Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Marmmochchas

Ray,kusum Kumari · 2009/11/28

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

মৰ্ম্মোচ্ছাস।
শ্রীকুসুম কুমারী রায় প্রণীত।
raws
কলিকাতা ।
ভবানীপুর ২নং কেদার নাথ বসুর লেন হইতে
শ্ৰনবগােপল চাকি এম,এ, কর্তৃক
প্রকাশিত।
১৩১১ সাল।
।

ভবানীপুর ৫৮২ রসা গােঙ, সুরবন প্রেসে
ঐকালিদাস দাস কর্তৃক মুদ্রিত।
মূল্য-কাপড়ের মলাট-১, এক টাকা।
কাগজের মলাট বার আনা ।

উৎসর্গ পত্র
অসীম
মেহের আধার
পরমারাধ্য পিতৃদেব
স্বর্গীয় রামগােপাল চাকি
মহাশয়ের শ্রীচরণেদ্দেশে
“মৰ্ম্মোক্ষস”
ভক্তি-পুস্পাঞ্জলি অর্পিত হইল।

No text on this page.

নিবেদন
শেক-সংবাদ ।
গভীর দুঃখের সহিত প্ৰকাশ করিতেছি যে গ্রন্থ-কত্রী
বাত জ্বরে পীড়িত হইয়া গত ২৪শে শ্রাবণ সােমবার
প্রীতে ইহ-সংসার পরিত্যাগ করিয়াছেন।
মৃত্যুর দুই তিন দিন পূর্বে মৰ্ম্মোচ্ছ্বাসের কয়েক কপি
তিনি সম্পূর্ণ অবস্থায় দেখিয়া গিয়াছেন।
।
১লা ভাদ্র ১৩১১ সাল।
প্রকাশক।
ভবানীপুর,
লেখিকা
সন।৮, ১৩১১।
?
D

No text on this page.

নিবেদন হৃদয়ের রুদ্ধ বেদনা ভাষায় প্রকাশ করিয়া একটু শান্তি পাইবার আশায় এই কবিতাগুলি লিখিয়াছিলাম। আমার মৰ্ম্মোচ্ছাস' জনসমাজে পরিচিত করিবার সঙ্কল্প কখনও ছিল না। স্বর্গীয় পিতৃদেব অপত্যস্নেহ বশতঃ, অকিঞ্চিৎকর হইলেও, এই কবিতাগুলির আবৃত্তি শুনিতে বড় ভালবাসিতেন, এবং তাহার আগ্রহে ইহার কয়েকটা কবিতা কোন কোন সাময়িক পত্রিকায় মুদ্রিত হইয়াছিল। রুগ্নশষ্যায় শায়িত অবস্থায় সকল গুলি কবিতা পুস্তকাকারে প্রকাশিত দেখিতে তাহার বড় সাধ হয়; কিন্তু সে সাধ পূর্ণ হইবার পূর্বেই তিনি চলিয়া গিয়াছেন। তাই, তাহার বাসনার অনুগামিনী হইয়া, কবিতা গুলি মুদ্রিত করিয়া তারই চরণােদ্দেশে উৎসর্গকরিলাম। সাধারণের চিত্তবিনােদনের আশায় কবিতাগুলি লিখিত ! হয় নাই, এবং তদুপযােগী শক্তিও আমার নাই। যাহাদের উৎসাহে ও যত্নে মৰ্ম্মোচ্ছাস' প্রকাশিত হইল তাহাদিগের নিকট আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশকরিতেছি। ভবানীপুর, D লেখিকা। না, ১৩১১।

No text on this page.

সূচিপত্র। বিষয় পৃষ্ঠা ••• মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস প্রেমময় ২ এস + ০ ০ আমি চাহি প্রার্থনা যাও দুরে ছায়া তালােকিয়ে থাক অন্তঃপুর এ জীবন ১৪ ••• ১৭ স্বপন আজিও তেমনি মৃত্যু রাজ্য একা মরণের পরে গিয়ে ১৮ ২ ০০ ০ ফুলের বাসর ••• ২৩ মনেরেখাে দৈবাধীন ২৭ বিষয় পৃষ্ঠা ৩১ আঁধারের সনে মরণ-মিলনে শিখাও ভুলিবে ক্রন্দন মেহে ডেকে লও আশার প্রতি অদৃষ্টের প্রতি ৩৪ ৩। . . . কি যেন ৪ ০ ৪১ ৪২ তরণী আসে কাল-বিভাবরী কিহেতু বিলাপ ৪৩ ৬ ••• . যাও তবে একটা মুখের কথা উপেক্ষিত ৪৭ ৪৯ ••• ••• ৫ ৭ ৫৮ ‘অনুনয় নদীতীরে কেঁদে যদি যাই নিশীথে "চাহি পুরাতন অব্যক্ত যাতনা { * * * • : মৃত্বার প্রতি অপেক্ষা বিষয় পৃষ্ঠা ••• ৭১ অদৃশ্য ইঙ্গিত ভুলে যাও ওই নীতি ০ ০ ০ ৭৪ আঁধার পথে ৭৬ ৭৭ অশ্রুজল চন্দ্রাবলী বিরহিনী ০ ০ ০ ০ ০ ৮ ৪ বিরহ-বিধুর। ৬ ১৩ সুপ্তোথি প্রবােৰােক্তি থাক তুমি বিষাদ অভাগিনী ৯৭ ১০১ + ++ কবে যেন ঘদি কিছু দিতে চায় সংসার ১০৫ বাসনা ১০ ৭ প্রাণের গান ১০৮ ••• ••• ০১৪ মুক্তিকামনা বন-বিহগী জীবন জুড়াই *•• ১১৮ আঁধারে সকলি তােমার ••• ১২:

বিষয় পৃষ্ঠা । , আহ্বান ৫০০ ১২৪ ••• নিবেদন যদি জানি বিপত্নীকের আক্ষেপ উত্তান্ত প্রেম অতিথি ভ্রান্ত পথিক বিসর্জন গীতি নিষ্ফল যাত্রা (১) (২) (৩) তার ও আমি। পিতা- ৮ ০ ০ ১৪ ০ ১৪৬ ৮ 3 ১৪৮ * - . ১৪ ১ ১৫৪ এসে তবে কিবা ফল কেন মিছে দুদিনের তরে ঘুমায়ে পড়িব ১৬৪ সুপ্ত বাসনা ••• পরিণাম কিসের শেষ? শেষ কথা ১৭১ শুদ্ধিপত্র পৃষ্ঠা পাক্তি যাহা আছে যাহা হইবে ১০ ১৭ পুরা'তে 8२ দীর্ঘ-মৰ্ম্ম-ভেদি-শ্বাস ম্লানমুখী অপরাত্নে ভুল। তুলিয়ে কাটায় ভূল পূরা’তে হৃদি দীর্ঘ মর্মভেদি শ্বাস ম্লানমুখ অপরাহ্ ভুল ভুলিয়া কাটাব মুগ্ধ ১৮ মুগ্ধে ১১১ ১৮ ১২৭ ১২৯ কুল কনা হাঁসিয়ে দিয়ে মুরতি মৃণল ১৬ কূল কণা হাসিয়া দিয়া মুরতি মৃণাল ইঙ্গিত তেমনি এই ধূলা ঊষা ১৬৪ ১৪, ১০৬, ১৪৪, ১৪৭ :১৬২ তেমনি ধুলা উষা উৰ্ম্মি • ৭২, ১৩৬ ১১১, ১১৬

No text on this page.

Preventiva
নর্মোচ্ছাস।
••3ে8.
০
মৰ্মোচ্ছাস।
আমি, আছি কত ব্যবধানে, তবুও ধ্বনিছে প্রাণে
সংসারের হাস্য কলরব,
সদা যেন ধীরে ধীরে, অাসছে অামায় ঘিরে
জগতের আনন্দ উৎসব।
ফেলি যদি অশ্রুজল,
কার স্নিগ্ধ করতল,
মুছাইতে আসে আঁখিধারা,
কার পূত পুরশনে, কি আশা জাগা’য়ে মনে,
থেকে থেকে করে আত্মহারা ।
পাই যেন কার প্রীতি, শুনি যেন কার গীতি,
মর্মস্পর্শী সুললিত সুরে,
শুনি সে অশ্রান্ত গীত, ভাবাবেশে মুগ্ধচিত,
জীবনের শ্রান্তি যায় দূরে।
কার প্রিয় সম্বােধনে, চির-বাঞ্ছিতের সনে,
হয় যেন চির পরিচয়।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
~~~~~~~~
কে যেন ডাকিয়ে মােরে, অসীম আবেগ ভরে,
প্রাণে প্রাণে করে বিনিময় ।
শত সুখ উৎস ছুটে, ধীরে ধীরে জেগে উঠে,
জীবনের সুষুপ্ত উল্লাস,
তাই, বসিয়া নিভৃত কোণে, প্রকাশি অতৃপ্ত মনে
অবরুদ্ধ মরম উচ্ছ্বাস।
~
প্রেমময়।
নাই নিদ্রা নাই শ্রান্ত তঁার,
কেবা সেই প্রেমিক মহা
অনুক্ষণ স্নিগ্ধ প্রেমে যার,
জুড়ায় এ বিশ্বের পরাণ ?
সদা ঝর ঝর প্রেমবারি,
ঊন্ধ হতে ঢালি অবিরল,
নীরবে কে স্নিগ্ধ করে মরি,
ধরণীর তপ্ত বক্ষঃস্থল?
কার অযাচিত প্রেম-সুধা,
পান করি মাতা বসুন্ধরা,

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি।
<<<~~~~
নিবারিতে জগতের ক্ষুধা,
বক্ষে ধরে মেহের পসরা ?
ওই হের মৃদুল পবন,
ল’য়ে কার প্রেম-পরিমল,
মৃদু মৃদু, করিয়া বীজন,
চরাচর করে সুশীতল ?
কার প্রেম-বিন্দু বক্ষে ধরি,
স্বচ্ছতােয়া ওই স্রোতস্বিনী,
উচ্ছ্বাসেতে তটভঙ্গ করি,
হইয়াছে সাগর-গামিনী?
কার প্রেম-শিখা বক্ষে লয়ে,
মেঘমালা শূন্যে ভেসে যায়,
মূহুমূহু, প্রেমােন্মত্ত হয়ে,
অট্ট হেসে, অনল ছড়ায়?
আসে ঝঞ্চা, ভীম দণ্ড লয়ে,
বিনাশিতে সৃষ্টির কৌশল,
ফিরে যায় প্রেমে মুগ্ধ হয়ে,
ফোটা কত ফেলে অশ্রুজল ?

মৰ্ম্মোচ্ছসি ,
~~~~~~~~~~~~
~~~~~
কার প্রেমে তরুণ-তপন,
নিত্য আসি পূরব-অচলে,
দীপ্ত রশ্মি করে বিকীরণ,
জাগাইতে শুযুপ্ত সকলে ?
কার প্রেমে সুধাকর-করে
উদ্ভাসিত সুপ্তিময়ী রাতি?
কার প্রেমে সুনীল-অম্বরে,
সমুজ্জ্বল তারকার ভাতি?
«
কুসুমিত চারু উপবনে,
(কার) প্রেম-বিভা ভ'তে অনুক্ষণ ?
অৰ্দ্ধস্ফট কলিটীর সনে,
(কার) প্রেম গাথা গায় সমীরণ ?
?
করি প্রেম, ক্ষরে ঊষালােকে,
বিহঙ্গের
মধুময়
গীতে
কার প্রেম, শত দুঃখে, শোকে,
আনে শান্তি, তাপ-তপ্ত-চিতে ?
কার প্রেম পাই নিরন্তর,
সংসাবের সহস্র বন্ধনে,
৪

মন্মােচ্ছাস।
দুদওও নহি স্বতন্তর,
সুখে, দুঃখে, হাসি ও ক্রন্দনে ?
পরি’ বিশ্ব-বিমোহন সাজ,
কোথা সেই প্রেমিক সুজন ?
যার প্রেম, প্রেম-র আজ
চরাচর নিখিল ভুবন।
এস।
আমি কত নিশি জাগি, জানিনা কাহার লাগি,
কাদিয়াছ আকুল নয়নে,
কাহার চরণ আরি
কত দুঃখ বিভাবরী,
কটায়েছ ভুতল-শয়নে।
কত দুঃখময় গাধা,
কত মরমের ব্যথা,
কত অশ, কত হাহাকার,
লুকান রয়েছে প্রাণে, সাঙ্গ হয়ে মৃত্যুগানে,
মিশে যাবে, আঁধারে আঁধার।
তাই, বড় সাধ হয়,
এক বার এ সময়,
এসে সখে! দাও মোরে দেখা,
সময় শাকিত নাথ,
পুরা’তে প্রাণের সাধ,
হৃদে রাখি ও পদাঙ্ক রেখা।

k
মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
~~~~~~~~~~
দুঃখাতপে শুষ্ক চিত,
পুনঃ স্নিগ্ধ মুঞ্জরিত,
হবে সখে ! তব আগমনে,
পবিত্র ভূষণে সাজি, এস নাথ এস আজি,
বসিতে এ শূন্য সিংহাসনে।
$
আমি চাহি।
আমি চাহি হেরিতে তােমায়,
সুধু এই হৃদয়ের মাঝে ।
প্রভাতের অরুণ প্রভায়,
আর শান্ত ছায়াচ্ছন্ন সাঁঝে।
দিবসের উচ্চ কলরবে,
মিশাইয়ে তব কণ্ঠস্বর
সংসারের প্রত্যেক উৎসবে,
হাসাইও তাপিত অস্তর।
নিশীথের সুষুপ্ত আঁধারে,
আচ্ছন্ন করিলে ধরাতল,
দেখা দিয়ে প্রাণের মাঝারে,
মুছাই দিও অশ্রুজল ।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি।
«
~~~~
চরাচর হইবে যখন
নিদ্রার সমুদ্রে ভাসমান ;
স্বপনে এ তৃষিত নয়ন
করিবে ও রূপ-সুধা পান।
চিরদিন হইয়ে সহায়,
জীবনের প্রতি ক্ষুদ্র কাজে,
দেখা দিও জীবন সন্ধ্যায়,
তব বিশ্ববিমোহন সাজে।
««
p
প্রার্থনা।
তােমারি অসীম করুণা-কিরণ,
থাকে যেন সদা আমারে ঘিরে,
অতীত কালের সে অন্ধ-রােদন,
আর যেন সখা, আসেনা ফিরে।
চিরান-ময় বিশ্বের নিশ্বাসে,
মিশা’য়ে সুন্সিগ্ধ সৌরভ তব,
অনুক্ষণ চির-প্রেমের উচ্ছ্বাসে,
সরস, সজীব, রাখিও সব।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
««
~~~~~~~~~~
দেখায় যেন হে তােমারি স্বরূপ,
পূৰ্ব্ব-গগনে তরুণ রবি,
দেখে যেন সদা কল্পনা:মধুপ,
ট-কুসুমে তােমারি ছবি।
স্ফ
.
বিকাশে যেন হে, সুদূরগহনে,
তােমারই ছায়া, শ্যামল কান্তি,
মিশ’ তব জ্যোতিঃ, নিশীথ-গগনে,
ভাতে যেন নিত্য, নীরব-শান্তি।
আসে যেন তব আশীষ-বাণী,
ধীরে ধীরে, স্নিগ্ধ-মৃদু-বায়,
সৃজিতে
মধুর-মৰ্ম্মর-ধ্বনি
পত্র-সুশোভিত পদিপ-ছায়।
শুনি যেন নিত্য গীত-অভিনব
উৰ্ম্মি-মুখর-সাগর-তীরে,
মহান্ মহিমা হেরি যেন তব
মেঘ-চুম্বিত-ভূধর শিরে ।
উদ্ধ হতে ঢালি চির-প্রেম-ধারা
হরষে মাতাও বিশ্বের প্রাণ,
৮

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস
এখ-««««««««
অযুত-কণ্ঠ হয়ে মাতােয়ারা,
গাহে যেন তব, মঙ্গল-গান।
উৎসবময়ী ধরার উৎসঙ্গে,
খেলে বায়ু তব করুণ। বাহ'।
ধায় প্রেম-বিন্দু মিশায়ে তরঙ্গে
তটিনী, মধুর কল্লোল গাহি’ ।
}
কাছে থাক, কিম্বা থাক বহু দুরে,
তাহর্নিশি তরে, হে প্রেম-সিন্ধু ।
যেন এ মলিন চিত্ত মুকুরে,
বিম্বিত থাকে হে ও মুখ-ইন্দু।
* কেন।
ধরণীর অশ্রুজলে আপনাৱ অশ্রু
মিশাইয়ে যদি অসময়,
হৃদয়ের শত আশা, হৃদয়েই ল’য়ে
অনিচ্ছায় চলে যেতে হয় ;
মানবের পূর্ণ তৃপ্তি, সুধু যদি হয় -
সিন্ধুবক্ষে বুদুদের, মত,

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি।
«ge~~~~
««
অর্ধ রজনীতে যথ। উৎসব আলয়
হাহাকারে হয় পরিণত ;
সৌভাগ্যের অভিনয়ে, থেকে যায় যদি
সুপ্ত ভাবে অতৃপ্তির তৃষ;
জীবনের জ্যোৎস্নাময়ী শুক্লা দশমীতে
আসে যাদ চির অমানিশা ;
নিত্য এই জন্ম মৃত্যু হাসি ও ক্রন্দন
এও যদি ক্ষণিকের খেলা,
কালের তরঙ্গ ভঙ্গে অলক্ষ্যে কখন
ভেঙ্গে যাবে জীবনের বেলা ;
কেন তবে আসে যায় কাঁদিয়া কঁদা’য়ে,
জগতের সকরুণ প্রাণ,
গাহিয়ে বিরহ গাথা হয় যদি শেষে,
মিলনের শান্তি অবসান ?
যাও দূরে।
অবসাদে অলস পরাণ,
ঘুমাইছে বৈরাগ্য ছায়ায়।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস
««
~~~~
আর কেন ও মােহন তান,
গাও মােহ! জীবন সন্ধ্যায় ।
আয়ু-সুৰ্য যায় অস্তাচলে,
সম্মুখে অন্তিম নিশীথিনী,
মিশে যাবে আঁধারের কোলে,
লক্ষ্যহীন আঁধার জীবনী।
~
অন্ধকারে জীবন-আলােক,
নিভে যাবে মরণের বায়;
বুঝিবে কে প্রাণের সে শােক ?
এ জগৎ ত্যাজবে আমায়।
ছিঃড় যাবে ভবের বন্ধন,
ভাসাইয়ে লবে কাল-স্রোতে,
কে শুনিবে আৰ্ত্তের রােদন,
সে সময়ে কে যাইবে সাথে?
-
তাই, এ মিনতি, প্রলােভন।
ডেক নাহে ও মধুর সুরে,
• নাই আর কোন আকিঞ্চন,
সুধু তুমি ত্যজি যাও দূরে।

মৰ্মেচ্ছসি।
~~~~~
ছায়া।
««
পাষাণে বাঁধিয়ে বুক
ভুলিতে বাসনা যারে,
সেই ছায়া আসে কেন
স্মৃতিপথে বারে বারে ?
হৃদয়ের ক্ষীণ আলাে
পলকে ডুবিয়ে যায়,
আঁধারে আকুল প্রাণি
করে সুধু হায় হায়।
দগ্ধ প্রাণে দগ্ধ স্মৃতি,
জাগি’ কেন বার বার,
কাতর অলস চিত্তে
এনে দেয় হাহাকার ?
ভুলিতে বাসনা সদা
ভুলিব ভুলিব করি,
ভুলিতে চাহেনা প্রাণ,
' স্মৃতি পথে ছায়া হেরি।
এ জনমে পারিনা
ভুলিতে সে ছায়া আর,
নীরবে নয়নে সদা
ঝরুক এ অশ্রুধার ।
**

