উত্তেজিত করে তুললাে।
লেনিন প্রকাশ্যভাবে পত্রিকা বের করা এই সমযেই প্রথম সম্ভব হােল। “জভেজদা” (তারকা) নাম দিয়ে বলশেভিকেরা পিটার্সবুর্গে এক পত্রিকা বের করেন। প্রথম প্রথম পত্রিকা সপ্তাহে এক বার করে বের হতাে, পরে সপ্তাহে দু’বাব করে বের হতাে। পিটার্সবুর্গের শ্রমিকদের মধ্যে এই পত্রিকা অত্যন্ত সমাদব লাভ করেছিল। কিছুকাল পরে বলশেভিকেরা এই পত্রিকা বন্ধ করে তার স্থানে “প্রাভদা” (সত্য) বলে পত্রিকা বেব করলেন। জারেব গভর্ণমেন্ট এই পত্রিকার যত রকমে সম্ভব বিরুদ্ধ করতে ত্রুটি করেনি। কয়েকবার পত্রিকাটি বাজেয়াপ্ত হয়, কয়েকবার পত্রিকার বিক্রেতারা গ্রেপ্তাব হয় কিন্তু তা সত্বেও প্রাভদার প্রচার উত্তরােত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। কিছুকাল পরে ডুমার সভ্য নির্বাচনের সময়ে গভর্ণমেন্টের সমস্ত বিরুদ্ধতা সত্বেও শ্রমিকদের প্রতিনিধি- দেব জন্যে যে ছ’টি স্থান বা সিট ছিলো সেই সব ক'টি স্থানই বলশেভিকেরা অধিকার করে। এই সময় থেকে আশ্চৰ্য্য দ্রুত গতিতে শ্রমিক- আন্দোলন বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৯১৪ সালের গ্রীষ্মকালে যুদ্ধের আগেই পিটার্সবুর্গের শ্রমিকেরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের কালে পিটার্সবুর্গের রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরী লেনিন করে। দ্বিতীয়বারের মত বিপ্লবের সম্ভাবনা দেখা যেতে লাগলাে। ঠিক এই সময়েই বিশ্বব্যাপ ইম্পিবিযালিষ্ট যুদ্ধ শুরু হয়। ডুমাব বলশেভিক সভ্যেরা গ্রেপ্তার হয়ে নির্বাসিত হােল। “প্রাভদা” পত্রিকার প্রচার গভর্ণমেন্ট বন্ধ করে দিলাে। আবার শত শত বিপ্লবী শ্রমিক কাবাগাবে আবদ্ধ হােল। বলশেভিক্ দলের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন সময় উপস্থিত হােল। এই সময়ে লেনিন পূর্বের মতই বিদেশে থেকে বলশেভিক্ দলের মুখপত্রস্বরূপ পত্রিকা সম্পাদন কর- ছিলেন। ইম্পিরিযালিষ্ট যুদ্ধের সূত্রপাত থেকেই তিনি এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে লিখতে শুরু করেন। তাঁর এই সময়কার লিখিত সমস্ত প্রবন্ধ পবে “স্রোতের বিরুদ্ধে” এই নামে বই আকারে বের হয়। রুশীয় মেশেভিকরা যুদ্ধের সূত্রপাত থেকেই ন্যাশন্যালিষ্ট মূর্তিতে দেখা দিলাে। তারা জারের গভর্ণমেন্টকে সাহায্য করবার জন্যে শ্রমিক- দের নানা রঙের ন্যাশন্যালিষ্ট বুলি আওড়ে উত্তেজিত করতে লাগলো যুদ্ধে যােগ দিবার জন্যে। একমাত্র লেনিন এই মত প্রচার করলেন যে জারের গভর্ণমেন্টের যুদ্ধে পরাজয় রুশীয় শ্রমিক শ্রেণীর স্বার্থের অনুকূল। জারের গভর্ণমেন্ট যুদ্ধে পরাজিত হলে বিপ্লবেরই জয় হবে।
এই বলে যে, লেনিন মেশেভিকের দল, রুশীয় ন্যাশন্যালিষ্টের দল একযােগে লেনিনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালাতে লেনিন রাশিয়াকে জাৰ্মাণীর কাছে বিক্রী করে দিতে চান। লেনিন দেশদ্রোহী ইত্যাদি। যুদ্ধের বিরুদ্ধে কিছু বলা কিংবা লেখা, এই সময়ে যে কি ভযানক শক্ত কাজ ছিলােতা যারা সেই অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়ে না গেছে তারা বুঝতে পারবে না। যে কেউ যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি শব্দ উচ্চারণ করেছে তাকে লােকে ছিড়ে ফেলবার দাখিল করতাে। সেই প্রচণ্ড বিরুদ্ধতা, তার নিজের বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যা আন্দোলন সব তুচ্ছ করে লেনিন একা প্রােটোরিযান ইন্টারন্যাশান্যালিজমের (বুর্জোয়া ইন্টার- ন্যাশান্যালিজম নয় ) মহান আদর্শ সমস্ত পৃথিবীর শ্রমিকশ্রেণীর হয়ে বাঁচিয়ে রাখলেন। শুধু যে রুশীয় মেনশেভিকদের বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে লেনিন যুদ্ধ করেছিলেন তা নয়, আন্তর্জাতিক মেশেভিলেব অর্থাৎ সােশ্যাল ডেমােক্রাটিক দলের বিরুদ্ধে, দ্বিতীয় ইন্টারন্যাশন্যালের জঘন্য বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে লেনিন ঘােরর সংগ্রাম করেছিলেন। দ্বিতীয় ইন্টার- ন্যাশন্যালের মেশেভিক নেতারা ইম্পিরিয়ালিষ্ট যুদ্ধে শ্রমিকদের কোন মতেই যােগ দেওয়া উচিত নয়, প্রত্যেক
লেনিন
দেশে শ্রমিকেরা তাদের গভর্ণমেন্ট যদি যুদ্ধ ঘােষণা করে
তাহলে সেই যুদ্ধের বিরুদ্ধাচরণ করবে ইত্যাদি যে সব
বুলি যুদ্ধের আগে পর্যন্ত আওড়ে এসেছিল যুদ্ধ শুরু
হবার সঙ্গে সঙ্গে তারা একেবারে তার বিপরীত সুব
ভাজতে শুরু কবলল। দ্বিতীয় ইন্টারন্যাশন্যালের
অধিবেশনে ফরাসী সােগাল ডেমোেক্রাট ও জাৰ্মাণ