~
~~~~
মৰ্মেচ্ছসি ।
«
আলােকিয়ে থাক অন্তঃপুর।
গা হয়ে বিলাপ গান,
অলস কাতর প্রাণ,
হয় যবে বেদনা-বিধুর,
জুড়াতে সে দগ্ধ হয়ে, আসে হৃদ উজলিয়ে,
স্মৃতি তব, স্বপন-মধুর।
তুমি ছাড়া নহি আমি, সতত বিরাজ তুমি,
এ নিভৃত হৃদয়ে আমার,
য’দিন বাঁচিব সখা,
থাকিবে হৃদয়ে আঁকা,
ও মোহন মূরতি তােমার।
উপেক্ষিয়ে অবহেলে, তুমি কি গিয়াছি চলে
, না সখে, তা ত কভু নয় ;
যবে সে অতীত গুলি, হেরি মন-নেত্ৰ খুলি,
আমি যে হে সুধু তােমাময়।
স্মৃতির মন্দির মাঝে, কি ঊষা কি শান্ত সাঁঝে,
নিশিদিন কার আলােকিত,
প্রতিষ্ঠিত দেব সম,
এ ক্ষীণ হৃদয়ে মম,
অছ সখে, চির-বিরাজিত।
থাক চিরদিন তুমি,
উজলি এ চিত্ত-ভূমি,
এ আঁধার কর সখা দূর,
চির জন্ম স্মৃতি সহ,
মিশে থাক অহরহঃ,
আলোকিয়ে মম অন্তঃপুর ।

মৰ্ম্মেম্ফিাস
~
«««
এ জীবন।
avere
এ জীবন স্রোতস্বিনী নীরবে বহিয়ে যায়,
বাসনা-বুদ্বুদ কত, উঠিছে মিশিছে তার।
বিষাদের ঘন ছায়া, আবরিয়ে হৃদাকাশ,
সুখের কিরণ-রেখা পলকে করিছে নাশ।
আশার কুসুমকলি ফুটিয়া মানস-বনে,
নিমেষে ঝরিয়ে পড়ে, হুতাশের প্রভঞ্জনে।
ছিন্ন ভিন্ন বৃন্তচ্যুত ধুলায় লুটায় হায়,
কোমল পাপড়ি গুলি আতপে শুকায়ে যায়।
সংসারের সুখখাল্লাসে যখনিমিশিতে যাই,
সহসা অজ্ঞাত ভাবে হৃদয়ে আঘাত পাই।
কাতর প্রাণের হাসি, আসিতে শুল্কমুখে,
ঝর ঝর ঝরে অশ্রু, কি জানি কিসের দুঃখে।
সুখের সঙ্গীতে যেন শুনি বিষাদের তান,
মরমে পশিয়ে হায়! আকুলিত করে প্রাণ।
বাসনা তরঙ্গে যবে উল্লাসে ভাসিয়ে যাই,
নিজ পানে চেয়ে দেখি হৃদয়ে আলােক নাই
কত কাল এ আঁধারে কঁদিব এভাবে তার,
জীবনে তরঙ্গময়ী যাতনার পারাবার ।
১৪

মৰ্মোচ্ছ্বাস acca উত্তরিতে এ জনমে, হবেনা শকতি মাের, আচ্ছাদিয়ে থাক হৃদে, বিস্মৃতির মহাঘোর? স্বপন। কেনরে স্বপন বালা চারু মুথে হেসে হেসে, বিস্মৃতির শান্তি টুকু কেড়ে নেও কাছে এসে ? পাইতে ক্ষণিক শান্তি নিদ্রার শরণ লই, সে সুখে বঞ্চিত কেহ করে না ত তােমা বই। সারানিশি তন্দ্রাবেশে বসিয়ে নয়ন’পরে, * দেখাও অতীত চিত্র সাজাইয়ে থরে থরে । সেই হাসি, সেই বাণী, সেই চারু ফুলহার- ফুল বিনিময়ে ফণী, —সুতীব্ৰ দংশন তার।

««
মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
~~~~
সেই আশা, সেই তৃষা,
সেই আশ্রজল আর,--
প্রতিদানে এ জীবনে
তাচ্ছিল্য কুটিসার ।
জীবনব্যাপিনী সেই
নিরাশার পূর্বাভাস
সে নীরব হাহাকার
অজনা অব্যক্ত ত্রাস।
একে একে সব গুলি
সাজা’য় নয়ন আগে,
একি গাে নিঠুর খেলা
খেল এই নিশি ভাগে।
সংসারের সুখে জ্বসে
উৎফুল্ল যাদের হিয়া,
দেখাগে সে সুচিত্র
তাহাদের পাশে গিয়া ।
আদরে তুলিয়ে তােরে
ইয়ে কোমল কোলে,
««
মুখে নিশি কাটাইবে
তাের সনে হেসে খেলে।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি।
kum~~~~
এ দগ্ধ অতীত চিত্র
দেখাইয়ে কিবা ফল,
দেখাবার নাই কিছু,
সুধু এতে অশ্রুজল।
যাও অয়ি সুহাসিনি।
ত্যজি এই মরুপ্রাণ,
বাজে যথা আশ-বীণা
তথা গিয়ে কর গান।
.
আজিও তেমনি।
কবেকার কথা সে যে পড়েনাকে! মনে,
বসে বসে ভাবিলাম, এক গৃহকোণে।
ঘন-নীল-মেঘাচ্ছন্ন শ্রাবণ-গগন,
অবিশ্রান্ত বৃষ্টিধারা বরষা সঘন,
হুহু করে আবায়ু ব’য়ে যেত বেগে,
আমি বসে থাকতাম, সারানিশি জেগে ।
জানিনাগো শয্যাপ্রান্তে বসে কার তরে,
কত বর্ষা কাটায়েছি নিরাশ অন্তরে।
আজ মনে হয় পুনঃ, সে সকল কথা;
সে আকুল আঁখিধারা, মরমের ব্যথা।

মৰ্ম্মেস।
~~~~~~~~~~
বিষাদের স্লান ছায়া, বিরহ গভীর,
গোপন-হৃদয়-রুদ বাসনা অধীর,
হৃদাকাশ ছেয়ে দিত মেঘের মহম,
আঁখিও করিত সদা ধারা বরিষণ।
সে দিনও চলেগেছে--তার পিছু পিছু,
সকলি ফুরা’য়ে গেছে ছিল যাহা কিছু।
মিটে গেছে সে সকল ক্ষণিকের খেলা,
আজিও তেমতি ব’সে রয়েছি একলা।
1 -
««
*
মৃত্যুরাজ্য।
সংসারের অবসাদে
গায় জীব মৃত্যুগান ।
সে মৃত্যু জীবন হতে
কত দূর ব্যবধান ?
: কি আছে মরণ রাজ্য--
হাসি কিম্বা অশ্রুজল ?
বহে কি সমীরে সেথা
শান্তিময় পরিমল'?
:: সেথা কি, আঁধার শূন্য
চির মধুময় আলা,
t
১৮

মৰ্ম্মোহুসি।
~~~~~~~~~~
}
সে দেশে কি নরনারী.
পায়না সন্তাপ-জালা ?
অথবা সে মৃত্যু-রাজ্যে
চির ঘোর অন্ধকার ।
সীমাহীন, আশাহীন
জালাময় পরিবার ?
নিঠুর যন্ত্রণাময়
ভয়াবহ বিভীষিকা ?
দাউ দাউ জ্বলে সুধু
নরকের অগ্নিশিখা ?
সকল অয়ে, তবু
ভ্রান্ত নরনারীগণ,
জুড়াতে সে দেশে যেতে
কেন করে আকিঞ্চন ?
অপসারি ছিন্ন ভিন্ন
এ মলিন যবনিকা,
দেখিতে বাসনা এবে
সেই গৃঢ় প্রহেলিকা।
যে দুঃখে দহিরে চায়
বাইতে মরণ-দেশ,

মৰ্মোচ্ছ্বসি।
<<€~~
~~~~~~~~~
সে দেশে গেলে কি হয়
সে দুঃখের জালা শেষ ।
অথবা সে দেশে গিয়ে
নিজ নিজ কর্ম ফলে,
কেহ ভাসে শান্তি-স্রোতে
কেহ তপ্ত অশ্রুজলে ?
যদি রে সে দেশ হয়
শান্তিময় ফুলবন,
বিসজ্জি’ বিষাদ-বােঝা
হাসিব গো অনুক্ষণ।
কিম্বা যদি হয় সুধু
জ্বালাময় পারাবার,
ভাবি আনন্ত কাল
ল'য়ে এ বিষাদ ভার।
একা।
বিশাল ধরণী মাঝে
কেহই একাকী র,
সবারই চির দিন
আছে আশা প্রাণময়।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি।
~~~~~~
««
আমার ত চারি পাশে
হাসিমাখা মুখগুলি,
খেলিতেছে নিরন্তর
বাসনার ফুল তুলি।
আমিত একাকী নই
এ বিপুল ধরামাঝে-
জাগে প্রাণে কত আশা
দিবা রাতি উযা সাঝে।
দিনের আলােকে শুনি
কোটি কোটি কলরব,
নীরব নিশীথে প্রাণে
ঘাের তমোময় সব।
উষার মোহন হাসি
নীরবে মরমে পশে,
সাঝের মলিন ছায়া
হেরি চখে অশ্রু আসে।
সাধহীন, অশাহীন
কে বা এজগতে আছে ?
আমিত একাকী নই,
-অমাৱ(৩)•এসব আছে।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
~~~~~~~~~~~~~
হেসে হেসে আশা সদা
হৃদয়ে দিতেছে দেখা,
তবু কেন মনে হয়
আমি যেন আছি একা
এ একার ভাব কিছু
বুঝতে পারিনা আমি,
কে আর বুঝাবে, বিভাে,
বুঝাইয়ে দাও তুমি।
«
মরণের পরে গিয়ে।
নীরব নিশীথে আজি
অতৃপ্ত গিয়াস ভুলে,
নীরবে দাঁড়ায়ে আছি
বাসনার উপকূলে।
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিশ্ব গুলি
উঠিছে মিশিছে ধীরে,
গণিতেছি উৰ্ম্মি-মালা
দাড়ায়ে জীবন-তীরে।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
hefin
কুল কুল প্রবাহিনী
ছুটিছে অনন্ত পানে,
আকুল উদ্ভান্ত প্রাণ
ওই কুল কুল তানে ।
স্বচ্ছ সুবিমল বারি
পিপাসা-কাতর চিত,
ছুইতে নিষেধ নাই
কেন তবে হই ভীত?
««
জুড়াবে কি এ পিপাসা
এই স্বচ্ছ রিপিয়ে ?
অথবা সে চির শান্তি
মরণের পরে গিয়ে ?
ফুলের বাসর
ঘুমের আবেশে স্বপনের ছলে
ফুলের বাসর রচিনু বিমানে,
সিঞ্চিয়ে সিঞ্চিয়ে স্নিগ্ধ অশ্রুজলে,
সাজালেম চারু লতিকা ভূষণে

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি
-~~~~~~~~
কুসুম আবাসে কুসুম-তােরণ
সংজ’লেম গাথ ফুল ফুলহার;
চারু শতদল করিয়ে রােপণ
চৌদকে দেউল ঘেরিলাম তার।
শুভ সেফালিক যতনে কুড়ায়ে
ছিড়ি বৃন্তগুলি সুরঞ্জিত করি,
প্রেমের পতাকা দিলাম উড়ায়ে
দিগন্তে মধুর সুসৌরভ ভরি।
~
ফুলের পালঙ্কে,
ফুল
বিছাইয়ে
রচিলাম, শয্যা কওই আয়াসে,
কনক লতায় কুসুম বাধিয়ে
সুচারু স্তবক জানু দু’পাশে।
বিমল চঁাদের রজত-কিরণ
ধীরে ধীরে পশি উন্মুক্ত গবাক্ষে,
মধুরে মধুর হইল মিলন
প্রতিভাতি সুপ্ত হৃদয় আলেখ্যে।
1
সাজিতে আপনি কুসুম ভূষণে
তুলি রাশি রাশি ফুটন্ত কলিকা,
২৪

মর্মাসি।
~~~~~~~~~~~~
ও মালতীর গাথ যতনে
থরে থরে থরে মোহন মালিক।
যতনে বিনোদ বেণী বিনাইয়ে
বিলম্বিত করি দিমু চাৰু কেশ,
যুথিকার হার দিলাম জড়ায়ে
বিকাশিল ফুল্ল ফুলময় বেশ।
সুচারু কুসুমে মেখলা রচিয়ে
পরি কটিদেশে বাড়িল পিয়াসা,
চম্পক কলিকা যতনে তুলিয়ে
তিলে পর হইনু বিবশা ।
)
নাশায় ঝুলায়ে বিনােদ বকুল
গলায় পরিনু কুসুম হার
যতনে কুড়ায়ে নবীন মুকুল
পরিনু রচিয়ে কঙ্কণ তার।
বাসন্ত রঞ্জিত বসন পরিয়ে
ফুলের বাঁশটি ইনু করে,
আবেগে হৃদয় উঠিল কঁপিয়ে
পশিতে সাঞ্চের বাসর ঘরে।

মন্মোচ্ছ্বাস
-
««««««
ভাঙ্গল স্বপন সাধের বাসর
মিলাল আকাশ-কুসুম প্রান্ত,
অবলম্ব বনা নিৰ্ম্মত সে ঘর
তাই অকালে ভাঙ্গিল হয়।
৩
উদ্ভান্ত হৃদয়ে চেতনা লভিনু,
সঘনে কঁপিয়ে উঠিল বুক,
স্মৃতিদাহে শেষে নীরবে কঁাদিমু
সিক্ত উপাধানে লুকায়ে মুখ ।
মনে রেখো।
e
উদাস বিষাদ ভরে যদি যাই চলে,
শেষ বিদায়ের দিনে কথাটা না বলে,
জীবনের হাসি, খেলা, ভুলিয়া সকল,
আঁখিপ্রান্তে দুটি বন্দু তপ্ত অশ্রুজল
ল’য়ে ; তুচ্ছ দু’চারিটী সান্ত্বনার কথা
তাও যদি না বলিয়া, দিয়ে যাই ব্যথা
তােমাদের প্রাণে ; এত দয়া, এত স্নেহ,
হাস্য-ধ্বনি-মুখরিত-প্রীতিপূর্ণ হে,
উপেক্ষিয়ে সব, সুধু আত্ম দুঃখ নিয়ে,
।

মৰ্মোচ্ছ্বাস
~~~~~~~~~
অধিকন্তু তােমাদের মৰ্ম্মে আঘাতিয়ে,
-জনমের মত বদ কেঁদে যাই চলে,
তবু সবে মনে রেখ অভাগিনী বলে।
অতীতের অপরাধ ক্ষম অকপটে
মোর ক্ষীণ ছায়টিকে এক চিপটে
রেখ চিরদিন ;-কভু করি? স্মরণ,
গৃহকৰ্ম্ম শেষ করি বসিবে যখন
ক্লান্ত বিদূরিতে স্নিগ্ধ সন্ধ্যার ছায়ায় ।
অথবা নিশীথে কেহ আরাম-শয্যায়
স্মরি মাের দুঃখ গথা, ত্যজ দীর্ঘশ্বাস,
-ভক্রান্ত হৃদয়ের ক্ষণিক উচ্ছ্বাস,--
সঙ্গোপনে ভাসাই ও নয়নের জলে।
তবু সকে মনে রেখ অভাগিনী বলে ।
««
দৈবাধীন।
সংসারের শত কাজে, শত বিস্মৃতির মাঝে,
ভুলেছিনু হৃদয়ের ব্যথা।
শত
শত সুপ্ত দুঃখ ল'য়ে, প্রতি দিন যায় বয়ে,
ভুলাইয়ে অতীতের কথা।

হ«
মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস
ge
~~~~~
* *
সকলের সাথে মিশি, হাসি, কঁাদি দিবানিশি,
আপনারে আপনি ভুলিয়ে--
কি অাছে প্রাণের মাঝে, কখন কোন কাজে
একবার দেখিনি খুলয়ে।
ভেবেছিনু এই ভাবে, এ জনম কেটে যাবে,
খুলবনা হৃদয়ের দ্বার ;
ফেলিবনা অশ্রুজল,
মরমের মর্মস্থল,
দেখাবনা খুলে একবার ।
সযতনে চিরকাল,
রাখিব এ আন্তরাল,
অন্তর এ বাহিরের সনে,--
শত স্মৃতি মুছে ফেলে, ফুক দিব হেসে খেলে,
অাপনিই আপনার মনে।
কিন্তু প্রাণ, দীর্ঘ দিন,
যেতে যেতে লক্ষ্যহীন,
অন্ধকার জীবনের পথে,
সে চির সংস্কল হায়, মুহুর্তের উপেক্ষায়,
ভেসেগেল বাসরি স্রোতে।
বিশ্বাসে ও অবিশ্বাসে, গােপনে প্রাণের পাশে,
যাছিল তা দেখলাম চেয়ে ;
আপনারে সাক্ষী রাখি, ফিরালেম ক্লান্ত আঁখি,
অশ্র, আর দীর্ঘশ্বাস ল’য়ে।
৫.
২৮

মৰ্ম্মোচ্ছস।
efecerceirace
*ধারের সনে।
কি গভীর অন্ধকার !
—এ আঁধারে হাহাকার
করিনা অবােধ পরাণ।
মন-নেত্রে এ আঁধার,
দেখ দেখি একবার
ক্ষণ তরে মুদিয়া নয়ন।
আঁধার গগণ তল,
আঁধার এ মৰ্ম্ম স্থল,
মিশিয়াছে আঁধারে আঁধার ।
এ আঁধার পথে, হায়,
নীরবে বহিয়ে যায়,
লক্ষ্য-শূন্য জীবন আমার।
• আঁধার নিশীথে জাগি,
কি হেতু কিশের লাগি,
গাও চিত্ত বিলাপের গান ?
বাসনা কামনা যত,
জাগে প্রাণে অবিরত
আঁধারেই হবে অবসান ।

মৰ্ম্মোচ্ছসি
~~~~~~~
নিবিড় জলদ সম,
পে, গুপে, গাঢ় তম
আবরিছে ভবিষ্য গগন,
ভুলিয়ে ভবের মায়া,
জীবনের ক্ষীণ ছায়া
হবে চির আঁধারে 'মগন।
««
এ আঁধার হেরি চিত
হও কেন বিচলিত?
কি বিষাদ উপজিছে মনে
আসিলে সে শেষ, দিন,
সকলি হইবে লীন
ওই চির আঁধারের সনে।
।
মরণ-মিলনে।
ঘাত, প্রতিঘাতে হৃদি হয়ে চুরমার,
সংসারের সুখ সাধে, সাধ নাই আর ।
এ হৃদয়-সহকার সনে, আশালতা,
আলিঙ্গয়েকত সুখে গেয়ে প্রেম গাধা,
জুড়ইত নিরন্তর জীবন অমির ;

মর্মেসি।
~~~~~~~~~
এবে কোথা আশালতা ? কোথা সহকার?
ভেঙ্গেছে সুখের তরু, ঝরে গেছে ফুল,
নিরাশার ঝঞ্চা তাহে হয়ে প্রতিকুল,
উড়াইয়া ফেলিয়াছে খর-রাবি করে ।
কোনটীবা উড়েগেছে সুদুর প্রান্তরে।
• কুহেলিকা: সমাচ্ছন্ন হৃদয় আমার,
ধীরে ধীরে আবরিছে ঘাের অন্ধকার।
বাসনার প্রবাহিনী নীরবে আঁধারে,
অগ্রসর হইতেছে মরণের পারে ।
ফুরায়েছে ধুলা খেলা সংসারে আমার,
সাধের আলয়এষে দুঃখ কারাগার ।
ছিড়েছে আশার তন্ত্রী নিরাশ জীবনে,
আকুল 'আকাঙ্ক্ষা সুধু মরণ-মিলনে।
«««
শিখাও।
শিখাও আমারে মাগে। করিতে ক্রন্দন,
চির দুঃখী মানবের সনে,
চিরদিন তাহাদের,
মুছায়ে নয়ন,
শান্তি দিতে, তাদের মন ।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস &ge~~~~~~~~~~ পরের হাসিতে মাগাে, তেমনি আবার এ দীনেরে শিখাও হাসিতে, পরের আনন্দে যেন, হৃদয় আমার শিখে মাগো, আনন্দে ভাসিতে। আপনার দুঃখে যেন, হ'য়ে ম্রিয়মাণ ভুলিনা মা জীবনের ব্রত, আজীবন যেন মাের, এই তুচ্ছ প্রাণ পরহিত সাধে অবিরত। নিজের সুখের তরে, স্ফীত, উচ্ছ্বসিত চিত্ত যেন হয় না আবার ; স্নিগ্ধ জ্যোতির্ময় কর, এই দগ্ধ চিত, ঘুচাইয়ে মােহের আঁধার । বিষাদে আনন্দে যেন, এই শিক্ষা মাের, কভু নাহি করে অতিক্রম, ঘুচায়ে পরে ব্যথা, এ হৃদয়ে মোর হয় যেন ব্যথা উপশম । এইরূপে যে ক’দিন, আছি ধরাধামে, সপি’ প্রাণ জগতের দুঃখে, রাখিয়া সকল গ্লানি, এ পার্থিব ধামে, • চলে যাব মৃত্যু অভিমুখে। ৫ ।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি।
~~~~~~~~~
ভুলিবে ক্রন্দন
মুছয়ে সজল আঁখি,
শােক তাপ দূরে রাখি,
হাসিমুখে এস আজি সবে,
অজনম দুঃখী মারা, হেসে আজ এস ত্বরা,
যোগদিতে ভবের উৎসবে।
কেবল কাদি, সবে,
এস নাই এই ভবে,
চিরদিন অকুনয়নে,
মুছি সবে অশ্রুধার,
হৃদয়ের ছিন্ন তার,
পুনরায় বঁধগাে যতনে।
সবিতে কওঁ । সবে,
আসিয়াছি এই ভবে,
জীবনের কর্তব্য সাধিয়ে,
নিরন্তর িমুখে,
থাকগাে ধরার বুকে,
আনন্দের কুটির বাঁধিয়ে ।
বিনয়ের সঙ্গী হয়ে
শ্রদ্ধায় সম্মুখে লয়ে,
অগ্রসর হও ধীরে ধীরে,
হে অন্তভবের পান্থ,
পথশ্রমে হ'য়ে ক্লান্ত,
অসময়ে আসিওনা ফিরে।
৩৩

«
মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি।
~~~~~~~~~
সাধনার হাত ধরে,
জগতের দ্বারে দ্বারে,
হাসিমুখে করিয়ে ভ্রমণ,
হৃদয়ের প্রেম দিয়ে,
জগতের প্রেম নিয়ে
নিজ গেহে ফিরি তখন।
শুকাইবে অশ্রুধার,
ভুলিবে গো হাহাকার
দৃঢ় হবে শিথিল বন্ধন,
শান্তি পূর্ণ হবে গেহ,
স্নিগ্ধ হবে ক্লান্ত দেহ,
চির তরে ভুলিবে ক্রন্দন।
«««
স্নেহে ডেকে লও।
সুখের আশায় ভ্রমি দেশ দেশান্তরে,
এসেছে পথিক বড় ক্লান্ত হয়ে ;
ওগাে, জনপদ-বাসি ! বারেকের তরে
ডাক তােমাদের উৎসব আলয়ে।
অজানা অচেনা বহুদূর দেশ হতে
এসেছে পথিক তোমাদের দ্বারে,
উৎসবের বেশ ভুষ নাই তার সাথে,
তবু দয়া করে ডেকে লও তারে।
৩৪