সােশ্যাল ডেমােক্রাট পরস্পরকে ছিড়ে ফেলবাব দাখিল
কবলে। প্রত্যেক দেশের সােশ্যাল ডেমােক্রাট যুদ্ধ
শুরু করবার অপবাধের জন্যে অন্য দেশকে দায়ী কবে
পবম আত্ম-প্রসাদ লাভ কবলে। পরিষ্কার দেখা গেলো
যে প্রােলােটাবিযান ইন্টারন্যাশন্যালিজম সম্বন্ধে এই
সােশ্যাল ডেমােক্রাটরা এতদিন যা’ বলে এসেছে তা
এদের মুখে নিছক্ মিথ্যা বুলি, এবা আসলে হচ্ছে বুর্জোয়া
ন্যাশন্যালিষ্ট। দ্বিতীয় ইন্টারন্যাশন্যাল ইম্পিরিযালিষ্ট
গভর্ণমেন্টের এজেন্ট হিসেবে প্রত্যেক দেশের শ্রমিকদের
যুদ্ধে যােগ দেওয়ার কাজে নিযুক্ত হােল। লেনিন দ্বিতীয়
ইন্টারন্যাশন্যালের এই ঘৃণ্য বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে
এই সময়ে যে সব প্রবন্ধ লেখেন তা প্রত্যেক শ্রমিকের
ও শ্রমিক-আন্দোলনে নিযুক্ত কর্মীর অবশ্য পাঠ করা
উচিত। আন্তর্জাতিক শ্রমিকশ্রেণীর সমস্ত নেতারা যখন
৩৪
লেনিন তাদের বুর্জোয়া গভর্ণমেন্টের পদানুসরণ করে আন্তর্জাতিক শ্ৰমিক-আন্দোলনের মতবাদকে জলাঞ্জলি দিলাে তখন আন্তজাতিক শ্রমিকশ্রেণীর নেতাদের মধ্যে একা কেবল লেনিন এই মতবাদের সমর্থন করে দ্বিতীয় ইন্টারন্যাশ- ন্যালের বিরুদ্ধে ঘােরর সংগ্রাম করেন।
ফেব্রুয়ারী অক্টোবর বিপ্লব
১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে রাশিয়ায় বিপ্লব
# হােল। লেনিন বিপ্লবেব খবর পেয়েই চেষ্টা করতে
লাগলেন যত শীগগির সম্ভব, যে কোনাে উপায়ে হােক
রাশিয়ায় ফিবে যেতে। বাশিয়ায় ফিরে যাওয়ার উপায়
নির্ধারণ করা নেহাৎ সহজ ছিলাে না। রুশীয় বুর্জোয়াদের
প্রতিনিধিস্বরূপ মিলুক, ( মিলুকভ, কেরেনৃস্কিব
গভর্ণমেন্টে পবরাষ্ট্রসচিব ছিলাে) ইংবেজ গভর্ণমেন্ট
ও ফরাসী গভর্ণমেন্টের কাছে এই অনুরােধ জানালে
যে এই দুই গভর্ণমেন্ট যেন যত রকম উপায়ে সম্ভব
লেনিন ও অন্যান্য বিপ্লবীদের রাশিয়ায় ফিরে যেতে
বাধা দেয়। রাশিয়ার বুর্জোয়া সম্প্রদায়ের ভালাে
করেই জানা ছিলাে যে, লেনিনকে রাশিয়ায় ফিরে যেতে
দেওয়া মানে হচ্ছে তাদের বুর্জোয়া গভর্ণমেন্টের কবর
খোঁড়া। সহস্র বাধা সত্বেও সমস্ত বিপদ উপেক্ষা করে
নেনিন
লেনিন ও তার সহকর্মীরা রাশিয়ায় ফিরে যাবার উপায়
খুঁজতে লাগলেন। লেনিন স্থির করলেন যে সুইডিস
পাসপাের্ট জোগাড় করে সুইডেনের মধ্যে দিয়ে রাশিয়ায়
ফিরে যাবেন। পাসপাের্ট প্রভৃতি সমস্ত আবশ্যকীয় কাগজ
পত্রের বন্দোবস্ত যখন প্রায় ঠিক তখন কথায় কথায় একদিন
সেই লােকটি যে পাসপাের্ট বন্দোবস্ত করে দিচ্ছিলাে,
লেনিনকে জিজ্ঞেস করলো, “আশা কবি আপনাবা
সুইডিস ভাষায় কথা কইতে পারেন ?” সকলে মাথায়
হাত দিয়ে বসে পড়লেন। তাঁরা কেউই সুইডিস ভাষার
একটি অক্ষৰ পৰ্যন্তও জানতেন না। লেনিন বল্লেন,
“নাই বা সুইডিস জানলুম, বােবার ভাণ করে চুপ করে
থাকলেই চলবে।” সকলেই বুঝলেন যে এ উপায়ে
রাশিয়ায় ফিবে যাওয়া অসম্ভব। যখন রাশিয়ায় ফিরে
যাওয়ার আর অন্য কোন উপায়ই খুঁজে পেলেন না, তখন
লেনিন স্থির করলেন যে জাৰ্মাণীর মধ্যে দিয়ে রাশিয়ায়
ফিরে যাবেন। লেনিন খুব ভালাে করেই জানতেন যে
জাৰ্মাণীর মধ্যে দিয়ে যাবার দরুণ তাকে ও তাঁর
সহকর্মীদের অনেক মিথ্যা বদনামের ভাগী হতে হবে।
রুশীয় বুর্জোয়া সম্প্রদায় এ সুযােগ ছেড়ে দেবে না,
লেনিনকে জাৰ্মাণ গভর্ণমেন্টের চর বলে অপবাদ দিতে।
৩৭
লেনিন এ বিপদ থাকা সত্বেও লেনিন স্থির করলেন যে জাৰ্মাণীর মধ্যে দিয়ে বাশিয়ায় ফিবে যাবেন। এ ছাড়া রাশিয়ায় ফিরে যাবার আর অন্য কোন উপায় ছিলাে না। লেনিন উঁব অভিপ্রায় জাৰ্মাণ, ফরাসী, সুইডিস কম্যুনিষ্টদের জানালেন। সকলেই লেনিনের অভিপ্রাযকে সেই অবস্থায় একমাত্র সম্ভবপর প্রস্তাব বলে সমর্থন করলাে। কাইসারের গভর্নমেন্টের কাছে জাৰ্মাণীর মধ্যে দিয়ে রাশিয়ায় ফিরে যাবার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হােল। কাইসারেব গভর্ণ- মেণ্ট তখন জারের গভর্ণমেন্টের সঙ্গে যুদ্ধে রত। কাই- সারের গভর্নমেন্ট ভাবলাে যে এই বিপ্লবীদের রাশিয়ায় ফিরে যাওযার বন্দোবস্ত করে দিলে এবা এদের বিপ্লব- মূলক আন্দোলনের দ্বারা রুশীয গভর্ণমেন্টকে হীনবল করে দেবে, আর তার ফলে কাইসাবেব গভর্ণমেন্টের সুবিধে হবে। কাইসারের গভর্নমেন্ট এই ভেবে লেনিনকে ও তার সহকর্মীদেব জাৰ্মাণীর মধ্যে দিয়ে রাশিয়ায় ফিরে যেতে দিতে সম্মত হােল। কাইসাবের গভর্ণমেন্টের এই নিৰ্ব দ্ধিতা ও অদূর- দর্শিতা লেনিনের পক্ষে বব স্বরূপ হােল। কাইসারের গভর্ণমেন্ট রেলের কম্পার্টমেন্টের বন্দোবস্ত কবে দিলাে।
লেনিন কম্পার্টমেন্টের দরজাগুলি ভালো করে শীলমােহব করে দেওয়া হােল। এই গাড়ী কবে লেনিন ও তাহার সহকৰ্মীরা বাশিয়ার দিকে রওনা হলেন। ফিনলাবে সীমায় গাড়ী পৌছলে লেনিন তাব সহকর্মীদের লক্ষ্য করে বল্লেন, “এই গাড়ী থেকেই আমরা সােজাসুজি জেলে গিয়ে উঠবে।” লেনিন সিদ্ধান্ত কবে বসেছিলেন যে পিটার্সবুর্গে পেীছননা মাত্র সাময়িক বুর্জোয়া গভর্ণমেন্ট দেশদ্রোহীতার অপবাধে ভঁহাদের গ্রেপ্তাব কববেই কববে। পিটার্সবুর্গেব ষ্টেশনে গাভী পেছালে সকলেই অত্যন্ত বিস্মিত হােলেন। পিটাস- বুর্গের হাজার হাজাব শ্রমিক লেনিনকে বিপুল অভ্যর্থনা দিলাে। কোথায় বা কারাগাবে যাওয়াব জন্যে প্রস্তুত হচ্ছিলেন আর তার বদলে কিনা এই বিপুল শ্ৰমিকসঙ্বে অভ্যর্থনা। বিস্মিত না হয়ে উপায় কি ? পিটার্সবুর্গর সমস্ত বুর্জোয়া প্রেস লেনিন ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যে প্রচার করতে দেরী করলাে না। শীঘ্রই সমস্ত বুর্জোয়া প্রেসে শীলকরা বেলগাড়ী করে জাৰ্মাণীব মধ্যে দিয়ে বাশিয়ায় ফিবে আসার ঘটনাটিকে যতদূর সম্ভব বিকৃত করে লেনিনকে জাৰ্মাণ গভর্ণমেন্টের চর বলে ঘােষণা করতে শুরু করলাে। পিটার্সবুর্গের লেনি। শ্রমিক ও সৈন্যদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সােভিযেট তখন মেশেভিকদের হাতে ছিলাে। এই সােভিয়েটের কাৰ্যনিৰ্বাহক সমিতি লেনিন ও তার সহকর্মীদেব কাৰ্যনিৰ্বাহক সমিতিতে এসে তাদেব জাৰ্মাণীর মধ্যে দিয়ে শীল করা গাড়ীতে করে রাশিয়ায় ফিরে আসাব ‘রহস্য” পবিষ্কার কবতে ডেকে পাঠালাে। মেশেভি কেরা অনেক চেষ্টা কবলাে বলশেভিকদের দোষী বলে অভিযুক্ত কবতে। কোনমতেই যখন তা সম্ভব হােল না তখন তারা তাদের দলের মুখপত্র “ইজভেটিয়া” ( সংবাদ) পত্রিকাতে জাৰ্মাণীর মধ্যে দিয়ে শীলকরা গাড়ী কবে আসা বলশেভিকদের পক্ষে সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত হযেছে, বলে স্বীকাব করতে বাধ্য হােল। ১৯১৭ সালের জুলাই মাসে বলশেভিকদেব নেতৃত্বে শ্রমিকেরা কেবেনস্কির বুজেযা গভর্ণমেন্টের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিযে যুদ্ধ শুরু করে দিলাে। কেবেস্কিব গভর্ণমেন্ট সাময়িকভাবে এই বিপ্লবকে দমন কবতে সমর্থ হােল। কেরেনস্কি গভর্ণমেন্ট লেনিনকে ও ভাব প্রধান সহ- কর্মীদের গ্রেপ্তার করবার আদেশ দিলাে। রাসলিভ, রেলওযে ষ্টেশনেব ধারে একটি কৃষকের বাড়ীতে লেনিন লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হলেন। বাসলিভ, থেকে দলের ৪০ লেনিন নির্দেশ মত লেনিন ফিলাতে চলে গেলেন ও অক্টোবর মাস পর্যন্ত ফিনলাতেই রইলেন। অক্টোবর মাসে লেনিন পিটার্সবুর্গে ফিরে এসে আসন্ন বিপ্লবের জন্য দলকে প্রস্তুত করতে লাগলেন। তারই নেতৃত্বে পিটাস বুর্গের শ্রমিকেরা ৭ই নভেম্বর বিপ্লব শুরু কবে দিলাে, যে বিপ্লব পৃথিবীর এক-ষষ্ঠাংশে বুর্জোয়াদেব শাসন সমূলে ধংস করে শ্রমিকশ্রেণীর একাধিপত্য ( ডিকটেটরসিপ অফ দি প্রােলিটারিযেট) প্রতিষ্ঠা কবেছে। কুশীষ বুর্জোয়া সম্প্রদায়কে পবাস্ত কবে রুশীয় শ্রমিক- শ্রেণী রাষ্ট্রে ক্ষমতা আপনার হাতে নিলাে বলে বিপ্লবের প্রযােজনীয়তা আর বইলাে না মনে কবলে অত্যন্ত ভুল কবা হবে। রুশীয় শ্রমিককে বাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করতে দেখে পৃথিবীর সমস্ত বুর্জোয়া গভর্ণমেন্ট পৃথিবীর ইতিহাসের এই সর্বপ্রথম শ্রমিক শাসিত রাষ্ট্রকে ধ্বংস করবার জন্য উঠে পড়ে লাগলাে। জিত রুশীয় বুর্জোয়া সম্প্রদায়কে টাকা ও অস্ত্রশস্ত্রের সাহায্য দিয়ে শ্রমিক রাষ্ট্রীকে ধ্বংস কবতে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং জাপানী ইম্পিরিয়েলিষ্ট গভর্ণমেন্ট সকলেই সাহায্য লাগলাে। গভর্ণমেন্ট, জাপানী গভর্ণমেন্ট তাদের সৈন্য ও রণবী ইংবেজ ৪১ (লনিন পাঠিয়ে রাশিয়ার উত্তর অংশের কিছুটা দখল করে বসলাে। এদিকে জাৰ্মাণ সৈন্য ক্রাইমিয়া দখল করে বসলাে। এমন কি পিটার্সবুর্গের উপবে ১৯১৮ সালে জাৰ্মাণ এয়ারােপ্লেন দেখা দিলাে। লেনিন প্রস্তাব কবলেন যে, যে-কোন মূল্যে কাই- সারের গভর্ণমেন্টের সঙ্গে সন্ধি কবে জাৰ্মাণ আক্রমণ থামাতে হবে। লেনিনেব এই প্রস্তাবে মেশেভিকেরা ও সােশাল বেড়ােশানাবী (সােল বেড়ােশানাবী দল মুখ্যতঃ কৃষকদের দল। এই দলের লোকেরা অতীত কালের নারদনিকিদেবই আধুনিক সংস্কৰণ ) চীৎকার শুরু করলাে “লেনিন ও বলশেভিকদল জাৰ্মাণীর টাকা খেয়ে দেশকে বিক্রী কবে দিচ্ছে। শুধু যে এরাই চীৎকাব শুরু কবলো তা নয বলশেভিকদলের কাৰ্যনিৰ্বাহক সমিতিতে একদল বলশেভিক নেতা লেনিনের প্রস্তাবের তীব্র বিরুদ্ধতা করলেন। এই নেতারা যুক্তি