মৰ্মোচ্ছ্বাস
~~~~~
দাড়াইয়ে পান্থ অতি দীন হীন বেশে,
পরিধান জীর্ণ মলিন বসন,
ধুলা মাখা এলায়িত দীর্ঘ রুক্ষ কেশে
টাকিয়ছে তার কাতর নয়ন।
সুখসাধ পরিপূর্ণ সুকোমল হৃদি,
ঘাত প্রতিঘাতে চূর্ণ হয়ে গেছে,
সন্তপ্ত জীবনে শান্তি পুনঃ পায়, যদি
স্নেহে ডেকে লও তোমাদের কাছে।
বহু দূর হতে শুনি তােমাদের গান,
সুখােচ্ছ্বাসপূর্ণ হাস্য কলরব ;
ছুটিয়ে এসেছে আশে জুড়াইবে প্রাণ,
হেরি তোমাদের আনন্দ উৎসব।
ওগাে ধরাতলবাসী নরনারিগণ !
• খেলি গো দুয়ার ক্ষণেকের তরে ;
বিপন্ন পথিক দ্বারে করিছে রােদন,
ডেকে লও রে উৎসবের ঘরে।
হেরি তার চিন্তাকুল কতির নয়নে
চির ধারাবাহী মরম উচ্ছ্বাস,

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
~~~~~~~~
চিরদিন তোমাদের রহিবে স্মরণে
দুর্ভাগ্যের দীর্ঘ-মৰ্ম্ম-ভেদি-শ্বাস।
ওগাে চিরসুখি-প্রাণ মানব-নিচয়।
ভবসুখামােদে আছ মাতােয়ারা ;
তােমাদেরি জনৈকের সন্তপ্ত হৃদয়,
মুছা তাহার নয়নের ধারা।
তােমাদের হাস্যধ্বনি পথিকের প্রাণে
আনিবে গাে ফিরে তাতীতের হাসি।
জাগি’ পুনঃ সুপ্ত চিত্ত তােমাদের গানে,
তোমাদের সাথে বাজাইবে বাঁশী ।
তােমাদের স্নেহে যদি তৃপ্ত নাহি হয়,
চির নিরাশ্রয় পথিকের প্রাণ ;
বিচলিত হয় যদি, ও দীন-হৃদয়,
শুনি তােমাদের উৎসবের গান।
তখন সকলে মিলে, একপ্রাণ হয়,
দিওগাে বিদায়, কার প্রত্যাখ্যান;
যাবে সে পথিক, তার অশ্রুজল লয়ে,
এ জনসেআর চাহিবেনা স্থান।

«
~~~
আশার প্রতি।
আমার হৃদয় নিয়ে একি খেলা তব ?
শ্রান্তিহীন, ক্লান্তিহীন, নিত্য অভিনব
রচিতেছ মােহন সঙ্গীত ; প্রতি কাজে,
নবীন রাগিণী গুলি ধীরে ধীরে বাজে
হৃদয়ের প্রতি তন্ত্রী হতে ; মধুময়
রাগিণীর মর্মস্পর্শী মিষ্ট তান লয়,
}
মৃদু মৃদু শ্ৰমরের ঝঙ্কারের মত,
উঠিতেছে মিণিতেছে চিত্তে অবিরত
নিশিদিন সমভাবে। তরুর মর্মরে,
প্রভাত-সমীরে কিম্বা সান্ধ্য-বায়ু-ভরে ;
তটিনীর সুমধুর কল-কল তানে,
মধুর সঙ্গীত-ধ্বনি পশিতেছে প্রাণে।
অযুত কণ্ঠেতে যেন ধ্বনিতেছে গীত
প্লাবিয়ে ধরার বক্ষ, বিশ্ব বিমােহিত
সঙ্গীতের মধুর কম্পনে। স্মিত মুখে
নব নব গীত গুলি রচিতেছ সুখে,
* সঙ্গোপনে বসি মাের নিভূত হৃদয়ে।
খুজিয়া কি লইয়াছ নিখিল নিলয়ে
৩৭

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
~~~~~~~~~~~~
দুর্ভাগ্যের এ জীর্ণ কুটীর? কোন সুখে,
অয়ি সুহাসিনি, এই চির দগ্ধ বুকে
পাতিয়াছ তােমার ও বিচিত্র আসন।
রচিবে কি এ শ্মশানে কুসুম-কানন ?
অদৃষ্টের প্রতি।
{
কখন তােমারে আমি পারিনি’ বুঝিতে।
অজানা আঁধার পথে,
চলেছি তােমার সাথে,
জীবন-সংগ্রামে সদা যুঝিতে যুঝিতে।
তােমার ইঙ্গিতে সদা,
তােমাতে রয়েছি বাঁধা,
তােমাসনে দুদণ্ডও নহি স্বতন্তর।
পথ-প্রদর্শক সেজে,
ভবিষ্য জীবন মাঝে,
হাসি মুখে হইতেছ ধীরে অগ্রসর ।

মৰ্ম্মেচ্ছিা।
«
سیب
মেলি দুটি ক্লান্ত আঁখি,
তোমা পানে চেয়ে থাকি
তােমা বই তুচ্ছহুদি পারিনা বাঁধিতে।
যখন হাসাও, হাসি,
কাদালে, কঁদিতে বসি,
জীবন ফুরায়ে এল, হাসিতে কঁদিতে।
তবুও নিমেষ তরে,
বুঝিনু আপনারে,
না বুঝি তােমার ও রহস্য অপার।
কে তুমি সংসারে মম,
নিশি দিন ছায়া সম,
হেসে কেঁদে সাথে সাথে রয়েছি তোমার।
কিন্তু এ জীবনে আর,
সহেনা দুঃখের ভার,
ভেঙ্গে চুরে গেছে হৃদি শত আবর্তনে,
আর তৰ সাথে সাথে,
এ দীর্ঘ বন্ধুর পথে
চলিতে পারিনা আমি দুৰ্বল চরণে ।
৩৯

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি।
««
~~~~~~~~~~~
যে ভাবে নিতেছ বেঁধে,
ভ্রমিতেছি কেঁদে কেঁদে,
বহুদিন সংসারের অশ্রুজল মাঝে।
এবে সুপ্রসন্ন হও,
স্নেহ-বক্ষে তুলে ল ,
মুছাইয়ে আঁখিধারা জীবনের সাঝে
কি যেন
কি যেন অকুল তান বলে শিছে হায়,
কি অভাবে শূন্য প্রাণ, প্রাণ যেন কারে চায়
কে যেন হৃদয় মাঝে চাপায়ে দিয়েছে ভার,
ক্লান্ত অবসন্ন দেহ ; বহিতে পারিনা আর।
কে যেন অলস ভাবে কঁদিছে করণ তানে,
উদাস আকুল হৃদি সেই রােদনের গানে।
সঙ্গীতের প্রতি কম্পে কঁপাইয়ে অন্তস্থল,
ভুলাইয়ে সুখ-স্বপ্ন, আনিতেছে অশ্রুজল।
জীবন যাতনাময় প্রতিচ্ছায়া নিরাশার, .
সম্বল যেন রে সুধু অশ্রু আর হাহাকার।
৪০

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
екеме
তরণী।
কত বার মনে করি,
এ জীর্ণ জীবন-তরী,
ভ সাবনা বাসনার স্রোতে;
সংযম-ক্ষেপণ লয়ে, ধীরে ধীরে তরী বেয়ে,
কুলে বেঁধে রাখি কোন মতে।
কিন্তু কি করিব হায় !
ভুলে যাই পুনরায়,
হৃদয়ের সমস্ত কল্পনা ;
কোথা হ’তে ভ্রান্তি এসে, আচ্ছন্ন করিয়ে শেষে,
আনে চিত্তে তালীক-জল্পনা।
ভাল মন্দ নাহি বুঝি, সুধু প্রাণপণে যুঝি,
চিন্তাক্লিষ্ট হৃদয়ের সনে ;
কত হাসি, কত কঁাদি, উপেক্ষিয়ে পুনঃ সাধ,
ভাঙ্গি, গড়ি, আপনার মনে।
নিদ্রিত কি স্বপ্নাবেশে, কোথা যেন যাই ভেসে,
ভুলে যাই সংসারের মায়া,
স্মৃতি-সাগরের তীরে, দাড়াইয়ে ধীরে ধীরে,
ভুলে যাই আপনার ছায়া।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি।
~~~~
~~~~~ «««
ক্লান্তচিত্ত নুয়ে পড়ে ;
তরণী এ অবসরে
ভেসে যায় অকুল পাথারে ;
আপনার জন যারা,
দূরে দাঁড়াইয়ে তারা,
সুধায় না ডাকিয়ে আমারে।
{
আসে কাল-বিভাবরী ।
জীবন হইতে চলি, গিয়াছে আনন্দ-উষা,
লইয়ে তাহার হাসি, লইয়ে তাহার ভূষা।
মধ্যাহ্নের স্মিত-রশ্মি, চকিতে উজলি প্রাণ,
বুঝিতে সে মাধুৰ্য্য হইয়াছে অবসান।
স্নিগ্ধ কমনীয় সেই উষার মাধুৰ্যরাশি,
আশাময় প্রীতিময় মােহন মধুর হাসি,
মধ্যাহ্নের প্রখরতা, সকাল চলিয়াগেছে,
ম্লানমুখী অপরাত্নে এ জীবন ব্যাপিয়াছে।
আয়ু-সূর্য অস্তমিত হইতেছে ধীরে ধীরে,
স্তপে স্তুপে অন্ধকার আসিছে জীবন ঘিরে।
সম্মুখে বুঝিগাে এই সন্ধ্যায় সঙ্গিনী কর,
এজনমে এবিনে আসে কাল-বিভাবরী ।
৪২:

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
<<~~~~~~~~
কিহেতু
নিভৃত হৃদয়-কুঞ্জে জ্বলে যেন হুতাশন,
বহেনাত ঊষা সাঝে সেই সুখ-সমীরণ ।
নীরব পরাণ-পাখী, গায়না কাকলি-গান ;
কি বিষাদে সে পাপিয়া হইয়াছে মিয়মাণ ?
কি হেতু এ অবসাদ, উড়ু উড়, ভাব হে ।
দীর্ঘ দুঃখ-রেখা বুকে, টানিয়ে দিয়েছে যেন।
বুঝিনা প্রাণের কথা, ব্যথা ভরা এ বিষাদ,
কনক আসে আজি, কেন এত অবসাদ।
বিষন্ন সমীর সনে, যেন কার দুঃখ-গীতি
মরমে পশিছে ধীরে, কঁাদিছে আকুল স্মৃতি।
««
বিলাপ।
আমি কি গাে পরিত্যক্ত অনাথ সন্তান
এ নিখিল বিশ্ব চরাচরে ?
সুধু কি মা পাঠায়েছ, লােদনের গান,
কেঁদে কেঁদে, গাহিবার তরে?
৪৩

মৰ্মোচ্ছ্বাস
২০
~~~~~~
কঁদিতেছি চির দিন, কেঁদে কেঁদে, হায় !
ভেঙ্গেগেছে হৃদয় আমার ;
মরমের মশ্ম মাঝে তীব্র নিরাশায়,
ধ্বনিতেছে তীব্র হাহাকার।
নিশিদিন গাহিতেছি বিলাপের গান,
মর্মস্পর্শী অকুলিত স্বরে ;
এ জনমে এ আঁখির অশ্র অবসান
হয় নাই ক্ষণেকের তরে।
«««
এ বিপুল বিশ্বমাঝে পাঠাইলে যদি
চিরদিন কঁদা'তে অংমারে ;
তবে কেন এই ক্ষুদ্র, এই
তুচ্ছ হৃদি,
গড়িলেনা পাষাণের স্তরে।
}
তা হ'লেত শােক, দুঃখ, ব্যথা অনুভব,
হইতনা পাষাণের গায় ;
প্রতি দিবসের যত আনন্দ-উৎসব,
মুছি না আঁখিজলে হায়।
অসীম আকাঙ্ক্ষাপূর্ণ কেন করে দিলে
দুর্ভাগ্যের এ ক্ষুদ্র হৃদয়,
৪৪

«
মৰ্ম্মেস্ফুসি।
~~~
«««
<<<
চিরতরে কেন হায় যাইনা মা ভুলে,
অসম্পূর্ণ বাসনা নিচয় ।
যা দিছিলে,--পেয়ে, হায়! সে স্নেহের দান,
প্রাণ কেন হইলনা তৃপ্ত ;
কি মােহের ঘােরে এই অভিশপ্ত প্রাণ
হইল মা দুরাশায় লিপ্ত।
ভাল বেসে যদি ছলে যদি তাই ল’য়ে
মিটিত গো আকাঙ্ক্ষা আমার,
তা হলে মা চিরদিন অশ্রুসিক্ত হয়ে
থাকিত নয়ন আমার ।
দাও তৃপ্তি, দাও সুপ্ত, মরণের কোলে,
ভুলে যাই রোদনের গান ;
ভাসা’ না মাগাে! আর নয়নের জলে,
এ যাতনা কর অবসান।
৫

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি
секс
যাও তবে।
যাও তবে আসিওন আর ;
সুখ শান্তি রাখি দূরে, শূন্য প্রাণে মিছে ঘুরে,
বাড়ানাে যাতনার ভার ।
কি কাজ এ ছলনায়, যাও সুখ সাধনায়,
কেন আর মুখপানে চাও ?
দর্পিত চরণ তলে,
এ তুচ্ছ হৃদয় দলে,
হাসিমুখে যথা ইচ্ছা যাও।
««
এ যে মর্ম অশ্ৰধার,
এ নহে গাে ছলনার,
এতে তুমি করি না রােষ,
এ নিশাও শেষ হবে, এ অশ্রু শুকায়ে যাবে,
এযে সুধু স্বভাবের দোষ।
যাও তুমি নিজ কাজে, সুখের জগত মাঝে,
খাঁজে লও আপনার সুখ,
অচিরে ভুলিবে সখা, দুদিনের চোখে দেখা
অশ্রুসিক্ত এ মলিন মুখ
আমিও তাসাধ্য-ধে, পাষাণে হৃদয় বেঁধে,
দাড়াইয়ে জগতের মাঝে,

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি।
<<~~~~~~~
ভুলিয়ে এ হাহাকার, মুছিয়ে এ আঁখিধার,
লিপ্ত হই আপনার কাজে।
এ নহে গো পরিহাস, এ ক্ষীণ বন্ধন পাশ,
ছিড়ে দাও জনমের মত,
আর কেন ফিরে চাও? চির তরে ভুলে যাও,
অতীতের হাসি, অশ্রু যত ।
«««
একটি মুখের কথা।
একটি মুখের কথা,-বেশী কিছু নয়,
তাই শুনিবার তরে আকুল হৃদয়
দিবসরজনী। মাের এই তুচ্ছ প্রাণ,
জীবনের সুখ, দুঃখ, মান, অভিমান,
চাহিতে সপিয়াছি চরণে তোমার।
এ জনমে পাইবার প্রতিদান তার,
কারনা প্রত্যাশা কভু, এই ক্ষুদ্র হিয়া
তােমার চরণ প্রান্তে সুধু উৎসর্গিয়া,
পাইব নির্ভর ; কার এই বাঞ্ছা মনে,
চেয়ে আছি নির্নিমেষ আকুলসন,
০
৪৭

মৰ্মোচ্ছ্বাস
<<<
<~~~~~~~~~
rease
তব পানে নিশি দিন। সে আশা আমার
হবে কি সফল? এই তুচ্ছ উপহার
লইবে কি তুমি ? অথবা এ তুচ্ছ প্রাণ,
তুচ্ছ জীবনের অতি তুচ্ছ গী ও গান,
অক্লেশে ঔদাস্য ভাবে করি প্রত্যাখ্যান,
বিধা’য়ে মরমে তীক্ষ্ণ উপেক্ষার বাণ,
জর্জরিত কার বিষে হৃৎপিণ্ডটারে,
চিরদিন ভাসবে কি নয়নের নীরে ?
বল বল খুলে বল যা ইচ্ছা তোমার,
বৃথা কেন রাখিতেছ সন্দেহের ভার
দুৰ্বল হৃদয়ে মাের। কেন বৃথা আর
সংসারের উপেক্ষায় করি হাহাকার।
এখনাে সময় আছে বল খুলে বল,
বাঁধিয়ে বিদীর্ণ হিয়া, মুছি অশ্রুজল,
লভিয়া নবীন বল, পশি বিশ্বমাঝে,
সঁপি এই ক্ষুদ্র প্রাণ জগতের কাজ।
সেথায় হৃদয় মাের পাইবে নিশ্চয়,
অনন্ত-নির্ভর,সুখ শান্তির আশ্রয়।
শুকাইবে মৰ্ম্মক্ষত, প্রাণের বেদনা
ঘুচিবে অচির, সুপ্ত আত্মার চেতনা
০৮

মৰ্ম্মোসি।
~~~~~~~
.
হইবে নিশ্চয় ঘুচ’ মোহের স্বপন,
হেরিবে বিশ্বের শশা বিমুগ্ধ নয়ন।
পুলক উচ্ছ্বাসে পূর্ণ হইবে হৃদয়।
একটি মুখের কথা বেশী কিছু নয়।
উপেক্ষিতা।
নিকট যখন থাকি,
চোখে চোখে সদা রাখি,
মিটনা গো আঁখির পিয়াসা ;
আঁখি অস্তল হলে,
মরমের মতলে,
জেগে উঠে আকুল নিরাশা।
শ্রান্তিহীন ক্লান্তিহীন,
গরি পানে নিশিদিন,
চেয়ে আছে আকুল নয়ন।
খুলেছি আপন ধর্ম,
ভুলিয়াছি গৃহ-কৰ্ম্ম,
ভুলিয়াছি নিশীথে শয়ন।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস
Benicarica
থাক তার কাছে কাছে,
নীরবে গৃহের মাঝে,
এত দুঃখ সহি সঙ্গোপনে ;
তবু সে কখনাে ভুলে,
চাহেন গগ মুখতুলে,
একবার নয়নের কোণে।
অনিচ্ছায় দৈবাধীন,
হু’লে কভু সম্মুখীন,
অন্য পথে দ্রুত বার চলে ;
।
এতঘৃণা উপেক্ষায়,
প্রাণ তবু ভারে চাষ,
ভাকে তারে এস এস বলে
প্রজনীর অন্ধকারে,
লুকায়ে গবাক্ষ-দ্বারে,
শুনি তার মধুময় গান,
আপনা লুকায়ে রাখি,
তৃষাতুর লুব্ধ আঁখি,
করে তার রূপসুধা পান।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস
<<<<
~
««««
কঁদাইতে বুঝি মােরে,
যামিনী ও সঙ্গে করে,
ল’য়ে আসে তপ্ত দীর্ঘশ্বাস ।
ল স্থল নতঃ ভরি,
সারানিশি হুহু করি,
গাহে বায়ু বিলাপ-উচ্ছ্বাস।
চিরদিন এই ভাবে,
কেঁদে কি জনম যাবে,
অতৃপ্তির হাহারবে মিশি,
নিদ্রাশুন্য শ্যা’পরে,
ক্লান্ত আঁখি সকাতরে,
জেগে জেগে কাটাইবে নিশি ?
মরমের মৃতলে,
কি যেন অতৃপ্তি জ্বলে,
নিশিদিন ধু ধু করি হয়,
নীরবেতে অশ্ররাশি,
নয়নের প্রান্তে আসি,
সে অনল নিভাইতে চায়।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস
~~~~
অশ্রুর উছুসে যদি,
ভেসে যায় দগ্ধ হৃদি,
ভেসে যায় হৃদয়ের বল,
ভয়ে তাই দূরে গিয়া,
কাদিলে ব্যথিত হয়,
মুছে অাসি নয়নের জল।
}
ভাসি সদা আঁখিনীরে,
সে তো গাে চাহেনা ফিরে,
ঘুচাইতে জীবনের জ্বালা।
কত কঁাদি সঙ্গোপনে,
যাবেনা কি এ জীবনে
মিছে সধা, মিছে অশ্রু চালা
অনুনয়।
তােমার ত এসারে,
থাকিল্পে থাকিতে পারে,
জীবনের অসীম নির্ভর।
২

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
«««
জনপূর্ণ এ জগতে,
আমার জীবন পথে,
একমাত্র তুমি সফর।
তুমি যেতে পার চলে,
ধুলিস্লান ধরাতলে,
অনায়াসে দলিয়ে আমায়,
আঙ্গীন প্রাণপনে,
আমি বাঞ্ছা কর মনে,
থাকিছে ও চরণ-ছায়ায়।
যেখানেই তুমি যাবে,
জীবনের সী পাবে,
আমি সুধু র’ব একাকিনী ।
ছাগহীনে করি স্নেহ
শুনিবেনা কভু কেহ,
আমার এ দুঃখের কাহিনী।
০
একাকিনী চিরতরে,
করােনা করােনা মোরে,
এস মম চির সহচর ;

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
~~~~~~
দুইটি দুর্বল হিয়া,
একসাথে মিশাইয়া,
দুজনেই পাইব নির্ভর।
দুজনের দুটী প্রাণ,
পরস্পর প্রতিদান,
চিরতরে করি দুজনার ;
~
দুটা প্রাণ একসাথে,
মিব জীবন পথে,
পরস্পর হইয়া সহায়।
মনআশা দুজনের,
পুরাইব সংসারের
-স্নেহ-বক্ষে বাঁধি খেল-ঘর;
আমাদের খেলা দেখি,
মেলিয়া বিস্মিত আঁখি,
চেয়ে র'বে বিশ্ব-চরাচর
আসিয়ে অবনী-তলে,
কতশত পূণ্যৰলে,
লভে জীব মানব জনম,
৫৪

মৰ্ম্মোসি।
forecare
বড়ই সে ভাগ্যহীন,
কেঁদে কেঁদে চিরদিল,
হয় যদি তাহার চরম ।
।
বহুদিন বৃথা গেছে,
যেক'দিন বাকী আছে,
হও যদি এখন সদয় ।
ধুলি-ম্লান-শয্যা ছাড়ি,
আবার উঠিতে পারি,
প্রাণপণে বাঁধিয়ে হৃদয় ।
কেন বৃথা পাই ক্লেশ,
করিয়ে আর শেষ,
চলে বাই জগতের মাঝে ।
চেতনা থাকিতে দেহে,
ভবের সুন্দর গেহে,
লিপ্তহই যে ৰাহার কাজে।
.
ঙ্গি বৃথা অভিমান,
এস আজি দুটা প্রাণ,
এক সূত্রে করিয়ে বন্ধন ;