দেখালেন যে জাৰ্মাণ ইম্পিবিয়ালিষ্ট গভর্ণ- মেন্টের এই শয়তানী জবরদস্তি মেনে নিলে শ্রমিক- বাষ্ট্রের আত্মসম্মানের ক্ষতি হবে। রুশীয় শ্রমিকদের কাছে ও আন্তজাতিক শ্রমিকদের কাছে শ্রমিক- বাষ্ট্রের এই আত্মসম্মান হাবাণাের চেয়ে কাইসারেব ৪২ লেনিন গভর্ণমেন্টেব সঙ্গে যুদ্ধ করে পরাজিত হওযা ঢের যুক্তিসঙ্গত। লেনিন এই নেতাদের যুক্তির উত্তৰ দিলেন যে, এই নেতারদল আত্মসম্মান হারাগাের চেযে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ দেওয়া প্রভৃতি অনেক রােমান্টিক কথা কইলেন বটে, কিন্তু লেনিন তাকে অসাব বলে প্রমাণ করলেন। লেনিন হচ্ছেন শ্রমিকদলের নেতা—তিনি কি করে এই ভাবুনেগিরিকে স্বীকার করেন ? তাব তো ব্রত নয যুদ্ধ- ক্ষেত্রে “গোববময” মবণ ববণ করা, তঁার ব্রত হচ্ছে শ্রমিকশ্রেণীকে যুদ্ধ জয কবতে সাহায্য কবা। বর্তমানে শ্রমিক-বা চারদিক থেকে শত্ৰুব দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। এই সঙ্গীন সমযে জাৰ্মাণ গভর্ণমেন্টেব সঙ্গে সন্ধি করে শ্রমিক-বাকে পরবর্তী সংগ্রামের জন্যে তৈরী হতে সময় নিতেই হবে। এই সময় পেলে “লাল সৈন্যদল” ভালাে করে গঠন কবে তাবা ভবিষ্যতে জয়ী হবেন। ব্রেট-লিটভস্কের সন্ধিব অনতিপূর্বে জাৰ্মাণ গভর্ণ- মেন্টের সঙ্গে এই সন্ধি করাব যুক্তিযুক্ততা নিয়ে লেনিনের সঙ্গে কাল বাডেকের যে আলােচনা হয় সেই আলােচনা পাঠ করলে আমরা বুঝতে পারি যে সমগ্র রাশিয়ার গণ-মনের সঙ্গে লেনিনেব কি নিবিড যােগ ছিলাে। ৪৩
লেনিন
লেনিন সেই শুষ্ক মতবাদী ছিলেন না যে পারিপার্শ্বিক
অবস্থার বিচার না করে একটি নীতি অন্ধের মত অনুসরণ
করে। কালরাডেক ব্রেট-লিটভস্কের সন্ধি নিয়ে
লেনিনের সঙ্গে কথােপকথনের যে বিবরণ দিযেছেন সেই
বিবরণ উদ্ধৃত কবছি। “ব্রেসট-লিটভাস্কর সন্ধির বিরুদ্ধে
আমরা সকলে লেনিনকে যে সব যুক্তি দেখানুম সে সব
যুক্তিগুলাে দেয়ালের গায়ে করাইটি ছুড়ে মারার মত
সম্পূর্ণ নিস্ফল হােল । আমাদের যুক্তিব বিরুদ্ধে লেনিন
যে যুক্তি দেখালেন তা অত্যন্ত সহজ ও সরল। তিনি
বলেন যে, বিপ্লবীদের যে দল স্বদেশেব বুর্জোয়াদের ঘাড়
ভেঙ্গে দিতে সমর্থ হয়েছে সেই দলেব আপাততঃ সামর্থ্য
নেই যুদ্ধ চালাবার। যুদ্ধ চালাতে পারে একমাত্র
কৃষকেবা।
রাড়েককে সম্বোধন কবে লেনিন
বল্লেন, “তােমরা কি এটাও দেখতে পাও না যে
রুশীয় কৃষক যুদ্ধ চালানােব বিরুদ্ধে মত দিয়েছে ?"
রাডেক—“মাপ করবেন, রুশীয় কৃষক যুদ্ধের বিরুদ্ধে মত
দিয়েছে আপনার এই কথা বােঝা গেলো না।”
লেনিন—“রুশীয় কৃষক তার দুটি পা দিয়ে যুদ্ধের
বিরুদ্ধে মত দিয়েছে। রুশীয় কৃষক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে
পালাতে শুরু করেছে।” এই ঘটনাই লেনিন জাৰ্মাণ
৪৪
লেনিন
গভর্ণমেন্টের সঙ্গে সন্ধি করবার পক্ষে যথেষ্ট কারণ বলে
মনে করলেন। আর কোন যুক্তিই তঁাকে তার সিদ্ধান্ত
থেকে টলাতে পারে নি।”
সমস্ত দেশের নাভীর সঙ্গে অচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত
লেনিনের মত এমন নেতা পেয়েছিল বলেই বলশেভিক্
দল भएर
বিপদকে পরাস্ত কবে জয়ী হতে
পারলাে। ইম্পিরিয়ালিষ্ট জাৰ্মাণ গভর্ণমেন্টের সঙ্গে
সন্ধির ফলে রুশীয় গণ-সাধাবণের দুর্দশার যে বৃদ্ধি হবে
তা’ লেনিন অন্যদের চেয়ে ঢের বেশী ভালাে কবে
জানতেন। কিন্তু জাৰ্মাণ গভর্ণমেন্টে সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে
পরাজিত হযে, বিপ্লবের ফলে যা কিছু শ্রমিকশ্রেণী জিতেছে
সব খুইয়ে দিলে কি গণ-সাধারণের দুর্দশা কমে যাবে?
এই প্রশ্ন লেনিন তার মতের বিরুদ্ধতাচাবী সহকর্মীদের
করলেন। কৃষকদের অন্ততঃ কিছুদিনের জন্যে যুদ্ধ থেকে
বিশ্রামের সময় যেমন করে তােক দিতেই হবে, যাতে
করে তারা গ্রামে ফিরে গিয়ে বিপ্লবের ফলে তারা যে
জমির অধিকারী হযেছে,সেই জমিকে আপনার করে নেবার
সময় পায়। তবেই না তারা এই বিপ্লবকে বাঁচাবার জন্যে
ভবিষ্যতে রাষ্ট্রকে সাহায্য করবে।
সন্ধি-বিরােধী সহকর্মীদের সমস্ত বিরুদ্ধতা চূর্ণ করে
৪৫
লেনিন
লেনিন জাৰ্মাণ ইম্পিরিয়ালিষ্ট গভর্ণমেন্টের সঙ্গে ব্রেস্ট
লিটভস্কের সন্ধি করলেন। অচির ভবিষ্যতে সকলে
বুঝতে পারলাে যে, লেনিনের নীতি সম্পূর্ণভাবে জয়ী
হয়েছে আর লেনিনের বিরুদ্ধবাদী বলশেভিক নেতাদের
নীতি অবলম্বন করলে শ্রমিক-রাষ্ট্রের অস্তিত্ব শুধু ইতি-
হাসের পাতায় থাকতো।
সােভিযেট বাষ্ট্রেব প্রত্যেক বিপদেব সময় লেনিনের
অসামান্য প্রতিভা ও দূরদর্শিতা সােভিয়েট রাষ্ট্রকে বারম্বার
বিপদ থেকে ত্রাণ করেছে। রুশীয় বুর্জোয়াদেব
আক্রমণকে, সমস্ত ইম্পিরিয়ালিষ্ট শক্তির (বিশেষ
করে ইংলণ্ডেব) আক্রমণকে সােভিয়েট-রাষ্ট্র যে পরাজিত
করতে পেরেছে,—ব্যর্থ করে দিতে পেবেছে তার অন্যতম
কারণ হচ্ছে যে, রাষ্ট্রেব কর্ণধাব হিসেবে সােভিয়েট-রাষ্ট্র
লেনিনকে পেয়েছিলাে। সােভিযেট বাষ্ট্রের কর্ণধার
হিসেবে লেনিন “
ডিটেটরসিপ, অফ দি পােলেটা-
রিযেটের” (শ্রমিকশ্রেণীব বায একাধিপত্য) সম্বন্ধে
মার্কসের প্রসিদ্ধ থিওরির ব্যবহার-ক্ষেত্রে ও নীতির ক্ষেত্রে
(Practically ও Theoretically)—অসামান্য পুষ্টতা
সাধন করেন। ১৮৫২ সালে মার্কস ভাইডেমায়ারকে যে
চিঠি লেখেন সেই সুপ্রসিদ্ধ চিঠিতে মার্কস লেখেন
৪৬
লেনিন
যে বর্তমান মানবসমাজে শ্রেণীগুলির অস্তিত্ব কিংবা সেই
শ্রেণীগুলির মধ্যে যে শ্রেণীগত সংঘাত নিয়ত বিদ্যমান
বযেছে এই দুই সত্যের আবিষ্কার করবার জন্যে সম্মান
পাবার কোন দাবী মার্কসের নেই , কেননা, মার্কসেব মতে
বুর্জোয়া ঐতিহাসিকেরা মার্কসের বহু পূর্বেই শ্রেণীগত
সংঘাতের ঐতিহাসিক ক্রমবৃদ্ধির নিয়ম আবিষ্কার করেছেন,
আর বুর্জোযা ইকনমিষ্টয়া শ্রেণীগুলিব ইকনমিক কাঠামাে
গুলিকে বিশদভাবে বর্ণনা কবেছেন। মার্কসের মতে
তিনি যা প্রমাণ কবে দেখিয়েছেন তা হচ্ছে যে (১)
শ্রেণীগুলির অস্তিত্ব কতকগুলি বিশিষ্ট ঐতিহাসিক
বিরােধের সঙ্গে যুক্ত যে বিরােধগুলি সমাজের উৎপাদন
শক্তি বৃদ্ধিব লক্ষণ। (২) শ্রেণী-সংঘাতের অবশ্যম্ভাবী
পরিণতি হচ্ছে ডিকটেটবসিপ অফ দি প্রােটোবিযেট
(শ্রমিকশ্রেণীব রাষ্ট্রীয একাধিপত্য)। (৩) এই
‘প্রােলিটারিযান ডিকটেটরসিপ’শ্রেণীগুলির ধ্বংস সাধনের
পথে ও শ্রেণীভেদলুপ্ত সমাজের প্রতিষ্ঠার পথের একটি
সাময়িক সাহায্যকারী অবস্থা মাত্র।
সমস্ত দেশের সােশ্যাল ডেমােক্রাটেরা মার্কসের এই
বিপ্লবমূলক মতবাদকে যতদূর সম্ভব বিকৃত করে তােলবার
তা’ ভুলেছিলাে। সােশ্যাল ডেমােক্রাটিক দলের বিখ্যাত
৪৭
লেনিন
নেতা কাউটস্কি Revisionism-এর প্রচারক বেরনষ্টাইনের
সঙ্গে মার্কসের মতবাদ নিযে যথেষ্ট তর্ক-যুদ্ধ চালান। সেই
সমস্ত তর্ক যুদ্ধেই কাউটস্কির তর্কের মূল কথাটা ইচ্ছে
করে এড়িয়ে গেলেন। সামাজিক-বিপ্লব সম্বন্ধে কাউটস্কি
অনেক কিছু লিখলেন বটে, কিন্তু, এই সামাজিক বিপ্লবের
সঙ্গে রাষ্ট্রেব কি সম্বন্ধ সেটা সম্বন্ধে একটি কথাও বলেন
। সামাজিক বিপ্লব সাধিত হবার পরে কাউটস্কিব
মতে শ্রমিকশ্রেণী পুরাতন বুর্জোয়া পালামেন্টারী রাষ্ট্র
প্রণালীবই ব্যবহাব করবে। কাউটস্কির এই মতবাদ
মার্কসের মতবাদেব সম্পূর্ণ বিপবীত। প্রথমতঃ
সামাজিক বিপ্লবের সম্বন্ধে আলােচনা করা সম্পূর্ণ
অনর্থক যদি সামাজিক বিপ্লবের সম্বন্ধে আলােচনায়
লেটারিযান ডিকটেটরসিপ সম্বন্ধে আলােচনা
করা হয়। কাউটস্কি বেবনষ্টাইনের সঙ্গে তর্ককালে
ঠিক তাই কবেছেন। দ্বিতীয়ত, বিপ্লব সাধিত হবার
পর শ্রমিকশ্রেণী সেই পুরাতন বুর্জোয়া পালামেণ্টাৰী
বাষ্ট্রপ্রণালীর ব্যবহার করবে কাউটস্কিব এই মতবাদও
সম্পূর্ণভাবে মার্কসের মতবাদের বিপরীত। ১৮৭১ সালের
“প্যারিস কমিউনেব” সম্বন্ধে আলােচনা প্রসঙ্গে মার্কস তাঁর
সুপ্রসিদ্ধ বই Civil War in France-এ লিখেছেন
৪
লেনিন “কমিউন পালমেন্টারী সংগঠন ছিল না, কমিউন সেই কাৰ্যকরী সংগঠন ছিলাে যা, একইকালে আইন সৃষ্টি করেছে ও সেই আইনকে কার্যক্ষেত্রে ব্যবহার করেছে।” কাউটস্কি মার্কসের কমিউনেব এই ব্যাখ্যা থেকে কিছুই যে শেখেন নি তা বােঝা যাচ্ছে। লেনিন তঁাব সুপ্রসিদ্ধ বই “বাষ্ট্র ও বিপ্লব”-এ কাউটস্কির সমস্ত চাতুবী, মার্কসীয় মতবাদকে বিকৃত কববার কু-অভিসন্ধি সব ফঁাক কবে দিয়েছেন। লেনিনেব মতে যে লােক কেবলমাত্র শ্রেণী-সংগ্রামকে স্বীকার করে সে মার্কসিষ্ট বা মার্কপন্থী নয়, যেহেতু, সে এখনাে বুর্জোয়া বিচাব-পদ্ধতি ও পলিটিকসের জাল থেকে থেকে আপনাকে মুক্ত করতে পারে নি। মার্কসেব মতবাদকে শুধু শ্রেণী-সংঘাতের মতবাদ বলে সীমাবদ্ধ করলে মার্কসীজমকে খর্ব করা হয়, মার্কসীজমকে বুর্জোয়া শ্রেণীর পক্ষে স্বীকাবযােগ্য একটি মতবাদে পরিণত করা হয়। সেই হচ্ছে মার্কসিষ্ট যে তার শ্রেণী-সংঘাতকে স্বীকারের সীমানা প্রােলেটারিয়ান ডিটেটরসিপ পৰ্যন্ত বিস্তার কবে ( রাষ্ট্র ও বিপ্লব, ৪৫ পৃষ্ঠা)। কাউটস্কি প্রভৃতি সুবিধাবাদিগণ, বুর্জোয়াদেব মন- ৪৯ ৪ লেনিন যােগানাে মতবাদের পােষণকাৰী সােশ্যাল ডেমোেক্রাটিক নেতাব দল যখন, বিপ্লবেব বুলি আওডানােব সময় প্রােলেটাবিয়ান ডিকটেটবসিপেব কথা ধামাচাপা দিলেন, আব বিপ্লবেব পবে শ্রমিকশ্রেণী বুর্জোযাদের পাল- মেন্টারী বাঠু-শাসন-প্রণালী মতেই শাসন করবে এই অত্যন্ত ভ্রান্ত মত ইচ্ছে করে প্রচার