মর্মোফ্লুসি
~~~~
দুজনেই এক সাথে,
ফিরাই কর্তব্য পথে
দুজনার ব্যথিত জীবন।
নদীতীরে।
}
সন্ধ্যার কোমল ছায়া ধীরে ধীরে নামি
ক্রমে যবে ঢাকে ধাতল
মৃদুল হিল্লোলে যবে তীর তট চুমি
বয়ে যায় তটিনীর জৰু,
আপনার মনে পন্থি গুণ গুণ স্বরে,
গেয়ে যায় উদাস বাগিণী ;
তখনি কে যেন আস স্মৃতির মন্দিরে,
টেনে দের যবনিকা খানি।
বিশ্বতির মোহাবেশে হইয়ে বিভোর,
ভুলেযাই অতীতের কথা,
প্রাণে যে-অজানিত অশ্রুময়স্বর,
গার সং ভবিষ্যের গাথা।

মর্মোচ্ছাস।
««~~~~
যেন চির অন্ধকারে থেকে অবশেষে,
আঁধারেই হই বিলীন ;
আঁধারেই ভেসে যাব মরণের দেশে,
দীর্ঘপথ অলােক বিহীন।
দুটিনীর মত মোর চঞ্চল হয়,
ভেসে যাবে জীবনের সাথে ।
তার সাথে ভেসে যাবে বাসনা নিচয়,
চিরতরে সে আঁধার পথে।
~
আরো যেন গায় কত, নব নব গান,
বুঝতে পারিনে কিছু তার ।
মরমের ম মোর সেই শেষতনি,
ঢেলে সুধু দেয় হাহাকার।
তবুও সন্ধ্যার ছায়া কত ভালবাসি
•শুনিতে সে মর্মস্পীৰৱ,
তাই নিত্য সন্ধাকালে নদীতীরে আসি,
কাঁদয়ে কঁাদাই চরাচর।
৫৭

মৰ্ম্মোচ্ছসি।
~~~~~
~~~~~~
কেঁদে যদি যাই।
এ দগ্ধ জীবন-জ্বালা জুড়াবার আশে,
আঁখি দুটী সিক্ত করি অশ্রুমীরে,
কেঁদে যদি যাই কভু তােমাদের পাশে,
তােমরা কি কেহ চাহিবেনা ফিরে ?
««
আমার এ জীবনের দুঃখময় গাথা,
তােমরা কি শুনিবেনা কেহ ?
বুঝিতে কি পারিবেনা মরমের ব্যথা,
দেখিয়ে এ দুঃখ-ক্লিষ্ট দেহ ?
ব্যথা পেয়ে যাই যদি তােমাদের কাছে,
লয়ে দুইফোটা তপ্ত অশ্রুজল,
দয়া করে ডেকেনিয়ে আপনার কাছে
ভগ্নচিত্তে পুনঃ দিও নব বল
নিভৃতে শুনিয়ে মোর বিষাদের গান,
করুণ কটাক্ষে চেয়ে মুখপানে ;
মুছাইয়ে অশ্রুকণা,-এই দগ্ধপ্রাণ,
স্নিগ্ধ করাে সবে, স্নেহ-সুধা দানে ।

মৰ্ম্মোচ্ছাস।
~~~~~~~~
এ জনমে আমি সুধু করুণাপ্রয়াসী,
অার কিছু আমি চাহিনা সংসারে,
ওগো চির-সুখী-প্রাণ-ধরাতল-বাসি,
আশায় বঞ্চিত করোনা আমারে।
মুছাইয়ে অশ্রুজল কোলে তুলেনি,
বেঁধে তােমাদের স্নেহ-বাছ পাশে;
তপ্ত দেহে স্নিগ্ধহস্ত যত্নে বুলাই
কেঁদে যদি যাই সান্ত্বনার আশে।
নিশীথে
নিদাদের ক্ষীণ গঙ্গা ধীরে ধীরে ধীরে,
প্রশান্ত সৈকত ভূমি, শুভ্র স্বচ্ছন্দীরে,
আঘাতিয়ে মৃদু মৃদু কুলকুল স্বরে,
বয়ে' যায়, আছে যথা দূর দূরান্তরে
তার প্রেমময় সিন্ধু। বুঝি রত্নাকর,
প্রসারি’ বিশাল বক্ষ, আছে নিরন্তর
প্রেমিকার চির-স্নিগ্ধ ক্ষীণ মেধার
মিশাতে বিশাল বক্ষে, হয়ে আত্মহারা

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
-~~~
~~~
সুদূর নিলীমাপটে এই তাৱাদল
প্রতিফলি স্বচ্ছজলে রূপ:সমুজ্জল
হাসিতেছে মৃদু মৃদু চারু মুখ খুলি ।
নিৰ্ম্মল তটীনী বলে ক্ষুদ্র উৰ্ম্মি গুলি
ল’য়ে সেই প্রতিবিম্ব নাচে ধীরে ধীরে ;
সে চঞ্চল প্রতিচ্ছায়া শ্রোতস্বিনী-নীরে
নিরখিয়ে, কোন সতী ছুটী আচম্বিতে
নিলাম্বরে ঢাকে মুখ লজ্জা লুকাইতে।
প্রাণায়াম গন্ধবহ চৌদকে সঞ্চারি’
নিশীথের প্রতি পুষ্পে বিচরণ করি
আনিয়া সৌরভ রাখি, মৃদু সঞ্চালনে,
দিতেছে আরমি কত সন্তপ্ত জীবনে।
কোন ভাগ্যহীন এই অনিল পরশে,
আনন্দের বিনিময়ে তপ্ত দীর্ঘশ্বাসে
বিষাক্ত করছে ধরা মৰ্ম্মভের করি,
অতীতে অভিনয় একে একে স্মরি।
নিশীথের নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করি, দুরে,
বাজিছে ঝিল্লির আঁশী মধুময় সুরে ।
—ভাবপূর্ণ তু বিশ্ব-মন-মুগ্ধকর !
স্বপ্ন-হ-গীত প্রায় সঙ্গীতের স্তর

মৰ্ম্মোচ্ছাস «««~~~~~~~~~ ধ্বনিছে অনন্তু কষ্টে ; অনন্ত সঙ্গীত, পাশয়ে শ্রবণে, চিত্ত করয়ে মথিত, করতেছে এ নিশীথে অকুল পরাণ। কে গায় অলক্ষে বসি কার স্তুতিগান- যাঁহার মহিমা গান শুনি বিচলিত হতেছ হৃদয় ? কোথা তিনি ?--জ্ঞানাতীত অনাদি অনন্ত প্রভু বিশ্বস্রষ্টা হরি, যীর পনে ধাইতেছে সঙ্গীত লহরী। অকণ্ঠ পুরিয়ে করি প্রেম-সুধা পান, মুক্ত কণ্ঠে একবার তাঁর স্বতিগান গারে হুয়! হবে শান্ত সুশীতল,- শুকাইবে নয়নের ভপ্ত তশ্রুজল। চাহি পুরাতন। তেমনি ত কুল কুল স্বরে, বহিতেছে নিন ৩টিনী, সুধাকৰ উদয়ে ঘরে হাসাইছে নীরব ঘামিনী। গিন্ধ শ্যাম শান্তউলুবনে,, তেমনই শােভে পুষ্পহাসি।

মৰ্ম্মোসি।
~~~~~~~~~~
সৌন্দর্য্যের শোভা দরশনে,
এ সংসার তেমনি প্রয়াসি।
ফুলরেণু, চুমি ধীরে ধীরে,
বহিতেছে মলয়ার বায়,
ক্ষুদ্র উৰ্ম্মি স্বচ্ছ নীল নীরে
বায়ুম্পর্শে ভেঙ্গে ভেঙ্গে যায়।
~~~
সীমাহীন অনন্ত আকাশ,
তেমনই সাজি’ তারাহারে ;
বিশ্বরূপ করিয়ে বিকাশ
ভাবুকের মন মুগ্ধ করে।
শান্ত সুপ্ত শ্যামলা ধরণী
সুখ-স্নাতা শুভ্র জোছনায়,
তেমনই
দিবা ও রজনী
সম্ভাষিছে হেসে বসুধায়।
তেমনই নব উষালােকে,
এ ধরিত্রী হয়ে উদ্ভাসিত ;
নব আশা সঞ্চারিয়ে বুকে,
সংসার করে বিমোহিত।

মর্মেস
eventer
অনাহুত মৃদুল পবন, '.
মৰ্ম্ম-মাঝে পশি ধীরে ধীরে,
তেমনিত করিয়ে বীজন,
স্নিগ্ধকরে ক্ষুব্ধ মনটারে।
.
সুললিত বিহগ কাকলী।
এখনও টালে সুধাধার ;
তেমনি রয়েছে সকলি,,
তবে কেন ভবি নই তার।
««
ভাবহীন সব শূন্যময়,
লক্ষশূন্য উদাস পরাণ ;
অনুতপ্ত বঞ্চিত হৃদয়,
মর্মে যেন জ্বলছে শ্ম পান।
চিত্ত মাের যেন ধীরে ধীরে,
সুধাইছে অতীত কাহিনী।
ম্লান-মুখী স্মৃতি তারে ঘিরে,
শুনাইছে দুখের জীবনী।
কি অভাবে কতির বাসনা,
গাহিতেছে রোদণের গান,

সম্মোচ্ছাস
ge~~~~~
مم
প্রাণে কেন সুখের কল্পনা
হইয়াছে চির অবসান।
সব আছে তেমনি মধুর,
সুধু মোর নাই সেই দিন,
চারিপাশে আনন্দ প্রচুর,
তবু যেন জীবন-বিহীন।
সেদিনের যে সুখ-স্বপন,
ছিল মাের চিত্ত বিমোহিয়ে,
সুধু তার ছায়াটি এখন,
শুন্য প্রাণ আছে আকুলিয়ে।
ফকিদিয়ে জনমের মত,
রেখে মােরে,এ অজানা পথে,
সেদিনের হাসি খেলা যত,
চলেগেছে সেদিনের সাথে।
এদিনের সকলি নূতন,
পরিচিত নহে কিছু তার,
প্রাণ মাের চাহে পুরাতন
সে-মধুর স্বপন আবার।

~
অব্যক্ত যাতনা।
আপনার মর্মভাষা বুঝাইতে গিয়ে,
আপনি কখন পারিনি বুঝিতে ;
শতধা বিদীর্ণ মম এ কঠিন হিয়ে
আপনার সাথে আপনি বুঝিতে।
~
কি ব্যথা প্রাণের মাঝে জাগি’ অনুক্ষণ,
আঁখি দুটি ভাসে অশ্রুজলে ।
কি দারুণ যাতনায় দেহ, প্রাণ, মন,
সদা যেন দহে তুষানলে ।
শৈশবের স্বপ্নশ্রুত সুখময় গাথা,
একে একে পড়ে সব মনে।
দ্রব হয়ে আসে যেন মরমের ব্যথা,
অশ্রুরূপে নয়নের কোণে।
কুলকুল স্বরে কঁাদি ওই স্রোতস্বিনী,
ব'য়ে যায়, দূর দুরান্তরে ;
সমীরণ গায় কার দুঃখের কাহিনী
মৃদু মৃদু বিলাপের স্বরে।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
~~~~
~~~~~~~~
বিস্ময়ে বিস্মিত আঁখি যেদিকে ফিরাই
নিরখিয়ে সভায় অন্তর ;
কি ছিল কি হারায়েছে সুধু নাই নাই,
শােকাচ্ছন্ন বিশ্ব চরাচর।
আমার এ মভাষা বুঝা'বার নয়,
বুঝলেও নাই প্রতিকার
এ জনমে, এ জীবন চির দুঃখময়,
চিরসঙ্গি অশ্রু, হাহাকার।
মৃত্যুর প্রতি
অমাবস্যা রজনীর ঔও আবরণে,
আবরিয়ে নগ্ন দেহ, নীরবে যখন,
সচকিতে আসি মোর মুক্ত বাতায়নে,
ধীরে ধীরে করিবে গাে মাের অন্বেষণ ;
সে সময় যদি আমি মােহ নিদ্রাচ্ছলে,
দুদণ্ডের তরে, রচি আশার স্বপন ;-
মরুময় অনুর্বর এই মৰ্ম্মতলে,
দুচারিটীশস্যবীজ করিয়ে বপন,

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
Всеки
উৎকণ্ঠিত চিত্তে সেই শস্যের আশায়,
নির্নিমেষে চেয়ে থাকি অবসন্ন প্রায়
দগ্ধ হৃদয়ের পানে ;-ডাকিয়ে তখন,
ভাঙ্গিওনা তুমি মাের সে সুখ স্বপন।
কিন্তু যদি দেখ মাের নিদ্রা শুন্য আঁখি,
অশ্রুজলে মৰ্ম্ম-ব্যথা মিশাইয়ে ধীরে,
ভাবহীন ক্লান্ত দৃষ্টি শূন্যপানে রাখি।
সিক্ত করিতেছে মাের ম্লান শয্যাটিরে ।
অথবা মরম ব্যথা সকরুণ সুরে,
গাহিতেছি মৃদু মৃদু কঁদিয়ে কঁদিয়ে
জানাতে প্রাণের ব্যথা হৃদয় পিঞ্জরে
প্রাণ পাখিটীরে সুধু রেখেছি বাঁধিয়ে ;-
'
হে মৃত্যু! তা হ'লে তুমি পশি’ মম গেহে,
স্নিগ্ধ হস্তদুটি তব বুলাইয়ে দেহে,
ডাকিয়ে তখন মােরে মেহ সম্ভাষণে,
জীর্ণ-তনু ঢেকে দিও তম আবরণে।
৬৭

Икке
অপেক্ষা।
করিতেছি অপেক্ষা কাহার ?
কে আসি রােধিয়ে কাল,
ছিড়েদিবে স্বপ্ন-জাল,
স্বপ্নময় জীবনে আমার ।
}
এ জগতে আমি কার ?
এ জগতে কে আমার।
কোথা হতে আসিয়াছি হায় !
উষালোকে উড়ে আসে,
সবেমিলে কলু ভাষে,
সন্ধ্যাকালে কোখা উড়ে যায়।
কোথা আদি, কোণ শেষ,
কোথা আপনার শো ।
কে আসয়ে দিবে মােরে বলে ।
f
স্বপ্নজাল ছিড়ে দিয়ে,
এ-রহস্য বুঝাইয়ে,
স্নেহেমােরে ক্লাবে তুলে কোলে।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
<<<
অনন্ত শান্তির খনি
মৃত্যু নাম তার জানি
যার কোলে সকলে জুড়ায় ।
M9g...
সে সবারে কোলে নিয়ে,
সস্নেহে চুম্বন দিয়ে,
অনন্তের রহস্য বুঝায়।
শত বাধা পায়ে দলে,
নীরবে যেতেছে চলে
কাল চক্র যুগ যুগান্তর ;
শত সুখ, সাব আছে,
মরণ তাহার কাছে
জীবনের শান্তির নিঝর।
তঁারেই সঁপিব বলে,
এ অতৃপ্তি অন্তস্তলে,
রাখিতেছি করিয়ে সঞ্চিত।
কারেও ভােলেনা ভবে,
আমারে কি ভূলে রবে,
করুণায় করিয়ে বঞ্চিত?

মর্মোচ্ছাস
<<<<
««
বুঝি সে সময় হলে
এসে তুলে ল’বে কোলে,
বুলাইয়ে স্নিগ্ধ করতল ।
হবে স্মৃতি বিস্মরণ,
জুড়াবে হৃদয়, মন ;
এ বিশ্বাস হবেনা নিস্ফল।
«««
সকলেই যার কোলে,
স্থান পায় অন্তকালে,
আমারে কি ভুলিবে সে, হায় !
তারি কোলে মাথা রাখি,
মুদিব এ ক্লান্ত আঁখি,
রহিয়াছি সেই অপেক্ষায়।

মৰ্মোচ্ছ্বাস।
অদৃশ্য ইঙ্গিত।
কে আমারে যেন বহুদিন হতে
ডাকছে অলস রাগিণী গাহিয়া,
যেতেছি কাহার অদৃশ্য সঙ্কেতে,
এ জীর্ণ-জীবন-তরণী বাহিয়া।
$
নাই শাস্তি মনে, শােভাহীন সব,
প্রকৃতির মুখে নাই মিগ্ধ হাসি,
জগতের যত আনন্দ উৎসব
পশে না মরমে, হৃদয় উল্লাসি ।
ধীর সমীরণে, ওই গুন কার,
আনিছে অব্যক্ত রােদন-উচ্ছ্বাস ।
নিশীথ-সঙ্গীতে ঢালে না গো আর,
এ বিশ্ব-হৃদয়ে শ্রান্ত উল্লাস।
ওই শুন দূরে, বাঁশরীর লয়,
কাহার বেদনা যেতেছে রাখিয়া ;
আর ই কাননে খেলেনা মলম,
বিকশিত-পুষ্প-পরাগ মাখিয়া।
৭)

মৰ্ম্মোচ্ছসি ««« ave « ওই দেখ দূরে নভােনীলিমায়, লুকায়ে চন্দ্রমা রজত-বরণ, কঁদছে,-“ভাসিছে, জলদের গায় অলসে বিক্ষেপি, মৃদুল চরণ। } তটিনী হৃদয়ে বহেনা তরঙ্গ, ধীরে ধীরে, শ্যাম-সৈকত চুমিয়ে ; কুলায় কুলায়, কানন-বিহঙ্গ, মধুর উষায় থাকে গাে ঘুমিয়ে । সুখ-সুপ্তি-মগ্ন প্রেমিকের মনে, বাসনার কথা করিয়ে বপন, কুহকিনী নিদ্রা, অ-আঁখি-কোণে, সৃজেনাগাে আর মিলন-স্বপন। 4. হের কুসুমিত চারু উপবন, শোভিছে অযুত কুসুম ফুটিয়া মধু-গন্ধ-মুগ্ধ লুব্ধ ভৃঙ্গগণ, মধু আশে আর বায়না ছুটিয়া । তুলি’ ফুলকলি কিশােরী বালিকা, অাবেশ- বিল অলস নয়নে, १२

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস
келски
গঁথেনা গাে আর মােহন মালিক,
ঘুমাইয়ে পড়ে কুসুম-শয়নে।
সায়াহ্ন গগনে দিগঙ্গনাগণে,
বিছায় না আর কনক অঞ্চল ;
কুহু-কুহুরিত-কোকিল-কুজনে,
হয়না হৃদয় বাসনা-চঞ্চল।
«««
অনন্ত-মঙ্গল-গীত-মুখরিত,
চির-শোভাময়ী প্রকৃতি জননী,
অশ্রুর উচ্ছ্বাসে চির-নিমজ্জিত,
করেছেন যেন সুখের অবনী।
আঁধার সংসার, সুখ-শান্তি আশ,
ত্যজি বহুদূৰ্থ চলেছি ছুটিয়া ;
যেতেছে গাে, কীর মৃদু-মন্দ শ্বাস
পরশে, প্রাণের বন্ধন টুটিয়া।
}
লও, ডেকে লও, চির-সুপ্তি মাঝে,
ফেলনা আবার অশিরি কবলে,
শােক-তাপ-তপ্ত জীবনের সাঝে,
শােয়াইয়া রাখ মরণের কোলে।
৭৩

মৰ্মোচ্ছ্বাস।
<<<<<rew
ভুলেও ওই নীতি।
শান্ত পথিকের মত অলস মন্থরে,
মৃদু, মৃদু, বিক্ষেপিয়ে অদৃশ্য চরণ,
নিকটে আসিয়ে তবু রয়েছ অন্তরে,
চির-সুখ-সুপ্তিময় বাঞ্ছিত মরণ!
~
তাপ-তপ্ত জীবনের জালা জুড়াইতে,
যে তােমারে নিশী দিন ডাকে কায়মনে,
যাওনা সে অভাগারে চির শান্তি দিতে,
স্নেহ-বাহু-পাশে ধাঁধি, স্নেহ-আলিঙ্গনে।
যে কুঁড়িটি স্নেহ-বৃন্তে সদা দুলে থাকে,
উজলিয়ে সংসারের খ-তরু-শাখা,
কলুষ-বিহঙ্গ কভু নিরখিয়ে যা’কে,
গ্রাসিতে ধায়না মেলি কৃষ্ণবর্ণ পাখা ;
৫
স্নেহময়ী বসুন্ধরা স্নেহ-ক্ষ’পরে,
যতনে সাজান ঘার সুখ নিকেতন।
যে জন এ জগতের শত সমাদরে,
শােভা পায় প্রস্ফুটিত পুষ্পের মতন ;
৪

মৰ্ম্মেজ্ঞাস।
«
«««
যার স্নিগ্ধ সুমধুর প্রেমের হিল্লোলে,
ধরণীর বক্ষে সদা সুখ উৎস ছুটে,
আরাম শয্যায় যে গাে সুখ-নিদ্রা কোলে,
স্বপ্নবেশে তব নামে শিহরিয়ে উঠে।
তারি পাশে, অকস্মাৎ কেন যাও হায়,
চির বিভীষিকাময়ী মূৰ্ত্তি তব লয়ে,,
প্রাণের বন্ধন তার সবি টুটে যায়,
তােমার কঠোরস্পর্শে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে।
««
চিরানন্দময় এই নিখিল ভুবনে,
কঠিন প্রস্থর সম শুষ্ক তব চিত,
বিশ্বের ক্রন্দনধ্বনি পশিয়া শ্রবণে,
হয় নাই ও হৃদয় কভু বিচলিত।
সুখময় হাস্যধ্বনি শ্রবণে পশিয়া,
আকুলিত হয় বুঝি হৃদয় তােমার,
তাই কি সহসা তুমি নিঃশব্দে আসিয়া,
মিশাইয়ে দাও তাতে অশ্রু-হাহাকার ?
রৌদ্র-দগ্ধ গন্ধহীন ম্লান পুস্পটিরে,
করিয়া বৃন্তচ্যুত, তব উষ্ণৰাসে

মর্মোসি
<<<~~~~~
ভালবেসে ছুইতে যে যাও ধীরে, ধীরে,
ফুটন্ত ৰা অস্ফুট কলিটীর পাশে।
ভুলে যাও ওই নীতি; চির-প্রেম ভরে,
সম্মুখে এস হে, চির-বাঞ্ছিত মরণ,
এ দেহ পিঞ্জর হ’তে চিরদিন তরে,
বিছিন্ন করিয়া দাও আত্মার বন্ধন।
আঁধার পথে।
অবশ্য ঘটিবে যাহা, নাই যার প্রতিকার
মিছে বঁধা বাঁধি তবে কেন করি বারবার।
ধরণীর এ বন্ধন ছিড়িতে হইবে যদি,
শুকাইয়ে যা’ক তবে ক্ষীণ-তি-মায়ানদী ।
শ্মশান সিকতা ভূমি হউক মরমতল,
নীরব শ্মশান মাঝে, হাসুক পিশাচ দল ।
জীবন-তপন-ভাতি যাক চির অস্তাচলে,
অনন্ত বিশ্রাম দিয়ে মরণ সন্ধ্যার কোলে।
চির ঘাের অমানিশা আসুক আমায় ঘিরে,
একাকী আঁধার পথে যাই চলে ধীরে ধীরে।
.
০
৭

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি
~~~~~~
<<
অশ্রুজল
সখি ! এই অশ্রুজল, সম্বল কেবল
জীবনে
এবে, ভেঙ্গেগেছে ভুল কঁাদিগাে আকুল
নয়নে।
««
চির জন্ম আহা কি মােহ আঁধার,
আচ্ছন্ন করিয়ে হৃদয় আমার,
হাসাইল মার অলীক আশার
ছলনে,
শেষে, সুধু, আঁখিজল হইল সম্বল
..জীবনে।
আমি, চিদিন হায় আশার আশায়
রয়েছ,
বহি, বৃথা সুখ আশ, কত উপহাস,
সয়েছ,
তবু চিরদিন দুখে কেঁদে কেঁদে
সাধের সাধনা, এ জীবনে সেধে,
জীর্ণ হিয়া টীরে রেখেছিল বেঁধে
যতনে,