শুরু কবলেন, তখন, একা লেনিন বুর্জোযাদের অনুগ্রহপ্রার্থী এই সােশ্যাল ডেমােক্রাটিক নেতাদেব মিথ্যা চাতুরীব জাল ছিন্নবিচ্ছিন্ন কবে দেখালেন যে শ্রমিকেরা বিপ্লবের পর বুর্জোয়াদেব পালমেণ্টাবী শাসন-প্রণালীকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস কববে ও তার স্থানে সােভিযেট প্রণালীর প্রবর্তন কববে। বুর্জোয়াদেব রাষ্ট্রেব শাসন-যন্ত্রে প্রত্যেক অংশটিকে শ্রমিকেরা বিপ্লবেব পবে ধূলিসাৎ কবে দিতে বাধ্য। “কনিষ্ট ম্যানিফেষ্টোতে” মাকর্স প্রােটোনি ডিকটেটরসিপেব মতবাদ প্রথম প্রচার কবেন, কিন্তু, প্রােলেটারিয়ান ডিকটেটরসিপ কি রাষ্ট্রীয মূৰ্ত্তি গ্রহণ কববে সে বিষযে মার্কস “কমুনিষ্ট ম্যানিফেষ্টোতে” কোন কথা ইচ্ছে করে বলেন নি। ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার অভাবেই মার্ক এ বিষয়ে কোন মত প্রকাশ করেন নি। “প্যারিস কমিউনের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা লাভ করবার পর মার্ক লেনিন প্রােলেটারিয়ান ডিকটেটরসিপের বাষ্ট্রীয় সংগঠন সম্বন্ধে আলােচনা করেন। তদানীন্তন ঐতিহাসিক অবস্থায় মার্কসের পক্ষে সম্ভব হয় নি প্রােলেটাবিয়ান ডিকটেটর- সিপেব মতবাদের সর্বাঙ্গীন পুষ্টিসাধন করা। মার্কস এই মতবাদের কাঠামােটি তৈরী কবে দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে লেনিন এই মতবাদেব সৰ্বাঙ্গীন পুষ্টিসাধন কবেন। প্রােটোরিয়ান ডিকটেটরসিপের ঐতিহাসিক তাৎপৰ্য্য কি, প্রােটোবিযান ডিকটেটবসিপ কি রূপ গ্রহণ করবে ইত্যাদি প্রােলেটারিযান ডিকটেটরশিপ সম্বন্ধীয় যাবতীয় সমস্যাব লেনিন সমাধান করেন। বর্তমানকালে শ্রমিক-আন্দোলনের বনিষাদ হচ্ছে পােলেটাবিযান ডিটেটরসিপ সম্বন্ধেই লেনিনের মতবাদ। মার্কসীয় মতবাদের ক্ষেত্রে লেনিনের সর্বোত্তম দান হচ্ছে প্রােলেটাবিয়ান ডিকটেটরসিপের মতবাদের সর্বাঙ্গীন উন্নতিসাধন। প্রলেটাবিয়ান ডিকটেটরসিপের সম্বন্ধে আলােচনা প্রসঙ্গে ইম্পিরিয়ালিজম সম্বন্ধে লেনিনের মতবাদ সম্বন্ধে দু'কথা বলার প্রয়ােজন আছে বলে মনে করি। প্রােটোরিয়ান বিপ্লব ও প্রােলেটারিয়ান ডিকটেটরশিপের তাৎপৰ্য্য পরিস্কার করে বুঝতে গেলে তার আগে
লেনিন
ক্যাপিটালিষ্ট সমাজের কাঠামাে ও ইম্পিরিযালিজমের
কাঠামাে সম্বন্ধে আমাদের সম্যক জ্ঞান থাকা দরকার।
কেননা ক্যাপিটালিজম মানবসমাজে যে উৎপাদনশক্তির
সৃষ্টি করেছে একমাত্র সেই উৎপাদন শক্তিব ভিত্তির
উপরেই প্রােটোরিযান ডিকটেটরসিপ প্রতিষ্ঠিত হতে
পাবে। কাউটস্কির মতে ইম্পিরিয়ালিজম ক্যাপিটালিজমের
শেষ পবিণত অবস্থা নয়। ইম্পিবিয়ালিজম হচ্ছে
কাপিটালিজমের একটি অংশ Heavy Industry-র
মালিকদের নীতি, সমগ্র ক্যাপিটালিজমেব নীতি নয়।
কাউটস্কির এই ঘােরতব প্রতিক্রিয়াশীল মতেব একমাত্র
সিদ্ধান্ত হতে পাবে এই যে কাউটস্কির মতে ইম্পিরিয়া-
লিজম, ক্যাপিটালিজমের একমাত্র পরিণতি নয়। ক্যাপি-
টালিজম তার শেষ পরিণত অবস্থায় ইম্পিরিয়ালিজমেব
মূৰ্ত্তি ছাড়া অন্য মূর্তিও গ্রহণ করতে পাবে। কাউটস্কির
মতে “ফাইনাল মূলধনের ( Finance Capital) নীতি
শান্তিময় হতে পারে” অর্থাৎ কিনা কাউটস্কিব মতে
ইম্পিবিয়ালিজম শান্তিব পথ ধরে চলতে পারে।
কাউটস্কির এই মত থেকে আব একটা সিদ্ধান্ত করা
যেতে পারে যে যেহেতু (কাউটস্কির মতে ) ইম্পিরিযা-
লিজম ক্যাপিটালিজমের শেষ পরিণত অবস্থা নয়,
লেনিন ক্যাপিটালিজমের অন্য বিকাশ সম্ভবপর, যেহেতু ইম্পিবিয়ালিজম শান্তিময় নীতি অবলম্বন করতে পারে সেই হেতু ইম্পিবিয়ালিজমের যুগে প্রােটোরিয়ান বিপ্লব অবশ্যম্ভাবী ন্য। বিপ্লবের ঘােতর পবিপন্থী কাউটস্কির এই মতবাদের সমস্ত ভ্রান্তি লেনিন তার প্রসিদ্ধ বই “ইম্পিরিয়ালিজম” প্রমাণ কবে দিলেন । লেনিন দেখালেন যে মানব- সমাজের উৎপাদন যন্ত্রের ব্যক্তিগত অধিকার বিভিন্ন ঐতিহাসিক পরিণতিব মধ্যে দিয়ে গিয়ে অবশেষে তাব শেষ পরিণত অবস্থায় ইম্পিরিযালিজমের রূপ গ্রহণ করতে বাধ্য। লেনিন দেখালেন যে ক্যাপিটালিজমের এই শেষ পরিণত অবস্থায় ক্যাপিটালিজমের কাঠামাের ভিতরে ক্যাপিটালিজমের মূল ভিত্তির ( উৎপাদনযন্ত্রের ব্যক্তিগত অধিকাব) বিরুদ্ধতাকাবী লক্ষণ সমূহ (ট্রাষ্ট, সিনডিকেট কারটেল) দেখা দিচ্ছে। লেনিন দেখালেন যে এ যুগে ব্যাঙ্কগুলাে তাদের মূলধনেব জোবে মানবসমাজের সমস্ত উৎপাদনপ্রণালীব কর্তৃত্ব করবে ও ক্যাপিটালিষ্ট রাষ্ট্রে তাদেব মােডলীই এই যুগে একচেটে হবে। লেনিন আরাে দেখালেন যে এই ফাইনাল ক্যাপিটালের যুগে অর্থাৎ কিনা ইম্পিরিযালিজমের যুগ শান্তিময় হওয়া তো লেনিন দূবের কথা ভয়ঙ্কর সংঘর্ষের, অশান্তিব কালের সূচনা কববে। উপনিবেশগুলির শােষণের আত্যন্তিক বৃদ্ধি পাবে, ইম্পিবিয়ালিষ্ট দেশগুলিতে শ্রমিকশ্রেণীর অবস্থা ক্রমশই শােচনীয় হয়ে উঠবে, ইম্পিবিযালিষ্ট শক্তিগুলির মধ্যে বাজাব নিযে বেবেৰিব ফলে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী এবং জনগণেব শােষণের ফলে বিপ্লব অনিবার্য। ইম্পিবিলিজমের যুগ হচ্ছে বিপ্লবের যুগ—এই শিক্ষা আমরা লেনিনেব কাছ থেকে পেয়েছি। কাউটস্কি প্রভৃতি সােশাল ডেমোেক্রাটীক নেতারা যখন ইযােববাপের শ্রমিক আন্দোলনকে বিপ্লবের পথ থেকে বিয়ে নিয়ে গিযে তাকে ইয়ােববাপের বুর্জোয়া সম্প্রদায়েব একটি অনুষ্ঠানে পবিণত কববাব প্রাণপণ চেষ্টা শুরু কবলে তখন লেনিনই শ্রমিক আন্দোলনে বুর্জোয়াদের চর এই সােশালিষ্ট নেতাদেব সমস্ত ধাপ্পা, চাতুবী আঘাতব পর আঘাত কবে চূর্ণ বিচূর্ণ কবে দিয়েছিলেন। উপনিবেশগুলির বিপ্লব আন্দোলন সম্বন্ধে লেনিনের মতেব সঙ্গে দ্বিতীয় ইন্টান্যাশন্যালের মতেব আকাশ- পাতাল পার্থক্য আছে। দ্বিতীয় ইন্টান্যাশন্যাল যুদ্ধের আবম্ভের সুত্রপাত থেকে ইম্পিরিযালিষ্ট শক্তিগুলির বাজনীতির পূর্ণ সমর্থক হয়ে উঠলাে। দ্বিতীয় ইন্টার- ৫৪ যখন লেনিন ন্যাশন্যালের সােশ্যালিষ্ট নেতাবা (কাউটস্কি, হিলফার্ডিং, ম্যাকডােনালডেব দল) বললে যে উপনিবেশগুলিকে এখনাে দীর্ঘকাল ধরে ক্যাপিটালিষ্ট উৎপাদন প্রণালীর প্রতিষ্ঠার কাজে আপনাদের নিযােগ কবতে হবে। সেই ক্যাপিটালিষ্ট উৎপাদন প্রণালীব সম্যক প্রবর্তন উপনিবেশগুলিতে সম্পন্ন হবে তখনই কেবল সােশ্যালিজ- মের জন্যে উপনিবেশগুলি তৈবী হবে। যতদিন না উপনিবেশগুলি ক্যাপিটালিষ্ট উৎপাদন প্রণালীব সম্যক প্রতিষ্টা কবতে পাবছে ততদিন তাদের ইম্পিবিযালিষ্ট শক্তিগুলিব অভিভাবকত্ব স্বীকাব কবতেই হবে। ইম্পি- বিযালিষ্টদেব পোষ্য জীব হিসেবে দ্বিতীয় ইন্টান্যাশন্যালেব সােশালিষ্ট নেতাবা সমস্ত লজ্জাব মাথা খুইয়ে এই সৰ্ণন্দু ইম্পিবিযালিষ্ট মতবাদ প্রচাব কবলে। সােশ্যালিষ্টদেব এই ঘােতব প্রতিক্রিয়াশীল ইম্পিবিযালিষ্ট মতবাদেব খণ্ডন কবে লেনিন বল্লেন যে ক্যাপিটালিষ্ট উৎপাদন প্রণালীব প্রবর্তন পিছিয়ে পড়ে আছে। তিনি বল্লেন যে উপনিবেশগুলিকে, যে ক্যাপিটালিষ্ট উৎপাদন প্রণালীর চূড়ান্ত প্রবর্তন না হওয়া পৰ্যন্ত সােস্যালিজমেব জন্যে অপেক্ষা করে থাকতে হবে তার কোন হেতু নাই, ক্যাপিটালিষ্ট উন্নতিতে পেছিযে-পড়া লেনিন উপনিবেশগুলি ইয়ােরােপের শ্রমিকদের সাহায্যে ক্যাপি- টালিজমের পথে শেষ পর্যন্ত না গিয়ে একেবাকে সােশ্যালিজমে পৌছতে পাবে। লেনিনের এই উক্তির আশ্চর্য গভীবতা যারা একটু তলিয়ে চিন্তা করতে পারেন তাঁরাই উপলদ্ধি করতে পারবেন। লেনিনেব এই মতের বাস্তব ফলাফল হচ্ছে এই যে, উপনিবেশগুলিকে যে এখনাে দীর্ঘকাল ইম্পিবিয়ালিষ্ট শক্তিগুলিব অভিভাবকত্ব স্বীকার করে থাকতে হবে- দ্বিতীয় ইন্টান্যাশন্যালের সােশ্যালিষ্টদেব এই সম্পূর্ণ ইম্পিবিযালিষ্ট নীতি ধ্বসেপড়লাে। লেনিন শুধু এইটুকুতেই ক্ষান্ত হলেন না। তিনি দেখালেন যে ইযােবােপেৰ শ্ৰমিক-বিপ্লবের সঙ্গে উপনিবেশগুলির বিপ্লব-আন্দোলনের কি ঘনিষ্ট যােগ বযেছে। লেনিন দেখালেন যে পশ্চিম জগতের শ্রমিক শ্ৰেণীব ক্যাপিটালিজমের উপর জয়লাভ করা অসম্ভব যতদিন না উপনিবেশগুলিতে ক্যাপিটালিজম ধ্বংসপ্রাপ্ত হচ্ছে , ঠিক সেই একই কারণে পশ্চিম জগতের শ্রমিক শ্রেণী যতদিন না বিপ্লব শুরু করছে ততদিন উপনিবেশ- গুলির পক্ষে ইম্পিরিযালিজমের কবল থেকে ত্রাণ পাওয়া অসম্ভব।
লেনিন
সমস্ত বিশ্বজোড়া বিপ্লবের অকাট্য কারণগুলি লেনিন
সমস্ত পৃথিবীর শ্রমিকদের, শােষিতদের দেখিয়ে দিযেছেন।
লেনিন সমস্ত পৃথিবীর সর্বহারাদের একটি বৈপ্লবিক
প্রতিষ্ঠানের বেদীতলে মিলিত করবার উদ্দেশ্যে ১৯১৯
সালে কমিউনিষ্ট ইন্টারন্যাশন্যালের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
সমস্ত দেশের কমিউনিষ্ট পার্টি আজ এই বিশ্ব-সরে
নেতৃত্বে বিশ্বমানবেব মুক্তির সংগ্রাম পরিচালনা কবছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্বসবে ভিতর দিযে সমস্ত পৃথিবীকে
সােশ্যালিজমের স্তবে নিয়ে যাবার জন্য লেনিন যতটুকু
পরিশ্রম ও কষ্ট স্বীকার কবেছেন তা বােধহয় কোন
বলশেভিক নেতা কবেন নি। লেনিনেব আবব্ধ কাজ
কবে চলেছে বিশ্বের সর্বহারাগণ।
বিশ্বের সমস্ত শ্রমিকেব নেতা হিসেবে প্রােটোরিয়ান
বিপ্লবেব নীতিকে পুষ্ট করতে এবং শ্রমিকদেব বিপ্লবমূলক
দল গঠন কবতে লেনিন ত্রিশবৎসরের চেয়েও দীর্ঘকাল