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি
~~~~~~~~~~
শেষে শুধু আঁখিজল, হইল সম্বল,
জীবনে।
আমি, ভাবিনি কখন, পাইব এমন,
বেদনা ;
স্বপন ভাঙ্গিৰে, অসময়ে হবে,
চেতনা।
সত্যময় ধরা মা হেরে কখন,
কল্পনা-কাননে করিয়ে ভ্রমণ,
কত সুখ কুঞ্জ রচেছি শয়ন,
স্বপনে,
শেষে, সুধু আঁখিজল, হইল সম্বল,
জীবনে।
আমি, চিরদিন ধরে এমনই করে
কঁদিব,
ওগে, কাদিয়ে দিয়ে, শেষে জীর্ণ হিয়ে
স্বাধিব।
মুছাতে এ অঞ করােনা প্রয়াস
আমারই থাক আমার হতাশ
হিব আজন্ম জ্বলন্ত নিরাশ
'দহনে,
৭

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
৮e ..sauds,
««««
লয়ে,
এই আঁখিজল জীবন সম্বল,
জীবনে।
নিতে, এই দুঃখভার, মাের কাছে আর
এসনা,
ওগো যাও সবে ফিরে, মাের দুঃখনীরে
ভেসনা,
হায়! পরিণাম কে জানে তখন,
আজন্ম অতৃপ্তি করিয়ে বহন,
ফুরাবে সকলি আমার মরণ
মিলনে,
এই আঁখিজল, হইল সম্বল,
জীবনে।
তাই,
চন্দ্রাবলী।
সখি!
আমি যে গাঁথিব মালা;
বিকসিত ফুল গুলি,
রাখ গাে যতনে তুলি,
ভরিয়ে কনক ডালা।
৭৯

মর্মে:চ্ছ্বাস
~~~~
~~~~~~~
প্রাণ-বঁধুয়ার তরে,
গাথিব গো থরে থরে,
মােহন মালিক আজি,
দাসী ব'লে মনে করে
আসে যদি, দিব তারে,
সাজায়ে কনক সাজি।
«
যদি, সে কুসুম হার,
পরে লো সে একবার,
বসি’
সে,
চরণ তলে,
সে চারু চরণে লুটি
সে চারুচরণ দুটি,
ঘােয়ব নয়ন জলে।
যদি সে নিঠুর প্রাণে,
ক্ষণ তরে মােহ আনে,
অভাগীর আঁখি নীরে,
প্রিয়ভাষে সম্ভাবিয়ে,
বার পথে বাহিরিয়ে
যেতে যেতে আসে ফিরে,
*

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
~~~~~~~~~~
যদি মােরে ভাল বেসে,
বারেক মধুর হেসে,
দাঁড়ায় গাে কাছে আসি,
সে কি বুঝিবেনা মনে,
চিরদিন কায়মনে,
আমি যে তাহারি দার্সী ?
}
কুসুমিত উপবনে,
সুরভিত সমীরণে,
কুসুম-শয়ন পাতি
প্রিয়-মধু-সম্ভাষণে,
প্রিয় বাহু আলিঙ্গনে,
কাটায় মাধবী রাতি।
(কিন্তু) বনফুলে গাঁথা মালা
করিয়া সে অবহেলা
যদি লাে চরণে দ'লে,
দেখা দিয়ে নিশি শেষে,
আঁখিপ্রান্তে মৃদুহেসে,
উপেক্ষিয়ে যায় চলে,

«
মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
<<< ~~~~~~~~~
তবু জানিওঁ সখি,
তাতেও হবনা দুঃখী,
যদি তার পাই দেখা ;
:
চলে গেলে প্রাণ-বধু,
বিরলে বসিয়ে সুধু
হেরিব পদাঙ্ক-রেখা।
}
শুন সখি হেথা হতে,
বাজিতেছে বন-পথে,
বঁধুয়ার, সে মুরলী ;
প্রেমভরে সেধে সেধে,
ডাকিছে গাে কেঁদে কেঁদে,
রাধা রাধা রাধা বলি ।
মানিনী রূপসী রাধা,
তারি মাসে বাঁশী সাধ,
জানেনা সে অন্য নাম,
জানিতে কি বাকি আর,
রাধা প্রাণময়ী তার,
-রাধার জীবন শ্যাম।
৮৪.

মৰ্মোচ্ছ্বাস।
<
~~~~~~~~~~~~
জানি সখি আমি জানি,
আমি যে লাে অভাগিনী,
তাহে দুঃখ নাহি মাের,
তারি নামে কঁাদি, হাসি,
তারি পদাশ্রিত দাসী,
থাকিব জীবন-তাের।
«««
আর তারে নাহি ডেকে,
শুনিব গাে দূরে থেকে,
তাহার বাঁশীর গান,
এ তুচ্ছ জীবন হায়,
পােছ যে তারি পায়,
চাহিনা সে প্রতিদান ।
যে নামে বাজুক বাঁশী,
লুকায়ে তাহার দাসী
বনপথে যাবে ছুটি,
তিতিয়া নয়ন নীরে,
নিকুঞ্জে আসিবে ফিরে,
হেরি’ সে চরণ দু’টি

মৰ্মোচ্ছ্বাস।
Декеме
বিরহিণী।
কি দারুণ পাপে,
কার অভিশাপে,
কাদি আজি বনে বনে,
}
হয়ে পাগলিনী,
দিবস-যামিনী,
ভ্রমি কার অন্বেষণে।
হৃদয়ের বল,
আশার সম্বল,
হারা’য়ে বিবশা প্রায়,
যমুনা পুলিনে,
বিজনে বিজনে,
খুজিয়ে বেড়াই কায়?
কুল-শীল-ভয়ে,
জলাঞ্জলি দিয়ে,
বনে বনে আজি আমি,
৮৪

মৰ্মোচ্ছ্বাস।
&
~~~~~
কাদিয়ে বেড়াই,
জান কি কানাই,
-“তুমিত অন্তরামী !
পদাশ্রিতা রাধা,
তব পদে বাধা,
পড়ে কি তােমার মনে ;
সেই প্রেমাধিনী,
হয়ে উন্মাদিনী,
কঁদে আজি বনে বনে।
প্রেমসুধা আশে,
অভিসার-বেশে,
পশি কুঞ্জে এ অভাগী,
নিয়েছে যে, শ্যাম,
কলঙ্কিনী নাম,
সখাহে তােমারি লাগি।
রাধা রাধা বলি,
বাজা’য়ে মুরলী,
ডাকিতে যখনি সখা ;

মৰ্ম্মোচ্ছাস।
৭
~
~~~~~
দিবা কি নিশীথে,
সে বিজন পথে,
ধেয়েছি তখনি একা।
জীবনে, মরণে,
ও চারু চরণে,
বাঁধা তব এই দাসী ;
««
কোন সাধ নাই,
সুধু এই রাই,
শ্যাম-প্রেম-অভিলাষী।
যে যাতনা সহি
ব্ৰজপুরে রহি,
সকলি ত জান শ্যাম
তােমার লাগিয়ে,
সকল ত্যজিয়ে,
ব্ৰজে কলঙ্কিনী নাম।
শ্যাম-সােহাগিনী,
যে ধনেতে ধনি,
ছিল সখা এ গােকুলে ।
:

মর্মোস ।
~~~~~~~~~
ঘুমঘােরে চোর,,
সে রতন মাের,
কণ্ঠ হতে নেছে খুলে।
সে জাতি, যুথিকা,
কুসুমবীথিকা,
ওকায়েছে অধতমে ;
}
তরুলতাগণ,
নীরস এখন,
সখা হে তােম বিহনে।
মূক
পিকবর,
প্রমর,
নীরব নিকুঞ্জ বন ।
গুঞ্জন।
চেয়ে উর্ফ দিকে,
নীরদে নির’খে,
(ভাবে ওই বুঝি শ্যামধন
মৃদুল মলয়,
ভাবিয়ে প্রলয়,
গােপীর উত্তপ্ত শ্বাসে।

মৰ্মোচ্ছাস।
www~~~~~
কি দিবা, কি নিশি,
পরিমলে মিশি,
নিকুঞ্জে পশেনা স্বাসে।
শ্যাম-সখিগণ,
উদাস-নয়ন,
কালিন্দীর উপকূলে ;
«««
ভাবি শ্যামরায়,
জীবন জুড়ায়,
অবগাহি' নীলজলে ।
পিঞ্জর ভাঙ্গিয়ে,
সারিকা উড়িয়ে,
গেছে শাম—অন্বেষণে ;
।
নাই অবিশ্রান্ত,
সে চির বসন্ত,
সাধের নিকুঞ্জবনে।
সাধের বাসর,
ধূলায় ধূসর,
শিশু বকুল-হার ।
ভ

~~~~~~~~
সখিগণ মিলি,
তুলি ফুলকলি,
গাঁথে না মালিকা আর।
জীবন সম্বল,
নয়নের জল,
হয়েছে এখন সখা,
~
সহচরীগণে,
আকুল-পরাণে,
খুজিছে পদাঙ্করেখা।
যদি বা মাধব,
পদচিহ্ন তব,
নিরখি হে ধরাতলে!
আলিঙ্গিতে তায়,
"চিহ্ন মুছে যায়,
গােপীর নয়ন-জলে।
সবে মিলে হায়,
ডাকি শ্যাম রায়,
কোথা সখে গুণমণি ;

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
<<<~~~~
কঁদিয়ে কঁদিয়ে,
নিরাশ হইয়ে,
ফিরে আসে প্রতিধ্বনি।
শ্যাম-সােহাগিনী,
আজি অভাগিনী,
হারাইয়ে শ্যামধনে,
সে সুখ-বৈভব,
ফুরায়েছে সব,
সখা হে তোমার সনে ।
ত্যজিয়ে সঙ্গিনী,
থাকি একাকিনী,
রাখি’ শ্যামে হৃদাসনে।
।
.
ত্যজিয়ে শয়ন,
রজনী যাপন,
করি এ বিজন-বনে ।
হইতেছে হ্রাস,
বিলীন মলিন হাঙ্গি;

মর্মোচ্ছ্বাস ।
~~~~~~~~
সদ ঝর ঝর,
ঝরিছে নিঝর,
নিরুদ্ধ এ অঞরাশি।
বিরহ-বিধুরা।
««
খুলে লও সখি, এ বেশ ভূষণ,
এ সকল আর সাজেনা আমায় ;
ত্যজিয়াছি সব বিলাসবসম,
ত্যজিয়ে মেদিন, গেছে শ্যাম রায়।
করােনা করােনা কুসুম চয়ন,
গাথিওনা সখি কুসুমের হার,
কুসুম-ভূষণ সুনীল বসন,
পরিবনা সখি এ জনমে আর ।
খুলেনে সজনি বলয় কঙ্কণ,
কনক-কেয়ুর মুকুতার মালা,
খুলেনে বেসর নাসিকা-শােতন,
নিতম্ব-চুম্বিত কনক-মেখলা ::

মৰ্মোচ্ছাস।
age~~~~~
এ শেষ মিনতি রাখ গাে সজনি,
খুলেনে আমার এ মণিকুণ্ডল,
বিনা’ওনা আর এ বিনােদ-বেণী,
এলাইয়ে দাও সংযত কুন্তল।
এ শ্রুতিমধুর নূপুরনিক্কণ,
বল গাে সজনি শুনিবে কে আর ?
কে করিবে সখি এ শােভ দর্শণ,
বৃথা কেন বহি এ দুৰ্ব্বহ ভার।
খুলে নে গাে সখি, এই ফুল-বেশ,
মুছে দে গাে সখি নয়ন-অঞ্জন ।
বেণীর বদলে এই এলাে কেশ,
লুঠিয়ে করুক ধরণী চুম্বন।
জীর্ণ চরবাস আনিয়ে সজনি,
সাজাও আমায় উদাসিনী-বেশে,
শ্যামনামে পূর্ণ করিয়া ধরণী
শ্যামনাম জপি এম দেশে দেশে
অথবা আমারে ধরাধরি করি,
ল’য়ে চল ওই তমালের মূলে,

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
k
«
হেরিয়ে তথায় শ্যামল মাধুরী,
বারেক যাবগাে কালিন্দীর কূলে।
কালিন্দীর কাল জল নিরখিয়ে,
জুড়াব সজনি তৃষিত নয়ন ;
সেই কাল জলে গাহন করিয়ে,
জুড়াবে এ তনু, জুড়াবে জীবন।
}
অতলে ডুবায়ে বিরহের ভার,
মুদিব নয়ন, ভুলি সব জ্বালা ;
এ জনমে সখি, কঁদিবে না আর,
বিরহ বিধুরা এ অভাগী বালা।
সুপ্তোথিত।
কেন
সখি দিলি এ চেতনা
অভাগীর বধিতে জীবন,
বুঝিয়া মরম-বেদনা,
কেড়ে নিলি, স্বপন-মিলন।
সে যে, মাের নিঠুর প্রাণেশ,
এসেছিল কত দিন পয়ে,
৯৩

মর্মোফ্লাস।
~~
~~~~
শুনে বুঝি, দুঃখিনীর ক্লেশ,
দেখা দিতে দুদণ্ডের তরে।
স্বপনের ঘােরে পেয়েছিনু আজি,
আমার সে মন-চোরা-ধুনে,
এসেছিল সখা, বনফুলে সাজি,
সংলাপিতে অভাগীর সনে।
}
তােরা সখি, বলৈ ছিলি মােরে,
সখা মাের হ'য়ে রাজ্যেশ্বর,
রাজ-দণ্ড ল’য়ে সেই করে,
মুরলীরে দে’ছে অবস,
নাই শিরে শিখিপুচ্ছ রাধা-নাম-লেখা,
পরিধানে পীতধরা আর,
নাই রাধা-নামাঙ্কিত সে তিলক-রেখা,
ফেলে দে’ছে বনফুল হার।
সে, যে, সখি, এসেছিল আজ,
সেই চারু পীতধর পরি’
সে কালের, সেই রসরাজ,
চারু করে মুরলীটী ধরি।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
екзема
সেই শিখিপুচ্ছ, সেই বনমালা,
সেই সে, রাখাল-রাজ-বেশে,
স্বপনেতে আজ জুড়াইতে জ্বালা
“প্যারি”-বলে, দাড়াইল এসে।
}
কেন সখি তােরা তাকিয়ে আমায়,
ভেঙ্গে দিলি মাের সাধের স্বপন ;
কেন দিলেনা গাে সে পদ-ছায়ায়,
এই নিশি টুকু করিতে যাপন।
প্রবােৰােক্তি
সখি, ওই নয়নের বারি,
রাখ মনে নিবারি'
মরমে রাখ গাে মরম-বেদনা
গত সুখের স্বপন মিছে, স্মরি’ অনুক্ষণ,
আকুলপরাণে কেঁদনা কেঁদনা।
সে যে নির্মম-পরাণ
ওগাে পাষাণ-সমান,
কঠোর, কঠিন, তাহার হৃদয়,

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
~~~~~~~~~~
মুখে, মধুময় হেসে,
ছলে, ভুলাইয়ে শেষে,
ত্যজি পলাইল কপট-নিদয়
চির-প্রেমিকের বেশে,
হৃদি-কুঞ্জ মাঝে প'শে,
তােমার, জীবন-সৰ্ব্বস্ব হারিয়ে,
~
রাজা হ’তে মথুরায়,
চলে গেল সে যে হায়,
চির-কাঙ্গালিনী তােমারে করিয়ে।
আমি, তব দুঃখ হেরি’
গিয়ে, তার মধুপুরী
কত সাধিলাম চরণে ধরিয়ে ;
বাঁধি’ দুঃখ-জীর্ণ-বক্ষ,
কত ঘৃণার কটাক্ষ,
সহিলাম সব--মরমে মরিয়ে।
সেই চির-চক্রী তাের,
রাজ্য-সুখ-মদে তাের,
দেখিলনা চেয়ে-নয়ন তুলিয়ে,

মৰ্ম্মেসি।
«
~~~~~~~~~
ricerca
(তের) বুকে চাপাইয়া শিলা,
ব্রজ-রাস-স-লীলা,
দুদিনেই সে যে গিয়াছে ভুলিয়া ।
মুছি ওই অশ্রুজল,
ত্যজি তৃণ-শয্যাতল,
ধৈরজ-অঙ্কুর বক্ষে করিয়ে বপন,
ভুলেও, প্রেমময়ি, প্রেমের স্বপন।
থাক তুমি ।
গেছে যদি সকলে ত্যজিয়ে,
কেন আর মিছে আকুলতা ;
তুমি ধৈৰ্য্য ! যেনাে চলিয়ে
লয়ে তব শােকময়ী গাখা।
শােকে দুঃখে সদা বিচলিত্ব
“দুঃখময় জীবন আমার ।
স্বপ্ন সম ভ্ৰান্তি-বিজড়িত
মোহময় এ ভব-সংসার।
সুধসাধ জনমের মত
ভেসেগেছে নয়ন-রাহে।

মর্মাচ্ছ্বাস।
~~~
~~~~~
লুকাইয়ে মরমের ক্ষত
জ্বলিতেছি তীব্র অন্তদাহে।
আর কেন মিছে এ ভাবনা,
কেন হায় কাতর ক্রন্দন;
ভুলেগিয়ে অসার বাসনা
ছিড়ে ফেলি সকল বন্ধন।
যা সব, থাক ধৈৰ্য্য তুমি
চিরদিন হৃদি অালােকিয়ে ;
এ তাপিত চিত্ত-মরুভূমি
স্নিগ্ধ কর কৃপা-বারি দিয়ে।
বিষাদ।
কে গাহিছে মরি, বিষাদের গীতি,
ধরিয়া মৃদুল তান,
বহুদিন পরে
শ্রবণে পশিয়ে
উদাস করিল প্রাণ।
অবশ পরাণে বিজনে বসিয়ে
গাহিছে বিলাপ-গান,

মৰ্ম্মোনুসি।
«««
~~~~~~
সরল হৃদয়
কারে বা সপিয়ে,
পায়নি সে প্রতিদান।
আমার অমনি
ছিল একদিন,
বিষাদে মগন প্রাণ ;
গেয়েছি বিরলে, চােদন সঙ্গীত,
সদা হয়ে ম্রিয়মাণ।
অতীত-আঁধারে, আজি সে বেদনা,
হইয়াছে অবসান,
তবু কেন হায় । : করুণ গানে,
উদাস করিল প্রাণ।
অভাগিনী ।
সুখময় নিকেতনে
কে গো ওই শূন্যমনে
বিষাদ-বিশুষ্ক মুখে,
.
প্রাণের অনন্ত ব্যথা
মরমের মর্মকথা,
লুকাইতে চায় বুকে ?

মৰ্মোসি
~~~~~~~~
শিথিল সংসার-পাশ,
বুকভাঙ্গা দীর্ঘশ্বাস
হরিয়াছে সুধাহাসি।
বিলুপ্ত সিঁন্দুর বিন্দু।
বিমলিন মুখ ইন্দু
আঁখিজলে যায় ভাসি।
সুখ-সাধ অভিলাষ,
অধরে মধুর ভাম,
ভুলিয়ে গিয়েছে বালা।
উথলিছে অনিবার
নয়নে নয়ন-ধার,
মরমে, মরম-জ্বালা
কেন সে মৃদুল আঁখি,
বিষাদের ছায়া মাখি,
চাহে গাে আকাশ পানে
ওই ন-নীলিমায়,
সদা চেয়ে থাকে হায়,
কাহার মুরতি ধ্যানে ?

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি।
ভাবিয়া আপন জন
যার পদে প্রাণ মন
সপেছিল অভাগিনী,
ভাসাইয়ে আঁখি জলে
অকালে সে গেছে চ'লে
ফেলে ওরে একাকিনী
««
কবে যেন।
ভুলেগ্রিয়ে আনন্দের হাসি
সারাদিন ভাসি অশনীরে,
কবে যেন ম্লানমুখে অসি
দাড়াইব কলসিন্ধুতীরে ।
সীমাহীন সিন্ধুতীর হ'তে
ঘনীভূত অন্ধকারে মিশি,
শান্তিময় সন্ধ্যার পশ্চাতে
আসিবে গাে বিশ্রামের নিশি।
দুঃখ-ক্লিষ্ট অবসন্নদেহে
মু'দে এলে শান্ত আঁখি-পাতা,

মৰ্ম্মোচ্ছাস
~~~~~
অনন্তের অবারিত স্নেহে
পাসরিব হৃদয়ের ব্যথা।
পরিশ্রান্ত ক্ষীণদেহ লয়ে
ওইব গাে সৈকত-শয়নে,
সুপ্তি আসি স্বপ্ন-গাখা কয়ে
স্নেহ-হস্ত বুলাৰে নয়নে।
}
জনশূন্য সমুদ্র-বেলায়
স্নিগ্ধ সান্ধ্য সমীরণ মাঝে,
অশ্ৰুচিতু মুছিয়া হেলায়
ঘুমাইব জীবরোঝে।
নিদ্রাচ্ছন্ন নয়নের আগে
স্মৃতি-স্বপ্ন আসি শত শত,
সাজাইবে কে জানে কি রাগে
লুপ্তপ্রায় হায়া-চিত্র কত।
পরিত্যক্ত বিফল বাসনা
ধীরে কি গাে জাগি পুনরায়,
আনি চিত্তে অসীম যাতনা
বিচলিত করিবে আমায় ?