যে অক্লান্ত পষিশ্রম করেছেন তাবই অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত
বিবরণ এতক্ষণ দেবার চেষ্টা কবেছি। এবাৰ মানুষ
হিসেবে লেনিন কি ছিলেন তাব সম্বন্ধে দু'চার কথা
বলতে চাই।
৫৭
লেনিনের সাধারণ জীবন
এই মহা-বিপ্লবীব কবিতা ও সঙ্গীতের প্রতি আন্তবিক
অনুবাগ ছিলো। সাবাদিন অক্লান্ত পবিশ্রম করে সন্ধ্যে
বেলায় সহকর্মীদের সঙ্গে বসে গান শােনাব মত
লেনিনেব কাছে আব কোন কিছুই এত আনন্দের
ছিলো না।
কমবেড লেপেসিস্কি এই বকমেব একটি সন্ধ্যে
চমৎকাব বর্ণনা আমাদের উপহাব দিয়েছেন।
“কমবেড গুসভেব গলা তখন বেশ মিষ্টি, শ্রুতিমধুব
ছিলাে । গুসেভ তঁাব জোবাল গলায ডাবােগিমিস্কব
রােমান্স গাইতে শুরু ৭ বলেন। আমবা সবাই চুপ কবে
শুনতে লাগলুম। ভাডিনিব ইলিচ ( লেনিন) দেয়ালেতে
ঠেস দিযে কোচেব উপব বসে ছিলেন। তার হাতটি
জানুব উপব বাধা ছিল। তাকে দেখে মনে হচ্ছিলাে যে
সেই সমযেব জন্যে তিনি যেন নিজেব অস্তিত্ব ভুলে গিয়ে
সেই সুরে মধ্যে তলিযে গেছেন।”
৫৮
লেনিন
কবিতার পরে ভাব অনুবাগ তেমনি প্রবল ছিলাে।
তাব ভাগ্যে বিশ্রাম খুব কদাচিতই ঘটেছে কিন্তু যখনই
বিশ্রাম কৰবাব জয়ে কাজ থেকে কযেক দিনেব ছুটি
নিতেন তখন তার সঙ্গী হােত সেক্সপীযাবেব ড্রামা ও
সিলাব, বাইবণ, পুস্কিনেব কবিতা।
একেবাবে সাদাসিদে নিরহঙ্কার, বন্ধুবৎসল মানুষ
ছিলেন লেনিন। কমবেড কথাটি বােধহয় কারাে সম্বন্ধে
এমন খাটে না। যেমন লেনিনেব সম্বন্ধে খাটে। নিজে
দিনের পর দিন অক্লান্ত পরিশ্রম কবে চলেছেন,
একদিনের জন্যেও নিজে বিশ্রাম নিচ্ছেন না, অথচ
সহকর্মীরা যাতে কাজ থেকে অবসর নিয়ে বিশ্রাম কবে,
তাদেব যেন শীতে কষ্ট না হয় তার জন্যে তার দুর্ভাবনার
অন্ত ছিলাে না। সকলেই তার কাছে গিয়ে আপনার
সুখ-দুখের কথা জানাতে পারতাে। শ্রমিক, কৃষক সকলের
অবাবিত দ্বাব ছিলাে লেনিনের কাছে। সমস্ত অন্তব
দিয়ে তিনি দুঃখী মানুষকে ভালােবাসতেন, তব দুঃখকে
লাঘব কবতে চেষ্টা করতেন।
এই অসাধাৰণ জ্ঞানী পুরুষ অল্প বুদ্ধিসম্পন্ন
লােকদেব আদবেই তাচ্ছিল্যে চোখে দেখতেন না।
অশিক্ষিত শ্রমিক, কৃষক প্রত্যেকে কথা তিনি অত্যন্ত
লেনিন
আদবের সঙ্গে শুনতেন। সহকর্মীদের সমস্ত ভুলভ্রান্তি
তিনি গুরুর মত অসীম স্নেহে সংশােধন করে দিতেন।
অসাধারণ প্রতিভা, অনন্যসাধারণ জ্ঞান ও বিরাট
মনুষ্যত্ব এই তিনের অনুপম সম্মিলনের সর্বোত্তম উদাহরণ
হচ্ছেন লেনিন।
আর একটি কথা না বল্লে লেনিনেব জীবনী ও
কর্মজীবন অসমাপ্ত থেকে যায়।
লেনিন হাব
বিপ্লবী জীবনের চির-সহচরী রূপে পেযেছিলেন নাদেজা
ক্রুপস্কাযাকে। এই বিপ্লবী-নারী একাধারে কমবেড-বন্ধু
ও পত্নীরূপে লেনিনের পাশে ছায়াব স্যায় দাড়িয়ে থেকে
লেনিনকে সর্বতােভাবে রুশীয় জনগণেব মুক্তি-আন্দোলনে
সহায়তা করেছেন।
লেনিনেব মাতৃভক্তি ও ভাইবােনদের ওপর কম
ভালবাসা ছিল না। তিনি মাকে ও বােনেদেব যথেষ্ট
ভক্তি শ্রদ্ধা করতেন। মাকে যে-সব চিঠি তিনি
দিয়েছিলেন তা থেকে তার প্রমাণ পাওয়া যায়।
আজ আর লেনিন বাঁচিয়া নেই। জীবনের আর
ব্রতকে শেষ করার আগেই তিনি পৃথিবী হতে চিরবিদায়
বিশ্বাসঘাতক প্রতিক্রিয়াশীল সােস্যালিষ্ট
রেভােলিউশনাবীরা লেনিনকে গুপ্তভাবে হত্যা করবাব
নিলেন।
নেনিন
বহু চেষ্টা করেছিল। লেনিনের ওপর দু'দুবার তাব।
গুলি ছােড়ে। একবার গুলি লেনিনের দেহ ভেদ
চলে যায় ও
ও তিনি সেবার আরােগ্যলাভ
করেন। আব একবারও তিনি গুলির আঘাতে জখম
হন এবং দেড় বছর শয্যাশায়ী থাকেন। মৃত্যুর
পূৰ্বে বেশ সেরে ওঠছিলেন। নেভবার পূর্বে যেমন
প্রদীপ জ্বলে ওঠে পুনরায় নিভে যায় তেমনি লেনিনের
জীবন প্রদীপ জ্বলে ওঠে। তিনি বেশ আরােগ্য
হযে ওঠছিলেন কিন্তু দেহের ভেতবটা তাঁর ঝাঝরা হয়ে
গিয়ে ছিল। গুলির যে বিষ তার দেহে প্রবেশ করেছিল
তাহা লেনিনের দেহকে জর্জবিত করে ফেলল’-তিনি তার
হাত থেকে আর উদ্ধার পেলেন না।
১৯২৪ সালের ২১শে জানুযারী মস্কো সহবের
বাইরে গর্কি বলে যে ক্ষুদ্র গ্রাম আছে সেই গ্রামে
লেনিনের মৃত্যু ।
যা নশ্বব তা ধূলােয মিশে গেছে কিন্তু জীবিত অবস্থায়
যেমন তিনি সমস্ত বিশ্বেব সর্বহারাব একমাত্র নেতা
ছিলেন মরণের পর আজিও ঠিক তেমনটিই আছেন। তার
বাণী পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত পর্যন্ত
ছড়িয়ে গেছে। সমস্ত বুর্জোয়া গভর্ণমেন্টরা শত চেষ্টা
লেনিন করেও তাকে বােধ করতে পারেনি আর পাববেও না। লেনিনেব বাণী সফল হবে, প্রােলেটারিয়ান ডিকটেটব- সিপের সাময়িক অবস্থার মধ্যে দিয়ে গিয়ে মানব-সমাজ শ্রেণীভেদলুপ্ত অবস্থাতে নিশ্চয়ই পৌঁছবে। শেষ
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.