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
~~~~~~~~
হয়ত বা ক্ষণজাগরণ
সে সময় লভি অন্তঃস্থলে
মিশাইব প্রাণের ক্রন্দন
জলধির অনন্ত কল্লোলে-
rece
কিম্বা স্বত সহিয়াছি ব্যথা
ভুলে যাব অনুভূতি তার,
এজম্মের সুখ-দুঃখ-কথা
মনে কিছু পড়িবেনা আর ?
যদি কিছু দিতে চায়
এ নিষ্প্রভ নয়ন-পল্লবে
চিরসুপ্তি বুলাইলে হাত,
আঁখি কোণে ধীরে ধীরে হৰে
দুই বিন্দু উষ্ণু অশ্রুপাত ।
ওগো সে সময় ছিন্ন করে
ধরণীর ক্ষীণ আকর্ষণ,
শক্তিময়ী সুপ্তির ঘােয়ে
চিরতরে হব অচেতন।

মর্মোক্ষস
~~~~~~~~
উৰ্দ্ধদৃষ্টে যদি শূন্যপানে
চেয়ে থাকে স্থির আঁখিতারা,
তবু আর পশিবেনা কাণে
হেথাকার রােদনের সাড়া।
বিমলিন শয্যাখানি পরে
মোর সুপ্ত দেহটীরে রাখি,
শুধু চেয়ে রবে সকাতরে
কতগুলি অশ্রুসিক্ত আঁখি।
али
মোর বেশ করি বিলােকন
যদি তারা মখেব্যথা পায়,
মমতার শেষ নিদর্শন
যদি কিছু দিতে তারা চায়
অচিনু মুছেফেলে তবে
গােটাকত শুভ্র ফুল আনি,
পুষ্পস্তৃত করে যেন সতে
দেয় মাের শেষ শয্যাখানি।
।

«
মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস
~~
~
~
সংসার।
মায়া আবরণে ঢাকা,
মােহ-মদিরায় মাখা,
মধুর সঙ্গীতময় আশা পারাবার,
ভাবাবেশে সুরঞ্জিত,
সুখেজুসে উদ্বেলিত,
মিগ্ধোজ্জল শােভাময় তুমি হে সংসার !
তােমার ও সুমধুরী,
সতত নয়নে হেরি,
মনে করি তুমি সৰ্বসুখের আগার,
মন্ত্র মুগ্ধ প্রায় তাই,
তব কোলে যেতে চাই,
কিন্তু অগ্রসর হয়ে হেরি অন্ধকার।
কি যেন অকুল তান,
অস্ফুট বিষাদ গান,
জ্বলন্ত অতৃপ্ত-তৃষা দহি অনিবার,
মােহন মাধুৰ্য যত,
বিনাশিয়ে অবিরত,
করিছে, শ্মশান সম হৃদয় তােমার।

মৰ্ম্মোফ্লুসি।
~~~~~
আকুল বেদনা ভরা,
বিষাদ-বিষাক্ত ধারা,
নীরবে বহিছে যেন আশা পরিবারে,
অসমাপ্ত ধুলা খেলা,
জীবনের সন্ধ্যাবেলা,
মিশিতেছে ক্ৰমে যেন শােক হাহাকারে
}
সুখোাসে আত্মহারা,
তব স্নেহে মুগ্ধ যারা,
নীরবে ঘুমায় সুখে, তােমার ছায়ায় ।
তাদের ও সুহাসি,
পলকে, গরলে মিশি;
মীরবে ভার্সিয়া যায় নয়ন ধারায়।
নিরখি তােমার ছবি,
বিচিত্রতা অনুভৰি,
রয়েছি বিমূঢ়চিতে তােমারই পাশে।
কোলে যেতে ছিলসাধ,
এবে সাধে অবসাদ,
হৃদয় অকুল সুধু চির শান্তুি অশে।
১০৬

মৰ্মোচ্ছাস।
~~~~~~~~~
বাসনা
মনে করি ভেঙ্গে এই কঠিন পিঞ্জর,
উড়ি ওই নীলিমায়,
যথা রবি শশি ভায়,
সুধা আসে ধায় যথা বিমুগ্ধ চকোর,
উড়িতে বাসনা সেথা ভেঙ্গে এ পিঞ্জর।
««
স্নিগ্ধ খাম নবঘন ভাসিছে যায়,
মধুর শ্যামল ছায়া,
ঢেকেছে ধরিত্রী কায়া,
তৃষিত চাতক যথা বারি আশে ধায়,
আমার উড়িতে সাধ সেই নীলিমায়।
ভাঙ্গিয়া মায়ার বাঁধ, প্রাণের বাসনা,
অসীম নিলাম্বু রাশি
নীলশূন্তে গেছে মিশি
প্রকৃতির ছবি যথা সুনীল-সনা,
অবগাহি সেই নীরে সাধিব সাধনা।
প্রাণের আকাঙ্ক্ষা, এই মুক্ত সমীরণে
উড়িয়ে অনন্ত নভে

মর্মোসি।
~
~~~~~~~~~~
হেরিব বিচিত্র ভবে,
স্বাধীন জীবনে নীড় বাঁধিব গহনে,
গা'ব প্রেমগাথা, বন-বিহগের সনে ।
উড়িব আপন মনে যেথায় সেথায়,
সুমিষ্ট কানন ফলে
স্নিগ্ধ নিঝরের জলে
হব তৃপ্ত বিদুরিয়ে ক্ষুধা পিপাসায় ;
কঁদিবেন। চিত্ত আর তুচ্ছ উপেক্ষায়।
~
প্রাণের গান।
ছাড়িয়া কল্পনা-মায়া
হেরিতে বাস্তব কায়া
আঁখিজলে আপনার বস্তুাঞ্চল ভিজাইয়া,
কত কি ভাবিয়া মনে
একদিন এ জীবনে
আমারই মত আরাে অশাহত দু’টী হিয়া
অনন্তের উপকূলে গিয়াছিনু সাথে নিয়া ।

মৰ্ম্মেচ্ছিসি।
«
চঞ্চল অনিল খেলা ;
রৌদ্র-দীপ্ত শুবেলা ;
নীলাম্বু দিয়াছে বক্ষ নীলনভে মিশাইয়া।
ফেনিল তরঙ্গগুলি
কি মত্ত আবেগে ফুলি
হু হু শব্দে ছুটে এসে পড়িতেছে আছাড়িয়া,
মুগ্ধেনেত্রে যথা মােরা ছিনু সবে দাড়াইয়া ।
কি মহান সুগভীর
সদা উচ্ছসিত•নীর
যুগ যুগান্তের গথি বক্ষমাঝে লুকাইয়া,
আকুল কল্লোল গীতে
কত ব্যথিতের চিতে
প্রশমিছে দুঃখজ্বালা শতস্মৃতি ভুলাইয়া,
শান্ত হৃদয়, সিন্ধু, স্নেহভরে প্রসারিয়া।
শুনি সে অত্যন্ত গীত
এ ভগ্ন উদ্ভান্ত চিত
কি এক আবেগ ভরে উঠেছিল উথলিয়া ;

«
<<
মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
~~~~~
কিহেতু বা গেছি তথা
ভুলি সে মর্মকথা,
কত স্মৃতি কত কথা পরাণের পাশদিয়া
চ'লে গেল একে একে মৃদুপদ বিক্ষেপিয়া।
}
সহসা কি শুনি কাণে
চেয়ে দেখি সাথীপনে
সুকোমল আঁখিপাতা অশ্রুভরে কঁপাইয়া
চেয়ে নীল সিন্ধুপানে—
গাহিছে করুণ তানে
অনন্ত সাগর মাঝে দেও তরী ভাসাইয়া
গেছে সুখ, গেছে দুঃখ, গেছে আশা ফুরাইয়া।
S:
সুখসাপ অভিলাষ
অব্যক্ত প্রাণের ভাষ
মরমের স্তরে স্তরে ছিল যত জড়াইয়া ;
বহুদিবসের কথা
সে যে বড় দিয়ে ব্যথা
কালের তরঙ্গ এক হৃদিমূলে আঘাতিয়া
যাহা কিছু ছিল সব ল'য়েগেছে ভাসাইয়া।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি।
~~~~~~
~~~~
আশাহত এ হৃদয়,
—শূন্য, সুধু শূন্যময়
হৃদয়ের ভাষা মাের সগুলি গুছাইয়া,
ধরণীর স্নেহবক্ষে
দাড়ায়ে কাতর চক্ষে
বলিতে পারিনি কভু কাহাকেও বুঝাইয়া,
দেয়নি কখনাে কেউ আঁখিদুটা মুছাইয়া।
সেই হৃদি ভাষাগুলি
কি যাদু মন্ত্রেতুলি
সমদুঃখী, সাথী মাের সুরযােগে মিলাইয়া,
সে নির্জন সিন্ধুতীরে
দাড়াইয়া ধীরে ধীরে
আপনার ফোটাকত অশ্রু তাতে মিশাইয়া,
গাহিল করুণ-ক দেও তরী ভাসাইয়া।”
সেই উৰ্ম্মি-মুখরিত
মুহুর্মুহু উদ্ধৃতি
অনন্ত কল্লোলপূর্ণ সিন্ধুকুলে দাঁড়াইয়া,

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
~~~~~~
গায়কের অসনে
আপনিও শূন্যমনে
দুটীবিন্দু তপ্তধারা মর্মহতে মুছেনিয়া,
নীরবে দিলাম সেই সিন্ধুনীরে মিশাইয়া।
সেদিন চলিয়াগেছে,
শুধু তার স্মৃতি আছে,
থেকে থেকে সেই স্মৃতি জাগে হৃদি আকুলিয়া।
নীলশোভা, শুভ্রবেলা,
তরঙ্গ অনিলে, খেলা,
অজ(৩) হেরি ; তাজ(৩) শুনি তানে প্রাণ হিশাইয়া
“অনন্তু সাগর মাঝে দেও তরী ভাসাইয়া।

মৰ্মোচ্ছ্বাস।
k
~~~~~~~~
মুক্তিকামনা।
খােল গাে খােল, এ বন্ধন আমার,
প্রাণের বাসনা এই জন্ম শােধ';
চারিদিকে মাের গভীর আঁধার,
সহেনা পরাণে এই অবরােধ।
«««
সম্মুখে আমার অসীম বিস্তার,
অনন্ত নীলিমা শোভাময় বেশে;
খুলিয়ে অনন্ত রূপের ভাণ্ডার,
প্রসারিয়ে বাহু ডাকিতেছে হেসে।
আশে পাশে মম কঠোর বন্ধন,
শিথিল করতে নাই গাে শকাত,
বারেক করিয়ে কৃপাবিলােকন,
কর গাে আমায় বন্ধনে মুকতি।
রাখিয়ে হেথায়ু যত মর্মব্যথা,
অতৃপ্তির জ্বালা, দুঃখ হাহাকার ;
গেয়ে নীলাকাশে বিভু-প্রেম-গাথা,
হাসিয়ে মুছিব নয়ন-আসার।

মৰ্ম্মোচ্ছাস
<<<<<
মরমের ক্ষত শুকাবে অচিরে,
ভুলিব প্রাণের জ্বালাময় স্মৃতি,
মরণের পথে ধীরে, ধীরে ধীরে
হব অগ্রসর গেয়ে শান্তিগীতি।
বন-বিহগী
}
চায়না সে ভালবাসা
তােমাদের কাছে আর,
মেহের, শিকল সব,
খুলে লও যে,—যাহার!
কনক পিঞ্জর খানি,
সুচিকন বস্ত্রে-ঘিরে,
কি হেতু আবদ্ধ রাখ
মুক বন-বিহগীরে
নাহিত শকতি তার
গাহিতে কাকলি গান,
মিছে কেন বেঁধে রাখ
বন-বিহগীর প্রাণ।
১১৪

+ ------- ------
মর্মোসি
encara
кес
খুলেদাও ও পিঞ্জর,
বন্ধন-শিকল আর,
বিশ্বনােভা নিরখিতে
উড়ে যাক, একবার।
সারাদিন ভ্রমি যদি,
ফিরে আসে শান্ত-সাঝে,
তখন যতনে রেখ,
কনক পিঞ্জর মাঝে।
জীবন জুড়াই।
কি ভাবে কোথায় বিরাজ হে তুমি,
কে জানে তোমায় এই চরাচরে ;
তুমি পয়ােনিধি, তুমি মরুভূমি,
তুমি ভানু, তুমি সুধাকর-করে।
অগনিত গ্রহ উপগ্রহ যত,
অসংখ নক্ষত্র বিমান-বিহারী,
তােমার আজ্ঞায় ভূমি অবিরত,
প্রকাশিছে বিভো! মহিমা তােমারি।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি।
<<<~~~~~~~
নীলগগণের স্নিগ্ধ-শ্যাম-শােভা,
নব নীরদের সুকান্ত-বিকাশ ।
আঁখি-ঝলসিত চপলার প্রভা,
তােমার মহিমা করিছে প্রকাশ।
~~
তটিনীর শ্যাম-তীর-তটভূমি,
সিক্ত সৈকতের বালুকণা আর,
ক্ষুদ্র উৰ্ম্মিগুলি ধীরে ধীরে চুমি,
তােমার মহিমা করিছে প্রচার।
কুসুম রেনুতে তােমার সুষমা,
কুসুমের দলে তােমার সুহাস ;
বিকাশি তােমার অসীম মহিমা
লুটিছে সমীর কুসুম-সুবাস।
শ্যাম-তরুরাজি মিগ্ধ ছায়াদানে,
ক্লান্ত পথিকের, ক্লান্তি ক’ি দূর,
লতিকা সুন্দরী সহকার সনে,
প্রকাশে তােমার মহিমা প্রচুর।
ধীরে ধীরে যদি পশি বন পথে,
শুনিবু সেথায় তব স্তুতি গান ;

«
মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
~~~~~~~
,
বন-বিহগীনী, বিহগের সাথে,
মধুরে মধুর গায় কলতান।
শীতল সলিলে পিপাসা নিবারি,
মৃদুল। অনিলে জীবন জুড়াই ।
প্রতিকার্যে ওহে হৃদয়-বিহারী ।
তব প্রতিচ্ছায়া দেখিবারে পাই।
$
অনলে দাহিকা, স্নিগ্ধতা সলিলে,
তােমারি শকতি প্রকাশিছে নাথ।
তবুও তোমায় না বুঝে সকলে,
করে মিছা হাস্য, মিছা অশ্রুপাত।
সকলেই তুমি আছ বিদ্যমান,
তবুও তোমারে খুজয়ে বেড়াই।
কুর নাথ, এবে ভ্রান্তি অবসান,
হেরি তবরূপ, জীবন জুড়াই।
-
১১৭

মৰ্ম্মোচ্ছসি।
~~~~
«««
তােমারি, ইচ্ছায় বিভাে।
নিবেছে আলােক রেখা,
জ্যোতির্ময় রূপে এবে,
এ আঁধারে দাও দেখা।
«««
ব্যাধিক্লিষ্ট ক্ষীণদেহে,
কঁদিতেছি নিরাশায়,
আঁধার জীবন বুঝি,
আঁধারে মিশিয়ে যায়।
মিশেক ক্ষতি নাই,
এই মাত্র দুঃখ মনে,
বিশ্বাসের ক্ষীণ-জ্যোতি
না পশিল এ জীবনে।
আঁধারে আসিয়ে শেষে,
আঁধারেই যেতে হ’ল
পেলেম কভু আর,
শান্তিময় স্নিগ্ধ আলাে ।

মর্মোচ্ছ্বাস।
~~~
««
কঠোর সংসার-স্পর্শে,
সুকুমার বৃত্তি যত,
মিশেগেছে এ হৃদয়ে,
জলে, জল-বিস্ব মত।
«««
উদাস উদ্ভান্ত প্রাণ
সংসারের খর-বায়,
ভাসিছে জলধি-জলে,
কর্ণ-হীন তরী প্রায়।
হৃদয় আচ্ছন্ন সঙ্গা,
বিষাদের অন্ধকারে,
লক্ষ্য শূন্য এ তরণী
সে অশ্র-পারাবারে।
অন্ধকারে দিক প্রাপ্ত
পড়িয়ে ঘূর্ণিত জলে,
কি জানি কখন তরী,
ভুৰিবে অতল তলে।
তাই আজি দয়াময়
ডাকিতেছি সকাতরে,

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি।
vie
<~~~~~~~~
দাওহে তােমার জ্যোতি
এ অকুলে তরিবারে
দাওহে বিমল শান্তি
এ দগ্ধ হৃদয় ধামে,
জুড়াই প্রাণের জ্বালা
তব সুধাময় নামে।
}
সকলি তোমার।
দিয়েছ সকলি তুমি,
সকলি তােমার নাথ,
জীবনে এ সুখ, দুঃখ
এই ঘাত, প্রতিঘাত।
হৃদয়ের স্তরে স্তরে
এ আবেগ এ উচ্ছ্বাস,
নিশিদিন ব্যথা ভরা
এ আকুল দীর্ঘশ্বাস।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস
~~~~~~~~~~
ricionado
এই অনুভব-শক্তি
ভাল মন্দ ভেদাভেদ,
সুখে মধুময় হাসি,
দুঃখে মৰ্ম্মভেদি খেদ ।
.
প্রাটের বরিষণ,
হেমন্তে শিশির-পাত,
বসন্তে মলয়ানিল,
নিদাঘের ঝঙ্কাবাত।
সকলি তােমার নথ,
এ আলােক, এ আঁধার,
তােমারই প্রতিরূপে,
পরিপূর্ণ এ সংসার।
তুমিই দিয়েছ দেব,
হাসি অশ্রু হৃদিপুরে,
আমা ছাড়া তুমি নাথ,
থাক না তাে কভু দূরে।
শুভ বা অশুভ হােক'
দিয়েছ যা ভালবেসে,

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস
ka
«
লুকায়ে রেখেছি তাহা,
নিভৃত হৃদয়-দেশে
কিন্তু এই ক্ষীগ প্রাণে
বহিতে পারিনা আর,
তােমার চরণে দেব,
সঁপিব প্রাণের ভার।
««
ভালবেসে যা দিয়েছ,
পুন তাহা ফিরে লয়ে ;
সুধু এ জীবনে নাথ,
থাক প্রতিচ্ছায়া হয়ে।
আহ্বান।
অধম বলে কি দেখা,
দেবেনা, হৃদয়-সখা,
তুমি, এখনো, হৃদয়ে এসে ?
অসীম-অশান্তি নিয়ে,
দুরাশা-গরল পিয়ে,
পাপপ্রবাহে যেতেছি ভেসে।
১২২

মর্মোচ্ছ্বাস
~~~~~~~~
এস, চির-প্রেম-ভরে,
চির-দখা, চিরতরে,
চির-হাহাকার ঘুচাইয়ে,
দাও হে মঙ্গল করে,
মরমের স্তরে স্তরে,
পাপ-মলিনতা মুছাইয়ে।
~
মােহ-যবনিকা তুলি,
এ অন্ধ নয়ন খুলি’,
সখা ! দেখা তােমার জ্যোতি ;
মুছাইয়ে ‘আঁখিজল,
ভাঙ্গা বুকে দাও বল,
ওহে নিখিল-ব্রহ্মাণ্ড-পতি।
ডাকিতে শিখিনি’ বলে,
না আসিয়ে সেই ছলে,
শেষে, কোথায় রাখিবে লাজ ?
নিরাশ-কাতর প্রাণে,
চেয়ে দুরাশার পানে,
যদি,-ডুবিহে অতলে আজ?

মৰ্ম্মেছুসি।
««««««
আসিয়া মােহন-বেশে,
আঁধার হৃদয়-দেশে,
শুভ্র-আশীষ-আলােক দিয়ে,
বাসনার-পঙ্ক হতে,
উঠাইয়ে, পূণ্য-পথে,
তুমি, সাথে করে চল নিয়ে।
কে ?
.
সদা, যাই যাই করি,
আমি যেতে যে না পারি,
কে যেন ধরিয়া রাখে,
কার বাহু স্নেহ-ভরে,
ফিরাইছে সদা মােরে,
দেখিতে পাইনা তাকে।
কে যেন গো স্নিগ্ধ-করে,
সদা চির-প্রেম-ভরে,
জুড়াইছে তপ্ত দেহ।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস
«««««~~~~~~~
সদা সাথে সাথে থাকে,
কেন বা ধরিয়া রাখে,
বল গাে আমায় কেহ।
দেখিনি তাহার ছায়া,
প্রতিপদে স্নেহ, মায়া,
পাইতেছ সুধু তার।
সম্পদে সুনীতি দিয়ে,
বিপদে, হৃদয়ে নিয়ে,
«
মুছায় নয়ন ধার।
কিছু অৱ নাহি শূন্য,
তার স্নেহে পরিপূর্ণ,
হয়েছে এ 'ক্ষুদ্র গেহ,
সে, কি গো, আমার পর ?
তবে মােরে নিরন্তর,
কেন করে এত সেই?
যদি সে আপন হবে,
লুকাইয়ে থেকে তবে,
কেন করে এ ছলনা ?
সে আমার কে ?--বলনা

«
মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস
~~~~~~~~~~~
নিবেদন।
}
অসমাপ্ত গীত গুলি অলসে গাহিয়া,
ধীরে, ধীরে, তরীখানি যেতেছি বাহিয়া,
অনন্তের স্রোতে ; বিশ্ব-চির-প্রভাময়
রবি-কর-দীপ্তি-সম শােভা সমুদয়
হেরিয়ে নয়নে, মুগ্ধ মানস আমার।
সকৌতুক কোলাহল পূর্ণ চারিধার,
রূপ, রস, গন্ধ আর শক স্পর্শ ময়,
প্রকৃতির চিত্রিত সুন্দর আলয়,
সুসজ্জিত করি সদা, অতিথির লাগি
রেখেছেন বিশ্বমাতা,নিশিদিন জাগি
স্মিতমুখে স্নেহময়ী আছেন বসিয়া,
স্নেহ ভরে আগন্তুকে নিতে সম্ভাসিয়া,
প্রিয় নিকেতনে তঁার সাদর আহ্বানে।
যে যায় আশ্রয়ে তঁার,-মেহসুধা দানে,
তৃপ্তকরি তারে ;-বাঁধি পূতঃ স্নেহ-পাশে,
রাখেন যতনে মাতা, পবিত্র আবাসে।
আমিও কালের যাত্রি, ভবে দীর্ঘদিন
ভ্রমিতেছিলক্ষ্যশূন্য, ভাসমান তৃণ

মর্মোচ্ছ্বাস।
~~~~~~~~~
ঘূর্ণমান-স্রোত মুখে যথা ভেসে যায়-
আমার এ জীর্ণ হরী, তেমনই হায়,
কালের কুটীল স্রোতে যেতেছে ভাসিয়া।
কভুবা গােপনে কঁদি, কভু হাসিয়া
হেরি বিশ্ব-জননীর স্নেহের আগার,
মুক্ত সদা,সকলের সম অধিকার,
জননীর স্নেহের আলয়ে। কেন তবে
বিশ্ব জননীর চির মহা-মহােৎসবে,
মিশিবনা আমি লয়ে এ দুর্বল প্রাণ?
মাতৃস্নেহে বঞ্চিত কি এ দুঃখ সন্তান
এই নিখ নিলয়ে ?—কখনই নহে।
উঠে রাব, শশি, তারা, স্নিগ্ধ-বায়ু বহে,
ক্ষুধায় শস্যের কনা; সুরসাল ফল,
তটীনী তড়াগ পূর্ণ সুশীতল জল,
তৃষা নিবারিতে আছে। শ্যামা বসুন্ধরা,
সাজা’য়ে বিপুল বক্ষে স্নেহের পসরা,
রেখেছেন সকলেরি তরে, বিশ্বমাঝে
প্রতিদিন, প্রতিরাত্রি, প্রতি ক্ষুদ্র কাজে,
পাইতেছি জননীর মেহের আভাষ।
তবু ও অবােধ শিশু করে অভিলাষ,
১২৭

&«««
মৰ্ম্মোচ্ছাস।
«««
ক
পাইতে অধিক স্নেহ, জননীর কাছে।
জননীর মত আর জগতে কে আছে,
হতভাগ্য সন্তানের ? আকুল আহ্বানে
তাই গাে মা ডাকি ; কভু বিলাপের গানে
জানাইয়ে মর্মব্যথা করি অভিমান।
কালস্রোতে জীর্ণ তরী, সদা ভাসমান,
যখন ডুবিবে হায়, অতলের তলে,
সে সময় স্নেহময়ী তুলে নি কোলে,
স্নেহে, সন্তানেরে দিয়ে স্নেহ-আলিঙ্গন।
এ জন্মের ভােগসুখ হ'লে সমাপন
জীবনের অসমাপ্ত ক্ষুদ্র গীতগুলি,
জনমের সাথে যেন যাই সব ভুলি'।
১২৮

«««~~
মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস
ми
যদি জানি
কতবার মনে করি,
আর কেন ? সাঙ্গ করি
দুখময় জীবনের খেলা,
কেন বাঁধি খেলাঘর,
ভেঙ্গেফেলি অতঃপর,
মিছে কেন ব'য়েযায় বেলা।
««
যেতে হবে বহুদূরে,
অজানা অচেনা পুরে,
ক্ষীণ-বক্ষে সাহস বাঁধিয়া,
একাকী এসেছি ভবে,
একাকীই যেতে হবে,
এ সংসারে হাসিয়ে দিয়ে ।
আমার এ তুচ্ছ হৃদি,
আসিয়াছে নিরবধি,
এ সংসারে করিতে ক্রন্দন ।
নাই সুখসাধ আর,
চারিদিকে হাহাকার,
ছিড়িয়াছে আশার বন্ধন।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি।
<<
<<<
A
«««
হৃদয়ে অশান্তি নিয়ে,
অশ্রুজলে সিক্ত হয়ে,
এ সংসার করি দুঃখময় ;
ল’য়ে স্নেহপূর্ণ আঁখি,
মুছাতে যে আসে আঁখি,
সেও হয় ! অশ্রুসিক্ত হয়।
}
সংসারের নারী নর,
হাসে, কঁাদে, বাঁধে ঘর,
এ সংসারে খােলবার তরে,
স্বীর কৃতি অনুসারে,
সংসারের স্নেহ-ক্রোড়ে,
কেহ হাসে, কেহ কেঁদে মরে
তাহে নাহি ভাবি দুঃখ,
যদি জানি, শােক দুঃখ,
এ অনন্ত-বিলাপের গান,
মরণের আলিঙ্গনে,
এ দেহের ভস্ম সনে,
চিরতরে হবে অবসান।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
Как
বিপত্নীকের আক্ষেপ।
ফিরিলে কি বসন্ত পবন,
আবার এ সুখের ধরায় ?
সৃজিতে সে অতীত স্বপন,
বিস্মৃতির চঞ্চল ছায়ায়।
}
সম্বৎসর ফুলরেণু চুমি,
ভ্র ময়াছ নিখিল সংসার ।
কোথাও কি দেখেছ হে তুমি,
ফুলী প্রিয়ারে আমার ।
চুপি চুপি পশি কত গৃহে,
শুনিয়াছি কত মৰ্ম্ম-ব্যথা,
তব কর্ণে পশিয়াছে কি হে,
আমার সে প্রেয়সীর কথা।
নিশীথের নীলােৎপল সম,
হাস্যময়ী, মৃদু
স্নিগ্ধ অতি,
প্রেমনীরে শােভিত যে মম
প্রিয়ার সে মধুর মুরতি।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
«««
-
প্রাণ-ভরা আশা বুকে ল’য়ে
-ল’য়ে সেই প্রেম-মুগ্ধ-হিয়া,
এক লক্ষ্যে আমাপানে চেয়ে,
হাসিত সে প্রাণময়ী প্রিয়া ।
}
সেবারেও আসি এ ধরায়,
পশি ওই মুক্ত বাতায়নে,
কত আশা সে রুগ্ন-শয্যায়
দি’ছিলে হে, প্রেয়সীর মনে।
তুমি পুনঃ না আসিতে ফিরে
সুখ-স্বপ্ন ভেঙ্গেছে আমার,
ভেঙ্গেছে
বিয়ােগের তপ্ত অশ্রনীরে,
ভেসে গেছে সুখের আগার।
শরতের মধ্যাহ্নেই হায়,
প্রিয়া তার প্রিয়-বক্ষ হতে,
অকস্মাৎ কালের ঝঙ্কায়,
ভেসে গেছে অনন্তের স্রোতে
কোথাগেছে অশাময় প্রাণে,
ছিড়িয়া এ মমতা বন্ধন ;

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
««
~~~~~
««
সেথায় কি পশেনা গো কাণে,
ধরণীর আকুল ক্রন্দন।
মিটিতনা আঁখির পিয়াসা,
নিশিদিন নিরখিয়া যারে ।
বুকেল’য়ে এত ভালবাসা,
তারে কি গাে ভুলিতে সে পারে।
<
যদি কভু দেখ, সমীরণ,
এ সংসারে মূর্তিমতী মায়া,
পর দুঃখে ঢেলেছে জীবন,
সে আমার প্রিয়ারই ছায়া।
4
মেহ-প্রেম-ক্ষমা-বিভূষিত,
হৃদয়ের মৃদুল-সুষমা,
নয়নেতে করি উদ্ভাসিত,
হাসিত সে মােহিনী প্রতিমা।
দেখা যদি পাও কভু তার,
সুধায় সে, অভাগার কথা ।
বলাে বলো প্রিয়ারে আমার
মৰ্ম্ম-ভেদি এই আকুলতা।
১৯৩৩

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস
~~~~~~~~~~
মম দুঃখ-গাথা শুনি,
সে যদি গাে আকুলিত হয় ।
ব’লাে দু’টো সান্ত্বনার বাণী,
প্রেয়সীর কাণে সে সময়।
~~~
শুনি অভাগার মর্ম:বাথা,
বহে যদি দুটি অশ্রু তার,
ফিরে এসে বলে সেই কথা,
প্রাণময়ী প্রিয়ার আমার ।
বর্ষশেষে ফিরিয়া হেথায়,
তুমিত হে আসলে আবার ;
একাকিনী রহিল কোথায়
প্রাণময়ী প্রেয়সী আমার ।
১৪

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি।
~~~~~~~~
উদ্ভান্ত প্রেম।
সখা !
কি দিয়ে শীতল করিবে হে বল
ক্ষুব্ধ হৃদয়টারে ;
গোপনে ত সিক্ত করি অবিরল,
রূদ্ধ-নয়ন-নীরে।
««
সদা মনে পড়ে, সেই প্রেমভরে
অশ্রুসজল আঁখি ;
মিটেন পিয়াস, কখনও যারে
মুগ্ধ হৃদয়ে রাখি ।
শয়নে, স্বপনে, হেরি যে গাে হায় !
চঞ্চল-অঞ্চল টানি,
টাকি মুখশশী, চকিতে লুকায়,
সে প্রেম-প্রতিমা খানি।
সদা হেরি সখা, সে চারু আনন,
প্রেম-পীযুষ মাখা,
সে মধুর হাসি, নলিন নয়ন,
সূক্ষ্ম-জযুগ আঁকা।
১৩৫

www
কেঁদে যদি কভু চাই শূন্যাকাশে,
সুপ্ত-প্রভাত কালে,
হেরি হরি দীপ্ত-গণ্ডরাগ ভাসে,
শুভ্র-গগণ ভালে।
}
««
হেরি যবে সখা, মৃণল-সুষমা,
স্বচ্ছ-সরসী জলে।
(যেন) বাহুপাশে বাঁধে, আসি সে প্রতিমা
ক্ষিপ্র-চরণে চলে।
মধুর উষায়
ঝঙ্কারে যখন, মধুর
কল-কষ্ঠ বিহাঙ্গণী,
শ্রবণে পশিয়া মরমে মিলায়,
তাহারি মধুর ধ্বনি।
বসি যদি কভু ল’য়ে এ পিয়াস,
শান্ত-সন্ধ্যার ছায়,
শুনি গাে তাহারি মরম-নিশ্বাস,
স্নিগ্ধ-মৃদুল বায় ।
(আমি) আপনার মনে, থেকে সঙ্গোপনে,
বক্ষ-বেদনা বহি,
১৩৬

মৰ্ম্মোচ্ছাস।
еколи
মুছি অশ্রুধার, কত রসনার
তীব্র-বিদ্রুপ সহি।
সুধাইতে কেহ এসনা আমারে,
মৰ্ম্ম-কাহিনী আর ;
(আমি) হাসি, কঁাদি, ল’য়ে থাকি একধারে,
দগ্ধ-জীবন-ভার।
«
অতিথি।
কোখারে মায়ার ছবি, স্মৃতির প্রতিমা,
স্মৃতিপথে এস একবার ;
কতদিন সে মধুর মুখ-মাধুরিমা,
দেখে নাই নয়ন আমার ।
কোথা হতে কোথা যেতে, সুদু প্রবাসে,
ছিলে এসে দুই চারিদিন ;
তাই কিরে ধূলাখেলা খেলে অবশেষে,
দুদিনেই হ'লে উদাসীন?
অনন্তের সঙ্গী তুমি,—আঁধার নিশীথে,
পথ ভুলে এসেছিলে বুঝ;
১৩৭

মৰ্ম্মোচ্ছাস।
~~~~~
~~~~~~~~
হাই কি সে, অবিশ্রান্ত চলিতে চলিতে,
একদিন ল'য়ে গেল খুঁজি ?
'লে গেলে চিরতরে কঁাদাইয়ে প্রাণ,
রেখে সুধু মধুময় স্মৃতি,
আবার কোথায় গিয়ে, খুজি নবস্থান,
হইয়াছ নবীন অতিথি ?
~~
ভ্রান্ত পথিক।
পথভু’লে বিদেশের পান্থ,
এসেছিলে আমাদের ঘরে ;
পথশ্রমে হয়ে পরিশ্রান্ত,
বসিতে সে দুদণ্ডের তরে ।
।
কত যত্নে সেই বিদেশীরে,
পেতে দিনু কুসুম-অসন ।
ক’টি মুগ্ধহিয়া তারে ঘিরে,
স্নেহাঞ্চলে মুছালে আনন।
কতগুলি সমুৎসুখ আঁখি,
চেয়েছিল সেই মুখ পানে ।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
kergevecenciscus
ভেবেছিল সমাদরে রাখি
শান্তি দেবে বিদেশীর প্রাণে।
শােয়াইয়া আরাম-ণয়নে,
দিতেগেল স্নেহ-পরিমল ;
তবু তার উদাস নয়নে,
উথলিল তপ্ত অশ্রুজল ।
}
হেথাকার উত্তপ্ত বাতাসে,
হইলনা: স্নিগ্ধ তার দেহ ;
চাহিল সে অকুল নিশ্বাসে,
মৰ্ম্ম তার বুঝিলনা কেহ।
সুধালেনা একটি ও কথা,
মুগ্ধচিত্তে নীরব থাকিয়া,
লুকাইল আপনার ব্যথা,
শূন্যপানে চাহিয়া চাহিয়া ।
কোথা হতে এসেছিল হেথা,
সুধাইতে পাইনি সময় ।
জানাইয়া আপনার কথা,
দেয়নি সে কোন পরিচয়।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
«
~~~~~~~~~~~
এত যত্ন, এত সমাদরে,
সে যে আর চাহিলনা ফিরে ;
বাহিরিয়া উদাস অন্তরে,
চলেগেল অতি ধীরে ধীরে।
বিসর্জন গীতি।
«
প্রীতির প্রতিমাখানি অনন্ত সাগরে,
অসময়ে বিসর্জন দিয়ে,
ফিরিয়াছি শূন্য-প্রাণে চিরদিন তরে,
অশ্র আর হাহাকার নিয়ে।
তার সেই ম্লান ছবি অন্তিম শয়নে,
তার সেই সকরুণ ভাষ,
সেই তার দীপ্তিহীন কাতর নয়নে,
পরিস্ফুট শত অভিলাষ।
অতীতের স্মৃতিরূপে, রূপান্তর হয়ে,
মর্মে মর্মে মিশে অহরহ,
আজি তার বিয়ােগের প্রতিচ্ছায়া লয়ে
ভাসিতেছ অশ্রুজল সহ।
১৪।

মর্মোচ্ছ্বসি।
~~~~~
সে যে গাে গিয়াছে চলি’ ল’য়ে সুধু তার
প্রেম-স্নিগ্ধ পবিত্র হৃদয় ;
সেই সাথে গেছে তার পার্থিব খেলার
অসম্পূর্ণ বাসনা নিচয়।
এ জনমে এ ভবের অভিনয় শেষ,
সে নিষ্প্রভ আঁখি দুটি তার
জানাইয়া ভাষাহীন দৃষ্টির আভাষে,
যাহা কিছু ছিল বলিবার ;
পার্থিব-জীবন-পগে যে জন তাহার,
হয়েছিল চির সহচর ;
তারি হাতে হাত রাখি ত্যজিল সংসার,
মরণেও করিয়া নির্ভর।
অসীম বিশ্বাসে বাঁধা,—ছিল সে হৃদয়,
চিরদিন পতির প্রণয়ে;
তাই সে চলিয়াগেছে, বিদায় সময়
পতি করে সঁপিয়া তনয়ে।
কত স্নেহ ভালবাসা সে ক্ষুদ্র হৃদয়ে,
ছিল তার সযত্ন-সঞ্চিত ।
১৪১

মৰ্ম্মোচ্ছাস।
«
~~~~
Fue
কার শাপে প্রিয় পতি প্রাণের তরে,
চিরতরে হইয়ে বঞ্চিত,
নিতান্তই অনিচ্ছায় অশ্রুসিক্ত হয়ে,
গেল কোন অজানিত পথে ;
কে তাহারে স্নেহ ভরে পথ দেখাইয়ে,
চিরতরে, ল’য়ে গেল সাথে ।
স্নেহময়ী জননীর স্নেহ-বক্ষ হতে,
সে রত্ন কে করল হরণ,
সে স্নেহময়ীর আর.কেবা এ জগতে,
তার স্থান করিবে পূরণ ।
কাৰ্যক্ষেত্র হ’তে শীঘ্র তাবসর হ'য়ে,
জনকের আশাছিল মনে,
অবাশষ্ট দিন গুলি আমাদের ল’য়ে,
কাটাবেন সুখসন্মিলনে।
{
তঁার সেই সুপ্ত আশা, থাকি মনে মনে,
মনেতেই হ’ল অবসান ;
অকালে সে আশালক্ষ্মী সে দিনের সনে,
চিরতরে হ’ল অন্তর্ধান ।
১৪২,

~~~~~~~~~~~
স্নেহময় ভ্রাতাদের কোমল হৃদয়ে,
একেদয়ে বিষাদের ছায়া ;
জীবনের সুখসাধ ত্যজি অসময়ে,
কেমনে সে পাসরিল মায়া।
আঁখি তুলে দেখিলনা চেয়ে একবার,
চলেগেল উদাসীন প্রাণে,
হৃত-শান্তি-সুখ ফিরে পেয়েছে কি আর,
গিয়ে সেই অজানিত স্থানে।
}
কোথাগেছে, কোন দেশে কত দুর পথে,
বুকে ’য়ে অসীম পিয়াস,
সেথায় কি যায় না গাে মিশি বায়ু সাথে,
হেথাকার কাতর নিশ্বাস ।
পুষ্পিত সাধের কুঞ্জ, স্নিগ্ধ পরিমলে,
পরিপূর্ণ ছিল নিশিদিন,
কে জানিত সে সুষমা নয়নের জলে,
অসময়ে হইবে বিলীন।
স্বর্গচ্যুত সে প্রসূন, সংসার-কাননে
ফুটেছিল স্বৰ্গশােভা লয়ে,
১৪৩

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
হ
১৫<<<
«
মিশেগেল ধরণীর ধুলি রে সনে,
অসময়ে বৃন্তচ্যুত হয়ে।
অভিশপ্ত জীবনে সে ভ্রমিতেছে না কি
চিরদিন এমনি করিয়া ?
—এজন্মের সুখসাধ থাকিতেই বাকি
মৃত্যু তারে নিয়েছে হরিয়া।
কোথা হতে এসেছিল কোথাগেল চলে
পথহারা সেই বিদেশিনী ;
কেবা তারে ডেকেনিল কিছুইনা বলে,
চলে সে যে গেল একাকিনী।
দুদিনের তরে আসি বেঁধেছিল বাসা,
খেলিতে সে বিদেশের খেলা ;
না জাগিতে হৃদয়ের শত সুপ্ত আশা,
অস্ত হ'ল জীবনের বেলা।
পার্থিব খেলার তার, শেষ নিদর্শন,
যেটুকু সে গেছে হেথা রেখে ;
ভবের স্বজন তার, মুছিবে নয়ন,
সেই ক্ষুদ্র চিহ্নটুকু দেখে।
১৪৪

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস
~~~~~~~~
আজ সেই চিহ্নটীরে রেখেছি সকলে,
প্রাণসম করিয়া যতন ;
কে জানে গাে কালস্রোতে হবেনা অকালে
সে রত্নের চির বিসর্জন।
বড়ই সাধের তার প্রাণের নন্দন,
রেখে হেথা গেছে সে কঁাদিয়া;
কেমনে রাখিব তার সে সাপের ধন,
সুধু স্নেহ-বন্ধনে বাধিয়।
বােঝেনা অবােধ শিশু অাপনার দশা,
কি যে ক্ষতি হয়েছে জীবনে ;
শৈশব-বসন্তে আসি অনন্ত-বরষা,
ঢেকেছে সে জীবন-কিরণে।
পবিত্র অমৃত-উৎস জনমের মত,
অভাগার গেছে শুকাইয়ে ;
মিটাবে কি সুধাতৃষা হয়ে মর্মাহত
ভবিষ্যতে বিষৰারি দিয়ে ?
ভগ্নি। বিষাক্ত-বাতাসে সেই প্রতিফুল হিয়া,
জর্জরিত হইলে কখন,

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস
«
~~~~~~~~~
জীব-জগতের প্রান্তে তুমি দাড়াইয়ে
মেহসুধা করিয়ে সিঞ্চন,
রাখিও সজীব তব স্নেহ-তরটিরে,
আমাদের এ শেষ বাসনা;
হেরি তব চিহ্নটারে পাই যেন ধীরে,
দগ্ধ-চিত্তে কিঞ্চত সান্ত্বনা।
}
নিষ্ফল যাত্রা। (১)
হাসির উপাদান যার,
এ সংসারে সুদুর্লভ নয়,
এ ধরার সুখ-স্বপ্ন তার,
ভেঙ্গে যায় কেন. অসময় ?
জীবনের বসন্ত-ঊষায়,
প্রবৃটর ঘনঘোরা নিশি,
অকস্মাৎ সে কেন হায়,
মরণের আন্ধকারে মিশি।
১৪৬

মৰ্মোচ্ছ্বাস
ge~~~~~~~~~~~
বধি যারে স্নেহ-বাহু-পাশে,
এ সংসার আলিঙ্গিতে চায়,
অনন্তের উত্তপ্ত-নিশ্বাসে,
সে কেন গাে শুকাইয়ে যায় ।
জগতের পরিচিত জনে,
ধ'রে থাকে শীর্ণ বাহুখানি,
অপার্থিব কোন্ আকর্ষণে
ধীরে ধীরে লয়ে যায় টানি।
শােভে যে গা সৌন্দর্য্য-ছায়ায়,
সুকোমল ব্ৰতীর মত,
কে করে গাে, ছিড়িয়ে তাহায়,
শ্মশানের ভস্মে পরিনত।
।
সবে স্নিগ্ধ করিত যে একা,
আপনার প্রতিপরিমলে,
ধুলি-লিপ্ত-পদ-চিহ্ন-রেখা
মুছিয়ে সে গেছে আঁখি জলে

মৰ্ম্মোচ্ছাস,
«
<<~~~~~
«
নিষ্ফল যাত্রা। (২)
সুধু প্রাণভরা আশা দিয়,
ওগো সে যে হেথা এসেছিল,
কণামাত্র স্নেহ-সুধা পিয়ে
সে যে কত হাসি হেসেছিল।
তার সে বাসনায় প্রাণে,
পশেনি পার্থিব পাপছায়া।
আঁখি তুলে চেয়ে কারাে পানে,
চাহেনি সে কভু স্নেহ মায়া।
অর্ধস্ফুট কলিটীর প্রায়,
সে যে সদা দুলিত অনিলে,
সিক্ত কেহ করেনি তায়,
ধরণীর পঙ্কিল-সলিলে।
ডেকেগেল বুঝি দূর হ'তে
কে, অদৃশ্য কটাক্ষ নিক্ষেপে,
তাই কেঁদে গেল কোন পথে
সে, চঞ্চল চরণ বিক্ষেপে।
১৪৮

মৰ্মোচ্ছ্বাস,
~~~~~~~~~~
সে ত জানিনা ঝঞ্চা আসি
জগতের পরপ্রান্ত হতে,
ছিড়ি বৃন্ত তার, সৰ্ব্ব শােভা নাশি,
ফেলে দেবে সুদূর-সৈকতে।
স্রোতে ভেসেগেছে চিরতরে,
আর সে ত আসিবেনা ফিরে,
বাসনা যে সুধু কেঁদে মরে
সে মধুর স্মৃতিটীরে ঘিরে।
নিষ্ফল যাত্রা। (৩)
সুধু কেঁদে যদি যেতে হয়,
ওগো মিছে কেন আসা তবে
মিশিতে এ চির সুখময়,
জগতের আনন্দ-উৎসবে ?
পশিতে সে মিলন-মন্দিরে,
দ্বারপথে শান্তি পদ রাখি;
অবসাদে সেথা ধীরে, ধীরে।
মু'দে আসে নিদ্রালস আঁখি।
১৪১

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস
«
~~~~~~~~~~
বসি পান্থ বিটপী-ছায়ায়,
মাতােয়ারা মিলনের গানে ;
বিরহের স্মৃতিটী জাগায়,
দূর-ত বাঁশরীর তানে।
জ্যোৎস্না-দীপ্ত-বসন্ত-নিশীথে
~~
যবে সুখসুপ্ত ধরাতল,
অকস্মাৎ মরণ-সঙ্গীতে
কঁপায় বিশ্বের বক্ষস্থল।
মধ্যাহ্নেই বিদায়ের সাজে,
রয়েছে যে পথপানে চেয়ে ;
সে কেন গো চির-সুপ্তিমাঝে,
ঘুমায় না মৃত্যুছায়া পেয়ে ?
তৃষকুল অবসন্ন চিত,
। পূর্ণহদ স্বচ্ছ নীল-নীরে,
-পিয়ে লবনায়ু, জর্জরিত
কণ্ঠে হায় যেতে হ’ল ফিরে ।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
<<
ка
তারা ও আমি।
আমি, শুষ্কতরু প্রায় সংসার কাননে,
দাড়াইয়ে আছি অমঙ্গল সহ,
মােরে, একেলাট পেয়ে হৃদয়-শ্মশানে,
স্মৃতি-পিশাচিগী খেলে অহরহ।
}
কার পামে চাহুিত আঁখি তুলি’
একাকিনী থাকি মরমে মরিয়া ;
আশে পাশে হ'তে ফোটাফুল গুলি,
কালরবি-করে যেতেছে ঝরিয়া ।
সোর,
এসেছিল যারা হাসিতে, খেলিতে,
মাতা বসুধার আনন্দ-উৎসবে।
খেলা আরম্ভিয়ে,-সাধ না মিটিতে
একে, একে, তারা চলে গেল সবে
তারা, পূর্ণ জ্যোৎস্নাময়ী জীবন লইয়া
খেলিতে পেলেনা ধরার উৎসঙ্গে,
আমি, চির অন্ধকার জীবন বহিয়া
ভ্রমিতেছি ক্রুর অদৃষ্টের সঙ্গে।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
«
ке
মরমে মরমে রূদ্ধ অশ্রুজল,
নিশ্বাসে আমার বিশ্ব বিষময়।
নিকটে যে আসে, সাধিতে কুশল,
বিষাক্ত বাতাসে সেই দগ্ধ হয়।
পাছে এসে তারা, তাগে গেল চ'লে,
আমি সুধু একা রহিনু কঁদিতে,
-আজীবন এই নয়নের জলে
সংসারের শত অশুভ সাধিতে।
পিতা।
পিতঃ। অসীম জ্ঞানের খনি হৃদয় তােমার,
মমতায় পরিপূর্ণ, দয়ায় অতুল,
খুলিয়া সে সুধাময় স্নেহের আগার,
যতনে রেখেছ কটী মেহের মুকুল।
বৃথা-অভিমান-শূন্য, ক্ষমা-বিভূষিত,
চির-প্রেম-মর ওই হৃদয় লইয়া,
শতঘাত প্রতিঘাতে নির্বিকার-চিত ।
এ সংসারে আসিয়াছ দেবতা হইয়া ।

মর্মোদ্দাস।
««~~~~~~~~~
হিংসা-দ্বেষ-কপটতা-স্বার্থ-বিবর্জিত,
সরলতা-পূর্ণ তব প্রাণ পূণ্যময় ;
পরদুঃখ অশ্রুজলে সদা উদ্বেলিত,
ভােগ-সুখ-স্পৃহাশূন্য কোমল হৃদয়।
কঠোরতা পরিশূন্য সুশাসন-নীতি,
রূঢ়তা বর্জিত তব মধুর স্বভাব ।
পাত্রাপাত্রে সমভাবে দেখাইয়ে প্রীতি,
স্থাপিয়াছ শত্রু, মিত্রে, স্বকীয় প্রভাব।
~
সৰ্ব্বল-গামিনী-মুক্ষ্ম-বুদ্ধি-বিভাসিত
হাস্য-রেখা-বিমণ্ডিত প্রশান্ত নয়নে,
শত বিশৃঙ্খলা করি’ ঈঙ্গিতে সংযত,
সংসারে অক্ষুন্ন শান্তি রেখেছ যতনে ।
তােমারি দুহিতা হয়ে তব পদছায়,
আশৈশব হ’তে পিতঃ ! হইয়া পালিত,
তােমার ও জ্ঞানগর্ভ পবিত্র শিক্ষায়,
করিতে না পারিলাম হৃদয় গঠিত।
ক্ষুদ্র সুখ দুঃখ ভারে সদা বিচলিত,
কাতর উদ্ভান্ত চিত কঁাদে দীনবেশে,

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
~~~~~~~~~
ভাঙ্গেনা দুঃস্বপ্ন তব রসনা নিত
চির-স্নিগ্ধ মধুময় পূণ্য উপদেশে।
দাও পিতঃ ! তব শুভ-পদ-ধুলি মাথে,
করুনা-কিরণ দিয়ে ঘুচায়ে আঁধার,
তব নির্দেশিত চির-পূণ্যময় পথে,
ল’য়ে যাও ভ্রান্তিমুগ্ধ হৃদয় আমার।
মাতা।
নমি মাগাে চরণে 'তোমার।
আমার কুশল তরে,
বিভুপদে ভক্তিভরে,
পুষ্পাঞ্জলী দেয় কে মা আর ?
।
দশমাস দুঃখ বহি”
অপর যাতনা সহি,
করুণার প্রতিকৃতি হয়ে,
নিয়ে এসে এ ধরায়
চাইল কে আমায়
করুণা-পীযূষ বক্ষে ল’য়ে ?
১৫6%

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
<<~~~~~~~~~
অজ্ঞানে শৈশব-কালে,
কার স্নেহ-অন্তরালে,
খেলিয়াছি সুখময় খেলা ?
আমার সুখের তরে,
কেবা আর এ সংসারে,
নিজ সুখে করিয়াছে হেলা ?
সুধাস্বরে ডেকে নিয়ে,
নিকটে কে বসাইয়ে,
স্নেহাঞ্চলে মুছায়ে আনন,
কৈশরে সুশিক্ষা দিতে,
পাপ পূণ্য বুঝাইতে,
নিশিদিন করেছে যতন ?
সংসারের ঝঞ্ঝাবায়,
এ হৃদয় যবে হায়,
অবসাদে পড়ে গো লুটিয়ে,
ল’য়ে স্নেহপূর্ণ হিয়া,
স্নেহ-হু প্রসারিয়া,
সে সময় কে আসে ছুটিয়ে ?

মৰ্ম্মোল্লাস।
~~~~~~
ব্যাধি-ক্লিষ্ট কলেবরে,
কাদি যবে শয্যাপরে ;
আশীষ-কুসুম শিরে রাখি,
একাকিনী নিশিভাগে,
শিয়রে বসিয়ে জাগে,
কার দুটি মেহাপ্লত আঁখি?
}
মরুময় এ সংসারে,
নিরাশার হাহাকারে,
চরাচর হেরিলে আঁধার,
কার পূতঃ স্নেহালৈকে
সে দারুণ দুঃখে শােকে
বিশ্বশােভা নিরখি আবার ?
মরমের বেদনায়,
একাকিনী নিরালায়,
আঁখিজলে যাই যধে ভেসে,
স্নেহে আঁখি ছল ছল,
মুছা'তে সে আঁখিজল,
কেবা আর আসে ভালবেসে ?

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
ke~~~~~~~
~~~~
সংসারের শত সুখে,
মম দুঃখে ম্লান মুখে,
মরমেতে সদা বিষাদিনী,
মােরে স্নেহ-বক্ষে রাখি,
গােপনে মুছেন আঁখি ;
-স্নেহময়ী মা আমার তিনি।
}
চিরসুখী নর, নারী,
হেরি মম অশ্রুবারি,
উপেক্ষিয়ে যায় যদি হেসে,
করুণা-বিহবল চক্ষে,
চির-নিরাপদ-বক্ষে,
তুলে নেন মা আমার এসে।
}
থাকে যেন এজীবনে,
চিরমতি ও চরণে,
তব এ দুঃখিনী তনয়ার,
অন্তিমেও তব পাছে,
ডেকোনও তােমা কাছে,
স্নেহময়ী জননী আমার ।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস
екеме
এসে তবে কিবা ফল।
কেন অতীতের স্মৃতি,
দেখা দিয়ে বার বার,
নীরব হৃদয়ে মাের,
এনে দাও হাহাকার ?
«««
হাসি হাসি হৃদে পশি’
জেলে দাও হুতাশন,
একিগো নিঠুর খেলা,
একি খল আচরণ ?
গত জীবনের যত,
সুখ, দুঃখ, প্রহেলিকা,
সকলি তােমাতে, স্মৃতি,
আছে যেন আঁকা আঁকা
শৈশবের চিন্তাশূন্য
শান্তি-সুখ নিরমল,
যৌবনে হৃদয়ে সেই,
বাসনার হলাহল,

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
অতৃপ্তি-অনল বুকে,
চারিদিকে ভস্মরাশি,
আশার আশ্বাসে সেই,
অশ্রুমাখা ম্লান হাসি,
««
তােমাতে চিত্রিত সব,
সুখ-দুঃখ-ছায়া-ছবি ;
ডুবাও অতলে উহা,
দুঃস্বপন অনুভবি।
এননা হৃদয়ে
গত জীবনের গাথা,
হেরি সেই দুঃখচিত্র
মৰ্মে বড় পাই ব্যথা।
ভুলেছিত সংসারের,
শােক দুঃখ নিরাশ্বাস;
এ শূন্য-হৃদয়ে আর
নাই কোন অভিলাষ।
এ জীবনে তাের কাছে,
এই ভিক্ষা আমি চাই,

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
«
~~~~~~
এ জনমে তাের যেন
দেখা আর নাহি পাই।
এই অন্ধকার বুকে,
এসনা গো আর তুমি,
কি সুখে বা এস হেথা,
এ যে শুধু মরুভূমি। ।'
«
হেথা তুমি পাইবেনা,
একবিন্দু অশ্রুজল,
এ মরু-হৃদয়ে, স্মৃতি,
এসে তবে কিবা ফল ?
কেন মিছে দুদিনের তরে।
কেন মিছে দুদিনের তরে,
এ কলহ-কোলাহল,
নিরন্তর উচ্চােল
ধ্বনিতেছে প্রতি ঘরে ঘরে।
১৬০

মৰ্ম্মোচ্ছাস
«««««««««
ল'য়ে প্রীতি, ভালবাসা,
ল'য়ে প্রাণে উচ্চ আশা,
সবাই এসেছে ধরাতলে,
কেন গো সবল যারা,
দুৰ্ব্বলে পীড়িয়ে তারা,
ভাসাইছে নয়নের জলে।
সংসারের সুখ, দুঃখ,
কা'রে নহে পরান্মুখ,
চিরকাল সমভাবে আছে,
কালের তরঙ্গে ভেসে,
এক৷ যায় আর আসে,
মােহাচ্ছন্ন মানবের কাছে,
এ বিপুল ধরাতলে,
মানবের কোলাহলে,
ধ্বনিতেছে তীব্র হাহাকার,
পদে পদে ঘটে ভ্রান্তি,
জীবনের সুখ শান্তি
চলেগিয়ে, আসে অন্ধকার ।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
~~~~~~~~
ঘুচি সে হাস্য উৎসব,
আসে তীব্র কলরব
সংসারের প্রান্তদেশ হতে
অবশেষে চুপে চুপে
ধীরে ধীরে শান্তিরূপে
আসে মৃত্যু জীবনের পথে ;
{
কাছে আসি ধীরে, ধীরে,
ক্রমে সুপ্ত আত্মাটারে,
করে দেহ হইতে বিচ্ছিন্ন।
বাহিরিয়ে অলক্ষ্যেতে,
ভেসে যায় কালস্রোতে,
কে, কোথায়, হইয়ে বিভিন্ন ।
মৃত্যুর তিমির সাঁঝে,
ধুলিম্লান ধরা মাঝে,
লুটাইয়ে সুকোমলদেহ,
ভাবনা কুটা হীন,
মহাশূন্যে হবে লীন,
ফিরাইতে পারিবেনা কেহ।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
«»eer
সিক্ত হয়ে অশ্রুজলে,
ধরণীর বক্ষস্থলে
লিখেরেখে দুচারিটী গীতি,
ধুলাখেলা সাঙ্গকরি,
সুখসাধ পরিহরি,
চলে যাবে, রেখে সুধু স্মৃতি।
««
যারা ভবে আসিয়াছে,
চ'লে যাবে আগে পাছে,
জীবনের খেলা সাঙ্গ ক'রে,
এ, কলুহ-কোলাহল,
এ বিষাদ, অশ্রুজল,
কেন মিছে দুদিনের তরে?

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস
~~~~~~~~~
ঘুমায়ে পড়িব
আমিত যাইব চলে, ল'য়ে অশ্রুধার
আর ভাঙ্গা হৃদয়ের ব্যথা,
আমি গেলে এ সংসারে ফুরাবে আমার
অতিতুচ্ছ দু'একটা কথা ।
আমার বেদনাভরা বিষাদের গান,
কে আর রাখিবে মনে করে,
একবিন্দু অশ্রুজল কে করিবে দান,
শশ্মশানের চিতাভস্ম পরে।
জলে, জলবি উঠে, জলে মিশেয়,
কেবা তাহা চেয়ে দেখে ফিরে
কত উৰ্ম্মি ভাঙ্গে, গড়ে, কেবা গণে তায়,
দাড়াইয়ে জলধির তীরে,
আমিও তেমনি সৃষ্টি-সমুদ্রের
ক্ষুদ্রতম বুদ্বদের প্রায়,
মিশিব কালেরনীরে; এ দীন ক্ষুদ্রের
অবসান কে জানিবে হয় ।
১৬৫

মৰ্ম্মোচ্ছ্বসি
<<<< «««
Firecran
কেহই আমার পানে দেখিবেনা চেয়ে
কোথা হতে কোথায় মিশিব,
তুচ্ছ জীবনের তুচ্ছ সুখ দুঃখ ল’য়ে
মৃত্যুকোলে ঘুমায়ে পড়ি।
সুপ্ত বাসনা
}
লইয়া বিদীর্ণ হিয়া,
আশা-দীপ নিভাইয়া,
আঁধার ভবিষ্য পথে যত দ্রুত পাই,
মৰ্ম্মব্যথা মৰ্ম্মেরাখি,
মেলি দুটা ক্লান্ত আঁখি,
অতীত জীবন পানে ফিরে, ফিরে, চাই
, চিরস্নিগ্ধ হাস্যোজ্জ্বল,
রৌদ্র-দীপ্ত সুনির্মল
সে মধুর দিনগুলি আশার কিরণে,
তাপতপ্ত প্রাণ মন,
হাসাইত অনুক্ষণ
এ দুর্ভাগ্য পথিকের অতীত জীবনে।

মৰ্ম্মোচ্ছ্বাস।
ексте
দুরে, দুরে, বহুদুরে,
স্মৃতিময় অন্তঃপুরে,
গত জীবনের সেই ছায়া মধুময়,
প্রাণপণ যত্ন করে,
হৃদয়ের স্তরে স্তরে,
রাখিয়াছি সুচিত্রিত করি সমুদয় ।
$
—সে বিষাদ সেই হাসি,
সুখে দুঃখে মেশা মিশি,
সেই ভাঙ্গা বাশরীর বিদায়ের সুর,
সে আনন্দ কোলাহল
সে আঁখির অশ্রুজল,
ফেলিয়া এসেছি যাহা আজি বহুদুর ।
হাসি অশ্র সমাবেশে,
বিদুরিয়ে দুঃখ, ক্লেশে,
সে মাধুর্যে রাখিত এ জীবন সরস,
উজলিয়ে দশদিশি,
বিশ্বপ্রেমে বেত মিশি
কৰ্ম্মময় জীবনের প্রত্যেক দিবস।

মৰ্মোচ্ছ্বাস
~~~~~
&
সেই চিত্রলুব্ধ মন
হেরিতেছে অনুক্ষণ
দীর্ঘশস্যশীৰ্যসম শ্যাম-শােভ খুলি’
অতীত জীবন-ক্ষেত্র
শােভা করে অহােরাত্র
অতীতের অনুষ্ঠিত ক্ষুদ্র কৰ্ম্মগুলি।
যা তখন তুচ্ছ বলে
দর্পিত চরণ তলে,
অনায়াসে গর্বভরে গিয়াছি দলিয়া,
মর্মে মর্মে গনি লাজ,
সেই নির্মমতা আজ,
কে যেন গাে, ক্ষতিপথে যেতেছে বলিয়া ।
মনে করি কতবার,
দেখিবনা চেয়ে আর,
বিস্মৃতির স্বপ্নময় আবরণ তুলি
অবসাদক্লিষ্ট প্রাণে,
এবিশ্বের প্রেমগানে,
ভূত, ভাবী, বর্তমান থাকি সব ভুলি ।

মৰ্ম্মোচ্ছাস।
~~~
<<
শােক দুঃখ
সুখ-সাধ বিসজ্জিয়ে,
উপেক্ষিয়ে
দৃঢ় ভবময়াপাশ ছিড়ি’ অবহেলে,
কোন এক সন্ধ্যাকালে,
মরণের অন্তরালে,
লুকাই জীবনের যবনিকা ফেলে
}
পরিণাম।
মিছে স্বপ্ন, মিছে জাগরণ,
মিছে এই জীবনের মেলা,
কোন্‌দিন আসিয়া মরণ,
ভেঙ্গেদেকে ক্ষণিকের খেলা
ভ্রান্তি-মুগ্ধ পথিকের মত
চেয়ে দুটী আকুল-নয়নে,
অকস্মাৎ হয়ে ঝঙ্কা-হত,
পড়ে বু’ব সৈকত-শয়নে।
১৬৮

মৰ্মোচ্ছাস
~~~~
সর্বগ্রাসী হুতাশন আসি
কোলে মােয়র লবে স্নেহভরে ;
অথবা মা বসুন্ধরা, হাসি,
লুকাবেন, বক্ষে চির তরে।
আসিবে যে ক্ষুদ্র
অনন্তের অখুনিধি হ'তে
ঢেউগুলি,
ভেসে যাবে, সেই খর-স্রোতে
এ দেহের শেষ ভস্ম, ধূলি।
কিসের শেষ ?
হায় এ কিসের শেষ ?
চাহি শেষ বার বার,
ভাবিতে সে শেষ কেন
জাগে প্রাণে হাহাকার।
কি শেষ? কিসের শেষ,
—নিরন্তর খুজি যায়,
তবু সে শেষের নামে
প্রাণকেন কাঁদে, হায় ।

মৰ্ম্মোচ্ছাস
~~~~~~~~
সুধু যদি হয় শেষ,
এ জন্মের গীত গান,
চাহিনা চাহিনা আমি,
সে নিষ্ঠুর অবসান।
}
এ শেষে যদ্যপি এই,
জীবনের দুঃখ ক্লেশ,
শেষ হয়ে কণা মাত্র
নাহি থাকে অবশেষ ;
অথবা শ্বতর ছায়া
থাকি জীর্ণ বক্ষস্থলে,
ক্রমে লুপ্ত হয়ে যায়
মরমের মর্ম তলে ;
আসুক সে শেষ তবে
স্নেহ-বাহ প্রসারিয়ে,
ঘুচা’ক এ মৰ্ম্মজালা
স্নেহ-বক্ষে তুলেনিয়ে।
কিন্তু কোথা পাইব গো
সে ত এ ধরার নয়,

মর্মোসি।
~~~~~~~~
যে শেষে জীবন মন,
হয় চির মধুময়।
জীবনের উচ্চ আশা,
হাসি, অ, দুঃখ, সুখ
সব শেষ হয়ে তবু
থেকে যায় স্মৃতিটুক।
শেষ কথা।
কি একটী শেষ কথা বলি বলি করি,
গুছাইতে নাপারিগো ভাবখানি তার '
আনমনে গৃহকোণে সেই কথা স্মরি
কি যেন রয়েছে বাকী এখনো আমার।
মরমের সে কথাটা করিতে প্রকাশ,
প্রাণপণ যত্ন এতসব বৃথা হয়,
এত ক'রে খুজি তবু পাইনা আভাস,
কল্পনা কাঁদিয়ে ফিরে সমস্ত হৃদয়।
'১৭১

মৰ্মোচ্ছাস ।
««
অতিতুচ্ছ সে কথাটী আমারি কেবল।
সংসারের কারো কিছু নাহি সে: কথায়
আমারই দুইচারি ফোটা অশ্রুজল,
থাকিলে, থাকিতে পারে মিশিয়ে তাহায় ।
সে কথা হইলে বলা,বলা হবে সব, (
আর কেহ কোন কথা সুধাবেনা মােয়র,
এ জন্মের গীত গান হইবে নীরব,
আমিও নীরব হ’ব চির দিন তরে।
সমাপ্ত ।
১৭২

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Marmmochchas

Author
Ray,kusum Kumari
Title
Marmmochchas
File name
Marmmochchas
Text
OCR done
Citation
1904
Published
2009/11/28
Publisher
Nabagopal Chaki,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
194
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Ray,Kusum Kumari
DLI number
512920
Barcode
4990010019948.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
FTakPA8uf7t
Download PDF

Marmmochchas